(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: -)
الدرة الثمينة في أخبار المدينة - ط بحوث المدينة القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: الدرة الثمينة في أخبار المدينة
تأليف: محمد بن محمود بن الحسن بن النجار (578 - 643 هـ)
دراسة وتحقيق: د. صلاح الدين بن عباس شكر
الناشر: مركز بحوث ودراسات المدينة المنورة، السعودية
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 570
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو القعدة 1442
মদিনার সংবাদে মূল্যবান মুক্তা - মদিনা গবেষণা সংস্করণ বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: মদিনার সংবাদে মূল্যবান মুক্তা
রচনা: মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন হাসান বিন নাজ্জার (৫৭৮ - ৬৪৩ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. সালাহউদ্দীন বিন আব্বাস শুকার
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারা গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ যিলকদ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২)
المملكة العربية السعودية
مركز بحوث ودراسات المدينة المنورة
(12)الدرة الثمينة في أخبار المدينة
تأليف
محمد بن محمود بن الحسن بن النجار
578 - 643 ه
دراسة وتحقيق
د. صلاح الدين بن عباس شكر
সৌদি আরব রাজ্য
মদিনা মুনাওয়ারা গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্র
(১২)আদ্-দুররাতুস্ সামীনাহ ফী আখবারিল মদীনা
রচনা
মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন হাসান বিন আন-নাজ্জার
৫৭৮ - ৬৪৩ হিজরি
গবেষণা ও সম্পাদনা
ড. সালাহ উদ্দীন বিন আব্বাস শুকুর
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩)
مركز بحوث ودراسات المدينة المنورة، 1426 ه
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
البغدادي، محمد محمود
الدرة الثمينة في أخبار المدينة/ محمد محمود البغدادي؛ صلاح الدين شكر - المدينة المنورة، 1426 ه
576 ص، 17 X 24 سم
ردمك: 0 - 7 - 9344 - 9960
أ- المدينة المنورة- تاريخ أ. شكر، صلاح الدين (محقق)
ب- العنوان ج- السلسلة
ديوي 953.122
… 1573/ 1426
رقم الإيداع: 1573/ 1426
ردمك: 0 - 7 - 9344 - 9960
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1427 ه - 2006 م
মদিনা মুনাওয়ারা গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র, ১৪২৬ হিজরি
প্রকাশনাধীন বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগার সূচীকরণ
আল-বাগদাদি, মুহাম্মদ মাহমুদ
আদ-দুররাতুল সামিনাহ ফি আখবারিল মদিনা/ মুহাম্মদ মাহমুদ আল-বাগদাদি; সালাহুদ্দিন শাকার - মদিনা মুনাওয়ারা, ১৪২৬ হিজরি
৫৭৬ পৃষ্ঠা, ১৭ x ২৪ সেমি
আইএসবিএন: ০ - ৭ - ৯৩৪৪ - ৯৯৬০
ক- মদিনা মুনাওয়ারা - ইতিহাস। সালাহুদ্দিন শাকার (সম্পাদক)
খ- শিরোনাম গ- গ্রন্থমালা
ডিউই ৯৫৩.১২২
... ১৫৭৩/ ১৪২৬
জমাদান নম্বর: ১৫৭৩/ ১৪২৬
আইএসবিএন: ০ - ৭ - ৯৩৪৪ - ৯৯৬০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم:هذا الكتاب واحد من عطاءات أسلافنا المتميزة في موضوعه ومنهجه؛ فموضوعه مدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم، التي يطول الحديث عن قدسيتها ومكانتها في قلوب المسلمين، ومنهجه شمولي؛ يضم التاريخ، والجغرافيا، والخصائص، والتراجم، وشيئا من الحديث النبوي.
فتراه في بعض الأبواب يتتبع التاريخ البعيد للمدينة في مرحلة تأسيسها، ويعرض الروايات التي تناقلها الرواة والأخباريون - وربما القصاصون - عن الأقوام الذين واكبوا طفولتها، ويقفز إلى عصرها الذهبي في عهد النبوة، وينقل قدرا من أخباره ولا يتجاوزه، وكأنه أراد أن تبقى تلك الصورة المتألقة للمدينة في نفوس من يقرأ الكتاب، ويؤكد ذلك بالوقوف عند ما يسميه أهل السير بالخصائص؛ فيسوق الأحاديث والأخبار عن فضائلها، وحدود حرمها، ويتخذ من موضوع الحرم معبرا إلى الحديث عن أهم مواقعها، ويركز على ما ارتبط بالقداسة، أو ما ذكرت الروايات له فضائل خاصة؛ كالمسجد النبوي، ومسجد قباء، ويعرج على الآبار والأودية، ويعرضها بالأسلوب نفسه، ثم يفسح للعنصر البشري مكانا واسعا؛ فيخصه بباب يتحدث فيه عن أشهر الأعلام الذين عاشوا وتوفوا فيها من الصحابة والتابعين وتابعيهم.
ورغم أنه وقف في تاريخ الأحداث عند العهد النبوي؛ فإنه قد تجاوز في حديثه الجغرافي عن معالم المدينة إلى عصره، فوصف تلك المعالم رأي عين، وذرع معظمها بذراعه و شبره وقدمه؛ ليكون ما يكتبه عنها شاهدا موثقا، وساق معلوماته القديمة والجديدة عنها - وهي غير قليلة -، فاجتمعت في كتابته الصورة التراثية، وصورة عصره، وغلف ذلك كله بعاطفة إيمانية قوية، يحسها القارئ في باب وفصل.
উপস্থাপনা:এই বইটি এর বিষয়বস্তু ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমাদের পূর্বসূরিদের বিশিষ্ট অবদানের মধ্যে অন্যতম একটি; এর বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহর, মুসলিমদের হৃদয়ে যার পবিত্রতা ও মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা দীর্ঘতর হয়ে থাকে। এর পদ্ধতিটি হলো সামগ্রিক; যা ইতিহাস, ভূগোল, বৈশিষ্ট্যসমূহ, জীবনী এবং নববী হাদীসের কিছু অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আপনি এর কিছু অধ্যায়ে দেখবেন যে, তিনি মদীনার প্রতিষ্ঠার পর্যায়ের সুদূর ইতিহাস অনুসরণ করেছেন এবং বর্ণনাকারী, ইতিহাসবিদ ও সম্ভবত গল্পকারদের পক্ষ থেকে সেই সব জাতি সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাগুলো পেশ করেছেন যারা মদীনার শৈশব প্রত্যক্ষ করেছিল। এরপর তিনি এর নবুওয়াতের স্বর্ণযুগে উপনীত হন এবং এর খবরাখবর থেকে কিছু অংশ বর্ণনা করেন ও তা অতিক্রম করেন না; যেন তিনি বইটির পাঠকের মনে মদীনার সেই উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবিটি ধরে রাখতে চেয়েছেন। তিনি সীরাত বিশেষজ্ঞরা যাকে বৈশিষ্ট্যসমূহ বলেন সেগুলোর বর্ণনার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেন। ফলে তিনি এর ফযীলত ও হারামের সীমানা সম্পর্কে হাদীস ও বর্ণনাগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি হারাম এলাকাকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে এর গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ সম্পর্কে আলোচনার সূত্রপাত করেন এবং পবিত্রতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বা সেই বিষয়গুলোতে মনোযোগ নিবদ্ধ করেন যেগুলোর বিশেষ ফযীলত বর্ণনায় এসেছে; যেমন মসজিদে নববী ও মসজিদে কুবা। তিনি কূয়াসমূহ ও উপত্যকাগুলোর বর্ণনা দেন এবং সেগুলোকে একই শৈলীতে উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি মানবীয় উপাদানকে একটি বিশাল স্থান দিয়েছেন; ফলে তিনি এ ব্যাপারে একটি অধ্যায় নির্দিষ্ট করেছেন যাতে সাহাবী, তাবিঈ ও তাবি-তাবিঈদের মধ্য থেকে প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ যারা সেখানে বাস করেছেন ও ইন্তেকাল করেছেন তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
যদিও তিনি ঘটনার ইতিহাসের ক্ষেত্রে নবুওয়াতের যুগ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, তবুও তিনি মদীনার নিদর্শনগুলোর ভৌগোলিক বর্ণনায় নিজ সময় পর্যন্ত পৌঁছেছেন। তিনি সে নিদর্শনগুলোকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার পর বর্ণনা করেছেন এবং তার অধিকাংশ নিজ হাত, বিঘত ও পা দিয়ে পরিমাপ করেছেন; যাতে তিনি যা লিখছেন তা একটি নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য হয়। তিনি এ সম্পর্কে নিজের অর্জিত প্রাচীন ও নতুন তথ্যগুলো পেশ করেছেন—যা অপ্রতুল নয়—ফলে তাঁর লেখনীতে ঐতিহ্যের ছবি ও সমসাময়িক ছবি একত্রিত হয়েছে। তিনি এই সবগুলোকে একটি শক্তিশালী ঈমানি আবেগ দিয়ে আবৃত করেছেন, যা পাঠক প্রতিটি অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে অনুভব করবেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولكن كانت هذه العاطفة قد فتحت الباب لبعض الأحاديث الضعيفة، وبعض الروايات التي تنسب للقصاصين أكثر مما تنسب إلى المحدثين؛ فإن العذر الذي قدمه في مطلع كتابه لذلك هو بعده عن المصادر وقت كتابة مصنفه، واعتماده على الذاكرة، وهذا العذر بجمل من يتصدى لنشر الكتاب مسؤولية فرز الروايات والحكم على الأحاديث، وهذا ما حرص عليه المركز، ونهض به المحقق دون إفراط أو تفريط.
ولا شك أن تراثنا العلمي بعطوره، وعوالق عصوره؛ هو جزء من شخصيتنا، والجذور التي ترتبط بها معارفنا، من حقه أن ندرسه وننشره، وتقدمه للأجيال الحاضرة والقادمة؛ بمنهجية علمية سوية؛ فإن الأمة التي تنقطع عن جذورها تفقد أهم معالم شخصيتها، وتتردى فيما قاله رسول الله: «إن المنبت الا أرضأ قطع، ولا ظهر أبقى»
والمركز إذ يقدم هذا الكتاب - الذي طبع من قبل دون تحقيق منهجي - ليأمل أن تكون خطوته هذه رسالة إلى الناشرين والمهتمين بتراث المدينة المنورة؛ أن يحرصوا على خدمة هذا التراث بما يليق بمكانة المدينة وأهمية التراث، فيجتهدوا في خدمة النصوص وتدقيقا، وشرحا، وتعليقا، وفهرسة، فقدسية المدينة جديرة بهذه الخدمة، وتراثنا العلمي لا يجد التقدير الصحيح إلا بالعمل المنهجي الصادق، والله يحب «إذا عمل أحدكم عملا أن يتقنه»
وهو ولي التوفيق.
د. عبد الباسط بدر
مدير عام مركز بحوث ودراسات المدينة المنورة
কিন্তু এই আবেগ কিছু দুর্বল হাদীস এবং এমন কিছু বর্ণনার পথ খুলে দিয়েছিল যা মুহাদ্দিসদের চেয়ে গল্পকারদের সাথেই বেশি সম্পর্কিত; গ্রন্থটির শুরুতে তিনি এর জন্য যে ওজর পেশ করেছেন তা হলো—গ্রন্থটি রচনার সময় মূল উৎসসমূহ থেকে তাঁর দূরে থাকা এবং স্মৃতির ওপর নির্ভর করা। আর এই ওজরটি সেই ব্যক্তির ওপর বর্ণনাগুলো বাছাই করা এবং হাদীসের ওপর হুকুম লাগানোর দায়িত্ব অর্পণ করে, যে এই গ্রন্থটি প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করে। আর কেন্দ্র এটি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়েছে এবং গবেষক কোনো অতিরঞ্জন বা শৈথিল্য ছাড়াই তা সম্পন্ন করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের ইলমি ঐতিহ্য তার সুগন্ধ এবং আপন যুগের বিচিত্র অনুষঙ্গসহ আমাদের ব্যক্তিত্বের অংশ এবং এটিই সেই মূল যার সাথে আমাদের জ্ঞানসমূহ সংযুক্ত। এর অধিকার হলো—আমরা একে অধ্যয়ন করব, প্রকাশ করব এবং বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের নিকট সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করব। কারণ যে জাতি তার মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সে তার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো হারিয়ে ফেলে এবং রাসূলুল্লাহ যা বলেছেন তাতে নিপতিত হয়: «নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়াহুড়োয় বাহনকে ক্লান্ত করে ফেলে, সে কোনো পথও অতিক্রম করতে পারে না এবং কোনো বাহনও অবশিষ্ট রাখতে পারে না»
আর কেন্দ্র যখন এই গ্রন্থটি পেশ করছে—যা ইতিপূর্বে কোনো নিয়মতান্ত্রিক তাহকীক ছাড়াই মুদ্রিত হয়েছিল—তখন এটি আশা করে যে, তাদের এই পদক্ষেপটি মদীনা মুনাওয়ারার ঐতিহ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকাশক ও আগ্রহীদের নিকট একটি বার্তা হিসেবে গণ্য হবে; যেন তাঁরা মদীনার মর্যাদা এবং ঐতিহ্যের গুরুত্বের সাথে সংগতি রেখে এই ঐতিহ্যের খেদমতে সচেষ্ট হন। ফলে তাঁরা মূল পাঠের সেবা, যাচাই-বাছাই, ব্যাখ্যা, টীকা এবং নির্ঘণ্ট তৈরিতে কঠোর পরিশ্রম করবেন। কেননা মদীনার পবিত্রতা এই খেদমতের দাবি রাখে এবং আমাদের ইলমি ঐতিহ্য সঠিক মূল্যায়ন পায় না যদি না নিষ্ঠাপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক কাজ করা হয়। আর আল্লাহ পছন্দ করেন যে, «তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজ করে, সে যেন তা নিপুণভাবে করে»
আর তিনিই তাওফীকদাতা।
ড. আব্দুল বাসিত বদর
মদীনা মুনাওয়ারা গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্রের মহাপরিচালক
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة:
بسم الله، والحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى من والاه واتبع هداه وشرعه إلى يوم الدين.
عن أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها))
(1).
المدينة المنورة دار الإيمان، ومحضن المجتمع الإسلامي الأول، ومقر المسجد النبوي، الذي تشد إليه الرحال بعد المسجد الحرام، ومثوى رسول الله صلى الله عليه وسلم، يتطلع المسلمون في الآفاق لزيارتها والصلاة في مسجدها، والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ومنذ القديم اهتم بها علماء المسلمين، فكتبوا عنها المؤلفات الكثيرة
(2)، وتحدثوا فيها عن مكانتها وفضائلها، ووصفوا معالمها ومواقع أحداث السيرة
--------------------------------------------
ভূমিকা:
আল্লাহর নামে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক, আর যারা তাঁকে ভালোবাসে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হেদায়েত ও শরীয়ত অনুসরণ করে, তাদের ওপরও।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই ঈমান মদিনার দিকে গুটিয়ে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে গুটিয়ে আসে))
(১)।
মদিনা মুনাওয়ারা হলো ঈমানের আবাসস্থল, প্রথম ইসলামি সমাজের সূতিকাগার এবং মসজিদে নববীর অবস্থানস্থল, মসজিদে হারামের পর যার দিকে ভ্রমণের পাথেয় সংগ্রহ করা হয়। এটি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিশ্রামস্থল। সারা বিশ্বের মুসলিমরা এটি পরিদর্শন করা, এর মসজিদে সালাত আদায় করা এবং আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি সালাম পেশ করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন।
প্রাচীনকাল থেকেই মুসলিম উলামাগণ মদিনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর ওপর অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন
(২)। তাঁরা এসব গ্রন্থে মদিনার মর্যাদা ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর নিদর্শনসমূহ ও সিরাতের ঘটনাবলির স্থানসমূহ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ৮)
النبوية فيها، ومساجدها، وأعلامها، وتوالت هذه المؤلفات منذ بداية عهد التدوين حتى يومنا هذا، وما زالت تظهر وتحمل دراسات جديدة متنوعة.
--------------------------------------------
সেখানের নববী স্মৃতিচিহ্ন, এর মসজিদসমূহ এবং এর বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে; সংকলন যুগের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত এই গ্রন্থ রচনার ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং আজও নানা বৈচিত্র্যময় নতুন নতুন গবেষণা প্রকাশিত হচ্ছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومن المؤلفات المتميزة التي ظهرت (كتاب الدرة الثمينة في أخبار المدينة) للإمام الحافظ المؤرخ محمد بن محمود النجار البغدادي، المتوفى سنة ثلاث وأربعين وستمائة للهجرة، الذي نعرضه في هذا المبحث.
وقبل الغوص في لجة هذا الكتاب النفيس، ألقي الضوء على العصر الذي ظهر فيه، والذي عاشه المؤلف، وأعرض بإيجاز أحواله السياسية، والاجتماعية، والعلمية.
أ - الحالة السياسية في عصر ابن النجار:
ضعفت الخلافة العباسية منذ أواسط القرن الخامس الهجري، وتسلط كبار الوزراء والعسكريين على مقاليد الأمور، وغدت الخلافة - بتعاظم نفوذ البويهيين ثم السلاجقة - عباءة دينية واسعة، لها مكانة دينية في النفوس، وسلطتها الفعلية محدودة جدًا، تزيد وتنقص بقدر قوة شخصية الخليفة واهتمامه بشؤون الحكم، وبراعته في تحجيم المتنفذين حوله.
وكانت الولايات في الدولة العباسية الممتدة تحت سيطرة الأمراء الذين يحكمونها، ومعظمهم ممن سيطر عليها بالقوة، ولم يجد الخليفة بدًا من إقراره، وكانت علاقتهم بالخليفة تتحدد بثلاثة أمور، هي: الخطبة للخليفة وولي عهده، وضرب السكة باسمه، وإرسال بعض المال والهدايا السنوية إليه، ولكنهم بعد ذلك يتصرفون على هواهم، ويشعلون الحروب ويطفئونها، ويغزون إمارات ويوادعون أخرى بأهوائهم وتطلعاتهم.
وفي القرن الأخير من عمر الدولة العباسية، كانت الأحداث الكبرى تعصف بها من كل جانب؛ الغزو الصليبي الذي اجتاح الشام وفلسطين
এবং যে সকল বিশিষ্ট গ্রন্থাবলী প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ইমাম, হাফিজ ও ঐতিহাসিক মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আন-নাজ্জার আল-বাগদাদী (মৃত ৬৪৩ হিজরী) এর রচিত (কিতাবুদ দুররাতুস সামিনা ফি আখবারিল মদিনা), যা আমরা এই গবেষণায় উপস্থাপন করছি।
এই মূল্যবান কিতাবটির গভীরতায় অবগাহন করার পূর্বে, আমি সেই যুগের ওপর আলোকপাত করব যে যুগে এটি প্রকাশিত হয়েছে এবং যে যুগে লেখক বেঁচে ছিলেন, এবং আমি সংক্ষেপে সে সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক অবস্থাসমূহ তুলে ধরব।
ক - ইবনু নাজ্জারের যুগে রাজনৈতিক অবস্থা:
পঞ্চম হিজরী শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে আব্বাসী খিলাফত দুর্বল হতে থাকে এবং বড় বড় উজির ও সামরিক কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চাবিকাঠি নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। আর খিলাফত—প্রথমে বুয়াইহী এবং পরে সেলজুকদের প্রভাব বৃদ্ধির ফলে—একটি বিস্তৃত ধর্মীয় পোশাকে পরিণত হয়, যার অন্তরে ধর্মীয় মর্যাদা থাকলেও এর প্রকৃত ক্ষমতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। খলিফার ব্যক্তিত্বের শক্তি, শাসনকার্যে তাঁর আগ্রহ এবং তাঁর চারপাশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই ক্ষমতা হ্রাস-বৃদ্ধি পেত।
বিস্তৃত আব্বাসী রাষ্ট্রের প্রদেশগুলো ছিল সেই সকল আমীরদের নিয়ন্ত্রণে যারা সেখানে শাসন করতেন। তাদের অধিকাংশই শক্তির জোরে সেগুলো দখল করেছিলেন এবং খলিফাও তাঁদের স্বীকৃতি প্রদান করতে বাধ্য হতেন। খলিফার সাথে তাঁদের সম্পর্ক তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হতো, সেগুলো হলো: খলিফা ও তাঁর উত্তরাধিকারীর নামে খুতবা পাঠ করা, খলিফার নামে মুদ্রা প্রচলন করা এবং বার্ষিক কিছু অর্থ ও উপঢৌকন প্রেরণ করা। কিন্তু এরপর তাঁরা নিজ খেয়ালখুশিমতো চলতেন, যুদ্ধ শুরু করতেন ও থামাতেন, এবং নিজেদের ইচ্ছা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিভিন্ন আমিরাত আক্রমণ করতেন অথবা সন্ধি করতেন।
আব্বাসী রাষ্ট্রের শেষ শতাব্দীতে বড় বড় ঘটনাবলী চারদিক থেকে একে আঘাত করছিল; যার মধ্যে ছিল ক্রুসেডার আক্রমণ যা শাম ও ফিলিস্তিনকে গ্রাস করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১০)
واقترب من الموصل، والغزو التتري الذي عصف بعدد من الولايات الإسلامية الشرقية والشمالية، ثم انداح إلى عاصمة الخلافة وأسقطها سنة 656 هـ في أسوأ مذابح شهدها التاريخ آنئذ.
وقد تولى الخلافة في هذه الفترة أربعة خلفاء عباسيون، هم: الناصر لدين الله، والظاهر بأمر الله، والمستنصر بالله، والمستعصم بالله.
أما الناصر لدين الله؛ فقد تولى الخلافة من (575 هـ إلى 622 هـ)، وهو أطول الخلفاء العباسيين حكمًا، يذكر المؤرخون له صفات شخصية رفيعة، منها حسن الخلق، والظرف، والاهتمام بالعلم إلى درجة الاشتغال به
(1)؛ حيث جمع عددًا من الأحاديث ورواها وأجاز بها عددًا من طلاب العلم، وأناب عنه من يجيز بها باسمه، وكان ابن النجار واحدًا ممن تلقى هذه الإجازة
(2).
إلى جانب هذه الصفات؛ يذكر المؤرخون أنه كان سيئ السيرة، مائلاً إلى الظلم والعسف في الرعية، خربت في أيامه العراق؛ مما أحدثه من الرسوم وأخذ أموال الناس وأملاكهم، وكان يفعل الشيء وضده، وكان يرمي بالبندق، ويهوى الحمام، ويتشيع، بخلاف آبائه
(3).
وأما الظاهر بأمر الله؛ فقد تولى الخلافة بعد أبيه الناصر (622 - 623 هـ)، ولكنه لم يعمر فيها سوى تسعة أشهر وبضعة أيام، حاول خلالها أن يصلح ما أفسده أبوه، فأوقف المكوس، وأعاد الأموال المصادرة، غير أن الأجل عاجله،
--------------------------------------------
এবং তিনি মসুলের নিকটবর্তী হলেন। তাতার আক্রমণ, যা পূর্ব ও উত্তরের বেশ কিছু ইসলামি প্রদেশকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল, অতঃপর তা খিলাফতের রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং ৬৫৬ হিজরি সনে তৎকালীন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে খিলাফতের পতন ঘটায়।
এই সময়কালে চারজন আব্বাসীয় খলিফা খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরা হলেন: আন-নাসির লি-দিনিল্লাহ, আজ-জাহির বি-আমরিল্লাহ, আল-মুসতানসির বিল্লাহ এবং আল-মুসতাসিম বিল্লাহ।
আন-নাসির লি-দিনিল্লাহর ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি (৫৭৫ হি. থেকে ৬২২ হি.) পর্যন্ত খেলাফতের দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি ছিলেন দীর্ঘতম শাসনকাল অতিবাহিতকারী আব্বাসীয় খলিফা। ঐতিহাসিকগণ তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিগত গুণাবলির কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে উত্তম চরিত্র, মার্জিত বোধ এবং ইলমের প্রতি গভীর আগ্রহ—এমনকি তাতে মগ্ন হওয়া পর্যন্ত
(১); তিনি বেশ কিছু হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন, তা বর্ণনা করেছিলেন এবং একদল ইলম অন্বেষীকে সেগুলোর ইজাজত প্রদান করেছিলেন। তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর নামে ইজাজত প্রদানের জন্য তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন এবং ইবনুন নাজ্জার ছিলেন এই ইজাজতপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন
(২)।
এই গুণাবলির পাশাপাশি ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেন যে, তিনি মন্দ স্বভাবের অধিকারী ছিলেন এবং প্রজাদের ওপর জুলুম ও অবিচারের প্রতি ঝুঁকে ছিলেন। তাঁর শাসনামলে ইরাক ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল—যা তাঁর প্রবর্তিত অতিরিক্ত কর এবং জনগণের অর্থ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ফলে ঘটেছিল। তিনি একই সাথে বৈপরীত্যপূর্ণ কাজ করতেন, মাটির গুলি ছুড়তেন, কবুতর পালতে পছন্দ করতেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের বিপরীতে তিনি শিয়া মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন
(৩)।
আর আজ-জাহির বি-আমরিল্লাহর বিষয়ে হলো, তিনি তাঁর পিতা আন-নাসিরের পর (৬২২ - ৬২৩ হি.) খেলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন। কিন্তু তিনি মাত্র নয় মাস কয়েক দিন শাসন ক্ষমতায় ছিলেন। এই অল্প সময়ে তিনি তাঁর পিতার বিবিধ অনিয়ম সংস্কারের চেষ্টা করেন; ফলে তিনি অবৈধ কর বিলুপ্ত করেন এবং বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেন। কিন্তু হায়াত ফুরিয়ে আসায় মৃত্যু তাঁকে দ্রুত গ্রাস করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১১)
وتسلم الخلافة بعده ابنه المستنصر بالله (623 - 640 هـ)، وامتدت خلافته قرابة سبع عشرة سنة، وكان محمود السيرة.
وبعد وفاته؛ بويع ابنه المستعصم بالله (640 - 656 هـ)، ولم تكن له قدرات الخليفتين السابقين في إدارة شؤون الحكم، فركن إلى وزيره مؤيد الدين العلقمي الرافضي، الذي كان له دور كبير في سقوط الدولة العباسية؛ حيث راسل التتار، وأطمعهم بالقدوم إلى العراق، وأخفى الحقائق عن الخليفة، حتى أوقعه ضحية يدوسونه بالأقدام حتى الموت، ويجتاحون بغداد، ويعملون فيها القتل والنهب.
وقد عاصر ابن النجار ثلاث سنوات من حكم هذا الخليفة فقط، لذا فأَوْجَزُ ما نصف به الحياة السياسية في الفترة التي عاشها ابن النجار أنها تتسم بالقلق والاضطراب والحروب والتمزق.
ب - الحالة الاجتماعية:
بين الحياة السياسية والاجتماعية صلات قوية، وتأثير وتأثر؛ فالأوضاع السياسية المتردية تؤدي غالبًا إلى اضطراب الحياة الاجتماعية؛ حيث تظهر الأزمات الاقتصادية، وترتفع الأسعار، وتسوء العلاقات، وتشتد الفوارق بين فئات المجتمع، وينتشر الفقر والجوع في شرائح واسعة، وتظهر الأمراض والأوبئة، ويضطرب الأمن، وتكثر السرقات.
وقد شهدت بغداد وعدد من المدن هذه الحالات في القرن الأخير من العصر العباسي؛ مثل الغلاء الذي حصل في الموصل سنة اثنتين وعشرين وستمائة.
এরপর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর পুত্র আল-মুস্তানসির বিল্লাহ (৬২৩ - ৬৪০ হিজরি), এবং তাঁর খিলাফত প্রায় সতেরো বছর স্থায়ী হয়েছিল, আর তিনি ছিলেন প্রশংসনীয় চরিত্রের অধিকারী।
তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আল-মুসতাসিম বিল্লাহর (৬৪০ - ৬৫৬ হিজরি) হাতে বায়আত গ্রহণ করা হয়, তবে শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তী দুই খলিফার ন্যায় সক্ষমতা ছিল না। ফলে তিনি তাঁর উজির রাফেজি মুয়াইয়িদুদ্দিন আল-আলকামির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, আব্বাসীয় রাষ্ট্রের পতনে যার বড় ভূমিকা ছিল; কেননা সে তাতারদের সাথে পত্রালাপ করেছিল এবং তাদের ইরাকে আসার জন্য প্রলুব্ধ করেছিল। সে খলিফার কাছে সত্য গোপন রেখেছিল, শেষ পর্যন্ত তাঁকে শিকারে পরিণত করেছিল যেখানে তারা তাঁকে পায়ের নিচে পিষ্ট করে মৃত্যু পর্যন্ত পদদলিত করে, বাগদাদ আক্রমণ করে এবং সেখানে হত্যা ও লুণ্ঠন চালায়।
ইবনুন নাজ্জার এই খলিফার শাসনের মাত্র তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। তাই ইবনুন নাজ্জার যে সময়ে বেঁচে ছিলেন, সেই সময়ের রাজনৈতিক জীবনকে আমরা সংক্ষেপে উদ্বেগ, অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং বিভক্তির বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হিসেবে বর্ণনা করতে পারি।
খ - সামাজিক অবস্থা:
রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক এবং ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অবনতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রায়শই সামাজিক জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে; যার ফলে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে বৈষম্য তীব্র হয়, বিশাল জনগোষ্ঠী জুড়ে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ে, রোগব্যাধি ও মহামারি দেখা দেয়, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং চুরি-ডাকাতি বেড়ে যায়।
আব্বাসীয় যুগের শেষ শতাব্দীতে বাগদাদসহ বেশ কিছু শহর এই পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছিল; যেমন ৬২২ হিজরিতে মসুলে যে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكانت هذه الحالات تظهر على فترات متقطعة، وتشتد لبعض الوقت، ثم تزول لتعاود الكرة بعد حين.
ولا يخفى أن لمثل هذا الوضع الاجتماعي أثرًا بالغًا على الناس بعامة، وعلى العلماء بخاصة، لكن من العلماء من استسلم للأمر الواقع، ومنهم من شمر للدعوة والإصلاح، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وكان ابن النجار واحدًا من هؤلاء؛ حيث ذكر في سيرته اهتمامه بأمور الناس، وتصديه للدعوة والإصلاح، رغم مشاغله العلمية.
ج - الحالة العلمية:
بالرغم من تفاقم الاضطربات السياسية، وكثرة الفتن والاختلافات، وتمزق الدولة العباسية، وما نتج عن ذلك من سوء الحالة الاجتماعية، وكثرة الجوع والأمراض والأوبئة، وعدم الأمن والاستقرار في كثير من الممالك والسلطنات الإسلامية كما تقدم، إلا أن الحالة العلمية كانت مزدهرة، يشجعها الخلفاء الذين عاصرهم ابن النجار؛ فقد اشتغل الناصر لدين الله أحمد أبو العباس في وسط خلافته برواية الحديث، واستناب عنه نوابًا في الإجازة والتسميع، وأجرى عليهم جرايات، وكتب للملوك والعلماء إجازات، وجمع كتابًا سبعين حديثًا، ووصل إلى حلب وسمعه الناس.
وأجاز الناصر لجماعة من الأعيان، فحدثوا عنه، منهم ابن سُكَيْنة، وابن الأخضر، وابن النجار، وقاضي القضاة ابن الدامغاني، وولي العهد، والملك العادل وبنوه، والشيخ محمود الزنجاني، والشيخ المقداد القيسي
(1).
--------------------------------------------
এই পরিস্থিতিগুলো মাঝেমধ্যে দেখা দিত, কিছু সময়ের জন্য তীব্র হতো, তারপর দূরীভূত হতো এবং কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসত।
এটি অস্পষ্ট নয় যে, এ ধরনের সামাজিক পরিস্থিতির সাধারণ মানুষের ওপর এবং বিশেষ করে আলেমদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ছিল। তবে আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বিদ্যমান বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন, আবার কেউ কেউ দাওয়াত, সংস্কার এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন। ইবনুন নাজ্জার তাঁদেরই একজন ছিলেন; তাঁর জীবনীতে মানুষের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ এবং তাঁর ইলমি ব্যস্ততা সত্ত্বেও দাওয়াত ও সংস্কার কাজে তাঁর আত্মনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ - ইলমি অবস্থা:
রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি, প্রচুর ফিতনা ও মতপার্থক্য, আব্বাসীয় রাষ্ট্রের বিভাজন এবং এর ফলে সামাজিক পরিস্থিতির অবনতি, ব্যাপক ক্ষুধা, রোগব্যাধি ও মহামারি এবং পূর্বে বর্ণিত বহু ইসলামি রাজত্ব ও সুলতানাতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অভাব সত্ত্বেও ইলমি অবস্থা ছিল সমৃদ্ধ। ইবনুন নাজ্জারের সমসাময়িক খলিফারা একে উৎসাহিত করতেন। আন-নাসির লি-দীনিল্লাহ আহমদ আবু আল-আব্বাস তাঁর খিলাফতের মধ্যবর্তী সময়ে হাদিস বর্ণনায় মনোনিবেশ করেছিলেন। তিনি ইজাজত প্রদান এবং হাদিস শ্রবণের (তাসমি') জন্য নিজের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন, তাঁদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন, রাজা-বাদশাহ ও আলেমদের জন্য ইজাজতপত্র লিখেছিলেন এবং সত্তরটি হাদিসের একটি গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন, যা আলেপ্পো পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং মানুষ তা তাঁর থেকে শ্রবণ করেছিল।
আন-নাসির একদল বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ইজাজত প্রদান করেছিলেন এবং তাঁরা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুস সুকাইনা, ইবনুল আখদার, ইবনুন নাজ্জার, কাযিউল কুযাত ইবনুদ দামাগানি, যুবরাজ, আল-মালিকুল আদিল ও তাঁর পুত্রগণ, শায়খ মাহমুদ আয-যানজানি এবং শায়খ আল-মিকদাদ আল-কায়সি
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يقول ابن النجار: شرفني الناصر بالإجازة، ورويت عنه بالحرمين، ودمشق، والقدس، وحلب، وبغداد، وأصبهان، ونيسابور، ومرو، وهمدان
(1)، وفي سنة إحدى وعشرين وست مئة بنيت دار الحديث الكاملية بالقاهرة بين القصرين، وجعل شيخها أبو الخطاب ابن دحية
(2).
وقد روى الخليفة الظاهر بأمر الله أبو نصر الحديث عن والده بالإجازة، وروى عنه أبو صالح؛ نصر بن عبد الرزاق ابن الشيخ عبد القادر الجيلي
(3)، وهذا يدل على اهتمام الخلفاء في هذه الحقبة بالعلم والعلماء.
وبنى الخليفة المستنصر بالله أبو جعفر المدرسة المستنصرية، ورتب فيها الرواتب الحسنة لأهل العلم، كما بنى على دجلة من الجانب الشرقي مدرسة، ما بني على وجه الأرض أحسن منها، ولا أكثر منها وقوفًا، وهي بأربعة مدرسين على المذاهب الأربعة، وعمل فيها مارستاناً، ورتب فيها مطبخًا للفقهاء، ومُزَمَّلة للماء البارد، ورتب لبيوت الفقهاء الحصر والبسط، والزيت، والورق، والحبر، وغير ذلك، وللفقيه بعد ذلك في الشهر دينارًا، ورتب لهم حمامًا، وهو أمر لم يسبق إلى مثله
(4).
وقد بلغ ارتفاع وقوف المدرسة المستنصرية في العام نيفًا وسبعين ألف مثقال، وكان ابتداء عمارتها في سنة خمس عشرة وست مئة، وتمت في سنة إحدى
--------------------------------------------
ইবনে নাজ্জার বলেন: আন-নাসির আমাকে ইজাজত (অনুমতি) প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, এবং আমি তাঁর থেকে হারামাইন (মক্কা ও মদিনা), দামেস্ক, কুদস (জেরুজালেম), হালব, বাগদাদ, ইসফাহান, নিশাপুর, মার্ভ এবং হামাদানে হাদিস বর্ণনা করেছি
(১)। ৬২১ হিজরি সনে কায়রোর বাইনাল কাসরাইন নামক স্থানে ‘দারুল হাদিস আল-কামিলিয়্যাহ’ নির্মিত হয় এবং আবু আল-খাত্তাব ইবনে দিহয়াহকে এর শাইখ নিযুক্ত করা হয়
(২)।
খলিফা আজ-জাহির বি-আমরিল্লাহ আবু নাসর তাঁর পিতার থেকে ইজাজতের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ নাসর ইবনে আবদুর রাজ্জাক ইবনে শাইখ আবদুল কাদির আল-জিলানি
(৩); এটি এই যুগে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি খলিফাদের গভীর আগ্রহের প্রমাণ বহন করে।
খলিফা আল-মুস্তানসির বিল্লাহ আবু জাফর ‘মাদরাসা আল-মুস্তানসিরিয়্যাহ’ নির্মাণ করেন এবং এতে আলেমদের জন্য উত্তম ভাতার ব্যবস্থা করেন। একইভাবে তিনি দজলা নদীর পূর্ব তীরে এমন একটি মাদরাসা নির্মাণ করেছিলেন, যার চেয়ে সুন্দর এবং যার চেয়ে বেশি ওয়াকফকৃত সম্পদশালী মাদরাসা পৃথিবীতে আর নির্মিত হয়নি। এটি চার মাজহাবের চারজন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হতো। সেখানে তিনি একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন এবং ফকিহদের জন্য একটি পাকশালা ও শীতল পানির পাত্রের ব্যবস্থা করেন। ফকিহদের আবাসন কক্ষের জন্য তিনি চাটাই, কার্পেট, তেল, কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের ব্যবস্থা করেন এবং এরপর প্রত্যেক ফকিহকে প্রতি মাসে এক দিনার করে প্রদান করতেন। তিনি তাদের জন্য একটি গোসলখানারও ব্যবস্থা করেন, যা ছিল নজিরবিহীন
(৪)।
এক বছরে মাদরাসা আল-মুস্তানসিরিয়্যাহর ওয়াকফকৃত সম্পদের আয় সত্তর হাজার মিসকাল ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ৬১৫ হিজরিতে এবং সম্পন্ন হয়েছিল এক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وثلاثين، ونقل إليها الكتب، وهي مئة وستون حملاً من الكتب النفيسة، وعدد فقهائها مئتان وثمان وأربعون فقيهًا من المذاهب الأربعة، وأربع مدرسين، وشيخ حديث، وشيخ نحو، وشيخ طب، وشيخ فرائض، ورتب فيها الخبز والطبيخ، والحلاوة والفاكهة، وجعل فيها ثلاثين يتيمًا، ووقف عليها ما لا يعبر عنه كثرة، وفتحت في رجب، يوم الخميس، وحضر القضاة والمدرسون والأعيان، وسائر الدولة، وكان يومًا مشهودًا
(1).
وقال ابن النجار: وبيعت كتب العلم في أيام الخليفة المستنصر بالله بأغلى الأثمان؛ لرغبته فيها، ولوقفها
(2).
ولقد ختم القرآن آخر الخلفاء العباسيين المستعصم بالله على ابن النيَّار، فأكرمه يوم الختم ستة آلاف دينار، واستجاز له ابن النجار المؤيد الطوسي، وعبد المعز الهروي، وسمع منه بها شيخه أبو الحسن ابن النيار، وحدث عنه.
وحدث عنه بهذه الإجازة في حياته الباذرائي، ومحيي الدين ابن الجوزي.
وقد حدث عنه بمراغة ولده الأمير مبارك
(3).
وهكذا نرى ازدهار العلم والحياة العلمية، وتشجيع الخلفاء للعلماء، ومشاركتهم في ازدهار العلم، وبنائهم للمدارس، والإغداق بالإنفاق عليها.
--------------------------------------------
...এবং ত্রিশ (সালে), সেখানে কিতাবসমূহ স্থানান্তরিত করা হয়, যা ছিল একশ ষাট বোঝার সমান মূল্যবান পাণ্ডুলিপি। সেখানে চার মাজহাবের মোট দুইশ আটচল্লিশ জন ফকিহ ছিলেন, চারজন শিক্ষক, একজন হাদিস বিশারদ, একজন ব্যাকরণবিদ, একজন চিকিৎসক এবং একজন উত্তরাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। সেখানে রুটি, রান্না করা খাবার, মিষ্টান্ন ও ফলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে ত্রিশজন এতিমকেও স্থান দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য অঢেল সম্পদ ওয়াকফ করা হয় যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এটি রজব মাসের এক বৃহস্পতিবারে উদ্বোধন করা হয়। এতে কাজিগণ, শিক্ষকগণ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এটি ছিল এক স্মরণীয় দিন
(১).
ইবনে নাজ্জার বলেন: খলিফা মুসতানসির বিল্লাহর শাসনামলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কিতাবসমূহ সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হত; কারণ কিতাবের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল এবং তিনি তা ওয়াকফ করতেন
(২).
আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে সর্বশেষ খলিফা মুসতাসিম বিল্লাহ ইবনুন নাইয়্যারের নিকট কুরআন খতম করেন। কুরআন খতমের দিন তিনি তাকে ছয় হাজার দিনার প্রদান করে সম্মানিত করেন। ইবনে নাজ্জার তার জন্য মুয়ায়্যিদ আত-তুসি এবং আবদুল মুইজ আল-হারাবীর নিকট থেকে ইজাজত গ্রহণ করেছিলেন। তার শিক্ষক আবু হাসান ইবনুন নাইয়্যার তার নিকট থেকে শুনেছেন এবং তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
তার জীবদ্দশাতেই আল-বাযরাই এবং মুহিউদ্দিন ইবনুল জাওজি এই ইজাজত অনুযায়ী তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
মারাগা শহরে তার পুত্র আমির মুবারক তার থেকে বর্ণনা করেছেন
(৩).
এভাবেই আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের সমৃদ্ধি, আলেমদের প্রতি খলিফাদের উৎসাহ প্রদান, জ্ঞানের প্রসারে তাদের অংশগ্রহণ, মাদরাসা নির্মাণ এবং সেগুলোর পেছনে অঢেল অর্থ ব্যয় করার চিত্র দেখতে পাই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ترجمة ابن النجار:
1 - اسمه ونسبه:محمد بن محمود بن الحسن بن هبة الله بن محاسن بن هبة الله البغدادي، المعروف بابن النجار
(1).
2 - مولده:ولد ليلة الأحد، الثالث والعشرين من ذي القعدة عام ثمان وسبعين وخمس مئة ببغداد
(2)، وذكر ابن كثير أن ولادته كانت سنة ثلاث وسبعين وخمس مئة (
3). 3 - نشأته العلمية:نشأ ابن النجار بدار عرفت بالعلم والتقوى، ويتبين لنا ذلك من ترجمته لأخيه من أبيه علي بن محمود بن الحسن بن هبة الله النجار، أبو الحسن البزاز الأمين، أخي الأبوي: قرأ الفرائض والحساب حتى برع فيهما، وصار أعرف زمانه بقسمة التركات، وكان يعرف الجبر والمقابلة في الحساب، ويستخرج العويص من المسائل، من غير أن يكتب بيده شيئًا. ويقول:
--------------------------------------------
ইবনে আন-নাজ্জারের জীবনী:১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন মাহাসিন বিন হিবাতুল্লাহ আল-বাগদাদি, যিনি ইবনে আন-নাজ্জার নামে পরিচিত
(১)।
২ - তাঁর জন্ম:তিনি বাগদাদে পাঁচশ আটাত্তর হিজরি সালের তেইশে জিলকদ রবিবার রাতে জন্মগ্রহণ করেন
(২), এবং ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন যে তাঁর জন্ম ছিল পাঁচশ তিয়াত্তর হিজরি সালে (
৩)। ৩ - তাঁর জ্ঞানগত বেড়ে ওঠা:ইবনে আন-নাজ্জার এমন এক গৃহে লালিত-পালিত হয়েছেন যা জ্ঞান ও তাকওয়ার জন্য পরিচিত ছিল। তাঁর বাবার দিক থেকে ভাই আলী বিন মাহমুদ বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আন-নাজ্জার, আবু আল-হাসান আল-বাযযায আল-আমিন-এর জীবনী থেকে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়; তিনি তাঁর এই ভাই সম্পর্কে বলেন: তিনি ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) এবং গণিত অধ্যয়ন করেছিলেন যতক্ষণ না তিনি এই উভয় বিষয়ে পারদর্শী হন এবং তাঁর সময়ে উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টনে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি গণিতে বীজগণিত এবং সমীকরণ জানতেন এবং হাতে কিছু না লিখেই জটিল সব সমস্যার সমাধান বের করতেন। তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
علقت عنه كثيرًا من الحكايات والأناشيد والتواريخ، وكان هو الذي رباني، فإن والدي رحمه الله توفي ولي سبع سنين، وكان يحملني معه إلى الجامع في أيام الجمعة وأيام العيدين، ويعلمني كيف أقول.
وحججت مع والدتي ولي تسع سنين، فكان أخي يأخذني على عنقه ويريني المناسك، ويطوف بي المشاهد، وكان يؤدبني، ويثقفني، وينبهني على معالي الأمور، جزاه الله عني خيرًا، فهو والدي وأخي.
وكان رحمه الله قد جمع كتابًا جليلاً في الفرائض، ذكر فيه كل فريضة تقع في الدنيا، وقسمتها، وفقدته بعد موته، وذهب في جملة ما ذهب من ماله
(1).
ولقد أبدى ابن النجار ذكاءه ومقدرته في حفظ الحديث وعلم الأصول في سنواته المبكرة، وأول سماعه وله عشر سنين، وأول عنايته بالطلب وله خمس عشرة سنة
(2).
وشرع في كتابه التاريخ وعمره خمس عشرة سنة، والقراءات، وقرأ بنفسه على المشايخ كثيرًا، حتى حصل نحوًا من ثلاثة آلاف شيخ، من ذلك نحو من أربع مئة امرأة، وتغرب ثمانيًا وعشرين سنة، ثم جاء إلى بغداد وقد جمع أشياء كثيرة
(3).
أخذ ابن النجار شيئًا من علم العربية عن جماعة من النحاة البغداديين، كأبي بكر (المبارك بن المبارك الواسطي النحوي الضرير)
(4)، ،وأبي الحسن علي بن
--------------------------------------------
আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কাহিনী, কাব্য এবং ইতিহাস বর্ণনা করেছি। তিনিই আমাকে লালন-পালন করেছেন; কারণ আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যখন মারা যান, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। তিনি আমাকে জুমার দিনে এবং দুই ঈদের দিনে মসজিদে সাথে নিয়ে যেতেন এবং আমাকে কী বলতে হবে তা শেখাতেন।
আমি যখন নয় বছর বয়সে উপনীত হলাম, তখন আমার মায়ের সাথে হজ পালন করেছি। আমার ভাই আমাকে তাঁর কাঁধে বহন করতেন এবং আমাকে হজের নিয়মাবলী দেখাতেন এবং পবিত্র স্থানসমূহ প্রদক্ষিণ করাতেন। তিনি আমাকে আদব-কায়দা শেখাতেন, সুশিক্ষিত করে তুলতেন এবং আমাকে মহৎ বিষয়াদির প্রতি সচেতন করতেন। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন; কারণ তিনি ছিলেন আমার পিতা এবং আমার ভাই।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) সম্পর্কে এক বিশাল গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন, যেখানে তিনি পৃথিবীতে সচরাচর ঘটা প্রতিটি মিরাস এবং তার বণ্টন পদ্ধতি উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর আমি সেটি হারিয়ে ফেলি এবং তাঁর অন্যান্য ধন-সম্পদের সাথে সেটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়
(১)।
ইবনে নাজ্জার তাঁর শৈশব থেকেই হাদিস মুখস্থকরণ এবং উসুল (মূলনীতি) বিদ্যায় তাঁর মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। তিনি দশ বছর বয়সে প্রথম হাদিস শ্রবণ করেন এবং পনেরো বছর বয়স থেকে জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করেন
(২)।
তিনি পনেরো বছর বয়সে তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ এবং কিরাত শাস্ত্রের কাজ শুরু করেন। তিনি নিজ উদ্যোগে শায়খদের নিকট প্রচুর পাঠ গ্রহণ করেন, এমনকি তাঁর উস্তাদ বা শায়খদের সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছিল, যাদের মধ্যে প্রায় চারশ জন ছিলেন মহিলা। তিনি দীর্ঘ আটাশ বছর প্রবাসে অতিবাহিত করেন, অতঃপর প্রচুর জ্ঞান-ভাণ্ডার সংগ্রহ করে বাগদাদে প্রত্যাবর্তন করেন
(৩)।
ইবনে নাজ্জার বাগদাদী নাহুবিদদের (ব্যাকরণবিদ) একটি দলের কাছ থেকে আরবি ভাষাতত্ত্বের কিছু জ্ঞান অর্জন করেন, যেমন আবু বকর (মুবারক ইবনে মুবারক আল-ওয়াসিতি আন-নাহবি আল-দারির) এবং আবুল হাসান আলী ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبارك بن بانويه النحوي
(1)، وأبي البقاء عبد الله بن الحسين النحوي العكبري
(2)، وأبي الخير مصدق بن شبيب بن الحسين الواسطي
(3).
ثم اشتغل بالحديث وكتابته، وسمع ببغداد في سنة ثمان وثمانين وخمس مئة، وهو أول سماعه، ثم طلبه بنفسه في سنة ثلاث وتسعين وخمس مئة، يقرؤه على أبي الفرج بن عبد الوهاب بن صدقة بن كليب الحراني
(4)، وأبي الفرج عبد الرحمن ابن الجوزي
(5)، وأبي أحمد عبد الوهاب بن علي بن علي بن سُكَيْنة البغدادي
(6)، وأبي طاهر المبارك بن المبارك بن هبة الله بن المعطوش العطار
(7)، وأبي القاسم ذاكر بن كامل بن أبي غالب الخفاف
(8)، وعلى جماعة سواهم.
--------------------------------------------
আল-মুবারাক বিন বানুওয়াইহ আন-নাহবী
(১), এবং আবুল বাকা আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আন-নাহবী আল-উকবারী
(২), এবং আবুল খাইর মুসাদ্দিক বিন শাবীব বিন আল-হুসাইন আল-ওয়াসিতী
(৩)।
অতঃপর তিনি হাদিস শাস্ত্র এবং তা লিপিবদ্ধ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি পাঁচশত আটাশি হিজরিতে বাগদাদে হাদিস শ্রবণ করেন, যা ছিল তাঁর হাদিস শ্রবণের সূচনা। এরপর তিনি পাঁচশত তিরানব্বই হিজরিতে স্বয়ং হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি আবু আল-ফারাজ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সাদাকা বিন কুলাইব আল-হাররানী
(৪), আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনুল জাওযী
(৫), আবু আহমাদ আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আলী বিন সুকাইনা আল-বাগদাদী
(৬), আবু তাহির আল-মুবারাক বিন আল-মুবারাক বিন হিবাতুল্লাহ বিন আল-মা’তূশ আল-আত্তার
(৭), আবুল কাসিম জাকির বিন কামিল বিন আবু গালিব আল-খাফফাফ
(৮) এবং তাঁদের ছাড়াও আরও একদল আলেম থেকে হাদিস পাঠ গ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
4 - رحلاته العلمية:لا تتوفر المعلومات الكاملة عن نطاق سماع ابن النجار خلال رحلاته، وتاريخ هذه الرحلات، إلا أننا نذكر ما توافر لنا من سماعه في بعض هذه الرحلات:
رحلته إلى الحجاز:
لقد حج ابن النجار حجته الأولى وهو صغير مع أخيه وأمه وعمره تسع سنوات، وذلك عام 587 هـ كما تقدم.
وحج حجته الثانية في سنة ست وست مئة، وأقام في مكة والمدينة سنة سبع وست مئة، وسمع من إمام الحنابلة بالحرم الشريف نصر بن محمد بن علي، المعروف بالحصري
(1).
ويقول ابن النجار: كنت سمعت منه شيئًا يسيرًا في بغداد، وقرأت عليه كثيرًا أثناء إقامتي بمكة المكرمة، واستفدت منه كثيرًا، وسألته سؤالات، وكان من العلم والدين بمكان
(2).
ويقول: لما دخلت مدينة النبي صلى الله عليه وسلم، وأسعدت بزيارته، أقمت بها، فاجتمعت بجماعة من أهل الصلاح والعلم والفضل من المجاورين بها - وفقهم الله وإيانا لمرضاته -، فسألوني عن فضائل المدينة وأخبارها، فأخبرتهم بما تعلق في خاطري من ذلك، فسألوني إثباته في أوراق، فاعتذرت إليهم بأن الحفظ قد يزيد وينقص،
--------------------------------------------
৪ - তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরসমূহ:ইবনুন নাজ্জারের সফরসমূহের শ্রবণসীমা এবং সফরের তারিখগুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় না, তবে তাঁর এই সফরগুলোর কয়েকটিতে তাঁর শ্রবণের বিষয়ে আমাদের কাছে যা লভ্য হয়েছে তা আমরা উল্লেখ করছি:
হিজাজের উদ্দেশ্যে তাঁর সফর:
ইবনুন নাজ্জার তাঁর প্রথম হজ পালন করেছিলেন বাল্যকালে তাঁর ভাই ও মায়ের সাথে নয় বছর বয়সে, যা ইতোপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে ৫৮৭ হিজরিতে।
তিনি তাঁর দ্বিতীয় হজ পালন করেন ৬০৬ হিজরিতে এবং মক্কা ও মদিনায় ৬০৭ হিজরিতে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি মসজিদে হারামের হাম্বলি ইমাম নাসর বিন মুহাম্মাদ বিন আলী, যিনি আল-হুসারি নামে পরিচিত, তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেন
(১)।
ইবনুন নাজ্জার বলেন: আমি বাগদাদে তাঁর নিকট থেকে সামান্য কিছু শ্রবণ করেছিলাম এবং মক্কা মুকাররমায় আমার অবস্থানকালে তাঁর নিকট অনেক পড়েছি ও তাঁর থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। আমি তাঁকে অনেক প্রশ্ন করেছি, আর তিনি জ্ঞান ও দ্বীনের ক্ষেত্রে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন
(২)।
তিনি বলেন: যখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরে প্রবেশ করলাম এবং তাঁর জিয়ারত দ্বারা সৌভাগ্যমণ্ডিত হলাম, তখন সেখানে অবস্থান করলাম। এমতাবস্থায় সেখানে বসবাসরত পুণ্যবান, জ্ঞানী ও মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের একটি দলের সাথে আমার সাক্ষাৎ হল - আল্লাহ তাদেরকে এবং আমাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টির তাওফিক দান করুন -। তাঁরা আমাকে মদিনার ফজিলত ও সংবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি আমার স্মৃতিতে থাকা সেই সব তথ্য তাঁদের জানালাম। তখন তাঁরা আমাকে তা পাতায় লিপিবদ্ধ করে দিতে অনুরোধ করলেন। আমি তাঁদের কাছে এই বলে ক্ষমা চাইলাম যে, মুখস্থ স্মৃতিতে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটতে পারে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولو كانت كتبي حاضرة؛ كنت أجمع كتابًا في ذلك شافيًا لما في النفس، فألحوا عليَّ، وقالوا: تحصيل اليسير خير من فوات الكثير، وهذه البلدة مع شرفها قد خلت ممن يعرف من أخبارها شيئًا، ونحن نحب أن يكون لك بها أثر صالح تذكر به.
فأجبتهم لذلك؛ رجاء لبركتهم، واغتنامًا لامتثال أمرهم، وقضاء لحق جوارهم وصحبتهم، وطلبًا لما عند الله تعالى من الثواب بنشر فضائل دار الهجرة ومنبع الوحي، وذكر أخبارها، والترغيب في سكناها، والحث على زيارة المدفون بها صلوات الله عليه وسلامه، واستخرت الله سبحانه وتعالى، وأثبت في هذا الكتاب ما تيسر من ذلك بعون الله وحسن توفيقه، ثم إني ذكرت أكثره بغير إسناد؛ لتعذر حضور أصولي
(1).
رحلته إلى الشام:
دخل ابن النجار الشام من مكة المكرمة في سنة ثمان وست مئة، فقرأ بدمشق على أبي اليمن زيد بن الحسن الكندي
(2)، وابي القاسم الحرستاني
(3)، وكتب بالإجازة عن أبي المواهب الحسن بن العدل أبي البركات هبة الله بن محفوظ بن صصرى
(4).
--------------------------------------------
যদি আমার গ্রন্থগুলো উপস্থিত থাকত, তবে আমি এ বিষয়ে এমন একটি কিতাব সংকলন করতাম যা মনের তৃষ্ণা মিটাতো। কিন্তু তারা আমাকে পীড়াপীড়ি করতে লাগল এবং বলল: ‘পুরোটা হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে যৎসামান্য অর্জন করাও উত্তম। আর এই শহরটি তার মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এমন লোকদের থেকে শূন্য হয়ে পড়েছে যারা এর ইতিবৃত্ত সম্পর্কে কিছু জানে। আর আমরা চাই যে আপনার মাধ্যমে এখানে এমন একটি নেক আমলের নিদর্শন থাকুক যার দ্বারা আপনাকে স্মরণ করা হবে।’
সুতরাং তাদের বরকতের আশায়, তাদের নির্দেশ পালনের সুযোগ গ্রহণ করতে, তাদের প্রতিবেশী হওয়ার ও সাহচর্যের হক আদায় করতে এবং হিজরতের আবাসস্থল ও ওহীর উৎসের ফযিলত প্রচারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে সওয়াব লাভের প্রত্যাশায় আমি তাদের আহবানে সাড়া দিলাম। সেই সাথে এর ইতিহাস বর্ণনা করা, এখানে বসবাসের প্রতি উৎসাহিত করা এবং যিনি এখানে সমাহিত আছেন (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর যিয়ারত করার অনুপ্রেরণা প্রদানের উদ্দেশ্যে আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ও উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে যা সহজ হয়েছে আমি এই কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করেছি। অতঃপর, আমি এর অধিকাংশ বিষয় সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছি; কারণ আমার মূল পাণ্ডুলিপিগুলো উপস্থিত পাওয়া অসম্ভব ছিল
(১)।
তাঁর সিরিয়া সফর:
ইবনুন নাজ্জার ৬০৮ হিজরীতে মক্কা মুকাররমা থেকে সিরিয়ায় প্রবেশ করেন। তিনি দামেস্কে আবুল ইয়ামান যাইদ ইবনুল হাসান আল-কিন্দি
(২) এবং আবুল কাসিম আল-হারাসতানির
(৩) নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি আবুল মাওয়াহিব হাসান ইবনুল আদল এবং আবুল বারাকাত হিবাতুল্লাহ ইবনে মাহফূজ ইবনে সসরা
(৪) থেকে ইজাযত গ্রহণের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২০)
رحلته إلى حلب:
وقدم إلى حلب بعد دمشق، فسمع بها أبا هاشم عبد المطلب بن الفضل الهاشمي
(1)، وأبا محمد عبد الرحمن بن عبد الله بن علوان الأسدي
(2).
رحلته إلى الموصل:
سمع في الموصل من الشيخ المقرئ أبي الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز الواسطي السَّفَّار
(3).
رحلته إلى تكريت:
وسمع في تكريت من يحيى بن سعد الله بن حسين بن أبي تمام التكريتي، أبو الفتوح بن أبي السعادات
(4).
رحلته إلى هراة
وسمع في هراة من مسند خراسان حافظ الدين أبي روح عبد المعز بن محمد بن أبي الفضل الساعدي الخراساني الهروي البزاز الصوفي
(5).
--------------------------------------------
হালাব (আলেপ্পো) সফর:
তিনি দামেস্কের পর হালাবে আগমন করেন এবং সেখানে আবু হাশিম আব্দুল মুত্তালিব ইবনুল ফাদল আল-হাশিমী
(১) এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলওয়ান আল-আসাদী
(২)-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেন।
মাওসিল (মোসেল) সফর:
তিনি মাওসিলে প্রখ্যাত ক্বারী শায়খ আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবিল ইয আল-ওয়াসিতী আস-সাফফার
(৩)-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেন।
তিকৃত সফর:
তিনি তিকৃতে ইয়াহইয়া ইবনে সাআদুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে আবি তাম্মাম আত-তিকৃতী, আবু আল-ফুতুহ ইবনে আবিল সাআদাত
(৪)-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেন।
হারাত (হেরাত) সফর
তিনি হারাতের মুসনিদে খোরাসান হাফিযুদ্দীন আবু রুহ আব্দুল মুইয ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল ফাদল আস-সাঈদী আল-খোরাসানী আল-হারওয়ী আল-বায্যায আস-সূফী
(৫)-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২১)
رحلته إلى أصفهان:
سمع في أصفهان من أصحاب أبي بكر محمد بن علي بن أبي الذر الصالحاني
(1)، وإسماعيل بن الفضل بن أحمد بن الإخشيد السراج
(2)، وغانم بن خالد بن عبد الواحد بن أحمد، الشيخ أبو القاسم الأصبهاني التاجر
(3)، وزاهر بن طاهر بن محمد بن أحمد النيسابوري الشحامي المستملي الشروطي الشاهد
(4).
رحلته إلى نيسابور:
ثم رحل إلى نيسابور، فسمع بها من المؤيد بن محمد بن علي الطوسي
(5)، وأبي بكر القاسم بن عبد الله بن عمر بن أحمد الصفار
(6)، وزينب بنت عبد الرحمن
--------------------------------------------
ইসফাহান সফর:
তিনি ইসফাহানে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবিল যার আস-সালিহানী
(১), ইসমাঈল ইবনুল ফাদল ইবনে আহমাদ ইবনুল ইখশীদ আস-সাররাজ
(২), গানিম ইবনে খালিদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ -যিনি শায়খ আবুল কাসিম আল-আসবাহানী আল-তাজির হিসেবে পরিচিত-
(৩) এবং জাহির ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আন-নিসাবুরী আশ-শাহামী আল-মুস্তামলী আশ-শুরুতী আশ-শাহিদ
(৪)-এর নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন।
নিশাপুর সফর:
অতঃপর তিনি নিশাপুর সফর করেন এবং সেখানে আল-মুআইয়াদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আত-তূসী
(৫), আবু বকর আল-কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আহমাদ আস-সাফফার
(৬) এবং যয়নব বিনতে আব্দুর রহমান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২২)
ابن أحمد الشَّعري
(1)، وغيرهم.
رحلته إلى مرو:
ثم رحل إلى مرو، فسمع بها من أبي المظفر عبد الرحيم بن عبدالكريم السمعاني
(2)، وغيره.
رحلته إلى همدان:
ثم عاد ابن النجار إلى بغداد، وخرج منها إلى بلاد الجبل، فسمع بهمدان من أصحاب أبي المحاسن نصر بن المظفر البرمكي الجرجاني ثم الهمداني
(3)، ثم عاد إلى بغداد، فسمع ببسطام، ودامغان، والري، وساوة، وهمدان، وأسداباذ، وغير ذلك من البلاد، ولم تذكر المصادر الشيوخ الذين سمع منهم في هذه الرحلات، ولا تحديد تاريخها
(4).
ثم أقام ببغداد سنة، ثم عاد ودخل أصفهان، فسمع بطريقه بنهاوند، والكرج، وأقام بأصفهان إلى أن استولى الكفار على البلاد سنة عشرين وست
--------------------------------------------
ইবনে আহমাদ আশ-শা'রী
(১) এবং অন্যান্যরা।
মার্ভ অভিমুখে তার সফর:
এরপর তিনি মার্ভ সফর করেন এবং সেখানে আবুল মুজাফফর আব্দুর রহিম বিন আব্দুল কারিম আস-সামআনী
(২) ও অন্যদের থেকে শ্রবণ করেন।
হামাদান অভিমুখে তার সফর:
এরপর ইবনুন নাজ্জার বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে জাবাল অঞ্চলের শহরগুলোর দিকে বের হন। তিনি হামাদানে আবুল মাহাসিন নাসর বিন আল-মুজাফফর আল-বারমাকি আল-জুরজানি অতঃপর আল-হামাদানি
(৩)-এর ছাত্রদের থেকে শ্রবণ করেন। এরপর তিনি পুনরায় বাগদাদে ফিরে আসেন এবং বিস্তাম, দামগান, আর-রাই, সাওয়া, হামাদান, আসদাবাদ এবং অন্যান্য শহরগুলোতে শ্রবণ করেন। তবে উৎসসমূহ এই সফরগুলোতে তিনি যাঁদের থেকে শ্রবণ করেছেন সেই শিক্ষকদের নাম কিংবা সফরের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেনি
(৪)।
এরপর তিনি এক বছর বাগদাদে অবস্থান করেন, তারপর পুনরায় ইসফাহানে প্রবেশ করেন। তিনি পথিমধ্যে নেহাওয়ান্দ ও কারাজে শ্রবণ করেন এবং ইসফাহানে অবস্থান করেন যতক্ষণ না ৬২০ হিজরি সালে কাফিররা অঞ্চলটি দখল করে নেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مئة
(1)، وهو بها يكتب ويسمع، إلى أن يسر الله له الخروج منها سالمًا مع كتبه وما جمعه وألفه إلى بغداد، فدخلها، وأقام بها ثلاثة أشهر، ثم رحل عنها إلى البلاد الشامية رحلته الثانية، فحدث بها، ثم توجه إلى الديار المصرية.
رحلته إلى مصر:
لعل رحلة ابن النجار إلى مصر كانت سنة عشرين وست مئة، أو في السنة التي بعدها، فسمع بها من الزاهد الكبير محمد بن إبراهيم بن أحمد بن طاهر الشيرازي الخبري الفيروزآبادي الشافعي الصوفي
(2)، وكتب عن الشيوخ في مصر، وعلق الفوائد، وأكرمه سلطانها الملك الكامل أبو المظفر محمد بن الملك العادل أبي بكر بن أيوب
(3)، وسأله المقام فلم يجب إلى ذلك.
رحلته إلى الإسكندرية:
سمع ابن النجار في الإسكندرية من الشيخ الإمام المقرئ المجود المحدث المسند الفقيه أبي الفضل جعفر بن علي بن هبة الله الهمداني الإسكندراني
--------------------------------------------
শতাধিক
(১), আর তিনি সেখানে লিখতেন এবং শ্রবণ করতেন, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁর জন্য সেখান থেকে তাঁর কিতাবসমূহ এবং যা কিছু তিনি সংগ্রহ ও রচনা করেছিলেন তা সহ নিরাপদে বাগদাদের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সহজ করে দিলেন। অতঃপর তিনি সেখানে প্রবেশ করলেন এবং তিন মাস অবস্থান করলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে সিরিয়া অঞ্চলের উদ্দেশ্যে তাঁর দ্বিতীয় সফরে রওনা হলেন এবং সেখানে হাদীস বর্ণনা করলেন। এরপর তিনি মিশর অভিমুখে যাত্রা করলেন।
মিশরে তাঁর সফর:
সম্ভবত মিশরে ইবনে আন-নাজ্জারের সফর ছিল ৬২০ হিজরী সনে অথবা তার পরবর্তী বছরে। সেখানে তিনি প্রখ্যাত সাধক মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন তাহির আল-শিরাজি আল-খাবারি আল-ফিরুজাবাদি আল-শাফিঈ আস-সুফি
(২) এর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি মিশরের শাইখদের নিকট থেকে (হাদীস) লিখেছেন এবং মূল্যবান টীকা (ফাওয়াইদ) যুক্ত করেছেন। মিশরের সুলতান আল-মালিক আল-কামিল আবু আল-মুজাফফর মুহাম্মদ বিন আল-মালিক আল-আদিল আবু বকর বিন আইয়ুব
(৩) তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং তাঁকে সেখানে অবস্থানের অনুরোধ জানান, কিন্তু তিনি তাতে সম্মত হননি।
আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর সফর:
ইবনে আন-নাজ্জার আলেকজান্দ্রিয়ায় শাইখ, ইমাম, ক্বারী, মুজাওয়িদ, মুহাদ্দিস, মুসনিদ, ফকীহ আবুল ফজল জাফর বিন আলী বিন হিবাতুল্লাহ আল-হামদানি আল-ইসকান্দারানির নিকট শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المالكي
(1)، وسمع من عبد الوهاب بن ظافر بن علي بن فتوح بن الحسين بن إبراهيم، المحدث المسند الأزدي القرشي الإسكندراني المالكي
(2).
ثم عاد ابن النجار من الديار المصرية قاصدًا مدينة السلام، فدخلها وأقام بها يسمع الحديث ويعلمه ويفيد الناس
(3).
5 - شيوخه:اشتملت مشيخة ابن النجار على ثلاثة آلاف شيخ وأربع مئة امرأة
(4)، وقال ابن كثير: إن ابن النجار قرأ بنفسه على المشايخ كثيرًا، حتى حصل نحوًا من ثلاثة آلاف شيخ من ذلك نحو من أربع مئة امرأة
(5).
ولكثرة شيوخه من الرجال والنساء، سأقتصر على ذكر من روى عنهم في كتابه الدرة الثمينة في أخبار المدينة:
الشيخ أحمد بن أبي العلاء، الحسن بن أحمد بن الحسن بن سهل العطار الهمداني، أبو عبد الله
(6).
--------------------------------------------
আল-মালিকি
(১), এবং তিনি শ্রবণ করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে জাফির ইবনে আলী ইবনে ফুতুহ ইবনে হুসাইন ইবনে ইবরাহিমের নিকট থেকে, যিনি ছিলেন মুহাদ্দিস, মুসনিদ, আল-আজদি, আল-কুরাশি, আল-ইসকান্দারানি এবং আল-মালিকি
(২)।
অতঃপর ইবনুন নাজ্জার মিশরীয় ভূখণ্ড থেকে 'মাদিনাতুস সালাম' (বাগদাদ)-এর উদ্দেশ্যে ফিরে এলেন। সেখানে প্রবেশ করে তিনি অবস্থান করলেন, হাদীস শ্রবণ করলেন, তা শিক্ষা দিলেন এবং মানুষকে উপকৃত করলেন
(৩)।
৫ - তাঁর শিক্ষকগণ:ইবনুন নাজ্জারের মাশাইখ (শিক্ষক) তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তিন হাজার শায়খ এবং চারশত নারী
(৪), এবং ইবনে কাসির বলেন: ইবনুন নাজ্জার স্বয়ং শায়খদের নিকট প্রচুর পাঠ গ্রহণ করেছেন, এমনকি তিনি প্রায় তিন হাজার শায়খ (শিক্ষক) লাভ করেছিলেন, যার মধ্যে প্রায় চারশত ছিলেন নারী
(৫)।
তাঁর পুরুষ ও নারী শিক্ষকদের আধিক্যের কারণে আমি কেবল তাঁর 'আদ-দুররাতুস সামীনা ফী আখবারিল মদীনা' গ্রন্থে যাঁদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁদের নাম উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব:
শায়খ আহমদ ইবনে আবিল আলা, আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে সাহল আল-আত্তার আল-হামদানি, আবু আব্দুল্লাহ
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الشيخ حنبل بن عبد الله الرصافي، أبو عبد الله المكبر
(1).
الشيخ ذاكر بن كامل بن أبي غالب محمد بن حسين أبو القاسم الخفاف البغدادي
(2).
الشيخ صالح بن الحسن الحريمي.
عبد الرحمن بن أبي الحسن بن إبراهيم الكناني الداراني، أبو محمد
(3).
عبد الرحمن بن علي الحافظ، أبو الفرج بن الجوزي
(4).
عبد الرحمن بن علي بن أحمد بن علي بن محمد البغدادي الفقيه الواعظ، موفق الدين
(5).
عبد العزيز بن أبي نصر محمود بن المبارك الجنابذي الأصل البغدادي التاجر البزاز ابن الأخضر
(6).
--------------------------------------------
শায়খ হানবাল বিন আবদুল্লাহ আল-রুসাফি, আবু আবদুল্লাহ আল-মুকাব্বির
(১)।
শায়খ জাকির বিন কামিল বিন আবি গালিব মুহাম্মদ বিন হুসাইন আবু আল-কাসিম আল-খাফফাফ আল-বাগদাদি
(২)।
শায়খ সালিহ বিন আল-হাসান আল-হারিমি।
আবদুর রহমান বিন আবি আল-হাসান বিন ইবরাহিম আল-কিনানি আদ-দারানি, আবু মুহাম্মদ
(৩)।
আবদুর রহমান বিন আলী আল-হাফিয, আবু আল-ফারাজ বিন আল-জাওজি
(৪)।
আবদুর রহমান বিন আলী বিন আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদি আল-ফকিহ আল-ওয়ায়িজ, মুওয়াফফাক আদ-দ্বীন
(৫)।
আবদুল আজিজ বিন আবি নাসর মাহমুদ বিন আল-মুবারক আল-জানাবিজি আল-আসল আল-বাগদাদি আল-তাজির আল-বাজ্জাজ ইবনুল আখদার
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن محمد الهمذاني الشافعي، أبو جعفر الواسطي
(1).
عبد الوهاب بن علي بن علي ابن سكينة)
(2).
الشيخة عفيفة بنت أحمد بن عبد الله الواعظ الفارقاني، أم هانئ الأصفهانية
(3).
القاسم بن علي بن الحسن بن هبة الله بن عساكر الحافظ أبو محمد
(4).
لاحق بن أبي الفضل بن علي بن قندرة الجريمي الخباز، أبو طاهر
(5).
المبارك بن المبارك بن المعطوش، أبو طاهر
(6).
محمد بن المبارك بن ميمون أبو غالب الكاتب
(7).
--------------------------------------------
শাইখ আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-হামদানি আশ-শাফিয়ি, আবু জাফর আল-ওয়াসিতি
(১).
আবদুল ওয়াহহাব বিন আলি বিন আলি ইবনে সাকিনাহ
(২).
শাইখা আফিফা বিনতে আহমাদ বিন আবদুল্লাহ আল-ওয়ায়েজ আল-ফারকানি, উম্মে হানি আল-আসফাহানি
(৩).
আল-কাসিম বিন আলি বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকির আল-হাফিজ আবু মুহাম্মাদ
(৪).
লাহিক বিন আবিল ফাদল বিন আলি বিন কানদারা আল-জারাইমি আল-খাব্বায, আবু তাহির
(৫).
আল-মুবারক বিন আল-মুবারক বিন আল-মাতুশ, আবু তাহির
(৬).
মুহাম্মাদ বিন আল-মুবারক বিন মায়মুন আবু গালিব আল-কাতিব
(৭).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هبة الله بن الحسن بن المظفر بن الحسن الهمذاني، أبو القاسم
(1).
يحيى بن أسعد بن يحيى بن محمد، الشهير بابن بوش البغدادي الخباز
(2).
يحيى بن الحسين بن أحمد، أبو زكريا الأواني الضرير المقرئ
(3).
يحيى بن القاسم بن مفرج بن درع الثعلبي الفقيه، القاضي الشافعي التكريتي ابن الدبيثي
(4).
يحيى بن أبي السعود نصر بن أبي القاسم التميمي اليربوعي الحنظلي البغدادي الأزجي التاجر السفار، أبو القاسم
(5).
الشيخ يحيى بن أبي الفضل السعدي.
وحدث عنه:
الشيخ أبو حامد ابن الصابوني محمد بن علي بن محمود
(6).
--------------------------------------------
হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আল-মুজাফ্ফর বিন আল-হাসান আল-হামাযানী, আবুল কাসিম
(১).
ইয়াহইয়া বিন আসআদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ, ইবনে বুশ আল-বাগদাদী আল-খাব্বায নামে পরিচিত
(২).
ইয়াহইয়া বিন আল-হুসাইন বিন আহমদ, আবু যাকারিয়া আল-আওয়ানী আদ-দরীর আল-মুকরি
(৩).
ইয়াহইয়া বিন আল-কাসিম বিন মুফাররিজ বিন দির’ আত-তা’লাবী আল-ফকীহ, শাফেয়ী বিচারক আত-তিকরিতী ইবনুদ দুবাইসী
(৪).
ইয়াহইয়া বিন আবিল সাউদ নাসর বিন আবিল কাসিম আত-তামীমী আল-ইয়ারবূয়ী আল-হানযালী আল-বাগদাদী আল-আযজী ভ্রাম্যমাণ বণিক, আবুল কাসিম
(৫).
শায়খ ইয়াহইয়া বিন আবিল ফযল আস-সাদী।
এবং তার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন:
শায়খ আবু হামিদ ইবনুস সাবুনী মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাহমুদ
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الشيخ أبو العباس الفاروثي، أحمد بن إبراهيم بن عمر الواسطي الشافعي المقرئ الصوفي شيخ العراق
(1).
الشيخ تاج الدين علي بن أحمد بن عبد المحسن الحسيني الغرافي
(2).
الشيخ تقي الدين أبو الفضل سليمان بن حمزة المقدسي الصالحي
(3).
وأجاز لأحمد بن أبي طالب بن الشحنة راوي الطحاوي.
6 - ثناء العلماء عليه:قال ياقوت الحموي: صاحبنا الإمام محب الدين ابن النجار البغدادي الحافظ، المؤرخ، الأديب، العلامة، أحد أفراد العصر الأعلام، كان إمامًا، حجة، ثقة، حافظًا، مقرئًا، أديبًا، عارفًا بالتاريخ وعلوم الأدب، حسن الإلقاء والمحاضرات، وكان له شعر حسن، وله التصانيف الممتعة
(4).
وقال ابن المستوفي: ابن النجار، من طلبة الحديث المشهورين، سمع الكثير وكتبه، وطلبه في صغره، وأدرك إسنادًا حسنًا، له حفظ ومعرفة وإتقان وفهم
(5).
--------------------------------------------
শেখ আবু আব্বাস আল-ফারুসী, আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে উমর আল-ওয়াসিতী আশ-শাফিঈ আল-মুকরি আস-সূফী, ইরাকের শাইখ
(১)।
শেখ তাজউদ্দীন আলী ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল মুহসিন আল-হুসাইনী আল-গারাফী
(২)।
শেখ তাকীউদ্দীন আবুল ফজল সুলাইমান ইবনে হামজাহ আল-মাকদিসী আস-সালিহী
(৩)।
এবং তিনি আত-তহাওয়ীর বর্ণনাকারী আহমদ ইবনে আবু তালিব ইবনে আশ-শুহনাহ-কে ইজাযত প্রদান করেছেন।
৬ - আলেমগণের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা:ইয়াকুত আল-হামাবী বলেন: আমাদের সঙ্গী ইমাম মুহিব্বুদ্দীন ইবনুন নাজ্জার আল-বাগদাদী আল-হাফিয, ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক, আল্লামা, বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব; তিনি ছিলেন একজন ইমাম, হুজ্জাত (দলীল), নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, হাফিয, ক্বারী, সাহিত্যিক, ইতিহাস ও সাহিত্যশাস্ত্রে বিজ্ঞ, চমৎকার উপস্থাপনা ও বক্তৃতাদানকারী এবং তাঁর সুন্দর কবিতা ও চমৎকার রচনাবলী রয়েছে
(৪)।
ইবনুল মুস্তাওফী বলেন: ইবনুন নাজ্জার হাদীসের প্রসিদ্ধ অন্বেষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি প্রচুর হাদীস শুনেছেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেছেন। শৈশব থেকেই তিনি হাদীস অন্বেষণ করেছেন এবং উত্তম সনদ লাভ করেছেন। তাঁর হিফযশক্তি, জ্ঞান, সূক্ষ্মতা ও প্রজ্ঞা ছিল
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال ابن الساعي: كان ابن النجار ثقة من محاسن الدنيا، وأوصى إلي في أمر تركته، ووقف كتبه بالنظامية، فنفذ إلي الشرابي مئة دينار لتجهيز جنازته ورثاه جماعة من الشعراء
(1).
ويقول الإمام الذهبي: ابن النجار: الإمام، العالم، الحافظ، البارع، محدث العراق، مؤرخ العصر
(2).
وقال محمد شاكر الكتبي: محب الدين ابن النجار البغدادي، الحافظ الكبير، صاحب التاريخ، وكان إمامًا، ثقة، حجة، مقرئًا، مجودًا، حسن المحاضرة، كيسًا، متواضعًا
(3).
وقال ابن كثير: ابن النجار: الحافظ الكبير، سمع الكثير، ورحل شرقًا وغربًا، وشرع في كتاب التاريخ وعمره خمس عشرة سنة، وقرأ بنفسه على المشايخ كثيرًا
(4).
وقال ابن قاضي شهبة: محب الدين ابن النجار البغدادي: سمع الكثير، وقرأ بالسبع على ابن سُكَيْنَة، أثنى عليه ابن نقطة، والدبيثي، والضياء المقدسي، وهما من صغار شيوخه من حيث السند
(5).
وقال ابن العماد الحنبلي: ابن النجار: الحافظ الكبير، كتب ما لا يوصف، وكان ثقة متقنًا، واسع الحفظ، تام المعرفة بالفن، وكان شافعي المذهب، وأول
--------------------------------------------
ইবনুল সায়ী বলেছেন: ইবনুন নাজ্জার ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং দুনিয়ার এক অনন্য সৌন্দর্য। তিনি তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের ব্যাপারে আমাকে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ নিজামিয়া মাদরাসায় ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। অতঃপর আশ-শারাবি তাঁর জানাজার প্রস্তুতির জন্য একশ দিনার পাঠান এবং একদল কবি তাঁর স্মরণে শোকগাথা রচনা করেন
(১)।
ইমাম আয-যাহাবি বলেন: ইবনুন নাজ্জার: তিনি ইমাম, আলেম, হাফেজ, প্রাজ্ঞ, ইরাকের মুহাদ্দিস এবং সমকালের ঐতিহাসিক
(২)।
মুহাম্মদ শাকির আল-কুতুবি বলেন: মুহিব্বুদ্দিন ইবনুন নাজ্জার আল-বাগদাদি; মহান হাফেজ, ইতিহাসের রচয়িতা। তিনি ছিলেন ইমাম, নির্ভরযোগ্য, হুজ্জাত (প্রমাণ), ক্বারি, তাজবিদ বিশারদ, সুবক্তা, বিচক্ষণ ও বিনয়ী
(৩)।
ইবনে কাসির বলেন: ইবনুন নাজ্জার: মহান হাফেজ, তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে সফর করেছেন। তিনি পনেরো বছর বয়সেই ইতিহাস গ্রন্থ রচনার কাজ শুরু করেন এবং নিজেই শায়খদের কাছে প্রভূত পাঠ গ্রহণ করেন
(৪)।
ইবনে কাজি শুহবাহ বলেন: মুহিব্বুদ্দিন ইবনুন নাজ্জার আল-বাগদাদি: তিনি প্রচুর হাদিস শুনেছেন, ইবনু সাকিনাহর কাছে সাত কিরাআতে পাঠ সম্পন্ন করেছেন। ইবনে নুকতাহ, আদ-দাবিসি এবং যিয়া আল-মাকদিসি তাঁর প্রশংসা করেছেন; আর শেষোক্ত দুজন সনদের বিচারে তাঁর কনিষ্ঠ শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
(৫)।
ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি বলেন: ইবনুন নাজ্জার: মহান হাফেজ, তিনি অবর্ণনীয় পরিমাণ কিতাব লিখেছেন। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, নিপুণ, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং এই শিল্পে পূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং প্রথম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনা - ত বাউছিল মাদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
سماعه وهو ابن عشر سنين، وطلب بنفسه، وهو ابن خمس عشرة سنة، وسمع الكثير، وقرأ بالسبع على ابن سكينة، ورحل في طلب العلم إلى بلاد كثيرة، واستمر في الرحلة سبعًا وعشرين سنة
(1).
7 - كتب ابن النجار وآثاره العلمية:لابن النجار شهرة علمية كبيرة وواسعة، فقد كتب عمن دب ودرج، من عال ونازل، ومرفوع وأثر، ونظم ونثر، وبرع وتقدم، فصار المشار إليه ببلده.
1 - وعمل تاريخًا حافلاً لبغداد، ذيل به واستدرك على الخطيب، وهو في مائتي جزء، ينبئ بحفظه ومعرفته
(2).
وقد وصل إلينا بعض هذا الكتاب، حيث تبدأ مخطوطة المكتبة الظاهرية بدمشق بترجمة (عبد المغيث بن زهير)، ولقد اختلفت الآراء حول عدد مجلدات هذا الكتاب، فذكر الذهبي في تذكرة الحفاظ 4/ 1429، وابن العماد في شذرات الذهب 5/ 226 أنه خطط في ستة عشر جزءًا.
وذكر السبكي في طبقات الشافعية 8/ 98، والصفدي في الوافي بالوفيات 5/ 10، والكتبي في فوات الوفيات 4/ 36، أنه صنفه في ثلاثين مجلدًا.
وقد طبع ما في مخطوطة المكتبة الظاهرية في بودلين بجامعة أكسفورد وبجامعة كمبردج، وقامت بطبعه دار الكتب العربية
--------------------------------------------
তাঁর (হাদিস) শ্রবণ শুরু হয় যখন তিনি দশ বছরের বালক ছিলেন এবং পনেরো বছর বয়সে তিনি নিজেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং ইবনে সাকিনাহ-র নিকট সাত কিরাআতে কুরআন পাঠ করেছেন। তিনি ইলম অন্বেষণে অনেক দেশে সফর করেছেন এবং তাঁর এই সফর সাতাশ বছর ধরে অব্যাহত ছিল
(১).
৭ - ইবনে নাজ্জারের গ্রন্থাবলী ও তাঁর ইলমি অবদানসমূহ:ইবনে নাজ্জারের এক বিশাল ও বিস্তৃত ইলমি খ্যাতি ছিল। তিনি সমসাময়িক ও পূর্বসূরিদের থেকে, উচ্চ ও নিম্ন স্তরের সনদ থেকে, মারফু রেওয়ায়েত ও আছার, পদ্য ও গদ্য—সবকিছুই লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষ ও অগ্রগামী ছিলেন, যার ফলে তিনি নিজ শহরে সকলের নির্দেশক ও অনুসরণীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন।
১ - তিনি বাগদাদের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাসগ্রন্থ রচনা করেছেন, যা দ্বারা তিনি খতিব (বাগদাদী)-র কাজের পরিশিষ্ট ও অসম্পূর্ণ অংশ পূরণ করেছেন। এটি দুইশত খণ্ডে সমাপ্ত, যা তাঁর মুখস্থশক্তি ও জ্ঞানের গভীরতার সাক্ষ্য দেয়
(২).
এই বইটির কিছু অংশ আমাদের নিকট পৌঁছেছে, যেখানে দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিটি (আবদুল মুগিছ ইবনে জুহাইর)-এর জীবনী দিয়ে শুরু হয়েছে। এই বইয়ের খণ্ড সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। ইমাম যাহাবি 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' (৪/১৪২৯) গ্রন্থে এবং ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' (৫/২২৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে এটি ১৬টি খণ্ডে বিন্যস্ত করা হয়েছিল।
সুবকি 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' (৮/৯৮) গ্রন্থে, সাফাদি 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত' (৫/১০) গ্রন্থে এবং কুতুবি 'ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত' (৪/৩৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি ৩০ খণ্ডে রচনা করেছেন।
জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিতে যা ছিল তা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোডলিয়ানে মুদ্রিত হয়েছে এবং দারুল কুতুব আল-আরাবিয়্যাহ এটি প্রকাশ করেছে।
--------------------------------------------