(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: -)
فضائل مكة - الحسن البصري   (الحسن البصري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فضائل مكة والسكن فيها

المؤلف: الحسن بن يسار البصري، أبو سعيد (ت 110هـ)

المحقق: سامي مكي العاني

الناشر: مكتبة الفلاح - الكويت

عدد الصفحات: 40

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মক্কার ফজিলত - আল-হাসান আল-বাসরি   (আল-হাসান আল-বাসরি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মক্কার ফজিলত ও সেখানে বসবাস

লেখক: আল-হাসান ইবনে ইয়াসার আল-বাসরি, আবু সাঈদ (মৃ. ১১০ হি.)

তাহকিক: সামি মাক্কি আল-আনি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ফালাহ - কুয়েত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌فَضَائِل مَكَّة

بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنَا الشَّيْخ الْفَقِيه الْحَافِظ أَبُو الْفضل جَعْفَر بن الْحسن ابْن جَعْفَر الْهَمدَانِي قَالَ أخبرنَا الشَّيْخ الامام أَبُو طَاهِر أَحْمد بن مُحَمَّد السلَفِي الاصفهاني قِرَاءَة عَلَيْهِ فِي جُمَادَى الأولى سنة احدى وَسبعين وخمسماية قَالَ أخبرنَا القَاضِي أَبُو اسحق ابراهيم بن مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الغضائري ب (دربند) قِرَاءَة عَلَيْهِ مني فِي شَوَّال سنة ثَلَاثِينَ وخمسماية قَالَ كتب إِلَيّ أَبُو مَنْصُور مُحَمَّد بن أَحْمد بن الْقَاسِم الاصفهاني الْمُقْرِئ من ثغر (آمد) أَن أَبَا الْحسن عَليّ بن الْحَاضِر بن عَليّ الْبَغْدَادِيّ بالفسطاط قَالَ أخبرنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن عبد الرَّحْمَن الشَّافِعِي بِمَكَّة قَالَ أخبرنَا أَبُو الْحسن عَليّ بن عبد الله الْهَمدَانِي قَالَ أخبرنَا أَبُو الْحسن مُحَمَّد ابْن نَافِع قَالَ أخبرنَا أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن ابراهيم بن مَعْرُوف الصيدلاني قَالَ حَدثنَا عبد الله بن أَحْمد بن صَالح التَّمِيمِي قَالَ حَدثنَا أبي قَالَ حَدثنَا عبد الله بن عبد الحميد أَو الْمجِيد الْحَنَفِيّ قَالَ حَدثنَا عُبَيْدَة أَو هُبَيْرَة الْبَاجِيّ الحدادح
মক্কার ফযীলতসমূহ

পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ফকীহ, হাফেজ আবুল ফজল জাফর বিন আল-হাসান ইবনে জাফর আল-হামাদানী। তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সালাফি আল-ইসফাহানী, ৫৭১ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-গাদাইরি (দারবান্দ নামক স্থানে), ৫৩০ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে আমার পক্ষ থেকে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন, সীমান্ত শহর (আমাদ) থেকে আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-কাসিম আল-ইসফাহানী আল-মুকরি আমার নিকট লিখে পাঠিয়েছেন যে, ফুসতাতে আবুল হাসান আলী বিন আল-হাদির বিন আলী আল-বাগদাদী বলেছেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন মক্কার আবুল হাসান আলী বিন আব্দুর রহমান আশ-শাফিঈ। তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-হামাদানী। তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে নাফে'। তিনি বলেন, আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মারুফ আস-সাইদালানি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন সালেহ আত-তামিমী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হামিদ অথবা আব্দুল মাজীদ আল-হানাফী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদাহ অথবা হুবাইরাহ আল-বাজী আল-হাদ্দাদ।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১২)
وَقَالَ ابْن نَافِع أخبرنَا أَبُو الْقَاسِم عبيد الله بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد قَالَ أخبرنَا مُحَمَّد المظفر بن احْمَد المظفر الأشموني الشمار قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن ابراهيم النَّيْسَابُورِي قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عَليّ الْحَنَفِيّ عَن أبي هُبَيْرَة الْبَاجِيّ قَالَ كتب الْحسن بن أبي الْحسن الْبَصْرِيّ رمحة الله عَلَيْهِ الى رجل من الزهاد يُقَال لَهُ عبد الرَّحِيم أَو عبد الرَّحْمَن بن أنس الرَّمَادِي كَانَ يسكن مَكَّة شرفها الله تَعَالَى وَكَانَ لَهُ فضل وَدين وَذكر وَلم يكن لَهُ فِي الدُّنْيَا عمل الا عبَادَة الله تَعَالَى وانه أَرَادَ الْخُرُوج من مَكَّة الى الْيمن فَبلغ ذَلِك الْحسن وَكَانَ بواخيه فِي الله تَعَالَى فَكتب الهي كتابا يرغبه فِي الْمقَام بِمَكَّة زَادهَا الله شرفا أَوله

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم حفظك الله يَا أخي بِمَا حفظ بِهِ أهل الايمان ووقاك الْمَكْرُوه ووفقك لِلْخَيْرَاتِ وَأتم عَلَيْك النعم فِي كل الْأُمُور وجمعنا وَإِيَّاك فِي دَار السَّلَام
ইবনে নাফে বলেন, আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ আল-মুজাফফর ইবনে আহমদ আল-মুজাফফর আল-আশমুনি আশ-শাম্মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম আন-নাইসাবুরি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলি আল-হানাফি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হুবাইরা আল-বাজি থেকে; তিনি বলেন, হাসান ইবনে আবুল হাসান আল-বসরি (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) একজন যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) ব্যক্তির নিকট পত্র লিখেছেন যাকে আব্দুর রহিম অথবা আব্দুর রহমান ইবনে আনাস আর-রামানি বলা হতো। তিনি মক্কায় বসবাস করতেন—আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন। তিনি মর্যাদা, দ্বীনদারি ও সুনামের অধিকারী ছিলেন এবং আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা ব্যতীত পার্থিব অন্য কোনো কাজে তিনি লিপ্ত ছিলেন না। তিনি মক্কা থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে সেই সংবাদ হাসানের নিকট পৌঁছায়। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাই তিনি তাঁকে মক্কায় অবস্থানের প্রতি উৎসাহিত করে একটি পত্র লিখলেন—আল্লাহ মক্কার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন—যার প্রারম্ভ ছিল এইরূপ:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার ভাই! আল্লাহ আপনাকে সেই বিষয়ের মাধ্যমে হিফাযত করুন যার মাধ্যমে তিনি ঈমানদারদের হিফাযত করেন, আপনাকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন, কল্যাণকর কাজের তাওফিক দান করুন, সকল বিষয়ে আপনার প্রতি নেয়ামত পূর্ণ করুন এবং আমাদের ও আপনাকে শান্তির আবাসে একত্রিত করুন।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১৩)
فِي جوَار الرَّحْمَن فان ذَلِك بِيَدِهِ وَلَا حول وَلَا قُوَّة الا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم

أما بعد يَا أخي فَانِي قد كتبت اليك وَأَنا وَمن قبلي من أهل الْعِنَايَة والأقارب والاخوان على أفضل مَا تحب وربنا الْمَحْمُود وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم

اعْلَم يَا أخي أبقاك الله تَعَالَى انه بَلغنِي انك قد أَجمعت رَأْيك على الْخُرُوج من حرم الله تَعَالَى وأمنه والتحول مِنْهُ الى الْيمن وَأَنِّي وَالله كرهت ذَلِك وغمني وَاسْتَوْحَشْت من ذَلِك وَحْشَة شَدِيدَة إِذْ أَرَادَ الشَّيْطَان أَن يزعجك من حرم الله تَعَالَى ويستزلك

فيا عجبا من عقلك اذ نَوَيْت ذَلِك فِي نَفسك بعد أَن جعلك الله من أَهله وَلَو أَنَّك حمدت الله تَعَالَى على مَا أولاك وأبلاك فِي حرمه وأمنه وصيرك من أَهله لَكَانَ الْوَاجِب عَلَيْك شكره أبدا مَا دمت حَيا ولكنت مَشْغُولًا بِعبَادة الله عز وجل أَضْعَاف مَا كنت عَلَيْهِ إِذْ جعلك من
পরম করুণাময়ের সান্নিধ্যে, নিশ্চয়ই তা তাঁর হাতে এবং সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

অতঃপর হে আমার ভাই, আমি আপনার নিকট লিখছি এবং আমি ও আমার নিকটস্থ যত্নশীল ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়-স্বজন এবং ভ্রাতৃবৃন্দ আপনার পছন্দনীয় সর্বোত্তম অবস্থাতেই আছি। আর আমাদের রবই প্রশংসিত। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

হে আমার ভাই, আল্লাহ তাআলা আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন, আপনি জেনে রাখুন যে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি মহান আল্লাহর হারাম ও তাঁর নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে বের হয়ে ইয়েমেনে চলে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আল্লাহর কসম, আমি বিষয়টি অপছন্দ করেছি এবং এটি আমাকে ব্যথিত করেছে। আমি এতে প্রচণ্ড বিচলিত বোধ করছি যে, শয়তান আপনাকে আল্লাহর হারাম থেকে সরিয়ে দিতে এবং আপনাকে পদস্খলিত করতে চাচ্ছে।

আপনার বিচারবুদ্ধির জন্য বিস্ময়বোধ করছি যে আপনি মনে মনে এমনটি করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, অথচ আল্লাহ আপনাকে এর অধিবাসী করেছেন। আপনি যদি মহান আল্লাহর প্রশংসা করতেন তাঁর সেই অনুগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য যা তিনি তাঁর হারামে ও তাঁর নিরাপত্তায় আপনাকে দান করেছেন এবং আপনাকে এর অধিবাসী করেছেন, তবে আপনার জন্য আমৃত্যু তাঁর শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক হতো। আপনি মহান আল্লাহর ইবাদতে আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি মগ্ন থাকতেন, যেহেতু তিনি আপনাকে...
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১৪)
أهل حرمه وأمنه وجيران بَيته

وَإِيَّاك ثمَّ إياك والقلق والضجر وَعَلَيْك بِالصبرِ والصمت والحلم فانك تغلب بِهن الشَّيْطَان الرَّجِيم وَإِيَّاك ثمَّ إياك يَا أخي وَالْخُرُوج مِنْهَا والانزعاج عَنْهَا فانك فِي خير أَرض وَأحب أَرض الله تَعَالَى اليه وأفضلها وَأَعْظَمهَا قدرا وَأَشْرَفهَا عِنْده

فنسأل الله تَعَالَى أَن يوفقنا وَإِيَّاك لِلْخَيْرَاتِ فانه الحنان المنان وَلَا حول وَلَا قُوَّة الا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم

اعْلَم يَا أخي أَن الله تَعَالَى فضل مَكَّة على سَائِر الْبِلَاد وَأنزل ذكرهَا فِي كِتَابه الْعَزِيز فِي مَوَاضِع عديدة فَقَالَ تَعَالَى {إِن أول بَيت وضع للنَّاس للَّذي ببكة مُبَارَكًا وَهدى للْعَالمين فِيهِ آيَات بَيِّنَات مقَام إِبْرَاهِيم وَمن دخله كَانَ آمنا}

وَقَالَ تَعَالَى {وَإِذ قَالَ إِبْرَاهِيم رب اجْعَل هَذَا بَلَدا آمنا}
তাঁর হারামের অধিবাসী ও তাঁর নিরাপত্তা প্রাপ্ত এবং তাঁর ঘরের প্রতিবেশীগণ।

আর তুমি অস্থিরতা ও বিরক্তি থেকে অত্যন্ত সাবধান থেকো। তোমার কর্তব্য হলো ধৈর্য, নীরবতা ও সহনশীলতা অবলম্বন করা, কেননা এগুলোর মাধ্যমেই তুমি বিতাড়িত শয়তানকে পরাভূত করবে। হে আমার ভাই! তুমি এখান থেকে বের হওয়া বা এখান থেকে দূরে সরে যাওয়া সম্পর্কে সাবধান ও সতর্ক থেকো। কেননা তুমি সর্বোত্তম ভূমিতে এবং আল্লাহর নিকট তাঁর সর্বাধিক প্রিয় ভূমিতে অবস্থান করছ, যা তাঁর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, সুমহান এবং অত্যন্ত সম্মানিত।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন আমাদের এবং তোমাকে নেক কাজের তাওফিক দান করেন, কেননা তিনি পরম দয়ালু ও পরম দাতা। আর সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

হে আমার ভাই! জেনে রেখো যে, মহান আল্লাহ মক্কাকে অন্য সকল ভূখণ্ডের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাঁর মহাগ্রন্থের বহু স্থানে এর উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি স্থাপন করা হয়েছে তা হলো বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত, যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত স্বরূপ। তাতে সুস্পষ্ট নির্দশনসমূহ রয়েছে, (যেমন) মাকামে ইবরাহিম। আর যে সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে।"

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যখন ইবরাহিম বললেন, হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে আপনি নিরাপদ নগরী করুন।"
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১৫)
{وارزق أَهله من الثمرات من آمن مِنْهُم بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر} وَقَالَ تَعَالَى {ثمَّ ليقضوا تفثهم وليوفوا نذورهم وليطوفوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيق}

وَقَالَ تَعَالَى {وَإِذ بوأنا لإِبْرَاهِيم مَكَان الْبَيْت أَن لَا تشرك بِي شَيْئا وطهر بَيْتِي للطائفين والقائمين والركع السُّجُود} وَقَالَ تَعَالَى {وَإِذ جعلنَا الْبَيْت مثابة للنَّاس وَأمنا وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مصلى}

وَقَالَ تَعَالَى {وَإِذ يرفع إِبْرَاهِيم الْقَوَاعِد من الْبَيْت وَإِسْمَاعِيل رَبنَا تقبل منا إِنَّك أَنْت السَّمِيع الْعَلِيم}

وَقَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا أمرت أَن أعبد رب هَذِه الْبَلدة الَّذِي حرمهَا}

وَقَالَ تَعَالَى {بَلْدَة طيبَة وَرب غَفُور}

وَقَالَ تَعَالَى {إِن الصَّفَا والمروة من شَعَائِر الله فَمن حج الْبَيْت أَو اعْتَمر فَلَا جنَاح عَلَيْهِ أَن يطوف بهما وَمن تطوع خيرا فَإِن الله شَاكر عليم} وَقَالَ تَعَالَى {فَإِذا أَفَضْتُم من عَرَفَات}
{এবং তাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে, তাদের অধিবাসীদের ফলমূল হতে রিজিক দান করুন} এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {অতঃপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে}

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {আর যখন আমি ইব্রাহিমের জন্য গৃহের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এই মর্মে যে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখো তাওয়াফকারী, দণ্ডায়মান এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য} এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {আর যখন আমি গৃহকে মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিরাপত্তার স্থান বানালাম এবং (বললাম) তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর স্থানকে নামাজের জায়গা হিসেবে গ্রহণ করো}

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {আর যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল গৃহের ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিল (এবং বলছিল), হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ}

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {আমি তো কেবল এই নগরীর রবের ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন}

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {পবিত্র নগরী ও ক্ষমাশীল প্রতিপালক}

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি এই গৃহের হজ অথবা উমরা করবে, তার জন্য এই দুইটির প্রদক্ষিণ করাতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ} এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন {অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে}
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১৬)
فاذكروا الله عِنْد الْمشعر الْحَرَام واذكروه كَمَا هدَاكُمْ

وَقَالَ تَعَالَى {أَو لم نمكن لَهُم حرما آمنا يجبى إِلَيْهِ ثَمَرَات كل شَيْء رزقا من لدنا}

(وَقَالَ تبارك وتعالى {جعل الله الْكَعْبَة الْبَيْت الْحَرَام قيَاما للنَّاس والشهر الْحَرَام}

وَقَالَ تَعَالَى لنَبيه إِبْرَاهِيم عليه السلام {وَأذن فِي النَّاس بِالْحَجِّ يأتوك رجَالًا وعَلى كل ضامر يَأْتِين من كل فج عميق}

وَقَالَ تَعَالَى {فليعبدوا رب هَذَا الْبَيْت الَّذِي أطْعمهُم من جوع وآمنهم من خوف}

وَقَالَ تَعَالَى {رَبنَا إِنِّي أسكنت من ذريتي بواد غير ذِي زرع عِنْد بَيْتك الْمحرم رَبنَا ليقيموا الصَّلَاة فَاجْعَلْ أَفْئِدَة من النَّاس تهوي إِلَيْهِم وارزقهم من الثمرات لَعَلَّهُم يشكرون}
অতএব তোমরা মাশআরুল হারামের নিকট আল্লাহর যিকির করো এবং তাঁর যিকির করো যেভাবে তিনি তোমাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারাম প্রতিষ্ঠিত করে দিইনি, যেখানে আমার পক্ষ থেকে রিযিক হিসেবে সব ধরণের ফলমূল সমবেত করা হয়?}

(এবং বরকতময় ও মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ কাবাকে—যা সম্মানিত ঘর—মানুষের কল্যাণের মাধ্যম করেছেন এবং হারাম মাসকেও।}

এবং মহান আল্লাহ তাঁর নবী ইব্রাহীম আলাইহিস সালামকে বলেছেন: {এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সকল প্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে, যারা দূর-দূরান্তের গভীর পথ অতিক্রম করে আসবে।}

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তারা যেন এই ঘরের রবের ইবাদত করে, যিনি তাদেরকে ক্ষুধা থেকে অন্ন দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন।}

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের কতককে চাষাবাদহীন এক উপত্যকায় আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট বসবাস করালাম; হে আমাদের রব! যাতে তারা সালাত কায়েম করতে পারে। অতএব আপনি মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন এবং তাদেরকে ফলমূল দ্বারা রিযিক দান করুন, যেন তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।}
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَقَالَ تَعَالَى {قد نرى تقلب وَجهك فِي السَّمَاء فلنولينك قبْلَة ترضاها فول وَجهك شطر الْمَسْجِد الْحَرَام وَحَيْثُ مَا كُنْتُم فَوَلوا وُجُوهكُم شطره}

وَقَالَ تَعَالَى {فَإِذا قضيتم مَنَاسِككُم فاذكروا الله كذكركم آبَاءَكُم أَو أَشد ذكرا}

وَقَالَ تَعَالَى {سُبْحَانَ الَّذِي أسرى بِعَبْدِهِ لَيْلًا من الْمَسْجِد الْحَرَام إِلَى الْمَسْجِد الْأَقْصَى الَّذِي باركنا حوله}

وَقَالَ تَعَالَى {وَضرب الله مثلا قَرْيَة كَانَت آمِنَة مطمئنة يَأْتِيهَا رزقها رغدا من كل مَكَان}

وَقَالَ تَعَالَى {الْحَج أشهر مَعْلُومَات فَمن فرض فِيهِنَّ الْحَج فَلَا رفث وَلَا فسوق وَلَا جِدَال فِي الْحَج}

وَقَالَ تَعَالَى {أجعلتم سِقَايَة الْحَاج وَعمارَة الْمَسْجِد الْحَرَام كمن آمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر وجاهد فِي سَبِيل الله}
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, {নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখমণ্ডলের বারবার আকাশের দিকে আবর্তন লক্ষ করছি। অতএব আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি আপনার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের চেহারা সেদিকেই ফিরাও।}

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, {অতঃপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কার্যাদি সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের স্মরণ করতে অথবা তার চেয়েও অধিক গভীরভাবে।}

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, {পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিকালে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি।}

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, {আর আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমন এক জনপদের যা ছিল নিরাপদ ও প্রশান্ত, যেখানে সব দিক থেকে প্রচুর জীবনোপকরণ আসত।}

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, {হজ কয়েকটি বিদিত মাস। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে হজ নিজের ওপর অবধারিত করে নেয়, তবে হজের মধ্যে যেন কোনো অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদ না থাকে।}

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, {তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে সেই ব্যক্তির সমতুল্য করেছ যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে?}
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১৮)
فَهَذِهِ الْآيَات يَا أخي أنزلهَا الله تَعَالَى كلهَا فِي مَكَّة خَاصَّة وَلم ينزلها لبلد سواهَا

ثمَّ أفيدك يَا أخي بعد هَذَا مَا جَاءَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من الْأَخْبَار فِي فَضَائِل مَكَّة وفضائل أَهلهَا وَمن جاورها

اعْلَم يَا أخي أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ حِين خرج من مَكَّة وقف على الْحَزْوَرَة واستقبل الْكَعْبَة وَقَالَ

وَالله إِنِّي لأعْلم أَنَّك أحب بلد الله إِلَيّ وَأَنَّك أحب أَرض الله الى الله عز وجل وانك خير بقْعَة على وَجه الأَرْض وأحبها الى الله تَعَالَى وَلَوْلَا أَن أهلك أَخْرجُونِي مِنْك مَا خرجت

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيث آخر خير بَلْدَة على وَجه الأَرْض وأحبها الى الله تَعَالَى مَكَّة
হে আমার ভাই, মহান আল্লাহ এই আয়াতসমূহের সবই বিশেষভাবে মক্কায় অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি এগুলো অন্য কোনো ভূখণ্ডের জন্য অবতীর্ণ করেননি।

অতঃপর হে আমার ভাই, আমি আপনাকে মক্কার ফযীলত, এর অধিবাসী এবং এর প্রতিবেশীদের ফযীলত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহ অবহিত করছি।

হে আমার ভাই, জেনে রাখুন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা থেকে বের হলেন, তখন তিনি হাযওয়ারাহ নামক স্থানে দাঁড়ালেন এবং কাবার দিকে মুখ করে বললেন

আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি আমার নিকট আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় শহর, আর মহান আল্লাহর নিকটও তুমি আল্লাহর প্রিয়তম ভূমি। তুমি জমিনের বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান এবং মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। তোমার অধিবাসীরা যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে না দিত, তবে আমি বের হতাম না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য একটি হাদীসে বলেছেন, জমিনের বুকে সর্বোত্তম শহর এবং মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় হলো মক্কা।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دحيت الأَرْض من مَكَّة فَمدَّهَا الله تَعَالَى من تحتهَا فسميت أم الْقرى

وَأول جبل وضع فِي الأَرْض أَبُو قبيس وَأول من طَاف بِالْبَيْتِ الْمَلَائِكَة قبل أَن يخلق الله تَعَالَى آدم عليه الصلاة والسلام بألفي عَام وَمَا من ملك يَبْعَثهُ الله تَعَالَى من السَّمَاء الى الأَرْض فِي حَاجَة الا اغْتسل من تَحت الْعَرْش وانقض محرما فَيبْدَأ بِبَيْت الله تَعَالَى فيطوف بِهِ اسبوعا
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মক্কা থেকে জমিনকে বিছানো হয়েছে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা এর নিচ থেকে একে প্রসারিত করেছেন, তাই একে উম্মুল কুরা (জনপদসমূহের মূল) নামকরণ করা হয়েছে।

আর জমিনে স্থাপিত সর্বপ্রথম পাহাড় হলো আবু কুবাইস। এবং আল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে সৃষ্টি করার দুই হাজার বছর আগে ফেরেশতারা সর্বপ্রথম এই ঘরের তাওয়াফ করেছিলেন। আর আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে জমিনে কোনো প্রয়োজনে যে ফেরেশতাকেই প্রেরণ করেন না কেন, তিনি অবশ্যই আরশের নিচ থেকে গোসল করেন এবং ইহরাম অবস্থায় অবতরণ করেন; অতঃপর তিনি আল্লাহর ঘর থেকে কাজ শুরু করেন এবং এর চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করেন।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২০)
ثمَّ يُصَلِّي خلف الْمقَام رَكْعَتَيْنِ ثمَّ يمْضِي لِحَاجَتِهِ وَمَا بعث اليه

وكل نَبِي من الانبياء عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام اذا كذبه قومه خرج من بَين أظهرهم الى مَكَّة وَمَا من نَبِي هرب من أمته الا هرب الى مَكَّة فعبد الله تَعَالَى بهَا عِنْد الْكَعْبَة حَتَّى أَتَاهُ الْيَقِين وَهُوَ الْمَوْت وان حول الْكَعْبَة قبر ثلثمِائة نَبِي وَمَا بَين الرُّكْن الْيَمَانِيّ والركن الاسود قبر سبعين نَبيا كلهم قَتلهمْ الْجُوع وَالْقمل وقبر اسماعيل وَأمه هَاجر صلى الله عَلَيْهِمَا وَسلم فِي الْحجر تَحت الْمِيزَاب وقبر نوح وَهود وَشُعَيْب وَصَالح صلى الله على نَبينَا وَعَلَيْهِم وَسلم فِيمَا بَين زَمْزَم وَالْمقَام

وَمَا على وَجه الأَرْض بَلْدَة وَقد اليها جَمِيع النَّبِيين وَالْمَلَائِكَة وَالْمُرْسلِينَ أَجْمَعِينَ وَصَلَاح عباد الله من أهل السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَالْجِنّ إِلَّا مَكَّة
এরপর তিনি মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন, অতঃপর তাঁর প্রয়োজন এবং যে কাজের জন্য তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছে সেদিকে অগ্রসর হবেন।

আর নবীগণের মধ্যে এমন প্রত্যেক নবী যাঁকে তাঁর কওম মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, তিনি তাদের মধ্য থেকে মক্কার দিকে বেরিয়ে এসেছেন। এমন কোনো নবী নেই যিনি স্বীয় উম্মতের কাছ থেকে পলায়ন করে মক্কা ব্যতীত অন্য কোথাও গিয়েছেন। অতঃপর তিনি সেখানে কাবার নিকট মহান আল্লাহর ইবাদত করতেন যতক্ষণ না তাঁর নিকট সুনিশ্চিত বিষয় তথা মৃত্যু উপস্থিত হতো। আর কাবার চারপাশে তিনশত নবীর কবর বিদ্যমান। রুকনে ইয়ামানি এবং হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে সত্তরজন নবীর কবর রয়েছে, যাঁদের সকলকে ক্ষুধা ও উকুন গ্রাস করেছিল। আর ইসমাঈল এবং তাঁর মাতা হাজেরা (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর কবর হিজরের অভ্যন্তরে মিজাবের নিচে অবস্থিত। আর নূহ, হুদ, শুআইব ও সালেহ (আমাদের নবী ও তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর কবর জমজম ও মাকামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

আর ভূপৃষ্ঠে মক্কা ব্যতীত এমন কোনো শহর নেই যেখানে সমস্ত নবী, ফেরেশতা, রাসূলগণ এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসী ও জিনদের মধ্য থেকে আল্লাহর নেককার বান্দাগণ সমবেত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২১)
وَمَا على وَجه الأَرْض بَلْدَة يرفع الله فِيهَا الْحَسَنَة الْوَاحِدَة غَايَة ألف حَسَنَة إِلَّا مَكَّة وَمن صلى فِيهَا صَلَاة رفعت لَهُ مائَة ألف صَلَاة وَمن صَامَ فِيهَا كتب لَهُ صَوْم مائَة ألف يَوْم وَمن تصدق فِيهَا بدرهم كتب الله لَهُ مائَة ألف دِرْهَم صَدَقَة وَمن ختم فِيهَا الْقُرْآن مرّة وَاحِدَة كتب الله تَعَالَى لَهُ مائَة ألف خَ وكل أَعمال الْبر فِيهَا كل وَاحِدَة بِمِائَة ألف

وَمَا أعلم بَلْدَة يحْشر الله تَعَالَى فِيهَا يَوْم الْقِيَامَة من الْأَنْبِيَاء والأصفياء والأتقياء والأبرار وَالصديقين وَالشُّهَدَاء وَالصَّالِحِينَ وَالْعُلَمَاء وَالْفُقَهَاء والفقراء والحكماء والزهاد والعباد والنساك والأخيار والأحبار من الرِّجَال وَالنِّسَاء مَا يحْشر
পৃথিবীর উপরিভাগে মক্কা ব্যতীত এমন কোনো শহর নেই যেখানে আল্লাহ তাআলা একটি নেক আমলকে এক হাজার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন। আর যে ব্যক্তি সেখানে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে, তার জন্য তা এক লক্ষ সালাত হিসেবে গণ্য হবে। যে সেখানে রোজা রাখবে, তার জন্য এক লক্ষ দিনের রোজার সওয়াব লেখা হবে। যে সেখানে এক দিরহাম সদকা করবে, আল্লাহ তার জন্য এক লক্ষ দিরহাম সদকা করার সওয়াব লিখে দেবেন। যে ব্যক্তি সেখানে একবার কুরআন খতম করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য এক লক্ষ বার খতম করার সওয়াব লিখে দেবেন। সেখানে যাবতীয় নেক আমলের প্রতিটিই এক লক্ষ গুণের সমান।

আর আমি এমন কোনো শহর জানি না যেখান থেকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন এত অধিক সংখ্যক নবী, মনোনীত ব্যক্তি, মুত্তাকী, পুণ্যবান, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ, নেককার, আলেম, ফকিহ, অভাবী, প্রজ্ঞাবান, দুনিয়াত্যাগী, ইবাদতকারী, সাধক, সজ্জন এবং ধর্মীয় পণ্ডিতদের—পুরুষ ও নারীদের মধ্য থেকে—পুনরুত্থিত করবেন, যতটা এখান থেকে করবেন।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২২)
الله تَعَالَى من مَكَّة وَإِنَّهُم يحشرون وهم آمنون من عَذَاب الله تَعَالَى

وليوم وَاحِد فِي حرم الله تَعَالَى وأمنه أَرْجَى لَك وَأفضل من صِيَام الدَّهْر كُله وقيامه فِي غَيرهَا من الْبلدَانِ

وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم انه قَالَ لَا تشد الرّحال إِلَّا الى ثَلَاثَة مَسَاجِد مَسْجِدي هَذَا وَالْمَسْجِد الْحَرَام وَالْمَسْجِد الْأَقْصَى

وَلم يذكر شَيْئا من الْمَسَاجِد غَيرهَا

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم صَلَاة فِي مَسْجِدي هَذَا بِأَلف صَلَاة فِيمَا سواهُ إِلَّا الْمَسْجِد الْحَرَام فَإِن الصَّلَاة فِيهِ بِمِائَة الف صَلَاة فِي غَيره وَصَلَاة فِي الْمَسْجِد الْأَقْصَى بِخَمْسِمِائَة صَلَاة \ 1 \
মহান আল্লাহ মক্কা থেকে (তাদের উঠাবেন) এবং তারা মহান আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ অবস্থায় হাশরের ময়দানে সমবেত হবে।

মহান আল্লাহর হারাম ও তাঁর নিরাপত্তায় একটি দিন অতিবাহিত করা তোমার জন্য অন্য শহরগুলোতে সারাজীবনের রোজা ও রাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে অধিক আশাপ্রদ এবং উত্তম।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে না: আমার এই মসজিদ, মসজিদে হারাম এবং মসজিদে আকসা।

তিনি এগুলো ছাড়া অন্য কোনো মসজিদের কথা উল্লেখ করেননি।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত অন্য মসজিদের এক হাজার সালাতের সমতুল্য, তবে মসজিদে হারাম ব্যতীত। কেননা মসজিদে হারামে এক ওয়াক্ত সালাত অন্য জায়গার এক লক্ষ সালাতের সমান। আর মসজিদে আকসায় এক ওয়াক্ত সালাত পাঁচশত সালাতের সমান। \ ১ \
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَمَا على وَجه الأَرْض بقْعَة ينزلها كل يَوْم من عِنْد الله تَعَالَى عشرُون وَمِائَة رَحْمَة سِتُّونَ للطائفين وَأَرْبَعُونَ للمصلين وَعِشْرُونَ للناظرين الى الْكَعْبَة إِلَّا مَكَّة

وَالنَّظَر الى الْكَعْبَة عبَادَة قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من نظر الى بَيت الله إِيمَانًا واحتسابا وَتَصْدِيقًا غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه وَمَا تَأَخّر وَحشر يَوْم الْقِيَامَة من الْآمنينَ

ويحشر الله تَعَالَى أَهلهَا يَوْم الْقِيَامَة آمِنين

وَمَا على وَجه الأَرْض بَلْدَة أَبْوَاب الْجنَّة كلهَا مَفْتُوحَة اليها
পৃথিবীর উপরিভাগে মক্কা ব্যতীত এমন কোনো ভূখণ্ড নেই যেখানে প্রতিদিন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একশত বিশটি রহমত অবতীর্ণ হয়; ষাটটি তাওয়াফকারীদের জন্য, চল্লিশটি সালাত আদায়কারীদের জন্য এবং বিশটি কাবার দিকে দৃষ্টিপাতকারীদের জন্য।

আর কাবার দিকে তাকানো একটি ইবাদত। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানসহকারে, সওয়াবের প্রত্যাশায় এবং সত্যায়নপূর্বক আল্লাহর ঘরের দিকে তাকাবে, তার পূর্বের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং কিয়ামতের দিন তাকে নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে হাশর করা হবে।

মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন মক্কাবাসীদের নিরাপদ অবস্থায় হাশর করাবেন।

পৃথিবীর বুকে মক্কা ব্যতীত এমন কোনো শহর নেই যার দিকে জান্নাতের সকল দ্বার উন্মুক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২৪)
الا مَكَّة وان أَبْوَاب الْجنَّة لثمانية أَبْوَاب كلهَا منفتحة اليها بِمَكَّة الى يَوْم الْقِيَامَة فباب مِنْهَا للكعبة وَبَاب مِنْهَا تَحت الْمِيزَاب وَبَاب مِنْهَا عِنْد الرُّكْن الْيَمَانِيّ وَبَاب مِنْهَا عِنْد الرُّكْن الاسود وَبَاب مِنْهَا خلف الْمقَام وَبَاب مِنْهَا عِنْد زَمْزَم وَبَاب مِنْهَا على الصَّفَا وَبَاب مِنْهَا على الْمَرْوَة وَلَا يدْخل الْكَعْبَة أحد إِلَّا برحمة الله وَلَا يخرج مِنْهَا إِلَّا بمغفرة الله عز وجل قَالَ تَعَالَى {وَمن دخله كَانَ آمنا} أَي من النَّار وَمَا على وَجه الأَرْض بَلْدَة يُسْتَجَاب فِيهَا الدُّعَاء فِي خَمْسَة عشر موضعا إِلَّا مَكَّة أَولهَا جَوف الْكَعْبَة الدُّعَاء فِيهَا مستجاب وَالدُّعَاء عِنْد الْحجر الْأسود مستجاب وَالدُّعَاء عِنْد الرُّكْن الْيَمَانِيّ مستجاب وَالدُّعَاء عِنْد الْحجر مستجاب وَالدُّعَاء خلف الْمقَام مستجاب وَالدُّعَاء فِي
মক্কা ব্যতীত; আর নিশ্চয়ই জান্নাতের আটটি দরজাই মক্কায় কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এর (কা'বার) দিকে উন্মুক্ত। সুতরাং সেগুলোর একটি দরজা কা'বার জন্য, একটি দরজা মীজাবের নিচে, একটি দরজা রুকনে ইয়ামানীর নিকটে, একটি দরজা হাজরে আসওয়াদের নিকটে, একটি দরজা মাকামের পেছনে, একটি দরজা যমযমের নিকটে, একটি দরজা সাফার উপরে এবং একটি দরজা মারওয়ার উপরে। আল্লাহর রহমত ব্যতীত কেউ কা'বায় প্রবেশ করে না এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ক্ষমা ব্যতীত কেউ সেখান থেকে বের হয় না। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: {আর যে এতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে} অর্থাৎ জাহান্নামের আগুন থেকে। ভূপৃষ্ঠে মক্কা ব্যতীত এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে পনেরোটি স্থানে দোয়া কবুল হয়; তার প্রথমটি হলো কা'বার অভ্যন্তর ভাগ, সেখানে দোয়া কবুল হয়; হাজরে আসওয়াদের নিকট দোয়া কবুল হয়; রুকনে ইয়ামানীর নিকট দোয়া কবুল হয়; হিজর-এর নিকট দোয়া কবুল হয়; মাকামের পেছনে দোয়া কবুল হয়; এবং দোয়া...
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২৫)
الْمُلْتَزم مستجاب وَالدُّعَاء عِنْد بَاب بِئْر زَمْزَم مستجاب وَالدُّعَاء على الصَّفَا والمروة مستجاب وَالدُّعَاء بَين الصَّفَا والمروة مستجاب وَالدُّعَاء بَين الرُّكْن وَالْمقَام مستجاب وَالدُّعَاء بمنى مستجاب وَالدُّعَاء مستجاب وَالدُّعَاء بِعَرَفَات مستجاب وَالدُّعَاء فِي الْمشعر الْحَرَام مستجاب

فَهَذِهِ يَا أخي خَمْسَة عشر موضعا فاغتنم الدُّعَاء فِيهَا فانها الماضع الَّتِي لَا يرد فِيهَا الدُّعَاء وَهِي الْمشَاهد الْعِظَام الَّتِي ترجى فِيهَا الْمَغْفِرَة فاجتهد يَا أخي فِي الدُّعَاء عِنْد هَذِه الْمشَاهد الْعِظَام

وَأَنَّك إِن خرجت من حرم الله تَعَالَى وأمنه ذهبت عَنْك بركَة هَذِه الْمشَاهد

قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن خير الْبِقَاع
মুলতাজামে দুআ কবুল হয়, যমযম কূপের দরজার নিকট দুআ কবুল হয়, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের উপর দুআ কবুল হয়, সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে দুআ কবুল হয়, রুকন ও মাকামের মধ্যবর্তী স্থানে দুআ কবুল হয়, মিনাতে দুআ কবুল হয়, আরাফাতে দুআ কবুল হয় এবং মাশআরে হারামে দুআ কবুল হয়।

হে আমার ভাই, এই হলো পনেরোটি স্থান, সুতরাং আপনি এই স্থানগুলোতে দুআ করার সুযোগ লুফে নিন; কেননা এগুলো এমন স্থান যেখানে দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আর এগুলো সেই সুমহান পবিত্র স্থানসমূহ যেখানে ক্ষমার আশা করা হয়। অতএব হে আমার ভাই, এই সুমহান স্থানগুলোতে দুআর ব্যাপারে আপনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান।

আর নিশ্চয়ই আপনি যখন আল্লাহ তাআলার হারাম এবং তাঁর নিরাপদ এলাকা থেকে বের হয়ে যাবেন, তখন এই পবিত্র স্থানসমূহের বরকত আপনার থেকে চলে যাবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম ভূখণ্ড...
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأطهرها وأزكاها وأقربها من الله تَعَالَى مَا بَين الرُّكْن وَالْمقَام

وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا بَين الرُّكْن الْيَمَانِيّ وَالْأسود رَوْضَة من رياض الْجنَّة

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم مَا من أحد يَدْعُو عِنْد الرُّكْن الْأسود إِلَّا اسْتُجِيبَ لَهُ وَكَذَلِكَ عِنْد الرُّكْن الْيَمَانِيّ

وَاعْلَم يَا أخي أَنه لَا يخرج مِنْهَا أحد إِلَّا نَدم قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمقَام بِمَكَّة سَعَادَة وَالْخُرُوج مِنْهَا شقاوة \ 2 \

فَأثْبت مَكَانك وَإِيَّاك والقلق والضجر فَإِن ذَلِك من فعل الشَّيْطَان فَلَا تَبْرَح وَإنَّك إِن تكسب مكسبا يُسَاوِي فلسين من حَلَال بهَا كَانَ أفضل وَخيرا من أَن تكسب فِي غَيرهَا ألفي دِرْهَم

قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من مَاتَ حَاجا أَو
এবং এর মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র, বিশুদ্ধ এবং মহান আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থান হলো রুকন ও মাকামের মধ্যবর্তী স্থান।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রুকনে ইয়ামানি ও রুকনে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য হতে একটি বাগান।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে রুকনে আসওয়াদের নিকট দোয়া করে অথচ তার দোয়া কবুল করা হয় না, আর রুকনে ইয়ামানির নিকটও অনুরূপ।

হে আমার ভাই, জেনে রাখুন যে, সেখান থেকে কেউ বের হয় না অনুতপ্ত হওয়া ব্যতীত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মক্কায় অবস্থান করা সৌভাগ্য এবং সেখান থেকে প্রস্থান করা দুর্ভাগ্য। \ ২ \

সুতরাং আপনি আপনার স্থানে অটল থাকুন এবং অস্থিরতা ও বিরক্তি থেকে সাবধান থাকুন, কেননা তা শয়তানের কাজ। অতএব আপনি স্থান ত্যাগ করবেন না। আর সেখানে যদি আপনি হালাল পন্থায় দুই পয়সা সমপরিমাণও উপার্জন করেন, তবে তা অন্য কোনো স্থানে দুই হাজার দিরহাম উপার্জন করার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি হজ পালনরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল অথবা
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২৭)
مُعْتَمِرًا لم يعرض وَلم يُحَاسب، وَقيل لَهُ ادخل الْجنَّة بِسَلام مَعَ الْآمنينَ.

وَقَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: من صَامَ شهر رَمَضَان بِمَكَّة كتب اللَّهِ تَعَالَى لَهُ مائَة ألف شهر فِي غَيرهَا من الْبلدَانِ، وَصَلَاة بِالْمَسْجِدِ الْحَرَام بِمِائَة ألف صَلَاة، فَإِن صلاهَا فِي جمَاعَة فَهِيَ بِأَلف ألف صَلَاة، وَمن مرض بِمَكَّة يَوْمًا وَاحِدًا حرم اله سبحانه وتعالى جسده ولحمه على النَّار.

قَالَ صلى الله عليه وسلم: من مرض بِمَكَّة يَوْمًا كتب اللَّهِ لَهُ من الْعَمَل الصَّالح الَّذِي كَانَ يعْمل فِي غَيرهَا عبَادَة سِتِّينَ سنة. وَمن صَبر على حر مَكَّة سَاعَة من نَهَار أبعده اللَّهِ تَعَالَى من النَّار مسيرَة خَمْسمِائَة عَام، وقربه من الْجنَّة
...উমরাহ পালনকারী হিসেবে, তাকে (হিসাবের জন্য) উপস্থাপন করা হবে না এবং তার কোনো হিসাব নেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে, "নিরাপদদের সাথে শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করো।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মক্কায় রমজান মাসের সিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য অন্যান্য শহরের এক লক্ষ মাসের সওয়াব লিখে দেবেন। আর মসজিদে হারামে এক ওয়াক্ত সালাত এক লক্ষ সালাতের সমান। যদি তা জামাতের সাথে আদায় করা হয়, তবে তা দশ লক্ষ সালাতের সমান। আর যে ব্যক্তি মক্কায় একদিন অসুস্থ থাকবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার দেহ ও মাংসকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন।"

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মক্কায় একদিন অসুস্থ হবে, আল্লাহ তার জন্য অন্যান্য স্থানে করা সৎ আমলের পরিবর্তে ষাট বছরের ইবাদত লিখে দেবেন। আর যে ব্যক্তি দিনের এক মুহূর্ত মক্কার প্রচণ্ড উত্তাপের ওপর ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে পাঁচশত বছরের পথ দূরে সরিয়ে দেবেন এবং জান্নাতের নিকটবর্তী করবেন।"
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২৮)
مسيرَة مِائَتي عَام، وَإِن مَكَّة وَالْمَدينَة لينفيان خبثهما كَمَا يَنْفِي الْكِير خبث الْحَدِيد، أَلا وَأَن مَكَّة أنشئت على المكروهات والدرجات، وَمن صَبر على شدتها كنت لَهُ شَفِيعًا أَو شَهِيدا يَوْم الْقِيَامَة، وَمن مَاتَ بِمَكَّة أَو بِالْمَدِينَةِ بَعثه اللَّهِ يَوْم الْقِيَامَة آمنا من عَذَابه، لَا حِسَاب عَلَيْهِ، وَلَا خوف وَلَا عَذَاب، وَيدخل الْجنَّة بِسَلام، وَكنت لَهُ شَفِيعًا يَوْم الْقِيَامَة.

أَلا إِن أهل مَكَّة هم أهل اللَّهِ تَعَالَى وجيران بَيته، وَمَا على وَجه الأَرْض بَلْدَة فِيهَا شراب الْأَبْرَار، ومصلى الأخيار إِلَّا بِمَكَّة.

قيل لِابْنِ عَبَّاس رضي الله عنهما مَا مصلى الأخيار؟ قَالَ: تَحت الْمِيزَاب. فَقيل لَهُ: مَا شرب الْأَبْرَار؟ قَالَ: مَاء زَمْزَم.
দুইশত বছরের পথ; আর নিশ্চয়ই মক্কা ও মদিনা তাদের অপবিত্রতাকে সেভাবেই দূর করে দেয় যেভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে। জেনে রেখো, মক্কাকে প্রতিকূলতা ও উচ্চ মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। যে ব্যক্তি এর কঠোরতায় ধৈর্য ধারণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব। আর যে ব্যক্তি মক্কায় অথবা মদিনায় মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন তাঁর আযাব থেকে নিরাপদ অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন; তার ওপর কোনো হিসাব থাকবে না, থাকবে না কোনো ভয় বা আযাব, এবং সে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী হব।

জেনে রেখো, মক্কাবাসীগণ হলেন আল্লাহ তাআলার পরিজন এবং তাঁর ঘরের প্রতিবেশী। মক্কা ব্যতীত ভূপৃষ্ঠে এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে পুণ্যবানদের পানীয় এবং নেককার ব্যক্তিদের সালাত আদায়ের স্থান বিদ্যমান।

ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে জিজ্ঞেস করা হলো: নেককার ব্যক্তিদের সালাত আদায়ের স্থান কোনটি? তিনি বললেন: মিজাবের নিচে। অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: পুণ্যবানদের পানীয় কী? তিনি বললেন: যমযম পানি।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَخير وَاد على وَجه الأَرْض وَادي إِبْرَاهِيم صلى الله عليه وسلم _ وَخير بِئْر على وَجه الأَرْض بِئْر زَمْزَم.

وَمَا بَلْدَة يُوجد فِيهَا شَيْء إِذا مَسّه الْإِنْسَان خرج من ذنُوبه كَيَوْم وَلدته أمه إِلَّا بِمَكَّة، فَإِن من مس الْحجر الْأسود خرج من ذنُوبه كَيَوْم وَلدته أمه.

وَمَا على وَجه الأَرْض بَلْدَة يُصَلِّي فِيهَا أحد حَيْثُ أَمر اللَّهِ نبيه إِلَّا بِمَكَّة فَإِنَّهُ قَالَ اللَّهِ تَعَالَى -: وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مصلى.

وَمن صلى خلف الْمقَام كَانَ آمنا، قَالَ رَسُول اله صلى الله عليه وسلم _: من صلى خلف الْمقَام رَكْعَتَيْنِ غفر لَهُ مَا
পৃথিবীর বুকে সর্বোত্তম উপত্যকা হলো ইবরাহীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপত্যকা এবং পৃথিবীর বুকে সর্বোত্তম কূপ হলো যমযম কূপ।

মক্কা ব্যতীত এমন কোনো শহর নেই যেখানে এমন কিছু বিদ্যমান যা কোনো মানুষ স্পর্শ করলে সে তার পাপসমূহ থেকে সেই দিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যায় যেদিন তার জননী তাকে জন্ম দিয়েছিল। কেননা যে ব্যক্তি হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে, সে তার পাপসমূহ থেকে সেই দিনের ন্যায় মুক্ত হয়ে যায় যেদিন তার জননী তাকে জন্ম দিয়েছিল।

পৃথিবীর বুকে মক্কা ব্যতীত এমন কোনো শহর নেই যেখানে কেউ সেই স্থানে সালাত আদায় করে যেখানে আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: “তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।”

যে ব্যক্তি মাকামের পেছনে সালাত আদায় করে সে নিরাপদ থাকে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি মাকামের পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তার জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হয় যা...”
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩০)
تقدم من ذَنبه وَمَا تَأَخّر، وَمن صلى تَحت الْمِيزَاب رَكْعَتَيْنِ خرج من ذنُوبه كَيَوْم وَلدته أمه، وَمن صلى حول الْكَعْبَة رَكْعَتَيْنِ خرج من ذنُوبه كَيَوْم وَلدته أمه.

وَأحب الْبِقَاع إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مَا بَين الْمقَام والملتزم. وَالنَّظَر إِلَى الْكَعْبَة عبَادَة وأمان من النِّفَاق.

وَمَا على وَجه الأَرْض بقْعَة يُوجد فِيهَا الطّواف وَالْحج وَالْعمْرَة إِلَّا بِمَكَّة، وَالنَّظَر فِي بِئْر زَمْزَم عبَادَة، والطائف حول الْبَيْت كالطائف حول عرش الرَّحْمَن، وَالْحجر الْأسود يَد اللَّهِ تَعَالَى فِي أرضه يُصَافح فِيهَا من يَشَاء من عباده، وَالْحجر الْأسود وَالْمقَام يأتيان يَوْم الْقِيَامَة كل وَاحِد مِنْهُمَا مثل جبل أبي قبيس، لَهما عينان ولسانان وشفتان يَشْهَدَانِ لكل من وافاهما بِالْوَفَاءِ.
...তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহসমূহ (ক্ষমা করে দেয়া হয়)। যে ব্যক্তি মিজাবের নিচে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে, সে তার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি কাবার চারদিকে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে, সেও তার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড হলো মাকাম ও মুলতাজামের মধ্যবর্তী স্থান। কাবার দিকে তাকানো ইবাদত এবং নিফাক (কপটতা) থেকে সুরক্ষা।

মক্কা ব্যতীত ভূপৃষ্ঠে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে তাওয়াফ, হজ ও উমরা বিদ্যমান রয়েছে। যমযম কূপের দিকে তাকানো ইবাদত। বাইতুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফকারী ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর আরশের চারদিকে তাওয়াফকারীর ন্যায়। হাজরে আসওয়াদ হলো যমীনে আল্লাহ তাআলার হাত, এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার সাথে ইচ্ছা মুসাফাহা করেন। কিয়ামতের দিন হাজরে আসওয়াদ ও মাকাম—উভয়টিই আবু কুবাইস পাহাড়ের ন্যায় বিশাল হয়ে উপস্থিত হবে; তাদের উভয়ের দুটি চোখ, দুটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট থাকবে এবং যারা পূর্ণ বিশ্বস্ততার সাথে তাদের নিকট উপস্থিত হয়েছিল তারা তাদের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩১)
رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: إِن أكْرم الْمَلَائِكَة عِنْد اللَّهِ تَعَالَى الَّذين يطوفون حول بَيته. وَمن نظر إِلَى الْبَيْت نظرة وَكَانَ عَلَيْهِ خَطَايَا مثل زبد الْبَحْر غفرها اللَّهِ لَهُ كلهَا.

قَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِن لله عز وجل لوحا من ياقوتة حَمْرَاء ينظر اللَّهِ فِيهِ كل يَوْم ثَلَاثمِائَة وَسِتِّينَ نظرة، مائَة وَثَمَانُونَ نظرة رَحْمَة، وَمِائَة وَثَمَانُونَ نظرة عَذَاب. وَإِن أول من ينظر اللَّهِ تَعَالَى إِلَيْهِ بِالرَّحْمَةِ لأهل حرمه، فَمن رَآهُ قَائِما يُصَلِّي غفر لَهُ. فَتَقول الْمَلَائِكَة وَهُوَ أعلم بذلك رَبنَا لم يبْق إِلَّا النائمون. فَيَقُول تبارك وتعالى: والنائمون حول بَيْتِي ألحقوهم.

وَقَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: من طَاف حول الْبَيْت أسبوعا رفع اللَّهِ لَهُ بِكُل قدم سبعين ألف دَرَجَة،
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: মহান আল্লাহর নিকট ফেরেশতাদের মধ্যে তাঁরাই সবচেয়ে সম্মানিত যারা তাঁর ঘরের চারদিকে তাওয়াফ করেন। আর যে ব্যক্তি কা’বা ঘরের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করবে, তার যদি সমুদ্রের ফেনার ন্যায় গুনাহও থাকে, আল্লাহ তার সবটুকুই ক্ষমা করে দেবেন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর লাল ইয়াকুত পাথরের একটি ফলক রয়েছে, যাতে আল্লাহ প্রতিদিন তিনশত ষাট বার দৃষ্টিপাত করেন; একশত আশি বার রহমতের দৃষ্টি এবং একশত আশি বার আযাবের দৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন তারা হলো তাঁর হারামের অধিবাসী; অতঃপর তিনি যাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেন তাকে ক্ষমা করে দেন। তখন ফেরেশতারা বলেন—অথচ তিনি এ বিষয়ে সম্যক অবগত—হে আমাদের প্রতিপালক! কেবল নিদ্রিত ব্যক্তিরাই অবশিষ্ট আছে। তখন বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেন: যারা আমার ঘরের চারপাশে নিদ্রিত আছে, তাদেরকেও (ক্ষমাপ্রাপ্তদের তালিকায়) শামিল করো।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি কা’বা ঘরের চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে সত্তর হাজার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَأَعْطَاهُ سبعين ألف حَسَنَة، وَأَعْطَاهُ سبعين ألف شَفَاعَة فِيمَن شَاءَ من أهل بَيته من الْمُسلمين، إِن شَاءَ عجلت لَهُ فِي الدُّنْيَا، وَإِن شَاءَ ادخرت لَهُ فِي الْآخِرَة.

وَقَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: من طَاف حول بَيت اللَّهِ سبعا فِي يَوْم صَائِف شَدِيد الْحر، حاسرا عَن رَأسه، واستلم الْحجر فِي كل طوفة من غير أَن يُؤْذِي أحدا، وَقل كَلَامه إِلَّا من ذكر اله تَعَالَى كَانَ لَهُ بِكُل قدم يرفعها أَو يَضَعهَا سَبْعُونَ ألف حَسَنَة، ومحي عَنهُ سَبْعُونَ ألف سئية، وَرفع لَهُ سَبْعُونَ ألف دَرَجَة.

وَفضل الْحَاج الْمَاشِي على الْحَاج الرَّاكِب كفضل الْقَمَر
এবং তিনি তাকে সত্তর হাজার নেকি দান করেন এবং তার পরিবারের মুসলিম সদস্যদের মধ্যে যার জন্য সে ইচ্ছা করবে তার জন্য সত্তর হাজার সুপারিশ করার সুযোগ দান করেন। তিনি চাইলে তা তার জন্য দুনিয়াতে ত্বরান্বিত করেন, আর চাইলে আখেরাতের জন্য সঞ্চিত রাখেন।

এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তপ্ত দিনে মাথা উন্মুক্ত অবস্থায় আল্লাহর ঘরের চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করে, কাউকে কষ্ট না দিয়ে প্রতি চক্করে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে এবং মহান আল্লাহর যিকির ব্যতীত কথাবার্তা কম বলে, তবে তার প্রতিটি পা উঠানো এবং রাখার বিনিময়ে সত্তর হাজার নেকি দান করা হয়, তার সত্তর হাজার পাপ মিটিয়ে দেওয়া হয় এবং তার সত্তর হাজার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়।

আর আরোহী হাজির তুলনায় পদব্রজে হজ পালনকারী হাজির শ্রেষ্ঠত্ব চাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لَيْلَة الْبَدْر على سَائِر الْكَوَاكِب.

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: لَو أَن الْمَلَائِكَة صافحت أحدا لصافحت الْغَازِي فِي سَبِيل اللَّهِ، والبار بِوَالِديهِ، والطائف بِبَيْت اللَّهِ ".

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: الْكَعْبَة محفوفة بسبعين ألفا من الْمَلَائِكَة يَسْتَغْفِرُونَ لمن طَاف، وَيصلونَ عَلَيْهِ.

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: الطَّائِف يَخُوض فِي رَحْمَة اللَّهِ، وَإِن اللَّهِ ليباهي بالطائفين حول الْبَيْت الْمَلَائِكَة.

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم استكثروا من هَذَا الطّواف قبل أَن يُحَال بَيْنكُم وَبَينه، فَكَأَنِّي أنظر إِلَى رجل من الْحَبَشَة أصليع أفيدع، أصفح أفيحج، جَالس عَلَيْهَا يَهْدِمهَا
পূর্ণিমার চাঁদের রাতের অন্যান্য সকল গ্রহ-নক্ষত্রের ওপর।

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি ফেরেশতারা কারো সাথে মুসাফাহা করত, তবে তারা আল্লাহর পথের যোদ্ধা, পিতামাতার প্রতি সদাচারী এবং আল্লাহর ঘরে তাওয়াফকারীর সাথে মুসাফাহা করত।"

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কাবা সত্তর হাজার ফেরেশতা দ্বারা পরিবেষ্টিত, যারা তাওয়াফকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তার ওপর রহমত ও শান্তির দোয়া করে।"

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তাওয়াফকারী আল্লাহর রহমতের মধ্যে অবগাহন করে, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বায়তুল্লাহর চারপাশে তাওয়াফকারীদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করেন।"

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা এই তাওয়াফ অধিক পরিমাণে করো, তোমাদের ও এর মাঝে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আগেই। আমি যেন আবিসিনিয়ার (হাবশার) এক টাকপড়া, পা বাঁকা, চওড়া কপাল ও প্রশস্ত পা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেখছি, যে কাবার ওপর বসে তা ধ্বংস করছে।"
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
حجرا حجرا.

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم الْحجَّاج والعمار وَفد اللَّهِ تَعَالَى، إِن سَأَلُوهُ أَعْطَاهُم، وَإِن دَعوه أجابهم، وَإِن أَنْفقُوا أخلف عَلَيْهِم بِكُل دِرْهَم سَبْعمِائة ألف دِرْهَم وَفِي رِوَايَة ألف ألف دِرْهَم وَسَبْعمائة ألف دِرْهَم وَالَّذِي نَفسه بِيَدِهِ، مَا أهل مهل وَلَا كبر مكبر إِلَّا أهل بتهليله، وَكبر بتكبيره كل شَيْء حَتَّى مُنْقَطع التُّرَاب [فَقَالَ رجل] : يَا رَسُول اللَّهِ وَإِلَى هَذِه المضاعفة؟ فَقَالَ: وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ، أما إنفاقهم ليخلفن اللَّهِ عَلَيْهِم السبعمائة ألف دَار الدُّنْيَا قبل أَن يخرجُوا مِنْهَا، وَأما الْألف ألف، فَهِيَ مدخرة لَهُم فِي الْآخِرَة، وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِن الدِّرْهَم الْوَاحِد لأثقل من
পাথর পাথর করে।

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: হজ্জ ও উমরাহ পালনকারীরা হলেন মহান আল্লাহর প্রতিনিধিদল; তারা যদি তাঁর নিকট প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাদের দান করেন, আর যদি তারা তাঁকে আহ্বান করে, তবে তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেন। আর যদি তারা ব্যয় করে, তবে তিনি তাদের প্রতিটি দিরহামের বিনিময়ে সাত লক্ষ দিরহাম প্রতিদান হিসেবে ফিরিয়ে দেন। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, দশ লক্ষ দিরহাম এবং সাত লক্ষ দিরহাম। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে তাঁর প্রাণ, কোনো তালবিয়াহ পাঠকারী যখন তালবিয়াহ পাঠ করে এবং কোনো তাকবীর পাঠকারী যখন তাকবীর পাঠ করে, তখন মাটির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রতিটি বস্তু তার সাথে তালবিয়াহ এবং তাকবীর পাঠ করে। [অতঃপর এক ব্যক্তি বললেন]: হে আল্লাহর রাসূল! এই পরিমাণ বৃদ্ধি পর্যন্ত? তিনি বললেন: সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাদের ব্যয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহ দুনিয়া থেকে তাদের বিদায়ের পূর্বেই দুনিয়াতে সাত লক্ষ দিরহামের প্রতিদান প্রদান করবেন। আর দশ লক্ষ দিরহামের বিষয়টি তাদের জন্য পরকালের জন্য সঞ্চিত রাখা হয়েছে। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই একটি দিরহাম... এর চেয়েও অধিক ভারী।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
جبلكم هَذَا وَأَشَارَ إِلَى أبي قبيس.

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم من اسْتَطَاعَ أَن يَمُوت فِي أحد الْحَرَمَيْنِ فليمت، فَإِنِّي أول من أشفع لَهُ، وَكَانَ يَوْم الْقِيَامَة آمنا من عَذَاب اللَّهِ تَعَالَى، وَلَا حِسَاب عَلَيْهِ وَلَا عَذَاب.

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: الْعمرَة إِلَى الْعمرَة كَفَّارَة لما بَينهمَا. وَالْحج المبرور لَيْسَ لَهُ جَزَاء إِلَّا الْجنَّة.

وَقَالَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: من حج وَلم يرْفث، وَلم يفسق، خرج من ذنُوبه كَيَوْم وَلدته أمه.

وَمَا من رجل أوصى بخحجة إِلَّا كتب لَهُ ثَلَاث حجج، حجَّة للَّذي كتبهَا، وَحجَّة للَّذي أوصى بهَا، وَحجَّة للَّذي أحرم بهَا
তোমাদের এই পাহাড়টি এবং তিনি আবু কুবাইসের দিকে ইশারা করলেন।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দুই হারামের (মক্কা বা মদীনা) কোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম হয়, সে যেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করে; কেননা আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তার জন্য সুপারিশ করবে, এবং সে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আজাব থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার কোনো হিসাব ও শাস্তি হবে না।

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: এক ওমরাহ থেকে অন্য ওমরাহ পর্যন্ত সময়কাল উভয়ের মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি হজ করল এবং তাতে কোনো অশালীন কথা বলল না ও কোনো পাপাচার করল না, সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে নিষ্কলুষ হয়ে ফিরল যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।

আর যে ব্যক্তি হজের অসিয়ত করে যায়, তার জন্য তিনটি হজের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়: একটি হজ তার জন্য যে এটি লিখেছে, একটি হজ তার জন্য যে এর অসিয়ত করেছে, এবং একটি হজ তার জন্য যে এর ইহরাম বেঁধেছে।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عَنهُ. وَمن حج عَن وَالِديهِ كتب لَهُ حجتان، حجَّة لَهُ وَحجَّة لوَالِديهِ، وَمن حج عَن ميت حجَّة من غير أَن يُوصي بهَا، كتبت لَهُ حجَّة وكتبت للَّذي حج عَنهُ سَبْعُونَ حجَّة.

وَإنَّهُ إِذا كَانَ عَشِيَّة عَرَفَة هَبَط اللَّهِ سبحانه وتعالى إِلَى سَمَاء الدُّنْيَا فَينْظر إِلَى عباده فيباهي بهم الْمَلَائِكَة. يَقُول جل جلاله: يَا ملائكتي أما ترَوْنَ إِلَى عبَادي قد أَقبلُوا من كل فج عميق، شعثا غبرا، يرجون رَحْمَتي، أشهدكم يَا ملائكتي أَنِّي وهبت مسيئهم لمحسنهم، وشفعت بَعضهم فِي بعض، وغفرت لَهُم أَجْمَعِينَ، أفيضوا عبَادي كلكُمْ مغفورا لكم مَا مضى من ذنوبكم، صغيرها وكبيرها، قديمها وحديثها.

وَحجَّة مَقْبُولَة خير من الدُّنْيَا، وَمَا فِيهَا، وَيُقَال للَّذي لَا
তাঁর পক্ষ থেকে। আর যে ব্যক্তি তার পিতামাতার পক্ষ থেকে হজ সম্পাদন করবে, তার জন্য দুটি হজ লিপিবদ্ধ করা হবে; একটি হজ তার নিজের জন্য এবং একটি হজ তার পিতামাতার জন্য। আর যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ওসিয়ত ছাড়াই হজ করবে, তার জন্য একটি হজ লেখা হবে এবং যার পক্ষ থেকে হজ করা হয়েছে তার জন্য সত্তরটি হজ লিপিবদ্ধ করা হবে।

আর নিশ্চয়ই যখন আরাফার দিন সন্ধ্যা হয়, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন। অতঃপর তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তাঁদের নিয়ে গর্ব করেন। আল্লাহ جل جلاله বলেন: হে আমার ফেরেশতারা! তোমরা কি আমার বান্দাদের প্রতি লক্ষ্য করছ না? তারা দূর-দূরান্তের গভীর পথ থেকে আলুথালু চুলে ও ধুলোবালি মাখা অবস্থায় আমার রহমতের আশায় এসেছে। হে আমার ফেরেশতারা! আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের অপরাধীদেরকে তাদের নেককারদের খাতিরে মার্জনা করলাম, তাদের একে অপরের জন্য করা সুপারিশ গ্রহণ করলাম এবং তাদের সকলকেই ক্ষমা করে দিলাম। হে আমার বান্দারা! তোমরা প্রস্থান করো; তোমাদের অতীতের যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, ছোট হোক কিংবা বড়, পুরাতন হোক কিংবা নতুন।

আর একটি কবুল হজ দুনিয়া ও তার মধ্যস্থিত সকল কিছু অপেক্ষা উত্তম। আর এমন ব্যক্তিকে বলা হয় যে...
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
تقبل مِنْهُ يخرج من ذنُوبه، وَالَّذِي يقبل اللَّهِ مِنْهُ، فقد فَازَ فوزا عَظِيما.

وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم: أَنه قَالَ: من زارني بعد وفاتي فَكَأَنَّمَا زارني فِي حَياتِي، وَمن لم يدركني وَلم يبايعني ثمَّ جَاءَ إِلَى الْمَدِينَة بعد وفاتي، وَسلم عَليّ وزارني عِنْد قَبْرِي فقد بايعني. وَمن أَتَى الرُّكْن الْأسود فَقبله فَكَأَنَّمَا بَايع اللَّهِ تَعَالَى وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم _

قَالَ صلى الله عليه وسلم: أَن الرُّكْن يَمِين اللَّهِ فِي الأَرْض، يُصَافح بهَا عبَادَة كَمَا يُصَافح أحدكُم أَخَاهُ، وَمن لم يدْرك بيعَة رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم واستلم الْحجر فقد بَايع اللَّهِ تَعَالَى، وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم.

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: أَنه لم يبْق شَيْء من الْجنَّة غير هَذَا الْحجر الْأسود، وَلَوْلَا مَا مَسّه من أنجاس الْمُشْركين
যার থেকে এটি কবুল করা হয়, সে তার পাপাচার হতে বিমুক্ত হয়; আর আল্লাহ যার আমল কবুল করেন, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ইন্তেকালের পর আমাকে জিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশাতেই আমাকে জিয়ারত করল। আর যে ব্যক্তি আমাকে পায়নি এবং আমার বায়আত গ্রহণ করতে পারেনি, অতঃপর আমার ইন্তেকালের পর মদীনায় আগমন করে আমাকে সালাম দিল এবং আমার কবরের নিকট আমাকে জিয়ারত করল, সে যেন আমার নিকট বায়আত গ্রহণ করল। আর যে ব্যক্তি রুকনে আসওয়াদের নিকট এসে তা চুম্বন করল, সে যেন আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বায়আত গ্রহণ করল।"

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই রুকন জমিনে আল্লাহর ডান হাত, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের সাথে মুসাফাহা করেন যেমন তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের সাথে মুসাফাহা করে। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বায়আত পায়নি কিন্তু এই পাথরটি স্পর্শ করল, সে যেন আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বায়আত গ্রহণ করল।"

এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "এই হাজরে আসওয়াদ ব্যতীত জান্নাতের কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই; আর যদি মুশরিকদের অপবিত্রতা একে স্পর্শ না করত..."
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وأرجاسهم مَا مَسّه ذُو عاهة يستشفي بِهِ إِلَّا برأَ.

وَمن مَاتَ بِالْحرم فَكَأَنَّمَا مَاتَ فِي السَّمَاء الرَّابِعَة، وَمن مَاتَ فِي بَيت الْمُقَدّس فَكَأَنَّمَا مَاتَ فِي سَمَاء الدُّنْيَا، وَمن حج بَيت اللَّهِ تَعَالَى مَاشِيا كتب اللَّهِ لَهُ بِكُل قدم يرفعهُ ويضعه سبعين ألف حَسَنَة من حَسَنَات الْحرم.

قَالَ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما: حَسَنَة الْحرم بِمِائَة ألف حَسَنَة.

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: أَن للْحَاج الرَّاكِب لكل خطْوَة يخطوها بعيره حَسَنَة من حَسَنَات الْحرم. قيل يَا
এবং তাদের মলমূত্র—কোনো ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি আরোগ্য কামনায় তা স্পর্শ করলে সে সুস্থ না হয়ে যেত না।

আর যে ব্যক্তি হারামে মৃত্যুবরণ করবে, সে যেন চতুর্থ আসমানে মৃত্যুবরণ করল; আর যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাসে মৃত্যুবরণ করবে, সে যেন দুনিয়ার আসমানে মৃত্যুবরণ করল। এবং যে ব্যক্তি পায়ে হেঁটে মহান আল্লাহর ঘরের হজ করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি কদম উঠানো এবং রাখার বিনিময়ে হারামের সত্তর হাজার নেকি লিখে দেবেন।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: হারামের এক নেকি এক লক্ষ নেকির সমান।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয় আরোহী হজ পালনকারীর জন্য তার উটের প্রতিটি কদমের বিনিময়ে হারামের একটি করে নেকি রয়েছে। বলা হলো, হে...
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মাক্কাহ - আল-হাসান আল-বাসরী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
رَسُول اللَّهِ وَمَا حَسَنَات الْحرم؟ قَالَ: كل حَسَنَة بِمِائَة ألف حَسَنَة.

وَرُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: يحْشر اللَّهِ تَعَالَى من مَقْبرَة مَكَّة سبعين ألف شَهِيد يدْخلُونَ الْجنَّة بِغَيْر حِسَاب، وُجُوههم كَالْقَمَرِ لَيْلَة بدر، ويشفع كل وَاحِد مِنْهُم فِي سبعين ألف رجل. فَقيل: من هم يَا رَسُول اللَّهِ؟ قَالَ: الغرباء.

وَمن مَاتَ فِي حرم اللَّهِ تَعَالَى أَو حرم رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَو مَاتَ بَين مَكَّة وَالْمَدينَة حَاجا أَو مُعْتَمِرًا بَعثه اللَّهِ يَوْم الْقِيَامَة من الْآمنينَ. أَلا وَإِن التضلع من مَاء زَمْزَم بَرَاءَة من النِّفَاق.

وَمن صلى فِي الْحجر رَكْعَتَيْنِ نَاحيَة الرُّكْن الشَّامي فَكَأَنَّهُ
আল্লাহর রাসূল, হারামের পুণ্যসমূহ কী? তিনি বললেন: প্রতিটি পুণ্য এক লক্ষ পুণ্যের সমতুল্য।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা মক্কার কবরস্থান থেকে সত্তর হাজার শহীদকে পুনরুত্থিত করবেন যারা কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো এবং তাদের প্রত্যেকে সত্তর হাজার মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: পরবাসীগণ।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার হারামে অথবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হারামে মৃত্যুবরণ করল, কিংবা হজ বা উমরা পালনকারী অবস্থায় মক্কা ও মদিনার মাঝে মৃত্যুবরণ করল, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করবেন। জেনে রেখো, তৃপ্তিসহকারে যমযমের পানি পান করা নিফাক থেকে মুক্তির প্রমাণ।

আর যে ব্যক্তি হিজরে শামী রুকনের দিকে দুই রাকাত সালাত আদায় করল, সে যেন...