(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: -)
القدر - ابن وهب - ت العثيم   (ابن وهب)

القسم: كتب السنة


الكتاب: القدر وما ورد في ذلك من الآثار

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن وهب بن مسلم المصري القرشي (ت 197 هـ)

المحقق: د. عبد العزيز عبد الرحمن العثيم

الناشر: دار السلطان - مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1406 هـ

عدد الصفحات: 175

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কদর - ইবনে ওয়াহাব - সম্পা. আল-উসাইমীন   (ইবনে ওয়াহাব)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-কদর এবং এ বিষয়ে বর্ণিত আসারসমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুসলিম আল-মিসরি আল-কুরাশি (মৃ. ১৯৭ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আব্দুল আজিজ আব্দুল রহমান আল-উসাইমীন

প্রকাশক: দারুস সুলতান - মক্কা আল-মুকাররামা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৫

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[القدر وما ورد في ذلك من الآثار]ـ

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن وهب بن مسلم المصري القرشي (المتوفى: 197هـ)

المحقق: د. عبد العزيز عبد الرحمن العثيم

الناشر: دار السلطان - مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1406

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التخريج]
[তাকদীর এবং এ সংক্রান্ত বর্ণিত আছারসমূহ]

লেখক: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম আল-মিসরী আল-কুরাশী (মৃত্যু: ১৯৭ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আব্দুল আজিজ আব্দুর রহমান আল-উসাইম

প্রকাশক: দারুস সুলতান - মক্কা মুকাররমা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং এটি তাখরীজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٥٢)
بسم الله الرحمن الرحيم

صلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما كثيرا

أخبرنا الشيخ الأجل المسند شهاب أبو الفضل عبد الرحمن بن يوسف بن يحيى الدمشقي أذنا قال أبو حفص عمر بن محمد بن معمر بن طبرزد الدارقزي قراءة عليه ونحن نسمع أنا أبو غالب أحمد بن الحسن بن أحمد بن البنا الفقيه أَنْبَأَنَا أبو الحسين محمد بن أحمد بن محمد بن حسنون القرشي قراءة عليه في سنة خمس وخمسين وأربع مائة قال قرئ على أبي بكر محمد بن إسماعيل ابن العباس بن محمد الوراق وأنا أسمع في جمادى الأولى من سنة اثنين وسبعين وثلاثمائة، حدثنا أبو بكر عبد الله بن سليمان بن الأشعث بن إسحاق السجستاني قراءة من أصل كتابه سنة إحدى وعشر وثلاثمائة حدثنا أبو جعفر أحمد بن سعيد بن بشر الهمداني المصري أَنْبَأَنَا عبد الله بن وهب:
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর অসংখ্য রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অত্যন্ত মর্যাদাবান শায়খ, মুসনিদ শিহাব আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া আদ-দিমাশকি আমাদের অনুমতিসূত্রে জানিয়েছেন যে, আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মা’মার বিন তাবারজাদ আদ-দারাকাজ্জি তাঁর নিকট পাঠকালে বলেছেন—এমতাবস্থায় যে আমরা তা শুনছিলাম—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ আবু গালিব আহমদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ বিন আল-বান্না। আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসনুন আল-কুরাশি ৪৫৫ হিজরি সালে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ৩৭২ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল ইবনুল আব্বাস বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাকের নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম। আবু বকর আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশআদ বিন ইসহাক আস-সিজিস্তানি ৩১১ হিজরি সালে তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আবু জাফর আহমদ বিন সাঈদ বিন বিশর আল-হামদানি আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন:
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٥٣)
‌‌بَابُ حِجَاجِ آدَمَ وَمُوسَى عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ
আদম ও মূসা (তাদের উভয়ের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বিতর্ক বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٥٣)
1 - أنبأ أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عِنْدَ ⦗ص: 54⦘ رَبِّهِمَا عز وجل فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى فَقَالَ: أَنْتَ آدَمُ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ وَأَسْجَدَ لَكَ مَلَائِكَتَهُ وَأَسْكَنَكَ فِي جَنَّتِهِ ثُمَّ أَهْبَطَ النَّاسَ بِخَطِيئَتِكَ إِلَى الْأَرْضِ، قَالَ آدَمُ: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلَامِهِ، وَأَعْطَاكَ الْأَلْوَاحَ فِيهَا تِبْيَانُ كُلِّ شَيْءٍ، وَقَرَّبَكَ نَجِيًّا، فَبِكَمْ وَجَدْتَ اللَّهَ عز وجل كَتَبَ التَّوْرَاةَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَخْلُقَنِي؟ قَالَ مُوسَى: بِأَرْبَعِينَ عَامًا، قَالَ آدَمُ: فَهَلْ وَجَدْتَ فِيهَا: {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى} [طه: 121] ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ أَفَتَلُومُنِي عَلَى أَنْ عَمِلْتُ عَمَلًا كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي بِأَرْبَعِينَ سَنَةً؟» قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى»

 

2 - قَالَ الْحَارِثُ: وَثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هُرْمُزَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ

 

3 -، أَخْبَرَنِي ⦗ص: 55⦘ هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ

 

4 - أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ اللَّيْثِيُّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ ثَوْبَانَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه يُحَدِّثُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ ذَلِكَ ⦗ص: 56⦘

 

5 - أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ ذَلِكَ

 

6 - أنبأ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ ⦗ص: 57⦘ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ ذَلِكَ

 

7 - قَالَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ: وَثنا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الضَّبِّيُّ الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيُّ قَالَ: ثنا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ
১ - আনাস বিন ইয়াদ সংবাদ দিয়েছেন আল-হারিস বিন আবদুর রহমান বিন আবি যুবাব থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন হুরমুজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আদম ও মূসা আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম তাঁদের ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ রব মহান প্রতাপশালী আল্লাহর নিকট বিতর্কে লিপ্ত হলেন। আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন। মূসা বললেন: আপনিই কি সেই আদম যাকে আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, তাঁর ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং তাঁর জান্নাতে আপনাকে বসবাস করতে দিয়েছেন, অতঃপর আপনার ভুলের কারণে আপনি মানুষকে পৃথিবীতে নামিয়ে এনেছেন? আদম বললেন: আপনিই কি সেই মূসা যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত ও বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন, আপনাকে ফলকসমূহ দান করেছেন যাতে সবকিছুর বিবরণ রয়েছে এবং আপনাকে নিভৃতে কথা বলার জন্য নৈকট্য দান করেছেন? আপনি তাওরাতে আমাকে সৃষ্টির কত বছর পূর্বে আল্লাহ মহান প্রতাপশালী তা লিখে রেখেছেন বলে পেয়েছেন? মূসা বললেন: চল্লিশ বছর পূর্বে। আদম বললেন: আপনি কি সেখানে এটি পেয়েছেন: {আদম তাঁর রবের অবাধ্য হলেন, ফলে তিনি পথভ্রষ্ট হলেন} [ত্বহা: ১২১]? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে কি আপনি আমাকে এমন একটি কাজ করার জন্য তিরস্কার করছেন যা আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর পূর্বেই আমার ওপর লিখে রেখেছেন?» আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।»

 

২ - আল-হারিস বলেছেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান বিন হুরমুজ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সেই মর্মে বর্ণনা করেছেন।

 

৩ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ হিশাম বিন সাদ, তিনি জায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সেই মর্মে বর্ণনা করেছেন।

 

৪ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উসামা বিন জায়েদ আল-লাইসি, তিনি উমর বিন আল-হাকাম বিন সাওবান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘

 

৫ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হুমাইদ বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ শুনেছেন।

 

৬ - সংবাদ দিয়েছেন মালিক বিন আনাস, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

৭ - আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বলেছেন: আমাদের নিকট আল-হুসাইন বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আদ-দব্বি আল-কাদি আবু আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন ইসমাইল আল-মাদানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সেই মর্মে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٦٧)
‌‌بَابُ تَقْدِيرِ أَعْمَارِ بَنِي آدَمَ وَمَا يَجْرِي عَلَيْهِمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُعْرَضُوا عَلَى أَبِيهِمْ آدَمَ عليه الصلاة والسلام
আদম সন্তানদের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ এবং তাদের পিতা আদমের (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সম্মুখে পেশ করার পূর্বে তাদের ওপর যা কিছু সংঘটিত হয় সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٦٧)
8 - أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَمَّا أَنْ خَلَقَ اللَّهُ عز وجل آدَمَ مَسَحَ عَلَى ظَهْرِهِ فَسَقَطَ مِنْ ظَهْرِهِ كُلُّ نَسَمَةٍ تَكُونُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَعَرَضَهُمْ عَلَى آدَمَ فَرَأَى فِي وَجْهِ كُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ وَبِيصًا مِنْ نُورٍ، فَرَأَى رَجُلًا مِنْهُمْ وَلَهُ وَبِيصٌ فَأَعْجَبَهُ، فَقَالَ: مَنْ هَذَا يَا رَبِّ؟ قَالَ: هَذَا مِنْ وَلَدِكِ اسْمُهُ دَاوُدُ قَالَ: كَمْ عُمْرُهُ يَا رَبِّ؟ قَالَ: سِتُّونَ ⦗ص: 68⦘ سَنَةً، قَالَ: زِدْهُ مِنْ عُمْرِي أَرْبَعِينَ سَنَةً، قَالَ: إِذَنْ تُكْتَبُ وَتُخَبَّأُ وَلَا تُبَدَّلُ، قَالَ: فَلَمَّا نَفِدَ عُمْرُ آدَمَ إِلَى أَرْبَعِينَ سَنَةً الَّتِي وَهَبَهَا لِدَاوُدَ أَتَاهُ مَلَكُ الْمَوْتِ فَقَالَ آدَمُ: قَدْ بَقِيَ مِنْ عُمْرِي أَرْبَعُونَ سَنَةً، قَالَ: أَلَمْ تُعْطِهَا ابْنَكَ دَاوُدَ؟ قَالَ: فَجَحَدَ آدَمُ فَجَحَدَتْ ذُرِّيَّتُهُ، وَخَطِئَ فَخَطِئَتْ ذُرِّيَّتُهُ، وَنَسِيَ فَنَسِيَتْ ذُرِّيَّتُهُ، فَرَأَى فِيهِمُ الْقَوِيَّ وَالضَّعِيفَ، وَالْغَنِيَّ وَالْفَقِيرَ، وَالصَّحِيحَ وَالْمُبْتَلَى، قَالَ: يَا رَبِّ، أَلَا سَوَّيْتَ بَيْنَهُمْ؟ قَالَ: أَرَدْتُ أَنْ أُشْكَرَ»
৮ - হিশাম ইবনে সাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন আল্লাহ মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আদমকে সৃষ্টি করলেন, তিনি তাঁর পিঠের ওপর মাসাহ করলেন, ফলে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর বংশধর থেকে যত প্রাণ সৃষ্টি হওয়ার ছিল তারা সবাই তাঁর পিঠ থেকে বের হয়ে এল। এরপর তিনি তাদেরকে আদমের সামনে পেশ করলেন। তখন তিনি তাদের প্রত্যেকের চেহারায় নূরের উজ্জ্বলতা দেখতে পেলেন। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে দেখে তাঁর উজ্জ্বলতা তাঁকে মুগ্ধ করল। তিনি বললেন: হে আমার রব, ইনি কে? আল্লাহ বললেন: এ তোমার সন্তানদের একজন, তাঁর নাম দাউদ। তিনি বললেন: হে আমার রব, তাঁর আয়ু কত? আল্লাহ বললেন: ষাট ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ বছর। তিনি বললেন: আমার আয়ু থেকে তাঁর আয়ু চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দিন। আল্লাহ বললেন: তাহলে এটি লিখে রাখা হবে এবং সংরক্ষিত করা হবে, আর এতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না। তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) বলেন: এরপর যখন আদমের আয়ু শেষ হয়ে এল এবং সেই চল্লিশ বছর বাকি ছিল যা তিনি দাউদকে দান করেছিলেন, তখন তাঁর নিকট মালাকুল মউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) আসলেন। আদম বললেন: আমার আয়ুর তো এখনো চল্লিশ বছর বাকি আছে। তিনি বললেন: আপনি কি তা আপনার পুত্র দাউদকে দান করেননি? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আদম অস্বীকার করলেন, ফলে তাঁর বংশধররাও অস্বীকার করল; তিনি ভুল করলেন, ফলে তাঁর বংশধররাও ভুল করল; এবং তিনি ভুলে গেলেন, ফলে তাঁর বংশধররাও ভুলে গেল। এরপর তিনি তাদের মধ্যে শক্তিশালী ও দুর্বল, ধনী ও দরিদ্র এবং সুস্থ ও বিপদগ্রস্তদের দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: হে আমার রব, আপনি কেন তাদের সবাইকে সমান করলেন না? আল্লাহ বললেন: আমি চেয়েছি যেন আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করা হয়।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٧٣)
‌‌بَابُ: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ} [الأعراف: 172]
পরিচ্ছেদ: {এবং যখন আপনার রব আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের গ্রহণ করলেন} [আল-আরাফ: ১৭২]
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٧٣)
9 - أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ جُهَيْنَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه سُئِلَ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ} [الأعراف: 172] الْآيَةِ كُلِّهَا، قَالَ عُمَرُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل خَلَقَ آدَمَ وَمَسَحَ عَلَى ظَهْرِهِ بِيَمِينِهِ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّتَهُ، فَقَالَ: خَلَقْتُ هَؤُلَاءِ لِلْجَنَّةِ، وَبِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَعْمَلُونَ، ثُمَّ مَسَحَ عَلَى ظَهْرِهِ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً، وَقَالَ: ⦗ص: 74⦘ خَلَقْتُ هَؤُلَاءِ لِلنَّارِ، وَبِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ يَعْمَلُونَ» فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَفِيمَ الْعَمَلُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ عز وجل إِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلْجَنَّةِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمِلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَدْخُلَ بِهِ، وَإِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلنَّارِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمِلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلَ بِهِ النَّارَ

 

10 - قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْوَرَّاقُ: وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ الضَّبِّيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيُّ قَالَ: ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، أَنَّ عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، أَخْبَرَهُ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ الْجُهَنِيِّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه سُئِلَ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ نَحْوَهُ

 

11 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ ⦗ص: 75⦘ الْمَعْرُوفُ بِأَبِي صَخْرَةَ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِمِائَةٍ قَالَ: ثنا أَبُو مُوسَى إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ حَ، قَالَ: وَثنا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ قَالَ: أنبأ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
৯ - মালিক ইবনে আনাস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যায়িদ ইবনে আবী উনাইসাহ থেকে, তিনি আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যায়িদ ইবনে আল-খাত্তাব থেকে, তিনি জুহায়নাহ গোত্রের একজন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: {আর যখন আপনার রব আদম সন্তানদের থেকে গ্রহণ করলেন...} [আল-আরাফ: ১৭২] সম্পূর্ণ আয়াতটি। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদমকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ডান হাত দিয়ে তার পিঠে হাত বুলিয়েছেন, অতঃপর তা থেকে তার সন্তানদের বের করেছেন। এরপর তিনি বললেন: আমি এদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জান্নাতবাসীদের আমল করবে। অতঃপর তিনি পুনরায় তার পিঠে হাত বুলিয়ে তা থেকে (অন্যান্য) সন্তানদের বের করলেন এবং বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ আমি এদেরকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জাহান্নামবাসীদের আমল করবে।" তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমলের কী মূল্য রইল? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যখন কোনো বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তাকে জান্নাতবাসীদের আমলের তাওফিক দেন, এমনকি সে জান্নাতবাসীদের কোনো আমল করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং এর বিনিময়ে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন তিনি কোনো বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তাকে জাহান্নামবাসীদের আমলে নিয়োজিত করেন, এমনকি সে জাহান্নামবাসীদের কোনো আমল করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং এর বিনিময়ে তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।"

 

১০ - মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-ওয়াররাক বলেন: এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দাব্বী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইসমাঈল আল-মাদানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যায়িদ ইবনে আবী উনাইসাহ থেকে যে, আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যায়িদ ইবনে আল-খাত্তাব তাকে মুসলিম ইবনে ইয়াসার আল-জুহানী থেকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, অতঃপর তিনি এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

 

১১ - আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কুরাশী ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ যিনি আবু সাখরাহ নামে পরিচিত, তিনি তিনশত নয় হিজরীতে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুসা ইসহাক ইবনে মুসা আল-আনসারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (হ), তিনি বলেন: এবং মা’ন ইবনে ঈসা আল-কাযযায আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস যায়িদ ইবনে আবী উনাইসাহ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তাঁর সনদসহ উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٨١)
‌‌بَابُ أَنَّ اللَّهَ عز وجل جَعَلَ لِلْجَنَّةِ وَلِلنَّارِ أَهْلًا قَبْلَ أَنْ يُخْلَقُوا وَيَعْمَلُوا
মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ জান্নাত এবং জাহান্নামের অধিবাসী তাদের সৃষ্টির এবং আমল করার পূর্বেই নির্ধারণ করেছেন সে বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٨١)
12 - أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمَّا خَلَقَ آدَمَ عليه الصلاة والسلام أَخْرَجَ ذُرِّيَّتَهُ ثُمَّ نَثَرَهُمْ فِي كَفِّهِ، ثُمَّ أَفَاضَهُمْ ⦗ص: 82⦘ فَأَلْقَى الَّتِي فِي يَمِينِهِ عَنْ يَمِينِهِ، وَالَّتِي فِي يَدِهِ الْأُخْرَى عَنْ شِمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ: هَؤُلَاءِ لِهَذِهِ وَلَا أُبَالِي، وَهَؤُلَاءِ لِهَذِهِ وَلَا أُبَالِي، وَكَتَبَ أَهْلَ النَّارِ وَمَا هُمْ عَامِلُونَ، وَأَهْلَ الْجَنَّةِ وَمَا هُمْ عَامِلُونَ، وَطَوَى الْكِتَابَ، وَرَفَعَ الْقَلَمَ
১২ - জারীর বিন হাযিম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল যখন আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর সন্তানদের বের করলেন এবং তারপর তাদের তাঁর হাতের তালুতে ছড়িয়ে দিলেন, এরপর তাদের ঢেলে দিলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৮২⦘ অতঃপর যারা তাঁর ডান হাতে ছিল তাদের তাঁর ডান দিকে রাখলেন, আর যারা তাঁর অন্য হাতে ছিল তাদের তাঁর বাম দিকে রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: এরা এর (জান্নাতের) জন্য এবং আমি পরোয়া করি না, আর এরা এর (জাহান্নামের) জন্য এবং আমি পরোয়া করি না। আর তিনি জাহান্নামীদের নাম ও তারা যা করবে তা লিখে নিলেন এবং জান্নাতীদের নাম ও তারা যা করবে তা লিখে নিলেন; এরপর তিনি কিতাব গুটিয়ে নিলেন এবং কলম উঠিয়ে নেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٨٣)
‌‌بَابُ: خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَصْحَابِهِ وَفِي يَدِهِ كِتَابَانِ
অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট বের হলেন এবং তাঁর হাতে দুটি কিতাব ছিল
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٨٣)
13 - أنبأ ابْنُ لَهِيعَةَ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، ⦗ص: 84⦘ وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ الْمُعَافِرِيِّ، عَنْ شُفَيٍّ الْأَصْبَحِيِّ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا ⦗ص: 85⦘ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي يَدِهِ كِتَابَانِ، فَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَا هَذَا؟» قَالَ: فَقُلْنَا: لَا، إِلَّا أَنْ تُخْبِرَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: «هَذَا كِتَابٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ، فِيهِ أَسْمَاءُ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَأَسْمَاءُ آبَائِهِمْ وَقَبَائِلِهِمْ، وَأَجْمَلَ عَلَى آخِرِهِمْ فَلَا يُزَادُ فِيهِمْ، وَلَا يُنْقَصُ مِنْهُمْ أَبَدًا، وَهَذَا كِتَابُ أَهْلِ النَّارِ بِأَسْمَائِهِمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِهِمْ وَقَبَائِلِهِمْ، وَأَجْمَلَ عَلَى آخِرِهِمْ، فَلَا يُزَادُ فِيهِمْ وَلَا يُنْقَصُ مِنْهُمْ أَبَدًا» فَقَالَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: فَفِيمَ الْعَمَلُ إِذَا كَانَ الْأَمْرُ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَدِّدُوا وَقَارِبُوا، فَإِنَّ صَاحِبَ الْجَنَّةِ يُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ عَمِلَ أَيَّ عَمَلٍ، وَإِنَّ صَاحِبَ النَّارِ يُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ وَإِنْ عَمِلَ أَيَّ عَمَلٍ، فَرَغَ رَبُّكُمْ عز وجل مِنَ الْكِتَابِ» ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيْهِ فَنَبَذَهُمَا: «فَرَغَ رَبُّكُمْ مِنَ الْخَلْقِ، فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ» ⦗ص: 86⦘ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْعَمَلُ بِخَوَاتِمِهِ» إِلَّا أَنَّ عُمَرَ قَالَ فِي الْحَدِيثِ: قَالُوا: سُبْحَانَ اللَّهِ، فَلِمَ نَعْمَلُ وَنَنْصَبُ؟ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَالْعَمَلُ إِلَى خَاتَمِهِ»
১৩ - ইবনে লাহিয়া, লাইস ইবনে সাদ, ⦗পৃ: ৮৪⦘ এবং আমর ইবনুল হারিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু কাবিল আল-মুআফিরি থেকে, তিনি শুফাই আল-আসবাহি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ⦗পৃ: ৮৫⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়ে আসলেন আর তাঁর হাতে দুটি কিতাব ছিল। অতঃপর তিনি বললেন: «তোমরা কি জানো এই দুটি কী?» তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমরা বললাম: না, তবে হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের জানান। তখন তিনি বললেন: «এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একটি কিতাব, এতে জান্নাতবাসীদের নাম এবং তাদের পিতা ও গোত্রসমূহের নাম রয়েছে। তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত এতে সমষ্টিবদ্ধ করা হয়েছে, সুতরাং তাদের মধ্যে কখনো কোনো বৃদ্ধি করা হবে না এবং কখনো কোনো হ্রাস করা হবে না। আর এটি জাহান্নামবাসীদের কিতাব, তাদের নাম এবং তাদের পিতা ও গোত্রসমূহের নামসহ। তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত এতে সমষ্টিবদ্ধ করা হয়েছে, সুতরাং তাদের মধ্যে কখনো কোনো বৃদ্ধি করা হবে না এবং কখনো কোনো হ্রাস করা হবে না।» তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ বললেন: তাহলে আমল করার কী অর্থ যদি বিষয়টি ফয়সালা হয়েই থাকে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «সঠিক পথে অটল থাকো এবং তার নিকটবর্তী হও। কেননা জান্নাতবাসীকে জান্নাতবাসীদের আমলের মাধ্যমেই সমাপ্তি দান করা হবে যদিও সে ইতিপূর্বে যে আমলই করুক না কেন। আর জাহান্নামবাসীকে জাহান্নামবাসীদের আমলের মাধ্যমেই সমাপ্তি দান করা হবে যদিও সে ইতিপূর্বে যে আমলই করুক না কেন। তোমাদের রব মহান ও পরাক্রমশালী কিতাব (লিখন) সমাপ্ত করেছেন।» অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত দুটির মাধ্যমে ইশারা করে সে দুটি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: «তোমাদের রব সৃষ্টিজগত নিয়ে ফয়সালা শেষ করেছেন; এক দল জান্নাতে আর এক দল প্রজ্বলিত অগ্নিতে।» ⦗পৃ: ৮৬⦘ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমল তার শেষ অবস্থার ওপর নির্ভর করে।» তবে উমর এই হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে: তারা বলেছিলেন: সুবহানাল্লাহ! তবে কেন আমরা আমল করব এবং পরিশ্রম করব? তিনি হাদিসে আরও বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «আমল তো তার শেষ অবস্থার ওপরই নির্ভরশীল।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٨٩)
‌‌بَابُ: الْعَزْلُ لَا يَرُدُّ الْمُقَدَّرَ
পরিচ্ছেদ: আযল নির্ধারিত বিষয়কে রদ করতে পারে না
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٨٩)
14 - أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ حَسَّانَ الْبَكْرِيِّ، قَالَ: قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ حَاجًّا، فَلَقِيتُ ابْنَ الْمُسَيَّبِ فَقُلْتُ: ⦗ص: 90⦘ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ، كَيْفَ تَقُولُ فِي الْعَزْلِ؟ فَقَالَ: إِنْ شِئْتَ حَدَّثْتُكَ حَدِيثًا مُوجَزًا، إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمَّا خَلَقَ آدَمَ أَرَاهُ كَرَامَةً لَمْ يُرِهَا أَحَدًا مِنْ خَلْقِهِ، أَرَاهُ كُلَّ نَسَمَةٍ هُوَ خَالِقُهَا بَيْنَ يَدَيْهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَزِيدُ فِيهِمْ أَوْ يَنْقُصُ فَقَدْ كَذَبَ، وَلَوْ كَانَ لِي سَبْعُونَ مَا بَالَيْتُ
১৪ - হিশাম ইবনে সাদ ইয়াহইয়া ইবনে হাসান আল-বাকরি থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাজি হিসেবে মদিনায় আগমন করলাম, অতঃপর ইবনুল মুসাইয়িবের সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম: ⦗পৃষ্ঠা: ৯০⦘ হে আবু মুহাম্মদ, আপনি 'আজল' (সহবাসের সময় বীর্য বাইরে ফেলা) সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: তুমি চাইলে আমি তোমাকে একটি সংক্ষিপ্ত কথা বলতে পারি; নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে এমন এক সম্মান প্রদর্শন করলেন যা তাঁর সৃষ্টির অন্য কাউকে করেননি। তিনি কিয়ামত পর্যন্ত যত প্রাণ বা আত্মা সৃষ্টি করবেন তার সবগুলোকে তাঁর দুই হাতের সামনে তাকে (আদমকে) দেখালেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তোমাকে বলে যে, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে অথবা হ্রাস পাবে, সে অবশ্যই মিথ্যা বলেছে। আর যদি আমার সত্তরটি সন্তান থাকত তবে আমি (আজল করতে) পরোয়া করতাম না।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٩٣)
‌‌بَابُ حَدِيثِ الْقَبْضَتَيْنِ
দুই মুষ্ঠি বিষয়ক হাদিসের অনুচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٩٣)
15 - أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَحَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَسِيدٍ، هَكَذَا قَالَ، أَنَّ أَبَا فِرَاسٍ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو رضي الله عنه يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمَّا خَلَقَ آدَمَ عليه الصلاة والسلام نَفَضَهُ نَفْضَ الْمِزْوَدِ، فَأَخْرَجَ مِنْ ظَهْرِهِ ذُرِّيَّتَهُ أَمْثَالَ النَّغَفِ، ⦗ص: 94⦘ فَقَبَضَهُمْ قَبْضَتَيْنِ ثُمَّ أَلْقَاهُمَا، ثُمَّ قَبَضَهُمَا، فَقَالَ: فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ
১৫ - আমর ইবনুল হারিস এবং হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি আসিদ থেকে—তিনি এভাবেই বলেছেন—যে আবু ফিরাস তাঁকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ (মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত) যখন আদম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে এমনভাবে ঝাড়লেন যেমনটি একটি পাথেয় রাখার থলে ঝাড়া হয়। অতঃপর তাঁর পিঠ থেকে তাঁর বংশধরদের বের করলেন ক্ষুদ্র কীটের ন্যায়, ⦗পৃষ্ঠা: ৯৪⦘ তারপর তিনি তাদের দুই মুষ্টিতে ধরলেন, এরপর তাদের নিক্ষেপ করলেন, তারপর পুনরায় তাদের ধরলেন এবং বললেন: একদল জান্নাতে এবং একদল প্রজ্বলিত অগ্নিতে।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٩٩)
‌‌بَابُ إِخْبَارِهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الِاخْتِصَاءَ لَا يَرُدُّ الْمُقَدَّرَ
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সংবাদ প্রদান যে, অণ্ডকোষ কর্তন নির্ধারিত তাকদীরকে প্রতিহত করতে পারে না
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ٩٩)
16 - أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي رَجُلٌ شَابٌّ، وَإِنِّي أَخَافُ عَلَى نَفْسِي الْعَنَتَ، وَلَا أَجِدُ مَا أَتَزَوَّجُ بِهِ النِّسَاءَ، فَائْذَنْ لِي أَنْ أَخْتَصِيَ، قَالَ: فَسَكَتَ عَنِّي، ثُمَّ قُلْتُ مِثْلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، قَدْ جَفَّ الْقَلَمُ فِيمَا أَنْتَ لَاقٍ فَاخْتَصِ عَلَى ذَلِكَ أَوْ ذَرْ»
১৬ - ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন যুবক মানুষ এবং আমি নিজের ব্যাপারে পাপাচারের আশঙ্কা করছি, অথচ নারীদের বিয়ে করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। সুতরাং আমাকে খাসি হওয়ার অনুমতি দিন। তিনি বলেন: তিনি আমার থেকে নীরব থাকলেন। অতঃপর আমি তিনবার অনুরূপ কথা বললাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আবু হুরায়রা! তোমার ভাগ্যে যা নির্ধারিত আছে সে বিষয়ে কলম শুকিয়ে গেছে। এখন তুমি চাইলে খাসি হতে পারো অথবা তা বর্জন করতে পারো।"
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١٠١)
‌‌بَابُ كَتْبِ مَقَادِيرِ الْخَلَائِقِ قَبْلَ خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ
আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টিজগতের তকদিরসমূহ লিপিবদ্ধ করার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١٠١)
17 - أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلَانِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنهما، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «كَتَبَ اللَّهُ عز وجل مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ كُلِّهَا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، قَالَ: وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ»
১৭ - আবু হানি আল-খাওলানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি: «মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই সমস্ত সৃষ্টির ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন, তিনি বলেন: আর তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١٠٥)
‌‌بَابُ: هَلِ الْعَمَلُ لِأَمْرٍ فُرِغَ مِنْهُ أَمْ لِأَمْرٍ يُسْتَأْنَفُ؟
পরিচ্ছেদ: আমল বা কর্ম কি এমন বিষয়ের জন্য যা নির্ধারিত হয়ে গেছে, নাকি এমন বিষয়ের জন্য যা নতুনভাবে শুরু হবে?
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١٠٥)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَعْمَلُ لِأَمْرٍ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ، أَوْ لِأَمْرٍ نَأْتَنِفُهُ؟ فَقَالَ: «لِأَمْرٍ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ» فَقَالَ سُرَاقَةُ - يَعْنِي ابْنَ مَالِكٍ -: فَفِيمَ الْعَمَلُ إِذًا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ عَامِلٍ مُيَسَّرٌ لِعَمَلِهِ»
১৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হামদানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনুল হারিস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু যুবায়র থেকে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি এমন বিষয়ের জন্য আমল করব যা নির্ধারিত হয়ে গেছে, নাকি এমন বিষয়ের জন্য যা আমরা নতুনভাবে শুরু করব? তিনি বললেন: «বরং এমন বিষয়ের জন্য যা নির্ধারিত হয়ে গেছে»। তখন সুরাকাহ - অর্থাৎ ইবনে মালিক - বললেন: তাহলে এখন আমল করার সার্থকতা কী? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমলের জন্য সহজ সুযোগ করে দেওয়া হয়»।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١٠٨)
أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَحَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَسِيدٍ، هَكَذَا قَالَ، إِنَّ أَبَا فِرَاسٍ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمَّا خَلَقَ آدَمَ عليه الصلاة والسلام نَفَضَهُ نَفْضَ الْمِزْوَدِ، فَأَخْرَجَ مِنْ ظَهْرِهِ ذُرِّيَّتَهُ أَمْثَالَ النَّغَفِ

আমর ইবনে আল-হারিস এবং হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি আসিদ হতে, তিনি এরূপই বলেছেন যে, আবু ফিরাস তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যখন আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে পাথেয় আধারের ন্যায় ঝাড়া দিলেন এবং তাঁর পৃষ্ঠদেশ হতে তাঁর সন্ততিগণকে কীটের ন্যায় নির্গত করলেন।

(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
‌‌بَابُ: كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ
পরিচ্ছেদ: যাকে যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সেটি সহজসাধ্য করা হয়েছে
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
19 - أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرْجِعَهُ مِنْ بَدْرٍ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: «كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَهُ»
১৯ - উসামা ইবনে যায়িদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বদর থেকে ফেরার পথে এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি তাকে অনুরূপ উত্তরই প্রদান করেন, তবে তিনি বলেছিলেন: «প্রত্যেককে সেই বিষয়ের জন্যই সহজ করে দেওয়া হয়, যা মহামহিম ও মহিমান্বিত আল্লাহ তার জন্য লিখে রেখেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
20 - أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، ⦗ص: 110⦘ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: «يَا عُمَرُ، كُلٌّ لَا يَنَالُ إِلَّا الْعَمَلَ» فَقَالَ عُمَرُ إِذًا نَجْتَهِدُ
20 - ইউনুস আমাকে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ⦗পৃষ্ঠা: ১১০⦘ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি তাঁকে অনুরূপ উত্তর দিয়েছিলেন, তবে তিনি বলেছিলেন: «হে উমর, প্রত্যেকে কেবল আমলের মাধ্যমেই (প্রতিফল) প্রাপ্ত হয়।» তখন উমর বললেন, "তাহলে আমরা কঠোর প্রচেষ্টা চালাব।"
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١١٠)
21 - أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ وَغَيْرِهِ مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى} [الليل: 6]
২১ - জারীর ইবনে হাযিম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে উমারা এবং অন্যদের থেকে তদ্রূপ, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিলাওয়াত করলেন: {অতঃপর যে দান করল ও তাকওয়া অবলম্বন করল, এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করল, অচিরেই আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। আর যে কার্পণ্য করল ও বেপরোয়া হলো, এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, অচিরেই আমি তার জন্য সুগম করে দেব কঠিন পথ।} [লাইল: ৫-১০]
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١١٣)
‌‌بَابُ: مَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ
অধ্যায়: আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই
(খণ্ড: ১) আল-ক্বদর - ইবনে ওয়াহাব - তাহক্বীক আল-উসাইম (পৃষ্ঠা: ١١٣)
22 - أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو الْأَوْزَاعِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَدِمَ الشَّامَ فَخَطَبَ النَّاسَ بِالْجَابِيَةِ، وَكَانَ الْجَاثْلِيقُ قَرِيبًا مِنْهُ، فَقَالَ عُمَرُ فِي خُطْبَتِهِ: مَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ، فَقَالَ الْجَاثْلِيقُ: إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِلُّ أَحَدًا، فَقَالَ عُمَرُ: مَاذَا يَقُولُ؟ فَأَخْبَرُوهُ، فَقَالَ عُمَرُ: كَذَبْتَ يَا عَدُوَّ اللَّهِ، بَلِ اللَّهُ خَلَقَكَ وَهُوَ يُضِلُّكَ، ثُمَّ يُمِيتُكَ، ثُمَّ يُدْخِلُكَ النَّارَ إِنْ شَاءَ، أَمَا وَاللَّهِ لَوْلَا عَقْدِي لَضَرَبْتُ عُنُقَكَ، إِنَّ اللَّهَ لَمَّا خَلَقَ آدَمَ أَخَذَ ذُرِّيَّتَهُ فَكَتَبَ أَهْلَ الْجَنَّةِ وَمَا هُمْ عَامِلُونَ، وَكَتَبَ أَهْلَ النَّارِ وَمَا هُمْ عَامِلُونَ، فَافْتَرَقَ هَؤُلَاءِ، وَمَا يَخْتَلِفُ اثْنَانِ فِي الْقَدْرِ ⦗ص: 114⦘

 

23 - أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: بَيْنَمَا أَنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بَالشَّامِ إِذْ قَالَ لِي: يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، ائْذَنْ لِي النَّاسَ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَاهُنَا النَّصَارَى وَعَظِيمُ عُظَمَائِهِمْ، قَالَ: ائْذَنْ لَهُمْ، فَجَلَسَ فِي نَاحِيَةٍ فَأَذِنْتُ لَهُ، فَذَكَرَ نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ
২২ - ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আবদুর রহমান ইবনে আমর আল-আওজায়ী থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) শামে আগমন করলেন এবং জাবিয়াতে জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তখন জাসালিক (খ্রিস্টান প্রধান) তাঁর নিকটে ছিল। উমর তাঁর ভাষণে বললেন: আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তখন জাসালিক বলল: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাউকে পথভ্রষ্ট করেন না। উমর বললেন: সে কী বলছে? তারা তাঁকে অবহিত করল। তখন উমর বললেন: হে আল্লাহর শত্রু, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং আল্লাহই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তোমাকে পথভ্রষ্ট করেন, অতঃপর তিনি তোমার মৃত্যু ঘটাবেন, এরপর ইচ্ছা করলে তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহর কসম, যদি আমার চুক্তি না থাকত, তবে আমি তোমার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর সন্তানদের গ্রহণ করলেন এবং জান্নাতিদের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিদের লিখে নিলেন ও তারা কী আমল করবে তাও লিখলেন, আর জাহান্নামিদের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিদের লিখে নিলেন ও তারা কী আমল করবে তাও লিখলেন। ফলে এরা পৃথক হয়ে গেল। আর তাকদীরের বিষয়ে দুইজন ব্যক্তিও দ্বিমত করে না। ⦗পৃষ্ঠা: ১১৪⦘

 

২৩ - উমর ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: আমি যখন শামে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, মানুষকে আসার অনুমতি দাও। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এখানে খ্রিস্টানরা এবং তাদের শ্রেষ্ঠ নেতাদের একজন উপস্থিত আছে। তিনি বললেন: তাদের অনুমতি দাও। এরপর তিনি একপাশে বসলেন এবং আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। অতঃপর তিনি এই হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন।