(খণ্ড: ১)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع - معمر بن راشد القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع [مطبوع آخر مصنف عبد الرزاق]
المؤلف: معمر بن راشد الأزدي
رواية: عبد الرزاق الصنعاني
المحقق: حبيب الرحمن الأعظمي [ت 1412 هـ]
الناشر: المجلس العلمي- الهند، توزيع المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الثانية، 1403 هـ - 1983
عدد الأجزاء: 2 [الأجزاء 10، 11 من المصنف لعبد الرزاق]
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-জামি - মা’মার ইবনে রাশিদ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-জামি [মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকের শেষে মুদ্রিত]
লেখক: মা’মার ইবনে রাশিদ আল-আজদী
বর্ণনা: আবদুর রাজ্জাক আস-সান’আনী
মুহাক্কিক: হাবিবুর রহমান আল-আজমী [মৃ. ১৪১২ হি.]
প্রকাশক: আল-মাজলিস আল-ইলমি- ভারত، পরিবেশনায় আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৩ হি. - ১৯৮৩
খণ্ড সংখ্যা: ২ [মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকের ১০ ও ১১তম খণ্ড]
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الجامع (منشور كملحق بمصنف عبد الرزاق) ]ـ
المؤلف: معمر بن أبي عمرو راشد الأزدي مولاهم، أبو عروة البصري، نزيل اليمن (المتوفى: 153هـ)
المحقق: حبيب الرحمن الأعظمي
الناشر: المجلس العلمي بباكستان، وتوزيع المكتب الإسلامي ببيروت
الطبعة: الثانية، 1403 هـ
عدد الأجزاء: 2 (الأجزاء 10، 11 من المصنف)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التخريج]
ـ[আল-জামে' (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকের পরিশিষ্ট হিসেবে প্রকাশিত)]ـ
লেখক: মা'মার বিন আবু আমর রাশিদ আল-আযদি মাওলাহুম, আবু উরওয়াহ আল-বাসরি, ইয়ামেনে বসবাসকারী (মৃত্যু: ১৫৩ হিজরি)
সম্পাদক: হাবিবুর রহমান আল-আজমি
প্রকাশক: আল-মাজলিস আল-ইলমি, পাকিস্তান এবং পরিবেশনায় আল-মাকতাব আল-ইসলামি, বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৩ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ২ (মুসান্নাফ গ্রন্থের ১০ ও ১১ নম্বর খণ্ড)
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং এটি তাখরিজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٧٩)
بَابُ وُجُوبِ الِاسْتِئْذَانِ
অনুমতি প্রার্থনার আবশ্যকতা বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٧٩)
19419 - حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبَّادٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: «ثَلَاثُ آيَاتٍ مُحْكَمَاتٍ لَا يُعْمَلُ بِهِنَّ الْيَوْمَ، تَرَكَهُنَّ النَّاسُ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ} [النور: 58] ، وَهَذِهِ الْآيَةُ {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] فَأَبَيْتُمْ إِلَّا فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ، وَفُلَانَ بْنَ فُلَانٍ»
১৯৪১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ওমর আহমদ ইবনে খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্বাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস বলতেন: «তিনটি মুহকাম (সুপ্রতিষ্ঠিত) আয়াত রয়েছে যেগুলোর ওপর আজ আমল করা হচ্ছে না, মানুষ সেগুলো বর্জন করেছে: {হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন তোমাদের নিকট তিন সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে} [আন-নূর: ৫৮], এবং এই আয়াতটি: {হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার; নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক আল্লাহভীরু} [আল-হুজুরাত: ১৩]; কিন্তু তোমরা অমুকের পুত্র অমুক এবং অমুকের পুত্র অমুক (অর্থাৎ বংশীয় আভিজাত্য) ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছ।»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٠)
19420 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: «الْمَمْلُوكُونَ، وَمَنْ لَمْ يَبْلُغِ الْحُلُمَ يَسْتَأْذِنُونَ فِي هَذِهِ الثَّلَاثِ سَاعَاتٍ: قَبْلَ صَلَاةِ الْفَجْرِ، وَنِصْفِ النَّهَارِ، وَبَعْدَ الْعِشَاءِ، {وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ} [النور: 59] »
১৯৪২০ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেছেন: “দাসগণ এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা এই তিন সময়ে অনুমতি প্রার্থনা করবে: ফজরের সালাতের পূর্বে, দ্বিপ্রহরে এবং এশার সালাতের পর; ‘আর তোমাদের সন্তানদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছে, তারা যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা অনুমতি প্রার্থনা করত।’ [আন-নূর: ৫৯]”
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٠)
19421 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ نَذِيرٍ، أَنَّ حُذَيْفَةَ، سُئِلَ: أَيَسْتَأْذِنُ الرَّجُلُ عَلَى وَالِدَتِهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ، إِنَّكَ إِنْ لَمْ تَفْعَلْ رَأَيْتَ مِنْهَا مَا تَكْرَهُ»
১৯৪২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি মুসলিম ইবনে নাযীর থেকে বর্ণনা করেন যে, হুজায়ফাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: একজন ব্যক্তি কি তার মায়ের নিকট প্রবেশের অনুমতি গ্রহণ করবে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তুমি যদি তা না করো, তবে তুমি তার এমন কিছু দেখে ফেলবে যা তোমার নিকট অপছন্দনীয় হবে»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٠)
بَابُ الِاسْتِئْذَانِ ثَلَاثًا
তিনবার অনুমতি গ্রহণের অধ্যায়
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٠)
19422 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: كَانُوا يَقُولُونَ: «إِذَا سَلَّمْتَ ثَلَاثًا فَلَمْ تُجَبْ، فَانْصَرِفْ»
১৯৪২২ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেন: তারা বলতেন: "যখন তুমি তিনবার সালাম দেবে এবং কোনো উত্তর পাবে না, তখন ফিরে যাবে।"
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨١)
19423 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: سَلَّمَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ، عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، فَرَجَعَ، فَأَقْبَلَ عُمَرُ فِي أَثَرِهِ، فَقَالَ: لِمَ رَجَعْتَ؟ فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِذَا سَلَّمَ أَحَدُكُمْ ثَلَاثًا فَلَمْ يُجَبْ فَلْيَرْجِعْ» . فَقَالَ عُمَرُ: لَتَأْتِيَنِّي عَلَى مَا تَقُولُ بِبَيِّنَةٍ، أَوْ لَأَفْعَلَنَّ بِكَ كَذَا، غَيْرَ أَنَّهُ قَدْ أَوْعَدَهُ، فَجَاءَنَا أَبُو مُوسَى مُنْتَقِعًا لَوْنُهُ، وَأَنَا فِي حِلْقَةٍ جَالِسٌ، فَقُلْنَا: مَا شَأْنُكَ؟ فَقَالَ: سَلَّمْتُ عَلَى عُمَرَ، فَأَخْبَرَنَا خَبَرَهُ، فَهَلْ سَمِعَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالُوا: كُلُّنَا قَدْ سَمِعَهُ، فَأَرْسَلُوا مَعَهُ رَجُلًا مِنْهُمْ، حَتَّى أَتَى عُمَرَ فَأَخْبَرَهُ ذَلِكَ
১৯৪২৩ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সা’ঈদ আল-জুরাইরী থেকে, তিনি আবু নাদরা থেকে, তিনি আবু সা’ঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স আবু মুসা আল-আশ’আরী (রা.) উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে তিনবার সালাম দিলেন, কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। ফলে তিনি ফিরে গেলেন। এরপর উমর (রা.) তার পেছনে পেছনে আসলেন এবং বললেন: ‘আপনি কেন ফিরে গেলেন?’ তিনি বললেন: ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “তোমাদের কেউ যখন তিনবার সালাম দেয় এবং তাকে উত্তর দেওয়া না হয়, তবে সে যেন ফিরে যায়”।’ তখন উমর (রা.) বললেন: ‘আপনি যা বলছেন তার সপক্ষে অবশ্যই আপনাকে প্রমাণ পেশ করতে হবে, নতুবা আমি আপনার সাথে এমন এমন আচরণ করব’, মূলত তিনি তাকে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর আবু মুসা (রা.) অত্যন্ত বিবর্ণ চেহারায় আমাদের কাছে আসলেন, তখন আমি একটি মজলিসে বসা ছিলাম। আমরা বললাম: ‘আপনার কী হয়েছে?’ তিনি বললেন: ‘আমি উমরকে সালাম দিয়েছিলাম...’ এরপর তিনি আমাদের কাছে পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন এবং বললেন: ‘আপনাদের মধ্যে কি কেউ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি শুনেছেন?’ তারা বললেন: ‘আমরা সকলেই এটি শুনেছি।’ অতঃপর তারা তাদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তিকে তার সাথে পাঠালেন, যিনি উমরের কাছে গিয়ে তাকে বিষয়টি অবহিত করলেন।
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨١)
19424 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: سَلَّمْتُ عَلَى أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ثَلَاثًا، فَلَمْ يُجِبْنِي أَحَدٌ، فَتَنَحَّيْتُ فِي نَاحِيَةِ الدَّارِ، فَإِذَا رَسُولٌ قَدْ خَرَجَ إِلَيَّ، فَقَالَ: ادْخُلْ، فَلَمَّا دَخَلْتُ، قَالَ لِي أَبُو سَعِيدٍ: «أَمَا إِنَّكَ لَوْ زِدْتَ لَمْ آذَنْ لَكَ»
১৯৪২৪ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আসিম ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণিত, আবুল আলিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে তিনবার সালাম প্রদান করলাম, কিন্তু কেউ আমাকে উত্তর দিল না। ফলে আমি বাড়ির এক পাশে সরে দাঁড়ালাম। এমতাবস্থায় একজন বার্তাবাহক আমার নিকট বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: প্রবেশ করুন। অতঃপর যখন আমি প্রবেশ করলাম, আবু সাঈদ আমাকে বললেন: «জেনে রাখো, তুমি যদি এর অধিক করতে তবে আমি তোমাকে অনুমতি দিতাম না।»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨١)
19425 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ ⦗ص: 382⦘ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَوْ غَيْرِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَأْذَنَ عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، فَقَالَ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ» فَقَالَ سَعْدٌ: وَعَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، وَلَمْ يَسْمَعِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى سَلَّمَ ثَلَاثًا، وَرَدَّ عَلَيْهِ سَعْدٌ ثَلَاثًا، وَلَمْ يَسْمَعْهُ، فَرَجَعَ، وَاتَّبَعَهُ سَعْدٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بِأَبِي أَنْتَ، مَا سَلَّمْتَ تَسْلِيمَةً إِلَّا وَهِيَ بِأُذُنِي، وَلَقَدْ رَدَدْتُ عَلَيْكَ، وَلَمْ أُسْمِعْكَ، أَحْبَبْتُ أَنْ أَسْتَكْثِرَ مِنْ سَلَامِكَ، وَمِنَ الْبَرَكَةِ، ثُمَّ أَدْخَلَهُ الْبَيْتَ، فَقَرَّبَ إِلَيْهِ زَبِيبًا، فَأَكَلَ مِنْهُ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ: «أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ»
১৯৪২৫ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাবিত ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮২⦘ আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস (রা.) অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ ইবনে উবাদাহ (রা.)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: «আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ» (আপনাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)। সাদ (রা.) উত্তর দিলেন: ওয়া আলাইকাস সালামু ওয়া রহমাতুল্লাহ। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেলেন না। এভাবে তিনি তিনবার সালাম দিলেন এবং সাদ (রা.)-ও তিনবার উত্তর দিলেন, কিন্তু তিনি তা শুনতে পেলেন না। ফলে তিনি ফিরে যেতে লাগলেন। তখন সাদ (রা.) তাঁর পিছু নিলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! আপনি যতবারই সালাম দিয়েছেন, তা আমার কানে পৌঁছেছে। আমি আপনার সালামের উত্তরও দিয়েছি, কিন্তু আপনাকে তা শোনাইনি; কারণ আমি চেয়েছিলাম আপনার সালাম এবং বরকত অধিক পরিমাণে লাভ করতে। এরপর তিনি তাঁকে ঘরের ভেতরে নিয়ে গেলেন এবং তাঁর সামনে কিসমিস পেশ করলেন। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে আহার করলেন। যখন তিনি আহার শেষ করলেন, তখন বললেন: «পুণ্যবান ব্যক্তিরা তোমাদের খাদ্য গ্রহণ করুক, ফেরেশতারা তোমাদের জন্য রহমতের প্রার্থনা করুক এবং রোজাদাররা তোমাদের নিকট ইফতার করুক।»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٢)
19426 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَقِيلٍ، قَالَ: سَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ ثَلَاثًا، فَلَمْ يَأْذَنْ لَهُ، كَانَ عَلَى حَاجَةٍ، فَرَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَامَ سَعْدٌ سَرِيعًا فَاغْتَسَلَ، ثُمَّ تَبِعَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي كُنْتُ عَلَى حَاجَةٍ، فَقُمْتُ فَاغْتَسَلْتُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ»
১৯৪২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, মা'মার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আকীল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সা’দ ইবনে উবাদাহকে তিনবার সালাম দিলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন না, কারণ তিনি প্রয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে গেলেন। অতঃপর সা’দ দ্রুত উঠে গোসল করলেন এবং তাঁর পিছু নিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি প্রয়োজনে ব্যস্ত ছিলাম, তাই আমি উঠে গোসল করলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "পানি (গোসল) তো পানির (বীর্যপাতের) কারণেই।"
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٢)
الِاسْتِئْذَانُ بَعْدَ السَّلَامِ
সালাম প্রদানের পর অনুমতি প্রার্থনা
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٢)
19427 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: اسْتَأْذَنَ أَعْرَابِيٌّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: أَدْخُلُ؟ وَلَمْ يُسَلِّمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِبَعْضِ أَهْلِ الْبَيْتِ: «مُرُوهُ فَلْيُسَلِّمْ» ، فَسَمِعَهُ الْأَعْرَابِيُّ، فَسَلَّمَ، فَأَذِنَ لَهُ
১৯৪২৭ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা‘মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করল এবং বলল: "আমি কি প্রবেশ করব?" অথচ সে সালাম প্রদান করেনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবারের কোনো এক সদস্যকে বললেন: «তাকে নির্দেশ দাও যেন সে সালাম দেয়»; তখন বেদুইন তা শুনতে পেল এবং সালাম দিল, অতঃপর তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٣)
19428 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ رَجُلٍ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ، فَاسْتَأْذَنَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ: أَدْخُلُ؟ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: «لَا» ، فَأَمَرَ بَعْضُهُمُ الرَّجُلَ أَنْ يُسَلِّمَ، فَسَلَّمَ، فَأَذِنَ لَهُ
১৯৪২৮ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরের নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল এবং তাঁকে বলল: "আমি কি প্রবেশ করব?" ইবনে উমর বললেন: "না।" তখন উপস্থিতদের কেউ লোকটিকে সালাম দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর সে সালাম দিল এবং তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٣)
19429 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، «أَنَّ قَوْمًا، جَلَسُوا إِلَى حُذَيْفَةَ، فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَقُومَ استأذَنَهُمْ»
১৯৪২৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, মা’মারের সূত্রে, কাতাদাহর সূত্রে যে, একদল লোক হুজায়ফার নিকট বসেছিলেন। অতঃপর যখন তিনি উঠে যেতে চাইলেন, তখন তিনি তাদের নিকট অনুমতি চাইলেন।
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٣)
19430 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، قَالَ: مَرَّ ابْنُ عُمَرَ بِدَارٍ، فَإِذَا عَلَى بَابِهَا امْرَأَةٌ، وَأَرَادَ أَنْ يَدْخُلَ الدَّارَ، فَقَالَ لِلْمَرْأَةِ: «أَدْخُلُ؟» فَقَالَتْ: ادْخُلْ بِسَلَامٍ، فَمَضَى وَكَرِهَ أَنْ يَدْخُلَ
১৯৪৩০ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মা’মার থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর একটি গৃহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, এমতাবস্থায় তার দরজায় একজন নারী ছিলেন। তিনি গৃহে প্রবেশ করার ইচ্ছা করলেন এবং সেই নারীকে বললেন: “আমি কি প্রবেশ করব?” তখন তিনি (নারীটি) বললেন: “সালামের সাথে প্রবেশ করুন।” অতঃপর তিনি চলে গেলেন এবং সেখানে প্রবেশ করা অপছন্দ করলেন।
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٣)
بَابُ الرَّجُلِ يَطَّلِعُ فِي بَيْتِ الرَّجُلِ
পরিচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির ঘরে উঁকি দেওয়া
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٣)
19431 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَجُلًا اطَّلَعَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ سُتْرَةِ الْحُجْرَةِ، وَفِي يَدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِدْرَى، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ أَعْلَمُ أَنَّ أَحَدًا يَنْظُرُنِي حَتَّى آتِيَهُ، لَطَعَنْتُ بِالْمِدْرَى فِي عَيْنِهِ، وَهَلْ جُعِلَ الِاسْتِئْذَانُ إِلَّا مِنْ أَجْلِ النَّظَرِ؟»
১৯৪৩১ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা’দ আস-সা’ইদী থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কক্ষের আড়াল থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে উঁকি দিল। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে একটি চিরুনি ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি যদি জানতাম যে কেউ উঁকি দিয়ে আমাকে দেখছে যতক্ষণ না আমি তার কাছে পৌঁছাই, তবে আমি এই চিরুনি দিয়ে তার চোখে আঘাত করতাম। মূলত দৃষ্টির (সুরক্ষার) কারণেই কি অনুমতি গ্রহণের বিধান দেওয়া হয়নি?»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٣)
19432 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، «أَنَّ رَجُلًا اطَّلَعَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حُجْرَتِهِ، فَخَتَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعُودٍ فَأَخْطَأَهُ»
১৯৪৩২ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মা’মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কামরার ভেতর উঁকি দিয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাঠি নিয়ে তাকে অতর্কিতভাবে আঘাত করার প্রয়াস চালালেন, কিন্তু তিনি তাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেন।
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٤)
19433 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنِ اطَّلَعَ عَلَى قَوْمٍ فِي بَيْتِهِمْ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ فَقَدْ حَلَّ لَهُمْ أَنْ يَفْقَئُوا عَيْنَهُ»
১৯৪৩৩ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মা’মার হতে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের ঘরে তাদের অনুমতি ব্যতীত উঁকি দিল, তবে তাদের জন্য তার চোখ ফুঁড়ে দেওয়া বৈধ হয়ে গেল।»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٤)
بَابُ: كَيْفَ السَّلَامُ وَالرَّدُّ
অধ্যায়: সালাম প্রদান ও উত্তর প্রদানের পদ্ধতি
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٤)
19434 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، قَالَ: سَلَّمَ أَبُو جُرَيٍّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: عَلَيْكُمُ السَّلَامُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «عَلَيْكُمُ السَّلَامُ تَحِيَّةُ الْمَوْتَى، وَلَكِنْ قُلْ: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ»
১৯৪৩৪ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি সাঈদ আল-জুরাইরি থেকে এবং তিনি আবু তামীমা আল-হুজাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু জুরাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিয়ে বললেন: ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’ হলো মৃতদের অভিবাদন, বরং তুমি বলো: ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’।”
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٤)
19435 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ، طُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، فَلَمَّا خَلَقَهُ قَالَ: اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ النَّفَرِ - وَهُمْ نَفَرٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ جُلُوسٌ - فَاسْتَمِعْ إِلَى مَا يُجِيبُونَكَ، فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ، وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ، قَالَ: فَذَهَبَ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا: السَّلَامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَزَادُوهُ: وَرَحْمَةُ اللَّهِ، قَالَ: فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ طُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ حَتَّى الْآنَ»
১৯৪৩৫ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মা’মার থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজের সুরতে সৃষ্টি করেছেন, যার দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। যখন তিনি তাঁকে সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন: যাও এবং ওই দলটিকে সালাম দাও - তারা ছিল ফেরেশতাদের একটি উপবিষ্ট দল - এবং তারা তোমাকে কী জবাব দেয় তা মনোযোগ দিয়ে শোনো, কারণ সেটিই হবে তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন। তিনি (আদম) বললেন: অতঃপর তিনি গেলেন এবং বললেন: আসসালামু আলাইকুম। তারা উত্তর দিল: আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তারা 'ওয়া রাহমাতুল্লাহ' অংশটুকু বৃদ্ধি করল। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: সুতরাং যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদমের সুরতে প্রবেশ করবে, যাদের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সৃষ্টি (মানুষের উচ্চতা) ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٥)
19436 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: كَانَ إِذَا سُلِّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ، قَالَ: «وَعَلَيْكُمْ»
১৯৪৩৬ - আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি বলেন: যখন তাঁকে সালাম দেওয়া হতো, তখন তিনি উত্তর দিতেন এবং বলতেন: «এবং তোমাদের ওপরও»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٥)
وَذُكِرَ، أَنَّ عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ سَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَرَدَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السَّلَامَ، فَقَالَ: «وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ»
এবং বর্ণিত হয়েছে যে, আম্মার ইবনে ইয়াসির আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম প্রদান করলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: "এবং তোমাদের ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক।"
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٥)
قَالَ: وَكَانَ الْحَسَنُ إِذَا رَدَّ السَّلَامَ، قَالَ: «وَعَلَيْكُمْ»
তিনি বললেন: হাসান যখন সালামের উত্তর দিতেন, তখন তিনি বলতেন: "এবং তোমাদের উপরেও।"
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٥)
19437 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ الْحُصَيْنِ، قَالَ: «كُنَّا نَقُولُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ: أَنْعَمَ اللَّهُ بِكَ عَيْنًا، وَأَنْعِمْ صَبَاحًا، فَلَمَّا كَانَ الْإِسْلَامُ نُهِينَا عَنْ ذَلِكَ» ، قَالَ مَعْمَرٌ: «فَيُكْرَهُ أَنْ يَقُولَ: أَنْعَمَ اللَّهُ بِكَ عَيْنًا، وَلَا بَأْسَ أَنْ يَقُولَ: أَنْعَمَ اللَّهُ عَيْنَكَ»
১৯৪৩৭ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি বর্ণনা করেন যে, ইমরান ইবনুল হুসাইন বলেছেন: «আমরা জাহেলি যুগে বলতাম: আল্লাহ আপনার মাধ্যমে (কারো) চোখ শীতল করুন, এবং আপনার সকাল আনন্দময় হোক। অতঃপর যখন ইসলামের আগমন ঘটল, তখন আমাদের এ থেকে নিষেধ করা হলো।» মা’মার বলেন: «'আল্লাহ আপনার মাধ্যমে চোখ শীতল করুন' বলা অপছন্দনীয়, তবে 'আল্লাহ আপনার চোখ শীতল করুন' বলাতে কোনো বাধা নেই।»
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٥)
بَابُ إِفْشَاءِ السَّلَامِ
সালাম প্রচারের অধ্যায়
(খণ্ড: ١٠)
আল-জামি - মামার বিন রাশিদ
(পৃষ্ঠা: ٣٨٥)
19438 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ، رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الْأُمَمِ: الْحَسَدُ، وَالْبَغْضَاءُ وَهِيَ الْحَالِقَةُ، لَا أَقُولُ: تَحْلِقُ الشَّعَرَ، وَلَكِنَّهَا تَحْلِقُ الدِّينَ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَفَلَا أُخْبِرُكُمْ بِشَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ، أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ»
১৯৪৩৮ - আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি ইয়াঈশ ইবনুল ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি হাদিসটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছেন (অর্থাৎ মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন), তিনি বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ব্যাধি সংক্রামিত হয়েছে: হিংসা ও বিদ্বেষ। আর তা হলো মুণ্ডনকারী। আমি বলছি না যে তা চুল মুণ্ডন করে, বরং তা দ্বীনকে মুণ্ডন (নিশ্চিহ্ন) করে দেয়। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা ঈমান আনবে, আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের সংবাদ দেব না যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও।»