(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: -)
حاشيتان لابن هشام على ألفية ابن مالك   (ابن هشام النحوي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: حاشيتان من حواشي ابن هشام على ألفيَّة ابن مالك، دراسةً وتحقيقًا

المؤلف: ابن هشام الأنصاري (ت 761 هـ)

تحقيق: جابر بن عبد الله بن سريِّع السريِّع

رسالة: دكتوراه، قسم اللُّغويَّات - كليَّة اللُّغة العربيَّة - الجامعة الإسلاميَّة بالمدينة المنوَّرة

إشراف: د إبراهيم بن صالح العوفي

العام الجامعي: 1439 - 1440 هـ

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للرسالة الجامعية]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو القعدة 1442

ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর ইবনে হিশামের দুটি টীকা   (ব্যাকরণবিদ ইবনে হিশাম)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


কিতাব: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর ইবনে হিশামের টীকাসমূহ থেকে দুটি টীকা, গবেষণা ও সম্পাদনা

লেখক: ইবনে হিশাম আল-আনসারী (মৃত্যু ৭৬১ হি.)

সম্পাদনা: জাবির বিন আব্দুল্লাহ বিন সুরাই আল-সুরাই

অভিসন্দর্ভ: পিএইচডি, ভাষাতত্ত্ব বিভাগ - আরবি ভাষা অনুষদ - মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

তত্ত্বাবধান: ড. ইব্রাহিম বিন সালিহ আল-আওফী

শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৯ - ১৪৪০ হি.

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিসন্দর্ভের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ জুল কাদা ১৪৪২

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربيَّة السُّعوديَّة

وزارة التَّعليم

الجامعة الإسلاميَّة بالمدينة المنوَّرة

(032)

كليَّة اللُّغة العربيَّة

قسم اللُّغويَّات

 

حاشيتان من حواشي ابن هشام الأنصاريِّ (ت 761 هـ)

على ألفيَّة ابن مالك

دراسةً وتحقيقًا

 

رسالة علميَّة مقدَّمة للحصول على درجة العالميَّة العالية (الدُّكتوراه)

 

إعداد الطَّالب

جابر بن عبدالله بن سريِّع السريِّع

 

إشراف فضيلة الدُّكتور

إبراهيم بن صالح العوفيّ

الأستاذ المشارك بقسم اللُّغويَّات

 

الجزء الأوَّل

 

العام الجامعيّ 1439 - 1440 ه
সৌদি আরব সাম্রাজ্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

(০৩২)

আরবি ভাষা অনুষদ

ভাষাতত্ত্ব বিভাগ

 

ইবনে হিশাম আল-আনসারী (মৃ. ৭৬১ হি.)-এর টীকাসমূহ হতে ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র ওপর দু’টি টীকা

গবেষণা ও সম্পাদনা

 

আল-আলামিয়্যাহ আল-আলিয়াহ (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে পেশকৃত একটি গবেষণা অভিসন্দর্ভ

 

প্রস্তুতকারী ছাত্র

জাবির বিন আবদুল্লাহ বিন সুরাই আল-সুরাই

 

তত্ত্বাবধানে: মান্যবর ডক্টর

ইব্রাহিম বিন সলিহ আল-আওফি

ভাষাতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

 

প্রথম খণ্ড

 

শিক্ষাবর্ষ ১৪৩৯ - ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌مستخلص الرسالة

عنوان البحث: حاشيتان من حواشي ابن هشام الأنصاري (ت 761 هـ) على ألفية ابن مالك دراسة وتحقيقًا.

موضوع البحث: تحقيق علمي لتعليقات كتبها ابن هشام الأنصاري على ألفية ابن مالك لتحرير نصها، وشرح كلماتها وأمثلتها، وبسط مسائلها، والاستشهاد لها، والاعتراض والاستدراك عليها عند الحاجة.

منهج البحث: منهج تحقيق المخطوطات، وهو قراءة النص، وضبط ما يحتاج فيه إلى ضبط، وتصحيح أخطائه، وعزو نصوصه إلى مصادرها، وشرح الكلمات الغريبة، والتعريف بالأعلام والأماكن.

عدد النسخ ومكتباتها: نسختان: الأولى: ضمن مجموعة ولي الدين أفندي بالمكتبة السليمانية في تركيا بالرقم (1039)، والأخرى: ضمن المجموعة التيمورية بدار الكتب المصرية بالرقم (187 نحو تيمور).

 

‌‌أقسام البحث:

1 - المقدمة. 2 - الدراسة (وفيها: ترجمة موجزة لابن مالك وابن هشام، ودراسة للحاشيتين المحققتين في ستة مطالب: تحقيق عنوانهما، ومنهجهما، ومصادرهما، وموازنة بينهما وبين كتاب "أوضح المسالك"، وتقويمهما، ووصف مخطوطتيهما)، 3 - النص المحقق، 4 - الفهارس العلمية.

نتائج البحث: الكشف عن عناية ابن هشام بألفية ابن مالك، وتعدُّد حواشيه عليها، واختلافها عن كتابه أوضح المسائك، والكشف عن مجموعة من الكتب المفقودة التي نقل منها، وعن بعض الأخطاء التي وقعت له سهوًا في عباراته.

الكلمات المفتاحية: ابن هشام الأنصاري (ت 761 هـ) - ابن مالك (ت 672 هـ) - ألفية ابن مالك - الحواشي النحوية.
গবেষণাপত্রের সারাংশ

গবেষণার শিরোনাম: ইবনে মালিকের আলফিয়ার ওপর ইবনে হিশাম আল-আনসারীর (মৃ. ৭৬১ হি.) দুইখানি টীকা: গবেষণা ও সম্পাদনা।

গবেষণার বিষয়বস্তু: ইবনে মালিকের আলফিয়ার ওপর ইবনে হিশাম আল-আনসারীর লিখিত মন্তব্যগুলোর একটি তাত্ত্বিক সম্পাদনা; যার উদ্দেশ্য হলো পাঠ্যটি পরিমার্জন করা, এর শব্দ ও উদাহরণগুলো ব্যাখ্যা করা, এর মাসয়ালাসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করা, সেগুলোর পক্ষে দলীল পেশ করা এবং প্রয়োজনে আপত্তি ও সংশোধন করা।

গবেষণা পদ্ধতি: পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার পদ্ধতি; যা হলো পাঠ্যটি পাঠ করা, যেখানে হরকত বা স্বরচিহ্ন প্রয়োজন সেখানে তা নির্ধারণ করা, এর ভুলসমূহ সংশোধন করা, উদ্ধৃতিসমূহকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা, অপরিচিত শব্দাবলি ব্যাখ্যা করা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান করা।

পাণ্ডুলিপির সংখ্যা ও লাইব্রেরিসমূহ: দুইটি পাণ্ডুলিপি। প্রথমটি: তুরস্কের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে ওয়ালিউদ্দিন এফেন্দী সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর (১০৩৯)। অন্যটি: মিসরের দারুল কুতুবের তায়মুরীয়া সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর (১৮৭ নাহব তায়মুর)।

 

গবেষণার অধ্যায়সমূহ:

১ - ভূমিকা। ২ - গবেষণা অংশ (এর মধ্যে রয়েছে: ইবনে মালিক ও ইবনে হিশামের সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং সম্পাদিত টীকা দুইটির ওপর ছয়টি পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা: শিরোনামের সত্যতা যাচাই, পদ্ধতি, উৎসসমূহ, "আওদাহুল মাসালিক" গ্রন্থের সাথে এগুলোর তুলনা, মূল্যায়ন এবং পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের বিবরণ), ৩ - সম্পাদিত মূল পাঠ্য, ৪ - তাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট।

গবেষণার ফলাফল: ইবনে মালিকের আলফিয়ার প্রতি ইবনে হিশামের বিশেষ গুরুত্বের বিষয়টি উন্মোচিত হওয়া, এর ওপর তার বহুসংখ্যক টীকা থাকার বিষয়টি জানা, "আওদাহুল মাসালিক" গ্রন্থ থেকে এগুলোর ভিন্নতা ফুটে ওঠা, এমন কিছু হারানো কিতাব সম্পর্কে জানা যেখান থেকে তিনি উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তার বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যাওয়া কিছু ভুল চিহ্নিত হওয়া।

মূল শব্দসমূহ: ইবনে হিশাম আল-আনসারী (মৃ. ৭৬১ হি.) - ইবনে মালিক (মৃ. ৬৭২ হি.) - ইবনে মালিকের আলফিয়া - নাহব বা ব্যাকরণ বিষয়ক টীকা।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد:

فلقد منَّ الله علينا أن جعلنا خير أمة أخرجت للناس، وشرَّفنا بكتابه العظيم الذي أنزله بلسان عربي مبين، فصار فهمه موقوفًا على فهم لغته، وذلك ما دعا علماءنا إلى الاعتناء باللغة العربية؛ حفظًا، وتدوينًا، وتفهيمًا، وشرحًا.

وممن شارك في هذا الميدان، وضرب فيه بسهم وافر: الإمام العلامة عبدالله بن يوسف بن هشام الأنصاري (المتوفى سنة 761) رحمه الله رحمة واسعة، وقد حظيت مصنفاته بشهرة واسعة، وأقبل عليها الدارسون قديمًا وحديثًا يَنْهَلون من مَعِينها، ويستنطقون غامضها، ويشرحون ما يحتاج منها إلى شرح.

وفي العصر الحاضر اجتهد العلماء وطلاب العلم في إخراج كتب ابن هشام إلى عالم المطبوعات محقَّقة موثَّقة، فاستوعب عَمَلُهم جُلَّ مؤلفاته، وغالبَ رسائله، ومنها ما طبع أكثر من مرة.

فأحببت أن أشارك في إخراج شيء من مؤلفات هذا الإمام -مما لم ينشر مطبوعًا بعدُ- وذلك بدراسة حاشيتين مخطوطتين من حواشيه على ألفية ابن مالك، وتحقيقهما، سائلًا الله الإعانة والتوفيق.

ولابن هشام على ألفية ابن مالك حواشٍ عدة: نقل ياسين في "حواشيه على الألفية" من حاشيتين مختلفتين كلتاهما بخط ابن هشام، ونقل السيوطي في "النكت" من حاشية ثالثة -بخط ابن هشام أيضًا- لم ينقل منها ياسين شيئًا، ووقفت على حاشية رابعة -بخطه أيضًا- لم ينقل منها أحد حسب بحثي.

وكان غرض ابن هشام منها أن يشرح غامضًا، أو يضيف مسألة، أو يضبط نصًّا، أو يعلق على شاهد، أو مثال، أو يبيِّن رأيه في عبارة الألفية موافقة ومخالفة.

وهذه الحواشي مختلفة عن شرحه للألفية المسمى: «أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك»، ومادتها مختلفة عن مادته، وطريقتها مختلفة عن طريقته؛ فهي تعليقات، ونكت
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসুলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নবি মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি আমাদের মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি আমাদের তাঁর মহান কিতাব দ্বারা সম্মানিত করেছেন, যা তিনি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন। ফলে এই কিতাব বোঝা তার ভাষা বোঝার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আর এটিই আমাদের আলেমদের আরবি ভাষার প্রতি যত্নবান হতে উদ্বুদ্ধ করেছে; এর সংরক্ষণ, সংকলন, অনুধাবন এবং ব্যাখ্যার মাধ্যমে।

এই অঙ্গনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিপুল অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন—ইমাম আল্লামা আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে হিশাম আল-আনসারি (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি), আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন। তাঁর রচনাবলি সুখ্যাতি অর্জন করেছে। প্রাচীন এবং আধুনিককালের শিক্ষার্থীগণ এগুলোর জ্ঞান-উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করতে, এগুলোর অস্পষ্ট বিষয়গুলো উন্মোচন করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করতে এর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন।

বর্তমান যুগে আলেম এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীগণ ইবনে হিশামের গ্রন্থগুলোকে সম্পাদিত ও প্রামাণ্যরূপে মুদ্রণ জগতে নিয়ে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তাঁদের এই কাজ তাঁর অধিকাংশ কিতাব ও অধিকাংশ পত্রাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সেগুলোর মধ্যে কিছু একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে।

তাই আমি এই ইমামের রচনাবলির মধ্য থেকে যা এখনও মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়নি, তেমন কিছু প্রকাশে অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা করেছি। আর তা হলো আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ওপর তাঁর রচিত দুটি পাণ্ডুলিপিগত টীকা (হাশিয়া) অধ্যয়ন ও সম্পাদনার মাধ্যমে। আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি।

আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ওপর ইবনে হিশামের বেশ কয়েকটি টীকা রয়েছে: ইয়াসিন তাঁর ‘আলফিয়্যাহর টীকা’য় দুটি ভিন্ন টীকা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যে দুটিই ইবনে হিশামের স্বহস্তে লিখিত। সুয়ুতি তাঁর ‘আন-নুকাত’ গ্রন্থে তৃতীয় একটি টীকা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন—এটিও ইবনে হিশামের স্বহস্তে লিখিত—যা থেকে ইয়াসিন কোনো কিছু উদ্ধৃত করেননি। আর আমি চতুর্থ একটি টীকা খুঁজে পেয়েছি—এটিও তাঁর নিজ হাতের লেখা—যা থেকে আমার গবেষণা অনুযায়ী ইতিপূর্বে কেউ কিছু উদ্ধৃত করেনি।

এই টীকাগুলোর মাধ্যমে ইবনে হিশামের উদ্দেশ্য ছিল কোনো অস্পষ্ট বিষয় ব্যাখ্যা করা, অথবা নতুন কোনো মাসআলা যোগ করা, অথবা কোনো পাঠ্য সংশোধন করা, কিংবা কোনো কাব্যিক প্রমাণ বা উদাহরণের ওপর মন্তব্য করা, অথবা আলফিয়্যাহর বক্তব্যের সাথে তাঁর ঐক্যমত বা দ্বিমত পোষণ করার বিষয়টি স্পষ্ট করা।

এই টীকাগুলো তাঁর আলফিয়্যাহর সুপরিচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক’ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এগুলোর বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা পদ্ধতিও সেই গ্রন্থের চেয়ে আলাদা। এগুলো মূলত কিছু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম মন্তব্য।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৪)
متفرقة على أبيات الألفية، لم يكن غرضه منها استيفاء الكلام على جميع أبيات الألفية، بل التعليق على ما يرى أنه بحاجة إلى تعليق، وربما كان له على الكلمة الواحدة، أو البيت الواحد أكثرُ من حاشية، وقد كانت حواشيه متفرقة في عدة نسخ، ويوجد في كل نسخة ما لا يوجد في الأخرى، وقد كتبها في أوقات متفرقة.

من أجل ذلك وقع اختياري على تحقيق حاشيتين لابن هشام على ألفية ابن مالك لنيل درجة العالمية العالية (الدكتوراه).

 

‌‌الأهمية العلمية للمخطوطتين:

تكمن أهمية المخطوطتين المراد تحقيقهما في أمور:

1 - مكانة مؤلفهما، ومنزلته في سلم الدراسات النحوية والصرفية، وشهرته بين علماء العربية بجودة المصنفات وتحريرها.

2 - تضمُّن حواشي ابن هشام تحقيقات علمية، ومناقشات لغوية ونحوية وصرفية، أبداها في مناقشاته لآراء العلماء وكتبهم.

3 - شهرة حواشي ابن هشام عند العلماء، واحتفاؤهم بها، حتى صارت رافدًا مهمًّا لشروحهم، وتعليقاتهم، وحواشيهم، وتقريراتهم على الألفية؛ كالأزهري، والسيوطي، والأشموني، وياسين العليمي، والبغدادي، والخضري، والصبان.

4 - إفصاح حواشي ابن هشام عن آرائه وموقفه من أبيات الألفية، صياغةً وأحكامًا، وهو ما خلا منه شرحه المسمى أوضح المسالك؛ إذ لم يتكلم فيه على الأبيات إلا نادرًا.

5 - معرفة جهود ابن هشام في دراسة الألفية، وبيان تنوعها بين ضبط النص، وذكر فروق النسخ، وتفسير العبارات، والإعراب، وشرح المسائل بالتفصيل والإضافة والتعليل والتلخيص، والتعليق على الشواهد والأمثلة، وبيان المآخذ والمحاسن في أبيات الألفية وعباراتها.

6 - الوقوف على نصوص لغوية، ونحوية، وصرفية، نقلها ابن هشام في حواشيه
আলফিয়ার পঙক্তিগুলোর ওপর এগুলো বিক্ষিপ্তভাবে বিন্যস্ত; এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য আলফিয়ার সমস্ত পঙক্তির ওপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা ছিল না, বরং কেবল সেই অংশগুলোর ওপর টীকা প্রদান করা ছিল যা তাঁর দৃষ্টিতে ব্যাখ্যার প্রয়োজন মনে হয়েছে। অনেক সময় একটি মাত্র শব্দ বা একটি পঙক্তির ওপর তাঁর একাধিক টীকা (হাশিয়া) থাকত। তাঁর এই টীকাগুলো বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল এবং প্রতিটি কপিতে এমন কিছু বিদ্যমান ছিল যা অন্যটিতে পাওয়া যায় না; তিনি এগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে লিখেছিলেন।

একারণেই ইবনে মালিকের আলফিয়ার ওপর ইবনে হিশামের দুটি টীকা (হাশিয়া) সম্পাদনা (তাহকীক) করার বিষয়টি আমি আমার উচ্চতর বৈশ্বিক ডিগ্রি (পিএইচডি) অর্জনের জন্য নির্বাচন করেছি।

 

‌‌পাণ্ডুলিপি দুটির ইলমি গুরুত্ব:

সম্পাদনার জন্য নির্ধারিত পাণ্ডুলিপি দুটির গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে নিহিত:

১ - এদের লেখকের মর্যাদা, নাহু ও সরফ শাস্ত্রের অধ্যয়নে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান এবং আরবী ভাষাবিদদের নিকট তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির গুণগত মান ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের জন্য তাঁর সুখ্যাতি।

২ - ইবনে হিশামের টীকাগুলোতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং ভাষাগত, ব্যাকরণগত (নাহু) ও রূপমূলতত্ত্বীয় (সরফ) আলোচনার সমাবেশ ঘটেছে, যা তিনি অন্যান্য আলেমদের মতামত ও তাঁদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনার সময় তুলে ধরেছেন।

৩ - আলেমদের নিকট ইবনে হিশামের টীকাগুলোর ব্যাপক প্রসিদ্ধি এবং এগুলোর প্রতি তাঁদের বিশেষ গুরুত্বারোপ; এমনকি এগুলো আলফিয়ার ওপর রচিত পরবর্তী ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা, হাশিয়া ও সিদ্ধান্তসমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে। যেমন আল-আজহারী, আস-সুয়ূতী, আল-আশমুনী, ইয়াসিন আল-উলাইমী, আল-বাগদাদী, আল-খুদরী এবং আস-সাব্বান।

৪ - আলফিয়ার পঙক্তিগুলোর গঠন ও বিধানের ক্ষেত্রে ইবনে হিশামের নিজস্ব মতামত ও অবস্থান এই টীকাগুলোতে ফুটে উঠেছে, যা তাঁর 'আওদাহুল মাসালিক' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থে সচরাচর পাওয়া যায় না; কেননা সেখানে তিনি পঙক্তিগুলো সম্পর্কে খুব কমই আলোচনা করেছেন।

৫ - আলফিয়া অধ্যয়নে ইবনে হিশামের শ্রম ও অবদানের স্বরূপ অনুধাবন করা এবং মূল পাঠের সঠিকতা নিশ্চিতকরণ, পাণ্ডুলিপির পাঠান্তর উল্লেখ, বাক্যাংশের ব্যাখ্যা, ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ), মাসআলাসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, সংযোজন, কারণ দর্শানো ও সংক্ষিপ্তকরণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উদাহরণের ওপর টীকা প্রদান এবং আলফিয়ার পঙক্তি ও বাক্যাবলীর গুণাগুণ ও ত্রুটিসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর বৈচিত্র্যময় কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করা।

৬ - ইবনে হিশাম তাঁর টীকাগুলোতে যেসব ভাষাগত, ব্যাকরণগত ও রূপমূলতত্ত্বীয় পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন সেগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৫)
من مصادر تعد اليوم مفقودة، مما يبرز الاطلاع الواسع الذي تميز به هذا الإمام.

7 - في مادة الحواشي العلمية ما يفتح المجال لدراسة جهود ابن هشام العلمية حول الألفية في غير أوضح المسالك، ودراسة موقفه من الألفية موافقة ومعارضة، ودراسة موقف العلماء المتأخرين من تعليقاته على الألفية.

 

‌‌أسباب اختيار المخطوطتين:

اخترت دراسة هاتين المخطوطتين، وتحقيقهما لأمور:

1 - ما تميزتا به من مادة علمية، وتحقيقات ومناقشات، ونقل من مصادر متعددة، تحتاج إليها الدراسات اللغوية، والنحوية، والصرفية.

2 - الإسهام في نشر آثار العلماء التي بقيت مخطوطة، وإتاحتها بين يدي الدارسين، ولا سيما آثار المبرزين في العلم، كابن هشام.

3 - الرغبة في مواصلة البحث العلمي في آثار ابن هشام؛ حيث كان مشروع رسالتي في العالمية (الماجستير): مختصر تذكرة ابن هشام الأنصاري لمحمد بن جَلَال الحنفي التبَّاني (ت 818) دراسةً وتحقيقًا، مما سيساعد -بإذن الله- في فهم إشكالات المخطوط، وتذليل صعوباته.

 

‌‌الدراسات السابقة:

لم أجد بعد البحث دراسةً تتصل بحواشي ابن هشام على الألفية، وإنما وجدت دراسات تتصل بموقف ابن هشام من ابن مالك، أو تتصل بالألفية وشروحها، وذلك لا صلة له مباشرة بموضوع الدراسة.

 

‌‌خطة المشروع:

يتكون المشروع من مقدمة، وقسمين، الأول للدراسة، والثاني للتحقيق، وفهارس
এমন সব উৎস থেকে [সংগৃহীত] যা আজ বিলুপ্ত বলে গণ্য করা হয়, যা এই ইমামের সেই ব্যাপক পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয় যার দ্বারা তিনি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন।

৭ - ইলমি টীকাসমূহের বিষয়বস্তুর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা 'আওদাহুল মাসালিক' ব্যতীত আলফিয়্যাহ সংক্রান্ত ইবনে হিশামের ইলমি প্রচেষ্টাসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্র উন্মোচন করে। পাশাপাশি আলফিয়্যাহর ব্যাপারে তাঁর সম্মতি ও অসম্মতিমূলক অবস্থান এবং তাঁর টীকাসমূহের ওপর পরবর্তী আলিমদের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করে।

 

‌‌পাণ্ডুলিপি দুটি নির্বাচনের কারণসমূহ:

আমি নিম্নোক্ত কারণে এই পাণ্ডুলিপি দুটি অধ্যয়ন ও তাহকিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি:

১ - এগুলোর ইলমি বিষয়বস্তু, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে উদ্ধৃতির স্বাতন্ত্র্য; যা ভাষাতাত্ত্বিক, ব্যাকরণগত (নাহু) এবং রূপতাত্ত্বিক (সরফ) গবেষণার জন্য একান্ত প্রয়োজন।

২ - আলিমগণের যে সকল জ্ঞানগর্ভ কর্ম এখনও পাণ্ডুলিপি হিসেবে রয়ে গেছে তা প্রকাশের ক্ষেত্রে অবদান রাখা এবং গবেষকদের কাছে সেগুলো সহজলভ্য করা, বিশেষ করে ইবনে হিশামের মতো ইলমের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের রচনাবলী।

৩ - ইবনে হিশামের রচনাবলীর ওপর ইলমি গবেষণা অব্যাহত রাখার আকাঙ্ক্ষা; যেহেতু আমার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) থিসিসের বিষয় ছিল মুহাম্মাদ ইবনে জালাল হানাফি আত-তাব্বানি (ওফাত ৮১৮ হি.) বিরচিত 'মুখতাসার তাজকিরাতু ইবনে হিশাম আল-আনসারি'র অধ্যয়ন ও তাহকিক। এটি—আল্লাহর ইচ্ছায়—পাণ্ডুলিপির জটিলতাসমূহ বুঝতে এবং এর কাঠিন্য দূর করতে সহায়ক হবে।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

অনুসন্ধানের পর আমি আলফিয়্যাহর ওপর ইবনে হিশামের টীকা সংক্রান্ত কোনো গবেষণা খুঁজে পাইনি। তবে ইবনে মালিকের প্রতি ইবনে হিশামের দৃষ্টিভঙ্গি অথবা আলফিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) সংক্রান্ত কিছু গবেষণা পেয়েছি, যেগুলোর সাথে এই গবেষণার বিষয়ের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

 

‌‌প্রকল্পের পরিকল্পনা:

প্রকল্পটি একটি ভূমিকা এবং দুটি খণ্ডে বিভক্ত; প্রথমটি অধ্যয়নমূলক এবং দ্বিতীয়টি তাহকিক বা সম্পাদনা সংক্রান্ত, এবং সবশেষে নির্ঘণ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৬)
مفصلة.

المقدمة: وفيها: أهمية الموضوع، وأسباب اختياره، والدراسات السابقة، وخطة البحث، ومنهج الدراسة والتحقيق.

القسم الأول: الدراسة: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: ابن مالك وابن هشام الأنصاري، (ترجمة موجزة).

المبحث الثاني: حاشيتا ابن هشام على الألفية، وفيه ستة مطالب:

المطلب الأول: تحقيق عنوان المخطوطتين، وتوثيق نسبتهما إلى ابن هشام.

المطلب الثاني: منهجهما، وفيه ثلاث مسائل:

المسألة الأولى: طريقة ابن هشام في عرض المادة العلمية.

المسألة الثانية: عنايته بآراء العلماء.

المسألة الثالثة: اختياراته وترجيحاته.

المطلب الثالث: مصادرهما.

المطلب الرابع: موازنة بينهما وبين أوضح المسالك.

المطلب الخامس: تقويمهما، وفيه ثلاث مسائل:

المسألة الأولى: المحاسن.

المسألة الثانية: المآخذ.

المسألة الثالثة: التأثر والتأثير.

المطلب السادس: وصف المخطوطتين، ونماذج منهما.

القسم الثاني: النص المحقق.

الفهارس العلمية:

فهرس الآيات القرآنية.

فهرس القراءات القرآنية.
বিস্তারিত।

ভূমিকা: এতে রয়েছে: বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং অধ্যয়ন ও সম্পাদনা পদ্ধতি।

প্রথম অংশ: গবেষণা: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে মালিক ও ইবনে হিশাম আল-আনসারী (সংক্ষিপ্ত জীবনী)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আলফিয়্যার ওপর ইবনে হিশামের দুটি টীকাগ্রন্থ; এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি দুটির শিরোনাম নিশ্চিতকরণ এবং ইবনে হিশামের প্রতি এগুলোর সম্বন্ধের প্রামাণিকতা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এগুলোর পদ্ধতি; এতে তিনটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়বস্তু উপস্থাপনায় ইবনে হিশামের পদ্ধতি।

দ্বিতীয় বিষয়: আলেমদের মতামতের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ।

তৃতীয় বিষয়: তাঁর নির্বাচন ও অগ্রাধিকারসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এগুলোর উৎসসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: এগুলোর এবং ‘আওদাহুল মাসালিক’-এর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: এগুলোর মূল্যায়ন; এতে তিনটি বিষয় রয়েছে:

প্রথম বিষয়: গুণাবলি।

দ্বিতীয় বিষয়: সমালোচনা বা ত্রুটিসমূহ।

তৃতীয় বিষয়: প্রভাব গ্রহণ ও প্রভাব বিস্তার।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি দুটির বর্ণনা এবং এগুলোর নমুনা।

দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদিত মূল পাঠ।

বিদ্বতচিত সূচিপত্রসমূহ:

কুরআনের আয়াতসমূহের সূচি।

কুরআনের কিরাতসমূহের সূচি।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৭)
فهرس الأحاديث النبوية والآثار.

فهرس الأقوال والأمثال.

فهرس الأشعار.

فهرس الأعلام.

فهرس الأماكن والبلدان.

فهرس الكتب الواردة في النص المحقق.

المصادر والمراجع.

فهرس الموضوعات.

فهرس الفهارس.

 

‌‌منهج التحقيق:

اتبعت المنهج المتعارف عليه في تحقيق كتب التراث، وسأسير فيه وفق الخطوات الآتية:

1 - نسخ الحاشيتين وفق القواعد الإملائية الحديثة، مع مقابلة المنسوخ بأصله المنسوخ منه، والالتزام بعلامات الترقيم، وضبط ما يحتاج إلى ضبط.

2 - تصويب ما جزمت بخطئه في الهامش، مع بيان وجه الخطأ، وما استظهرت سقطه أو حاجة السياق إليه أثبته في المتن بين معقوفين []، مبينًا المصدر وسبب ذلك، وما انقطع أو انطمس كلُّه، أو بُيّض له، أو لم أستطع قراءته أضع مكانه في المتن ثلاث نقط … ، وأبين مقداره، وما انقطع أو انطمس بعضه أثبت ما ظهر لي فيه.

3 - إثبات أبواب الألفية وأبياتها كما جاءت في المخطوطة الأولى رسمًا وضبطًا، وإتباع كل بابٍ أو بيتٍ الحواشيَ المتصلة به من المخطوطة الأولى، والإشارة إليها بـ (خ 1)، ثم من المخطوطة الثانية، والإشارة إليها بـ (خ 2)، فإن كانت الحاشية متعلقةً ببعض البيت لا به كلِّه، ولم يذكر فيها ما تتعلق به أثبته في أولها بين معقوفين [].
নবীজির হাদীস ও আছারসমূহের নির্ঘণ্ট।

প্রবাদ ও প্রবচনসমূহের নির্ঘণ্ট।

কবিতার নির্ঘণ্ট।

ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

স্থান ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট।

সম্পাদিত পাঠ্যে উল্লিখিত কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট।

উৎস ও তথ্যসূত্র।

বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।

নির্ঘণ্টসমূহের নির্ঘণ্ট।

 

‌‌সম্পাদনা পদ্ধতি:

ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থ সম্পাদনার প্রচলিত পদ্ধতি আমি অনুসরণ করেছি এবং এতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছি:

১ - আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী পার্শ্বটীকা দুটির প্রতিলিপি করা, প্রতিলিপিকে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা, যতিচিহ্নের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং যেখানে স্বরচিহ্ন প্রয়োজন তা প্রদান করা।

২ - যেসব ভুল সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হয়েছি তা ফুটনোটে সংশোধন করা এবং ভুলের ধরণ বর্ণনা করা। যে শব্দগুলো বাদ পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে বা প্রসঙ্গের প্রয়োজনে দরকারি মনে হয়েছে, তা বন্ধনীর [] মধ্যে মূল পাঠ্যে অন্তর্ভুক্ত করা এবং এর উৎস ও কারণ উল্লেখ করা। যে অংশটুকু সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বা অস্পষ্ট হয়ে গেছে, অথবা জায়গা খালি রাখা হয়েছে, অথবা আমি পড়তে সক্ষম হইনি, সেখানে মূল পাঠ্যে তিনটি ডট … চিহ্ন দেওয়া এবং এর পরিমাণ বর্ণনা করা। আর যে অংশ আংশিক বিচ্ছিন্ন বা অস্পষ্ট হয়েছে, সেখানে আমার নিকট যতটুকু স্পষ্ট হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করা।

৩ - আলফিয়্যাহ-এর অধ্যায় ও শ্লোকসমূহকে প্রথম পাণ্ডুলিপিতে যেভাবে আছে সেভাবেই লিখনরীতি ও স্বরচিহ্নসহ বহাল রাখা। প্রতিটি অধ্যায় বা শ্লোকের পর প্রথম পাণ্ডুলিপির সংশ্লিষ্ট পার্শ্বটীকাগুলো উল্লেখ করা এবং একে (পা ১) হিসেবে চিহ্নিত করা। এরপর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকা উল্লেখ করা এবং একে (পা ২) হিসেবে চিহ্নিত করা। যদি পার্শ্বটীকাটি পুরো শ্লোকের পরিবর্তে শ্লোকের কোনো নির্দিষ্ট অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট অংশটি উল্লেখ না থাকে, তবে আমি তা পার্শ্বটীকার শুরুতে বন্ধনীর [] মধ্যে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৮)
4 - وضع خط مائل في المتن / للدلالة على أول اللوحة، مع الإشارة إلى ذلك في هامش توثيق كل حاشية.

5 - عزو الآيات القرآنية إلى سورها، مع بيان رقمها، وكتابتها بالرسم العثماني.

6 - توثيق القراءات القرآنية من مصادرها، أو مظانها.

7 - عزو الأحاديث النبوية؛ فإن كان الحديث في الصحيحين، أو في أحدهما فإنني أكتفي بتوثيقه منهما، وإن لم يكن فيهما أو في أحدهما عزوته إلى من أخرجه.

8 - توثيق أقوال العرب وأمثالهم من الكتب المعتمدة.

9 - تفسير غريب الشواهد الشعرية، ونسبتها إلى قائليها، من مصادر توثيقها، وإلا فالتفسير من معاجم اللغة، مع ذكر البحر، وبيان الشاهد عند الحاجة.

10 - التعليق على المسائل النحوية تعليقًا علميًّا عند الحاجة إلى ذلك.

11 - توثيق النصوص المنقولة من الكتب التي نقلت عنها.

12 - التعريف بالكلمات الغريبة، والمصطلحات العلمية، والأماكن والبلدان تعريفًا موجزًا.

13 - الترجمة للأعلام الوارد ذكرهم ترجمة موجزة في أول موضع.

14 - وضع فهارس مفصلة في آخر البحث وفق ما ذكر في الخطة.

 

ولا يسعني في ختام هذه التقدمة إلا أن أشكر الله عز وجل على نعمته عليَّ بإكمال هذا البحث، وتيسير أسبابه.

ثم أشكر فضيلة شيخي ومشرفي الدكتور/ إبراهيم بن صالح العوفيّ لِمَا حباني من غزير علمه، وأمدَّني بملحوظاته التي أنارت لي طريقي، وسدَّت عوزي، وتجشَّم قراءة عملي، فأقام منه ما اعوجَّ، وأكمل منه ما نقص، أسأل الله أن يجزيه عني خير الجزاء في الدنيا والآخرة، وأن يمده بعونه ورفده، إنه على ذلك قدير.

ثم أشكر فضيلة المناقشَيْن على تكرمهما بقبول مناقشة الرسالة، وحرصهما على
৪ - মূল পাঠে একটি বাঁকা রেখা (/) প্রদান করা হয়েছে পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠার শুরু নির্দেশ করার জন্য, এবং প্রতিটি উদ্ধৃতির উৎস বর্ণনায় সংশ্লিষ্ট পাদটীকায় তা উল্লেখ করা হয়েছে।

৫ - কুরআনের আয়াতসমূহকে তাদের নিজ নিজ সূরার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, সাথে আয়াতের নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে এবং তা উসমানি লিপিতে লেখা হয়েছে।

৬ - কুরআনের কিরাতসমূহের উদ্ধৃতি তার মূল উৎস বা সম্ভাব্য স্থানসমূহ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

৭ - নববী হাদিসসমূহের সূত্র নির্দেশ করা হয়েছে; যদি হাদিসটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুইটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু সেখান থেকেই এর উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি তা এই দুই কিতাবে বা কোনো একটিতে না থাকে, তবে আমি তা সংশ্লিষ্ট সংকলকের দিকে সম্বন্ধ করেছি।

৮ - নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে আরবদের বাণী ও প্রবাদসমূহ যাচাই করা হয়েছে।

৯ - কাব্যিক প্রমাণের অপরিচিত শব্দসমূহের ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং প্রামাণ্য উৎসসমূহ থেকে তা রচয়িতার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে; অন্যথায় আভিধানিক গ্রন্থসমূহ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি ছন্দের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে কাব্যাংশের প্রমাণের দিকটি স্পষ্ট করা হয়েছে।

১০ - প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাকরণগত (নাহবি) মাসয়ালাসমূহের ওপর তাত্ত্বিক আলোচনা করা হয়েছে।

১১ - যেসব কিতাব থেকে উদ্ধৃতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, সেই মূল কিতাব থেকে উদ্ধৃতিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

১২ - দুর্লভ শব্দাবলী, তাত্ত্বিক পরিভাষা এবং স্থান ও দেশসমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান করা হয়েছে।

১৩ - উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের প্রথম উল্লেখে তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করা হয়েছে।

১৪ - গবেষণা পরিকল্পনায় বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী গবেষণার শেষে বিস্তারিত সূচিপত্র যুক্ত করা হয়েছে।

 

এই মুখবন্ধের শেষে আমি মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, তিনি এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার এবং এর উপায়সমূহ সহজ করার মাধ্যমে আমার ওপর অনুগ্রহ দান করেছেন।

এরপর আমি আমার সম্মানিত শিক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক ডক্টর ইবরাহীম বিন সালেহ আল-আউফী-কে ধন্যবাদ জানাই তার অগাধ জ্ঞান দিয়ে আমাকে ধন্য করার জন্য। তিনি আমাকে তার মূল্যবান পর্যবেক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন যা আমার পথকে আলোকিত করেছে এবং আমার প্রয়োজন পূরণ করেছে। তিনি আমার এই কাজটির পাঠোদ্ধারে কষ্ট সহ্য করেছেন, ফলে এর ভুলত্রুটি সংশোধন হয়েছে এবং অপূর্ণতাগুলো পূর্ণ হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে আমার পক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাকে সর্বদা তাঁর সাহায্য ও সমর্থন প্রদান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর ওপর ক্ষমতাবান।

এরপর আমি দুই সম্মানিত পর্যালোচককে ধন্যবাদ জানাই এই থিসিসটি পর্যালোচনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার উদারতা এবং তাদের আগ্রহের জন্য...
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ৯)
الارتقاء بها إلى الكمال والسداد، فالله يجزيهما خيرًا، ويزيدهما توفيقًا وبرًّا.

وأشكر ختامًا الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، ممثلة في كلية اللغة العربية، عميدًا ووكلاء، وأخص منها قسم اللغويات، رئيسًا وأساتذة، على إتاحة الفرصة لي بمواصلة الدراسة، وإمدادي بالعلم والمعرفة، ومساعدتي في إنجاز هذا العمل، فزادهم الله من فضله وتكريمه، وآتاهم من كل خيرٍ ما يرجون ويؤملون.

وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
একে পূর্ণতা ও সঠিকতার স্তরে উন্নীত করার জন্য; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের তাওফিক ও পুণ্য বৃদ্ধি করুন।

পরিশেষে আমি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, যার প্রতিনিধিত্ব করছে আরবি ভাষা অনুষদ—এর ডিন ও সহকারী ডিনবৃন্দ। বিশেষভাবে আমি এর ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই, আমাকে অধ্যয়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ প্রদানের জন্য এবং আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার জন্য। আল্লাহ তাঁদের তাঁর অনুগ্রহ ও সম্মান বৃদ্ধি করুন এবং তাঁরা যা আশা ও আকাঙ্ক্ষা করেন তার মধ্য থেকে সকল কল্যাণ তাঁদের দান করুন।

আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الدراسة
অধ্যয়ন
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الأول: ابن مالك وابن هشام الأنصاري، (ترجمة موجزة)
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে মালিক এবং ইবনে হিশাম আল-আনসারি (সংক্ষিপ্ত জীবনী)
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১২)
يتصل الكتاب محلُّ الدراسة بعَلَمين نحويَّين بارزين، فصاحب الكتاب المحشَّى عليه: ابن مالك، وصاحب الحواشي: ابن هشام الأنصاري، والدراسات المعرِّفة بهما متكاثرة، مطوَّلُها ومختصرُها، قديمُها وحديثُها، والإشارة إلى طرفٍ من سيرتهما مفيدٌ بين يدَيْ كتابَيْهما، فكان هذا المبحث.

 

‌‌أولا: ابن مالك (1):

هو أبو عبدالله، محمد بن عبدالله بن عبدالله بن مالك الطائي، جمال الدين(2).

ولد بجَيَّان في الأندلس، في حدود سنة 600، فقيل: سنة 598(3)، وقيل:

--------------------------------------------

(1) من مصادر ترجمته عند المتقدمين: ذيل مرآة الزمان لليونيني 3/ 76، والمختصر في أخبار البشر 4/ 8، والعبر 3/ 326، وتاريخ الإسلام 15/ 249، وتذكرة الحفاظ 4/ 188، وتاريخ ابن الوردي 2/ 215، ومسالك الأبصار 7/ 189، وفوات الوفيات 3/ 407، والوافي بالوفيات 3/ 285، ومرآة الجنان 4/ 131، وطبقات الشافية الكبرى 8/ 67، والبداية والنهاية 17/ 513، وطبقات الشافعيين لابن كثير 908، والبلغة 269، وغاية النهاية 2/ 180، والفلاكة والمفلوكون 64، والسلوك 2/ 88، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 149، وعقد الجمان (المماليك) 2/ 123، والنجوم الزاهرة 7/ 244، وبغية الوعاة 1/ 130، ونفح الطيب 2/ 222، وشذرات الذهب 7/ 590، وهدية العارفين 2/ 130، ومنها عند المعاصرين: الأعلام 6/ 233، ومعجم المؤلفين 10/ 234، ومن تاريخ النحو 96، 97، والمدارس النحوية 309. وللمعاصرين حول ابن مالك وكتبه ومنهجه النحوي دراسات مفردة ومضمنة مقدماتِهم لتحقيق كتبه.

(2) ينظر: العبر 3/ 326، وتاريخ الإسلام 15/ 249، وتذكرة الحفاظ 4/ 188، وفوات الوفيات 3/ 407، والوافي بالوفيات 3/ 285، وطبقات الشافية الكبرى 8/ 67، والبداية والنهاية 17/ 513، وطبقات الشافعيين لابن كثير 908، والبلغة 269، وغاية النهاية 2/ 180، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 149، وبغية الوعاة 1/ 130، ونفح الطيب 2/ 222، وشذرات الذهب 7/ 590.

(3) ينظر: طبقات الشافعية 2/ 149، وغاية النهاية 2/ 180.

বর্তমান পর্যালোচিত গ্রন্থটি দুইজন বিশিষ্ট ব্যাকরণবিদের সাথে সংশ্লিষ্ট। মূল গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ইবনে মালিক এবং টীকা বা হাশিয়ার রচয়িতা হলেন ইবনে হিশাম আল-আনসারী। তাঁদের পরিচয় সম্বলিত গবেষণাকর্ম অনেক—যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত, প্রাচীন ও আধুনিক। তাঁদের গ্রন্থদ্বয় আলোচনার পূর্বে তাঁদের জীবনীর কিয়দাংশ উল্লেখ করা উপকারী, তাই এই পরিচ্ছেদটি সংযোজন করা হয়েছে।

 

‌‌প্রথমত: ইবনে মালিক (১):

তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আল-তাঈ, জামালুদ্দীন(২)।

তিনি আন্দালুসের জাইয়ানে আনুমানিক ৬০০ হিজরি সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়: ৫৯৮ হিজরিতে(৩), আবার বলা হয়:

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: ইউনীনি-র 'যাইলু মিরাতিয যামান' ৩/৭৬, 'আল-মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার' ৪/৮, 'আল-ইবার' ৩/৩২৬, 'তারিখুল ইসলাম' ১৫/২৪৯, 'তাযকিরাতুল হুফফায' ৪/১৮৮, 'তারিখে ইবনিল ওয়ারদী' ২/২১৫, 'মাসালিকুল আবসার' ৭/১৮৯, 'ফাওয়াতুল ওফাইয়াত' ৩/৪০৭, 'আল-ওয়াফি বিল ওফাইয়াত' ৩/২৮৫, 'মিরাতুল জিনান' ৪/১৩১, 'তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা' ৮/৬৭, 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ' ১৭/৫১৩, ইবনে কাসিরের 'তাবাকাতুশ শাফিয়্যীন' ৯০৮, 'আল-বুলগাহ' ২৬৯, 'গায়াতুন নিহায়াহ' ২/১৮০, 'আল-ফালাকাহ ওয়াল মাফলুকুন' ৬৪, 'আস-সুলুক' ২/৮৮, ইবনে কাদি শুহবাহর 'তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ' ২/১৪৯, 'আকদুল জুমান (মামালেক)' ২/১২৩, 'আন-নুজুমুয যাহিরাহ' ৭/২৪৪, 'বুগিয়াতুল উয়াত' ১/১৩০, 'নাফহুত তীব' ২/২২২, 'শাযারাতুয যাহাব' ৭/৫৯০, 'হাদিয়াতুল আরিফীন' ২/১৩০। এবং আধুনিক লেখকদের মধ্যে: 'আল-আলাম' ৬/২৩৩, 'মুজামুল মুয়াল্লিফীন' ১০/২৩৪, 'মিন তারিখিন নাহু' ৯৬, ৯৭, 'আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ' ৩০৯। আধুনিক গবেষকদের নিকট ইবনে মালিক, তাঁর গ্রন্থাবলি এবং তাঁর ব্যাকরণিক মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে স্বতন্ত্র এবং তাঁদের তাহকিককৃত কিতাবসমূহের ভূমিকায় অন্তর্ভুক্ত গবেষণা রয়েছে।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-ইবার ৩/৩২৬, তারিখুল ইসলাম ১৫/২৪৯, তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১৮৮, ফাওয়াতুল ওফাইয়াত ৩/৪০৭, আল-ওয়াফি বিল ওফাইয়াত ৩/২৮৫, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা ৮/৬৭, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১৭/৫১৩, ইবনে কাসিরের তাবাকাতুশ শাফিয়্যীন ৯০৮, আল-বুলগাহ ২৬৯, গায়াতুন নিহায়াহ ২/১৮০, ইবনে কাদি শুহবাহর তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ২/১৪৯, বুগিয়াতুল উয়াত ১/১৩০, নাফহুত তীব ২/২২২, শাযারাতুয যাহাব ৭/৫৯০।

(৩) দ্রষ্টব্য: তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ২/১৪৯, গায়াতুন নিহায়াহ ২/১৮০।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৩)
600(1)، وقيل: 601(2)، وقيل: بين 600 و 601(3).

ثم رحل إلى المشرق مارًّا بإشبيلية، ثم قصد الشام لطلب العلم، فدخل دمشق، ثم استقر في حلب(4)، ثم انتقل إلى دمشق، وبقي فيها إلى أن توفي في شعبان سنة 672، ودفن في سفح قاسيون(5).

وله ثلاثة أبناء، كل واحد منهم اسمه محمد: بدر الدين (ت 686)(6)، وتقي الدين الأسد (ت 699)(7)، وشمس الدين (ت 719)(8).

أخذ عن شيوخ عدة(9)، فمنهم بجيَّان: أبو المظفر ثابت بن محمد بن يوسف الكلاعي (ت 628)(10)، وبإشبيلية أبو علي عمر بن محمد الشلوبين (ت 645)(11)،

وبدمشق أبو الحسن علي علم الدين بن محمد بن عبدالصمد السخاوي (ت

--------------------------------------------

(1) ينظر: فوات الوفيات 3/ 407، والبداية والنهاية 17/ 513، والبلغة 269.

(2) ينظر: الوافي بالوفيات 3/ 285.

(3) ينظر: تاريخ الإسلام 15/ 249، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 67، وبغية الوعاة 1/ 130، ونفح الطيب 2/ 222، وشذرات الذهب 7/ 590.

(4) تعرف رحلاته من شيوخه الذين أخذ عنهم في كل بلدة.

(5) ينظر: تاريخ الإسلام 15/ 249، والعبر 3/ 326، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 67، والبداية والنهاية 17/ 513، وغاية النهاية 2/ 180، وبغية الوعاة 1/ 130.

(6) ترجمته في: تاريخ الإسلام 15/ 581، والوافي بالوفيات 1/ 165، وبغية الوعاة 1/ 225.

(7) ترجمته في: تاريخ الإسلام 15/ 935، والوافي بالوفيات 1/ 166.

(8) ترجمته في: أعيان العصر 5/ 165، والدرر الكامنة 5/ 457.

(9) ينظر: تاريخ الإسلام 14/ 627، 15/ 249، والوافي بالوفيات 1/ 161، وطبقات الشافعيين 908، وغاية النهاية 2/ 181، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 149، وبغية الوعاة 1/ 130، 231، 482.

(10) ترجمته في: تاريخ الإسلام 13/ 854، والوافي بالوفيات 10/ 291.

(11) ترجمته في: إنباه الرواة 2/ 332، وبغية الوعاة 2/ 224.

600(১); মতান্তরে: ৬০১(২); আবার মতান্তরে: ৬০০ ও ৬০১ এর মধ্যবর্তী সময়ে(৩)।

এরপর তিনি ইশবিলিয়া হয়ে প্রাচ্যের দিকে যাত্রা করেন, তারপর ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে শামের পথ ধরেন। তিনি দামেস্কে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে হালাবে(৪) স্থায়ী হন। এরপর পুনরায় দামেস্কে ফিরে আসেন এবং ৬৭২ হিজরীর শাবান মাসে মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। তাকে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়(৫)।

তার তিন পুত্র ছিল, যাদের প্রত্যেকের নাম ছিল মুহাম্মাদ: বদরুদ্দীন (মৃত্যু ৬৮৬)(৬), তাকীউদ্দীন আল-আসাদ (মৃত্যু ৬৯৯)(৭) এবং শামসুদ্দীন (মৃত্যু ৭১৯)(৮)।

তিনি বেশ কয়েকজন শায়খের নিকট শিক্ষালাভ করেন(৯)। তাদের মধ্যে জায়্যান শহরে ছিলেন: আবুল মোযাফফর সাবিত বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-কালাঈ (মৃত্যু ৬২৮)(১০) এবং ইশবিলিয়ায় ছিলেন আবু আলী উমর বিন মুহাম্মাদ আশ-শালুবীন (মৃত্যু ৬৪৫)(১১)।

দামেস্কে ছিলেন আবুল হাসান আলী আলামুদ্দীন বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুস সামাদ আস-সাখাভী (মৃত্যু

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ৩/৪০৭, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৭/৫১৩ এবং আল-বুলগাহ ২৬৯।

(২) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৩/২৮৫।

(৩) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/২৪৯, তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ৮/৬৭, বুগইয়াতুল উয়াত ১/১৩০, নাফহুত তীব ২/২২২ এবং শাযারাতুয যাহাব ৭/৫৯০।

(৪) প্রতিটি শহরে তিনি যেসব শায়খদের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন, তাদের মাধ্যমে তার সফরগুলো সম্পর্কে জানা যায়।

(৫) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/২৪৯, আল-ইবার ৩/৩২৬, তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ৮/৬৭, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৭/৫১৩, গায়াতুন নিহায়া ২/১৮০ এবং বুগইয়াতুল উয়াত ১/১৩০।

(৬) তার জীবনী দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৫৮১, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১/১৬৫ এবং বুগইয়াতুল উয়াত ১/২২৫।

(৭) তার জীবনী দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৯৩৫ এবং আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১/১৬৬।

(৮) তার জীবনী দেখুন: আইয়ানুল আসর ৫/১৬৫ এবং আদ-দুরারুল কামিনাহ ৫/৪৫৭।

(৯) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৪/৬২৭, ১৫/২৪৯, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১/১৬১, তাবাকাতুশ শাফিঈয়ীন ৯০৮, গায়াতুন নিহায়া ২/১৮১, ইবনে কাযী শুহবাহর তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ ২/১৪৯ এবং বুগইয়াতুল উয়াত ১/১৩০, ২৩১, ৪৮২।

(১০) তার জীবনী দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৮৫৪ এবং আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১০/২৯১।

(১১) তার জীবনী দেখুন: ইনবাহুর রুওয়াত ২/৩৩২ এবং বুগইয়াতুল উয়াত ২/২২৪।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
643)(1)، وبحلب أبو البقاء يعيش بن علي بن يعيش (ت 643)(2)، وأبو عبدالله محمد ابن عمرون (ت 649)(3).

وتتلمذ على يديه خلق كثير(4)، أشهرهم: ابنه محمد بدر الدين، ومحمد بهاء الدين ابن إبراهيم النحاس (ت 698)(5)، ومحمد شمس الدين بن أبي الفتح البعلي (ت 709)(6)، وأبو عبدالله محمد بن محمد بن جعوان (ت 682)(7)، وأبو الحسين علي شرف الدين بن محمد اليونيني (ت 701)(8).

واشتهر في النحو والتصريف واللغة والقراءات، ودرَّس في الجامع الأموي وفي مدارس مختلفة، وتكاثر عليه الطلبة، وكان ذا ديانة وصدق، حَسَنَ السمت، موفور العقل(9).

ومن مؤلفاته:

في النحو: الكافية الشافية(10)، وشرحها(11)، والخلاصة الألفية(12)، وتسهيل

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: وفيات الأعيان 3/ 340، وبغية الوعاة 2/ 192.

(2) ترجمته في: إنباه الرواة 4/ 45، ووفيات الأعيان 7/ 46.

(3) ترجمته في: تاريخ الإسلام 14/ 627، وبغية الوعاة 1/ 231.

(4) ينظر: تاريخ الإسلام 15/ 249، والوافي بالوفيات 3/ 287، وطبقات الشافعيين لابن كثير 908، وبغية الوعاة 1/ 130.

(5) ترجمته في: فوات الوفيات 3/ 294، وبغية الوعاة 1/ 13.

(6) ترجمته في: الوافي بالوفيات 4/ 224، وبغية الوعاة 1/ 207.

(7) ترجمته في: ذيل مرآن الزمان 4/ 197، والوافي بالوفيات 1/ 164.

(8) ترجمته في: الوافي بالوفيات 21/ 278، وشذرات الذهب 8/ 8.

(9) ينظر: تاريخ الإسلام 15/ 249، والوافي بالوفيات 3/ 286، وفوات الوفيات 3/ 407، وغاية النهاية 2/ 180، وبغية الوعاة 1/ 130، ونفح الطيب 2/ 223.

(10) طبعت مع شرحها الآتي.

(11) طبع بتحقيق د. عبدالمنعم هريدي، سنة 1402.

(12) طبعت طبعاتٍ كثيرة، وحققها د. سليمان العيوني على عدة نسخ عالية، سنة 1432.

৬৪৩)(১); আর হালাবে ছিলেন আবু আল-বাকা ইয়াইশ বিন আলি বিন ইয়াইশ (ওফাত ৬৪৩)(২), এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আমুরুন (ওফাত ৬৪৯)(৩)।

তাঁর কাছে অসংখ্য ছাত্র শিক্ষালাভ করেছেন(৪), তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন: তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বদরুদ্দীন, মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন ইবনে ইবরাহিম আন-নাহহাস (ওফাত ৬৯৮)(৫), মুহাম্মদ শামসুদ্দীন বিন আবিল ফাতহ আল-বালি (ওফাত ৭০৯)(৬), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন জাওয়ান (ওফাত ৬৮২)(৭) এবং আবু আল-হুসাইন আলি শারাফুদ্দীন বিন মুহাম্মদ আল-ইউনিনি (ওফাত ৭০১)(৮)।

তিনি নাহু (ব্যাকরণ), তাসরিফ (রূপতত্ত্ব), লুগাত (ভাষা) এবং কিরাতশাস্ত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি উমাইয়া মসজিদ এবং বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। তাঁর কাছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তিনি ধার্মিক, সত্যবাদী, সুন্দর চরিত্রের অধিকারী এবং প্রখর মেধাসম্পন্ন ছিলেন(৯)।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

নাহু শাস্ত্রে: আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া(১০), এবং এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)(১১), আল-খুলাসাতুল আলফিয়্যাহ(১২) এবং তাস-হিল

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: ওফাইয়াতুল আইয়ান ৩/ ৩৪০ এবং বুগয়াতুল ওয়াত ২/ ১৯২।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন: ইনবাহুর রুওয়াত ৪/ ৪৫ এবং ওফাইয়াতুল আইয়ান ৭/ ৪৬।

(৩) তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৪/ ৬২৭ এবং বুগয়াতুল ওয়াত ১/ ২৩১।

(৪) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/ ২৪৯, আল-ওয়াফি বিল ওফাইয়াত ৩/ ২৮৭, ইবনে কাসিরের তাবাকাতুশ শাফিঈন ৯০৮ এবং বুগয়াতুল ওয়াত ১/ ১৩০।

(৫) তাঁর জীবনী দেখুন: ফাওয়াতুল ওফাইয়াত ৩/ ২৯৪ এবং বুগয়াতুল ওয়াত ১/ ১৩।

(৬) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওফাইয়াত ৪/ ২২৪ এবং বুগয়াতুল ওয়াত ১/ ২০৭।

(৭) তাঁর জীবনী দেখুন: জাইলু মিরআতিয যামান ৪/ ১৯৭ এবং আল-ওয়াফি বিল ওফাইয়াত ১/ ১৬৪।

(৮) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওফাইয়াত ২১/ ২৭৮ এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/ ৮।

(৯) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/ ২৪৯, আল-ওয়াফি বিল ওফাইয়াত ৩/ ২৮৬, ফাওয়াতুল ওফাইয়াত ৩/ ৪০৭, গায়াতুন নিহায়াহ ২/ ১৮০, বুগয়াতুল ওয়াত ১/ ১৩০ এবং নাফহুত তিব ২/ ২২৩।

(১০) এটি পরবর্তী উল্লিখিত শারহসহ মুদ্রিত হয়েছে।

(১১) এটি ড. আব্দুল মুনয়িম হারিদির তাহকিকের সাথে ১৪০২ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

(১২) এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং ড. সুলাইমান আল-আইয়ুনি ১৪৩২ হিজরিতে বেশ কিছু উচ্চমানের পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এটি তাহকিক করেছেন।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفوائد وتكميل المقاصد(1)، وشرحه(2)، وعمدة الحافظ وعُدَّة اللافظ(3)، وشرحه(4)، وشواهد التوضيح والتصحيح لمشكلات الجامع الصحيح(5)، وسبك المنظوم وفك المختوم(6)، والتحفة، وهو نكت على كافية ابن الحاجب(7).

وفي التصريف: التعريف في ضروري التصريف(8)، وإيجاز التعريف في علم التصريف(9)، ولامية الأفعال(10).

وفي اللغة: إكمال الإعلام بتثليث الكلام(11)، والاعتضاد في الفرق بين الظاء والضاد(12)، والنظم الأوجز فيما يهمز وما لا يهمز(13)، ووفاق المفهوم في اختلاف

--------------------------------------------

(1) طبع بتحقيق د. محمد كامل بركات، سنة 1388.

(2) طبع بتحقيق د. عبدالرحمن السيد ود. محمد بدون المختون، سنة 1410.

(3) طبع مع شرحه الآتي.

(4) طبع بتحقيق د. عدنان الدوري، سنة 1397، وبتحقيق أحمد بن إبراهيم المغيني، سنة 1430.

(5) طبع بتحقيق الأستاذ محمد فؤاد عبدالباقي، سنة 1376، وبتحقيق د. طه محسن، سنة 1405، وبتحقيق د. عبدالله ناصير، سنة 1432.

(6) طبع بتحقيق د. عدنان سلمان ود. فاخر مطر، سنة 1425.

(7) طبع خطأً باسم: شرح كافية ابن الحاجب في النحو تأليف: بدر الدين محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة المتوفى سنة 733، بتحقيق محمد حسن إسماعيل.

(8) طبع ضمن شرحَيْه: شرح ابن إياز، بتحقيق د. هادي نهر وهلال ناجي، سنة 1422، وشرح عمر بن أحمد، بتحقيق د. محمد بن عبدالحي عمار سالم، سنة 1432.

(9) طبع بتحقيق د. محمد بن عبدالحي عمار سالم، سنة 1422، وبتحقيق د. حسن العثمان، سنة 1425، وبتحقيق د. محمد عثمان، سنة 1430.

(10) طبعت ضمن شروحها، كشرحَيْ ابن الناظم، وبحرق اليمني المسمى: فتح الأقفال وحل الإشكال بشرح لامية الأفعال، وهما مطبوعان طبعاتٍ.

(11) طبع بتحقيق د. سعد حمدان الغامدي، سنة 1404.

(12) طبع بتحقيق د. حسين تورال ود. طه محسن، سنة 1391.

(13) طبع مع شرحه بتحقيق د. علي حسين البواب، سنة 1405.

আল-ফাওয়ায়েদ ওয়া তাকমিলুল মাকাসিদ(১), এবং এর ব্যাখ্যা(২), উমদাতুল হাফিয ওয়া উদ্দাতুল লাফিয(৩), এবং এর ব্যাখ্যা(৪), শাওয়াতিদুত তাওদিহ ওয়াত তাসহিহ লি মুশকিলাতিল জামিইস সহিহ(৫), সাবকুল মানযুম ওয়া ফাক্কুল মাখতুুম(৬), এবং আত-তুহফাহ—যা ইবনুল হাজিবের কাফিয়া-র ওপর একটি টীকা(৭)।

ইলমে সরফ (শব্দরূপতত্ত্ব) বিষয়ে: আত-তারিফ ফি দারুরিত তাসরিফ(৮), ইজাযুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ(৯) এবং লামিয়াতুল আফআল(১০)।

ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে: ইকমালুল ইলাম বি তাথলিথিল কালাম(১১), আল-ইতিদাদ ফিল ফারকি বাইনায যা ওয়াদ দাদ(১২), আন-নাযমুল আওজায ফিমা ইয়ুমহায ওয়া মা লা ইয়ুমহায(১৩) এবং বিফাকুল মাফহুম ফি ইখতিলাফ...

--------------------------------------------

(১) ড. মুহাম্মাদ কামিল বারাকাত-এর সম্পাদনায় ১৩৮৮ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) ড. আব্দুর রহমান আস-সাইয়্যিদ এবং ড. মুহাম্মাদ বাদউন আল-মাখতুন-এর সম্পাদনায় ১৪১০ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(৩) এর পরবর্তী ব্যাখ্যাসহ মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) ড. আদনান আদ-দাওরি-র সম্পাদনায় ১৩৯৭ সনে এবং আহমাদ বিন ইবরাহীম আল-মুগাইনি-র সম্পাদনায় ১৪৩০ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(৫) উস্তাদ মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি-র সম্পাদনায় ১৩৭৬ সনে, ড. ত্বহা মুহসিন-এর সম্পাদনায় ১৪০৫ সনে এবং ড. আব্দুল্লাহ নাসির-এর সম্পাদনায় ১৪৩২ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(৬) ড. আদনান সালমান এবং ড. ফাখির মাতার-এর সম্পাদনায় ১৪২৫ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(৭) ভুলবশত 'নাহু শাস্ত্রের ইবনুল হাজিবের কাফিয়ার ব্যাখ্যা' নামে মুদ্রিত হয়েছে, যার রচয়িতা হিসেবে বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন সাদুল্লাহ বিন জামা'আহ (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এটি মুহাম্মাদ হাসান ইসমাঈল-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত।

(৮) এটি এর দুটি ব্যাখ্যার সাথে মুদ্রিত হয়েছে: ইবনে ইয়াজের ব্যাখ্যা, যা ড. হাদি নাহর এবং হিলাল নাজি-র সম্পাদনায় ১৪২২ সনে প্রকাশিত এবং উমর বিন আহমদের ব্যাখ্যা, যা ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাই আম্মার সালিম-এর সম্পাদনায় ১৪৩২ সনে প্রকাশিত হয়েছে।

(৯) ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাই আম্মার সালিম-এর সম্পাদনায় ১৪২২ সনে, ড. হাসান আল-উসমান-এর সম্পাদনায় ১৪২৫ সনে এবং ড. মুহাম্মাদ উসমান-এর সম্পাদনায় ১৪৩০ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(১০) এটি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর সাথে মুদ্রিত হয়েছে, যেমন ইবনুয নাযিমের দুটি ব্যাখ্যা এবং বাহরাক আল-ইয়ামানির ব্যাখ্যা, যার নাম: 'ফাতহুল আকফাল ওয়া হাল্লুল ইশকাল বি শারহি লামিয়াতিল আফআল'। এই উভয়টি বিভিন্ন সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে।

(১১) ড. সাদ হামদান আল-গামিদি-র সম্পাদনায় ১৪০৪ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(১২) ড. হুসাইন তুরাল এবং ড. ত্বহা মুহসিন-এর সম্পাদনায় ১৩৯১ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(১৩) এর ব্যাখ্যাসহ ড. আলী হুসাইন আল-বাওয়াব-এর সম্পাদনায় ১৪০৫ সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৬)
المقول والمرسوم(1)، وتحفة المودود في المقصور والممدود(2).

وفي القراءات: القصيدة المالكية(3).

 

‌‌ثانيًا: ابن هشام الأنصاري (4):

هو أبو محمد، عبدالله بن يوسف بن أحمد بن عبدالله بن هشام الأنصاري الشافعي ثم الحنبلي، جمال الدين(5).

ولد في القاهرة سنة 708، وبها نشأ(6).

وأخذ عن جماعةٍ من علماء عصره(7)، أبرزهم: عمر تاج الدين بن علي الفاكهاني

--------------------------------------------

(1) طبع بتحقيق بدر الزمان محمد شفيع النيبالي، سنة 1409.

(2) طبع بشرح عمار بن خميسي، سنة 1427.

(3) طبعت بتحقيق د. أحمد بن علي السديس، سنة 1429.

(4) من مصادر ترجمته عند المتقدمين: أعيان العصر وأعوان النصر للصفدي 3/ 5، وذيل العبر للحسيني (4/ 187 مع العبر)، والوفيات لابن رافع السلامي 2/ 234، وتاريخ ابن قاضي شهبة 2/ 171، والسلوك 4/ 248، والدرر الكامنة 3/ 93، والمنهل الصافي 7/ 131، والنجوم الزاهرة 10/ 336، والمقصد الأرشد 2/ 66، وبغية الوعاة 2/ 68، وحسن المحاضرة 1/ 536، وشذرات الذهب 8/ 329. وللمعاصرين حول ابن هشام وكتبه ومنهجه النحوي دراسات مفردة ومضمنة مقدماتِهم لتحقيق كتبه.

(5) ينظر: أعيان العصر 3/ 5، والمنهل الصافي 7/ 131، والنجوم الزاهرة 10/ 336، وبغية الوعاة 2/ 68، وشذرات الذهب 8/ 329.

(6) ينظر: المنهل الصافي 7/ 132، والسلوك 4/ 248، والدرر الكامنة 3/ 93، وبغية الوعاة 2/ 68، وشذرات الذهب 8/ 329.

(7) ينظر: الدرر الكامنة 3/ 93، والمنهل الصافي 7/ 132، والمقصد الأرشد 2/ 66، وحسن المحاضرة 1/ 536، وبغية الوعاة 2/ 68، وشذرات الذهب 8/ 329.

আল-মাকুল ওয়াল-মারসুম(১), এবং তুহফাতুল মাওদুদ ফিল মাকসুর ওয়াল মামদুদ(২)।

এবং কিরাতশাস্ত্রে: আল-কাসিদাহ আল-মালিকিয়্যাহ(৩)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: ইবনে হিশাম আল-আনসারী (৪):

তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ, আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম আল-আনসারী আশ-শাফিঈ অতঃপর হাম্বালী, জামালুদ্দীন(৫)।

তিনি ৭০৮ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন(৬)।

তিনি তাঁর যুগের একদল আলেমের নিকট শিক্ষালাভ করেন(৭), যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: উমর তাজউদ্দীন ইবনে আলী আল-ফাকিহানি

--------------------------------------------

(১) বদরুজ্জামান মুহাম্মদ শফি আল-নিপালি-এর তাহকিকসহ ১৪০৯ সালে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) আম্মার বিন খামিসি-এর শারহ (ব্যাখ্যা) সহ ১৪২৭ সালে মুদ্রিত হয়েছে।

(৩) ড. আহমদ বিন আলী আস-সুদাইস-এর তাহকিকসহ ১৪২৯ সালে মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) প্রাচীন লেখকদের নিকট তাঁর জীবনীগ্রন্থের উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে: আস-সাফাদির 'আয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন্নাসর' ৩/৫, আল-হুসাইনির 'যাইলুল ইবার' (ইবারের সাথে ৪/১৮৭), ইবনে রাফি আস-সালামির 'আল-ওয়াফায়াত' ২/২৩৪, ইবনে কাজি শুহবার 'তারিখ' ২/১৭১, 'আস-সুলুক' ৪/২৪৮, 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' ৩/৯৩, 'আল-মানহালুস সাফী' ৭/১৩১, 'আন-নুজুমুজ জাহিরাহ' ১০/৩৩৬, 'আল-মাকসাদুল আরশাদ' ২/৬৬, 'বুগয়াতুল উয়াত' ২/৬৮, 'হুসনুল মুহাদারা' ১/৫৩৬ এবং 'শাযারাতুয যাহাব' ৮/৩২৯। আর সমসাময়িকদের মধ্যে ইবনে হিশাম, তাঁর গ্রন্থসমূহ এবং তাঁর ব্যাকরণিক পদ্ধতি সম্পর্কে স্বতন্ত্র গবেষণা এবং তাঁদের সম্পাদিত গ্রন্থসমূহের ভূমিকায় বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

(৫) দেখুন: আয়ানুল আসর ৩/৫, আল-মানহালুস সাফী ৭/১৩১, আন-নুজুমুজ জাহিরাহ ১০/৩৩৬, বুগয়াতুল উয়াত ২/৬৮ এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/৩২৯।

(৬) দেখুন: আল-মানহালুস সাফী ৭/১৩২, আস-সুলুক ৪/২৪৮, আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৯৩, বুগয়াতুল উয়াত ২/৬৮ এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/৩২৯।

(৭) দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৯৩, আল-মানহালুস সাফী ৭/১৩২, আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/৬৬, হুসনুল মুহাদারা ১/৫৩৬, বুগয়াতুল উয়াত ২/৬৮ এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/৩২৯।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৭)
(ت 731)(1)، وعبداللطيف شهاب الدين بن عبدالعزيز ابن المرحِّل (ت 744)(2)، وأبو حيان محمد بن يوسف بن علي الأندلسي (ت 745)(3)، وعلي تاج الدين بن عبدالله التبريزي (ت 746)(4)، وأبو عبدالله محمد بن محمد بن نمير ابن السرَّاج (ت 747)(5).

وبرع في القراءات والتفسير والعربية، وانتفع به طلبة العلم، فدرَّس في أماكنَ بمصر، كالقبة المنصورية، والمدرسة الحنبلية، ودرَّس في مكة لَمَّا جاور بها(6).

ونبغ في مرحلة مبكرة من حياته، وذاع صيته، واشتهر علمه، وانتشرت كتبه في حياته، حتى قال عنه معاصرُه تاج الدين السبكي(7) (ت 771): «نحويُّ هذا الوقتِ أبقاه الله تعالى».

وانتفع به الطلبة، فقد كانت مجالسه عامرةً بالمطارحات والمناقشات العلمية، ومن أبرز تلاميذه: جلال الدين بن أحمد التبَّاني (ت 793)(8)، ومحمد بدر الدين بن بهادر الزركشي (ت 794)(9)، وعبدالرحمن بن أحمد ابن رجب الحنبلي (ت 795)(10)، وابنه

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: البداية والنهاية 18/ 370، والدرر الكامنة 4/ 209، وحسن المحاضرة 1/ 458.

(2) ترجمته في: الوافي بالوفيات 19/ 81، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 3/ 20، والدرر الكامنة 3/ 209.

(3) ترجمته في: الوافي بالوفيات 5/ 175، وبغية الوعاة 1/ 280.

(4) ترجمته في: أعيان العصر 3/ 406، وحسن المحاضرة 1/ 545، وشذرات الذهب 8/ 256.

(5) ترجمته في: الدرر الكامنة 5/ 502، وغاية النهاية 2/ 256، وشذرات الذهب 8/ 262.

(6) ينظر: أعيان العصر 3/ 6، والنجوم الزاهرة 10/ 336، والدرر الكامنة 3/ 93، وحسن المحاضرة 1/ 536، وشذرات الذهب 8/ 329.

(7) طبقات الشافعية الكبرى 9/ 281.

(8) ترجمته في: الدرر الكامنة 2/ 97، 4/ 273، والمنهل الصافي 5/ 3، 350، وبغية الوعاة 1/ 488.

(9) ترجمته في: طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 3/ 167، وإنباء الغمر 1/ 446، وحسن المحاضرة 1/ 437.

(10) ترجمته في: إنباء الغمر 1/ 460، وشذرات الذهب 8/ 579.

(মৃত্যু ৭৩১)(১), এবং আব্দুল লতিফ শিহাবুদ্দীন ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনুল মুরাহহিল (মৃত্যু ৭৪৪)(২), এবং আবু হাইয়ান মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৪৫)(৩), এবং আলী তাজউদ্দীন ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তাবরিজি (মৃত্যু ৭৪৬)(৪), এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুমাইর ইবনুস সাররাজ (মৃত্যু ৭৪৭)(৫)।

তিনি কিরাআত, তাফসির এবং আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং ইলম অন্বেষণকারীরা তার মাধ্যমে উপকৃত হন। তিনি মিশরের বিভিন্ন স্থানে দরস প্রদান করেন, যেমন কুব্বাতুল মানসুরিয়া এবং আল-মাদরাসাতুল হানবালিয়া। মক্কায় অবস্থানের সময় তিনি সেখানেও দরস প্রদান করেন(৬)।

তিনি তার জীবনের শুরুর দিকেই প্রতিভা প্রদর্শন করেন এবং তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে, তার জ্ঞান সুবিদিত হয় এবং তার জীবদ্দশাতেই তার গ্রন্থসমূহ চারদিকে বিস্তৃত হয়। এমনকি তার সমসাময়িক তাজউদ্দীন আস-সুবকি(৭) (মৃত্যু ৭৭১) তার সম্পর্কে বলেছেন: «আল্লাহ তাআলা বর্তমান সময়ের এই ব্যাকরণবিদকে দীর্ঘজীবী করুন»।

ছাত্ররা তার দ্বারা উপকৃত হয়েছে, কেননা তার মজলিসগুলো বৈজ্ঞানিক আলোচনা ও বিতর্কে ভরপুর ছিল। তার বিশিষ্ট ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: জালালুদ্দীন ইবনে আহমদ আত-তাব্বানি (মৃত্যু ৭৯৩)(৮), মুহাম্মদ বদরুদ্দীন ইবনে বাহাদুর আজ-যারকাশি (মৃত্যু ৭৯৪)(৯), আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব আল-হানবালি (মৃত্যু ৭৯৫)(১০), এবং তার পুত্র

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৮/ ৩৭০, আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/ ২০৯, এবং হুসনুল মুহাদারা ১/ ৪৫৮।

(২) তার জীবনী দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১৯/ ৮১, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ইবনে কাদি শুহবা ৩/ ২০, এবং আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/ ২০৯।

(৩) তার জীবনী দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৫/ ১৭৫, এবং বুগয়াতুল উয়াত ১/ ২৮০।

(৪) তার জীবনী দেখুন: আ’ইয়ানুল আসর ৩/ ৪০৬, হুসনুল মুহাদারা ১/ ৫৪৫, এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/ ২৫৬।

(৫) তার জীবনী দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ৫/ ৫০২, গায়াতুন নিহায়াহ ২/ ২৫৬, এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/ ২৬২।

(৬) দেখুন: আ’ইয়ানুল আসর ৩/ ৬, আন-নুজুমুয যাহিরা ১০/ ৩৩৬, আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/ ৯৩, হুসনুল মুহাদারা ১/ ৫৩৬, এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/ ৩২৯।

(৭) তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা ৯/ ২৮১।

(৮) তার জীবনী দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/ ৯৭, ৪/ ২৭৩, আল-মানহালুস সাফি ৫/ ৩, ৩৫০, এবং বুগয়াতুল উয়াত ১/ ৪৮৮।

(৯) তার জীবনী দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ইবনে কাদি শুহবা ৩/ ১৬৭, ইনবাউল গুমর ১/ ৪৪৬, এবং হুসনুল মুহাদারা ১/ ৪৩৭।

(১০) তার জীবনী দেখুন: ইনবাউল গুমর ১/ ৪৬০, এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/ ৫৭৯।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৮)
محمد محب الدين ابن هشام (ت 799)(1)، وعمر بن علي ابن الملقن (ت 808)(2).

توفي ابن هشام بعد حياة حافلة بالعطاء العلمي في ذي القعدة سنة 761، ورثاه جماعة من محبيه(3).

وقد شارك ابن هشام في التأليف، وتنوعت مؤلفاته في اللغة والنحو والتصريف، وتميزت مؤلفاته بالتحرير وجودة السبك وحسن التأليف(4).

فألف في النحو: مغني اللبيب عن كتب الأعاريب(5)، وهو تاج كتبه، وأشهرها على الإطلاق، ألَّفه بمكة، ثم فُقِد منه، فأعاد تأليفه بمكة، قال عنه الصفدي(6) (ت 764): «واشتهر في حياته في الشام ومصر، واشتغل به أهل العصر»، وقال فيه ابن خلدون(7) (ت 808): «ووصل إلينا بالمغرب لهذه العصور ديوانٌ من مصر منسوبٌ إلى جمال الدين بن هشام من علمائها، استوفى فيه أحكام الإعراب مجملةً ومفصلةً، وتكلم على الحروف والمفردات والجمل، وحَذَف ما في الصناعة من المتكرر في أكثر أبوابها، وسماه بـ"المغني" في الإعراب، وأشار إلى نكت إعراب القرآن كلِّها، وضَبَطها بأبواب وفصول وقواعد انتظم سائرها، فوقفنا منه على علمٍ جمٍّ يشهد بعلو قدره في هذه الصناعة، ووفور بضاعته منها، وكأنه ينحو في طريقته منحاة أهل الموصل الذين اقتفوا

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: إنباء الغمر 1/ 540، والنجوم الزاهرة 12/ 157، وبغية الوعاة 1/ 148.

(2) ترجمته في: طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 4/ 43، وإنباء الغمر 2/ 308، والضوء اللامع 6/ 100.

(3) ينظر: الوفيات لابن رافع 2/ 234، والدرر الكامنة 3/ 95، والنجوم الزاهرة 10/ 336، وبغية الوعاة 2/ 69، وشذرات الذهب 8/ 331.

(4) ينظر: أعيان العصر 3/ 6، والوفيات لابن رافع 2/ 234، والدرر الكامنة 3/ 93، والمنهل الصافي 7/ 132، والنجوم الزاهرة 10/ 336، والمقصد الأرشد 2/ 67، وبغية الوعاة 2/ 68، وشذرات الذهب 8/ 330، وهدية العارفين 1/ 465.

(5) طبع طبعاتٍ كثيرة، منها بتحقيق د. مازن المبارك والأستاذ محمد علي حمدالله، سنة 1394، وبتحقيق د. عبداللطيف بن محمد الخطيب، سنة 1421.

(6) أعيان العصر 3/ 6.

(7) المقدمة 3/ 1267.

মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দীন ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৯৯)(১) এবং উমর বিন আলী ইবনুল মুলাক্কিন (মৃত্যু ৮০৮)(২)।

ইলমি খিদমতে ভরপুর এক জীবনের পর ইবনে হিশাম ৭৬১ হিজরির যিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তার একদল অনুরাগী তার শোকগাথা রচনা করেন(৩)।

ইবনে হিশাম গ্রন্থ রচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং ভাষা, ব্যাকরণ ও শব্দরূপান্তর (সারফ) বিষয়ে তার গ্রন্থসমূহ বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল। তার গ্রন্থসমূহ পরিমার্জিত, উন্নত রচনাশৈলী ও উত্তম বিন্যাস দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল(৪)।

ব্যাকরণ শাস্ত্রে তিনি রচনা করেন: 'মুগনি আল-লাবীব আন কুতুবিল আ’রীব'(৫); এটি তার গ্রন্থসমূহের মুকুট এবং সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ। তিনি এটি মক্কায় রচনা করেছিলেন, এরপর তা হারিয়ে যায়, ফলে তিনি পুনরায় মক্কায় এটি রচনা করেন। আস-সাফাদী(৬) (মৃত্যু ৭৬৪) তার সম্পর্কে বলেন: «এটি তার জীবদ্দশায় শাম ও মিশরে প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং সমসাময়িক উলামাগণ এটি নিয়ে ব্যাপকভাবে চর্চা করেন।» ইবনে খালদুন(৭) (মৃত্যু ৮০৮) এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলেন: «বর্তমান সময়ে মিশর থেকে আমাদের নিকট মাগরেব অঞ্চলে একটি পাণ্ডুলিপি পৌঁছেছে যা সেখানকার আলেমদের অন্যতম জামালুদ্দীন ইবনে হিশামের প্রতি সম্পৃক্ত। এতে তিনি ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (ইরাব) হুকুমসমূহ সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি হরফ, একক শব্দ ও বাক্য নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই শিল্পের অধিকাংশ অধ্যায়ে বিদ্যমান পুনরাবৃত্তিগুলো বর্জন করেছেন। তিনি এর নাম রেখেছেন "আল-মুগনি ফিল ইরাব" এবং এতে কুরআনের সমস্ত ব্যাকরণগত সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি সেগুলোকে এমন সব অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ও মূলনীতির অধীনে সুবিন্যস্ত করেছেন যা অন্য সবকিছুকে সুসংহত করে। ফলে আমরা এর মধ্যে এমন এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার পেয়েছি যা এই শিল্পে তার উচ্চ মর্যাদা এবং এতে তার অগাধ পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দেয়। যেন তিনি তার পদ্ধতিতে মোসেলবাসীদের পথ অনুসরণ করেছেন যারা অনুসরণ করেছিলেন

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন: ইনবাউল গুমর ১/ ৫৪০, আন-নুজুমুয যাহিরা ১২/ ১৫৭, বুগয়াতুল ওয়াত ১/ ১৪৮।

(২) তার জীবনী দেখুন: ইবনে কাদী শুহবার তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ৪/ ৪৩, ইনবাউল গুমর ২/ ৩০৮, আদ-দওয়ুল লামি ৬/ ১০০।

(৩) দেখুন: ইবনে রাফের আল-ওয়াফাইয়াত ২/ ২৩৪, আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/ ৯৫, আন-নুজুমুয যাহিরা ১০/ ৩৩৬, বুগয়াতুল ওয়াত ২/ ৬৯, শাযারাতুয যাহাব ৮/ ৩৩১।

(৪) দেখুন: আয়ানুল আসর ৩/ ৬, ইবনে রাফের আল-ওয়াফাইয়াত ২/ ২৩৪, আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/ ৯৩, আল-মানহালুস সাফী ৭/ ১৩২, আন-নুজুমুয যাহিরা ১০/ ৩৩৬, আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/ ৬৭, বুগয়াতুল ওয়াত ২/ ৬৮, শাযারাতুয যাহাব ৮/ ৩৩০, হাদিয়াতুল আরিফীন ১/ ৪৬৫।

(৫) এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ডা. মাযেন আল-মুবারক ও উস্তাদ মুহাম্মদ আলী হামদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৩৯৪ হিজরিতে এবং ডা. আবদুল লতিফ বিন মুহাম্মদ আল-খতিবের সম্পাদনায় ১৪২১ হিজরিতে মুদ্রিত কপি।

(৬) আয়ানুল আসর ৩/ ৬।

(৭) আল-মুকাদ্দিমাহ ৩/ ১২৬৭।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ১৯)
أثر ابن جني، واتبعوا مصطلح تعليمه، فأتى من ذلك بشيء عجيب دال على قوة ملكته واطلاعه، والله يزيد في الخلق ما يشاء».

وألَّف كتبًا شاملةً لأبواب النحو، وجَعَلها للطلاب والمتعلمين، وسار في كل واحدٍ منها على ترتيبٍ اختاره، فوضع: الإعراب عن قواعد الإعراب(1) لبيان أحكام الجمل وأشباهها وبعض المفردات، وقطر الندى(2)، وشرحه(3)، والجامع الصغير في النحو(4) على ترتيب الألفية، وشذور الذهب(5)، وشرحه(6) مرتَّبًا حسب الموقع الإعرابي، فذكر المرفوعات فالمنصوبات فالمجرورات فالمجزومات، وختم بالعوامل فالتوابع.

وألف في الصرف: نزهة الطرف في علم الصرف(7).

ووضع شروحًا وتتميماتٍ لكتبِ مَنْ تقدَّمه، فوضع على "الألفية" لابن مالك (ت 672): أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك(8)، وحواشي الألفية(9)، ورفع الخصاصة عن قراء الخلاصة(10)، وعلى "شرح الألفية" لابن الناظم (ت 686): تخليص الشواهد وتلخيص الفوائد(11)، وهو في شرح أبياته، وعلى "تسهيل الفوائد وتكميل المقاصد" لابن مالك (ت 672): شرح التسهيل(12)، وحواشيه(13)، وشرح خطبته(14)،

--------------------------------------------

(1) طبع بتحقيق د. علي فودة نيل، سنة 1399.

(2) طبع بتحقيق علي بن سالم باوزير، سنة 1420.

(3) طبع بتحقيق الأستاذ محمد محيي الدين عبدالحميد، سنة 1355، ثم سنة 1379.

(4) طبع بتحقيق د. أحمد محمود الهرميل، سنة 1400.

(5) طبع في مطبعة مصطفى البابي الحلبي، سنة 1357.

(6) طبع بتحقيق الأستاذ محيي الدين عبدالحميد، وبتحقيق الأستاذ عبدالغني الدقر، سنة 1404.

(7) طبع بتحقيق د. أحمد عبدالمجيد هريدي، سنة 1410.

(8) طبع طبعاتٍ، منها بتحقيق الأستاذ محمد محيي الدين عبدالحميد، صوِّر مرارًا.

(9) سيأتي الحديث عنها مفصَّلًا في المبحث الثاني.

(10) لم أقف على ما يفيد بوجوده.

(11) طبع بتحقيق د. عباس مصطفى الصالحي، سنة 1406.

(12) لم أقف على ما يفيد بوجوده.

(13) أبلغني د. أحمد محمد علَّام -حفظه الله وبارك في علمه- أنه يحققه على نسختين.

(14) نشر بتحقيق د. سعود بن عبدالعزيز الخنين، سنة 1428.

ইবনে জিন্নীর প্রভাব এবং তারা তার শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। ফলে তিনি এমন এক বিস্ময়কর কিছু নিয়ে এসেছেন যা তার শক্তিশালী যোগ্যতা ও অগাধ পাণ্ডিত্যের পরিচায়ক। আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন।

তিনি নাহুর (ব্যাকরণ) সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাপক গ্রন্থাবলি রচনা করেছেন এবং সেগুলোকে শিক্ষার্থী ও তালিবে ইলমদের জন্য উপযোগী করেছেন। এগুলোর প্রত্যেকটিতে তিনি তাঁর নির্বাচিত বিন্যাস অনুসরণ করেছেন। তিনি রচনা করেছেন: 'আল-ইরাব আন কাওয়াইদিল ইরাব'(১) বাক্য, বাক্যাংশ এবং কিছু একক শব্দের বিধান বর্ণনার জন্য; এবং 'কাতরুন্নাদা'(২) ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ(৩); আলফিয়ার বিন্যাস অনুযায়ী 'আল-জামি আস-সগির ফিন নাহু'(৪); 'শুযুরুয যাহাব'(৫) ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ(৬), যা ইরাবি অবস্থান অনুযায়ী বিন্যস্ত। এতে তিনি মারফুআত (পেশযুক্ত শব্দ), অতঃপর মানসুবাত (যবরযুক্ত), অতঃপর মাজরুরাত (যেরযুক্ত) এবং মাজযুমাত (সাকিনযুক্ত) আলোচনা করেছেন এবং সবশেষে আমিল (প্রভাবক) ও তাওয়াবে' (অনুসারী শব্দ) দিয়ে শেষ করেছেন।

আর সরফ (শব্দতত্ত্ব) শাস্ত্রে তিনি রচনা করেছেন: 'নুযহাতুত তরাফ ফী ইলমিস সরফ'(৭)।

তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও পরিপূরক গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইবনে মালিক (মৃত ৬৭২ হি.) রচিত 'আলফিয়া'-র ওপর তিনি লিখেছেন: 'আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়াতি ইবনি মালিক'(৮), 'হাওয়াশিল আলফিয়া'(৯), এবং 'রাফউল খাসাসা আন কুররাইল খুলাসা'(১০)। ইবনুয নাযিম (মৃত ৬৮৬ হি.) রচিত 'শারহুল আলফিয়া'-র ওপর লিখেছেন: 'তাখলিসুশ শাওয়াহিদ ওয়া তালখিসুল ফাওয়াইদ'(১১), যা আলফিয়ার পঙক্তিগুলোর ব্যাখ্যা বিষয়ক। এবং ইবনে মালিক (মৃত ৬৭২ হি.) রচিত 'তাসহিলুল ফাওয়াইদ ওয়া তাকমিলুল মাকাসিদ'-এর ওপর লিখেছেন: 'শারহুত তাসহিল'(১২), এর হাশিয়া বা পার্শ্বটীকা(১৩) এবং এর মুখবন্ধের ব্যাখ্যা(১৪)।

--------------------------------------------

(১) ড. আলী ফুদা নেইল-এর তাহকীকসহ ১৩৯৯ হিজরীতে মুদ্রিত।

(২) আলী বিন সালিম বাওয়াজীর-এর তাহকীকসহ ১৪২০ হিজরীতে মুদ্রিত।

(৩) উস্তাদ মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ-এর তাহকীকসহ ১৩৫৫ হিজরীতে, অতঃপর ১৩৭৯ হিজরীতে মুদ্রিত।

(৪) ড. আহমদ মাহমুদ আল-হারমিল-এর তাহকীকসহ ১৪০০ হিজরীতে মুদ্রিত।

(৫) মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী ছাপাখানায় ১৩৫৭ হিজরীতে মুদ্রিত।

(৬) উস্তাদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ এবং উস্তাদ আবদুল গনি আদ-দাকর-এর তাহকীকসহ ১৪০৪ হিজরীতে মুদ্রিত।

(৭) ড. আহমদ আবদুল মাজীদ হারীদী-এর তাহকীকসহ ১৪১০ হিজরীতে মুদ্রিত।

(৮) অনেকবার মুদ্রিত হয়েছে, তার মধ্যে উস্তাদ মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ-এর তাহকীককৃত সংস্করণটি অন্যতম, যা বারবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে।

(৯) দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

(১০) এর অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

(১১) ড. আব্বাস মুস্তফা আস-সালিহী-এর তাহকীকসহ ১৪০৬ হিজরীতে মুদ্রিত।

(১২) এর অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

(১৩) ড. আহমদ মুহাম্মদ আল্লাম -আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন এবং তাঁর জ্ঞানে বরকত দান করুন- আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি দুটি পান্ডুলিপির ভিত্তিতে এর তাহকীক করছেন।

(১৪) ড. সাউদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুনাইন-এর তাহকীকসহ ১৪২৮ হিজরীতে প্রকাশিত।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২০)
وعلى "شرح التسهيل" لأبي حيان الأندلسي (ت 745) المسمى بـ"التذييل والتكميل": التحصيل والتفصيل لكتاب التذييل والتكميل(1)، وعلى "الشافية" لابن الحاجب (ت 646): عمدة الطالب في تحقيق تصريف ابن الحاجب(2)، وعلى "اللمحة البدرية" لأبي حيان الأندلسي: شرح اللمحة البدرية(3)، وعلى "قصيدة كعب بن زهير رضي الله عنه" المسماة بـ"البردة": شرح "بانت سُعَاد"(4)، ويسمى أيضًا: شرح البردة.

ووضع رسائل عديدةً في موضوعات مفردة، اقتضاه لوضعها سؤالُ سائلٍ عنها، أو مناقشةٌ دارت بينه وبين غيره فيها، منها: فوح الشذا بمسألة "كذا"(5)، وإقامة الدليل على صحة التمثيل وفساد التأويل(6)، والمباحث المرضية المتعلقة بـ"مَنْ" الشرطية(7)، واعتراض الشرط على الشرط(8)، وموقد الأذهان وموقظ الوسنان(9) في الألغاز النحوية، والمسائل السفرية(10)، وهي مسائل في إعراب القرآن، ومنها رسائل في: توجيه نصب "لغةً" و"فضلًا" و"أيضًا" و"هلم جرًّا"(11)، والحكمة في تذكير "قريب" في قوله تعالى:

--------------------------------------------

(1) لم أقف على ما يفيد بوجوده.

(2) لم أقف على ما يفيد بوجوده.

(3) طبع بتحقيق د. هادي نهر، سنة 1397، ثم سنة 1427، وبتحقيق د. صلاح روّاي، سنة 1404.

(4) طبع طبعاتٍ، منها بتحقيق د. عبدالله عبدالقادر الطويل، سنة 1431.

(5) طبع بتحقيق د. أحمد مطلوب، سنة 1382.

(6) نشر بتحقيق د. هاشم شلاش، سنة 1393.

(7) طبع بتحقيق د. مازن المبارك، سنة 1408.

(8) طبع بتحقيق د. عبدالفتاح الحموز، سنة 1406.

(9) نشر بتحقيق د. علي فودة نيل، سنة 1400، وطبع بتحقيق حسن إسماعيل مروة، سنة 1409، ونشر بتحقيق د. وليد السراقبي، سنة 1413.

(10) طبع بتحقيق د. علي حسين البواب، سنة 1402، وبتحقيق حسن إسماعيل مروة، سنة 1409، ونشر باسم: مسائل في إعراب القرآن، بتحقيق د. صاحب أبو جناح، سنة 1394، وطبع باسم: أسئلة وأجوبة في إعراب القرآن، بتحقيق د. محمد نغش، سنة 1403.

(11) طبع بتحقيق د. حسن موسى الشاعر، سنة 1404، وطبع باسم: المسائل السفرية، بتحقيق د. حاتم الضامن، سنة 1403، وبتحقيق عبدالصمد العشاب، سنة 1415.

আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত ৭৪৫ হি.) রচিত "শারহুত তাসহিল" যা "আত-তাজয়িল ওয়াত তাকমিল" নামে পরিচিত, তার ওপর টীকাগ্রন্থ: "আত-তাহসিল ওয়াত তাফসিল লি কিতাবিত তাজয়িল ওয়াত তাকমিল"(১); এবং ইবনুল হাজিব (মৃত ৬৪৬ হি.) রচিত "আশ-শাফিয়া"র ওপর টীকাগ্রন্থ: "উমদাতুত তালিব ফি তাহকিক তাসরিফ ইবনিল হাজিব"(২); এবং আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসির "আল-লামহাতুল বাদরিয়া"র ওপর: "শারহুল লামহাতুল বাদরিয়া"(৩); এবং কাব বিন জুহাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রচিত কাসিদা যা "আল-বুরদাহ" নামে পরিচিত, তার ওপর: "শারহু বানাত সুয়াদ"(৪), যার অন্য নাম: "শারহুল বুরদাহ"।

তিনি স্বতন্ত্র বিভিন্ন বিষয়ে অনেকগুলো পুস্তিকা রচনা করেছেন, যা কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে অথবা অন্য কারো সাথে কোনো আলোচনার সূত্রে রচিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: "ফাওহুশ শাযা বি মাসআলাতি কাযা"(৫), "ইকামাতুদ দালিল আলা সিহহাতিত তামসিল ওয়া ফাসাদিত তাউয়িল"(৬), শর্তবাচক "মান" সংক্রান্ত "আল-মাবাহিসুল মারদিয়া"(৭), "ই'তিরাদুশ শারতি আলাশ শারত"(৮), ব্যাকরণগত ধাঁধা বিষয়ক "মাওকিদুল আযহান ওয়া মাওকিযুল ওয়াসনান"(৯), এবং "আল-মাসায়িলুস সাফারিয়া"(১০) যা কুরআনের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ইরাব) বিষয়ক মাসআলাসমূহ। আরও রয়েছে এমন কিছু পুস্তিকা যা: "লুগাতান", "ফাদলান", "আইদান" এবং "হালুম্মা জাররান" শব্দগুলোর নসব হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ সংক্রান্ত(১১), এবং আল্লাহ তাআলার বাণীতে "কারিব" শব্দটিকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহারের হিকমত সংক্রান্ত:

--------------------------------------------

(১) এর অস্তিত্বের সপক্ষে আমি কোনো তথ্য পাইনি।

(২) এর অস্তিত্বের সপক্ষে আমি কোনো তথ্য পাইনি।

(৩) এটি ড. হাদি নাহর-এর সম্পাদনায় ১৩৯৭ হিজরিতে, অতঃপর ১৪২৭ হিজরিতে এবং ড. সালাহ রাওয়াই-এর সম্পাদনায় ১৪০৪ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) এটি বিভিন্ন সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি ড. আবদুল্লাহ আব্দুল কাদির আত-তওয়িল-এর সম্পাদনায় ১৪৩১ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।

(৫) এটি ড. আহমাদ মাতলুব-এর সম্পাদনায় ১৩৮২ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

(৬) এটি ড. হাশেম শালাশ-এর সম্পাদনায় ১৩৯৩ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।

(৭) এটি ড. মাজেন আল-মুবারাক-এর সম্পাদনায় ১৪০৮ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

(৮) এটি ড. আব্দুল ফাত্তাহ আল-হামুজ-এর সম্পাদনায় ১৪০৬ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

(৯) এটি ড. আলি ফুদাহ নাইল-এর সম্পাদনায় ১৪০০ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে, হাসান ইসমাইল মারওয়াহ-এর সম্পাদনায় ১৪০৯ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে এবং ড. ওয়ালিদ আস-সরাকিবির সম্পাদনায় ১৪১৩ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।

(১০) এটি ড. আলি হুসাইন আল-বাওয়াব-এর সম্পাদনায় ১৪০২ হিজরিতে, হাসান ইসমাইল মারওয়াহ-এর সম্পাদনায় ১৪০৯ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়া এটি "মাসায়িল ফি ইরাবিল কুরআন" নামে ড. সাহিব আবু জানাহ-এর সম্পাদনায় ১৩৯৪ হিজরিতে এবং "আসইলা ওয়া আজবিবা ফি ইরাবিল কুরআন" নামে ড. মুহাম্মদ নাগশ-এর সম্পাদনায় ১৪০৩ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।

(১১) এটি ড. হাসান মুসা আশ-শা'য়ির-এর সম্পাদনায় ১৪০৪ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়া এটি "আল-মাসায়িলুস সাফারিয়া" নামে ড. হাতিম আদ-দামেন-এর সম্পাদনায় ১৪০৩ হিজরিতে এবং আব্দুস সামাদ আল-আশশাব-এর সম্পাদনায় ১৪১৫ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২১)
{إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ}(1)، وتعدُّد ما بعد "إلا" على ثلاثة أقسام(2)، وشرح حقيقة الاستفهام والفرق بين أدواته(3)،

والتنازع(4)، وغير ذلك.

--------------------------------------------

(1) طبع بتحقيق د. عبدالفتاح الحموز، سنة 1405.

(2) نشر باسم: مسائل في النحو، بتحقيق د. طه محسن، سنة 1418، وبتحقيق د. سعيد بن علي الغامدي، سنة 1437.

(3) ضمَّنه السيوطي كتابه الأشباه والنظائر 4/ 3، ونشر باسم: الإلمام بشرح حقيقة الاستفهام، بتحقيق د. عبدالفتاح السيد سليم، سنة 1414 ..

(4) ضمَّنه السيوطي كتابه الأشباه والنظائر 4/ 254.

{নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত নিকটবর্তী}(১), এবং 'ইল্লা'-এর পরবর্তী পদের আধিক্য সংক্রান্ত তিনটি প্রকার(২), এবং ইস্তিফহামের (জিজ্ঞাসা) হাকিকত ও এর সংশ্লিষ্ট অব্যয়সমূহের পার্থক্যের ব্যাখ্যা(৩),

এবং আল-তানাজু (ক্রিয়া ও কর্মের বিবাদ)(৪), ও তদ্ব্যতীত অন্যান্য বিষয়।

--------------------------------------------

(১) ড. আবদুুল ফাত্তাহ আল-হামমুজের সম্পাদনায় ১৪০৫ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) এটি 'মাসাইল ফিন নাহবি' (ব্যাকরণিক মাসয়ালাসমূহ) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে; ড. ত্বহা মুহসিনের সম্পাদনায় ১৪১৮ হিজরি সনে এবং ড. সাঈদ বিন আলী আল-গামিদির সম্পাদনায় ১৪৩৭ হিজরি সনে।

(৩) ইমাম সুয়ূতী এটি তাঁর 'আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর' গ্রন্থের ৪/৩ অংশে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এটি 'আল-ইলমাম বি-শারহি হাকিকাতিল ইস্তিফহাম' নামে ড. আবদুুল ফাত্তাহ আস-সাইয়িদ সলীমের সম্পাদনায় ১৪১৪ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়েছে।

(৪) ইমাম সুয়ূতী এটি তাঁর 'আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর' গ্রন্থের ৪/২৫৪ অংশে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الثاني: حاشيتا ابن هشام على الألفية، وفيه ستة مطالب:

المطلب الأول: تحقيق عنوان المخطوطتين، وتوثيق نسبتهما إلى

ابن هشام.

المطلب الثاني: منهجهما، وفيه ثلاث مسائل

المسألة الأولى: طريقة ابن هشام في عرض المادة العلمية. المسألة الثانية: عنايته بآراء العلماء.

المسألة الثالثة: اختياراته وترجيحاته.

المطلب الثالث: مصادرهما.

المطلب الرابع: موازنة بينهما وبين أوضح المسالك.

المطلب الخامس: تقويمهما، وفيه ثلاث مسائل:

المسألة الأولى: المحاسن.

المسألة الثانية: المآخذ.

المسألة الثالثة: التأثر والتأثير.

المطلب السادس: وصف المخطوطتين، ونماذج منهما.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আলফিয়্যাহর ওপর ইবনে হিশামের পাদটীকাদ্বয়, এতে ছয়টি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি দুটির শিরোনামের সত্যতা যাচাই এবং সেগুলোর সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ

ইবনে হিশামের প্রতি।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: সেগুলোর পদ্ধতি, এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে

প্রথম মাসআলা: জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয় উপস্থাপনে ইবনে হিশামের পদ্ধতি। দ্বিতীয় মাসআলা: বিদ্বানগণের মতামতের প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ।

তৃতীয় মাসআলা: তাঁর চয়নকৃত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: সেগুলোর উৎসসমূহ।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: সেগুলোর সাথে 'আওদাহুল মাসালিক'-এর তুলনামূলক আলোচনা।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: সেগুলোর মূল্যায়ন, এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি।

দ্বিতীয় মাসআলা: সীমাবদ্ধতাসমূহ।

তৃতীয় মাসআলা: প্রভাব গ্রহণ ও প্রভাব দান।

ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি দুটির বিবরণ এবং সেগুলোর কিছু নমুনা।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المطلب الأول: تحقيق عنوان المخطوطتين، وتوثيق نسبتهما إلى ابن هشام.

نصَّ جماعة ممن ترجم لابن هشامعلى أن له حواشيَ وتعليقاتٍ على الألفية(1)، ونصَّ بعضهم على أنها عدة حواشٍ(2)، واطلع عليها، ونقل منها جماعة من العلماء؛ فنقل ياسين العليمي في "حاشيته على الألفية"(3) من حاشيتين مختلفتين كلتاهما بخط ابن هشام، ونقل الأزهري(4)، والسيوطي(5)،وياسين العليمي(6)، والبغدادي(7) من حاشية أو حواشٍ أخرى بخط ابن هشام أيضًا.

وقد وقفت بحمد الله على حاشيتين مختلفتين من حواشي ابن هشام، تضمَّنتهما مخطوطتان، أولاهما بخطه، ولم أقف على نقلٍ منها لأحد، وثانيتهما منقولة من خطه، وهي إحدى الحاشيتين اللتين نقل منهما ياسين العليمي في "حواشيه على الألفية"(8).

ومما يدل على أن المخطوطتين اللتين بين يديّ همانسختان من حواشي الألفية لابن هشام أنه يستعمل في تذكرته الرمز «ع» إشارة منه إلى نفسه بأول حرف من اسمه (عبدالله بن هشام)، وتمييزًا لكلامه عن كلام غيره(9)، وهو ما استعمله -كثيرًا- في هاتين المخطوطتين(10)، مما يعد امتدادًا لمنهجه في بعض كتبه.

--------------------------------------------

(1) ينظر: أعيان العصر 3/ 6،والدرر الكامنة 3/ 93.

(2) ينظر: بغية الوعاة 2/ 68، وشذرات الذهب 8/ 330.

(3) ينظر: حاشية الألفية 1/ 1.

(4) ينظر: التصريح 2/ 346.

(5) ينظر: النكت 1/ 186.

(6) ينظر: حاشية التصريح 1/ 573.

(7) ينظر: خزانة الأدب 5/ 208.

(8) وقد قابلت ما وجدته عند ياسين بما فيها، وأثبت ما بينهما من موافقة ومخالفة عند توثيق كل حاشية.

(9) ينظر: مقدمة تحقيق مختصر تذكرة ابن هشام 62، وغلاف المخطوطة الأولى.

(10) ينظر مثلا: في المخطوطة الأولى: 2/أ، 3/أ، 5/أ، 7/أ، 8/أ، 12/أ، 12/ب، 14/ب، وفي الثانية: 9، 10، 12، 16، 18، 19، 20.

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের শিরোনাম যাচাই এবং ইবনে হিশামের প্রতি সেগুলোর নিসবত বা সম্বন্ধের প্রামাণিকতা.

ইবনে হিশামের জীবনীকারদের একটি দল উল্লেখ করেছেন যে, আলফিয়্যার ওপর তাঁর হাশিয়া (পার্শ্বটীকা) এবং তালীকাত (টিকা-টিপ্পনী) রয়েছে(১)। তাঁদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো একাধিক হাশিয়া(২); একদল আলেম সেগুলো দেখেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যেমন ইয়াসিন আল-আলিমি তাঁর "আলফিয়্যার হাশিয়া"(৩)-তে দুটি ভিন্ন ভিন্ন হাশিয়া থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেগুলোর উভয়টিই ইবনে হিশামের স্বহস্তে লেখা ছিল। এছাড়াও আল-আজহারি(৪), আস-সুয়ুতি(৫), ইয়াসিন আল-আলিমি(৬) এবং আল-বাগদাদি(৭) ইবনে হিশামের স্বহস্তে লিখিত অপর একটি বা একাধিক হাশিয়া থেকেও উদ্ধৃতি পেশ করেছেন।

আল্লাহর প্রশংসায়, আমি ইবনে হিশামের হাশিয়াসমূহের মধ্য থেকে দুটি ভিন্ন ভিন্ন হাশিয়ার সন্ধান পেয়েছি যা দুটি পাণ্ডুলিপিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি তাঁর স্বহস্তে লিখিত, এবং এটি থেকে অন্য কারো উদ্ধৃতি দেওয়ার বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। আর দ্বিতীয়টি তাঁর স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপিকৃত; এটি সেই দুটি হাশিয়ার একটি, যা থেকে ইয়াসিন আল-আলিমি তাঁর "আলফিয়্যার হাশিয়া"(৮)-তে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

আমার নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপি দুটি যে ইবনে হিশামের আলফিয়্যার হাশিয়ারই অনুলিপি, তার অন্যতম প্রমাণ হলো তিনি তাঁর ‘তাযকিরাহ’-তে নিজের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে নিজেকে ইঙ্গিত করতে ‘আইন’ প্রতীকটি ব্যবহার করতেন (অর্থাৎ আবদুল্লাহ বিন হিশাম) এবং অন্যের কথা থেকে নিজের কথাকে পৃথক করার জন্য এটি করতেন(৯)। তিনি এই দুটি পাণ্ডুলিপিতেও এটি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেছেন(১০), যা তাঁর কোনো কোনো কিতাবে অনুসৃত পদ্ধতিরই ধারাবাহিকতা বলে গণ্য হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আয়ানুল আসর ৩/৬ এবং আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৯৩।

(২) দেখুন: বুগইয়াতুল উয়াত ২/৬৮ এবং শাযারাতুয যাহাব ৮/৩৩০।

(৩) দেখুন: হাশিয়াতুল আলফিয়্যাহ ১/১।

(৪) দেখুন: আত-তাসরিহ ২/৩৪৬।

(৫) দেখুন: আন-নুকাত ১/১৮৬।

(৬) দেখুন: হাশিয়াতুত তাসরিহ ১/৫৭৩।

(৭) দেখুন: খিযানাতুল আদাব ৫/২০৮।

(৮) ইয়াসিনের নিকট যা পাওয়া গেছে তার সাথে আমি এগুলোর মিলিয়ে দেখেছি এবং প্রতিটি হাশিয়ার প্রামাণিকতা বর্ণনার সময় সেগুলোর মধ্যকার মিল ও অমিলগুলো সাব্যস্ত করেছি।

(৯) দেখুন: মুখতাসারু তাযকিরাতি ইবনি হিশাম-এর তাহকিকের ভূমিকা ৬২ এবং প্রথম পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদ।

(১০) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: প্রথম পাণ্ডুলিপিতে: ২/ক, ৩/ক, ৫/ক, ७/ক, ৮/ক, ১২/ক, ১২/খ, ১৪/খ; এবং দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে: ৯, ১০, ১২, ১৬, ১৮, ১৯, ২০।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৪)
والمخطوطة الأولى هي نسخة من الألفية عليها حواشٍ متعددة، ويدل على أنها نسخة من حواشي ابن هشام على الألفية ما يلي:

أولًا: ناسخ الألفية في هذه المخطوطة هو ابن هشام نفسه، وقد صرح بذلك في آخرها، فقال: «نجزت الخلاصة بحمد الله تعالى وعونه على يد عبدالله بن يوسف بن هشام عفا الله تعالى عنهم»، وخطه فيها مطابق لخط الحواشي عليها.

ثانيًا: جاء على غلاف المخطوطة ما يلي: «كل ما أوله ش فهو من كلام الشلوبين في حواشيه على المفصل إلا إن بينته، وما فيه ح فلأبي حيان، أو ع فهو لكاتبه ابن هشام، أو س فهو لسيبويه، أو ص فهو للبصريين، أو كـ فهو للكوفيين»، فصرح بأن كاتب هذه العبارة وغيرها من الحواشي التي فيها هذه الرموز هو ابن هشام، وخطوطها مطابقة لخطوط الحواشي الأخرى.

ثالثًا: جاء في إحدى الحواشي ما يلي(1): «إنما كتبته بالياء على أنه مخفف من أصليّ»، يريد أنه كتب كلمة "للأصلي" في متن الألفية من هذه المخطوطة في عجز البيت 928، وهو:

فاجعل له في الوزن ما للأصلي

 

بالياء لا بلامٍ مكسورة؛ للدلالة على أنها كانت بالياء المشددة، ثم خففت، وقد ثبت أن متن الألفية بخط ابن هشام، وخط هذه الحاشية مطابق لخط الحواشي الأخرى في هذه المخطوطة.

رابعًا: صرح ابن هشام باسمه في بعض الحواشي، فقال مرة: «قال ابن هشام غفر الله تعالى له»(2)، وقال مرة: «قال كاتبه ابن هشام غفر الله تعالى له»(3)، وقال مرة: «قال ابن هشام … والحق ما ذكرته في الحاشية»(4).

--------------------------------------------

(1) 39/ب.

(2) مخطوطة الألفية، وجه الورقة الأولى الملحقة بين 5/ب و 6/أ.

(3) 31/أ.

(4) الورقة الملحقة بين 40/ب و 41/أ.

প্রথম পাণ্ডুলিপিটি হলো আলফিয়্যাহ-র একটি অনুলিপি যার উপর একাধিক টীকা রয়েছে। এটি যে আলফিয়্যাহ-র উপর ইবনে হিশামের টীকা সম্বলিত একটি অনুলিপি, তা নিচের বিষয়গুলো দ্বারা প্রমাণিত হয়:

প্রথমত: এই পাণ্ডুলিপিতে আলফিয়্যাহ-র অনুলিপিকার হলেন স্বয়ং ইবনে হিশাম। তিনি এর শেষে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যে আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন হিশামের হাতে আল-খুলাসত (আলফিয়্যাহ) সমাপ্ত হলো, আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করুন।" আর পাণ্ডুলিপিতে তার হাতের লেখা এবং এর টীকাগুলোর হাতের লেখা একই রকম।

দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে যা উল্লেখ আছে তা হলো: "যেসব টীকার শুরুতে 'শীন' রয়েছে, তা আশ-শালুবীনের 'আল-মুফাসসাল'-এর উপর তাঁর টীকা থেকে নেওয়া, যদি না আমি তা স্পষ্ট করি। আর যাতে 'হা' রয়েছে তা আবু হাইয়্যানের, অথবা 'আইন' থাকলে তা লেখক ইবনে হিশামের, অথবা 'সীন' থাকলে তা সিবওয়াইহ-র, অথবা 'সোয়াদ' থাকলে তা বসরীবাসীদের, অথবা 'কাফ' থাকলে তা কুফীবাসীদের।" সুতরাং তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, এই বক্তব্যটি এবং অন্যান্য টীকা যেখানে এই প্রতীকগুলো রয়েছে তার লেখক হলেন ইবনে হিশাম। আর এগুলোর হাতের লেখা অন্যান্য টীকার হাতের লেখার সাথে হুবহু মিলে যায়।

তৃতীয়ত: একটি টীকায় নিম্নোক্ত কথাটি এসেছে(১): "আমি এটি 'ইয়া' দিয়ে লিখেছি এই ভিত্তিতে যে এটি 'আসলিয়্যুন' থেকে লঘুকৃত।" এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি এই পাণ্ডুলিপির আলফিয়্যাহ-র মূল পাঠে ৯২৮ নম্বর পংক্তির শেষাংশে "লিল আসলিয়্যি" শব্দটি লিখেছেন, যা হলো:

অতএব ওজনে তার জন্য তাই নির্ধারণ করো যা মূলের (আসলিয়্যি) জন্য নির্ধারিত।

 

এখানে 'ইয়া' দিয়ে লিখেছেন, কাসরাযুক্ত 'লাম' দিয়ে নয়; এটি বুঝাতে যে এটি মূলত তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' ছিল, যা পরবর্তীতে লঘু বা সহজ করা হয়েছে। আর এটি প্রমাণিত যে আলফিয়্যাহ-র মূল পাঠ ইবনে হিশামের হস্তলিপি, এবং এই টীকার হাতের লেখা এই পাণ্ডুলিপির অন্যান্য টীকার হাতের লেখার সাথে হুবহু মিল রয়েছে।

চতুর্থত: ইবনে হিশাম কোনো কোনো টীকায় স্পষ্টভাবে নিজের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি একবার বলেছেন: "ইবনে হিশাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করুন"(২)। অন্য জায়গায় বলেছেন: "এর লেখক ইবনে হিশাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করুন"(৩)। আবার অন্য জায়গায় বলেছেন: "ইবনে হিশাম বলেছেন... আর সত্য তাই যা আমি টীকায় উল্লেখ করেছি"(৪)।

--------------------------------------------

(১) ৩৯/খ।

(২) আলফিয়্যাহ পাণ্ডুলিপি, ৫/খ এবং ৬/ক-এর মাঝে সংযুক্ত প্রথম পৃষ্ঠার সম্মুখভাগ।

(৩) ৩১/ক।

(৪) ৪০/খ এবং ৪১/ক-এর মাঝে সংযুক্ত পৃষ্ঠা।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৫)
خامسًا: طريقة ابن هشام في حواشيه على الألفية أنه يكتبها في هوامش إحدى نسخ الألفية، لا مجردة عنها، وذلك مطابق لما صنعه في هذه المخطوطة، وقد نقل ياسين العليمي في حواشيه على الألفية من خط ابن هشام على هامش نسختين من الألفية، قال(1): «وبعد، فهذه فوائد تتعلق بألفية الإمام ابن مالك جمعتها من خط فريد زمانه وحيد أوانه الجمال ابن هشام بهامش نسختين من المتن … »، وقال(2): «وضبطه ابن هشام في أصل نسخته بضم الهمزة وكسر الصاد، وفي الهامش: كما وجد بخط ابن النحاس».

ويدل على أن المخطوطة الثانية نسخة من حواشي ابن هشام على الألفية ما يلي:

أولًا: جاء على صفحة غلاف المخطوطة بخط أحد ملاكها: «فوائد على الألفية منقولة من خط الإمام العالم العلامة جمال الدين ابن هشام تغمده الله برحمته».

وجاء على الورقة قبلها بخطعلي بن عماد الدين الشافعي ما نصه: «هذه حواش نقلت من خط خاتمة النحاة جمال الدين ابن هشام (رحمه الله تعالى). كتبه: علي بن عماد الدين الشافعي، لطف الله به».وبخطه أيضًا في تقييد آخرعلى غلاف المخطوط أنه ملكه سنة 940.

وعليٌّ هذا هو علي بن عماد الدين إسماعيل بن موسى الشافعي، ترجم له ابن العماد، وذكر أنه من تلاميذ ابن طولون (ت 953)، وأن له حواشي على شرح ابن الناظم للألفية، وأنه توفي سنة 971(3).

فهذا تأكيد من أحد العلماء المشهود لهم بالمعرفةعلى صحة ما كتب على غلاف المخطوطة.

ثانيًا: نقل ياسين العليمي نصوصًا عزاها لحواشي ابن هشام على الألفية، وهي

--------------------------------------------

(1) 1/ 1.

(2) 2/ 561.

(3) شذرات الذهب 10/ 530.

পঞ্চম: আলফিয়ার ওপর তাঁর টীকাসমূহে ইবনে হিশামের পদ্ধতি ছিল এই যে, তিনি সেগুলো আলফিয়ার কোনো একটি কপির মার্জিনে (পার্শ্বটীকা হিসেবে) লিখতেন, তা থেকে আলাদাভাবে নয়। এই পাণ্ডুলিপিতে যা করা হয়েছে তা এর সাথে হুবহু মিলে যায়। ইয়াসীন আল-উলাইমী আলফিয়ার ওপর তাঁর টীকাসমূহে আলফিয়ার দুটি কপির মার্জিনে ইবনে হিশামের নিজ হাতের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন(১): «অতঃপর, এগুলো ইমাম ইবনে মালিকের আলফিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ফায়দা বা তাত্ত্বিক আলোচনা, যা আমি তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অনন্য ব্যক্তিত্ব জামাল ইবনে হিশামের হস্তাক্ষরে মূল পাঠের দুটি কপির মার্জিনে লেখা অবস্থা থেকে সংগ্রহ করেছি … »। তিনি আরও বলেছেন(২): «ইবনে হিশাম তাঁর মূল কপিতে হামযাহ-তে দম্মাহ এবং সাদ-এ কাসরাহ দিয়ে এটি নির্ধারণ করেছেন, আর মার্জিনে লিখেছেন: যেভাবে ইবনে আন-নাহহাসের হস্তাক্ষরে পাওয়া গেছে»।

দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি যে আলফিয়ার ওপর ইবনে হিশামের টীকাসমূহের একটি কপি, তার প্রমাণগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: পাণ্ডুলিপিটির প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় এর জনৈক মালিকের হস্তাক্ষরে বর্ণিত হয়েছে: «আলফিয়ার ওপর বেশ কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা, যা ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা জামালুদ্দিন ইবনে হিশামের (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে ঢেকে দিন) হস্তাক্ষর থেকে অনুলিপি করা হয়েছে»।

এর আগের পৃষ্ঠায় আলী বিন ইমাদুদ্দিন আশ-শাফিয়ী-র হস্তাক্ষরে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ হলো: «এগুলো এমন কিছু টীকা যা সর্বশেষ শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ জামালুদ্দিন ইবনে হিশামের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) হস্তাক্ষর থেকে নকল করা হয়েছে। এটি লিখেছেন: আলী বিন ইমাদুদ্দিন আশ-শাফিয়ী, আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন»। তাঁর হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে অন্য একটি নোটেও উল্লেখ আছে যে, ৯৪০ হিজরি সনে এটি তাঁর মালিকানাধীন ছিল।

এই আলী হলেন আলী বিন ইমাদুদ্দিন ইসমাঈল বিন মুসা আশ-শাফিয়ী। ইবনুল ইমাদ তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে তুলুনের (মৃত্যু ৯৫৩ হি.) অন্যতম ছাত্র ছিলেন এবং আলফিয়ার ওপর ইবনু নাযিমের ব্যাখ্যার ওপর তাঁর টীকা রয়েছে। তিনি ৯৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(৩)।

এটি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে যা লেখা হয়েছে তার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে বিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃত একজন আলেম কর্তৃক সুনিশ্চিত সমর্থন।

দ্বিতীয়ত: ইয়াসীন আল-উলাইমী কিছু পাঠ উদ্ধৃত করেছেন যা তিনি আলফিয়ার ওপর ইবনে হিশামের টীকাসমূহের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, সেগুলো হলো

--------------------------------------------

(১) ১/ ১।

(২) ২/ ৫৬১।

(৩) শাজারাতুয যাহাব ১০/ ৫৩০।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৬)
ثابتة في هذه المخطوطة، ومن ذلك:

1 - في المخطوطة(1): «"أمس" إذا استعمل ظرفا فهو مكسور عند جميع العرب، ثم قال الجمهور: بناء، وقال الخليل: يجوز أن يكون قولك: لقيته أمس، بتقدير: لقيته بالأمس، فحذف الحرفين، وزعم قوم منهم الكسائي، أنه ليس معربا ولا مبنيا، بل محكي، وأنه سمي بفعل الأمر من المساء».

ونقله ياسين(2)، وعزاه لابن هشام في الحواشي.

2 - في المخطوطة(3): «لا يستقيم كلامه لوجهين: أحدهما: أن "الفم" هذه اللفظة بعينها لا وجود لها مع مفارقة الميم؛ لأن الموجود مع مفارقة الميم لفظة أخرى ليست هذه، فهو فرض محال. والآخر: أن المحكوم عليه بالإعراب الخاص لفظة "الفم" نفسها، والمعرب الإعراب المذكور لفظة أخرى، وهو المعتقب عليها الأحوال الثلاثة، أعني: فوك وفاك وفيك، فالمحكوم عليه شيء لم يثبت له الحكم، والثابت له الحكم غير المحكوم عليه. وأما أخواته الخمسة فإن هذا الإعراب ثابت لها أعينها. وقد اتفق للناظم مثل هذا الاستعمال أو قريب منه في قوله: "إلى ثلاثة رأى وعلما" البيت؛ لأن المحكوم عليه بالتعدي إلى ثلاثة هو "رأى" و"علم"، والمتعدي إلى ثلاثة إنما هو "أرى" و"أعلم"، و"أرى" و"أعلم" ليسا بـ"رأى" و"علم". وليس قوله: "إذا صارا أرى وأعلم" بنافع له، كما لا ينفعه قوله: "حيث الميم منه بانا"؛ لأن "رأى" و"علم" لا وجود لهما مع "أرى" و"أعلم"، كما أنه لا وجود للفم مع مفارقة الميم».

ونقله ياسين(4)، وعزاه لابن هشام في الحواشي.

3 - في المخطوطة(5): «قد تحذف تخفيفا، وذلك على ضربين: واجب، لنون التوكيد، نحو: {وَلَا يَصُدُّنَّكَ عَنْ آيَاتِ اللَّهِ}، {فَإِمَّا تَرَيِنَّ}، {إِمَّا يَبْلُغَانِّ}. وجائز، وهو ضربان: كثير، وذلك لنون الوقاية، نحو: {أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي}، بالتخفيف، وقليل،

--------------------------------------------

(1) 32.

(2) حاشية الألفية 1/ 23.

(3) 34.

(4) حاشية التصريح 1/ 202.

(5) 6.

এই পাণ্ডুলিপিতে তা সাব্যস্ত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

১ - পাণ্ডুলিপিতে(১): «"আমসি" (অতীতকাল) যখন ক্রিয়া-বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সকল আরবের নিকট তা জেরযুক্ত হয়। এরপর জুমহুর উলামা বলেছেন: এটি মাবনি (অপরিবর্তনীয়)। আর খলিল বলেছেন: তোমার কথা "লাকিতুহু আমসি" (আমি তার সাথে গতকাল সাক্ষাৎ করেছি)-কে "লাকিতুহু বিল-আমসি" হিসেবে ধরা বৈধ, যেখানে দুটি বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে। কিসায়িসহ একদল আলিম মনে করেন যে, এটি মু'রাব বা মাবনি কোনটিই নয়, বরং তা অনুকরণকৃত (মহকি); আর একে সন্ধ্যার (আল-মাসা) আদেশসূচক ক্রিয়া (আমরের সিগা) থেকে নামকরণ করা হয়েছে»।

এবং ইয়াসিন এটি উদ্ধৃত করেছেন(২) এবং টীকাগ্রন্থে একে ইবনে হিশামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

২ - পাণ্ডুলিপিতে(৩): «দুইটি কারণে তার কথা সঠিক হয় না: প্রথমত: "ফাম" (মুখ) শব্দটি তার নিজস্ব সত্তায় "মীম" বর্ণটি পৃথক থাকা অবস্থায় অস্তিত্বহীন; কারণ মীম পৃথক হওয়ার সাথে যা পাওয়া যায় তা অন্য একটি শব্দ, এটি সেই শব্দ নয়, সুতরাং এটি একটি অসম্ভব কল্পনা। দ্বিতীয়ত: যার ওপর বিশেষ বিভক্তি (ইরাব) প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা হলো "ফাম" শব্দটি নিজেই, অথচ উল্লিখিত ইরাব গ্রহণকারী শব্দটি হলো অন্য একটি শব্দ—যার ওপর তিনটি অবস্থা আবর্তিত হয়, অর্থাৎ: ফুকা, ফাকা এবং ফিকা। সুতরাং যার ওপর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার জন্য বিধান সাব্যস্ত হয়নি, আর যার জন্য বিধান সাব্যস্ত হয়েছে সেটি নির্দেশিত বিষয় নয়। তবে এর অপর পাঁচটি সমজাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে এই ইরাব তাদের নিজেদের মধ্যেই সাব্যস্ত। নাযিম (শ্লোক রচয়িতা)-এর ক্ষেত্রে এই ধরণের ব্যবহার বা এর কাছাকাছি ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে তার এই উক্তিতে: "তিনটির দিকে রাআ এবং আলিমা" পঙ্ক্তিতে; কারণ তিনটি কর্মপদের দিকে সকর্মক (মুতা'আদ্দি) হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে "রাআ" এবং "আলিমা"র ওপর, অথচ তিনটির দিকে সকর্মক হয় কেবল "আরা" এবং "আ'লামা"। আর "আরা" ও "আ'লামা" শব্দদ্বয় "রাআ" ও "আলিমা" নয়। তাঁর এই উক্তি: "যখন তারা আরা এবং আ'লামা হয়ে যায়" তাঁর কোনো উপকারে আসবে না, যেমন তাঁর এই উক্তি: "যেখানে তা থেকে মীম পৃথক হয়ে গেছে" কোনো উপকারে আসেনি; কারণ "আরা" এবং "আ'লামা"র উপস্থিতিতে "রাআ" এবং "আলিমা"র কোনো অস্তিত্ব থাকে না, যেমন মীম পৃথক হওয়ার পর "ফাম" শব্দের কোনো অস্তিত্ব থাকে না»।

এবং ইয়াসিন এটি উদ্ধৃত করেছেন(৪) এবং টীকাগ্রন্থে একে ইবনে হিশামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

৩ - পাণ্ডুলিপিতে(৫): «কখনও কখনও সহজীকরণের উদ্দেশ্যে বিলুপ্ত করা হয়, আর তা দুই প্রকার: ওয়াজিব (আবশ্যক), এটি তাকিদসূচক নূনের ক্ষেত্রে হয়, যেমন: {তারা যেন তোমাকে আল্লাহর আয়াতসমূহ থেকে বিমুখ না করে}, {অতঃপর তুমি যদি মানুষের কাউকে দেখ}, {যদি তাদের কেউ তোমার নিকট বার্ধক্যে পৌঁছে যায়}। এবং জায়েজ (বৈধ), যা আবার দুই প্রকার: অধিক প্রচলিত, যা রক্ষামূলক নূনের (নূনে বিকায়া) ক্ষেত্রে হয়, যেমন: {তবে কি তোমরা আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে আদেশ করছো?} বিলুপ্তকরণের মাধ্যমে, এবং অল্প প্রচলিত,»

--------------------------------------------

(১) ৩২।

(২) হাশিয়াতুল আলফিয়্যাহ ১/ ২৩।

(৩) ৩৪।

(৪) হাশিয়াতুত তাসরিহ ১/ ২০২।

(৫) ৬।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهو فيما عدا ذلك، نحو: "لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا"».

ونقله ياسين(1)، وعزاه لابن هشام في الحواشي(2).

ثالثًا: نَسب هذه المخطوطةبعينها لابن هشام جماعة من المعاصرين من المعتنين بالتراث والدارسين لابن هشام(3).

 

أما عنوان المخطوطتين فالمخطوطة الأولى نسخة من نسخ ألفية ابن مالك، كتبها ابن هشام بخطه، ثم حشَّاها بالتعليقات، ولا عنوان فيها خاصًّا بالحواشي، بل عنوانها: "الخلاصة في النحو"، فنص الألفية فيها هو الأصل، والحواشي تبع له، ومتداخلة معه.

وأما المخطوطة الثانية فالحواشي فيها غير متداخلة مع نص الألفية، وعلى غلافها بخط أحد ملاكها: «فوائد على الألفية منقولة من خط الإمام العالم العلامة جمال الدين ابن هشام تغمده الله برحمته»، وعلى الورقة قبلها بخط علي بن عماد الدين الشافعي (ت 971) أحد ملاكها أيضا: «هذه حواشٍ نقلت من خط خاتمة النحاة جمال الدين ابن هشام رحمه الله تعالى»، وعلى الورقة أيضًا بخط حديث، أظنه لصاحب المكتبة التيمورية أو لأحد مفهرسيها: «حواش على الألفية»، فالمخطوطة ليس لها عنوان محدد،

--------------------------------------------

(1) حاشية التصريح 1/ 288.

(2) وينظر على سبيل المثال: المخطوطة الثانية 9، 18، 19، 23، 24 مع حاشية التصريح 1/ 320، 321، 492، 493، وحاشية الألفية 1/ 65، 86، 89، 90.

(3) ينظر: نوادر المخطوطات وأماكن وجودها، لأحمد تيمور 63، وابن هشام آثاره ومذهبه النحوي لعلي فوده نيل 361 ح 1، ومقدمة مسائل في إعراب القرآن لابن هشام، تحقيق د. صاحب أبوجناح 146، ومقدمة المسائل السفرية لابن هشام، تحقيق د. حاتم الضامن 5، ومقدمة نزهة الطرف في علم الصرف لابن هشام، تحقيق د. أحمد عبدالمجيد هريدي 31، ومقدمة شرح اللمحة البدرية لابن هشام، تحقيق د. هادي نهر 1/ 102، ومقدمة اعتراض الشرط على الشرط لابن هشام، تحقيق د. عبدالفتاح الحموز 15، ومقدمة شرح شذور الذهب للجوجري، تحقيق د. نواف الحارثي 1/ 19.

এবং এটি তদ্ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে, যেমন: "তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না"।

ইয়াসিন এটি উদ্ধৃত করেছেন(১), এবং তিনি টীকাগ্রন্থে একে ইবনে হিশামের প্রতি সম্বন্ধ করেছেন(২)।

তৃতীয়ত: ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী এবং ইবনে হিশাম নিয়ে গবেষণাকারী একদল সমসাময়িক পণ্ডিত এই নির্দিষ্ট পাণ্ডুলিপিটিকে ইবনে হিশামের বলে সাব্যস্ত করেছেন(৩)।

 

পাণ্ডুলিপি দুটির শিরোনামের ক্ষেত্রে, প্রথম পাণ্ডুলিপিটি হলো ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-এর একটি অনুলিপি, যা ইবনে হিশাম নিজ হাতে লিখেছেন, এরপর তিনি সেখানে টীকা যোগ করেছেন। এতে টীকাগুলোর জন্য বিশেষ কোনো শিরোনাম নেই, বরং এর শিরোনাম হলো: "আল-খুলাসাতু ফিন নাহব" (ব্যাকরণের সারসংক্ষেপ)। এখানে আলফিয়্যাহ-এর মূল পাঠই প্রধান, আর টীকাগুলো এর অনুগামী এবং তার সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে।

আর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে, এর টীকাগুলো আলফিয়্যাহ-এর মূল পাঠের সাথে মিশে নেই। এর প্রচ্ছদে এর একজন মালিকের হাতে লেখা রয়েছে: "আলফিয়্যাহ-এর উপর কিছু উপকারী তথ্য যা ইমাম, আলিম ও আল্লামা জামালুদ্দিন ইবনে হিশামের হস্তলিপি থেকে সংগৃহীত, আল্লাহ তাকে স্বীয় রহমতে আবৃত করুন"। এর আগের পাতায় এর অন্য একজন মালিক আলী ইবনে ইমাদউদ্দীন আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৯৭১ হি.)-এর হস্তলিপিতেও রয়েছে: "এগুলো হলো সেই টীকা যা ব্যাকরণবিদদের শেষ আশ্রয়স্থল জামালুদ্দিন ইবনে হিশাম (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর হস্তলিপি থেকে নকল করা হয়েছে"। সেই পাতায় আধুনিক একটি হস্তলিপিতেও রয়েছে, যা আমার ধারণা তৈমুরিয়া লাইব্রেরির মালিকের অথবা এর কোনো তালিকা প্রস্তুতকারকের: "আলফিয়্যাহ-এর টীকা"। সুতরাং পাণ্ডুলিপিটির কোনো নির্দিষ্ট শিরোনাম নেই।

--------------------------------------------

(১) হাশিয়াতুত তাসরিহ ১/ ২৮৮।

(২) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি ৯, ১৮, ১৯, ২৩, ২৪ এবং হাশিয়াতুত তাসরিহ ১/ ৩২০, ৩২১, ৪৯২, ৪৯৩ ও হাশিয়াতুল আলফিয়্যাহ ১/ ৬৫, ৮৬, ৮৯, ৯০।

(৩) দেখুন: নাওয়াদিরুল মাখতুতাত ওয়া আমাকিনু উজুতিহা, আহমাদ তৈমুর ৬৩; ইবনে হিশাম: আসারুহু ওয়া মাজহাবুহুন নাহবি, আলী ফুদা নীল ৩৬১ টীকা ১; ইবনে হিশামের মাসাইলু ফি ই'রাবিল কুরআন-এর ভূমিকা, ড. সাহিব আবু জুনাহ কর্তৃক সম্পাদিত ১৪৬; ইবনে হিশামের আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ-এর ভূমিকা, ড. হাতিম আদ-দামীন কর্তৃক সম্পাদিত ৫; ইবনে হিশামের নুজহাতুত তরফ ফি ইলমিস সরফ-এর ভূমিকা, ড. আহমাদ আব্দুল মাজিদ হারীদি কর্তৃক সম্পাদিত ৩১; ইবনে হিশামের শারহুল লামহাতিল বাদরিয়্যাহ-এর ভূমিকা, ড. হাদী নাহর কর্তৃক সম্পাদিত ১/ ১০২; ইবনে হিশামের ইতিরাদুন শারত আলাশ শারত-এর ভূমিকা, ড. আব্দুল ফাত্তাহ আল-হামুজ কর্তৃক সম্পাদিত ১৫; এবং আল-জাওজারী কর্তৃক শারহু শুযুরিজ যাহাব-এর ভূমিকা, ড. নাওয়াফ আল-হারিছি কর্তৃক সম্পাদিত ১/ ১৯।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৮)
فسميت مرةً: فوائد، ومرةً: حواشي، وكلها تؤدي معنى واحدًا.

لذا جعلتعنوان مشروع هذا البحث جامعًا بين محتوى هاتين المخطوطتين؛ وآثرت التعبير بالحواشي بدل الفوائد؛ لأنه أشهر بين العلماء والدارسين، ويؤيده في المخطوطة الأولى أن ابن هشام سمى عمله فيها حاشية(1)،ويؤيده في المخطوطة الثانية عبارة علي بن عماد الدين الشافعي المتقدمة، وأن ياسين العليمي في حواشيه على التصريح والألفية سمى ما نقله مما جاء مطابقا لما فيها بالحواشي، وهو موافق لتسميتها التي كتبت بخط حديث، وبها اشتهرت عند الباحثين المعاصرين.

ولما كان لابن هشام عدة حواش على الألفية، في كل واحدة منها ما ليس في الأخرى، عدلت عن عنونة البحث بـ"حواشي ابن هشام على الألفية"؛ لأني لم أقف إلا على حاشيتين منها، والتعبير بالجمع يوهم خلاف ذلك.

--------------------------------------------

(1) ينظر: 26/ب، والورقة الملحقة بين 8/ب و 9/أ، والورقة الثانية الملحقة بين 40/ب و 41/أ.

কখনো এগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে: ফাওয়াইদ (উপকারিতা), আর কখনো: হাওয়াইশি (টিকা); আর এ সবই একই অর্থ বহন করে।

তাই আমি এই গবেষণা প্রকল্পের শিরোনামকে এই পাণ্ডুলিপি দুটির বিষয়বস্তুর সমন্বয়কারী হিসেবে নির্ধারণ করেছি; এবং 'ফাওয়াইদ'-এর পরিবর্তে 'হাওয়াইশি' (টিকা) শব্দটি ব্যবহার করাকে প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ এটি আলেম ও গবেষকদের মাঝে অধিক প্রসিদ্ধ। প্রথম পাণ্ডুলিপিটির ক্ষেত্রে একে সমর্থন করে যে, ইবনে হিশাম সেখানে তাঁর কাজকে হাশিয়া (টিকা) নামে অভিহিত করেছেন(১)। দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটির ক্ষেত্রে আলী বিন ইমাদুদ্দীন আশ-শাফেয়ীর পূর্বোক্ত বক্তব্য একে সমর্থন করে। এছাড়া ইয়াসিন আল-উলাইমি তাঁর 'আত-তাসরিহ' এবং 'আল-আলফিয়া'-র টীকাসমূহে এখান থেকে যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন, তাকে 'হাওয়াইশি' বা টীকাসমূহ নামে অভিহিত করেছেন। এটি আধুনিক হস্তলিপিতে লিখিত এর নামকরণের সাথেও সংগতিপূর্ণ এবং সমসাময়িক গবেষকদের কাছে এই নামেই এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

আলফিয়ার ওপর ইবনে হিশামের যেহেতু বেশ কয়েকটি টিকা রয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকটিতে এমন কিছু বিষয় আছে যা অন্যটিতে নেই, তাই আমি গবেষণার শিরোনাম "আলফিয়ার ওপর ইবনে হিশামের টিকাসমূহ" রাখা থেকে বিরত থেকেছি; কারণ আমি এগুলোর মধ্যে মাত্র দু'টি টিকার সন্ধান পেয়েছি, আর এখানে বহুবচন ব্যবহার করলে এর বিপরীত ধারণার উদ্রেক হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ২৬/খ, এবং ৮/খ ও ৯/ক-এর মধ্যবর্তী সংযুক্ত পাতা, এবং ৪০/খ ও ৪১/ক-এর মধ্যবর্তী দ্বিতীয় সংযুক্ত পাতা।

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতানি লি-ইবনি হিশাম আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المطلب الثاني: منهجهما. وفيه ثلاث مسائل:

‌‌المسألة الأولى: طريقة ابن هشام في عرض المادة العلمية.

يمكن تلخيص أبرز ملامح طريقة ابن هشام في عرض المادة العلمية في حاشيتيه على الألفية من خلال ما يلي:

أولًا: ترتيب المادة العلمية:

ويتضمن ذلك أمرين:

أحدهما: طريقته في ربط الحواشي بالأبيات(1):

1 - يربط الحاشية بالبيت المراد التعليق عليه: بكتابتها متصلة بالبيت:

إماأمامه، ومنه التعليق على البيت 249 في باب النائب عن الفاعل:

وما لفا باع لما العَينُ تلي … في اختارَ وانقادَ وشبهٍ ينجلي

 

إذ كتب أمامه: «كان أوضحَ من قوله: لِمَا العينُ تَلِي أن يقول: لثالثٍ، نحو: اختار، وانقاد»(2).

أو فوقه، ومنه التعليق على البيت 332 في باب الحال:

الحال وصف فضلة منتصب … مُفهم في حالٍ كفردا أذهب

 

إذ كتب فوق كلمة: «فَضْلةٌ»: «لأنه متمِّمٌ لمعنى الجملة، وهذا حقيقةُ الفَضْلة»(3).

أو تحته، وهذا أقل من سابقه، ومنه التعليق على البيت 369 في باب حروف الجر:

بَعِّضْ وبَيّنْ وَابتَدِئْ في الأمكِنه … بمِن وقد تَأْتِي لِبَدْءِ الأَزمنه

--------------------------------------------

(1) سأقتصر في هذه الفقرة على ما في المخطوطة الأولى؛ لأنها بخط ابن هشام، ومن خلاله تتبين طريقته في ترتيب المادة العلمية، وربطها بالألفية، أما المخطوطة الثانية فهي منقولة من خطه، وقد تصرف فيها الناسخ، كما سأبينه في المآخذ.

(2) المخطوطة الأولى 11/ب.

(3) المخطوطة الأولى 15/أ.

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁদের উভয়ের পদ্ধতি। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ্য রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ্য: ইলমি বিষয়বস্তু উপস্থাপনে ইবনে হিশামের পদ্ধতি।

আলফিয়্যাহর উপর তাঁর লিখিত দুটি হাশিয়ায় ইলমি বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইবনে হিশামের পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করা যেতে পারে:

প্রথমত: ইলমি বিষয়বস্তুর বিন্যাস:

এর মধ্যে দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:

প্রথমটি: কবিতাগুলোর সাথে হাশিয়া বা টীকা যুক্ত করার পদ্ধতি(১):

১ - তিনি হাশিয়াকে সংশ্লিষ্ট কবিতার সাথে যুক্ত করেন: কবিতার সাথে মিলিয়ে লেখার মাধ্যমে:

হয়তো তার সামনে; এর উদাহরণ হলো 'নায়েবে ফায়েল' অধ্যায়ের ২৪৯ নম্বর কবিতার উপর টীকা:

এবং 'বাআ' এর ন্যায় শব্দগুলোর ক্ষেত্রে যা 'আইন' বর্ণের অনুগামী হয়... 'ইখতারা' ও 'ইনকাদা' এবং এই জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট হয়।

 

যেহেতু তিনি এর সামনে লিখেছেন: "তাঁর কথা 'যা আইন বর্ণের অনুগামী হয়' এর চেয়ে এটা বলা অধিকতর স্পষ্ট হতো যে: 'তৃতীয় বর্ণের জন্য', যেমন: ইখতারা এবং ইনকাদা"(২)।

অথবা তার উপরে; এর উদাহরণ হলো 'হাল' অধ্যায়ের ৩৩২ নম্বর কবিতার উপর টীকা:

হাল হলো গুণবাচক, অতিরিক্ত এবং নসবযুক্ত পদ... যা অবস্থা বোঝায়, যেমন: 'আমি একাকী গেলাম'।

 

যেহেতু তিনি 'অতিরিক্ত' শব্দের উপরে লিখেছেন: "কারণ এটি বাক্যের অর্থকে পূর্ণ করে, আর এটাই হলো অতিরিক্তের প্রকৃত অর্থ"(৩)।

অথবা তার নিচে; আর এটি আগেরটির তুলনায় কম। এর উদাহরণ হলো 'হরূফে জার' অধ্যায়ের ৩৬৯ নম্বর কবিতার উপর টীকা:

'মিন' দ্বারা আংশিকতা, বর্ণনা এবং স্থানের শুরু প্রকাশ করো... এবং কখনো এটি সময়ের শুরুর জন্যও আসে।

--------------------------------------------

(১) আমি এই অনুচ্ছেদে শুধুমাত্র প্রথম পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব; কারণ এটি ইবনে হিশামের নিজ হাতের লেখা এবং এর মাধ্যমেই ইলমি বিষয়বস্তু বিন্যাস এবং আলফিয়্যাহর সাথে তা যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি স্পষ্ট হয়। আর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি তাঁর হাতের লেখা থেকে নকল করা হয়েছে, যাতে অনুলিপিকারক কিছু পরিবর্তন করেছেন, যা আমি সমালোচনা পর্বে বর্ণনা করব।

(২) প্রথম পাণ্ডুলিপি ১১/খ।

(৩) প্রথম পাণ্ডুলিপি ১৫/ক।