0/0
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: -)
أقضية الحسن البصري في كتاب أخبار القضاة لوكيع   (منى الحجيلي)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: أقضية الحسن البصري في كتاب أخبار القضاة لوكيع

رسالة: ماجستير في الفقه المقارن، جامعة طيبة - كلية الآداب والعلوم الإنسانية - قسم الدراسات الإسلامية

إعداد: منى بنت راجي بن عابد الحجيلي

إشراف: أ. د إياد فوزي توفيق حمدان، أستاذ الفقه بقسم الدراسات الإسلامية بجامعة طيبة

العام الجامعي: 1438 هـ - 2017 م

عدد الصفحات: 192

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 ربيع الآخر 1443

ওয়াকী-এর আখবার আল-কুদাত গ্রন্থে হাসান আল-বসরীর বিচার বিভাগীয় রায়সমূহ   (মুনা আল-হুজাইলি)

বিভাগ: শরয়ী রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থা


গ্রন্থ: ওয়াকী-এর আখবার আল-কুদাত গ্রন্থে হাসান আল-বসরীর বিচার বিভাগীয় রায়সমূহ

থিসিস: তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রে মাস্টার্স, তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয় - কলা ও মানবিক অনুষদ - ইসলামি শিক্ষা বিভাগ

প্রস্তুতকারী: মুনা বিনতে রাজি বিন আবিদ আল-হুজাইলি

তত্ত্বাবধানে: অধ্যাপক ড. ইয়াদ ফাওজি তাওফিক হামদান, তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা বিভাগের ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক

শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২

[শামেলা নাম্বারিং অনুযায়ী ইলেকট্রনিক বই]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১)
أقضية الحسن البصري في كتاب أخبار القضاة لوكيع

وتطبيقاتها في المحاكم السعودية

دراسة فقهية تأصيلية

 

بحث تكميلي مقدم لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن

 

إعداد الطالبة:

منى بنت راجي بن عابد الحجيلي

 

إشراف:

أ. د: إياد فوزي توفيق حمدان

أستاذ الفقه بقسم الدراسات الإسلامية بجامعة طيبة

 

(1438 هـ = 2017 م)
ওয়াকি' রচিত 'আখবারুল কুদাত' গ্রন্থে হাসান বসরীর বিচারিক ফয়সালাসমূহ

এবং সৌদি আদালতসমূহে এর প্রয়োগ

একটি মূলনীতিগত (تأصيلية) ফিকহভিত্তিক গবেষণা

 

তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে পেশকৃত একটি পরিপূরক গবেষণাপত্র

 

উপস্থাপনায় (ছাত্রী):

মুনা বিনতে রাজি বিন আবিদ আল-হুজাইলি

 

তত্ত্বাবধানে:

প্রফেসর ড. ইয়াদ ফাওজি তাওফিক হামদান

তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা বিভাগের ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক

 

(১৪৩৮ হিজরি = ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ)
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌إهداء

أهدي هذه الرسالة إلى نفسي أولاً، فأهنئها وأبارك لها هذا الإنجاز الذي سأفتخر به دوماً، وسيكون بإذن الله عوناً لي لإكمال مسيرتي، فها أنا أضع البذرة الأولى.

إلى من بذلا جهده. ما، إلى صاحبي القلب الرحيم، إلى من كانت دعواتهما ترافقني صباح مساء، وتفتح لي آفاقاً من العلم والتوفيق والتسديد، إلى والدي الكريمين: أهدي هذا الإنجاز فلم يذهب تعبكما سدى فبين أيديكما مولودي الأول.

إلى من كانوا سندي وسر سعادتي وفرحتي، إلى من ساندوني بكل ما يستطيعون، إلى أخويّ الغاليين (خالد، إبراهيم)، وأخواتي الحبيبات (حنان، مارية، مريم، ميمونة، هند، خولة): حفظكم الباري وجعلكم ذخراً لي، وأدام الله أخوتنا وحبنا وسعادتنا، والحمد لله أولا وأخيراً فلم تذهب تربية والدينا سُدى.

أهدي لكم هذا البحث راجية من الله القبول
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উৎসর্গ

আমি এই গবেষণাপত্রটি সর্বপ্রথম নিজেকে উৎসর্গ করছি; এই অর্জনের জন্য আমি নিজেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি ও শুভকামনা জ্ঞাপন করছি, যা নিয়ে আমি সর্বদা গর্ববোধ করব। এটি আল্লাহর ইচ্ছায় আমার জ্ঞানার্জনের পথচলা পূর্ণ করতে সহায়ক হবে, আর এভাবেই আমি আজ প্রথম বীজটি রোপণ করছি।

যারা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, সেই দয়াদ্র হৃদয়ের অধিকারীদের প্রতি, যাদের দোয়া সকাল-সন্ধ্যায় আমার সঙ্গী ছিল এবং যা আমার জন্য জ্ঞান, তাওফিক ও সঠিক পথের দিগন্ত উন্মোচন করেছে—আমার সম্মানিত পিতামাতার প্রতি: আমি এই অর্জনটি আপনাদের চরণে উৎসর্গ করছি। আপনাদের পরিশ্রম বৃথা যায়নি, কারণ আপনাদের সামনে আজ আমার প্রথম গবেষণাকর্ম বিদ্যমান।

যারা ছিলেন আমার অবলম্বন এবং আমার সুখ ও আনন্দের উৎস, যারা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে আমাকে সমর্থন করেছেন—আমার দুই প্রিয় ভাই (খালেদ, ইব্রাহিম) এবং আমার প্রাণপ্রিয় বোনদের (হানান, মারিয়া, মরিয়ম, মায়মুনা, হিন্দ, খাওলা) প্রতি: স্রষ্টা আপনাদের রক্ষা করুন এবং আপনাদের আমার জন্য সম্বল হিসেবে কবুল করুন। আল্লাহ আমাদের ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সুখকে চিরস্থায়ী করুন। শুরু এবং শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমাদের পিতামাতার লালন-পালন ও শিক্ষা বৃথা যায়নি।

আল্লাহর নিকট কবুলিয়াতের আশা নিয়ে আমি আপনাদের প্রতি এই গবেষণাটি উৎসর্গ করছি।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌شكر وتقدير

أشكر الله عز وجل على فضله وكرمه ومنته وتوفيقه جل وعلا لإكمال هذه الرسالة، فله الحمد وله الشكر الدائمين اللذان بهما تتم الصالحات.

ثم أشكر كل من ساندني ووقف آخذاً بيدي، وساهم في تربيتي وتعليمي وتحفيزي، إلى كل من علمني حرفاً، شكراً لكم بحجم السماء.

أقف عاجزة عن شكركم ودعمكم، فمن أين أبدأ، وكيف سأنتهي؟

شكراً لمن هم فؤاد قلبي وسعادة روحي، والديّ الحبيبين، وأخويّ الغاليين، وأخواتي الغاليات، أدامكم الله فخراً وعزاً وسعادةً لي.

شكراً لأخي: أ. إبراهيم الحجيلي على تدقيق متن الرسالة لغوياً، فبارك الله فيك وزادك الباري علماً وتوفيقاً.
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি

আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি তাঁর অনুগ্রহ, মহত্ত্ব, দান ও তাওফিকের জন্য যা এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করতে সহায়ক হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা ও নিরন্তর কৃতজ্ঞতা কেবল তাঁরই প্রাপ্য, যাঁর করুণায় সকল সৎকর্ম পূর্ণতা লাভ করে।

অতঃপর আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যাঁরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং হাত ধরে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এবং আমার লালন-পালন, শিক্ষা ও উৎসাহ দানে অবদান রেখেছেন। যাঁরা আমাকে একটি বর্ণ হলেও শিখিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আকাশসম কৃতজ্ঞতা।

আপনাদের কৃতজ্ঞতা ও সমর্থনের প্রতিদান দিতে আমি নিজেকে অক্ষম মনে করছি; কোথা থেকে শুরু করব আর কোথায় গিয়ে শেষ করব?

ধন্যবাদ তাঁদেরকে যাঁরা আমার হৃদস্পন্দন ও আত্মার সুখ—আমার প্রিয় পিতামাতা, আমার দুই সম্মানিত ভাই এবং আমার সম্মানিত বোনগণ; আল্লাহ আপনাদেরকে আমার জন্য সর্বদা গর্ব, মর্যাদা ও আনন্দের উৎস হিসেবে কবুল করুন।

ধন্যবাদ আমার ভাই জনাব ইব্রাহিম আল-হুজাইলিকে তাঁর এই গবেষণাপত্রের মূল পাঠ (متن) ভাষাগতভাবে নিরীক্ষা করে দেওয়ার জন্য। আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন এবং আপনার জ্ঞান ও তাওফিক বৃদ্ধি করুন।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ৪)
شكراً لكل معلمة كنت تلميذتها يوماً من الأيام، أنهل من معينها، وأرتشف من كأس علمها، من مرحلة الابتدائية وحتى مرحلة الماجستير، فلن أنسَ معروفكن ما حييت، أسعدكن الله جميعاً وبارك فيكن.

شكراً للدكتورة: هند بنت نايف بن حميد فقد كان لكلماتها في المستوى الأول من المرحلة الجامعية، وتشجيعها وثنائها وعملها المتفاني في إيصال المعرفة والعلم أكبر الأثر لأتخذ طريق الفقه سبيلاً لي، فقد أصبح من أكبر أحلامي، وها أنا سعيدة بتحقيق هدفي الذي كان في يوم ما حلماً من الأحلام، فجزاك الله خيراً دكتورتي الغالية وأسعدك الباري أينما كنت، فكلماتي حقيقة عاجزة عن شكرك.

شكراً لأعضاء هيئة التدريس في جامعة طيبة، في قسم الدراسات الإسلامية، وخاصة مسار الفقه، فقد كنتم من مصابيح الهدى ومشاعل النور في طريقي، لاحرمكم الباري الأجر، وأثابكم على ما قدمتموه.

شكراً لمشرفي الفاضل: أ. د إياد حمدان، فجزاك الله خيراً على كل ما بذلته معي في هذه الرسالة، وجعلك الله مباركاً أينما حللت.

وشكراً لأعضاء لجنة المناقشة الأكارم: أ. د: عبيد بن سالم العمري، أستاذ الفقه المقارن بجامعة طيبة، و د. فهد بن عبد الله المزعل، الأستاذ المشارك بقسم الدراسات الإسلامية في جامعة طيبة، فبارك الله فيكما على قبول الرسالة، وسدد الله على طريق الخير خطاكما ونفعنا بكما.

شكراً لرفيقات الدرب في شعبة الفقه فقد أمضيت أجمل أيامي في طلب العلم معكن.
সেই সকল শিক্ষিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যাদের আমি কোনো এক সময়ে ছাত্রী ছিলাম, যাদের জ্ঞান-উৎস হতে আমি সমৃদ্ধ হয়েছি এবং যাদের জ্ঞান-সুধা পান করেছি; প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যায় পর্যন্ত। আমি যতদিন জীবিত থাকব আপনাদের অনুগ্রহের কথা বিস্মৃত হব না। আল্লাহ আপনাদের সকলকে সুখী রাখুন এবং আপনাদের জীবনে বরকত দান করুন।

ধন্যবাদ ডক্টর হিন্দ বিনতে নায়েফ বিন হুমাইদ-কে; কেননা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষে আপনার দিকনির্দেশনামূলক কথা, উৎসাহ ও প্রশংসা এবং জ্ঞান ও ইলম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার একনিষ্ঠ পরিশ্রম আমার জন্য ফিকহ-এর পথকে পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করার পেছনে সর্বাপেক্ষা বড় প্রভাব বিস্তার করেছিল। এটিই ছিল আমার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন, আর আজ আমি আমার সেই লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত যা একসময় কেবলই একটি স্বপ্ন ছিল। হে আমার প্রিয় শিক্ষিকা, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন মহান স্রষ্টা আপনাকে সুখী রাখুন; প্রকৃতপক্ষে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই।

তাইয়্যেবাহ ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মণ্ডলীকে ধন্যবাদ, বিশেষ করে ফিকহ বিভাগের শিক্ষকদের। আপনারা আমার পথচলায় হেদায়েতের প্রদীপ ও আলোকবর্তিকা স্বরূপ ছিলেন। মহান আল্লাহ আপনাদেরকে এই শ্রমের প্রতিদান হতে বঞ্চিত না করুন এবং আপনাদের এই খিদমতের জন্য আপনাদেরকে পুরস্কৃত করুন।

ধন্যবাদ আমার পরম শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ডক্টর ইয়াদ হামদান-কে। আল্লাহ আপনাকে এই অভিসন্দর্ভের জন্য আমার পেছনে ব্যয় করা সকল মেহনতের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আপনি যেখানেই অবস্থান করুন আল্লাহ আপনাকে বরকতময় করুন।

এবং ধন্যবাদ জানাই পরীক্ষক কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে: প্রফেসর ডক্টর ওবায়েদ বিন সালেম আল-ওমারি, তাইয়্যেবাহ ইউনিভার্সিটির তুলনামূলক ফিকহ বিষয়ের অধ্যাপক; এবং ডক্টর ফাহাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাজআল, তাইয়্যেবাহ ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এই অভিসন্দর্ভটি গ্রহণের জন্য আল্লাহ আপনাদের উভয়কে বরকত দান করুন এবং কল্যাণের পথে আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সুদৃঢ় করুন ও আপনাদের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন।

ফিকহ বিভাগের পথচলার সকল সহপাঠী ও বন্ধুদের ধন্যবাদ। তোমাদের সাথে ইলম অন্বেষণে আমি আমার জীবনের সর্বাপেক্ষা সুন্দর দিনগুলো অতিবাহিত করেছি।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المستخلص

عنوان البحث: أقضية الحسن البصري في كتاب أخبار القضاة لوكيع وتطبيقاتها في المحاكم السعودية (دراسة فقهية تأصيلية).

إعداد الطالبة: منى بنت راجي بن عابد الحجيلي.

الدرجة العلمية: ماجستير.

يهدف البحث للتعريف بأقضية الحسن البصري رحمه الله في كتاب أخبار القضاة لوكيع، وتضمنت الأبواب الفقهية التالية: (البيوع، والأسرة، والحدود، والقضاء، والشهادة) مع بيان تطبيقاتها في المحاكم السعودية، مع ذكر النص القانوني والشرعي للقضية.

وقد تضمن البحث في بدايته تعريفاً شاملاً بكتاب أخبار القضاة لوكيع ومكانته العلمية ومنهج الإمام وكيع في كتابه.

كما تناول البحث نبذة مختصرة للعلمين: وكيع، و الحسن البصري رحمهما الله.

وتطرق البحث إلى دراسة أقضية الحسن البصري رحمه الله في كتاب أخبار القضاة لوكيع، دراسة فقهية مقارنة، فكانت إحدى عشر مسألة، اثنتان منها في كتاب البيوع، وأربعة في كتاب الأسرة، وواحدة في كتاب الحدود، واثنتان في باب القضاء، واثنتان في باب الشهادة.
সারসংক্ষেপ

গবেষণার শিরোনাম: ওকী’র ‘আখবার আল-কুদাত’ গ্রন্থে হাসান বসরী (রহ.)-এর বিচারবিভাগীয় ফয়সালাসমূহ এবং সৌদি আরবীয় আদালতসমূহে সেগুলোর প্রয়োগ (একটি মৌলিক ফিকহী গবেষণা)।

শিক্ষার্থী: মুনা বিনতে রাজী বিন আবিদ আল-হুজাইলি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাস্টার্স।

অত্র গবেষণার উদ্দেশ্য হলো ওকী’র ‘আখবার আল-কুদাত’ গ্রন্থে বর্ণিত হাসান বসরী (রহ.)-এর বিচারিক ফয়সালাসমূহ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা। এতে ফিকহ শাস্ত্রের নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: (ক্রয়-বিক্রয়, পরিবার, দণ্ডবিধি, বিচারব্যবস্থা এবং সাক্ষ্যদান)। সেই সাথে সৌদি আদালতসমূহে এগুলোর প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আইনি ও শরয়ি ভাষ্য বর্ণনা করা হয়েছে।

গবেষণার প্রারম্ভে ওকী’র ‘আখবার আল-কুদাত’ গ্রন্থের একটি বিস্তারিত পরিচিতি, এর জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা এবং ইমাম ওকী’র গ্রন্থ রচনার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

পাশাপাশি গবেষণায় দুই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব: ইমাম ওকী’ এবং ইমাম হাসান বসরী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করা হয়েছে।

গবেষণায় ওকী’র ‘আখবার আল-কুদাত’ গ্রন্থে বর্ণিত ইমাম হাসান বসরী (রহ.)-এর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহের একটি তুলনামূলক ফিকহী পর্যালোচনা করা হয়েছে। এখানে মোট এগারোটি মাসআলা বা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; যার মধ্যে দুটি ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে, চারটি পরিবার অধ্যায়ে, একটি দণ্ডবিধি অধ্যায়ে, দুটি বিচারব্যবস্থা অধ্যায়ে এবং দুটি সাক্ষ্যদান অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ৬)
ثم أعقبت كل مسألة بتطبيقها في المحاكم السعودية، بذكر النص القانوني إن وجد، ثم بذكر قضية أو اثنتان من القضايا الموجودة لدى المحاكم في المملكة العربية السعودية.

ومن أبرز النتائج التي توصّل إليها البحث:

* يعد كتاب أخبار القضاة لوكيع أقدم موسوعة قضائية وصلت إلينا، فله نسخة فريدة في العالم في مكتبة السليمانية باستانبول.

* سيرة الحسن البصري مليئة بالحكم والعبر والفقه والأدب والرجوع إلى الحق، فهي تلهم طالب العلم والساعي إلى الحق، وتنير دربه وطريقه.

وبناء على ذلك: أوصت الباحثة: جميع الباحثين والباحثات بالسير الحثيث والصبر على البحث وتعلم فنونه والتقليب بين الكتب والمصادر، والاستفادة من أعلام هذه الأمة.
এরপর আমি প্রতিটি মাসআলা (مسألة)-কে সৌদি আরবের আদালতগুলোতে তার প্রয়োগের বিবরণের মাধ্যমে অনুবর্তী করেছি, যেখানে প্রযোজ্য সেখানে আইনি ধারা উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সৌদি আরব রাজ্যের আদালতগুলোতে বিদ্যমান এক বা একাধিক মামলার উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য ফলাফলসমূহের মধ্যে রয়েছে:

* ওকী’ এর রচিত আখবার আল-কুদাত গ্রন্থটি আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম বিচার বিভাগীয় বিশ্বকোষ হিসেবে বিবেচিত হয়; ইস্তাম্বুলের সুলায়মানিয়া লাইব্রেরিতে এর একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।

* হাসান বসরীর জীবনী হিকমত (حكمة), শিক্ষা, ফিকহ (فقه), আদব (أدب) এবং সত্যের পথে প্রত্যাবর্তনের শিক্ষায় পরিপূর্ণ; যা ইলম অন্বেষণকারী এবং সত্যের পথযাত্রীদের অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের পথকে আলোকিত করে।

এর ওপর ভিত্তি করে গবেষিকা সকল নারী ও পুরুষ গবেষকদের দ্রুত অগ্রসর হওয়া, গবেষণায় ধৈর্য ধারণ করা, এর কলাকৌশল রপ্ত করা, বিভিন্ন গ্রন্থ ও মূল উৎস (مصادر) পর্যালোচনা করা এবং এই উম্মতের বরেণ্য মনীষীদের থেকে উপকৃত হওয়ার সুপারিশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد:

فإن الله عز وجل قد حفظ الدين، وأتم النعمة، ويسر لنا سبل العلم، وأضاء لنا الطريق بمصابيح الدجى، فحمل النبي صلى الله عليه وسلم همّ الدعوة، فبلغها على أكمل وجه وأتمه، ثم تبعه صحابته الكرام رضوان الله عليهم فعملوا بها، وعلموها، وكانوا خير جيل على وجه الأرض، فهم من تربوا على يد محمد صلى الله عليه وسلم، فكان نتاج هذا الغرس، ثلة من التابعين الذين لم يتوانوا في خدمة دين الله، فكان لزاما علينا أن ننقب في آثار الرعيل الأول، ونقلب في صفحات علمهم وفقههم، لنستنبط من ذلك فقهاً وأدباً وخلقاً وعلماً جماً.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার প্রতি যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন, নেয়ামত পূর্ণ করেছেন, আমাদের জন্য ইলমের পথকে সুগম করেছেন এবং অন্ধকারের প্রদীপসমূহ দ্বারা আমাদের পথকে আলোকিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াতের গুরুভার বহন করেছেন এবং তা সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গরূপে পৌঁছে দিয়েছেন। অতঃপর তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর অনুসরণ করেছেন, সে অনুযায়ী আমল করেছেন এবং তা শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁরা ছিলেন পৃথিবীর বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম, যেহেতু তাঁরা স্বয়ং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। আর এই রোপিত বৃক্ষের ফল ছিল একদল অনুসারী (التابعين), যারা আল্লাহর দ্বীনের খিদমতে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করেননি। তাই আমাদের জন্য সেই প্রথম প্রজন্মের রেখে যাওয়া নিদর্শন বা বর্ণনাগুলো (آثار) অনুসন্ধান করা এবং তাঁদের ইলম ও ফিকহের পাতাগুলো উল্টে দেখা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যাতে আমরা তা থেকে ফিকহ, আদব, চরিত্র ও প্রভূত ইলম আহরণ করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد اخترت أن أدرس أقضيةً من كتاب أخبار القضاة لوكيع رحمه الله، فهذا بحثي بين أيديكم في أقضية التابعي "الحسن البصري رحمه الله"، الذي تربى في حجرات النبوة، وعلى يد نساء النبي صلى الله عليه وسلم، أنهل من معين فقهه، وأدرس أقضيته دراسة فقهية مقارنة مع ذكر تطبيقاتها في المحاكم السعودية، تحت عنوان: " أقضية الحسن البصري في كتاب أخبار القضاة لوكيع وتطبيقاتها في المحاكم السعودية دراسة فقهية تأصيلية ".

 

‌‌مشكلة البحث:

1. ما هو كتاب أخبار القضاة لوكيع؟

2. ما هي أقضية الحسن البصري في كتاب أخبار القضاة لوكيع؟

3. ما هي تطبيقات أقضية الحسن البصري في المحاكم السعودية؟

 

‌‌أهداف البحث:

1. التعريف بكتاب أخبار القضاة لوكيع.

2. بيان أقضية الحسن البصري في كتاب أخبار القضاة لوكيع، وتضمنت الأبواب الفقهية التالية (البيوع والأسرة والحدود والقضاء والشهادة).

3. بيان تطبيقات أقضية الحسن البصري في المحاكم السعودية.

4. جمع ودراسة أقضية الحسن البصري دراسة فقهية مقارنة تأصيلية.

 

‌‌أهمية البحث:

1. التعرف على الملكة الفقهية التي يتمتع بها الحسن البصري.

2. الاستفادة من قضاء الحسن البصري في مجال القضاء، وتطبيقاتها في المحاكم السعودية.

3. آراء الحسن البصري تعتبر مفيدة للقضاة في كل زمان.

 

‌‌مصطلحات البحث:

تعريف القضاء:

لغة: القَضاءُ: الحكم، و قضى، أي حَكَمَ، ومنه قوله تعالى: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ}(1)(2).

اصطلاحا:

عرف أصحاب المذاهب الفقهية القضاء بتعريفات كثيرة منها:

تعريف الحنفية: هو فصل الخصومات وقطع المنازعات(3).

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء، آية: 23.

(2) انظر: الصحاح تاج اللغة وصحاح العربية لإسماعيل الجوهري، مادة "قضى" 6/ 2464.

(3) انظر: رد المحتار على الدر المختار لابن عابدين 5/ 352.
আমি ওয়াকি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আখবারুল কুদাত’ গ্রন্থ থেকে কিছু বিচারিক সিদ্ধান্ত (أقضية) অধ্যয়নের জন্য নির্বাচন করেছি। সুতরাং, আপনাদের সম্মুখে পেশকৃত এটি হলো তাবিঈ (تابعي) হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ (أقضية) সংক্রান্ত আমার গবেষণা। তিনি নবুওয়াতের হুজরাসমূহে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিনীদের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। আমি তাঁর ফিকহী প্রস্রবণ থেকে জ্ঞান আহরণ করেছি এবং সৌদি আরবের আদালতসমূহে সেগুলোর প্রয়োগ উল্লেখপূর্বক একটি তুলনামূলক ফিকহী গবেষণা হিসেবে তাঁর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ (أقضية) অধ্যয়ন করেছি। গবেষণার শিরোনাম: "ওয়াকি-এর ‘আখবারুল কুদাত’ গ্রন্থে হাসান বসরীর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং সৌদি আরবের আদালতসমূহে সেগুলোর প্রয়োগ: একটি মূলনীতিভিত্তিক (تأصيلية) ফিকহী গবেষণা।"

 

‌‌গবেষণার সমস্যাবলি:

১. ওয়াকি-এর ‘আখবারুল কুদাত’ গ্রন্থটি কী?

২. ওয়াকি-এর ‘আখবারুল কুদাত’ গ্রন্থে হাসান বসরীর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ (أقضية) কী কী?

৩. সৌদি আরবের আদালতসমূহে হাসান বসরীর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহের (أقضية) প্রয়োগগুলো কী কী?

 

‌‌গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:

১. ওয়াকি-এর ‘আখবারুল কুদাত’ গ্রন্থটির সাথে পরিচয় করানো।

২. ওয়াকি-এর ‘আখবারুল কুদাত’ গ্রন্থে হাসান বসরীর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ (أقضية) বর্ণনা করা, যা ফিকহের নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে (ক্রয়-বিক্রয়, পরিবার, দণ্ডবিধি, বিচার ব্যবস্থা এবং সাক্ষ্য প্রদান)।

৩. সৌদি আরবের আদালতসমূহে হাসান বসরীর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহের (أقضية) প্রয়োগ স্পষ্ট করা।

৪. হাসান বসরীর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ (أقضية) সংগ্রহ করা এবং সেগুলোর একটি মূলনীতিভিত্তিক (تأصيلية) তুলনামূলক ফিকহী গবেষণা করা।

 

‌‌গবেষণার গুরুত্ব:

১. হাসান বসরীর অর্জিত ফিকহী পারদর্শিতা সম্পর্কে অবগত হওয়া।

২. বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে হাসান বসরীর বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া এবং সৌদি আরবের আদালতসমূহে সেগুলোর প্রয়োগ দেখা।

৩. হাসান বসরীর মতামতসমূহ প্রতিটি যুগের বিচারকদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হিসেবে গণ্য।

 

‌‌গবেষণার পরিভাষা:

বিচার ব্যবস্থার (القضاء) সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থ: আল-কাদা (القضاء) অর্থ হলো বিচার বা ফয়সালা (الحكم)। আর ‘কাদা’ (قضى) মানে সে বিচার করল। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "আপনার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন (قضى) যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না।"(১)(২)

পারিভাষিক অর্থ:

ফিকহী মাযহাবের ইমামগণ বিচার ব্যবস্থার (القضاء) অনেক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

হানাফীগণের সংজ্ঞা: এটি হলো বিবাদ নিরসন এবং ঝগড়া মিটিয়ে দেওয়া।(৩)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৩।

(২) দেখুন: ইসমাঈল আল-জাওহারী রচিত ‘আস-সিহাহ তাজুল লুগাহ ওয়া সিহাহুল আরাবিয়্যাহ’, মূল শব্দ: "কাদা" ৬/ ২৪৬৪।

(৩) দেখুন: ইবনে আবিদিন রচিত ‘রাদ্দুল মুহতার আলা আদ-দুররিল মুখতার’ ৫/ ৩৫২।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ৯)
تعريف المالكية: هو صفة حكمية توجب لموصوفها نفوذ حكمه الشرعي ولو بتعديل أو تجريح لا في عموم مصالح المسلمين.(1)

تعريف الشافعية: فصل الخصومة بحكم الله تعالى(2).

تعريف الحنابلة: تبيين الحكم الشرعي والإلزام به وفصل الحكومات.(3)

الراجح والله أعلم: هو تعريف الحنابلة، لأنه شامل مانع.

 

‌‌الدراسات السابقة:

1) مشروع بحثي بعنوان (دراسة الأقضية في كتاب أخبار القضاة لوكيع).

قُسم المشروع على حسب الأبواب الفقهية على عدد من الباحثين، وهي كالتالي:

• دراسة الأقضية في كتاب أخبار القضاة لوكيع. إعداد: صالح بن هارون بن أبي بكر.

بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن، من جامعة الإمام محمد بن سعود، المعهد العالي للقضاء، 1431 ه _ 1432 ه.

• دراسة الأقضية في كتاب أخبار القضاة لوكيع في أبواب الخلع والرجعة والطلاق. إعداد: عبد العزيز بن علي الأسمري.

بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن، من جامعة الإمام محمد بن سعود، المعهد العالي للقضاء، 1431 ه _ 1432 ه.

• دراسة الأقضية في كتاب أخبار القضاة لوكيع في باب الجنايات (الجناية على النفس وما دونها والقسامة). إعداد: يوسف بن غرم الله الغامدي.

بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن، من جامعة الإمام محمد بن سعود، المعهد العالي للقضاء، 1431 ه _ 1432 ه.

• دراسة الأقضية في كتاب أخبار القضاة لوكيع في باب القصاص والديات. إعداد: محمد بن إبراهيم الدكان.

بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن، من جامعة الإمام محمد بن سعود، المعهد العالي للقضاء، 1431 ه _ 1432 ه.

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح حدود ابن عرفة للرصاع ص: 433.

(2) انظر: النجم الوهاج في شرح المنهاج للدميري 10/ 134.

(3) انظر: منتهى الارادات للنجار 5/ 261؛ الروض المربع للبهوتي ص: 704.
মালিকি মাযহাবের সংজ্ঞা: এটি একটি বিধানগত গুণ যা এর অধিকারীকে তার শরয়ি বিধান কার্যকর করার ক্ষমতা প্রদান করে, যদিও তা সংশোধন (تعديل) বা সমালোচনা (تجريح) করার ক্ষেত্রেও হয়, তবে মুসলিমদের সাধারণ জনকল্যাণমূলক বিষয়াদির ক্ষেত্রে নয়।(1)

শাফেয়ি মাযহাবের সংজ্ঞা: মহান আল্লাহর বিধানের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা।(2).

হাম্বলি মাযহাবের সংজ্ঞা: শরয়ি বিধান স্পষ্ট করা, তা পালনে বাধ্য করা এবং বিবাদসমূহ মীমাংসা করা।(3)

অগ্রগণ্য মত (আল্লাহই ভালো জানেন): হাম্বলি মাযহাবের সংজ্ঞাই অগ্রগণ্য, কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ।

 

‌‌পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:

১) (ওয়াকি রচিত আখবার আল-কুদাত গ্রন্থে বিচারিক ফয়সালাসমূহের অধ্যয়ন) শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প।

প্রকল্পটি ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বেশ কয়েকজন গবেষকের মাঝে বন্টন করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

• ওয়াকি রচিত আখবার আল-কুদাত গ্রন্থে বিচারিক ফয়সালাসমূহের অধ্যয়ন। উপস্থাপনায়: সালেহ বিন হারুন বিন আবু বকর।

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট থেকে তুলনামূলক ফিকহ-এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণা প্রবন্ধ, ১৪৩১ হি - ১৪৩২ হি।

• ওয়াকি রচিত আখবার আল-কুদাত গ্রন্থে খোলা এবং তালাক প্রত্যাবর্তন ও তালাক অধ্যায়সমূহে বিচারিক ফয়সালাসমূহের অধ্যয়ন। উপস্থাপনায়: আব্দুল আজিজ বিন আলী আল-আসমারি।

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট থেকে তুলনামূলক ফিকহ-এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণা প্রবন্ধ, ১৪৩১ হি - ১৪৩২ হি।

• ওয়াকি রচিত আখবার আল-কুদাত গ্রন্থে অপরাধ (প্রাণের ওপর অপরাধ এবং প্রাণহানি ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ এবং কাসামাহ বা কসম) অধ্যায়ে বিচারিক ফয়সালাসমূহের অধ্যয়ন। উপস্থাপনায়: ইউসুফ বিন গুরামুল্লাহ আল-গামদি।

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট থেকে তুলনামূলক ফিকহ-এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণা প্রবন্ধ, ১৪৩১ হি - ১৪৩২ হি।

• ওয়াকি রচিত আখবার আল-কুদাত গ্রন্থে কিসাস ও দীয়াত (রক্তপণ) অধ্যায়ে বিচারিক ফয়সালাসমূহের অধ্যয়ন। উপস্থাপনায়: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আদ-দুককান।

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট থেকে তুলনামূলক ফিকহ-এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণা প্রবন্ধ, ১৪৩১ হি - ১৪৩২ হি।

--------------------------------------------

(1) দেখুন: রাসসা’র শরহ হুদুদ ইবনে আরাফাহ, পৃষ্ঠা: ৪৩৩।

(2) দেখুন: দামিরি’র আন-নাজমুল ওয়াহহাজ ফি শরহিল মিনহাজ, ১০/১৩৪।

(3) দেখুন: নাজ্জার-এর মুনতাহাল ইরাদাত ৫/২৬১; বাহুতি-র আর-রওদুল মুরবি পৃষ্ঠা: ৭০৪।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১০)
• دراسة الأقضية في كتاب أخبار القضاة لوكيع في باب الشهادة. إعداد: رامي بن عبد الله العجلان.

بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن، من جامعة الإمام محمد بن سعود، المعهد العالي للقضاء، 1431 ه _ 1432 ه.

• دراسة الأقضية في كتاب أخبار القضاة لوكيع في باب الهبة والوصايا والفرائض. إعداد: سعود بن إبراهيم الصياحي.

بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في الفقه المقارن، من جامعة الإمام محمد بن سعود، المعهد العالي للقضاء، 1431 ه _ 1432 ه.

تعليقي:

اعتمد المشروع على تقسيم الأقضية على الأبواب الفقهية وذكر بعض التطبيقات القضائية المعاصرة، وأغلب المسائل التي وردت هي المسائل الرئيسة.

يختلف بحثي بأنه يختص بأقضية الحسن البصري في جميع الأبواب الفقهية، وأن جميع المسائل التي أوردتها لم يذكرها الباحثون سوى ثلاث مسائل، وهي: عدالة الشاهد و شهادة الأخ لأخيه، و شهادة الرجل الواحد.

2) موسوعة فقه الحسن البصري. تأليف: د. محمد رواس قلعة جي. 1407 ه.

موسوعة فقهية جامعة من سلسلة موسوعات فقه السلف، جمع المؤلف آراء الحسن البصري الفقهية، ورتبها على الحروف الهجائية، وقليلا ما يذكر الأدلة.

تعليقي:

العمل الموسوعي يختلف تماما عن البحوث العلمية، لكن المؤلف رحمه الله سهل على الباحثين فجمع أقوال الحسن البصري مرتبة ترتيبا هجائيا.

يختلف بحثي في الاقتصار على دراسة أقضية الحسن البصري الواردة في كتاب أخبار القضاة لوكيع دراسة فقهية مقارنة، وتطبيقاتها في المحاكم السعودية.

3) فقه الحسن البصري ومنهجه الأصولي. تأليف: د. حوري ياسين حسين الهيتي.

رسالة علمية لنيل درجة الدكتوراه من الجامعة الإسلامية ببغداد، كلية الفقه وأصوله، 1997 م.
• ওয়াকি-এর আখবারুল কুদাত গ্রন্থে সাক্ষ্য (الشهادة) অধ্যায়ে বিচারিক রায়সমূহের একটি অধ্যয়ন। উপস্থাপনায়: রামি বিন আব্দুল্লাহ আল-আজলান।

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার বিভাগীয় উচ্চতর ইনস্টিটিউট থেকে তুলনামূলক ফিকহ (الفقه المقارن) বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণা, ১৪৩১ হিজরি - ১৪৩২ হিজরি।

• ওয়াকি-এর আখবারুল কুদাত গ্রন্থে দান (الهبة), অসিয়ত (الوصايا) এবং উত্তরাধিকার (الفرائض) অধ্যায়ে বিচারিক রায়সমূহের একটি অধ্যয়ন। উপস্থাপনায়: সউদ বিন ইব্রাহিম আস-সায়াহি।

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার বিভাগীয় উচ্চতর ইনস্টিটিউট থেকে তুলনামূলক ফিকহ (الفقه المقارن) বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণা, ১৪৩১ হিজরি - ১৪৩২ হিজরি।

আমার মন্তব্য:

এই প্রকল্পটি বিচারিক রায়সমূহকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করার এবং কিছু সমসাময়িক বিচারিক প্রয়োগ উল্লেখ করার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছে। এখানে উল্লিখিত অধিকাংশ মাসআলাই হলো প্রধান বা মৌলিক মাসআলা।

আমার গবেষণাটি এদিক থেকে স্বতন্ত্র যে, এটি হাসান বসরীর সমস্ত ফিকহী অধ্যায়ের বিচারিক রায়সমূহের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট। আমি এখানে যে সকল মাসআলা উল্লেখ করেছি, গবেষকগণ তার মধ্য থেকে মাত্র তিনটি মাসআলা ব্যতীত বাকিগুলো উল্লেখ করেননি। সেই তিনটি মাসআলা হলো: সাক্ষীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الشاهد), ভাইয়ের পক্ষে ভাইয়ের সাক্ষ্য (شهادة الأخ لأخيه) এবং একজন পুরুষের সাক্ষ্য (شهادة الرجل الواحد)।

২) মাওসুআতু ফিকহিল হাসান আল-বসরী। রচনায়: ড. মুহাম্মদ রাওয়াস কালাজি। ১৪০৭ হিজরি।

এটি সালাফদের ফিকহ বিশ্বকোষ সিরিজের একটি পূর্ণাঙ্গ ফিকহী বিশ্বকোষ। লেখক হাসান বসরীর ফিকহী মতসমূহ এখানে সংকলন করেছেন এবং বর্ণানুক্রম অনুযায়ী তা বিন্যস্ত করেছেন। তবে তিনি দলিলসমূহ (الأدلة) খুব অল্পই উল্লেখ করেছেন।

আমার মন্তব্য:

বিশ্বকোষীয় কাজ বৈজ্ঞানিক গবেষণার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। তবে লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) গবেষকদের জন্য বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন; তিনি হাসান বসরীর উক্তিগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে একত্রিত করেছেন।

আমার গবেষণাটি ওয়াকি-এর আখবারুল কুদাত গ্রন্থে বর্ণিত হাসান বসরীর বিচারিক রায়সমূহের তুলনামূলক ফিকহী (فقهية مقارنة) অধ্যয়ন এবং সৌদি আদালতসমূহে সেগুলোর প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার কারণে পৃথক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

৩) ফিকহুল হাসান আল-বসরী ওয়া মানহাজুহুল উসূলী। রচনায়: ড. হুরি ইয়াসিন হুসাইন আল-হিতি।

বাগদাদের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, ফিকহ ও উসূলে ফিকহ (أصوله) অনুষদ থেকে ১৯৯৭ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে উপস্থাপিত একটি গবেষণা থিসিস।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১১)
كتب الباحث في القسم الأول عن منهج الحسن البصري الأصولي الذي سار عليه في الفقه، وعن مصادر الأحكام وطرق الاستنباط، ودرس بعض المسائل المختارة من فقه الحسن البصري دراسة مقارنة، وركز على المسائل الفقهية التي انفرد بها الإمام الحسن، والتي شذ بها عن الإجماع، أو خالف فيها الجمهور.

وجمع في القسم الثاني، الأحكام المتعلقة بالعبادات، وفقه الأسرة، والمتعلقة بالمعاملات، يذكر رأي الحسن، وإن كان له أكثر من رأي ذكر جميع الآراء، ومن وافقه من المذاهب الأربعة، ثم يسرد الأدلة، ويناقشها بايجاز، ولا يذكر الأقوال المخالفة لرأي الحسن غالباً، ولم يرجح في هذا القسم.

تعليقي:

استفاض الباحث في ذكر منهج فقه الحسن البصري الأصولي، وذكر بعض التطبيقات على ذلك، وفي كتابه ذكر بعض المسائل الفقهية مقارنة، والأخرى اكتفى بذكر رأي الحسن البصري فقط، دون التعريج على الآراء الأخرى.

اتفق بحثي مع الباحث بأني أوردت منهج الحسن البصري، ونبذة عنه لكن بايجاز، ويختلف بحثي في الاقتصار على دراسة أقضية الحسن البصري الواردة في كتاب أخبار القضاة لوكيع دراسة فقهية مقارنة، وتطبيقاتها في المحاكم السعودية.

4) فقه الحسن البصري المقارن مع المذاهب الأربعة. تأليف: د. روضة جمال الحصري.

رسالة علمية لنيل درجة الدكتوراه من جامعة أم درمان، كلية الشريعة والقانون، 1421 ه - 2001 م.

جمعت الباحثة أقوال الحسن البصري، ورتبتها على الأبواب الفقهية، ثم درستها دراسة فقهية مقارنة مع المذاهب الأربعة، فذكرت الأدلة، وناقشتها، وذكرت بعد ذلك الترجيح.

تعليقي:

استفاضت الباحثة في جمع كل آراء الحسن البصري، ودرستها دراسة فقهية مقارنة، ويختلف بحثي في الاقتصار على دراسة أقضية الحسن البصري الواردة في كتاب أخبار القضاة لوكيع دراسة فقهية مقارنة، وتطبيقاتها في المحاكم السعودية.
গবেষক প্রথম অংশে হাসান বসরীর উসূলি (أصولي) পদ্ধতি (منهج) সম্পর্কে লিখেছেন যা তিনি ফিকহ শাস্ত্রে অনুসরণ করেছেন, এবং বিধানের উৎসসমূহ ও মাসয়ালা আহরণ (استنباط) পদ্ধতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি হাসান বসরীর ফিকহ থেকে নির্বাচিত কিছু বিষয়ের তুলনামূলক অধ্যয়ন করেছেন এবং ইমাম হাসান বসরীর সেই একক (منفرد) মাসয়ালাগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যেগুলোতে তিনি ঐকমত্য (إجماع) থেকে বিচ্ছিন্ন (شاذ) হয়েছেন অথবা জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমের মতের বিরোধিতা করেছেন।

তিনি দ্বিতীয় অংশে ইবাদত, পারিবারিক ফিকহ এবং লেনদেন সংক্রান্ত বিধানসমূহ একত্রিত করেছেন। সেখানে তিনি হাসান বসরীর অভিমত উল্লেখ করেছেন; যদি তাঁর একাধিক মত থেকে থাকে তবে তিনি সকল অভিমতই উল্লেখ করেছেন। এরপর চার মাজহাবের মধ্যে যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন তাদের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি দলীলসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করে সংক্ষেপে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি হাসান বসরীর মতের পরিপন্থী অভিমতগুলো উল্লেখ করেননি এবং এই অংশে কোনো মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দেননি।

আমার মন্তব্য:

গবেষক হাসান বসরীর ফিকহী উসূলি (أصولي) পদ্ধতি (منهج) বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এর কিছু প্রয়োগও উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে কিছু ফিকহী মাসয়ালা তুলনামূলকভাবে আলোচনা করেছেন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অন্য কোনো মতের অবতারণা না করে কেবল হাসান বসরীর অভিমত উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।

আমার গবেষণাটি উক্ত গবেষকের কাজের সাথে একমত পোষণ করে এই দিক থেকে যে, আমি হাসান বসরীর পদ্ধতি (منهج) এবং তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছি। তবে আমার গবেষণাটি ভিন্নতর এই দিক থেকে যে, আমি ওয়াকীর আখবারুল কুদাত গ্রন্থে বর্ণিত হাসান বসরীর বিচারবিভাগীয় ফয়সালাসমূহের তুলনামূলক ফিকহী অধ্যয়ন এবং সৌদি আরবের আদালতসমূহে সেগুলোর প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি।

৪) চার মাজহাবের সাথে হাসান বসরীর তুলনামূলক ফিকহ। রচনায়: ড. রওদাহ জামাল আল-হুসরি।

উম্মে দুরমান বিশ্ববিদ্যালয়, শরিয়াহ ও আইন অনুষদ থেকে ১৪২১ হিজরী - ২০০১ খ্রিস্টাব্দে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য জমাকৃত একটি গবেষণাপত্র।

গবেষিকা হাসান বসরীর উক্তিগুলো সংগ্রহ করে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী সাজিয়েছেন। এরপর তিনি চার মাজহাবের সাথে সেগুলোর তুলনামূলক ফিকহী বিশ্লেষণ করেছেন; তিনি দলীলসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এরপর প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (ترجيح) উল্লেখ করেছেন।

আমার মন্তব্য:

গবেষিকা হাসান বসরীর সকল অভিমত সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং সেগুলো তুলনামূলক ফিকহী পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করেছেন। তবে আমার গবেষণাটি ভিন্নতর এই দিক থেকে যে, আমি ওয়াকীর আখবারুল কুদাত গ্রন্থে বর্ণিত হাসান বসরীর বিচারবিভাগীয় ফয়সালাসমূহের তুলনামূলক ফিকহী অধ্যয়ন এবং সৌদি আরবের আদালতসমূহে সেগুলোর প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌منهج البحث:

سوف أعتمد إن شاء الله تعالى على المنهج الاستقرائي الوصفي الاستنباطي.

 

‌‌تقسيمات البحث:

قسمت البحث إلى مقدمة وفصلين وخاتمة على النحو التالي:

الفصل الأول: التعريف بالحسن البصري و الامام وكيع وكتابه أخبار القضاة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: التعريف بالإمام الحسن البصري.

المبحث الثاني: التعريف بوكيع وكتابه أخبار القضاة.

الفصل الثاني: أقضية الحسن البصري في كتاب أخبار القضاة لوكيع وتطبيقاتها في المحاكم السعودية، وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: دراسة لأقضية الحسن البصري في كتاب البيوع، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: حكم الحبس في الدين.

المطلب الثاني: المضاربه في مال اليتيم.

المبحث الثاني: دراسة لأقضية الحسن البصري في كتاب الأسرة، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: حكم العنين.

المطلب الثاني: شرط الدار في عقد النكاح.

المطلب الثالث: دعوى الزوجة الطلاق وإنكار الزوج.

المطلب الرابع: الحضانة.

المبحث الثالث: دراسة لأقضية الحسن البصري في كتاب الحدود وفيه مطلب واحد:

إكراه المرأة على الزنا (الاغتصاب).

المبحث الرابع: دراسة لأقضية الحسن البصري في باب القضاء، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: كتاب القاضي.

المطلب الثاني: حكم الأجر على القضاء.

المبحث الخامس: دراسة لأقضية الحسن البصري في باب الشهادة، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: عدالة الشاهد.

المطلب الثاني: الشهادة على رؤية الهلال.

الخاتمة: وتشمل أهم النتائج والتوصيات.

هذا واسأل الله العظيم أن ينفعنا بما علمنا وأن يجعله حجة لنا لا علينا وأن يهدينا سواء السبيل وصل اللهم وبارك على نبيك محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم المعاد.
গবেষণা পদ্ধতি:

আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা আরোহী (Inductive), বর্ণনামূলক (Descriptive) এবং অবরোহী (Deductive) পদ্ধতির ওপর নির্ভর করব।

 

গবেষণার বিন্যাস:

আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: হাসান বসরী ও ইমাম ওয়াকী এবং তাঁর রচিত আখবারুল কুদাত গ্রন্থের পরিচিতি; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম হাসান বসরীর পরিচিতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওয়াকী এবং তাঁর রচিত আখবারুল কুদাত গ্রন্থের পরিচিতি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ওয়াকীর আখবারুল কুদাত গ্রন্থে হাসান বসরীর বিচারবিভাগীয় রায়সমূহ এবং সৌদি আদালতসমূহে সেগুলোর প্রয়োগ; এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে হাসান বসরীর বিচারবিভাগীয় রায়সমূহের পর্যালোচনা; এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ঋণের দায়ে কারাদণ্ডের বিধান।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এতিমের সম্পদে মুদারাবাহ (অংশীদারিত্বমূলক ব্যবসা)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিবারিক অধ্যায়ে হাসান বসরীর বিচারবিভাগীয় রায়সমূহের পর্যালোচনা; এতে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ধ্বজভঙ্গ ব্যক্তির বিধান।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: বিবাহ চুক্তিতে বাসস্থানের শর্ত।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর তালাকের দাবি এবং স্বামীর অস্বীকৃতি।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: শিশু লালন-পালন ও রক্ষণাবেক্ষণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দণ্ডবিধি অধ্যায়ে হাসান বসরীর বিচারবিভাগীয় রায়সমূহের পর্যালোচনা; এতে একটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

নারীকে ব্যভিচারে বাধ্য করা (ধর্ষণ)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিচারকার্য অধ্যায়ে হাসান বসরীর বিচারবিভাগীয় রায়সমূহের পর্যালোচনা; এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: বিচারকের পত্র।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: বিচারকার্যে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সাক্ষ্যদান অধ্যায়ে হাসান বসরীর বিচারবিভাগীয় রায়সমূহের পর্যালোচনা; এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: সাক্ষীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: চাঁদ দেখার সাক্ষ্যদান।

উপসংহার: এতে গবেষণার প্রধান ফলাফল ও সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন এবং একে আমাদের পক্ষে দলিল বানান, বিপক্ষে নয়; আর তিনি যেন আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। হে আল্লাহ! আপনি আপনার নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর দরুদ ও বরকত নাজিল করুন।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول: التعريف بالحسن البصري و الامام وكيع وكتابه أخبار القضاة

‌‌المبحث الأول: التعريف بالإمام الحسن البصري.

• اسمه ونسبه:

هو أبو سعيد الحسن بن يسار البصري، مولى زيد بن ثابت(1)، وقيل: مولى أبي اليسر كعب بن عمرو السلمي(2)، وقيل: غير ذلك(3).

والده: يسار من سبي مَيْسَان(4)، وقع إلى المدينة، فاشترته الربيع بنت النضر(5)، عمة أنس بن مالك(6)، فأعتقته(7).

--------------------------------------------

(1) زيد بن ثابت رضي الله عنه، تعلم العبرانية في سبع عشرة ليلة، أعلم أمة محمد صلى الله عليه وسلم بالفرائض، استعمله عمر بن الخطاب رضي الله عنه على القضاء، وكان من الراسخين في العلم، ومن أهل الفتوى والقضاء في المدينة في عهد عمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم، مات سنة 45 ه بالمدينة. انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 2/ 358.

(2) أَبُو اليسر السَّلميُّ رضي الله عنه، من أعيان الأنصار، شهد العقبة وله عشرون سَنَة، وَهُوَ الَّذِي أسر الْعَبَّاس يَوْم بدر، وانتزع راية المشركين يَوْم بدر، وشهد صِفّين مع علي رضي الله عنه، وتوفي بالمدينة سنة 55 ه. انظر: تاريخ الإسلام للذهبي 2/ 568.

(3) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 114؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 563.

(4) ميسان: موقع بين البصرة وواسط، وفُتحت في عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه. انظر: معجم البلدان للحموي 5/ 242.

(5) أُمُّ حَارِثَةَ وَاسْمُهَا الرُّبَيِّعُ بِنْتُ النَّضْرِ رضي الله عنها، أمها هند بنت زيد، تزوجت الرُّبَيِّعُ سراقة بن الحارث، فولدت له حارثة الذي استشهد ببدر، وأبو عمير، وأم عبيد، أسلمت وبايعت النبي صلى الله عليه وسلم، وهي التي عرفت أخاها أنس بن النضر رضي الله عنه في أُحد ببنانه. انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 8/ 424 "بتصرف".

(6) سيأتي ذكره في ص: 13.

(7) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 114؛ أخبارة القضاة لوكيع ص 233.
‌প্রথম অধ্যায়: আল-হাসান আল-বাসরি, ইমাম ওয়াকি এবং তাঁর গ্রন্থ ‘আখবারুল কুদাত’-এর পরিচিতি

‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আল-হাসান আল-বাসরি-এর পরিচিতি.

• তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবু সাঈদ হাসান ইবনে ইয়াসার আল-বাসরি, জায়েদ ইবনে সাবিত-এর মুক্তদাস (مولى)(১), এবং বলা হয়ে থাকে: তিনি আবু আল-ইয়াসার কাব ইবনে আমর আস-সালামি-এর মুক্তদাস (مولى)(২), আবার অন্য মতও বর্ণিত হয়েছে(৩)।

তাঁর পিতা: ইয়াসার ছিলেন মাইসানের যুদ্ধবন্দীদের (سبي)(৪) অন্তর্ভুক্ত, তিনি মদীনায় আগমন করেন। অতঃপর আনাস ইবনে মালিক(৬)-এর ফুফু রুবাই বিনতে আন-নাদর(৫) তাঁকে ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে মুক্ত (أعتق)(৭) করে দেন।

--------------------------------------------

(১) জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.), তিনি সতেরো দিনে হিব্রু ভাষা শিখেছিলেন। তিনি উম্মাতে মুহাম্মাদীর মধ্যে উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁকে বিচারকার্য (القضاء) পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন জ্ঞানে সুগভীর (الراسخين في العلم) এবং উমর, উসমান ও আলী (রা.)-এর শাসনামলে মদীনায় ফতোয়া (الفتوى) ও বিচারকার্য (القضاء) প্রদানকারী আহলে ফতোয়া ও বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ৪৫ হিজরীতে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। দেখুন: ইবনে সা’দ-এর আত-তাবাকাত আল-কুবরা ২/৩৫৮।

(২) আবু আল-ইয়াসার আস-সালামি (রা.), আনসারদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব (أعيان)। বিশ বছর বয়সে তিনি আকাবায় উপস্থিত ছিলেন। তিনিই বদরের যুদ্ধে আব্বাসকে বন্দী করেছিলেন এবং বদরের যুদ্ধে মুশরিকদের পতাকা কেড়ে নিয়েছিলেন। তিনি আলী (রা.)-এর সাথে সিফফিনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ৫৫ হিজরীতে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। দেখুন: যাহাবি-এর তারিখ আল-ইসলাম ২/৫৬৮।

(৩) দেখুন: ইবনে সা’দ-এর আত-তাবাকাত আল-কুবরা ৭/১১৪; যাহাবি-এর সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫৬৩।

(৪) মাইসান: বসরা ও ওয়াসিতের মধ্যবর্তী একটি স্থান, যা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে বিজিত হয়েছিল। দেখুন: হামাভি-এর মুজামুল বুলদান ৫/২৪২।

(৫) উম্মু হারিসা, তাঁর নাম রুবাই বিনতে আন-নাদর (রা.), তাঁর মাতা হিন্দ বিনতে জায়েদ। রুবাই সুরাকা ইবনুল হারিসকে বিবাহ করেন। তাঁর গর্ভে হারিসা জন্মগ্রহণ করেন যিনি বদর যুদ্ধে শহীদ হন, এছাড়া আবু উমাইর ও উম্মু উবাইদ তাঁর সন্তান। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী (সা.)-এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন। তিনিই ওহুদ যুদ্ধে তাঁর ভাই আনাস ইবনে নাদর (রা.)-কে তাঁর আঙ্গুলের অগ্রভাগ দেখে চিনেছিলেন। দেখুন: ইবনে সা’দ-এর আত-তাবাকাত আল-কুবরা ৮/৪২৪ (সংক্ষেপিত)।

(৬) সামনে ১৩ পৃষ্ঠায় তাঁর আলোচনা আসবে।

(৭) দেখুন: ইবনে সা’দ-এর আত-তাবাকাত আল-কুবরা ৭/১১৪; ওয়াকি-এর আখবারুল কুদাত পৃষ্ঠা ২৩৩।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
والدته: خَيْرَة(1)، مولاة أم سلمة(2) رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم(3).

• مولده:

ولد الحسن في المدينة، لسنتين بقيتا من خلافة عمر رضي الله عنه(4).

• نشأته:

• نشأ بالمدينة في حجرات زوجات النبي صلى الله عليه وسلم، فحينما تغيب أمه لقضاء حاجة أم سلمة رضي الله عنها، يبكي الحسن فتسكته أم سلمة بثديها، وتُخرجه إلى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو صغير، فكانوا يدعون له، ومن ذلك دعاء عمر له: " اللهم فقهه في الدين وحببه إلى الناس".(5)

--------------------------------------------

(1) خيرة أم الحسن البَصْرِيّ، مولاة أم سلمة رضي الله عنها، روت عن عائشة وأم سلمة رضي الله عنهما، روى عنها ابنها الحسن البصري، وأخوه سعيد، ومعاوية بن قرة، وحفصة بنت سيرين، ثقة، روى لها الجماعة سوى البخاري. انظر: تهذيب الكمال في أسماء الرجال للمزي 35/ 166.

(2) أم سلمة واسمها هند بنت أبي أمية رضي الله عنها، وأمها عاتكة بنت عامر، تزوجها أبو سلمة وهاجرا إلى الحبشة ثم المدينة، مات سنة أربع للهجرة، وكان لها منه زينب وسلمة وعمر ودرة، ثم تزوجت النبي صلى الله عليه وسلم في شوال سنة أربع للهجرة، توفيت سنة 59 ه. انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 8/ 86.

(3) انظر: المعارف لابن قتيبة 1/ 136؛ المنتخب من ذيل المذيل للطبري ص: 125؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 563.

(4) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 114؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 563؛ أخبارة القضاة لوكيع ص 233.

(5) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 564؛ أخبارة القضاة لوكيع ص 234؛ المجالسة وجواهر العلم للدينوري 6/ 103. "بتصرف".
তাঁর মাতা: খাইরাহ্(১), তিনি নবী (সা.)-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ (রা.)-এর মুক্তদাসী (مولاة) ছিলেন(২)।

• তাঁর জন্ম:

হাসান (রা.) মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন; তখন উমর (রা.)-এর খিলাফতের দুই বছর বাকি ছিল(৪)।

• তাঁর বেড়ে ওঠা:

• তিনি মদীনায় নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের হুজরাসমূহে লালিত-পালিত হন। যখন তাঁর মা উম্মু সালামাহ (রা.)-এর কোনো প্রয়োজনে বাইরে যেতেন, তখন শিশু হাসান কাঁদতেন; উম্মু সালামাহ (রা.) তাঁকে নিজ স্তন দিয়ে শান্ত করতেন। ছোট থাকাবস্থায় তিনি তাঁকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের নিকট নিয়ে যেতেন এবং তাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করতেন। এর মধ্যে উমর (রা.)-এর দোয়াটি অন্যতম: "হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (فقه) দান করুন এবং মানুষের নিকট তাঁকে প্রিয় করে দিন।"(৫)

--------------------------------------------

(১) খাইরাহ্ হলেন হাসান বসরীর মা এবং উম্মু সালামাহ (রা.)-এর মুক্তদাসী (مولاة)। তিনি আয়িশা ও উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র হাসান বসরী, তাঁর ভাই সাঈদ, মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ এবং হাফসা বিনতে সিরীন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة); ইমাম বুখারী ব্যতীত জামাআতের (الجماعة) সকল ইমাম তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। দেখুন: আল-মিযযি রচিত তাজহিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল ৩৫/১৬৬।

(২) উম্মু সালামাহ, যাঁর নাম হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়্যাহ (রা.)। তাঁর মাতা আতিকা বিনতে আমির। আবু সালামাহ তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁরা হাবশা ও পরবর্তীতে মদীনায় হিজরত করেন। তিনি হিজরি চতুর্থ বর্ষে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর গর্ভে যয়নাব, সালামাহ, উমর ও দুররাহ জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর নবী (সা.) হিজরি চতুর্থ বর্ষের শাওয়াল মাসে তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি ৫৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে সাদ রচিত আত-তাবাকাতুল কুবরা ৮/৮৬।

(৩) দেখুন: ইবনে কুতায়বাহ রচিত আল-মাআরিফ ১/১৩৬; তাবারী রচিত আল-মুনতাখাব মিন যাইলিল মুযাইয়্যাল পৃষ্ঠা: ১২৫; আয-যাহাবী রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫৬৩।

(৪) দেখুন: ইবনে সাদ রচিত আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/১১৪; আয-যাহাবী রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫৬৩; ওয়াকি রচিত আখবারুল কুদাত পৃষ্ঠা: ২৩৩।

(৫) দেখুন: আয-যাহাবী রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫৬৪; ওয়াকি রচিত আখবারুল কুদাত পৃষ্ঠা: ২৩৪; আদ-দিনাওয়ারী রচিত আল-মুজালাসাহ ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম ৬/১০৩। (সংক্ষেপিত)।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
• حضر الحسن الجمعة مع عثمان رضي الله عنه، وشهد يوم الدار(1)، وله يومئذ أربع عشرة سنة، وكان آخر عهده بالمدينة ليالي صفين(2)، ثم انتقل إلى البصرة(3).

--------------------------------------------

(1) يوم الدار: هو اليوم الذي قتل فيه عثمان رضي الله عنه، وسمي بذلك لأنهم حاصروه في داره وقتلوه بها.

(2) موضع بقرب الرّقّة على شاطئ الفرات من الجانب الغربي بين الرّقّة وبالس، وكانت وقعة صفّين بين عليّ ومعاوية رضي الله عنهما، في سنة 37 في غرّة صفر. انظر: معجم البلدان للحموي 3/ 414.

(3) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 115؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 564؛ أخبارة القضاة لوكيع ص 235 "بتصرف".
• হাসান উসমান (রা.)-এর সাথে জুমুআর সালাতে উপস্থিত হতেন এবং ইয়াওমুল দারে(১) উপস্থিত ছিলেন; সে সময় তার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। মদিনায় তার অবস্থানের শেষ সময় ছিল সিফফিনের(২) রজনীগুলো পর্যন্ত, অতঃপর তিনি বসরায়(৩) স্থানান্তরিত হন।

--------------------------------------------

(১) ইয়াওমুল দার: এটি সেই দিন যেদিন উসমান (রা.) শহীদ হয়েছিলেন। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা তাকে তার নিজ গৃহে অবরুদ্ধ করেছিল এবং সেখানেই তাকে হত্যা করেছিল।

(২) এটি রাক্কার নিকটবর্তী ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরের একটি স্থান, যা রাক্কা ও বালিসের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আলি ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যে ৩৭ হিজরি সনের পহেলা সফরে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। দেখুন: হামাভির মুজামুল বুলদান ৩/৪১৪।

(৩) দেখুন: ইবনে সা’দের আল-তাবাকাতুল কুবরা ৭/১১৫; জাহাবির সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৪/৫৬৪; ওয়াকি’-এর আখবারুল কুদাত পৃ. ২৩৫ "পরিমার্জিত (بتصرف)"।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১৬)
• غزا الحسن مع عبد الرحمن بن سمرة كابُل(1)، والأندقان(2)، وزابلستان(3)، ثلاث سنين(4)، وكان الحسن كاتباً للربيع بن زياد الحارثي(5) بخراسان(6).(7)

• صفاته:

اشتهر بالفصاحة والعلم والفقه والأمانة وكثرة العبادة والعلم، وكان ثقة، فما أسند من حديثه، وروى عمن سمع منه، فحسن حجة، وما أرسل من الحديث فليس بحجة(8).

--------------------------------------------

(1) كابل، عاصمة جمهورية أفغانستان الإسلامية حالياً، تقع على نهر كابل. انظر: خرائط قوقل، كابول، أفغانستان، استرجعت بتاريخ 29/محرم/1438 هـ من موقع https://goo.gl/zNHbDO .

(2) أندَق، بفتح الدال، قرية بينها وبين مدينة بخارى عشرة فراسخ _ الفرسخ يساوي ما بين 4 - 6 كيلو في النظام الدولي حالياً_، وتقع بخارى في دولة أوزبكستان حالياً. انظر: معجم البلدان للحموي 1/ 261؛ خرائط قوقل، بخارى، أوزبكستان، استرجعت بتاريخ 29/محرم/1438 ه من موقع https://goo.gl/Igfz 9 Z .

(3) زابل، مدينة تقع في الجمهورية الإيرانية حالياً، على الحدود الأفغانية، منسوبة إلى زابل جدّ رستم بن دستان، والعجم يزيدون السين وما بعدها في أسماء البلدان شبيها بالنسبة، فيقال: زابلستان. انظر: معجم البلدان للحموي 3/ 125؛ خرائط قوقل، زابل، إيران، استرجعت بتاريخ 29/محرم/1438 هـ https://goo.gl/MdGcGH.

(4) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 115.

(5) الربيع بن زياد الحارثي الأمير، يكني بأبي عبد الرحمن، روى عن: أبي بن كعب، وكعب الأحبار، ولِي خراسان لمعاوية، وكان الحسن البصري كاتباً له. انظر: تاريخ الاسلام للذهبي 2/ 487.

(6) خراسان بلاد واسعة، أول حدودها مما يلي العراق، وآخر حدودها مما يلي الهند، انظر: معجم البلدان للحموي 2/ 350. وحالياً: تقع في ثلاث دول، إيران، أفغانستان، تركمانستان.

(7) انظر: المحبر للهاشمي ص: 378.

(8) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 115. "بتصرف".
• হাসান (বসরী) আব্দুর রহমান বিন সামুরার সাথে তিন বছর কাবুল(১), আন্দাকান(২) এবং জাবুলিস্তানে(৩) যুদ্ধ করেছেন(৪)। হাসান খোরাসানে(৬) রাবি বিন জিয়াদ আল-হারিসির(৫) লেখক (কাতিব) ছিলেন।(৭)

• তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

তিনি বাগ্মিতা, জ্ঞান, ফিকহ, আমানতদারি, অধিক ইবাদত ও পাণ্ডিত্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন। তাঁর যে সকল হাদিস তিনি সূত্রযুক্ত (أسند) করে বর্ণনা করেছেন এবং যাদের থেকে সরাসরি শুনেছেন তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তা হাসান (حسن) ও দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। আর তিনি যে সকল হাদিস বিচ্ছিন্নভাবে (أرسل) বর্ণনা করেছেন, তা দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়(৮)।

--------------------------------------------

(১) কাবুল, বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের রাজধানী, যা কাবুল নদীর তীরে অবস্থিত। দেখুন: গুগল ম্যাপস, কাবুল, আফগানিস্তান, সংগৃহীত তারিখ: ২৯/মুহাররম/১৪৩৮ হিজরি, সাইট: https://goo.gl/zNHbDO ।

(২) আন্দাক, ‘দাল’ বর্ণে ফাতাহ যোগে, এটি একটি গ্রাম যা বুখারা শহর থেকে দশ ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত — আন্তর্জাতিক পরিমাপে বর্তমানে এক ফারসাখ ৪ থেকে ৬ কিলোমিটারের সমান — আর বুখারা বর্তমানে উজবেকিস্তান রাষ্ট্রে অবস্থিত। দেখুন: হামাভির মুজামুল বুলদান ১/২৬১; গুগল ম্যাপস, বুখারা, উজবেকিস্তান, সংগৃহীত তারিখ: ২৯/মুহাররম/১৪৩৮ হিজরি, সাইট: https://goo.gl/Igfz9Z ।

(৩) জাবুল, বর্তমানে ইরান রাষ্ট্রে অবস্থিত একটি শহর, যা আফগানিস্তান সীমান্তে অবস্থিত। এটি রস্তম বিন দাস্তানের দাদা জাবুলের সাথে সম্পৃক্ত। অনারবরা দেশ বা শহরের নামের শেষে সম্পর্কের আধিক্য বোঝাতে ‘সীন’ এবং তার পরবর্তী বর্ণগুলো যোগ করে, ফলে একে জাবুলিস্তান বলা হয়। দেখুন: হামাভির মুজামুল বুলদান ৩/১২৫; গুগল ম্যাপস, জাবুল, ইরান, সংগৃহীত তারিখ: ২৯/মুহাররম/১৪৩৮ হিজরি, সাইট: https://goo.gl/MdGcGH।

(৪) দেখুন: ইবনে সা’দের আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/১১৫।

(৫) আমির রাবি বিন জিয়াদ আল-হারিসি, তাঁর উপনাম আবু আব্দুর রহমান। তিনি উবাই বিন কাব এবং কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনামলে খোরাসানের গভর্নর ছিলেন এবং হাসান বসরী তাঁর লেখক (কাতিব) ছিলেন। দেখুন: যাহাবীর তারিখুল ইসলাম ২/৪৮৭।

(৬) খোরাসান একটি সুবিস্তৃত অঞ্চল, যার শুরুর সীমানা ইরাক সংলগ্ন এবং শেষ সীমানা ভারত সংলগ্ন। দেখুন: হামাভির মুজামুল বুলদান ২/৩৫০। বর্তমানে এটি তিনটি দেশে অবস্থিত: ইরান, আফগানিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান।

(৭) দেখুন: হাশেমীর আল-মুহাব্বার, পৃষ্ঠা: ৩৭৮।

(৮) দেখুন: ইবনে সা’দের আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/১১৫। "পরিমার্জিত"।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد اشتهر الحسن رحمه الله بالتدليس، فضعفها قوم وجودها آخرين.(1)

• توليه للقضاء:

تولى القضاء على الكوفة سنة 99 هـ، ثم إن الحسن استعفى من القضاء عَدِيّ بن أَرْطَاة(2) والي الكوفة، فأعفاه وولى إياساً(3).

• من أقوال الحسن:

1. قال الحسن: "يا ابن آدم فعظ نفسك فإن هي قبلت فعظ الناس ، وإلا فاستح من ربك"(4).

2. قال الحسن: "لولا الميثاق الذي أخذه الله على أهل العلم ما حدثتكم بكثير مما تسألون عنه"(5).

3. قالَ الحسن: "لَا تَخْرُجُ نَفْسُ ابْنِ آدَمَ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا بِحَسَرَاتٍ ثَلَاثٍ: أَنَّهُ لَمْ يَشْبَعْ مِمَّا جَمَعَ، وَلَمْ يُدْرِكْ مَا أَمِلَ، وَلَمْ يُحْسِنِ الزَّادَ لَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ"(6).

--------------------------------------------

(1) لـ أ. د: الشريف حاتم العوني بحثاً مطولاً فصّل في تدليس الحسن ومراسيله، ورجح بأن مراسيل الحسن إلى النبي صلى الله عليه وسلم بلا واسطة من أجود المراسيل … وذكر: أن الرواي إذا وُصف بالتدليس لم يكن وصفه المجرد بذلك مستلزماً رد عنعنته، لأن التدليس يطلق ويراد به معان عدة … وعنعنة الحين مقبولة عند أئمة الحديث منهم: ابن المديني والبخاري ومسلم والترمذي والبزار وابن خزيمة وغيرهم. وسرد بذلك أمثلة تطبيقية يحسن لمن أراد الاستزادة أن يطلع على كتاب: المرسل الخفي وعلاقته بالتدليس دراسة نظرية، وتطبيقية على مرويات الحسن البصري للعوني.

(2) عَدِيُّ بن أَرْطَاةَ الفَزَارِيُّ، من أهل دمشق، وهو أمير البصرة لعمر بن عبد العزيز، قُتل عَدي سنة 102 ه. انظر: تاريخ دمشق لابن عساكر 40/ 57.

(3) انظر: تاريخ الطبري تاريخ الأمم والملوك للطبري 6/ 554.

(4) سير السلف الصالحين للأصبهاني ص 731.

(5) الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 115.

(6) سير السلف الصالحين للأصبهاني ص 728.
হাসান (রহিমাহুল্লাহ) লুকানো বা সত্য গোপন (تدليس) করার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, তাই একদল তা দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত করেছেন এবং অন্য একদল তা উত্তম (جود) বলেছেন।(১)

• বিচারকের দায়িত্ব পালন:

তিনি ৯৯ হিজরিতে কুফার বিচারকের (কাজির) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর হাসান কুফার গভর্নর আদি ইবনে আরতাহ-এর নিকট বিচারকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান। ফলে তিনি তাকে অব্যাহতি দেন এবং আইয়াসকে নিয়োগ দান করেন।(২)

• হাসানের কিছু উক্তি:

১. হাসান বলেন: "হে আদম সন্তান! আগে নিজেকে উপদেশ দাও, যদি সে তা গ্রহণ করে তবে অন্য মানুষকে উপদেশ দাও। অন্যথায় তোমার রবের সামনে লজ্জিত হও।"(৪)

২. হাসান বলেন: "আল্লাহ তাআলা ইলম অন্বেষণকারীদের থেকে যে অঙ্গীকার নিয়েছেন, তা না থাকলে তোমরা যা জিজ্ঞেস করো তার অনেক কিছুই আমি তোমাদের নিকট বর্ণনা করতাম না।"(৫)

৩. হাসান বলেন: "তিনটি আফসোস নিয়ে আদম সন্তানের প্রাণ এই দুনিয়া থেকে নির্গত হয়: যা সে জমা করেছে তা থেকে সে তৃপ্ত হতে পারেনি, যা সে আশা করেছিল তা সে অর্জন করতে পারেনি এবং যেখানে সে উপস্থিত হচ্ছে (পরকাল) তার জন্য সে উত্তম পাথেয় জোগাড় করতে পারেনি।"(৬)

--------------------------------------------

(১) প্রফেসর ড. শরীফ হাতিম আল-আওনি একটি দীর্ঘ গবেষণায় হাসানের লুকানো বা সত্য গোপন (تدليس) এবং তার মুরসাল হাদিসসমূহ (مراسيل) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন যে, হাসান কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই বর্ণিত মুরসাল হাদিসসমূহ (مراسيل) হলো সর্বোত্তম মুরসালগুলোর অন্তর্ভুক্ত... তিনি আরও উল্লেখ করেছেন: বর্ণনাকারীকে (راوي) যদি লুকানো বা সত্য গোপন (تدليس) করার গুণে বিশেষিত করা হয়, তবে কেবল এই গুণের কারণেই তার সরাসরি শ্রবণের উল্লেখহীন বর্ণনা (عنعنة) প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক হয় না, কারণ ‘তাদলিস’ শব্দটি দ্বারা কয়েকটি অর্থ উদ্দেশ্য হতে পারে... এবং হাসানের সরাসরি শ্রবণের উল্লেখহীন বর্ণনা (عنعنة) হাদিসের ইমামগণের নিকট গ্রহণযোগ্য, যাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুল মাদিনি, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, বাজ্জার, ইবনে খুজাইমা ও অন্যান্যরা। তিনি এ বিষয়ে প্রায়োগিক উদাহরণও উল্লেখ করেছেন। যারা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তারা আল-আওনি রচিত ‘আল-মুরসাল আল-খাফি ওয়া আলাকাতুহু বিত-তাদলিস: দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন ওয়া তাতবিকিয়্যাতুন আলা মারউয়িইয়াতি হাসান আল-বাসরি’ বইটি দেখতে পারেন।

(২) আদি ইবনে আরতাহ আল-ফাজারি, তিনি দামেস্কের অধিবাসী ছিলেন এবং ওমর ইবনে আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে বসরার আমির ছিলেন। ১০২ হিজরিতে তিনি নিহত হন। দেখুন: ইবনে আসাকিরের তারিখু দামিশক ৪০/ ৫৭।

(৩) দেখুন: তাবারির তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক ৬/ ৫৫৪।

(৪) আসবাহানির সিয়ারুস সালাফিস সালিহিন, পৃষ্ঠা ৭৩১।

(৫) ইবনে সা’দের আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/ ১১৫।

(৬) আসবাহানির সিয়ারুস সালাফিস সালিহিন, পৃষ্ঠা ৭২৮।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১৮)
4. عن الحسن قال: "كنت أدخل بيوت أزواج النبي صلى الله عليه وسلم في خلافة عثمان بن عفان، فأتناول سقف البيت بيدي"(1).

5. قَالَ الحسن: "مِسْكِينٌ ابْنُ آدَمَ، رَضِيَ بِدَارٍ حَلَالُهَا حِسَابٌ، وَحَرَامُهَا عَذَابٌ، إِنْ أَخَذَهَا مِنْ حِلٍّ حُوسِبَ بِنَعِيمِهِ، وَإِنْ أَخَذَهَا مِنْ حَرَامٍ عُذِّبَ بِهِ"(2).

6. قال الحسن: "بئس الرفيقان: الدينار ، والدرهم، لا ينفعانك حتى يرافقانك"(3).

7. قال الحسن: "أكثروا من الاستغفار في بيوتكم وعلى موائدكم وفي طرقكم وفي أسواقكم وفي مجالسكم وأينما كنتم، فإنكم لا تدرون متى تنزل المغفرة"(4).

• من روى عنه:

روى عن(5):

1. سَمُرَةُ بنُ جُنْدُبِ بن هلال الفَزَارِيُّ رضي الله عنه.

من علماء الصحابة، غزا مع النبي صلى الله عليه وسلم وله حلف في الأنصار، وروى أحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم، مات سنة 58 ه(6).

2. عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما.

أسلم بمكة وهاجر مع أبيه إلى المدينة، أجازه رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الخندق وهو ابن خمس عشرة سنة، مات بمكة سنة 74 ه(7).

3. المغيرة بن شعبة بن أبي عامر رضي الله عنه.

يكنى بأبي عبد الله، ويقال له مغيرة الرأي، وأول مشاهده مع النبي صلى الله عليه وسلم الحديبية، ولاه عمر البصرة ثم عزله عنها ثم ولاه الكوفة، مات سنة 50 ه بالكوفة(8).

4. جُنْدُبُ بنُ عَبْدِ اللهِ بنِ سُفْيَانَ البَجَلِيُّ رضي الله عنه.

--------------------------------------------

(1) الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 118.

(2) سير السلف الصالحين للأصبهاني ص 729.

(3) المرجع السابق.

(4) سير السلف الصالحين للأصبهاني ص 739.

(5) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 115؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 565.

(6) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 3/ 186؛ الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 35.

(7) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 4/ 142.

(8) المرجع السابق 6/ 97.
4. হাসান (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর খিলাফতকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের ঘরে প্রবেশ করতাম এবং হাত দিয়ে ঘরের ছাদ স্পর্শ করতে পারতাম"(1).

5. হাসান (র.) বলেন: "আদম সন্তান বড়ই অসহায়; সে এমন এক আবাসে সন্তুষ্ট যাতে হালাল বস্তুর জন্য হিসাব দিতে হবে এবং হারাম বস্তুর জন্য রয়েছে আযাব। যদি সে হালাল উপায়ে তা গ্রহণ করে তবে তার নেয়ামত সম্পর্কে হিসাব (حساب) দিতে হবে, আর যদি হারাম উপায়ে গ্রহণ করে তবে তার জন্য শাস্তি (عذاب) ভোগ করবে"(2).

6. হাসান (র.) বলেন: "দীনার ও দিরহাম কতই না মন্দ সঙ্গী; এরা তোমার কোনো উপকারে আসে না যতক্ষণ না তারা তোমাকে ছেড়ে চলে যায়"(3).

7. হাসান (র.) বলেন: "তোমরা তোমাদের ঘরে, খাবারের দস্তরখানে, রাস্তায়, বাজারে, মজলিসে এবং যেখানেই থাকো না কেন, অধিক পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) করো; কেননা তোমরা জানো না কখন ক্ষমা নাযিল হয়"(4).

• যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন:

তিনি বর্ণনা করেছেন(5):

1. সামুরা ইবনে জুনদুব ইবনে হিলাল আল-ফাজারি (রা.)।

তিনি সাহাবিদের (الصحابة) মধ্যকার আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আনসারদের সাথে তাঁর মৈত্রী চুক্তি ছিল। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন, ৫৮ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন(6)।

2. আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.)।

তিনি মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতার সাথে মদিনায় হিজরত করেন। খন্দকের যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিয়েছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল পনেরো বছর। তিনি ৭৪ হিজরিতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন(7)।

3. আল-মুগিরা ইবনে শু'বা ইবনে আবি আমির (রা.)।

তাঁর উপনাম (كنية) ছিল আবু আবদুল্লাহ, তাঁকে 'মুগিরাতুর রাঈ' বলা হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর প্রথম প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ছিল হুদাইবিয়ায়। উমর (রা.) তাঁকে বসরার গভর্নর নিযুক্ত করেন, অতঃপর তাঁকে অপসারিত করেন এবং পরবর্তীতে কুফার গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনি ৫০ হিজরিতে কুফায় ইন্তেকাল করেন(8)।

4. জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুফিয়ান আল-বাজালি (রা.)।

--------------------------------------------

(1) ইবনে সা'দ-এর আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/১১৮।

(2) আসবাহানি-এর সিয়ারুস সালাফিস সালিহীন, পৃষ্ঠা ৭২৯।

(3) পূর্বোক্ত উৎস।

(4) আসবাহানি-এর সিয়ারুস সালাফিস সালিহীন, পৃষ্ঠা ৭৩৯।

(5) দেখুন: ইবনে সা'দ-এর আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/১১৫; যাহাবি-এর সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৪/৫৬৫।

(6) দেখুন: যাহাবি-এর সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৩/১৮৬; ইবনে সা'দ-এর আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/৩৫।

(7) দেখুন: ইবনে সা'দ-এর আত-তাবাকাতুল কুবra ৪/১৪২।

(8) পূর্বোক্ত উৎস ৬/৯৭।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ১৯)
أبو عبد الله البَجَلِيُّ، صاحب النبي صلى الله عليه وسلم، نزل الكوفة والبصرة، وله عدة أحاديث، مات سنة 70 ه(1).

5. صعصعة بن معاوية رضي الله عنه.

روى عن النبي صلى الله عليه وسلم، ذكره غير واحد في الصّحابة، وقال النسائي(2): ثقة إلا أنه لا صحبة له(3).

6. عبدالرحمن بن سمرة القرشي رضي الله عنه

يكنى أبا سعيد، أسلم يوم فتح مكة، وصحب النبي صلى الله عليه وسلم، وروى عنه، ثم غزا خراسان في زمن عثمان رضي الله عنه، وهو الذي افتتح سجستان(4)، وكابل، سكن البصرة ومات بها سنة 50 ه(5).

7. أنس بن مالك بن النضر رضي الله عنه

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 3/ 174.

(2) أحمد بن شعيب بن علي، أبو عبد الرحمن النسائي القاضي الحافظ، أحد الأئمة والأعلام، صنف السنن وغيرها، طاف البلاد، وسمع بخراسان، والعراق، والحجاز، ومصر، والشام، والجزيرة، ثم استوطن مصر، توفي بفلسطين سنة ثلاث وثلاث مئة. انظر: تاريخ دمشق لابن عساكر 71/ 170.

(3) انظر: الإصابة في تمييز الصحابة لابن حجر 3/ 346.

(4) سجستان ويطلق عليها حالياً سيستان، تقع في جنوبي شرق الجمهورية الإيرانية على الحدود مع باكستان وأفغانستان، وسجستان بلد يضاهي خراسان، وأول من نزلها من الولاة معن بن زائدة الشيباني في خلافة عثمان رضي الله عنه. انظر: آكام المرجان في ذكر المدائن المشهورة في كل مكان للمنجم ص: 80؛ خرائط قوقل، سيستان وبلوتشستان، إيران، استرجعت بتاريخ 29/محرم/1438 هـ https://goo.gl/JWW 8 RA .??

(5) انظر: الاستيعاب في معرفة الأصحاب لابن عبد البر 2/ 835.
আবু আব্দুল্লাহ আল-বাজালি, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী (صحابي); তিনি কুফা ও বসরায় বসবাস করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণিত বেশ কিছু হাদিস রয়েছে। তিনি ৭০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(১).

৫. সা'সা'আ বিন মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, একাধিক বিদ্বান তাঁকে সাহাবীদের (الصحابة) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইমাম নাসাঈ(২) বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে তাঁর সাহাবিত্ব (صحبة) প্রমাণিত নয়(৩).

৬. আব্দুর রহমান বিন সামুরা আল-কুরাশি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

তাঁর উপনাম আবু সাঈদ। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য (صحبة) লাভ করেন ও তাঁর থেকে বর্ণনা করেন। এরপর তিনি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে খোরাসান অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তিনিই সিজিস্তান(৪) ও কাবুল জয় করেন। তিনি বসরায় বসবাস করেন এবং সেখানেই ৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৫).

৭. আনাস বিন মালিক বিন আন-নাদর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাহাবির সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/ ১৭৪।

(২) আহমাদ বিন শুআইব বিন আলি, আবু আব্দুর রহমান আন-নাসাঈ, তিনি একজন বিচারক এবং হাফিজ (حافظ); অন্যতম ইমাম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি সুনান ও অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং খোরাসান, ইরাক, হিজাজ, মিসর, শাম ও জাজিরায় (হাদিস) শ্রবণ করেছেন। এরপর তিনি মিসরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ৩০৩ হিজরিতে ফিলিস্তিনে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে আসাকিরের তারিখু দামেশক ৭১/ ১৭০।

(৩) দেখুন: ইবনে হাজারের আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ ৩/ ৩৪৬।

(৪) সিজিস্তান, যাকে বর্তমানে সিস্তান বলা হয়, এটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে অবস্থিত। সিজিস্তান এমন এক অঞ্চল যা খোরাসানের সমতুল্য। উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে মা'ন বিন যাইদাহ আশ-শায়বানি প্রথম গভর্নর হিসেবে সেখানে পদার্পণ করেন। দেখুন: আল-মুনজ্জিমের আকামুল মারজান ফি জিকরিল মাদা'ইনিল মাশহুরাতি ফি কুল্লি মাকান, পৃষ্ঠা: ৮০; গুগল ম্যাপস, সিস্তান ও বেলুচিস্তান, ইরান, ২৯ মুহাররাম ১৪৩৮ হিজরি তারিখে সংগৃহীত। https://goo.gl/JWW 8 RA .??

(৫) দেখুন: ইবনে আব্দুল বার-এর আল-ইসতিয়াব ফি মা'রিফাতিল আসহাব ২/ ৮৩৫।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২০)
أمه أم سليم بنت ملحان(1) رضي الله عنها، خدم رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين، روى كثيراً من الأحاديث، دعاء له النبي صلى الله عليه وسلم بالبركة في المال والولد، فدَفن في حياته أكثر من مئة من صلبه، وكان ثمره يحمل في السنة مرتين، وهو آخر من مات من الصحابة بالبصرة، سنة 93 ه(2).

8. حِطَّانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ الْبَصْرِيُّ

تابعي، ثقة مشهور، قليل الأحاديث، قرأ عليه الحسن البصري القرآن، مات في خلافة عبد الملك بن مروان(3).(4) وغيرهم.

--------------------------------------------

(1) اختلف في اسمها، فقيل سهلة، وقيل الغميصاء أو الرّميصاء وغير ذلك، تزوّجت مالك بن النضر في الجاهليّة، وهي أم أنس بن مالك خادم رسول الله، أسلمت مع السّابقين إلى الإسلام من الأنصار، فغضب مالك وخرج إلى الشّام فمات بها، فتزوّجت بعده أبا طلحة، وكان صداقها الإسلام، لها مواقف مشهودة، وحضرت يوم أحد وحُنين. انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 8/ 424 "بتصرف".

(2) المرجع السابق 7/ 12.

(3) عبد الملك بن مروان بن الحكم الأموي، من خلفاء الدولة الأموية، ولد: سنة ست وعشرين، كان قبل الخلافة عابداً ناسكاً فقهياً، جهز الحجاج لحرب عبدالله بن الزبير رضي الله عنه، وهو أول من ضرب الدنانير، توفي سنة ست وثمانين. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 246.

(4) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 92؛ تاريخ الإسلام للذهبي 2/ 809.
তাঁর মাতা উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহান(১) রাদিয়াল্লাহু আনহা; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দশ বছর খিদমত করেছেন এবং অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পদ ও সন্তানে বরকতের জন্য দোয়া করেছিলেন, ফলে তিনি তাঁর জীবদ্দশায় নিজের ঔরসজাত একশ’রও বেশি সন্তানকে দাফন করেছেন। তাঁর (বাগানের) ফল বছরে দুইবার আসত। তিনি সাহাবীদের (الصحابة) মধ্যে বসরার সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি, ৯৩ হিজরি সনে(২)।

৮. হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাকাশি আল-বাসরি

তিনি একজন তাবিঈ (تابعي), প্রসিদ্ধ (مشهور) নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং অল্প হাদিস বর্ণনাকারী (قليل الأحاديث)। হাসান বসরী তাঁর নিকট কুরআন পাঠ করেছেন। তিনি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন(৩)।(৪) এবং অন্যান্য।

--------------------------------------------

(১) তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে সাহলাহ, আবার বলা হয়েছে আল-গুমাইসা অথবা আর-রুমাইসা ইত্যাদি। তিনি জাহেলি যুগে মালিক ইবনে নাদরকে বিবাহ করেছিলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহর খাদেম আনাস ইবনে মালিকের মাতা। তিনি আনসারদের (الأنصار) মধ্যে অগ্রগণ্য ইসলাম গ্রহণকারীদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। এতে মালিক রাগান্বিত হয়ে শামে চলে যান এবং সেখানেই মারা যান। এরপর তিনি আবু তালহাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর মোহর ছিল ইসলাম। তাঁর অনেক স্মরণীয় ভূমিকা রয়েছে এবং তিনি উহুদ ও হুনাইনের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। দেখুন: ইবনে সা’দ রচিত আত-তবকাতুল কুবরা ৮/৪২৪ "সংক্ষেপিত"।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ৭/১২।

(৩) আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ইবনে আল-হাকাম আল-উমাইয়্যা, উমাইয়্যা খিলাফতের অন্যতম খলিফা। তিনি ২৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। খিলাফতের পূর্বে তিনি একজন ইবাদতকারী, নিবেদিতপ্রাণ ও ফকিহ (فقيه) ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য হাজ্জাজকে প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি প্রথম দিনার মুদ্রার প্রচলন করেন এবং ৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: জাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/২৪৬।

(৪) দেখুন: ইবনে সা’দ রচিত আত-তবকাতুল কুবরা ৭/৯২; জাহাবি রচিত তারিখুল ইসলাম ২/৮০৯।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২১)
روى الحسن بالإرسال عن طائفة من الصحابة رضي الله عنهم، منهم: علي بن أبي طالب، وأم سلمة، وابن عباس(1)، وأسامة بن زيد(2)، وأبو هريرة(3) رضي الله عنهم، وغيرهم(4).

• تلاميذه:

روى عنه الكثير، ومنهم(5):

1. شَيْبَانُ النَّحْوِيُّ.

شيبان بن عبد الرحمن، مولى بني تميم، أبو معاوية البصري، أحد الأئمة، نزل الكوفة، وسكن بغداد، كان صاحب حروف وقراءات مشهورة(6).

2. يونس بن عبيد بن دينار.

أبو عبد الله العبدي البصري، من الموالي، وهو من صغار التابعين وفضلائهم، رأى أنس بن مالك رضي الله عنه، مات سنة أربعين ومائة(7).

--------------------------------------------

(1) عبد الله بن عباس بن عبد المطلب رضي الله عنهما، أمه لبابة بنت الحارث رضي الله عنها، ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولد في الشعب قبل الهجرة بثلاث سنين، حبر الأمة وترجمان القرآن، دعى له رسول الله بالفقه والتأويل، توفي بالطائف سنة ثمان وستين. انظر: معرفة الصحابة لأبي نعيم 3/ 1699.

(2) الحب بن الحب أسامة بن زيد بن حارثة بن شراحيل رضي الله عنهما، من موالي رسول الله صلى الله عليه وسلم من الطرفين، أمه أم أيمن رضي الله عنها حاضنة النبي صلى الله عليه وسلم، أمّره رسول الله صلى الله عليه وسلم على جيش مؤتة، توفي بعد مقتل عثمان رضي الله عنه، وقيل توفي في آخر خلافة معاوية. انظر: معرفة الصحابة لأبي نعيم 1/ 224.

(3) أبو هريرة رضي الله عنه، اختلف في اسمه اختلافاً كثيراً، كان اسمه في الجاهلية عبد شمس فسمي في الاسلام بعبد الرحمن، من المكثرين من رواية الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان مع عثمان رضي الله عنه يوم الدار، توفي سنة تسع وخمسين بالمدينة. انظر: تاريخ دمشق لابن عساكر 67/ 295.

(4) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 566.

(5) المرجع السابق 4/ 566.

(6) انظر: تاريخ الإسلام للذهبي 4/ 409.

(7) انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 6/ 288.
হাসান (বাসরি) একদল সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (الإرسال) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আলী বিন আবু তালিব, উম্মে সালামাহ, ইবনে আব্বাস(১), উসামা বিন যায়েদ(২) এবং আবু হুরাইরা(৩) (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ও আরও অনেকে(৪)।

• তাঁর ছাত্রগণ:

তাঁর থেকে অনেক রাবী বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন(৫):

১. শায়বান আন-নাহবী।

শায়বান বিন আব্দুর রহমান, বনু তামীম গোত্রের মুক্তদাস, আবু মুয়াবিয়া আল-বাসরি; তিনি ইমামগণের (الأئمة) অন্যতম ছিলেন। তিনি কুফায় অবতরণ করেন এবং বাগদাদে বসবাস করেন। তিনি কিরাত রীতি (حروف) এবং প্রসিদ্ধ কিরাতসমূহের (قراءات) অধিকারী ছিলেন(৬)।

২. ইউনুস বিন উবাইদ বিন দীনার।

আবু আব্দুল্লাহ আল-আবদি আল-বাসরি, তিনি মাওয়ালিদের (মুক্তদাস) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি কনিষ্ঠ তাবেয়ীদের (صغار التابعين) এবং তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠদের অন্যতম ছিলেন। তিনি আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছেন। তিনি একশত চল্লিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন(৭)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), তাঁর মাতা লুবাবাহ বিনতুল হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহা)। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই। হিজরতের তিন বছর আগে তিনি শিয়াবে (উপত্যকায়) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উম্মতের মহান পণ্ডিত (حبر الأمة) এবং কুরআনের ব্যাখ্যাদাতা (ترجمان القرآن)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য দ্বীনের গভীর জ্ঞান (الفقه) এবং ব্যাখ্যার (التأويل) দোয়া করেছিলেন। ৬৮ হিজরিতে তায়েফে তাঁর মৃত্যু হয়। দেখুন: আবু নুয়াইমের মা'রিফাতুস সাহাবাহ ৩/১৬৯৯।

(২) প্রিয়ভাজন এবং প্রিয়ভাজনের পুত্র উসামা বিন যায়েদ বিন হারিসাহ বিন শারাহিল (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), তিনি পিতা-মাতা উভয় দিক থেকেই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আযাদকৃত গোলামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মা উম্মে আয়মান (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর লালন-পালনকারিনী ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে মুতার যুদ্ধের বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন। উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) শহীদ হওয়ার পর তিনি ইন্তেকাল করেন; মতান্তরে তিনি মুয়াবিয়ার খেলাফতের শেষের দিকে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: আবু নুয়াইমের মা'রিফাতুস সাহাবাহ ১/২২৪।

(৩) আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তাঁর নাম নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। জাহেলী যুগে তাঁর নাম ছিল আবদু শামস, ইসলাম গ্রহণের পর নাম রাখা হয় আব্দুর রহমান। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের (المكثرين) অন্যতম ছিলেন। ইয়াওমুত দারের (অবরোধের দিন) সময় তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সঙ্গে ছিলেন। ৫৯ হিজরিতে মদিনায় তাঁর মৃত্যু হয়। দেখুন: ইবনে আসাকিরের তারিখু দামিশক ৬৭/২৯৫।

(৪) দেখুন: আয-যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫৬৬।

(৫) পূর্বোক্ত সূত্র ৪/৫৬৬।

(৬) দেখুন: আয-যাহাবীর তারিখুল ইসলাম ৪/৪০৯।

(৭) দেখুন: আয-যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/২৮৮।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২২)
3. حُمَيْدُ بنُ أَبِي حُمَيْدٍ الطَّوِيْلُ البَصْرِيُّ.

ولد سنة ثمان وستين، مولى من سبي كابل، سمع أنس والحسن وغيرهم، وكان صاحب حديث ومعرفة، مات في سنة اثنتين وأربعين ومائة(1).

4. ثابت بن أسلم البناني.

أبو محمد، ممن صحب أنس بن مالك رضي الله عنه أربعين سنة، وكان من أعبد أهل البصرة وأكثرهم صبراً، مات سنة سبع وعشرين ومائة وهو ابن ست وثمانين سنة(2).

5. مالك بن دينار.

أَبُو يحيى البَصْرِيّ الثقة الزاهد، من الموالي، كان أبوه من سبي سجستان، وقيل: من كابل، كان يكتب المصاحف بالأجرة ويَتَقُوت بأجرته، مات سنة سبع وعشرين ومئة(3).

6. هشام بن حسان.

أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الأَزْدِيُّ الْقُرْدُوسِيُّ، الْبَصْرِيُّ، كان أعلم الناس بحديث الحسن، وكان حماد بن سلمة(4) لا يَخْتَارُ عَلَيْهِ أَحَدًا فِي حَدِيثِ ابْنِ سِيرِينَ(5)، مَاتَ فِي أَوَّلِ صَفَرٍ سَنَةَ ثَمَانٍ وأربعين ومائة(6).

7. جرير بن حازم.

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق 6/ 163.

(2) انظر: مشاهير علماء الأمصار لابن حبان ص: 145.

(3) انظر: تهذيب الكمال في أسماء الرجال للمزي 27/ 135.

(4) حماد بن سلمة بن دينار البصري، من مولى آل ربيعة بن مالك، كان بحرا من بحور العلم، وله أوهام في سعة ما روى، وهو صدوق، حجة، توفي سنة سبع وستين ومائة. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 7/ 444.

(5) محمد بن سيرين أبو بكر، مولى أنس بن مالك رضي الله عنه، ولد لسنتين من خلافة عمر، كان حسن العلم بالفرائض والقضاء والحساب، توفي سنة عشر ومائة. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 606.

(6) انظر: تاريخ الإسلام للذهبي 3/ 999.
3. হুমায়দ ইবনে আবি হুমায়দ আত-তবিল আল-বাসরি।

তিনি ৬৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি কাবুলের যুদ্ধবন্দীদের বংশোদ্ভূত একজন মুক্তদাস। তিনি আনাস, হাসান ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ছিলেন হাদিস বিশারদ (صاحب حديث) ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(1)।

4. সাবিত ইবনে আসলাম আল-বুনানি।

আবু মুহাম্মাদ, তিনি ওই সমস্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর চল্লিশ বছর সাহচর্য লাভ করেছেন। তিনি বসরাবাসীদের মধ্যে সর্বাধিক ইবাদতগুজার ও ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ১২৭ হিজরিতে ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন(2)।

5. মালিক ইবনে দিনার।

আবু ইয়াহইয়া আল-বাসরি, তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও দুনিয়াত্যাগী (زاهد)। তিনি মুক্তদাসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর পিতা সিজিস্তানের যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, মতান্তরে কাবুলের। তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপি লিখতেন এবং সেই পারিশ্রমিক দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি ১২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(3)।

6. হিশাম ইবনে হাসান।

আবু আব্দুল্লাহ আল-আজদি আল-কুরদুসি আল-বাসরি। হাসান (আল-বাসরি)-এর হাদিস সম্পর্কে তিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বিজ্ঞ ছিলেন। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে সিরিনের হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতেন না(4)। তিনি ১৪৮ হিজরির সফর মাসের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন(6)।

7. জারির ইবনে হাযিম।

--------------------------------------------

(1) পূর্বোক্ত উৎস, ৬/ ১৬৩।

(2) দেখুন: ইবনে হিব্বান বিরচিত মাশাহিরু উলামাইল আমসার, পৃষ্ঠা: ১৪৫।

(3) দেখুন: মিযযি বিরচিত তাহযিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল, ২৭/ ১৩৫।

(4) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে দিনার আল-বাসরি, রাবিয়া ইবনে মালিক পরিবারের মুক্তদাসদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ছিলেন জ্ঞানের এক বিশাল সমুদ্র। তাঁর বর্ণিত হাদিসের ব্যাপকতার কারণে কিছু বিভ্রান্তি (أوهام) ছিল। তবে তিনি সত্যবাদী (صدوق) ও অকাট্য দলীল (حجة)। তিনি ১৬৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: আয-যাহাবি বিরচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৭/ ৪৪৪।

(5) মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন আবু বকর, আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর মুক্তদাস। উমর (রা.)-এর খিলাফতের দুই বছর বাকি থাকতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। উত্তরাধিকার আইন, বিচারকার্য ও গণিতশাস্ত্রে তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। তিনি ১১০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: আয-যাহাবি বিরচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/ ৬০৬।

(6) দেখুন: আয-যাহাবি বিরচিত তারিখুল ইসলাম, ৩/ ৯৯৯।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২৩)
أَبُو النَّضْرِ الأَزْدِيُّ، البَصْرِيُّ، سمع من أبي الطفيل(1) رضي الله عنه خاتمة الصحابة، وكان من أوعية العلم، مات سنة سبعين ومائة(2).

8. يزيد بن إبراهيم التُّسْتَرِيُّ.

الإمام، الثقة، أبو سعيد البصري، مولى بني تميم، ولد في خلافة عبدالملك، ثقة من أوسط أصحاب الحسن وابن سيرين، توفي سنة إحدى وستين ومائة(3).

9. مبارك بن فضالة بن أبي أمية القرشي.

الحافظ، المحدث، الإمام، من كبار علماء البصرة، ولد في أيام الصحابة، وصحب الحسن وحدث عنه فأكثر، توفي سنة خمس وستين ومائة(4).

10. أبان بن يزيد العطار.

أبو يزيد البصري الحافظ، أحد الأعلام، مات قبل السبعين ومئة(5).

11. قُرَّةُ بن خالد السدوسيُّ البصريُّ.

من جِلّة العلماء، توفي سنة أربع وخمسين ومائة(6).

12. سَلاَّمُ بنُ مِسْكِيْنِ بنِ رَبِيْعَةَ الأَزْدِيُّ.

--------------------------------------------

(1) عامر بن واثلة الليثي الكناني رضي الله عنه، خاتم من رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم في الدنيا، ولد بعد الهجرة، كان من شيعة علي رضي الله عنه، كان حامل راية المختار لما ظهر بالعراق وحارب قتلة الحسين رضي الله عنه، توفي بمكة سنة عشر ومئة. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 3/ 467.

(2) المرجع السابق 7/ 98.

(3) المرجع السابق 7/ 292.

(4) المرجع السابق 7/ 284.

(5) انظر: تاريخ الإسلام للذهبي 4/ 287.

(6) المرجع السابق 4/ 186.
আবু আন-নাযর আল-আযদি আল-বসরী, সর্বশেষ সাহাবী আবু আল-তুফায়েল(১) রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা শুনেছেন। তিনি ইলমের বিশাল আধার ছিলেন এবং ১৭০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(২)।

৮. ইয়াযিদ ইবনে ইবরাহিম আত-তুস্তারি।

ইমাম, নির্ভরযোগ্য (ثقة), আবু সাঈদ আল-বসরী, বনী তামিম গোত্রের মুক্তদাস। তিনি আব্দুল মালিকের খিলাফতকালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাসান ও ইবনে সিরিনের মধ্যম স্তরের সাথীদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন। ১৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৩)।

৯. মুবারক ইবনে ফাযালা ইবনে আবি উমাইয়া আল-কুরায়শী।

হাফেজ (الحافظ), মুহাদ্দিস (المحدث), ইমাম এবং বসরার বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সাহাবীদের যুগে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাসান (বসরী)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেন। ১৬৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৪)।

১০. আবান ইবনে ইয়াযিদ আল-আত্তার।

আবু ইয়াযিদ আল-বসরী, হাফেজ (الحافظ), প্রখ্যাত আলেমদের একজন। ১৭০ হিজরির পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন(৫)।

১১. কুররাহ ইবনে খালিদ আস-সাদুসী আল-বসরী।

মর্যাদাবান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ১৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৬)।

১২. সাল্লাম ইবনে মিসকীন ইবনে রাবিয়া আল-আযদি।

--------------------------------------------

(১) আমির ইবনে ওয়াসিলা আল-লাইসি আল-কিনানি রাযিয়াল্লাহু আনহু, দুনিয়াতে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন তাদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি। তিনি হিজরতের পর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সমর্থক ছিলেন। মুখতার যখন ইরাকে আবির্ভূত হয় এবং হোসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তখন তিনি তার পতাকাবাহী ছিলেন। ১১০ হিজরিতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/৪৬৭।

(২) পূর্বোক্ত সূত্র ৭/৯৮।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র ৭/২৯২।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্র ৭/২৮৪।

(৫) দ্রষ্টব্য: যাহাবীর তারিখুল ইসলাম ৪/২৮৭।

(৬) পূর্বোক্ত সূত্র ৪/১৮৬।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২৪)
الإمام، الثقة، أبو رَوْحٍ الأَزْدِيُّ النَّمَرِيُّ البصري، اسمه سليمان ولقبه سلّام، روى له الجماعة(1)، سوى الترمذي(2)، مات سنة أربع وستين(3).

وغيرهم.

• أقوال العلماء:

سئل أنس بن مالك رضي الله عنه عن مسألة فقال: "سلوا مولانا الحسن فإنه سمع وسمعنا فحفظ ونسينا"(4).

قال قتادة(5): "عليكم بهذا الشيخ _ يعني الحسن _ فإني والله ما رأيت رجلا قط أشبه رأياً بعمر بن الخطاب رضي الله عنه منه"(6).

قال الشعبي: "ما رأيت من أهل تلك البلاد رجلاً قط أفضل منه"(7).

قال عمرو بن مُرَّةَ(8): "إني لأغبط أهل البصرة بذاك الشيخين الحسن ومحمد"(9).

--------------------------------------------

(1) الجماعة هم: البخاري ومسلم وابوداود والترمذي والنسائي وابن ماجة.

(2) الترمذي محمد بن عيسى بن سورة بن موسى بن الضحاك، الحافظ، الإمام، مصنف الجامع، وكتاب العلل، ولد سنة 210 ه، وارتحل في طلب العلم، جامعه يدل على حفظه وفقهه وعلمه، توفي سنة 279 ه. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 13/ 270.

(3) المرجع السابق 7/ 414.

(4) طبقات الفقهاء للشيرازي ص: 81.

(5) قَتَادَةُ بنُ دِعَامَةَ بنِ قَتَادَةَ بنِ عَزِيْزٍ السَّدُوْسِيُّ، ولد في سنة ستين، من أوعية العلم، وممن يضرب به المثل في قوة الحفظ، هو حجة بالإجماع إذا بين السماع، وكان يرى القدر، جالس الحسن ثنتي عشرة سنة، توفي سنة ثماني عشرة ومائة. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 5/ 269.

(6) الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 118.

(7) المرجع السابق 7/ 119.

(8) عَمْرو بن مرة بن عَبد اللَّه الجملي، أَبُو عَبْد اللَّه الكوفي الأعمى، روى له الجماعة، ثقة، كان يرى الإرجاء، مات سنة ست عشرة ومئة. انظر: تهذيب الكمال في أسماء الرجال للمزي 22/ 232.

(9) الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 119.
ইমাম (الإمام), নির্ভরযোগ্য (ثقة), আবু রাওহ আল-আজদি আন-নামারি আল-বসরি, তাঁর নাম সুলাইমান এবং উপাধি সাল্লাম, জামায়াত(১) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিরমিজি(২) ব্যতীত, তিনি চৌষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৩)।

এবং অন্যান্যগণ।

• ওলামায়ে কেরামের উক্তি:

আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তোমরা আমাদের মাওলা হাসানকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনি শুনেছেন এবং আমরাও শুনেছি, কিন্তু তিনি মুখস্থ রেখেছেন আর আমরা ভুলে গেছি"(৪)।

কাতাদাহ(৫) বলেন: "তোমরা এই শায়খকে — অর্থাৎ হাসানকে — আঁকড়ে ধরো, কেননা আল্লাহর কসম, আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ চিন্তার অধিকারী আর কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি"(৬)।

শাবী বলেন: "আমি সেই ভূখণ্ডের অধিবাসীদের মধ্যে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি"(৭)।

আমর বিন মুররাহ(৮) বলেন: "আমি এই দুই শায়খ অর্থাৎ হাসান এবং মুহাম্মদের কারণে বসরার অধিবাসীদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করি"(৯)।

--------------------------------------------

(১) জামায়াত হলেন: বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ।

(২) তিরমিজি মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা বিন মুসা বিন দাহহাক, হাফেজ (الحافظ), ইমাম (الإمام), আল-জামে এবং কিতাবুল ইলাল এর সংকলক, তিনি ২১০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইলম অন্বেষণে দেশভ্রমণ করেন, তাঁর জামে গ্রন্থটি তাঁর হেফজ, ফিকহ ও পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়, তিনি ২৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (আজ-জাহাবি) ১৩/ ২৭০।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ৭/ ৪১৪।

(৪) তাবাকাতুল ফুকাহা (আশ-শিরাজি) পৃ: ৮১।

(৫) কাতাদাহ বিন দিয়ামাহ বিন কাতাদাহ বিন আজিজ আস-সাদুসি, তিনি ৬০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ছিলেন ইলমের ভাণ্ডার এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য ব্যক্তিত্ব। তিনি যখন শ্রবণের (سماع) বিষয়টি স্পষ্ট করেন তখন সর্বসম্মতভাবে (إجماع) তিনি একজন দলিল (حجة)। তিনি কদর (القدر) মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি হাসানের মজলিসে বারো বছর অবস্থান করেছেন, ১১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (আজ-জাহাবি) ৫/ ২৬৯।

(৬) আত-তাবাকাতুল কুবরা (イবনে সাদ) ৭/ ১১৮।

(৭) পূর্বোক্ত উৎস ৭/ ১১৯।

(৮) আমর বিন মুররাহ বিন আবদুল্লাহ আল-জামালি, আবু আবদুল্লাহ আল-কুফি আল-আমা, জামায়াত তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তিনি ইরজা (الإرجاء) মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন, ১১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তাহজিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল (আল-মিযযি) ২২/ ২৩২।

(৯) আত-তাবাকাতুল কুবরা (ইবনে সাদ) ৭/ ১১৯।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
قال الأعمش(1): "ما زال الحسن يعي الحكمة حتى نطق بها".(2)

قال الزهري(3): "العلماء أربعة: سعيد بن المسيب(4) بالمدينة، وعامر الشعبي بالكوفة، والحسن بن أبي الحسن البصري بالبصرة، ومَكْحُوْل(5) بالشام".(6)

• كتابه إلى عمر بن عبد العزيز:

--------------------------------------------

(1) سليمان بن مهران الكاهلي، شيخ المقرئين والمحدثين، أصله: من نواحي الري، ولد سنة إحدى وستين، رأى أنس بن مالك وروى عنه، قرأ القرآن على يحيى بن وثاب؛ مقرئ العراق، توفي سنة سبع وأربعين ومائة. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 6/ 226.

(2) المرجع السابق 4/ 585.

(3) محمد بن مسلم بن عبيد الله، ابن شهاب الزهري، ولد سنة خمسين، الإمام، العالم، حافظ زمانه نزيل الشام، سمع من ابن عمر رضي الله عنه، توفي سنة أربع وعشرين ومائة. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 5/ 326.

(4) سعيد بن المسيب بن حزن بن أبي وهب، أمه أم سعيد بنت حكيم السلمي، ولد لسنتين خلتا من خلافة عمر رضي الله عنه، من كبار التابعين، فقيه الفقهاء، عالم، كثير الحديث، من الثقات، كان يفتي وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أحياء، توفي سنة أربع وتسعين بالمدينة. انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 5/ 119.

(5) مَكْحُوْلُ بنُ أَبِي مُسْلِمٍ شَهْرَابَ بنِ شَاذِلَ، أبو عبدالله الدمشقي، مولى من سبي كابل، عالم أهل الشام، من أقران الزهري، وكان أعلم الناس بالفتيا في زمانه، مات سنة ثلاث عشرة ومئة. انظر: سير أعلام النبلاء للذهبي 5/ 155.

(6) طبقات الفقهاء للشيرازي ص: 81.
আল-আ'মাশ(১) বলেন: "আল-হাসান ক্রমাগত প্রজ্ঞা ধারণ করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত তিনি তা ব্যক্ত করতে শুরু করেন"।(২)

আয-যুহরী(৩) বলেন: "বিদ্বানগণ চারজন: মদিনায় সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব(৪), কুফায় আমির আশ-শা'বী, বসরার হাসান ইবনে আবিল হাসান আল-বাসরী এবং সিরিয়ায় মাকহুল(৫)"।(৬)

• উমর ইবনে আব্দুল আজিজের কাছে তাঁর পত্র:

--------------------------------------------

(১) সুলায়মান ইবনে মিহরান আল-কাহিলী, ক্বারী ও হাদিস বিশারদগণের (محدثين) শায়খ, তাঁর মূল নিবাস: রায় অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী এলাকা, একষট্টি হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, আনাস ইবনে মালিককে দেখেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, ইরাকের ক্বারী ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব-এর নিকট কুরআন পাঠ করেছেন, একশত সাতচল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আয-যাহাবীর সিয়ার আ'লাম আন-নুবালা ৬/২২৬।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ৪/৫৮৫।

(৩) মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ, ইবনে শিহাব আয-যুহরী, পঞ্চাশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, ইমাম, আলেম, তাঁর সময়ের হাফিজ (حافظ), সিরিয়ায় বসবাসকারী, ইবনে উমর (রাযি.) থেকে শুনেছেন, একশত চব্বিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আয-যাহাবীর সিয়ার আ'লাম আন-নুবালা ৫/৩২৬।

(৪) সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ইবনে হাযন ইবনে আবি ওয়াহাব, তাঁর মাতা উম্মু সাঈদ বিনতে হাকিম আস-সুলামী, উমর (রাযি.)-এর খিলাফতের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর জন্মগ্রহণ করেন, বরেণ্য তাবেয়ীদের (تابعين) অন্তর্ভুক্ত, ফকিহদের ফকিহ, আলেম, প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী, নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) অন্তর্ভুক্ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ জীবিত থাকাকালীন তিনি ফতোয়া দিতেন, চুরানব্বই হিজরিতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে সা'দের আত-তাবাকাত আল-কুবরা ৫/১১৯।

(৫) মাকহুল ইবনে আবি মুসলিম শাহরাব ইবনে শাযিল, আবু আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী, কাবুল থেকে আনীত যুদ্ধবন্দীদের আযাদকৃত দাস, সিরিয়াবাসীদের আলেম, আয-যুহরীর সমসাময়িক, তিনি তাঁর সময়ে ফতোয়া প্রদানে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন, একশত তেরো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আয-যাহাবীর সিয়ার আ'লাম আন-নুবালা ৫/১৫৫।

(৬) আশ-শিরাজীর তাবাকাত আল-ফু কাহা পৃ: ৮১।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২৬)
كتب الحسن رحمه الله كتاباً إلى عمر بن عبد العزيز(1) عند توليه الخلافة، قال في مطلعه: " اعلم أن التفكر يدعو إلى الخير والعمل به، والندم على الشر يدعو إلى تركه، وليس ما يفنى وإن كان كثيرا يعدل ما يبقى وإن كان طلبه عزيزاً، واحتمال المؤونة المنقطعة التي تعقب الراحة الطويلة خير من تعجيل راحة منقطعة تعقب مؤونة باقية، فاحذر هذه الدار الصارعة الخادعة التي قد تزينت بخدعها، وغرت بغرورها، وقتلت أهلها بأملها، وتشوفت لخطّابها، فأصبحت كالعروس المجلوة، العيون إليها ناظرة، والنفوس لها عاشقة، والقلوب إليها والهة، ولألبابها دامغة، وهي لأزواجها كلهم قاتلة، فلا الباقي بالماضي معتبر، ولا الآخر بما رأى من الأول مزدجر، ولا اللبيب بكثرة التجارب منتفع ولا العارف باللَّه والمصدق له حين أخبر عنها مدكر … إلخ "(2).

• موقفه مع ابن سيرين:

كان بين الحسن البصري وبين ابن سيرين هجرة، فكان إذا ذكر ابن سيرين يقول: دعونا من ذكر الحاكة، وكان بعض أهل سيرين حائكاً.

فرأى الحسن في منامه كأنما هو عريان قائماً على مزبلة يضرب بالعود، فأصبح مهموماً برؤياه.

فقال لبعض أصحابه: امض إلى ابن سيرين فقصّ عليه رؤياي على أنك أنت رأيتها، فدخل على ابن سيرين وذكر له الرؤيا.

فقال له ابن سيرين: قل لمن رأى هذه الرؤيا لا يسأل الحاكة عن مثل هذا.

فأخبر الرجل الحسن بمقاله فعظم لديه وقال: قوموا بنا إليه.

--------------------------------------------

(1) عمر بن عبد العزيز بن مروان بن الحكم، أمه: أم عاصم بنت عاصم بن عمر بن الخطاب، يكنى أبا حفص، ولد عمر سنة ثلاث وستين، كان والي المدينة في عهد الوليد بن عبدالملك، ولما تولى الخلافة رد مظالم بيت المال، توفي سنة إحدى ومائة وهو ابن تسع وثلاثين سنة وأشهر، وكانت خلافته سنتين وخمسة أشهر. انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 5/ 330.

(2) انظر: المعرفة والتاريخ للفسوي 3/ 339.
হাসান (রহ.) উমর ইবনে আবদুল আজিজ(১)-এর খিলাফত প্রাপ্তির সময় তাঁর নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন, যার শুরুতে তিনি বলেন: "জেনে রাখুন যে, চিন্তা-গবেষণা কল্যাণের দিকে এবং তদানুযায়ী আমল করার দিকে আহ্বান করে। আর মন্দের জন্য অনুশোচনা তা বর্জনের দিকে আহ্বান করে। যা ধ্বংসশীল তা পরিমাণে অধিক হলেও স্থায়ী বস্তুর সমতুল্য হতে পারে না, যদিও স্থায়ী বস্তুর অন্বেষণ অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘস্থায়ী বিশ্রামের অনুগামী হয়ে আসা সাময়িক কষ্ট সহ্য করা সেই সাময়িক আরাম লাভের চেয়ে উত্তম যার পরিণামে দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট ভোগ করতে হয়। অতএব, এই নিপাতকারী ও প্রবঞ্চনাময় আবাস (দুনিয়া) থেকে সতর্ক থাকুন যা তার ছলনা দিয়ে সুসজ্জিত হয়েছে, আপন প্রতারণা দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজ আশা-আকাঙ্ক্ষা দিয়ে তার অনুসারীদের সংহার করেছে। এটি প্রণয়প্রার্থীদের সামনে নিজেকে উন্মোচিত করে, ফলে এটি এমন এক সুসজ্জিত কনের ন্যায় প্রতিভাত হয় যার দিকে চোখগুলো অপলক তাকিয়ে থাকে, নফস বা আত্মা যার প্রেমে পড়ে যায় এবং অন্তর যার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এটি জ্ঞানীদের বুদ্ধি নাশ করে দেয় এবং তার সকল স্বামীর (সংসারীদের) জন্যই এটি এক ঘাতক। সুতরাং না অবশিষ্টজনরা অতীত থেকে শিক্ষা নেয়, আর না পরবর্তীজনরা পূর্ববর্তীদের অবস্থা দেখে নিবৃত্ত হয়। না কোনো বুদ্ধিমান তার অভিজ্ঞতার আধিক্য থেকে উপকৃত হয়, আর না মহান আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর সংবাদকে সত্য জ্ঞানকারী কোনো ব্যক্তি দুনিয়ার স্বরূপ অবগত হয়ে উপদেশ গ্রহণ করে... ইত্যাদি"(২)।

• ইবনে সিরিনের সাথে তাঁর অবস্থান:

হাসান বসরী ও ইবনে সিরিনের মধ্যে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ছিল। হাসান যখনই ইবনে সিরিনের উল্লেখ করতেন, বলতেন: "আমাদেরকে তাঁতিদের আলোচনা থেকে বিরত রাখো।" ইবনে সিরিনের পরিবারের কেউ কেউ তাঁতি ছিলেন।

অতঃপর হাসান স্বপ্নে দেখলেন যেন তিনি নগ্ন অবস্থায় একটি আবর্জনার স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে উদ (বাদ্যযন্ত্র) বাজাচ্ছেন। এই স্বপ্ন দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন।

তিনি তাঁর জনৈক সঙ্গীকে বললেন: "ইবনে সিরিনের কাছে যাও এবং তাঁকে আমার স্বপ্নের কথা বলো, তবে বলবে যে তুমিই এটি দেখেছ।" সেই ব্যক্তি ইবনে সিরিনের নিকট গিয়ে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলেন।

ইবনে সিরিন তাঁকে বললেন: "যিনি এই স্বপ্ন দেখেছেন তাঁকে বলো যে, তিনি যেন এই ধরণের বিষয়ে তাঁতিদের কাছে প্রশ্ন না করেন।"

সেই ব্যক্তি হাসানকে তাঁর মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করলে বিষয়টি তাঁর নিকট অত্যন্ত গুরুত্ববহ মনে হলো এবং তিনি বললেন: "আমাদের সাথে তাঁর নিকট চলো।"

--------------------------------------------

(১) উমর ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে মারওয়ান ইবনে হাকাম, তাঁর মাতা: উম্মু আসিম বিনতে আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব। তাঁর উপনাম আবু হাফস। উমর (র.) তেষট্টি হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামলে মদিনার গভর্নর ছিলেন। যখন তিনি খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন, তখন বায়তুল মালের সকল অন্যায় দখলকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেন। তিনি ১০১ হিজরিতে ৩৯ বছর কয়েক মাস বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিল দুই বছর পাঁচ মাস। দেখুন: ইবনে সা’দ রচিত আল-তাবাকাত আল-কুবরা ৫/৩৩০।

(২) দেখুন: ফাসাওয়ী রচিত আল-মা‘রিফাত ওয়াত তারিখ ৩/৩৩৯।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২৭)
فلما رآه ابن سيرين قام له وتصافحا وسلّم كلّ واحد منهما على صاحبه وجلسا يتعاتبان.

فقال له الحسن: دعنا من هذا فقد شغلت الرؤيا قلبي.

فقال له ابن سيرين: لا تشغل قلبك فإن العري عريّ من الدنيا، ليس عليك منها علقة، وأما المزبلة فهي الدنيا قد انكشفت لك أحوالها، فأنت تراها كما هي في ذاتها، وأما ضربك العود فإنها الحكمة التي تتكلم بها وتنفع بها الناس.

فقال له الحسن: فمن أين لك أني رأيت هذه الرؤيا؟

قال ابن سيرين: لما قصّها عليّ فكرت، فلم أرَ أحداً يصلح أن يكون رآها غيرك.(1)

• وفاته:

مات في أول رجب، سنة عشر ومئة، وكانت جنازته مشهودة، صُلي عليه عقب الجمعة بالبصرة(2)، وغسله أيوب السختياني(3)، وحميد الطويل، وصلى عليه النضر بن عمرو(4) أمير البصرة، ومشى هو وبلال بن أبي بردة(5) أمام الجنازة، وكان له تسع وثمانون سنة(6).

--------------------------------------------

(1) انظر: معجم الأدباء إرشاد الأريب إلى معرفة الأديب للحموي 3/ 1025.

(2) انظر: الطبقات الكبرى لابن سعد 7/ 132؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 4/ 585.

(3) أيوب بن أبى تميمة، كنيته أبو بكر، ولد سنة ثمان وستين، من سادات أهل البصرة وعباد أتباع التابعين وفقهائهم، ممن اشتهر بالفضل والعلم، مات سنة إحدى وثلاثين ومائة. انظر: مشاهير علماء الأمصار وأعلام فقهاء الأقطار لابن حبان ص: 237.

(4) النضر بن عمرو المقرائي الحميري، حكى عن الحسن البصري، روى عنه الأوزاعي، وكان فيمن قام في بيعة يزيد بن الوليد الناقص. انظر: تاريخ دمشق لابن عساكر 62/ 77.

(5) بلال بن أبي بردة بن أبي موسى الأشعري، أمير البصرة، كان ذا رأي ودهاء، وقد ولي أيضا قضاء البصرة مدة، توفي في السجن سنة نيف وعشرين ومائة. انظر: تاريخ الإسلام للذهبي 3/ 380.

(6) انظر: المنتظم في تاريخ الملوك والأمم لابن الجوزي 7/ 138.
যখন ইবনে সিরিন তাকে দেখলেন, তখন তিনি তার সম্মানে উঠে দাঁড়ালেন এবং তারা পরস্পর করমর্দন করলেন। তাদের প্রত্যেকে অপরকে সালাম দিলেন এবং একে অপরের প্রতি অনুযোগ নিয়ে বসলেন।

অতঃপর হাসান তাকে বললেন: "এসব কথা বাদ দিন, কেননা একটি স্বপ্ন আমার অন্তরকে অস্থির করে রেখেছে।"

তখন ইবনে সিরিন তাকে বললেন: "আপনার অন্তরকে অস্থির করবেন না; কেননা নগ্নতা হলো দুনিয়া থেকে বিমুখতা, এর সাথে আপনার কোনো জাগতিক সম্পর্ক নেই। আর আবর্জনার স্তূপ হলো দুনিয়া, যার প্রকৃত অবস্থা আপনার নিকট উন্মোচিত হয়েছে, ফলে আপনি একে এর স্বরূপে প্রত্যক্ষ করছেন। আর আপনার উদ (বাদ্যযন্ত্র) বাজানোর বিষয়টি হলো সেই হিকমত বা প্রজ্ঞা, যার দ্বারা আপনি কথা বলেন এবং যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়।"

হাসান তাকে বললেন: "আপনি কীভাবে জানলেন যে আমিই এই স্বপ্নটি দেখেছি?"

ইবনে সিরিন বললেন: "যখন আমার কাছে এটি বর্ণনা করা হলো, তখন আমি চিন্তা করলাম এবং আপনাকে ছাড়া আর কাউকে এটি দেখার যোগ্য মনে করলাম না।"(১)

• তার ইন্তেকাল:

তিনি ১১০ হিজরি সনের পহেলা রজব ইন্তেকাল করেন। তার জানাজায় মানুষের প্রচুর সমাগম হয়েছিল। বসরার জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর তার জানাজা পড়ানো হয়।(২) তাকে গোসল করান আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি(৩) ও হুমাইদ আত-তবিল এবং বসরার আমির নাদর বিন আমর(৪) তার জানাজা পড়ান। তিনি এবং বিলাল বিন আবি বুরদাহ(৫) জানাজার সামনে হেঁটে চলেন। সে সময় তার বয়স ছিল ঊননব্বই বছর।(৬)

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: হামাভি রচিত মুজামুল উদাবা ইরশাদুল আরিব ইলা মারিফাতিল আদিব, ৩/১০২৫।

(২) দ্রষ্টব্য: ইবনে সা'দ রচিত আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/১৩২; যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫৮৫।

(৩) আইয়ুব বিন আবি তামিহা, তার উপনাম আবু বকর, তিনি ৬৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বসরার সর্দারদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাবি-তাবিঈনদের (أتباع التابعين) ইবাদতকারী ও ফকিহদের একজন ছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও ইলমের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ১৩১ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: ইবনে হিব্বান রচিত মাশাহিরু উলামাইল আমসার ওয়া আলামু ফুকাহাইল আকতার, পৃষ্ঠা: ২৩৭।

(৪) নাদর বিন আমর আল-মাকরাই আল-হিময়ারি; তিনি হাসান বসরি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আওযাই বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ইয়াজিদ বিন ওয়ালিদ আন-নাকিসের বায়আতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্রষ্টব্য: ইবনে আসাকির রচিত তারিখু দিমাশক ৬২/৭৭।

(৫) বিলাল বিন আবি বুরদাহ বিন আবি মুসা আল-াশআরি, বসরার আমির; তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ ও মেধাবী ছিলেন। তিনি বেশ কিছুকাল বসরার কাজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১২০ হিজরি পরবর্তী কোনো এক বছরে তিনি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: যাহাবি রচিত তারিখুল ইসলাম ৩/৩৮০।

(৬) দ্রষ্টব্য: ইবনুল জাওযি রচিত আল-মুনতাজাম ফি তারিখিল মুলুকি ওয়াল উমাম ৭/১৩৮।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الثاني: التعريف بوكيع وكتابه أخبار القضاة.

‌‌المطلب الأول: التعريف بالإمام وكيع:

• اسمه ونسبه:

أبو بكر محمد بن خلف بن جيّان بن صدقة بن زياد الضَّبِّيّ البغدادي القاضي المعروف بـ "وكيع"(1).

• نسبته:

ينسب إلى بغداد(2)، لأنه كان يسكن في الجانب الشرقي منها في درب أم حكيم(3).

• صفاته:

كان عالماً، فاضلاً، نبيلاً، فصيحا، باحثاً، فقهيا، نحويا، عالماً بالتاريخ والبلدان، عارفاً بالسير وأيام الناس وأخبارهم، من أهل القرآن، فقد روى حروف القرآن عن محمد بن يحيى الكسائي(4)، وروى عنه الحروف عبد الواحد بن عمر(5).(6)

• توليه القضاء:

--------------------------------------------

(1) انظر: الأنساب للسمعاني 8/ 383؛ تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 3/ 126؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 14/ 237.

(2) بغداد عاصمة الجمهورية العراقية حاليا، بناها الخليفة العباسي أبو جعفر المنصور بالله، سميت بدار السلام، ومدينة المنصور. انظر: معجم البلدان للحموي 1/ 456؛ معجم المعالم الجغرافية في السيرة النبوية لعاتق البلادي 1/ 202.

(3) انظر: تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 3/ 126.

(4) محمد بن يَحْيَى أبو عبد الله، يعرف بالكسائي الصغير، بغدادي مقرئ، قرأ عَلى اللَّيْث بن خَالِد؛ وهو أجلّ أصحابه. تُوُفِّي سنة 288 ه. انظر: تاريخ الاسلام للذهبي 6/ 830.

(5) عَبْد الْوَاحِدِ بْن عُمَر بْن مُحَمَّد، يكنى بأبي طاهر، كان من أعلم الناس بحروف القرآن ووجوه القراءات، وله في ذلك تصانيف عدة. توفي سنة 349 ه. انظر: تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 12/ 253.

(6) انظر: تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 3/ 126؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 14/ 237؛ غاية النهاية في طبقات القراء لابن الجزري 2/ 137؛ الأعلام للزركلي 6/ 114.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওকি এবং তাঁর গ্রন্থ 'আখবারুল কুদাত'-এর পরিচিতি.

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম ওকি-র পরিচিতি:

• তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

আবু বকর মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন জাইয়ান বিন সাদাকাহ বিন জিয়াদ আদ-দাব্বি আল-বাগদাদি আল-কাদি, যিনি "ওকি" নামে পরিচিত(1)।

• তাঁর নিসবত (সম্বন্ধ):

তাঁকে বাগদাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়(2), কারণ তিনি এর পূর্ব অংশে উম্মে হাকিম নামক গলিতে বসবাস করতেন(3)।

• তাঁর গুণাবলি:

তিনি ছিলেন একজন আলিম, বিদগ্ধ (فاضل), মহানুভব, সাবলীল ভাষী, গবেষক, ফকিহ, ব্যাকরণবিদ, ইতিহাস ও দেশ-জনপদ বিষয়ে অভিজ্ঞ, সীরাত (السير) এবং ইতিহাস ও লোকসংবাদ সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি কুরআন বিশারদদের (أهل القرآن) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-কিসায়ির নিকট থেকে কুরআনের শব্দাবলি বর্ণনা (روى) করেছেন(4), এবং তাঁর নিকট থেকে আব্দুল ওয়াহিদ বিন উমর শব্দাবলি বর্ণনা (روى) করেছেন(5)।(6)

• বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ:

--------------------------------------------

(1) দেখুন: আস-সামআনি রচিত আল-আনসাব 8/ 383; খতিব আল-বাগদাদি রচিত তারিখু বাগদাদ 3/ 126; আয-যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা 14/ 237।

(2) বাগদাদ বর্তমানে ইরাক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী, যা আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর বিল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন। একে দারুস সালাম এবং মদিনাতুল মনসুর নামে অভিহিত করা হতো। দেখুন: আল-হামাউই রচিত মুজামুল বুলদান 1/ 456; আতিক আল-বিলাদি রচিত মুজামুল মাআলিম আল-জুগরাফিয়া ফিস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ 1/ 202।

(3) দেখুন: খতিব আল-বাগদাদি রচিত তারিখু বাগদাদ 3/ 126।

(4) মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আবু আব্দুল্লাহ, যিনি আল-কিসায়ি আস-সগির হিসেবে পরিচিত। তিনি বাগদাদি কারী (مقرئ) ছিলেন। তিনি লাইস বিন খালিদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছিলেন; যিনি ছিলেন তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান। তিনি 288 হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আয-যাহাবি রচিত তারিখুল ইসলাম 6/ 830।

(5) আব্দুল ওয়াহিদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ, তাঁর উপনাম (কুনিয়াহ) আবু তাহির। তিনি কুরআনের শব্দাবলি এবং কিরাত বা পাঠরীতির পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অভিজ্ঞ ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি 349 হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: খতিব আল-বাগদাদি রচিত তারিখু বাগদাদ 12/ 253।

(6) দেখুন: খতিব আল-বাগদাদি রচিত তারিখু বাগদাদ 3/ 126; আয-যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা 14/ 237; ইবনুল জাযারি রচিত গায়াতুন নিহায়াহ ফি তাবাকাতিল কুররা 2/ 137; আয-যিরিকলি রচিত আল-আলাম 6/ 114।
(খণ্ড: ১) আকদিয়াতুল হাসান আল বসরী ফী কিতাবি আখবারিল কুদাত লি ওয়াকী (পৃষ্ঠা: ২৯)
تولى القضاء على كور الأهواز(1).(2)

• مصنفاته:

للامام وكيع تصانيف منها(3):

1. كتاب الطريق، ويقال له: النواحي في أخبار البلدان ومسالك الطرق، (مطبوع)، بتحقيق د. حمد الجاسر(4).

2. كتاب الشريف.

3. كتاب عدد آي القرآن والاختلاف فيه، (مخطوط).

4. كتاب أخبار القضاة وتواريخهم، (مطبوع)(5).

--------------------------------------------

(1) تقع الأهواز في جنوب غرب إيران حاليا وتسمى عربستان أو خوزستان، افتتحها المسلمون في عهد عمر رضي الله عنه سنة 17 هـ بقيادة أبي موسى الأشعري رضي الله عنه، وتسمّى بالفارسية هرمشير، انظر: معجم البلدان للحموي 1/ 284؛ خرائط قوقل، خوزستان، إيران، استرجعت بتاريخ 28/محرم/1438 ه من موقع https://goo.gl/j 2 T 11 D .

(2) انظر: تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 3/ 126؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 14/ 237؛ تاريخ الإسلام للذهبي 7/ 108.

(3) انظر: تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 3/ 126؛ المنتظم في تاريخ الأمم والملوك لابن الجوزي 13/ 186؛ سير أعلام النبلاء للذهبي 14/ 237؛ الوافي بالوفيات للصفدي 3/ 37؛ الأعلام للزركلي 6/ 114.

(4) انظر: فريق الصحراء، درب زبيدة، منازل الطريق على درب الحج الكوفي كما عدها القاضي وكيع، استرجعت بتاريخ 23/محرم/1438 ه من موقع http://alsahra.org/?p=14293 .

حمد بن محمد بن جاسر، من قبيلة حرب، ولد سنة 1328 هـ في قرية البرود بنجد، تعلم القراءة والكتابة وطلب العلم، ثم تولى التدريس ثم القضاء، ثم أكمل دراسته في القاهرة، وكان عضواً في مجمع اللغة العربية في القاهرة، والمجمع الملكي لبحوث الحضارة الإسلامية في عمّان، له أكثر من 26 مؤلف، وحقق الكثير من المخطوطات، توفي يوم الخميس 16/ 7/1421 ه. انظر: مركز حمد الجاسر الثقافي، الشيخ حمد الجاسر، استرجعت بتاريخ 8/شوال/1438 ه من موقع http://hamadaljasser.com/ .

(5) سيأتي التعريف به في المطلب الثاني.
তিনি আহওয়াজ অঞ্চলের জেলাসমূহের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন(১)।(২)

• তাঁর রচনাবলী:

ইমাম ওয়াকি‘র বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো(৩):

১. কিতাবুত তরিক; একে ‘আন-নাওয়াহি ফি আখবারিল বুলদান ওয়া মাসালিকিত তুরুক’ও বলা হয়, (মুদ্রিত), ড. হামাদ আল-জাসিরের সম্পাদনায়(৪)।

২. কিতাবুশ শরিফ।

৩. কিতাবু আদাদি আয়িল কুরআন ওয়াল ইখতিলাফি ফিহি (কুরআনের আয়াত সংখ্যা ও এ সংক্রান্ত মতভেদ বিষয়ক গ্রন্থ), (পাণ্ডুলিপি)।

৪. কিতাবু আখবারিল কুদাত ওয়া তাওয়ারিখিহিম (বিচারকদের সংবাদ ও ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ), (মুদ্রিত)(৫)।

--------------------------------------------

(১) বর্তমানে আহওয়াজ ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং একে আরবস্তান বা খুজিস্তান বলা হয়। হিজরি ১৭ সনে উমর (রা.)-এর যুগে আবু মুসা আল-াশআরি (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিমরা এটি জয় করেন। ফারসি ভাষায় একে ‘হরমশির’ বলা হয়। দেখুন: হামাভির মুজামুল বুলদান ১/২৮৪; গুগল ম্যাপস, খুজিস্তান, ইরান, ২৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরি তারিখে https://goo.gl/j 2 T 11 D থেকে সংগৃহীত।

(২) দেখুন: খতিব বাগদাদির তারিখু বাগদাদ ৩/১২৬; যাহবির সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/২৩৭; যাহবির তারিখুল ইসলাম ৭/১০৮।

(৩) দেখুন: খতিব বাগদাদির তারিখু বাগদাদ ৩/১২৬; ইবনুল জাওযির আল-মুনতাজাম ফি তারিখিল উমাম ওয়াল মুলুক ১৩/১৮৬; যাহবির সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/২৩৭; সাফাদির আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৩/৩৭; যিরিকলির আল-আলাম ৬/১১৪।

(৪) দেখুন: ফারিকুস সাহরা, দারবু যুবাইদা, মানাযিলুত তরিক আলা দারবিল হাজ্জিল কুফি কামা আদ্দাহা বিচারক ওয়াকি‘, ২৩ মহররম ১৪৩৮ হিজরি তারিখে http://alsahra.org/?p=14293 থেকে সংগৃহীত।

হামাদ বিন মুহাম্মাদ বিন জাসির, হারব গোত্রের সন্তান, নজদের আল-বুরূদ গ্রামে ১৩২৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনা ও ইলম অর্জন করেন, এরপর শিক্ষকতা এবং পরবর্তীতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি কায়রোতে তাঁর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমি এবং আম্মানের রয়্যাল একাডেমি ফর ইসলামিক সিভিলাইজেশন রিসার্চ-এর সদস্য ছিলেন। তাঁর ২৬টিরও বেশি গ্রন্থ রয়েছে এবং তিনি অনেক পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করেছেন। তিনি ১৬/৭/১৪২১ হিজরি রোজ বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন। দেখুন: হামাদ আল-জাসির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, শেখ হামাদ আল-জাসির, ৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরি তারিখে http://hamadaljasser.com/ থেকে সংগৃহীত।

(৫) দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এর বিস্তারিত পরিচয় আসবে।