(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: -)
تهذيب الآثار - الجزء المفقود   (ابن جرير الطبري)

القسم: الفقه العام


الكتاب: تهذيب الآثار (الجزء المفقود)

المؤلف: محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري (ت 310هـ)

المحقق: علي رضا بن عبد الله بن علي رضا

الناشر: دار المأمون للتراث - دمشق / سوريا

الطبعة: الأولى، 1416هـ - 1995م

عدد الصفحات: 572

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাহযীবুল আসার - হারিয়ে যাওয়া অংশ   (ইবনে জারীর আল-তাবারী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: তাহযীবুল আসার (হারিয়ে যাওয়া অংশ)

লেখক: মুহম্মদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাসীর বিন গালিব আল-আমিলি, আবু জাফর আল-তাবারী (মৃ. ৩১০ হিজরি)

সম্পাদক: আলী রেজা বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী রেজা

প্রকাশক: দারুল মামুন লিত-তুরাস - দামেস্ক / সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭২

[বইয়ের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌(تَتِمَّة مُسْند عبد الرَّحْمَن بن عَوْف رضي الله عنه
(আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মুসনাদ-এর পরিশিষ্ট
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ابْن عَوْف، وَبِخِلَاف اللَّفْظ الَّذِي ذكره ابْن عدي عَن مُحَمَّد بن جُبَير. وَالثَّالِثَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ لم يشْهد حلف المطيبين، وَلَا أدْركهُ، وَإِنَّمَا شهد حلف الفضول الَّذِي عقد فِي دَار عبد الله بن جدعَان التَّيْمِيّ الَّذِي رُوِيَ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - أَنه قَالَ: " لقد شهِدت فِي دَار عبد الله بن جدعَان حلفا، مَا أحب أَن لي بِهِ حمر النعم، وَلَو دعيت إِلَيْهِ الْيَوْم فِي الْإِسْلَام لَأَجَبْت ".

قَالُوا: وَهَذَا الْحلف - أَعنِي حلف الفضول - شهده رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قبل أَن يبْعَث نَبيا، وَهُوَ الْحلف الَّذِي تعاقده بَنو هَاشم، وَبَنُو الْمطلب، وَبَنُو أَسد بن عبد الْعُزَّى، وَبَنُو زهرَة، وَبَنُو تيم بن مرّة على أَن لَا يدعوا بِمَكَّة مظْلمَة إِلَّا ردوهَا.

قَالُوا: وَأما حلف المطيبين، فَإِنَّهُ جرى بَين بني مَخْزُوم، وجمح، وَسَهْم، وعدي، وَبني عبد
الدَّار على نصْرَة بني عبد الدَّار إِذْ نازعتهم بَنو أعمامهم من بني عبد منَاف اللِّوَاء، والحجامة، والندوة، وَقَالُوا: نَحن أَحَق بذلك مِنْكُم.

فحالفت بَنو عبد الدَّار من ذكرنَا من الْقَبَائِل، وحالفت بَنو عبد منَاف. بني أَسد، وزهرة - وهما الْحَارِث بن فهر - على نصْرَة عبد منَاف على عبد الدَّار، قَالُوا: فَهَذَا حلف جرى بَين الْقَوْم على حَرْب على أَمر من أُمُور الْجَاهِلِيَّة، وَلم يكن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - لَو كَانَ شهده ليقول: " لَو دعيت إِلَيْهِ الْيَوْم لَأَجَبْت ".
ইবনে আউফ; এবং ইবনে আদি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের থেকে যে শব্দ (لفظ) উল্লেখ করেছেন তার বিপরীতে। আর তৃতীয় বিষয়টি হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'হিলফ আল-মুতাইয়্যাবীন'-এ উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি সে সময়টি পাননি। বরং তিনি 'হিলফ আল-ফুদুল'-এ উপস্থিত ছিলেন যা আবদুল্লাহ ইবনে জুদআন আত-তাইমির ঘরে সম্পাদিত হয়েছিল, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন একটি চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম, যার বিনিময়ে আমাকে লাল উট দেওয়া হলেও আমি তা পছন্দ করতাম না; আর আজ ইসলামের যুগেও যদি আমাকে সেই চুক্তির দিকে আহ্বান করা হতো, তবে অবশ্যই আমি তাতে সাড়া দিতাম।"

তারা বলেছেন: আর এই চুক্তিটি — অর্থাৎ হিলফ আল-ফুদুল — রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবী হিসেবে প্রেরিত হওয়ার পূর্বেই এতে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আর এটি ছিল সেই চুক্তি যা বনু হাশিম, বনু মুত্তালিব, বনু আসাদ ইবনে আবদিল উযযা, বনু জুহরা এবং বনু তায়িম ইবনে মুররা এই মর্মে সম্পাদন করেছিল যে, মক্কায় কোনো জুলুম অবশিষ্ট রাখা হবে না বরং তার প্রতিকার করা হবে।

তারা বলেছেন: আর হিলফ আল-মুতাইয়্যাবীন-এর বিষয়টি হলো, তা সংঘটিত হয়েছিল বনু মাখজুম, জুমাহ, সাহম, আদি এবং বনু আবদুদ
দার-এর মধ্যে। এটি ছিল বনু আবদুদ দারকে সাহায্য করার জন্য যখন তাদের চাচাতো ভাই বনু আবদে মানাফ তাদের সাথে পতাকা, হাজামা এবং নাদওয়া নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছিল এবং বলেছিল: 'আমরা তোমাদের চেয়ে এর বেশি হকদার'।

ফলে বনু আবদুদ দার আমাদের উল্লিখিত গোত্রগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, আর বনু আবদে মানাফ চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল বনু আসাদ ও জুহরার সাথে — যারা হারিস ইবনে ফিহর-এর শাখা — বনু আবদুদ দারের বিরুদ্ধে বনু আবদে মানাফকে সাহায্য করার লক্ষ্যে। তারা বলেছেন: সুতরাং এটি ছিল এমন একটি চুক্তি যা জাহিলিয়্যাত যুগের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যুদ্ধের জন্য কওমের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি এতে উপস্থিত থাকতেন, তবে বলতেন না যে: "আজ যদি আমাকে সেই চুক্তির দিকে আহ্বান করা হতো, তবে আমি তাতে সাড়া দিতাম।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالُوا: وَإِنَّمَا شهد حلف الفضول الَّذِي تعاقده الْقَوْم على أَن لَا يدعوا بِمَكَّة مظْلمَة إِلَّا ردوهَا، فَأخْبر صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ فِي الْإِسْلَام أَنه لَو دعِي إِلَى ذَلِك لأجاب.
তারা বলেন: নিশ্চয়ই তিনি ‘হিলফুল ফুদুল’-এ উপস্থিত ছিলেন, যেটিতে লোকেরা এই মর্মে অঙ্গীকার করেছিল যে, মক্কায় কোনো জুলুম সংঘটিত হলে তারা অবশ্যই তা নিরসন করবে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -ইসলামের যুগে এ সংবাদ দিয়েছেন যে, যদি তাঁকে সেই চুক্তির দিকে আহ্বান জানানো হতো, তবে তিনি তাতে সাড়া দিতেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
("‌‌ ذكر من روى هَذَا الْخَبَر عَن جُبَير بن مطعم، فَلم يَجْعَل بَينه وَبَين رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - أحدا وَخَالف فِي مَعْنَاهُ مَعْنَاهُ، وَفِي لَفظه لَفظه ")

 

1 - حَدثنَا أَبُو كريب وَعَبدَة بن عبد الله الصفار، قَالَا: حَدثنَا مُحَمَّد بن بشر، قَالَ: حَدثنَا زَكَرِيَّا بن أبي زَائِدَة، قَالَ حَدثنِي سعد بن إِبْرَاهِيم، عَن أَبِيه، عَن جُبَير بن مطعم، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قَالَ: " لَا حلف فِي الْإِسْلَام، وَأَيّمَا حلف كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّة، فَلم يزده الْإِسْلَام إِلَّا شدَّة ".
("‌‌জুবায়ের ইবনে মুতয়িম হতে এই সংবাদটি (الخبر) যারা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে কাউকে মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেননি, অথচ এর অর্থ ও শব্দের বর্ণনায় ভিন্নতা পোষণ করেছেন, তাদের বিবরণ।")

 

১ - আবু কুরাইব এবং আবদাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সা'দ ইবনে ইবরাহিম আমাকে তাঁর পিতা হতে, তিনি জুবায়ের ইবনে মুতয়িম হতে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন—‌‌তিনি বলেন: "ইসলামে কোনো (নতুন) মৈত্রীচুক্তি নেই; আর জাহেলিয়াত যুগে যে মৈত্রীচুক্তি ছিল, ইসলাম তাকে কেবল আরও সুদৃঢ় করেছে।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২০)
("‌‌ ذكر الْخَبَر الْوَارِد عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - أَنه قَالَ: لقد شهِدت فِي دَار عبد الله بن جدعَان حلفا هُوَ أحب إِلَيّ من حمر النعم ")

 

2 - حَدثنَا ابْن حميد، قَالَ حَدثنَا سَلمَة بن الْفضل، عَن ابْن إِسْحَاق، عَن مُحَمَّد بن زيد بن المُهَاجر بن قنفذ [التَّيْمِيّ، أَنه سمع طَلْحَة بن عبد الله بن عَوْف الزُّهْرِيّ يَقُول] قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ لقد شهِدت فِي دَار عبد الله بن جدعَان حلفا، هُوَ أحب إِلَيّ من حمر النعم، وَلَو دعيت إِلَيْهِ الْيَوْم فِي الْإِسْلَام لَأَجَبْت ".
("‌‌ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত সংবাদ (الخبر)-এর বর্ণনা — যে বিষয়ে তিনি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন এক চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম যা আমার নিকট লাল উট অপেক্ষাও অধিক প্রিয়।")

 

২ - আমাদের নিকট ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সালামাহ ইবনে ফাদল বর্ণনা করেছেন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যাইদ ইবনুল মুহাজির ইবনে কুনফুয [আত-তাইমি থেকে, নিশ্চয়ই তিনি তালহা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আউফ আয-যুহরিকে বলতে শুনেছেন], নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন এক চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম যা আমার নিকট লাল উট অপেক্ষাও অধিক প্রিয়। আর যদি আমাকে বর্তমান ইসলাম যুগেও সেই চুক্তির দিকে আহ্বান করা হতো, তবে আমি অবশ্যই তাতে সাড়া দিতাম। ".
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২১)
قَالُوا: وَمن الدَّلِيل على أَن الْحلف الَّذِي شهده النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ حلف الفضول:

3 - مَا حَدثنَا بِهِ ابْن حميد، قَالَ حَدثنَا سَلمَة، عَن ابْن إِسْحَاق، قَالَ: حَدثنِي يزِيد بن عبد الله بن أُسَامَة بن الْهَاد اللَّيْثِيّ، عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم قَالَ: " كَانَ بَين الْحُسَيْن بن عَليّ، وَبَين الْوَلِيد بن عتبَة بن أبي سُفْيَان مُنَازعَة فِي مَال كَانَ بَينهمَا بِذِي الْمَرْوَة. قَالَ: فَكَانَ الْوَلِيد تحامل على الْحُسَيْن بن عَليّ فِي حَقه لسلطانه.
তারা বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে চুক্তিতে উপস্থিত ছিলেন সেটি যে -‌‌ হিলফুল ফুদুল: ছিল তার প্রমাণ হলো:

৩ - ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইবনে ইসহাক হতে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উসামাহ ইবনে আল-হাদ আল-লাইসি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম হতে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: "হুসাইন ইবনে আলী এবং ওয়ালিদ ইবনে উতবাহ ইবনে আবু সুফিয়ানের মধ্যে যুল মারওয়া নামক স্থানে তাদের উভয়ের মালিকানাধীন একটি সম্পদ নিয়ে বিবাদ ছিল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: ওয়ালিদ তার শাসনক্ষমতার প্রভাবে হুসাইন ইবনে আলীর হকের (অধিকারের) বিষয়ে তার ওপর অন্যায় আচরণ করছিলেন।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২২)
فَقَالَ لَهُ الْحُسَيْن: أقسم بِاللَّه لتنصفن لي من حَقي، أَو لآخذن سَيفي، ثمَّ لأقومن فِي مَسْجِد النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ ثمَّ لأدعون بِحلف الفضول؟

فَقَالَ عبد الله بن الزبير - وَهُوَ عبد الْوَلِيد حِين قَالَ الْحُسَيْن مَا قَالَ -: وَأَنا أَحْلف بِاللَّه لَئِن دَعَا بِهِ لآخذن سَيفي، ثمَّ لأقومن مَعَه حَتَّى ينصف من حَقه أَو نموت جَمِيعًا. فبلغت الْمسور بن مخرمَة بن نَوْفَل الزُّهْرِيّ فَقَالَ: مثل ذَلِك. وَبَلغت
عبد الرَّحْمَن بن عُثْمَان بن عبد الله التَّيْمِيّ فَقَالَ مثل ذَلِك. فَلَمَّا بلغ الْوَلِيد بن عتبَة أنصف حُسَيْنًا من حَقه ".

(" القَوْل فِيمَا فِي هَذَا الْخَبَر من الْفِقْه ")

 

‌‌وَالَّذِي فِيهِ من ذَلِك: الدَّلِيل على أَن كل حلف كَانَ عقد فِي الْجَاهِلِيَّة قبل الْإِسْلَام، أَن على أَهله الْوَفَاء بِهِ؛ وَذَلِكَ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ فِي الْحلف الَّذِي شهده مَعَ أَعْمَامه من بني هَاشم، وَبني الْمطلب قبل الْإِسْلَام: " مَا أحب أَن لي حمر النعم وَأَنِّي أنكثه ".

وَذَلِكَ نَظِير الْأَخْبَار الْوَارِدَة عَنهُ صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ أَنه قَالَ: " لَا حلف فِي الْإِسْلَام، وَمَا كَانَ من حلف فِي الْجَاهِلِيَّة فَلم يزده الْإِسْلَام إِلَّا شدَّة ".
হুসাইন তাকে বললেন: আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি, আপনি অবশ্যই আমাকে আমার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেবেন, অন্যথায় আমি আমার তলোয়ার তুলে নেব এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে দাঁড়াব -‌‌ অতঃপর আমি কি হিলফুল ফুদুলের (حلف الفضول) ডাক দেব?

তখন আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের বললেন - আর তিনি তখন ওয়ালিদের অধীনে ছিলেন যখন হুসাইন যা বলার বললেন -: এবং আমিও আল্লাহর শপথ করছি যে, যদি তিনি এই ডাক দেন তবে অবশ্যই আমি আমার তলোয়ার তুলে নেব এবং তাঁর সাথে দাঁড়াব, যতক্ষণ না তিনি তাঁর প্রাপ্য অধিকার পান অথবা আমরা সকলে একসাথে মৃত্যুবরণ করি। এ খবর মিসওয়ার বিন মাখরামা বিন নাওফাল আল-জুহরির কাছে পৌঁছালে তিনিও অনুরূপ কথা বললেন। আর সংবাদটি পৌঁছেছিল
আব্দুর রহমান বিন উসমান বিন আবদুল্লাহ আত-তায়মীর নিকট, তখন তিনিও অনুরূপ কথা বললেন। যখন ওয়ালিদ বিন উতবা এ খবর পেলেন, তখন তিনি হুসাইনকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দিলেন।

("এই সংবাদ বা বর্ণনার (خبر) অন্তর্ভুক্ত ফিকহি মাসয়ালা সম্পর্কে আলোচনা")

 

‌‌এর মধ্যে যে বিষয়টি রয়েছে তা হলো: জাহেলিয়াত যুগে ইসলামের পূর্বে সম্পাদিত প্রতিটি চুক্তির (حلف) ক্ষেত্রে এই দলিল যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর তা পূরণ করা আবশ্যক। আর তা এ কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই চুক্তির (حلف) ব্যাপারে বলেছিলেন যাতে তিনি ইসলামের পূর্বে বনু হাশেম এবং বনু মুত্তালিবের সাথে তাঁর চাচাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন: "আমার জন্য লাল উট পাওয়ার চেয়েও এই চুক্তিটি প্রিয় ছিল এবং আমি তা ভঙ্গ করা পছন্দ করি না।"

আর এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সেই বর্ণনাগুলোর (أخبار) সদৃশ -‌‌ যাতে তিনি বলেছেন: "ইসলামে নতুন কোনো চুক্তির (حلف) বিধান নেই, আর জাহেলিয়াত যুগে যে চুক্তি (حلف) সম্পাদিত হয়েছিল, ইসলাম তা কেবল আরও সুদৃঢ় করেছে "।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
("‌‌ ذكر الْأَخْبَار الْوَارِدَة بذلك عَنهُ ")

 

4 - حَدثنَا أَبُو كريب، قَالَ: حَدثنَا وَكِيع، عَن شريك، عَن سماك، عَن عِكْرِمَة، عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ لَا حلف فِي الْإِسْلَام، وَمَا كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّة فَلم يزده الْإِسْلَام إِلَّا شدَّة ".

5 - حَدثنَا أَبُو كريب، قَالَ: حَدثنَا مُصعب بن الْمِقْدَام، عَن إِسْرَائِيل بن يُونُس، عَن مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن مولى آل طَلْحَة، عَن عِكْرِمَة، عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ لَا حلف فِي الْإِسْلَام، وكل حلف كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّة، فَلم يزده الْإِسْلَام إِلَّا شدَّة، وَمَا يسرني أَن لي حمر النعم، وَأَنِّي أنقض الْحلف الَّذِي كَانَ فِي دَار الندوة ".
তাঁর থেকে এ বিষয়ে বর্ণিত সংবাদসমূহের উল্লেখ

 

4 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, তিনি শারিক থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইসলামে কোনো (নতুন) মৈত্রীচুক্তি (حلف) নেই; আর জাহেলি যুগে যা বিদ্যমান ছিল, ইসলাম তা কেবল আরও সুদৃঢ় করেছে।"

5 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাব ইবনুল মিকদাম, তিনি ইসরাইল ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি আলে তালহার মুক্তদাস মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইসলামে কোনো (নতুন) মৈত্রীচুক্তি (حلف) নেই; আর জাহেলি যুগে বিদ্যমান প্রতিটি মৈত্রীচুক্তিকে (حلف) ইসলাম কেবল আরও সুদৃঢ়ই করেছে। আর লাল উটের পালের মালিক হওয়ার চেয়েও আমার নিকট এটি অধিক অপছন্দনীয় যে, আমি দারুন নদওয়ায় সম্পাদিত মৈত্রীচুক্তিটি (حلف) ভঙ্গ করি।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
6 - وحَدثني يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم، قَالَ: حَدثنَا هَيْثَم، قَالَ: أخبرنَا مُغيرَة، عَن أَبِيه، عَن شُعْبَة بن التوأم الضَّبِّيّ، عَن قيس بن عَاصِم أَنه سَأَلَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ عَن الْحلف؟ قَالَ: فَقَالَ: " مَا كَانَ من حلف فِي الْجَاهِلِيَّة فَتمسكُوا بِهِ، وَلَا حلف فِي الْإِسْلَام ".
6 - এবং ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: হায়সাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুগিরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি তার পিতার নিকট হতে (عن), তিনি শু’বাহ বিন আত-তাওআম আদ-দাব্বি হতে (عن), তিনি কায়স বিন আসিম হতে (عن) যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে -‌‌ মৈত্রী চুক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন? তিনি বললেন: "জাহেলি যুগে যে মৈত্রী চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল তোমরা তা অটুট রাখো, তবে ইসলামে নতুন কোনো মৈত্রী চুক্তির বিধান নেই।" .
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
7 - حَدثنَا ابْن حميد، قَالَ: حَدثنَا جرير، عَن مُغيرَة، عَن أَبِيه، عَن شُعْبَة بن التوأم الضَّبِّيّ، أَن قيس بن عَاصِم سَأَلَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ عَن الْحلف؟ فَقَالَ: " لَا حلف فِي الْإِسْلَام، وَلَكِن تمسكوا بِحلف الْجَاهِلِيَّة ".

8 - حَدثنَا أَبُو كريب، قَالَ: حَدثنَا وَكِيع، عَن دَاوُد بن أبي عبد الله، عَن ابْن جدعَان، عَن جدته، عَن أم سَلمَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قَالَ: " لَا حلف فِي الْإِسْلَام، وَمَا كَانَ من حلف فِي الْجَاهِلِيَّة لم يزده الْإِسْلَام إِلَّا شدَّة ".

فَإِن قَالَ لنا قَائِل: فَإِن كَانَ الْأَمر فِي الْحلف فِي الْإِسْلَام كَمَا قلت من أَنه غير جَائِز عقده، فَمَا أَنْت قَائِل فِيمَا:

9 - حَدثكُمْ بِهِ ابْن حميد، قَالَ: حَدثنَا جرير، عَن عَاصِم، عَن أنس قَالَ: " حَالف رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - بَين
৭ - ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدثنَا), তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدثنَا), তিনি মুগীরাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি শু'বাহ ইবনুত তাওয়াম আদ-দাব্বী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কাইস ইবনে আসিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে -‌‌ মৈত্রী চুক্তি (حلف) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন? তখন তিনি বলেছিলেন: "ইসলামে কোনো মৈত্রী চুক্তি (حلف) নেই, তবে তোমরা জাহেলি যুগের মৈত্রী চুক্তি (حلف) মেনে চলো।" .

৮ - আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدثنَا), তিনি বলেন: ওয়াকী' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدثنَا), তিনি দাউদ ইবনে আবি আবদিল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে জাদ'আন থেকে, তিনি তাঁর দাদী থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -‌‌ বলেছেন: "ইসলামে কোনো মৈত্রী চুক্তি (حلف) নেই, আর জাহেলি যুগে যে মৈত্রী চুক্তি (حلف) ছিল, ইসলাম তা কেবল আরও শক্তিশালীই করেছে।"

অতঃপর যদি কোনো প্রশ্নকারী আমাদের বলেন: ইসলামে মৈত্রী চুক্তির (حلف) বিষয়টি যদি তেমনই হয় যেমনটি আপনি বলেছেন যে এর চুক্তি সম্পাদন করা বৈধ (جائز) নয়, তবে আপনি সেই বিষয়ে কী বলবেন যা:

৯ - ইবনে হুমাইদ আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدثكُمْ), তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدثنَا), তিনি আসিম থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন (حَالف) করিয়েছিলেন..."
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار فِي دَاري الَّتِي بِالْمَدِينَةِ "؟

قيل: هَذَا أَمر كَانَ فِي أول الْإِسْلَام، كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ آخى بَين الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار، وَكَانُوا يتوارثون بذلك العقد، وَكَانَت الْجَاهِلِيَّة فِي جَاهِلِيَّتهَا تفعل ذَلِك، فنسخ الله - تَعَالَى ذكره - ذَلِك بقوله: {وَأولُوا الْأَرْحَام بَعضهم أولى بِبَعْض فِي كتاب الله} .

ورد الْمَوَارِيث إِلَى الْقرَابَات بالأرحام، وَالْحُرْمَة بقوله:
{يُوصِيكُم الله فِي أَوْلَادكُم للذّكر مثل حَظّ الْأُنْثَيَيْنِ} الْآيَتَيْنِ.

فَإِن قَالَ: وَهل من دَلِيل على صِحَة مَا قلت؟

10 - قيل: حَدثنَا ابْن بشار، قَالَ: حَدثنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر، قَالَ: حَدثنَا شُعْبَة، عَن أبي بشر، عَن سعيد بن جُبَير فِي قَول الله تبارك وتعالى: {وَالَّذين عاقدت أَيْمَانكُم} قَالَ: " كَانَ الرجل يعاقد الرجل فيرثه، وعاقد أَبُو بكر مولى فورثه ".
মুহাজির ও আনসারগণ মদিনায় অবস্থিত আমার এই ঘরে?"

বলা হয়েছে: এটি এমন একটি বিষয় ছিল যা ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে বিদ্যমান ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -‌‌ মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করেছিলেন এবং তাঁরা সেই চুক্তির ভিত্তিতে একে অপরের উত্তরাধিকারী হতেন। জাহেলি যুগে জাহেলিয়াতের সময় এমনটি করা হতো, অতঃপর আল্লাহ তাআলা — যাঁর জিকির সুউচ্চ — তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত করেছেন: {আর আল্লাহর কিতাবে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়রা একে অপরের অধিক নিকটবর্তী}।

এবং উত্তরাধিকারকে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এর অলঙ্ঘনীয়তা নিশ্চিত করেছেন:
{আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান} — এই দুই আয়াত।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনি যা বলেছেন তার বিশুদ্ধতার (صحة) কি কোনো প্রমাণ আছে?

১০ - বলা হয়েছে: ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ}, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সাথে চুক্তিবদ্ধ হতো এবং সে তার উত্তরাধিকারী হতো, আর আবু বকর এক মুক্তদাসের (مولى) সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন এবং সে তাঁর উত্তরাধিকারী হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
11 - وَحدثنَا ابْن حميد، قَالَ: حَدثنَا يحيى بن وَاضح، عَن الْحُسَيْن بن وَاقد، عَن يزِيد النَّحْوِيّ، عَن عِكْرِمَة وَالْحسن الْبَصْرِيّ فِي قَوْله: {وَالَّذين عقدت أَيْمَانكُم، فآتوهم نصِيبهم} . قَالَ: " كَانَ الرجل يحالف الرجل لَيْسَ بَينهمَا نسب، فيرث أَحدهمَا الآخر، فنسخ ذَلِك فِي الْأَنْفَال فَقَالَ: {وأولو الْأَرْحَام بَعضهم أولى بِبَعْض فِي كتاب الله} .

فَكَانَ هَذَا هَكَذَا إِلَى أَن فتحت مَكَّة، فَلَمَّا فتحت مَكَّة نسخ ذَلِك فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ حِينَئِذٍ: " أَوْفوا بِحلف الْجَاهِلِيَّة فَإِنَّهُ لم يزده الْإِسْلَام إِلَّا شدَّة ".

12 - حَدثنَا حميد بن مسْعدَة الشَّامي، قَالَ: حَدثنَا يزِيد بن زُرَيْع، قَالَ: حَدثنَا حُسَيْن الْمعلم، وَحدثنَا مُجَاهِد بن مُوسَى قَالَ: حَدثنَا يزِيد بن هَارُون، قَالَ: حَدثنَا حُسَيْن.

13 - وحَدثني حَاتِم بن بكر الضَّبِّيّ، قَالَ: حَدثنَا عبد الْأَعْلَى بن حُسَيْن الْمعلم، قَالَ: حَدثنَا أبي، عَن عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قَالَ فِي خطْبَة يَوْم فتح مَكَّة: " أَوْفوا بِحلف الْجَاهِلِيَّة، فَإِنَّهُ لَا يزِيدهُ الْإِسْلَام إِلَّا شدَّة، وَلَا تحدثُوا حلفا فِي الْإِسْلَام ".
১১ - ইবনে হুমাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াদিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি ইয়াজিদ আন-নাহবী থেকে, তিনি ইকরিমাহ এবং হাসান বসরী থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ, তাদের অংশ তাদের দিয়ে দাও।" তিনি বলেন: "কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সাথে চুক্তিবদ্ধ হতো অথচ তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকত না, ফলে তারা একে অপরের উত্তরাধিকারী হতো। পরবর্তীতে সূরা আল-আনফালের আয়াত দ্বারা তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে, যেখানে আল্লাহ বলেছেন: 'আর আল্লাহর বিধানে আত্মীয়-স্বজনরা একে অপরের অধিক হকদার'।"

মক্কা বিজয় পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই প্রচলিত ছিল। যখন মক্কা বিজিত হলো, তখন এটি রহিত (نسخ) করা হলো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন: -‌‌ "তোমরা জাহেলী যুগের চুক্তিগুলো পূরণ করো, কেননা ইসলাম তা কেবল আরও সুদৃঢ়ই করেছে।"

১২ - হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ আশ-শামী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে জুরাই আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন আল-মুয়াল্লিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া মুজাহিদ ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন।

১৩ - হাতিম ইবনে বাকর আদ-দাব্বি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল আ'লা ইবনে হুসাইন আল-মুয়াল্লিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -‌‌ মক্কা বিজয়ের দিন ভাষণে বলেছিলেন: "তোমরা জাহেলী যুগের চুক্তিগুলো পূর্ণ করো, কেননা ইসলাম তা কেবল আরও সুদৃঢ়ই করে এবং ইসলামে নতুন কোনো (অন্ধ আনুগত্যের) চুক্তি করো না।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
14 - وَحدثنَا تَمِيم بن الْمُنْتَصر، قَالَ: أخبرنَا يزِيد قَالَ: أخبرنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق، عَن عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده قَالَ: " لما دخل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ مَكَّة عَام الْفَتْح، قَامَ خَطِيبًا فِي النَّاس فَقَالَ: " يَا أَيهَا النَّاس! : مَا كَانَ من حلف فِي الْجَاهِلِيَّة، فَإِن الْإِسْلَام لم يزده إِلَّا شدَّة، وَلَا حلف فِي الْإِسْلَام ".

15 - حَدثنَا أَبُو كريب، قَالَ: حَدثنَا يُونُس بن بكير، قَالَ: حَدثنَا
১৪ - আমাদের নিকট তামীম ইবনুল মুনতাসির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের ইয়াজিদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করলেন -‌‌ মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায়, তখন তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বললেন: "হে লোকসকল! জাহেলিয়াত যুগে যেসব চুক্তি ছিল, ইসলাম তা কেবল আরও সুদৃঢ় করেছে; আর ইসলামে কোনো (নতুন) চুক্তি নেই " ।

১৫ - আমাদের নিকট আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
مُحَمَّد بن إِسْحَاق، عَن عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده، عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - مثله.

16 - وَحدثنَا أَبُو كريب قَالَ: حَدثنَا أَسد بن عَمْرو، عَن مُحَمَّد بن إِسْحَاق، عَن عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - مثله.

17 - وَحدثنَا أَبُو كريب، قَالَ: حَدثنَا خَالِد بن مخلد، قَالَ: حَدثنَا سُلَيْمَان بن بِلَال، قَالَ: حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن الْحَارِث، عَن عَمْرو بن شُعَيْب، عَن أَبِيه، عَن جده، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ بِنَحْوِهِ.

فَإِن قَالَ لنا: أَو جَائِز فِي الْحلف الَّذِي أَمر النَّبِي
صلى الله عليه وسلم َ -
মুহাম্মদ বিন ইসহাক, আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে — অনুরূপ (مثله)।

১৬ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ বিন আমর, মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে — অনুরূপ (مثله)।

১৭ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন মাখলাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন বিলাল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন আল-হারিস, আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে — তদ্রূপ (بنحوه)।

অতঃপর তিনি যদি আমাদের বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শপথের নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে কি তা বৈধ (جائز)?
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম —
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
بِالْوَفَاءِ بِهِ من حلف الْجَاهِلِيَّة، وَقد علمت أَن الْقَوْم إِنَّمَا كَانُوا يتعاقدون بَينهم على أَن يَرث بَعضهم بَعْضًا، وَيكون بَعضهم عونا لبَعض على من أرادوه بظُلْم أَو أَرَادَهُم بذلك أَن يُوفي بِشُرُوطِهِ الَّتِي كَانُوا تعاقدوه عَلَيْهَا فِي الْجَاهِلِيَّة؟

قيل: إِن الَّذِي أَمر النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ بِالْوَفَاءِ بِهِ من ذَلِك هُوَ مَا لم يفسخه الْإِسْلَام، وَلم يُبطلهُ حكم الْقُرْآن، وَهُوَ التعاون على الْحق، والنصرة على الْأَخْذ على يَد الظَّالِم الْبَاغِي. فَإِن قَالَ: فَإِن هَذَا حق لكل مُسلم على كل مُسلم فَمَا الْمَعْنى الَّذِي خص بِهِ فِي الْجَاهِلِيَّة حَتَّى وَجب من أَجله الْوَفَاء بِهِ، وَنهى عَن مثله فِي الْإِسْلَام استئنافه؟ وَهل على مُسلم من حرج فِي معاقدة إخْوَان لَهُ من أهل الْإِسْلَام على التناصر إِن بغى أحدا مِنْهُم أحد بظُلْم أَو قَصده بِسوء؟

قيل: إِن ذَلِك من معنى مَا ذهب إِلَيْهِ بعيد.

وَإِنَّمَا معنى قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: " مَا كَانَ من حلف فِي الْجَاهِلِيَّة، فَتمسكُوا بِهِ " إِنَّمَا هُوَ الْحلف على النُّصْرَة من بَعضهم لبَعض فِي الْحق، وَذَلِكَ، وَإِن كَانَ وَاجِبا على كل مُسلم لكل مُسلم، فَإِن على الحليف من ذَلِك لحليفه من وجوب حق نصرته على من بغاه بظُلْم دون سَائِر النَّاس غَيره مَا يجب للقريب على قَرِيبه، والنسيب على نسيبه، دون سَائِر النَّاس غَيره.

وَإِن نابته نائبة من عَدو لَهُ قَصده بظُلْم من الدفاع عَنهُ، فَلهُ من استصراخه عَلَيْهِ بِمَا قد نهي عَن استصراخ عشيرته وقبيلته بِمثلِهِ، وَذَلِكَ أَن الْأَخْبَار متظاهرة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ أَنه قَالَ: " من تعزى بعزاء الْجَاهِلِيَّة، فأعضوه بِهن أَبِيه وَلَا تكنوا ".
জাহিলিয়্যাত আমলের চুক্তি (حلف) পূরণ করার বিষয়ে। আপনি অবগত আছেন যে, জাহিলিয়্যাত যুগে লোকেরা পরস্পরের মধ্যে এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করত যে, তারা একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে এবং কেউ যুলুমের ইচ্ছা পোষণ করলে বা কেউ তাদের ওপর যুলুম করলে তারা একে অপরের সাহায্যকারী হবে। এখন কি সেই সব শর্ত পূরণ করতে হবে যা তারা জাহিলিয়্যাত যুগে পরস্পরের মাঝে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল?

বলা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাহিলিয়্যাতের যেসব চুক্তি পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা হলো ওই সকল বিষয় যা ইসলাম রহিত করেনি এবং কুরআনের বিধান যেগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করেনি; আর তা হলো সত্যের পথে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং যালিম ও সীমালঙ্ঘনকারীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সাহায্য প্রদান করা। যদি কেউ বলে: এটি তো প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের প্রাপ্য হক, তবে জাহিলিয়্যাত আমলের সেই চুক্তির বিশেষ তাৎপর্য কী ছিল যার কারণে তা পূরণ করা ওয়াজিব হলো এবং যার অনুরূপ চুক্তি ইসলামে নতুন করে শুরু করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে? আর কোনো মুসলমানের জন্য কি তার অন্য মুসলমান ভাইদের সাথে এই মর্মে সাহায্য-সহযোগিতার চুক্তি করতে কোনো বাধা আছে যে, তাদের কেউ কারো দ্বারা যুলুমের শিকার হলে বা কেউ তাকে অসৎ উদ্দেশ্যে লক্ষ্য বানালে তারা একে অপরকে সাহায্য করবে?

উত্তরে বলা হয়েছে: তার এই চিন্তার অর্থ প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে।

মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "জাহিলিয়্যাত যুগে যে সকল চুক্তি (حلف) সম্পাদিত হয়েছে, তোমরা তা আঁকড়ে ধরো"—এর প্রকৃত অর্থ হলো সত্য ও ন্যায়ের পথে একে অপরকে সাহায্য করার জন্য কৃত চুক্তি। যদিও এই সাহায্য করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের জন্য ওয়াজিব, তবুও সাধারণ মানুষের তুলনায় চুক্তিবদ্ধ মিত্রের (حليف) জন্য তার সঙ্গীর সাহায্য পাওয়ার অধিকারটি বিশেষভাবে সুনিশ্চিত হয়, ঠিক যেমন একজন নিকটাত্মীয়ের ওপর তার আত্মীয়ের বা বংশীয় সম্পর্কের কারণে একজনের ওপর অন্যজনের যে অধিকার থাকে।

যদি কোনো শত্রুর পক্ষ থেকে যুলুমের উদ্দেশ্যে তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে, তবে সে তার ওই মিত্রের সাহায্য প্রার্থনা করতে পারে, যেভাবে নিজের বংশ বা গোত্রের কাছে সাহায্য চাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহ (الأخبار) সুপ্রসিদ্ধ (متظاهرة) যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জাহিলিয়্যাতের বংশীয় আভিজাত্যের ডাক দেয়, তাকে তার পিতার লিঙ্গ কামড়ে ধরে থাকতে বলো এবং এ ক্ষেত্রে তোমরা কোনো রূপক শব্দ ব্যবহার করো না।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
والتعزي بعزاء الْجَاهِلِيَّة: هُوَ أَن يُنَادي من ركب بظُلْم: يال بني فلَان كَمَا قَالَ الشَّاعِر:

(فَلَمَّا الْتَقت فرساننا ورجالهم … دعوا: يَا لكعب {واعتزينا بعامر)

 

فَنهى صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ الْمَظْلُوم عَن الاعتزاء بِمَا ذكرنَا وَأمر من ظلم فاستصرخ على ظالمه أَن يَقُول: يَا لعباد الله} وَيَا للْمُسلمين.

ثمَّ أطلق لَهُ من الاستصراخ بحليفه مِمَّا نهى عَن الاستصراخ بِمثلِهِ بنسيبه من قبيلته وعشيرته.

فَأجَاز للرجل من أهل حلف الفضول أَو غَيره أَن يَقُول:
يَا لحلف الفضول {أَو يَا لحلف المطيبين} وَمَا أشبه ذَلِك.

أوما تسمعه يَقُول فِي الْخَبَر الَّذِي ذكرت عَن عبد الله بن طَلْحَة التَّيْمِيّ: " وَلَو دعيت إِلَيْهِ الْيَوْم فِي الْإِسْلَام لَأَجَبْت "؟

أوما ترى الْحُسَيْن بن عَليّ قَالَ للوليد بن عتبَة: أقسم بِاللَّه لتنصفن لي من حَقي أَو لآخذن سَيفي، ثمَّ لأقومن فِي مَسْجِد النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - ثمَّ لأدعون بِحلف الفضول؟
জাহেলিয়াতের রীতির দোহাই (التعزي بعزاء الْجَاهِلِيَّة): এটি হলো যখন কোনো ব্যক্তি জুলুমের শিকার হয় তখন সে ডাক দেয়: "হে অমুক বংশের লোক!" যেমন কবি বলেছেন:

(যখন আমাদের অশ্বারোহী ও তাদের পদাতিক বাহিনী মুখোমুখি হলো … তারা ডাকল: হে কাব! আর আমরা আমিরের দোহাই (واعتزينا) দিলাম)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) মজলুমকে উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে দোহাই দেওয়া (الاعتزاء) থেকে নিষেধ করেছেন এবং যার ওপর জুলুম করা হয়েছে তাকে জালেমের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনার (استصرخ) জন্য নির্দেশ দিয়েছেন যেন সে বলে: "হে আল্লাহর বান্দারা!" এবং "হে মুসলিমরা!"

অতঃপর তিনি তার জন্য তার চুক্তিবদ্ধ মিত্রের কাছে সাহায্য প্রার্থনা (الاستصراخ) বৈধ করেছেন, অথচ তিনি নিজ গোত্র ও বংশের আত্মীয়দের মাধ্যমে অনুরূপ সাহায্য প্রার্থনা (الاستصراخ) করতে নিষেধ করেছিলেন।

সুতরাং তিনি 'হিলফুল ফুদুল' বা অন্য কোনো চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তির জন্য অনুমতি দিয়েছেন যে সে বলবে:
"হে হিলফুল ফুদুলের সাথীরা!" অথবা "হে মুতায়্যাবীন চুক্তির সাথীরা!" এবং এর সদৃশ অন্য কিছু।

আপনি কি আব্দুল্লাহ ইবনে তালহা আত-তাইমি থেকে বর্ণিত সংবাদে (الخبر) যা আমি উল্লেখ করেছি তাতে তাকে বলতে শুনেননি: "আজ ইসলামের যুগেও যদি আমাকে এর (সেই চুক্তির) দিকে আহ্বান করা হতো, তবে অবশ্যই আমি তাতে সাড়া দিতাম"?

আপনি কি দেখেননি যে, হুসাইন ইবনে আলী ওয়ালিদ ইবনে উতবাহকে বলেছিলেন: "আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, হয় আপনি আমার পাওনা হক আদায় করবেন, নতুবা আমি আমার তলোয়ার তুলে নেব, অতঃপর নবী (সা.)-এর মসজিদে দাঁড়িয়ে হিলফুল ফুদুলের দোহাই দিয়ে ডাক দেব"?
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
فَذَلِك هُوَ الْخُصُوص الَّذِي خص بِهِ الحليف بِالْحلف الَّذِي كَانَ عقده فِي الْجَاهِلِيَّة من حليفه دون سَائِر النَّاس غَيره.

فَإِن قَالَ لنا قَائِل: هَل وَافق الزُّهْرِيّ فِيمَا روى من هَذَا الْخَبَر، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ أَنه قَالَ: " شهِدت مَعَ عمومتي حلف المطيبين " أحد من أهل النَّقْل فِي رِوَايَته؟ .

قيل: أما بِإِسْنَاد مُتَّصِل فَلَا نعلمهُ، وَلَكِن:

18 - حَدثنَا مُحَمَّد بن الْمثنى، قَالَ: حَدثنَا أَبُو عَامر، قَالَ: حَدثنَا عَليّ، عَن يحيى، عَن أبي سَلمَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قَالَ - وَهُوَ على الْمِنْبَر -: " مَا شهِدت لقريش قسَامَة إِلَّا حلف المطيبين، وَمَا يسرني أَن لي حمر النعم وَأَنِّي نكثته ".
সুতরাং এটিই সেই বিশেষত্ব যা জাহিলিয়াতের যুগে সম্পাদিত চুক্তির কারণে কোনো মিত্রকে তার মিত্রের পক্ষ হতে প্রদান করা হয়েছে, যা অন্য সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

যদি কেউ আমাদের নিকট প্রশ্ন করেন: নবী (সা.) থেকে বর্ণিত এই সংবাদটির ক্ষেত্রে ইমাম যুহরী যা বর্ণনা করেছেন—যেখানে তিনি (সা.) বলেছেন: "আমি আমার চাচাদের সাথে 'হিলফ আল-মুতাইয়্যাবীন'-এ উপস্থিত ছিলাম"—হাদিস বিশারদদের (أهل النقل) মধ্য থেকে কি অন্য কেউ তার এই বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে ঐকমত্য পোষণ করেছেন?

উত্তরে বলা হয়েছে: সংযুক্ত সনদ (إسناد متصل) সহকারে তা আমাদের জানা নেই, তবে:

18 - মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা.)—মিম্বরের ওপর থাকাকালীন বলেছেন: "আমি কুরাইশদের কোনো শপথ অনুষ্ঠানে (قسامة) উপস্থিত হইনি কেবল 'হিলফ আল-মুতাইয়্যাবীন' ব্যতীত; আর এর বিনিময়ে আমাকে লাল উট প্রদান করা হলেও আমি আনন্দিত হতাম না যদি আমি এই চুক্তি ভঙ্গ করতাম।"
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
("‌‌ ذكر مَا صَحَّ عندنَا من خبر ابْن عَبَّاس، عَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - مِمَّا لم يمض ذكره ")

 

19 - حَدثنَا ابْن حميد، قَالَ: حَدثنَا سَلمَة بن الْفضل، عَن ابْن إِسْحَاق، عَن مَكْحُول، عَن كريب مولى ابْن عَبَّاس، عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: كنت جَالِسا عِنْد عمر، فَقَالَ: هَل سَمِعْتُمْ فِيمَا سَمِعْتُمْ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ فِي الرجل إِذا أوهم فِي صلَاته، فَلَا يدْرِي أزاد أَو نقص؟ .

قلت: لَا. فَأتى علينا عبد الرَّحْمَن بن عَوْف فَقَالَ: فيمَ أَنْتُمَا؟ فَقَالَ عمر: سَأَلته هَل سَمِعْتُمْ فِيمَا سَمِعْتُمْ عَن النَّبِي
صلى الله عليه وسلم َ - فِي الرجل إِذا أوهم فِي صلَاته، فَلَا يدْرِي أزاد أم نقص، كَيفَ يصنع؟ فَقَالَ: لَا.

فَقَالَ عبد الرَّحْمَن: فَأَنا أحدثكُم. فَقَالَ عمر: هَات فحدثنا فَأَنت الصَّادِق الْمُسلم. فَقَالَ: سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ يَقُول: " إِذا شكّ أحدكُم فِي صلَاته، فَلَا يدْرِي أصلى اثْنَتَيْنِ أَو وَاحِدَة فليجعلها وَاحِدَة، وَإِذا شكّ فِي الثِّنْتَيْنِ وَالثَّلَاث فليجعلها ثِنْتَيْنِ، وَإِذا شكّ فِي الثَّلَاث والأربع فليجعلها ثَلَاثًا، حَتَّى يكون الشَّك فِي الزِّيَادَة،
("‌‌ ইবনে আব্বাস কর্তৃক আব্দুর রহমান ইবনে আউফের সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে খবরগুলো আমাদের কাছে সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে—যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়নি—সেগুলোর বর্ণনা। ")

 

১৯ - ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালামাহ ইবনুল ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা কিছু শুনেছ, তার মধ্যে এমন কিছু কি শুনেছ—‌‌ যে ব্যক্তি তার সালাতে বিভ্রান্ত হয় এবং বুঝতে পারে না যে সে রাকাত বৃদ্ধি করেছে নাকি কমিয়েছে, (সে বিষয়ে কোনো বিধান আছে কি)? .

আমি বললাম: না। তখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: "আপনারা কী নিয়ে আলোচনা করছেন?" উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমি তাকে জিজ্ঞেস করছিলাম—যদি কোনো ব্যক্তি তার সালাতে বিভ্রান্ত হয় এবং বুঝতে না পারে যে সে রাকাত বৃদ্ধি করেছে না কি কমিয়েছে, তবে সে কী করবে—এ সম্পর্কে আপনারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কিছু শুনেছেন কি? তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন, না।
"

তখন আব্দুর রহমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমি আপনাদের নিকট এ বিষয়ে বর্ণনা করছি।" উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "বলুন এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, আপনি তো সত্যবাদী (صادق) মুসলিম।" তিনি বললেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ‌‌ 'যখন তোমাদের কেউ তার সালাতে সন্দেহ (شك) করে এবং বুঝতে না পারে যে সে এক রাকাত না কি দুই রাকাত পড়েছে, তবে সে যেন তাকে এক রাকাত ধরে নেয়। আর যদি দুই না কি তিন রাকাত পড়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ করে, তবে সে যেন তাকে দুই রাকাত ধরে নেয়। আর যদি তিন না কি চার রাকাত পড়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ করে, তবে যেন তাকে তিন রাকাত ধরে নেয়, যতক্ষণ না তার সন্দেহটি আধিক্যের (زيادة) বিষয়ে হয়।',
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فَإِذا فرغ من صلَاته فليسجد سَجْدَتَيْنِ، ثمَّ يسلم ".

20 - وحَدثني يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم، قَالَ: حَدثنَا ابْن علية، قَالَ: أخبرنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق، قَالَ: حَدثنِي مَكْحُول أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قَالَ: " إِذا صلى أحدكُم فَشك فِي صلَاته، فَإِن شكّ فِي الْوَاحِدَة والثنتين فليجعلها وَاحِدَة، وَإِن شكّ فِي الثِّنْتَيْنِ وَالثَّلَاث فليجعلها ثِنْتَيْنِ، وَإِن شكّ فِي الثَّلَاث والأربع فليجعلها ثَلَاثًا، حَتَّى يكون الْوَهم فِي الزِّيَادَة، ثمَّ يسْجد سَجْدَتَيْنِ قبل أَن يسلم، ثمَّ يسلم ".

قَالَ مُحَمَّد: قَالَ لي حُسَيْن بن عبد الله: هَل أسْندهُ لَك؟ فَقلت: لَا. قَالَ: وَلكنه حَدثنِي أَن كريبا مولى ابْن عَبَّاس حَدثهُ، عَن ابْن عَبَّاس
অতঃপর তিনি যখন তাঁর সালাত সম্পন্ন করবেন, তখন যেন দুটি সাজদাহ করেন, তারপর সালাম ফেরান।"

২০ - এবং ইয়াকূব ইবনে ইবরাহীম আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উলইয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মাকহূল আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -‌‌ বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে এবং তার সালাতে সন্দেহ পোষণ করে, তবে যদি সে এক এবং দুই রাকাআতের মধ্যে সন্দেহ করে তবে সে যেন একে এক রাকাআত গণ্য করে; আর যদি সে দুই এবং তিনের মধ্যে সন্দেহ করে তবে যেন দুই রাকাআত গণ্য করে; আর যদি তিন এবং চারের মধ্যে সন্দেহ করে তবে যেন তিন রাকাআত গণ্য করে, যাতে করে সন্দেহটি কেবল অতিরিক্তের ক্ষেত্রে থাকে; অতঃপর সালাম ফেরানোর পূর্বে দুটি সাজদাহ করবে, তারপর সালাম ফেরাবে ".

মুহাম্মদ বলেন: হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে বললেন: তিনি কি হাদীসটি আপনার কাছে সনদযুক্ত (مسند) করেছেন? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: কিন্তু তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব তাঁর কাছে এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আব্বাস থেকে।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قَالَ: جَلَست مَعَ عمر بن الْخطاب فَقَالَ: يَا ابْن عَبَّاس {أَرَأَيْت إِذا اشْتبهَ على الرجل فِي صلَاته، فَلَا يدْرِي أزاد أم نقص؟

قلت: وَالله يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ مَا أَدْرِي. مَا سَمِعت فِي ذَلِك شَيْئا.

فَقَالَ: وَالله مَا أَدْرِي. قَالَ: فَبينا نَحن على ذَلِك، إِذْ جَاءَ عبد الرَّحْمَن بن عَوْف، فَقَالَ: مَا هَذَا الَّذِي تذكران؟ فَقَالَ لَهُ عمر: ذكرنَا الرجل يشك فِي صلَاته؟ كَيفَ يصنع؟ فَقَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ يَقُول هَذَا الحَدِيث.

21 - وحَدثني سعيد بن عُثْمَان التنوخي، قَالَ: حَدثنَا أَحْمد بن خَالِد الْوَهْبِي، قَالَ: حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق، عَن مَكْحُول، عَن كريب، عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: جَلَست إِلَى عمر بن الْخطاب فَقَالَ: يَا ابْن عَبَّاس} هَل سَمِعت عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ فِي الرجل إِذا نسي من صلَاته، فَلَا يدْرِي أزاد أم نقص مَا أَمر بِهِ فِيهِ؟

قَالَ: قلت: أما سَمِعت أَنْت يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ من رَسُول الله
صلى الله عليه وسلم َ -؟ قَالَ: لَا. قلت: لَا وَالله مَا سَمِعت فِيهِ شَيْئا، وَلَا سَأَلت عَنهُ. إِذْ جَاءَ عبد الرَّحْمَن بن عَوْف فَقَالَ: فيمَ أَنْتُمَا؟ فَأخْبرهُ عمر. قَالَ: سَأَلت هَذَا الْفَتى عَن كَذَا وَكَذَا فَلم أجد عِنْده علما؟ فَقَالَ عبد الرَّحْمَن: لَكِن عِنْدِي. لقد سَمِعت ذَاك من النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -.‌‌ فَقَالَ عمر: فَأَنت عندنَا الْعدْل الرِّضَا، فَمَاذَا سَمِعت؟ قَالَ: سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - يَقُول: " إِذا شكّ أحدكُم فِي صلَاته فَشك فِي الْوَاحِدَة والثنتين، فليجعلها وَاحِدَة وَإِذا شكّ فِي الثِّنْتَيْنِ وَالثَّلَاث، فليجعلها اثْنَتَيْنِ، وَإِذا شكّ فِي الثَّلَاث والأربع
তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে বসেছিলাম। তিনি বললেন: হে ইবনে আব্বাস! আপনি কী মনে করেন যখন কোনো ব্যক্তির সালাতে বিভ্রান্তি দেখা দেয় এবং সে বুঝতে পারে না যে সে (রাকাআত) বৃদ্ধি করেছে নাকি কম করেছে?

আমি বললাম: আল্লাহর কসম, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি জানি না। এ বিষয়ে আমি কিছুই শুনিনি।

তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমিও জানি না। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা এ অবস্থায় থাকাকালে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আসলেন এবং বললেন: আপনারা কী নিয়ে আলোচনা করছেন? ওমর তাকে বললেন: আমরা ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করছি যে তার সালাতে সন্দেহ পোষণ করে, সে কীভাবে কী করবে? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই হাদিসটি বলতে শুনেছি।

21 - এবং সাঈদ ইবনে উসমান আল-তানুখি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে খালিদ আল-ওয়াহবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক মাকহুল থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে বসলাম। তিনি বললেন: হে ইবনে আব্বাস! আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু শুনেছেন যে তার সালাতে ভুলে যায় এবং বুঝতে পারে না সে (রাকাআত) বৃদ্ধি করেছে নাকি কম করেছে, সে বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়া হয়েছে?

তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি কি নিজে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনেননি? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: না, আল্লাহর কসম আমি এ বিষয়ে কিছুই শুনিনি এবং এ সম্পর্কে প্রশ্নও করিনি। তখন আবদুর রহমান ইবনে আউফ আসলেন এবং বললেন: আপনারা কী নিয়ে ব্যস্ত? ওমর তাকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন: আমি এই যুবকের কাছে অমুক অমুক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি কিন্তু তার কাছে কোনো জ্ঞান পেলাম না। আবদুর রহমান বললেন: তবে আমার কাছে (এ বিষয়ে জ্ঞান) আছে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা শুনেছি। ওমর বললেন: আপনি আমাদের নিকট ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও গ্রহণযোগ্য (رضا), সুতরাং আপনি কী শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যখন তোমাদের কেউ তার সালাতে সন্দেহ করে এবং এক রাকাআত নাকি দুই রাকাআত সে বিষয়ে সন্দেহ হয়, তবে সে যেন একে এক রাকাআত গণ্য করে। আর যখন দুই নাকি তিন রাকাআত সে বিষয়ে সন্দেহ হয়, তখন সে যেন একে দুই রাকাআত গণ্য করে। আর যখন তিন নাকি চার রাকাআতের বিষয়ে সন্দেহ হয়...
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فليجعلها ثَلَاثًا، حَتَّى يكون الْوَهم فِي الزِّيَادَة، ثمَّ ليسجد سَجْدَتَيْنِ قبل أَن يسلم ثمَّ يسلم ".

22 - وَحدثنَا ابْن بشار وَابْن الْمثنى قَالَا: حَدثنَا مُحَمَّد بن خَالِد بن عَثْمَة، قَالَ: حَدثنِي إِبْرَاهِيم بن سعد، قَالَ: حَدثنِي مُحَمَّد بن إِسْحَاق، عَن مَكْحُول، عَن كريب، عَن ابْن عَبَّاس، عَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ يَقُول: " إِذا سَهَا أحدكُم فِي صلَاته، فَلم يدر وَاحِدَة صلى أَو اثْنَتَيْنِ؟ فليبن على وَاحِدَة؛ فَإِن لم يدر ثِنْتَيْنِ صلى أَو ثَلَاثًا؟ فليبن على ثِنْتَيْنِ. فَإِن لم يدر ثَلَاثًا صلى أَو أَرْبعا؟ فليبن على ثَلَاث، وليسجد سَجْدَتَيْنِ قبل أَن يسلم ".

(" القَوْل فِي علل هَذَا الْخَبَر ")

 

‌‌وَهَذَا خبر عندنَا صَحِيح سَنَده، وَقد يجب أَن يكون على مَذْهَب
...তবে সে যেন তা তিন (রাকাত) ধরে নেয়, যাতে সংশয়টি কেবল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে থাকে। অতঃপর সালাম ফেরানোর আগে সে যেন দুটি সিজদা করে, তারপর সালাম ফেরায়।"

২২ - ইবনে বাশার ও ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে আসমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে সা’দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আমার নিকট মাকহুল থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি -‌‌ তিনি বলেন: "যখন তোমাদের কেউ তার সালাতে ভুল করে এবং বুঝতে না পারে যে সে এক রাকাত পড়েছে নাকি দুই রাকাত? তবে সে যেন এক রাকাতের ওপর ভিত্তি করে। আর যদি সে বুঝতে না পারে যে দুই রাকাত পড়েছে নাকি তিন রাকাত? তবে সে যেন দুই রাকাতের ওপর ভিত্তি করে। আর যদি সে বুঝতে না পারে যে তিন রাকাত পড়েছে নাকি চার রাকাত? তবে সে যেন তিন রাকাতের ওপর ভিত্তি করে এবং সালাম ফেরানোর আগে যেন দুটি সিজদা করে।" .

( "এই সংবাদটির (خبر) ত্রুটিসমূহ (علل) সম্পর্কে আলোচনা" )

 

‌‌এবং আমাদের নিকট এই সংবাদটির (خبر) সনদ (سند) সহিহ (صحيহ), আর এটি যে মূলনীতির (مذهب) ওপর হওয়া আবশ্যক...
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الآخرين سقيما غير صَحِيح لعلل:

إِحْدَاهَا: اضْطِرَاب نقلته فِي سَنَده، فبعضهم يَقُول فِيهِ: عَن ابْن إِسْحَاق، عَن مَكْحُول، عَن كريب، عَن ابْن عَبَّاس.

وَبَعْضهمْ يَقُول: عَن ابْن إِسْحَاق، عَن مَكْحُول، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ مُرْسلا.

وَبَعْضهمْ يَقُول: عَن ابْن إِسْحَاق، عَن حُسَيْن بن عبد الله، عَن مَكْحُول، عَن كريب، عَن ابْن عَبَّاس؟

وَالثَّانيَِة: أَن حُسَيْن بن عبد الله عِنْدهم مِمَّن لَا يجوز الِاحْتِجَاج بنقله فِي الدّين؟

وَالثَّالِثَة: أَن مُحَمَّد بن إِسْحَاق عِنْدهم غير مرتضى
؟

(" القَوْل فِي الْبَيَان عَمَّا فِي هَذَا الْخَبَر من الْفِقْه ")

 

‌‌وَالَّذِي فِيهِ من ذَلِك: الْبَيَان عَن صِحَة قَول الْقَائِلين فِي الشاك فِيمَا صلى من صَلَاة هُوَ فِيهَا من عَددهَا؟

أَنه يَبْنِي على مَا استيقن أَنه قد صلى مِنْهَا، وَيتم على ذَلِك بَاقِي صلَاته، وَأَن عَلَيْهِ إِذا فعل ذَلِك سَجْدَتي السَّهْو، إِذْ كَانَ مُمكنا أَن يكون قد ألحق فِي صلَاته مَا لَيْسَ
مِنْهَا، كَالَّذي يسلم فِيهَا سَاهِيا، قبل إِتْمَامه جَمِيعهَا.

وَقد وَافق عبد الرَّحْمَن فِي معنى رِوَايَته عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - هَذَا الْخَبَر، وَأَن على الشاك فِيمَا صلى من عدد رَكْعَات صَلَاة هُوَ فِيهَا أَن يَبْنِي على الْيَقِين: جمَاعَة من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ نذْكر مَا صَحَّ من ذَلِك عندنَا بِسَنَدِهِ، ثمَّ نتبع جَمِيعه الْبَيَان إِن شَاءَ الله.
অন্যদের বর্ণনা অসুস্থ (سقيم) এবং সহিহ (صحيح) নয় কয়েকটি ত্রুটির (علل) কারণে:

প্রথমটি: এর সনদ (سند)-এর বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় অস্থিরতা (اضطراب); তাদের কেউ কেউ এতে বলেন: ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে।

আর তাদের কেউ কেউ বলেন: ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে -‌‌ বিচ্ছিন্নভাবে (مرسل)।

আবার তাদের কেউ কেউ বলেন: ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে?

দ্বিতীয়টি: হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ তাদের নিকট এমন ব্যক্তি, দ্বীনের বিষয়ে যার বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ (احتجاج) করা বৈধ নয়?

তৃতীয়টি: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য (مرتضى) নন
?

("এই বর্ণনার ফিকহি মাসআলার ব্যাখ্যার আলোচনা")

 

‌‌এর অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো: সালাতরত অবস্থায় সালাতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ পোষণকারীর ব্যাপারে যারা মত দিয়েছেন, তাদের বক্তব্যের সঠিকতা (صحة) বর্ণনা করা;

তা হলো, সে যা নিশ্চিতভাবে আদায় করেছে তার ওপর ভিত্তি করবে এবং সে অনুযায়ী বাকি সালাত পূর্ণ করবে। আর এরূপ করলে তার ওপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে; কারণ এটা সম্ভব যে সে তার সালাতে এমন কিছু যুক্ত করেছে যা তার অংশ
নয়, যেমনটি ঘটে থাকে ভুলবশত সালাত পূর্ণ করার আগেই সালাম ফেরানোর ক্ষেত্রে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত আব্দুর রহমানের এই হাদিসের মর্মের সাথে - এবং এই যে, সালাতরত অবস্থায় রাকাতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ পোষণকারী নিশ্চিতের ওপর ভিত্তি করবে - রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একদল সাহাবী একমত হয়েছেন।‌‌আমাদের নিকট এর মধ্য থেকে যা সহিহ (صح) সাব্যস্ত হয়েছে, তা আমরা সনদ (سند) সহ উল্লেখ করব, অতঃপর ইনশাআল্লাহ বিস্তারিত বর্ণনা পেশ করব।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
("‌‌ ذكر ذَلِك ")

 

23 - حَدثنِي إِسْمَاعِيل بن مَسْعُود الجحدري، قَالَ: حَدثنَا أَبُو زُكَيْرٍ يحيى بن مُحَمَّد، عَن زيد بن أسلم، عَن عَطاء بن يسَار، عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قَالَ: " إِذا شكّ أحدكُم فَلم يدر كم صلى: ثَلَاثًا أم أَرْبعا؟ فَليصل رَكْعَة تَامَّة، ثمَّ ليسجد سَجْدَتَيْنِ، وَهُوَ جَالس، فَإِن كَانَت تِلْكَ الرَّكْعَة خَامِسَة شفع بهَا السَّجْدَتَيْنِ، وَإِن كَانَت رَابِعَة كَانَت ترغيما للشَّيْطَان ".

24 - حَدثنِي مُحَمَّد بن عمَارَة الْأَسدي، قَالَ: حَدثنَا خَالِد بن مخلد، قَالَ: حَدثنَا سُلَيْمَان بن بِلَال، عَن زيد بن أسلم، عَن عَطاء بن
এর বর্ণনা

 

২৩ - ইসমাইল ইবন মাসউদ আল-জাহতদারি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জুকাইর ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়দ ইবন আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -‌‌ বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) সন্দেহে পতিত হয় এবং সে জানতে পারে না যে কত রাকাত সালাত আদায় করেছে: তিন নাকি চার? তবে সে যেন একটি পূর্ণ রাকাত আদায় করে, অতঃপর বসে থাকা অবস্থায় দুটি সিজদাহ প্রদান করে। যদি সেই রাকাতটি পঞ্চম হয়ে থাকে, তবে এই সিজদাহদ্বয় তার সালাতকে জোড় করে দেবে; আর যদি তা চতুর্থ রাকাত হয়, তবে তা শয়তানকে অপদস্থ করার কারণ হবে।" .

২৪ - মুহাম্মদ ইবন আমারা আল-আসাদি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবন মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবন বিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়দ ইবন আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবন...
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
يسَار، عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ، عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - بِنَحْوِهِ.

25 - وحَدثني مُحَمَّد بن عبد الله بن عبد الْحَكِيم الْمصْرِيّ، قَالَ: أخبرنَا أَبُو زرْعَة وهب الله بن رَاشد، قَالَ: أخبرنَا حَيْوَة بن شُرَيْح، قَالَ: أخبرنَا مُحَمَّد بن العجلان، أَن زيد بن أسلم حَدثهُ، عَن عَطاء بن يسَار، عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ، عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ أَنه قَالَ: " إِذا صلى أحدكُم فَلم يدر أَثلَاثًا صلى أم أَرْبعا؟ فليبن على الْيَقِين، ويدع الشَّك، ثمَّ يسْجد سَجْدَتَيْنِ، فَإِن كَانَت صلَاته نقصت فقد أتمهَا، وَكَانَت السجدتان ترغيما للشَّيْطَان، وَإِن كَانَت صلَاته تَامَّة كَانَ مَا زَاد والسجدتان نَافِلَة ".

26 - حَدثنَا الْمقدمِي، قَالَ: حَدثنَا الْحجَّاج، قَالَ: حَدثنَا عبد الْعَزِيز بن عبد الله بن أبي سَلمَة الْمَاجشون، عَن زيد بن أسلم، عَن
ইয়াসার, আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে - অনুরূপ (بنحوه)।

২৫ - এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকীম আল-মিসরী আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আবু যুরআ ওয়াহাবুল্লাহ বিন রাশিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: হাইওয়াহ বিন শুরাইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আজলান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) যে, জায়েদ বিন আসলাম তাঁর কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثه) আতা বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে -‌‌ নিশ্চয়ই তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে এবং সে জানে না যে তিন রাকাত পড়েছে নাকি চার রাকাত? তবে সে যেন নিশ্চিত বিষয়ের (اليقين) ওপর ভিত্তি করে এবং সন্দেহ (الشك) বর্জন করে। এরপর সে যেন দুটি সিজদা করে। যদি তার সালাতে কোনো ঘাটতি হয়ে থাকে তবে তা পূর্ণ হয়ে যাবে এবং সিজদা দুটি শয়তানকে লাঞ্ছিত করার জন্য হবে। আর যদি তার সালাত পূর্ণ হয়ে থাকে তবে যা অতিরিক্ত হয়েছে এবং সিজদা দুটি নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে।" .

২৬ - আল-মুকাদ্দামী আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু সালামাহ আল-মাজিশুন আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) জায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৪০)
عَطاء بن يسَار، عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قَالَ: " إِذا لم يدر أحدكُم ثَلَاثًا صلى أَو أَرْبعا، فَليصل رَكْعَة، ثمَّ يسْجد سَجْدَتَيْنِ، وَهُوَ جَالس، فَإِن كَانَ صلى خمْسا شفعتا لَهُ صلَاته، وَإِن كَانَ صلى أَرْبعا كَانَتَا ترغيما للشَّيْطَان ".

27 - وحَدثني أَبُو يُونُس الْمَكِّيّ مُحَمَّد بن أَحْمد بن يزِيد، قَالَ: حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن أبي أويس، عَن أَخِيه، عَن سُلَيْمَان بن بِلَال، عَن عمر بن مُحَمَّد عَن سَالم بن عبد الله، عَن عبد الله بن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ قَالَ: " إِذا صلى أحدكُم فَلَا يدْرِي كم صلى ثَلَاثًا أم أَرْبعا؟ فليركع رَكْعَتَيْنِ يحسن ركوعهما وسجودهما ثمَّ يسْجد سَجْدَتَيْنِ ".

فَإِن قَالَ: قَائِل: فَمَا أَنْت قَائِل - إِن كَانَت هَذِه الْأَخْبَار الَّتِي ذكرتها
আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -‌‌ বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন বুঝতে পারে না যে সে তিন রাকাত না চার রাকাত সালাত আদায় করেছে, তখন সে যেন এক রাকাত আদায় করে নেয়, অতঃপর বসে থাকা অবস্থায় দুটি সিজদা প্রদান করে। যদি সে পাঁচ রাকাত সালাত আদায় করে থাকে, তবে তা তার সালাতকে জোড় করে দেবে; আর যদি সে চার রাকাত পূর্ণ করে থাকে, তবে তা শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাস্বরূপ হবে।".

২৭ - এবং আমাকে আবু ইউনুস আল-মাক্কী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াজিদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে আবি উওয়াইস হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি তার ভাই থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি উমর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -‌‌ বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে এবং সে জানে না যে কত রাকাত পড়েছে—তিন না চার? তখন সে যেন সুন্দরভাবে রুকু ও সিজদা সম্পন্ন করে আরও দুই রাকাত আদায় করে এবং এরপর দুটি সিজদা প্রদান করে।"

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: আপনি এই সংবাদসমূহ (الأخبار) সম্পর্কে কী বলবেন যা আপনি উল্লেখ করেছেন—
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৪১)
عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ عنْدك صحاحا - فِيمَا:

28 - حَدثَك بِهِ يحيى بن طَلْحَة الْيَرْبُوعي قَالَ: حَدثنَا فُضَيْل بن عِيَاض، عَن مَنْصُور، عَن إِبْرَاهِيم، عَن عَلْقَمَة، عَن عبد الله قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ إِذا سَهَا أحدكُم فِي صلَاته، فليتحر، وليسجد سَجْدَتَيْنِ ".

29 - وَحدثنَا ابْن بشار وَابْن بزيغ، قَالَا: حَدثنَا أَبُو أَحْمد، قَالَ: حَدثنَا سُفْيَان، عَن مَنْصُور قَالَ: سَأَلت سعيد بن جُبَير عَن الشَّك فِي الصَّلَاة؟ فَقَالَ: أما أَنا، فَإِن كَانَت فَرِيضَة اسْتقْبلت، وَإِن كَانَت تَطَوّعا سلمت وسجدت سَجْدَتَيْنِ. قَالَ: فَذَكرته لإِبْرَاهِيم؟ فَقَالَ:
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত - আপনার নিকট যা বিশুদ্ধ (صحاحا) হিসেবে রয়েছে তার মধ্যে:

28 - ইয়াহইয়া বিন তালহা আল-ইয়ারবুয়ি আপনার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুযাইল বিন ইয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ তার সালাতে ভুল করে, তখন সে যেন সঠিকটি নির্ধারণের চেষ্টা করে এবং দুটি সিজদাহ প্রদান করে।"

29 - এবং ইবনে বাশশার ও ইবনে বাযিগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সাইদ ইবনে জুবায়েরকে সালাতে সন্দেহ হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: আমার ক্ষেত্রে কথা হলো, যদি তা ফরজ নামাজ হয় তবে আমি নতুন করে শুরু করি, আর যদি তা নফল হয় তবে আমি সালাম ফিরিয়ে দুটি সিজদাহ করি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর আমি বিষয়টি ইব্রাহিমের নিকট উল্লেখ করলাম? তখন তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَمَا تصنع بقول سعيد بن جُبَير، حَدثنِي عَلْقَمَة، عَن عبد الله بن مَسْعُود، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌‌‌ قَالَ: " إِذا شكّ أحدكُم فِي صلَاته، فليتحر وليسجد سَجْدَتَيْنِ ".

30 - وحَدثني مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل الأحمسي، قَالَ: حَدثنَا مُحَمَّد بن عبيد، قَالَ: حَدثنَا مسعر بن كدام أَبُو سَلمَة، عَن مَنْصُور، عَن إِبْرَاهِيم، عَن عَلْقَمَة، عَن عبد الله قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ إِنَّمَا أَنا بشر أنسى كَمَا تنسون، فَأَيكُمْ شكّ فِي صلَاته، فَلْينْظر أَحْرَى ذَلِك للصَّوَاب، فليتم عَلَيْهِ، ثمَّ ليسجد سَجْدَتَيْنِ ".

31 - وَحدثنَا أَبُو هِشَام الرِّفَاعِي، قَالَ: حَدثنَا حَفْص، عَن مسعر، عَن مَنْصُور، عَن إِبْرَاهِيم، عَن عَلْقَمَة، عَن عبد الله، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " إِذا شكّ أحدكُم فِي صلَاته، فليتحر وليسجد سَجْدَتَيْنِ ".

32 - وَحدثنَا ابْن حميد، قَالَ: حَدثنَا جرير، عَن مَنْصُور، قَالَ:
আপনি সাঈদ ইবন জুবায়ের-এর উক্তি নিয়ে কী করবেন? তিনি বলেন, আলকামা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন—‌‌‌‌ তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার সালাতে সন্দেহ করে, সে যেন সঠিকটি অনুসন্ধান করে এবং দুটি সেজদা প্রদান করে।" .

৩০ - এবং মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-আহমাসি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিসআর ইবন কিদাম আবু সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ আমি কেবল একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুলে যাও আমিও তেমনি ভুলে যাই। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার সালাতে সন্দেহ করে, সে যেন যা সঠিক হওয়ার অধিক নিকটতর তা দেখে নেয় এবং তার ওপর ভিত্তি করে সালাত পূর্ণ করে, অতঃপর যেন দুটি সেজদা প্রদান করে। ".

৩১ - এবং আবু হিশাম আল-রিফায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মিসআর থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার সালাতে সন্দেহ করে, সে যেন সঠিকটি অনুসন্ধান করে এবং দুটি সেজদা প্রদান করে।"

৩২ - এবং ইবন হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মানসুর থেকে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
سَأَلت سعيد بن جُبَير عَن الرجل يشك فِي الصَّلَاة؟

فَقَالَ: أما أَنا، فَإِذا كَانَ ذَلِك فِي النَّافِلَة، فأتحرى الصَّوَاب، ثمَّ أَسجد سَجْدَتَيْنِ، وَإِذا كَانَ فِي الْمَكْتُوبَة، فَإِنِّي أُعِيد.

فَذَكرنَا لإِبْرَاهِيم؟ فَقَالَ: مَا تصنع بقول سعيد: وَقد سمعنَا فِيهِ: حَدثنِي عَلْقَمَة، عَن عبد الله، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ فَذكر نَحْو حَدِيث ابْن بشار؟

33 - وَحدثنَا ابْن الْمثنى، قَالَ: حَدثنَا ابْن أبي عدي عَن سعيد، عَن عَمْرو بن دِينَار، عَن سُلَيْمَان الْيَشْكُرِي، عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: يتحَرَّى فِي الْوَهم. فَقَالَ رجل لعَمْرو بن دِينَار، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -؟‌‌ فَقَالَ عَمْرو: عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - فِيمَا أعلم.

قيل: قد اخْتلف السّلف قبلنَا فِي ذَلِك، فَنَذْكُر اخْتلَافهمْ فِيهِ، ثمَّ نتبع ذَلِك الْبَيَان عَن الصَّوَاب لدينا من القَوْل فِيهِ، إِن شَاءَ الله ذَلِك.

فَقَالَ بَعضهم فِي ذَلِك بِنَحْوِ القَوْل الَّذِي روينَا عَن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -‌‌ من أَنه إِذا شكّ الرجل فِي صلَاته فَلم يدر كم صلى؟ بنى على الْيَقِين.

وَقَالَ بَعضهم: يتحَرَّى فيبني على الْأَغْلَب عِنْده.

وَقَالَ بَعضهم: يسْتَقْبل صلَاته.

وَقَالَ بَعضهم: إِن كَانَ ذَلِك فِي تطوع تحرى، فَبنى على الْأَغْلَب
আমি সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে সালাতের মধ্যে সন্দেহে পতিত হয়?

তিনি বললেন: আমার ক্ষেত্রে, যদি তা নফল (نافلة) সালাতে হয়, তবে আমি সঠিকটি তালাশ করার চেষ্টা করি এবং পরবর্তীতে দুটি সিজদা প্রদান করি। আর যদি তা ফরজ (مكتوبة) সালাতে হয়, তবে আমি তা পুনরায় আদায় করি।

অতঃপর আমরা বিষয়টি ইব্রাহিমকে জানালাম? তিনি বললেন: সাঈদের কথা দিয়ে তোমরা কী করবে? অথচ আমরা এ বিষয়ে শুনেছি: আলকামা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে - ‌‌ অতঃপর তিনি ইবনে বাশারের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন?

৩৩ - ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি আদি আমাদের নিকট সাঈদ থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি সুলায়মান আল-ইয়াশকরি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বিভ্রান্তির (وهم) ক্ষেত্রে সঠিকটি তালাশ করতে হবে। তখন এক ব্যক্তি আমর ইবনে দীনারকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত? ‌‌ আমর বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই বর্ণিত, আমার জানামতে।

বলা হয়েছে: আমাদের পূর্ববর্তী সালাফগণ (سلف) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। আমরা তাঁদের মতভেদ উল্লেখ করব, অতঃপর ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে আমাদের নিকট যা সঠিক মত তার বর্ণনা প্রদান করব।

তাঁদের কেউ কেউ এ বিষয়ে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ মত পোষণ করেছেন ‌‌ যে, যখন কোনো ব্যক্তি তার সালাতে সন্দেহে পতিত হয় এবং কত রাকাত পড়েছে তা না জানে, তবে সে নিশ্চিত (يقين) বিষয়ের উপর ভিত্তি করবে।

আর তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: সে সঠিকটি তালাশ করবে এবং তার নিকট যেটি প্রবল ধারণা (الأغلب) সেটির উপর ভিত্তি করবে।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: সে নতুনভাবে তার সালাত শুরু করবে।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: যদি তা নফল (تطوع) সালাতে হয় তবে সে সঠিকটি তালাশ করবে এবং প্রবল ধারণার (الأغلب) উপর ভিত্তি করবে।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আসার - আল-জুযউল মাফকূদ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
عِنْده، وَإِن كَانَ فِي فَرِيضَة اسْتقْبل الصَّلَاة.

وَقَالَ بَعضهم: يَبْنِي على أتم ذَلِك وَأَكْثَره عِنْده.

("‌‌ ذكر من قَالَ يَبْنِي على الْيَقِين وَيتم صلَاته ")

 

34 - حَدثنَا ابْن حميد، قَالَ: حَدثنَا جرير، عَن مَنْصُور، عَن الحكم، عَن عَليّ قَالَ: " إِذا شَككت فِي التَّمام وَالنُّقْصَان، فصل رَكْعَة، فَإِن الله تبارك وتعالى لَا يعذب أحدا بِزِيَادَة فِي الصَّلَاة، وَلَكِن ينظر، فَإِن كَانَ تَمامًا كَانَ لَهُ، وَإِن كَانَ فضلا كَانَ لَهُ "

35 - وَحدثنَا ابْن بشار قَالَ: حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مهْدي، قَالَ: حَدثنَا سُفْيَان، عَن زِيَاد بن فياض، عَن أبي عِيَاض قَالَ: " كَانَ عمر بن الْخطاب ينْهَى أَن تُعَاد الصَّلَاة ".

36 - حَدثنَا ابْن بشار، قَالَ: حَدثنَا عبد الرَّحْمَن، قَالَ: " كَانَ سُفْيَان يصنعه: أَنه إِذا شكّ بنى على الْيَقِين ".

37 - حَدثنِي سعيد بن عُثْمَان التنوخي، قَالَ: حَدثنَا أَحْمد بن خَالِد قَالَ: حَدثنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق، عَن زِيَاد بن أبي زِيَاد مولى ابْن
তার নিকট; আর যদি তা ফরজ (فَرِيضة) ইবাদত হয়, তবে তিনি নতুন করে সালাত শুরু করবেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তিনি তার নিকট যা অধিক পূর্ণ এবং বেশি মনে হয় তার ওপর ভিত্তি করবেন।

("‌‌ যারা নিশ্চিত (الْيَقِين) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সালাত পূর্ণ করার কথা বলেছেন তাদের বর্ণনা ")

 

৩৪ - ইবনে হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানসুর থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন তুমি পূর্ণ হওয়া বা কম হওয়ার বিষয়ে সন্দেহে পতিত হবে, তখন এক রাকাত সালাত আদায় করো। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সালাতে বৃদ্ধির কারণে কাউকে শাস্তি দেন না, বরং তিনি লক্ষ্য করেন; যদি তা পূর্ণ হয় তবে তা তার অনুকূলে গণ্য হবে, আর যদি তা অতিরিক্ত হয় তবে তাও তার অনুকূলে গণ্য হবে।"

৩৫ - ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিয়াদ বিন ফায়্যাদ থেকে, তিনি আবু ইয়াদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সালাত পুনরায় আদায় করতে নিষেধ করতেন।"

৩৬ - ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সুফিয়ান এমনই করতেন যে, যখন তিনি সন্দেহে পড়তেন, তখন নিশ্চিত (الْيَقِين) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করতেন।"

৩৭ - সাঈদ বিন উসমান আত-তানুখী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিয়াদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, যিনি ইবনে... এর মুক্তদাস।