(খণ্ড: ১) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: -)
مواهب الجليل في شرح مختصر خليل   (الحطاب)

القسم: الفقه المالكي


الكتاب: مواهب الجليل في شرح مختصر خليل

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن محمد بن عبد الرحمن الطرابلسي المغربي، المعروف بالحطاب الرُّعيني المالكي (ت 954هـ)

الناشر: دار الفكر

الطبعة: الثالثة، 1412هـ - 1992م

عدد الأجزاء: 6

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাওয়াহিবুল জালিল ফি শারহি মুখতাসারি খলিল   (আল-হাত্তািব)

বিভাগ: মালিকি ফিকহ


কিতাব: মাওয়াহিবুল জালিল ফি শারহি মুখতাসারি খলিল

লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আত-তারাবুলুসি আল-মাগরিবি, যিনি আল-হাত্তািব আর-রুআইনি আল-মালিকি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৯৫৪ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ফিকর

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ডের সংখ্যা: ৬

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌[مُقَدِّمَة الْكتاب]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الَّذِي أَنْزَلَ كِتَابَهُ الْمُبِينَ عَلَى رَسُولِهِ الصَّادِقِ الْأَمِينِ فَشَرَحَ بِهِ صُدُورَ عِبَادِهِ الْمُتَّقِينَ وَنَوَّرَ بِهِ بَصَائِرَ أَوْلِيَائِهِ الْعَارِفِينَ فَاسْتَنْبَطُوا مِنْهُ الْأَحْكَامَ وَمَيَّزُوا بِهِ الْحَلَالَ مِنْ الْحَرَامِ وَبَيَّنُوا الشَّرَائِعَ لِلْعَالَمِينَ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَلَا ظَهِيرَ لَهُ وَلَا مُعِينَ شَهَادَةً مُوجِبَةً لِلْفَوْزِ بِأَعْلَى دَرَجَاتِ الْيَقِينِ وَدَافِعَةً لِشُبَهِ الْمُبْطِلِينَ وَتَمْوِيهَاتِ الْمُعَانِدِينَ وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ سَيِّدُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ وَخَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ الْمَبْعُوثُ لِكَافَّةِ الْخَلَائِقِ أَجْمَعِينَ الْقَائِلُ: «مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» صلى الله عليه وسلم وَعَلَى آلِهِ الطَّيِّبِينَ الطَّاهِرِينَ وَأَصْحَابِهِ وَتَابِعِيهِمْ بِإِحْسَانٍ إلَى يَوْمِ الدِّينِ.

(وَبَعْدُ) فَخَيْرُ الْعُلُومِ وَأَفْضَلُهَا وَأَقْرَبُهَا إلَى اللَّهِ وَأَكْمَلُهَا عِلْمُ الدِّينِ وَالشَّرَائِعِ الْمُبِينُ لِمَا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ الْأَحْكَامُ الْإِلَهِيَّةُ مِنْ الْأَسْرَارِ وَالْبَدَائِعِ إذْ بِهِ يُعْلَمُ فَسَادُ الْعِبَادَةِ وَصِحَّتُهَا وَبِهِ يَتَبَيَّنُ حِلُّ الْأَشْيَاءِ وَحُرْمَتُهَا وَيَحْتَاجُ إلَيْهِ جَمِيعُ الْأَنَامِ وَيَسْتَوِي فِي الطَّلَبِ بِهِ الْخَاصُّ وَالْعَامُّ فَهُوَ أَوْلَى مَا أُنْفِقَتْ فِيهِ نَفَائِسُ الْأَعْمَارِ وَصُرِفَتْ إلَيْهِ جَوَاهِرُ الْأَفْكَارِ وَاسْتُعْمِلَتْ فِيهِ الْأَسْمَاعُ وَالْأَبْصَارُ وَقَدْ أَكْثَرَ الْعُلَمَاءُ رحمهم الله فِي ذَلِكَ مِنْ الْمُصَنَّفَاتِ وَوَضَعُوا فِيهِ الْمُطَوَّلَاتِ وَالْمُخْتَصَرَاتِ وَكَانَ مِنْ أَجَلِّ الْمُخْتَصَرَاتِ عَلَى مَذْهَبِ الْإِمَامِ مَالِكٍ مُخْتَصَرُ الشَّيْخِ الْعَلَّامَةِ وَلِيِّ اللَّهِ تَعَالَى خَلِيلِ بْنِ إِسْحَاقَ الَّذِي أَوْضَحَ بِهِ الْمَسَالِكَ إذْ هُوَ كِتَابٌ صَغُرَ حَجْمُهُ وَكَثُرَ عِلْمُهُ وَجَمَعَ فَأَوْعَى وَفَاقَ أَضْرَابَهُ جِنْسًا وَنَوْعًا وَاخْتَصَّ بِتَبْيِينِ مَا بِهِ الْفَتْوَى وَمَا هُوَ الْأَرْجَحُ وَالْأَقْوَى وَلَمْ تَسْمَحْ قَرِيحَةٌ بِمِثَالِهِ وَلَمْ يَنْسِجْ نَاسِجٌ عَلَى مِنْوَالِهِ إلَّا أَنَّهُ لِفَرْطِ الْإِيجَازِ كَادَ يُعَدُّ مِنْ جُمْلَةِ الْأَلْغَازِ وَقَدْ اعْتَنَى بِحَلِّ
[গ্রন্থের ভূমিকা]

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত রাসূলের প্রতি তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। অতঃপর এর মাধ্যমে তিনি তাঁর মুত্তাকী বান্দাদের অন্তরসমূহকে উন্মোচিত করেছেন এবং তাঁর মারেফাতপ্রাপ্ত ওলীগণের অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছেন। ফলে তাঁরা তা থেকে বিধি-বিধান আহরণ করেছেন, এর মাধ্যমে হালাল ও হারামের পার্থক্য নিরূপণ করেছেন এবং বিশ্ববাসীর জন্য শরীয়তের নিয়মাবলি বর্ণনা করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর কোনো সাহায্যকারী বা সহায়তাকারী নেই। এমন সাক্ষ্য যা ইয়াকিনের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ নিশ্চিত করে এবং বাতিলপন্থীদের সংশয় ও বিদ্বেষপরায়ণদের বিভ্রান্তি দূর করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি আদি-অন্ত সকলের নেতা এবং নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী। তিনি সকল সৃষ্টির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।" তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও কিয়ামত পর্যন্ত ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

(অতঃপর) নিশ্চয়ই সর্বোত্তম, শ্রেষ্ঠতম, আল্লাহর নিকটতম এবং পূর্ণাঙ্গতম জ্ঞান হলো দ্বীন ও শরীয়তের জ্ঞান, যা ঐসব গোপন রহস্য ও অনুপম বিষয়াবলি স্পষ্ট করে যা খোদায়ী বিধি-বিধানের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এর মাধ্যমেই ইবাদতের ত্রুটি ও শুদ্ধতা জানা যায়, বস্তুর হালাল ও হারাম হওয়া স্পষ্ট হয় এবং সকল সৃষ্টির এর প্রয়োজন রয়েছে। আর এ জ্ঞান অন্বেষণে বিশিষ্ট ও সাধারণ সবাই সমান। সুতরাং এটিই হচ্ছে সেই বিষয় যাতে জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করা এবং চিন্তার মণি-মুক্তাকে নিয়োজিত করা এবং কান ও চোখকে ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি সমীচীন। উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এই বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এতে বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত অনেক কিতাব প্রণয়ন করেছেন। ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো আল্লামা ও আল্লাহর ওলী শায়খ খলীল ইবনে ইসহাকের "মুখতাসার", যার মাধ্যমে তিনি পথসমূহ সুস্পষ্ট করেছেন। কেননা এটি এমন এক কিতাব যার কলেবর ক্ষুদ্র কিন্তু জ্ঞান অঢেল। এটি ব্যাপক বিষয়বস্তু সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছে এবং এর সমগোত্রীয় সকল গ্রন্থকে গুণ ও বৈশিষ্ট্যে ছাড়িয়ে গেছে। এটি ফতোয়া প্রদানের উপযুক্ত বিষয় এবং যা অধিক অগ্রগণ্য ও শক্তিশালী তা বর্ণনায় বিশেষত্ব লাভ করেছে। কোনো মেধা এর মতো কিছুর জন্ম দেয়নি এবং কোনো রচয়িতা এর আদলে কিছু রচনা করতে পারেনি। তবে এর অতি সংক্ষিপ্ততার কারণে একে প্রায় ধাঁধার অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়। আর এর জট খোলার জন্য মনোযোগ প্রদান করা হয়েছে—
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٣)
عِبَارَتِهِ وَإِيضَاحِ إشَارَتِهِ وَتَفْكِيكِ رُمُوزِهِ وَاسْتِخْرَاجِ مُخَبَّآتِ كُنُوزِهِ وَإِبْرَازِ فَوَائِدِهِ وَتَقْيِيدِ شَوَارِدِهِ تِلْمِيذُهُ الْعَلَّامَةُ الْهُمَامُ قَاضِي الْقُضَاةِ تَاجُ الدِّينِ أَبُو الْبَقَاءِ بَهْرَامُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عِوَضٍ الدَّمِيرِيُّ الْقَاهِرِيُّ رحمه الله فَشَرَحَهُ ثَلَاثَةَ شُرُوحٍ صَارَ بِهَا غَالِبُهُ فِي غَايَةِ الْبَيَانِ وَالْوُضُوحِ وَاشْتَهَرَ مِنْهَا الْأَوْسَطُ غَايَةَ الِاشْتِهَارِ وَاشْتَغَلَ النَّاسُ بِهِ فِي سَائِرِ الْأَقْطَارِ مَعَ أَنَّ الشَّرْحَ الْأَصْغَرَ أَكْثَرُ تَحْقِيقًا وَشَرَحَهُ أَيْضًا مِنْ تَلَامِذَةِ الْمُصَنِّفُ الْعَلَّامَةُ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْفُرَاتِ الْمِصْرِيُّ وَالشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ جَمَالُ الدِّينِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْدَادِ بْنِ إسْمَاعِيلَ الْأَقْفَهْسِيُّ شَارِحُ الرِّسَالَةِ.

وَيُقَالُ لَهُ: الْأَقْفَاصِيُّ وَسَلَكَا فِي شَرْحَيْهِمَا مَسْلَكَ الشَّيْخِ بَهْرَامَ وَإِنْ كَانَ ابْنُ الْفُرَاتِ أَوْسَعَ مِنْ جِهَةِ النَّقْلِ وَشَرَحَهُ أَيْضًا مِمَّنْ أَخَذَ عَنْ الْمُصَنِّفِ الشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ يُوسُفُ بْنُ خَالِدِ بْنِ نُعَيْمٍ الْبِسَاطِيُّ قَرِيبُ الْبِسَاطِيِّ الْمَشْهُورِ وَلَمْ أَقِفْ عَلَى شَرْحِهِ ثُمَّ شَرَحَهُ أَيْضًا الْعَلَّامَةُ الْمُحَقِّقُ شَيْخُ شُيُوخِنَا قَاضِي الْقُضَاةِ شَمْسُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ نُعَيْمٍ عَلَى وَزْنِ عَظِيمٍ بْنِ مُقَدِّمٍ بِكَسْرِ الدَّالِ الْمُهْمَلَةِ الْمُشَدَّدَةِ الْبِسَاطِيُّ شَرْحًا أَكْثَرَ فِيهِ مِنْ الْأَبْحَاثِ وَالْمُنَاقَشَةِ فِي عِبَارَةِ الْمُصَنِّفِ وَسَلَكَ مَسْلَكَ الشَّارِحِ فِي غَالِبِ شَرْحِهِ ثُمَّ شَرَحَهُ جَمَاعَةٌ مِنْ الْمُتَأَخِّرِينَ وَسَلَكُوا نَحْوًا مِنْ ذَلِكَ.

وَبَقِيَتْ فِي الْكِتَابِ مَوَاضِعُ يُحْتَاجُ إلَى التَّنْبِيهِ عَلَيْهَا وَأَمَاكِنُ يَتَحَيَّرُ الطَّالِبُ اللَّبِيبُ لَدَيْهَا فَتَتَبَّعَ الشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ مُفْتِي فَاسَ وَخَطِيبُهَا وَمُقْرِئُهَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ غَازِيٍّ الْعُثْمَانِيُّ نِسْبَةً إلَى قَبِيلَةٍ يُقَالُ لَهَا: بَنُو عُثْمَانَ الْمِكْنَاسِيِّ رحمه الله مِنْ ذَلِكَ أَمَاكِنَ كَثِيرَةً وَفَكَّكَ مَوَاضِعَ مِنْ تَرَاكِيبِهِ الْعَسِيرَةِ فَأَوْضَحَهَا غَايَةَ الْإِيضَاحِ وَأَفْصَحَ عَنْ مَعَانِيهَا كُلَّ الْإِفْصَاحِ وَبَقِيَتْ فِيهِ مَوَاضِعُ إلَى الْآنَ مُغْلَقَةٌ وَمَسَائِلُ كَثِيرَةٌ مُطْلَقَةٌ وَكُنْت فِي حَالِ الْقِرَاءَةِ وَالْمُطَالَعَةِ جَمَعْت مِنْ ذَلِكَ مَوَاضِعَ عَدِيدَةً مَعَ فُرُوعٍ مُنَاسِبَاتٍ وَتَتِمَّاتٍ مُفِيدَةٍ فَحَصَلَ مِنْهَا جُمْلَةٌ مُسْتَكْثَرَةٌ فِي أَوْرَاقَ مُفَرَّقَةٍ مُنْتَشِرَةٍ جَعَلْتُهَا لِنَفْسِي تَذْكِرَةً فَأَرَدْت جَمْعَ تِلْكَ الْمَوَاضِعِ عَلَى انْفِرَادِهَا ثُمَّ إنِّي رَأَيْت أَنَّهُ لَا تَكْمُلُ الْفَائِدَةُ بِذَلِكَ إلَّا إذَا ضُمَّ إلَى الشَّرْحِ وَحَاشِيَةِ الشَّيْخِ ابْنِ غَازِيٍّ وَقَدْ لَا يَتَأَتَّى لِلشَّخْصِ جَمْعُ ذَلِكَ.

ثُمَّ أَرَدْت جَمْعَ تِلْكَ الْمَوَاضِعِ مِنْ كَلَامِ الشَّيْخِ ابْنِ غَازِيٍّ فَرَأَيْت الْحَالَ كَالْحَالِ عَلَى أَنِّي أَقُولُ كَمَا قَالَ ابْنُ رُشْدٍ فِي مَسَائِلِ الْعُتْبِيَّةِ: مَا مِنْ مَسْأَلَةٍ وَإِنْ كَانَتْ جَلِيَّةً فِي ظَاهِرِهَا إلَّا وَهِيَ مُفْتَقِرَةٌ إلَى الْكَلَامِ عَلَى مَا يَخْفَى مِنْ بَاطِنِهَا، وَقَدْ يَتَكَلَّمُ الشَّخْصُ عَلَى مَا يَظُنُّهُ مُشْكِلًا وَهُوَ غَيْرُ مُشْكِلٍ عِنْدَ كَثِيرٍ مِنْ النَّاسِ وَقَدْ يُشْكِلُ عَلَيْهِمْ مَا يَظُنُّهُ هُوَ جَلِيًّا، فَالْكَلَامُ عَلَى بَعْضِ الْمَسَائِلِ دُونَ بَعْضٍ عَنَاءٌ وَتَعَبٌ بِغَيْرِ كَبِيرِ فَائِدَةٍ وَإِنَّمَا الْفَائِدَةُ التَّامَّةُ الَّتِي يَعْظُمُ نَفْعُهَا وَيُسْتَسْهَلُ الْعَنَاءُ فِيهَا أَنْ يَتَكَلَّمَ الشَّخْصُ عَلَى جَمِيعِ الْمَسَائِلِ؛ كَيْ لَا يُشْكِلَ عَلَى أَحَدٍ مَسْأَلَةٌ إلَّا وَجَدَ التَّكَلُّمَ عَلَيْهَا وَالشِّفَاءَ مِمَّا فِي نَفْسِهِ مِنْهَا؛ فَاسْتَخَرْت اللَّهَ تَعَالَى فِي شَرْحِ جَمِيعِ الْكِتَابِ وَالتَّكَلُّمِ عَلَى جَمِيعِ مَسَائِلِهِ مَعَ ذِكْرِ مَا تَحْتَاجُ إلَيْهِ كُلُّ مَسْأَلَةٍ مِنْ تَقْيِيدَاتٍ وَفُرُوعٍ مُنَاسَبَةٍ وَتَتِمَّاتٍ مُفِيدَةٍ مِنْ ضَبْطٍ وَغَيْرِهِ، وَمَعَ ذِكْرِ غَالِبِ الْأَقْوَالِ وَعَزْوِهَا وَتَوْجِيهِهَا غَالِبًا وَالتَّنْبِيهِ عَلَى مَا فِي كَلَامِ الشُّرُوحِ الَّتِي وَقَفْت عَلَيْهَا لِهَذَا الْكِتَابِ، وَهِيَ الشُّرُوحُ الثَّلَاثَةُ لِلشَّيْخِ بَهْرَامَ وَشَرْحُ ابْنِ الْفُرَاتِ وَالْأَقْفَهْسِيِّ وَالْبِسَاطِيِّ وَحَاشِيَةُ الشَّيْخِ ابْنِ غَازِيٍّ وَشَرْحُ الْفَصْلَيْنِ الْأَوَّلَيْنِ مِنْ كَلَامِ الْعَلَّامَةِ الْمُحَقِّقِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْزُوقٍ التِّلِمْسَانِيِّ وَلَمْ أَرَ أَحْسَنَ مِنْ شَرْحِهِ؛ لِمَا اشْتَمَلَ عَلَيْهِ مِنْ تَفْكِيكِ عِبَارَةِ الْمُصَنِّفِ وَبَيَانِ مَنْطُوقِهَا وَمَفْهُومِهَا وَالْكَلَامِ عَلَى مُقْتَضَى ذَلِكَ مِنْ جِهَةِ النَّقْلِ، وَلَكِنَّهُ عَزِيزُ الْوُجُودِ مَعَ أَنَّهُ لَمْ يَكْمُلْ وَلَا يَقَعُ إلَّا فِي يَدِ مَنْ يَضَنُّ بِهِ حَتَّى لَقَدْ أَخْبَرَنِي وَالِدِي أَنَّهُ كَانَ عِنْدَ بَعْضِ الْمَكِّيِّينَ كُرَّاسٌ مِنْ أَوَّلِهِ فَكَانَ لَا يَسْمَحُ بِإِعَارَتِهِ، وَيَقُولُ: إنْ أَرَدْت أَنْ تُطَالِعَهُ فَتَعَالَ إلَيَّ. وَقَدْ
তাঁর শব্দাবলীর ব্যাখ্যা, ইঙ্গিতসমূহের স্পষ্টীকরণ, রহস্যসমূহের উন্মোচন, তাঁর লুক্কায়িত ভাণ্ডারসমূহের সারনির্যাস নিরূপণ, এর উপকারিতাগুলো প্রকাশ এবং এর দুর্লভ বিষয়াবলিকে লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর সুযোগ্য ছাত্র, মহান আল্লামা, প্রধান বিচারপতি তাজউদ্দীন আবু আল-বাকা বাহরাম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে ইওয়াদ আদ-দামিরি আল-কাহিবি (রাহিমাহুল্লাহ) বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি গ্রন্থটির তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মাধ্যমে এর অধিকাংশ অংশ চূড়ান্ত স্পষ্টতা ও প্রাঞ্জলতা লাভ করেছে। এগুলোর মধ্যে মধ্যম আকারের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এটি নিয়ে লিপ্ত রয়েছে, যদিও ছোট ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অধিকতর সূক্ষ্ম ও গবেষণাধর্মী। এছাড়াও গ্রন্থকারের ছাত্রদের মধ্যে আল্লামা আব্দুল হক ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে আল-ফুরাত আল-মিসরী এবং আল্লামা শেখ জামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবনে মিকদাদ ইবনে ইসমাঈল আল-আকফাহসী—যিনি আর-রিসালাহ গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার—গ্রন্থটির ব্যাখ্যা লিখেছেন।

তাঁকে আল-আকফাসীও বলা হয়। তাঁরা উভয়েই তাঁদের ব্যাখ্যাগ্রন্থে শেখ বাহরামের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যদিও বর্ণনার প্রাচুর্যের দিক থেকে ইবনুল ফুরাত অধিকতর বিস্তৃত ছিলেন। মূল গ্রন্থকারের নিকট থেকে যারা জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে আল্লামা শেখ ইউসুফ ইবনে খালিদ ইবনে নুআইম আল-বিসাতিও—যিনি প্রসিদ্ধ আল-বিসাতির নিকটাত্মীয়—এর ব্যাখ্যা লিখেছেন, তবে আমি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দেখার সুযোগ পাইনি। এরপর আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষক, প্রধান বিচারপতি, মহান গবেষক আল্লামা শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে নুআইম (যা 'আজিম' এর ওজনে এবং দাল বর্ণে কাসরা ও তাশদীদসহ 'মুকাদ্দিম' এর ওজনে) আল-বিসাতি একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। তিনি এতে গ্রন্থকারের ভাষ্য নিয়ে প্রচুর গবেষণা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাঁর ব্যাখ্যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাকারদের পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। অতঃপর পরবর্তী যুগের একদল আলেম এর ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং তাঁরাও অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

কিতাবটিতে এমন কিছু স্থান অবশিষ্ট ছিল যা নির্দেশ করার প্রয়োজন ছিল এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরাও সেসব স্থানে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ত। ফলে ফাস নগরীর মুফতি, খতিব ও কারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে গাজী আল-উসমানী (রাহিমাহুল্লাহ)—যিনি বনু উসমান আল-মিকনাসী নামক গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত—গ্রন্থটির এমন অনেক স্থান চিহ্নিত করেছেন এবং এর জটিল বাক্যবিন্যাসগুলো উন্মোচন করেছেন। তিনি সেগুলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নিহিত অর্থসমূহ সবিস্তারে তুলে ধরেছেন। তথাপি এখন পর্যন্ত এতে কিছু স্থান অস্পষ্ট এবং অনেক মাসআলা অনির্ধারিত রয়ে গিয়েছিল। আমি আমার পঠন ও অধ্যয়নকালে এ জাতীয় অনেক বিষয়, আনুষঙ্গিক শাখা-প্রশাখা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিশিষ্ট সংগ্রহ করেছিলাম। ফলে বিক্ষিপ্ত পাতাসম্মুহে প্রচুর তথ্য জমা হয়েছিল যা আমি নিজের স্মারক হিসেবে রেখেছিলাম। আমি সেই সংগৃহীত বিষয়গুলোকে পৃথকভাবে সংকলন করার ইচ্ছা করি। পরবর্তীতে আমি উপলব্ধি করলাম যে, মূল ব্যাখ্যা এবং শেখ ইবনে গাজীর টীকার সাথে যুক্ত না করলে এর উপকারিতা পূর্ণতা পাবে না; আর সবার পক্ষে এগুলো একত্রে সংগ্রহ করা সম্ভব নাও হতে পারে।

অতঃপর আমি শেখ ইবনে গাজীর কথা থেকে সেই স্থানগুলো সংকলন করার ইচ্ছা করি। আমি দেখলাম যে বিষয়টির অবস্থা তেমনই যেমনটি ইবনে রুশদ 'মাসায়িলুল উতবিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "এমন কোনো মাসআলা নেই—বাহ্যিকভাবে তা যতই স্পষ্ট হোক না কেন—যা তার অন্তনির্হিত রহস্যের ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়।" কখনও কখনও কোনো ব্যক্তি এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন যা তিনি জটিল মনে করেন, অথচ অনেকের কাছে তা মোটেও জটিল নয়। আবার কখনও তাদের কাছে এমন বিষয় জটিল মনে হয় যা ঐ ব্যক্তি স্পষ্ট মনে করেছিলেন। সুতরাং কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা আর কিছু বাদ দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে বড় কোনো সুফল ছাড়াই শ্রম ও ক্লান্তি বয়ে আনে। বরং পূর্ণাঙ্গ ফায়দা—যার উপকারিতা ব্যাপক এবং যার জন্য শ্রম স্বীকার করা সহজসাধ্য মনে হয়—তা হলো একজন ব্যক্তি সমস্ত মাসআলা নিয়ে আলোচনা করবেন; যাতে কারো কাছে কোনো মাসআলা অস্পষ্ট না থাকে এবং সে যেন তার অন্তরের জিজ্ঞাসার প্রশান্তি ও সমাধান খুঁজে পায়। তাই আমি সম্পূর্ণ গ্রন্থটির ব্যাখ্যা করার এবং এর সকল মাসআলা নিয়ে আলোচনা করার জন্য মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করি। এতে আমি প্রতিটি মাসআলার প্রয়োজনীয় শর্তাবলী, আনুষঙ্গিক শাখা-প্রশাখা এবং শব্দ বিন্যাসসহ অন্যান্য দরকারী পরিশিষ্ট উল্লেখ করেছি। অধিকাংশ অভিমত ও সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলোর যৌক্তিকতা বর্ণনা করেছি। এছাড়া এই কিতাবের যেসব ব্যাখ্যাগ্রন্থ আমি দেখার সুযোগ পেয়েছি—যেমন শেখ বাহরামের তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইবনুল ফুরাত, আল-আকফাহসী ও আল-বিসাতির ব্যাখ্যা, শেখ ইবনে গাজীর হাশিয়া এবং আল্লামা গবেষক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারজুক আত-তিলিমসানির প্রথম দুই পরিচ্ছেদের ব্যাখ্যা—সেগুলোর উপরও আলোকপাত করেছি। আমি তাঁর ব্যাখ্যার চেয়ে উত্তম কোনো ব্যাখ্যা দেখিনি; কারণ এতে গ্রন্থকারের শব্দ ও বাক্যের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, এর শাব্দিক ও ভাবার্থের বর্ণনা এবং বর্ণনার নিরিখে তার আবশ্যিক বিষয়ের আলোচনা অত্যন্ত চমৎকারভাবে করা হয়েছে। কিন্তু এটি খুবই দুষ্প্রাপ্য এবং এটি অসমাপ্ত রয়ে গেছে; তদুপরি এটি এমন ব্যক্তির হাতেই থাকে যারা এটি হস্তান্তরে কার্পণ্য করে। এমনকি আমার পিতা আমাকে জানিয়েছিলেন যে, মক্কার কোনো এক ব্যক্তির নিকট এর শুরুর দিকের একটি পান্ডুলিপি ছিল, কিন্তু তিনি তা ধার দিতে রাজি হতেন না এবং বলতেন: "যদি তুমি এটি পড়তে চাও, তবে আমার কাছে এসো।" এবং ইতোমধ্যেই...
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٤)
ذَكَرَ ابْنُ غَازِيٍّ نَحْوَ هَذَا عِنْدَ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ: وَإِنْ زَالَ تَغَيُّرُ النَّجَسِ لَا بِكَثْرَةِ مُطْلَقٍ.

وَقَدْ وَقَفْت عَلَى قِطْعَةٍ مِمَّا كَتَبَهُ الشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ خَطِيبُ غَرْنَاطَةَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمَوَّاقُ الْأَنْدَلُسِيُّ وَهُوَ حَسَنٌ مِنْ جِهَةِ تَحْرِيرِ النُّقُولِ، لَكِنَّهُ لَا يَتَعَرَّضُ لِحَلِّ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ، وَأُنَبِّهُ أَيْضًا عَلَى مَا فِي كَلَامِ ابْنِ الْحَاجِبِ وَشُرُوحِهِ وَكَلَامِ الشَّيْخِ ابْنِ عَرَفَةَ وَغَيْرِهِمْ لِقَصْدِ تَحْرِيرِ الْمَسَائِلِ لَا لِلْحَطِّ مِنْ مَرْتَبَتِهِمْ الْعَلِيَّةِ لِعِلْمِي بِأَنَّ ذَلِكَ لَا يُنْقِصُ مِنْ مَرْتَبَتِهِمْ وَأَعُوذُ بِاَللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِمَّنْ يَقْصِدُ ذَلِكَ، فَقَدْ قَالَ النَّوَوِيُّ فِي كِتَابِ التِّبْيَانِ: قَالَ الْإِمَامَانِ الْجَلِيلَانِ أَبُو حَنِيفَةَ وَالشَّافِعِيُّ رَحِمَهُمَا اللَّهُ: إنْ لَمْ يَكُنْ الْعُلَمَاءُ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ وَلِيٌّ، وَذَكَرَهُ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ بِلَفْظِ: إنْ لَمْ يَكُنْ الْفُقَهَاءُ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ وَلِيٌّ.

وَفِي الصَّحِيحِ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ «إنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ» وَقَالَ الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ عَسَاكِرَ رحمه الله: اعْلَمْ يَا أَخِي وَفَّقَنِي اللَّهُ وَإِيَّاكَ لِمَرْضَاتِهِ وَجَعَلَنَا مِمَّنْ يَخْشَاهُ وَيَتَّقِيه حَقَّ تُقَاتِهِ أَنَّ لُحُومَ الْعُلَمَاءِ مَسْمُومَةٌ وَعَادَةُ اللَّهِ فِي هَتْكِ أَسْتَارِ مُنْتَقِصِيهِمْ مَعْلُومَةٌ، وَإِنَّ مَنْ أَطْلَقَ لِسَانَهُ فِي الْعُلَمَاءِ بِالثَّلْبِ ابْتَلَاهُ اللَّهُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِمَوْتِ الْقَلْبِ {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] وَقَوْلُهُ: آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ بِهَمْزَةٍ مَمْدُودَةٍ أَيْ أَعْلَمْتُهُ بِأَنَّهُ مُحَارِبٌ لِي، وَالثَّلْبُ بِفَتْحِ الْمُثَلَّثَةِ وَسُكُونِ اللَّامِ الْعَيْبُ.

نَسْأَلُ اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَسْأَلُهُ سُبْحَانَهُ أَنْ يُصْلِحَ فَسَادَ قُلُوبِنَا وَأَنْ لَا يُؤَاخِذَنَا بِمَا انْطَوَتْ عَلَيْهِ نُفُوسُنَا وَأَكَنَّتْهُ ضَمَائِرُنَا إنَّهُ جَوَادٌ كَرِيمٌ، وَلَا أَدَّعِي الِاسْتِقْصَاءَ وَالِاسْتِيفَاءَ فِي شَيْءٍ مِنْ الْأَشْيَاءِ وَإِنَّمَا هَذَا كُلُّهُ بِحَسَبِ مَا اقْتَضَاهُ عِلْمِي الْقَاصِرُ وَفَهْمِي الْفَاتِرُ اللَّذَانِ يُسْتَحْيَا مِنْ تَسْمِيَتِهِمَا عِلْمًا وَفَهْمًا، ثُمَّ عَرَضَتْ عَوَارِضُ مِنْ إتْمَامِ الشَّرْحِ عَلَى هَذَا الْوَجْهِ الَّذِي ذَكَرْتُهُ فَاسْتَخَرْت اللَّهَ تَعَالَى فِي جَمِيعِ مَا هُوَ مَوْجُودٌ عِنْدِي عَلَى حَسَبِ مَا تَيَسَّرَ مِنْ بَسْطٍ أَوْ اخْتِصَارٍ وَأَلْتَزِمُ الْعَزْوَ غَالِبًا إلَّا فِيمَا أَنْقُلُهُ مِنْ شُرُوحِ الشَّيْخِ بَهْرَامَ وَالتَّوْضِيحِ وَابْنِ عَبْدِ السَّلَامِ وَابْنِ عَرَفَةَ فَلَا أَعْزُو لَهُمْ غَالِبًا إلَّا مَا كَانَ غَرِيبًا أَوْ ذُكِرَ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ أَوْ لِغَرَضٍ مِنْ الْأَغْرَاضِ.

وَقَدْ ذَكَرَ ابْنُ جَمَاعَةَ الشَّافِعِيُّ فِي مَنْسَكِهِ الْكَبِيرِ أَنَّهُ صَحَّ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ: إنَّ نِسْبَةَ الْفَائِدَةِ إلَى مُفِيدِهَا مِنْ الصِّدْقِ فِي الْعِلْمِ وَشُكْرِهِ، وَإِنَّ السُّكُوتَ عَنْ ذَلِكَ مِنْ الْكَذِبِ فِي الْعِلْمِ وَكُفْرِهِ. وَأَمِيلُ إلَى الْبَسْطِ وَالْإِيضَاحِ وَالْبَيَانِ حِرْصًا عَلَى إيصَالِ الْفَائِدَةِ لِكُلِّ أَحَدٍ، وَإِذَا ذَكَرْت نُقُولًا مُخْتَلِفَةً ذَكَرْت مُحَصِّلَهَا آخِرًا وَإِنْ طَالَ الْكَلَامُ فِي ذَلِكَ فَلَا يَنْبَغِي لِلنَّاظِرِ فِيهِ أَنْ يَسْأَمَ مِنْهُ؛ لِأَنَّ فِي ذَلِكَ فَائِدَةً عَظِيمَةً.

قَالَ الْإِمَامُ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ: لَا يَنْبَغِي لِلنَّاظِرِ فِي هَذَا الشَّرْحِ أَنْ يَسْأَمَ مِنْ شَيْءٍ يَجِدُهُ مَبْسُوطًا وَاضِحًا فَإِنِّي إنَّمَا أَقْصِدُ بِذَلِكَ إنْ شَاءَ اللَّهُ الْإِيضَاحَ وَالتَّيْسِيرَ وَالنَّصِيحَةَ لِمُطَالِعِهِ وَإِعَانَتَهُ وَإِغْنَاءَهُ عَنْ مُرَاجَعَةِ غَيْرِهِ فِي بَيَانِهِ وَهَذَا مَقْصُودُ الشُّرُوحِ فَمَنْ اسْتَطَالَ شَيْئًا مِنْ هَذَا وَشِبْهِهِ فَهُوَ بَعِيدٌ مِنْ الْإِتْقَانِ مُبَاعِدٌ لِلْفَلَاحِ فِي هَذَا الشَّأْنِ؛ فَلْيُعَزِّ نَفْسَهُ لِسُوءِ حَالِهِ وَلْيَرْجِعْ عَمَّا ارْتَكَبَهُ مِنْ قَبِيحِ فِعَالِهِ، وَلَا يَنْبَغِي لِطَالِبِ التَّحْقِيقِ وَالتَّنْقِيحِ وَالْإِتْقَانِ وَالتَّدْقِيقِ أَنْ يَلْتَفِتَ إلَى كَرَاهَةِ أَوْ سَآمَةِ ذَوِي الْبَطَالَةِ وَأَصْحَابِ الْغَبَاوَةِ وَالْمَهَانَةِ وَالْمَلَالَةِ، بَلْ يَفْرَحُ بِمَا يَجِدُهُ مِنْ الْعِلْمِ مَبْسُوطًا وَمَا يُصَادِفُهُ مِنْ الْقَوَاعِدِ وَالْمُشْكِلَاتِ وَاضِحًا مَضْبُوطًا، وَيَحْمَدُ اللَّهَ الْكَرِيمَ عَلَى تَيْسِيرِهِ وَيَدْعُو لِجَامِعِهِ السَّاعِي فِي تَنْقِيحِهِ وَإِيضَاحِهِ وَتَقْرِيرِهِ وَفَّقَنَا اللَّهُ الْكَرِيمُ لِمَعَالِي الْأُمُورِ وَجَنَّبَنَا بِفَضْلِهِ جَمِيعَ أَنْوَاعِ الشُّرُورِ وَجَمَعَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ أَحِبَّائِنَا فِي دَارِ الْحُبُورِ انْتَهَى.

وَالْحُبُورُ بِضَمِّ الْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ وَالْبَاءِ الْمُوَحَّدَةِ السُّرُورُ وَأَرْجُو إنْ تَمَّ هَذَا الشَّرْحُ الْمُبَارَكُ أَنْ يُسْتَغْنَى بِهِ عَنْ كَثِيرٍ مِنْ الْمُطَوَّلَاتِ وَالْمُخْتَصَرَاتِ جَعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَنَفَعَ بِهِ فِي الْحَيَاةِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ إنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ مُجِيبُ الدَّعَوَاتِ، (وَسَمَّيْتُهُ مَوَاهِبَ الْجَلِيلِ فِي شَرْحِ
ইবনে গাজী গ্রন্থকারের এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন: "যদি নাপাকির পরিবর্তন দূূরীভূত হয় কিন্তু তা প্রচুর পরিমাণ ‘মুতলাক’ (বিশুদ্ধ) পানির মাধ্যমে না হয়।"

আমি গ্রানাডার খতিব, আল্লামা শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল মাওয়াক আল-আন্দালুসি যা লিখেছেন তার একটি অংশের পাণ্ডুলিপি পেয়েছি। উদ্ধৃতিসমূহ যাচাইয়ের দিক থেকে এটি চমৎকার, তবে তিনি গ্রন্থকারের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কোনো আলোকপাত করেননি। আমি ইবনুল হাজিব ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং শায়খ ইবনে আরাফাহ ও অন্যদের বক্তব্যের ওপরও আলোকপাত করছি মাসআলাসমূহ স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে, তাদের উচ্চ মর্যাদাকে খাটো করার জন্য নয়। কারণ আমি জানি যে, এতে তাদের মর্যাদার কোনো হানি হয় না এবং আমি এমন হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই যে এই উদ্দেশ্য পোষণ করে। ইমাম নববী ‘কিতাবুত তিবইয়ান’-এ বলেছেন: দুই মহান ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা) বলেছেন: "যদি উলামাগণ আল্লাহর ওলি না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলি নেই।" আর তিনি এটি ‘শারহুল মুহাযযাব’-এ এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: "যদি ফকিহগণ আল্লাহর ওলি না হন, তবে আল্লাহর কোনো ওলি নেই।"

সহিহ হাদিসে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সাথে শত্রুতা করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম।” ইমাম আবুল কাসিম ইবনে আসাকির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: হে আমার ভাই! জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে তাঁর সন্তুষ্টির তাওফিক দান করুন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা তাঁকে ভয় করে এবং যথাযথভাবে তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে—নিশ্চয়ই আলেমদের গোশত বিষাক্ত, এবং তাদের কুৎসা রটনাকারীদের পর্দা উন্মোচন করে দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম সবার জানা। যে ব্যক্তি আলেমদের বিরুদ্ধে নিন্দা করার মাধ্যমে স্বীয় জবান উন্মুক্ত করে দেয়, আল্লাহ তার মৃত্যুর পূর্বে তার অন্তরের মৃত্যু ঘটিয়ে তাকে পরীক্ষায় ফেলেন। {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে} [আন-নূর: ৬৩]। আর তাঁর উক্তি: ‘আযানতুহু বিল হারব’—এর অর্থ হলো, আমি তাকে জানিয়ে দিলাম যে সে আমার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। আর ‘আস-সালব’ অর্থ হলো দোষারোপ করা বা নিন্দা করা।

আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন আমাদের অন্তরের কলুষতা দূর করে দেন এবং আমাদের নফস যা গোপন করে ও আমাদের মনে যা সংগুপ্ত আছে তার জন্য যেন আমাদের পাকড়াও না করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতি দয়ালু। আমি কোনো বিষয়েই পূর্ণাঙ্গতা ও শেষ সীমানায় পৌঁছানোর দাবি করি না। বরং এসবই আমার সীমিত জ্ঞান ও দুর্বল বোধ অনুযায়ী, যাকে জ্ঞান বা বোধ হিসেবে নাম দিতেও লজ্জা হয়। এরপর শারহটি (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) যেভাবে করার কথা উল্লেখ করেছিলাম, তা সম্পন্ন করার পথে কিছু প্রতিবন্ধকতা আসলো। ফলে আমার কাছে যা বিদ্যমান ছিল, তা থেকে সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিত করার যতটুকু সহজ হয়েছে, তার ওপর আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্ধৃতিসমূহ মূল উৎসের দিকে সম্পৃক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তবে শায়খ বাহরাম, আত-তাওযীহ, ইবনে আব্দুস সালাম এবং ইবনে আরাফাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে যা উদ্ধৃত করব, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা তাদের দিকে নিসবত (সম্পৃক্ত) করব না; কেবল দুর্লভ কিছু হলে বা অপ্রাসঙ্গিক স্থানে উল্লেখ করা হলে অথবা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে তা করা হবে।

শাফেয়ী মাজহাবের ইবনে জামাআহ তাঁর বড় ‘মানসাক’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সুফিয়ান সাওরি থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "উপকারকে তার প্রদানকারীর দিকে নিসবত করা ইলমের সততা ও কৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত। আর সে বিষয়ে চুপ থাকা ইলমের মিথ্যাচার ও অকৃতজ্ঞতার শামিল।" আমি প্রত্যেকের কাছে ইলমের ফায়দা পৌঁছে দেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় বিস্তারিত বর্ণনা, ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের দিকেই বেশি ঝুঁকছি। যখন আমি বিভিন্ন উদ্ধৃতি উল্লেখ করি, তখন শেষে তার সারসংক্ষেপও বলে দেই; এতে কথা দীর্ঘ হলেও পাঠকের ক্লান্ত হওয়া উচিত নয়, কারণ এতে অনেক বড় ফায়দা রয়েছে।

ইমাম নববী ‘শারহ মুসলিম’-এ বলেছেন: এই শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) পাঠকারীর উচিত নয় কোনো কিছু বিস্তারিত ও স্পষ্ট দেখে বিরক্ত হওয়া। কারণ আমি এর মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছায় কেবল পাঠকের জন্য বিষয়টিকে স্পষ্ট করা, সহজ করা এবং নসিহত করা ও তাকে তার বিবরণের জন্য অন্য কোনো গ্রন্থের দিকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী করতে চেয়েছি। আর এটিই ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মূল উদ্দেশ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি একে বা এর সদৃশ বিষয়কে দীর্ঘ মনে করবে, সে আসলে দক্ষতা অর্জন থেকে অনেক দূরে এবং এই পথে সফলতা থেকেও বিচ্যুত। তার উচিত তার মন্দ অবস্থার জন্য নিজেকে ধিক্কার দেওয়া এবং সে যে নিকৃষ্ট কাজ করেছে তা থেকে ফিরে আসা। তাহকিক (গবেষণা), বিন্যাস, নিপুণতা ও সূক্ষ্মতা অন্বেষণকারীর উচিত নয় অলস, নির্বোধ, হীনমনা ও উটকো ব্যক্তিদের অপছন্দ বা বিরক্তির দিকে ভ্রুক্ষেপ করা। বরং সে ইলমের যা কিছু বিস্তারিত পাবে তাতে আনন্দিত হবে এবং যেসব মূলনীতি ও জটিল বিষয় সুশৃঙ্খলভাবে স্পষ্টভাবে পাবে তাতে তৃপ্ত হবে। সে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবে তাঁর সহজ করে দেওয়ার জন্য এবং এর সংকলনকারীর জন্য দোয়া করবে যে এর বিন্যাস, স্পষ্টীকরণ ও সাবলীল করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে। মহান আল্লাহ আমাদের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কাজ করার তাওফিক দিন এবং স্বীয় করুণায় আমাদের যাবতীয় মন্দ থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের ও আমাদের প্রিয়জনদের আনন্দের আবাসে (জান্নাতে) একত্রিত করুন—সমাপ্ত।

এখানে ‘হুবুর’ বলতে আনন্দকে বোঝানো হয়েছে। আমি আশা করি এই বরকতময় ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পন্ন হলে এর মাধ্যমে অনেক দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের অভাব পূরণ হবে। আল্লাহ একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এর মাধ্যমে ফায়দা দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী, নিকটবর্তী ও দোয়া কবুলকারী। (আমি এর নাম দিয়েছি মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি... )
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٥)
مُخْتَصَرِ الشَّيْخِ خَلِيلٍ)

 

‌‌[سِلْسِلَةَ الْفِقْهِ إلَى الْإِمَامِ مَالِكٍ ثُمَّ إلَى رَسُولِ اللَّهِ]

وَلْنَذْكُرْ سِلْسِلَةَ الْفِقْهِ إلَى الْإِمَامِ مَالِكٍ رحمه الله وَرَضِيَ عَنْهُ ثُمَّ إلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ النَّوَوِيُّ: وَهَذَا مِنْ الْمَطْلُوبَاتِ الْمُهِمَّاتِ وَالنَّفَائِسِ الْجَلِيَّاتِ الَّتِي يَنْبَغِي لِلْفَقِيهِ وَالْمُتَفَقِّهِ مَعْرِفَتُهَا وَيَقْبُحُ بِهِ جَهَالَتُهَا، فَإِنَّ شُيُوخَهُ فِي الْعِلْمِ آبَاءٌ فِي الدِّينِ وَوَصْلَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَكَيْفَ لَا يَقْبُحُ جَهْلُ الْأَنْسَابِ وَالْوَصْلَةِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَبِّهِ الْكَرِيمِ الْوَهَّابِ مَعَ أَنَّهُ مَأْمُورٌ بِالدُّعَاءِ لَهُمْ وَبِرِّهِمْ وَذِكْرِ مَآثِرِهِمْ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِمْ وَالشُّكْرِ لَهُمْ انْتَهَى.

(فَأَقُولُ) أَخَذْت الْفِقْهَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ سَيِّدِي وَالِدِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَطَّابُ رحمه الله وَهُوَ أَخَذَ الْفِقْهَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ الْعَارِفُ بِاَللَّهِ تَعَالَى أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ الْمَعْرُوفُ بِالْعَلَمِيِّ وَالْعَلَّامَةُ قَاضِي الْقُضَاةِ بِالْمَدِينَةِ الشَّرِيفَةِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى السَّخَاوِيُّ وَهُمَا أَخَذَا الْفِقْهَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الْعَلَّامَةُ الْمُحَقِّقُ قَاضِي الْقُضَاةِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْبِسَاطِيُّ شَارِحُ الْمُخْتَصَرِ الْمُتَقَدِّمُ ذِكْرُهُ وَأَخَذَ الثَّانِي مِنْهُمَا أَيْضًا عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ النُّوَيْرِيِّ (ح) وَحَضَرَ الْوَالِدُ أَيْضًا بَعْضَ دُرُوسِ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْعَالِمِ الْعَلَّامَةِ: شَيْخُ الْمَالِكِيَّةِ فِي زَمَانِهِ نُورُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ السَّنْهُورِيُّ وَهُوَ أَخَذَ الْفِقْهَ عَنْ الْإِمَامِ الْعَلَّامَةِ زَيْنِ الدِّينِ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ النُّوَيْرِيِّ وَأَخَذَ الْبَاسِطِيُّ الْفِقْهَ عَنْ الْعَلَّامَةِ قَاضِي الْقُضَاةِ أَبِي الْبَقَاءِ بَهْرَامَ الشَّارِحُ الْمُتَقَدِّمُ أَيْضًا وَالْعَلَّامَةِ الْمُؤَرِّخِ قَاضِي الْقُضَاةِ أَبِي زَيْدٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَلْدُونٍ وَأَخَذَ الشَّيْخُ بَهْرَامُ الْفِقْهَ عَنْ الشَّيْخِ الْعَلَّامَةِ وَلِيِّ اللَّهِ تَعَالَى خَلِيلِ بْنِ إِسْحَاقَ صَاحِبُ الْمُخْتَصَرِ وَهُوَ أَخَذَ الْفِقْهَ عَنْ الشَّيْخِ الْعَالِمِ الْعَامِلِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمَنُوفِيِّ وَهُوَ أَخَذَ الْفِقْهَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ شَيْخُ الْمَالِكِيَّةِ الشَّيْخُ زَيْنُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الشَّهِيرُ بِالْقَوْبَعِ وَهُوَ أَخَذَ الْفِقْهَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الشَّيْخُ يَحْيَى بْنُ الْفَرَجِ بْنِ زَيْتُونٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَاضِي تُونِسَ وَأَخَذَ عَنْ ابْنِ حُبَيْشٍ وَابْنِ الدَّارِسِ.

وَأَخَذَ الْقَاضِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَلْدُونٍ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ قَاضِي الْجَمَاعَةِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ الْهَوَّارِيُّ (ح) وَأَخَذَ أَبُو الْقَاسِمِ النُّوَيْرِيُّ وَالشَّيْخُ طَاهِرُ النُّوَيْرِيُّ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الْبَدْرُ حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْبُوصِيرِيُّ وَأَخَذَ الْبَدْرُ الْبُوصِيرِيُّ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الشَّيْخُ خَلِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ وَالشَّيْخُ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ هِلَالٍ الرَّبَعِيُّ وَأَخَذَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنُ هِلَالٍ عَنْ قَاضِي الْقُضَاةِ فَخْرِ الدِّينِ بْنِ الْجُلْطَةِ وَتَفَقَّهَ فَخْرُ الدِّينِ بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ فِرَاخ الإسكندراني وَتَفَقَّهَ ابْنُ فِرَاخٍ بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ عَطَاءِ اللَّهِ وَتَفَقَّهَ ابْنُ عَطَاءِ اللَّهِ بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الْأُسْتَاذُ أَبُو بَكْرٍ الطُّرْطُوشِيُّ وَتَفَقَّهَ الطُّرْطُوشِيُّ بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الْقَاضِي أَبُو الْوَلِيدِ الْبَاجِيُّ (ح) وَأَخَذَ سَيِّدِي الْوَالِدُ أَيْضًا عَنْ الشَّيْخِ عَبْدِ الْمُعْطِي بْنِ خَصِيبٍ التُّونُسِيِّ وَهُوَ أَخَذَ عَنْ قَاضِي الْجَمَاعَةِ بِتُونِسَ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْقَلْشَانِيِّ.

وَأَخَذَ سَيِّدِي الْوَالِدُ أَيْضًا عَنْ الشَّيْخِ زَرُّوق وَهُوَ أَخَذَ عَنْ الشَّيْخِ أَبِي زَيْدٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلُوفٍ الثَّعَالِبِيِّ وَعَنْ الشَّيْخِ أَحْمَدَ حُلُولُو وَالْأَوَّلُ مِنْهُمَا أَخَذَ عَنْ الْأَبِيِّ وَأَخَذَ الشَّلْقَانِيُّ وَالْأَبِيُّ عَنْ ابْنِ عَرَفَةَ وَهُوَ أَخَذَ عَنْ ابْنِ عَبْدِ السَّلَامِ وَأَخَذَ ابْنُ عَبْدِ السَّلَامِ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ وَأَخَذَ ابْنُ هَارُونَ عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ أَحْمَدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ بَقِيٍّ وَأَخَذَ ابْنُ بَقِيٍّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْحَقِّ وَأَخَذَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ فَرَجٍ مَوْلَى ابْنِ الطَّلَّاعِ وَأَخَذَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَوْلَى ابْنِ الطَّلَّاعِ وَالْقَاضِي أَبُو الْوَلِيدِ الْبَاجِيُّ عَنْ أَبِي طَالِبٍ مَكِّيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُخْتَارٍ الْقَيْسِيِّ وَتَفَقَّهَ مَكِّيٌّ بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْقُدْوَةُ الْوَرِعُ جَامِعُ مَذْهَبِ مَالِكٍ وَشَارِحُ أَقْوَالِهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي زَيْدٍ الْقَيْرَوَانِيُّ
(শেখ খলীল-এর মুখতাসার)

 

‌‌[ইমাম মালিক এবং তাঁর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ পর্যন্ত ফিকহের সিলসিলা]

ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ ও রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত ফিকহের সিলসিলাটি আমরা উল্লেখ করছি। ইমাম নববী বলেছেন: এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাম্য বিষয় এবং সুউজ্জ্বল মূল্যবান তথ্যের অন্তর্ভুক্ত, যা একজন ফকীহ এবং ফিকহ শিক্ষার্থীর জানা উচিত এবং এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকা তার জন্য অশোভনীয়। কেননা, জ্ঞানের ক্ষেত্রে তার উস্তাদগণ দ্বীনের ব্যাপারে তার পিতার মতো এবং তার ও রাব্বুল আলামীনের মধ্যে যোগসূত্র স্বরূপ। আর কীভাবে নিজ বংশপরিচয় এবং তার ও তার মহান করুণাময় এবং পরম দাতা রবের মধ্যকার যোগসূত্র সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অশোভনীয় হবে না? অথচ তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের জন্য দুআ করার, তাদের সাথে সদাচরণ করার, তাদের কীর্তিগাথা বর্ণনা করার, তাদের প্রশংসা করার এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার। (সমাপ্ত)

(আমি বলছি) আমি একদল আলিমের নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেছি, তাদের মধ্যে রয়েছেন আমার মহোদয় পিতা মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল-হাত্তাব (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি একদল আলিমের নিকট থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মহান আল্লাহর মারেফতপ্রাপ্ত আলেম শায়খ আল্লামা আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আহমাদ বিন আবদুস সালাম, যিনি আল-আলামী নামে পরিচিত; এবং পবিত্র মদিনার প্রধান বিচারক আল্লামা মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুসা আস-সাখাভী। তাঁরা উভয়ে একদল আলিমের নিকট থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন পর্যালোচক আল্লামা প্রধান বিচারক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান আল-বিসাতি, যিনি পূর্বে উল্লিখিত মুখতাসার-এর ব্যাখ্যাকার। তাঁদের দ্বিতীয়জন (সাখাভী) আবু কাসেম মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আন-নুওয়াইরীর নিকট থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। (হ) আমার পিতা আলিম ও আল্লামা ইমাম শায়খের কিছু পাঠেও উপস্থিত ছিলেন, যিনি নিজ সময়ের মালিকি মাযহাবের প্রধান শায়খ নূরুদ্দীন আবু হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আস-সানহুরী। তিনি ফিকহ গ্রহণ করেছেন ইমাম আল্লামা জাইনুদ্দীন তাহের বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আন-নুওয়াইরীর নিকট থেকে। আর আল-বিসাতি ফিকহ গ্রহণ করেছেন আল্লামা প্রধান বিচারক আবু বাকা বাহরামের নিকট থেকে, যিনিও পূর্বে উল্লিখিত ব্যাখ্যাকার। এছাড়াও তিনি আল্লামা ঐতিহাসিক প্রধান বিচারক আবু জায়েদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন খালদুনের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। শায়খ বাহরাম ফিকহ অর্জন করেছেন আল্লামা শায়খ ও আল্লাহর ওলী খলীল বিন ইসহাকের নিকট থেকে, যিনি মুখতাসার-এর রচয়িতা। তিনি ফিকহ গ্রহণ করেছেন আমলদার আলেম শায়খ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানুফীর নিকট থেকে। তিনি একদল আলিমের নিকট থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে মালিকি মাযহাবের শায়খ জাইনুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান রয়েছেন, যিনি আল-কাউবা' নামে পরিচিত। তিনি ফিকহ গ্রহণ করেছেন একদল আলিমের নিকট থেকে, যাদের মধ্যে শায়খ ইয়াহইয়া বিন আল-ফারাজ বিন জাইতুন এবং তিউনিসের বিচারক মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান রয়েছেন। তিনি ইবনুল হুবাইশ এবং ইবনুদ্ দারিসের নিকট থেকেও গ্রহণ করেছেন।

বিচারক আবদুর রহমান বিন খালদুন একদল আলিমের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে প্রধান বিচারক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবদুস সালাম আল-হাওয়ারী রয়েছেন। (হ) আবু কাসেম আন-নুওয়াইরী এবং শায়খ তাহের আন-নুওয়াইরী একদল আলিমের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে বদর হুসাইন বিন আলী আল-বুসিরী রয়েছেন। বদর আল-বুসিরী একদল আলিমের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে শায়খ খলীল বিন ইসহাক এবং শায়খ আহমাদ বিন উমর বিন হিলাল আর-রাবায়ি রয়েছেন। শায়খ আহমাদ বিন উমর বিন হিলাল গ্রহণ করেছেন প্রধান বিচারক ফখরুদ্দীন বিন আল-জুলতার নিকট থেকে। ফখরুদ্দীন ফিকহ শিখেছেন একদল আলিমের নিকট থেকে, যাদের মধ্যে আবু হাফস উমর বিন ফিরাখ আল-ইসকান্দারানী রয়েছেন। ইবনে ফিরাখ ফিকহ শিখেছেন একদল আলিমের নিকট থেকে, যাদের মধ্যে আবু মুহাম্মাদ আহমাদ বিন আব্দুল কারিম বিন আতাউল্লাহ রয়েছেন। ইবনে আতাউল্লাহ ফিকহ শিখেছেন একদল আলিমের নিকট থেকে, যাদের মধ্যে উস্তাদ আবু বকর আত-তুতুশী রয়েছেন। আত-তুতুশী ফিকহ শিখেছেন একদল আলিমের নিকট থেকে, যাদের মধ্যে কাযী আবু ওয়ালিদ আল-বাজী রয়েছেন। (হ) আমার মহোদয় পিতা শায়খ আব্দুল মুতী বিন খাসীব তিউনিসীর নিকট থেকেও গ্রহণ করেছেন। তিনি তিউনিসের প্রধান বিচারক আবু আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কালশানীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন।

আমার মহোদয় পিতা শায়খ যাররূকের নিকট থেকেও গ্রহণ করেছেন। তিনি শায়খ আবু জায়েদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন মাখলূফ আস-সাআলিবি এবং শায়খ আহমাদ হুলুলু-এর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের প্রথমজন (আস-সাআলিবি) আল-উব্বীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আশ-শালকানী এবং আল-উব্বী ইবনে আরাফার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। তিনি ইবনে আবদুস সালামের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। ইবনে আবদুস সালাম একদল আলিমের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন হারুন রয়েছেন। ইবনে হারুন আবু কাসেম আহমাদ বিন ইয়াজিদ বিন আহমাদ বিন বাকী-র নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। ইবনে বাকী মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন আব্দুল হাক্কের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান ইবনে তিলা'-এর মুক্তদাস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ফারাজের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ (ইবনে তিলা'-এর মুক্তদাস) এবং কাযী আবু ওয়ালিদ আল-বাজী আবু তালিব মাক্কী বিন মুহাম্মাদ বিন মুখতার আল-কাইসির নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। মাক্কী একদল আলিমের নিকট থেকে ফিকহ শিখেছেন, যাদের মধ্যে মালিকি মাযহাবের সংকলক ও তাঁর উক্তিগুলোর ব্যাখ্যাকার আদর্শ পরহেজগার ইমাম শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি জায়েদ আল-কাইরাওয়ানী রয়েছেন।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٦)
وَهُوَ تَفَقَّهَ بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الْإِمَامُ الْقُدْوَةُ الزَّاهِدُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ اللُّبَابِ وَهُوَ تَفَقَّهَ بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الْإِمَامُ الْقُدْوَةُ الزَّاهِدُ مُجَابُ الدَّعْوَةِ أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ الْبَلَوِيُّ الْأَفْرِيقِيُّ صَاحِبُ كِتَابِ اخْتِلَافِ ابْنِ الْقَاسِمِ وَأَشْهَبَ وَهُوَ تَفَقَّهَ بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الْإِمَامَانِ الْحُجَّةُ الزَّاهِدُ أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ السَّلَامِ الْمَدْعُوّ بِسَحْنُونٍ وَالْعَلَّامَةُ الْقُدْوَةُ أَبُو مَرْوَانَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ وَهُمَا تَفَقَّهَا بِجَمَاعَةٍ مِنْهُمْ الْإِمَامَانِ الْفَقِيهُ الْقُدْوَةُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ خَالِدٍ الْعُتَقِيُّ وَالْعَلَّامَةُ الزَّاهِدُ أَبُو عُمَرَ أَشْهَبُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَاسْمُهُ مِسْكِينٌ وَهُمَا تَفَقَّهَا بِالْإِمَامِ الْمُجْتَهِدِ إمَامُ دَارِ الْهِجْرَةِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَالِكِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْمَدَنِيِّ وَهُوَ تَفَقَّهَ بِجَمَاعَةٍ مِنْ عُلَمَاءِ التَّابِعِينَ مِنْهُمْ رَبِيعَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَنَافِعُ وَتَفَقَّهَ رَبِيعَةُ عَلَى أَنَسٍ وَتَفَقَّهَ نَافِعٌ عَلَى ابْنِ عُمَرَ وَكِلَاهُمَا مِمَّنْ أَخَذَ عَنْ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ أَبِي الْقَاسِمِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى سَائِرِ النَّبِيِّينَ

 

‌‌[سَنَدِ الْكِتَابِ وَشُرُوحِهِ وَسَنَدِ بَعْضِ كُتُبِ الْمَذْهَبِ الْمَشْهُورَةِ]

(وَلَا بَأْسَ بِذِكْرِ سَنَدِ الْكِتَابِ وَشُرُوحِهِ وَسَنَدِ بَعْضِ كُتُبِ الْمَذْهَبِ الْمَشْهُورَةِ تَتْمِيمًا لِلْفَائِدَةِ) فَإِنَّ الْأَسَانِيدَ خَصِيصَةٌ بِهَذِهِ الْأُمَّةِ شَرَّفَهَا اللَّهُ تَعَالَى فَيَنْبَغِي الِاعْتِنَاءُ بِهِ اقْتِدَاءً بِالسَّلَفِ وَحِفْظًا لِلشَّرَفِ وَقَالَ شَيْخُ شُيُوخِنَا شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنُ حَجَرٍ الشَّافِعِيُّ فِي أَوَّلِ فَتْحِ الْبَارِي سَمِعْت بَعْضَ الْفُضَلَاءِ يَقُولُ: الْأَسَانِيدُ أَنْسَابُ الْكُتُبِ فَأَحْبَبْت أَنْ أَسُوقَ هَذِهِ الْأَسَانِيدَ مَسَاقَ الْأَنْسَابِ انْتَهَى (الْمُوَطَّأُ لِلْإِمَامِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ) وَلْنَقْتَصِرْ عَلَى رِوَايَةِ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى اللَّيْثِيِّ الْأَنْدَلُسِيِّ لِأَنَّهَا أَشْهَرُ رِوَايَاتِهِ وَهِيَ مِمَّا انْفَرَدَ بِرِوَايَتِهَا الْمَغَارِبَةُ أَخْبَرَنِي بِهِ مَنْ الطَّرِيقِ الْمَذْكُورَةِ جَمْعٌ مِنْ الْمَشَايِخِ مِنْهُمْ سَيِّدِي وَالِدِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَطَّابِ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ لِجَمِيعِهِ بِالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ سَنَةَ اثْنَيْنِ وَعِشْرِينَ وَتِسْعِمِائَةٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي بِهِ الْعَلَّامَةُ الْمُسْنِدُ شَمْسُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرِ الدِّينِ الْمَرَاغِيُّ سَمَاعًا لِبَعْضِهِ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ.

(ح) وَأَخْبَرَنِي بِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةِ الشَّيْخَانِ الْمُسْنِدَانِ الْعَلَّامَةُ الْمُحَقِّقُ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّنْبَاطِيُّ وَخَطِيبُ مَكَّةَ الْمُشَرَّفَةِ الْمُحِبُّ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ النُّوَيْرِيُّ قِرَاءَةً عَلَى الْأَوَّلِ لِقِطْعَةٍ مِنْ أَوَّلِهِ وَإِجَازَةً وَمُنَاوَلَةً لِسَائِرِهِ وَسَمَاعًا عَلَى الثَّانِي لِمَجْلِسِ الْخَتْمِ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ قَالَ الْأَوَّلُ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْعَلَّامَةُ مُفْتِي الْمُسْلِمِينَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حُصَيْنٍ الْحَسَنِيُّ النَّسَّابَةُ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ عَمِّي أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حُصَيْنٍ النَّسَّابَةُ وَقَالَ الثَّانِي وَالشَّمْسُ الْمَرَاغِيُّ: أَخْبَرَنَا بِهِ قَاضِي الْقُضَاةِ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَجَرٍ وَالْإِمَامُ الرِّحْلَةُ شَرَفُ الدِّينِ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمَرَاغِيُّ وَهُوَ عَمُّ شَمْسِ الدِّينِ الْمَرَاغِيِّ قَالَ شَيْخُنَا الْخَطِيبُ إجَازَةً مِنْ الْأَوَّلِ وَسَمَاعًا عَلَى الثَّانِي وَقَالَ الشَّمْسُ الْمَرَاغِيُّ إجَازَةً مِنْ الْأَوَّلِ وَمِنْ الثَّانِي إنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا قَالَ ابْنُ حَجَرٍ أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو إِسْحَاقَ إبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ التَّنُوخِيُّ الْبَغْلِيُّ.

وَقَالَ الشَّرَفُ الْمَرَاغِيُّ أَخْبَرَنَا بِهِ الْعَلَّامَةُ قَاضِي الْمَدِينَةِ الشَّرِيفَةِ إبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ فَرْحُونٍ الْيَعْمُرِيُّ قَالَ هُوَ وَالتَّنُوخِيُّ وَالنَّسَّابَةُ الْأَكْبَرُ أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ الْوَادّآشي سَمَاعًا قَالَ: قَرَأْت عَلَى أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هَارُونَ الطَّائِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ قَاضِي الْقُضَاةِ أَبُو الْقَاسِمِ أَحْمَدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ بَقِيٍّ الْخَلَوِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْحَقِّ الْخَزْرَجِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ فَرَجٍ مَوْلَى ابْنِ الطَّلَّاعِ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْقَاضِي أَبُو الْوَلِيدِ يُونُسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغِيثٍ الصَّفَّارُ (ح) وَأَنْبَأَنَا بِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةٍ أُخْرَى الْمَشَايِخُ الثَّلَاثَةُ قُضَاةُ الْقُضَاةِ وَمَشَايِخُ الْإِسْلَامِ أَبُو مُحَمَّدٍ زَكَرِيَّا بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيُّ وَالْبُرْهَانُ الْقَلْقَشَنْدِيُّ وَالْبُرْهَانُ بْنُ أَبِي شَرِيفٍ مُكَاتَبَةً مِنْهُمْ قَالُوا وَالسَّنْبَاطِيُّ وَالْخَطِيبُ وَالنُّوَيْرِيُّ وَالشَّمْسُ الْمَرَاغِيُّ أَنْبَأَنَا بِهِ الْعِزُّ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفُرَاتِ عَنْ الْقَاضِي عِزِّ الدِّينِ بْنِ جَمَاعَةَ
তিনি তাদের এক জামাতের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনুসরণীয় ইমাম, যাহিদ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল লুবাব। তিনি তাদের এক জামাতের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনুসরণীয় ইমাম, যাহিদ, কবুলিয়াতপ্রাপ্ত দুআর অধিকারী আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন উমর বিন ইউসুফ আল-বালাবি আল-ইফরিকি, যিনি ‘ইখতিলাফু ইবনিল কাসিম ওয়া আশহাব’ কিতাবের লেখক। তিনি এক জামাতের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন যাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই ইমাম, হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ), যাহিদ আবু সাঈদ আবদুস সালাম—যাঁকে সাহনুন বলা হয়—এবং আল্লামা, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক বিন হাবীব। তাঁরা উভয়ে এক জামাতের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন যাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই ইমাম, ফকীহ, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব আবু আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান বিন আল-কাসিম বিন খালিদ আল-উতাকি এবং আল্লামা, যাহিদ আবু উমর আশহাব বিন আব্দুল আজিজ—যাঁর নাম মিসকীন। তাঁরা উভয়ে মুজতাহিদ ইমাম, দারুল হিজরতের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আনাস বিন মালিক বিন আবি আমির বিন আমর বিন হারিস আল-মাদানির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তিনি তাবিঈন উলামাগণের এক জামাতের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাবিআহ বিন আব্দুর রহমান ও নাফি। রাবিআহ আনাস (রাযি.)-এর নিকট এবং নাফি ইবনে উমর (রাযি.)-এর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তাঁরা উভয়েই রাসূলগণের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম আবু কাসিম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সমস্ত নবীগণের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন।

 

‌‌[কিতাবের সনাদ, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং মাযহাবের কিছু প্রসিদ্ধ কিতাবের সনাদ]

(উপকারিতাকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য কিতাবের সনাদ, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং মাযহাবের কিছু প্রসিদ্ধ কিতাবের সনাদ উল্লেখ করাতে কোনো সমস্যা নেই।) কারণ সনাদ বা বর্ণনাপরম্পরা এই উম্মতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে সম্মানিত করেছেন। সুতরাং সালাফদের অনুসরণ ও মর্যাদা রক্ষার খাতিরে এর প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। আমাদের শাইখদের শাইখ, শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার শাফিঈ ফাতহুল বারীর শুরুতে বলেছেন: আমি কোনো কোনো গুণী ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, ‘সনাদসমূহ হলো কিতাবের বংশপরিচয়।’ তাই আমি এই সনাদগুলোকে বংশপরিচয়ের ধারায় বর্ণনা করা পছন্দ করলাম। সমাপ্ত। (ইমাম মালিক বিন আনাস-এর মুয়াত্তা) আমরা এখানে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-লাইসি আল-আন্দালুসির বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকব, কারণ এটিই তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বর্ণনা এবং এটি এমন এক বর্ণনা যা কেবল মাগরিবের অধিবাসীগণই এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত পথ অনুযায়ী একদল মাশায়েখ আমাকে এটি সম্পর্কে অবহিত করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-হাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। ৯২২ হিজরীতে মসজিদুল হারামে তাঁর নিকট পূর্ণ কিতাবটি পাঠ করার মাধ্যমে আমি এটি লাভ করি। তিনি বলেন: আমাকে আল্লামা, মুসনিদ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন নাসিরুদ্দিন আল-মারাজি এটি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যার কিছু অংশ শ্রবণের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ ইজাজতের মাধ্যমে প্রাপ্ত।

(হ) আরও এক স্তর উচ্চতর সনদে আমাকে দুইজন মুসনিদ শাইখ এটি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন: আল্লামা, মুহাক্কিক আব্দুল হক বিন মুহাম্মদ আস-সিমবাতি এবং মক্কা মুশাররাফার খতিব মুহিব্ব আহমদ বিন আবু কাসিম আন-নুওয়াইরি। প্রথমোক্ত জনের কাছে কিতাবটির শুরুর অংশ পাঠ করার মাধ্যমে এবং বাকি অংশ ইজাজত ও হস্তান্তরের (মুনওয়ালা) মাধ্যমে প্রাপ্ত। আর দ্বিতীয় জনের কাছে খতমের মজলিসে শ্রবণের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ ইজাজতের মাধ্যমে প্রাপ্ত। প্রথমজন বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিমদের মুফতি, আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-হাসানি আন-নাসসাবাহ। তিনি বলেন: আমাকে আমার চাচা আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হুসাইন আন-নাসসাবাহ সংবাদ দিয়েছেন। দ্বিতীয় জন এবং শামস আল-মারাজি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযীউল কুযাত, শাইখুল ইসলাম আবু ফজল আহমদ বিন আলী বিন হাজার এবং পর্যটক ইমাম শারাফুদ্দিন আবু ফাতহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মারাজি—যিনি শামসুদ্দিন আল-মারাজির চাচা। আমাদের শাইখ খতিব ইজাজতের মাধ্যমে প্রথম জনের নিকট থেকে এবং শ্রবণের মাধ্যমে দ্বিতীয় জনের নিকট থেকে এটি লাভ করেছেন। শামস আল-মারাজি বলেন, তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় জনের নিকট থেকে ইজাজতের মাধ্যমে এটি লাভ করেছেন যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে। ইবনে হাজার বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আত-তানুখি আল-বাগলি।

শারাফ আল-মারাজি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মদীনা শরিফের কাযী, আল্লামা ইব্রাহিম বিন আবু কাসিম বিন ফারহুন আল-ইয়া’মুরি। তিনি, আত-তানুখি এবং বড় নাসসাবাহ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাবির আল-ওয়াদিয়াশি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হারুন আত-তাঈ-এর নিকট পাঠ করেছি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযীউল কুযাত আবু কাসিম আহমদ বিন ইয়াযীদ বিন আহমদ বিন বাকি আল-খালাবি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল হক আল-খাযরাজি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুত তাল্লা-এর মুক্তদাস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফারাজ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী আবু ওয়ালিদ ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ বিন মুগীস আস-সাফফার। (হ) আরও এক স্তর উচ্চতর সনদে তিন শাইখ, কাযীউল কুযাত ও শাইখুল ইসলাম আবু মুহাম্মদ যাকারিয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী, বুরহান আল-কালকাশান্দি এবং বুরহান বিন আবু শারিফ চিঠিপত্রের মাধ্যমে আমাকে এটি অবহিত করেছেন। তাঁরা এবং আস-সিমবাতি, খতিব, আন-নুওয়াইরি ও শামস আল-মারাজি বলেন: আমাদের এটি অবহিত করেছেন ইযয আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফুরাত, কাযী ইযযুদ্দিন বিন জামাআহর সূত্রে।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٧)
قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْأُسْتَاذُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ الزُّبَيْرِ مُكَاتَبَةً مِنْ الْمَغْرِبِ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو الْخَطَّابِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ خَلِيلٍ قِرَاءَةً وَسَمَاعًا قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ زَرْقُونٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَوْلَانِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ اللَّخْمِيُّ قَالَ: هُوَ وَابْنُ مُغِيثٍ أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو عِيسَى يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ عَمُّ أَبِي مَرْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنِي بِهِ أَبِي يَحْيَى بْنُ يَحْيَى قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ سَمَاعًا عَلَيْهِ بِجَمْعَيْهِ مَا خَلَا الْأَبْوَابَ الثَّلَاثَةَ الْأَخِيرَةَ مِنْ كِتَابِ الِاعْتِكَافِ فَإِنِّي شَكَكْت فِي سَمَاعِهَا وَقَدْ كُنْت سَمِعْتُهَا مَعَ جَمِيعِ الْكِتَابِ عَلَى زِيَادِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِسَمَاعِهِ لَهُ جَمِيعِهِ عَلَى مَالِكٍ وَفِي إسْنَادِ الْوَادّآشي فَائِدَتَانِ: إحْدَاهُمَا أَنَّهُ سَمَاعٌ لَيْسَ فِيهِ إجَازَةٌ وَالثَّانِيَةُ أَنَّ رِجَالَهُ مِنْ ابْنِ فَرْحُونٍ مَالِكِيُّونَ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

(كِتَابُ الْمُدَوَّنَةِ وَالْمُخْتَلَطَةِ لِسَحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ) أَخْبَرَنِي بِهَا سَيِّدِي وَالِدِي قِرَاءَةً لِبَعْضِهَا وَإِجَازَةً لِسَائِرِهَا قَالَ أَنْبَأَنِي بِهَا الْحَافِظُ السَّخَاوِيُّ (ح) وَشَافَهَنِي بِهَا بِعُلُوِّ دَرَجَةٍ جَمْعٌ مِنْ الْمَشَايِخِ مِنْهُمْ الشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ أَبُو الْفَضَائِلِ عَبْدُ الْحَقِّ السَّنْبَاطِيُّ قَالَ هُوَ وَالسَّخَاوِيُّ: أَنْبَأَنَا بِهَا الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ عَنْ حَافِظِ الْعَصْرِ أَبِي الْفَضْلِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْعِرَاقِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَاهِدِ الْجَيْشِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُرَاقَةَ عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ بَقِيٍّ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخَزْرَجِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فَرَجٍ مَوْلَى ابْنِ الطَّلَّاعِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ التُّجِيبِيِّ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ إبْرَاهِيمَ التُّجِيبِيِّ عَنْ أَبِي عُمَرَ أَحْمَدَ بْنِ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَضَّاحٍ عَنْ سَحْنُونِ بْنِ سَعِيدٍ فَذَكَرهَا فِي الطَّرِيقِ الْأُولَى أَرْبَعَةَ عَشَرَ وَفِي الثَّانِيَةِ ثَلَاثَةَ عَشَرَ (الْعُتْبِيَّةُ وَتُسَمَّى الْمُسْتَخْرَجَةَ) أَخْبَرَنِي بِهَا الْوَالِدُ قِرَاءَةً وَإِجَازَةً وَالشَّيْخُ عَبْدُ الْحَقِّ إجَازَةً بِالسَّنَدِ الْمُتَقَدِّمِ إلَى مُحَمَّدِ بْنِ فَرَجٍ عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ يُونُسَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي عِيسَى يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ لُبَابَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُقْبَةَ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ أَبِي عُقْبَةَ الْعُتْبِيِّ الْأَنْدَلُسِيِّ فَذَكَرَهَا فِي الطَّرِيقِ الْأُولَى اثْنَيْ عَشَرَ وَفِي الثَّانِيَةِ أَحَدَ عَشَرَ (تَهْذِيبُ الْبَرَادِعِيِّ اخْتِصَارُ الْمُدَوَّنَةِ) أَخْبَرَنِي بِهِ سَيِّدِي وَأَبِي قِرَاءَةً لِمَوَاضِعَ مُتَعَدِّدَةٍ مِنْهُ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ قَالَ: أَنْبَأَنِي بِهِ الشَّيْخُ الْمَرَاغِيُّ (ح) .

وَأَنْبَأَنِي بِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةِ شَيْخِ الْإِسْلَامِ زَكَرِيَّا قَالَ هُوَ وَالْمَرَاغِيُّ أَنْبَأَنَا بِهِ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ عَنْ أَبِي حَيَّانَ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ جَدِّهِ أَبِي حَيَّانَ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ بَقِيٍّ الْمَخْلَدِيِّ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ شُرَيْحِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إسْمَاعِيلَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ مُؤَلِّفِهِ أَبِي سَعِيدٍ خَلَفِ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْقُرَشِيِّ فِي الطَّرِيقِ الْأُولَى عَشَرَةٌ وَفِي الثَّانِيَةِ تِسْعَةٌ (كِتَابُ ابْنِ الْمَوَّازِ) أَذِنَ لِي فِي رِوَايَتِهِ شَيْخُ الْإِسْلَامِ زَكَرِيَّا عَنْ الْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْفَاضِلِيِّ عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الْمُقَيَّرِ عَنْ أَبِي الْفَضْلِ بْنِ نَاصِرٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحُمَيْدِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ عَنْ عُمَرَ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي مَطَرٍ عَنْ مُؤَلِّفِهِ مُحَمَّدِ بْنِ إبْرَاهِيمَ بْنِ الْمَوَّازِ فِيهِ أَحَدَ عَشَرَ (كَتَبَ الشَّيْخُ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زَيْدٍ مُخْتَصَرَ الْمُدَوَّنَةِ وَالنَّوَادِرَ وَالرِّسَالَةَ) .

كِتَابُ الرِّسَالَةِ أَخْبَرَنِي بِهِ سَيِّدِي الْوَالِدُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِجَمِيعِهِ غَيْرَ مَرَّةٍ عَنْ الشَّيْخِ الْمَرَاغِيِّ (ح) وَشَافَهَنِي بِهَا بِعُلُوِّ دَرَجَةٍ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ الْعَلَّامَةُ أَبُو الْفَضَائِلِ عَبْدُ الْحَقِّ وَالْمُسْنَدُ الْمُعَمِّرُ خَطِيبُ مَكَّةَ الْمُشَرَّفَةِ الْمُحِبُّ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ النُّوَيْرِيُّ وَالْعَلَّامَةُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ فَهْدٍ قَالُوا: وَالشَّمْسُ الْمَرَاغِيُّ أَنْبَأَنَا بِهَا شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنُ حَجَرٍ قَالَ: أَنْبَأَنِي بِهَا الْعَلَّامَةُ إمَامُ الْمَذْهَبِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ عَرَفَةَ الْوَرْغَمِّيُّ التُّونُسِيُّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ جَابِرٍ الْوَادّآشي وَقَاضِي الْجَمَاعَةِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ
তিনি বলেন: মাগরিব (মরক্কো) থেকে পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে উস্তাদ আবু জাফর আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আল-জুবায়ের আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আল-খাত্তাব মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খলিল পাঠ এবং শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: কাজী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাইদ বিন জারকুন আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইমাম আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-খাওলানি আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু উমর উসমান বিন আহমদ আল-লাখমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি এবং ইবনে মুগিস বলেন: আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমার পিতার চাচা মারওয়ান বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম আবু আবদুল্লাহ মালিক বিন আনাস তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন—পুরো কিতাবটি, কেবল ইতিকাফ অধ্যায়ের শেষ তিনটি পরিচ্ছেদ ছাড়া। কারণ সেগুলোর শ্রবণের ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে। অথচ আমি পুরো কিতাবটি জিয়াদ বিন আবদুর রহমানের সাথে শুনেছিলাম, মালিকের নিকট তাঁর সম্পূর্ণ শ্রবণের মাধ্যমে। আল-ওয়াদ-আশির সনদে দুটি উপকারিতা রয়েছে: প্রথমটি হলো, এটি সরাসরি শ্রবণ, এতে কেবল অনুমতি (ইজাজাহ) নেই; এবং দ্বিতীয়টি হলো, ইবনে ফারহুন থেকে এর সকল রাবী মালেকি মাযহাবের অনুসারী। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

(সাহনুন বিন সাঈদের কিতাবুল মুদাওওয়ানাহ ওয়াল মুখতালিতাহ): আমার সাইয়্যিদী ও পিতা এর কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি অংশের অনুমতির মাধ্যমে আমাকে এই সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: হাফিজ সাখাওয়ী আমাকে এটি অবহিত করেছেন (হা)। আর উচ্চ পর্যায়ের একদল মাশায়েখ সরাসরি আমাকে এটি প্রদান করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা শাইখ আবু আল-ফাদায়েল আবদুল হক আস-সানবাতি। তিনি এবং সাখাওয়ী বলেন: হাফিজ ইবনে হাজার যুগের হাফিজ আবু আল-ফাদল বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি থেকে আমাদের এটি অবহিত করেছেন, তিনি আবদুর রহিম বিন আবদুল্লাহ বিন শাহিদ আল-জাইশ থেকে, তিনি বলেন: আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুরাকাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম বিন বাকী থেকে। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-খাজরাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইবনুত তাল্লা-এর মুক্তদাস মুহাম্মদ বিন ফারাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু উমর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন আহমদ আত-তুজিবি থেকে, তিনি ইসহাক বিন ইবরাহিম আত-তুজিবি থেকে, তিনি আবু উমর আহমদ বিন খালিদ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ওয়াদ-দাহ থেকে, তিনি সাহনুন বিন সাঈদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। প্রথম সূত্রে রাবী সংখ্যা চৌদ্দ জন এবং দ্বিতীয় সূত্রে তেরো জন। (আল-উতবিয়্যাহ, যা আল-মুস্তাখরাজাহ নামেও পরিচিত): পিতা আমাকে পাঠ ও অনুমতির মাধ্যমে এবং শাইখ আবদুল হক পূর্বোক্ত সনদে মুহাম্মদ বিন ফারাজ পর্যন্ত অনুমতির মাধ্যমে এই সংবাদ দিয়েছেন। তিনি আবুল ওয়ালিদ ইউনুস বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন উমর বিন লুবাবাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল আজিজ বিন উকবাহ বিন হুমাইদ বিন আবু উকবাহ আল-উতবি আল-আন্দালুসি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। প্রথম সূত্রে রাবী সংখ্যা বারো জন এবং দ্বিতীয় সূত্রে এগারো জন। (বারাজি’র তাহজীব, যা মুদাওওয়ানাহ-এর সংক্ষিপ্তসার): আমার সাইয়্যিদী ও পিতা এর বিভিন্ন স্থানে পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি অংশের অনুমতির মাধ্যমে আমাকে এর সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: শাইখ মারাগি (হা) আমাকে এটি অবহিত করেছেন।

আর শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া উচ্চ সনদ সূত্রে আমাকে এটি অবহিত করেছেন। তিনি এবং মারাগি বলেন: হাফিজ ইবনে হাজার আবু হাইয়ান মুহাম্মদ বিন হাইয়ান থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবু হাইয়ান থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন থেকে, তিনি আবু আল-কাসিম বিন বাকী আল-মাখলাদি থেকে, তিনি আবু আল-হাসান শুরাইহ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইসমাইল থেকে, তিনি আবু বকর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি এর লেখক আবু সাঈদ খালাফ বিন আল-মুগিরা আল-কুরাশি থেকে আমাদের এটি অবহিত করেছেন। প্রথম সূত্রে দশ জন এবং দ্বিতীয় সূত্রে নয় জন রাবী রয়েছেন। (ইবনুল মাওয়াজ-এর কিতাব): শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া আমাকে হাফিজ ইবনে হাজার থেকে, তিনি আবু আলী আল-ফাদিলি থেকে, তিনি ইউনুস বিন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আল-হাসান বিন আল-মুকাইয়ার থেকে, তিনি আবু আল-ফাদল বিন নাসির থেকে, তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-হুমাইদি থেকে এটি বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইবনে আবদিল বার উমর বিন হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু মাতার থেকে, তিনি এর লেখক মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আল-মাওয়াজ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এতে এগারো জন রাবী রয়েছেন। (শাইখ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবু জাইদের কিতাবসমূহ: মুখতাসার আল-মুদাওওয়ানাহ, আন-নাওয়াদির এবং আর-রিসালাহ)।

রিসালাহ কিতাবটি আমার সাইয়্যিদী পিতা একাধিকবার সম্পূর্ণ পাঠের মাধ্যমে শাইখ মারাগি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হা)। আর উচ্চ সনদ সূত্রে একদল ব্যক্তি আমাকে সরাসরি এটি বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা আবু আল-ফাদায়েল আবদুল হক এবং দীর্ঘজীবী মুসনিদ মক্কা মোকাররমার খতিব মুহিব্ব আহমদ বিন আবু আল-কাসিম আন-নুওয়াইরি এবং আল্লামা আবদুল আজিজ বিন ফাহদ। তাঁরা বলেন: শামস মারাগি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার থেকে। তিনি বলেন: মাযহাবের ইমাম আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আরাফাহ আল-ওয়ারগাম্মি আত-তিউনিসি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাবির আল-ওয়াদ-আশি এবং কাজিউল জামাআহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুস সালাম থেকে আমাকে এটি অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٨)
قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ الطَّيْلَسَانِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْحَقِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ فَرَجٍ مَوْلَى ابْنِ الطَّلَّاعِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ مَكِّيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ (ح) وَأَذِنَ لِي فِي رِوَايَتِهَا بِعُلُوِّ دَرَجَتَيْنِ شَيْخُ الْإِسْلَامِ زَكَرِيَّا قَالَ هُوَ وَمَشَايِخِي الثَّلَاثَةُ الْآخَرُونَ: أَنْبَأَنَا بِهَا الْمُسْنِدُ قَاضِي الْمُسْلِمِينَ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفُرَاتِ عَنْ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ أَمِيلَةَ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْبُخَارِيِّ عَنْ أَبِي طَاهِرٍ الْخُشُوعِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْوَلِيدِ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ هُوَ وَمَكِّيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ: أَخْبَرَنَا بِهَا مُؤَلِّفُهَا الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زَيْدٍ فِي طَرِيقِ الْوَالِدِ عَشَرَةٌ وَفِي الطَّرِيقِ الثَّانِيَةِ تِسْعَةٌ وَفِي الثَّالِثَةِ سَبْعَةٌ (وَبِهَذِهِ الْأَسَانِيدِ) أَرْوِي النَّوَادِرَ وَمُخْتَصَرَ الْمُدَوَّنَةِ قِرَاءَةً لِبَعْضِهِمَا عَلَى الْوَالِدِ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِمَا مِنْهُ، وَمِنْ بَقِيَّةِ الْمَشَايِخِ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ الْقَاضِي عَبْدِ الْوَهَّابِ) التَّلْقِينُ وَالْمَعُونَةُ وَالْإِشْرَافُ وَشَرْحُ الرِّسَالَةِ وَشَرْحُ الْمُدَوَّنَةِ وَالْمُمَهَّدُ شَرْحُ مُخْتَصَرِ الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ لَمْ يَكْمُلْ أَنْبَأَنَا بِهَا الْخَطِيبُ النُّوَيْرِيُّ وَابْنُ عَمِّهِ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ أَبِي الْبَرَكَاتِ عَنْ الْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَبِي مُحَمَّدٍ النَّيْسَابُورِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ بَشْكُوَالَ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرِ بْنُ الْعَرَبِيِّ حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ مَهْدِيٌّ (ح) وَقَالَ الْهَمْدَانِيُّ: أَخْبَرَنَا بِعُلُوِّ دَرَجَةِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَضْرَمِيِّ قَالَ هُوَ وَابْنِ الْعَرَبِيِّ: حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ مَهْدِيُّ بْنُ يُوسُفَ بْنِ فَتُّوحٍ الْوَرَّاقُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَلِّفُهَا الْقَاضِي أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَاصِرٍ الْبَغْدَادِيُّ فِي الطَّرِيقِ الْأُولَى ثَمَانِيَةٌ وَفِي الثَّانِيَةِ سَبْعَةٌ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ ابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ) أَخْبَرَنِي بِهَا سَيِّدِي الْوَالِدُ قِرَاءَةً لِبَعْضِهَا وَإِجَازَةً لِسَائِرِهَا عَنْ الْحَافِظِ السَّخَاوِيِّ عَنْ الْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ (ح) وَأَنْبَأَنِي بِهَا عَالِيًا شَيْخُ الْإِسْلَامِ زَكَرِيَّا عَنْ الْحَافِظ ابْنِ حَجَرٍ بِالسَّنَدِ الْمُتَقَدِّمِ فِي سَنَدِ كِتَابِ ابْنِ الْمَوَّازِ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ ابْنِ رُشْدٍ) الْمُقَدِّمَاتُ وَالْبَيَانُ عَنْ سَيِّدِي الْوَالِدِ قِرَاءَةً لِبَعْضِهَا وَإِجَازَةً لِسَائِرِهَا عَنْ الشَّمْسِ الْمَرَاغِيِّ (ح) .

وَأَنْبَأَنِي بِهَا عَالِيًا بِدَرَجَةِ الْخَطِيبِ النُّوَيْرِيِّ وَغَيْرِهِ قَالَ هُوَ وَالشَّمْسُ الْمَرَاغِيُّ: أَنْبَأَنَا بِهَا ابْنُ حَجَرٍ عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْمَهْدَوِيِّ عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ الْعَسْقَلَانِيِّ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الصَّابُونِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنَا السَّلَفِيُّ مُشَافَهَةً عَنْ مُؤَلِّفِهَا أَبِي الْوَلِيدِ بْنِ رُشْدٍ إجَازَةً.

 

(مُؤَلَّفَاتُ ابْنِ الْعَرَبِيِّ) تَقَدَّمَ سَنَدُهَا فِي مُؤَلَّفَاتِ الْقَاضِي عَبْدِ الْوَهَّابِ (بْنِ الْجَلَّابِ) أَخْبَرَنِي سَيِّدِي الْوَالِدُ قِرَاءَةً لِبَعْضِهِ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ عَنْ الشَّمْسِ الْمَرَاغِيِّ عَنْ ابْنِ حَجَرٍ (ح) وَأَنْبَأَنِي بِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةِ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ مَشَايِخِنَا عَنْ ابْنِ حَجَرٍ بِالسَّنَدِ الْمُتَقَدِّمِ فِي كُتُبِ الْقَاضِي عَبْدِ الْوَهَّابِ إلَى أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ بَشْكُوَالَ قَالَ: أَنْبَأَنَا بِهِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْعُذْرِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ مُؤَلِّفِهِ أَبِي الْقَاسِمِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْجَلَّابِ الْبَصْرِيِّ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ الْمَازِرِيِّ) مِنْهَا الْمُعَلِّمُ بِفَوَائِدِ مُسْلِمٍ، وَمِنْهَا شَرْحُ التَّلْقِينِ، وَمِنْهَا كِتَابٌ ذَكَرَ الْمَازِرِيُّ فِي بَابِ الْإِمَامَةِ مِنْ شَرْحِ التَّلْقِينِ أَنَّهُ صَنَّفَهُ وَسَمَّاهُ قَطْعَ لِسَانِ النَّابِحِ فِي الْمُتَرْجَمِ بِالْوَاضِحِ.

قَالَ: وَهُوَ كِتَابٌ نَقَضْنَا فِيهِ كِتَابًا أَلَّفَهُ بَعْضُ نَصَارَى الْمَشْرِقِ وَقَصَدَ فِيهِ إلَى جَمْعِ الْمَطَاعِنِ الَّتِي تَشَعَّبَ بِهَا الْمُلْحِدُونَ وَقَدَحَ بِهَا الطَّاعِنُونَ عَلَى دِينِنَا وَأَضَافُوهَا إلَى النَّقْلِ وَالْعَقْلِ انْتَهَى مِنْ شَرْحِ التَّلْقِينِ عَنْ السَّنْبَاطِيِّ عَنْ ابْنِ حَجَرٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَرَفَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ جَابِرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْخَطِيبُ أَبُو الْفَضْلِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ حَمَّادٍ عَنْ أَبِي زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَهْدِيِّ عَنْ مُؤَلِّفِهَا الْإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ الْمَازِرِيِّ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ الْقَاضِي عِيَاضٍ) مِنْهَا الشِّفَاءُ أَخْبَرَنِي بِهِ سَيِّدِي الْوَالِدُ قِرَاءَةً لِجَمِيعِهِ قَالَ أَخْبَرَنِي بِهِ الْعَلَّامَةُ الشَّمْسُ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرِ الدِّينِ الْمَرَاغِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي بِهِ وَالِدِي الْعَلَّامَةُ نَاصِرُ الدِّينِ الْمَرَاغِيُّ
তিনি বললেন: আমাদের এ সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন, তিনি আবুল কাসিম বিন তাইলাসান থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল হক থেকে, তিনি ইবনুত তাল্লা-এর মুক্তদাস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফারাজ থেকে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ মাক্কী বিন আবু তালিব (বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন) এবং শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া আমাকে উচ্চ পর্যায়ের দুই স্তরের মাধ্যমে এটি বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি এবং আমার অপর তিনজন শিক্ষক বলেন: আমাদের এ সংবাদ দিয়েছেন মুসলিমদের কাযী মুসনিদ আব্দুর রহীম বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফুরাত, তিনি আবু হাফস উমর বিন আমীলাহ থেকে, তিনি আবুল হাসান আলী বিন আল-বুখারী থেকে, তিনি আবু তাহের আল-খুশুয়ী থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আর-রাযী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ আল-ওয়ালিদ আল-আনসারী থেকে। তিনি এবং মাক্কী বিন আবু তালিব বলেন: আমাদের এ সংবাদ দিয়েছেন এর গ্রন্থকার ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আবি যায়েদ। পিতার মাধ্যমে বর্ণিত সূত্রে দশজন, দ্বিতীয় সূত্রে নয়জন এবং তৃতীয় সূত্রে সাতজন রাবী রয়েছেন। (এবং এই সকল সনদের মাধ্যমে) আমি আন-নাওয়াদির এবং মুখতাসারুল মুদাওওয়ানাহ বর্ণনা করি, যার কিছু অংশ পিতার নিকট পঠন পাঠনের মাধ্যমে এবং অবশিষ্টাংশ তাঁর নিকট থেকে এবং অবশিষ্ট শাইখদের নিকট থেকে ইজাযত বা অনুমতির মাধ্যমে প্রাপ্ত।

 

(কাযী আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলী) আত-তালকীন, আল-মাউনা, আল-ইশরাফ, শারহুর রিসালাহ, শারহুল মুদাওওয়ানাহ এবং আল-মুমাহহাদ শারহু মুখতাসারুশ শাইখ আবি মুহাম্মদ—যা পূর্ণ হয়নি। আমাদের এ সংবাদ দিয়েছেন খতীব আন-নুওয়াইরী এবং তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল কাদির বিন আবিল বারাকাত হাফেয ইবনে হাজার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ আবু মুহাম্মদ আন-নাইসাবুরী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি জাফর বিন আলী আল-হামদানী থেকে, তিনি আবুল কাসিম বিন বাশকুওয়াল থেকে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু কাসিম মাহদী (বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন)। আল-হামদানী বলেন: তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-হাদরামীর উচ্চ পর্যায়ের স্তরের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি এবং ইবনুল আরাবী বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু কাসিম মাহদী বিন ইউসুফ বিন ফাত্তুহ আল-ওয়াররাক। তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন এর গ্রন্থকার কাযী আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন নাসির আল-বাগদাদী। প্রথম সূত্রে আটজন এবং দ্বিতীয় সূত্রে সাতজন রাবী রয়েছেন।

 

(ইবনে আব্দুল বাররের রচনাবলী) এ সম্পর্কে আমার সম্মানিত পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, যার কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে এবং অবশিষ্টাংশ হাফেয সাখাভী থেকে ইজাযতের মাধ্যমে, তিনি হাফেয ইবনে হাজার থেকে (বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন)। এবং শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া উচ্চ সনদে হাফেয ইবনে হাজার থেকে পূর্বোল্লিখিত ইবনে মাওয়াজের কিতাবের সনদের মাধ্যমে আমাকে এ সংবাদ দিয়েছেন।

 

(ইবনে রুশদের রচনাবলী) আল-মুকাদ্দিমাত এবং আল-বায়ান; আমার সম্মানিত পিতার নিকট থেকে কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ শামস আল-মারাগী থেকে ইজাযতের মাধ্যমে প্রাপ্ত (বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন)।

এবং খতীব আন-নুওয়াইরী ও অন্যান্যদের সমপর্যায়ের উচ্চ সনদে আমাকে এ সংবাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি এবং শামস আল-মারাগী বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে হাজার, তিনি আবু আলী আল-মাহদাবী থেকে, তিনি ইউনুস বিন আবি ইসহাক আল-আসকালানী থেকে, তিনি আবুল হাসান বিন আস-সাবুনী থেকে। তিনি বলেন: আমাদের সালাফী সরাসরি মৌখিকভাবে এবং এর লেখক আবু ওয়ালিদ বিন রুশদ থেকে ইজাযতের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন।

 

(ইবনুল আরাবীর রচনাবলী) এর সনদ কাযী আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলীর বর্ণনায় গত হয়েছে। (ইবনুল জাল্লাব) আমার সম্মানিত পিতা আমাকে এর কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ শামস আল-মারাগী থেকে ইজাযতের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে হাজার থেকে (বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন)। এবং আমার একাধিক শাইখের সমপর্যায়ের উচ্চ সনদে ইবনে হাজার থেকে কাযী আব্দুল ওয়াহহাবের কিতাবসমূহের পূর্বোল্লিখিত সনদে আবুল কাসিম বিন বাশকুওয়াল পর্যন্ত আমাকে এ সংবাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন মাওহাব, তিনি আবু আব্বাস আহমদ বিন উমর আল-উযরী থেকে, তিনি আলী বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি এর গ্রন্থকার আবু কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন হাসান বিন আল-জাল্লাব আল-বাসরী থেকে।

 

(আল-মাযিরীর রচনাবলী) এর মধ্যে রয়েছে ‘আল-মুআল্লিম বি-ফাওয়াইদি মুসলিম’, ‘শারহুত তালকীন’ এবং এমন একটি কিতাব যার কথা আল-মাযিরী ‘শারহুত তালকীন’ এর ইমামত অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে তিনি সেটি রচনা করেছেন এবং তার নাম রেখেছেন ‘কাতয়ু লিসানিন নাবিহি ফিল মুতারজামি বিল ওয়াদিহ’।

তিনি বলেন: এটি এমন একটি কিতাব যেখানে আমরা প্রাচ্যের কিছু খ্রিষ্টানদের রচিত একটি কিতাবের খণ্ডন করেছি, যেটিতে সে সেই সমস্ত অপবাদগুলো একত্রিত করার চেষ্টা করেছিল যা ধর্মত্যাগীরা ছড়িয়ে থাকে এবং সমালোচকরা আমাদের দ্বীনের বিরুদ্ধে উত্থাপন করে, এবং তারা সেগুলোকে বর্ণনা ও যুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট করে। শারহুত তালকীন থেকে সমাপ্ত। এ সংবাদ আমাদের দিয়েছেন আস-সানবাতী, তিনি ইবনে হাজার থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আরাফাহ থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাবির থেকে। তিনি বলেন: আমাদের এ সংবাদ দিয়েছেন খতীব আবু ফাযল বিন আবিল কাসিম বিন হাম্মাদ, তিনি আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-মাহদী থেকে, তিনি এর গ্রন্থকার ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন উমর আল-মাযিরী থেকে।

 

(কাযী ইয়াযের রচনাবলী) এর মধ্যে রয়েছে ‘আশ-শিফা’। আমার সম্মানিত পিতা এটি পূর্ণাঙ্গ পাঠের মাধ্যমে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাকে আল্লামা শামস মুহাম্মদ বিন নাসিরুদ্দীন আল-মারাগী এ সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা আল্লামা নাসিরুদ্দীন আল-মারাগী এ সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٩)
قَالَ: أَخْبَرَنِي بِهِ وَالِدِي قَاضِي الْقُضَاةِ أَبُو بَكْرِ بْنُ الْحُسَيْنِ الْمَرَاغِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنِي بِهِ مُسْنَدُ الْآفَاقِ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ الْحِجَازِيُّ عَنْ أَبِي الْفَضْلِ جَعْفَرِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ (ح) وَأَخْبَرَنِي بِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةِ الْمَشَايِخِ الثَّلَاثَةِ أَبُو الْفَضَائِلِ عَبْدُ الْحَقِّ وَالْخَطِيبُ النُّوَيْرِيّ وَجَمَالُ الدِّينِ الصَّانِيُّ سَمَاعًا لِبَعْضِهِ عَنْ الْأَوَّلِينَ مُفْتَرِقِينَ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ وَقِرَاءَةً عَلَى الثَّالِثِ لِجَمِيعِهِ قَالَ الْأَوَّلَانِ: أَخْبَرَنَا بِهِ شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنُ حَجَرٍ وَالْعَلَّامَةُ التَّقِيُّ بْنُ فَهْدٍ قَالَ الْأَوَّلُ: إذْنًا، وَقَالَ الثَّانِي: مُكَاتَبَةً مِنْ ابْنِ حَجَرٍ وَسَمَاعًا عَلَى ابْنِ فَهْدٍ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ السُّحُولِيُّ قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: إذْنًا.

وَقَالَ ابْنُ فَهْدٍ: سَمَاعًا قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الشَّرَفُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْمُهَلَّبِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو الْحُسَيْنِ يَحْيَى بْنُ أَحْمَدَ بْنُ تامتيت اللَّوَاتِيُّ سَمَاعًا قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْحُسَيْنُ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الصَّائِغِ (ح) وَقَالَ شَيْخُنَا الصَّانِيُّ أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو الْعَبَّاسِ الْحِجَازِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ قَاضِي الْقُضَاةِ عَبْدُ الرَّحِيمِ الْعِرَاقِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الإسكندراني قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ الْأُمَوِيُّ سَمَاعًا قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْفَقِيهُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْقَيْسِيُّ الْحَصَّارُ (ح) وَقَالَ شَيْخُنَا الْخَطِيبُ: أَنْبَأَنَا بِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةٍ وَلَا يُوجَدُ الْآنَ أَعْلَى مِنْهَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدِّمَشْقِيُّ الْحَفَّارُ عَنْ الْمُسْنَدَةِ زَيْنَبَ بِنْتِ الْكَمَالِ الْمَقْدِسِيَّةِ قَالَتْ: أَخْبَرَنَا بِهِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ هِبَةِ اللَّهِ اللَّخْمِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ بِنْتِ الْحِمْيَرِيِّ قَالَ هُوَ وَالْهَمْدَانِيُّ: أَخْبَرَنَا بِهِ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ السَّلَفِيُّ قَالَ هُوَ وَابْنُ الصَّائِغِ وَالْحَصَّارُ: أَخْبَرَنَا بِهِ مُؤَلِّفُهُ أَبُو الْفَضْلِ عِيَاضُ بْنُ مُوسَى بْنِ عِيَاضٍ الْيَحْصُبِيُّ فِي طَرِيقِ الْوَالِدِ لَهُ سَبْعَةٌ وَفِي الَّتِي بَعْدَهَا سِتَّةٌ وَفِي الثَّالِثَةِ خَمْسَةٌ وَبِهَذِهِ الْأَسَانِيدِ أَرْوِي بَقِيَّةَ كُتُبِهِ التَّنْبِيهَاتِ وَالْإِكْمَالِ وَالْقَوَاعِدِ وَغَيْرَ ذَلِكَ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ شِهَابِ الدِّينِ الْقَرَافِيُّ الذَّخِيرَةُ وَالْقَوَاعِدُ وَالتَّنْقِيحُ وَهُوَ مُقَدِّمَةُ كِتَابِ الذَّخِيرَةِ وَشَرْحُهُ وَشَرْحُ الْمَحْصُولِ وَكِتَابُ الْأُمْنِيَةِ فِي النِّيَّةِ) أَخْبَرَنِي بِهَا سَيِّدِي الْوَالِدُ قِرَاءَةً لِبَعْضِ الذَّخِيرَةِ وَالْقَوَاعِدِ وَغَيْرِ ذَلِكَ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهَا.

قَالَ: أَخْبَرَنِي بِهَا الشَّمْسُ الْمَرَاغِيُّ عَنْ وَالِدِهِ الْعَلَّامَةِ نَاصِرِ الدِّينِ الْمَرَاغِيِّ وَأَنْبَأَنِي بِهَا عَالِيًا بِدَرَجَةٍ الْمُحِبُّ خَطِيبُ مَكَّةَ الْمُشَرَّفَةَ عَنْ الشَّيْخِ أَبِي الْفَتْحِ الْمَرَاغِيِّ وَأُمُّ الْحَسَنِ فَاطِمَةُ بِنْتُ خَلِيلٍ الْكَتَّانِيِّ قَالَتْ: أَنْبَأَنَا بِهَا الْإِمَامُ فَخْرُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيِّ وَقَالَ الْمُقْرِي: أَنْبَأَنَا بِهَا الْإِمَامُ جَارُ اللَّهِ النَّيْسَابُورِيُّ قَالَ هُوَ وَالْقُرَشِيُّ وَأَبُو حَيَّانَ: أَخْبَرَنَا بِهَا مُؤَلِّفُهَا الْعَلَّامَةُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إدْرِيسَ الْقَرَافِيُّ.

 

(مُخْتَصَرُ ابْنِ الْحَاجِبِ الْفَرْعِيِّ) أَخْبَرَنَا بِهِ الْوَالِدُ قِرَاءَةً لِكِتَابِ الْحَجِّ جَمِيعِهِ وَلِمَوَاضِعَ مُتَعَدِّدَةٍ مِنْ بَقِيَّتِهِ وَسَمَاعًا لِمَوَاضِعَ مُتَعَدِّدَةٍ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ وَلِبَقِيَّةِ كُتُبِهِ قَالَ: أَنْبَأَنَا بِهَا الْحَافِظُ السَّخَاوِيُّ عَنْ شَيْخِ الْإِسْلَامِ ابْنِ حَجَرٍ (ح) وَأَنْبَأَنَا بِسَائِرِ مُصَنَّفَاتِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةِ الْخَطِيبِ النُّوَيْرِيِّ وَابْنِ عَمِّهِ عَبْدُ الْقَادِرِ عَنْ شَيْخِ الْإِسْلَامِ ابْنِ حَجَرٍ عَنْ أَبِي الْفَرَجِ الْغَزِّيِّ وَغَيْرِهِ عَنْ أَبِي النُّورِ الدَّبُوسِيِّ عَنْ مُؤَلِّفِهَا أَبِي عَمْرٍو عُثْمَانَ بْنِ الْحَاجِبِ (شَرْحُهُ لِابْنِ عَبْدِ السَّلَامِ) أَخْبَرَنِي بِهِ الْوَالِدُ قِرَاءَةً لِمَوَاضِعَ مِنْهُ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ عَنْ الشَّمْسِ الْمَرَاغِيِّ عَنْ ابْنِ حَجَرٍ (ح) .

وَأَنْبَأَنِي بِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةِ جَمْعٍ مِنْ الْمَشَايِخِ عَنْ الْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ عَنْ الشَّيْخِ الْإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَرَفَةَ الْوَرْغَمِّيِّ التُّونُسِيِّ عَنْ مُؤَلِّفِهِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ (شَرْحُهُ لِابْنِ هِلَالٍ الرَّبَعِيِّ) أَنْبَأَنَا بِهِ شَيْخُنَا الْخَطِيبُ النُّوَيْرِيُّ وَغَيْرُهُ عَنْ الشَّيْخِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عِمَادٍ الْحِمْيَرِيِّ النِّحْرِيرِيِّ عَنْ مُؤَلِّفِهِ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ تَاجِ الدِّينِ الْفَاكِهَانِيِّ مِنْهَا شَرْحُ الرِّسَالَةِ وَشَرْحُ الْعُمْدَةِ وَشَرْحُ الْأَرْبَعِينَ النَّوَوِيَّةِ) أَخْبَرَنِي بِهَا سَيِّدِي الْوَالِدُ قِرَاءَةً لِبَعْضِهَا وَإِجَازَةً لِسَائِرِهَا قَالَ أَخْبَرَنِي بِهَا الْحَافِظُ السَّخَاوِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنِي بِهَا الْخَطِيبُ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ ظُهَيْرَةَ (ح) وَأَخْبَرَنَا بِهَا عَالِيًا بِدَرَجَةِ الْخَطِيبِ
তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা প্রধান বিচারপতি আবু বকর বিন আল-হুসাইন আল-মারাজি এটি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাকে দিগন্তের মুসনিদ আহমাদ বিন আবু তালিব আল-হিজাজি আবু আল-ফাদল জাফর বিন আলি আল-হামদানি থেকে এটি সংবাদ দিয়েছেন। (এবং) তিনজন শায়খের উচ্চ স্তরের মাধ্যমে আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাদাইল আব্দুল হক, খতিব আন-নুওয়াইরি এবং জামাল উদ্দিন আস-সানি; তারা পূর্ববর্তী দুইজনের নিকট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে এর কিছু অংশ শ্রবণের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজতপ্রাপ্ত হয়ে, এবং তৃতীয়জনের নিকট এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। প্রথম দুইজন বলেছেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার এবং আল্লামা তাকি বিন ফাহদ। প্রথমজন বলেন: ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে, এবং দ্বিতীয়জন বলেন: ইবনে হাজারের পক্ষ থেকে পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে এবং ইবনে ফাহদের নিকট চারবার শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-তায়্যিব মুহাম্মদ বিন উমর আস-সুহুলি। ইবনে হাজার বলেন: ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে।

এবং ইবনে ফাহদ বলেন: শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আশ-শারাফ আবু আব্দুল্লাহ আল-মুহাল্লাবি। তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইয়াহইয়া বিন আহমাদ বিন তামতিত আল-লাওয়াতি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আস-সায়িগ। (এবং) আমাদের শায়খ আস-সানি বলেছেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আল-হিজাজি। তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি আব্দুর রহিম আল-ইরাকি। তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-ইসকান্দারানি। তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক আল-উমাউয়ি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ আবু জাফর আহমাদ বিন আলি আল-কায়সি আল-হাসসার। (এবং) আমাদের শায়খ আল-খতিব বলেছেন: আমাদের এটি উচ্চ স্তরে সংবাদ দিয়েছেন—যার চেয়ে উচ্চ স্তর বর্তমানে নেই—নেককার শায়খ আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি আল-হাফফার; তিনি মুসনিদা জয়নাব বিনতে আল-কামাল আল-মাকদিসিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলি বিন হিবাতুল্লাহ আল-লাখমি, যিনি ইবনে বিন্তিল হিময়ারি নামে পরিচিত। তিনি এবং আল-হামদানি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু তাহির আস-সালাফি। তিনি, ইবনুল সায়িগ এবং আল-হাসসার বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন এর রচয়িতা আবু আল-ফাদল ইয়াদ বিন মুসা বিন ইয়াদ আল-ইয়াহসুবি। পিতার সূত্রে এই বর্ণনায় সাতটি মাধ্যম রয়েছে, পরবর্তী সূত্রে ছয়টি এবং তৃতীয় সূত্রে পাঁচটি মাধ্যম রয়েছে। এই সনদগুলোর মাধ্যমেই আমি তার অন্যান্য গ্রন্থ আত-তানবিহাত, আল-ইকমাল, আল-কাওয়ায়িদ এবং অন্যান্য গ্রন্থ বর্ণনা করি।

 

(শিহাব উদ্দিন আল-কারাফির রচনাবলি: আল-যাখিরাহ, আল-কাওয়ায়িদ, আল-তানকিহ—যা আল-যাখিরাহ গ্রন্থের ভূমিকা—এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, শারহুল মাহসুল এবং নিয়ত বিষয়ক কিতাবুল উমনিয়্যাহ)। আমাকে আমার সম্মানিত পিতা আল-যাখিরাহ ও আল-কাওয়ায়িদ এবং অন্যান্য কিতাবের কিছু অংশ পাঠ করে এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন।

তিনি বলেন: আমাকে শামস আল-মারাজি তার পিতা আল্লামা নাসির উদ্দিন আল-মারাজির সূত্রে এর সংবাদ দিয়েছেন। মক্কার মুকাররমার খতিব আল-মুহিব্ব উচ্চ স্তরে শায়খ আবু আল-ফাতহ আল-মারাজির সূত্রে আমাকে এর সংবাদ দিয়েছেন। উম্মুল হাসান ফাতিমা বিনতে খলিল আল-কাত্তানি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন ইমাম ফাখর উদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশি। আল-মুকারি বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন ইমাম জারুল্লাহ আন-নিসাবুরি। তিনি, আল-কুরাশি এবং আবু হাইয়ান বলেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন এর রচয়িতা আল্লামা আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন ইদ্রিস আল-কারাফি।

 

(ইবনে হাজিবের মুখতাসারুল ফারয়ি)। আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন পিতা; তিনি হজ্জ অধ্যায়টি পূর্ণাঙ্গ এবং কিতাবের অন্যান্য বিভিন্ন স্থান পাঠ করার মাধ্যমে, বিভিন্ন স্থান শ্রবণের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশ ও তার অন্যান্য কিতাবের ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের হাফিজ আস-সাখাভি শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজারের সূত্রে এর সংবাদ দিয়েছেন। (এবং) খতিব আন-নুওয়াইরি এবং তার চাচাতো ভাই আব্দুল কাদিরের উচ্চ স্তরের মাধ্যমে তার অন্যান্য সকল রচনার সংবাদ আমাদের দিয়েছেন; তারা শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজারের সূত্রে, তিনি আবু আল-ফারজ আল-গাজ্জি ও অন্যান্যদের সূত্রে, তারা আবু আন-নূর আদ-দাবুসির সূত্রে এবং তিনি এর রচয়িতা আবু আমর উসমান বিন হাজিবের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন। (ইবনে আব্দুস সালাম কর্তৃক এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ)। আমাকে পিতা এর বিভিন্ন স্থান পাঠ করার মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে শামস আল-মারাজির সূত্রে, তিনি ইবনে হাজারের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন।

এবং অনেক শায়খের উচ্চ স্তরে হাফিজ ইবনে হাজারের সূত্রে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি শায়খ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আরাফা আল-ওয়ারগাম্মি আত-তিউনিসির সূত্রে এবং তিনি এর রচয়িতা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (ইবনে হিলাল আল-রাবায়ি কর্তৃক এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ)। আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আমাদের শায়খ খতিব আন-নুওয়াইরি এবং অন্যান্যরা; তারা প্রাজ্ঞ শায়খ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইমাদ আল-হিময়ারি আন-নিহরিরির সূত্রে এবং তিনি এর রচয়িতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

 

(তাজ উদ্দিন আল-ফাকিহানির রচনাবলি: যার মধ্যে রয়েছে আর-রিসালার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আল-উমদাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং নববীয় চল্লিশ হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ)। আমাকে আমার সম্মানিত পিতা এর কিছু অংশ পাঠ করে এবং অবশিষ্ট অংশের ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাকে হাফিজ আস-সাখাভি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাকে খতিব আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন জুহাইরা এটি সংবাদ দিয়েছেন। (এবং) খতিব অপেক্ষা উচ্চ স্তরে আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٠)
مُحِبُّ الدِّينِ النُّوَيْرِيُّ مُشَافَهَةً عَنْ إبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَلِيلٍ الْحَلَبِيِّ قَالَ هُوَ وَابْنُ ظُهَيْرَةَ أَخْبَرَنَا بِهَا الشَّيْخُ جَمَالُ الدِّينِ عَبْدُ اللَّهِ وَيُسَمَّى مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَتِيقِ بْنِ حَدِيدَةَ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ: أَنْبَأَنَا بِهَا مُؤَلِّفُهَا الْعَلَّامَةُ تَاجُ الدِّينِ عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَالِمٍ اللَّخْمِيُّ الْفَاكِهَانِيُّ إذْنًا إنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا فَذَكَرَهَا.

 

(مُصَنَّفَاتُ الشَّيْخِ خَلِيلِ بْنِ إِسْحَاقَ الْمُخْتَصَرُ وَالتَّوْضِيحُ وَالْمَنَاسِكُ وَتَرْجَمَةُ شَيْخِهِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَنُوفِيِّ) أَخْبَرَنَا سَيِّدِي وَالِدِي بِالْمُخْتَصَرِ وَالْمَنَاسِكِ قِرَاءَةً وَسَمَاعًا لِجَمِيعِهِمَا وَبِالتَّوْضِيحِ قِرَاءَةً لِغَالِبِهِ وَلِبَعْضِ التَّرْجَمَةِ الْمَذْكُورَةِ وَإِجَازَةً لِلْجَمِيعِ قَالَ: أَخْبَرَنَا بِهَا الْقَاضِي شَمْسُ الدِّينِ السَّخَاوِيُّ سَمَاعًا لِبَعْضِ الْمُخْتَصَرِ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهَا عَنْ الْقَاضِي شَمْسِ الدِّينِ الْبِسَاطِيِّ عَنْ الْقَاضِي تَاجِ الدِّينِ بَهْرَامَ (ح) .

وَأَنْبَأَنَا بِهَا عَالِيًا بِدَرَجَتَيْنِ شَيْخُنَا الْمُحِبُّ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ خَطِيبُ مَكَّةَ الْمُشَرَّفَةَ وَابْنُ عَمِّهِ عَبْدُ الْقَادِرِ النُّوَيْرِيَّانِ الْعُقَيْلِيُّ عَنْ الْمُعَمَّرِ الْعَلَّامَةِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ سَبُعٍ الْبُوصِيرِيِّ الْمَالِكِيِّ قَالَ هُوَ وَالْقَاضِي تَاجُ الدِّينِ بَهْرَامُ: أَخْبَرَنَا بِهَا مُؤَلِّفُهَا الشَّيْخُ خَلِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْجُنْدِيُّ رحمهم الله أَجْمَعِينَ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ ابْنِ رَاشِدٍ الْقَفْصِيِّ اللُّبَابُ وَشَرْحُ ابْنِ الْحَاجِبِ وَغَيْرُهُمَا) أَخْبَرَنِي سَيِّدِي الْوَالِدُ بِاللُّبَابِ وَشَرْحِ ابْنِ الْحَاجِبِ قِرَاءَةً لِبَعْضِهِمَا وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِمَا وَسَائِرِ مُصَنَّفَاتِهِ قَالَ: أَنْبَأَنِي بِهَا الشَّمْسُ الْمَرَاغِيُّ عَنْ عَمِّهِ الشَّيْخِ أَبِي الْفَتْحِ الْمَرَاغِيِّ (ح) وَأَنْبَأَنِي بِهَا عَالِيًا بِدَرَجَةِ جَمْعٍ مِنْ الْمَشَايِخِ مِنْهُمْ الْخَطِيبُ مُحِبُّ الدِّينِ النُّوَيْرِيُّ وَابْنُ عَمِّهِ عَبْدُ الْقَادِرِ وَالْعِزُّ بْنُ فَهْدٍ وَالشَّيْخُ عَبْدُ الْحَقِّ السَّنْبَاطِيُّ عَنْ الشَّيْخِ الْعَلَّامَةِ أَبِي الْفَتْحِ الْمَرَاغِيِّ عَنْ الْقَاضِي إبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ فَرْحُونٍ عَنْ الْجَمَالِ عَفِيفِ الدِّينِ الْمِصْرِيِّ عَنْ مُؤَلِّفِهَا فَقَدْ ذَكَرَ ابْنُ فَرْحُونٍ فِي الدِّيبَاجِ أَنَّ شَيْخَهُ الْعَفِيفَ الْمِصْرِيَّ اسْتَجَازَ مِنْ ابْنِ رَاشِدٍ فِي سَنَةِ إحْدَى وَثَلَاثِينَ وَسَبْعِمِائَةٍ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ الْقَاضِي بُرْهَانَ الدِّينِ بْنِ فَرْحُونٍ شَرْحُ ابْنِ الْحَاجِبِ وَتَبْصِرَةُ الْحُكَّامِ وَالْأَلْغَازُ وَالدِّيبَاجُ الْمُذَهَّبُ وَغَيْرُ ذَلِكَ) بِالسَّنَدِ الْمُتَقَدِّمِ عَنْ الْوَالِدِ قِرَاءَةً لِبَعْضِهَا وَإِجَازَةً لِبَقِيَّتِهَا وَعَنْ مَشَايِخِنَا الْبَاقِينَ إجَازَةً.

 

(مُؤَلَّفَاتُ ابْنِ عَرَفَةَ الْمُخْتَصَرُ الْفِقْهِيُّ وَمُخْتَصَرُ الْحَوفِيِّ وَغَيْرُ ذَلِكَ) أَخْبَرَنِي سَيِّدِي الْوَالِدُ قِرَاءَةً لِمَوَاضِعَ مُتَعَدِّدَةٍ مِنْ الْمُخْتَصَرِ الْفِقْهِيِّ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ وَلِبَقِيَّةِ كُتُبِهِ عَنْ الشَّمْسِ الْمَرَاغِيِّ عَنْ ابْنِ حَجَرٍ.

وَأَنْبَأَنِي بِجَمِيعِ مُؤَلَّفَاتِهِ عَالِيًا بِدَرَجَةٍ الْمَشَايِخُ الْأَرْبَعَةُ الْمَذْكُورُونَ فِي سَنَدِ مُؤَلَّفَاتِ ابْنِ رَاشِدٍ عَنْ الْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ عَنْ مُؤَلِّفِهَا الْعَلَّامَةِ الْمُحَقِّقِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَرَفَةَ الْوَرْغَمِّيِّ التُّونُسِيِّ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ الشَّيْخِ تَاجِ الدِّينِ بَهْرَامَ شُرُوحُهُ الثَّلَاثَةُ عَلَى الْمُخْتَصَرِ وَالشَّامِلِ وَغَيْرِهَا) أَخْبَرَنِي سَيِّدِي وَالِدِي بِالشَّرْحِ الْأَوْسَطِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ لِجَمِيعِهِ إلَّا الْيَسِيرَ وَإِجَازَةً لِسَائِرِهِ وَبِالشَّرْحِ الْكَبِيرِ وَالصَّغِيرِ وَالشَّامِلِ قِرَاءَةً لِمَوَاضِعَ مُتَعَدِّدَةٍ مِنْهَا وَإِجَازَةً لِسَائِرِهَا عَنْ الْقَاضِي شَمْسِ الدِّينِ السَّخَاوِيِّ عَنْ الْبِسَاطِيِّ وَأَنْبَأَنِي بِهَا عَالِيًا بِدَرَجَةٍ الْمَشَايِخُ الثَّلَاثَةُ أَبُو الْفَضَائِلِ عَبْدُ الْحَقِّ السَّنْبَاطِيُّ وَالْخَطِيبُ النُّوَيْرِيُّ وَابْنُ عَمِّهِ عَبْدُ الْقَادِرِ عَنْ الْقَاضِي شَمْسِ الدِّينِ الْبِسَاطِيِّ عَنْ مُؤَلِّفِهَا الشَّيْخِ بَهْرَامَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَّمِيرِيِّ.

 

(مُؤَلَّفَاتُ الْبِسَاطِيِّ شَرْحُ الْمُخْتَصَرِ وَالْمُغْنِي وَغَيْرُهُمَا) أَخْبَرَنِي سَيِّدِي الْوَالِدُ بِشَرْحِ الْمُخْتَصَرِ وَالْمُغْنِي قِرَاءَةً لِبَعْضِهِمَا وَإِجَازَةً لِلْبَاقِي وَلِبَقِيَّةِ مُؤَلَّفَاتِهِ عَنْ الْقَاضِي شَمْسِ الدِّينِ السَّخَاوِيِّ وَأَنْبَأَنِي بِهَا عَالِيًا بِدَرَجَةِ الْمَشَايِخِ الثَّلَاثَةِ الْمَذْكُورِينَ فَوْقَهُ، قَالُوا ثَلَاثَتُهُمْ وَالشَّمْسُ السَّخَاوِيُّ: وَأَنْبَأَنَا بِهَا مُؤَلِّفُهَا الْقَاضِي شَمْسُ الدِّينِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْبِسَاطِيُّ.

 

‌‌[الْكَلَام عَلَى الْبَسْمَلَة]

ص (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ)

ش: ابْتَدَأَ رحمه الله بِالْبَسْمَلَةِ اقْتِدَاءً بِالْكِتَابِ الْعَزِيزِ فَإِنَّ الْعُلَمَاءَ مُتَّفِقُونَ عَلَى اسْتِحْبَابِ الْبَسْمَلَةِ فِي أَوَّلِهِ فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ، وَإِنْ قُلْنَا: إنَّ الْبَسْمَلَةَ لَيْسَتْ آيَةً مِنْ الْفَاتِحَةِ
মুহিব্বুদ্দীন আন-নুওয়াইরী সরাসরি ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন খালীল আল-হালাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি এবং ইবন যুহাইরা বলেছেন: আমাদের তা জানিয়েছেন শায়খ জামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ, যাকে মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন আহমাদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন আতীক ইবন হাদীদাহ আল-আনসারী নামে ডাকা হয়। তিনি বলেন: আমাদের তা জানিয়েছেন এর লেখক আল্লামা তাজউদ্দীন উমর ইবন আলী ইবন সালিম আল-লাখমী আল-ফাকিহানী, শ্রবণের মাধ্যমে না হলে অনুমতির মাধ্যমে, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

 

(শায়খ খালীল ইবন ইসহাকের রচনাবলি: আল-মুখতাসার, আত-তাওযীহ, আল-মানাসিক এবং তাঁর শায়খ আব্দুল্লাহ আল-মানুফীর জীবনী) আমার সাইয়্যিদ ও পিতা আমাকে আল-মুখতাসার ও আল-মানাসিক পাঠ ও শ্রবণের মাধ্যমে পুরোটা এবং আত-তাওযীহ অধিকাংশ পাঠের মাধ্যমে এবং উল্লিখিত জীবনীগ্রন্থের কিছু অংশ এবং সবকিছুর জন্য ইজাযাহর মাধ্যমে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের তা জানিয়েছেন কাজী শামসুদ্দীন আস-সাখাভী, আল-মুখতাসারের কিছু অংশ শ্রবণের মাধ্যমে এবং বাকি সবকিছুর ইজাযাহর মাধ্যমে কাজী শামসুদ্দীন আল-বিসাতী থেকে, তিনি কাজী তাজউদ্দীন বাহরাম থেকে (হ)।

এবং আমাদের দুই স্তর উচ্চ সনদে তা জানিয়েছেন আমাদের শায়খ আল-মুহিব্ব আহমাদ ইবন আবিল কাসিম, যিনি মক্কা মুশাররাফাহর খতীব এবং তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল কাদির আন-নুওয়াইরী আল-উকাইলী, তাঁরা দীর্ঘজীবী আল্লামা হুসাইন ইবন আলী ইবন সাবু' আল-বূসীরী আল-মালিকী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি এবং কাজী তাজউদ্দীন বাহরাম বলেন: আমাদের তা জানিয়েছেন এর লেখক শায়খ খালীল ইবন ইসহাক আল-জুন্দী, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন।

 

(ইবন রাশিদ আল-কাফসীর রচনাবলি: আল-লুবাব, শারহু ইবনিল হাজিব এবং অন্যান্য) আমার সাইয়্যিদ ও পিতা আমাকে আল-লুবাব ও শারহু ইবনিল হাজিবের কিছু অংশ পাঠ এবং বাকি অংশসহ তাঁর অন্যান্য সকল রচনার ইজাযাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: আমাকে তা জানিয়েছেন আশ-শামস আল-মারাগী তাঁর চাচা শায়খ আবুল ফাতহ আল-মারাগী থেকে (হ)। এবং আমাকে এক দল শায়খের মাধ্যমে উচ্চ সনদে তা জানানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন খতীব মুহিব্বুদ্দীন আন-নুওয়াইরী এবং তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল কাদির, ইয্যু ইবন ফাহদ এবং শায়খ আব্দুল হক আস-সানবাতী। তাঁরা শায়খ আল্লামা আবুল ফাতহ আল-মারাগী থেকে, তিনি কাজী ইবরাহীম ইবন আলী ইবন ফারহুন থেকে, তিনি আল-জামাল আফীফুদ্দীন আল-মিসরী থেকে, তিনি এর লেখক থেকে বর্ণনা করেন। ইবন ফারহুন ‘আদ-দীবাজ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর শায়খ আল-আফীফ আল-মিসরী সাতশত একত্রিশ হিজরি সালে ইবন রাশিদের কাছ থেকে ইজাযাহ লাভ করেছিলেন।

 

(কাজী বুরহানুদ্দীন ইবন ফারহুনের রচনাবলি: শারহু ইবনিল হাজিব, তাবসিরাতুল হুক্কাম, আল-আলগায, আদ-দীবাজুল মুযাহহাব এবং অন্যান্য) পিতার পক্ষ থেকে পূর্বোক্ত সনদে কিছু অংশ পাঠ এবং বাকি অংশের ইজাযাহর মাধ্যমে এবং আমাদের বাকি শায়খদের পক্ষ থেকে ইজাযাহর মাধ্যমে।

 

(ইবন আরাফার রচনাবলি: আল-মুখতাসার আল-ফিকহী, মুখতাসারুল হাউফী এবং অন্যান্য) আমার সাইয়্যিদ ও পিতা আমাকে আল-মুখতাসার আল-ফিকহীর বিভিন্ন স্থানে পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি অংশসহ তাঁর অন্যান্য কিতাবের ইজাযাহর মাধ্যমে জানিয়েছেন আশ-শামস আল-মারাগী থেকে, তিনি ইবন হাজার থেকে।

এবং আমাকে তাঁর সকল রচনার ব্যাপারে উচ্চ সনদে জানিয়েছেন ইবন রাশিদের রচনার সনদে উল্লিখিত চারজন শায়খ হাফেজ ইবন হাজার থেকে, তিনি এর লেখক আল্লামা মুহাক্কিক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আরাফা আল-ওয়ারগাম্মী আত-তিউনিসী থেকে।

 

(শায়খ তাজউদ্দীন বাহরামের রচনাবলি: মুখতাসারের ওপর তাঁর তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আশ-শামিল এবং অন্যান্য) আমার সাইয়্যিদ ও পিতা আমাকে আশ-শারহুল আওসাত কিতাবটি সামান্য অংশ বাদে সম্পূর্ণটি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি সবকিছুর ইজাযাহর মাধ্যমে জানিয়েছেন। আর আশ-শারহুল কাবীর, আস-সাগীর এবং আশ-শামিল কিতাবগুলোর বিভিন্ন স্থানে পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি সবকিছুর ইজাযাহর মাধ্যমে জানিয়েছেন কাজী শামসুদ্দীন আস-সাখাভী থেকে, তিনি আল-বিসাতী থেকে। এবং আমাকে উচ্চ সনদে জানিয়েছেন তিন শায়খ: আবুল ফাযায়েল আব্দুল হক আস-সানবাতী, খতীব আন-নুওয়াইরী এবং তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল কাদির, তাঁরা কাজী শামসুদ্দীন আল-বিসাতী থেকে, তিনি এর লেখক শায়খ বাহরাম ইবন আব্দুল্লাহ আদ-দামিরী থেকে।

 

(আল-বিসাতীর রচনাবলি: শারহুল মুখতাসার, আল-মুগনী এবং অন্যান্য) আমার সাইয়্যিদ ও পিতা আমাকে শারহুল মুখতাসার এবং আল-মুগনী কিতাব দুটির কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে এবং বাকি অংশসহ তাঁর অন্যান্য রচনার ইজাযাহর মাধ্যমে জানিয়েছেন কাজী শামসুদ্দীন আস-সাখাভী থেকে। এবং আমাকে উপরের তিন শায়খের মাধ্যমে উচ্চ সনদে তা জানানো হয়েছে। তাঁরা তিনজন এবং শামস আস-সাখাভী বলেছেন: আমাদের তা জানিয়েছেন এর লেখক কাজী শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন উসমান আল-বিসাতী।

 

‌‌[বিসমিল্লাহর আলোচনা]

মূল পাঠ (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম)

ব্যাখ্যা: তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সম্মানিত কিতাবের অনুসরণ করে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন। কেননা ওলামায়ে কেরাম নামাজের বাইরে এর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন, যদিও আমরা বলি যে বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার কোনো আয়াত নয়।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١١)
وَعَمَلًا بِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْتَدَأُ فِيهِ بِبَسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَهُوَ أَبْتَرُ» رَوَاهُ الْخَطِيبُ بِهَذَا اللَّفْظِ فِي كِتَابِ الْجَامِعِ وَفِي رِوَايَةٍ أَقْطَعُ وَفِي رِوَايَةٍ أَجْذَمُ بِالْجِيمِ وَالذَّالِ الْمُعْجَمَةِ.

وَهُوَ مِنْ التَّشْبِيهِ الْبَلِيغِ فِي الْعَيْبِ الْمُنَفِّرِ وَمَعْنَى الْجَمِيعِ أَنَّهُ نَاقِصٌ غَيْرُ تَامٍّ وَإِنْ تَمَّ حِسًّا وَمَعْنَى ذِي بَالٍ أَيْ ذِي حَالٍ يُهْتَمُّ بِهِ وَرَأَيْت بِخَطِّ الشَّيْخِ جَلَالِ الدِّينِ الْمَحَلِّيِّ أَنَّ صَاحِبَ الِاسْتِغْنَا فِي شَرْحِ أَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى حَكَى عَنْ شَيْخِهِ أَبِي بَكْرٍ التُّونُسِيِّ قَالَ: أَجْمَعَ عُلَمَاءُ كُلِّ مِلَّةٍ أَنَّ اللَّهَ افْتَتَحَ كُلَّ كِتَابٍ بِبَسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.

قَالَ ابْنُ حَجَرٍ وَقَدْ اسْتَقَرَّ عَمَلُ الْأَئِمَّةِ الْمُصَنِّفِينَ عَلَى افْتِتَاحِ كُتُبِ الْعِلْمِ بِالتَّسْمِيَةِ وَكَذَا مُعْظَمُ كُتُبِ الرَّسَائِلِ وَاخْتَلَفَ الْقُدَمَاءُ فِيمَا إذَا كَانَ الْكِتَابُ كُلُّهُ شِعْرًا هَلْ يُبْتَدَأُ بِالتَّسْمِيَةِ فَجَاءَ عَنْ الشَّعْبِيِّ مَنْعُ ذَلِكَ وَعَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ: مَضَتْ السُّنَّةُ أَنْ لَا يُكْتَبَ فِي الشِّعْرِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ جَوَازُ ذَلِكَ وَتَابَعَهُ عَلَى ذَلِكَ الْجُمْهُورُ وَقَالَ الْخَطِيبُ: هُوَ الْمُخْتَارُ انْتَهَى مِنْ فَتْحِ الْبَارِي.

(قُلْت) وَهَذَا فِي غَيْرِ الشِّعْرِ الْمُحْتَوِي عَلَى عِلْمٍ أَوْ وَعْظٍ فَهَذَا لَا شَكَّ فِي دُخُولِهِ فِي كُتُبِ الْعِلْمِ وَفِي غَيْرِ الشِّعْرِ الْمُحَرَّمِ فَإِنَّ التَّسْمِيَةَ لَا تُشَرَّعُ فِي الْأَمْرِ الْمُحَرَّمِ. وَالْبَاءُ لِلِاسْتِعَانَةِ مُتَعَلِّقَةٌ بِأُصَنِّفُ، وَكَذَا يُضْمَرُ كُلُّ فَاعِلٍ مَا جُعِلَتْ التَّسْمِيَةُ مَبْدَأً لَهُ فَيُضْمِرُ الْمُسَافِرُ أُسَافِرُ، وَالْآكِلُ آكُلُ لِيُفِيدَ تَلَبُّسَ الْفِعْلِ جَمِيعِهِ بِالتَّسْمِيَةِ فَهُوَ أَوْلَى مِنْ تَقْدِيرِ أَبْدَأُ؛ لِأَنَّهُ لَا يُفِيدُ إلَّا تَلَبُّسَ ابْتِدَائِهِ فَقَطْ وَتَقْدِيرُ الْمُتَعَلِّقِ مُتَأَخِّرًا أَوْلَى؛ لِأَنَّ الْمَقْصُودَ الْأَهَمَّ الْبُدَاءَةُ بِاسْمِهِ تَعَالَى رَدًّا عَلَى الْكُفَّارِ فِي ابْتِدَائِهِمْ بِأَسْمَاءِ آلِهَتِهِمْ؛ وَلِأَنَّهُ أَدَلُّ عَلَى الِاخْتِصَاصِ بِخِلَافِ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} [العلق: 1] فَإِنَّ الْمَقْصُودَ هُنَاكَ الْقِرَاءَةُ وَالِاسْمُ مُشْتَقٌّ مِنْ السُّمُوِّ وَعِنْدَ الْبَصْرِيِّينَ هُوَ الْعُلُوُّ؛ لِأَنَّهُ رِفْعَةٌ لِلْمُسَمَّى، وَمِنْ السِّمَةِ عِنْدَ الْكُوفِيِّينَ وَهِيَ الْعَلَامَةُ.

وَإِضَافَتُهُ لِلْجَلَالَةِ مِنْ إضَافَةِ الْعَامِّ لِلْخَاصِّ لِيُفِيدَ أَنَّ الِاسْتِعَانَةَ وَالتَّبَرُّكَ بِذِكْرِ اسْمِهِ وَحُذِفَتْ أَلِفُهُ لِكَثْرَةِ الِاسْتِعْمَالِ وَلِذَا لَمْ تُحْذَفْ مِنْ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} [العلق: 1] وَغَيْرِهِ وَطُوِّلَتْ أَلْفًا عِوَضًا عَنْهَا وَالْجَلَالَةُ عَلَمٌ عَلَى ذَاتِهِ تَعَالَى وَهُوَ أَعْرَفُ الْمَعَارِفِ وَحَكَى ابْنُ جِنِّي أَنَّ سِيبَوَيْهِ رُئِيَ بَعْدَ مَوْتِهِ فَقِيلَ لَهُ: مَا فَعَلَ اللَّهُ بِك؟ فَقَالَ: خَيْرًا، وَذَكَرَ كَرَامَةً عَظِيمَةً، فَقِيلَ لَهُ: بِمَ؟ فَقَالَ: لِقَوْلِي: إنَّ اسْمَ اللَّهِ أَعْرَفُ الْمَعَارِفِ وَهُوَ اسْمٌ جَامِعٌ لِمَعَانِي الْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى كُلِّهَا وَمَا سِوَاهُ خَاصٌّ بِمَعْنًى فَلِذَا يُضَافُ اللَّهُ لِجَمِيعِ الْأَسْمَاءِ، فَيُقَالُ: الرَّحْمَنُ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى وَكَذَا الْبَاقِي وَلَا يُضَافُ هُوَ إلَى شَيْءٍ، وَقِيلَ: إنَّهُ الِاسْمُ الْأَعْظَمُ وَبِهِ وَقَعَ الْإِعْجَازُ حَيْثُ لَمْ يَتَسَمَّ بِهِ أَحَدٌ وَلَا يَصِحُّ الدُّخُولُ فِي الْإِسْلَامِ إلَّا بِهِ وَتَكَرَّرَ فِي الْقُرْآنِ أَلْفَيْ مَرَّةٍ وَخَمْسِمِائَةٍ وَسِتِّينَ مَرَّةً وَقِيلَ: أَلْفَيْ مَرَّةٍ وَثَلَاثِمِائَةٍ وَسِتِّينَ، وَاخْتُلِفَ فِيهِ هَلْ هُوَ مُشْتَقٌّ أَوْ مُرْتَجَلٌ؟ وَعَلَى الْأَوَّلِ فَقِيلَ: مِنْ أَلِهَ يَأْلَهُ كَعَلِمَ يَعْلَمُ إذَا تَحَيَّرَ؛ لِأَنَّ الْعُقُولَ تَتَحَيَّرُ فِي عَظَمَتِهِ وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ.

 

وَالرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ صِفَتَانِ لِلْمُبَالَغَةِ مِنْ رَحِمَ بِالْكَسْرِ بَعْدَ نَقْلِهِ إلَى فَعُلَ بِالضَّمِّ أَوْ تَنْزِيلِهِ مَنْزِلَةَ الْقَاصِرِ قَالَ الْهَمْدَانِيُّ فِي إعْرَابِ الْقُرْآنِ: وَأَهْلُ الْحِجَازِ وَبَنُو أَسَدٍ يَقُولُونَ: رَحِيمٌ وَرَغِيفٌ وَبَعِيرٌ بِفَتْحِ أَوَائِلِهِنَّ، وَقَيْسٌ وَرَبِيعَةُ وَتَمِيمٌ يَقُولُونَ: رَحِيمٌ وَرَغِيفٌ وَبَعِيرٌ بِكَسْرِ أَوَائِلِهِنَّ وَاخْتُلِفَ فِي تَفْسِيرِ الرَّحْمَةِ فَقِيلَ: هِيَ رِقَّةٌ وَانْعِطَافٌ تَقْتَضِي التَّفَضُّلَ وَالْإِحْسَانَ، وَمِنْهُ الرَّحِمُ لِانْعِطَافِهَا عَلَى مَا فِيهَا فَهِيَ فِي حَقِّ اللَّهِ مَجَازٌ عَنْ الْإِنْعَامِ.

قَالَ الرَّازِيّ: إذَا وُصِفَ اللَّهُ تَعَالَى بِأَمْرٍ وَلَمْ يَصِحَّ وَصْفُهُ بِمَعْنَاهُ يُحْمَلُ عَلَى غَايَةِ ذَلِكَ. وَهِيَ عَلَى هَذَا الْقَوْلِ مِنْ صِفَاتِ الْأَفْعَالِ وَقِيلَ: الرَّحْمَةُ إرَادَةُ الْخَيْرِ فَوَصْفُهُ تَعَالَى بِهَا عَلَى هَذَا الْقَوْلِ حَقِيقَةٌ وَهِيَ حِينَئِذٍ صِفَةُ ذَاتٍ. قَالَ الطِّيبِيُّ وَكِلَا الْقَوْلَيْنِ مَنْقُولٌ وَذَكَرَ السَّمِينُ فِي إعْرَابِهِ الْقَوْلَيْنِ وَقَالَ الظَّاهِرُ الثَّانِي وَذَهَبَ الزَّمَخْشَرِيُّ إلَى الْأَوَّلِ وَرَدَّ عَلَيْهِ ذَلِكَ الشَّيْخُ الْعَلَّامَةُ أَبُو عَلِيٍّ عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلِيلٍ السَّكُونِيُّ فِي كِتَابِهِ الْمُسَمَّى بِالتَّمْيِيزِ لِمَا أَوْدَعَهُ الزَّمَخْشَرِيُّ مِنْ الِاعْتِزَالِ فِي تَفْسِيرِ الْقُرْآنِ الْعَزِيزِ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী— "আল্লাহর নামে শুরু করা হয়নি এমন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অপূর্ণ"—এর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে। আল-খতিব এটি আল-জামি কিতাবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনায় 'বিচ্ছিন্ন' এবং অন্য বর্ণনায় 'ছিন্ন' (জিম এবং নুকতাযুক্ত যাল সহযোগে) এসেছে।

এটি মূলত একটি চরম নিন্দনীয় ত্রুটির সাথে এক প্রকার বলিষ্ঠ উপমা। এই সবগুলোর অর্থ হলো—কাজটি অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ, যদিও তা দৃশ্যত পূর্ণ মনে হয়। 'যী বাল' অর্থ—এমন অবস্থা যা গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। আমি শাইখ জালালুদ্দিন আল-মহল্লীর হস্তাক্ষরে দেখেছি যে, আসমাউল হুসনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ইস্তিগনা'-এর লেখক তাঁর উস্তাদ আবু বকর আত-তিউনিসি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: প্রতিটি ধর্মাদর্শের আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি কিতাব 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' দ্বারা শুরু করেছেন।

ইবনে হাজার বলেন—মুসান্নিফ ইমামগণের আমল ইলমি কিতাবসমূহের শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করার ওপর স্থির হয়েছে। অনুরূপ অধিকাংশ চিঠিপত্র বা পত্রাবলীর ক্ষেত্রেও। তবে পূর্বসূরিগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, যদি পুরো কিতাবটি কবিতা হয়, তবে কি শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করা হবে? শাবি থেকে এটি নিষেধ হওয়ার বর্ণনা এসেছে। আর যুহরী বলেন—নিয়ম চলে আসছে যে, কবিতায় 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' লেখা হবে না। সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এটি বৈধ হওয়ার বর্ণনা এসেছে এবং অধিকাংশ আলেম তাঁর অনুসরণ করেছেন। আল-খতিব বলেন—এটিই পছন্দনীয় অভিমত। ফাতহুল বারী থেকে উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

(আমি বলি) এটি ঐ কবিতা ব্যতীত যা জ্ঞান বা নসিহত সমৃদ্ধ; কারণ এ ধরনের কবিতা নিঃসন্দেহে ইলমি কিতাবের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি হারাম কবিতার ক্ষেত্রেও নয়; কারণ হারাম কাজে বিসমিল্লাহ পাঠ করার বিধান নেই। এখানে 'বা' অক্ষরটি সাহায্য কামনার জন্য, যা 'আমি রচনা করছি' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। একইভাবে প্রত্যেক সম্পাদনকারী ব্যক্তি যে কাজ বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করবেন, মনে মনে একটি ক্রিয়া উহ্য রাখবেন; যেমন—মুসাফির উহ্য রাখবে 'আমি সফর করছি', আহারকারী উহ্য রাখবে 'আমি আহার করছি', যাতে পুরো কাজটিই বিসমিল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া বুঝায়। এটি 'আমি শুরু করছি' উহ্য রাখার চেয়ে উত্তম; কারণ 'শুরু করছি' বললে শুধু কাজের শুরুটা বিসমিল্লাহর সাথে যুক্ত হওয়া বুঝায়। সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াটি শেষে উহ্য রাখাই উত্তম; কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর নাম দ্বারা শুরু করা—যা কাফেরদের তাদের উপাস্যদের নাম দ্বারা শুরু করার রীতির প্রতিবাদ স্বরূপ। তাছাড়া এটি আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করার অধিক প্রমাণবাহী। তবে "তোমার রবের নামে পাঠ করো" এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেখানে পাঠ করাই মূল উদ্দেশ্য। 'ইসম' (নাম) শব্দটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত, বসরাবাসীদের মতে এর অর্থ উচ্চতা; কারণ নাম নামধারী ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করে। আর কুফাবাসীদের মতে এটি 'সিমা' থেকে এসেছে যার অর্থ চিহ্ন।

আল্লাহর নামের সাথে 'নাম' শব্দটির সম্বন্ধ করা হয়েছে সাধারণকে বিশেষের দিকে সম্বন্ধ করার নিয়মে—যাতে বুঝায় যে সাহায্য ও বরকত কেবল তাঁর নাম স্মরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। অতি ব্যবহারের কারণে এখানে 'আলিফ' বিলুপ্ত হয়েছে। এ কারণেই "তোমার রবের নামে পাঠ করো" এবং অন্যান্য স্থানে এটি বিলুপ্ত হয়নি। আর এর পরিবর্তে আলিফকে দীর্ঘ করা হয়েছে। 'আল্লাহ' শব্দটি মহান সত্তার জন্য নির্ধারিত নাম, যা সকল পরিচিত শব্দের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত। ইবনে জিন্নি বর্ণনা করেন যে, সিবওয়াইহ-এর মৃত্যুর পর তাঁকে স্বপ্নে দেখা হয়েছিল এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: কল্যাণকর। এরপর তিনি একটি মহান মর্যাদার কথা উল্লেখ করলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কিসের বিনিময়ে? তিনি বললেন: আমার এই উক্তির কারণে যে—'আল্লাহ' নামটি সর্বাধিক পরিচিত নাম। এটি এমন একটি নাম যা আল্লাহর সকল সুন্দর নামের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর অন্য নামগুলো বিশেষ বিশেষ অর্থের জন্য নির্দিষ্ট। এ কারণেই অন্যান্য সকল নামকে 'আল্লাহ' নামের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। যেমন বলা হয়: আর-রহমান আল্লাহর একটি নাম, একইভাবে অন্যান্য নামগুলোও। কিন্তু 'আল্লাহ' নামটিকে অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধ করা হয় না। বলা হয়ে থাকে এটিই 'ইসমে আজম' বা মহান নাম। এর মাধ্যমেই অলৌকিকত্ব প্রকাশ পেয়েছে যে, আর কেউ এই নাম ধারণ করেনি। এই নাম ছাড়া ইসলামে প্রবেশ করা শুদ্ধ নয়। কুরআনে এটি দুই হাজার পাঁচশত ষাট বার এসেছে, মতান্তরে দুই হাজার তিনশত ষাট বার। এই শব্দটি কি অন্য শব্দ থেকে উদ্ভূত নাকি মৌলিক—এ নিয়ে মতভেদ আছে। প্রথম মত অনুযায়ী বলা হয়েছে—এটি 'আলাহা ইয়াল্লাহু' (যেমন আলিমি ইয়ালামু) থেকে এসেছে যার অর্থ—বিস্ময়াভিভূত হওয়া; কারণ বিবেক বুদ্ধি তাঁর মহিমা দেখে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। এছাড়া আরও অনেক মত রয়েছে।

 

'আর-রহমান' ও 'আর-রাহিম' আধিক্য বুঝানোর জন্য দুটি গুণবাচক নাম, যা 'রাহিমা' থেকে এসেছে—একে 'ফাউলা' এর ওজনে রূপান্তর করার পর অথবা একে অকর্মক ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত করার পর। হামদানি কুরআনের ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থে বলেন—হিজাজবাসী ও বনু আসাদ গোত্রের লোকেরা 'রাহিম', 'রাগিফ' ও 'বাইর' শব্দের প্রথম অক্ষরে যবর দিয়ে পড়ে। আর কায়েস, রাবিয়াহ ও তামিম গোত্রীয়রা এগুলোর প্রথম অক্ষরে যের দিয়ে পড়ে। রহমতের সংজ্ঞায় মতভেদ আছে। বলা হয়েছে—এটি এমন এক কোমলতা ও মমতা যা অনুগ্রহ ও এহসানকে আবশ্যক করে; গর্ভাশয়কেও 'রাহিম' বলা হয় কারণ তা গর্ভস্থের প্রতি মমতাময়। আল্লাহর ক্ষেত্রে এটি অনুগ্রহ বা নিয়ামত দানের রূপক অর্থে ব্যবহৃত। ইমাম রাজি বলেন—যখন আল্লাহ তাআলাকে এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করা হয় যার আভিধানিক অর্থ তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তখন তাকে সেই গুণের চূড়ান্ত পরিণতির ওপর প্রয়োগ করতে হবে। এই মতানুসারে রহমত হলো 'কর্মগত গুণ'। অন্য মতে—রহমত হলো কল্যাণ করার ইচ্ছা। এই মতানুসারে আল্লাহর জন্য এই গুণের ব্যবহার প্রকৃত অর্থেই হবে এবং তখন এটি হবে 'সত্তাগত গুণ'। তিবি বলেন—উভয় মতই বর্ণিত আছে। সামীন তাঁর ব্যাকরণ গ্রন্থে উভয় মত উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, দ্বিতীয় মতটিই অধিক স্পষ্ট। আর যামাখশারী প্রথম মতের দিকে গিয়েছেন, কিন্তু আল্লামা শাইখ আবু আলী আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খলিল আস-সাকুনি তাঁর 'আত-তাময়ীজ' গ্রন্থে এর প্রতিবাদ করেছেন—যে গ্রন্থে তিনি কুরআনুল কারিমের তাফসিরে যামাখশারীর ঢুকিয়ে দেওয়া মুতাজিলা মতবাদগুলোকে খণ্ডন করেছেন।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٢)
وَقَالَ: إنَّهُ مَذْهَبُ الْمُعْتَزِلَةِ وَنَصُّهُ قَوْلُهُ فِي وَصْفِ اللَّهِ تَعَالَى بِالرَّحْمَةِ: إنَّهُ مَجَازُ اعْتِزَالٍ وَضَلَالٍ بِإِجْمَاعِ الْأُمَّةِ فَإِنَّ الْأُمَّةَ أَجْمَعَتْ عَلَى أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى رَحِيمٌ عَلَى الْحَقِيقَةِ وَأَنَّ مَنْ نَفَى عَنْهُ حَقِيقَةَ الرَّحْمَةِ فَإِنَّهُ كَافِرٌ، وَإِنَّمَا قَالَ الزَّمَخْشَرِيُّ ذَلِكَ؛ لِأَنَّ الرَّحْمَةَ عِنْدَ الْمُعْتَزِلَةِ رِقَّةٌ وَتَغَيُّرٌ وَلِأَنَّهُمْ يُنْكِرُونَ الْإِرَادَةَ الْقَدِيمَةَ وَيَصْرِفُونَ رَحْمَةَ اللَّهِ سُبْحَانَهُ إلَى الْأَفْعَالِ وَإِلَى إرَادَةٍ حَادِثَةٍ لِلَّهِ تَعَالَى اللَّهُ عَنْ قَوْلِهِمْ.

ثُمَّ قَالَ: وَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ الرَّحْمَةَ لَيْسَتْ سِوَى إرَادَةِ الْخَيْرِ وَلَيْسَتْ الرِّقَّةَ وَإِنَّمَا الرِّقَّةُ صِفَةٌ أُخْرَى تَارَةً تُصَاحِبُ الْإِرَادَةَ وَتَارَةً لَا تُصَاحِبُ وَأَطَالَ فِي ذَلِكَ.

(قُلْت) كَلَامُ الصِّحَاحِ نَحْوُ كَلَامِ الزَّمَخْشَرِيِّ وَقَدْ تَبِعَ الزَّمَخْشَرِيَّ عَلَى تَفْسِيرِ الرَّحْمَةِ بِمَا ذَكَرَ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ الْقَاضِي نَاصِرُ الدِّينِ الْبَيْضَاوِيُّ وَالشَّيْخُ ابْنُ عَرَفَةَ بَلْ نَقَلَ الْأَبِيُّ فِي تَفْسِيرِهِ عَنْ الشَّيْخِ ابْنِ عَرَفَةَ أَنَّهُ قَالَ: كُلُّ مَجَازٍ لَهُ حَقِيقِيَّةٌ إلَّا هَذَا يَعْنِي: الرَّحْمَنَ فَإِنَّ الرَّحْمَةَ الْعَطْفُ وَالتَّثَنِّي وَذَلِكَ إنَّمَا هُوَ حَقِيقَةٌ فِي الْأَجْسَامِ وَتَقَرَّرَ عِنْدِي أَنَّ غَيْرَ اللَّهِ لَا يُطْلَقُ عَلَيْهِ الرَّحْمَنُ فَهُوَ مَجَازٌ لَا حَقِيقَةَ لَهُ انْتَهَى. وَكَلَامُ الْأَبِيِّ هَذَا يَقْتَضِي أَنَّ الْمُرَادَ بِالِانْعِطَافِ الْجُسْمَانِيُّ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إنَّمَا الْمُرَادُ الِانْعِطَافُ النَّفْسَانِيُّ

 

وَالرَّحْمَنُ أَبْلَغُ مِنْ الرَّحِيمِ؛ لِأَنَّ زِيَادَةَ الْمَبْنَى تَدُلُّ عَلَى زِيَادَةِ الْمَعْنَى غَالِبًا فَلِذَلِكَ يُقَالُ: يَا رَحْمَنَ الدُّنْيَا؛ لِأَنَّهُ يَعُمُّ الْكَافِرَ وَالْمُؤْمِنَ وَرَحِيمَ الْآخِرَةِ؛ لِأَنَّهُ يَخُصُّ الْمُؤْمِنَ وَإِنَّمَا قُدِّمَ الرَّحْمَنُ وَالْقِيَاسُ يَقْتَضِي التَّرَقِّي لِتَقَدُّمِ رَحْمَةِ الدُّنْيَا وَلِأَنَّهُ صَارَ كَالْعَلَمِ فَلَا يُوصَفُ بِهِ غَيْرُهُ تَعَالَى بَلْ قِيلَ: إنَّهُ عَلَمٌ وَهُوَ اسْمٌ مُقْتَضٍ لِإِيجَادِ الْخَلْقِ فَلِذَلِكَ لَا يُسَمَّى بِهِ غَيْرُ الْحَقِّ، وَمَنْ تَسَمَّى بِهِ هَلَكَ وَالرَّحِيمُ مُقْتَضٍ لِإِمْدَادِ الْخَلْقِ بِقِوَامِ وُجُودِهِمْ وَيَجُوزُ إطْلَاقُهُ عَلَى الْمَخْلُوقِ؛ لِأَنَّ الْإِمْدَادَ يَصِحُّ فِي حَقِّهِمْ وَلِذَلِكَ وَجَبَ شُكْرُهُمْ عَلَى مَا وَصَلَ مِنْهُمْ.

 

‌‌[فَائِدَتَانِ]

(فَائِدَتَانِ: الْأُولَى) حَيْثُ ذُكِرَ الِاشْتِقَاقُ فِي أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى فَالْمُرَادُ مِنْهُ أَنَّ الْمَعْنَى الْمَذْكُورَ مَلْحُوظٌ فِي ذَلِكَ الِاسْمِ وَإِلَّا فَشَرْطُ الْمُشْتَقِّ أَنْ يَكُونَ مَسْبُوقًا بِالْمُشْتَقِّ مِنْهُ.

وَأَسْمَاءُ اللَّهِ تَعَالَى قَدِيمَةٌ؛ لِأَنَّهَا مِنْ كَلَامِهِ حَتَّى أَنْكَرَ قَوْمٌ إطْلَاقَ الِاشْتِقَاقِ لِلْإِبْهَامِ وَقَالُوا: إنَّمَا يُقَالُ فِي مِثْلِ اسْمِهِ السَّلَامِ فِيهِ مَعْنَى السَّلَامَةِ وَفِي الرَّحْمَنِ فِيهِ مَعْنَى الرَّحْمَةِ.

قَالُوا وَالْأَشْيَاءُ مُشْتَقَّةٌ مِنْ الْأَسْمَاءِ لِحَدِيثِ «هِيَ الرَّحِمُ وَأَنَا الرَّحْمَنُ اشْتَقَقْت لَهَا اسْمًا مِنْ اسْمِي»

وَقَالَ حَسَّانٌ:

فَشَقَّ لَهُ مِنْ اسْمِهِ لِيُجِلَّهُ … فَذُو الْعَرْشِ مَحْمُودٌ وَهَذَا مُحَمَّدُ

وَفِيهِ نَظَرٌ (الثَّانِيَةُ) نَقَلَ الدَّمَامِينِيُّ فِي حَاشِيَةِ الْبُخَارِيِّ عَنْ بَعْضِ الْمُتَأَخِّرِينَ أَنَّهُ قَالَ صِفَاتُ اللَّهِ تَعَالَى الَّتِي عَلَى صِيغَةِ الْمُبَالَغَةِ كَرَحِيمٍ وَغَفُورٍ كُلُّهَا مَجَازٌ إذْ هِيَ مَوْضُوعَةٌ لِلْمُبَالَغَةِ وَلَا مُبَالَغَةَ فِيهَا؛ لِأَنَّ الْمُبَالَغَةَ هِيَ أَنْ تُثْبِتَ لِشَيْءٍ أَكْثَرَ مِمَّا لَهُ وَإِنَّمَا يَكُونُ ذَلِكَ فِيمَا يَقْبَلُ الزِّيَادَةَ وَالنَّقْصَ وَصِفَاتُهُ تَعَالَى مُنَزَّهَةٌ عَنْ ذَلِكَ قَالَ: وَهِيَ فَائِدَةٌ حَسَنَةٌ انْتَهَى.

 

‌‌[شَرْحُ خُطْبَةِ الْمُخْتَصَرِ]

ص (يَقُولُ الْفَقِيرُ الْمُضْطَرُّ لِرَحْمَةِ رَبِّهِ الْمُنْكَسِرُ خَاطِرُهُ لِقِلَّةِ الْعَمَلِ وَالتَّقْوَى خَلِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَالِكِيُّ)

ش: أَتْبَعَ الْمُصَنِّفُ الْبَسْمَلَةَ بِالتَّعْرِيفِ بِنَفْسِهِ لِيَعْلَمَ بِذَلِكَ مَنْ يَقِفُ عَلَى كِتَابِهِ فَإِنَّهُ مِنْ الْأُمُورِ الْمُهِمَّةِ الَّتِي يَنْبَغِي تَقْدِيمُهَا وَلِأَنَّ الْأَلْفَاظَ الَّتِي ذَكَرَهَا مُشْتَمِلَةٌ عَلَى الثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى فَفِيهِ الْبُدَاءَةُ بِالْحَمْدِ وَالْفَقِيرُ هُوَ الْمُحْتَاجُ الَّذِي لَا شَيْءَ لَهُ وَالْمُضْطَرُّ الشَّدِيدُ الْحَاجَةِ الَّذِي لَا يَرَى لِنَفْسِهِ شَيْئًا مِنْ الْحَوْلِ وَالْقُوَّةِ وَلَا يَرَى شَيْئًا مِنْ الْأَسْبَابِ يَعْتَمِدُ عَلَيْهِ كَالْغَرِيقِ فِي الْبَحْرِ وَالضَّالِّ فِي الْقَفْرِ لَا يَرَى لِإِغَاثَتِهِ إلَّا مَوْلَاهُ وَالْفَقْرُ وَالْمَسْكَنَةُ لَازِمَانِ لِلِاضْطِرَارِ وَذَلِكَ مُوجِبٌ لِإِسْرَاعِ مَوَاهِبِ الْحَقِّ لِلْعَبْدِ وَتَقَدَّمَ تَفْسِيرُ الرَّحْمَةِ.

 

وَالرَّبُّ فِي الْأَصْلِ مَصْدَرٌ بِمَعْنَى التَّرْبِيَةِ وَهِيَ تَبْلِيغُ الشَّيْءِ إلَى كَمَالِهِ شَيْئًا فَشَيْئًا، ثُمَّ سُمِّيَ بِهِ الْمَالِكُ؛ لِأَنَّهُ يَحْفَظُ مَا يَمْلِكُهُ وَيُرَبِّيهِ وَلَا يُطْلَقُ عَلَى غَيْرِهِ تَعَالَى إلَّا مُقَيَّدًا قَالَ الْقُرْطُبِيُّ فِي تَفْسِيرِ سُورَةِ الْفَاتِحَةِ مَتَى دَخَلَتْ اللَّامُ وَالْأَلِفُ عَلَى رَبٍّ اخْتَصَّ بِاَللَّهِ تَعَالَى لِأَنَّهَا لِلْعَهْدِ وَإِنْ حُذِفَتْ صَارَ مُشْتَرَكًا بَيْنَ اللَّهِ تَعَالَى وَبَيْنَ عِبَادِهِ انْتَهَى وَالضَّمِيرُ فِي رَبِّهِ
তিনি বলেছেন: এটি মুতাজিলাদের মাযহাব। আল্লাহ তাআলার রহমত গুণের বর্ণনায় তাঁর বক্তব্য হলো: এটি উম্মতের ঐকমত্য অনুযায়ী মুতাজিলাবাদ ও পথভ্রষ্টতার একটি রূপক (মাজায) প্রয়োগ; কেননা উম্মত একমত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা প্রকৃতপক্ষে রহীম (দয়ালু) এবং যে ব্যক্তি তাঁর থেকে রহমতের প্রকৃত অর্থ অস্বীকার করে সে কাফের। যামাখশারী এটি এজন্য বলেছেন যে, মুতাজিলাদের নিকট রহমত হলো কোমলতা ও পরিবর্তন, এবং যেহেতু তারা প্রাচীন ইচ্ছাগুণকে (ইরাদা কাদীমা) অস্বীকার করে এবং আল্লাহর রহমতকে বিভিন্ন কাজ ও তাঁর একটি নবসৃষ্ট (হাদিস) ইচ্ছার দিকে ফিরিয়ে দেয়; তাদের কথা থেকে আল্লাহ তাআলা পবিত্র ও মহান।

অতঃপর তিনি বলেন: তারা জানত না যে রহমত কেবল কল্যাণের ইচ্ছা ছাড়া আর কিছু নয়, এটি কোমলতা নয়; বরং কোমলতা হলো অন্য একটি গুণ যা কখনো ইচ্ছার সাথে থাকে এবং কখনো থাকে না—তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

(আমি বলছি) সিহাহ-এর বক্তব্য যামাখশারীর বক্তব্যের মতোই। রহমতের ব্যাখ্যায় যামাখশারীর অনুসরণ করেছেন একদল আলিম, যাঁদের মধ্যে কাযী নাসিরুদ্দীন বায়যাবী এবং শেখ ইবনে আরাফাহ রয়েছেন। এমনকি আবীয়ী তাঁর তাফসীরে শেখ ইবনে আরাফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: প্রতিটি রূপক প্রয়োগের একটি প্রকৃত রূপ থাকে, কিন্তু এটি (অর্থাৎ 'রাহমান') ব্যতিক্রম; কারণ রহমত হলো মমতা ও আনত হওয়া, যা প্রকৃতপক্ষে কেবল দেহের ক্ষেত্রেই সম্ভব। আমার নিকট এটি স্থির হয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য 'রাহমান' শব্দটি প্রয়োগ করা হয় না, তাই এটি এমন এক রূপক যার কোনো প্রকৃত রূপ নেই (সমাপ্ত)। আবীয়ীর এই বক্তব্য দাবি করে যে, এর দ্বারা দৈহিক আনত হওয়া উদ্দেশ্য, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানসিক বা সত্তাগত আনত হওয়া।

 

রাহমান শব্দটি রহীম অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক; কারণ শব্দের গঠন বৃদ্ধি সাধারণত অর্থের আধিক্য নির্দেশ করে। এজন্যই বলা হয়: হে দুনিয়ার রাহমান; কারণ এটি কাফের ও মুমিন উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং আখেরাতের রহীম; কারণ এটি মুমিনের জন্য খাস। রাহমান শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে—যদিও যুক্তি অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে উন্নতির (তারাক্কী) দাবি ছিল—কারণ দুনিয়ার রহমত আগে এবং এটি আল্লাহর সুনির্দিষ্ট নামের মতো হয়ে গেছে, ফলে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কাউকে এর দ্বারা গুণান্বিত করা যায় না। বরং বলা হয়েছে: এটি একটি সংজ্ঞাবাচক নাম (আলাম), যা সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্বে আনার দাবি রাখে, তাই সত্য সত্তা (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কাউকে এই নামে নামকরণ করা যায় না। যে ব্যক্তি নিজেকে এই নামে অভিহিত করেছে সে ধ্বংস হয়েছে। আর রহীম সৃষ্টিজগতকে তাদের অস্তিত্বের স্থায়িত্বে সাহায্য করার দাবি রাখে, এবং এটি মাখলুকের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা বৈধ; কারণ সাহায্য করা তাদের ক্ষেত্রেও সঠিক হতে পারে, আর এ কারণেই তাদের পক্ষ থেকে যা প্রাপ্ত হয় তার জন্য তাদের শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব।

 

‌‌[দুইটি ফায়দা]

(ফায়দাদ্বয়: প্রথমটি) যেখানেই আল্লাহ তাআলার নামসমূহের ক্ষেত্রে ব্যুৎপত্তি (ইশতিকাক) উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে উদ্দেশ্য হলো সেই নামের মধ্যে উল্লিখিত অর্থটি বিবেচনাধীন থাকা; অন্যথায় ব্যুৎপন্ন (মুশতাক) শব্দের শর্ত হলো তার পূর্বে একটি মূল শব্দ (মুশতাক মিনহু) থাকতে হবে।

আর আল্লাহ তাআলার নামসমূহ কাদীম (অনাদি); কারণ সেগুলো তাঁর কালামের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি একদল আলিম অস্পষ্টতার আশঙ্কায় 'ব্যুৎপত্তি' শব্দ প্রয়োগ করতে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর 'সালাম' নামের ক্ষেত্রে বলা হবে যে এতে 'সালামত' (নিরাপত্তা) এর অর্থ রয়েছে এবং 'রাহমান' এর ক্ষেত্রে এতে 'রহমত' এর অর্থ রয়েছে।

তাঁরা বলেন: অন্যান্য জিনিস এই নামসমূহ থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে, কারণ হাদীসে এসেছে— 'এটি হলো রাহিম (রক্তের সম্পর্ক/জরায়ু) আর আমি হলাম রাহমান, আমি আমার নাম থেকে এর জন্য একটি নাম বের করেছি'।

হাসসান (রা.) বলেছেন:

তিনি তাঁর নাম থেকে একটি নাম বের করেছেন তাঁকে মহিমান্বিত করার জন্য … আরশের অধিপতি হলেন মাহমুদ আর ইনি হলেন মুহাম্মাদ।

তবে এ বিষয়ে তাত্ত্বিক দ্বিমত রয়েছে। (দ্বিতীয়টি) দামামিনী বুখারীর হাশিয়াতে পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলার যে গুণগুলো অতিশয়বাচক ফর্মে (সিগা মুবালাগা) আছে—যেমন রহীম ও গফুর—সেগুলো সবই রূপক (মাজায); কেননা সেগুলো অতিশয়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে অথচ আল্লাহর ক্ষেত্রে অতিশয়তা (মুবালাগা) খাটে না। কারণ অতিশয়তা হলো কোনো কিছুর জন্য তার প্রকৃত অবস্থার চেয়ে বেশি কিছু সাব্যস্ত করা, আর এটি কেবল তাতেই সম্ভব যা বৃদ্ধি বা হ্রাস গ্রহণ করে, অথচ আল্লাহ তাআলার গুণাবলি তা থেকে পবিত্র। তিনি বলেছেন: এটি একটি উত্তম ফায়দা (সমাপ্ত)।

 

‌‌[মুখতাসারের ভূমিকার ব্যাখ্যা]

মূল: (বলছেন তাঁর রবের রহমতের কাঙাল ও মুখাপেক্ষী, আমল ও তাকওয়ার স্বল্পতায় ভগ্নহৃদয় খলীল ইবনে ইসহাক আল-মালিকী।)

ব্যাখ্যা: লেখক বিসমিল্লাহর পর নিজের পরিচয় দিয়েছেন যাতে কিতাবটি পাঠকারী লেখক সম্পর্কে জানতে পারে; কেননা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা অগ্রে উল্লেখ করা উচিত। আর যেহেতু তিনি যে শব্দগুলো উল্লেখ করেছেন তাতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই এতে আল্লাহর প্রশংসা বা হামদ-এর মাধ্যমে শুরু করার বিষয়টি বিদ্যমান। ফাকীর হলো সেই অভাবী যার কিছুই নেই, আর মুদতার (বিপন্ন/অসহায়) হলো সেই চরম অভাবী ব্যক্তি যে নিজের মধ্যে কোনো উপায় বা শক্তি দেখে না এবং এমন কোনো মাধ্যম খুঁজে পায় না যার ওপর সে ভরসা করতে পারে; যেমন সমুদ্রে নিমজ্জিত ব্যক্তি বা মরুভূমিতে পথহারা ব্যক্তি—সে তার মাওলা ছাড়া আর কাউকে উদ্ধারের জন্য দেখতে পায় না। অভাব (ফকর) ও দীনতা (মাসকানাহ) চরম অসহায়ত্বের (ইযতিরাহ) জন্য অপরিহার্য, আর এটি বান্দার প্রতি আল্লাহর দান দ্রুত আসার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রহমতের ব্যাখ্যা আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

আর 'রব' শব্দটি মূলত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) যা 'তারবিয়াত' বা লালন-পালন অর্থে ব্যবহৃত হয়; যার অর্থ হলো কোনো বস্তুকে ধীরে ধীরে তার পূর্ণতায় পৌঁছে দেওয়া। অতঃপর এর দ্বারা 'মালিক' বা অধিপতিকে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তিনি যা মালিকানাধীন রাখেন তা হেফাজত করেন ও লালন-পালন করেন। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে শর্তহীনভাবে এই শব্দ প্রয়োগ করা হয় না। কুরতুবী সূরা ফাতিহার তাফসীরে বলেছেন: যখন 'রব' শব্দের শুরুতে আলিফ-লাম যুক্ত হয় তখন তা আল্লাহ তাআলার জন্য সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়, কারণ তা নির্দিষ্ট সত্তাকে বোঝানোর জন্য আসে; আর যদি আলিফ-লাম বাদ দেওয়া হয় তবে তা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে সাধারণ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে (সমাপ্ত)। 'রাব্বিহি' শব্দের সর্বনামটি...
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٣)
عَائِدٌ إلَى اللَّامِ الدَّاخِلَةِ عَلَى الْمُضْطَرِّ لِأَنَّهَا مَوْصُولٌ. وَعَبَّرَ عَنْ الْمَسْكَنَةِ اللَّازِمَةِ لِلِاضْطِرَارِ بِقَوْلِهِ: الْمُنْكَسِرُ خَاطِرُهُ، وَالْخَاطِرُ مَا يَخْطِرُ بِالْقَلْبِ مِنْ تَدْبِيرِ أَوَامِرَ وَنَحْوِهِ وَقَدْ يُطْلَقُ عَلَى مَحِلِّ ذَلِكَ الَّذِي هُوَ الْقَلْبُ وَهُوَ الْمُرَادُ هُنَا وَعَلَّلَ انْكِسَارَ خَاطِرِهِ بِقِلَّةِ الْعَمَلِ وَالتَّقْوَى تَوَاضُعًا مِنْهُ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - أَوْ لِأَنَّهُ لِشِدَّةِ مُرَاقَبَتِهِ لِنَفْسِهِ وَمُحَاسَبَتِهِ لَهَا لَمْ يَرْضَ عَنْهَا وَوَصَفَهَا بِمَا قَالَ كَمَا هُوَ حَالُ الْعَارِفِينَ جَعَلَنَا اللَّهُ مِنْهُمْ.

وَالتَّقْوَى مِنْ الْوِقَايَةِ بِمَعْنَى الصِّيَانَةِ وَهِيَ فِي عُرْفِ الشَّرْعِ اسْمٌ لِمَا يَقِي بِهِ الْإِنْسَانُ نَفْسَهُ مِمَّا يَضُرُّهُ فِي الْآخِرَةِ وَهِيَ ثَلَاثَةُ مَرَاتِبَ الْأُولَى التَّوَقِّي عَنْ الْعَذَابِ الْمُخَلِّدِ بِالتَّبَرِّي عَنْ الشِّرْكِ وَالثَّانِيَةُ تَجَنُّبُ مَا يَقْتَضِي الْإِثْمَ مِنْ فِعْلٍ أَوْ تَرْكٍ وَالثَّالِثَةُ تَجَنُّبُ مَا يَشْغَلُ السِّرَّ عَنْ الْحَقِّ تَعَالَى.

 

وَخَلِيلٌ فَعِيلٌ مِنْ الْخُلَّةِ وَهِيَ صَفَاءُ الْمَوَدَّةِ ثُمَّ نُقِلَ لِلْعَلَمِيَّةِ وَإِسْحَاقُ اسْمٌ عَجَمِيٌّ غَيْرُ مُنْصَرِفٍ وَالْمَالِكِيُّ نِسْبَةً إلَى مَذْهَبِ مَالِكٍ وَالْمُصَنِّفُ رحمه الله خَلِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مُوسَى كَذَا رَأَيْتُهُ بِخَطِّهِ فِي آخِرِ نُسْخَةٍ مِنْ مَنَاسِكِهِ وَذَكَرَ بَعْضُهُمْ أَنَّهُ رَأَى بِخَطِّهِ بَعْدَ مُوسَى بْنِ شُعَيْبٍ وَذَكَرَ ابْنُ غَازِيٍّ مَوْضِعَ مُوسَى يَعْقُوبَ وَيُوجَدُ كَذَلِكَ فِي بَعْضِ النُّسَخِ وَهُوَ مُخَالِفٌ لِمَا رَأَيْتُهُ بِخَطِّهِ وَيُكَنَّى بِأَبِي الْمَوَدَّةِ وَأَبِي الضِّيَاءِ وَذَكَرَ شَيْخُ شُيُوخِنَا الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي الدُّرَرِ الْكَامِنَةِ أَنَّهُ يُسَمَّى مُحَمَّدًا وَيُلَقَّبُ بِضِيَاءِ الدِّينِ وَيُعْرَفُ بِالْجُنْدِيِّ قَالَ ابْنُ فَرْحُونٍ: كَانَ مِنْ جُمْلَةِ أَجْنَادِ الْحَلَقَةِ الْمَنْصُورَةِ وَيَلْبَسُ زِيَّ الْجُنْدِ الْمُتَقَشِّفِينَ وَكَانَ عَالِمًا رَبَّانِيًّا صَدْرًا فِي عُلَمَاءِ الْقَاهِرَةِ مُجْمَعًا عَلَى فَضْلِهِ وَدِيَانَتِهِ ثَاقِبَ الذِّهْنِ أَصِيلَ الْبَحْثِ مُشَارِكًا فِي فُنُونِ مِنْ الْعَرَبِيَّةِ وَالْحَدِيثِ وَالْفَرَائِضِ فَاضِلًا فِي مَذْهَبِ مَالِكٍ صَحِيحَ النَّقْلِ تَخَرَّجَ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ جَمَاعَةٌ مِنْ الْفُقَهَاءِ وَالْفُضَلَاءِ انْتَهَى. وَكَانَ وَالِدُهُ حَنَفِيًّا لَكِنَّهُ كَانَ يُلَازِمُ الشَّيْخَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ بْنَ الْحَاجِّ صَاحِبَ الْمَدْخَلِ وَالشَّيْخَ عَبْدَ اللَّهِ الْمَنُوفِيَّ فَشَغَّلَ وَلَدَهُ مَالِكِيًّا وَلِلْمُصَنِّفِ رحمه الله كِتَابٌ جَمَعَ فِيهِ تَرْجَمَةَ الشَّيْخِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَنُوفِيِّ. قَالَ فِيهِ: وَكَانَ الْوَالِدُ يَعْنِي وَالِدَهُ مِنْ الْأَوْلِيَاءِ الْأَخْيَارِ وَذَكَرَ عَنْهُ مُكَاشِفَاتٍ وَتَخَرَّجَ الْمُصَنِّفُ بِالشَّيْخِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَنُوفِيِّ وَأَخَذَ الْأُصُولَ وَالْعَرَبِيَّةَ عَنْ الْبُرْهَانِ الرَّشِيدِيِّ وَسَمِعَ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْهَادِي وَقَرَأَ بِنَفْسِهِ عَلَى الْبَهَاءِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَلِيلٍ الْمَالِكِيِّ الْمُكَنَّى أَبَا دَاوُد التِّرْمِذِيَّ وَحَجَّ وَجَاوَرَ بِمَكَّةَ وَشَرَعَ فِي الِاشْتِغَالِ بَعْدَ شَيْخِهِ وَدَرَسَ بالشَّيْخُونِيَّةِ وَأَقْبَلَ عَلَى نَشْرِ الْعِلْمِ فَنَفَعَ اللَّهُ بِهِ الْمُسْلِمِينَ وَذَلِكَ بِبَرَكَةِ شَيْخِهِ، فَإِنَّهُ ذَكَرَ فِي التَّرْجَمَةِ الْمَذْكُورَةِ أَنَّهُ رَأَى شَيْخَهُ فِي الْمَنَامِ وَاقِفًا عِنْدَ قَبْرِهِ وَأَذِنَ لَهُ فِي الِاشْتِغَالِ وَأَمَرَهُ بِهِ قَالَ: وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَصْحَابِ سَيِّدِي الشَّيْخِ رُؤْيَا تُشِيرُ إلَى ذَلِكَ وَرَأَى أَنَّهُ حَصَلَتْ لَهُ مُكَاشَفَةٌ عَنْ بَعْضِ الصَّالِحِينَ فِي حَيَاةِ الشَّيْخِ بِأَنَّهُ هُوَ الَّذِي يَشْغَلُ طَلَبَةَ الشَّيْخِ بَعْدَهُ قَالَ: فَقَوِيَتْ نَفْسِي فَجَلَسْت وَوَاللَّهِ لَا أَعْرِفُ الرِّسَالَةَ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيَّ بِبَرَكَتِهِ وَهَانَ عَلَيَّ الْفِقْهُ، وَغَيْرُهُ وَلَمْ تَغِبْ عَلَيَّ مَسْأَلَةٌ أَصْلًا وَمَا ذَكَرَهُ مِنْ أَنَّهُ لَا يَعْرِفُ الرِّسَالَةَ لَعَلَّهُ يُرِيدُ الْمَعْرِفَةَ التَّامَّةَ وَإِلَّا فَقَدْ ذَكَرَ فِي التَّرْجَمَةِ الْمَذْكُورَةِ أَنَّهُ خَتَمَ ابْنُ الْحَاجِبِ قِرَاءَةً عَلَى الشَّيْخِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَنُوفِيِّ. وَيَشْهَدُ لِذَلِكَ أَيْضًا مَا نَقَلَهُ فِي التَّوْضِيحِ عَنْهُ فِي حَلِّ مَوَاضِعَ كَثِيرَةٍ. وَذَكَرَ أَيْضًا فِي التَّرْجَمَةِ عَنْ نَفْسِهِ أَنَّهُ كَانَ فِي حَالِ صِغَرِهِ قَرَأَ سِيرَةَ الْبَطَّالِ ثُمَّ شَرَعَ فِي غَيْرِهَا مِنْ الْحِكَايَاتِ وَلَمْ يَطَّلِعْ عَلَيْهِ أَحَدٌ مِنْ الطَّلَبَةِ فَقَالَ لَهُ الشَّيْخُ عَبْدُ اللَّهِ: يَا خَلِيلُ مِنْ أَعْظَمِ الْآفَاتِ السَّهَرُ فِي الْخُرَافَاتِ قَالَ: فَعَلِمْت أَنَّ الشَّيْخَ عَلِمَ بِحَالِي وَانْتَهَيْت مِنْ ذَلِكَ فِي الْحِينِ، وَذَكَرَ ابْنُ غَازِيٍّ أَنَّهُ حَكَى عَنْ الْمُصَنِّفِ أَنَّهُ أَقَامَ بِمِصْرَ عِشْرِينَ سَنَةً لَمْ يَرَ النِّيلَ وَأَنَّهُ جَاءَ لِمَنْزِلِ بَعْضِ شُيُوخِهِ فَوَجَدَ الْكَنِيفَ مَفْتُوحًا وَلَمْ يَجِدْ الشَّيْخَ فَقِيلَ لَهُ: إنَّهُ شَوَّشَهُ هَذَا الْكَنِيفُ فَذَهَبَ لِيَأْتِيَ بِمَنْ يُنَقِّيه، فَقَالَ الشَّيْخُ خَلِيلٌ: أَنَا أَوْلَى بِتَنْقِيَتِهِ، فَشَمَّرَ وَنَزَلَ وَجَاءَ الشَّيْخُ فَوَجَدَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ وَالنَّاسُ قَدْ حَلَّقُوا عَلَيْهِ
এটি ‘আল-মুদতার’ (বিপন্ন)-এর ওপর দাখিল হওয়া ‘লাম’-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, কেননা সেটি ইসমে মাওসুল। আর চরম বিপন্নতার জন্য যে দীনতা অপরিহার্য, তা তিনি ‘ভগ্নহৃদয়’ কথাটি দ্বারা প্রকাশ করেছেন। ‘খাত্বির’ হলো যা অন্তরে কোনো কাজের পরিকল্পনা বা এজাতীয় বিষয়ে উদিত হয়। কখনো কখনো এর দ্বারা সেই বিষয়টির স্থান অর্থাৎ ‘অন্তর’ উদ্দেশ্য হয়, আর এখানে সেটিই উদ্দেশ্য। তিনি তাঁর হৃদয়ের এই ভগ্নদশাকে নিজের আমল ও তাকওয়ার স্বল্পতার দিকে নিসবত করেছেন মূলত বিনয়বশত—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—অথবা এটি এজন্য যে, নিজের নফসের ওপর কঠোর তদারকি ও আত্ম-হিসাব গ্রহণের কারণে তিনি নিজের নফসের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাই একে এমন বিশেষণে বিশেষিত করেছেন যেমনটি আরিফগণের অবস্থা হয়ে থাকে। আল্লাহ আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

‘তাকওয়া’ শব্দটি ‘উইকায়াহ’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো সুরক্ষা। শরীয়তের পরিভাষায় এটি এমন বিষয়ের নাম, যার মাধ্যমে মানুষ পরকালে ক্ষতি করতে পারে এমন বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করে। এর তিনটি স্তর রয়েছে: প্রথমত, শিরক বর্জন করার মাধ্যমে চিরস্থায়ী আজাব থেকে বেঁচে থাকা। দ্বিতীয়ত, যা পাপের কারণ হয় এমন কাজ করা বা বর্জন করা থেকে দূরে থাকা। তৃতীয়ত, হক তাআলা থেকে ‘সির’ বা নিগূঢ় সত্তাকে বিমুখ করে এমন সবকিছু থেকে বেঁচে থাকা।

 

‘খলীল’ শব্দটি ‘খুল্লাত’ থেকে ফায়ীল-এর ওজনে এসেছে, যার অর্থ ভালোবাসার শুভ্রতা; পরবর্তীতে একে নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইসহাক একটি অনারব নাম যা ‘গাইর মুনসারিফ’। আর ‘মালিকী’ হলো মালিকী মাযহাবের প্রতি নিসবত। গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) হলেন খলীল ইবন ইসহাক ইবন মূসা। তাঁর রচিত হজের মাসায়েল সম্বলিত কিতাব (মানাসিক)-এর শেষে আমি তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে এভাবেই দেখেছি। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তারা তাঁর হস্তাক্ষরে মূসার পরে ইবন শুআইব কথাটি দেখেছেন। ইবন গাজী ‘মূসা’-এর স্থলে ইয়াকূব উল্লেখ করেছেন এবং কিছু পাণ্ডুলিপিতে এমনই পাওয়া যায়, তবে আমি তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে যা দেখেছি এটি তার পরিপন্থী। তাঁর কুনিয়া (উপনাম) হলো আবু আল-মাওয়াদ্দাহ এবং আবু আদ-দিয়া। আমাদের শায়খদের শায়খ হাফেজ ইবনে হাজার ‘আদ-দুরার আল-কামিনাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নাম মুহাম্মদ এবং লকব ‘দিয়াউদ্দীন’, আর তিনি ‘আল-জুন্দী’ নামে পরিচিত ছিলেন। ইবন ফারহুন বলেন: তিনি ‘হালকা আল-মানসুরা’-এর অন্যতম সৈনিক ছিলেন এবং দরবেশ সুলভ সৈনিকদের পোশাক পরিধান করতেন। তিনি ছিলেন কায়রোর আলেমদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন ‘আলিমে রব্বানী’। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও দ্বীনদারির ব্যাপারে সকলে একমত ছিল। তিনি ছিলেন তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী, গবেষণায় সুগভীর এবং আরবি ভাষা, হাদিস ও ফারায়েজ শাস্ত্রে পারদর্শী। মালিকী মাযহাবে তিনি ছিলেন অনন্য ফকীহ এবং মাসআলা বর্ণনায় অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। তাঁর নিকট একদল ফকীহ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি জ্ঞানার্জন করেছেন। সমাপ্ত। তাঁর পিতা হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তবে তিনি ‘আল-মাদখাল’ রচয়িতা শায়খ আবু আবদুল্লাহ ইবনুল হাজ এবং শায়খ আবদুল্লাহ আল-মানূফীর সান্নিধ্যে থাকতেন। ফলে তিনি তাঁর সন্তানকে মালিকী মাযহাবের অধ্যয়নে নিয়োজিত করেন। গ্রন্থকারের (রাহিমাহুল্লাহ) একটি কিতাব আছে যেখানে তিনি শায়খ আবদুল্লাহ আল-মানূফীর জীবনী সংকলন করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন: আমার পিতা ছিলেন শ্রেষ্ঠ ওলিদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি তাঁর সম্পর্কে কিছু ‘মুকাশাফা’ (আধ্যাত্মিক উন্মোচন) উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থকার শায়খ আবদুল্লাহ আল-মানূফীর নিকট শিক্ষা সমাপন করেন এবং বুরহান আর-রাশীদীর নিকট উসূল ও আরবি ভাষা অর্জন করেন। তিনি আবদুর রহমান ইবনুল হাদীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন এবং বাহাউদ্দীন আবদুল্লাহ ইবন খলীল আল-মালিকী (যার কুনিয়া আবু দাউদ আত-তিরমিজি)-এর নিকট সরাসরি পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি হজ পালন করেন এবং মক্কায় অবস্থান করেন। স্বীয় শায়খের পরে তিনি জ্ঞানচর্চায় ব্রতী হন এবং ‘শায়খুনিয়্যা’ মাদরাসায় দরস প্রদান করেন। তিনি ইলম প্রসারে মনোনিবেশ করেন এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন। এটি ছিল তাঁর শায়খের বরকত স্বরূপ। কারণ তিনি উক্ত জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি স্বপ্নে তাঁর শায়খকে তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন এবং শায়খ তাকে দ্বীনি কাজে আত্মনিয়োগের অনুমতি ও নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন: আমার সাইয়্যিদ শায়খের কোনো কোনো সঙ্গী এ বিষয়ে ইঙ্গিতবাহী স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং শায়খের জীবদ্দশাতেই কোনো এক নেককার ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাশফ হয়েছিল যে, শায়খের পরে তিনিই তাঁর ছাত্রদের পাঠদান করবেন। তিনি বলেন: এর ফলে আমার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং আমি বসলাম (দরস দিতে)। আল্লাহর কসম, আমি ‘রিসালা’ (ইবন আবি যায়েদ কাইরাওয়ানীর গ্রন্থ) পর্যন্ত ভালো করে জানতাম না, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বরকতে আমার জন্য দ্বার উন্মোচন করে দিলেন এবং ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্র আমার জন্য সহজ হয়ে গেল, এমনকি কোনো মাসআলাই আমার নিকট অস্পষ্ট থাকেনি। তিনি যে বলেছেন ‘রিসালা জানতেন না’, এর দ্বারা সম্ভবত পূর্ণাঙ্গ ও গভীর জ্ঞানের কথা বুঝিয়েছেন। অন্যথায় তিনি উক্ত জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শায়খ আবদুল্লাহ আল-মানূফীর নিকট ‘ইবনুল হাজিব’ কিতাবটির পাঠ সমাপ্ত করেছিলেন। ‘আত-তাওদীহ’ গ্রন্থে কিতাবের অনেক জটিল স্থানের সমাধানে তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তাও এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। তিনি নিজের সম্পর্কে আরও উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলায় তিনি ‘সীরাতে বাত্তাল’ পড়েছিলেন এবং এরপর অন্যান্য কিসসা-কাহিনী পড়া শুরু করেছিলেন। কোনো ছাত্রই বিষয়টি জানত না, কিন্তু শায়খ আবদুল্লাহ তাকে বললেন: হে খলীল, রূপকথা বা আষাঢ়ে গল্প পড়ে রাত জাগা সবচেয়ে বড় আপদগুলোর একটি। তিনি বলেন: তখন আমি বুঝতে পারলাম যে শায়খ আমার অবস্থা জেনে ফেলেছেন এবং আমি তৎক্ষণাৎ তা থেকে বিরত হলাম। ইবন গাজী উল্লেখ করেছেন যে, গ্রন্থকার সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি মিশরে বিশ বছর অবস্থান করেছেন অথচ কখনো নীল নদ দেখতে যাননি। একবার তিনি তাঁর জনৈক শায়খের বাড়িতে গিয়ে দেখেন শৌচাগারটি খোলা পড়ে আছে কিন্তু শায়খ সেখানে নেই। তাঁকে বলা হলো যে, এই শৌচাগারটির কারণে শায়খ খুব বিরক্ত ও কষ্ট পাচ্ছেন, তাই তিনি এটি পরিষ্কার করার জন্য লোক আনতে গিয়েছেন। তখন শায়খ খলীল বললেন: এটি পরিষ্কার করার জন্য আমিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। এরপর তিনি কাপড় গুটিয়ে সেখানে নামলেন (এবং পরিষ্কার করলেন)। শায়খ ফিরে এসে তাঁকে এই অবস্থায় দেখতে পেলেন এবং মানুষ তাঁর চারপাশে ভিড় জমিয়েছিল।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٤)
تَعَجُّبًا مِنْ فِعْلِهِ. فَقَالَ: مَنْ هَذَا قَالُوا: خَلِيلٌ فَاسْتَعْظَمَ ذَلِكَ وَدَعَا لَهُ عَنْ قَرِيحَةٍ صَادِقَةٍ فَنَالَ بَرَكَةَ ذَلِكَ وَوَضَعَ اللَّهُ الْبَرَكَةَ فِي عُمْرِهِ. وَذَكَرَ ابْنُ غَازِيٍّ أَيْضًا أَنَّهُ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْمُكَاشَفَاتِ وَأَنَّهُ مَرَّ بِطَبَّاخٍ يَبِيعُ لَحْمَ الْمَيْتَةِ فَكَاشَفَهُ وَزَجَرَهُ فَتَابَ عَلَى يَدَيْهِ وَأَنَّ بَعْضَ شُيُوخِ شُيُوخِهِ رَأَى الْمُصَنِّفَ يَلْبَسُ الثِّيَابَ الْقِصَارَ قَالَ: وَأَظُنُّهُ أَنَّهُ قَالَ: وَيَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَى عَنْ الْمُنْكَرِ. (قُلْت) وَقَدْ ذَكَرَ الْمُصَنِّفُ فِي تَرْجَمَةِ شَيْخِهِ أَنَّهُ مَرَّ بِشَوَّاءٍ فَاشْتَرَى مِنْهُ خَرُوفًا كَمَا خَرَجَ وَحَمَلَهُ عَلَى حَمَّالٍ وَخَرَجَ بِهِ إلَى الْكِيمَانِ وَطَرَحَهُ لِلْكِلَابِ فَتُعُجِّبَ مِنْ ذَلِكَ فَظَهَرَ أَنَّهُ مَيْتَةٌ فَلَعَلَّ هَذِهِ الْحِكَايَةُ الَّتِي أَشَارَ إلَيْهَا ابْنُ غَازِيٍّ وَيُمْكِنُ أَنْ تَكُونَ غَيْرُهَا. (وَأَلَّفَ رحمه الله) شَرْحَ ابْنِ الْحَاجِبِ الْمُسَمَّى بِالتَّوْضِيحِ وَوَضَعَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْقَبُولَ وَاعْتَمَدَهُ النَّاسُ وَهُوَ أَكْثَرُ شُرُوحِهِ فُرُوعًا وَفَوَائِدَ (وَأَلَّفَ مَنْسَكًا لَطِيفًا مُتَوَسِّطًا اعْتَمَدَهُ النَّاسُ) وَعِنْدَنَا نُسْخَةٌ أَكْثَرُهَا بِخَطِّهِ (وَجَمَعَ التَّرْجَمَةَ الْمَذْكُورَةَ لِشَيْخِهِ) قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَهِيَ تَدُلُّ عَلَى مَعْرِفَتِهِ بِالْأُصُولِ قَالَ بَعْضُهُمْ: وَشَرَحَ أَلْفِيَّةَ ابْنِ مَالِكٍ وَلَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ وَأَلَّفَ هَذَا الْمُخْتَصَرَ الَّذِي لَمْ يُسْبَقْ إلَيْهِ وَأَقْبَلَ النَّاسُ جَمِيعُهُمْ عَلَيْهِ قَالَ شَيْخُ شُيُوخِنَا الْقَاضِي تَقِيُّ الدِّينِ الْفَاسِيُّ مُؤَرِّخُ مَكَّةَ وَشَرَحَ عَلَى بَعْضِهِ (وَمَنَاقِبُهُ) رحمه الله كَثِيرَةٌ (وَمَاتَ رحمه الله) فِي ثَالِثِ عَشَرَ رَبِيعِ الْأَوَّلِ سَنَةَ سَبْعٍ وَسِتِّينَ وَسَبْعِمِائَةٍ كَذَا ذَكَرَ الْقَاضِي تَقِيُّ الدِّينِ وَابْنُ حَجَرٍ وَذَكَرَ ابْنُ غَازِيٍّ أَنَّهَا فِي سَنَةِ سِتٍّ وَسَبْعِينَ وَهُمَا أَعْلَمُ مِنْ ابْنِ غَازِيٍّ بِذَلِكَ وَأَمَّا تَارِيخُ الْوَفَاةِ الَّذِي ذَكَرَهُ ابْنُ فَرْحُونٍ فِي تَرْجَمَةِ الشَّيْخِ خَلِيلٍ فَإِنَّمَا هُوَ تَارِيخُ وَفَاةِ الشَّيْخِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَنُوفِيِّ؛ لِأَنَّهُ ذَكَرَ أَنَّهُ مَاتَ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَتِسْعِمِائَةٍ بِالطَّاعُونِ وَكَذَلِكَ ذَكَرَ الشَّيْخُ خَلِيلٌ فِي تَارِيخِ وَفَاةِ شَيْخِهِ فِي التَّرْجَمَةِ الْمَذْكُورَةِ وَقَالَ: فِي سَابِعِ رَمَضَانَ. وَوَهَمَ فِي ذَلِكَ بَعْضُ النَّاسِ فَظَنَّ أَنَّهَا لِلشَّيْخِ خَلِيلٍ وَاعْتَرَضَ عَلَى ابْنِ حَجَرٍ بِمَا ذَكَرَهُ ابْنُ فَرْحُونٍ وَقَالَ: إنَّهُ مَالِكِيٌّ، وَأَنَّهُ اجْتَمَعَ بِهِ فَهُوَ أَعْرَفُ بِوَفَاتِهِ وَالصَّوَابُ مَا ذَكَرَهُ ابْنُ حَجَرٍ وَالْفَاسِيُّ وَذَكَرَ ابْنُ الْفُرَاتِ أَنَّ بَعْضَ الطَّلَبَةِ رَأَى الْمُصَنِّفَ فِي الْمَنَامِ بَعْدَ وَفَاتِهِ وَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَلِمَنْ صَلَّى عَلَيْهِ.

 

ص (الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا يُوَافِي مَا تَزَايَدَ مِنْ النِّعَمِ وَالشُّكْرِ لَهُ عَلَى مَا أَوْلَانَا مِنْ الْفَضْلِ وَالْكَرَمِ)

ش: هَذَا مَقُولُ الْقَوْلِ وَأَتَى رحمه الله بِالْحَمْدَلَةِ بَعْدَ الْبَسْمَلَةِ اقْتِدَاءً بِالْقُرْآنِ الْعَظِيمِ وَبِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي ابْتِدَائِهِ بِالْحَمْدِ فِي جَمِيعِ خُطَبِهِ وَعَمَلًا بِجَمِيعِ رِوَايَاتِ الْحَدِيثِ السَّابِقِ فَفِي رِوَايَةِ «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْتَدَأُ فِيهِ بِ الْحَمْدُ لِلَّهِ فَهُوَ أَقْطَعُ» وَفِي رِوَايَةٍ «بِحَمْدِ اللَّهِ» وَفِي رِوَايَةٍ «بِالْحَمْدِ فَهُوَ أَقْطَعُ» وَفِي رِوَايَةٍ «كُلُّ كَلَامٍ لَا يُبْتَدَأُ فِيهِ بِ الْحَمْدُ لِلَّهِ فَهُوَ أَجْذَمُ»

وَفِي رِوَايَةٍ «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْتَدَأُ فِيهِ بِبَسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَهُوَ أَقْطَعُ» . قَالَ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ الْمُهَذَّبِ: رُوِّينَا هَذِهِ الْأَلْفَاظَ كُلَّهَا فِي كِتَابِ الْأَرْبَعِينَ لِلْحَافِظِ عَبْدِ الْقَادِرِ الرَّهَاوِيِّ قَالَ: وَرَوَيْنَاهُ فِيهِ مِنْ رِوَايَةِ كَعْبٍ عَنْ مَالِكٍ وَالْمَشْهُورَ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ النَّوَوِيُّ وَهُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْنُ مَاجَهْ وَالنَّسَائِيُّ وَأَبُو عَوَانَةَ فِي صَحِيحِهِ الْمُخَرَّجِ عَلَى صَحِيحِ مُسْلِمٍ وَرُوِيَ مَوْصُولًا وَمُرْسَلًا وَرِوَايَةُ الْمَوْصُولِ إسْنَادُهَا جَيِّدٌ انْتَهَى وَفِي رِوَايَةٍ فِي مُسْنَدِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُفْتَتَحُ بِذِكْرِ اللَّهِ فَهُوَ أَبْتَرُ أَوْ قَالَ أَقْطَعُ عَلَى التَّرَدُّدِ» وَلَا يُقَالُ: الْبُدَاءَةُ حَقِيقَةً إنَّمَا هِيَ بِالْبَسْمَلَةِ لِأَنَّا نَقُولُ: الِابْتِدَاءُ مَحْمُولٌ عَلَى الْعُرْفِيِّ الَّذِي يُعْتَبَرُ مُمْتَدًّا مِنْ أَوَّلِ الْخُطْبَةِ إلَى حِينِ الشُّرُوعِ فِي الْمَقْصُودِ.

 

وَالْحَمْدُ لُغَةً الْوَصْفُ بِالْجَمِيلِ عَلَى جِهَةِ التَّعْظِيمِ سَوَاءٌ كَانَ فِي مُقَابَلَةِ نِعْمَةٍ أَوْ لَا وَعُلِمَ مِنْ قَوْلِنَا: الْوَصْفُ، أَنَّهُ لَا يَكُونُ إلَّا بِالْكَلَامِ فَمَوْرِدُهُ أَيْ مَحِلُّهُ خَاصٌّ وَمُتَعَلِّقُهُ عَامٌّ أَيْ السَّبَبُ الْبَاعِثُ عَلَيْهِ عَامٌّ وَالشُّكْرُ لُغَةً فِعْلٌ يُنْبِئُ عَنْ تَعْظِيمِ الْمُنْعِمِ بِسَبَبِ إنْعَامِهِ عَلَى الشَّاكِرِ وَحَذَفَ بَعْضُهُمْ هَذَا الْقَيْدَ وَيَكُونُ بِاللِّسَانِ وَالْجَنَانِ
তাঁর কাজে বিস্মিত হয়ে। তিনি বললেন: ইনি কে? তারা বলল: খলিল। তিনি বিষয়টিকে অনেক বড় মনে করলেন এবং অকৃত্রিম আন্তরিকতা থেকে তাঁর জন্য দুআ করলেন। ফলে তিনি সেই দুআর বরকত লাভ করলেন এবং আল্লাহ তাঁর হায়াতে বরকত দান করলেন। ইবনে গাজী আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আধ্যাত্মিক উন্মোচন (মুকাশাফাহ) প্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একদিন তিনি একজন বাবুর্চির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে মৃত প্রাণীর মাংস বিক্রি করছিল। তিনি তা আধ্যাত্মিকভাবে জানতে পেরে তাকে ধমক দিলেন, ফলে সে তাঁর হাতে তওবা করল। এবং তাঁর উস্তাদদের কোনো কোনো উস্তাদ গ্রন্থকারকে ছোট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছিলেন। তিনি (ইবনে গাজী) বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছেন যে, তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎকাজে বাধা প্রদান করতেন। (আমি বলছি) গ্রন্থকার তাঁর উস্তাদের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একজন কাবাব বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছ থেকে একটি সদ্য প্রস্তুতকৃত ভেড়া কিনলেন এবং একজন কুলি দ্বারা তা বহন করে টিলার দিকে নিয়ে গেলেন এবং কুকুরদের জন্য নিক্ষেপ করলেন। এতে মানুষ বিস্মিত হলো, পরে প্রকাশ পেল যে সেটি মৃত প্রাণী ছিল। সম্ভবত এটিই সেই ঘটনা যার দিকে ইবনে গাজী ইশারা করেছেন, অথবা হতে পারে এটি অন্য কোনো ঘটনা। (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি রচনা করেছেন) ইবনুল হাজিবের কিতাবের ব্যাখ্যা গ্রন্থ 'আত-তাওজিহ' নামে। আল্লাহ একে কবুলিয়াত দান করেছেন এবং মানুষ এর ওপর নির্ভর করেছে। এটি তাঁর ব্যাখ্যা গ্রন্থগুলোর মধ্যে শাখা-প্রশাখা ও উপকারের দিক থেকে সর্বাধিক সমৃদ্ধ। (এবং তিনি হজের একটি চমৎকার ও মাঝারি আকারের নিয়মাবলী সংবলিত গ্রন্থ রচনা করেছেন যার ওপর মানুষ নির্ভর করেছে)। আমাদের নিকট এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার অধিকাংশ তাঁর নিজ হাতের লেখা। (এবং তিনি তাঁর উস্তাদের জন্য উল্লিখিত জীবনীটি সংকলন করেছেন)। ইবনে হাজার বলেন: এটি উসুল শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যা লিখেছেন, তবে আমি তা দেখিনি। এবং তিনি এই সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসার) গ্রন্থটি রচনা করেছেন যার পূর্বে এমনটি আর করা হয়নি এবং সমস্ত মানুষ এর প্রতি মনোনিবেশ করেছে। আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ মক্কার ঐতিহাসিক কাজী তাকিউদ্দীন আল-ফাসি বলেন: তিনি এর কিছু অংশের ব্যাখ্যা লিখেছেন। (এবং তাঁর গুণাবলী) আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, অনেক। (এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) হিজরি ৭৬৭ সনের ১৩ই রবিউল আউয়াল মাসে। কাজী তাকিউদ্দীন ও ইবনে হাজার এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে গাজী উল্লেখ করেছেন যে এটি হিজরি ৭৭৬ সনে ছিল। তাঁরা দুজন (তাকিউদ্দীন ও ইবনে হাজার) এ বিষয়ে ইবনে গাজীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত। ইবনে ফারহুন শেখ খলিলের জীবনীতে মৃত্যুর যে তারিখ উল্লেখ করেছেন, তা মূলত শেখ আবদুল্লাহ আল-মানুফির মৃত্যুর তারিখ। কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি ৯৪৯ হিজরি সনে প্লেগ রোগে মারা গেছেন। শেখ খলিলও উল্লিখিত জীবনীতে তাঁর উস্তাদের মৃত্যুর তারিখ এমনই উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ৯ই রমজান। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে ভ্রান্তিতে পড়েছেন এবং ধারণা করেছেন যে এটি শেখ খলিলের মৃত্যুর তারিখ। তারা ইবনে হাজরের ওপর আপত্তি তুলেছেন ইবনে ফারহুন যা উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে, এবং বলেছেন যে তিনি একজন মালেকি এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তাই তিনি তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অধিক অবগত। অথচ সঠিক হলো যা ইবনে হাজার ও আল-ফাসি উল্লেখ করেছেন। ইবনুল ফুরাত উল্লেখ করেছেন যে, কোনো কোনো ছাত্র গ্রন্থকারকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখেছেন এবং তিনি তাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁকে এবং যারা তাঁর জানাজায় অংশ নিয়েছেন তাদের সকলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

 

মূল পাঠ: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর ক্রমবর্ধমান নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর শুকরিয়া ঐ অনুগ্রহ ও করুণার জন্য যা তিনি আমাদের দান করেছেন।)

ব্যাখ্যা: এটি উদ্ধৃত বক্তব্য। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি মহান কুরআনের অনুকরণে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সমস্ত খুতবার শুরুতে প্রশংসা করার যে আদর্শ রেখে গেছেন তার অনুসরণে এবং পূর্বোক্ত হাদিসের সমস্ত বর্ণনা অনুযায়ী আমল করার লক্ষ্যে বিসমিল্লাহর পর আলহামদুলিল্লাহ নিয়ে এসেছেন। এক বর্ণনায় এসেছে: "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'আলহামদুলিল্লাহ' দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "আল্লাহর প্রশংসার সাথে"। আরেক বর্ণনায় আছে: "প্রশংসার সাথে, ফলে তা অপূর্ণ।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "যেকোনো কথা যা 'আলহামদুলিল্লাহ' দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।"

অন্য এক বর্ণনায় আছে: "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ।" ইমাম নববী 'শারহুল মুহাযযাব'-এ বলেছেন: আমরা হাফেজ আব্দুল কাদির আর-রাহাভির 'কিতাবুল আরবাঈন'-এ এই শব্দগুলো সব বর্ণনা করেছি। তিনি বলেন: আমরা সেখানে মালেকের সূত্রে কাব থেকে এটি বর্ণনা করেছি, তবে আবু হুরায়রার বর্ণনাটিই অধিক প্রসিদ্ধ। ইমাম নববী বলেন: এটি হাসান হাদিস, যা আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসায়ি এবং আবু আওয়ানা তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যা সহিহ মুসলিমের আদলে সংকলিত। এটি সংযুক্ত (মাউসুল) এবং বিচ্ছিন্ন (মুরসাল) উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে, তবে সংযুক্ত বর্ণনার সনদ উৎকৃষ্ট। ইমাম আহমদের মুসনাদে এক বর্ণনায় আছে: "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)" অথবা সন্দেহের সাথে বলেছেন: "অপূর্ণ"। এ কথা বলা যাবে না যে, প্রকৃত সূচনা তো কেবল বিসমিল্লাহর মাধ্যমে হয়। কারণ আমরা বলি: সূচনা বলতে এখানে প্রচলিত সূচনা (ইবতিদা উরফি) বোঝানো হয়েছে যা খুতবার শুরু থেকে উদ্দেশ্য শুরু করার সময় পর্যন্ত বিস্তৃত বলে গণ্য হয়।

 

আভিধানিকভাবে হামদ (প্রশংসা) হলো সম্মানের সাথে সুন্দর গুণাবলি বর্ণনা করা, তা কোনো নেয়ামতের বিনিময়ে হোক বা না হোক। আমাদের 'গুণাবলি বর্ণনা' কথাটি থেকে বোঝা গেল যে, এটি কেবল কথার মাধ্যমেই হয়। সুতরাং এর প্রয়োগক্ষেত্র অর্থাৎ স্থান বিশেষ (জিহ্বা), তবে এর সম্পৃক্ততা ব্যাপক; অর্থাৎ এর কারণ বা উদ্দেশ্য ব্যাপক। আর আভিধানিকভাবে শোকর (কৃতজ্ঞতা) হলো এমন কাজ যা দানকারীর প্রতি তাঁর নেয়ামত প্রদানের কারণে সম্মান প্রদর্শন করে। কেউ কেউ এই শর্তটি বাদ দিয়েছেন। শোকর জিহ্বা এবং অন্তরের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٥)
وَالْأَرْكَانِ، فَالشُّكْرُ بِاللِّسَانِ أَنْ يُثْنِيَ عَلَى الْمُنْعِمِ وَالشُّكْرُ بِالْقَلْبِ أَنْ يَعْتَقِدَ اتِّصَافَهُ بِصِفَاتِ الْكَمَالِ وَأَنَّهُ وَلَيُّ النِّعْمَةِ وَالشُّكْرُ بِالْجَوَارِحِ أَنْ يُجْهِدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَتِهِ فَمُتَعَلِّقُ الشُّكْرِ خَاصٌّ وَمَوْرِدُهُ عَامٌّ فَبَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحَمْدِ عُمُومٌ وَخُصُوصٌ مِنْ وَجْهٍ.

وَالْحَمْدُ عُرْفًا هُوَ الشُّكْرُ لُغَةً لَكِنْ بِحَذْفِ قَوْلِنَا: عَلَى الشَّاكِرِ، وَالشُّكْرُ عُرْفًا صَرْفُ الْعَبْدِ جَمِيعَ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ بِهِ عَلَيْهِ مِنْ السَّمْعِ وَالْبَصَرِ وَغَيْرِهِمَا لِمَا خُلِقَ لَهُ فَالنِّسْبَةُ بَيْنَ الْحَمْدَيْنِ عُمُومٌ وَخُصُوصٌ مِنْ وَجْهٍ وَبَيْنَ الشُّكْرَيْنِ عُمُومٌ وَخُصُوصٌ مُطْلَقٌ وَكَذَا بَيْنَ الشُّكْرِ الْعُرْفِيِّ وَالْحَمْدِ اللُّغَوِيِّ وَبَيْنَ الْحَمْدِ الْعُرْفِيِّ وَالشُّكْرِ اللُّغَوِيِّ إنْ قُيِّدَتْ النِّعْمَةُ فِي الْحَمْدِ اللُّغَوِيِّ بِوُصُولِهَا إلَى الشَّاكِرِ كَمَا مَرَّ وَإِذَا لَمْ تُقَيَّدْ كَانَا مُتَّحِدَيْنِ وَأَلْ فِي الْحَمْدِ لِلِاسْتِغْرَاقِ وَقِيلَ: لِلْجِنْسِ وَحُكِيَ عَنْ الشَّيْخِ أَبِي الْعَبَّاسِ الْمُرْسِي نَفَعَنَا اللَّهُ بِهِ أَنَّهُ قَالَ: قُلْت لِابْنِ النَّحَّاسِ النَّحْوِيِّ: مَا تَقُولُ فِي الْأَلِفِ وَاللَّامِ فِي " الْحَمْدُ لِلَّهِ " أَجِنْسِيَّةٌ هِيَ أَمْ عَهْدِيَّةٌ؟ فَقَالَ: يَا سَيِّدِي قَالُوا: إنَّهَا جِنْسِيَّةٌ. فَقُلْت لَهُ: الَّذِي أَقُولُ: إنَّهَا عَهْدِيَّةٌ وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ لَمَّا عَلِمَ عَجْزَ خَلْقِهِ عَنْ كُنْهِ حَمْدِهِ حَمِدَ نَفْسَهُ بِنَفْسِهِ فِي الْأَزَلِ نِيَابَةً عَنْ خَلْقِهِ قَبْلَ أَنْ يَحْمَدُوهُ ثُمَّ أَمَرَهُمْ أَنْ يَحْمَدُوهُ بِذَلِكَ الْحَمْدِ، فَقَالَ: يَا سَيِّدِي أُشْهِدُك أَنَّهَا عَهْدِيَّةٌ وَهَذَا مَعْنًى حَسَنٌ وَاخْتَارَ الْمُصَنِّفُ الْجُمْلَةَ الِاسْمِيَّةَ؛ لِأَنَّهَا مُفْتَتَحُ الْكِتَابِ الْعَزِيزِ وَلِأَنَّهَا تَدُلُّ عَلَى الدَّوَامِ وَالثُّبُوتِ فَهِيَ الَّتِي تُنَاسِبُ قَوْلَهُ مَا تَزَايَدَ مِنْ النِّعَمِ.

فَإِنْ قِيلَ: حَمْدُ الْعِبَادِ حَادِثٌ وَاَللَّهُ تَعَالَى قَدِيمٌ وَلَا يَجُوزُ قِيَامُ الْحَادِثِ بِالْقَدِيمِ فَمَا مَعْنَى حَمْدِ الْعِبَادِ لَهُ تَعَالَى؟ فَالْجَوَابُ أَنَّ الْمُرَادَ تَعَلُّقُ الْحَمْدِ وَلَا يَلْزَمُ مِنْ التَّعَلُّقِ الْقِيَامُ كَتَعَلُّقِ الْعِلْمِ بِالْمَعْلُومِ وَقَوْلُهُ: حَمْدًا مَصْدَرٌ نَوْعِيٌّ وَمَعْنَى يُوَافِي يُلَاقِي أَيْ كُلَّمَا زَادَتْ نِعْمَةٌ لَاقَاهَا حَمْدٌ فَيَكُونُ ذَلِكَ سَبَبًا لِلْمَزِيدِ وَقَالَ بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ: مَعْنَاهُ يَفِي بِهَا وَيَقُومُ بِحَقِّهَا وَفِيهِ نَظَرٌ لِعَجْزِ الْمَخْلُوقِ عَنْ حَمْدٍ يَقُومُ بِحَقِّ الْخَالِقِ إلَّا إذَا جُعِلَتْ اللَّامُ لِلْعَهْدِ. وَالنِّعَمُ جَمْعُ نِعْمَةٍ بِكَسْرِ النُّونِ وَهِيَ الْمِنَّةُ وَالصَّنِيعَةُ وَمَا أَنْعَمَ اللَّهُ بِهِ عَلَى الْإِنْسَانِ وَتُطْلَقُ عَلَى الْإِنْعَامِ وَيَصِحُّ جَعْلُهَا فِي كَلَامِ الْمُصَنِّفِ بِمَعْنَى الْمُنْعَمِ بِهِ وَبِمَعْنَى الْإِنْعَامِ قِيلَ: وَهُوَ أَوْلَى؛ لِأَنَّ الْحَمْدَ عَلَى الصِّفَاتِ أَوْلَى مِنْهُ عَلَى مُتَعَلِّقَاتِهَا وَأَمَّا النَّعْمَةُ بِالْفَتْحِ فَهِيَ التَّنَعُّمُ وَبِالضَّمِّ السُّرُورُ وَأَعْظَمُ النِّعَمِ الْهِدَايَةُ لِلْإِسْلَامِ وَمَعْنَى أَوْلَانَا أَعْطَانَا وَالْفَضْلُ الزِّيَادَةُ وَيُقَالُ عَلَى الْإِعْطَاءِ بِلَا سَبَبٍ وَلَا عِلَّةٍ وَالْكَرَمُ الْجُودُ وَيُطْلَقُ عَلَى كَرَمِ الْأَصْلِ وَجَعَلَ الْمُصَنِّفُ الْحَمْدَ فِي مُقَابَلَةِ النِّعَمِ لِيَكُونَ شُكْرًا مُوجِبًا لِلْمَزِيدِ إذْ مِنْ النِّعَمِ الْعَظِيمَةِ إلْهَامُهُ لِتَصْنِيفِ هَذَا الْكِتَابِ ثُمَّ تَكْمِيلِهِ ثُمَّ الِانْتِفَاعِ بِهِ وَعَطَفَ الشُّكْرَ عَلَيْهِ تَنْبِيهًا عَلَى حُصُولِ التَّعْظِيمِ وَالثَّنَاءِ بِالْجَنَانِ وَالْأَرْكَانِ أَيْضًا فَإِنَّ الْحَمْدَ إنَّمَا هُوَ بِاللِّسَانِ كَمَا تَقَدَّمَ.

 

(فَائِدَةٌ) : قَالَ سَيِّدِي مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ السَّنُوسِيُّ حُكْمُ الْحَمْدِ الْوُجُوبُ مَرَّةً فِي الْعُمْرِ كَالْحَجِّ وَكَلِمَتَيْ الشَّهَادَةِ وَالصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم انْتَهَى وَحُكْمُ الِابْتِدَاءِ بِهِ فِي أَوَّلِ الْمُصَنَّفَاتِ وَأَوَّلِ الْإِقْرَاءِ وَالْقِرَاءَةِ الِاسْتِحْبَابُ كَمَا ذَكَرَهُ الْفَاكِهَانِيُّ فِي أَوَّلِ شَرْحِ الرِّسَالَةِ قَالَ: قَالَ الْعُلَمَاءُ: يُسْتَحَبُّ الْبُدَاءَةُ بِالْحَمْدِ لِكُلِّ مُصَنِّفٍ وَدَارِسٍ وَمُدَرِّسٍ وَخَطِيبٍ وَخَاطِبٍ وَمُتَزَوِّجٍ وَمُزَوِّجٍ وَبَيْنَ يَدَيْ سَائِرِ الْأُمُورِ الْمُهِمَّةِ قَالَ الْفَاكِهَانِيُّ: قُلْت وَكَذَلِكَ الثَّنَاءُ عَلَى اللَّهِ وَالصَّلَاةُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم انْتَهَى. وَكَأَنَّهُ يُرِيدُ بِالثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ الزِّيَادَةَ عَلَى الْحَمْدِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

ص (لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْهِ هُوَ كَمَا أَثْنَى عَلَى نَفْسِهِ)

ش: لَمَّا حَمِدَ اللَّهَ تَعَالَى عَلَى مَا تَزَايَدَ مِنْ النِّعَمِ وَشَكَرَهُ نَبَّهَ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ إنَّمَا هُوَ امْتِثَالٌ لِلْأَمْرِ وَإِلَّا فَلَيْسَ يُحْصِي الثَّنَاءَ عَلَيْهِ تَعَالَى أَحَدٌ وَأَصْلُ هَذَا قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْك أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْت عَلَى نَفْسِك» رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَلَوْ أَتَى بِهِ الْمُصَنِّفُ هَكَذَا لَكَانَ فِيهِ مَعَ مُوَافَقَةِ لَفْظِ الْحَدِيثِ الْتِفَاتٌ وَكَأَنَّهُ قَصَدَ أَنْ يَكُونَ الْكَلَامُ عَلَى أُسْلُوبٍ وَاحِدٍ وَلِأَجْلِ السَّجْعِ فِي قَوْلِهِ رَمْسِهِ وَمَعْنَى لَا أُحْصِي: لَا أُطِيقُ أَنْ أُثْنِيَ عَلَيْك بِمَا تَسْتَحِقُّ أَنْ يُثْنَى عَلَيْك بِهِ.

وَقَالَ مَالِكٌ: مَعْنَاهُ لَا أُحْصِي نِعَمَك فَأُثْنِي
এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ। সুতরাং রসনার কৃতজ্ঞতা হলো দাতার প্রশংসা করা, অন্তরের কৃতজ্ঞতা হলো তাঁকে পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত বলে বিশ্বাস করা এবং তিনি যে নিআমতের অভিভাবক তা অন্তরে রাখা। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কৃতজ্ঞতা হলো তাঁর আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। অতএব কৃতজ্ঞতার সংশ্লিষ্টতা বিশেষ, তবে এর উৎস সাধারণ। ফলে এর (কৃতজ্ঞতা) এবং প্রশংসার মধ্যে এক দিক থেকে সাধারণ ও বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

পারিভাষিক প্রশংসা (হামদ) মূলত আভিধানিক কৃতজ্ঞতা (শুকর), তবে এতে আমাদের এই উক্তিটি বাদ থাকে: "কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর"। আর পারিভাষিক কৃতজ্ঞতা হলো বান্দা কর্তৃক আল্লাহ প্রদত্ত শ্রবণ, দর্শনসহ যাবতীয় নিআমতকে সেই কাজে ব্যয় করা যে জন্য সেগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে উভয় প্রশংসার মধ্যে এক দিক থেকে সাধারণ ও বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। আবার উভয় কৃতজ্ঞতার মধ্যে 'সাধারণ ও বিশেষ নিরঙ্কুশ' সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে পারিভাষিক কৃতজ্ঞতা ও আভিধানিক প্রশংসা এবং পারিভাষিক প্রশংসা ও আভিধানিক কৃতজ্ঞতার মধ্যেও একই সম্পর্ক, যদি আভিধানিক প্রশংসায় নিআমতকে কৃতজ্ঞ ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর শর্তে সীমাবদ্ধ করা হয় যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যদি তা শর্তযুক্ত না করা হয়, তবে উভয়টি অভিন্ন হবে। "আল-হামদু" শব্দের "আল" ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে; কেউ কেউ বলেছেন এটি প্রকার বা জাতি বুঝাতে ব্যবহৃত। শেখ আবু আল-আব্বাস আল-মুরসি (আল্লাহ আমাদের তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি ব্যাকরণবিদ ইবনুল নাহহাসকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আল-হামদুলিল্লাহ" বাক্যে আলিফ ও লাম কি জাতিবাচক নাকি পরিচিতিবাচক? তিনি উত্তর দিলেন: হে আমার সাইয়্যিদ, আলেমগণ বলেছেন এটি জাতিবাচক। আমি তাঁকে বললাম: আমি যা বলি তা হলো, এটি পরিচিতিবাচক। তার কারণ হলো, আল্লাহ যখন তাঁর সৃষ্টির অক্ষমতা সম্পর্কে জানলেন যে তারা তাঁর প্রশংসার প্রকৃত হাকীকত অনুধাবন করতে পারবে না, তখন তিনি সৃষ্টির প্রশংসার পূর্বেই অনাদিকাল থেকে তাদের পক্ষ থেকে নিজেই নিজের প্রশংসা করেছেন। এরপর তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা সেই প্রশংসার মাধ্যমেই তাঁর প্রশংসা করে। তখন ইবনুল নাহহাস বললেন: হে আমার সাইয়্যিদ, আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি এটি পরিচিতিবাচক এবং এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি অর্থ। গ্রন্থকার বিশেষ্যমূলক বাক্য নির্বাচন করেছেন; কারণ এটি পবিত্র কিতাবের প্রারম্ভিক বাক্য এবং এটি স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তা বুঝায়। ফলে এটি তাঁর পরবর্তী বক্তব্য "ক্রমাগত বর্ধনশীল নিআমত" এর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যদি প্রশ্ন করা হয়: বান্দার প্রশংসা নশ্বর, আর আল্লাহ তাআলা অনাদি; আর নশ্বর কোনো বিষয় অনাদি সত্তার সাথে যুক্ত হওয়া অসম্ভব, তাহলে আল্লাহর প্রতি বান্দার প্রশংসার অর্থ কী? উত্তর হলো: এখানে উদ্দেশ্য হলো প্রশংসার সংশ্লিষ্টতা, আর সংশ্লিষ্টতার জন্য সেই সত্তার সাথে অবস্থান আবশ্যক নয়, যেমনটি জ্ঞাত বিষয়ের সাথে জ্ঞানের সংশ্লিষ্টতা। তাঁর উক্তি "প্রশংসা" একটি প্রকারবাচক ক্রিয়ামূল। আর "মিলিত হওয়া" শব্দের অর্থ হলো সাক্ষাত করা; অর্থাৎ যখনই কোনো নিআমত বৃদ্ধি পায়, তখনই একটি প্রশংসা তার সাথে মিলিত হয়, যা নিআমত বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলেম বলেছেন: এর অর্থ হলো তা নিআমতের হক আদায় করে এবং তার সমপরিমাণ হয়। তবে এই মতটি বিবেচ্য, কারণ সৃষ্টির পক্ষে স্রষ্টার যথাযথ হক আদায়কারী প্রশংসা করা অসম্ভব, যদি না 'লাম' অক্ষরটিকে পরিচিতিবাচক ধরা হয়। "নিআম" শব্দটি "নিআমাহ" এর বহুবচন, যার অর্থ অনুগ্রহ ও দান এবং আল্লাহ মানুষকে যা দান করেছেন। এটি দান করার কাজকেও বোঝায়। গ্রন্থকারের বক্তব্যে এটি দানকৃত বস্তু এবং দান করার কাজ—উভয় অর্থেই সঠিক হতে পারে। বলা হয়েছে: এটিই উত্তম; কারণ কোনো বিষয়ের সংশ্লিষ্টতার চেয়ে গুণের প্রশংসা করা অধিক শ্রেয়। পক্ষান্তরে জবর যোগে "না'মাহ" অর্থ সুখ-ভোগ এবং পেশ যোগে "নু'মাহ" অর্থ আনন্দ। সর্বশ্রেষ্ঠ নিআমত হলো ইসলামের হেদায়েত। "আমাদের দান করেছেন" এর অর্থ আমাদের দিয়েছেন। আর "ফজল" মানে অতিরিক্ত অংশ; কোনো কারণ বা হেতু ছাড়াই দান করার ক্ষেত্রেও এটি বলা হয়। "কারাম" হলো উদারতা, এটি বংশীয় আভিজাত্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়। গ্রন্থকার প্রশংসাকে নিআমতের বিপরীতে রেখেছেন যাতে এটি কৃতজ্ঞতা হিসেবে নিআমত বৃদ্ধির কারণ হয়। কেননা এক মহান নিআমত হলো এই কিতাব রচনায় তাঁর অনুপ্রেরণা, এরপর তা সম্পন্ন করা এবং সবশেষে এর দ্বারা উপকৃত হওয়া। তিনি প্রশংসার ওপর কৃতজ্ঞতাকে যুক্ত করেছেন যাতে অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমেও সম্মান ও গুণগান প্রকাশিত হয় সেই দিকে ইঙ্গিত করতে; কারণ প্রশংসা কেবল রসনার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

(উপকারিতা): আমার সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আস-সানুসি বলেছেন: জীবনে অন্তত একবার আল্লাহর প্রশংসা করা ওয়াজিব বা আবশ্যক, যেমন হজ, কালিমায়ে শাহাদাত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ করা। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। গ্রন্থ রচনার শুরুতে, পাঠদান এবং পাঠ গ্রহণের শুরুতে এটি পাঠ করার বিধান হলো মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়, যেমনটি ফাকিহানি 'রিসালা'র ব্যাখ্যার শুরুতে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আলেমগণ বলেছেন, প্রত্যেক গ্রন্থকার, ছাত্র, শিক্ষক, খতিব, বাগদত্তা, বিবাহকারী এবং বিবাহ পড়ানো ব্যক্তির জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরুর প্রাক্কালে প্রশংসা দ্বারা শুরু করা মুস্তাহাব। ফাকিহানি বলেন: আমি বলি, একইভাবে আল্লাহর গুণগান এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ করাও মুস্তাহাব। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সম্ভবত তিনি আল্লাহর গুণগান বলতে প্রশংসার অতিরিক্ত অংশ বুঝিয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

মূল পাঠ (আমি তাঁর প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; তিনি তেমনই যেমন তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন)

ব্যাখ্যা: আল্লাহ তাআলা যখন ক্রমাগত বর্ধনশীল নিআমতের ওপর আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন, তখন তিনি সতর্ক করলেন যে এটি মূলত আদেশের আনুগত্য মাত্র। অন্যথায় আল্লাহ তাআলার প্রশংসা গণনা করে শেষ করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এর মূল ভিত্তি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারি না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকার যদি এটি হুবহু হাদিসের শব্দে আনতেন তবে তাতে বক্তব্যের মোড় পরিবর্তন হতো। সম্ভবত তিনি চেয়েছিলেন বক্তব্য যেন একই রীতিতে বজায় থাকে এবং ছন্দের মিল থাকে। "গণনা করতে পারি না" এর অর্থ হলো: আপনি যে প্রশংসার যোগ্য, সেই প্রশংসা করার সামর্থ্য আমার নেই।

ইমাম মালিক বলেছেন: এর অর্থ হলো আমি আপনার নিআমতসমূহ গণনা করতে পারি না, তাই আমি প্রশংসা করি।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٦)
عَلَيْك بِهَا ثُمَّ عَقَّبَهُ بِقَوْلِهِ هُوَ كَمَا أَثْنَى عَلَى نَفْسِهِ اعْتِرَافًا بِالْعَجْزِ عَنْ الثَّنَاءِ تَفْصِيلًا وَرُدَّ ذَلِكَ إلَى الْمُحِيطِ بِكُلِّ شَيْءٍ قَالَ الْأَبِيُّ: يُرِيدُ أَنَّ عَظَمَةَ اللَّهِ وَصِفَاتِ جَلَالِهِ لَا نِهَايَةَ لَهَا وَعُلُومَ الْبَشَرِ وَقُدَرَهُمْ مُتَنَاهِيَةٌ فَلَا يَتَعَلَّقَانِ بِمَا لَا يَتَنَاهَى وَإِنَّمَا يَتَعَلَّقُ بِذَلِكَ عِلْمُهُ تَعَالَى الَّذِي لَا يَتَنَاهَى وَتُحْصِيه قُدْرَتُهُ الَّتِي لَا تَتَنَاهَى.

 

(فَائِدَةٌ) قَالَ الشَّيْخُ يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ: اُخْتُلِفَ فِي تَعْيِينِ الْفَاضِلِ مِنْ الْحَمْدِ فَقِيلَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ بِجَمِيعِ مَحَامِدِهِ كُلِّهَا مَا عَلِمْت مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَقِيلَ: اللَّهُمَّ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْك أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِك، وَقِيلَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا يُوَافِي نِعَمَهُ وَيُكَافِئُ مَزِيدَهُ.

قَالَ: وَيَنْبَنِي عَلَى ذَلِكَ مَسْأَلَةٌ فِقْهِيَّةٌ فِيمَنْ حَلَفَ لَيَحْمَدَنَّ اللَّهَ بِأَفْضَلِ مَحَامِدِهِ فَمَنْ أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ مِنْ الْخِلَافِ فَلْيَحْمَدْهُ بِجَمِيعِهَا وَزَادَ غَيْرُهُ مِمَّا ذَكَرَهُ فِي الْقَوْلِ الْأَوَّلِ عَدَدَ خَلْقِهِ كُلِّهِمْ مَا عَلِمْت مِنْهُمْ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَقَالَ الْمُتَأَخِّرُونَ مِنْ الْخُرَاسَانِيِّينَ مِنْ الشَّافِعِيَّةِ: لَوْ حَلَفَ إنْسَانٌ لَيَحْمِدَنَّ اللَّهَ بِمَجَامِعِ الْحَمْدِ، وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: بِأَجَلِّ التَّحَامِيدِ فَطَرِيقُهُ فِي الْبِرِّ أَنْ يَقُولَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا يُوَافِي نِعَمَهُ وَيُكَافِئُ مَزِيدَهُ.

قَالَ النَّوَوِيُّ: قَالُوا: وَلَوْ حَلَفَ لَيُثْنِيَنَّ عَلَى اللَّهِ أَحْسَنَ الثَّنَاءِ فَطَرِيقُ الْبِرِّ أَنْ يَقُولَ: لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْك أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْت عَلَى نَفْسِك وَزَادَ بَعْضُهُمْ فَلَكَ الْحَمْدُ حَتَّى تَرْضَى وَصَوَّرَ أَبُو سَعِيدٍ التُّونِيُّ الْمَسْأَلَةَ فِيمَنْ حَلَفَ لَيُثْنِيَنَّ عَلَى اللَّهِ بِأَجَلِّ الثَّنَاءِ وَأَعْظَمِهِ وَزَادَ فِي أَوَّلِ الذِّكْرِ سُبْحَانَك. وَعَنْ أَبِي نَصْرٍ التَّمَّارِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ النَّضْرِ قَالَ: «قَالَ: آدَم صلى الله عليه وسلم يَا رَبِّ شَغَلْتَنِي بِكَسْبِ يَدَيَّ فَعَلِّمْنِي شَيْئًا فِيهِ مَجَامِعُ الْحَمْدِ وَالتَّسْبِيحِ، فَأَوْحَى اللَّهُ تبارك وتعالى إلَيْهِ يَا آدَم إذَا أَصْبَحْت فَقُلْ ثَلَاثًا وَإِذَا أَمْسَيْت فَقُلْ ثَلَاثًا: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ حَمْدًا يُوَافِي نِعَمَهُ وَيُكَافِئُ مَزِيدَهُ فَذَلِكَ مَجَامِعُ الْحَمْدِ وَالتَّسْبِيحِ» وَقَوْلُهُ: يُكَافِئُ بِهَمْزَةٍ فِي آخِرِهِ أَيْ يُسَاوِي مَزِيدَ نِعَمِهِ وَمَعْنَاهُ يَقُومُ بِشُكْرِ مَا زَادَ مِنْ النِّعَمِ. وَالْإِحْصَاءُ الْعَدُّ قَالَهُ فِي الْأَذْكَارِ.

 

ص (وَأَسْأَلُهُ اللُّطْفَ وَالْإِعَانَةَ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ وَحَالَ حُلُولِ الْإِنْسَانِ فِي رَمْسِهِ)

ش: لَمَّا اعْتَرَفَ بِالْعَجْزِ وَالتَّقْصِيرِ سَأَلَ مِنْ مَوْلَاهُ الْقَدِيرِ اللَّطِيفِ الْإِعَانَةَ وَاللُّطْفُ لُغَةً الرِّفْقُ وَعُرْفًا مَا يَقَعُ عِنْدَهُ صَلَاحُ الْعَبْدِ آخِرَةً بِأَنْ تَقَعَ مِنْهُ الطَّاعَةُ دُونَ الْمَعْصِيَةِ وَالْإِعَانَةُ وَالْمَعُونَةُ وَالْعَوْنُ الْمُسَاعَدَةُ وَالْأَحْوَالُ جَمْعُ حَالٍ يُذَكَّرُ وَيُؤَنَّثُ وَهُوَ مَا يَكُونُ الْإِنْسَانُ عَلَيْهِ فِي الْوَقْتِ الَّذِي هُوَ فِيهِ وَالْحُلُولُ النُّزُولُ وَالْإِنْسَانُ وَاحِدُ الْأَنَاسِيِّ يُطْلَقُ عَلَى الذَّكَرِ وَالْأُنْثَى قَالَ فِي الصِّحَاحِ: وَلَا تَقُلْ إنْسَانَةٌ، وَالْعَامَّةُ تَقُولُهُ وَقَالَ فِي الْقَامُوسِ: وَالْمَرْأَةُ إنْسَانٌ وَبِالْهَاءِ عَامِّيَّةٌ وَسُمِعَ فِي شِعْرٍ كَأَنَّهُ مُوَلَّدٌ

لَقَدْ كَسَتْنِي فِي الْهَوَى … مَلَابِسَ الصَّبِّ الْغَزَلْ

إنْسَانَةٌ فَتَّانَةٌ … بَدْرُ الدُّجَى مِنْهَا خَجَلْ

إذَا زَنَتْ عَيْنِي بِهَا … فَبِالدُّمُوعِ تَغْتَسِلْ

وَالرَّمْسُ فِي الْأَصْلِ مَصْدَرٌ قَالَ فِي الصِّحَاحِ: رَمَسْت عَلَيْهِ الْخَبَرَ كَتَمْتُهُ وَيُطْلَقُ عَلَى الْقَبْرِ وَعَلَى تُرَابِهِ وَخَصَّ هَذِهِ الْحَالَةَ لِشِدَّةِ الْحَاجَةِ فِيهَا إلَى مَزِيدِ اللُّطْفِ وَالْإِعَانَةِ إذْ هِيَ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ وَمَعْلُومٌ أَنَّ الرِّحْلَةَ الْأُولَى صَعْبَةٌ عَلَى الْمُسَافِرِ فِي الدُّنْيَا فَكَيْفَ الْحَالُ هُنَا نَسْأَلُ اللَّهَ السَّلَامَةَ وَأَنْ يُثَبِّتَنَا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَأَسْنَدَ الْمُصَنِّفُ قَوْلَهُ لَا أُحْصِي إلَى ضَمِيرِ الْوَاحِدِ وَقَوْلَهُ وَنَسْأَلُهُ إلَى ضَمِيرِ الْجَمَاعَةِ كَأَنَّ الْأَوَّلَ فِيهِ الِاعْتِرَافُ بِالْعَجْزِ وَإِنَّمَا يُثْبِتُهُ الْإِنْسَانُ لِنَفْسِهِ وَهُوَ أَيْضًا مَقَامُ اسْتِغْرَاقٍ وَنَفْيِ الْكَثْرَةِ وَالثَّانِي دُعَاءٌ وَالْمَطْلُوبُ فِيهِ مُشَارَكَةُ الْمُسْلِمِينَ فَإِنَّ ذَلِكَ مَظِنَّةُ الْإِجَابَةِ قَالَ الرَّازِيّ إنَّ الدُّعَاءَ مَهْمَا كَانَ أَعَمَّ كَانَ إلَى الْإِجَابَةِ أَقْرَبُ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

ص (وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ سَيِّدِ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ الْمَبْعُوثِ لِسَائِرِ الْأُمَمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ وَأُمَّتِهِ أَفْضَلِ الْأُمَمِ)

ش: أَتْبَعَ رحمه الله حَمْدَ اللَّهِ تَعَالَى بِالصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم -
আপনি তা আঁকড়ে ধরুন, এরপর তিনি এই কথার অনুসরণ করেছেন যে, 'তিনি তেমনই যেমন তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন', বিস্তারিতভাবে প্রশংসা করতে অক্ষমতা প্রকাশের মাধ্যমে এবং যাবতীয় বিষয়কে সর্বব্যাপী সত্তার দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। আল-আববী বলেন: এর অর্থ হলো আল্লাহর মহিমা ও তাঁর মর্যাদাপূর্ণ গুণাবলীর কোনো শেষ নেই, আর মানুষের জ্ঞান ও ক্ষমতা সসীম, তাই সসীম বিষয় অসীমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে না; বরং অসীমের সাথে কেবল মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞানই সম্পৃক্ত হয় এবং তাঁর অসীম ক্ষমতা তা পরিবেষ্টন করে।

 

(একটি ফায়দা) শায়খ ইউসুফ ইবনে উমর বলেন: সর্বোত্তম প্রশংসা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: (সর্বোত্তম প্রশংসা হলো) ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর সমস্ত প্রশংসার সাথে, যা আমি জানি এবং যা জানি না’। আবার বলা হয়েছে: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার প্রশংসার অন্ত খুঁজে পাই না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন’। আরও বলা হয়েছে: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ’।

তিনি বলেন: এর ওপর একটি ফিকহী মাসআলা ভিত্তি করে—যে ব্যক্তি শপথ করল যে সে অবশ্যই আল্লাহর সর্বোত্তম প্রশংসার মাধ্যমে প্রশংসা করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি মতভেদ থেকে বের হতে চায় সে যেন সবগুলোর মাধ্যমেই আল্লাহর প্রশংসা করে। অন্য কেউ প্রথম উক্তিতে বর্ণিত কথার সাথে এই অংশটুকু যুক্ত করেছেন: ‘তাঁর সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাদের মধ্যে যাদের আমি জানি এবং যাদের আমি জানি না’। শাফেঈ মাযহাবের পরবর্তী যুগের খুরাসানি আলিমগণ বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি শপথ করে যে সে অবশ্যই আল্লাহর এমন প্রশংসা করবে যা সকল প্রশংসার সমষ্টি, আর তাদের কেউ কেউ বলেছেন: ‘সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রশংসার মাধ্যমে’, তবে তার শপথ পূর্ণ করার উপায় হলো এই বলা: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ’।

ইমাম নববী বলেন: তাঁরা বলেছেন, যদি কেউ শপথ করে যে সে অবশ্যই আল্লাহর সর্বোত্তম প্রশংসা করবে, তবে শপথ পূর্ণ করার উপায় হলো এই বলা: ‘আমি আপনার প্রশংসার অন্ত খুঁজে পাই না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন’। তাদের কেউ কেউ এতে যুক্ত করেছেন: ‘সুতরাং আপনারই জন্য সকল প্রশংসা যতক্ষণ না আপনি সন্তুষ্ট হন’। আবু সাঈদ আত-তুনি মাসআলাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি শপথ করল যে সে অবশ্যই আল্লাহর সুউচ্চ ও মহান প্রশংসার মাধ্যমে গুণগান করবে, সে যেন যিকিরের শুরুতে ‘সুবহানাকা’ (আপনি পবিত্র) যুক্ত করে নেয়। আবু নাসর আত-তাম্মার থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনুন নাযর বলেন: «আদম আলাইহিস সালাম বললেন, হে রব! আপনি আমাকে আমার হাতের উপার্জনে ব্যস্ত করে দিয়েছেন, সুতরাং আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যাতে প্রশংসার ও তাসবীহের সকল সমষ্টি বিদ্যমান থাকে। তখন মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: হে আদম! যখন তুমি ভোরে উঠবে তখন তিনবার বলো এবং যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে তখন তিনবার বলো: ‘সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ’। আর এটিই হলো প্রশংসা ও তাসবীহের সমষ্টি।» তাঁর উক্তি ‘ইউকাফিউ’ (يُكَافِئُ) এর শেষে হামযাহ রয়েছে, অর্থাৎ তাঁর নেয়ামতের বৃদ্ধির সমান হওয়া; এর অর্থ হলো অতিরিক্ত নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করা। আর ‘ইহসা’ (الإِحْصَاءُ) মানে গণনা করা, যা তিনি ‘আল-আযকার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

মূল: (এবং আমি তাঁর কাছে সকল অবস্থায় এবং মানুষের কবরে প্রবেশের মুহূর্তে তাঁর মেহেরবানি ও সাহায্য প্রার্থনা করছি)

ব্যাখ্যা: যখন তিনি নিজের অক্ষমতা ও ত্রুটি স্বীকার করলেন, তখন তিনি তাঁর সর্বশক্তিমান মেহেরবান প্রতিপালকের কাছে সাহায্য চাইলেন। আভিধানিক অর্থে ‘লুতফ’ হলো কোমলতা, আর পরিভাষায় এটি এমন বিষয় যার মাধ্যমে পরকালে বান্দার সংশোধন ঘটে—এভাবে যে, তার থেকে অবাধ্যতার পরিবর্তে আনুগত্য প্রকাশ পায়। ‘ইআনাহ’, ‘মাউনাহ’ ও ‘আওন’ অর্থ হলো সহায়তা। ‘আহওয়াল’ শব্দটি ‘হাল’-এর বহুবচন, যা পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো মানুষ যে সময়ে যে অবস্থায় থাকে। ‘হুলুল’ অর্থ অবরোহণ বা প্রবেশ করা। ‘ইনসান’ শব্দটি ‘আনাসি’ (الأناسي)-এর একবচন, যা পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ‘সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তুমি ‘ইনসানাহ’ বলো না, যদিও সাধারণ মানুষ তা বলে থাকে। ‘কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: নারীও ‘ইনসান’; আর ‘হা’ (ইনসানাহ) যুক্ত করা সাধারণ মানুষের ভাষা, তবে কবিতায় এটি শোনা গেছে যা সম্ভবত পরবর্তীকালের কবিদের সংযোজন—

নিশ্চয়ই ভালোবাসায় সে আমাকে পরিয়েছে … প্রণয়ী ও প্রেমিকের পোশাক

এক চিত্তাকর্ষক মানবী … যার রূপে অমাবস্যার চাঁদও লজ্জিত হয়

আমার চোখ যখন তাকে দেখে পাপে লিপ্ত হয় … তখন তা চোখের পানিতেই গোসল করে নেয়

‘রামস’ শব্দটি মূলত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। ‘সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘আমি তার কাছে খবরটি গোপন করেছি’। এটি কবরের ওপর এবং কবরের মাটির ওপরও প্রয়োগ করা হয়। তিনি এই অবস্থাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন কারণ এই সময়ে মেহেরবানি ও সাহায্যের চরম প্রয়োজন থাকে, যেহেতু এটি আখেরাতের মঞ্জিলসমূহের প্রথম মঞ্জিল। এটা জানা কথা যে, দুনিয়াতে মুসাফিরের জন্য প্রথম যাত্রাটি অত্যন্ত কঠিন হয়, তাহলে এখানে অবস্থা কেমন হবে? আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে আমাদের সুদৃঢ় বাণীর ওপর অটল রাখেন। লেখক তাঁর ‘আমি অন্ত খুঁজে পাই না’ উক্তিটিকে একবচনের সর্বনামে সম্পৃক্ত করেছেন, আর ‘আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি’ উক্তিটিকে বহুবচনের সর্বনামে সম্পৃক্ত করেছেন। যেন প্রথমটির মধ্যে অক্ষমতার স্বীকৃতি রয়েছে যা মানুষ নিজের জন্যই সাব্যস্ত করে, আর এটি নিমগ্নতা ও আধিক্যকে অস্বীকার করারও একটি পর্যায়। আর দ্বিতীয়টি হলো দুআ, যেখানে মুসলমানদের অংশগ্রহণ কাম্য, কারণ এটি কবুল হওয়ার উপযুক্ত ক্ষেত্র। ইমাম রাযী বলেন, দুআ যত বেশি ব্যাপক হয়, তা কবুল হওয়ার তত নিকটবর্তী হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

মূল: (এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, যিনি আরব ও অনারবদের নেতা, যিনি সকল উম্মতের নিকট প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর স্ত্রীগণ, তাঁর বংশধর এবং তাঁর উম্মত—যারা উম্মতদের মধ্যে সর্বোত্তম—তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।)

ব্যাখ্যা: লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মহান আল্লাহর প্রশংসার পর তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করেছেন -
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٧)
أَدَاءً لِبَعْضِ مَا يَجِبُ لَهُ صلى الله عليه وسلم إذْ هُوَ الْوَاسِطَةُ بَيْنَ اللَّهِ تَعَالَى وَبَيْنَ الْعِبَادِ وَجَمِيعُ النِّعَمِ الْوَاصِلَةِ إلَيْهِمْ الَّتِي أَعْظَمُهَا الْهِدَايَةُ لِلْإِسْلَامِ، إنَّمَا هِيَ بِبَرَكَتِهِ وَعَلَى يَدَيْهِ وَامْتِثَالًا لِقَوْلِهِ تَعَالَى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56] وَعَمَلًا بِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «كُلُّ كَلَامٍ لَا يُذْكَرُ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ فَيُبْدَأُ بِهِ وَبِالصَّلَاةِ عَلَيَّ فَهُوَ أَقْطَعُ مَمْحُوقٌ مِنْ كُلِّ بَرَكَةٍ» أَخْرَجَهُ الدَّيْلَمِيُّ فِي مُسْنَدِ الْفِرْدَوْسِ وَأَبُو مُوسَى الْمَدِينِيُّ وَالْخَلِيلِيُّ وَالرَّهَاوِيُّ فِي الْأَرْبَعِينَ قَالَ الْحَافِظُ السَّخَاوِيُّ وَسَنَدُهُ ضَعِيفٌ وَهُوَ فِي فَوَائِدِ ابْنِ مَنْدَهْ بِلَفْظِ «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْتَدَأُ فِيهِ بِذِكْرِ اللَّهِ ثُمَّ بِالصَّلَاةِ عَلَيَّ فَهُوَ أَقْطَعُ أَكْتَعُ» انْتَهَى.

(قُلْتُ) وَإِنْ كَانَ ضَعِيفًا فَقَدْ اتَّفَقَ الْعُلَمَاءُ عَلَى جَوَازِ الْعَمَلِ بِالْحَدِيثِ الضَّعِيفِ فِي فَضَائِلِ الْأَعْمَالِ وَاغْتِنَامًا لِلثَّوَابِ الْوَارِدِ فِي قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ فِي كِتَابٍ لَمْ تَزَلْ الْمَلَائِكَةُ تَسْتَغْفِرُ لَهُ مَا دَامَ اسْمِي فِي ذَلِكَ الْكِتَابِ» ذَكَرَهُ فِي الشِّفَاءِ وَقَالَ الْعِرَاقِيُّ فِي تَخْرِيجِ أَحَادِيثِ الْإِحْيَاءِ رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ وَأَبُو الشَّيْخِ فِي الثَّوَابِ وَالْمُسْتَغْفِرِي فِي الدَّعَوَاتِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ قَالَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ زَرُّوق: وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ كُتُبُ الصَّلَاةِ وَهُوَ أَظْهَرُ أَوْ قِرَاءَةُ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ وَهُوَ أَوْسَعُ وَأَرْجَى انْتَهَى وَسَمِعْت بَعْضَ مَشَايِخِي يَذْكُرُ أَنَّهُ يُشْتَرَطُ فِي حُصُولِ الثَّوَابِ الْمَذْكُورِ التَّلَفُّظُ بِالصَّلَاةِ فِي حَالِ الْكِتَابَةِ وَلَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ لِغَيْرِهِ بَلْ ظَاهِرُ الْحَدِيثِ وَكَلَامُ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِشَرْطٍ قَالَ الْحَافِظُ السَّخَاوِيُّ فِي شَرْحِ الْهِدَايَةِ لِابْنِ الْخَزْرَجِيِّ فِي عِلْمِ الْحَدِيثِ وَلْيُحَافِظْ الطَّالِبُ عَلَى كِتَابَةِ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كُلَّمَا كَتَبَهُ بِدُونِ رَمْزٍ كَمَا يَفْعَلُهُ الْكَسَالَى وَلَا يَسْأَمُ مِنْ تَكْرَارِهِ سَوَاءٌ كَانَ ثَابِتًا فِي الْأَصْلِ أَمْ لَا، وَمَنْ أَغْفَلَ الصَّلَاةَ وَالسَّلَامَ حُرِمَ أَجْرًا عَظِيمًا وَيُرْوَى عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ فِي كِتَابٍ لَمْ تَزَلْ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ اسْمِي فِي ذَلِكَ الْكِتَابِ» وَيُسْتَحَبُّ التَّلَفُّظُ بِهَا مَعَ ذَلِكَ انْتَهَى.

فَظَاهِرُهُ أَنَّ الثَّوَابَ الْمَذْكُورَ يَحْصُلُ بِمُجَرَّدِ كِتَابَتِهَا وَأَنَّ التَّلَفُّظَ بِهَا أَمْرٌ آخَرُ مُسْتَحَبٌّ.

 

قَالَ فِي الصِّحَاحِ: وَالصَّلَاةُ اسْمٌ يُوضَعُ مَوْضِعَ الْمَصْدَرِ بَلْ يُقَالُ: صَلَّيْت صَلَاةً، وَلَا يُقَالُ: تَصْلِيَةً كَمَا هُوَ قِيَاسُ مَصْدَرِهِ. قَالَ الْمُبَرِّدُ: أَصْلُ الصَّلَاةِ التَّرَحُّمُ فَهِيَ مِنْ اللَّهِ رَحْمَةٌ، وَمِنْ الْمَلَائِكَةِ رِقَّةٌ وَاسْتِدْعَاءٌ لِلرَّحْمَةِ وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الْقُشَيْرِيُّ الصَّلَاةُ مِنْ اللَّهِ لِمَنْ دُونَ النَّبِيِّ رَحْمَةٌ وَلِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَشْرِيفٌ وَزِيَادَةُ تَكْرِمَةٍ وَقَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ: صَلَاةُ اللَّهِ ثَنَاؤُهُ عَلَيْهِ عِنْدَ مَلَائِكَتِهِ وَصَلَاةُ الْمَلَائِكَةِ الدُّعَاءُ، وَقِيلَ: الْمُرَادُ بِهَا الِاعْتِنَاءُ بِشَأْنِ الْمُصَلَّى عَلَيْهِ وَإِرَادَةُ الْخَيْرِ لَهُ وَهُوَ الَّذِي ارْتَضَاهُ الْغَزَالِيُّ وَصَلَاةُ الْعِبَادِ الْمَأْمُورِ بِهَا الدُّعَاءُ بِلَفْظِ الصَّلَاةِ خَصَّ الْأَنْبِيَاءَ بِذَلِكَ تَعْظِيمًا لَهُمْ فَعَلَى قَوْلِ الْمُبَرِّدِ تَكُونُ الصَّلَاةُ مُرَادِفَةً لِلرَّحْمَةِ وَقَدْ بَحَثَ فِي ذَلِكَ بَعْضُهُمْ بِأَنَّ التَّرَادُفَ يَقْتَضِي جَوَازَ الدُّعَاءِ لِلنَّبِيِّ بِلَفْظِ الرَّحْمَةِ وَقَدْ أَنْكَرَ ذَلِكَ بَعْضُهُمْ كَمَا سَيَأْتِي بَيَانُهُ فِي الْكَلَامِ عَلَى التَّشَهُّدِ إنْ شَاءَ اللَّهُ وَقَدْ يُقَالُ: إنَّ مُرَادَ الْمُبَرِّدِ بَيَانُ أَصْلِ مَعْنَى الصَّلَاةِ وَإِنْ كَانَ الْعُرْفُ يَقْتَضِي أَنَّهَا إذَا اُسْتُعْمِلَتْ فِي حَقِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَلَّتْ عَلَى مَعْنًى زَائِدٍ عَلَى الرَّحْمَةِ، كَمَا أَشَارَ إلَى ذَلِكَ تَفْسِيرُ الْقُشَيْرِيِّ وَلِهَذَا قَالَ بَعْضُهُمْ: الصَّلَاةُ مِنْ اللَّهِ رَحْمَةٌ مَقْرُونَةٌ بِالتَّعْظِيمِ، وَمِنْ الْمَلَائِكَةِ اسْتِغْفَارٌ، وَمِنْ الْآدَمِيِّينَ تَضَرُّعٌ وَدُعَاءٌ وَالسَّلَامُ التَّحِيَّةُ وَفِي مَعْنَى السَّلَامِ عَلَيْهِ أَوْجُهٌ إمَّا بِمَعْنَى السَّلَامَةِ لَك وَمَعَك أَوْ السَّلَامُ مَئُولٌ لَك فَيَكُونُ اسْمًا لَهُ تَعَالَى أَوْ بِمَعْنَى الْمَسْأَلَةِ وَالِانْقِيَادِ لِأَمْرِهِ وَالصِّيغَةُ الْمَذْكُورَةُ خَبَرٌ وَمَعْنَاهَا الدُّعَاءُ وَالطَّلَبُ قَالَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ: وَهَلْ يُحْتَاجُ فِي ذَلِكَ إلَى اسْتِحْضَارِ نِيَّةِ الطَّلَبِ وَإِخْرَاجِ الْكَلَامِ عَنْ حَقِيقَةِ الْخَبَرِ، وَأَجَابَ بِأَنَّهُ إنْ كَثُرَ اسْتِعْمَالُ اللَّفْظِ فِي ذَلِكَ حَتَّى صَارَ كَالْمَنْقُولِ فِي الْعُرْفِ لَمْ يُحْتَجْ إلَى ذَلِكَ وَإِلَّا فَالْأَقْرَبُ الْحَاجَةُ إلَيْهِ.

(فَائِدَةٌ) حَذَّرَ بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ الشَّافِعِيَّةِ مِنْ اسْتِعْمَالِ لَفْظِ التَّصْلِيَةِ بَدَلَ الصَّلَاةِ
নবী (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি যা ওয়াজিব বা আবশ্যক, তার কিয়দাংশ আদায়ের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে; কেননা তিনি হলেন মহান আল্লাহ এবং বান্দাদের মাঝে মাধ্যম। বান্দাদের নিকট পৌঁছানো সমস্ত নেয়ামত—যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ইসলামের হেদায়েত—তা মূলত তাঁর বরকতে এবং তাঁর মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণীর আনুগত্যস্বরূপ: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো" [আল-আহজাব: ৫৬]। এছাড়া নবী (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে যে: "এমন প্রত্যেক কথা যাতে মহান আল্লাহর জিকির করা হয় না এবং আল্লাহকে স্মরণ করে ও আমার ওপর দরুদ পাঠ করে শুরু করা হয় না, তা কর্তিত এবং সমস্ত বরকত থেকে বঞ্চিত।" এটি দাইলামি 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ এবং আবু মুসা আল-মাদিনি, আল-খলিলি ও আল-রাহাবি 'আরবাঈন'-এ বর্ণনা করেছেন। হাফেজ সাখাবি বলেছেন, এর সনদ দুর্বল। ইবনে মানদাহ-এর 'ফাওয়ায়েদ'-এ এটি এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো কাজ যা আল্লাহর জিকির এবং এরপর আমার ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ ও লেজকাটা।" কথা শেষ হলো।

(আমি বলছি) যদি এটি দুর্বলও হয়, তবুও আমলের ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া নবী (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বাণীতে বর্ণিত সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যেও এটি করা হয়: "যে ব্যক্তি কোনো কিতাবে আমার ওপর দরুদ লেখে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই কিতাবে আমার নাম থাকবে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।" এটি 'আশ-শিফা' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আর 'ইহ্ইয়াউ উলুমিদ্দিন'-এর হাদিসসমূহের তাখরিজে ইরাকি বলেছেন: তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ, আবুশ শাইখ 'আস-সাওয়াব'-এ এবং মুস্তাগফিরি 'আদ-দাওয়াত'-এ আবু হুরায়রা থেকে দুর্বল সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। শাইখ আহমাদ জাররুক বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য নামাজের কিতাব হওয়া সম্ভব এবং এটিই অধিক স্পষ্ট; অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য লিখিত দরুদ পাঠ করা, যা ব্যাপকতর ও অধিক আশাব্যঞ্জক। কথা শেষ হলো। আমি আমার কোনো কোনো উস্তাদকে বলতে শুনেছি যে, উল্লিখিত সওয়াব অর্জনের জন্য লেখার সময় মুখে দরুদ উচ্চারণ করা শর্ত। তবে আমি অন্য কারো নিকট এমন বক্তব্য পাইনি। বরং হাদিসের বাহ্যিক দিক এবং উলামায়ে কেরামের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, এটি শর্ত নয়। হাফেজ সাখাবি ইবনুল খাজরাজির 'হেদায়া' গ্রন্থের ব্যাখ্যায় হাদিস শাস্ত্রের আলোচনায় বলেন: শিক্ষার্থীর উচিত রাসুলুল্লাহ (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নাম যখনই লিখবে, তখনই যেন দরুদ ও সালাম পূর্ণভাবে লেখার প্রতি যত্নশীল হয়। অলসদের মতো কোনো প্রতীক ব্যবহার না করে যেমনটি তারা করে থাকে। দরুদ বারবার লিখতে যেন সে ক্লান্ত না হয়, তা মূলে থাকুক বা না থাকুক। আর যে দরুদ ও সালামের ক্ষেত্রে অবহেলা করবে, সে মহান প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে। নবী (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কিতাবে আমার ওপর দরুদ লেখে, ফেরেশতারা তার ওপর রহমত বর্ষণ করতে থাকে যতক্ষণ সেই কিতাবে আমার নাম বিদ্যমান থাকে।" আর এর পাশাপাশি মুখেও তা উচ্চারণ করা মুস্তাহাব। কথা শেষ হলো।

সুতরাং এর বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে, উল্লিখিত সওয়াব কেবল তা লেখার মাধ্যমেই অর্জিত হয় এবং মুখে উচ্চারণ করা একটি পৃথক মুস্তাহাব বিষয়।

 

'সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'সালাত' এমন একটি বিশেষ্য যা মাসদার বা ক্রিয়ামূলের স্থলে ব্যবহৃত হয়। বরং বলা হয়: 'আমি সালাত আদায় করেছি', কিন্তু 'তাসলিয়া' বলা হয় না, যদিও এটি তার ক্রিয়ামূলের নিয়মসম্মত রূপ। মুবাররিদ বলেন: সালাতের মূল অর্থ হলো অনুকম্পা বা দয়া। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি হলো রহমত, আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তা হলো কোমলতা এবং রহমত প্রার্থনার আবেদন। আবু বকর আল-কুশাইরি বলেন: নবী ব্যতীত অন্যদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো রহমত, আর নবী (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর জন্য এটি হলো সম্মান প্রদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি। আবুল আলিয়াহ বলেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো তাঁর ফেরেশতাদের নিকট নবীর প্রশংসা করা, আর ফেরেশতাদের সালাত হলো দোয়া করা। কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যার ওপর দরুদ পড়া হচ্ছে তার প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং তার কল্যাণ কামনা করা। এটিই ইমাম গাজালি পছন্দ করেছেন। আর বান্দাদের যে সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা হলো সালাত শব্দের মাধ্যমে দোয়া করা। নবীদের সম্মানে তাঁদের জন্য এটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মুবাররিদের মত অনুযায়ী সালাত রহমতের সমার্থক। কেউ কেউ এ ব্যাপারে আপত্তি তুলেছেন যে, সমার্থক হওয়ার দাবি হলো নবীর জন্য 'রহমত' শব্দ ব্যবহার করে দোয়া করা বৈধ হওয়া, অথচ কোনো কোনো আলেম তা অস্বীকার করেছেন, যেমনটি সামনে তাশাহহুদ অধ্যায়ের আলোচনায় আসবে ইনশাআল্লাহ। বলা যেতে পারে যে, মুবাররিদের উদ্দেশ্য হলো সালাতের মূল অর্থ বর্ণনা করা, যদিও পরিভাষায় যখন তা নবীর (তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন তা রহমতের চেয়েও অতিরিক্ত কোনো অর্থ বহন করে, যেমনটি কুশাইরির তাফসিরে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই কারণেই কেউ কেউ বলেছেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো সম্মানের সাথে মিলিত রহমত, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তা হলো ক্ষমা প্রার্থনা, আর মানুষের পক্ষ থেকে তা হলো বিনয় ও দোয়া। আর 'সালাম' অর্থ হলো অভিবাদন। নবীর ওপর সালামের অর্থের ব্যাপারে কয়েকটি দিক রয়েছে: হয় এর অর্থ আপনার জন্য এবং আপনার সাথে নিরাপত্তা থাকুক, অথবা 'সালাম' আপনার জন্য সাব্যস্ত হোক—সেক্ষেত্রে এটি মহান আল্লাহর একটি নাম; অথবা এর অর্থ আনুগত্য প্রকাশ এবং তাঁর আদেশের অনুগামী হওয়া। উল্লিখিত বাক্যটি গঠনগতভাবে সংবাদ হলেও এর অর্থ হলো দোয়া ও প্রার্থনা। কোনো কোনো আলেম বলেছেন: এক্ষেত্রে কি প্রার্থনার নিয়ত করা এবং বাক্যটিকে সংবাদের প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে আনা আবশ্যক? তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, যদি এই শব্দের ব্যবহার এই অর্থে এতো বেশি হয় যে তা প্রচলিতভাবে কেবল এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়, তবে নিয়তের প্রয়োজন নেই। অন্যথায় নিয়তের প্রয়োজনীয়তাই অধিক যুক্তিযুক্ত।

(একটি জ্ঞাতব্য) শাফেয়ি মাযহাবের পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলেম 'সালাত' শব্দের পরিবর্তে 'তাসলিয়া' শব্দ ব্যবহার করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٨)
وَقَالَ: إنَّهُ مُوقِعٌ فِي الْكُفْرِ لِمَنْ تَأَمَّلَهُ؛ لِأَنَّ التَّصْلِيَةَ الْإِحْرَاقُ وَقَالَ: إنَّهُ وَقَعَ فِي عِبَارَةِ النَّسَائِيّ فِي جَامِعِ الْمُخْتَصَرَاتِ وَابْنِ الْمُقْرِي فِي الْإِرْشَادِ التَّعْبِيرُ بِهَا قَالَ: وَسُئِلَ الْعَلَّامَةُ عَلَاءُ الدِّينِ الْكِنَانِيُّ الْمَالِكِيُّ هَلْ يُقَالُ فِي الصَّلَاةِ الشَّرْعِيَّةِ وَالصَّلَاةِ عَلَى خَيْرِ الْبَرِيَّةِ تَصْلِيَةٌ أَوْ صَلَاةٌ؟ فَقَالَ: لَمْ تَفُهْ الْعَرَبُ يَوْمًا مِنْ أَيَّامِهَا بِأَنْ تَقُولَ إذَا أُرِيدَ الدُّعَاءُ أَوْ الصَّلَاةُ الشَّرْعِيَّةُ أَوْ الصَّلَاةُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى تَصْلِيَةً وَإِنَّمَا يَقُولُونَ: صَلَّى صَلَاةً، وَمَنْ زَعَمَ غَيْرَ ذَلِكَ فَلَيْسَ بِمُصِيبٍ وَلَمْ يَظْفَرْ مِنْ كَلَامِ الْعَرَبِ بِأَدْنَى نَصِيبٍ وَحِينَئِذٍ لَا يُلْتَفَتُ إلَيْهِ وَلَا يُعَرَّجُ عَلَيْهِ وَلَا يُعْتَمَدُ مَا لَدَيْهِ وَلَوْ أَنَّهُ نِفْطَوَيْهِ انْتَهَى. ثُمَّ قَالَ: وَيُخَافُ الْكُفْرُ عَلَى مَنْ أَصَرَّ عَلَى إقَامَةِ التَّصْلِيَةِ مُقَامَ الصَّلَاةِ بَعْدَ التَّعْرِيفِ انْتَهَى. وَأَطَالَ الْكَلَامَ فِي ذَلِكَ.

 

‌‌[مَسْأَلَةٌ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فَرْضَانِ]

(مَسْأَلَةٌ) وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فَرْضَانِ مَرَّةً فِي الْعُمْرِ قَالَ فِي الشِّفَاءِ: قَالَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرِ بْنُ بُكَيْرٍ: افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَى خَلْقِهِ أَنْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا وَلَمْ يَجْعَلْ لِذَلِكَ وَقْتًا مَعْلُومًا فَالْوَاجِبُ أَنْ يُكْثِرَ الْمَرْءُ مِنْهَا وَلَا يَغْفُلَ عَنْهَا وَذَكَرَ قَبْلَ ذَلِكَ أَنَّ الْإِجْمَاعَ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فَرْضٌ عَلَى الْجُمْلَةِ وَأَنَّ الْمَشْهُورَ عَنْ أَصْحَابِنَا أَنَّهَا إنَّمَا تَجِبُ مَرَّةً فِي الْعُمْرِ وَكَرَّرَ ذَلِكَ وَاخْتُلِفَ فِي وُجُوبِهَا فِي الصَّلَاةِ وَالْمَشْهُورُ عَدَمُ الْوُجُوبِ كَمَا سَيَأْتِي إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَقَالَ الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدٌ الرَّصَّاعُ: الَّذِي يَظْهَرُ أَنَّ السَّلَامَ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فَرْضٌ وَاجِبٌ مِثْلُ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ مَرَّةً فِي الْعُمْرِ وَالزَّائِدَ عَلَى ذَلِكَ اسْتِحْبَابُهُ مُتَأَكِّدٌ ثُمَّ ذَكَرَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: هَذِهِ فَرِيضَةٌ مِنْ اللَّهِ عَلَيْنَا أَنْ نُصَلِّيَ عَلَى نَبِيِّنَا وَنُسَلِّمَ عَلَيْهِ تَسْلِيمًا وَمَا نُقِلَ عَنْ شُيُوخِنَا الْمَغَارِبَةِ مِنْ التَّوَقُّفِ فِي الْوُجُوبِ فِي السَّلَامِ فَلَا أَصْلَ لَهُ بَلْ الْحَقُّ أَنَّهُ حُكْمُهُ حُكْمُ الصَّلَاةِ فِي الْوُجُوبِ وَالِاسْتِحْبَابِ وَيَتَأَكَّدُ ذَلِكَ عَلَى قَدْرِ الشَّوْقِ وَالْمَحَبَّةِ ثُمَّ ذَكَرَ أَنَّهُ يَتَأَكَّدُ عِنْدَ دُخُولِ الْمَسْجِدِ بَعْدَ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَ دُخُولِ الْبُيُوتِ إذَا لَمْ يَكُنْ فِيهَا أَحَدٌ وَفِي التَّشَهُّدِ الْأَوَّلِ مِنْ الصَّلَاةِ وَفِي التَّشَهُّدِ الثَّانِي قَبْلَ السَّلَامِ وَعِنْدَ زِيَارَتِهِ صلى الله عليه وسلم انْتَهَى بِاخْتِصَارٍ.

قُلْت وَكَلَامُ الْقَاضِي أَبِي بَكْرِ بْنِ بُكَيْرٍ نَصٌّ فِي أَنَّ السَّلَامَ فَرْضٌ كَالصَّلَاةِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ

 

‌‌[فَرْعٌ وَتُسْتَحَبُّ الصَّلَاةُ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَوَاطِنَ]

(فَرْعٌ) وَتُسْتَحَبُّ الصَّلَاةُ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَوَاطِنَ: مِنْهَا بَعْدَ التَّشَهُّدِ الْأَخِيرِ وَقَبْلَ الدُّعَاءِ وَعِنْدَ دُخُولِ الْبُيُوتِ إذَا لَمْ يَكُنْ فِيهَا أَحَدٌ وَعِنْدَ سَمَاعِ ذِكْرِهِ أَوْ اسْمِهِ وَكِتَابَتِهِ وَعِنْدَ الْأَذَانِ وَعِنْدَ دُخُولِ الْمَسْجِدِ وَالْخُرُوجِ مِنْهُ وَفِي صَلَاةِ الْجَنَائِزِ قَالَ فِي الشِّفَاءِ: وَمِنْ مَوَاطِنِهَا الَّتِي مَضَى عَلَيْهَا عَمَلُ الْأُمَّةِ وَلَمْ تُنْكِرْهَا الصَّلَاةُ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّسَائِلِ وَمَا يُكْتَبُ بَعْدَ الْبَسْمَلَةِ وَلَمْ يَكُنْ هَذَا فِي الصَّدْرِ الْأَوَّلِ وَأُحْدِثَ عِنْدَ وِلَايَةِ بَنِي هَاشِمٍ فَمَضَى عَلَيْهِ عَمَلُ النَّاسِ فِي أَقْطَارِ الْأَرْضِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَخْتِمُ بِهِ الْكِتَابَ أَيْضًا قَالَ وَرَوَى النَّسَائِيُّ الْأَمْرَ بِالْإِكْثَارِ مِنْهُمَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَالَ، وَمِنْ مَوَاطِنِ السَّلَامِ تَشَهُّدُ الصَّلَاةِ وَعِنْدَ السَّلَامِ مِنْهَا كَمَا سَيَأْتِي فِي كِتَابِ الصَّلَاةِ إنْ شَاءَ اللَّهُ.

وَقَالَ الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدٌ الرَّصَّاعُ فِي كِتَابِهِ الْمُسَمَّى تُحْفَةَ الْأَخْيَارِ فِي فَضْلِ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ الْمُخْتَارِ مِنْ الْمَوَاطِنِ الَّتِي يَتَأَكَّدُ فِيهَا طَلَبُ الصَّلَاةِ إذَا طَنَّتْ الْأُذُنُ وَعِنْدَ الْعُطَاسِ وَعِنْدَ الْفَرَاغِ مِنْ الطَّهَارَةِ وَفِي الصَّبَاحِ وَفِي الْمَسَاءِ وَفِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَالسَّبْتِ وَالْأَحَدِ.

 

‌‌[فَرْعٌ الصَّلَاة عَلَى النَّبِيّ عِنْد الذَّبْح وَعِنْد الْعُطَاس وَالْجِمَاع وَغَيْر ذَلِكَ]

(فَرْعٌ) ذَكَرَ ابْنُ نَاجِي فِي شَرْحِ الْمُدَوَّنَةِ فِي كِتَابِ الذَّبَائِحِ أَنَّ الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُكْرَهُ عِنْدَ الذَّبْحِ وَعِنْدَ الْعُطَاسِ وَالْجِمَاعِ وَالْعَثْرَةِ وَالتَّعَجُّبِ وَشُهْرَةِ الْمَبِيعِ وَحَاجَةِ الْإِنْسَانِ وَذَكَرَهَا الشَّيْخُ يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ إلَّا شُهْرَةَ الْمَبِيعِ وَذَكَرَ بَدَلَهُ عِنْدَ الْأَكْلِ وَأَصْلُ مَسْأَلَةِ الذَّبْحِ فِي كِتَابِ الذَّبَائِحِ مِنْ الْمُدَوَّنَةِ قَالَ فِيهَا وَلَيْسَ بِمَوْضِعِ صَلَاةٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ فِي الْأُمَّهَاتِ: قِيلَ لِابْنِ الْقَاسِمِ هَلْ يَقُولُ بَعْدَ التَّسْمِيَةِ صَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ أَوْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ قَالَ: ذَلِكَ مَوْضِعٌ لَا يُذْكَرُ فِيهِ
এবং তিনি বলেছেন: যারা এটি নিয়ে চিন্তা করবেন, তাদের জন্য এটি কুফরিতে পতিত হওয়ার কারণ হতে পারে; কারণ 'তাসলিয়া' শব্দের অর্থ হলো পুড়িয়ে ফেলা। তিনি আরও বলেছেন যে, নাসায়ীর 'জামেউল মুখতাসারাত' এবং ইবনুল মুকরির 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে এই শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায়। তিনি বলেছেন: আল্লামা আলাউদ্দিন আল-কিনানি আল-মালিকিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, শরয়ি সালাত এবং সৃষ্টির সেরা মানবের প্রতি দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে কি 'তাসলিয়া' বলা যাবে নাকি 'সালাত'? তিনি উত্তর দিয়েছেন: আরবরা তাদের কোনো যুগেই দোয়ার ক্ষেত্রে, শরয়ি সালাতের ক্ষেত্রে কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে 'তাসলিয়া' শব্দটি উচ্চারণ করেনি। বরং তারা বলে 'সালাত' পাঠ করা। যারা এর ভিন্ন কিছু দাবি করে তারা সঠিক নয় এবং তারা আরবি ভাষা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান লাভ করতে পারেনি। এমতাবস্থায় তাদের কথার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না, তাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে না এবং তাদের ওপর নির্ভর করা হবে না, যদিও তারা নিফতাওয়াইহি-এর মতো বড় ভাষাবিদ হন। (সমাপ্ত)। এরপর তিনি বলেছেন: বিষয়টি জানানোর পর কেউ যদি 'সালাত'-এর স্থলে 'তাসলিয়া' ব্যবহারের ওপর অটল থাকে, তবে তার ব্যাপারে কুফরির আশঙ্কা করা হয়। (সমাপ্ত)। তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

 

‌‌[মাসআলা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করা উভয়ই ফরজ]

(মাসআলা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করা জীবনে অন্তত একবার ফরজ। 'আশ-শিফা' গ্রন্থে বর্ণিত আছে: কাজী আবু বকর ইবনে বুকাইর বলেছেন: আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পেশ করা ফরজ করেছেন এবং এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেননি। সুতরাং মুমিনের জন্য কর্তব্য হলো অধিক পরিমাণে এটি পাঠ করা এবং এ থেকে গাফেল না হওয়া। এর আগে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নবীর ওপর সালাত পাঠ করা মৌলিকভাবে ফরজ হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্য রয়েছে এবং আমাদের মাযহাবের আলেমদের মতে এটি জীবনে একবার ওয়াজিব হওয়া প্রসিদ্ধ মত। তিনি এটি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে নামাজের ভেতরে এটি ওয়াজিব হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। প্রসিদ্ধ মত হলো এটি ওয়াজিব নয়, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে। শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আর-রাসা বলেছেন: যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাম পেশ করা সালাতের মতোই জীবনে একবার ফরজ ও ওয়াজিব। আর এর অতিরিক্ত করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। এরপর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি আমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ফরজ যে আমরা আমাদের নবীর ওপর সালাত ও সালাম পেশ করব। আমাদের মাগরিবি শাইখদের থেকে সালামের ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে যে সংশয়ের কথা বর্ণিত হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। বরং সত্য কথা হলো সালামের বিধান ওয়াজিব ও মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে সালাতের বিধানের মতোই। আর এটি ভালোবাসা ও আকুলতার পরিমাণ অনুযায়ী আরও জোরালো হয়। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি মসজিদে প্রবেশের সময় সালাত পাঠের পর, লোকশূন্য ঘরে প্রবেশের সময়, নামাজের প্রথম তাশাহহুদে, দ্বিতীয় তাশাহহুদে সালাম ফেরানোর আগে এবং তাঁর রওজা জিয়ারতের সময় বিশেষভাবে তাগিদপূর্ণ। (সংক্ষেপে সমাপ্ত)।

আমি বলছি, কাজী আবু বকর ইবনে বুকাইরের বক্তব্য স্পষ্ট প্রমাণ যে সালাম পেশ করা সালাতের মতোই ফরজ। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[শাখা মাসআলা: কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত পাঠ করা মুস্তাহাব]

(শাখা মাসআলা) বেশ কিছু স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত পাঠ করা মুস্তাহাব: তার মধ্যে রয়েছে শেষ তাশাহহুদের পর এবং দোয়ার আগে, জনশূন্য ঘরে প্রবেশের সময়, তাঁর আলোচনা শুনলে বা তাঁর নাম শুনলে কিংবা লিখলে, আজানের সময়, মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় এবং জানাজার নামাজে। 'আশ-শিফা' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: উম্মতের আমল যে জায়গাগুলোতে চলে আসছে এবং কেউ তা অস্বীকার করেনি, তার মধ্যে একটি হলো চিঠিপত্রে বিসমিল্লাহর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত পাঠ করা। এটি ইসলামের শুরুর যুগে ছিল না, বরং বনু হাশেমের শাসনামলে এর প্রচলন ঘটে এবং এরপর বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষের আমল এর ওপর চলতে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ চিঠির শেষেও দরুদ পাঠ করেন। তিনি বলেছেন, ইমাম নাসায়ী জুমার দিনে সালাত ও সালাম অধিক পরিমাণে পাঠ করার নির্দেশ বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, সালামের স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে নামাজের তাশাহহুদ এবং নামাজ থেকে সালাম ফেরানোর সময়, যা ইনশাআল্লাহ কিতাবুস সালাত অধ্যায়ে সামনে আসবে।

শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আর-রাসা তাঁর 'তুহফাতুল আখইয়ার ফি ফাদলিস সালাতি আলান নাবিয়্যিল মুখতার' গ্রন্থে বলেন, যেসব স্থানে সালাত পাঠের জোরালো তাকিদ রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে যখন কানে শব্দ হয়, হাঁচি দেওয়ার সময়, ওজু শেষ করার পর, সকালে ও সন্ধ্যায় এবং জুমাহ, শনিবার ও রবিবারে।

 

‌‌[শাখা মাসআলা: পশু জবাই, হাঁচি, সহবাস ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নবীর প্রতি সালাত পাঠ করা]

(শাখা মাসআলা) ইবনে নাজি 'মুদাওয়ানা'র ব্যাখ্যাগ্রন্থের পশু জবাই অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, পশু জবাইয়ের সময়, হাঁচি দেওয়ার সময়, সহবাসের সময়, হোঁচট খেলে, আশ্চর্যান্বিত হলে, বিক্রয়যোগ্য পণ্যের প্রচার করার সময় এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজনে সালাত পাঠ করা মাকরুহ। শাইখ ইউসুফ বিন ওমরও এগুলো উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি পণ্যের প্রচারের বিষয়টি বলেননি এবং এর পরিবর্তে খাবারের সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। পশু জবাইয়ের সময় দরুদ পড়ার মূল মাসআলা 'মুদাওয়ানা'র পশু জবাই অধ্যায়ে রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে এটি নবীর ওপর সালাত পাঠ করার জায়গা নয়। শাইখ আবুল হাসান 'আল-উম্মাহাত' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, বিসমিল্লাহ বলার পর কি 'সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ' অথবা 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' বলা যাবে? তিনি উত্তর দিয়েছেন: এটি এমন এক স্থান যেখানে এগুলো উল্লেখ করা হয় না।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ١٩)
إلَّا اسْمُ اللَّهِ وَحْدَهُ قَالَ ابْنُ حَبِيبٍ: قَالَ أَصْبَغُ: عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ إنَّ فِي بَعْضِ الْأَحَادِيثِ مَوْطِنَيْنِ لَا يُذْكَرُ فِيهِمَا إلَّا اسْمُ اللَّهِ وَحْدَهُ الذَّبِيحَةُ وَالْعُطَاسُ لَا يَقُلْ بَعْدَ التَّسْمِيَةِ وَالتَّحْمِيدِ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، وَإِنْ شَاءَ قَالَ بَعْدَهُمَا: صَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ؛ لِأَنَّ الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْسَتْ بِتَسْمِيَةٍ لَهُ مَعَ اسْمِهِ سُبْحَانَهُ وَقَالَهُ أَشْهَبُ وَقِيلَ لَا يُصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي أَرْبَعَةِ مَوَاضِعَ: عِنْدَ الذَّبْحِ وَالْعُطَاسِ وَالْجِمَاعِ وَحَاجَةِ الْإِنْسَانِ وَفِي الْعُتْبِيَّةِ كَرِهَ سَحْنُونُ الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ التَّعَجُّبِ وَقَالَ: لَا يُصَلَّى عَلَيْهِ إلَّا فِي مَوْضِعِ احْتِسَابٍ أَوْ رَجَاءَ ثَوَابٍ انْتَهَى.

وَقَالَ فِي الشِّفَاءِ بَعْدَ أَنْ ذَكَرَ عَنْ أَشْهَبَ نَحْوَ مَا تَقَدَّمَ عَنْهُ فِي الذَّبِيحَةِ وَالْعُطَاسِ: قَالَ: وَلَا يَنْبَغِي أَنْ تُجْعَلَ الصَّلَاةُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ اسْتِنَانًا وَفِي سَمَاعِ أَبِي زَيْدٍ مِنْ الْجَامِعِ سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ الَّذِي يَرَى الشَّيْءَ فَيُعْجِبُهُ أَوْ يَعْطِسُ فَيَحْمَدَ اللَّهَ أَيُكْرَهُ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لَا أَنَا آمُرُهُ أَنْ لَا يُصَلِّيَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إنِّي إذًا لَأَقُولُ لَهُ: لَا تَذْكُرْ اللَّهَ، قَالَ: إنَّهُ يُذْكَرُ فِي ذَلِكَ حَدِيثٌ قَالَ مَا يُحَدِّثُ بِهِ؛ كَأَنَّهُ لَا يَرَى ذَلِكَ الْحَدِيثَ شَيْئًا. قَالَ ابْنُ رُشْدٍ: قَدْ أَمَرَ اللَّهُ بِالصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَهِيَ عَلَى الْوَجْهِ الَّذِي أَمَرَ بِهِ مِنْ التَّعْظِيمِ لِحَقِّهِ وَالرَّغْبَةِ فِي الثَّوَابِ عِنْدَ ذِكْرِهِ أَوْ ذِكْرِ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِهِ مُرَغَّبٍ فِيهَا مَنْدُوبٍ إلَيْهَا وَأَمَّا عِنْدَ التَّعَجُّبِ فَالشَّيْءُ لِلتَّعَجُّبِ دُونَ الْقَصْدِ إلَى احْتِسَابِ الثَّوَابِ مَكْرُوهٌ قَالَهُ سَحْنُونُ فِي رَسْمِ نَذْرٍ مِنْ سَمَاعِ عِيسَى مِنْ كِتَابِ الْمُحَارَبِينَ وَأَمَّا الصَّلَاةُ عَلَيْهِ مَعَ الْحَمْدِ عِنْدَ الْعُطَاسِ فَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ لَمْ يُرِدْ بِذَلِكَ الْقُرْبَةَ فَيَكُونُ مَكْرُوهًا وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ يُذْكَرُ سُنَّةً فِي أَمْرِ الْعُطَاسِ بِالْحَمْدِ فَصَلَّى عَلَيْهِ عَلَى مَا سَنَّهُ مِنْ ذَلِكَ فَيَكُونُ مُسْتَحَبًّا وَلَمَّا احْتَمَلَتْ صَلَاتُهُ هَذَا الْوَجْهَ تَوَقَّفَ فِي أَنْ يَقُولَ: إنَّهُ يُكْرَهُ انْتَهَى بِاخْتِصَارٍ فَتَحَصَّلَ مِنْ هَذَا أَنَّ فِي الصَّلَاةِ عِنْدَ الذَّبْحِ وَالْعُطَاسِ قَوْلَيْنِ.

قَالَ الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدٌ الرَّصَّاعُ: لَمَّا ذَكَرَ شُهْرَةَ الْبَيْعِ وَيَلْحَقُ هَذَا عِنْدِي مَا يَصْدُرُ مِنْ الْعَامَّةِ فِي الْأَعْرَاسِ وَغَيْرِهَا فَإِنَّهُمْ يُشْهِرُونَ أَفْعَالَهُمْ لِلنَّظَرِ إلَيْهَا بِالصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَعَ زِيَادَةِ عَدَمِ الْوَقَارِ وَالِاحْتِرَامِ بَلْ بِضَحِكٍ وَبِلَعِبٍ انْتَهَى.

(قُلْت) بَلْ يَذْكُرُونَ ذَلِكَ بِلَفْظٍ مُحَرَّفٍ إنْ قَصَدُوهُ كَفَرُوا فَإِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ يَكْسِرُونَ السِّينَ مِنْ السَّلَامِ نَعُوذُ بِاَللَّهِ مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ ذَكَرَ مِنْ الْمَوَاضِعِ الَّتِي نُهِيَ عَنْ الصَّلَاةِ فِيهِ: الْأَمَاكِنُ الْقَذِرَةُ وَأَمَاكِنُ النَّجَاسَةِ انْتَهَى وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[مَسْأَلَةٌ إفْرَادِ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيّ عَنْ السَّلَامِ وَعَكْسُهُ]

(مَسْأَلَةٌ) شَاعَ فِي كَثِيرٍ مِنْ كَلَامِ الْعُلَمَاءِ كَرَاهَةُ إفْرَادِ الصَّلَاةِ عَنْ السَّلَامِ وَعَكْسُهُ وَمِمَّنْ صَرَّحَ بِالْكَرَاهَةِ النَّوَوِيُّ قَالَ السَّخَاوِيُّ فِي الْقَوْلِ الْبَدِيعِ: وَتَوَقَّفَ شَيْخُنَا يَعْنِي ابْنَ حَجَرٍ فِي إطْلَاقِ الْكَرَاهَةِ وَقَالَ فِيهِ نَظَرٌ نَعَمْ يُكْرَهُ أَنْ يُفْرِدَ الصَّلَاةَ وَلَا يُسَلِّمَ أَصْلًا أَمَّا لَوْ صَلَّى فِي وَقْتٍ وَسَلَّمَ فِي وَقْتٍ آخَرَ فَإِنَّهُ يَكُونُ مُمْتَثِلًا انْتَهَى. قَالَ: وَيَتَأَيَّدُ بِمَا فِي خُطْبَةِ مُسْلِمٍ وَالتَّنْبِيهِ وَغَيْرِهِمَا مِنْ مُصَنَّفَاتِ أَئِمَّةِ السُّنَّةِ مِنْ الِاقْتِصَارِ عَلَى الصَّلَاةِ فَقَطْ، وَقَالَ قَبْلَهُ: اسْتَدَلَّ بِحَدِيثِ كَعْبٍ وَغَيْرِهِ عَلَى أَنَّ إفْرَادَ الصَّلَاةِ عَنْ التَّسْلِيمِ لَا يُكْرَهُ وَكَذَلِكَ الْعَكْسُ؛ لِأَنَّ تَعْلِيمَ التَّسْلِيمِ تَقَدَّمَ قَبْلَ تَعْلِيمِ الصَّلَاةِ انْتَهَى.

وَذَكَرَ فِي الْخَاتِمَةِ مَقَامَاتٍ تَقْتَضِي أَنَّهُ لَا يَنْبَغِي إفْرَادُ الصَّلَاةِ عَنْ التَّسْلِيمِ وَلَمْ أَقِفْ لِأَحَدٍ مِنْ الْمَالِكِيَّةِ فِي ذَلِكَ عَلَى كَلَامٍ إلَّا مَا رَأَيْتُهُ فِي آخِرِ نُسْخَةٍ مِنْ الْمَسَائِلِ الْمَلْقُوطَةِ أَنَّهُ يُكْرَهُ ذَلِكَ وَلَمْ يَعْزُهُ وَقَالَ الشَّيْخُ زَرُّوق فِي شَرْحِ الْوَغْلِيسِيَّةِ كَرِهَ جُمْهُورُ الْمُحَدِّثِينَ إفْرَادَ الصَّلَاةِ عَنْ التَّسْلِيمِ وَعَكْسَهُ.

(مَسْأَلَةٌ) قَالَ ابْنُ نَاجِي فِي أَوَّلِ شَرْحِ الْمُدَوَّنَةِ: إفْرَادُ الصَّلَاةِ عَنْ التَّسْلِيمِ وَعَكْسُهُ أَفْتَى بَعْضُهُمْ بِرَدِّ كُتُبِ الْحَدِيثِ إذَا لَمْ يُوجَدْ فِيهَا لَفْظُ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ السَّخَاوِيُّ أَنَّ نُسْخَةً مِنْ التَّمْهِيدِ لِابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ تَعَمَّدَ صَاحِبُهَا تَرْكَ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَيْثُ وَقَعَ ذِكْرُهُ فَنَقَّصَ ذَلِكَ كَثِيرًا مِنْ ثَمَنِهَا وَبَاعَهَا بِبَخْسٍ وَلَمْ يَرْفَعْ اللَّهُ
শুধু আল্লাহর নাম ব্যতীত (অন্য কিছু নয়)। ইবনে হাবিব বলেছেন: আসবাগ ইবনুল কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কিছু হাদিসে এমন দুটি স্থানের কথা এসেছে যেখানে কেবল আল্লাহর একক নাম উল্লেখ করা হবে; জবেহ করার সময় এবং হাঁচির সময়। তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) এবং তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ)-এর পর 'মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' বলা যাবে না। তবে চাইলে এ দুটির পর বলা যায়: 'সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ'; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা মহান আল্লাহর নামের সাথে তাঁর নামকে যুক্ত করা নয়। আশহাবও অনুরূপ বলেছেন। কেউ কেউ বলেন চারটি স্থানে নবীর ওপর দরুদ পাঠ করা যাবে না: জবেহ, হাঁচি, সহবাস এবং শৌচকর্মের সময়। উতবিয়্যাহ-তে এসেছে, সাহনুন বিস্ময় প্রকাশের সময় নবীর ওপর দরুদ পাঠ করা অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: সওয়াবের আশা বা আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের উদ্দেশ্য ব্যতীত তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা যাবে না। সমাপ্ত।

তিনি 'আশ-শিফা' গ্রন্থে আশহাব থেকে জবেহ ও হাঁচি সম্পর্কে পূর্বোক্ত বর্ণনার মতো উল্লেখ করার পর বলেছেন: এখানে দরুদ পাঠকে সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। আবু জায়দ-এর 'জামে'র শ্রুত বর্ণনায় মালেককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে কোনো কিছু দেখে অভিভূত হয় অথবা হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে, তার জন্য কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা মাকরূহ? তিনি বললেন: না, আমি তাকে দরুদ পাঠ না করতে নির্দেশ দিচ্ছি না। আমি কি তাকে বলব যে আপনি আল্লাহর জিকির করবেন না? বর্ণনাকারী বললেন: এ বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত আছে। তিনি (ইমাম মালেক) বললেন: সে হাদিসটি কী? যেন তিনি সেই হাদিসটিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। ইবনে রুশদ বলেছেন: আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন, সুতরাং তাঁর মর্যাদা রক্ষা এবং সওয়াবের আশায় তাঁর নাম বা তাঁর কোনো বিষয়ের আলোচনার সময় দরুদ পাঠ করা কাঙ্ক্ষিত ও মুস্তাহাব। কিন্তু সওয়াবের আশা ব্যতিরেকে নিছক বিস্ময় প্রকাশের জন্য হলে তা মাকরূহ; সাহনুন ঈসা থেকে শ্রুত 'কিতাবুল মুহারিবীন'-এর 'নজর' অধ্যায়ে এটি বলেছেন। আর হাঁচির সময় আলহামদুলিল্লাহর সাথে দরুদ পাঠের বিষয়টি হতে পারে যে সে এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য উদ্দেশ্য করেনি, তাই তা মাকরূহ হবে। আবার এমনও হতে পারে যে হাঁচির সময় আলহামদুলিল্লাহ বলার যে সুন্নাহ রয়েছে, সেটির সাথে মিলিয়ে দরুদ পাঠ করেছে, সেক্ষেত্রে তা মুস্তাহাব হবে। যেহেতু দরুদ পাঠের বিষয়টি এই উভয় দিক বহন করে, তাই তিনি এটিকে মাকরূহ বলতে দ্বিধা করেছেন। সংক্ষেপে সমাপ্ত। এর দ্বারা বোঝা গেল যে, জবেহ ও হাঁচির সময় দরুদ পাঠের বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

শায়খ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আর-রাসা' বলেছেন: যখন তিনি কেনা-বেচার প্রচারণার কথা উল্লেখ করলেন, তখন আমার মতে এর সাথে বিয়ের অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের কৃত কর্মকাণ্ডও যুক্ত হবে। কারণ তারা তাদের কার্যকলাপ প্রদর্শনের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে প্রচারণা চালায়, যেখানে গাম্ভীর্য ও সম্মানের অভাব থাকে, বরং হাসি-ঠাট্টা ও খেলাধুলার ছলে তা করা হয়। সমাপ্ত।

(আমি বলি) বরং তারা এটি বিকৃত শব্দে উচ্চারণ করে, যদি তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা করে তবে তারা কাফের হয়ে যাবে। কারণ তাদের অনেকে 'সালাম' শব্দের 'সিন' অক্ষরে কাসরা (জের) দিয়ে পড়ে। আমরা এ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। এরপর তিনি এমন কিছু স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে দরুদ পাঠ নিষিদ্ধ: নোংরা জায়গা এবং অপবিত্র স্থান। সমাপ্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[মাসআলা: নবীজির ওপর কেবল দরুদ বা কেবল সালাম পাঠ করা প্রসঙ্গে]

(মাসআলা) অনেক ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যে প্রসিদ্ধ যে, সালাম ছাড়া শুধু দরুদ কিংবা দরুদ ছাড়া শুধু সালাম পাঠ করা মাকরূহ। যারা মাকরূহ হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন তাদের মধ্যে নববী অন্যতম। সাখাভী 'আল-কাওলুল বাদী' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের শায়খ অর্থাৎ ইবনে হাজার সাধারণভাবে মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন এতে পর্যালোচনার অবকাশ আছে। হ্যাঁ, এটি মাকরূহ যে সর্বদা শুধু দরুদ পড়বে কিন্তু কখনোই সালাম দিবে না। তবে কেউ যদি এক সময় দরুদ পড়ে এবং অন্য সময় সালাম দেয়, তবে সে নির্দেশ পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে। সমাপ্ত। তিনি বলেন: এটি মুসলিম-এর ভূমিকা, 'আত-তানবিহ' এবং সুন্নাহর ইমামগণের অন্যান্য কিতাবে শুধু দরুদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার দ্বারা সমর্থিত হয়। এর আগে তিনি বলেছেন: কাব (রা.)-এর হাদিস ও অন্যান্য হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, সালাম ছাড়া দরুদ পড়া মাকরূহ নয়, তেমনি এর বিপরীতটিও। কারণ সালাম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি দরুদ শিক্ষা দেওয়ার আগে হয়েছিল। সমাপ্ত।

তিনি উপসংহারে এমন কিছু প্রেক্ষিত উল্লেখ করেছেন যা দাবি করে যে, সালাম থেকে দরুদকে পৃথক করা উচিত নয়। মালিকি মাযহাবের কারো পক্ষ থেকে আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাইনি, তবে 'আল-মাসাইলুল মালকুতাহ'-এর একটি কপির শেষে দেখেছি যে এটি মাকরূহ; তবে তিনি কারো উদ্ধৃতি দেননি। শায়খ যাররুক 'শারহুল ওয়াগলিসিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: অধিকাংশ মুহাদ্দিস সালাম ছাড়া দরুদ বা দরুদ ছাড়া সালাম পাঠ করাকে মাকরূহ বলেছেন।

(মাসআলা) ইবনে নাজি 'শারহুল মুদাওয়ানা'-এর শুরুতে বলেছেন: সালাম ছাড়া দরুদ বা দরুদ ছাড়া সালাম পাঠ করা সম্পর্কে কেউ কেউ ফতোয়া দিয়েছেন যে, যদি হাদিসের কিতাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদের শব্দ না পাওয়া যায় তবে তা ফেরত দিতে হবে। সাখাভী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আব্দুল বার-এর 'আত-তামহিদ' গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপিতে লেখক ইচ্ছাকৃতভাবে যেখানেই নবীজির নাম এসেছে সেখানে দরুদ পাঠ বর্জন করেছেন; ফলে এর মূল্য অনেক কমে যায় এবং তিনি তা অতি সামান্য দামে বিক্রি করেন। আল্লাহ তা কবুল করেননি (বরং লাঞ্ছিত করেছেন)।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٠)
لِنَاسِخِهَا عِلْمًا بَعْدَ وَفَاتِهِ مَعَ أَنَّهُ كَانَ يُحْسِنُ بَابًا مِنْ الْعِلْمِ.

(تَنْبِيهٌ) أَغْرَبَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرِ بْنُ الْعَرَبِيِّ فِي الْعَارِضَةِ فَقَالَ: الَّذِي أَعْتَقِدُهُ أَنَّ قَوْلَهُ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا» لَيْسَتْ لِمَنْ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا هِيَ لِمَنْ صَلَّى عَلَيْهِ كَمَا عُلِمَ بِمَا قَصَصْنَاهُ انْتَهَى. وَقَدْ ذَكَرَ السَّخَاوِيُّ فِي الْخَاتِمَةِ مَقَامَاتٍ كَثِيرَةً تَدُلُّ عَلَى حُصُولِ الثَّوَابِ الْعَظِيمِ فِي اللَّفْظِ الْمَذْكُورِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[فَائِدَةٌ قَالَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَدَدَ كَذَا هَلْ يُثَابُ بِعَدَدِ مَنْ صَلَّى بِتِلْكَ الْأَعْدَادِ]

قَالَ: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَدَدَ كَذَا هَلْ يُثَابُ بِعَدَدِ مَنْ صَلَّى بِتِلْكَ الْأَعْدَادِ

(فَائِدَةٌ) قَالَ الْأَبِيُّ: اُنْظُرْ لَوْ قَالَ: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَدَدَ كَذَا هَلْ يُثَابُ بِعَدَدِ مَنْ صَلَّى بِتِلْكَ الْأَعْدَادِ كَانَ ابْنُ عَرَفَةَ يَقُولُ: يَحْصُلُ لَهُ مِنْ الثَّوَابِ أَكْثَرُ مِنْ ثَوَابِ مَنْ صَلَّى وَاحِدَةً لَا ثَوَابِ مَنْ صَلَّى تِلْكَ الْأَعْدَادَ وَيَشْهَدُ لِهَذَا حَدِيثُ مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ مِنْ حَيْثُ دَلَالَتُهُ عَلَى أَنَّ التَّسْبِيحَ بِهَذَا اللَّفْظِ لَهُ مَزِيَّةٌ وَإِلَّا لَمْ تَكُنْ لَهُ فَائِدَةٌ انْتَهَى.

 

وَالسَّيِّدُ الْكَامِلُ الْمُحْتَاجُ إلَيْهِ بِإِطْلَاقٍ وَاسْتِعْمَالُهُ فِي حَقِّ غَيْرِ اللَّهِ سَائِغٌ نَطَقَ بِهِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَذَكَرَ الدَّمَامِينِيّ فِي شَرْحِ التَّسْهِيلِ عَنْ ابْنِ الْمُنِيرِ فِي ذَلِكَ ثَلَاثَةَ أَقْوَالٍ: جَوَازُ إطْلَاقِهِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى وَعَلَى غَيْرِهِ، وَامْتِنَاعُ إطْلَاقِهِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى وَحَكَاهُ عَنْ مَالِكٍ وَهُوَ الَّذِي يُفْهَمُ مِنْ كَلَامِ الْمُقَدِّمَاتِ وَامْتِنَاعُ إطْلَاقِهِ عَلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى ثُمَّ ذَكَرَ عَنْ النَّحَّاسِ رَابِعًا وَهُوَ جَوَازُ إطْلَاقِهِ عَلَى غَيْرِ اللَّهِ إلَّا أَنْ يُعَرَّفَ بِأَلْ قَالَ: وَالْأَظْهَرُ الْجَوَازُ بِالْأَلِفِ وَاللَّامِ لِغَيْرِ اللَّهِ وَمَا ذَكَرَهُ عَنْ مَالِكٍ مِنْ الْمَنْعِ هُوَ الَّذِي يُفْهَمُ مِنْ كَلَامِ الْمُقَدِّمَاتِ وَاَلَّذِي فِي رَسْمِ الصَّلَاةِ الثَّانِي مِنْ سَمَاعِ أَشْهَبَ مِنْ كِتَابِ الصَّلَاةِ الْكَرَاهَةُ فَإِنَّهُ كَرِهَ الدُّعَاءَ بِيَا سَيِّدِي وَيَا مَنَّانُ وَلَعَلَّهُ حَمَلَ الْكَرَاهَةَ عَلَى الْمَنْعِ وَلَمْ يُصَرِّحْ ابْنُ رُشْدٍ فِي الْبَيَانِ بِحَمْلِهَا عَلَى الْمَنْعِ، وَقَالَ فِي شَرْحِهَا: وَأَمَّا الدُّعَاءُ بِيَا مَنَّانُ فَلَا كَرَاهَةَ فِيهِ؛ لِأَنَّهُ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى الْقَائِمَةِ مِنْ الْقُرْآنِ قَالَ اللَّهُ سبحانه وتعالى {وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ} [إبراهيم: 11] وَالْخِلَافُ فِي إطْلَاقِهِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى يَنْبَنِي عَلَى الْخِلَافِ فِي أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى الدَّالَّةِ عَلَى الصِّفَاتِ هَلْ هِيَ تَوْقِيفِيَّةٌ فَلَا يُطْلَقُ عَلَيْهِ إلَّا مَا وَرَدَ الْإِذْنُ فِيهِ أَمْ لَا.

وَمُلَخَّصُ مَا فِي الْمَسْأَلَةِ أَنَّ اللَّفْظَ إمَّا أَنْ يَدُلَّ عَلَى صِفَةِ كَمَالٍ أَمْ لَا فَإِنْ لَمْ يَدُلَّ عَلَى صِفَةِ كَمَالٍ لَمْ يَجُزْ إطْلَاقُهُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى إلَّا أَنْ يَرِدَ بِهِ الشَّرْعُ فَيُقْتَصَرُ عَلَى ذِكْرِهِ فِي الْمَوَاضِعِ الَّتِي وَرَدَ فِيهَا وَإِنْ دَلَّ عَلَى صِفَةِ كَمَالٍ فَإِنْ وَرَدَ الشَّرْعُ بِهِ جَازَ إطْلَاقُهُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي وَرَدَ فِيهِ وَفِي غَيْرِهِ، وَإِنْ لَمْ يَرِدْ بِهِ فَمَذْهَبُ الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيِّ وَعَامَّةُ أَهْلِ السُّنَّةِ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُسَمَّى اللَّهُ تَعَالَى إلَّا بِمَا سَمَّى بِهِ نَفْسَهُ أَوْ أَجْمَعَتْ الْأُمَّةُ عَلَيْهِ.

قَالَ الْقَمُولِيُّ مِنْ الشَّافِعِيَّةِ: كَقَدِيمٍ وَوَاجِبِ الْوُجُودِ، وَذَهَبَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ الْبَاقِلَّانِيُّ وَالْمُعْتَزِلَةُ أَنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يُسَمَّى اللَّهُ بِكُلِّ اسْمٍ صَحَّ مَعْنَاهُ وَلَمْ يَمْنَعْ الشَّرْعُ وَلَا الْإِجْمَاعُ مِنْهُ وَذَهَبَ الْغَزَالِيُّ إلَى أَنَّهُ يَجُوزُ إطْلَاقُ ذَلِكَ عَلَى سَبِيلِ الْوَصْفِ لَا عَلَى سَبِيلِ التَّسْمِيَةِ فَالْأَسْمَاءُ عِنْدَهُ تَوْقِيفِيَّةٌ وَالْأَوْصَافُ لَا نِهَايَةَ لَهَا.

قَالَ الْقَمُولِيُّ: هَذَا هُوَ الظَّاهِرُ، قَالَ: وَاخْتَلَفَ الْعُلَمَاءُ فِي إطْلَاقِ اسْمٍ عَلَيْهِ تَعَالَى بِغَيْرِ الْعَرَبِيَّةِ فَمَنَعَهُ قَوْمٌ؛ لِأَنَّ الْأَسْمَاءَ تَوْقِيفِيَّةٌ وَلَمْ يَرِدْ الشَّرْعُ بِذَلِكَ وَإِذَا أَرَادَ الْعَجَمِيُّ الدُّعَاءَ سَمَّى اللَّهَ بِاسْمِهِ بِاللِّسَانِ الْعَرَبِيِّ، ثُمَّ يَذْكُرُ حَاجَتَهُ بِلُغَتِهِ وَذَهَبَ قَوْمٌ إلَى الْجَوَازِ وَهُوَ مَذْهَبُ الْفُقَهَاءِ، وَقَالَ قَبْلَهُ: قَدْ يَخْتَلِفُ الْحَالُ فِي الْإِطْلَاقِ بِاخْتِلَافِ الْأَزْمِنَةِ كَمَا فِي قَوْلِ مُوسَى عليه السلام {إِنْ هِيَ إِلا فِتْنَتُكَ} [الأعراف: 155] فَإِنَّ هَذَا اللَّفْظَ لَمْ يَكُنْ إذْ ذَاكَ مُوهِمًا شَيْئًا فَأَطْلَقَهُ مُوسَى عليه السلام وَلَا يَجُوزُ أَنْ يُخَاطَبَ اللَّهُ بِمِثْلِ هَذَا الْخِطَابِ فِي وَقْتِنَا هَذَا لِمَا فِيهِ مِنْ الْإِيهَامِ انْتَهَى.

وَقَالَ الْأَبِيُّ فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ مَا يُسْتَعْمَلُ مِنْ لَفْظِ الْمَوْلَى وَالسَّيِّدِ يَعْنِي فِي الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَسَنٌ وَإِنْ لَمْ يَرِدْ وَالْمُسْتَنَدُ قَوْلُهُ: «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ» وَقَدْ طَلَبَ ابْنُ عَبْدِ السَّلَامِ تَأْدِيبَ مَنْ قَالَ: لَا يَقُولُهَا فِي الصَّلَاةِ وَإِنْ قَالَهَا بِطَلَبٍ فَتَغَيَّبَ حَتَّى شَفَعَ فِيهِ قَالَ: وَكَأَنَّهُ رَأَى تَغَيُّبَهُ تِلْكَ الْمُدَّةِ عُقُوبَتَهُ وَذَكَرَ الْبُرْزُلِيُّ
তাঁর মৃত্যুর পর এর অনুলিপিকারীর জন্য ইলম হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তিনি ইলমের একটি অধ্যায়ই মাত্র ভালো জানতেন।

(সতর্কীকরণ) কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি 'আল-আরিজাহ' গ্রন্থে একটি বিরল মত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: আমার বিশ্বাস এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন", এটি সেই ব্যক্তির জন্য নয় যে কেবল বলে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন", বরং এটি তার জন্য যে দরুদ পাঠ করেছে, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি তা থেকে জানা যায়। সমাপ্ত। আর সাখাভী উপসংহারে অনেকগুলো প্রেক্ষিত উল্লেখ করেছেন যা উক্ত শব্দের মাধ্যমে মহান সওয়াব প্রাপ্তির প্রমাণ দেয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌[একটি পরিজ্ঞা: কেউ যদি বলে 'হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ-এর ওপর এতো সংখ্যক বার দরুদ বর্ষণ করুন', তবে সে কি সেই সংখ্যার সমান সওয়াব পাবে?]

তিনি বলেছেন: 'হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ-এর ওপর এতো সংখ্যক বার দরুদ বর্ষণ করুন', তবে সে কি সেই সংখ্যার সমান সওয়াব পাবে?

(পরিজ্ঞা) আল-আবীয়ী বলেছেন: লক্ষ্য করুন, কেউ যদি বলে: 'হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ-এর ওপর এতো সংখ্যক বার দরুদ বর্ষণ করুন', তবে কি সে সেই সংখ্যার সমান সওয়াব পাবে? ইবনে আরাফাহ বলতেন: সে একবার দরুদ পাঠকারীর চেয়ে বেশি সওয়াব পাবে, তবে সেই নির্দিষ্ট সংখ্যার সমান সওয়াব পাবে না। আর এর প্রমাণ হলো সেই হাদিস, যাতে বর্ণিত হয়েছে 'আল্লাহর সৃষ্টির সংখ্যার সমান তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি'; যা নির্দেশ করে যে এই শব্দের মাধ্যমে তাসবিহ পাঠের একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, অন্যথায় এর কোনো উপকারিতা থাকত না। সমাপ্ত।

 

'সাইয়্যিদ' (নেতা/প্রভু) হলো এমন পূর্ণ সত্তা যাকে নিরঙ্কুশভাবে প্রয়োজন হয়; আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বৈধ, যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। দামামিনী 'শারহুত তাসহিল' গ্রন্থে ইবনুল মুনির থেকে এ বিষয়ে তিনটি মত উল্লেখ করেছেন: আল্লাহ তাআলা এবং অন্য সবার ক্ষেত্রে এর ব্যবহারের বৈধতা; আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এর ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা—যা তিনি ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যা 'মুকাদ্দিমাত' এর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়; এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে এর ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা। এরপর তিনি নাহহাস থেকে চতুর্থ একটি মত উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো—আল্লাহ ছাড়া অন্যের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার জায়েজ, যদি তা 'আলিফ-লাম' যুক্ত না হয়। তিনি বলেছেন: স্পষ্টতর মত হলো 'আলিফ-লাম' সহকারেও আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য এটি জায়েজ। আর ইমাম মালেক থেকে তিনি যে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেছেন, তা 'মুকাদ্দিমাত' এর বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। আশহাবের সূত্রে 'সামা' এর কিতাবুস সালাতের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে যা রয়েছে তা হলো অপছন্দনীয়তা; তিনি 'হে আমার নেতা' এবং 'হে পরম করুণাময়' বলে দোয়া করা অপছন্দ করেছেন। সম্ভবত তিনি অপছন্দনীয়তাকে নিষিদ্ধের অর্থে গ্রহণ করেছেন, তবে ইবনে রুশদ 'আল-বায়ান' গ্রন্থে এর ব্যাখ্যায় একে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ বলেননি। তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: আর 'হে পরম করুণাময়' বলে দোয়া করার মধ্যে কোনো অপছন্দনীয়তা নেই; কারণ এটি আল্লাহ তাআলার নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা কুরআন থেকে প্রমাণিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার ওপর ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন} [ইব্রাহিম: ১১]। আর আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এর ব্যবহারের মতপার্থক্য মূলত সিফাত নির্দেশক আল্লাহর নামসমূহের ওপর ভিত্তি করে যে, সেগুলো কি শরিয়ত নির্ধারিত, ফলে যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু বলা যাবে না, নাকি তা নয়।

এই মাসআলার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, শব্দটি হয় কোনো পূর্ণতার গুণ বুঝাবে অথবা বুঝাবে না। যদি তা পূর্ণতার গুণ না বুঝায়, তবে শরিয়তে বর্ণিত হওয়া ছাড়া আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা জায়েজ নয়; সেক্ষেত্রে কেবল যে স্থানে তা বর্ণিত হয়েছে সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। আর যদি তা পূর্ণতার গুণ বুঝায় এবং শরিয়তে বর্ণিত হয়, তবে যে স্থানে বর্ণিত হয়েছে সেখানে এবং অন্যত্রও তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে। আর যদি তা বর্ণিত না হয়, তবে শেখ আবু হাসান আল-আশআরী এবং সাধারণ আহলুস সুন্নাহর মাযহাব হলো—আল্লাহ তাআলা নিজেকে যে নামে নামকরণ করেছেন অথবা উম্মত যার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে, তা ছাড়া অন্য কোনো নামে তাঁকে নামকরণ করা জায়েজ নেই।

শাফেয়ী মাজহাবের আল-কামুলি বলেছেন: যেমন—কাদিম (অনাদি) এবং ওয়াজিবুল উজুদ (অনিবার্য অস্তিত্ব সম্পন্ন)। কাজী আবু বকর আল-বাকিল্লানি এবং মুতাজিলাদের মত হলো—আল্লাহকে এমন প্রতিটি নামে নামকরণ করা জায়েজ যার অর্থ সঠিক এবং শরিয়ত বা ইজমা তাতে বাধা দেয়নি। ইমাম গাজালি মনে করেন যে, এটি গুণের ভিত্তিতে জায়েজ, নামকরণের ভিত্তিতে নয়। তাঁর মতে নামসমূহ শরিয়ত নির্ধারিত কিন্তু গুণাবলির কোনো শেষ নেই।

আল-কামুলি বলেছেন: এটিই প্রকাশ্য মত। তিনি আরও বলেছেন: আরবি ব্যতীত অন্য ভাষায় আল্লাহ তাআলার নাম ব্যবহারের ব্যাপারে উলামাগণ মতপার্থক্য করেছেন। একদল এটি নিষিদ্ধ করেছেন; কারণ নামসমূহ শরিয়ত নির্ধারিত এবং শরিয়ত অন্য ভাষায় নাম ব্যবহারের ব্যাপারে কিছু বলেনি। কোনো অনারব ব্যক্তি যদি দোয়া করতে চায়, তবে সে আরবি ভাষায় আল্লাহর নাম নিবে এবং এরপর নিজের ভাষায় তার প্রয়োজন উল্লেখ করবে। অন্য একদল এর বৈধতার দিকে গিয়েছেন এবং এটিই ফকিহদের মাযহাব। তিনি এর আগে বলেছেন: সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যবহারের বিধান ভিন্ন হতে পারে, যেমন মুসা আলাইহিস সালামের বাণী: {এটি কেবল আপনারই পরীক্ষা} [আরাফ: ১৫৫]। কারণ এই শব্দটি তখন কোনো ভুল অর্থের উদ্রেক করত না, তাই মুসা আলাইহিস সালাম তা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে আল্লাহকে এ জাতীয় সম্বোধন করা জায়েজ নেই কারণ এতে ভুল ধারণার উদ্রেক হয়। সমাপ্ত।

আল-আবীয়ী 'শারহু মুসলিম'-এ বলেছেন: দরুদে 'মাওলা' এবং 'সাইয়্যিদ' শব্দ ব্যবহার করা উত্তম, যদিও তা সরাসরি বর্ণিত হয়নি। এর স্বপক্ষে দলিল হলো তাঁর বাণী: "আমি আদম সন্তানদের নেতা"। ইবনে আব্দুস সালাম সেই ব্যক্তির শাস্তির দাবি করেছিলেন যে বলেছিল—দরুদে এই শব্দ বলা যাবে না। যদিও সেই ব্যক্তি এটি তলবের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিল, পরে সে আত্মগোপন করে যতক্ষণ না তার জন্য সুপারিশ করা হয়। আল-আবীয়ী বলেন: সম্ভবত তিনি তার এই আত্মগোপন করাটাকেই শাস্তি হিসেবে গণ্য করেছিলেন। বুরজুলি উল্লেখ করেছেন
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢١)
عَنْ بَعْضِهِمْ أَنَّهُ أَنْكَرَ أَنْ يَقُولَهَا يَعْنِي لَفْظَةَ السَّيِّدِ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ: وَهَذَا إنْ صَحَّ عَنْهُ غَايَةُ الْجَهْلِ، قَالَ: وَاخْتَارَ شَيْخُ شُيُوخِنَا الْمَجْدُ اللُّغَوِيُّ صَاحِبُ الْقَامُوسِ تَرْكَ ذَلِكَ فِي الصَّلَاةِ اتِّبَاعًا لِلَفْظِ الْحَدِيثِ وَالْإِتْيَانَ بِهِ فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ وَذَكَرَ الْحَافِظُ السَّخَاوِيُّ فِي آخِرِ الْبَابِ الْأَوَّلِ مِنْ الْقَوْلِ الْبَدِيعِ كَلَامَهُ وَذَكَرَ عَنْ ابْنِ مُفْلِحٍ الْحَنْبَلِيِّ نَحْوَ ذَلِكَ وَذَكَرَ عَنْ الشَّيْخِ عِزِّ الدِّينِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ أَنَّ الْإِتْيَانَ بِهَا فِي الصَّلَاةِ يَنْبَنِي عَلَى الْخِلَافِ هَلْ الْأَوْلَى امْتِثَالُ الْأَمْرِ أَوْ سُلُوكُ الْأَدَبِ؟ (قُلْت) وَاَلَّذِي يَظْهَرُ لِي وَأَفْعَلُهُ فِي الصَّلَاةِ وَغَيْرِهَا الْإِتْيَانُ بِلَفْظِ السَّيِّدِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

وَمُحَمَّدٌ عَلَمٌ مَنْقُولٌ مِنْ اسْمِ مَفْعُولِ الْمُضَاعَفِ وَمَعْنَاهُ لُغَةً مَنْ كَثُرَتْ مَحَامِدُهُ وَهُوَ أَبْلَغُ مِنْ مَحْمُودٍ؛ لِأَنَّهُ مِنْ الثُّلَاثِيِّ أَلْهَمَ اللَّهُ تَعَالَى أَهْلَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم تَسْمِيَتَهُ بِذَلِكَ لِيُطَابِقَ اسْمُهُ صِفَتَهُ؛ لِأَنَّهُ مَحْمُودٌ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَقِيلَ لِجَدِّهِ لَمَّا سَمَّاهُ بِذَلِكَ: لِمَ عَدَلْت عَنْ أَسْمَاءِ آبَائِك؟ فَقَالَ: لِيَكُونَ مَحْمُودًا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ. فَكَانَ كَذَلِكَ فَهُوَ صلى الله عليه وسلم أَجَلُّ مَنْ حَمِدَ وَأَفْضَلُ مَنْ حُمِدَ الْأَوَّلُ بِفَتْحِ الْحَاءِ وَالثَّانِي بِضَمِّهَا وَهُوَ أَحْمَدُ الْحَامِدِينَ وَأَحْمَدُ الْمَحْمُودِينَ وَمَعَهُ لِوَاءُ الْحَمْدِ وَيَبْعَثُهُ رَبُّهُ هُنَاكَ مَقَامًا مَحْمُودًا يَحْمَدُهُ فِيهِ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ وَيَفْتَحُ عَلَيْهِ بِمَحَامِدَ لَمْ يَفْتَحْ بِهَا عَلَى أَحَدٍ قَبْلَهُ وَأُمَّتُهُ الْحَامِدُونَ يَحْمَدُونَ اللَّهَ عَلَى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَصَلَاتُهُ وَصَلَاةُ أُمَّتِهِ مُفْتَتَحَةٌ بِالْحَمْدِ، وَكَذَلِكَ خُطَبُهُ وَخُطَبُهُمْ وَمَصَاحِفُهُمْ.

وَالْعَرَبُ بِفَتْحِ الْعِينِ وَالرَّاءِ وَبِضَمِّ الْعِينِ وَسُكُونِ الرَّاءِ: جِيلٌ مِنْ النَّاسِ وَهُمْ مَنْ يَتَكَلَّمُ بِاللُّغَةِ الْعَرَبِيَّةِ. وَالْأَعْرَابُ مِنْهُمْ سُكَّانُ الْبَادِيَةِ، وَالْعَجَمُ بِفَتْحِ الْعِينِ وَالْجِيمِ وَبِضَمِّ الْعِينِ وَسُكُونِ الْجِيمِ وَهُمْ خِلَافُ الْعَرَبِ وَيَجُوزُ أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ بِفَتْحِ أَحَدِهِمَا وَبِضَمِّ الْآخَرِ وَالْأَفْصَحُ أَنْ يُفْتَحَا مَعًا أَوْ يُضَمَّا مَعًا وَالْمَبْعُوثُ الْمُرْسَلُ وَسَائِرُ الْأُمَمِ جَمِيعُهُمْ قَالَ فِي الصِّحَاحِ: سَائِرُ النَّاسِ جَمِيعُهُمْ. وَأَنْكَرَهُ الْحَرِيرِيُّ وَقَالَ: السَّائِرُ الْبَاقِي وَرُدَّ عَلَيْهِ بِأَنَّهُ سُمِعَ أَيْضًا فِي الْجَمِيعِ وَيَصِحُّ أَنْ يَكُونَ السَّائِرُ فِي كَلَامِ الْمُصَنِّفِ بِمَعْنَى الْبَاقِي أَيْ بَقِيَّةٌ وَالْأُمَمُ جَمْعٌ أُمَّةٍ بِضَمِّ الْهَمْزَةِ يُطْلَقُ عَلَى ثَمَانِيَةِ مَعَانٍ عَلَى الْجَمَاعَةِ حَتَّى مِنْ غَيْرِ النَّاطِقِ كَقَوْلِهِ تَعَالَى {أُمَّةً مِنَ النَّاسِ} [القصص: 23] .

وقَوْله تَعَالَى {إِلا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ} [الأنعام: 38] وَعَلَى أَتْبَاعِ الرُّسُلِ كَمَا يَقُولُ: نَحْنُ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى الرَّجُلِ الْجَامِعِ لِلْخَيْرِ كَقَوْلِهِ {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً} [النحل: 120] وَعَلَى الدِّينِ وَالْمِلَّةِ كَقَوْلِهِ {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ} [الزخرف: 22] وَعَلَى الْحِينِ وَالزَّمَانِ كَقَوْلِهِ {إِلَى أُمَّةٍ مَعْدُودَةٍ} [هود: 8] وَقَوْلِهِ {وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ} [يوسف: 45] وَعَلَى الْقَامَةِ يُقَالُ: فُلَانٌ حَسَنُ الْأُمَّةِ أَيْ الْقَامَةِ وَعَلَى الرَّجُلِ الْمُنْفَرِدِ بِدِينِهِ كَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «يُبْعَثُ زَيْدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ أُمَّةً» وَعَلَى الْأُمِّ يُقَالُ: هَذِهِ أُمَّةُ زَيْدٍ، أَيْ أُمُّهُ قَالَ الْأَبِيُّ: وَإِذَا أُضِيفَتْ الْأُمَّةُ لِلنَّبِيِّ فَتَارَةً يُرَادُ بِهَا أَتْبَاعُهُ كَحَدِيثِ «شَفَاعَتِي لِأُمَّتِي» وَتَارَةً يُرَادُ بِهَا عُمُومُ أَهْلِ دَعْوَتِهِ كَحَدِيثِ «لَا يَسْمَعُ بِي مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِاَلَّذِي أُرْسِلْت بِهِ إلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

وَالظَّاهِرُ أَنَّ الْأُمَمَ فِي قَوْلِ الْمُصَنِّفِ لِسَائِرِ الْأُمَمِ بِمَعْنَى الْجَمَاعَةِ وَفِي قَوْلِهِ: وَأُمَّتُهُ أَفْضَلُ الْأُمَمِ بِمَعْنَى الْأَتْبَاعِ فَسَقَطَ مَا قِيلَ: إنَّ فِي كَلَامِهِ تَوَافُقُ الْفَاصِلَتَيْنِ فِي اللَّفْظِ وَالْمَعْنَى وَهُوَ مَعِيبٌ فِي السَّجْعِ كَالْإِيطَاءِ فِي النَّظْمِ وَهُوَ تَكْرَارُ الْقَافِيَةِ بَلْ فِي كَلَامِهِ مِنْ الْمُحَسِّنَاتِ الْبَدِيعِيَّةِ الْجِنَاسُ التَّامُّ وَيَصِحُّ أَنْ يُرَادَ بِالْأُمَّةِ فِي الثَّانِي الدِّينُ عَلَى حَذْفِ مُضَافٍ أَيْ أَهْلُ دِينِهِ أَفْضَلَ الْأَدْيَانِ وَفِيهِ تَكَلُّفٌ، وَالْإِمَّةُ بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ النِّعْمَةُ وَتُطْلَقُ عَلَى الدِّينِ وَالطَّرِيقَةِ، وَلَا خِلَافَ فِي عُمُومِ بَعْثَتِهِ صلى الله عليه وسلم إلَى جَمِيعِ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ لِقَوْلِهِ تَعَالَى {لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} [الفرقان: 1] وَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «بُعِثْتُ إلَى الْأَحْمَرِ وَالْأَسْوَدِ» .

وَقِيلَ: الْإِنْسِ وَالْجِنِّ وَقِيلَ: الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ وَاخْتُلِفَ فِي بَعْثَتِهِ إلَى الْمَلَائِكَةِ وَالْأَكْثَرُ عَلَى عَدَمِ بَعْثَتِهِ إلَيْهِمْ صَرَّحَ بِذَلِكَ الْحَلِيمِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي الْبَابِ الرَّابِعِ مِنْ شُعَبِ الْإِيمَانِ بَلْ حَكَى الْإِمَامُ الرَّازِيّ وَالْبُرْهَانُ
কারও কারও পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'সাইয়্যিদ' শব্দটির ব্যবহার—অর্থাৎ কাউকে এই শব্দ দ্বারা সম্বোধন করা—অস্বীকার করেছেন। অতঃপর তিনি (গ্রন্থকার) বলেছেন: এটি যদি তাঁর পক্ষ থেকে প্রমাণিত হয়, তবে তা চরম মূর্খতা। তিনি বলেন: আমাদের প্রধান উস্তাদ কামুস রচয়িতা আল-মাজদ আল-লুগাভী হাদীসের শব্দের অনুসরণে নামাযে এটি বর্জন করা এবং নামাযের বাইরে তা ব্যবহার করা পছন্দ করেছেন। হাফেয সাখাভী 'আল-কাউলুল বাদী' গ্রন্থের প্রথম পরিচ্ছেদের শেষে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে মুফলিহ আল-হাম্বলী থেকেও অনুরূপ মত উল্লেখ করেছেন। তিনি শায়খ ইযযুদ্দীন বিন আব্দুস সালাম থেকে উল্লেখ করেছেন যে, নামাযে এই শব্দটি যুক্ত করা এই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে যে—নির্দেশের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ কি উত্তম, নাকি আদব রক্ষা করা বেশি শ্রেয়? (আমি বলছি) আমার কাছে যা স্পষ্ট হয় এবং আমি নামাযে ও নামাযের বাইরে যা আমল করি, তা হলো 'সাইয়্যিদ' শব্দ উল্লেখ করা। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

'মুহাম্মাদ' শব্দটি একটি আলাম (বিশেষ্য), যা দ্বিত্বাক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূলের ইসম মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য) থেকে রূপান্তরিত। আভিধানিক অর্থে এর অর্থ হলো—যার প্রশংসা অনেক বেশি করা হয়েছে। এটি 'মাহমুদ' শব্দের চেয়েও অধিক অর্থবহ; কারণ এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূলের পরিবর্ধিত রূপ থেকে আগত। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিজনদের অন্তরে এই নাম রাখার প্রেরণা দিয়েছিলেন যেন তাঁর নাম তাঁর গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; কারণ তিনি আসমান ও যমীনে প্রশংসিত। তাঁর দাদা যখন তাঁর এই নাম রাখলেন তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "কেন আপনি আপনার বাপ-দাদার নাম পরিহার করে এই নাম রাখলেন?" তিনি বললেন: "যেন তিনি আসমান ও যমীনে প্রশংসিত হন।" আর বাস্তবে তেমনটাই হয়েছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশংসাকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং যাদের প্রশংসা করা হয় তাদের মধ্যেও সর্বোত্তম। প্রশংসার পতাকাধারী তিনিই। কিয়ামতের দিন তাঁর রব তাঁকে 'মাকামে মাহমুদ' বা প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন, যেখানে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ তাঁর প্রশংসা করবে। আল্লাহ তাঁর জন্য এমন সব প্রশংসার দুয়ার উন্মুক্ত করবেন যা ইতিপূর্বে আর কারও জন্য করেননি। তাঁর উম্মত হলো 'হামিদুন' বা অধিক প্রশংসাকারী, যারা সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা করে। তাঁর নামায এবং তাঁর উম্মতের নামায প্রশংসার (হামদ) মাধ্যমে শুরু হয়; একইভাবে তাঁর খুৎবা, উম্মতের খুৎবা এবং তাদের মুসহাফসমূহও (হামদ দ্বারা শুরু হয়)।

'আরব' (আইন ও রা বর্ণে যবর যোগে অথবা আইনে পেশ ও রা বর্ণে সাকিন যোগে) হলো মানুষের একটি গোষ্ঠী যারা আরবি ভাষায় কথা বলে। তাদের মধ্যে যারা মরুভূমিতে বাস করে তারা হলো 'আ'রাব'। আর 'আজম' (আইন ও জীম বর্ণে যবর যোগে অথবা আইনে পেশ ও জীম বর্ণে সাকিন যোগে) হলো আরবের বিপরীত (অনারব)। 'আরব' ও 'আজম' শব্দ দুটির একটিতে যবর এবং অন্যটিতে পেশ দিয়েও পড়া জায়েয, তবে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল হলো উভয়টিতে যবর অথবা উভয়টিতে পেশ দেওয়া। 'মাবউস' অর্থ প্রেরিত এবং 'সাইরুল উমাম' অর্থ তাদের সকলেই। 'সিহাহ' অভিধানে বলা হয়েছে: 'সাইরুন নাস' অর্থ তাদের সকলেই। আল-হারীরী এটি অস্বীকার করে বলেছেন: 'সাইর' অর্থ অবশিষ্ট অংশ। তবে তাঁর এই দাবি খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে, এটি 'সকল' অর্থেও ব্যবহৃত হতে শোনা গেছে। গ্রন্থকারের বক্তব্যে 'সাইর' শব্দটি অবশিষ্ট অর্থে হওয়াও সঠিক হতে পারে, অর্থাৎ 'অবশিষ্ট জাতিসমূহ'। 'উমাম' হলো 'উম্মাত' শব্দের বহুবচন। এটি আটটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: ১. একদল বা গোষ্ঠী, এমনকি বাকশক্তিহীন প্রাণীর ক্ষেত্রেও, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "মানুষের একটি দল" [সূরা কাসাস: ২৩]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: "বরং তারা তোমাদের মতোই এক একটি জাতি" [সূরা আনআম: ৩৮]। ২. রাসূলগণের অনুসারীগণ, যেমন আমরা বলি: আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত। ৩. এমন এক ব্যক্তি যিনি সমস্ত কল্যাণের আধার, যেমন আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন এক উম্মত (নেতা)" [সূরা নাহল: ১২০]। ৪. দ্বীন বা ধর্মাদর্শ, যেমন আল্লাহর বাণী: "আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি" [সূরা যুখরুফ: ২২]। ৫. সময় বা কাল, যেমন আল্লাহর বাণী: "এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত" [সূরা হুদ: ৮] এবং "দীর্ঘকাল পর তাঁর স্মরণ হলো" [সূরা ইউসুফ: ৪৫]। ৬. শারীরিক গঠন বা উচ্চতা, যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তির 'উম্মত' সুন্দর, অর্থাৎ তাঁর শারীরিক গঠন সুন্দর। ৭. এমন ব্যক্তি যিনি স্বীয় ধর্মে একক, যেমন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যায়েদ বিন আমর বিন নুফাইলকে এক উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে।" ৮. মা অর্থে, যেমন বলা হয়: এটি যায়েদের উম্মত, অর্থাৎ তাঁর মা। আল-আব্বী বলেন: যখন 'উম্মত' শব্দটিকে নবীর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন কখনো এর দ্বারা অনুসারীদের উদ্দেশ্য করা হয়, যেমন হাদীসে এসেছে: "আমার সুপারিশ আমার উম্মতের জন্য"। আবার কখনো এর দ্বারা তাঁর দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষ উদ্দেশ্য হয়, যেমন হাদীসে এসেছে: "এই উম্মতের যে কেউ—চাই সে ইহুদি হোক বা খ্রিষ্টান—আমার কথা শুনবে, অতঃপর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

প্রকাশ্যত গ্রন্থকারের বক্তব্যে 'সাইরুল উমাম' বলতে একদল জনগোষ্ঠী বোঝানো হয়েছে এবং 'তাঁর উম্মত শ্রেষ্ঠ উম্মত' বলতে তাঁর অনুসারীদের বোঝানো হয়েছে। ফলে যারা বলেন যে, তাঁর বক্তব্যে একই শব্দ ও একই অর্থে দুবার আসার মাধ্যমে অন্ত্যমিল হয়েছে যা অলঙ্কারশাস্ত্রে দোষণীয় (যেমন কবিতায় কাফিয়ার পুনরাবৃত্তি), তাদের সেই আপত্তি টিকছে না। বরং তাঁর বক্তব্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের চমৎকার প্রয়োগ হিসেবে 'জিনাসে তাম' (পূর্ণ সমার্থকতা) ঘটেছে। দ্বিতীয়বার উম্মত বলতে দ্বীন বা ধর্মকেও বোঝানো যেতে পারে—যদি একটি উহ্য শব্দ ধরে নেওয়া হয়, অর্থাৎ তাঁর ধর্মের অনুসারীগণ সকল ধর্মের অনুসারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তবে এই ব্যাখ্যার মধ্যে কিছুটা জটিলতা আছে। 'ইম্মাত' (হামজায় যের যোগে) অর্থ নিয়ামত এবং এটি দ্বীন ও তরীকা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। সমস্ত মানুষ ও জিনের প্রতি তাঁর প্রেরিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন" [সূরা ফুরকান: ১]। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে লাল ও কালো (সকল বর্ণের মানুষের) প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে।"

বলা হয়: এর দ্বারা জিন ও ইনসান উদ্দেশ্য, আবার বলা হয়: আরব ও আজম উদ্দেশ্য। ফেরেশতাদের প্রতি তিনি প্রেরিত কি না তা নিয়ে মতভেদ আছে, তবে অধিকাংশ আলেমের মতে তিনি তাঁদের প্রতি প্রেরিত হননি। হালীমী এবং বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এর চতুর্থ অধ্যায়ে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। বরং ইমাম রাযী এবং বুরহান...
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٢)
النَّسَفِيُّ الْإِجْمَاعَ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يُرْسَلْ إلَيْهِمْ وَمَا حَكَاهُ الزَّرْكَشِيُّ وَتَبِعَهُ الْقَرَافِيُّ وَغَيْرُهُ عَنْ الْإِمَامِ الرَّازِيِّ مِنْ أَنَّهُ حُكِيَ الْإِجْمَاعُ عَلَى بَعْثَتِهِ إلَيْهِمْ غَيْرُ مَعْرُوفٍ عَنْ الرَّازِيِّ وَالْمَعْرُوفُ عَنْهُ مَا قَدَّمْنَاهُ وَالْقَوْلُ بِبَعْثَتِهِ إلَيْهِمْ إنَّمَا حَكَاهُ السُّبْكِيُّ عَنْ بَعْضِهِمْ قَالَ الْكَمَالُ بْنُ أَبِي شَرِيفٍ فِي حَاشِيَةِ شَرْحِ جَمْعِ الْجَوَامِعِ: قَالَ السُّبْكِيُّ: قَالَ الْمُفَسِّرُونَ كُلُّهُمْ فِي قَوْله تَعَالَى {لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} [الفرقان: 1] : الْمُرَادُ بِهِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: وَالْمَلَائِكَةُ وَآلُ الرَّجُلِ أَهْلُهُ وَعِيَالُهُ وَيُطْلَقُ عَلَى الْأَتْبَاعِ أَيْضًا قَالَهُ فِي الصِّحَاحِ. قَالَ الشُّمُنِّيُّ: وَلَا يُضَافُ إلَّا لِمَنْ لَهُ شَرَفٌ مِنْ الْعُقَلَاءِ الذُّكُورِ فَلَا يُقَالُ: آلُ الْإِسْكَافِيِّ وَلَا آلُ مَكَّةَ وَلَا آلُ فَاطِمَةَ. وَعَنْ الْأَخْفَشِ أَنَّهُمْ قَالُوا: آلُ الْبَصْرَةِ وَآلُ الْمَدِينَةِ وَالصَّحِيحُ جَوَازُ إضَافَتِهِ إلَى الضَّمِيرِ كَمَا اسْتَعْمَلَهُ الْمُصَنِّفُ وَمَنَعَ ذَلِكَ الْكِسَائِيُّ وَأَبُو جَعْفَرٍ النَّحَّاسُ وَيَشْهَدُ لِلْأَوَّلِ قَوْلُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ

وَانْصُرْ عَلَى آلِ الصَّلِيبِ … وَعَابِدِيهِ الْيَوْمَ آلُك

وَاخْتُلِفَ فِي أَصْلِهِ فَقِيلَ: أَهْلٌ، فَأُبْدِلَتْ الْهَاءُ هَمْزَةً ثُمَّ أُبْدِلَتْ الْهَمْزَةُ أَلِفًا وَقِيلَ: أَصْلُهُ أَوَّلُ قُلِبَتْ الْوَاوُ أَلِفًا لِتَحَرُّكِهَا وَانْفِتَاحِ مَا قَبْلِهَا وَآلُهُ صلى الله عليه وسلم بَنُو هَاشِمٍ فَقَطْ عَلَى الْمَشْهُورِ، وَقِيلَ: بَنُو الْمُطَّلِبِ وَهُوَ الَّذِي مَشَى عَلَيْهِ الْمُصَنِّفُ فِي الزَّكَاةِ قَالَ الدَّمَامِينِيُّ: وَهُوَ الْمُخْتَارُ عِنْدَنَا، وَقَالَ الشَّيْخُ زَرُّوق: هُوَ الْمَذْهَبُ، وَقِيلَ: جَمِيعُ أُمَّتِهِ، قَالَ ابْنُ الْعَرَبِيِّ فِي الْعَارِضَةِ: وَمَالَ إلَيْهِ مَالِكٌ، وَقَالَ عَبْدُ الْحَقِّ فِي كِتَابِ الصَّلَاةِ الثَّانِي مِنْ تَهْذِيبِهِ فِي الْكَلَامِ عَلَى التَّشَهُّدِ: وَأَعْرِفُ لِمَالِكٍ رحمه الله أَنَّ آلَ مُحَمَّدٍ كُلُّ مَنْ تَبِعَ دِينَهُ كَمَا أَنَّ آلَ فِرْعَوْنَ كُلُّ مَنْ تَبِعَهُ وَقِيلَ: أَتْقِيَاءُ الْمُؤْمِنِينَ. وَالْأَصْحَابُ جَمْعُ صَاحِبٍ بِمَعْنَى الصَّحَابِيِّ بِيَاءِ النَّسَبِ وَهُوَ مَخْصُوصٌ فِي الْعُرْفِ بِأَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالصَّحَابِيُّ مَنْ اجْتَمَعَ مُؤْمِنًا بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَإِنْ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ وَلَمْ يَطُلْ اجْتِمَاعُهُ بِهِ.

وَقَالَ النَّوَوِيُّ: وَسَوَاءٌ جَالَسَهُ أَمْ لَا هَذَا هُوَ الْأَصَحُّ وَهُوَ مَذْهَبُ الْبُخَارِيِّ وَسَائِرِ الْمُحَدِّثِينَ وَجَمَاعَةٍ مِنْ الْفُقَهَاءِ وَغَيْرِهِمْ وَذَهَبَ أَكْثَرُ الْأُصُولِيِّينَ إلَى أَنَّهُ تُشْتَرَطُ مُجَالَسَتُهُ وَهَذَا مُقْتَضَى الْعُرْفِ وَالْأَوَّلُ مُقْتَضَى اللُّغَةِ وَعَنْ ابْنِ الْمُسَيِّبِ لَا يُعَدُّ صَحَابِيًّا إلَّا مَنْ أَقَامَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَنَةً أَوْ سَنَتَيْنِ وَغَزَا مَعَهُ غَزْوَةً أَوْ غَزْوَتَيْنِ فَإِنْ صَحَّ عَنْهُ فَهُوَ ضَعِيفٌ فَإِنَّ مُقْتَضَاهُ أَنْ لَا يُعَدَّ جَرِيرٌ الْبَجَلِيُّ وَشِبْهُهُ صَحَابَةً وَلَا خِلَافَ فِي أَنَّهُمْ صَحَابَةٌ وَهَذَا بِخِلَافِ التَّابِعِيِّ وَهُوَ صَاحِبُ الصَّحَابِيِّ فَلَا يَكْفِي فِي إطْلَاقِ التَّابِعِيِّ عَلَيْهِ اجْتِمَاعُهُ بِهِ مِنْ غَيْرِ طُولٍ عَلَى أَظْهَرِ الْقَوْلَيْنِ وَقِيلِ يَكْفِي وَالْفَرْقُ بَيْنَهُمَا أَنَّ الِاجْتِمَاعَ بِالْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم فِي لَحْظَةٍ يُؤَثِّرُ فِي تَنْوِيرِ الْقَلْبِ مَا لَا يُؤَثِّرُهُ الِاجْتِمَاعُ بِغَيْرِهِ وَلَوْ طَالَ وَيَدْخُلُ فِي قَوْلِنَا: اجْتَمَعَ الْأَعْمَى، وَعَبَّرَ بَعْضُهُمْ بِمَنْ لَقِيَ لِيَدْخُلَ مَنْ حَنَّكَهُ أَوْ مَنْ مَسَّهُ صلى الله عليه وسلم مِنْ الصِّبْيَانِ وَهُوَ كَذَلِكَ خِلَافًا لِبَعْضِهِمْ وَلَا يَدْخُلُ الْأَنْبِيَاءُ الَّذِينَ اجْتَمَعَ بِهِمْ لَيْلَةَ الْإِسْرَاءِ وَالْمَلَائِكَةُ؛ لِأَنَّ الْمُرَادَ الِاجْتِمَاعُ الْمُتَعَارَفُ وَهَلْ يَدْخُلُ فِي ذَلِكَ جِنُّ نَصِيبِينَ وَاسْتَشْكَلَهُ ابْنُ الْأَثِيرِ وَهُوَ مَحِلُّ نَظَرٍ وَيَخْرُجُ مِنْ التَّعْرِيفِ مَنْ لَقِيَهُ كَافِرًا ثُمَّ أَسْلَمَ قَالَ الشَّيْخُ حُلُولُو: وَنَظَرَ ابْنُ عَرَفَةَ فِي كَوْنِهِ صَحَابِيًّا وَلَا يَبْطُلُ التَّعْرِيفُ بِمَنْ ارْتَدَّ بَعْدَ اجْتِمَاعِهِ بِهِ وَمَاتَ عَلَى رِدَّتِهِ؛ لِأَنَّهُ قَبْلَ رِدَّتِهِ كَانَ يُسَمَّى صَحَابِيًّا وَأَمَّا مَنْ ارْتَدَّ ثُمَّ أَسْلَمَ فَهُوَ صَحَابِيٌّ. وَالْأَزْوَاجُ جَمْعُ زَوْجٍ يُطْلَقُ عَلَى الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ وَيُقَالُ فِي الْأُنْثَى زَوْجَةٌ أَيْضًا وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ زِيَادَةُ: وَذُرِّيَّتِهِ، وَالذُّرِّيَّةُ: النَّسْلُ يَقَعُ عَلَى الذُّكُورِ وَالْإِنَاثِ وَقَالَ فِي الصِّحَاحِ: هُوَ نَسْلُ الثَّقَلَيْنِ مِنْ ذَرَأَ اللَّهُ الْخَلْقَ أَيْ خَلَقَهُمْ لَكِنْ تَرَكَتْ الْعَرَبُ هَمْزَتَهَا وَزَعَمَ بَعْضُهُمْ أَنَّهَا تُطْلَقُ عَلَى الْآبَاءِ أَيْضًا وَاسْتَدَلَّ بِقَوْلِهِ تَعَالَى وَآيَةٌ لَهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ يَعْنِي نُوحًا، وَمَنْ مَعَهُ وَتُثَلَّثُ ذَالُهَا وَقُرِئَ بِذَلِكَ وَقِرَاءَةُ الْجُمْهُورِ بِالضَّمِّ ثُمَّ الصَّلَاةُ عَلَى الْآلِ وَالْأَصْحَابِ وَغَيْرِهِمْ تَجُوزُ عَلَى التَّبَعِيَّةِ.

 

قَالَ فِي الشِّفَاءِ:
আন-নাসাফী এই বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন যে, তাকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) তাদের (ফেরেশতাদের) নিকট প্রেরণ করা হয়নি। আর আজ-জারকাশী যা বর্ণনা করেছেন এবং আল-কারাফী ও অন্যান্যেরা তার অনুসরণ করেছেন—যা ইমাম আর-রাজী থেকে বর্ণিত যে, তাকে তাদের কাছে প্রেরণের ব্যাপারে ইজমা বর্ণিত হয়েছে—তা আর-রাজী থেকে সুপরিচিত নয়। বরং তার থেকে সুপরিচিত মতটি হলো যা আমরা পূর্বে পেশ করেছি। আর তাকে তাদের কাছে প্রেরণের বিষয়টি কেবল আস-সুবকী কারো কারো থেকে বর্ণনা করেছেন। কামাল ইবনে আবী শারীফ 'শারহু জামউল জাওয়ামি'-এর হাশিয়াতে বলেছেন: আস-সুবকী বলেছেন যে, মুফাসসিরগণের সকলেই মহান আল্লাহর বাণী "যাতে তিনি সৃষ্টিজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন" [আল-ফুরকান: ১] প্রসঙ্গে বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষ ও জিন। আর তাদের কেউ কেউ বলেছেন: ফেরেশতাও এর অন্তর্ভুক্ত। আর কোনো ব্যক্তির 'আল' বলতে তার পরিবার-পরিজন ও পোষ্যদের বোঝায়; এটি অনুসারীদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যা 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে। আশ-শুমুন্নী বলেছেন: এটি (আল) শুধুমাত্র বুদ্ধিমান ও মর্যাদাবান পুরুষদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়; তাই 'আলুল ইস্কাফী' (চর্মকারের পরিবার), 'আলু মাক্কাহ' (মক্কার পরিবার) কিংবা 'আলু ফাতিমাহ' (ফাতিমার পরিবার) বলা হয় না। আল-আখফাশ থেকে বর্ণিত যে, তারা বলেছেন: 'আলু বাসরা' ও 'আলুল মদীনা'। সঠিক মত হলো একে সর্বনামের (দমীর) সাথে সম্বন্ধ করা জায়েজ, যেমনটি গ্রন্থকার ব্যবহার করেছেন। তবে আল-কিসায়ী এবং আবু জাফর আন-নাহহাস তা নিষেধ করেছেন। প্রথম মতের সপক্ষে আব্দুল মুত্তালিবের বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়:

আর ক্রুশ পূজারীদের এবং যারা এর উপাসনা করে তাদের বিরুদ্ধে আজ আপনার পরিজনকে সাহায্য করুন …

এর মূল নিয়ে মতভেদ আছে। বলা হয়েছে এর মূল হলো 'আহল' (পরিবার), অতঃপর 'হা' বর্ণটিকে হামজা দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই হামজাকে আলিফে রূপান্তর করা হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন: এর মূল হলো 'আউওয়াল', যেখানে 'ওয়াও' বর্ণটি হারাকাতবিশিষ্ট হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বের বর্ণ জবরযুক্ত হওয়ার কারণে আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। সুপরিচিত মতানুসারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের 'আল' হলেন কেবল বনু হাশিম। কেউ বলেছেন: বনু মুত্তালিবও এর অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রন্থকার যাকাত অধ্যায়ে অনুসরণ করেছেন। আদ-দামামিনী বলেছেন: আমাদের নিকট এটিই মনোনীত মত। শায়খ যাররুক বলেছেন: এটিই মাযহাবের সিদ্ধান্ত। আবার কেউ বলেছেন: তার সকল উম্মতই তার 'আল'। ইবনুল আরাবী 'আল-আরিজাহ' গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম মালিক এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন। আব্দুল হক তার 'তাহজীব' গ্রন্থের দ্বিতীয় সালাত অধ্যায়ে তাশাহহুদ প্রসঙ্গে বলেছেন: আমি ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে জানি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের 'আল' হলো তারা যারা তার দ্বীনের অনুসরণ করে, যেমন ফিরআউনের 'আল' হলো তারা যারা তার অনুসরণ করেছিল। আরও বলা হয়েছে: মুমিনদের মধ্যে মুত্তাকীগণই এর অন্তর্ভুক্ত। 'আসহাব' শব্দটি 'সাহাবী' শব্দের বহুবচন। পরিভাষায় এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গীদের জন্য বিশেষিত। সাহাবী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন, যদিও তিনি তার থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা না করেন এবং তার সাথে অবস্থানের সময় দীর্ঘ না হয়।

ইমাম আন-নাবাবী বলেছেন: তিনি তার সাথে বসে থাকুন বা না থাকুন (সাক্ষাৎ হওয়াই যথেষ্ট)—এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত এবং এটিই ইমাম বুখারী, অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ এবং একদল ফকীহ ও অন্যান্যদের মাযহাব। তবে অধিকাংশ উসূলবিদদের মতে, তার সাথে একত্রে বসা বা অবস্থান করা শর্ত; এটিই প্রচলিত প্রথা (উরফ) অনুযায়ী কাম্য। আর প্রথম মতটি আভিধানিক অর্থের অনুকূলে। ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত যে, এক বা দুই বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অবস্থান না করলে এবং তার সাথে এক বা দুই যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলে তাকে সাহাবী গণ্য করা হবে না। এই বর্ণনাটি যদি তার থেকে প্রমাণিতও হয়, তবুও তা দুর্বল। কেননা এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জারীর আল-বাজালী এবং তার মতো ব্যক্তিবর্গ সাহাবী হিসেবে গণ্য হবেন না, অথচ তারা যে সাহাবী সে ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। এটি তাবেয়ীর সংজ্ঞার বিপরীত। তাবেয়ী হলেন সাহাবীর সঙ্গী; কিন্তু কোনো দীর্ঘ সময় অবস্থান ছাড়া কেবল সাক্ষাতের মাধ্যমেই তার ওপর তাবেয়ী শব্দের প্রয়োগ যথেষ্ট নয়—এটিই দুটি মতের মধ্যে অধিকতর সুস্পষ্ট মত। যদিও কেউ কেউ বলেছেন যে, কেবল সাক্ষাৎই যথেষ্ট। এই দুইয়ের (সাহাবী ও তাবেয়ী) মধ্যে পার্থক্য হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক মুহূর্তের সাক্ষাৎ অন্তরের আলোকায়নে এমন প্রভাব ফেলে যা অন্য কারো সাথে দীর্ঘ অবস্থানেও অর্জিত হয় না। আমাদের 'সাক্ষাৎ লাভ' বলার দ্বারা অন্ধ ব্যক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। কেউ কেউ 'দেখা বা সাক্ষাৎ' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন যাতে ঐসব শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত হয় যাদের তিনি 'তাহনীক' করেছেন কিংবা স্পর্শ করেছেন; আর এটিই সঠিক মত যদিও কেউ কেউ এর বিরোধিতা করেছেন। যারা মিরাজের রাতে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এমন নবীগণ এবং ফেরেশতারা এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না; কারণ এখানে প্রচলিত সাক্ষাতের কথা বোঝানো হয়েছে। নাসীবীনের জিনরা এর অন্তর্ভুক্ত হবে কি না—ইবনুল আসীর একে জটিল হিসেবে দেখেছেন এবং এটি পর্যালোচনার বিষয়। এই সংজ্ঞা থেকে সেই ব্যক্তি বের হয়ে যাবে যে কাফের অবস্থায় তার সাথে সাক্ষাৎ করেছে কিন্তু পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে। শায়খ হুলুলু বলেছেন: ইবনে আরাফাহ তাকে সাহাবী হওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা করেছেন। তবে সাক্ষাতের পর মুরতাদ হয়ে গেলে এবং মুরতাদ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সংজ্ঞাটি বাতিল হবে না; কারণ মুরতাদ হওয়ার পূর্বে তাকে সাহাবী বলা হতো। আর যে ব্যক্তি মুরতাদ হওয়ার পর পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেছে, সে সাহাবী। 'আজওয়াজ' হলো 'যাওজ' (স্বামী বা স্ত্রী) শব্দের বহুবচন, যা স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়; তবে স্ত্রীর ক্ষেত্রে 'যাওজাহ' শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'তার বংশধর' (যুররিয়্যাতিহি) কথাটি অতিরিক্ত রয়েছে। 'যুররিয়্যাহ' হলো বংশধর, যা পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি জিন ও মানুষের বংশধর, যা আল্লাহর সৃষ্টি (যারাআ) শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ সৃষ্টি করা; তবে আরবরা এর হামজা উচ্চারণ বর্জন করে। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এটি পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এবং তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "তাদের জন্য একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের বংশধরদের (নৌযানে) আরোহণ করিয়েছিলাম"—অর্থাৎ নূহ আলাইহিস সালাম এবং তার সাথে যারা ছিলেন। এই শব্দের 'যাল' বর্ণটিতে তিনটি হরকতই (যবর, যের, পেশ) পড়া যায় এবং সে অনুযায়ী কিরাতও রয়েছে; তবে জমহুর বা অধিকাংশের কিরাত হলো পেশ যোগে (যুররিয়্যাহ)। অতঃপর আল (পরিবার) ও আসহাব (সঙ্গী) এবং অন্যদের ওপর দরুদ পাঠ করা অনুগামী হিসেবে জায়েজ।

 

'আশ-শিফা' গ্রন্থে বলা হয়েছে:
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٣)
عَامَّةُ أَهْلِ الْعِلْمِ مُتَّفِقُونَ عَلَى جَوَازِ الصَّلَاةِ عَلَى غَيْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ ذَكَرَ أَنَّهُ وَجَدَ بِخَطِّ بَعْضِ شُيُوخِ مَذْهَبِ مَالِكٍ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُصَلَّى عَلَى أَحَدٍ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ سِوَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهَذَا غَيْرُ مَعْرُوفٍ مِنْ مَذْهَبِهِ ثُمَّ قَالَ: وَاَلَّذِي ذَهَبَ إلَيْهِ الْمُحَقِّقُونَ وَأَمِيلُ إلَيْهِ مَا قَالَهُ مَالِكٌ وَسُفْيَانُ وَاخْتَارَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ الْفُقَهَاءِ وَالْمُتَكَلِّمِينَ أَنَّهُ يَجِبُ تَخْصِيصُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسَائِرِ الْأَنْبِيَاءِ بِالصَّلَاةِ وَالتَّسْلِيمِ كَمَا يَخْتَصُّ اللَّهُ سُبْحَانَهُ عِنْدَ ذِكْرِهِ بِالتَّقْدِيسِ وَالتَّنْزِيهِ وَيُذْكَرُ مَنْ سِوَاهُمْ بِالْغُفْرَانِ وَالرِّضَا كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ} [الحشر: 10] وَقَالَ {وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة: 100] وَأَيْضًا فَهُوَ أَمْرٌ لَمْ يَكُنْ مَعْرُوفًا فِي الصَّدْرِ الْأَوَّلِ كَمَا قَالَ أَبُو عِمْرَانَ وَإِنَّمَا أَحْدَثَهُ الرَّافِضَةُ وَالْمُتَشَيِّعَةُ فِي بَعْضِ الْأَئِمَّةِ فَشَارَكُوهُمْ عِنْدَ الذِّكْرِ لَهُمْ بِالصَّلَاةِ وَسَاوَوْهُمْ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ وَأَيْضًا فَإِنَّ التَّشَبُّهَ بِأَهْلِ الْبِدَعِ مَنْهِيٌّ عَنْهُ فَيَجِبُ مُخَالَفَتُهُمْ وَذِكْرُ الصَّلَاةِ عَلَى الْآلِ وَالْأَزْوَاجِ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِحُكْمِ التَّبَعِ وَالْإِضَافَةِ إلَيْهِ لَا عَلَى التَّخْصِيصِ قَالُوا: وَصَلَاةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ مَجْرَاهَا مَجْرَى الدُّعَاءِ وَالرَّحْمَةِ لَيْسَ فِيهَا مَعْنَى التَّعْظِيمِ وَالتَّوْقِيرِ، وَقَدْ قَالَ تَعَالَى {لا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا} [النور: 63] وَكَذَلِكَ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ الدُّعَاءُ لَهُ مُخَالِفًا لِدُعَاءِ النَّاسِ بَعْضِهِمْ لِبَعْضٍ وَهَذَا اخْتِيَارُ الْإِمَامِ أَبِي مُظَفَّرٍ الْإسْفَرايِينِيّ مِنْ شُيُوخِنَا وَبِهِ قَالَ أَبُو عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الْبَرِّ انْتَهَى.

 

‌‌[تَنْبِيهٌ حُكْم الْخُطْبَة الَّتِي لَيْسَ فِيهَا شَهَادَةٌ]

(تَنْبِيهٌ) لَمْ يَذْكُرْ الْمُصَنِّفُ فِي خُطْبَتِهِ الشَّهَادَةَ مَعَ أَنَّهُ وَرَدَ «كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا شَهَادَةٌ فَهِيَ كَالْيَدِ الْجَذْمَاءِ» أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُد مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا فِي كِتَابِ الْأَدَبِ مِنْ سُنَنِهِ ص (وَبَعْدُ فَقَدْ سَأَلَنِي جَمَاعَةٌ أَبَانَ اللَّهُ لِي وَلَهُمْ مَعَالِمَ التَّحْقِيقِ وَسَلَكَ بِنَا وَبِهِمْ أَنْفَعَ طَرِيقٍ)

ش: بَعْدُ ظَرْفُ مَكَان مَقْطُوعٍ عَنْ الْإِضَافَةِ لَفْظًا لَا مَعْنًى وَلِذَلِكَ بُنِيَ عَلَى الضَّمِّ وَالتَّقْدِيرُ وَبَعْدَ حَمْدِ اللَّهِ وَالصَّلَاةِ عَلَى رَسُولِهِ وَهِيَ كَلِمَةٌ تُسْتَعْمَلُ فِي الْخُطَبِ وَالْكَلَامِ الْفَصِيحِ لِقَطْعِ مَا قَبْلَهَا عَمَّا بَعْدَهَا، قَالَ بَعْضُ الشَّافِعِيَّةِ: وَيُسْتَحَبُّ الْإِتْيَانُ بِهَا فِي الْخُطَبِ وَالْمُكَاتَبَاتِ اقْتِدَاءً بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ عَقَدَ لَهَا الْبُخَارِيُّ بَابًا فِي كِتَابِ الْجُمُعَةِ وَذَكَرَ فِيهِ أَحَادِيثَ كَثِيرَةً وَتُسْتَعْمَلُ مَقْرُونَةً بِأَمَّا وَالْوَاوِ وَمَعَ إحْدَاهُمَا دُونَ الْأُخْرَى وَدُخُولُ الْفَاءِ بَعْدَهَا مَعَ أَمَّا وَاضِحٌ لِمَا تَضَمَّنَتْهُ أَمَّا مِنْ مَعْنَى الشَّرْطِ وَأَمَّا مَعَ عَدَمِهَا فَتَدْخُلُ عَلَى تَوَهُّمِ وُجُودِ أَمَّا وَتَكُونُ الْوَاوُ اسْتِئْنَافِيَّةً أَوْ عَلَى تَقْدِيرِ أَمَّا مَحْذُوفَةٍ وَالْوَاوُ عِوَضٌ مِنْهَا أَوْ دُونَ تَعْوِيضٍ وَعَلَى الْأَوَّلِ فَالْعَامِلُ فِي " بَعْدُ " الْفِعْلُ الْمُقَدَّرُ إذْ التَّقْدِيرُ وَبَعْدَ كَذَا وَكَذَا، فَأَقُولُ: وَعَلَى الثَّانِي فَالْعَامِلُ فِي " بَعْدُ " أَمَّا الْمَحْذُوفَةُ لِنِيَابَتِهَا عَنْ فِعْلِ الشَّرْطِ الْمُقَدَّرِ إذْ التَّقْدِيرُ مَهْمَا يَكُنْ مِنْ شَيْءٍ بَعْدَ حَمْدِ اللَّهِ وَالصَّلَاةِ عَلَى رَسُولِهِ فَقَدْ سَأَلَنِي إلَى آخِرِهِ وَالْعَامِلُ فِي " بَعْدُ " الْفِعْلُ الْمُقَدَّرُ

وَاخْتُلِفَ فِي أَوَّلِ مَنْ نَطَقَ بِأَمَّا بَعْدُ فَقِيلَ: دَاوُد عليه الصلاة والسلام وَأَنَّهَا فَصْلُ الْخِطَابِ الَّذِي أُوتِيَهُ، وَقِيلَ: قَسُّ بْنُ سَاعِدَةَ وَقِيلَ: كَعْبُ بْنُ لُؤَيٍّ وَقِيلَ: يَعْرُبُ بْنُ قَحْطَانَ وَقِيلَ: سَحْبَانُ وَائِلٍ وَأَبَانَ أَوْضَحَ وَالْمَعَالِمُ جَمْعُ مَعْلَمٍ بِفَتْحِ أَوَّلِهِ وَثَالِثِهِ وَسُكُونِ ثَانِيهِ وَأَصْلُهُ الْأَثَرُ الَّذِي يُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى الطَّرِيقِ وَاسْتَعَارَهُ الْمُصَنِّفُ لِمَا يُسْتَدَلُّ بِهِ عَلَى التَّحْقِيقِ. وَالتَّحْقِيقُ مَعْرِفَةُ الشَّيْءِ بِدَلِيلِهِ مِنْ غَيْرِ تَقْلِيدٍ فِيهِ وَالْمُرَادُ بِمَعَالِمِهِ الْأَدِلَّةُ الَّتِي يُهْتَدَى بِهَا إلَيْهِ وَالْمَعْرُوفُ فِي " سَلَكَ " أَنَّهُ يَتَعَدَّى بِنَفْسِهِ، قَالَ تَعَالَى {كَذَلِكَ نَسْلُكُهُ} [الحجر: 12] وَقَالَ {مَا سَلَكَكُمْ} [المدثر: 42] وَعَدَّاهُ الْمُصَنِّفُ بِالْبَاءِ كَأَنَّهُ ضَمَّنَهُ مَعْنَى دَخَلَ كَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إلَى الْجَنَّةِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَأَنْفَعُ طَرِيقٍ هِيَ الطَّرِيقُ الْمُوصِلَةُ إلَى مَعْرِفَةِ اللَّهِ سبحانه وتعالى وَامْتِثَالِ أَوَامِرِهِ وَاجْتِنَابِ نَوَاهِيهِ وَالضَّمِيرُ فِي قَوْلِهِ: " بِنَا " لِلشَّيْخِ، وَمَنْ سَأَلَهُ وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ " بِنَا وَبِهِمْ " فَالضَّمِيرُ لِلْمُصَنِّفِ فَقَطْ.

 

ص (مُخْتَصَرًا عَلَى مَذْهَبِ الْإِمَامِ
অধিকাংশ আলেম নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া অন্যদের ওপর দরুদ পাঠ বৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মালেকি মাজহাবের জনৈক শাইখের হস্তলিপিতে তিনি পেয়েছেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া অন্য কোনো নবির ওপর দরুদ পাঠ করা বৈধ নয়। তিনি বলেন, এটি তাঁর মাজহাবে পরিচিত মত নয়। এরপর তিনি বলেন: মুহাক্কিকগণ যে মত পোষণ করেছেন এবং আমি যেদিকে ঝুঁকেছি তা হলো—যা মালেক ও সুফিয়ান বলেছেন এবং ফকিহ ও মুতাকাল্লিমদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি পছন্দ করেছেন যে, দরুদ ও সালামের মাধ্যমে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও অন্যান্য নবিদেরই বিশিষ্ট করতে হবে, যেমন মহান আল্লাহকে তাঁর স্মরণের সময় পবিত্রতা ও নির্দোষিতা বর্ণনার মাধ্যমে বিশিষ্ট করা হয়। আর অন্যদের স্মরণের সময় ক্ষমা প্রার্থনা ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে স্মরণ করা হবে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ক্ষমা করো এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে} [হাশর: ১০]। তিনি আরও বলেছেন: {এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে} [তাওবাহ: ১০০]। এছাড়া এটি এমন একটি বিষয় যা প্রথম যুগে পরিচিত ছিল না, যেমন আবু ইমরান বলেছেন। এটি কেবল রাফেজি ও শিয়াগণ কিছু ইমামের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন করেছে। ফলে তারা ওই ইমামদের স্মরণের সময় দরুদ পাঠের মাধ্যমে তাদের অংশীদার করেছে এবং এই ক্ষেত্রে তাদের নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমপর্যায়ভুক্ত করে নিয়েছে। আরও বিষয় হলো, বিদআতিদের সাদৃশ্য অবলম্বন নিষিদ্ধ, তাই তাদের বিরোধিতা করা আবশ্যক। আর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর পরিবারবর্গ ও স্ত্রীদের ওপর দরুদ পাঠ করা হবে অনুগামী হিসেবে এবং তাঁর সাথে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে, স্বতন্ত্রভাবে নয়। তারা বলেন: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাদের ওপর দরুদ পাঠ করেছেন তা দোয়া ও রহমতের পর্যায়ভুক্ত, তাতে মহিমা বা সম্মান প্রদর্শনের অর্থ নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা রাসুলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না} [নুর: ৬৩]। তদ্রূপ তাঁর জন্য দোয়া করাটাও মানুষের একে অপরের জন্য দোয়া করা থেকে ভিন্নতর হওয়া আবশ্যক। এটি আমাদের শাইখদের মধ্য থেকে ইমাম আবু মুজাফফর আল-ইসফারায়িনির পছন্দ এবং আবু উমর ইবনে আব্দুল বারও এটি বলেছেন। সমাপ্ত।

 

‌‌[সতর্কীকরণ: যে খুতবায় শাহাদাহ নেই তার বিধান]

(সতর্কীকরণ) লেখক তাঁর খুতবায় শাহাদাহ উল্লেখ করেননি, যদিও বর্ণিত আছে যে, «প্রত্যেক খুতবা যাতে শাহাদাহ নেই, তা ছিন্ন হাতের মতো»। এটি আবু দাউদ তাঁর সুনান-এর আদব অধ্যায়ে আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। স (অতঃপর, একদল লোক আমার কাছে আবেদন করেছেন—আল্লাহ আমার ও তাদের জন্য সত্য উদঘাটনের নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করে দিন এবং আমাদের ও তাদের সবচেয়ে উপকারী পথে পরিচালিত করুন)।

শ: ‘বউদু’ হলো একটি স্থানের অব্যয় যা শব্দের দিক থেকে সম্বন্ধ (ইজাফাত) থেকে বিচ্ছিন্ন কিন্তু অর্থের দিক থেকে নয়, একারণে এটি ‘দম্মা’র ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর রাসুলের ওপর দরুদ পাঠের পর। এটি খুতবা এবং প্রাঞ্জল আলোচনায় ব্যবহৃত একটি শব্দ যা এর পূর্বের কথাকে পরের কথা থেকে পৃথক করে। জনৈক শাফেয়ি আলেম বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণে খুতবা ও চিঠিপত্রে এটি আনা মুস্তাহাব। ইমাম বুখারি জুমার অধ্যায়ে এ বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং তাতে অনেক হাদিস উল্লেখ করেছেন। এটি ‘আম্মা’ এবং ‘ওয়াও’ যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো শুধু একটির সাথে অন্যটি ছাড়াই ব্যবহৃত হয়। এর পরে ‘ফা’ যুক্ত হওয়া ‘আম্মা’র মধ্যে শর্তের অর্থ নিহিত থাকার কারণে স্পষ্ট। আর যেখানে ‘আম্মা’ থাকে না, সেখানে ‘আম্মা’র অস্তিত্ব কল্পনা করে ‘ফা’ যুক্ত হয় এবং ‘ওয়াও’টি বাক্য শুরুর জন্য হয়; অথবা বিলুপ্ত ‘আম্মা’র স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ‘ওয়াও’ আসে, কিংবা কোনো কিছুর স্থলাভিষিক্ত হওয়া ছাড়াই আসে। প্রথম সুরত অনুযায়ী, ‘বউদু’ শব্দের আমেল বা প্রভাবক হলো বিলুপ্ত ক্রিয়া, কারণ এর অর্থ হলো—এমন ও এমন কিছুর পর আমি বলছি। দ্বিতীয় সুরত অনুযায়ী, ‘বউদু’ শব্দের প্রভাবক হলো বিলুপ্ত ‘আম্মা’, যা বিলুপ্ত শর্তসূচক ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত। কারণ এর অর্থ হলো—আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলের ওপর দরুদের পর যা কিছু ঘটুক না কেন, নিশ্চয়ই একদল লোক আমার নিকট আবেদন করেছে... শেষ পর্যন্ত। ‘বউদু’ এর প্রভাবক হলো বিলুপ্ত সেই ক্রিয়া।

‘আম্মা বউদু’ প্রথম কে উচ্চারণ করেছেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: দাউদ (আলাইহিস সালাম), আর এটিই হলো সেই ‘ফাসলুল খিতাব’ (চূড়ান্ত কথা) যা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। কেউ বলেছেন: কুস ইবনে সায়িদাহ, কেউ বলেছেন: কাব ইবনে লুআই, কেউ বলেছেন: ইয়াবুর ইবনে কাহতান, আবার কেউ বলেছেন: সাহবান ওয়াইল। ‘আবানা’ মানে স্পষ্ট করেছেন। ‘মাআলিম’ হলো ‘মালাম’ এর বহুবচন, যার মূল অর্থ হলো সেই চিহ্ন যা দ্বারা পথ চেনা যায়। লেখক এটিকে সত্য উদঘাটনের প্রমাণের রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ‘তাহকিক’ হলো কোনো বিষয়কে অন্ধ অনুসরণ ছাড়াই দলিলসহ জানা। এর ‘মাআলিম’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সব দলিল যা দ্বারা সত্যের দিশা পাওয়া যায়। ‘সালাকা’ ক্রিয়াটি সাধারণত নিজেই সকর্মক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {এভাবেই আমি তা প্রবেশ করাই} [হিজর: ১২] এবং বলেন: {তোমাদের কিসে প্রবেশ করাল?} [মুদ্দাসসির: ৪২]। লেখক এটিকে ‘বা’ অব্যয় যোগে ব্যবহার করেছেন যেন এটি ‘দাখালা’ (প্রবেশ করা) শব্দের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সবচেয়ে উপকারী পথ হলো সেই পথ যা মহান আল্লাহর পরিচয় এবং তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনের দিকে নিয়ে যায়। "বিনা" (আমাদের সাথে) শব্দের সর্বনামটি শাইখ ও যারা তাঁকে প্রশ্ন করেছেন তাদের দিকে ইঙ্গিত করছে। কিছু নুসখায় "বিনা ওয়া বিহিম" (আমাদের ও তাদের সাথে) রয়েছে, সেক্ষেত্রে সর্বনামটি কেবল লেখকের জন্য।

 

স (ইমামের মাজহাব অনুযায়ী সংক্ষিপ্তাকারে)
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٤)
مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رحمه الله مُبَيِّنًا لِمَا بِهِ الْفَتْوَى)

ش: مُخْتَصَرًا صِفَةٌ لِمَحْذُوفٍ عَلَى تَقْدِيرِ مُضَافٍ أَيْ تَأْلِيفُ كِتَابٍ مُخْتَصَرٍ وَالِاخْتِصَارُ ضَمُّ بَعْضِ الشَّيْءِ إلَى بَعْضٍ لِلْإِيجَازِ وَهُوَ إيرَادُ الْمَعَانِي الْكَثِيرَةِ بِأَلْفَاظٍ قَلِيلَةٍ قَالَ النَّوَوِيُّ فِي تَهْذِيبِ الْأَسْمَاءِ وَاللُّغَاتِ: اخْتَلَفَتْ عِبَارَاتُ الْفُقَهَاءِ فِي مَعْنَى الْمُخْتَصَرِ فَقَالَ الْإسْفَرايِينِيّ: حَقِيقَةُ الِاخْتِصَارِ ضَمُّ بَعْضِ الشَّيْءِ إلَى بَعْضٍ، قَالَ: وَمَعْنَاهُ عِنْدَ الْفُقَهَاءِ رَدُّ الْكَثِيرِ إلَى الْقَلِيلِ وَفِي الْقَلِيلِ مَعْنَى الْكَثِيرِ، قَالَ: وَقِيلَ: هُوَ إيجَازُ اللَّفْظِ مَعَ اسْتِيفَاءِ الْمَعْنَى وَلَمْ يَذْكُرْ صَاحِبُ الشَّامِلِ وَغَيْرُهُ هَذَا الثَّانِي وَذَكَرَهُمَا جَمِيعًا الْمَحَامِلِيُّ وَقَالَ صَاحِبُ الْحَاوِي: قَالَ الْخَلِيلُ: هُوَ مَا دَلَّ قَلِيلُهُ عَلَى كَثِيرِهِ يُسَمَّى اخْتِصَارًا لِاجْتِمَاعِهِ وَدِقَّتِهِ كَمَا سُمِّيَتْ الْمِخْصَرَةُ مِخْصَرَةً لِاجْتِمَاعِ السُّيُورِ وَخَصْرُ الْإِنْسَانِ لِاجْتِمَاعِهِ وَدِقَّتِهِ انْتَهَى بِلَفْظِهِ وَالْمَذْهَبُ لُغَةً الطَّرِيقُ وَمَكَانُ الذَّهَابِ ثُمَّ صَارَ عِنْدَ الْفُقَهَاءِ حَقِيقَةً عُرْفِيَّةً فِيمَا ذَهَبَ إلَيْهِ إمَامٌ مِنْ الْأَئِمَّةِ مِنْ الْأَحْكَامِ الِاجْتِهَادِيَّةِ وَيُطْلَقُ عِنْدَ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ أَئِمَّةِ الْمَذَاهِبِ عَلَى مَا بِهِ الْفَتْوَى مِنْ بَابِ إطْلَاقِ الشَّيْءِ عَلَى جُزْئِهِ الْأَهَمِّ نَحْوُ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «الْحَجُّ عَرَفَةَ» ؛ لِأَنَّ ذَلِكَ هُوَ الْأَهَمُّ عِنْدَ الْفَقِيهِ الْمُقَلِّدِ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[تَرْجَمَة الْإِمَام مالك]

وَمَالِكٌ هُوَ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الْأَصْبَحِيُّ بِفَتْحِ الْبَاءِ نِسْبَةً إلَى ذِي أَصْبَحَ بَطْنٌ مِنْ حِمْيَرَ وَهُوَ مِنْ الْعَرَبِ حِلْفُهُ فِي قُرَيْشٍ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ فَهُوَ مَوْلَى حِلْفٍ لَا مَوْلَى عَتَاقَةٍ هَذَا الَّذِي عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ خِلَافًا لِابْنِ إِسْحَاقَ وَقَدْ رَدَّ عَلَيْهِ ذَلِكَ غَيْرُ وَاحِدٍ وَهُوَ إمَامُ دَارِ الْهِجْرَةِ وَعَالِمُ الْمَدِينَةِ وَأَحَدُ أَئِمَّةِ الْمَذَاهِبِ الْمَتْبُوعَةِ وَهُوَ مِنْ تَابِعِي التَّابِعِينَ؛ لِأَنَّهُ أَدْرَكَ عَائِشَةَ بِنْتَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ ابْنُ رُشْدٍ: وَقَدْ قِيلَ فِيهَا: إنَّهَا صَحَابِيَّةٌ وَالصَّحِيحُ فِيهَا أَنَّهَا لَيْسَتْ صَحَابِيَّةً؛ لِأَنَّ الْكَلَابَاذِيَّ ذَكَرَهَا فِي التَّابِعِيَّاتِ وَلَمْ يَذْكُرْهَا ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ فِي الصَّحَابِيَّاتِ قَالَهُ فِي رَسْمِ الشَّجَرَةِ مِنْ سَمَاعِ ابْنِ الْقَاسِمِ مِنْ كِتَابِ الطَّهَارَةِ وَجَدُّهُ أَبُو عَامِرٍ مِنْ الصَّحَابَةِ حَضَرَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَغَازِيَهُ كُلَّهَا إلَّا بَدْرًا جَدُّهُ مَالِكٌ مِنْ كِبَارِ التَّابِعِينَ وَهُوَ أَحَدُ الْأَرْبَعَةِ الَّذِينَ حَمَلُوا عُثْمَانَ إلَى قَبْرِهِ وَغَسَّلُوهُ وَدَفَنُوهُ لَيْلًا وَأَبُوهُ أَنَسٌ. كَانَ فَقِيهًا وَفَضَائِلُهُ وَمَنَاقِبُهُ مَشْهُورَةٌ دُوِّنَتْ بِهَا الدَّوَاوِينُ، وَمِنْ أَعْظَمِهَا الْحَدِيثُ الَّذِي أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَخْرُجُ نَاسٌ مِنْ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَلَا يَجِدُونَ أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ» وَأَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه بِلَفْظِ «يُوشَكُ أَنْ يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الْإِبِلِ يَطْلُبُونَ الْعِلْمَ فَلَا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ» وَذُكِرَ فِي الْمَدَارِكِ بِرِوَايَاتٍ مُتَعَدِّدَةٍ فَفِي رِوَايَةٍ آبَاطَ الْإِبِلِ مَكَانَ أَكْبَادِ الْإِبِلِ وَفِي رِوَايَةٍ أَفْقَهَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ. وَفِي رِوَايَةٍ مِنْ عَالِمٍ بِالْمَدِينَةِ وَفِي رِوَايَةٍ «لَا تَنْقَضِي السَّاعَةُ حَتَّى يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الْإِبِلِ مِنْ كُلِّ نَاحِيَةٍ إلَى عَالِمِ الْمَدِينَةِ يَطْلُبُونَ عِلْمَهُ» . وَقَدْ تَأَوَّلَهُ الْأَئِمَّةُ عَلَى مَالِكٍ حَتَّى إذَا قِيلَ: هَذَا قَوْلُ عَالِمِ الْمَدِينَةِ، عُلِمَ أَنَّهُ الْمُرَادُ وَقَالَ سُفْيَانُ: كَانُوا يَرَوْنَهُ مَالِكًا، قَالَ ابْنُ فَهْدٍ: يَعْنِي سُفْيَانُ بِقَوْلِهِ: كَانُوا يَرَوْنَهُ التَّابِعِينَ قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه: إذَا جَاءَ الْأَثَرُ فَمَالِكٌ النَّجْمُ، وَقَالَ أَيْضًا: إذَا ذُكِرَ الْعُلَمَاءُ فَمَالِكٌ النَّجْمُ، وَمَا أَحَدٌ أَمَنُّ عَلَيَّ فِي دِينِ اللَّهِ مِنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَقَالَ مَالِكٌ أُسْتَاذِي وَعَنْهُ أَخَذْنَا الْعِلْمَ وَمَا أَحَدٌ أَمَنُّ عَلَيَّ مِنْ مَالِكٍ وَجَعَلْت مَالِكًا حُجَّةً بَيْنِي وَبَيْنَ اللَّهِ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ مَا بَقِيَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَحَدٌ آمَنُ عَلَى حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَيَحْيَى بْنُ مَعِينٍ مَالِكٌ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْحَدِيثِ وَقَالَ الْبُخَارِيُّ أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: قُلْت لِأَبِي: مَنْ أَثْبَتُ أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ؟ قَالَ: مَالِكٌ أَثْبَتُ فِي كُلِّ شَيْءٍ. وَقَالَ ابْنُ مَعِينٍ: كَانَ مَالِكٌ مِنْ حُجَجِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ. قَالَ فِي مُخْتَصَرِ الْمَدَارِكِ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: مَالِكٌ أَتْبَعُ مِنْ سُفْيَانَ وَسُئِلَ عَنْ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ إذَا
মালেক ইবন আনাস (রহিমাহুল্লাহ), যার মাধ্যমে ফতোয়া প্রদান করা হয় তা বর্ণনাকারী হিসেবে।

ব্যাখ্যা: 'মুখতাসার' (সংক্ষিপ্ত) শব্দটি একটি উহ্য বিশেষ্যের বিশেষণ, যা মূলত একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনাকে নির্দেশ করে। সংক্ষেপণ হলো কোনো কিছুর এক অংশকে অন্য অংশের সাথে যুক্ত করা যাতে তা সংক্ষেপ হয়, আর এটি হলো অল্প শব্দের মাধ্যমে অনেক অর্থ প্রকাশ করা। ইমাম নববী 'তহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত'-এ বলেন: সংক্ষিপ্ত (মুখতাসার) শব্দের অর্থ নিয়ে ফকিহগণের পরিভাষায় ভিন্নতা রয়েছে। ইসফরায়িনী বলেন: সংক্ষেপণের প্রকৃত অর্থ হলো এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করা। তিনি আরও বলেন: ফকিহগণের নিকট এর অর্থ হলো অধিককে অল্পের দিকে ফিরিয়ে আনা, আর সেই অল্পের ভেতরেই অধিকের মর্মার্থ বিদ্যমান থাকা। তিনি বলেন: আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি হলো অর্থের পূর্ণতা বজায় রেখে শব্দের সংক্ষেপণ করা। 'শামিল' গ্রন্থের লেখক এবং অন্যান্যরা এই দ্বিতীয় মতটি উল্লেখ করেননি, তবে মাহামিলি উভয় মতই উল্লেখ করেছেন। 'হাভি' গ্রন্থের লেখক বলেন: খলিল বলেছেন, যার অল্প অংশ অধিককে নির্দেশ করে তাকেই সংক্ষেপণ বলা হয়; কারণ এর মাঝে বিষয়ের সমাবেশ ও সূক্ষ্মতা থাকে। যেমন চামড়ার চাবুককে 'মিখসারা' বলা হয় কারণ সেখানে চামড়ার ফিতাগুলো একত্রিত থাকে, আর মানুষের কোমরকে 'খাসর' বলা হয় কারণ তা সরু ও সংকুচিত। তার বক্তব্য এখানেই শেষ। শাব্দিক অর্থে 'মাযহাব' হলো পথ বা গন্তব্য। পরবর্তীতে ফকিহগণের নিকট এটি একটি পারিভাষিক সত্যে পরিণত হয়েছে এমন সব ইজতিহাদি বিধানের ক্ষেত্রে, যা ইমামগণের মধ্য থেকে কোনো একজন ইমাম গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী যুগের মাযহাবের ইমামগণের নিকট এটি সেই বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যার ওপর ফতোয়া প্রদান করা হয়; এটি কোনো বিষয়ের নাম তার গুরুত্বপূর্ণ অংশের নামে রাখার মতো, যেমন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "হজ হলো আরাফাহ"; কারণ একজন মুকাল্লিদ ফকিহ-এর নিকট এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[ইমাম মালেকের জীবনী]

আর মালেক হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালেক ইবন আনাস ইবন মালেক ইবন আবি আমির আল-আসবাহি। 'আসবাহি' শব্দটি (ব-এর যবর সহ) হিময়ার গোত্রের একটি শাখা 'যূ আসবাহ'-এর দিকে সম্পৃক্ত। তিনি আরবের অন্তর্ভুক্ত, কুরাইশ বংশের বনু তাইমুল্লাহর সাথে তার মৈত্রী চুক্তি ছিল। তাই তিনি মৈত্রী সূত্রে মাওলা (আজাদ করা দাস নন)। জমহুর বা অধিকাংশ আলিম এই মতের ওপর রয়েছেন, যা ইবন ইসহাকের মতের বিপরীত; আর অনেকে ইবন ইসহাকের সেই মতকে খণ্ডন করেছেন। তিনি দারুল হিজরাতের ইমাম, মদীনার শ্রেষ্ঠ আলিম এবং অনুসরণীয় মাযহাবসমূহের অন্যতম একজন ইমাম। তিনি তাবে-তাবেঈনদের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তিনি সায়াদ ইবন আবি ওয়াক্কাস-এর কন্যা আয়েশাকে পেয়েছিলেন। ইবন রুশদ বলেন: বলা হয়ে থাকে যে তিনি (আয়েশা) একজন নারী সাহাবী ছিলেন, তবে সঠিক মত হলো তিনি সাহাবী নন; কারণ কালাবাদি তাকে তাবেঈনদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং ইবন আব্দুল বার তাকে সাহাবী নারীদের তালিকায় উল্লেখ করেননি। তিনি (ইবন রুশদ) এটি ইবনুল কাসিমের বর্ণনা থেকে 'কিতাবুত তাহারাত'-এর 'রসমুশ শাজারাহ' অংশে বলেছেন। তার দাদা আবু আমির একজন সাহাবী ছিলেন, যিনি বদর ব্যতীত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার দাদা মালেক ছিলেন শীর্ষস্থানীয় তাবেঈদের একজন, এবং তিনি সেই চারজনের একজন যারা উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে কবরে বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাকে গোসল ও রাতে দাফন করেছিলেন। তার পিতা আনাস একজন ফকিহ ছিলেন। তার ফজিলত ও গুণাবলি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ যা নিয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। তার শ্রেষ্ঠত্বে বর্ণিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদিস হলো যা হাকেম আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ ইলমের সন্ধানে পূর্ব ও পশ্চিমে বের হবে, কিন্তু তারা মদীনার আলিমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে পাবে না।" তিরমিজি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "শীঘ্রই মানুষ ইলম অন্বেষণের জন্য উটের কলিজায় আঘাত করবে (দ্রুত সফর করবে), তখন তারা মদীনার আলিমের চেয়ে বড় কোনো আলিমকে পাবে না।" 'মাদারিক' গ্রন্থে এটি বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে; এক বর্ণনায় 'উটের কলিজার' স্থলে 'উটের বগল' শব্দ এসেছে, আরেক বর্ণনায় 'মদীনার আলিমের চেয়ে বড় ফকিহ' শব্দ এসেছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে 'মদীনার কোনো একজন আলিমের চেয়ে'। আরেক বর্ণনায় আছে: "কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না মানুষ ইলমের সন্ধানে চারদিক থেকে উটের কলিজায় আঘাত করে মদীনার আলিমের কাছে আসবে।" আইম্মায়ে কেরাম একে মালেক (রহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর প্রয়োগ করেছেন, এমনকি যখন বলা হতো: "এটি মদীনার আলিমের উক্তি", তখন নিশ্চিতভাবেই তাকেই বুঝানো হতো। সুফিয়ান বলেন: তারা তাকে মালেক হিসেবেই মনে করতেন। ইবন ফাহদ বলেন: সুফিয়ান তার 'তারা' শব্দ দ্বারা তাবেঈনদের বুঝিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যখন কোনো আসার বা বর্ণনা আসে, তখন মালেক হলো উজ্জ্বল নক্ষত্র।" তিনি আরও বলেন: "যখন উলামাদের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন মালেক হলো নক্ষত্র। আল্লাহর দীনের ক্ষেত্রে আমার ওপর মালেক ইবন আনাসের চেয়ে বেশি ইহসান আর কারো নেই।" তিনি আরও বলেন: "মালেক আমার ওস্তাদ, তার থেকেই আমরা ইলম গ্রহণ করেছি। আমার ওপর মালেকের চেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী কেউ নেই। আমি মালেককে আমার এবং আল্লাহর মাঝে হুজ্জত বা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছি।" আব্দুর রহমান ইবন মাহদি বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের ক্ষেত্রে মালেক ইবন আনাসের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি পৃথিবীর বুকে আর কেউ অবশিষ্ট নেই।" ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ এবং ইয়াহইয়া ইবন মাঈন বলেন: "মালেক হলেন হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনিন।" ইমাম বুখারী বলেন: "সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো মালেক—নাফে—ইবন উমর থেকে।" আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল বলেন: "আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: যুহরী-এর সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কে? তিনি বললেন: মালেক সব কিছুতেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।" ইবন মাঈন বলেন: "মালেক তার সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রমাণসমূহের অন্যতম ছিলেন।" 'মুখতাসারুল মাদারিক' গ্রন্থে বলা হয়েছে, আহমদ ইবন হাম্বল বলেছেন: "মালেক সুফিয়ানের চেয়ে বেশি অনুসরণীয়।" তাকে সাওরি ও মালেক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি যখন—
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
اخْتَلَفَا أَيُّهُمَا أَفْقَهُ؟ قَالَ: مَالِكٌ أَكْبَرُ فِي قَلْبِي. قِيلَ لَهُ: فَمَالِكٌ وَالْأَوْزَاعِيُّ؟ قَالَ: مَالِكٌ أَحَبُّ إلَيَّ وَإِنْ كَانَ الْأَوْزَاعِيُّ مِنْ الْأَئِمَّةِ. قِيلَ: فَمَالِكٌ وَاللَّيْثُ؟ قَالَ: مَالِكٌ، قِيلَ: فَمَالِكٌ وَالْحَكَمُ وَحَمَّادٌ؟ قَالَ: مَالِكٌ، قِيلَ: فَمَالِكٌ وَالنَّخَعِيُّ؟ قَالَ: ضَعْهُ مَعَ أَهْلِ زَمَانِهِ مَالِكٌ سَيِّدٌ مِنْ سَادَاتِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ إمَامٌ فِي الْحَدِيثِ وَالْفِقْهِ، وَمَنْ مِثْلُ مَالِكٍ؟ . وَقِيلَ لَهُ: الرَّجُلُ يُرِيدُ يَحْفَظُ الْحَدِيثَ حَدِيثَ مَنْ تَرَى يَحْفَظُ؟ قَالَ حَدِيثَ مَالِكٍ فَإِنَّهُ حُجَّةٌ بَيْنَك وَبَيْنَ اللَّهِ، وَقَالَ: رَحِمَ اللَّهُ مَالِكًا كَانَ مِنْ الْإِسْلَامِ بِمَكَانٍ.

 

قَالَ: وَسُئِلَ ابْنُ الْمُبَارَكِ مَنْ أَعْلَمُ أَمَالِكٌ أَوْ أَبُو حَنِيفَةَ؟ قَالَ: مَالِكٌ أَعْلَمُ مِنْ أُسْتَاذِي أَبِي حَنِيفَةَ وَهُوَ إمَامٌ فِي الْحَدِيثِ وَالسُّنَّةِ وَمَا بَقِيَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ آمَنُ عَلَى حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَالِكٍ وَلَا أُقَدِّمُ عَلَيْهِ أَحَدًا فِي صِحَّةِ الْحَدِيثِ وَلَمْ أَرَ أَحَدًا مِثْلَهُ انْتَهَى وَقَالَ أَبُو عُمَرَ فِي أَوَّلِ التَّمْهِيدِ عَنْ ابْنِ مَهْدِيٍّ: سُئِلَ مَنْ أَعْلَمُ مَالِكٌ أَوْ أَبُو حَنِيفَةَ؟ قَالَ: مَالِكٌ أَعْلَمُ مِنْ أُسْتَاذِي أَبِي حَنِيفَةَ يَعْنِي حَمَّادَ بْنَ أَبِي سُلَيْمَانَ انْتَهَى وَقَالَ الْجَلَالُ السُّيُوطِيّ فِي حَاشِيَةِ الْمُوَطَّإِ: قَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ: سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ إمَامُ الْحَدِيثِ وَلَيْسَ بِإِمَامٍ فِي السُّنَّةِ وَالْأَوْزَاعِيُّ إمَامٌ فِي السُّنَّةِ وَلَيْسَ بِإِمَامٍ فِي الْحَدِيثِ وَمَالِكٌ إمَامٌ فِيهِمَا جَمِيعًا وَسُئِلَ ابْنُ الصَّلَاحِ فِي فَتَاوِيهِ عَنْ مَعْنَى هَذَا الْكَلَامِ فَقَالَ: السُّنَّةُ هُنَا ضِدُّ الْبِدْعَةِ فَقَدْ يَكُونُ الْإِنْسَانُ عَالِمًا بِالْحَدِيثِ وَلَا يَكُونُ عَالِمًا بِالسُّنَّةِ انْتَهَى وَفِي الدِّيبَاجِ الْمُذَهَّبِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَمَّنْ يُرِيدُ أَنْ يَكْتُبَ الْحَدِيثَ وَيَنْظُرَ فِي الْفِقْهِ حَدِيثَ مَنْ يَكْتُبُ وَفِي رَأْيٍ مَنْ يَنْظُرُ؟ قَالَ حَدِيثَ مَالِكٍ وَرَأْيَ مَالِكٍ. وَذَكَرَ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ قَالَ: مَا أُقَدِّمُ عَلَى مَالِكٍ فِي زَمَانِهِ أَحَدًا، وَذَكَرَ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ أَيْضًا عَنْ خَلَفِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُ: مَا أَجَبْت فِي الْفُتْيَا حَتَّى سَأَلْت مَنْ هُوَ أَعْلَمُ مِنِّي هَلْ يَرَانِي مَوْضِعًا لِذَلِكَ؛ سَأَلْت رَبِيعَةَ وَسَأَلْت يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ فَأَمَرَانِي بِذَلِكَ، فَقُلْت لَهُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ فَلَوْ نَهَوْك قَالَ: كُنْت أَنْتَهِي لَا يَنْبَغِي لِرَجُلٍ أَنْ يَرَى نَفْسَهُ أَهْلًا لِشَيْءٍ حَتَّى يَسْأَلَ مَنْ هُوَ أَعْلَمُ مِنْهُ انْتَهَى. وَقَالَ فِي الْمَدْخَلِ: قَالَ الْقَرَافِيُّ: مَا أَفْتَى مَالِكٌ رحمه الله حَتَّى أَجَازَهُ أَرْبَعُونَ مُحَنَّكًا ذَكَرَهُ دَلِيلًا عَلَى أَنَّ الْمَزِيَّةَ يَخْرُجُ بِهَا مِنْ الْمَكْرُوهِ؛ لِأَنَّ وَصْفَهُمْ بِالتَّحْنِيكِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُمْ امْتَازُوا بِهِ دُونَ غَيْرِهِمْ وَإِلَّا فَمَا كَانَ لِوَصْفِهِمْ بِالتَّحْنِيكِ فَائِدَةٌ إذْ الْكُلُّ مُجْتَمِعُونَ فِيهِ انْتَهَى وَقَالَ فِي الْمُدَوَّنَةِ: وَلَا يَنْبَغِي لِطَالِبِ الْعِلْمِ أَنْ يُفْتِيَ حَتَّى يَرَاهُ النَّاسُ أَهْلًا لِلْفُتْيَا قَالَ سَحْنُونُ: النَّاسُ هَاهُنَا الْعُلَمَاءُ. قَالَ ابْنُ هَارُونَ: وَيُرْوَى هُوَ نَفْسُهُ أَهْلًا لِذَلِكَ، وَقَالَ الْقَاضِي عِيَاضٌ: قَالَ الشَّافِعِيُّ: قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ: رضي الله عنهما أَيُّهُمَا أَعْلَمُ صَاحِبُنَا أَمْ صَاحِبُكُمْ يَعْنِي أَبَا حَنِيفَةَ أَوْ مَالِكًا؟ فَقَالَ: قُلْت: أَعَلَى الْإِنْصَافِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: قُلْت: فَأُنْشِدُك اللَّهَ مَنْ أَعْلَمُ بِالْقُرْآنِ أَصَاحِبُنَا أَمْ صَاحِبُكُمْ؟ قَالَ: اللَّهُمَّ صَاحِبُكُمْ. قُلْت: فَأُنْشِدُك اللَّهَ مَنْ أَعْلَمُ بِالسُّنَّةِ صَاحِبُنَا أَمْ صَاحِبُكُمْ؟ قَالَ اللَّهُمَّ صَاحِبُكُمْ. قَالَ: قُلْت: فَأُنْشِدُك اللَّهَ مَنْ أَعْلَمُ بِأَقَاوِيلِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُتَقَدِّمِينَ أَصَاحِبُنَا أَمْ صَاحِبُكُمْ؟ قَالَ اللَّهُمَّ صَاحِبُكُمْ قَالَ الشَّافِعِيُّ قُلْت: فَلَمْ يَبْقَ إلَّا الْقِيَاسُ وَالْقِيَاسُ لَا يَكُونُ إلَّا عَلَى هَذِهِ الْأَشْيَاءِ فَعَلَى أَيِّ شَيْءٍ تَقِيسُ؟ انْتَهَى وَعَنْ الْمُثَنَّى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ: سَمِعْتُهُ يَقُولُ: مَا بِتُّ لَيْلَةً إلَّا رَأَيْت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. ذَكَرَهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ وَقَالَ فِي مُخْتَصَرِ الْمَدَارِكِ: قَالَ الشَّافِعِيُّ: قَالَتْ لِي عَمَّتِي: وَنَحْنُ بِمَكَّةَ رَأَيْت فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ عَجَبًا، قُلْت: وَمَا هُوَ؟ قَالَتْ: كَأَنَّ قَائِلًا يَقُولُ: مَاتَ اللَّيْلَةَ أَعْلَمُ أَهْلِ الْأَرْضِ فَحَسَبْنَا تِلْكَ اللَّيْلَةَ فَإِذَا هِيَ لَيْلَةُ مَاتَ مَالِكٌ وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ حَمْزَةَ الْجَعْفَرِيُّ: كُنْت أَشْتُمُ مَالِكًا فَنِمْت فَرَأَيْت كَأَنَّ الْجَنَّةَ فُتِحَتْ قُلْت: مَا هَذَا؟ قَالُوا: الْجَنَّةُ. قُلْت: فَمَا هَذِهِ الْغُرَفُ؟ قَالُوا: لِمَالِكٍ لَمَّا ضَبَطَ عَلَى النَّاسِ دِينَهُمْ فَلَمْ أَنْتَقِصْهُ بَعْدُ وَكُنْت أَكْتُبُ عَنْهُ وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رُمْحٍ قَالَ: رَأَيْت النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرَى النَّائِمُ فَقُلْت: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ اخْتَلَفَ عَلَيْنَا
তারা দুজনেই মতভেদ করলেন যে তাঁদের মধ্যে কে অধিক ফকিহ বা বিজ্ঞ? তিনি বললেন: মালেক আমার হৃদয়ে অনেক বড়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: তবে মালেক এবং আওযাঈ? তিনি বললেন: মালেক আমার নিকট অধিক প্রিয়, যদিও আওযাঈ ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। জিজ্ঞেস করা হলো: তবে মালেক এবং লাইস? তিনি বললেন: মালেক। জিজ্ঞেস করা হলো: তবে মালেক এবং হাকাম ও হাম্মাদ? তিনি বললেন: মালেক। জিজ্ঞেস করা হলো: তবে মালেক এবং নাখায়ী? তিনি বললেন: তাঁকে তাঁর সমসাময়িকদের সাথে তুলনা করো; মালেক হলেন ইলম অন্বেষণকারীদের একজন সরদার এবং তিনি হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম। আর মালেকের তুল্য কে আছে? তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: কোনো ব্যক্তি যদি হাদিস মুখস্থ করতে চায়, তবে আপনার মতে সে কার হাদিস মুখস্থ করবে? তিনি বললেন: মালেকের হাদিস, কারণ তা আপনার ও আল্লাহর মাঝে দলিলস্বরূপ। তিনি আরও বললেন: আল্লাহ মালেকের ওপর রহম করুন, ইসলামের ইতিহাসে তাঁর এক অনন্য সুউচ্চ মর্যাদা ছিল।

 

তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞেস করা হলো যে, মালেক নাকি আবু হানিফা—কে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন: মালেক আমার উস্তাদ আবু হানিফার চেয়েও অধিক জ্ঞানী। তিনি হাদিস ও সুন্নাহর ইমাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের রক্ষণাবেক্ষণে মালেকের চেয়ে অধিক বিশ্বস্ত ব্যক্তি জমিনের বুকে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। হাদিসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আমি তাঁর ওপর কাউকে অগ্রাধিকার দেই না এবং তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। (সমাপ্ত) আবু ওমর 'আত-তামহিদ' গ্রন্থের শুরুতে ইবনে মাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন: তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কে অধিক জ্ঞানী, মালেক নাকি আবু হানিফা? তিনি বললেন: মালেক আমার উস্তাদ আবু হানিফার চেয়েও অধিক জ্ঞানী—অর্থাৎ হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান। (সমাপ্ত) জালালুদ্দীন সুয়ূতী 'মুয়াত্তা'-এর হাশিয়ায় বলেছেন: ইবনে মাহদী বলেছেন: সুফিয়ান সাওরী হাদিসের ইমাম কিন্তু সুন্নাহর ইমাম নন, আর আওযাঈ সুন্নাহর ইমাম কিন্তু হাদিসের ইমাম নন, আর মালেক এই উভয় বিষয়েই ইমাম। ইবনুস সালাহকে তাঁর ফতোয়া গ্রন্থে এই বক্তব্যের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন: এখানে সুন্নাহ বলতে বিদআতের বিপরীত বুঝানো হয়েছে। কেননা কোনো ব্যক্তি হাদিস সম্পর্কে বিজ্ঞ হতে পারেন কিন্তু সুন্নাহ সম্পর্কে বিজ্ঞ নাও হতে পারেন। (সমাপ্ত) 'আদ-দীবাজুল মুযাহহাব' গ্রন্থে আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে হাদিস লিখতে চায় এবং ফিকহ নিয়ে গবেষণা করতে চায়—সে কার হাদিস লিখবে এবং কার মতামতের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে? তিনি বললেন: মালেকের হাদিস এবং মালেকের মতামত। আবু নুআয়ম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি মালেকের যুগে তাঁর ওপর কাউকে অগ্রাধিকার দেই না। আবু নুআয়ম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে খালাফ ইবনে উমর থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালেক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: আমি ততক্ষণ ফতোয়া প্রদান করিনি যতক্ষণ না আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট জিজ্ঞেস করেছি যে, তাঁরা আমাকে এর যোগ্য মনে করেন কি না; আমি রাবীআ এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে জিজ্ঞেস করেছি এবং তাঁরা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তাঁকে বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! তাঁরা যদি আপনাকে নিষেধ করতেন? তিনি বললেন: তবে আমি বিরত থাকতাম। কোনো ব্যক্তির জন্য নিজেকে কোনো বিষয়ের যোগ্য মনে করা উচিত নয় যতক্ষণ না সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে জিজ্ঞেস করে। (সমাপ্ত) 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আল-কারাফী বলেছেন, মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি ততক্ষণ পর্যন্ত ফতোয়া দেননি যতক্ষণ না চল্লিশজন বিজ্ঞ আলেম তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন। তিনি এটি এই দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে মাকরুহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কেননা তাঁদের 'মুহান্নাক' (পরিণত বয়সের অভিজ্ঞ) হিসেবে বর্ণনা করা প্রমাণ করে যে তাঁরা অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন, নতুবা এই বিশেষণের কোনো উপকারিতা থাকত না যদি সবাই তাতে সমান হতো। (সমাপ্ত) 'আল-মুদাওওয়ানাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কোনো ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উচিত নয় ফতোয়া প্রদান করা যতক্ষণ না মানুষ তাঁকে ফতোয়ার যোগ্য মনে করে। সাহনুন বলেন: এখানে 'মানুষ' বলতে আলেমগণ উদ্দেশ্য। ইবনে হারুন বলেন: বর্ণনা করা হয়েছে—যতক্ষণ না সে নিজেও নিজেকে এর যোগ্য মনে করে। কাজী ইয়াজ বলেন: ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রহ. আমাকে বললেন: আমাদের সাথী নাকি আপনাদের সাথী—অর্থাৎ আবু হানিফা নাকি মালেক—কে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন: আমি বললাম: আপনি কি ন্যায়নিষ্ঠার সাথে জানতে চান? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (শাফেয়ী) বললেন: আমি বললাম: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, কুরআনের ইলম সম্পর্কে আমাদের সাথী বেশি জানেন নাকি আপনাদের সাথী? তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনাদের সাথী। আমি বললাম: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, সুন্নাহর ইলম সম্পর্কে আমাদের সাথী বেশি জানেন নাকি আপনাদের সাথী? তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনাদের সাথী। আমি বললাম: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ববর্তী সাহাবীদের বাণী সম্পর্কে কে বেশি অবগত—আমাদের সাথী নাকি আপনাদের সাথী? তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনাদের সাথী। ইমাম শাফেয়ী বললেন: আমি বললাম: তবে তো কেবল কিয়াস (যুক্তি) বাকি থাকে, আর কিয়াস তো এসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে; সুতরাং আপনি কিসের ওপর কিয়াস করবেন? (সমাপ্ত) মুসান্না ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি তাঁকে (মালেককে) বলতে শুনেছি, আমি এমন কোনো রাত অতিবাহিত করিনি যে রাতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিনি। আবু নুআয়ম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। 'মুখতাসারুল মাদারিক' গ্রন্থে বলা হয়েছে: শাফেয়ী রহ. বলেছেন: আমরা যখন মক্কায় ছিলাম তখন আমার ফুফু আমাকে বললেন, আজ রাতে আমি এক অদ্ভুত জিনিস দেখেছি। আমি বললাম: তা কী? তিনি বললেন: মনে হচ্ছিল যেন কেউ বলছে: আজ রাতে জমিনের সবচেয়ে বড় জ্ঞানী ব্যক্তি ইন্তেকাল করেছেন। পরে আমরা সেই রাতটি গণনা করে দেখলাম যে সেটি ছিল ইমাম মালেকের ইন্তেকালের রাত। হাসান ইবনে হামযা আল-জাফরী বলেন: আমি মালেককে গালি দিতাম। একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। আমি বললাম: এটি কী? তারা বলল: জান্নাত। আমি বললাম: এই কক্ষগুলো কাদের? তারা বলল: মালেকের জন্য, কারণ তিনি মানুষের দ্বীনকে সুসংরক্ষিত করেছেন। এরপর থেকে আমি আর কখনও তাঁর সমালোচনা করিনি এবং তাঁর থেকে হাদিস লিখতাম। মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মাঝে মতভেদ তৈরি হয়েছে...
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
مَالِكٌ وَاللَّيْثُ فَأَيُّهُمَا أَعْلَمُ؟ فَقَالَ: مَالِكٌ وَرِثَ وَجْدِي، قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: مَعْنَاهُ وَارِثُ عِلْمِي، انْتَهَى. وَقَالَ ابْنُ رُشْدٍ فِي الْمُقَدِّمَاتِ فِي كِتَابِ السَّرِقَةِ: لَمَّا تَكَلَّمَ عَلَى مَسْأَلَةِ اشْتِرَاكِ الْجَمَاعَةِ فِي سَرِقَةِ النِّصَابِ فَرَحِمَ اللَّهُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ فَإِنَّهُ كَانَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الرَّأْيِ وَالْآثَارِ وَأَعْرَفَ النَّاسِ بِالْقِيَاسِ وَذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيه مَنْ يَشَاءُ، انْتَهَى. وَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ سَعْدُونٍ سَأَلْت النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَامِ عَنْ مَسْأَلَةٍ اخْتَلَفَ فِيهَا مَالِكٌ وَاللَّيْثُ فَقَالَ: رَأْيُ مَالِكٍ هُوَ الصَّوَابُ وَحُكِيَ فِي الدِّيبَاجِ عَنْ الْمَدَارِكِ عَنْ الْإِمَامِ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ: جَالَسْت ابْنَ هُرْمُزَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً وَيُرْوَى سِتَّ عَشْرَةَ سَنَةً فِي عِلْمٍ لَمْ أَبُثَّهُ لِأَحَدٍ مِنْ النَّاسِ وَمَذْهَبُهُ رضي الله عنه مَبْنِيٌّ عَلَى سَدِّ الذَّرَائِعِ وَاتِّقَاءِ الشُّبُهَاتِ فَهُوَ أَبْعَدُ الْمَذَاهِبِ عَنْ الشُّبَهِ وَنَقَلَ ابْنُ سَهْلٍ عَنْ بَعْضِهِمْ أَنَّهُ قَالَ: كُلُّ مَنْ زَاغَ عَنْ مَذْهَبِ مَالِكٍ فَإِنَّهُ مِمَّنْ رِينَ عَلَى قَلْبِهِ وَزُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَقَدْ رَأَيْت فِي أَقَاوِيلِ الْفُقَهَاءِ وَرَأَيْت مَا صُنِّفَ مِنْ أَخْبَارِهِمْ إلَى يَوْمِنَا هَذَا فَلَمْ أَرَ مَذْهَبًا أَنْقَى وَلَا أَبْعَدَ مِنْ الزَّيْغِ مِنْ مَذْهَبِ مَالِكٍ وَجَلَّ مَنْ يَعْتَقِدُ مَذْهَبًا مِنْ الْمَذَاهِبِ فِيهِمْ الْخَارِجِيُّ وَالرَّافِضِي إلَّا مَذْهَبَ مَالِكٍ فَمَا سَمِعْت أَنَّ أَحَدًا مِمَّنْ يُقَلِّدُهُ قَالَ بِشَيْءٍ مِنْ هَذِهِ الْبِدَعِ فَالِاسْتِمْسَاكُ بِهِ نَجَاةٌ إنْ شَاءَ اللَّهُ. (قُلْت) وَفِي أَوَّلِ هَذَا الْكَلَامِ بَشَاعَةٌ ظَاهِرَةٌ وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَعْتَقِدَ مَا قَالَهُ فَإِنَّ الْأَئِمَّةَ الْمُجْتَهِدِينَ رضي الله عنهم عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَكُلُّ مَنْ قَلَّدَ وَاحِدًا مِنْهُمْ فَهُوَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِ وَلَعَلَّ هَذَا الْقَائِلَ إنَّمَا تَكَلَّمَ عَلَى بِلَادِ الْمَغْرِبِ فَإِنَّهُ لَيْسَ عِنْدَهُمْ إلَّا مَذْهَبُ مَالِكٍ وَكُلُّ مَنْ خَرَجَ عَنْهُ عِنْدَهُمْ فَلَا يَكُونُ إلَّا مِنْ الْخَوَارِجِ (وَإِنَّمَا نَقَلْتُهُ) لِأُنَبِّهَ عَلَى مَا فِيهِ وَاَللَّهُ سبحانه وتعالى يَعْصِمُنَا مِنْ الزَّلَلِ وَيُوَفِّقُنَا فِي الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ بِمَنِّهِ وَكَرَمِهِ وَأَمَّا مَا ذَكَرَهُ آخِرًا أَعْنِي قَوْلَهُ: فَمَا سَمِعْت أَنَّ أَحَدًا مِمَّنْ يُقَلِّدُهُ قَالَ بِشَيْءٍ مِنْ هَذِهِ الْبِدَعِ، فَهُوَ كَلَامٌ صَحِيحٌ قَالَ السُّبْكِيُّ فِي مُفِيدِ النِّعَمِ وَمُبِيدِ النِّقَمِ: وَهَؤُلَاءِ الْحَنَفِيَّةُ وَالشَّافِعِيَّةُ وَالْمَالِكِيَّةُ وَفُضَلَاءُ الْحَنَابِلَةِ يَدٌ وَاحِدَةٌ كُلُّهُمْ عَلَى رَأْيِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ يَدِينُونَ بِطَرِيقَةِ شَيْخِ السُّنَّةِ أَبِي الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيِّ لَا يَحِيدُ عَنْهَا إلَّا رَعَاعٌ مِنْ الْحَنَفِيَّةِ وَالشَّافِعِيَّةِ لَحِقُوا بِأَهْلِ الِاعْتِزَالِ وَرَعَاعٌ مِنْ الْحَنَابِلَةِ لَحِقُوا بِأَهْلِ التَّجْسِيمِ، وَبَرَّأَ اللَّهُ الْمَالِكِيَّةَ فَلَمْ يُرَ مَالِكِيٌّ إلَّا أَشْعَرِيَّ الْعَقِيدَةِ ثُمَّ قَالَ فِي آخِرِ كَلَامِهِ: يُخَاطِبُ أَهْلَ الْمَذَاهِبِ الْأَرْبَعَةِ. وَأَمَّا تَعَصُّبُكُمْ فِي فُرُوعِ الدِّينِ وَحَمْلُكُمْ النَّاسَ عَلَى مَذْهَبٍ وَاحِدٍ فَهُوَ الَّذِي لَا يَقْبَلُهُ اللَّهُ مِنْكُمْ وَلَا يَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ إلَّا مَحْضُ التَّعَصُّبِ وَالتَّحَاسُدِ وَلَوْ أَنَّ الشَّافِعِيَّ وَأَبَا حَنِيفَةَ وَمَالِكًا وَأَحْمَدَ أَحْيَاءٌ يُرْزَقُونَ لَشَدَّدُوا النَّكِيرَ عَلَيْكُمْ وَتَبَرَّءُوا مِنْكُمْ فِيمَا تَفْعَلُونَ انْتَهَى وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: إذَا رَأَيْت الرَّجُلَ يُنَقِّصُ مَالِكًا فَاعْلَمْ أَنَّهُ مُبْتَدِعٌ قَالَ أَبُو دَاوُد وَأَخْشَى عَلَيْهِ مِنْ الْبِدْعَةِ وَقَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ: إذَا رَأَيْت الْحِجَازِيَّ يُحِبُّ مَالِكًا فَاعْلَمْ أَنَّهُ صَاحِبُ سُنَّةٍ وَإِذَا رَأَيْت أَحَدًا يَتَنَاوَلُهُ فَاعْلَمْ أَنَّهُ عَلَى خِلَافِ ذَلِكَ قَالَ فِي الدِّيبَاجِ: وَكَانَ رَبِيعَةُ إذَا جَاءَ مَالِكٌ يَقُولُ: جَاءَ الْعَاقِلُ وَاتَّفَقُوا عَلَى أَنَّهُ كَانَ أَعْقَلَ أَهْلِ زَمَانِهِ وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: قَالَ مَالِكٌ: مَا جَالَسْت سَفِيهًا قَطُّ. وَهَذَا أَمْرٌ لَمْ يَسْلَمْ مِنْهُ غَيْرُهُ وَلَا فِي فَضَائِلِ الْعُلَمَاءِ أَجَلُّ مِنْ هَذَا وَذَكَرَ يَوْمًا شَيْئًا فَقِيلَ لَهُ: مَنْ حَدَّثَك بِهَذَا؟ فَقَالَ: إنَّا لَمْ نُجَالِسْ السُّفَهَاءَ وَقَدْ عَدَّ الْقَاضِي عِيَاضٌ فِي الْمَدَارِكِ بِالتَّرْجِيحِ مَذْهَبَ مَالِكٍ وَبَيَّنَ الْحُجَّةَ فِي وُجُوبِ تَقْلِيدِهِ وَرَجَّحَ ذَلِكَ مِنْ طَرِيقِ النَّقْلِ وَالِاعْتِبَارِ فَلْيُنْظَرْ ذَلِكَ فِيهِ وَذَكَرَ الْقَاضِي عَبْدُ الْوَهَّابِ فِي آخِرِ الْمَعُونَةِ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ. وَقَالَ ابْنُ نَاجِي فِي شَرْحِ الرِّسَالَةِ: اخْتَارَ الشَّيْخُ مَذْهَبَ مَالِكٍ؛ لِأَنَّهُ إمَامُ دَارِ الْهِجْرَةِ وَهُوَ الْمَعْنِيُّ بِالْحَدِيثِ وَذَكَرَهُ ثُمَّ قَالَ وَلِأَنَّهُ جَمَعَ بَيْنَ شَرَفَيْ الْحَدِيثِ وَالْفِقْهِ وَغَيْرُهُ مِنْ أَئِمَّةِ الدِّينِ إمَّا فَقِيهٌ صِرْفٌ كَالشَّافِعِيِّ وَأَبِي حَنِيفَةَ لَيْسَ لَهُمَا ذِكْرٌ عِنْدَ الصَّحِيحَيْنِ. وَإِمَّا مُحَدِّثٌ صِرْفٌ كَأَحْمَدَ وَدَاوُد انْتَهَى. وَهُوَ مَأْخُوذٌ مِنْ كَلَامِ الْقَاضِي عِيَاضٍ فِي الْمَدَارِكِ. وَقَالَ الشَّيْخُ زَرُّوق فِي شَرْحِ الرِّسَالَةِ: يَكْفِي فِي

মালিক এবং লায়স, তাঁদের মধ্যে কে বেশি জ্ঞানী? তিনি বললেন: মালিক আমার জ্ঞান লাভ করেছেন। আবু নুয়াইম বলেন: এর অর্থ হলো আমার ইলমের ওয়ারিশ (উত্তরাধিকারী)। সমাপ্ত। ইবনে রুশদ ‘আল-মুকাদ্দিমাত’-এর ‘কিতাবুস সারিকা’ (চুরি অধ্যায়)-এ বলেন: যখন তিনি নিসাব পরিমাণ চুরিতে একদল লোকের অংশীদার হওয়ার মাসআলা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন বলেন— আল্লাহ তাআলা মালিক বিন আনাসের প্রতি রহম করুন, কেননা তিনি রায় (গবেষণা) এবং আসার (বর্ণনা)-এর ক্ষেত্রে আমিরুল মুমিনীন ছিলেন এবং কিয়াস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন; আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। সমাপ্ত।

আবু বকর বিন সাদুন বলেন, আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে মালিক এবং লায়স মতভেদ করেছিলেন। তিনি বললেন: মালিকের রায়ই সঠিক। ‘আদ-দিবাজ’ গ্রন্থে ‘আল-মাদারিক’ থেকে ইমাম মালিক সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি তেরো বছর—মতান্তরে ষোলো বছর—ইবনে হুরমুজের সাথে বসেছি এমন ইলমের জন্য যা আমি মানুষের কারোর কাছে প্রকাশ করিনি। তাঁর (ইমাম মালিকের) মাযহাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ‘সাদ্দুদ যারাই’ (অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা) এবং সন্দেহযুক্ত বিষয় পরিহার করার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; তাই তাঁর মাযহাব সন্দেহ থেকে সবচেয়ে দূরে।

ইবনে সাহল জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি মালিকের মাযহাব থেকে বিচ্যুত হয়েছে, সে মূলত এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের অন্তরে মরিচা পড়ে গেছে এবং তার মন্দ কাজগুলো তার কাছে সুশোভিত করা হয়েছে। আমি ফকীহগণের বক্তব্য এবং আজ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্কে যা কিছু রচিত হয়েছে তা দেখেছি, কিন্তু মালিকের মাযহাবের চেয়ে অধিক পরিচ্ছন্ন এবং বিচ্যুতি থেকে অধিক দূরবর্তী কোনো মাযহাব আমি দেখিনি। যারা বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারী তাদের অধিকাংশের মধ্যেই খারেজি ও রাফেজি পাওয়া যায়, কিন্তু মালিকের মাযহাব ব্যতীত; কেননা আমি শুনিনি যে তাঁর তাকলীদ করে এমন কেউ এই সকল বিদআতের কথা বলেছে। সুতরাং এর ওপর অবিচল থাকা ইনশাআল্লাহ মুক্তি লাভের উপায়।

(আমি বলি) এই বক্তব্যের প্রথমাংশে স্পষ্ট বাড়াবাড়ি রয়েছে। কোনো মুসলিমের জন্য এটি বিশ্বাস করা বৈধ নয়। কারণ মুজতাহিদ ইমামগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছেন এবং যে কেউ তাঁদের যে কোনো একজনের তাকলীদ করবে সে-ও তার রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর থাকবে। সম্ভবত এই বক্তা মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে কথাটি বলেছেন, কারণ সেখানে ইমাম মালিকের মাযহাব ছাড়া অন্য কিছু নেই, তাই সেখানে যারা এই মাযহাবের বাইরে যায় তারা খারেজি ছাড়া আর কিছু হয় না। (আমি এটি উদ্ধৃত করেছি) কেবল এতে যা আছে সে বিষয়ে সতর্ক করার জন্য। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের ভুল থেকে রক্ষা করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের কথা ও কাজে তাওফীক দান করুন।

আর তিনি শেষে যা উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ তাঁর এই কথা: "আমি শুনিনি যে তাঁর তাকলীদ করে এমন কেউ এই সকল বিদআতের কথা বলেছে", এটি সঠিক কথা। সুবকী ‘মুফিদুন নিয়াম ওয়া মুবিদুন নিকাম’ গ্রন্থে বলেন: এই হানাফী, শাফেয়ী, মালিকী এবং হাম্বলীগণের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ সবাই এক ও অভিন্ন। তারা সবাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতাদর্শের ওপর রয়েছেন। তারা সুন্নাহর শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরীর পথ অনুসরণ করেন। কেবল হানাফী ও শাফেয়ীদের কিছু মূর্খ ব্যক্তি ব্যতীত যারা মুতাজিলাদের সাথে মিশে গেছে এবং হাম্বলীদের কিছু মূর্খ ব্যক্তি ব্যতীত যারা তাজসিমপন্থীদের (আল্লাহকে দেহের সাথে তুলনা করা) সাথে মিশে গেছে, অন্য কেউ এই পথ থেকে বিচ্যুত হয় না। আল্লাহ তাআলা মালিকীগণকে পবিত্র রেখেছেন, তাই কোনো মালিকীকে আশআরী আকিদা পোষণকারী ছাড়া দেখা যায় না।

এরপর তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে চার মাযহাবের অনুসারীদের সম্বোধন করে বলেন: দ্বীনের শাখা-প্রশাখায় তোমাদের গোঁড়ামি এবং মানুষকে কেবল একটি মাযহাবের ওপর বাধ্য করা এমন বিষয় যা আল্লাহ তোমাদের থেকে কবুল করবেন না। নিছক গোঁড়ামি এবং পারস্পরিক হিংসাই তোমাদের এই পথে পরিচালিত করে। যদি শাফেয়ী, আবু হানীফা, মালিক এবং আহমাদ জীবিত থাকতেন, তবে তাঁরা তোমাদের এই কাজের তীব্র প্রতিবাদ করতেন এবং তোমরা যা করছ তা থেকে তাঁরা দায়মুক্ত ঘোষণা করতেন। সমাপ্ত।

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে দেখবে যে সে মালিকের সমালোচনা করছে, তখন জেনে রেখো সে একজন বিদআতী। আবু দাউদ বলেন: আমি তার ব্যাপারে বিদআতের আশঙ্কা করি। ইবনে মাহদী বলেন: যখন তুমি কোনো হিজাযী ব্যক্তিকে দেখবে যে সে মালিককে ভালোবাসে, তবে জানবে সে সুন্নাহর অনুসারী; আর যদি দেখ তাকে হেয় করছে, তবে জানবে সে এর বিপরীত। ‘আদ-দিবাজ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: রবীআহ যখন মালিক আসতেন তখন বলতেন— জ্ঞানী ব্যক্তি এসেছেন। সকলে এই বিষয়ে একমত যে তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন।

আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: মালিক বলেছেন— আমি কখনোই কোনো নির্বোধের সাথে বসিনি। এটি এমন এক বিষয় যা অন্য কেউ দাবি করতে পারেননি। আলেমদের মর্যাদার বর্ণনায় এর চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না। একদিন তিনি একটি বিষয় উল্লেখ করলেন, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনাকে এই সংবাদ কে দিয়েছে? তিনি বললেন: আমরা নির্বোধদের সাথে বসি না।

কাজী ইয়াজ ‘আল-মাদারিক’ গ্রন্থে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে মালিকের মাযহাব গণনা করেছেন এবং তাঁর তাকলীদ করা ওয়াজিব হওয়ার দলিল বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণনা ও যুক্তির নিরিখে এটি প্রমাণ করেছেন, যা সেখানে দেখা যেতে পারে। কাজী আব্দুল ওয়াহাব ‘আল-মাউনা’-এর শেষে এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন।

ইবনে নাজী ‘শারহুর রিসালা’ গ্রন্থে বলেন: শায়খ মালিকের মাযহাব গ্রহণ করেছেন কারণ তিনি দারুল হিজরাতের (মদীনা) ইমাম এবং হাদীসে তাঁর কথাই বুঝানো হয়েছে (তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন)। এরপর তিনি বলেন: কারণ তিনি হাদীস ও ফিকহ—উভয় বিষয়ের মর্যাদা লাভ করেছেন। পক্ষান্তরে দ্বীনের অন্যান্য ইমামগণ হয় কেবল ফকীহ—যেমন শাফেয়ী ও আবু হানীফা, যাদের কথা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ উল্লেখ নেই; অথবা কেবল মুহাদ্দিস—যেমন আহমাদ ও দাউদ। সমাপ্ত। এটি কাজী ইয়াজের ‘আল-মাদারিক’-এর বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে। শায়খ যাররূক ‘শারহুর রিসালা’ গ্রন্থে বলেন: এ ক্ষেত্রে এতটুকুই যথেষ্ট...

(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٧)
أَرْجَحِيَّتِهِ كَوْنُهُ إمَامَ دَارِ الْهِجْرَةِ فِي خَيْرِ الْقُرُونِ وَمَتْبُوعَ أَهْلِ الْمَغْرِبِ الَّذِينَ لَا يَزَالُونَ ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ إلَى قِيَامِ السَّاعَةِ كَمَا صَحَّ فِي الْحَدِيثِ وَإِنْ اخْتَلَفَتْ رِوَايَتُهُ وَعَصَمَ اللَّهُ مَذْهَبَهُ مِنْ أَنْ يَكُونَ فِيهِ ذُو هَوًى مَوْسُومًا بِالْإِمَامَةِ وَجَعَلَهُ مُقَدَّمًا عِنْدَ الْكَافَّةِ حَتَّى أَنَّ كُلَّ ذِي مَذْهَبٍ يَخْتَارُهُ بَعْدَ مَذْهَبِهِ وَجَعَلَ رُؤَسَاءَ مَذْهَبِهِ حُجَّةً بَعْدَهُ فِي الْحَدِيثِ كَالْفِقْهِ قَدْ خَرَّجَ لَهُمْ الْبُخَارِيُّ وَمَا مَلَأَ كِتَابَهُ إلَّا بِهِمْ فَهُمْ الْحُجَّةُ وَالْأَئِمَّةُ الْأَثْبَاتُ الَّذِينَ بَرَزُوا وَلَمْ يَثْبُتْ ذَلِكَ لِغَيْرِهِمْ وَإِنْ كَانَ صَالِحًا أَمِينًا وَمَنْ طَالَعَ مَنَاقِبَ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ عَرَفَ عُلُوَّ مَرْتَبَتِهِمْ وَوُجُوبَ تَقْدِيمِهِمْ عَلَى غَيْرِهِمْ وَلُزُومَ الِاقْتِدَاءِ بِهِمْ وَتَرَجَّحَ عِنْدَهُ أَحَدُهُمْ عَلَى مَا يَتَعَرَّفُ مِنْ مَرَاتِبِهِمْ وَيَرَى مَعَ ذَلِكَ أَنَّ مَالِكًا أَعْلَاهُمْ وَأَسْنَاهُمْ أَلَا تَرَى أَنَّ الشَّافِعِيَّ تِلْمِيذُهُ وَأَحْمَدُ تِلْمِيذُ الشَّافِعِيِّ وَيَرْحَمُ اللَّهُ ابْنَ الْأَثِيرِ حَيْثُ يَقُولُ: كَفَى مَالِكًا شَرَفًا أَنَّ الشَّافِعِيَّ تِلْمِيذُهُ وَأَحْمَدُ تِلْمِيذُ الشَّافِعِيِّ وَكَفَى الشَّافِعِيُّ شَرَفًا أَنَّ مَالِكًا شَيْخُهُ وَأَمَّا أَبُو حَنِيفَةَ فَذَكَرَ غَيْرُ وَاحِدٍ أَنَّهُ لَقِيَ مَالِكًا وَأَخَذَ عَنْهُ شَيْئًا مِنْ الْحَدِيثِ فَهُوَ إذًا شَيْخُ الْكُلِّ وَإِمَامُ الْأَئِمَّةِ وَكُلُّهُمْ عَلَى هُدًى وَتُقَى وَعِلْمٍ وَوَرَعٍ وَزُهْدٍ انْتَهَى وَقَدْ ذَكَرَ الشَّيْخُ جَلَالُ الدِّينِ السُّيُوطِيّ فِي كِتَابِهِ الَّذِي سَمَّاهُ تَزْيِينَ الْمَمَالِكِ بِتَرْجَمَةِ الْإِمَامِ مَالِكٍ بَلَغَنِي فِي هَذِهِ الْأَيَّامِ أَنَّ ثَمَّ مَنْ أَنْكَرَ رِوَايَةَ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ عَنْ الْإِمَامِ مَالِكٍ وَعَلَّلَ ذَلِكَ بِكِبَرِ سِنِّهِ وَهَذَا لَا يُقَالُ فَقَدْ رَوَى عَنْ الْأَئِمَّةِ مَنْ هُوَ أَكْبَرُ مِنْهُمْ سِنًّا وَقَدْ رَوَى عَنْ الْإِمَامِ مَالِكٍ مَنْ هُوَ أَكْبَرُ سِنًّا مِنْ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَقْدَمُ وَفَاةً كَالزُّهْرِيِّ وَرَبِيعَةَ وَكِلَاهُمَا مِنْ شُيُوخِ مَالِكٍ فَإِذَا رَوَى عَنْهُ شُيُوخُهُ فَلَا يَبْعُدُ أَنْ يَرْوِيَ عَنْهُ أَبُو حَنِيفَةَ الَّذِي هُوَ مِنْ أَقْرَانِهِ وَرِوَايَةُ أَبِي حَنِيفَةَ عَنْ مَالِكٍ ذَكَرَهَا الدَّارَقُطْنِيّ فِي كِتَابِهِ وَابْنُ حَجَرٍ وَالْبُخَارِيُّ فِي مُسْنَدِ أَبِي حَنِيفَةَ وَالْخَطِيبِ الْبَغْدَادِيِّ فِي كِتَابِ الرُّوَاةِ عَنْ مَالِكٍ وَذَكَرَهَا مِنْ الْمُتَأَخِّرِينَ الْحَافِظُ مُغَلْطَاي وَالشَّيْخُ سِرَاجُ الدِّينِ الْبُلْقِينِيُّ وَقَالَ الزَّرْكَشِيُّ فِي نُكَتِهِ: صَنَّفَ الدَّارَقُطْنِيّ جُزْءًا فِي الْأَحَادِيثِ الَّتِي رَوَاهَا الْإِمَامُ أَبُو حَنِيفَةَ عَنْ الْإِمَامِ مَالِكٍ قَالَ: وَقَالَ الْحَنَفِيَّةُ: أَجَلُّ مَنْ رَوَى عَنْ مَالِكٍ أَبُو حَنِيفَةَ انْتَهَى. وَقَدْ ذَكَرَ الْقَاضِي عِيَاضٌ أَيْضًا فِي الْمَدَارِكِ رِوَايَةَ الْإِمَامِ مَالِكٍ قَالَ: وَرَوَى عَنْهُ الْأَئِمَّةُ الْأَجِلَّاءُ مِنْ شُيُوخِهِ وَغَيْرِهِمْ فَمِنْ شُيُوخِهِ مِنْ التَّابِعِينَ مُحَمَّدُ بْنُ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ وَمَاتَ قَبْلَ مَالِكٍ بِخَمْسٍ وَخَمْسِينَ سَنَةً وَرَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمَاتَ قَبْلَهُ بِثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ سَنَةً وَهِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ، وَمِنْ شُيُوخِهِ مِنْ غَيْرِ التَّابِعِينَ نَافِعُ بْنُ أَبِي نُعَيْمٍ الْقَارِي قَرَأَ مَالِكٌ عَلَيْهِ الْقُرْآنَ وَرَوَى هُوَ عَنْ مَالِكٍ وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ وَسُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ الْأَعْمَشُ، وَمِنْ أَقْرَانِهِ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ الْمِصْرِيُّ وَالْأَوْزَاعِيُّ وَحَمَّادُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَالْإِمَامُ أَبُو حَنِيفَةَ وَابْنُهُ حَمَّادٌ وَأَبُو يُوسُفَ الْقَاضِي صَاحِبُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَمِنْ طَبَقَةٍ بَعْدَ هَؤُلَاءِ الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ الْمَالِكِيُّ وَالْإِمَامُ مُحَمَّدُ بْنُ إدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ صَاحِبُ أَبِي حَنِيفَةَ وَالْوَلِيدُ بْن مُسْلِمٍ وَغَيْرُهُمْ مِنْ مَشَاهِيرِ الرُّوَاةِ وَعَدَّ الْقَاضِي رحمه الله مِنْهُمْ أَلْفًا وَنَيِّفًا، قَالَ: وَتَرَكْنَا كَثِيرًا مِمَّنْ لَمْ يَشْتَهِرْ. وَرَوَى ابْنُ وَهْبٍ وَابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ مَالِكٍ قَالَ: مَا أَحَدٌ مِمَّنْ نَقَلْت عَنْهُ هَذَا الْعِلْمَ إلَّا اُضْطُرَّ إلَيَّ حَتَّى سَأَلَنِي عَنْ أَمْرِ دِينِهِ قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيّ: لَا نَعْلَمُ أَحَدًا تَقَدَّمَ أَوْ تَأَخَّرَ اجْتَمَعَ لَهُ مَا اجْتَمَعَ لِمَالِكٍ وَذَلِكَ أَنَّهُ رَوَى عَنْهُ رَجُلَانِ حَدِيثًا وَاحِدًا بَيْنَ وَفَاتَيْهِمَا نَحْوٌ مِنْ مِائَةٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةٍ مُحَمَّدُ بْنُ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ شَيْخُهُ تُوُفِّيَ سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ وَأَبُو حُذَافَةَ السَّهْمِيُّ تُوُفِّيَ بَعْدَ الْخَمْسِينَ وَالْمِائَتَيْنِ رَوَيَا عَنْهُ حَدِيثَ الْفُرَيْعَةِ بِنْتِ مَالِكٍ فِي سُكْنَى الْمُعْتَدَّةِ وَتَوَرُّعُهُ وَتَثَبُّتُهُ فِي الْفُتْيَا مَشْهُورٌ وَذَكَرَ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ: لَوْ شِئْت أَنْ أَمْلَأَ أَلْوَاحِي مِنْ قَوْلِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ لَا أَدْرِي فَعَلْت وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ

তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো তিনি সর্বোত্তম যুগে দারুল হিজরতের (মদিনার) ইমাম ছিলেন এবং মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চলের) অধিবাসীদের অনুসৃত ইমাম, যারা কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যেমনটি হাদিসে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যদিও এর বর্ণনায় বিভিন্নতা রয়েছে। আল্লাহ তাঁর মাজহাবকে এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেছেন যেখানে কোনো প্রবৃত্তি পূজারী ব্যক্তি ইমাম হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। তিনি তাঁকে সকলের কাছে অগ্রগণ্য করেছেন, এমনকি প্রত্যেক মাজহাবপন্থী তার নিজ মাজহাবের পর তাঁকেই পছন্দ করে। তিনি তাঁর মাজহাবের প্রধানদেরকে তাঁর পরে ফিকহের ন্যায় হাদিসশাস্ত্রেও দলিল সাব্যস্ত করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের বর্ণনা দ্বারাই তাঁর কিতাব পূর্ণ করেছেন; সুতরাং তাঁরাই দলিল এবং সেই নির্ভরযোগ্য ইমাম যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, যা অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়নি, যদিও তিনি নেককার ও আমানতদার হন। যে ব্যক্তি চার ইমামের গুণাবলি ও মর্যাদা পাঠ করবে, সে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা, অন্যদের ওপর তাঁদের অগ্রাধিকারের আবশ্যকতা এবং তাঁদের অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা জানতে পারবে। তাঁদের মর্যাদাক্রম সম্পর্কে জানার পর তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজন তাঁর নিকট অগ্রাধিকার পাবে। তবে এর সাথে সাথে সে দেখতে পাবে যে, ইমাম মালিক তাঁদের মধ্যে উচ্চতম এবং উজ্জ্বলতম। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ইমাম শাফিয়ী তাঁর ছাত্র এবং ইমাম আহমাদ হলেন ইমাম শাফিয়ীর ছাত্র? আল্লাহ ইবনুল আসিরের ওপর রহম করুন, তিনি বলেন: ইমাম মালিকের মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট যে ইমাম শাফিয়ী তাঁর ছাত্র এবং ইমাম আহমাদ ইমাম শাফিয়ীর ছাত্র। আবার ইমাম শাফিয়ীর মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট যে ইমাম মালিক তাঁর উস্তাদ। আর ইমাম আবু হানিফার ব্যাপারে একাধিক আলিম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইমাম মালিকের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর থেকে কিছু হাদিস গ্রহণ করেছেন; সুতরাং তিনি সকলের উস্তাদ এবং ইমামদের ইমাম। তাঁরা সকলেই হিদায়াত, তাকওয়া, ইলম, পরহেজগারি ও দুনিয়াবিমুখতার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। সমাপ্ত। শায়খ জালালুদ্দিন সুয়ুতি তাঁর ‘তাযয়িনুল মামালিক বি-তরজামাতি ইমাম মালিক’ নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন: আমার নিকট এই দিনগুলিতে সংবাদ পৌঁছেছে যে, কেউ কেউ ইমাম আবু হানিফা কর্তৃক ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে ইমাম আবু হানিফার বয়োজ্যেষ্ঠতাকে দেখিয়েছেন। অথচ এমন কথা বলা উচিত নয়; কারণ ইমামদের থেকে তাঁদের চেয়েও অধিক বয়স্ক ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক থেকে এমন ব্যক্তিরাও বর্ণনা করেছেন যারা ইমাম আবু হানিফার চেয়েও বয়সে বড় ছিলেন এবং তাঁর অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমন যুহরি ও রাবিআ; তাঁরা উভয়েই ইমাম মালিকের উস্তাদ ছিলেন। যখন তাঁর উস্তাদরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তখন আবু হানিফা কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণনা করা মোটেও অসম্ভব নয়, যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। আবু হানিফা কর্তৃক মালিক থেকে বর্ণনা করার বিষয়টি ইমাম দারাকুতনি তাঁর কিতাবে, ইবনে হাজার এবং বুখারি ‘মুসনাদে আবু হানিফা’য় এবং খতিব বাগদাদি ‘আর-রুওয়াত আন মালিক’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী যুগের আলিমদের মধ্যে হাফেজ মুগলতয় এবং শায়খ সিরাজুদ্দিন বুলকিনি এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম যারকাশি তাঁর ‘নুকাআত’ গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম দারাকুতনি একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন সেই হাদিসগুলো নিয়ে যা ইমাম আবু হানিফা ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হানাফিগণ বলেছেন, ইমাম মালিক থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আবু হানিফা হলেন শ্রেষ্ঠতম। সমাপ্ত। কাজী ইয়াদ ‘আল-মাদারিক’ গ্রন্থে ইমাম মালিকের বর্ণনাকারীদের কথা উল্লেখ করে বলেন: তাঁর থেকে তাঁর উস্তাদ ও অন্যান্য বড় ইমামগণ বর্ণনা করেছেন। তাঁর উস্তাদ তাবিঈদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আয-যুহরি (যিনি মালিকের ৫৫ বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন), রাবিআ ইবনে আবি আবদুর রহমান (যিনি তাঁর ৪৩ বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন) এবং হিশাম ইবনে উরওয়া ইবনে জুবায়ের ইবনুল আওয়াম। তাবিঈ নন এমন উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন নাফে ইবনে আবি নুয়াইম আল-কারি, যাঁর নিকট মালিক কুরআন পাঠ করেছেন এবং তিনি স্বয়ং মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি যিব এবং সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আমাশ। তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান সাওরি, লাইস ইবনে সাদ আল-মিসরি, আওযায়ি, হাম্মাদ ইবনে আবি সালামাহ, সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ, ইমাম আবু হানিফা, তাঁর পুত্র হাম্মাদ এবং আবু হানিফার সাথী কাজী আবু ইউসুফ। তাঁদের পরবর্তী স্তরের মধ্যে রয়েছেন মুগিরা ইবনে আবদুর রহমান আল-মাখজুমি আল-মালিকি, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী, আবু হানিফার সাথী মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীগণ। কাজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁদের মধ্য থেকে এক হাজারেরও বেশি সংখ্যা গণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা এমন অনেককে ছেড়ে দিয়েছি যারা প্রসিদ্ধ নন। ইবনে ওয়াহাব ও ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যাঁর থেকেই এই ইলম অর্জন করেছি, তাঁরই আমার প্রয়োজন হয়েছে, এমনকি তিনি তাঁর দ্বীনি বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন। আবু হাসান দারাকুতনি বলেন: আমরা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী এমন কাউকে জানি না যার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে যা মালিকের জন্য ঘটেছে; আর তা হলো এই যে, দুইজন ব্যক্তি তাঁর থেকে একই হাদিস বর্ণনা করেছেন যাদের মৃত্যুর মধ্যে ব্যবধান প্রায় একশত ত্রিশ বছর। তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আয-যুহরি ১২৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং আবু হুজাফাহ আস-সাহমি ২৫০ হিজরির পর ইন্তেকাল করেন; তাঁরা উভয়েই তাঁর থেকে মুতাদার বাসস্থানের ব্যাপারে ফুরায়আ বিনতে মালিকের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর পরহেজগারি ও সতর্কতা অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ। আবু নুয়াইম ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যদি মালিক ইবনে আনাসের ‘আমি জানি না’ কথাটি দিয়ে আমার তখতিগুলো পূর্ণ করতে চাইতাম, তবে আমি তা করতে পারতাম। এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে বর্ণিত...

(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قَالَ: رَأَيْت رَجُلًا جَاءَ إلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ شَيْءٍ أَيَّامًا مَا يُجِيبُهُ، فَقَالَ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ إنِّي أُرِيدُ الْخُرُوجَ، قَالَ: فَأَطْرَقَ طَوِيلًا ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: مَا شَاءَ اللَّهُ يَا هَذَا، فَقَالَ: إنِّي إنَّمَا أَتَكَلَّمُ فِيمَا أَحْتَسِبُ فِيهِ الْخَيْرَ وَلَيْسَ أُحْسِنُ مَسْأَلَتَك هَذِهِ. وَقَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ سَأَلَ رَجُلٌ مَالِكًا عَنْ مَسْأَلَةٍ فَقَالَ مَالِكٌ: لَا أُحْسِنُهَا، فَقَالَ الرَّجُلُ: إنِّي ضَرَبْت إلَيْك مِنْ كَذَا وَكَذَا لِأَسْأَلَك عَنْهَا، فَقَالَ لَهُ مَالِكٌ: فَإِذَا رَجَعْت إلَى مَكَانِك وَمَوْضِعِك فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي قُلْت لَك: لَا أُحْسِنُهَا.

 

(وُلِدَ رحمه الله) بِذِي الْمَرْوَةِ مَوْضِعٌ مِنْ مَسَاجِدِ تَبُوك عَلَى ثَمَانِيَةِ بُرْدٍ مِنْ الْمَدِينَةِ هَكَذَا ذَكَرَ بَعْضُهُمْ وَقَالَ الْقَاضِي عِيَاضٌ فِي أَوَّلِ الْمَشَارِقِ: إنَّهُ مَدَنِيُّ الدَّارِ وَالْمَوْلِدِ وَالنَّشْأَةِ وَلَا مُنَافَاةَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مَا قَبْلَهُ؛ لِأَنَّ ذَا الْمَرْوَةِ مِنْ أَعْمَالِ الْمَدِينَةِ وَوُلِدَ رضي الله عنه سَنَةَ ثَلَاثٍ وَتِسْعِينَ وَقِيلَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَقِيلَ سَنَةَ سِتٍّ وَتِسْعِينَ وَقِيلَ سَنَةَ سَبْعٍ وَتِسْعِينَ وَقِيلَ سَنَةَ تِسْعِينَ (وَلَا خِلَافَ أَنَّهُ مَاتَ سَنَةَ تِسْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ بِالْمَدِينَةِ وَدُفِنَ بِالْبَقِيعِ وَقَبْرُهُ بِهِ مَعْرُوفٌ وَعَلَيْهِ قُبَّةٌ وَإِلَى جَانِبِهِ قَبْرٌ لِنَافِعٍ قَالَ السَّخَاوِيُّ: أَمَّا نَافِعٌ الْقَارِي أَوْ نَافِعٌ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ.

وَقَالَ الْوَاقِدِيُّ رحمه الله: وَكَانَ رحمه الله طَوِيلًا جَسِيمًا عَظِيمَ الْهَامَةِ أَصْلَعَ أَبْيَضَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ أَبْيَضَ شَدِيدَ الْبَيَاضِ إلَى الصُّفْرَةِ حَسَنَ الصُّورَةِ أَشَمَّ عَظِيمَ اللِّحْيَةِ تَامَّهَا تَبْلُغُ صَدْرَهُ ذَاتَ سَعَةٍ وَطُولٍ وَكَانَ يَأْخُذُ آطَارَ شَارِبِهِ وَلَا يَحْلِقُهُ وَيَرَى حَلْقَهُ مُثْلَةً وَكَانَ يَتْرُكُ لَهُ سِبَالَيْنِ طَوِيلَيْنِ وَيَحْتَجُّ بِفَتْلِ عُمَرَ لِشَارِبِهِ إذَا أَهَمَّهُ أَمْرٌ وَقَالَ مُصْعَبُ بْنُ الزُّبَيْرِ: كَانَ مَالِكٌ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ وَجْهًا وَأَحْلَاهُمْ عَيْنًا وَأَنْقَاهُمْ بَيَاضًا وَأَتَمَّهُمْ طُولًا فِي جُودَةِ بَدَنٍ.

قَالَ الْوَاقِدِيُّ رحمه الله: كَانَ مَالِكٌ رحمه الله يَأْتِي الْمَسْجِدَ وَيَشْهَدُ الصَّلَاةَ وَالْجَنَائِزَ وَيَعُودُ الْمَرْضَى وَيَقْضِي الْحُقُوقَ وَيُجِيبُ الدَّعْوَةَ ثُمَّ تَرَكَ الْجُلُوسَ فِي الْمَسْجِدِ فَكَانَ يُصَلِّي وَيَنْصَرِفُ ثُمَّ تَرَكَ عِيَادَةَ الْمَرْضَى وَشُهُودَ الْجَنَائِزِ فَكَانَ يَأْتِي أَصْحَابَهَا فَيُعَزِّيهِمْ ثُمَّ تَرَكَ ذَلِكَ كُلَّهُ فَلَمْ يَكُنْ يَشْهَدُ الصَّلَاةَ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا الْجُمُعَةَ وَلَا يَأْتِي أَحَدًا يُعَزِّيهِ وَلَا يَقْضِي لَهُ حَقًّا فَاحْتَمَلَ النَّاسُ لَهُ ذَلِكَ حَتَّى مَاتَ وَكَانَ رُبَّمَا قِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ فَيَقُولُ: لَيْسَ كُلُّ النَّاسِ يَقْدِرُ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِعُذْرِهِ. وَقَالَ فِي مُخْتَصَرِ الْمَدَارِكِ ثُمَّ تَرَكَ عِيَادَةَ الْمَرْضَى وَشُهُودَ الْجَنَائِزِ وَكَانَ أَصْحَابُهَا يَأْتُونَ إلَيْهِ فَيُعَزِّيهِمْ ثُمَّ قَالَ فِي آخِرِ كَلَامِهِ: فَاحْتَمَلَ النَّاسُ لَهُ كُلَّ ذَلِكَ وَكَانُوا أَرْغَبَ فِيهِ وَأَشَدَّ تَعْظِيمًا فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ سُئِلَ عَنْ تَخَلُّفِهِ عَنْ الْمَسْجِدِ وَكَانَ تَخَلَّفَ عَنْهُ سَبْعَ سِنِينَ قَبْلَ مَوْتِهِ فَقَالَ: لَوْلَا أَنِّي فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ الدُّنْيَا وَأَوَّلِهِ مِنْ الْآخِرَةِ مَا أَخْبَرْتُكُمْ بِي سَلَسُ بَوْلٍ فَكَرِهْت أَنْ آتِيَ مَسْجِدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَرِهْت أَنْ أَذْكُرَ عِلَّتِي فَأَشْكُوَ رَبِّي وَقِيلَ: كَانَ اعْتَرَاهُ فَتْقٌ مِنْ الضَّرْبِ الَّذِي ضَرَبَهُ فَكَانَتْ الرِّيحُ تَخْرُجُ مِنْهُ، فَقَالَ: إنِّي أُوذِيَ الْمَسْجِدَ وَالنَّاسَ (وَاخْتُلِفَ فِيمَنْ ضَرَبَهُ وَفِي سَبَبِ ضَرْبِهِ) فَالْأَشْهَرُ أَنَّ جَعْفَرَ بْنَ سُلَيْمَانَ هُوَ الَّذِي ضَرَبَهُ فِي وِلَايَتِهِ الْأُولَى بِالْمَدِينَةِ.

وَأَمَّا سَبَبُهُ فَقِيلَ: إنَّ أَبَا جَعْفَرٍ نَهَاهُ عَنْ حَدِيثِ «لَيْسَ عَلَى مُسْتَكْرَهٍ طَلَاقٌ» ثُمَّ دَسَّ إلَيْهِ مَنْ سَأَلَهُ فَحَدَّثَ بِهِ عَلَى رُءُوسِ النَّاسِ، وَقِيلَ: إنَّ الَّذِي نَهَاهُ هُوَ جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَقِيلَ: إنَّهُ سَعَى بِهِ إلَى جَعْفَرٍ وَقِيلَ لَهُ: إنَّهُ لَا يَرَى أَيْمَانَ بَيْعَتِكُمْ بِشَيْءٍ، وَقِيلَ: إنَّهُ أَفْتَى عِنْدَ قِيَامِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَلَوِيِّ بِأَنَّ بَيْعَةَ أَبِي جَعْفَرٍ لَا تَلْزَمُ لِأَنَّهَا عَلَى الْإِكْرَاهِ عَلَى هَذَا أَكْثَرُ الرُّوَاةِ وَقَالَ ابْنُ بُكَيْرٍ إنَّمَا ضُرِبَ فِي تَقْدِيمِهِ عُثْمَانَ عَلَى عَلِيٍّ فَقِيلَ لِابْنِ بُكَيْرٍ: خَالَفْت أَصْحَابَك، فَقَالَ: أَنَا أَعْلَمُ مِنْ أَصْحَابِي، وَالْأَشْهَرُ أَنَّ ذَلِكَ كَانَ فِي خِلَافَةِ أَبِي جَعْفَرٍ وَقِيلَ: فِي أَيَّامِ الرَّشِيدِ وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ وَاخْتُلِفَ فِي مِقْدَارِ ضَرْبِهِ مِنْ ثَلَاثِينَ إلَى مِائَةٍ وَمُدَّتْ يَدَاهُ حَتَّى انْخَلَعَتْ كَتِفُهُ وَبَقِيَ بَعْدَ ذَلِكَ مُطَالَ الْيَدَيْنِ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَرْفَعَهُمَا وَلَا أَنْ يُسَوِّيَ رِدَاءَهُ وَلَمَّا حَجَّ الْمَنْصُورُ أَقَادَهُ مِنْ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ وَأَرْسَلَهُ لِيَقْتَصَّ مِنْهُ فَقَالَ: أَعُوذُ بِاَللَّهِ، وَاَللَّهِ مَا اُرْتُفِعَ مِنْهَا
তিনি বললেন: আমি একজন লোককে দেখলাম যে মালিক ইবনে আনাসের নিকট কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে আসল, বেশ কয়েক দিন যাবৎ তিনি তাকে উত্তর দিচ্ছিলেন না। এরপর লোকটি বলল: হে আবু আবদুল্লাহ! আমি তো দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে বের হতে চাচ্ছি। তিনি বললেন: তখন তিনি দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন, অতঃপর মাথা তুলে বললেন: হে ব্যক্তি! আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়েছে)। অতঃপর তিনি বললেন: আমি কেবল সেই বিষয়ে কথা বলি যাতে আমি কল্যাণের আশা করি, আর তোমার এই মাসআলাটি সম্পর্কে আমি সুচারুভাবে অবগত নই। ইবনে মাহদী বলেন: এক ব্যক্তি মালিককে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, তখন মালিক বললেন: আমি এটি ভালো জানি না। তখন লোকটি বলল: আমি অমুক অমুক জায়গা থেকে আপনার কাছে এসেছি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য। তখন মালিক তাকে বললেন: যখন তুমি তোমার এলাকায় ও স্থানে ফিরে যাবে, তখন তাদের বলে দিও যে, আমি তোমাকে বলেছি: আমি এটি ভালো জানি না।

 

(তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্মগ্রহণ করেন) 'জু আল-মারওয়া' নামক স্থানে, যা তাবুকের মসজিদসমূহের একটি স্থান, যা মদিনা থেকে আট বুরদ দূরত্বে অবস্থিত। কেউ কেউ এভাবেই উল্লেখ করেছেন। আর কাজী ইয়াদ 'মাশারিক' গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: তিনি মদিনার বাসিন্দা এবং সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এটি আগের কথার সাথে সাংঘাশিক নয়; কারণ জু আল-মারওয়া মদিনার অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলসমূহের একটি। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ৯৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে যে ৯৪ হিজরি সনে, আবার কেউ বলেন ৯৬ হিজরি সনে, কেউ বলেন ৯৭ হিজরি সনে এবং কেউ বলেন ৯০ হিজরি সনে। (এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে তিনি ১৭৯ হিজরি সনে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। সেখানে তাঁর কবর সুপরিচিত এবং তাঁর কবরের উপর একটি গম্বুজ রয়েছে। এর পাশেই নাফি'-এর কবর অবস্থিত। সাখাভী বলেন: তিনি হলেন ক্বারি নাফি' অথবা ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি'।)

ওয়াকিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: তিনি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) দীর্ঘদেহী, বলিষ্ঠ ও বিশাল মস্তকবিশিষ্ট ছিলেন। তিনি টাকমাথা ও সাদা চুল-দাড়ির অধিকারী ছিলেন। তাঁর গায়ের রঙ ছিল অত্যন্ত ফর্সা যা কিছুটা হলদে আভার দিকে ঝুঁকে ছিল। তিনি সুদর্শন ও উন্নত নাসিকা বিশিষ্ট ছিলেন। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন ও দীর্ঘ যা তাঁর বুক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি তাঁর গোঁফের কিনারা কেটে ছোট করতেন এবং তা মুণ্ডন করতেন না; বরং মুণ্ডন করাকে তিনি অঙ্গহানি বা বিকৃতি মনে করতেন। তিনি গোঁফের দুই প্রান্ত দীর্ঘ রাখতেন এবং এর স্বপক্ষে দলিল হিসেবে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাজ পেশ করতেন যে, তিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিন্তিত হলে তাঁর গোঁফে পাক দিতেন। মুসআব ইবনুয যুবাইর বলেন: মালিক ছিলেন মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর চেহারা, আকর্ষণীয় চোখ, ধবধবে ফর্সা এবং শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি উচ্চতায় পূর্ণাঙ্গ।

ওয়াকিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি মসজিদে আসতেন, জামাতে সালাত আদায় করতেন ও জানাজায় উপস্থিত হতেন, রোগীদের দেখতে যেতেন, মানুষের হক আদায় করতেন এবং দাওয়াতে সাড়া দিতেন। অতঃপর তিনি মসজিদে বসা ছেড়ে দিলেন; তিনি সালাত আদায় করে ফিরে যেতেন। এরপর তিনি অসুস্থদের দেখতে যাওয়া এবং জানাজায় উপস্থিত হওয়া ছেড়ে দিলেন। শোকার্ত ব্যক্তিরা তাঁর নিকট আসতেন আর তিনি তাদের সান্ত্বনা দিতেন। অতঃপর তিনি এসব কিছুই ছেড়ে দিলেন; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে সালাতে উপস্থিত হতেন না এবং জুমার সালাতেও আসতেন না। তিনি কাউকে সান্ত্বনা দিতে যেতেন না এবং কারো কোনো হক আদায় করতে যেতেন না। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ তাঁর এই অবস্থা মেনে নিয়েছিল। অনেক সময় তাঁকে এ বিষয়ে বলা হলে তিনি বলতেন: সব মানুষ তার ওজর বা অপারগতার কথা প্রকাশ করতে সক্ষম হয় না। 'মুখতাসারুল মাদারিক' গ্রন্থে বলা হয়েছে: অতঃপর তিনি অসুস্থদের দেখতে যাওয়া এবং জানাজায় উপস্থিত হওয়া ছেড়ে দিলেন এবং শোকার্ত ব্যক্তিরা তাঁর নিকট আসতেন আর তিনি তাদের সান্ত্বনা দিতেন। অতঃপর তিনি তাঁর কথার শেষে বলেন: মানুষ তাঁর এই সব কিছুই মেনে নিয়েছিল এবং তারা তাঁর প্রতি আরও বেশি আগ্রহী ছিল ও তাঁকে অধিক সম্মান করত। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসল, তখন মসজিদে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো—মৃত্যুর আগে সাত বছর তিনি মসজিদে অনুপস্থিত ছিলেন—তখন তিনি বললেন: যদি আমি দুনিয়ার শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে না হতাম, তবে আমি তোমাদের জানাতাম না; আমার প্রস্রাব ধরে রাখার সমস্যা (সালাসুল বাওল) ছিল। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে আসতে অপছন্দ করতাম এবং আমি আমার রোগের কথা উল্লেখ করে আমার রবের ব্যাপারে অভিযোগ করাকেও অপছন্দ করতাম। বলা হয় যে, তাঁকে প্রহার করার ফলে তাঁর জখম সৃষ্টি হয়েছিল যার ফলে বায়ু নির্গত হতো। তখন তিনি বলেছিলেন: আমি মসজিদ এবং মানুষকে কষ্ট দিতে অপছন্দ করি। (কে তাঁকে প্রহার করেছিল এবং কেন প্রহার করেছিল সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।) তবে অধিক প্রসিদ্ধ হলো যে, জাফর ইবনে সুলাইমান মদিনার প্রথমবার গভর্নর থাকাকালীন তাঁকে প্রহার করেছিলেন।

আর এর কারণ সম্পর্কে বলা হয়: আবু জাফর তাঁকে 'জোরপূর্বক তালাক কার্যকর হয় না'—এই হাদিস বর্ণনা করতে নিষেধ করেছিলেন। অতঃপর তিনি লোক মারফত কাউকে পাঠালেন তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য এবং তিনি মানুষের সামনেই তা বর্ণনা করলেন। আবার কেউ বলেন: জাফর ইবনে সুলাইমান তাঁকে নিষেধ করেছিলেন। কেউ বলেন: জাফরের কাছে তাঁর ব্যাপারে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে বলা হয়েছিল যে, তিনি আপনাদের বায়আতের শপথকে কিছু মনে করেন না। আবার কেউ বলেন: যখন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আলাভি বিদ্রোহ করেছিলেন, তখন তিনি ফতোয়া দিয়েছিলেন যে আবু জাফরের বায়আত আবশ্যক নয়, কারণ তা ছিল জবরদস্তিমূলক। অধিকাংশ বর্ণনাকারী এই মতটিই ব্যক্ত করেছেন। ইবনে বুকাইর বলেন: মূলত আলীর উপর উসমানকে প্রধান্য দেওয়ার কারণেই তাঁকে প্রহার করা হয়েছিল। ইবনে বুকাইরকে বলা হলো: আপনি তো আপনার সাথীদের বিরোধিতা করলেন। তিনি বললেন: আমি আমার সাথীদের চেয়ে বেশি জানি। তবে অধিক প্রসিদ্ধ মত হলো এটি আবু জাফরের খিলাফতকালে ঘটেছিল; আর কেউ বলেন রশীদের আমলে, তবে প্রথমটিই অধিক সঠিক। তাঁকে কতবার প্রহার করা হয়েছিল সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে—ত্রিশ থেকে একশ পর্যন্ত বলা হয়। তাঁর হাত দুুটিকে টেনে ধরা হয়েছিল এমনকি তাঁর কাঁধ মচকে গিয়েছিল। এরপর থেকে তাঁর হাত ঝুলে থাকত, তিনি হাত উঠাতে পারতেন না এবং নিজের চাদরও ঠিক করতে পারতেন না। যখন মনসুর হজ করতে এলেন, তখন তিনি জাফর ইবনে সুলাইমানকে শাস্তির (কিসাস) জন্য মালিকের নিকট সোপর্দ করলেন এবং তাকে পাঠালেন তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে। তখন মালিক বললেন: আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আল্লাহর কসম, যা কিছু হয়েছে তা নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র প্রতিশোধ গ্রহণে আগ্রহী নই।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٢٩)
سَوْطٌ عَنْ جِسْمِي إلَّا وَأَنَا أَجْعَلُهُ فِي حِلٍّ مِنْ ذَاكَ الْوَقْتِ لِقَرَابَتِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَقِيلَ: حُمِلَ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ فَلَمَّا أَفَاقَ وَدَخَلَ النَّاسُ عَلَيْهِ، قَالَ: أُشْهِدُكُمْ أَنِّي جَعَلْت ضَارِبِي فِي حِلٍّ ثُمَّ قَالَ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي قَدْ تَخَوَّفْت أَنْ أَمُوتَ أَمْسِ فَأَلْقَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْتَحِي مِنْهُ بِأَنْ يَدْخُلَ بَعْضُ آلِهِ النَّارَ بِسَبَبِي فَمَا كَانَ إلَّا مُدَّةٌ حَتَّى غَضِبَ الْمَنْصُورُ عَلَى ضَارِبِهِ فَضَرَبَهُ وَنِيلَ مِنْهُ أَمْرٌ شَدِيدٌ وَقَالَ الدَّاوُدِيُّ: سَمِعْتُهُ يَقُولُ حِينَ ضُرِبَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ وَكَانَ ضَرَبَهُ فِي سَنَةِ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةٍ وَقِيلَ سَنَةِ سَبْعٍ وَأَرْبَعِينَ.

قَالَ مَالِكٌ: مَا كَانَ عَلَيَّ أَشَدَّ يَوْمَ ضُرِبْت مِنْ شَعْرٍ كَانَ فِي صَدْرِي وَكَانَ فِي إزَارِي خَرْقٌ ظَهَرَتْ مِنْهُ فَخِذِي فَجَعَلْت بِيَدَيَّ أَسْتَجْدِي الْإِزَارَ وَلَا أَتْرُكُ عَلَيَّ شَعْرًا وَكَانَ يَقُولُ: ضُرِبْت فِيمَا ضُرِبَ فِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ وَرَبِيعَةُ وَابْنُ الْمُسَيِّبِ وَيَذْكُرُ قَوْلَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ مَا أَغْبِطُ أَحَدًا لَمْ يُصِبْهُ فِي هَذَا الْأَمْرِ أَذًى قَالَ الْإِبْيَانِيُّ: مَا زَالَ مَالِكٌ بَعْدَ ذَلِكَ الضَّرْبِ فِي رِفْعَةٍ مِنْ النَّاسِ وَإِعْظَامٍ حَتَّى كَأَنَّمَا كَانَتْ تِلْكَ الْأَسْوَاطُ إلَّا حُلِيًّا حُلِّيَ بِهِ رحمه الله، وَقَالَ الْجَلَالُ السُّيُوطِيّ فِي حَاشِيَةِ الْمُوَطَّإِ فِي كِتَابِ الْجِهَادِ كَتَبَ عَبْدُ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ إلَى مَالِكٍ يَحُضُّهُ عَلَى الِانْفِرَادِ وَالْعَمَلِ وَتَرْكِ اجْتِمَاعِ النَّاسِ عَلَيْهِ فِي الْعِلْمِ فَكَتَبَ إلَيْهِ مَالِكٌ: إنَّ اللَّهَ قَسَّمَ الْأَعْمَالَ كَمَا قَسَّمَ الْأَرْزَاقَ فَرُبَّ رَجُلٍ فَتَحَ لَهُ فِي الصَّلَاةِ وَلَمْ يَفْتَحْ لَهُ فِي الصَّوْمِ وَآخَرَ فَتَحَ لَهُ فِي الصَّدَقَةِ وَلَمْ يَفْتَحْ لَهُ فِي الصَّوْمِ وَآخَرَ فَتَحَ لَهُ فِي الْجِهَادِ وَلَمْ يَفْتَحْ لَهُ فِي الصَّلَاةِ وَنَشْرُ الْعِلْمِ وَتَعْلِيمُهُ مِنْ أَفْضَلِ أَعْمَالِ الْبِرِّ وَقَدْ رَضِيت بِمَا فَتَحَ اللَّهُ لِي مِنْ ذَلِكَ وَمَا أَظُنُّ مَا أَنَا فِيهِ بِدُونِ مَا أَنْتَ فِيهِ وَأَرْجُو أَنْ يَكُونَ كُلُّنَا عَلَى خَيْرٍ وَيَجِبُ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنَّا أَنْ يَرْضَى بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَهُ وَالسَّلَامُ اهـ.

 

وَفِي مُخْتَصَرِ الْمَدَارِكِ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ مَالِكًا عَنْ شَيْءٍ مِنْ عِلْمِ الْبَاطِنِ فَغَضِبَ وَقَالَ: إنَّ عِلْمَ الْبَاطِنِ لَا يَعْرِفُهُ إلَّا مَنْ عَرَفَ الظَّاهِرَ فَإِنَّهُ مَتَى عَرَفَهُ وَعَمِلَ بِهِ فَتَحَ اللَّهُ لَهُ عِلْمَ الْبَاطِنِ وَلَا يَكُونُ ذَاكَ إلَّا مَعَ فَتْحِ الْقَلْبِ وَتَنْوِيرِهِ ثُمَّ قَالَ لِلرَّجُلِ: عَلَيْك بِالدِّينِ الْمَحْضِ وَإِيَّاكَ وَبُنَيَّاتِ الطُّرُقِ وَعَلَيْك بِمَا تَعْرِفُ وَاتْرُكْ مَا لَا تَعْرِفُ وَقَالَ رضي الله عنه: طَلَبُ الْعِلْمِ حَسَنٌ لِمَنْ رُزِقَ خَيْرَهُ وَهُوَ قِسْمٌ مِنْ قَسْمِ اللَّهِ عز وجل وَلَكِنْ اُنْظُرْ مَا يَلْزَمُك مِنْ حِينِ تُصْبِحُ إلَى حِينِ تُمْسِي فَالْزَمْهُ وَقَالَ: لَيْسَ الْعِلْمُ بِكَثْرَةِ الرِّوَايَةِ وَإِنَّمَا هُوَ نُورٌ يَضَعُهُ اللَّهُ فِي الْقُلُوبِ، وَقَالَ: شَرُّ الْعِلْمِ الْغَرِيبُ وَخَيْرُ الْعِلْمِ الظَّاهِرُ الَّذِي رَوَاهُ النَّاسُ، وَقَالَ لِابْنِ وَهْبٍ: أَدِّ مَا سَمِعْت وَحَسْبُك وَلَا تَحْمِلْ لِأَحَدٍ عَلَى ظَهْرِك فَإِنَّهُ كَانَ يُقَالُ: أَخْسَرُ النَّاسِ مَنْ بَاعَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَاهُ وَأَخْسَرُ مِنْهُ مَنْ بَاعَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَا غَيْرِهِ.

وَقِيلَ يَنْبَغِي لِلرَّجُلِ إذَا خُوِّلَ عِلْمًا وَكَانَ رَأْسًا يُشَارُ إلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ أَنْ يَضَعَ التُّرَابَ عَلَى رَأْسِهِ وَيَعْتِبُ نَفْسَهُ إذَا خَلَا بِهَا وَلَا يَفْرَحُ بِالرِّئَاسَةِ فَإِنَّهُ إذَا اُضْطُجِعَ فِي قَبْرِهِ وَتُوُسِّدَ التُّرَابَ سَاءَهُ ذَلِكَ كُلُّهُ وَقَالَ إنَّ الْمَسْأَلَةَ إذَا سُئِلَ عَنْهَا الرَّجُلُ فَلَمْ يُجِبْ وَانْدَفَعَتْ عَنْهُ فَإِنَّمَا هِيَ بَلِيَّةٌ صَرَفَهَا اللَّهُ عَنْهُ وَقَالَ مَنْ صَدَقَ فِي حَدِيثِهِ مُنِعَ بِعَقْلِهِ وَلَمْ يُصِبْهُ مَا يُصِيبُ النَّاسَ مِنْ الْهَرَمِ وَالْخَرَفِ وَقَالَ لَا يَصْلُحُ الرَّجُلُ حَتَّى يَتْرُكَ مَا لَا يَعْنِيه وَيَشْتَغِلَ بِمَا يَعْنِيه فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ يُوشِكُ أَنْ يُفْتَحَ لَهُ قَلْبُهُ، وَقَالَ: مَا زَهِدَ أَحَدٌ فِيهَا إلَّا أَنْطَقَهُ اللَّهُ بِالْحِكْمَةِ، وَقَالَ: عَلَيْك بِمُجَالَسَةِ مَنْ يَزِيدُ فِي عَمَلِك قَوْلُهُ: وَيَدْعُوك إلَى الْآخِرَةِ فِعْلُهُ وَإِيَّاكَ وَمُجَالَسَةَ مَنْ يُضِلُّك قَوْلُهُ وَيَدْعُوك إلَى الدُّنْيَا فِعْلُهُ.

وَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: أَوْصِنِي، فَقَالَ: إذَا هَمَمْت بِأَمْرٍ مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ فَلَا تَحْبِسْهُ فَوَاقًا حَتَّى تُمْضِيَهُ فَإِنَّك لَا تَأْمَنُ الْأَحْدَاثَ وَإِذَا هَمَمْت بِغَيْرِ ذَلِكَ فَإِنْ اسْتَطَعْت أَنْ لَا تُمْضِيَهُ وَلَوْ فَوَاقًا فَلَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ لَك تَرْكَهُ وَلَا تَسْتَحْيِي إذَا دُعِيت لِأَمْرٍ لَيْسَ بِحَقٍّ أَنْ تَعْمَلَ الْحَقَّ، وَاقْرَأْ: {وَاللَّهُ لا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ} [الأحزاب: 53] وَطَهِّرْ ثِيَابَك وَنَقِّهَا مِنْ مَعَاصِي اللَّهِ وَعَلَيْك بِمَعَالِي الْأُمُورِ وَكِبَارِهَا وَاتَّقِ رَذَائِلَهَا وَسَفَاسِفَهَا فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ مَعَالِيَ الْأَخْلَاقِ وَأَكْثِرْ تِلَاوَةَ الْقُرْآنِ وَاجْتَهِدْ فِي الْخَيْرِ وَاذْهَبْ حَيْثُ شِئْت
আমার শরীর থেকে পড়া প্রতিটি চাবুকের আঘাতকে আমি সেই মুহূর্ত থেকেই ক্ষমা করে দিয়েছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর আত্মীয়তার কারণে।

বলা হয় যে, তাঁকে অচেতন অবস্থায় বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন এবং লোকজন তাঁর কাছে প্রবেশ করল, তিনি বললেন: আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি আমার প্রহারকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তারপর দ্বিতীয় দিনে তিনি বললেন: আমি গতকাল মারা যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলাম, আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতে লজ্জা পাচ্ছিলাম যে, তাঁর বংশের কোনো সদস্য আমার কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপর খুব বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি যে, খলিফা আল-মানসুর প্রহারকারীর ওপর রাগান্বিত হলেন এবং তাকে প্রহার করলেন এবং তার ওপর কঠোর শাস্তি নেমে এল। দাউদী বলেন: আমি তাকে প্রহার করার সময় বলতে শুনেছি: হে আল্লাহ, তাদের ক্ষমা করে দিন, কেননা তারা জানে না। তাঁর এই প্রহারের ঘটনাটি ছিল ১৪৬ হিজরি সনে, আর কেউ কেউ বলেছেন ১৪৭ হিজরি সনে।

মালিক বলেন: যেদিন আমাকে প্রহার করা হয়েছিল, সেদিন আমার বুকে বিদ্যমান পশম প্রকাশিত হওয়ার চেয়ে কঠিন আর কিছু আমার কাছে ছিল না। আমার লুঙ্গিতে একটি ছিদ্র ছিল যেখান দিয়ে আমার উরু দেখা যাচ্ছিল, তাই আমি আমার হাত দিয়ে লুঙ্গিটি টেনে ধরছিলাম এবং আমার শরীরের কোনো পশমও বের হতে দিচ্ছিলাম না। তিনি বলতেন: আমাকে সেই কারণেই প্রহার করা হয়েছে যে কারণে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির, রাবিয়া এবং ইবনুল মুসাইয়িবকে প্রহার করা হয়েছিল। তিনি উমর ইবনে আবদুল আজিজের উক্তি স্মরণ করতেন: 'আমি এমন কাউকে ঈর্ষা করি না যে এই দ্বীনের পথে কোনো কষ্টের সম্মুখীন হয়নি।' আল-ইবইয়ানি বলেন: সেই প্রহারের পর থেকে মানুষের কাছে মালিকের মর্যাদা ও সম্মান ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, যেন সেই চাবুকের আঘাতগুলো তাঁর জন্য অলঙ্কার ছিল যা দ্বারা তিনি সুশোভিত হয়েছিলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। জালালুদ্দিন সুয়ূতী 'মুয়াত্তা'র টীকায় জিহাদ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ আল-উমরি মালিককে নির্জনতা অবলম্বন ও ব্যক্তিগত আমলে মগ্ন থাকার এবং ইলম অর্জনের জন্য মানুষের সমাবেশ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখলেন। মালিক তাঁকে উত্তরে লিখলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমলসমূহকে বণ্টন করেছেন যেভাবে তিনি রিজিক বণ্টন করেছেন। অনেক লোক এমন আছে যার জন্য সালাতের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু রোযার পথ খোলা হয়নি; অন্য একজনের জন্য সদকার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু রোযার পথ খোলা হয়নি; আবার অন্য একজনের জন্য জিহাদের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু সালাতের পথ খোলা হয়নি। ইলম প্রচার ও শিক্ষা দেওয়া সর্বোত্তম নেক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ আমার জন্য যা খুলে দিয়েছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট আছি। আমি মনে করি না যে আমি যে কাজে আছি তা আপনি যে কাজে আছেন তার চেয়ে নিম্নমানের। আমি আশা করি আমরা উভয়েই কল্যাণের ওপর আছি। আমাদের প্রত্যেকের উচিত আল্লাহ তার জন্য যা বরাদ্দ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা। ইতি।

 

মুখতাসারুল মাদারিক গ্রন্থে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মালিককে 'ইলমে বাতেন' (নিগূঢ় জ্ঞান) সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করল। তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন: ইলমে বাতেন কেবল সেই ব্যক্তিই বুঝতে পারে যে 'ইলমে জাহের' (প্রকাশ্য জ্ঞান) সম্পর্কে অবগত। যখন সে তা জানবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে, তখন আল্লাহ তার জন্য ইলমে বাতেনের দুয়ার উন্মুক্ত করে দেবেন। আর এটি কেবল অন্তর উন্মোচন ও নূরানি হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। তারপর তিনি লোকটিকে বললেন: তুমি বিশুদ্ধ দ্বীন আঁকড়ে ধরো এবং ভ্রান্ত পথসমূহ থেকে বেঁচে থাকো। যা তোমার পরিচিত তা গ্রহণ করো এবং যা তোমার অপরিচিত তা ত্যাগ করো। তিনি (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন: ইলম অন্বেষণ করা তার জন্য উত্তম যাকে এর কল্যাণ দান করা হয়েছে, আর এটি মহান আল্লাহর একটি নেয়ামত। তবে তুমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার ওপর যা আবশ্যক তা লক্ষ করো এবং তা আঁকড়ে ধরো। তিনি আরও বলেন: অধিক বর্ণনা করার নাম ইলম নয়, বরং এটি একটি নূর যা আল্লাহ অন্তরে স্থাপন করেন। তিনি বলেন: সবচেয়ে মন্দ ইলম হলো 'গরিব' (বিচিত্র) বিষয়াদি, আর সর্বোত্তম ইলম হলো সেই 'জাহের' (সুস্পষ্ট) বিষয় যা মানুষ বর্ণনা করে থাকে। তিনি ইবনে ওয়াহাবকে বললেন: তুমি যা শুনেছ তা পৌঁছে দাও, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। তুমি কারো বোঝা নিজের পিঠে বহন করো না। কেননা বলা হয়ে থাকে: সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সেই ব্যক্তি যে নিজের আখিরাতকে দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, আর তার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেই ব্যক্তি যে অন্যের দুনিয়ার বিনিময়ে নিজের আখিরাতকে বিক্রি করে দেয়।

বলা হয়ে থাকে, যখন কোনো ব্যক্তিকে ইলম দান করা হয় এবং সে এমন একজন নেতৃত্বে পরিণত হয় যার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয়, তখন তার উচিত নিজের মাথায় মাটি দেওয়া এবং নির্জনে নিজের নফসের তিরস্কার করা। নেতৃত্বের কারণে তার আনন্দিত হওয়া উচিত নয়। কারণ যখন তাকে কবরে শায়িত করা হবে এবং মাটিকে বালিশ বানানো হবে, তখন এসব তাকে কষ্ট দেবে। তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং সে তার উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যায়, তবে এটি একটি বিপদ যা আল্লাহ তার থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি তার কথায় সত্যবাদী হয়, তাকে তার বুদ্ধিবৃত্তি দ্বারা রক্ষা করা হয় এবং সাধারণ মানুষের মতো বার্ধক্যজনিত জড়তা ও মতিভ্রম তাকে স্পর্শ করে না। তিনি আরও বলেন: একজন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না যতক্ষণ না সে অনর্থক বিষয় ত্যাগ করে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে মশগুল হয়। যখন সে এটি করবে, তখন শীঘ্রই তার অন্তর উন্মোচন করা হবে। তিনি বলেন: যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হয়েছে, আল্লাহ তাকে প্রজ্ঞা দিয়ে কথা বলান। তিনি বলেন: তুমি এমন ব্যক্তির সংসর্গে থেকো যার কথা তোমার নেক আমল বৃদ্ধি করে এবং যার কাজ তোমাকে আখিরাতের দিকে আহ্বান করে। আর এমন ব্যক্তির সংসর্গ থেকে বেঁচে থাকো যার কথা তোমাকে পথভ্রষ্ট করে এবং যার কাজ তোমাকে দুনিয়ার দিকে প্ররোচিত করে।

এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: যখন তুমি আল্লাহর আনুগত্যের কোনো কাজের সংকল্প করবে, তখন তা সম্পন্ন করতে এক মুহূর্তও দেরি করো না। কারণ তুমি পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত নও। আর যখন তুমি এ ছাড়া অন্য কিছুর সংকল্প করবে, তখন যদি পারো তবে তা এক মুহূর্তের জন্যও কার্যকর করো না; সম্ভবত আল্লাহ তোমার জন্য তা ত্যাগ করার কোনো পথ তৈরি করে দেবেন। যখন তোমাকে কোনো অন্যায় কাজের জন্য আহ্বান করা হবে, তখন সত্য কাজ করতে দ্বিধা করো না। আর পড়ো: {আর আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না} [সূরা আহযাব: ৫৩]। তোমার পোশাক পবিত্র করো এবং আল্লাহর নাফরমানি থেকে একে মুক্ত রাখো। তুমি উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও মহৎ কাজগুলো আঁকড়ে ধরো এবং নীচ ও তুচ্ছ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো। কেননা আল্লাহ উচ্চমানের চরিত্র পছন্দ করেন। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করো, কল্যাণের কাজে সচেষ্ট হও এবং যেখানে ইচ্ছা যাও।
(খণ্ড: ١) মাওয়াহিবুল জলীল ফী শারহি মুখতাসার খলীল (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَقَالَ كَثْرَةُ الْكَلَامِ تَمُجُّ الْعَالِمَ وَتُذِلُّهُ وَتُنْقِصُهُ، وَمَنْ عَمِلَ هَذَا ذَهَبَ بَهَاؤُهُ وَلَا يُوجَدُ ذَلِكَ إلَّا فِي النِّسَاءِ وَالصِّغَارِ، وَكَانَ يُقَالُ: نِعْمَ الرَّجُلُ فُلَانٌ لَوْلَا أَنَّهُ يَتَكَلَّمُ كَلَامَ شَهْرٍ فِي يَوْمٍ، وَقَالَ طَلَبُ الرِّزْقِ فِي شُبْهَةٍ خَيْرٌ مِنْ الْحَاجَةِ إلَى النَّاسِ وَقَالَ أَهْوَالُ الدُّنْيَا ثَلَاثَةٌ: رُكُوبُ الْبَحْرِ وَرُكُوبُ فَرَسٍ عَرِيٍّ وَتَزْوِيجُ حُرَّةٍ.

وَقَالَ: مِنْ إزَالَةِ الْعِلْمِ أَنْ تُجِيبَ كُلَّ مَنْ يَسْأَلُك وَلَا تَكُنْ إمَامًا بِكُلِّ مَا تَسْمَعُ، وَمَنْ إزَالَةِ الْعِلْمِ أَنْ تَنْطِقَ بِهِ قَبْلَ أَنْ تُسْأَلَ عَنْهُ.

 

(وَتَآلِيفُهُ رحمه الله كَثِيرَةٌ) مِنْهَا كِتَابُ الْمُوَطَّإِ الَّذِي لَمْ يُسْبَقْ إلَى مِثْلِهِ قَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ: مَا كِتَابٌ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ أَنْفَعُ لِلنَّاسِ مِنْ الْمُوَطَّإِ وَلَا أَصَحُّ بَعْدَ الْقُرْآنِ مِنْهُ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: مَا فِي الْأَرْضِ كِتَابٌ فِي الْعِلْمِ أَكْثَرُ صَوَابًا مِنْ كِتَابِ مَالِكٍ وَمَا عَلَى الْأَرْضِ أَصَحُّ مِنْهُ وَفِي رِوَايَةٍ أَفْضَلُ مِنْهُ. وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: مَا أَحْسَنَهُ لِمَنْ تَدَيَّنَ بِهِ وَقَدْ أَكْثَرَ النَّاسُ مَدْحَهُ نَثْرًا وَنَظْمًا وَاعْتَنَى الْعُلَمَاءُ بِهِ شَرْحًا وَكَلَامًا عَلَى الرِّجَالِ وَالْأَسَانِيدِ وَغَيْرِ ذَلِكَ وَرَوَاهُ عَنْ مَالِكٍ خَلْقٌ كَثِيرٌ، وَمِنْ تَآلِيفِهِ رِسَالَتُهُ إلَى ابْنِ وَهْبٍ فِي الْقَدَرِ وَالرَّدُّ عَلَى الْقَدَرِيَّةِ. قَالَ الْقَاضِي عِيَاضٌ: هِيَ مِنْ أَجَلِّ الْكُتُبِ فِي هَذَا الْبَابِ وَتَدُلُّ عَلَى سَعَةِ عِلْمِهِ بِهَذَا الشَّأْنِ، وَمِنْهَا كِتَابُهُ فِي النُّجُومِ حِسَابُ دَوَرَانِ الزَّمَانِ وَمَنَازِلِ الْقَمَرِ وَهُوَ كِتَابٌ حَسَنٌ مُفِيدٌ اعْتَمَدَ عَلَيْهِ النَّاسُ فِي هَذَا الْبَابِ وَجَعَلُوهُ أَصْلًا، وَمِنْهَا رِسَالَتُهُ فِي الْأَقْضِيَةِ كَتَبَ بِهَا إلَى بَعْضِ الْقُضَاةِ عَشَرَةَ أَجْزَاءٍ وَرِسَالَتُهُ إلَى ابْنِ غَسَّانَ فِي الْفَتْوَى وَهِيَ مَشْهُورَةٌ وَرِسَالَتُهُ إلَى هَارُونَ الرَّشِيدِ فِي الْأَدَبِ وَالْمَوَاعِظِ، وَمِنْهَا كِتَابُهُ فِي التَّفْسِيرِ لِغَرِيبِ الْقُرْآنِ، وَمِنْهَا رِسَالَتُهُ إلَى اللَّيْثِ فِي إجْمَاعِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَنُسِبَ لَهُ كِتَابُ السِّرِّ وَأُنْكِرَ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ وَمَنَاقِبُهُ وَفَضَائِلُهُ وَأَحْوَالُهُ كَثِيرَةٌ وَمَا ذَكَرْنَاهُ مِنْهَا قَلَّ مِنْ كَثُرَ وَإِنَّمَا أَرَدْنَا التَّنْبِيهَ عَلَى مَا لَا بُدَّ مِنْهُ.

 

‌‌[فَرْعٌ التَّقْلِيدُ]

(فَرْعٌ) التَّقْلِيدُ هُوَ الْأَخْذُ بِقَوْلِ الْغَيْرِ مِنْ غَيْرِ مَعْرِفَةِ دَلِيلِهِ وَاَلَّذِي عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَى مَنْ لَيْسَ فِيهِ أَهْلِيَّةُ الِاجْتِهَادِ أَنْ يُقَلِّدَ أَحَدَ الْأَئِمَّةِ الْمُجْتَهِدِينَ سَوَاءٌ كَانَ عَالِمًا أَوْ لَيْسَ بِعَالَمٍ وَقِيلَ: لَا يُقَلِّدُ الْعَالِمُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مُجْتَهِدًا؛ لِأَنَّ لَهُ صَلَاحِيَةَ أَخْذِ الْحُكْمِ مِنْ الدَّلِيلِ.

(فَرْعٌ) قَالَ الْقَرَافِيُّ فِي شَرْحِ الْمَحْصُولِ: قَالَ إمَامُ الْحَرَمَيْنِ: أَجْمَعَ الْمُحَقِّقُونَ عَلَى أَنَّ الْعَوَامَّ لَيْسَ لَهُمْ أَنْ يَتَعَلَّقُوا بِمَذَاهِبِ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم بَلْ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَّبِعُوا مَذَاهِبَ الْأَئِمَّةِ الَّذِينَ سَبَرُوا وَنَظَرُوا وَبَوَّبُوا؛ لِأَنَّ الصَّحَابَةَ رضي الله عنهم لَمْ يَعْتَنُوا بِتَهْذِيبِ الْمَسَائِلِ وَالِاجْتِهَادِ وَإِيضَاحِ طُرُقِ النَّظَرِ بِخِلَافِ مَنْ بَعْدَهُمْ ثُمَّ قَالَ الْقَرَافِيُّ: وَرَأَيْت لِلشَّيْخِ تَقِيِّ الدِّينِ بْنِ الصَّلَاحِ مَا مَعْنَاهُ أَنَّ التَّقْلِيدَ يَتَعَيَّنُ لِهَذِهِ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ دُونَ غَيْرِهِمْ؛ لِأَنَّ مَذَاهِبَهُمْ انْتَشَرَتْ وَانْبَسَطَتْ حَتَّى ظَهَرَ فِيهَا تَقْيِيدُ مُطْلَقِهَا وَتَخْصِيصُ عَامِّهَا وَشُرُوطُ فُرُوعِهَا فَإِذَا أَطْلَقُوا حُكْمًا فِي مَوْضِعٍ وُجِدَ مُكَمَّلًا فِي مَوْضِعٍ آخَرَ وَأَمَّا غَيْرُهُمْ فَتُنْقَلُ عَنْهُ الْفَتَاوَى مُجَرَّدَةً فَلَعَلَّ لَهَا مُكَمِّلًا أَوْ مُقَيِّدًا أَوْ مُخَصِّصًا لَوْ انْضَبَطَ كَلَامُ قَائِلِهِ لَظَهَرَ فَيَصِيرُ فِي تَقْلِيدِهِ عَلَى غَيْرِ ثِقَةٍ بِخِلَافِ هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةِ قَالَ: وَهَذَا تَوْجِيهٌ حَسَنٌ فِيهِ مَا لَيْسَ فِي كَلَامِ إمَامِ الْحَرَمَيْنِ.

ثُمَّ أُورِدَ عَلَيْهِ أَنَّهُ يَلْزَمُ عَلَيْهِ عَدَمُ جَوَازِ نَقْلِ مَذَاهِبِهِمْ لِعَدَمِ انْضِبَاطِهَا فَلَعَلَّ مَا نَنْقُلُهُ عَنْهُمْ لَوْ جُمِعَتْ شُرُوطُهُ صَارَ مُوَافِقًا لِمَا نَجْعَلُهُ مُخَالِفًا لَهُ قَالَ: وَيُمْكِنُ الْجَوَابُ بِأَنَّ أَمْرَ النَّقْلِ خَفِيفٌ بِالنِّسْبَةِ لِلْعَمَلِ فَإِنَّهُ قَدْ يَكُونُ الْمَقْصُودُ مِنْهُ الِاطِّلَاعُ عَلَى وُجُوهِ الْفِقْهِ وَالتَّنْبِيهُ عَلَى الْمَدَارِكِ وَعَدَمِ الْوِفَاقِ فَيُوجِبُ ذَلِكَ التَّوَقُّفَ عَنْ أُمُورٍ وَالْبَحْثَ عَنْ أُمُورٍ.

وَقَالَ ابْنُ بَرْهَانٍ: تَقْلِيدُ الصَّحَابَةِ يَتَخَرَّجُ عَلَى جَوَازِ الِانْتِقَالِ فِي الْمَذَاهِبِ فَمَنْ مَنَعَهُ لِأَنَّ مَذَاهِبَ الصَّحَابَةِ لَمْ تَكْثُرْ فُرُوعُهَا حَتَّى يُمْكِنَ لِمُقَلِّدٍ الِاكْتِفَاءُ بِهِ طُولَ عُمْرِهِ انْتَهَى بِاخْتِصَارٍ. وَأَكْثَرُهُ بِاللَّفْظِ وَذَكَرَ الْبُرْزُلِيُّ أَنَّ ابْنَ الْعَرَبِيِّ سَأَلَ الْغَزَالِيَّ عَمَّنْ قَلَّدَ الشَّافِعِيَّ مَثَلًا وَكَانَ مَذْهَبُهُ مُخَالِفًا لِأَحَدِ الْخُلَفَاءِ الْأَرْبَعَةِ أَوْ غَيْرِهِمْ مِنْ الصَّحَابَةِ فَهَلْ لَهُ اتِّبَاعُ الصَّحَابَةِ لِأَنَّهُمْ أَبْعَدَ عَنْ الْخَطَأِ وَلِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم -
তিনি আরও বলেছেন, অতিরিক্ত কথা বলা আলিমকে তুচ্ছ করে, তাকে অপদস্থ করে এবং তার মর্যাদা কমিয়ে দেয়। যে ব্যক্তি এটি করবে তার গাম্ভীর্য চলে যাবে; আর এটি কেবল নারী ও শিশুদের মধ্যেই পাওয়া যায়। বলা হতো: অমুক ব্যক্তি কতই না উত্তম হতো যদি সে এক মাসের কথা একদিনে না বলত। তিনি আরও বলেছেন: সংশয়যুক্ত উপায়ে রিযিক সন্ধান করা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম। তিনি বলেছেন: দুনিয়ার আতঙ্ক তিনটি: সমুদ্রে ভ্রমণ করা, জিন ছাড়া ঘোড়ায় চড়া এবং কোনো স্বাধীন নারীকে বিয়ে করা।

তিনি আরও বলেছেন: ইলম বিলুপ্ত হওয়ার একটি কারণ হলো তোমার কাছে প্রশ্নকারী প্রত্যেকের উত্তর দেওয়া। তুমি যা-ই শোনো তার সবকিছুর ইমাম হয়ে যেয়ো না। ইলম বিলুপ্ত হওয়ার আরেকটি কারণ হলো জিজ্ঞাসিত হওয়ার আগেই তা প্রকাশ করা।

 

(রহিমাহুল্লাহ-এর রচনাবলি অনেক) যার মধ্যে রয়েছে কিতাবুল মুয়াত্তা, যার সমতুল্য ইতিপূর্বে আর কেউ রচনা করতে পারেনি। ইবনে মাহদী বলেছেন: আল্লাহর কিতাবের পর মানুষের জন্য মুয়াত্তা অপেক্ষা অধিক উপকারী আর কোনো কিতাব নেই এবং কুরআনের পর এর চেয়ে বিশুদ্ধ আর কোনো গ্রন্থ নেই। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: ইলম বিষয়ে পৃথিবীতে মালিকের কিতাবের চেয়ে অধিক সঠিক আর কোনো কিতাব নেই এবং ভূপৃষ্ঠে এর চেয়ে বিশুদ্ধ আর কিছু নেই। অন্য বর্ণনায় আছে ‘এর চেয়ে উত্তম’ আর কিছু নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন: যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে দ্বীন পালন করে তার জন্য এটি কতই না চমৎকার! মানুষ গদ্যে ও পদ্যে এর প্রচুর প্রশংসা করেছেন এবং ওলামায়ে কেরাম এর ব্যাখ্যা প্রদান এবং এর বর্ণনাকারী ও সনদ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। অসংখ্য সৃষ্টি ইমাম মালিকের কাছ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে আরও রয়েছে ইবনে ওয়াহবের কাছে লিখিত তাকদীর সম্পর্কিত তাঁর রিসালা এবং কাদারিয়াদের খণ্ডন। কাজী ইয়াজ বলেছেন: এই বিষয়ে এটি অন্যতম মহান কিতাব যা এই বিষয়ে তাঁর ইলমের ব্যাপকতা প্রমাণ করে। এর মধ্যে আরও রয়েছে নক্ষত্র বিষয়ক তাঁর কিতাব, যা সময়ের আবর্তন ও চাঁদের মঞ্জিলসমূহের হিসাব সংক্রান্ত; এটি একটি চমৎকার ও উপকারী কিতাব যার ওপর এই বিষয়ে মানুষ নির্ভর করে এবং একে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। আরও রয়েছে বিচারকার্য সংক্রান্ত তাঁর রিসালা, যা তিনি কোনো একজন বিচারকের কাছে দশ খণ্ডে লিখেছিলেন। আরও রয়েছে ফতোয়া বিষয়ে ইবনে গাসসানের প্রতি তাঁর রিসালা যা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। আরও রয়েছে শিষ্টাচার ও নসিহত বিষয়ে হারুনুর রশিদের প্রতি তাঁর রিসালা। আরও রয়েছে কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলির তাফসীর বিষয়ক তাঁর কিতাব। আরও রয়েছে মদীনার অধিবাসীদের ইজমা সম্পর্কে লাইস বিন সাআদের প্রতি তাঁর রিসালা। তাঁর প্রতি ‘কিতাবুস সির’ নামক একটি কিতাব সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তবে তা অস্বীকার করা হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। তাঁর গুণাবলি, মর্যাদা ও অবস্থা অনেক। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা সমুদ্রের তুলনায় বিন্দুমাত্র। আমরা কেবল অপরিহার্য বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি।

 

‌‌[একটি শাখা: তাকলীদ]

(শাখা) তাকলীদ হলো অন্যের দলিল না জেনেই তার কথা গ্রহণ করা। জমহুর ওলামার অভিমত হলো, যার মধ্যে ইজতিহাদের যোগ্যতা নেই তার ওপর কোনো একজন মুজতাহিদ ইমামের তাকলীদ করা ওয়াজিব, সে আলেম হোক বা না হোক। কেউ কেউ বলেছেন: আলেম ব্যক্তি তাকলীদ করবে না যদিও সে মুজতাহিদ না হয়; কারণ তার দলিল থেকে বিধান গ্রহণের সক্ষমতা রয়েছে।

(শাখা) ইমাম কারাফী শারহুল মাহসুলে বলেছেন: ইমামুল হারামাইন বলেছেন: মুহাক্কিকগণ একমত হয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের জন্য সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মাযহাব আঁকড়ে ধরা বৈধ নয়, বরং তাদের ওপর সেই সব ইমামদের মাযহাব অনুসরণ করা আবশ্যক যারা মাসআলাগুলো যাচাই-বাছাই করেছেন, পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন। কারণ সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মাসআলাসমূহ সুবিন্যস্ত করা, ইজতিহাদ এবং গবেষণার পথগুলো স্পষ্ট করার প্রতি সেভাবে মনোনিবেশ করেননি যা তাদের পরবর্তীগণ করেছেন। এরপর কারাফী বলেছেন: আমি শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনুস সালাহর একটি বক্তব্য দেখেছি যার মর্মার্থ হলো, তাকলীদ কেবল এই চার ইমামের জন্যই নির্দিষ্ট, অন্যদের জন্য নয়। কারণ তাদের মাযহাবসমূহ প্রসারিত ও বিস্তৃত হয়েছে এমনকি তাতে সাধারণ বিষয়গুলোর সীমাবদ্ধতা, ব্যাপক বিষয়গুলোর বিশেষত্ব এবং শাখা মাসআলাগুলোর শর্তাবলিও প্রকাশ পেয়েছে। তারা যখন কোনো স্থানে কোনো বিধান সাধারণভাবে উল্লেখ করেন, অন্য স্থানে তার পূর্ণতা পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে অন্যদের থেকে কেবল বিচ্ছিন্ন ফতোয়া বর্ণিত হয়েছে, হতে পারে সেগুলোর কোনো পরিপূরক বা সীমাবদ্ধকারী বা বিশেষত্ব দানকারী শর্ত ছিল যা তাদের কথাগুলো সংরক্ষিত থাকলে প্রকাশ পেত। ফলে তাদের তাকলীদ করা নির্ভরযোগ্য বিষয় হিসেবে গণ্য হয় না, যা এই চার ইমামের ক্ষেত্রে ভিন্ন। তিনি বলেছেন: এটি একটি উত্তম বিশ্লেষণ যা ইমামুল হারামাইনের কথায় ছিল না।

এরপর এর ওপর আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে যে, এতে তো তাদের মাযহাব বর্ণনা করা নাজায়েজ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে কারণ সেগুলো সুসংবদ্ধ নয়। হতে পারে আমরা তাদের থেকে যা বর্ণনা করছি তা যদি সব শর্তসহ একত্র করা হতো তবে তা আমরা যার পরিপন্থী মনে করছি তার অনুকূলে হতো। তিনি বলেছেন: এর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, আমল করার তুলনায় বর্ণনার বিষয়টি সহজ। কারণ বর্ণনার উদ্দেশ্য হতে পারে ফিকহের দিকগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া, উৎসগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং মতপার্থক্য সম্পর্কে জানা। ফলে এটি কিছু বিষয়ে বিরত থাকা এবং কিছু বিষয়ে গবেষণার আবশ্যকতা তৈরি করে।

ইবনে বুরহান বলেছেন: সাহাবীগণের তাকলীদ করার বিষয়টি মাযহাব পরিবর্তনের বৈধতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তবে যারা এটি নিষেধ করেছেন তারা এ কারণে করেছেন যে, সাহাবীগণের মাযহাবের শাখা মাসআলাগুলো এতো অধিক নয় যাতে একজন মুকাল্লিদ সারা জীবন তার ওপর নির্ভর করতে পারে। সংক্ষেপে সমাপ্ত। এর অধিকাংশ শব্দানুসারে। বুরজুলি উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল আরাবী ইমাম গাজালীকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে শাফিঈ মাযহাবের তাকলীদ করে কিন্তু তার মাযহাব যদি চার খলিফার কোনো একজন বা অন্য কোনো সাহাবীর পরিপন্থী হয়, তবে তার জন্য কি সাহাবীর অনুসরণ করা বৈধ? কারণ তারা ভুলের থেকে অধিক দূরে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে -