(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: -)
الجمع بين الصحيحين للحميدي القسم: كتب السنة
الكتاب: الجمع بين الصحيحين البخاري ومسلم
المؤلف: محمد بن فتوح بن عبد الله بن فتوح بن حميد الأزدي الميورقي الحَمِيدي أبو عبد الله بن أبي نصر (ت 488هـ)
المحقق: د. علي حسين البواب
الناشر: دار ابن حزم - لبنان/ بيروت
الطبعة: الثانية، 1423هـ - 2002م
عدد الأجزاء: 2×4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-হুমায়দী সংকলিত আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: বুখারী ও মুসলিম এই দুই সহীহ গ্রন্থের সংকলন
লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে ফুতূহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ফুতূহ ইবনে হুমাইদ আল-আযদি আল-মায়ুরকি আল-হুমায়দী আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি নাসর (মৃত্যু ৪৮৮ হিজরি)
সম্পাদক: ড. আলী হুসাইন আল-বাওয়াব
প্রকাশক: দার ইবনে হাযম - লেবানন/ বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪ খণ্ড (২ জিলদে)
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيمالْحَمد لله الَّذِي لَا تحصى نعمه، وَلَا يتناهى كرمه، وَصلى الله على مُحَمَّد نبيه، الَّذِي أنارت آيَاته، ووضحت بيناته، وعَلى آله الَّذين اهتدوا بمناره، وَاقْتَدوا بآثاره، وَسلم عَلَيْهِ وَعَلَيْهِم أَجْمَعِينَ، وعَلى التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين، تَسْلِيمًا دَائِما أَبَد الآبدين.
أما بعد:
فَإِن الله تَعَالَى يَقُول فِي كِتَابه الْمنزل على نبيه الْمُرْسل صلى الله عليه وسلم: {كَانَ النَّاس أمة وَاحِدَة فَبعث الله النَّبِيين مبشرين ومنذرين وَأنزل مَعَهم الْكتاب بِالْحَقِّ ليحكم بَين النَّاس فِيمَا اخْتلفُوا فِيهِ وَمَا اخْتلف فِيهِ إِلَّا الَّذين أوتوه من بعد مَا جَاءَتْهُم الْبَينَات بغياً بَينهم فهدى الله الَّذين آمنُوا لما اخْتلفُوا فِيهِ من الْحق بِإِذْنِهِ وَالله يهدي من يَشَاء إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم (213) } [سُورَة الْبَقَرَة] فَكَانَ كل من الْأَنْبِيَاء قبل نَبينَا صلى الله عليه وسلم يبْعَث إِلَى قومه، أَو إِلَى طَائِفَة من النَّاس خَاصَّة، والنصوص شاهدةٌ بذلك، وَخص الله عز وجل نَبينَا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِعُمُوم الرسَالَة إِلَى النَّاس كَافَّة، قَالَ تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا كَافَّة للنَّاس بشيرا وَنَذِيرا} [سُورَة سبأ: 28] ، وَأوجب عَلَيْهِ التَّبْلِيغ إِلَيْهِم، وَإِقَامَة الْحجَّة عَلَيْهِم، وأكرمه بالعصمة مِنْهُم. فَقَالَ تَعَالَى: {يَا أَيهَا الرَّسُول بلغ مَا أنزل إِلَيْك من رَبك وَإِن لم تفعل فَمَا بلغت رسَالَته وَالله يَعْصِمك من النَّاس (67) } [سُورَة الْمَائِدَة] ، وَأوجب عَلَيْهِم طَاعَته فِي غير مَوضِع من كِتَابه، وَقَالَ تَعَالَى: {من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله (80) } [سُورَة النِّسَاء] وَقَالَ تَعَالَى: {فَلَا وَرَبك لَا يُؤمنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوك فِيمَا شجر بَينهم ثمَّ لَا يَجدوا فِي أنفسهم حرجاً مِمَّا قضيت ويسلموا تَسْلِيمًا (65) } [سُورَة النِّسَاء] ثمَّ قَالَ تَعَالَى - وَقَوله الْحق، ووعده الصدْق: {إِنَّا نَحن نزلنَا الذّكر وَإِنَّا لَهُ لحافظون} [سُورَة
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নিয়ামতসমূহ গণনা করা যায় না এবং যাঁর অনুগ্রহের কোনো শেষ নেই। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাঁর নিদর্শনসমূহ আলোকিত হয়েছে এবং যাঁর প্রমাণাদি সুস্পষ্ট হয়েছে। আরও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর, যাঁরা তাঁর আলোকবর্তিকা দ্বারা হিদায়াত লাভ করেছেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আর কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপরও চিরকাল ও সর্বদা শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
মহান আল্লাহ তাঁর প্রেরিত নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ কিতাবে বলেন: {মানুষ ছিল এক উম্মতভুক্ত। অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের পাঠালেন এবং মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল তা মীমাংসা করার জন্য তাঁদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন। আর কেবল তারাই এতে মতভেদ করেছিল যাদেরকে তা দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর পারস্পরিক বিদ্বেষবশত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নির্দেশে মুমিনদের সেই সত্যের দিকে হিদায়াত দিলেন যে বিষয়ে তারা মতভেদে লিপ্ত ছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হিদায়াত দেন (২১৩)} [সূরা আল-বাকারাহ]। আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবীকে তাঁর নিজ কওম বা বিশেষ একদল মানুষের নিকট পাঠানো হতো, আর বিভিন্ন পাঠ্যপ্রমাণ এর সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু মহান আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সকল মানুষের জন্য বিশ্বজনীন রিসালাতের মর্যাদা দিয়ে বিশেষিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি} [সূরা সাবা: ২৮]। আর আল্লাহ তাঁর ওপর মানুষের কাছে দ্বীন পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ কায়েম করা ওয়াজিব করেছেন এবং মানুষের অনিষ্ট থেকে তাঁকে সুরক্ষার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। যদি আপনি তা না করেন, তবে তো আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন (৬৭)} [সূরা আল-মায়িদাহ]। আর আল্লাহ তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে মানুষের ওপর তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল (৮০)} [সূরা আন-নিসা]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক মান্য করবে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে সম্পর্কে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে (৬৫)} [সূরা আন-নিসা]। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন—আর তাঁর বাণী সত্য এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তব: {নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [সূরা...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭২)
الْحجر: 9] وَقَالَ تَعَالَى فِي وصف نبيه صلى الله عليه وسلم: {وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى} [سُورَة النَّجْم: 3 - 4] فأمننا بذلك من وُقُوع التبديل فِي التَّبْلِيغ، وَزَاد ذَلِك توكيداً بقوله: {وَإنَّك لتهدي إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم صِرَاط الله} [سُورَة الشورى: 52، 53] ، وَقَالَ تَعَالَى: {فَوَرَبِّ السَّمَاء وَالْأَرْض إِنَّه لحق مثل مَا أَنكُمْ تنطقون} [سُورَة الذاريات 23] وَسَائِر النُّصُوص فِي هَذَا الْمَعْنى، وَقَالَ تَعَالَى: {اتبعُوا مَا أنزل إِلَيْكُم من ربكُم} [سُورَة الْأَعْرَاف: 3] ، وَقَالَ تَعَالَى: {وأنزلنا إِلَيْك الذّكر لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم} [سُورَة النَّحْل: 44] ، وَقَالَ تَعَالَى فِي مثله: {وَمَا أنزلنَا عَلَيْك الْكتاب إِلَّا لتبين لَهُم الَّذِي اخْتلفُوا فِيهِ} [سُورَة النَّحْل: 64] .
فامتثل عليه السلام مَا أَمر بِهِ، وَبلغ إِلَيْهِم مَا أوحى إِلَيْهِ، وَبَين لكل مِنْهُم مَا أشكل عَلَيْهِ، ثمَّ امتن تَعَالَى على الْمُؤمنِينَ بِهِ حِين عرف أَدَاء رَسُوله إِلَيْهِم مَا أوجبه عَلَيْهِم، فَقَالَ عز وجل: {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا} [سُورَة الْمَائِدَة: 3] .
ثمَّ قرر صلى الله عليه وسلم الْحَاضِرين لَدَيْهِ على تبليغه إِلَيْهِم مَا أُوحِي إِلَيْهِ، فَقَالَ لَهُم فِي مشَاهد الْعُمُوم: " أَلا هَل بلغت " فَقَالُوا: اللَّهُمَّ نعم. فَلَمَّا أقرُّوا بذلك أَمرهم بالتبليغ عَنهُ، فَقَالَ: " ليبلغ الشَّاهِد الْغَائِب " تَنْبِيها على أَنه لَا تقوم الْحجَّة إِلَّا بالبلاغ، وَلذَلِك أَمر أَن يَقُول: {لأنذركم بِهِ وَمن بلغ (19) } [سُورَة الْأَنْعَام] ، فَتعين عَلَيْهِم النَّقْل والتبيلغ، والتزموه، وَتعين على من بعدهمْ السّمع وَالطَّاعَة للصحيح الَّذِي نقلوه.
وَلم يزل الصَّحَابَة والتابعون وأئمة الْأَعْصَار المقدمون دائبين فِي نشر مَا علمُوا من شرائع الْإِسْلَام، وَتَعْلِيم مَا علمُوا من وَاجِبَات الْعِبَادَات وَالْأَحْكَام، حرصاً على إِيصَال ذَلِك إِلَى الْغَائِب وَالشَّاهِد، وتسوية فِيمَا بَين الْقَرِيب والمتباعد، وَهَكَذَا جيلاً بعد جيل.
وَلما امْتَدَّ الزَّمَان، وَخيف اخْتِلَاط الصَّحِيح بالسقيم، واشتباه المرتاب بالسليم
[আল-হিজর: ৯] এবং মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনায় বলেছেন: {তিনি নিজ খেয়ালখুশি থেকে কোনো কথা বলেন না। তা তো কেবল অহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [সূরা আন-নাজম: ৩ - ৪]। এর মাধ্যমে তিনি আমাদের দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার পরিবর্তনের আশঙ্কা থেকে নিরাপদ করেছেন। আর তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বিষয়টিকে আরও সুদৃঢ় করেছেন: {আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন, যা আল্লাহর পথ} [সূরা আশ-শুরা: ৫২, ৫৩]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আসমান ও জমিনের রবের শপথ! নিশ্চয় এটি সত্য, যেমন তোমরা কথা বলে থাকো} [সূরা আজ-যারিয়াত: ২৩] এবং এই অর্থবোধক অন্যান্য সকল দলিলও অনুরূপ। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ করো} [সূরা আল-আরাফ: ৩]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি 'জিকির' (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} [সূরা আন-নাহল: ৪৪]। এবং তিনি অনুরূপ বিষয়ে আরও বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিনি, তবে কেবল একারণে যে, আপনি তাদের জন্য সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছে} [সূরা আন-নাহল: ৬৪]।
ফলে তিনি (আলাইহিস সালাম) যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা পালন করেছেন, তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা তাঁদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের কাছে অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করলেন যখন তিনি তাঁর রাসূল কর্তৃক তাঁদের প্রতি যা ওয়াজিব ছিল তা আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করলেন; তখন তিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত সত্তা বললেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [সূরা আল-মায়েদাহ: ৩]।
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট উপস্থিতদের কাছ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে স্বীকৃতি গ্রহণ করলেন। তিনি জনসমাবেশে তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেন: "শোনো! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" তাঁরা বললেন: "হে আল্লাহ! হ্যাঁ।" যখন তাঁরা এটি স্বীকার করলেন, তখন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করার জন্য তাঁদের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়।" এটি এই বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে, প্রচার ছাড়া কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর এই কারণেই তাঁকে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: {যাতে আমি তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকে এর মাধ্যমে সতর্ক করি (১৯)} [সূরা আল-আনআম]। ফলে তাঁদের ওপর তা বর্ণনা ও প্রচার করা অবধারিত হয়ে যায় এবং তাঁরা তা নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। আর তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ওপর তাঁদের বর্ণিত সহীহ (বিশুদ্ধ) বিষয়ের প্রতি শ্রবণ ও আনুগত্য করা অবধারিত হয়ে যায়।
আর সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং পূর্ববর্তী যুগের ইমামগণ ইসলামের যে সকল বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন তা প্রচার করতে এবং ইবাদতের যে সকল ওয়াজিব কার্যাবলি ও বিধানসমূহ জানতেন তা শিক্ষা দিতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। উপস্থিত ও অনুপস্থিত সবার কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ঐকান্তিক আগ্রহ এবং নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সবার মধ্যে সমতা রক্ষার উদ্দেশ্যে তাঁরা এটি করেছেন; আর এভাবেই যুগ পরম্পরায় তা চলে এসেছে।
আর যখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো এবং বিশুদ্ধ বর্ণনার সাথে ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনার সংমিশ্রণ এবং সংশয়পূর্ণ বিষয়ের সাথে সঠিক বিষয়ের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
انتدب جماعةٌ من الْأَئِمَّة السالفين رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ إِلَى تَقْيِيد ذَلِك بالتأليف، وَحفظه بِالْجمعِ والتصنيف، كمالك بن أنس، وَابْن جريج، وسُفْيَان، وَمن بعدهمْ، فَبلغ كل من ذَلِك إِلَى حَيْثُ انْتهى وَسعه، وَأمكنهُ اسْتِيفَاؤهُ وَجمعه، واتصل ذَلِك إِلَى زمَان الْإِمَامَيْنِ أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ، وَأبي الْحُسَيْن مُسلم بن الْحجَّاج النَّيْسَابُورِي رضي الله عنهما وعنهم، فخصا من الِاجْتِهَاد فِي ذَلِك، وإنفاد الوسع فِيهِ، واعتباره فِي الْأَمْصَار والرحلة عَنهُ إِلَى متباعدات الأقطار، من وَرَاء النَّهر إِلَى فسطاط مصر، وانتقاده حرفا حرفا، واختياره سنداً سنداً، بِمَا وَقع اتِّفَاق النقاد من جهابذة الْإِسْنَاد عَلَيْهِ، وَالتَّسْلِيم مِنْهُم لَهُ، وَذَلِكَ نتيجة مَا رزقا من نِهَايَة الدِّرَايَة، وإحكام الْمعرفَة بالصناعة، وجودة التَّمْيِيز لانتقاد الرِّوَايَة، وَالْبُلُوغ إِلَى أَعلَى الْمَرَاتِب فِي الِاجْتِهَاد وَالْأَمَانَة فِي وقتهما، والتجرد لحفظ دين الله الَّذِي ضمن حفظه، وقيض لَهُ الحافظين لَهُ بالإخلاص لله فِيهِ. وَشَاهد ذَلِك مَا وضع الله لَهما وَلَهُم من الْقبُول فِي الأَرْض، على مَا ورد بِهِ النَّص فِيمَن أحبه الله تَعَالَى، وَأمر أهل السَّمَوَات العلى بحبه.
وَلما انتهيا من ذَلِك إِلَى مَا قصداه، وقررا مِنْهُ مَا انتقداه، على تنائيهما فِي الِاسْتِقْرَار حِين الْجمع وَالِاعْتِبَار، أخرجَا ذَلِك فِي هذَيْن الْكِتَابَيْنِ المنسوبين إِلَيْهِمَا، ووسم كل واحدٍ مِنْهُمَا كِتَابه بِالصَّحِيحِ، وَلم يتقدمهما إِلَى ذَلِك أحدٌ قبلهمَا، وَلَا
পূর্ববর্তী একদল ইমাম (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এ বিষয়টিকে লেখনীর মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করার এবং সংকলন ও বিন্যাসের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করার ব্রত গ্রহণ করেছিলেন; যেমন মালিক বিন আনাস, ইবনে জুরাইজ, সুফিয়ান এবং তাঁদের পরবর্তীগণ। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এবং যতটুকু সংগ্রহ ও পূর্ণতা দান করা সম্ভব ছিল, সেই পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। এই ধারা দুই ইমাম—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরীর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের এবং তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যুগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তাঁরা এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম, সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগ, বিভিন্ন জনপদে হাদীস যাচাই এবং মা-ওয়ারাউন নহর থেকে মিশরের ফুসতাত পর্যন্ত দূর-দূরান্তের দেশসমূহে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিলেন। তাঁরা প্রতিটি অক্ষর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছেন এবং প্রতিটি সনদ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্বাচন করেছেন, যার ওপর সনদ শাস্ত্রের বিশারদ ও সমালোচকগণের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাঁরা তা নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছেন। আর এটি ছিল তাঁদের প্রাপ্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রজ্ঞা, এই শিল্পের নিপুণ জ্ঞান, বর্ণনা যাচাইয়ে চমৎকার বিচারক্ষমতা এবং নিজ সময়ে ইজতিহাদ ও আমানতদারিতার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর ফল। তাঁরা আল্লাহর দীন সংরক্ষণে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন, যে দীন সংরক্ষণের জিম্মাদারি আল্লাহ স্বয়ং গ্রহণ করেছেন এবং এর জন্য তিনি এমন একদল হাফেজকে (সংরক্ষক) মনোনীত করেছেন যাঁরা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ। এর প্রমাণ হলো যমীনে তাঁদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত গ্রহণযোগ্যতা, যেমনটি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বর্ণিত দলীলে এসেছে যাকে আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন এবং আকাশবাসীদের তাকে ভালোবাসার নির্দেশ দেন।
যখন তাঁরা উভয়ে নিজ নিজ লক্ষ্যে উপনীত হলেন এবং যাচাইকৃত বিষয়গুলো সুসংহত করলেন—যদিও সংকলন ও পর্যালোচনাকালে তাঁরা একে অপরের থেকে দূরে অবস্থান করছিলেন—তখন তাঁরা এই গ্রন্থদ্বয় প্রকাশ করলেন যা তাঁদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ গ্রন্থের নাম দিলেন 'সহীহ'। তাঁদের পূর্বে আর কেউ এই কাজে অগ্রণী হননি এবং না...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
أفْصح بِهَذِهِ التَّسْمِيَة فِي جَمِيع مَا جمعه أحدٌ سواهُمَا فِيمَا علمناه، إِذْ لم يسْتَمر لغَيْرِهِمَا فِي كل مَا أوردهُ، فتبادرت النيات الموفقة على تباعدها من الطوائف المحققة على اختلافها إِلَى الاستفادة مِنْهُمَا، وَالتَّسْلِيم لَهما فِي علمهما، وتمييزهما، وَقبُول مَا شَهدا بِتَصْحِيحِهِ فيهمَا، يَقِينا بصدقهما فِي النِّيَّة، وبراءتهما من الإقبال على جِهَة بحمية، أَو الِالْتِفَات إِلَى فِئَة بعصبية، سوى مَا صَحَّ عَمَّن أمرنَا بِالرُّجُوعِ إِلَيْهِ، والتعويل فِي كل مَا أخبرنَا بِهِ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم.
وَحين اسْتَقر ذَلِك وانتشر، وَسَار مسير الشَّمْس وَالْقَمَر، أردْت تَعْجِيل الْفَائِدَة لنَفْسي، وتسهيل سرعَة الْمَطْلُوب ذخيرة لمطالعتي وحفظي، وَالْأَخْذ بحظ من التَّقْرِيب فِي التَّبْلِيغ، ينْتَفع بِهِ من سواي، وأحظى بِهِ عِنْد مولَايَ، فاستخرته تَعَالَى وَجل، وَسَأَلته العون والتأييد على تَجْرِيد مَا فِي هذَيْن الْكِتَابَيْنِ من متون الْأَخْبَار ونصوص الْآثَار، إِذْ قد صَحَّ الانقياد للإسناد من جُمْهُور الْأَئِمَّة النقاد، وتلخيص ذَلِك فِي كتاب وَاحِد، مَعَ جمع مفترقها، وَحفظ تراجمها.
وَلم أذكر من الْإِسْنَاد فِي الْأَكْثَر إِلَّا التَّابِع عَن الصاحب، أَو من روى عَنهُ مِمَّا يتَعَلَّق بالتراجم للمعرفة بِهِ، وَلَا من الْمعَاد إِلَّا مَا تَدْعُو الضَّرُورَة إِلَيْهِ لزِيَادَة بَيَان، أَو لِمَعْنى يتَّصل بِمَا لَا يَقع الْفَهم إِلَّا بإيراده، وَرُبمَا أضفنا إِلَى ذَلِك نبذاً مِمَّا تنبهنا عَلَيْهِ من كتب أبي الْحسن الدَّارَقُطْنِيّ، وَأبي بكر الْإِسْمَاعِيلِيّ، وَأبي بكر الْخَوَارِزْمِيّ وَأبي مَسْعُود الدِّمَشْقِي، وَغَيرهم من الْحفاظ الَّذين عنوا بِالصَّحِيحِ مِمَّا يتَعَلَّق بالكتابين، من تَنْبِيه على غرضٍ، أَو تتميم لمَحْذُوف، أَو زيادةٍ فِي شرحٍ، أَو بَيَان لاسمٍ أَو نسبٍ، أَو كلامٍ على إِسْنَاد، أَو تتبعٍ لوهم بعض
আমাদের জানা মতে তারা দুজন ব্যতীত অন্য কেউ যা কিছু সংকলন করেছেন, তার মধ্যে এই নামকরণের ক্ষেত্রে তারাই সর্বাধিক সুস্পষ্ট ছিলেন; কারণ তাদের ছাড়া অন্য কারো সংকলিত প্রতিটি বিষয়ে এই মান বজায় থাকেনি। ফলে বিভিন্ন সত্যনিষ্ঠ দলের সফল নিয়তসমূহ তাদের মধ্যকার ভিন্নতা সত্ত্বেও তাদের উভয়ের নিকট থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য, তাদের জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য এবং তারা যেটিকে সহীহ হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা গ্রহণ করার জন্য ধাবিত হয়েছে। এটি তাদের নিয়তের সততা এবং কোনো বিশেষ পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামি থেকে মুক্ত থাকার দৃঢ় বিশ্বাসের কারণেই হয়েছে; কেবল যাঁর নিকট আমাদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যাঁর প্রতিটি সংবাদকে আমাদের জন্য নির্ভরযোগ্য করা হয়েছে, সেই আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা ব্যতীত।
যখন বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রসারিত হলো এবং সূর্য ও চন্দ্রের ন্যায় পরিব্যাপ্ত হলো, তখন আমি নিজের জন্য দ্রুত ফায়দা হাসিল করার ইচ্ছা করলাম এবং আমার পড়াশোনা ও মুখস্থ রাখার পাথেয় হিসেবে উদ্দিষ্ট বিষয়কে দ্রুত সহজলভ্য করার সংকল্প করলাম। এছাড়া প্রচারের ক্ষেত্রে সহজীকরণের এমন এক অংশ গ্রহণ করতে চাইলাম যার মাধ্যমে অন্যরাও উপকৃত হতে পারে এবং আমার রবের নিকট আমি সৌভাগ্যবান হতে পারি। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং এই দুই কিতাবে থাকা হাদীসের মূল পাঠ ও আছারের নসসমূহকে আলাদা করার বিষয়ে তাঁর সাহায্য ও সমর্থন প্রার্থনা করলাম। কেননা সমালোচক ইমামগণের জমহুর বা অধিকাংশের নিকট ইসনাদ বা সূত্রের অনুসরণ করা সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে। আর আমি এ বিষয়গুলোকে একটি কিতাবে সারসংক্ষেপ করার সংকল্প করলাম, যাতে বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রে জমা করা এবং সেগুলোর অনুচ্ছেদসমূহ সংরক্ষণ করা যায়।
আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সনদ বা সূত্রের মধ্য থেকে কেবল সাহাবীর নিকট থেকে বর্ণনাকারী তাবিঈর নাম উল্লেখ করেছি, অথবা জীবনী বা পরিচিতি সংশ্লিষ্ট এমন কারো নাম উল্লেখ করেছি যার মাধ্যমে তাঁকে চেনা যায়। পুনরাবৃত্ত বিষয়ের মধ্যে কেবল ততটুকুই উল্লেখ করেছি যা অধিকতর বর্ণনার প্রয়োজনে অথবা এমন কোনো অর্থের জন্য অপরিহার্য যা উল্লেখ না করলে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। সম্ভবত এর সাথে আমি আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনী, আবু বকর আল-ইসমাঈলী, আবু বকর আল-খাওয়ারিজমী, আবু মাসউদ আদ-দিমাশকী এবং অন্যান্য হাফেজে হাদীসগণের কিতাবসমূহ থেকে প্রাপ্ত কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছি—যারা এই দুই কিতাব সংশ্লিষ্ট সহীহ বর্ণনার প্রতি যত্নবান ছিলেন। এগুলো হতে পারে কোনো উদ্দেশ্য সম্পর্কে সতর্ক করা, বাদ পড়া অংশ পূর্ণ করা, ব্যাখ্যায় নতুন কিছু যোগ করা, নাম বা বংশপরিচয় স্পষ্ট করা, সনদের বিষয়ে কোনো আলোচনা করা অথবা কারো কারো ভ্রম চিহ্নিত করা।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
أَصْحَاب التَّعَالِيق فِي الْحِكَايَة عَنْهُمَا، وَنَحْو ذَلِك من الغوامض الَّتِي يقف عَلَيْهَا من يَنْفَعهُ الله بمعرفتها إِن شَاءَ الله تَعَالَى.
وجمعنا حَدِيث كل صَاحب على حِدة، ورتبناهم على خمس مَرَاتِب:
فبدأنا بِمُسْنَد الْعشْرَة، ثمَّ بالمقدمين بعد الْعشْرَة، ثمَّ بالمكثرين، ثمَّ بالمقلين، ثمَّ بِالنسَاء.
وميزنا الْمُتَّفق من كل مُسْند على حِدة، وَمَا انْفَرد بِهِ كل وَاحِد مِنْهُمَا على حدةٍ، وَلم نراع الِانْفِرَاد بالرواة، وَإِنَّمَا قصدنا إِلَى الِانْفِرَاد بالمتون، وَإِن كَانَ الحَدِيث من رواةٍ مُخْتَلفين عَن ذَلِك الصاحب، أَو عَن الروَاة عَنهُ، لِأَن الْغَرَض معرفَة اتِّفَاق هذَيْن الْإِمَامَيْنِ على إِخْرَاج الْمَتْن الْمَقْصُود إِلَيْهِ فِي الصَّحِيح، أَو معرفَة من أخرجه مِنْهُمَا وَشهد بِتَصْحِيحِهِ، لتقوم الْحجَّة بِهِ.
وتتبعنا مَعَ ذَلِك زِيَادَة كل راوٍ فِي كل متنٍ، وَلم نخل بِكَلِمَة فَمَا فَوْقهَا، تَقْتَضِي حكما أَو تفِيد فَائِدَة، ونسبناها إِلَى من رَوَاهَا، إِلَّا أَن يكون فِيمَا أوردنا مَعْنَاهَا أَو دلَالَة عَلَيْهَا، وجمعنا كل معني مَقْصُود من ذَلِك وَمن التراجم فِيهِ فِي مَكَان وَاحِد فِي كل مُسْند، وَرُبمَا أوردنا الْمَتْن من ذَلِك بِلَفْظ أَحدهمَا، فَإِن اخْتلفَا فِي اللَّفْظ واتفقا فِي المعني أوردناه بِاللَّفْظِ الأتم، وَإِن كَانَت عِنْد أَحدهمَا فِيهِ زِيَادَة
وَإِن قلت - نبهنا عَلَيْهَا، وتوخينا الِاجْتِهَاد فِي ذَلِك، والمعصوم من عصم الله عز وجل.
وَهَذَا الَّذِي أحكمناه فِي الْجمع بَين الصَّحِيحَيْنِ لَهما، والترجمة عَنْهُمَا يستبين للنَّاظِر المتيقظ، والعارف الْمنصف الَّذِي نور الله بالمعرفة قلبه، وهدي إِلَى الْإِقْرَار بهَا لِسَانه، تقدمهما فِي الِاحْتِيَاط وَالِاجْتِهَاد، واحتفالهما فِي الْجمع والإيراد، واقتصارهما على المهم الْمُسْتَفَاد. وَإِن جَمِيع مَا جمعاه من ذَلِك وانتقداه دَلِيل على أَن أَكْثَره عَن جمَاعَة لَا عَن وَاحِد.
তাদের থেকে বর্ণিত টীকা বা ভাষ্যের বর্ণনা এবং অনুরূপ অস্পষ্ট বিষয়াদি, যা আল্লাহ যাকে এর জ্ঞান দ্বারা উপকৃত করবেন সে জানতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।
আমরা প্রত্যেক সাহাবীর হাদিসকে পৃথকভাবে একত্রিত করেছি এবং সেগুলোকে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করেছি:
আমরা শুরু করেছি দশজন সাহাবীর মুসনাদ দিয়ে, এরপর সেই দশজনের পরবর্তী অগ্রগণ্য সাহাবীগণ, তারপর অধিক হাদিস বর্ণনাকারীগণ, তারপর অল্প হাদিস বর্ণনাকারীগণ এবং সবশেষে নারী সাহাবীগণ।
আমরা প্রত্যেক মুসনাদ থেকে তাদের উভয়ের ঐকমত্য হওয়া হাদিসগুলোকে এবং যা তাদের প্রত্যেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন সেগুলোকে আলাদা করেছি। আমরা বর্ণনাকারীদের একাকীত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নেইনি, বরং মূল পাঠের (মতন) একাকীত্বের দিকে লক্ষ্য রেখেছি—যদিও হাদিসটি সেই সাহাবী থেকে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনাকারীর সূত্রে অথবা তার অনুসারীদের থেকে বর্ণিত হয়ে থাকে। কারণ উদ্দেশ্য হলো উক্ত মূল পাঠটি সহীহ গ্রন্থে সংকলন করার ক্ষেত্রে এই দুই ইমামের ঐকমত্য হওয়া কিংবা তাদের মধ্য হতে কে তা সংকলন করেছেন এবং সহীহ হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন তা জানা, যাতে এর মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়।
এছাড়া আমরা প্রতিটি পাঠে প্রত্যেক বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশসমূহ অনুসন্ধান করেছি এবং একটি শব্দ বা ততোধিক পরিমাণ বাদ দিইনি যা কোনো বিধান দাবি করে বা কোনো শিক্ষা প্রদান করে; আমরা তা বর্ণনাকারীর দিকে সম্বন্ধ করেছি, তবে যদি আমাদের উল্লিখিত অংশের মাঝে তার অর্থ বা নির্দেশ বিদ্যমান থাকে তবে ভিন্ন কথা। আমরা প্রতিটি মুসনাদে উদ্দিষ্ট সকল অর্থ এবং অধ্যায়সমূহকে এক স্থানে সংকলন করেছি। কখনো কখনো আমরা তাদের কোনো একজনের শব্দে মূল পাঠটি উল্লেখ করেছি; যদি শব্দে ভিন্নতা থাকে কিন্তু অর্থে মিল থাকে, তবে আমরা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ শব্দের পাঠটি উল্লেখ করেছি। আর যদি তাদের কারো কাছে এতে অতিরিক্ত অংশ থাকে—
যদিও তা সামান্য হয়—তবে আমরা সে বিষয়ে সতর্ক করেছি এবং এ বিষয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি; আর সুরক্ষিত সেই, যাকে মহামহিম আল্লাহ সুরক্ষিত রাখেন।
তাদের দুই সহীহ গ্রন্থের সমন্বয় এবং তাদের থেকে তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আমরা যা সুচারুভাবে করেছি, তা একজন জাগ্রত পর্যবেক্ষক এবং ন্যায়পরায়ণ জ্ঞানীর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যার অন্তরকে আল্লাহ জ্ঞান দ্বারা আলোকিত করেছেন এবং যার জিহ্বাকে তা স্বীকার করার হিদায়াত দিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হবে সতর্কতা ও ইজতিহাদে তাদের অগ্রগামিতা, সংগ্রহ ও উপস্থাপনায় তাদের বিশেষ মনোযোগ এবং ফায়দাজনক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির মধ্যে তাদের সীমাবদ্ধ থাকা। তারা যা কিছু সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করেছেন তা একথারই প্রমাণ যে, এর অধিকাংশই এক জামাত বা দল থেকে বর্ণিত হয়েছে, কোনো একক ব্যক্তি থেকে নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
وَهَذَانِ الكتابان يشتملان على فصولٍ من أصُول الدّين، لاغنى لمن أَرَادَ الِاخْتِصَاص بِعلم الشَّرِيعَة عَن مَعْرفَتهَا، وَهِي مَا فيهمَا من الِاعْتِبَار بأخبار الِابْتِدَاء، والأنبياء، وَمَا كَانَ فِي بني إِسْرَائِيل من الأنباء، وَأَيَّام الْجَاهِلِيَّة الجهلاء، وَأَيَّام النُّبُوَّة وَمَا تَلَاهَا من السّير والمعجزات، وجمل الاعتقادات، ولوازم الطَّاعَات، وَالنَّهْي عَن الْمُنْكَرَات، وَذكر الْغَزَوَات، ونزول الْآيَات وثوابها، وأبواب الْفِقْه وَالتَّفْسِير وَالتَّعْبِير وبيانها، وفضائل الصَّحَابَة وخصائصها، ورغائب الزّهْد فِي الدُّنْيَا وَالْعَمَل لِلْأُخْرَى ومراتبها، وَمَا فِي ملكوت السَّمَوَات وَالْأَرْض من قدرَة الله تَعَالَى وشواهدها، وَمَا يتَّصل بذلك من المواعظ ورقائقها، وَمَا يكون من الْفِتَن والأشراط إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وأنواعها، ثمَّ مَا يكون من الْبَعْث والنشور، وَبعد الْحساب من الثَّوَاب وَالْعِقَاب، والاستقرار فِي الْجنَّة أَو النَّار وصفاتهما، وحظوظ أهليهما مِنْهُمَا، وَمَا يتَعَلَّق بذلك.
وتتمة ذَلِك تعديلهما لرواة هَذِه الْأُصُول المخرجة فِي الْكِتَابَيْنِ، وحكمهما بذلك فِيمَا أفصحا بِهِ فِي الترجمتين، لِأَن الصِّحَّة لَا يَسْتَحِقهَا الْمَتْن إِلَّا بعدالة الرَّاوِي، وَشَهَادَة هذَيْن الْإِمَامَيْنِ أَو أَحدهمَا بذلك، وتصحيحهما إِيَّاه حكمٌ يلْزم قبُوله، وتبليغٌ يتَعَيَّن الانقياد لَهُ، ونذارةٌ يخَاف عَاقِبَة عصيانها، قَالَ تَعَالَى: {فلولا نفر من كل فرقة مِنْهُم طَائِفَة ليتفقهوا فِي الدّين ولينذروا قَومهمْ إِذا رجعُوا إِلَيْهِم لَعَلَّهُم يحذرون} [سُورَة التَّوْبَة: 122] .
وَهَذِه مناهج الباحث المتدين قد قربناها لَهُ، وسهلناها عَلَيْهِ، ونقلنا نصوصها مُقَيّدَة إِلَيْهِ، ووضعنا مَجْمُوع أشتاتها وتراجمها منتظمة بَين يَدَيْهِ، وزدنا عَلَيْهَا مَعَ جمع المتفرق وَحذف مَا يصعب حفظه من الطّرق تَمْيِيز مَا اتفقَا عَلَيْهِ، أَو انْفَرد بِهِ أَحدهمَا، والاقتصار من التّكْرَار على مَا لابد من الِاقْتِصَار عَلَيْهِ، وَعدد مَا لكل صَاحب من الْأَحَادِيث المخرجة فيهمَا، وقمنا لَهُ مقَام التَّرْجَمَة عَنْهُمَا فِي ذَلِك كُله.
এই গ্রন্থদ্বয় দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির এমন সব অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, শরীআহ বিজ্ঞানে বিশেষায়িত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য যা জানা অপরিহার্য। সেগুলো হলো: সৃষ্টিতত্ত্বের সংবাদ, নবিগণের বৃত্তান্ত, বনী ইসরাঈলদের সংবাদ, জাহিলিয়াতের ঘোর অন্ধকার যুগের ঘটনাবলি, নবুওয়াতের সময়কাল এবং এর পরবর্তী সীরাত ও মুজিজাসমূহ, আকিদাহর সারসংক্ষেপ, আনুগত্যের অপরিহার্য বিষয়াদি, অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ, যুদ্ধের বিবরণ, আয়াত নাজিল হওয়ার বিবরণ ও সেগুলোর সওয়াব, ফিকহ, তাফসির ও স্বপ্নের ব্যাখ্যার অধ্যায়সমূহ এবং এগুলোর বর্ণনা, সাহাবীদের মর্যাদা ও তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ, দুনিয়াবিমুখতার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, পরকালের আমল ও তার স্তরসমূহ, আসমান ও জমিনের রাজত্বে আল্লাহ তাআলার যে ক্ষমতা ও নিদর্শনাবলি রয়েছে, সেই সংশ্লিষ্ট উপদেশ ও হৃদয়স্পর্শী বিষয়াদি, কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য বিভিন্ন ফিতনা ও নিদর্শনাবলি এবং তার প্রকারভেদ, এরপর পুনরুত্থান ও হাশর, হিসাব-নিকাশের পর প্রতিদান ও শাস্তি, জান্নাত ও জাহান্নামে চিরস্থায়ী অবস্থান এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য, সেগুলোতে অধিবাসীদের প্রাপ্তি এবং এই সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়সমূহ।
এর পরিপূরক বিষয় হলো এই দুই গ্রন্থে সংকলিত মৌলিক বর্ণনাসমূহের রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) ব্যাপারে ইমামদ্বয়ের নির্ভরযোগ্যতার স্বীকৃতি এবং দুই গ্রন্থের শিরোনামে তাঁরা যা স্পষ্ট করেছেন তাতে তাঁদের সিদ্ধান্ত। কারণ, রাবির ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত মূল পাঠ (মতন) সহিহ হওয়ার মর্যাদা লাভ করে না। আর এই দুই ইমাম বা তাঁদের যেকোনো একজনের এ সংক্রান্ত সাক্ষ্য এবং কোনো বর্ণনাকে সহিহ বলা এমন একটি ফয়সালা যা গ্রহণ করা আবশ্যক, এমন এক বার্তা যা পালন করা জরুরি এবং এমন এক সতর্কবার্তা যার অবাধ্যতার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তারা তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়} [সূরা আত-তাওবা: ১২২]।
ধর্মপ্রাণ গবেষকের জন্য এই পথগুলোকে আমরা সহজ ও নিকটবর্তী করে দিয়েছি এবং এর উদ্ধৃতিসমূহ নির্দিষ্ট করে তাঁর কাছে পৌঁছে দিয়েছি। এর বিক্ষিপ্ত বিষয়াবলি ও শিরোনামসমূহকে সুবিন্যস্তভাবে একটি সংকলন হিসেবে তাঁর সামনে পেশ করেছি। বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে একত্রিত করা এবং যেসব সূত্র (তুরুক) মুখস্থ করা কঠিন সেগুলো বাদ দেওয়ার পাশাপাশি আমরা এতে আরও স্পষ্ট করেছি যে, কোন বর্ণনাগুলোতে তাঁরা উভয়ে একমত হয়েছেন আর কোনটি তাঁদের মধ্যে কেবল একজন বর্ণনা করেছেন। এছাড়া যা পরিহার করা একান্ত প্রয়োজন তা ছাড়া পুনরাবৃত্তি বর্জন করেছি এবং এতে প্রত্যেক ইমামের বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা উল্লেখ করেছি। এই সব বিষয়ে আমরা তাঁদের পক্ষ থেকে ভাষ্যকারের ভূমিকা পালন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
واقتفينا فِي تَرْتِيب هذَيْن الْكِتَابَيْنِ على أَسمَاء الصَّحَابَة رضي الله عنهم آثَار من تقدم قبلنَا من الْأَئِمَّة المخرجين على الصَّحِيح، وَأَصْحَاب التَّعَالِيق، كَأبي بكر البرقاني وَأبي مَسْعُود الدِّمَشْقِي، وَخلف الوَاسِطِيّ، وَغَيرهم من الْأَئِمَّة، وَإِنَّمَا فعلوا ذَلِك ليتعجل النَّاظر فِي الْأَحَادِيث معرفَة من رَوَاهَا من الصَّحَابَة، وَمن رَوَاهَا عَنْهُم، وَمَعْرِفَة مَا يلْحق بهَا مِمَّا هُوَ على شَرط إسنادها، أَو مَا يَقع إِلَى الباحث عَنْهَا مِمَّا يُرِيد اعْتِبَاره من الصَّحِيح، فيقصد بِمَا يَقع لَهُ إِلَى الْمَجْمُوع من حَدِيث ذَلِك الصاحب، فَيقرب عَلَيْهِ الْمطلب الَّذِي قَصده، وَالْمذهب الَّذِي ذهب إِلَيْهِ، وَيكون أخف عَلَيْهِ من طلبه لذَلِك فِي أبوابٍ، رُبمَا أخرجه أَحدهمَا فِي غَيره.
وَبِمَا صدرنا بِهِ أَولا من النُّصُوص وبأمثالها، أيقنا أَن الْعلم الْمُقْتَدِي بِهِ فِي الدّين، والظهير المحتج بِهِ بَين المختصمين، هُوَ مَا صَحَّ عَمَّن صحت قَوَاعِد أَعْلَامه، وأنارت شَوَاهِد صدقه فِي إِعْلَامه، مُحَمَّد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم.
وَلم نجد من الْأَئِمَّة الماضين رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ - من أفْصح لنا فِي جَمِيع مَا جمعه بِالصِّحَّةِ إِلَّا هذَيْن الْإِمَامَيْنِ، وَإِن كَانَ من سواهُمَا من الْأَئِمَّة قد أفْصح بالتصحيح فِي بعض، فقد علل فِي بعض، فَوَجَبَ البدار إِلَى الِاشْتِغَال بالمجموع الْمَشْهُور على صِحَة جَمِيعه. فَإِن اتَّسع لباحث محسنٍ زمانٌ، تتبع مَا لم يخرجَاهُ من الْمُتُون اللاحقة بِشَرْط الصَّحِيح فِي سَائِر المجموعات والمنثورات، وميز ذَلِك إِن وجده فِيهَا، وَكَانَت لَهُ منةٌ فِي انتقاد ذَلِك مِنْهَا.
وَنَرْجُو أَن يكون مَا أتعبنا الخاطر فِيهِ، وأنفقنا الْعُمر عَلَيْهِ، وجمعنا أشتاته، وقربنا متباعده من ذَلِك، أخصر فِي المطالعة، وَأعجل للْحِفْظ وأسرع للتبيلغ،
এই গ্রন্থদ্বয়কে সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নামের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের পূর্বসূরী সেই ইমামগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি যারা সহীহ্ হাদীস সংকলন করেছেন এবং তালীক বা সংকলনগ্রন্থ রচনা করেছেন; যেমন আবু বকর আল-বারকানী, আবু মাসউদ আদ-দিমাশকী, খালাফ আল-ওয়াসিতী এবং অন্যান্য ইমামগণ। মূলত তারা এটি করেছেন যাতে হাদীস পাঠকারী দ্রুত জানতে পারেন কোন সাহাবী তা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের থেকে কারা বর্ণনা করেছেন। এছাড়া এর সনদের শর্তানুযায়ী কী কী এর অন্তর্ভুক্ত হয় এবং গবেষক সহীহ্ হাদীসের যে অংশটি বিবেচনা করতে চান তা যেন সহজে খুঁজে পান। ফলে তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট সাহাবীর বর্ণিত হাদীসসমষ্টির দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন, যা তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও গন্তব্যকে নিকটবর্তী করে দেয়। আর বিভিন্ন অধ্যায়ে তা খোঁজার চেয়ে এটি তাঁর জন্য সহজতর হয়; কেননা অনেক সময় তাঁদের কেউ কেউ একটি হাদীস ভিন্ন কোনো অধ্যায়েও বর্ণনা করে থাকেন।
আমরা শুরুতে যে সকল নস বা অকাট্য পাঠ এবং তার অনুরূপ বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেছি, তার মাধ্যমে আমরা এই দৃঢ় বিশ্বাস লাভ করেছি যে, দ্বীনের ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য ইলম এবং বিবাদমান পক্ষসমূহের মাঝে দলিল হিসেবে উপস্থাপনের মতো প্রধান অবলম্বন হলো তা-ই, যা এমন এক সত্তা থেকে সহীহ্ সাব্যস্ত হয়েছে যাঁর সত্যতার নিদর্শনসমূহ সুদৃঢ় এবং যাঁর প্রচারিত বাণীর সত্যতার প্রমাণসমূহ আলোকোজ্জ্বল; তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
আমরা অতীতকালের ইমামগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) মধ্যে এমন কাউকে পাইনি যিনি তাঁর সংকলিত সকল হাদীসের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আমাদের নিকট দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, কেবল এই দুই ইমাম (বুখারী ও মুসলিম) ব্যতীত। যদিও তাঁদের ব্যতীত অন্যান্য ইমামগণ কোনো কোনো হাদীসের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার কথা বলেছেন, কিন্তু আবার কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে ত্রুটিও বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে সংকলনটির আগাগোড়া বিশুদ্ধতার ব্যাপারে প্রসিদ্ধি রয়েছে, সেটির চর্চায় দ্রুত মনোনিবেশ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এরপর যদি কোনো দক্ষ গবেষক পর্যাপ্ত সময় পান, তবে তিনি যেন অন্যান্য সংকলন ও বিচ্ছুরিত রচনাবলির মধ্যে এমন সকল মতন বা পাঠ অনুসন্ধান করেন যা এই দুই ইমাম বর্ণনা করেননি অথচ তা সহীহ্ হওয়ার শর্ত পূরণ করে। তিনি যদি তা খুঁজে পান তবে যেন তা পৃথক করেন, যদি সেসবের চুলচেরা বিশ্লেষণের সক্ষমতা তাঁর থাকে।
আমরা আশা করি, যে কার্যে আমরা আমাদের মেধা ব্যয় করেছি, জীবন উৎসর্গ করেছি, যার বিক্ষিপ্ত অংশসমূহকে একত্রিত করেছি এবং দূরবর্তী বিষয়গুলোকে নিকটবর্তী করেছি—তা অধ্যয়নের জন্য অধিক সংক্ষিপ্ত, মুখস্থ করার জন্য দ্রুততর এবং প্রচারের জন্য সহজতর হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
وَأمكن للفهم والاستنباط، وأزيد فِي الاستبصار، وأنفع فِي الْعلم وَالْعَمَل، وأدعي إِلَى دعوةٍ نستفيدها من مستفيدٍ حصل على غنيمةٍ قصرت عَلَيْهِ الْمسَافَة فيهمَا، وَلم يتعب فِي تَحْصِيلهَا وتأتيها.
وَبِاللَّهِ تَعَالَى نعتصم، وإياه نسْأَل نفعنا وَالِانْتِفَاع بِنَا، والزلفي لَدَيْهِ بِكُل مَا نتقرب بِهِ إِلَيْهِ، جعلنَا الله وَإِيَّاكُم من المعتصمين بكتابه، وَسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، الداعين إِلَيْهِمَا، الموفقين لفهمهما واستعمالهما، ورزقنا وَإِيَّاكُم الْإِخْلَاص وَالْيَقِين، وَصَلَاح الدُّنْيَا وَالدّين، وَالْقَبُول المعلي إِلَى عليين، بمنه، آمين. وَغفر لنا وللأئمة السالفين، ولآبائنا أَجْمَعِينَ، وَلِجَمِيعِ الْمُسلمين، وَالْحَمْد لله أَولا وآخراً، وعوداً وبدءاً، حمداً يَدُوم وَلَا يبيد، وَصلى الله على الْمُصْطَفى محمدٍ، وعَلى آله المقتدين بِهِ، وَسلم تَسْلِيمًا دَائِما أبدا، يتَكَرَّر وَيزِيد، وحسبنا الله وَحده وَنعم الْوَكِيل.
وَهَذَا حِين نبدأ فِيمَا قصدنا لَهُ من الْجمع بَين الصَّحِيحَيْنِ، على الرتب الْمَذْكُورَة فَأول ذَلِك مَا فيهمَا من مُسْند أبي بكر الصّديق رضوَان الله عَلَيْهِ.
এবং এটি অনুধাবন ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অধিকতর সক্ষম, অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধিতে অধিকতর সহায়ক, জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে অধিকতর উপকারী এবং এমন একটি আহ্বানের দিকে আহ্বানকারী যা থেকে আমরা এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে উপকৃত হই যে এমন এক সম্পদ অর্জন করেছে যার জন্য তার শ্রম লাঘব হয়ে গেছে এবং যা অর্জন ও প্রাপ্তিতে তাকে কষ্ট করতে হয়নি।
আমরা মহান আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আর তাঁর কাছেই আমাদের উপকার করার ও আমাদের দ্বারা অন্যদের উপকৃত করার তাওফীক চাচ্ছি, এবং তাঁর সান্নিধ্য কামনা করছি সেই সব আমলের মাধ্যমে যার দ্বারা আমরা তাঁর নিকটবর্তী হই। আল্লাহ আমাদের ও আপনাদেরকে তাঁর কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধারণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, এই দুইয়ের দিকে আহ্বানকারী এবং এই দুইটিকে অনুধাবন ও তা প্রয়োগের তাওফীকপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তিনি আমাদের ও আপনাদেরকে একনিষ্ঠতা ও দৃঢ় বিশ্বাস, দুনিয়া ও দ্বীনের কল্যাণ এবং ইল্লিয়্যিন পর্যন্ত উন্নীতকারী কবুলিয়্যাত দান করুন তাঁর অনুগ্রহে, আমীন। তিনি ক্ষমা করুন আমাদের, পূর্ববর্তী ইমামগণকে, আমাদের সকল পিতৃপুরুষকে এবং সকল মুসলিমকে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য শুরুতে ও শেষে, প্রত্যাবর্তনে ও প্রারম্ভে; এমন প্রশংসা যা চিরস্থায়ী এবং যা কখনো বিলীন হবে না। আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন মনোনীত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর যারা তাঁর অনুসরণকারী, আর প্রদান করুন চিরন্তন ও অবিনশ্বর সালাম যা বারবার পুনরাবৃত্ত হবে ও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আর এখনই সেই সময় যখন আমরা আমাদের উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী উল্লেখিত বিন্যাস অনুসারে ‘সহীহাইন’-এর সমন্বয় শুরু করছি। এর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো যা এই কিতাবদ্বয়ে আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত মুসনাদ হিসেবে রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
الْقسم الأول
مسانيد الْعشْرَة
প্রথম অংশদশজনের মুসনাদসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮০)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮১)
مُسْند أبي بكر الصّديق رضي الله عنه الْمخْرج فِي الصَّحِيحَيْنِ البُخَارِيّ وَمُسلم أَو فِي أَحدهمَاالْمُتَّفق عَلَيْهِ من ذَلِك سِتَّة أَحَادِيث:
1 - الأول: عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ عَنهُ أَنه قَالَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " عَلمنِي دُعَاء أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتي ". قَالَ: " قل: اللَّهُمَّ إِنِّي ظلمت نَفسِي ظلما كثيرا، وَلَا يغْفر الذُّنُوب إِلَّا أَنْت، فَاغْفِر لي مغْفرَة من عنْدك، وارحمني، إِنَّك أَنْت الغفور الرَّحِيم ".
جعله بعض الروَاة من مُسْند عبد الله بن عَمْرو، لِأَنَّهُ قَالَ فِيهِ عَنهُ: إِن أَبَا بكر قَالَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم. وَقد أَخْرجَاهُ أَيْضا كَذَلِك من طَرِيق عَمْرو بن الْحَارِث، عَن يزِيد بن أبي حبيب، وَهُوَ مَذْكُور فِي مُسْند ابْن عَمْرو.
2 - الثَّانِي: عَن أنس بن مَالك الْأنْصَارِيّ، عَنهُ، قَالَ: " نظرت إِلَى أَقْدَام الْمُشْركين وَنحن فِي الْغَار وهم على رؤوسنا، فَقلت: يَا رَسُول الله لَو أَن أحدهم نظر إِلَى قَدَمَيْهِ أبصرنا تَحت قَدَمَيْهِ. فَقَالَ: " يَا أَبَا بكر، مَا ظَنك بِاثْنَيْنِ الله ثالثهما ".
আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ, যা বুখারি ও মুসলিম এই উভয় সহিহ গ্রন্থে অথবা উভয়ের যেকোনো একটিতে বর্ণিত হয়েছেএর মধ্যে মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদিসের সংখ্যা ছয়টি:
১ - প্রথম: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: "আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি আমার সালাতে পাঠ করব।" তিনি বললেন: "বলুন: হে আল্লাহ! আমি নিজের নফসের ওপর অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া গুনাহসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই। অতএব, আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষ মার্জনা দান করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।"
কিছু বর্ণনাকারী একে আবদুল্লাহ ইবনে আমরের মুসনাদ হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু বকর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন। ইমাম বুখারি ও মুসলিম একে আমর ইবনুল হারিসের সূত্রে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকেও অনুরূপভাবে উদ্ধৃত করেছেন এবং এটি ইবনে আমরের মুসনাদেও উল্লিখিত হয়েছে।
২ - দ্বিতীয়: আনাস ইবনে মালিক আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা যখন গুহায় ছিলাম, তখন আমি মুশরিকদের পায়ের দিকে তাকালাম যখন তারা আমাদের মাথার ওপর অবস্থান করছিল। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের কেউ যদি তার নিজের পায়ের দিকে তাকাত, তবে সে আমাদের তার দুই পায়ের নিচে দেখতে পেত। তিনি বললেন: হে আবু বকর! সেই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারণা কী যাদের তৃতীয়জন হলেন আল্লাহ?"
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮২)
3 - الثَّالِث: حَدِيث الرحل: عَن الْبَراء بن عَازِب قَالَ: جَاءَ أَبُو بكر إِلَى أبي فِي منزله فَاشْترى مِنْهُ رحلاً، فَقَالَ لعازبٍ: ابْعَثْ معي ابْنك يحملهُ معي إِلَى منزلي، فَقَالَ لي أبي: احمله، فَحَملته، وَخرج أبي مَعَه ينْتَقد ثمنه، فَقَالَ لَهُ أبي: يَا أَبَا بكر، كَيفَ صنعتما لَيْلَة سريت مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: نعم، أسرينا ليلتنا كلهَا حَتَّى قَامَ قَائِم الظهيرة، وخلا الطَّرِيق فَلَا يمر فِيهِ أحد، حَتَّى رفعت لنا صخرةٌ طويلةٌ لَهَا ظلٌّ لم تأت عَلَيْهِ الشَّمْس بعد، فنزلنا عِنْدهَا، فَأتيت الصَّخْرَة، فسويت بيَدي مَكَانا ينَام فِيهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي ظلها، ثمَّ بسطت عَلَيْهِ فَرْوَة، ثمَّ قلت: نم يَا رَسُول الله وَأَنا أنفض لَك مَا حولك، فَنَامَ، وَخرجت أنفض مَا حوله، فَإِذا أَنا براعٍ مقبلٍ بغنمه إِلَى الصَّخْرَة يُرِيد مِنْهَا الَّذِي أردنَا، فَلَقِيته فَقلت: لمن أَنْت يَا غُلَام؟ فَقَالَ: لرجل من أهل الْمَدِينَة. فَقلت: أَفِي غنمك لبن؟ قَالَ: نعم. قلت: أفتحلب لي؟ قَالَ: نعم، فَأخذ شَاة، فَقلت: انفض الضَّرع من الشّعْر وَالتُّرَاب والقذى - قَالَ: فَرَأَيْت الْبَراء يضْرب بِيَدِهِ على الْأُخْرَى ينفض - فَحلبَ لي فِي قعبٍ مَعَه كثبةً من لبن، قَالَ: وَمَعِي إداوةٌ أرتوي فِيهَا للنَّبِي صلى الله عليه وسلم ليشْرب مِنْهَا وَيتَوَضَّأ. قَالَ: فَأتيت النَّبِي صلى الله عليه وسلم وكرهت أَن أوقظه من نَومه، فوقفت حَتَّى اسْتَيْقَظَ، وَفِي أُخْرَى: فوافقته حِين اسْتَيْقَظَ، فَصَبَبْت على اللَّبن من المَاء حَتَّى برد أَسْفَله، فَقلت: يَا رَسُول الله، اشرب من هَذَا اللَّبن، قَالَ: فَشرب حَتَّى رضيت، ثمَّ قَالَ: " ألم يَأن للرحيل؟ " قلت: بلَى. قَالَ: فارتحلنا بعد مَا زَالَت الشَّمْس، وَاتَّبَعنَا سراقَة بن مَالك وَنحن فِي جلدٍ من الأَرْض، فَقلت: يَا رَسُول الله أَتَيْنَا، فَقَالَ: " لَا تحزن، إِن الله مَعنا ". فَدَعَا عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فارتطمت فرسه إِلَى بَطنهَا - أرى - فَقَالَ: إِنِّي قد علمت أنكما قد دعوتما عَليّ، فَادعوا
3 - তৃতীয়: শিবিকার (উটের জিনের) হাদিস: বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার পিতার কাছে তাঁর বাড়িতে আসলেন এবং তাঁর কাছ থেকে একটি শিবিকা ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি আযিবকে বললেন: তোমার ছেলেকে আমার সাথে পাঠাও যাতে সে এটি আমার সাথে আমার বাড়ি পর্যন্ত বহন করে নিয়ে যায়। তখন আমার পিতা আমাকে বললেন: এটি বহন করো। ফলে আমি সেটি বহন করলাম এবং আমার পিতা তার দাম বুঝে নেওয়ার জন্য তাঁর সাথে বের হলেন। তখন আমার পিতা তাকে বললেন: হে আবু বকর! আপনি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রাতের বেলা পথ চলেছিলেন, তখন আপনারা কী করেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা সারা রাত পথ চললাম যতক্ষণ না দ্বিপ্রহর হলো এবং রাস্তা নির্জন হয়ে গেল, সেখানে কেউ যাতায়াত করছিল না। একপর্যায়ে আমাদের সামনে একটি দীর্ঘ পাথর দেখা গেল যার ছায়া ছিল এবং সেখানে তখনও রোদ পৌঁছেনি। আমরা তার পাশে অবতরণ করলাম। আমি পাথরটির কাছে আসলাম এবং নিজ হাতে একটি জায়গা সমান করলাম যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ছায়ায় ঘুমাতে পারেন। তারপর আমি সেখানে একটি পশমি চাদর বিছিয়ে দিলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ঘুমান, আর আমি আপনার চারপাশ পরিষ্কার করে দিচ্ছি। অতঃপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন এবং আমি তাঁর চারপাশ পরিষ্কার করার জন্য বের হলাম। হঠাৎ আমি একজন রাখালকে তার বকরিগুলো নিয়ে সেই পাথরের দিকে আসতে দেখলাম, সে-ও আমাদের মতো ছায়া চাচ্ছিল। আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম: হে বালক! তুমি কার লোক? সে বলল: মদিনার এক ব্যক্তির। আমি বললাম: তোমার বকরির ওলানে কি দুধ আছে? সে বলল: হ্যাঁ। আমি বললাম: তুমি কি আমার জন্য দোহন করবে? সে বলল: হ্যাঁ। সে একটি বকরি ধরল। আমি বললাম: ওলান থেকে পশম, ধুলোবালি ও ময়লা ঝেড়ে পরিষ্কার করো। — বর্ণনাকারী বলেন: আমি বারা-কে দেখলাম তিনি এক হাত অন্য হাতের ওপর মেরে ঝাড়ার ভঙ্গি করছিলেন — অতঃপর সে তার সাথে থাকা একটি পেয়ালায় সামান্য পরিমাণ দুধ দোহন করল। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আর আমার সাথে একটি চামড়ার পাত্র ছিল যাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পান করা এবং ওযুর জন্য পানি রাখতাম। তিনি বলেন: এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম এবং তাঁকে ঘুম থেকে জাগানো অপছন্দ করলাম। ফলে আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম যতক্ষণ না তিনি জেগে উঠলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: আমি তাঁর জেগে ওঠার সময়টিতে তাঁর কাছে পৌঁছালাম। তারপর আমি দুধের ওপর পানি ঢাললাম যাতে এর নিচের অংশ ঠান্ডা হয়ে যায়। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এই দুধ পান করুন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি পান করলেন, এমনকি আমি সন্তুষ্ট হলাম। তারপর তিনি বললেন: "যাত্রার সময় কি হয়নি?" আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বলেন: সূর্য ঢলে পড়ার পর আমরা রওনা হলাম। সুরাকাহ ইবনে মালিক আমাদের অনুসরণ করল যখন আমরা একটি শক্ত ভূমিতে ছিলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ধরে ফেলা হয়েছে। তিনি বললেন: "চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।" তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিরুদ্ধে দুআ করলেন, ফলে তার ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে দেবে গেল — আমার মনে হয় — তখন সে বলল: আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনারা আমার বিরুদ্ধে দুআ করেছেন, সুতরাং আপনারা আমার জন্য দুআ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
لي، فَالله لَكمَا أَن أرد عنكما الطّلب. فَدَعَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فنجا، لَا يلقى أحدا إِلَّا قَالَ: كفيتم مَا هَا هُنَا، وَلَا يلقى أحدا إِلَّا رده، ووفى لنا.
زَاد فِي رِوَايَة إِسْرَائِيل: أَن سراقَة قَالَ: وَهَذِه كِنَانَتِي، فَخذ سَهْما مِنْهَا، فَإنَّك ستمر على إبلي وغلماني بمَكَان كَذَا وَكَذَا، فَخذ مِنْهَا حَاجَتك. قَالَ: " لَا حَاجَة لي فِي إبلك ". فقدمنا الْمَدِينَة لَيْلًا، فتنازعوا أَيهمْ ينزل عَلَيْهِ، فَقَالَ: " أنزل على بني النجار أخوال عبد الْمطلب، أكْرمهم بذلك " فَصَعدَ الرِّجَال وَالنِّسَاء فَوق الْبيُوت، وتفرق الغلمان والخدم فِي الطّرق ينادون: يَا مُحَمَّد، يَا رَسُول الله، يَا مُحَمَّد، يَا رَسُول الله.
وَفِي رِوَايَة أُخْرَى: جَاءَ مُحَمَّد، جَاءَ رَسُول الله.
زَاد فِي أُخْرَى من رِوَايَة إِبْرَاهِيم بن يُوسُف: وَقَالَ الْبَراء: فَدخلت مَعَ أبي بكر على أَهله، فَإِذا عَائِشَة ابْنَته مُضْطَجِعَة قد أصابتها حمى، فَرَأَيْت أَبَاهَا يقبل خدها، وَقَالَ: كَيفَ أَنْت يَا بنية.
فِي حَدِيث شُعْبَة زِيَادَة لَفْظَة: أَن الْبَراء قَالَ: قَالَ أَبُو بكر - يَعْنِي لما خرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من مَكَّة إِلَى الْمَدِينَة -: مَرَرْنَا براعٍ وَقد عَطش رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، قَالَ أَبُو بكر الصّديق: فَأخذت قدحاً، فحلبت فِيهِ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم كثبة من لبنٍ، فَأَتَيْته بهَا، فَشرب حَتَّى رضيت. وَقع مَفْصُولًا من حَدِيث الرحل، وَكَذَا أَخْرجَاهُ.
4 - الرَّابِع: عَن أبي هُرَيْرَة من رِوَايَة حميد بن عبد الرَّحْمَن عَنهُ: أَن أَبَا بكر الصّديق بَعثه فِي الْحجَّة الَّتِي أمره عَلَيْهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قبل
আমার পক্ষ থেকে; আল্লাহ সাক্ষী, আমি তোমাদের থেকে অনুসন্ধানকারীদের ফিরিয়ে দেব। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করলেন এবং সে (সুরাকা) রক্ষা পেল। এরপর সে যার সাথেই দেখা করত তাকেই বলত: 'এদিকের জন্য আমিই যথেষ্ট', এবং যার সাথেই তার দেখা হতো তাকেই সে ফিরিয়ে দিত। এভাবে সে আমাদের সাথে কৃত ওয়াদা রক্ষা করেছিল।
ইসরাঈলের বর্ণনায় আরও অধিক বর্ণিত হয়েছে যে, সুরাকা বলল: 'এটি আমার তুণীর, এখান থেকে একটি তীর গ্রহণ করুন। আপনি অমুক অমুক স্থানে আমার উট ও গোলামদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবেন, সেখান থেকে আপনার প্রয়োজন মিটিয়ে নেবেন।' তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: 'তোমার উটের প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই।' অতঃপর আমরা রাতে মদিনায় পৌঁছালাম। তারা (মদিনাবাসী) নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু করল যে, রাসূলুল্লাহ কার ঘরে অবস্থান করবেন। তিনি বললেন: 'আমি আব্দুল মুত্তালিবের মাতুল পক্ষ বনু নাজ্জারের ঘরে অবস্থান করব, এর মাধ্যমে আমি তাদের সম্মানিত করতে চাই।' তখন পুরুষ ও মহিলারা ঘরের ছাদের ওপর উঠে পড়ল এবং কিশোর ও সেবকরা পথে পথে ছড়িয়ে পড়ে এই বলে উচ্চস্বরে ডাকতে লাগল: হে মুহাম্মদ, হে আল্লাহর রাসূল! হে মুহাম্মদ, হে আল্লাহর রাসূল!
অন্য এক বর্ণনায় আছে: মুহাম্মদ এসেছেন, আল্লাহর রাসূল এসেছেন।
ইবরাহীম ইবনে ইউসুফের বর্ণনায় আরও বর্ণিত হয়েছে: বারা (রা.) বলেন, আমি আবু বকর (রা.)-এর সাথে তাঁর পরিবারের কাছে প্রবেশ করলাম। তখন দেখলাম তাঁর কন্যা আয়েশা (রা.) শুয়ে আছেন এবং তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর পিতাকে দেখলাম তাঁর গালে চুম্বন করছেন এবং বলছেন: 'হে বৎসা! তুমি কেমন আছো?'
শু'বার হাদিসে শব্দ বৃদ্ধি করে বর্ণিত হয়েছে যে, বারা (রা.) বলেন, আবু বকর (রা.) বলেছেন—অর্থাৎ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে বের হলেন—: আমরা এক রাখালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পিপাসার্ত ছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বললেন: আমি একটি পাত্র নিলাম এবং তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সামান্য দুধ দোহন করলাম। অতঃপর আমি তা নিয়ে তাঁর কাছে এলাম এবং তিনি তা পান করলেন, এমনকি (তা দেখে) আমি সন্তুষ্ট হলাম। এটি সফরের হাদিস থেকে পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম বুখারি ও মুসলিম এভাবেই তা বর্ণনা করেছেন।
৪ - চতুর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এবং হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাকে (আবু হুরায়রাকে) সেই হজের সময় পাঠিয়েছিলেন, যার আমির হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (আবু বকরকে) নিযুক্ত করেছিলেন এর আগে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
حجَّة الْوَدَاع فِي رهطٍ يُؤذن فِي النَّاس يَوْم النَّحْر: أَلا يحجّ بعد الْعَام مُشْرك، وَلَا يطوف بِالْبَيْتِ عُرْيَان.
وَفِي رِوَايَة عقيل: قَالَ حميد: ثمَّ أرْدف النَّبِي صلى الله عليه وسلم بعلي بن أبي طَالب، فَأمره أَن يُؤذن ب " بَرَاءَة " قَالَ أَبُو هُرَيْرَة: فَأذن مَعنا فِي أهل منى ب " بَرَاءَة ": أَلا يحجّ بعد الْعَام مشركٌ وَلَا يطوف بِالْبَيْتِ عُرْيَان.
وَفِي رِوَايَة أبي الْيَمَان: وَيَوْم الْحَج الْأَكْبَر: يَوْم النَّحْر. وَالْحج الْأَكْبَر: الْحَج، وَإِنَّمَا قيل الْحَج الْأَكْبَر من أجل قَول النَّاس: الْحَج الْأَصْغَر. قَالَ: فنبذ أَبُو بكر إِلَى النَّاس فِي ذَلِك الْعَام، فَلم يحجّ فِي الْعَام الْقَابِل الَّذِي حج فِيهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم حجَّة الْوَدَاع - مشركٌ، وَأنزل الله تَعَالَى فِي الْعَام الَّذِي نبذ فِيهِ أَبُو بكر إِلَى الْمُشْركين: {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا إِنَّمَا الْمُشْركُونَ نجس فَلَا يقربُوا الْمَسْجِد الْحَرَام بعد عَامهمْ هَذَا وَإِن خِفْتُمْ عيلة فَسَوف يغنيكم الله من فَضله} [سُورَة التَّوْبَة: 28] وَكَانَ الْمُشْركُونَ يوافون بِالتِّجَارَة، فينتفع بهَا الْمُسلمُونَ، فَلَمَّا حرم الله على الْمُشْركين أَن يقربُوا الْمَسْجِد الْحَرَام وجد الْمُسلمُونَ فِي أنفسهم مِمَّا قطع عَلَيْهِم من التِّجَارَة الَّتِي كَانَ الْمُشْركُونَ يوافون بهَا، فَقَالَ الله عز وجل: {وَإِن خِفْتُمْ عيلة فَسَوف يغنيكم الله من فَضله إِن شَاءَ} ثمَّ أحل فِي الْآيَة الَّتِي فِيهَا تتبعها الْجِزْيَة، وَلم تُؤْخَذ قبل ذَلِك، فَجَعلهَا عوضا مِمَّا مَنعهم من موافاة الْمُشْركين بتجاراتهم، فَقَالَ عز وجل: {قَاتلُوا الَّذين لَا يُؤمنُونَ بِاللَّه وَلَا بِالْيَوْمِ الآخر} [سُورَة التَّوْبَة: 29] ، فَلَمَّا أحل الله عز وَجل
বিদায় হজের প্রাক্কালে কুরবানীর দিনে একদল লোকের মাঝে ঘোষণা দেওয়া হলো যে: এই বছরের পর কোনো মুশরিক যেন হজ না করে এবং কোনো ব্যক্তি যেন উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করে।
উকাইলের বর্ণনায় হুমায়দ বলেন: অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী ইবনে আবি তালিবকে পাঠালেন এবং তাকে 'বারাআত' (সুরা তাওবাহ) ঘোষণা করার নির্দেশ দিলেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: তিনি আমাদের সাথে মিনাবাসীদের মাঝে 'বারাআত' পাঠ করে শোনালেন যে: এই বছরের পর কোনো মুশরিক যেন হজ না করে এবং উলঙ্গ অবস্থায় কেউ যেন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করে।
আবুল ইয়ামানের বর্ণনায় রয়েছে: আর হজ্বে আকবর বা শ্রেষ্ঠ হজের দিন হলো কুরবানীর দিন। আর হজই হলো হজ্বে আকবর, মূলত একে হজ্বে আকবর বলা হয়েছে মানুষের 'হজ্বে আসগর' (ছোট হজ বা উমরা) বলার কারণে। তিনি বলেন: আবু বকর (রা.) সেই বছর মানুষের মাঝে এই ঘোষণা প্রচার করেন। ফলে পরবর্তী বছর, যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজ সম্পন্ন করেছিলেন, কোনো মুশরিক হজ করেনি। আর আবু বকর (রা.) যে বছর মুশরিকদের সাথে কৃত চুক্তি ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সে বছর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {হে মুমিনগণ, মুশরিকরা তো অপবিত্র, সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয়। আর যদি তোমরা দারিদ্র্যের ভয় করো, তবে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন} [সুরা তাওবাহ: ২৮]। মুশরিকরা ব্যবসার পণ্য নিয়ে আসত, যার মাধ্যমে মুসলমানরা উপকৃত হতো। যখন আল্লাহ মুশরিকদের মসজিদুল হারামে আসা নিষিদ্ধ করলেন, তখন মুশরিকদের সাথে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুসলমানদের মনে কিছুটা সংকটের আশঙ্কা দেখা দিল। তখন মহান আল্লাহ বললেন: {আর যদি তোমরা দারিদ্র্যের ভয় করো, তবে আল্লাহ চাইলে তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন}। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াতে তিনি জিজয়া বা কর প্রদানের বিধান অবতীর্ণ করলেন, যা এর আগে গ্রহণ করা হতো না। তিনি এটিকে মুশরিকদের ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিনিময় হিসেবে নির্ধারণ করলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না} [সুরা তাওবাহ: ২৯]। অতঃপর যখন মহান আল্লাহ বৈধ করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
ذَلِك للْمُسلمين عرفُوا أَنه قد عاضهم بِأَفْضَل مِمَّا خافوه ووجدوا عَلَيْهِ مِمَّا كَانَ الْمُشْركُونَ يوافون بِهِ فِي التِّجَارَة.
وَفِي رِوَايَة ابْن وهب: وَكَانَ حميد يَقُول: يَوْم النَّحْر: يَوْم الْحَج الْأَكْبَر، من أجل حَدِيث أبي هُرَيْرَة.
5 - الْخَامِس: عَن أبي هُرَيْرَة أَيْضا قَالَ: لما توفّي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، واستخلف أَبُو بكر بعده، وَكفر من كفر من الْعَرَب. قَالَ عمر بن الْخطاب لأبي بكر: كَيفَ تقَاتل النَّاس وَقد قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله، فَمن قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله عصم مني مَاله وَنَفسه إِلَّا بِحقِّهِ، وحسابه على الله " فَقَالَ أَبُو بكر: وَالله لأقاتلن من فرق بَين الصَّلَاة وَالزَّكَاة، فَإِن الزَّكَاة حق المَال، وَالله لَو مَنَعُونِي عنَاقًا كَانُوا يؤدونها إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعهَا، فَقَالَ عمر: فوَاللَّه مَا هُوَ إِلَّا أَن رَأَيْت أَن الله شرح صدر أبي بكر لِلْقِتَالِ، فَعرفت أَنه الْحق.
وَفِي رِوَايَة: عقَالًا كَانُوا يؤدونه.
وَيدخل أَيْضا هَذَا الحَدِيث فِي مُسْند عمر، بقوله فِيهِ: إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: " أمرت أَن أقَاتل النَّاس. . ".
6 - السَّادِس عَن عمر عَن أبي بكر، الْمسند مِنْهُ فَقَط وَهُوَ: " لَا نورث، مَا تركنَا صَدَقَة ".
এটি মুসলমানদের জন্য, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে, তারা যা হারানোর ভয় করেছিল, তার পরিবর্তে আল্লাহ তাদের অধিক উত্তম প্রতিদান দিয়েছেন এবং তারা তা লাভ করেছে যা মুশরিকরা বাণিজ্যের সময় বিনিময় হিসেবে নিয়ে আসত।
ইবনে ওয়াহবের বর্ণনায় রয়েছে: হুমাইদ বলতেন: আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসের কারণে কুরবানির দিনটিই হলো হজ্জে আকবরের দিন।
৫ - পঞ্চম: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর পরে আবু বকর (রা.) খলিফা নিযুক্ত হলেন এবং আরবের একদল লোক ধর্মত্যাগ (কুফরি) করল, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আবু বকর (রা.)-কে বললেন: আপনি কীভাবে মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে। অতঃপর যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, সে আমার থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য হক ব্যতীত। আর তার চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর কাছে।" তখন আবু বকর (রা.) বললেন: আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি নামাজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব; কারণ জাকাত হলো সম্পদের ওপর অর্পিত হক। আল্লাহর কসম! তারা যদি একটি ছাগলছানাও দিতে অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে প্রদান করত, তবে সেই অস্বীকৃতির কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। উমর (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম! আমি তখন দেখলাম যে আল্লাহ আবু বকরের অন্তরকে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটাই সত্য।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "উট বাঁধার একটি রশি যা তারা প্রদান করত।"
এই হাদিসটি উমর (রা.)-এর মুসনাদেও অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ সেখানে তাঁর এই উক্তি রয়েছে যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে..."
৬ - ষষ্ঠ: উমর (রা.) থেকে আবু বকর (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, যার কেবল মারফু (মুসনাদ) অংশটি হলো: "আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী রাখা হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা।"
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
لمُسلم من رِوَايَة جوَيْرِية بن أَسمَاء، عَن مَالك، وَعَن عَائِشَة بِطُولِهِ: أَن فَاطِمَة سَأَلت أَبَا بكر أَن يقسم لَهَا مِيرَاثهَا.
وَفِي رِوَايَة أُخْرَى: أَن فَاطِمَة وَالْعَبَّاس أَتَيَا أَبَا بكر يلتمسان ميراثهما من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وهم حينئذٍ يطلبان أرضه من فدك، وسهمه من خَيْبَر، فَقَالَ أَبُو بكر إِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَا نورث، مَا تركنَا صدقةٌ، إِنَّمَا يَأْكُل آل مُحَمَّد فِي هَذَا المَال " وَإِنِّي وَالله لَا أدع أمرا رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يصنعه فِيهِ إِلَّا صَنعته. زَاد فِي رِوَايَة صَالح بن كيسَان: إِنِّي أخْشَى إِن تركت شَيْئا من أمره أَن أزيغ. قَالَ: وَأما صدقته بِالْمَدِينَةِ فَدَفعهَا عمر إِلَى عَليّ وعباس، فغلبه عَلَيْهَا عَليّ.
وَأما خَيْبَر وفدك فَأَمْسَكَهُمَا عمر وَقَالَ: هما صَدَقَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، كَانَتَا لحقوقه الَّتِي تعروه ونوائبه، وَأَمرهمَا إِلَى من ولي الْأَمر. قَالَ: فهما على ذَلِك إِلَى الْيَوْم.
قَالَ غير صَالح فِي رِوَايَته فِي حَدِيث أبي بكر: فَهجرَته فَاطِمَة، فَلم تكَلمه فِي ذَلِك حَتَّى مَاتَت، فدفنها عَليّ لَيْلًا، وَلم يُؤذن بهَا أَبَا بكر، قَالَ: فَكَانَ لعَلي وجهٌ من النَّاس حَيَاة فَاطِمَة، فَلَمَّا توفيت فَاطِمَة انصرفت وُجُوه النَّاس عَن عَليّ، وَمَكَثت فَاطِمَة بعد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سِتَّة أشهر ثمَّ توفيت. فَقَالَ رجلٌ لِلزهْرِيِّ: فَلم يبايعه على سِتَّة أشهر. فَقَالَ: لَا وَالله، وَلَا أحدٌ من بني هَاشم حَتَّى بَايعه عَليّ وَفِي حَدِيث عُرْوَة: فَلَمَّا رأى عَليّ انصراف وُجُوه النَّاس عَنهُ فزع إِلَى مصالحة أبي بكر، فَأرْسل إِلَى أبي بكر: ائتنا، وَلَا يأتنا مَعَك أحدٌ، وَكره أَن يَأْتِيهِ عمر، لما علم من شدَّة عمر، فَقَالَ عمر: لَا تأتهم وَحدك. فَقَالَ أَبُو بكر: وَالله لآتينهم وحدي، مَا عَسى أَن يصنعوا بِي. فَانْطَلق أَبُو بكر، فَدخل على عَليّ وَقد جمع بني هَاشم عِنْده، وَقَامَ عَليّ، فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهله، ثمَّ قَالَ: أما بعد، فَلم يمنعنا أَن نُبَايِعك يَا أَبَا بكر إنكاراً لفضلك، وَلَا نفاسة عَلَيْك لخيرٍ سَاقه
মুসলিমে জুওয়াইরিয়া ইবনে আসমা হতে, তিনি মালিক হতে এবং আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে উল্লেখ আছে যে: ফাতিমা (রা.) আবু বকর (রা.)-এর নিকট আবেদন করলেন যেন তিনি তাঁর মীরাস (উত্তরাধিকার) বণ্টন করে দেন।
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ফাতিমা এবং আব্বাস (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে তাঁদের উত্তরাধিকার লাভের উদ্দেশ্যে আবু বকর (রা.)-এর কাছে আসলেন। তখন তাঁরা ফাদাকের জমি এবং খায়বারের অংশ দাবি করছিলেন। তখন আবু বকর (রা.) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না; আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকাহ (দান)। মুহাম্মাদের পরিবার কেবল এই সম্পদ থেকে আহার করবে।" আর আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো কাজ যেভাবে করতে দেখেছি, আমি তা সেভাবেই করা বর্জন করব না। সালিহ ইবনে কায়সানের বর্ণনায় অধিক এসেছে: "আমি আশঙ্কা করি যে, যদি তাঁর (রাসূলের) আদেশের কোনো কিছু ত্যাগ করি তবে আমি বিপথগামী হয়ে পড়ব।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: মদিনায় তাঁর (রাসূলের) সাদাকাহর ক্ষেত্রে উমর (রা.) তা আলী এবং আব্বাস (রা.)-এর হাতে সোপর্দ করেন, তবে আলী (রা.) সেটির ওপর প্রভাব বিস্তার করেন (অর্থাৎ পরিচালনার দায়িত্ব নেন)।
আর খায়বার এবং ফাদাক উমর (রা.) নিজের কাছে রেখে দিলেন এবং বললেন: এই দুটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাদাকাহ, যা তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব এবং আপদকালীন প্রয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট ছিল; আর এই দুটির দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত থাকবে যিনি খিলাফতের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বললেন: আজও তা সেই অবস্থাতেই বিদ্যমান।
আবু বকরের হাদীসে সালিহ ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারী বলেছেন: অতঃপর ফাতিমা (রা.) এড়িয়ে চললেন, ফলে তিনি এ বিষয়ে তাঁর (আবু বকরের) সাথে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আর কথা বলেননি। অতঃপর আলী (রা.) তাঁকে রাতে দাফন করেন এবং আবু বকর (রা.)-কে সে সংবাদ জানাননি। বর্ণনাকারী বলেন: ফাতিমা জীবিত থাকা পর্যন্ত মানুষের নিকট আলীর এক বিশেষ মর্যাদা ছিল। কিন্তু যখন ফাতিমা ইন্তেকাল করলেন, তখন মানুষের চেহারা আলীর দিক থেকে ঘুরে গেল। ফাতিমা (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর ছয় মাস জীবিত ছিলেন, অতঃপর ইন্তেকাল করেন। জনৈক ব্যক্তি যুহরীকে জিজ্ঞেস করলেন: তবে কি তিনি (আলী) ছয় মাস পর্যন্ত তাঁর কাছে বায়আত হননি? তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম, বনী হাশিমের কেউই বায়আত হননি যতক্ষণ না আলী (রা.) বায়আত হয়েছেন। উরওয়ার হাদীসে আছে: আলী (রা.) যখন তাঁর প্রতি মানুষের বিমুখতা লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আবু বকর (রা.)-এর সাথে আপোষ করতে সচেষ্ট হলেন। তিনি আবু বকর (রা.)-এর নিকট সংবাদ পাঠালেন: আপনি আমাদের নিকট আসুন, তবে আপনার সাথে যেন অন্য কেউ না আসে। উমরের কঠোরতা সম্পর্কে জানতেন বলে তিনি উমরের আসা অপছন্দ করছিলেন। উমর (রা.) বললেন: আপনি তাদের নিকট একা যাবেন না। আবু বকর (রা.) বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তাদের নিকট একাই যাব, তাঁরা আমার সাথে কী-ই বা করতে পারেন? অতঃপর আবু বকর (রা.) রওনা হলেন এবং আলীর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আলী (রা.) তাঁর নিকট বনী হাশিমকে সমবেত করেছিলেন। আলী (রা.) দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: আম্মা বাদ, হে আবু বকর! আপনার শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করে কিংবা আল্লাহ আপনাকে যে কল্যাণ দান করেছেন তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমরা আপনার বায়আত হতে বিরত থাকিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
الله إِلَيْك، وَلَكنَّا كُنَّا نرى أَنه لنا فِي هَذَا الْأَمر حَقًا فاستبددتم علينا، ثمَّ ذكر قرابتهم من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وحقهم، فَلم يزل عَليّ يذكر حَتَّى بَكَى أَبُو بكر، وَصمت عَليّ. فَتشهد أَبُو بكر، فَحَمدَ الله وَأثْنى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهله، ثمَّ قَالَ: فوَاللَّه لقرابة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أحب إِلَيّ أَن أصل من قَرَابَتي، وَالله مَا ألوت فِي هَذِه الْأَمْوَال الَّتِي كَانَت بيني وَبَيْنكُم عَن الْخَيْر، وَلَكِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: " لَا نورث، مَا تركنَا صَدَقَة، إِنَّمَا يَأْكُل آل محمدٍ فِي هَذَا المَال " وَإِنِّي وَالله لَا أدع أمرا صنعه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَّا صَنعته إِن شَاءَ الله. وَقَالَ عَليّ: موعدك العشية لِلْبيعَةِ.
فَلَمَّا صلى أَبُو بكر الظّهْر، أقبل على النَّاس يعْذر عليا بِبَعْض مَا اعتذر بِهِ، ثمَّ قَامَ عليٌّ فَعظم من حق أبي بكر وَذكر فضيلته وسابقته، ثمَّ قَامَ إِلَى أبي بكر فَبَايعهُ، فَأقبل النَّاس على عَليّ، فَقَالُوا: أصبت وأحسنت، وَكَانَ الْمُسلمُونَ إِلَى عَليّ قَرِيبا حِين رَاجع الْأَمر الْمَعْرُوف رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ.
আল্লাহর ওপরই (সব ন্যস্ত), কিন্তু আমরা মনে করতাম যে এই বিষয়ে (খিলাফতে) আমাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, তবে আপনারা আমাদের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব করেছেন। এরপর তিনি (আলী) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং তাদের অধিকারের কথা উল্লেখ করতে থাকলেন। আলী ক্রমাগত তা বর্ণনা করতে থাকলেন, এক পর্যায়ে আবু বকর কেঁদে ফেললেন এবং আলী নীরব হলেন। তখন আবু বকর তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আল্লাহর শান অনুযায়ী তাঁর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমার নিকট আমার নিজের আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রাখার চেয়েও অধিক প্রিয়। আল্লাহর কসম, আপনাদের ও আমার মাঝে বিদ্যমান এই সম্পদসমূহের বিষয়ে আমি কল্যাণ কামনায় কোনো ত্রুটি করিনি। কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী মনোনীত হয় না; আমরা যা রেখে যাই তা সদকা। মুহাম্মাদের পরিবার কেবল এই সম্পদ থেকে জীবিকা গ্রহণ করবে।" আল্লাহর শপথ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন, ইনশাআল্লাহ আমি তার কোনো কিছুই করা থেকে বিরত হব না। আলী বললেন: বায়আতের জন্য আপনার সাথে আমার সাক্ষাতের সময় হলো আজ অপরাহ্ণে।
অতঃপর আবু বকর যখন যোহরের সালাত আদায় করলেন, তিনি জনগণের মুখোমুখি হয়ে আলীর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত কিছু ওজর পেশ করে তাকে দায়মুক্ত করলেন। এরপর আলী দণ্ডায়মান হলেন এবং আবু বকরের অধিকারের মাহাত্ম্য তুলে ধরলেন এবং তাঁর মর্যাদা ও ইসলামে তাঁর অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি আবু বকরের নিকট গিয়ে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন। এতে সাধারণ মানুষ আলীর দিকে এগিয়ে এলেন এবং বললেন: আপনি সঠিক কাজ করেছেন এবং উত্তম কাজ করেছেন। আলী যখন পরিচিত হকের দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন মুসলমানগণ পুনরায় আলীর নিকটবর্তী হলেন; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
مَا انْفَرد البُخَارِيّ بِإِخْرَاجِهِ من ذَلِك
7 - الأول: عَن عمر، من رِوَايَة عبد الله بن عمر: أَن عمر حِين تأيمت حَفْصَة بنت عمر من خُنَيْس بن حذافة السَّهْمِي - وَكَانَ من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، قد شهد بَدْرًا وَتُوفِّي بِالْمَدِينَةِ - قَالَ عمر: فَلَقِيت عُثْمَان بن عَفَّان فعرضت عَلَيْهِ حَفْصَة فَقلت: إِن شِئْت أنكحتك حَفْصَة ابْنة عمر، فَقَالَ: سَأَنْظُرُ فِي أَمْرِي. فَلَبثت ليَالِي، ثمَّ لَقِيَنِي فَقَالَ: قد بدا لي أَلا أَتزوّج يومي هَذَا. قَالَ عمر: فَلَقِيت أَبَا بكر الصّديق فَقلت: إِن شِئْت أنكحتك حَفْصَة ابْنة عمر، فَصمت أَبُو بكر فَلم يرجع إِلَيّ شَيْئا، فَكنت مِنْهُ أوجد مني على عُثْمَان، فَلَبثت ليَالِي، ثمَّ خطبهَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم فأنكحتها إِيَّاه، فلقيني أَبُو بكر فَقَالَ: لَعَلَّك وجدت عَليّ حِين عرضت عَليّ حَفْصَة فَلم أرجع إِلَيْك شَيْئا؟ فَقلت: نعم.
قَالَ: فَإِنَّهُ لم يَمْنعنِي أَن أرجع إِلَيْك فِيمَا عرضت عَليّ إِلَّا أَنِّي قد كنت علمت أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قد ذكرهَا، فَلم أكن لأفشي سر النَّبِي صلى الله عليه وسلم، وَلَو تَركهَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم لقبلتها.
يُقَال: انْفَرد معمر بقوله فِيهِ: إِلَّا أَنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يذكرهَا، وَسَائِر الروَاة يَقُولُونَ: علمت.
قَالَ فِيهِ الرَّاوِي عَن معمر: حُبَيْش بِالْحَاء الْمُهْملَة والشين الْمُعْجَمَة وَالْبَاء، وَهُوَ تَصْحِيف، لِأَنَّهُ بِالْخَاءِ الْمُعْجَمَة وَالنُّون وَالسِّين الْمُهْملَة.
ইমাম বুখারী এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন৭ - প্রথমটি: ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.)-এর বর্ণনায়: যখন ওমরের কন্যা হাফসা (রা.) খুনায়েস বিন হুজাফা আস-সাহমী হতে বিধবা হলেন—আর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের একজন ছিলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং মদিনায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন—ওমর (রা.) বলেন: তখন আমি ওসমান বিন আফফান (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে হাফসার প্রস্তাব পেশ করলাম। আমি বললাম: আপনি চাইলে আমি ওমরের কন্যা হাফসাকে আপনার সাথে বিবাহ দিতে পারি। তিনি বললেন: আমি আমার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব। এরপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম, অতঃপর তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, আমি বর্তমানে বিবাহ করব না। ওমর (রা.) বলেন: এরপর আমি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আপনি চাইলে আমি ওমরের কন্যা হাফসাকে আপনার সাথে বিবাহ দিতে পারি। আবু বকর (রা.) নিশ্চুপ থাকলেন এবং আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। এতে ওসমানের চেয়ে তাঁর প্রতি আমার মনে অধিক ক্ষোভ তৈরি হলো। আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং আমি তাঁর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করলাম। পরে আবু বকর (রা.) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: সম্ভবত আপনি হাফসার প্রস্তাব পেশ করার সময় আমার নিরুত্তর থাকায় আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন? আমি বললাম: হ্যাঁ।
তিনি বললেন: আপনার দেওয়া প্রস্তাবের উত্তর দিতে আমাকে অন্য কিছু বাধা দেয়নি, কেবল আমি জানতাম যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা উল্লেখ করেছিলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথা প্রকাশ করতে চাইনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁকে ছেড়ে দিতেন, তবে আমি অবশ্যই তাঁকে গ্রহণ করতাম।
বলা হয় যে: মামার এই বর্ণনায় এককভাবে বলেছেন যে: "তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কথা উল্লেখ করতে শুনেছি", অথচ অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ বলেছেন: "আমি জানতাম"।
মামার হতে বর্ণনাকারী এতে বলেছেন: "হুবাইশ" (হা, শীন এবং বা দিয়ে), যা একটি লিখনগত ভুল (তাশহিফ); কারণ সঠিক নাম হলো "খুনাইস" (খা, নূন এবং সীন দিয়ে)।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
اختصر البُخَارِيّ حَدِيث معمر احْتِرَازًا مِمَّا وَقع للراوي فِيهِ، فَقَالَ: إِن عمر حِين تأيمت حَفْصَة من ابْن حذافة السَّهْمِي، وَلم يسمه، وقطعه عِنْد قَوْله: قَالَ عمر: فَلَقِيت أَبَا بكر فَقلت: إِن شِئْت أنكحتك حَفْصَة، لم يزدْ.
وَهَذَا الحَدِيث أَيْضا يذكر فِي مُسْند عمر لقَوْله فِيهِ: ثمَّ خطبهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فأنكحتها إِيَّاه.
8 - الثَّانِي: عَن عبد الله بن عمر. عَن أبي بكر مَوْقُوفا أَنه قَالَ: ارقبوا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، فِي أهل بَيته.
9 - الثَّالِث: فِي جمع الْقُرْآن:
عَن زيد بن ثَابت قَالَ: أرسل إِلَيّ أَبُو بكر مقتل أهل الْيَمَامَة، فَإِذا عمر جالسٌ عِنْده، فَقَالَ أَبُو بكر: إِن عمر جَاءَنِي فَقَالَ: إِن الْقَتْل قد استحر يَوْم الْيَمَامَة بقراء الْقُرْآن، وَإِنِّي أخْشَى أَن يستحر الْقَتْل بالقراء فِي كل المواطن، فَيذْهب من الْقُرْآن كثير، وَإِنِّي أرى أَن تَأمر بِجمع الْقُرْآن. قَالَ: قلت لعمر: وَكَيف أفعل شَيْئا لم يَفْعَله رَسُول الله صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ عمر: هُوَ وَالله خيرٌ. فَلم يزل يراجعني فِي ذَلِك حَتَّى شرح الله صَدْرِي للَّذي شرح لَهُ صدر عمر، وَرَأَيْت فِي ذَلِك الَّذِي رأى عمر.
قَالَ زيد - وَفِي رِوَايَة فَقَالَ لي أَبُو بكر:
إِنَّك رجلٌ شابٌّ عاقلٌ لَا نتهمك، قد كنت تكْتب الْوَحْي لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فتتبع الْقُرْآن فاجمعه. قَالَ زيدٌ: فوَاللَّه لَو كلفني نقل جبلٍ من الْجبَال مَا كَانَ أثقل عَليّ مِمَّا أَمرنِي بِهِ من جمع الْقُرْآن. قَالَ:
ইমাম বুখারী রাবী বা বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে যা ঘটেছে তা থেকে সতর্কতাস্বরূপ মা’মারের হাদীসটি সংক্ষিপ্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: যখন হাফসা (রা.) ইবনে হুযাফা আস-সাহমী থেকে বিধবা হলেন—তিনি তার নাম উল্লেখ করেননি—এবং তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত তা ছেদ করেছেন: উমর (রা.) বলেন: আমি আবু বকর (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আপনি চাইলে আমি আপনার কাছে হাফসাকে বিবাহ দেব; তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বলেননি।
এই হাদীসটি উমর (রা.)-এর মুসনাদেও উল্লেখ করা হয়, কারণ সেখানে তাঁর উক্তি রয়েছে: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, এরপর আমি তাঁকে তাঁর নিকট বিবাহ দিলাম।
৮ - দ্বিতীয়: আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। আবু বকর (রা.) থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: তোমরা তাঁর আহলে বায়তের (পরিবারবর্গের) মাধ্যমে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদা রক্ষা করো।
৯ - তৃতীয়: কুরআন সংকলন প্রসঙ্গে:
যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়ামামার যুদ্ধে লোকদের শাহাদাতের পর আবু বকর (রা.) আমাকে ডেকে পাঠালেন। তখন উমর (রা.) তাঁর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। আবু বকর (রা.) বললেন: উমর আমার নিকট এসে বলল: ইয়ামামার যুদ্ধে হাফেজদের শাহাদাত বরণ অত্যন্ত তীব্র রূপ ধারণ করেছে এবং আমি আশঙ্কা করছি যে সব রণক্ষেত্রে হাফেজদের শাহাদাত বরণ এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে, ফলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যাবে। আর আমি মনে করি আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ প্রদান করুন। তিনি (আবু বকর) বলেন: আমি উমরকে বললাম: আমি এমন কাজ কীভাবে করব যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেননি? উমর বলল: আল্লাহর কসম, এটি কল্যাণকর কাজ। সে এ বিষয়ে বারবার আমার নিকট পুনরাবৃত্তি করতে লাগল যতক্ষণ না আল্লাহ উমরের বক্ষকে যে বিষয়ের জন্য প্রশস্ত করেছিলেন আমার বক্ষকেও সেই বিষয়ের জন্য প্রশস্ত করে দিলেন এবং এ ব্যাপারে উমর যা সঠিক মনে করেছিলেন আমিও তা-ই সঠিক মনে করলাম।
যায়েদ বলেন - এবং এক বর্ণনায় রয়েছে, আবু বকর (রা.) আমাকে বললেন:
নিশ্চয়ই আপনি একজন বুদ্ধিমান যুবক, আমরা আপনাকে কোনো প্রকার সন্দেহ করি না, আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী লিখতেন; সুতরাং আপনি কুরআন অনুসন্ধান করুন এবং তা সংকলন করুন। যায়েদ (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম, তিনি যদি আমাকে পাহাড়সমূহের মধ্য হতে কোনো এক পাহাড় স্থানান্তরের দায়িত্ব দিতেন, তবে কুরআন সংকলনের যে নির্দেশ তিনি আমাকে দিয়েছেন তা আমার নিকট তার চেয়ে অধিক ভারী বলে মনে হতো না। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯০)
كَيفَ تفعلان شَيْئا لم يَفْعَله رَسُول الله صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ أَبُو بكر: هُوَ - وَالله - خيرٌ، قَالَ: فَلم يزل أَبُو بكر يراجعني. وَفِي أُخْرَى: فَلم يزل عمر يراجعني حَتَّى شرح الله صَدْرِي للَّذي شرح لَهُ صدر أبي بكر وَعمر.
قَالَ: فتتبعت الْقُرْآن أجمعه من الرّقاع والعسب واللخاف وصدور الرِّجَال، حَتَّى وجدت آخر سُورَة التَّوْبَة مَعَ خُزَيْمَة، أَو مَعَ أبي خُزَيْمَة الْأنْصَارِيّ، لم أَجدهَا مَعَ أحد غَيره. {لقد جَاءَكُم رَسُول من أَنفسكُم (128) } [سُورَة التَّوْبَة] خَاتِمَة " بَرَاءَة ".
قَالَ: فَكَانَت الصُّحُف عِنْد أبي بكر حَتَّى توفاه الله، ثمَّ عِنْد عمر حَتَّى توفاه الله، ثمَّ عِنْد حَفْصَة بنت عمر.
قَالَ بعض الروَاة فِيهِ: اللخاف يَعْنِي الخزف.
زَاد ابْن شهَاب عَن أنس: أَن حُذَيْفَة بن الْيَمَان قدم على عُثْمَان وَكَانَ يغازي أهل الشَّام فِي فتح أرمينية وأذربيجان مَعَ أهل الْعرَاق، فأفزع حُذَيْفَة اخْتلَافهمْ فِي الْقِرَاءَة، فَقَالَ حُذَيْفَة لعُثْمَان: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ، أدْرك هَذِه الْأمة قبل أَن يَخْتَلِفُوا فِي الْكتاب اخْتِلَاف الْيَهُود وَالنَّصَارَى، فَأرْسل عُثْمَان إِلَى حَفْصَة: أَن أرسلي إِلَيْنَا بالصحف ننسخها فِي الْمَصَاحِف ثمَّ نردها إِلَيْك، فَأرْسلت بهَا إِلَيْهِ، فَأمر زيد بن ثَابت وَعبد الله بن الزبير وَسَعِيد بن الْعَاصِ وَعبد الله بن الْحَارِث بن هِشَام، فنسخوها فِي الْمَصَاحِف، وَقَالَ عُثْمَان للرهط القرشيين: إِذا اختلفتم أَنْتُم وَزيد بن ثَابت فِي شَيْء من الْقُرْآن فاكتبوه بِلِسَان قُرَيْش، فَإِنَّمَا نزل بلسانهم، فَفَعَلُوا، حَتَّى إِذا نسخوا الصُّحُف فِي الْمَصَاحِف رد عُثْمَان الصُّحُف إِلَى حَفْصَة، فَأرْسل إِلَى كل أفق بمصحف مِمَّا نسخوا، وامر بِمَا سوى ذَلِك من الْقُرْآن فِي كل صحيفَة أَو مصحفٍ أَن يحرق.
তোমরা কীভাবে এমন কাজ করবে যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি? তখন আবু বকর বললেন: আল্লাহর শপথ, এটি উত্তম কাজ। তিনি (জায়েদ) বললেন: আবু বকর আমার কাছে বার বার এই বিষয়ে বলতে থাকলেন। অন্য বর্ণনায় আছে: উমর আমার কাছে বার বার বলতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ আমার অন্তরকে সেই বিষয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন, যার জন্য আবু বকর ও উমরের অন্তরকে উন্মুক্ত করেছিলেন।
তিনি বললেন: অতঃপর আমি চামড়ার টুকরো, খেজুরের ডাল, চ্যাপ্টা পাথর এবং মানুষের অন্তর থেকে কুরআন সংগ্রহ করতে শুরু করলাম। এমনকি আমি সূরা আত-তাওবার শেষ অংশ খুযাইমা অথবা আবু খুযাইমা আনসারীর কাছে পেলাম, যা অন্য কারো কাছে পাইনি। (তা হলো:) "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন (১২৮)" [সূরা আত-তাওবা] - বারাআহ সূরার সমাপ্তি।
তিনি বললেন: অতঃপর সেই সংকলিত পাণ্ডুলিপিগুলো আবু বকরের কাছে ছিল আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দেওয়া পর্যন্ত, এরপর উমরের কাছে ছিল আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দেওয়া পর্যন্ত, এরপর উমরের কন্যা হাফসার কাছে ছিল।
বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ এখানে বলেছেন: লিখাফ অর্থ হলো মাটির তৈরি পাত্রের টুকরো বা চ্যাপ্টা পাথর।
ইবনে শিহাব আনাস থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে: হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান উসমানের কাছে আসলেন। তিনি তখন ইরাকবাসীদের সাথে নিয়ে সিরিয়াবাসীদের সাথে আরমিনিয়া ও আজারবাইজান বিজয়ের যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। হুজাইফা তাদের কিরাআত বা কুরআন পাঠের ভিন্নতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। অতঃপর হুজাইফা উসমানকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! এই উম্মতকে রক্ষা করুন, তারা কিতাব নিয়ে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো মতবিরোধে লিপ্ত হওয়ার আগেই। তখন উসমান হাফসার কাছে সংবাদ পাঠালেন যে: আমাদের কাছে পাণ্ডুলিপিগুলো পাঠিয়ে দিন, আমরা সেগুলো মাসহাফসমূহে নকল করে আবার আপনার কাছে ফেরত পাঠাব। হাফসা সেগুলো তাঁর কাছে পাঠালেন। এরপর তিনি জায়েদ বিন সাবিত, আবদুল্লাহ বিন জুবাইর, সাঈদ বিন আস এবং আবদুল্লাহ বিন হারিস বিন হিশামকে নির্দেশ দিলেন; তারা সেগুলো মাসহাফসমূহে নকল করলেন। উসমান কুরাইশ বংশীয় দলটিকে বললেন: যদি কোনো বিষয়ে জায়েদ বিন সাবিতের সাথে তোমাদের মতভেদ হয়, তবে তা কুরাইশদের ভাষায় লিখো; কেননা কুরআন তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। তারা তাই করলেন। এভাবে যখন তারা পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে মাসহাফসমূহে নকল শেষ করলেন, তখন উসমান পাণ্ডুলিপিগুলো হাফসার কাছে ফেরত দিলেন। এরপর তিনি নকলকৃত মাসহাফগুলো প্রতিটি দিগন্তে পাঠিয়ে দিলেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, এছাড়া অন্য কোনো পত্রে বা মাসহাফে কুরআনের যা কিছু আছে তা যেন পুড়িয়ে ফেলা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯১)
قَالَ ابْن شهَاب: وَأَخْبرنِي خَارِجَة بن زيد بن ثَابت أَنه سمع زيد بن ثَابت يَقُول: فقدت آيَة من سُورَة الْأَحْزَاب - حَتَّى نسخت الصُّحُف - قد كنت أسمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقْرَأها، فالتمسناها، فَوَجَدْنَاهَا مَعَ خُزَيْمَة بن ثَابت الْأنْصَارِيّ: {من الْمُؤمنِينَ رجال صدقُوا مَا عَاهَدُوا الله (23) } [سُورَة الْأَحْزَاب] فألحقناها فِي سورتها من الْمُصحف.
قَالَ: وَفِي رِوَايَة أبي الْيَمَان: مَعَ خُزَيْمَة بن ثَابت الَّذِي جعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم شَهَادَته شَهَادَة رجلَيْنِ.
زَاد فِي رِوَايَة أُخْرَى: قَالَ ابْن شهَاب: اخْتلفُوا يومئذٍ فِي " التابوت " فَقَالَ زيدٌ: " التابوه "، وَقَالَ ابْن الزبير وَسَعِيد بن الْعَاصِ " التابوت "، فَرفع اخْتلَافهمْ إِلَى عُثْمَان فَقَالَ: أكتبوه " التابوت " فَإِنَّهُ بِلِسَان قُرَيْش.
الْمسند من هَذَا الحَدِيث قَول أبي بكر لزيد بن ثَابت: قد كنت تكْتب الْوَحْي لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم. وَقَول عُثْمَان: فَإِنَّمَا نزل بِلِسَان قُرَيْش. وَقَول زيد: قد كنت أسمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقْرَأ بهَا. وَقَوله عَن خُزَيْمَة: الَّذِي جعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم شَهَادَته شَهَادَة رجلَيْنِ.
10 - الرَّابِع: حَدِيث الصَّدقَات: ذكره البُخَارِيّ فِي عشرَة مَوَاضِع من كِتَابه بِإِسْنَاد وَاحِد مقطعاً من رِوَايَة ثُمَامَة بن عبد الله بن أنس، عَن أنس بن مَالك: أَن أَبَا بكر الصّديق لما اسْتخْلف كتب لَهُ حِين وَجهه إِلَى الْبَحْرين هَذَا الْكتاب، وَكَانَ نقش الْخَاتم ثَلَاثَة أسطر: مُحَمَّد سطر، وَرَسُول سطر، وَالله سطر.
ইবনে শিহাব বলেন: এবং আমাকে খারিজাহ ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিত সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি যায়েদ ইবনে সাবিতকে বলতে শুনেছেন: আমি সূরা আল-আহযাবের একটি আয়াত পাচ্ছিলাম না—যতক্ষণ না পাণ্ডুলিপিগুলো প্রতিলিপি করা হলো—অথচ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা তিলাওয়াত করতে শুনতাম। অতঃপর আমরা তা সন্ধান করলাম এবং তা খুযাইমাহ ইবনে সাবিত আনসারীর নিকট পেলাম: {মু’মিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছে (২৩)} [সূরা আল-আহযাব]। এরপর আমরা তা মুসহাফের নির্দিষ্ট সূরায় সংযুক্ত করলাম।
তিনি বলেন: এবং আবুল ইয়ামানের বর্ণনায় রয়েছে: খুযাইমাহ ইবনে সাবিতের নিকট, যাঁর সাক্ষ্যকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমতুল্য করেছিলেন।
অন্য এক বর্ণনায় বর্ধিত করা হয়েছে: ইবনে শিহাব বলেন: সেদিন তারা "আত-তাবুত" শব্দটির ব্যাপারে মতভেদ করেছিলেন। যায়েদ বললেন: "আত-তাবুহ", এবং ইবনে যুবাইর ও সাঈদ ইবনুল আস বললেন: "আত-তাবুত"। অতঃপর তাদের মতভেদ উসমানের নিকট পেশ করা হলো। তিনি বললেন: তোমরা এটি "আত-তাবুত" লিখবে, কারণ তা কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।
এই হাদীসের মুসনাদ (বর্ণিত অংশ) হলো যায়েদ ইবনে সাবিতের প্রতি আবু বকরের উক্তি: "তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ওহী লিখতে।" এবং উসমানের উক্তি: "নিশ্চয়ই এটি কুরাইশদের ভাষায় নাযিল হয়েছে।" এবং যায়েদের উক্তি: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা তিলাওয়াত করতে শুনতাম।" এবং খুযাইমাহ সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "যাঁর সাক্ষ্যকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমতুল্য করেছিলেন।"
১০ - চতুর্থ: সাদাকা সংক্রান্ত হাদীস: ইমাম বুখারী এটি তাঁর কিতাবের দশটি স্থানে একক সনদে খণ্ডিতভাবে সুমামাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু বকর সিদ্দিক যখন খলিফা হলেন, তখন তাঁকে বাহরাইনে পাঠানোর সময় এই পত্রটি লিখে দিয়েছিলেন। আর আংটির নকশা ছিল তিন লাইনে: মুহাম্মদ এক লাইনে, রাসূল এক লাইনে এবং আল্লাহ এক লাইনে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯২)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيمهَذِه فَرِيضَة الصَّدَقَة الَّتِي فَرضهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على الْمُسلمين، وَالَّتِي أَمر الله بهَا رَسُوله صلى الله عليه وسلم فَمن سئلها من الْمُسلمين على وَجههَا فليعطها، وَمن سُئِلَ فَوْقهَا فَلَا يُعْط.
فِي أَربع وَعشْرين من الْإِبِل فَمَا دونهَا، من الْغنم فِي كل خمس شَاة، فَإِذا بلغت خمْسا وَعشْرين إِلَى خمس وَثَلَاثِينَ فَفِيهَا بنت مَخَاض أُنْثَى، فَإِن لم تكن ابْنة مَخَاض فَابْن لبونٍ ذكر. فَإِذا بلغت سِتا وَثَلَاثِينَ إِلَى خمس وَأَرْبَعين فَفِيهَا بنت لبون أُنْثَى، فَإِذا بلغت سِتا وَأَرْبَعين إِلَى سِتِّينَ فَفِيهَا حقةٌ طروقة الْجمل. فَإِذا بلغت وَاحِدَة وَسِتِّينَ إِلَى خمسٍ وَسبعين فَفِيهَا جَذَعَة، فَإِذا بلغت سِتا وَسبعين إِلَى تسعين فَفِيهَا بِنْتا لبونٍ. فَإِذا بلغت إِحْدَى وَتِسْعين إِلَى عشْرين وَمِائَة فَفِيهَا حقتان طروقتا الْجمل. فَإِذا زَادَت على عشْرين وَمِائَة فَفِي كل أَرْبَعِينَ ابْنة لبون، وَفِي كل خمسين حقة. وَمن لم يكن مَعَه إِلَّا أَربع من الْإِبِل فَلَيْسَتْ فِيهَا صدقةٌ إِلَّا أَن يَشَاء رَبهَا، فَإِذا بلغت خمْسا من الْإِبِل فَفِيهَا شَاة.
وَصدقَة الْغنم فِي سائمتها إِذا كَانَت أَرْبَعِينَ إِلَى عشْرين وَمِائَة شاةٍ شاةٌ، فَإِذا زَادَت على عشْرين وَمِائَة إِلَى مِائَتَيْنِ فَفِيهَا شَاتَان. فَإِذا زَادَت على مِائَتَيْنِ إِلَى ثَلَاثمِائَة فَفِيهَا ثَلَاث شِيَاه. فَإِذا زَادَت على ثَلَاثمِائَة فَفِي كل مائةٍ شاةٌ. فَإِذا كَانَت سَائِمَة الرجل نَاقِصَة من أَرْبَعِينَ شاةٍ شَاة وَاحِدَة فَلَيْسَ فِيهَا صدقةٌ إِلَّا أَن يَشَاء رَبهَا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেএটি জাকাতের সেই নির্ধারিত বিধান যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিমদের ওপর ফরজ করেছেন এবং যার নির্দেশ আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিয়েছেন। সুতরাং মুসলিমদের মধ্যে যার কাছে সঠিক নিয়ম অনুযায়ী তা চাওয়া হবে, সে যেন তা প্রদান করে। আর যার কাছে এর অতিরিক্ত চাওয়া হবে, সে যেন তা না দেয়।
চব্বিশটি পর্যন্ত উটের ক্ষেত্রে এবং এর নিচে—প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরি দিতে হবে। যখন উটের সংখ্যা পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি এক বছর বয়সী মাদী উট (বিনতে মাখাদ) দিতে হবে। যদি এক বছর বয়সী মাদী উট না থাকে, তবে একটি দুই বছর বয়সী নর উট (ইবনে লাবুন) দিতে হবে। যখন সংখ্যাটি ছত্রিশ থেকে পয়তাল্লিশ পর্যন্ত পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি দুই বছর বয়সী মাদী উট (বিনতে লাবুন) দিতে হবে। যখন ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি তিন বছর বয়সী মাদী উট (হিক্কাহ) দিতে হবে যা গর্ভধারণের উপযোগী। যখন একষট্টি থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি চার বছর বয়সী মাদী উট (জাযআহ) দিতে হবে। যখন ছিয়াত্তর থেকে নব্বই পর্যন্ত পৌঁছাবে, তখন তাতে দুটি দুই বছর বয়সী মাদী উট (বিনতে লাবুন) দিতে হবে। যখন একানব্বই থেকে একশত বিশ পর্যন্ত পৌঁছাবে, তখন তাতে দুটি তিন বছর বয়সী মাদী উট (হিক্কাহ) দিতে হবে যা গর্ভধারণের উপযোগী। যখন সংখ্যাটি একশত বিশের অধিক হবে, তখন প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি দুই বছর বয়সী মাদী উট (বিনতে লাবুন) এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি তিন বছর বয়সী মাদী উট (হিক্কাহ) দিতে হবে। আর যার কাছে মাত্র চারটি উট আছে, তাতে কোনো জাকাত নেই; তবে মালিক চাইলে দিতে পারে। কিন্তু যখন তা পাঁচটি উটে পৌঁছাবে, তখন তাতে একটি বকরি দিতে হবে।
আর বিচরণকারী বকরির জাকাত হলো: যখন তার সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশত বিশটি পর্যন্ত হবে, তখন তাতে একটি বকরি দিতে হবে। যখন একশত বিশের অধিক থেকে দুইশত পর্যন্ত হবে, তখন তাতে দুটি বকরি দিতে হবে। যখন দুইশতের অধিক থেকে তিনশত পর্যন্ত হবে, তখন তাতে তিনটি বকরি দিতে হবে। যখন তিনশতের অধিক হবে, তখন প্রতি একশতটির জন্য একটি বকরি দিতে হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তির বিচরণকারী বকরির সংখ্যা চল্লিশ হতে একটি বকরিও কম হয়, তবে তাতে কোনো জাকাত নেই; তবে মালিক চাইলে দিতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
وَلَا يجمع بَين متفرقٍ، وَلَا يفرق بَين مُجْتَمع خشيَة الصَّدَقَة. وَمَا كَانَ من خليطين فَإِنَّهُمَا يتراجعان بَينهمَا بِالسَّوِيَّةِ. وَلَا يخرج فِي الصَّدَقَة هرمةٌ وَلَا ذَات عوار وَلَا تَيْس إِلَّا أَن يَشَاء الْمُصدق. وَفِي الرقة ربع الْعشْر. فَإِن لم يكن إِلَّا تسعين وَمِائَة فَلَيْسَ فِيهَا صدقةٌ إِلَّا أَن يَشَاء رَبهَا.
وَمن بلغت عِنْده من الْإِبِل صَدَقَة الْجَذعَة وَلَيْسَت عِنْده جذعةٌ وَعِنْده حقةٌ فَإِنَّهَا تقبل مِنْهُ الحقة وَيجْعَل مَعهَا شَاتين إِن استيسرتا لَهُ أَو عشْرين درهما. وَمن بلغت عِنْده صَدَقَة الحقة وَلَيْسَت عِنْده الحقة وَعِنْده الْجَذعَة فَإِنَّهَا تقبل مِنْهُ الْجَذعَة وَيُعْطِيه الْمُصدق عشْرين درهما أَو شَاتين. وَمن بلغت عِنْده صَدَقَة الحقة وَلَيْسَت عِنْده إِلَّا بنت لبون فَإِنَّهَا تقبل مِنْهُ بنت لبون وَيُعْطِي شَاتين أَو عشْرين درهما. وَمن بلغت صدقته بنت لبون وَعِنْده حقة فَإِنَّهَا تقبل مِنْهُ الحقة وَيُعْطِيه الْمُصدق عشْرين درهما أَو شَاتين. وَمن بلغت صدقته بنت لبون وَلَيْسَت عِنْده بنت لبونٍ وَعِنْده بنت مخاضٍ فَإِنَّهَا تقبل مِنْهُ بنت مخاضٍ وَيُعْطِي مَعهَا عشْرين درهما أَو شَاتين. وَمن بلغت صدقته بنت مخاضٍ وَلَيْسَت عِنْده وَعِنْده بنت لبون فَإِنَّهَا تقبل مِنْهُ، وَيُعْطِيه الْمُصدق عشْرين درهما أَو شَاتين. فَمن لم يكن عِنْده بنت مَخَاض على وَجههَا وَعِنْده ابْن لبون فَإِنَّهُ يقبل مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَه شَيْء.
قَالَ البُخَارِيّ: وزادتا أَحْمد - يَعْنِي ابْن حَنْبَل - عَن الْأنْصَارِيّ، وَذكر الْإِسْنَاد عَن أنس، قَالَ: كَانَ خَاتم النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي يَده وَفِي يَد أبي بكر، وَفِي يَد عمر بعد أبي بكر، قَالَ: فَلَمَّا كَانَ عُثْمَان، جلس على بِئْر أريس، وَأخرج الْخَاتم فَجعل
যাকাত (কমে যাওয়ার) ভয়ে পৃথক মাল একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিত মাল পৃথক করা যাবে না। আর যে মাল দুজন অংশীদারের, তারা সমতার ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে পুনরায় হিসাব করে নেবে। যাকাতের মাল হিসেবে বৃদ্ধ, ত্রুটিযুক্ত এবং প্রজননকারী ছাগল (পাঁঠা) বের করা যাবে না, যদি না যাকাত আদায়কারী ইচ্ছা করেন। রৌপ্যের (মুদ্রার) ক্ষেত্রে যাকাত হলো এক-দশমাংশের চারভাগের একভাগ (আড়াই শতাংশ)। আর যদি রূপা কেবল একশত নব্বই দিরহাম হয়, তবে তাতে কোনো যাকাত নেই, যদি না তার মালিক (স্বেচ্ছায়) দিতে চায়।
কারো নিকট যখন উটের সংখ্যার কারণে যাকাত হিসেবে একটি 'জাযআ' (পাঁচ বছর বয়সী উট) আবশ্যক হয়, অথচ তার কাছে 'জাযআ' নেই বরং 'হিক্কা' (চার বছর বয়সী উট) আছে, তবে তার থেকে 'হিক্কা' গ্রহণ করা হবে এবং সে এর সাথে দুটি ছাগল দিবে যদি তা সহজলভ্য হয় অথবা বিশ দিরহাম দিবে। আর যার নিকট 'হিক্কা' ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার নিকট 'হিক্কা' নেই বরং 'জাযআ' আছে, তবে তার থেকে 'জাযআ' গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত আদায়কারী তাকে বিশ দিরহাম অথবা দুটি ছাগল প্রদান করবেন। আর যার নিকট 'হিক্কা' ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার নিকট 'বিনতে লাবুন' (তিন বছর বয়সী মাদি উট) ছাড়া আর কিছু নেই, তবে তার থেকে 'বিনতে লাবুন' গ্রহণ করা হবে এবং সে (অতিরিক্ত) দুটি ছাগল অথবা বিশ দিরহাম দিবে। যার ওপর 'বিনতে লাবুন' ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার নিকট 'হিক্কা' আছে, তবে তার থেকে 'হিক্কা' গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত আদায়কারী তাকে বিশ দিরহাম অথবা দুটি ছাগল প্রদান করবেন। যার ওপর 'বিনতে লাবুন' ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার নিকট 'বিনতে লাবুন' নেই বরং 'বিনতে মাখায' (দুই বছর বয়সী মাদি উট) আছে, তবে তার থেকে 'বিনতে মাখায' গ্রহণ করা হবে এবং সে সাথে বিশ দিরহাম অথবা দুটি ছাগল দিবে। আর যার ওপর 'বিনতে মাখায' ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার নিকট তা নেই বরং 'বিনতে লাবুন' আছে, তবে তার থেকে সেটিই গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত আদায়কারী তাকে বিশ দিরহাম অথবা দুটি ছাগল প্রদান করবেন। আর যার নিকট যথানিয়মে 'বিনতে মাখায' নেই বরং 'ইবনে লাবুন' (তিন বছর বয়সী পুরুষ উট) আছে, তবে সেটিই তার থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাকে অতিরিক্ত কিছু দিতে হবে না।
ইমাম বুখারী বলেন: আহমাদ—অর্থাৎ ইবনে হাম্বল—আনসারী সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন এবং আনাস (রা.) থেকে একটি সনদ উল্লেখ করে বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আংটিটি তাঁর হাতে ছিল, অতঃপর আবু বকরের হাতে ছিল এবং আবু বকরের পর ওমরের হাতে ছিল। তিনি বলেন: যখন ওসমানের সময় হলো, তিনি আরীস নামক কূপের পাড়ে বসলেন এবং আংটিটি বের করলেন, অতঃপর তিনি সেটি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
يعبث بِهِ، فَسقط. قَالَ: فاختلفنا ثَلَاثَة أَيَّام مَعَ عُثْمَان ننزح الْبِئْر، فَلم نجده.
وَهَذِه الزِّيَادَة الَّتِي زَادهَا أَحْمد يَنْبَغِي أَن تكون فِي مُسْند أنس.
11 - الْخَامِس: عَن عقبَة بن الْحَارِث بن عَامر بن نَوْفَل بن عبد منَاف، يكنى أَبَا سروعة، لَهُ صُحْبَة، قَالَ: صلى أَبُو بكر الْعَصْر ثمَّ خرج يمشي - يَعْنِي وَمَعَهُ عليٌّ - فَرَأى الْحسن يلْعَب مَعَ الصّبيان، فَحَمله على عَاتِقه وَقَالَ: بِأبي، شَبيه بِالنَّبِيِّ، لَيْسَ شَبِيها بعلي، وَعلي يضْحك.
12 - السَّادِس: عَن عَائِشَة قَالَت: لما اسْتخْلف أَبُو بكر قَالَ: لقد علم قومِي أَن حرفتي لم تكن تعجز عَن مُؤنَة أَهلِي، وشغلت بِأَمْر الْمُسلمين، فسيأكل آل أبي بكر من هَذَا المَال، ويحترف للْمُسلمين فِيهِ.
13 - السَّابِع: عَن عَائِشَة - مَوْقُوف - قَالَت: كَانَ لأبي بكر الصّديق غلامٌ يخرج لَهُ الْخراج، وَكَانَ أَبُو بكر يَأْكُل من خراجه، فجَاء يَوْمًا بِشَيْء فَأكل مِنْهُ أَبُو بكر، فَقَالَ لَهُ الْغُلَام: أَتَدْرِي مَا هَذَا؟ فَقَالَ أَبُو بكر: وَمَا هُوَ؟ قَالَ: كنت تكهنت لإِنْسَان فِي الْجَاهِلِيَّة، وَمَا أحسن الكهانة، إِلَّا أَنِّي خدعته، فلقيني فَأَعْطَانِي بذلك، فَهَذَا الَّذِي أكلت مِنْهُ. فَأدْخل أَبُو بكرٍ يَده، فقاء كل شَيْء فِي بَطْنه.
14 - الثَّامِن: فِي ذكر وَفَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم: عَن عَائِشَة، وَعَن ابْن عَبَّاس من رِوَايَة أبي سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن عَنْهُمَا، قَالَت عَائِشَة فِي حَدِيثهَا: أقبل أَبُو بكر على فرسٍ من مَسْكَنه بالسنح حَتَّى نزل، فَدخل الْمَسْجِد، فَلم يكلم النَّاس حَتَّى دخل
(সেটি নিয়ে) নাড়াচাড়া করছিল, ফলে তা পড়ে গেল। তিনি বললেন: অতঃপর আমরা উসমানের সাথে তিন দিন যাবত সেই কূপের পানি সেচে ফেললাম, কিন্তু সেটি খুঁজে পেলাম না।
আর ইমাম আহমাদ যে অতিরিক্ত অংশটুকু বর্ণনা করেছেন, তা আনাসের মুসনাদে থাকা উচিত।
১১ - পঞ্চম: উকবা ইবনুল হারিস ইবনে আমির ইবনে নাওফাল ইবনে আবদে মানাফ থেকে বর্ণিত, যাঁর উপনাম আবু সারওয়াআ এবং তিনি সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন: আবু বকর আসরের সালাত আদায় করলেন, তারপর পায়ে হেঁটে বের হলেন—অর্থাৎ তাঁর সাথে আলীও ছিলেন—অতঃপর তিনি হাসানকে শিশুদের সাথে খেলা করতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন: আমার পিতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক! সে নবীর সদৃশ, আলীর সদৃশ নয়। আর আলী হাসছিলেন।
১২ - ষষ্ঠ: আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর যখন খলিফা নিযুক্ত হলেন, তখন তিনি বললেন: আমার কওম জানে যে আমার পেশা আমার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অপর্যাপ্ত ছিল না, তবে (এখন) আমি মুসলিমদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। সুতরাং আবু বকরের পরিবার এই সম্পদ থেকে আহার করবে এবং তিনি এতে মুসলিমদের জন্য কাজ করবেন।
১৩ - সপ্তম: আয়েশা থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর সিদ্দিকের একজন দাস ছিল যে তাঁকে করের অর্থ (উপার্জন) এনে দিত এবং আবু বকর তার সেই উপার্জন থেকে আহার করতেন। একদিন সে কিছু নিয়ে এল এবং আবু বকর তা থেকে খেলেন। তখন দাসটি তাঁকে বলল: আপনি কি জানেন এটি কী? আবু বকর বললেন: এটি কী? সে বলল: আমি জাহেলি যুগে এক লোকের জন্য গণকগিরি করেছিলাম, অথচ আমি গণকগিরি ভালো জানতাম না, কেবল তাকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। পরে সে আমার সাথে দেখা করে আমাকে এটি প্রদান করল, আর এটিই আপনি আহার করেছেন। তখন আবু বকর তাঁর হাত (নিজের মুখে) ঢুকিয়ে দিলেন এবং তাঁর পেটে যা ছিল সব বমি করে বের করে দিলেন।
১৪ - অষ্টম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওফাত প্রসঙ্গে: আয়েশা ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, যা আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান তাঁদের উভয়ের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আয়েশা তাঁর বর্ণনায় বলেন: আবু বকর আস-সুনহে অবস্থিত তাঁর বাসস্থান থেকে ঘোড়ায় চড়ে আসলেন এবং নামলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং মানুষের সাথে কোনো কথা না বলে ভেতরে প্রবেশ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
على عَائِشَة، فَبَصر برَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مسجى بِبُرْدَةٍ، فكشف عَن وَجهه وأكب عَلَيْهِ، فَقبله ثمَّ بَكَى فَقَالَ: بِأبي أَنْت وَأمي يَا نَبِي الله، لَا يجمع الله عَلَيْك موتتين، أما الموتة الَّتِي كتبت عَلَيْك فقد متها. قَالَ أَبُو سَلمَة: فَأَخْبرنِي ابْن عَبَّاس أَن أَبَا بكر خرج وَعمر يكلم النَّاس، فَقَالَ: اجْلِسْ، فَأبى، فَقَالَ: اجْلِسْ، فَأبى. فَتشهد أَبُو بكر، فَمَال إِلَيْهِ النَّاس وَتركُوا عمر، فَقَالَ: أما بعد، فَمن كَانَ مِنْكُم يعبد مُحَمَّدًا فَإِن مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم قد مَاتَ، وَمن كَانَ يعبد الله فَإِن الله حَيّ لَا يَمُوت، قَالَ الله: {وَمَا مُحَمَّد إِلَّا رَسُول قد خلت من قبله الرُّسُل} إِلَى
… {الشَّاكِرِينَ (154) } [سُورَة آل عمرَان] قَالَ: وَالله لكأن النَّاس لم يَكُونُوا يعلمُونَ أَن الله أنزل هَذِه الْآيَة حَتَّى تَلَاهَا أَبُو بكر، فتلقاها مِنْهُ النَّاس، فَمَا يسمع بشرٌ إِلَّا يتلوها.
15 - التَّاسِع: أوردهُ أَبُو بكر البرقاني هَا هُنَا، وَأخرجه غَيره فِي مُسْند عَائِشَة من رِوَايَة هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَنْهَا: أَن أَبَا بكر لم يكن يَحْنَث قطّ فِي يَمِين حَتَّى أنزل الله عز وجل كَفَّارَة الْيَمين، فَقَالَ: لَا أَحْلف على يَمِين فَرَأَيْت غَيرهَا خيرا مِنْهَا إِلَّا أتيت الَّذِي هُوَ خيرٌ وكفرت عَن يَمِيني.
16 - الْعَاشِر: عَن قيس بن أبي حَازِم قَالَ: دخل أَبُو بكر الصّديق على امْرَأَة من أحمس يُقَال لَهَا زَيْنَب، فرآها لَا تَتَكَلَّم، فَقَالَ: مَا لَهَا لَا تكلم، قَالُوا: حجت مصمتةً فَقَالَ لَهَا: تكلمي، فَإِن هَذَا لَا يحل، هَذَا من عمل الْجَاهِلِيَّة، فتكلمت، فَقَالَت: من أَنْت؟ قَالَ: امْرُؤ من الْمُهَاجِرين. قَالَت: أَي الْمُهَاجِرين؟ قَالَ: من قُرَيْش. قَالَت: من أَي قُرَيْش؟ قَالَ: إِنَّك لسؤول، أَنا أَبُو بكر. قَالَت: مَا بقاؤنا على هَذَا الْأَمر الصَّالح الَّذِي جَاءَ الله بِهِ بعد الْجَاهِلِيَّة؟ قَالَ: بقاؤكم عَلَيْهِ
আয়েশার নিকট উপস্থিত হলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন যে তিনি একটি চাদর দ্বারা আবৃত আছেন। তখন তিনি তাঁর চেহারা মোবারক উন্মোচন করলেন এবং তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়লেন, অতঃপর তাঁকে চুম্বন করলেন ও কাঁদতে লাগলেন। এরপর বললেন: "আপনার প্রতি আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ আপনার ওপর দুটি মৃত্যুকে একত্রিত করবেন না। আপনার জন্য যে মৃত্যু নির্ধারিত ছিল, তা তো আপনি বরণ করেছেন।" আবু সালামা বলেন: ইবনে আব্বাস আমাকে জানিয়েছেন যে, আবু বকর (বাইরে) বের হলেন এমতাবস্থায় যে উমর মানুষের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি বললেন: "বসো", কিন্তু উমর বসতে চাইলেন না। তিনি পুনরায় বললেন: "বসো", এবারও তিনি বসতে অস্বীকার করলেন। এরপর আবু বকর তাশাহহুদ পাঠ করলেন, তখন মানুষ তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ল এবং উমরকে ছেড়ে দিল। আবু বকর বললেন: "অতঃপর, তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদত করতে, তারা জেনে রাখো যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করতে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর মুহাম্মাদ তো একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নন; তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়ে গেছেন...} হতে
… {কৃতজ্ঞদের (১৫৪)} [সূরা আল-ইমরান] পর্যন্ত।" তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবু বকর তিলাওয়াত করার আগে মানুষ জানতই না যে আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করেছেন। এরপর মানুষ তাঁর নিকট থেকে আয়াতটি গ্রহণ করল; তখন এমন কোনো মানুষ শোনা যাচ্ছিল না যে এটি তিলাওয়াত করছিল না।
১৫ - নবম: আবু বকর আল-বারকানি এটি এখানে উল্লেখ করেছেন, এবং অন্যগণ এটি হিশাম ইবনে উরওয়া তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা সূত্রে মুসনাদে আয়েশায় উদ্ধৃত করেছেন: আবু বকর কখনো কোনো কসম (শপথ) ভঙ্গ করতেন না যতক্ষণ না মহান আল্লাহ শপতের কাফফারা নাজিল করলেন। এরপর তিনি বললেন: "আমি কোনো বিষয়ে শপথ করার পর যদি অন্য কোনো কাজকে তার চেয়ে উত্তম মনে করি, তবে আমি সেই উত্তম কাজটিই করি এবং আমার শপতের কাফফারা আদায় করে দেই।"
১৬ - দশম: কাইস ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর সিদ্দীক আহমাস গোত্রের যয়নাব নামক এক মহিলার নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি তাকে কথা না বলতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন: "তার কী হয়েছে যে সে কথা বলছে না?" তারা বলল: "সে মৌনব্রত পালন করে হজ্জ করছে।" তিনি তাকে বললেন: "কথা বলো, কেননা এটি বৈধ নয়; এটি জাহিলিয়াত আমলের কাজ।" তখন সে কথা বলল এবং জিজ্ঞাসা করল: "আপনি কে?" তিনি বললেন: "মুহাজিরদের একজন ব্যক্তি।" সে বলল: "কোন মুহাজিরদের?" তিনি বললেন: "কুরাইশ বংশের।" সে বলল: "কুরাইশের কোন শাখার?" তিনি বললেন: "তুমি তো অত্যন্ত প্রশ্নকারী; আমি আবু বকর।" সে বলল: "জাহিলিয়াতের পর আল্লাহ যে এই নেক আমল (ইসলাম) নিয়ে এসেছেন, এর ওপর আমাদের স্থায়িত্ব কতদিন থাকবে?" তিনি বললেন: "এর ওপর তোমাদের স্থায়িত্ব..."
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
مَا استقامت بِهِ أئمتكم. قَالَت: وَمَا الْأَئِمَّة؟ قَالَ: أما كَانَ لقَوْمك رؤوسٌ وأشرافٌ يأمرونهم فيطيعونهم؟ قَالَت: بلَى، قَالَ: فهم أُولَئِكَ على النَّاس.
17 - الْحَادِي عشر: عَن طَارق بن شهَاب قَالَ: جَاءَ وَفد بزاخة من أسدٍ وغَطَفَان إِلَى أبي بكر يسألونه الصُّلْح، فَخَيرهمْ بَين الْحَرْب المجلية وَالسّلم المخزية، فَقَالُوا هَذِه المجلية قد عرفناها، فَمَا المخزية؟ قَالَ: ننزع مِنْكُم الْحلقَة والكراع، ونغنم مَا أصبْنَا مِنْكُم، وتردون علينا مَا أصبْتُم منا، وتدون لنا قَتْلَانَا، وَتَكون قَتْلَاكُمْ فِي النَّار، وتتركون أَقْوَامًا يتبعُون أَذْنَاب الْإِبِل حَتَّى يري الله خَليفَة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والمهاجرين أمرا يعذرونكم بِهِ. فَعرض أَبُو بكرٍ مَا قَالَ على الْقَوْم. فَقَامَ عمر بن الْخطاب فَقَالَ: قد رَأَيْت رَأيا وسنشير عَلَيْك. فَأَما مَا ذكرت من الْحَرْب المجلية وَالسّلم المخزية فَنعم مَا ذكرت، وَمَا ذكرت أَن نغنم مَا أصبْنَا مِنْكُم وتردون مَا أصبْتُم منا فَنعم مَا ذكرت. وَأما مَا ذكرت: تدون قَتْلَانَا وَتَكون قَتْلَاكُمْ فِي النَّار، فَإِن قَتْلَانَا قَاتَلت فقتلت على أَمر الله، أجورها على الله، لَيْسَ لَهَا دياتٌ، فتتابع الْقَوْم على مَا قَالَ عمر.
اخْتَصَرَهُ البُخَارِيّ، وَأخرج طرفا مِنْهُ، وَهُوَ قَوْله لَهُم: تتبعون أَذْنَاب الْإِبِل حَتَّى يري الله خَليفَة نبيه صلى الله عليه وسلم والمهاجرين أمرا يعذرونكم بِهِ. وَأخرجه بِطُولِهِ أَبُو بكر البرقاني فِي كِتَابه الْمخْرج على الصَّحِيحَيْنِ بِالْإِسْنَادِ الَّذِي أخرج البُخَارِيّ ذَلِك الْقدر الَّذِي اخْتَصَرَهُ مِنْهُ كَمَا أوردناه، وَالله أعلم.
যতক্ষণ তোমাদের ইমামগণ (নেতৃবৃন্দ) সুদৃঢ় থাকবে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ইমাম কারা? তিনি বললেন: তোমার সম্প্রদায়ের কি এমন প্রধান ও অভিজাত ব্যক্তিবর্গ ছিল না যারা তাদের আদেশ করত এবং তারা তাদের আনুগত্য করত? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে মানুষের ওপর তারাই হলেন সেই পর্যায়ের লোক।
১৭ - একাদশ: তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আসাদ ও গাতাফান গোত্রের বুযাখার একটি প্রতিনিধি দল আবু বকরের নিকট সন্ধি প্রার্থনা করতে এল। তিনি তাদেরকে দেশান্তরী করার মতো যুদ্ধ অথবা অপমানজনক সন্ধির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলেন। তারা বলল: এই দেশান্তরী করার বিষয়টি তো আমরা জানলাম, কিন্তু অপমানজনক বিষয়টি কী? তিনি বললেন: আমরা তোমাদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়া কেড়ে নেব, তোমাদের থেকে আমরা যা লাভ করেছি তা গনিমত হিসেবে রাখব, আর আমাদের থেকে তোমরা যা নিয়েছ তা আমাদের ফিরিয়ে দেবে। তোমরা আমাদের নিহতদের রক্তপণ পরিশোধ করবে, আর তোমাদের নিহতরা থাকবে জাহান্নামে। আর তোমরা এমন এক জাতি হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে যারা উটের লেজ অনুসরণ করে চলবে, যতক্ষণ না আল্লাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলিফা এবং মুহাজিরদের এমন কোনো বিষয় দেখান যার মাধ্যমে তারা তোমাদের ক্ষমা করতে পারেন। অতঃপর আবু বকর যা বলেছিলেন তা জনগণের সামনে পেশ করলেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব দাঁড়িয়ে বললেন: আপনি একটি মত প্রকাশ করেছেন এবং আমরা আপনাকে পরামর্শ দেব। আপনি দেশান্তরী করার মতো যুদ্ধ এবং অপমানজনক সন্ধি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা চমৎকার বলেছেন। আর আমরা যা লাভ করেছি তা গনিমত হিসেবে রাখা এবং তারা যা নিয়েছে তা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আপনি যা বলেছেন, তাও চমৎকার বলেছেন। কিন্তু আপনি যা বলেছেন যে, তারা আমাদের নিহতদের রক্তপণ দেবে আর তাদের নিহতরা জাহান্নামে থাকবে—আমাদের যারা নিহত হয়েছে তারা আল্লাহর নির্দেশে যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, তাদের পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে, তাদের কোনো রক্তপণ নেই। অতঃপর লোকজন উমরের কথার ওপর একমত হলো।
বুখারি এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং এর একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন, আর তা হলো তাদের প্রতি তাঁর এই উক্তি: "তোমরা উটের লেজ অনুসরণ করে চলবে যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খলিফা ও মুহাজিরদের এমন কোনো বিষয় দেখান যার মাধ্যমে তারা তোমাদের ক্ষমা করতে পারেন।" আর আবু বকর আল-বারকানি তাঁর 'আল-মুখরাজ আলাল সহীহাইন' গ্রন্থে সেই সনদে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন যে সনদে বুখারি তাঁর সংক্ষেপিত অংশটুকু বর্ণনা করেছিলেন, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
18 - وَلمُسلم وَحده حَدِيث وَاحِد: عَن أنس قَالَ: قَالَ أَبُو بكر لعمر رضي الله عنهما بعد وَفَاة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: انْطلق بِنَا إِلَى أم أَيمن نزورها كَمَا كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يزورها. فَلَمَّا انتهينا إِلَيْهَا بَكت، فَقَالَا: مَا يبكيك؟ أما تعلمين أَن مَا عِنْد الله خير لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم. قَالَت: إِنِّي لَا أبْكِي، إِنِّي لأعْلم أَن مَا عِنْد الله خير لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَلَكِن أبْكِي لِأَن الْوَحْي قد انْقَطع من السَّمَاء. فهيجتهما على الْبكاء، فَجعلَا يَبْكِيَانِ مَعهَا.
১৮ - এবং ইমাম মুসলিম এককভাবে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন: আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: "আমাদের সাথে উম্মে আয়মানের কাছে চলুন, আমরা তাকে দেখতে আসি যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে যেতেন।" অতঃপর যখন আমরা তাঁর কাছে পৌঁছালাম, তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁরা দুজনে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য অধিক উত্তম?" তিনি বললেন: "আমি এজন্য কাঁদছি না যে আমি জানি না আল্লাহর নিকট যা আছে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য উত্তম; বরং আমি কাঁদছি এজন্য যে, আসমান থেকে ওহী (প্রত্যাদেশ) আসা বন্ধ হয়ে গেছে।" তাঁর এই কথা তাঁদেরকেও কান্নায় উদ্বুদ্ধ করল এবং তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
(2)
الْمُتَّفق عَلَيْهِ من مُسْند عمر بن الْخطاب رضي الله عنه
19 - الأول: عَن عبد الله بن عَمْرو، وَعَن أبي هُرَيْرَة بِمَعْنَاهُ أَن عمر بَيْنَمَا هُوَ يخْطب النَّاس يَوْم الْجُمُعَة، إِذْ دخل رجلٌ من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم من الْمُهَاجِرين الْأَوَّلين. وَفِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة من رِوَايَة الْأَوْزَاعِيّ: إِذْ دخل عُثْمَان بن عَفَّان، فناداه عمر: أَيَّة ساعةٍ هَذِه؟ قَالَ: إِنِّي شغلت الْيَوْم فَلم أنقلب إِلَى أَهلِي حَتَّى سَمِعت التأذين، فَلم أَزْد على أَن تَوَضَّأت. فَقَالَ عمر: وَالْوُضُوء أَيْضا؟ وَقد علمت أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمر بِالْغسْلِ.
وَفِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة عَنهُ أَنه قَالَ: ألم تسمعوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول:
إِذا جَاءَ أحدكُم إِلَى الْجُمُعَة فليغتسل ".
20 - الثَّانِي: عَن عبد الله بن عمر - لمُسلم: أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعْطي عمر الْعَطاء. وَعَن عبد الله بن السَّعْدِيّ لَهما: أَن عمر قَالَ: كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يعطيني الْعَطاء فَأَقُول: أعْطه من هُوَ أفقر إِلَيْهِ مني: فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " خُذْهُ، وَمَا جَاءَك من هَذَا المَال وَأَنت غير مشرفٍ وَلَا سائلٍ فَخذه، وَمَا لَا، فَلَا تتبعه نَفسك ".
(২)উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ হতে মুত্তাফাক্ব আলাইহি (ঐকমত্যপূর্ণ) বর্ণনা১৯ - প্রথম: আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, এবং আবু হুরায়রা থেকে সমার্থকভাবে বর্ণিত যে, উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) যখন জুমার দিন মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে থেকে প্রথম যুগের মুহাজিরদের একজন প্রবেশ করলেন। আওযায়ী বর্ণিত আবু হুরায়রার হাদিসে রয়েছে: যখন উসমান ইবনে আফফান প্রবেশ করলেন, তখন উমর তাকে ডেকে বললেন: “এটি কোন সময়?” তিনি বললেন: “আমি আজ কাজে ব্যস্ত ছিলাম, ফলে আযান শোনা পর্যন্ত পরিবারের নিকট ফিরে যেতে পারিনি। তাই অযু করার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারিনি।” তখন উমর বললেন: “শুধু অযুও? অথচ আপনি জানেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোসল করার নির্দেশ দিতেন।”
আবু হুরায়রা বর্ণিত তাঁর হাদিসে আরও রয়েছে যে তিনি বলেছেন: আপনারা কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শোনেননি:
“তোমাদের কেউ যখন জুমায় আসবে, তখন সে যেন গোসল করে।”
২০ - দ্বিতীয়: আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত - মুসলিমের বর্ণনায়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরকে দান প্রদান করতেন। এবং তাদের উভয়ের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে সাদী থেকে বর্ণিত যে, উমর বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দান প্রদান করতেন, তখন আমি বলতাম: “এটি তাকে দিন যে আমার চেয়ে বেশি অভাবী।” তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “এটি গ্রহণ করো। এই সম্পদ থেকে যা তোমার নিকট আসে এমতাবস্থায় যে তুমি এর প্রতি লালায়িত ছিলে না এবং যাঞ্চাও করোনি, তবে তা গ্রহণ করো। আর যা আসবে না, তার পেছনে নিজের নফসকে ধাবিত করো না।”
(খণ্ড: ১)
আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন লিল-হুমাইদী
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
وَفِي رِوَايَة شُعَيْب عَن الزُّهْرِيّ عَن السَّائِب: " خُذْهُ فتموله وَتصدق بِهِ ".
وَفِي رِوَايَة عَمْرو، عَن الزُّهْرِيّ عَن سَالم: " أَو تصدق بِهِ "، زَاد فِي رِوَايَة عَمْرو: من أجل ذَلِك كَانَ ابْن عمر لَا يسْأَل أحدا شَيْئا، وَلَا يرد شَيْئا أعْطِيه.
وَفِي حَدِيث بكير عَن بسر بن سعيد أَن ابْن السَّاعِدِيّ الْمَالِكِي قَالَ:
استعملني عمر على الصَّدَقَة، فَلَمَّا فرغت مِنْهَا وأديتها إِلَيْهِ، أَمر لي بعمالة، فَقلت: إِنَّمَا عملت لله وَأجْرِي على الله. فَقَالَ: خُذ مَا أَعْطَيْت، فَإِنِّي عملت على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فعملني، فَقلت مثل قَوْلك، فَقَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " إِذا أَعْطَيْت شَيْئا من غير أَن تسْأَل فَكل وَتصدق ".
21 - الثَّالِث: عَن عبد الله بن عمر، من رِوَايَة سَالم عَنهُ، قَالَ: سَمِعت عمر يَقُول: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " إِن الله يَنْهَاكُم أَن تحلفُوا بِآبَائِكُمْ ".
وَهُوَ فِي أَفْرَاد مُسلم عَن ابْن عمر من رِوَايَة نَافِع عَنهُ.
وَفِي رِوَايَة سَالم عَنهُ زِيَادَة، قَالَ: قَالَ عمر: فوَاللَّه مَا حَلَفت بهَا مُنْذُ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ينْهَى عَنْهَا، ذَاكِرًا وَلَا آثراً.
22 - الرَّابِع: عَن ابْن عمر، من رِوَايَة سَالم عَنهُ: دخلت على حَفْصَة ونوساتها تنطف فَقَالَت: أعلمت أَن أَبَاك غير مستخلفٍ؟ قلت: مَا كَانَ ليفعل. قَالَت: إِنَّه فَاعل. قَالَ: فَحَلَفت أَن ُأكَلِّمهُ فِي ذَلِك، فَسكت حَتَّى غَدَوْت، وَلم
শুআইবের বর্ণনায়, যুহরী থেকে, তিনি সাইব থেকে: "এটি গ্রহণ করো, তারপর তা নিজের সম্পদভুক্ত করো এবং তা থেকে সদকা করো।"
আমরের বর্ণনায়, যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে: "অথবা তা থেকে সদকা করো।" আমরের বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে: এই কারণে ইবনে ওমর কারও কাছে কিছু চাইতেন না এবং তাঁকে কিছু দেওয়া হলে তা ফিরিয়ে দিতেন না।
বুকাইরের হাদিসে, বুসর ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিত যে, ইবনে সায়িদী আল-মালিকি বলেছেন:
ওমর (রা.) আমাকে সদকা সংগ্রহের কাজে নিয়োগ করেছিলেন। আমি যখন কাজ শেষ করে তা তাঁর কাছে সোপর্দ করলাম, তিনি আমাকে পারিশ্রমিক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম: আমি তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করেছি এবং আমার প্রতিদান আল্লাহর নিকট। তখন তিনি বললেন: তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা গ্রহণ করো। কেননা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কাজ করেছিলাম এবং তিনি আমাকে পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন। আমি তখন তোমার মতো কথাই বলেছিলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন: "যখন তোমাকে কোনো কিছু না চাইতেই দেওয়া হয়, তখন তা গ্রহণ করো এবং সদকা করো।"
২১ - তৃতীয়: আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, সালেম তাঁর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ওমরকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন।"
এটি মুসলিমের একক বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা নাফে’ ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন।
সালেমের বর্ণনায় তাঁর থেকে অতিরিক্ত রয়েছে, তিনি বলেন: ওমর (রা.) বলেছেন: আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ থেকে নিষেধ করতে শোনার পর থেকে আমি কখনো নিজে থেকে বা অন্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন শপথ করিনি।
২২ - চতুর্থ: ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, সালেম তাঁর থেকে বর্ণনা করেন: আমি হাফসার কাছে গেলাম যখন তাঁর চুলের বেণী থেকে পানি ঝরছিল। তিনি বললেন: তুমি কি জানো যে তোমার পিতা কাউকে স্থলাভিষিক্ত করছেন না? আমি বললাম: তিনি এমনটি করবেন না। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি করবেন। ইবনে ওমর বলেন: তখন আমি শপথ করলাম যে আমি এ বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলব। তাই আমি নীরব থাকলাম যতক্ষণ না সকাল হলো এবং আমি...