(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: -)
التقريب والتيسير للنووي   (النووي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: التقريب والتيسير لمعرفة سنن البشير النذير في أصول الحديث

المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676هـ)

تقديم وتحقيق وتعليق: محمد عثمان الخشت

الناشر: دار الكتاب العربي، بيروت

الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 123

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আন-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নাওয়াবী   (আন-নাওয়াবী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


কিতাব: আল-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লি-মারিফাতি সুনানিল বাশীরিন নাযীর ফী হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث)

লেখক: আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া বিন শরফ আন-নাওয়াবী (মৃ. ৬৭৬ হি.)

উপস্থাপনা, সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মদ ওসমান আল-খাশত

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হি. - ১৯৮৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

فاتحة الكتاب

الحمد لله الفتاح المنان، ذي الطول والفضل والإحسان، الذي من علينا بالإيمان، وفضل ديننا على سائر الأديان، ومحا بحبيبه وخليله وعبده ورسوله محمد صلى الله عليه وسلم عبادة الأوثان وخصه بالمعجزة والسنن المستمرة على تعاقب الأزمان، صلى الله عليه وعلى سائر النبيين وآل كل ما اختلف الملوان وما تكررت حكمه وذكره وتعاقب الجديدان.

" أما بعد " فإن علم الحديث من أفضل القرب إلى رب العالمين، وكيف لا يكون وهو بيان طريق خير الخلق وأكرم الأولين والآخرين وهذا كتاب اختصرته من كتاب " الإرشاد " الذي اختصرته من علوم الحديث للشيخ الإمام الحافظ المتقن المحقق أبي عمرو عثمان بن عبد الرحمن المعروف بابن الصلاح رضي الله عنه، أبالغ فيه في الاختصار إن شاء الله تعالى من غير إخلال بالمقصود، وأحرص على إيضاح العبارة، وعلى الله الكريم الاعتماد وإليه التفويض والاستناد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

গ্রন্থের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উন্মোচনকারী, পরম দাতা, সুমহান অনুগ্রহ ও ইহসানের অধিকারী। যিনি আমাদের ঈমানের মাধ্যমে ধন্য করেছেন এবং আমাদের দ্বীনকে অন্যান্য সকল ধর্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি তাঁর প্রিয়তম বন্ধু, বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করেছেন এবং তাঁকে চিরস্থায়ী মুজিজা ও সুন্নাহর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, যা মহাকালের বিবর্তনেও চির অম্লান থাকবে। তাঁর ওপর এবং সকল নবী ও তাঁদের পরিজনদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, যতক্ষণ রাত ও দিনের আবর্তন ঘটবে এবং যতক্ষণ হিকমত ও তাঁর জিকির আলোচিত হবে এবং নতুন দিন ও রাতের পরিবর্তন চলবে।

"অতঃপর," নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্র হলো রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আর কেনই বা তা হবে না, যখন এটি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং পূর্বাপর সকল মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিত্বের পথের বর্ণনা। এটি এমন একটি গ্রন্থ যা আমি ‘আল-ইরশাদ’ গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত করেছি, যা আমি পুনরায় শাইখ, ইমাম, হাফিজ (الحافظ), সুদৃঢ় বর্ণনাকারী (المتقن), গবেষক (المحقق) আবু আমর উসমান ইবন আবদুর রহমান—যিনি ইবন সালাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নামে পরিচিত—তাঁর ‘উলুমুল হাদিস’ গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত করেছিলাম। ইনশাআল্লাহ, আমি এতে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না করে অত্যন্ত সংক্ষেপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করব এবং বক্তব্য সুস্পষ্ট করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকব। মহান আল্লাহর ওপরই সকল নির্ভরতা এবং তাঁরই নিকট সকল বিষয় সোপর্দ করছি ও সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
أقسام الحديث

الحديث: صحيح - وحسن - وضعيف.

‌‌[النوع] الأول: الصحيح

وفيه مسائل:

الأولى: في حده. وهو ما اتصل سنده بالعدول الضابطين من غير شذوذ ولا علة، وإذا قيل صحيح فهذا معناه لا أنه مقطوع به، وإذا قيل غير صحيح فمعناه لم يصح إسناده، والمختار أنه لا يجزم. في إسناده أنه أصح الأسانيد مطلقاً، وقيل أصلحها الزهري عن سالم عن أبيه، وقيل ابن سيرين عن عبيدة عن علي، وقيل الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن ابن مسعود، وقيل الزهري عن علي بن الحسن عن أبيه عن علي، وقيل مالك عن نافع عن ابن عمر، فعلى هذا قيل الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهم.
হাদিসের প্রকারভেদ

হাদিস: সহিহ (صحيح) - হাসান (حسن) - এবং দুর্বল (ضعيف)।

‌‌[পরিচ্ছেদ] প্রথম: সহিহ (صحيح)

এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম: এর সংজ্ঞার বর্ণনায়। এটি এমন হাদিস যার সনদ (سند) অবিচ্ছিন্ন (متصل) এবং ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত, যা শায (شذوذ) এবং ইল্লাত (علة) থেকে মুক্ত। যখন কোনো হাদিসকে সহিহ (صحيح) বলা হয়, তখন এর অর্থ এটাই; এটি যে অকাট্য (مقطوع به) তা নয়। আর যখন 'সহিহ নয়' বলা হয়, তবে এর অর্থ হলো এর সনদটি বিশুদ্ধ নয়। পছন্দনীয় মত হলো, কোনো নির্দিষ্ট সনদ সম্পর্কে নিরঙ্কুশভাবে এটি নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, এটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد)। তবে কেউ কেউ বলেছেন, সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো যুহরী—সালেম—তার পিতা থেকে বর্ণিত সনদ। কেউ বলেছেন, ইবনে সিরিন—উবায়দাহ—আলী থেকে। কেউ বলেছেন, আমাশ—ইব্রাহিম—আলকামা—ইবনে মাসউদ থেকে। কেউ বলেছেন, যুহরী—আলী বিন আল-হাসান—তার পিতা—আলী থেকে। কেউ বলেছেন, মালিক—নাফে—ইবনে উমর থেকে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই বলা হয়েছে, শাফেয়ী—মালিক—নাফে—ইবনে উমর (রাদিআল্লাহু আনহুম) থেকে।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الثانية: أول مصنف في الصحيح المجرد، صحيح البخاري، ثم مسلم، وهما أصح الكتب بعد القرآن، والبخاري أصحهما وأكثرهما فوائد، وقيل مسلم أصح، والصواب الأول، واختص مسلم بجمع طرق الحديث في مكان، ولم يستوعبا الصحيح ولا التزماه، قيل لم يفتهما منه إلا قليل وأنكر هذا، والصواب أنه لم يفت الأصول الخمسة إلا اليسير، أعني الصحيحين، وسنن أبي داود والترمذي، والنسائي، وجملة ما في البخاري سبعة آلاف ومائتان وخمسة وسبعون حديثاً بالمكررة وبحذف المكرر أربعة آلاف، ومسلم بإسقاط المكرر نحو أربعة آلاف، ثم أن الزيادة في الصحيح تعرف من السنن المعتمدة: كسنن أبي داود، والترمذي، والنسائي، وابن خزيمة، والدارقطني، والحاكم، والبيهقي، وغيرها منصوصاً على صحته ولا يكفي وجوده فيها إلا في كتاب من شرط الاقتصار على الصحيح، واعتنى الحاكم بضبط الزائد عليهما، وهو متساهل، فما صححه ولم

দ্বিতীয় (বিষয়): কেবল বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে প্রথম গ্রন্থ হলো সহিহ বুখারি, অতঃপর মুসলিম। আল-কুরআনের পর এ দুটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) কিতাব। আর বুখারি এই দুটির মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) এবং অধিক ফায়দাবহ বা উপকারী। কেউ কেউ বলেছেন মুসলিম অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح), তবে প্রথম মতটিই সঠিক। ইমাম মুসলিমের বিশেষত্ব হলো তিনি একটি হাদিসের বিভিন্ন সূত্রসমূহ (طرق) এক স্থানে একত্রিত করেছেন। তাঁরা সমস্ত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস সংকলন করেননি এবং এমনটি করার প্রতিশ্রুতিও দেননি। বলা হয়ে থাকে যে, অল্প কিছু বাদে কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসই তাঁদের নজর এড়িয়ে যায়নি, তবে এই মতটি প্রত্যাখ্যাত। সঠিক কথা হলো, 'উসুলুল খামসাহ' বা পাঁচটি মূল গ্রন্থ থেকে খুব সামান্যই বাদ পড়েছে; অর্থাৎ সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম), সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসাঈ। পুনরাবৃত্তিসহ (بالمكررة) বুখারিতে মোট হাদিসের সংখ্যা সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি এবং পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে (بحذف المكرر) তা চার হাজার। আর মুসলিমে পুনরাবৃত্তি ছাড়াই (بإسقاط المكرر) প্রায় চার হাজার হাদিস রয়েছে। অতঃপর বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের অতিরিক্ত অংশগুলো নির্ভরযোগ্য সুনান গ্রন্থসমূহ থেকে জানা যায়, যেমন: সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে খুজাইমা, দারাকুতনি, হাকেম, বায়হাকি এবং অন্যান্য গ্রন্থ, যেখানে হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحته) সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। তবে কেবল এসব গ্রন্থে হাদিস থাকলেই তা বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, যদি না গ্রন্থটি কেবল বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস সংকলনের শর্তে রচিত হয়। ইমাম হাকেম এই দুই কিতাবের (বুখারি ও মুসলিম) অতিরিক্ত বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ সুবিন্যস্ত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, তবে তিনি শিথিলতা প্রদর্শনকারী (متساهل)। সুতরাং তিনি যাকে বিশুদ্ধ বলেছেন (صححه) এবং যা...

(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
نجد فيه لغيره من المعتمدين تصحيحاً ولا تضعيفاً حكمنا بأنه حسن إلا أن يظهر فيه علة توجب ضعفه، ويقاربه في حكمه صحيح أبي حاتم بن حبان، والله أعلم.

الثالثة: الكتب المخرجة على الصحيحين لم يلتزم فيها موافقتهما في الألفاظ فحصل فيها تفاوت في اللفظ والمعنى، وكذا ما رواه البيهقي، والبغوي، وشبههما قائلين: رواه البخاري أو مسلم وقع في بعضه تفاوت في المعنى، فمرادهم أنهما رويا أصله فلا يجوز أن تنقل منهما حديثاً وتقول هو هكذا فيهما إلا أن تقابله بهما أو يقول المصنف أخرجاه بلفظه، بخلاف المختصرات من الصحيحين فإنهم نقلوا ألفاظهما، وللكتب المخرجة عليهما فائدتان: علو الإسناد، وزيادة الصحيح؛ فإن تلك الزيادات صحيحة لكونها بإسنادهما.

الرابعة: ما روياه بالإسناد المتصل فهو المحكوم بصحته، وأما ما حذف من مبتدأ إسناده واحد فأكثر فما كان منه بصيغة الجزم كقال، وفعل،
আমরা এতে অন্য নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসগণের পক্ষ থেকে কোনো বিশুদ্ধায়ন (تصحيح) কিংবা দুর্বল আখ্যাদান (তضعيف) না পেলে তাকে হাসান (حسن) হিসেবে ফয়সালা করব, যদি না তাতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হয় যা তার দুর্বলতা (ضعف)-কে আবশ্যক করে। আর বিধানগত বিচারে আবু হাতিম বিন হিব্বানের সহিহ ইবনে হিব্বান এর কাছাকাছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তৃতীয়: দুই সহিহ-এর আদলে সংকলিত গ্রন্থসমূহে (المخرجة) তাদের শব্দাবলির হুবহু মিল রক্ষা করা হয়নি, ফলে শব্দ ও অর্থের ক্ষেত্রে কিছুটা তারতম্য ঘটেছে। অনুরূপভাবে বায়হাকি, বাগবি এবং তাদের ন্যায় অন্য মুহাদ্দিসগণ যখন বলেন: "বুখারি বা মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন", তখন তার কিছু অংশে অর্থগত পার্থক্য প্রকাশ পায়। তাদের উদ্দেশ্য হলো এই যে, তাঁরা উভয়ে এর মূল অংশ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং সেসকল গ্রন্থ থেকে কোনো হাদিস উদ্ধৃত করে এটি বলা বৈধ হবে না যে, এটি তাদের গ্রন্থে ঠিক এভাবেই আছে, যতক্ষণ না আপনি মূল কিতাবদ্বয়ের সাথে তা মিলিয়ে দেখবেন অথবা গ্রন্থকার যদি বলেন যে "তাঁরা এটি এই শব্দেই বর্ণনা করেছেন"। তবে দুই সহিহ-এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণগুলোর বিষয় ভিন্ন, কারণ তাঁরা উভয়ের শব্দাবলিই অবিকল উদ্ধৃত করেছেন। দুই সহিহ-এর আদলে সংকলিত গ্রন্থগুলোর দুটি উপকারিতা রয়েছে: উচ্চমানের সনদ (علو الإسناد) এবং বিশুদ্ধ বর্ণনার সংযোজন (زيادة الصحيح); কেননা এই অতিরিক্ত অংশগুলো তাঁদের সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে বিশুদ্ধ (صحيحة)।

চতুর্থ: তাঁরা অবিচ্ছিন্ন সনদ (الإسناد المتصل)-এর মাধ্যমে যা বর্ণনা করেছেন, তা বিশুদ্ধ (صحيح) বলে সাব্যস্ত। আর সনদের শুরু থেকে এক বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়লে, তার মধ্যে যা নিশ্চিত বা দৃঢ়তাপূর্ণ অভিব্যক্তি (صيغة الجزم) যেমন—'তিনি বলেছেন', 'তিনি করেছেন' ইত্যাদি শব্দে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وأمر، وروى، وذكر فلان كذا، فهو حكم بصحته عن المضاف إليه، وما ليس فيه جزم كيروى، ويذكر، ويحكى، ويقال، وروي، وذكر، وحكي عن فلان كذا، فليس فيه حكم بصحته عن المضاف إليه، وليس هو بواه لإدخاله في الكتاب الموسوم بالصحيح، والله أعلم.

الخامسة: الصحيح أقسام: أعلاها ما اتفق عليه البخاري ومسلم، ثم ما انفرد به البخاري، ثم مسلم، ثم ما على شرطهما، ثم على شرط البخاري، ثم مسلم، ثم صحيح عند غيرهما، وإذا قاولوا صحيح متفق عليه أو على صحته فمرادهم اتفاق الشيخين، وذكر الشيخ تقي الدين أن ما روياه أو أحدهما فهو مقطوع بصحته والعلم القطعي حاصل فيه، وخالفه المحققون والأكثرون، فقالوا: يفيد الظن ما لم يتواتر، والله أعلم.

السادسة: من رأى في هذه الأزمان حديثاً صحيح الإسناد في كتاب. أو جزء لم ينص على صحته حافظ معتمد. قال الشيخ تقي الدين: لا يحكم بصحنه لضعف أهلية أهل هذه الأزمان، والأظهر عندي جوازه لمن تمكن وقويت معرفته، والله أعلم؛ ومن أراد العمل بحديث من كتاب فطريقه أن يأخذه من نسخة معتمدة قابلها هو أو ثقة بأصول صحيحة، فإن قابلها بأصل معتمد محقق أجزأه والله أعلم.

এবং 'তিনি নির্দেশ দিয়েছেন', 'তিনি বর্ণনা করেছেন', 'অমুক ব্যক্তি এমন উল্লেখ করেছেন'—এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাদিসটির বিশুদ্ধতার (صحة) বিষয়ে সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে। আর যাতে অকাট্যতা (جزم) নেই, যেমন: 'বর্ণনা করা হয়', 'উল্লেখ করা হয়', 'আখ্যান বর্ণিত হয়', 'বলা হয়', 'অমুক থেকে এমন বর্ণিত হয়েছে' বা 'উল্লিখিত হয়েছে'—এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাদিসটির বিশুদ্ধতার (صحة) বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তবে সহিহ নামে অভিহিত কিতাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে এটি ভিত্তিহীন (واه) নয়। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।

পঞ্চম: সহিহ (صحيح) হাদিসের কয়েকটি স্তর রয়েছে: এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো যা বুখারি ও মুসলিম উভয়ই একমত হয়ে বর্ণনা করেছেন, এরপর যা কেবল বুখারি বর্ণনা করেছেন, এরপর কেবল মুসলিম, এরপর যা তাঁদের উভয়ের শর্তানুযায়ী (شرطهما) সহিহ, এরপর যা কেবল বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط), এরপর যা কেবল মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط), এরপর যা অন্য ইমামদের মতে সহিহ (صحيح)। যখন তাঁরা বলেন 'সহিহ মুত্তাফাকুন আলাইহি' (صحيح متفق عليه) বা এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য হয়েছে (متفق على صحته), তখন তাঁদের উদ্দেশ্য থাকে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর ঐকমত্য। শাইখ তাকিউদ্দীন উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা দুজন বা তাঁদের কোনো একজন যা বর্ণনা করেছেন, তা নিশ্চিতভাবে সহিহ (مقطوع بصحته) এবং এর মাধ্যমে অকাট্য জ্ঞান (العلم القطعي) অর্জিত হয়। তবে গবেষক ও অধিকাংশ আলেম তাঁর বিরোধিতা করেছেন; তাঁরা বলেছেন: এটি প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে যতক্ষণ না তা মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছায়। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।

ষষ্ঠ: বর্তমান যুগে কেউ যদি কোনো কিতাব বা পুস্তিকায় এমন কোনো হাদিস পায় যার সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), কিন্তু কোনো নির্ভরযোগ্য হাফেজ (حافظ معتمد) তার বিশুদ্ধতার বিষয়ে সুস্পষ্ট মত দেননি; তবে শাইখ তাকিউদ্দীন বলেছেন: বর্তমান যুগের মানুষের যোগ্যতার অভাবের কারণে একে সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তবে আমার নিকট অধিক স্পষ্ট মত হলো, যার দক্ষতা রয়েছে এবং জ্ঞান সুগভীর, তার জন্য এটি বৈধ। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত। আর যে ব্যক্তি কোনো কিতাব থেকে হাদিসের ওপর আমল করতে চায়, তার পদ্ধতি হলো হাদিসটি এমন একটি নির্ভরযোগ্য কপি থেকে গ্রহণ করা যা সে নিজে অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপির (أصول) সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন। যদি সে কোনো নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে নেয়, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।

(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌النوع الثاني: الحسن

قال الخطابي رحمه الله: هو ما عرف مخرجه. واشتهر رجاله، وعليه مدار أكثر الحديث، ويقبله أكثر العلماء، ويستعمله عامة الفقهاء. قال الشيخ: هو قسمان أحدهما لا يخلو إسناده من مستور لم تتحقق أهليته وليس مغفلاً كثير الخطأ ولا ظهر منه سبب مفسق، ويكون متن الحديث معروفاً برواية مثله أو نحوه من وجه آخر. الثاني أن يكونراويه مشهوراً بالصدق والأمانة ولم يبلغ درجة الصحيح لقصوره في الحفظ والاتقان، وهو مرتفع عن حال من يعد تفرده منكراً ثم الحسن كالصحيح في الاحتجاج به وإن كان دونه في القوة؛ ولهذا أدرجته طائفة في نوع الصحيح، والله أعلم.

وقولهم: حديث حسن الإسناد أو صحيحه، دون قولهم حديث صحيح أو حسن؛ لأنه قد يصح أو يحسن الإسناد دون المتن لشذوذ أو علة، فإن اقتصر على ذلك حافظ معتمد فالظاهر صحة المتن وحسنه، وأما قول الترمذي وغيره: حديث حسن صحيح، فمعناه روي بإسنادين، أحدهما يقتضي الصحة، والآخر الحسن،
দ্বিতীয় প্রকার: হাসান (الحسن)

খাত্তাবী (রহ.) বলেন: এটি এমন হাদিস যার উৎসস্থল পরিচিত এবং এর বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ। অধিকাংশ হাদিস এর ওপর আবর্তিত হয়, অধিকাংশ আলিম এটি গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ এটি ব্যবহার করেন। শেখ (ইবনে সালাহ) বলেন: এটি দুই প্রকার। প্রথমটি হলো, যার সনদ (إسناد) এমন কোনো অপ্রকাশিত [অবস্থা অজ্ঞাত] বর্ণনাকারী (مستور) থেকে মুক্ত নয় যার যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে সে গাফেল বা অত্যধিক ভুলকারী (كثير الخطأ) নয় এবং তার থেকে পাপাচারের কোনো কারণ প্রকাশ পায়নি; আর হাদিসের মতন (متن) অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে অনুরূপ বা কাছাকাছি বর্ণনায় পরিচিত। দ্বিতীয়টি হলো, যার বর্ণনাকারী সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার জন্য প্রসিদ্ধ, কিন্তু হেফজ ও নিপুণতায় (إتقان) কিছুটা দুর্বলতার কারণে সহিহ (الصحيح) এর স্তরে পৌঁছেনি; তবে তার অবস্থা ওই ব্যক্তির উপরে যার একক বর্ণনাকে মুনকার (منكر) গণ্য করা হয়। অতঃপর হাসান (الحسن) হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে সহিহ (الصحيح) হাদিসের মতোই, যদিও শক্তির বিচারে এটি তার নিচে; এই কারণে একদল আলিম একে সহিহ (الصحيح) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

মুহাদ্দিসগণের উক্তি— "হাসান সনদের (حسن الإسناد) হাদিস" বা "সহিহ সনদের (صحيح الإسناد) হাদিস"— তাদের "সহিহ (صحيح) হাদিস" বা "হাসান (حسن) হাদিস" বলার চেয়ে নিম্নমানের; কারণ কোনো শায (شذوذ) অথবা ত্রুটির (علة) কারণে মতন (المتن) বাদ দিয়ে কেবল সনদ সহিহ (صحة) বা হাসান (حسن) হতে পারে। তবে যদি কোনো নির্ভরযোগ্য হাফেজে হাদিস কেবল এটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে বাহ্যত মতনটিও সহিহ (صحة) ও হাসান (حسنه) হিসেবে গণ্য হবে। আর ইমাম তিরমিজি ও অন্যদের উক্তি "হাসান সহিহ (حسن صحيح)" হাদিসের অর্থ হলো— এটি দুটি সনদে (إسنادين) বর্ণিত হয়েছে, যার একটির দাবি সহিহ (الصحة) এবং অন্যটি হাসান (الحسن)।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وأما تقسيم البغوي أحاديث المصابيح إلى حسان وصحاح مريداً بالصحاح ما في الصحيحين، وبالحسان ما في السنن فليس بصواب؛ لأن في السنن الصحيح، والحسن،

والضعيف، والمنكر.

 

فروع

أحدها: كتاب الترمذي أصل في معرفة الحسن، وهو الذي شهره، وتختلف النسخ منه في قوله: حسن، أو صحيح ونحوه. فينبغي أن تعتني بمقابلة أصلك بأصول معتمدة، وتعتمد ما اتفقت عليه. ومن مظانه سنن أبي داود، فقد جاء عنه أنه يذكر فيه الصحيح وما يشبهه ويقاربه وما كان فيه وهن شدي بينه، وما لم يذكر فيه شيئاً فهو صالح، فعلى هذا ما وجدنا في كتابه مطلقاً ولم يصححه غيره من المعتمدين ولا ضعفه فهو حسن عند أبي داود، وأما مسند أحمد بن حنبل، وأبي داود الطيالسي، وغيرهما من المسانيد، فلا تلتحق بالأصول الخمسة وما أشبهها في الاحتجاج بها والركون إلى ما فيها، والله أعلم.

الثاني: إذا كان راوي الحديث متأخراً عن درجة الحافظ الضابط، مشهوراً بالصدق والستر فروي حديثه من غير وجه قوي وارتفع من الحسن إلى الصحيح، والله أعلم.
আর আল-বাগাভি 'মাসাবিহ' গ্রন্থের হাদিসসমূহকে হাসান (حسان) ও সহিহ (صحاح) ভাগে যে বিভক্ত করেছেন—যেখানে সহিহ (صحاح) দ্বারা তিনি সহিহাইন-এর হাদিসসমূহ এবং হাসান (حسان) দ্বারা সুনান গ্রন্থসমূহের হাদিসসমূহ বুঝিয়েছেন—তা সঠিক নয়; কারণ সুনান গ্রন্থসমূহে সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিস রয়েছে,

এবং দুর্বল (ضعيف) ও প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিসও রয়েছে।

 

শাখা-প্রশাখা (فروع)

প্রথমটি: তিরমিজি-র গ্রন্থটি হাসান (حسن) হাদিস চেনার ক্ষেত্রে একটি মূল ভিত্তি এবং তিনিই একে প্রসিদ্ধ করেছেন। তাঁর বলা 'হাসান' (حسن) অথবা 'সহিহ' (صحيح) ও অনুরূপ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিভেদে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। তাই তোমার উচিত তোমার কাছে থাকা পাণ্ডুলিপিটিকে নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপিসমূহের সাথে মিলিয়ে দেখার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া এবং যে বিষয়ে সেগুলো একমত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করা। হাসান হাদিস পাওয়ার অন্যতম উৎস হলো সুনান আবু দাউদ। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এই গ্রন্থে সহিহ (صحيح) এবং তার সদৃশ ও নিকটবর্তী হাদিসসমূহ উল্লেখ করেন; আর যেগুলোতে চরম দুর্বলতা (وهن شديد) রয়েছে তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর যে বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি, তা গ্রহণযোগ্য (صالح) হিসেবে গণ্য। সুতরাং এই নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর গ্রন্থে আমরা যা কোনো মন্তব্য ছাড়াই পাব এবং নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো আলেম সেটিকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেননি আবার দুর্বলও (ضعيف) বলেননি, তা আবু দাউদ-এর নিকট হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য। পক্ষান্তরে মুসনাদ আহমাদ ইবনে হাম্বল, মুসনাদ আবু দাউদ তায়ালিসি এবং অন্যান্য মুসনাদ গ্রন্থসমূহ দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) এবং সেগুলোর ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে উসুলুল খামসাহ ও তৎসদৃশ গ্রন্থগুলোর সমপর্যায়ের নয়। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

দ্বিতীয়ত: যখন কোনো হাদিসের বর্ণনাকারী (راوي) প্রখর মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতায় পারদর্শী (ضابط) হাফিজের (حافظ) স্তরের কিছুটা নিচে হন, কিন্তু তিনি সত্যবাদিতা (صدق) ও সততার (ستر) জন্য প্রসিদ্ধ হন এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তবে তা হাসান (حسن) থেকে সহিহ (صحيح) স্তরে উন্নীত হয়। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣١)
الثالث: إذا روي الحديث من وجوه ضعيفة لا يلزم أن يحصل من مجموعها حسن، بل ما كان ضعفه لضعف حفظ رايه الصدوق الأمين زال بمجيئه من وجه آخر وصار حسناً، وكذا إذا كان ضعفه بالإرسال زال بمجيئه من وجه آخر، وأما الضعف لفسق الراوي فلا يؤثر فيه موافقة غيره، والله أعلم.

 

‌‌النوع الثالث:

الضعيف

وهو ما لم يجمع صفة الصحيح أو الحسن، ويتفاوت ضعفه كصحة الصحيح، ومنه ما له لقب خاص: كالموضوع، والشاذ، وغيرهما.
তৃতীয়ত: যখন কোনো হাদিস একাধিক দুর্বল (ضعيفة) সূত্র থেকে বর্ণিত হয়, তখন তাদের সমষ্টির মাধ্যমে সেটি হাসান (حسن) হওয়া আবশ্যক নয়। বরং যার দুর্বলতা (ضعفه) সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার (ضعف حفظ) কারণে হয়, তা অন্য কোনো সূত্রের আগমনে দূরীভূত হয় এবং হাদিসটি হাসান (حسن) হয়ে যায়। একইভাবে যখন দুর্বলতা ইরসাল (الإرسال) এর কারণে হয়, তখন তা অন্য সূত্রের মাধ্যমে আসার কারণে দূরীভূত হয়। তবে বর্ণনাকারীর পাপাচারের (فسق) কারণে সৃষ্ট দুর্বলতার ক্ষেত্রে অন্য কারও সমর্থন কোনো প্রভাব ফেলে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌তৃতীয় প্রকার:

দুর্বল (الضعيف)

এটি এমন হাদিস যাতে সহিহ (الصحيح) বা হাসান (الحسن) হওয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ একত্রিত হয়নি। সহিহ (صحة) হাদিসের বিশুদ্ধতার স্তরের ন্যায় এর দুর্বলতাও (ضعفه) বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। এর মধ্যে কিছু হাদিসের বিশেষ পরিভাষা রয়েছে: যেমন জাল (الموضوع), শায (الشاذ) এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌النوع الرابع:

المسند

قال الخطيب البغدادي: هو عند أهل الحديث ما اتصل سنده إلى منتهاه وأكثر ما يستعمل فيها جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم دون غيره، وقال ابن عبد البر: هو ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم خاصة، متصلاً كان أو منقطعاً، وقال الحاكم وغيره: لا يستعمل إلا في

 

المرفوع

المتصل.

 

‌‌النوع الخامس:

المتصل

ويسمى بالموصول، وهو ما اتصل إسناده مرفوعاً كان أو موقوفاً على من كان.

 

‌‌النوع السادس:

المرفوع

وهو ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم خاصة لا يقع مطلقه على غيره متصلاً كان أو منقطعاً، وقيل هو ما أخبر به الصحابي عن فعل النبي صلى الله عليه وسلم أو قوله.
‌চতুর্থ প্রকার:

মুসনাদ (المسند)

খতিব আল-বাগদাদী বলেন: হাদিস বিশারদদের মতে এটি হলো এমন যার সনদ তার শেষ সীমা পর্যন্ত সংযুক্ত (متصل) এবং এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্য কারো পরিবর্তে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ইবনে আবদ আল-বারর বলেন: এটি বিশেষভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস, তা সংযুক্ত (متصل) হোক বা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হোক। আল-হাকিম এবং অন্যান্যরা বলেন: এটি ব্যবহৃত হয় না কেবল

 

মারফূ (مرفوع)

সংযুক্ত (متصل) বর্ণনার ক্ষেত্রে।

 

‌পঞ্চম প্রকার:

সংযুক্ত (المتصل)

একে মাওসুল (الموصول) নামেও অভিহিত করা হয়; এটি এমন বর্ণনা যার সনদ সংযুক্ত (متصل), চাই তা মারফূ (مرفوع) হোক কিংবা যার ওপরই হোক মওকুফ (موقوف) হোক।

 

‌ষষ্ঠ প্রকার:

মারফূ (المرفوع)

এটি এমন যা বিশেষভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং এর সাধারণ ব্যবহার অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তা সংযুক্ত (متصل) হোক বা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হোক। বলা হয়ে থাকে যে, এটি হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো কাজ বা কথা সম্পর্কে সাহাবীর সংবাদ প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌النوع السابع:

الموقوف

وهو المروي عن الصحابة قولاً لهم أو فعلاً أو نحوه متصلاً كان أو منقطعاً، ويستعمل في غيرهم مقيداً، فيقال: وقفه فلان على الزهري ونحوه، وعند فقهاء خراسان تسمية الموقوف بالأثر، والمرفوع بالخبر، وعند المحدثين كله يسمى أثراً.

فروع

أحدها: قول الصحابي كنا نقول أو نفعل كذا. إن لم يضفه إلى زمن النبي صلى الله عليه وسلم فهو موقوف، وإن أضافه فالصحيح أنه مرفوع. وقال الإمام الإسماعيلي: موقوف. والصواب الأول، وكذا قوله: كنا لا نرى بأساً بكذا في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو وهو فينا، أو بين أظهرنا أو كانوا يقولون، أو يفعلون، أو لا يرون بأساً بكذا في حياته صلى الله عليه وسلم فكله مرفوع، ومن المرفوع قول المغيرة: كان أصحاب رسول الله يقرعون بابه بالأظافير.

الثاني: قول الصحابي: أمرنا بكذا، أو نهينا عن كذا، أو من السنة كذا، أو أمر بلال أن يشفع الأذان، وما أشبهه كله مرفوع على الصحيح الذي قاله الجمهور. وقيل ليس بمرفوع، ولا فرق بين قوله: في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعده.

الثالث: إذا قيل في الحديث عند ذكر الصحابي: يرفعه، أو ينميه، أو يبلغ به، أو رواية كحديث الأعرج عن أبي هريرة رواية " تقاتلون قوماً صغار الأعين " فكل هذا وشبهه مرفوع عند أهل العلم
সপ্তম প্রকার:

মাওকুফ (الموقوف)

এটি সাহাবীদের থেকে বর্ণিত তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য, কাজ বা এই জাতীয় কোনো বিষয়; চাই তা সূত্রগতভাবে সংযুক্ত (متصلاً) হোক কিংবা বিচ্ছিন্ন (منقطعاً) হোক। সাহাবী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে এটি শর্তযুক্তভাবে ব্যবহৃত হয়; যেমন বলা হয়: 'অমুক একে যুহরীর ওপর স্থগিত বা মাওকুফ (وقفه) করেছেন'। খোরাসানের ফকিহগণের মতে মাওকুফ (الموقوف)-কে আসার (الأثر) এবং মারফু (المرفوع)-কে খবর (الخبر) বলা হয়। তবে হাদিস বিশারদদের মতে এ সবই আসার (الأثر) হিসেবে গণ্য হয়।

উপ-পরিচ্ছেদসমূহ

প্রথমত: সাহাবীর এই উক্তি যে, 'আমরা এমন বলতাম বা করতাম'। যদি তিনি একে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ের সাথে সম্পর্কিত না করেন, তবে তা মাওকুফ (موقوف)। আর যদি সেই সময়ের দিকে সম্বন্ধ করেন, তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে তা মারফু (مرفوع)। ইমাম ইসমাঈলী একে মাওকুফ (موقوف) বলেছেন। তবে প্রথম মতটিই সঠিক। অনুরূপভাবে তাঁর এই বক্তব্য: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় আমরা এতে কোনো দোষ মনে করতাম না', অথবা 'তিনি আমাদের মাঝে থাকাকালীন', অথবা 'আমাদের উপস্থিতিতে', অথবা 'তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এমন বলতেন, করতেন কিংবা এতে কোনো দোষ মনে করতেন না'—এসবই মারফু (مرفوع)। মুগীরাহ-এর এই উক্তিটিও মারফু (مرفوع)-এর অন্তর্ভুক্ত: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ নখ দিয়ে তাঁর দরজায় কড়া নাড়তেন।'

দ্বিতীয়ত: সাহাবীর এই কথা: 'আমাদেরকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে', অথবা 'আমাদেরকে এই বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে', অথবা 'সুন্নাত (السنة) হলো এই...', অথবা 'বিলালকে আজান জোড়ায় জোড়ায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে' এবং এই জাতীয় সকল বর্ণনা জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের বিশুদ্ধ (صحيহ) মতানুসারে মারফু (مرفوع)। কেউ কেউ বলেছেন এটি মারফু (مرفوع) নয়। তবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় বলা হোক বা তাঁর পরে—উভয় ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয়ত: সাহাবীর উল্লেখে হাদিস সম্পর্কে যখন বলা হয়: 'তিনি এটিকে মারফু (يرفعه) করছেন', অথবা 'সম্বন্ধ (ينميه) করছেন', অথবা 'রাসূল পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছেন (يبلغ به)', কিংবা 'এটি একটি বর্ণনা (رواية)'; যেমন আবু হুরায়রা থেকে আল-আরাজের বর্ণনা (رواية): "তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যাদের চোখ ছোট ছোট"—বিদ্বানদের মতে এই সবই এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
وإذا قيل عند التابعي: يرفعه فمرفوع مرسل، وأما قول من قال: تفسير الصحابي مرفوع فذاك في تفسير يتعلق بسبب نزول آية أو نحوه، وغيره موقوف، والله أعلم.

 

‌‌النوع الثامن:

المقطوع

وجمعه والمقاطيع، وهو الموقوف على التابعي قولاً له أو فعلاً واستعمله الشافعي، ثم الطبراني في

 

المنقطع.

 

‌‌النوع التاسع:

المرسل

اتفق علماء الطوائف على أن قول التابعي الكبير: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كذا أو فعله يسمى مرسلاً، فإن انقطع قبل التابعي واحد أو أكثر قال الحاكم وغيره من المحدثين: لا يسمى مرسلاً بل يختص المرسل بالتابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم، فإن سقط قبله واحد فهو منقطع، وإن كان أكثر فمعضل ومنقطع،
আর যখন তাবিঈর (التابعي) ক্ষেত্রে বলা হয়: "তিনি এটি মারফু করছেন (يرفعه)", তবে তা মারফু (مرفوع) মুরসাল (مرسل) হিসেবে গণ্য। আর যারা বলেন যে, সাহাবীর (صحابي) তাফসির (تفسير) মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য, তা কেবল সেই তাফসিরের (تفسير) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা কোনো আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (سبب نزول) বা এ জাতীয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; আর এর বাইরে অন্যগুলো মাওকুফ (موقوف)। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

‌‌অষ্টম প্রকার:

মাকতু (المقطوع)

এর বহুবচন হলো মাকাতী (المقاطيع)। এটি হলো কোনো তাবিঈর (التابعي) কথা বা কাজ হিসেবে তাঁর ওপর মাওকুফ (الموقوف) হওয়া বর্ণনা। ইমাম শাফিঈ এবং পরবর্তীতে তাবারানি একে

 

মুনকাতি (المنقطع) অর্থে ব্যবহার করেছেন।

 

‌‌নবম প্রকার:

মুরসাল (المرسل)

সকল মতাদর্শের আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, প্রবীণ তাবিঈর (التابعي الكبير) এই উক্তি: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন বলেছেন বা এমন করেছেন"— একে মুরসাল (مرسلاً) বলা হয়। কিন্তু যদি তাবিঈর (التابعي) আগে সনদে এক বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়ে, তবে আল-হাকিম এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) মতে তাকে মুরসাল (مرسلاً) বলা হবে না; বরং মুরসাল (المرسل) কেবল তাবিঈ (التابعي) কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট। যদি তাবিঈর আগে একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়ে তবে তা মুনকাতি (منقطع), আর যদি এর বেশি হয় তবে তা মু'দাল (معضل) এবং মুনকাতি (منقطع),
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
والمشهور في الفقه والأصول أن الكل مرسل.

وبه قطع الخطيب، وهذا اختلاف الاصطلاح والعبارة، وأما قول الزهري وغيره من صغار التابعين: قال النبي صلى الله عليه وسلم، فالمشهور عند من خصه بالتابعي أنه مرسل كالكبير، وقيل: ليس بمرسل بل منقطع، وأما إذا قيل: فلان عن رجل عن فلان فقال الحاكم: منقطع ليس مرسلاً، وقيل غيره مرسل، والله أعلم.

ثم المرسل حديث ضعيف عند جماهير المحدثين والشافعي وكثير من الفقهاء وأصحاب الأصول، وقال مالك، وأبو حنيفة في طائفة: صحيح، فإن صح مخرج المرسل بمجيئه من وجه آخر مسنداً أو مرسلاً أرسله من أخذ عن غير رجال الأول كان صحيحاً، ويتبين بذلك صحة المرسل وأنهما صحيحان لو عارضهما صحيح من طريق رجحناهما عليه إذا تعذر الجمع، هذا كله في غير مرسل الصحابي، أما مرسله فمحكوم بصحته على المذهب الصحيح، وقيل كمرسل غيره إلا أن تتبين الرواية عن صحابي والله أعلم.

 

‌‌النوع العاشر:

المنقطع

الصحيح الذي ذهب إليه الفقهاء والخطيب أبن عبد البر وغيرهما من المحدثين أن المنقطع ما لم يتصل إسناده على أي وجه كان انقطاعه، وأكثر ما يستعمل في رواية من دون التابعي عن الصحابي، كمالك عن ابن عمر، وقيل: وما اختل فيه لرجل قبل التابعي محذوفاً كان أو مبهماً،
ফিকহ এবং উসুল শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ মত হলো যে, এই সকল প্রকারই হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل)।

আল-খতিব এটিই নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন; আর এটি কেবল পরিভাষা এবং প্রকাশভঙ্গির ভিন্নতা। তবে যুহরি এবং তাঁর মতো ছোট তাবিঈদের (تابعي) বক্তব্য—"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন"—এর ক্ষেত্রে যারা একে তাবিঈর বর্ণনার সাথে নির্দিষ্ট করেছেন, তাদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো এটি বড় তাবিঈদের বর্ণনার মতোই বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে গণ্য হবে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) নয় বরং তা সূত্রবিচ্ছিন্ন (منقطع)। আর যখন বলা হয়: "অমুক ব্যক্তি জনৈক ব্যক্তি হতে, তিনি অমুক হতে বর্ণনা করেছেন", তখন ইমাম আল-হাকিম বলেছেন, এটি সূত্রবিচ্ছিন্ন (منقطع), বিচ্ছিন্ন (مرسل) নয়; তবে অন্যদের মতে এটিও বিচ্ছিন্ন (مرسل)। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

অতঃপর জমহুর (অধিকাংশ) হাদিস বিশারদ, ইমাম শাফিঈ এবং অধিকাংশ ফকিহ ও উসুলবিদগণের মতে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস হলো দুর্বল (ضعيف)। তবে ইমাম মালিক, ইমাম আবু হানিফা এবং একদল আলিমের মতে এটি বিশুদ্ধ (صحيح)। যদি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার উৎসটি অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে সংযুক্ত (مسند) কিংবা এমন বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে প্রমাণিত হয় যেখানে প্রথম সূত্রের বর্ণনাকারীগণ ব্যতীত ভিন্ন ব্যক্তিগণ থেকে বর্ণনাটি গৃহীত হয়েছে, তবে তা বিশুদ্ধ (صحيح) বলে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে উক্ত বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার বিশুদ্ধতা স্পষ্ট হয়। যদি কোনো একটি বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা এই দুটির বিপরীত হয় এবং উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হয়, তবে আমরা এই দুটিকেই তার ওপর অগ্রাধিকার দেব। এই সকল নিয়ম কেবল সাহাবি ব্যতীত অন্যদের বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর সাহাবির বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তা বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবেই গণ্য হবে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি অন্যদের বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার মতোই, যতক্ষণ না নিশ্চিত হওয়া যায় যে বর্ণনাটি অপর কোনো সাহাবি থেকে প্রাপ্ত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌দশম প্রকার:

সূত্রবিচ্ছিন্ন (منقطع)

ফকিহগণ, আল-খতিব, ইবনে আব্দুল বার এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ যে বিশুদ্ধ মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো: সূত্রবিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস তা-ই, যার সনদ (ইসনদ) যে কোনো দিক থেকেই বিচ্ছিন্ন হোক না কেন। এর সর্বাধিক ব্যবহার দেখা যায় তাবিঈর (تابعي) পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারী সরাসরি সাহাবি থেকে বর্ণনা করলে, যেমন ইমাম মালিক সরাসরি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করা। কেউ কেউ বলেন: তাবিঈর (تابعي) পূর্ববর্তী স্তরের কোনো বর্ণনাকারী যদি বিলুপ্ত থাকেন কিংবা অস্পষ্ট (مبهم) থাকেন, তবে তাকেই সূত্রবিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وقيل: هو ما روي عن تابعي أو من دونه قولاً له أو فعلاً، وهذا غريب ضعيف.

 

‌‌النوع الحادي عشر:

المُعضل

وهو بفتح الضاد يقولون: أعضله فهو مُعْضَل وهو ما سقط من إسناده اثنان فأكثر، ويسمى منقطعاً، ويسمى مرسلاً عند الفقهاء وغيرهم كما تقدم، وقيل: إن قول الراوي: بلغني كقول مالك بلغني عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " للملوك طعامه وكسوته " يسمى معضلاً عند أصحاب الحديث، وإذا روى تابع التابعي عن التابعي حديثاً وقفه عليه وهو عند ذلك التابعي مرفوع متصل فهو معضل.
এবং বলা হয়েছে: এটি হলো তা যা একজন তাবেয়ি (تابعي) অথবা তাঁর পরবর্তী কারো থেকে তাঁর বক্তব্য বা কাজ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে; আর এটি অপরিচিত (غريب) ও দুর্বল (ضعيف)।

 

‌‌একাদশ প্রকার:

মুদাল (المعضل)

এটি 'দদ' (ض) বর্ণে জবর (ফতহ) সহযোগে উচ্চারিত হয়; তারা বলেন: 'আ’দলাহু' (أعضله), অতএব তা মুদাল (معضل)। আর এটি এমন যার সনদ (إسناد) থেকে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে, এবং একে বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হয়, আর ফকিহগণ এবং অন্যদের নিকট একে মুরসাল (مرسل) বলা হয় যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এবং বলা হয়েছে: বর্ণনাকারীর এই বক্তব্য: 'আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে' (بلغني)—যেমন ইমাম মালিকের উক্তি: 'আবু হুরায়রা থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ক্রীতদাসের জন্য তার খাদ্য ও পরিধেয় বস্ত্র রয়েছে"—একে হাদিস বিশারদদের (أصحاب الحديث) নিকট মুদাল (معضل) বলা হয়। আর যদি কোনো তাবে-তাবেয়ি (تابع التابعي) জনৈক তাবেয়ি (تابعي) থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন এবং তা তাঁর (তাবেয়ির) ওপর স্থগিত (وقفه) রাখেন, অথচ সেই তাবেয়ির নিকট তা রাসুল পর্যন্ত উন্নত (مرفوع) ও নিরবচ্ছিন্ন (متصل) ছিল, তবে সেটিও মুদাল (معضل)।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
فروع

أحدها: الإسناد المعنعن وهو فلان عن فلان، قيل: أنه مرسل، والصحيح الذي عليه العمل وقاله الجماهير من أصحاب الحديث والفقه والأصول، أنه متصل بشرط أن لا يكون المعنعن مدلساً وبشرط إمكان لقاء بعضهم بعضاً، وفي اشتراط ثبوت اللقاء وطول الصحبة ومعرفته بالرواية عن خلاف، منهم من لم يشترط شيئاً من ذلك وهو مذهب مسلم بن الحجاج ادعى الإجماع فيه، ومنهم من شرط اللقاء وحده، وهو قول البخاري، وابن المديني، والمحققين. ومنهم من شرط طول الصحبة ومنهم من شرط معرفته بالرواية عنه، وكثر في هذه الأعصار استعمال عن في الاجازة، فإذا قال أحدهم: قرأت عن فلان عن فلان، فمراده أنه رواه عنه بالإجازة والله أعلم.

الثاني: إذا قال حدثنا الزهري أن ابن المسيب حدثه بكذا، أو قال: قال ابن المسيب: كذا أو فعل كذا، أو كان ابن المسيب يفعل، وشبه ذلك. فقال أحمد بن حنبل وجماعة: لا تلتحق أن وشبهها بعن بل يكون منقطعاً حتى يتبين السماع، وقال الجمهور: أن كعن، ومطلقه محمول على السماع بالشرط المتقدم، والله أعلم.

الثالث: التعليق الذي يذكره الحميدي وغيره في أحاديث من كتاب البخاري وسبقهم باستعماله الدارقطني، صورته أن يحذف من أول الإسناد واحد فأكثر، وكأنه
শাখা (فروع)

প্রথমটি: মুআনআন সনদ (الإسناد المعنعن), যা হলো 'অমুক থেকে অমুক' (এভাবে বর্ণনা করা)। বলা হয়েছে: এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)। তবে বিশুদ্ধ (الصحيহ) অভিমত যা কার্যকর এবং হাদিস বিশারদ, ফকিহ ও মূলনীতিবিদগণের জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) অংশ যা বলেছেন তা হলো: এটি সংযুক্ত (متصل), এই শর্তে যে 'আন' (عن) দ্বারা বর্ণনাকারী তাদলীসকারী (مدلساً) হবেন না এবং বর্ণনাকারীদের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ সম্ভব হতে হবে। সাক্ষাতের বাস্তবতা নিশ্চিত হওয়া, দীর্ঘ সাহচর্য এবং বর্ণনাকারীর বর্ণনা সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার শর্তারোপের ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এর কোনোটিই শর্ত করেননি, যা মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ-এর মাযহাব এবং তিনি এতে ইজমা দাবি করেছেন। আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেবল সাক্ষাতের শর্ত করেছেন, যা বুখারি, ইবনে মাদিনী এবং গবেষকদের (المحققين) বক্তব্য। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ দীর্ঘ সাহচর্য এবং কেউ কেউ বর্ণনাকারীর বর্ণনা সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার শর্তারোপ করেছেন। বর্তমান যুগে ইজাযতের (الإجازة) ক্ষেত্রে 'আন' (عن) শব্দের ব্যবহার বহুল প্রচলিত হয়েছে। সুতরাং যখন তাঁদের কেউ বলেন: 'আমি অমুক থেকে অমুকের সূত্রে পড়েছি', তখন তাঁর উদ্দেশ্য থাকে যে তিনি ইজাযতের (الإجازة) মাধ্যমে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয়টি: যদি বলা হয়, যুহরি আমাদের বর্ণনা করেছেন যে (আন্না) ইবনে আল-মুসাইয়্যিব তাঁর কাছে এমন বর্ণনা করেছেন, অথবা বলা হয়: ইবনে আল-মুসাইয়্যিব বলেছেন এমন, অথবা করেছেন এমন, অথবা ইবনে আল-মুসাইয়্যিব এমন করতেন এবং এর সদৃশ শব্দাবলী। এমতাবস্থায় আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং একদল আলেম বলেছেন: 'আন্না' (أن) এবং এর সদৃশ শব্দ 'আন' (عن)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না, বরং সরাসরি শ্রবণ (السماع) স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্ন (منقطعاً) বলে গণ্য হবে। তবে জমহুর আলেমগণ বলেছেন: 'আন্না' (أن) শব্দ 'আন' (عن)-এর মতোই, আর এর নিঃশর্ত প্রয়োগ পূর্বোক্ত শর্ত সাপেক্ষে সরাসরি শ্রবণের (السماع) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

তৃতীয়টি: তালীক (التعليق), যা হুমাইদি ও অন্যান্যরা সহীহ বুখারির হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের পূর্বে দারা কুতনি এটি ব্যবহার করেছেন। এর রূপটি হলো সনদের শুরু থেকে একজন বা ততোধিক বর্ণনাকারীকে বিলুপ্ত করা, যেন এটি...
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
مأخوذ من تعليق الجدار لقطع الاتصال، واستعمله بعضهم في حذف كل الإسناد كقوله: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أو قال ابن عباس: أو عطاء أو غيره كذا، وهذا التعليق له حكم الصحيح كما تقدم في نوع الصحيح ولم يستعملوا التعليق في غير صيغة الجزم كيروى عن فلان كذا، أو يقال عنه، ويذكر، ويحكى؛ وشبهها بل خصوا به صيغة الجزم. كقال، وفعل، وأمر، ونهى، وذكر، وحكى، ولم يستعملوه فيما سقط وسط إسناده، والله أعلم.

الرابع: إذا روى بعض الثقاة الضابطين الحديث مرسلاً، وبعضهم متصلاً، أو بعضهم موقوفاً، وبعضهم مرفوعاً، أو وصله هو أو رفعه في وقت وأرسله ووقفه في وقت فالصحيح أن الحكم لمن وصله أو رفعه، سواء كان المخالف له مثله أو أكثر؛ لأن ذلك زيادة ثقة وهي مقبولة. ومنهم من قال: الحكم لمن أرسله أو وقفه. قال الخطيب: وهو قول أكثر المحدثين، وعند بعضهم الحكم للأكثر، وبعضهم للأحفظ، وعلى هذا لو ارسله أو وقفه الأحفظ لا يقدح الوصل والرفع في عدالة رواية، وقيل يقدح فيه وصله ما أرسل الحفاظ، والله أعلم.
এটি দেয়াল থেকে কোনো বস্তু ঝুলিয়ে রাখার (تعليق) শব্দমূল থেকে নেওয়া হয়েছে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে। কেউ কেউ একে পুরো সনদ (إسناد) বিলোপ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন, যেমন তাঁর উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন", অথবা "ইবনে আব্বাস বলেছেন", অথবা "আতা বা অন্য কেউ এমন বলেছেন"। আর এই মুয়াল্লাক (تعليق) বর্ণনার বিধান সহিহ (صحيح) এর পর্যায়ভুক্ত, যেমনটি সহিহ (صحيح) প্রকারের আলোচনায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। তাঁরা সুনিশ্চিত বাচক শব্দ (صيغة الجزم) ব্যতীত অন্য কোনো শব্দে মুয়াল্লাক (تعليق) ব্যবহার করেননি, যেমন: "অমুক থেকে বর্ণিত হয়েছে", "বলা হয়", "উল্লেখ করা হয়", "বর্ণনা করা হয়" এবং এই জাতীয় শব্দ। বরং তাঁরা একে সুনিশ্চিত বাচক শব্দের (صيغة الجزم) জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন; যেমন: "তিনি বলেছেন", "তিনি করেছেন", "তিনি আদেশ দিয়েছেন", "তিনি নিষেধ করেছেন", "তিনি উল্লেখ করেছেন", "তিনি বর্ণনা করেছেন"। আর সনদের (إسناد) মধ্যখান থেকে কোনো রাবী পড়ে গেলে তার ক্ষেত্রে তাঁরা এই মুয়াল্লাক (تعليق) শব্দটি ব্যবহার করেননি। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

চতুর্থ বিষয়: যখন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী হাদিসটিকে মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেন, আবার কেউ মুত্তাসিল (متصل) হিসেবে বর্ণনা করেন; অথবা কেউ মাওকুফ (موقوف) হিসেবে এবং কেউ মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেন; অথবা বর্ণনাকারী নিজেই কোনো এক সময় মুত্তাসিল (متصل) বা মারফু (مرفوع) করেন এবং অন্য সময় মুরসাল (مرسل) বা মাওকুফ (موقوف) করেন—তবে সঠিক (صحيح) মত হলো বিধান তাঁর অনুকূলে থাকবে যিনি হাদিসটিকে মুত্তাসিল (وصل) বা মারফু (رفع) করেছেন, চাই তাঁর বিরোধিতাকারী তাঁর সমপর্যায়ের হোক বা সংখ্যায় অধিক হোক। কারণ এটি হলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (زيادة ثقة), যা গ্রহণযোগ্য (مقبول)। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: বিধান তার অনুকূলে থাকবে যিনি হাদিসটিকে মুরসাল (إرسال) বা মাওকুফ (وقف) করেছেন। খতিব বাগদাদী বলেন: এটিই অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মত। আবার কারো কারো মতে বিধান সংখ্যাধিক্যের (أكثر) ওপর নির্ভর করবে, আবার কারো মতে সবচেয়ে বেশি স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظ) ব্যক্তির ওপর। এই মতানুসারে, যদি সবচেয়ে বেশি স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظ) ব্যক্তি হাদিসটিকে মুরসাল (إرسال) বা মাওকুফ (وقف) করেন, তবে মুত্তাসিল (وصل) বা মারফু (رفع) করা বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততায় (عدالة) কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না। আবার বলা হয়েছে যে, হাফেজগণ (حفاظ) যা মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন তা মুত্তাসিল (وصل) হিসেবে বর্ণনা করা বর্ণনার ক্ষেত্রে ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
‌‌النوع الثاني عشر:

التدليس

وهو قسمان.

الأول: تدليس الإسناد بأن يروي عمن عاصره ما لم يسمعه منه موهماً سماعه قائلاً: قال فلان. أو عن فلان ونحوه وربما لم يسقط شيخه وأسقط غيره ضعيفاً أو صغيراً تحسيناً للحديث.

الثاني: تدليس الشيوخ بأن يسمي شيخه أو يكنيه أو ينسبه أو يصفه بما لا يعرف، أما الأول فمكروه جداً ذمه أكثر العلماء، ثم قال فريق منهم: من عرف به صار مجروحاً مردود الرواية وإن بين السماع، والصحيح التفصيل، فما رواه بلفظ محتمل لم يبين فيه السماع فمرسل وما بينه فيه، كسمعت، وحدثنا، وأخبرنا وشبهها فمقبول محتج به، وفي الصحيحين وغيرهما من هذا الضرب كثير، كقنادة، والسفيانين وغيرهم، وهذا الحكم جار فيمن دلس مرة، وما كان في الصحيحين وشبههما عن المدلسين بعن محمول على ثبوت السماع من جهة أخرى، وأما الثاني فكراهته أخف وسببها توعير طريق معرفته، ويختلف الحال في كراهته بحسب غرضه ككون المغير السمة ضعيفاً، أو صغيراً، أو متأخر الوفاة، أو سمع كثيراً فامتنع من تكراره على صورة، وتسمح الخطيب وغيره بهذا، والله أعلم.
দ্বাদশ প্রকার:

তদলিস (التدليس)

এটি দুই প্রকার।

প্রথমটি: ইসনাদে তদলিস (تدليس الإسناد); যা হলো বর্ণনাকারী তাঁর এমন কোনো সমসাময়িক ব্যক্তির সূত্রে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি সরাসরি তাঁর থেকে শোনেননি; অথচ তিনি ‘অমুক বলেছেন’ বা ‘অমুকের থেকে’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে তাঁর থেকে সরাসরি শুনেছেন বলে ভ্রম সৃষ্টি করেন। অনেক সময় তিনি তাঁর শাইখকে বাদ দেন না, বরং তাঁর পরবর্তী কোনো দুর্বল (ضعيف) বা অল্প বয়স্ক বর্ণনাকারীকে হাদিসটির মান উন্নত করার উদ্দেশ্যে বাদ দিয়ে দেন।

দ্বিতীয়টি: শাইখদের পরিচয় গোপন করা বা তদলিসুশ শুয়ুখ (تدليس الشيوخ); যা হলো বর্ণনাকারী তাঁর শাইখকে এমন নাম, উপনাম, বংশপরিচয় বা গুণাবলি দ্বারা উল্লেখ করেন যা দ্বারা তিনি পরিচিত নন। প্রথম প্রকারটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় (مكروه); অধিকাংশ আলেম এর কঠোর নিন্দা করেছেন। এমনকি তাঁদের একদল বলেছেন: যিনি তদলিসের জন্য পরিচিত হবেন তিনি সমালোচিত (مجروح) হিসেবে গণ্য হবেন এবং তাঁর বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত (مردود) হবে, যদিও তিনি সরাসরি শোনার কথা ব্যক্ত করেন। তবে সঠিক (صحيح) ও বিস্তারিত মত হলো: তিনি যদি এমন শব্দে বর্ণনা করেন যাতে শোনার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু স্পষ্টভাবে শোনার কথা ব্যক্ত না করেন, তবে তা বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তিনি শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন—যেমন: ‘আমি শুনেছি’, ‘আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন’, ‘আমাদের সংবাদ দিয়েছেন’ বা এই জাতীয় শব্দ—তবে তা গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং দলিলযোগ্য (محتج به) হিসেবে বিবেচিত হবে। বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে এই পর্যায়ের অনেক বর্ণনা রয়েছে, যেমন: কাতাদাহ, দুই সুফিয়ান এবং অন্যান্যদের বর্ণনা। এই বিধান তাঁর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যিনি মাত্র একবার তদলিস (تدليس) করেছেন। আর বুখারি ও মুসলিমসহ অনুরূপ গ্রন্থগুলোতে তদলিসকারীদের (المدلسين) যেসব বর্ণনা ‘আন’ (عن) শব্দযোগে বর্ণিত হয়েছে, তা অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে শ্রবণ সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকারের তদলিসের অপছন্দনীয়তা কিছুটা হালকা; এর কারণ হলো বর্ণনাকারীকে চেনার পথ কঠিন করে তোলা। এর অপছন্দনীয়তার পর্যায় উদ্দেশ্যের ভিন্নতায় ভিন্ন হতে পারে; যেমন—যাঁর পরিচয় পরিবর্তন করা হয়েছে তিনি দুর্বল (ضعيف) হওয়া, অথবা বয়সে ছোট হওয়া, অথবা দেরিতে মৃত্যুবরণকারী হওয়া, কিংবা বর্ণনাকারী তাঁর থেকে অনেক হাদিস শ্রবণ করেছেন বলে একই নামে বারবার উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকা। খতিব বাগদাদি ও অন্যান্যরা একে শিথিলভাবে গ্রহণ করেছেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
‌‌النوع الثالث عشر:

الشاذ

هو عند الشافعي وجماعة من علماء الحجاز ما روى الثقة مخالفاً رواية الناس لا أن يروي ما لا يروي غيره، قال الخليلي: والذي عليه حفاظ الحديث أن الشاذ ما ليس له إلا إسناد واحد يشذ به ثقة أو غيره، فما كان من غير ثقة فمتروك، وما كان عن ثقة توقف فيه ولا يحتج به، وقال الحاكم: هو ما انفرد به ثقة وليس له أصل بمتابع، وما ذكراه مشكل بافراد العدل الضابط كحديث " إنما الأعمال بالنيات " والنهي عن بيع الولاء وغير ذلك مما في الصحيح، فالصحيح التفصيل فإن كان مفرده مخالفاً أحفظ منه وأضبط كان شاذ مردود، وإن لم يخالف، فإن كان عدلاً حافظاً موثوقاً بضبطه كان مفرده صحيحاً، وإن لم يوثق بضبطه ولم يبعد عن درجة الضابط كان حسناً، وإن بعد كان شاذاً منكراً مردوداً، فالحاصل أن الشاذ المردود: هو الفرد المخالف، والفرد الذي ليس في رواية من الثقة والضبط ما يجبر تفرده، والله أعلم.
ত্রয়োদশ প্রকার:

শায (الشاذ)

ইমাম শাফি'ঈ এবং হিজাযের একদল আলিমের মতে এটি হলো এমন বর্ণনা যা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি অন্য সাধারণ বর্ণনাকারীদের বিপরীত বর্ণনা করেন; এমনটি নয় যে তিনি কেবল এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি। আল-খালীলী বলেন: হাদিস হাফিজদের নিকট শায (الشاذ) হলো যা কেবল একটি সনদের (إسناد) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যাতে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বা অন্য কেউ একক হয়ে গেছেন। সুতরাং যা নির্ভরযোগ্য (ثقة) নয় এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণিত তা পরিত্যাজ্য (متروك); আর যা নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি থেকে বর্ণিত সে ব্যাপারে স্থগিতাদেশ (توقف) অবলম্বন করা হয় এবং তার দ্বারা দলিল গ্রহণ (يحتج) করা হয় না। ইমাম আল-হাকিম বলেন: এটি হলো এমন বর্ণনা যাতে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি একক হয়ে গেছেন এবং তার কোনো মূল (أصل) বা সমর্থনকারী বর্ণনা (متابع) নেই। তারা যা উল্লেখ করেছেন তা ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) রাবির একক বর্ণনার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে। যেমন ‘নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ এবং ‘ওয়ালা’ (উত্তরাধিকারের অধিকার) বিক্রয় করতে নিষেধ করা সংক্রান্ত হাদিস এবং সহিহ গ্রন্থে বিদ্যমান এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা। সুতরাং সঠিক মত হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা; যদি একক বর্ণনাকারী তার চেয়ে অধিক মুখস্থকারী ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (أضبط) ব্যক্তির বিপরীত বর্ণনা করেন, তবে তা শায (شاذ) ও প্রত্যাখ্যাত (مردود) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তিনি বিরোধিতা না করেন, এবং বর্ণনাকারী যদি ন্যায়নিষ্ঠ (عدل), হাফিজ (حافظ) এবং স্বীয় হিফয বা স্মৃতিশক্তির (ضبط) ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য (موثوق) হন, তবে তার একক বর্ণনা সহিহ (صحيح) হবে। আর যদি তার স্মৃতিশক্তির (ضبط) ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চয়তা না থাকে কিন্তু তিনি প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) হওয়ার স্তর থেকে দূরেও না হন, তবে তা হাসান (حسناً) হবে। আর যদি তিনি সেই স্তর থেকে দূরে হন, তবে তা শায (شاذاً), মুনকার (منكراً) ও প্রত্যাখ্যাত (مردوداً) হিসেবে গণ্য হবে। সারকথা হলো, প্রত্যাখ্যাত শায (الشاذ المردود) হচ্ছে: সেই একক বর্ণনা (الفرد) যা বিপরীত, এবং এমন একক বর্ণনা (الفرد) যার বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও স্মৃতিশক্তির (ضبط) মধ্যে এমন কোনো গুণ নেই যা তার একক হওয়ার অভাব পূরণ করতে পারে; আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤١)
‌‌النوع الرابع عشر: معرفة المنكر

قال الحافظ البرديحي هو الفرد الذي لا يعرف متنه عن غير راويه، وكذا أطلقه كثيرون، والصواب فيه التفصيل الذي تقدم في الشاذ، فإنه بمعناه، والله أعلم.

 

‌‌النوع الخامس عشر: معرفة الاعتبار والمتابعات والشواهد

هذه أمور يتعرفون بها حال الحديث، فمثال الاعتبار: أن يروي حماد مثلاً حديثاً لا يتابع عليه عن أيوب عن ابن سيرين عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فينظر هل رواه ثقة غير أيوب عن ابن سيرين، فإن لم يوجد فثقة غير ابن سيرين عن أبي هريرة وإلا فصحابي غير أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فأي ذلك وجد علم أن له أصلاً يرجع إليه، وإلا فلا. والمتابعة أن يرويه عن أيوب غير حماد وهي المتابعة التامة، أو عن ابن سيرين غير أيوب، أو عن أبي هريرة غير ابن سيرين، أو عن النبي صلى الله عليه وسلم صحابي آخر. فكل هذا يسمى متابعة، وتقصر على الأولى بحسب بعدها منها، وتسمى المتابعة شاهداً، والشاهد أن يروى حديث آخر بمعناه، وى يسمى هذا متابعة، وإذا قالوا في مثله تفرد به أبو هريرة أو ابن سيرين أو أيوب أو حماد كان مشعراً بانتفاء المتابعات، وإذا انتفت مع الشواهد فحكمه ما سبق في الشاذ،
চতুর্দশ প্রকার: মুনকার (المنكر) সম্পর্কে জ্ঞান

হাফিজ আল-বারদিজি বলেছেন, এটি হলো একক (الفرد) বর্ণনা, যার পাঠ (متن) তার বর্ণনাকারী ব্যতীত অন্য কারও নিকট থেকে জানা যায় না। অনেকে একে এই অর্থেই ব্যবহার করেছেন। তবে এক্ষেত্রে সঠিক অভিমত হলো সেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা যা শায (الشاذ) এর আলোচনায় গত হয়েছে, কারণ এটি সেই অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

 

পঞ্চদশ প্রকার: ইতিবার (الاعتبار), মুতাবাআত (المتابعات) এবং শাওয়াাহিদ (الشواهد) সম্পর্কে জ্ঞান

এগুলো এমন বিষয় যার মাধ্যমে তারা হাদিসের অবস্থা নিরূপণ করেন। ইতিবার (الاعتبار) এর উদাহরণ হলো: যেমন হাম্মাদ আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করলেন যাতে তাকে কেউ অনুসরণ করেনি। তখন দেখা হবে যে, আইয়ুব ব্যতীত অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী ইবনে সিরিন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন কি না। যদি পাওয়া না যায়, তবে ইবনে সিরিন ব্যতীত অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী আবু হুরাইরা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন কি না। অন্যথায় আবু হুরাইরা ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন কি না। এগুলোর মধ্যে যা-ই পাওয়া যাবে, তা থেকে জানা যাবে যে এর একটি ভিত্তি (أصل) আছে যার দিকে এটি প্রত্যাবর্তন করে; অন্যথায় নয়। আর মুতাবাআত (المتابعة) হলো আইয়ুব থেকে হাম্মাদ ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করা এবং এটি হলো পূর্ণাঙ্গ মুতাবাআত (المتابعة التامة), অথবা আইয়ুব ব্যতীত অন্য কেউ ইবনে সিরিন থেকে, অথবা ইবনে সিরিন ব্যতীত অন্য কেউ আবু হুরাইরা থেকে, অথবা অন্য কোনো সাহাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করা। এর সবটিকেই মুতাবাআত (متابعة) বলা হয়। তবে প্রথমটির তুলনায় দূরত্বের ভিত্তিতে এর পরিসর সংকুচিত হয়ে আসে। মুতাবাআতকে শাহিদ (شاهداً) নামেও অভিহিত করা হয়। আর শাহিদ (الشاهد) হলো অন্য কোনো হাদিস এর সমার্থে বর্ণিত হওয়া; একে মুতাবাআত (متابعة) বলা হয় না। যখন তারা এরুপ ক্ষেত্রে বলেন যে, এটি বর্ণনায় আবু হুরাইরা বা ইবনে সিরিন বা আইয়ুব বা হাম্মাদ একক (تفرد) হয়ে গেছেন, তখন তা মুতাবাআত (المتابعات) না থাকার ইঙ্গিত দেয়। আর যখন শাহিদ (الشواهد) এর সাথে মুতাবাআতও অনুপস্থিত থাকে, তখন এর বিধান তা-ই হবে যা শায (الشاذ) এর আলোচনায় গত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
ويدخل في المتابعة والاستشهاد رواية من لا يحتج به ولا يصلح لذلك كل ضعيف، والله أعلم.

 

‌‌النوع السادس عشر: معرفة زيادات الثقات وحكمها

هو فن لطيف تستحسن العناية به، ومذهب الجمهور من الفقهاء والمحدثين قبولها مطلقاً، وقيل: لا تقبل مطلقاً، وقيل تقبل إن زادها غير من رواه ناقصاً ولا تقبل ممن رواه مرة ناقصاً، وقسمه الشيخ أقساماً.

أحدها: زيادة تخالف الثقات كما سبق.

الثاني: ما لا مخالفة فيه كتفرد ثقة بجملة حديث فيقبل، قال الخطيب: باتفاق العلماء.

الثالث: زيادة لفظة في حديث لم يذكرها سائر رواته كحديث " جعلت لي الأرض مسجداً وطهورا " تفرد أبو مالك الأشجعي فقال: " وتربتها طهوراً " فهذا يشبه الأول ويشبه الثاني، كذا قال الشيخ والصحيح قبول هذا الأخير، ومثله الشيخ أيضاً بزيادة مالك في حديث الفطرة " من المسلمين "
মুতাবাআত বা সমর্থনমূলক বর্ণনা (المتابعة) এবং ইসতিশহাদ বা সাক্ষ্যমূলক বর্ণনার (الاستشهاد) ক্ষেত্রে এমন বর্ণনাকারীর বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত হবে যার বর্ণনা এককভাবে দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় (لا يحتج به), তবে সকল দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী এর জন্য উপযুক্ত নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌ষোড়শ প্রকার: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادات الثقات) এবং এর বিধান জানা

এটি একটি সূক্ষ্ম শিল্প যার প্রতি যত্নবান হওয়া প্রশংসনীয়। ফকিহ (الفقهاء) এবং মুহাদ্দিসদের (المحدثين) জমহুর বা সংখ্যাগুরু (الجمهور) আলেমদের মাযহাব হলো এটি নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য। কেউ কেউ বলেছেন: এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবার কেউ বলেছেন: যদি এমন কেউ অতিরিক্ত অংশটি বর্ণনা করেন যিনি নিজে এটি কখনো অপূর্ণভাবে বর্ণনা করেননি তবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যদি তিনি নিজেই কোনো সময় এটি অপূর্ণভাবে বর্ণনা করে থাকেন তবে তা গ্রহণ করা হবে না। শাইখ এটিকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন।

প্রথমত: এমন অতিরিক্ত অংশ (زيادة) যা অন্যান্য নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) বর্ণনার পরিপন্থী, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: যাতে কোনো বৈপরীত্য নেই; যেমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর হাদিসের কোনো একটি অংশ একাকী বর্ণনা (تفرد) করা, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে। আল-খতিব বলেন: এটি ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে স্বীকৃত।

তৃতীয়ত: হাদিসে এমন কোনো শব্দের অতিরিক্ত (زيادة) হওয়া যা অন্যান্য বর্ণনাকারীরা উল্লেখ করেননি। যেমন: "আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে" হাদিসটি। এতে আবু মালিক আল-আশজায়ি একাকী বর্ণনা (تفرد) করেছেন: "এবং এর মাটি পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম"। এই প্রকারটি প্রথম প্রকার এবং দ্বিতীয় প্রকার উভয়ের সাথেই সাদৃশ্য রাখে। শাইখ এভাবেই বলেছেন। তবে সঠিক মত হলো এই শেষোক্ত প্রকারটি গ্রহণ করা। শাইখ সদকাতুল ফিতর সংক্রান্ত হাদিসে ইমাম মালিকের "মুসলিমদের মধ্য হতে" এই অতিরিক্ত (زيادة) অংশটি দিয়েও এর উদাহরণ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٣)
ولا يصح التمثيل به فقد وافق مالكاً عمر بن نافع، والضحاك بن عثمان، والله أعلم.

 

‌‌النوع السابع عشر: معرفة الإفراد

تقدم مقصوده، فالمفرد قسمان.

أحدهما: فرد عن جميع الرواة وتقدم.

الثاني: بالنسبة إلى جهة كقولهم: تفرد به أهل مكة والشام، أو فلان عن فلان أو أهل البصرة عن أهل الكوفة وشبهه، ولا يقتضي هذا ضعفه إلا أن يراد بتفرد المدنيين إنفراد واحد منهم فيكون كالقسم الأول، والله أعلم.

 

‌‌النوع الثامن عشر:

المعلل

ويسمونه المعلول وهو لحن، وهذا النوع من أجلها، يتمكن منه أهل الحفظ والخبرة والفهم الثاقب،
এবং এর দ্বারা উদাহরণ উপস্থাপন করা সঠিক নয়; কেননা উমর ইবনে নাফে এবং দাহহাক ইবনে উসমান (ইমাম) মালিকের সাথে ঐকমত্য পোষণ (وافق) করেছেন; আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সপ্তদশ প্রকার: একক বর্ণনা (الإفراد) সম্পর্কে জ্ঞান

এর উদ্দেশ্য ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে; সুতরাং একক বর্ণনা (المفرد) দুই প্রকার।

তন্মধ্যে একটি হলো: সকল বর্ণনাকারীর বিপরীতে একক বর্ণনা (فرد), যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

দ্বিতীয়টি: কোনো বিষয়ের প্রেক্ষিতে আপেক্ষিক একক বর্ণনা (بالنسبة إلى جهة); যেমন মুহাদ্দিসগণের বক্তব্য: এটি মক্কা ও সিরিয়াবাসীরা এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছে, অথবা অমুক ব্যক্তি অমুক থেকে কিংবা কুফাবাসীদের সূত্রে বসরাবাসীদের একক বর্ণনা এবং এই জাতীয়। এটি উক্ত বর্ণনার দুর্বলতা (ضعف) নির্দেশ করে না; তবে মদিনাবাসীদের একক বর্ণনার দ্বারা যদি তাদের মধ্য থেকে কেবল একজনের একক হওয়া (إنفراد) উদ্দেশ্য হয়, তবে তা প্রথম প্রকারের ন্যায় গণ্য হবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌অষ্টাদশ প্রকার:

ত্রুটিযুক্ত (المعلل) হাদিস

মুহাদ্দিসগণ একে 'ত্রুটিযুক্ত (المعلول)' নামেও অভিহিত করেন যা ভাষাগতভাবে অশুদ্ধ; এই প্রকারটি ইলমে হাদিসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সূক্ষ্ম বিষয়, যাতে প্রখর স্মৃতিশক্তি, অভিজ্ঞতা ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ব্যক্তিরাই পারদর্শিতা অর্জন করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٤)
والعلة عبارة عن سبب غامض قادح مع أن الظاهر السلامة منه، ويتطرق إلى الإسناد الجامع شروط الصحة ظاهراً وتدرك بتفرد الراوي وبمخالفة غيره له مع قرائن تنبه العارف على وهم بإرسال أو وقف أو دخول حديث في حديث أو غير ذلك بحيث يغلب على ظنه فيحكم بعدم صحة الحديث أو يتردد فيتوقف، والطريق إلى معرفته جمع طرق الحديث والنظر في اختلاف رواته، وضبطهم، وإتقانهم، وكثرة التعليل بالإرسال بأن يون راويه أقوى ممن وصل وتقع العلة في الإسناد وهو الأكثر، وقد تقع في المتن، وما وقع في الإسناد قد يقدح فيه وفي المتن كالإرسال والوقف، وقد يقدح في الإسناد خاصة ويكون المتن معروفاً صحيحاً كحديث يعلى بن عبيد الثوري عن عمرو بن دينار حديث " البيعان بالخيار " وغلط يعلى إنما هو عبد الله بن دينار، وقد تطلق العلة على غير مقتضاها الذي قدمناه، ككذب الراوي، وغفلته، وسوء حفظه، ونحوها من أسباب ضعف الحديث، وسمي الترمذي النسخ علة، وأطلق بعضهم العلة على مخالفة لا تقدح كإرسال ما وصله الثقة الضابط حتى قال: من الصحيح صحيح معلل كما قيل: منه صحيح شاذ، والله أعلم.

ত্রুটি (علة) হলো এমন এক অস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম কারণ যা বাহ্যিকভাবে ত্রুটিমুক্ত মনে হওয়া সত্ত্বেও হাদিসের নির্ভরযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি এমন সনদ (إسناد) এর ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় যা বাহ্যিকভাবে বিশুদ্ধতা (صحة) এর শর্তাবলি পূরণ করে। বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা (تفرد) এবং অন্যদের সাথে তার বিরোধিতার মাধ্যমে এটি চিহ্নিত করা হয়, যার সাথে এমন কিছু লক্ষণ থাকে যা বিশেষজ্ঞকে বিচ্ছিন্নতা (إرسال), স্থগিতকরণ (وقف), কিংবা এক হাদিসের অন্য হাদিসে প্রবেশ করা অথবা এই জাতীয় কোনো ভুল সম্পর্কে সচেতন করে। এর ফলে যখন বিশেষজ্ঞের প্রবল ধারণা জন্মে, তখন তিনি হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحة) না হওয়ার রায় দেন অথবা দ্বিধাবোধ করে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখেন। এটি চেনার উপায় হলো হাদিসের সকল সূত্র সংগ্রহ করা এবং বর্ণনাকারীদের মধ্যকার মতভেদ, তাদের মুখস্থশক্তির প্রখরতা ও নির্ভুলতা (ضبط), পারঙ্গমতা (إتقان) এবং বিচ্ছিন্নতা (إرسال) এর মাধ্যমে ত্রুটি চিহ্নিত করার আধিক্যের প্রতি দৃষ্টি প্রদান করা; বিশেষত যখন বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনাকারী ব্যক্তি হাদিসটিকে সংযুক্তভাবে বর্ণনাকারীর চেয়ে অধিক শক্তিশালী হন। ত্রুটি (علة) সাধারণত সনদ (إسناد) এর মধ্যে ঘটে এবং এটিই অধিক হয়, তবে কখনো কখনো তা মতন (متن) এর মধ্যেও হতে পারে। আর যা সনদ (إسناد) এর মধ্যে ঘটে তা কখনো সনদ ও মতন (متن) উভয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, যেমন বিচ্ছিন্নতা (إرسال) ও স্থগিতকরণ (وقف)। আবার কখনো কখনো এটি কেবল সনদ (إسناد) কে প্রশ্নবিদ্ধ করে অথচ মতন (متن) সুপরিচিত ও সহিহ থাকে। যেমন: ইয়ালা ইবনে উবাইদ আস-সাওরি কর্তৃক আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত "ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার রয়েছে" শীর্ষক হাদিসটি। এখানে ইয়ালার ভুলটি হলো মূলত বর্ণনাকারী হবে আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার। কখনো কখনো ত্রুটি (علة) শব্দটিকে তার উপরে উল্লেখিত মূল সংজ্ঞা ছাড়াও ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়; যেমন বর্ণনাকারীর মিথ্যাচার (كذب), অসতর্কতা (غفلة), মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (سوء حفظ) এবং হাদিস দুর্বল (ضعف) হওয়ার অন্যান্য কারণসমূহ। ইমাম তিরমিযী রহ. রহিতকরণ (النسخ) পদ্ধতিকেও ত্রুটি (علة) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আবার কেউ কেউ এমন বিরোধিতাকেও ত্রুটি (علة) বলেছেন যা হাদিসের মানকে ক্ষুণ্ণ করে না, যেমন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীর সংযুক্ত বর্ণনাকে অন্য কারো বিচ্ছিন্নভাবে (إرسال) বর্ণনা করা। এমনকি বলা হয়েছে: সহিহ হাদিসের মধ্যে এমন কিছু আছে যা সহিহ ত্রুটিযুক্ত (معلل), যেমনটি বলা হয়: তার মধ্যে সহিহ বিসংগতিপূর্ণ (شاذ) হাদিস বিদ্যমান। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٥)
‌‌النوع التاسع عشر:

المضطرب

هو الذي يروى على أوجه مختلفة متقاربة، فإن رجحت إحدى الروايتين بحفظ راويها أو كثرة صحبته المروي عنه، أو غير ذلك: فالحكم للراجحة، ولا يكون مضطرباً، والاضطراب يوجب ضعف الحديث لإشعاره بعدم الضبط، ويقع في الإسناد تارة وفي المتن أخرى وفيهما من راو أو جماعة: والله أعلم.
উনিশতম প্রকার:

বিপর্যস্ত (مضطرب)

এটি হলো সেই হাদিস যা বিভিন্ন ও পরস্পর কাছাকাছি পন্থায় বর্ণিত হয়। যদি বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তির প্রাবল্য অথবা যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তার সাথে দীর্ঘ সাহচর্য কিংবা অন্য কোনো কারণে দুই বর্ণনার মধ্যে কোনো একটি প্রাধান্য পায়, তবে ফয়সালা প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجحة) বর্ণনার অনুকূলেই হবে এবং সেটি আর বিপর্যস্ত (مضطرب) বলে গণ্য হবে না। মূলত অসংগতি বা ইজতিরাব হাদিস দুর্বল (ضعيف) হওয়ার কারণ হয়, কারণ এটি বর্ণনাকারীর নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের অভাব (عدم الضبط) প্রকাশ করে। এটি কখনো সনদে (إسناد), কখনো মতনে (متن) আবার কখনো উভয় ক্ষেত্রেই কোনো একজন বর্ণনাকারী বা একদল বর্ণনাকারীর মাধ্যমে ঘটে থাকে। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
‌‌النوع العشرون:

المدرج

هو أقسام.

أحدها: مدرج في حديث النبي صلى الله عليه وسلم بأن يذكر الراوي عقيبه كلاماً لنفسه أو لغيره فيرويه من بعده متصلاً فيتوهم أنه من الحديث.

الثاني: أن يكون عنده متنان بإسنادين فيرويهما بأحدهما.

الثالث: أن يسمع حديثاً من جماعة مختلفين في إسناده أو متنه فيرويه عنهم باتفاق، وكله حرام، وصنف فيه الخطيب كتاباً شفى وكفى والله أعلم.

 

‌‌النوع الحادي والعشرون:

الموضوع

هو المختلق المصنوع وشر الضعيف، ويحرم روايته مع العلم به في أي معنى كان إلا مبيناً، ويعرف الوضع بإقرار واضعه أو معنى إقراره، أو قرينة في الراوي أو المروي، فقد وضعت أحاديث يشهد بوضعها ركاكة لفظها ومعانيها، وقد أكثر جامع الموضوعات في نحو مجلدين، أعني أبا الفرج بن الجوزي، فذكر كثيراً مما لا دليل على وضعه، بل هو ضعيف
বিংশতম প্রকার:

মুদরাজ (المدرج)

এটি কয়েক প্রকার।

প্রথমটি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে অনুপ্রবিষ্ট (المدرج), যার স্বরূপ হলো—বর্ণনাকারী হাদিসের পরপরই নিজের বা অন্য কারো বক্তব্য উল্লেখ করেন, অতঃপর পরবর্তী বর্ণনাকারী তা নিরবচ্ছিন্নভাবে (متصلاً) বর্ণনা করেন, যার ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় যে এটি হাদিসেরই অংশ।

দ্বিতীয়টি: বর্ণনাকারীর নিকট দুটি ভিন্ন সনদ (إسنادين) সহকারে দুটি মতন (متنان) থাকে, কিন্তু তিনি উভয়টি কেবল একটি সনদের মাধ্যমেই বর্ণনা করেন।

তৃতীয়টি: একদল বর্ণনাকারীর কাছ থেকে একটি হাদিস শোনা যাদের বর্ণনার সনদ (إسناده) বা মতন (متنه) ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু তিনি তাদের সবার পক্ষ থেকে তা অভিন্নভাবে বর্ণনা করেন। এর সবটুকুই হারাম (حرام), আর এ বিষয়ে খতিব (আল-বোগদাদী) একটি কিতাব রচনা করেছেন যা অত্যন্ত পর্যাপ্ত ও ফলপ্রসূ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌একুশতম প্রকার:

জাল (الموضوع)

এটি বানোয়াট ও কৃত্রিম এবং দুর্বল (الضعيف) হাদিসের মধ্যে নিকৃষ্টতম। জাল হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও যে কোনো প্রেক্ষাপটেই এটি বর্ণনা করা হারাম (حرام), যদি না বর্ণনার সাথে এর জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। জাল হওয়ার (الوضع) বিষয়টি চেনা যায় জালকারীর স্বীকারোক্তি অথবা স্বীকারোক্তির সমপর্যায়ের কোনো বিষয়ের মাধ্যমে, কিংবা বর্ণনাকারী বা বর্ণিত বিষয়বস্তুর কোনো লক্ষণ (قرينة) দেখে। এমন কিছু হাদিস জাল করা হয়েছে যার শব্দশৈলী ও অর্থগত দুর্বলতা তার জাল হওয়ার সাক্ষ্য দেয়। 'আল-মাওদুআত' সংকলক—অর্থাৎ আবুল ফরাজ ইবনুল জাওযী—প্রায় দুই খণ্ডে এ ধরনের প্রচুর বর্ণনা সংকলন করেছেন। তবে তিনি এমন অনেক বর্ণনাও উল্লেখ করেছেন যা জাল (وضعه) হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, বরং সেগুলো দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
والواضعون أقسام أعظمهم ضرراً قوم ينسبون إلى الزهد وضعوه حسبة في زعمهم، فقلبت موضوعاتهم ثقة بهم، وجوزت الكرامية الوضع في الترغيب والترهيب، وهو خلاف إجماع المسلمين الذين يعتد بهم، ووضعت الزنادقة جملاً فبين جهابذة الحديث أمرها ولله الحمد، وربما أسند الواضع كلاماً لنفسه أو لبعض الحكماء، وربما وقع في شبه الوضع بغير قصد، ومن الموضوع الحديث المروي عن أبي بن كعب في فضل القرآن سورة سورة، وقد أخطأ من ذكره من المفسرين، والله أعلم.

 

‌‌النوع الثاني والعشرون:

المقلوب

هو نحو حديث مشهور عن سالم جعل عن نافع ليرغب فيه، وقلب أهل بغداد على البخاري مائة حديث امتحاناً فردها على وجهها فأذعنوا بفضله، والله أعلم.

 

فرع

إذا رأيت حديثاً بإسناد ضعيف فلك أن تقول: هو ضعيف بهذا الإسناد ولا تقلا ضعيف المتن لمجرد ضعف ذلك الإسناد إلا أن يقول
জালকারীদের (الواضعون) কয়েকটি শ্রেণি রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো ওই সম্প্রদায় যারা দুনিয়াবিমুখতার (জুহদ) সাথে সম্পৃক্ত; তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী সওয়াব অর্জনের (حسبة) নিয়তে হাদিস জাল করেছে। তাদের প্রতি মানুষের নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) কারণে তাদের জালকৃত (موضوعات) বিষয়গুলো গৃহীত হয়েছে। কাররামিয়াহ সম্প্রদায় উৎসাহ প্রদান ও ভয় প্রদর্শনের (الترغيب والترهيب) ক্ষেত্রে হাদিস জাল করাকে (الوضع) বৈধ মনে করত, যা গ্রহণযোগ্য মুসলিমদের ঐক্যমতের (إجماع) পরিপন্থী। যিনদিকরা অনেক কথা জাল করেছে (وضعت), তবে হাদিসের প্রাজ্ঞ পণ্ডিতগণ তাদের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। কখনো জালকারী (الواضع) নিজের কথা বা কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির কথাকে হাদিস হিসেবে সূত্রবদ্ধ (أسند) করে দেয়। আবার কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে জালের সাদৃশ্য (شبه الوضع) তৈরি হয়। উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণিত কুরআনের সূরাগুলোর ফযিলত বিষয়ক হাদিসটি জাল (الموضوع) হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। যে সকল মুফাসসির এটি উল্লেখ করেছেন তারা ভুল করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌দ্বাবিংশ প্রকার:

মাকলুব বা বিপরীতকারী (المقلوب)

এটি হলো এমন, যেমন সালেম থেকে বর্ণিত একটি বিখ্যাত (مشهور) হাদিসকে নাফে’-এর সূত্রে বর্ণনা করা হলো যাতে মানুষের তাতে আগ্রহ তৈরি হয়। বাগদাদবাসী পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ইমাম বুখারীর ওপর একশত হাদিসকে উল্টে (قلب) দিয়েছিল, তিনি সেগুলো তাদের সঠিক ধারায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, ফলে তারা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছিল। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

শাখা

যখন আপনি কোনো হাদিস দুর্বল (ضعيف) সূত্রের (إسناد) মাধ্যমে দেখবেন, তখন আপনি বলতে পারেন: 'এই সূত্রের (الإسناد) কারণে এটি দুর্বল (ضعيف)'। শুধু ঐ সূত্রের (الإسناد) দুর্বলতার (ضعف) কারণে হাদিসের মূলপাঠকে (المتن) সরাসরি দুর্বল (ضعيف) বলবেন না, যতক্ষণ না বলা হয়...
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
إمام أنه لم يرو من وجه صحيح أو أنه حديث ضعيف مفسراً ضعفه، فإن أطلق ففيه كلام يأتي قريباً، وإذا أردت رواية الضعيف بغير إسناد فلا تقل قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وما أشبهه من صيغ الجزم، بل قل: روى كذا أو بلغنا كذا أو ورد أو جاء أو نقل أو ما أشبهه، وكذا ما يشك في صحته، ويجوز عند أهل الحديث وغيرهم التساهل في الأسانيد ورواية ما سوى الموضوع من الضعيف والعمل به من غير بيان ضعفه في غير صفات الله تعالى والأحكام كالحلال والحرام وغيرهما وذلك كالقصص، وفضائل الأعمال، والمواعظ وغيرها مما لا تعلق له بالعقائد والأحكام، والله أعلم.

 

‌‌النوع الثالث والعشرون:

صفة من تقبل روايته وما يتعلق به

فيه مسائل:

إحداها: أجمع المشاهير من أئمة الحديث والفقه أنه يشترط فيه أن يكون عدلاً ضابطاً بأن يكون مسلماً بالغاً عاقلاً سليماً من أسباب الفسق وخوارم المروءة متيقظاً، حافظاً إن حدث من حفظه، ضابطاً لكتابه إن حدث منه، عالماً بما يخيل المعنى إن روى به.

الثانية: تثبت العدالة بتنصيص عدلين عليها أو بالاستفاضة فمن اشتهرت عدالته بين أهل العلم وشاع الثناء عليه بها كفى فيها، كمالك، والسفيانين، والأوزاعي، والشافعي، وأحمد، وأشباههم وتوسع ابن عبد
একজন ইমাম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি কোনো সঠিক (صحيح) দিক থেকে বর্ণনা করেননি অথবা এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস এবং তিনি এর দুর্বলতা ব্যাখ্যা করেছেন। যদি তিনি তা শর্তহীনভাবে উল্লেখ করেন, তবে সে বিষয়ে সামনে আলোচনা আসবে। আর আপনি যদি সনদ (إسناد) ছাড়া দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করতে চান, তবে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেছেন'—এভাবে দৃঢ়তাপূর্ণ শব্দ (صيغ الجزم) ব্যবহার করবেন না। বরং বলবেন: 'বর্ণিত হয়েছে' বা 'আমাদের কাছে পৌঁছেছে' বা 'উল্লিখিত হয়েছে' বা 'এসেছে' বা 'নকল করা হয়েছে' বা অনুরূপ কোনো শব্দ। যার বিশুদ্ধতা (صحته) নিয়ে সন্দেহ আছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। মুহাদ্দিসগণ এবং অন্যদের মতে সনদসমূহের (الأسانيد) ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করা এবং বানোয়াট (الموضوع) ছাড়া অন্য সকল দুর্বল (الضعيف) হাদিস তার দুর্বলতা বর্ণনা করা ছাড়াই বর্ণনা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা জায়েজ। তবে তা মহান আল্লাহর গুণাবলি এবং হালাল-হারামের মতো বিধানাবলীর (الأحكام) ক্ষেত্রে নয়। বরং তা কিচ্ছা-কাহিনী, আমলের ফজিলত, উপদেশ এবং এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা আকাইদ (العقائد) ও বিধানাবলীর (الأحكام) সাথে সম্পৃক্ত নয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

‌‌তেইশতম প্রকার:

যার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (تقبل) তার বৈশিষ্ট্য এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি

এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথমত: হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, বর্ণনাকারীর জন্য শর্ত হলো তাকে ন্যায়পরায়ণ (عدلاً) ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণকারী (ضابطاً) হতে হবে। অর্থাৎ তাকে হতে হবে মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন, পাপাচারের (الفسق) কারণসমূহ এবং ব্যক্তিত্ববিনাশী (خوارম المروءة) বিষয়াদি থেকে মুক্ত, সচেতন; যদি তিনি মুখস্থ থেকে বর্ণনা করেন তবে হিফজকারী (حافظاً), আর যদি কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তবে স্বীয় কিতাব সঠিকভাবে সংরক্ষণকারী (ضابطاً لكتابه)। আর যদি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (روى به) করেন, তবে অর্থের বিকৃতি ঘটায় এমন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত হতে হবে।

দ্বিতীয়ত: ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) সাব্যস্ত হয় দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدلين) ব্যক্তির সুষ্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে অথবা ব্যাপক প্রসিদ্ধির (بالاستفاضة) মাধ্যমে। সুতরাং আহলে ইলমের নিকট যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالته) প্রসিদ্ধ এবং যার ভূয়সী প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে, তার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট। যেমন—মালিক, দুই সুফিয়ান, আওযায়ী, শাফেয়ী, আহমদ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ। আর ইবনে আব্দুল বার...
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
البر فيه فقال: كل حامل علم معروف العناية به محمول أبداً على العدالة حتى يبين جرحه، وقوله هذا غير مرضي.

الثالثة: يعرف ضبطه بموافقته الثقات المتقنين غالباً ولا تضر مخالفته النادرة فإن كثرت اختل ضبطه ولم يحتج به.

الرابعة: يقبل التعديل من غير ذكر سببه على الصحيح المشهور، ولا يقبل الجرح إلا مبين السبب، وأما كتب الجرح والتعديل التى لا يذكر فيها سبب الجرح ففائدتها التوقف فيمن جرحوه فإن بحثنا عن حاله وانزاحت عنه الريبة، وحصلت الثقة به قبلنا حديثه كجماعة في الصحيحين بهذه المثابة.

الخامسة: الصحيح أن الجرح والتعديل يثبتان بواحد، وقيل لا بد من اثنين، وإذا اجتمع فيه جرح وتعديل فالجرح مقدم، وقيل إن زاد المعدلون قدم التعديل، وإذا قال: حدثني الثقة أو نحوه لم يكتف به على الصحيح، وقيل يكتفي فإن كان القائل عالماً كفى في حق موافقه في المذهب عند بعض المحققين، وإذا روى العدل عمن سماه لم يكن تعديلاً عند الأكثرين وهو الصحيح، وقيل هو تعديل وعمل العالم وفتياه على وفق حديث رواه ليس حكماً بصحته ولا مخالفته قدح في صحته ولا في راويه، والله أعلم.

السادسة: رواية مجهول العدالة ظاهراً وباطناً لا تقبل عند الجماهير.
ইবনে আব্দুল বার এই বিষয়ে বলেছেন: ইলমের প্রতিটি বাহক, যার ইলমের প্রতি যত্নশীলতা সুবিদিত, তাকে সর্বদা ন্যায়পরায়ণ (عدالة) হিসেবে গণ্য করা হবে যতক্ষণ না তার প্রতি কোনো সমালোচনা (جرح) প্রকাশ পায়। তবে তার এই বক্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয়।

তৃতীয়: একজন বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা ও মুখস্থশক্তি (ضبط) চেনা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও সুদক্ষ (متقنين) বর্ণনাকারীদের সাথে তার বর্ণনার মিল থাকার মাধ্যমে। তার পক্ষ থেকে কদাচিৎ বা বিরল কোনো অমিল ক্ষতিকর নয়। তবে যদি বিরোধিতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তবে তার নির্ভুলতা (ضبط) ক্ষুণ্ণ হবে এবং তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج به) করা হবে না।

চতুর্থ: প্রসিদ্ধ সঠিক (صحيح) মতানুযায়ী কারণ উল্লেখ ছাড়াই গুণকীর্তন বা ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্তকরণ (تعديل) গ্রহণযোগ্য। কিন্তু কারণ স্পষ্ট করা ব্যতীত সমালোচনা (جرح) গ্রহণযোগ্য নয়। আর জারহ ও তা'দিলের (جرح وتعديل) সেইসব কিতাব যাতে সমালোচনার কারণ উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলোর উপযোগিতা হলো যাদের সমালোচনা করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরতি (توقف) দেওয়া। অতঃপর যদি আমরা তার অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করি এবং তার ব্যাপারে সন্দেহ দূর হয় ও তার ওপর আস্থা (ثقة) অর্জিত হয়, তবে আমরা তার হাদিস গ্রহণ করব; যেমন সহীহাইনের একদল বর্ণনাকারী এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

পঞ্চম: সঠিক (صحيح) মত হলো সমালোচনা (جرح) ও গুণকীর্তন (تعديل) একজনের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। কেউ কেউ বলেন, দুজনের প্রয়োজন। যদি কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সমালোচনা (جرح) ও গুণকীর্তন (تعديل) উভয়ই একত্রিত হয়, তবে সমালোচনাকে (جرح) অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যমতে, যদি গুণকীর্তনকারীর সংখ্যা বেশি হয় তবে গুণকীর্তনকেই (تعديل) অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যদি কেউ বলেন: "আমার কাছে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন" বা অনুরূপ কিছু, তবে সঠিক (صحيح) মতানুযায়ী তা যথেষ্ট হবে না। তবে কেউ কেউ বলেন এটি যথেষ্ট; আর যদি বক্তা কোনো আলেম হন, তবে কোনো কোনো গবেষকের মতে তার মাযহাবের অনুসারীদের ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট হবে। যখন কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدল) বর্ণনাকারী এমন কারো থেকে বর্ণনা করেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, তখন অধিকাংশের মতে সেটি গুণকীর্তন (تعديل) হিসেবে গণ্য হবে না এবং এটিই সঠিক (صحيح) মত। কেউ কেউ একে গুণকীর্তন (تعديل) বলেছেন। কোনো আলেমের আমল বা ফতোয়া তার বর্ণিত হাদিসের অনুকূলে হওয়া সেই হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত ফয়সালা নয়। আবার তার আমল হাদিসের বিপরীত হওয়া সেই হাদিসের বিশুদ্ধতা বা বর্ণনাকারীর ওপর কোনো আঘাত বা ত্রুটি নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

ষষ্ঠ: যার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় দিক থেকেই ন্যায়পরায়ণতা অজ্ঞাত (مجهول العدالة), জমহুর বা অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
ورواية المستور وهو عدل الظاهر خفي الباطن يحتج بها بعض من رد الأول وهو قول بعض الشافعيين. قال الشيخ: يشبه أن يكون العمل على هذا في كثير من كتب الحديث في جماعة من الرواة تقادم العهد بهم وتعذرت خبرتهم باطناً، وأما مجهول العين فقد لا يقبله بعض من يقبل مجهول العدالة، ثم من روى عنه عدلان عيناه ارتفعت جهالة عينه، قال الخطيب: المجهول عند أهل الحديث من لم يعرفه العلماء، ولا يعرفه حديثه إلا من جهة واحدة، وأقل ما يرفع الجهالة رواية اثنين مشهورين، ونقل ابن عبد البر عن أهل الحديث نحوه. قال الشيخ رداً على الخطيب: قد روى البخاري عن مرداس الأسلمي، ومسلم عن ربيعة بن كعب الأسلمي ولم يرو عنهما غير واحد، والخلاف في ذلك متجه كالاكتفاء بتعديل واحد والصواب نقل الخطيب ولا يصح الرد عليه بمرداس وربيعة فإنهما صحابيان مشهوران والصحابة كلهم عدول.

 

فرع

يقبل تعديل العبد والمرأة العارفين، ومن عرفت عينه وعدالته وجهل اسمه احتج به، وإذا قال أخبرني فلان أو فلان وهما عدلان احتج به، فإن جهل عدالة أحدهما أو قال فلان أو غيره لم يحتج به.

السابعة: من كفر ببدعة لم يحتج به بالاتفاق ومن لم يكفر قيل
অপ্রকাশিত-অবস্থা সম্পন্ন (مستور) বর্ণনাকারীর বর্ণনা—যিনি বাহ্যিকভাবে ন্যায়পরায়ণ (عدل الظاهر) কিন্তু যার অভ্যন্তরীণ অবস্থা অস্পষ্ট (خفي الباطن)—তাঁদের কেউ কেউ দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন যারা প্রথম প্রকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; এটি কিছু শাফেয়ি আলেমদের অভিমত। শায়খ বলেন: মনে হয় অনেক হাদিস গ্রন্থে একদল বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে এই নিয়মই কার্যকর হয়েছে, যাদের সময়কাল অতি প্রাচীন এবং যাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা যাচাই করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পক্ষান্তরে যার ব্যক্তি-সত্তা অজ্ঞাত (مجهول العين), তাকে এমন কেউ কেউ গ্রহণ করেন না যারা ন্যায়পরায়ণতা অজ্ঞাত (مجهول العدالة) এমন বর্ণনাকারীকে গ্রহণ করেন। অতঃপর যার থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তার ব্যক্তি-পরিচয়ের অজ্ঞতা (جهالة العين) দূরীভূত হয়। খতিব বলেন: হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট অজ্ঞাত (المجهول) তিনি, যাঁকে আলেমগণ চেনেন না এবং যার বর্ণিত হাদিস কেবল একটি সূত্র ছাড়া পরিচিত নয়। অজ্ঞতা (جهالة) দূর হওয়ার জন্য অন্তত দুইজন প্রসিদ্ধ (مشهورين) ব্যক্তির বর্ণনা প্রয়োজন। ইবনে আব্দুল বার হাদিস বিশারদদের থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। শায়খ খতিবের প্রতিবাদে বলেন: বুখারি মিরদাস আল-আসলামি থেকে এবং মুসলিম রাবিয়াহ বিন কাব আল-আসলামি থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁদের উভয়ের থেকে মাত্র একজন করে বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে মতভেদ থাকাটা যুক্তিযুক্ত, যেমনটি একজন মাত্র ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণের (تعديل) ক্ষেত্রে যথেষ্ট হওয়ার বিষয়ে রয়েছে। তবে সঠিক হলো খতিবের উদ্ধৃতিটিই; আর মিরদাস ও রাবিয়াহর উদাহরণ দিয়ে তাঁকে ভুল প্রমাণ করা সঠিক নয়, কারণ তাঁরা দুইজন প্রসিদ্ধ সাহাবি (صحابيان), আর সাহাবিদের সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)।

 

পরিচ্ছেদ

বিজ্ঞ দাস ও মহিলার পক্ষ থেকে প্রদানকৃত ন্যায়পরায়ণতার স্বীকৃতি (تعديل) গ্রহণযোগ্য। যাঁর ব্যক্তি-সত্তা ও ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) পরিচিত কিন্তু নাম অজ্ঞাত, তাঁর বর্ণনা দলিল হিসেবে গৃহীত হবে। যদি কোনো বর্ণনাকারী বলেন: 'আমাকে অমুক অথবা অমুক সংবাদ দিয়েছেন' এবং তাঁরা উভয়ই ন্যায়পরায়ণ (عدلان) হন, তবে তা দলিল হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি তাঁদের একজনের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) অজ্ঞাত থাকে অথবা বর্ণনাকারী বলেন: 'অমুক অথবা অন্য কেউ', তবে তা দলিল হিসেবে গণ্য হবে না।

সপ্তম: যাকে তার বিদআতের (بدعة) কারণে কাফির (كفر) গণ্য করা হয়েছে, সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاق) তার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আর যাকে কাফির গণ্য করা হয়নি, তার ব্যাপারে বলা হয়েছে—
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٥١)
لا يحتج به مطلقاً، وقيل يحتج به إن لم يكن ممن يستحل الكذب في نصرة مذهبه أو لأهل مذهبه، وحكي عن الشافعي وقيل يحتج به إن لم يكن داعية إلى بدعته، ولا يحتج به إن كان داعية، وهذا هو الأظهر الأعدل، وقول كثير أو الأكثر وضعف الأول باحتجاج صاحبي الصحيحين وغيرهما بكثير من المبتدعة غير الدعاة.

الثامنة: تقبل رواية التائب من الفسق إلا الكذب في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا يقبل أبداً وإن حسنت طريقه، كذا قال أحمد بن حنبل، والحميدي شيخ البخاري، والصيرفي الشافعي، قال الصيرفي: كل من أسقطنا خبره بكذب لم نعد لقبوله بتوبة ومن ضعفناه لم نقوه بعده بخلاف الشهادة، وقال السمعاني: من كذب في خبر واحد وجب إسقاط ما تقدم من حديثه، قلت وكل ذلك مخالف لقاعدة مذهبنا ومذهب غيرنا ولا يقوى الفرق بينه وبين الشهادة.

التاسعة: إذا روى حديثاً ثم نفاه المسمع فالمختار أنه إن كان جازماً بنفيه بأن قال ما رويته ونحوه وجب رده ولا يقدح في باقي روايات الراوي عنه. فإن قال: لا أعرفه أو لا أذكره أو نحوه لم يقدح فيه ومن روى حديثاً ثم نسيه جاز العمل به على الصحيح، وهو قول الجمهور من الطوائف خلافاً لبعض الحنفية؛ ولا يخالف هذا كراهة الشافعي وغيره الرواية عن الأحياء، والله أعلم.

العاشرة: من أخذ على التحديث أجراً لا تقبل روايته عند أحمد، وإسحاق، وأبي حاتم، وتقبل عند أبي نعيم الفضل، وعلي بن عبد العزيز، وآخرين. وأفتى
তার বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج به) করা হবে না একেবারেই। বলা হয়ে থাকে যে, যদি তিনি তার মতবাদের সমর্থনে বা তার অনুসারীদের জন্য মিথ্যাকে বৈধ মনে না করেন, তবে তার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج به) করা হবে। এটি শাফেঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, যদি তিনি তার বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বানকারী প্রচারক (داعية) না হন, তবে তার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج به) করা হবে; আর যদি তিনি প্রচারক (داعية) হন, তবে তা দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج به) করা হবে না। এটিই অধিকতর স্পষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত অভিমত এবং অনেক বা অধিকাংশ আলিমের বক্তব্য। প্রথম মতটি দুর্বল সাব্যস্ত হয়েছে একারণে যে, সহীহাইন এর লেখকদ্বয় এবং অন্যান্যগণ এমন অনেক বিদআতির (المبتدعة) বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন যারা প্রচারক (غير الدعاة) ছিলেন না।

অষ্টম: পাপাচার (فسق) থেকে তওবাকারী (التائب) ব্যক্তির বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে, তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যাচারের বিষয়টি ভিন্ন; এমন ব্যক্তির বর্ণনা কখনোই গ্রহণ করা হবে না যদিও তার সূত্র (طريق) ভালো হয়। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, বুখারির উস্তাদ হুমাইদি এবং শাফেঈ অনুসারী সাইরাফি এমনটিই বলেছেন। সাইরাফি বলেন: "মিথ্যার কারণে আমরা যার বর্ণনাকে বাতিল ঘোষণা করেছি, তার তওবার কারণে আমরা পুনরায় তা গ্রহণের দিকে ফিরে আসব না। আর আমরা যাকে দুর্বল (ضعفناه) সাব্যস্ত করেছি, সাক্ষ্য প্রদানের (الشهادة) বিষয়ের বিপরীতে এক্ষেত্রে আমরা তাকে পরবর্তীতে আর শক্তিশালী (نقوه) সাব্যস্ত করব না।" সামআনি বলেন: "যে ব্যক্তি একটি মাত্র বর্ণনায় মিথ্যা বলেছে, তার ইতিপূর্বে বর্ণিত সকল হাদিস বাতিল করা আবশ্যক।" আমি বলি: এই সবই আমাদের মাযহাবের মূলনীতি এবং অন্যান্যদের মাযহাবের পরিপন্থী এবং হাদিস বর্ণনা ও সাক্ষ্য প্রদানের (الشهادة) মধ্যে এই পার্থক্যের বিষয়টি জোরালো নয়।

নবম: যদি কেউ কোনো হাদিস বর্ণনা করে এবং পরে মূল বর্ণনাকারী বা উস্তাদ তা অস্বীকার করেন, তবে মনোনীত মত হলো—যদি তিনি দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার (جازم بنفيه) করেন এই বলে যে "আমি এটি বর্ণনা করিনি" বা এই জাতীয় কিছু, তবে তা প্রত্যাখ্যান (رده) করা আবশ্যক হবে; তবে এটি বর্ণনাকারীর অন্য বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি (يقدح) তৈরি করবে না। কিন্তু যদি তিনি বলেন: "আমি এটি জানি না" বা "আমার মনে পড়ছে না" বা এই জাতীয় কিছু, তবে সেটি ওই বর্ণনায় কোনো ত্রুটি (يقدح) সৃষ্টি করবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো হাদিস বর্ণনা করার পর তা ভুলে যায়, বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুযায়ী তার ওপর আমল করা বৈধ। এটিই বিভিন্ন দলের জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত, যা কিছু হানাফি আলিমের মতের পরিপন্থী। এটি জীবিতদের থেকে হাদিস বর্ণনা করার ব্যাপারে শাফেঈ ও অন্যদের অপছন্দনীয়তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

দশম: হাদিস বর্ণনার (تحديث) জন্য যে ব্যক্তি পারিশ্রমিক গ্রহণ করে, আহমদ, ইসহাক এবং আবু হাতিমের মতে তার বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে না। তবে আবু নুআইম আল-ফজল, আলী বিন আব্দুল আজিজ এবং অন্যদের মতে তা গ্রহণযোগ্য। আর ফতোয়া প্রদান করা হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) আত-তাক্বরীব ওয়াত-তাইসীর লিন-নববী (পৃষ্ঠা: ٥٢)
الشيخ أبو إسحاق الشيرازي بجوازها لمن امتنع عليه الكسب لعياله بسبب التحديث.

الحادية عشرة: لا تقبل رواية من عرف بالتساهل في سماعه أو أسماعه، كمن لا يبالي بالنوم في السماع، أو يحدث لا من أصل مصحح، أو عرف بقبول التلقين في الحديث أو كثرة السهو في روايته إذا لم يحدث من أصل، أو كثرت الشواذ والمناكير في حديثه، قال ابن المبارك، وأحمد، والحميدي، وغيرهم: من غلظ في حديث فبين له فأصر على روايته سقطت رواياته. وهذا صحيح إن ظهر أنه أصر عناداً أو نحوه.

الثانية عشرة: أعرض الناس هذه الأزمان عن اعتبار مجموع الشروط المذكورة لكون المقصود صار إبقاء سلسلة الإسناد المختص بالأمة فليعتبر ما يليق بالمقصود، وهو كون الشيخ مسلماً بالغاً، عاقلاً، غير متظاهربفسق، أو سخف في ضبطه، بوجود سماعه مثبتاً بخط غير متهم، وبروايته من أصل موافق لأصل شيخه وقد قال: نحو ما ذكرناه الحافظ أبو بكر البيهقي.

الثالثة عشرة: في ألفاظ الجرح والتعديل. وقد رتبها ابن أبي حاتم فأحسن. فألفاظ التعديل مراتب: أعلاها ثقة أو متقن أو ثبت أو حجة أو عدل حافظ أو ضابط. الثانية: صدوق، أو محله الصدق، أو لا بأس به، قالابن أبي حاتم: هو ممن يكتب حديثه وينظر فيه، وهي المنزلة الثانية وهو كما قال، لأن هذه العبارة لا تشعر بالضبط فيعتبر حديثه على ما تقدم، وعن يحيى بن معين إذا قلت لا بأس به فهو ثقة، ولا يقاوم قوله عن نفسه. نقل ابن أبي حاتم عن أهل الفن. الثالثة: شيخ فيكتب وينظر. الرابعة: صالح الحديث يكتب للاعتبار،
শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজি সেই ব্যক্তির জন্য এটি বৈধ বলেছেন, যার জন্য হাদিস বর্ণনা করার কারণে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য উপার্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

একাদশ পরিচ্ছেদ: এমন ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না যে হাদিস শোনা বা শোনানোর ক্ষেত্রে শিথিলতার (التساهل) জন্য পরিচিত; যেমন যে হাদিস শোনার সময় ঘুমের ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপ করে না, কিংবা কোনো সংশোধিত মূল পাণ্ডুলিপি ব্যতীত হাদিস বর্ণনা করে, অথবা হাদিসের ক্ষেত্রে প্ররোচনা গ্রহণের (التلقين) জন্য পরিচিত, অথবা তার বর্ণনায় ভুলের (السهو) মাত্রা অত্যধিক হলে যখন সে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করে না, অথবা যার হাদিসের মধ্যে বিচ্যুতি (الشواذ) এবং অস্বীকৃত (المناكير) বর্ণনার আধিক্য দেখা যায়। ইবনুল মুবারক, আহমাদ, আল-হুমাইদি এবং অন্যান্যরা বলেছেন: "যে ব্যক্তি হাদিসে ভুল করল এবং তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সে তবুও তা বর্ণনার ওপর অটল থাকল, তবে তার বর্ণনাগুলো পরিত্যক্ত হবে।" আর এটি তখন সঠিক যখন স্পষ্ট হবে যে সে একগুঁয়েমি বা অনুরূপ কোনো কারণে তা করেছে।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: বর্তমান সময়ের মানুষ উল্লিখিত শর্তাবলির সমষ্টি অনুসরণের বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন, কারণ এখন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এই উম্মতের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সনদ (الإسناد) পরম্পরা টিকিয়ে রাখা। অতএব, এই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শর্তাবলিই বিবেচনা করা উচিত; আর তা হলো: শায়খকে মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান হতে হবে, পাপাচারের (فسق) প্রকাশকারী হওয়া যাবে না এবং তার সংরক্ষণ ক্ষমতার (ضبطه) মধ্যে স্থূলতা থাকবে না; তার শোনা কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির হাতের লেখায় লিপিবদ্ধ থাকতে হবে এবং তার বর্ণনাটি তার উস্তাদের মূল পাণ্ডুলিপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকিও আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের অনুরূপ কথা বলেছেন।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: সমালোচনা ও গুণগানের (الجرح والتعديل) শব্দাবলি প্রসঙ্গে। ইবনু আবি হাতিম এগুলোকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিন্যস্ত করেছেন। গুণগানের (التعديل) শব্দাবলির কয়েকটি স্তর রয়েছে: তার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো: নির্ভরযোগ্য (ثقة), অথবা সুনিপুণ (متقن), অথবা সুদৃঢ় (ثبت), অথবা প্রমাণযোগ্য (حجة), অথবা ন্যায়পরায়ণ হাফেজ (عدل حافظ), অথবা সুসংরক্ষণকারী (ضابط)। দ্বিতীয় স্তর: সত্যবাদী (صدوق), অথবা সততার আধার (محله الصدق), অথবা কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)। ইবনু আবি হাতিম বলেছেন: "তিনি এমন স্তরের রাবি যার হাদিস লিখে রাখা হবে এবং তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।" এটি দ্বিতীয় স্তর এবং তিনি যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই, কারণ এই শব্দগুলো পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ ক্ষমতার (بالضبط) ইঙ্গিত দেয় না। তাই তার হাদিস পূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। ইয়াহিয়া ইবনু মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি যখন বলি যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به), তখন তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।" তবে তার নিজের সম্পর্কে এই বিশেষ উক্তি অন্যের সমকক্ষ হবে না। ইবনু আবি হাতিম এটি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তৃতীয় স্তর: শায়খ (شيخ), তার হাদিস লিখে রাখা হবে এবং পর্যবেক্ষণ করা হবে। চতুর্থ স্তর: হাদিসের জন্য উপযুক্ত (صالح الحديث), যার হাদিস পর্যবেক্ষণের জন্য (للاعتبار) লিখে রাখা হবে।