(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: -)
حديث الستة من التابعين وذكر طرقه واختلاف وجوهه القسم: كتب السنة
الكتاب: حديث الستة من التابعين وذكر طرقه واختلاف وجوهه
المؤلف: الخطيب البغدادي
تحقيق وتخريج وتعليق: محمد بن رزق بن طرهوني
الناشر: دار فواز للنشر والتوزيع، الإحساء - السعودية
الطبعة: الأولى، 1412 هـ
عدد الصفحات: 61
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ছয়জন তাবিঈর বর্ণিত হাদিস এবং এর সূত্রসমূহ ও ভিন্নতর পাঠসমূহের বর্ণনা বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
বই: ছয়জন তাবিঈর বর্ণিত হাদিস এবং এর সূত্রসমূহ ও ভিন্নতর পাঠসমূহের বর্ণনা
লেখক: আল-খতিব আল-বাগদাদি
তাহকিক, তাখরিজ ও টীকা: মুহাম্মদ বিন রিজক বিন তারহুনি
প্রকাশক: দার ফাওয়াজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, আল-আহসা - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد:
فإن أصدق الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد، صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار، وإني أثناء عملي في موسوعتي في فضائل سور وآيات القرآن والتي أكاد أن أقول قد انتهت بحمد الله وقفت على هذا الجزء بتقدير من الله عز وجل وأنا أبحث في المخطوطات وقد وجدته وثيقًا بعملي حيث أنه يتكلم عن علل حديث من أحاديث الفضائل فكان لابد لي من دراسته دراسة وافية لأضمنه كتابي، ففعلت، وقد كان فيه من الطرق ما لم أجده في غيره إلا أنه أيضًا أغفل طرقًا للحديث وقفت عليها في غيره ولم أستفض في التخريج والحكم إرجاءً إلى التخريج والحكم الذي في الموسوعة ولكني اهتممت ببيان المخرجين من طرق المصنف وبيان الموافقات والمخالفات لأنه المتعلق بموضوع المخطوطة، ولم أزد على الحكم على الإسناد، وأما الحكم على الحديث وثبوته من الطريق بعينه فموضوعه الموسوعة، وهي في طريقها إلى القاريء إن شاء الله تعالى، وهذا الجزء بالإضافة إلى أهمية وعظم العلم الذي يتكلم فيه - أعني علم العلل - فهو جزء حديثي يرى النور لأول مرة بعد أن كان في عداد المخطوطات التي لا يقف عليها إلا النادر من طلاب العلم فإحياؤه إحياء لتراثنا الإسلامي الذي حظي بتوثيق لم يحظ به تراث قبله فلله الحمد والمنة فهاك الكتاب وبين يديه بعض مقدمات تحتوي على - نبذة في العلل الذي هو موضوع هذا المصنف
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি এবং প্রতিটি গোমরাহির পরিণাম জাহান্নাম। আমি যখন কুরআনের সূরা ও আয়াতের ফযিলত বিষয়ক আমার বিশ্বকোষ সংকলনের কাজ করছিলাম—যা আল্লাহর প্রশংসায় প্রায় সমাপ্তির পথে—তখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সুযোগে পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানের সময় এই পুস্তিকাটি (জুয) আমার সামনে আসে। আমি এটিকে আমার কাজের সাথে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক দেখতে পাই, কারণ এটি ফযিলত বিষয়ক একটি হাদিসের ‘ইলাল’ (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে আলোচনা করে। তাই আমার কিতাবে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমার পক্ষ থেকে এর পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়ন অপরিহার্য ছিল এবং আমি তাই করেছি। এতে এমন কিছু সনদ বা সূত্র ছিল যা আমি অন্য কোথাও খুঁজে পাইনি; তবে এটি হাদিসের এমন কিছু সূত্র এড়িয়ে গেছে যা আমি অন্যত্র পেয়েছি। আমি এর তাখরিজ ও হুকুম (হাদিসের মান নির্ধারণ) বর্ণনায় খুব বেশি বিস্তারিত আলোচনা করিনি, বরং তাখরিজ ও হুকুম প্রদানের বিষয়টি বিশ্বকোষের জন্য স্থগিত রেখেছি। তবে আমি গ্রন্থকারের বর্ণিত সূত্রগুলোর সংকলনকারী এবং তাদের মধ্যকার ঐকমত্য ও বৈসাদৃশ্যগুলো স্পষ্ট করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ এটিই পাণ্ডুলিপির মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি সনদের ওপর হুকুম প্রদানের অতিরিক্ত কিছু করিনি; আর নির্দিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে হাদিসটি সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি মূল বিশ্বকোষের অন্তর্ভুক্ত বিষয়, যা ইনশাআল্লাহ পাঠকদের নিকট পৌঁছানোর পথে রয়েছে। এই পুস্তিকাটি যে ইলমের বিষয়ে আলোচনা করছে—অর্থাৎ ইলমুল ইলাল—তার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যের পাশাপাশি এটি একটি হাদিসতাত্ত্বিক সংকলন যা প্রথমবারের মতো আলোর মুখ দেখছে; ইতিপূর্বে এটি এমন এক পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য ছিল যা বিরল সংখ্যক ইলম অন্বেষণকারী ব্যতীত আর কারো নজরে আসত না। সুতরাং এর পুনর্জীবন আমাদের ইসলামী ঐতিহ্যেরই পুনর্জীবন, যা এমন প্রামাণিকতা লাভ করেছে যা এর পূর্ববর্তী কোনো ঐতিহ্যের ভাগ্যে জোটেনি। সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই। অতএব, এই সেই কিতাব, যার শুরুতে কিছু ভূমিকা রয়েছে যাতে এই সংকলনের মূল বিষয় ‘ইলাল’ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
توثيق نسبة الكتاب للخطيب البغدادي - أهمية هذا الكتاب العلمية - ترجمة الخطيب البغدادي - ترجمة رجال إسناد النسخة - إسنادي إلى الخطيب البغدادي بهذا الجزء وغيره من مصنفاته - صور لثلاث ورقات من المخطوط كوصف للنسخة.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وسلم.
المحقق
محمد بن رزق بن طرهوني
1406 هـ
المدينة المنورة
ص. ب: 1783
খাতিব আল-বাগদাদীর প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা - এই কিতাবটির ইলমী গুরুত্ব - খাতিব আল-বাগদাদীর জীবনী - পাণ্ডুলিপির সনদের বর্ণনাকারীদের জীবনী - এই অংশ এবং তাঁর অন্যান্য রচনার ক্ষেত্রে খাতিব আল-বাগদাদী পর্যন্ত আমার সনদ - পাণ্ডুলিপির বর্ণনার স্বরূপ হিসেবে এর তিনটি পৃষ্ঠার আলোকচিত্র।
এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
সম্পাদক
মুহাম্মাদ বিন রিযক বিন তারহুনী
১৪০৬ হিজরি
মদীনা মুনাওয়ারা
পোস্ট বক্স: ১৭৮৩
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
نبذة عن فن العلل الذي هو موضوع هذا المصنفالعلة لغة: المرض، ولها معان أخرى ولكن ما ذكرناه هو الأصل في المعنى الاصطلاحي.
واصطلاحًا: سبب خفي قادح في الحديث وظاهره السلامة منه، ولا تعلق له بالجرح وهو المشهور. وأطلقها بعضهم على ما يتعلق بجرح الراوي، والبعض على ما ليس بقادح في الصحة، ونقل عن الترمذي أنه جعل النسخ علة.
ويصح أن يقال: حديث مُعَلَّل ومُعَل، واختلف في معلول وهو موجود في كلام أكثر الأئمة كالبخاري والترمذي وابن عدي والدارقطني وغيرهم وهو صحيح من جهة اللغة خلافًا لمن كرهه، وهو من قولهم: علَّ الشيء أي أصابته علة. وقد وقع استعماله في قصيدة كعب وصححه بعض أهل اللغة.
أهمية هذا الفن وطرق معرفته:قال ابن مهدي: لأن أعرف علة حديث هو عندي أحب إليَّ من أن أكتب عشرين حديثًا ليست عندي.
وقال الخطيب البغدادي مؤلف كتابنا: السبيل إلى معرفة علة الحديث أن يجمع بين طرقه وينظر في اختلاف رواته وتعتبر بمكانهم من الحفظ ومنزلتهم في الإتقان والضبط.
وقال ابن كثير وهو فن خفي على كثير من علماء الحديث حتى قال بعض حفاظهم: معرفتنا بهذا كهانة عند الجاهل وقال: إنما يهتدي إلى تحقيق هذا الفن الجهابذة النقاد منهم. أ. هـ.
والعلة: إما أن تكون في الإِسناد أو في المتن أو فيهما معًا ولذلك تفاصيل يراجع لها الكتب المذكورة في آخر تلك النبذة.
এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয় ইলমুল ইলাল (ত্রুটি বিদ্যা) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণাআভিধানিকভাবে ইল্লাত অর্থ: রোগ বা ব্যাধি; এর আরও কিছু অর্থ রয়েছে, তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি সেটিই পারিভাষিক অর্থের মূল ভিত্তি।
পারিভাষিক অর্থ: হাদীসের এমন একটি সূক্ষ্ম ও গোপন ত্রুটি যা হাদীসটিকে দুর্বল করে দেয়, যদিও বাহ্যিকভাবে হাদীসটি ত্রুটিমুক্ত বলে মনে হয়। এর সাথে রাবীর 'জারহ' বা সমালোচনা যুক্ত নয়—এটিই প্রসিদ্ধ মত। কেউ কেউ রাবীর 'জারহ' সংশ্লিষ্ট বিষয়কেও ইল্লাত বলেছেন, আবার কেউ কেউ এমন বিষয়কেও ইল্লাত বলেছেন যা হাদীসের বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে না। ইমাম তিরমিযী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'নাসখ' (রহিতকরণ)-কেও ইল্লাত হিসেবে গণ্য করেছেন।
হাদীসকে 'মুআল্লাল' এবং 'মুআল' বলা সঠিক। 'মালুল' শব্দের ব্যবহার নিয়ে মতভেদ থাকলেও এটি অধিকাংশ ইমাম যেমন বুখারী, তিরমিযী, ইবনে আদী, দারাকুতনী ও অন্যান্যদের বক্তব্যে বিদ্যমান। যারা এটি অপছন্দ করেছেন তাদের মতের বিপরীতে ভাষাগত দিক থেকে এটি সঠিক; এটি তাদের ঐ কথা থেকে এসেছে: 'জিনিসটি রোগাক্রান্ত হয়েছে' অর্থাৎ এতে ত্রুটি বা রোগ স্পর্শ করেছে। কাবের কবিতায় এর ব্যবহার পাওয়া যায় এবং কোনো কোনো ভাষাবিদ এটিকে সঠিক বলেছেন।
এই বিদ্যার গুরুত্ব ও এটি জানার উপায়সমূহ:ইবনে মাহদী বলেছেন: "আমার কাছে কোনো একটি হাদীসের ত্রুটি জানতে পারাটা আমার কাছে নেই এমন বিশটি হাদীস লিখে নেওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয়।"
আমাদের এই গ্রন্থের লেখক খতীব বাগদাদী বলেছেন: "হাদীসের ত্রুটি জানার উপায় হলো এর সকল সূত্রকে একত্রিত করা এবং বর্ণনাকারীদের মধ্যকার মতভেদ পর্যবেক্ষণ করা; সেই সাথে তাদের মুখস্থ শক্তির স্তর এবং নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতার মান বিবেচনা করা।"
ইবনে কাসীর বলেছেন: "এটি হাদীস শাস্ত্রের অনেক পণ্ডিতের কাছেও একটি অস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম বিষয়, এমনকি তাদের মধ্যকার কোনো কোনো হাফেজে হাদীস বলেছেন: 'অজ্ঞ ব্যক্তির কাছে আমাদের এই জ্ঞান জ্যোতিষ শাস্ত্র বা গণকগিরির মতো মনে হতে পারে'।" তিনি আরও বলেন: "মুহাদ্দিসদের মধ্যে যারা অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক কেবল তারাই এই বিষয়ের সত্যতা নিরূপণে পথ খুঁজে পান।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আর ইল্লাত বা ত্রুটি কখনও সনদে থাকে, কখনও মূল পাঠে (মতনে), আবার কখনও উভয় ক্ষেত্রেই থাকে। এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য এই নিবন্ধের শেষে উল্লিখিত গ্রন্থগুলো দেখা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
المؤلفات في العلل: كثيرة جدًّا بعضها صنّف خاصًّا بهذا العلم وبعضها أدمج فيها.
فأول من صنف فيها تصنيفًا خاصًّا سفيان بن عيينة من رواية ابن المديني وتبعه جمع من الأئمة منهم يحيى بن سعيد القطان ويحيى بن معين وابن المديني وأحمد بن حنبل والفلاس والبخاري والذهلي ومسلم بن الحجاج ويعقوب بن شيبة وأبو زرعة والترمذي وابن أبي حاتم والحاكم النيسابوري والدارقطني وابن الجوزي وابن عبد الهادي وابن حجر العسقلاني.
وقد طبع عدة كتب في هذا الفن مثل علل ابن المديني وعلل أحمد بن حنبل والعلل الصغير للترمذي مع شرحه لابن رجب الحنبلي وعلل ابن أبي حاتم وعلل الدارقطني ثلاث مجلدات منه.
ولم أقف على أحد أفرد حديثًا بالتصنيف في علله غير كتابنا هذا اللهم إلا مخطوطا للجرجاني في علة الحديث المسلسل في يوم العيد وهو دون كتابنا هذا بمراحل ولذا فكتابنا ذو أهمية خاصة في هذا الباب.
وأجل كتب العلل هو كتاب الدارقطني كما قال ابن كثير.
وأما الكتب التي تضمنت كلامًا في العلل فكثيرة جدًّا ومن أعظمها كتاب الكامل لابن عدي والمحلى لابن حزم وغيرهما كثير (*)
--------------------------------------------
ইল্লাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ক গ্রন্থাবলি: এগুলো সংখ্যায় অনেক। এর মধ্যে কিছু এই বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে রচিত হয়েছে এবং কিছু অন্য বিষয়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই বিষয়ে প্রথম স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা, যা ইবনুল মাদিনীর বর্ণনায় পাওয়া যায়। এরপর একদল ইমাম তাকে অনুসরণ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ইবনুল মাদিনী, আহমাদ ইবনে হাম্বল, আল-ফাল্লাস, আল-বুখারি, আজ-জুহলি, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, ইয়াকুব ইবনে শাইবা, আবু যুরআহ, আত-তিরমিজি, ইবনে আবি হাতিম, আল-হাকিম আন-নিশাপুরি, আদ-দারাকুতনি, ইবনুল জাওজি, ইবনে আব্দুল হাদি এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানি।
এই শাস্ত্রের বেশ কিছু বই মুদ্রিত হয়েছে, যেমন ইবনুল মাদিনীর 'ইলাল', আহমাদ ইবনে হাম্বলের 'ইলাল', ইবনে রজব আল-হাম্বলির ব্যাখ্যাসহ আত-তিরমিজির 'আল-ইলালুস সাগির', ইবনে আবি হাতিমের 'ইলাল' এবং আদ-দারাকুতনির 'ইলাল' গ্রন্থের তিন খণ্ড।
আমাদের এই কিতাবটি ছাড়া আমি আর কাউকে একটি মাত্র হাদিসের ইল্লাল নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করতে দেখিনি; তবে আল-জুরজানির একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে 'ঈদের দিনের মুসালসাল হাদিসের ইল্লাল' বিষয়ে, যা আমাদের এই কিতাবের তুলনায় অনেক ধাপ নিচে। তাই এই ক্ষেত্রে আমাদের কিতাবটি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী।
ইবনে কাসির যেমনটি বলেছেন, ইল্লাল বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আদ-দারাকুতনির কিতাব।
আর যেসব কিতাবে ইল্লাল সম্পর্কে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেগুলো সংখ্যায় অনেক, যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো ইবনে আদির 'আল-কামিল' এবং ইবনে হাজমের 'আল-মুহাল্লা' ও এ জাতীয় আরও অনেক। (*)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
توثيق نسبة الكتاب للخطيب البغداديأولًا: إسناد النسخة إلى الخطيب كما هو على طرة الجزء.
ثانيًا: جميع شيوخ مصنف هذا الجزء من شيوخ الخطيب المعروفين.
ثالثًا: بعض أحاديث الجزء عند الخطيب في تاريخه.
رابعًا: ذكر هذا الكتاب في مؤلفات الخطيب الطحان في رسالته في الدكتوراه التي درس فيها تلك المؤلفات وعنوانها: "الخطيب وأثره في علوم الحديث" فقال:
الكتاب الثامن: حديث الستة من التابعين وذكر طرقه واختلاف وجوهه.
أشهر من ذكره من المصنفين:
1 - شهبة (يعني ابن قاضي شهبة في التاريخ وهو مخطوط).
2 - الذهبي في التذكرة (ولم أجده فيه فلعله وهم في عزوه له).
3 - ابن الجوزي في المنتظم.
4 - ياقوت في معجم الأدباء.
ثم وصف النسخة المخطوطة ولم يذكر عن وجودها سوى نسخة الظاهرية والتي صورت عنها نسختنا هذه (*).
--------------------------------------------
খতিব আল-বাগদাদীর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতাপ্রথমত: পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে যেমনটি উল্লেখ রয়েছে, সেই অনুযায়ী খতিব বাগদাদীর প্রতি পাণ্ডুলিপিটির সনদ বা সূত্রপরম্পরা।
দ্বিতীয়ত: এই অংশের রচয়িতার সকল শিক্ষকই খতিব বাগদাদীর পরিচিত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয়ত: এই অংশের কিছু হাদিস খতিব বাগদাদীর 'তারিখ' (ইতিহাস) গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থত: আত-তাহহান তাঁর পিএইচডি থিসিসে খতিবের রচনাবলির মধ্যে এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি খতিবের গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো: "আল-খতিব ওয়া আসারুহু ফি উলুমিল হাদিস" (খতিব এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর প্রভাব)। সেখানে তিনি বলেন:
অষ্টম গ্রন্থ: তাবেয়ীদের মধ্য থেকে ছয়জন ব্যক্তির বর্ণিত হাদিস এবং এর সূত্রসমূহ ও বিভিন্ন পাঠভেদের বর্ণনা।
গ্রন্থকারদের মধ্যে যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:
১ - শুহবাহ (অর্থাৎ ইবন কাজি শুহবাহ তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে, যা বর্তমানে পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত)।
২ - আয-যাহাবি তাঁর 'তাজকিরাহ' গ্রন্থে (তবে আমি সেখানে এটি খুঁজে পাইনি, সম্ভবত তাঁর প্রতি এটি সম্বন্ধ করাতে কোনো ভ্রম বা ভুল হয়েছে)।
৩ - ইবনুল জাওজি তাঁর 'আল-মুনতাজাম' গ্রন্থে।
৪ - ইয়াকুত তাঁর 'মু'জামুল উদাবা' গ্রন্থে।
অতঃপর তিনি পাণ্ডুলিপির বিবরণ দিয়েছেন এবং জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি ব্যতীত অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেননি, যা থেকে আমাদের এই সংস্করণটি প্রতিলিপি করা হয়েছে (*)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
أهمية هذا الكتاب العلمية- أول كتاب يخرج في الكلام على علل حديث واحد.
- إنه من مصنفات الخطيب البغدادي وهو من هو في علم الحديث ومصطلحه.
- إنه لا يوجد للخطيب كتاب في العلل مستقل على ما أعلم وهذا يسد هذه الثغرة.
- يحوي فائدة عظيمة في أسلوب الرد العلمي ومناقشة العلماء بعضهم لبعض.
- اشتمل على طرق لم تأت في غيره وفوائد تدل على سعة علم الخطيب البغدادي رحمه الله.
- يدل على مدى اعتناء العلماء القدامى بحديث النبي، صلى الله عليه وسلم، وعلو هممهم في الذب عنه وتحقيق القول فيه.
- يدل على أن هذا الاعتناء ليس شاملًا لأحاديث الأحكام فحسب، بل هو في الفضائل وغيرها مما يتساهل فيه الناس، فإن كل الجزء في حديث واحد وهو قل هو الله أحد تعدل ثلث القرآن.
- هذا الجزء يتكلم عن حديث فيه نكتة حديثية عجيبة وهي وجود ستة من التابعين في سند واحد وهو أمر نادر وغريب فاستحق الدراسة.
এই কিতাবটির ইলমী গুরুত্ব- একক কোনো হাদিসের ত্রুটি (ইল্লত) নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এটিই প্রথম প্রকাশিত কিতাব।
- এটি খতিব আল-বাগদাদীর একটি রচনা, আর হাদিস শাস্ত্র এবং হাদিসের পরিভাষা বিজ্ঞানে তাঁর উচ্চমর্যাদা সর্বজনবিদিত।
- আমার জানামতে হাদিসের ত্রুটি (ইল্লত) বিষয়ে খতিব আল-বাগদাদীর স্বতন্ত্র কোনো কিতাব নেই, আর এই কিতাবটি সেই শূন্যস্থান পূরণ করে।
- এতে ইলমী খণ্ডন পদ্ধতি এবং আলেমদের পারস্পরিক আলোচনার শৈলী সম্পর্কে এক মহান উপকারিতা নিহিত রয়েছে।
- এটি এমন সব সূত্র (তুরুক) ও ইলমী ফায়দা অন্তর্ভুক্ত করেছে যা অন্য কোথাও আসেনি এবং যা খতিব আল-বাগদাদী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইলমের ব্যাপকতা প্রমাণ করে।
- এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের প্রতি প্রাচীন আলেমদের গভীর মনোযোগ এবং হাদিসের প্রতিরক্ষা ও এর তাহকিকের ক্ষেত্রে তাঁদের সুউচ্চ সংকল্পের প্রমাণ দেয়।
- এটি প্রমাণ করে যে, এই যত্ন কেবল আহকামের হাদিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ফযিলত এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও ছিল যাতে মানুষ সাধারণত শিথিলতা দেখায়; কেননা এই পুরো পুস্তিকাটি কেবল একটি হাদিসকে কেন্দ্র করে, আর তা হলো— 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
- এই পুস্তিকাটি এমন একটি হাদিস নিয়ে আলোচনা করে যাতে একটি চমৎকার হাদিসতাত্ত্বিক সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে, আর তা হলো একই সনদে ছয়জন তাবেয়ীর উপস্থিতি; এটি একটি বিরল ও বিস্ময়কর বিষয় যা পর্যালোচনার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
ترجمة الخطيب البغداديقد سبق إلى ترجمة ذلك الإمام الجهبذ الكثير والكثير حتى أفرده البعض بمؤلف خاص كالأستاذ يوسف العش في كتابه "الخطيب البغدادي مؤرخ بغداد ومحدثها"، والطحان في رسالته في الدكتوراه "الخطيب وأثره في علوم الحديث" وترجم له العمري في أكثر من سبعين صفحة في كتابه "موارد الخطيب" ولا أظن أنني سآتي بأفضل مما جاء به هؤلاء وخصوصًا في هذه العجالة، ولذا فقد آثرت أن أضيف إلى مكتبة القارئ ترجمة للخطيب من مصدر مخطوط لم ير النور بعد، فأكون قد أديت خدمة لطلاب العلم وأتيت بفائدة هم في حاجة إليها ووقع اختياري على كتاب "مختصر في طبقات علماء الحديث" لابن عبد الهادي، قال رحمه الله:
الخطيب الإمام الحافظ الكبير الأوحد محدث الشام والعراق أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي البغدادي صاحب التصانيف، ولد سنة اثنتين وتسعين وثلاث مائة وعني بهذا الشأن ورحل فيه إلى الأقاليم وأول سماعه في سنة ثلاث وأربعمائة.
سمع أبا الحسن بن الصلت الأهوازي وأبا الحسين بن المتيم وأبا عمر بن مهدي والحسين بن الحسن الجواليقي وابن رزقويه وابن أبي الفوارس وهلالا الحفار وإبراهيم بن مخلد الباقرحي ومن عنده ببغداد ورحل سنة اثنتي عشرة إلى البصرة فسمع أبا عمر القاسم (ابن جعفر الهاشمي راوية السنن وعلي بن القاسم الشاهد والحسن بن علي النيسابوري وسمع بنيسابور أبا القاسم)
(1) عبد الرحمن بن محمد السراج والقاضي أبا بكر الحيري، وبأصبهان
--------------------------------------------
খতিব বাগদাদীর জীবনীসেই প্রাজ্ঞ ইমামের জীবনী ইতিপূর্বে বহুজন লিখে গেছেন, এমনকি কেউ কেউ তাঁকে নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন। যেমন উস্তাদ ইউসুফ আল-ইশ তাঁর "খতিব বাগদাদী: বাগদাদের ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিস" গ্রন্থে, এবং আত-তাহহান তাঁর পিএইচডি গবেষণাপত্র "আল-খতিব এবং হাদিসশাস্ত্রে তাঁর প্রভাব"-এ। আল-উমারি তাঁর "মাওয়ারিদ আল-খতিব" গ্রন্থে সত্তর পৃষ্ঠারও বেশি জুড়ে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। আমি মনে করি না যে, বিশেষত এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমি তাদের চেয়ে উত্তম কিছু উপস্থাপন করতে পারব। তাই আমি পাঠকের পাঠাগারে খতিব বাগদাদীর এমন একটি পাণ্ডুলিপি উৎস থেকে তাঁর জীবনী যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এর মাধ্যমে আমি ইলম অন্বেষণকারীদের একটি খিদমত আঞ্জাম দিতে পারব এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় একটি বিষয়ে উপকৃত করতে পারব। আমি ইবনে আব্দুল হাদি-র "মুখতাসার ফি তাবাকাত উলামা আল-হাদিস" গ্রন্থটি নির্বাচন করেছি। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:
খতিব; তিনি হলেন মহান ও অনন্য ইমাম এবং হাফিজ, শাম ও ইরাকের মুহাদ্দিস, আবু বকর আহমাদ ইবনে আলি ইবনে সাবিত ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদি বাগদাদী; বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ৩৯২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এই শাস্ত্রের (হাদিস) প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেন এবং এর অন্বেষণে বিভিন্ন জনপদে সফর করেন। তাঁর হাদিস শ্রবণের সূচনা হয় ৪০৩ হিজরি সনে।
তিনি আবুল হাসান ইবনে আস-সালত আল-আহওয়াজি, আবুল হুসাইন ইবনুল মুতাইয়াম, আবু উমর ইবনে মাহদি, হুসাইন ইবনুল হাসান আল-জাওয়ালিকি, ইবনে রিজকুওয়াইহি, ইবনে আবিল ফাওয়ারিস, হিলাল আল-হাফফার, ইব্রাহিম ইবনে মাখলাদ আল-বাকিরহি এবং বাগদাদে অবস্থানরত আলেমদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। ৪১২ হিজরি সনে তিনি বসরার উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং সেখানে আবু উমর আল-কাসিম (ইবনে জাফর আল-হাশেমি, যিনি সুনান গ্রন্থের বর্ণনাকারী, আলি ইবনুল কাসিম আশ-শাহিদ এবং হাসান ইবনে আলি আন-নায়সাবুরি)-এর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি নিশাপুরে আবুল কাসিম
(১) আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাররাজ এবং কাযী আবু বকর আল-হিরি-র নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, আর ইসফাহানে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
أبا الحسن بن عبدكويه ومحمد بن عبد الله بن شهريار وأبا نعيم الحافظ، وبالدينور أبانصر الكسار، وبهمذان محمد بن عيسى، وسمع بالكوفة والري والحرمين ودمشق والقدس وصور وغير ذلك وكان قدومه إلى دمشق سنة خمس وأربعين وأربعمائة ثم حج ثم قدم الشام سنة إحدى وخمسين فسكنها إحدى عشرة سنة.
حدث عنه البرقاني أحد شيوخه وأبو الفضل بن خيرون والفقيه نصر المقدسي وأبو عبد الله الحميدي وعبد العزيز الكتاني وأبو نصر بن ماكولا وعبد الله بن أحمد السمرقندي وأبو بكر بن الخاضبة وأبيُّ النرسي وأبو القاسم النسيب وهبة الله بن الأكفاني وعبد الكريم بن حمزة وطاهر بن سهل الإسفرائيني وهبة الله بن عبد الله الشروطي وأبو السعادات أحمد بن أحمد المتوكلي وعبد الرحمن بن محمد الشيباني القزاز وأبو منصور بن خيرون المقرئ وخلق يطول ذكرهم.
وكان من كبار الشافعية تفقه علي أبي الحسن بن المحاملي والقاضي أبي الطيب.
قال ابن النجار: نشأ ببغداد وقرأ القرآن بالروايات وتفقه وعلق شيئًا من الخلاف وآخر من حدث عنه بالسماع محمد بن عمر الأرموي القاضي.
وقال الخطيب: أول ما سمعت في المحرم سنة ثلاث واستشرت البرقاني في الرحلة إلى عبد الرحمن بن النحاس بمصر أو الخروج إلى نيسابور فقال: إن خرجت إلى مصر إنما تخرج إلى رجل واحد فإن فاتك ضاعت رحلتك وإن خرجت إلى نيسابور ففيها جماعة. فخرجت إلى نيسابور وقال ابن ماكولا: كان أبو بكر الخطيب آخر الأعيان ممن شاهدناه معرفة وحفظًا وإتقانًا وضبطًا لحديث رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وتفننا في علله وأسانيده وعلمًا بصحيحه وغريبه وفرده ومنكره ومطروحه ثم قال: ولم يكن للبغداديين بعد الدارقطني مثله
আবুল হাসান বিন আবদুকওয়াহ, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন শাহরিয়ার এবং হাফেজ আবু নুআইম থেকে, দিনাওয়ারে আবু নাসর আল-কাসসার থেকে এবং হামাদানে মুহাম্মদ বিন ঈসা থেকে তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন। এছাড়া তিনি কুফা, রায়, হারামাইন (মক্কা ও মদিনা), দামেস্ক, জেরুজালেম, সূরসহ বিভিন্ন স্থানে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি ৪৪৫ হিজরি সনে দামেস্কে পদার্পণ করেন, এরপর হজ পালন করেন। অতপর ৪৫১ হিজরি সনে শামে আগমন করেন এবং সেখানে এগারো বছর বসবাস করেন।
তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁর অন্যতম উস্তাদ আল-বারকানি, আবুল ফজল বিন খায়রুন, ফকিহ নাসর আল-মাকদিসি, আবু আবদুল্লাহ আল-হুমায়দি, আবদুল আজিজ আল-কাত্তানি, আবু নাসর বিন মাকুলা, আবদুল্লাহ বিন আহমদ আস-সামারকান্দি, আবু বকর বিন আল-খাদিবা, উবাই আন-নারসি, আবুল কাসিম আন-নাসিব, হিবাতুল্লাহ বিন আল-আকফানি, আবদুল কারিম বিন হামজা, তাহির বিন সাহল আল-ইসফারাইনি, হিবাতুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আশ-শুরুতি, আবুস সাআদাত আহমদ বিন আহমদ আল-মুতাওয়াক্কিলি, আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আশ-শাইবানি আল-কাযযায, আবু মানসুর বিন খায়রুন আল-মুকরি এবং আরো অসংখ্য লোক যাদের নাম উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে।
তিনি শাফেয়ী মাযহাবের বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আবুল হাসান বিন আল-মাহামিলি এবং কাজী আবু তাইয়্যিবের নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন।
ইবনুল নাজ্জার বলেন: তিনি বাগদাদে বেড়ে ওঠেন, বিভিন্ন রেওয়ায়েত অনুযায়ী কুরআন পাঠ করেন, ফিকহ অর্জন করেন এবং ইখতিলাফী (মতভেদপূর্ণ) মাসআলা নিয়ে কিছু টীকা রচনা করেন। তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে হাদীস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন কাজী মুহাম্মদ বিন উমর আল-আরমাওয়ি।
আল-খাতীব বলেন: আমি প্রথম হাদীস শোনা শুরু করি ৪০৩ হিজরি সালের মহররম মাসে। আমি বারকানির নিকট মিসরে আবদুর রহমান বিন আন-নাহাসের কাছে ভ্রমণের ব্যাপারে অথবা নিশাপুরে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ চাইলাম। তিনি বললেন: তুমি যদি মিসরে যাও তবে কেবল একজন ব্যক্তির কাছেই যাবে, যদি তাকে হারিয়ে ফেলো (অর্থাৎ তাকে না পাও) তবে তোমার সফর বৃথা যাবে। কিন্তু তুমি যদি নিশাপুরে যাও তবে সেখানে একদল আলেম পাবে। তাই আমি নিশাপুরে গেলাম। ইবনে মাকুলা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের জ্ঞান, হিফজ (স্মরণশক্তি), পারদর্শিতা ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে আবু বকর আল-খাতীব ছিলেন আমাদের দেখা সর্বশেষ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি হাদীসের ইলল (সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও আসানিদ (সনদসমূহ) এবং এর সহীহ, গরীব, ফারদ, মুনকার ও মাতরূহ হাদীস সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। এরপর তিনি বলেন: আদ-দারাকুতনীর পরে বাগদাদবাসীদের মধ্যে তাঁর মতো আর কেউ ছিল না।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وسألت الصوري عن الخطيب وأبي نصر السجزي ففضل الخطيب تفضيلًا بينا.
وقال مؤتمن الساجي: ما أخرجت بغداد بعد الدارقطني مثل الخطيب.
وقال أبو علي البرداني: لعل الخطيب لم ير مثل نفسه. وقال الفقيه أبو إسحاق الشيرازي: أبو بكر الخطيب يشبه بالدارقطني ونظرائه في معرفة الحديث وحفظه. وقال شجاع الذهلي: الخطيب إمام مصنف حافظ لم ندرك مثله. وقال أبو الحسن الهمذاني: مات هذا العلم بوفاة الخطيب وقد كان رئيس الرؤساء تقدم إلى الوعاظ والخطباء ألا يرووا حديثًا حتى يعرضوه على أبي بكر الخطيب وأظهر بعض اليهود كتابًا بإسقاط النبي، صلى الله عليه وسلم، الجزية عن الخيابرة وفيه شهادة الصحابة فعرضه الوزير على أبي بكر فقال: هذا مزور. فقيل له: من أين أنت قلت هذا؟ قال: لأن فيه شهادة معاوية وهو إنما أسلم عام الفتح وفيه شهادة سعد بن معاذ وقد مات قبل خيبر بسنتين.
وقال أبو سعد السمعاني: كان الخطيب مهيبًا وقورًا ثقة متحريًا حجة حسن الخط كثير الضبط فصيحًا ختم به الحفاظ، قال: وقرأ بمكة الصحيح على كريمة في خمسة أيام وخرج من بغداد بعد فتنة البساسيري إلى الشام سمعت الخطيب مسعود بن محمد بمرو سمعت الفضل بن عمر النسوي يقول: كنت بجامع صور عند الخطيب فدخل عليه علوي وفي كمه دنانير فقال: هذا الذهب تصرفه في مهماتك. فقطب، وقال: لا حاجة لي فيه. فقال: كأنك تستقله ونفض كمه على سجادة الخطيب وقال: هي ثلاثمائة دينار. فخجل الخطيب وأخذ سجادته وراح، فما أنسى عز خروجه، وذل العلوي وهو يجمع الدنانير.
وقال أبو زكريا التبريزي: كنت أقرأ على الخطيب بحلقته بجامع دمشق كتب الأدب المسموعة له وكنت أسكن منارة الجامع فصعد إليَّ وقال: أحببت
আমি আস-সুরিকে আল-খতিব এবং আবু নাসর আস-সিজজি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আল-খতিবকে সুস্পষ্টভাবে অগ্রাধিকার দিলেন।
মুতামান আস-সাজি বলেন: আদ-দারাকুতনির পরে বাগদাদ আল-খতিবের মতো আর কাউকে জন্ম দেয়নি।
আবু আলী আল-বারদানি বলেন: সম্ভবত আল-খতিব নিজের মতো কাউকে দেখেননি। ফকিহ আবু ইসহাক আশ-শিরাজি বলেন: হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান এবং তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে আবু বকর আল-খতিব আদ-দারাকুতনি এবং তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সদৃশ। শুজা আদ-দুহলি বলেন: আল-খতিব ছিলেন একজন ইমাম, গ্রন্থকার এবং হাফিজ; আমরা তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। আবু আল-হাসান আল-হামদানি বলেন: আল-খতিবের মৃত্যুর সাথে সাথে এই ইলম মৃত্যুবরণ করেছে। প্রধান প্রধান নেতৃবৃন্দ ওয়াজকারী ও খতিবদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা যেন আবু বকর আল-খতিবকে না দেখানো পর্যন্ত কোনো হাদিস বর্ণনা না করেন। জনৈক ইহুদি একটি কিতাব প্রকাশ করল যাতে দাবি করা হয়েছিল যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারবাসীদের ওপর থেকে জিজিয়া মওকুফ করেছেন এবং তাতে সাহাবীদের সাক্ষ্য ছিল। উজির সেটি আবু বকরের কাছে পেশ করলে তিনি বললেন: এটি জাল। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কেন এ কথা বললেন? তিনি বললেন: কারণ এতে মুয়াবিয়ার সাক্ষ্য রয়েছে, অথচ তিনি মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আর এতে সাদ ইবনে মুআজের সাক্ষ্য রয়েছে, অথচ তিনি খায়বারের দুই বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন।
আবু সাদ আস-সামআনি বলেন: আল-খতিব ছিলেন প্রভাবশালী, গম্ভীর, নির্ভরযোগ্য, সূক্ষ্ম অনুসন্ধানী, প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব, সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং সাবলীল ভাষী; তাঁর মাধ্যমেই হাফিজদের পরম্পরা সমাপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন: তিনি মক্কায় কারিমার কাছে পাঁচ দিনে সহিহ বুখারি পাঠ শেষ করেন এবং আল-বাসাসিরির ফিতনার পর বাগদাদ থেকে সিরিয়া চলে যান। আমি মার্ভে খতিব মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে শুনেছি, তিনি ফজল ইবনে উমর আন-নাসাওয়িকে বলতে শুনেছেন: আমি সোরের জামে মসজিদে আল-খতিবের কাছে ছিলাম, তখন একজন আলউয়ি তাঁর কাছে এলেন যার আস্তিনে অনেক দিনার ছিল। তিনি বললেন: এই স্বর্ণগুলো আপনি আপনার প্রয়োজনে খরচ করুন। তখন তিনি ভ্রু কুঁচকালেন এবং বললেন: এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। সে বলল: মনে হচ্ছে আপনি এটিকে কম মনে করছেন; এই বলে সে তার আস্তিন থেকে আল-খতিবের জায়নামাজের ওপর তা ঝেড়ে ফেলল এবং বলল: এখানে তিনশ দিনার আছে। তখন আল-খতিব লজ্জিত হলেন এবং নিজের জায়নামাজ নিয়ে চলে গেলেন। আমি আল-খতিবের প্রস্থানের সেই সম্মান এবং ওই আলউয়ির দিনার কুড়ানোর লাঞ্ছনা কখনোই ভুলতে পারব না।
আবু জাকারিয়া আত-তিব্রিজি বলেন: আমি দামেস্কের জামে মসজিদে আল-খতিবের মজলিসে তাঁর কাছে সাহিত্যের কিতাবগুলো পাঠ করতাম এবং আমি মসজিদের মিনারায় বসবাস করতাম। একদিন তিনি আমার কাছে উঠে এলেন এবং বললেন: আমি পছন্দ করলাম...
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أن أزورك فتحدثنا ساعة ثم أخرج ورقة وقال: الهدية مستحبة، اشتر بهذه أقلاما، وقام، فإذا خمسة دنانير ثم صعد مرة أخرى ووضع نحوًا من ذلك وكان إذا قرأ الحديث يسمع صوته في آخر الجامع كان يقرأ معربًا صحيحًا.
وقال ابن شافع: خرج الخطيب فقصد صور وبها عز الدولة أحد الأجواد وتقرب منه فانتفع به وأعطاه مالًا كثيرًا انتهى إليه الحفظ والإتقان والقيام بعلوم الحديث.
قال ابن عساكر: سمعت الحسين بن محمد يحدث عن أبي الفضل بن خيرون أو غيره أن الخطيب ذكر أنه لما حج شرب من ماء زمزمٍ ثلاث شربات وسأل الله ثلاث حاجات آخذًا بالحديث (ماء زمزم لما شرب له) فالحاجة الأولى: أن يحدث بتاريخ بغداد بها، والثانية: أن يملي الحديث بجامع المنصور، والثالثة: أن يدفن عند بشر الحافي، فقضى الله له ذلك.
وذكر أبو الفرج الإسفرائيني أن الخطيب كان معهم في الحج فكان يختم كل يوم ثم يجتمع عليه الناس وهو راكب يقولون: حدثنا، فيحدث. وقال عبد المحسن الشيحي: عادلت الخطيب من دمشق إلى بغداد فكان له في كل يوم وليلة ختمة.
وقال السمعاني: سمعت من ستة عشر من أصحابه وله ستة وخمسون مصنفًا ثم سرد أكثرها.
وقد أنشد السلفي لنفسه:
تصانيف ابن ثابت الخطيب
… ألذّ من الصبي الغض الرطيب
يراها إذ رواها من حواها
… رياضا للفتى اليقظ اللبيب
ويأخذ حسن ما قد صاغ منها
… بقلب الحافظ الفطن الأريب
فأية راحة ونعيم عيش
… يوازي كتبها بل أي طيب
وقال أبو محمد بن الأبنوسي: سمعت الخطيب يقول: كل من ذكرت فيه أقاويل الناس من جرح وتعديل فالاعتماد على ما أخرت.
যে আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসব, অতঃপর আমরা কিছুক্ষণ কথা বলব। এরপর তিনি একটি কাগজ বের করলেন এবং বললেন: উপহার মুস্তাহাব, এগুলো দিয়ে কিছু কলম কিনে নিন। অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং দেখা গেল সেখানে পাঁচটি দিনার ছিল। এরপর তিনি পুনরায় উপরে উঠলেন এবং অনুরূপ কিছু রাখলেন। তিনি যখন হাদিস পাঠ করতেন, তখন মসজিদের শেষ প্রান্ত থেকেও তার কণ্ঠ শোনা যেত; তিনি বিশুদ্ধ ব্যাকরণসহ সঠিক উচ্চারণে পাঠ করতেন।
ইবনে শাফে’ বলেন: খতিব বের হলেন এবং টায়ার (সূর) শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সেখানে দানশীল ব্যক্তিদের অন্যতম ইজ্জুদ্দৌলা অবস্থান করছিলেন। তিনি তার সান্নিধ্য লাভ করলেন এবং তার মাধ্যমে উপকৃত হলেন। তিনি তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। তার কাছেই হিফজ (স্মৃতিশক্তি), পরম সতর্কতা এবং হাদিস শাস্ত্রের দায়িত্ব পালনের পূর্ণতা পৌঁছেছিল।
ইবনে আসাকির বলেন: আমি হুসাইন বিন মুহাম্মদকে আবুল ফজল বিন খাইরুন অথবা অন্য কারো সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, খতিব উল্লেখ করেছেন যে তিনি যখন হজ করেছিলেন, তখন তিনি তিন ঢোক জমজমের পানি পান করেছিলেন এবং ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় তা কবুল হয়’ এই হাদিসটি গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে তিনটি প্রার্থনা করেছিলেন। প্রথম প্রার্থনা ছিল: তিনি যেন বাগদাদে ‘তারিখে বাগদাদ’ বর্ণনা করতে পারেন। দ্বিতীয়টি ছিল: তিনি যেন মানসুর জামে মসজিদে হাদিস শ্রুতলিখন করাতে পারেন। এবং তৃতীয়টি ছিল: তাকে যেন বিশর আল-হাফীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। আল্লাহ তার জন্য এসব পূর্ণ করেছিলেন।
আবু আল-ফারাজ আল-ইসফারায়িনি উল্লেখ করেছেন যে, খতিব তাদের সাথে হজে ছিলেন এবং তিনি প্রতিদিন একবার কুরআন খতম করতেন। এরপর তিনি যখন সওয়ারিতে থাকতেন, তখন মানুষ তার চারপাশে সমবেত হতো এবং বলতো: আমাদের হাদিস শুনান, আর তিনি হাদিস বর্ণনা করতেন। আব্দুল মুহসিন আল-শিহি বলেন: আমি দামেস্ক থেকে বাগদাদ পর্যন্ত খতিবের সফরসঙ্গী ছিলাম; তার প্রতিদিন ও রাতে একটি করে খতম ছিল।
সাম’আনি বলেন: আমি তার ষোলজন সঙ্গীর কাছ থেকে শুনেছি এবং তার ছাপ্পান্নটি গ্রন্থ রয়েছে, অতঃপর তিনি সেগুলোর অধিকাংশের তালিকা প্রদান করেন।
সালাফি নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
ইবনে সাবিত খতিবের রচনাবলি
… কোমল ও সতেজ বালকের চেয়েও অধিক প্রীতিকর।
যে ব্যক্তি তা সংগ্রহ করে বর্ণনা করে, সে একে দেখতে পায়
… সচেতন ও বুদ্ধিমান যুবকের জন্য এক উদ্যান হিসেবে।
তিনি যা কিছু রচনা করেছেন তার সৌন্দর্য গ্রহণ করে
… প্রখর মেধা ও বিচক্ষণ মুখস্থকারীর অন্তর দিয়ে।
কোন স্বস্তি এবং জীবনের কোন সুখ
… তার বইগুলোর সমকক্ষ হতে পারে, বরং কোন সুগন্ধিই বা এর তুল্য?
আবু মুহাম্মদ ইবনুল আবনুসি বলেন: আমি খতিবকে বলতে শুনেছি: আমি যাদের ব্যাপারে মানুষের সমালোচনা ও প্রশংসা (জারহ ও তাদিল) উল্লেখ করেছি, সে ক্ষেত্রে আমি শেষে যা উল্লেখ করেছি তার ওপরই নির্ভর করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وقال ابن طاهر: سألت هبة الله بن عبد الوارث الشيرازي: هل كان الخطيب كتصانيفه في الحفظ؟ قال: لا، إذا سألناه عن شيء أجابنا بعد أيام وإن الححنا عليه، غضب كانت له بادرة وحشة.
وقد قيل: إن سبب خروج الخطيب من دمشق إلى صور أنه كان يختلف إليه صبي مليح فتكلم فيه الناس وبلغ ذلك أمير البلد وكان رافضيًا متعصبًا فأمر بقتله فشك منه بعض العلوية وأشار على الأمير بإخراجه من البلد فأمر بذلك فذهب إلى صور وأقام بها مدة.
قال ابن السمعاني: خرج من دمشق في صفر سنة سبع وخمسين فقصد صور وكان يزور منها القدس ويعود إلى أن سافر إلى العراق سنة اثنتين وستين. وقال المؤتمن الساجي: تحاملت الحنابلة على الخطيب حتى مال إلى ما مال إليه.
وقال أبو منصور علي بن علي الأمين: كتب الخطيب إلى القائم: (إني)
(1) إذا مت يكون مالي لبيت المال فليؤذن لي حتى أفرقه على من شئت فأذن له ففرقه على المحدثين.
وقال ابن ناصر: حدثتني أمي أن أبي حدثها قال: دخلت على الخطيب في مرضه فقلت له يومًا يا سيدي إن ابن خيرون لم يعطني من الذهب شيئًا الذي أمرته أن يفرقه على أصحاب الحديث فرفع الخطيب رأسه من المخدة وقال: خذ هذه بارك الله لك فيها. فكان فيها أربعون دينارًا.
وقال مكي الرميلي: مرض الخطيب في رمضان من سنة ثلاث وستين إلى أن اشتد به الحال في أول ذي الحجة ومات يوم سابعه وأوصى إلى أبي الفضل بن خيرون ووقف كتبه على يده وفرق ماله في وجوه البر وشيعه القضاة والخلق وأمهم أبو الحسين بن المهتدي بالله ودفن بجنب بشر الحافي.
قال ابن خيرون: دفن بباب حرب وتصدق بماله وهو مائتا دينار، وأوصى
--------------------------------------------
ইবন তাহির বলেন: আমি হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়ারিস আশ-শিরাজিকে জিজ্ঞাসা করলাম: আল-খতিব কি তার সংকলনসমূহের মতো মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রেও প্রখর ছিলেন? তিনি বললেন: না, যখন আমরা তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম, তিনি কয়েক দিন পর আমাদের উত্তর দিতেন। আর যদি আমরা তাকে পিড়াপীড়ি করতাম, তবে তিনি রাগান্বিত হতেন; তার মধ্যে কিছুটা রূঢ়তা ছিল।
আরও বলা হয়েছে যে: দামেস্ক থেকে সূর শহরে আল-খতিবের চলে যাওয়ার কারণ ছিল এই যে, তার কাছে একজন সুন্দর বালক যাতায়াত করত, ফলে তাকে নিয়ে লোকজন আজেবাজে কথা বলতে শুরু করে। বিষয়টি শহরের আমিরের কাছে পৌঁছায়, আর তিনি ছিলেন একজন গোঁড়া রাফেজি। তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখন জনৈক আলাভী তার প্রতি সমবেদনা বোধ করেন এবং আমিরকে তাকে শহর থেকে বের করে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি (আমির) সেই নির্দেশই দিলেন। ফলে তিনি সূর শহরে চলে যান এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন।
ইবনুল সামআনি বলেন: তিনি চারশত সাতান্ন হিজরি সালের সফর মাসে দামেস্ক ত্যাগ করে সূর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে তিনি কুদস (জেরুজালেম) জিয়ারত করতেন এবং পুনরায় ফিরে আসতেন, যতক্ষণ না চারশত বাষট্টি সালে ইরাক অভিমুখে সফর করেন। মুতামান আস-সাজি বলেন: হাম্বলিগণ আল-খতিবের ওপর কঠোরতা করেছিলেন, যার ফলে তিনি সেই দিকে ঝুঁকে পড়েন যেদিকে তিনি ঝুঁকেছিলেন।
আবু মানসুর আলি বিন আলি আল-আমিন বলেন: আল-খতিব খলিফা আল-কায়িমের কাছে লিখেছিলেন: (নিশ্চয়ই) আমি যখন মারা যাব, আমার সম্পদ বাইতুল মালের অন্তর্ভুক্ত হবে; সুতরাং আমাকে অনুমতি দেওয়া হোক যেন আমি তা যাকে ইচ্ছা তাকে দান করতে পারি। তাকে অনুমতি দেওয়া হলো এবং তিনি তা মুহাদ্দিসগণের মাঝে বণ্টন করে দিলেন।
ইবন নাসির বলেন: আমার মা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা তাকে বলেছেন: আমি আল-খতিবের অসুস্থতার সময় তার কাছে প্রবেশ করলাম এবং একদিন তাকে বললাম, হে আমার সরদার! ইবন খাইরুন আমাকে সেই সোনার কোনো অংশ দেননি যা আপনি তাকে হাদিসের পণ্ডিতদের মাঝে বণ্টন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন আল-খতিব বালিশ থেকে তার মাথা তুললেন এবং বললেন: এটি নাও, আল্লাহ এতে তোমার জন্য বরকত দিন। সেখানে চল্লিশটি দিনার ছিল।
মাক্কি আর-রুমাইলি বলেন: আল-খতিব চারশত তেষট্টি হিজরি সালের রমজান মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জিলহজ মাসের শুরুতে তার অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। তিনি সেই মাসের সাত তারিখ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আবুল ফজল বিন খাইরুনকে অসিয়ত করে যান এবং তার তত্ত্বাবধানে নিজের কিতাবসমূহ ওয়াকফ করেন। তিনি তার সম্পদ জনহিতকর কাজে দান করেন। বিচারকগণ ও সাধারণ মানুষ তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন এবং আবু আল-হুসাইন বিন আল-মুহতাদি বিল্লাহ ইমামতি করেন। তাকে বিশর আল-হাফির পাশে দাফন করা হয়।
ইবন খাইরুন বলেন: তাকে বাব আল-হারব-এ দাফন করা হয়। তিনি তার সম্পদ থেকে সদকা করে গিয়েছিলেন যা ছিল দুইশত দিনার, এবং তিনি অসিয়ত করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أن يتصدق بثيابه وكان بين يدي جنازته جماعة ينادون (هذا الذي كان يذب عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، هذا الذي كان ينفي الكذب على رسول الله، صلى الله عليه وسلم،)
(1) هذا الذي كان يحفظ (حديث)
(1) رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وختم على قبره عدة ختمات.
وقال عبد العزيز الكتاني: ورد كتاب جماعة أن الحافظ أبا بكر مات في سابع ذي الحجة وكان أبو إسحق الشيرازي ممن حمل جنازته.
وقال علي بن الحسين بن جدا: رأيت بعد موت الخطيب كأن شخصًا قائمًا بحذائي فأردت أن أسأله عن الخطيب فقال لي ابتداء: انزل وسط الجنة حيث يتعارف الأبرار.
وقال غيث الأرمنازي: قال مكي الرميلي: كنت ببغداد نائمًا في ليلة ثاني عشر ربيع الأول سنة ثلاث وستين فرأيت كأنا عند الخطيب لقراءة تاريخه على العادة والشيخ نصر بن إبراهيم المقدسي عن يمينه وعن يمين نصر رجل فسألت عنه فقيل: هذا رسول الله، صلى الله عليه وسلم، جاء ليسمع التاريخ فقلت في نفسي: هذه جلالة لأبي بكر.
قال غيث: أنشدنا الخطيب لنفسه:
إن كنت تبغي الرشاد محضًا
… لأمر دنياك والمعاد
فخالف النفس في هواها
… إن الهوى جامع الفساد
(2)هذا ومن أراد الاستفاضة في معرفة هذا الإمام الجليل فيمكنه الرجوع إلى سير أعلام النبلاء 18/ 270 وقد ذكر المحقق في الحاشية عدة مراجع قد ترجمت له منها تذكرة الحفاظ والمستفاد من ذيل تاريخ بغداد والوافي وطبقات السبكي وقد خصصت هذه بالذكر لإِطالتها في ترجمة الإِمام وقد ذكر غيرها فلتراجع هناك.
--------------------------------------------
যেন তিনি তাঁর কাপড়সমূহ সদকা করে দেন। তাঁর জানাজার সামনে একদল লোক উচ্চস্বরে বলছিলেন, "ইনি সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করতেন; ইনি সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর ওপর আরোপিত মিথ্যাচারকে খণ্ডন করতেন;
(১) ইনি সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর (হাদিস)
(১) সংরক্ষণ করতেন।" এবং তাঁর কবরের ওপর কয়েকবার কুরআন খতম সম্পন্ন করা হয়েছিল।
আবদুল আজিজ আল-কাত্তানি বলেন: একদল লোকের পক্ষ থেকে পত্র এসেছে যে, হাফেজ আবু বকর জিলহজ মাসের সাত তারিখে ইন্তেকাল করেছেন এবং আবু ইসহাক আশ-শিরাজি তাঁর জানাজা বহনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে জাদা বলেন: খতিবের মৃত্যুর পর আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন একজন ব্যক্তি আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তাঁকে খতিব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাইলাম, তখন তিনি আমাকে শুরুতেই বললেন: "তিনি জান্নাতের মধ্যস্থলে অবস্থান করছেন যেখানে পুণ্যবানরা একে অপরের সাথে পরিচিত হন।"
গায়স আল-আরমানাজি বলেন: মাক্কি আর-رুমাইলি বলেছেন: আমি ৪৬৩ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ রাতে বাগদাদে ঘুমাচ্ছিলাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমরা প্রথা অনুযায়ী খতিবের নিকট তাঁর 'তারিখ' (ইতিহাস গ্রন্থ) পাঠের জন্য উপস্থিত হয়েছি। শায়খ নাসর ইবনে ইব্রাহিম আল-মাকদিসি তাঁর ডান পাশে ছিলেন এবং নাসরের ডান পাশে একজন লোক ছিলেন। আমি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বলা হলো: ইনি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন), তিনি 'তারিখ' শোনার জন্য এসেছেন। আমি মনে মনে বললাম: এটি আবু বকরের জন্য এক মহান মর্যাদা।
গায়স বলেন: খতিব আমাদের নিকট স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন:
যদি তুমি তোমার দুনিয়া ও পরকালের বিষয়ের জন্য
… বিশুদ্ধ সঠিক পথ অন্বেষণ করো
তবে প্রবৃত্তির কামনার বিরোধিতা করো
… নিশ্চয়ই প্রবৃত্তি হলো সকল অনিষ্টের আধার
(২)এই হলো বিষয়, আর যে ব্যক্তি এই মহান ইমাম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আগ্রহী, সে 'সিয়ারু আলামিন নুবালা'র ১৮/২৭০ পৃষ্ঠায় রুজু করতে পারে। গবেষক টীকায় বেশ কিছু সূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোতে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে, যেমন: 'তাযকিরাতুল হুফফাজ', 'আল-মুস্তাফাদ মিন যাইল তারিখ বাগদাদ', 'আল-ওয়াফি' এবং 'তাবাকাতু আস-সুবকি'। ইমামের জীবনী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার কারণে আমি এগুলোকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি, আর এর বাইরে আরও অন্যান্য সূত্রের নামও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই সেখান থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
إسناد المحقق لهذا الجزءقال أبو الأرقم محمد بن رزق بن طرهوني غفر الله له ولوالديه:
أخبرنا بهذا الجزء وغيره من مؤلفات الخطيب رحمه الله شيخنا العلّامة المنافح عن السنَّة حمود بن عبد الله بن حمود التويجري إجازة عن الشيخ سليمان بن عبد الرحمن الحمدان إجازة عن الشيخ محمد عبد الحي إجازة من طرق منها عن البدر السكري الدمشقي عن الشمس محمد التميمي المصري والوجيه عبد الرحمن الكزبري كليهما عن الشمس محمد الأمير المصري عن السقاط عن ابن سعادة عن أحمد بن الحاج عن أبي البركات عبد القادر الفاسي عن والده علي عن والده يوسف بن محمد الفاسي عن أبي عبد الله محمد بن عبد الرحمن اليسيتيني عن زروق وابن غازي كليهما عن أبي عبد الله القدري عن أبي عبد الله الغساني المكناسي عن القاضي ابن محمد الغماز الخزرجي عن الرضى الطبري عن أبي خير عن عبد العزيز بن سعادة عن أبي عبد الله بن سعادة عن أبي علي الصدفي عن القاضي المحاملي عن الخطيب البغدادي به ولي إليه طرق أخرى وفيما ذكرته كفاية والحمد لله رب العالمين.
এই অংশের জন্য গবেষকের সনদআবু আল-আরকাম মুহাম্মদ বিন রিজক বিন তারহুনী (আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন) বলেন:
আমাদেরকে এই অংশটি এবং খতীব (রহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যান্য রচনাবলী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন আমাদের শায়খ, আল্লামা, সুন্নাহর অতন্দ্র প্রহরী হামুদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামুদ আত-তুওয়াইজিরী—ইজাজতসূত্রে শায়খ সুলাইমান বিন আবদুর রহমান আল-হামদান থেকে, তিনি ইজাজতসূত্রে শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল হাই থেকে, তিনি বিভিন্ন সূত্রে যার মধ্যে অন্যতম হলো: আল-বদর আস-সুককারী আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি আশ-শামস মুহাম্মদ আত-তামীমী আল-মিসরী এবং আল-ওয়াজহ আবদুর রহমান আল-কুযবারী—উভয় থেকে, তাঁরা উভয়ে আশ-শামস মুহাম্মদ আল-আমীর আল-মিসরী থেকে, তিনি আস-সাক্কাত থেকে, তিনি ইবনু সা'আদাহ থেকে, তিনি আহমদ বিন আল-হাজ্জ থেকে, তিনি আবুল বারাকাত আব্দুল কাদির আল-ফাসী থেকে, তিনি তাঁর পিতা আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-ফাসী থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-ইয়াসিতিনী থেকে, তিনি যাররুক ও ইবনু গাজী—উভয় থেকে, তাঁরা উভয়ে আবু আব্দুল্লাহ আল-কাদরী থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-গাসসানী আল-মিকনাসী থেকে, তিনি আল-কাযী ইবনু মুহাম্মদ আল-গাম্মায আল-খাযরাজী থেকে, তিনি আর-রিদা আত-তাবারী থেকে, তিনি আবু খাইর থেকে, তিনি আব্দুল আযীয বিন সা'আদাহ থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ বিন সা'আদাহ থেকে, তিনি আবু আলী আস-সাডাফী থেকে, তিনি আল-কাযী আল-মাহামিলী থেকে, তিনি খতীব আল-বাগদাদী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। উনার নিকট পৌঁছানোর আরও অন্যান্য পথ বা সূত্র আমার কাছে রয়েছে, তবে যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট। সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
صورة الورقة الأولى (ب)
প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র (খ)
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
صورة الورقة الثانية (أ)
দ্বিতীয় পত্রের চিত্র (ক)
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
صورة الورقة الأخيرة (أ)
শেষ পাতার চিত্র (ক)
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ترجمة رجال إسناد النسخة- الصائن هبة الله بن الحسن بن هبة الله بن عبد الله: صائن الدين أبو الحسن الدمشقي الشافعي ابن عساكر أخو الحافظ.
ولد سنة 488 هـ سمع من النسيب علي بن إبراهيم وطبقته وتفقه وبرع وسمع من أبي علي بن المهدي وأبي علي بن نبهان وعدة.
قرأ بالروايات على أبي الوحش وعلى أحمد بن خلف صاحب (المقنع) في القراءات وقرأ الأصول والنحو وسمع الكثير ودرس بالغزالية وحدث بطبقات ابن سعد عرضت عليه خطابة دمشق فامتنع وأبى أن ينوب عن خاله القاضي في الحكم.
حدث عنه أخوه الحافظ ابن عساكر وابن أخيه القاسم وابن أخيه زين الأمناء وأبو القاسم بن صرصري وسيف الدولة محمد بن غسان ومكرم بن أبي الصقر والمفتي فخر الدين بن عساكر وجماعة، توفي في شعبان سنة 563 هـ.
وكتب بخطه من العلم شيئًا كثيرًا، قال السبكي: وكان إمامًا ثقة ثبتا دينًا ورعًا.
(سير أعلام النبلاء 20/ 495، طبقات الشافعية 4/ 321).
- محمد بن علي بن محمد بن أحمد بن أبي العلاء السلمي المصيصي ثم الدمشقي أبو عبد الله، ترجم له الحافظ ابن عساكر أخو تلميذه المذكور سابقًا فقال:
"محمد بن علي بن محمد بن علي بن أحمد أبو عبد الله بن أبي القاسم بن أبي العلاء المعدل سمع أباه وأبا بكر الخطيب وأبا القاسم السميساطي وعبد الدائم بن الحسن وعبد العزيز الكتاني وأبا الحسين مكي المصري وأبا القاسم الحنائي وأبا الحسن بن أبي الحديد وأبا علي الحسين بن أحمد بن المظفر بن أبي حريصة وأبا نصر بن طلاب وعبد الجليل بن عبد الجبار المروزي
পাণ্ডুলিপির সনদভুক্ত ব্যক্তিদের পরিচিতি- আস-সায়িন হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ: সায়িনুদ্দীন আবুল হাসান আদ-দিমাশকী আশ-শাফেয়ী ইবনু আসাকির, তিনি হাফিজ (ইবনু আসাকির)-এর ভাই।
তিনি ৪৮৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আন-নাসীব আলী বিন ইব্রাহীম ও তার সমসাময়িকদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে বুৎপত্তি ও পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি আবু আলী বিন আল-মাহদী, আবু আলী বিন নাবহান এবং আরও অনেকের নিকট শ্রবণ করেছেন।
তিনি আবুল ওয়াহশ এবং ক্বিরাআত বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-মুক্বনি' এর লেখক আহমাদ বিন খালাফের নিকট বিভিন্ন বর্ণনা অনুসারে ক্বিরাআত পড়েছেন। তিনি উসূল (মূলনীতি) ও নাহু (ব্যাকরণ) পড়েছেন এবং প্রচুর ইলম শ্রবণ করেছেন। তিনি আল-গাজালিয়া মাদরাসায় পাঠদান করেছেন এবং ইবনু সা'দ-এর 'তাবাক্বাত' বর্ণনা করেছেন। তাকে দামেশকের খতিব হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং তার মামা বিচারকের (কাজী) প্রতিনিধি হিসেবে বিচারকার্য পরিচালনা করতেও অস্বীকার করেন।
তার নিকট থেকে তার ভাই হাফিজ ইবনু আসাকির, তার ভ্রাতুষ্পুত্র আল-কাসিম, তার অন্য ভ্রাতুষ্পুত্র যয়নুল উমানা, আবুল কাসিম বিন সরসরী, সাইফুদ্দৌলা মুহাম্মাদ বিন গাসসান, মুকরম বিন আবিল সাকর, মুফতি ফখরুদ্দীন ইবনু আসাকির এবং একটি দল বর্ণনা করেছেন। তিনি ৫৬৩ হিজরির শা'বান মাসে ইন্তেকাল করেন।
তিনি নিজ হাতে ইলমের অনেক কিছু লিপিবদ্ধ করেছেন। ইমাম সুবকী বলেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ধর্মপ্রাণ ও পরহেজগার।
(সিয়ারু আলামিন নুবালা ২০/ ৪৯৫, তাবাক্বাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ৪/ ৩২১)।
- মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবিল আলা আস-সুলামী আল-মাসিসী, অতঃপর আদ-দিমাশকী আবু আব্দুল্লাহ। হাফিজ ইবনু আসাকির (যিনি পূর্বে উল্লিখিত তার ছাত্রের ভাই) তার জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন:
"মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আহমাদ আবু আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন আবিল আলা আল-মুআদ্দিল। তিনি তার পিতা, আবু বকর আল-খাতিব, আবু কাসিম আস-সুমাইসাতি, আব্দুল দায়িম বিন আল-হাসান, আব্দুল আজিজ আল-কাত্তানী, আবু হুসাইন মাক্কী আল-মিসরী, আবু কাসিম আল-হান্নায়ী, আবুল হাসান বিন আবিল হাদীদ, আবু আলী আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন আল-মুজাফফর বিন আবু হারীসাহ, আবু নাসর বিন তুল্লাব এবং আব্দুল জলিল বিন আব্দুল জাব্বার আল-মারওয়াযীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ونصر بن إبراهيم المقدسي وحدث بقطعة من كتب الخطيب، سمعت منه شيئًا يسيرًا وكان ثقة".
ثم روى له حديثًا وأثرًا عنه عن الخطيب بسنده ثم قال: سئل أبو عبد الله عن مولده فقال: ليلة الأربعاء لثلاث خلون من ذي الحجة من سنة خمس وأربعين وأربعمائة وتوفي يوم الأحد الرابع والعشرين من شهر رمضان سنة ست عشرة وخمسمائة قبل صلاة الظهر ودفن من يومه بعد صلاة العصر بباب الفراديس وحضرت دفنه والصلاة. (انظر تاريخ دمشق ق 385/ أ / 15).
هذا وقد وصفه تلميذه الشيخ الصائن أخو الحافظ ابن عساكر بقوله: الشيخ الأمين وترضى عنه.
وقد تربى الشيخ أبو عبد الله السلمي في بيت العلم وترعرع في كنفه فوالده هو الإمام الفقيه المفتي مسند دمشق الشافعي الفرضي أبو القاسم بن أبي العلاء وكان فقيهًا ثقة. ولما توفي والده تولى أبو عبد الله الصلاة عليه في حضرة العلماء الأكابر.
(انظر: سير أعلام النبلاء 19/ 12، طبقات الشافعية 4/ 3، الشذرات 3/ 381، العبر 2/ 355، تاريخ دمشق ق 265/ أ / 12).
...এবং নাসর বিন ইবরাহীম আল-মাকদিসী; তিনি আল-খাতীবের কিতাবসমূহের কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁর থেকে সামান্য কিছু শুনেছি এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন।
অতঃপর তিনি তাঁর সূত্রে আল-খাতীব থেকে একটি হাদীস ও একটি আসার বর্ণনা করেন, এরপর বলেন: আবু আব্দুল্লাহকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: চারশত পঁয়তাল্লিশ হিজরী সনের যিলহজ মাসের তিন তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার রাতে। তিনি পাঁচশত ষোল হিজরী সনের চব্বিশে রমজান রবিবার যোহরের সালাতের পূর্বে ইন্তেকাল করেন এবং সেই দিনই আসরের সালাতের পর বাবুল ফারাউদীসে তাঁকে দাফন করা হয়। আমি তাঁর জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলাম। (দেখুন: তারিখু দামিশক ৩৮৫/ আলিফ / ১৫)।
তাঁর ছাত্র শায়খ আস-সায়িন—যিনি হাফেয ইবনে আসাকিরের ভাই—তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "তিনি বিশ্বস্ত শায়খ" এবং তিনি তাঁর জন্য সন্তুষ্টির দুআ করেছেন।
শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আস-সুলামী একটি ইলমী পরিবারে লালিত-পালিত ও বড় হয়েছেন। তাঁর পিতা ছিলেন ইমাম, ফকীহ, মুফতী, দামিশকের মুসনিদ, শাফেয়ী ও ফারায়েয শাস্ত্রবিদ আবু কাসিম বিন আবিল আলা; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ফকীহ ছিলেন। যখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, তখন প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে আবু আব্দুল্লাহ তাঁর জানাজার সালাতে ইমামতি করেন।
(দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১৯/ ১২, তাবাকাতুশ শাফিইয়াহ ৪/ ৩, আশ-শাযারাত ৩/ ৩৮১, আল-ইবার ২/ ৩৫৫, তারিখু দামিশক ২৬৫/ আলিফ / ১২)।
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
جزء فيه حديث الستة من التابعين وذكر طرقه واختلاف وجوهه
تصنيف الشيخ الإِمام الحافظ
أبي بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي
رضي الله عنه
به عنه
الشيخ الأمين أبو عبد الله محمد بن علي بن محمد بن علي السلمي المصيصي
رضي الله عنه
سماع
لهبة الله بن الحسن بن هبة الله بن عبد الله بن الحسين الشافعي
نفعه الله بالعلم
তাবেয়ীগণের মধ্য হতে ছয়জন বর্ণিত একটি হাদিস এবং এর সনদসমূহ ও বর্ণনার বিভিন্নতা সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা
শায়খ, ইমাম, হাফিজের সংকলন
আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদী
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন
তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন
নির্ভরযোগ্য শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আস-সুলামী আল-মাসিসী
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন
শ্রবণ করেছেন
হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আশ-শাফেয়ী
আল্লাহ তাঁকে ইলমের দ্বারা উপকৃত করুন
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب أعن برحمتك
الشيخ الأمين أبو عبد الله محمد بن علي بن أبي العلاء رضي الله عنه قال حدثنا الشيخ الإمام الحافظ أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي رضي الله عنه في سلخ جمادى الآخرة من سنة اثنتين وخمسين وأربعمائة قال:
ذكر حديث رواه معاذ بن معاذ العنبري عن شعبة بن الحجاج فأنكره يحيى بن معين وبيان علته واختلاف وجوهه.
1 - أخبرنا أبو علي الحسن بن أبي بكر بن شاذان أبنا أبو الحسن أحمد بن إسحق بن نيخاب الطيبي ثنا محمد بن أيوب بن يحيى بن الضريس ثنا عبيد الله بن معاذ العنبري ح وأخبرنا أبو الحسن طاهر بن عبد العزيز بن
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে রব, আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য করুন।
বিশ্বস্ত শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবুল আলা (রাজিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়খ, ইমাম, হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি (রাজিয়াল্লাহু আনহু), চারশত বাহান্ন হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসের শেষে, তিনি বলেন:
মুয়ায বিন মুয়ায আল-আনবারি কর্তৃক শুবা বিন আল-হাজ্জাজ থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের আলোচনা, যা ইয়াহইয়া বিন মায়িন অস্বীকার করেছেন, এবং এর ত্রুটি ও বর্ণনার বিভিন্ন দিকগুলোর স্পষ্টিকরণ।
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আবি বকর বিন শাযান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আহমদ বিন ইসহাক বিন নিখাব আত-তিয়বি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন ইয়াহইয়া বিন আদ-দুরাইস, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন মুয়ায আল-আনবারি (হা) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান তাহির বিন আব্দুল আজিজ বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
عيسى الدعاء ثنا إسحق بن سعد بن الحسن بن سفيان البسوي ثنا جدي ثنا عبيد الله بن معاذ ثنا أبي ثنا شعبة عن علي بن مدرك عن إبراهيم النخعي عن ربيع بن خثيم عن ابن مسعود قال: قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم: أيعجز أحدكم أن يقرأ كل ليلة بثلث القرآن؟ قالوا: ومن يطيق ذلك؟ قال: بلى. قل هو الله أحد. واللفظ لحديث ابن شاذان.
--------------------------------------------
ঈসা আদ-দুআ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে সাদ ইবনে হাসান ইবনে সুফিয়ান আল-বাসাউয়ি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুয়াজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি আলী ইবনে মুদরিক থেকে, তিনি ইব্রাহিম আন-নাখায়ি থেকে, তিনি রাবি ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ কি প্রতি রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করতে অক্ষম?" তারা বললেন: "কার পক্ষে তা সম্ভব?" তিনি বললেন: "কেন নয়, অবশ্যই সম্ভব। (তা হলো সূরা) কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।" আর শব্দাবলি ইবনে শাযানের হাদিস অনুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
2 - أخبرنا القاضي أبو العلاء محمد بن علي الواسطي أبنا أبو مسلم بن مهران أبنا عبد المؤمن بن خلف النسفي ثنا أبو علي صالح بن محمد ثنا عبيد الله بن معاذ أبنا أبي عن شعبة عن علي بن مدرك عن إبراهيم النخعي عن الربيع بن خثيم عن عبد الله بن مسعود عن النبي، صلى الله عليه وسلم، قال: أيعجز أحدكم أن يقرأ ثلث القرآن كل ليلة قالوا: ومن يطيق ذاك قال: قل هو الله أحد.
قال عبد المؤمن: سمعت أبا علي يقول هذا غلط، وسمعت يحيى بن معين - وسئل عنه - فقال: خطأ، والصواب حديث الربيع بن خثيم عن عمرو بن ميمون عن ابن أبي ليلى عن امرأة من الأنصار عن أبي أيوب.
--------------------------------------------
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাজী আবু আল-আলা মুহাম্মদ বিন আলী আল-ওয়াসিতী, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আবু মুসলিম বিন মিহরান, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আন-নাসাফী, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আলী সালিহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন মুয়ায, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আমার পিতা, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আলী বিন মুদরিক থেকে, তিনি ইব্রাহীম আল-নাখায়ী থেকে, তিনি আর-রাবী বিন খুশাইম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ কি প্রতি রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করতে অপারগ?" তারা বললেন: "কার সেই সামর্থ্য আছে?" তিনি বললেন: "(সূরা) কুল হুয়াল্লাহু আহাদ (অর্থাৎ সূরা ইখলাস)।"
আব্দুল মুমিন বলেন: আমি আবু আলীকে বলতে শুনেছি যে, এটি ভুল। আর আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি, তিনি বললেন: এটি ভুল; বরং সঠিক হলো আর-রাবী বিন খুশাইমের হাদীসটি, যা তিনি আমর বিন মাইমুন থেকে, তিনি ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি আনসারী জনৈক নারী থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
3 - أخبرني أبو الفضل عبيد الله بن أحمد بن علي الفزاري أبنا عبد الرحمن بن عمر الخلال ثنا محمد بن أحمد بن يعقوب بن شيبة ثنا جدي حدثني أحمد بن العباس قال: قال أبو زكريا يحيى بن معين: حدث معاذ بن معاذ بحديث ما له أصل ولا رواه شعبة! فقال رجل: أي شيء هو؟
--------------------------------------------
৩ - আমাকে আবু আল-ফজল উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আলী আল-ফাজারি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন উমর আল-খাল্লাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াকুব বিন শাইবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আল-আব্বাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেছেন: মুআয বিন মুআয এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যার কোনো ভিত্তি নেই এবং শু'বাহ এটি বর্ণনা করেননি! তখন এক লোক বলল: সেটি কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
فقال: ما تصنع به؟ قال: نعرفه. قال: حدث عن شعبة عن علي بن مدرك عن إبراهيم - قال أحمد بن العباس: عن علقمة عن عبد الله، قال جدي: وأرى أحمد بن العباس وهم فيه جعل مكان الربيع بن خثيم علقمة
(1) في حكايته عن يحيى بن معين - عن عبد الله عن النبي، صلى الله عليه وسلم، قال: قل هو الله أحد تعدل ثلث القرآن. قال ابن معين: وكان في أصل كتاب معاذ وليس بشيء ولم يسمعه منه أحد
(2) ولا حدث به أحد إلا عبيد الله وهو صحيح في كتابه وليس بشيء.
قال جدي: وهكذا رواه عبيد الله بن معاذ عن أبيه عن شعبة عن علي بن مدرك عن إبراهيم عن الربيع بن خثيم عن عبد الله عن النبي، صلى الله عليه وسلم، وهذا إسناد صحيح ولا أعلم أحدًا رواه عن شعبة، من ها هنا أنكره يحيى وقد بلغني أن أبا بحر البكراوي
(3) قد رواه عن شعبة فإن كان هذا صحيحًا فالحديث صحيح غريب
(4).
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আপনি এটি দিয়ে কী করবেন? তিনি বললেন: আমরা এটি জানব। তিনি বললেন: শুবা থেকে বর্ণিত, তিনি আলী ইবনে মুদরিক থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে—আহমদ ইবনুল আব্বাস বললেন: আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। আমার দাদা বললেন: আমার মনে হয় আহমদ ইবনুল আব্বাস ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত তার বর্ণনায় ভুল করেছেন; তিনি রবি ইবনে খুসাইম-এর স্থলে আলকামাকে
(১) বসিয়ে দিয়েছেন—তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "বলুন, তিনি আল্লাহ এক (সুরা ইখলাস) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।" ইবনে মাঈন বলেন: এটি মুয়াজের মূল কিতাবে ছিল, কিন্তু এটি ধর্তব্য নয় এবং তাঁর থেকে কেউ এটি শোনেনি
(২) আর উবায়দুল্লাহ ছাড়া কেউ এটি বর্ণনাও করেনি; আর এটি তাঁর কিতাবে সহিহ হিসেবে থাকলেও মূলত ধর্তব্য নয়।
আমার দাদা বলেন: এভাবেই উবায়দুল্লাহ ইবনে মুয়াজ তাঁর পিতা থেকে, তিনি শুবা থেকে, তিনি আলী ইবনে মুদরিক থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি রবি ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি সহিহ, তবে শুবা থেকে আর কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই; এ কারণেই ইয়াহইয়া এটি অস্বীকার করেছেন। তবে আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, আবু বাহর আল-বাকরাবি
(৩) এটি শুবা থেকে বর্ণনা করেছেন। যদি এটি সঠিক হয়, তবে হাদিসটি সহিহ ও গরিব (বিরল)
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وقد روي هذا الحديث من غير وجه فاختلف فيه.
رواه منصور بن المعتمر
(1) وهو من أثبت أهل الكوفة عن هلال بن يساف عن الربيع بن خثيم عن عمرو بن ميمون عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن امرأة من الأنصار عن أبي أيوب الأنصاري عن النبي، صلى الله عليه وسلم، وهذا عندنا هو الصحيح ولا نعلمه روي حديث أطول إسنادًا منه
(2).
ورواه أبو حذيفة عن سفيان الثوري عن إسماعيل بن أبي خالد عن هلال بن يساف فجعله عن ابن مسعود عن النبي، صلى الله عليه وسلم، وهذا أيضًا فيما نرى خطأ
(3) لأن أبا نعيم الفضل بن دكين رواه عن الثوري عن إسماعيل بن أبي خالد عن هلال بن يساف عن أبي مسعود الأنصاري قال: من قرأ قل يا أيها الكافرون في ليلة فقد أكثر وأطيب.
وهكذا رواه يعلى بن عبيد وعبد الله بن نمير عن إسماعيل بن أبي خالد كما رواه أبو نعيم عن الثوري ولا أحسب الحديث الذي رواه أبو حذيفة عن الثوري إلا هذا الذي رواه أبو نعيم ويعلى وابن نمير
(4).
--------------------------------------------
এই হাদিসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ফলে এতে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।
এটি বর্ণনা করেছেন মানসুর বিন আল-মুতামির
(১)—যিনি কুফাবাসীদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য রাবী—হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে, তিনি রাবী ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি একজন আনসারি মহিলা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারি থেকে, আর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। আমাদের নিকট এটিই সঠিক, এবং আমাদের জানামতে এর চেয়ে দীর্ঘতর কোনো সনদ সংবলিত হাদিস বর্ণিত হয়নি
(২)।
আবু হুজাইফা এটি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে; তবে তিনি একে ইবনে মাসউদ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমাদের মতে এটিও একটি ভুল
(৩); কারণ আবু নুয়াইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন এটি সাওরি থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে, তিনি আবু মাসউদ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবু মাসউদ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এক রাতে 'কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন' পাঠ করল, সে অনেক বেশি এবং উত্তম কাজ করল।"
একইভাবে ইয়ালা ইবনে উবাইদ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর এটি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে আবু নুয়াইম সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি মনে করি আবু হুজাইফা সাওরি থেকে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, সেটি আবু নুয়াইম, ইয়ালা ও ইবনে নুমাইরের বর্ণিত এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কিছু নয়
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وروى هذا الحديث أيضًا شريك
(1) عن أبي إسحق عن عمرو بن ميمون عن عبد الله بن مسعود عن النبي، صلى الله عليه وسلم، في قراءة قل هو الله أحد تعدل ثلث القرآن.
وخالفه شعبة
(2) فرواه عن أبي قيس عن عمرو بن ميمون عن أبي مسعود الأنصاري عن النبي، صلى الله عليه وسلم.
وحديث شعبة هذا أصح من حديث شريك لأن إسماعيل بن أبي خالد قد سلك بإسناد الحديث هذا الطريق عن أبي مسعود لا عن ابن مسعود وإن كان قد خالفه في اللفظ
(3) غير أن حمادًا قد رواه عن عاصم عن زر عن ابن مسعود موقوفًا.
انتهى كلام يعقوب بن شيبة.
قال الشيخ أبو بكر: أما حديث معاذ بن معاذ عن شعبة عن علي بن مدرك فقد تابع معاذًا على روايته أبو بحر البكراوي
(4) كما ذكر يعقوب أنه بلغه وعثمان بن محمد النشيطي
(5).
وأما حديث منصور بن المعتمر عن هلال بن يساف فقد اختلف فيه على منصور فرواه زائدة بن قدامة الثقفي وفضيل بن عياض كلاهما عن منصور عن هلال عن الربيع بن خثيم عن عمرو بن ميمون
(6).
--------------------------------------------
এই হাদীসটি শারীকও
(১) আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস) পাঠ করা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।
শু'বাহ
(২) তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটি আবু কাইস থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি আবু মাসউদ আনসারী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
শু'বাহর এই হাদীসটি শারীকের হাদীসের চেয়ে বেশি সহীহ (বিশুদ্ধ), কারণ ইসমাঈল ইবনে আবু খালিদ এই হাদীসের সনদে আবু মাসউদের পথ অনুসরণ করেছেন, ইবনে মাসউদের পথ নয়; যদিও তিনি শব্দের ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করেছেন
(৩)। তবে হাম্মাদ এটি আসিম থেকে, তিনি যির থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইয়াকুব ইবনে শায়বার কথা এখানেই সমাপ্ত।
শায়খ আবু বকর বলেন: শু'বাহ থেকে মুয়ায ইবনে মুয়াযের বর্ণনা এবং আলী ইবনে মুদরিকের সূত্রে যে হাদীসটি রয়েছে, তাতে আবু বাহর আল-বাকরাভী
(৪) মুয়াযের বর্ণনাকে সমর্থন করেছেন, যেমনটি ইয়াকুব উল্লেখ করেছেন যে এটি তাঁর কাছে পৌঁছেছে, এবং উসমান ইবনে মুহাম্মদ আল-নাশীতীও
(৫)।
আর হিলাল ইবনে ইয়াসাফের সূত্রে মানসুর ইবনুল মু'তামিরের হাদীসটির ব্যাপারে মানসুরের ওপর মতভেদ হয়েছে। যায়িদাহ ইবনে কুদামাহ আস-সাকাফী এবং ফুদাইল ইবনে আইয়াদ উভয়ই এটি মানসুর থেকে, তিনি হিলাল থেকে, তিনি রাবী ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন
(৬) থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وبعض الرواة عن فضيل قدم في الإسناد عمرًا على الربيع فقال عن هلال بن يساف عن عمرو بن ميمون عن الربيع بن خثيم وأرسله فلم يذكر أبا أيوب فيه
(1) والصواب عن الربيع عن عمرو عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن امرأة من الأنصار عن أبي أيوب عن النبي، صلى الله عليه وسلم.
وذكر يعقوب بن شيبة أنه أطول إسناد روي والأمر على ذلك فقد اجتمع فيه ستة من التابعين بعضهم عن بعض:
فأولهم: منصور بن المعتمر له من الصحابة عبد الله بن أبي أوفى الأسلمي.
والثاني: هلال بن يساف أدرك علي بن أبي طالب وسمع أبا مسعود عقبة بن عمرو الأنصاري.
والثالث: الربيع بن خثيم من كبار أصحاب عبد الله بن مسعود.
والرابع: عمرو بن ميمون الأودي أدرك الجاهلية ثم أسلم وسمع عمر بن الخطاب وعبد الله بن مسعود ومعاذ بن جبل.
والخامس: عبد الرحمن بن أبي ليلى سمع عثمان بن عفان وعلي بن أبي طالب.
والسادس: الامرأة الأنصارية التي لم تسم
(2).
--------------------------------------------
ফুদাইল থেকে বর্ণনা করা কিছু রাবী সনদে আমরকে রাবীরের আগে উল্লেখ করেছেন; তাই তারা বলেছেন: হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি রাবী ইবনে খুসাইম থেকে। তিনি এটাকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবু আইয়ুবের কথা উল্লেখ করেননি।
(১) আর সঠিক হলো: রাবী থেকে, তিনি আমর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লাইলা থেকে, তিনি একজন আনসারী নারী থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ উল্লেখ করেছেন যে, এটি বর্ণিত দীর্ঘতম সনদ এবং বিষয়টি তেমনই; কেননা এতে ছয়জন তাবিঈ একে অপরের থেকে বর্ণনা করার মাধ্যমে একত্রিত হয়েছেন:
তাঁদের প্রথমজন: মানসুর ইবনুল মুতামির, যিনি সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা আল-আসলামী থেকে বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়জন: হিলাল ইবনে ইয়াসাফ, তিনি আলী ইবনে আবি তালিবকে পেয়েছেন এবং আবু মাসউদ উকবাহ ইবনে আমর আল-আনসারী থেকে শুনেছেন।
তৃতীয়জন: রাবী ইবনে খুসাইম, যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের বরিষ্ঠ সাথীদের অন্তর্ভুক্ত।
চতুর্থজন: আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদী, তিনি জাহেলিয়াতের যুগ পেয়েছেন এবং এরপর ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে শুনেছেন।
পঞ্চমজন: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লাইলা, তিনি উসমান ইবনে আফফান ও আলী ইবনে আবি তালিব থেকে শুনেছেন।
ষষ্ঠজন: সেই আনসারী নারী যার নাম উল্লেখ করা হয়নি
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وخالف شعبة بن الحجاج زائدة وفضيلًا في رواية هذا الحديث فرواه عن منصور عن هلال بن يساف عن الربيع بن خثيم عن عمرو بن ميمون عن امرأة عن أبي أيوب.
نقص من إسناده عبد الرحمن بن أبي ليلى كذلك رواه عن شعبة عبد الصمد بن عبد الوارث ومحمد بن جعفر غندر
(1). غير أن بعض الرواة
(2) عن غندر نقص من إسناده رجلين ابن أبي ليلى وعمرو بن ميمون وقال: عن الربيع بن خثيم عن امرأة عن أبي أيوب.
ورواه سعيد بن مسروق والد سفيان عن منذر الثوري عن الربيع بن خثيم عن أبي أيوب ليس بينهما أحد
(3).
وروى هذا الحديث حصين بن عبد الرحمن السلمي عن هلال بن يساف خلاف رواية منصور عنه.
رواه عن هلال عن عبد الرحمن بن أبي ليلى ليس بينهما أحد عن أبي بن كعب أو رجل من الأنصار عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم،
(4).
--------------------------------------------
শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এই হাদীসের বর্ণনায় যায়িদাহ ও ফুযাইল-এর বিরোধিতা করেছেন। তিনি এটি মানসুর থেকে, তিনি হিলাল ইবনু ইয়াসাফ থেকে, তিনি রাবী ইবনু খুসাইম থেকে, তিনি আমর ইবনু মাইমুন থেকে, তিনি জনৈকা নারী থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি এর সনদ থেকে আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লাকে বাদ দিয়েছেন। একইভাবে শু’বাহ থেকে এটি আবদুস সামাদ ইবনু আবদিল ওয়ারিস এবং মুহাম্মদ ইবনু জা’ফর গুন্দার
(১) বর্ণনা করেছেন। তবে গুন্দার থেকে বর্ণিত কিছু বর্ণনাকারী
(২) এর সনদ থেকে দুইজন ব্যক্তিকে বাদ দিয়েছেন—ইবনু আবী লায়লা ও আমর ইবনু মাইমুন। তাঁরা বলেছেন: রাবী ইবনু খুসাইম থেকে, তিনি জনৈকা নারী থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে।
আর সুফিয়ানের পিতা সাঈদ ইবনু মাসরুক এটি মুনযির আস-সাওরী থেকে, তিনি রাবী ইবনু খুসাইম থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মাঝে অন্য কেউ নেই
(৩)।
হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান আস-সুলামী এই হাদীসটি হিলাল ইবনু ইয়াসাফ থেকে বর্ণনা করেছেন, যা হিলাল থেকে মানসুরের বর্ণনার বিপরীত।
তিনি এটি হিলাল থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা থেকে (তাঁদের মাঝে অন্য কেউ নেই), তিনি উবাই ইবনু কা’ব অথবা আনসারদের একজন ব্যক্তি থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাদিসুস সিত্তাতু মিনাত তাবিয়ীন ওয়া জিকরু তুরুকিহি ওয়াখতিলাফু উজুহিহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
ورواه عامر الشعبي عن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن أبي أيوب الأنصاري عن النبي، صلى الله عليه وسلم،
(1) وأما حديث أبي نعيم الذي ذكر يعقوب بن شيبة أنه رواه عن سفيان الثوري عن إسماعيل بن أبي خالد عن هلال بن يساف عن أبي مسعود فقد تابعه على روايته ووافقه في إسناده محمد بن كثير العبدي فرواه عن سفيان وكذلك رواه عبد العزيز بن مسلم القسملي بموافقة يعلى بن عبيد الطنافسي وعبد الله بن نمير الحارفي عن إسماعيل بن أبي خالد عن هلال بن يساف عن أبي مسعود الأنصاري
(2).
وأما حديث أبي قيس الذي ذكر يعقوب أن شعبة رواه عنه عن عمرو بن ميمون عن أبي مسعود فقد وافق شعبة على روايته عن أبي قيس كذلك مسعر بن كدام الهلالي وسفيان بن سعيد الثوري
(3).
ورواه عن الثوري جماعة من أصحابه
(4) عن أبي قيس.
وخالفهم عبد الصمد بن حسان فرواه عن سفيان عن أبي إسحق عن عمرو بن ميمون عن أبي مسعود وقول الجماعة أولى بالصواب والله أعلم
(5)--------------------------------------------
এবং এটি বর্ণনা করেছেন আমির আশ-শাবি, আব্দুর রহমান ইবন আবি লাইলা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
(১) আর আবু নুআইমের হাদিসটি সম্পর্কে ইয়াকুব ইবন শায়বাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি ইসমাইল ইবন আবি খালিদ থেকে, তিনি হিলাল ইবন ইয়াসাফ থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মাদ ইবন কাসির আল-আবদি তার বর্ণনার অনুসরণ করেছেন এবং সনদে তার সাথে একমত হয়েছেন, ফলে তিনি এটি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবন মুসলিম আল-কাসমালি, যাতে তার সাথে একমত হয়েছেন ইয়ালা ইবন উবাইদ আত-তানাফিসি এবং আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর আল-হারিফি—ইসমাইল ইবন আবি খালিদ থেকে, তিনি হিলাল ইবন ইয়াসাফ থেকে, তিনি আবু মাসউদ আল-আনসারি থেকে।
(২)আর আবু কাইসের হাদিসটি সম্পর্কে ইয়াকুব উল্লেখ করেছেন যে, শুবা তার থেকে, তিনি আমর ইবন মাইমুন থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন; শুবার বর্ণনায় আবু কাইস থেকে অনুরূপভাবে একমত হয়েছেন মিসআর ইবন কিদাম আল-হিলালি এবং সুফিয়ান ইবন সাঈদ আস-সাওরি।
(৩)এবং সাওরি থেকে তার একদল সঙ্গী আবু কাইসের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(৪)কিন্তু আব্দুল সামাদ ইবন হাসসান তাদের বিরোধিতা করেছেন; তিনি এটি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবন মাইমুন থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে। আর জামাআত বা সংখ্যাগরিষ্ঠের বক্তব্যই সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(৫)--------------------------------------------