(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: -)
المسند المستخرج على صحيح مسلم لأبي نعيم   (أبو نعيم الأصبهاني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: المسند المستخرج على صحيح الإمام مسلم

المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني (ت 430هـ)

المحقق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل الشافعي

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1417هـ - 1996م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু নুয়াইম-এর সহীহ মুসলিমের ওপর মুসনাদ আল-মুস্তাখরাজ   (আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: ইমাম মুসলিমের সহীহ-এর ওপর মুসনাদ আল-মুস্তাখরাজ

লেখক: আবু নুয়াইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মিহরান আল-আসবাহানী (মৃত্যু ৪৩০ হি.)

তাহকীককারী: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল আশ-শাফিঈ

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণকপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

أخبرنَا الشَّيْخ الْجَلِيل أَبُو الْحسن سعود بْنِ أَبِي مَنْصُورِ بْنِ مُحَمَّدِ بن الْحسن الْخياط يعرف بالجمال بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ غير مرّة بأصبهان قلت لَهُ أخْبركُم الشَّيْخ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بن الْحسن الْحداد قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنت تسمع فِي الْخَامِس وَالْعِشْرين من شعْبَان سنة أَربع عشرَة وَخَمْسمِائة فَأقر بِهِ

أخبرنَا الشَّيْخ الإِمَام الْحَافِظ أَبُو نعيم، أَحْمد بن عبد الْعَزِيز أَحْمد بن إِسْحَاق يرحمه الله قِرَاءَة عَلَيْهِ فِي شهر رَمَضَان سنة سبع وَعشْرين وَأَرْبَعمِائَة قَالَ

الْحَمد لله الْقَدِيم الأول الدَّائِم الْبَاقِي الَّذِي لَهُ الْأَسْمَاء الْحسنى والمدائح العلى الَّذِي بتوفيقه رشد المرشدون وبخذلانه غوى الْغَاوُونَ انْفَرد عَن سمات الْحَدث وَبَان بأوصافه وأفعاله عَن مُسَاوَاة النظراء ومدناة الشُّرَكَاء فَهُوَ بِجَمِيعِ صِفَاته قديم فَهُوَ فِي جَمِيع أَفعاله حَكِيم وَهُوَ الْعَزِيز الرَّحِيم أستعين بِهِ استعانة من لَا يجد عَلَيْهِ مفرا مِنْهُ إِلَّا إِلَيْهِ وَلَا معول لَهُ فِي دَرك بغيته إِلَّا عَلَيْهِ وأستهديه بهداه الَّذِي أنعم بِهِ على من أحب من خلقه، وأستعيذ بِهِ من الضَّلَالَة الَّتِي تعمي من الْوُصُول إِلَيْهِ وتصد من الْمعرفَة بِهِ وأسأله أَن يُصَلِّي على النَّبِي الْمُنْتَخب مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وعَلى جَمِيع أنبيائه وَرُسُله

ثمَّ إِنِّي نظرت وفقك الله فَرَأَيْت أصُول الْحق الَّتِي توصل بِأَهْلِهَا إِلَى الْحق ثَلَاثَة أَنْوَاع كتاب وَسنة، وَإِجْمَاع الْأَئِمَّة، فَوجدت الْكتاب آمرا بالانتهاء إِلَى قبُول مَا وَردت بِهِ السّنة، وزاجرا عَمَّا زجرت عَنهُ السّنة قَالَ الله تَعَالَى {وَمَا كَانَ لمُؤْمِن وَلَا مُؤمنَة إِذا قضى الله وَرَسُوله أمرا أَن يكون لَهُم الْخيرَة من أَمرهم وَمن يعْص الله وَرَسُوله فقد ضل ضلالا مُبينًا} وَقَالَ {من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله}
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সম্মানিত শাইখ আবু আল-হাসান সাউদ বিন আবি মানসুর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-খাইয়্যাত, যিনি আল-জামাল নামে পরিচিত, ইসফাহানে তাঁর নিকট আমার একাধিকবার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাঁকে বললাম: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আল-হাদ্দাদ, তাঁর নিকট পাঠকালে আপনি তা শুনছিলেন পাঁচশত চৌদ্দ হিজরি সনের পঁচিশে শাবান মাসে। অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, হাফেজ আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল আজিজ আহমাদ বিন ইসহাক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), চারশত সাতাশ হিজরি সনের রমজান মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন—

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনাদি, আদি, চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর। যাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ প্রশংসা। যাঁর তাওফিকেই পথপ্রদর্শিতরা সঠিক পথ লাভ করে এবং যাঁর লাঞ্ছিত করার কারণে পথভ্রষ্টরা পথভ্রষ্ট হয়। তিনি নশ্বরতার চিহ্নসমূহ থেকে মুক্ত এবং তাঁর গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে সমকক্ষদের সমতা ও অংশীদারদের নৈকট্য থেকে পৃথক। তিনি তাঁর সমস্ত গুণাবলিতে অনাদি, তাঁর সকল কাজে প্রজ্ঞাময় এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু। আমি তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এমন এক ব্যক্তির সাহায্য প্রার্থনার ন্যায়, যে তাঁর থেকে পলায়ন করে তাঁর কাছেই আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় খুঁজে পায় না এবং নিজের উদ্দেশ্য অর্জনে তিনি ছাড়া আর কারো ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। আমি তাঁর নিকট তাঁর সেই হিদায়াতের মাধ্যমে পথনির্দেশ প্রার্থনা করছি, যা তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাঁকে ভালোবাসেন তাঁকে দান করেছেন। আর আমি তাঁর নিকট সেই ভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই যা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্ধ করে দেয় এবং তাঁর পরিচয় লাভ করতে বাধা প্রদান করে। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন মনোনীত নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর দরুদ পাঠ করেন।

অতঃপর আমি পর্যবেক্ষণ করেছি—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—এবং আমি দেখেছি যে, সত্যের সেই মূলনীতিসমূহ যা এর অনুসারীদের সত্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয় তা তিন প্রকার: কিতাব, সুন্নাহ এবং ইমামগণের ঐকমত্য (ইজমা)। আমি দেখেছি কিতাব সেইসব বিষয় গ্রহণের আদেশ দিচ্ছে যা সুন্নাহ নিয়ে এসেছে এবং সুন্নাহ যা থেকে বারণ করেছে তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিচ্ছে। মহান আল্লাহ বলেন, {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো পছন্দের ইখতিয়ার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হয়।} এবং তিনি বলেন, {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।}
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
) وَقَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَرَسُوله وَلَا توَلّوا عَنهُ وَأَنْتُم تَسْمَعُونَ} وَقَالَ {فَلا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوك فِيمَا شجر بَينهم} وَقَالَ {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا} وَقَالَ {وَمن يطع الله وَرَسُوله ويخش الله ويتقه فَأُولَئِك هم الفائزون} وَقَالَ {إِن الَّذين يُبَايعُونَك إِنَّمَا يبايعون الله} فِي آيَات كَثِيرَة فِي مَعْنَاهَا ومخبرا عَن الله أَن مُتَابعَة الرَّسُول وطاعته طَاعَة الله قَالَ الله {من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله} وَأَن مُخَالفَته وعصيانه يُؤَدِّي إِلَى الضلال الْمُبين وَالْعَذَاب الْأَلِيم فَقَالَ {وَمن يعْص الله وَرَسُوله فقد ضل ضلالا مُبينًا} وَقَالَ {فليحذر الَّذين يخالفون عَن أمره أَن تصيبهم فتْنَة أَو يصيبهم عَذَاب أَلِيم} فَلَمَّا وَجب طَاعَته ومتابعته تلْزم كل عَاقل ومخاطب الِاجْتِهَاد فِي التَّمْيِيز بَين صَحِيح أخباره وَسَقِيم آثاره، وَأَن يبْذل مجهوده فِي معرفَة ذَلِك واقتباس سنته وشريعته من الطّرق المرضية وَالْأَئِمَّة المهدية وَكَانَ الْوُصُول إِلَى معرفَة ذَلِك متعذرا إِلَّا بِمَعْرِِفَة الروَاة والفحص عَن أَحْوَالهم وأديانهم والكشف بالبحث عَن صدقهم وكذبهم وإتقانهم وضبطهم وضعفهم ووهائهم وغلطهم وخطئهم وَذَلِكَ أَن الله تَعَالَى جعل أهل الْعلم دَرَجَات وَرفع بَعضهم على بعض وَلم يرفع بَعضهم على بعض إِلَّا وَخص من رَفعه على من دونه بِمَنْزِلَة سنية ومرتبة بهية فالمراتب والمنازل مِنْهُ مواهب اختصهم بهَا دون الآخرين فَلذَلِك وَجب التَّمْيِيز بَينهم والبحث عَن أَحْوَالهم ليُعْطى كل ذِي فضل فَضله وَينزل كل وَاحِد مَنْزِلَته الَّتِي أنزلهُ

) এবং তিনি বলেছেন, {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তাঁর থেকে বিমুখ হয়ো না, অথচ তোমরা (তাঁর নির্দেশ) শুনছ।} এবং তিনি বলেছেন, {না, আপনার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে।} এবং তিনি বলেছেন, {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} এবং তিনি বলেছেন, {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই সফলকাম।} এবং তিনি বলেছেন, {নিশ্চয় যারা আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করে, তারা মূলত আল্লাহর কাছেই বায়আত গ্রহণ করে।} এমন আরও অনেক আয়াত রয়েছে যার অর্থ একই এবং যেখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাসূলের অনুসরণ ও আনুগত্য করা মূলত আল্লাহরই আনুগত্য। আল্লাহ বলেছেন, {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।} আর তাঁর বিরুদ্ধাচরণ ও অবাধ্যতা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির দিকে নিয়ে যায়। ফলে তিনি বলেছেন, {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে নিশ্চিতভাবে এক সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হলো।} এবং তিনি বলেছেন, {অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা বিপর্যয় আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব নেমে আসবে।} যেহেতু তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করা ওয়াজিব, তাই প্রত্যেক বিবেকবান ও শরীয়তের বিধানের আওতাভুক্ত ব্যক্তির জন্য তাঁর সহীহ হাদীস এবং দুর্বল বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ল। আর এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে এবং সন্তোষজনক পথ ও সুপথপ্রাপ্ত ইমামদের নিকট থেকে তাঁর সুন্নাহ ও শরীয়ত আহরণ করতে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করা জরুরি হয়ে পড়ল। বর্ণনাকারীদের পরিচয় লাভ করা, তাঁদের অবস্থা ও দ্বীনদারী পরীক্ষা করা এবং গবেষণার মাধ্যমে তাঁদের সত্যবাদিতা ও মিথ্যাচার, নির্ভুলতা ও মুখস্থশক্তি এবং দুর্বলতা, অক্ষমতা ও ভুলভ্রান্তি উন্মোচন করা ছাড়া এই লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব ছিল। এর কারণ হলো, আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন এবং তাঁদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তিনি যাঁদের উচ্চমর্যাদা দিয়েছেন, তাঁদের নিচের স্তরের লোকদের তুলনায় বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ও উজ্জ্বল মর্যাদা দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। সুতরাং এই উচ্চমর্যাদা ও অবস্থানগুলো হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুদান যা তিনি তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, অন্যদের জন্য নয়। তাই তাঁদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা এবং তাঁদের অবস্থা অনুসন্ধান করা ওয়াজিব, যাতে প্রত্যেক মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া যায় এবং প্রত্যেককে সেই স্তরে স্থান দেওয়া যায় যে স্তরে আল্লাহ তাঁকে সোপর্দ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
1

 

-‌‌ ذِكْرُ الْمَأْثُورِ عَنِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَخْبَارِهِ عددت الاخْتِلافِ وَإِيصَائِهِ عليه السلام بِلُزُومِ سُنَّتِهِ وَسُنَّةِ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ خُلَفَائِهِ

‌‌1 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ وَفَارُوقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَسُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ فِي آخَرِينَ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا أَبُو عَاصِمٍ النَّبِيلُ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَمْرُو بْنُ حَمْدَانَ ثَنَا ابْنُ شِيرَوَيْهِ ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ قَالا ثَنَا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ ثَنَا خَالِد ابْن مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فوعضنا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الأَعْيُنُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّهَا مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَأَوْصِنَا قَالَ أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ مِنْ بَعْدِي الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ

السِّيَاقُ لأَبِي الْقَاسِمِ حَدَّثَ بِهِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ عَنْ أَبِي عَاصِمٍ عَنْ ثَوْرٍ وَرَوَاهُ عَنْ خَالِدٍ بُجَيْرُ بْنُ سِتٍّ وَحَدَّثَ بِهِ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ أَيْضًا عَنْ خَالِدٍ

‌‌2 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَاقِدِيُّ ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا أَبُو يَزِيدَ الْقَرَاطِيسِيُّ ثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا أَبُو يَزِيدَ الْقَرَاطِيسِيُّ ثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ
1

 

-‌‌ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মতভেদ ঘটা সম্পর্কিত সংবাদ এবং তাঁর সুন্নাত ও তাঁর হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাদের সুন্নাত আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে তাঁর উপদেশের উল্লেখ।

‌‌১ - আবুল কাসিম হাবীব ইবনে হাসান, ফারুক ইবনে আবদুল্লাহ এবং সুলায়মান ইবনে আহমদ সহ আরও অনেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, আমাদের কাছে আবু মুসলিম ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু আসিম আন-নাবীল বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে আবু বকর আমর ইবনে হামদান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইবনে শিরওয়াইহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ই বলেছেন, আমাদের কাছে ছাওর ইবনে ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামী থেকে, তিনি ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং আমাদের এমন এক মর্মস্পর্শী উপদেশ দিলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসজল হয়ে পড়ল এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ যেন বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ, সুতরাং আপনি আমাদের কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহভীতি এবং (নেতার আদেশ) শ্রবণ ও আনুগত্যের উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়। কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তা মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রত্যেক বিদ'আতই হলো ভ্রষ্টতা।"

বর্ণনার সূত্রটি আবুল কাসিমের। আহমদ ইবনে হাম্বল এটি আবু আসিম থেকে, তিনি ছাওর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর খালিদ থেকে এটি বুজায়র ইবনে সাত্ত বর্ণনা করেছেন। আল-ওয়ালীদ ইবনে মুসলিমও এটি খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌২ - আবু বকর আহমদ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হারিস ইবনে আবু উসামা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ওমর আল-ওয়াকিদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি দামরা ইবনে হাবীব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে সুলায়মান ইবনে আহমদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু ইয়াযীদ আল-কারাতীসী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আসাদ ইবনে মূসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি দামরা ইবনে হাবীব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন। সুলায়মান ইবনে আহমদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু ইয়াযীদ আল-কারাতীসী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আসাদ ইবনে মূসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি দামরা ইবনে হাবীব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ثَنَا مُعَاوِيَةُ يَعْنِي ابْنَ صَالِحٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ وَحَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ ثَنَا ابْنُ شِيرَوَيْهِ ثَنَا إِسْحَاقُ أَنْبَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ وَحَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ حَمْزَةَ إِمْلاءً ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ رُسْتَهْ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ رضي الله عنه يَقُولُ وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَوْعِظَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذِهِ لَمَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا قَالَ قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يزِيغ عَنَّا بَعْدِي إِلا هَالِكٌ وَمَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِمَا عَرَفْتُمْ مِنْ سُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ وَعَلَيْكُمْ بِالطَّاعَةِ وَإِنَّ عَبْدًا حَبَشِيًّا عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِنَّمَا الْمُؤْمِنُ كَالْجَمَلِ الآنِفِ حَيْثُ قِيدَ انْقَادَ

لَفْظُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَكَذَلِكَ أَسَدٌ مِثْلُهُ وَلَفْظُ الْوَاقِدِيِّ مُخْتَصَرٌ وَهَذَا حَدِيثٌ جَيِّدٌ مِنْ صَحِيحِ حَدِيثِ الشَّامِيِّينَ

وَهُوَ وَإِنْ تَرَكَهُ الإِمَامَانِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ فَلَيْسَ ذَلِكَ مِنْ جِهَةِ انْكِسَارٍ مِنْهُمَا لَهُ فَإِنَّهُمَا رَحِمَهُمَا اللَّهُ قَدْ تَرَكَا كَثِيرًا مِمَّا هُوَ بِشَرْطِهِمَا أَوْلَى وَإِلَى طَرِيقَتِهِمَا أَقْرَبُ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ ثَلاثَةٌ مِنْ تَابِعِي الشَّامِ مَعْرُوفِينَ مَشْهُورِينَ

عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو السُّلَمِيُّ وَحُجْرُ بْنُ حُجْرٍ وَيَحْيَى بْنُ أَبِي الْمُطَاعِ وَثَلاثَتُهُمْ مِنْ مَعْرُوفِي تَابِعِي الشَّامِ فَحَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَدْ تَقَدَّمَ ذِكْرُ مَا قَالَهُ حَدَّثَ بِهِ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ

‌‌3 - وَحَدِيثُ حُجْرِ بْنِ حُجْرٍ فَحَدَّثَنَاهُ عَنِ ابْنِ هَارُونَ الْبَغْدَادِيِّ ثَنَا مُوسَى بْنُ هَارُونَ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ وَحَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ حَمْزَةَ إِمْلاءً ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُكْرَمٍ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ حَمْزَةَ ثَنَا حَامِدُ بْنُ شُعَيْبٍ ثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ وَحَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ حَمْزَةَ ثَنَا جَعْفَرٌ الْفِرْيَابِيُّ ثَنَا
আবু বকর বিন মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান বিন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুয়াবিয়া অর্থাৎ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি দামরা বিন হাবীব থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আমর আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন। এবং আবু আমর বিন হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে শিরওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান বিন মাহদী আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুয়াবিয়া বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং আবু ইসহাক বিন হামজা শ্রুতিলিপি প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান বিন উমর রুস্তাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান বিন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুয়াবিয়া বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি দামরা বিন হাবীব থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আমর আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরবায বিন সারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এমন এক উপদেশ প্রদান করলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরগুলো প্রকম্পিত হলো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো বিদায়ী উপদেশের মতো মনে হচ্ছে, তাই আপনি আমাদের কী নির্দেশ প্রদান করছেন? তিনি বললেন: আমি তোমাদের এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো স্বচ্ছ। আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না। তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা যা তোমরা চিনতে পেরেছ। আর আনুগত্য করা তোমাদের জন্য অপরিহার্য, যদিও সে একজন আবিসিনীয় দাসও হয়। তোমরা একে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর মুমিন তো সেই অনুগত উটের মতো, যাকে যেদিকেই পরিচালিত করা হয়, সে সেদিকেই চালিত হয়।"

এটি আবদুর রহমানের শব্দাবলি এবং আসাদও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, আর ওয়াকিদীর বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত। এটি শামবাসীদের বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি উত্তম হাদীস।

যদিও ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী এবং মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ এটি বর্ণনা করেননি, তবে তা হাদীসটির কোনো দুর্বলতার কারণে নয়। কারণ তাঁরা উভয়ে (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এমন অনেক হাদীস ছেড়ে দিয়েছেন যা তাঁদের শর্তানুযায়ী অধিকতর উপযুক্ত অথবা তাঁদের পদ্ধতির নিকটতর ছিল। ইরবায বিন সারিয়া থেকে শামের তিনজন সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ তাবিঈ এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন:

আবদুর রহমান বিন আমর আস-সুলামী, হুজর বিন হুজর এবং ইয়াহইয়া বিন আবিল মুতা। এই তিনজনেই শামের পরিচিত তাবিঈ। আবদুর রহমানের হাদীস এবং তিনি যা বলেছেন তা পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে, যা তিনি খালিদ বিন মা’দান এবং দামরা বিন হাবীব থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৩ - আর হুজর বিন হুজরের হাদীস; এটি ইবনে হারুন আল-বাগদাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মূসা বিন হারুন আল-হাফিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং আবু ইসহাক বিন হামজা শ্রুতিলিপি প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ বিন মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী বিন আল-মাদীনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং আবু বকর বিন মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু ইসহাক বিন হামজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হামিদ বিন শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুরাইজ বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং আবু ইসহাক বিন হামজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাফর আল-ফিরিয়াবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
رحيمٌ وَصَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ قَالُوا ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ثَنَا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَحُجْرُ بْنُ حُجْرٍ قَالا أَتَيْنَا الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ وَهُوَ مَرِيضٌ فَقُلْنَا إِنَّا جِئْنَاكَ عَائِدِينَ وَزَائِرِينَ وَمُقْتَبِسِينَ فَقَالَ الْعِرْبَاضُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِنَا صَلاةَ الْغَدَاةِ وَأَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً وَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَهُ

‌‌4 - وَحَدِيثُ يَحْيَى بْنِ أَبِي مُطَاعٍ فَحَدَّثَنَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عبد الله ابْن الْعَلاءِ بْنِ زَبْرٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي مُطَاعٍ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ السُّلَمِيِّ وَحَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ ثَنَا الْوَلِيدُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَلاءِ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي مُطَاعٍ سَمِعْتُ الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَظْتَنَا مَوْعِظَةَ مُوَدِّعٍ فَاعْهَدْ إِلَيْنَا قَالَ (عَلَيْكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عبدا حَبَشِيًّا وسيرى مِنْ بَعْدِي اخْتِلافًا شَدِيدًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَالْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ)

‌‌5 - وَرُوِيَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ بَعْضُ هَذَا الْحَدِيثِ وَهُوَ مَا حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ الْحَلَبِيُّ ثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَن أبي بكر الْحِمْصِيِّ عَنْ شَعْوَذٍ الأَزْدِيِّ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (إِنِّي تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْوَاضِحَةِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يَرْغَبُ عَنْهَا بَعْدِي مِنْكُمْ إِلا هَالِكٌ) فَتَلَقَّتِ الْهُدَاةُ وَالْعُقَلاءُ وَصِيَّةَ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم بِالْقَبُولِ وَلَزِمُوا التَّوْطِينَ عَلَى سُنَّتِهِ وَسُنَّةِ الْهُدَاةِ الْمُرْشِدَةِ مِنَ الْخُلَفَاءِ فَلَمْ يَرْغَبُوا عَنْهُ بَلْ عَلِمُوا أَنَّ الثُّبُوتَ عَلَيْهِ غَيْرُ مُمْكِنٍ إِلا بِتَتَبُّعِ مَا سَنَّهُ صلى الله عليه وسلم وَسَنَّهُ بَعْدَهُ أَئِمَّةُ الْهُدَى الَّذِينَ هُمْ خُلَفَاؤُهُ فِي أُمَّتِهِ فَتَرَكُوا الِاشْتِغَالَ بِهَوَاجِسِ النُّفُوسِ وَخَوَاطِرِ الْقُلُوبِ وَمَا يَتَوَلَّدُ مِنَ الشُّبُهَاتِ الَّتِي تُوَلِّدُ آرَاءَ النُّفُوسِ وَقَضَايَا الْعُقُولِ خَوْفًا مِنْ أَنْ يَزِيغُوا عَنِ الْمَحَجَّةِ الَّتِي فَارَقَهُمْ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي شَبَّهَ لَيْلَهَا بِنَهَارِهَا مَعَ مَا جَاءَهُمْ عَنِ اللَّهِ تَعَالَى مِنَ الْوَعِيدِ الْبَلِيغِ الْمُصَرِّحِ بِنَفْيِ الإِيمَانِ عَمَّا خَالَفَهُ صلى الله عليه وسلم أَوْ طَعَنَ عَلَى أَحْكَامِهِ وَلَمْ تَطِبْ نَفْسُهُ بِالتَّسْلِيمِ لَهُ وَذَلِكَ مَا
রাহীম এবং সাফওয়ান ইবন সালিহ বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবন মুসলিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাওর ইবন ইয়াযিদ, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান এবং হুজর ইবন হুজর। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমরা ইরবায ইবন সারিয়া-র কাছে আসলাম যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। আমরা বললাম, আমরা আপনার অসুস্থতা দেখতে, আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং আপনার থেকে জ্ঞান অর্জন করতে এসেছি। তখন ইরবায বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে ভোরের সালাত আদায় করলেন, এরপর আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং আমাদের এক উপদেশ প্রদান করলেন... এবং তিনি এর অনুরূপ হাদীসটি উল্লেখ করলেন।

‌‌৪ - এবং ইয়াহইয়া ইবন আবি মুতা'-এর বর্ণিত হাদীস। আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন সুলায়মান ইবন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবনুল আলা ইবন যাবর, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা ইয়াহইয়া ইবন আবি মুতা' থেকে, তিনি ইরবায ইবন সারিয়া আস-সুলামী থেকে। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আমর ইবন হামদান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল আলা থেকে, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন আবি মুতা', তিনি বলেন আমি ইরবায ইবন সারিয়া-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং আমাদের এক মর্মস্পর্শী উপদেশ দিলেন, যাতে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো এবং চোখসমূহ অশ্রুসিক্ত হলো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের এমন উপদেশ দিলেন যা যেন বিদায়ী ব্যক্তির উপদেশ। সুতরাং আপনি আমাদের কিছু নির্দেশনা দিন। তিনি বললেন, "আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতির এবং শোনার ও আনুগত্য করার নির্দেশ দিচ্ছি, যদি সে একজন হাবশী দাসও হয়। আমার পর তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে তারা অচিরেই অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে; একে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে। আর দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কেননা প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।"

‌‌৫ - জুবাইর ইবন নুফাইর-এর মাধ্যমে ইরবায ইবন সারিয়া থেকে এই হাদীসের কিছু অংশ বর্ণিত হয়েছে। তা হলো যা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আমর ইবন হামদান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবন সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম ইবন ইয়াকূব, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াকূব ইবন কা'ব আল-হালাবী, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবন ইউনুস আবু বকর আল-হিমসী থেকে, তিনি শাউয়ায আল-আযদী থেকে, তিনি খালিদ ইবন মা'দান থেকে, তিনি জুবাইর ইবন নুফাইর থেকে, তিনি ইরবায ইবন সারিয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে এক পরিষ্কার শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। আমার পর যে ব্যক্তি তা থেকে বিমুখ হবে সে ধ্বংস হবে।" ফলে হিদায়াতপ্রাপ্ত ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ তাঁদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসিয়ত কবুল করে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতের ওপর দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকাকে আবশ্যক করে নিয়েছেন। তাঁরা তা থেকে বিমুখ হননি, বরং তাঁরা জানতেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে পথ নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর পরে হিদায়াতের ইমামগণ—যাঁরা তাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর স্থলাভিষিক্ত—তাঁরা যে পথ প্রবর্তন করেছেন, তার অনুসরণ ব্যতীত দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা নফসের কুমন্ত্রণা, হৃদয়ের খেয়াল-খুশি এবং সংশয় থেকে উৎপন্ন এমন সব বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হওয়া ত্যাগ করেছেন যা নফসের মনগড়া মতামত ও বুদ্ধিপ্রসূত সিদ্ধান্তের জন্ম দেয়। তাঁরা এই ভয়ে এটি করেছেন পাছে তাঁরা সেই উজ্জ্বল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েন যার ওপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের রেখে গেছেন, যার রাতকেও তিনি দিনের সাথে তুলনা করেছেন। এর সাথে সাথে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সেই চরম সতর্কবাণীও তাঁদের সামনে ছিল, যাতে স্পষ্টভাবে তাঁর বিরোধিতাকারীদের অথবা তাঁর বিধানের ওপর কটাক্ষকারীদের এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণে যাদের মন তুষ্ট নয়, তাদের ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে। আর তা হলো...
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌6 - حَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلادٍ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مِلْحَانَ ثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ حَدَّثَهُ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالا ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زَبَّانَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ ثَنَا اللَّيْثُ وَحَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ وَمُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ وَأَبُو أَحْمد الغطريقي قَالُوا ثَنَا أَبُو خَلِيفَةَ ثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ ثَنَا اللَّيْثُ وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ السَّرَّاجُ ثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثَنَا اللَّيْثُ وَحدثنَا أَبُو عَليّ ابْن الصَّوَّافِ ثَنَا مُظَفَّرُ بْنُ مُوسَى ثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ السَّيْلَحِينِيُّ ثَنَا اللَّيْثُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ رَجُلا مِنَ الأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلْ إِلَى جَارِكَ) فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ (يَا زُبَيْرُ اسْقِ ثُمَّ احْبِسْ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ) قَالَ فَقَالَ الزُّبَيْرُ وَاللَّهِ إِنِّي لأَحْسِبُ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي ذَلِكَ {فَلا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوك فِيمَا شجر بَينهم}

وَعَلِمُوا عِلْمًا يَقِينًا أَنَّ نَبِيَّهُمْ صلى الله عليه وسلم لَا يأْمُرُهُمْ بِاتِّبَاعِهِ وَالإِقَامَةِ عَلَى مَا سَنَّهُ صلى الله عليه وسلم لَهُمْ وَلِأُمَّتِهِ حَتَّى يَأْمُرَنَا بِالتَّبْلِيغِ عَنْهُ مَنْ شَهِدَهُ وَعَايَنَهُ إِلَى مَنْ غَابَ عَنْهُ وَلَمْ يَشْهَدْهُ وَذَلِكَ مَا حَفِظَ عَنْهُ كَثِيرٌ مِنْ صَحَابَتِهِ لَهُ مَوَاقِفُ شَتَّى وَخُطَبٌ ذَوَاتُ عَدَدٍ مِنْ ذَلِكَ قَوْلُهُ أَلا فَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ بَعْدَ أَنْ قَرَّرَهُمْ بِالتَّبْلِيغِ لَهُمْ عَنِ اللَّهِ تَعَالَى كَلَّفَهُمُ الإِبْلاغَ عَنْهُ وَهُوَ مَا

‌‌7 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الْهَيْثَمِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْعَوَّامِ ثَنَا أَبُو عَامِرٍ ثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدٍ يَعْنِي ابْنَ سِيرِينَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ وَرَجُلٍ أَفْضَلَ مِنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ النَّحْرِ فَقَالَ لَهُمْ (اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ) قَالُوا نَعَمْ قَالَ (لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ
৬ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ বকর ইবনুল খাল্লাদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মিলহান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর, তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লায়স ইবনে সা'দ, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি তাঁর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফ্ফার ও মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম, তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে জাব্বান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লায়স। এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ মুহাম্মাদ ইবনে হাইয়ান, মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ ও আবূ আহমাদ আল-গাতরিকী, তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ খলীফাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ আল-ওয়ালীদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লায়স। এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আস-সাররাজ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লায়স। এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ আলী ইবনুস সাওয়াফ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুজাফ্ফার ইবনে মূসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক আস-সায়লাহিনী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লায়স, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি তাঁর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক আনসারী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাররাহ এলাকার পানির নালা নিয়ে জুবাইর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বিবাদে লিপ্ত হন, যা দিয়ে তাঁরা খেজুর গাছে পানি সেচ দিতেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (হে জুবাইর! তুমি সেচ দাও, তারপর তোমার প্রতিবেশীর কাছে পানি ছেড়ে দাও)। এতে আনসারী ব্যক্তিটি রাগান্বিত হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাতো ভাই বলে কি এমন বলছেন? এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মোবারক বিবর্ণ হয়ে গেল, অতঃপর তিনি বললেন: (হে জুবাইর! তুমি সেচ দাও, তারপর পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছে যায়)। বর্ণনাকারী বলেন, জুবাইর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আল্লাহর কসম, আমি মনে করি এই আয়াতটি এই ঘটনা সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে: {না, তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক নিযুক্ত করে}।

এবং তারা নিশ্চিত জ্ঞানের সাথে জানতেন যে, তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে তাঁর অনুসরণ করার এবং তিনি তাঁদের জন্য ও তাঁর উম্মতের জন্য যে আদর্শ সাব্যস্ত করেছেন তার ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দেননি যতক্ষণ না তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, যারা তাঁর উপস্থিতিতে ছিল এবং তাঁকে চাক্ষুষ দেখেছে তারা যেন তাঁর পক্ষ থেকে অনুপস্থিত ও যারা প্রত্যক্ষ করেনি তাদের কাছে পৌঁছে দেয়। আর এই বিষয়টিই তাঁর অনেক সাহাবী তাঁর থেকে সংরক্ষণ করেছেন, যা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বিভিন্ন অবস্থানে এবং অসংখ্য খুতবায়। তার মধ্য থেকে একটি হলো তাঁর এই বাণী: "সাবধান! তোমাদের মধ্য থেকে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।" এটি তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কাছে দীন পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তাঁদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছানোর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আর এটিই হলো যা বর্ণিত হয়েছে:

‌‌৭ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনুল হাইসাম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবিল আওয়াম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ আমির, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুররাহ ইবনে খালিদ, মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে সীরীন থেকে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আবী বাকরাহ তাঁর পিতা থেকে, এবং আব্দুর রহমান অপেক্ষা উত্তম এক ব্যক্তি অর্থাৎ হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান আবূ বাকরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করলেন। তখন তিনি তাঁদের বললেন: (হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?) তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: (তোমাদের মধ্য থেকে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন পৌঁছে দেয়...)
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
الْغَائِبَ فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ)

وَأَكَّدَ صلى الله عليه وسلم فِي أَمْرِهِ إِيَّاهُمْ بِالْبَلاغِ عَنْهُ حَتَّى حَدَّ لَهُمْ قَلِيلَ مَا قَدِرُوا عَلَى الإِبْلاغِ عَنْهُ فَقَالَ بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً

‌‌8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي كَبْشَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَحَدَّثَنَا عُبَيْدٌ وَفَارُوقٌ قَالا ثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَشِّيُّ ثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ ثَنَا حَسَّانُ عَنْ أَبِي كَبْشَةَ عَنْ عَبْدِ الله ابْن عَمْرٍو وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ نَجْدَةَ ثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ ثَنَا الأَوْزَاعِيُّ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَسُلَيْمَانُ فِي آخَرِينَ قَالُوا ثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ ثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا الأَوْزَاعِيِّ عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي كَبْشَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلا حَرَجَ)

ثُمَّ حَثَّ صلى الله عليه وسلم الْمُبَلِّغِينَ عَنْهُ عَلَى تَأْدِيَةِ مَا يُبَلِّغُونَ عَنْهُ كَمَا بَلَّغَهُمْ وَرَغَّبَهُمْ فِي ذَلِكَ بِالدُّعَاءِ الْمُجَابِ لَهُ فَمَنْ بَلَّغَ عَنْهُ وَأَدَّى الْمَسْمُوعَ مِنْهُ جَعَلَنَا اللَّهُ مِمَّنْ نَالَتْهُ الدَّعْوَةُ الْمُجَابَةُ مِنْ نَبِيِّهِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم

‌‌9 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلادٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ صَالح عَن سماك ابْن حَرْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ إِمْلاءً ثَنَا أَبُو زُرْعَةَ الدِّمَشْقِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ جُبَيْرٍ وَحَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو أَحْمَدَ
অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে; কেননা সম্ভবত যার কাছে পৌঁছানো হয়েছে সে শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী।)

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করার ব্যাপারে তাঁদের প্রতি তাঁর নির্দেশে গুরুত্বারোপ করেছেন, এমনকি তাঁরা প্রচার করতে সক্ষম এমন সামান্য পরিমাণকেও তিনি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।"

৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ আহমদ ইবনুল ফুরাত, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর, তিনি আওজায়ি থেকে, তিনি হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু কাবশাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবাইদ ও ফারুক, তাঁরা উভয়ে বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম আল-কাশশি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, তিনি আওজায়ি থেকে, তিনি হাসসান থেকে, তিনি আবু কাবশাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আওজায়ি। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ও অন্যান্যরা, তাঁরা বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব আল-হাররানি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আওজায়ি, তিনি হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু কাবশাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়, আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।)

এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারকারীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন যাতে তাঁরা তাঁর পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দিচ্ছেন তা সেভাবেই আদায় করেন যেভাবে তাঁদের কাছে পৌঁছেছে। আর তিনি তাঁদের জন্য কৃত তাঁর কবুল হওয়া দুআ’র মাধ্যমে এ বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি তাঁর পক্ষ থেকে পৌঁছে দিল এবং তাঁর কাছ থেকে যা শুনেছে তা যথাযথভাবে আদায় করল—আল্লাহ যেন আমাদের সেই সব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাঁরা তাঁর মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই কবুল হওয়া দুআ’র ভাগীদার হয়েছেন।

৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে খাল্লাদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুসা, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে সালিহ, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ ইমলা (শ্রুতিলিপি) হিসেবে, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ আদ-দিমাশকি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-ওয়াহবি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, তিনি জুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর পিতা জুবাইর থেকে। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাজি আবু আহমদ।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪০)
إِمْلاءً ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ ثَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَرْكِيُّ ثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ بْنُ يَعْلَى ثَنَا عِيسَى بْنُ أَبِي عِيسَى الْخَيَّاطُ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ فَخَطَبَنَا فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (نَضَّرَ اللَّهُ امْرَءًا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ إِلَى مَنْ هُوَ أَحْفَظُ مِنْهُ وَيُبَلِّغُهُ مَنْ هُوَ أَحْفَظُ مِنْهُ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ)

وَهَذَا لَفْظُ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ عَنْ سِمَاكٍ

‌‌10 - وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَبِيبٍ ثَنَا أَبُو دَاوُدَ ثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عُمَرَ ابْن سُلَيْمَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَحَدَّثَنَا حَبِيبٌ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ بَطَّالٍ ثَنَا طَاهِرُ بْنُ خَالِدِ بْنِ بَزَّارٍ ثَنَا أَبِي ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ عُمَرَ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ عَنْ أَبِيهِ عَمَّنْ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (نَضَّرَ اللَّهُ امْرَءًا سَمِعَ حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ)

لَفْظُ يُونُسَ بْنِ حَبِيبٍ

وَلَمْ يُقْنِعْهُ صلى الله عليه وسلم الْحَثُّ عَلَى الإِبْلاغِ عَنْهُ وَالتَّرْغِيبُ فِي ذَلِكَ حَتَّى اسْتَوْثَقَ فِي التَّقْيِيدِ وَالِاشْتِرَاطِ عَلَى الْمُبَلِّغِينَ عَنْهُ أَنْ يَحْتَرِزُوا مِنَ الِازْدِيَادِ فِي الْبَلاغِ عَنْهُ وَذَلِكَ لِعِلْمِهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَكُونَ فِي أُمَّتِهِ نشؤ سُوءٍ يَحْمِلُهُمُ الْحِرْصُ وَالشَّهْوَةُ فِي الْحَدِيثِ ظَنَّهُ عَلَى الزِّيَادَةِ فِيهِ وَذَلِكَ مَا

‌‌11 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ إِمْلاءً وَقِرَاءَةً ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالا ثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عَاصِمٍ ثَنَا هِلالُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ حَدَّثَنِي عُقْبَةُ بْنُ وَسَّاجٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (نَضَّرَ اللَّهُ مَنْ سَمِعَ قَوْلِي ثُمَّ لَمْ يَزِدْ فِيهِ)
শ্রুতিলিপি অনুযায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইব্রাহিম আল-বারকি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়া ইবনে ইয়ালা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে আবি ঈসা আল-খাইয়াত, আশ-শাবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নুমান ইবনে বশির আমাদের কাছে আগমন করলেন এবং আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে এবং তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে বেশি মুখস্থ রাখার অধিকারী। আর সে তার চেয়েও বড় হাফিজ বা সংরক্ষণকারীর কাছে পৌঁছে দেয়, যে আবার এমন একজনের কাছে পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকিহ (বুঝসম্পন্ন)। কেননা অনেক ফিকহ (ইলম) বহনকারী নিজে ফকিহ (বুঝসম্পন্ন) নয়।"

এটি সিমাক থেকে বর্ণিত আলি ইবনে সালিহ-এর শব্দমালা।

‌‌১০ - এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে হাবিব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, উমর ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে সাবিত থেকে। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাবিব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে বাত্তাল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তাহির ইবনে খালিদ ইবনে বাজ্জার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে তাহমান, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, উমর ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে প্রফুল্ল রাখুন যে কোনো হাদিস শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকিহ, আর অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকিহ নয়।"

এটি ইউনুস ইবনে হাবিব-এর শব্দমালা।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল তার পক্ষ থেকে প্রচারের উৎসাহ প্রদান এবং তার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমেই সন্তুষ্ট হননি, বরং তিনি প্রচারকারীদের ওপর এই বিধিনিষেধ ও শর্তারোপের মাধ্যমে বিষয়টি সুদৃঢ় করেছেন যে, তারা যেন তার পক্ষ থেকে প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো কিছু বৃদ্ধি করা থেকে সতর্ক থাকে। আর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই জ্ঞানের কারণে ছিল যে, তার উম্মতের মধ্যে এক মন্দ প্রজন্মের উদ্ভব হবে যাদেরকে হাদিসের প্রতি লোভ ও লালসা এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করার ধারণার দিকে ধাবিত করবে। আর সেটি হলো যা—

‌‌১১ - আমাদের কাছে শ্রুতিলিপি হিসেবে এবং পঠন আকারে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল এবং মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শাইবা, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল জাব্বার ইবনে আসিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিলাল ইবনে আবদুর রহমান, ইব্রাহিম ইবনে আবি আবলা থেকে, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উকবা ইবনে ওয়াসাজ, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে প্রফুল্ল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করেনি।"
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪১)
قُلْتُ قَدْ وَرَدَ ثَلاثٌ لَا يغل عَلَيْهِنَّ قبل مُؤمن إخلاص الْعَمَل لله وَمنا صِحَة وُلاةِ الأَمْرِ وَلُزُومُ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مَنْ وَرَاءَهُمْ

لَفْظُ سُلَيْمَانَ مُخْتَصَرًا لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ لَفْظَ الزِّيَادَةِ وَهَذَا الْحَدِيثُ رَوَاهُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ عِرَاكُ بْنُ خَالِدٍ فَخَالَفَ فِيهِ هانىء بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ لَفْظَ الزِّيَادَةِ

‌‌12 - حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو أَحْمَدَ وَسُلَيْمَانُ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بن أَحْمد ابْن رَاشِدٍ ثَنَا مُوسَى بْنُ عَامِرٍ أَبُو عَامِرٍ ثَنَا عِرَاكُ بْنُ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (رَحِمَ اللَّهُ مَنْ سَمِعَ مَقَالَتِي هَذِهِ فَحَفِظَهَا حَتَّى يُبَلِّغَهَا غَيْرَهُ)

وَلَفْظُ الزِّيَادَةِ لَا يَثْبُتُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي عَبْلَةَ فَإِنَّهَا مُخْتَلَفٌ فِيهَا عَلَيْهِ وَإِنَّما هُوَ وَحَدِيثُ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ

‌‌13 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بُنْدَارٍ ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي عَاصِمٍ ثَنَا هَاشِمُ بْنُ عَمَّارٍ ثَنَا عَمْرُو بْنُ وَاقِدٍ ثَنَا يُونُسُ بْنُ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ كَلامِي فَلَمْ يَزِدْ فِيهِ فَرُبَّ حَامِلِ عِلْمٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَوْعَى لَهُ مِنْهُ)

وَكَمَا رَغَّبَ صلى الله عليه وسلم فِي الإِبْلاغِ عَنْهُ وَحَثَّ عَلَيْهِ أَوْعَدَ كَاتِمِي بَيَانِهِ عَظِيمَ الْوَعِيدِ وَبَلِيغَ التَّخْوِيفِ

‌‌14 - حَدَّثَنَا أَبُو عبد الله أَحْمد بن بنْدَار الْفَقِيه ثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عَاصِمٍ ثَنَا إِبْرَاهِيم ابْن الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ (مَنْ كَتَمَ عِلْمًا أَلْجَمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَة بلجام من نَار) حسن وَأَعْلَمَ صلى الله عليه وسلم أَنَّ هَذَا الْعِلْمَ الَّذِي أَوْعَدَ كَاتِمَهُ هُوَ مَا يُتْقِنُهُ وَيَحْفَظُهُ
আমি বলেছি: তিনটি বিষয় রয়েছে যাতে কোনো মুমিনের অন্তর খেয়ানত করে না: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, মুসলিম শাসকদের কল্যাণ কামনা করা এবং মুসলিম জামাতের সাথে সংবদ্ধ থাকা; কেননা তাদের দোয়া তাদের পশ্চাদবর্তীদের পরিবেষ্টন করে রাখে।

সুলাইমানের বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত, তিনি এতে অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করেননি। আর এই হাদিসটি ইব্রাহিম বিন আবি আবলা থেকে ইরাক বিন খালিদ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি হানি বিন আব্দুর রহমানের বিরোধিতা করেছেন। তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জায়েদ বিন আবি সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতেও অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করা হয়নি।

১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজি আবু আহমদ, সুলাইমান এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ ইবনে রাশিদ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন আমির আবু আমির; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইরাক বিন খালিদ বিন ইয়াজিদ; তিনি ইব্রাহিম বিন আবি আবলা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে আমার এই কথা শুনেছে এবং তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।"

আর অতিরিক্ত অংশটি ইবনে আবি আবলা এর হাদিস থেকে প্রমাণিত নয়, কারণ তাঁর বর্ণনায় এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বরং এটি মুয়াজ বিন জাবাল-এর হাদিসে রয়েছে।

১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন বুন্দার; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি আসিম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাশিম বিন আম্মার; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন ওয়াকিদ; তিনি ইউনুস বিন মাইসারা বিন হালবাস থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস থেকে, তিনি মুয়াজ বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করেনি; কেননা অনেক ইলম বহনকারী এমন ব্যক্তির নিকট ইলম পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক বোধশক্তিসম্পন্ন।"

যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে (হাদিস) পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন এবং তাকিদ দিয়েছেন, তেমনিভাবে তিনি তাঁর বাণীর প্রচার গোপনকারীদের কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং চরম ভীতি প্রদর্শন করেছেন।

১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন বুন্দার আল-ফকিহ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন আবি আসিম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির আল-হিজামি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব; তিনি আব্দুল্লাহ বিন আইয়াশ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ইলম গোপন করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।" এটি হাসান হাদিস। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবহিত করেছেন যে, যে ইলম গোপনকারীর জন্য শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে, তা হলো সেই ইলম যা সে আয়ত্ত করেছে এবং মুখস্থ রেখেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌15 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ ثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ ثَنَا عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ الصَّيْدَلانِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ وَحَدَّثَنَا فَارُوقٌ الْخَطَّابِيُّ وحبِيب ابْن الْحَسَنِ قَالا ثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَشِّيُّ ثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ ثَنَا عُمَارَةُ بْنُ زَادَانَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ عَطَاءِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

‌‌16 - وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلادٍ ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ ثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ ثَنَا عُمَارَةُ الصَّيْدَلانِيُّ أَنْبَا عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَا مِنْ رَجُلٍ حَفِظَ عِلْمًا نَافِعًا فَسُئِلَ عَنْهُ فَكَتَمَهُ إِلا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلْجَمًا بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ)

وَبَيَّنَ صلى الله عليه وسلم أَنْ الْمُلْجَمَ بِلِجَامِ النَّارِ هُوَ مَنْ كَتَمَ عِلْمًا نَافِعًا يَسْتَدِلُّ بِهِ الْمَرْءُ عَلَى نَفْعِ دِينِهِ وَلُزُومِ شَرِيعَتِهِ

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلادٍ وَأَبُو بَحْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحسن البربهاري قَالا ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَزَّازُ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَاصِمٍ الْحِمَّانِيُّ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ دَابٍ وَأَخْبَرَنِي صَفْوَانُ بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ (مَنْ كَتَمَ عِلْمًا مِمَّا يَنْفَعُ اللَّهُ بِهِ فِي أَمْرِ الدِّينِ أَلْجَمَهُ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ) إِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ

‌‌17 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَعْدٍ الْوَاسِطِيُّ وَسُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ قَالا ثَنَا مَحْمُودُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَاسِطِيُّ ثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ النُّعْمَانِ أَبُو النَّضْرِ الأَكْفَانِيُّ ثَنَا سُفْيَانُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ نَافِعٍ فَكَتَمَهُ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلجمًا بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ) إِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ لَفْظُ سُلَيْمَانَ

وَأَمَّا أَنَّ إِقَامَةَ اللَّهُ تَعَالَى سَفِيرًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ خَلْقِهِ وَجَعَلَهُ أَمِينًا عَلَى خَلْقِهِ وَمُؤْتَمَنًا فِيهِمْ أَطْلَعَهُ اللَّهُ
১৫ - আমাদের কাছে আবু বকর বিন মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বিশর বিন মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে সাঈদ বিন মনসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে উমারা বিন জাযান আস-সাইদালানি বর্ণনা করেছেন আলী বিন হাকাম থেকে, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে। এবং আমাদের কাছে ফারুক আল-খাত্তাবি ও হাবিব ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, আমাদের কাছে আবু মুসলিম আল-কাশশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাজ্জাজ বিন মিনহাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে উমারা বিন জাদান বর্ণনা করেছেন আলী বিন হাকাম থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন।

১৬ - এবং আমাদের কাছে আবু বকর বিন খাল্লাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হারিস বিন আবি উসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আসিম বিন আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে উমারা আস-সাইদালানি বর্ণনা করেছেন, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন হাকাম থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি কোনো উপকারী জ্ঞান মুখস্থ করল, অতঃপর সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আর সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন সে আগুনের লাগাম পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত হবে।)

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, যাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে সে হলো ওই ব্যক্তি যে এমন উপকারী জ্ঞান গোপন করে যার দ্বারা মানুষ তার দ্বীনের কল্যাণ লাভ করে এবং তার শরীয়তের অনুসারী হওয়া অপরিহার্য মনে করে।

আমাদের কাছে আবু বকর বিন খাল্লাদ এবং আবু বাহর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-বারবাহারি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, আমাদের কাছে আহমদ বিন আলী আল-খাযযায বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ বিন আসিম আল-হিমমানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার কাছে মুহাম্মদ বিন দাব বর্ণনা করেছেন এবং আমাকে সাফওয়ান বিন সুলাইম সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন আবি সাঈদ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহ যার মাধ্যমে দ্বীনের বিষয়ে মানুষকে উপকৃত করেন, এমন কোনো জ্ঞান যদি কেউ গোপন করে, তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।) এর সনদ দুর্বল।

১৭ - আমাদের কাছে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাদ আল-ওয়াসিতি এবং সুলাইমান বিন আহমদ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, আমাদের কাছে মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে কাসিম বিন সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হারিস বিন নুমান আবু নাদর আল-আকফানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন জাবির থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যাকে কোনো উপকারী জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, সে কিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত হবে।) এর সনদ দুর্বল, এটি সুলাইমানের শব্দ।

আর আল্লাহ তাআলা যে তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে একজন দূত নিযুক্ত করেছেন এবং তাকে তাঁর সৃষ্টির ওপর আমানতদার ও তাদের মধ্যে বিশ্বস্ত বানিয়েছেন, আল্লাহ তাকে অবহিত করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪৩)
عَلَى كَثِيرٍ مِنْ أَنْوَاعِ الْغُيُوبِ وَالْأَشْيَاءِ الْكَائِنَةِ بَعْدَهُ مِنْ حَمِيدٍ وَذَمِيمٍ وَدَلَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى كُلِّ ذَلِكَ وَأَخْبَرَ بِهِ أُمَّتَهُ لِتَأْكِيدِ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ وَتَمَامِ تَبْلِيغِهِ إِيَّاهُمْ رِسَالَةَ رَبِّهِمْ تَعَالَى فَكَانَ مِنْ جُمْلَةِ مَا أَخْبَرَ بِهِ مِنَ الْغُيُوبِ وَالْحَوَادِثِ الْكَائِنَةِ بَعْدَهُ أَنْ أَعْلَمَهُمْ أَنْ يَكُونَ بَعْدَهُ فِي أُمَّتِهِ مَنْ يَكْذِبُ عَلَيْهِ وَيُخْبِرُ عَنْهُ بِالأَبَاطِيلِ وَبَالَغَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الْوَعِيدِ لِمَنْ كَذَبَ عَلَيْهِ فِي حَيَاتِهِ وَبَعْدَ وَفَاتِهِ

‌‌18 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلادٍ ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ ثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَيْمُونٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّ أَبَا مُوسَى الْغَافِقِيَّ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ يُحَدِّثُ عَلَى الْمِنْبَرِ عَنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ فَقَالَ أَبُو مُوسَى إِنَّ صَاحِبَكُمْ هَذَا لَحَافِظٌ أَوْ هَالِكٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ آخِرُ مَا عَهِدَ عَلَيْنَا أَنْ قَالَ (عَلَيْكُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ وَسَتَرْجِعُونَ إِلَى قَوْمٍ يُحِبُّونَ الْحَدِيثَ عَنِّي فَمَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ حَفِظَ شَيْئًا فَلْيُحَدِّثْ بِهِ)

‌‌19 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُكَاتِبُ قَالا ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ ثَنَا ضِرَارُ بْنُ صُرَدَ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَيْمُونٍ حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ وَهْبٍ قَاضٍ كَانَ لأَهْلِ مِصْرَ عَنْ وَدَاعَةَ الْخِيرِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى الْغَافِقِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحوه ضَعِيف

‌‌20 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ عَمْرٍو الْعَسْكَرِيُّ بِالْبَصْرَةِ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَرْبٍ الْعَسْكَرِيُّ ثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ ثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو ثَنَا أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ ثَلاثُونَ رَجُلا كَذَّابُونَ يَكْذِبُونَ عَلَى اللَّهِ وَعَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم

وَأَلْفَاظُهُ صلى الله عليه وسلم فِي الْوَعِيدِ لِلْكَاذِبِينَ عَلَيْهِ وَرَدَتْ عَنْهُ مُخْتَلِفَةً فَوَرَدَ عَنْهُ فِي الْوَعِيدِ لِمَنْ قَالَ عَلَيْهِ مَا لَمْ يَقُلْ فَتَوَجَّهَ هَذَا الْوَعِيدُ عَلَى كُلِّ قَائِلٍ عَلَيْهِ مَا لَمْ يَقُلْ عَامِدًا كَانَ أَوْ غَيْرَ عَامِدٍ
তিনি তাঁর পরবর্তী সময়ের প্রশংসাযোগ্য ও নিন্দনীয় অনেক অদৃশ্যের বিষয় ও ঘটনার ওপর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সমস্ত কিছুর প্রমাণ প্রদান করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে তা জানিয়ে দিয়েছেন, যাতে তাদের ওপর দলিল সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের নিকট তাদের রব্ব তা'আলার রিসালাত পৌঁছানোর পূর্ণতা পায়। তিনি অদৃশ্যের যেসব বিষয় ও তাঁর পরবর্তী ঘটনাসমূহ সম্পর্কে খবর দিয়েছেন, তার মধ্যে একটি ছিল তাঁর উম্মতকে এই মর্মে অবগত করা যে, তাঁর পরে তাঁর উম্মতের মধ্যে এমন লোক আসবে যারা তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করবে এবং তাঁর পক্ষ থেকে বাতিল কথা বর্ণনা করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইন্তেকালের পর যারা তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করবে, তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

‌‌১৮ - আবু বকর বিন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিস বিন আবি উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুতাইবাহ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস বিন সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন হারিস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন মাইমুন আল-হাদরামি থেকে, তিনি বলেন আবু মুসা আল-গাফেকি উকবাহ বিন আমির আল-জুহানিকে মিম্বারের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছেন। তখন আবু মুসা বললেন, তোমাদের এই সাথী হয়তো (হাদিস) সংরক্ষণকারী নতুবা ধ্বংসপ্রাপ্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি সর্বশেষ যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা হলো, তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরো। অচিরেই তোমরা এমন এক কওমের নিকট ফিরে যাবে যারা আমার কথা (হাদিস) শুনতে পছন্দ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কোনো কিছু (সঠিকভাবে) মুখস্থ করেছে, সে যেন তা বর্ণনা করে।"

‌‌১৯ - সুলাইমান বিন আহমাদ ও মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-মুকাত্তিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দ্বিরার বিন সুরাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন হারিস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন মাইমুন থেকে, তিনি বলেন আমার নিকট মিশরের অধিবাসীদের একজন বিচারক ওয়াহাব বিন ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন ওদাআহ আল-খাইরি থেকে, তিনি আবু মুসা আল-গাফেকি থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ বলেছেন। (হাদিসটি) দুর্বল।

‌‌২০ - বসরার আহমাদ বিন সাহল বিন আমর আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম বিন হারব আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল আলা বিন হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ বিন জুরাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নামে মিথ্যাচার করবে।"

তাঁর ওপর মিথ্যারোপকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি স্বরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীসমূহ বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর নামে এমন কিছু বলার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে যা তিনি বলেননি। সুতরাং এই হুঁশিয়ারি তাঁর নামে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর বর্তাবে যে এমন কিছু বলবে যা তিনি বলেননি, তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌21 - حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا يُونسُ بْنُ حَبِيبٍ ثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ وَعَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ قَالا ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه يَقُولُ وَاللَّهِ مَا يَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لَا أَكُونَ أَوْعَاهُمْ لِحَدِيثِهِ وَلَكِنْ أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (من قَالَ عَليّ مالم أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ) حسن

فَفِي امْتِنَاعِ عُثْمَانَ رضي الله عنه مِنَ الاتِّسَاعِ فِي التَّحْدِيثِ عَنْهُ مَعَ إِخْبَارِهِ عَنْ نَفْسِهِ أَنَّهُ مِنْ وُعَاةِ أَصْحَابِهِ وَحُفَّاظِهِمُ الدَّلِيلُ الْكَافِي أَنَّ كُلَّ مَنْ أدّى عَنْهُ صلى الله عليه وسلم وَبَلَّغَ غَيْرَ مَا قَالَهُ أَوْ شيئألم يَقُلْهُ أَنَّهُ دَاخِلٌ فِي جُمْلَةِ مَنْ شَمِلَهُ وَعِيدُهُ وَتَخْوِيفُهُ جَعَلَنَا اللَّهُ مِنَ الْمُتَحَرِّينَ لِلصِّدْقِ وَالْمُتَحَرِّزِينَ مِنَ الْمُسَاهَلَةِ فِي الرِّوَايَةِ بِكُلِّ مَا يُرْوَى عَنْهُ وَلَمْ يَقُلْهُ بِرَحْمَتِهِ وَسَأَذْكُرُ بِعَوْنِ اللَّهِ وَمَشِيئَتِهِ أَنْوَاعًا مِنَ الْوَعِيدِ لِمَنْ قَلَّتْ مُبَالاتُهُ بِالرِّوَايَةِ عَنْهُ بِكُلِّ مَا سَمِعَهُ قَالَ أَوْ لَمْ يَقُلْ فَمِنْ ذَلِكَ لَفْظُهُ الْوَارِدُ عَنْهُ فِيمَنْ تَعَمَّدَ عَلَيْهِ الْكَذِبَ

‌‌22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ قِرَاءَةً ثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ ثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ (مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ) حسن

وَقَدْ وَرَدَتْ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثُ شَدِيدَةٌ مِنَ الْوَعِيدِ فِيمَنْ كَذَبَ عَلَيْهِ تَعَمَّدَهُ أَوْ لَمْ يَتَعَمَّدْهُ

‌‌23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ يَكْذِبْ عَلَيَّ يُبْنَ لَهُ بَيْتٌ فِي النَّارِ) وَأَعْلَمَ صلى الله عليه وسلم مَا يَبُوءُ بِهِ الْكَاذِبُ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ لِمُبَايَنَتِهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَمِيعِ أَحْوَالِ
২১ - আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন জাফর, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবন হাবিব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবন আবিয যিনাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আমির ইবন সা'দ থেকে। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন আবদুল আজিজ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন দাউদ আল-হাশিমি এবং আসিম ইবন আলী; তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবন আবিয যিনাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আমির ইবন সা'দ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, "আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করা থেকে আমাকে কোনো কিছুই বিরত রাখে না এই ছাড়া যে, সম্ভবত আমি তাঁর হাদিস সংরক্ষণে তাদের (অন্যান্য সাহাবীদের) মধ্যে সবচেয়ে বেশি সচেতন নই। কিন্তু আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আমার প্রতি এমন কিছু আরোপ করল যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়'।" (হাসান)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনায় ব্যাপকতা থেকে উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরত থাকা এবং সাথে সাথে নিজের সম্পর্কে এই সংবাদ দেওয়া যে তিনি তাঁর সচেতন ও হাফেজ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—এর মধ্যে এই যথেষ্ট দলিল রয়েছে যে, যে কেউ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পক্ষ থেকে বর্ণনা করবে এবং তিনি যা বলেননি বা এমন কিছু যা তিনি উচ্চারণ করেননি তা পৌঁছে দেবে, সে সেই ব্যক্তিদলের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদেরকে তিনি ধমকি ও ভীতি প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ যেন তাঁর রহমতে আমাদের সত্য অন্বেষণকারী এবং তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত প্রতিটি বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন থেকে সতর্ক থাকার তাওফিক দান করেন যা তিনি বলেননি। আর আমি আল্লাহর সাহায্য ও ইচ্ছায় সেই ব্যক্তিদের জন্য বর্ণিত বিভিন্ন প্রকারের ধমকি উল্লেখ করব যারা তাঁর থেকে যা কিছু শোনে তা-ই বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ভ্রুক্ষেপহীনতা প্রদর্শন করে, চাই তিনি তা বলে থাকুন বা না থাকুন। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর সেই শব্দ যা তাঁর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপকারীর ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে।

২২ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন জাফর পাঠ করে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মাসউদ আহমদ ইবনুল ফুরাত বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু বকর আল-হানাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুল হামিদ ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাহমুদ ইবন লাবিদ থেকে, তিনি উসমান ইবন আফফান থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" (হাসান)

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি সম্বলিত বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে যে তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করে, চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত।

২৩ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মাসউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন উবায়েদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট উবায়েদুল্লাহ ইবন উমর বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।" আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবগত করেছেন যে, তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপকারী ব্যক্তি কী পরিমাণ পাপ বহন করবে, কারণ সে সকল অবস্থায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪৫)
سَائِرِ النَّاسِ بِأَنَّ الْكَاذِبَ عَلَيْهِ لَيْسَ كَمَنْ كَذَبَ عَلَى غَيْرِهِ

‌‌24 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلادٍ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَفْصٍ التَّيْمِيُّ أَنْبَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ ثَنَا صَدَقَةُ وَهُوَ بن الْمُثَنَّى حَدَّثَنِي جَدِّي رِيَاحُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ كُنَّا فِي مَسْجِدِ الأَكْبَرِ بِالْكُوفَةِ وَالْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ جَالس فجَاء نجاب يُقَال لَهُ قيس ابْن عَلْقَمَةَ فَقَامَ فَسَبَّ وَسَبَّ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى غَيْرِي مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّار) صَحِيح

ذِكْرُ وَعِيدٍ ثَانٍ فِيمَنْ تَعَمَّدَ الْكَذِبَ عَلَيْهِ صلى الله عليه وسلم

‌‌25 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ ثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ أَبُو زَكَرِيَّا السَّيْلَحِينِيُّ ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ حرَام أبن عُثْمَانَ عَنِ ابْنَيْ جَابِرٍ عَنْ أَبِيهِمَا جَابر ابْن عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ (اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ أَوْ أَتَى الْبَهَائِم) ضَعِيف

وَأَعْلَمَ صلى الله عليه وسلم أَنَّ مِنْ أَعْظَمِ الْفِرْيَةِ مَنْ قَوَّلَهُ مَا لَمْ يَقُلْ وَهُوَ وَعِيدٌ ثَالِثٌ عَنْهُ فِيمَنْ كَذَبَ عَلَيْهِ

‌‌26 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا أَبُو زُرْعَةَ الدِّمَشْقِيُّ ثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ سُلَيْمَانُ وَثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ قَالَ ثَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النَّصْرِيُّ عَنْ وَائِلِ بْنِ الأَسْقَعِ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مِنْ أَعْظَمِ الْفِرَى أَنْ يُدْعَى الرَّجُلُ إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ يُرِيَ عَيْنَيْهِ فِي الْمَنَامِ مالم تريا أَو يقل عَليّ مالم أَقُلْ)
...অন্যান্য মানুষের নিকট যে, তাঁর প্রতি মিথ্যারোপকারী অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপকারীর মতো নয়।

‌‌২৪ - আবু বকর বিন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারিস বিন আবু উসামাহ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাফস আত-তায়মী থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ বিন জিয়াদ থেকে, তিনি সাদাকাহ (যিনি ইবনুল মুসান্না) থেকে, তিনি বলেন: আমার দাদা রিয়াহ বিন আল-হারিস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমরা কুফার বড় মসজিদে ছিলাম এবং মুগীরাহ বিন শুবা উপবিষ্ট ছিলেন। এমতাবস্থায় কায়েস ইবনে আলকামা নামক এক দ্রুতগামী বার্তাবাহক সেখানে এসে দাঁড়িয়ে গালিগালাজ করতে লাগল। তখন সাঈদ বিন যায়েদ বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" সহীহ।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপকারীর জন্য দ্বিতীয় সতর্কবাণীর উল্লেখ।

‌‌২৫ - আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন মুসা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইসহাক আবু জাকারিয়া আস-সায়লাহিনী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব থেকে, তিনি হারাম ইবনে উসমান থেকে, তিনি জাবিরের দুই পুত্র থেকে, তাঁরা তাঁদের পিতা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে অথবা চতুষ্পদ জন্তুর সাথে মৈথুন করে, তার প্রতি আল্লাহর ক্রোধ অত্যন্ত কঠোর হয়।" যয়ীফ।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানিয়েছেন যে, অন্যতম শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার হলো তাঁকে দিয়ে এমন কথা বলানো যা তিনি বলেননি। এটি তাঁর প্রতি মিথ্যারোপকারীর বিরুদ্ধে তাঁর পক্ষ থেকে তৃতীয় সতর্কবাণী।

‌‌২৬ - সুলাইমান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি আবুল ইয়ামান থেকে; সুলাইমান আরও বলেন যে, আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আইয়াশ থেকে, তিনি হারীজ বিন উসমান থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নাসরী থেকে, তিনি ওয়ায়েল ইবনুল আসকা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অন্যতম শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার হলো কোনো ব্যক্তি নিজেকে তার পিতা ব্যতীত অন্য কারো সন্তান বলে দাবি করা, অথবা স্বপ্নে নিজের চোখে যা দেখেনি তা দেখার দাবি করা, অথবা আমার নামে এমন কথা বলা যা আমি বলিনি।"
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌27 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الصَّوَّافُ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَذَّاءُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ بُخْتٍ عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عبد الله النضري عَن وائلة بْنِ الأَسْقَعِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (إِنَّ أَفْرَى الْفِرَى مَنْ قَوَّلَنِي مَا لَمْ أَقُلْ أَوِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ يُرِيَ عَيْنَيْهِ فِي الْمَنَام مالم تَرَيَا)

وَقَدْ ثَبَتَ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ مَنْ رَوَى عَنْهُ شَيْئًا يَرَى أَنَّهُ كَذَبَ فَقَدِ اشْتَرَكَ فِي الْكَذِبِ مَعَ مَنْ بَدَأَ بِالْكَذِبِ عَلَيْهِ

‌‌28 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلادٍ ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنْبَأَ شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مِنْ يَفْرِي عَنِّي حَدِيثًا وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ) صَحِيح

‌‌29 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا يُونسُ بْنُ حَبِيبٍ ثَنَا أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا حَبِيبٌ وَالْخَطَّابِيُّ قَالا ثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ ثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ مَيْمُونَ بْنَ أَبِي شُعَيْبٍ يُحَدِّثُ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ رَوَى عَنِّي حَدِيثًا يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أحد الْكَاذِبين) حسن وَبَلَّغَ صلى الله عليه وسلم الْمُتَحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ أَبْلَغَ غَايَةِ الإِثْمَيْنِ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم (كَفَى بِهِ إِثْمًا)

‌‌30 - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ ثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (كَفَى بِهِ إِثْمًا أَنْ يحدث بِكُل مَا سمع) حسن
২৭ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আলী আস-সাওওয়াফ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-হাযযা, ইসমাঈল বিন উবাইদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি আবু আব্দুর রাহীম থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব বিন বুখত থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নাদরী থেকে, তিনি ওয়াসিলাহ বিন আল-আসকা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই সবচাইতে বড় মিথ্যা হলো ওই ব্যক্তি যে আমার নামে এমন কথা বলে যা আমি বলিনি, অথবা যে তার পিতা ব্যতীত অন্য কারো দিকে নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত করে, অথবা যে ব্যক্তি তার দুই চোখে স্বপ্নে এমন কিছু দেখার দাবি করে যা তার চক্ষুদ্বয় দেখেনি।"

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে, যে ব্যক্তি তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যার সূচনাকারীর সাথে মিথ্যায় অংশীদার হলো।

২৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন খাল্লাদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হারিস বিন আবি উসামাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন হারুন, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন শু'বাহ, আল-হাকাম থেকে, তিনি ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি সামুরাহ বিন জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।" এটি সহিহ।

২৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জা'ফর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন হাবীব, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ; এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাবীব ও আল-খাত্তাবী, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলায়মান বিন হারব, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, হাবীব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি বলেন: আমি মাইমুন বিন আবি শুআইবকে আল-মুগীরাহ বিন শু'বাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।" এটি হাসান। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা শোনে তার সবকিছুই বর্ণনা করাকে গুনাহের সর্বোচ্চ পর্যায় সাব্যস্ত করেছেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "পাপী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।"

৩০ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আমর বিন হামদান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী বিন হাফস, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, খুবাইব বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি হাফস বিন আসিম থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "কোনো ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তার সবকিছুই বর্ণনা করে।" এটি হাসান।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَأَنْزَلَ صلى الله عليه وسلم مَنْ حَدَّثَ بِالْكَذِبِ مَنَازِلَ أَكَابِرِ الْخَائِنِينَ أَوْ كَذَبَ فِي حَدِيثِهِ

‌‌31 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَرْبِيُّ ثَنَا زَكَرِيَّا بن يحيى ابْن زَحْمَوَيْهِ ثَنَا عُمَرُ بْنُ هَارُونَ ثَنَا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (كَبُرَتْ خِيَانَةً أَنْ تُحَدِّثَ أَخَاكَ حَدِيثًا هُوَ لَكَ بِهِ مُصَدِّقٌ وَأَنْتَ لَهُ بِهِ كَاذِب) ضَعِيف وَمَعْنَاهُ أَنْ يُصَدِّقَهُ فِيمَا يَذْكُرُ سَمَاعَهُ وَلَمْ يَسْمَعْهُ فَيَكُونُ فِيهِ كَاذِبًا وَلَنْ يَسْتَعْظِمَ الْكَذِبَ عَلَيْهِ إِلا مَنْ خَصَّهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي أَكْثَرِ أَحْوَالِهِ بِحُسْنِ التَّوْفِيقِ وأيده الْعِصْمَة وَالتَّسْدِيدِ كَسَيِّدِ الْمُسْلِمِينَ وَوَلِيِّ الْمُؤْمِنِينَ وَابْنِ عَمِّ رَسُولِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَخْبَرَهُ عَنْ نَفْسِهِ رضي الله عنه أَنَّ الْخُرُورَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَبُوءَ بِالْكَذِبِ عَلَى رَسُولِ رَبِّ الْعَالَمِينَ كَذَا رَوَى لِي عَنْهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ إِذَا حَدَّثَكُمْ عَنْهُ

‌‌32 - حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا أَبُو مَسْعُودِ بْنُ الْفُرَاتِ ثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ ثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ خَيْثَمَةَ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفْلَةَ قَالَ قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه فَوَاللَّهِ لَأَنْ أَخِرَّ مِنَ السَّمَاءِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَكْذِبَ عَلَيْهِ فَأَقْسَمَ بِعَظِيمِ الْقَسَمِ أَنَّ سُقُوطَهُ مِنْ أَعْلَى السَّمَوَاتِ إِلَى أَسْفَلِ الأَرْضِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ إِخْبَارِهِ وَتَحْدِيثِهِ عَنْهُ بِمَا لَمْ يَقُلْهُ صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ مِنْ عَظِيمِ مَنْزِلَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي صَدْرِهِ وَمَعْرِفَتِهِ بِمَا اسْتَقَرَّ فِي قَلْبِهِ مِنْ جَسِيمِ قُبْحِ الْكَذِبِ عَلَيْهِ أَعَاذَنَا اللَّهُ وَجَمِيعَ الْمُسْلِمِينَ مِنَ التَّعَرُّضِ لِمَمَاسَةِ جَمِيعِ مَا ثَبَتَ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَعِيدِ فِي الْكَذْبَةِ عَلَيْهِ وَجَعَلَنَا مِمَّنْ يَقْتَدِي فِي تَعْظِيمِ الْكَذِبِ عَلَيْهِ وَتَقْبِيحِهِ بِسَيِّدِ الْمُسْلِمِينَ وَأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ رضي الله عنه بِرَحْمَتِهِ وَقَدْ رُوِيَتْ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثُ ضَعِيفَةٌ وَمَعْلُولَةٌ طَالَمَا افْتَرَاهَا الأَغْبِيَاءُ وَالْجَهَلَةُ فَتَطَرَّقُوا بِهَا إِلَى إِبَاحَةِ الرِّوَايَةِ لِسَقِيمِ الأَحَادِيثِ وَأَبَاطِيلِهَا وَلَمْ يَمْنَعْهُمْ مَا لِلَّهِ تَعَالَى عَلَيْهِمْ مِنْ حُجَّةِ النَّظَرِ وَإِبْلاغِ الأَثَرِ مِنَ الْمُصْطَفَى أَنَّ الْمَرْءَ مَحْظُورٌ عَلَيْهِ بِإِرْسَالِ لِسَانِهِ بِالْخَبَرِ وَالإِخْبَارِ عَمَّنْ يَصِيرُ الإِخْبَارُ عَنْهُ دِينًا وَتَدَيُّنًا إِلا بَعْدَ الْعِلْمِ الَّذِي يُوجِبُ الْعُلَمَاءُ
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ব্যক্তিকে বড় খিয়ানতকারীদের স্তরে নামিয়ে দিয়েছেন যে মিথ্যা বর্ণনা করে অথবা তার হাদীসে মিথ্যা বলে।

‌‌৩১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন জাফর, তিনি ইবরাহীম ইবন ইসহাক আল-হারবী থেকে, তিনি যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া ইবন যাহমাওয়াইহ থেকে, তিনি উমর ইবন হারুন থেকে, তিনি ছাওর ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবন শুরাইহ থেকে, তিনি জুবাইর ইবন নুফাইর থেকে, তিনি নাওয়াস ইবন সামআন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এটি একটি বড় খিয়ানত যে, তুমি তোমার ভাইয়ের কাছে এমন কোনো কথা বলবে যা সে সত্য বলে বিশ্বাস করছে, অথচ তুমি তার কাছে মিথ্যা বলছ।" এটি একটি দুর্বল বর্ণনা এবং এর অর্থ হলো—সে যা শ্রবণ করেছে বলে উল্লেখ করে তাতে সে তাকে সত্যবাদী মনে করে, অথচ সে তা শ্রবণ করেনি, ফলে সে এতে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয়। আর তাঁর (নবী ﷺ) ওপর মিথ্যা বলাকে কেবল সেই ব্যক্তিই গুরুতর মনে করবে যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর অধিকাংশ অবস্থায় উত্তম তাওফিক দান করেছেন এবং তাঁকে রক্ষা ও সঠিক পথে অটল থাকার মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন; যেমন মুসলিমদের নেতা, মুমিনদের অভিভাবক এবং রাব্বুল আলামীনের রাসূলের চাচাতো ভাই—তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, আকাশ থেকে জমিনে আছড়ে পড়া তাঁর কাছে রাব্বুল আলামীনের রাসূলের ওপর মিথ্যা আরোপ করার পাপ বহন করার চেয়ে অধিক প্রিয়। আলী ইবন আবি তালিব যখন তোমাদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন আমার কাছে তাঁর থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

‌‌৩২ - আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন জাফর, তিনি আবু মাসউদ ইবনুল ফুরাত থেকে, তিনি ইয়ালা ইবন উবাইদ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি খাইছামা থেকে, তিনি সুয়াইদ ইবন গাফলাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী ইবন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "আল্লাহর কসম! আকাশ থেকে আছড়ে পড়া আমার কাছে তাঁর (নবী ﷺ) ওপর মিথ্যা বলার চেয়ে অধিক প্রিয়।" সুতরাং তিনি মহান শপথের মাধ্যমে কসম করেছেন যে, সর্বোচ্চ আকাশ থেকে সর্বনিম্ন জমিনে নিপতিত হওয়া তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেননি তা তাঁর পক্ষ থেকে সংবাদ দেওয়া বা বর্ণনা করার চেয়ে অধিক প্রিয়। আর এটি তাঁর অন্তরে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান মর্যাদা এবং তাঁর অন্তরে প্রোথিত তাঁর ওপর মিথ্যা বলার চরম কদর্যতা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের কারণে। আল্লাহ আমাদের এবং সকল মুসলিমকে তাঁর (নবী ﷺ) ওপর মিথ্যা বলার ব্যাপারে যে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রমাণিত হয়েছে, তার স্পর্শে আসার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করুন। আর তিনি তাঁর রহমতে আমাদের এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা মুসলিমদের নেতা ও আমিরুল মুমিনীন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে অনুসরণ করে নবীর ওপর মিথ্যা বলাকে অত্যন্ত গুরুতর ও কদর্য মনে করেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে কিছু দুর্বল ও ত্রুটিযুক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা নির্বোধ ও জাহেলরা দীর্ঘকাল ধরে উদ্ভাবন করেছে। এর মাধ্যমে তারা রুগ্ন ও বাতিল হাদীস বর্ণনার পথ প্রশস্ত করেছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর অর্পিত চিন্তা-গবেষণার প্রমাণ এবং মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত আসারসমূহ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও তাদের এই কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেনি যে—এমন এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে সংবাদ দেওয়া যার কথা দ্বীন ও শরীয়ত হিসেবে গণ্য হয়, যাচাই-বাছাই ছাড়া তা মুখে উচ্চারণ করা কোনো ব্যক্তির জন্য নিষিদ্ধ, যতক্ষণ না সেই ইলম অর্জিত হয় যা আলেমগণ আবশ্যক করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪৮)
صِحَّةَ قَوْلِهِ وَأَنَّ ذَاكُمْ مِنْ تِلْكَ الأَحَادِيثِ بِعَيْنِهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَمِنْهَا مَا

‌‌33 - حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْكَوْثَرِ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَزَّازُ وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بن الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ الدَّلالُ ثَنَا أُسَيْدُ بْنُ زَيْدٍ الْجَمَّالُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ عَطِيَّةَ عَنِ الأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ بَيْنَ عَيْنَيْ جَهَنَّمَ)

فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَرْغَبُونَ إِنَّا نُحَدِّثُ عَنْكَ بِالْحَدِيثِ فَنَزِيدُ فِيهِ وَنُنْقِصُ قَالَ (لَيْسَ ذَلِكُمْ أَعْنِيكُمْ إِنَّمَا أَعْنِي الَّذِي يَكْذِبُ عَلَيَّ يُرِيدُ عَيْبِي وَشَيْنَ الإِسْلامِ) قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِجَهَنَّمَ عَيْنَانِ قَالَ (أَلَمْ تَسْمَعُوا إِلَى قَوْلِ اللَّهِ عز وجل {إِذَا رَأَتْهُمْ مِنْ مَكَان بعيد} فَهَل تراهم إِلَّا بعينين) ضَعِيف

لَفْظُهُمَا قَرِيبٌ وَالسِّيَاقُ اسْتَمْكَنَ وَهَذَا حَدِيثٌ لَا أَصْلَ لَهُ فِيمَا أَعْلَمُ وَالْحَمْلُ فِيهِ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ عَطِيَّةَ لاتِّفَاقِ أَكْثَرِ النَّاسِ عَلَى إِسْقَاطِ حَدِيثِهِ أَيْضًا حَدِيثٌ مَعْلُولٌ

‌‌34 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ ثَنَا إِدْرِيسُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ وَحَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ حُبَيْشٌ ثَنَا الصُّوفِيُّ وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ وَحَدَّثَنَا حَبِيبٌ ثَنَا حَامِدُ بْنُ شُعَيْبٍ قَالُوا ثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ ثَنَا الْفَزَارِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ) ضَعِيف وَقَدْ رُوِيَ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ بَعْدَ هَذَا الْمَتْنِ أَقَاوِيلُ أَرْبَعَةٌ مِنْهَا مَا تَقَدَّمَ مِنْ حَدِيث عبد الرَّحْمَن ابْن عَوْسَجَةَ عَنِ الْبَرَاءِ وَالْوَاهِمُ فِيهِ الْفَزَارِيُّ وَهُوَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الله الحرزمي مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ مُجْمَعٌ عَلَيْهِ
তাঁর কথার বিশুদ্ধতা এবং ইনশাআল্লাহ এটি সেই হাদিসগুলোরই অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বাহর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনুল কাওসার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী আল-খাযযায; এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনুল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাল্লাল, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসাইদ ইবনে যাইদ আল-জাম্মাল, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল ফযল ইবনে আতিয়্যাহ, আল-আহওয়াস ইবনে হাকীম থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামের দুই চোখের মাঝখানে তার আবাসস্থল নির্দিষ্ট করে নেয়।)

এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য খুব কঠিন মনে হলো। তারা বললেন, "আমরা ভয় পাই যে আমরা আপনার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করি অথচ তাতে কিছু বাড়িয়ে ফেলি বা কমিয়ে ফেলি।" তিনি বললেন: (আমি তোমাদের কথা বুঝাইনি। বরং আমি তাকেই উদ্দেশ্য করেছি যে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে এবং এর মাধ্যমে আমার দোষ অন্বেষণ করতে ও ইসলামকে কলঙ্কিত করতে চায়।) তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামের কি দুটি চোখ আছে?" তিনি বললেন: (তোমরা কি মহান আল্লাহর বাণী শোনোনি: {যখন তা (জাহান্নাম) দূর থেকে তাদের দেখবে...}? তবে কি জাহান্নাম দুটি চোখ ছাড়া তাদের দেখতে পাবে?) এটি দুর্বল।

উভয় বর্ণনার শব্দাবলী কাছাকাছি এবং বিষয়বস্তু সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে এই হাদিসটির কোনো ভিত্তি আছে বলে আমার জানা নেই। আর এই বর্ণনার দায় মুহাম্মদ ইবনুল ফযল ইবনে আতিয়্যাহর ওপর বর্তায়, কারণ অধিকাংশ আলেম তার হাদিস বর্জন করার ব্যাপারে একমত। এটি একটি ত্রুটিযুক্ত হাদিসও বটে।

‌‌৩৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইদ্রিস ইবনে আব্দুল কারীম; এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ইবনে হাইয়্যান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী; এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী হুবাইশ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আস-সূফী; এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল আজীজ ও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাদরামী; এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাবীব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামিদ ইবনে শুআইব। তারা সকলে বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকাম ইবনে মূসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাযারী মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ, তিনি তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আওসাজাহ থেকে, তিনি বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্দিষ্ট করে নেয়।) এটি দুর্বল। আর এই মতনের পরে তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে চারটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যার মধ্যে বারা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত আব্দুর রহমান ইবনে আওসাজাহর হাদিসটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এতে বর্ণনাকারী আল-ফাযারী বিভ্রান্ত হয়েছেন, আর তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারযামী, যার হাদিস পরিত্যাজ্য হওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত ঐক্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَمِنْهَا حَدِيثُ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ عَنَ الأَعْمَشِ عَنْ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ

‌‌35 - حَدَّثَنَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْحُصَيْنِ وَالْحُسَيْنُ بْنُ حَمُّوَيْهِ الْخَثْعَمِيُّ الْكُوفِيَّانِ قَالا ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي مُوَاتِيَةَ ثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ) هَذَا لَفْظُ ابْنُ أَبِي حُصَيْنٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ لِيُضِلَّ بِهِ وَابْنُ أَبِي مواتية هُوَ الْكَلْبِيّ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ حَدَّثَ بِغَيْبٍ وَسَمِعَ مِنْهُ الْحَضْرَمِيُّ بِغَيْبٍ وَرَوَاهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الْكُوفِيِّينَ عَنْ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ بِإِسْقَاطِ ابْنِ عَمَّارٍ مِنْ بَيْنِ طَلْحَةَ وَابْنِ مَيْسَرَةَ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ

‌‌36 - حَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ ثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ ثَنَا أَبُو سعيد الْأَشَج قَالَ ثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مِنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ من النَّار) ضَعِيف هَذَا لَفْظُ هَنَّادٍ وَهُوَ الْمَشْهُورُ مِنْ حَدِيثِ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ وَذَكَرَ فِيهِ لِيُضِلَّ بِهِ وَوَهِمَ يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فِي مَوْضِعَيْنِ

أَحَدُهُمَا إِدْخَالُ أَبِي عَمَّارٍ فِيمَا بَيْنَ طَلْحَةَ وَعَمْرٍو

وَالآخَرُ إِيصَالُهُ وَرَفْعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ غَيْرُ مَرْفُوعٍ مِنَ الْوَهْمِ الْكَثِيرِ وَالْحَدِيثُ الثَّالِثُ رِوَايَةُ الْحِمَّانِيِّ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَمْرو ابْن شُرَحْبِيلَ عَنْ حُذَيْفَةَ بَدَلَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ

‌‌37 - حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا حَبَشِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بِقَصْرِ ابْنِ هُبَيْرَةَ ثَنَا زِيَادُ بْنُ أَبِي يَزِيدَ الْقَصْرِيُّ ثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ ثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ كَذَبَ
এর মধ্যে রয়েছে ইউনুস বিন বুকাইর-এর হাদিস, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি তালহা থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে, তিনি আমর বিন শুরাহবিল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৩৫ - এটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন আবু আল-হুসাইন এবং আল-হুসাইন বিন হাম্মুওয়াইহ আল-খাসআমি আল-কুফিদ্বয়, তারা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবু মুওয়াতিয়াহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন বুকাইর, আ'মাশ থেকে, তিনি তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি আমর বিন শুরাহবিল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি ইবন আবু আল-হুসাইনের শব্দসম্ভার, এবং এতে তিনি 'মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য' কথাটি উল্লেখ করেননি। আর ইবন আবু মুওয়াতিয়াহ হলেন কালবি, যিনি কুফার অধিবাসী; তিনি অগোচরে বর্ণনা করেছেন এবং হাদরামি তার থেকে অগোচরে শুনেছেন। কুফার একদল বর্ণনাকারী ইউনুস বিন বুকাইর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেখানে তারা তালহা এবং ইবন মাইসারা আমর বিন শুরাহবিলের মাঝখান থেকে ইবন আম্মারকে বাদ দিয়েছেন।

‌‌৩৬ - এটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আহমদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন ইউসুফ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হান্নাদ বিন আল-সাররি; এবং আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ বিন হাইয়ান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন বুকাইর, আ'মাশ থেকে, তিনি তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে, তিনি আমর বিন শুরাহবিল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি হান্নাদের শব্দসম্ভার এবং এটিই ইউনুস বিন বুকাইরের হাদিসের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ। আর তিনি এতে 'মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য' কথাটি উল্লেখ করেছেন। ইউনুস বিন বুকাইর এই হাদিসে দুটি স্থানে ভুল করেছেন।

একটি হলো তালহা এবং আমরের মাঝখানে আবু আম্মারকে অন্তর্ভুক্ত করা।

অন্যটি হলো এটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া এবং মারফু হিসেবে বর্ণনা করা, অথচ এটি মারফু নয়, বরং এটি অনেক ভুলের অন্তর্ভুক্ত। আর তৃতীয় হাদিসটি হলো হিম্মানি আব্দুল হামিদের বর্ণনা, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি তালহা থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে, তিনি আমর বিন শুরাহবিল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের পরিবর্তে হুজাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৩৭ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইব্রাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাবাশি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ 'কাসর ইবনে হুবায়রা' নামক স্থানে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জিয়াদ বিন আবু ইয়াজিদ আল-কাসরি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামিদ আল-হিম্মানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আ'মাশ, তিনি তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে, তিনি আমর বিন শুরাহবিল থেকে, তিনি হুজাইফা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যা...
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫০)
عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ) وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ لِيُضَلَّ بِهِ وَالْوَاهِمُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ الْحِمَّانِيُّ أَوْ زِيَادٌ الْقَصْرِيُّ وَهُوَ أَشْبَهُ فَإِنَّهُ حَدِيثُهُ مَنْضُودٌ بِهِ حَدَّثَ بِهِ عَنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّد سُلَيْمَان الباغندي أَيْضا ضَعِيف وَالْوَجْهُ الرَّابِعُ رِوَايَةُ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنَ الأَعْمَشِ عَنْ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ عَلِيٍّ

‌‌38 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْقَاضِي بِبَغْدَادَ وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الأَهْوَازِيُّ قَالا ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدَانَ وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ اللَّيْثِ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ ثَنَا يَحْيَى بْنُ طَلْحَةَ الْيَرْبُوعِيُّ مِنْ أَصْلِ كِتَابَتِهِ ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ) لَمْ يَقُلْ مِنْ أَصْلِ كِتَابِهِ إِلا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ فِي حَدِيثِهِ وَالْحَدِيثُ يَنْفَرِدُ بِهِ يَحْيَى بْنُ طَلْحَةَ وَهُوَ الْوَاهِمُ فِيهِ فِيمَا أَرَى وَالْمَحْفُوظُ مِنْ جَمِيعِ ذَلِكَ مَا رَوَاهُ زُهَيْرٌ أَبُو خَيْثَمَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ طَلْحَةَ عَنْ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا لِيُضِلَّ بِهِ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ)

كَذَا رَوَاهُ مُرْسَلا مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ وَلِعَمْرِي إِنَّ أَكْثَرَ هَلاكِ النَّاسِ وَانْتِقَالِهِمْ عَنِ الْمَحَجَّةِ الْمُضِيئَةِ بَعْدَ أَنْ كَانُوا عَلَيْهَا مِنْ مَيْلِهِمْ إِلَى قَبُولِ كُلِّ مَا يُعْرَضُ عَلَيْهِمْ مِنْ وَاهِي الأَخْبَارِ وَبَوَاطِيلِهَا وَذَلِكَ أَنَّ مَنْ قَبِلَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ قَبِلَهَا لِيَتَّخِذَهَا فِرْيَةً وَتَدَيُّنًا وَقَدْ رَوَى صَاحِبُ الشَّرِيعَةِ حَدِيثَ اسْتَدَلَّ بِهِ عَلَى بَعْضِ مَا ذَكَرْنَاهُ وَهُوَ مَا

‌‌39 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ ثَنَا هَارُونُ بْنُ عَلِيٍّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الحساني ثَنَا يزِيد ابْن هَارُونَ ثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ أَبِي الْعَلاءِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بُنْدَارٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِيُّ قَالا ثَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقٍ ثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ عَنْ سَعِيدٍ الْحِمْصِيِّ عَنْ هَارُونَ بن هَارُون عَن مُجَاهِد ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (هَلاكُ أُمَّتِي فِي الْعَصَبِيَّةِ وَالْقَدَرِيَّةِ) وَالرِّوَايَةُ مِنْ غَيْرِ ثَبْتٍ وَالدَّاعِي إِلَى شَيْءٍ مِنَ الْعُلُومِ لَا يَخْلُو
আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাস নির্ধারণ করে নেয়) এবং তিনি এতে ‘যাতে এর মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করা যায়’ কথাটি উল্লেখ করেননি। এই হাদিসের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত ব্যক্তি হলেন হিম্মানী অথবা জিয়াদ আল-কাসরি, আর দ্বিতীয়জন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি; কেননা তার হাদিস সুবিন্যস্ত। তার থেকে এটি মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ সুলাইমান আল-বাগান্দি বর্ণনা করেছেন, তিনিও দুর্বল। চতুর্থ দিকটি হলো আবু মুয়াবিয়ার বর্ণনা, যা তিনি আমাশ থেকে, তিনি তালহা থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে, তিনি আমর ইবনে শুরাহবিল থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৩৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাগদাদের বিচারক উমর ইবনে আহমদ ইবনে উমর এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-আহওয়াজি, তারা উভয়ে বলেছেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাইদান। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ, তিনি বলেছেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে লাইস আল-জাওহারি, তিনি বলেছেন—ইয়াহইয়া ইবনে তালহা আল-ইয়ারবুই তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে, তিনি আমর ইবনে শুরাহবিল থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাস নির্ধারণ করে নেয়।” মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ছাড়া আর কেউ তার হাদিসে ‘তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে’ কথাটি বলেননি। এই হাদিসটি এককভাবে ইয়াহইয়া ইবনে তালহা বর্ণনা করেছেন এবং আমার মতে এতে বিভ্রান্তি তাঁরই। আর এই সবকিছুর মধ্যে সংরক্ষিত (বিশুদ্ধ) বর্ণনা হলো যা জুহাইর আবু খাইসামা বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি তালহা থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে, তিনি আমর ইবনে শুরাহবিল থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপ করল যাতে এর মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করা যায়, সে যেন জাহান্নামে তার আবাস নির্ধারণ করে নেয়।”

আমাশের হাদিস থেকে এটি এভাবেই মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আমার জীবনের শপথ! মানুষের ধ্বংস এবং আলোকিত রাজপথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার অধিকাংশ কারণ হলো—তাতে সুদৃঢ় থাকার পর—তাদের সামনে উপস্থাপিত প্রতিটি দুর্বল ও বাতিল সংবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়া এবং তা গ্রহণ করা। কেননা যারা এর কোনো কিছু গ্রহণ করে, তারা তা মিথ্যা উদ্ভাবন ও ধর্ম হিসেবে পালনের উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করে থাকে। শরিয়তের প্রবর্তক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার কিছু বিষয়ের ওপর দলিল পাওয়া যায়, আর তা হলো—

‌‌৩৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ, তিনি হারুন ইবনে আলী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-হাসসানি থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি বাকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবুল আলা থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে বুন্দার ও আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরি, তারা উভয়ে বলেছেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আসিম, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মারজুক থেকে, তিনি উমর ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি সাঈদ আল-হিমসি থেকে, তিনি হারুন ইবনে হারুন থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমার উম্মতের ধ্বংস নিহিত রয়েছে গোঁড়ামি এবং কাদারিয়্যাহ মতবাদের মধ্যে।” তবে এই বর্ণনাটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যতিরেকেই এসেছে। আর কোনো জ্ঞানের দিকে আহ্বানকারী ব্যক্তি এর কোনোটি থেকে মুক্ত নন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫১)
مِنَ نَيْلِ مَا يُثَابُ عَلَيْهِ الْمُجَابُ إِلَيْهِ حَقًّا كَانَ أَوْ بَاطِلا ضَعِيف

‌‌40 - حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْجُرْجَانِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ أَنَّ ابْنَ وَهْبٍ أَخْبَرَهُمْ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدَةَ عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذٍ عَنْ أَبِيهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ (مَنْ عَلِمَ عِلْمًا فَلَهُ أَجْرُ مَا عَمِلَ بِهِ عَامِلٌ لَا يَنْقُصُ مِنْ أجر الْعَامِل) ضَعِيف وَجَمِيعُ مَا ذَكَرْنَاهُ مِنَ الأَحَادِيثِ يُوجِبُ نَصًّا وَدَلِيلا عَلَى أَنَّ عَلَى الْعَاقِلِ الْفَاضِلِ الَّذِي بَذَلَ مَجْهُودَهُ فِي تَحْصِيلِ مَا يَثْبُتُ عِنْدَهُ وَيَصِحُّ مِنْ أَخْبَارِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَآثَارِهِ فَقَدْ عَلِمَ وَثَبَتَ أَنَّ فِي الأَخْبَارِ الْمَرْوِيَّةِ صَحِيحًا وَمَعْلُولا وَأَنَّ فِي الرُّوَاةِ لِلأَخْبَارِ مُعَدَّلِينَ أُمَنَاءَ ومجروحين أَيْضا غير مَأْمُونِينَ وَإِذَا اجْتَهَدَ الْمَرْءُ فِي التَّمْيِيزِ بَيْنَهُمْ بِإِمْعَانِ النَّظَرِ فِي أَحْوَالِهِمْ بَانَ لَهُ الصَّادِقُ وَالْعَدْلُ بِنَقْلِهِ مَا يُوَافِقُ كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى وَلا يَدْفَعُهُ نَظَرٌ وَلا غَيْرُهُ وَوَقَفَ عَلَى حَالِ الْكَاذِبِ الْمَجْرُوحِ بِتَفَرُّدِهِ بِالأَخْبَارِ الْوَاهِيَةِ الَّتِي لَا يُجَامِعُهُ كِتَابٌ وَلا يَقْبَلُهُ عَقْلٌ وَلَمْ يَزَلِ الأَئِمَّةُ مِنَ السَّلَفِ يَتَتَبَّعُونَ انْتِقَادَ الْحَدِيثِ وَطَلَبَهَا مِنْ مَكَانِهَا وَأَخْذَهَا مِنْ أَهْلِهَا كَمَا يَتَتَبَّعُ الصَّيَارِفَةُ جِيَادَ الْوَرِقِ وَالدَّرَاهِمِ مِنْ رَدِيئِهَا وَمَحْمُولِهَا لِذَا ضَعِيف

‌‌41 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ ثَنَا الْوَلِيدُ قَالَ سَمِعْتُ الأَوْزَاعِيَّ يَقُولُ إِنَّا كُنَّا لَنَسْمَعُ الْحَدِيثَ فَنَعْرِضُهُ عَلَى أَصْحَابِنَا كَمَا يُعْرَضُ الدِّرْهَمُ الزَّائِفُ عَلَى الصَّيَارِفَةِ فَمَا عَرَفُوا أَخَذْنَا وَمَا أَنْكَرُوا تَرَكْنَا

‌‌42 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ المقزي ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ ثَنَا طَاهِرُ بْنُ خَالِدٍ ثَنَا أَبِي قَالَ سُفْيَانُ يَعْنِي ابْنَ عُيَيْنَةَ وَذَكَرَ مَالِكًا فَقَالَ رَأَيْتُهُ لَا يَتَتَبَّعُ مِنَ الْحَدِيثِ إِلا صَحِيحًا وَلا يَأْخُذُ إِلا عَنِ الثِّقَاتِ مِنَ النَّاسِ
সেই বিষয় অর্জনের ক্ষেত্রে যাতে প্রার্থনাকারী সওয়াব প্রাপ্ত হয়, চাই তা সত্য হোক বা মিথ্যা। দুর্বল।

‌‌৪০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-জুরজানী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমাহ, তিনি বলেন আমাকে ইবনুল হাকাম অবহিত করেছেন যে ইবনে ওয়াহাব তাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন আমাকে ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব অবহিত করেছেন যাব্বান বিন ফায়েদাহ থেকে, তিনি সাহল বিন মুয়ায থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ইলম (জ্ঞান) শিক্ষা দিল, তবে যে ব্যক্তি সেই ইলম অনুযায়ী আমল করবে তার সমান সওয়াব সেই শিক্ষকও পাবে, এতে আমলকারীর সওয়াব থেকে কোনো অংশ হ্রাস করা হবে না।" দুর্বল। আর আমরা যে সকল হাদিস উল্লেখ করেছি তা অকাট্য প্রমাণ এবং দলিল হিসেবে এ কথা সাব্যস্ত করে যে, সেই বিবেকবান ও গুণী ব্যক্তির ওপর কর্তব্য হলো—যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত সংবাদ ও আসার (বর্ণনা) সমূহের মধ্য থেকে যা তাঁর নিকট সাব্যস্ত ও সহিহ তা অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন—এটি জেনে রাখা ও নিশ্চিত হওয়া যে, বর্ণিত সংবাদসমূহের মধ্যে যেমন সহিহ (বিশুদ্ধ) রয়েছে, তেমনি মালুল (ত্রুটিযুক্ত) সংবাদও রয়েছে। আর হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে যেমন ন্যায়পরায়ণ ও আমানতদার ব্যক্তি রয়েছেন, তেমনি জখমপ্রাপ্ত (অনির্ভরযোগ্য) ও অবিশ্বস্ত ব্যক্তিও রয়েছেন। যখন কোনো ব্যক্তি তাদের অবস্থার ওপর গভীর দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পার্থক্য করার চেষ্টা করবে, তখন তার কাছে সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠবে এমন বর্ণনার মাধ্যমে যা আল্লাহর কিতাবের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং যাকে কোনো যুক্তি বা অন্য কিছু প্রত্যাখ্যান করে না। একইভাবে সে মিথ্যাবাদী ও জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কেও অবগত হবে তার এমন সব অত্যন্ত দুর্বল সংবাদ বর্ণনায় একক হওয়ার কারণে যা কোনো কিতাব সমর্থন করে না এবং কোনো বিবেকও গ্রহণ করে না। সালাফের ইমামগণ সর্বদা হাদিসের সমালোচনা এবং তা তার উৎস থেকে অনুসন্ধান করার ব্যাপারে এবং এর যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করার ব্যাপারে তৎপর ছিলেন, ঠিক যেভাবে মুদ্রা পরীক্ষকগণ উত্তম মানের রৌপ্য ও দিরহামকে মন্দ ও মেকি থেকে আলাদা করার জন্য অনুসন্ধান করে থাকেন। এ কারণে এটি দুর্বল।

‌‌৪১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন ইউসুফ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আবিল হাওয়ারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ালীদ, তিনি বলেন আমি আওযাঈকে বলতে শুনেছি যে: "আমরা হাদিস শ্রবণ করতাম এবং তা আমাদের সঙ্গীদের সামনে পেশ করতাম, ঠিক যেভাবে মেকি দিরহাম মুদ্রা পরীক্ষকদের নিকট পেশ করা হয়। অতঃপর তারা যা চিনতে পারতেন আমরা তা গ্রহণ করতাম এবং যা তারা প্রত্যাখ্যান করতেন তা আমরা বর্জন করতাম।"

‌‌৪২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-মাকযী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আল-হাসান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাহের বিন খালিদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন সুফিয়ান অর্থাৎ ইবনে উয়াইনাহ ইমাম মালিকের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আমি তাকে দেখেছি যে তিনি সহিহ হাদিস ছাড়া অন্য কিছুর অনুসরণ করতেন না এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কারো নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন না।"
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌43 - وَحَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ ثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْبَغَوِيُّ حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُلاعِبٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا نُعَيْمٍ يَقُولُ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُؤْخَذَ الْحَدِيثُ إِلا عَنْ ثَلاثَةٍ حَافِظٍ لَهُ وَأَمِينٍ عَلَيْهِ وَعَارِفٍ بِالرِّجَالِ

وَأُخْبِرْتُ أَنَّ بَعْضَ مَنْ يَسْتَهِينُ بِقَبُولِ الآثَارِ جَمَعَ كِتَابًا وَسَمَّاهُ الْجَامِعَ الصَّحِيحَ وَأَنَّ عَدَدَ الْمَذْكُورِينَ فِي هَذَا الْكِتَابِ مِنْ نَقَلَةِ الأَخْبَارِ لَا تَبْلُغُ ثَلاثَةَ آلافِ رَجُلٍ بَلْ يَبْلُغُ الْمَذْكُورِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ نَحْوَ أَلْفَيْ نَفْسٍ لِيُشَمِّتَ الْمُلْحِدِينَ بِهِمْ فَإِنَّ عِصَابَةً تَبْلُغُ عِدَّتُهُمْ مِنْ لَدُنِ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم إِلَى يَوْمِنَا هَذَا مَا ذَكَرْنَا مِنَ الْعَدَدِ لَيْسُوا عَلَى حَقٍّ وَطَرِيقَةٍ إِيَهَامًا مِنْهُ أَنَّ الْحَقَّ فِيمَنْ خَالَفَهُمْ وَبَلَغَتْ عِدَّتُهُمْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ وَهَذَا بِحَمْدِ اللَّهِ وَنِعْمَتِهِ رَاجِعٌ عَلَيْهِ وَدَافِعٌ لِضَلالَتِهِ فَإِنَّ الَّذِينَ ذُكِرُوا فِي هَذَا الْكِتَابِ مَصَابِيحَ الْهُدَى وَأَعْلامَ الدِّينِ فَهَلْ يُعْرَفُ لِفِرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ مِنْ أَئِمَّتِهِمْ وَعُلَمَائِهِمْ مَا يُعْرَفُ لِهَذِهِ الْعِصَابَةِ فَلَقَدِ اعْتَرَفَ بِزَعْمِهِ أَلْفَيْ نَفْسٍ فَلْيَذْكُرْ هُوَ مِنْ أَئِمَّتِهِ وَعُلَمَائِهِ عِشْرِينَ نَفْسًا أَوْ لِمَنْ شَاءَ مِنْ سَائِرِ الْفِرَقِ مِمَّنِ انْتَحَلَ دِينًا أَوْ قَالَ مَقَالَةً سِوَى أَصْحَابِ الْحَدِيثِ وَتُبَّاعِ الأَثَرِ وَلَقَدِ اسْتَهَلَّ كِتَابَ التَّارِيخِ لِهَذَا الإِمَامِ الَّذِي نُسِبَ هَذَا الزَّعْمُ إِلَيْهِ عَدَدَ هَؤُلاءِ الأَئِمَّةِ عَلَى أَكْثَرِ مِنْ أَرْبَعِينَ أَلْفًا مِنْ رُوَاةِ الآثَارِ وَنَقَلَةِ الأَخْبَارِ وَلَيْسَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ فِيمَا طَعَنَ بِهِ مَطْعَنٌ وَلا شَمَاتَةٌ وَلِهَذَا الإِمَامِ الَّذِي احْتَجَّ هَذَا الطَّاعِنُ بِعَدَدِ الْمَذْكُورِينَ فِي جَامِعِهِ الْمَنْسُوبِ إِلَى الصَّحِيحِ وَهُوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ رحمه الله كِتَابٌ تَرْجَمَهُ بِكِتَابِ الضُّعَفَاءِ وَالْمَجْرُوحِينَ يَبْلُغُ عَدَدُ الْمَذْكُورِينَ فِيهِ مِنَ الضُّعَفَاءِ وَالْجُرَحَاءِ نَحْوَ سَبْعمِائة رَجُلٍ أَوْ أَقَلَّ فَإِنْ كَانَ هَذَا الطَّاعِنُ جَعَلَ كِتَابَهُ فِي الصَّحِيحِ أَصْلا وَحُجَّةً لِيَجْعَلْ كِتَابَهُ فِي الضُّعَفَاءِ أَيْضًا أَصْلا وَحُجَّةً وَكِتَابَهُ فِي التَّارِيخِ حُجَّةً وَلْيُسْقِطِ الْمَجْرُوحين مِنْهُ وهم دون سَبْعمِائة نَفْسٍ وَلْيَأْخُذْ بِالْمُعَدَّلِينَ وَهُمْ عَلَى زَعْمِهِ أَلْفَا نَفْسٍ فَعَلَى زَعْمِهِ يَبْقَى الْبَاقُونَ مِنَ الْمَذْكُورِينَ فِي التَّارِيخِ وَهُمْ نَيِّفٌ وَثَلاثُونَ أَلْفًا مَتْرُوكِينَ بَيْنَ الْبَابِ وَالدَّارِ وَهَذَا مَا لَا يَعْتَرِضُ بِهِ صَاحِبُ عَقْلٍ وَدِينٍ وَمَنْ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ هَذِهِ الصَّنْعَةِ وَذَلِكَ أَنَّهُ رحمه الله أَعْنِي أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْبُخَارِيَّ شَرَطَ شَرْطًا بَنَى كِتَابَهُ عَلَيْهِ وَمَتى قصد فَارس مِنْ فُرْسَانِ هَذِهِ الصَّنْعَةِ وَرَامَ الزِّيَادَةَ عَلَيْهِ فِي شَرْطِهِ مِنَ الْأُصُولِ أَمْكَنَهُ ذَلِكَ لِتَرْكِهِ رحمه الله مَا لَا يَتَعَلَّقُ بِالأَبْوَابِ وَالتَّرَاجِمِ الَّتِي بَنَى عَلَيْهَا كِتَابَهُ وَكَذَلِكَ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ النَّيْسَابُورِيُّ رحمه الله لَهُ شَرْطٌ فِي صَدْرِ كِتَابِهِ أَنَّهُ أَنْزَلَ رُوَاةَ الْحَدِيثِ مَنَازِلَ ثَلاثَةً وَأَنَّهُ لَمْ يُقَدَّرْ لَهُ الْفَرَاغُ فِي تَخْرِيجِ أَحَادِيثِهِمْ إِلا مِنَ الطَّبَقَةِ الْأُولَى مِنْهُمْ مَعَ أَنَّهُمَا وَسَائِرَ أَئِمَّتِنَا رحمهم الله فَرَّقُوا بَيْنَ رُوَاةِ الأَخْبَارِ وَأَنْزَلُوهُمْ مَنَازِلَهُمْ لِمَا جَعَلَ اللَّهُ تَعَالَى بَيْنَ خَلْقِهِ مِنَ التَّبَايُنِ فِي كُلِّ شَيْءٍ فَمِنْهُمْ ثِقَةٌ ثَبْتٌ حَافِظٌ لِحَدِيثِهِ مُتْقِنٌ لأَخْذِهِ صَدُوقًا
৪৩ - এবং হাবীব ইবনে আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে মুলায়িব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু নুয়াইমকে বলতে শুনেছি যে, হাদীস কেবল তিন প্রকারের ব্যক্তির নিকট থেকে গ্রহণ করা উচিত: যে ব্যক্তি তা হিফজ (স্মৃতিস্থ) রাখে, যে ব্যক্তি এর ব্যাপারে আমানতদার এবং যে ব্যক্তি বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অবগত।

আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, যারা আসার (রেওয়ায়েত) কবুল করার বিষয়ে অবজ্ঞা প্রদর্শন করে, তাদের মধ্যে কেউ একজন একটি কিতাব সংকলন করেছে এবং তার নাম দিয়েছে ‘আল-জামিউস সহীহ’। সেই কিতাবে উল্লিখিত সংবাদ বর্ণনাকারীদের সংখ্যা তিন হাজার পুরুষেও পৌঁছায় না, বরং পুরুষ ও নারী মিলিয়ে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। সে এটি করেছে নাস্তিকদের উপহাস করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য; সে মূলত এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছে যে, তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সময় থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত যাদের সংখ্যা মাত্র এইটুকু, তারা সত্য ও সঠিক পথের ওপর নেই। সে বুঝাতে চেয়েছে যে সত্য তাদের বিরোধীদের নিকট রয়েছে এবং তাদের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি। অথচ আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এটি তার ওপরই ফিরে আসে এবং তার ভ্রষ্টতাকে প্রতিহত করে। কেননা এই কিতাবে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন হিদায়াতের প্রদীপ এবং দ্বীনের ঝাণ্ডাবাহী। মানুষের কোনো ফেরকার কি এমন কোনো ইমাম বা আলেম আছে যা এই দলের (আহলে হাদীস) জন্য পরিচিত? সে তার দাবি অনুযায়ী দুই হাজার ব্যক্তির কথা স্বীকার করেছে; তাহলে সে তার নিজের ইমাম ও আলেমদের মধ্য থেকে বিশজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করুক অথবা অন্য যে কোনো ফেরকার হোক যারা কোনো মতবাদ গ্রহণ করেছে বা কোনো কথা বলেছে—হাদীসের অনুসারী ও আছারের অনুসারী ব্যতীত। এই ইমাম (বুখারী), যাঁর দিকে এই দাবিটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তাঁর ইতিহাসের কিতাব (তারিখ) চল্লিশ হাজারেরও অধিক আছার ও সংবাদের বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। আল্লাহর প্রশংসায়, এতে কোনো ছিদ্রান্বেষণ বা উপহাসের অবকাশ নেই। আর এই ইমাম—যাঁর জামিউস সহীহে উল্লিখিত সংখ্যার মাধ্যমে এই সমালোচক দলিল পেশ করেছে—তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁর একটি কিতাব রয়েছে যার শিরোনাম হলো ‘দুর্বল ও জরাগ্রস্ত বর্ণনাকারীদের কিতাব’, সেখানে উল্লিখিত দুর্বল ও জরাগ্রস্ত বর্ণনাকারীদের সংখ্যা প্রায় সাতশত বা তারও কম। এই সমালোচক যদি তাঁর সহীহ কিতাবকে মূল ভিত্তি ও দলিল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে, তবে যেন সে তাঁর দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ক কিতাবকেও মূল ভিত্তি ও দলিল হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাঁর ইতিহাসের কিতাবকেও দলিল হিসেবে গ্রহণ করে। আর সে যেন সেখান থেকে জরাগ্রস্তদের বাদ দেয় যাদের সংখ্যা সাতশতেরও কম, এবং যেন তাদের গ্রহণ করে যাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত—যারা তার দাবি অনুযায়ী দুই হাজার ব্যক্তি। তাহলে তার দাবি অনুযায়ী ‘তারিখ’ কিতাবে উল্লিখিত অবশিষ্টরা—যাদের সংখ্যা ত্রিশ হাজারের ওপর—তারা উপেক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। বুদ্ধিমান ও দ্বীনদার কোনো ব্যক্তি এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ কেউ এই ধরনের আপত্তি তুলতে পারে না। কারণ তিনি (রহিমাহুল্লাহ)—অর্থাৎ আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী—একটি শর্তারোপ করেছিলেন যার ওপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর কিতাবটি রচনা করেছেন। এই শাস্ত্রের কোনো বীর যখনই তার মূলনীতির ভিত্তিতে তাতে সংযোজন করতে চাইবে, সে তা করতে পারবে; কারণ তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এমন বিষয়গুলো বর্জন করেছেন যা তাঁর কিতাবের ভিত্তি স্বরূপ অধ্যায় ও অনুচ্ছেদগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। অনুরূপভাবে মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবের শুরুতে একটি শর্ত উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাদীস বর্ণনাকারীদের তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন এবং তাঁর জন্য তাদের মধ্য থেকে কেবল প্রথম স্তরের বর্ণনাকারীদের হাদীস সংকলন করার সুযোগ হয়েছে। অথচ তাঁরা এবং আমাদের অন্যান্য ইমামগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) সংবাদ বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং তাঁদের স্ব স্ব মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সব কিছুতেই বৈচিত্র্য দান করেছেন। সুতরাং তাঁদের মধ্যে কেউ হলেন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), সুদৃঢ় (সাবত), স্বীয় হাদীস হিফজকারী, গ্রহণে নিখুঁত ও সত্যবাদী।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫৩)
فَهَذَا هُوَ الَّذِي جُمِعَ لَهُ أَكْثَرُ أَسْبَابِ هَذِهِ الصَّنْعَةِ وَأَدَاتِهَا وَمِنْهُمْ ثِقَةٌ ثَبْتٌ غَيْرُ حَافِظٍ وَمِنْهُمْ صَدُوقٌ غَيْرُ حَافِظٍ وَلا مُتْقِنٍ وَمِنْهُمْ مُؤَدٍّ لِمَا سَمِعَهُ من كِتَابه غير مُعْتَمِدٍ عَلَى حِفْظِهِ وَأَحْوَالُهُمْ تَخْتَلِفُ هَذَا صُورَةُ الْمُعَدِّلِينَ مِنْهُمْ وَكَذَلِكَ أَيْضًا لَهُمْ رحمهم الله فُرُوقٌ فِي التَّجْرِيحِ فَفَرَّقُوا بَيْنَ الْكَذَّابِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ مَنْ يَكْذِبُ فِي حَدِيثِ النَّاسِ وَبَيْنَ مَنْ يَكْذِبُ فِي لُقِيِّ الْمَشَايِخِ وَبَيْنَ مَنْ يُدَلِّسُ وَبَيْنَ مَنْ هُوَ كثير الْوَهم سيىء الْحِفْظِ وَبَيْنَ مَنْ ظَهَرَ مِنْهُ اخْتِلاطٌ فِي ذِهْنٍ أَوْ عَقْلٍ فِي آخِرِ عُمْرِهِ فَحُمِلَ عَنْهُ وَأُخِذَ مِنْهُ بَدْءًا وَأَخِيرًا وَبَيْنَ مَنْ حَدَّثَ مِنْ حِفْظِهِ فَأَخْطَأَ ثُمَّ ثَبَتَ عَلَى خَطَئِهِ وَمُخَالَفَةِ أَقْرَانِهِ وَنُظَرَائِهِ وَبَيْنَ الْمُتَّهَمِينَ فِيمَا رَوَوْا وَلَمْ يُمْكِنْهُمْ تَصْحِيحُ الْكَذِبِ عَلَيْهِ وَبَيْنَ مَنِ اتُّهِمَ فِي دِينِهِ وَبَيْنَ مَنْ أَكَثَرَ الرِّوَايَةَ عَنِ الْكَاذِبِينَ وَكَانَ يَعْتَمِدُ فِي نَفْسِهِ صَادِقًا كُلُّ هَؤُلاءِ أَحْوَالُهُمْ عِنْدَهُمْ مُرَتَّبَةٌ وَمَنَازِلُهُمْ مُخْتَلِفَةٌ وَلا يَتَكَلَّفُ الْبَحْثَ وَالتَّنْقِيبَ عَنْ أَحْوَالِ الرُّوَاةِ إِلا مَنْ عُنِيَ بِأَمْرِ دِينِهِ وَعَلِمَ أَنَّ قَبُولَ الآثَارِ عَنْ صَاحِبِ الشَّرِيعَةِ دِينٌ يَتَدَيَّنُ بِهِ فَلَقَدْ كَانَ الإِمَامُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ يَعِدُّ النَّظَرَ فِي أَحْوَالِ الرُّوَاةِ وَذِكْرَهُمْ بِمَا ظَهَرَ لَهُ مِنْهُمْ دِينًا وَقُرْبَةً إِلَى اللَّهِ وَكَذَلِكَ مَنْ فَوْقَهُ مِنَ الأَئِمَّةِ مِثْلُ شُعْبَةَ وَالثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ كَانُوا يَعُدُّونَ إِظْهَارَ حَالِ مَنْ خَشَوْا مِنْهُ حَالا يُوجِبُ إِسْقَاطَ عَدَالَتِهِ دِينًا وَقُرْبَةً

وَبَلَغَنِي عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ خَلادٍ أَنَّهُ قَالَ لِيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَمَا تَخْشَى أَنْ يَكُونَ هَؤُلاءِ الَّذِينَ أَسْقَطْتَ حَدِيثَهُمْ خُصَمَاءَكَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

فَقَالَ فَإِذَا كَانَ هَؤُلاءِ خُصَمَائِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَصْمِي فَيَقُولُ لِي حَدَّثْتَ عَنِّي بِمَا رَأَيْتَ أَنَّهُ كَذِبٌ حَدَّثَنِي عَنْهُ بِذَلِكَ

‌‌44 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مَالِكٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا عَفَّانُ ثَنَا هَمَّامٌ قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا أَبُو دَاوُدَ الأَعْمَى فَحَدَّثَنَا عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَالْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ وَعَنْ أَصْحَابِ

فَقُلْنَا لِقَتَادَةَ إِنَّ أَبَا دَاوُدَ يُحَدِّثُنَا وَذَكَرْنَا هَؤُلاءِ فَقَالَ هَذَا رَجُلٌ كَذَّابٌ إِنَّمَا كَانَ يَتَطَفَّفُ النَّاسَ قَبْلَ طَاعُونِ الْجَارِفِ
সুতরাং তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর মধ্যে এই শিল্পের অধিকাংশ উপকরণ ও সরঞ্জাম একত্রিত হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ আছেন নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় কিন্তু হাফিজ (স্মৃতিধর) নন। আবার তাদের মধ্যে কেউ সত্যবাদী কিন্তু হাফিজ বা নিপুণ নন। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যিনি কিতাব থেকে যা শুনেছেন তা-ই পৌঁছে দেন কিন্তু নিজের স্মৃতির ওপর নির্ভর করেন না। তাদের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; এটি তাদের মধ্যকার ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীদের চিত্র। অনুরূপভাবে, তাদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) নিকট জারহ (ত্রুটি বর্ণনা) করার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন স্তর রয়েছে। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপকারী এবং সাধারণ মানুষের কথায় মিথ্যা বলনেওয়ালার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তারা পার্থক্য করেছেন শায়খদের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে মিথ্যা বলনেওয়ালা এবং তাদলিস (তথ্যাদি গোপন) করনেওয়ালার মধ্যে। যারা অধিক সংশয়প্রবণ ও দুর্বল স্মৃতির অধিকারী এবং যাদের জীবনের শেষভাগে মেধা বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রম প্রকাশ পেয়েছে—যাদের থেকে শুরুতে এবং শেষে উভয় সময়েই হাদিস গ্রহণ করা হয়েছে—তাদের মাঝেও তারা পার্থক্য করেছেন। আবার যারা নিজের মুখস্থ থেকে হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন, অতঃপর নিজের ভুল এবং সমসাময়িক ও সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরোধিতার ওপর অটল থেকেছেন—তাদের মধ্যে এবং সেই অভিযুক্তদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন যাদের বর্ণিত হাদিসে তারা মিথ্যার সংশোধন করতে সক্ষম হননি। এছাড়া যারা নিজেদের দ্বীনের বিষয়ে অভিযুক্ত, এবং যারা মিথ্যুকদের থেকে অধিক বর্ণনা করতেন অথচ নিজে মনে মনে নিজেকে সত্যবাদী মনে করে নির্ভর করতেন—তাদের মাঝেও পার্থক্য করেছেন। তাদের কাছে এই সকলের অবস্থা সুবিন্যস্ত এবং তাদের মর্যাদা ভিন্ন ভিন্ন। বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান ও গবেষণার কষ্ট কেবল তিনিই স্বীকার করেন, যিনি নিজের দ্বীনি বিষয়ে যত্নশীল এবং জানেন যে শরিয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে আসা আসার (বর্ণনা) গ্রহণ করা একটি দ্বীনি আমল। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রাবিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং তাদের মধ্যে যা প্রকাশ পেয়েছে তা উল্লেখ করাকে দ্বীন পালন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করতেন। তাঁর পূর্ববর্তী ইমামগণ যেমন শুবা, সাওরি ও মালিকও সেই ব্যক্তির অবস্থা প্রকাশ করাকে দ্বীন ও নৈকট্যের কাজ মনে করতেন, যার সম্পর্কে তারা এমন কোনো আশঙ্কার সম্মুখীন হতেন যা তার ন্যায়পরায়ণতা নষ্ট করার কারণ হয়।

আবু বকর ইবনে খাল্লাদ থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বললেন, "আপনি কি ভয় পান না যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে ঐ সকল ব্যক্তিরা আপনার বিরুদ্ধে বাদী হবে যাদের হাদিস আপনি বর্জন করেছেন?"

তিনি বললেন, "যদি তারা আমার বিরুদ্ধে বাদী হয়, তবে তা আমার কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বিরুদ্ধে বাদী হওয়ার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। অন্যথা তিনি আমাকে বলবেন, 'তুমি আমার পক্ষ থেকে এমন হাদিস বর্ণনা করেছ যা তুমি মিথ্যা বলে জেনেছিলে'।" তিনি আমাকে এ বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।

‌‌৪৪ - আমাদের কাছে আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আফফান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু দাউদ আল-আমা আমাদের কাছে আসলেন এবং আমাদের কাছে জায়েদ ইবনে আরকাম, বারা ইবনে আজিব এবং সাহাবীদের থেকে হাদিস বর্ণনা করলেন।

তখন আমরা কাতাদাহকে বললাম যে, আবু দাউদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করছেন এবং আমরা তাদের কথা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, "এ লোক বড় মিথ্যুক। সে 'তাউনে জারিফ' (মহামারি)-এর পূর্বে মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়াত।"
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌45 - وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ سَأَلْتُ شُعْبَةَ وَسُفْيَانَ بْنَ سَعِيدٍ وَسُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ وَمَالِكَ بْنَ أَنَسٍ عَنِ الرَّجُلِ لَا يَحْفَظُ مَا أُوتِيَهُمْ فِي الْحَدِيثِ فَقَالُوا كُلُّهُمْ بَيِّنٌ أَمْرُهُ

‌‌46 - وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ السَّرَّاجُ ثَنَا الْجَوْهَرِيُّ يَعْنِي حَاتِمَ بْنَ اللَّيْثِ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا سُفَيْانُ قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ يَنْتَقِي الرِّجَالَ وَلا يُحَدِّثُ عَنْ كُلِّ أَحَدٍ قَالَ عَلِيٌّ وَمَالِكٌ أَمَانٌ فِيمَنْ حَدَّثَ عَنْهُ مِنَ الرِّجَالِ كَانَ مَالِكٌ يَقُولُ لَا يُؤْخَذُ الْعِلْمُ إِلا عَمَّنْ يَعْرِفُ مَا يَقُولُ

‌‌47 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ السَّرَّاجُ قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ سَعِيدٍ يَعْنِي أَبَا قُدَامَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ قَالَ مَرَرْتُ مَعَ شُعْبَةَ بِرَجُلٍ فَقَالَ كَذَّابٌ وَاللَّهِ لَوْلا أَنَّهُ لَا يَحِلُّ لِي أَنْ أَسْكُتَ أَوْ كَلِمَةً مَعْنَاهَا حسن

وَكَانَ رحمه الله كَثِيرَ التَّشَدُّدِ فِي انْتِقَادِ الرِّجَالِ شَدِيدَ الاسْتِقْصَاءِ فِي إِظْهَارِ أَحْوَالِهِمْ وَتَبَيُّنِ سَيِّئَاتِهِمْ حَتَّى أَنَّهُ رحمه الله كَانَ يَرَى مُقَارَفَةَ بَعْضِ الْمَحَارِمِ أَهْوَنَ مِنَ الرِّوَايَةِ عَنِ الْكَاذِبِينَ

‌‌48 - حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْمُعَدَّلُ الأَصْبَهَانِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ أَبِي الرَّبِيعِ يَقُولُ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ هَارُونَ يَقُولُ سَمِعْتُ شُعْبَةَ يَقُولُ لأَنْ أَزْنِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَن أروي عَن أبان حسن

‌‌49 - وَحَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ مُسْلِمٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ يَقُولُ حَدَّثَ شُعْبَةُ عَنْ رَجُلٍ فَبَيَّنَ أَمْرَهُ فَقَالَ وَاللَّهِ لَأُلْقِيَنَّهُ مِنْ عُنُقِي وَأَجْعَلُهُ فِي عُنُقِكَ

‌‌50 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْمَدِينِيِّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ وَذَكَرَهُ عِنْدَهُ أَبُو جَعْفَرٍ
৪৫ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন মালিক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, তিনি বলেন: আমি শু'বাহ, সুফিয়ান বিন সাঈদ, সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং মালিক বিন আনাসকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে হাদীসের ক্ষেত্রে তার নিকট যা প্রদান করা হয় তা মুখস্থ রাখতে পারে না। তাঁরা সকলেই বললেন: তার বিষয়টি স্পষ্ট করে দাও (তার অবস্থা বর্ণনা করো)।

৪৬ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-জাওহারী অর্থাৎ হাতিম বিন আল-লাইস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন: মালিক বিন আনাস বর্ণনাকারীদের নির্বাচন করতেন এবং তিনি সবার থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন না। আলী বলেন: মালিক যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের ব্যাপারে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড। মালিক বলতেন: ইলম কেবল তার থেকেই গ্রহণ করা যাবে যে জানে সে কী বলছে।

৪৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ, তিনি বলেন আমি উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ অর্থাৎ আবু কুদামাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আব্দুর রহমান বিন মাহদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শু'বাহর সাথে এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি (শু'বাহ) বললেন: সে একজন মিথ্যাবাদী। আল্লাহর কসম, যদি আমার জন্য চুপ থাকা বৈধ হতো (তবে আমি চুপ থাকতাম) অথবা এই অর্থের কোনো কথা।

এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বর্ণনাকারীদের সমালোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন এবং তাদের অবস্থা প্রকাশ ও তাদের দোষত্রুটি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গভীর অনুসন্ধান চালাতেন। এমনকি তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মনে করতেন যে, কোনো কোনো নিষিদ্ধ কাজ করাও মিথ্যাবাদীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করার চেয়ে সহজতর।

৪৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আল-মুয়াদ্দিল আল-আসবাহানী আন-নাইসাবুরী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাকাফী, তিনি বলেন আমি হাসান বিন আবু আর-রাবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি মুসা বিন হারুনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি শু'বাহকে বলতে শুনেছি: আবান থেকে হাদীস বর্ণনা করার চেয়ে যিনা করাও আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।

৪৯ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক মুহাম্মদ বিন ইসহাক, তিনি বলেন আমি আলী বিন মুসলিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আবু দাউদকে বলতে শুনেছি: শু'বাহ এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন এবং তার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন, অতঃপর তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এটি আমার ঘাড় থেকে ফেলে দেব এবং তোমার ঘাড়ে অর্পণ করব।

৫০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবু শায়বাহ, তিনি বলেন আমি আলী বিন আল-মাদিনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আব্দুর রহমান বিন মাহদীকে বলতে শুনেছি—আর তাঁর নিকট আবু জাফরের কথা উল্লেখ করা হলো—
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫৫)
الْخَطْمِيُّ وَأَبُوهُ وَجَدُّهُ فَقَالَ كَانَ أَبُو جَعْفَرٍ وَأَبُوهُ وَجَدُّهُ حَبِيبُ بن خماشة قوم توارثوا الصدْق بَعضهم عَن بعض صَحِيح

‌‌51 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ ذَكَرْتُ لأَبِي نُعَيْمٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْعَرْزَمِيِّ فَقَالَ كَانَ هَؤُلاءِ أَهْلَ بَيْتٍ يَتَوَارَثُونَ الْضَعْفَ قَرْنًا بَعْدَ قرن صَحِيح وَلِعَمْرِي لَقَدْ كُنْتُ هَمَمْتُ أَنْ أَجْعَلَ هَذَا الْفَصْلَ كِتَابًا جَامِعًا يَشْمَلُ عَلَى تَرْتِيبِ أَحْوَالِ الرُّوَاةِ وَمَعْرِفَة مَنَازِلهمْ ومقاديرهم عِنْد أَهْلِ الصَّنْعَةِ فَإِذَا الْكِتَابُ يَخْرُجُ عَنِ الْغَرَضِ الْمَقْصُودِ لَهُ وَيَصِيرُ كِتَابًا ذَا فُنُونٍ وَأَنْوَاعٍ فَعَدَلْتُ عَنْ ذَلِكَ لأَنَّ الْغَرَضَ فِي نُصْرَةِ مَنْ رَأَى النَّظَرَ فِي أَحْوَالِ الرُّوَاةِ وَتَعْدِيلَ مَنْ وَجَبَ تَعْدِيلُهُ وَقَبُولَ خَبَرِ مَنْ وَجَبَ قبُوله وَإِسْقَاط من وَجب إساقطه وَتَجْوِيزَ الْجَمْعِ لِبَعْضِ صَحِيحِ حَدِيثِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الأَحْكَامِ وَالتَّبْيِينِ وَغَيْرِهِ كَالإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ وَأَبِي دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيِّ وَغَيْرِهِمْ رحمهم الله الَّذِينَ صَنَّفُوا جَوَامِعَهُمْ فِي السُّنَنِ وَالأَحْكَامِ وَحَكَمُوا بِصِحَّتِهَا وَعَدَالَةِ نَاقِلِيهَا وَلَيْسَ كل من شَرط شَرط أَوْ حَذَا حَذْوًا فَجَمَعَ عَلَى شَرطه حَاكم بِإِسْقَاطِ مَا لَمْ يُخَرِّجْهُ وَلَمْ يَجْمَعْهُ هَذَا لَا يَتَوَهَّمُهُ عَلَيْهِمْ إِلا الأَغْبِيَاءُ الَّذِينَ لَا يَتَعَلَّقُونَ مِنْ مَعْرِفَةِ هَذَا الشَّأْنِ وَالصَّنْعَةِ بِكَبِيرِ شَأْنٍ فَأَمَّا الصُّدُورُ وَالأَكَابِرُ مِنْ عُلَمَاءِ هَذِهِ الصَّنْعَةِ يَقُولُونَ فِي التَّعْدِيلِ وَالْجَرْحِ عَلَى كُتُبِهِمْ فِي الْعِلَلِ وَالتَّوَارِيخِ الَّذِي يَكُونُ مَبْنَاهُمْ فِيهِ وَمَقْصِدُهُمْ عَلَى إِبَانَةِ أَحْوَالِ الرُّوَاةِ فَيُسْقِطُونَ مَنْ أَسْقَطُوهُ وَيُعَدِّلُونَ مَنْ عَدَّلُوهُ وَيُجَرِّحُونَ مَنْ جَرَّحُوهُ وَيُضَعِّفُونَ مَنْ ضَعَّفُوهُ وَيُوَسِّطُونَ مَنْ وَسَّطُوهُ أَلا تَرَى جَوَابَ الْأَئِمَّة فِي المسؤلين إيَّاهُم مُخْتَلف فَتَارَةً يَقُولُونَ بَيْتٌ صَدُوقٌ وَأُخْرَى يَقُولُونَ صَالِحٌ وَمَرَّةً يَقُولُونَ لَا بَأْسَ بِهِ وَأُخْرَى يَقُولُونَ لَا شَيْءَ فَأَجْوِبَتُهُمْ تَخْتَلِفُ عَلَى قَدْرِ معرفتهم وعلمهم بِحَالِ الْمَسْئُولِ فِيهِ فَعَلَى مُصَنَّفَاتِهِمْ فِي الْعِلَلِ وَسُؤَالاتِهِمْ يُعْتَمَدُ فِي الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ لَا عَلَى كِتَابٍ بَنَوْا فِيهِ عَلَى أَصْلٍ وَشَرَطُوا لأَنْفُسِهِمْ فِيهِ شَرْطًا

‌‌52 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ ثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ زَحْرٍ الْمِنْقَرِيُّ ثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ أَبَانَ الْوَاسِطِيُّ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ قَعْنَبٍ قَالَ سَمِعْتُ حَمَّادَ بْنَ زَيْدٍ يَقُولُ كَلَّمَنَا شُعْبَةُ فِي أَبَانَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ وَسَأَلْنَاهُ الْكَفَّ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّهُ وَإِنَّهُ فَقُلْنَا تُحِبُّ أَنْ تُمْسِكَ عَنْهُ فَقَالَ نَعَمْ قَالَ حَمَّادٌ فَبَيْنَا أَنَا فِي الْمَنْزِلِ فِي يَوْمٍ مَطِيرٍ إِذَا شُعْبَةُ يَخُوضُ الْمَاءَ أَسْمَعُ خَوْضَهُ فَنَادَانِي يَا أَبَا إِسْمَاعِيلَ يَا
আল-খাতমি, তার পিতা এবং তার দাদা। তিনি বলেন, আবু জাফর, তার পিতা এবং তার দাদা হাবিব ইবনে খামাশাহ এমন এক কওম ছিলেন যারা একে অপরের কাছ থেকে সত্যবাদিতা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন। (সহিহ)

‌‌৫১ - আবু আলি ইবনুল সাউয়াফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু নুয়াইম আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আরযামির কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: এরা এমন এক পরিবারের সদস্য যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম দুর্বলতা (হাদিস বর্ণনায়) উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে আসছিল। (সহিহ) আমার জীবনের কসম! আমি ইচ্ছা করেছিলাম এই পরিচ্ছেদটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন গ্রন্থ বানাতে, যা রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) অবস্থার বিন্যাস এবং হাদীস বিশেষজ্ঞদের নিকট তাদের মর্তবা ও মান সম্পর্কিত জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করবে। কিন্তু তাহলে কিতাবটি তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যেত এবং নানা শাস্ত্র ও বিষয়ের কিতাবে পরিণত হত। তাই আমি তা থেকে বিরত হলাম। কেননা, মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের সহায়তা করা যারা রাবিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা, যাদের নির্ভরযোগ্য ঘোষণা (তাদিল) করা ওয়াজিব তাদের নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করা, যাদের বর্ণনা গ্রহণ করা ওয়াজিব তাদের বর্ণনা গ্রহণ করা এবং যাদের বর্জন করা ওয়াজিব তাদের বর্জন করাকে আবশ্যক মনে করেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহকাম, ব্যাখ্যা ও অন্যান্য বিষয়ে কিছু সহিহ হাদীস সংকলনকে যারা বৈধ মনে করেন; যেমন ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারী, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি এবং তাদের ন্যায় অন্যান্যরা (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন), যারা সুনান ও আহকাম বিষয়ে তাদের জামে (সংকলন) গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে ফয়সালা দিয়েছেন। যে ব্যক্তি কোনো শর্তারোপ করেছেন বা কোনো পথ অনুসরণ করেছেন এবং নিজের শর্তানুসারে (হাদীস) সংকলন করেছেন, তার মানে এই নয় যে, তিনি যা উল্লেখ করেননি বা সংকলন করেননি তা বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বোধরা ছাড়া আর কেউ তাদের সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করে না, যাদের এই শাস্ত্র ও শিল্প সম্পর্কে গভীর জ্ঞান নেই। কিন্তু এই শিল্পের নেতৃস্থানীয় ও বড় বড় উলামাগণ তাদের 'ইল্লাল' (ত্রুটি বিষয়ক) এবং 'তারিখ' (ইতিহাস বিষয়ক) কিতাবসমূহে রাবিদের নির্ভরযোগ্যতা (তাদিল) ও সমালোচনা (জারহ) বিষয়ে আলোচনা করেন, যেগুলোর ভিত্তি ও উদ্দেশ্য হলো রাবিদের অবস্থা স্পষ্ট করা। ফলে তারা যাদের বর্জনীয় মনে করেছেন তাদের বর্জন করেছেন, যাদের নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যাদের সমালোচনা করার তাদের সমালোচনা করেছেন, যাদের দুর্বল বলার তাদের দুর্বল বলেছেন এবং যাদের মধ্যম সারির মনে করেছেন তাদের মধ্যম সারির বলেছেন। আপনি কি দেখেন না যে, ইমামদের নিকট যখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তখন তাদের উত্তর বিভিন্ন রকম হয়? কখনো তারা বলেন 'সত্যবাদী পরিবার', কখনো বলেন 'যোগ্য' (সালিহ), কখনো বলেন 'এতে কোনো সমস্যা নেই', আবার কখনো বলেন 'সে কিছুই নয়'। জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে তাদের জানাশোনা ও ইলম অনুযায়ী তাদের উত্তরগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই জারহ ও তাদিল (সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ) এর ক্ষেত্রে তাদের 'ইল্লাল' বিষয়ক রচনা এবং তাদের নিকট কৃত প্রশ্নোত্তরের ওপর নির্ভর করা হবে; এমন কোনো কিতাবের ওপর নয় যা তারা কোনো মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে লিখেছেন এবং সেখানে তারা নিজেদের জন্য কোনো শর্তারোপ করেছেন।

‌‌৫২ - আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ যাহর আল-মিনকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যাকারিয়া ইবনে আবান আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে কানাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদ ইবনে যাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের সাথে আবান ইবনে আবি আইয়াশ সম্পর্কে কথা বলেছিলেন এবং আমরা তাকে তার সমালোচনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিলাম। তখন তিনি (শু'বাহ) বললেন: সে তো এই, সে তো সেই (তার দোষ বর্ণনা করলেন)। আমরা বললাম: আপনি কি তার থেকে বিরত থাকা পছন্দ করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। হাম্মাদ বলেন: একদিন বৃষ্টির দিনে আমি বাড়িতে ছিলাম, এমন সময় শু'বাহ পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে আসছিলেন, আমি তার হেঁটে আসার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে ডেকে বললেন: হে আবু ইসমাঈল! হে...
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫৬)
أَبَا إِسْمَاعِيلَ فَأَجَبْتُهُ فَقَالَ هُوَ ذَا أَمْضي أَسْتَعْدِي عَلَى أَبَانَ فَقُلْتُ لَهُ أَلَمْ تَضْمَنْ لَنَا أَنَّكَ تُمْسِكُ فَقَالَ لَا أَصْبِرُ لَا أَصْبِر وَمضى ضَعِيف

‌‌53 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ مَنْصُورُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْحَذَّاءُ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ ثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ ثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ سَأَلْتُ شُعْبَةَ وَالثَّوْرِيَّ وَمَالِكَ بْنَ أَنَسٍ وَسُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ عَنِ الرَّجُلِ يُكَاتِبُ فِي الْحَدِيثِ فَقَالُوا كُلُّهُمْ بَين أمره صَحِيح

‌‌54 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ مَنْصُورُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْحَذَّاءُ ثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ ثَنَا مُحَمَّدُ ابْن عَبْدِ الْمَلِكِ ثَنَا عَفَّانُ قَالَ كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عُلَيَّةَ فَذُكِرَ صَالِحٌ الْمُرِّيُّ فَقَالَ رَجُلٌ لَيْسَ بِثِقَةٍ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ آخَرُ مَهْ اغْتَبْتَ الرَّجُلَ فَقَالَ ابْنُ عُلَيَّةَ اسْكُتُوا فَإِنَّمَا هَذَا دَيْنٌ صَحِيح

‌‌55 - حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ السَّرَّاجُ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ سَهْلِ ابْن عَسْكَرٍ يَقُولُ سَأَلْتُ عَبْدَ الرَّزَّاقِ أَيُّ الإِسْنَادِ أَصَحُّ فَقَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ

‌‌56 - حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ سَهْلٍ يَقُولُ سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ حَرْبٍ يَقُولُ وَسُئِلَ عَنْ أَصَحِّ الإِسْنَادِ فَقَالَ حَمَّادٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عُبَيْدَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ أَصَحِّ الأَسَانِيدِ فَقَالَ مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ

وَأَنَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِعَوْنِهِ وَحُسْنِ تَوْفِيقِهِ ذَاكِرٌ تَسْمِيَةَ نَفَرٍ مِنَ الْمَجْرُوحِينَ وَسَاقِطِي الشَّهَادَةِ فِي عَقِبِ هَذَا الْفَصْلِ يَعْلَمُ النَّاظِرُ فِي ذِكْرِهِمْ أَنَّ مِثْلَهُمْ لَمْ يُتْرَكُوا وَلَمْ يُجَرَّحُوا إِلا عَنْ حَقِيقَةٍ وَبَصِيرَةٍ كَانَتْ لَهُمْ فِي أَمْرِهِمْ مِنْهُمْ مَنْ وَقَفَ مِنْهُ عَلَى تَوْلِيدِ حَدِيثٍ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَصْلٌ وَمِنْهُمْ مَنْ عَايَنُوا مِنْهُ قَبِيحَ الزِّيَادَةِ
আবু ইসমাঈল, আমি তাকে উত্তর দিলাম। সে বলল: এই যে আমি যাচ্ছি আবানের বিরুদ্ধে সাহায্য চাইতে। আমি তাকে বললাম: আপনি কি আমাদের কাছে অঙ্গীকার করেননি যে আপনি নিজেকে বিরত রাখবেন? সে বলল: আমি ধৈর্য ধরতে পারছি না, আমি ধৈর্য ধরতে পারছি না। আর সে দুর্বল অবস্থায় চলে গেল।

‌‌৫৩ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম মনসুর বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-হাদ্দা, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আবি দাউদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর বিন আলী, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ। তিনি বলেন: আমি শু'বা, সাওরী, মালিক বিন আনাস এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে হাদীস আদান-প্রদান করে (অথচ সে বিতর্কিত)। তারা সকলেই বলেছেন: তার অবস্থা স্পষ্ট করে দাও।

‌‌৫৪ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম মনসুর বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-হাদ্দা, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি দাউদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আফফান। তিনি বলেন: আমরা ইবনে উলাইয়্যাহর কাছে ছিলাম, তখন সালেহ আল-মুররী সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। জনৈক ব্যক্তি বলল, সে নির্ভরযোগ্য নয়। তখন অন্য এক ব্যক্তি তাকে বলল, থামো! তুমি লোকটির গীবত করলে। তখন ইবনে উলাইয়্যাহ বললেন, চুপ করো! নিশ্চয়ই এটি হচ্ছে দ্বীন।

‌‌৫৫ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হামিদ আহমদ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আস-সাররাজ। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন সাহল বিন আসকারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুর রাজ্জাককে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন সনদটি সবচেয়ে বেশি সহীহ? তিনি বললেন: যুহরী, তিনি আলী বিন হুসাইন থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে।

‌‌৫৬ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হামিদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাকাফী। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন সাহলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুলাইমান বিন হারবকে বলতে শুনেছি—তাকে যখন সবচেয়ে সহীহ সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তিনি বললেন: হাম্মাদ, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে। মুহাম্মদ বিন ইসহাক বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইলকে সবচেয়ে সহীহ সনদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: মালিক, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে।

এবং আমি ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর সাহায্য ও তাঁর উত্তম তাওফীকের মাধ্যমে এই পরিচ্ছেদের শেষে এমন কিছু ত্রুটিপূর্ণ এবং সাক্ষ্য প্রদানের অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করব, যাতে এই বর্ণনার প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি জানতে পারে যে, তাদের মতো ব্যক্তিদেরকে কেবলমাত্র হাকিকত ও অন্তর্দৃষ্টির ভিত্তিতেই বর্জন করা হয়েছে এবং ত্রুটিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যার সম্পর্কে জানা গেছে যে সে এমন হাদীস উদ্ভাবন করত যার কোনো ভিত্তি নেই, আর তাদের মধ্যে এমনও রয়েছে যাদের থেকে হাদীসের শব্দে কদর্য সংযোজন প্রত্যক্ষ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫৭)
فِي حَدِيثِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ كَانُوا إِذَا لَقَّنُوا شَيْئًا يُلَقِّنُوا عَلَى حَسَبِ اخْتِلافِ مَا كَانُوا عَلَيْهِ مِنَ الأَحْوَالِ وَمَا ظَهَرَ مِنْهُمْ أَعَاذَنَا اللَّهُ مِنْ كُلِّ سُوءٍ وَأَدَامَ لَنَا إِسْبَالَ جَمِيلِ سَتْرِهِ بِلُطْفِهِ وَفَضْلِهِ إِنَّهُ الْفَعَّالُ لِمَا يُرِيدُ

 

-‌‌ بَابُ الأَلِفِ

فَمِنْهُمْ

‌‌1 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ يَحْيَى الْمَدِينِيُّ بْنُ الأَسْلَمِيِّ

كَانَ يَرَى الْقَدَرَ تُرِكَ حَدِيثُهُ لِكَذِبِهِ وَوَهَائِهِ لَا لِسَبِيلِ فَسَادِ مَذْهَبِهِ وَهُوَ أَخُو أُنَيْسِ بْنِ أَبِي يَحْيَى وَكَانَ أُنَيْسٌ ثِقَةً حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُوسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَطَّارُ الْبَغْدَادِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيَّ يَقُولُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي يَحْيَى كَذَّابٌ وَكَانَ يَقُولُ بِالْقَدَرِ

‌‌2 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ الْعَدَنِيُّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ لَيْسَ بِشَيْءٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يَحْيَى بِذَلِكَ

‌‌3 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي حَيَّةَ الْمَكِّيُّ وَاسْمُ أَبِي حَيَّةَ الْيَسَعُ بْنُ أَسْعَدَ عُرِفَ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ وَجَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَنَاكِيرُ روى عَنهُ قُتَيْبَة بن سعيد

‌‌4 - إِبْرَاهِيم بن عبد الْملك الْبَصْرِيّ لَيْسَ بِشَيْء قَالَه عَليّ بن الْمَدِينِيّ فِيمَا حَدَّثَنَا عَنْهُ مُوسَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْهُ

‌‌5 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ هُدَيَّةَ الْمُكْتَنَى بِأَبِي هُدَيَّةَ يَرْوِي عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ نُسْخَةً حَدَّثُونَا بِهَا عَنِ
তাঁর হাদিসের বর্ণনায়, তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল যাদেরকে যখন কোনো কিছু তালকিন করা হতো (শিখিয়ে দেওয়া হতো), তখন তারা তাদের অবস্থার ভিন্নতা এবং তাদের থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে সে অনুযায়ী তা গ্রহণ করত। আল্লাহ আমাদের সকল মন্দ থেকে রক্ষা করুন এবং তাঁর করুণা ও অনুগ্রহে আমাদের ওপর তাঁর সুন্দর আবরণের চাদর সর্বদা প্রলম্বিত রাখুন। নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী।

 

-‌‌ আলিফ অধ্যায়

তন্মধ্যে রয়েছেন:

‌‌১ - ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আল-মাদিনি বিন আল-আসলামি

তিনি কদরিয়া মতবাদে বিশ্বাস করতেন। তাঁর মিথ্যাচার এবং দুর্বলতার কারণে তাঁর হাদিস বর্জন করা হয়েছে, তাঁর মাযহাবের বিচ্যুতির কারণে নয়। তিনি উনাইস বিন আবি ইয়াহইয়ার ভাই; আর উনাইস ছিলেন নির্ভরযোগ্য। আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন মুসা বিন ইব্রাহিম আল-আত্তার আল-বাগদাদি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবি শায়বাহ, তিনি বলেন, আমি আলি বিন আবদুল্লাহ আল-মাদিনিকে বলতে শুনেছি: ইব্রাহিম বিন আবি ইয়াহইয়া একজন মিথ্যুক এবং তিনি কদরিয়া মতবাদে বিশ্বাস করতেন।

‌‌২ - ইব্রাহিম বিন আল-হাকাম বিন আবান আল-আদানি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেছেন: তিনি ধর্তব্য নন। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আলি বিন আস-সাওয়াফ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবি শায়বাহ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলি বিন আবদুল্লাহ, তিনি ইয়াহইয়ার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌৩ - ইব্রাহিম বিন আবি হাইয়্যাহ আল-মাক্কি। আবি হাইয়্যাহর নাম আল-ইয়াসা বিন আসআদ। হিশাম বিন উরওয়া এবং জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত তাঁর হাদিসসমূহে অস্বীকৃত বর্ণনা পাওয়া যায়। তাঁর থেকে কুতাইবা বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন।

‌‌৪ - ইব্রাহিম বিন আব্দুল মালিক আল-বাসরি। তিনি ধর্তব্য নন—এ কথা আলি বিন আল-মাদিনি বলেছেন, যা আমাদের কাছে মুসা, মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবি শায়বাহর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৫ - ইব্রাহিম বিন হুদায়্যাহ, যাঁর উপনাম আবু হুদায়্যাহ। তিনি আনাস বিন মালিক থেকে একটি পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেন, যা আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫৮)
الْخَضِرِ بْنِ أَبَانَ عَنْهُ وَرَوَى عَنْهُ أَيْضًا حُمَيْدُ بْنُ الرَّبِيعِ لَا شَيْءَ

‌‌6 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْبَرَاءِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ شَيْخٌ بَصْرِيٌّ حَدَّثَ بِالشَّامِ عَنْ شُعْبَةَ وَحَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ وَالدَّرَاوَرْدِيِّ مَنَاكِيرَ حدثونا عَنْ بَكْرِ بْنِ سَهْلٍ عَنْهُ لَا شَيْءَ

‌‌7 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ همام بن أخي عبد الرازق حَدَّثَ بِالْمَوْضُوعَاتِ عَنْ عَمِّهِ رَوَى عَنْهُ الشَّامِيُّونَ حَدَّثُونَا عَنِ ابْنِ قُتَيْبَةَ عَنْهُ

‌‌8 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ زَيْدٍ الأَسْلَمِيُّ الرَّاوِي عَنْ مَالِكٍ وَابْنِ لَهِيعَةَ بالموضوعات حَدَّثَ عَنْهُ مُحَمَّدُ ابْن يَزِيدَ النَّيْسَابُورِيُّ

‌‌9 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ زَكَرِيَّا الْوَاسِطِيُّ وَيُعْرَفُ بِالبَّزَّارِ رَوَى عَنْ مَالِكٍ وَأَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ أَحَادِيثَ مَنَاكِيرَ رَوَى عَنْهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ رَاشِدٍ الآدَمِيُّ وَابْنُ مَضَّاءَ

‌‌10 - إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدٍ الْمِصِّيصِيُّ رَوَى عَنْهُ إِبْرَاهِيمُ وحجاج بن مُحَمَّد بالموضوعات حدث عَنهُ غير وَاحِدٌ مِنَ الشَّامِيِّينَ سَاقِطٌ

‌‌11 - إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو يَحْيَى الْكُوفِيُّ رَوَى عَنْهُ مُخَارِقٌ وَمُطَرِّفٌ قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ ضَعِيفٌ جِدًّا حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْغِطْرِيفِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْخُوَازِيُّ ثَنَا الْبُخَارِيُّ بِهِ

‌‌12 - إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التَّيْمِيُّ صَاحِبُ النُّسْخَةِ عَنْ مِسْعَرٍ وَمَالِكٍ حَدَّثَ بِالْمَوْضُوعَاتِ يَشْمَئِزُّ الْقَلْبُ وَيَنْفُرُ مِنْ حَدِيثِهِ مَتْرُوكٌ

‌‌13 - إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ أَبُو إِسْحَاقَ الْكُوفِيُّ لَيْسَ بِالْوَرَّاقِ بَلْ هُوَ الرَّاوِي عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ بِالأَحَادِيثِ الْوَاهِيَةِ مَتْرُوكٌ قَالَهُ الْبُخَارِيُّ
আল-খাদির ইবন আবান তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হুমাইদ ইবনুর রাবীও তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি কিছুই নন।

‌‌6 - ইব্রাহিম ইবনুল বারা ইবনুন নাদর ইবনে আনাস ইবনে মালিক; তিনি বসরার একজন শায়খ। তিনি সিরিয়ায় শু'বাহ, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এবং আদ-দারাওয়ারদী থেকে মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। বকর ইবনে সাহল তার সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি কিছুই নন।

‌‌7 - ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাম্মাম, তিনি আব্দুর রাজ্জাকের ভ্রাতুষ্পুত্র। তিনি তার চাচার সূত্রে জাল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। সিরিয়াবাসীরা তার থেকে বর্ণনা করেছেন; ইবনে কুতাইবাহ-এর সূত্রে আমাদের নিকট তার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে।

‌‌8 - ইব্রাহিম ইবনে যাইদ আল-আসলামি; তিনি মালিক এবং ইবনে লাহিয়াহ-এর সূত্রে জাল হাদিস বর্ণনাকারী। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আন-নিশাপুরি তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌9 - ইব্রাহিম ইবনে জাকারিয়া আল-ওয়াসিতি, যিনি আল-বায্যার নামে পরিচিত। তিনি মালিক এবং আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে মুনকার হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। ইব্রাহিম ইবনে রাশিদ আল-আদামি এবং ইবনে মাদ্দা তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌10 - ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ আল-মিসসিসি; ইব্রাহিম এবং হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ তার সূত্রে জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন। সিরিয়াবাসীদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি বর্জনীয় (সাকিত)।

‌‌11 - ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আবু ইয়াহইয়া আল-কুফি; মুখারিক এবং মুতাররিফ তার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে নুমাইর বলেছেন: সে অত্যন্ত দুর্বল। আবু আহমাদ আল-গিতরিফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মুসা আল-খুওয়াযি আমাদের বলেছেন, ইমাম বুখারি আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌12 - ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তাইমি; তিনি মিস'আর ও মালিকের সূত্রে একটি পাণ্ডুলিপির সংকলক। তিনি জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন; তার হাদিস শুনলে অন্তর শিউরে ওঠে এবং তা থেকে দূরে পালায়। তিনি বর্জনীয় (মাতরুক)।

‌‌13 - ইসমাইল ইবনে আবান আবু ইসহাক আল-কুফি; তিনি আল-ওয়াররাক নন, বরং তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ-এর সূত্রে ভিত্তিহীন হাদিসসমূহ বর্ণনাকারী। তিনি বর্জনীয়; ইমাম বুখারি এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌14 - إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ أَبُو هَارُونَ الْجِبْرِينِيُّ وَيُقَالُ الْفِلَسْطِينِيُّ رَوَى عَنْ حَبِيبٍ كَاتِبِ مَالِكٍ وَعَمْرِو بْنِ أَبِي سَلَمَةَ التِّنِّيسِيِّ وَالْقَاسِمِ بْنِ سَلامٍ بِالْمَوْضُوعَاتِ

‌‌15 - إِسْحَاقُ بْنُ نَجِيحٍ الْمَلْطِيُّ يَضَعُ الْحَدِيثَ قَالَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَ بِبَغْدَادَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ وَابْنِ جُرَيْجٍ بِالْمَوْضُوعَاتِ يَرْوِي عَنْهُ عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ وَغَيْرُهُ

‌‌16 - إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ أَبُو حُذَيْفَةَ الْبُخَارِيُّ وَيُعْرَفُ بِالْكَاهِلِيِّ حَدَّثَ بِالْعِرَاقِ وَخُرَاسَانَ

‌‌17 - إِسْحَاقُ بْنُ وَهْبٍ الطَّهْرَمِينِيُّ الْمِصْرِيُّ الرَّاوِي عَنِ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ (لَرَدُّ دَانِقٍ حَرَامٌ) حَدَّثَ بَعْدَهُ حَدِيثَ مُنْكَرٍ لَا شَيْءَ

‌‌18 - إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الطَّبَرِيُّ سَاكن زبيد بِالْيمن رَوَى عَنْهُ الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ وَابْنُ عُيَيْنَةَ بِأَحَادِيثَ وَاهِيَةٍ حَدَّثُونَا عَنِ الْمُفَضَّلِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجُنَيْدِيِّ عَنْهُ

‌‌19 - أَيُّوبُ بْنُ سَيَّارٍ الْمَدَنِيُّ لَا يَكْتُبُ حَدِيثَهُ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ حَدَّثَنَا عَنْهُ مُوسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْمَدِينِيِّ يَقُولُهُ

‌‌20 - أَيُّوبُ بْنُ خُوطٍ أَبُو أُمَيَّةَ الْبَصْرِيُّ لَا يَكْتُبُ حَدِيثَهُ تَرَكَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ

‌‌21 - أَبَانُ بْنُ أَبِي جَبَلَةَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ رَوَى عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ

‌‌22 - أَبَانُ بْنُ نَشْهَلٍ أَبُو الْوَلِيدِ الْبَصْرِيُّ رَوَى عَنِ الأَعْمَشِ وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ بِالْمَوْضُوعَاتِ رَوَى عَنْهُ عِيسَى بنُ مُوسَى غُنْجَارٌ

‌‌23 - الأَحْوَصُ بْنُ حَكِيمٍ الْعَنْسِيُّ شَامِيٌّ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ لَا يُكْتَبُ حَدِيثُهُ
১৪ - ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আবু হারুন আল-জিবরিনী, তাকে আল-ফিলিস্তিনিও বলা হয়। তিনি মালিকের লেখক হাবীব, আমর বিন আবু সালামাহ আত-তিননিসী এবং কাসিম বিন সালাম থেকে জাল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন।

‌১৫ - ইসহাক বিন নাজিহ আল-মালতী। তিনি হাদিস জাল করতেন; এ কথা ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেছেন। তিনি বাগদাদে ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর এবং ইবন জুরাইজ থেকে জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে আলী বিন হুজর ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

‌১৬ - ইসহাক বিন বিশর আবু হুযাইফা আল-বুখারী, তিনি আল-কাহিলী নামে পরিচিত। তিনি ইরাক ও খুরাসানে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

‌১৭ - ইসহাক বিন ওয়াহাব আত-তাহরামিনী আল-মিসরী। তিনি ইবন ওয়াহাব থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং তিনি ইবন উমর থেকে (এক দানিক হারাম ফেরত দেওয়া [আল্লাহর রাস্তায় দান করার চেয়ে উত্তম]) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার কোনো গুরুত্ব নেই।

‌১৮ - ইসহাক বিন ইব্রাহিম আত-তাবারী, যিনি ইয়ামেনের জুবাইদে বসবাস করতেন। তিনি ফুযাইল বিন ইয়াদ এবং ইবন উইয়াইনাহ থেকে অত্যন্ত দুর্বল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। মুফাদদাল বিন মুহাম্মাদ আল-জুনাইদী আমাদের কাছে তার সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

‌১৯ - আইয়ুব বিন সাইয়্যার আল-মাদানী। তার হাদিস লিখে রাখা যাবে না। আলী বিন আল-মাদীনী এ কথা বলেছেন। মুসা বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন আবু শাইবাহ বলেন, আমি আলী বিন আল-মাদীনীকে এ কথা বলতে শুনেছি।

‌২০ - আইয়ুব বিন খুবত আবু উমাইয়া আল-বাসরী। তার হাদিস লিখে রাখা যাবে না; আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক তাকে বর্জন করেছেন।

‌২১ - আবান বিন আবু জাবালাহ আবু আব্দুর রহমান আল-কুফী। তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি মুনকারুল হাদিস (তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য)।

‌২২ - আবান বিন নাশাহাল আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাসরী। তিনি আমাশ এবং ইসমাঈল বিন আবু খালিদ থেকে জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে ঈসা বিন মুসা গুনজার বর্ণনা করেছেন।

‌২৩ - আহওয়াস বিন হাকীম আল-আনসী, তিনি একজন শামী (সিরীয়)। আলী বিন আল-মাদীনী বলেছেন, তার হাদিস লিখে রাখা যাবে না।
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌24 - وَكَذَلِكَ أَسَدُ بْنُ عَمْرٍو أَبُو الْمُنْذِرِ الْبَجَلِيُّ كُوفِيٌّ صَاحِبُ رَأْيٍ لَا يُكْتَبُ حَدِيثُهُ

‌‌25 - الأَزْوَرُ بْنُ غَالب يروي عَن سُلَيْمَان التَّيْمِيّ وَغَيْرِهِ مُنكر الحَدِيث قَالَه البُخَارِيّ وَكَذَلِكَ

‌‌26 - أَصْرَم بن حَوْشَب الْهَمدَانِي روى عَنْ قُرَّةَ وَزِيَادِ بْنِ سَعْدٍ لَا شَيْءَ

‌‌27 - أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْقَاسِمِ الْكُوفِيُّ حَدَّثَ عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ وَوَكِيعٍ الْمَنَاكِيرَ حَدَّثَ عَنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ الأَرْغِيَانِيُّ وَغَيْرُهُ

‌‌28 - أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ أَبَانٌ الْمِصْرِيُّ الْأُبُلِّيُّ يَرْوِي عَنْ أَبِي عَاصِمٍ النَّبِيلِ وَحَجَّاجِ بْنِ مِنْهَالٍ وَغَيْرِهِمَا الْمَنَاكِيرَ حَدَّثُونَا عَنْهُ لَا شَيْءَ

‌‌29 - أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدٍ الْجُوبَارِيُّ الْهَرَوِيُّ الْوَاضِع عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ حَدِيثٍ سَاقِطٌ مَتْرُوكٌ

‌‌30 - أَحْمَدُ بن مُحَمَّد بن غَالب المذكو الْبَغْدَادِيُّ غُلامُ الْخَلِيلِ رَوَى عَنِ الثِّقَاتِ بِأَحَادِيثَ وَاهِيَةٍ مَوْضُوعَةٍ لَهُ صِيتٌ فِي الزُّهْدِ وَالْوَرَعِ لَا شَيْءَ

‌‌31 - أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّلْتِ أَبُو الْعَبَّاسِ الْحِمَّانِيُّ يَرْوِي عَنِ ابْنِ أَبِي أُوَيْسٍ وَالْقَعْنَبِيِّ مِنْ غَيْرِ شُيُوخٍ لَمْ يَلْقَهُمْ بِالَمَشَاهِيرِ وَالْمَنَاكِيرِ لَا شَيْءَ مَاتَ بَعْدَ الثَّلاثِمِائَةِ

 

-‌‌ بَابُ الْبَاءِ

-
‌‌24 - এবং একইভাবে আসাদ বিন আমর আবু আল-মুনজির আল-বাজালি আল-কুফি। তিনি রায় (ব্যক্তিগত অভিমত)-পন্থী ছিলেন, তার হাদিস লেখা যাবে না।

‌‌25 - আল-আযওয়ার বিন গালিব। তিনি সুলাইমান আত-তাইমি এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেন। তিনি মুনকারুল হাদিস (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী); ইমাম বুখারি এমনটি বলেছেন এবং একইভাবে...

‌‌26 - আসরাম বিন হাওশাব আল-হামদানি। তিনি কুররাহ এবং যিয়াদ বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য নন (লা শাই)।

‌‌27 - আহমদ বিন আল-হাসান বিন আল-কাসিম আল-কুফি। তিনি হাফস বিন গিয়াস এবং ওয়াকি থেকে ‘মুনকার’ (অস্বীকৃত) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। তার থেকে মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়্যেব আল-আরগিয়ানি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

‌‌28 - আহমদ বিন আল-হাসান আবান আল-মিসরি আল-উবুল্লি। তিনি আবু আসিম আন-নাবিল, হাজ্জাজ বিন মিনহাল এবং অন্যান্যদের থেকে ‘মুনকার’ (অস্বীকৃত) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেন। আমাদের কাছে তার থেকে যারা হাদিস বর্ণনা করেছেন তারা বলেছেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য নন (লা শাই)।

‌‌29 - আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন খালিদ আল-জুবারি আল-হারাউয়ি। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে একাধিক হাদিস জালকারী। তিনি অকেজো ও পরিত্যক্ত (মাত্রুক)।

‌‌30 - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব আল-বাগদাদি, যিনি গোলাম আল-খালিল নামে পরিচিত। তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে ভিত্তিহীন ও জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন। যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) ও পরহেজগারির ক্ষেত্রে তার খ্যাতি ছিল, কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য নন (লা শাই)।

‌‌31 - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সলত আবুল আব্বাস আল-হিমমানি। তিনি ইবনে আবি উওয়াইস এবং আল-কানাবি প্রমুখ এমন মাশায়েখদের থেকে বর্ণনা করেন যাদের সাথে তার সাক্ষাৎই হয়নি। তিনি প্রসিদ্ধ ও অস্বীকৃত (মুনকার) উভয় ধরনের হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য নন (লা শাই)। তিনি তিনশ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন।

 

-‌‌ ‘বা’ (ب) অধ্যায়

-
(খণ্ড: ১) আল-মুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম লি-আবী নুআইম (পৃষ্ঠা: ৬১)
‌‌32 - بَشِيرُ بْنُ مَيْمُونٍ أَبُو صَيْفِيٍّ الْوَاسِطِيُّ رَوَى عَنْ مُجَاهِدٍ وَعِكْرِمَةَ وَسَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ بِالْمَنَاكِيرِ لَا يُكْتَبُ حَدِيثُهُ قَالَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ

‌‌33 - بِشْرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو عَمْرٍو الأَنْصَارِيُّ وَيُقَالُ أَبُو سَعِيدٍ رَوَى عَنِ الأَوْزَاعِيِّ بِالْمَوْضُوعَاتِ يَرْوِي عَنْهُ الشَّامِيُّونَ وَبَعْضُ الْعِرَاقِيِّينَ

‌‌34 - بَزِيعُ بْنُ حَسَّانَ الْخَصَّافُ أَبُو الْخَلِيلِ الْبَصْرِيُّ رَوَى عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ وَمُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ أَحَادِيث مَوْضُوعَة روى عَنهُ عبد الرَّحْمَن بن الْمُبَارك العيشي

‌‌35 - بحتري بن عبيد الطالحي الطَّائِي روى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِأَحَادِيثَ مَوْضُوعَةٍ رَوَى عَنْهُ هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ وَغَيره لَا شَيْءَ

‌‌36 - بُهْلُولُ بْنُ عُبَيْدٍ رَوَى أَحَادِيثَ ضَعِيفَةً عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِد وَأبي إِسْحَاق السبيعِي وَغَيرهم من الثِّقَات لَا شَيْءَ

 

-‌‌ التَّاءُ

‌‌37 - تَلِيدُ بْنُ سَلْمَانَ الْمُحَارِبِيُّ أَبُو إِدْرِيسَ ذُكِرَ بِسُوءِ الْمَذْهَبِ مِنْ أَصْحَاب أبي الحجاف رَوَى عَنْهُ بِالْمَوْضُوعَاتِ نُسِبَ إِلَى الْكَذِبِ وَالْوَضْعِ لَا شَيْءَ

 

-‌‌ الثَّاءُ

‌‌38 - ثَابِتُ بْنُ زُهَيْرٍ أَبُو زُهَيْرٍ رَوَى عَنِ الْحَسَنِ وَنَافِعٍ مُنكر الحَدِيث روى عَنهُ أَبُو سَلمَة التَّبُوذَكِي قَالَه البُخَارِيّ
32 - বশীর ইবনে মায়মুন আবু সাইফি আল-ওয়াসিতি; তিনি মুজাহিদ, ইকরামা এবং সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, তার হাদিস লেখা যাবে না।

33 - বিশর ইবনে ইব্রাহিম আবু আমর আল-আনসারি—তাকে আবু সাঈদও বলা হয়—তিনি আওযায়ী থেকে জাল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। তার থেকে সিরীয় এবং কিছু ইরাকি বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।

34 - বাযি ইবনে হাসসান আল-খাসসাফ আবু আল-খলিল আল-বাসরি; তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ এবং মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি থেকে জাল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। তার থেকে আব্দুর রহমান ইবনে আল-মুবারক আল-আইশি বর্ণনা করেছেন।

35 - বুহতারি ইবনে উবাইদ আত-তালিহি আত-তাই; তিনি তার পিতার সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে জাল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। হিশাম ইবনে আম্মার এবং অন্যান্যরা তার থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি কিছুই নন।

36 - বুহলুল ইবনে উবাইদ; তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল, ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, আবু ইসহাক আস-সাবিঈ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে দুর্বল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন; তিনি কিছুই নন।

 

-‌তা

37 - তালিদ ইবনে সালমান আল-মুহারিবি আবু ইদ্রিস; তাকে মন্দ মাযহাবের (আকিদার) অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আবু আল-হাজ্জাফের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার থেকে জাল হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং তাকে মিথ্যাচার ও জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে; তিনি কিছুই নন।

 

-‌সা

38 - সাবিত ইবনে যুহাইর আবু যুহাইর; তিনি হাসান এবং নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি মুনকার আল-হাদিস (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী)। আবু সালামাহ আত-তাবুযাকি তার থেকে বর্ণনা করেছেন—এটি ইমাম বুখারি বলেছেন।