(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر كشف الغمة عن أدلة الحجاب في الكتاب والسنة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مختصر كشف الغمة عن أدلة الحجاب في الكتاب والسنة
(بمناقشة رأي الشيخ الألباني - وجلاء الحق للأمة)
المؤلف: أمل محمد آل خميسة
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 292
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو القعدة 1442
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে হিজাবের দলীলসমূহের ওপর থেকে সংশয় নিরসনের সংক্ষিপ্তসার বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে হিজাবের দলীলসমূহের ওপর থেকে সংশয় নিরসনের সংক্ষিপ্তসার
(শাইখ আলবানীর মতামতের পর্যালোচনাসহ - এবং উম্মাহর নিকট সত্যের উন্মোচন)
গ্রন্থকার: আমাল মুহাম্মদ আল-খামিসাহ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ জিলকদ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مختصر كشف الغمة عن أدلة الحجاب في الكتاب والسنة بمناقشة رأي الشيخ الألباني وجلاء الحق للأمة
أمل محمد آل خميسة
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে হিজাবের দলীলসমূহ সংক্রান্ত ‘কাশফুল গুম্মাহ’ এর সংক্ষিপ্তসার: শায়খ আলবানীর মতামতের পর্যালোচনা এবং উম্মাহর নিকট সত্য স্পষ্টকরণ
আমাল মুহাম্মাদ আল-খামিসাহ
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
مختصر كشف الغمة عن أدلة الحجاب في الكتاب والسنة بمناقشة رأي الشيخ الألباني وجلاء الحق للأمة / أمل محمد عبدالله آل خميسة
رقم الإيداع في مكتبة الملك فهد الوطنية 2930/ 1442
تاريخ 21/ 04/ 1442 هـ
ردمك 7 - 6379 - 03 - 603 - 978
جميع الحقوق محفوظة للمؤلفة ولا يسمح بإعادة إصدار هذا الكتاب أو طباعته أو نقله في أي شكل أو واسطة سواءً أكانت إلكترونية أو ميكانيكية بما في ذلك التصوير بالنسخ الفوتوكوبي أو التسجيل أو التخزين والاسترجاع دون إذن خطي من المؤلفة
All Rights Reserved. No part of this book may be reproduced، stored in a retrieval system or transmitted in any form of by any means without prior permission in writing of the authors.
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পর্দার দলীলসমূহ হতে সংশয় নিরসন: শায়খ আলবানী-এর মতামতের পর্যালোচনা এবং উম্মাহর জন্য সত্যের উন্মোচন (সংক্ষিপ্ত সার) / আমাল মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল-খামীসাহ
কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে জমাদান নম্বর: ২৯৩০/ ১৪৪২
তারিখ: ২১/ ০৪/ ১৪৪২ হিজরি
আইএসবিএন: ৯৭৮-৬০৩-০৩-৬৩৭৯-৭
সকল স্বত্ব লেখিকার সংরক্ষিত। লেখিকার লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই বইটির কোনো অংশ পুনঃপ্রকাশ, মুদ্রণ বা ইলেকট্রনিক কিংবা যান্ত্রিক কোনো পদ্ধতিতে—যার মধ্যে ফটোকপি, রেকর্ডিং অথবা তথ্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত—কোনো রূপে বা কোনো মাধ্যমে স্থানান্তর করা যাবে না।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। লেখকদের পূর্ব লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই বইয়ের কোনো অংশ পুনরুৎপাদন করা, কোনো পুনরুদ্ধার সিস্টেমে সংরক্ষণ করা বা কোনো রূপে বা কোনো মাধ্যমে প্রেরণ করা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
راجع الكتاب فضيلة الشيخ
سعد بن تركي الخثلان
عضو هيئة كبار العلماء
ورئيس مجلس إدارة الجمعية الفقهية السعودية
বইটি পর্যালোচনা করেছেন ফজিলতুশ শায়খ
সাদ বিন তুর্কি আল-খাসলান
হাইয়াতু কিবারিল উলামা (জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ)-এর সদস্য
এবং সৌদি ফিকহ সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه، وبعد:
فإن هذا مختصر لكتابي (كشف الغمة عن أدلة الحجاب في الكتاب والسنة بمناقشة رأي الشيخ الألباني وجلاء الحق للأمة) وقد راعيت فيه الاختصار مع الإبقاء للمسائل والفوائد والفرائد التي تم بسطها في الأصل في مناقشة البحوث التي حوت ما احتج به الشيخ الألباني- رحمه الله في مسألة الحجاب في كتابيه (الرد المفحم)
(1) و (جلباب المرأة المسلمة) والتي أحدثت ضجة في المجتمعات الإسلامية بين مؤيد ومعارض، ولما كان للشيخ من مكانة علمية في الأمة الإسلامية كان ذلك داعيا إلى قبول رأيه من قبل البعض، وظهور حجته عند البعض الآخر لاستناده على بعض النصوص الصحيحة!! ولكن المتمحص في المسألة يجد أن هذه النصوص قد حُملت على غير محملها لأن هناك لَبس في المسألة وحقيقة غابت لغياب أحكامها وانقطاع أسبابها، وهي إنقطاع العبودية (ملك اليمين) فقد كان العبيد المملوكين الذين فرّق الشرع بينهم وبين الأحرار في بعض الأحكام الشرعية يمثلون جزء من المجتمع المسلم إلى أوائل القرن الماضي، ويعد وجوب الحجاب (تغطية الوجه) أحد الأحكام التي تختص بالحرية؛ فقد فرض الله
--------------------------------------------
উপস্থাপনাযাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথি এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই এটি আমার রচিত কিতাব (কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ বি-মুনাকাশাতি রাইয়িশ শাইখ আল-আলবানী ওয়া জালাউল হাক্কি লিল উম্মাহ)-এর একটি সংক্ষিপ্তসার। এতে আমি সংক্ষেপণের প্রতি লক্ষ রেখেছি এবং সেই সাথে মূল গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে আলোচিত মাসআলাসমূহ, ফায়দা ও অনন্য বিষয়গুলোকে (فرائد) অক্ষুণ্ণ রেখেছি, যেখানে হিজাব সংক্রান্ত বিষয়ে শাইখ আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর দুটি কিতাব 'আর-রাদ্দুল মুফহিম'
(১) এবং 'জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমা'-তে যেসব দলীল পেশ করেছেন সেগুলোর পর্যালোচনা করা হয়েছে। যা মুসলিম সমাজে সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারীদের মধ্যে এক ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। যেহেতু ইসলামী উম্মাহর নিকট শাইখের একটি ইলমী মর্যাদা রয়েছে, তাই এটি কারও কারও নিকট তাঁর মত গ্রহণ করার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আবার অন্যদের কাছে তাঁর দলিলগুলো জোরালো মনে হয়েছে যেহেতু তিনি কিছু সহীহ (صحيحة) নসের ওপর ভিত্তি করেছেন!! কিন্তু এই মাসআলাটি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনাকারী দেখতে পাবেন যে, এই নসগুলোকে ভুল অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে; কারণ এ বিষয়ে এক প্রকার অস্পষ্টতা রয়েছে এবং এমন এক বাস্তবতা এখানে অনুপস্থিত যা তার বিধান রহিত হওয়া ও কারণ বিলুপ্ত হওয়ার ফলে ঢাকা পড়ে গেছে। আর সেটি হলো দাসত্বের (ملك اليمين) বিলুপ্তি। কেননা গত শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত ক্রীতদাসরা মুসলিম সমাজের একটি অংশ ছিল, যাদের এবং স্বাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে শরীয়ত কিছু বিধানের ক্ষেত্রে পার্থক্য করেছিল। আর হিজাব (মুখমণ্ডল ঢাকা) ওয়াজিব হওয়াকে সেই সব বিধানের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয় যা স্বাধীনতার সাথে বিশিষ্ট; কেননা আল্লাহ তাআলা ফরয করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحجاب (تغطية الوجه) على المرأة الحرة عن الرجل الحر، فلم يُفرض على المرأة الحرة أن تحتجب من العبد المملوك، ولم يُفرض على المرأة المملوكة أن تغطي وجهها، وكان هذا داعيا للخلاف بين الفقهاء المتقدمين في مسألتين: جواز نظر (الأجنبي) العبد المملوك للوجه والكفين من المرأة الحرة، ومالذي يجب عند خوف الفتنة؛ أن يغض الرجل بصره أم تغطي المرأة وجهها. كان هذا مدار اختلاف الفقهاء المتقدمين في هذه المسألة وهو الذي أحدث اللبس عند المتأخرين ومنهم الشيخ الألباني الذي بنى رأيه في هذه المسألة على هذا الخلاف! أما وجوب ستر المرأة الحرة لوجهها عن الرجال الأحرار الأجانب فلا خلاف فيه بين من تقدم من أهل العلم بل الإجماع على وجوبه باتفاق المذاهب الفقهية الأربعة، فقد افترض الله تغطية الوجه على جميع النساء الحرائر بقوله تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ}
صح عن أم سلمة رضي الله عنها أنها قالت (لما نزلت خرج نساء الأنصار كأن على رؤوسهن الغربان من الأكسية) وفي رواية (من أكسية سود يلبسنها)
(1) وثبت عن ابن عباس رضي الله عنه أنه قال في تأويلها (أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رؤوسهن بالجلابيب ويبدين عينا واحدة) وصح عن عبيدة السلماني أنه لما سُئل عن تأويلها (تقنع بردائه فغطى أنفه وعينه اليسرى وأخرج عينه اليمنى وأدنى رداءه من فوق حتى جعله قريبا من حاجبه أو على الحاجب). وهذا ماجرى عليه عمل النساء المسلمات الحرائر منذ
--------------------------------------------
স্বাধীন পুরুষের থেকে স্বাধীন নারীর পর্দা (الحجاب) করা (মুখমণ্ডল আবৃত করা) ফরজ; তবে স্বাধীন নারীর জন্য ক্রীতদাসের থেকে পর্দা করা ফরজ করা হয়নি এবং দাসী নারীর জন্য তার মুখমণ্ডল আবৃত করা ফরজ করা হয়নি। এটিই প্রাচীন ফকিহগণের মধ্যে দুটি বিষয়ে মতভেদের কারণ হয়েছিল: স্বাধীন নারীর মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাতের দিকে ক্রীতদাসের (পরপুরুষ (الأجنبي)) তাকানোর বৈধতা, এবং ফিতনার আশঙ্কার সময় কোনটি ওয়াজিব (وجوب) হবে; পুরুষ তার দৃষ্টি অবনত করবে নাকি নারী তার মুখমণ্ডল আবৃত করবে। এটিই ছিল এই মাসআলায় পূর্ববর্তী ফকিহগণের মতভেদের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটিই পরবর্তী আলেমদের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি করেছে, যাদের মধ্যে শেখ আলবানিও রয়েছেন, যিনি এই মাসআলায় তাঁর মতামতকে এই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন! পক্ষান্তরে, স্বাধীন নারীর জন্য পরপুরুষদের (الأجانب) সামনে মুখমণ্ডল আবৃত করার আবশ্যকতা (وجوب) সম্পর্কে পূর্ববর্তী আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, বরং চার মাজহাবের ঐকমত্যে এর আবশ্যকতা (وجوب) এর ওপর ইজমা (إجماع) রয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে সমস্ত স্বাধীন নারীর ওপর মুখমণ্ডল আবৃত করা ফরজ করেছেন: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয়।}
উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যখন এটি নাজিল হলো, আনসারি মহিলারা এমনভাবে বের হলেন যেন চাদরের কারণে তাদের মাথার ওপর দাঁড়কাক বসে আছে।" আর একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "কালো রঙের চাদর যা তারা পরিধান করত।"
(১) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "আল্লাহ মুমিন নারীদের আদেশ দিয়েছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন তারা তাদের মাথার ওপর থেকে জিলবাব দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল আবৃত করে এবং কেবল একটি চোখ খোলা রাখে।" ওবায়দাহ আস-সালমানী থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত যে, যখন তাঁকে এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি: "তাঁর চাদর দিয়ে মাথা ঢেকে তাঁর নাক ও বাম চোখ আবৃত করলেন এবং ডান চোখটি বের করে রাখলেন। তিনি তাঁর চাদরটি ওপর থেকে নিচে এমনভাবে নামিয়ে আনলেন যেন তা তাঁর ভ্রুর কাছাকাছি বা ভ্রুর ওপরে থাকে।" আর প্রাচীনকাল থেকে স্বাধীন মুসলিম নারীদের আমল এভাবেই চলে আসছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
زمن الرسالة، قال الحافظ ابن حجر في الفتح (9/ 324): "ولم تزل عادة النساء قديماً وحديثاً يسترن وجوههن عن الأجانب" اهـ. وقد استمرت النساء المسلمات في مختلف العصور وفي جميع البلاد الإسلامية على ستر وجوههن عن الرجال الأجانب، إلى أن بدأ السفور في أوائل القرن الرابع عشر الهجري إثر الاستعمار الغربي، ففي أوائل القرن الثالث عشر الهجري (أواخر القرن الثامن عشر الميلادي ومطلع القرن التاسع عشر) فوجئت الممالك الإسلامية بطوفان من الاستعمار الغربي الذي أخذ يمتد من قطر إلى قطر، وما أن انتصف القرن التاسع عشر حتى أصبحت معظم الأمم المسلمة تحت سطوة المستعمر الغربي الأوربي، وفي هذه الفترة من الضعف والانهزامية أصبحت الأمم الإسلامية تحاكي أمم الغرب في الزي واللباس وسائر المظاهر الاجتماعية، وأصبح المنهزمون يستحيون من كل ما نظر إليه أعداء الإسلام بالتحقير والتعيير - ومن ذلك الحجاب والنقاب الذي نظر إليه الغرب بعين المقت والازدراء وصوره أقبح تصوير فيما كتب ونشر- ولو كان من الأمور الثابتة في الشرع، ومن هنا بدأت الدعوة إلى السفور ونزع الحجاب؛ حيث قام هؤلاء المنهزمون بحركة ما يسمى (تحرير المرأة) التي بدأوها في أوائل القرن الرابع عشر الهجري (أواخر القرن التاسع عشر الميلادي) لحمل المرأة المسلمة على اقتفاء آثار المرأة الأوربية واتباع المناهج الاجتماعية الرائجة بين أمم الغرب، ونشط دعاة السفور والانحلال في بث أفكارهم التي استقوها من البلاد الغربية الكافرة لمحاربة الحجاب ونزعه؛ فقام الملك "زوغو" في ألبانيا بنزع الحجاب عن وجوه المؤمنات وفرض السفور على نساء وطنه مسايرة للدول الأوروبية، وفي بلاد الأفغان قامت
রিসালাতের যুগ; হাফিজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ্-এ (৯/৩২৪) বলেছেন: "অতীত ও বর্তমান—সর্বদাই নারীদের অভ্যাস ছিল তারা পরপুরুষের (الأجانب) সামনে তাদের চেহারা আবৃত রাখত।" সমাপ্ত। মুসলিম নারীরা বিভিন্ন যুগে এবং সকল মুসলিম ভূখণ্ডে পরপুরুষের (الأجانب) সামনে তাদের মুখমণ্ডল আবৃত রাখার বিষয়টি অব্যাহত রেখেছিলেন, যতক্ষণ না পশ্চিমী উপনিবেশবাদের প্রভাবে চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার (السفور) প্রবণতা শুরু হয়। ত্রয়োদশ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে (অষ্টাদশ খ্রিষ্টাব্দের শেষভাগ ও উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ), মুসলিম সালতানাতসমূহ পশ্চিমী উপনিবেশবাদের এক প্লাবনের সম্মুখীন হয় যা এক দেশ থেকে অন্য দেশে বিস্তৃত হতে থাকে। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি আসতে আসতে অধিকাংশ মুসলিম উম্মাহ ইউরোপীয় পশ্চিমী উপনিবেশবাদীদের আধিপত্যের অধীনে চলে যায়। দুর্বলতা ও পরাজয়বোধের এই সময়ে, মুসলিম জাতিসমূহ পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা জাতিগুলোর অন্ধ অনুকরণ শুরু করে। এই পরাজয়কামীরা এমন প্রতিটি বিষয় নিয়ে লজ্জিত হতে শুরু করল যেগুলোকে ইসলামের শত্রুরা অবজ্ঞা ও অপবাদের দৃষ্টিতে দেখত—এর মধ্যে রয়েছে হিজাব ও নিকাব, যেগুলোকে পশ্চিমারা ঘৃণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখত এবং তাদের লেখালেখি ও প্রকাশনায় অত্যন্ত কুৎসিতভাবে উপস্থাপন করত—যদিও তা শরিয়তের (الشرع) প্রমাণিত (الثابتة) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখান থেকেই মুখ উন্মুক্ত করার (السفور) এবং হিজাব বর্জনের আহ্বান শুরু হয়; যেখানে এই পরাজয়কামীরা তথাকথিত 'নারী মুক্তি' আন্দোলন শুরু করে। তারা চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে (উনবিংশ খ্রিষ্টাব্দের শেষভাগ) এই আন্দোলন শুরু করেছিল মুসলিম নারীকে ইউরোপীয় নারীর পদাঙ্ক অনুসরণে বাধ্য করতে এবং পশ্চিমা জাতিগুলোর মধ্যে প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থা অনুসরণের দিকে ধাবিত করতে। বেপর্দা (السفور) ও নৈতিক স্খলনের প্রবক্তারা তাদের সেই চিন্তা-চেতনা প্রসারে তৎপর হয়ে ওঠে যা তারা হিজাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং তা অপসারিত করতে কাফির পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আহরণ করেছিল। ফলে আলবেনিয়ার রাজা "জোগো" ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে মুমিন নারীদের মুখমণ্ডল থেকে হিজাব সরিয়ে দেন এবং তার দেশের নারীদের জন্য মুখ উন্মুক্ত রাখা (السفور) বাধ্যতামূলক করেন। আফগান ভূখণ্ডেও...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
"شاه خانم" ملكة الأفغان بخلع الحجاب بطلب من زوجها لتكون قدوة للأفغانيات، وفي بلاد المغرب بعد أن خرج الاستعمار الفرنسي ترك نخبة تكونت بفرنسا واستطاعت تلك النخبة المغتربة أن تؤكد أن تحرير المرأة المغربية هو نزعها للحجاب، وفي تركيا دعا إلى تحرير المرأة "أحمد فارس الشدياق" في صحيفته (الجوائب)،
وفي العراق اتفق "جميل الزهاوي" وصاحبه "الرصافي" على الهجوم على الدين والاستهزاء بتعاليمه فكانا أول داعيين إلى السفور فيها، وفي لبنان قامت المحاربة للحجاب والداعية إلى السفور "نظيرة زين الدين" صاحبة أول كتاب صدر في الشام وشرارة الإفساد الذي كان عنوانه (السفور والحجاب)، وفيمصر كانت الريادة في الدعوة إلى تحرير المرأة لـ " قاسم أمين" الذي رحل إلى فرنسا لإكمال تعليمه فانبهر بالحياة في أوروبا فخرج بكتابيه (تحرير المرأة) و (المرأة الجديدة)؛ فكانت أول امرأة مصرية أزالت الحجاب عن وجهها "هدى شعراوي" في القرن الماضي، وأول امرأة كشفت وجهها في بلاد الشام وكيلة مدرسة ثانوية، وبعد أن سرت تلك الأفكار الملوثة التي نشرها متزعموا الإفساد، كان من المؤسف أن صمت المصلحون الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر والمجتمع بأكمله أمام تلك الأفكار، ولم يواجهها بقوة وحزم، حتى تطورت وطبقت على أرض الواقع، فالأساس الذي بني عليه هذا الانفلات من النساء في البلاد العربية والإسلامية هو التقليد لنساء الغرب.
(1)--------------------------------------------
"শাহ খানুম" আফগান রানী ছিলেন, যিনি তার স্বামীর অনুরোধে হিজাব ত্যাগ করেন যাতে তিনি আফগান নারীদের জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ হতে পারেন। মাগরিবের (মরক্কো অঞ্চল) দেশগুলোতে ফরাসি উপনিবেশ বিদায় নেওয়ার পর তারা ফ্রান্সে শিক্ষিত এক অভিজাত শ্রেণীকে রেখে যায় এবং সেই পশ্চিমা ভাবধারার অভিজাতরা এটি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয় যে, মরক্কোর নারীর মুক্তি মানেই হলো হিজাব খুলে ফেলা। তুরস্কে "আহমদ ফারিস আশ-শিদিয়াক" তার পত্রিকা (আল-জাওয়াইব)-এ নারী মুক্তির আহ্বান জানান।
ইরাকে "জামিল আজ-জাহাবি" এবং তার সঙ্গী "আর-রুসাফি" দ্বীনের ওপর আক্রমণ করতে এবং এর শিক্ষার প্রতি উপহাস করতে একমত হন; ফলে তারা সেখানে বেপর্দা হওয়ার প্রথম দুই আমন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হন। লেবাননে হিজাব বিরোধী এবং বেপর্দা হওয়ার আহ্বানকারী হিসেবে "নাজিরা জাইন আদ-দিন" আবির্ভূত হন, যিনি শামে প্রকাশিত প্রথম বই এবং ফিতনার স্ফুলিঙ্গের রচয়িতা, যার শিরোনাম ছিল (আস-সুফুর ওয়াল হিজাব)। মিশরে নারী মুক্তির আন্দোলনে অগ্রগামী ছিলেন "কাসেম আমিন", যিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে গিয়েছিলেন এবং ইউরোপীয় জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়ে তার দুটি বই (তাহরিরুল মারআহ) এবং (আল-মারআতুল জাদিদাহ) প্রকাশ করেন। গত শতাব্দীতে প্রথম মিশরীয় নারী হিসেবে "হুদা শা'রাবি" তার মুখ থেকে হিজাব সরিয়েছিলেন এবং শাম দেশে প্রথম মুখ উন্মোচনকারী নারী ছিলেন একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপ-প্রধান শিক্ষিকা। বিকৃতির হোতাদের দ্বারা প্রচারিত সেই কলুষিত চিন্তাধারাগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা গেল যে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকারী সংস্কারকগণ এবং সমগ্র সমাজ এই সব চিন্তার সামনে নীরবতা পালন করেন। তারা দৃঢ়তা ও শক্তির সাথে এর মোকাবিলা করেননি, যার ফলে এটি বিস্তার লাভ করে এবং বাস্তবে প্রয়োগ হতে শুরু করে। মূলত আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে নারীদের এই উচ্ছৃঙ্খলতার ভিত্তি হলো পশ্চিমা নারীদের অন্ধ অনুকরণ।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولم يبق على جادة السلامة والاستقامة إلا بلاد الحرمين التي بقيت النساء فيها محافظة على الحشمة وستر الوجوه والبعد عن الاختلاط بالرجال، وفي الآونة الأخيرة نشط المستغربون التغريبيون المتبعون الشهوات بالسعي لأن تميل هذه البلاد ميلاً عظيماً فتتبع النساء فيها غيرهن في الانحلال والتبرج والسفور، وواكب ذلك نشأة "مسألة الحجاب" والتشكيك في وجوب الحجاب وفرضيته على المرأة بسبب اللبس الذي نشأ عند بعض أهل العلم المتأخرين بسبب انقطاع العبودية (ملك اليمين) وغياب أحكامها، فنسأل الله أن يرينا الحق حقا ويرزقنا اتباعه، وأن يرينا الباطل باطلا ويرزقنا اجتنابه، وأن يرد نساء المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها إلى التمسك بما افترض الله عليهن من الحجاب (تغطية الوجه) هو ولي ذلك والقادر عليه.
وبعد أن تبين السبب في نشأة " مسألة الحجاب " كان لزاما علينا بيان ما وقع فيه الشيخ الألباني من خطأ في هذه المسألة، وذلك من خلال مناقشة البحوث التي طُرحت في كتابه (الرد المفحم) وخلاصة ما ستجده في مناقشة البحوث:
*
أولا: أن المراد بقوله تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} الأحزاب: 59 هو أمر نساء المسلمين الحرائر بتغطية وجوههن؛ كما أجمع على ذلك أهل العلم من مفسرين ومحدثين وفقهاء لغويين. وأنه لاحجة لما ذكر الشيخ الألباني من نفي دلالة الإدناء لغة على تغطية الوجه؛ محتجا بالمعنى العام للإدناء عند أحد اللغويين؛ دون ما صرح به من هم
নিরাপদ ও সঠিক পথ এবং অবিচলতার ওপর কেবল হারামাইন শরীফাইন ভূখণ্ডই অবশিষ্ট ছিল, যেখানে নারীরা লজ্জা-শালীনতা বজায় রাখা, মুখমণ্ডল আবৃত করা এবং পুরুষদের সাথে অবাধ মেলামেশা থেকে দূরে থাকার বিষয়টি রক্ষা করে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাশ্চাত্যপন্থী ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীরা অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেছে যাতে এই দেশটিকে তারা বড় ধরনের বিচ্যুতির দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং এর ফলে এখানকার নারীরাও অন্যদের ন্যায় চারিত্রিক অবক্ষয়, বেপর্দা ও মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার (سفور) অনুসরণ করতে শুরু করে। এরই সমান্তরালে "হিজাব ইস্যু"র উৎপত্তি ঘটে এবং নারীদের ওপর হিজাবের আবশ্যকতা ও ফরজিয়ত (فرضية) নিয়ে সংশয় তৈরি করা হয়। মূলত দাসত্ব প্রথা (ملك اليمين) বিলুপ্ত হওয়া এবং এর বিধানসমূহ অনুপস্থিত থাকার ফলে পরবর্তী যুগের কিছু আলিমের মধ্যে যে অস্পষ্টতার সৃষ্টি হয়েছিল, তারই ফলশ্রুতিতে এই সংশয়ের উদয় হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করেন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা বর্জনের তাওফিক দান করেন। আল্লাহ যেন পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সকল মুসলিম নারীকে তাদের ওপর আল্লাহ যা ফরজ করেছেন সেই হিজাব (মুখমণ্ডল আবৃত করা - تغطية الوجه) যথাযথভাবে পালন করার দিকে ফিরিয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এতে সক্ষম।
হিজাব ইস্যুর উৎপত্তির কারণ স্পষ্ট হওয়ার পর, এই মাসয়ালায় (مسألة) শেখ আলবানী যে ভুল করেছেন তা স্পষ্ট করা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এটি তার রচিত গ্রন্থ 'আর-রদ্দ আল-মুফহিম'-এ উত্থাপিত গবেষণাসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে করা হবে। সেই গবেষণাসমূহের পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ হলো:
*
প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী {হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} (সূরা আহজাব: ৫৯) - এর মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম স্বাধীন নারীদেরকে তাদের মুখমণ্ডল আবৃত করার নির্দেশ প্রদান করা; যেমনটি মুফাসসির (مفسرون), হাদিস বিশারদ (محدثون) এবং ভাষাবিদ ফকিহগণ (فقهاء لغويون) এ ব্যাপারে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন। ভাষাগতভাবে 'ইদনা' (إدناء) শব্দের দ্বারা মুখমণ্ডল আবৃত করা বোঝায় না বলে শেখ আলবানী যে দাবি করেছেন, তার সপক্ষে কোনো বলিষ্ঠ দলিল (حجة) নেই; তিনি জনৈক ভাষাবিদের নিকট 'ইদনা' শব্দের সাধারণ অর্থকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তা উপেক্ষা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أئمة في اللغة بأن المراد بالإدناء في الآية تغطية الوجه، وما اتفق عليه المفسرون في أكثر من أربعين كتابا في التفسير على تفسير هذه الآية بتغطية الوجه.
*
ثانيا: أن قول ابن عباس " تدني الجلباب إلى وجهها ولا تضرب به" لم يكن تفسير الآية إدناء الجلابيب كما ذكر الشيخ الألباني! بل لم يستشهد به مطلقا أي أحد من المفسرين في تفسير هذه الآية؛ وإنما كان لبيان كيفية تغطية وجه المرأة حال إحرامها للحج أو العمرة، فإن الثابت شرعا أنه يجب على المرأة المحرمة ستر وجهها عن الرجال الأجانب بسدل الجلباب من فوق رأسها على وجهها، وليس لها أن تشدّه على جبينها ثم ترفعه من أسفل وتعطفه على الأنف؛ فالمنهي عنه حال الإحرام هو الشد والإلصاق على الوجه بالنقاب واللثام لا تغطية الوجه.
*
ثالثاً: أن مفاد آية الحجاب {فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} الأحزاب: 53 والتي فسرها أئمة التفسير؛ بـ (من وراء ستر بينكم وبينهن) يقتضي تغطية الوجه لأن المراد بها منع الرجال الأحرار من الدخول على النساء الحرائر والاختلاط بهن في البيوت ونحوها: وهذا ما جرى عليه عمل أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ونساء سلف هذه الأمة.
ভাষাতত্ত্ববিদ ইমামগণ এ বিষয়ে একমত যে, আয়াতে ‘ইদনা’ (إدناء) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুখমণ্ডল আবৃত করা। চল্লিশটিরও বেশি তাফসির গ্রন্থে মুফাসসিরগণ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুখমণ্ডল আবৃত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
*
দ্বিতীয়ত: ইবনে আব্বাসের (রা.) উক্তি—"সে তার জিলবাবটি তার চেহারার কাছাকাছি করে আনবে কিন্তু তা দিয়ে বাঁধবে না"—এটি শায়খ আলবানী যেমনটি উল্লেখ করেছেন সেভাবে ‘ইদনাউল জালাবিব’ আয়াতের ব্যাখ্যা ছিল না! বরং কোনো মুফাসসিরই এই আয়াতের ব্যাখ্যায় এটিকে কস্মিনকালেও দলিল হিসেবে পেশ করেননি। এটি মূলত হজ বা ওমরাহর ইহরাম (إحرام) অবস্থায় নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করার পদ্ধতি বর্ণনার জন্য ছিল। কেননা শরয়িভাবে এটি প্রমাণিত (ثابت) যে, ইহরাম (إحرام) গ্রহণকারিণীর জন্য গায়রে মাহরাম পুরুষদের উপস্থিতিতে মাথার ওপর থেকে জিলবাব চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দেওয়ার (سدل) মাধ্যমে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা ওয়াজিব। তার জন্য কপালে তা শক্ত করে বাঁধা এবং নিচ থেকে উপরে তুলে নাকের ওপর ভাঁজ করে রাখা বৈধ নয়। ইহরাম (إحرام) অবস্থায় যা নিষিদ্ধ (منهي عنه) তা হলো নেকাব (نقاب) বা লিসাম (لثام) এর মাধ্যমে চেহারার সাথে কাপড় সেঁটে রাখা, মুখমণ্ডল ঢাকা নয়।
*
তৃতীয়ত: হিজাব সংক্রান্ত আয়াতের মর্মার্থ—{তোমরা তাদের নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে} (আহজাব: ৫৩)—যা তাফসিরের ইমামগণ ‘তোমাদের এবং তাদের মাঝখানে একটি পর্দার আড়াল থেকে’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন, তা মুখমণ্ডল আবৃত করারই দাবি রাখে। কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্বাধীন পুরুষদের স্বাধীন নারীদের নিকট প্রবেশ এবং ঘরে বা অন্য কোথাও তাদের সাথে মেলামেশা থেকে বিরত রাখা। আর এটিই ছিল নবী (সা.)-এর পবিত্র স্ত্রীগণ এবং এই উম্মতের পূর্বসূরি (سلف) নারীদের অনুসৃত আমল।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
*
رابعاً: أن الحجاب (تغطية الوجه) الذي تقتضيه آية الحجاب الأولى: {فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} … هو معنى الحجاب الذي تقتضيه آية الحجاب الثانية: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} لما ثبت في صحيح السنّة من تسمية كل من الآيتين بـ (آية الحجاب)
*
خامساً: الأصل الذي اعتمد عليه أهل العلم في بيان معنى آية إدناء الجلابيب؛ ما أُثر عن ابن عباس رضي الله عنه في تفسيرها قال: (أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رؤوسهن بالجلابيب، ويبدين عينا واحدة)
(1) وهذا الأثر يعد من الآثار الثابتة التي اعتمد عليها جل أهل العلم في تفسير هذه الآية. فظاهر القرآن والسنة وآثار الصحابة والتابعين تؤيده؛ فلا وجه للطعن فيه فهو ثابت عمل به الأئمة واحتجوا به.
*
سادساً: من الشواهد التي تقوي حديث ابن عباس هذا وتعضده؛ ما أخرجه الطبري بإسناد صحيح عن محمد بن سيرين قال سألت عبيدة السلماني عن قوله {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} (فتقنع بردائه فغطى أنفه وعينه اليسرى وأخرج عينه اليمنى وأدنى رداءه من فوق حتى جعله قريبا من حاجبه أو على الحاجب)
(2) وهذا الأثر كذلك مما اعتمد عليه جل أهل التفسير في تفسير آية
--------------------------------------------
*
চতুর্থত: হিজাব (মুখমণ্ডল আবৃত করা), যা হিজাবের প্রথম আয়াতের দাবি: {তোমরা তাদের নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে} … এটিই সেই হিজাবের অর্থ যা হিজাবের দ্বিতীয় আয়াতের দাবি: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}। কেননা সহিহ (صحيح) সুন্নাহে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই উভয় আয়াতকেই ‘হিজাবের আয়াত’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
*
পঞ্চমত: চাদর টেনে দেওয়ার (ইদনাউল জালাবিব) আয়াতের অর্থ বর্ণনায় আলেমগণ যে মূলভিত্তির ওপর নির্ভর করেছেন; তা হলো ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এই আয়াতের তাফসির। তিনি বলেন: (আল্লাহ মুমিন নারীদের আদেশ করেছেন যে, যখন তারা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন মাথার ওপর থেকে চাদর টেনে নিজেদের মুখমণ্ডল আবৃত করে এবং মাত্র একটি চোখ খোলা রাখে)
(১) আর এই বর্ণনাটি (أثر) সেই সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণনাগুলোর (الآثار الثابتة) অন্তর্ভুক্ত যার ওপর অধিকাংশ আলেম এই আয়াতের তাফসিরে নির্ভর করেছেন। কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনার (آثار) বাহ্যিক দিক একে সমর্থন করে; সুতরাং একে সমালোচনা করার কোনো অবকাশ নেই, কারণ এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت), যার ওপর ইমামগণ আমল করেছেন এবং একে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।
*
ষষ্ঠত: ইবনে আব্বাসের এই হাদিসটিকে শক্তিশালী ও সমর্থনকারী সাক্ষ্যসমূহের (شواهد) অন্তর্ভুক্ত হলো; যা তাবারী একটি সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি উবাইদাহ আস-সালমানিকে {তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। (তখন তিনি নিজের চাদর দিয়ে ঘোমটা টানলেন এবং এর মাধ্যমে তার নাক ও বাম চোখ ঢেকে নিলেন এবং ডান চোখটি খোলা রাখলেন। আর মাথার ওপর থেকে চাদরটি এমনভাবে টেনে দিলেন যেন তা ভ্রুর কাছাকাছি বা ভ্রুর ওপর চলে আসে)
(২) এই বর্ণনাটিও (أثر) ঐসব বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত যার ওপর অধিকাংশ তাফসিরকারক আয়াতের তাফসিরে নির্ভর করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إدناء الجلابيب، وعبيدة السلماني من كبار التابعين وفقهائهم ممن أخذ علمه عن علي بن أبي طالب وعبد الله بن مسعود، ومخضرم ثقة ثبت.
*
سابعاً: أن الاعتجار والتقنع والتلفع بالجلابيب تعني تغطية الوجه عند مجموع أهل العلم من لغويين وفقهاء ومحدثين ومفسرين وهي من صور إدناء الجلباب التي سارعت إليها النساء عند نزول آية إدناء الجلابيب.
*
ثامناً: هناك حُكمان شرعيان ذهل عنهما أكثر أهل العلم المتأخرين، وانطوت آثارها في التصانيف المتأخرة، ولم يشر إليها بعض المتقدمين لكونها معلومة عندهم بالضرورة:
الأول: أن الحجاب (تغطية الوجه) إنما هو فرض على النساء الحرائر دون الإماء (الجواري المملوكات) وهذا أحدث اللبس عند المتأخرين فيما ورد في بعض الأحاديث والآثار من كشف بعض النساء لوجوههن لكونهن من الإماء؛ فاستشهدوا بها على جواز الكشف للحرائر من النساء!!
الثاني: أن هناك فئات من الذكور الأجانب لم يفرض على النساء الحرائر الاحتجاب منهم، ولم ينههم الشرع من الدخول عليهن في البيوت ورؤيتهن دون حجاب، وهم: العبيد المملوكون، والتابعون غير أولي الإربة، ومن لم يبلغ الحلم من الأحرار، وهذا أحدث اللبس عند المتأخرين فيما ورد من إباحة نظر هؤلاء الأجانب للوجه والكفين من المرأة.
জিলবাব নিচু করে লটকে দেওয়া (إدناء الجلابيب); আর উবাইদাহ আস-সালমানী ছিলেন জ্যেষ্ঠ তাবেয়ীদের (التابعين) অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের মধ্যকার এমন একজন ফকীহ (فقهاء), যিনি আলী ইবনে আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন; তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت) এবং মুখাদরাম (مخضرم)।
*
সপ্তম: ভাষাবিদ (لغويين), ফকীহ (فقهاء), মুহাদ্দিস (محدثين) এবং মুফাসসিরগণের (مفسرين) সম্মিলিত মতে—জিলবাবের মাধ্যমে এ’তিজার (الاعتجار), তাকান্নু (التقنع) এবং তালফ্ফু (التلفع) করার অর্থ হলো মুখমণ্ডল আবৃত করা; আর এটি হলো জিলবাব নিচু করে লটকে দেওয়ার (إدناء الجلباب) সেই রূপগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার প্রতি জিলবাব সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হওয়ার পর নারীরা দ্রুত ধাবিত হয়েছিলেন।*
অষ্টম: শরয়ি দুটি বিধান রয়েছে যা পরবর্তী সময়ের (المتأخرين) অধিকাংশ আলিম এড়িয়ে গেছেন, এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের গ্রন্থাবলিতে এর প্রভাব বিলুপ্ত হয়ে গেছে; আর পূর্ববর্তীগণের (المتقدمين) কেউ কেউ এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেননি কারণ বিষয়টি তাঁদের নিকট স্বতঃসিদ্ধভাবে (معلومة بالضرورة) পরিচিত ছিল:
প্রথম: হিজাব বা মুখমণ্ডল আবৃত করা কেবল স্বাধীন নারীদের জন্য ফরজ (فرض), দাসীদের (إماء) জন্য নয়। এটিই পরবর্তীকালের আলিমদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে—যখন কিছু হাদিস ও আছারে (آثار) কিছু নারীর মুখ খোলা রাখার বর্ণনা এসেছে, যারা আসলে দাসী ছিলেন; ফলে তাঁরা এগুলোকে স্বাধীন নারীদের মুখমণ্ডল খোলা রাখার বৈধতার দলিল হিসেবে পেশ করেছেন!!
দ্বিতীয়: পরপুরুষদের (أجانب) এমন কিছু শ্রেণি রয়েছে যাদের সামনে পর্দা করা স্বাধীন নারীদের ওপর ফরজ (فرض) করা হয়নি এবং শরয়িভাবে তাদের ঘরে প্রবেশ ও হিজাব ছাড়া নারীদের দেখার ব্যাপারে কোনো নিষেধ নেই। তারা হলো: মালিকানাধীন দাস (عبيد مملوكون), কামনাবাসনামুক্ত (غير أولي الإربة) অধীনস্থ ব্যক্তি এবং স্বাধীনদের মধ্যে যারা এখনো বয়ঃসন্ধিতে (بلغ الحلم) পৌঁছায়নি। এটিই পরবর্তীকালের আলিমদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে যখন তাঁরা এই শ্রেণির পরপুরুষদের (أجانب) জন্য নারীর মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত দেখার বৈধতা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো পেয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
*
تاسعاً: للمرأة الحرّة عورتان:(1)
عورة في النظر؛ وهي تختلف باختلاف الناظرين
(1)، وهم قسمان:
القسم الأول: من استثناهم الله في آية النور، وحدود ما تبديه المرأة لهم تنحصر في مواضع الزينة الباطنة.
والقسم الثاني: من لم يستثن في الآية كالمحارم من الرضاع والمصاهرة، والعبيد المملوكون للغير، والذين لم يبلغوا الحلم من الأحرار، وهؤلاء هم من وقع الخلاف بين الفقهاء في حكم نظرهم للمرأة، فمنهم من أطلق جواز نظره للوجه والكفين من المرأة، ومنهم من قيد الجواز بالحاجة وأمن الفتنة، ومنهم من منع من النظر لغير حاجة لأنه مظنة الفتنة.
كما حصل الخلاف في حكم النظر للإماء (المملوكات اللاتي لم يفرض عليهن الحجاب) فمنهم من أوجب عليهن تغطية الوجه لأنه مظنة الفتنة، ومنهم من لم يوجب عليهن ذلك ولكن قال هو في حقهن مستحب وعلى الرجل غض البصر.
--------------------------------------------
নবম: স্বাধীন নারীর জন্য দুটি সতর (عورة) রয়েছে:(১)
দৃষ্টির ক্ষেত্রে সতর (عورة); যা দর্শকদের ভিন্নতার প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে
(১), আর তারা দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নূরের আয়াতে যাদের ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নারী তাদের সামনে নিজের সৌন্দর্যের যতটুকু প্রকাশ করতে পারবে, তা অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার অঙ্গসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
দ্বিতীয় প্রকার: আয়াতে যাদের ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, যেমন দুগ্ধপানজনিত (الرضاع) ও বৈবাহিক সম্পর্কীয় (المصاهرة) মাহরাম (محارم), অন্যের মালিকানাধীন ক্রীতদাস এবং স্বাধীনদের মধ্য থেকে যারা এখনও বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়নি। নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টির বিধান সম্পর্কে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নারীর মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত দুই হাত দেখার বৈধতাকে নিঃশর্তভাবে বর্ণনা করেছেন; কেউ কেউ এই বৈধতাকে প্রয়োজন এবং ফিতনার (فتنة) আশঙ্কামুক্ত হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন; আবার কেউ কেউ প্রয়োজন ছাড়া তাকানোকে নিষিদ্ধ করেছেন, কারণ এটি ফিতনার (فتنة) আশঙ্কাস্থল।
ঠিক একইভাবে দাসীদের (যাদের ওপর পর্দা বা হিজাব ফরজ করা হয়নি) দেখার বিধানের ব্যাপারেও মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাসীদের জন্য মুখমণ্ডল ঢাকা ওয়াজিব (واجب) করেছেন, কারণ তা ফিতনার (فتنة) আশঙ্কাস্থল। আবার কেউ কেউ তাদের ওপর তা ওয়াজিব (واجب) করেননি, তবে বলেছেন যে এটি তাদের জন্য মুস্তাহাব (مستحب) এবং পুরুষের জন্য দৃষ্টি অবনত রাখা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا مدار الخلاف بين الفقهاء في مسألة النظر؛ وهو الذي بنى عليه الشيخ الألباني رأيه في مسألة تغطية الوجه كما سترى استشهاده بأقوالهم في البحوث القادمة.
(2) و
عورة في الصلاة؛ والمرأة كلها عورة في الصلاة إلا وجهها وكفيها - واختُلف في قدميها - وكون الوجه ليس بعورة في الصلاة؛ لا يعني جواز كشفه للرجال الأجانب، فليست العورة في الصلاة مرتبطة بعورة النظر لا طردا ولا عكسا.
*
عاشراً: أن جميع ما استشهد به الشيخ الألباني من الأحاديث والآثار؛ ليس فيها حجة على جواز كشف الوجه للنساء الحرائر؛ وذلك إما لكون تلك الآثار قبل نزول الحجاب، أو لكون النساء الكاشفات من الإماء المملوكات اللاتي لم يفرض عليهن الحجاب؛ كالجارية الخثعمية، وسبيعة الأسلمية وغيرهن، أو بمن كن يشاركن في الغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لمداواة الجرحى وصنع الطعام من الإماء العجائز؛ كالرّبيع بنت معوّذ، وأم عطّية، وأم سليم.
*
الحادي عشر: عن خالد بن دريك عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن المرأة إذا بلغت المحيض لم يصلح أن يرى منها إلا هذا وهذا وأشار إلى كفه ووجهه).
(1) والذي تحقق أن المراد بهذا الحديث بيان حدود ما يحل للمرأة إظهاره لمن يحل لهم الدخول عليها والنظر إليها دون حجاب من محارم، وعبيد مملوكين ونحوهم.
--------------------------------------------
দৃষ্টিপাতের মাসআলায় ফকিহদের মাঝে মতভেদের কেন্দ্রবিন্দু এটিই; আর এর ওপর ভিত্তি করেই শেখ আলবানী মুখমণ্ডল আবৃত করার মাসআলায় তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন, যেমনটি আপনি আগামী গবেষণাগুলোতে তাদের উক্তি দিয়ে তাঁর উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে দেখতে পাবেন।
(২) ও
সালাতে গোপনীয় অঙ্গ (عورة); আর সালাতের মধ্যে নারী সর্বাঙ্গই গোপনীয় অঙ্গ (عورة), তার মুখমণ্ডল ও দুই কবজি ব্যতীত—তবে তার দুই পা নিয়ে মতভেদ রয়েছে—আর সালাতে মুখমণ্ডল গোপনীয় অঙ্গ (عورة) না হওয়ার অর্থ এই নয় যে, গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে তা প্রকাশ করা জায়েজ। কেননা, সালাতের গোপনীয় অঙ্গ (عورة) এবং দৃষ্টিপাতের গোপনীয় অঙ্গ (عورة) পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত নয়—ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো দিক থেকেই নয়।
*
দশম: শেখ আলবানী যে সকল হাদিস ও বর্ণনা (آثار) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, সেগুলোর কোনোটিতেই স্বাধীন নারীদের মুখমণ্ডল খোলা রাখার বৈধতার স্বপক্ষে কোনো দলিল (حجة) নেই; আর তা হয় এই বর্ণনাগুলো (آثار) হিজাব অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের হওয়ার কারণে, অথবা মুখমণ্ডল উন্মোচনকারী নারীরা সেই সকল ক্রীতদাসী হওয়ার কারণে যাদের ওপর হিজাব ফরজ করা হয়নি; যেমন খাসআমীয়া দাসী, সুবাইআ আল-আসলামিয়াহ এবং অন্যান্যরা, অথবা তারা সেই সকল বৃদ্ধা দাসীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে আহতদের সেবা এবং খাবার তৈরির কাজে অংশগ্রহণ করতেন; যেমন রুবাই বিনতে মুআউবিয, উম্মে আতিয়্যাহ এবং উম্মে সুলাইম।
*
একাদশ: খালিদ ইবনে দুরিইক থেকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নারী যখন ঋতুবতী হওয়ার বয়সে পৌঁছায়, তখন তার এই এবং এই অংশ ব্যতীত অন্য কিছু দেখা সঠিক নয় এবং তিনি তাঁর কবজি ও মুখমণ্ডলের দিকে ইশারা করলেন)।
(১) আর যা সুনিশ্চিত হয়েছে তা হলো, এই হাদিসের উদ্দেশ্য হলো মাহরাম, মালিকানাধীন দাস এবং এই জাতীয় ব্যক্তিবর্গ যাদের জন্য নারীর নিকট প্রবেশ করা এবং হিজাব ছাড়া তাদের দিকে তাকানো জায়েজ, তাদের সামনে নারীর যেটুকু অংশ প্রকাশ করা বৈধ তার সীমা বর্ণনা করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
*
الثاني عشر: أن المراد بقوله تعالى {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} هو ما يجوز للمرأة إظهاره لمن يحل لهم الدخول عليها والنظر إليها دون حجاب ممّن لم يستثن في الآية؛ وهم: العم والخال، والمحرم بالمصاهرة (زوج البنت، وزوج الأم، وابن الزوج، وأبو الزوج)
(1) والمحرم بالرضاع، والعبيد المملوكون للغير، والعبد المملوك إذا كان من أولي الإربة، والصبية المميزون الذين لم يبلغوا الحلم، والنساء غير المسلمات؛ فهؤلاء هم المعنيون بنهي المرأة الحرة عن إبداء زينتها لهم {إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} وليس الرجال الأحرار الأجانب الذين يجب عليها الاحتجاب منهم.
*
الثالث عشر: الثابت في السنة أن الأكسية التي سارعت إلى لبسها النساء عند الخروج امتثالا لآية إدناء الجلابيب هي الأكسية السود؛ كما صح عن أم سلمة رضي الله عنها أنها قالت" لما نزلت هذه الآية {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} خرج نساء الأنصار كأن على رؤوسهن الغربان من أكسية سود يلبسنها"فلا صحة لما استشهد به الشيخ الألباني من الآثار على جواز التجلبب بغير السواد؛ لأن ماورد في الآثار هو ماكانت تلبسه النساء من الأردية في البيوت أمام من أبيح لهم الدخول عليهن دون حجاب من العبيد المملوكين ونحوهم.
--------------------------------------------
*
দ্বাদশ: আল্লাহ তাআলার বাণী {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} এর উদ্দেশ্য হলো যা একজন মহিলার জন্য তাদের সামনে প্রকাশ করা বৈধ যাদের জন্য পর্দার বিধান ছাড়াই তার কাছে প্রবেশ করা এবং তাকে দেখা জায়েয কিন্তু আয়াতে যাদের ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি; তারা হলেন: চাচা ও মামা, বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যারা মাহরাম (المحرم بالمصاهرة) (মেয়ের জামাতা, মায়ের স্বামী, স্বামীর পুত্র এবং শ্বশুড়)
(১), দুগ্ধপানজনিত মাহরাম (المحرم بالرضاع), অন্যের মালিকানাধীন দাস, এবং মালিকানাধীন দাস যদি কামনাবাসনামুক্ত (أولي الإربة) হয়, এবং বিবেকসম্পন্ন বালক (الصبية المميزون) যারা এখনও সাবালকত্ব লাভ করেনি এবং অমুসলিম নারীগণ। মূলত স্বাধীন নারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিদের সামনেই তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে {যা সাধারণত প্রকাশ পায়} বা {إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} অংশটি প্রযোজ্য; এটি সেই স্বাধীন পরপুরুষদের ক্ষেত্রে নয় যাদের থেকে পর্দা করা তার জন্য আবশ্যক (واجب)।
*
ত্রয়োদশ: সুন্নাহর মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত (الثابت) যে, জিলবাব ঝুলিয়ে দেওয়ার আয়াত পালনার্থে মহিলারা বাইরে বের হওয়ার সময় দ্রুততার সাথে যে চাদর পরিধান করেছিলেন তা ছিল কালো রঙের চাদর; যেমন উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "যখন এই আয়াত {তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয়} নাজিল হলো, তখন আনসারী মহিলারা এমনভাবে বের হলেন যেন কালো চাদর পরিধানের কারণে তাদের মাথার ওপর কাক বসে আছে।" সুতরাং শেখ আলবানি কালো রঙ ব্যতীত অন্য রঙের জিলবাব পরিধান করার বৈধতার স্বপক্ষে যেসব আসার (الآثار) থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তা সঠিক নয়; কারণ আসারসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো সেই চাদর যা মহিলারা ঘরের ভেতর তাদের সামনে পরিধান করতেন যাদের জন্য পর্দার বিধান ছাড়াই তাদের নিকট প্রবেশ করা অনুমোদিত ছিল, যেমন মালিকানাধীন দাস এবং তাদের মতো অন্যান্যরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
* وختامها: فإن ديننا دين السماحة والوسطية؛ فلم يمنع المرأة من كشف ما تحتاج إليه من عينيها لرؤية الطريق، ولم يأذن لها بكشف الوجه بأكمله لأنه مظنة الفتنة، وليس في تغطيته مشقة ولا تفويت مصالح لها، وليس فيه عائق دون القيام بواجباتها.
هذا مجمل ما ستجده في مناقشة البحوث التي احتج بها الشيخ الألباني في مسألة الحجاب، والتي تبين منها أن الشيخ الألباني قال قولا شذ فيه، وجانب الحق والصواب، وخالف الأدلة والبراهين، وخالف جماهير العلماء، ومع ذلك فإننا نقول بأن الشيخ معذور بل إن شاء الله مأجور؛ قال شيخ الإسلام ابن تيمية في الفتاوى الكبرى (6/ 93): إن الرجل الجليل الذي له في الإسلام قدم صالح وآثار حسنة وهو من الإسلام وأهله بمكانة عليا، قد تكون منه الهفوة والزلة؛ هو فيها معذور بل مأجور، لا يجوز أن يتّبع فيها مع بقاء مكانته ومنزلته في قلوب المؤمنين.
وقد كان من حسنات ما كتبه الشيخ الألباني في مسألة الحجاب أنه أيقض همة النائمين وأشعل الحماس للبحث، فكان دافعا للغوص في بحور من العلم لم نكن من قبل ننهل من سواحلها، فرحمك الله يا شيخ؛ ركبنا بحر مذهبنا لنبحث فوجدنا بحور المذاهب الأربعة كلها قد تطلعت لآلئها للباحثين عن الحق الذي لم يقصر الأئمة الأُول في بيانه، ولكنه جمود كل جيل على جهد من قبله حتى اندثرت
بعض الحقائق بل وقُلب بعضها؛ إذ إن كل جيل لا ينقل ما يجده عن سابقه برمَّته؛ ولكنه يشرح ويفصِّل حسب فهمه لقول شيخه متأثرا بمتغيرات عصره، ثم يتناقل ذلك من بعدهم على أنه مُراد المصنف الأول وقول صاحب المذهب،
পরিশেষে: আমাদের দ্বীন হলো উদারতা ও মধ্যপন্থার দ্বীন; এটি নারীকে পথ দেখার প্রয়োজনে চোখের যে অংশটুকু খোলা রাখা প্রয়োজন তা থেকে বিরত রাখেনি, আবার তাকে পুরো মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার অনুমতিও দেয়নি। কারণ এটি ফিতনার আশঙ্কা (مظنة الفتنة) উদ্রেককারী। মুখমণ্ডল আবৃত রাখার মধ্যে কোনো ক্লেশ নেই এবং এতে নারীর কোনো স্বার্থও বিঘ্নিত হয় না, এমনকি তার দায়িত্ব পালনেও কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না।
হিজাব বা পর্দার বিষয়ে শেখ আলবানী যেসব গবেষণার ওপর ভিত্তি করে যুক্তি পেশ করেছেন, তার পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ এটিই। যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, শেখ আলবানী এমন একটি কথা বলেছেন যা বিচ্ছিন্ন মত (شذ) হিসেবে গণ্য, তিনি সত্য ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং দলীল-প্রমাণ ও জমহুর ওলামা বা আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠের (جماهير العلماء) মতের বিরোধিতা করেছেন। তা সত্ত্বেও আমরা বলি যে শেখ অপারগ হিসেবে গণ্য (معذور), বরং ইনশাআল্লাহ তিনি সওয়াবপ্রাপ্ত (مأجور)। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (৬/৯৩) গ্রন্থে বলেছেন: ইসলামের জন্য যার নেক কদম ও উত্তম প্রভাব রয়েছে এবং ইসলাম ও ইসলামের অনুসারীদের কাছে যিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, এমন মহান ব্যক্তিরও ভুল-ভ্রান্তি বা বিচ্যুতি (الهفوة) ও স্খলন (الزلة) হতে পারে; সেক্ষেত্রে তিনি অপারগ হিসেবে গণ্য (معذور), এমনকি সওয়াবপ্রাপ্তও (مأجور)। মুমিনদের হৃদয়ে তাঁর মান-মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেও এসব ভুল ও স্খলনের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করা জায়েজ নয়।
হিজাবের মাসআলায় শেখ আলবানীর লেখনীর একটি ইতিবাচক দিক হলো এটি ঘুমন্ত হিম্মতকে জাগিয়ে তুলেছে এবং গবেষণার উৎসাহ প্রজ্বলিত করেছে। এটি ইলমের এমন এক সাগরে ডুব দেওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছে যার উপকূলে আগে আমরা বিচরণ করিনি। হে শেখ! আল্লাহ আপনাকে রহমত দান করুন; আমরা আমাদের মাযহাবের সাগরে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে চার মাযহাবের সকল সাগরকে সত্যসন্ধানীদের জন্য মুক্তা বিচ্ছুরণকারী হিসেবে পেয়েছি। পূর্ববর্তী ইমামগণ সত্য প্রকাশে কোনো ত্রুটি করেননি, কিন্তু পরবর্তী প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যে তাদের পূর্বসূরিদের প্রচেষ্টার ওপর এক ধরণের স্থবিরতা (جمود) তৈরি হয়েছিল, যার ফলে
কিছু সত্য বিলুপ্ত হয়েছে, এমনকি কিছু বিষয় বিকৃত হয়েছে। কারণ প্রতিটি প্রজন্ম তাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে যা পায় তা হুবহু নকল করে না; বরং তারা নিজ নিজ যুগের পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের উস্তাদের বক্তব্যকে নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে। অতঃপর পরবর্তী প্রজন্ম সেটিকে মূল গ্রন্থকার (المصنف الأول) ও মাযহাবের ইমামের (صاحب المذهب) মূল উদ্দেশ্য হিসেবে প্রচার করতে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهو قد يكون خلافه! ولو أن المرجع في مثل هذه المسائل الخلافية هو كتاب الله وما صح عن رسوله صلى الله عليه وسلم وعرض ما في هذه المصنفات عليهما واطراح ما خالفهما؛ لما اندثر الحق، ولما ظهر الجهل ببعض المسائل حتى ساد بين الناس خلاف ما أراد الله وعُمل به على أنه مراد الله وشرعه. كما قال شيخ الإسلام ((والمنقول عن السلف والعلماء يحتاج إلى معرفة بثبوت لفظه ومعرفة دلالته كما يحتاج إلى ذلك المنقول عن الله ورسوله)).
فأسأل الله جل في علاه أن أكون قد وُفقت لهذا في كتابي ووافقت فيه الصواب، فجهدي جهد بشر مقصر، تجاسر وتعرض لما لا يطيق، وتطفل على مائدة الأفاضل، فلست أرى لنفسي منزلة تعد من منازلهم، ولا لذاتي منهل مورد يكون بين مناهلهم؛ وإني بالتقصير لمعترفة، ومن بحر الخطايا لمغترفة، ولكن {مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} الأعراف: 164.
فإن تجدْ عيباً فسُدَّ الخلَلَا
… جَلَّ مَنْ لا عيبَ فيهِ وعلا
وقد خصصت فيه اللون البنفسجي لما نقلته عن الشيخ الألباني من كتابيه "الرد المفحم"و"جلباب المرأة المسلمة"، واللون الأحمر للعناوين والنقاط المهمة، واللون الأخضر لموضع الشاهد من المنقولات التي خصصتها باللون الأسود، واللون الأزرق لتعليقاتي، وإذا توسطت تعليقاتي المنقولات جعلتها بين شرطتين - - وإن تلتها أشرت إلى انتهاء المنقول بـ (اهـ) وذلك حرصا على سهولة وسلامة فهم القارئ،
অথচ বিষয়টি এর বিপরীতও হতে পারে! যদি এই জাতীয় মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে মানদণ্ড হতো আল্লাহ্র কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পক্ষ থেকে যা কিছু বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, আর যদি এই সকল সংকলনসমূহে যা রয়েছে তা সেই দুইয়ের (কুরআন ও সুন্নাহ) নিরিখে যাচাই করা হতো এবং যা তার পরিপন্থী তা বর্জন করা হতো; তবে সত্য বিলুপ্ত হতো না এবং কিছু বিষয়ে অজ্ঞতা এমনভাবে প্রকাশ পেত না যে, শেষ পর্যন্ত মানুষের মাঝে আল্লাহ্র ইচ্ছার বিপরীত বিষয়গুলো প্রচলিত হয়ে যেত এবং সেগুলোকে আল্লাহ্র উদ্দেশ্য ও তাঁর প্রবর্তিত শরীয়াহ মনে করে আমল করা হতো। যেমনটি শাইখুল ইসলাম বলেছেন: "পূর্বসূরি (سلف) এবং আলিমদের থেকে যা কিছু বর্ণিত (منقول) হয়, সেটির শব্দের প্রামাণ্যতা (ثبوت) এবং তার অর্থ নির্দেশ (دلالة) সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন, ঠিক যেমন প্রয়োজন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে বর্ণিত (منقول) বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে।"
তাই আমি সুউচ্চ মর্যাদাবান আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করছি যেন আমি আমার এই গ্রন্থে তাওফিকপ্রাপ্ত হই এবং সত্যের অনুগামী হতে পারি। আমার এই প্রচেষ্টা এক ত্রুটিপূর্ণ মানুষের প্রচেষ্টা, যে দুঃসাহস দেখিয়েছে এবং এমন বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছে যা বহন করার ক্ষমতা তার নেই, এবং সে গুণীজনদের জ্ঞান-মজলিসে অনাহূত হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। আমি নিজের জন্য এমন কোনো মর্যাদা দেখি না যা তাঁদের মর্যাদার সমতুল্য হতে পারে, আর না আমার নিজের জন্য এমন কোনো উৎস দেখি যা তাঁদের জ্ঞান-উৎসসমূহের মাঝে স্থান পেতে পারে। আমি আমার ত্রুটির কথা স্বীকার করছি এবং আমি গুনাহের সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে গ্রহণকারী মাত্র। কিন্তু (এই প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য হলো): {তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ওজর পেশ করার জন্য এবং যেন তারা তাকওয়া অবলম্বন করে} আল-আরাফ: ১৬৪।
যদি কোনো ত্রুটি খুঁজে পান তবে সেই বিচ্যুতি সংশোধন করে দেবেন
… মহান তো কেবল তিনিই, যাঁর কোনো ত্রুটি নেই এবং যিনি সুউচ্চ।
আমি এই গ্রন্থে বেগুনি রঙ নির্দিষ্ট করেছি শাইখ আলবানী-র 'আর-রাদ্দুল মুফহিম' এবং 'জিলবাবুল মারআহ আল-মুসলিমাহ' গ্রন্থদ্বয় থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিগুলোর জন্য; লাল রঙ শিরোনাম এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর জন্য; কালো রঙে নির্দিষ্ট করা উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যকার প্রমাণ (شاهد) এর স্থানের জন্য সবুজ রঙ এবং আমার নিজস্ব মন্তব্যের জন্য নীল রঙ ব্যবহার করেছি। যদি আমার মন্তব্য কোনো উদ্ধৃতির মাঝখানে আসে তবে আমি তা দুটি ড্যাশের - - মাঝে রেখেছি, আর যদি তা উদ্ধৃতির শেষে আসে তবে সমাপ্ত (اهـ) লিখে উদ্ধৃতির সমাপ্তি নির্দেশ করেছি। এটি করা হয়েছে পাঠকের সহজবোধ্যতা এবং সঠিক উপলব্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي تخريج الأحاديث اقتصرت على ذكر الصفحة ورقم الحديث دون ذكر الكتب والأبواب خشية الإطالة، كما أنني لم أضع فهرساً للمراجع اكتفاءً بالهوامش، فأذكر محقق الكتاب -إن وجد- وطبعته والناشر في أول موضع يرد فيه، هذا فيما رجعت فيه إلى الكتاب مباشرة، وما عدا ذلك فمرجعه البرامج التالية:
(1) برنامج: مكتبة التفسير وعلوم القرآن، والمكتبة الألفية للسنة النبوية، ومكتبة الفقه وأصوله، الإصدار الرابع، مركز التراث للبرمجيات.
(2) برنامج الجامع الكبير، الإصدار الخامس، مركز التراث للبرمجيات.
(3) برنامج مكتبة الألباني، الإصدار الثاني.
(4) برنامج المكتبة الشاملة، المكتب التعاوني بالروضة.
أسأل الله بمنّه وكرمه أن ينفع بكتابي هذا عامة المسلمين من حنفية ومالكية وشافعية وحنابلة، وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبته الفقيرة إلى عفو ربها
أمل بنت محمد 22/ 3/1442 هـ
হাদিস চয়নের (تخريج) ক্ষেত্রে দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আমি কিতাব ও অধ্যায়ের নাম উল্লেখ না করে কেবল পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বর উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। তেমনিভাবে পাদটীকাগুলোর ওপর নির্ভর করে আমি তথ্যসূত্রের কোনো আলাদা নির্ঘণ্ট যুক্ত করিনি; বরং যে ক্ষেত্রে আমি সরাসরি মূল কিতাব ব্যবহার করেছি, সেখানে কিতাবটির প্রথম উল্লেখের স্থানে এর গবেষক-সম্পাদকের (محقق) নাম —যদি থাকে— এবং এর সংস্করণ ও প্রকাশকের নাম উল্লেখ করেছি। এ ছাড়া অন্যান্য তথ্যের ক্ষেত্রে নিচের প্রোগ্রামগুলোর ওপর নির্ভর করা হয়েছে:
(1) প্রোগ্রাম: মাকতাবাতুত তাফসির ওয়া উলূমুল কুরআন, মাকতাবাতুল আলফিয়্যাহ লিসুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ এবং মাকতাবাতুল ফিকহ ওয়া উসুলুহু, চতুর্থ সংস্করণ, তুরাস সফটওয়্যার সেন্টার।
(2) আল-জামে আল-কাবীর প্রোগ্রাম, পঞ্চম সংস্করণ, তুরাস সফটওয়্যার সেন্টার।
(3) মাকতাবাতুল আলবানি প্রোগ্রাম, দ্বিতীয় সংস্করণ।
(4) মাকতাবাতুশ শামিলা প্রোগ্রাম, আল-মাকতাবুত তাআউনিলিল দাওয়াহ বির-রাওদাহ।
আমি আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যের উসিলায় প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমার এই কিতাব দ্বারা হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি নির্বিশেষে সকল সাধারণ মুসলিমকে উপকৃত করেন এবং এটিকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
নিজ প্রতিপালকের ক্ষমার মুখাপেক্ষী বান্দী কর্তৃক লিখিত
আমাল বিনতে মুহাম্মাদ, ২২/০৩/১৪৪২ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ــ::
توطئة:: ــ
قال ابن عباس" يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء أقول قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقولون قال أبو بكر وعمر"
(1) فإذا كان هذا كلام ابن عباس لمن عارضه بأبي بكر وعمر وهما هما فما ظنك بقوله لمن يعارض سنن الرسول صلى الله عليه وسلم بإمامه وصاحب مذهبه الذي ينتسب إليه؟ ويجعل قوله معياراً على الكتاب والسنة فما وافقه قبله، وما خالفه رده أو تأوله.
وقال أحمد بن حنبل: عجبت لقوم عرفوا الإسناد وصحته يذهبون إلى رأي سفيان والله تعالى يقول {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} النور: 63 ومراد أحمد أن الفرض والحتم على المؤمن إذا بلغه كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وعلم معنى ذلك في أي شيء كان أن يعمل به ولو خالفه من خالفه.
قال الشافعي: أجمع العلماء على أن من استبانت له سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن له أن يدعها لقول أحد.
--------------------------------------------
ــ::
ভূমিকা:: ــ
ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, "অচিরেই তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে; আমি বলছি যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আর তোমরা বলছ যে আবু বকর ও উমর বলেছেন।"
(1) আবু বকর ও উমর (রাযি.)-এর মতো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে যারা বিরোধিতা করছিল, তাদের সম্পর্কে যদি ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর বক্তব্য এমন হয়, তবে যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতের বিরোধিতা নিজ ইমাম বা সেই মাযহাবের প্রবর্তকের কথার মাধ্যমে করে যার দিকে সে নিজেকে সম্বন্ধিত করে, তাদের ব্যাপারে আপনার ধারণা কী? এবং যে ব্যক্তি তার (ইমামের) কথাকে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করে; যা তার অনুকূলে হয় তা গ্রহণ করে আর যা প্রতিকূলে হয় তা প্রত্যাখ্যান করে বা অপব্যাখ্যা করে।
আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহ.) বলেন: আমি সেই কওমের ব্যাপারে বিস্মিত যারা সনদ (إسناد) এবং এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও সুফিয়ানের মতামতের দিকে ধাবিত হয়। অথচ মহান আল্লাহ বলেন, {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।} (আন-নূর: ৬৩)। আহমদের উদ্দেশ্য হলো, মুমিনের ওপর ফরয ও অপরিহার্য বিষয় হলো যখনই আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত তার কাছে পৌঁছাবে এবং সে তার অর্থ অনুধাবন করবে, তখন যে কোনো বিষয়েই হোক না কেন তাকে সে অনুযায়ী আমল করতে হবে, চাই যে কেউ তার বিরোধিতা করুক না কেন।
ইমাম শাফেঈ (রাহ.) বলেন: ওলামায়ে কেরাম এই মর্মে ঐক্যমত পোষণ (أجمع) করেছেন যে, যার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত সুস্পষ্ট হয়েছে, তার জন্য অন্য কারো কথার খাতিরে তা বর্জন করা বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
سئل أبو حنيفة إذا قلت قولاً وكتاب الله يخالفه؟ قال: اتركوا قولي لكتاب الله، قيل: إذا كان قول الرسول يخالفه؟ قال: اتركوا قولي لخبر الرسول صلى الله عليه وسلم، قيل: إذا كان قول الصحابة يخالفه؟ قال: اتركوا قولي لقول الصحابة.
وروي البيهقي في السنن عن الشافعي أنه قال: إذا قلت قولاً وكان عن النبي صلى الله عليه وسلم خلاف قولي فما يصح من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أولى فلا تقلدوني.
وقال مالك: كل أحد يؤخذ من قوله ويترك إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وكلام الأئمة مثل هذا كثير، لكن المقلِّدين خالفوا ذلك وجمدوا على ما وجدوه في الكتب المذهبية، سواء كان صواباً أم خطأ مع أن كثيرا من هذه الأقوال المنسوبة إلى الأئمة ليست أقوالاً لهم منصوصاً عليها وإنما هي تفريعات ووجوه واحتمالات وقياس على أقوالهم.
(1)--------------------------------------------
আবু হানিফাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "যদি আমি এমন কোনো কথা বলি যা আল্লাহর কিতাবের পরিপন্থী হয় (তখন কী করণীয়)?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাবের সপক্ষে আমার কথা বর্জন করো।" জিজ্ঞাসা করা হলো: "যদি রাসূলুল্লাহর কথা তার পরিপন্থী হয়?" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ (خبر) এর সপক্ষে আমার কথা বর্জন করো।" জিজ্ঞাসা করা হলো: "যদি সাহাবীগণের কথা তার পরিপন্থী হয়?" তিনি বললেন: "সাহাবীগণের কথার সপক্ষে আমার কথা বর্জন করো।"
ইমাম বায়হাকী সুনান গ্রন্থে ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "যদি আমি কোনো কথা বলি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার কথার বিপরীত কিছু বর্ণিত থাকে, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে হাদিসটি সহিহ (صحيح) হবে সেটিই অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য; সুতরাং তোমরা আমার অন্ধ অনুসরণ করো না।"
ইমাম মালিক বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে।"
আইম্মায়ে কিরামের (ইমামগণের) এই জাতীয় বক্তব্য অনেক রয়েছে, কিন্তু অন্ধ অনুসারীগণ এর বিরোধিতা করেছেন এবং মাযহাবী কিতাবসমূহে যা পেয়েছেন তার উপরেই স্থবির হয়ে আছেন, তা সঠিক হোক বা ভুল। অথচ ইমামদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এই কথাগুলোর অনেকগুলোই তাঁদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত কোনো বক্তব্য নয়; বরং এগুলো কেবল শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিশ্লেষণ, দৃষ্টিভঙ্গি, সম্ভাবনা এবং তাঁদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে করা অনুমান মাত্র।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
:: مناقشة البحوث::
ــ::
البحث الأول:: ــآية الجلباب: {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} الأحزاب: 59
قال الشيخ الألباني: يصرُّ المخالفون على أن معنى {يدنين}: يغطِّن وجوههن، وهو خلاف معنى أصل هذه الكلمة: "الإدناء" لغة، وهو التقريب، وهذا هو الإمام الراغب الأصبهاني يقول في "المفردات": " (دنا)، الدنو: القرب
… ويقال: دانيت بين الأمرين وأدنيت أحدهما من الآخر
… "، ثم ذكر الآية. وبذلك فسرها ترجمان القرآن عبد الله بن عباس فيما صح عنه، فقال: " تدني الجلباب إلى وجهها ولا تضرب به"، كما سيأتي تخريجه. اهـ
ثم نقل الشيخ الألباني من كتب فقهاء الحنابلة ما يستشهد به على رأيه هذا فقال: وهو ما جاء في "الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف على مذهب الإمام المبجل أحمد ابن حنبل" للشيخ علاء الدين المرداوي (1/ 452)، قال: "الصحيح من المذهب أن الوجه ليس من العورة" ثم ذكر مثله في الكفين، وهو اختيار ابن قدامة المقدسي في "المغني" (1/ 637) وهو الذي اعتمده وجزم به في كتابه "العمدة".
:: গবেষণাসমূহের আলোচনা ::
ــ::
প্রথম গবেষণা:: ــজিলবাবের আয়াত: {তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} আল-আহযাব: ৫৯
শায়খ আলবানি বলেছেন: বিরোধীরা এই বিষয়ে জেদ ধরেন যে, {ইদনা} বা টেনে দেওয়ার অর্থ হলো: তারা তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখবে। অথচ এটি এই শব্দের মূল ভাষাতাত্ত্বিক অর্থ 'আল-ইদনা' এর পরিপন্থী, যার আভিধানিক অর্থ হলো নিকটবর্তী করা। ইমাম রাগিব আল-আসফাহানি তার 'আল-মুফরাদাত' গ্রন্থে বলেন: "(দানা), আদ-দুনু: নিকটবর্তী হওয়া
… বলা হয়ে থাকে: আমি দুটি বিষয়ের মাঝে নৈকট্য স্থাপন করেছি এবং একটিকে অন্যটির নিকটবর্তী করেছি
… ", এরপর তিনি আয়াতটি উল্লেখ করেছেন। কুরআনের ভাষ্যকার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তাতে তিনি এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: "সে জিলবাবকে তার মুখমণ্ডলের কাছাকাছি আনবে, কিন্তু তা দিয়ে মুখ পেঁচিয়ে বাঁধবে না", যেমনটি সামনে এর তাখরিজ (تخريج) আসবে। সমাপ্ত।
অতঃপর শায়খ আলবানি হাম্বলি ফকিহগণের কিতাবসমূহ থেকে তার এই মতের সপক্ষে উদ্ধৃতি পেশ করে বলেন: এটি শায়খ আলাউদ্দিন আল-মারদাবি রচিত "আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ আলা মাযহাবিল ইমামিল মুবাজ্জাল আহমাদ ইবনে হাম্বল" (১/ ৪৫২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: "মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো মুখমণ্ডল সতর (عورة) এর অন্তর্ভুক্ত নয়।" এরপর তিনি দুই হাতের কবজি সম্পর্কেও অনুরূপ মত উল্লেখ করেছেন। এটিই ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি তার "আল-মুগনি" (১/ ৬৩৭) গ্রন্থে পছন্দ করেছেন এবং এটিই তিনি তার "আল-উমদাহ" গ্রন্থে গ্রহণ করেছেন ও অকাট্যভাবে ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ــ::
مناقشة البحث الأول:: ــ
أولا: قال تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} الأحزاب: 59 أنكر الشيخ الألباني أن هذه الآية تقتضي تغطية الوجه محتجا على رأيه بالمعنى العام للإدناء عند أحد اللغويين وهو قول الراغب الأصبهاني في "المفردات": "دانيت بين الأمرين وأدنيت أحدهما إلى الآخر"! مع أن هذا القول ليس فيه نفي لدلالة هذه الآية على تغطية الوجه؛ فإن إدناء الشيء من الآخر هو تقريبه إليه؛ فإذا كان الجلباب على الرأس فوق الخمار فإلى أي شيء سيقرّب إن لم يقرّب إلى الوجه ويدنا عليه حتى يغطيه؟! ومع ذلك فإن هذا فقط ما احتج به الشيخ الألباني من أقوال أهل اللغة! فإنه قد ثبت عند من هم أئمة في اللغة بأن المراد بالإدناء في الآية تغطية الوجه:
- قال إمام العربية (إمام الكوفة في النحو واللغة) أبو زكريا الفراء (ت 207) في كتابه معاني القرآن (2/ 337): والجلباب؛ الرداء
… عن ابن عون عن ابن سيرين في قوله {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} هكذا: قال تغطّى إحدى عينيها وجبهتها والشّقّ الآخر، إلا العين.
ــ::
প্রথম গবেষণার পর্যালোচনা:: ــ
প্রথমত: মহান আল্লাহ বলেন, {হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের (জিলবাব) একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} আল-আহযাব: ৫৯। শায়খ আলবানি এই আয়াতটি চেহারা ঢাকাকে আবশ্যক করে—একথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জনৈক ভাষাবিদের নিকট 'ইদনা' (إدناء) শব্দের সাধারণ অর্থের মাধ্যমে নিজের মতের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। সেই ভাষাবিদ হলেন রাগেব আল-আসফাহানি, যিনি তাঁর 'মুফরাদাত' গ্রন্থে বলেছেন: "আমি দুটি বিষয়ের মধ্যে নৈকট্য সৃষ্টি করেছি এবং একটিকে অপরটির কাছে নিয়ে এসেছি"! অথচ এই বক্তব্যের মধ্যে চেহারা ঢাকার বিষয়ে এই আয়াতের প্রমাণ বহন করার (دلالة) ক্ষেত্রে কোনো অস্বীকৃতি নেই; কারণ একটি বস্তুকে অপরটির নিকটবর্তী করার অর্থ হলো একে তার কাছে নিয়ে আসা। সুতরাং জিলবাব (চাদর) যদি মাথার ওপর খিমারের (ওড়না) ওপর থাকে, তবে তা যদি চেহারার কাছাকাছি এনে তার ওপর ঝুলিয়ে দিয়ে তাকে ঢেকে না ফেলা হয়, তবে তা আর কিসের নিকটবর্তী করা হবে?! তা সত্ত্বেও, ভাষাবিদদের বক্তব্যের মধ্য থেকে শায়খ আলবানি কেবল এটিকেই দলিল হিসেবে পেশ করেছেন! অথচ যারা ভাষার ইমাম (إمام) হিসেবে স্বীকৃত, তাঁদের নিকট এটা প্রমাণিত যে, আয়াতে 'ইদনা' (إدناء) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো চেহারা ঢাকা:
- আরবি ভাষার ইমাম (إمام) (নাহু ও লুগাত শাস্ত্রে কুফার ইমাম (إمام)) আবু যাকারিয়া আল-ফাররা (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) তাঁর 'মাআনিউল কুরআন' (২/৩৩৭) গ্রন্থে বলেছেন: জিলবাব হলো চাদর
… ইবনে আউন ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বাণী—{তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}—এর ব্যাখ্যায় তিনি এভাবে ইশারা করলেন: তিনি তাঁর একটি চোখ, কপাল এবং চেহারার অন্য পাশ ঢেকে নিলেন, কেবল একটি চোখ ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
- وقال إمام العربية أبو جعفر النحاس النحوي اللغوي المفسّر (ت 338 هـ) في كتابه إعراب القرآن (3/ 325): {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} أي يرخين على وجوههن منه.
- وقال الإمام البارع العلامة أبو القاسم محمود الخوارزمي الزمخشري في تفسيره الكشاف (3/ 560): ومعنى (يدنين عليهن من جلابيبهن) يرخينها عليهن، ويغطين بها وجوههن وأعطافهن. يقال: إذا زل الثوب عن وجه المرأة: أدنى ثوبك على وجهك.
- وقال نظام الدين الحسن بن محمد بن حسين القمي النيسابوري في تفسير غرائب القرآن (5/ 476): ومعنى (يدنين عليهن) يرخين عليهن.
يقال للمرأة إذا زل الثوب عن وجهها أدني ثوبك على وجهك. . . فأمرن بلبس الأردية والملاحف وستر الرأس والوجوه.
- وقال الإمام النحوي المفسر أبو حيان الأندلسي في تفسيره البحر المحيط (7/ 250): (يدنين عليهن) شامل لجميع أجسادهن، أو "عليهن" على وجههن لأن الذي كان يبدو منهن في الجاهلية هو الوجه.
وبذلك يتبين خطأ الشيخ الألباني ومخالفته لما عليه أهل اللغة في تأويلهم لمعنى (يدنين عليهن) بـ (يغطِّين وجوههن) وأنه لا يخالف معنى أصل هذه الكلمة: " الإدناء" لغة.
- আরবি ভাষার ইমাম আবু জাফর আন-নাহহাস আন-নাহবি আল-লুগাভি আল-মুফাসসির (মৃত্যু ৩৩৮ হি.) তাঁর 'ইরাবুল কুরআন' (৩/৩২৫) গ্রন্থে বলেছেন: {তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়} অর্থাৎ তারা যেন তা তাদের মুখমণ্ডলের ওপর ঝুলিয়ে দেয়।
- বিজ্ঞ ইমাম ও আল্লামা আবুল কাসিম মাহমুদ আল-খাওয়ারিজমি আজ-জামাশারি তাঁর তাফসির 'আল-কাশশাফ'-এ (৩/৫৬০) বলেছেন: (তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়)-এর অর্থ হলো তারা যেন তা নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয় এবং এর মাধ্যমে তাদের মুখমণ্ডল ও দেহের পার্শ্বদেশ আবৃত করে। বলা হয়: যখন কোনো নারীর মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরে যায় তখন বলা হয়—তোমার কাপড় তোমার মুখের ওপর টেনে নাও।
- নিজামুদ্দিন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-কুম্মি আন-নিসাবুরি 'তাফসির গারাইবুল কুরআন'-এ (৫/৪৭৬) বলেছেন: (তারা যেন তাদের ওপর টেনে নেয়) এর অর্থ হলো তারা যেন তা নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয়।
কোনো নারীর মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরে গেলে তাকে বলা হয়—তোমার কাপড় তোমার মুখের ওপর টেনে নাও। ... অতঃপর তাদেরকে বড় চাদর ও ওড়না পরিধান করার এবং মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ব্যাকরণবিদ ও মুফাসসির ইমাম আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি তাঁর তাফসির 'আল-বাহরুল মুহিত'-এ (৭/২৫০) বলেছেন: (তারা যেন তাদের ওপর টেনে নেয়) এটি তাদের সমগ্র শরীরকে শামিল করে, অথবা "তাদের ওপর" বলতে তাদের মুখমণ্ডলের ওপর বোঝানো হয়েছে; কারণ জাহেলি যুগে তাদের দেহের যে অংশটি প্রকাশ পেত তা ছিল মুখমণ্ডল।
এর মাধ্যমে শাইখ আল-আলবানির ভুল এবং ভাষাবিদদের অবস্থানের সাথে তাঁর বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়; কেননা ভাষাবিদগণ (তারা যেন তাদের ওপর টেনে নেয়)-এর ব্যাখ্যা (তারা যেন তাদের মুখমণ্ডল আবৃত করে) দ্বারা করেছেন এবং এটি আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই শব্দের মূল অর্থ "আল-ইদনা" (الإدناء)-এর পরিপন্থী নয়।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثانيا: أن الشيخ الألباني أقرّ بأن إدناء الجلابيب يقتضي تغطية الوجه في كتابه جلباب المرأة المسلمة (ص: 152) حيث قال: (ومن هنا يظهر الضابط في نهيه صلى الله عليه وسلم عن تشبه الرجال بالنساء، وعن تشبه النساء بالرجال، وأن الأصل في ذلك ليس هو راجعا إلى مجرد ما تختاره الرجال والنساء ويشتهونه ويعتادونه، فإنه لو كان كذلك؛ لكان إذا اصطلح قوم على أن يلبس الرجال الخمر التي تغطي الرأس والوجه والعنق، والجلابيب التي تسدل من فوق الرءوس حتى لا يظهر من لابسها إلا العينان! وأن تلبس النساء العمائم والأقبية المختصرة ونحو ذلك أيكون هذا سائغا! فإن هذا خلاف النص والإجماع، فإن الله تعالى قال للنساء: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} النور: 31 وقال: {قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} الأحزاب: 59).اهـ
ثالثا: أن الشيخ الألباني قد احتج على قوله بالمعنى العام للإدناء عند أحد اللغويين؛ ولم يذكر ما اتفق عليه المفسرين في أكثر من أربعين كتابا في التفسير من تفسير هذه الآية بتغطية الوجه بناء على ما ورد فيها من أحاديث وآثار، ولم يتطرق لأي قول من أقوالهم في تفسير هذه الآية!! وقد كان من الأولى في تفسير آية من القرآن الرجوع إلى
تأويلها في كتب التفسير، ثم الاستئناس بما يوافق هذا التفسير من كتب اللغة.
দ্বিতীয়ত: শেখ আলবানী তাঁর ‘জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ’ (পৃষ্ঠা: ১৫২) গ্রন্থে স্বীকার করেছেন যে, জিলবাব ঝুলিয়ে দেওয়া মুখমণ্ডল আবৃত করাকে আবশ্যক করে। সেখানে তিনি বলেছেন: (এখান থেকেই পুরুষদের নারীর বেশ ধারণ করা এবং নারীদের পুরুষের বেশ ধারণ করা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞার মূলনীতি স্পষ্ট হয়। আর এই বিষয়ের মূল ভিত্তি কেবল পুরুষ ও নারীদের পছন্দ, কামনা বা অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল নয়। কেননা যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে কোনো সম্প্রদায় যদি এই বিষয়ে একমত হতো যে পুরুষরা এমন খিমার পরিধান করবে যা মাথা, মুখমণ্ডল ও ঘাড় আবৃত করে এবং এমন জিলবাব পরিধান করবে যা মাথা থেকে নিচে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় যাতে পরিধানকারীর কেবল দুই চোখ ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ না পায়! আর নারীরা পাগড়ি ও সংকীর্ণ আংরাখা এবং অনুরূপ পোশাক পরিধান করবে—তবে কি এটি বৈধ হতো! এটি তো স্পষ্ট দলিল (نص) এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع)-এর পরিপন্থী। কেননা আল্লাহ তাআলা নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {তারা যেন তাদের মাথার ওড়না দিয়ে তাদের বক্ষদেশ আবৃত করে} আন-নূর: ৩১। এবং তিনি আরও বলেছেন: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} আল-আহজাব: ৫৯)। সমাপ্ত।
তৃতীয়ত: শেখ আলবানী জনৈক ভাষাবিদের দেওয়া ‘ইদনা’ (ঝুলিয়ে দেওয়া) শব্দের সাধারণ অর্থের ভিত্তিতে নিজের মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন; কিন্তু এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুখমণ্ডল আবৃত করার ব্যাপারে চল্লিশটিরও বেশি তাফসির গ্রন্থে মুফাসসিরগণ যে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তা তিনি উল্লেখ করেননি। অথচ এই ব্যাখ্যাগুলো আয়াতটি সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস এবং সাহাবীদের বর্ণনা (آثار)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে। তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের কোনো উক্তিই আলোচনা করেননি!! অথচ কুরআনের কোনো আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রথমে তাফসির গ্রন্থসমূহের ব্যাখ্যা (تأويل) অনুসরণ করাই ছিল অধিকতর শ্রেয়, এবং পরবর্তীতে ভাষাভিধানের গ্রন্থসমূহ থেকে সেই ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের সাহায্য নেওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وسأنقل أقوال المفسرين في تفسير هذه الآية {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} الأحزاب: 59 ليتبين إتفاقهم على أن المراد بالإدناء في هذه الآية هو تغطية الوجه:
* قال إمام المفسرين محمد بن جرير الطبري (ت 310 هـ): يقول تعالى ذكره لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم يا أيها النبي قل لأزواجك وبناتك ونساء المؤمنين لا يتشبهن بالإماء في لباسهن إذا هن خرجن من بيوتهن لحاجتهن فكشفن شعورهن ووجوههن ولكن ليدنين عليهن من جلابيبهن لئلا يعرض لهن فاسق.
(1)* قال الإمام أبو بكر الجصاص الحنفي (ت 370 هـ): في هذه الآية دلالة على أن المرأة الشابة مأمورة بستر وجهها عن الأجنبيين وإظهار الستر والعفاف عند الخروج لئلا يطمع أهل الريب فيهن.
(2)* قال الإمام أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن أبي زمنين (ت 399 هـ): يدنين عليهن من جلابيبهن والجلباب الرداء يعني يتقنعن به.
(3)* قال الإمام أبو إسحاق أحمد بن محمد الثعلبي النيسابوري (ت 427 هـ): أي يرخين أرديتهن وملاحفهن فيتقنعن بها ويغطين وجوههن ورؤوسهن.
(4)--------------------------------------------
আর আমি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করব {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} আল-আহজাব: ৫৯; যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই আয়াতে 'টেনে দেয়া' বলতে মুখমণ্ডল আবৃত করা বুঝানোর ব্যাপারে তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন:
* ইমামুল মুফাসসিরীন মুহাম্মাদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (ওফাত ৩১০ হি.) বলেন: মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শানে বলেন—হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন নিজেদের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পোশাক-পরিচ্ছদে দাসীদের সদৃশ না হয়, যেখানে তারা তাদের চুল ও মুখমণ্ডল খোলা রাখে; বরং তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়, যাতে কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তাদের উত্ত্যক্ত না করে।
(১)* ইমাম আবু বকর আল-জাসসাস আল-হানাফী (ওফাত ৩৭০ হি.) বলেন: এই আয়াতে এই বিষয়ের দলিল রয়েছে যে, যুবতী নারীকে পরপুরুষের সামনে তার মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার এবং বাইরে বের হওয়ার সময় পর্দা ও পবিত্রতা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পাপাচারী লোকেরা তাদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি না দেয়।
(২)* ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি যামানীন (ওফাত ৩৯৯ হি.) বলেন: (তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়) আর জিলবাব হলো বড় চাদর, অর্থাৎ তারা এর মাধ্যমে নিজেদের আবৃত করবে।
(৩)* ইমাম আবু ইসহাক আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আস-সা’লাবী আন-নাইসাবুরী (ওফাত ৪২৭ হি.) বলেন: অর্থাৎ তারা তাদের চাদর ও ওড়নাগুলো ঝুলিয়ে দেবে, ফলে তারা এর দ্বারা নিজেদের আবৃত করবে এবং তাদের মুখমণ্ডল ও মাথা ঢেকে রাখবে।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
* قال الإمام أبو محمد مكي بن أبي طالب القيسي القرطبي المالكي (ت 437 هـ): أي قل لهن يرخين عليهن أرديتهن لئلا يشتبهن بالإماء في لباسهن إذا خرجن لحاجتهن فيكشفن شعورهن ووجوههن ولكن يدنين عليهن من جلابيبهن.
(1)* قال الإمام علي بن أحمد الواحدي أبو الحسن (ت 468 هـ): قال المفسرون: يغطين رءوسهن ووجوهن إلا عينا واحدة.
(2)* قال الإمام أبو المظفر منصور السمعاني (ت 489 هـ): أي يشتملن بالجلابيب قال عبيدة السلماني تتغطى المرأة بجلبابها فتستر رأسها ووجهها وجميع بدنها إلا إحدى عينيها.
(3)* قال الإمام الفقيه أبو الحسن عماد الدين المعروف بـ "الكيا الهراس"
(4) (ت 504 هـ): فأمرهن بتغطية وجوههن ورؤوسهن،، ولم يوجب على الإماء ذلك.
(5)* قال الإمام أبو الحسين البغوي (ت 516 هـ): الجلباب وهو الملاءة التي تشتمل بها المرأة فوق الدرع والخمار، وقال ابن عباس وأبو عبيدة أمر نساء المؤمنين أن يغطين رؤوسهن ووجوههن بالجلابيب إلا عينا واحدة.
(6)--------------------------------------------
* ইমাম আবু মুহাম্মদ মক্কি বিন আবি তালিব আল-কাইসি আল-কুরতুবি আল-মালিকি (মৃত্যু ৪৩৭ হি.) বলেন: অর্থাৎ তাদের বলুন যেন তারা তাদের চাদরগুলো নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয়, যাতে তারা যখন নিজেদের প্রয়োজনে বের হবে, তখন তাদের পোশাকের মাধ্যমে যেন তারা দাসীদের সাথে সদৃশ না হয়ে যায় এবং তারা যেন তাদের চুল ও চেহারা প্রকাশ না করে। বরং তারা তাদের জিলবাবের (চাদরের) কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে নেবে।
(1)* ইমাম আলি বিন আহমদ আল-ওয়াহিদি আবুল হাসান (মৃত্যু ৪৬৮ হি.) বলেন: মুফাসসিরগণ বলেন: তারা তাদের মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে রাখবে, শুধুমাত্র একটি চোখ ব্যতীত।
(2)* ইমাম আবু আল-মুজাফফর মানসুর আস-সামআনি (মৃত্যু ৪৮৯ হি.) বলেন: অর্থাৎ তারা জিলবাব (চাদর) দ্বারা নিজেদের আবৃত করবে। উবাইদাহ আস-সালমানি বলেন, নারী তার জিলবাব দিয়ে নিজেকে এমনভাবে ঢেকে নেবে যে, সে তার মাথা, মুখমণ্ডল এবং পুরো শরীর আবৃত করবে, শুধুমাত্র একটি চোখ ব্যতীত।
(3)* ইমাম ফকিহ আবুল হাসান ইমাদ উদ্দিন, যিনি "আল-কিয়া আল-হাররাসি"
(4) (মৃত্যু ৫০৪ হি.) নামে পরিচিত, তিনি বলেন: তিনি (আল্লাহ) তাদের মুখমণ্ডল ও মাথা ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাসীদের ওপর এটি আবশ্যক করেননি।
(5)* ইমাম আবু আল-হুসাইন আল-বাগাউয়ি (মৃত্যু ৫১৬ হি.) বলেন: জিলবাব হলো সেই চাদর যা একজন নারী তার জামা ও ওড়নার ওপর দিয়ে পরিধান করে। ইবনে আব্বাস ও আবু উবাইদাহ বলেন, মুমিন নারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাদের জিলবাবের মাধ্যমে তাদের মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে, শুধু একটি চোখ ব্যতীত।
(6)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
* قال العلامة أبو القاسم الزمخشري الحنفي (ت 538 هـ): يرخينها عليهن ويغطين بها وجوههن وأعطافهن.
(1)* قال الإمام بن عطية الأندلسي (ت 546 هـ) والإمام أبو عبد الله القرطبي المالكي (ت 671 هـ): لما كانت عادة العربيات التبذل وكن يكشفن وجوههن كما يفعل الإماء وكان ذلك داعية إلى نظر الرجال إليهن وتشعب الفكر فيهن؛ أمر الله تعالى رسوله صلى الله عليه وسلم بأمرهن بإدناء الجلابيب.
(2)* قال الإمام القاضي عبد الله بن عمر البيضاوي الشافعي (ت 685 هـ): يغطين وجوههن وأبدانهن بملاحفهن إذا برزن لحاجة.
(3)* قال الإمام عبد الله بن أحمد النسفي الحنفي (ت 710 هـ): يرخينها عليهن، ويغطين بها وجوههن وأعطافهن، يقال إذا زال الثوب عن وجه المرأة أدني ثوبك على وجهك.
(4)* قال شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن تيمية الحراني (ت 728 هـ): قبل أن تنزل آية الحجاب كان النساء يخرجن بلا جلباب يرى الرجل وجهها
--------------------------------------------
* আল্লামা আবুল কাসিম আল-জামাখশারি আল-হানাফি (মৃত্যু ৫৩৮ হি.) বলেন: তারা যেন তা (চাদর) নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয় এবং এর মাধ্যমে তাদের মুখমণ্ডল ও দেহের উপরিভাগ (কাঁধ) আবৃত করে।
(১)* ইমাম ইবনে আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৫৪৬ হি.) এবং ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-কুরতুবি আল-মালিকি (মৃত্যু ৬৭১ হি.) বলেন: যেহেতু আরব নারীদের সাধারণ অভ্যাস ছিল সাদাসিধেভাবে চলাফেরা করা এবং তারা দাসীদের মতো তাদের মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখত, যা পুরুষদের তাদের দিকে তাকানো এবং তাদের নিয়ে চিন্তার বিক্ষিপ্ততা তৈরি করার কারণ ছিল; তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাদের জিলবাব (চাদর) ঝুলিয়ে রাখার আদেশ দেন।
(২)* ইমাম কাজি আবদুল্লাহ বিন উমর আল-বায়দ্বাবি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৬৮৫ হি.) বলেন: তারা যখন কোনো প্রয়োজনে বাইরে বের হবে, তখন যেন তাদের চাদর দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল ও দেহ আবৃত করে।
(৩)* ইমাম আবদুল্লাহ বিন আহমদ আন-নাসাফি আল-হানাফি (মৃত্যু ৭১০ হি.) বলেন: তারা যেন তা নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেয় এবং এর মাধ্যমে তাদের মুখমণ্ডল ও দেহের উপরিভাগ (কাঁধ) আবৃত করে। বলা হয়, যখন কোনো নারীর মুখ থেকে কাপড় সরে যায় তখন (তাকে বলা হয়), 'তোমার কাপড় তোমার মুখের ওপর টেনে দাও'।
(৪)* শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি (মৃত্যু ৭২৮ হি.) বলেন: পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার আগে মহিলারা জিলবাব ছাড়াই বের হতেন এবং পুরুষরা তাদের চেহারা দেখতে পেত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ويديها ثم أنزل الله آية الحجاب بقوله {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ}
… فحجب النساء عن الرجال.
(1)* قال الإمام علاء الدين علي بن محمد أبو الحسن البغدادي، الشهير بالخازن (ت 741 هـ): أي يرخين ويغطين {عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} قال ابن عباس: أمر نساء المؤمنين أن يغطين رؤوسهن ووجوههن بالجلابيب إلا عينا واحدة.
(2)* قال العلامة محمد بن أحمد بن جزي الكلبي الغرناطي المالكي (ت 741 هـ): كان نساء العرب يكشفن وجوههن كما تفعل الإماء، وكان
ذلك داعيا إلى نظر الرجال لهن، فأمرهن الله بإدناء الجلابيب ليسترن بذلك وجوههن.
(3)* قال الإمام النحوي المفسر أبو حيان الأندلسي (ت 745 هـ): أمرن أن يخالفن بزيهن عن زي الإماء بلبس الأردية وستر الرؤوس والوجوه ليحتشمن ويهبن.
(4)* قال أبو محمد بدر الدين المرادي المصري المالكي (ت 749 هـ): والمعنى يغطين بها وجوههن وأبدانهن وقت خروجهن من بيوتهن لحاجة ولا يخرجن مكشوفات الوجوه والأبدان كالإماء.
(5)--------------------------------------------
এবং তাঁর হাতসমূহ; অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে পর্দার আয়াত নাজিল করেন: {হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে এবং মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}
… এর ফলে নারীদের পুরুষদের নিকট থেকে পর্দার আড়ালে রাখা হয়।
(1)* ইমাম আলাউদ্দিন আলী বিন মুহাম্মদ আবু আল-হাসান আল-বাগদাদি, যিনি আল-খাজিন (ওফাত ৭৪১ হিজরি) নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন: অর্থাৎ তারা যেন চাদর ঝুলিয়ে দেয় এবং ঢেকে রাখে {তাদের ওপর তাদের চাদরের কিয়দংশ}। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: মুমিনদের নারীদের আদেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাদের চাদর দিয়ে তাদের মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে, কেবল একটি চোখ ব্যতীত।
(2)* আল্লামা মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুযাই আল-কালবি আল-গারনাতি আল-মালিকি (ওফাত ৭৪১ হিজরি) বলেন: আরব নারীরা দাসীদের ন্যায় তাদের মুখমণ্ডল অনাবৃত রাখত, যা ছিল পুরুষদের তাদের দিকে তাকানোর একটি কারণ। তাই আল্লাহ তাদের চাদর ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা এর মাধ্যমে তাদের মুখমণ্ডল আবৃত রাখতে পারে।
(3)* ইমাম, ব্যাকরণবিদ ও মুফাসসির আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (ওফাত ৭৪৫ হিজরি) বলেন: তাদের চাদর পরিধান এবং মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করার মাধ্যমে দাসীদের পোশাক থেকে নিজেদের পোশাককে ভিন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা লজ্জাশীলতা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখতে পারে।
(4)* আবু মুহাম্মদ বদরুদ্দিন আল-মুরাদি আল-মিসরি আল-মালিকি (ওফাত ৭৪৯ হিজরি) বলেন: এর অর্থ হলো, তারা প্রয়োজনে যখন ঘর থেকে বের হবে তখন চাদর দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল ও শরীর ঢেকে রাখবে এবং দাসীদের মতো মুখমণ্ডল ও শরীর অনাবৃত রেখে বের হবে না।
(5)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু কাশফিল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
* قال الإمام الحافظ إسماعيل بن عمر بن كثير الشافعي (ت 774 هـ): الجلباب هو الرداء فوق الخمار
… قال ابن عباس أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن.
(1)* قال الشيخ عبد الرحمن بن محمد بن مخلوف الثعالبي (ت 875 هـ): أي يرخين أرديتهن وملاحفهن فيتقنّعن بها ويغطين وجوههن ورؤوسهن.
(2)* قال الإمام محمد بن عبد الرحمن الحسيني الإيجي الشافعي (ت 905 هـ): يعني يرخينها عليهن ويغطين وجوههن وأبدانهن.
(3)* تفسير الجلالين المحلي والسيوطي (ت 911 هـ): أي يرخين بعضها على الوجوه إذا خرجن لحاجتهن إلا عيناً واحدة.
(4)* قال الشيخ أبو السعود العمادي (ت 951 هـ): أي يغطين بها وجوههن وأبدانهن إذا برزن لداعية من الدواعي.
(5)* قال الإمام إسماعيل حقي بن مصطفى الإستانبولي الحنفي (ت 1127 هـ): والمعنى يغطين بها وجوههن وأبدانهن وقت خروجهن من بيوتهن لحاجة.
(6)--------------------------------------------
* ইমাম হাফিজ (الحافظ) ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৭৭৪ হি.) বলেছেন: জিলবাব হলো খিমারের ওপর পরিহিত চাদর
… ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ মুমিন নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন তারা তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে।
(১)* শায়খ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাখলুফ আস-সাআলিবি (মৃত্যু ৮৭৫ হি.) বলেছেন: অর্থাৎ তারা তাদের চাদর ও আচ্ছাদন ঝুলিয়ে দেবে এবং তা দিয়ে ঘোমটা টেনে নিজেদের মুখমণ্ডল ও মাথা ঢেকে নেবে।
(২)* ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হুসাইনি আল-ইজি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৯০৫ হি.) বলেছেন: অর্থাৎ তারা তা নিজেদের ওপর ঝুলিয়ে দেবে এবং তাদের মুখমণ্ডল ও শরীর ঢেকে নেবে।
(৩)* তাফসিরুল জালালাইন, আল-মাহাল্লি ও আস-সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হি.): অর্থাৎ তারা যখন প্রয়োজনে বের হবে তখন তার (জিলবাবের) কিয়দাংশ চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দেবে, কেবল একটি চোখ ব্যতীত।
(৪)* শায়খ আবুস সউদ আল-ইমাদি (মৃত্যু ৯৫১ হি.) বলেছেন: অর্থাৎ যখন তারা কোনো প্রয়োজনে বের হবে, তখন তা দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল ও শরীর ঢেকে নেবে।
(৫)* ইমাম ইসমাইল হাক্কি ইবনে মুস্তফা আল-ইস্তাম্বুলি আল-হানাফি (মৃত্যু ১১২৭ হি.) বলেছেন: আর অর্থ হলো, তারা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তা দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল ও শরীর ঢেকে নেবে।
(৬)--------------------------------------------