(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: -)
ما دل عليه القرآن مما يعضد الهيئة الجديدة القويمة بالبرهان القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: ما دل عليه القرآن مما يعضد الهيئة الجديدة القويمة بالبرهان
المؤلف: أبو المعالي محمود شكري بن عبد الله بن محمد بن أبي الثناء الألوسي (ت 1342 هـ)
المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]
الناشر: المكتب الإسلامي - لبنان
الطبعة: الثانية، 1391 هـ- 1971 م
عدد الصفحات: 142
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الأول 1433
কুরআনের সেই সব প্রমাণ যা আধুনিক সঠিক জ্যোতির্বিজ্ঞানকে শক্তিশালী করে বিভাগ: কুরআনুল কারিমের বিজ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: কুরআনের সেই সব প্রমাণ যা আধুনিক সঠিক জ্যোতির্বিজ্ঞানকে শক্তিশালী করে
লেখক: আবু আল-মাআলি মাহমুদ শুকরি বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-ছানা আল-আলুসি (মৃ. ১৩৪২ হি.)
তাহকিককারী (محقق): জুহাইর আল-শাভিশ [মৃ. ১৪৩৪ হি.]
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯১ হি.- ১৯৭১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রেখে রাখা হয়েছে]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১)
ما دل عليه القرآن
مما يعضد الهيئة الجديدة القويمة البرهان
تأليف
السيد محمود شكري الآلوسي
تحقيق
محمد زهير شاويش
تخريج
محمد ناصر الدين الألباني
কুরআনের নির্দেশনাবলী
যা শক্তিশালী প্রমাণের মাধ্যমে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানকে সমর্থন করে
গ্রন্থনায়
আস-সাইয়্যিদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি
তাহকিক (تحقيق)
মুহাম্মদ জুহাইর শাউইশ
তাখরিজ (تخريج)
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২)
جمع الحقوق حفوظة
الطبعة الثانية
1418 هـ - 1997م
المكتب الإسلامي
সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
আল-মাকতাব আল-ইসলামি
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১১)
مُقَدّمَة الْمُؤلفبسم الله الرحمن الرحيم
نحمدك يَا مبدع الأكوان، وَيَا خَالق الْكَوْن وَالْمَكَان، وَيَا ميسر الْفلك على حسب مَا تَقْتَضِيه الْحِكْمَة من الدوران؛ وَنُصَلِّي ونسلم على نبيك " مُحَمَّد " الَّذِي سريت بِهِ من حرم إِلَى حرم، ورفعته من سَمَاء إِلَى سَمَاء، حَتَّى أوصلته إِلَى مقَام لَا تصل إِلَيْهِ الأذهان، صلى الله تَعَالَى وَسلم عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه بدور سَمَاء الدِّرَايَة وَالْهِدَايَة وشموس أفلاك الْعرْفَان.
أما بعد: فقد شاع فِي عصرنا قَول " فيثاغورس " الفيلسوف الشهير فِي هَيْئَة الأفلاك، وَنَصره الفلاسفة الْمُتَأَخّرُونَ، بعد أَن كَانَ عاطلا مَهْجُورًا، وَهُوَ القَوْل بحركة الأَرْض اليومية والسنوية على الشَّمْس، وَأَنَّهَا هِيَ مَرْكَز نظامها، وَأَن الأَرْض إِحْدَى الْكَوَاكِب السيارة، وَأَنَّهَا سابحة فِي الجو، معلقَة بسلاسل الجاذبية، وقائمة بهَا، كَسَائِر الْكَوَاكِب، لَا أَنَّهَا كَمَا ذهب إِلَيْهِ
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমরা আপনার প্রশংসা করি হে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভাবক, হে জগত ও স্থানের স্রষ্টা, এবং হে মহাকাশীয় কক্ষপথসমূহের পরিভ্রমণকে প্রজ্ঞার চাহিদা অনুযায়ী সহজসাধ্যকারী; আর আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি আপনার নবী "মুহাম্মাদ"-এর প্রতি, যাঁকে আপনি এক হারাম থেকে অন্য হারামে নৈশভ্রমণ করিয়েছেন এবং এক আকাশ থেকে অন্য আকাশে উন্নীত করেছেন, এমনকি তাঁকে এমন এক উচ্চ সোপানে পৌঁছে দিয়েছেন যেখানে সাধারণ মানুষের চিন্তা পৌঁছাতে পারে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যাঁরা ছিলেন গভীর জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি (دراية) এবং হিদায়াতের আকাশের পূর্ণিমা এবং মারেফাতের কক্ষপথসমূহের সূর্যস্বরূপ।
অতঃপর: আমাদের যুগে মহাকাশীয় কক্ষপথের গঠন সম্পর্কে প্রখ্যাত দার্শনিক "পিথাগোরাস"-এর মতবাদটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরবর্তী যুগের পণ্ডিতগণ (المتأخرون) এটিকে সমর্থন করেছেন; অথচ ইতিপূর্বে এটি দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত ও অবহেলিত ছিল। সেই মতবাদটি হলো সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আহ্নিক ও বার্ষিক গতি বিষয়ক বক্তব্য এবং সূর্যই হলো এই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু; আর পৃথিবী হলো একটি বিচরণশীল গ্রহ যা মহাশূন্যে ভাসমান এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির শৃঙ্খলে আবদ্ধ ও দণ্ডায়মান, যেমনটি অন্যান্য গ্রহের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এটি এমন নয় যা ইতিপূর্বে ধারণা করা হয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১২)
" بطليموس " فِي الأفلاك كالمسامير فِي الْبَاب، إِلَى غير ذَلِك من قواعدها الْمَشْهُورَة وقوانينها الْمَذْكُورَة.
وَقد سَمَّاهَا الفلاسفة الْمُتَأَخّرُونَ " الْهَيْئَة الجديدة "، لكَونهَا شاعت فِي الْعَصْر الْمُتَأَخر. وَإِلَّا، فَالْقَوْل بهَا مُتَقَدم جدا، فقد رَأَيْت كثيرا من قواعدها لَا يُعَارض النُّصُوص الْوَارِدَة فِي الْكتاب وَالسّنة. على انها لَو خَالَفت شَيْئا من مَذَاهِب السّلف الْحُرِّيَّة بِالْقبُولِ، بل لَا بُد أَن نقُول: إِن الْمُخَالف لَهما مُشْتَمل على خلل فِيهِ؛ فَإِن الْعقل الصَّرِيح، لَا يُخَالف النَّقْل الصَّحِيح، بل كل مِنْهُمَا يصدق الآخر وَيُؤَيِّدهُ.
وَأعلم أَن الشَّرِيعَة الغراء لم ترد باستيعاب قَوَاعِد الْعُلُوم الرياضية، إِنَّمَا وَردت بِمَا يسْتَوْجب سَعَادَة الْمُكَلّفين فِي العاجل والآجل، وَبَيَان مَا يتوصلون بِهِ إِلَى الْفَوْز بالنعيم الْمُقِيم، وَرُبمَا أشارت - لهه الْأَغْرَاض - إِلَى مَا يستنبط مِنْهُ بعض الْقَوَاعِد الرياضية.
وَقد ورد الْقُرْآن الْكَرِيم - فِي بَيَان ذَلِك - بِمَا خَاطب بِهِ الْعَرَب، مِمَّا يعلمونه من عُلُوم تلقوها خلفا عَن سلف. فقد كَانَت لَهُم عُلُوم ذَكرنَاهَا فِي الْكتاب الَّذِي ألفناه فِي بَيَان أَحْوَالهم، كَمَا كَانَ لعقلائهم أعتناء بمكارم الْأَخْلَاق واتصاف بمحاسن الشيم، فصححت الشَّرِيعَة مِنْهَا مَا هُوَ
নক্ষত্রমণ্ডলী বা জ্যোতির্বিজ্ঞানে ‘টলেমি’র (মতবাদ) হচ্ছে দরজার পেরেকের মতো; এর বাইরেও রয়েছে তাদের অনেক প্রসিদ্ধ মূলনীতি ও উল্লিখিত নিয়মকানুন।
পরবর্তী যুগের দার্শনিকগণ একে "নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞান" বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এটি পরবর্তী যুগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। অন্যথায়, এই মতবাদটি অত্যন্ত প্রাচীন। আমি এর অনেক মূলনীতি দেখেছি যা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত শরীয়তের সুনির্দিষ্ট পাঠ (النصوص)-এর বিরোধী নয়। যদিও তা গ্রহণযোগ্যের দাবিদার সালাফদের (পূর্বসূরিদের) কোনো মতের পরিপন্থী হয়, বরং আমাদের অবশ্যই বলতে হবে যে: যা এই উভয়ের (কুরআন ও সুন্নাহ) বিরোধী, তাতে ত্রুটি বিদ্যমান। কেননা স্বচ্ছ বিবেক কখনই বিশুদ্ধ বর্ণনা (النقل الصحيح)-এর বিরোধী হয় না; বরং তাদের প্রত্যেকেই অপরকে সত্যায়ন ও সমর্থন করে।
জেনে রাখুন যে, এই উজ্জ্বল শরিয়ত গাণিতিক বিজ্ঞানের সকল মূলনীতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনার জন্য আসেনি; বরং তা এসেছে ইহকাল ও পরকালে মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর বিধি-বিধান অর্পিত) সৌভাগ্য নিশ্চিত করতে এবং সেই সব বিষয়ের বর্ণনায় যার মাধ্যমে তারা চিরস্থায়ী নেয়ামত লাভে সফল হতে পারে। সম্ভবত এই উদ্দেশ্যসমূহের খাতিরেই সেখানে এমন কিছু ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে যা থেকে কিছু গাণিতিক মূলনীতি উদ্ভাবন করা যায়।
এ বিষয়ে কুরআনুল কারিম আরবদের সাথে তাদের পরিচিত বিষয়ের মাধ্যমেই সম্বোধন করেছে, যা তারা বংশপরম্পরায় লাভ করেছিল। তাদের মাঝে কিছু বিদ্যা বা জ্ঞান বিদ্যমান ছিল যা আমরা তাদের অবস্থা বর্ণনার জন্য রচিত গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। যেমন তাদের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের মাঝে সচ্চরিত্রের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং উত্তম স্বভাবের গুণাবলি অর্জনের বৈশিষ্ট্য ছিল। অতঃপর শরিয়ত এর মধ্য থেকে যা...
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
صَحِيح وزادت عَلَيْهِ، وأبطلت مَا هُوَ بَاطِل قَبِيح، وبينت مَنَافِع مَا ينفع من ذَلِك ومضار مَا يضر مِنْهُ. فَكَانَ من علومها " علم النُّجُوم " وَمَا يخْتَص بهَا من الاهتداء فِي الْبر وَالْبَحْر وَاخْتِلَاف الْأَزْمَان باخْتلَاف سَيرهَا، وتعرف منَازِل سير النيرين وَمَا يتَعَلَّق بِهَذَا الْمَعْنى. وَهُوَ معنى مُقَرر فِي أثْنَاء الْقُرْآن، فِي مَوَاضِع كَثِيرَة، كَقَوْلِه تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي جعل لكم النُّجُوم لتهتدوا بهَا فِي ظلمات الْبر وَالْبَحْر}، وَقَوله تَعَالَى: {وبالنجم هم يَهْتَدُونَ}، وَقَوله تَعَالَى: {وَالْقَمَر قدرناه منَازِل حَتَّى عَاد كالعرجون الْقَدِيم لَا الشَّمْس يَنْبَغِي لَهَا أَن تدْرك الْقَمَر، وَلَا اللَّيْل سَابق النَّهَار، وكل فِي فلك يسبحون}، وَقَوله تَعَالَى: {هُوَ الَّذِي جعل الشَّمْس ضِيَاء، وَالْقَمَر نورا، وَقدره منَازِل، لِتَعْلَمُوا عدد السنين والحساب}، وَقَوله تَعَالَى {وَجَعَلنَا اللَّيْل وَالنَّهَار آيَتَيْنِ، فمحونا آيَة اللَّيْل، وَجَعَلنَا آيَة النَّهَار مبصرة} الْآيَة، وَقَوله تَعَالَى: {وَلَقَد زينا السَّمَاء الدُّنْيَا بمصابيح، وجعلناها رجوما للشياطين}، وَقَوله تَعَالَى: {يَسْأَلُونَك عَن الْأَهِلّة، قل: هِيَ مَوَاقِيت للنَّاس وَالْحج}، وَمَا أشبه ذَلِك.
وَمن عُلُوم الْعَرَب: " الأنواء " وأوقات نزُول الأمطار، وإنشاء السَّحَاب، وهبوب الرِّيَاح المثيرة لَهَا، فَبين الْكتاب وَالسّنة حَقّهَا من باطلها، فَقَالَ تَعَالَى: {هُوَ الَّذِي يريكم الْبَرْق خوفًا وَطَمَعًا، وينشئ السَّحَاب الثقال، ويسبح الرَّعْد بِحَمْدِهِ}، وَقَالَ تَعَالَى: {أَفَرَأَيْتُم
সঠিক (صحيح) বিষয়সমূহ গ্রহণ করেছে এবং তাতে পরিবর্ধন করেছে, আর যা অসার (باطل) ও কুৎসিত তা বিলুপ্ত করে দিয়েছে। এছাড়া এর মধ্যে যা উপকারী তার উপকারিতা এবং যা ক্ষতিকর তার অপকারিতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাদের জ্ঞানসমূহের মধ্যে ছিল ‘জ্যোতির্বিদ্যা’ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট স্থল ও জলপথে দিকনির্ণয়, নক্ষত্ররাজির গতির পরিবর্তনের মাধ্যমে সময়ের ভিন্নতা নিরূপণ, চন্দ্র ও সূর্যের কক্ষপথের মঞ্জিলসমূহ চেনা এবং এই অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। এটি এমন এক অর্থ যা কুরআনের বহু স্থানে বর্ণিত হয়েছে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা এর মাধ্যমে স্থল ও জলপথের অন্ধকারে পথ খুঁজে পাও}, এবং তাঁর বাণী: {এবং নক্ষত্রের সাহায্যে তারা পথনির্দেশ পায়}, এবং তাঁর বাণী: {আর চন্দ্রের জন্য আমি মঞ্জিলসমূহ নির্ধারণ করেছি, অবশেষে তা শুষ্ক বাঁকা খেজুর শাখার মতো হয়ে যায়। সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রকে ধরা, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে}, এবং তাঁর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে তেজস্বী আলো এবং চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য মঞ্জিলসমূহ নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের গণনা ও হিসাব জানতে পারো}, এবং তাঁর বাণী: {আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি; অতঃপর আমি রাতের নিদর্শনকে নিষ্প্রভ করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে উজ্জ্বল করেছি...} (আয়াত শেষ পর্যন্ত), এবং তাঁর বাণী: {আর আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের বিতাড়নের উপকরণ করেছি}, এবং তাঁর বাণী: {তারা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন: তা মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময়ের পরিমাপক}, এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত।
আরবদের জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল: ‘নক্ষত্রের উদয়-অস্ত’ (الأنواء), বৃষ্টি বর্ষণের সময়কাল, মেঘের সৃষ্টি এবং মেঘ সঞ্চালনকারী বায়ুপ্রবাহ। অতঃপর কিতাব ও সুন্নাহ এগুলোর মধ্য থেকে সত্যকে অসার (باطل) থেকে পৃথক করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের ভয় ও আশার সঞ্চার করে বিদ্যুৎ দেখান এবং ভারী মেঘমালা সৃষ্টি করেন। আর বজ্র তাঁর প্রশংসার সাথে তাসবিহ পাঠ করে}, এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ...}
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المَاء الَّذِي تشربون؟ أأنتم أنزلتموه من المزن، أم نَحن المنزلون}، وَقَالَ تَعَالَى: {وأنزلنا من المعصرات مَاء ثجاجا}، وَقَالَ تَعَالَى: {وتجعلون رزقكم أَنكُمْ تكذبون}، أَي بدل شكر رزقكم أَنكُمْ تكذبون، أَي تَقولُونَ: " مُطِرْنَا بِنَوْء كَذَا وَكَذَا ". وَفِي حَدِيث الصَّحِيح: " بعد وُقُوع الْمَطَر أصبح من عبَادي مُؤمن بِي وَكَافِر أما الْمُؤمن، فَيَقُول: أمطرنا الله؛ وَأما الْكَافِر، فَيَقُول: مُطِرْنَا بِنَوْء كَذَا " (1). وَفِي (الْمُوَطَّأ): " إِذا نشأت بحريّة، ثمَّ تشاءمت، فَتلك عين غديقة" (2). وَقَالَ عمر بن الْخطاب، رضي الله عنه، للْعَبَّاس وَهُوَ على الْمِنْبَر وَالنَّاس تَحْتَهُ: كم بَقِي من نوء الثريا؟ فَقَالَ الْعَبَّاس: بَقِي من نوئها كَذَا وَكَذَا. فَمثل هَذَا مُبين للحق من الْبَاطِل فِي أَمر الأنواء والأمطار. قَالَ تَعَالَى: {وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاح لَوَاقِح فأنزلنا من السَّمَاء مَاء فأسقيناه إِلَى بلد ميت، فأحيينا بِهِ الأَرْض بعد مَوتهَا}، إِلَى كثير من هَذَا الْقَبِيل.
وَقد أَحْبَبْت أَن أجمع مَا ورد فِي هَذَا الْبَاب من الْآيَات المنتشرة فِي سور الْقُرْآن على تَرْتِيب سورها، وأخص مِنْهَا الْمُشْتَملَة على الأجرام العلوية
--------------------------------------------
{তোমরা কি সেই পানি লক্ষ্য করেছ যা তোমরা পান করো? তোমরা কি তা মেঘ থেকে অবতীর্ণ করেছ, নাকি আমিই বর্ষণকারী?}, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি মেঘমালা হতে প্রচুর পানি বর্ষণ করেছি}, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তোমাদের প্রাপ্ত রিযিকের বিনিময়ে কেবল অস্বীকারই করে থাকো}, অর্থাৎ তোমাদের রিযিকের শুকরিয়া আদায়ের পরিবর্তে তোমরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো; অর্থাৎ তোমরা বলে থাকো: "অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।" আর সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে: "বৃষ্টি হওয়ার পর আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাসী হিসেবে এবং কেউ অবিশ্বাসী হিসেবে সকাল অতিবাহিত করে। মুমিন ব্যক্তি বলে: 'আল্লাহর দয়ায় আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে'; আর অবিশ্বাসী ব্যক্তি বলে: 'অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে'" (১)। এবং (মুওয়াত্তা) গ্রন্থে রয়েছে: "যখন সমুদ্রের দিক থেকে মেঘ সৃষ্টি হয়, এরপর তা উত্তর-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেটি প্রচুর বৃষ্টিপাতের উৎস" (২)। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে এবং মানুষ তাঁর নিচে থাকা অবস্থায় আব্বাস (রা.)-কে বললেন: "সুরাইয়া নক্ষত্র অস্ত যাওয়ার আর কতটুকু সময় বাকি আছে?" আব্বাস (রা.) বললেন: "তার নক্ষত্রকালের আর এত এত সময় বাকি আছে।" নক্ষত্র ও বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে এই জাতীয় বর্ণনা সুস্পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি বায়ুকে গর্ভসঞ্চারকারীরূপে প্রেরণ করি, অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি এবং তোমাদের তা পান করতে দিই... মৃত জনপদের দিকে, অতঃপর আমি তার মাধ্যমে মৃত জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করি}, এই জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
আমি কুরআনের বিভিন্ন সূরায় এই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট যে সকল আয়াত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, সেগুলোকে সূরার ক্রম অনুযায়ী সংকলন করতে চেয়েছি এবং বিশেষভাবে ওই সব আয়াতকে গুরুত্ব দিয়েছি যা আসমানি বস্তুসমূহের বিবরণ সংবলিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والأجرام السفلية، وأذكر فِي تَفْسِيرهَا مَا ذكره جهابذة الْمُفَسّرين، مُلْتَزما فِي ذَلِك طَرِيق الِاخْتِصَار. وَأَصَح الْأَقْوَال وأصوب الأفكار.
وَقد سميت مَا كتبت فِي هَذَا الْبَاب، وَمَا جمعته من لب اللّبَاب:
(مَا دلّ عَلَيْهِ الْقُرْآن مِمَّا يعضد الْهَيْئَة الجديدة القويمة الْبُرْهَان)
وَمن الله أَسْتَمدّ التَّوْفِيق؛ نعم الْمولى وَنعم الرفيق.
এবং পার্থিব জগতের বস্তুসমূহ সম্পর্কে। আমি এগুলোর ব্যাখ্যায় বিজ্ঞ মুফাসসিরগণ যা উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনা করছি এবং এ ক্ষেত্রে আমি সংক্ষিপ্তকরণের পথ অবলম্বন করার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছি। এখানে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) বক্তব্য ও সঠিক চিন্তাসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।
এই পরিচ্ছেদে আমি যা লিখেছি এবং মূল নির্যাস থেকে যা সংগ্রহ করেছি, তার নামকরণ করেছি:
(কুরআনের ঐ সকল নির্দেশনাসমূহ যা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সুদৃঢ় প্রমাণকে সমর্থন করে)
আর আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি; তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না শ্রেষ্ঠ সঙ্গী।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سُورَة الْبَقَرَةفِي هَذِه السُّورَة بعض الْآيَات الْمُشْتَملَة على بَيَان الأجرام مِنْهَا قَوْله تَعَالَى {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (21) الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة: 21، 22]
تَفْسِير هَذِه الْآيَة
معنى {جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا} أَي كالفراش فِي صِحَة الْقعُود وَالنَّوْم عَلَيْهَا أَنه سُبْحَانَهُ جعل بَعْضهَا بارزا عَن المَاء مَعَ أَن مُقْتَضى طبعها أَن يكون المَاء محيطا بِأَعْلَاهَا لثقلها وَجعلهَا متوسطة بَين الصلابة واللين ليتيسر التَّمَكُّن عَلَيْهَا بِلَا مزِيد كلفة فالتصيير بِاعْتِبَار أَنه لما كَانَت قَابِلَة لما عدا ذَلِك فَكَأَنَّهَا نقلت مِنْهُ وَإِن صَحَّ مَا نقل عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنه أَن الأَرْض خلقت قبل السَّمَاء غير مدحوة فدحيت بعد خلقهَا ومدت فَأمر التصيير حِينَئِذٍ ظَاهر إِلَّا أَن كل النَّاس غير عَالمين بِهِ وَالصّفة يجب أَن تكون مَعْلُومَة للمخاطب وَلَا يُنَافِي كريتها كَونهَا فراشا لِأَن الكرة إِذا عظمت كَانَ كل قِطْعَة مِنْهَا كالسطح فِي افتراشه كَمَا لَا يخفى.
সুরা আল-বাকারাএই সুরায় জ্যোতিষ্কসমূহের বর্ণনাসংবলিত কিছু আয়াত রয়েছে, তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। (২১) যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা ও আকাশকে ছাদস্বরূপ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তা দিয়ে তোমাদের জীবিকা হিসেবে ফলমূল উৎপাদন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর কোনো সমকক্ষ দাঁড় করিও না।} [আল-বাকারা: ২১, ২২]
এই আয়াতের ব্যাখ্যা (تفسير)
{তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা করেছেন} এর অর্থ হলো—বসা ও ঘুমানোর উপযোগিতার দিক থেকে এটি বিছানাসদৃশ। মহান আল্লাহ যমীনের কিছু অংশ পানির উপর প্রকাশমান করেছেন, যদিও এর প্রকৃতির দাবি ছিল এর গুরুত্ব বা ওজনের কারণে পানি এর উপরিভাগকে বেষ্টন করে থাকবে। আর তিনি একে কঠিন ও কোমলের মধ্যবর্তী করেছেন যাতে কোনো অতিরিক্ত কষ্ট ছাড়াই এর উপর স্থির থাকা সহজ হয়। সুতরাং রূপান্তরের বিষয়টি এই বিবেচনায় যে, এটি যেহেতু অন্য অবস্থায় থাকার যোগ্য ছিল, তাই যেন এটি সেই অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। আর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত (نقل) হয়েছে তা যদি সহীহ (صحيح) হয় যে, যমীন আসমানের পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছিল তবে তা প্রসারিত ছিল না, অতঃপর আসমান সৃষ্টির পর একে প্রসারিত করা হয়েছে; তবে রূপান্তরের বিষয়টি তখন সুস্পষ্ট। তবে সব মানুষ এ বিষয়ে অবগত নয়, অথচ কোনো গুণ বর্ণনা করলে তা সম্বোধিত ব্যক্তির নিকট পরিচিত হওয়া আবশ্যক। আর পৃথিবীর গোলক আকৃতি এর বিছানা হওয়ার পরিপন্থী নয়; কারণ গোলক যখন অত্যন্ত বিশাল হয়, তখন এর প্রতিটি অংশ বিছানোর ক্ষেত্রে সমতলের মতোই মনে হয়, যেমনটি অস্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَسَيَأْتِي إِقَامَة الدَّلَائِل على كريتها وَبَيَان مَا يعارضها من ظواهر النُّصُوص وتوجيه ذَلِك
وَاخْتَارَ سُبْحَانَهُ لفظ {السَّمَاء} على السَّمَاوَات مُوَافقَة للفظ الأَرْض وَلَيْسَ فِي التَّصْرِيح بتعددها هُنَا كثير نفع وَمَعَ هَذَا يحْتَمل أَن يُرَاد بهَا مَجْمُوع السَّمَاوَات وكل طبقَة وجهة مِنْهَا
وَالْبناء فِي الأَصْل مصدر أطلق على الْمَبْنِيّ بَيْتا كَانَ أَو قبَّة أَو خباء أَو طرافا وَمِنْه قَوْلهم بنى فلَان بأَهْله أَو على أَهله خلافًا للحريري لأَنهم كَانُوا إِذا تزوجوا ضربوا خباء جَدِيدا ليدخلوا على الْعَرُوس فِيهِ
وَالْمرَاد بِكَوْن السَّمَاء بِنَاء أَنَّهَا كالقبة المضروبة أَو أَنَّهَا كالسقف للْأَرْض
وَيُقَال لسقف الْبَيْت بِنَاء وَرُوِيَ هَذَا عَن ابْن عَبَّاس
وَالْمرَاد من السَّمَاء فِي قَوْله {وَأنزل من السَّمَاء مَاء} جِهَة الْعُلُوّ أَو السَّحَاب.
وَإِرَادَة الْفلك الْمَخْصُوص - بِنَاء على الظَّوَاهِر - غير بعيدَة، نظرا إِلَى قدرَة الْملك الْقَادِر جل جلاله وسمت عَن مدارك الْعقل أَفعاله إِلَّا أَن الشَّائِع أَن الشَّمْس إِذا سامتت بعض الْبحار والبراري أثارت من الْبحار بخارا رطبا وَمن البراري يَابسا فَإِذا صعد البخار إِلَى طبقَة الْهَوَاء الثَّالِثَة تكاثف فَإِن لم يكن الْبرد قَوِيا اجْتمع وتقاطر لثقله بالتكاثف.
শীঘ্রই এর গোলাকার হওয়ার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন এবং এর বিপরীতে যেসব মূল পাঠ (النصوص) এর বাহ্যিক বর্ণনা (ظواهر) রয়েছে, তার ব্যাখ্যা ও সমন্বয় সামনে আসবে।
মহান আল্লাহ এখানে 'পৃথিবী' শব্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে 'আসমানসমূহ' শব্দের পরিবর্তে 'আসমান' শব্দটি নির্বাচন করেছেন। আর এখানে আসমানের সংখ্যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার মধ্যে খুব একটা ফায়দা নেই; তবুও এর দ্বারা সমস্ত আসমান অথবা এর প্রতিটি স্তর বা দিক উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থাপনা (بناء) শব্দটি মূলত একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), যা নির্মিত বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; চাই তা ঘর হোক, গম্বুজ হোক, তাঁবু হোক বা চামড়ার ছাউনি হোক। আর এ থেকেই তাদের প্রবাদ 'অমুক তার স্ত্রীর সাথে বাসর করেছে' এসেছে—যা হারিরির মতের পরিপন্থী—কেননা তারা যখন বিয়ে করত, তখন কনের সাথে বাসর করার জন্য নতুন একটি তাঁবু স্থাপন করত।
আসমানকে স্থাপনা (بناء) বলার উদ্দেশ্য হলো, এটি স্থাপিত গম্বুজের ন্যায় অথবা এটি জমিনের জন্য ছাদস্বরূপ।
ঘরের ছাদকেও স্থাপনা (بناء) বলা হয় এবং ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণিত (روي) হয়েছে।
মহান আল্লাহর বাণী "এবং তিনি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন"-এ আসমান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উচ্চতা অথবা মেঘমালা।
বাহ্যিক বর্ণনা (ظواهر) সমূহের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট কক্ষপথ উদ্দেশ্য হওয়াও অসম্ভব নয়—বিশেষ করে মহান পরাক্রমশালী অধিপতির কুদরতের দিকে লক্ষ্য করলে, যাঁর কার্যাবলি মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবনের ঊর্ধ্বে। তবে সাধারণভাবে প্রচলিত যে, সূর্য যখন কোনো সমুদ্র বা মরুভূমির ওপর অবস্থান করে, তখন তা সমুদ্র থেকে আর্দ্র বাষ্প এবং মরুভূমি থেকে শুষ্ক বাষ্প উৎপন্ন করে। অতঃপর যখন সেই বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তরে আরোহণ করে, তখন তা ঘনীভূত হয়। যদি সেখানে ঠান্ডার তীব্রতা খুব বেশি না থাকে, তবে তা ঘনীভূত হয়ে ভারি হয়ে যায় এবং বৃষ্টির ফোঁটা হিসেবে ঝরতে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فالمجتمع سَحَاب والمتقاطر مطر. وَإِن كَانَ الْبرد قَوِيا كَانَ ثلجا وبردا وَقد لَا ينْعَقد وَيُسمى ضبابا.
وعَلى هَذَا يُرَاد بالنزول من السَّمَاء نشوؤه من أَسبَاب سَمَاوِيَّة وتأثيرات أثيرية فَهِيَ مبدأ مجازي لَهُ على أَن من انجاب عَن عين بصيرته سَحَاب الْجَهْل رأى أَن مَا فِي هَذَا الْعَالم السفلي نَازل من عرش الْإِرَادَة وسماء الْقُدْرَة بِحَسب مَا تَقْتَضِيه الْحِكْمَة بِوَاسِطَة أَو بِغَيْر وَاسِطَة كَمَا يُشِير إِلَيْهِ قَوْله تَعَالَى {وَإِن من شَيْء إِلَّا عندنَا خزائنه وَمَا ننزله إِلَّا بِقدر مَعْلُوم} بل من علم أَن الله سُبْحَانَهُ فِي السَّمَاء على الْمَعْنى الَّذِي أَرَادَهُ وبالوصف الَّذِي يَلِيق بِهِ مَعَ التَّنْزِيه اللَّائِق بِجلَال ذَاته تَعَالَى صَحَّ لَهُ أَن يَقُول إِن مَا فِي الْعَالمين من تِلْكَ السَّمَاء وَنسبَة نُزُوله إِلَى غَيرهَا أَحْيَانًا لاعتبارات ظَاهِرَة وَهِي رَاجِعَة إِلَيْهِ فِي الْآخِرَة
وَمِنْهَا قَوْله تَعَالَى {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (29)} [البقرة: 29]
تَفْسِير هَذِه الْآيَة:
{اسْتَوَى} أَي علا إِلَيْهَا وارتفع من غير تكييف وَلَا تَمْثِيل، وَلَا تَحْدِيد،
মেঘমালা হলো পুঞ্জীভূত বাষ্প আর যা বিন্দু বিন্দু হয়ে ঝরে পড়ে তা হলো বৃষ্টি। যদি শৈত্য তীব্র হয় তবে তা তুষার ও শিলাবৃষ্টিতে পরিণত হয়, আর কখনও তা ঘনীভূত হয় না এবং তখন তাকে কুয়াশা বলা হয়।
এই প্রেক্ষিতে আকাশ থেকে অবতরণ বলতে আকাশজগত সংশ্লিষ্ট কারণ এবং বায়বীয় প্রভাবসমূহ থেকে এর উদ্ভবকে বোঝানো হয়েছে; ফলে এটি তার জন্য একটি রূপক উৎস। তদুপরি যার অন্তর্দৃষ্টির সম্মুখ থেকে অজ্ঞতার মেঘ অপসারিত হয়েছে, সে দেখতে পায় যে এই নিম্ন জগতে যা কিছু রয়েছে তা হিকমতের দাবি অনুযায়ী মাধ্যম কিংবা মাধ্যমহীনভাবে আল্লাহর ইচ্ছার আরশ এবং কুদরতের আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী নির্দেশ করে: {আর এমন কোনো বস্তু নেই যার ভাণ্ডার আমার কাছে নেই; এবং আমি তা কেবল এক নির্দিষ্ট পরিমাপে অবতীর্ণ করি}। বরং যে ব্যক্তি জানে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আকাশে অবস্থান করেন—সেই অর্থে যা তিনি ইচ্ছা করেছেন এবং সেই বিশেষণে যা তাঁর সুমহান সত্তার মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পবিত্রতাসহ তাঁর জন্য উপযুক্ত—তবে তার জন্য এটি বলা সঠিক (صحيح) হবে যে, উভয় জগতের যা কিছু আছে তা সেই আকাশ থেকেই আগত। আর কখনো কখনো অন্য কিছুর দিকে এর অবতরণের সম্বন্ধ করা হয় বাহ্যিক বিবেচনার কারণে, যা পরিণামে তাঁর দিকেই ফিরে যায়।
এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং সেগুলোকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন; আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ (২৯)} [আল-বাকারা: ২৯]
এই আয়াতের তাফসির:
{ইস্তাওআ} অর্থাৎ তিনি এর উপরে সমুন্নত ও উচ্চ হলেন কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ, সাদৃশ্য প্রদান কিংবা সীমাবদ্ধকরণ ছাড়াই।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قَالَه الرّبيع أَو قصد إِلَيْهَا بإرادته قصدا سويا بِلَا صَارف يلويه وَلَا عاطف يثنيه من قَوْلهم اسْتَوَى إِلَيْهِ كالسهم الْمُرْسل إِذا قَصده قصدا مستويا من غير أَن يلوي على شَيْء قَالَ الْفراء
وَالْمرَاد ب {السَّمَاء} الأجرام العلوية أَو جِهَة الْعُلُوّ
وَالنَّاس مُخْتَلفُونَ فِي خلق السَّمَاء وَمَا فِيهَا وَالْأَرْض وَمَا فِيهَا بِاعْتِبَار التَّقَدُّم والتأخر لتعارض الظَّوَاهِر فِي ذَلِك
فَذهب بَعضهم إِلَى تقدم خلق السَّمَاوَات لقَوْله تَعَالَى {أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا (27) رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا (28) وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا (29) وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا (30) أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَاهَا (31) وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا (32) مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ (33)} [النازعات: 27 - 33]
রবী’ এটি বলেছেন অথবা তিনি (আল্লাহ) কোনো বিমুখকারী বা বিচ্যুতি ছাড়াই স্বীয় ইচ্ছায় সেদিকে সরাসরি মনোনিবেশ করেছেন; এটি তাদের (আরবদের) কথা ‘সে তীরের ন্যায় সরাসরি সেদিকে ধাবিত হলো’ থেকে গৃহীত, যখন তীরটি কোনো কিছুর দিকে না হেলে সরাসরি লক্ষ্যের দিকে ধাবিত বা বিচ্ছিন্ন (مرسل) হয়। আল-ফাররা এমনটিই বলেছেন।
আর ‘আকাশ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঊর্ধ্বজগতসমূহ অথবা উচ্চতার দিক।
আকাশ ও তার মধ্যস্থিত বিষয়াবলি এবং পৃথিবী ও তার মধ্যস্থিত বিষয়াবলির সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনটি আগে এবং কোনটি পরে, তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে; কারণ এ সংক্রান্ত বাহ্যিক প্রমাণাদিতে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়।
তাই তাদের কেউ কেউ আকাশমণ্ডলী আগে সৃষ্টির অভিমত গ্রহণ করেছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {তোমাদের সৃষ্টি করা কি অধিক কঠিন, নাকি আকাশ? তিনি তা নির্মাণ করেছেন (২৭) তিনি এর উচ্চতাকে সুউচ্চ করেছেন এবং একে সুবিন্যস্ত করেছেন (২৮) আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবসকে প্রকাশ করেছেন (২৯) আর এর পরে তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন (৩০) তিনি তা থেকে তার পানি ও চারণভূমি নির্গত করেছেন (৩১) আর পাহাড়সমূহকে তিনি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছেন (৩২) তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগের জন্য (৩৩)} [আন-নাযিআত: ২৭ - ৩৩]
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَذهب آخَرُونَ إِلَى تقدم خلق الأَرْض لقَوْله تَعَالَى {قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ (9) وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ (10) ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ (11) فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ (12)} [فصلت: 9 - 12]
وَجمع بَعضهم فَقَالَ: إِن قَوْله {أخرج مِنْهَا ماءها} بدل أَو عطف بَيَان لقَوْله {دحاها} أَي بسطها مُبين للمراد مِنْهُ فَيكون تأخرها لَيْسَ بِمَعْنى تَأَخّر ذَاتهَا بل بِمَعْنى تَأَخّر خلق مَا فِيهَا وتكميله وترتيبه بل خلق التَّمَتُّع وَالِانْتِفَاع بِهِ فَإِن البعدية كَمَا تكون بِاعْتِبَار نفس الشَّيْء تكون بِاعْتِبَار جزئه الْأَخير وَقَيده الْمَذْكُور كَمَا لَو قلت بعثت إِلَيْك رَسُولا ثمَّ كنت بعثت فلَانا لينْظر مَا يبلغهُ. فَبعث الثَّانِي وَإِن تقدم لَكِن مَا بعث لأَجله مُتَأَخّر فَجعل نَفسه مُتَأَخِّرًا
وَمَا رَوَاهُ الْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ عَن ابْن عَبَّاس فِي التَّوْفِيق بَين الْآيَتَيْنِ،
অন্যরা পৃথিবী সৃষ্টির অগ্রবর্তিতার অভিমত গ্রহণ করেছেন। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা কি তাঁর সাথেই কুফরি করছ যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তোমরা কি তাঁর জন্য সমকক্ষ দাঁড় করাচ্ছ? তিনি তো জগতসমূহের রব। (৯) আর তিনি পৃথিবীর উপরিভাগে অটল পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দান করেছেন। আর চার দিনের মধ্যে এতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন—সমানভাবে যাচনাকারীদের জন্য। (১০) অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া। তারপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা অনুগত হয়ে আসলাম। (১১) অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুই দিনে সাত আকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ওহী করলেন। আর আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা ও হেফাজত দ্বারা সুশোভিত করেছি। এটা মহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নির্ধারণ। (১২)} [ফুসসিলাত: ৯-১২]
তাদের মধ্যে কেউ কেউ সমন্বয় (التوفيق) করে বলেছেন: নিশ্চয়ই তাঁর বাণী {তিনি তা থেকে তার পানি নির্গত করেছেন} হলো তাঁর বাণী {তিনি তাকে বিস্তৃত করেছেন} এর বদল বা ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা। অর্থাৎ একে প্রসারিত করা এর উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে। সুতরাং এর বিলম্বিত হওয়া মানে এর সত্তার বিলম্ব নয়, বরং এর ভেতরের বিষয়বস্তু সৃষ্টি, পূর্ণতা ও বিন্যাসের বিলম্ব; বরং এর দ্বারা ভোগ ও ব্যবহারের উপকরণের বিলম্ব বুঝায়। কেননা 'পরবর্তিতা' যেমন কোনো বিষয়ের মূল সত্তার বিচারে হয়, তেমনি তার শেষাংশ ও উল্লিখিত শর্তের বিচারেও হয়ে থাকে। যেমন আপনি যদি বলেন: 'আমি আপনার কাছে একজন দূত পাঠিয়েছি, তারপর অমুককে পাঠিয়েছিলাম যাতে তিনি দেখেন সে কী পৌঁছাচ্ছে।' এখানে দ্বিতীয়জনের পাঠানো যদিও আগে হয়েছে, কিন্তু যে উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে তা যেহেতু পরবর্তী বিষয়, তাই একে পরে হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আর দুই আয়াতের মধ্যে সমন্বয়ের (التوفيق) ক্ষেত্রে আল-হাকিম ও আল-বায়হাকি ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণনা (رواه) করেছেন,
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২১)
يُشِير إِلَى هَذَا. وَلَا يُعَارضهُ مَا رَوَاهُ ابْن جرير وَغَيره وصححوه عَنهُ أَيْضاأَن الْيَهُود أَتَت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَسَأَلته عَن خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض فَقَالَ خلق الله الأَرْض يَوْم الْأَحَد والاثنين وَخلق الْجبَال وَمَا فِيهِنَّ من الْمَنَافِع يَوْم الثُّلَاثَاء وَخلق يَوْم الْأَرْبَعَاء الشّجر والمدائن والعمران والخراب فَهَذِهِ أَرْبَعَة فَقَالَ تَعَالَى {أئنكم لتكفرون بِالَّذِي خلق الأَرْض فِي يَوْمَيْنِ} إِلَى قَوْله {سَوَاء للسائلين} وَخلق يَوْم الْخَمِيس السَّمَاء وَخلق يَوْم الْجُمُعَة النُّجُوم وَالشَّمْس وَالْقَمَر وَالْمَلَائِكَة. (2)
وَإِنَّمَا قُلْنَا وَلَا يُعَارضهُ إِلَى آخِره لجَوَاز أَن يحمل على أَنه خلق مَادَّة ذَلِك وأصوله إِذْ لَا يتَصَوَّر الْمَدَائِن والعمران والخراب قبل فعطفه عَلَيْهِ قرينَة لذَلِك.
وَاسْتشْكل الرَّازِيّ تَأَخّر التدحية عَن خلق السَّمَاء وَقَالَ إِن الأَرْض جسم عَظِيم فَامْتنعَ انفكاك خلقهَا عَن التدحية فَإِذا كَانَت التدحية مُتَأَخِّرَة كَانَ خلقهَا أَيْضا مُتَأَخِّرًا.
--------------------------------------------
এটি সেদিকেই ইঙ্গিত করে। ইবনে জারীর ও অন্যান্যরা তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন এবং সেটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন (صححوه), তা এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তাতে বলা হয়েছে যে, ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আসমান ও জমিন সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা রবিবার ও সোমবার জমিন সৃষ্টি করেছেন, মঙ্গলবার পাহাড় ও এর মধ্যকার জনহিতকর বিষয়সমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং বুধবার গাছপালা, নগরী, জনপদ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানসমূহ সৃষ্টি করেছেন। এই হলো চার দিন। এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা কি তাঁরই সাথে কুফরি করছ যিনি দুই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন} তাঁর বাণী {অন্বেষণকারীদের জন্য সমভাবে} পর্যন্ত। তিনি বৃহস্পতিবার আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং শুক্রবার নক্ষত্ররাজি, সূর্য, চন্দ্র ও ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন। (২)
আমরা যে বললাম "এটি তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়" ইত্যাদি—এর কারণ হলো, একে এ অর্থে গ্রহণ করা সম্ভব যে তিনি সেগুলোর উপাদান ও মূল ভিত্তি সৃষ্টি করেছেন। কেননা পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে নগরী, জনপদ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। সুতরাং এগুলোর সাথে সেটির সংযুক্তি এর জন্য একটি শক্তিশালী প্রমাণ (قرينة)।
আর রাজী আকাশ সৃষ্টির পর জমিন বিস্তৃত করার (তাদহিয়াহ) বিলম্ব হওয়া নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন যে, পৃথিবী একটি বিশাল পিণ্ড, তাই এর সৃষ্টিকে বিস্তৃত করা থেকে আলাদা করা অসম্ভব। সুতরাং যদি বিস্তৃত করা বিলম্বিত হয়, তবে এর সৃষ্টিও বিলম্বিত হতে হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَهَذَا غَفلَة مِنْهُ لِأَن من يَقُول بتأخر دحوها عَن خلقهَا لَا يَقُول بعظمها ابْتِدَاء بل يَقُول إِنَّهَا فِي أول الْخلق كَانَت كَهَيئَةِ الفِهْر (1) ثمَّ دحيت فَيتَحَقَّق الانفكاك وَيصِح تَأَخّر دحوها عَن خلقهَا.
وَقَوله إِن خلق الْأَشْيَاء فِي الأَرْض لَا يُمكن إِلَّا إِذا كَانَت مدحوة لَا يخفى دَفعه بِنَاء على أَن المُرَاد بذلك خلق الْموَاد وَالْأُصُول لَا خلق الْأَشْيَاء فِيهَا كَمَا هُوَ الْيَوْم.
وَقَالَ بعض الْمُحَقِّقين: اخْتلف الْمُفَسِّرُونَ فِي أَن خلق السَّمَاء مقدم على خلق الأَرْض أَو مُؤخر نقل الإِمَام الواحدي عَن مقَاتل الأول وَاخْتَارَهُ الْمُحَقِّقُونَ وَلم يَخْتَلِفُوا فِي أَن جَمِيع مَا فِي الأَرْض مِمَّا ترى مُؤخر عَن خلق السَّمَاوَات السَّبع بل اتَّفقُوا عَلَيْهِ.
فَحِينَئِذٍ يَجْعَل الْخلق فِي الْآيَة الْكَرِيمَة بِمَعْنى التَّقْدِير لَا الإيجاد أَو بِمَعْنَاهُ وَيقدر الْإِرَادَة وَيكون الْمَعْنى أَرَادَ خلق مَا فِي الأَرْض جَمِيعًا لكم على حد {إِذا قُمْتُم إِلَى الصَّلَاة} و {فَإِذا قَرَأت الْقُرْآن} وَلَا يُخَالِفهُ قَوْله تَعَالَى {وَالْأَرْض بعد ذَلِك دحاها} فَإِن الْمُتَقَدّم على خلق السَّمَاء إِنَّمَا هُوَ تَقْدِير الأَرْض وَجَمِيع مَا فِيهَا أَو إِرَادَة إيجادها والمتأخر عَن خلق السَّمَاء إِيجَاد الأَرْض وَجَمِيع مَا فِيهَا فَلَا إِشْكَال وَأما قَوْله سبحانه وتعالى {خلق الأَرْض فِي يَوْمَيْنِ} فعلى تَقْدِير الْإِرَادَة وَالْمعْنَى أَرَادَ خلق الأَرْض.
--------------------------------------------
এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি অসতর্কতা, কারণ যারা এর সৃষ্টি (خلق) থেকে এর প্রসারণকে (دحو) বিলম্বিত বলেন, তাঁরা একে শুরু থেকেই বিশাল বলেন না। বরং তাঁরা বলেন যে, সৃষ্টির শুরুতে এটি একটি গোল পাথরের (فهر) (১) মতো ছিল, অতঃপর তা প্রসারিত (دحي) করা হয়েছে। ফলে এর পৃথক হওয়া সম্ভব হয় এবং এর সৃষ্টি (خلق) থেকে এর প্রসারণ (دحو) বিলম্বিত হওয়া সঠিক সাব্যস্ত হয়।
এবং তাঁর এই বক্তব্য যে, জমিনে বস্তুসমূহের সৃষ্টি (خلق) সম্ভব নয় যদি না তা প্রসারিত (مدحوة) অবস্থায় থাকে—এর খণ্ডন মোটেও অস্পষ্ট নয়। এর ভিত্তি হলো যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উপাদান ও মূল পদার্থের সৃষ্টি (خلق), বর্তমানে বস্তুসমূহ যেভাবে বিদ্যমান সেভাবে সৃষ্টি (خلق) করা নয়।
কিছু গবেষক (محقق) বলেছেন: মুফাসসিরগণ (مفسرون) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, আসমান সৃষ্টি জমিন সৃষ্টির আগে নাকি পরে। ইমাম ওয়াহিদি মুকাতিল থেকে প্রথম মতটি বর্ণনা করেছেন এবং গবেষকগণ (محققون) এটিই পছন্দ করেছেন। আর জমিনে দৃশ্যমান সবকিছুর সৃষ্টি যে সাত আসমান সৃষ্টির পরে হয়েছে, এ বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেননি; বরং তাঁরা এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এমতাবস্থায়, এই আয়াতে 'সৃষ্টি' (خلق) শব্দটিকে নির্ধারণ (تقدير) অর্থে গ্রহণ করতে হবে, অস্তিত্ব দান (إيجاد) অর্থে নয়; অথবা এটি সৃষ্টি (خلق) অর্থেই থাকবে তবে সেখানে 'ইচ্ছা' (إرادة) শব্দটিকে উহ্য মানতে হবে। তখন এর অর্থ দাঁড়াবে—তিনি তোমাদের জন্য জমিনের সবকিছু সৃষ্টি (خلق) করার ইচ্ছা (إرادة) করেছেন, যেমনটি {যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও} এবং {যখন তুমি কুরআন পাঠ করো} আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে দেখা যায়। আর এটি মহান আল্লাহর বাণী {এবং এরপর তিনি জমিনকে প্রসারিত (دحاها) করেছেন} এর পরিপন্থী নয়। কেননা আসমান সৃষ্টির পূর্বে যা হয়েছে তা হলো জমিন ও এর মধ্যকার সবকিছুর পরিকল্পনা বা নির্ধারণ (تقدير) অথবা তা অস্তিত্বে আনার ইচ্ছা (إرادة)। আর আসমান সৃষ্টির পরে যা হয়েছে তা হলো জমিন ও এর মধ্যকার সবকিছুর প্রকৃত অস্তিত্ব দান (إيجاد)। সুতরাং এখানে কোনো জটিলতা নেই। আর মহান আল্লাহর বাণী {তিনি দুই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি (خلق) করেছেন}—এটিও ইচ্ছা (إرادة) উহ্য থাকার ভিত্তিতে হবে, যার অর্থ হলো—তিনি জমিন সৃষ্টি (خلق) করার ইচ্ছা (إرادة) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَكَذَا قَوْله تَعَالَى {وَجعل فِيهَا رواسي} يَنْبَغِي أَن يكون بِمَعْنى أَرَادَ أَن يَجْعَل وَيُؤَيّد ذَلِك قَوْله تَعَالَى {فَقَالَ لَهَا وللأرض ائتيا طَوْعًا أَو كرها قَالَتَا أَتَيْنَا طائعين} فَإِن الظَّاهِر أَن المُرَاد أَتَيْنَا فِي الْوُجُود وَلَو كَانَت الأَرْض مَوْجُودَة سَابِقَة لما صَحَّ هَذَا
فَكَأَنَّهُ سُبْحَانَهُ قَالَ اإنكم لتكفرون بِالَّذِي أَرَادَ إِيجَاد الأَرْض وَمَا فِيهَا من الرواسِي والأقوات فِي أَرْبَعَة أَيَّام ثمَّ قصد إِلَى السَّمَاء فتعلقت إِرَادَته بإيجاد السَّمَاء وَالْأَرْض فأطاعا بِأَمْر التكوين فأوجد سبع سماوات فِي يَوْمَيْنِ وأوجد الأَرْض وَمَا فِيهَا فِي أَرْبَعَة أَيَّام.
بَقِي هَا هُنَا بَيَان النُّكْتَة فِي تَغْيِير الأسلوب حَيْثُ قدم فِي الظَّاهِر هَاهُنَا وَفِي {حم} السَّجْدَة خلق الأَرْض وَمَا فِيهَا على خلق السَّمَاوَات وَعكس فِي (النازعات)
وَلَعَلَّ ذَلِك لِأَن الْمقَام فِي الْأَوَّلين مقَام الامتنان فمقتضاه تَقْدِيم مَا هُوَ نعْمَة نظرا إِلَى المخاطبين فَكَأَنَّهُ سبحانه وتعالى وَهُوَ الَّذِي دبر أَمركُم قبل خلق السَّمَاء ثمَّ خلق السَّمَاء وَالْمقَام فِي الثَّالِثَة مقَام بَيَان كَمَال الْقُدْرَة فمقتضاه تَقْدِيم مَا هُوَ أدل على كمالها
هَذَا وَالَّذِي يفهم من بعض عِبَارَات الْقَوْم أَن المحدد وَيُقَال لَهُ سَمَاء أَيْضا مَخْلُوق قبل الأَرْض وَمَا فِيهَا وَأَن الأَرْض نَفسهَا خلقت بعد ثمَّ بعد خلقهَا خلقت السَّمَاوَات السَّبع ثمَّ بعد السَّبع خلق مَا فِي الأَرْض من معادن ونبات ثمَّ ظهر عَالم الْحَيَوَان ثمَّ عَالم الْإِنْسَان.
فَمَعْنَى قَوْله تَعَالَى {خلق لكم مَا فِي الأَرْض جَمِيعًا} حِينَئِذٍ قدره أَو أَرَادَ إيجاده أَو أوجد مواده
وَمعنى قَوْله تَعَالَى {وَجعل فِيهَا رواسي} إِلَى آخِره فِي الْآيَة الْأُخْرَى على نَحْو هَذَا.
وَقَوله تَعَالَى {وخلق الأَرْض} فِيهَا على ظَاهره، وَلَا يأباه قَوْله سُبْحَانَهُ {{فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ} [فصلت: 11] إِلَى
তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী {এবং তিনি তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন} এর অর্থ হওয়া উচিত ‘তিনি তা স্থাপন করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন’। মহান আল্লাহর এই বাণী এর সমর্থন করে: {অতঃপর তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়; তারা বলল, আমরা আসলাম অনুগত হয়ে}। কেননা আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় যে, এখানে ‘আসা’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অস্তিত্ব লাভ করা; আর পৃথিবী যদি পূর্ব থেকেই বিদ্যমান থাকত, তবে এটি সঠিক হতো না।
সুতরাং বিষয়টি এমন যেন মহান আল্লাহ বলছেন: ‘নিশ্চয়ই তোমরা তাঁর সাথে কুফরি করছ, যিনি পৃথিবী এবং তাতে বিদ্যমান সুদৃঢ় পর্বত ও খাদ্যসামগ্রী চার দিনে সৃষ্টির ইচ্ছা করেছেন; অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির সাথে তাঁর ইচ্ছা সংশ্লিষ্ট হলো। ফলে সৃষ্টির আদেশে তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল; অতঃপর তিনি দুই দিনে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করলেন এবং চার দিনে পৃথিবী ও তাতে যা কিছু আছে তা সৃষ্টি করলেন।’
এখানে রচনারীতি পরিবর্তনের সূক্ষ্ম রহস্য বর্ণনা করা বাকি রয়েছে; যেখানে বাহ্যিকভাবে এখানে এবং সূরা হামীম আস-সাজদাহ-তে পৃথিবী ও তার অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি সৃষ্টিকে আকাশমণ্ডলী সৃষ্টির পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, আর সূরা আন-নাযিআত-এ এর বিপরীত করা হয়েছে।
সম্ভবত এটি এ কারণে যে, প্রথম দুটি স্থানে প্রসঙ্গের দাবি ছিল অনুগ্রহ প্রদর্শন, যার চাহিদা হলো সম্বোধিত ব্যক্তিদের প্রেক্ষাপটে যা নেয়ামত হিসেবে গণ্য তা আগে উল্লেখ করা। যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন—তিনি আকাশ সৃষ্টির পূর্বেই তোমাদের বিষয়াদি তদারকি করেছেন, অতঃপর আকাশ সৃষ্টি করেছেন। আর তৃতীয় স্থানে প্রসঙ্গের দাবি ছিল পূর্ণ ক্ষমতার বর্ণনা প্রদান, তাই সেখানে এমন বিষয় আগে আনা হয়েছে যা তাঁর পূর্ণ ক্ষমতার অধিকতর প্রমাণ বহন করে।
এটি একটি দিক, আর একদল পণ্ডিতের কিছু বক্তব্য থেকে যা অনুমিত হয় তা হলো, ‘সীমানা নির্ধারক’ (যাকে আকাশও বলা হয়) পৃথিবী ও তার অভ্যন্তরীণ সবকিছুর পূর্বেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পৃথিবী স্বয়ং এর পরে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর পৃথিবী সৃষ্টির পর সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর সপ্ত আকাশ সৃষ্টির পরে পৃথিবীতে বিদ্যমান খনিজ সম্পদ ও উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর প্রাণী জগতের আবির্ভাব ঘটেছে এবং সবশেষে মানব জগতের।
এমতাবস্থায় মহান আল্লাহর বাণী {তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন}-এর অর্থ হলো: তিনি তা নির্ধারণ করেছেন অথবা তা অস্তিত্বে আনার ইচ্ছা করেছেন কিংবা তার মৌলিক উপাদানসমূহ সৃষ্টি করেছেন।
আর অন্য আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী {এবং তিনি তাতে সুদৃঢ় পর্বতসমূহ স্থাপন করেছেন} থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটির অর্থও এই রূপ।
আর মহান আল্লাহর বাণী {এবং তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন} এটি তার বাহ্যিক অর্থের ওপরই বহাল থাকবে। মহান আল্লাহর এই বাণী এর পরিপন্থী নয়: {অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আসো স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়; তারা বলল, আমরা আসলাম অনুগত হয়ে} [সূরা ফুসসিলাত: ১১]... পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
آخِره لجَوَاز حمله على معنى ائتيا بِمَا خلقت فيكما من التَّأْثِير والتأثر وإبراز مَا أودعتكما من الأوضاع الْمُخْتَلفَة والكائنات المتنوعة أَو إتْيَان السَّمَاء حدوثها وإتيان الأَرْض أَن تصير مدحوة أَو لتأت كل مِنْكُمَا الْأُخْرَى فِي حُدُوث مَا أُرِيد توليده مِنْكُمَا.
وَبعد هَذَا كُله لَا يَخْلُو الْبَحْث من صعوبة وَمَا زَالَ النَّاس يستصعبونه من عهد الصَّحَابَة إِلَى الْآن وسنعود إِلَيْهِ مرّة أُخْرَى إِن شَاءَ الله تَعَالَى.
وَمعنى سواهن أتمهن وقومهن وخلقهن ابْتِدَاء مصونات عَن العوج والفطور لَا أَنه سبحانه وتعالى سواهن بعد أَن لم يكن كَذَلِك فَهُوَ على حد قَوْلهم ضيق فَم الْبِئْر ووسع الدَّار.
لَا يُقَال إِن أَرْبَاب الأرصاد الْمُتَقَدِّمين أثبتوا تِسْعَة أفلاك وَهل هِيَ إِلَّا سماوات لأَنا نقُول هم لَا يزالون شاكين فِي النُّقْصَان وَالزِّيَادَة فَإِن مَا وجدوه من الحركات يُمكن ضَبطهَا بِثمَانِيَة وَسَبْعَة بل بِوَاحِد وَبَعْضهمْ أثبتوا بَين فلك الثوابت والأطلس كرة لضبط الْميل الْكُلِّي
وَقَالَ بعض محققيهم لم يتَبَيَّن لي إِلَى الْآن أَن كرة الثوابت كرة وَاحِدَة أَو كرات منطوية بَعْضهَا على بعض.
وَأطَال الإِمَام الرَّازِيّ الْكَلَام فِي ذَلِك
على أَنه إِن صَحَّ مَا شاع فَلَيْسَ فِي الْآيَة مَا يدل على نفي الزَّوَائِد بِنَاء على مَا اخْتَارَهُ الرَّازِيّ من أَن مَفْهُوم الْعدَد لَيْسَ بِحجَّة
وَكَلَام الْبَيْضَاوِيّ فِي تَفْسِيره يشيير إِلَيْهِ خلافًا لما فِي منهاجه الْمُوَافق
এর শেষাংশ এই সম্ভাবনা বহন করে যে, এর অর্থ হবে: আমি তোমাদের উভয়ের মধ্যে প্রভাব ও প্রভাবিত হওয়ার যে গুণাবলী সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের মাঝে বৈচিত্র্যময় অবস্থা ও বিভিন্ন অস্তিত্বশীল বস্তু আমানত রেখেছি, তা নিয়ে আসো। অথবা আকাশের আগমন অর্থ হলো তার অস্তিত্ব লাভ করা এবং জমিনের আগমন অর্থ হলো তার বিস্তৃত হওয়া। অথবা তোমাদের প্রত্যেকটি গোলক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অপরটির সাথে মিলিত হওয়া, যাতে আমি তোমাদের উভয়ের মাধ্যমে যা উৎপন্ন করতে চেয়েছি তা বাস্তবায়িত হয়।
এই সবকিছুর পরেও এই গবেষণাটি কাঠিন্যমুক্ত নয়; সাহাবা (الصحابة) এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষ একে কঠিন বলে মনে করে আসছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা পুনরায় এই প্রসঙ্গে ফিরে আসব।
'সাওয়াহুন্না' (سواهن) এর অর্থ হলো সেগুলোকে পূর্ণতা দান করেছেন, সুবিন্যস্ত করেছেন এবং প্রারম্ভিক সৃষ্টিতেই বক্রতা ও ফাটল থেকে সুরক্ষিত রেখেছেন। বিষয়টি এমন নয় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেগুলোকে অগোছালো অবস্থা থেকে পরবর্তীতে সুবিন্যস্ত করেছেন; বরং এটি তাদের এই প্রবাদের মতো যে—'সে কূপের মুখ সংকীর্ণ করল এবং ঘর প্রশস্ত করল' [অর্থাৎ কাজটির প্রারম্ভিক রূপই ছিল তেমন]।
এমনটা বলা সংগত হবে না যে, প্রাচীন জ্যোতির্বিদগণ নয়টি আকাশমণ্ডল সাব্যস্ত করেছেন এবং সেগুলো কি আকাশ নয়? কেননা আমরা বলব যে, তারা এর সংখ্যা কম বা বেশি হওয়ার ব্যাপারে সর্বদা সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন। কারণ তারা গতির যে পর্যবেক্ষণ পেয়েছেন, তা আটটি বা সাতটি বরং একটির মাধ্যমেই সুশৃঙ্খলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। এমনকি তাদের কেউ কেউ স্থির নক্ষত্রপুঞ্জ ও আতলাসের স্তরের মাঝে একটি গোলক সাব্যস্ত করেছেন সামগ্রিক ঝোঁক বা ঢাল (ميل) নির্ধারণের জন্য।
তাদের জনৈক গবেষক (محقق) বলেছেন: এখন পর্যন্ত আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়নি যে, স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের গোলকটি কি একটিমাত্র গোলক নাকি একের ওপর এক ভাঁজ করা একাধিক গোলকের সমষ্টি।
ইমাম রাযী এ বিষয়ে সুদীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
তাছাড়া যা প্রচলিত রয়েছে তা যদি সহিহ (صحيح) বলেও গণ্য হয়, তবুও এই আয়াতে অতিরিক্ত কিছু থাকার সম্ভাবনা নাকচ করার কোনো প্রমাণ নেই। এটি ইমাম রাযীর নির্বাচিত সেই মতের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে তিনি বলেছেন যে সংখ্যার মর্মার্থ (مفهوم) কোনো অকাট্য দলিল (حجة) নয়।
বায়যাভীর তাফসিরের আলোচনা সেদিকেই ইঙ্গিত করে, যা তার মিনহাজ নামক গ্রন্থে বর্ণিত বিবরণের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لما عَلَيْهِ الإِمَام الشَّافِعِي وَنَقله عَنهُ الْغَزالِيّ فِي "المنخول".
وَذكر عبد الْحَكِيم السيالكوتي الْهِنْدِيّ أَن الْحق أَن تَخْصِيص الْعدَد بِالذكر لَا يدل على نفي الزَّائِد وَالْخلاف فِي ذَلِك مَشْهُور
وَإِذا قُلْنَا بكرية الْعَرْش والكرسي لم يبْق كَلَام.
وَضمير {فسواهن} للسماء إِن فسرت بالأجرام
وَأما مَا ذهب إِلَيْهِ متأخرو الفلاسفة فَلَا سَمَاء عِنْدهم بل الأجرام العلوية قَائِمَة بالجاذبية فَإِن الشَّمْس وَسَائِر الْكَوَاكِب السيارات عَلَيْهَا بل وَجَمِيع الثوابت لَيست مركوزة فِي جسم من الْأَجْسَام والآيات القرآنية وَإِن لم يكن فِيهَا مَا يدل على خلاف مَا ذكر فِي الْكَوَاكِب بل رُبمَا كَانَ فِيهَا مَا يدل على مَا يُؤَيّد مَذْهَب الْمُتَأَخِّرين فَإِن النُّصُوص تشعر بِأَن مَا نشاهده من الحركات لَيست بالأجرام اشْتَمَلت على الْكَوَاكِب مثل قَوْله سُبْحَانَهُ {لَا الشَّمْس يَنْبَغِي لَهَا أَن تدْرك الْقَمَر وَلَا اللَّيْل سَابق النَّهَار وكل فِي فلك يسبحون}
ইমাম শাফিঈ যে মত পোষণ করেছেন এবং ইমাম গাজালি তাঁর থেকে "আল-মানখুল" গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন।
এবং আব্দুল হাকিম শিয়ালকুটি আল-হিন্দি উল্লেখ করেছেন যে, সঠিক বিষয়টি হলো—সংখ্যার সুনির্দিষ্ট উল্লেখ তার অতিরিক্ত বিষয়কে নাকচ করার প্রমাণ বহন করে না এবং এ বিষয়ে মতভেদ প্রসিদ্ধ (مشهور)।
আর যদি আমরা আরশ ও কুরসির গোলাকার হওয়ার কথা বলি, তবে আর কোনো তর্কের অবকাশ থাকে না।
এবং {فسواهن} (অতঃপর তিনি সেগুলোকে সুবিন্যস্ত করলেন) এর সর্বনামটি আকাশের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, যদি আকাশ বলতে মহাজাগতিক পিণ্ডসমূহ বোঝানো হয়।
আর পরবর্তী যুগের দার্শনিকগণ যে মত গ্রহণ করেছেন, তাদের মতে কোনো (ভৌত) আকাশ নেই; বরং ঊর্ধ্বজগতসমূহ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মাধ্যমে টিকে আছে। সূর্য এবং অন্যান্য বিচরণশীল গ্রহসমূহ, এমনকি সমস্ত স্থির নক্ষত্ররাজী কোনো বিশেষ ভৌত কাঠামোর মধ্যে প্রোথিত নয়। আর কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে এমন কিছু নেই যা গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে উল্লিখিত এই বক্তব্যের বিরোধী, বরং এতে এমন কিছু থাকতে পারে যা পরবর্তী যুগের এই মতবাদকে সমর্থন করে। কারণ উৎসগত পাঠসমূহ ইঙ্গিত দেয় যে, আমরা যে গতিসমূহ প্রত্যক্ষ করি তা এমন কোনো বৃহৎ পিণ্ডের অন্তর্ভুক্ত নয় যা গ্রহসমূহকে পরিবেষ্টন করে আছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়া; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে}।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
نعم المناقضة والمخالفة بَين مَذْهَب الْمُتَقَدِّمين والمتأخرين فِي هَذَا الْبَاب فَإِن الْمُتَقَدِّمين قَالُوا إِن الْعَالم الجسماني كرة منضدة من ثَلَاث عشرَة كرة ومركز الْعَالم مَرْكَز كرة الأَرْض غير أَن الْمُتَأَخِّرين لم يثبتوا من السَّمَاوَات سبعا وَلَا أَكثر من ذَلِك وَلَا أنقص والمتشرعون مِنْهُم قَالُوا المُرَاد من السَّمَاوَات السَّبع أَصْنَاف أجرام الْكَوَاكِب فَإِنَّهُم جعلوها على سَبْعَة أَصْنَاف فِي الْمِقْدَار وَذَلِكَ هُوَ الضلال الْبعيد فَلَا يلْزم أَن يكون كل مَا لم تصل إِلَيْهِ أَيدي أفكارهم هُوَ فِي حيّز الْعَدَم {بل كذبُوا بِمَا لم يحيطوا بِعِلْمِهِ وَلما يَأْتهمْ تَأْوِيله} فَإِن الرُّسُل صلى الله عليه وسلم كلهم أخبروا بِوُجُود السَّمَاوَات فِي هَذَا الفضاء الَّذِي لَيْسَ لَهُ مبدأ وَلَا انْتِهَاء وَهَذَا خاتمهم صلى الله عليه وسلم قد ذكر مَا ذكر مِمَّا رأى فِي معراجه فِي السَّمَاوَات واستفتاحه لَهَا بِوَاسِطَة جِبْرِيل كل ذَلِك يبطل تَأْوِيل من أوَّلَ.
وَسَيَأْتِي فِي ذَلِك كَلَام مفصل وَمَا ذَكرْنَاهُ هُنَا كَاف فِي الْمقَام وَالله ولي التَّوْفِيق.
وَمِنْهَا قَوْله تَعَالَى {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ} [البقرة: 189]
হ্যাঁ, এই বিষয়ে পূর্বসূরি (المتقدمين) এবং উত্তরসূরিদের (المتأخرين) মতাদর্শের মধ্যে বৈপরীত্য ও বিরোধ বিদ্যমান। কারণ পূর্বসূরিগণ (المتقدمين) বলেছিলেন যে, বস্তুগত জগৎ তেরোটি গোলকের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিন্যস্ত গোলক এবং মহাবিশ্বের কেন্দ্র হলো পৃথিবী নামক গোলকের কেন্দ্র। তবে উত্তরসূরিগণ (المتأخرين) আসমানসমূহের সংখ্যা সাতটি বা তার চেয়ে বেশি কিংবা কম বলে প্রমাণ করেননি। আর তাদের মধ্যে যারা শরিয়তবিদ (المتشرعون) ছিলেন তারা বলেছেন যে, সাত আসমান বলতে গ্রহ-নক্ষত্রের দেহের বিভিন্ন শ্রেণিকে বোঝানো হয়েছে; কেননা তারা সেগুলোকে আকৃতির বিচারে সাতটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। আর এটি হলো চরম পথভ্রষ্টতা; কারণ তাদের চিন্তাশক্তি যেখানে পৌঁছাতে পারেনি, তা যে অস্তিত্বহীন হতে হবে এমনটি জরুরি নয়। {বরং তারা এমন বিষয়কে অস্বীকার করেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা (تأويل) এখনো তাদের কাছে আসেনি}। কেননা সকল রসূল (সা.) এই অনাদি ও অনন্ত মহাশূন্যে আসমানসমূহের অস্তিত্ব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। আর এই হলেন তাদের মোহর (সর্বশেষ নবী) (সা.), যিনি মিরাজের রজনীতে আসমানসমূহে যা দেখেছেন এবং জিবরাঈলের মাধ্যমে আসমানের দ্বার উন্মোচন করার বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। এই সবকিছুই সেই সমস্ত ব্যক্তির ব্যাখ্যাকে (تأويل) বাতিল করে দেয় যারা অপব্যাখ্যা করেছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে এবং আমরা এখানে যা উল্লেখ করেছি তা এই প্রসঙ্গের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহই তাওফিক দাতা।
এর মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীও অন্তর্ভুক্ত: {তারা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা হলো মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময়ের পরিমাপক} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৯]
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ذكر أهل التَّفْسِير أَن معَاذ بن جبل وثعلبة بن غنم قَالَا يَا رَسُول الله مَا بَال الْهلَال يَبْدُو ويطلع دَقِيقًا مثل الْخَيط ثمَّ يزِيد حَتَّى يعظم وَيَسْتَوِي ويستدير ثمَّ لَا يزَال ينقص ويدق حَتَّى يعود كَمَا كَانَ لَا يكون على حَال وَاحِدَة فَنزلت.
وَالسُّؤَال يحْتَمل أَن يكون عَن الْغَايَة وَالْحكمَة وَأَن يكون عَن السَّبَب وَالْعلَّة وَلَا نَص فِي الْآيَة وَالْخَبَر على أَحدهمَا.
أما الملفوظ من الْآيَة فَظَاهر وَأما الْمَحْذُوف فَيحْتَمل أَن يقدر مَا سَبَب اختلافها وَأَن يقدر مَا حكمته.
وَهِي وَإِن كَانَت فِي الظَّاهِر سؤالا عَن التَّعَدُّد إِلَّا أَنَّهَا فِي الْحَقِيقَة متضمنة للسؤال عَن اخْتِلَاف التشكلات النورية لِأَن التَّعَدُّد يتبع اختلافها إِذْ لَو كَانَ الْهلَال على شكل وَاحِد لَا يحصل التَّعَدُّد كَمَا لَا يخفى.
وَأما الْخَبَر فَلِأَن مَا فِيهِ يسْأَل بهَا عَن الْجِنْس وَحَقِيقَته فالمسؤول عَنهُ حِينَئِذٍ حَقِيقَة أَمر الْهلَال وشأنه حَال اخْتِلَاف تشكلاته النورية ثمَّ عوده إِلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ وَذَلِكَ الْأَمر المسؤول عَن حَقِيقَته يحْتَمل ذَيْنك الْأَمريْنِ بِلَا ريب
তাফসিরবিদগণ (أهل التفسير) উল্লেখ করেছেন যে, মুয়াজ ইবনে জাবাল এবং সালাবাহ ইবনে গানাম বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! চাঁদের কী হলো যে এটি সুতার মতো সূক্ষ্ম হয়ে উদিত হয়, তারপর বাড়তে থাকে যতক্ষণ না এটি পূর্ণতা পায় ও গোলাকার হয়; অতঃপর তা পুনরায় কমতে থাকে এবং সূক্ষ্ম হয়ে যায় যতক্ষণ না তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়? এটি কেন এক অবস্থায় থাকে না?” তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
আর এই প্রশ্নটি যেমন উদ্দেশ্য ও হিকমত সম্পর্কে হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তেমনি তা কারণ ও কার্যকরণ (علة) সম্পর্কে হওয়ারও অবকাশ রাখে। অথচ আয়াত কিংবা সংবাদ (خبر)-এ এ দুটির কোনোটির ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) নেই।
আয়াতের শব্দগত বা উচ্চারিত অংশটি তো সুস্পষ্ট (ظاهر); তবে এর উহ্য অংশের ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘চাঁদের পরিবর্তনের কারণ কী?’ অথবা ‘এর হিকমত বা প্রজ্ঞা কী?’।
এই প্রশ্নটি বাহ্যিকভাবে রূপের বৈচিত্র্য সম্পর্কে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি চাঁদের আলোকীয় কাঠামোর ভিন্নতা বিষয়ক প্রশ্নকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ এই রূপের পরিবর্তন মূলত কাঠামোগত ভিন্নতারই অনুগামী; কেননা চাঁদ যদি সর্বদা একই কাঠামোতে থাকত, তবে এই রূপের পরিবর্তন ঘটত না, যা অত্যন্ত স্পষ্ট।
আর সংবাদ (خبر)-এর বিষয়টি হলো, এতে ব্যবহৃত প্রশ্নবোধক অব্যয়টি কোনো বিষয়ের ধরন ও হাকিকত সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জন্য আসে। এমতাবস্থায় যা জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তা হলো চাঁদের প্রকৃত অবস্থা এবং এর আলোকীয় কাঠামোর পরিবর্তন ও পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরে আসার প্রেক্ষাপট। আর যে বিষয়ের হাকিকত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে উল্লিখিত ওই দুটি বিষয়েরই (হিকমত ও কারণ) সম্ভাবনা রাখে।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فعلى الأول يكون الْجَواب بقوله {قل هِيَ مَوَاقِيت للنَّاس وَالْحج} مطابقا مُبينًا للحكمة الظَّاهِرَة اللائقة بشأن التَّبْلِيغ الْعَام المذكرة لنعمة الله تَعَالَى ومزيد رأفته وَهِي أَن تكون معالم للنَّاس يوقتون بهَا أُمُورهم الدِّينِيَّة ويعلمون أَوْقَات زُرُوعهمْ ومتاجرهم ومعالم للعبادات يعرف بهَا أَوْقَاتهَا كالصيام والإفطار وخصوصا الْحَج فَإِن الْوَقْت مرَاعِي فِيهِ أَدَاء وَقَضَاء
وَلَو كَانَ الْهلَال مدورا كَالشَّمْسِ أَو ملازما حَالَة وَاحِدَة لم يكد يَتَيَسَّر التَّوْقِيت بِهِ وَلم يذكر صلى الله عليه وسلم الْحِكْمَة الْبَاطِنَة لذَلِك مثل كَون اخْتِلَاف تشكلاته سَببا عاديا أَو جعليا لاخْتِلَاف أَحْوَال المواليد العنصرية كَمَا بَين فِي مَحَله لِأَنَّهُ مِمَّا لم يطلع عَلَيْهِ كل أحد
وعَلى الثَّانِي يكون من الأسلوب الْحَكِيم وَيُسمى القَوْل بِالْمُوجبِ وَهُوَ تلقي السَّائِل بِغَيْر مَا يتطلب بتنزيل سُؤَاله منزلَة غَيره تَنْبِيها على أَنه الأولى بِحَالهِ وَاخْتَارَهُ السكاكي وَجَمَاعَة. فَيكون فِي هَذَا الْجَواب إِشَارَة إِلَى أَن الأولى على تَقْدِير وُقُوع السُّؤَال أَن يسْأَلُوا عَن الْحِكْمَة لَا عَن السَّبَب لِأَنَّهُ لَا يتَعَلَّق بِهِ صَلَاح معاشهم ومعادهم وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا بعث لبَيَان ذَلِك
وَبَعض عُلَمَاء الْهَيْئَة اليونانية قَالَ لَيْسُوا مِمَّن يطلع على دقائق علم الْهَيْئَة الْمَوْقُوفَة على الأرصاد والأدلة الفلسفية
وَهَذَا وهم لِأَن ذَلِك على فرض تَسْلِيمه فِي حق أُولَئِكَ الْمَشَّائِينَ فِي ركاب النُّبُوَّة والمرتاضين فِي رواق الفتوة والفائزين بإشراق الْأَنْوَار والمطلعين بأرصاد قُلُوبهم على دقائق الْأَسْرَار وَإِن لم يكن نقصا من قدرهم
প্রথম মতানুসারে, আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {বলুন, তা মানুষের জন্য সময়ের পরিমাপ এবং হজের জন্য}—এর মাধ্যমে প্রদত্ত উত্তরটি হবে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং দ্বীন প্রচারের মহান মর্যাদার অনুকূল সুস্পষ্ট হিকমতের বর্ণনাকারী। এটি আল্লাহ তাআলার নিয়ামত এবং তাঁর অসীম করুণার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আর তা হলো এই যে, চাঁদ মানুষের জন্য সময়ের নির্দেশক হবে, যার মাধ্যমে তারা তাদের দ্বীনি কার্যাবলির সময় নির্ধারণ করবে এবং তাদের কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সময় সম্পর্কে অবগত হবে। এছাড়া এটি ইবাদতের নিশানাস্বরূপ, যার দ্বারা ইবাদতের ওয়াক্ত বা সময়গুলো জানা যায়—যেমন সিয়াম ও ইফতার; এবং বিশেষভাবে হজ, কেননা হজের ক্ষেত্রে সময় রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, তা আদায় (أداء) ও কাযা (قضاء) উভয় ক্ষেত্রেই হোক।
আর যদি নতুন চাঁদ সূর্যের মতো গোল হতো অথবা সর্বদা একই অবস্থায় থাকত, তবে তার মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করা সহজসাধ্য হতো না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্তর্নিহিত হিকমত বর্ণনা করেননি; যেমন চাঁদের বিভিন্ন রূপ ধারণ করা মৌলিক উপাদানসমূহের অবস্থার পরিবর্তনের একটি স্বাভাবিক বা নির্ধারিত কারণ (سبب) হওয়া—যা সংশ্লিষ্ট স্থানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে; কারণ এটি এমন বিষয় যা সকলের পক্ষে অবগত হওয়া সম্ভব নয়।
দ্বিতীয় মতানুসারে, এটি 'প্রজ্ঞাপূর্ণ শৈলী' (الأسلوب الحكيم) এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যাকে 'আবশ্যকীয় বক্তব্য' (القول بالموجب) বলা হয়। এর অর্থ হলো প্রশ্নকর্তাকে তার প্রত্যাশার বাইরে এমন উত্তর প্রদান করা যা তার প্রশ্নকে অন্য বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করে—এ বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে, এটিই তার অবস্থার জন্য অধিকতর উপযুক্ত। আল্লামা সাক্কাকি এবং একদল আলিম এটিই পছন্দ করেছেন। সুতরাং এই উত্তরের মাঝে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে তাদের জন্য উচিত ছিল হিকমত বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা, কারণ (سبب) সম্পর্কে নয়। কেননা এর সাথে তাদের পার্থিব জীবন ও পরকালের কল্যাণের কোনো সম্পর্ক নেই, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলত এসব বিষয় বর্ণনা করার জন্যই প্রেরিত হয়েছেন।
গ্রীক জ্যোতির্বিদ্যার কোনো কোনো পণ্ডিত বলেছেন যে, তারা (সাহাবায়ে কেরাম) পর্যবেক্ষণ ও দার্শনিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল জ্যোতির্বিদ্যার সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার যোগ্য ছিলেন না।
এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা (وهم); কারণ যদি তর্কের খাতিরে এটি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও তা সেই মহান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না যারা নবুওয়তের ছায়াতলে চলেছেন, আধ্যাত্মিক সাধনার প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষিত হয়েছেন, ঐশী নূরের বিচ্ছুরণে সফলকাম হয়েছেন এবং স্বীয় অন্তরের পর্যবেক্ষণে নিগূঢ় রহস্যের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন; যদিও এটি তাদের মর্যাদার কোনো হানি করে না।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إِلَّا أَنه يدل على أَن سَبَب الِاخْتِلَاف مَا بَين فِي علم الْهَيْئَة من بعد الْقَمَر عَن الشَّمْس وقربه إِلَيْهَا
وَهُوَ بَاطِل عِنْد أهل الشَّرِيعَة فَإِنَّهُ مَبْنِيّ على أُمُور لم يثبت جزما شَيْء مِنْهَا
غَايَة الْأَمر أَن الفلاسفة الأول تخيلوها مُوَافقَة فَمَا أبدعه الْحَكِيم الْمُطلق كَمَا يُشِير إِلَيْهِ كَلَام الشَّيْخ مُحي الدّين رحمه الله فِي «فتوحاته» مِمَّا يُنَادي على أَن مَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ مُجَرّد تخيل لَا تأباه الْحِكْمَة وَلَيْسَ مطابقا لما فِي نفس الْأَمر أَن الْمُتَأَخِّرين مِمَّن انتظم فِي سلك الفلاسفة كهرشل الْحَكِيم وَأَتْبَاعه أَصْحَاب الرصد والزيج الْجَدِيد تخيلوا خلاف مَا ذهب إِلَيْهِ الْأَولونَ فِي أَمر الْهَيْئَة وَقَالُوا بِأَن الشَّمْس مَرْكَز وَالْأَرْض وَكَذَا النُّجُوم دَائِرَة حولهَا وبنوا حكم الْكُسُوف والخسوف وَنَحْوه على ذَلِك وبرهنوا عَلَيْهِ وردوا مخالفيه وَلم يتَخَلَّف شَيْء من أحكامهم فِي هَذَا الْبَاب بل يَقع بِحَسب مَا يَقع مَا يَقُوله الْأَولونَ مَبْنِيا على زعمهم.
فَحَيْثُ اتّفقت الْأَحْكَام مَعَ اخْتِلَاف المبنيين وتضاد المنشأين ورد أحد الزعمين بِالْآخرِ ارْتَفع الوثوق بكلا المذهبين وَوَجَب الرُّجُوع إِلَى الْعلم المقتبس من مشكاة الرسَالَة والمنقدح من أنوار شمس السِّيَادَة والبسالة والاعتماد على مَا قَالَه الشَّارِع الْأَعْظَم صلى الله عليه وسلم بعد إمعان النّظر فِيهِ وَحمله على أحسن مَعَانِيه!
وَإِذا أمكن الْجمع بَين مَا يَقُوله الفلاسفة كَيفَ كَانُوا مِمَّا يقبله الْعقل، وَبَين
তবে এটি নির্দেশ করে যে, পার্থক্যের কারণ হলো জ্যোতির্বিজ্ঞান (علم الهيئة)-এর পরিভাষায় সূর্য থেকে চাঁদের দূরত্ব এবং তার নিকটবর্তী হওয়া।
আর শরিয়তবিদগণের নিকট এটি বাতিল (باطل); কারণ এটি এমন কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যার কোনোটিই অকাট্যভাবে প্রমাণিত (ثابت) নয়।
সারকথা হলো, প্রাচীন দার্শনিকগণ বিষয়টিকে পরম প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সৃষ্টির নিপুণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে কল্পনা করেছিলেন; যেমনটি শেখ মহিউদ্দিন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ফুতুহাত গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন। এটি এ কথাই ঘোষণা করে যে, তাঁরা যে মত গ্রহণ করেছিলেন তা নিছক কল্পনাপ্রসূত যা যুক্তির বিরোধী না হলেও বাস্তব অবস্থার (نفس الأمر) সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। পরবর্তীতে দার্শনিকদের সারিতে অন্তর্ভুক্ত আধুনিক পণ্ডিতগণ, যেমন বিজ্ঞানী হার্শেল ও তাঁর অনুসারীরা, যারা নতুন মানমন্দির ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণি বা পঞ্জিকার (الزيج) প্রণেতা, তাঁরা জ্যোতির্বিজ্ঞানের (علم الهيئة) বিষয়ে প্রাচীনদের মতের বিপরীতে কল্পনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, সূর্য হলো কেন্দ্র এবং পৃথিবী ও নক্ষত্রসমূহ তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান। তাঁরা সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ ইত্যাদির বিধান এর ওপর ভিত্তি করেই সাজিয়েছেন এবং এর স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন ও বিরোধীদের খণ্ডন করেছেন। এই ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবতার বিপরীত হয়নি; বরং প্রাচীনদের দাবি অনুযায়ী যা যা ঘটেছিল, তাদের মতানুসারেও তা সেভাবেই ঘটছে।
যেহেতু দুটি ভিন্ন ভিত্তি ও পরস্পরবিরোধী উৎস হওয়া সত্ত্বেও সিদ্ধান্তগুলো একই আসছে এবং একটি দাবি অন্যটি দ্বারা খণ্ডন করা হচ্ছে, সেহেতু উভয় মতবাদের ওপর থেকেই আস্থা উঠে যায়। এমতাবস্থায় রিসালাতের প্রদীপ থেকে আহরিত এবং মহত্ত্ব ও বীরত্বের সূর্যের নূর হতে প্রজ্জ্বলিত জ্ঞানের দিকে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব (واجب) হয়ে পড়ে। আর গভীর পর্যালোচনার পর মহান শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, তার ওপর নির্ভর করা এবং সেটিকে তার সর্বোত্তম অর্থের ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক!
আর দার্শনিকরা যা-ই বলুন না কেন, যদি তা বিবেকগ্রাহ্য হয় এবং তার সাথে... এর সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তবে...
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مَا يَقُوله سيد الْحُكَمَاء وَنور أهل الأَرْض وَالسَّمَاء فَلَا بَأْس بِهِ بل هُوَ الْأَلْيَق الأحرى فِي دفع الشكوك الَّتِي كثيرا مَا تعرض لِضُعَفَاء الْمُؤمنِينَ.
وَإِذا لم يكن ذَلِك فَعَلَيْك بِمَا دارت عَلَيْهِ أفلاك الشَّرْع وتنزلت بِهِ أَمْلَاك الْحق.
وسنتكلم فِيمَا يتَعَلَّق بِأَحْكَام الْقَمَر فِيمَا يُنَاسِبهَا من الْآيَات الْآتِيَة إِن شَاءَ الله تَعَالَى.
وَمِنْهَا قَوْله تَعَالَى {وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ (255)} [البقرة: 255]
تَفْسِير هَذِه الْآيَة
الْكُرْسِيّ جسم بَين يَدي الْعَرْش مُحِيط بالسماوات وَالْأَرْض وَقد أخرج جرير وَابْن الْمُنْذر عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ "لَو أَن السَّمَاوَات السَّبع وَالْأَرضين السَّبع بسطن ثمَّ وصلن بَعضهنَّ إِلَى بعض مَا كن فِي سعته أَي الْكُرْسِيّ إِلَّا بِمَنْزِلَة الْحلقَة بالمفازة".
وَهُوَ غير الْعَرْش كَمَا يدل عَلَيْهِ مَا أخرجه ابْن جرير عَن أبي ذَر أَنه سَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن الْكُرْسِيّ فَقَالَ يَا أَبَا ذَر مَا السَّمَاوَات السَّبع والأرضون السَّبع عِنْد الْكُرْسِيّ إِلَّا كحلقة ملقاة بِأَرْض
প্রজ্ঞাবানদের সরদার এবং পৃথিবী ও আকাশের নূর যা বলেন তাতে কোনো বাধা নেই, বরং দুর্বল মুমিনদের মনে প্রায়ই যে সন্দেহের উদ্রেক হয় তা নিরসনে এটিই অধিকতর উপযুক্ত ও সমীচীন।
আর যদি তা না হয়, তবে আপনার কর্তব্য হলো শরীয়তের কক্ষপথ যা ঘিরে আবর্তিত হয় এবং সত্যের ফেরেশতারা যা নিয়ে অবতীর্ণ হন, তা আঁকড়ে ধরা।
আর আমরা পরবর্তী আয়াতসমূহের মধ্য থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়াতগুলোতে চাঁদের বিধানাবলী সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: "তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে পরিশ্রান্ত করে না; আর তিনি সুউচ্চ, মহান।" [সূরা আল-বাকারা: ২৫৫]
এই আয়াতের তাফসির:
কুরসি হলো আরশের সামনে অবস্থিত একটি বিশেষ সত্তা যা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। ইবনে জারির ও ইবনে মুনজির ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন: "যদি সাত আকাশ ও সাত জমিনকে প্রসারিত করা হয় এবং এরপর একটিকে অন্যটির সাথে জুড়ে দেওয়া হয়, তবে কুরসির প্রশস্ততার তুলনায় তা বিশাল মরুভূমিতে পড়ে থাকা একটি ক্ষুদ্র আংটির মতো ছাড়া আর কিছুই হবে না।"
আর এটি আরশ হতে ভিন্ন, যেমনটি ইবনে জারির কর্তৃক আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত (أخرجه) হয়েছে যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কুরসি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন: "হে আবু যার, কুরসির তুলনায় সাত আকাশ ও সাত জমিন তো কেবল একটি বিশাল প্রান্তরে পড়ে থাকা ক্ষুদ্র আংটির মতো।"
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فلاة وَإِن فضل الْعَرْش على الْكُرْسِيّ كفضل الفلاة على تِلْكَ الْحلقَة. (1)
وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ سُئِلَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن قَوْله تَعَالَى {وسع كرسيه السَّمَاوَات وَالْأَرْض} قَالَ {كرسيه} مَوضِع قَدَمَيْهِ وَالْعرش لَا يقدر قدره وَقيل هُوَ الْعَرْش نَفسه وَنسب ذَلِك إِلَى الْحسن. وَقيل قدرَة الله تَعَالَى وَقيل تَدْبيره وَقيل ملك من مَلَائكَته وَقيل هُوَ مجَاز عَن الْعلم من تَسْمِيَة الشَّيْء بمكانه لِأَن الْكُرْسِيّ مَكَان الْعَالم الَّذِي فِيهِ الْعلم فَيكون مَكَانا للْعلم بتبعيته لِأَن الْعرض يتبع الْمحل فِي التحيز حَتَّى ذَهَبُوا إِلَى أَنه معنى قيام الْعرض بِالْمحل وَحكي ذَلِك عَن ابْن عَبَّاس وَقيل عَن الْملك أخذا من كرْسِي الْملك وَقيل أصل الْكُرْسِيّ مَا يجلس عَلَيْهِ وَلَا يفضل عَن مقْعد الْقَاعِد وَالْكَلَام مسوق على سَبِيل التَّمْثِيل لعظمته تَعَالَى شَأْنه وسعة سُلْطَانه وإحاطة علمه بالأشياء قاطبة فَفِي الْكَلَام اسْتِعَارَة تمثيلية وَلَيْسَ ثمَّة كرْسِي وَلَا قَاعد وَلَا قعُود وَهَذَا الَّذِي أختاره الجم الْغَفِير من الْخلف فِرَارًا من توهم التجسيم وحملوا الْأَحَادِيث الَّتِي ظَاهرهَا حمل الْكُرْسِيّ على الْجِسْم الْمُحِيط على مثل ذَلِك وَلَا سِيمَا الْأَحَادِيث الَّتِي فِيهَا ذكر الْقدَم كَمَا قدمنَا وكالحديث الَّذِي أخرجه الْبَيْهَقِيّ وَغَيره عَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ:
--------------------------------------------
...মরুভূমি। আর কুরসির ওপর আরশের শ্রেষ্ঠত্ব সেই আংটির ওপর মরুভূমির শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়। (১)
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী {তাঁর কুরসি আসমান ও জমিন পরিব্যপ্ত করে আছে} সম্পর্কে নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, {কুরসি} হলো তাঁর পদদ্বয় রাখার স্থান, আর আরশের বিশালতা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। কেউ কেউ বলেছেন, এটি স্বয়ং আরশ এবং এই অভিমতটি হাসান (বসরী)-র দিকে সম্বন্ধিত করা হয়। আবার বলা হয়েছে, এটি মহান আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতা; কেউ বলেছেন, এটি তাঁর পরিচালনা; কেউ বলেছেন, তাঁর ফেরেশতাদের মধ্য হতে কোনো একজন ফেরেশতা। আবার কেউ বলেছেন, এটি ইলম বা জ্ঞানের রূপক প্রকাশ (মাজায), কোনো বিষয়কে তার আধারের নামে অভিহিত করার রীতি অনুযায়ী; কারণ কুরসি হলো জ্ঞানীর স্থান যেখানে জ্ঞান থাকে, ফলে অনুগামী হিসেবে তা জ্ঞানের স্থান হিসেবে গণ্য হয়। কেননা গুণ (আরদ) আধারের (মাহাল্ল) অনুগামী হয়। এমনকি তারা মনে করেন এর অর্থ হলো আধারের সাথে গুণের বিদ্যমান থাকা এবং এই মতটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আবার বলা হয়েছে, এটি রাজত্ব বা ক্ষমতা অর্থে ব্যবহৃত, যা মূলত রাজসিংহাসন থেকে গৃহীত। কেউ বলেছেন, কুরসির মূল অর্থ হলো যার ওপর বসা হয় এবং যা উপবেশনকারীর আসনের অতিরিক্ত হয় না। তবে এই বক্তব্যটি মহান আল্লাহর মাহাত্ম্য, তাঁর বিশাল আধিপত্য এবং সমস্ত বিষয়ের ওপর তাঁর জ্ঞানের পরিব্যাপ্তিকে দৃষ্টান্তস্বরূপ তুলে ধরার জন্য আনা হয়েছে। সুতরাং এই বক্তব্যের মধ্যে রূপক উদাহরণ (ইসতিআরা তামসিলিয়্যা) রয়েছে; প্রকৃতপক্ষে সেখানে কোনো কুরসি নেই এবং কোনো উপবেশনকারী বা উপবেশন করাও নেই। পরবর্তী যুগের (খালাফ) অধিকাংশ আলেম এই ব্যাখ্যাটিই পছন্দ করেছেন যেন মহান আল্লাহকে সাকার বা দেহধারী (তাজসিম) কল্পনা করার সংশয় থেকে বেঁচে থাকা যায়। তাঁরা সেই সমস্ত হাদিসগুলোকে একইভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেগুলোর বাহ্যিক অর্থ কুরসিকে একটি পরিবেষ্টনকারী দেহ হিসেবে প্রতীয়মান করে; বিশেষ করে সেই সমস্ত হাদিস যাতে 'কদম' বা পা-এর উল্লেখ রয়েছে যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। যেমন সেই হাদিস যা বায়হাকি এবং অন্যান্যরা আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
"الْكُرْسِيّ مَوضِع الْقَدَمَيْنِ وَله أطيط كأطيط الرحل الْجَدِيد إِذا ركب عَلَيْهِ من يثقله مَا يفضل مِنْهُ أَربع أَصَابِع" (1).
وَأَنت تعلم أَن ذَلِك وَأَمْثَاله لَيْسَ بالداعي الْقوي لنفي الْكُرْسِيّ بِالْكُلِّيَّةِ
فَالْحق أَنه ثَابت كَمَا نطقت بِهِ الْأَخْبَار الصَّحِيحَة وتوهم التجسيم لَا يعبأ بِهِ وَإِلَّا لزم نفي الْكثير من الصِّفَات وَهُوَ بمعزل عَن اتِّبَاع الشَّارِع وَالتَّسْلِيم لَهُ.
وَأكْثر السّلف الصَّالح جعلُوا ذَلِك من الْمُتَشَابه الَّذِي لَا يحيطون بِهِ علما وفوضوا علمه إِلَى الله تَعَالَى مَعَ القَوْل بغاية التَّنْزِيه وَالتَّقْدِيس لَهُ تَعَالَى شَأْنه.
والقائلون بِالظَّاهِرِ من الصُّوفِيَّة لم يشكل عَلَيْهِم شَيْء من أَمْثَال ذَلِك.
وَقد ذكر بعض العارفين مِنْهُم أَن (الْكُرْسِيّ) عبارَة عَن تجلي جملَة الصِّفَات الفعلية فَهُوَ مظهر إلهي وَمحل نُفُوذ الْأَمر وَالنَّهْي والإيجاد والإعدام الْمعبر عَنْهُمَا بالقدمين. وَقد وسع السَّمَوَات وَالْأَرْض وسع وجود عَيْني ووسع حكمي لِأَن وجودهما الْمُقَيد من آثَار الصِّفَات الفعلية الَّذِي هُوَ مظهر لَهَا وَلَيْسَت القدمان فِي الْأَحَادِيث عبارَة عَن قدمي الرجلَيْن وَمحل النَّعْلَيْنِ تَعَالَى الله سُبْحَانَهُ عَن ذَلِك علوا كَبِيرا وَلَا الأطيط عبارَة عَمَّا تسمعه وتفهمه فِي الشَّاهِد بل هُوَ إِن لم تفوض علمه إِلَى الْعَلِيم الْخَبِير إِشَارَة إِلَى بروز الْأَشْيَاء المتضادة أَو اجتماعها فِي ذَلِك الْمظهر الَّذِي هُوَ منشأ التَّفْصِيل والإبهام وَمحل الإيجاد والإعدام، ومركز الضّر والنفع والتفريق وَالْجمع. وَمعنى "مَا يفضل
--------------------------------------------
"কুরসি (الكرসি) হলো দুই কদমের (القدمين) স্থান এবং এর একটি শব্দ (أطيط) আছে, যেমন নতুন জিনের ওপর আরোহী চড়লে শব্দ হয় এবং তা থেকে চার আঙ্গুল পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে না" (১)।
আপনি জানেন যে, এটি এবং এর সমজাতীয় বিষয়সমূহ কুরসিকে (الكرسي) সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করার জন্য শক্তিশালী কোনো কারণ নয়।
সুতরাং সত্য হলো এটি প্রমাণিত, যেমনটি সহিহ (الصحيحة) বর্ণনাসমূহ উল্লেখ করেছে। আর দেহবিশিষ্ট হওয়ার (تجسيم) কল্পনা করার কোনো গুরুত্ব নেই; অন্যথায় অনেক সিফাত (الصفات) অস্বীকার করা আবশ্যক হয়ে পড়বে, যা শরিয়ত প্রণেতার (الشارع) অনুসরণ ও তাঁর প্রতি আনুগত্যের পরিপন্থী।
আর অধিকাংশ সালাফ-এ-সালেহিন (السلف الصالح) এগুলোকে মুতাশাবিহ (المتشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যার প্রকৃত জ্ঞান তারা রাখেন না, এবং এর জ্ঞান আল্লাহ তাআলার ওপর সোপর্দ (تفويض) করেছেন। এর পাশাপাশি তারা আল্লাহ তাআলার শানের জন্য চূড়ান্ত পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেছেন।
সুফিদের মধ্যে যারা জাহিরি বা বাহ্যিক অর্থের প্রবক্তা, তাদের নিকট এ জাতীয় কোনো বিষয় অস্পষ্ট থাকেনি।
তাদের মধ্যে কিছু আরেফীন (عارفين) উল্লেখ করেছেন যে, কুরসি (الكرسي) হলো সামগ্রিক কর্মগত গুণাবলির (الصفات الفعلية) বহিঃপ্রকাশের রূপক। এটি একটি ইলাহি প্রকাশস্থল এবং আদেশ, নিষেধ, সৃষ্টি ও ধ্বংস কার্যকর হওয়ার স্থান, যা দুই কদম (القدمين) দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। এটি আসমানসমূহ ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে—সত্তাগত ও বিধানগতভাবে। কেননা এগুলোর সীমাবদ্ধ অস্তিত্ব হলো সেই কর্মগত গুণাবলির (الصفات الفعلية) বহিঃপ্রকাশের ফলাফল মাত্র। আর হাদিসের মধ্যে দুই কদম (القدمين) দ্বারা মানুষের পা বা জুতা পরার স্থান উদ্দেশ্য নয়; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর 'আতিত' (أطيط) বলতে তা বুঝায় না যা চাক্ষুষ বিষয়ের ক্ষেত্রে শোনা বা বোঝা যায়। বরং আপনি যদি এর জ্ঞান সর্বজ্ঞাত আল্লাহর কাছে সোপর্দ (تفويض) না করেন, তবে এটি বিপরীতধর্মী বিষয়গুলোর প্রকাশ অথবা সেই প্রকাশস্থলে তাদের একত্র হওয়ার দিকে ইশারা, যা হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও অস্পষ্টতার উৎস এবং সৃষ্টি ও ধ্বংসের স্থান, এবং ক্ষতি, উপকার, বিচ্ছেদ ও মিলনের কেন্দ্রবিন্দু। আর "যা অবশিষ্ট থাকে..." এর অর্থ—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
مِنْهُ أَربع أَصَابِع إِن كَانَ الضَّمِير رَاجعا إِلَى الرجل ظَاهر وَإِن كَانَ رَاجعا إِلَى الْكُرْسِيّ فَهُوَ إِشَارَة إِلَى وجود حضرات هِيَ مظَاهر لبَعض الْأَسْمَاء لم تبرز إِلَى عَالم الْحس وَلم يُمكن أَن يَرَاهَا إِلَّا من ولد مرَّتَيْنِ وَلَيْسَ المُرَاد من الْأَصَابِع الْأَرْبَع مَا تعرفه من نَفسك.
وللصوفية فِي هَذَا الْمقَام كَلَام غير هَذَا ولعلنا نشِير إِلَى بعض مِنْهُ إِن شَاءَ الله تَعَالَى
وَأَنا أَقُول غير مبال بجهول: إِن غَالب هَذِه الْأَقْوَال لَيست برطب إِذْ أعدت وَلَا يبس، والمعول عَلَيْهِ مَا أَرَادَ الله تَعَالَى وَرَسُوله بِظَاهِر كَلَامهمَا {رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ} [آل عمران: 53]
তা থেকে চার আঙুল পরিমাণ; যদি সর্বনামটি ব্যক্তির দিকে ফিরে যায় তবে তা সুস্পষ্ট (ظاهر), আর যদি তা কুরসির দিকে ফিরে যায় তবে তা এমন কিছু উপস্থিতির অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত যা কতিপয় নামের বহিঃপ্রকাশ (مظاهر), যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতে (عالم الحس) প্রকাশ পায়নি এবং যাকে দ্বিতীয়বার জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ দেখতে পায় না। আর চার আঙুল বলতে তোমার নিজের জানা কোনো অঙ্গ উদ্দেশ্য নয়।
এই স্তর (مقام) সম্পর্কে সুফিদের আরও ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা সম্ভবত এর কিছু অংশের দিকে ইঙ্গিত করব।
আর আমি কোনো অজ্ঞ ব্যক্তির পরোয়া না করেই বলছি: এই উক্তিগুলোর অধিকাংশই পুনরাবৃত্তি করলে সজীব থাকে না এবং শুষ্কও হয় না। বরং যার ওপর নির্ভর করা হয় তা হলো আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল তাঁদের বক্তব্যের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থের মাধ্যমে যা উদ্দেশ্য করেছেন। "হে আমাদের রব! আপনি যা নাজিল করেছেন তাতে আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি; অতএব আমাদের সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকাভুক্ত করুন।" [আলে ইমরান: ৫৩]
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
سُورَة آل عمرَانفِي هَذِه السُّورَة قَوْله تَعَالَى:
{إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ (190) الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (191)} [آل عمران: 190، 191]
هَذِه الْآيَة كثيرا مَا يصدر مصنفو علم الْهَيْئَة بهَا كتبهمْ ظنا مِنْهُم أَنَّهَا تنوه بفنهم وتحث على الِاشْتِغَال بِهِ
وللرازي فِي تَفْسِيرهَا كَلَام يُوضح مَا قُلْنَاهُ
وَقَالَ غَيره {إِن فِي خلق السَّمَاوَات وَالْأَرْض} أَي فِي اتحادهما وإنشائهما على مَا هما عَلَيْهِ من الْعَجَائِب والبدائع {وَاخْتِلَاف اللَّيْل وَالنَّهَار} أَي تعاقبهما ومجيء كل مِنْهُمَا خلف الآخر بِحَسب طُلُوع الشَّمْس وغروبها التَّابِعين لسباحتها فِي بَحر قدرته سُبْحَانَهُ بِحَسب إِرَادَته
وَكَون ذَلِك تَابعا لحركة السَّمَوَات وَسُكُون الأَرْض مُخَالف لما ذهب إِلَيْهِ جُمْهُور أهل السّنة من الْمُحدثين وَغَيرهم من سُكُون السَّمَاوَات وتحرك النُّجُوم أَنْفسهَا بِتَقْدِير الله تَعَالَى الْعَلِيم وَهُوَ مُوَافق من بعض الْوُجُوه لما ذهب إِلَيْهِ متأخرو الفلاسفة من أَن مَرْكَز السيارات هُوَ الشَّمْس.
সূরা আল ইমরানএই সূরায় মহান আল্লাহর বাণী:
{নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে (এবং বলে,) 'হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি পবিত্র; সুতরাং আপনি আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।'} [আল ইমরান: ১৯০, ১৯১]
জ্যোতির্বিজ্ঞানের (علم الهيئة) গ্রন্থকারগণ প্রায়শই তাদের গ্রন্থসমূহ এই আয়াত দ্বারা শুরু করেন, এই ধারণায় যে এটি তাদের শাস্ত্রের প্রশংসা করে এবং এর চর্চায় মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করে।
ইমাম রাযীর তাফসিরে এমন বক্তব্য রয়েছে যা আমাদের কথাকে স্পষ্ট করে।
অন্যান্যগণ বলেছেন, {নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে} অর্থাৎ এগুলোর সংযুক্তি এবং এগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বিস্ময়কর ও অভিনবত্বের সাথে সেগুলোর উন্মেষ ঘটানোর মধ্যে; {এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে} অর্থাৎ সেগুলোর একটির পর একটির অনুগমন এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অনুযায়ী একের পর অপরের আসা, যা মহান আল্লাহর ইচ্ছানুসারে তাঁর কুদরতের সমুদ্রে সূর্যের সন্তরণের অনুগামী।
আর এই বিষয়টি আসমানের গতিশীলতা এবং পৃথিবীর স্থিরতার অনুগামী হওয়া—সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) হাদিস বিশারদ (محدثين) ও অন্যান্যদের মতের পরিপন্থী, যারা আসমানের স্থিরতা এবং সর্বজ্ঞাত আল্লাহর নির্ধারিত পন্থায় নক্ষত্ররাজির নিজস্ব গতির প্রবক্তা। আর এটি কিছু দিক থেকে পরবর্তী যুগের দার্শনিকদের (متأخرو الفلاسفة) মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, গ্রহমন্ডলীর কেন্দ্র হলো সূর্য।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَقَالَ الشَّيْخ مُحي الدّين بن عَرَبِيّ: إِن الله تَعَالَى جعل هَذِه السَّمَاوَات سَاكِنة وَخلق فِيهَا نجوما تسبح بهَا وَجعل لَهَا فِي سباحتها حركات مقدرَة لَا تزيد وَلَا تنقص وَجعلهَا تسير فِي جرم السَّمَاء الَّذِي هُوَ مساحتها فتخرق الْهَوَاء المماس لَهَا فَيحدث بسيرها أصوات ونغمات مطربة لكَون سَيرهَا على وزن مَعْلُوم فَتلك نغمات الأفلاك الْحَادِثَة من قطع الْكَوَاكِب المسافات السماوية.
وَجعل أَصْحَاب علم الْهَيْئَة للأفلاك ترتيبا مُمكنا فِي حكم الْعقل وَجعلُوا الْكَوَاكِب فِيهِ كالشامات على سطح الْجِسْم.
وكل مَا قَالُوهُ يُعْطِيهِ ميزَان حركاتها وَإِن الله تَعَالَى لَو فعل ذَلِك كَمَا ذَكرُوهُ لَكَانَ السّير السّير بِعَيْنِه وَلذَلِك يصيبون فِي علم الكسوفات وَنَحْوه.
وَقَالُوا إِن السَّمَاوَات كالأكر وَإِن الأَرْض فِي جوفها وَذَلِكَ كُله تَرْتِيب وضعي يجوز فِي الْإِمْكَان غَيره وهم مصيبون فِي الأوزان مخطئون فِي أَن الْأَمر كَمَا رتبوه.
قَالَ: فَلَيْسَ الْأَمر إِلَّا على مَا ذَكرْنَاهُ شُهُودًا. انْتهى
وَيُؤَيّد دَعْوَى: أَنه يجوز فِي الْإِمْكَان غَيره مَا ذهب إِلَيْهِ أَصْحَاب الزيج الْجَدِيد من أَن الشَّمْس سَاكِنة لَا تتحرك أصلا وَأَنَّهَا مَرْكَز الْعَالم وَأَن الأَرْض وَكَذَا سَائِر السيارات والثوابت تتحرك عَلَيْهَا وَأَقَامُوا على ذَلِك الْأَدِلَّة والبراهين بزعمهم وبنوا عَلَيْهِ الْكُسُوف والخسوف وَنَحْوهمَا وَلم يتَخَلَّف شَيْء من ذَلِك.
শেখ মহিউদ্দিন ইবন আরবি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই আকাশসমূহকে স্থির (ساكنة) করে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন যা তাতে বিচরণ করে (تسبح)। তিনি সেগুলোর বিচরণের জন্য সুপরিমিত গতি (حركات مقدرة) নির্ধারণ করেছেন যা বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না। তিনি সেগুলোকে আকাশের মূল কাঠামোর মধ্যে চলমান করেছেন যা এর আয়তন স্বরূপ; ফলে সেগুলো সংলগ্ন বায়ুস্তরকে ভেদ করে যায়। সেগুলোর গতির ফলে আনন্দদায়ক সুর ও মূর্ছনা সৃষ্টি হয়, যেহেতু সেগুলোর গতি একটি নির্দিষ্ট ছন্দ (وزن معلوم) অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আর গ্রহসমূহ কর্তৃক মহাকাশীয় দূরত্ব অতিক্রম করার মাধ্যমেই সেই মহাকাশীয় সুরগুলো সৃষ্টি হয়।
এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের (علم الهيئة) পণ্ডিতগণ মহাকাশীয় গোলকগুলোর জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারে একটি সম্ভাব্য বিন্যাস (ترتيبا ممكنا) তৈরি করেছেন এবং তারা সেখানে গ্রহগুলোকে কোনো দেহের উপরিভাগের তিল বা চিহ্নের মতো স্থাপন করেছেন।
তারা যা কিছু বলেছেন তার সবকিছুই সেগুলোর গতির পরিমাপ (ميزان حركاتها) প্রদান করে। আল্লাহ তাআলা যদি বিষয়টি ঠিক সেভাবেই করতেন যেভাবে তারা উল্লেখ করেছেন, তবে গতিটি হুবহু সেই গতিই হতো। এই কারণেই তারা গ্রহণ ও এ জাতীয় বিষয়ের বিজ্ঞানে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন।
তারা বলেছেন যে আকাশসমূহ গোলকের (أكر) ন্যায় এবং পৃথিবী এর অভ্যন্তরে অবস্থিত। এই সবটুকুই একটি কৃত্রিম বিন্যাস (ترتيب وضعي) যার পরিবর্তে অন্য কিছু হওয়াও যুক্তিসঙ্গতভাবে সম্ভব। তারা পরিমাপের (الأوزان) ক্ষেত্রে সঠিক হলেও বিষয়টি ঠিক সেভাবেই বিন্যস্ত কি না সে ব্যাপারে তারা ভ্রান্তিতে রয়েছেন।
তিনি বলেন: বিষয়টি আমরা আধ্যাত্মিক প্রত্যক্ষ দর্শনের (شهودا) মাধ্যমে যা বর্ণনা করেছি তা ছাড়া আর কিছুই নয়। (সমাপ্ত)
এর পরিবর্তে অন্য কোনো সম্ভাবনা থাকা বৈধ হওয়ার স্বপক্ষে আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণীর (الزيج الجديد) অনুসারীদের মতটি সমর্থন জোগায়; যা হলো সূর্য স্থির (ساكنة), এটি মোটেও নড়ে না এবং এটিই মহাবিশ্বের কেন্দ্র। আর পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহসমূহ (سيارات) ও স্থির নক্ষত্রসমূহ (ثوابت) এর চারদিকে ঘোরে। তারা তাদের দাবি অনুযায়ী এর ওপর বিভিন্ন দলিল ও প্রমাণ (الأدلة والبراهين) উপস্থাপন করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ প্রভৃতির হিসাব কষেছেন, যার কোনোটিই বাস্তবতার বিপরীতে যায়নি।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَهَذَا يشْعر بِأَنَّهُ لَا قطع فِيمَا ذهب إِلَيْهِ أَصْحَاب الْهَيْئَة.
وَيحْتَمل أَن يُرَاد بـ {واخْتِلَاف اللَّيْل وَالنَّهَار} تفاوتهما بازدياد كل مِنْهُمَا بانتقاص الآخر وانتقاصه بازدياده باخْتلَاف حَالَة الشَّمْس بِالنِّسْبَةِ إِلَيْنَا قربا وبعدا بِحَسب الْأَزْمِنَة أَو فِي اخْتِلَافهمَا وتفاوتهما بِحَسب الْأَمْكِنَة إِمَّا فِي الطول وَالْقصر فَإِن الْبِلَاد الْقَرِيبَة من قطب الشمَال أَيَّامهَا الصيفية أطول ولياليها الصيفية أقصر من أَيَّام الْبِلَاد الْبَعِيدَة مِنْهُ ولياليها
وَإِمَّا فِي أَنفسهمَا فَإِن كرية الأَرْض تَقْتَضِي أَن يكون بعض الْأَوْقَات فِي بعض الْأَمَاكِن لَيْلًا وَفِي مُقَابِله نَهَارا وَفِي بَعْضهَا صباحا وَفِي بَعْضهَا ظهرا أَو عصرا أَو غير ذَلِك.
وَهَذَا مِمَّا لَا شُبْهَة فِيهِ عِنْد كثير من النَّاس وَلَيْسَ بالبعيد بل اخْتِلَاف الْأَوْقَات فِي الْأَمَاكِن مشَاهد محسوس لَا يخْتَلف فِيهِ اثْنَان.
إِلَّا أَن فِي كرية الأَرْض اخْتِلَافا فقد ذكر الشَّيْخ مُحي الدّين أَن الله تَعَالَى بعد أَن خلق الْفلك المكوكب فِي جَوف الْفلك الأطلس خلق الأَرْض سبع طَبَقَات وَجعل كل أَرض أَصْغَر من الْأُخْرَى ليَكُون على كل أَرض قبَّة سَمَاء فَلَمَّا قدر خلقهَا وَقدر فِيهَا أقواتها واكتسى الْهَوَاء صُورَة البخار الَّذِي هُوَ الدُّخان فتق ذَلِك الدُّخان سبع سماوات طباقا وأجساما شفافة وَجعلهَا على الْأَرْضين كالقباب على كل أَرض سَمَاء أطرافها عَلَيْهَا نصف كرة وكرة الأَرْض لَهَا كالبساط فَهِيَ مدحية دحاها من أجل السَّمَاء أَن تكون عَلَيْهَا،
এটি নির্দেশ করে যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যা পোষণ করেছেন তাতে কোনো সুনিশ্চিত বিষয় নেই।
এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে 'দিবা ও রাত্রির পরিবর্তন' দ্বারা তাদের উভয়ের তারতম্য বা ব্যবধান উদ্দেশ্য হওয়া; যা উভয়ের একটির বৃদ্ধির ফলে অপরটির হ্রাস পাওয়া এবং অপরটির হ্রাসের মাধ্যমে অন্যটির বৃদ্ধির দ্বারা ঘটে থাকে। এটি আমাদের সাপেক্ষে সময়ের ব্যবধানে সূর্যের নৈকট্য ও দূরত্বের ভিন্নতার কারণে হয়ে থাকে। অথবা স্থানভেদে তাদের মধ্যকার তারতম্য ও ভিন্নতা; যা দীর্ঘতা ও সংক্ষিপ্ততার মাধ্যমে ঘটে। কেননা উত্তর মেরুর নিকটবর্তী দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালীন দিনগুলো দীর্ঘ হয় এবং গ্রীষ্মকালীন রাতগুলো সেই মেরু থেকে দূরবর্তী দেশগুলোর দিন ও রাতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হয়।
অথবা বিষয়টি স্বয়ং তাদের মধ্যেই বিদ্যমান, কারণ পৃথিবীর গোলাকৃতি দাবি করে যে, কোনো কোনো স্থানে একটি নির্দিষ্ট সময় রাত হবে, আবার তার বিপরীত দিকে দিন হবে। কোথাও তা সকাল হবে এবং কোথাও তা দুপুর বা আসর কিংবা অন্য কিছু হবে।
এটি এমন একটি বিষয় যাতে অনেক মানুষের নিকট কোনো সংশয় নেই এবং এটি অবাস্তবও নয়; বরং বিভিন্ন স্থানে সময়ের এই ব্যবধান সরাসরি দৃশ্যমান ও অনুভূত, যা নিয়ে দু’জন মানুষের মধ্যেও মতভেদ নেই।
তবে পৃথিবীর গোলাকৃতির বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। শায়খ মুহিউদ্দীন উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা নক্ষত্রখচিত আকাশকে বর্ণহীন আকাশের অভ্যন্তরে সৃষ্টি করার পর জমিনকে সাতটি স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রতিটি জমিনকে অন্যটির তুলনায় ছোট করেছেন যাতে প্রতিটি জমিনের উপর একটি আসমানি গম্বুজ থাকে। যখন তিনি এগুলোর সৃষ্টি সম্পন্ন করলেন এবং এতে খাদ্যের সংস্থান নির্ধারণ করলেন, তখন বায়ুমণ্ডল বাষ্পের রূপ ধারণ করল যা মূলত ধোঁয়া। এরপর সেই ধোঁয়াকে তিনি সপ্তস্তরের সুবিন্যস্ত আকাশ ও স্বচ্ছ সত্তা হিসেবে বিভক্ত করলেন এবং সেগুলোকে জমিনসমূহের ওপর গম্বুজের ন্যায় স্থাপন করলেন; যেখানে প্রতিটি জমিনের ওপর আকাশ রয়েছে যার প্রান্তভাগ অর্ধ-গোলকাকারে তার ওপর অবস্থিত। আর জমিনের গোলকটি তাদের জন্য বিছানা সদৃশ; সুতরাং তা প্রসারিত, যা আকাশের খাতিরে আকাশকে তার ওপর ধারণ করার জন্য তিনি প্রসারিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মা দাল্লা আলাইহিল কুরআন মিম্মা ইউয়াদদিদুল হায়াতাল জাদীদাতাল কাওয়ীমাহ বিল বুরহান
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَجعل فِي كل سَمَاء من هَذِه وَاحِدَة من الْجَوَارِي على التَّرْتِيب الْمَعْرُوف. انْتهى.
قَالَ الْجدُّ (1) متعقباً: وَالْقلب يمِيل إِلَى الكرية وَالله لَا يستحيي من الْحق
قَالَ وَمَا ذهب إِلَيْهِ الشَّيْخ أَمر شهودي وَفِيه الْمُوَافق والمخالف لما ذهب إِلَيْهِ مُعظم الْمُحدثين وَأكْثر عُلَمَاء الدّين وَالَّذِي قطع بِهِ بعض الْمُحَقِّقين أَنه لم يَجِيء فِي الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة المرفوعة مَا يفصل أَمر السَّمَاوَات وَالْأَرْض أتم تَفْصِيل إِذْ لَيست الْمَسْأَلَة من الْمُهِمَّات فِي نظر الشَّارِع صلى الله عليه وسلم والمهم فِي نظره مِنْهَا وَاضح لَا مرية فِيهِ وَسُبْحَان من لَا يتعاصى قدرته شَيْء.
و {اللَّيْل} وَاحِد بِمَعْنى جمع وواحدته لَيْلَة مثل تمر وَتَمْرَة.
وَقَوله سُبْحَانَهُ {لآيَات لأولي الْأَلْبَاب} أَي إِنَّهَا دلالات على وحدانية الله تَعَالَى وَكَمَال علمه وَقدرته وأولو الْأَلْبَاب أَصْحَاب الْعُقُول الْخَالِصَة عَن شوائب الْحس وَالوهم وَوجه دلالات الْمَذْكُورَات على وحدته تَعَالَى أَنَّهَا تدل على وجود الصَّانِع دلَالَة الدُّخان على النَّار لتغيرها المستلزم لحدوثها واستنادها إِلَى مُؤثر قديم
وَمَتى دلّت على ذَلِك لزم مِنْهُ الْوحدَة وَوجه دلالتها على كَمَال علمه وَقدرته أَنَّهَا فِي غَايَة الإتقان وَنِهَايَة الإحكام لمن تَأمل فِيهَا وتفكر فِي ظَاهرهَا وخافيها وَذَلِكَ يَسْتَدْعِي كَمَال الْعلم وَالْقُدْرَة كَمَا لَا يخفى.
--------------------------------------------
এবং তিনি এই আকাশগুলোর প্রত্যেকটিতে পরিচিত ক্রম অনুসারে একটি করে বিচরণশীল নক্ষত্র বা গ্রহ স্থাপন করেছেন। সমাপ্ত।
দাদা (১) তাত্ত্বিক পর্যালোচনার সাথে বলেছেন: অন্তর পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার মতের দিকেই ঝুঁকে থাকে, আর আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না।
তিনি বলেছেন, শাইখ যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধির বিষয় (شهودي), যার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা অধিকাংশ হাদিস বিশারদ (المحدثين) এবং অধিকাংশ দীনী আলিমের মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবার কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক। আর একদল গবেষক নিশ্চিত করেছেন যে, আসমান ও জমিনের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে এমন কোনো সঠিক (الصحيحة) রাসুলুল্লাহ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছানো (المرفوعة) হাদিস বর্ণিত হয়নি। কেননা শরিয়ত দাতার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দৃষ্টিতে এই বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তাঁর দৃষ্টিতে এর মধ্য থেকে যা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা সুস্পষ্ট, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই সত্তা অতি পবিত্র, যাঁর কুদরতের সামনে কোনো কিছুই দুঃসাধ্য নয়।
আর {আল-লাইল} শব্দটি একবচন হলেও এটি সমষ্টির অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর এর একক রূপ হলো 'লাইলাত' যেমন 'তামর' (খেজুর) এবং 'তামরাহ' (একটি খেজুর)।
আর মহান আল্লাহর বাণী {বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি}, অর্থাৎ এগুলো মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর জ্ঞান ও কুদরতের পূর্ণতার প্রমাণ। আর 'উলুল আলবাব' বা বুদ্ধিমান হলো তারা, যাদের বুদ্ধি ইন্দ্রিয়গত বিভ্রান্তি ও কুসংস্কারের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত। উল্লিখিত বিষয়গুলো মহান আল্লাহর একত্বের প্রমাণ হওয়ার ধরণ হলো—এগুলো যেভাবে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, ঠিক যেমন ধোঁয়া আগুনের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। কেননা এগুলোর পরিবর্তনশীলতা প্রমাণ করে যে এগুলো সৃষ্টি (حادث) এবং কোনো এক অনাদি প্রভাবকের উপর নির্ভরশীল।
আর যখন তা স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, তখন তা থেকে তাঁর একত্ববাদই প্রমাণিত হয়। আর মহান আল্লাহর জ্ঞান ও কুদরতের পূর্ণতার ওপর এই নিদর্শনগুলোর প্রমাণ হওয়ার ধরণ হলো—এগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও সুদৃঢ়ভাবে সুবিন্যস্ত। যে ব্যক্তি এগুলো এবং এগুলোর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দিক নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করবে সে এটি বুঝতে পারবে। আর এটি যে পূর্ণ জ্ঞান ও কুদরতের দাবি রাখে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
--------------------------------------------