(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
المناظرة في القرآن   (ابن قدامة)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: حكاية المناظرة في القرآن مع بعض أهل البدعة

المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620هـ)

المحقق: عبد الله يوسف الجديع

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض

الطبعة: الأولى، 1409

عدد الصفحات: 62

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরআন বিষয়ে বিতর্ক   (ইবনে কুদামা)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: কতিপয় বিদআতীর (أهل البدعة) সাথে কুরআন বিষয়ে বিতর্কের বিবরণ

লেখক: আবু মুহাম্মদ মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-জামায়িলি আল-মাকদিসি অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি হিসেবে সুপরিচিত (মৃত্যু ৬২০ হিজরী)

গবেষক: আবদুল্লাহ ইউসুফ আল-জুদি’

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৯

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْفَقِيه موفق الدّين شيخ الاسلام مفتي الْأَنَام سيد الْعلمَاء أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن قدامَة الْمَقْدِسِي رضي الله عنه وأرضاه

 

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلى الله على مُحَمَّد النَّبِي وَآله أَجْمَعِينَ أما بعد فَإِنَّهُ‌‌ تكَرر سُؤال بعض أَصْحَابنَا عَن حِكَايَة مناظرة جرت بيني وَبَين بعض أهل الْبِدْعَة فِي الْقُرْآن فَخفت من الزِّيَادَة وَالنُّقْصَان فَرَأَيْت أَن أذكر ذَلِك على غير سَبِيل الْحِكَايَة كي لَا تكون الزِّيَادَة فِي الْحجَج والأجوبة عَن شبههم كذبا مَعَ تضمن ذَلِك لأكْثر مَا جرى إِن شَاءَ الله سُبْحَانَهُ وَالله الْمُوفق والمعين وَهُوَ حَسبنَا وَنعم الْوَكِيل فَنَقُول مَوضِع الْخلاف أننا نعتقد أَن الْقُرْآن كَلَام الله وَهُوَ هَذِه الْمِائَة والأربع عشرَة سُورَة أَولهَا سُورَة الْفَاتِحَة وَآخِرهَا المعوذات وانه سور وايات وحروف وكلمات متلو مسموع مَكْتُوب وَعِنْدهم أَن هَذِه السُّور والآيات لَيست بقرآن وَإِنَّمَا هِيَ عبارَة عَنهُ وحكاية
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, ফকিহ, মুয়াফফাকুদ্দীন, শাইখুল ইসলাম, জনগণের মুফতি, ওলামাদের নেতা আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন) বলেছেন:

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবারের ওপর। অতঃপর, আমাদের কিছু সাথী বারবার আমার এবং জনৈক বিদআতি (أهل البدعة)-এর মাঝে সংঘটিত একটি বিতর্কের বিবরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন কুরআন বিষয়ে। তাই আমি (বর্ণনায়) কোনো বৃদ্ধি বা ঘাটতি হওয়ার ভয় পাচ্ছিলাম। ফলে আমি এটি নিছক গল্প বলার ভঙ্গিতে বর্ণনা না করে অন্যভাবে উল্লেখ করা সমীচীন মনে করলাম, যাতে তাদের সংশয়গুলোর উত্তর এবং দলিলসমূহের অতিরিক্ত বর্ণনা মিথ্যা হিসেবে গণ্য না হয়। এতে ইনশাআল্লাহ যা কিছু ঘটেছিল তার অধিকাংশ বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক। সুতরাং আমরা বলছি, মতভেদের মূল বিষয়টি হলো—আমরা বিশ্বাস করি যে কুরআন আল্লাহর কালাম; আর তা হলো এই একশত চৌদ্দটি সূরা, যার শুরু সূরা আল-ফাতিহা এবং শেষ আল-মুআউওয়িযাত দিয়ে। এটি সূরা, আয়াত, অক্ষর ও শব্দ দ্বারা গঠিত, যা তিলাওয়াত করা হয়, শোনা যায় এবং লিখিত অবস্থায় থাকে। কিন্তু তাদের মতে এই সূরা ও আয়াতগুলো কুরআন নয়, বরং এগুলো কেবল কুরআনের বহিঃপ্রকাশ বা বর্ণনা মাত্র।
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
وانها مخلوقة وَأَن الْقُرْآن معنى فِي نفس الْبَارِي وَهُوَ شَيْء وَاحِد لَا يتَجَزَّأ وَلَا يَتَبَعَّض وَلَا يَتَعَدَّد وَلَا هُوَ شَيْء ينزل وَلَا يُتْلَى وَلَا يسمع وَلَا يكْتب وَأَنه لَيْسَ فِي الْمَصَاحِف إِلَّا الْوَرق والمداد وَاخْتلفُوا فِي هَذِه السُّور الَّتِي هِيَ الْقُرْآن فَزعم بَعضهم انها عبارَة جِبْرِيل عليه السلام هُوَ الَّذِي ألفها بإلهام الله تَعَالَى لَهُ ذَلِك وَزعم آخَرُونَ مِنْهُم أَن الله تَعَالَى خلقهَا فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ فَأَخذهَا جِبْرِيل مِنْهُ وَاحْتَجُّوا على كَون هَذِه السُّور مخلوقة بِأَنَّهَا تَتَعَدَّد وَلَا يَتَعَدَّد إِلَّا الْمَخْلُوق وَهَذَا يبطل بِصِفَات الله تَعَالَى فَإِنَّهَا صِفَات مُتعَدِّدَة مِنْهَا السّمع وَالْبَصَر وَالْعلم والإرادة وَالْقُدْرَة والحياة والكلالام وَلَا خلاف فِي أَنَّهَا قديمَة وَكَذَلِكَ أَسمَاء الله تَعَالَى فَإِنَّهَا مُتعَدِّدَة قَالَ الله تَعَالَى {وَللَّه الْأَسْمَاء الْحسنى فَادعوهُ بهَا وذروا الَّذين يلحدون فِي أَسْمَائِهِ} الاعراف 180 وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن لله تَعَالَى تِسْعَة تسعون اسْما مائَة إِلَّا وَاحِدًا من أحصاها

এবং তা সৃষ্ট (مخلوقة); আর কুরআন হলো স্রষ্টার সত্তাগত একটি অর্থ (معنى), যা একটি একক বিষয়—তা খণ্ডিত হয় না, বিভক্ত হয় না এবং সংখ্যাত হয় না। তা এমন কোনো বিষয় নয় যা অবতীর্ণ হয়, তিলাওয়াত করা হয়, শ্রুত হয় কিংবা লিখিত হয়। আর মাসহাফসমূহে কেবল কাগজ ও কালি ব্যতিরেকে আর কিছুই নেই। এই সূরাসমূহ যা কুরআন হিসেবে পরিচিত, সে ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন; তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এগুলো জিবরাঈল আলাইহিস সালামের অভিব্যক্তি (عبارة), আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ইলহাম প্রাপ্ত হয়ে তিনিই এগুলো বিন্যস্ত করেছেন। আবার তাদের অন্য পক্ষ দাবি করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা এগুলো লাওহে মাহফুজে সৃষ্টি করেছেন এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সেখান থেকে তা গ্রহণ করেছেন। তারা এই সূরাগুলো সৃষ্ট (مخلوقة) হওয়ার সপক্ষে এই দলিল পেশ করেছেন যে, এগুলোর সংখ্যা একাধিক, আর সৃষ্ট (مخلوق) বস্তু ছাড়া অন্য কিছু একাধিক হয় না। অথচ আল্লাহ তাআলার গুণাবলির (صفات) দ্বারা এই যুক্তি বাতিল হয়ে যায়, কেননা তাঁর গুণাবলিও তো সংখ্যায় একাধিক—যেমন: শ্রবণ (السمع), দর্শন (البصر), জ্ঞান (العلم), ইচ্ছা (الإرادة), শক্তি (القدرة), জীবন (الحياة) এবং কালাম (الكلام)। অথচ এই গুণাবলিগুলো যে অনাদি (قديمة) সে ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার নামসমূহও (أسماء) সংখ্যায় একাধিক। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ (الأسماء الحسنى); সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো এবং তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে বক্রতা অবলম্বন করে।" [সূরা আল-আরাফ: ১৮০]। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশত; যে ব্যক্তি তা গণনা করবে..."

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
دخل الْجنَّة فَثَبت تعدادها بِالْكتاب وَالسّنة الْإِجْمَاع وَهِي قديمَة وَقد نَص الشَّافِعِي رحمه الله على أَن أَسمَاء الله تَعَالَى غير مخلوقة وَقَالَ احْمَد رحمه الله من زعم ان اسماء الله تَعَالَى مخلوقة فقد كفر وَكَذَلِكَ كَلِمَات الله تَعَالَى مُتعَدِّدَة قَالَ الله تَعَالَى {قل لَو كَانَ الْبَحْر مدادا لكلمات رَبِّي لنفد الْبَحْر قبل أَن تنفد كَلِمَات رَبِّي وَلَو جِئْنَا بِمثلِهِ مدَدا} الْكَهْف 109 وَهِي قديمَة وَكَذَلِكَ كتب الله تَعَالَى فَإِن التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور وَالْقُرْآن مُتعَدِّدَة وَهِي غير مخلوقة وَإِن قَالُوا هِيَ مخلوقة فقد قَالُوا بِخلق الْقُرْآن وَهُوَ قَول الْمُعْتَزلَة وَقد اتفقنا على ضلالهم وَاتفقَ المنتمون إِلَى السّنة على ان الْقَائِل بِخلق الْقُرْآن كَافِر مِنْهُم

জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুতরাং কিতাব, সুন্নাহ (سنة) এবং ঐক্যমত্যের (إجماع) মাধ্যমে এগুলোর সংখ্যা নির্ধারিত হওয়া প্রমাণিত। আর তা অনাদি। ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার নামসমূহ অ-সৃজিত। ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি দাবি করে যে আল্লাহ তাআলার নামসমূহ সৃজিত, সে কুফরি করল।" একইভাবে আল্লাহ তাআলার বাণীসমূহও বহুবিধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, {বলুন: আমার প্রতিপালকের বাণীর জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার প্রতিপালকের বাণী শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, যদিও আমি এর সাহায্যের জন্য অনুরূপ আরও সমুদ্র নিয়ে আসি} [সূরা কাহফ: ১০৯]। আর তা অনাদি। তদ্রূপ আল্লাহর কিতাবসমূহও; কেননা তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর এবং কুরআন বহুবিধ এবং সেগুলো অ-সৃজিত। তারা যদি বলে যে এগুলো সৃজিত, তবে তারা মূলত কুরআন সৃষ্টির কথাই বলল এবং এটি মুতাজিলাদের অভিমত। আমরা তাদের ভ্রষ্টতার ব্যাপারে একমত হয়েছি। আর সুন্নাহর অনুসারীগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাদের মধ্যে যারা কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তা, তারা কাফির হিসেবে গণ্য।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
من قَالَ كفر ينْقل عَن الْملَّة وَمِنْهُم من قَالَ لَا يَنْقُلهُ عَنْهَا فَمَتَى قَالُوا بِخلق الْقُرْآن وَغَيره من كتب الله تَعَالَى فقد قَالُوا بقول أقرُّوا بِكفْر قَائِله وَإِن أقرُّوا بهَا غير مخلوقة وَهِي مُتعَدِّدَة فقد بَطل قَوْلهم وان قَالُوا هى شَيْء وَاحِد غير مُتعَدِّدَة فقد كابروا وَيجب على هَذَا أَن تكون التَّوْرَاة هِيَ الْقُرْآن وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور وَأَن مُوسَى لما أنزلت عَلَيْهِ التَّوْرَاة فقد انْزِلْ عَلَيْهِ كل كتاب لله تَعَالَى وان نَبينَا عليه السلام لما أنزل عَلَيْهِ الْقُرْآن فقد أنزلت عَلَيْهِ التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور وَأَن من قَرَأَ آيَة من الْقُرْآن فقد قَرَأَ كل كتاب الله تَعَالَى وَمن حفظ شَيْئا مِنْهُ فقد حفظه كُله وَيجب على هَذَا ان لَا يتعب اُحْدُ فِي حفظ الْقُرْآن لِأَنَّهُ يحصل لَهُ حفظ كل كتاب لله تَعَالَى بِحِفْظ آيَة مِنْهُ وَيجب أَن يكون النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما أنزل عَلَيْهِ آيَة من الْقُرْآن انْزِلْ عَلَيْهِ جَمِيعه وَجَمِيع التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور وَهَذَا خزي على قَائِله ومكابرة لنَفسِهِ وَيجب على هَذَا أَن يكون الْأَمر هُوَ النَّهْي وَالْإِثْبَات هُوَ النَّفْي وقصة نوح هِيَ قصَّة هود وَلُوط وَاحِد الضدين هُوَ الآخر وَهَذَا قَول من لَا يستحيي وَيُشبه قَول السوفسطائية وَقد بَلغنِي عَن وَاحِد مِنْهُم أَنه قيل لَهُ سُورَة الْبَقَرَة هِيَ سُورَة آل عمرَان قَالَ نعم وَإِن قَالُوا إِن كَلَام الله عز وجل هُوَ هَذِه الْكتب وَإِن التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَالزَّبُور وَالْقُرْآن كَلَام الله عز وجل الْقَدِيم لَكِن لم ينزل مِنْهُ شَيْء على الْأَنْبِيَاء وَلَا هُوَ شي يحفظ وَلَا يُتْلَى وَلَا يسمع وَإِنَّمَا أنزل عِبَارَته كذبهمْ الْقُرْآن وَالسّنة وَإِجْمَاع الْأمة فَإِنَّهُ لَا خلاف بَين الْمُسلمين كلهم ان الْقُرْآن أنزل على مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وان التَّوْرَاة انزلت على مُوسَى وَالْإِنْجِيل على عِيسَى وَالزَّبُور على دَاوُد وَالله عز وجل يَقُول {الر تِلْكَ آيَات الْكتاب الْمُبين إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبيا لَعَلَّكُمْ تعقلون}

তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যারা বলেছেন, এটি কুফর (كفر) যা মিল্লাত (ধর্মাদর্শ) থেকে বের করে দেয়; আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি মিল্লাত থেকে বের করে দেয় না। সুতরাং, যখন তারা কুরআন এবং আল্লাহর অন্যান্য কিতাবসমূহ সৃষ্টি করা (مخلوق) হওয়ার বিষয়ে মত পোষণ করে, তখন তারা এমন এক কথা বলে যার প্রবক্তাকে তারা নিজেরাই কাফির (كافر) হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে। আর যদি তারা স্বীকার করে যে সেগুলো সৃষ্টি করা নয় (غير مخلوق) এবং সংখ্যায় একাধিক, তবে তাদের বক্তব্য অসার প্রমাণিত হয়। আর যদি তারা বলে যে তা একক বিষয় এবং সংখ্যায় একাধিক নয়, তবে তারা হঠকারিতা করল। এর আবশ্যিক অর্থ এই দাঁড়ায় যে, তাওরাত যেন কুরআন, ইঞ্জিল ও যাবূর (সব একই); এবং মূসা (আ.)-এর ওপর যখন তাওরাত নাজিল হয়েছিল, তখন যেন আল্লাহর প্রতিটি কিতাবই তাঁর ওপর নাজিল হয়েছিল। এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যখন কুরআন নাজিল করা হয়েছে, তখন যেন তাঁর ওপর তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবূরও নাজিল হয়ে গেছে। আর যে ব্যক্তি কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করল, সে যেন আল্লাহর প্রতিটি কিতাবই পাঠ করল; আর যে এর কিছু অংশ মুখস্থ করল, সে যেন এর পুরোটাই মুখস্থ করল। এর ভিত্তিতে এটিও আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, কুরআন মুখস্থ করার জন্য কারও কষ্ট করার প্রয়োজন নেই; কারণ আল্লাহর কিতাবসমূহের মধ্য হতে মাত্র একটি আয়াত মুখস্থ করার মাধ্যমেই তাঁর প্রতিটি কিতাব মুখস্থ হয়ে যায়। আরও সাব্যস্ত হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যখন কুরআনের একটি আয়াত নাজিল করা হয়েছিল, তখন যেন তাঁর ওপর এর পুরোটাই এবং তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবূরের সবকিছুই নাজিল হয়েছিল। এটি এই মত পোষণকারীর জন্য এক চরম লাঞ্ছনা এবং নিজের বিবেকের সাথে হঠকারিতা। এর ভিত্তিতে এটিও আবশ্যক হয়ে যায় যে, আদেশ (الأمر) যেন নিষেধ (النهي), ইতিবাচকতা (الإثبات) যেন নেতিবাচকতা (النفي), নূহের কাহিনী যেন হূদ ও লূতের কাহিনী, আর দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের একটি যেন অন্যটি। এটি এমন ব্যক্তির কথা যার লজ্জা নেই এবং যা সোফিস্টদের (السوفسطائية) বক্তব্যের সদৃশ। তাদের একজনের ব্যাপারে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "সূরা আল-বাকারা কি সূরা আল-ইমরান?" সে বলল, "হ্যাঁ।" আর যদি তারা বলে যে, আল্লাহর কালাম হলো এই কিতাবসমূহ, এবং তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবূর ও কুরআন আল্লাহর অনাদি (قديم) কালাম, কিন্তু আম্বিয়াদের ওপর এর কিছুই নাজিল হয়নি, এটি মুখস্থ করার মতো কোনো বিষয় নয়, তিলাওয়াত করা হয় না এবং শ্রবণও করা হয় না, বরং এর কেবল ভাবার্থ নাজিল করা হয়েছে—তবে কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ মত (إجماع) তাদের এই দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। কেননা সকল মুসলমানের মধ্যে এতে কোনো মতভেদ নেই যে, কুরআন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিল হয়েছে, তাওরাত মূসার ওপর, ইঞ্জিল ঈসার ওপর এবং যাবূর দাউদের ওপর নাজিল হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: "আলিফ-লাম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। নিশ্চয়ই আমি এটি আরবি কুরআন হিসেবে নাজিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।"

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
يُوسُف 1 2 وَقَالَ سُبْحَانَهُ {شهر رَمَضَان الَّذِي أنزل فِيهِ الْقُرْآن} الْبَقَرَة 185 وَقَالَ تَعَالَى {وَإنَّهُ لتنزيل رب الْعَالمين نزل بِهِ الرّوح الْأمين على قَلْبك لتَكون من الْمُنْذرين} الشُّعَرَاء 192 194 وَقَالَ سُبْحَانَهُ {وَقَالَ الَّذين كفرُوا لَوْلَا نزل عَلَيْهِ الْقُرْآن جملَة وَاحِدَة} الْفرْقَان 32 {وَقَالُوا لَوْلَا نزل هَذَا الْقُرْآن على رجل من القريتين عَظِيم} الزخرف 31 وَقَالَ سُبْحَانَهُ {وننزل من الْقُرْآن مَا هُوَ شِفَاء وَرَحْمَة للْمُؤْمِنين} الاسراء 82 وَقَالَ الله تَعَالَى {وَلَقَد آتيناك سبعا من المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم} الْحجر 87 وَقَالَ تَعَالَى {كتاب أَنزَلْنَاهُ إِلَيْك مبارك} ص 29 وَقَالَ {وَهَذَا كتاب أَنزَلْنَاهُ مبارك} الْأَنْعَام 15592 وَمثل هَذَا كثير وَقد أكفر الله تَعَالَى الْيَهُود بقَوْلهمْ {مَا أنزل الله على بشر من شَيْء} ثمَّ قَالَ {قل من أنزل الْكتاب الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى نورا وَهدى للنَّاس} ثمَّ قَالَ {قل الله ثمَّ ذرهم فِي خوضهم يَلْعَبُونَ} الْأَنْعَام 91 وَقَالَ عز وجل {وَهُوَ الَّذِي أنزل إِلَيْكُم الْكتاب مفصلا وَالَّذين آتَيْنَاهُم الْكتاب يعلمُونَ أَنه منزل من رَبك بِالْحَقِّ} الْأَنْعَام 114 وَقَالَ سُبْحَانَهُ {هُوَ الَّذِي أنزل عَلَيْك الْكتاب مِنْهُ آيَات محكمات} الْآيَة آل عمرَان 7 وَمثل هَذَا كثير وَقَالَ النَّبِي عليه السلام انْزِلْ الْقُرْآن على سَبْعَة احرف
ইউসুফ ১-২। এবং তিনি (পবিত্রতা তাঁরই জন্য) বলেছেন, {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে} আল-বাকারা ১৮৫। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, {নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে আপনার হৃদয়ে অবতরণ করেছেন, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন} আশ-শুআরা ১৯২-১৯৪। এবং তিনি (পবিত্রতা তাঁরই জন্য) বলেন, {কাফিররা বলে, কেন তাঁর প্রতি সমগ্র কুরআন একযোগে অবতীর্ণ হলো না?} আল-ফুরকান ৩২। {তারা বলে, কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোনো মহান ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না?} আয-যুখরুফ ৩১। এবং তিনি (পবিত্রতা তাঁরই জন্য) বলেন, {আমি কুরআন থেকে নাজিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত} আল-ইসরা ৮২। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন, {আমি আপনাকে সাতটি পুনঃপঠিত আয়াত এবং মহান কুরআন দান করেছি} আল-হিজর ৮৭। এবং তিনি বলেন, {এটি একটি বরকতময় (مبارك) কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি} সোয়াদ ২৯। এবং তিনি বলেন, {এটি একটি কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি, যা বরকতময় (مبارك)} আল-আনআম ১৫৫৯২। এরুপ অনেক উদাহরণ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের তাদের এই উক্তির কারণে কাফির সাব্যস্ত করেছেন যে, {আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই নাজিল করেননি}। অতঃপর তিনি বলেন, {বলুন, তবে সেই কিতাবটি কে অবতীর্ণ করেছেন যা মূসা নিয়ে এসেছিলেন মানুষের জন্য আলো ও পথপ্রদর্শক হিসেবে?}। অতঃপর তিনি বলেন, {বলুন, আল্লাহ। অতঃপর তাদের তাদের বৃথা তর্কে মগ্ন থাকতে দিন} আল-আনআম ৯১। এবং তিনি (মহিমান্বিত ও প্রতাপশালী) বলেন, {তিনিই সেই সত্তা যিনি বিস্তারিত (مفصلا) কিতাব তোমাদের নিকট অবতীর্ণ করেছেন। আর যাদের আমি কিতাব দিয়েছি তারা জানে যে এটি আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ (منزل) হয়েছে} আল-আনআম ১১৪। এবং তিনি (পবিত্রতা তাঁরই জন্য) বলেন, {তিনিই সেই সত্তা যিনি আপনার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় (محكمات)} - আয়াতের শেষ পর্যন্ত, আল-ইমরান ৭। এরুপ আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। আর নবী (সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: কুরআন সাতটি বর্ণরীতিতে (أحرف) অবতীর্ণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
وَالسّنة مَمْلُوءَة مِنْهُ فَإِن قَالُوا فكتاب الله غير الْقُرْآن قُلْنَا خالفتم رب الْعَالمين وخرقتم إِجْمَاع الْمُسلمين وجئتم بِمَا لم يَأْتِ بِهِ اُحْدُ من الْمُلْحِدِينَ فَإِنَّهُ لَا خلاف بَين الْمُسلمين ان كتاب الله هُوَ الْقُرْآن الْعَظِيم الْمنزل على سيد الْمُرْسلين بِلِسَان عَرَبِيّ مُبين وَالله تَعَالَى قد أخبر بذلك فَقَالَ سُبْحَانَهُ {الر تِلْكَ آيَات الْكتاب الْمُبين إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبيا} يُوسُف 1 2 وَقَالَ {حم وَالْكتاب الْمُبين إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبيا لَعَلَّكُمْ تعقلون} الزخرف 1 3 وَقَالَ سُبْحَانَهُ {حم تَنْزِيل من الرَّحْمَن الرَّحِيم كتاب فصلت آيَاته قُرْآنًا عَرَبيا لقوم يعلمُونَ} فصلت 1 3 وَقَالَ سُبْحَانَهُ {وَإِذ صرفنَا إِلَيْك نَفرا من الْجِنّ يَسْتَمِعُون الْقُرْآن فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصتُوا فَلَمَّا قضي ولوا إِلَى قَومهمْ منذرين قَالُوا يَا قَومنَا إِنَّا سمعنَا كتابا أنزل من بعد مُوسَى} الْأَحْقَاف 29 30 فَسَموهُ قُرْآنًا وكتابا وَقَالَ فِي مَوضِع آخر {فَقَالُوا إِنَّا سمعنَا قُرْآنًا عجبا يهدي إِلَى الرشد فَآمَنا بِهِ} الْجِنّ 1 2 وَلَا يخفى هَذَا إِلَّا على من أعمى الله قلبه واضله عَن سَبيله {وَمن يضلل الله فَمَا لَهُ من هاد} الرَّعْد 33 الزمر 3623 غَافِر 33 وَاحْتَجُّوا ايضا بِأَن هَذِه الْحُرُوف لَا تخرج إِلَّا من مخارج وأدوات فَلَا يجوز إِضَافَة ذَلِك إِلَى الله سُبْحَانَهُ وَالْجَوَاب عَن هَذَا من أوجه أَحدهَا مَا الدَّلِيل على ان الْحُرُوف لَا تكون الا من مخارج وأدوات فَإِن قَالُوا لأننا لَا نقدر على النُّطْق بهَا إِلَّا من مخارج وأدوات فَكَذَلِك الله رب الْعَالمين

এবং সুন্নাহ (السنة) এ বিষয়ে পরিপূর্ণ। সুতরাং তারা যদি বলে যে, আল্লাহর কিতাব কুরআন ব্যতিরেকে অন্য কিছু, তবে আমরা বলব: তোমরা বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের বিরোধিতা করেছ, মুসলমানদের ঐক্যমত (إجماع) ভঙ্গ করেছ এবং এমন বিষয় নিয়ে এসেছ যা কোনো নাস্তিকও নিয়ে আসেনি। কেননা মুসলমানদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আল্লাহর কিতাব হলো সেই মহান কুরআন যা রাসূলগণের সরদারের ওপর সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {আলিফ-লাম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি} (ইউসুফ ১-২)। তিনি আরও বলেছেন: {হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো} (যুখরুফ ১-৩)। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {হা-মীম। এটি পরম করুণাময়, পরম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআনরূপে, সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা জানে} (ফুসসিলাত ১-৩)। তিনি আরও বলেছেন: {স্মরণ করো, যখন আমি তোমার প্রতি একদল জিনকে আকৃষ্ট করেছিলাম যারা কুরআন শ্রবণ করছিল। যখন তারা তার উপস্থিতিতে পৌঁছালো, তখন তারা বলল: চুপ থাকো। যখন পাঠ সমাপ্ত হলো, তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল। তারা বলল: হে আমাদের সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি যা মূসার পর অবতীর্ণ হয়েছে} (আহকাফ ২৯-৩০)। এখানে তারা একে কুরআন ও কিতাব হিসেবে অভিহিত করেছে। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: {তারা বলল: নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে, ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি} (জিন ১-২)। আর এটি কেবল তার কাছেই অস্পষ্ট থাকে যার অন্তরকে আল্লাহ অন্ধ করে দিয়েছেন এবং যাকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করেছেন। {আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই} (রাদ ৩৩, যুমার ৩৬, ২৩, গাফির ৩৩)। তারা আরও যুক্তি দেয় যে, এই বর্ণসমূহ উচ্চারণস্থল ও উপকরণ ছাড়া নির্গত হয় না, তাই মহান আল্লাহর প্রতি এর সম্বন্ধ করা বৈধ নয়। এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়, যার একটি হলো: বর্ণসমূহ কেবল উচ্চারণস্থল ও উপকরণ থেকেই হতে হবে—এর দলিল কী? তারা যদি বলে: 'যেহেতু আমরা উচ্চারণস্থল ও উপকরণ ছাড়া এগুলো উচ্চারণ করতে সক্ষম নই', তবে বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহও তদ্রূপ [নাউযুবিল্লাহ]!

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
قُلْنَا هَذَا قِيَاس لله تَعَالَى على خلقه وتشبيه لَهُ بعباده وإلحاق لصفاتهم بصفاته وَهَذَا من أقبح الْكفْر وَقد اتفقنا على أَن الله تَعَالَى لَا يشبه بخلقه وَأَنه {لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير} الشورى 11 الثَّانِي ان هَذَا بَاطِل بِسَائِر صِفَات الله تَعَالَى فَإِن الْعلم لَا يكون فِي حَقنا إِلَّا بقلب والسمع لَا يكون إِلَّا من انخراق وَالْبَصَر لَا يكون إِلَّا من حدقة وَالله تَعَالَى عَالم سميع بَصِير وَلَا يُوصف بذلك فَإِن نفيتم الْكَلَام لافتقاره فِي زعمكم إِلَى المخارج والأدوات فيلزمكم نفي سَائِر الصِّفَات وَإِن أثبتم لَهُ الصِّفَات ونفيتم عَنهُ الأدوات لزمكم مثل ذَلِك فِي الْكَلَام وَإِلَّا فَمَا الْفرق بَينهمَا الثَّالِث إِن الله تَعَالَى أنطق بعض مخلوقاته بِغَيْر مخارج فَإِنَّهُ قَالَ تَعَالَى {وتكلمنا أَيْديهم وَتشهد أَرجُلهم} يس 65 وَقَالَ تَعَالَى {حَتَّى إِذا مَا جاؤوها شهد عَلَيْهِم سمعهم وأبصارهم وجلودهم بِمَا كَانُوا يعْملُونَ وَقَالُوا لجلودهم لم شهدتم علينا قَالُوا أنطقنا الله الَّذِي أنطق كل شَيْء} فصلت 20 21 وَاخْبَرْ عَن السَّمَاء وَالْأَرْض أَنَّهُمَا {قَالَتَا أَتَيْنَا طائعين} فصلت 11 وَأخْبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم ان حجرا كَانَ يسلم عَلَيْهِ وَسبح الْحَصَى فِي يَدَيْهِ
আমরা বললাম, এটি মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির ওপর তুলনা (قياس) করা, তাঁকে তাঁর বান্দাদের সদৃশ (تشبيه) করা এবং তাদের গুণাবলিকে তাঁর গুণাবলির (صفات) সাথে সংযুক্ত করা। এটি জঘন্যতম কুফরি (كفر)। আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির সদৃশ নন এবং {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} (আশ-শূরা: ১১)। দ্বিতীয়ত, এটি মহান আল্লাহর অন্যান্য সকল গুণাবলির (صفات) ক্ষেত্রেও বাতিল (باطل) সাব্যস্ত হবে। কারণ আমাদের ক্ষেত্রে জ্ঞান (العلم) অন্তর ব্যতীত হয় না, শ্রবণ (السمع) কর্ণছিদ্র (ইনখিরাক) ব্যতীত হয় না এবং দৃষ্টি (البصر) চোখের মণি ব্যতীত হয় না। অথচ মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, কিন্তু তাঁকে সেভাবে বিশেষায়িত করা হয় না। সুতরাং আপনাদের ধারণা অনুযায়ী যদি উচ্চারণস্থল (مخارج) ও যন্ত্রপাতির (الأدوات) মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে আপনারা কথা বা কালাম (الكلام) অস্বীকার (نفي) করেন, তবে আপনাদের জন্য অন্যান্য সকল গুণাবলিকেও (صفات) অস্বীকার (نفي) করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। আর যদি আপনারা তাঁর জন্য গুণাবলি (صفات) সাব্যস্ত করেন এবং তাঁর থেকে এসব যন্ত্রপাতির (الأدوات) আবশ্যকতা নাকচ করেন, তবে কালামের (الكلام) ক্ষেত্রেও আপনাদের অনুরূপ করা আবশ্যক। অন্যথায় এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য কী? তৃতীয়ত, মহান আল্লাহ তাঁর কিছু সৃষ্টিকে উচ্চারণস্থল (مخارج) ছাড়াই বাকশক্তি দান করেছেন। কেননা তিনি বলেছেন: {তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে} (ইয়াসিন: ৬৫)। তিনি আরও বলেছেন: {অবশেষে যখন তারা আগুনের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চোখ ও চামড়া তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের চামড়াকে বলবে, তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে? তারা বলবে, আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দান করেছেন, যিনি প্রতিটি বস্তুকে বাকশক্তি দান করেছেন} (ফুসসিলাত: ২০-২১)। তিনি আকাশ ও পৃথিবী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা উভয়ে বলেছিল: {আমরা অনুগত হয়ে আসলাম} (ফুসসিলাত: ১১)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, একটি পাথর তাঁকে সালাম দিত এবং তাঁর হাতে কঙ্কর তাসবিহ পাঠ করত।
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَقَالَ ابْن مَسْعُود كُنَّا نسْمع تسيبح الطَّعَام وَهُوَ يُؤْكَل وَلَا خلاف فِي أَن الله تَعَالَى قَادر على إنطاق الْحجر الْأَصَم من غير مخارج فَلم لَا يقدر سُبْحَانَهُ على التَّكَلُّم إِلَّا من المخارج وَاحْتَجُّوا بَان الْحُرُوف يدخلهَا التَّعَاقُب فَيَسْبق بَعْضهَا بَعْضًا وَالْجَوَاب ان هَذَا إِنَّمَا يلْزم فِي حق من يتَكَلَّم بالمخارج والأدوات وَالله سُبْحَانَهُ لَا يُوصف بذلك وعَلى ان هَذَا يعود إِلَى تَشْبِيه الله تَعَالَى بعباده فَإِنَّهُ لَا يتَصَوَّر فِي حَقه إِلَّا مَا يتَصَوَّر مِنْهُم وَهُوَ بَاطِل فِي نَفسه

এবং ইবনে মাসউদ বলেন, "আমরা খাবার খাওয়ার সময় তার তাসবিহ শুনতে পেতাম।" এতে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই যে, মহান আল্লাহ কোনো উচ্চারণস্থল (مخارج) ছাড়াই নিরেট পাথরকে বাকশক্তি দান করতে সক্ষম। সুতরাং কেন তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা উচ্চারণস্থল (مخارج) ব্যতীত কথা বলতে সক্ষম হবেন না? তারা যুক্তি (احتجوا) দেখান যে, বর্ণের (حروف) ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা (تعاقب) থাকে, যার ফলে একটির পর আরেকটি আসে। এর উত্তর হলো, এটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যারা উচ্চারণস্থল (مخارج) ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা যন্ত্রপাতির (أدوات) মাধ্যমে কথা বলে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে এগুলোর মাধ্যমে বিশেষিত করা যায় না। তাছাড়া এটি আল্লাহ তাআলাকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সদৃশ করার (تشبيه) নামান্তর। কেননা এতে আল্লাহর ক্ষেত্রে কেবল তা-ই কল্পনা করা হয় যা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কল্পনা করা সম্ভব, আর এটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বাতিল (باطل)।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
فَإِن قَالُوا فَمَا دليلكم على أَن هَذِه السُّور الْمُشْتَملَة على الْحُرُوف قُرْآن قُلْنَا كتاب الله تَعَالَى وَسنة نبيه عليه السلام وَإِجْمَاع الْأمة اما كتاب الله تَعَالَى فَقَوله سُبْحَانَهُ {وَمَا علمناه الشّعْر وَمَا يَنْبَغِي لَهُ إِن هُوَ إِلَّا ذكر وَقُرْآن مُبين} يس 69 فَأخْبر الله تَعَالَى ان الَّذِي سموهُ شعرًا قُرْآن مُبين وَمَا لَيْسَ بحروف لَا يجوز ان يكون شعرًا عِنْد أحد فَلَمَّا ثَبت أَنهم سموهُ شعرًا دلّ على أَنه حُرُوف وَقَالَ الله تَعَالَى {قل لَئِن اجْتمعت الْإِنْس وَالْجِنّ على أَن يَأْتُوا بِمثل هَذَا الْقُرْآن لَا يأْتونَ بِمثلِهِ وَلَو كَانَ بَعضهم لبَعض ظهيرا} الْإِسْرَاء 88 فَأَشَارَ إِلَى حَاضر وتحداهم بالإتيان بِمثلِهِ وَلَا يجوز التحدي بِمَا لَا يعلم وَلَا يدرى مَا هُوَ وَقَالَ تَعَالَى {إِن هَذَا الْقُرْآن يقص على بني إِسْرَائِيل} النَّمْل 76 وَقَالَ تَعَالَى {إِن هَذَا الْقُرْآن يهدي للَّتِي هِيَ أقوم} الْإِسْرَاء 9 وَقَالَ تَعَالَى {لَو أنزلنَا هَذَا الْقُرْآن على جبل} الْحَشْر 21 وَقَالَ تَعَالَى {كتاب أَنزَلْنَاهُ إِلَيْك مبارك ليدبروا آيَاته} ص 29 وَقَالَ تَعَالَى {وَإِذا تتلى عَلَيْهِم آيَاتنَا بَيِّنَات قَالَ الَّذين لَا يرجون لقاءنا ائْتِ بقرآن غير هَذَا أَو بدله قل مَا يكون لي أَن أبدله من تِلْقَاء نَفسِي إِن أتبع إِلَّا مَا يُوحى إِلَيّ} يُونُس 15 وَقَالَ سُبْحَانَهُ {وَإِذا تتلى عَلَيْهِم آيَاتنَا قَالُوا قد سمعنَا لَو نشَاء لقلنا مثل هَذَا} الْأَنْفَال 31 وَقَالَ تَعَالَى {وَقَالُوا لَوْلَا نزل هَذَا الْقُرْآن على رجل من القريتين عَظِيم} الزخرف 31

সুতরাং তারা যদি বলে যে, বর্ণমালা (حروف) সম্বলিত এই সূরা (سور) সমূহ যে কুরআন, তার স্বপক্ষে আপনাদের দলিল কী? আমরা বলব: মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) এবং উম্মতের ঐক্যমত (إجماع)। মহান আল্লাহর কিতাবের দলিল হলো তাঁর এই পবিত্র বাণী: {আমি তাকে কাব্য শিক্ষা দেইনি এবং তা তার জন্য শোভনীয়ও নয়। এটি তো কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন।} (সূরা ইয়াসিন: ৬৯)। আল্লাহ তাআলা এখানে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা যেটিকে কাব্য বলেছিল তা মূলত সুস্পষ্ট কুরআন। আর যা বর্ণমালা (حروف) দ্বারা গঠিত নয়, তা কারো নিকট কাব্য হওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং যখন এটি প্রমাণিত হলো যে তারা একে কাব্য নাম দিয়েছিল, তখন তা নির্দেশ করে যে এটি অবশ্যই বর্ণমালা (حروف) দ্বারা গঠিত। আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেছেন: {বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} (সূরা আল-ইসরা: ৮৮)। এখানে তিনি একটি উপস্থিত বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ (تحدي) ছুড়ে দিয়েছেন। আর যা অজ্ঞাত এবং যার স্বরূপ অনুধাবন করা যায় না, তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ (تحدي) করা বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয় এই কুরআন বনী ইসরাঈলের নিকট বর্ণনা করে।} (সূরা আন-নামল: ৭৬)। তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ়।} (সূরা আল-ইসরা: ৯)। তিনি আরও বলেন: {আমি যদি এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম।} (সূরা আল-হাশর: ২১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াত (آيات) সমূহ নিয়ে গবেষণা করে।} (সূরা সোয়াদ: ২৯)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যখন তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াত (آيات) সমূহ পাঠ করা হয়, তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না তারা বলে: "এটি ছাড়া অন্য কোনো কুরআন নিয়ে আসুন অথবা একে পরিবর্তন করুন।" আপনি বলুন: "আমার পক্ষ থেকে একে পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমার নেই। আমার প্রতি যে ওহী (وحي) করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি।"} (সূরা ইউনুস: ১৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যখন তাদের নিকট আমার আয়াত (آيات) সমূহ পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে: "আমরা তো শুনলাম, আমরা চাইলে এর অনুরূপ বলতে পারতাম।"} (সূরা আল-আনফাল: ৩১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং তারা বলে: "কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোনো মহান ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না?"} (সূরা আয-জুখরুফ: ৩১)।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
فَأخْبر الله تَعَالَى عَنْهُم أَنهم طلبُوا مِنْهُ الْإِتْيَان بِغَيْرِهِ أَو تبديله وَمرَّة أَنهم ادعوا الْقُدْرَة على ان يَقُولُوا مثله وَمرَّة قَالُوا لَوْلَا انْزِلْ على غَيره علم يَقِينا أَنه هَذَا الْمَوْجُود عندنَا الَّذِي هُوَ سور وآيات وحروف وكلمات وَقَالَ الله تَعَالَى {وَلَقَد صرفنَا للنَّاس فِي هَذَا الْقُرْآن من كل مثل فَأبى أَكثر النَّاس إِلَّا كفورا} الاسراء 89 وَقَالَ {وَلَقَد صرفنَا فِي هَذَا الْقُرْآن لِيذكرُوا} الاسراء 41 وَقَالَ {وَلَقَد صرفنَا فِي هَذَا الْقُرْآن للنَّاس من كل مثل وَكَانَ الْإِنْسَان أَكثر شَيْء جدلا} الْكَهْف 54 وَقَالَ تَعَالَى {وَلَقَد ضربنا للنَّاس فِي هَذَا الْقُرْآن من كل مثل لَعَلَّهُم يتذكرون قُرْآنًا عَرَبيا غير ذِي عوج لَعَلَّهُم يَتَّقُونَ} الزمر 27 28 وَهَذِه إِشَارَة إِلَى حَاضر وَالَّذِي صرفت فِيهِ الْأَمْثَال إِنَّمَا هُوَ هَذَا الْقُرْآن الْعَرَبِيّ الَّذِي يعرفهُ النَّاس قُرْآنًا وَسَماهُ الله تَعَالَى {عَرَبيا} وَهَذَا إِنَّمَا يُوصف بِهِ النّظم الَّذِي هُوَ حُرُوف دون مَا لَا يعرف وَلَا يدرى مَا هُوَ وَقَالَ عز وجل {كتاب فصلت آيَاته قُرْآنًا عَرَبيا} فصلت 3 وَقَالَ سُبْحَانَهُ {وَإنَّهُ لتنزيل رب الْعَالمين نزل بِهِ الرّوح الْأمين على قَلْبك لتَكون من الْمُنْذرين بِلِسَان عَرَبِيّ مُبين} الشُّعَرَاء 192 195 وَقَالَ {وَكَذَلِكَ أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبيا وصرفنا فِيهِ من الْوَعيد} طه 113 وَقَالَ {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبيا لَعَلَّكُمْ تعقلون} يُوسُف 2 وَقَالَ {وَهَذَا كتاب مُصدق لِسَانا عَرَبيا} الْأَحْقَاف 12 وَهَذِه الْآيَات وأشباهها فِي كتاب الله تَعَالَى كثير تدل بمجموعها على أَن الْقُرْآن هَذَا الَّذِي هُوَ سور محكمات وآيات مفصلات وحروف وكلمات وَإِن تطرق احْتِمَال بَعْضهَا فَلَا يتَطَرَّق إِلَى مجموعها

মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাঁর নিকট এটি ব্যতীত অন্য কিছু নিয়ে আসার অথবা এটি পরিবর্তন করার দাবি জানিয়েছিল। আবার কখনও তারা দাবি করেছিল যে তারা এর মতো কিছু বলতে সক্ষম। আবার কখনও তারা বলেছিল, কেন এটি অন্য কারো ওপর অবতীর্ণ করা হলো না। এর মাধ্যমে সুনিশ্চিত (يقينا) ভাবে জানা যায় যে, এটিই আমাদের নিকট বিদ্যমান সেই বস্তু যা সূরাসমূহ, আয়াতসমূহ, হরফসমূহ এবং শব্দসমূহের সমষ্টি। মহান আল্লাহ বলেন, "আর আমি অবশ্যই মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কুফরি করা ছাড়া আর কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে।" (আল-ইসরা: ৮৯)। তিনি আরও বলেন, "আর আমি অবশ্যই এই কুরআনে নানাভাবে বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" (আল-ইসরা: ৪১)। এবং তিনি বলেন, "আর আমি অবশ্যই এই কুরআনে মানুষের জন্য সব ধরনের উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি; আর মানুষ সবচেয়ে বেশি তর্কপ্রিয়।" (আল-কাহফ: ৫৪)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, "আর আমি অবশ্যই মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উপমা বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। এটি আরবি কুরআন, যা বক্রতামুক্ত, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে।" (আজ-জুমার: ২৭-২৮)।

আর এগুলো বর্তমানে উপস্থিত বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত। যেটির মধ্যে উপমাসমূহ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে তা হলো এই আরবি কুরআন, যাকে মানুষ কুরআন হিসেবে চেনে এবং মহান আল্লাহ একে 'আরবি' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর 'আরবি' কেবল সেই বিন্যাসকেই বিশেষায়িত করে যা হরফ বা বর্ণ দ্বারা গঠিত; এমন কিছুকে নয় যা অজ্ঞাত এবং যার স্বরূপ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, "এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআন হিসেবে।" (ফুসসিলাত: ৩)। মহান পবিত্র সত্তা বলেন, "নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটি নিয়ে অতি বিশ্বস্ত আত্মা অবতরণ করেছে, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" (আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫)। তিনি বলেন, "আর এভাবেই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি।" (তহা: ১১৩)। তিনি আরও বলেন, "নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।" (ইউসুফ: ২)। তিনি বলেন, "আর এটি একটি সত্যায়নকারী কিতাব, আরবি ভাষায়।" (আল-আহকাফ: ১২)।

আল্লাহর কিতাবে এই আয়াতসমূহ এবং এর সমজাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে প্রমাণ করে যে, কুরআন হলো সেই সত্তা যা সুসংহত (محكمات) সূরাসমূহ, বিস্তারিত (مفصلات) আয়াতসমূহ এবং হরফ ও শব্দসমূহের সমষ্টি। যদিও এর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যাখ্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে এর সামগ্রিক রূপের ক্ষেত্রে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن هَذَا الْقُرْآن مأدبة الله فتعلموا من مأدبته مَا اسْتَطَعْتُم إِن هَذَا الْقُرْآن هُوَ حَبل الله تَعَالَى هُوَ النُّور الْمُبين والشفاء النافع عصمَة لمن تمسك بِهِ وَنَجَاة لمن تبعه لَا يعوج فَيقوم وَلَا يزِيغ فيستعتب وَلَا تَنْقَضِي عجائبه وَلَا يخلق عَن كَثْرَة الرَّد فاتلوه فَإِن الله يَأْجُركُمْ على تِلَاوَته بِكُل حرف عشر حَسَنَات أما إِنِّي لَا أَقُول {الم} حرف وَلَكِن فِي الالف عشر وَفِي اللَّام عشر وَفِي الْمِيم عشر

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই এই কুরআন আল্লাহর দস্তরখান; সুতরাং তোমরা তাঁর এই দস্তরখান থেকে সাধ্যমতো শিক্ষা গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই এই কুরআন আল্লাহর রশি, এটি সুস্পষ্ট নূর এবং পরম উপকারী নিরাময়। যে একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে এটি তার জন্য সুরক্ষা এবং যে এর অনুসরণ করবে এটি তার জন্য মুক্তি। এটি বক্র হয় না যে একে সংশোধন করতে হবে এবং এটি লক্ষ্যচ্যুত হয় না যে তাকে ভর্ৎসনা করে সত্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। এর বিস্ময়কর মাহাত্ম্য কখনো শেষ হবে না এবং বারবার পাঠের ফলেও এটি পুরোনো হবে না। সুতরাং তোমরা এটি তিলাওয়াত করো, কারণ আল্লাহ তোমাদের এর তিলাওয়াতের বিনিময়ে প্রতিটি অক্ষরের জন্য দশটি করে পুণ্য দান করবেন। আমি বলি না যে, {আলিফ-লাম-মীম} একটি অক্ষর; বরং আলিফে দশ নেকি, লামে দশ নেকি এবং মীমে দশ নেকি।"

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَرُوِيَ ايضا عَن ابْن مَسْعُود مَوْقُوفا عَلَيْهِ وَالسّنة مشحونة بذلك
এবং এটি ইবনে মাসউদ থেকে মাওকুফ (موقوف) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে এবং সুন্নাহ এ সংক্রান্ত বর্ণনায় পরিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَالْأمة مجمعة على أَن هَذَا الْقُرْآن الَّذِي لَا تصح الصَّلَاة الا بِهِ وَلَا تصح الْخطْبَة إِلَّا بِآيَة مِنْهُ وَلَا يقرأه حَائِض وَلَا جنب وَلما اخْتلف اهل الْحق والمعتزلة فَقَالَ أهل الْحق الْقُرْآن كَلَام الله غير مَخْلُوق وَقَالَت الْمُعْتَزلَة هُوَ مَخْلُوق لم يكن اخْتلَافهمْ فِي هَذَا الْمَوْجُود دون مَا فِي
এবং উম্মাহ এই মর্মে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছে যে, এই কুরআন ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না এবং এর কোনো আয়াত পাঠ করা ব্যতীত খুতবাও শুদ্ধ হয় না; আর কোনো ঋতুবতী (حائض) কিংবা অপবিত্র (جنব) ব্যক্তি এটি তিলাওয়াত করতে পারে না। যখন সত্যপন্থী (أهل الحق) এবং মুতাযিলা (معتزلة) সম্প্রদায়ের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিল, তখন সত্যপন্থীরা (أهل الحق) বললেন: কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা অসৃষ্ট (غير مخلوق); পক্ষান্তরে মুতাযিলারা (معتزلة) বলল: এটি সৃষ্ট (مخلوق)। তাদের এই মতভেদ কেবল বর্তমানে বিদ্যমান (موجود) এই বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং যা এতে...
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
نفس الْبَارِي مِمَّا لَا يدرى مَا هُوَ وَلَا نعرفه وَلما أَمر الله تَعَالَى بترتيل الْقُرْآن بقوله سُبْحَانَهُ {ورتل الْقُرْآن ترتيلا} المزمل 4 لم يفهم مِنْهُ الْمُسلمُونَ إِلَّا هَذَا الْمَوْجُود وَلما قَالَ الْوَلِيد بن الْمُغيرَة {إِن هَذَا إِلَّا قَول الْبشر} المدثر 25 إِنَّمَا أَشَارَ إِلَى هَذَا النّظم فتوعده الله عز وجل فَقَالَ {سأصليه سقر} المدثر 26 وَلما قَالُوا {لن نؤمن بِهَذَا الْقُرْآن وَلَا بِالَّذِي بَين يَدَيْهِ} سبأ 31 إِنَّمَا أشاروا إِلَيْهِ وَلما قَالُوا {إِن هَذَا إِلَّا أساطير الْأَوَّلين} لم يعنوا غَيره وَلَو لم يكن هَذَا النّظم قُرْآنًا لوَجَبَ ان تبطل الصَّلَاة بِهِ لِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ
স্রষ্টার (البارئ) সত্তা এমন বিষয় যার প্রকৃত স্বরূপ জানা যায় না এবং আমরা তা জানি না। যখন মহান আল্লাহ তাঁর বাণী {এবং আপনি কুরআন তারতীলের সাথে (ترتيلا) তিলাওয়াত করুন} [আল-মুয্যাম্মিল: ৪] এর মাধ্যমে কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছেন, তখন মুসলিমগণ এর দ্বারা বর্তমানে বিদ্যমান এই (কুরআন) ব্যতীত অন্য কিছু বোঝেননি। যখন ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা বলেছিল {এটি তো মানুষের কথা ব্যতীত আর কিছু নয়} [আল-মুদ্দাসসির: ২৫], সে মূলত এই শব্দবিন্যাসেরই (النظم) ইঙ্গিত করেছিল; ফলে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে ধমক দিয়ে বললেন {আমি তাকে সাকারে নিক্ষেপ করব} [আল-মুদ্দাসসির: ২৬]। আর যখন তারা বলেছিল {আমরা এই কুরআনের প্রতি এবং এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি কখনও ঈমান আনব না} [সাবা: ৩১], তখন তারা মূলত এরই ইঙ্গিত দিয়েছিল। যখন তারা বলেছিল {এটি তো পূর্ববর্তীদের উপকথা ব্যতীত আর কিছু নয়}, তখন তারা এটি ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেনি। আর এই শব্দবিন্যাস (النظم) যদি কুরআন না হতো, তবে এর দ্বারা সালাত বাতিল হওয়া আবশ্যক হতো, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
إِن صَلَاتنَا هَذِه لَا يصلح فِيهَا شَيْء من كَلَام النَّاس إِنَّمَا هِيَ التَّسْبِيح وَالتَّكْبِير وَقِرَاءَة الْقُرْآن فعلى قَول هَؤُلَاءِ المخذولين يكون الْقُرْآن الَّذِي لَا تصح الصَّلَاة إِلَّا بِهِ مُبْطلًا لَهَا لِأَنَّهُ لَيْسَ بقرآن وَإِنَّمَا هُوَ تصنيف جِبْرِيل وَهَذِه فضيحة لم يسْبقُوا إِلَيْهَا وَأجْمع الْمُسلمُونَ على أَن فِي الْقُرْآن نَاسِخا ومنسوخا وَإِنَّمَا يتَعَلَّق هَذِه النّظم دون مَا فِي النَّفس وَأَجْمعُوا على أَن الْقُرْآن معجز لِلْخلقِ عجزوا عَن الْإِتْيَان بِعشر سور مثله اَوْ سُورَة مثله وَإِنَّمَا يتَعَلَّق ذَلِك بِهَذَا الْقُرْآن وَهُوَ هَذَا الْقُرْآن الَّذِي اجْمَعْ عَلَيْهِ الْمُسلمُونَ وَكفر بِهِ الْكَافِرُونَ وَزَعَمت الْمُعْتَزلَة أَنه مَخْلُوق وَأقر الاشعري أَنهم مخطئون ثمَّ عَاد فَقَالَ هُوَ مَخْلُوق وَلَيْسَ بقرآن فَزَاد عَلَيْهِم

আমাদের এই নামাজে মানুষের কোনো কথা বলা সমীচীন নয়; বরং এটি কেবল তাসবিহ, তাকবির এবং কুরআন পাঠ। সুতরাং এই পরিত্যক্ত (مخذولين) ব্যক্তিদের দাবি অনুযায়ী, যে কুরআন ব্যতীত নামাজ শুদ্ধ হয় না, তা-ই নামাজের জন্য বাতিলকারী হয়ে দাঁড়াবে; কারণ তাদের মতে এটি কুরআন নয়, বরং তা জিবরাঈলের রচনা। এটি এমন এক নির্লজ্জতা যাতে তাদের পূর্বে কেউ লিপ্ত হয়নি। মুসলিমগণ এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কুরআনে রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) আয়াত বিদ্যমান রয়েছে; আর এটি কেবল এই শব্দ বিন্যাস (نظم) এর সাথেই সংশ্লিষ্ট, মনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সাথে নয়। তাঁরা আরও ঐক্যমত হয়েছেন যে, কুরআন সৃষ্টির জন্য এক অলৌকিক (معجز) সত্তা; তারা এর মতো দশটি সূরা বা একটি সূরা নিয়ে আসতেও অক্ষম হয়েছে। আর এটি কেবল এই কুরআনের সাথেই সংশ্লিষ্ট, এবং এটিই সেই কুরআন যার ওপর মুসলিমগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং অবিশ্বাসী (كافرون) গোষ্ঠী একে অস্বীকার করেছে। মুতাজিলাগণ দাবি করেছিল যে এটি সৃষ্টি (مخلوق), আর আশআরি স্বীকার করেছিলেন যে তারা ভ্রান্ত (مخطئون), অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন যে এটি সৃষ্টি (مخلوق) এবং এটি কুরআন নয়; ফলে তিনি তাদের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন (চরমপন্থা অবলম্বন করলেন)।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَلَا خلاف بَين الْمُسلمين أَجْمَعِينَ أَن من جحد آيَة أَو كلمة مُتَّفقا عَلَيْهَا أَو حرفا مُتَّفقا عَلَيْهِ أَنه كَافِر وَقَالَ عَليّ رضي الله عنه من كفر بِحرف مِنْهُ فقد كفر بِهِ كُله والأشعري يجحده كُله وَيَقُول لَيْسَ شَيْء مِنْهُ قُرْآنًا وَإِنَّمَا هُوَ كَلَام جِبْرِيل وَلَا خلاف بَين الْمُسلمين كلهم فِي انهم يَقُولُونَ قَالَ الله كَذَا إِذا أَرَادوا ان يخبروا عَن آيَة أَو يستشهدوا بِكَلِمَة من الْقُرْآن ويقرون كلهم بِأَن هَذَا قَول الله وَعند الْأَشْعَرِيّ لَيْسَ هَذَا قَول الله وانما هُوَ قَول جِبْرِيل فَكَانَ يَنْبَغِي لَهُم أَنهم يَقُولُونَ قَالَ جِبْرِيل أَو قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذا حكوا آيَة ثمَّ إِنَّهُم قد أقرُّوا ان الْقُرْآن كَلَام الله غير مَخْلُوق فَإِذا لم يكن الْقُرْآن هَذَا الْكتاب الْعَرَبِيّ الَّذِي سَمَّاهُ الله قُرْآنًا فَمَا الْقُرْآن عِنْدهم وَبِأَيِّ شَيْء علمُوا أَن غير هَذَا يُسمى قُرْآنًا فَإِن تَسْمِيَة الْقُرْآن إِنَّمَا تعلم من الشَّرْع أَو النَّص فَأَما الْعقل فَلَا يَقْتَضِي تَسْمِيَة صفة

সমস্ত মুসলিমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যে ব্যক্তি কুরআনের কোনো আয়াত বা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত (متفق عليها) কোনো শব্দ অথবা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত (متفق عليه) কোনো বর্ণকে অস্বীকার করল, সে কাফির (كافر)। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "যে ব্যক্তি এর একটি বর্ণকে অস্বীকার করল, সে এর পুরোটাকেই অস্বীকার করল।" অথচ আশআরি একে সামগ্রিকভাবে অস্বীকার করেন এবং বলেন যে, এর কোনো অংশই কুরআন নয়, বরং এটি জিবরীলের কালাম। সমস্ত মুসলিমের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যখন তারা কোনো আয়াত সম্পর্কে সংবাদ দিতে চান কিংবা কুরআনের কোনো শব্দ দ্বারা দলিল পেশ করতে চান, তখন তারা বলেন—"আল্লাহ এমনটি বলেছেন"। তারা সকলেই স্বীকার করেন যে এটি আল্লাহর বাণী। কিন্তু আশআরির নিকট এটি আল্লাহর বাণী নয়, বরং এটি জিবরীলের বাণী। এমতাবস্থায় তাদের জন্য সংগত ছিল যে, তারা যখন কোনো আয়াত উদ্ধৃত করবেন তখন বলবেন "জিবরীল বলেছেন" অথবা "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন"। তদুপরি, তারা স্বীকার করেছেন যে কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা অ-সৃষ্ট (غير مخلوق)। সুতরাং যদি এই আরবি কিতাবটি—যাকে আল্লাহ কুরআন হিসেবে নামকরণ করেছেন—তাদের নিকট কুরআন না হয়, তবে তাদের নিকট কুরআন কোনটি? আর তারা কিসের ভিত্তিতে জানলেন যে এটি ব্যতীত অন্য কিছুকে কুরআন বলা হয়? কেননা কুরআনের নামকরণ তো কেবল শরিয়ত কিংবা অকাট্য দলিল (النص) থেকেই জানা যায়। পক্ষান্তরে বিবেক কোনো গুণের (صفة) নামকরণের প্রয়োজনীয়তা সাব্যস্ত করে না।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الله قُرْآنًا وَمَا ورد النَّص بتسميته الْقُرْآن إِلَّا لهَذَا الْكتاب وَلَا عرفت الْأمة قُرْآنًا غَيره وتسميتهم غَيره قُرْآنًا تحكم بِغَيْر دَلِيل شَرْعِي وَلَا عَقْلِي مُخَالف الْكتاب وَالسّنة وَإِجْمَاع الْأمة ومدار الْقَوْم على القَوْل بِخلق الْقُرْآن ووفاق الْمُعْتَزلَة وَلَكِن أَحبُّوا ان لَا يعلم بهم فارتكبوا مُكَابَرَة العيان وَجحد الْحَقَائِق وَمُخَالفَة الْإِجْمَاع ونبذ الْكتاب وَالسّنة وَرَاء ظُهُورهمْ وَالْقَوْل بِشَيْء لم يقلهُ قبلهم مُسلم وَلَا كَافِر وَمن الْعجب انهم لَا يتجاسرون على إِظْهَار قَوْلهم وَلَا التَّصْرِيح بِهِ إِلَّا فِي الخلوات وَلَو أَنهم وُلَاة الْأَمر وأرباب الدولة وَإِذا حكيت عَنْهُم مقالتهم الَّتِي يعتقدونها كَرهُوا ذَلِك وأنكروا وكابروا عَلَيْهِ وَلَا يتظاهرون إِلَّا بتعظيم الْقُرْآن وتبجيل الْمَصَاحِف وَالْقِيَام لَهَا عِنْد رؤيتها وَفِي الخلوات يَقُولُونَ مَا فِيهَا إِلَّا الْوَرق والمداد وَأي شَيْء فِيهَا وَهَذَا فعل الزَّنَادِقَة وَلَقَد حكيت عَن الَّذِي جرت المناظرة بيني وَبَينه بعض مَا قَالَه فَنقل إِلَيْهِ ذَلِك فَغَضب وشق عَلَيْهِ وَهُوَ من أكبر وُلَاة الْبَلَد وَمَا أفْصح لي بمقالته حَتَّى خلوت مَعَه وَقَالَ أُرِيد ان أَقُول لَك أقْصَى مَا فِي نَفسِي وَتقول لي اقصى مَا فِي نَفسك وَصرح لي بمقالتهم على مَا حكيناه عَنْهُم وَلما الزمته بعض الْآيَات الدَّالَّة على ان الْقُرْآن هُوَ
আল্লাহ [একে] কুরআন [হিসেবে অভিহিত করেছেন]। এই কিতাবটি ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর নাম কুরআন রাখার ব্যাপারে কোনো অকাট্য পাঠ্য (نص) আসেনি, এবং উম্মাহ এটি ব্যতীত অন্য কোনো কুরআন সম্পর্কে অবগত নয়। এই কিতাব ব্যতীত অন্য কিছুকে কুরআন হিসেবে নাম দেওয়া কোনো শরয়ি (شرعي) বা যৌক্তিক (عقلي) প্রমাণ (دليل) ছাড়াই একটি স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত, যা কিতাব, সুন্নাহ (سنة) এবং উম্মাহর ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী। এই লোকদলের মূল ভিত্তি হলো কুরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) মতবাদ এবং মুতাজিলাদের (معتزلة) সাথে ঐকমত্য পোষণ করা। তবে তারা চেয়েছিল যে লোকে যেন তাদের সম্পর্কে জানতে না পারে; ফলে তারা চাক্ষুষ সত্য অস্বীকারের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছে, ঐকমত্যের (إجماع) বিরোধিতা করেছে এবং কিতাব ও সুন্নাহকে (سنة) পিঠের পেছনে ফেলে দিয়েছে। তারা এমন কথা বলেছে যা ইতিপূর্বে কোনো মুসলিম বা কাফির বলেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা নির্জন পরিবেশ ছাড়া তাদের এই বক্তব্য প্রকাশ বা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার সাহস পায় না, যদিও তারা শাসনকর্তা ও রাষ্ট্রের অধিপতি। যখন তাদের থেকে তাদের সেই বিশ্বাসকৃত বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়, তারা তা অপছন্দ করে, অস্বীকার করে এবং এর ওপর হঠকারিতা প্রদর্শন করে। তারা বাহ্যিকভাবে কুরআনকে সম্মান করা, মুসহাফসমূহকে মর্যাদা দেওয়া এবং সেগুলো দেখলে দাঁড়িয়ে সম্মান করার অভিনয় ছাড়া আর কিছুই করে না। অথচ নির্জনে তারা বলে যে, 'এতে কাগজ আর কালি ছাড়া আর কিছুই নেই; এতে আর কী-ই বা আছে!' আর এটি হলো ধর্মদ্রোহীদের (زنادقة) কাজ। আমার ও যার মধ্যে বিতর্ক (مناظرة) হয়েছিল, তার পক্ষ থেকে আমি কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছিলাম। সেই কথা তার কাছে পৌঁছালে সে রাগান্বিত হলো এবং এটি তার জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক হলো, অথচ সে ছিল সেই শহরের অন্যতম প্রধান পদস্থ কর্মকর্তা। যতক্ষণ না আমি তার সাথে একান্তে বসলাম, ততক্ষণ সে তার মতবাদ আমার কাছে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেনি। সে বলেছিল, 'আমি আমার মনের গহীনের কথা আপনাকে বলতে চাই এবং আপনিও আপনার মনের গহীনের কথা আমাকে বলুন।' অতঃপর সে আমাদের কাছে তাদের সেই মতবাদটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করল যা আমরা তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছি। যখন আমি তাকে কুরআন যে [আল্লাহর কালাম] তার সপক্ষে নির্দেশক কিছু আয়াতের মাধ্যমে বাধ্য করলাম তখন...
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
هَذِه السُّور قَالَ وَأَنا أَقُول إِن هَذَا قُرْآن وَلَكِن لَيْسَ هُوَ الْقُرْآن الْقَدِيم قلت وَلنَا قرآنان قَالَ نعم وَأي شَيْء يكون إِذا كَانَ لنا قرآنان ثمَّ غضب لما حكيت عَنهُ هَذَا القَوْل وَقَالَ لَهُ بعض أَصْحَابنَا أَنْتُم وُلَاة الْأَمر وأرباب الدولة فَمَا الَّذِي يمنعكم من إِظْهَار مَقَالَتَكُمْ لعامة النَّاس وَدُعَاء النَّاس إِلَى القَوْل بهَا بَينهم فبهت وَلم يجب إِلَيّ وَلَا نَعْرِف فِي أهل الْبدع طَائِفَة يكتمون مقالتهم وَلَا يتجاسرون على إظهارها الا الزَّنَادِقَة والأشعرية وَقد امْر الله تَعَالَى رَسُوله صلى الله عليه وسلم بِإِظْهَار الدّين وَالدُّعَاء اليه وتبليغ مَا أنزل عَلَيْهِ فَقَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الرَّسُول بلغ مَا أنزل إِلَيْك من رَبك وَإِن لم تفعل فَمَا بلغت رسَالَته وَالله يَعْصِمك من النَّاس} الْمَائِدَة 67 فَإِن كَانَت مقالتهم كَمَا يَزْعمُونَ هِيَ الْحق فَهَلا أظهروها ودعوا النَّاس إِلَيْهَا وَكَيف حل لَهُم كتمانها وإخفاؤها والتظاهر بِخِلَافِهَا وإيهام الْعَام اعْتِقَاد مَا سواهَا بل لَو كَانَت مقالتهم هِيَ الْحق الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه وَالْأَئِمَّة الَّذين بعدهمْ كَيفَ لم يظهرها أحد مِنْهُم وَكَيف تواطأوا على كتمانها أم كَيفَ حل للنَّبِي صلى الله عليه وسلم كتمانها عَن أمته وَقد أَمر بتبليغ مَا انْزِلْ إِلَيْهِ وتوعد على إخفاء سىء مِنْهُ بقوله {وَإِن لم تفعل فَمَا بلغت رسَالَته} أم كَيفَ وَسعه ان يُوهم الْخلق خلاف الْحق ثمَّ هُوَ صلى الله عليه وسلم اشفق على أمته من أَن يُعلمهُ الله حَقًا ويأمره بتبليغه إِلَى أمته فيكتمه عَنْهُم حَتَّى يضلوا عَنهُ ثمَّ إِذا كتمه فَمن الذى بلغه إِلَى الصَّحَابَة حَتَّى اعتقدوه ودانوا
এই সূরাসমূহ। তিনি বললেন, এবং আমিও বলি যে এটি কুরআন; তবে এটি সেই অনাদি (قديم) কুরআন নয়। আমি বললাম, তবে কি আমাদের নিকট দুটি কুরআন আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আর যদি আমাদের নিকট দুটি কুরআন থাকেই তবে তাতে কী আসে যায়? অতঃপর আমি তাঁর পক্ষ থেকে এই উক্তিটি বর্ণনা করায় তিনি রাগান্বিত হলেন। আমাদের কিছু সঙ্গী তাঁকে বললেন, আপনারাই তো উলুল আমর (ولاة الأمر) ও রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা; তবে আপনাদের মতবাদ সাধারণ মানুষের নিকট প্রকাশ করতে এবং তাদের মাঝে এই কথা প্রচার করার আহ্বান জানাতে আপনাদের কে বাধা দিচ্ছে? এতে তিনি হতবাক হয়ে গেলেন এবং কোনো উত্তর দিলেন না। আমরা বিদআতিদের (أهل البدع) মধ্যে জিন্দিক (زنادقة) এবং আশআরিয়া (أشعرية) ব্যতীত এমন কোনো দল সম্পর্কে জানি না যারা নিজেদের মতবাদ গোপন রাখে এবং তা প্রকাশ করার সাহস করে না। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দ্বীন প্রকাশ করার, তার দিকে আহ্বান করার এবং তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত (رسالة) পৌঁছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৭]। সুতরাং তাদের মতবাদটি যদি তাদের দাবি অনুযায়ী সত্য হয়ে থাকে, তবে কেন তারা তা প্রকাশ করল না এবং মানুষকে তার দিকে আহ্বান করল না? আর কীভাবে তাদের জন্য এটি গোপন করা, লুকিয়ে রাখা, এর বিপরীত বেশ ধারণ করা এবং সাধারণ মানুষের নিকট এর বিপরীত বিশ্বাসের বিভ্রম তৈরি করা বৈধ হলো? বরং তাদের মতবাদ যদি সেই সত্য হতো যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তবে কেন তাঁদের কেউ তা প্রকাশ করলেন না? এবং কেনই বা তাঁরা এটি গোপন করার ব্যাপারে একমত হলেন? অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর উম্মত থেকে এটি গোপন করা কীভাবে বৈধ হতে পারে, যেখানে তাঁকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার সামান্য কিছু গোপন করার বিষয়েও এই বলে সতর্ক করা হয়েছে যে, {আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত (رسالة) পৌঁছালেন না}? অথবা সৃষ্টিজগতকে সত্যের বিপরীতে বিভ্রান্তিতে রাখা কীভাবে তাঁর পক্ষে সম্ভব? অথচ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের প্রতি এতটাই দয়াপরবশ ছিলেন যে, আল্লাহ তাঁকে কোনো সত্য শিক্ষা দেবেন এবং তা উম্মতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেবেন, আর তিনি তা তাদের থেকে গোপন রাখবেন যাতে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে—এমনটি হওয়া অসম্ভব। তদুপরি যদি তিনি এটি গোপনই করতেন, তবে কে তা সাহাবীগণের নিকট পৌঁছে দিল যে তাঁরা এটি বিশ্বাস করলেন এবং এর ওপর দ্বীন পালন করলেন?
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
بِهِ وَكَيف تصور مِنْهُم ان يدينوا بِهِ ويتواطأوا على كِتْمَانه حَتَّى لَا ينْقل عَن أحد مِنْهُم مَعَ كثرتهم وتفرقهم فِي الْبلدَانِ فَإِن تصور ذَلِك مِنْهُم فَمن الَّذِي نَقله إِلَى التَّابِعين حَتَّى اعتقدوه فَكل هَذَا من المستحيل الَّذِي يقطع كل ذِي لب بفساده وَيعلم يَقِينا أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه وتابعيهم مَا كَانُوا يَعْتَقِدُونَ فِي الْقُرْآن اعتقادا سوى اعْتِقَاد الْمُسلمين وانه هَذَا الْقُرْآن الْعَرَبِيّ الَّذِي هُوَ سور وآيات وَهَذَا أَمر لَا يخفى على غير من أضلّهُ الله وَإِن تصور فِي عُقُولهمْ أَن الْحق خَفِي على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وعَلى أَصْحَابه وَالتَّابِعِينَ بعدهمْ وعَلى الْأَئِمَّة الَّذين مهدوا الدّين واقتدزا بسلفهم وَاقْتَدوا بهم من بعدهمْ وغطي عَنْهُم الصَّوَاب وَلم يتَبَيَّن لَهُم الصَّحِيح إِلَى أَن جَاءَ الْأَشْعَرِيّ فبينه وأوضح مَا خَفِي على النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأمته وكشفه فَهَذِهِ عقول سخيفة وآراء ضَعِيفَة إِذْ يتَصَوَّر فِيهَا أَن يضيع الْحق عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم ويجده الْأَشْعَرِيّ ويغفل عَنهُ كل الْأمة وينتبه لَهُ دونهم وَإِن سَاغَ لَهُم هَذَا سَاغَ لسَائِر الْكفَّار نسبتهم لنبينا عليه السلام وامته إِلَى أَنهم ضَاعُوا عَن الصَّوَاب وأضلوا عَن الطَّرِيق وَيَنْبَغِي ان تكون شريعتهم غير شَرِيعَة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَدينهمْ غير دين الْإِسْلَام لِأَن دين الْإِسْلَام هُوَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَهَذَا إِنَّمَا جَاءَ بِهِ الْأَشْعَرِيّ وَإِن رَضوا هَذَا واعترفوا بِهِ خَرجُوا عَن الْإِسْلَام بِالْكُلِّيَّةِ فَإِن قَالُوا فَكيف قُلْتُمْ إِن الْقُرْآن حُرُوف وَلم يرد فِي كتاب وَلَا سنة وَلَا عَن أحد من الْأَئِمَّة قُلْنَا قد ثَبت ان الْقُرْآن هُوَ هَذِه السُّور والآيات وَلَا خلاف بَين الْعُقَلَاء كلهم مسلمهم وكافرهم فِي أَنَّهَا حُرُوف وَلَا يخْتَلف عاقلان فِي أَن {الْحَمد} خَمْسَة أحرف وَاتفقَ الْمُسلمُونَ كلهم فِي أَن سُورَة الْفَاتِحَة سبع آيَات وَاخْتلفُوا فِي أَن {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} هَل هِيَ آيَة مِنْهَا أم لَا وَاتَّفَقُوا كلهم على أَنَّهَا كَلِمَات وحروف وَقد افْتتح الله تَعَالَى كثيرا من سور الْقُرْآن بالحروف الْمُقطعَة مثل {الم} و {الر}

এর মাধ্যমে; এবং তাদের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে কল্পনা করা যায় যে তারা এটিকেই দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং তা গোপন রাখার ব্যাপারে একমত হবেন? এমনকি তাদের সংখ্যাধিক্য এবং বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্য হতে একজনের থেকেও তা বর্ণিত হবে না। যদি তাদের ক্ষেত্রে এমনটি কল্পনাও করা হয়, তবে তা তাবেয়ীদের নিকট কে বর্ণনা করল যে তারা এটি বিশ্বাস করে নিলেন? এই সব কিছুই অসম্ভব পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, যার অসারতা সম্পর্কে প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে অবগত এবং তিনি দৃঢ়ভাবে জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণ কুরআনের বিষয়ে সাধারণ মুসলমানদের বিশ্বাসের বাইরে অন্য কোনো বিশ্বাস পোষণ করতেন না। আর তা হলো এই আরবি কুরআন, যা বিভিন্ন সূরা ও আয়াতের সমষ্টি। এই বিষয়টি এমন এক সত্য যা আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন সে ছাড়া আর কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। আর যদি তাদের মস্তিষ্কে এই চিন্তা আসে যে, সত্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ, তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীগণ এবং দ্বীনের ভিত্তি স্থাপনকারী সেই সকল ইমামদের নিকট গোপন ছিল যারা তাঁদের পূর্বসূরিদের অনুসরণ করেছেন এবং পরবর্তীগণ যাঁদের অনুসরণ করেছেন; আর তাদের নিকট থেকে সঠিক বিষয়টি ঢাকা ছিল এবং সঠিক (الصحيح) বিষয়টি তাদের নিকট স্পষ্ট হয়নি যতক্ষণ না আল-আশআরি এলেন এবং তিনি তা বর্ণনা করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর উম্মতের নিকট যা গোপন ছিল তা স্পষ্ট ও উন্মোচিত করলেন; তবে এগুলো অত্যন্ত তুচ্ছ বুদ্ধি ও দুর্বল (ضعيفة) মতামত। কেননা এতে ধারণা করা হয় যে, সত্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে হারিয়ে গিয়েছে এবং আল-আশআরি তা খুঁজে পেয়েছেন, আর সমগ্র উম্মত সে বিষয়ে গাফেল ছিল কিন্তু তিনি একাই তা বুঝতে পেরেছেন। যদি তাদের জন্য এটি মেনে নেওয়া বৈধ হয়, তবে অন্যান্য কাফেরদের জন্যও আমাদের নবী (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর উম্মতকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ও পথভ্রষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা বৈধ হয়ে যাবে। আর সেক্ষেত্রে তাদের শরীয়ত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরীয়ত অপেক্ষা ভিন্ন হওয়া উচিত এবং তাদের দ্বীন ইসলাম ভিন্ন অন্য কিছু হওয়া সমীচীন। কারণ ইসলাম হলো সেই দ্বীন যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে এসেছেন, আর এটি তো কেবল আল-আشআরি নিয়ে এসেছেন। যদি তারা এটি পছন্দ করে এবং স্বীকার করে নেয়, তবে তারা সম্পূর্ণরূপে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। তারা যদি প্রশ্ন করে, "আপনারা কেন বললেন যে কুরআন বর্ণমালার সমষ্টি, অথচ কিতাব, সুন্নাহ (سنة) কিংবা কোনো ইমামের বক্তব্যে তা উল্লেখ নেই?" আমরা বলব, এটি সুপ্রমাণিত যে কুরআন হলো এই সূরা ও আয়াতসমূহের সমষ্টি। আর মুসলিম ও কাফের নির্বিশেষে সকল বিবেকবান মানুষের মাঝে এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই যে এগুলো বর্ণমালার সমষ্টি। কোনো দুইজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির মাঝে এ নিয়ে দ্বিমত নেই যে, 'আল-হামদু' (الحمد) পাঁচটি বর্ণ নিয়ে গঠিত। আর সকল মুসলমান এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে সূরা ফাতিহা হলো সাতটি আয়াত। তবে তারা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সেই সাত আয়াতের একটি কি না সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। কিন্তু তাঁরা সকলেই একমত যে এগুলো শব্দ ও বর্ণের সমষ্টি। আর মহান আল্লাহ কুরআনের অনেক সূরাই বিচ্ছিন্ন বর্ণমালা (الحروف المقطعة) যেমন 'আলিফ-লাম-মীম' এবং 'আলিফ-লাম-রা' দ্বারা শুরু করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَلَا يجْحَد عَاقل كَونهَا حروفا إِلَّا على سَبِيل المكابرة وَهَذَا أَمر غير خَافَ على أحد فَلَا حَاجَة إِلَى الدَّلِيل عَلَيْهِ فَإِن قَالُوا لَا يسوغ لكم أَن تَقولُوا لَفْظَة لم ترد فِي كتاب وَلَا سنة وَإِن كَانَ مَعْنَاهَا صَحِيحا ثَابتا قُلْنَا هَذَا خطأ فَإِنَّهُ لَا خلاف فِي أَنه يجوز أَن يُقَال إِن الْقُرْآن مائَة واربع عشرَة سُورَة وَإِن سُورَة الْبَقَرَة مِائَتَان وست وَثَمَانُونَ آيَة وَفِي عد آى سور الْقُرْآن وأحزابه وأسباعه وأعشاره وَلم يرد لفظ فِي ذَلِك فِي كتاب وَلَا سنة على ان لفظ الْحَرْف قد جَاءَت بِهِ السّنة وأقوال الصَّحَابَة وَإِجْمَاع الْأمة فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم من قَرَأَ الْقُرْآن وأعربه فَلهُ بِكُل حرف مِنْهُ عشر حَسَنَات وَمن قَرَأَهُ ولحن فِيهِ فَلهُ بِكُل حرف مِنْهُ حَسَنَة وَهَذَا حَدِيث صَحِيح وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم اقرأوا الْقُرْآن قبل أَن يَأْتِي قوم يُقِيمُونَ حُرُوفه إِقَامَة السهْم لَا يُجَاوز تراقيهم

কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই হঠকারিতা ছাড়া এগুলো অক্ষর (حرف) হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করবে না। এটি এমন এক বিষয় যা কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়, তাই এর সপক্ষে কোনো প্রমাণের (دليل) প্রয়োজন নেই। তারা যদি বলে যে, আপনাদের জন্য এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা বৈধ নয় যা কিতাব কিংবা সুন্নাহ (سنة)-য় বর্ণিত হয়নি, যদিও তার অর্থ সঠিক (صحيح) ও সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) হয়; তবে আমরা বলব এটি ভুল। কেননা এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, এটি বলা বৈধ যে কুরআন একশ চৌদ্দটি সূরা এবং সূরা আল-বাকারাহ দুইশ ছিয়াশিটি আয়াত বিশিষ্ট। অনুরূপভাবে কুরআনের সূরাসমূহের আয়াত গণনা এবং এর বিভিন্ন অংশ (أحزاب), সপ্তমাংশ (أسباع) ও দশমাংশ (أعشار) নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই, অথচ এসব পরিভাষা কিতাব বা সুন্নাহ (سنة)-য় আসেনি। তা সত্ত্বেও 'অক্ষর' (حرف) শব্দটি সুন্নাহ (سنة), সাহাবীগণের বক্তব্য এবং উম্মাহর সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع)-এর মাধ্যমে প্রমাণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং তা ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ (أعرب) করে পড়ল, তার জন্য প্রতিটি অক্ষর (حرف)-এর বিনিময়ে দশটি নেকি রয়েছে। আর যে ব্যক্তি তা পাঠ করল এবং ভুল উচ্চারণ (لحن) করল, তার জন্য প্রতিটি অক্ষর (حرف)-এর বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে।" এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "তোমরা কুরআন পাঠ করো এমন এক জাতি আসার আগে যারা এর অক্ষরগুলোকে (حروف) তীরের ন্যায় সোজা করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না।"

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَقَالَ عليه السلام أنزل الْقُرْآن على سَبْعَة احرف وَقَالَ أَبُو بكر وَعمر رضي الله عنهما إِعْرَاب الْقُرْآن أحب إِلَيْنَا من حفظ بعض حُرُوفه وَقَالَ عَليّ رضي الله عنه من كفر بِحرف من الْقُرْآن فقد كفر بِهِ كُله وَقَالَ ايضا تعلمُوا الْبَقَرَة فَإِن بِكُل حرف مِنْهَا حَسَنَة والحسنة بِعشْرَة أَمْثَالهَا وَقَالَ عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه من حلف بِالْقُرْآنِ فَعَلَيهِ بِكُل حرف كَفَّارَة

এবং তিনি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন, "কুরআন সাতটি পাঠরীতি বা উপভাষার (أحرف) ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে।" আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, "কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) আমাদের কাছে এর কিছু অক্ষর (حروف) মুখস্থ করার চেয়ে অধিক প্রিয়।" আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষরকে (حرف) অস্বীকার করল, সে মূলত এর সম্পূর্ণ অংশকেই অস্বীকার করল।" তিনি আরও বলেছেন, "তোমরা সূরা আল-বাকারা শিক্ষা করো, কেননা এর প্রতিটি অক্ষরের (حرف) বিনিময়ে একটি পুণ্য (حسنة) রয়েছে এবং প্রতিটি পুণ্য (حسنة) তার দশগুণ সওয়াবের সমান।" এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কুরআনের নামে শপথ করে, তার ওপর প্রতিটি অক্ষরের (حرف) বিপরীতে কাফফারা (كفارة) প্রদান করা আবশ্যক।"

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَقَالَ ابْن عمر إِذا خرج أحدكُم لِحَاجَتِهِ ثمَّ رَجَعَ إِلَى أَهله فليأت الْمُصحف فيفتحه فيقرا سُورَة فَإِن الله يكْتب لَهُ بِكُل حرف عشر حَسَنَات اما إِنِّي لَا أَقُول {الم} وَلَكِن الْألف عشر وَاللَّام عشر وَالْمِيم عشر وَقَالَ الْحسن الْبَصْرِيّ قراء الْقُرْآن ثَلَاثَة فقوم حفظوا حُرُوفه وضيعوا حُدُوده وَقَالَ حُذَيْفَة وفضاله بن عبيج خُذ عَليّ الْمُصحف وَلَا تردن عَليّ ألفا وَلَا واوا وَذكر أَبُو عبيد وَغَيره من الْأَئِمَّة فِي تصانيفهم بَاب اخْتلَافهمْ فِي حُرُوف الْقُرْآن

ইবনে উমর (রা.) বলেন, তোমাদের কেউ যখন তার প্রয়োজনে বের হয় এবং অতঃপর তার পরিবারের নিকট ফিরে আসে, তখন সে যেন মুসহাফটি গ্রহণ করে এবং তা খুলে কোনো একটি সূরা পাঠ করে। কেননা আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি নেকি লিখে দেন। জেনে রেখো, আমি বলছি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর, বরং আলিফ দশ, লাম দশ এবং মীম দশ।

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, কুরআন পাঠকারীগণ তিন প্রকার। একদল লোক যারা এর শব্দসমূহ মুখস্থ করেছে কিন্তু এর বিধানসমূহ নষ্ট করেছে।

হুজাইফা এবং ফাদালাহ ইবনে উবাইদ (রা.) বলেন, আমার নিকট থেকে মুসহাফটি (এর পাঠ) গ্রহণ করো এবং একটি ‘আলিফ’ কিংবা ‘ওয়াও’-এর ক্ষেত্রেও আমার ওপর কোনো আপত্তি করো না।

আবু উবাইদ এবং অন্যান্য ইমামগণ তাঁদের গ্রন্থাবলিতে কুরআনের বর্ণমালার ক্ষেত্রে তাঁদের মতপার্থক্য সংক্রান্ত একটি অধ্যায় উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَاتفقَ أهل الْأَمْصَار من أهل الْحجاز وَالْعراق وَالشَّام على عدد حُرُوف الْقُرْآن فَعَدهَا كل أهل مصر وَقَالُوا عَددهَا كَذَا وَكَذَا وَقَالَ الْمسيب بن وَاضح قلت ليوسف بن اسباط حَدثنِي ابو عمر الصَّنْعَانِيّ حَفْص بن ميسرَة قَالَ الْقُرْآن ألفا ألف حرف واربعة وَعِشْرُونَ الف حرف فَمن قَرَأَ الْقُرْآن اعطي بِكُل حرف زَوْجَة من الْحور الْعين فَقَالَ لي يُوسُف بن أَسْبَاط وَمَا يُعْجِبك من ذَلِك حَدثنِي مُحَمَّد بن ابان الْعجلِيّ عَن عبد الاعلى عَن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ عَن أَبِيه عَن عبد الله بن مَسْعُود قَالَ من قَرَأَ الْقُرْآن أعطي بِكُل حرف زَوْجَتَيْنِ من الْحور الْعين وَلم تزل هَذِه الْأَخْبَار وَهَذِه اللَّفْظَة متداولة منقولة بَين النَّاس لَا ينكرها مُنكر وَلَا يخْتَلف فِيهَا أحد إِلَى ان جَاءَ الْأَشْعَرِيّ فأنكرها وَخَالف الْخلق كلهم مسلمهم وكافرهم وَلَا تَأْثِير لقَوْله عِنْد أهل الْحق وَلَا تتْرك الْحَقَائِق وَقَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَإِجْمَاع الْأمة لقَوْل الْأَشْعَرِيّ إِلَّا من سلبه الله التَّوْفِيق وأعمى بصيرته واضله عَن سَوَاء السَّبِيل وَقَالُوا أَيْضا قد قُلْتُمْ إِن الله يتَكَلَّم بِصَوْت وَلم يَأْتِ كتاب وَلَا سنة قُلْنَا بل قد ورد بِهِ الْكتاب وَالسّنة وَإِجْمَاع أهل الْحق أما الْكتاب فَقَوْل الله تَعَالَى {وكلم الله مُوسَى تكليما} النِّسَاء 164

হিজাজ, ইরাক ও শামের প্রধান শহরগুলোর অধিবাসীগণ কুরআনের অক্ষরের সংখ্যার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। প্রতিটি শহরের অধিবাসীগণ তা গণনা করেছেন এবং তারা বলেছেন যে এর সংখ্যা এত এত। মুসাইয়িব ইবনে ওয়াদিহ বলেন, আমি ইউসুফ ইবনে আসবাতকে বললাম, আবু উমর আস-সানআনি হাফস ইবনে মাইসারাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني): কুরআনে দশ লক্ষ চব্বিশ হাজার অক্ষর রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে, তাকে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে হুরুল ইনের মধ্য থেকে একজন করে স্ত্রী দান করা হবে। ইউসুফ ইবনে আসবাত আমাকে বললেন, এতে তোমার আশ্চর্যের কী আছে? মুহাম্মদ ইবনে আবান আল-ইজলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আবদ আল-আলা হতে (عن), তিনি ইব্রাহিম আত-তাইমি হতে (عن), তিনি তাঁর পিতা হতে (عن), তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ হতে (عن) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে তাকে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে হুরুল ইনের মধ্য থেকে দুইজন করে স্ত্রী দান করা হবে। এই সংবাদসমূহ (أخبار) এবং এই শব্দগুলো মানুষের মাঝে সর্বদা প্রচলিত ও বর্ণিত (منقولة) ছিল; কোনো অস্বীকারকারী একে অস্বীকার করেনি এবং আল-আশআরি আসার পূর্ব পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ মতভেদ করেনি। অতঃপর সে এসে একে অস্বীকার করল এবং মুসলিম-কাফির নির্বিশেষে সকল সৃষ্টির বিরোধিতা করল। সত্যপন্থীদের নিকট তার বক্তব্যের কোনো প্রভাব নেই। আল-আশআরির কথার কারণে প্রকৃত সত্যসমূহ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এবং উম্মতের সর্বসম্মত ঐক্যকে (إجماع) পরিত্যাগ করা হবে না—তবে তার কথা ভিন্ন যাকে আল্লাহ তাওফিক থেকে বঞ্চিত করেছেন, যার অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন এবং যাকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করেছেন। তারা আরও বলেছে: আপনারা বলেছেন যে আল্লাহ শব্দের সাথে কথা বলেন, অথচ কিতাব বা সুন্নাহ এমন কিছু নিয়ে আসেনি। আমরা বলি: বরং কিতাব, সুন্নাহ এবং সত্যপন্থীদের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) দ্বারা এটি বর্ণিত হয়েছে। কিতাবের দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।} [সূরা আন-নিসা: ১৬৪]

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَقَوله تَعَالَى {مِنْهُم من كلم الله} الْبَقَرَة 254 وَقَوله سبحانه وتعالى {وَمَا كَانَ لبشر أَن يكلمهُ الله إِلَّا وَحيا أَو من وَرَاء حجاب} الْآيَة الشورى 51 وَقَوله تَعَالَى {وَإِذ نَادَى رَبك مُوسَى} الشُّعَرَاء 10 وَلَا خلاف بَيْننَا أَن مُوسَى سمع كَلَام الله من الله بِغَيْر وَاسِطَة وَلَا يسمع إِلَّا الصَّوْت فَإِن الصَّوْت هُوَ مَا يَتَأَتَّى سَمَاعه وَقد صَحَّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم انه قَالَ إِن الله يجمع الْخَلَائق فيناديهم بِصَوْت يسمعهُ من بعد كَمَا يسمع من قرب أَنا الْملك أَنا الديَّان وَذكر عبد الله بن أَحْمد انه قَالَ سَالَتْ ابي فَقلت يَا ابه إِن الْجَهْمِية يَزْعمُونَ ان الله لَا يتَكَلَّم بِصَوْت فَقَالَ كذبُوا إِنَّمَا يُرِيدُونَ على التعطيل
এবং মহান আল্লাহর বাণী {তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন} (আল-বাকারাহ: ২৫৪); এবং মহান ও পবিত্র আল্লাহর বাণী {কোনো মানুষের জন্যই এমন অবকাশ নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া অথবা পর্দার অন্তরাল হতে...} আয়াতটি (আশ-শুরা: ৫১); এবং মহান আল্লাহর বাণী {এবং যখন আপনার প্রতিপালক মূসাকে আহ্বান করলেন} (আশ-শুয়ারা: ১০)। আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, মূসা আল্লাহর কালাম (কথা) কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি আল্লাহর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আর শব্দ (صوت) ব্যতীত অন্য কিছু শ্রবণ করা সম্ভব নয়, কেননা যা শ্রবণ করা যায় তা শব্দই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টিকে একত্রিত করবেন, অতঃপর তিনি তাদের এমন এক শব্দে (صوت) আহ্বান করবেন যা দূরবর্তী ব্যক্তি ঠিক সেভাবেই শুনতে পাবে যেভাবে নিকটবর্তী ব্যক্তি শুনতে পায়: 'আমিই রাজাধিরাজ, আমিই প্রতিফলদাতা'।" আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, "হে আব্বা! জাহমিয়ারা দাবি করে যে আল্লাহ শব্দের (صوت) মাধ্যমে কথা বলেন না।" তিনি বললেন: "তারা মিথ্যা বলেছে, তারা এর মাধ্যমে মূলত আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার বা অকেজো (تعطিল) করতে চায়।"
(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪২)
ثمَّ قَالَ حَدثنَا عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد الْمحَاربي قَالَ حَدثنَا سُلَيْمَان بن مهْرَان الْأَعْمَش عَن أبي الضُّحَى عَن مَسْرُوق عَن عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه انه قَالَ إِذا تكلم الله بِالْوَحْي سمع صَوته أهل السَّمَاء قَالَ أَبُو نصر السجْزِي رحمه الله وَهَذَا الْخَبَر لَيْسَ فِي رُوَاته إِلَّا إِمَام مَقْبُول وَقد رُوِيَ مَرْفُوعا إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم

অতঃপর তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলায়মান ইবনে মিহরান আল-আমাশ আমাদের নিকট আবু আদ-দুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন আল্লাহ ওহির মাধ্যমে কথা বলেন, তখন আসমানবাসীরা তাঁর শব্দ শুনতে পায়। আবু নাসর আস-সিজজি (রহ.) বলেন, এই সংবাদ (الخبر)-এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য (مقبول) ইমাম ব্যতীত আর কেউ নেই এবং এটি নবী (সা.)-এর প্রতি উন্নীত (مرفوع) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَفِي بعض الثار أَن مُوسَى عليه السلام لما ناداه ربه يَا مُوسَى اجاب سَرِيعا استئناسا بالصوت فَقَالَ لبيْك اسْمَع صَوْتك وَلَا أرى مَكَانك فَأَيْنَ أَنْت قَالَ انا فَوْقك وامامك ووراءك وَعَن يَمِينك وَعَن شمالك فَعلم ان هَذِه الصّفة لَا تنبغي إِلَّا لله عز وجل قَالَ فَكَذَلِك انا يَا رب أفكلامك أسمع أم كَلَام رَسُولك قَالَ بل كَلَامي وَفِي أثر آخر أَن مُوسَى عليه السلام لما ناجاه ربه ثمَّ سمع كَلَام الْآدَمِيّين مقتهم لما وقر فِي مسامعك من كَلَام الله تَعَالَى وَمثله فِي الْآثَار كثير تناولته الْأمة وَلم يُنكره إِلَّا مُبْتَدع لَا يلْتَفت إِلَيْهِ فَإِن قَالُوا فالصوت لَا يكون إِلَّا من هَوَاء بَين جرمين قُلْنَا هَذَا من الهذيان الَّذِي اجبنا عَن مثله فِي الْحَرْف وَقُلْنَا إِن هَذَا قِيَاس مِنْهُم لربنا تبارك وتعالى على خلقه وتشبيه لَهُ بعباده وَحكم عَلَيْهِ بِأَنَّهُ لَا تكون صفته إِلَّا كصفات مخلوقاته وَهَذَا ضلال بعيد

কিছু বর্ণনায় (أثر) এসেছে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে যখন তাঁর প্রতিপালক 'হে মূসা' বলে সম্বোধন করলেন, তখন তিনি কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আশ্বস্ত হয়ে দ্রুত সাড়া দিলেন। তিনি আরজ করলেন, 'আমি উপস্থিত, আমি আপনার শব্দ শুনতে পাচ্ছি কিন্তু আপনার স্থান দেখতে পাচ্ছি না; আপনি কোথায়?' তিনি বললেন, 'আমি তোমার উপরে, তোমার সামনে, তোমার পেছনে, তোমার ডানে এবং তোমার বামে।' তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, এই বৈশিষ্ট্যটি মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারও জন্য সমীচীন নয়। তিনি বললেন, 'হে প্রতিপালক, বিষয়টি কি এমনই? আমি কি সরাসরি আপনার কালাম শুনছি নাকি আপনার কোনো রাসূলের কালাম শুনছি?' তিনি বললেন, 'বরং এটি আমারই কালাম।' অন্য একটি বর্ণনায় (أثر) বর্ণিত আছে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) যখন তাঁর প্রতিপালকের সাথে নিভৃতে কথা বললেন, এরপর যখন মানুষের কথা শুনলেন, তখন তিনি তাদের কথার প্রতি বিরাগ পোষণ করলেন; কারণ মহান আল্লাহর কালাম তাঁর শ্রবণে গেঁথে গিয়েছিল। বর্ণনাসমূহের (أثر) মধ্যে এই জাতীয় আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যা উম্মত গ্রহণ করেছে এবং কোনো বিদআতী (مبتدع) ছাড়া আর কেউ তা অস্বীকার করেনি, যার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। যদি তারা বলে, 'শব্দ তো কেবল দুটি বস্তুর মধ্যবর্তী বাতাসের আলোড়ন ছাড়া তৈরি হয় না', তবে আমরা বলব—এটি তাদের সেই প্রলাপের অংশ যার উত্তর আমরা 'অক্ষর' সংক্রান্ত আলোচনায় দিয়েছি। আমরা বলেছি যে, এটি তাদের পক্ষ থেকে আমাদের বরকতময় ও সুমহান প্রতিপালককে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা (قياس) করার অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর বান্দাদের সাথে সাদৃশ্য প্রদানের (تشبيه) নামান্তর। তারা আল্লাহর ওপর এই ফয়সালা দিচ্ছে যে, তাঁর গুণাবলি কেবল তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির মতোই হবে; আর এটি এক ঘোর বিভ্রান্তি।

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৪)
ثمَّ إِنَّه يلْزمهُم مثل هَذَا فِي بَقِيَّة الصِّفَات على مَا اسلفناه على ان معتمدنا فِي صِفَات الله عز وجل إِنَّمَا هُوَ الِاتِّبَاع نصف الله تَعَالَى بِمَا وصف بِهِ نَفسه وَوَصفه بِهِ رَسُوله وَلَا نتعدى ذَلِك وَلَا نتجاوزه وَلَا نتأوله وَلَا نفسره ونعلم ان مَا قَالَ الله وَرَسُوله حق وَصدق وَلَا نشك فِيهِ وَلَا نرتاب ونعلم ان لما قَالَ الله وَرَسُوله معنى هُوَ بِهِ عَالم فنؤمن بِهِ بِالْمَعْنَى الَّذِي اراده وَنكل علمه إِلَيْهِ ونقول كَمَا قَالَ سلفنا الصَّالح وأئمتنا المقتدى بهم آمنا بِاللَّه وَمَا جَاءَ عَن الله على مُرَاد الله وآمنا برَسُول الله وَمَا جَاءَ عَن رَسُول الله على مُرَاد رَسُول الله نقُول مَا قَالَ الله وَرَسُوله ونسكت عَمَّا وَرَاء ذَلِك نتبع وَلَا نبتدع بذلك أوصانا الله تَعَالَى فِي كِتَابه وأوصانا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي سنته وأوصانا بِهِ سلفنا رضي الله عنهم فَقَالَ الله تَعَالَى {وَأَن هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبعُوهُ وَلَا تتبعوا السبل فَتفرق بكم عَن سَبيله} الْأَنْعَام 153 وَقَالَ تَعَالَى {وَاتبعُوا أحسن مَا أنزل إِلَيْكُم من ربكُم} الزمر 55 وَقَالَ لرَسُوله عليه السلام {قل إِن كُنْتُم تحبون الله فَاتبعُوني يحببكم الله} آل عمرَان 31 وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين من بعدِي عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ وَإِيَّاكُم ومحدثات الْأُمُور فَإِن كل محدثة بِدعَة وكل بِدعَة ضَلَالَة

অতঃপর, আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি, মহান আল্লাহর অবশিষ্ট গুণাবলি (صفات)-এর ক্ষেত্রেও তাদের ওপর একই বিষয় প্রযোজ্য হবে। বস্তুত আল্লাহর গুণাবলি (صفات)-এর বিষয়ে আমাদের মূল ভিত্তি হলো অনুসরণ (اتباع); আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে গুণ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁর জন্য যে গুণ বর্ণনা করেছেন, আমরা কেবল সেই গুণেই তাঁকে গুণান্বিত করি। আমরা একে অতিক্রম করি না, এর সীমা ছাড়িয়ে যাই না এবং এর কোনো অপব্যাখ্যা (تأويل) কিংবা নিজস্ব ব্যাখ্যা (تفسير) প্রদান করি না। আমরা জানি যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যা বলেছেন তা ধ্রুব সত্য ও যথার্থ; এতে আমরা বিন্দুমাত্র সন্দেহ বা সংশয় পোষণ করি না।

আমরা দৃঢ়ভাবে জানি যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যা বলেছেন তার এমন একটি অর্থ রয়েছে যা কেবল তিনিই সম্যক অবগত। সুতরাং তিনি যে অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন, সেই অর্থেই আমরা তার ওপর ঈমান আনি এবং এর প্রকৃত জ্ঞান তাঁরই নিকট সোপর্দ করি। আমরা ঠিক তেমনটিই বলি যেমনটি আমাদের অনুসরণযোগ্য নেককার পূর্বসূরী (سلف صالح) এবং ইমামগণ (أئمة) বলেছেন: "আমরা আল্লাহর ওপর এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর আল্লাহর অভিপ্রায় অনুযায়ী ঈমান এনেছি। আর আমরা আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার ওপর রাসূলের অভিপ্রায় অনুযায়ী ঈমান এনেছি।" আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যা বলেছেন আমরা কেবল সেটুকুই বলি এবং এর অতিরিক্ত বিষয়গুলো থেকে নীরবতা অবলম্বন করি। আমরা অনুসরণ (اتباع) করি এবং কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন (ابتداع) করি না। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাদের এই নির্দেশই দিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহ (سنة)-তে আমাদের এই আদেশই দিয়েছেন এবং আমাদের সালাফ (سلف) (রা.) আমাদের এই উপদেশই প্রদান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথে চলো না; নতুবা তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে} [আল-আনআম: ১৫৩]। তিনি আরও ইরশাদ করেন: {আর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার সর্বোত্তম বিষয়ের অনুসরণ করো} [আয-যুমার: ৫৫]। তিনি তাঁর রাসূল আলাইহিস সালামকে লক্ষ্য করে বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} [আল ইমরান: ৩১]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ (سنة) এবং আমার পরবর্তী সঠিক পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ (سنة)-কে আঁকড়ে ধরো; একে মজবুতভাবে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত (محدثة) বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة)-ই হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।"

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَقَالَ عبد الله بن مَسْعُود اتبعُوا وَلَا تبتدعوا فقد كفيتم وَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز رضي الله عنه كلَاما مَعْنَاهُ قفد حَيْثُ وقف الْقَوْم فَإِنَّهُم عَن علم وقفُوا وببصر ناقد كفوا وَلَهُم كَانُوا على كشفها اقوى وبالفضل لَو كَانَ فِيهَا أَحْرَى وَإِنَّهُم لَهُم السَّابِقُونَ فلئن كَانَ الْمهْدي مَا أَنْتُم عَلَيْهِ لقد سبقتموهم إِلَيْهِ وَلَئِن قُلْتُمْ حدث حدث بعدهمْ فَمَا احدثه إِلَّا من اتبع غير سبيلهم وَرغب بِنَفسِهِ عَنْهُم وَلَقَد وصفوا مِنْهُ مَا يَكْفِي وَتَكَلَّمُوا مِنْهُ بِمَا يشفي فَمَا دونهم مقصر وَلَا فَوْقهم محسر لقد قصر دونهم أنَاس فجفوا وطمح آخَرُونَ عَنْهُم فغلوا وَإِنَّهُم من ذَلِك لعلى هدى مُسْتَقِيم وَقَالَ الْأَوْزَاعِيّ رحمه الله عَلَيْك بآثار السّلف وَإِن رفضك النَّاس وَإِيَّاك وآراء الرِّجَال وَإِن زخرفوه لَك بالْقَوْل

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কারণ তোমাদের জন্য যা যথেষ্ট তা প্রদান করা হয়েছে।"

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা.) এমন এক কথা বলেছেন যার মর্মার্থ হলো: "লোকেরা যেখানে থেমেছেন তোমরাও সেখানে থামো। কারণ তাঁরা জ্ঞানসহকারেই থেমেছেন এবং প্রখর দূরদৃষ্টির মাধ্যমে (অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে) বিরত থেকেছেন। কোনো বিষয় উন্মোচনে তাঁরাই ছিলেন অধিক শক্তিশালী এবং যদি তাতে কোনো বিশেষ ফযিলত থাকত তবে তাঁরাই তার জন্য বেশি উপযুক্ত হতেন। তাঁরাই তো অগ্রগামী। যদি হিদায়েত সেই পথে হয় যাতে তোমরা আছো, তবে তো তোমরা তাঁদের চেয়েও অগ্রগামী হয়ে গেলে! আর যদি তোমরা বলো যে, তাঁদের পরে নতুন কিছু উদ্ভাবিত হয়েছে, তবে তা তারাই উদ্ভাবন করেছে যারা তাঁদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণ করেছে এবং তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভেবেছে। তাঁরা এ বিষয়ে যা যথেষ্ট তা বর্ণনা করেছেন এবং যা নিরাময়কারী তা বলেছেন। তাঁদের নিচে থাকা ব্যক্তি হলো ত্রুটিপূর্ণ এবং তাঁদের উপরে যাওয়া ব্যক্তি হলো পরিশ্রান্ত ও সীমা লঙ্ঘনকারী। কিছু লোক তাঁদের নিচে অবস্থান করে শৈথিল্য দেখিয়েছে, আবার অন্যেরা তাঁদের ছাড়িয়ে যাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা করে চরমপন্থায় লিপ্ত হয়েছে। অথচ তাঁরা এসবের মাঝে সঠিক হিদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।"

ইমাম আওযায়ী (রহ.) বলেন, "তুমি পূর্বসূরিদের (سلف) বর্ণনা (آثار) আঁকড়ে ধরো, যদিও মানুষ তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে। আর লোকদের ব্যক্তিগত অভিমত থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তারা তা সুন্দর কথা দিয়ে তোমার কাছে সুশোভিত করে তুলে ধরে।"

(খণ্ড: ১) আল মুনাজারাতু ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَلم يزل السّلف الصَّالح من الصَّحَابَة رضي الله عنهم وَالْأَئِمَّة بعدهمْ يعظمون هَذَا الْقُرْآن ويعتقدون أَنه كَلَام الله ويتقربون إِلَى الله بقرَاءَته وَيَقُولُونَ إِنَّه غير مَخْلُوق وَمن قَالَ إِنَّه مَخْلُوق فَهُوَ كَافِر وَلما وَقعت الْفِتْنَة وَظَهَرت الْمُعْتَزلَة ودعوا إِلَى القَوْل بِخلق الْقُرْآن ثَبت أهل الْحق حَتَّى قتل بَعضهم وَحبس بَعضهم وَضرب بَعضهم فَمنهمْ من ضعف فَأجَاب تقية وخوفا على نَفسه وَمِنْهُم من قوي إيمَانه وبذل نَفسه لله واحتسب مَا يُصِيبهُ فِي جنب الله وَلم يزل على السّنة إِلَى أَن كشف الله تَعَالَى تِلْكَ الْفِتْنَة وازال تِلْكَ المحنة وقمع أهل الْبِدْعَة

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামগণের মধ্য হতে পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ (السلف الصالح) সর্বদা এই কুরআনের মর্যাদা সমুন্নত রাখতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে এটি আল্লাহর বাণী। তাঁরা এর তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করতেন এবং বলতেন যে এটি সৃষ্টি নয় (غير مخلوق); আর যে ব্যক্তি একে সৃষ্টি (مخلوق) বলে দাবি করে সে কাফির। অতঃপর যখন ফিতনা (الفتنة) প্রকাশ পেল এবং মুতাজিলাদের (المعتزلة) আবির্ভাব ঘটল—যারা কুরআন সৃষ্টির মতবাদের দিকে আহ্বান জানাত—তখন সত্যের অনুসারীরা (أهل الحق) অবিচল রইলেন। ফলে তাঁদের কাউকে হত্যা করা হলো, কাউকে কারারুদ্ধ করা হলো এবং কাউকে প্রহার করা হলো। তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যিনি দুর্বল (ضعف) হয়ে পড়েছিলেন এবং প্রাণভয়ে আত্মরক্ষামূলক কৌশল (تقية) হিসেবে তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। আবার তাঁদের মাঝে এমনও ছিলেন যাঁদের ঈমান ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আল্লাহর জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন; আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে যা কিছু তাঁদের ওপর আপতিত হয়েছিল তা তাঁরা সওয়াবের আশায় বরণ করে নিয়েছিলেন। তাঁরা সুন্নাহর (السنة) ওপর অবিচল ছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা সেই ফিতনা দূরীভূত করলেন, সেই কঠিন পরীক্ষা (المحنة) অপসারিত করলেন এবং বিদআতিদের (أهل البدعة) দমন করলেন।