(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: -)
أخبار وحكايات للغساني (أبو الحسن الغساني)
القسم: كتب السنة
الكتاب: أخبار وحكايات لأبي الحسن الغساني
المؤلف: محمد بن الفيض بن محمد بن الفياض أبو الحسن ويقال أبو الفيض الغساني (ت 315 هـ)
تحقيق: إبراهيم صالح [ت 1443 هـ]
الناشر: دار البشائر - بيروت
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 58
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-গাসসানির সংবাদ ও কাহিনীসমূহ (আবু হাসান আল-গাসসানি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু হাসান আল-গাসসানির সংবাদ ও কাহিনীসমূহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আল-ফাইদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাইয়াদ আবু হাসান এবং তাঁকে আবু আল-ফাইদ আল-গাসসানিও বলা হয় (মৃত্যু ৩১৫ হিজরি)
তাহকিক: ইব্রাহিম সালিহ [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল বাশাইর - বৈরুত
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
1 - حَدثنَا الشَّيْخ الْحَافِظ أَبُو مُحَمَّد عبد الْعَزِيز بن أَحْمد بن مُحَمَّد الكتاني الصُّوفِي رضي الله عنه فِي الْحجَّة سنة سِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة قَالَ حَدثنَا أَبُو الْقَاسِم تَمام بن مُحَمَّد بن عبد الله الرَّازِيّ قَالَ حَدثنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن سُلَيْمَان الربعِي قَالَ حَدثنَا أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن الْفَيْض بن مُحَمَّد الغساني قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ بْنِ يَحْيَى الْغَسَّانِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبى عَنهُ الْحسن بن عمار عَنهُ عَمْرو بن مرّة عَنهُ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ الطَّائِيِّ قَالَ أَتَى رَجُلٌ عَلِيًّا صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا الْإِيمَانُ قَالَ الْإِيمَانُ عَلَى أَرْبَعِ دَعَائِمَ عَلَى الصَّبْرِ وَالْيَقِينِ وَالْعَدْلِ وَالْجِهَادِ وَالصَّبْرُ مِنْهَا عَلَى أَرْبَعِ شُعَبٍ عَلَى الشَّوْقِ والشَّفَقِ وَالزَّهَادَةِ والتَّرَقُّبِ فَمَنِ اشْتَاقَ إِلَى الْجَنَّةِ سَلَا عَنِ الشَّهَوَاتِ وَمَنْ أَشْفَقَ مِنَ النَّارِ رَجَعَ عَنِ الْحُرُمَاتِ وَمَنْ زَهِدَ فِي الدُّنْيَا هَانَتْ عَلَيْهِ الْمُصِيبَاتُ وَمَنِ ارْتَقَبَ الْمَوْتَ سَارَعَ إِلَى الْخَيْرَاتِ وَالْيَقِينُ مِنْهَا عَلَى أَرْبَعِ شُعَبٍ عَلَى تَبْصِرَةِ الْفِطْنَةِ وَتَأَوُّلِ الْحِكْمَةِ وَمَوْعِظَةِ الْعِبْرَةِ وَسُنَّةِ الْأَوَّلِينَ فَمَنْ تَبَصَّرَ الْفِطْنَةَ تَأَوَّلَ الْحِكْمَةَ وَمَنْ تَأَوَّلَ الْحِكْمَةَ عَرَفَ الْعِبْرَةَ وَمَنْ عَرَفَ الْعِبْرَةَ كَأَنَّمَا كَانَ فِي الْأَوَّلِينَ وَالْعَدْلُ مِنْهَا عَلَى أَرْبَعِ شُعَبٍ عَلَى غَامِضِ الْفَهْمِ وَزَهْرَةِ الْعِلْمِ وَرَوْضَةِ الْحِلْمِ وَشَرَائِعِ الْحِكَمِ فَمَنْ فَهِمَ فَسَّرَ جَمِيلَ الْعِلْمِ وَمَنْ عَلِمَ عَرَفَ
১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ হাফিজ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাত্তানি আস-সুফি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন), চারশ ষাট হিজরি সনের যুল-হিজ্জাহ মাসে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম তাম্মাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-রাজি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আল-রিবয়ি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আল-ফায়জ ইবনে মুহাম্মদ আল-গাসসানি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে হিশাম ইবনে ইয়াহইয়া আল-গাসসানি। তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আম্মার থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবুল বাখতারি আত-তয়ি থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আলী (আল্লাহর সালাত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট এসে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন, ঈমান কী? তিনি বললেন, ঈমান চারটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: ধৈর্য, দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকিন), ন্যায়বিচার এবং জিহাদ। আর এর মধ্যে ধৈর্য চারটি শাখার ওপর প্রতিষ্ঠিত: জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা, জাহান্নামের শঙ্কা, দুনিয়াত্যাগ এবং মৃত্যুর প্রতীক্ষা। সুতরাং যে ব্যক্তি জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা করল, সে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিমুখ হলো। আর যে ব্যক্তি জাহান্নামকে ভয় করল, সে নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিবৃত্ত হলো। আর যে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হলো, তার কাছে বিপদ-আপদ সহজ হয়ে গেল। আর যে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় রইল, সে দ্রুত নেক আমলের দিকে ধাবিত হলো। আর দৃঢ় বিশ্বাস চারটি শাখার ওপর প্রতিষ্ঠিত: বিচক্ষণতার দূরদর্শিতা, হিকমতের উপলব্ধি, উপদেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং পূর্ববর্তীদের রীতি। সুতরাং যে বিচক্ষণতার সাথে পর্যবেক্ষণ করল, সে হিকমত উপলব্ধি করল। আর যে হিকমত উপলব্ধি করল, সে শিক্ষা গ্রহণ সম্পর্কে জানল। আর যে শিক্ষা গ্রহণ সম্পর্কে জানল, সে যেন পূর্ববর্তীদের মধ্যেই বিদ্যমান ছিল। আর ন্যায়বিচার চারটি শাখার ওপর প্রতিষ্ঠিত: সূক্ষ্ম অনুধাবন, জ্ঞানের উৎকর্ষ, সহনশীলতার উদ্যান এবং প্রজ্ঞার বিধানসমূহ। সুতরাং যে বুঝতে পারল, সে জ্ঞানের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করল, আর যে জ্ঞান অর্জন করল সে জানতে পারল...
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
شَرَائِعَ الْحِكَمِ وَمَنْ حَلُمَ لَمْ يُفَرِّطْ أَمْرَهُ وَعَاشَ فِي النَّاسِ حميد وَالْجهَاد مِنْهَا على أَربع الَأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالصِّدْقِ فِي الْمَوَاطِنِ وَشَنَآنِ الْفَاسِقِينَ فَمَنْ أَمَرَ بِالْمَعْرُوفِ شَدَّ ظَهْرَ الْمُؤْمِنِ وَمَنْ نَهَى عَنِ الْمُنْكَرِ قَصَفَ ظَهْرَ الْفَاسِقِ وَمَنْ صَدَقَ فِي الْمَوَاطِنِ قَضَى مَا عَلَيْهِ وَمَنْ شَنِئَ الْفَاسِقِينَ وَغَضِبَ لِلَّهِ عز وجل غَضِبَ اللَّهُ لَهُ فَقَامَ الرَّجُلُ فَقَبَّلَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ صَدَقْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ2 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ قَالَ وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ قَالَ اللَّهُ عز وجل كَفَى بِي لِعَبْدِي غِنًى إِذَا أَطَاعَنِي أَعْطَيْتُهُ قَبْلَ أَنْ يَسأَلَنِي وَاسْتَجَبْتُ لَهُ قَبْلَ أَنْ يَدْعُوَنِي وَأَنَا أَعْلَمُ بِمَا يُصْلِحُهُ مِنْهُ3 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ ابْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ الْمَوْصِلِيِّ قَالَ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ مَا يَأَتِي عَلَيَّ يَوُمٌ لَا أُرْمَى فِيهِ بِعَظِيمَةٍ إِلَّا عَدَدْتُهَا عَلَيَّ مِنَ اللَّهِ نِعْمَةً4 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ قَالَ عُمَرُ بن الْخطاب رَضِي الله عَن مَا مِنْ عَبْدٍ عَلَيْهِ مِنَ اللَّهِ نِعْمَةٌ إِلَّا وَلَهَا حَاسِدٌ وَلَوْ أَنَّ الْعَبْدَ أَقْوَمُ مِنْ قِدْحٍ لَوَجَدَ لَهُ غَامِزًا وَمَا ضَرَّتْ حِكْمَةٌ قَطُّ لَيْسَ لَهَا خَوَاطِبُ
প্রজ্ঞার বিধানাবলি। আর যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে সে তার বিষয়ে কোনো অবহেলা করে না এবং মানুষের মধ্যে প্রশংসিত অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করে। আর জিহাদ হলো চারটি বিষয়ের সমষ্টি: সৎ কাজের আদেশ দেওয়া, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা, সত্যের ময়দানে সত্যনিষ্ঠ থাকা এবং পাপাচারীদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি সৎ কাজের আদেশ দিল সে মুমিনের পিঠ মজবুত করল, আর যে ব্যক্তি অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করল সে পাপাচারীর কোমর ভেঙে দিল। আর যে সত্যের ময়দানে সত্যনিষ্ঠ থাকল সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করল। আর যে ব্যক্তি পাপাচারীদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করল এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাগান্বিত হলো, আল্লাহও তার জন্য রাগান্বিত হন। তখন লোকটি দাঁড়িয়ে তাঁর মাথায় চুম্বন করল এবং বলল, আপনি সত্য বলেছেন, হে আমিরুল মুমিনীন।২ - তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইব্রাহিম বিন হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন: আমার বান্দার অভাবমুক্তির জন্য আমিই যথেষ্ট যখন সে আমার আনুগত্য করে; সে আমার কাছে চাওয়ার আগেই আমি তাকে দান করি এবং সে আমাকে ডাকার আগেই আমি তার ডাকে সাড়া দিই, আর আমি তার সংশোধনের বিষয়ে অধিক অবগত।৩ - তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা ইবনে আবিয যারকা আল-মাওসিলি থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু দারদা বলেছেন: আমার ওপর এমন কোনো দিন আসে না যাতে আমাকে কোনো কঠিন বিপদে নিক্ষেপ করা হয় না, অথচ আমি সেটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি নেয়ামত হিসেবে গণ্য করি।৪ - তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার ওপর এমন কোনো নেয়ামত নেই যার কোনো হিংসুক নেই। বান্দা যদি তীরের দণ্ডের চেয়েও অধিক সোজা হয়, তবুও সে তার জন্য কোনো খুঁত অন্বেষণকারী পেয়ে যাবে। আর এমন কোনো প্রজ্ঞা কখনো ক্ষতি করতে পারেনি যার কোনো অন্বেষণকারী নেই।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
5 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ إِن اله تَعَالَى لَيَرْفَعُ الْمُؤْمِنَ فِي دَرَجِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ بِدُعَاءِ وَلَدِهِ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ وَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَطَّ لِلذُّنُوبِ مِنْ بِرِّ الْوَالِدَيْنِ6 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ بَلَغَنَا عَنْ بَعْضِ أَهلِ الْعِلْمِ أَنَّ عِيسَى بن مَرْيَم قَالَ بِحَق أَقْوَال لَكُمْ يَا مَعْشَرَ الْحَوَارِيِّينَ لَا يَنَالُ أَحَدُكُمْ مَلَكُوتَ السَّمَاءِ حَتَّى يَكُونَ كَالصَّنَمِ الَّذِي لَا يَفْرَحُ إِذَا حُمِدَ وَلَا يَحْزَنُ إِذَا ذُمَّ7 - وَبِهِ قَالَ حَدَّثَنِي بَعْضُ أهل الْعلم أَن عِيسَى بن مَرْيَمَ قَالَ يَا ابْنَ آدَمَ إِذا كَانَ الْقَلِيلُ الَّذِي يَكْفِيكَ لَا يُغْنِيكَ فَكَذَلِكَ الْكَثِيرُ الَّذِي يُغْنِيكَ لَا يَكْفِيكَ8 - وَبِهِ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ مَلِكًا مِنْ مُلُوكِ أَهْلِ دِمَشْقَ يُقَالُ لَهُ هَدَّادُ بْنُ هَدِّادٍ صَنَعَ طَعَامًا وَدَعَا إِلَيْهِ النَّاسَ وَكَانَ فِيمَنْ دَعَا عِيسَى الْمَسِيحُ عليه السلام وَحَوَارِيِّيهِ فَقَالَ الْمَسِيحُ لِحَوَارِيِّيهِ لَا تَذْهَبُوا وَخَرَجَ بِهِمْ فَأَتَى بِهِمْ شَاطِئَ بَرَدَى فَأَخْرَجُوا كِسَرًا لَهُمْ فَجَعَلُوا يَبِلُّونَهَا فِي الْمَاءِ وَيَأْكُلُونَ فَقَالَ الْمَسِيحُ يَا مَعْشَرَ الْحَوَارِيِّينَ عَجَبًا لِلْمُلُوكِ وَمَا أُوتُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا وَمَا يُصْنَعُ بِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَا مَعْشَرَ الْحَوَارِيِّينَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَطَحَ لَكُمُ الدُّنْيَا عَلَى وَجْهِهَا وَأَجْلَسَكُمْ عَلَى ظَهره فَلَيْسَ يُشَارِكُكُمْ فِيهَا إِلَّا الشَّيَاطِينُ وَالْمُلُوكُ فَأَمَّا الشَّيَاطِينُ فَاسْتَعِينُوا عَلَيْهِمْ بِالصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ وَأَمَّا الْمُلُوكُ فَدَعُوهُمْ وَالدُّنْيَا يَدَعُوكُمْ وَالْآخِرَةَ9 - وَبِهِ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ
5 - তিনি বলেন, ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আবু মাসঊদ থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুমিনের মৃত্যুর পর তার জন্য তার সন্তানের দোয়ার কারণে জান্নাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর পিতামাতার সাথে সদাচরণের চেয়ে অধিক পাপমোচনকারী আর কিছু নেই।6 - ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জনৈক আলেম থেকে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, ঈসা ইবনে মারয়াম আলাইহিস সালাম বলেছেন: হে হাওয়ারী সম্প্রদায়! আমি তোমাদেরকে সত্য কথা বলছি, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত আসমানের রাজত্ব লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে এমন মূর্তির ন্যায় হবে যাকে প্রশংসা করলে সে আনন্দিত হয় না এবং নিন্দা করলে সে দুঃখিত হয় না।7 - আর তাঁর সূত্রেই বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক আলেম আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, ঈসা ইবনে মারয়াম আলাইহিস সালাম বলেছেন: হে আদম সন্তান! যদি সামান্য যা তোমার জন্য যথেষ্ট তা তোমাকে অভাবমুক্ত না করে, তবে অধিক যা তোমাকে সম্পদশালী করে তাও তোমার জন্য যথেষ্ট হবে না।8 - আর তাঁর সূত্রেই জনৈক আলেম থেকে বর্ণিত যে, দামেস্কের জনৈক রাজা যাকে হাদ্দাদ বিন হাদ্দাদ বলা হতো, তিনি খাবারের আয়োজন করলেন এবং মানুষকে দাওয়াত দিলেন। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ঈসা মসীহ আলাইহিস সালাম ও তাঁর হাওয়ারীগণও ছিলেন। তখন মসীহ তাঁর হাওয়ারীদের বললেন: তোমরা যেয়ো না। এরপর তিনি তাঁদের নিয়ে বের হলেন এবং বারাদা নদীর তীরে পৌঁছালেন। তখন তাঁরা তাঁদের রুটির টুকরোগুলো বের করলেন এবং সেগুলো পানিতে ভিজিয়ে খেতে লাগলেন। তখন মসীহ বললেন: হে হাওয়ারী সম্প্রদায়! রাজন্যবর্গ এবং তাদের এই দুনিয়ায় যা দেওয়া হয়েছে তা কতই না বিস্ময়কর, আর কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কী করা হবে! হে হাওয়ারী সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য দুনিয়াকে তার মুখের ওপর উপুড় করে ফেলে দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে তার পিঠের ওপর বসিয়েছেন। শয়তান ও রাজা-বাদশাহরা ছাড়া আর কেউ এতে তোমাদের অংশীদার নেই। শয়তানদের বিরুদ্ধে তোমরা রোজা ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর রাজাদের ব্যাপারে কথা হলো, তোমরা তাদেরকে ও তাদের দুনিয়াকে ছেড়ে দাও, তবে তারা তোমাদের ও তোমাদের আখিরাতকে ছেড়ে দেবে।9 - আর তাঁর সূত্রেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর বলেছেন-
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
أَرْبَعَةٌ لَا أَقْدِرُ عَلَى مُكَافَأَتِهِمْ وَلَوِ انْخَلَعْتُ لَهُمْ عَنْ مِثْلِ جَبَلِ مَكَّةَ عِقْيَانُهُ حَمْرَاءُ رَجُلٌ غَدَا عَلَيَّ أَوْ رَاحَ مُسَلِّمًا يَوْمًا مِنْ دَهْرِهِ أَوْ رَجُلٌ سَقَانِي شَرْبَةً مِنْ مَاءٍ عَلَى ظَمَأٍ أَوْ رَجُلٌ فَسَحَ لِي فِي مجَال عَلَى تَضَايُقٍ مِنْ أَهْلِهِ أَوْ رَجُلٌ نَزَلَتْ بِهِ نَازِلَةٌ مِنْ أَمْرِهِ فَبَاتَ يُجِيلُ الرَّأْيَ بِمَنْ يُنْزِلُهَا فَاعْتَمَدَنِي مِنْ بَيْنِ عِبَادِ اللَّهِ وَلَمْ يُقَصِّرْ دُونِي فَهَؤُلَاءِ أَرْبَعَةٌ لَا أَقْدِرُ لَهُمْ عَلَى مُكَافَأَةٍ إِلَّا أَنْ يُكَافِئَهُمُ اللَّهُ عَنِّي10 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي أَنَّ رَجُلًا قَالَ كُنْتُ مُرَائِيًا فَكُنْتُ أَوَّلَ مَنْ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ وَآخِرَ مَنْ يَخْرُجُ مِنْهُ وَكُنْتُ ظَاهِرَ الْعِبَادَةِ وَالِاجْتِهَادِ فَكُنْتُ لَا أَمُرُّ عَلَى أَحَدٍ إِلَّا قَالَ مرائى فَأَقَمْتُ بِذَلِكَ سَنَتَيْنِ فَلَمْ أُدْرِكْ شَيْئًا مِمَّا أُحِبُّ فَقُمْتُ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ فَرَكَعْتُ رَكْعَاتٍ ثُمَّ قُلْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أُشْهِدُكَ أَنِّي قَدْ تَرَكْتُ مَا كُنْتُ فِيهِ مِنَ الرِّيَاءِ ثُمَّ أَدْلَجْتُ إِلَى الْمَسْجِد فمررت برجلَيْن فَقل أَحدهمَا هَذَا فلَان الرمائي فَقَالَ الْآخَرُ لَقَدْ تَرَكَ ذَلِكَ الْيَوْم11 - حَدثنَا إِبْرَهِيمُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ لما حضلات مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ الْوَفَاةُ جَمَعَ أَهْلَهُ فَقَالَ أَلَسْتُمْ أَهْلِي الَّذِينَ كَانَ كَدِّي وَمَتْعَبَتِيِ لَكُمْ قَالُوا بَلَى يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ با فدَاك اله قَالَ فَإِنَّ الْمَوْتَ قَدْ وَقَعَ فِي رِجْلِي فَبَكَوْا ثُمَّ رَنَّوْا ثُمَّ أَشَارَ إِلَيْهِمْ فَسَكَتُوا ثُمَّ أَمَرَهُمْ فَأَنْزَلُوهُ عَنْ فِرَاشِهِ وَجَعَلُوا يُنْزِلُونَهُ وَهُوَ يَقُولُ إِنَّكُمْ
চারজন ব্যক্তি এমন যাদেরকে আমি যথাযথ প্রতিদান দিতে সক্ষম নই, যদিও আমি মক্কার পাহাড়ের সমপরিমাণ খাঁটি লাল স্বর্ণও তাদের জন্য বিলিয়ে দেই: এমন এক ব্যক্তি যে তার জীবনের কোনো একদিন সকালে বা সন্ধ্যায় আমাকে সালাম দিতে এল; অথবা এমন এক ব্যক্তি যে আমাকে পিপাসার্ত অবস্থায় এক ঢোক পানি পান করাল; অথবা এমন এক ব্যক্তি যে তার সঙ্গীদের ভিড়ের মাঝেও আমার বসার জন্য জায়গা করে দিল; অথবা এমন এক ব্যক্তি যার ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলো এবং সে রাতভর চিন্তা করল যে কার কাছে এই বিপদ নিয়ে যাবে, অতঃপর সে আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে আমার ওপর ভরসা করল এবং আমার কাছে আসতে কোনো ত্রুটি করল না। এই চারজন এমন যাদেরকে আমি প্রতিদান দিতে সক্ষম নই, একমাত্র আল্লাহই আমার পক্ষ থেকে তাদের প্রতিদান দেবেন।১০ - তিনি বলেন, ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি বলল: আমি লোকদেখানো ইবাদতকারী ছিলাম। আমিই মসজিদে সবার আগে প্রবেশ করতাম এবং সবার শেষে বের হতাম। আমি বাহ্যিক ইবাদত ও পরিশ্রমে একনিষ্ঠ ছিলাম। আমি যখনই কারো পাশ দিয়ে যেতাম, সে বলত 'রিয়াকারী'। এভাবে আমি দুই বছর অতিবাহিত করলাম কিন্তু যা আমি পছন্দ করতাম তার কিছুই অর্জন করতে পারলাম না। অতঃপর আমি গভীর রাতে দাঁড়ালাম এবং কয়েক রাকাত নামাজ পড়লাম, তারপর বললাম: হে আল্লাহ, আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি যে লোকদেখানো আচরণের মধ্যে ছিলাম তা বর্জন করলাম। এরপর আমি ভোরে মসজিদের দিকে রওনা হলাম এবং দুই ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের একজন বলল: এই সেই অমুক রিয়াকারী। অপরজন বলল: সে আজ তা বর্জন করেছে।১১ - ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তিনি তার পরিবারকে সমবেত করলেন এবং বললেন: তোমরা কি আমার সেই পরিবার নও যাদের জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম ও কষ্ট করেছি? তারা বলল: হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনিন, আল্লাহ আমাদের আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই মৃত্যু আমার পায়ের ওপর পতিত হয়েছে। তখন তারা কাঁদতে লাগল এবং উচ্চস্বরে বিলাপ করতে শুরু করল। এরপর তিনি তাদের দিকে ইশারা করলেন এবং তারা চুপ হয়ে গেল। তারপর তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন এবং তারা তাকে তার বিছানা থেকে নিচে নামাল। যখন তারা তাকে নামাচ্ছিল, তখন তিনি বলছিলেন: নিশ্চয়ই তোমরা...
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
لَتُقَلِّبُونَ رَجُلًا قَلِيبًا إِنْ خَلُصَتْ قَدَمَاهُ غَدًا مِنَ النَّارِ ثُمَّ أَلْصَقَ خَدَّهُ بِالْأَرْضِ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ اللَّهُمَّ إِنَّ رَحْمَتَكَ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَلْتَسَعْنِي اللَّهُمَّ إِنَّ رَحْمَتَكَ لَمْ يَزَلْ يُرَدِّدُهَا حَتَّى مَاتَ12 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدثنَا أَبى هن جَدِّي قَالَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ أَوَّلَ مَنِ اخْتَتَنَ وَأَوَّلَ مَنْ رَأَى الشَّيْبَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ قَالَ رَبِّ مَا هَذَا قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى هَذَا الْوَقَارُ قَالَ رَبِّ زِدْنِي وَقَارًا13 - وَبَلَغَنَا أَنَّ سَبَبَ شَيْبِ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ إِسْحَاقَ كَانَ يَمْشِي مَعَهُ فَلَا يُعْرَفُ أَيُّهُمَا أَكْبَرُ إِلَّا مَنْ عَرَفَهُمَا وَكَانَ رُبمَا فدم عَلَيْهِ إِسْحَاقُ بِالتَّحِيَّةِ وَالسَّلَامِ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ اللَّهُ عز وجل فرق بَينهمَا بالشيب14 - خدثنا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ جَدِّي عَنْ عَمْرَةَ ابْنَةِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّاسُ أَهْلَ مُبَاشَرَةٍ لِلْأَعْمَالِ بِأَنْفُسِهِمْ فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَائِحَتَهُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَأَمَرَهُمْ بِالْغُسْلِ لِذَلِكَ15 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ لَمَّا نزل عبد الله ب ن عَليّ بلامسودة وحصروا دمشق اسْتَغَاثَ النَّاس بيحي بْنِ يَحْيَى فَسَأَلَهُ الْوَلِيدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ
তোমরা এমন একজন ব্যক্তিকে ওলটপালট করছ, যদি কাল তার পা দু’টি আগুন থেকে রক্ষা পায়। তারপর তিনি তার গাল মাটির সাথে মিশিয়ে দিলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার বান্দা, আপনার এক বান্দার সন্তান এবং আপনার এক দাসীর সন্তান। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনার রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে, সুতরাং আমাকেও তাতে শামিল করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনার রহমত... তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এটি বারবার বলতে থাকেন।12 - তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আমার পিতা তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি খতনা করেছেন এবং প্রথম ব্যক্তি যিনি তার মাথা ও দাড়িতে শুভ্রতা দেখেছেন। তিনি বললেন, হে আমার রব! এটি কী? আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বললেন, এটি হলো গাম্ভীর্য। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমার গাম্ভীর্য বাড়িয়ে দিন।13 - আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইব্রাহিমের চুল পাকার কারণ ছিল এই যে, ইসহাক তার সাথে হাঁটতেন এবং তাদের দুজনকে যারা চিনতেন তারা ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারত না কে বড়। কখনও কখনও ইসহাককে অভিবাদন ও সালাম প্রদানের মাধ্যমে বড় মনে করা হতো। যখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এটি দেখলেন, তখন তিনি শুভ্রতার মাধ্যমে তাদের উভয়ের মাঝে পার্থক্য করে দিলেন।14 - আমাদের কাছে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষ নিজেদের কাজ নিজেরাই করত, ফলে জুমার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শরীরের ঘামের গন্ধ পেলেন এবং সেই কারণে তাদের গোসলের নির্দেশ দিলেন।15 - তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইব্রাহিম ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আমার পিতা তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আবদুল্লাহ ইবনে আলী কালো পতাকাবাহী সৈন্যদলসহ অবতরণ করলেন এবং তারা দামেস্ক অবরোধ করল, তখন মানুষ ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল। অতঃপর ওয়ালিদ ইবনে মুআবিয়া তাকে অনুরোধ করলেন যেন তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আলীর নিকট যান।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
لِيَأْخُذَ لَهُمْ أَمَانًا فَخَرَجَ إِلَى عبد الل بْنِ عَلِيٍّ فَلَمَّا سَأَلَهُ الْأَمَانَ لِأَهْلِ دِمَشْقَ أَجَابَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ إِلَى ذَلِكَ فَاضْطَرَبَ بذلك فاضطرب بذلك الصَّوْت دحتى دَخَلَ الْمَدِينَةَ قَالَ النَّاسُ الْأَمَانُ الْأَمَانُ فَخَرَجَ عَلَى ذَلِكَ مِنَ الْمَدِينَةِ نَاسٌ كَثِيرٌ وَأَصْعَدُوا إِلَيْهِمْ من المسودة خلفا كَثِيرًا فَقَالَ لَهُ يَحْيَى اكْتُبْ لنا كتبا بِالْأَمَانِ الَّذِي جَعَلْتَهُ لَنَا فَدَعَا بداوة وَقِرْطَاسٍ ثُمَّ ضَرَبَ بِبَصَرِهِ نَحْوَ الْمَدِينَةِ فَإِذَا الْحَائِطُ قَدْ غَشِيَهُ الْمُسَوِّدَةُ فَقَالَ لِيَحْيَى نَحِّ هَذَا الْقِرْطَاسَ عَنِّي فَإِنِّي دَخَلْتُهَا قَسْرًا فَقَالَ لَهُ يَحْيَى لَا وَاللَّهِ وَلَكِنَّكَ دَخَلْتَهَا غَدْرًا لِأَنَّكَ جَعَلْتَ لَنَا أَمَانًا فَخَرَجَ عَلَيْهِ مَنْ خَرَجَ وَدَخَلَ عَلَيْهِ مَنْ دَخَلَ فَإِنْ كَانَ كَمَا تَقُولُ فَارْدُدْ رِجَالَكَ عَنْهَا وَارْدُدْنَا إِلَى مَدِينَتِنَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ إِنَّهُ وَاللَّهِ لَوْلَا مَا أَعْرِفُ مِنْ مَوَدَّتِكَ إِيَّانَا أَهْلَ الْبَيْت مَا استقبلتنى بِهَذَا فَقل لَهُ يَحْيَى إِنَّ اللَّهَ عز وجل جعلك من أهل الْبَيْت الْحَقِّ وَالرَّحْمَةِ وَالْبَرَكَةِ الَّذِينَ لَا يُعْرَفُ لَهُمْ وَلَا يُقْبَلُ مِنْهُمْ إِلَّا الع مل بِتَقْوَى اللَّهِ وَطَاعَتِهِ وَاعْلَمْ أَنَّ قَرَابَتَكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ تَزِدْ حَقَّ اللَّهِ عَلَيْكَ إِلَّا عِظَمًا ووجودبا وَلَمْ تَزِدِ النَّاسَ إِلَّا إِنْكَارًا لِلْمُنْكَرِ وَمَعْرِفَةً لِكُلِّ مَا وَافَقَ الْحَقَّ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ تَنَحَّ عَنِّي ثُمَّ نَدِمَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ فَقَالَ يَا غُلَامُ اذْهَبْ بِهِ إِلَى حُجْرَتِي تَخَوُّفًا عَلَيْهِ لِأَنَّهُ كَانَ عَلَيْهِ قَمِيصٌ أَبْيَضُ وَعِمَامَةٌ بَيْضَاءُ وَقَدْ سَوَّدَ النَّاسُ كُلُّهُمْ فَلَيْسَ يُرَى عَلَى أحد شَيْء من البيضا غَيْرِهِ ثُمَّ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ اذْهَبْ يَا غُلَامُ بِهَذَا الْعَلَمِ فَارْكُزْهُ فِي دَارِهِ وَنَادِ مَنْ دَخَلَ دَارَ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى فَهُوَ آمِنٌ فَلَمْ يُقْتَلْ فِيهَا أَحَدٌ وَلَا فِي الدّور الَّتِي احترقت بِهَا وَانْحَشَرُوا إِلَيْهَا فَسَلِمُوا16 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ
যাতে তিনি তাদের জন্য নিরাপত্তা লাভ করতে পারেন। তাই তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আলীর কাছে বেরিয়ে গেলেন। যখন তিনি দামেস্কবাসীদের জন্য নিরাপত্তা চাইলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনে আলী তাতে সাড়া দিলেন। ফলে সেই আওয়াজটি ছড়িয়ে পড়ল এবং তা শহরেও প্রবেশ করল। মানুষ বলতে লাগল, ‘নিরাপত্তা! নিরাপত্তা!’ এমতাবস্থায় শহর থেকে বহু মানুষ বেরিয়ে এল এবং মুসাওবিদা (আব্বাসীয় বাহিনীর অনুসারী) থেকে বিশাল এক দল তাদের কাছে গেল। তখন ইয়াহইয়া তাকে বললেন, ‘আপনি আমাদের জন্য যে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদের জন্য লিখিত আকারে দিয়ে দিন।’ তিনি দোয়াত ও কাগজ চেয়ে পাঠালেন। তারপর তিনি শহরের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং দেখলেন যে দেয়ালটি মুসাওবিদারা ঘিরে ফেলেছে। তখন তিনি ইয়াহইয়াকে বললেন, ‘এই কাগজটি আমার থেকে সরিয়ে নাও, কারণ আমি এখানে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছি।’ ইয়াহইয়া তাকে বললেন, ‘না, আল্লাহর কসম! বরং আপনি বিশ্বাসঘাতকতা করে প্রবেশ করেছেন। কারণ আপনি আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছিলেন, যার ভিত্তিতে মানুষ বের হওয়ার তারা বের হয়েছে এবং প্রবেশ করার তারা প্রবেশ করেছে। যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমনটি আপনি বলছেন, তবে আপনার লোকদের এখান থেকে ফিরিয়ে নিন এবং আমাদের আমাদের শহরে ফিরিয়ে দিন।’ আবদুল্লাহ ইবনে আলী তাকে বললেন, ‘আল্লাহর কসম, আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের প্রতি আপনার যে ভালোবাসা আমি জানি, তা যদি না থাকতো তবে আপনি আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারতেন না।’ ইয়াহইয়া তাকে বললেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাকে সত্য, রহমত ও বরকতময় সেই আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের থেকে আল্লাহর তাকওয়া ও তাঁর আনুগত্যের আমল ছাড়া অন্য কিছু পরিচিত নয় এবং অন্য কিছু তাদের থেকে গ্রহণও করা হয় না। আর জেনে রাখুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আপনার নিকটাত্মীয়তা আপনার ওপর আল্লাহর হককে কেবল মহান ও অপরিহার্যই করেছে এবং তা মানুষের মাঝে অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং যা সত্যের অনুগামী তার পরিচয়ের বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই ঘটায়নি।’ আবদুল্লাহ বললেন, ‘আমার কাছ থেকে সরে যান।’ এরপর আবদুল্লাহ ইবনে আলী অনুতপ্ত হলেন এবং বললেন, ‘হে বালক! তাকে আমার কক্ষে নিয়ে যাও।’ তিনি তার নিরাপত্তার ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন, কারণ তার পরনে ছিল সাদা কামিজ এবং সাদা পাগড়ি, অথচ তখন সমস্ত মানুষ কালো পোশাক ধারণ করেছিল। তাকে ছাড়া আর কারো শরীরে সাদা রঙের কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে আলী বললেন, ‘হে বালক! এই ঝাণ্ডাটি নিয়ে যাও এবং এটি তার বাড়িতে গেঁথে দাও। আর ঘোষণা করে দাও যে, যে ব্যক্তি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার বাড়িতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ।’ ফলে সেখানে কেউ নিহত হয়নি এবং তার চারপাশের যেসব বাড়িতে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল সেখানেও কেউ নিহত হয়নি এবং তারা নিরাপদ থাকল।১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনে হিশাম, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
كَتَبَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ إِلَى عب د الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ فَبَدَأَ بِنَفْسِهِ فراعه ذَلِك ون أَنَّهُ قَدْ خَلَعَهُ فَقِيلَ لَهُ هَكَذَا كَانَ يَكْتُبُ إِلَى مُعَاوِيَةَ فَنَظَرَ فِي كُتُبِهِ إِلَى مُعَاوِيَةَ فَإِذَا هُوَ قَدْ كَانَ يَبْدَأُ بِنَفسِهِ17 - خَاصَمَ إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي فَرْوَةَ نَاسا من أهل الْقد فَقَالَ لَهُمْ إِسْحَاقُ إِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَدْ كَانَ أَخَذَ نَاسًا يَرَوْنَ هَذَا الرَّأْيَ فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ فَقَالُوا كَيْفَ تَقُولُ هَذَا وَاللَّهِ مَا كَانَ هَذَا فِي زَمَانِ عُمَرَ فَقَالَ إِسْحَاقُ فَأَنَا بِكُلِّ دِينٍ أُحْدِثَ بَعْدَ عُمَرَ كَافِرٌ18 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ قَالَ إِبْلِيسُ لِنُوحٍ يَا نُوحُ إِنَّكَ قَدْ دَعَوْتَ اللَّهَ عَلَى قَوْمٍ فَأَرَحْتَنِي مِنْهُمْ وَفَرَّغْتَنِي لِغَيْرِهِمْ وَلَكَ بِذَلِكَ عِنْدِي يَدٌ فَأَنَا أُعَلِّمُكَ خَمْسَ كَلِمَاتٍ فَأَوْحَى اللَّهُ عز وجل إِلَى نُوحٍ عليه السلام أَنْ قل لَهُ يعلملك اثْنَتَيْنِ وَيَكُفُّ عَنْكَ ثَلَاثًا فَقَالَ لَهُ نُوحٌ عَلِّمْنِي اثْنَتَيْنِ وَاكْفُفْ عَنْ ثَلَاثٍ قَالَ لَهُ إِبْلِيسُ مَا هَذَا مِنْ قِبَلِكَ إِيَّاكَ والحسد فنك تعلم مكانى كَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ فَدَعَانِي الْحَسَدُ لِآدَمَ إِلَى أَنْ صِرْتُ شَيْطَانًا رَجِيمًا مَلْعُونًا وَإِيَّاكَ وَالطَّمَعَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعْطَى آدَمَ جَنَّةً عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ فَدَعَاهُ الطَّمَعُ فِي شَجَرَةٍ إِلَى أَنْ خَرَجَ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ
আবদুল্লাহ ইবনে উমর আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট পত্র লিখলেন এবং (পত্রের শুরুতে) নিজের নাম দিয়ে আরম্ভ করলেন। এতে আব্দুল মালিক আতঙ্কিত হলেন এবং ধারণা করলেন যে তিনি হয়তো তাঁর আনুগত্য ত্যাগ করেছেন। তখন তাঁকে বলা হলো, "তিনি মুয়াবিয়ার নিকটও এভাবেই লিখতেন।" এরপর তিনি মুয়াবিয়ার নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রসমূহ যাচাই করলেন এবং দেখলেন যে তিনি সত্যিই নিজের নাম দিয়ে আরম্ভ করতেন।১৭ - ইসহাক ইবনে আবু ফারওয়া কুদস (জেরুজালেম) অধিবাসীদের কিছু লোকের সাথে তর্কে লিপ্ত হলেন। ইসহাক তাদের বললেন, "নিশ্চয়ই উমর ইবনুল খাত্তাব এমন একদল লোককে পাকড়াও করেছিলেন যারা এই মত পোষণ করত এবং তিনি তাদের হাত ও পা কেটে দিয়েছিলেন।" তারা বলল, "আপনি এ কী বলছেন? আল্লাহর কসম, উমরের যুগে এমন কিছু ছিল না।" তখন ইসহাক বললেন, "তবে উমরের পরে উদ্ভাবিত প্রতিটি দ্বীনের (মতবাদের) প্রতি আমি অবিশ্বাসী।"১৮ - তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে হিশাম, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার পিতামহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবলিস নূহকে বলল, "হে নূহ! নিশ্চয়ই তুমি তোমার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহর নিকট দুআ করেছ এবং আমাকে তাদের থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছ ও অন্যদের জন্য আমাকে অবসর করে দিয়েছ। এ কারণে আমার নিকট তোমার একটি অবদান রয়েছে। তাই আমি তোমাকে পাঁচটি বাক্য শিক্ষা দেব।" তখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামের নিকট ওহী পাঠালেন যে, আপনি তাকে বলুন যেন সে আপনাকে দুটি বিষয় শিক্ষা দেয় এবং তিনটি থেকে বিরত থাকে। তখন নূহ তাকে বললেন, "আমাকে দুটি বিষয় শিক্ষা দাও এবং তিনটি থেকে বিরত থাক।" ইবলিস তাকে বলল, "এটি আপনার নিজের পক্ষ থেকে নয়। আপনি হিংসা থেকে বেঁচে থাকুন, কেননা ফেরেশতাদের মধ্যে আমার অবস্থান কেমন ছিল তা আপনি জানেন; কিন্তু আদমের প্রতি হিংসা আমাকে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত করেছে। আর আপনি লোভ থেকে বেঁচে থাকুন, কেননা আল্লাহ আদমকে এমন এক জান্নাত দান করেছিলেন যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিন ব্যাপি, কিন্তু একটি বৃক্ষের প্রতি লোভ তাকে সেই সবকিছু থেকে বের করে দিয়েছিল।"
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ وَقَعَتْ لر جلّ مئئة دينا فَعَرَّفَهَا فَقَالَ مَنْ وَجَدَهَا فَلَهُ عِشْرُونَ دَيْنَارًا فَأَقْبَلَ الَّذِي وَجَدَها فَقَالَ هَذَا مَالك فَأعْطِنِي الَّذِي ج علت لِي فَقَالَ صَاحِبُ الْمَالِ كَانَ مَالِي عشرُون ومئة دِينَار فاختصم اإِلَى فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ فَقَالَ فُضَالَةُ لِصَاحِبِ الْمَالِ أَلَيْسَ كَانَ مَالك عشلارين ومئة دِينَارٍ كَمَا تَذْكُرُ قَالَ بَلَى فَقَالَ لِلرَّجُلِ الَّذِي وَجَدَ الْمَالَ أَلَيْسَ الَّذِي وجدت مئة قَالَ بَلَى قَالَ فَاحْبِسْ هَذَا الْمَالَ وَلَا تَدْفَعْهُ إِلَيْهِ فَلَيْسَ بِمَالِهِ حَتَّى يَجِيءَ صَاحِبُهُ20 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ الْجَزَرِيِّ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَرْوَانَ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَرَى عَبْدٌ حَقِيقَةَ الْإِيمَانِ حَتَّى يُؤْثِرَ الْحَقَّ حَيْثُ يَضُرُّهُ عَلَى الْبَاطِلِ حَيْثُ يَنْفَعُهُ وَحَتَّى يَتَّقِيَ من الْكَذِب مَا يتحد ث بِهِ غَيْرُهُ وَحَتَّى لَا تَعْدُوَ مقَالَته مُنْتَهى عمله21 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى قَالَ جَلَسَ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ فِي بَيْتٍ أَخْضَرَ على وطاء عَلَيْهِ ثِيَابٌ خُضْرٌ ثُمَّ نَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ فِي الْمِرْآةِ فَأَعْجَبَهُ شَبَابُهُ وَجَمَالُهُ فَقَالَ كَانَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم نَبِيًّا وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه صِدِّيقًا وَكَانَ
তিনি বলেন, ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তির একশত দিনার হারিয়ে গিয়েছিল। তখন সে তা ঘোষণা করল এবং বলল, "যে ব্যক্তি তা খুঁজে পাবে, তার জন্য বিশ দিনার।" অতঃপর যে ব্যক্তি তা খুঁজে পেয়েছিল সে উপস্থিত হয়ে বলল, "এই আপনার সম্পদ; সুতরাং আমাকে তা দিন যা আপনি আমার জন্য নির্ধারিত করেছেন।" তখন সম্পদের মালিক বলল, "আমার সম্পদ ছিল একশত বিশ দিনার।" অতঃপর তারা ফুদলাহ ইবনে উবাইদ-এর কাছে বিচার নিয়ে গেল। ফুদলাহ সম্পদের মালিককে বললেন, "তোমার সম্পদ কি একশত বিশ দিনার ছিল না, যেমনটি তুমি উল্লেখ করছ?" সে বলল, "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি যে ব্যক্তি সম্পদটি খুঁজে পেয়েছিল তাকে বললেন, "তুমি যা পেয়েছ তা কি একশত দিনার নয়?" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তবে এই সম্পদটি তুমি নিজের কাছে রেখে দাও এবং তাকে এটি দিও না; কারণ এটি তার সম্পদ নয় যতক্ষণ না এর প্রকৃত মালিক আসে।"20 - তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে হিশাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে হানজালা আল-জাজারি থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি মারওয়ান থেকে, তিনি সিলাহ ইবনে জুফার থেকে, তিনি হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের হাকীকত দেখতে পাবে না, যতক্ষণ না সে সত্যকে তার ক্ষতির স্থানেও মিথ্যার উপর প্রাধান্য দেয় যেখানে মিথ্যা তাকে লাভবান করে, এবং যতক্ষণ না সে সেই মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকে যা অন্য কেউ বর্ণনা করে, এবং যতক্ষণ না তার কথা তার কাজের সীমা অতিক্রম করে।"21 - তিনি বলেন, ইব্রাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা তার পিতা ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিক একটি সবুজ কক্ষে সবুজ বিছানার উপর সবুজ পোশাক পরিহিত অবস্থায় বসলেন। তারপর তিনি আয়নায় নিজের চেহারার দিকে তাকালেন এবং তার যৌবন ও সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করল। তখন তিনি বললেন, "মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন নবী, আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন সিদ্দিক এবং ছিলেন..."
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
عُمَرُ رضي الله عنه فَارُوقًا وَكَانَ عُثْمَانُ رضي الله عنه حَيِيًّا وَكَانَ مُعَاوِيَةُ رضي الله عنه حَلِيمًا وَكَانَ يَزِيدُ صَبُورًا وَكَانَ عَبْدُ الْمَلِكِ سَائِسًا وَكَانَ الْوَلَد جَبَّارًا وَأَنَا الْمَلِكُ الشَّابُّ فَمَا دَارَ عَلَيْهِ الشَّهْرُ حَتَّى هَلَكَ22 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ لِرَوْحِ بْنِ زنباغ يَا أَبَا زُرْعَةَ قَدْ غَلَبَنِي الْوَلِيد بللحن وَسَأُظْهِرُ الْعَشِيَّةَ كَآبَةً فَسَلْنِي عَنْهَا وَدَعْنِي وَالْوَلِيدَ فَلَمَّا أُذِّنَ بِالْعِشَاءِ أَظْهَرَ كَآبَةً وَعِنْدَهُ الْوَلِيدُ وَسُلَيْمَانُ وَرَوْحٌ فَقَالَ لَهُ رَوْحٌ مَا هَذِهِ الْكَآبَةُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَا يسوؤك اللَّهُ وَلَا يُرِيكَ مَكْرُوهًا قَالَ ذَكَرْتُ مَا فِي عُنُقِي مِنْ أَمْرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ وَإِلَى مَنْ أصر أَمْرَهَا بَعْدِي فَقَالَ لَهُ رَوْحٌ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَأَيْنَ أَنْتَ عَنِ الْوَلِيدِ سَيِّدِ شَبَابِ الْعَرَبِ قَالَ يَا أَبَا زُرْعَةَ لَا يَنْبَغِي أَنْ يَلِيَ الْعَرَبَ إِلَّا مَنْ يَتَكَلَّمُ بكلامها فَقَالَ الْوَلِيدُ فَدَخَلَ مَنْزِلَهُ وَجَمَعَ إِلَيْهِ أَصْحَابَ النَّحْوِ فَأَقَامَ سِتَّةَ أَشْهُرٍ مَعَهم وَخرج وَهُوَ أَجْهَلُ بِالنَّحْوِ مِنْهُ يَوْمَ دَخَلَ فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ قَدِ اجْتَهَدَ وَأَعْذَرَ23 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ لَمَّا حَضَرَ عَبْدَ الْمَلِكِ الْوَفَاةُ د عا الْوَلِيد فَقَالَ هَل يَا بُنَيَّ شَمِّرْ وَائْتَزِرْ وَالْبَسْ ج لد نمر وَلَا تعصر عَيْنَيْك فع الْأَمَةِ وَادْعُ النَّاسَ إِلَى الْبَيْعَةِ فَمَنْ قَالَ كَذَا فَقُلْ بِالسَّيْفِ كَذَا وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى ضَرْبِ الْعُنُقِ
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন ফারুক (সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী), উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অত্যন্ত লজ্জাশীল, মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সহনশীল, ইয়াজিদ ছিলেন ধৈর্যশীল, আবদুল মালিক ছিলেন সুদক্ষ পরিচালক, ওয়ালিদ ছিলেন কঠোর শাসক, আর আমি হলাম যুবক রাজা। কিন্তু মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।২২ - ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান রাওহ ইবনে জিনবা’কে বললেন, হে আবু যুরআহ! ওয়ালিদ ব্যাকরণগত ভুলের মাধ্যমে আমার ওপর জয়ী হয়ে গেছে। আমি আজ সন্ধ্যায় বিষণ্ণতা প্রকাশ করব, তখন তুমি আমাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করো এবং আমাকে ও ওয়ালিদকে একা ছেড়ে দিও। যখন এশার আযান দেওয়া হলো, তখন তিনি বিষণ্ণতা প্রকাশ করলেন, আর তাঁর কাছে ওয়ালিদ, সুলাইমান ও রাওহ উপস্থিত ছিলেন। তখন রাওহ তাঁকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! এই বিষণ্ণতা কিসের? আল্লাহ আপনাকে কষ্ট না দিন এবং অপ্রীতিকর কিছু না দেখান। তিনি বললেন: আমি আমার ঘাড়ে ন্যস্ত এই উম্মতের বিষয়ের কথা এবং আমার পরে কার হাতে এই দায়িত্ব ন্যস্ত করব তা নিয়ে ভাবছিলাম। রাওহ তাঁকে বললেন: আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন হে আমিরুল মুমিনীন! আরব যুবকদের নেতা ওয়ালিদ থাকতে আপনি কার কথা ভাবছেন? তিনি বললেন: হে আবু যুরআহ! যে ব্যক্তি আরবদের ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারে না, তার জন্য আরবদের শাসনভার গ্রহণ করা সমীচীন নয়। তখন ওয়ালিদ তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং ব্যাকরণবিদদের সমবেত করলেন। তাঁদের সাথে তিনি ছয় মাস অবস্থান করলেন এবং যখন বের হলেন, তখন তিনি ব্যাকরণ সম্পর্কে প্রবেশের দিনের চেয়েও অধিক অজ্ঞ ছিলেন। তখন আবদুল মালিক বললেন: সে চেষ্টা করেছে এবং ওজর পেশ করেছে।২৩ - ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আবদুল মালিকের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি ওয়ালিদকে ডাকলেন এবং বললেন: হে বৎস! প্রস্তুত হও, কোমর শক্ত করে বাঁধো এবং চিতাবাঘের চামড়া পরিধান করো। দাসীর মতো চোখ কচলে ক্রন্দন করো না। মানুষকে বায়আতের জন্য আহ্বান করো। যে ব্যক্তি এর অন্যথা করবে, তাকে তলোয়ার দিয়ে জবাব দিও; আর তিনি তাঁর হাত দিয়ে ঘাড় কাটার ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
24 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ مَرَّ زِيَادُ بن سميَّة ابْن أَبِي سُفْيَانَ وَهُوَ وَالٍ عَلَى الْبَصْرَةِ بِأَبِي الْعُرْيَانِ الْمَخْزُومِيِّ وَهُوَ فِي مَجْلِسِ جَمَاعَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ وَهُوَ مكفوف البصؤ قَالَ أَبُو الْعُرْيَانِ مَا هَذِهِ الْجَلَبَةُ قَالُوا زِيَادُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ وَاللَّهِ مَا تَرَكَ أَبُو سُفْيَانَ إِلَّا يَزِيدَ وَمُعَاوِيَةَ وَعُتْبَةَ وَعَنْبَسَةَ وَحَنْظَلَةَ وَمُحَمَّدًا فَمِنْ أَيْنَ جَاءَ زِيَادٌ فَبَلَغَ مُعَاوِيَةَ كَلَامُهُ فَكَتَبَ إِلَى زِيَادٍ أَنْ سُدَّ عَنَّا وَعَنْكَ فَا هَذَا الْكَلْب فَأرْسل إِلَيْهِ زِيَاد بمئتى دِينَارٍ فَقَالَ أَبُو الْعُرْيَانِ وَصَلَ اللَّهُ ابْنَ أَخِي وَأَحْسَنَ جَزَاءَهُ قَالَ ثُمَّ مَرَّ بِهِ زِيَادٌ مِنَ الْغَدِ فَسَلَّمَ فَبَكَى أَبُو الْعُرْيَانِ فَقَالَ مَا يُبْكِيكَ قَالَ عَرَفْتُ جِرْمَ صَوْتِ أَبِي سُفْيَانَ فِي صَوت زِيَاد فَبلغ ذلم مُعَاوِيَة فَكتب إِلَيْهِ [من الْبَسِيط]مَا لَبَّثَتْكَ الدَّنَانِيرُ الَّتِي رُشِيتَ … أَن لونتك أَبَا الع رَيَّان أَلْوَانَاأَمْسَى وَلَيْسَ زِيَادٌ فِي أَرُومَتِهِ … ذِكْرًا وَأَصْبَحَ مَا يُمْرِيهِ عِرْفَانَالِلَّهِ دَرُّ زِيَادٍ لَوْ تَعَجَّلَهَا … كَانَتْ لَهُ دُونَ مَا يخشاه قربانافَلَمَّا قرىء كتاب مُعَاوِيَة على أَبى الع رَيَّان قَالَ اكْتُبْ يَا غُلَام[من الْبَسِيط]
২৪ - তিনি বললেন, ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জিয়াদ ইবনে সুমাইয়্যাহ ইবনে আবু সুফিয়ান বসরার গভর্নর থাকাকালীন কুরাইশদের একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে আবু আল-উরিয়ান আল-মাখযুমি উপস্থিত ছিলেন, যিনি ছিলেন দৃষ্টিহীন। আবু আল-উরিয়ান বললেন, এই শোরগোল কিসের? তারা বলল, জিয়াদ ইবনে আবু সুফিয়ান। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, আবু সুফিয়ান তো ইয়াজিদ, মুয়াবিয়া, উতবা, আনবাসা, হানজালা এবং মুহাম্মদ ছাড়া কাউকে রেখে যাননি; তবে জিয়াদ কোত্থেকে এলো? মুয়াবিয়া তার এই কথা শুনতে পেয়ে জিয়াদের নিকট লিখলেন যে, আমাদের এবং তোমার পক্ষ থেকে এই কুকুরটির মুখ বন্ধ করো। তখন জিয়াদ তার নিকট দুইশ দিনার পাঠালেন। আবু আল-উরিয়ান বললেন, আল্লাহ আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন জিয়াদ তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সালাম দিলেন। তখন আবু আল-উরিয়ান কেঁদে ফেললেন। জিয়াদ বললেন, আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন, আমি জিয়াদের কণ্ঠস্বরের মধ্যে আবু সুফিয়ানের কণ্ঠের সুর চিনতে পেরেছি। মুয়াবিয়া যখন এটি জানতে পারলেন, তখন তিনি তার উদ্দেশ্যে লিখলেন [বাসিত ছন্দে]:সেই দিনারগুলো তোমাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করায়নি যা তোমাকে ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল … ওহে আবু আল-উরিয়ান, সেগুলো তোমার ভোল পাল্টে দিয়েছে।সন্ধ্যায় জিয়াদ তার বংশমর্যাদায় ছিল না … আর সকালে কণ্ঠের পরিচয় তাকে নিশ্চিত করল।জিয়াদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ হোক, যদি সে এটি ত্বরান্বিত করত … তবে তা তার আশঙ্কার বিরুদ্ধে একটি মুক্তিপণ হতো।যখন আবু আল-উরিয়ানের সামনে মুয়াবিয়ার চিঠি পাঠ করা হলো, তিনি বললেন, হে বালক, লেখো:[বাসিত ছন্দে]
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
أَحْدِثْ لَنَا صِلَةً تَغْنَى النُّفُوسُ بِهَا … قَدْ كِدْتَ يَا ابْنَ أَبِي سُفْيَانَ تَنْسَانَاأَمَّا زِيَادٌ فَلَا أَمْرِيهِ نِسْبَتَهُ … وَلَا أُرِيدُ بِمَا حَاوَلْتُ بُهْتَانَامَنْ يُسْدِ خَيْرًا يُصِبْهُ حَيْثُ يَفْعَلُهُ … أَوْ يُسْدِ شَرًّا يُصِبْهُ حَيْثُ مَا كَانَا 25 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي عَنْ أَبِي الْجَلْدِ التَّمِيمِيِّ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ فِي الخضراء وَبَين يَد يه كَانُونُ فِضَّةٍ يُوقَدُ فِيهِ بَالْعُودِ الْأَلَنْجُوجِ فَقُلْتُ زَادَكَ اللَّهُ فِي النِّعْمَةِ عِنْدِي يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ أَعْجَبَكَ مَا تَرَى يَا أَبَا الْجَلْدِ قُلْتُ إِي وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَتَمَّمَ اللَّهُ ذَلِكَ بِرِضْوَانِهِ وَالْجَنَّةِ قَالَ فَلَا يُعْجِبْكَ هَذَا ابْنُ هِنْدٍ مَلَكَ النَّاسَ أَرْبَعِينَ سَنَةً عِشْرِينَ سَنَةً أَمِيرا وَعشْرين سنة خَليفَة وهاهو ذَاكَ عَلَى قَبْرِهِ يَنْبُوتَتَانِ26 - وَبِهِ قَالَ كَانَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ كَثِيرًا مَا يَجْلِسُ إِلَى أُمِّ الدَّرْدَاءِ فِي مُؤَخَّرِ الْمَسْجِدِ بِدِمَشْقَ وَهُوَ خَلِيفَةٌ فَجَلَسَ إِلَيْهَا مَرَّةً مِنَ الْمِرَارِ فَقَالَتْ لَهُ يَا أَمِيرَ
আমাদের জন্য এমন এক বদান্যতা তৈরি করুন যার দ্বারা প্রাণসমূহ সমৃদ্ধ হয় … হে আবু সুফিয়ানের পুত্র, আপনি তো প্রায় আমাদের ভুলেই গিয়েছিলেন।আর যিয়াদের ব্যাপারে আমি তার বংশপরিচয় নিয়ে সংশয় পোষণ করি না … এবং আমি যা অন্বেষণ করেছি তার মাধ্যমে কোনো অপবাদ দেওয়ার ইচ্ছাও রাখি না।যে ব্যক্তি কল্যাণ কাজ করে, সে যেখানেই তা করুক না কেন তা তাকে পৌঁছে যাবে … অথবা যে মন্দ কাজ করে, সে যেখানেই থাকুক না কেন তা তাকে স্পর্শ করবে। ২৫ - তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আবু আল-জালদ আল-তামিমি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি দামেস্কের আল-খাদরা প্রাসাদে আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট প্রবেশ করলাম। তাঁর সামনে ছিল একটি রুপার তৈরি ধূপদানি, যাতে সুগন্ধি আগর কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালানো হচ্ছিল। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, আমার দৃষ্টিতে আল্লাহ আপনার নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন: হে আবু আল-জালদ, তুমি যা দেখছ তা কি তোমাকে মুগ্ধ করেছে? আমি বললাম: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, হে আমিরুল মুমিনীন। আল্লাহ তাঁর সন্তুষ্টি এবং জান্নাতের মাধ্যমে তা পূর্ণতা দান করুন। তিনি বললেন: এটি যেন তোমাকে বিমোহিত না করে; ইবনে হিন্দ (মুয়াবিয়া রা.) চল্লিশ বছর মানুষের শাসন পরিচালনা করেছেন—বিশ বছর আমীর হিসেবে এবং বিশ বছর খলিফা হিসেবে। অথচ আজ ওই যে দেখ, তাঁর কবরের ওপর দুটি কাঁটাঝোপ জন্মে আছে।২৬ - এবং উক্ত সনদে বর্ণিত, আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান খলিফা থাকা অবস্থায় দামেস্কের মসজিদের পেছনের অংশে উম্মুদ দারদার নিকট প্রায়ই বসতেন। একবার তিনি তাঁর নিকট বসলেন, তখন তিনি (উম্মুদ দারদা) তাঁকে বললেন: হে আমির...
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الْمُؤْمِنِينَ بَلَغَنِي أَنَّكَ شَرِبْتَ الطِّلَا بَعْدَ الْعِبَادَةِ وَالنُّسُكِ قَالَ إِي وَاللَّهِ يَا أُمَّ الدَّرْدَاءِ وَالدِّمَاءُ قَدْ شَرِبْتُهَا ثُمَّ أَتَاهُ غُلَامٌ لَهُ كَانَ قَدْ بَعَثَهُ فِي حَاجَةٍ فَأَبْطَأَ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا حَبسك عَلَيْك لعنة الله فَقَالَت أُمُّ الدَّرْدَاءِ لَا تَفْعَلْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَا يدْخل الْجنَّة لعان27 - لَمَّا اسْتُخْلِفَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ طَلَبَ مِنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ شِرَى الْخَضْرَاءِ وَهِيَ دَارُ الْإِمَارَةِ بِدِمَشْقَ فَابْتَاعَهَا مِنْهُ بارعين أَلْفَ دِينَارٍ وَأَرْبَعِ ضِيَاعٍ بِأَرْبَعَةِ أَجْنَادِ الشَّامِ اخْتَارَهُنَّ فَاخْتَارَ مِنْ فِلِسْطِينَ عِمْوَاسَ وَمِنَ الْأُرْدُنِّ قَصْرَ خَالِدٍ وَمِنْ دِمَشْقَ أَنْدَرْكِيسَانَ وَمِنْ حمص دير زكى28 - لَمَّا بَنَى مُعَاوِيَةُ الْخَضْرَاءَ بِدِمَشْقَ وَهِيَ دَارُ الْإِمَارَةِ بَنَاهَا بِالطُّوبِ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهَا قَدِمَ عَلَيْهِ رَسُولُ مَلِكِ الرُّومِ فَنَظَرَ إِلَيْهَا فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ كَيْفَ تَرَى هَذَا الْبُنْيَانَ قَالَ أَمَّا أَعْلَاهُ فَلِلْعَصَافِيرِ وَأَمَّا أَسْفَلُهُ فَلِلْفَأْرِ قَالَ فنقضها مُعَاوِيَة وبناها بِالْحِجَارَةِ
হে আমিরুল মুমিনিন, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি ইবাদত-বন্দেগির পর 'তিলা' (এক প্রকার পানীয়) পান করেছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর শপথ, হে উম্মুদ দারদা! এমনকি আমি রক্তও পান করেছি। এরপর তার কাছে তার এক গোলাম আসল যাকে তিনি কোনো প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন এবং সে ফিরতে বিলম্ব করেছিল। তিনি বললেন, তোমাকে কিসে আটকে রেখেছিল? তোমার ওপর আল্লাহর লানত হোক। তখন উম্মুদ দারদা বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন! এমন করবেন না, কারণ আমি আবু দারদাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: 'অভিশাপকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না'।27 - যখন আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান খলিফা নিযুক্ত হলেন, তখন তিনি খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার নিকট থেকে দামেশকের প্রশাসনিক ভবন 'খাযরা' ক্রয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি এটি তার কাছ থেকে চল্লিশ হাজার দিনার এবং শামের চারটি প্রধান সামরিক অঞ্চলের চারটি ভূসম্পত্তির বিনিময়ে ক্রয় করেন, যা তিনি নিজে পছন্দ করে নিয়েছিলেন। তিনি ফিলিস্তিন থেকে আমওয়াস, জর্ডান থেকে কাসরে খালিদ, দামেশক থেকে আন্দার কিসান এবং হিমস থেকে দাইরে যাকা পছন্দ করেছিলেন।28 - যখন মুয়াবিয়া দামেশকে 'খাযরা' নির্মাণ করলেন—যা ছিল প্রশাসনিক ভবন—তিনি তা কাঁচা ইট দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন। যখন কাজ শেষ হলো, তখন রোম সম্রাটের এক দূত তার কাছে এলো এবং ভবনটির দিকে দৃষ্টিপাত করলো। মুয়াবিয়া তাকে বললেন, এই ভবনটি তোমার কেমন মনে হয়? সে বললো, এর উপরের অংশ চড়ুই পাখিদের জন্য আর নিচের অংশ ইঁদুরদের জন্য। তখন মুয়াবিয়া সেটি ভেঙে ফেললেন এবং পাথর দিয়ে পুনরায় নির্মাণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
29 - قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ رَأَيْتُ أَوْ قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ رَأَى عُصْفُورًا أَعْمَى فِي بَعْضِ الْحِجَازِ فِي حَافِرِ حِمَارٍ مُجَوَّفٍ فَتَعَجَّبْتُ مِنْ أَيِّ شَيْءٍ يَعِيشُ إِذْ سَمِعَ صَوْتَ زُنْبُورَةٍ فَلَمَّا أَحَسَّهَا العصفور تحرّك فَجَاءَت ح تى طَرَحَتْ فِي فِيهِ شَيْئًا ثُمَّ مَضَتْ30 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ اللَّهُمَّ إِنَّ رِجَالًا أَطَاعُوكَ بِمَا أَمَرْتَهُمْ وَانْتَهَوْا عَمَّا نَهَيْتَهُمْ اللَّهُمَّ وَإِنَّ بِتَوْفِيقِكَ إِيَّاهُمْ قَبْلَ طَاعَتِهِمْ إِيَّاكَ فَوَفِّقْنِي31 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ دَخَلَ يَزِيدُ بْنُ أَبِي مُسْلِمٍ الْقَيْسِيُّ عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بعد وَفَاة الْحجَّاج واكن يَزِيدُ دَمِيمًا قَصِيرًا فَقَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ مَا جَاءَ بِكَ مَنِ اسْتَكْتَبَكَ وَمَنْ قَلَّدَكَ قَبَّحَكَ اللَّهُ فَقَالَ لَهُ يَزِيدُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ نَظَرْتَ إِلَيَّ وَقَدْ أَدْبَرَ أَمْرِي فَصَغُرَ فِي عَيْنِكَ مَا عظم مَا عَظُمَ فِي عَيْنِ غَيْرِكَ فَقَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ أَتَرَى صَاحِبَكَ يَهْوِي بَعْدُ فِي النَّارِ أَمْ قَدِ اسْتَقَرَّ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّهُ يُحْشَرُ غَدًا بَيْنَ أَبِيكَ وَأَخِيكَ فَضَعْهُمَا حَيْثُ شِئْتَ قَالَ ثُمَّ كَشَفَهُ سُلَيْمَانُ فَلَمْ يجد عَلَيْهِ خِيَانَة دنارا وَلَا دِرْهَمًا فَهَمَّ بِاسْتِكْتَابِهِ فَقَالَ لَهُ عمر بن عبد العزبز أُنْشِدُكَ اللَّهَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْ تُحْيِيَ ذِكْرَ الْحَجَّاجِ بِاسْتِكْتَابِكَ كَاتِبَهُ فَقَالَ يَا أَبَا حَفْصٍ إِنِّي كَشَفْتُهُ فَلَمْ أَجِدْ عَلَيْهِ خِيَانَةً فَقَالَ عُمَرُ أَنَا أُوجِدُكَ مَنْ هُوَ أَعَفُّ عَنِ الدِّينَارِ وَالدِّرْهَمِ مِنْهُ فَقَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ وَمَنْ هَذَا قَالَ إِبْلِيسُ مَا مَسَّ دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا بِيَدِهِ وَقَدْ أَهْلَكَ هَذَا الْخَلْقَ فَتَرَكَهُ سُلَيْمَانُ
২৯ - তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইব্রাহীম ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি দেখেছি অথবা তিনি বলেন, আমাকে এমন একজন সংবাদ দিয়েছেন যিনি হিজাজের কোনো এক অঞ্চলে একটি গাধার খুরের গর্তের ভেতরে একটি অন্ধ চড়ুই পাখি দেখেছিলেন। আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম যে এটি কী খেয়ে বেঁচে থাকে, এমন সময় তিনি একটি বোলতার শব্দ শুনতে পেলেন। যখন চড়ুইটি তা অনুভব করল, সে নড়েচড়ে উঠল। তখন বোলতাটি এসে তার মুখে কিছু একটা ফেলে দিয়ে চলে গেল।৩০ - আমাদের কাছে ইব্রাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ বলেছেন: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আপনার আদেশ পালনের মাধ্যমে আপনার আনুগত্য করেছে এবং আপনার নিষেধকৃত বিষয় থেকে বিরত থেকেছে। হে আল্লাহ, আপনার প্রতি তাদের আনুগত্যের পূর্বেই আপনার পক্ষ থেকে তাদের জন্য তাওফিক অবধারিত ছিল, অতএব আমাকেও তাওফিক দান করুন।৩১ - আমাদের কাছে ইব্রাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাজ্জাজের মৃত্যুর পর ইয়াজিদ ইবনে আবি মুসলিম আল-কাইসি সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিকের দরবারে প্রবেশ করলেন। ইয়াজিদ দেখতে কুৎসিত ও খাটো ছিলেন। সুলাইমান তাকে বললেন, "কী উদ্দেশ্যে তোমার আসা? কে তোমাকে লেখক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল এবং কে তোমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল? আল্লাহ তোমাকে কুৎসিত করুন।" ইয়াজিদ তাকে বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি আমার দিকে এমন অবস্থায় তাকিয়েছেন যখন আমার প্রতিপত্তি শেষ হয়ে গেছে। ফলে অন্যের চোখে যা মহান ছিল, তা আপনার চোখে তুচ্ছ হয়ে গেছে।" সুলাইমান তাকে বললেন, "তোমার কী মনে হয়, তোমার সেই সাথি (হাজ্জাজ) কি এখনও জাহান্নামের দিকে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে নাকি সেখানে থিতু হয়েছে?" তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন, কিয়ামতের দিন সে আপনার পিতা ও আপনার ভাইয়ের মাঝখানে সমবেত হবে; এখন আপনি তাদের যেখানে ইচ্ছা স্থান দিন।" রাবী বলেন, এরপর সুলাইমান তার তদন্ত করলেন কিন্তু একটি দিনার বা দিরহামের ক্ষেত্রেও তার কোনো খেয়ানত খুঁজে পেলেন না। ফলে তিনি তাকে লেখক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। তখন উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন, আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, আপনি হাজ্জাজের লেখককে নিয়োগ দিয়ে তার স্মৃতি জীবিত করবেন না।" সুলাইমান বললেন, "হে আবু হাফস, আমি তাকে তদন্ত করেছি এবং তার মাঝে কোনো খেয়ানত পাইনি।" উমর বললেন, "আমি আপনাকে এমন একজনের সন্ধান দিতে পারি যে দিনার ও দিরহামের প্রতি তার চেয়েও বেশি বিমুখ।" সুলাইমান তাকে বললেন, "সে কে?" তিনি বললেন, "ইবলিস। সে নিজের হাত দিয়ে কখনো কোনো দিনার বা দিরহাম স্পর্শ করেনি, অথচ সে এই সৃষ্টিজগতকে ধ্বংস করে দিয়েছে।" ফলে সুলাইমান তাকে ছেড়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
32 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ أَقْبَلَ رَجُلٌ إِلَى أَبِي هِشَامِ بْنِ يَحْيَى فَقَالَ اكْتُبْ إِلَى مَالِكِ بْنِ دَلْهَمٍ إِلَى مِصْرَ يَسْتَعْمِلْنِي فَكَتَبَ لَهُ الْكِتَابَ فَلَمَّا عَنْوَنَهُ كَتَبَ مِنْ هِشَامِ بْنِ يَحْيَى إِلَى مَالِكِ بْنِ دَلْهَمٍ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ مَا آخُذُ الْكِتَابَ حَتَّى تبأ بِمَالِكٍ فِي الْعُنْوَانِ فَقَالَ وَيْحَكَ هَذِهِ سَبِيلِي وَسَبِيلُ مَنْ أَكْتُبُ إلأيه فَأَبَى فَكَتَبَ لَهُ الَّذِي أَرَادَ فَلَمَّا ور عَلَى مَالِكٍ إِلَى مِصْرَ قَالَ مَا هَذَا كِتَابُهُ إِنَّهُ عَوَّدَنِي أَنْ يَبْدَأَ بِنَفْسِهِ فِي كِتَابِهِ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ قَدْ أَرَادَ أَنْ يَفْعَلَ ذَلِكَ فَأَنَا سَأَلْتُهُ هَذَا قَالَ لَسْتُ أَقْبَلُهُ حَتَّى تَرْجِعَ فَيَكْتُبَ بِخَطِّهِ فَرَجَعَ إِلَى أَبِي مِنْ مِصْرَ فَكَتَبَهُ وَابْتَدَأَ بِنَفسِهِ فَلَمَّا ورد الكتبا عَلَى مَالِكٍ قَالَ الْآنَ صَحَّ كِتَابُكَ فَوَلَّاهُ مَا أَرَادَ33 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ خرَاش الحواشبي عَن أبان بن أَبى عَيْش عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا ابْنُ تِسْعٍ فَكَانَ يَبْعَثُنِي فِي حَاجَةٍ فَأَذْهَبُ فألعب مَعَ الصيبان ثُمَّ آتِيهِ فَلَا يُكْرِهُنِي وَلَا ينتهرني وَيَقُول لي يَا يني أَسْبِغْ وُضُوءَكَ يُزَدْ فِي عُمْرِكَ صلى قرابتك يكثر خيرك ومامسست شَيْئًا قَطُّ خَزًّا وَلَا غَيْرَهُ أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى اله عَلَيْهِ وَسلم34 - حَدثنَا إِ [راهيم بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ إسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ
32 - আমাদের নিকট ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবু হিশাম ইবনে ইয়াহইয়ার নিকট এসে বলল, 'মিশরে মালিক ইবনে দালহামের নিকট আমাকে কাজে নিযুক্ত করার সুপারিশ করে একটি পত্র লিখে দিন।' তিনি তার জন্য পত্রটি লিখলেন। যখন তিনি শিরোনাম লিখলেন, তখন লিখলেন 'হিশাম ইবনে ইয়াহইয়ার পক্ষ থেকে মালিক ইবনে দালহামের প্রতি'। তখন লোকটি তাঁকে বলল, 'আমি এই পত্র গ্রহণ করব না যতক্ষণ না আপনি শিরোনামে মালিকের নাম দিয়ে শুরু করবেন।' তিনি বললেন, 'আফসোস তোমার প্রতি! এটিই আমার পদ্ধতি এবং যাদের নিকট আমি লিখি তাদের সাথেও আমার এই নিয়ম।' কিন্তু লোকটি তা অস্বীকার করল, ফলে তিনি যেভাবে চাইল সেভাবেই তার জন্য লিখে দিলেন। যখন সে মিশরে মালিকের নিকট উপস্থিত হলো, মালিক বললেন, 'এটি তাঁর পত্র নয়; কারণ তিনি আমাকে চিঠিতে সর্বদা নিজের নাম দিয়ে শুরু করতে অভ্যস্ত করেছেন।' তখন লোকটি তাঁকে বলল, 'তিনি তেমনই করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমিই তাঁকে এভাবে করার অনুরোধ করেছিলাম।' মালিক বললেন, 'আমি এটি গ্রহণ করব না যতক্ষণ না তুমি ফিরে গিয়ে তাঁর নিজ হাতের লেখায় (স্বাভাবিক নিয়মে) তা নিয়ে আস।' অতঃপর সে মিশর থেকে আমার পিতার নিকট ফিরে এল। তিনি পুনরায় তা লিখলেন এবং নিজের নাম দিয়ে শুরু করলেন। যখন চিঠিটি মালিকের নিকট পৌঁছাল, তিনি বললেন, 'এখন তোমার চিঠি সঠিক হয়েছে।' অতঃপর তিনি তাকে তার কাঙ্ক্ষিত দায়িত্বে নিযুক্ত করলেন।33 - আমাদের নিকট ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট শিহাব ইবনে খিরাশ আল-হাওশাবি বর্ণনা করেছেন আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি যখন আমার বয়স ছিল নয় বছর। তিনি আমাকে কোনো প্রয়োজনে পাঠাতেন, আর আমি গিয়ে বালকদের সাথে খেলতে লেগে যেতাম। এরপর আমি তাঁর কাছে আসতাম, কিন্তু তিনি আমাকে অপছন্দ করতেন না বা ধমক দিতেন না। তিনি আমাকে বলতেন, 'হে বৎস! তুমি তোমার উযু পূর্ণাঙ্গভাবে করো, তোমার আয়ু বৃদ্ধি করা হবে; আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো, তোমার কল্যাণ বৃদ্ধি পাবে।' আর আমি কখনও কোনো রেশম বা অন্য কিছু স্পর্শ করিনি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালুর চেয়ে অধিক নরম ছিল।34 - আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবুদ্দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرِ رَمَضَانَ فِي حَرٍّ شَدِيدٍ حَتَّى إِن أح دنا لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ وَمَا فِينَا صَائِمٌ إلَّا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ35 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي يَحْيَى بْنِ يَحْيَى قَالَ أَثْنَى رَجُلٌ عَلَى مَكْحُولٍ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ مَكْحُولٌ الْحَمْدُ لِلَّهِ نِعْمَةٌ ظَهَرَتْ36 - حَدَّثَنَا ابْنُ الْفَيْضِ قَالَ أَنْشَدَنِي أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنُ صَاعِدٍ الْفَقِيهُ الصُّورِيُّ بِصُورَ مِنْ شعره لنَفسِهِ من الطَّوِيل … مَجَالُ قُلُوبِ الْعَارِفِينَ بِرَوْضَةٍ … سَمَاوِيَّةٍ مِنْ دُونِهَا حُجُبُ الرَّبِّ … ... مُعَسْكَرُهَا فِيهَا وَمَجْنَى ثِمَارِهَا … تَنَسَّمُ رُوْحَ الْأُنْسِ بِاللَّهِ مِنْ قُرْبِ … ... تَكَنَّفَهَا مِنْ عَالَمِ السِّرِّ حُبُّهُ … فَلَوْلَا مَدَى الْآجَالِ ذَابَتْ مِنَ الْحُبِّ … ... وأَنْشَقَهَا سُبْحَانَهُ رُوحَ قُرْبِهِ … وَبَرْدَ نَسِيمٍ جَلَّ عَنْ مُنْتَهَى الْخَطْبِ … ... وَأَرْوَى صَدَاهَا صِرْفُ كَاسَاتِ حُبِّهِ … بِأَشْهَى مِنَ الْمَاذِيِّ بِالْبَارِدِ الْعَذْبِ … ... فَيَا لَقُلُوبٍ قُرِّبَتْ فَتَقَرَّبَتْ … فَحَلَّتْ مِنَ الْمَحْبُوبِ فِي أَقْرَبِ الْقُرْبِ … ... رَضِيَهَا فَأَرْضَاهَا فَجَازَتْ مَدَى الرِّضَا … وحلت من المحجوب فِي الْمَنْزِلِ الرَّحْبِ … ... سَرَى سِرُّهَا بَيْنَ الْحَبِيبِ وَبَيْنَهَا … فَأَضْحَى مَصُونًا عَن سوى الرب وَالْقَلْبِ …
আমরা রমজান মাসে অত্যন্ত তীব্র গরমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম, এমনকি গরমের তীব্রতার কারণে আমাদের কেউ কেউ নিজের হাত মাথার উপর রাখছিলেন। আর আমাদের মাঝে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ব্যতীত কেউ রোজা রাখা অবস্থায় ছিলেন না।৩৫ - ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদা ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মাকহুলের সামনেই তার প্রশংসা করল। তখন মাকহুল বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এটি একটি প্রকাশ্য নিয়ামত।৩৬ - ইবনুল ফায়েজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুসা ইবনে সায়িদ আল-ফকিহ আস-সুরি সুর শহরে তাঁর নিজের রচিত দীর্ঘ ছন্দের কিছু কবিতা আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন … আরিফদের অন্তরের বিচরণ ক্ষেত্র হলো এক জান্নাতী বাগান … যার নিম্নে রবের পর্দাগুলো রয়েছে … তার অবস্থান সেখানেই এবং তার ফল আহরণের স্থানও সেখানেই … যা নিকট থেকে আল্লাহর সাথে মহব্বতের প্রশান্তির ঘ্রাণ গ্রহণ করে … গোপন জগত থেকে তাঁর ভালোবাসা তাকে ঘিরে রেখেছে … যদি নির্ধারিত হায়াত শেষ না হতো, তবে তা ভালোবাসায় গলে যেত … পবিত্র মহান আল্লাহ তাকে তাঁর নৈকট্যের প্রশান্তি ঘ্রাণ হিসেবে দান করেছেন … এবং এমন এক শীতল সমীরণ যা বর্ণনার ঊর্ধ্বে … আর তাঁর ভালোবাসার খাঁটি পানপাত্র তার পিপাসাকে সিক্ত করেছে … যা শীতল ও সুস্বাদু মধুর চেয়েও অধিক তৃপ্তিদায়ক … হায় সেই অন্তরসমূহ! যাদেরকে নিকটবর্তী করা হয়েছে এবং তারা নৈকট্য লাভ করেছে … অতঃপর তারা প্রিয়তমের অতি নিকটে স্থান লাভ করেছে … তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাদের সন্তুষ্ট করেছেন, ফলে তারা সন্তুষ্টির সীমা অতিক্রম করেছে … এবং লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা সত্তার প্রশস্ত আবাসে স্থান গ্রহণ করেছে … প্রিয়তম এবং তার মাঝে সেই গোপন রহস্য প্রবাহিত হয়েছে … যা রব এবং অন্তর ব্যতীত অন্য সবার থেকে সুরক্ষিত হয়েছে …
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
فَغَدَا عَلَيْهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ الصُّورِيُّ وَسَعِيدٌ الْخَيَّاطُ وَأَبُو هِشَامٍ الْخَزَّازُ وَكَانُوا زُهَّادًا عُبَّادًا فَقَالُوا لَهُ يَا أَبَا الْحَسَنِ مَا هاذا الذى بلغنَا أَنَّك قلته قَالَ وَمَا هُوَ قُلْتَ … مَجَالُ قُلُوبِ الْعَارِفِينَ بِرَوْضَةٍ … سَمَاوِيَّةٍ مِنْ دُونِهَا حُجُبُ الرَّبِّ … قَالَ لَا قُلْتُ مِنْ فَوْقِهَا حُجُبُ الرَّبِّ فَقَالَ لَهُمْ وَأَنَا أَسْمَعُهُ قَوْلَهُ لَهُمْ وَأَيُّ فَضِيلَةٍ لَهَا إِذَا كَانَ مِنْ دُونِ الْحُجُبِ إِنَّمَا فَضِيلَتُهَا إِذَا خَرَّقَتِ االحجب لِأَن اقوم أَخْلصُوا الْفِكر فَجَالَتْ فِكَرُهُمْ حَتَّى خرَّقَتِ الْحُجُبَ فَصَارَت ب الرَّوْضَة السَّمَاوِيَّةِ مِنْ فَوْقِ الْحُجُبِ فَقَالُوا لَهُ صَدَقْتَ37 - وَأَنْشَدَنِي أَحْمَدُ بْنُ صاعد لنَفسِهِ من الطَّوِيل … أَلَا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ يَلِيقُ بِقَائِلٍ … يَقُولُ إِذَا مَا اللَّيْلُ أَنْجُمُهُ تَسْرِي … ... أَيَا مَنْ تَرَى جِسْمِي وَلَحْمِي وَأَعْظُمِي … وَمَنْ حُبُّهُ مِنِّي مَلَا الْقَلْبِ وَالصَّدْرِ … ... وَمَنْ لُطْفُهُ مَا لَسْتُ أَبْلُغُ كُنْهَهُ … وَلَا حَدُّهُ الْأَجْزَاءُ مِنْ عَدَدِ الْقَطْرِ … ... وَمَنْ هُوَ رَبَّانِي وَغَذَّى بِلُطْفِهِ … وَجَلَّلَنِي بِاللُّطْفِ وَالْمَنِّ وَالسِّتْرِ … ... وأَنْعَشَنِي مِنْ بَعْدِ ضَعْفٍ وَحَيْرَةٍ … وَفَهَّمَنِي مِنْ بَعْدِ أَنْ كُنْتُ لَا أَدْرِي … ... وَأَنْطَقَنِي مِنْ بَعْدِ عِيٍّ وَلُكْنَةٍ … وَزَحْزَحَ بِالْأَعْذَارِ عَنْ حجتي عُذْري … ... وعندك مِنْ مَكْنُونِ مَا خَصَّنِي بِهِ … مصون عَظِيم التسر يَا لَكَ مِنْ سِتْرِ … ... أَصُولُ بِهِ طَوْرًا وَأَفْخَرُ تَارَةً … وَأَشْرُفُ أَحْيَانًا وَيَزْهُو بِهِ قَدْرِي … ... وَأَخْتَالُ بِهِ طَوْرًا وَأَفْخَرُ تَارَةً … وَأَشْرُفُ أَحْيَانًا وَيَزْهُو بِهِ قَدْرِي … ... وَأَخْتَالُ فِي مَشْيِي بِهِ وَلِأَنَّهُ … رَضِيَنِي لَهُ عَبْدًا وَأَبْسُمُ عَنْ ثَغْرِي … ... أَلَا أَيْنَ مِثْلِي وَالسَّمَوَاتُ كُلُّهَا … لَدَيَّ مَعَ الْأَرَضِينَ وَالْبَرِّ وَالْبَحْرِ … ... أَلَا أَيْنَ مِثْلِي وَالْمَلَائِكُ جَمَّةٌ … عَبِيدٌ لِرَبِّي خَاضِعِينَ لِذِي الْكِبْرِ … ... أقلب ط رفي فِي الْبِلَادِ فَلَا أَرَى … سِوَى مُلْكِ مَوْلَايَ لَدَى السَّهْلِ وَالْوَعْرِ … ... أُرَاعِي سَوَادَ اللَّيْلِ أُنْسًا بِسَيِّدِي … وشوقا إلأيه غَيْرَ مُسْتَكْرَهِ الصَّبْرِ … ... وَلَكِنْ سُرُورًا دَائِمًا وَتَعَرُّضًا … وَقَرْعًا لِبَابِ الرَّبِّ ذِي الْعِزِّ وَالْقَدْرِ … ... رَضِيتُ بِعِلْمِ اللَّهِ فِيمَا أُسِرُّهُ … مِنَ الْحُبِّ للجبار فِي الْقلب والصَّدْر …
অতঃপর মুহাম্মাদ বিন মুবারক আস-সুরি, সাঈদ আল-খাইয়্যাত এবং আবু হিশাম আল-খাজ্জাজ তাঁর কাছে সকালে আসলেন, আর তাঁরা ছিলেন দুনিয়াত্যাগী ইবাদতগুজার। তাঁরা তাঁকে বললেন, হে আবা আল-হাসান! আপনার সম্পর্কে আমাদের কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে তা কী? তিনি বললেন, তা কী? আমি বললাম (অর্থাৎ তাঁদের একজন বললেন), … আরিফদের অন্তরের বিচরণক্ষেত্র হলো একটি আসমানি উদ্যান, … যার নিচে রবের পর্দা রয়েছে … তিনি বললেন, না। আমি বললাম, বরং তার উপরে রবের পর্দা রয়েছে। তখন তিনি তাঁদেরকে বললেন আর আমি তা শুনছিলাম, যদি তা পর্দার নিচে হয় তবে তার আর কী ফযিলত রইল? বরং এর ফযিলত তো তখনই হয় যখন তা পর্দাসমূহ বিদীর্ণ করে ফেলে। কারণ একদল লোক তাদের চিন্তাকে একনিষ্ঠ করেছে, ফলে তাদের চিন্তা বিচরণ করে এমনকি পর্দাসমূহকে বিদীর্ণ করে ফেলে। অতঃপর তারা পর্দার উপরের আসমানি উদ্যানে পরিণত হয়। তখন তাঁরা তাঁকে বললেন, আপনি সত্য বলেছেন।৩৭ - এবং আহমাদ বিন সায়েদ নিজের রচিত তওয়ীল ছন্দের কবিতা আমাকে আবৃত্তি করে শোনালেন … হায়! যদি আমি জানতাম, কোনো বক্তার জন্য কি এটি শোভন, … যে বলে যখন রাতের নক্ষত্ররাজি পরিভ্রমণ করে … ... হে সত্তা! যিনি আমার দেহ, মাংস ও হাড় দেখছেন, … এবং যাঁর ভালোবাসা আমার অন্তর ও বক্ষকে পূর্ণ করে রেখেছে … ... এবং যাঁর অনুগ্রহের প্রকৃত স্বরূপ আমি উপলব্ধি করতে পারি না, … আর বৃষ্টির ফোঁটার সংখ্যার অংশসমূহও যাঁর সীমা নির্ধারণ করতে পারে না … ... এবং যিনি আমাকে প্রতিপালন করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা পুষ্ট করেছেন, … আর আমাকে অনুগ্রহ, দান ও আবরণের চাদরে আবৃত করেছেন … ... এবং তিনি আমাকে দুর্বলতা ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার পর পুনরুজ্জীবিত করেছেন, … আর আমি যখন কিছুই জানতাম না তখন তিনি আমাকে বুঝ দান করেছেন … ... এবং তোতলামি ও জড়তার পর তিনি আমাকে বাকশক্তি দান করেছেন, … আর ওজর-আপত্তির মাধ্যমে আমার প্রমাণের পথ থেকে বাধাসমূহ সরিয়ে দিয়েছেন … ... এবং আপনার নিকট গোপন রহস্যের এমন কিছু রয়েছে যা আপনি কেবল আমাকেই দান করেছেন, … অতি মহান ও সুরক্ষিত সেই আবরণ, কতই না চমৎকার সেই আবরণ! … ... এর মাধ্যমে আমি কখনো প্রভাব বিস্তার করি, কখনো গর্ব করি, … কখনো সম্মানিত হই এবং এর দ্বারা আমার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় … ... এবং এর মাধ্যমে আমি কখনো দম্ভভরে চলি, কখনো গর্ব করি, … কখনো সম্মানিত হই এবং এর দ্বারা আমার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় … ... আমি আমার চলায় এর কারণে অহংকার করি, কারণ তিনি … আমাকে তাঁর বান্দা হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং আমি মুখে হাসি ফোটাই … ... সাবধান! আমার মতো আর কে আছে যখন সমস্ত আসমান, … জমিন, জল ও স্থল আমার সামনে বিদ্যমান … ... সাবধান! আমার মতো আর কে আছে যখন অগণিত ফেরেশতা … আমার রবের অনুগত বান্দা এবং সেই মহান সত্তার প্রতি বিনীত … ... আমি দেশ-দেশান্তরে দৃষ্টি ফিরাই এবং সমতল ও বন্ধুর ভূমিতে … আমার মাওলার রাজত্ব ছাড়া আর কিছুই দেখি না … ... আমি আমার রবের সান্নিধ্য লাভের জন্য এবং তাঁর প্রতি তীব্র ব্যাকুলতার কারণে রাতের অন্ধকার পর্যবেক্ষণ করি, … যা অপছন্দনীয় কোনো ধৈর্য নয় … ... বরং তা এক চিরস্থায়ী আনন্দ ও আত্মনিবেদন … এবং প্রতাপ ও মর্যাদার অধিকারী রবের দ্বারে করাঘাত … ... অন্তর ও বক্ষ জুড়ে সেই প্রবল পরাক্রমশালী জাব্বারের প্রতি যে ভালোবাসা আমি লুকিয়ে রেখেছি, … সে বিষয়ে আল্লাহর অবগতিতেই আমি সন্তুষ্ট …
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
38 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ لَمَّا وَلَّانِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَوْصِلَ قدمتها مِنْ أَكْثَرِ الْبِلَادِ سَرَقًا وَنَقْبًا فَكَتَبْتُ إِلَى عُمَرَ أُعْلِمُهُ حَالَ الْبِلَادِ وَأَسْأَلُهُ آخُذُ النَّاسَ بِالظِّنَّةِ وَأَضْرِبُهُمْ عَلَى التُّهْمَةِ أَمْ آخُذُهُمْ بِالْبَيِّنَةِ وَمَا جَرَتْ عَلَيْهِ السُّنَّةُ فَكَتَبَ إِلَيَّ أَنْ آخُذَ النَّاسَّ بِالْبَيِّنَةِ وَمَا جرت عَلَيْهِ السنى فَإِنْ لَمْ يُصْلِحْهُمُ الْحَقُّ فَلَا أَصْلَحَهُمُ اللَّهُ قَالَ يَحْيَى فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَمَا خَرَجْتُ مِنَ الْمَوْصِلِ حَتَّى كَانَتْ مِنْ أَصْلَحِ الْبِلَادِ وَأَقَلِّهَا سَرَقًا وَنَقْبًا39 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ دَخَلَ جَعْوَنَةُ بْنُ الْحَارِثِ عَلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَالَ لَهُ مر يَا جَعْوَنَةُ إِنِّي قَدْ وَمَقْتُكَ فإياك أَن أكقتك أَتَدْرِي مَا يُحِبُّ أَهْلُكَ مِنْكَ قَالَ يُحِبُّونَ صَلَاحِي قَالَ لَا وَلَكِنَّهُمْ يُحِبُّونَ مَا قَامَ لَهُمْ سَوَادُكَ وَأَكَلُوا فِي غِمَارِكَ وَبَرَّدُوا عَلَى ظَهْرِكَ فَاتَّقِ اللَّهَ وَلَا تُطْعِمْهُمْ إِلَّا طَيِّبًا40 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ لِلَّيْثِ بْنِ أَبِي رُقِيَّةَ وَكَانَ كَاتِبَ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ الْكِنْدِيِّ عَامِلُ عُمَرَ عَلَى الْأُرْدُنِّ كَيْفَ قَضَى صَاحِبُكَ فِي الرَّجُلِ الَّذِي مَرَّ
৩৮ - ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ যখন আমাকে মসুলে গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করলেন, তখন আমি সেখানে পৌঁছে দেখলাম এটি চুরি ও সিঁধেল চুরির দিক দিয়ে অন্যতম শীর্ষ শহর। তখন আমি ওমরের নিকট পত্র লিখে শহরের অবস্থা জানালাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি মানুষকে সন্দেহের বশে পাকড়াও করব এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের প্রহার করব, নাকি প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের পাকড়াও করব এবং সুন্নাহর প্রচলিত রীতি অনুসরণ করব? তিনি আমার নিকট প্রতিউত্তরে লিখলেন যে, তুমি মানুষকে প্রমাণের ভিত্তিতে ধরবে এবং সুন্নাহর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চলবে। কেননা যদি সত্য তাদের সংশোধন করতে না পারে, তবে আল্লাহ যেন তাদের সংশোধন না করেন। ইয়াহইয়া বলেন, আমি তাই করলাম। আমি যখন মসুল ত্যাগ করলাম, তখন সেটি অন্যতম সংশোধিত এবং চুরি ও সিঁধেল চুরির দিক থেকে সবচেয়ে নিরাপদ শহরে পরিণত হয়েছিল।৩৯ - ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাওয়ানা ইবনে হারিস ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি তাকে বললেন, হে জাওয়ানা, শোনো, আমি তোমাকে পছন্দ করি, সুতরাং সাবধান থেকো যেন আমি তোমাকে অপছন্দ না করি। তুমি কি জানো তোমার পরিবার তোমার কাছে কী প্রত্যাশা করে? তিনি বললেন, তারা আমার নেককার হওয়া পছন্দ করে। ওমর বললেন, না, বরং তারা কেবল ততক্ষণ তোমাকে চায় যতক্ষণ তোমার অস্তিত্ব তাদের অন্ন সংস্থান করে, তারা তোমার প্রাচুর্যে খেয়ে সাবাড় করে এবং তোমার আশ্রয়ে শীতলতা লাভ করে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং তাদের কেবল পবিত্র খাবারই ভক্ষণ করাও।৪০ - ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ লাইস ইবনে আবু রুকাইয়্যাহকে—যিনি জর্ডানে ওমরের নিযুক্ত গভর্নর উবায়দাহ ইবনে নুসাই আল-কিন্দির সচিব ছিলেন—জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মুনিব সেই লোকটির ব্যাপারে কী ফয়সালা দিয়েছিলেন যে অতিক্রম করেছিল...
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَيَحْمِلُ نَارًا فِي زَرْعٍ فَوَقَعَتْ جَمْرَةٌ فَأَحْرَقَتِ الزَّرْعَ قَالَ قَضَى عَلَيْهِ بِقِيمَةِ الزَّرْعِ قَالَ بِئْسَمَا قَضَى صَاحِبُكَ النَّارُ عَجْمَاءُ وَالْعَجْمَاءُ جُبَارٌ41 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ كُنْتُ أَنَا وَابْنُ أَبِي زَكَرِيَّا بِبَابِ عُمَرَ فَسَمِعْنَا بُكَاءً فِي دَارِهِ فَسَأَلْنَا فَقَالُوا خَيَّرَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ امْرَأَتَهُ بَيْنَ أَنْ تُقِيمَ فِي مَنْزِلِهَا عَلَى حَالِهَا وَأَعْلَمَهَا أَنَّهُ قَدْ شُغِلَ لِمَا فِي عُنُقِهِ عَنِ النِّسَاءِ وَبَيْنَ أَنْ تَلْحَقَ بِمَنْزِلِ أَبِيهَا فَبَكَتْ فَبَكَى جَوَارِيهَا42 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ كَانَت بنة عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ امْرَأَةِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ جَارِيَةٌ تعجب عمر فَلَا صَار إِلَى مَا صَار إلأيه زَيَّنَتْهَا فَاطِمَةُ وَطَيَّبَتْهَا وبَعَثَتْ بِهَا إِلَيْهِ وَقَالَتْ إِنِّي قَدْ كُنْتُ أعمل أَنَّهَا تُعْجِبُكَ وَقَدْ وَهَبْتُهَا لَكَ فَتَنَاوَلْ مِنْهَا حَاجَتَكَ فَلَمَّا جَاءَتْ قَال لَهَا عُمَرُ اجْلِسِي يَا جَارِيَة فو الله مَا شَيْءٌ مِنَ الدُّنْيَا كَانَ أَعْجَبَ إِلَيَّ مِنْكِ أَنْ أَنَالَهُ فَأَخْبِرِينِي بِقِصَّتِكِ وَمَا كَانَ سَبَبُكِ قَالَت كنت جَارِيَة مِنَ الْبَرْبَرِ جَنَى أَبِي جِنَايَةً فَهَرَبَ مِنْ مُوسَى بْنِ نُصَيْرٍ عَامِلِ عَبْدِ الْمَلِكِ عَلَى إِفْرِيقِيَّةَ فَأَخَذَنِي مُوسَى بْنُ نُصَيْرٍ فَبَعَثَ إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ فَوَهَبَنِي عَبْدُ الْملك لفا ط مة فَبَعَثَتْ بِي فَاطِمَةُ إِلَيْكَ
এবং কেউ ফসলের ক্ষেতে আগুন বহন করছিল, তখন একটি অঙ্গার পড়ে গেল এবং ফসল পুড়িয়ে ফেলল। তিনি বললেন: তিনি তার ওপর ফসলের মূল্যের দণ্ড প্রদান করেছেন। তিনি বললেন: তোমার সাথী কতই না মন্দ ফয়সালা করেছেন; আগুন হলো নিয়ন্ত্রণহীন, আর নিয়ন্ত্রণহীন ধ্বংসলীলা হলো ক্ষতিপূরণমুক্ত।41 - ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং ইবনে আবি জাকারিয়া উমরের দরজায় ছিলাম। তখন আমরা তাঁর ঘরে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। আমরা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল: আমিরুল মুমিনিন তাঁর স্ত্রীকে তাঁর ঘরে বর্তমান অবস্থায় থাকার—এবং তাঁকে অবগত করেছেন যে তাঁর কাঁধে যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তা তাঁকে নারীসঙ্গ থেকে বিমুখ করে রেখেছে—এবং তাঁর পিতার ঘরে ফিরে যাওয়ার মধ্যে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন। তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁর দাসীরাও কাঁদতে লাগল।42 - ইব্রাহিম ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের কন্যা—যিনি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের স্ত্রী ছিলেন—তাঁর এক দাসী ছিল যাকে উমর পছন্দ করতেন। যখন উমর সেই অবস্থায় উপনীত হলেন যে অবস্থায় তিনি ছিলেন, তখন ফাতিমা সেই দাসীকে সুসজ্জিত করলেন ও সুগন্ধি মাখালেন এবং তাকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: আমি জানতাম যে সে আপনার পছন্দনীয় ছিল, তাই আমি তাকে আপনাকে দান করলাম; আপনি তার থেকে আপনার প্রয়োজন পূরণ করুন। যখন সে এল, উমর তাকে বললেন: হে দাসী, বসো। আল্লাহর কসম, দুনিয়ার কোনো কিছুই অর্জন করা আমার কাছে তোমার চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল না। এখন আমাকে তোমার কাহিনী এবং তোমার অবস্থা সম্পর্কে বলো। সে বলল: আমি বারবার সম্প্রদায়ের একজন দাসী ছিলাম; আমার বাবা একটি অপরাধ করেছিলেন এবং আফ্রিকার ওপর আব্দুল মালিকের গভর্নর মুসা ইবনে নুসায়েরের নিকট থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তখন মুসা ইবনে নুসায়ের আমাকে পাকড়াও করেন এবং আব্দুল মালিকের কাছে পাঠিয়ে দেন। আব্দুল মালিক আমাকে ফাতিমার নিকট দান করেন, আর ফাতিমা আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
فَقَالَ عُمَرُ كِدْنَا وَاللَّهِ نُفْتَضَحُ فَجَهَّزَهَا وَبَعَثَ بِهَا إِلَى أَهْلِهَا43 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي قَالَ سَمَرْنَا لَيْلَةً عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَتَنَاوَلَ قُلَنْسِيَةً عَنْ رَأْسِهِ بَيْضَاءَ مُضَرِّبَةً فَقَالَ كَمْ تَرَوْنَهَا تُسَاوِي قُلْنَا دِرْهَمٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ وَاللَّهِ مَا أَظُنُّهَا مِنْ حَلَالٍ44 - حَدَّثَنَا أَبِي الْفَيْضُ بْنُ مُحَمَّدٍ رحمه الله قَالَ كَانَتْ عَجُوزٌ من عجائزنا تقْرَأ القر آن وَكَانَت لثغاء فَقلت لَهَا با أمة الر حمن أَي شَيْء يشْتَد عَلَيْهِ من الْقُرْآن إِذا قرأته قَالَت الذى طروا يُوسُفَ فِيهِ قَالَ وَكَانَتْ تَجْعَلُ مَوْضِعَ الْجِيمِ زَايًا فَتَقُولُ الزُّبَّ45 - وَسَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ كَانَ عَطَّافٌ الْمعلم صَبيا يَقُول {وَالْعَادِيات ضَبْحًا} فَيَقُول الوعاديات دبح احَتَّى إِذَا أَعْيَاهُ ضَرَبَ بِأَسْفَلِ اللَّوْحِ نَحْرَهُ فَقَالَ يَا مُعَلِّمُ ضَبَحْتَنِي ضَبَحْتَنِي قَالَ فَأَيْنَ كَانَ هَذَا الْكَلَامُ مِنْ تِلْكَ السَّاعَةِ ياكدا وَكَذَا46 - حَدثنِي أَبُو الْفَتْح مُظَفَّرُ بْنُ مُرَجَّى قَالَ جَاءَ إِلَى إِسْحَاق ب ن أَبِي إِسْرَائِيلَ فَقَالَ يَا أَبَا يَعْقُوبَ أَقَنَتَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ قَالَ نَعَمْ وَلَعَنَ فِي الْقُنُوتِ جَدَّكَ
উমর বললেন, "আল্লাহর কসম, আমরা তো অপদস্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছিলাম।" অতঃপর তিনি তা প্রস্তুত করলেন এবং তা তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।43 - ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক রাতে আমরা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সাথে নৈশকালীন কথোপকথনে মগ্ন ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি তার মাথা থেকে একটি সাদা কারুকার্যখচিত টুপি হাতে নিলেন এবং বললেন, "তোমাদের মতে এর মূল্য কত হতে পারে?" আমরা বললাম, "হে আমিরুল মুমিনীন! এক দিরহাম।" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি মনে করি না যে এটি হালাল উপার্জন থেকে অর্জিত।"44 - আবুল ফাইজ ইবনে মুহাম্মদ (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের এক বৃদ্ধা মহিলা কুরআন পাঠ করতেন এবং তার উচ্চারণে জড়তা ছিল। আমি তাকে বললাম, "হে আল্লাহর বান্দী! কুরআন পাঠের সময় আপনার কাছে কোনটি সবচেয়ে কঠিন মনে হয়?" তিনি বললেন, "সেই অংশটি যাতে তারা ইউসুফকে কূপে নিক্ষেপ করেছিল।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি 'জিম' বর্ণের স্থলে 'যা' উচ্চারণ করতেন, ফলে তিনি 'আল-জুব্ব' (কূপ) এর পরিবর্তে 'আয-জুব্ব' বলতেন।45 - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আতাফ নামক জনৈক শিক্ষক বালক বয়সে "ওয়াল আদিয়াতি দ্বাবহা" পাঠ করার সময় "ওয়াল আদিয়াতি দাবহা" বলতেন। এমনকি যখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, তখন তিনি তার স্লেটের নিচের অংশ দিয়ে নিজের গলায় আঘাত করতেন এবং বলতেন, "হে শিক্ষক! আপনি তো আমাকে হাঁপিয়ে তুলেছেন, আমাকে হাঁপিয়ে তুলেছেন।" তিনি (শিক্ষক) বললেন, "হে অমুক! এতক্ষণ এই বিশুদ্ধ উচ্চারণ কোথায় ছিল?"46 - আবুল ফাতহ মুজাফফর ইবনে মুরাজ্জা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি ইসহাক ইবনে আবু ইসরাঈলের নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, "হে আবু ইয়াকুব! আলী ইবনে আবু তালিব (তার ওপর আল্লাহর সালাত ও রহমত বর্ষিত হোক) কি কুনুত পাঠ করেছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, এবং তিনি কুনুতের মধ্যে তোমার দাদাকে অভিশাপ দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وَكَانَ الرَّجُلُ الَّذِي سَأَلَهُ مِنْ وَلَدِ أَبِي مُوسَى47 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بن عَليّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ الْكُوفِيُّ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي وَرَاءَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى الْعَبْسِيِّ فِي مَسْجِدِهِ وَكَانَ إِذَا قَرَأَ سَمِعْنَا وَقْعَ الدُّمُوعِ على الْحَصِير48 - وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى فَقَلْتُ أَيْشٍ يَعْمَلُ أَبُوكَ بِاللَّيْلِ فَقَالَ يَنُوحُ إِلَى الصَّبَاحِ49 - قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْوَاسِطِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو وَهْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عِنْ ثَابِتٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي طَلْحَةَ أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ضَحَّى بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ فَقَالَ عِنْدَ ذَبْحِ الْأَوَّلِ عَنْ مُحَمَّدٍ وَعَنْ آلِ مُحَمَّدٍ وَقَالَ عِنْدَ ذَبْحِ الثَّانِي عَنْ مَنْ آمَنَ بِي وَصَدَّقَنِي مِنْ أُمَّتِي50 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ جَرَّادٍ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ عَنْ رَجَاءَ بْنِ حَيْوَةَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ51 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ حَدَّثَنَا صِلَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْعَطَّارُ
যে লোকটি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি আবু মুসার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।৪৭ - আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আল-কুফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা ওবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসির পেছনে তাঁর মসজিদে নামাজ পড়তাম। তিনি যখন তিলাওয়াত করতেন, তখন আমরা চাটাইয়ের ওপর তাঁর চোখের পানির ফোঁটা পড়ার শব্দ শুনতে পেতাম।৪৮ - এবং আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওবাইদুল্লাহ ইবনে মুসার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম, আপনার পিতা রাতে কী করেন? তিনি বললেন: তিনি সকাল পর্যন্ত ক্রন্দন করেন।৪৯ - তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু ওয়াহাব আব্দুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হুমাইদ সাবিত থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি আবু তালহা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি সাদা-কালো মিশ্রিত রঙের ভেড়া কোরবানি করেছিলেন। প্রথমটি জবাই করার সময় তিনি বলেছিলেন, "মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে এবং মুহাম্মাদের পরিবারের পক্ষ থেকে", এবং দ্বিতীয়টি জবাই করার সময় তিনি বলেছিলেন, "আমার উম্মতের মধ্যে যারা আমার ওপর ঈমান এনেছে এবং আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে তাদের পক্ষ থেকে"।৫০ - আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে শু'বা বনু তামীম গোত্রের জাররাদ নামক এক ব্যক্তি থেকে, তিনি রাজা ইবনে হাইওয়াহ থেকে এবং তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।"৫১ - আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে সিলাহ ইবনে সুলায়মান আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
الْوَاسِطِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَإِنَّهَا تَسُدُّ مِنَ الْجَائِعِ مَسَدَّهَا مِنَ الشَّبْعَانِ}52 - حَدَّثَنَا الْمُسَيِّبُ بْنُ وَاضِحٍ قَالَ حَدثنَا الْمُعْتَمِر بن سل يمَان عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فِي يَوْمٍ شَدِيدِ الْبَرْدِ وَالْقَرِّ وَغُلَامٌ لَهُ أَسْوَدُ عَلَى ظَهْرِهِ قِرْبَةٌ يَسْتَقِي فِيهَا الْمَاءَ وَعَلَيْهِ مِدْرَعَةُ خَيْشٍ فَالْتَفَتُّ إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا حَمْزَةَ أَنْتَ بِالْمَوْضِعِ الَّذِي أَنْتَ فِيهِ وَغُلَامُكَ فِي مِثْلِ هَذَا الْيَوْمِ الْبَارِدِ عَلَيْهِ مِدْرَعَةٌ مِنْ خَيْشٍ يَسْتَقِي الْمَاءَ وَأَقْبَلَ الْغُلَامُ فَقَالَ أَنَسٌ يَا مُبَارَكُ دَعِ الْقِرْبَةَ فَفَرِّغِ الْقِرْبَةَ وَتَعَالَ فَفَرَّغَ الْقِرْبَةَ وَعَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ جُبَّةُ خَزٍّ وَمِطْرَفٌ فَقَالَ لَهُ يَا مُبَارَكُ أَلَمْ أَشْتَرِ لَكَ جُبَّةً مِثْلَ هَذِهِ وَمِطْرَفًا مِثْلَ هَذَا فَقَالَ نَعَمْ قَالَ فَأَيْنَ هُوَ قَالَ سَمِعْتُكَ تُحَدِّثُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كُنْتَ تَخْدِمُهُ قَالَ إِنَّ هَذِهِ دَارٌ وَبَيْنَ أَيْدِينَا دَارٌ فَمَنْ قَدَّمَ مِنْ هَذِهِ الدَّارِ شَيْئًا إِلَى تِلْكَ الدَّارِ وَجَدَهُ فِيهَا فَقَدَّمْتُهُ إِلَى تِلْكَ الدَّارِ قَالَ فَبَكَى أَنَسٌ وَقَالَ اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللَّهِ فَبَكَى الْغُلَامُ ثُمَّ قَالَ يَا مَوْلَايَ كُنْتُ أَعْمَلُ فِي رِضَاكَ وَأَنْتَ الْمَوْلَى الصَّغِيرُ فَالْآنَ أجهد نَفسِي فِي رضى الْمَوْلَى الْكَبِيرِ53 - سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ عَمَّارِ بْنِ نُصَيْرٍ يَقُولُ كَانَ فِي جُوسِيَةَ رَجُلٌ مِنْ شَرْعَبٍ قَبِيلَةٌ مِنْ قَبَائِلِ الْيَمَنِ وَكَانَ لَهُ بَغْلٌ فَكَانَ يُدْلِجُ عَلَى بَغْلِهِ مِنْ جُوسِيَةَ وَهِيَ
আল-ওয়াসিতি মুহাম্মদ ইবনে উমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, {তোমরা একটি খেজুরের টুকরো দিয়ে হলেও আগুন (জাহান্নাম) থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা ক্ষুধার্তের অভাব সেভাবেই পূরণ করে যেভাবে তা তৃপ্ত ব্যক্তির ক্ষুধা নিবারণ করে।}৫২ - মুসাইয়িব ইবনে ওয়াজিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মু'তামির ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হুমাইদ আত-তাবিল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক প্রচণ্ড শীত ও ঠান্ডার দিনে আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর নিকট ছিলাম। তাঁর এক কৃষ্ণাঙ্গ গোলাম ছিল যার পিঠে পানির মশক ছিল এবং সে তা দিয়ে পানি পান করাচ্ছিল। তার পরনে ছিল পাটের তৈরি একটি জুব্বা। আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর দিকে ফিরে তাকে বললাম, হে আবু হামজা! আপনি যে (বিলাসবহুল) অবস্থানে আছেন তা তো দেখাই যাচ্ছে, অথচ আপনার গোলাম এই প্রচণ্ড শীতের দিনে পাটের জুব্বা পরে পানি টানছে! গোলামটি কাছে এলে আনাস (রা.) বললেন, হে মুবারক! মশকটি রাখো এবং এটি খালি করে এখানে এসো। সে মশকটি খালি করল। তখন আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর পরনে ছিল রেশমি জুব্বা ও একটি চাদর। তিনি তাকে বললেন, হে মুবারক! আমি কি তোমার জন্য এইরকম একটি জুব্বা এবং এইরকম একটি চাদর কিনে দেইনি? সে বলল, হ্যাঁ, দিয়েছেন। তিনি বললেন, তবে সেটি কোথায়? সে বলল, আমি আপনাকে বলতে শুনেছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—যাঁর আপনি খেদমত করতেন—বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি (দুনিয়া) একটি ঘর এবং আমাদের সামনে আরেকটি ঘর (আখেরাত) রয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তি এই ঘর থেকে সেই ঘরের জন্য কিছু অগ্রিম পাঠাবে, সে তা সেখানে পাবে।" তাই আমি সেটি সেই ঘরের জন্য অগ্রিম পাঠিয়ে দিয়েছি। আনাস (রা.) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, যাও, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত। তখন গোলামটিও কেঁদে ফেলল এবং বলল, হে আমার মনিব! আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করতাম এবং আপনি ছিলেন ছোট মনিব, এখন থেকে আমি মহান মনিবের (আল্লাহর) সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে নিবেদিত করব।৫৩ - আমি হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নুসাইরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: জুসিয়া নামক স্থানে শারআব গোত্রের এক ব্যক্তি ছিল, যা ইয়ামেনের একটি গোত্র। তার একটি খচ্চর ছিল। সে তার খচ্চরে চড়ে জুসিয়া থেকে রাতের শেষ ভাগে পথ চলত, আর তা ছিল-
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
قَرِيبَةٌ مِنْ حِمْصَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَيُصَلِّي الْجُمُعَةَ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ ثُمَّ يَرُوحُ فَيَبِيتُ فِي أَهْلِهِ فَكَانَ النَّاسُ يَتَعَجَّبُونَ مِنْهُ قَالَ لَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ ثُمَّ إِنَّ بَغْلَهُ ذَلِكَ نَفَقَ فَنَظَرُوا إِلَى جَنْبَيْهِ فَإِذَا لَيْسَ لَهُ أَضْلَاعٌ إنَّمَا صَفْحَتَا عَظْمٍ مُصْمَتٍ قَالَ أَبُو الْحَسَنِ وَسَمِعْتُ جَدِّي مُحَمَّدَ بْنَ الْفَيَّاضِ وَبَكَّارَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ بَكْرٍ اللَّوَالِ جَدُّ بَنِي الْيَتِيمِ يَذْكُرُ أَنَّ حَدِيثَ الشَّرْعَبِيِّ كَمَا حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ54 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ بِإِسْنَادٍ ذَكَرَهُ لَا أَحْفَظُهُ فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل {فَالْحَقُّ وَالْحق أَقُول} قَالَ أَنَا الْحَقُّ أَقُولُ الْحَقَّ55 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ قَالَ سَمِعت مُحَمَّد بن يُوسُف القريابي يَقُولُ فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل {سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ} قَالَ أمنح قُلُوبهم من التفكير فِي أَمْرِي56 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ قَالَ صَلَّيْتُ الْغَدَاةَ ثُمَّ جَلَسْتُ أَذْكُرُ اللَّهَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ إِذْ دَخَلَ أَبُو سُلَيْمَانَ الدَّارَانِيُّ مِنْ بَابِ السَّاعَاتِ فَوَقَفَ بِقَاسِمٍ
হিমসের নিকটবর্তী এলাকায় জুমার দিন তিনি দামেস্কের মসজিদে জুমার সালাত আদায় করতেন, তারপর ফিরে আসতেন এবং নিজ পরিবারের সাথে রাত কাটাতেন। এতে মানুষজন তাঁর প্রতি বিস্মিত হতো। হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের বলেছেন, এরপর তাঁর সেই খচ্চরটি মারা যায়। তখন তারা সেটির দুই পার্শ্বদেশের দিকে তাকাল এবং দেখল যে সেটির কোনো পাঁজরের হাড় নেই; বরং তা ছিল নিরেট হাড়ের দুটি পাত। আবুল হাসান বলেন, আমি আমার দাদা মুহাম্মদ ইবনুল ফায়্যাদ এবং বনী ইয়াতীমের দাদা বাকার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বকর আল-লাওয়ালকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, শারআবী-এর হাদিসটি তেমনই যেমনটি হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।৫৪ - ওয়ালীদ ইবনে উতবাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে মানসুর আমাদের এমন এক সনদে হাদিস শুনিয়েছেন যা তিনি উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আমার তা মুখস্থ নেই। মহান আল্লাহর বাণী "সুতরাং সত্য, আর আমি সত্যই বলি" সম্পর্কে তিনি বলেন: "আমিই সত্য, আমি সত্য কথাই বলি।"৫৫ - ওয়ালীদ ইবনে উতবাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবিকে মহান আল্লাহর বাণী "পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার করে, অচিরেই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি থেকে বিমুখ করে দেব" সম্পর্কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন: "আমি তাদের অন্তরসমূহকে আমার বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা করা থেকে বঞ্চিত করব।"৫৬ - আহমাদ ইবনে আবিল হাওয়ারি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ফজরের সালাত আদায় করলাম, এরপর সূর্যোদয়ের পূর্বে বসে আল্লাহর জিকির করছিলাম। এমন সময় আবু সুলাইমান আদ-দারানি 'বাবুস সাআত' দিয়ে প্রবেশ করলেন এবং কাসিমের নিকট দাঁড়ালেন।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
الجوعي فَسلم عَلَيْهِ وَأَشَارَ إلأيه أَنْ يَقُومَ فَقَامَ مَعَهُ فَمَرَّ بِي فَسَلَّمَ فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ وَأَشَارَ إلأي فَقُمْت أَنا وقاسم نمشي وَرَاء حَتَّى انْحَدَرَ مِنَ الدَّرَجِ ثُمَّ أَخَذَ فِي سُوقِ الْأَحَدِ حَتَّى أَتَى الْمُرَبَّعَةَ فَدَخَلَ فِي قَنْطَرَةِ بَنِي مُدْلِجٍ حَتَّى أَتَى النَّيْبَطُونَ فَأَخَذَ يَسْرَةً فَمَرَّ بِدَارٍ فَجَازَهَا ثُمَّ أَتَى دَارًا أُخْرَى فَدَخَلَ وَدَخَلْنَا مَعَهُ فَفَتَحَ بَابَ بَيْتٍ ثُمَّ دَخَلَ فَسَلَّمَ وَدَخَلَ قَاسِمٌ مَعَهُ وَجَلَسْتُ أَنَا عَلَى يَمْنَةِ الْبَابِ فَلَمْ نَرَ شَيْئًا فِي الْبَين ظُلْمَتِهِ فَلَمَّا جَلَسْنَا سَاعَةً تَأَمَّلْتُ فَإِذَا بِامْرَأَةٍ عَلَيْهَا جُبَّةُ صُوفٍ وَخِمَارُ صُوفٍ فِي يَدِهَا سُبْحَةٌ فَلَمَّا دَخَلَ ضَوْءُ الشَّمْسِ مِنْ كوَّة فِي البي رَدَّتْ عَلَيْنَا السَّلَامَ فَقَالَ لَهَا أَبُو سُلَيْمَانَ يَا أُمَّ هَارُونَ كَيْفَ أَصْبَحْتِ قَالَتْ كَيْفَ أَصْبَحَ مَنْ قَلْبُهُ فِي يَدِ غَيْرِهِ يَقُولُ بِهِ هَكَذَا وَهَكَذَا وَأَشَارَتْ بِيَدِهَا فَقَالَ لَهَا أَبُو سُلَيْمَانَ يَا أُمَّ هَارُونَ مَا تَقُولِينَ فِي الرَّجُلِ يُحِبُّ لِقاءَ اللَّهِ فَقَالَتْ وَيْحَكَ ذَاكَ رَجُلٌ ثَقُلَتْ عَلَيْهِ الطَّاعَةُ وَأَحَبَّ الرَّاحَةَ مِنْهَا قَالَ لَهَا فَإِنَّهُ أَحَبَّ الْبَقَاءَ فِي الدُّنْيَا قَالَتْ بَخٍ بَخٍ ذَاكَ رجل أحب الطَّاعَة وَأحب أيَبْقَى لَهَا وَتَبْقَى لَهُ ثُمَّ سَلَّمَ وَخَرَجْنَا فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا سُلَيْمَان من هَذِه قَالَ هَذِهِ أُمُّ هَارُونَ الْخُرَاسَانِيَّةُ أُسْتَاذَتِي57 - قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ أَبِي الْحَوَارِيِّ يَقُولُ سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ وَيَحْيَى بْنَ مَعِينٍ عَنِ التَّفْضِيلِ فَقَالَا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ
আল-জুয়ি। তিনি তাকে সালাম দিলেন এবং তাকে দাঁড়ানোর জন্য ইশারা করলেন, ফলে তিনি তার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং সালাম দিলেন, আমি তার সালামের উত্তর দিলাম। তিনি আমাকে ইশারা করলেন, ফলে আমি ও কাসিম তার পেছনে পেছনে হাঁটতে লাগলাম যতক্ষণ না তিনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলেন। এরপর তিনি রবিবারের বাজার (সুকুল আহাদ) দিয়ে চলতে লাগলেন যতক্ষণ না আল-মুরাব্বায় পৌঁছালেন। এরপর তিনি বনু মুদলিযের সেতুতে প্রবেশ করলেন এবং আন-নাবাতুনে পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি বাম দিকে মোড় নিলেন এবং একটি ঘরের পাশ দিয়ে গিয়ে সেটি অতিক্রম করলেন। এরপর অন্য একটি ঘরে আসলেন এবং সেখানে প্রবেশ করলেন, আমরাও তার সাথে প্রবেশ করলাম। তিনি একটি কক্ষের দরজা খুললেন এবং প্রবেশ করে সালাম দিলেন। কাসিম তার সাথে প্রবেশ করল এবং আমি দরজার ডান পাশে বসলাম। অন্ধকারের কারণে আমরা কক্ষের ভেতরে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিছুক্ষণ বসার পর আমি ভালো করে লক্ষ্য করলাম যে, সেখানে পশমি জুব্বা ও পশমি ওড়না পরিহিত একজন নারী রয়েছেন এবং তার হাতে একটি তসবীহ আছে। যখন কক্ষের ছিদ্রপথ দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করল, তিনি আমাদের সালামের উত্তর দিলেন। আবু সুলায়মান তাকে বললেন, "হে উম্মে হারুন! আপনি কেমন আছেন?" তিনি বললেন, "সে ব্যক্তি কেমন থাকবে যার অন্তর অন্যের হাতে এবং তিনি তা এভাবে ও এভাবে নাড়াচাড়া করেন?" তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলেন। আবু সুলায়মান তাকে বললেন, "হে উম্মে হারুন! আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা পছন্দ করে?" তিনি বললেন, "তোমার জন্য আক্ষেপ! সে তো এমন এক ব্যক্তি যার কাছে আনুগত্য বা ইবাদত ভারী মনে হয়েছে এবং সে তা থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে আরাম পেতে চেয়েছে।" তিনি তাকে বললেন, "আর যদি সে দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে পছন্দ করে?" তিনি বললেন, "চমৎকার, চমৎকার! সে তো এমন এক ব্যক্তি যে ইবাদতকে ভালোবেসেছে এবং সে ইবাদতের জন্যই বেঁচে থাকতে চায় এবং ইবাদতও তার জন্য অবশিষ্ট থাকুক তা চায়।" এরপর তিনি সালাম দিলেন এবং আমরা বেরিয়ে এলাম। আমি তাকে বললাম, "হে আবু সুলায়মান! ইনি কে?" তিনি বললেন, "ইনি উম্মে হারুন আল-খুরাসানিয়্যাহ, আমার উস্তাদ (শিক্ষিকা)।"৫৭ - তিনি বলেন, আমি আহমাদ বিন আবিল হাওয়ারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান (তাফযীল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা উভয়েই বললেন, আবু বকর ও উমর।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ58 - سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ عَمَّارٍ يَقُولُ قَالَ أَحْمَدُ قُلْتُ بِأَيِّ شَيْءٍ قُلْتُمَا ذَلِكَ قَالَا صَحَّ عِنْدَنَا حَدِيثُ سَفِينَةَ كَتَبْتُ إِلَى أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ أَسْأَلُهُ عَنِ التَّرْبِيعِ فَقَالَ أَذْهَبُ فِي التَّفْصِيل إِلَى حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ وَفِي الْخِلَافَةِ إِلَى حَدِيثِ سَفِينَةَ أَنَّهُ قَدْ صَحَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم59 - وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ أَبِي الْحَوَارِيِّ يَقُولُ لِرَجُلَيْنِ وَأَنَا ثَالِثُهُمَا وَسَأَلَاهُ عَنْ شَيْءٍ فَقَالَ وَاللَّهِ لَوْلَا مَا قَدْ جرى أَو مضى من النسة وَسَارَ فِي النَّاسِ مِنْ تَقْدِمَةِ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ رضي الله عنهم مَا قَدَّمْنَا عَلَى عَلِيٍّ أَحَدًا يَعْنِي لِسَابِقَتِهِ وَفَضْلِهِ وَقِدْمَتِهِ60 - حَدَّثَنِي خَالِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودِ بْنِ يُوسُفَ الْكِنْدِيُّ قَالَ شَهِدْتُ جَنَازَةَ سُوَيْدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ نُمَيْرٍ أَبِي مُحَمَّدٍ السُّلَمِيِّ سَنَةَ
ওসমান এবং আলী৫৮ - আমি হিশাম বিন আম্মারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আহমদ বলেছেন: আমি বললাম, আপনারা কোন প্রমাণের ভিত্তিতে এ কথা বলেছেন? তারা বললেন, আমাদের নিকট সাফিনার হাদিসটি সহিহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আমি আহমদ বিন হাম্বলের নিকট (খিলাফতের ক্রমে আলীর) চতুর্থ অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে লিখে পাঠালাম। তিনি বললেন, আমি শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনে ওমরের হাদিসের দিকে যাই এবং খিলাফতের ক্ষেত্রে সাফিনার হাদিসের অনুসারী হই, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহভাবে প্রমাণিত।৫৯ - আমি আহমদ বিন আবুল হাওয়ারীকে দু'জন লোকের উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি—আমি ছিলাম তাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি—যখন তারা তাকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! সুন্নাহ থেকে যা কিছু অতিবাহিত হয়েছে এবং মানুষের মাঝে আবু বকর, ওমর এবং ওসমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অগ্রগণ্যতা যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা যদি না হতো, তবে আমরা আলীর ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতাম না; অর্থাৎ তার ইসলামে অগ্রগামী হওয়া, মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্বের কারণে।৬০ - আমার মামা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বিন ইউসুফ আল-কিন্দি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি সুওয়াইদ বিন আব্দুল আজিজ বিন নুমায়ের আবু মুহাম্মদ আস-সুলামীর জানাজায় উপস্থিত ছিলাম... সালে।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
أَربع وَتِسْعين ومئة بِدِمَشْقَ وَصَلَّى عَلَيْهِ مَنْصُورُ بْنُ الْمَهْدِيِّ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَيْضِ وَكَانَ سُوَيْدٌ قَاضِيَ الْعَجَمِ61 - وَسَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ رأَيْتُ يَحْيَى بْنَ حَمْزَةَ الْحَضْرَمِيَّ وَهُوَ جَالِسٌ فِي مَجْلِسِ الْقَضَاءِ عِنْدَ الدَّرَجِ دَرَجِ الْمَسْجِدِ وَهُوَ يَكْتُبُ مَحْضَرًا وَمُنَادٍ عَلَى الدَّرَجِ يُنَادِي عَلَى مَتَاعٍ عشْرين ودانق عشْرين ود انق فَأَشْغَلَ قَلْبَ يَحْيَى فَكَتَبَ عِشْرِينَ وَدَانِقٍ عِشْرِينَ وَدَانِقٍ فِي سَطْرَيْنِ ثُمَّ اسْتَفَاقَ فَقَامَ إِلَيْهِ فَأَخَذَ بِأُذُنَيْهِ فَجَعَلَ يَعْرُكُ أُذُنَيْهِ وَيَقُولُ لَهُ عشْرين ودانق عشْرين وادنق وَذَاكَ يَصِيحُ ثُمَّ خَلَّاهُ قَالَ أَبُو الْحَسَنِ فَمَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يُحَدِّثَ إِنْسَانًا وَهُوَ يَكْتُبُ فيدهشه عَن كتبابته فَيَغْلُطَ62 - سُوَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَصْلُهُ كُوفِيٌّ سَكَنَ دِمَشْقَ63 - مَاتَ مُحَمَّدُ بْنُ عَائِذٍ الْقُرَشِيُّ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثِينَ ومئتين
একশত চুরানব্বই হিজরীতে দামেস্কে (তিনি মৃত্যুবরণ করেন) এবং মানসুর ইবনুল মাহদী তাঁর জানাজার সালাত পড়ান। মুহাম্মদ ইবনুল ফায়েজ বলেন যে, সুওয়াইদ অনারবদের বিচারক ছিলেন।৬১ - আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে হামযা আল-হাদরামীকে মসজিদের সিঁড়ির নিকট বিচারিক মজলিসে বসা অবস্থায় দেখেছি। তিনি তখন একটি বিবরণী লিখছিলেন। এমতাবস্থায় সিঁড়ির ওপর জনৈক ঘোষক কোনো পণ্যের নিলাম ডাকছিল, "বিশ ও এক দানিক, বিশ ও এক দানিক"। এটি ইয়াহইয়ার মনোযোগকে আচ্ছন্ন করে ফেলল, ফলে তিনি লেখার মধ্যে দুই লাইনে "বিশ ও এক দানিক, বিশ ও এক দানিক" লিখে ফেললেন। এরপর তিনি সচেতন হলেন এবং উঠে গিয়ে লোকটির নিকট গিয়ে তার দুই কান ধরলেন। তিনি তার কান মর্দন করতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, "বিশ ও এক দানিক, বিশ ও এক দানিক", আর লোকটি চিৎকার করছিল। এরপর তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। আবুল হাসান বলেন: কোনো ব্যক্তি যখন কিছু লেখে, তখন তার সাথে কথা বলা কারো জন্য সংগত নয়; কারণ এটি তাকে লেখার কাজ থেকে বিভ্রান্ত করে দেয়, ফলে সে ভুল করে বসে।৬২ - সুওয়াইদ ইবনে আব্দুল আজিজ, তাঁর আদি নিবাস ছিল কুফা, তিনি দামেস্কে বসবাস করতেন।৬৩ - মুহাম্মদ ইবনে আইজ আল-কুরাইশী দুইশত বত্রিশ হিজরীর জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
64 - وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامٍ سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلَاثِينَ ومئتين65 - وَبَلَغَنِي أَنَّ قَاصًّا كَانَ يَقُصُّ على النَّاس فوقفت عَلَيْهِ ارمأة فَقَالَتْ لَهُ يَا قَاصَّ الْمُسْلِمِينَ قَدْ رَأَيْتُ لَكَ فِي الْمَنَامِ أَنَّك من أهل الْجنَّة فَقل لَهَا اسْكُتِي عَافَاكِ اللَّهُ قَدْ صَحَّ هَذَا عِنْدَنَا مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ66 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ هِشَامِ بن يحيى الغساني قَالَ حدثن أَبِي عَنْ جَدِّي يَحْيَى بْنِ يحي قَالَ لَمَّا هَمَّ الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بِكَنِيسَةِ مَرْيُحَنَّا لِيَهْدِمَهَا وَيَزِيدَهَا فِي الْمَسْجِدِ دَخَلَ الْكَنِيسَةَ ثُمَّ صَعَدَ مَنَارَةَ ذَاتِ الْأَكَارِعِ الْمَعْرُوفَةَ بِالسَّاعَاتِ وَفِيهَا رَاهِبٌ نُوبِيٌّ صومعة لَهُ فأحدره من الصوعمعة فَأَكْثَرَ الرَّاهِبُ كَلَامَهُ فَلَمْ تَزَلْ يَدُ الْوَلِيدِ فِي قَفَاهُ حَتَّى أَحْدَرَهُ مِنَ الْمَنَارَةِ ثُمَّ هَمَّ بِهَدْمِ الْكَنِيسَةِ فَقَالَ لَهُ جَمَاعَةٌ مِنْ نَجَّارِي النَّصَارَى مَا نَجْسُرُ عَلَى أَنْ نَبْدَأَ فِي هَدْمِهَا يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ نخشى أنَعْثُرَ أَوْ يُصِيبَنَا شَيْءٌ فَقَالَ الْوَلِيد تحذرون وتخافون يَا غلان هَاتِ الْمِعْوَلَ ثُمَّ أُتِيَ بِسُلَّمٍ فَنَصَبَهُ عَلَى مِحْرَابِ الْمَذْبَحِ وَصَعَدَ فَضَرَبَ بِيَدِهِ الْمَذْبَحَ حَتَّى أَثَّرَ فِي هـ أَثَرًا كَبِيرًا ثُمَّ صَعَدَ الْمُسْلِمُونَ فَهَدَمُوهُ وَأَعْطَاهُمُ الْوَلِيدُ مَكَانَ الْكَنِيسَةِ الَّتِي فِي الْمَسْجِدِ الْكَنِيسَةَ الَّتِي تُعْرَفُ بِحَمَّامِ الْقَاسِمِ بِحِذَاءِ دَارِ أَن الْبَنِينَ فِي الْفَرَادِيسِ فَهِيَ تُسَمَّى مَرْيُحَنَّا مَكْانَ هَذِهِ الَّتِي فِي الْمجد وَحَوَّلُوا شَاهِدَهَا فِيمَا يَقُولُونَ هُمْ إِلَيْهَا إِلَى تِلْكَ الْكَنِيسَةِ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَنَا رَأَيْتُ الْوَلِيدَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ فَعَلَ ذَلِكَ بِكَنِيسَةِ
৬৪ - এবং ইবরাহিম বিন হিশাম, দুইশত আটত্রিশ হিজরি।৬৫ - আমার নিকট পৌঁছেছে যে, জনৈক ধর্মোপদেশক মানুষের নিকট উপদেশমূলক আলোচনা করছিলেন। এমতাবস্থায় এক নারী তাঁর নিকট এসে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে বললেন, "হে মুসলিমদের ধর্মোপদেশক! আমি স্বপ্নে আপনাকে দেখেছি যে আপনি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।" তখন তিনি তাকে বললেন, "চুপ থাকো, আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুন। আমাদের নিকট এটি বিভিন্ন সূত্রে সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।"৬৬ - ইবরাহিম বিন হিশাম বিন ইয়াহইয়া আল-গাসসানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদা ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক ‘মারইউহান্না’ গির্জাটি ভেঙে মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করার সংকল্প করলেন, তখন তিনি গির্জায় প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি ‘জাতুল আকারিব’ নামক মিনারে আরোহণ করলেন যা ‘আস-সাআত’ (ঘড়ির মিনার) নামে পরিচিত ছিল। সেখানে এক নুবিয়ান পাদ্রী তার নির্জন ইবাদতখানায় অবস্থান করছিল। তিনি তাকে ইবাদতখানা থেকে নামিয়ে দিলেন। পাদ্রী অনেক কথা বলতে লাগল, কিন্তু ওয়ালিদ তার ঘাড় ধরে মিনার থেকে নিচে নামানো পর্যন্ত হাত সরালেন না। এরপর তিনি গির্জাটি ভাঙার ইচ্ছা করলেন। তখন খ্রিষ্টান কাঠমিস্ত্রিদের একটি দল তাঁকে বলল, "হে আমিরুল মুমিনিন! আমরা এটি ভাঙার কাজ শুরু করার সাহস করছি না; আমরা আশঙ্কা করছি যে আমরা হোঁচট খাব অথবা আমাদের কোনো বিপদ হবে।" ওয়ালিদ বললেন, "হে গোলামরা! তোমরা কি ভয় পাচ্ছ এবং সতর্কতা অবলম্বন করছ? কুঠার নিয়ে এসো।" অতঃপর একটি মই আনা হলো এবং তিনি তা যজ্ঞবেদীর মেহরাবে স্থাপন করে উপরে উঠলেন। তিনি নিজ হাতে বেদীতে সজোরে আঘাত করলেন, যাতে সেখানে গভীর চিহ্নের সৃষ্টি হলো। এরপর মুসলিমগণ উপরে উঠে তা ভেঙে ফেললেন। ওয়ালিদ তাদেরকে মসজিদের ঐ গির্জার পরিবর্তে আল-ফারাদিস এলাকায় ‘উম্মুল বানীন’-এর গৃহের পার্শ্ববর্তী ‘হাম্মাম আল-কাসিম’ নামে পরিচিত গির্জাটি দান করলেন। সেটিই মসজিদের সেই পূর্বতন গির্জার স্থলে ‘মারইউহান্না’ নামে অভিহিত হতে লাগল। তারা তাদের নিদর্শনসমূহ সেখান থেকে সরিয়ে এই গির্জায় নিয়ে এলো—যেমনটি তারা বলে থাকে। ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেন, আমি ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিককে গির্জার সাথে এরূপ করতে দেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٤١)
مَسْجِدِ دِمَشْقَ67 - سَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ بِالرَّمْلَةِ وَهُوَ نَازِلٌ فِي فُنْدُقِ الرُّهْبَانِ وَقَدْ وَجَّهَهُ الْمُوَفَّقُ إِلَى أَحْمَدَ بْنِ طُولُونَ وَقَدْ كَارَّهُ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ فَحَدَّثَهُمْ يَوْمَيْنِ فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الثَّالِثُ بِالْغَدَاةِ فِي وَقْتِ رُكُوبِهِ حَدثهمْ وَأَنا حا ضرّ فَقَالَ لَهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُوسَى أَبُو الْحَارِثِ وَكَانَ مِنْ رُؤَسَاءِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ يَا أَبَا الْفَضْلِ إِنَّ مَنْ حَضَرَ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ يُحِبُّونَ أَنْ يَعْرِفُوا مَا تَقُولُ وَمَا كَانَ رَأْيُ الشَّيْخِ يُرِيدُونَ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ فِي التَّفْضِيلِ وَالْخِلَافَةِ فَقَالَ نَعَمْ سَأَلْتُ أَبِي رضي الله عنه مَا تَقُولُ فِي التَّفْضِيلِ فَقَالَ أَذْهَبُ فِيهِ إِلَى حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ وَأَذْهَبُ فِي الْخِلَافَةِ إِلَى حَدِيثِ سَفِينَةَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ رضي الله عنهم لِأَنَّهُ قَدْ تَسَمَّى بِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ وَأَهْلُ بَدْرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَوَافِرُونَ يَدْعُونَهُ بِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَهْ أَرَأَيْتَ الرجل يخر ج عَلَى الْأُمَّةِ بِسَيْفِهِ وَيُسَمَّى بِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَجُوزُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لِي يَا بُنَيَّ أَتَجْعَلُ عَلِيًّا رضي الله عنه كالخوارج وأ هَل بَدْرٍ كَسَائِرِ النَّاسِ نَعُوذُ بِاللَّهِ من الغلو ونعوذ بِاللَّهِ مِنَ الْغُلُوِّ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْغُلُوِّ يُرَدِّدُهَا ثَلَاثًا
দামেস্কের মসজিদ৬৭ - আমি সালেহ বিন আহমাদ বিন হাম্বলকে রামলাতে বলতে শুনেছি, যখন তিনি ফুন্দুকুর রুহবান-এ অবস্থান করছিলেন। আল-মুওয়াফফাক তাঁকে আহমাদ বিন তুলুনের নিকট পাঠিয়েছিলেন। হাদিস অনুসারীগণ তাঁকে ঘিরে ধরেছিলেন এবং তিনি দুই দিন যাবত তাঁদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেন। অতঃপর তৃতীয় দিন সকালে তাঁর প্রস্থানের সময় তিনি যখন হাদিস বর্ণনা করছিলেন, তখন আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। অতঃপর হাদিস অনুসারীগণের অন্যতম নেতা মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন মুসা আবু আল-হারিস তাঁকে বললেন, "হে আবুল ফজল! এখানে উপস্থিত হাদিস অনুসারীগণ জানতে চান যে, আপনি কী বলেন এবং মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব ও খিলাফত সম্পর্কে শাইখের—অর্থাৎ আহমাদ বিন হাম্বলের—মতামত কী ছিল?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আমি আমার পিতাকে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) জিজ্ঞাসা করেছিলাম: 'মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?' তিনি বলেছিলেন: 'শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে আমি ইবনে ওমরের বর্ণিত হাদিসের অনুসারী, আর খিলাফতের বিষয়ে আমি সাফিনার বর্ণিত হাদিসের অনুসারী। অর্থাৎ আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন)। কারণ তাঁকে আমিরুল মুমিনিন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাসুলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বদরি সাহাবীদের এক বিশাল দল সেখানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা তাঁকে আমিরুল মুমিনিন বলে সম্বোধন করতেন'।" আমি তাঁকে বললাম, "হে পিতা! আপনি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কী মনে করেন যে তলোয়ার নিয়ে উম্মতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং তাকেও আমিরুল মুমিনিন বলা হয়? এটা কি তার জন্য বৈধ?" তিনি আমাকে বললেন, "হে বৎস! তুমি কি আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে খারেজীদের মতো মনে করো? আর বদরি সাহাবীদের কি সাধারণ মানুষের মতো মনে করো? আমরা বাড়াবাড়ি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমরা বাড়াবাড়ি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমরা বাড়াবাড়ি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।" তিনি এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন।
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
68 - قَالَ لَنَا أَبُو الْحَسَنِ كَانَ أَبُو الهذام عَامِرُ بْنُ عُمَارَةَ بْنِ خُرَيْمٍ الْمُرِّيُّ قَدْ ضَبَطَ دِمَشْقَ أَيَّامَ الْفِتَنِ فَوَجَّهَ إِلَى الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ لِيُحَدِّثَ أَبَا عَامِرٍ ابْنَهُ فَكَانَ الْوَلِيدُ يَرْكَبُ إِلَيْهِ فَيُحَدِّثُهُ فَكَانَ عِنْدَ أَبِي عَامِرٍ مِنْ كُتُبِ الْوَلِيدِ مَا لَمْ يَكُنْ عِنْدَ الشَّيْخَيْنِ بِدِمَشْقَ هِشَامٍ وَدُحَيْمٍ فَلَمَّا مَاتَ هِشَامٌ وَدُحَيْمٌ أَقْبَلَ إِلَيْهِ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ فَقَالُوا لَهُ يَا أَبَا عَامِرٍ فِي غَرْبِيِّ الْمَسْجِدِ فِي الْعَمُودِ الرَّابِعِ مِمَّا يَلِي الْغَرْبَ فِي الْأُسْطُوَانِ الشَّامِيِّ فَجَلَسَ لَهُمْ عَلَى كُرْسِيٍّ فَامْتَلَأَ الرُّوَاقُ وَأَنَا مَعَهُمْ فَحَدَّثَهُمْ أَوَّلَ يَوْمٍ وَالثَّانِيَ وَالثَّالِثَ فَلَمَّا كَانَ فِي الْيَوْمِ الرَّابِعِ وَأَنَا حَاضِرٌ بِمَجْلِسِهِ فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ يُكَنَّى أَبَا الْمُطِيعِ خُرَاسَانِيٌّ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ يَسْكُنُ فِي بُيُوتِ بَابِ الْبَرِيدِ الَّتِي فِيهَا الْبَزَّازُونَ السَّاعَةَ فَقَالَ لَهُ يَا أَبَا
৬৮ - আবুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-হাজ্জাম আমির ইবনে উমারাহ ইবনে খুরাইম আল-মুরি ফিতনার দিনগুলোতে দামেস্কের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের নিকট সংবাদ পাঠালেন যাতে তিনি তার পুত্র আবু আমিরকে হাদিস শোনান। ফলে আল-ওয়ালিদ সওয়ার হয়ে তার নিকট আসতেন এবং তাকে হাদিস শোনাতেন। এভাবে আবু আমিরের নিকট আল-ওয়ালিদের এমন সব কিতাব সংরক্ষিত ছিল যা দামেস্কের দুই শাইখ—হিশাম ও দুহাইমের নিকটও ছিল না। যখন হিশাম ও দুহাইম ইন্তেকাল করলেন, তখন আসহাবুল হাদিসগণ তার নিকট উপস্থিত হলেন। তারা তাকে বললেন, হে আবু আমির, মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে, পশ্চিম দিক থেকে চতুর্থ স্তম্ভে, শামি স্তম্ভের নিকট (বসুন)। অতঃপর তিনি তাদের জন্য একটি কুরসিতে বসলেন এবং বারান্দাটি পূর্ণ হয়ে গেল, আর আমিও তাদের সাথে ছিলাম। তিনি তাদের প্রথম দিন, দ্বিতীয় দিন এবং তৃতীয় দিন হাদিস শোনালেন। যখন চতুর্থ দিন হলো এবং আমি তার মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, তখন আসহাবুল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত আবু আল-মুতি' ছদ্মনামের এক খুরাসানি ব্যক্তি তার নিকট দাঁড়িয়ে গেলেন, যিনি বাব আল-বারিদের সেই ঘরগুলোতে বসবাস করতেন যেখানে বর্তমানে কাপড় ব্যবসায়ীরা থাকে। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, হে আবু
(খণ্ড: ১)
আখবারু ওয়া হিকায়াত লিল-গাসসানী
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
عَامِرٍ إِنَّ النَّاسَ يُحِبُّونَ أَنْ يسمعوا فِي الفتضيل فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ عُمَرُ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ عُثْمَانُ قَالَ أَبُو الْمُطِيعِ جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَهَذِهِ السُّنَّةُ وَعَلَى هَذَا مَضَى السَّلَفُ فَوَضَعَ أَبُو عَامِرٍ سَبَّابَتَهُ الْيُمْنَى فِي شِدْقِهِ الْأَيْسَرِ ثُمَّ فَقَّعَ تَفْقِيعَةً سُمِعَ صَوْتُهَا ثُمّ قَالَ أَوَّهْ مَا لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَحَقِّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ خَيْرٌ مِنْ هَؤُلَاءِ كُلِّهِمْ فَضَحِكَ النَّاسُ فَقَالَ لَهُمْ أَبُو الْمُطِيعِ مَا أَرَادَ الشَّيْخُ إِلَّا خَيْرًا مَا أَرَادَ الشَّيْخُ إِلَّا خَيْرًا وَأَدْخَلَ أَبُو الْحَسَنِ سَبَّابَتَهُ فِي شِدْقِهِ الْأَيْسَر وفقع عَظمَة وَقَالَ هَكَذَا فَقَّعَ أَبُو عَامِرٍ69 - قَالَ أَبُو الْحَسَنِ أَدْرَكْتُ مِنْ شُيُوخِنَا مِنْ شُيُوخِ دِمَشْقَ مِمَّنْ يربع بعلي بن أبي ط الب صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ هِشَامَ بْنَ عَمَّارِ بْنِ نُصَيْرٍ السُّلَمِيَّ وَمَحْمُودَ بن خَالِد بن يزدي وَأَحْمَدَ بْنَ أَبِي الْحَوَارِيِّ وَإِبْرَاهِيمَ بْنَ هِشَامٍ الْغَسَّانِيَّ وَهَارُونَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلَالٍ وَمُحَمّد بن يحيى بن حموزة الْحَضْرَمِيّ وَأَبُو عَامِرٍ مُوسَى بْنَ عَامِرٍ وَبَقِيَّتُهُمْ لَمْ يَكُونُوا يُرَبِّعُونَ70 - سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَشْعَثِ الرَّبَعِيَّ وَقَدْ قَدَّمَهُ
...আমির (বললেন): নিশ্চয়ই মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের ক্রম সম্পর্কে শুনতে পছন্দ করে। তারপর তিনি বললেন: আবু বকর। তিনি বললেন: তারপর কে? তিনি বললেন: উমর। তিনি বললেন: তারপর কে? তিনি বললেন: উসমান। আবু আল-মুতি' বললেন: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। এটিই সুন্নাহ এবং এর ওপরই সালাফগণ অতিবাহিত হয়েছেন। এরপর আবু আমির তার ডান তর্জনী তার বাম গালের ভেতরের দিকে রাখলেন, এরপর একটি শব্দ করলেন যা শোনা গেল। এরপর বললেন: আহ! আলী ইবনে আবি তালিবের কী হবে? আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শপথ! আলী ইবনে আবি তালিব (তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) অবশ্যই এদের সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তখন মানুষ হাসতে লাগল। আবু আল-মুতি' তাদের বললেন: শায়খ কেবল কল্যাণই চেয়েছেন, শায়খ কেবল কল্যাণই চেয়েছেন। এবং আবুল হাসান তার তর্জনী তার বাম গালের ভেতরের দিকে প্রবেশ করালেন এবং একটি শব্দ করলেন এবং বললেন: আবু আমির এভাবেই শব্দ করেছিলেন।৬৯ - আবুল হাসান বললেন: আমি আমাদের দামেস্কের শায়খদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের পেয়েছি যারা আলী ইবনে আবি তালিবকে (তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) মর্যাদার ক্রমে চতুর্থ হিসেবে গণ্য করতেন। তারা হলেন: হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নুসাইর আস-সুলামী, মাহমুদ ইবনে খালিদ ইবনে ইয়াজদি, আহমাদ ইবনে আবু আল-হাওয়ারি, ইবরাহিম ইবনে হিশাম আল-গাসসানি, হারুন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার ইবনে বিলাল, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হামুজা আল-হাদরামি এবং আবু আমির মুসা ইবনে আমির। আর তাদের মধ্যকার অবশিষ্টগণ তাকে চতুর্থ হিসেবে গণ্য করতেন না।৭০ - আমি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আল-আশ’আছ আর-রাবা’ঈকে বলতে শুনেছি, এমতাবস্থায় যে তিনি তাকে অগ্রগণ্য করেছিলেন।