(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: -)
الإمتاع بالأربعين المتباينة السماع   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الإمتاع بالأربعين المتباينة السماع / ويليه أسئلة من خط الشيخ العسقلاني

المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852هـ)

المحقق: أبو عبد الله محمد حسن محمد حسن إسماعيل الشافعي

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1418هـ - 1997م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 129

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইমতা বিল-আরবাঈন আল-মুতাবায়িনাতুস সামা   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-ইমতা বিল-আরবাঈন আল-মুতাবায়িনাতুস সামা / এবং এর সাথে রয়েছে শাইখ আল-আসকালানির হস্তলিপিতে লিখিত কিছু প্রশ্নোত্তর

লেখক: আবু আল-ফজল আহমাদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)

মুহাক্কিক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ হাসান মুহাম্মাদ হাসান ইসমাইল আশ-শাফিয়ি

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯

শামিলাত-এ প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

الْحَمد لله الَّذِي علا بصفاته المباينة لصفات الْمَخْلُوقَات وَأرْسل سيدنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم بِالْآيَاتِ الْبَينَات وأيده بالمعجزات الباهرات صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه أولى الْخَلَائق الطاهرات وَالْخَلَائِق الظاهرات

أما بعد فَهَذِهِ أَرْبَعُونَ حَدِيثا من مروياتي العاليات اقتصرت فِيهَا على أَعلَى أَنْوَاع التَّحَمُّل وَهُوَ السماع دون الإجازات والمناولات والوجادات وَلم أعد رَاوِيا من رواتها فبرزت متونها بَيِّنَات وأسانيدها ظاهرات متباينات وابتدأت بِالْحَدِيثِ المسلسل بالأولوية على الْعَادة ثمَّ بِأَحَادِيث الْعشْرَة السَّادة ثمَّ سردت البَاقِينَ على حُرُوف المعجم الثَّمَانِية وَالْعِشْرين وختمت بحديثين عَن ابْن عَبَّاس وَابْن عمر رضي الله عنهما ليكتمل فِيهَا التَّخْرِيج عَن العبادلة الْمَشْهُورين وتكلمت على الْأَحَادِيث فأوضحت عللها ونقيت خللها وشرطت التباين والاتصال فِي أُصُولهَا دون الطّرق التالية لَهَا وعَلى الله الِاعْتِمَاد وَمن فيض كرمه الاستمداد وأسأله السَّلامَة من شَرّ الْمُفَاخَرَة والتوفيق لما يقرب إِلَى مرضاته فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة

 

‌‌الحَدِيث الأول

حَدَّثَنَا شَيْخُ الإِسْلامِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بِنُ أَبِي الْفَتْحِ الْكِنَانِيُّ من لَفظه وَحفظه وقرأته عَلَيْهِ غَيْرَ مَرَّةٍ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمْعِتُهُ مِنْهُ لَفْظًا وقِرَاءَةً قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَطِيبُ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمْعِتُهُ مِنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْجَوْزِيِّ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمْعِتُهُ مِنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَعْدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ النَّيْسَابُورِيُّ

وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا وَالِدِي أَبُو صَالِحٍ الْمُؤَذِّنُ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ محسن الزِّيَادِيُّ وَهُوَ أَوَّلُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টির গুণাবলী থেকে ভিন্ন তাঁর আপন গুণাবলীর দ্বারা সুউচ্চে রয়েছেন এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তাঁকে উজ্জ্বল মুজিযাসমূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও প্রকাশ্য স্বভাবের অধিকারী পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এগুলো আমার উচ্চমানের বর্ণনাসমূহের মধ্য থেকে চল্লিশটি হাদিস। এতে আমি উচ্চতর গ্রহণের পদ্ধতির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি, আর তা হলো শ্রবণ করা; অনুমতি (ইজাজাত), প্রদান (মুনাত্ওয়ালাহ) বা প্রাপ্তি (উইজাদাহ) নয়। আমি এতে বর্ণনাকারীদের পুনরাবৃত্তি করিনি, ফলে এর মূল পাঠগুলো সুস্পষ্ট এবং এর সনদসমূহ প্রকাশ্য ও স্বতন্ত্র হিসেবে ফুটে উঠেছে। আমি প্রথা অনুযায়ী প্রথমের ক্রমধারা (মুসালসাল বিল আওয়ালিয়াহ) হাদিস দিয়ে শুরু করেছি, এরপর দশজন মহান নেতার হাদিস এনেছি। তারপর বাকিগুলো বর্ণমালার আটাশটি অক্ষর অনুযায়ী সাজিয়েছি। পরিশেষে ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দুটি হাদিস দিয়ে সমাপ্ত করেছি, যাতে প্রসিদ্ধ 'ইবাদিলা' থেকে বর্ণনার পূর্ণতা পায়। আমি হাদিসগুলোর ওপর আলোচনা করেছি, ফলে তাদের সূক্ষ্ম ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করেছি এবং বিচ্যুতিগুলো দূর করেছি। আমি মূল সূত্রগুলোর ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র হওয়া এবং নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার শর্তারোপ করেছি, পরবর্তী পথগুলোর ক্ষেত্রে নয়। আল্লাহর ওপরই নির্ভরতা এবং তাঁর করুণার প্রাচুর্য থেকেই সাহায্য প্রার্থনা। আমি তাঁর কাছে অহমিকার অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর সন্তুষ্টির নিকটবর্তী করে এমন বিষয়ের তাওফিক কামনা করছি।

 

প্রথম হাদিস

শাইখুল ইসলাম আবু হাফস উমর ইবনে আবুল ফাতহ আল-কিনানি তাঁর উচ্চারণ ও স্মৃতি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁর কাছে এটি একাধিকবার পাঠ করেছি। এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর উচ্চারণ ও পাঠের মাধ্যমে শুনেছি। তিনি বলেন, আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-খাতিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, আবু ফরাজ আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনুল জাওজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, আবু সাদ ইসমাইল ইবনে আবি সালিহ আহমদ ইবনে আব্দুল মালিক আন-নাইসাবুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমার পিতা আবু সালিহ আল-মুয়াজ্জিন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মুহসিন আজ-জিয়াদি বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম...
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ١٦)
حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَامِد أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ بِلالٍ الْبَزَّازُ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ سُفْيَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي قَابُوسَ مَوْلَى عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرو بْن الْعَاصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ (الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ تبارك وتعالى ارْحَمُوا مَنْ فِي الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ) هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ الإِمَام أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي مُسْنَدِهِ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ بِهَذَا الْإِسْنَاد وَرَوَاهُ فِي بَعْضِ تَصَانِيفِهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بِشْرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ عَنْ مُسَدَّدٍ وَأَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَالتِّرْمِذِيّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَبِي عُمَرَ ثَلاثَتُهُمْ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ التِّرْمِذِيّ حسن صَحِيح انْتهى وَأَبُو قَابُوسَ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ سِوَى عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ وَلا يُعْرَفُ اسْمه وَتَابعه على بعض الْمَتْن حبَان ابْن زَيْدٍ الشَّرْعَبِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بن عَمْرو وَقد وَقع لي عَالِيا منَ طرق مِنْهَا مَا قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْمَجْدِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَمْزَةَ عَنْ مُحَمَّد بن عباد أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رِفَاعَةَ أخبرهُ أَنا عَليّ بن الْحسن أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ أَنا سعيد أَبُو سعيد الأَعْرَابِيِّ أَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِي ثَنَا سُفْيَان فَذكره بِمَعْنَاهُ // حسن //

একটি হাদীস যা আমি তাঁর থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হামিদ আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন বিলাল আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন—আর এটিই প্রথম হাদীস যা আমি তাঁর থেকে শুনেছি—তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবন বিশর ইবন আল-হাকাম বর্ণনা করেছেন—আর এটিই প্রথম হাদীস যা আমি তাঁর থেকে শুনেছি—তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবন উয়াইনা বর্ণনা করেছেন—আর এটিই প্রথম হাদীস যা আমি সুফিয়ানের নিকট থেকে শুনেছি—তিনি আমর ইবন দীনার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আল-আসের মুক্তদাস আবু কাবুস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (দয়াকারীদের ওপর পরম দয়াময়—যিনি বরকতময় ও সুউচ্চ—দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন)। এটি একটি হাসান হাদীস। ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল তাঁর মুসনাদে সুফিয়ান ইবন উয়াইনা থেকে এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর কিছু কিতাবে আবদুর রহমান ইবন বিশর থেকেও এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ একে মুসাদ্দাদ ও আবু বকর ইবন আবি শাইবা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন—তাঁরা তিনজনই সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: হাসান সহীহ। সমাপ্ত। আবু কাবুস থেকে আমর ইবন দীনার ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি এবং তাঁর নাম জানা যায়নি। হিব্বান ইবন যায়দ আশ-শারআবি মতন বা মূল পাঠের কিছু অংশে আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে তাঁর অনুসরণ করেছেন। এটি আমার নিকট বিভিন্ন সুউচ্চ সনদে পৌঁছেছে, যার মধ্যে একটি হলো যা আমি আবুল হাসান ইবন আবিল মাজদের নিকট পাঠ করেছি, তিনি সুলাইমান ইবন হামযাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ থেকে যে, আবদুল্লাহ ইবন রিফাহ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: আলী ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবন উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাঈদ আল-আরাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ আয-যা’ফরানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি সমার্থে উল্লেখ করেছেন। // হাসান //

(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌الحَدِيث الثَّانِي من رِوَايَة أَبِي بكر رضي الله عنه

حَدثنَا حَافِظُ الْعَصْرِ أَبُو الْفَضْلِ بْنُ الْحُسَيْنِ رحمه الله مِنْ لَفْظِهِ بِسُؤَالِي قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الأَنْصَارِيِّ أَنا الْمُسلم بن هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الشَّيْبَانِيُّ أَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْوَاعِظُ أَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بن حَنْبَل حَدثنِي أبي أَنا الْمُقْرِئُ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يزِيد ثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ الْحَارِثِ يَقُولُ أَنا أبي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه يَقُولُ عَلَى هَذَا الْمِنْبَرِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي مِثْلِ هَذَا الْيَوْمِ من عَام الأول (إِن النَّاس لم يؤتوا شَيْئًا بَعْدِ كَلِمَةِ الإِخْلاصِ مِثْلَ الْعَافِيَة فاسألوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ) هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ هَكَذَا وَقد صَححهُ ابْن حبَان وَرَوَاهُ أَبُو بَكْرٍ الْبَزَّارُ فِي مُسْنده من حَدِيث المَقْبُري وَقَالَ لَا نَعْلَمُ رَوَاهُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ إِلا حَيْوَةُ

قلت بل لم يرو عَن عَبْد الْملك مُطلقًا إِلَّا حَيْوَة وَقد ذكر البُخَارِيّ عبد الْملك الْمَذْكُور وَأثبت سَمَاعه من أبي هُرَيْرَة وَله متابع قوي رَوَاهُ أَبُو صَالح عَن
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা থেকে দ্বিতীয় হাদিস

এই যুগের হাফিজ আবুল ফজল বিন আল-হুসাইন রাহিমাহুল্লাহ আমার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তার নিজস্ব শব্দে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম আল-আনসারীর নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন, আল-মুসলিম বিন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শায়বানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-হাসান বিন আলী আল-ওয়ায়েজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর বিন মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-মুকরি অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাইওয়াহ বিন শুরাইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আব্দুল মালিক বিন আল-হারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আস-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে এই মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গত বছরের আজকের মতো এই দিনে বলতে শুনেছি যে: "নিশ্চয়ই মানুষকে ইখলাসের বাণীর (কালিমার) পর সুস্থতা বা আফিয়াতের মতো উত্তম আর কিছু প্রদান করা হয়নি। অতএব তোমরা আল্লাহর নিকট সুস্থতা বা আফিয়াত প্রার্থনা করো।" এটি একটি হাসান হাদিস। ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান এটিকে সহিহ বলেছেন। আবু বকর আল-বাজার এটি তার মুসনাদে আল-মাকবুরীর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আমাদের জানা মতে হাইওয়াহ ব্যতীত আর কেউ এটি আব্দুল মালিক থেকে বর্ণনা করেননি।"

আমি বলি, বরং আব্দুল মালিক থেকে সাধারণভাবে হাইওয়াহ ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। ইমাম বুখারি উক্ত আব্দুল মালিকের কথা উল্লেখ করেছেন এবং আবু হুরায়রা থেকে তার সরাসরি শ্রবণ সাব্যস্ত করেছেন। আর তার একটি শক্তিশালী অনুগামী বর্ণনা রয়েছে যা আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন... থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ١٨)
أبي هُرَيْرَة وَهُوَ فِي مُسْند أَبِي يعلى // حَدِيث صَحِيح //

 

‌‌الحَدِيث الثَّالِث من رِوَايَة عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه

أَخْبَرَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ تَمِيم الْهَاشِمِي بِدِمَشْق بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قَالَ أخبرنَا شيخ الْإِسْلَام أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَلِيم بن عبد السَّلَام بن تَيْمِية وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بن سُلَيْمَان الْجَعْفَرِي وَسَالم بن عَليّ الْفَزارِيّ والمحب مُحَمَّد بن الْمُحب عبد الله الْمَقْدِسِي وَآخَرُونَ قَالُوا أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الدَّائِمِ بْنِ نِعْمَةَ الْمَقْدِسِيُّ أَنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَعِيشَ أَنا زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ الشَّحَّامِيُّ أَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَن الكنجروذي أَنا الْحَافِظُ أَبُو أَحْمَدَ بْنُ مُحَمَّدِ الْحَاكِم أَنا أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سعيد الْأنْصَارِيّ سَمِعت مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم يَقُولُ سَمِعْتُ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لكل امْرِئ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله فَهجرَته إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ) هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ وَالْبَاقُونَ مِنْ طُرُقٍ عَشَرَةٍ تَنْتَهِي إِلَى يحيى بن سعيد الْأنْصَارِيّ // حَدِيث صَحِيح //
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, আর এটি মুসনাদে আবু ইয়ালায় রয়েছে // সহিহ হাদিস //

 

‌‌ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা থেকে তৃতীয় হাদিস

দামেশকে আবু আব্বাস আহমদ বিন আলী বিন ইয়াহইয়া বিন তামিম আল-হাশিমি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ এবং আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-জাফরি ও সালিম বিন আলী আল-ফাজারি এবং মুহিব মুহাম্মদ বিন আল-মুহিব আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসি ও অন্যান্যরা। তারা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নি’মাহ আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াইশ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যাহির বিন তাহির আশ-শাহামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-কানজারুযি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হাকিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আরুবাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহ্হাব বিন আব্দুল মাজীদ আস-সাকাফি, আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারিকে বলতে শুনেছি, আমি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিমকে বলতে শুনেছি, আমি আলকামাহ বিন ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছি, আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তা-ই পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের প্রতিই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে)। এটি একটি সহিহ হাদিস, যা ইমাম বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্যরা দশটি সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যা ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি পর্যন্ত পৌঁছেছে। // সহিহ হাদিস //
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ١٩)
وَقد قيل أَنه رَوَاهُ عَنهُ أَكثر من مِائَتي نفس وَحكي عَن أبي إِسْمَاعِيلَ الْهَرَوِيُّ أَنَّهُ كَتَبَهُ مِنْ سَبْعمِائة طَرِيق عَن يحيى بن سعيد وَمِنْ أَعْلَى طُرُقِهِ عِنْدِي مَا قَرَأْتُهُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ التَّنُّوخِيِّ أَنَّ أَحْمَدَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُمْ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْبَغْدَادِيَّ قَالَ أَخْبَرَنَا مَسْعُودُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوراق أَنا أَبُو عَليّ شَاذَانَ أَنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ بن الزُّبَيْرُ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عون ثَنَا يحيى بن سعيد فَذكر نَحوه // صَحِيح //

وَقَدِ اشْتَهَرَ بَيْنَ الْمُحَدِّثِينَ أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ تَفَرَّدَ بِهِ عَنْ شَيْخِهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا تَفَرَّدَ بِهِ عَنْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَ ذَلِك فقد وَقع لَنَا مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَلِيِّ بْنِ أَبِي
আর বলা হয়েছে যে, তাঁর নিকট থেকে দুইশতেরও বেশি ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু ইসমাইল আল-হারাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে সাতশত সূত্রে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর আমার নিকট এর উচ্চতর সনদসমূহের মধ্যে রয়েছে যা আমি ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আত-তানূখীর নিকট পাঠ করেছি যে, আহমাদ ইবনে আবি তালিব তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, (তিনি বলেন) আমাদের আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-বাগদাদী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের মাসউদ ইবনে মুহাম্মাদ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাক সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের আবু আলী শাযান সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আয-যুবায়ের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান বর্ণনা করেছেন, আমাদের জাফর ইবনে আউন বর্ণনা করেছেন, আমাদের ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। // সহীহ //

আর মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তাঁর উস্তাদ মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং মুহাম্মাদ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তদুপরি আমাদের নিকট এটি আবু সাঈদ আল-খুদরী, আবু হুরায়রা এবং আলী ইবনে আবি... এর হাদিস থেকে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٠)
طَالب وَأنس بِلَفْظِهِ وَمن جُمِعَ مِنَ الصَّحَابَةِ بِمَعْنَاهُ وَمِنْ طَرِيق أبي جُحَيْفَة وَغَيره عَن عمر وَمن طَرِيق مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ عَنْ عَلْقَمَةَ وَمِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو وَمُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ وَلَكِنْ فِي أَسَانِيد هَذِه الطّرق قَالَ وَالْكَلامُ عَلَيْهِ يَطُولُ جِدًّا وَاللَّهُ سبحانه وتعالى أعلم

 

‌‌الحَدِيث الرَّابِع من حَدِيث عُثْمَان رضي الله عنه

أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْمُؤَدب بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ تِجَاهِ الْكَعْبَةِ قَالَ أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَالِبِ بْنِ أبي النعم الصَّالِحِي أَن عَبْدِ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ اللتي أخْبرهُم قَالَ أَنا أَبُو الْوَقْت عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى بْنِ شُعَيْب السجْزِي قَالَ أَنا أَبُو الْحَسَن عَبْد الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُظَفَّرِ الْفَقِيهُ قَالَ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بن أَحْمد السَّرخسِيّ قَالَ أَنا إِبْرَاهِيم بن خُزَيْمٌ الشَّاشِي ثَنَا عبد بن حميد الْحَافِظ قَالَ حَدثنِي أَبُو الْوَلِيد الطَّيَالِسِيّ قَالَ ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ عِنْد عُثْمَان بن عَفَّان فَدَعَا بِطَهُورٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (مَا مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ طهورها وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلِهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لم تؤت الْكَبَائِر) هَذَا حَدِيث صَحِيح رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ عَبْدِ بْنِ
তালিব এবং আনাস তাঁর শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা এটি অর্থগতভাবে বর্ণনা করেছেন, আবু জুহাইফা ও অন্যদের সূত্রে উমর থেকে, এবং ইবনে উমরের মুক্ত দাস নাফে’-এর সূত্রে মুসা বিন উকবা থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং মুহাম্মদ বিন আমর ও মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিমের পুত্র মুসা এর হাদীস থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে এই পথগুলোর সনদসমূহে... তিনি বলেন: এ নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ হবে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

‌‌চতুর্থ হাদীস: উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস হতে বর্ণিত

ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মুয়াদ্দিব আমাকে অবহিত করেছেন কা’বার সামনে মসজিদুল হারামে তাঁর সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আবু তালিব বিন আবু আল-নু’ম আল-সালিহি আমাদের জানিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ বিন আলী বিন আল-লুত্তি তাঁদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুআইব আস-সিজজি আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফ্ফর আল-ফকিহ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমদ আস-সারখাসি আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন খুজাইম আশ-শাশি আমাদের অবহিত করেছেন, হাফেজ আব্দ বিন হুমাইদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক বিন সাঈদ বিন আমর বিন সাঈদ বিন আল-আস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উসমান বিন আফফানের নিকট ছিলাম, তখন তিনি অজুর পানি চাইলেন, এরপর তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, (কোনো মুসলিম ব্যক্তির যখন ফরয নামাজের সময় উপস্থিত হয়, অতঃপর সে তার অজু, বিনয় ও রুকু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, তবে তা তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে বড় কোনো গুনাহ (কবিরা গুনাহ) করে)। এটি একটি সহীহ হাদীস, যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন আব্দ বিন থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢١)
حُمَيْدٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ فَوَقَعَ لَنَا مُوَافقَة عَلَيْهِ وَرَوَاهُ ابْن حَيَّان فِي صَحِيحِهِ عَنْ أَبِي خَلِيفَةَ الْفضل بن الْحباب عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيِّ بِهِ فَوَقع لنا بَدَلا عَالِيا وَلِهَذَا الْمَتْن طرق عِنْد مُسلم وَغَيره بِمَعْنَاهُ // صَحِيح //

 

‌‌الحَدِيث الْخَامِس عَن عَليّ رضي الله عنه

أَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْمجد الدِّمَشْقِيُّ قَدِمَ عَلَيْنَا الْقَاهِرَةَ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ قَالَ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ بْنُ مُظَفَّرِ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ أَحْمَدَ بن عَسَاكِر قَالَ أَنا عَم أبي الْعِزّ مُحَمَّد بن أَحْمد النسابة قَالَ أَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ أَنَا قَوَّامُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عِيسَى قَالَ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بن مُحَمَّد الْخَطِيب الصريفني أَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بن إِسْحَاق بن حبابة قَالَ حَدثنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عبد الْعَزِيز الْبَغَوِيّ قَالَ ثَنَا عَليّ بن الْجَعْد قَالَ ثَنَا شُعْبَة عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّزَّالَ بْنَ سَبْرَةَ قَالَ شَهِدْتُ عَلِيًّا رضي الله عنه صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ قَعَدَ فِي حوائج النَّاس فِي رحبة الْكُوفَةِ حَتَّى إِذَا حَضَرَتِ الْعَصْرُ أَتَى بِكُوزٍ مِنْ مَاءٍ فَأَخَذَ مِنْهُ حفْنَة فمسحه عَلَى وَجْهِهِ وَرَأْسِهِ وَيَدَيْهِ ثُمَّ قَامَ فَشَرِبَ فَضْلَهُ وَقَالَ إِنَّ نَاسا يَكْرَهُونَ هَذَا يَعْنِي الشُّرْبَ قَائِمًا وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ أَوْ مِثْلَ مَا صَنَعْتُ وَقَالَ (هَذَا وُضُوءُ مَنْ لَمْ يُحْدِثْ) هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَن آدم عَنْ شُعْبَةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فَغَسَلَ بَدَلَ فَمَسَحَ وَلَمْ يَذْكُرِ الْجُمْلَة الْأَخِيرَة وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْنُ خُزَيْمَةَ فِي صَحِيحِهِ مِنْ حَدِيث شُعْبَة بِتَمَامِهِ وَقد وَقع لي عَالِيا منَ طَرِيق أُخْرَى // صَحِيح //
হুমাইদ হতে এই সনদে আমাদের নিকট তাঁর সাথে সহমত (মুওয়াফাকাহ) ঘটেছে। ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু খলিফা আল-ফজল বিন আল-হুবাব হতে, তিনি আবু ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি হতে এটি বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চ পর্যায়ের 'বদল' হিসেবে পৌঁছেছে। এই মতনের সপক্ষে ইমাম মুসলিম ও অন্যদের নিকট একই অর্থের একাধিক সূত্র রয়েছে। // সহীহ //

 

‌‌পঞ্চম হাদীস: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত

আমাকে আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল মাজদ আদ-দিমাশকী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি কায়রোতে আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন এবং আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে মুযাফফর ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমদ ইবনে আসাকির; তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ইয মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আন-নাসসাবাহর চাচা; তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুস সামাদ ইবনে সাঈদ; তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন কাওয়াম ইবনে যায়দ ইবনে ঈসা; তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-খতীব আস-সারিফীনি; তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে হুবাবাহ; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আযীয আল-বাগাওয়ী; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আল-জাদ; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আব্দুল মালিক ইবনে মায়সারাহ হতে; তিনি বলেন, আমি নাযযাল ইবনে সাবরাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছি, তিনি যোহরের নামায পড়লেন, অতঃপর কুফার প্রশস্ত চত্বরে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য বসলেন। এরপর যখন আসরের ওয়াক্ত উপস্থিত হলো, তখন তাঁর নিকট এক পাত্র পানি আনা হলো। তিনি তা হতে এক অঞ্জলি পানি নিলেন এবং তা দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল, মাথা ও হাত মাসেহ করলেন। এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং পাত্রের অবশিষ্ট পানি পান করলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই কিছু মানুষ এটি অপছন্দ করে—অর্থাৎ দাঁড়িয়ে পান করা—অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি যেমনটি করেছি তেমনটিই করেছেন অথবা এর অনুরূপ করেছেন।" তিনি আরও বললেন: "এটি সেই ব্যক্তির ওযু যার ওযু নষ্ট হয়নি।" এটি একটি সহীহ হাদীস। ইমাম বুখারী এই সনদে আদমের মাধ্যমে শু'বাহ হতে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে 'মাসেহ' করার পরিবর্তে 'ধৌত করার' কথা উল্লেখ করেছেন এবং শেষ বাক্যটি উল্লেখ করেননি। ইমাম নাসাঈ এবং ইবনে খুযাইমা তাঁর সহীহ গ্রন্থে শু'বাহর হাদীস হতে পূর্ণাঙ্গভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। অন্য এক সূত্রে এটি আমার নিকট উচ্চ সনদে পৌঁছেছে। // সহীহ //
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌الحَدِيث السَّادِس عَن طَلْحَة بْن عبيد الله

أخبرنَا الشَّيْخ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قَوَّامٍ الْبَالِسِيُّ الشَّافِعِيُّ بِظَاهِر دمشق أَنَا عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّد الْعَسْقَلانِيُّ وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّد بن هِلَال قَالَا أنبا إِبْرَاهِيم بن عمر الوَاسِطِيّ أَنا الْمُؤَيَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الطُّوسِيُّ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ هِبَةُ الله بن سهل السَّيِّد أَنا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّد الْحِيرِي أَنا أَبُو عَلِيٍّ زَاهِرُ بْنُ أَحْمد السَّرخسِيّ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ مُوسَى الْهَاشِمِي ثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بكر الزُّهْرِيّ ثَنَا مَالك عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالك عَن أَبِيه أَنه سمع طَلْحَة بن عبيد الله يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ نَسْمَعُ دَوِيَّ صَوْتِهِ وَلا نَفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلامِ فَقَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ) فَقَالَ هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ قَالَ لَا إِلا أَنْ تَطَوَّعَ) قَالَ وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الزَّكَاةَ فَقَالَ هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا قَالَ (لَا إِلا أَنْ تَطَّوَعَ)

قَالَ فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلا أَنْقُصُ مِنْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ) هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ من حَدِيث مَالك وَرَوَاهُ الشَّيْخَانِ أَيْضًا وَابْنُ خُزَيْمَةَ مِنْ طَرِيقِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ مَالِكٍ وَهُوَ أَبُو سُهَيْلٍ الْمَذْكُور وَفِيه فَذكر شرائع الْإِسْلَام وَقيل أَن السَّائِل الْمَذْكُور هُوَ ضمام بن ثَعْلَبَة وَالصَّحِيح أَنه غَيره وَفِي الحَدِيث دَلِيل على أَن منَ اقْتصر على أَدَاء الْفَرَائِض نجا بِشَرْط أَن لَا يكون تَركه للسنن رَغْبَة عَنْهَا

وَقد وَقع لي حَدِيث مَالك أَعلَى منَ الرِّوَايَة الأولى بِدَرَجَة قَرَأت عَلَى إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عبد الْوَاحِد عَن إِسْمَاعِيل بْن يُوسُف بْن مَكْتُوم أَن عَبْد اللَّهِ بْن عمر بن عَليّ أخْبرهُم أَنا عَبْد الأول بْن عِيسَى أَنا أَبُو عَاصِم الفضيلي أَنا عَبْد الرَّحْمَنِ بْن أَحْمَد الْأنْصَارِيّ أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَنا مُصعب بْن عَبْد اللَّهِ الزبيرِي أَنا مَالك بِهِ // صَحِيح //
ষষ্ঠ হাদিস: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণিত

দামেস্কের উপকণ্ঠে শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাওয়াম আল-বালিসি আশ-শাফিঈ আমাদের অবহিত করেছেন যে, আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আসকালানি এবং আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হিলাল বলেছেন: ইব্রাহিম ইবনে উমর আল-ওয়াসিতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুআইয়াদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আত-তুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে সাহল আস-সাইয়্যিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হিরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী জাহির ইবনে আহমদ আস-সারখাসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে আব্দুস সামাদ ইবনে মুসা আল-হাশেমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু মুসআব আহমদ ইবনে আবি বকর আজ-জুহরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁর চাচা আবু সুহাইল ইবনে মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন যে, নজদবাসীদের মধ্য থেকে উস্কোখুস্কো চুলের এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এলো। আমরা তার কণ্ঠের গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছিলাম কিন্তু সে কী বলছিল তা বুঝতে পারছিলাম না, যতক্ষণ না সে নিকটে এল। তখন দেখা গেল সে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "(ইসলাম হলো) দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।" সে বলল, "আমার ওপর কি এ ছাড়া আর কিছু আছে?" তিনি বললেন, "না, তবে তুমি যদি নফল আদায় করো।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কাছে জাকাতের কথা উল্লেখ করলেন। সে বলল, "আমার ওপর কি এ ছাড়া আর কিছু আছে?" তিনি বললেন, "না, তবে তুমি যদি নফল দান করো।"

তিনি বলেন, অতঃপর লোকটি এই বলতে বলতে প্রস্থান করল যে, "আল্লাহর কসম, আমি এর চেয়ে বাড়াব না এবং তা থেকে কমাবও না।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "সে সফল হবে যদি সে সত্য বলে থাকে।" এটি একটি সহিহ হাদিস যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম), আবু দাউদ এবং নাসায়ি ইমাম মালিকের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। শাইখাইন এবং ইবনে খুজাইমাহও এটি ইসমাইল ইবনে জাফর-এর সূত্রে নাফি ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি উল্লিখিত আবু সুহাইল। সেখানে ইসলামের বিধিবিধানসমূহের কথা বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, উল্লিখিত প্রশ্নকারী ব্যক্তি ছিলেন দিমাম ইবনে সালাবা, তবে সঠিক মত হলো তিনি অন্য কেউ ছিলেন। এই হাদিসে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, যে ব্যক্তি কেবল ফরজসমূহ পালনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে সে মুক্তি পাবে, তবে শর্ত হলো তার সুন্নাত বর্জন যেন সুন্নাতের প্রতি বিমুখতা বা অনাগ্রহবশত না হয়।

ইমাম মালিকের এই হাদিসটি আমার কাছে প্রথম বর্ণনার চেয়ে এক স্তর উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে। আমি ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদের নিকট পাঠ করেছি, তিনি ইসমাইল ইবনে ইউসুফ ইবনে মাকতুম থেকে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী তাদের অবহিত করেছেন, আব্দুল আওয়াল ইবনে ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আসিম আল-ফুদাইলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জুবাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মালিক আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন। // সহিহ //
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌الحَدِيث السَّابِع عَن الزبير

أخبرنَا أَبُو الْمَعَالِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُبَارَكٍ السعودي بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالْقَاهِرَةِ أَنَا أَبُو مُحَمَّد عبد الْمُنعم الأَدِيبُ أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي الْكَرَمِ بْنِ الْبَنَّاءِ أَنا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سَهْلِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ أَنا الْقَاضِي أَبُو عَامِرٍ مَحْمُود بن الْقَاسِم الْأَزْدِيّ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْغَوْرَجِيُّ وَأَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ التِّرْيَاقِيُّ قَالُوا أَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ بن عِيسَى بن سَوْدَة التِّرْمِذِّيُّ أَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَّجُّ نَا يُونُس بن بكير عَن مُحَمَّد بن إِسْحَاقَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنِ الزُّبَيْرِ قَالَ كَانَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ يَوْمَ أُحُدٍ دِرْعَانِ فَنَهَضَ إِلَى صَخْرَة فَلم يسْتَطع فَأقْعدَ عِنْد طَلْحَةَ ثُمَّ نَهَضَ حَتَّى اسْتَوَى على الصَّخْرَة فَسمِعت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (أَوْجَبَ طَلْحَةُ) قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ حَدِيث ابْن إِسْحَاق انْتهى // حسن //

وَقد رَوَاهُ الْحَاكِم من طَرِيق يُونُس بن بكير فَصرحَ عَن ابْن إِسْحَاق بِالتَّحْدِيثِ عَن يحيى وَرَوَاهُ أَحْمد عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاق فَجَعَلَ الْمُسْنَدَ مِنْهُ الْجُمْلَةَ الأَخِيرَةَ والبقية بِلَا إِسْنَاد وَهَكَذَا ذكره زِيَاد البكائي من رِوَايَة ابْن هِشَام عَنهُ فِي تَهْذِيب السِّيرَة مُتَّصِلا وَرَوَاهُ الْحَاكِم أَيْضا من طَرِيق ابْن الْمُبَارك عَن ابْن إِسْحَاق مُخْتَصرا على الْجُمْلَة المسندة وَهُوَ قَوْلُهُ (أَوْجَبَ طَلْحَةُ) وَهَذَا كُلُّهُ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ فِي رِوَايَةِ يُونُس إدراجا وَقَوله أوجب أَي عمل عملا أوجبت لَهُ بِهِ الْجَنَّةُ
যুবাইর থেকে বর্ণিত সপ্তম হাদিস

আবু আল-মা'আলি আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আলি বিন মুবারক আস-সাউদি কায়রোতে আমার কাছে পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু মুহাম্মদ আবদুল মুনয়িম আল-আদিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আলি বিন আবিল কারাম বিন আল-বান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ফাতহ আবদুল মালিক বিন আবি সাহল বিন আবিল কাসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিচারক আবু আমির মাহমুদ বিন আল-কাসিম আল-আজদি, আবু বকর আহমদ বিন আবদুল সামাদ আল-গাওরাজি এবং আবু নাসর আবদুল আজিজ বিন আহমদ আত-তিরইয়াকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেছেন: আবদুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওদা আত-তিরমিজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাঈদ আল-আশাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস বিন বুকাইর মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-যুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবদুল্লাহ বিন আল-যুবাইর থেকে, তিনি যুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওহুদের দিন আল্লাহর রাসূলের গায়ে দুটি বর্ম ছিল, তিনি একটি পাথরের দিকে উঠতে চাইলেন কিন্তু পারলেন না, তখন তিনি তালহাকে নিচে বসালেন এবং তাঁর ওপর ভর দিয়ে পাথরের ওপর উঠলেন। তখন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনলাম (তালহা ওয়াজিব করে নিয়েছে)। আবু ঈসা বলেন: এই হাদিসটি হাসান গারিব, এটি কেবল ইবনে ইসহাকের হাদিস হিসেবেই আমরা জানি। সমাপ্ত। // হাসান //

হাকিম এটি ইউনুস বিন বুকাইরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে ইসহাক থেকে ইয়াহইয়ার নিকট শ্রবণের স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। আহমদ এটি ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে শেষ বাক্যটিকে মুসনাদ করেছেন এবং বাকি অংশ সনদ ছাড়াই রেখেছেন। এভাবেই জিয়াদ আল-বুক্কাই এটি ইবনে হিশামের বর্ণনায় তাঁর থেকে 'তাহজিবুস সিরাত'-এ নিরবচ্ছিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন। হাকিমও ইবনে মুবারকের সূত্রে ইবনে ইসহাক থেকে সংক্ষেপে কেবল মুসনাদ বাক্যটি বর্ণনা করেছেন, যা হলো (তালহা ওয়াজিব করে নিয়েছে)। আর এ সবই প্রমাণ করে যে ইউনুসের বর্ণনায় ইদরাজ (সংযোজন) রয়েছে। 'আওজাবা' (ওয়াজিব করেছে) অর্থ হলো তিনি এমন এক আমল করেছেন যার মাধ্যমে তাঁর জন্য জান্নাত অবধারিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌الحَدِيث الثَّامِن عَن سعد

أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عمر الْمَقْدِسِي بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِصَالِحِيَّةِ دِمَشْقَ أَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُمَرَ الْحَمَوِيُّ وَسِتُّ الْفُقَهَاءِ بِنْتُ الشَّيْخِ أَبِي إِسْحَاقَ بْنِ عَلِيٍّ الْوَاسِطِيِّ قَالَ الأَوَّلُ أَخْبرنِي شيخ الشُّيُوخ عبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد الْأنْصَارِيّ الْحَمَوِيّ قَالَ أَنا عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ كُلَيْبٍ وَقَالَتِ الثَّانِيَةُ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ خلف قَالَ أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بن أبي الوفا بن عبد الرَّحْمَن قَالَا أَبَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَيَانٍ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مخلد أَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّد إِسْمَاعِيل بن الصَّغِير ثَنَا الْحسن بن عَرَفَة ثَنَا الْمُبَارك بن سعيد الثَّوْريّ وَهُوَ أخي سُفْيَان عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (أَيَمُنْعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يُكَبِّرَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاة عشرا ويحمد عشرا ويسبح عشرا فِي خَمْسِ صَلَوَاتٍ خَمْسُونَ وَمِائَةٌ بِاللِّسَانِ وَألف وَخَمْسمِائة فِي الْمِيزَانِ فَإِذَا آوَى إِلَى فِرَاشِهِ كَبَّرَ أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ وَحَمِدَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ وَسَبَّحَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ فَذَلِك مِائَةٌ بِاللِّسَانِ وَأَلْفٌ فِي الْمِيزَانِ وَأَيكُمْ يسْكب فِي كل يَوْم أَلفَيْنِ وَخَمْسمِائة سَيِّئَةٍ)

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ حَدِيثِ الْمُبَارَكِ بْنِ سَعِيدٍ تَفَرَّدَ بِهِ الْحسن بن عَرَفَة عَنهُ وَقد أخرجه النَّسَائِيّ فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ يَحْيَى السِّجْزِيِّ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَرَفَةَ فَوَقَعَ لنا بَدَلا عَالِيا بِأَرْبَعِ دَرَجَاتٍ وَرَوَاهُ أَيْضًا مِنْ طَرِيقِ يَعْلَى بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ عَنْ مُوسَى غَيْرَ مَنْسُوبٍ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ أبي هُرَيْرَة وَقَالَ الصَّوَاب حَدِيث يعلى وَرَوَاهُ يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ أَيْضًا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَغَيْرُهُمْ عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيّ عَن مُصعب عَن أَبِيه مَرْفُوعا (أَيَعْجَزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ فِي كُلِّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ ذَلِكَ قَالَ (يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ ألف حَسَنَة ويحط عَنْهُ أَلْفُ خَطِيئَةٍ)

وَبِهَذَا اللَّفْظُ رَوَاهُ أَحْمد وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان // صَحِيح //
সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত অষ্টম হাদিস

আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি উমর আল-মাকদিসি দামেস্কের সালিহিয়্যায় তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাকে অবহিত করেছেন যে, ইসমাইল ইবন উমর আল-হামাউই এবং শাইখ আবু ইসহাক ইবন আলি আল-ওয়াসিতির কন্যা সিত্তুল ফুকাহা তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন। প্রথমজন (ইসমাইল) বলেন, শাইখুশ শুয়ুখ আব্দুল আজিজ ইবন মুহাম্মদ আল-আনসারি আল-হামাউই আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাকে আব্দুল মুনইম ইবন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন কুলাইব সংবাদ দিয়েছেন। দ্বিতীয়জন (সিত্তুল ফুকাহা) বলেন, আমাকে আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক ইবন খালাফ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাকে আবু আব্বাস আহমাদ ইবন আবিল ওয়াফা ইবন আব্দুর রহমান সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু কাসিম আলি ইবন আহমাদ ইবন বায়ান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মাখলাদ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-সাগির, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবন আরাফাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুবারক ইবন সাঈদ আল-সাওরি—যিনি সুফিয়ানের ভাই—তিনি মুসা আল-জুহানি থেকে, তিনি মুসআব ইবন সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের মধ্যে কেউ কি প্রতি সালাতের শেষে দশ বার তকবীব (আল্লাহু আকবার), দশ বার তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং দশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতে অপারগ? পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে এগুলো জিহ্বায় একশত পঞ্চাশ বার, কিন্তু মিজানে (আমলনামার পাল্লায়) এক হাজার পাঁচশত বার। আর যখন সে নিজের বিছানায় যাবে, তখন যেন চৌত্রিশ বার তকবীব, তেত্রিশ বার তাহমীদ এবং তেত্রিশ বার তাসবীহ পাঠ করে। এটি জিহ্বায় একশত বার, কিন্তু মিজানে এক হাজার বার। তোমাদের মধ্যে কে আছে যে প্রতিদিন দুই হাজার পাঁচশত গুনাহ করে?)

এটি একটি হাসান গারিব হাদিস। আমরা এটি কেবল মুবারক ইবন সাঈদের হাদিস হিসেবেই জানি, যা হাসান ইবন আরাফাহ এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসাঈ এটি ‘আল-ইয়াউম ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে জাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আল-সিজজি-এর সূত্রে হাসান ইবন আরাফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট চার স্তরের উচ্চতর সনদে (বাদাল আলিন) পৌঁছেছে। ইয়ালা ইবন উবাইদও এটি মুসা আল-জুহানি থেকে, তিনি নাম অনুল্লিখিত মুসা থেকে, তিনি আবু জুরআ ইবন আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নাসাঈ) বলেছেন, ইয়ালা-এর বর্ণিত হাদিসটিই সঠিক। ইয়ালা ইবন উবাইদ, আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান এবং অন্যান্যরাও মুসা আল-জুহানি থেকে, তিনি মুসআব থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: (তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার নেকি অর্জন করতে অক্ষম? তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে? তিনি বললেন: একশত বার তাসবীহ পাঠ করবে, তবেই তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং তার থেকে এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে।)

এই শব্দে ইমাম আহমাদ, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ এবং ইবন হিব্বান হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। // সহিহ //
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌الحَدِيث التَّاسِع عَن سعيد

أَخَبْرَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بن مُحَمَّد بن منيع بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي مَسْجِد بِسَفْحِ قَاسِيُونَ أَنَا أَبُو عَبْدِ الله مُحَمَّد بن أذيك الدِّمَشْقِيُّ أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ الصُّورِيُّ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أبي الْمَعَالِي بن موهب الْبَغْدَادِيُّ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الزَّاغُونِيِّ أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بن إِبْرَاهِيم بن مخلد الباقرجي أَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّد بن المتيم أَنا يُوسُف بن يَعْقُوب الْأَنْبَارِي ثَنَا حميد بن الرّبيع نَا هُشَيْمٌ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ هِلالِ بْنِ يَسَافٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ظَالِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ زيد قَالَ أَشْهَدُ عَلَى التِّسْعَةِ أَنَّهُمْ فِي الْجَنَّةِ وَلَوْ شَهِدْتُ عَلَى الْعَاشِرِ لَمْ آثَمْ قَالَ قِيلَ لَهُ وَلِمَ ذَاكَ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِحِرَاءَ فَقَالَ (اسْكُنْ حِرَاءُ فَإِنَّمَا عَلَيْك إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ) قَالَ قِيلَ وَمَنْ هُمْ قَالَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَطَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ وَسَعْدٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ قَالَ قِيلَ فَمَنِ الْعَاشِرُ قَالَ أَنا // صَحِيح //

هَذَا حَدِيث حسن رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ مَنِيعٍ وَأَبُو يَعْلَى عَنْ
সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত নবম হাদীস

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মানী‘ কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি মসজিদে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন—আমি যখন তাঁর সামনে পাঠ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আজিক আদ-দিমাশকী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন আস-সূরী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবিল মা‘আলী বিন মাওহাব আল-বাগদাদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আয-যাগুনী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মাখলাদ আল-বাকিরজী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুতাওয়াম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-আনবারী। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হুমাইদ বিন আর-রাবী‘। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হুশাইম, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন জালিম থেকে, তিনি সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি এই নয়জন ব্যক্তির ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তাঁরা জান্নাতি; আর আমি যদি দশম ব্যক্তির ব্যাপারেও সাক্ষ্য দিতাম তবে আমি পাপী হতাম না। বর্ণনাকারী বলেন: তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, তা কেন? তিনি বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে হেরা পাহাড়ে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, “হে হেরা, স্থির হও! কারণ তোমার উপর একজন নবী, অথবা একজন সিদ্দিক কিংবা একজন শহীদ ছাড়া আর কেউ নেই।” বর্ণনাকারী বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁরা কারা? তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, সা‘দ এবং আবদুর রহমান বিন আউফ। বর্ণনাকারী বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো, তবে দশম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: আমি। // সহীহ //

এটি একটি হাসান হাদীস। ইমাম তিরমিযী এটি আহমদ বিন মানী‘ থেকে এবং আবু ইয়া‘লা এটি... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
أبي خَيْثَم كِلاهُمَا عَنْ هُشَيْمٍ وَرَوَاهُ أَحْمَدُ من طَرِيق شُعْبَة وَالثَّوْري وَرَوَاهُ ابْن حبَان مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ كُلُّهُمْ عَنْ حُصَيْنٍ وَرَوَاهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ زُرُّ بْنُ حُبَيْشٍ وَرِيَاحُ بْنُ الْحَارِثِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَخْنَسِ وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بن عَوْف وَغَيرهم فَفِي رِوَايَة لعبد الرَّحْمَن بن الْأَخْنَس ذكر أبي عُبَيْدَة بْنِ الْجَرَّاحِ بَدَلَ سَعْدٍ وَفِي رِوَايَةِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ذكر الْعشْرَة كلهم وَلَهُ شَوَاهِدُ مِنْ حَدِيثِ عُثْمَانَ بن عَفَّان // صَحِيح // وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَأَبِي هُرَيْرَة // صَحِيح // وَابْن عمر وَابْن عَبَّاس وَغَيرهم وَقد وَقع لي عَالِيا منَ الطَّرِيق الْمَاضِيَة قَرَأْتُهُ عَلَى التَّقِيِّ عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَن أَحْمد بن أبي طَالب عَنْ أَبِي الْحَسَنِ الْقَطِيعِيِّ عَنْ ابْن الزَّاغُونِيّ بِهِ

 

‌‌الحَدِيث الْعَاشِر عَن عَبْد الرَّحْمَنِ بن عَوْف

أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَان النَّيْسَابُورِي بِالْمَسْجِدِ الْحَرَام أَنا أَبُو أَحْمَدَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بن أبي بكر الطَّبَرِيّ إِمَام الْمقَام أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَرَمِيٍّ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ عمار
আবু খাইসামাহ, তাঁরা উভয়েই হুশাইম থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ এটি শু'বাহ ও সাওরির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান এটি আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলেই হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সাঈদ ইবনে যায়িদ থেকে একদল রাবী এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন যুর ইবনে হুবাইশ, রিয়াহ ইবনুল হারিস, আবদুর রহমান ইবনুল আখনেস, হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ এবং আরও অনেকে। আবদুর রহমান ইবনুল আখনেসের বর্ণনায় সা'দের পরিবর্তে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ-এর উল্লেখ রয়েছে। আর হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমানের বর্ণনায় দশজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীর সকলেরই উল্লেখ রয়েছে। উসমান ইবনে আফফানের হাদিস থেকে এর সমর্থনকারী বর্ণনা বিদ্যমান // সহীহ // এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফ ও আবু হুরায়রা // সহীহ // ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস ও আরও অনেকের বর্ণনা থেকেও সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে। এটি আমার কাছে পূর্ববর্তী উচ্চস্তরের সনদে পৌঁছেছে; আমি তা তাকিউদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহর নিকট পাঠ করেছি, তিনি আহমাদ ইবনে আবু তালিব থেকে, তিনি আবুল হাসান আল-কাতিয়ী থেকে, তিনি ইবনুয যাগুনী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

দশম হাদিস: আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণিত

মসজিদে হারামে আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আন-নাইসাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাকামে ইবরাহিমের ইমাম আবু আহমাদ ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আত-তাবারী আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে আবি হারামি আমাদের জানিয়েছেন, আবু হাসান আলী ইবনে হুমাইদ ইবনে আম্মার আমাদের জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
أَنَا أَبُو مَكْتُومٍ عِيسَى بْنُ الْحَافِظِ أَبِي ذَرٍّ عَبْدِ بْنِ أَحْمَدَ الْهَرَوِيُّ أَنَا أَبِي أَنا أَبُو الْهَيْثَمِ مُحَمَّدُ بْنُ مَكِّيٍّ الكشميهيني وَأَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن أَحْمد الْمُسْتَمْلِي وَغَيرهمَا قَالُوا أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَطَرِ بن صَالح الْفربرِي أَنَا عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم الْجعْفِيّ ثَنَا مُسَدَّدُ ثَنَا يُوسُفُ بْنُ الْمَاجِشُونِ عَنْ صَالِحِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ بَيْنَمَا أَنَا وَاقِفٌ فِي الصَّفِّ يَوْمَ بَدْرٍ فَنَظَرْتُ عَنْ يَمِينِي وَشِمَالِي فَإِذَا أَنَا بِغُلامَيْنِ مِنَ الأَنْصَارِ حَدِيثَةٍ أَسْنَانُهُمَا تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ بَيْنَ أَضْلَعَ مِنْهُمَا فَغَمَزَنِي أَحَدُهُمَا فَقَالَ لِي يَا عَمِّ أَتَعْرِفُ أَبَا جَهْلٍ قُلْتُ نَعَمْ فَمَا حَاجَتُكَ إِلَيْهِ يَا بْنَ أَخِي قَالَ أُخْبِرْتُ أَنَّهُ يَسُبُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَو رَأَيْته لم يُفَارق سَوَادَهُ حَتَى يَمُوتَ الأَعْجَلُ مِنَّا فَغَمَزَنِي الآخَرُ فَقَالَ لِي مِثْلَهَا فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ نَظَرْتُ إِلَى أَبِي جَهْلٍ يَجُولُ فِي النَّاسِ فَقُلْتُ أَلا إِنَّ هَذَا صَاحِبُكُمَا الَّذِي سَأَلْتُمُونِي عَنْهُ قَالَ فَابَتْدَرَاهُ بِسَيْفَيْهِمَا فَضَرَبَاهُ حَتَّى قَتَلاهُ ثُمَّ انْصَرَفَا إِلَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَاهُ فَقَالَ (أَيُّكُمَا قَتَلَهُ) فَقَالَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا أَنَا قَتَلْتُهُ فَقَالَ (هَلْ مَسَحْتُمَا سَيْفَيْكُمَا) قَالا لَا فَنَظَرَ فِي السَّيْفَيْنِ فَقَالَ (كِلاهُمَا قَتَلَهُ سَلَبُهُ لِمُعَاذِ بن عَمْرو بن الجموح وَكَانَ يَعْنِي الغلامين مُعَاذَ بْنَ عَفْرَاءَ وَمُعَاذَ بْنَ الجموح // صَحِيح //

هَذَا حَدِيث صَحِيح أخرجه البُخَارِيّ هَكَذَا وَمُسلم عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى عَنْ يُوسُف الْمَذْكُور وَابْن حبَان عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَزْدِيِّ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى بِهِ

والسواد بِالْفَتْح الشَّخْص وبالكسر السداد وَقَوله فَلم أنشب أَي لم أتعلق بِشَيْء غير مَا أَنا فِيهِ

وَقد وَقع لي الحَدِيث عَالِيا من طَرِيق أُخْرَى إِلَى الْفربرِي أخبرنَا عَبْد الرَّحِيم بْن عَبْد الْوَهَّابِ عَن سِتّ الوزراء بنت عُمَر سَمَاعا أَنا الْحُسَيْن بن أبي بكر أَنا أَبُو الْوَقْت أَنا أَبُو الْحسن بْن المظفر أَنا أَبُو مُحَمَّد بْن حموية أَنا الْفربرِي بِهِ
আমি আবু মাকতূম ঈসা ইবনুল হাফিয আবু যার আবদ ইবনে আহমদ আল-হারাবী থেকে সংবাদপ্রাপ্ত হয়েছি, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু আল-হাইসাম মুহাম্মদ ইবনে মাক্কী আল-কুশমিহানী ও আবু ইসহাক ইব্রাহীম ইবনে আহমদ আল-মুস্তামলী এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেন; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার ইবনে সালিহ আল-ফিরাবরী, তিনি আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহীম আল-জু’ফী থেকে, তিনি মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনুল মাজিশুন থেকে, তিনি সালিহ ইবনে ইব্রাহীম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: বদরের যুদ্ধের দিন আমি যখন সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন আমার ডানে ও বামে তাকিয়ে আনসারদের দুইজন অল্পবয়স্ক কিশোরকে দেখতে পেলাম যাদের বয়স ছিল খুবই কম। আমি আকাঙ্ক্ষা করছিলাম যদি আমি তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কোনো ব্যক্তির মাঝে থাকতাম। তখন তাদের একজন আমাকে চিমটি কেটে (ইঙ্গিত করে) বলল, ‘হে চাচা! আপনি কি আবু জাহলকে চেনেন?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, হে ভাতিজা! তার সাথে তোমার কী কাজ?’ সে বলল, ‘আমাকে জানানো হয়েছে যে, সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয়। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! আমি যদি তাকে দেখতে পাই, তবে যতক্ষণ না আমাদের মধ্যে যার মৃত্যু আগে ত্বরান্বিত হয় সে মারা যায়, ততক্ষণ আমার দেহ তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।’ এরপর অন্যজনও আমাকে চিমটি কেটে একই কথা বলল। কিছুক্ষণ পরই আমি আবু জাহলকে মানুষের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখলাম। আমি বললাম, ‘শোনো, এই তো সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করছিলে।’ বর্ণনাকারী বলেন, তখন তারা উভয়ে নিজেদের তলোয়ার নিয়ে তার দিকে দ্রুত ধাবিত হলো এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করল। অতঃপর তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছ?’ তাদের প্রত্যেকেই বলল, ‘আমি তাকে হত্যা করেছি।’ তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কি তোমাদের তলোয়ার দুটি মুছে ফেলেছ?’ তারা বলল, ‘না।’ তখন তিনি তলোয়ার দুটির দিকে তাকালেন এবং বললেন, ‘তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। আর তার থেকে প্রাপ্ত যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (সালব) মুয়াজ ইবনে আমর ইবনুল জামুহ-এর জন্য।’ এখানে কিশোর দুইজন ছিলেন মুয়াজ ইবনে আফরা এবং মুয়াজ ইবনে আমর ইবনুল জামুহ। // সহীহ //

এটি একটি সহীহ হাদীস। ইমাম বুখারী একে এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি উল্লিখিত ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আযদি থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া-এর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।

‘সাওয়াদ’ শব্দটি সীন বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে ব্যক্তির দেহ বা অবয়বকে বোঝায়, আর কাসরা (যের) যোগে সঠিকতা বা লক্ষ্যভেদকে বোঝায়। আর তাঁর কথা ‘ফালাম আনশাব’-এর অর্থ হলো, আমি যা করছিলাম তা ছাড়া অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হইনি।

আল-ফিরাবরী পর্যন্ত অন্য একটি উচ্চতর সূত্রে হাদীসটি আমার নিকট পৌঁছেছে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহীম ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব, তিনি সিত্তুল উযারা বিনতে উমর থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি আল-হুসাইন ইবনে আবু বকর থেকে, তিনি আবু আল-ওয়াকত থেকে, তিনি আবু আল-হাসান ইবনে আল-মুজাফফর থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ ইবনে হামুয়াহ থেকে, তিনি আল-ফিরাবরী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌الحَدِيث الْحَادِي عشر عَن أَبِي عُبَيْدَة بن الْجراح

أَخْبرنِي الشَّيْخ أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْمُبَارَكِ بْنِ حَمَّادٍ الفزي بِمَنْزِلِهِ ظَاهِرَ الْقَاهِرَةِ أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْجَوْهَرِيُّ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمد بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيُّ أَنا أَبُو الْفَتْح مُحَمَّد ابْن الْحَافِظِ عَبْدُ الْغَنِيِّ الْمَقْدِسِيُّ أَنا أَبُو الْمَكَارِمِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيّ أَنا الْحسن بن أَحْمد الْمُقْرِئ أَنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَر انا يُونُس بن حبيب ثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ ثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ لَيْثٍ وَهُوَ ابْنُ أَبِي سُلَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ عَن أَبِي عُبَيْدَة بْن الْجراح قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (إِنَّ اللَّهَ بَدَأَ هَذَا الْأَمر بنبوة وَرَحْمَةً وَكَائِنًا خِلافَةً وَرَحْمَةً وَكَائِنًا ملكا عَضُوضًا وَكَائِنًا عتوا وَجَبْرِيَّةً وَفَسَادًا فِي الأُمَّةِ يَسْتَحِلُّونَ الْفُرُوجَ وَالْخُمُورَ وَالْحَرِيرَ وَيُرْزَقُونَ مَعَ ذَلِكَ وَيُنْصَرُونَ حَتَّى يَلْقَوُا اللَّهَ عز وجل // حسن // هَذَا حَدِيث حسن رَوَاهُ الدَّارمِيّ مِنْ طَرِيقِ مَكْحُولٍ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ بِنَحْوِهِ وَقَدْ وَقَعَ لِي عَالِيًا بِالسَّنَدِ الْمَذْكُورِ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ أَنا أَبُو المَكَارِمِ التَّيْمِيّ الْمَذْكُور

 

‌‌الحَدِيث الثَّانِي عشر من حرف الْألف عَن أنس

أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بن مُحَمَّد بن حَامِد بِبَيْت الْمُقَدّس أَنا الْحَافِظ أَبُو سعيد خَلِيل العلائي أَنَا أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّد بْنِ صَصْرَى أَنا أَبُو الْمَكَارِمِ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هِلالٍ أَنا الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَسَاكِر أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الْمَوَازِينِيُّ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ قَالَ قُرِئَ عَلَى الْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ يُوسُفَ بْنِ الْقَاسِمِ الْمَيَانَجِيِّ قَالَ أَنا الأَئِمَّةُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ وَأَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ
আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহ থেকে বর্ণিত একাদশ হাদীস

আমাকে শায়খ আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-মুবারক বিন হাম্মাদ আল-ফাযি কায়রোর উপকণ্ঠে তাঁর বাসভবনে অবহিত করেছেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মানসুর আল-জাওহারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আল-হাফিজ আব্দুল গানি আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মাকারিম আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-তাইমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আহমদ আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন হাবিব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু দাউদ সুলাইমান বিন দাউদ আল-তায়ালিসি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জারির বিন হাজিম, লাইস থেকে—যিনি ইবনে আবি সালিম—তিনি আবদুর রহমান বিন সাবিত থেকে, তিনি আবু সা'লাবাহ আল-খুশানি থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই বিষয়টি নবুওয়াত ও রহমতের মাধ্যমে শুরু করেছেন। এরপর এটি খিলাফত ও রহমত হবে, তারপর এটি দংশনকারী (কঠোর) রাজত্ব হবে, অতঃপর এটি অহংকার, স্বৈরশাসন ও উম্মতের মধ্যে বিপর্যয় হবে। তারা লজ্জাস্থান (অবৈধ যৌনতা), মদ ও রেশমকে হালাল গণ্য করবে, আর তা সত্ত্বেও তারা রিযিকপ্রাপ্ত হবে এবং সাহায্যপ্রাপ্ত হবে যতক্ষণ না তারা মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।" // হাসান // এটি একটি হাসান হাদীস। দারেমি এটি মাকহুল-এর সূত্রে আবু সা'লাবাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর এটি আমার নিকট আলী বিন আহমদ পর্যন্ত উল্লিখিত সনদে উচ্চতর সূত্রে পৌঁছেছে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উল্লিখিত আবু আল-মাকারিম আল-তাইমি।

 

আলিফ বর্ণক্রমের আনাস থেকে বর্ণিত দ্বাদশ হাদীস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন হামিদ বায়তুল মুকাদ্দাসে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু সাঈদ খলিল আল-আলাঈ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাদল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাসরা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মাকারিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন আবদুর রহমান বিন হিলাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু আল-কাসিম আলী বিন আল-হাসান বিন আসাকির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আল-হাসান আল-মাওয়াজিনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আবি নাসর, তিনি বলেন: কাজী আবু বকর ইউসুফ বিন আল-কাসিম আল-মায়ানাজির নিকট পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমামগণ আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবি হাতিম এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٢٩)
خُزَيْمَةَ وَأَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّد بن سَلام الطَّحَاوِيّ وَغَيرهم قَالُوا ثَنَا يُونُس بْن عَبْد الْأَعْلَى ثَنَا الإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بن إِدْرِيس الشَّافِعِي قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ الْجَنَدِيُّ عَنْ أَبَانِ بْنِ صَالِحٍ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالك قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (لَا يَزْدَادُ الأَمْرُ إِلا شِدَّةً وَلا الدُّنْيَا إِلا إِدْبَارًا وَلا النَّاسُ إِلا شُحًّا وَلا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلا على شرار النَّاس) // مُنكر // هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ يُونُسَ بْنِ عبد الْأَعْلَى فَوَقع لنا مُوَافَقَته وَقد وَقع لي عَالِيا منَ الْوَجْه الَّذِي أوردته

أنبأني بِهِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ الصَّائِغ عَن أَبِي الْفضل بْنِ صصرى بِهِ وقرأته عَالِيا عَلَى أَبِي الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْمجد أَيْضا عَن أَبِي الرّبيع بْن قدامَة عَن مُحَمَّد بْن عمار أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رِفَاعَةَ أخبرهُ أَنا الخلعي أَنا ابْن النّحاس أَنا أَبُو الطَاهِر الْمَدِينِيّ نَا يُونُس بْن عَبْد الْأَعْلَى بِهِ

 

‌‌الحَدِيث الثَّالِث عشر من حرف الْبَاء عَن بُرَيْدَة

أَخْبَرَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيم الْكِنَانِيُّ الْحَنَفِيُّ بِالْقَاهِرَةِ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الإِرْبِلِيُّ أَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْكِرْمَانِيُّ أَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الصَّفَّارُ أَنَا جَدِّي لِأُمِّي أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ زَاهِرِ بْنِ طَاهِرٍ أَنَا أَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الْكَرِيمِ بن عَليّ الخشفاني أَنا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحِيرِيُّ أَنا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ ثَنَا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزبْرِقَان ثَنَا زيد بن الْحباب نَا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَيُّنَا يُطِيقُ
খুযাইমাহ এবং আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালাম আত-তাহাবী ও অন্যান্যরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আবদুল আ'লা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জানাদি, আবান বিন সালিহ থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "(যামানার) অবস্থা কেবল কঠিনতর হতে থাকবে, দুনিয়া কেবল বিমুখ হতে থাকবে এবং মানুষ কেবল কৃপণ হতে থাকবে; আর কিয়ামত কেবল নিকৃষ্টতম মানুষের ওপরই সংঘটিত হবে।" // মুনকার // এটি একটি হাসান গরীব হাদিস, ইবনে মাজাহ এটি ইউনুস বিন আবদুল আ'লা থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে তাঁর বর্ণনার সাথে আমার বর্ণনার মিল ঘটেছে এবং আমি এটি উচ্চতর সনদে প্রাপ্ত হয়েছি যে সূত্রে আমি তা উল্লেখ করেছি।

আমাকে এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আস-সাইগ, আবু আল-ফজল বিন সসরী থেকে, তাঁর সূত্রে। এবং আমি এটি উচ্চতর সনদে পাঠ করেছি আবু আল-হাসান বিন আবি আল-মাজদ-এর নিকটও, তিনি আবু আল-রাবী বিন কুদামা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আম্মার থেকে যে, আবদুল্লাহ বিন রিফা'আ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-খিলা'ঈ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুন নাহাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আল-মাদিনী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আবদুল আ'লা তাঁর সূত্রে।

 

‌‌বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত 'বা' বর্ণের অধীনে ত্রয়োদশ হাদিস

কায়রোতে আবু মুহাম্মদ ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-কিনানি আল-হানাফি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আবদুর রহমান আল-ইরবিলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন আবি সাঈদ আল-কিরমানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাসিম বিন আবদুল্লাহ বিন উমর আস-সাফফার, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার মাতামহ আবু মনসুর আবদুল খালিক বিন জাহির বিন তাহির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আবদুল কারিম বিন আলী আল-খাশফানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাজী আবু বকর আহমদ বিন আল-হাসান আল-হীরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন যিয়াদ আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন জাফর বিন আয-যুবরিকান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ বিন আল-হুবাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন ওয়াকিদ, আবদুল্লাহ বিন বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁরা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কার সেই সামর্থ্য আছে?"
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ذَلِكَ قَالَ (أَلَيْسَ يُنَحِّي أَحَدُكُمُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَيَبْزُقُ فِي الْمَسِجْدِ فَيَدْفِنُهَا فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ فَإِن رَكْعَتي الضُّحَى تُجزئه) // صَحِيح // هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ عَنْ زَيْدِ بْنِ الْحُبَابِ عَلَى الْمُوَافَقَةِ وَرَوَاهُ ابْنُ حبَان مِنْ طَرِيقِ أَبِي كُرَيْبٍ عَنْ زيد وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ خُزَيْمَةَ من طَرِيق عَليّ بن الْحُسَيْن بن سُفْيَان عَن حُسَيْن وَأَشَارَ ابْنُ حِبَّانَ إِلَى أَنَّ الْحُسَيْنَ تَفَرَّدَ بِهِ وَلَهُ شَاهِدٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي ذَرٍّ عِنْدَ مُسلم وسياقة أتم (فِي الْإِنْسَان ثَلَاثمِائَة وَسِتُّونَ مَفْصِلا عَلَى كُلِّ مَفْصِلٍ مِنْهَا صَدَقَة) // صَحِيح //

 

‌‌الحَدِيث الرَّابِع عشر من حرف التَّاء الْمُثَنَّاة عَن تَمِيم

أَخْبرنِي الإِمَام الْعَلامَة أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ التَّنُوخِيُّ الْبَعْلَبَكِّيُّ نَزِيلُ الْقَاهِرَةِ أَنا الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ بن مُحَمَّد البرزالي أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْمِقْدَادُ بْنُ هِبَةِ اللَّهِ الْقَيْسِيُّ أَنَا الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّد عبد الْعَزِيز مَحْمُودِ بْنِ الأَخْضَرِ أَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الأَنْصَارِيُّ أَنَا الْفَقِيهُ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ الْبَرْمَكِيُّ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَيُّوبَ أَنَا أَبُو بَرْزَةَ الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الحاسب ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُس ثَنَا زُهَيْر هُوَ ابْنُ مُعَاوِيَةَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ تَمِيمِ الدَّارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (إِنَّ الدِّينَ النَّصِيحَةُ إِنَّ الدِّينَ النَّصِيحَةُ إِن الدّين النَّصِيحَة) قَالَ لِمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ (لله ولكتابه وَرَسُوله وأئمة الْمُؤمنِينَ وَالْمُسْلِمين وعامتهم) // صَحِيح //

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ
সেই কারণেই তিনি বলেছেন, "তোমাদের কেউ কি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয় না? অথবা সে মসজিদে থুতু ফেলে তা মাটি চাপা দেয়; যদি সে তা না করে তবে চাশতের দুই রাকাত নামাজই তার জন্য যথেষ্ট হবে।" // সহীহ // এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস। ইমাম আহমাদ এটি যায়িদ ইবনুল হুবাব থেকে 'মুওয়াফাকাত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান আবু কুরাইবের সূত্রে যায়িদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ ও ইবনে খুযায়মা এটি আলী বিন হুসাইন বিন সুফিয়ানের সূত্রে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান ইশারা করেছেন যে হুসাইন এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমের নিকট আবু জার থেকে এর একটি শাহেদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) রয়েছে যার শব্দবিন্যাস অধিক পূর্ণাঙ্গ: "মানুষের শরীরে তিনশত ষাটটি জোড়া রয়েছে, প্রতিটি জোড়ার বিপরীতে সাদাকা দেওয়া আবশ্যক।" // সহীহ //

 

‌‌'তা' বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া চতুর্দশ হাদিস, তামীম (রা.) থেকে বর্ণিত

আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আল্লামা আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল মুমিন আত-তানুখী আল-বালবাক্কী—যিনি কায়রোতে বসবাস করতেন—তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ আল-বারযালী, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-মিকদাদ বিন হিবাতুল্লাহ আল-কায়সী, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আযীয মাহমুদ ইবনুল আখদার, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী আল-আনসারী, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ফকীহ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে উমর আল-বারমাকী, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আইয়ুব, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বারযাহ আল-ফাদল বিন মুহাম্মদ আল-হাসিব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যুহাইর—তিনি ইবনে মুয়াবিয়া—সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াযিদ থেকে এবং তিনি তামীম আদ-দারী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা, নিশ্চয়ই দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা, নিশ্চয়ই দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা।" জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কার জন্য? তিনি বললেন, "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুমিন ও মুসলিমদের নেতৃবর্গ ও সাধারণ জনগণের জন্য।" // সহীহ //

এটি একটি সহীহ হাদিস। এটি আবু দাউদ আহমাদ ইবনে... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣١)
يُونُس فوافقناه بعلو إِلَّا أَنه لم يَقع فِي رِوَايَته عَن أَبِيه وَكَذَا رَوَاهُ عليّ بْن الْجَعْد وَعبد الرَّحْمَن بْن عَمْرو البَجلِيّ وَغَيرهمَا عَن زُهَيْر بن مُعَاوِيَة وَكَذَا مُعَاوِيَة رَوَاهُ أَحْمد وَمُسلم وَالنَّسَائِيّ من طَرِيق الثَّوْريّ وَمُسلم أَيْضا من طَرِيق روح بْن الْقَاسِم وَأَبُو عوَانَة وَابْن حبَان من طَرِيق يَحْيَى بْن سعيد الْأنْصَارِيّ كلهم عَن سُهَيْل عَن عَطاء لَيْسَ فِيهِ أَبِيه وَقد روى مُسلم وَابْن خُزَيْمَة من طَرِيق ابْن عُيَيْنَة قَالَ لسهيل بْن أَبِي صَالِح إِن عَمْرو بن دِينَار حَدثنَا عَنِ الْقَعْقَاع بْن حَكِيم عَن أَبِيك حَدِيثا فَقَالَ سمعته منَ الَّذِي سَمعه مِنْهُ أَبِي ثُمَّ حَدثهُ بِهَذَا الحَدِيث عَن عَطاء بن يزِيد وَهَذَا صَرِيح فِي أَن سهيلا سَمعه من شيخ أَبِيه فَيحْتَمل أَن يكون قَوْله فِي روايتنا عَن أَبِيه منَ الْمَزِيد فِي مُتَّصِل الْأَسَانِيد وَيحْتَمل أَن يكون سهيلا سَمعه أَولا من أَبِيه عَن عَطاء ثمَّ لقى عَطاء فَحَمله عَنهُ فَحدث بِهِ الْوَجْهَيْنِ

 

‌‌الحَدِيث الْخَامِس عشر من حرف الثَّاء الْمُثَلَّثَة عَن ثَوْبَان

أخبرنَا الْحَافِظُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ صَالِحٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَكْرَمِ أَنَا أَبُو الْعِزِّ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ الْحَرَّانِيُّ أَنَا يحيى بن الرّبيع الْفَقِيه أَن مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْفَقِيهُ أَنا أَبُو الْفِتْيَانِ عُمَرُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ الْحَافِظُ بِالطَّابَرَانِ أَنَا أَبُو مَسْعُودٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَجَلِيُّ أَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى السَّرَخْسِيُّ أَنا أَبُو لَبِيدٍ مُحَمَّدُ بن إِدْرِيس السَّامِي أَنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ سَجَّادَةُ ثَنَا وَكِيعٌ ثَنَا عَبْد اللَّهِ بْن عَمْرو بْن مُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَمَّا نَزَلَ فِي الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ مَا نَزَلَ قَالُوا فَأَيَّ الْمَالِ نَتَّخِذُ فَقَالَ عُمَرُ أَنَا أَعْلَمُ لَكُمْ ذَلِكَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَّ الْمَالِ نَتَّخِذُ قَالَ (لِيَتَّخِذْ أَحَدُكُمْ قَلْبًا شَاكِرًا وَلِسَانًا ذَاكِرًا وَزَوْجَةً صَالِحَةً تُعِينُهُ عَلَى أَمْرِ الآخِرَةِ) // حسن // رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ مِنْ طَرِيقِ مَنْصُورِ وَقَالَ
ইউনুস, আমরা উচ্চ সনদে তার সাথে একমত হয়েছি, তবে তার বর্ণনায় "তার পিতা থেকে" কথাটি আসেনি। অনুরূপভাবে আলী ইবনে আল-জাদ, আবদুর রহমান ইবনে আমর আল-বাজালি এবং আরও অনেকে এটি যুহায়ের ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে মুয়াবিয়া; আহমদ, মুসলিম এবং আন-নাসাঈ এটি সাওরির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম আরও বর্ণনা করেছেন রুহ ইবনে আল-কাসিমের সূত্রে এবং আবু আওয়ানা ও ইবনে হিব্বান ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারির সূত্রে; তারা সবাই সুহাইল থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে "তার পিতা" কথাটি নেই। আর মুসলিম ও ইবনে খুজাইমাহ ইবনে উয়ায়নার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহকে বললেন: আমর ইবনে দিনার আমাদের কাছে কাকা ইবনে হাকিম থেকে, তিনি আপনার পিতা থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তখন তিনি (সুহাইল) বললেন: আমি এটি তার কাছ থেকে শুনেছি যার কাছ থেকে আমার পিতা শুনেছিলেন। এরপর তিনি আতা ইবনে ইয়াজিদের সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করলেন। এটি এই বিষয়ে স্পষ্ট যে, সুহাইল এটি তার পিতার শিক্ষকের কাছ থেকে শুনেছেন। সুতরাং এটি সম্ভব যে আমাদের বর্ণনায় "তার পিতা থেকে" কথাটি 'মুত্তাসিল আসানিদ' (সংযুক্ত সনদ)-এর মধ্যে বর্ধিত অংশ (মাজিদ ফি মুত্তাসিলিল আসানিদ) হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যে, সুহাইল এটি প্রথমে তার পিতার মাধ্যমে আতা থেকে শুনেছিলেন, পরে আতার সাথে তার সাক্ষাৎ হলে তার কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেন; ফলে তিনি উভয়ভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌তিন নুক্তাযুক্ত 'ছা' বর্ণ অধ্যায়ে সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত পঞ্চদশ হাদিস

হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে আবি বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে সালিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যখন তার সামনে (হাদিসটি) পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল আকরাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ইজ্জ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল মুনিম আল-হাররানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ফকিহ ইয়াহইয়া ইবনে রাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ফকিহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তাবারানে হাফেজ আবুল ফিতইয়ান উমর ইবনে আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মাসউদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাজালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আস-সারাখসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু লাবিদ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আস-সামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাসান ইবনে হাম্মাদ সাজ্জাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মুররাহ তার পিতা থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন স্বর্ণ ও রৌপ্য সম্পর্কে যা নাজিল হওয়ার তা নাজিল হলো, তখন তারা (সাহাবীরা) বললেন: তাহলে আমরা কোন ধরনের সম্পদ গ্রহণ করব? তখন উমর (রা.) বললেন: আমি তোমাদের পক্ষ থেকে তা জেনে দিচ্ছি। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কোন ধরনের সম্পদ গ্রহণ করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমাদের প্রত্যেকের উচিত একটি কৃতজ্ঞ অন্তর, একটি জিকিরকারী জিহ্বা এবং একজন নেককার স্ত্রী গ্রহণ করা, যে তাকে আখেরাতের বিষয়ে সাহায্য করবে।" // হাসান // এটি তিরমিজি মানসুরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٢)
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن مُحَمَّد بْن إِسْمَاعِيل بن سَمُرَة عَن وَكِيع كَمَا أوردناه وَله شَوَاهِد رَوَاهَا ابْن مرْدَوَيْه وَغَيره

 

‌‌الحَدِيث السَّادِس عشر من حرف الْجِيم عَن جَابر

حَدَّثَنَا الْمُفِيدُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُحَدِّثِ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْقَاسِمِيُّ أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ أَنَا أَبُو الْمَعَالِي أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الأَبَرْقُوهِيُّ أَنا أَبُو الْفَرَجِ الْفَتْحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بن عبد السَّلَام أَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عمر الْأمَوِي أَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّد الناقور أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْحَرْبِيُّ أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عبد الْجَبَّار الصُّوفِي ثَنَا يحيى بن معِين نَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يزِيد بن أنيس الْأنْصَارِيّ قَالَ سَمِعْتُ طَلْحَةَ بْنَ خِرَاشٍ يُحَدَّثُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ قَامَ رَجُلٌ فَرَكَعَ رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ فِي الرَّكْعَة الأولى {قل يَا أَيهَا الْكَافِرُونَ} حَتَّى انْقَضَتِ السَّورَةُ فَقَالَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم (هَذَا عَبْدٌ عَرَفَ رَبَّهُ) وَقَرَأَ فِي الرَّكْعَة الْأَخِيرَة {قل هُوَ الله أحد} حَتَّى انْقَضَتِ السَّورَةُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم (هَذَا عَبْدٌ آمَنَ بِرَبِّهِ) قَالَ طَلْحَةُ فَأَنا أستحب أَنْ أَقْرَأَ هَاتَيْنِ السُّورَتَيْنِ فِي هَاتين الرَّكْعَتَيْنِ // حسن //

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي صَحِيحِهِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصُّوفِيِّ بِهَذَا الإِسْنَادِ فَوَقَعَ لَنَا مُوَافَقَةً عَالِيَةً

 

‌‌الحَدِيث السَّابِع عشر من حرف الْحَاء الْمُهْملَة عَن حَازِم بن حَرْمَلَة

أَخْبرنِي أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَدَنِيُّ رحمه الله بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالرَّوْضَةِ الشَّرِيفَةِ بَيْنَ الْقَبْرِ وَالْمِنْبَرِ أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحسن الْجَزرِي العابد أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْحَمِيدِ بن عبد الْهَادِي الْمَقْدِسِي أَنا
এটি একটি হাসান হাদীস এবং এটি ইবনে মাজাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সামুরা থেকে, তিনি ওয়াকি থেকে বর্ণনা করেছেন যেভাবে আমরা উল্লেখ করেছি। এর আরও শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে যা ইবনে মারদুওয়াইহ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌'জীম' বর্ণের ষোড়শ হাদীস, জাবির থেকে বর্ণিত

আল-মুফিদ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আল-মুহাদ্দিস আবু আব্বাস আহমদ বিন আলী আল-কাসিমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল ওয়াহহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-মা'আলি আহমদ বিন ইসহাক আল-আবারকুহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফারাজ আল-ফাতহ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবদুস সালাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন উমর আল-উমাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ আন-নাক্কুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আলী বিন উমর আল-হারবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন হাসান বিন আবদুল জাব্বার আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন মাঈন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ বিন আনিস আল-আনসারী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি তালহা বিন খিরাশকে জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) সালাত আদায় করলেন। প্রথম রাকাতে তিনি 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' পাঠ করলেন যতক্ষণ না সূরাটি শেষ হলো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এ এমন এক বান্দা যে তার রবকে চিনেছে।" এরপর তিনি শেষ রাকাতে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করলেন যতক্ষণ না সূরাটি শেষ হলো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এ এমন এক বান্দা যে তার রবের প্রতি ঈমান এনেছে।" তালহা বলেন: তাই আমি এই দুই রাকাতে এই সূরা দুটি পাঠ করা মুস্তাহাব মনে করি। // হাসান //

এটি একটি হাসান গরীব হাদীস। ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আহমদ বিন আল-হাসান আস-সুফি থেকে এই সনদেই বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের জন্য একটি সুউচ্চ মুওয়াফাকাত (সনদগত নৈকট্য) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

 

‌‌'হা' বর্ণের সপ্তদশ হাদীস, হাজিম বিন হারমালা থেকে বর্ণিত

আবু দাউদ সুলাইমান বিন আহমদ বিন আবদুল আজিজ আল-মাদানি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন— রওজা শরীফে কবর এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে তাঁর সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে— তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-জাজরি আল-আবিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল হামিদ বিন আবদুল হাদি আল-মাকদিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٣)
يُوسُفُ بْنُ مَعَالِي بْنِ نُصَيْرٍ الأطرابلسي أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمد بن قيس الغساني أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَليّ بن أبي الرضي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَنْطَاكِيُّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ تَمَّامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيُّ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحَوْرَانِيُّ ثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ ذكْوَان نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي زَيْنَبَ مَوْلَى حَازِمِ بْنِ حَرْمَلَةَ عَنْ حَازِمِ بْنِ حَرْمَلَةَ قَالَ مَرَرْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَعَانِي فَقَالَ (أَلا أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ لَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّه) // إِسْنَاده ضَعِيف والْحَدِيث صَحِيح // هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ معن فَوَقع لنا بَدَلا لَهُ

وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ من رِوَايَة إِبْرَاهِيم بن حَمْزَة وَإِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر الْحزَامِي

أخرجه الْحَافِظ ضِيَاء الدّين الْمَقْدِسِي فِي الْمُخْتَارَةِ مِنْ طَرِيقِهِ وَقَرَأْتُهُ عَالِيًا عَلَى أُمِّ الْحَسَنِ بِنْتِ الْمُنَجَّا عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَمْزَةَ أَنَّ الضِّيَاءَ أَخْبَرَهُ أَنا أَبُو جَعْفَر الصيدلاني عَن فَاطِمَة الجزدانية سَمَاعًا أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الله بن ريذة الطَّبَرَانِيُّ ثَنَا مُصْعَبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَمْزَةَ ثَنَا أَبِي ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْنٍ بِهِ

 

‌‌الحَدِيث الثَّامِن عشر من حرف الْخَاء عَن خَوات بن خَبِير

أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْعُمر الدِّمَشْقِي بهَا أَنا جدي لأبي الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الذَّهَبِيُّ أَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلالُ أَنا سَالم بن مُحَمَّدٍ التَّغْلِبِيُّ أَنَا أَبُو الْفَتْحِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن
ইউসুফ বিন মাআলী বিন নুসাইর আল-আত্রাবুলুসী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ বিন কায়েস আল-গাসসানী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবু আল-রাদি মুহাম্মদ বিন আলী আল-আনতাকী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম তাম্মাম বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-রাযী আল-হাফিয। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-তাইয়িব মুহাম্মদ বিন হুমাইদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আল-হাওরানী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন আবদ আল-সামাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ বিন আবদ আল-সামাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ বিন যাকওয়ান। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আল-যুবাইর আল-হুমাইদী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মান, তিনি খালিদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি হাযিম বিন হারমালাহ-এর আযাদকৃত গোলাম আবু যায়নাব থেকে, তিনি হাযিম বিন হারমালাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, "আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের মধ্য থেকে একটি গুপ্তধনের কথা বলব না? (তা হলো) 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'।" // এর সনদ দুর্বল কিন্তু হাদিসটি সহিহ // এটি একটি হাসান হাদিস। ইবনে মাজাহ ইয়াকুব বিন হুমাইদ বিন কাসিবের মাধ্যমে মুহাম্মদ বিন মান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তাই এটি আমাদের নিকট একটি ‘বাদাল’ (বিকল্প সনদ) হিসেবে পৌঁছেছে।

আর তাবারানী এটি ইবরাহিম বিন হামযাহ এবং ইবরাহিম বিন আল-মুনযির আল-হিযামী-এর রেওয়ায়েত থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাফিয দিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী এটি 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে তাঁর সূত্রে সংকলন করেছেন। আমি এটি উম্মুল হাসান বিনতে আল-মুনাজ্জা-এর নিকট উচ্চ সনদে পাঠ করেছি, তিনি সুলায়মান বিন হামযাহ থেকে, আর দিয়াউদ্দীন তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আল-সাইদালানী, ফাতিমা আল-জাযদানিয়্যাহ-এর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন রীযাহ আল-তাবারানী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসআব বিন ইবরাহিম বিন হামযাহ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মান — একই সূত্রে।

 

‌‌‘খা’ বর্ণের আঠারোতম হাদিস: খাওয়ারত বিন খাবীর থেকে বর্ণিত

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-উমর আল-দিমাশকী দামেশকে। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদাজান হাফিয আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আল-যাহাবী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আলী আল-খাল্লাল। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালিম বিন মুহাম্মদ আল-তাগলিবি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাতহ উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٤)
النجا بن شاتيل أَنا أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَاقِلَّانِيُّ أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشَرَانَ نَا أَبُو بكر أَحْمد بن سلمَان الْحَافِظ ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل السّلمِيّ نَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْعُمَرِيُّ عَنْ أَخِيهِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ خِوَّاتٍ عَنْ أَبِيهِ خَوَّاتِ بن جُبَير قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (صَلاةَ الْخَوْفِ نصف طَائِفَةً مَعَهُ وَطَائِفَةً تِلْقَاءَ الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِالَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ قَامَ وَقَامُوا فَأتمُّوا لأَنْفُسِهِمْ) إِسْنَاده // ضَعِيف // // والْحَدِيث صَحِيح //

قَالَ الْقَاسِمُ هَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي صَلاةِ الْخَوْفِ قَالَ شَيْخُنَا وَأَخْبَرَنَا بِهِ عَالِيًا زَيْنَبُ بِنْتُ الْكَمَالِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَحْمُودٍ أَنَّ ابْنَ شَاتِيلَ أَخْبَرَهُمْ بِهِ

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ ابْنُ مَنْدَهْ فِي مَعْرِفَةِ الصَّحَابَةِ مِنْ طَرِيقِ أَبِي أُوَيْسٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ عَنِ الْقَاسِمِ بِهَذَا الْإِسْنَاد وَرَوَاهُ مَالِكٌ فِي الْمُوَطَّأِ عَنْ يَزِيدَ بن رُومَان عَن الْقَاسِم عَن صَالح بن خَوات عَمَّن صلى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلم يسم وَرَوَاهُ الشَّيْخَانِ مِنْ طَرِيقِ شَعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَن بن الْقَاسِم عَن أَبِيه عَن صَالح عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ فَيحْتَمل أَن يكون صَالح سَمعه من أَبِيه وَمن غَيره وَالله أعلم
আন-নাজা ইবনে শাতীল; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-বাকিলানি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশরান; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাফেজ আবু বকর আহমদ ইবনে সালমান; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আস-সুলামি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমারি; তিনি তাঁর ভাই উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে; তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে; তিনি সালিহ ইবনে খাওয়াত থেকে; তিনি তাঁর পিতা খাওয়াত ইবনে জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ভীতি অবস্থায় নামাযের (সালাতুল খাওফ) পদ্ধতি হলো, অর্ধেক দল তাঁর সাথে থাকবে এবং অন্য একটি দল শত্রুর মুখোমুখি থাকবে। অতঃপর যারা তাঁর সাথে ছিল তাদের নিয়ে তিনি এক রাকাত নামায পড়লেন, এরপর তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন এবং তারা দাঁড়িয়ে নিজেদের নামায পূর্ণ করে নিল।" এর সানাদ দুর্বল, তবে হাদীসটি সহীহ।

কাসিম বলেন, সালাতুল খাওফ সম্পর্কে আমি যা শুনেছি তার মধ্যে এটিই আমার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয়। আমাদের শাইখ বলেন, যয়নব বিনতে আল-কামাল আমাদের কাছে উচ্চ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনে মাহমুদ থেকে যে, ইবনে শাতীল তাঁদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।

এটি একটি হাসান হাদীস। ইবনে মানদাহ 'মা'রিফাতুস সাহাবাহ' গ্রন্থে আবু উওয়াইস-এর সূত্রে ইয়াযীদ ইবনে রুমান থেকে, তিনি কাসেম থেকে এই একই সানাদে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক 'মুয়াত্তা' গ্রন্থে ইয়াযীদ ইবনে রুমান থেকে, তিনি কাসেম থেকে, তিনি সালিহ ইবনে খাওয়াত থেকে এবং তিনি এমন একজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়েছেন কিন্তু নাম উল্লেখ করেননি। শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এটি শু'বাহর সূত্রে আবদুর রহমান ইবনুল কাসেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সালিহ থেকে এবং তিনি সাহল ইবনে আবি হাসমাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে সালিহ এটি তাঁর পিতা এবং অন্যদের থেকেও শুনেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌الحَدِيث التَّاسِع عشر من حرف الدَّال عَن دحْيَة

أخبرنَا الْمُفِيدُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّد بن عمر الْمدنِي أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بن مُحَمَّد الْقرشِي أَنَا عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عبد الْمجِيد الصمداني أَنا إِسْمَاعِيل بن عبد الْعَزِيز بن غروة قَالَ قُرِئَ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ سَعْدِ الْخَيْرِ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ فَاطِمَة بنت عبد الله الجوزدانية سَمَاعا أَن أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن ريذة الْأَصْبَهَانِيّ أخْبرهُم أَن أَبَا الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوب اللَّخْمِيّ ثَنَا مُطَّلِبُ بْنُ شُعَيْبٍ الأَزْدِيُّ ثَنَا أَبُو صَالِحٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ أَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ يَعْنِي مَرْثَدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْيَزَنِيَّ عَنْ مَنْصُورٍ الْكَلْبِيِّ أَنَّ دِحْيَةَ بْنَ خَلِيفَةَ خَرَجَ مِنْ قَرْيَتِهِ بِدِمَشْق المزة إِلَى قَدْرِ قَرْيَةِ عُقْبَةَ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ أَنَّهُ أَفْطَرَ وَأَفْطَرَ مَعَه أنَاس فكره آخَرُونَ أَنْ يُفْطِرُوا فَلَمَّا رَجَعَ إِلَى قَرْيَتِهِ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا مَا كُنْتُ أَظُنُّنِي أَرَاهُ إِنَّ قَوْمًا رَغِبُوا عَنْ هدى مُحَمَّد وَأَصْحَابِهِ يَقُولُ ذَلِكَ للَّذِينَ لَمْ يُفْطِرُوا ثُمَّ قَالَ عِنْدَ ذَلِكَ اللَّهُمَّ أقبضني إِلَيْك // حَدِيث حسن // هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ قَرَأْتُهُ عَالِيا على فَاطِمَة بنت عبد الْهَادِي عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ بِهَذَا الْإِسْنَاد

وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ عَنْ عِيسَى بْنِ حَمَّادٍ عَنِ اللَّيْثِ بِهَذَا الإِسْنَادِ

وَوَقَعَ عِنْدَهُ بَعْدَ قَوْلِهِ قَرْيَةِ عقبَة من الْفسْطَاط وَذَلِكَ قدر ثَلاثَةُ أَمْيَالٍ وَرَوَاهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ فِي صَحِيحِهِ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ وَعَلَّقَ الْقَوْلَ بِصِحَّتِهِ فَقَالَ إِنْ ثَبُتَ الْخَبَرُ فَإِنِّي لَا أَعْرِفُ منصورا بعدالة وَلَا جرح

انْتهى وَمَنْصُورٍ قَالَ ابْنُ الْمَدِينِيِّ وَأَبُو حَاتِم مَجْهُول وَقَالَ الْعجلِيّ وَابْن حبَان ثِقَة
'দাল' বর্ণ অধ্যায়ের উনিশতম হাদিস, দাহইয়া (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুফিদ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-মাদানি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মাজিদ আস-সামদানি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আব্দুল আজিজ বিন গারওয়াহ। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খাইরের সামনে (হাদিসটি) পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; তিনি ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জুজদানিয়াহ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রিযাহ আল-আসবাহানি তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আল-লাখমি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুত্তালিব বিন শুআইব আল-আযদি; তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু সালিহ আব্দুল্লাহ বিন সালিহ; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস বিন সাদ, ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি আবু খাইর অর্থাৎ মারসাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযানি থেকে, তিনি মানসুর আল-কালবি থেকে বর্ণনা করেন যে, দাহইয়া বিন খালিফা দামেস্কের আল-মাযযাহ নামক গ্রাম থেকে উকবাহ গ্রাম সমপরিমাণ দূরত্বের সফরে রমজান মাসে বের হলেন। অতঃপর তিনি রোজা ভঙ্গ করলেন এবং তার সাথে আরও কিছু লোক রোজা ভঙ্গ করলেন। কিন্তু অন্য কিছু লোক রোজা ভঙ্গ করাকে অপছন্দ করলেন। অতঃপর যখন তিনি নিজের গ্রামে ফিরে আসলেন, তখন বললেন: আজ আমি এমন এক বিষয় দেখেছি যা কখনো দেখব বলে ভাবিনি; নিশ্চয়ই কিছু লোক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের আদর্শ থেকে বিমুখ হয়েছে। তিনি এই কথাটি তাদের উদ্দেশ্যেই বলছিলেন যারা রোজা ভঙ্গ করেনি। এরপর তিনি সেই সময়েই বললেন: হে আল্লাহ! আমাকে আপনার কাছে তুলে নিন। // হাসান হাদিস // এটি একটি হাসান গরীব হাদিস। আমি এটি উচ্চস্বরে ফাতিমা বিনতে আব্দুল হাদি-এর নিকট পাঠ করেছি, তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুল হামিদ থেকে এই সনদে বর্ণনা করেছেন।

আর ইমাম আবু দাউদ এটি ঈসা বিন হাম্মাদ থেকে, তিনি লাইস থেকে এই সনদে বর্ণনা করেছেন।

তার (আবু দাউদ) বর্ণনায় 'উকবাহ গ্রাম' শব্দের পরে 'ফুস্তাত থেকে' কথাটি যুক্ত আছে এবং এটি প্রায় তিন মাইল সমপরিমাণ দূরত্ব। ইবনে খুজাইমাহ এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে লাইসের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর বিশুদ্ধতার বিষয়টি শর্তযুক্ত করে বলেছেন: যদি সংবাদটি প্রমাণিত হয় (তবেই গ্রহণযোগ্য), কারণ আমি মনসুরকে নির্ভরযোগ্যতা বা অযোগ্যতা কোনো গুণেই চিনি না।

সমাপ্ত। আর মানসুর সম্পর্কে ইবনুল মাদিনি এবং আবু হাতিম বলেছেন যে সে 'মাজহুল' (অপরিচিত), তবে ইজলি এবং ইবনে হিব্বান তাকে 'সিকাহ' (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٦)
‌‌الحَدِيث الْعشْرُونَ من حرف الذَّال الْمُعْجَمَة عَن ذِي الْيَدَيْنِ

أخبرنَا الْمسند الأَصْل أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَقِّ الدِّمَشْقِيُّ بِهَا أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ الْقَيْسِيُّ الْوَادِي آشِيُّ قَدِمَ عَلَيْنَا أَنَا قَاضِي الْجَمَاعَةِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بن مُحَمَّد الْغَمَّازِ أَنَا الْحَافِظُ أَبُو الرَّبِيعِ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ سَالِمٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بن جهور الْقَيْسِيُّ أَنَا الْحَافِظُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْن بن مُحَمَّد الْجَيَّانِيُّ أَنَا الْحَافِظُ أَبُو عُمَرَ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْبَرِّ أَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ ثَنَا قَاسم بن أصبغ نَا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ نَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرِ بْنِ بَرِّيٍّ نَا مَعْدِيُّ بْنُ سُلَيْمَانَ صَاحِبُ الطَّعَامِ سَمِعْتُ ابْنَ مُطَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيه ومطير حَاضر يصدقهُ بمقالته قَالَ أَبَتَاهُ أَلَيْسَ أَخْبَرْتَنَا أَنَّ ذَا اليدي لَقِيَكَ بِذِي خَشَبٍ فَأَخْبَرَكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صلى لَهُم إِحْدَى صَلَاة الْعَشِيِّ وَهِيَ الظُّهْرُ فَسَلَّمَ فِي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ وَأَتْبَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَخَرَجَ سَرْعَانَ النَّاسُ مِنَ الْمَسْجِدِ فَلَحِقَهُ ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَسِيتَ أم قصرت الصَّلَاة فَقَالَ (مَا نَسِيتُ وَلا قَصُرَتْ) ثَمَّ الْتَفَتَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَقَالَ مَاذَا يَقُولُ ذُو الْيَدَيْنِ قَالَ صَدَقَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَرَجَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتي السَّهْو اسناده // ضَعِيف // // الحَدِيث صَحِيح //

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ فِي زِيَادَاتِ الْمُسْنَدِ عَنْ أَبِي مُوسَى عَن معدي بن سُلَيْمَان قَالَ سَمِعت شُعَيْب بن مطير فَذكره قرأته عَالِيا على عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَليّ أَن أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ أَخْبَرَهُمْ أَنا أَبُو الْفَرَج بْنُ الصَّيْقَلِ أَنا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ صَاعِدٍ أَنا أَبُو القَاسِمِ بْنُ الْحُصَيْنِ أَنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ أَنا أَحْمَدُ بْنُ مَالِكٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنِي نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ ومُحَمَّدُ بْنُ الْمثنى قَالَا حَدثنَا معدي بِهِ رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي مَعْرِفَةِ الصَّحَابَةِ مِنْ طَرِيقِ بُنْدَارٍ عَنْ مَعْدِيٍّ
’যাল’ বর্ণের বিশতম হাদীস: যুল ইয়াদাইন হতে বর্ণিত

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আদি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (মুসনিদ) আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল হক আদ-দিমাশকী সেখানে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে জাবির আল-কাইসি আল-ওয়াদি আশি, তিনি আমাদের নিকট এসেছিলেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযিউল জামাআত আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-গাম্মায, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয আবু রাবী সুলাইমান ইবনে মুসা ইবনে সালিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে জাহওয়ার আল-কাইসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাইয়ানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয আবু উমর ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে আসবাগ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে যুহায়ের, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে বাহর ইবনে বাররি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খাদ্য ব্যবসায়ী মা’দী ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন: আমি ইবনে মুতায়িরকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি—আর মুতায়ির সেখানে উপস্থিত থেকে তার কথাকে সত্যায়ন করছিলেন—তিনি বললেন: হে আমার পিতা! আপনি কি আমাদের সংবাদ দেননি যে, যুল ইয়াদাইন যুল-খাশাব নামক স্থানে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, অতঃপর তিনি আপনাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিয়ে অপরাহ্ণের সালাতসমূহের একটি আদায় করেছিলেন এবং সেটি ছিল যুহরের সালাত, অতঃপর তিনি দুই রাকাআতে সালাম ফিরালেন এবং দাঁড়িয়ে গেলেন, আবু বকর ও উমর (রা.) তাঁর অনুসরণ করলেন এবং দ্রুতগামী লোকেরা মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল। অতঃপর যুল ইয়াদাইন তাঁর নিকট গিয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ভুলে গিয়েছেন নাকি সালাত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? তিনি বললেন: "আমি ভুলেও যাইনি এবং সংক্ষিপ্তও করা হয়নি।" এরপর তিনি আবু বকর ও উমরের দিকে ফিরে বললেন: "যুল ইয়াদাইন কী বলছে?" তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সে সত্যই বলেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিরে আসলেন এবং দুই রাকাআত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি ভুলের জন্য দুটি সিজদাহ (সাহু সিজদাহ) প্রদান করলেন। এর সনদ // দুর্বল // কিন্তু হাদীসটি // সহীহ //

এটি একটি হাসান গারীব হাদীস। এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ 'মুসনাদ'-এর অতিরিক্ত অংশে আবু মুসার সূত্রে মা’দী ইবনে সুলাইমান হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শুআইব ইবনে মুতায়িরকে এটি উল্লেখ করতে শুনেছি। আমি এটি উচ্চতর সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলীর নিকট পাঠ করেছি যে, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ ইবনে আস-সাইকাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ ইবনে সায়িদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইবনে আল-হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে মালিক, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন: আমার নিকট নাসর ইবনে আলী ও মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুসান্না বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট মা’দী এটি বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম এটি 'মা'রিফাতুস সাহাবা' গ্রন্থে বুন্দারের সূত্রে মা’দী হতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٧)
قَالَ أَتَيْنَا وَادِي الْقُرَى فَقِيلَ إِن هَا هُنَا شَيخا بلغ مائَة سنة وَنصفا فَإِذَا شَيْخٌ يُقَالُ لَهُ مُطَيْرٌ وَلَهُ ابْنٌ يُقَالُ لَهُ شُعَيْثٌ فَذكر نَحوه وشعيث بالثاء الْمُثَلَّثَة ضبط الدَّارَقُطْنِيّ ومعدي ضعفه النَّسَائِيّ وَغَيره وَوَثَّقَهُ نصر بن عَليّ وَغَيره وَمَشاهُ أَبُو حَاتِم ومطير بِصِيغَةِ التَّصْغِيرِ قَدْ وُثِّقَ وَلِحَدِيثِهِ شَوَاهِدُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ // صَحِيح // وَعمْرَان بن حُصَيْن // صَحِيح // وَغَيرهمَا

 

‌‌الحَدِيث الْحَادِي وَالْعشْرُونَ من حرف الرَّاء عَن رَافع بْن عَمْرو

أَخْبَرَنِي الْمُسْنِدُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بن عمر اللؤْلُؤِي بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمِصْرَ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَاوُدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ دَاوُد الْعَطَّار أَن إِسْمَاعِيل بن إِسْمَاعِيل البعلبكي أخبرهُ أَنا الإِمَام أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ قُدَامَةَ أَنَا أَبُو زُرْعَةَ طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَاهِرٍ أَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بن الْحُسَيْن المقومي أَنا أَبُو طَلْحَة الْقَاسِم بن أبي الْمُنْذر قَالَ أخبرنَا أَبُو عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَلَمَةَ الْقطَّان أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنَ مَاجَهِ الْقَزْوِينِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ وَيَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ قَالا نَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي الْحَكَمِ الْغِفَارِيُّ حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي عَنْ عَمِّ أَبِيهَا رَافِعِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ قَالَ كُنْتُ وَأَنَا غُلَام أرمي نخلنا // ضَعِيف // أَوْ قَالَ
তিনি বললেন, আমরা ওয়াদি আল-কুরা-তে আসলাম। সেখানে বলা হলো যে, এখানে এক বৃদ্ধ রয়েছেন যার বয়স একশত পঞ্চাশ বছর হয়েছে। তখন সেখানে মুতায়ের নামক এক বৃদ্ধকে পাওয়া গেল, যার শুআইস নামক এক পুত্র ছিল। অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করলেন। শুআইস শব্দটি তিন নুকতা বিশিষ্ট 'ছা' (ث) দিয়ে, যা দারা কুতনী নিশ্চিত করেছেন। মা'দী-কে নাসাঈ ও অন্যরা দুর্বল বলেছেন, কিন্তু নাসর বিন আলী ও অন্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং আবু হাতিম তাকে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেছেন। মুতায়ের শব্দটি তাসগির (ক্ষুদ্রতাবাচক) রূপে এসেছে, তিনি নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত এবং তার হাদিসের সমর্থনে আবু হুরায়রা [সহিহ] ও ইমরান বিন হুসাইন [সহিহ] এবং অন্যদের বর্ণিত হাদিস বিদ্যমান।

 

‌‌রা (র) বর্ণ থেকে একুশতম হাদিস, রাফে বিন আমর থেকে বর্ণিত।

আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-মুসনিদ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর আল-লুলুয়ী, মিশরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ দাউদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে দাউদ আল-আত্তার যে, ইসমাইল ইবনে ইসমাইল আল-বালবাক্কি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে কুদামা; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুরআ তাহির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তাহির; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-মাক্বূমী; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালহা আল-কাসিম ইবনে আবিল মুনজির; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি ইবনে ইবরাহিম ইবনে সালামা আল-কাত্তান; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাজাহ আল-ক্বাযভিনী; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ এবং ইয়াকুব ইবনে হুমায়দ ইবনে কাসিব, তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুতামির ইবনে সুলায়মান; আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনুল হাকাম আল-গিফারি; আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার দাদি, তিনি তাঁর পিতার চাচা রাফে বিন আমর আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যখন বালক ছিলাম তখন আমি আমাদের খেজুর গাছে ঢিল ছুঁড়তাম // দুর্বল // অথবা তিনি বলেছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٨)
نَخْلَ الأَنْصَارِ فَأَتَى بِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ (يَا غُلَام لم ترمي النَّخْلَ) قَالَ قُلْتُ آكُلُ قَالَ فَقَالَ (لَا تَرْمِ النَّخْلَ وَكُلْ مِمَّا سقط فِي أسافلها) ثُمَّ مَسَحَ رَأْسِي وَقَالَ (اللَّهُمَّ أَشْبِعْ بَطْنَهُ) هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُثْمَانَ ابْنَيْ أَبِي شَيْبَةَ كِلَاهُمَا عَن مُعْتَمر وَرَوَاهُ أَحْمد ومسدد فِي مسنديهما أَيْضا عَن مُعْتَمر أَخْبرنِي بِهِ عَالِيا عَبْد اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ أَنا عَبْد اللَّطِيفِ الْحَرَّانِي أَنا عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد أَنا هبة اللَّه بْن مُحَمَّد أَنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ أَنا أَحْمَدُ بْن جَعْفَر أَنا عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد حَدثنِي أَبِي فَذكره فَقَالَ فِي رِوَايَته عَن عَم أبي بدل عَن عَم أَبِيهَا وَابْن أبي الحكم مُخْتَلف فِي اسْمه قيل يزِيد وَقيل عبد الْكَبِير وجدته لَا أعرف اسْمهَا وَأخرجه التِّرْمِذِيّ بِنَحْوِهِ من طَرِيق أُخْرَى وَصَححهُ

 

‌‌الحَدِيث الثَّانِي وَالْعشْرُونَ من حرف الزَّاي عَن زُهَيْر بْن صرد

أَخْبَرَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْخَرَّاطِ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ بِهَا أَنَا الإِمَامُ أَبُو الْعَبَّاس أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْمُصْفِي أَنا أَبُو الْبَرَكَاتِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ زُوَيْنٍ أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَكِّيِّ بْنِ مُوَقَّا أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن الْخطاب أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ بَقَاءٍ الْمِصْرِيُّ أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْيَمَنِيُّ التَّنُوخِيُّ أَنا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَاصِمِ بْنِ الْقَاسِم أَنا عبيد الله بْنِ رُمَاحَسِ بْنِ خَالِدِ بْنِ حَبِيبِ بْنِ قَيْسٍ الْجُشَمِيُّ مِنْ رَمَادَةَ عَلَى بَرِيدٍ مِنَ الرَّمْلَةِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الآخَرِ سَنَةَ ثَمَانِينَ وَمِائَتَيْنِ ثَنَا زُهَيْر بن صرد بن جَرْولٍ الْجُشَمِيُّ وَكَانَ سَيِّدَ قَوِمِهِ وَكَانَ يُكَنَّى أَيْضًا أَبَا صُرَدَ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوُمُ حَنِينٍ أَسَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَيْنَمَا هُوَ يمر بَيْنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَثَبْتُ حَتَّى قَعَدْتُ
আনসারদের খেজুর গাছ; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন এবং বললেন, "হে বালক! তুমি কেন খেজুর গাছে ঢিল মারছ?" তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, আমি বললাম, "খাওয়ার জন্য।" তিনি বললেন, "খেজুর গাছে ঢিল মেরো না, বরং এর নিচে যা ঝরে পড়ে তা থেকে খাও।" অতঃপর তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহ! আপনি তার উদর পূর্ণ করে দিন।" এটি একটি হাসান হাদীস। ইমাম আবু দাউদ এটি আবু বকর এবং উসমান ইবনে আবু শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই মুতামির থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ এবং মুসাদ্দাদ তাঁদের মুসনাদদ্বয়েও মুতামির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী উচ্চ সনদে আমাকে এর সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল লতিফ আল-হাররানী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে জাফর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর বর্ণনায় "আমার বাবার চাচা" শব্দের পরিবর্তে "তার বাবার চাচা" শব্দ বলেছেন। আর ইবনে আবিল হাকাম এর নামের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; কারো মতে ইয়াজিদ, আবার কারো মতে আব্দুল কাবীর। আমি তাঁর দাদীকে পেয়েছি কিন্তু তাঁর নাম জানি না। ইমাম তিরমিযী অন্য সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন।

 

‌‌'যা' (Zay) বর্ণ অধ্যায়ের বাইশতম হাদীস, জুহায়র ইবনে সুরাদ থেকে বর্ণিত

আবু আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল খেরাত আল-ইস্কান্দারানী সেখানে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইমাম আবু আব্বাস আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনুল মুসফি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু বারাকাত হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে জুয়াইন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে মক্কি ইবনে মুওয়াক্কা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল খাত্তাব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাসান আলী ইবনে বাকা আল-মিসরী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-ইয়ামানি আত-তানুখি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর আহমদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আসিম ইবনুল কাসিম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে রুমাহিস ইবনে খালিদ ইবনে হাবিব ইবনে কাইস আল-জুশামী—যিনি রামলাহ থেকে এক বারিদ (ডাকপথ) দূরত্বে অবস্থিত রামাদাহ-এর অধিবাসী ছিলেন—দুইশত আশি হিজরীর রবিউস সানি মাসে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জুহায়র ইবনে সুরাদ ইবনে জারওয়াল আল-জুশামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন এবং তাঁর উপনাম ছিল আবু সুরাদ। তিনি বলেন: যখন হুনায়নের যুদ্ধের দিন এল, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বন্দী করলেন। তিনি যখন পুরুষ ও নারীদের মাঝখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আমি লাফিয়ে উঠলাম এমনকি তাঁর সামনে গিয়ে বসলাম।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٣٩)
بَيْنَ يَدَيْهِ فَجَعَلْتُ أُذَّكِّرُهُ حَيْثُ شَاءَ وَشَبَّ فِي هَوَازِنَ وَحَيْثُ أَرْضَعُوهُ فَأَنْشَأْتُ أَقُولُ

(امْنُنْ عَلَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كَرَمٍ … فَإِنَّكَ الْمَرْءُ نَرْجُوهُ وَنَنْتَظِرُ)

(امْنُنْ عَلَى بَيْضَةٍ قد عاقها قدر … مفرقا شَمْلُهَا فِي دَهْرِهَا غَيْرُ)

(أَبْقَتْ لنا الْحَرْب تهتافا عَلَى حُزْنٍ … عَلَى قُلُوبِهِمُ الْغَمَّاءُ وَالْغَمَرُ)

(إِنْ لَمْ تُدَارِكْهُمْ نَعْمَاءُ تنشرها … يَا أرجع النَّاس حلما حِين يحتبر)

(امْنُنْ عَلَى نِسْوَةٍ قَدْ كُنْتَ ترضعها … إِذْ فوك يملؤه مِنْ مِحْضِهَا الدُّرَرُ)

(إِذْ أَنْتَ طِفْلٌ صَغِيرٌ كُنْتَ تَرْضَعُهَا … وَإِذْ يَزْيُنَكَ مَا تَأْتِي وَمَا تَذَرُ)

(يَا خير من مرحت كُمْتُ الْجِيَادِ بِهِ … عِنْدَ الْهِيَاجِ إِذَا مَا اسْتَوْقَدَ الشَّرَرُ)

(لَا تجعلنا كمن شالت نعامته … فَاسْتَبق مِنَّا فَإِنَّا مَعْشَرٌ زُهُرُ)

(إِنَّا نؤمل عفوا مِنْك تلبسه … هادي الْبَرِيَّةَ إِذْ تَعْفُو وَتَنْتَصِرُ)

(إِنَّا لنشكر بالنعماء إِذْ كُفِرَتْ … وَعِنْدَنَا بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ مُدَّخَرُ)

(فَأَلْبِسِ الْعَفْوَ مَنْ قَدْ كُنْتَ تَرْضَعُهُ … مِنْ أُمَّهَاتِكَ إِن الْعَفو منتصر)

(وَاعْفُ عَفَا اللَّهُ عَمَّا أَنْتَ رَاهِبُهُ … يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذْ يُهْدَى لَكَ الظَفَرُ)

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لكم) وَقَالَ الأَنْصَارُ مَا كَانَ لَنَا فَهُوَ للَّهِ وَلِرَسُولِهِ فَرَدَّ الْمُسْلِمُونَ مَا كَانَ فِي أَيْدِيهِمْ مِنَ الذَّرَارِي وَالْأَمْوَال // حسن //

هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ وَأَبُو سَعِيدِ ابْن الأَعْرَابِيِّ فِي مُعْجَمَيْهِمَا عَنْ عُبَيْدِ الله بن رماحس

وَقد وَقع لنا عَالِيًا جِدًّا فِي الْمُعْجَمِ الصَّغِيرِ لِلطَّبَرَانِيِّ أَمْلَيْتُهُ فِي الْعَشَرَةِ الْعُشَارِيَّةِ وَرَوَاهُ أَبُو الْحُسَيْن ابْن قَانِعٍ فِي مُعْجَمِ الصَّحَابَةِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ الْخَوَّاصِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ رُمَاحِسَ فَوَقع لنا بَدَلا عَالِيا وَلِهَذَا من رِوَايَة ابْن إِسْحَاق فِي الْمَغَازِي قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْم حنين فَذكر الْقِصَّة وسياقه أتم وَأخرجه الْحَافِظ
তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আমি তাঁকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে লাগলাম যখন তিনি ইচ্ছা করেছিলেন এবং যখন তিনি হাওয়াযিন গোত্রে বেড়ে উঠেছিলেন আর যখন তারা তাঁকে দুধ পান করিয়েছিল। অতঃপর আমি বলতে শুরু করলাম:

(হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অনুগ্রহ করে আমাদের ওপর কৃপা করুন … কেননা আপনিই সেই ব্যক্তি যাঁর প্রতি আমরা আশা রাখি এবং যাঁর প্রতীক্ষা করি।)

(সেই জনগোষ্ঠীর ওপর অনুগ্রহ করুন যাদের ভাগ্য প্রতিকূল হয়েছে … যাদের একতা তাদের এই সময়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এবং অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে।)

(যুদ্ধ আমাদের জন্য কেবল দুঃখের আর্তনাদই অবশিষ্ট রেখেছে … আর তাদের হৃদয়ে ছেয়ে আছে বিষণ্ণতা ও আচ্ছন্নতা।)

(যদি আপনার প্রসারিত নেয়ামত তাদের রক্ষা না করে … হে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ধৈর্যশীল ব্যক্তি যখন তাঁকে পরীক্ষা করা হয়।)

(সেই নারীদের ওপর করুণা করুন যারা আপনাকে দুধ পান করিয়েছিল … যখন তাদের খাঁটি দুধ আপনার মুখকে মুক্তোর মতো পূর্ণ করে দিত।)

(যখন আপনি ছোট শিশু ছিলেন এবং তাদের দুধ পান করতেন … তখন আপনি যা করতেন বা বর্জন করতেন তা আপনাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করত।)

(হে সেই শ্রেষ্ঠ সত্তা যাঁর সাথে তেজি লালচে ঘোড়াগুলো গর্বের সাথে ছোটে … যুদ্ধের উত্তেজনার সময়ে যখন আগুনের ফুলকি জ্বলে ওঠে।)

(আমাদের সেই কওমের মতো করবেন না যাদের নাম-নিশানা মুছে গেছে … বরং আমাদের অবশিষ্ট রাখুন, কেননা আমরা এক উজ্জ্বল সম্প্রদায়।)

(আমরা আপনার কাছে এমন ক্ষমার আশা রাখি যা আপনি আমাদের পরিধান করাবেন … হে সৃষ্টির পথপ্রদর্শক! যখন আপনি ক্ষমা করেন এবং জয়ী হন।)

(আমরা নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি যখন অন্যরা তা অস্বীকার করে … আর আমাদের কাছে এই দিনের জন্য সঞ্চিত পাথেয় রয়েছে।)

(সুতরাং আপনার সেই মায়েদের পক্ষ থেকে যাদের আপনি দুধ পান করেছিলেন, তাদের ক্ষমার চাদর পরিয়ে দিন … নিশ্চয়ই ক্ষমা বিজয় লাভ করে।)

(আপনি ক্ষমা করুন, আল্লাহ আপনাকে সেই বিষয় থেকে ক্ষমা করুন যা আপনি ভয় করেন … কিয়ামতের দিনে যখন আপনাকে বিজয় দান করা হবে।)

তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমার এবং বনু আব্দুল মুত্তালিবের যা কিছু ছিল তা তোমাদের জন্য।" আর আনসারগণ বললেন, "আমাদের যা ছিল তা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের জন্য।" এরপর মুসলিমরা তাদের হাতে থাকা যুদ্ধবন্দী এবং ধন-সম্পদ ফিরিয়ে দিলেন। // হাসান //

এই হাদিসটি এই সূত্রে গারীব। তাবারানি এবং আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি তাঁদের 'মুজাম' গ্রন্থে উবাইদুল্লাহ বিন রুমাহিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

তাবারানির 'মুজামুস সাগীর'-এ এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত উচ্চ সনদে পৌঁছেছে, যা আমি 'আল-আশরাতুল উশারিয়্যাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। আবুল হুসাইন ইবনে কানি' তাঁর 'মুজামুস সাহাবাহ' গ্রন্থে উবাইদুল্লাহ বিন আলী আল-খাওয়াস থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন রুমাহিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; ফলে এটি আমাদের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের 'বাদাল' হিসেবে গণ্য হয়েছে। এটি ইবনে ইসহাকের 'আল-মাগাজি'র বর্ণনা থেকেও এসেছে, তিনি বলেন: আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন হুনাইনের দিন এল... এরপর তিনি পুরো ঘটনা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বর্ণনাটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। হাফিজ (ইবনে হাজার) এটি উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٤٠)
ضِيَاء الدّين الْمَقْدِسِي فِي المختارة من حَدِيث زُهَيْر بن صرد وَاسْتشْهدَ بِهِ بِحَدِيثِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ فَهُوَ عِنْده على شَرط الْحسن

وَرُمَاحِسُ بِضَمِّ الرَّاءِ وَتَخْفِيفِ الْمِيمِ وَكسر الْحَاء الْمُهْملَة وَآخره سِينٌ مُهْمَلَةٌ

وَصُرَدٌ بِضَمِّ الصَّادِ الْمُهْملَة وَفَتْحِ الرَّاءِ الْخَفِيفَةِ وَالْجُشَمِيُّ بِضَمِّ الْجِيم وَفتح الشين الْمُعْجَمَةِ نِسْبَةً إِلَى جُشَمِ بْنِ بكر بن هوَازن والبيضة الْجَمَاعَة والهتاف جَمْعُ هَاتِفٌ وَالْغَمَّاءُ مِنَ الْغَمِّ

وَالْغَمَرُ الشَّدَائِدُ جَمْعُ غَمْرَةٍ بِفَتْحِ الْمُعْجَمَة وَالْمَحْضُّ بِالْحَاءِ الْمُهْمَلَةُ السَّاكِنَةُ وَالضَّادُ الْمُعْجَمَة الْخَالِص والدر بِكَسْرِ الدَّالِ جَمْعُ دُرَّةٍ وَالْكُمْتُ جَمْعُ كَمِيتٌ وَالْجِيَادُ الْخَيْلُ وَشَالَتْ نعامته يُقَال لمن مَاتَ وشالت أَي ارتفقت النعامة بَاطِنُ الْقَدَمِ مَأْخُوذٌ مِنَ ارْتِفَاعِ قَوَائِم الدَّابَّة إِذا مَاتَت

 

‌‌الحَدِيث الثَّالِث وَالْعشْرُونَ من حرف السِّين عَن أبي سعيد

أَخْبرنِي أَبُو مُحَمَّدٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ الْبَالِسِيُّ أَنا أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بن الرضي أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْخَطِيبُ أَنَا يَحْيَى بْنُ مَحْمُودٍ الثَّقَفِيُّ أَنَا عَبْدُ الْكَرِيم بن عبد الرَّزَّاق فِي آخَرِينَ قَالُوا أَنَا أَبُو الطَّيِّبِ عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَمَّةَ أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيِّ بن عَاصِم بن الْمقري أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ رَزِينٍ الْعَطَّارُ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْعَلاءِ الزُّبَيْدِيُّ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ ثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ يَعْنِي النُّعْمَانَ بْنَ ثَابِتٍ الإِمَامَ عَنْ أَبِي سُفْيَان السَّعْدِيّ عَن أبي نَضرة عَنْ أَبِي سَعِيدٍ سَعْدِ بْنِ مَالك الْخُدْرِيّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (لَا تَصْلُحُ صَلاةٌ إِلا بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَمَعَهَا غَيْرُهَا) // ضَعِيف //

هَذَا حَدِيثٌ مُتَّصِلٌ عَالٍ رَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن ابْن كُرَيْبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ عَن أبي سُفْيَان
দিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসি 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে যুহায়ের ইবনে সুরাদ-এর হাদিস থেকে এটি উল্লেখ করেছেন এবং আমর ইবনে শুয়াইব-এর হাদিস দ্বারা এর স্বপক্ষে দলিল দিয়েছেন, সুতরাং এটি তাঁর নিকট হাসান হাদিসের শর্তে বিদ্যমান।

'রুমাহিস' (শব্দটি) রা-বর্ণে পেশ, মিম-বর্ণে হালকা উচ্চারণ এবং জজমবিহীন হা-বর্ণে যের যোগে, এবং এর শেষে সিন বর্ণ রয়েছে।

'সুরাদ' (শব্দটি) সদ-বর্ণে পেশ এবং রা-বর্ণে জবর যোগে হালকা উচ্চারণে। 'আল-জুশামি' জিম-বর্ণে পেশ এবং শিন-বর্ণে জবর যোগে, যা জুশাম ইবনে বকর ইবনে হওয়াযিন-এর দিকে সম্পৃক্ত। 'আল-বাইদাহ' অর্থ জামাত বা দল। 'আল-হুতাফ' হলো 'হাতিফ'-এর বহুবচন। আর 'আল-গাম্মা' শব্দটি 'গাম্ম' থেকে এসেছে।

'আল-গামার' অর্থ কঠোরতা বা বিপদসমূহ, এটি 'গামরাহ' শব্দের বহুবচন যা শিন-বর্ণে জবর যোগে। 'আল-মাহদ' সাকিনযুক্ত হা-বর্ণ এবং দদ-বর্ণ যোগে, যার অর্থ খাঁটি। 'আদ-দুর' দাল-বর্ণে যের যোগে 'দুররাহ' শব্দের বহুবচন। 'আল-কুমত' হলো 'কামিত'-এর বহুবচন। 'আল-জিয়াদ' অর্থ ঘোড়াসমূহ। 'শালাত না’মাতুহু' মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়, এর অর্থ হলো তার না’মাহ অর্থাৎ পায়ের তালু উপরে উঠে গেছে, এটি নেয়া হয়েছে চতুষ্পদ জন্তুর মৃত্যুর সময় পা উপরে উঠে যাওয়া থেকে।

 

‌‌সিন (س) বর্ণ অধ্যায়ে আবু সাঈদ হতে বর্ণিত তেইশতম হাদিস

আমাকে আবু মুহাম্মাদ উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে সালমান আল-বালিসি সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুর রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-খাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল কারিম ইবনে আব্দুর রাজ্জাক সহ আরও অনেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আবু তাইয়্যেব আব্দুর রাজ্জাক ইবনে উমর ইবনে শাম্মাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলি ইবনে আসিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে রাযিন আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনুল আলা আল-যুবাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হানিফা অর্থাৎ ইমাম নুমান ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সুফিয়ান আস-সাদি হতে, তিনি আবু নাদরা হতে, তিনি আবু সাঈদ সাদ ইবনে মালিক আল-খুদরি হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) এবং তার সাথে অন্য কিছু (সুরা) পড়া ব্যতীত নামাজ শুদ্ধ হয় না।" // যঈফ //

এটি একটি উচ্চ পর্যায়ের মুত্তাসিল হাদিস। এটি ইবনে মাজাহ ইবনে কুরাইব হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল হতে, তিনি আবু সুফিয়ান হতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٤١)
‌‌الحَدِيث الرَّابِع وَالْعشْرُونَ من حرف الشين عَن شكل بْن حميد

أَخْبرنِي أَبُو الْيُمْنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن أسعد أَنا الْمُحدث أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بن الْهَمدَانِي أَنا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الْفَسَوِي أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِمَادٍ الْحَرَّانِيُّ أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رِفَاعَةَ أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ الْخِلَعِيُّ أَنا عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ النَّحَّاسِ أَنا أَبُو الطَّاهِرِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عمر الْمَدِينِيّ نَا بكار بن قُتَيْبَة القَاضِي نَا أَبُو أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ الأَسَدِيُّ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَوْسٍ الْعَبْسِيِّ عَنْ بِلالِ بْنِ يَحْيَى الْعَبْسِيِّ عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلٍ عَنْ أَبِيهِ شَكَلِ بْنِ حُمَيْدٍ الْعَبْسِيِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي تَعَوُّذًا أَتَعَوَّذُ بِهِ قَالَ قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي وَمِنْ شَرّ منيتي // صَحِيح //

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ عَن أبي أَحْمد الزبيرِي على الْمُوَافقَة وَأخرجه التِّرْمِذِيّ من رِوَايَة أبي أَحْمد الْمَذْكُور وَقد وَقع لنا عَالِيا من طَرِيق أُخْرَى إِلَى الخلعي وَرَوَاهُ البُخَارِيّ فِي الْأَدَب الْمُفْرد وَالنَّسَائِيّ من وَجه آخر عَن سعد بن أَوْس وشتير بِمُعْجَمَة ثمَّ مثناة مصغر وَأَبوهُ بِمُعْجَمَة وكاف مفتوحتين وَآخره لَام وَلَا يظْهر لَهُ فِي الْأَسْمَاء وَلَا يعرف لَهُ راو غير ابْنه وَهُوَ ثِقَة

 

‌‌الحَدِيث الْخَامِس وَالْعشْرُونَ من حرف الصَّاد الْمُهْملَة

أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ الْخَلِيلِيُّ بِغَزَّةَ أَنَا أَبُو إِسْحَاقَ
‌‌'শিন' (ش) বর্ণ অধ্যায়ের চব্বিশতম হাদিস, শাকাল ইবনে হুমাইদ থেকে বর্ণিত

আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ইয়ামান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসআদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন মুহাদ্দিস আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হামাদানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-ফাসাওয়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইমাদ আল-হাররানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে রিফাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান আল-খিলায়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আন-নাহহাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবু আত-তাহির আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-মাদিনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন বক্কার ইবনে কুতাইবাহ আল-কাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর আল-আসাদি, তিনি সা’দ ইবনে আওস আল-আবসি থেকে, তিনি বিলাল ইবনে ইয়াহইয়া আল-আবসি থেকে, তিনি শুতাইর ইবনে শাকাল থেকে এবং তিনি তার পিতা শাকাল ইবনে হুমাইদ আল-আবসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে একটি আশ্রয় প্রার্থনা (দোয়া) শিখিয়ে দিন যা দ্বারা আমি আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি।’ তিনি বললেন, ‘তুমি বলো: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার কানের অনিষ্ট থেকে, আমার চোখের অনিষ্ট থেকে, আমার জিহ্বার অনিষ্ট থেকে, আমার অন্তরের অনিষ্ট থেকে এবং আমার বীর্যের (কামনার) অনিষ্ট থেকে।’ // সহিহ //

এটি একটি হাসান হাদিস। আবু দাউদ এটি আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে, তিনি আবু আহমদ আল-জুবাইরি থেকে বর্ণনার মাধ্যমে (পূর্বোক্ত সনদের সাথে) মিল রেখে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি এটি উল্লিখিত আবু আহমদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট এটি আল-খিলায়ি পর্যন্ত ভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে। ইমাম বুখারি ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’-এ এবং ইমাম নাসায়ি সা’দ ইবনে আওস থেকে ভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ‘শুতাইর’ শব্দটি শিন বর্ণে জবর এবং এরপর তা যোগে ক্ষুদ্রতাবাচক (তাসগির) হিসেবে পঠিত। তার পিতার নাম ‘শাকাল’ শিন এবং কাফ উভয় বর্ণে জবর যোগে এবং শেষে লাম রয়েছে। বর্ণনাকারীদের নামের তালিকায় তার নাম তেমন প্রসিদ্ধ নয় এবং তার পুত্র ব্যতীত তার অন্য কোনো বর্ণনাকারীর পরিচয় পাওয়া যায় না; তবে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী।

 

‌‌'সোয়াদ' (ص) বর্ণ অধ্যায়ের পঁচিশতম হাদিস

আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-খলিলি গাজ্জা শহরে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবু ইসহাক
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٤٢)
إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سعد الله الْحَمَوِيّ بِبَيْت الْمُقَدّس أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ خَلِيلٍ الْمَكِّيُّ بِهَا أَنَا الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مسدي فِي الْمَدِينَة أَنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَصْبَهَانِيُّ بِغِرْنَاطَةَ أَنَا مَسْعُودُ بْنُ الْحسن الثَّقَفِيُّ بَأَصْبَهَانَ أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ أَنَا أَبُو جَعْفَر أَحْمد بن الْمَرْزُبَانُ أَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَزَوَّرِيُّ أَنَا أَبُو حعفر مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمِصِّيصِيُّ الْمَعْرُوفُ بلوين نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ بْنِ عُقَيْلٍ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (خَيْرُكُمْ مَنْ أَطْعَمَ الطَّعَامَ) // حسن //

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ أَحْمَدُ عَن زَكَرِيَّا عَن عَدِيٍّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بِهِ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ مِنْ وَجْهٍ آخر عَن ابْن عقيل وَرَوَاهُ أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ مِنْ طَرِيقِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرو وَأتم لما سقنا وَقد وَقع لنا عَالِيا بِطُولِهِ أخبرنيه إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الدِّمَشْقِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الأَسَدِيِّ عَن صَفِيَّة بنت عبد الْوَهَّاب سَمَاعا أَن مَسْعُود الثَّقَفِيّ فِي كِتَابه بالسند الْمَذْكُور إِلَى حَمْزَة عَن أَبِيه عَن صُهَيْب قَالَ قَالَ عُمَرُ لِصُهَيْبٍ أَيُّ رَجُلٍ أَنْتَ لَوْلا خِصَالٌ ثَلاثٌ فِيكَ قَالَ وَمَا هُنَّ قَالَ اكْتَنَيْتَ وَلَيْسَ لَكَ وَلَدٌ وَانْتَمَيْتَ إِلَى الْعَرَبِ وَأَنْتَ رَجُلٌ مِنَ الرُّومِ وَفِيكَ سَرَفٌ فِي الطَّعَامِ قَالَ أَمَّا قَوْلُكَ اكْتَنَيْتَ وَلَمْ يُولد لَك فَإِن رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَنَّانِي أَبَا يَحْيَى وَأَمَّا قَوْلُكَ انْتَمَيْتَ إِلَى الْعَرَبِ وَأَنْتَ رَجُلٌ مِنَ الرُّومِ فَإِنِّي رَجُلٌ مِنَ النَّمِرِ بْنِ قَاسِطٍ سَبَتْنِي الرّوم من الْموصل بعد إِذْ أَنَا غُلامٌ قَدْ عَرَفْتُ نَسَبِي وَأَمَّا قَوْلُكَ فِيكَ سَرَفٌ فِي الطَّعَامِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (خَيركُمْ من أطْعم الطَّعَام)

 

‌‌الحَدِيث السَّادِس وَالْعشْرُونَ من حرف الضَّاد عَن ضميرَة

أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمد بن سُلَيْمَان الأَنْصَارِيُّ الدِّمَشْقِيُّ بِالْقَاهِرَةِ
ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে সাদুল্লাহ আল-হামাভী বায়তুল মুকাদ্দাসে আমাদের জানিয়েছেন যে, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে খলিল আল-মাক্কী সেখানে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুসদী মদিনায় আমাদের জানিয়েছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুর রহমান আল-আসবাহানী গ্রানাডায় আমাদের জানিয়েছেন যে, মাসউদ ইবনে হাসান আস-সাকাফী আসবাহানে আমাদের জানিয়েছেন যে, আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ আমাদের জানিয়েছেন যে, আবু জাফর আহমদ ইবনে আল-মারযুবান আমাদের জানিয়েছেন যে, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-হাযাওয়ারী আমাদের জানিয়েছেন যে, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-মিসসীসী—যিনি লুওয়াইন নামে পরিচিত—তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর আর-রাক্কী হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল হতে, তিনি হামযাহ ইবনে সুহাইব হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে অন্যকে অন্নদান করে।" // হাসান //

এটি একটি হাসান হাদিস। ইমাম আহমদ এটি যাকারিয়া হতে, তিনি আদী হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন; ফলে এটি 'বদল' হিসেবে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। ইবনে মাজাহ এটি ইবনে আকীল হতে অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালা এবং তাবারানী এটি উবাইদুল্লাহ ইবনে আমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা আমাদের বর্ণিত পাঠের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ। এটি আমাদের নিকট উচ্চ সনদে দীর্ঘ কলেবরে পৌঁছেছে; ইব্রাহিম ইবনে আহমদ আদ-দিমাশকী আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-আসাদী হতে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল ওয়াহহাব হতে শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যে, মাসউদ আস-সাকাফী তাঁর কিতাবে উল্লিখিত সনদে হামযাহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি সুহাইব (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) সুহাইবকে বললেন, "আপনি কতই না চমৎকার মানুষ হতেন, যদি আপনার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য না থাকত!" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "সেগুলো কী?" তিনি বললেন, "আপনি উপনাম (কুনিয়া) গ্রহণ করেছেন অথচ আপনার কোনো সন্তান নেই; আপনি নিজেকে আরবদের বংশধর বলে দাবি করেন অথচ আপনি একজন রোমীয় ব্যক্তি; আর আপনার মধ্যে খাবারের ব্যাপারে অপচয় (অধিক দান) রয়েছে।" সুহাইব (রা.) বললেন, "আপনার এই উক্তির ব্যাপারে যে—আমি উপনাম গ্রহণ করেছি অথচ আমার কোনো সন্তান নেই, এর কারণ হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই আমার উপনাম 'আবু ইয়াহইয়া' রেখেছিলেন। আর আপনার এই উক্তি যে—আমি নিজেকে আরবদের বংশধর দাবি করি অথচ আমি একজন রোমীয় ব্যক্তি, এর উত্তর হলো আমি আসলে 'নামির বিন কাসিত' গোত্রের একজন লোক; আমি যখন বালক ছিলাম এবং নিজের বংশপরিচয় জানতাম, তখন রোমীয়রা আমাকে মসুল থেকে বন্দি করে নিয়ে গিয়েছিল। আর আপনার এই উক্তি যে—আমার মধ্যে খাবারের ব্যাপারে অপচয় রয়েছে, এর কারণ হলো আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে অন্যকে খাবার খাওয়ায়'।"

 

‌‌'দদ' (ض) বর্ণ অধ্যায়ে জামিরাহ হতে বর্ণিত ২৬তম হাদিস

আবু আল-মা’আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমান আল-আনসারী আদ-দিমাশকী কায়রোতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমতাউ বিল-আরবাউনাল মুতাবায়িনাতুস সামা (পৃষ্ঠা: ٤٣)
أَنا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْحرم القلاني أَنَا مَحْفُوظُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أبي بكر بن الحامضي أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ السَّلَام الدَّاهِرِيُّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ نَصْرُ بْنُ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ الْعُكْبَرِيُّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمد الْبري أَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصُ أَنا أَبُو أَحْمد يحيى بن صاعد ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن الحكم نَا عبد الله بن وهب نَا مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عبد الله عَن أَبِيه عَن جده أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِأُمِّ ضُمَيْرَةَ وَهِيَ تَبْكِي فَقَالَ مَا يُبْكِيكِ أَجَائِعَةٌ أَنْتِ أَعَارِيَةٌ أَنْتِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فُرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَ ابْنِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (لَا يُفَرَّقُ بَيْنَ وَالِدَةٍ وَوَلَدِهَا) ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى الَّذِي عِنْدَهُ ضُمَيْرَةُ فَابْتَاعَهُ مِنْهُ ببكر // مَوْضُوع // قَالَ ابْنُ صَاعِدٍ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْلَمُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ غَيْرُ ابْن وهب وَرَوَاهُ الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ فِي مُسْنَدِهِ عَنْ حَرْمَلَةَ بْنِ يَحْيَى وَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي تَأْرِيخِهِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى كِلاهُمَا عَنِ ابْنِ وَهْبٍ بِهِ وَقد وَقع لي عَالِيا قرأته على أَبِي الْفَرَج بْن حَمَّاد أَن يُونُس بْن أَبِي إِسْحَاق الْعَسْقَلَانِي أخْبرهُم عَن عَليّ بْن الْحُسَيْن بْن عَليّ الْعِرَاقِيّ عَن نصر بْن نصر بِالْإِسْنَادِ الْمَذْكُور أَولا وَرَوَاهُ ابْنُ شَاهِينَ فِي مُعْجَمِ الصَّحَابَةِ عَن ابْن وهب بِهَذَا الإِسْنَادِ فَوَافَقْنَاهُ بِعُلُوٍّ وَرَوَاهُ ابْن مندة فِي الْمعرفَة عَن الأَصَمِّ عَنِ ابْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ

أَخْبَرَتْنَا بِهِ عَالِيًا خَدِيجَةُ بِنْتُ الشَّيْخ أبي إِسْحَاق بن سُلْطَان عَنْ أَبِي نَصْرِ بْنِ الشِّيرَازِيِّ عَنْ أَبِي الْوَفَاءِ بْنِ مَنْدَهْ أَنا أَبُو الْخَيْرِ الْبَاغْبَانُ أَنا أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْدَهْ أَنا أَبِي أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّد بن يَعْقُوب أَنا ابْن عبد الحكم فَذكره وَزَاد قَالَ ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ ثُمَّ أَقْرَأَنِي حُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ضُمَيْرَةَ كِتَابًا عِنْدَهُ فَإِذَا فِيهِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ كَذَا بِالْأَصْلِ مُحَمَّد رَسُول الله لأبي ضَمرَة وَأَهْلِ بَيْتِهِ أَنَّ مُحَمَّدًا أَعْتَقَهُمْ وَإِنَّهُم أهل بَيت الْعَرَب إِن أَحبُّوا أَقَامُوا وَإِن أَحبُّوا رجعُوا إِلَى بِلَاد قَومهمْ فَلَا يَعْرِضْ لَهُمْ أَحَدٌ إِلا بِحَقٍّ وَمَنْ لَقِيَهُمْ فَلْيَسْتَوْصِ بِهِمْ خَيْرًا وَرَوَاهُ أَبُو بَكْرٍ الْبَزَّارُ فِي مُسْنده عَن إِبْرَاهِيم بْن
আমি আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল হারাম আল-কালানি, আমাকে মাহফুজ ইবনে উমর ইবনে আবি বকর ইবনুল হামিদি সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুস সালাম আদ-দাহিরি সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে আবুল কাসিম নাসর ইবনে নাসর ইবনে আলি আল-উকবারি সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে আবুল কাসিম আলি ইবনে আহমদ আল-বাররি সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল আব্বাস আল-মুখাল্লিস সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে আবু আহমদ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হাকাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি জি’ব, হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে দুমাইরার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি কাঁদছিলেন। তিনি বললেন: "তুমি কেন কাঁদছ? তুমি কি ক্ষুধার্ত? তুমি কি বস্ত্রহীন?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার ও আমার সন্তানের মধ্যে বিচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (কোনো মাকে তার সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না)। এরপর তিনি দুমাইরা যার নিকট ছিল তার কাছে লোক পাঠালেন এবং একটি অল্পবয়সী উটের বিনিময়ে তাকে তার কাছ থেকে কিনে নিলেন। // জাল // ইবনে সাঈদ বলেন, এটি একটি গরীব (অপরিচিত) হাদিস, ইবনে ওয়াহাব ছাড়া অন্য কেউ এটি ইবনে আবি জি’ব থেকে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। হাসান ইবনে সুফিয়ান তার মুসনাদে এটি হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি তার তারিখ-এ এটি আহমদ ইবনে ঈসা থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়েই ইবনে ওয়াহাব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আমার নিকট উচ্চ সনদে পৌঁছেছে, আমি এটি আবুল ফারাজ ইবনে হাম্মাদের নিকট পাঠ করেছি যে, ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক আল-আসকালানি তাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে হুসাইন ইবনে আলি আল-ইরাকি থেকে, তিনি নাসর ইবনে নাসর থেকে পূর্বে উল্লিখিত সনদে। ইবনে শাহিন এটি মু’জামুস সাহাবায় ইবনে ওয়াহাব থেকে এই সনদেই বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা উচ্চ সনদে তার সাথে একমত হয়েছি। ইবনে মানদাহ এটি আল-মারিফাহ গ্রন্থে আল-আসাম্ম থেকে, তিনি ইবনুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

শায়খ আবু ইসহাক ইবনে সুলতানের কন্যা খাদিজা উচ্চ সনদে এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর ইবনে শিরাজী থেকে, তিনি আবুল ওয়াফা ইবনে মানদাহ থেকে, আমাকে আবুল খায়ের আল-বাগবান সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে আবু আমর আবদুুল ওয়াহাব ইবনে আবি আবদুল্লাহ ইবনে মানদাহ সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে আমার পিতা সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব সংবাদ দিয়েছেন, আমাকে ইবনুল হাকাম সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন এবং বর্ধিত বর্ণনায় বলেন: ইবনে আবি জি’ব বলেছেন, এরপর হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে দুমাইরা তার নিকট থাকা একটি লিপি আমাকে পড়ে শোনালেন, সেখানে ছিল: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। মূল কিতাবে এভাবেই আছে: আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে আবু দুমাইরা ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য; মুহাম্মদ তাদের মুক্ত করে দিয়েছেন। তারা আরব পরিবারের অন্তর্ভুক্ত; তারা চাইলে অবস্থান করতে পারে আর চাইলে তাদের স্বজাতির দেশে ফিরে যেতে পারে। ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া কেউ যেন তাদের পথরোধ না করে। আর যার সাথে তাদের দেখা হবে, সে যেন তাদের সাথে সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ করে। আবু বকর আল-বাজজার তার মুসনাদে এটি ইব্রাহিম ইবনে... থেকে বর্ণনা করেছেন।