(খণ্ড: ১) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: -)
مصباح الزجاجة في زوائد ابن ماجه   (البوصيري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مصباح الزجاجة في زوائد ابن ماجه

المؤلف: أبو العباس شهاب الدين أحمد بن أبي بكر بن إسماعيل بن سليم بن قايماز بن عثمان البوصيري الكناني الشافعي (ت 840هـ)

المحقق: محمد المنتقى الكشناوي

الناشر: دار العربية - بيروت

الطبعة: الثانية، 1403 هـ

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিসবাহুজ জুজাজাহ ফি যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ   (আল-বুসিরি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মিসবাহুজ জুজাজাহ ফি যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ

লেখক: আবুল আব্বাস শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনে আবি বকর ইবনে ইসমাইল ইবনে সালিম ইবনে কায়মাজ ইবনে উসমান আল-বুসিরি আল-কিনানি আল-শাফেয়ি (মৃ. ৮৪০ হি.)

তাহকিক: মুহাম্মদ আল-মুনতাকা আল-কিষনাভি

প্রকাশক: দারুল আরাবিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৩ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
76 - 114

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي كم يُصَلِّي بِاللَّيْلِ

(480) حَدثنَا مُحَمَّد بن عبيد بن مَيْمُون أَبُو عبيد الْمَدِينِيّ حَدثنَا أبي عَن مُحَمَّد بن جَعْفَر عَن مُوسَى بن عقبَة عَن أبي إِسْحَاق عَن عَامر الشّعبِيّ قَالَ سَأَلت عبد الله بن عَبَّاس وَعبد الله بن عمر عَن صَلَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ فَقَالَا ثَلَاث عشرَة مِنْهَا ثَمَان ويوتر بِثَلَاث وَرَكْعَتَيْنِ بعد الْفجْر

شس (184) قلت رَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الْكُبْرَى عَن إِبْرَاهِيم بن يَعْقُوب عَن سُوَيْد بن أبي مَرْيَم عَن مُحَمَّد بن جَعْفَر بن أبي كثير بِهِ وَعَن مُحَمَّد بن بشار عَن ابْن أبي عدي عَن شُعْبَة عَن أبي إِسْحَاق عَن أبي سَلمَة وَالشعْبِيّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي من اللَّيْل ثَلَاث عشرَة رَكْعَة مُرْسل قَالَ الْمزي فِي الْأَطْرَاف حَدِيث النَّسَائِيّ فِي رِوَايَة أبي الطّيب مُحَمَّد بن الْفضل بن الْعَبَّاس عَنهُ وَقد ذكره أَبُو الْقَاسِم

حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة حَدثنَا شَبابَة عَن ابْن أبي ذِئْب عَن الزُّهْرِيّ عَن عُرْوَة عَن عَائِشَة وَحدثنَا عبد الرَّحْمَن بن إِبْرَاهِيم الدِّمَشْقِي ثَنَا الْوَلِيد بن مُسلم ثَنَا الْأَوْزَاعِيّ عَن الزُّهْرِيّ وَهَذَا حَدِيث أبي بكر قَالَت كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بَين أَن يفرغ من صَلَاة الْعشَاء إِلَى الْفجْر إِحْدَى عشرَة رَكْعَة يسلم من
৭৬ - ১১৪

 

‌‌পরিচ্ছেদ: রাতে কত রাকাত সালাত আদায় করতে হয় সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

(৪৮০) মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে মাইমুন আবু উবাইদ আল-মাদিনী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমির আশ-শা'বী থেকে। তিনি (শা'বী) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা উভয়ে বললেন: তেরো রাকাত; তার মধ্যে আট রাকাত, তিন রাকাত বিতর এবং ফজরের পরের দুই রাকাত (সুন্নাত)।

শস (১৮৪) আমি বলছি, নাসায়ি এটি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি সুওয়াইদ ইবনে আবি মারিয়াম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসির থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এবং মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে, তিনি ইবনে আবি আদি থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু সালামাহ ও আশ-শা'বী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন—এটি মুরসাল। আল-মিযযি 'আল-আতরাফ' গ্রন্থে বলেছেন, নাসায়ির হাদিসটি আবু আত-তৈয়িব মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল ইবনে আল-আব্বাসের বর্ণনায় তাঁর থেকে পাওয়া যায় এবং আবু আল-কাসিম এটি উল্লেখ করেছেন।

আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, শাবাবাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি যিব থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আবদুর রহমান ইবনে ইব্রাহিম আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-আওযায়ি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে। আর এটি আবু বকরের বর্ণিত হাদিস। তিনি (আয়েশা রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সালাত শেষ করার পর থেকে ফজর পর্যন্ত এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, তিনি সালাম ফিরাতেন প্রতি...
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
كل اثْنَتَيْنِ ويوتر بِوَاحِدَة وَيسْجد فِيهِنَّ سَجْدَة بِقدر مَا يقْرَأ أحدكُم خمسين آيَة قبل أَن يرفع رَأسه فَإِذا سكت الْمُؤَذّن من الْأَذَان الأول من صَلَاة الصُّبْح قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خفيفتين هَذَا إِسْنَاده صَحِيح رِجَاله ثِقَات رَوَاهُ مُسلم بعضه من حَدِيث عَائِشَة وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الْكُبْرَى عَن قُتَيْبَة عَن مَالك عَن الزُّهْرِيّ وَرَوَاهُ بن حبَان فِي صَحِيحه عَن عبد الله بن مُحَمَّد بن مُسلم عَن عبد الرَّحْمَن بن إِبْرَاهِيم الدِّمَشْقِي بِهِ

77 - 115

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي أَي سَاعَات اللَّيْل أفضل

(482) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَمُحَمّد بن بشار وَمُحَمّد بن الْوَلِيد قَالُوا حَدثنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر حَدثنَا شُعْبَة عَن يعلى بن عَطاء عَن يزِيد بن طلق عَن عبد الرَّحْمَن بن الْبَيْلَمَانِي عَن عَمْرو بن عبسة قَالَ أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقلت يَا رَسُول الله من أسلم مَعَك قَالَ حر وَعبد قلت هَل من سَاعَة أقرب إِلَى الله من أُخْرَى قَالَ نعم جَوف اللَّيْل الْأَوْسَط

شس (384) هَذَا إِسْنَاد فِيهِ عبد الرَّحْمَن ابْن الْبَيْلَمَانِي قَالَ صَالح جررة لَا يعرف أَنه سمع من أحد من الصَّحَابَة إِلَّا من سرق وَيزِيد بن طلق قَالَ ابْن حبَان يروي الْمَرَاسِيل

(483) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة حَدثنَا عبيد الله عَن إِسْرَائِيل عَن أبي إِسْحَاق عَن الْأسود عَن عَائِشَة قَالَت كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ينَام أول اللَّيْل ويحيي
প্রতি দুই রাকাত পরপর এবং এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন। সেগুলোর মধ্যে তিনি এমন দীর্ঘ সিজদাহ করতেন যা তোমাদের কারো মাথা তোলার আগে পঞ্চাশটি আয়াত পড়ার সমপরিমাণ। অতঃপর যখন মুয়াজ্জিন ফজরের নামাজের প্রথম আজান শেষ করত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। এই সনদের বর্ণনাটি সহিহ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইমাম মুসলিম এর কিছু অংশ আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসাঈ তাঁর 'আল-কুবরা' গ্রন্থে কুতায়বা, মালিক ও যুহরী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুসলিম ও আব্দুর রহমান বিন ইবরাহিম আদ-দিমাশকী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

৭৭ - ১১৫

 

‌‌পরিচ্ছেদ: রাতের কোন সময়টি সর্বোত্তম সে বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে

(৪৮২) আবু বকর বিন আবি শায়বাহ, মুহাম্মদ বিন বাশার এবং মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ ইয়ালা বিন আতা থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন তালক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আল-বায়লামানি থেকে, তিনি আমর বিন আবাসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার সাথে কে ইসলাম গ্রহণ করেছে? তিনি বললেন: একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন ক্রীতদাস। আমি বললাম, এমন কি কোনো সময় আছে যা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী? তিনি বললেন: হ্যাঁ, রাতের গভীর অংশের মধ্যভাগ।

শস (৩৮৪) এটি এমন এক সনদ যাতে আব্দুর রহমান ইবনুল বায়লামানি রয়েছেন। সালিহ বলেন: জুররাহ, কোনো সাহাবী থেকে তাঁর শ্রবণ করা সম্পর্কে জানা যায় না, কেবল সারিক ব্যতীত। আর ইয়াজিদ বিন তালক সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি মুরসাল বর্ণনা করেন।

(৪৮৩) আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন এবং শেষাংশে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকতেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
آخِره

شس (484) هَذَا إِسْنَاد صَحِيح وَأَبُو إِسْحَاق وَإِن اخْتَلَط بِآخِرهِ فَإِن إِسْرَائِيل روى عَنهُ قبل اخْتِلَاطه وَمن طَرِيقه روى لَهُ خَ

م

يَعْنِي البُخَارِيّ

(484) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة حَدثنَا مُحَمَّد بن مُصعب عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن يحيى بن أبي كثير عَن هِلَال بن أبي مَيْمُونَة عَن عَطاء بن يسَار عَن رِفَاعَة الْجُهَنِيّ قَالَ

قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله يُمْهل حَتَّى إِذا ذهب من اللَّيْل نصفه أَو ثُلُثَاهُ لَا يسألن عبَادي غَيْرِي من يدعوني أستجيب لَهُ من يسألني أعْطِيه من يسْتَغْفر لي أعفر لَهُ حَتَّى يطلع الْفجْر

شس (584) هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لضعف مُحَمَّد بن مُصعب قَالَ فِيهِ صَالح بن مُحَمَّد عَامَّة أَحَادِيثه عَن الْأَوْزَاعِيّ مَقْلُوبَة لَكِن لم ينْفَرد بِهِ مُحَمَّد بن مُصعب فقد رَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ فِي مُسْنده عَن هِشَام عَن يحيى بن أبي كثير فَذكره بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه وَله شَاهد من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رَوَاهُ أَصْحَاب الْكتب السِّتَّة

78 - 116

 

‌‌بَاب الصَّلَاة بَين الْمغرب وَالْعشَاء

(485) حَدثنَا أَحْمد بن منيع حَدثنَا يَعْقُوب بن الْوَلِيد الْمَدِينِيّ عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عَائِشَة قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من صلى بَين الْمغرب وَالْعشَاء عشْرين رَكْعَة بنى الله لَهُ بَيْتا فِي الْجنَّة

شس (684) هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف يَعْقُوب بن الْوَلِيد قَالَ فِيهِ الإِمَام أَحْمد

من الْكَذَّابين الْكِبَار وَكَانَ يضع الحَدِيث وَقَالَ الْحَاكِم يروي عَن هِشَام بن عُرْوَة الْمَنَاكِير قلت وَاتَّفَقُوا على ضعفه
তার শেষ

শস (৪৮৪) এটি একটি সহিহ সনদ। আর আবু ইসহাক যদিও শেষ বয়সে স্মৃতিবিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন, তবে ইসরাঈল তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটার পূর্বেই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর সূত্র থেকেই বুখারি (খ) ও মুসলিম (ম) তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

অর্থাৎ বুখারি

(৪৮৪) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসাব, তিনি আওজাই থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি হিলাল ইবনে আবি মাইমুনাহ থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি রিফায়াহ আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ অবকাশ দেন, যতক্ষণ না রাতের অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দারা যেন আমি ছাড়া অন্য কারো কাছে প্রার্থনা না করে। কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব? এভাবে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।

শস (৫৮৪) মুহাম্মদ ইবনে মুসাব দুর্বল হওয়ার কারণে এই সনদটি দুর্বল। সালিহ ইবনে মুহাম্মদ তার সম্পর্কে বলেছেন: আওজাই থেকে তার বর্ণিত অধিকাংশ হাদিসই ওলটপালট (মাকলুব)। তবে মুহাম্মদ ইবনে মুসাব এই বর্ণনায় একক নন, বরং আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে হিশাম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি একই সনদ ও মূল পাঠসহ (মতন) উল্লেখ করেছেন। আর এই হাদিসের স্বপক্ষে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে যা কুতুবে সিত্তার সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন।

৭৮ - ১১৬

 

‌‌মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ের নামাজের পরিচ্ছেদ

(৪৮৫) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে আল-ওয়ালিদ আল-মাদিনি, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি মাগরিব ও ইশার মাঝে বিশ রাকাত নামাজ পড়বে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।

শস (৬৮৪) এই সনদটি দুর্বল। ইয়াকুব ইবনে আল-ওয়ালিদ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেছেন:

তিনি বড় মিথ্যাবাদীদের একজন এবং তিনি হাদিস জাল করতেন। আল-হাকিম বলেছেন: তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে আপত্তিকর (মুনকার) হাদিস বর্ণনা করেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তাঁর দুর্বলতার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণ একমত হয়েছেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
79 - 117

 

‌‌بَاب التَّطَوُّع فِي الْبَيْت

(486) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة حَدثنَا أَبُو الْأَحْوَص عَن طَارق عَن عَاصِم بن عَمْرو قَالَ خرج نفر من أهل الْعرَاق إِلَى عمر فَلَمَّا قدمُوا عَلَيْهِ قَالَ لَهُم مِمَّن أَنْتُم قَالُوا من أهل الْعرَاق قَالَ فبإذن جئْتُمْ قَالُوا نعم قَالَ فَسَأَلُوهُ عَن صَلَاة الرجل فِي بَيته فَقَالَ عمر سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أما صَلَاة الرجل فِي بَيته فنور فنوروا بُيُوتكُمْ

حَدثنَا يحيى بن أبي الْحُسَيْن حَدثنَا عبد الله بن جَعْفَر حَدثنَا عبيد الله بن عَمْرو عَن زيد بن أبي أنيسَة عَن أبي إِسْحَاق عَن عَاصِم بن عَمْرو عَن عُمَيْر مولى عمر ابْن الْخطاب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحوه هَذَا إِسْنَاده ضَعِيف من الطَّرِيقَيْنِ لِأَن مدَار الإسنادين فِي الحَدِيث على عَاصِم بن عمر وَهُوَ ضَعِيف ذكره الْعقيلِيّ فِي الضُّعَفَاء وَقَالَ البُخَارِيّ لم يثبت حَدِيثه قلت رَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ فِي مُسْنده وَرَوَاهُ مُسَدّد فِي مُسْنده عَن طَارق بن عبد الرَّحْمَن بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه مَعَ زِيَادَة كَمَا بَينته فِي زَوَائِد المسانيد الْعشْرَة وَأَصله فِي الصَّحِيحَيْنِ وَغَيرهمَا من حَدِيث ابْن عمر

(488) حَدثنَا مُحَمَّد بن بشار وَمُحَمّد بن يحيى قَالَا حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مهْدي حَدثنَا سُفْيَان عَن الْأَعْمَش عَن أبي سُفْيَان عَن جَابر بن عبد الله عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذا قضى أحدكُم صَلَاة فليجعل لبيته مِنْهَا نَصِيبا فَإِن الله جَاعل فِي بَيته من صلَاته خيرا

شس (984) هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن مُحَمَّد بن الْعَلَاء عَن أبي خَالِد وَعَن أَحْمد بن منيع عَن أبي مُعَاوِيَة وَعَبدَة بن سُلَيْمَان ثَلَاثَتهمْ عَن الْأَعْمَش رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الْكُبْرَى من طَرِيق أبي سُفْيَان بِهِ وَرَوَاهُ مُسَدّد فِي مُسْنده من طَرِيق أبي سُفْيَان عَن جَابر بن عبد الله عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم يذكر أَبَا سعيد وَرَوَاهُ عبد بن حميد فِي مُسْنده من طَرِيق أبي سُفْيَان عَن جَابر بن عبد الله عَن أبي سعيد بِهِ

(489) حَدثنَا أَبُو بشر بكر
৭৯ - ১১৭

 

‌‌অধ্যায়: ঘরে নফল সালাত আদায়

(৪৮৬) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ, তিনি আবু আল-আহওয়াস থেকে, তিনি তারিক থেকে, তিনি আসিম ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইরাকের একদল লোক উমরের নিকট আসলেন। যখন তারা তাঁর নিকট পৌঁছালেন, তিনি তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কারা?" তারা বললেন, "ইরাকবাসী।" তিনি বললেন, "তোমরা কি অনুমতি নিয়ে এসেছ?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তারা তাঁকে ঘরে কোনো ব্যক্তির সালাত আদায়ের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তখন উমর বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: "ঘরে কোনো ব্যক্তির সালাত আদায় হলো নূর (আলো), সুতরাং তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে আলোকিত করো।"

আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন আবিল হুসাইন, তিনি আবদুল্লাহ ইবন জাফর থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন আমর থেকে, তিনি যায়িদ ইবন আবি উনাইসাহ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবন আমর থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের মুক্তদাস উমায়ের থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি উভয় সূত্রেই দুর্বল, কারণ হাদীসটির উভয় সনদের কেন্দ্রবিন্দু আসিম ইবন আমর, আর তিনি দুর্বল। আল-উকাইলী তাঁকে ‘আয-যুয়াফা’ (দুর্বল বর্ণনাকারী) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম বুখারী বলেছেন, তাঁর বর্ণিত হাদীস সাব্যস্ত নয়। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, এটি আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং মুসাদ্দাদ তাঁর মুসনাদে তারিক ইবন আবদুর রহমান থেকে তাঁর সনদে ও মূল পাঠে কিছু বৃদ্ধিসহ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমি ‘যাওয়ায়েদুল মাসানিদিল আশারাহ’ গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি। এর মূল ভিত্তি বুখারী ও মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে ইবন উমরের হাদীস হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।

(৪৮৮) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া, তাঁরা উভয়েই আবদুর রহমান ইবন মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "তোমাদের কেউ যখন তার সালাত (ফরজ) শেষ করবে, সে যেন তার সালাতের একটি অংশ তার ঘরের জন্য রাখে। কেননা আল্লাহ তার সালাতের মাধ্যমে তার ঘরে কল্যাণ দান করবেন।"

(৯৮৪) এই সনদটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইবন হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এটি মুহাম্মদ ইবনুল আলা থেকে, তিনি আবু খালিদ থেকে এবং আহমদ ইবন মানী’ থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া ও আবদাহ ইবন সুলায়মান থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা তিনজনই আল-আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে আবু সুফিয়ানের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। মুসাদ্দাদ তাঁর মুসনাদে আবু সুফিয়ানের সূত্রে জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, সেখানে তিনি আবু সাঈদের উল্লেখ করেননি। আবদ ইবন হুমাইদ তাঁর মুসনাদে আবু সুফিয়ানের সূত্রে জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(৪৮৯) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বিশর বকর...
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
بن خلف حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مهْدي عَن مُعَاوِيَة بن صَالح عَن الْعَلَاء بن الْحَارِث عَن حرَام بن مُعَاوِيَة عَن عَمه عبد الله بن سعد قَالَ سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَيّمَا أفضل الصَّلَاة فِي بَيْتِي أَو الصَّلَاة فِي الْمَسْجِد قَالَ أَلا ترى إِلَى بَيْتِي مَا أقربه من الْمَسْجِد فَلِأَن أُصَلِّي فِي بَيْتِي أحب إِلَيّ من أَن أُصَلِّي فِي الْمَسْجِد إِلَّا أَن تكون صَلَاة مَكْتُوبَة

شس (094) هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن بنْدَار عَن عبد الرَّحْمَن ابْن مهْدي بِهِ وَله شَاهد فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث زيد بن ثَابت

- (90)

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّلَاة الْحَاجة

- حَدثنَا سُوَيْد بن سعيد حَدثنَا أَبُو عَاصِم الْعَبادَانِي عَن فَايِد بن عبد الرَّحْمَن عَن عبد الله بن أبي أوفى الْأَسْلَمِيّ قَالَ خرج علينا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ من كَانَت لَهُ حَاجَة إِلَى الله أَو أحد من خلقه فَليَتَوَضَّأ وَليصل رَكْعَتَيْنِ ثمَّ ليقل لَا إِلَه إِلَّا الله الْحَلِيم الْكَرِيم سُبْحَانَ الله رب الْعَرْش الْعَظِيم الْحَمد لله رب الْعَالمين اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك مُوجبَات رحمتك وعزائم مغفرتك وَالْغنيمَة من كل بر والسلامة من كل إِثْم أَسأَلك أَلا تدع لي ذَنبا إِلَّا غفرته وَلَا هما إِلَّا فرجته وَلَا حَاجَة هِيَ لَك رضَا إِلَّا قضيتها لي ثمَّ يسْأَل الله من أَمر الدُّنْيَا وَالْآخِرَة فَإِنَّهُ يقدر

شس (194) قلت رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من طَرِيق فائد بِهِ دون قَوْله ثمَّ يسْأَل من أَمر الدُّنْيَا إِلَى آخِره وَرَوَاهُ الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك بِاخْتِصَار وَزَاد بعد قَوْله وعزائم مغفرتك والعصمة من كل ذَنْب وَله شَاهد من حَدِيث أنس

رَوَاهُ الْأَصْبَهَانِيّ وَرَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده من طَرِيق فَايِد بِهِ
বিন খালাফ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান বিন মাহদি থেকে, তিনি মুআবিয়া বিন সলিহ থেকে, তিনি আল-আলা বিন আল-হারিস থেকে, তিনি হারাম বিন মুআবিয়া থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবদুল্লাহ বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার ঘরে সালাত আদায় করা কি অধিক উত্তম নাকি মসজিদে সালাত আদায় করা? তিনি বললেন, তুমি কি আমার ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখেছো তা মসজিদের কত কাছে? তবুও মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে আমার ঘরে সালাত আদায় করা আমার কাছে অধিক প্রিয়, তবে তা যদি ফরজ সালাত না হয়।

শাস (০৯৪) এটি একটি সহিহ সনদ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বুন্দার থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন মাহদি থেকে তাঁর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর সহিহাইন-এ যায়েদ বিন সাবিত বর্ণিত হাদিসে এর স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে।

- (৯০)

 

‌‌হাজত বা প্রয়োজন পূরণের সালাত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়

- সুওয়াইদ বিন সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আসিম আল-আবাদানি থেকে, তিনি ফায়েদ বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবু আউফা আল-আসলামি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, আল্লাহর কাছে অথবা তাঁর সৃষ্টির কারও কাছে যদি কারো কোনো প্রয়োজন থাকে, তবে সে যেন অজু করে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে। তারপর যেন সে বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি পরম সহিষ্ণু ও মহিমান্বিত। মহান আরশের রব আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার রহমত লাভ নিশ্চিতকারী বিষয়সমূহ, আপনার ক্ষমার সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তসমূহ, প্রত্যেক নেক কাজ থেকে কল্যাণ লাভ এবং প্রত্যেক গুনাহ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে, আপনি আমার এমন কোনো গুনাহ রাখবেন না যা আপনি ক্ষমা করবেন না, এমন কোনো দুশ্চিন্তা রাখবেন না যা আপনি দূর করবেন না এবং আপনার সন্তুষ্টি রয়েছে এমন কোনো প্রয়োজন রাখবেন না যা আপনি পূরণ করবেন না। এরপর সে যেন আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যা ইচ্ছা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তা নির্ধারিত হবে।

শাস (১৯৪) আমি বলছি, তিরমিজি এটি ফায়েদের সূত্রেই বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে 'অতঃপর সে দুনিয়ার বিষয়ে প্রার্থনা করবে' এই অংশটুকু থেকে শেষ পর্যন্ত নেই। হাকিম এটি মুস্তাদরাক গ্রন্থে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং 'আপনার ক্ষমার সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তসমূহ' এর পর 'প্রত্যেক গুনাহ থেকে সুরক্ষা' কথাটি বৃদ্ধি করেছেন। আর আনাস বর্ণিত হাদিসে এর স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে।

আসবাহানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তাঁর মুসনাদে ফায়েদের সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
- 9

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي لَيْلَة النّصْف من شعْبَان

(491) حَدثنَا الْحسن بن عَليّ الْخلال حَدثنَا عبد الرَّزَّاق أَنبأَنَا ابْن أبي سُبْرَة عَن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد عَن مُعَاوِيَة بن عبد الله بن جَعْفَر عَن أَبِيه عَن عَليّ بن أبي طَالب قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا كَانَت لَيْلَة النّصْف من شعْبَان فَقومُوا لَيْلهَا وصوموا نَهَارهَا فَإِن الله تَعَالَى ينزل فِيهَا لغروب الشَّمْس إِلَى سَمَاء الدُّنْيَا فَيَقُول أَلا من يسْتَغْفر فَأغْفِر لَهُ أَلا من مسترزق فأرزقه أَلا من مبتلى فأعافيه أَلا كَذَا أَلا كَذَا حَتَّى يطلع الْفجْر

شس (294) هَذَا إِسْنَاد فِيهِ ابْن أبي سُبْرَة واسْمه أَبُو بكر بن عبد الله بن مُحَمَّد بن أبي سُبْرَة قَالَ أَحْمد وَابْن معِين يضع الحَدِيث

(492) حَدثنَا رَاشد بن سعيد بن رَاشد الرَّمْلِيّ حَدثنَا الْوَلِيد عَن ابْن لَهِيعَة عَن الضَّحَّاك بن أَيمن عَن الضَّحَّاك بن عبد الرَّحْمَن بن عَرْزَب عَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن الله عز وجل يطلع فِي لَيْلَة النّصْف من شعْبَان فَيغْفر لجَمِيع خلقه إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَو مُشَاحِن

(493) حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق حَدثنَا أَبُو الْأسود النَّضر بن عبد الْجَبَّار حَدثنَا ابْن أبي لَهِيعَة عَن الزبير بن سَالم عَن الضَّحَّاك بن عبد الرَّحْمَن عَن أَبِيه قَالَ سَمِعت أَبَا مُوسَى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَحوه

شس (494) قلت إِسْنَاد حَدِيث أبي مُوسَى ضَعِيف لضعف عبد الله بن لَهِيعَة وتدليس الْوَلِيد بن مُسلم وَله شَاهد من حَدِيث عَائِشَة رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالطَّبَرَانِيّ من حَدِيث معَاذ بن جبل

80 - 120

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّلَاة والسجدة عِنْد الشُّكْر

(494) حَدثنَا أَبُو بشر بكر بن خلف حَدثنَا سَلمَة بن رَجَاء حَدَّثتنِي شعثاء عَن عبد الله بن أبي أوفى أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صلى يَوْم بشر بِرَأْس أبي جهل رَكْعَتَيْنِ

شس (594) هَذَا
9

 

‌‌শাবান মাসের মধ্যরাত্রি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়

(৪৯১) হাসান ইবনে আলী আল-খাল্লাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবু সাবরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুআবিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আলী ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন শাবান মাসের মধ্যরাত আসে, তখন তোমরা সেই রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান হও এবং দিনে রোজা রাখো। কারণ মহান আল্লাহ সেই রাতে সূর্যাস্তের সময় দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন— 'আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোনো রিজিক অন্বেষণকারী? আমি তাকে রিজিক দেব। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে মুক্তি দেব। আছে কি এমন কেউ? আছে কি তেমন কেউ?' এভাবে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।"

শস (২৯৪) এই সনদে ইবনে আবু সাবরা রয়েছেন, যার নাম আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু সাবরা। ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাইন বলেছেন, সে হাদিস জাল করত।

(৪৯২) রাশিদ ইবনে সাঈদ ইবনে রাশিদ আর-রামলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি যাহহাক ইবনে আয়মান থেকে, তিনি যাহহাক ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আরজাব থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শাবান মাসের মধ্যরাতে মনোনিবেশ করেন এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন, কেবল মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত।"

(৪৯৩) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল আসওয়াদ আন-নাদর ইবনে আব্দুল জাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবু লাহিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুবায়ের ইবনে সালিম থেকে, তিনি যাহহাক ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন— আমি আবু মুসাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি।

শস (৪৯৪) আমি বলছি, আবু মুসার বর্ণিত হাদিসের সনদটি দুর্বল; কারণ এতে আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া দুর্বল এবং ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম 'তাদলিস' করেছেন। তবে আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে এর সাক্ষ্য পাওয়া যায় যা তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং তাবারানি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

৮০ - ১২০

 

‌‌শুকরিয়া আদায়ের নামাজ ও সিজদা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়

(৪৯৪) আবু বিশর বকর ইবনে খালাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনে রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শা’সা আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেদিন আবু জাহেলের মাথা (নিহত হওয়ার) সুসংবাদ পেয়েছিলেন, সেদিন তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছিলেন।

শস (৫৯৪) এটি
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
إِسْنَاد فِيهِ مقَال شعثاء بنت عبد الله لم أر من تكلم فِيهَا لَا بِجرح وَلَا بتوثيق وَسَلَمَة بن رَجَاء لينه ابْن معِين وَقَالَ ابْن عدي حدث بِأَحَادِيث لَا يُتَابع عَلَيْهَا وَقَالَ النَّسَائِيّ ضَعِيف وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ ينْفَرد عَن الثِّقَات بِأَحَادِيث وَقَالَ أَبُو زرْعَة صَدُوق وَقَالَ أَبُو حَاتِم مَا بحَديثه بَأْس انْتهى

رَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده عَن القواريري حَدثنَا سَلمَة فَذكره بِزِيَادَتِهِ كَمَا أوردته فِي زَوَائِد المسانيد الْعشْرَة فِي كتاب النَّوَافِل

(495) حَدثنَا يحيى بن عُثْمَان بن صَالح الْمصْرِيّ أَنبأَنَا أبي أَنبأَنَا ابْن لَهِيعَة عَن يزِيد بن أبي حبيب عَن عَمْرو بن الْوَلِيد بن عُبَيْدَة السَّهْمِي عَن أنس بن مَالك أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بشر بحاجة فَخر سَاجِدا

شس (694) هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لضعف ابْن لَهِيعَة وَله شَاهد من حَدِيث أبي بكرَة رَوَاهُ د ق ت

(496) حَدثنَا مُحَمَّد بن يحيى حَدثنَا عبد الرازق عَن معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن عبد الرَّحْمَن بن كَعْب بن مَالك عَن أَبِيه قَالَ لما تَابَ الله عَلَيْهِ خر سَاجِدا

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات وَهُوَ مَوْقُوف قَالَ ابْن حزم لَا معمر فِي خبر كَعْب الْبَتَّةَ ثمَّ روى عَن أبي بكر الصّديق وَعلي بن أبي طَالب نَحوه

81 - 121

 

‌‌بَاب الصَّلَاة كَفَّارَة

حَدثنَا عبد الله بن أبي زِيَاد حَدثنَا يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم بن سعد حَدثنِي ابْن أخي ابْن شهَاب عَن عَمه حَدثنِي صَالح بن عبد الله بن أبي فَرْوَة أَن عَامر بن سعد أخبرهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول أَرَأَيْت لَو كَانَ بِفنَاء أحدكُم نهر يغْتَسل فِيهِ كل يَوْم
এই সনদে আপত্তি রয়েছে। শা’সা বিনতে আব্দুল্লাহ সম্পর্কে কাউকে জেরা (সমালোচনা) বা তা’দীল (নির্ভরযোগ্যতা প্রদান) করতে দেখিনি। সালামাহ বিন রাজা-কে ইবনে মাঈন দুর্বল বলেছেন। ইবনে আদী বলেছেন, তিনি এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন যেগুলোর কোনো অনুসরণ বা সমর্থন পাওয়া যায় না। নাসায়ী বলেছেন, তিনি দুর্বল। দারা কুতনী বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য রাবিদের বিপরীতে একাকী হাদিস বর্ণনা করেন। আবু যুরআ বলেছেন, তিনি সত্যবাদী। আবু হাতিম বলেছেন, তার হাদিসে কোনো সমস্যা নেই। সমাপ্ত।

আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তার মুসনাদে কাওয়ারীরি-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন যে, সালামাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি অতিরিক্ত অংশসহ উল্লেখ করেছেন যেমনটি আমি ‘যাওয়ায়েদ আল-মাসানিদ আল-আশারা’ এর ‘কিতাবুন নাওয়াফিল’-এ উল্লেখ করেছি।

(৪৯৫) ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সলিহ আল-মিসরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে লাহিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযিদ ইবনে আবু হাবিব থেকে, তিনি আমর ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে উবাইদাহ আস-সাহমি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কোনো একটি প্রয়োজনে সুসংবাদ দেওয়া হলে তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন।

শা.সা (৬৯৪) এই সনদটি ইবনে লাহিয়া দুর্বল হওয়ার কারণে জয়ীফ। তবে আবু বাকরাহ (রা.) বর্ণিত একটি সমর্থক হাদিস রয়েছে যা আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

(৪৯৬) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে কা’ব ইবনে মালিক থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন, তখন তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন।

এই সনদটি সহিহ, এর রাবিগণ নির্ভরযোগ্য এবং এটি মাওকুফ। ইবনে হাজম বলেছেন, কা’ব-এর সংবাদে মা’মার-এর কোনো বর্ণনা নেই। এরপর তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৮১ - ১২১

 

‌‌অধ্যায়: সালাত গুনাহের কাফফারা

আব্দুল্লাহ ইবনে আবু যিয়াদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সা’দ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তার চাচা থেকে, সলিহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু ফারওয়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমির ইবনে সা’দ তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা কি মনে করো যদি তোমাদের কারো আঙ্গিনায় একটি নদী থাকে যাতে সে প্রতিদিন গোসল করে...
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
خمس مَرَّات مَا كَانَ يبقي من درنه قَالَ لَا شئ قَالَ فَإِن الصَّلَوَات تذْهب الذُّنُوب كَمَا يذهب المَاء الدَّرن هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات رَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده حَدثنَا أَبُو خَيْثَمَة حَدثنَا يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم فَذكره بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه وَله شَاهد من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الصُّغْرَى والكبرى وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك من طَرِيق سعد بن أبي وَقاص قَالَ التِّرْمِذِيّ وَفِي الْبَاب عَن جَابر وَأنس وحَنْظَلَة الْأَسدي

82 - 122

 

‌‌بَاب فِي فرض الصَّلَوَات الْخمس والمحافظة عَلَيْهَا

(498) حَدثنَا أَبُو بكر بن خَلاد الْبَاهِلِيّ حَدثنَا الْوَلِيد حَدثنَا شريك عَن عبد الله بن عصم أبي علوان عَن ابْن عَبَّاس قَالَ أَمر نَبِيكُم صلى الله عليه وسلم بِخَمْسِينَ صَلَاة فنازل ربكُم أَن يَجْعَلهَا خمس صلوَات

شس (994) قلت كَذَا وَقع عِنْد ابْن ماجة عَن ابْن عَبَّاس وَالصَّوَاب عَن ابْن عمر كَمَا هُوَ فِي أبي دَاوُد وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي الْجَامِع من حَدِيث أنس بن مَالك وَقَالَ حسن صَحِيح غَرِيب قَالَ وَفِي الْبَاب عَن عبَادَة بن الصَّامِت وَطَلْحَة بن عبيد الله وَأبي ذَر وَأبي قَتَادَة وَمَالك بن صعصعة وَأبي سعيد الْخُدْرِيّ انْتهى

وَإسْنَاد حَدِيث ابْن عَبَّاس حسن لقُصُور عبد الله بن عصم وَأبي الْوَلِيد عَن دَرَجَة أهل الْحِفْظ والإتقان

حَدثنَا يحيى بن عُثْمَان بن سعيد بن كثير بن دِينَار الْحِمصِي حَدثنَا بَقِيَّة بن الْوَلِيد حَدثنَا ضبارة بن عبد الله بن أبي السَّلِيل أَخْبرنِي دويد بن نَافِع عَن الزُّهْرِيّ قَالَ رَوَاهُ سعيد بن الْمسيب إِن قَتَادَة بن ربعي أخبرهُ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ الله تَعَالَى افترضت على أمتك خمس صلوَات وعهدت عِنْدِي
পাঁচবার, তবে কি তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? তিনি বললেন, কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই নামাজসমূহ গুনাহসমূহকে সেভাবেই মিটিয়ে দেয় যেভাবে পানি ময়লা দূর করে দেয়। এই সনদটি সহিহ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। এটি আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু খাইসামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি এর সনদ ও মূল পাঠসহ উল্লেখ করেছেন। এর একটি সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) আবু হুরাইরাহ-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম), তিরমিজি এবং নাসায়ি বর্ণনা করেছেন। নাসায়ি এটি আস-সুনান আস-সুগরা এবং আল-কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন, এই অধ্যায়ে জাবির, আনাস এবং হানজালা আল-আসাদি থেকেও বর্ণনা রয়েছে।

৮২ - ১২২

 

‌‌পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়া এবং তা যথাযথভাবে আদায় করার পরিচ্ছেদ

(৪৯৮) আবু বকর ইবনে খাল্লাদ আল-বাহিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শারিক আব্দুল্লাহ ইবনে ইসম আবু আলওয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তিনি তোমাদের রবের কাছে বারবার আবেদন করলেন যাতে তিনি তা পাঁচ ওয়াক্ত করে দেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি, ইবনে মাজাহর নিকট ইবনে আব্বাসের সূত্রে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, তবে সঠিক হলো ইবনে উমর থেকে, যেমনটি আবু দাউদে রয়েছে। তিরমিজি এটি জামি' গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিকের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান সহিহ গারিব। তিনি বলেন, এই অধ্যায়ে উবাদাহ ইবনে সামিত, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ, আবু যার, আবু কাতাদাহ, মালিক ইবনে সা'সা'আ এবং আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকেও বর্ণনা রয়েছে। সমাপ্ত।

আর ইবনে আব্বাসের হাদিসের সনদটি হাসান, কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে ইসম এবং আবুল ওয়ালিদ মুখস্থ ও নিখুঁত বর্ণনার (হিফজ ও ইতকান) স্তরে কিছুটা ঘাটতিসম্পন্ন।

ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে কাসির ইবনে দিনার আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বাকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জুবায়রা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আল-সালিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, দুওয়াইদ ইবনে নাফি' আমাকে যুহরি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে আল-মুসায়্যিব বর্ণনা করেছেন যে, কাতাদাহ ইবনে রিবঈ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আপনার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছি এবং আমি নিজের কাছে অঙ্গীকার করেছি।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
عهدا أَنه من حَافظ عَلَيْهِنَّ لوقتهن أدخلته الْجنَّة وَمن لم يحافظ عَلَيْهِنَّ فَلَا عهد لَهُ عِنْدِي هَذَا إِسْنَاد فِيهِ نظرمن أجل ضبارة ودويد عزاهُ الْمزي فِي الْأَطْرَاف لأبي دَاوُد رِوَايَة ابْن الْأَعرَابِي فَلم أره فِي رِوَايَة اللؤْلُؤِي وَله شَاهد من حَدِيث عبَادَة بن الصَّامِت رَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الصُّغْرَى

83 - 123

 

‌‌بَاب فضل الصَّلَاة فِي الْمَسْجِد الْحَرَام وَمَسْجِد النَّبِي صلى الله عليه وسلم

(500) حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن أَسد حَدثنَا زَكَرِيَّا بن عدي أَنبأَنَا عبيد الله بن عَمْرو عَن عبد الْكَرِيم عَن عَطاء عَن جَابر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ صَلَاة فِي مَسْجِدي أفضل من ألف صَلَاة فِيمَا سواهُ إِلَّا الْمَسْجِد الْحَرَام وَصَلَاة فِي الْمَسْجِد الْحَرَام أفضل من مائَة ألف صَلَاة فِيمَا سواهُ

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات إِسْمَاعِيل بن أَسد وَثَّقَهُ الْبَزَّار وَالدَّارَقُطْنِيّ والذهبي فِي الكاشف وَقَالَ أَبُو حَاتِم صَدُوق وَبَاقِي رجال الْإِسْنَاد مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيحَيْنِ رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده من هَذَا الْوَجْه

وَأَصله فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَفِي مُسلم وَغَيره من حَدِيث ابْن عمر وَفِي ابْن حبَان وَالْبَيْهَقِيّ من حَدِيث عبد الله بن الزبير قَالَ التِّرْمِذِيّ وَفِي الْبَاب عَن على ومَيْمُونَة وَأبي سعيد وَجبير بن مطعم وَعبد الله بن الزبير
অঙ্গীকার যে, যে ব্যক্তি ওয়াক্তমতো এগুলোর (সালাতের) হেফাজত করবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে এগুলোর হেফাজত করবে না, আমার নিকট তার জন্য কোনো অঙ্গীকার নেই। এই সানাদটিতে ত্রুটি রয়েছে যোবারাহ ও দুওয়াইদ-এর কারণে। আল-মিজ্জি 'আল-আতরাফ' গ্রন্থে একে আবু দাউদ হতে ইবনুল আরাবির বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে আমি একে লু'লুয়ি-এর বর্ণনায় পাইনি। উবাদাহ ইবনে সামিতের হাদিস হতে এর একটি সমর্থনমূলক বর্ণনা রয়েছে যা নাসায়ি 'আস-সুগরা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

৮৩ - ১২৩

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মসজিদুল হারাম ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে সালাত আদায়ের মর্যাদা

(৫০০) ইসমাইল ইবনে আসাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আমাদের অবহিত করেছেন আব্দুল কারীম থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার এই মসজিদে এক সালাত অন্য যে কোনো মসজিদের তুলনায় এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম, তবে মসজিদুল হারাম ব্যতীত। আর মসজিদুল হারামে এক সালাত অন্য যে কোনো মসজিদের তুলনায় এক লক্ষ সালাতের চেয়েও উত্তম।"

এই সানাদটি সহিহ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইসমাইল ইবনে আসাদকে আল-বাত্তার, আদ-দারা কুতনি এবং যাহাবি 'আল-কাশিফ' গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং আবু হাতিম তাকে সত্যবাদী বলেছেন। সানাদের অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী। ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে এই সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন।

এর মূল বর্ণনা আবু হুরায়রা-এর হাদিস থেকে বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে, এবং মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে রয়েছে, আর ইবনে হিব্বান ও বায়হাকিতে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিরমিযী বলেছেন: এই পরিচ্ছেদে আলী, মায়মুনা, আবু সাঈদ, জুবায়ের ইবনে মুতয়িম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের থেকেও বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
84 - 124

 

‌‌بَاب الصَّلَاة فِي بَيت الْمُقَدّس

(501) حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الله الرقي حَدثنِي عِيسَى بن يُونُس حَدثنَا ثَوْر بن يزِيد عَن زِيَاد بن أبي سَوْدَة عَن أَخِيه عُثْمَان بن أبي سَوْدَة عَن مَيْمُونَة مولاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَت قلت يَا رَسُول الله أَفْتِنَا فِي بَيت الْمُقَدّس قَالَ أَرض الْمَحْشَر والمنشر إيتوه فصلوا فِيهِ فَإِن صَلَاة فِيهِ كألف صَلَاة فِي غَيره قلت أَرَأَيْت إِن لم أستطع أَن أتحمل إِلَيْهِ قَالَ فتهدي لَهُ زيتًا يسرج فِيهِ فَمن فعل ذَلِك فَهُوَ كمن أَتَاهُ

قلت روى أَبُو دَاوُد بعضه من حَدِيث مَيْمُونَة أَيْضا عَن النفيل عَن مِسْكين بن بكير عَن سعيد بن عبد الْعَزِيز عَن زِيَاد بن أبي سَوْدَة عَن مَيْمُونَة وَإسْنَاد طَرِيق ابْن ماجة صَحِيح رِجَاله ثِقَات وَهُوَ أصح من طَرِيق أبي دَاوُد فَإِن بَين زِيَاد بن أبي سَوْدَة ومَيْمُونَة عُثْمَان بن أبي سَوْدَة كَمَا صرح بِهِ ابْن ماجة فِي طَرِيقه وكما ذكره الْعَلَاء بن صَلَاح الدّين فِي الْمَرَاسِيل

وَرَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده حَدثنَا أَبُو مُوسَى إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الْهَرَوِيّ حَدثنَا عِيسَى بن يُونُس فَذكره بِتَمَامِهِ كَمَا رَوَاهُ ابْن ماجة وَرَوَاهُ من طَرِيق ثَوْر عَن زِيَاد عَن أبي أُمَامَة قَالَ قَالَت مَيْمُونَة يَا رَسُول الله أَفْتِنَا فَذكره وَله شَاهد من حَدِيث أبي ذَر رَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي

(502) حَدثنَا عبيد الله بن الجهم الْأنمَاطِي حَدثنَا أَيُّوب بن سُوَيْد عَن أبي زرْعَة الشَّيْبَانِيّ يحيى بن أبي عَمْرو حَدثنَا عبد الله بن الديلمي عَن عبد الله بن عَمْرو عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لما فرغ سُلَيْمَان بن دَاوُد عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام من بِنَاء بَيت الْمُقَدّس سَأَلَ الله ثَلَاثًا الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أما اثْنَتَانِ فقد أعطيهما وَأَرْجُو أَن يكون قد أعطي الثَّالِثَة

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف أَيُّوب بن سُوَيْد مُتَّفق على تَضْعِيفه وَعبيد الله بن الجهم لَا يعرف حَاله روى أَبُو دَاوُد بعضه من حَدِيث ابْن عَمْرو أَيْضا وَكَذَا رَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الصُّغْرَى عَن عَمْرو بن مَنْصُور عَن أبي مسْهر عَن سعيد
৮৪ - ১২৪

 

‌‌বাইতুল মুকাদ্দাসে সালাত আদায়ের অনুচ্ছেদ

(৫০১) ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ঈসা ইবনে ইউনুস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাওর ইবনে ইয়াযীদ আমাদের নিকট যিয়াদ ইবনে আবি সাওদাহ থেকে, তিনি তার ভাই উসমান ইবনে আবি সাওদাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাসী মাইমুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বাইতুল মুকাদ্দাস সম্পর্কে আমাদের বিধান জানান। তিনি বললেন: "এটি হাশর (একত্রিত হওয়া) ও পুনরুত্থানের ভূমি। তোমরা সেখানে যাও এবং সালাত আদায় করো। কেননা সেখানে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা অন্য স্থানের এক হাজার সালাতের সমান।" আমি বললাম, আপনার অভিমত কী যদি আমি সেখানে যাওয়ার কষ্ট সহ্য করার সামর্থ্য না রাখি? তিনি বললেন: "তবে তুমি সেখানে প্রদীপ জ্বালানোর জন্য জয়তুনের তেল হাদিয়া পাঠাবে। যে ব্যক্তি এটি করবে, সে যেন সেখানে উপস্থিত হলো (অর্থাৎ সওয়াবের দিক থেকে)।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি, আবু দাউদ এর কিয়দাংশ মাইমুনার হাদীস থেকেই বর্ণনা করেছেন আন-নুফাইল থেকে, তিনি মিসকীন ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে আবি সাওদাহ থেকে, তিনি মাইমুনা থেকে। ইবনে মাজাহর বর্ণিত সূত্রের সনদটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। এটি আবু দাউদের বর্ণিত সূত্রের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। কারণ, যিয়াদ ইবনে আবি সাওদাহ এবং মাইমুনার মাঝে উসমান ইবনে আবি সাওদাহ রয়েছেন, যেমনটি ইবনে মাজাহ তার সূত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং যেমনটি আলা ইবনে সালাহউদ্দীন 'আল-মারাসীল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তার মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আবু মুসা ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হারাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ঈসা ইবনে ইউনুস এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন যেমনটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এটি সাওরের সূত্রে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, মাইমুনা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের বিধান জানান... অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে এর একটি শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে যা আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি বর্ণনা করেছেন।

(৫০২) উবাইদুল্লাহ ইবনে আল-জাহম আল-আনমাতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ আমাদের নিকট আবু যুরআহ আশ-শায়বানী ইয়াহইয়া ইবনে আবি আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনুদ দাইলামি আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম) বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে তিনটি জিনিস চাইলেন... হাদীসটির শেষ পর্যন্ত যেখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দুটি তো তাকে প্রদান করা হয়েছে এবং আমি আশা করি যে তাকে তৃতীয়টিও প্রদান করা হয়েছে।"

এই সনদটি দুর্বল। আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদের দুর্বলতার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে আল-জাহমের অবস্থা অজ্ঞাত। আবু দাউদ এর কিয়দাংশ ইবনে আমরের হাদীস থেকেও বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে নাসায়ী তার আস-সুনান আস-সুগরা গ্রন্থে আমর ইবনে মানসুর থেকে, তিনি আবু মুসহির থেকে, তিনি সাঈদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
بن عبد الْعَزِيز عَن ربيعَة بن يزِيد عَن أبي إِدْرِيس الْخَولَانِيّ عَن عبد الله بن فَيْرُوز الديلمي بِهِ وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده من حَدِيث ابْن عَمْرو أَيْضا

85 - 125

 

‌‌بَاب الصَّلَاة فِي الْمَسَاجِد وَمَسْجِد الْجَامِع

(503) حَدثنَا هِشَام بن عمار حَدثنَا أَبُو الْخطاب الدِّمَشْقِي حَدثنَا رُزَيْق أَبُو عبد الله الْأَلْهَانِي عَن أنس بن مَالك قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صَلَاة الرجل فِي بَيته بِصَلَاة وَصلَاته فِي مَسْجِد الْقَبَائِل بِخمْس وَعشْرين صَلَاة وَصَلَاة فِي الْمَسْجِد الَّذِي يجمع فِيهِ بِخمْس مائَة وَصَلَاة فِي الْمَسْجِد الْأَقْصَى بِخَمْسِينَ ألف صَلَاة وَصَلَاة فِي مَسْجِدي بِخَمْسِينَ ألف صَلَاة وَصَلَاة فِي الْمَسْجِد الْحَرَام بِمِائَة ألف صَلَاة

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف أَبُو الْخطاب الدِّمَشْقِي لَا نَعْرِف حَاله ورزيق أَبُو عبد الله الْأَلْهَانِي فِيهِ مقَال حُكيَ عَن أبي زرْعَة أَنه قَالَ لَا بَأْس بِهِ وَذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات وَفِي الضُّعَفَاء

وَقَالَ ينْفَرد بالأشياء الَّتِي لَا تشبه حَدِيث الثِّقَات لَا يجوز الِاحْتِجَاج بِهِ إِلَّا عِنْد الْوِفَاق انْتهى

وَأوردهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الْعِلَل المتناهية بِسَنَد ابْن ماجة وَضَعفه برزيق
...বিন আব্দুল আজিজ, রাবিআহ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ফাইরুজ আদ-দাইলামি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদও তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ইবনে আমরের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

৮৫ - ১২৫

 

‌‌মসজিদসমূহ এবং জামে মসজিদে সালাত আদায় সংক্রান্ত অধ্যায়

(৫০৩) আমাদের নিকট হিশাম বিন আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবুল খাত্তাব আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট রুজাইক আবু আব্দুল্লাহ আল-আলহানি বর্ণনা করেছেন আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "ব্যক্তির নিজ ঘরে সালাত এক সালাতের সমতুল্য, মহল্লার মসজিদে তার সালাত পঁচিশ গুণ সালাতের সমতুল্য, যে মসজিদে জুমার সালাত হয় তাতে সালাত পাঁচশ গুণ সালাতের সমতুল্য, মসজিদে আকসায় সালাত পঞ্চাশ হাজার গুণ সালাতের সমতুল্য, আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী) সালাত পঞ্চাশ হাজার গুণ সালাতের সমতুল্য এবং মসজিদে হারামে সালাত এক লক্ষ গুণ সালাতের সমতুল্য।"

এটি একটি দুর্বল সানাদ। আবুল খাত্তাব আদ-দিমাশকি—আমরা তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জানি না। আর রুজাইক আবু আব্দুল্লাহ আল-আলহানি সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে। আবু জুরআহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং দুর্বল বর্ণনাকারী উভয় তালিকায় উল্লেখ করেছেন।

এবং তিনি বলেছেন, তিনি এমন সব একক বিষয় বর্ণনা করেন যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসের সদৃশ নয়; তাই অন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনার সাথে মিল থাকা ব্যতীত তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়। সমাপ্ত।

ইবনুল জাওজি এটি 'আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ' গ্রন্থে ইবনে মাজাহ-এর সানাদে উল্লেখ করেছেন এবং রুজাইকের কারণে একে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
86 - 126

 

‌‌بَاب فِي بَدْء شَأْن الْمِنْبَر

(504) حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الله الدَّوْرَقِي حَدثنَا عبيد الله بن عَمْرو الرقي عَن عبد الله بن مُحَمَّد بن عقيل عَن الطُّفَيْل بن أبي بن كَعْب عَن أَبِيه قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي إِلَى جذع إِذْ كَانَ الْمَسْجِد عَرِيشًا وَكَانَ يخْطب إِلَى ذَلِك الْجذع فَقَالَ رجل من أَصْحَابه هَل لَك أَن نجْعَل لَك شَيْئا تقوم عَلَيْهِ يَوْم الْجُمُعَة حَتَّى يراك النَّاس وتسمعهم خطبتك قَالَ نعم فَصنعَ لَهُ ثَلَاث دَرَجَات فَهِيَ الَّتِي على الْمِنْبَر فَلَمَّا صنع ووضعوه فِي مَوْضِعه الَّذِي فِيهِ فَلَمَّا أَرَادَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن يقوم إِلَى الْمِنْبَر مر إِلَى الْجذع الَّذِي كَانَ يخْطب إِلَيْهِ فَلَمَّا جَاوز الْجذع خار حَتَّى تصدع وَانْشَقَّ فَنزل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما سمع صَوت الْجذع فمسحه بِيَدِهِ حَتَّى سكن ثمَّ رَجَعَ إِلَى الْمِنْبَر فَكَانَ إِذا صلى صلى إِلَيْهِ فَلَمَّا هدم الْمَسْجِد وَغير أَخذ ذَلِك الْجذع أبي بن كَعْب وَكَانَ عِنْده فِي بَيته حَتَّى بلي فأكلته الأَرْض وَعَاد رفاتًا

هَذَا إِسْنَاد حسن رَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الله بن خَالِد وَاللَّفْظ لَهُ وَعِيسَى بن سَالم جَمِيعًا قَالَا حَدثنَا عبيد الله بن عَمْرو فَذكره بِالْإِسْنَادِ والمتن

(505) حَدثنَا أَبُو بكر بن خَلاد الْبَاهِلِيّ حَدثنَا حَمَّاد بن سَلمَة عَن عمار بن أبي عمار عَن ابْن عَبَّاس وثابت عَن أنس بن مَالك أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يخْطب إِلَى جذع فَلَمَّا اتخذ الْمِنْبَر فحن الْجذع فَأَتَاهُ فَاحْتَضَنَهُ فسكن فَقَالَ لَو لم أحتضنه لحن إِلَى يَوْم الْقِيَامَة

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات رَوَاهُ أَحْمد بن منيع فِي مُسْنده قَالَ حَدثنَا أَبُو نصر حَدثنَا حَمَّاد فَذكره بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه جذع نخله وَقَالَ تحول إِلَى الْمِنْبَر

وَرَوَاهُ عبد بن حميد والْحَارث بن أبي أُسَامَة

(506) حَدثنَا أَبُو بشر بكر بن خلف حَدثنَا ابْن أبي عدي عَن سُلَيْمَان التَّمِيمِي عَن أبي نَضرة عَن جَابر بن عبد الله قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقوم فِي أصل شَجَرَة أَو قَالَ إِلَى جذع ثمَّ اتخذ منبرًا قَالَ فحن الْجذع قَالَ جَابر حَتَّى سَمعه أهل
৮৬ - ১২৬

 

‌‌মিম্বর তৈরির সূচনা সংক্রান্ত অধ্যায়

(৫০৪) ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাওরাকী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন আমর আর-রাক্কী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকীল থেকে, তিনি তুফাইল বিন উবাই বিন কাব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন যখন মসজিদটি কেবল একটি ছাউনি সদৃশ ছিল এবং তিনি সেই কাণ্ডটির কাছে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: ‘আমরা কি আপনার জন্য এমন কিছু তৈরি করে দেব যার ওপর আপনি জুমুআর দিন দাঁড়াবেন, যাতে মানুষ আপনাকে দেখতে পায় এবং তারা আপনার খুতবা শুনতে পায়?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ’। অতঃপর তিনি তাঁর জন্য তিন ধাপ বিশিষ্ট একটি মিম্বর তৈরি করলেন এবং এটিই মিম্বরের ওপর অবস্থিত সেই তিন ধাপ। যখন এটি তৈরি করা হলো এবং একে নির্ধারিত স্থানে রাখা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিম্বরের দিকে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি সেই কাণ্ডটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেটির কাছে তিনি খুতবা দিতেন। যখন তিনি কাণ্ডটি অতিক্রম করলেন, সেটি এমনভাবে আর্তনাদ করে উঠল যে সেটি ফেটে চৌচির হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাণ্ডটির আওয়াজ শুনে নেমে আসলেন এবং নিজের হাত দিয়ে সেটি স্পর্শ করলেন যতক্ষণ না সেটি শান্ত হলো। তারপর তিনি মিম্বরের দিকে ফিরে গেলেন। এরপর যখনই তিনি সালাত আদায় করতেন, সেটির দিকে মুখ করে করতেন। অতঃপর যখন মসজিদটি ভেঙে পুনর্নির্মাণ ও পরিবর্তন করা হলো, তখন উবাই বিন কাব সেই কাণ্ডটি নিয়ে নিলেন এবং সেটি তাঁর কাছে তাঁর বাড়িতে ছিল যতক্ষণ না তা জীর্ণ হয়ে গেল এবং মাটি তা খেয়ে ফেলল এবং তা ধূলিকণায় পরিণত হলো।

এই সনদটি হাসান। আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ (শব্দসমূহ তাঁর) এবং ঈসা বিন সালিম উভয়ে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, উবাইদুল্লাহ বিন আমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি উক্ত সনদ ও মূল পাঠসহ এটি উল্লেখ করেছেন।

(৫০৫) আবু বকর বিন খাল্লাদ আল-বাহিলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আম্মার বিন আবু আম্মার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং সাবিত থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের দিকে মুখ করে খুতবা দিতেন। অতঃপর যখন মিম্বর গ্রহণ করা হলো, তখন কাণ্ডটি রোদন করতে লাগল। তখন তিনি সেটির কাছে আসলেন এবং সেটিকে জড়িয়ে ধরলেন, ফলে সেটি শান্ত হলো। তিনি বললেন: ‘আমি যদি একে জড়িয়ে না ধরতাম, তবে এটি কিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই কাঁদতে থাকত।’

এই সনদটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আহমাদ বিন মানি’ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু নাসর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি এর সনদ ও মূল পাঠসহ খেজুর গাছের কাণ্ড সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি মিম্বরের দিকে স্থানান্তরিত হলেন।

আবদ বিন হুমাইদ এবং আল-হারিস বিন আবু উসামাহ এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫০৬) আবু বিশর বকর বিন খালাফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনুত আবী আদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান আত-তাইমী থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাছের গোড়ায় অথবা তিনি বলেছেন একটি কাণ্ডের নিকট দাঁড়াতেন। অতঃপর যখন মিম্বর গ্রহণ করা হলো, তখন কাণ্ডটি রোদন করতে লাগল। জাবির বলেন: এমনকি মসজিদের লোকেরাও তা শুনতে পেল...
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
الْمَسْجِد حَتَّى أَتَاهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فمسحه فسكن فَقَالَ بَعضهم لَو لم يَأْته لحن إِلَى يَوْم الْقِيَامَة

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات رَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الصُّغْرَى عَن عمر بن سَواد بن الْأسود حَدثنَا ابْن وهب أَنبأَنَا ابْن جريج أَن أَبَا الزبير أخبرهُ أَنه سمع جَابر بن عبد الله يَقُول كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا خطب اسْتندَ إِلَى جذع نَخْلَة من سواري الْمَسْجِد فَلَمَّا صنع الْمِنْبَر واستوى عَلَيْهِ اضْطَرَبَتْ تِلْكَ السارية كحنين النَّاقة حَتَّى سَمعهَا أهل الْمَسْجِد حَتَّى نزل إِلَيْهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فاعتنقها فَسكت

87 - 127

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي طول الْقيام فِي الصَّلَاة

(507) حَدثنَا أَبُو هِشَام الرِّفَاعِي مُحَمَّد بن يزِيد حَدثنَا يحيى بن يمَان حَدثنَا الْأَعْمَش عَن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي حَتَّى تورمت قدماه فَقيل لَهُ إِن الله قد غفر لَك مَا تقدم من ذَنْبك وَمَا تَأَخّر قَالَ أَفلا أكون عبدا شكُورًا

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح احْتج مُسلم بِجَمِيعِ رُوَاته رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي الشَّمَائِل عَن الْحُسَيْن بن حُرَيْث عَن الْفضل بن مُوسَى عَن مُحَمَّد بن عَمْرو عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِهِ وَرَوَاهُ أَصْحَاب الْكتب السِّتَّة من حَدِيث الْمُغيرَة بن شُعْبَة وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من حَدِيث جَابر وَقَالَ حسن صَحِيح قَالَ وَفِي الْبَاب عَن عبد الله بن حبشِي وَأنس بن مَالك وَأبي هُرَيْرَة وَعَائِشَة
মসজিদ পর্যন্ত, এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে আসলেন এবং সেটির উপর হাত বুলালেন, ফলে সেটি শান্ত হলো। তাদের কেউ কেউ বললেন, যদি তিনি সেটির কাছে না আসতেন, তবে কিয়ামত পর্যন্ত সেটি এভাবেই কাঁদতে থাকত।

এটি একটি সহীহ সনদ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। নাসাঈ এটি আস-সুগরা গ্রন্থে উমর ইবন সাওয়াদ ইবন আল-আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবন ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবন জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন যে আবু যুবাইর তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন, তখন মসজিদের স্তম্ভগুলোর মধ্যে একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের ওপর হেলান দিতেন। অতঃপর যখন মিম্বর তৈরি করা হলো এবং তিনি সেটির ওপর উঠলেন, তখন সেই স্তম্ভটি মাদী উটের কান্নার মতো বিলাপ করতে লাগল, এমনকি মসজিদের লোকজনও তা শুনতে পেল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির কাছে নেমে আসলেন এবং সেটিকে আলিঙ্গন করলেন, তখন সেটি শান্ত হলো।

৮৭ - ১২৭

 

‌‌পরিচ্ছেদ: নামাজে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গে

(৫০৭) আবু হিশাম আর-রিফায়ি মুহাম্মদ ইবন ইয়াযিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবন ইয়ামান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-আ’মাশ আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়তেন এমনকি তাঁর দুই পা ফুলে যেত। তখন তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ তো আপনার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, "আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?"

এটি একটি সহীহ সনদ, ইমাম মুসলিম এর সকল বর্ণনাকারীর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন। তিরমিযী এটি শামায়িল গ্রন্থে হুসাইন ইবন হুরাইস থেকে, ফাযল ইবন মুসা থেকে, মুহাম্মদ ইবন আমর থেকে, আবু সালামাহ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। কুতুবুস সিত্তাহর লেখকগণ মুগীরা ইবন শু'বা-এর হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী জাবির-এর হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান সহীহ। তিনি বলেন, এই অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবন হাবশি, আনাস ইবন মালিক, আবু হুরায়রা এবং আয়িশা থেকে বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
10 - 128

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي كَثْرَة السُّجُود

(508) حَدثنَا الْعَبَّاس بن عُثْمَان الدِّمَشْقِي حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم عَن خَالِد بن يزِيد المسري عَن يُونُس بن ميسرَة بن حَابِس عَن الصنَابحِي عَن عبَادَة بن الصَّامِت أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول مَا من عبد يسْجد لله سَجْدَة إِلَّا كتب الله لَهُ بهَا حَسَنَة ومحا عَنهُ بهَا سَيِّئَة وَرفع لَهُ بهَا دَرَجَة فاستكثروا من السُّجُود

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لتدليس الْوَلِيد بن مُسلم رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ من حَدِيث ثَوْبَان

10 - 129

 

‌‌بَاب أَيْن تُوضَع النِّعَال إِذا خلعت فِي الصَّلَاة

(509) حَدثنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن حبيب وَمُحَمّد بن إِسْمَاعِيل قَالَا حَدثنَا عبد الرَّحْمَن الْمحَاربي عَن عبد الله بن سعيد بن أبي سعيد عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ألزم نعليك قَدَمَيْك فَإِن خلعتها فاجعلها بَين رجليك وَلَا تجعلها عَن يَمِينك وَلَا عَن يَمِين صَاحبك وَلَا وَرَاءَك فتؤذي من خَلفك

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف عبد الله بن سعيد مُتَّفق على تَضْعِيفه رَوَاهُ أَبُو دَاوُد فِي سنَنه من طرق مِنْهَا عَن عبد الْوَهَّاب بن نجدة عَن بَقِيَّة وَشُعَيْب بن إِسْحَاق عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن مُحَمَّد بن الْوَلِيد عَن سعيد بن أبي سعيد عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة بِهِ فَلم يذكر ألزم نعليك قَدَمَيْك وَلم يقل وَلَا وَرَاءَك فتؤذي من خَلفك وَالْبَاقِي نَحوه

وَله شَاهد من حَدِيث عبد الله بن السايب رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة وَنَحْوهم
১০ - ১২৮

 

‌‌অধিক সিজদাহ করার বর্ণনা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

(৫০৮) আব্বাস বিন উসমান আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন ইয়াজিদ আল-মিসরি থেকে, তিনি ইউনুস বিন মায়সারা বিন হাবিস থেকে, তিনি আস-সুনাবিহি থেকে, তিনি উবাদাহ বিন আস-সামিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “যে কোনো বান্দা আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদাহ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য একটি নেকি লিখে দেন, তার একটি গুনাহ মিটিয়ে দেন এবং তার মর্যাদা এক স্তর বৃদ্ধি করেন। সুতরাং তোমরা অধিক পরিমাণে সিজদাহ করো।”

এই সনদটি ওয়ালিদ বিন মুসলিমের তাদলীসের (বর্ণনাসূত্র লুকানো) কারণে যয়ীফ। ইমাম মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ এটি সাওবানের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

১০ - ১২৯

 

‌‌সালাতের সময় জুতো খুললে তা কোথায় রাখা হবে সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ

(৫০৯) ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন হাবিব ও মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, আবদুর রহমান আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবু সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমার জুতোজোড়া তোমার দুই পায়ের সাথে লাগিয়ে রাখো। যদি তুমি তা খোলো, তবে তা তোমার দুই পায়ের মাঝখানে রাখো। তা তোমার ডানে রাখবে না, তোমার সাথীর ডানেও রাখবে না এবং তোমার পেছনেও রাখবে না, নতুবা তা তোমার পেছনের ব্যক্তিকে কষ্ট দেবে।”

এই সনদটি যয়ীফ। আবদুল্লাহ বিন সাঈদের দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। আবু দাউদ তাঁর সুনানে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার একটি হলো আবদুল ওয়াহহাব বিন নাজদাহ থেকে, তিনি বকিয়্যাহ ও শুআইব বিন ইসহাক থেকে, তাঁরা আওযায়ী থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবু সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি সেখানে 'তোমার জুতোজোড়া তোমার দুই পায়ের সাথে লাগিয়ে রাখো' এবং 'তোমার পেছনেও রাখবে না, নতুবা তা তোমার পেছনের ব্যক্তিকে কষ্ট দেবে' কথাগুলো উল্লেখ করেননি, বাকি অংশ অনুরূপ।

আবদুল্লাহ বিন সাইবের হাদীস থেকে এর একটি শাহিদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) রয়েছে, যা আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
7

 

‌‌كتاب الْجَنَائِز

- 1

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي عِيَادَة الْمَرِيض

(510) حَدثنَا أَبُو بشر بكر بن خلف وَمُحَمّد بن بشار قَالَا حَدثنَا يحيى بن سعيد حَدثنَا عبد الحميد بن جَعْفَر عَن أَبِيه عَن حَكِيم بن أَفْلح عَن أبي مَسْعُود عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ للْمُسلمِ على الْمُسلم أَربع خلال يشمته إِذا عطس ويجيبه إِذا دَعَاهُ ويشهده إِذا مَاتَ ويعوده إِذا مرض

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده من حَدِيث أبي مَسْعُود أَيْضا وَأَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده عَن القواريري عَن يحيى بن سعيد بِهِ وَرَوَاهُ من طَرِيق حَكِيم بن أَفْلح عَن عقبَة بن عَمْرو وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن أبي يعلى عَن عبد الله بن عمر عَن يحيى الْقطَّان بِهِ وَرَوَاهُ الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك عَن أَحْمد بن جَعْفَر الْقطيعِي عَن عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل عَن أَبِيه عَن يحيى بن سعيد فَذكره بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه سَوَاء وَقَالَ هَذَا حَدِيث صَحِيح على شَرط الشَّيْخَيْنِ بِهَذَا الْإِسْنَاد إِنَّمَا أَخْرجَاهُ من حَدِيث الْأَوْزَاعِيّ عَن الزُّهْرِيّ عَن سعيد عَن أبي هُرَيْرَة حق الْمُسلم على الْمُسلم خمس

الحَدِيث قل أَصله فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث الْبَراء بن عَازِب

وَفِي التِّرْمِذِيّ من حَدِيث عَليّ بن أبي طَالب

(511) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة حَدثنَا مُحَمَّد بن بشر عَن مُحَمَّد بن عَمْرو عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خمس من حق الْمُسلم على الْمُسلم رد التَّحِيَّة وَإجَابَة الدعْوَة وشهود الْجِنَازَة وعيادة الْمَرِيض وتشميت
7

 

‌জানাযা অধ্যায়

- ১

 

‌রোগী দেখা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

(৫১০) আবু বিশর বকর ইবন খালাফ এবং মুহাম্মদ ইবন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল হামিদ ইবন জা'ফর তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাকিম ইবন আফলাহ থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: একজন মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের চারটি হক রয়েছে: সে হাঁচি দিলে তার উত্তর দিবে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে), সে দাওয়াত দিলে তা কবুল করবে, সে মারা গেলে তার জানাযায় উপস্থিত হবে এবং সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে।

এটি একটি সহীহ সনদ। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি আবু মাসউদের হাদীস থেকেও বর্ণনা করেছেন। আর আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আল-কাওয়ারীরী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি হাকিম ইবন আফলাহ-এর সূত্রে উকবাহ ইবন আমর থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইবন হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু ইয়ালা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে, তিনি ইয়াহইয়া আল-কাত্তান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি আহমাদ ইবন জা'ফর আল-কাতিয়ী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে তাঁর সনদ ও মূল পাঠসহ একইভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি (হাকেম) বলেছেন: এই সনদটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) কেবল আওযাঈ-এর সূত্রে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: "একজন মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের হক পাঁচটি..."

হাদীসটির মূল অংশ বুখারী ও মুসলিমে বারা ইবন আযিবের হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

আর তিরমিযীতে এটি আলী ইবন আবী তালিবের হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

(৫১১) আবু বকর ইবন আবী শাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন বিশর আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: একজন মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে: সালামের উত্তর দেওয়া, দাওয়াত কবুল করা, জানাযায় উপস্থিত হওয়া, রোগী দেখতে যাওয়া এবং হাঁচির উত্তর দেওয়া।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الْعَاطِس إِذا حمد الله عز وجل

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات وَهُوَ فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَيْضا بِغَيْر هَذَا السِّيَاق

(512) حَدثنَا هِشَام بن عمار حَدثنَا مسلمة بن عَليّ حَدثنَا ابْن جريج عَن حميد الطَّوِيل عَن أنس بن مَالك قَالَ كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا يعود مَرِيضا إِلَّا بعد ثَلَاث

هَذَا إِسْنَاد فِيهِ مسلمة بن عَليّ قَالَ البُخَارِيّ

وَأَبُو حَاتِم وَأَبُو زرْعَة مُنكر الحَدِيث انْتهى

وَمن مَنَاكِيره عَن ابْن جريج عَن حميد عَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ لَا يعود مَرِيضا إِلَّا بعد ثَلَاثَة أَيَّام قَالَ أَبُو حَاتِم هَذَا بَاطِل مُنكر وَقَالَ ابْن عدي أَحَادِيثه غير مَحْفُوظَة وَاتَّفَقُوا على تَضْعِيفه وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط من طَرِيق نصر بن حَمَّاد أَو الْحَارِث الْوراق عَن روح بن جنَاح عَن الزُّهْرِيّ عَن ابْن الْمسيب عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا فَذكره وَقَالَ لم يرو هَذَا الحَدِيث عَن الزُّهْرِيّ إِلَّا روح بن جنَاح تفرد بِهِ أَبُو الْحَارِث الْوراق انْتهى وَأورد ابْن الْجَوْزِيّ هَذَا فِي كتاب الموضوعات من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَأنس رضي الله عنهما وَالله أعلم

(513) حَدثنَا الْحسن بن عَليّ الْخلال حَدثنَا صَفْوَان بن هُبَيْرَة حَدثنَا أَبُو مكين عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَاد رجلا فَقَالَ مَا تشْتَهي قَالَ خبز بر قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم من كَانَ عِنْده خبز بر فليبعث بِهِ إِلَى أَخِيه ثمَّ قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا اشْتهى مَرِيض أحدكُم شَيْئا فليطعمه

هَذَا إِسْنَاد حسن صَفْوَان مُخْتَلف فِيهِ وَأَبُو مكين اسْمه نوح بن ربيعَة وَسَيَأْتِي هَذَا الحَدِيث بِإِسْنَادِهِ فِي كتاب الطِّبّ إِن شَاءَ الله عز وجل

(514) حَدثنَا سُفْيَان بن وَكِيع حَدثنَا أَبُو يحيى الْحمانِي عَن الْأَعْمَش عَن يزِيد
হাঁচিদানকারী যখন মহান আল্লাহর প্রশংসা করে

এটি একটি সহীহ সনদ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং এটি আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর বর্ণনায় ভিন্ন শব্দবিন্যাসে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এও রয়েছে

(৫১২) আমাদের নিকট হিশাম বিন আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মাসলামাহ বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন না

এই সনদে মাসলামাহ বিন আলী রয়েছেন। ইমাম বুখারী বলেছেন

এবং আবু হাতিম ও আবু যুরআ বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদীস (অস্বীকৃত হাদীস বর্ণনাকারী)। সমাপ্ত

ইবনে জুরাইজ থেকে হুমাইদ হয়ে আনাস (রাযি.)-এর সূত্রে তাঁর বর্ণিত মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনাগুলোর মধ্যে একটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন না। আবু হাতিম বলেছেন: এটি বাতিল ও মুনকার। ইবনে আদী বলেছেন: তাঁর বর্ণিত হাদীসগুলো সংরক্ষিত নয়। মুহাদ্দিসগণ তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। তাবারানি এটি 'আল-আওসাত'-এ নাসর বিন হাম্মাদ অথবা হারিস আল-ওয়াররাক-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যা রুহ বিন জানাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি (তাবারানি) বলেছেন: রুহ বিন জানাহ ব্যতীত আর কেউ যুহরী থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেননি এবং আবু হারিস আল-ওয়াররাক এটি বর্ণনায় একক। সমাপ্ত। ইবনুল জাওযী এটি আবু হুরায়রা এবং আনাস (রাযি.)-এর হাদীস থেকে 'কিতাবুল মাওদুয়াত'-এ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন

(৫১৩) আমাদের নিকট হাসান বিন আলী আল-খাল্লাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাফওয়ান বিন হুবাইরা বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু মাকীন থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কী খেতে পছন্দ করো?" সে বলল: "গমের রুটি।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যার কাছে গমের রুটি আছে সে যেন তা তার ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দেয়।" অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাদের কারো অসুস্থ ব্যক্তি যখন কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা করে, তখন তাকে যেন তা খেতে দেওয়া হয়"

এটি একটি হাসান সনদ। সাফওয়ান-এর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে এবং আবু মাকীনের নাম হলো নূহ বিন রাবীআহ। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই হাদীসটি তার সনদসহ চিকিৎসা অধ্যায়ে (কিতাবুত তিব্ব) আসবে

(৫১৪) আমাদের নিকট সুফিয়ান বিন ওয়াকী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ইয়াহইয়া আল-হিমানী বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইয়াযীদ থেকে...
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
الرقاشِي عَن أنس بن مَالك قَالَ دخل النَّبِي صلى الله عليه وسلم على مَرِيض يعودهُ فَقَالَ أتشتهي شَيْئا أتشتهي كعكا قَالَ نعم فطلبوا لَهُ

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لضعف يزِيد بن أبان وَسَيَأْتِي فِي كتاب الطِّبّ إِن شَاءَ الله تَعَالَى

رَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده حَدثنَا الْحسن بن حَمَّاد حَدثنَا أَبُو يحيى الْحمانِي فَذكره بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه

(515) حَدثنَا جَعْفَر بن مُسَافر حَدثنِي كثير بن هِشَام حَدثنَا جَعْفَر بن برْقَان عَن مَيْمُون بن مهْرَان عَن عمر بن الْخطاب قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا دخلت على مَرِيض فمره يَدْعُو لَك فَإِن دعاءه كدعاء الْمَلَائِكَة

هَذَا إِسْنَاد رِجَاله ثِقَات إِلَّا أَنه مُنْقَطع قَالَ العلائي فِي الْمَرَاسِيل والمزي فِي التَّهْذِيب أَن رِوَايَة مَيْمُون بن مهْرَان عَن عمر مُرْسلَة

- 2

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي ثَوَاب من عَاد مَرِيضا

(516) حَدثنَا عُثْمَان بن أبي شيبَة حَدثنَا أَبُو مُعَاوِيَة حَدثنَا الْأَعْمَش عَن الحكم عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى عَن على رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من أَتَى أَخَاهُ الْمُسلم عَائِدًا مَشى فِي خرافة الْجنَّة حَتَّى يجلس فَإِذا جلس غمرته الرَّحْمَة فَإِذا كَانَ غدْوَة صلى عَلَيْهِ سَبْعُونَ ألف ملك حَتَّى يُمْسِي وَإِن كَانَ مسَاء صلى عَلَيْهِ سَبْعُونَ ألف ملك حَتَّى يصبح

رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل فِي مُسْنده بِتَمَامِهِ وروى أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ مِنْهُ فَإِن كَانَ غدْوَة إِلَى آخِره دون أَوله وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن غَرِيب وَكَذَا
রাকাসি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন এবং বললেন, "তুমি কি কিছু খেতে ইচ্ছা করছ? তুমি কি পিঠা খেতে ইচ্ছা করছ?" সে বলল, "হ্যাঁ।" অতঃপর তারা তার জন্য তা চাইল।

এই সনদটি দুর্বল, ইয়াজিদ ইবনে আবানের দুর্বলতার কারণে। ইনশাআল্লাহ চিকিৎসা অধ্যায়ে এটি সামনে আসবে।

আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি এটি তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আল-হাসান ইবনে হাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু ইয়াহইয়া আল-হিমানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, অতঃপর তিনি তার সনদ ও মতনসহ এটি উল্লেখ করেছেন।

(৫১৫) জাফর ইবনে মুসাফির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কাসীর ইবনে হিশাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, জাফর ইবনে বারকান মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তুমি কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে প্রবেশ করবে, তখন তাকে তোমার জন্য দুআ করতে বলো। কেননা তার দুআ ফেরেশতাদের দুআর মতো।"

এই সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)। আল-আলাই 'আল-মারাসিল' গ্রন্থে এবং আল-মিযযি 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে বলেছেন যে, উমর (রা.) থেকে মাইমুন ইবনে মিহরানের বর্ণনা মুরসাল।

- ২

 

‌‌অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার সওয়াব বিষয়ক অধ্যায়

(৫১৬) উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-আমাশ আল-হাকাম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলিম ভাইকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে আসে, সে বসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে। যখন সে বসে, তখন রহমত তাকে পরিবেষ্টন করে নেয়। যদি তা সকালবেলা হয়, তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর যদি তা সন্ধ্যাবেলা হয়, তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।"

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এটি তাঁর মুসনাদে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ ও তিরমিযী এর শেষ অংশ (সকালবেলা থেকে শেষ পর্যন্ত) বর্ণনা করেছেন, শুরুর অংশটি নয়। তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান গারীব এবং অনুরূপ...
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا

خرافة الْجنَّة بِكَسْر الْخَاء أَي فِي اجتناء ثَمَر الْجنَّة يُقَال خرفت الْجنَّة أخرفها فَشبه مَا يحوزه عَائِد الْمَرِيض من الثَّوَاب بِمَا يحوزه المخترف من الثَّمر هَذَا قَول ابْن الْأَنْبَارِي

- 3

 

‌‌بَاب تلقين الْمَيِّت لَا إِلَه إِلَّا الله

(517) حَدثنَا مُحَمَّد بن بشار حَدثنَا أَبُو عَامر حَدثنَا كثير بن زيد عَن إِسْحَاق بن عبد الله بن جَعْفَر عَن أَبِيه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لقنوا أمواتكم لَا إِلَه إِلَّا الله الْحَلِيم الْكَرِيم سُبْحَانَ الله رب الْعَرْش الْعَظِيم الْحَمد لله رب الْعَالمين قَالُوا يَا رَسُول الله كَيفَ للأحياء قَالَ أَجود وأجود

هَذَا إِسْنَاد حسن كثير بن زيد مُخْتَلف فِيهِ وَبَاقِي رجال الْإِسْنَاد ثِقَات

روى مُسلم فِي صَحِيحه وَغَيره بعضه من حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ

- 4

 

‌‌بَاب مَا يُقَال عِنْد الْمَرِيض إِذا حَضَره

(518) حَدثنَا أَحْمد بن الْأَزْهَر حَدثنَا مُحَمَّد بن عِيسَى حَدثنَا يُوسُف بن الْمَاجشون حَدثنَا مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر قَالَ دخلت على جَابر بن عبد الله وَهُوَ يَمُوت فَقلت اقْرَأ على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم السَّلَام

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات إِلَّا أَنه مَوْقُوف
এটি ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (হাকেম) বলেছেন যে, এটি তাঁদের (বুখারী ও মুসলিমের) শর্তানুসারে সহীহ।

জান্নাতের ফল আহরণ করার ক্ষেত্রে 'খুরাফাতুল জান্নাহ' শব্দটি 'খা' বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে উচ্চারিত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, 'আমি জান্নাতের ফল আহরণ করেছি'। সুতরাং রোগী দর্শনকারী যে সওয়াব অর্জন করে, তাকে ফল আহরণকারীর ফল আহরণের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি ইবনুল আনবারীর উক্তি।

- ৩

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তিকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তালকিন করা

(৫১৭) মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আমির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কাসীর ইবনে যায়েদ ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা তোমাদের মৃতদের (মুমূর্ষুদের) 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালীমুল কারীম, সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আযীম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন' তালকিন করো।" তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! জীবিতদের জন্য এটি কেমন? তিনি বললেন, "এটি আরও উত্তম, আরও উত্তম।"

এই সনদটি হাসান। কাসীর ইবনে যায়েদ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, তবে সনদের অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা এর কিছু অংশ আবু সাঈদ আল-খুদরী বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

- ৪

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মুমূর্ষু রোগীর নিকট যা বলতে হয়

(৫১৮) আহমাদ ইবনুল আযহার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনুল মাজিশুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। তখন আমি বললাম, "আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম পৌঁছে দেবেন।"

এই সনদটি সহীহ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এটি একটি মাওকুফ বর্ণনা।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
- 5

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي الْمُؤمن يُؤجر فِي النزع

(519) حَدثنَا هِشَام بن عمار حَدثنَا الْوَلِيد بن مُسلم حَدثنَا الْأَوْزَاعِيّ عَن عَطاء عَن عَائِشَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دخل عَلَيْهَا وَعِنْدهَا حميم لَهَا يخنقه الْمَوْت فَلَمَّا رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا بهَا قَالَ لَهَا لَا تبتئسي على حميمك فَإِن ذَلِك من حَسَنَاته

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات والوليد وَإِن كَانَ يُدَلس فقد صرح بالتحدث فَزَالَتْ تُهْمَة التَّدْلِيس

(520) حَدثنَا روح بن الْفرج حَدثنَا نصر بن حَمَّاد حَدثنَا مُوسَى بن كردم عَن مُحَمَّد بن قيس عَن أبي بردة عَن أبي مُوسَى قَالَ سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَتى تَنْقَطِع معرفَة العَبْد من النَّاس قَالَ إِذا عاين

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف نصر بن حَمَّاد كذبه ابْن معِين وَغَيره واتهم بِالْوَضْعِ

(521) حَدثنَا أَبُو دَاوُد سُلَيْمَان بن توبه حَدثنَا عَاصِم بن عَليّ حَدثنَا قزعة بن سُوَيْد عَن حميد الْأَعْرَج عَن الزُّهْرِيّ عَن مَحْمُود بن لبيد عَن شَدَّاد بن أَوْس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا حضرتم مَوْتَاكُم فأغمضوا الْبَصَر فَإِن الْبَصَر يتبع الرّوح وَقُولُوا خيرا فَإِن الْمَلَائِكَة تؤمن على مَا قَالَ أهل الْبَيْت

هَذَا إِسْنَاد حسن قزعة بن سُوَيْد مُخْتَلف فِيهِ وَبَاقِي رجال الْإِسْنَاد ثِقَات رَوَاهُ الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك عَن عَليّ بن مُحَمَّد بن شَاذان بن الْجَوْهَرِي عَن أَبِيه عَن يعلى بن مَنْصُور عَن قزعة بن
5

 

‌‌মুমিন ব্যক্তি মৃত্যুযন্ত্রণার সময় সওয়াব লাভ করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে সেই পরিচ্ছেদ

(৫১৯) হিশাম বিন আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম থেকে, তিনি আল-আওযাঈ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং এমতাবস্থায় তাঁর নিকট তাঁর এক নিকটাত্মীয় ছিল যাকে মৃত্যু গ্রাস করছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর (আয়িশার) অবস্থা দেখলেন, তখন তাঁকে বললেন: "তোমার নিকটাত্মীয়ের জন্য ব্যথিত হয়ো না, কারণ এটি তার নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত।"

এটি একটি সহীহ ইসনাদ, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। আল-ওয়ালিদ যদিও তাদলীস করেন, তবে তিনি এখানে স্পষ্টভাবে শ্রবণের কথা ব্যক্ত করেছেন, ফলে তাদলীসের অভিযোগ দূর হয়েছে।

(৫২০) রাূহ বিন আল-ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি নাসর বিন হাম্মাদ থেকে, তিনি মূসা বিন কুরদুম থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কাইস থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মূসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কখন মানুষের কাছ থেকে বান্দার চেনা-জানা বা জ্ঞান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়? তিনি বললেন: "যখন সে (মৃত্যু বা পরকাল) প্রত্যক্ষ করে।"

এটি একটি যঈফ ইসনাদ। নাসর বিন হাম্মাদকে ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হাদীস জাল করার অভিযোগ রয়েছে।

(৫২১) আবু দাউদ সুলাইমান বিন তাওবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আসিম বিন আলী থেকে, তিনি কাযাআহ বিন সুওয়াইদ থেকে, তিনি হুমায়দ আল-আরাজ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মাহমুদ বিন লাবীদ থেকে, তিনি শাদ্দাদ বিন আউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যখন তোমাদের মৃতদের নিকট উপস্থিত হও, তখন তাদের চোখ বন্ধ করে দাও, কারণ দৃষ্টি রূহকে অনুসরণ করে। আর তোমরা কেবল ভালো কথা বলো, কারণ ফেরেশতারা ঘরের লোকজন যা বলে তার ওপর আমীন বলে।"

এটি একটি হাসান ইসনাদ। কাযাআহ বিন সুওয়াইদ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, তবে ইসনাদের বাকি রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। ইমাম হাকেম এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে আলী বিন মুহাম্মদ বিন শাযান বিন আল-জাওহারী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়ালা বিন মনসুর থেকে, তিনি কাযাআহ বিন (সুওয়াইদ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
سُوَيْد فَذكره بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه وَقَالَ حَدِيث صَحِيح الْإِسْنَاد وَلم يخرجَاهُ قلت رَوَاهُ أَحْمد فِي مُسْنده من هَذَا الْوَجْه

وروى أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ بعضه من حَدِيث أم سَلمَة

- 6

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي غسل الْمَيِّت

(522) حَدثنَا مُحَمَّد بن الْمُصَفّى الْحِمصِي حَدثنَا بَقِيَّة بن الْوَلِيد عَن مُبشر بن عبيد عَن زيد بن أسلم عَن عبد الله بن عمر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ليغسل مَوْتَاكُم المأمونون

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف بَقِيَّة بن الْوَلِيد مُدَلّس وَقد رَوَاهُ بالعنعنة وَشَيْخه قَالَ فِيهِ أَحْمد بن حَنْبَل أَحَادِيثه كذب مَوْضُوعَة

وَقَالَ البُخَارِيّ مُنكر الحَدِيث

وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ مَتْرُوك الحَدِيث يضع الْأَحَادِيث ويكذب

(523) حَدثنَا عَليّ بن مُحَمَّد حَدثنَا عبد الرَّحْمَن الْمحَاربي حَدثنَا عباد بن كثير عَن عَمْرو بن خَالِد عَن حبيب بن أبي ثَابت عَن عَاصِم بن ضَمرَة عَن عَليّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من غسل مَيتا وكفنه وحنطه وَحمله وَصلى عَلَيْهِ وَلم يفش عَلَيْهِ مَا رأى خرج من خطيئته مثل يَوْم وَلدته أمه

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف عَمْرو بن خَالِد كذبه أَحْمد وَابْن معِين رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه من طَرِيق حبيب ابْن أبي ثَابت بِهِ قَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ حبيب بن أبي ثَابت لم يرو عَن عَاصِم بن ضَمرَة شَيْئا قطّ قلت لَعَلَّ مُرَاده لم يسمع مِنْهُ كَمَا قَالَه الدَّارَقُطْنِيّ فِي سنَنه وَإِلَّا فقد روى لَهُ أَبُو دَاوُد وَابْن ماجة حَدِيث وَابْن ماجة أَيْضا هَذَا الحَدِيث
সুওয়াইদ এটি তাঁর সনদ ও মতনসহ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটি সহীহুল ইসনাদ (সনদ সহীহ), তবে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি। আমি বলছি: আহমদ তাঁর মুসনাদে এই সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন।

আর আবু দাউদ ও নাসাঈ এর কিছু অংশ উম্মে সালামাহ-র হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

- ৬

 

‌‌মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো বিষয়ক অধ্যায়

(৫২২) মুহাম্মদ ইবনুল মুসাফ্ফা আল-হিমসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের নিকট মুবাশশির ইবনে উবায়দ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মৃতদের যেন আমানতদার ব্যক্তিরাই গোসল দেয়।

এই সনদটি যয়ীফ। বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি ‘আন-আনা’ (সরাসরি শ্রবণ না বুঝিয়ে) শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর উস্তাদ সম্পর্কে আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: তাঁর হাদীসগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।

বুখারী বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদীস।

দারা কুতনী বলেছেন: তিনি মাতরুকুল হাদীস, তিনি হাদীস জাল করতেন এবং মিথ্যা বলতেন।

(৫২৩) আলী ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান আল-মুহারিবী আমাদের নিকট আব্বাদ ইবনে কাসীর থেকে, তিনি আমর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি হাবীব ইবনে আবু সাবিত থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে, তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন মৃতকে গোসল করালো, তাকে কাফন পরালো, সুগন্ধি মাখালো, তাকে বহন করলো, তার জানাজার সালাত আদায় করলো এবং সেখানে যা দেখলো তা প্রচার করলো না, সে তার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছে।

এই সনদটি যয়ীফ। আমর ইবনে খালিদকে আহমদ ও ইবনে মাঈন মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়েছেন। বায়হাকী তাঁর সুনানে এটি হাবীব ইবনে আবু সাবিতের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী বলেন: হাবীব ইবনে আবু সাবিত আসিম ইবনে দামরাহ থেকে কখনোই কিছু বর্ণনা করেননি। আমি বলছি: সম্ভবত তাঁর উদ্দেশ্য হলো তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি, যেমনটি দারা কুতনী তাঁর সুনানে উল্লেখ করেছেন। নতুবা আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ তাঁর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাজাহ এই হাদীসটিও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
- 7

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي غسل الرجل امْرَأَته وَعَكسه

(524) حَدثنَا مُحَمَّد بن يحيى حَدثنَا أَحْمد بن خَالِد الْوَهْبِي حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق عَن يحيى بن عباد بن عبد الله بن الزبير عَن أَبِيه عَن عَائِشَة قَالَت لَو كنت اسْتقْبلت من أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرت مَا غسل النَّبِي صلى الله عليه وسلم غير نِسَائِهِ

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات وَمُحَمّد بن إِسْحَاق وَإِن كَانَ مدلسا وَرَوَاهُ بالعنعنة فِي هَذَا الْإِسْنَاد فقد رَوَاهُ ابْن الْجَارُود وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك من طَرِيق ابْن إِسْحَاق مُصَرحًا بِالتَّحْدِيثِ فَزَالَتْ تُهْمَة تدليسه وَرَوَاهُ الإِمَام الشَّافِعِي فِي مُسْنده من هَذَا الْوَجْه وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق الْحَاكِم وَرَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده من طَرِيق مُحَمَّد بن إِسْحَاق حَدثنَا يحيى بن عباد فَذكره بِزِيَادَة طَوِيلَة كَمَا بَينته فِي زَوَائِد المسانيد الْعشْرَة

(525) حَدثنَا مُحَمَّد بن يحيى حَدثنَا أَحْمد بن حَنْبَل حَدثنَا مُحَمَّد بن سَلمَة عَن مُحَمَّد بن إِسْحَاق عَن يَعْقُوب بن عتبَة عَن عبيد الله بن عبد الله عَن عَائِشَة قَالَت رَجَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من البقيع فوجدني وَأَنا أجد صداعا وَأَنا أَقُول وارأسأه فَقَالَ بل أَنا عَائِشَة وارأساه ثمَّ قَالَ مَا ضرك لَو مت قبلي فَقُمْت عَلَيْك فغسلتك وكفنتك وَصليت عَلَيْك ودفنتك

هَذَا إِسْنَاد رِجَاله ثِقَات رَوَاهُ البُخَارِيّ من وَجه آخر عَن عَائِشَة مُخْتَصرا وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي كتاب الْوَفَاة وَلَيْسَ فِي روايتنا
৭

 

‌‌পুরুষের তার স্ত্রীকে গোসল করানো এবং এর বিপরীত (স্ত্রী স্বামীকে গোসল করানো) বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে

(৫২৪) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে খালিদ আল-ওয়াহবী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যদি আমি আমার বিষয়ের শুরুতে তা জানতে পারতাম যা আমি শেষে জেনেছি, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর স্ত্রীগণ ব্যতীত অন্য কেউ গোসল করাতো না।"

এই সনদে বর্ণিত হাদিসটি সহিহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক যদিও মুদাল্লিস এবং এই সনদে 'আন' (عن) শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন, তথাপি ইবনুল জারুদ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্র থেকে স্পষ্টভাবে হাদিস শ্রবণের (তাহদিস) শব্দ উল্লেখ করেছেন; ফলে তাঁর তাদলীসের অভিযোগ দূরীভূত হয়েছে। ইমাম শাফেঈ এটি তাঁর মুসনাদে এই সূত্র থেকেই বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকী এটি হাকেমের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি এটি তাঁর মুসনাদে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি দীর্ঘ অংশসহ তা উল্লেখ করেছেন যেমনটি আমি 'জাওয়াইদ আল-মাসানিদ আল-আশারা' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।

(৫২৫) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াকুব ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাকি (কবরস্থান) থেকে ফিরে এলেন এবং আমাকে পেলেন এমতাবস্থায় যে আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা ছিল এবং আমি বলছিলাম, "হায় আমার মাথা!" তিনি বললেন: "বরং হে আয়িশা! আমারই প্রচণ্ড মাথাব্যথা করছে।" এরপর তিনি বললেন: "তোমার কী ক্ষতি হতো যদি তুমি আমার আগেই মারা যেতে, আর আমি তোমার পাশে দাঁড়াতাম, তোমাকে গোসল করাতাম, কাফন পরাতাম, তোমার জানাজা পড়তাম এবং তোমাকে দাফন করতাম?"

এই সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইমাম বুখারী এটি আয়িশা (রা.) থেকে অন্য একটি সূত্রে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম নাসাঈ এটি 'কিতাবুল ওয়াফাত'-এ বর্ণনা করেছেন যা আমাদের এই বর্ণনায় নেই।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
- 8

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي غسل النَّبِي صلى الله عليه وسلم

(526) سعيد بن يحيى بن الْأَزْهَر الوَاسِطِيّ حَدثنَا أَبُو مُعَاوِيَة حَدثنَا أَبُو بردة عَن عَلْقَمَة بن مرْثَد عَن ابْن بُرَيْدَة سُلَيْمَان عَن أَبِيه قَالَ لما أخذُوا فِي غسل النَّبِي صلى الله عليه وسلم ناداهم مُنَاد من الدَّاخِل لَا تنزعوا عَن رَسُول الله قَمِيصه

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لضعف أبي بردة واسْمه عَمْرو بن يزِيد التَّيْمِيّ رَوَاهُ الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك عَن مُحَمَّد بن يَعْقُوب عَن أَحْمد بن عبد الْجَبَّار عَن أبي مُعَاوِيَة فَذكره بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه سَوَاء وَقَالَ هَذَا حَدِيث صَحِيح على شَرط الشَّيْخَيْنِ قَالَ وَأَبُو بردة هَذَا هُوَ بريد بن عبد الله بن أبي بردة بن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيحَيْنِ انْتهى

وَقَول الْحَاكِم إِنَّه صَحِيح وَإِن أَبَا بردة اسْمه بريد بن عبد الله فِيهِ نظر وَإِن اسْمه عَمْرو بن يزِيد كَمَا ذكره الْمزي فِي الْأَطْرَاف والتهذيب

(527) حَدثنَا يحيى بن خذام حَدثنَا صَفْوَان بن عِيسَى أَنبأَنَا معمر عَن الزُّهْرِيّ عَن سعيد بن الْمسيب عَن عَليّ قَالَ لما غسل النَّبِي صلى الله عليه وسلم ذهبت ألتمس مِنْهُ مَا يلْتَمس من الْمَيِّت فَلم أَجِدهُ فَقَالَ بِأبي أَنْت الطّيب طبت حيّا وطبت مَيتا

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله ثِقَات يحيى بن خذام ذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات وَبَاقِي رجال الْإِسْنَاد على شَرط مُسلم رَوَاهُ أَبُو دَاوُد فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة من طَرِيق معمر بِهِ وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق عبد الْوَاحِد بن زِيَاد عَن معمر بِهِ

(528) حَدثنَا عباد بن يَعْقُوب حَدثنَا الْحُسَيْن بن زيد بن عَليّ بن الْحُسَيْن بن عَليّ عَن إِسْمَاعِيل بن عبد الله بن جَعْفَر عَن أَبِيه عَن عَليّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا أَنا مت فاغسلني بِسبع قرب من بِئْر غريس

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف عباد بن يَعْقُوب الروَاجِنِي أَبُو سعيد قَالَ فِيهِ ابْن حبَان كَانَ رافضيّا دَاعِيَة وَمَعَ ذَلِك يروي الْمَنَاكِير عَن الْمَشَاهِير فَاسْتحقَّ التّرْك

وَقَالَ ابْن طَاهِر فِي التَّذْكِرَة عباد بن يَعْقُوب من غلاة الروافض روى الْمَنَاكِير عَن الْمَشَاهِير وَإِن كَانَ البُخَارِيّ روى عَنهُ حَدِيثا وَاحِدًا فِي الْجَامِع فَلَا يدل على صدقه فقد

 

‌‌নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোসল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়

(৫২৬) সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আল-আযহার আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বুরদাহ আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি ইবনে বুরায়দাহ সুলাইমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোসলের কাজ শুরু করলেন, তখন ভেতর থেকে একজন আহ্বানকারী তাদের ডাক দিয়ে বললেন, আল্লাহর রাসূলের কামিজ খুলবেন না।

এই সনদটি দুর্বল, আবু বুরদাহ-এর দুর্বলতার কারণে, তার নাম আমর ইবনে ইয়াযিদ আত-তৈমি। হাকিম এটি তার 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ ও মূল পাঠ একইভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই হাদিসটি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সহিহ। তিনি আরও বলেছেন, এই আবু বুরদাহ হলেন বুরায়দ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বুরদাহ ইবনে আবু মুসা আল-াশআরী, যাদের মাধ্যমে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ দলিল পেশ করা হয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

হাকিমের এই উক্তি যে এটি সহিহ এবং আবু বুরদাহ-এর নাম বুরায়দ ইবনে আব্দুল্লাহ—এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। বরং তার নাম আমর ইবনে ইয়াযিদ, যেমনটি মিযযি 'আল-আতরাফ' এবং 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৫২৭) ইয়াহইয়া ইবনে খুযাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাফওয়ান ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা'মার আমাদের নিকট যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসায়্যিব থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল দেওয়া হচ্ছিল, তখন আমি মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যা খোঁজা হয় তা খুঁজতে লাগলাম, কিন্তু আমি তেমন কিছুই পেলাম না। তখন আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি পবিত্র; আপনি জীবিত অবস্থায়ও পবিত্র ছিলেন এবং মৃত অবস্থায়ও পবিত্র।

এই সনদটি সহিহ, এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য। ইয়াহইয়া ইবনে খুযামকে ইবনে হিব্বান তার 'আত-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং সনদের অবশিষ্ট বর্ণনাকারীরা মুসলিম-এর শর্তানুসারে নির্ভরযোগ্য। আবু দাউদ 'আল-ইয়াওম ওয়াল লায়লাহ' গ্রন্থে মা'মারের সূত্র ধরে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকী আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ-এর মাধ্যমে মা'মার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫২৮) আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুসাইন ইবনে যায়েদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন আমি মারা যাব, তখন আমাকে গুরিস কূপের সাত মশক পানি দিয়ে গোসল দিও।

এই সনদটি দুর্বল। আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব আর-রাওয়াজিনি আবু সাঈদ সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছেন, তিনি একজন কট্টর রাফেযী এবং স্বীয় মতবাদের দিকে আহ্বানকারী ছিলেন; এছাড়া তিনি প্রখ্যাত ব্যক্তিদের থেকে মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা করতেন, তাই তিনি পরিত্যাজ্য হওয়ার যোগ্য।

ইবনে তাহির 'আত-তাযকিরাহ' গ্রন্থে বলেছেন, আব্বাদ ইবনে ইয়াকুব চরমপন্থী রাফেযীদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি প্রখ্যাত ব্যক্তিদের থেকে মুনকার বর্ণনা করেছেন। যদিও বুখারি তার 'জামে' গ্রন্থে তার থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে তা তার সত্যবাদিতার প্রমাণ বহন করে না, কারণ তিনি... (অসম্পূর্ণ)
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
أوقفهُ عَلَيْهِ غَيره من الثِّقَات وَأنكر الْأَئِمَّة عَلَيْهِ رِوَايَته عَنهُ وَترك الرِّوَايَة عَن عباد جمَاعَة من الْحفاظ

قلت إِنَّمَا روى البُخَارِيّ لعباد هَذَا مَقْرُونا بِغَيْرِهِ وَشَيْخه الْحُسَيْن بن زيد بن عَليّ مُخْتَلف فِيهِ

- 9

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي كفن النَّبِي صلى الله عليه وسلم

(529) حَدثنَا مُحَمَّد بن خَالِد الْعَسْقَلَانِي حَدثنَا عَمْرو بن أبي سَلمَة قَالَ هَذَا مَا سَمِعت من أبي معيد حَفْص بن غيلَان عَن سُلَيْمَان بن مُوسَى عَن نَافِع عَن عبد الله بن عمر قَالَ كفن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي ثَلَاث رِبَاط بيض سحُولِيَّة

هَذَا إِسْنَاد حسن لقُصُور سُلَيْمَان بن مُوسَى وَحَفْص بن غيلَان عَن دَرَجَة أهل الْحِفْظ والضبط والاتقان وَأَصله فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث عَائِشَة وَابْن عَبَّاس

8 - 10

 

‌‌بَاب النّظر إِلَى الْمَيِّت إِذا أدرج فِي أَكْفَانه

(530) حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل بن سَمُرَة حَدثنَا مُحَمَّد بن الْحسن حَدثنَا أَبُو شيبَة عَن أنس بن مَالك قَالَ لما قبض إِبْرَاهِيم ابْن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُم النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا تدرجوه فِي أَكْفَانه حَتَّى أنظر إِلَيْهِ فَأَتَاهُ فانكب عَلَيْهِ وَبكى

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف أَبُو شيبَة اسْمه يُوسُف بن إِبْرَاهِيم قَالَ ابْن حبَان روى عَن أنس بن مَالك مَا لَيْسَ من حَدِيثه لَا تحل الرِّوَايَة عَنهُ وَقَالَ البُخَارِيّ صَاحب عجائب وَقَالَ أَبُو حَاتِم ضَعِيف الحَدِيث مُنكر الحَدِيث عِنْده عجائب
অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তাকে এর ওপর সতর্ক করেছেন এবং ইমামগণ তার সূত্রে তার বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একদল হাফেজ আব্বাদের সূত্র থেকে হাদিস গ্রহণ বর্জন করেছেন।

আমি বলছি, ইমাম বুখারি এই আব্বাদের সূত্রে কেবল অন্য কোনো বর্ণনাকারীর সমর্থক (মাকরুন) হিসেবে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তার উস্তাদ হুসাইন বিন যাইদ বিন আলী বিতর্কিত।

- ৯

 

‌‌পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাফন প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে

(৫২৯) মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-আসকালানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর বিন আবু সালামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, এটি আমি আবু মুয়িদ হাফস বিন গাইলান থেকে শুনেছি, তিনি সুলাইমান বিন মুসা থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তিনটি সাদা সাহুলি কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল।

সুলাইমান বিন মুসা এবং হাফস বিন গাইলান হিফয (স্মৃতিশক্তি), দবিত (নির্ভুলতা) ও পারদর্শিতার স্তরের না হওয়ায় এই সনদটি হাসান। আর এর মূল হাদিস আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়ে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ রয়েছে।

৮ - ১০

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তিকে কাফনের কাপড়ে জড়ানোর পর তাকে দেখা

(৫৩০) মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সামুরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু শাইবা আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুত্র ইব্রাহিম ইন্তেকাল করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বললেন, "আমি তাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা তাকে কাফনের কাপড়ে জড়াবে না।" এরপর তিনি তার নিকট আসলেন এবং তার ওপর ঝুঁকে পড়ে কাঁদলেন।

এই সনদটি যঈফ বা দুর্বল। আবু শাইবার নাম ইউসুফ বিন ইব্রাহিম। ইবনে হিব্বান বলেন, "সে আনাস বিন মালিকের নামে এমন সব কথা বর্ণনা করেছে যা তার হাদিস নয়, তাই তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়।" ইমাম বুখারি বলেন, "সে অদ্ভুত সব কথা বর্ণনাকারী।" আবু হাতেম বলেন, "সে হাদিসে দুর্বল, মুনকারুল হাদিস এবং তার নিকট অদ্ভুত সব বর্ণনা রয়েছে।"
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
9 - 11

 

‌‌بَاب شُهُود الْجَنَائِز

(531) حَدثنَا حميد بن مسْعدَة حَدثنَا حَمَّاد بن زيد عَن مَنْصُور عَن عبيد بن نسطاس عَن أبي عُبَيْدَة قَالَ قَالَ عبد الله بن مَسْعُود من اتبع جَنَازَة فليحمل بجوانب السرير كلهَا فَإِنَّهُ من السّنة ثمَّ إِن شَاءَ فليتطوع وَإِن شَاءَ فَليدع

هَذَا إِسْنَاد مَوْقُوف رِجَاله ثِقَات وَحكمه الرّفْع إِلَّا أَنه مُنْقَطع فَإِن أَبَا عُبَيْدَة واسْمه عَامر وَقيل اسْمه كنيته لم يسمع من أَبِيه شَيْئا قَالَه أَبُو حَاتِم وَأَبُو زرْعَة وَعَمْرو بن مرّة وَغَيرهم رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالطَّيَالِسِي فِي مُسْنده عَن شُعْبَة عَن مَنْصُور بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه

(532) حَدثنَا مُحَمَّد بن عبيد بن عقيل حَدثنَا بشر بن ثَابت حَدثنَا شُعْبَة عَن لَيْث عَن أبي بردة عَن أبي مُوسَى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه رأى جَنَازَة يسرعون بهَا فَقَالَ ليكن عَلَيْكُم السكينَة

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف رَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ فِي مُسْنده عَن شُعْبَة بِهِ وَعَن زَائِدَة عَن لَيْث وَزَاد وَهِي تمخض مخض الزق الحَدِيث وَلَيْث بن أبي سليم تَركه يحيى الْقطَّان وَابْن معِين وَابْن مهْدي وَغَيرهم وَمَعَ ضعفه قد ورد فِي الصَّحِيحَيْنِ وَغَيرهمَا من حَدِيث أبي هُرَيْرَة مَا يُخَالِفهُ أَسْرعُوا بالجنازة الحَدِيث وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده من طَرِيق ابْن مَاجَه

10 - 12

 

‌‌بَاب النَّهْي عَن التسلب مَعَ الْجِنَازَة

(533) حَدثنَا أَحْمد بن عَبدة أَخْبرنِي عَمْرو بن النُّعْمَان حَدثنَا عَليّ بن الحزور عَن نفيع عَن عمرَان بن حُصَيْن وَأبي بَرزَة قَالَا خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي
৯ - ১১

 

‌‌জানাজায় উপস্থিত হওয়া পরিচ্ছেদ

(৫৩১) হুমাইদ ইবনে মুসআদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট মানসুর থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে নিস্তাস থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: যে ব্যক্তি জানাজার অনুসরণ করবে, সে যেন খাটিয়ার চারটি পাশই বহন করে, কারণ এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। এরপর সে চাইলে নফল হিসেবে আরও বহন করতে পারে অথবা চাইলে ছেড়ে দিতে পারে।

এই সনদটি মাওকুফ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং এর হুকুম মারফু; তবে এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), কেননা আবু উবাইদাহ—যার নাম আমির, আবার বলা হয় তার নামই তার উপনাম—তিনি তার পিতা থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি। এ কথা আবু হাতিম, আবু যুরআহ, আমর ইবনে মুররাহ এবং অন্যান্যরা বলেছেন। আবু দাউদ এবং তায়ালিসি তার মুসনাদে শুবা থেকে, তিনি মানসুর থেকে তার সনদ ও মূলপাঠসহ এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫৩২) মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে আকীল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে সাবিত আমাদের নিকট শুবা থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি জানাজা দেখলেন যেটিকে নিয়ে দ্রুত হাঁটা হচ্ছে, তখন তিনি বললেন: তোমাদের ওপর প্রশান্তি বজায় রাখা আবশ্যক।

এই সনদটি যঈফ (দুর্বল)। আবু দাউদ তায়ালিসি তার মুসনাদে শুবা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং যায়িদাহ লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বর্ধিত অংশ রয়েছে: "আর এটি মশক নাড়াচাড়া করার মতো দুলছিল..." হাদিসটি। লাইস ইবনে আবি সুলাইমকে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, ইবনে মায়ীন, ইবনে মাহদী এবং অন্যান্যরা বর্জন করেছেন। এর দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য কিতাবে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এর বিপরীত হাদিস এসেছে: "তোমরা জানাজা নিয়ে দ্রুত চলো" হাদিসটি। ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে ইবনে মাজাহর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

১০ - ১২

 

‌‌জানাজার সাথে চাদর ফেলে চলা (তসাল্লুব) নিষেধ পরিচ্ছেদ

(৫৩৩) আহমাদ ইবনে আবদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে নুমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে আল-হাযাওয়ার আমাদের নিকট নুফাই থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন ও আবু বারযাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম...
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
جَنَازَة فَرَأى قوما قد طرحوا أرديتهم يَمْشُونَ فِي قمص فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أبفعل الْجَاهِلِيَّة تأخذون أَو بصنيع الْجَاهِلِيَّة تشبهون لقد هَمَمْت أَن أَدْعُو عَلَيْكُم بدعوة ترجعون فِي غير صوركُمْ قَالَ فَأخذُوا أرديتهم وَلم يعودوا لذَلِك

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف نفيع بن الْحَارِث أَبُو دَاوُد الْأَعْمَى تَركه غير وَاحِد وَنسبه يحيى بن معِين وَغَيره لوضع الحَدِيث وَعلي بن الحرور كَذَلِك مَتْرُوك الحَدِيث قَالَ البُخَارِيّ مُنكر الحَدِيث عِنْده عجايب وَقَالَ مرّة فِيهِ نظر

11 - 13

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي شُهُود الجنايز

(534) حَدثنَا مُحَمَّد بن عبيد بن عقيل حَدثنَا بشر بن ثَابت حَدثنَا شُعْبَة عَن لَيْث عَن أبي بردة عَن أبي مُوسَى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه رأى جَنَازَة يسرعون بهَا فَقَالَ ليكن عَلَيْكُم السكينَة

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لضعف لَيْث وَهُوَ ابْن أبي سليم رَوَاهُ أَبُو بكر بن أبي شيبَة فِي مُسْنده عَن مُحَمَّد بن فُضَيْل عَن لَيْث وَبِه وسياقه أتم

12 - 14

 

‌‌بَاب لَا تتبع الْجِنَازَة بِنَار

حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيّ أَنبأَنَا مُعْتَمر ابْن سُلَيْمَان قَالَ قَرَأت على الفضيل بن ميسرَة عَن أبي حريز أَن أَبَا بردة قَالَ أوصى أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ حِين حَضَره الْمَوْت فَقَالَ لَا تتبعوني بمجمر قَالُوا لَهُ أسمعت فِيهِ شَيْئا قَالَ نعم
...একটি জানাজা, তখন তিনি একদল লোককে দেখলেন যারা তাদের চাদরগুলো সরিয়ে ফেলেছে এবং তারা কেবল কামিজ পরে হাঁটছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা কি জাহেলিয়াতের কাজ গ্রহণ করছ নাকি জাহেলিয়াতের আচরণের সাদৃশ্য অবলম্বন করছ? আমি সংকল্প করেছিলাম যে তোমাদের বিরুদ্ধে এমন বদদোয়া করব যেন তোমরা তোমাদের বর্তমান আকৃতি ছাড়া অন্য আকৃতিতে ফিরে যাও।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তারা তাদের চাদরগুলো গ্রহণ করল এবং পুনরায় আর কখনো এমনটি করেনি।

এই সনদটি দুর্বল। নুফাই ইবনুল হারিস আবু দাউদ আল-আমা-কে একাধিক মুহাদ্দিস বর্জন করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও অন্যরা তাকে হাদিস জাল করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আলী ইবনুল হারুরও অনুরূপভাবে হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত। ইমাম বুখারি বলেন: সে মুনকারুল হাদিস, তার নিকট অনেক আজব বর্ণনা রয়েছে এবং তিনি একদা তার সম্পর্কে বলেছেন: তার ব্যাপারে আপত্তি (ফিহি নাজার) রয়েছে।

11 - 13

 

‌‌অনুচ্ছেদ: জানাজায় উপস্থিত হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

(৫৩৪) মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে আকিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বা আমাদের নিকট লাইস থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একটি জানাজা দেখলেন যেটিকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের ওপর প্রশান্তি বজায় রাখা আবশ্যক।"

এই সনদটি দুর্বল, কারণ লাইস দুর্বল; তিনি হলেন ইবনে আবি সুলাইম। আবু বকর ইবনে আবি শাইবা এটি তাঁর মুসনাদে মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল থেকে, তিনি লাইস থেকে এবং এই একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর সেটির বর্ণনাভঙ্গি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।

12 - 14

 

‌‌অনুচ্ছেদ: জানাজার পেছনে আগুন নিয়ে যাওয়া যাবে না

মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আলা আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুতামির ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ফুদাইল ইবনে মাইসারা-র নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু হারিজ থেকে যে, আবু বুরদাহ বর্ণনা করেছেন: আবু মুসা আল-আশআরি (রাযি.) তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে অসিয়ত করে বললেন: তোমরা আমার জানাজার পেছনে ধূপদানি (অগ্নিকুণ্ড) নিয়ে যেয়ো না। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল: আপনি কি এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশ শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف حسن أَبُو حريز اسْمه عبد الله بن حُسَيْن مُخْتَلف فِيهِ وَله شَاهد من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رَوَاهُ مَالك فِي الْمُوَطَّأ وَأَبُو دَاوُد فِي سنَنه

13 - 15

 

‌‌بَاب من صلى عَلَيْهِ جمَاعَة من الْمُسلمين

(536) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة حَدثنَا عبيد الله أَنبأَنَا شَيبَان عَن الْأَعْمَش عَن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من صلى عَلَيْهِ مائَة من الْمُسلمين غفر لَهُ

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله رجال الصَّحِيحَيْنِ

وَله شَاهد من حَدِيث عَائِشَة رَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الصُّغْرَى وَالتِّرْمِذِيّ فِي الْجَامِع وَقَالَ حسن صَحِيح

14 - 16

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي الثَّنَاء على الْجِنَازَة

(537) حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة حَدثنَا عَليّ بن مسْهر عَن مُحَمَّد بن عَمْرو عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ مر على النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِجنَازَة فأثني عَلَيْهَا خيرا فِي مَنَاقِب الْخَيْر فَقَالَ وَجَبت ثمَّ مر عَلَيْهِ بِأُخْرَى فأثني عَلَيْهِ شرّا فِي مَنَاقِب الشَّرّ فَقَالَ وَجَبت إِنَّكُم شُهَدَاء الله فِي الأَرْض

هَذَا إِسْنَاد صَحِيح رِجَاله مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيحَيْنِ رَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الصُّغْرَى عَن مُحَمَّد بن بشار عَن هِشَام بن عبد الْملك عَن شُعْبَة عَن إِبْرَاهِيم بن عَامر وجده أُميَّة بن خلف عَن عَامر بن سعد عَن أبي هُرَيْرَة بِهِ إِلَّا قَوْله فِي مَنَاقِب الْخَيْر ومناقب الشَّرّ وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن عبد الله بن مُحَمَّد عَن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم عَن مُحَمَّد بن عبيد عَن مُحَمَّد بن عَمْرو فَذكره بِإِسْنَادِهِ وَمَتنه سَوَاء إِلَّا أَنه قَالَ شُهُود الله بدل شُهَدَاء وَالْبَاقِي مثله وَأَصله فِي الصَّحِيحَيْنِ وَغَيرهمَا من حَدِيث أنس بن مَالك
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। এটি একটি দুর্বল সনদ, তবে হাসান। আবু হারীজ, যার নাম আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইন, তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তবে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদীস এর সাক্ষী (সমর্থনকারী) হিসেবে রয়েছে, যা মালেক 'আল-মুওয়াত্তা' গ্রন্থে এবং আবু দাউদ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

১৩ - ১৫

 

‌‌পরিচ্ছেদ: যাদের জানাযার সালাত একদল মুসলিম আদায় করে

(৫৩৬) আবু বকর ইবনে আবি শাইবা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাইবান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যার জানাযার সালাত একশ জন মুসলিম আদায় করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"

এই সনদটি সহীহ, এর বর্ণনাকারীগণ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী।

আর আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে এর একটি সাক্ষী রয়েছে, যা নাসায়ী 'আস-সুনান আস-সুগরা' গ্রন্থে এবং তিরমিযী 'আল-জামি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন এটি হাসান সহীহ।

১৪ - ১৬

 

‌‌পরিচ্ছেদ: জানাযার প্রশংসা করার বর্ণনায় যা এসেছে

(৫৩৭) আবু বকর ইবনে আবি শাইবা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুশহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলো এবং তার উত্তম গুণাবলীর প্রশংসা করা হলো, তখন তিনি বললেন: "ওয়াজিব হয়ে গেল।" এরপর তাঁর নিকট দিয়ে অপর একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলো এবং তার মন্দ গুণাবলীর উল্লেখ করে নিন্দা করা হলো, তখন তিনি বললেন: "ওয়াজিব হয়ে গেল। নিশ্চয়ই তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।"

এই সনদটি সহীহ, এর বর্ণনাকারীগণ বুখারী ও মুসলিমের দলীলযোগ্য বর্ণনাকারী। নাসায়ী এটি 'আস-সুনান আস-সুগরা' গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে, তিনি হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনে আমের ও তাঁর দাদা উমাইয়া ইবনে খালাফ থেকে, তিনি আমের ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে সেখানে 'উত্তম গুণাবলী ও মন্দ গুণাবলী' কথাটি নেই। ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে ইবরাহীম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি একই সনদ ও মতন (মূল পাঠ্য) সহ উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি 'শুহাদা' শব্দের পরিবর্তে 'শুহুদ' (সাক্ষীগণ) বলেছেন এবং বাকি অংশ একই। আর এর মূল ভিত্তি আনাস ইবনে মালেকের হাদীসে বুখারী ও মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
15 - 17

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي الْقِرَاءَة على الْجِنَازَة

(538) حَدثنَا عَمْرو بن أبي عَاصِم النَّبِيل وَإِبْرَاهِيم بن المستمر قَالَا حَدثنَا أَبُو عَاصِم حَدثنَا حَمَّاد بن جَعْفَر الْعَبْدي حَدثنِي شهر بن حَوْشَب حَدَّثتنِي أم شريك قَالَت أمرنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن نَقْرَأ على الْجِنَازَة بِفَاتِحَة الْكتاب

هَذَا إِسْنَاد حسن شهر والراوي عَنهُ مُخْتَلف فيهمَا رَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي فِي مُسْنده من طَرِيق حَمَّاد بن جَعْفَر بِهِ

- 18

 

‌‌بَاب الدُّعَاء فِي الصَّلَاة على الْجِنَازَة

(539) حَدثنَا عبد الله بن سعيد حَدثنَا حَفْص بن غياث عَن حجاج عَن أبي الزبير عَن جَابر قَالَ مَا أَبَاحَ لنا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا أَبُو بكر وَلَا عمر فِي شَيْء مَا أباحوا فِي الصَّلَاة على الْمَيِّت يَعْنِي لم يُوَقت

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف حجاج هُوَ ابْن أَرْطَاة كَانَ كثير التَّدْلِيس مَشْهُور بذلك رَوَاهُ أَحْمد بن منيع فِي مُسْنده عَن عبد القدوس بن بكر بن حنيش عَن الْحجَّاج بِهِ وَرَوَاهُ أَبُو يعلى الْموصِلِي حَدثنَا عقبَة بن مكرم حَدثنَا يُونُس بن بكير عَن إِبْرَاهِيم بن إِسْمَاعِيل عَن أبي الزبير

- 19

 

‌‌بَاب التَّكْبِير على الْجِنَازَة أَرْبعا

(540) حَدثنَا يَعْقُوب بن حميد بن كاسب حَدثنَا الْمُغيرَة بن عبد الرَّحْمَن حَدثنَا خَالِد بن إلْيَاس عَن إِسْمَاعِيل بن عَمْرو بن سعيد بن الْعَاصِ عَن عُثْمَان بن عبد الله بن الحكم بن الْحَارِث عَن عُثْمَان بن عَفَّان أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم صلى على عُثْمَان بن مَظْعُون وَكبر عَلَيْهِ أَرْبعا

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف خَالِد بن إلْيَاس ضعفه
১৫ - ১৭

 

‌‌জানাযার সালাতে কিরাত পাঠ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

(৫৩৮) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন আবি আসিম আন-নাবিল এবং ইব্রাহিম বিন আল-মুস্তামির, তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন জাফর আল-আবদি, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন শাহর বিন হাওশাব, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উম্মু শারিক, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জানাযার সালাতে ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এটি একটি হাসান (উত্তম) সনদ। শাহর এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারী রাবীর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তাঁর মুসনাদে হাম্মাদ বিন জাফরের সূত্র ধরে এটি বর্ণনা করেছেন।

- ১৮

 

‌‌জানাযার সালাতে দুআ করা প্রসঙ্গে

(৫৩৯) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ, তিনি বর্ণনা করেছেন হাফস বিন গিয়াস থেকে, তিনি হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর এবং উমর (রা.) আমাদের জন্য কোনো বিষয়ে এমন প্রশস্ততা রাখেননি যা তাঁরা জানাযার সালাতের ক্ষেত্রে রেখেছেন; অর্থাৎ তাঁরা এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বা সীমা নির্ধারণ করে দেননি।

এটি একটি যঈফ (দুর্বল) সনদ। হাজ্জাজ হলেন ইবনুল আরতাহ, তিনি অধিক তাদলীসকারী ছিলেন এবং এ জন্য তিনি প্রসিদ্ধ। আহমদ বিন মানি' তাঁর মুসনাদে আব্দুল কুদ্দুস বিন বকর বিন হুনাইশ-এর সূত্রে হাজ্জাজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উকবা বিন মুকরিম, তিনি বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন বুকাইর থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন ইসমাইল থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে।

- ১৯

 

‌‌জানাযার সালাতে চার তাকবীর প্রদান প্রসঙ্গে

(৫৪০) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন হুমাইদ বিন কাসিব, তিনি বর্ণনা করেছেন মুগীরা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি খালিদ বিন ইলিয়াস থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আমর বিন সাঈদ বিন আল-আস থেকে, তিনি উসমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাকাম বিন আল-হারিস থেকে, তিনি উসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উসমান বিন মাজউন-এর জানাযার সালাত আদায় করেছেন এবং তাতে চার তাকবীর প্রদান করেছেন।

এটি একটি যঈফ সনদ। খালিদ বিন ইলিয়াসকে দুর্বল বলা হয়েছে...
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
أَحْمد وَابْن معِين وَالْبُخَارِيّ وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَأَبُو حَاتِم وَغَيرهم وَله شَاهد من حَدِيث ابْن عَبَّاس رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة

(541) حَدثنَا عَليّ بن مُحَمَّد حَدثنَا عبد الرَّحْمَن الْمحَاربي حَدثنَا الهجري قَالَ صليت مَعَ عبد الله بن أبي أوفى الْأَسْلَمِيّ صَاحب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على جَنَازَة ابْنة لَهُ فَكبر عَلَيْهَا أَرْبعا فَمَكثَ بعد الرَّابِعَة شَيْئا قَالَ فَسمِعت الْقَوْم يسبحون بِهِ من نواحي الصُّفُوف فَسلم ثمَّ قَالَ أَكُنْتُم ترَوْنَ أَنِّي مكبر خمْسا قَالُوا تخوفنا ذَلِك قَالَ لم أكن لأَفْعَل وَلَكِن سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يكبر أَرْبعا ثمَّ يمْكث سَاعَة فَيَقُول مَا شَاءَ الله أَن يَقُول ثمَّ يسلم

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لضعف الهجري واسْمه إِبْرَاهِيم بن مُسلم الْكُوفِي ضعفه سُفْيَان بن عُيَيْنَة وَابْن معِين وَالنَّسَائِيّ والأزدي وَغَيرهم

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ فِي مُسْنده من طَرِيق الهجري وَكَذَا مُسَدّد فِي مُسْنده وَأحمد بن منيع فِي مُسْنده

وَرَوَاهُ الْحَاكِم من طَرِيق جَعْفَر بن عون عَن إِبْرَاهِيم الهجري بِهِ وَمن طَرِيق الْحَاكِم رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ بِزِيَادَة وَرَوَاهُ الْحميدِي فِي مُسْنده عَن سُفْيَان عَن الهجري بِهِ وسياقه أتم

16 - 20

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِيمَا كبر خمْسا

حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر الخوامي حَدثنَا بن عَليّ الرِّفَاعِي عَن كثير بن عبد الله عَن أَبِيه عَن جده أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كبر خمْسا هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف كثير بن عبد الله قَالَ فِيهِ الشَّافِعِي ركن من أَرْكَان الْكَذِب وَقَالَ ابْن حبَان روى عَن أَبِيه عَن جده نُسْخَة مَوْضُوعَة وَقَالَ ابْن عبد الْبر مجمع على ضعفه انْتهى وَإِبْرَاهِيم بن عَليّ ضعفه البُخَارِيّ وَابْن حبَان ورماه بَعضهم بِالْكَذِبِ
আহমদ, ইবনে মাঈন, আল-বুখারী, আবু দাউদ, আত-তিরমিযী, আন-নাসায়ী, আবু হাতিম এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আব্বাসের বর্ণিত একটি হাদীস এর সমর্থক হিসেবে রয়েছে যা তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

(৫৪১) আলী বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুর রহমান আল-মুহারিবী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-হিজরী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবদুল্লাহ বিন আবি আওফা আল-আসলামীর সাথে তাঁর এক মেয়ের জানাযার সালাত আদায় করেছি। তিনি তার ওপর চারবার তাকবীর দিলেন এবং চতুর্থ তাকবীরের পর কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। তিনি বলেন: তখন আমি কাতারসমূহের বিভিন্ন দিক থেকে লোকজনকে তাসবীহ পাঠ করতে শুনলাম। এরপর তিনি সালাম ফেরালেন এবং বললেন: তোমরা কি মনে করেছিলে যে আমি পাঁচবার তাকবীর দেব? তারা বললেন: আমরা সেই আশঙ্কাই করছিলাম। তিনি বললেন: আমি তা করতাম না, কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনেছি যে তিনি চার তাকবীর দিতেন এবং কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে আল্লাহ যা পছন্দ করতেন তা বলতেন, এরপর সালাম ফেরাতেন।

এই সনদটি আল-হিজরীর দুর্বলতার কারণে দুর্বল। তার নাম ইব্রাহিম বিন মুসলিম আল-কুফী। সুফিয়ান বিন উইয়াইনা, ইবনে মাঈন, আন-নাসায়ী, আল-আযদি এবং অন্যান্যরা তাকে দুর্বল বলেছেন।

আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তার মুসনাদে আল-হিজরীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে মুসাদ্দাদ তার মুসনাদে এবং আহমদ বিন মানী তার মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-হাকিম এটি জাফর বিন আউনের সূত্রে ইব্রাহিম আল-হিজরী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আল-হাকিমের সূত্র থেকে আল-বায়হাকী এটি অতিরিক্ত অংশসহ বর্ণনা করেছেন। আল-হুমাইদী তার মুসনাদে সুফিয়ান থেকে আল-হিজরীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।

১৬ - ২০

 

‌‌পরিচ্ছেদ: পাঁচ তাকবীর প্রদান সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

ইব্রাহিম বিন আল-মুনযির আল-খাওয়ামি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে আলী আল-রিফাঈ কাসীর বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচবার তাকবীর দিয়েছেন। এই সনদটি দুর্বল। কাসীর বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: "মিথ্যার ভিত্তিগুলোর অন্যতম একটি ভিত্তি।" ইবনে হিব্বান বলেছেন: "সে তার পিতা ও দাদার সূত্রে একটি জাল পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেছে।" ইবনে আবদিল বার বলেছেন: "তার দুর্বলতার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে।" সমাপ্ত। আর ইব্রাহিম বিন আলীকে আল-বুখারী এবং ইবনে হিব্বান দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন এবং কেউ কেউ তাকে মিথ্যাচারের দোষে অভিযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ٢) মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
17 - 21

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّلَاة على الطِّفْل

(543) حَدثنَا هِشَام بن عمار حَدثنَا البخْترِي بن عبيد عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صلوا على أطفالكم فَإِنَّهُم من أفراطكم

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف البخْترِي بن عبيد ضعفه أَبُو حَاتِم وَابْن عدي وَابْن حبَان وَالدَّارَقُطْنِيّ وَكذبه الْأَزْدِيّ وَقَالَ فِيهِ أَبُو نعيم الْأَصْبَهَانِيّ وَالْحَاكِم والنقاش يرْوى عَن أَبِيه مَوْضُوعَات

18 - 22

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّلَاة على ابْن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَذكر وَفَاته

(544) حَدثنَا عبد القدوس بن مُحَمَّد حَدثنَا دَاوُد بن شبيب الْبَاهِلِيّ حَدثنَا إِبْرَاهِيم بن عُثْمَان حَدثنَا الحكم بن عتيبة عَن مقسم عَن ابْن عَبَّاس قَالَ لما مَاتَ إِبْرَاهِيم ابْن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم صلى عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ إِن لَهُ مُرْضعًا فِي الْجنَّة وَلَو عَاشَ لَكَانَ صديقا نبيّا وَلَو عَاشَ لعتقت أَخْوَاله وَمَا اسْترق قبْطِي

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لضعف إِبْرَاهِيم بن عُثْمَان أَبُو شيبَة وَله شَاهد فِي صَحِيح البُخَارِيّ وَغَيره من حَدِيث عبد الله بن أبي أوفى

(545) حَدثنَا عبد الله بن عمرَان حَدثنَا دَاوُد حَدثنَا هِشَام بن الْوَلِيد عَن أمه عَن فَاطِمَة بنت الْحُسَيْن عَن أَبِيهَا الْحُسَيْن بن عَليّ قَالَ لما توفّي الْقَاسِم ابْن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَت خَدِيجَة يَا رَسُول الله درت لَبِيبَة الْقَاسِم فَلَو كَانَ الله أبقاه حَتَّى يستكمل رضاعه فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن تَمام رضاعه فِي الْجنَّة قَالَت لَو أعلم ذَلِك يَا رَسُول الله لهون عَليّ أمره فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن شِئْت دَعَوْت الله تَعَالَى فأسمعك صَوته قَالَت يَا رَسُول الله بل صدق الله وَرَسُوله

هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لضعف هِشَام بن الْوَلِيد
১৭ - ২১

 

‌‌শিশুর জানাজার নামাজ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

(৫৪৩) আমাদের নিকট হিশাম বিন আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বখতারি বিন উবাইদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা তোমাদের শিশুদের জানাজা পড়ো, কেননা তারা তোমাদের অগ্রগামী (জান্নাতে তোমাদের সুপারিশকারী)।"

এই সনদটি দুর্বল। বখতারি বিন উবাইদকে আবু হাতিম, ইবনে আদি, ইবনে হিব্বান ও দারাকুতনি দুর্বল বলেছেন এবং আল-আজদি তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি, আল-হাকিম ও আন-নাক্কাশ তার সম্পর্কে বলেছেন যে, সে তার পিতার সূত্রে জাল হাদিস বর্ণনা করে।

১৮ - ২২

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্রের জানাজার নামাজ ও তাঁর ইন্তেকালের আলোচনা

(৫৪৪) আমাদের নিকট আবদুল কুদ্দুস বিন মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি দাউদ বিন শাবীব আল-বাহিলি থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন উসমান থেকে, তিনি হাকাম বিন উতাইবা থেকে, তিনি মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইব্রাহিম ইন্তেকাল করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জানাজা পড়লেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই জান্নাতে তার জন্য একজন দুধমাতা রয়েছে। সে যদি জীবিত থাকত, তবে সত্যবাদী নবী হতো। সে যদি জীবিত থাকত, তবে তার মাতুল বংশীয়রা (মামারা) মুক্ত হয়ে যেত এবং কোনো কিবতিকে (কপ্টিক) দাসে পরিণত করা হতো না।"

ইব্রাহিম বিন উসমান আবু শাইবাহ-এর দুর্বলতার কারণে এই সনদটি দুর্বল। তবে সহীহ বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে আবদুল্লাহ বিন আবি আওফা-এর হাদিস থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে।

(৫৪৫) আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ইমরান বর্ণনা করেছেন, তিনি দাউদ থেকে, তিনি হিশাম বিন আল-ওয়ালিদ থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে আল-হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা হুসাইন বিন আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র কাসিম ইন্তেকাল করলেন, তখন খাদিজা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কাসিমের দুধের প্রবাহ সচল ছিল, আল্লাহ যদি তাকে দুধপানের সময়কাল পূর্ণ করা পর্যন্ত জীবিত রাখতেন! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "জান্নাতে তার দুধপান পূর্ণ করা হবে।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি তা নিশ্চিতভাবে জানতাম, তবে তার শোক আমার জন্য সহজ হয়ে যেত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি চাইলে আমি মহামহিমান্বিত আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি যেন তিনি তোমাকে তার কণ্ঠস্বর শোনান।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, বরং আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই সত্য বলে বিশ্বাস করি।

হিশাম বিন আল-ওয়ালিদের দুর্বলতার কারণে এই সনদটি দুর্বল।