(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
حجج القرآن   (أبو الفضائل ابن المظفر الرازي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: كتاب حجج القرآن

المؤلف: أبو الفضائل، أحمد بن محمد بن المظفر بن المختار الرازيّ الحنفي

المصحح: أحمد عمر المحمصاني الأزهري

الناشر: مطبعة الموسوعات بالقاهرة 1320 هـ - 1902 م

وأعادت تصويرها: دار الرائد العربي - لبنان

عدد الصفحات: 95

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হুজাজুল কুরআন   (আবুল ফাদায়েল ইবনুল মুজাফফর আল-রাজি)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং উসূলুত তাফসীর


গ্রন্থ: কিতাব হুজাজুল কুরআন

লেখক: আবুল ফাদায়েল, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফফর বিন আল-মুখতার আল-রাজি আল-হানাফি

সংশোধক: আহমদ উমর আল-মাহমাসানি আল-আযহারি

প্রকাশক: মাতবাআতুল মাওসুআত, কায়রো ১৩২০ হিজরি - ১৯০২ খ্রিস্টাব্দ

পুনঃমুদ্রণ: দারুর রায়েদ আল-আরাবি - লেবানন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌خطْبَة الْمُؤلف

‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

قَالَ الشَّيْخ الامام الاستاذ الْأَجَل الْعَالم الْعَامِل الْفَاضِل الْكَامِل السالك الناسك الْمُحَقق الْمُجْتَهد بدر الْملَّة وَالدّين حجَّة الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين وَارِث الْأَنْبِيَاء وَالْمُرْسلِينَ امام الْأَئِمَّة قدوة الْأمة نَاصِر السّنة قامع الْبِدْعَة معِين الشَّرِيعَة سيد الْمُفَسّرين ملك الْمُحدثين عمان الْمعَانِي نعْمَان الثَّانِي أَبُو الْفَضَائِل احْمَد بن مُحَمَّد بن المظفر بن الْمُخْتَار الرَّازِيّ متع الله الْمُسلمين بطول بَقَائِهِ

الْحَمد لله الَّذِي جعلني مِمَّن عِنْده علم الْكتاب وَلم يَجْعَلنِي من اهل الزيغ والارتياب وَالصَّلَاة على مُحَمَّد الشَّفِيع يَوْم الْحساب وعَلى جَمِيع الْآل والاصحاب أَرْبَاب الْأَلْبَاب واهل الكتيبة وَالْكتاب والمحراب والحراب وَبعد فان الله عز وجل انْزِلْ الْكتاب الْكَرِيم وَالْقُرْآن الْعَظِيم تذكرة وَهدى للْمُؤْمِنين وتبصرة وبشرى للمحسنين وأمرنا بالتفكر فِي آيَاته والتدبر فيي كَلِمَاته فَقَالَ (أَفلا يتدبرون الْقُرْآن وَلَو كَانَ من عِنْد غير الله لوجدوا فِيهِ اخْتِلَافا كثيرا وَقَالَ (أَفلا يتدبرون الْقُرْآن أم على قُلُوب أقفالها) وَقَالَ (أفلم يدبروا القَوْل وَقَالَ (كتاب أَنزَلْنَاهُ إِلَيْك مبارك ليدبروا آيَاته وليتذكر أولُوا الْأَلْبَاب وَفِي الحَدِيث (اذا التبست
গ্রন্থকারের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শায়খ, ইমাম, মহান উস্তাদ, আমলকারী আলিম, শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ গুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, আধ্যাত্মিক সাধক, ইবাদতকারী, গবেষক (محقق), মুজতাহিদ (مجتهد), মিল্লাত ও দ্বীনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (حجة), নবী ও রাসূলগণের উত্তরসূরি, ইমামগণের ইমাম, উম্মতের আদর্শ, সুন্নাহর সাহায্যকারী, বিদআত নির্মূলকারী, শরীয়তের সহায়তাকারী, মুফাসসিরগণের নেতা, মুহাদ্দিসগণের সম্রাট, তত্ত্ব ও গভীর অর্থের সমুদ্র, দ্বিতীয় নুমান, আবুল ফাদায়িল আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফফর ইবনুল মুখতার আর-রাজি —আল্লাহ তাআলা তাঁর দীর্ঘ হায়াত দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করুন— বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে কিতাবের ইলমপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং আমাকে বিচ্যুতি ও সংশয়ে লিপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেননি। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক কিয়ামতের দিনের সুপারিশকারী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি, যারা ছিলেন প্রজ্ঞাবান এবং কিতাব, মেহরাব ও রণক্ষেত্রের বীর। অতঃপর, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই সম্মানিত কিতাব ও মহান কুরআন অবতীর্ণ করেছেন মুমিনদের জন্য উপদেশ ও হিদায়াত হিসেবে এবং সৎকর্মশীলদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি ও সুসংবাদ হিসেবে। তিনি আমাদেরকে এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে এবং এর শব্দাবলি নিয়ে গভীর গবেষণা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা অবশ্যই এতে প্রচুর বৈপরীত্য দেখতে পেত।" তিনি আরও বলেছেন, "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা লাগানো রয়েছে?" তিনি আরও বলেছেন, "তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেনি?" তিনি আরও বলেছেন, "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে।" আর হাদিসে এসেছে, "যখন সংশয়াচ্ছন্ন হবে...
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
عَلَيْكُم الْأُمُور كَقطع اللَّيْل المظلم فَعَلَيْكُم بِالْقُرْآنِ فانه شَافِع مُشَفع وَشَاهد مُصدق فَمن جعله امامه قَادَهُ الى الْجنَّة وَمن جعله خَلفه سَاقه الى النَّار وَهُوَ اوضح دَلِيل الى خير سَبِيل من قَالَ بِهِ صدق وَمن عمل بِهِ أجر وَمن حكم بِهِ عدل) فغصت فِي لحجه وتدبرت فِي حججه عملا بِالْكتاب وَالسّنة وَطَمَعًا فِي الثَّوَاب وَالْجنَّة

(وَلَيْسَ كل قانص وغايص … يظفر باللأي وباللآلي)

(وَلَكِن تَأْخُذ الآذان مِنْهُ … على قدر القرائح والفهوم)

فاستخرجت مِنْهُ حجج كل طَائِفَة على اخْتِلَاف نحلهم وآرائهم وافتراق مللهم واهوائهم وأصلهم ثَمَان فرق الجبرية وَفِي مقابلتها الْقَدَرِيَّة والمرجئة وَفِي مقابلتها الوعيدية والصفاتية وَفِي مقابلتها الْجَهْمِية والشيعة وَفِي مقابلتها الْخَوَارِج وَمن هَذِه الْفرق الثمان تشعبت الْفرق الثَّلَاث وَالسَّبْعُونَ وَمَا من فرقة الا وَلها حجَّة من الْكتاب وَمَا من طَائِفَة الا وفيهَا عُلَمَاء نحارير فضلاء لَهُم فِي عقائدهم مصنفات وَفِي قواعدهم مؤلفات وكل مِنْهُم يؤول دَلِيل صَاحبه على حسب عقيدته ووفق مذْهبه وَمَا مِنْهُم من اُحْدُ الا ويعتقد انه هُوَ المحق السعيد وان مخالفه لفي ضلال بعيد (كل حزب بِمَا لديهم فَرِحُونَ) وَلَيْسَ قصدنا بَيَان معقولات الْمُتَكَلِّمين من الْمُتَأَخِّرين والمتقدمين وَلَكِن الْقَصْد ان نذْكر فِي هَذَا الْكتاب جَمِيع حجج الْقُرْآن بطرِيق الِاسْتِيعَاب ثمَّ نذْكر حجج الحَدِيث لكل قوم من الْقَدِيم والْحَدِيث لكيلا يعجل طَاعن بطعنه فِي فرقه وَلَا يغلو قَادِح بقدحه فِي طَائِفَة وَيعلم ان هَذِه الادلة مَا تَعَارَضَت الا ليقضي الله امرا كَانَ مَفْعُولا من افْتِرَاق هَذِه الْأمة على الثَّلَاث وَالسبْعين تَصْدِيقًا لقَوْل رَسُول الله
তোমাদের উপর অন্ধকার রজনীর খণ্ডের ন্যায় ফিতনাসমূহ আপতিত হবে; এমতাবস্থায় তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। কেননা তা এমন এক সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হয় এবং এমন এক সাক্ষী যাকে সত্য বলে গণ্য করা হয়। যে ব্যক্তি একে নিজের সামনে রাখবে, এটি তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে; আর যে একে নিজের পেছনে ফেলে দেবে, এটি তাকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। এটিই হচ্ছে উত্তম পথের সর্বাধিক স্পষ্ট নির্দেশিকা (دليل)। যে এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর অনুযায়ী আমল করে সে প্রতিদানপ্রাপ্ত হয় এবং যে এর মাধ্যমে ফয়সালা করে সে ইনসাফ করে। অতঃপর কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার উদ্দেশ্যে এবং সওয়াব ও জান্নাতের আশায় আমি এর গভীর সমুদ্রে অবগাহন করলাম এবং এর প্রমাণাদি (حجج) নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করলাম।

(এবং প্রত্যেক শিকারী ও ডুবুরিই … বহু কষ্টে লব্ধ বস্তু ও মুক্তা লাভে সফল হয় না)

(কিন্তু কানসমূহ তা থেকে গ্রহণ করে … কেবল মেধা ও বোধশক্তির পরিধি অনুযায়ী)

অতঃপর আমি তা হতে প্রতিটি দলের (طائفة) প্রমাণাদি (حجج) বের করলাম, তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ ও চিন্তাধারা এবং বিভিন্ন ধর্ম ও প্রবৃত্তির বিভাজন সত্ত্বেও। তাদের মূল ভিত্তি হলো আটটি ফেরকা (فرق): জাবরিয়্যাহ এবং তাদের বিপরীতে কাদারিয়্যাহ; মুরজিয়াহ এবং তাদের বিপরীতে ওয়াইদিয়্যাহ; সিফাতিয়্যাহ এবং তাদের বিপরীতে জাহমিয়্যাহ; এবং শিয়া ও তাদের বিপরীতে খাওয়ারিজ। এই আটটি ফেরকা (فرق) থেকেই তেহাত্তরটি ফেরকা (فرق) বিচ্ছুরিত হয়েছে। এমন কোনো ফেরকা (فرقة) নেই যাদের জন্য কিতাব থেকে কোনো প্রমাণ (حجة) নেই, এবং এমন কোনো দল (طائفة) নেই যাতে প্রাজ্ঞ ও বিদগ্ধ আলেমগণ নেই। তাদের আকিদা-বিশ্বাসের বিষয়ে অনেক গ্রন্থ এবং তাদের মূলনীতিসমূহের (قواعد) ওপর অনেক রচনা বিদ্যমান। তাদের প্রত্যেকেই অন্যের প্রমাণকে (دليل) নিজের আকিদা ও মাযহাব অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে। তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে নিজেকে সত্যের অনুসারী ও সৌভাগ্যবান মনে করে না এবং তার বিরোধীকে চরম বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত বলে বিশ্বাস করে না। (প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত)। আমাদের উদ্দেশ্য পরবর্তী ও পূর্ববর্তী কালাম শাস্ত্রবিদদের বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিসমূহ বর্ণনা করা নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো কুরআনের সকল প্রমাণাদি (حجج) এই কিতাবে সামগ্রিক পদ্ধতিতে উল্লেখ করা। অতঃপর প্রাচীন ও আধুনিক কালের প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য হাদিসের প্রমাণাদি (حجج) বর্ণনা করা, যাতে কোনো সমালোচক কোনো ফেরকা (فرقة) সম্পর্কে দ্রুত সমালোচনা না করে এবং কোনো নিন্দুক কোনো দল (طائفة) সম্পর্কে অতিশয় নিন্দায় লিপ্ত না হয়। বরং তারা যেন জানতে পারে যে, এই প্রমাণসমূহ (أدلة) কেবল তখনই পরস্পরবিরোধী হয়েছে যাতে আল্লাহ সেই বিষয়টি পূর্ণ করতে পারেন যা ফয়সালাকৃত ছিল—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সত্যায়ন হিসেবে এই উম্মতের তেহাত্তর দলে বিভক্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
سَتَفْتَرِقُ أمتِي ثَلَاثًا وَسبعين فرقة الحَدِيث وَقَوله تَعَالَى (وعَلى الله قصد السَّبِيل وَمِنْهَا جَائِر وَلَو شَاءَ لهداكم أَجْمَعِينَ) فَذكرت الْحجَج قاطبة وَلم أفتح أقفالها وَلم أسم إغفالها على مَذْهَب أَصْحَاب الظَّوَاهِر وَفِيمَا ذكرنَا مقنع وَفِي مجَال المعقولات متسع فَأَما من قَالَ بَان كَلَام ابي عَليّ وَأبي هَاشم حجَّة وَكَلَام الله وَرَسُوله لَيْسَ بِحجَّة فَمَا اجهله من جاسر وأجرأه من خاسر اتخذ الاسلام وَرَاءه ظهريا وَكَاد يكون زنديقا دهريا جعل الدّين دبر أُذُنه وافتات على الشَّرْع بِغَيْر اذنه أعاذنا الله من الِافْتِرَاق عَن سَوَاء السَّبِيل واختراق مرامي الْقُرْآن بِلَا دَلِيل ورتبت الْكتاب على ثَلَاثِينَ بَابا

(الْبَاب الأول) فِي حجج اهل التَّوْحِيد على وحدانية الله من الْقُرْآن الْمجِيد

(الْبَاب الثَّانِي) فِي حجج الجبرية وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الأول فِي الارادة والمشيئة

الْفَصْل الثَّانِي فِي تَفْسِير تِلْكَ الْآيَات

الْفَصْل الثَّالِث فِي نفي الْهِدَايَة

الْفَصْل الرَّابِع فِي اثبات الضَّلَالَة

الْفَصْل الْخَامِس فِي تقليب الْقُلُوب

الْفَصْل السَّادِس فِي الإغواء والاغراء

الْفَصْل السَّابِع فِي الْكِتَابَة

الْفَصْل الثَّامِن فِي تَفْسِير تِلْكَ الْآيَات

الْفَصْل التَّاسِع فِي الْأذن

الْفَصْل الْعَاشِر فِي الْخلق

الْفَصْل الْحَادِي عشر فِي الْقدر
"আমার উম্মত তিয়াত্তরটি দলে (فرقة) বিভক্ত হবে"—এই হাদিস এবং মহান আল্লাহর বাণী: "(সরল পথ প্রদর্শন করা আল্লাহরই দায়িত্ব, এবং তার মধ্যে বক্র পথও রয়েছে; আর তিনি যদি চাইতেন তবে তোমাদের সকলকেই হিদায়াত দিতেন)"। আমি সমস্ত দলিল (حجج) সামগ্রিকভাবে উল্লেখ করেছি, কিন্তু সেগুলোর গূঢ় রহস্য উন্মোচন করিনি এবং যাহিরি (الظواهر) মতাবলম্বীদের মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী সেগুলোকে অবহেলাও করিনি। আমি যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার ক্ষেত্রে প্রশস্ততা রয়েছে। তবে যে ব্যক্তি বলে যে, আবু আলী এবং আবু হাশেমের কথা দলিল (حجة) স্বরূপ, অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা দলিল (حجة) নয়, সে কতই না মূর্খ ও দুঃসাহসী এবং কতই না ধৃষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত! সে ইসলামকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছে এবং প্রায় একজন ধর্মত্যাগী (زنديق) ও নাস্তিকে (دهري) পরিণত হয়েছে। সে দ্বীনকে অবজ্ঞা করেছে এবং শরিয়তের (شرع) অনুমতি ব্যতিরেকেই তার ওপর অনধিকার চর্চা করেছে। আল্লাহ আমাদের সরল পথ থেকে বিচ্যুতি এবং কোনো দলিল (دليل) ব্যতিরেকে কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহে অনধিকার প্রবেশ থেকে রক্ষা করুন। আমি কিতাবটিকে ত্রিশটি অধ্যায়ে (باب) বিন্যস্ত করেছি।

(প্রথম অধ্যায় (الباب الأول)) পবিত্র কুরআন থেকে আল্লাহর একত্ববাদের ওপর তাওহিদপন্থীদের দলিলসমূহ (حجج) প্রসঙ্গে।

(দ্বিতীয় অধ্যায় (الباب الثاني)) জাবারিয়াদের (الجبرية) দলিলসমূহ (حجج) প্রসঙ্গে; এটি বেশ কিছু পরিচ্ছেদের (فصول) ওপর مشتمل (অন্তর্ভুক্ত)।

প্রথম পরিচ্ছেদ (الفصل الأول): ইচ্ছা (إرادة) ও অভিপ্রায় (مشيئة) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (الفصل الثاني): ওই সকল আয়াতের ব্যাখ্যা (تفسير) প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (الفصل الثالث): হিদায়াত অস্বীকার করা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ (الفصل الرابع): পথভ্রষ্টতা (ضلالة) সাব্যস্ত করা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ (الفصل الخامس): অন্তর পরিবর্তন করা প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ (الفصل السادس): প্রলুব্ধকরণ ও প্ররোচিতকরণ প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ (الفصل السابع): লিখন বা তাকদির (كتابة) প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ (الفصل الثامن): ওই সকল আয়াতের ব্যাখ্যা (تفسير) প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ (الفصل التاسع): অনুমতি (إذن) প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ (الفصل العاشر): সৃষ্টি (خلق) প্রসঙ্গে।

একাদশ পরিচ্ছেদ (الفصل الحادي عشر): তাকদির (قدر) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
الْفَصْل الثَّانِي عشر فِي تَفْسِير تِلْكَ الْآيَات

الْفَصْل الثَّالِث عشر فِي ان الْكل من الله وَلَيْسَ الى الْمَخْلُوق شَيْء

الْفَصْل الرَّابِع عشر فِي تَفْسِير تِلْكَ الْآيَات

الْفَصْل الْخَامِس عشر فِي الاحاديث الَّتِي وَردت فِي هَذَا الْمَعْنى

(الْبَاب الثَّالِث) فِي حجج الْقَدَرِيَّة وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الأول فِي الارادة

الْفَصْل الثَّانِي فِي الْمَشِيئَة

الْفَصْل الثَّالِث فِي نفي الْهِدَايَة والضلالة

الْفَصْل الرَّابِع فِي ان الْكفْر والمعاصي بإزلال الشَّيْطَان

الْفَصْل الْخَامِس فِي اضافة الظُّلم اليهم ونفيه عَن الله تَعَالَى

الْفَصْل السَّادِس فِي إِضَافَة الْفِعْل الى الْكفَّار

الْفَصْل السَّابِع فِي اضافة الْفِعْل الى نفس العَبْد

الْفَصْل الثَّامِن فِي تَأْثِير فعل العَبْد

الْفَصْل التَّاسِع فِي حجج الْقَدَرِيَّة أَيْضا

الْفَصْل الْعَاشِر فِي الاحاديث الَّتِي وَردت فِي هَذَا الْمَعْنى

(الْبَاب الرَّابِع) فِي حجج المرجئة وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الأول فِي ان مرتكب الْكَبَائِر مُؤمن مُسلم

الْفَصْل الثَّانِي فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة يسْتَحق الْمَغْفِرَة

الْفَصْل الثَّالِث فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة يسْتَحق الرَّحْمَة

الْفَصْل الرَّابِع فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة يسْتَحق الْجنَّة

الْفَصْل الْخَامِس فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة دَاخل فِي دُعَاء الْمَلَائِكَة والأنبياء

الْفَصْل السَّادِس فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة لَا يسْتَحق الْوَعيد وَأَن الْمُسْتَحق
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: সেই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়া এবং সৃষ্টিজীবের কোনো এখতিয়ার না থাকা প্রসঙ্গে

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: সেই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে

পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: এই মর্মে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে

(তৃতীয় অধ্যায়) কাদারিয়াদের প্রমাণাদি প্রসঙ্গে এবং এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সংবলিত

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইচ্ছা প্রসঙ্গে

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অভিপ্রায় প্রসঙ্গে

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হেদায়েত ও পথভ্রষ্টতা অস্বীকার করা প্রসঙ্গে

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুফর ও পাপাচার শয়তানের প্ররোচনায় পদস্খলনের মাধ্যমে হওয়া প্রসঙ্গে

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জুলুমকে তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং মহান আল্লাহ থেকে তা নাকচ করা প্রসঙ্গে

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কর্মকে কাফিরদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা প্রসঙ্গে

সপ্তম পরিচ্ছেদ: কর্মকে বান্দার নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা প্রসঙ্গে

অষ্টম পরিচ্ছেদ: বান্দার কর্মের প্রভাব প্রসঙ্গে

নবম পরিচ্ছেদ: কাদারিয়াদের আরও কিছু প্রমাণাদি প্রসঙ্গে

দশম পরিচ্ছেদ: এই মর্মে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে

(চতুর্থ অধ্যায়) মুরজিয়াদের প্রমাণাদি প্রসঙ্গে এবং এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সংবলিত

প্রথম পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি মুমিন ও মুসলিম হওয়া প্রসঙ্গে

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির ক্ষমা পাওয়ার যোগ্যতা প্রসঙ্গে

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির রহমত পাওয়ার যোগ্যতা প্রসঙ্গে

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির জান্নাত পাওয়ার যোগ্যতা প্রসঙ্গে

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি ফেরেশতা ও নবীদের দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি শাস্তির হুমকির যোগ্য না হওয়া এবং যারা যোগ্য...
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
لَهُ هُوَ الْكَافِر

الْفَصْل السَّابِع فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة يسْتَحق الْوَعْد

الْفَصْل الثَّامِن فِي أَن مرتكب الْكَبِيرَة لَيْسَ للشَّيْطَان عَلَيْهِ سُلْطَان

الْفَصْل التَّاسِع فِي الرَّجَاء وَحجَّة من قَالَ ان الله لَا ينْزع الايمان من الْمُؤمن

الْفَصْل الْعَاشِر فِي الْأَحَادِيث الَّتِي وَردت فِي هَذَا الْبَاب

(الْبَاب الْخَامِس) فِي حجج الوعيدية وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الاول فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة لَيْسَ بِمُؤْمِن

الْفَصْل الثَّانِي فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة يسْتَحق الْوَعيد

الْفَصْل الثَّالِث فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة يسْتَحق النَّار وَالْعَذَاب

الْفَصْل الرَّابِع فِي ان مرتكب الْكَبِيرَة يسْتَحق الْوَعيد على التَّأْبِيد

الْفَصْل الْخَامِس فِي الاحاديث الَّتِي وَردت فِي هَذَا الْبَاب

الْبَاب السَّادِس فِي حجج الصفاتية وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الاول فِي حجج المثبتين للجهة

الْفَصْل الثَّانِي فِي ذكر الْوَجْه

الْفَصْل الثَّالِث فِي ذكر الْعين

الْفَصْل الرَّابِع فِي ذكر الْيَد

الْفَصْل الْخَامِس فِي سَائِر الصِّفَات

الْفَصْل السَّادِس فِي الاحاديث الْوَارِدَة فِي هَذَا الْبَاب

(الْبَاب السَّابِع) فِي حجج الْجَهْمِية وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الأول فِي حجج الْقَائِلين بِنَفْي الْجِهَة الْمعينَة

الْفَصْل الثَّانِي فِي حجج الْقَائِلين بِالْقربِ الذاتي

الْفَصْل الثَّالِث فِي حجج الْقَائِلين بانه مَعَ كل أحد ذاتا
সেই ব্যক্তিই কাফির।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি সওয়াবের প্রতিশ্রুতির যোগ্য হওয়া প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির ওপর শয়তানের কোনো আধিপত্য না থাকা প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশা এবং যারা বলেন যে আল্লাহ মুমিনের নিকট থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেন না, তাদের দলিল প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ: এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে।

(পঞ্চম অধ্যায়) ওয়াইদিয়া সম্প্রদায়ের দলিলসমূহ প্রসঙ্গে; এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি মুমিন না হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি শাস্তির হুমকির যোগ্য হওয়া প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি জাহান্নাম ও শাস্তির যোগ্য হওয়া প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি চিরস্থায়ী শাস্তির হুমকির যোগ্য হওয়া প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: সিফাতিয়া সম্প্রদায়ের দলিলসমূহ প্রসঙ্গে; এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর জন্য দিক সাব্যস্তকারীদের দলিলসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: চেহারা উল্লেখ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চক্ষু উল্লেখ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাত উল্লেখ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অন্যান্য গুণাবলী প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে।

(সপ্তম অধ্যায়) জাহমিয়া সম্প্রদায়ের দলিলসমূহ প্রসঙ্গে; এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্ট দিক অস্বীকারকারীদের দলিলসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সত্তাগত নৈকট্যের প্রবক্তাদের দলিলসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ সত্তাগতভাবে প্রত্যেকের সাথে আছেন—একথা যারা বলেন তাদের দলিলসমূহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
الْفَصْل الرَّابِع فِي حجج الْقَائِلين بانه تَعَالَى فِي كل مَكَان

(الْبَاب الثَّامِن) فِي حجج الشِّيعَة وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الاول فِي حجج الْقَائِلين بِأَن اجماع الصَّحَابَة لَيْسَ بِحجَّة

الْفَصْل الثَّانِي فِي حجج الْقَائِلين بإمامة عَليّ بن أبي طَالب

الْفَصْل الثَّالِث فِي حجج الْقَائِلين مِنْهُم بِبُطْلَان خلَافَة أبي بكر وصاحبيه

(الْبَاب التَّاسِع) فِي حجج الْقَائِلين بالاجماع وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الأول فِي بَيَان ان الاجماع حجَّة

الْفَصْل الثَّانِي فِي حجج الْقَائِلين بِفضل الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم

الْفَصْل الثَّالِث فِي حجج الْقَائِلين بِصِحَّة خلَافَة الثَّلَاثَة

الْفَصْل الرَّابِع فِي الاحاديث الْوَارِدَة فِي هَذَا الْبَاب

(الْبَاب الْعَاشِر) فِي حجج الْخَوَارِج وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الاول فِي حجج الْقَائِلين مِنْهُم بِبُطْلَان تحكيم الحكم

الْفَصْل الثَّانِي فِي حجج الْقَائِلين مِنْهُم بِعَدَمِ وجوب الامامة

الْفَصْل الثَّالِث فِي حجج الْقَائِلين مِنْهُم بِجَوَاز الْخُرُوج على الامام

الْفَصْل الرَّابِع فِي حجج الْقَائِلين مِنْهُم بِجَوَاز الظُّلم على الْأَنْبِيَاء عليهم السلام

الْفَصْل الْخَامِس فِي حجج الْقَائِلين مِنْهُم بِجَوَاز الْكفْر على الانبياء عليهم السلام

الْفَصْل السَّادِس فِي حجج الْقَائِلين بِجَوَاز الْمعاصِي على الانبياء عليهم السلام

الْفَصْل السَّابِع فِي حجج من يجوز سَبِيل الشَّيْطَان على الانبياء

الْفَصْل الثَّامِن فِي حجج الْقَائِلين بِجَوَاز الْخَوْف من غير الله على الْأَنْبِيَاء

الْفَصْل التَّاسِع فِي حجج الْقَائِلين بِجَوَاز الْقَتْل على الانبياء

الْفَصْل الْعَاشِر فِي حجج الْقَائِلين انه يجوز عَلَيْهِم مَا يجوز على غَيرهم

(الْبَاب الْحَادِي) عشر فِي حجج الْقَائِلين بَان الْقُرْآن كَلَام الله غير مَخْلُوق
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহ প্রত্যেক স্থানে বিরাজমান—একথা প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

(অষ্টম অধ্যায়) শিয়াদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে; এবং এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণের ঐকমত্য (إجماع) দলিল (حجة) নয়—একথা প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আলী ইবনে আবু তালিবের ইমামত (إمامة)-এর প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের মধ্যে যারা আবু বকর ও তাঁর দুই সঙ্গীর খেলাফত বাতিল হওয়ার প্রবক্তা, তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

(নবম অধ্যায়) ঐকমত্য (إجماع)-এর প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে; এবং এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: ঐকমত্য (إجماع) যে একটি দলিল (حجة)—তার বর্ণনায়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণের (তাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) শ্রেষ্ঠত্বের প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তিন খলিফার খেলাফতের বৈধতার প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে।

(দশম অধ্যায়) খারেজীদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে; এবং এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাদের মধ্যে যারা সালিশ নিয়োগের (تحكيم) অসারতার প্রবক্তা, তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের মধ্যে যারা ইমামত (إمامة) আবশ্যক না হওয়ার প্রবক্তা, তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের মধ্যে যারা ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) বৈধ হওয়ার প্রবক্তা, তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদের মধ্যে যারা নবীদের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি অবিচার করা সম্ভব—একথা বৈধ মনে করার প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাদের মধ্যে যারা নবীদের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ক্ষেত্রে কুফরি হওয়া সম্ভব বলে মনে করে, তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: যারা নবীদের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ক্ষেত্রে পাপ (معاصي) হওয়া সম্ভব বলে মনে করার প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: যারা নবীদের ওপর শয়তানের প্রভাব বিস্তার সম্ভব মনে করে, তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: যারা নবীদের ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করা সম্ভব মনে করে, তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: যারা নবীদের ক্ষেত্রে হত্যার শিকার হওয়া সম্ভব মনে করে, তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ: যারা মনে করে যে, অন্যদের জন্য যা সম্ভব নবীদের জন্যও তা সম্ভব—তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

(একাদশ অধ্যায়) কুরআন আল্লাহর বাণী (كلام الله) এবং তা অ-সৃষ্ট (غير مخلوق)—একথা প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الاول فِي حجج الْقَائِلين بَان كَلَام الله تَعَالَى حرف وَصَوت

الْفَصْل الثَّانِي فِي حجج الْقَائِلين بِأَن المسموع عين كَلَام الله لَا الْعبارَة عَن الْكَلَام

الْفَصْل الثَّالِث فِي حجج الْقَائِلين بقدم الْقُرْآن

(الْبَاب الثَّانِي عشر) فِي حجج الْقَائِلين بِخلق الْقُرْآن وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الاول فِي الْخلق

الْفَصْل الثَّانِي فِي الْجعل

الْفَصْل الثَّالِث فِي الْحُدُوث

الْفَصْل الرَّابِع أَيْضا فِي ذَلِك الْمَعْنى

(الْبَاب الثَّالِث عشر) فِي حجج الْقَائِلين بِرُؤْيَة الله تَعَالَى فِي الْجنَّة جَوَازًا ووقوعا وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الاول فِي اللِّقَاء

الْفَصْل الثَّانِي فِي النّظر والرؤية

(الْبَاب الرَّابِع عشر) فِي حجج الْقَائِلين بِنَفْي الرُّؤْيَة

(الْبَاب الْخَامِس عشر) فِي حجج الْقَائِلين بِأَن الْإِيمَان قَول وَعمل وَعقد بِالْقَلْبِ

(الْبَاب السَّادِس عشر) فِي حجج الْقَائِلين بِأَن الايمان قَول بِلَا عمل وَلَا نِيَّة

(الْبَاب السَّابِع عشر) فِي حجج الْقَائِلين بَان الايمان هُوَ التَّصْدِيق

(الْبَاب الثَّامِن عشر) فِي حجج الْقَائِلين بَان الايمان والاسلام وَاحِد

(الْبَاب التَّاسِع عشر) فِي حجج الْقَائِلين بَان الايمان والاسلام متغايران

(الْبَاب الْعشْرُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بَان الايمان يزِيد وَينْقص

(الْبَاب الْحَادِي وَالْعشْرُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بَان الرِّضَا بالْكفْر لَا يكون كفرا
এটি কতগুলো পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার কালাম অক্ষর (حرف) ও শব্দ (صوت) হওয়ার প্রবক্তাদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যা শ্রবণ করা হয় তা আল্লাহ তাআলার কালামেরই সত্তা, কালামের নিছক অভিব্যক্তি নয়—এ মতাবলম্বীদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন অনাদি (قدم) হওয়ার প্রবক্তাদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

(দ্বাদশ অধ্যায়) কুরআন সৃষ্টি (خلق) হওয়ার প্রবক্তাদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে; এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সৃষ্টি (خلق) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নির্ধারণ বা তৈরি (جعل) করা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নশ্বরতা বা নতুনভাবে উদ্ভব (حدوث) হওয়া প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অনুরূপ অর্থ প্রসঙ্গে।

(ত্রয়োদশ অধ্যায়) জান্নাতে আল্লাহ তাআলার দর্শন (رؤية) সম্ভব ও বাস্তবে তা ঘটার প্রবক্তাদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে; এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাক্ষাৎ (لقاء) প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দৃষ্টিপাত (نظر) ও দর্শন (رؤية) প্রসঙ্গে।

(চতুর্দশ অধ্যায়) দর্শন (رؤية) অস্বীকারকারীদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

(পঞ্চদশ অধ্যায়) ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি (قول), কর্ম (عمل) ও অন্তরের বিশ্বাস (عقد)—এ মতাবলম্বীদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

(ষোড়শ অধ্যায়) ঈমান হলো কর্ম ও নিয়ত (نية) বিহীন নিছক মৌখিক স্বীকৃতি (قول)—এ মতাবলম্বীদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

(সপ্তদশ অধ্যায়) ঈমান হলো মূলত সত্যায়ন (تصديق)—এ মতাবলম্বীদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

(অষ্টাদশ অধ্যায়) ঈমান ও ইসলাম অভিন্ন হওয়ার প্রবক্তাদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

(উনবিংশ অধ্যায়) ঈমান ও ইসলাম ভিন্ন হওয়ার প্রবক্তাদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

(বিংশ অধ্যায়) ঈমান বৃদ্ধি (يزيد) ও হ্রাস (ينقص) পাওয়ার প্রবক্তাদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।

(একবিংশ অধ্যায়) কুফরিতে সন্তুষ্ট থাকা কুফরি না হওয়ার প্রবক্তাদের দলীল (حجج) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
(الْبَاب الثَّانِي وَالْعشْرُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بَان الْجنَّة جَزَاء الاعمال

(الْبَاب الثَّالِث وَالْعشْرُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بَان الْجنَّة للْمُؤْمِنين فضلا وَعَطَاء

(الْبَاب الرَّابِع وَالْعشْرُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بِجَوَاز تَكْلِيف مَا لَا يُطَاق

(الْبَاب الْخَامِس وَالْعشْرُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بَان تَكْلِيف مَا لَا يُطَاق غير جَائِز

(الْبَاب السَّادِس وَالْعشْرُونَ) فِي حجج الْمُسلمين فِي الْبَعْث والنشور

(الْبَاب السَّابِع وَالْعشْرُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بِكَوْن الْجنَّة وَالنَّار مخلوقتين الْيَوْم

فصل فِي حجَّة من قَالَ بِفنَاء الْجنَّة وَالنَّار

فصل فِي حجَّة من قَالَ بالخلود

فصل فِي من قَالَ ان المؤبد يكون موقتا

فصل فِي حجَّة من قَالَ بِنَفْي الشَّفَاعَة وَحجَّة من قَالَ بالشفاعة

(الْبَاب الثَّامِن وَالْعشْرُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بِفنَاء الْعَالم

فصل فِي حجج الْقَائِلين بِعَذَاب الْقَبْر

فصل فِي من قَالَ بِنَفْي عَذَاب الْقَبْر وَمن قَالَ الانبياء لَا يدْخلُونَ النَّار وَحجَّة من قَالَ يدْخلُونَ

(الْبَاب التَّاسِع وَالْعشْرُونَ) فِي مسَائِل شَتَّى وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

الْفَصْل الاول فِي حجج الْقَائِلين بِعَذَاب الْقَبْر وَمن قَالَ بِنَفْي الْعَذَاب

الْفَصْل الثَّانِي فِي حجَّة من قَالَ المعارف سمعية وَحجَّة من قَالَ عقلية

الْفَصْل الثَّالِث فِي حجَّة من قَالَ الْمَقْتُول ميت بأجله وَمن قَالَ مَقْطُوع عَلَيْهِ أَجله وَفِي حجَّة من قَالَ الجدل مَكْرُوه وَمن قَالَ بِجَوَازِهِ وَحجَّة من قَالَ بِاعْتِبَار النّسَب وَمن لم يعتبره

الْفَصْل الرَّابِع فِي حجَّة من قَالَ ان آبَاء الانبياء مُؤمنُونَ
(দ্বাবিংশ অধ্যায়) জান্নাত আমলের বিনিময়—এই মত পোষণকারীদের দলিল প্রসঙ্গে।

(ত্রয়োবিংশ অধ্যায়) জান্নাত মুমিনদের জন্য অনুগ্রহ ও দানস্বরূপ—এই মত পোষণকারীদের দলিল প্রসঙ্গে।

(চতুবিংশ অধ্যায়) সাধ্যাতীত বিষয়ের বাধ্যবাধকতা আরোপ বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে প্রবক্তাদের দলিলসমূহ।

(পঞ্চবিংশ অধ্যায়) সাধ্যাতীত বিষয়ের বাধ্যবাধকতা আরোপ অবৈধ হওয়া প্রসঙ্গে প্রবক্তাদের দলিলসমূহ।

(ষষ্ঠবিংশ অধ্যায়) পুনরুত্থান ও হাশর বিষয়ে মুসলিমদের দলিলসমূহ।

(সপ্তবিংশ অধ্যায়) জান্নাত ও জাহান্নাম বর্তমানেই সৃজিত—এই মত পোষণকারীদের দলিল প্রসঙ্গে।

পরিচ্ছেদ: জান্নাত ও জাহান্নামের নশ্বরতার প্রবক্তাদের দলিল।

পরিচ্ছেদ: স্থায়িত্বের প্রবক্তাদের দলিল।

পরিচ্ছেদ: যা চিরস্থায়ী তা সাময়িক হবে—এমন কথা যারা বলেন তাদের প্রসঙ্গে।

পরিচ্ছেদ: সুপারিশ অস্বীকারকারীদের দলিল এবং সুপারিশের প্রবক্তাদের দলিল।

(অষ্টবিংশ অধ্যায়) জগত নশ্বর হওয়ার প্রবক্তাদের দলিল প্রসঙ্গে।

পরিচ্ছেদ: কবরের আজাবের প্রবক্তাদের দলিল প্রসঙ্গে।

পরিচ্ছেদ: যারা কবরের আজাব অস্বীকার করেন; এবং নবীগণ জাহান্নামে প্রবেশ করবেন না বলে যারা মনে করেন, আর যারা তারা প্রবেশ করবেন বলে মনে করেন তাদের দলিল প্রসঙ্গে।

(ঊনত্রিংশ অধ্যায়) বিবিধ মাসআলা প্রসঙ্গে, যা কয়েকটি পরিচ্ছেদ সংবলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: কবরের আজাবের প্রবক্তাদের দলিল এবং যারা আজাব অস্বীকার করেন তাদের প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞানসমূহ শ্রুতি-নির্ভর হওয়ার প্রবক্তাদের দলিল এবং তা বুদ্ধি-নির্ভর হওয়ার প্রবক্তাদের দলিল।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিহত ব্যক্তি স্বীয় নির্দিষ্ট সময়েই মৃত্যুবরণ করে—এই প্রবক্তাদের দলিল এবং যার জীবনকাল মাঝপথে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে যারা মনে করেন তাদের দলিল; এবং বিতর্ক অপছন্দনীয় হওয়ার দলিল ও যারা এর বৈধতার প্রবক্তা তাদের দলিল; আর যারা বংশমর্যাদা বিবেচনা করেন এবং যারা করেন না তাদের দলিল প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবীগণের পিতৃপুরুষগণ মুমিন ছিলেন—এই প্রবক্তাদের দলিল প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
الْفَصْل الْخَامِس فِي حجَّة من قَالَ الْمَلَائِكَة خير من بني آدم وَحجَّة من قَالَ الْأَنْبِيَاء أفضل من الْمَلَائِكَة

الْفَصْل السَّادِس فِي حجَّة من قَالَ الِاسْم والمسمى وَاحِد وَحجَّة من قَالَ الِاسْم والمسمى متغايران

الْفَصْل السَّابِع حجَّة من قَالَ الْمَعْدُوم شَيْء وَحجَّة من قَالَ الْمَعْدُوم لَيْسَ بِشَيْء

الْفَصْل الثَّامِن فِي حجَّة من قَالَ التَّوَسُّع فِي الْكَلَام جَائِز

الْفَصْل التَّاسِع فِي حجَّة من قَالَ لَعَلَّ من الله وَاجِب وَحجَّة من قَالَ لَيْسَ بِوَاجِب وَحجَّة من قَالَ اثبات الثَّابِت لَيْسَ بمحال

الْفَصْل الْعَاشِر فِي حجَّة من قَالَ الْمُطلق لَا ينْصَرف الى الْكَامِل وَحجَّة من قَالَ الْمُطلق لَا يحمل على الْمُقَيد وَحجَّة من قَالَ لَا يجوز الاجماع على خلاف الْكتاب وَالسّنة وَحجَّة من قَالَ السحر خيال وَحجَّة من قَالَ ذَات الله تَعَالَى غير مَعْلُوم

حجَّة من قَالَ بِجَوَاز الاستكثار بِغَيْر الله عز وجل

حجَّة من قَالَ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم أفضل الْأَنْبِيَاء

حجَّة من قَالَ لَا تفاضل بَينهم

حجَّة من قَالَ يتفاضل بَينهم

حجَّة من قَالَ الِاجْتِهَاد وَالْقِيَاس حق

حجَّة من قَالَ بِأَن الِاجْتِهَاد بَاطِل

حجَّة من قَالَ الْمَظَالِم ترْتَفع بِالتَّوْبَةِ

حجَّة من قَالَ هَذِه القردة والخنازير من نسل اولئك الممسوخين

حجَّة من قَالَ الْوَاو لَيست للتَّرْتِيب

(الْبَاب الثَّلَاثُونَ) فِي حجج الْقَائِلين بِفضل الْغنى على الْفقر وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যারা বলেন ফেরেশতারা আদম সন্তানদের চেয়ে উত্তম তাদের সপক্ষে প্রমাণ এবং যারা বলেন নবীগণ ফেরেশতাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ তাদের সপক্ষে প্রমাণ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: যারা বলেন নাম এবং নামী (যাকে নাম দেওয়া হয়েছে) অভিন্ন তাদের সপক্ষে প্রমাণ এবং যারা বলেন নাম ও নামী পরস্পর ভিন্ন তাদের সপক্ষে প্রমাণ প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: যারা বলেন অস্তিত্বহীন (المعدوم) কোনো বস্তু তাদের সপক্ষে প্রমাণ এবং যারা বলেন অস্তিত্বহীন (المعدوم) কোনো বস্তু নয় তাদের সপক্ষে প্রমাণ প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: যারা বলেন কথার মধ্যে রূপক ও প্রশস্ততা প্রয়োগ বৈধ (جائز) তাদের সপক্ষে প্রমাণ প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: যারা বলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে 'হয়তো' শব্দটি আবশ্যিক (واجب) অর্থবোধক তাদের সপক্ষে প্রমাণ, যারা বলেন এটি আবশ্যিক (واجب) নয় তাদের সপক্ষে প্রমাণ এবং যারা বলেন বিদ্যমানকে বিদ্যমান হিসেবে প্রমাণ করা অসম্ভব নয় তাদের সপক্ষে প্রমাণ প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ: যারা বলেন নিঃশর্ত (المطلق) শব্দ কেবল পূর্ণতার দিকে ধাবিত হয় না তাদের সপক্ষে প্রমাণ, যারা বলেন নিঃশর্ত (المطلق) শব্দকে শর্তযুক্ত (المقيد) অর্থের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না তাদের সপক্ষে প্রমাণ, যারা বলেন কিতাব ও সুন্নাহর বিপরীতে ঐক্যমত (الاجماع) হওয়া বৈধ নয় তাদের সপক্ষে প্রমাণ, যারা বলেন জাদু কেবল কল্পনা এবং যারা বলেন মহান আল্লাহর সত্তা অজ্ঞাত তাদের সপক্ষে প্রমাণ প্রসঙ্গে।

আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে প্রাচুর্য অন্বেষণের বৈধতা (جواز) প্রমাণের দলিল।

মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হওয়ার সপক্ষে দলিল।

তাদের মধ্যে মর্যাদাগত কোনো তারতম্য নেই—এমন প্রবক্তাদের দলিল।

তাদের মধ্যে মর্যাদাগত তারতম্য রয়েছে—এমন প্রবক্তাদের দলিল।

গবেষণামূলক বিচারবুদ্ধি (الاجتهاد) ও সাদৃশ্যমূলক অনুমান (القياس) সত্য হওয়ার সপক্ষে দলিল।

গবেষণামূলক বিচারবুদ্ধি (الاجتهاد) বাতিল (باطل) হওয়ার সপক্ষে দলিল।

জুলুম ও অন্যায্যতা তওবা (التوبة)-র মাধ্যমে দূরীভূত হওয়ার সপক্ষে দলিল।

এই বানর ও শূকরগুলো সেই বিকৃত করা সম্প্রদায়ের বংশধর—এমন প্রবক্তাদের দলিল।

'ওয়াও' অব্যয়টি ক্রমবিন্যাস (الترتيب)-এর জন্য নয়—এমন প্রবক্তাদের দলিল।

(ত্রিশতম অধ্যায়) দারিদ্র্যের ওপর সচ্ছলতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রবক্তাদের দলিলসমূহ প্রসঙ্গে; এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদের সমষ্টি।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
الْفَصْل الاول فِي ان الله تَعَالَى سمى المَال فضل الله

الْفَصْل الثَّانِي فِي ان الله تَعَالَى سمى المَال خيرا

الْفَصْل الثَّالِث فِي ان الله تَعَالَى سمى المَال حَسَنَة

الْفَصْل الرَّابِع فِي ان الله تَعَالَى سمى المَال رَحْمَة

الْفَصْل الْخَامِس فِي ان الله تَعَالَى امْر بِحِفْظ المَال وَنهى عَن اتلافه

الْفَصْل السَّادِس فِي ان الله تَعَالَى جعل المَال جَزَاء الْأَعْمَال

الْفَصْل السَّابِع فِي ان الصَّحَابَة كَانُوا يحبونَ المَال وان الله تَعَالَى من على نبيه بِالْمَالِ

الْفَصْل الثَّامِن فِي الاحاديث الْوَارِدَة فِي هَذَا الْبَاب

الْفَصْل التَّاسِع فِي حجج الْقَائِلين بِفضل الْفقر على الْغنى

الْفَصْل الْعَاشِر فِي الاحاديث الْوَارِدَة فِي هَذَا الْبَاب صلى الله عليه وسلم َ - الْبَاب الأول صلى الله عليه وسلم َ -

فِي حجج أهل التَّوْحِيد على وحدانية الله عز وجل من الْقُرْآن الْمجِيد وَذَلِكَ فِي ثَلَاثَة مَوَاضِع فِي سُورَة الانبياء (لَو كَانَ فيهمَا آلِهَة إِلَّا الله لفسدتا فسبحان الله رب الْعَرْش عَمَّا يصفونَ وَفِي سُورَة قد أَفْلح (مَا اتخذ الله من ولد وَمَا كَانَ مَعَه من إِلَه إِذا لذهب كل إِلَه بِمَا خلق ولعلا بَعضهم على بعض سُبْحَانَ الله عَمَّا يصفونَ وَفِي سُورَة بني إِسْرَائِيل (قل لَو كَانَ مَعَه آلِهَة كَمَا يَقُولُونَ إِذا لابتغوا إِلَى ذِي الْعَرْش سَبِيلا سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُونَ علوا كَبِيرا

يَقُول ان الْمُلُوك اذا تزاحموا فِي الْملك تخاصموا يقْصد كل وَاحِد مِنْهُم صَاحبه الَّذِي ينازعه فيمانعه ويدافعه فَلَو كَانَ مَعَ الله آلِهَة بزعمكم لقصدوه قبيلا قبيلا ولطلبوا الى ذِي الْعَرْش سَبِيلا تَعَالَى الله عَن ذَلِك عَظِيما
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা সম্পদকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা সম্পদকে কল্যাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা সম্পদকে পুণ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা সম্পদকে রহমত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা সম্পদ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা অপচয় করতে নিষেধ করেছেন।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা সম্পদকে নেক আমলসমূহের প্রতিদান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণ সম্পদ ভালোবাসতেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর ওপর সম্পদ প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: সচ্ছলতার ওপর দারিদ্র্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ: এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - প্রথম অধ্যায় সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -

কুরআন মাজিদ থেকে তাওহিদপন্থীদের পক্ষ থেকে আল্লাহর একত্বের স্বপক্ষে দলীলসমূহ প্রসঙ্গে; আর তা তিনটি স্থানে রয়েছে: সূরা আল-আম্বিয়ায় ("যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব আরশের অধিপতি আল্লাহ তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে পবিত্র।"), সূরা আল-মুমিনুনে ("আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।") এবং সূরা বনী ইসরাঈলে ("বলুন, তারা যা বলে সে অনুযায়ী যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ থাকত, তবে তারা আরশের অধিপতির দিকে কোনো পথ অন্বেষণ করত। তিনি পবিত্র এবং তারা যা বলে তা থেকে তিনি বহু উর্ধ্বে ও সুমহান।")।

তিনি বলেন: রাজন্যবর্গ যখন রাজত্ব নিয়ে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়, তখন তারা বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। তাদের প্রত্যেকেই তার সেই প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু বানায় যে তার সাথে বিবাদ করে, ফলে সে তাকে প্রতিহত ও মোকাবিলা করে। সুতরাং তোমাদের দাবি অনুযায়ী যদি আল্লাহর সাথে আরও অনেক ইলাহ থাকত, তবে তারা অবশ্যই দলে দলে তাঁর অভিমুখী হতো এবং আরশের অধিপতির দিকে (তাঁকে পরাস্ত করার) পথ খুঁজত। আল্লাহ তাআলা তাদের এসব উক্তি থেকে অত্যন্ত উচ্চে ও সুমহান।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
جَلِيلًا وعَلى هَذَا معنى الْآيَتَيْنِ الاخريين صلى الله عليه وسلم َ - الْبَاب الثَّانِي صلى الله عليه وسلم َ -

فِي حجج الجبرية وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

 

‌‌الْفَصْل الأول فِي الارادة والمشيئة

وهما وَاحِد وَهِي صفة قديمَة تَقْتَضِي تَخْصِيص الْحَوَادِث بِوَجْه دون وَجه وَوقت دون وَقت

اما الارادة فَفِي خَمْسَة عشر موضعا فِي آل عمرَان (يُرِيد الله أَلا يَجْعَل لَهُم حظا فِي الْآخِرَة وَلَهُم عَذَاب عَظِيم) وَفِي بني إِسْرَائِيل (وَإِذ قُلْنَا لَك إِن رَبك أحَاط بِالنَّاسِ) وَفِي الْمَائِدَة (وَمن يرد الله فتنته فَلَنْ تملك لَهُ من الله شَيْئا أُولَئِكَ الَّذين لم يرد الله أَن يطهر قُلُوبهم) وَفِي الانعام (فَمن يرد الله أَن يهديه يشْرَح صَدره لِلْإِسْلَامِ وَمن يرد أَن يضله يَجْعَل صَدره ضيقا حرجا كَأَنَّمَا يصعد فِي السَّمَاء كَذَلِك يَجْعَل الله الرجس على الَّذين لَا يُؤمنُونَ وَفِي التَّوْبَة (فَلَا تعجبك أَمْوَالهم وَلَا أَوْلَادهم إِنَّمَا يُرِيد الله ليعذبهم بهَا فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وتزهق أنفسهم وهم كافرون وفيهَا (وَلَا تعجبك أَمْوَالهم وَأَوْلَادهمْ إِنَّمَا يُرِيد الله أَن يعذبهم بهَا فِي الدُّنْيَا وتزهق أنفسهم وهم كافرون) وَفِي يُونُس (وَإِن يمسسك الله بضر فَلَا كاشف لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِن يردك بِخَير فَلَا راد لفضله يُصِيب بِهِ من يَشَاء من عباده وَهُوَ الغفور الرَّحِيم) وَفِي هود (إِن كَانَ الله يُرِيد أَن يغويكم هُوَ ربكُم وَإِلَيْهِ ترجعون) وَفِي الرَّعْد (وَإِذا أَرَادَ الله بِقوم سوءا فَلَا مرد لَهُ وَمَا لَهُم من دونه من وَال وَفِي الاحزاب (قل من ذَا الَّذِي يعصمكم من الله إِن أَرَادَ بكم سوءا أَو أَرَادَ بكم رَحْمَة وَلَا يَجدونَ لَهُم من دون الله وليا وَلَا نَصِيرًا) وَفِي الْبَقَرَة (وَلَكِن الله يفعل مَا يُرِيد) وَفِي الْفَتْح (قل
মহান এবং এর ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী অন্য দুটি আয়াতের অর্থ হলো (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) - দ্বিতীয় অধ্যায় (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) -

জাবরিয়া সম্প্রদায়ের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে, যা কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত।

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইচ্ছা ও অভিপ্রায় প্রসঙ্গে

এ দুটি বিষয় অভিন্ন এবং এটি একটি অনাদি গুণ, যা নশ্বর বিষয়সমূহকে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় এবং ভিন্ন ভিন্ন সময়ের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বৈশিষ্টমন্ডিত করার দাবি রাখে।

ইচ্ছা বিষয়টি পনেরটি স্থানে এসেছে: সূরা আলে ইমরানে (আল্লাহ ইচ্ছা করেন যে, আখিরাতে তাদের জন্য কোনো অংশ রাখবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা আজাব), সূরা বনী ইসরাঈলে (এবং যখন আমি তোমাকে বলেছিলাম যে, নিশ্চয়ই তোমার রব মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন), সূরা মায়িদাহতে (আর আল্লাহ যার পরীক্ষা তথা পথভ্রষ্টতা চান, তার জন্য আল্লাহর কাছে তোমার কিছুই করার নেই; এরা তারাই যাদের অন্তরসমূহকে আল্লাহ পবিত্র করার ইচ্ছা করেননি), সূরা আনআমে (সুতরাং আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেওয়ার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন, আর যাকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও অতি সংকুচিত করে দেন, যেন সে আসমানে আরোহণ করছে; এভাবেই আল্লাহ ঈমানহীনদের ওপর অপবিত্রতা আরোপ করেন), সূরা তাওবাতে (সুতরাং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাকে বিস্মিত না করে, আল্লাহ তো কেবল এগুলোর মাধ্যমেই দুনিয়ার জীবনে তাদের আজাব দিতে চান এবং তাদের প্রাণ নির্গত হবে কাফির অবস্থায়) এবং তাতে আরও আছে (আর তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাকে বিস্মিত না করে, আল্লাহ তো কেবল এগুলোর মাধ্যমেই দুনিয়াতে তাদের আজাব দিতে চান এবং তাদের প্রাণ নির্গত হবে কাফির অবস্থায়), সূরা ইউনূসে (আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো অমঙ্গল দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই; আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন, আর তিনি পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু), সূরা হূদে (যদি আল্লাহ তোমাদের পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন; তিনি তোমাদের রব এবং তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে), সূরা রা'দে (আর আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়ের অমঙ্গল ইচ্ছা করেন, তখন তা রদ করার কেউ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই), সূরা আহযাবে (বলুন: কে তোমাদের আল্লাহ থেকে রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের কোনো অমঙ্গল ইচ্ছা করেন অথবা তোমাদের প্রতি কোনো রহমতের ইচ্ছা করেন? তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না), সূরা বাকারাহতে (কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন), সূরা ফাতহে (বলুন
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
فَمن يملك لكم من الله شَيْئا إِن أَرَادَ بكم ضرا أَو أَرَادَ بكم نفعا بل كَانَ الله بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرا

واما الْمَشِيئَة فَفِي سِتَّة وَعشْرين موضعا فِي الْبَقَرَة (وَلَو شَاءَ الله مَا اقتتل الَّذين من بعدهمْ) وفيهَا (وَلَو شَاءَ الله مَا اقْتَتَلُوا وَفِي الْمَائِدَة (وَلَو شَاءَ الله لجعلكم أمة وَاحِدَة وَلَكِن ليَبْلُوكُمْ فِي مَا آتَاكُم وَفِي الانعام (وَلَو شَاءَ الله لجمعهم على الْهدى فَلَا تكونن من الْجَاهِلين) وفيهَا (وَلَو شَاءَ الله مَا أشركوا وَلَو شَاءَ الله مَا فَعَلُوهُ) وَفِي النَّحْل (وَلَو شَاءَ الله لجعلكم أمة وَاحِدَة وَلَكِن يضل من يَشَاء وَيهْدِي من يَشَاء وَفِي حمعسق (وَلَو شَاءَ الله لجعلهم أمة وَاحِدَة وَلَكِن يدْخل من يَشَاء فِي رَحمته وَفِي يُونُس (وَلَو شَاءَ رَبك لآمن من فِي الأَرْض كلهم جَمِيعًا أفأنت تكره النَّاس حَتَّى يَكُونُوا مُؤمنين وَمَا كَانَ لنَفس أَن تؤمن إِلَّا بِإِذن الله وَيجْعَل الرجس على الَّذين لَا يعْقلُونَ) وَفِي هود (وَلَو شَاءَ رَبك لجعل النَّاس أمة وَاحِدَة وَلَا يزالون مُخْتَلفين إِلَّا من رحم رَبك وَلذَلِك خلقهمْ) وَفِي الرَّعْد (أفلم ييأس الَّذين آمنُوا أَن لَو يَشَاء الله لهدى النَّاس جَمِيعًا) وَفِي النَّحْل (وعَلى الله قصد السَّبِيل وَمِنْهَا جَائِر وَلَو شَاءَ لهداكم أَجْمَعِينَ وَفِي السَّجْدَة (وَلَو شِئْنَا لآتينا كل نفس هداها وَلَكِن حق القَوْل مني لأملأن جَهَنَّم من الْجنَّة وَالنَّاس أَجْمَعِينَ) وَفِي الشُّعَرَاء (إِن نَشأ ننزل عَلَيْهِم من السَّمَاء آيَة فظلت أَعْنَاقهم لَهَا خاضعين) وَفِي حمعسق (فَإِن يَشَأْ الله يخْتم على قَلْبك وَفِي الْحَدِيد (لِئَلَّا يعلم أهل الْكتاب أَلا يقدرُونَ على شَيْء من فضل الله وَأَن الْفضل بيد الله يؤتيه من يَشَاء وَالله ذُو الْفضل الْعَظِيم) وَفِي المدثر (وَمَا يذكرُونَ إِلَّا أَن يَشَاء الله وَفِي (هَل أَتَى على الْإِنْسَان وَمَا تشاؤن الا ان يَشَاء الله ان الله كَانَ عليما حكيما) وَفِي
আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য কার কী করার ক্ষমতা আছে যদি তিনি তোমাদের কোনো ক্ষতি করার ইচ্ছা করেন অথবা তোমাদের কোনো উপকার করার ইচ্ছা করেন? বরং তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।

আর আল্লাহর ইচ্ছার বিষয়টি ছাব্বিশটি স্থানে এসেছে। আল-বাকারাহ সূরায়: (আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের পরবর্তী লোকেরা লড়াই করত না); এবং এতেই রয়েছে: (আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে তারা লড়াই করত না); আল-মায়িদাহ সূরায়: (আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে তোমাদেরকে এক উম্মত বানাতেন, কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান); আল-আনআম সূরায়: (আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই তাদেরকে হেদায়েতের ওপর একত্রিত করতেন; সুতরাং তুমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না); এবং এতেই রয়েছে: (আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে তারা শিরক করত না), (আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে তারা তা করত না); আন-নাহল সূরায়: (আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে তোমাদেরকে এক উম্মত বানাতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন); হা-মিম-আইন-সিন-কাফ (সূরা আশ-শূরা)-এ: (আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে তাদেরকে এক উম্মত বানাতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে প্রবেশ করান); ইউনুস সূরায়: (আর তোমার প্রতিপালক যদি ইচ্ছা করতেন, তবে জমিনের সকল মানুষই ঈমান আনত; তবে কি তুমি মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়? আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত ঈমান আনা কোনো নফসের পক্ষেই সম্ভব নয়; আর যারা অনুধাবন করে না আল্লাহ তাদের ওপর অপবিত্রতা আরোপ করেন); হুদ সূরায়: (আর তোমার প্রতিপালক যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই মানবজাতিকে এক উম্মত বানাতেন, কিন্তু তারা সর্বদা মতবিরোধে লিপ্ত থাকবে, তারা ব্যতীত যাদের ওপর তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন); আর-রাদ সূরায়: (তবে কি মুমিনগণ এ বিষয়ে আশ্বস্ত হয়নি যে, আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন তবে সমস্ত মানুষকে হেদায়েত দান করতেন?); আন-নাহল সূরায়: (আর সঠিক পথ প্রদর্শন আল্লাহরই দায়িত্ব, আর পথের মধ্যে বক্র পথও রয়েছে; এবং তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই হেদায়েত দান করতেন); আস-সাজদাহ সূরায়: (আর আমি যদি ইচ্ছা করতাম তবে প্রত্যেক নফসকে তার হেদায়েত দান করতাম, কিন্তু আমার এই কথা অবধারিত হয়েছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব); আশ-শুআরা সূরায়: (আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে তাদের প্রতি কোনো নিদর্শন নাজিল করতে পারি, ফলে তাদের ঘাড়সমূহ তার সামনে অবনত হয়ে যাবে); হা-মিম-আইন-সিন-কাফ (সূরা আশ-শূরা)-এ: (অতঃপর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, তবে তোমার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন); আল-হাদিদ সূরায়: (যাতে আহলে কিতাবগণ জানতে পারে যে, আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর তাদের কোনো অধিকার নেই এবং নিশ্চয়ই সমস্ত অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন; আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল); আল-মুদ্দাসসির সূরায়: (আর তারা উপদেশ গ্রহণ করবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন); 'হাল আতা আলাল ইনসান' (সূরা আল-ইনসান)-এ: (আর আল্লাহ ইচ্ছা না করলে তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়); এবং...
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
(إِذا الشَّمْس كورت وَمَا تشاؤن الا ان يَشَاء الله رب الْعَالمين) وَفِي الاعراف (وَمَا يكون لنا أَن نعود فِيهَا إِلَّا أَن يَشَاء الله رَبنَا وَفِي الانعام (وَلَا أَخَاف مَا تشركون بِهِ إِلَّا أَن يَشَاء رَبِّي شَيْئا وفيهَا (وَلَو أننا نزلنَا إِلَيْهِم الْمَلَائِكَة وكلمهم الْمَوْتَى وحشرنا عَلَيْهِم كل شَيْء قبلا مَا كَانُوا ليؤمنوا إِلَّا أَن يَشَاء الله وَلَكِن أَكْثَرهم يجهلون) وفيهَا (وَكَذَلِكَ جعلنَا لكل نَبِي عدوا شياطين الْإِنْس وَالْجِنّ يوحي بَعضهم إِلَى بعض زخرف القَوْل غرُورًا وَلَو شَاءَ رَبك مَا فَعَلُوهُ فذرهم وَمَا يفترون وفيهَا (قل فَللَّه الْحجَّة الْبَالِغَة فَلَو شَاءَ لهداكم أَجْمَعِينَ وَفِي الاعراف (قل لَا أملك لنَفْسي نفعا وَلَا ضرا إِلَّا مَا شَاءَ الله وَفِي يُونُس (قل لَا أملك لنَفْسي ضرا وَلَا نفعا إِلَّا مَا شَاءَ الله وفيهَا (قل لَو شَاءَ الله مَا تلوته عَلَيْكُم وَلَا أدراكم بِهِ فقد لَبِثت فِيكُم عمرا من قبله أَفلا تعقلون

 

‌‌الْفَصْل الثَّانِي فِي تَفْسِير هَذِه الْآيَات وَمَا أشكل فِيهَا من الْكَلِمَات

قَوْله (يُرِيد الله أَلا يَجْعَل لَهُم حظا فِي الْآخِرَة أَي نَصِيبا فِي ثَوَاب الْآخِرَة فَلذَلِك خذلهم حَتَّى سارعوا فِي الْكفْر

قَوْله (وَإِذ قُلْنَا لَك إِن رَبك أحَاط بِالنَّاسِ أَي علما وَإِرَادَة فهم فِي قَبضته لَا يقدرُونَ على الْخُرُوج من مَشِيئَته وإرادته وَهُوَ مانعك مِنْهُم وحافظك فَلَا تهبهم فِي تَبْلِيغ الرسَالَة وَلَا تخفهم فِي اقامة الدّلَالَة

وَقَوله (وَمن يرد الله فتنته أَي كفره وضلالته كَقَوْلِه (وقاتلوهم حَتَّى لَا تكون فتْنَة أَي كفر (فَلَنْ تملك لَهُ من الله شَيْئا فَلَا تقدر على نَفعه وَصرف الْكفْر وَدفعه قَوْله (فَمن يرد الله ان يهديه يشْرَح صَدره لِلْإِسْلَامِ) أَي يُوسع قلبه وينوره ليقبل الاسلام (وَمن يرد أَن يضله يَجْعَل صَدره ضيقا قرىء بتَخْفِيف الْيَاء
(যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে এবং তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না যদি না জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করেন) এবং আল-আ'রাফ-এ (রয়েছে): (আমাদের জন্য তাতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়, যদি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করেন) এবং আল-আনআম-এ (রয়েছে): (আর তোমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করো আমি তাদের ভয় করি না, তবে আমার প্রতিপালক যদি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন) এবং এতে আরও রয়েছে: (যদি আমি তাদের কাছে ফেরেশতাদের অবতীর্ণ করতাম এবং মৃতরা তাদের সাথে কথা বলত আর আমি সব কিছুকে তাদের সামনে সমবেত করতাম, তবুও তারা ঈমান আনত না; যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই অজ্ঞ) এবং এতে আরও রয়েছে: (আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, তারা ধোঁকা দেওয়ার জন্য একে অপরকে অলংকৃত কথার কুমন্ত্রণা দেয়। আর যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন তবে তারা তা করত না; সুতরাং তুমি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা অপবাদগুলোকে পরিত্যাগ করো) এবং এতে আরও রয়েছে: (বলো: চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই; তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই পথপ্রদর্শন করতেন) এবং আল-আ'রাফ-এ (রয়েছে): (বলো: আমি আমার নিজের কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণের মালিক নই, তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন) এবং ইউনুস-এ (রয়েছে): (বলো: আমি আমার নিজের কোনো অকল্যাণ বা কল্যাণের মালিক নই, তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন) এবং এতে আরও রয়েছে: (বলো: আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমি এটি তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনিও তোমাদেরকে এটি জানাতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মধ্যে জীবনের এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি; তবুও কি তোমরা বুঝতে পারো না?)

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা এবং এতে যে সকল শব্দ অস্পষ্ট বা জটিল মনে হতে পারে সে প্রসঙ্গে

তাঁর বাণী: (আল্লাহ ইচ্ছা করেন যে পরকালে তাদের জন্য কোনো অংশ রাখবেন না) অর্থাৎ পরকালের সওয়াবের ক্ষেত্রে কোনো অংশ রাখবেন না। এই কারণেই তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত ও অসহায় ছেড়ে দিয়েছেন, ফলে তারা কুফরির দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছে।

তাঁর বাণী: (আর যখন আমি তোমাকে বলেছিলাম যে, তোমার প্রতিপালক মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন) অর্থাৎ জ্ঞান এবং ইচ্ছার দ্বারা। সুতরাং তারা তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন, তারা তাঁর অভিপ্রায় ও ইচ্ছার বাইরে যেতে সক্ষম নয়। তিনি তোমাকে তাদের থেকে রক্ষাকারী এবং তোমার হিফাজতকারী; অতএব রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তুমি তাদেরকে ভয় পেয়ো না এবং প্রমাণাদি উপস্থাপনের সময় তাদের কারণে ভীত হয়ো না।

এবং তাঁর বাণী: (আর আল্লাহ যার বিভ্রান্তি ইচ্ছা করেন) অর্থাৎ তার কুফরি ও পথভ্রষ্টতা; যেমন তাঁর এই বাণী: (আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা অবশিষ্ট থাকে) অর্থাৎ কুফর। (তবে তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য কোনো কিছুরই মালিক হবে না) অর্থাৎ তুমি তাকে উপকার করতে এবং তার কুফরি সরিয়ে দিতে বা প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না।

তাঁর বাণী: (সুতরাং আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিতে ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন) অর্থাৎ তার অন্তরকে প্রশস্ত করেন এবং তাকে আলোকিত করেন যেন সে ইসলাম গ্রহণ করে। (আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করতে ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে সংকীর্ণ করে দেন), এটি 'ইয়া' (ي) বর্ণটি তশদীদহীন হালকা উচ্চারণেও পঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَتَشْديد هاؤهما بِمَعْنى وَاحِد يعْنى يَجْعَل قلبه ضيقا حَتَّى لَا يدْخلهُ الايمان كانما يصعد قرىء يصعد ويصاعد

ويصعد يَعْنِي يشق عَلَيْهِ الايمان وَيمْتَنع ويضيق عَنهُ قلبه ويصعب عَلَيْهِ الايمان كَمَا يصعب صعُود السَّمَاء على الانسان (كَذَلِك يَجْعَل الله الرجس أَي الْعَذَاب وَقيل أَي الشَّيْطَان وَقيل يُسَلط الشَّيْطَان على اهل الطغيان

وَقَوله (فَلَا تعجبك أَمْوَالهم وَلَا أَوْلَادهم إِنَّمَا يُرِيد الله ليعذبهم بهَا فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا تَقْدِيره فَلَا تعجبك اموالهم وَلَا اولادهم فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا انما يُرِيد الله ليعذبهم بهَا فِي الْآخِرَة وَقيل ليعذبهم فِي الدُّنْيَا باخذ الزَّكَاة وَالصَّدَََقَة والمؤنة وَالنَّفقَة وَكَثْرَة المصائب والتعب والنوائب وتزهق أنفسهم تخرج أَرْوَاحهم على الْكفْر والنفاق والشقاق قَوْله (وَإِن يمسسك الله بضر أَي يصبك الله ببلاء وَشدَّة (فَلَا كاشف لَهُ فَلَا دَافع لَهُ (إِلَّا هُوَ وَإِن يردك بِخَير) برخاء ونعمة (فَلَا راد لفضله) فَلَا مَانع لرزقه (يُصِيب بِهِ بِكُل وَاحِد من الْخَيْر وَالشَّر والنفع والضر (من يَشَاء من عباده وَهُوَ الغفور الرَّحِيم) قَوْله (وَلَو شَاءَ الله لجعلكم أمة وَاحِدَة على مِلَّة وَاحِدَة وَهِي مِلَّة الاسلام (وَلَكِن ليَبْلُوكُمْ) ليختبركم وَهُوَ اعْلَم فِيمَا آتَاكُم من الْكتب وَبَين لكم من الْملَل ليظْهر الْمُطِيع من العَاصِي والقريب من القَاضِي فاستبقوا الْخيرَات فبادروا الى الطَّاعَات وسارعوا الى الْأَعْمَال الصَّالِحَات

قَوْله (وَلَا يزالون مُخْتَلفين) على أَدْيَان شَتَّى (إِلَّا من رحم رَبك فهداهم (وَلذَلِك خلقهمْ) وللاختلاف خلقهمْ وَقيل للرحمة خلقهمْ وَقيل لَهما

قَوْله (أفلم ييأس الَّذين آمنُوا) أَي أفلم يعلم الخ (أَن لَو يَشَاء الله لهدى النَّاس جَمِيعًا

قَوْله (وعَلى الله قصد السَّبِيل يَعْنِي عَلَيْهِ بَيَان طَرِيق الْحق (وَمِنْهَا جَائِر) وَمن السَّبِيل جَائِر عَن الاسْتقَامَة (وَلَو شَاءَ لهداكم أَجْمَعِينَ وَقَوله (لِئَلَّا يعلم أهل الْكتاب أَلا
এবং উভয়ের 'হা' (هاء) বর্ণের তাশদীদ (تشديد) বা দ্বিত্ব হওয়া একই অর্থ প্রকাশ করে। অর্থাৎ, তিনি তার অন্তরকে এমন সংকীর্ণ করে দেন যাতে তাতে ঈমান প্রবেশ করতে না পারে, যেন সে আরোহণ করছে। এটি 'ইয়াছআদু' (يصعد) এবং 'ইয়াছ-ছাআদু' (يصاعد) হিসেবেও পঠিত হয়েছে।

এবং 'ইয়াছ-ছাআদু' (يصعد) এর অর্থ হলো তার নিকট ঈমান গ্রহণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে, সে তা থেকে বিরত থাকে এবং তার অন্তর এর জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়। তার জন্য ঈমান আনা তেমনি কঠিন হয়ে পড়ে যেমন মানুষের জন্য আকাশে আরোহণ করা কঠিন। (এভাবেই আল্লাহ অপবিত্রতা (الرجس) অর্থাৎ আজাব (العذاب) চাপিয়ে দেন। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ শয়তান (الشيطان); আবার কেউ কেউ বলেছেন, তিনি অবাধ্যদের ওপর শয়তানকে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ দেন।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহ কেবল এগুলোর মাধ্যমেই তাদের পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান)। এর নিহিতার্থ হলো: তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন এই পার্থিব জীবনে আপনাকে বিস্মিত না করে, বরং আল্লাহ তো কেবল এগুলোর কারণেই পরকালে তাদের শাস্তি দিতে চান। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো দুনিয়াতে যাকাত (الزكاة), সদকা (الصدقة), ব্যয়ভার (المؤنة), ভরণপোষণ (النفقة) এবং বিপদের আধিক্য, ক্লান্তি ও মুসিবত (النوائب) বা দুর্দশার মাধ্যমে তাদের শাস্তি দেওয়া। (এবং তাদের প্রাণ নির্গত হবে) অর্থাৎ কুফরি (الكفر), নিফাক (النفاق) ও বিরোধের (الشقاق) ওপর থাকাবস্থায় তাদের আত্মা দেহত্যাগ করবে। মহান আল্লাহর বাণী: (আর যদি আল্লাহ আপনাকে কোনো অনিষ্টের স্পর্শ দেন) অর্থাৎ আল্লাহ যদি আপনাকে কোনো বালা-মুসিবত (بلاء) বা কাঠিন্যের মাধ্যমে আক্রান্ত করেন, (তবে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই) অর্থাৎ তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই; (আর যদি তিনি আপনার জন্য কোনো কল্যাণ চান) অর্থাৎ সুখ ও নেয়ামত (نعمة) চান, (তবে তাঁর অনুগ্রহ রোধ করার মতো কেউ নেই) অর্থাৎ তাঁর প্রদত্ত রিজিক (الرزق) প্রতিহত করার কেউ নেই। (তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তা দিয়ে আক্রান্ত করেন) অর্থাৎ কল্যাণ, অকল্যাণ, উপকার ও অপকারের প্রত্যেকটির মাধ্যমেই যাকে ইচ্ছা পরীক্ষা করেন (এবং তিনি অতি ক্ষমাশীল (الغفور), পরম দয়ালু (الرحيم))। মহান আল্লাহর বাণী: (যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তোমাদের এক জাতিতে পরিণত করতে পারতেন) অর্থাৎ একই মিল্লাত বা আদর্শের অনুসারী করে দিতেন, আর তা হলো ইসলাম ধর্ম। (কিন্তু তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান) অর্থাৎ তোমাদের যাচাই করতে চান—অথচ তিনি এ বিষয়ে সম্যক অবগত—তোমাদের যা কিতাব প্রদান করেছেন এবং যেসব আদর্শ বর্ণনা করেছেন তার মাধ্যমে; যাতে অনুগত (المطيع) ও অবাধ্যের (العاصي) মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ পায়। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো অর্থাৎ আনুগত্যে অগ্রণী হও এবং নেক আমল সম্পাদনে সচেষ্ট হও।

আল্লাহর বাণী: (আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে) বিভিন্ন ধর্মাদর্শ নিয়ে। (কিন্তু আপনার প্রতিপালক যাঁদের প্রতি রহমত করেছেন তারা ব্যতীত), অর্থাৎ যাদের তিনি হেদায়েত দান করেছেন। (এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ এই মতভেদের জন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন; আবার কেউ বলেছেন, রহমতের জন্য তাদের সৃষ্টি করেছেন; আবার কেউ বলেছেন, উভয় উদ্দেশ্যেই।

আল্লাহর বাণী: (তবে ঈমানদাররা কি জানেন না/নিরাশ হননি) অর্থাৎ তারা কি অবগত হননি যে, (যদি আল্লাহ চাইতেন তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতেন)।

আল্লাহর বাণী: (আর সরল পথ প্রদর্শন আল্লাহরই দায়িত্ব) অর্থাৎ সত্য পথ স্পষ্ট করে দেওয়া তাঁরই কাজ। (কিন্তু পথগুলোর মধ্যে কিছু আছে বক্র) অর্থাৎ কিছু পথ সঠিক পথ বা ইস্তিকামাত (الاستقامة) থেকে বিচ্যুত। (আর তিনি যদি চাইতেন তবে তোমাদের সবাইকেই হেদায়েত করতেন)। এবং তাঁর বাণী: (যাতে আহলে কিতাবরা জানতে পারে যে...)
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
يقدرُونَ على شَيْء من فضل الله تَقْدِيره ان الْحَال والشان أَنهم لَا يقدرُونَ على شَيْء من فضل الله قَوْله (وكلمهم الْمَوْتَى) فَشَهِدُوا لَك بِالنُّبُوَّةِ (وحشرنا عَلَيْهِم كل شَيْء قبلا أَي مُعَاينَة وقبلا أَي ضمناء وكفلاء فوجا فوجا (مَا كَانُوا ليؤمنوا إِلَّا أَن يَشَاء الله) قَوْله (وَكَذَلِكَ جعلنَا لكل نَبِي عدوا أَي أَعدَاء شياطين الانس وَالْجِنّ والشيطان العاتي المتمرد من كل شَيْء (يوحي بَعضهم إِلَى بعض) أَي يلقِي (زخرف القَوْل غرُورًا وَهُوَ القَوْل المموه بِالْبَاطِلِ (وَلَو شَاءَ رَبك مَا فَعَلُوهُ

 

‌‌الْفَصْل الثَّالِث نفي الله الْهِدَايَة فِي عشْرين موضعا

مِنْهَا فِي ثَلَاثَة مَوَاضِع (الله لَا يهدي الْقَوْم الْكَافرين) وَفِي سَبْعَة مَوَاضِع (الله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين وَفِي ثَلَاثَة مَوَاضِع (الله لَا يهدي الْقَوْم الْفَاسِقين وَالْبَاقِي فِي عِبَارَات مُخْتَلفَة فِي الْبَقَرَة (وَالله لَا يهدي الْقَوْم الْكَافرين) وَفِي التَّوْبَة (زين لَهُم سوء أَعْمَالهم وَالله لَا يهدي الْقَوْم الْكَافرين وَفِي النَّحْل (وَأَن الله لَا يهدي الْقَوْم الْكَافرين وَفِي الانعام (إِن الله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين وَفِي التَّوْبَة (وَالله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين وفيهَا (وَالله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين) وَفِي آل عمرَان (وَالله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين وَفِي الْقَصَص (وَمن أضلّ مِمَّن اتبع هَوَاهُ بِغَيْر هدى من الله إِن الله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين) وَفِي الصَّفّ (وَالله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين وَفِي الْجُمُعَة (وَالله لَا يهدي الْقَوْم الظَّالِمين وَفِي التَّوْبَة (وَالله لَا يهدي الْقَوْم الْفَاسِقين) وفيهَا (وَالله لَا يهدي الْقَوْم الْفَاسِقين وَفِي الْمُنَافِقين (إِن الله لَا يهدي الْقَوْم الْفَاسِقين وَفِي آل عمرَان (كَيفَ يهدي الله قوما
তারা আল্লাহর অনুগ্রহের কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতা রাখে না—অর্থাৎ প্রকৃত অবস্থা ও বিষয় এই যে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহের কোনো কিছুর ওপরই সক্ষম নয়। তাঁর বাণী (এবং মৃতরা তাদের সাথে কথা বলত) অর্থাৎ তারা আপনার নবুওয়তের সাক্ষ্য দিত। (এবং আমি তাদের সামনে প্রতিটি বস্তুকে সমবেত করতাম 'কুবুলা' হিসেবে) অর্থাৎ প্রত্যক্ষভাবে; আর 'কুবুলা' অর্থ জামিনদার ও জিম্মাদার হিসেবে, দলে দলে। (আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তারা বিশ্বাস স্থাপন করার ছিল না)। তাঁর বাণী (এবং এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য শত্রু নির্ধারণ করেছি) অর্থাৎ মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু হিসেবে; আর প্রতিটি সৃষ্টির মধ্য থেকে সেই শয়তান যে উদ্ধত ও বিদ্রোহী। (তারা একে অপরের প্রতি প্ররোচনা দেয়) অর্থাৎ নিক্ষেপ করে (প্রতারণার ছলে চাকচিক্যময় কথা), আর তা হলো মিথ্যা দিয়ে সুশোভিত কথা। (আর আপনার পালনকর্তা ইচ্ছা করলে তারা তা করত না)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা বিশটি স্থানে হিদায়াত নাকচ করেছেন

তার মধ্যে তিনটি স্থানে রয়েছে (আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); সাতটি স্থানে রয়েছে (আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); এবং তিনটি স্থানে রয়েছে (আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না)। আর অবশিষ্টগুলো বিভিন্ন অভিব্যক্তিতে এসেছে। আল-বাকারাহ সূরায় (আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আত-তাওবাহ সূরায় (তাদের মন্দ আমলগুলো তাদের নিকট শোভনীয় করা হয়েছে, আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আন-নাহল সূরায় (আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আল-আনআম সূরায় (নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আত-তাওবাহ সূরায় (আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); এবং তাতে আরও রয়েছে (আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আলে ইমরান সূরায় (আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আল-কাসাস সূরায় (আর সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট কে হতে পারে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত ছাড়াই নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আস-সাফ সূরায় (আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আল-জুমুআহ সূরায় (আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আত-তাওবাহ সূরায় (আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); এবং তাতে আরও রয়েছে (আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); আল-মুনাফিকুন সূরায় (নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না); এবং আলে ইমরান সূরায় (আল্লাহ কীভাবে সেই সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করবেন যারা...
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
كفرُوا بعد إِيمَانهم وَفِي النِّسَاء (لم يكن الله ليغفر لَهُم وَلَا ليهديهم سَبِيلا وَفِي النَّحْل (إِن تحرص على هدَاهُم فَإِن الله لَا يهدي من يضل وَمَا لَهُم من ناصرين وفيهَا (الَّذين لَا يُؤمنُونَ بآيَات الله لَا يهْدِيهم الله وَلَهُم عَذَاب أَلِيم) وَفِي الزمر (إِن الله لَا يهدي من هُوَ كَاذِب كفار وَفِي الاعراف (وَمَا كُنَّا لنهتدي لَوْلَا أَن هدَانَا الله وَفِي ابراهيم (قَالُوا لَو هدَانَا الله لهديناكم

 

‌‌الْفَصْل الرَّابِع فِي اثبات الضَّلَالَة

أثبت الله الاضلال فِي اثْنَيْنِ وَثَلَاثِينَ موضعا فِي الْبَقَرَة (يضل بِهِ كثيرا وَيهْدِي بِهِ كثيرا وفيهَا (وَمَا يضل بِهِ إِلَّا الْفَاسِقين وَفِي النِّسَاء (أتريدون أَن تهدوا من أضلّ الله وَمن يضلل الله فَلَنْ تَجِد لَهُ سَبِيلا) وفيهَا (وَمن يضلل الله فَلَنْ تَجِد لَهُ سَبِيلا وَفِي الانعام (من يشإ الله يضلله وَمن يَشَأْ يَجعله على صِرَاط مُسْتَقِيم وفيهَا (وَمن يرد أَن يضله يَجْعَل صَدره ضيقا حرجا وَفِي الاعراف (فريقا هدى وفريقا حق عَلَيْهِم الضَّلَالَة وفيهَا (إِن هِيَ إِلَّا فتنتك تضل بهَا من تشَاء وتهدي من تشَاء وفيهَا (من يهد الله فَهُوَ الْمُهْتَدي وَمن يضلل فَأُولَئِك هم الخاسرون) وفيهَا (من يضلل الله فَلَا هادي لَهُ ويذرهم فِي طغيانهم يعمهون وَفِي الرَّعْد (قل إِن الله يضل من يَشَاء وَيهْدِي إِلَيْهِ من أناب) وفيهَا (وَمن يضلل الله فَمَا لَهُ من هاد) وَفِي ابراهيم (فيضل الله من يَشَاء وَيهْدِي من يَشَاء وَهُوَ الْعَزِيز الْحَكِيم وفيهَا (ويضل الله الظَّالِمين وَيفْعل الله مَا يَشَاء وَفِي النَّحْل (فَمنهمْ من هدى الله وَمِنْهُم من حقت عَلَيْهِ الضَّلَالَة وفيهَا (فَإِن الله لَا يهدي من يضل وفيهَا (وَلَكِن يضل من يَشَاء وَفِي بني إِسْرَائِيل
...যারা তাদের ঈমান আনার পর কুফরী করেছে। এবং সূরা আন-নিসায় (রয়েছে): (আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথপ্রদর্শন করবেন না)। এবং সূরা আন-নাহলে (রয়েছে): (আপনি যদি তাদের হেদায়েতের জন্য লালায়িত হন, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট (يضل) করেন তাকে তিনি হেদায়েত দান করেন না এবং তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে ঈমান আনে না, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি)। এবং সূরা আজ-জুমারে (রয়েছে): (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করেন না, যে মিথ্যাবাদী (كاذب) ও চরম কাফির (كفار))। এবং সূরা আল-আরাফে (রয়েছে): (আমরা কখনোই হেদায়েতপ্রাপ্ত হতাম না, যদি না আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দান করতেন)। এবং সূরা ইবরাহিমে (রয়েছে): (তারা বলবে, যদি আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দিতেন তবে আমরাও তোমাদের হেদায়েত দিতাম)।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পথভ্রষ্টতা (الضلالة) সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে

আল্লাহ তাআলা বত্রিশটি স্থানে পথভ্রষ্ট করা (الاضلال) সাব্যস্ত করেছেন। সূরা আল-বাকারায় (রয়েছে): (তিনি এর দ্বারা অনেককে পথভ্রষ্ট (يضل) করেন এবং অনেককে হেদায়েত দান করেন)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (আর তিনি এর দ্বারা কেবল ফাসেকদেরই (الفاسقين) পথভ্রষ্ট করেন)। এবং সূরা আন-নিসায় (রয়েছে): (তোমরা কি তাকে হেদায়েত দিতে চাও যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট (أضل) করেছেন? আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট (يضلل) করেন, তুমি কখনো তার জন্য কোনো পথ পাবে না)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট (يضلل) করেন, তুমি কখনো তার জন্য কোনো পথ পাবে না)। এবং সূরা আল-আনআমে (রয়েছে): (আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট (يضلله) করেন এবং যাকে ইচ্ছা তাকে সরল পথে পরিচালিত করেন)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট (يضله) করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে অতিশয় সংকীর্ণ ও সংকুচিত করে দেন)। এবং সূরা আল-আরাফে (রয়েছে): (একদলকে তিনি হেদায়েত দিয়েছেন এবং অন্যদলের ওপর পথভ্রষ্টতা (الضلالة) অবধারিত হয়েছে)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (এটি আপনার পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয়; এর মাধ্যমে আপনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট (تضل) করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন সে-ই হেদায়েতপ্রাপ্ত, আর যাদের তিনি পথভ্রষ্ট (يضلل) করেন তারাই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট (يضلل) করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই এবং তিনি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেন)। এবং সূরা আর-রাদে (রয়েছে): (বলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট (يضل) করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি নিজের দিকে হেদায়েত দান করেন)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট (يضلل) করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই)। এবং সূরা ইবরাহিমে (রয়েছে): (অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট (فيضل) করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন, আর তিনি মহাপরাক্রান্ত, মহাপ্রজ্ঞাবান)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (আর আল্লাহ জালেমদের পথভ্রষ্ট (ويضل) করেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন)। এবং সূরা আন-নাহলে (রয়েছে): (অতঃপর তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল যাকে আল্লাহ হেদায়েত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল যার ওপর পথভ্রষ্টতা (الضلالة) অবধারিত হয়েছিল)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করেন না যাকে তিনি পথভ্রষ্ট (يضل) করেন)। এবং তাতে আরও রয়েছে: (কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট (يضل) করেন)। এবং সূরা বনী ইসরাঈলে...
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
(وَمن يهد الله فَهُوَ المهتد وَمن يضلل فَلَنْ تَجِد لَهُم أَوْلِيَاء من دونه) وَفِي الْكَهْف (من يهد الله فَهُوَ المهتد وَمن يضلل فَلَنْ تَجِد لَهُ وليا مرشدا وَفِي الرّوم (فَمن يهدي من أضلّ الله وَمَا لَهُم من ناصرين وَفِي الْمَلَائِكَة (أَفَمَن زين لَهُ سوء عمله فَرَآهُ حسنا فَإِن الله يضل من يَشَاء وَيهْدِي من يَشَاء وَفِي التَّوْبَة (وَمَا كَانَ الله ليضل قوما بعد إِذْ هدَاهُم حَتَّى يبين لَهُم مَا يَتَّقُونَ) وَفِي الزمر (ذَلِك هدى الله يهدي بِهِ من يَشَاء وَمن يضلل الله فَمَا لَهُ من هاد وفيهَا ويخوفونك بالذين من دونه وَمن يضلل الله فَمَا لَهُ من هاد وَمن يهد الله فَمَا لَهُ من مضل أَلَيْسَ الله بعزيز ذِي انتقام وَفِي حم الْمُؤمن (وَمن يضلل الله فَمَا لَهُ من هاد وفيهَا (كَذَلِك يضل الله من هُوَ مُسْرِف مرتاب وفيهَا (كَذَلِك يضل الله الْكَافرين وَفِي حمعسق (وَمن يضلل الله فَمَا لَهُ من ولي من بعده وَمن يضلل الله فَمَا لَهُ من سَبِيل أَفَرَأَيْت من اتخذ إلهه هَوَاهُ وأضله الله على علم وَختم على سَمعه وَقَلبه وَجعل على بَصَره غشاوة فَمن يهديه من بعد الله أَفلا تذكرُونَ) وَفِي المدثر (كَذَلِك يضل الله من يَشَاء وَيهْدِي من يَشَاء

 

‌‌الْفَصْل الْخَامِس فِي تقلب الْقُلُوب

وَذَلِكَ فِي سِتَّة وَثَلَاثِينَ موضعا فِي الْبَقَرَة (ختم الله على قُلُوبهم وعَلى سمعهم وعَلى أَبْصَارهم غشاوة وَلَهُم عَذَاب عَظِيم وَفِي آل عمرَان (رَبنَا لَا تزغ قُلُوبنَا بعد إِذْ هديتنا وَفِي الْمَائِدَة (وَجَعَلنَا قُلُوبهم قاسية وَفِي النِّسَاء (وَقَوْلهمْ قُلُوبنَا غلف بل طبع الله عَلَيْهَا بكفرهم فَلَا يُؤمنُونَ إِلَّا قَلِيلا وَفِي الانعام (وَمِنْهُم من يستمع إِلَيْك وَجَعَلنَا على قُلُوبهم أكنة أَن يفقهوه وَفِي آذانهم وقرا وَإِن يرَوا كل آيَة لَا يُؤمنُوا بهَا وفيهَا (قل أَرَأَيْتُم إِن
(যাকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেন, সেই পথপ্রাপ্ত; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাদের জন্য তিনি ব্যতীত কোনো অভিভাবক পাবেন না) এবং কাহাফ (সুরা)-এ রয়েছে (যাকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেন, সেই পথপ্রাপ্ত; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না) এবং রুম (সুরা)-এ (আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তাকে কে পথ দেখাবে? আর তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই) এবং মালাইকাহ (সুরা ফাতির)-এ (যাকে তার মন্দ আমল শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে এবং সে একে উত্তম মনে করে [সে কি তার সমান যে সৎপথ প্রাপ্ত?]; নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন) এবং তাওবাহ (সুরা)-এ (আল্লাহ কোনো কওমকে হেদায়েত দানের পর ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট করেন না, যতক্ষণ না তাদের জন্য যা পরিহার করা উচিত তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন) এবং যুমার (সুরা)-এ (এ হলো আল্লাহর পথনির্দেশ, তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন; আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই) এবং এতেই রয়েছে (তারা আপনাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের ভয় দেখায়; আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আল্লাহ কি মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?) এবং হা-মিম মুমিন (সুরা গাফির)-এ (আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই) এবং এতেই (এভাবেই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী ও সংশয়বাদীকে পথভ্রষ্ট করেন) এবং এতেই (এভাবেই আল্লাহ কাফেরদের পথভ্রষ্ট করেন) এবং হা-মিম-আইন-সিন-কাফ (সুরা শূরা)-এ (আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, এরপর তার কোনো অভিভাবক নেই। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথ নেই। আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে? আল্লাহ তাকে জেনেশুনেই পথভ্রষ্ট করেছেন এবং তার কর্ণ ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চোখের ওপর রেখেছেন আবরণ। আল্লাহর পর কে তাকে পথপ্রদর্শন করবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?) এবং মুদ্দাসসির (সুরা)-এ (এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন)

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অন্তরের পরিবর্তন প্রসঙ্গে

আর এটি ছত্রিশটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে। বাকারা (সুরা)-এ (আল্লাহ তাদের অন্তরে ও তাদের শ্রবণে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর রয়েছে আবরণ; আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি) এবং আলে ইমরান (সুরা)-এ (হে আমাদের রব, আমাদের হেদায়েত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যবিচ্যুত করবেন না) এবং মায়িদা (সুরা)-এ (এবং আমি তাদের অন্তরসমূহকে কঠোর করে দিয়েছি) এবং নিসা (সুরা)-এ (এবং তাদের এই উক্তির কারণে যে, আমাদের অন্তরসমূহ আবৃত; বরং তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাতে মোহর মেরে দিয়েছেন, তাই তারা অল্প সংখ্যক ব্যতীত ঈমান আনে না) এবং আনআম (সুরা)-এ (তাদের মধ্যে কেউ কেউ আপনার প্রতি কর্ণপাত করে, কিন্তু আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি যাতে তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে বধিরতা দিয়েছি; আর তারা সকল নিদর্শন দেখলেও তাতে ঈমান আনবে না) এবং এতেই রয়েছে (বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে, যদি [আল্লাহ তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন...])
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
أَخذ الله سمعكم وأبصاركم وَختم على قُلُوبكُمْ من إِلَه غير الله يأتيكم بِهِ) وفيهَا (ونقلب أفئدتهم وأبصارهم كَمَا لم يُؤمنُوا بِهِ أول مرّة ونذرهم فِي طغيانهم يعمهون) وَفِي الاعراف (ونطبع على قُلُوبهم فهم لَا يسمعُونَ وفيهَا (كَذَلِك يطبع الله على قُلُوب الْكَافرين وَفِي التَّوْبَة (وطبع على قُلُوبهم فهم لَا يفقهُونَ وفيهَا (وطبع الله على قُلُوبهم فهم لَا يعلمُونَ) وَفِي آل عمرَان (ليجعل الله ذَلِك حسرة فِي قُلُوبهم وفيهَا (سنلقي فِي قُلُوب الَّذين كفرُوا الرعب) وَفِي الانفال (سألقي فِي قُلُوب الَّذين كفرُوا الرعب) وَفِي يُونُس (وَاشْدُدْ على قُلُوبهم وَفِي الاحزاب (وَقذف فِي قُلُوبهم الرعب وَفِي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم (أم على قُلُوب أقفالها وَفِي الْحَدِيد (وَجَعَلنَا فِي قُلُوب الَّذين اتَّبعُوهُ رأفة وَرَحْمَة) وَفِي الْحَشْر (وَلَا تجْعَل فِي قُلُوبنَا غلا وَفِي يُونُس (فَمَا كَانُوا ليؤمنوا بِمَا كذبُوا بِهِ من قبل كَذَلِك نطبع على قُلُوب الْمُعْتَدِينَ وَفِي النَّحْل (أُولَئِكَ الَّذين طبع الله على قُلُوبهم وسمعهم وأبصارهم) وَفِي بني اسرائيل (وَجَعَلنَا على قُلُوبهم أكنة أَن يفقهوه) الْآيَة وَفِي الْكَهْف (وَلَا تُطِع من أَغْفَلنَا قلبه عَن ذكرنَا وَفِي الانفال (يحول بَين الْمَرْء وَقَلبه وَفِي التَّوْبَة (صرف الله قُلُوبهم وَفِي الانعام (ولتصغى إِلَيْهِ أَفْئِدَة الَّذين لَا يُؤمنُونَ وَفِي الْكَهْف (إِنَّا جعلنَا على قُلُوبهم أكنة أَن يفقهوه وَفِي آذانهم وقرا وَإِن تَدعهُمْ إِلَى الْهدى فَلَنْ يهتدوا إِذا أبدا وَفِي الْحجر (كَذَلِك نسلكه فِي قُلُوب الْمُجْرمين لَا يُؤمنُونَ بِهِ وَفِي الصَّفّ (فَلَمَّا زاغوا أزاغ الله قُلُوبهم وَفِي الشُّعَرَاء (كَذَلِك سلكناه فِي قُلُوب الْمُجْرمين لَا يُؤمنُونَ بِهِ يَعْنِي ندخل الْكفْر فِي قُلُوبهم وَفِي الرّوم (كَذَلِك يطبع الله على قُلُوب الَّذين لَا يعلمُونَ) وَفِي حمم الْمُؤمن (كَذَلِك يطبع الله على كل قلب متكبر جَبَّار وَفِي حمعسق (فَإِن يَشَأْ الله

(আল্লাহ তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিলে এবং তোমাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দিলে আল্লাহ ছাড়া আর কে আছে যে তোমাদের তা ফিরিয়ে দেবে?) এবং তাতে আরও রয়েছে (আর আমি তাদের অন্তর ও দৃষ্টিসমূহকে পরিবর্তন করে দেব যেমন তারা এতে প্রথমবার ঈমান আনেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেব)। আর সূরা আল-আরাফে রয়েছে (আর আমি তাদের হৃদয়ে মোহর লাগিয়ে দেব, ফলে তারা শুনতে পাবে না) এবং তাতে আরও রয়েছে (এভাবেই আল্লাহ কাফিরদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন)। আর সূরা আত-তাওবায় রয়েছে (আর তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে, ফলে তারা বুঝতে পারে না) এবং তাতে আরও রয়েছে (আর আল্লাহ তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তারা জানে না)। আর সূরা আলে ইমরানে রয়েছে (যাতে আল্লাহ তাকে তাদের হৃদয়ে আক্ষেপের কারণ বানিয়ে দেন) এবং তাতে আরও রয়েছে (শীঘ্রই আমি কাফিরদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করব)। আর সূরা আল-আনফালে রয়েছে (আমি কাফিরদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করব)। আর সূরা ইউনুসে রয়েছে (এবং তাদের হৃদয়গুলোকে কঠোর করে দিন)। আর সূরা আল-আহজাবে রয়েছে (এবং তিনি তাদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করলেন)। আর সূরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ রয়েছে (নাকি তাদের হৃদয়ে তালা লাগানো রয়েছে?)। আর সূরা আল-হাদিদে রয়েছে (এবং যারা তার অনুসরণ করেছিল তাদের হৃদয়ে আমি মমতা ও করুণা সৃষ্টি করেছি)। আর সূরা আল-হাশরে রয়েছে (এবং আমাদের হৃদয়ে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না)। আর সূরা ইউনুসে রয়েছে (তারা আগে যা অস্বীকার করেছিল তাতে ঈমান আনার ছিল না; এভাবেই আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের হৃদয়ে মোহর মেরে দিই)। আর সূরা আন-নাহলে রয়েছে (তারাই তারা, যাদের হৃদয়ে, শ্রবণশক্তিতে ও দৃষ্টিশক্তিতে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন)। আর বনী ইসরাঈলে রয়েছে (এবং আমি তাদের হৃদয়ের ওপর আবরণ দিয়েছি যাতে তারা তা বুঝতে না পারে) আয়াত শেষ পর্যন্ত। আর সূরা আল-কাহফে রয়েছে (এবং আপনি তার অনুসরণ করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি)। আর সূরা আল-আনফালে রয়েছে (তিনি মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে যান)। আর সূরা আত-তাওবায় রয়েছে (আল্লাহ তাদের অন্তরকে সত্যবিমুখ করে দিয়েছেন)। আর সূরা আল-আনআমে রয়েছে (এবং যাতে যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সেদিকে ঝুঁকে পড়ে)। আর সূরা আল-কাহফে রয়েছে (নিশ্চয়ই আমি তাদের হৃদয়ের ওপর আবরণ দিয়েছি যাতে তারা তা বুঝতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা; আপনি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে ডাকলেও তারা কখনো হিদায়াত পাবে না)। আর সূরা আল-হিজরে রয়েছে (এভাবেই আমি অপরাধীদের হৃদয়ে এটি সঞ্চারিত করি; তারা এতে বিশ্বাস করবে না)। আর সূরা আস-সাফে রয়েছে (অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, আল্লাহ তাদের হৃদয়গুলোকে বক্র করে দিলেন)। আর সূরা আশ-শুআরায় রয়েছে (এভাবেই আমি অপরাধীদের হৃদয়ে তা সঞ্চারিত করেছি; তারা এতে বিশ্বাস করবে না) অর্থাৎ আমি তাদের হৃদয়ে কুফর প্রবেশ করিয়ে দিই। আর সূরা আর-রুমে রয়েছে (এভাবেই আল্লাহ জ্ঞানহীনদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন)। আর হামীম আল-মুমিনে (সূরা গাফির) রয়েছে (এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহঙ্কারী ও স্বৈরাচারীর হৃদয়ে মোহর মেরে দেন)। আর হা-মীম-আইন-সীন-কাফ-এ (সূরা আশ-শূরা) রয়েছে (অতঃপর আল্লাহ যদি চাইতেন...)

(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
يخْتم على قَلْبك وَفِي الجاثية (وَختم على سَمعه وَقَلبه) وَفِي سُورَة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم (أُولَئِكَ الَّذين طبع الله على قُلُوبهم) فالطبع هُوَ الْخَتْم

 

‌‌الْفَصْل السَّادِس فِي الاغواء والاغراء

وَذَلِكَ فِي عشرَة مَوَاضِع فِي الْمَائِدَة (فأغرينا بَينهم الْعَدَاوَة والبغضاء إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وفيهَا (وألقينا بَينهم الْعَدَاوَة والبغضاء إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَفِي الانعام (وَكَذَلِكَ جعلنَا لكل نَبِي عدوا شياطين الْإِنْس وَالْجِنّ وفيهَا (وَكَذَلِكَ جعلنَا فِي كل قَرْيَة أكَابِر مجرميها ليمكروا فِيهَا وفيهَا (وَكَذَلِكَ نولي بعض الظَّالِمين بَعْضًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ وَفِي الاعراف (قَالَ فبمَا أغويتني لأقعدن لَهُم صراطك الْمُسْتَقيم وَفِي هود (إِن كَانَ الله يُرِيد أَن يغويكم هُوَ ربكُم وَإِلَيْهِ ترجعون) وَفِي الْحجر (قَالَ رب بِمَا أغويتني لأزينن لَهُم فِي الأَرْض ولأغوينهم أَجْمَعِينَ) وَفِي الْفرْقَان (جعلنَا لكل نَبِي عدوا من الْمُجْرمين) وَفِي حم السَّجْدَة (وقيضنا لَهُم قرناء فزينوا لَهُم

 

‌‌الْفَصْل السَّابِع فِي الْكِتَابَة

وَذَلِكَ فِي خَمْسَة عشر موضعا فِي الانعام (وَلَا رطب وَلَا يَابِس إِلَّا فِي كتاب مُبين وَفِي الاعراف (أُولَئِكَ ينالهم نصِيبهم من الْكتاب) وَفِي الْأَنْفَال (لَوْلَا كتاب من الله سبق لمسكم فِيمَا أَخَذْتُم عَذَاب عَظِيم وَفِي يُونُس (وَمَا يعزب عَن رَبك من مِثْقَال ذرة فِي الأَرْض وَلَا فِي السَّمَاء وَلَا أَصْغَر من ذَلِك وَلَا أكبر إِلَّا فِي كتاب مُبين وَفِي هود (وَيعلم مستقرها ومستودعها كل فِي كتاب مُبين) وَفِي الرَّعْد (لكل أجل كتاب
তিনি আপনার হৃদয়ে মোহর মেরে দেন; সুরা আল-জাছিয়াতে রয়েছে (এবং তিনি তার শ্রবণ ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন) এবং সুরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এ রয়েছে (তারাই সে সকল লোক যাদের হৃদয়ে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন), সুতরাং তাবা‘ (طبع) হলো মোহর মারা (ختم)।

 

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: প্ররোচনা ও বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে

আর তা দশটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে; সুরা আল-মায়েদাহ-তে (ফলে আমি তাদের মধ্যে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ প্ররোচিত করেছি); এবং তাতে আরও রয়েছে (আর আমি তাদের মধ্যে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ নিক্ষেপ করেছি); সুরা আল-আনআম-এ (আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি); এবং তাতে আরও রয়েছে (আর এভাবেই আমি প্রত্যেক জনপদে তার অপরাধীদের মধ্য থেকে এক এক দলকে প্রধান করেছি যেন তারা সেখানে ষড়যন্ত্র করে); এবং তাতে আরও রয়েছে (আর এভাবেই আমি জালিমদের একজনকে অন্যজনের বন্ধু বানিয়ে দিই তাদের কৃতকর্মের কারণে); সুরা আল-আরাফ-এ (সে বলল, আপনি যেহেতু আমাকে বিভ্রান্ত করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব); সুরা হুদ-এ (যদি আল্লাহ তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান, তবে (আমার উপদেশ কোনো কাজে আসবে না); তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রতাবর্তিত হবে); সুরা আল-হিজর-এ (সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আপনি যেহেতু আমাকে বিভ্রান্ত করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই তাদের জন্য পৃথিবীতে (পাপকে) সুশোভিত করব এবং আমি তাদের সকলকেই বিভ্রান্ত করে ছাড়ব); সুরা আল-ফুরকান-এ (আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি); এবং সুরা হা-মীম আস-সাজদাহ-তে (আমি তাদের জন্য কিছু সহচর নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যারা তাদের নিকট সুশোভিত করেছিল...)

 

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: লিপিবদ্ধকরণ প্রসঙ্গে

আর তা পনেরোটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে; সুরা আল-আনআম-এ (এমন কোনো সিক্ত বা শুষ্ক বস্তু নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়); সুরা আল-আরাফ-এ (তারা কিতাবে লিখিত তাদের নির্ধারিত অংশ পেয়ে যাবে); সুরা আল-আনফাল-এ (যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত বিধান না থাকত, তবে তোমরা যা গ্রহণ করেছ সে বিষয়ে তোমাদের ওপর মহা আজাব আপতিত হতো); সুরা ইউনুস-এ (আপনার পালনকর্তার অগোচরে থাকে না অণু পরিমাণ কোনো বস্তুও—না পৃথিবীতে, না আসমানে; আর এর চেয়ে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর কিছুই নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়); সুরা হুদ-এ (তিনি সেগুলোর অবস্থানস্থল ও সংরক্ষণস্থল সম্পর্কে অবগত, সবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে রয়েছে); সুরা আর-রাদ-এ (প্রত্যেক নির্ধারিত সময়ের জন্য একটি লিপি/বিধান রয়েছে)
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
وَفِي التَّوْبَة (قل لن يصيبنا إِلَّا مَا كتب الله لنا هُوَ مَوْلَانَا) وَفِي الْحجر (وَمَا أهلكنا من قَرْيَة إِلَّا وَلها كتاب مَعْلُوم وَفِي بني اسرائيل (كَانَ ذَلِك فِي الْكتاب مسطورا وَفِي النَّمْل (وَمَا من غَائِبَة فِي السَّمَاء وَالْأَرْض إِلَّا فِي كتاب مُبين) وَفِي الْفرْقَان (كَانَ ذَلِك فِي الْكتاب مسطورا) وَفِي سبأ (لَا يعزب عَنهُ مِثْقَال ذرة فِي السَّمَاوَات وَلَا فِي الأَرْض وَلَا أَصْغَر من ذَلِك وَلَا أكبر إِلَّا فِي كتاب مُبين وَفِي يس (وكل شَيْء أحصيناه فِي إِمَام مُبين) وَفِي اقْتَرَبت السَّاعَة (وكل شَيْء فَعَلُوهُ فِي الزبر وكل صَغِير وكبير مستطر) وَفِي الْحَدِيد (مَا أصَاب من مُصِيبَة فِي الأَرْض وَلَا فِي أَنفسكُم إِلَّا فِي كتاب من قبل أَن نبرأها

 

‌‌الْفَصْل الثَّامِن فِي تَفْسِير هَذِه الْآيَات

قَوْله (وَلَا رطب وَلَا يَابِس إِلَّا فِي كتاب مُبين قيل لَا مَاء وَلَا بر وَقيل لِسَان الْمُؤمن رطب بِذكر الله ولسان الْكَافِر يَابِس لَا يَتَحَرَّك بِالذكر وَفِي الحَدِيث مَا من زرع على الارض وَلَا ثمار على الاشجار الا عَلَيْهَا مَكْتُوب بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رزق فلَان بن فلَان وَذَلِكَ قَوْله (وَمَا تسْقط من ورقة إِلَّا يعلمهَا وَلَا حَبَّة فِي ظلمات الأَرْض وَلَا رطب وَلَا يَابِس إِلَّا فِي كتاب مُبين) وَقَوله (أُولَئِكَ ينالهم نصِيبهم من الْكتاب أَي حظهم مِمَّا كتب لَهُم فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ أَي مَا سبق لَهُم من السَّعَادَة والشقاوة وَمَا كتب عَلَيْهِم من الْخَيْر وَالشَّر قَوْله (لَوْلَا كتاب من الله سبق لمسكم فِيمَا أَخَذْتُم عَذَاب عَظِيم) قَالَ ابْن عَبَّاس كَانَت الْغَنَائِم قبل النَّبِي صلى الله عليه وسلم حَرَامًا على الانبياء والامم وَكَانَ قد كتب فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ أَنَّهَا حَلَال لمُحَمد وامته فَلَمَّا كَانَ يَوْم بدر أخذوها أنزل الله عز وجل (لَوْلَا كتاب من الله
এবং সূরা আত-তাওবায় রয়েছে: (বলুন, 'আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া আমাদের আর কিছুই ঘটবে না, তিনিই আমাদের অভিভাবক।') এবং সূরা আল-হিজরে রয়েছে: (আর আমি কোনো জনপদকে ধ্বংস করিনি যার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়-লিপি নির্ধারিত ছিল না।) এবং সূরা বনী ইসরাঈলে (আল-ইসরা) রয়েছে: (তা কিতাবে লিপিবদ্ধ ছিল।) এবং সূরা আন-নামলে রয়েছে: (আসমান ও জমিনের এমন কোনো গোপন বিষয় নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।) এবং সূরা আল-ফুরকানে রয়েছে: (তা কিতাবে লিপিবদ্ধ ছিল।) এবং সূরা সাবায় রয়েছে: (আসমান ও জমিনে অণু পরিমাণ কিছু তাঁর অগোচর নয় এবং তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর কিছুই নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়।) এবং সূরা ইয়াসিনে রয়েছে: (আর আমি প্রত্যেক বিষয়কে এক সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করেছি।) এবং সূরা 'ইকতারাবতিস সাআহ' (আল-কামার)-এ রয়েছে: (এবং তারা যা কিছু করেছে তার সবকিছুই আমলনামায় রয়েছে। আর প্রত্যেক ছোট ও বড় কাজ লিপিবদ্ধ।) এবং সূরা আল-হাদিদে রয়েছে: (জমিনে অথবা তোমাদের নিজেদের ওপর এমন কোনো বিপদ আপতিত হয় না যা আমি তা সৃষ্টি করার পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ করিনি।)

 

‌‌অষ্টম পরিচ্ছেদ: এই আয়াতসমূহের তাফসীর প্রসঙ্গে

মহান আল্লাহর বাণী: (আর কোনো আর্দ্র বা শুষ্ক বস্তু নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে নেই)। বলা হয়েছে, এর অর্থ কোনো পানি নেই এবং কোনো স্থল নেই। আবার বলা হয়েছে, মুমিনের জবান আল্লাহর জিকিরে আর্দ্র থাকে এবং কাফেরের জবান শুষ্ক থাকে যা জিকিরের মাধ্যমে স্পন্দিত হয় না। এবং হাদিসে রয়েছে: জমিনের ওপর এমন কোনো শস্য নেই এবং গাছের ওপর এমন কোনো ফল নেই যার ওপর ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, এটি অমুকের পুত্র অমুকের রিজিক’—একথাটি লিখিত নেই। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীরই মর্মানুযায়ী: (এমন কোনো পাতা ঝরে না যা তিনি জানেন না, আর জমিনের অন্ধকারের মধ্যে এমন কোনো শস্যদানা নেই এবং কোনো আর্দ্র বা শুষ্ক বস্তু নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।) এবং তাঁর বাণী: (তাদের নিকট কিতাব থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ পৌঁছাবে)। অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে তাদের জন্য যা বরাদ্দ করা হয়েছে তা থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ; অর্থাৎ তাদের জন্য পূর্বেই সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য থেকে যা নির্ধারিত হয়েছে এবং তাদের জন্য কল্যাণ ও অকল্যাণ যা লিপিবদ্ধ হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: (যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ না থাকত, তবে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার জন্য তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হতো)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূর্বেকার নবীগণ এবং উম্মতদের জন্য গনিমতের মাল হারাম ছিল। আর লাওহে মাহফুজে পূর্বেই লিপিবদ্ধ ছিল যে, তা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর উম্মতের জন্য হালাল হবে। সুতরাং যখন বদরের দিন তাঁরা তা গ্রহণ করলেন, তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নাজিল করলেন: (যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ না থাকত...)
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
سبق لمسكم لنالكم وأصابكم (فِيمَا أَخَذْتُم) من الْغَنِيمَة وَالْفِدَاء (عَذَاب عَظِيم) قَوْله (وَمَا يعزب عَن رَبك قريء يعزب ويعزب أَي لَا يغيب وَلَا يبعد (من مِثْقَال ذرة) أَي مِثْقَال ذرة فِي الارض وَلَا فِي السَّمَاء وَلَا أَصْغَر من ذَلِك قرىء بِرَفْع الرائين وكسرهما اي لَا مِثْقَال أَصْغَر وَلَا اكبر الا فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ قَوْله (وَيعلم مستقرها حَيْثُ يأوي اليه (ومستودعها حَيْثُ يَمُوت (فِي كتاب مُبين ذَلِك مُثبت فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ قبل ان خلقهَا الله قَوْله (لكل أجل كتاب يَعْنِي لكل أَمر قَضَاهُ الله كتاب قد كتبه فَهُوَ عِنْده قَوْله (وكل شَيْء أحصيناه) أَي علمناه وعددناه وبيناه (فِي إِمَام مُبين وَهُوَ اللَّوْح الْمَحْفُوظ قَوْله (وكل شَيْء فَعَلُوهُ من خير اَوْ شَرّ (فِي الزبر) فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ (وكل صَغِير وكبير) مِنْهُم وَمن أَعْمَالهم مستطر مَكْتُوب وَقَوله (مَا أصَاب من مُصِيبَة فِي الأَرْض وَلَا فِي أَنفسكُم إِلَّا فِي كتاب) يَعْنِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ (من قبل أَن نبرأها من قبل ان نخلق السَّمَوَات والارض والانفس وَقيل من قبل ان نخلق الْمُصِيبَة

 

‌‌الْفَصْل التَّاسِع فِي الاذن

وَذَلِكَ فِي خَمْسَة مَوَاضِع فِي الْبَقَرَة (وَمَا هم بضارين بِهِ من أحد إِلَّا بِإِذن الله وَفِي آل عمرَان (وَمَا أَصَابَكُم يَوْم التقى الْجَمْعَانِ فبإذن الله وَفِي يُونُس (وَمَا كَانَ لنَفس أَن تؤمن إِلَّا بِإِذن الله وَفِي المجادلة (إِنَّمَا النَّجْوَى من الشَّيْطَان ليحزن الَّذين آمنُوا وَلَيْسَ بضارهم شَيْئا إِلَّا بِإِذن الله وَفِي التغابن (مَا أصَاب من مُصِيبَة إِلَّا بِإِذن الله

 

‌‌الْفَصْل الْعَاشِر فِي الْخلق

وَذَلِكَ فِي عشرَة مَوضِع فِي الانعام (وَخلق كل شَيْء وَهُوَ بِكُل شَيْء

পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা যদি না হতো, তবে তোমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনিমত) ও মুক্তিপণ হিসেবে যা গ্রহণ করেছ, তার কারণে তোমাদের ওপর মহাশাস্তি (عذاب عظيم) আপতিত হতো। আল্লাহর বাণী: (আর আপনার প্রতিপালকের অগোচরে থাকে না—এখানে ‘ইয়া’জুবু’ এবং ‘ইয়া’জিবু’ উভয় পাঠরীতিতে পঠিত হয়েছে); অর্থাৎ কোনো কিছুই তাঁর নিকট অনুপস্থিত থাকে না বা দূরে থাকে না। (অণু পরিমাণও নয়): অর্থাৎ জমিনে বা আসমানে অণু পরিমাণ কোনো বস্তু কিংবা তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর যা-ই হোক না কেন—এখানে ‘র’ বর্ণদ্বয়ে পেশ (রফা) এবং যের (কাসরা) উভয় যোগে দুটি পাঠরীতি রয়েছে। অর্থাৎ, অণু পরিমাণ ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর যাই হোক না কেন, তা লওহে মাহফুজ (সংরক্ষিত ফলক)-এ লিপিবদ্ধ থাকা ছাড়া নেই। আল্লাহর বাণী: (এবং তিনি জানেন তাদের অবস্থানস্থল): যেখানে তারা আশ্রয় গ্রহণ করে। (এবং তাদের সমর্পণস্থল): যেখানে তারা মৃত্যুবরণ করে। (সুস্পষ্ট কিতাবে): আল্লাহ তাআলা তাদের সৃষ্টি করার পূর্বেই তা লওহে মাহফুজে সাব্যস্ত (مثبت) করে রেখেছেন। আল্লাহর বাণী: (প্রত্যেক সময়ের জন্য নির্ধারিত কিতাব রয়েছে): অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা ফয়সালা করেছেন এমন প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি কিতাব রয়েছে যা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তা তাঁর নিকট সংরক্ষিত। আল্লাহর বাণী: (এবং আমি প্রতিটি বিষয়কে আয়ত্ত করেছি): অর্থাৎ আমি তা জানি, গণনা করেছি এবং সুস্পষ্ট করেছি। (এক সুস্পষ্ট কিতাবে): আর তা হলো লওহে মাহফুজ। আল্লাহর বাণী: (তারা ভালো বা মন্দ যা কিছু করেছে তার সবকিছুই আছে): (আমলনামায়/কিতাবে): অর্থাৎ লওহে মাহফুজে। (এবং প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়): তাদের এবং তাদের আমলসমূহের সবকিছুই লিপিবদ্ধ (مستطر)। আর আল্লাহর বাণী: (পৃথিবীতে বা তোমাদের নিজেদের ওপর এমন কোনো বিপদ আপতিত হয় না যা কিতাবে নেই): অর্থাৎ লওহে মাহফুজে। (তা সংঘটিত করার পূর্বেই): অর্থাৎ আসমানসমূহ, জমিন ও নফস সৃষ্টির পূর্বেই; মতান্তরে বিপদ সৃষ্টির পূর্বেই।

 

‌‌নবম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর অনুমতি প্রসঙ্গে

এটি পাঁচটি স্থানে রয়েছে। সূরা আল-বাকারায়: (আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা এর দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না)। সূরা আলে ইমরানে: (যেদিন দুই দল পরস্পর সম্মুখ সমরে লিপ্ত হয়েছিল, সেদিন তোমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা আল্লাহর অনুমতিতেই)। সূরা ইউনুসে: (আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ঈমান আনা কোনো ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়)। সূরা আল-মুজাদালায়: (গোপন পরামর্শ তো কেবল শয়তানের পক্ষ থেকে মুমিনদের দুঃখ দেওয়ার জন্য। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সে তাদের সামান্যতম ক্ষতিও করতে পারবে না)। সূরা আত-তাগাবুন-এ: (আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদ আপতিত হয় না)।

 

‌‌দশম পরিচ্ছেদ: সৃষ্টি প্রসঙ্গে

এটি দশটি স্থানে রয়েছে। সূরা আল-আনআমে: (তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ)।
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
عليم وَفِي الاعراف (وَلَقَد ذرأنا لِجَهَنَّم كثيرا من الْجِنّ وَالْإِنْس وَفِي الرَّعْد (قل الله خَالق كل شَيْء وَهُوَ الْوَاحِد القهار) وَفِي الْفرْقَان (وَخلق كل شَيْء فقدره تَقْديرا) وَفِي لُقْمَان (هَذَا خلق الله فأروني مَاذَا خلق الَّذين من دونه) وَفِي الْمَلَائِكَة (هَل من خَالق غير الله وَفِي الصافات (وَالله خَلقكُم وَمَا تَعْمَلُونَ وَفِي الزمر (الله خَالق كل شَيْء وَهُوَ على كل شَيْء وَكيل وَفِي حم الْمُؤمن (ذَلِكُم الله ربكُم خَالق كل شَيْء لَا إِلَه إِلَّا هُوَ) وَفِي الْملك (إِنَّه عليم بِذَات الصُّدُور أَلا يعلم من خلق وَهُوَ اللَّطِيف الْخَبِير)

 

‌‌الْفَصْل الْحَادِي عشر فِي الْقدر

وَذَلِكَ فِي سَبْعَة مَوَاضِع فِي الرَّعْد (وكل شَيْء عِنْده بِمِقْدَار وَفِي الْحجر (إِلَّا امْرَأَته قَدرنَا إِنَّهَا لمن الغابرين وَفِي الاحزاب (وَكَانَ أَمر الله قدرا مَقْدُورًا وَفِي اقْتَرَبت السَّاعَة (إِنَّا كل شَيْء خلقناه بِقدر وَفِي الطَّلَاق (قد جعل الله لكل شَيْء قدرا وَفِي الْفرْقَان (وَخلق كل شَيْء فقدره تَقْديرا

 

‌‌الْفَصْل الثَّانِي عشر فِي تَفْسِير هَذِه الْآيَات)

قَوْله (وكل شَيْء عِنْده بِمِقْدَار أَي بِحَدّ لَا يُجَاوِزهُ وَلَا يقصر عَنهُ الْمِقْدَار والمقدار مفعال من الْقدر قَوْله (إِلَّا امْرَأَته يعْنى سوى امْرَأَة لوط (قَدرنَا قضينا (إِنَّهَا لمن الغابرين) البَاقِينَ فِي الْعَذَاب قرىء قَدرنَا بِالتَّخْفِيفِ وَالتَّشْدِيد وَقَوله (وَكَانَ أَمر الله قدرا مَقْدُورًا يَعْنِي مَاضِيا كَائِنا وَقَوله (إِنَّا كل شَيْء خلقناه بِقدر) عَن ابْن عَبَّاس قَالَ خلق الله الْخلق كلهم بِقدر وَخلق لَهُم الْخَيْر وَالشَّر فَخير الْخَيْر السَّعَادَة وَشر الشَّرّ
সর্বজ্ঞ। এবং সূরা আল-আরাফে (রয়েছে): "আর অবশ্যই আমি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি।" সূরা আর-রা'দে (রয়েছে): "বলুন, আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি এক, মহাপরাক্রমশালী।" সূরা আল-ফুরকানে (রয়েছে): "যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করেছেন।" সূরা লোকমানে (রয়েছে): "এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি, সুতরাং তোমরা আমাকে দেখাও তিনি ব্যতীত অন্যরা কী সৃষ্টি করেছে।" সূরা আল-মালাইকায় (ফাতির): "আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো স্রষ্টা আছে কি?" সূরা আস-সাফফাতে (রয়েছে): "অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন।" সূরা আজ-জুমারে (রয়েছে): "আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর ওপর কর্মবিধায়ক।" সূরা হা-মীম আল-মুমিনে (গাফির): "সেই আল্লাহই তোমাদের প্রতিপালক, সকল কিছুর স্রষ্টা, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।" সূরা আল-মুলকে (রয়েছে): "নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।"

 

‌‌একাদশ অধ্যায়: তাকদির (القدر) প্রসঙ্গে

আর এটি সাতটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে; সূরা আর-রা'দে: "এবং তাঁর নিকট প্রত্যেক বস্তুরই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে।" সূরা আল-হিজরে: "তবে তার স্ত্রী ব্যতীত; আমি নির্ধারণ (قدرنا) করেছি যে সে অবশ্যই পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" সূরা আল-আহজাবে: "আর আল্লাহর আদেশ হচ্ছে সুনির্ধারিত তাকদির (قدرا مقدورا)।" সূরা ইকতারাবাত আস-সাআ'হ (আল-কামার)-এ: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি তাকদির (بقدر) অনুযায়ী।" সূরা আত-তালাকে: "আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাত্রা বা তাকদির (قدرا) নির্ধারণ করেছেন।" এবং সূরা আল-ফুরকানে: "যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করেছেন।"

 

‌‌দ্বাদশ অধ্যায়: এই আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে

তাঁর বাণী: "এবং তাঁর নিকট প্রত্যেক বস্তুরই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে", অর্থাৎ এমন এক সীমা যা সে অতিক্রম করে না এবং যা থেকে কমও হয় না। 'আল-মিকদার' শব্দটি 'আল-কদর' (القدر) থেকে 'মিফআল' ছাঁচে গঠিত। তাঁর বাণী: "তবে তার স্ত্রী ব্যতীত", অর্থাৎ লূত (আ.)-এর স্ত্রী ছাড়া। "আমি নির্ধারণ (قدرنا) করেছি" অর্থাৎ ফয়সালা করেছি। "সে অবশ্যই পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে", অর্থাৎ আজাবের মধ্যে যারা অবশিষ্ট রয়ে গেছে। 'কদ্বরনা' (قدرنا) শব্দটি তাশদিদ (দ্বিত্ব) এবং তাখফিফ (একক) উভয় পদ্ধতিতে পাঠ করা হয়েছে। তাঁর বাণী: "আর আল্লাহর আদেশ হচ্ছে সুনির্ধারিত তাকদির (قدرا مقدورا)", অর্থাৎ যা অতিবাহিত ও কার্যকর হওয়ার। তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি তাকদির (بقدر) অনুযায়ী", ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিজগতকে তাকদির (بقدر) অনুযায়ী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য কল্যাণ ও অকল্যাণ সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর কল্যাণের চূড়ান্ত হলো সৌভাগ্য এবং অকল্যাণের চূড়ান্ত হলো..."
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الشقاوة وَقَوله (قد جعل الله لكل شَيْء قدرا أَي حدا واجلا يَنْتَهِي اليه لَا يتقدمه وَلَا يتاخر عَنهُ

 

‌‌الْفَصْل الثَّالِث عشر فِي ان الْكل من الله وَلَيْسَ الى الْمَخْلُوق شَيْء

وَذَلِكَ فِي اربعين آيَة فِي آل عمرَان (لَيْسَ لَك من الْأَمر شَيْء وفيهَا (يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِين كفرُوا وَقَالُوا لإخوانهم إِذا ضربوا فِي الأَرْض أَو كَانُوا غزى لَو كَانُوا عندنَا مَا مَاتُوا وَمَا قتلوا ليجعل الله ذَلِك حسرة فِي قُلُوبهم) وفيهَا (إِن ينصركم الله فَلَا غَالب لكم وَإِن يخذلكم فَمن ذَا الَّذِي ينصركم من بعده وعَلى الله فَليَتَوَكَّل الْمُؤْمِنُونَ) وفيهَا (وليعلم الَّذين نافقوا وَقيل لَهُم تَعَالَوْا قَاتلُوا فِي سَبِيل الله أَو ادفعوا قَالُوا لَو نعلم قتالا لَاتَّبَعْنَاكُمْ هم للكفر يَوْمئِذٍ أقرب مِنْهُم للْإيمَان يَقُولُونَ بأفواههم مَا لَيْسَ فِي قُلُوبهم وَالله أعلم بِمَا يكتمون الَّذين قَالُوا لإخوانهم وقعدوا لَو أطاعونا مَا قتلوا قل فادرؤوا عَن أَنفسكُم الْمَوْت إِن كُنْتُم صَادِقين) وفيهَا (يَقُولُونَ لَو كَانَ لنا من الْأَمر شَيْء مَا قتلنَا هَا هُنَا قل لَو كُنْتُم فِي بُيُوتكُمْ لبرز الَّذين كتب عَلَيْهِم الْقَتْل إِلَى مضاجعهم) وفيهَا (إِنَّمَا نملي لَهُم ليزدادوا إِثْمًا وَلَهُم عَذَاب مهين وَفِي النِّسَاء (قل كل من عِنْد الله وفيهَا (وَالله أركسهم بِمَا كسبوا) وَفِي الاعراف (سأصرف عَن آياتي الَّذين يتكبرون فِي الأَرْض بِغَيْر الْحق وَفِي الانفال (فَلم تَقْتُلُوهُمْ وَلَكِن الله قَتلهمْ وَمَا رميت إِذْ رميت وَلَكِن الله رمى وَفِي الْبَقَرَة (ويستحيون نساءكم وَفِي ذَلِكُم بلَاء من ربكُم عَظِيم وَفِي ابراهيم (وَفِي ذَلِكُم بلَاء من ربكُم عَظِيم وَفِي التَّوْبَة (وَلَكِن كره الله انبعاثهم فَثَبَّطَهُمْ وَقيل اقعدوا مَعَ القاعدين وَفِي يُونُس (كَذَلِك حقت
হতভাগ্যতা এবং তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের জন্য একটি পরিমাণ (قدرا) নির্ধারণ করে রেখেছেন); অর্থাৎ একটি সীমা ও নির্দিষ্ট সময় যা সেখানে গিয়ে শেষ হয়, তা তার থেকে অগ্রবর্তী হয় না এবং তা থেকে বিলম্বিতও হয় না।

 

‌‌ত্রয়োদশ অধ্যায়: সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সৃষ্টির কোনো কিছুই করার নেই এ প্রসঙ্গে

আর এটি সূরা আল ইমরানের চল্লিশটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: (এ বিষয়ে আপনার কোনো অধিকার নেই)। এবং তাতে রয়েছে: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা কুফরি করেছে এবং তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছে—যখন তারা জমিনে সফর করত কিংবা যুদ্ধে লিপ্ত হতো—যে, তারা যদি আমাদের কাছে থাকত তবে তারা মারা যেত না এবং নিহত হতো না। যাতে আল্লাহ এটাকে তাদের হৃদয়ে অনুশোচনার কারণ করে দেন)। এবং তাতে রয়েছে: (যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে তোমাদের ওপর বিজয়ী হওয়ার কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাদের পরিত্যাগ করেন, তবে তিনি ছাড়া কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে? আর মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই ভরসা করা)। এবং তাতে রয়েছে: (আর যাতে তিনি মুনাফিকদের চিনে নিতে পারেন। তাদের বলা হয়েছিল, এসো, আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো অথবা প্রতিরোধ করো। তারা বলেছিল, যদি আমরা যুদ্ধ জানতাম তবে অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম। সেদিন তারা ঈমানের চেয়ে কুফরিরই অধিক নিকটবর্তী ছিল। তারা তাদের মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। আর তারা যা গোপন করে আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। যারা ঘরে বসে ছিল এবং তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছিল যে, তারা যদি আমাদের কথা শুনত তবে তারা নিহত হতো না। আপনি বলুন, তবে তোমরা নিজেদের থেকে মৃত্যুকে প্রতিহত করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও)। এবং তাতে রয়েছে: (তারা বলে, এই বিষয়ে যদি আমাদের কোনো অধিকার থাকত, তবে আমরা এখানে নিহত হতাম না। আপনি বলুন, যদি তোমরা তোমাদের ঘরেও থাকতে, তবুও যাদের ভাগ্যে মৃত্যু অবধারিত ছিল তারা অবশ্যই তাদের শয্যাস্থলের দিকে বেরিয়ে আসত)। এবং তাতে রয়েছে: (আমি তো তাদের অবকাশ দেই যাতে তারা পাপে বৃদ্ধি পায় এবং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি)। এবং সূরা আন-নিসায় রয়েছে: (বলুন, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে)। এবং তাতে রয়েছে: (আর আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন)। এবং সূরা আল-আ'রাফে রয়েছে: (আমি আমার নিদর্শনাবলি থেকে তাদের বিমুখ করে রাখব যারা জমিনে অন্যায়ভাবে অহংকার করে)। এবং সূরা আল-আনফালে রয়েছে: (তোমরা তাদের হত্যা করোনি বরং আল্লাহই তাদের হত্যা করেছেন। আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছেন)। এবং সূরা আল-বাকারায় রয়েছে: (তারা তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত এবং এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ছিল এক মহাপরীক্ষা)। এবং সূরা ইবরাহিমে রয়েছে: (এবং এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ছিল এক মহাপরীক্ষা)। এবং সূরা আত-তাওবায় রয়েছে: (কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করলেন, তাই তিনি তাদের বিরত রাখলেন এবং বলা হলো, তোমরা বসে থাকো যারা বসে থাকে তাদের সাথে)। এবং সূরা ইউনুসে রয়েছে: (এভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে...)
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
كلمة رَبك على الَّذين فسقوا أَنهم لَا يُؤمنُونَ وَفِي بني اسرائيل (قل كل يعْمل على شاكلته) وَفِي يُونُس (إِن الَّذين حقت عَلَيْهِم كلمة رَبك لَا يُؤمنُونَ وفيهَا (وَمَا تغني الْآيَات وَالنّذر عَن قوم لَا يُؤمنُونَ وَفِي هود (وَأهْلك إِلَّا من سبق عَلَيْهِ القَوْل) وَفِي قد أَفْلح (وَلَهُم أَعمال من دون ذَلِك هم لَهَا عاملون) وفيهَا (قَالُوا رَبنَا غلبت علينا شِقْوَتنَا وَكُنَّا قوما ضَالِّينَ وَفِي مَرْيَم (ألم تَرَ أَنا أرسلنَا الشَّيَاطِين على الْكَافرين تؤزهم أزا وَفِي النُّور (وَمن لم يَجْعَل الله لَهُ نورا فَمَا لَهُ من نور وَفِي الْقَصَص (وجعلناهم أَئِمَّة يدعونَ إِلَى النَّار وَفِي الاحزاب (قل لن ينفعكم الْفِرَار إِن فررتم من الْمَوْت أَو الْقَتْل وَإِذا لَا تمتعون إِلَّا قَلِيلا قل من ذَا الَّذِي يعصمكم من الله إِن أَرَادَ بكم سوءا أَو أَرَادَ بكم رَحْمَة وَلَا يَجدونَ لَهُم من دون الله وليا وَلَا نَصِيرًا وَفِي الْمَلَائِكَة (مَا يفتح الله للنَّاس من رَحْمَة فَلَا مُمْسك لَهَا وَمَا يمسك فَلَا مُرْسل لَهُ من بعده وَهُوَ الْعَزِيز الْحَكِيم وَفِي يس (وَجَعَلنَا من بَين أَيْديهم سدا وَمن خَلفهم سدا فأغشيناهم فهم لَا يبصرون وَسَوَاء عَلَيْهِم أأنذرتهم أم لم تنذرهم لَا يُؤمنُونَ) وَفِي الصافات (فَإِنَّكُم وَمَا تَعْبدُونَ مَا أَنْتُم عَلَيْهِ بفاتنين إِلَّا من هُوَ صال الْجَحِيم) وَفِي بني اسرائيل (وكل إِنْسَان ألزمناه طَائِره فِي عُنُقه) أَي عمله وَمَا قدر عَلَيْهِ من الْخَيْر وَالشَّر يلْزمه وَلَا يُفَارِقهُ وَفِي الزخرف (أفأنت تسمع الصم أَو تهدي الْعمي وَمن كَانَ فِي ضلال مُبين وَفِي سُورَة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم (أُولَئِكَ الَّذين لعنهم الله فأصمهم وأعمى أَبْصَارهم وَفِي النَّجْم (وَأَنه هُوَ أضْحك وأبكى) وَفِي الاعراف (قل لَا أملك لنَفْسي نفعا وَلَا ضرا إِلَّا مَا شَاءَ الله وَفِي الممتحنة (وَمَا أملك لَك من الله من شَيْء وَفِي الْجِنّ (قل إِنِّي لَا أملك لكم ضرا وَلَا رشدا وَفِي النَّمْل (إِن الَّذين لَا يُؤمنُونَ بِالآخِرَة

আপনার প্রতিপালকের নির্দেশ তাদের ওপর সত্য হয়েছে যারা পাপাচার করে যে, তারা ঈমান আনবে না। আর বনী ইসরাঈল-এ রয়েছে: (বলুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে)। আর ইউনুস-এ রয়েছে: (নিশ্চয় যাদের প্রতি আপনার প্রতিপালকের বাণী সাব্যস্ত হয়েছে তারা ঈমান আনবে না) এবং তাতে আরও রয়েছে: (আর নিদর্শনসমূহ ও সতর্ককারীরা এমন সম্প্রদায়ের কোনো উপকারে আসে না যারা ঈমান আনে না)। আর হুদ-এ রয়েছে: (আর আপনার পরিবারকে, তবে তাদের ছাড়া যাদের সম্পর্কে পূর্বেই সিদ্ধান্ত হয়েছে)। আর ‘কাদ আফলাহা’-তে (সুরা আল-মুমিনুন) রয়েছে: (এ ছাড়া তাদের আরও অনেক কাজ রয়েছে যা তারা করে থাকে) এবং তাতে রয়েছে: (তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ওপর প্রবল হয়েছিল এবং আমরা ছিলাম এক পথভ্রষ্ট জাতি)। আর মারইয়াম-এ রয়েছে: (আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমি শয়তানদেরকে কাফিরদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি যারা তাদেরকে বিশেষভাবে প্ররোচিত করে)। আর আন-নূর-এ রয়েছে: (আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেন না তার জন্য কোনো জ্যোতি নেই)। আর আল-কাসাস-এ রয়েছে: (আর আমি তাদেরকে এমন নেতা বানিয়েছি যারা আগুনের দিকে আহ্বান করে)। আর আল-আহযাব-এ রয়েছে: (বলুন, তোমরা যদি মৃত্যু বা হত্যার ভয়ে পলায়ন করো তবে এ পলায়ন তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না, এমতাবস্থায় তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করতে দেওয়া হবে। বলুন, আল্লাহ যদি তোমাদের অমঙ্গল চান তবে কে তোমাদেরকে রক্ষা করবে, অথবা তিনি যদি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চান? তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না)। আর আল-মালাইকা-তে (সুরা ফাতির) রয়েছে: (আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন তা কেউ রোধ করার নেই, আর যা তিনি রোধ করেন তা এরপর আর কেউ প্রেরণ করার নেই। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়)। আর ইয়াসীন-এ রয়েছে: (আর আমি তাদের সামনে এক দেয়াল ও তাদের পেছনে এক দেয়াল স্থাপন করেছি, এভাবে আমি তাদেরকে আবৃত করে দিয়েছি, ফলে তারা দেখতে পায় না। আর আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান, তারা ঈমান আনবে না)। আর আস-সাফফাত-এ রয়েছে: (নিশ্চয় তোমরা এবং তোমরা যার ইবাদত করো, তোমরা কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না, তাকে ছাড়া যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে)। আর বনী ইসরাঈল-এ রয়েছে: (আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গলার হার করেছি) অর্থাৎ তার আমল এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত ভালো-মন্দ যা তার ওপর অবধারিত হয় এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। আর আয-যুখরুফ-এ রয়েছে: (তবে কি আপনি বধিরকে শোনাতে পারবেন অথবা অন্ধকে এবং যারা স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় লিপ্ত তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে পারবেন?)। আর সুরা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এ রয়েছে: (এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ অভিশপ্ত করেছেন, অতঃপর তাদেরকে বধির করে দিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি অন্ধ করে দিয়েছেন)। আর আন-নাজম-এ রয়েছে: (আর নিশ্চয় তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান)। আর আল-আরাফ-এ রয়েছে: (বলুন, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আমার নিজের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা আমার নেই)। আর আল-মুমতাহিনা-এ রয়েছে: (আর আল্লাহর পাকড়াও হতে আপনার জন্য আমার কিছুই করার নেই)। আর আল-জ্বিন-এ রয়েছে: (বলুন, আমি তোমাদের কোনো অনিষ্ট করার বা সৎপথ দেখানোর ক্ষমতা রাখি না)। আর আন-নামল-এ রয়েছে: (নিশ্চয় যারা পরকালে ঈমান আনে না...)।

(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
زينا لَهُم أَعْمَالهم فهم يعمهون وَفِي الانعام (كَذَلِك زينا لكل أمة عَمَلهم وَفِي الشَّمْس وَضُحَاهَا (فألهمها فجورها وتقواها وَفِي اللَّيْل (وَأما من بخل وَاسْتغْنى وَكذب بِالْحُسْنَى فسنيسره للعسرى

فَذَلِك كُله مِائَتَا آيَة من حجَّة الجبرية

 

‌‌الْفَصْل الرَّابِع عشر فِي تَفْسِير هَذِه الْآيَات

قَوْله (يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِين كفرُوا يَعْنِي الْمُنَافِقين (وَقَالُوا لإخوانهم فِي النِّفَاق (إِذا ضربوا فِي الأَرْض سافروا وماتوا (أَو كَانُوا غزى غزَاة فَقتلُوا (لَو كَانُوا عندنَا مَا مَاتُوا وَمَا قتلوا ليجعل الله ذَلِك حسرة) حزنا ذَلِك يَعْنِي قَوْلهم وظنهم (فِي قُلُوبهم) ثمَّ ان الله تَعَالَى اخبر ان الْمَوْت والحياة الى الله عز وجل لَا يتقدمان لسفر وَلَا يتاخران لحضر (وَالله يحيي وَيُمِيت وَقَوله (وَمَا أَصَابَكُم يَا معشر الْمُؤمنِينَ (يَوْم التقى الْجَمْعَانِ) بِأحد من الْقَتْل والجراح (فبإذن الله أَي بِقَضَائِهِ وَقدره وَعلمه (وليعلم الْمُؤمنِينَ) أَي ليميز وليرى (وليعلم الَّذين نافقوا وَقيل لَهُم تَعَالَوْا قَاتلُوا فِي سَبِيل الله أَو ادفعوا قَالُوا لَو نعلم قتالا لَاتَّبَعْنَاكُمْ) وهم عبد الله بن أبي وَأَصْحَابه الَّذين انصرفوا عَن اُحْدُ

قَوْله (الَّذين قَالُوا لإخوانهم) فِي النّسَب لَا فِي الدّين وهم شُهَدَاء اُحْدُ (وقعدوا يَعْنِي قعد هَؤُلَاءِ الْقَائِلُونَ عَن الْجِهَاد (لَو أطاعونا وَانْصَرفُوا عَن مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم (مَا قتلوا قل فادرؤوا فادفعوا (عَن أَنفسكُم الْمَوْت إِن كُنْتُم صَادِقين ان الحذر يُغني عَن الْقدر

عَن ابْن عَبَّاس فِي قَوْله يظنون بِاللَّه غير الْحق ظن الْجَاهِلِيَّة يَعْنِي التَّكْذِيب بِالْقدرِ وَذَلِكَ انهم تكلمُوا فِي الْقدر فَقَالَ الله تَعَالَى (قل إِن الْأَمر كُله لله يَعْنِي الْقدر خَيره وشره من الله وَهُوَ قَوْلهم (لَو كَانَ لنا من الْأَمر
আমি তাদের জন্য তাদের আমলসমূহকে সুশোভিত করেছি, ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর সূরা আল-আনআমে রয়েছে: (এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির নিকট তাদের আমলকে সুশোভিত করেছি)। আর সূরা আশ-শামসে: (অতঃপর তিনি তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়া সম্পর্কে ইলহাম বা জ্ঞান দান করেছেন)। আর সূরা আল-লাইলে: (পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কৃপণতা করল এবং নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করল, আর উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করল, আমি তার জন্য কঠিন পথকে সহজ করে দেব)

এসব মিলিয়ে মোট দু'শত আয়াত জাবরিয়্যাহ (الجبرية) সম্প্রদায়ের দলীল।

 

‌‌চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: এই আয়াতসমূহের তাফসীর প্রসঙ্গে

তাঁর বাণী: (হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা কুফরি করেছে) অর্থাৎ মুনাফিকরা; (এবং তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছে) যারা নিফাকের ক্ষেত্রে তাদের ভাই, (যখন তারা জমিনে সফর করল) অর্থাৎ ভ্রমণ করল ও মারা গেল (অথবা তারা গাযী বা যোদ্ধা ছিল) এবং নিহত হলো, (যদি তারা আমাদের কাছে থাকত তবে তারা মারা যেত না এবং নিহত হতো না। যাতে আল্লাহ সেটিকে আক্ষেপে পরিণত করেন) অর্থাৎ দুঃখরূপে, এটি অর্থাৎ তাদের এই উক্তি ও ধারণা (তাদের অন্তরে)। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, জীবন ও মৃত্যু মহান আল্লাহর এখতিয়ারে; সফরের কারণে তা এগিয়ে আসে না এবং ঘরে অবস্থানের কারণে তা পিছিয়ে যায় না। (আর আল্লাহই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান)। এবং তাঁর বাণী: (হে মুমিন সম্প্রদায়! তোমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল) (যেদিন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল) উহুদ যুদ্ধে হত্যা ও আহতের মাধ্যমে, (তা আল্লাহর অনুমতিতেই হয়েছিল) অর্থাৎ তাঁর ফয়সালা, তকদীর (القدر) ও ইলম অনুযায়ী। (এবং যাতে তিনি মুমিনদের জেনে নিতে পারেন) অর্থাৎ পৃথক করতে পারেন ও প্রকাশ করতে পারেন। (এবং যাতে তিনি মুনাফিকদের জেনে নিতে পারেন, যাদের বলা হয়েছিল: এসো, আল্লাহর পথে লড়াই করো অথবা প্রতিরোধ করো। তারা বলেছিল: আমরা যদি লড়াইয়ের কথা জানতাম তবে অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম)। তারা হলো আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সঙ্গীরা যারা উহুদ থেকে ফিরে এসেছিল।

তাঁর বাণী: (যারা তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছিল) বংশীয় সম্পর্কের দিক থেকে, দ্বীনের দিক থেকে নয়; তারা হলো উহুদের শহীদগণ। (এবং তারা বসে রইল) অর্থাৎ এই কথা যারা বলেছিল তারা জিহাদ থেকে বিরত ছিল। (যদি তারা আমাদের আনুগত্য করত) এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে ফিরে আসত, (তবে তারা নিহত হতো না। বলুন: তবে তোমরা প্রতিহত করো) অর্থাৎ দূর করো (নিজেদের থেকে মৃত্যুকে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও) যে সতর্কতা তকদীর (القدر) বা ভাগ্যের লিখন থেকে রক্ষা করতে পারে।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত তাঁর বাণী সম্পর্কে: (তারা আল্লাহ সম্বন্ধে জাহেলি যুগের ন্যায় অযৌক্তিক ধারণা পোষণ করছিল) অর্থাৎ তকদীর (القدر) অস্বীকার করা। আর তা একারণে যে তারা তকদীর সম্পর্কে কথা বলেছিল, তাই আল্লাহ তাআলা বললেন: (বলুন: সমস্ত বিষয় আল্লাহরই এখতিয়ারে) অর্থাৎ তকদীর (القدر), এর কল্যাণ ও অকল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর এটিই তাদের উক্তি: (যদি আমাদের কোনো এখতিয়ার থাকত)
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
شَيْء مَا قتلنَا هَهُنَا) قَالَ المُنَافِقُونَ لَو كَانَ لنا من عقول مَا خرجنَا مَعَ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم الى الْقِتَال فَقَالَ الله (قل) لَهُم لَو كُنْتُم فِي بُيُوتكُمْ لبرز الَّذين كتب قضى (عَلَيْهِم الْقَتْل إِلَى مضاجعهم) مصَارِعهمْ (وليبتلي الله) ليختبر الله (مَا فِي صدوركم وليمحص) وَيظْهر (مَا فِي قُلُوبكُمْ وَالله عليم بِذَات الصُّدُور) قَوْله (لَا تحسبن الَّذين كفرُوا يَعْنِي فَلَا تحسبن يَا مُحَمَّد الَّذين كفرُوا (وَلَا يَحسبن الَّذين كفرُوا أَنما نملي لَهُم خير لانفسهم) ثمَّ ابْتَدَأَ فَقَالَ (إِنَّمَا نملي لَهُم ليزدادوا إِثْمًا وَلَهُم عَذَاب مهين قَوْله (وَالله أركسهم أَي اهلكهم ونكسهم وردهم الى كفرهم وضلالهم باعمالهم

نزل فِي الْمُنَافِقين قَوْله (سأصرف عَن آياتي الَّذين يتكبرون فِي الأَرْض يَعْنِي أصرفهم ان يتفكروا فِي خلق السَّمَوَات والارض وامنع قُلُوبهم من التفكر فِي امري قَوْله (وَاعْلَمُوا أَن الله يحول بَين الْمَرْء وَقَلبه أَي يحول بَين الْكَافِر وَقَلبه ان يُؤمن وَبَين الْمُؤمن وَقَلبه ان يكفر وَقَوله (صرف الله قُلُوبهم يَعْنِي عَن الايمان بِالْقُرْآنِ بِأَنَّهُم قوم لَا يفقهُونَ وَقَوله (كَذَلِك حقت كلمة رَبك أَي علمه السَّابِق فِي خلقه (أَنهم لَا يُؤمنُونَ) قَوْله (قل كل يعْمل على شاكلته أَي على خليقته وطريقته الَّتِي جبل عَلَيْهَا قَوْله (وَمَا تغني الْآيَات وَالنّذر عَن قوم لَا يُؤمنُونَ) فِي علم الله قَوْله (وَأهْلك إِلَّا من سبق عَلَيْهِ القَوْل يَعْنِي احْمِلْ يانوح فِي السَّفِينَة اهلك الا من سبق فيهم قَول الله وَعلمه انهم لَا يُؤمنُونَ وهم امراتك وابنك (وَمن آمن يَعْنِي احْمِلْ من آمن بك قَوْله (وَلَهُم أَعمال من دون ذَلِك هم لَهَا عاملون يَعْنِي اعمال خبيثة لَا يرضاها الله من الْمعاصِي دون ذَلِك يَعْنِي دون اعمال الْمُؤمنِينَ لَا بُد لَهُم ان يعملوها فيدخلوا بهَا النَّار

...আমাদের এখানে কিছু করার নেই (যে কারণে আমরা নিহত হয়েছি)। মুনাফিকগণ (منافقون) বলল, ‘আমাদের যদি বিচারবুদ্ধি থাকত, তবে আমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে বের হতাম না।’ তখন আল্লাহ তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘(বলুন) তোমরা যদি তোমাদের ঘরেও থাকতে, তবুও যাদের ভাগ্যে মৃত্যু নির্ধারিত (قضى) ছিল, তারা তাদের শয়নস্থলের বা বধ্যভূমির (مصارعهم) দিকে অবশ্যই বেরিয়ে আসত। (আর এটি এ জন্য যে,) আল্লাহ যেন তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরীক্ষা (ليبتلي) করেন এবং তোমাদের হৃদয়ে যা আছে তা পরিশুদ্ধ (ليمحص) ও প্রকাশ করেন। আর আল্লাহ অন্তরের সকল বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ (عليم)।’ তাঁর বাণী: ‘(হে মুহাম্মাদ!) আপনি কাফিরদের (الذين كفروا) অবস্থা দেখে কক্ষনো মনে করবেন না...’ অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ! আপনি কাফিরদের সম্পর্কে এমন ধারণা করবেন না যে—‘কাফিরগণ যেন মনে না করে যে, আমি তাদের যে অবকাশ দিচ্ছি, তা তাদের নিজেদের জন্য কল্যাণকর।’ এরপর আল্লাহ পুনরায় শুরু করে বললেন, ‘আমি তো তাদের অবকাশ দিই যেন তাদের পাপ (إثما) বৃদ্ধি পায় এবং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি (عذاب مهين)।’ তাঁর বাণী: ‘আর আল্লাহ তাদের কর্মফল স্বরূপ তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন (أركسهم)’, অর্থাৎ তাদের ধ্বংস করেছেন, বিপর্যস্ত করেছেন এবং তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কুফর (كفر) ও ভ্রষ্টতার (ضلال) দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এটি মুনাফিকদের (منافقين) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণী: ‘আমি অচিরেই আমার নিদর্শনাবলি (آيات) থেকে তাদের বিমুখ করে দেব, যারা জমিনে অন্যায়ভাবে অহংকার করে।’ অর্থাৎ আসমান ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করা থেকে আমি তাদের বিমুখ করে দেব এবং আমার নির্দেশ বা বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা করা থেকে তাদের অন্তরকে বাধাগ্রস্ত করব। তাঁর বাণী: ‘আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান।’ অর্থাৎ তিনি কাফির (كافر) ও তার হৃদয়ের মাঝে ঈমান (إيمان) আনার ক্ষেত্রে এবং মুমিন (مؤمن) ও তার হৃদয়ের মাঝে কুফর (كفر) অবলম্বনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে যান। তাঁর বাণী: ‘আল্লাহ তাদের অন্তরকে বিমুখ করে দিয়েছেন।’ অর্থাৎ কুরআনের প্রতি ঈমান (إيمان) আনা থেকে; কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা উপলব্ধি (لا يفقهون) করে না। তাঁর বাণী: ‘এভাবেই আপনার রবের বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’ অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে তাঁর পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী, ‘যে তারা ঈমান (لا يؤمنون) আনবে না।’ তাঁর বাণী: ‘বলুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করে।’ অর্থাৎ তার স্বভাবজাত প্রকৃতি ও পথ অনুযায়ী যা তার সত্তাগত বৈশিষ্ট্যে নিহিত। তাঁর বাণী: ‘আর নিদর্শনাবলি (آيات) এবং সতর্ককারীগণ এমন সম্প্রদায়ের কোনো উপকারে আসে না যারা ঈমান (لا يؤمنون) আনবে না’—অর্থাৎ আল্লাহর ইলম বা জ্ঞান অনুযায়ী। তাঁর বাণী: ‘আপনার পরিবারকেও (নৌকায় তুলে নিন), তবে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বেই সিদ্ধান্ত হয়েছে তারা ব্যতীত।’ অর্থাৎ হে নূহ! নৌকায় আপনার পরিবারকে আরোহণ করান, তবে তাদের ছাড়া যাদের সম্পর্কে আল্লাহর বাণী ও পূর্বজ্ঞান সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে তারা ঈমান (لا يؤمنون) আনবে না; আর তারা হলো আপনার স্ত্রী ও পুত্র। ‘এবং যারা ঈমান (آمن) এনেছে’, অর্থাৎ যারা আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদেরও আরোহণ করান। তাঁর বাণী: ‘এ ছাড়াও তাদের আরও কাজ রয়েছে যা তারা সম্পাদনকারী।’ অর্থাৎ পাপাচারমূলক মন্দ কাজ যা আল্লাহ পছন্দ করেন না, যা মুমিনদের (مؤمنين) আমল বা কাজ থেকে ভিন্ন; তাদের অবশ্যই সেসব কাজ করতে হবে এবং তার ফলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
لما سبق لَهُم من الشقاوة قَوْله (رَبنَا غلبت علينا شِقْوَتنَا وقرىء شقاوتنا أَي غلب علينا الشقاوة الَّتِى كتبت علينا قَوْله (ألم تَرَ أَنا أرسلنَا الشَّيَاطِين على الْكَافرين تؤزهم أزا يَعْنِي تزعجهم ازعاجا وتغريهم اغراء قَوْله (وَجَعَلنَا من بَين أَيْديهم سدا وَمن خَلفهم سدا فأغشيناهم فأعميناهم (فهم لَا يبصرون قَوْله (فَإِنَّكُم وَمَا تَعْبدُونَ) يَعْنِي الاصنام (مَا أَنْتُم عَلَيْهِ) أَي مَعَ ذَلِك اَوْ على الله (بفاتنين بمضلين (إِلَّا من هُوَ صال الْجَحِيم) أَي الا من هُوَ فِي علم الله وارادته أَنه سيدخل النَّار

وَقَوله (فألهمها فجورها وتقواها يَعْنِي جعل فِي النَّفس الْفُجُور وَالتَّقوى بخذلانه اياها للفجور وتوفيقه اياها للتقوى وَقَوله (وَأما من بخل بِالنَّفَقَةِ فِي الْخَيْر (وَاسْتغْنى عَن ربه وَلم يرغب فِي ثَوَابه (وَكذب بِالْحُسْنَى) بالخلف وَقيل بِالْجنَّةِ وَقيل بِلَا اله الا الله (فسنيسره فِي الدُّنْيَا (للعسرى اي للخلة العسرى أَي الْعَمَل بِمَا لَا يرضى الله حَتَّى يسْتَوْجب بِهِ النَّار وَكَأَنَّهُ قَالَ نخذله ونؤديه الى الامر العسير وَهُوَ الْعَذَاب وَقيل العسرى اسْم جَهَنَّم

 

‌‌الْفَصْل الْخَامِس عشر فِي الاحاديث الَّتِي وَردت فِي هَذَا الْمَعْنى

عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول (كتب الله تَعَالَى مقادير الْخَلَائق كلهَا قبل ان يخلق السَّمَوَات والارض بِخَمْسِينَ الف سنة) حَدِيث صَحِيح وَعَن ابي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (احْتج آدم ومُوسَى فَقَالَ مُوسَى يَا آدم انت أَبونَا وأخرجتنا من الْجنَّة فَقَالَ آدم يَا مُوسَى اصطفاك الله بِكَلَامِهِ وَخط لَك التورية بِيَدِهِ تلومني على امْر قدره عَليّ قبل ان يخلقني باربعين سنة فحج آدم مُوسَى) حَدِيث مُتَّفق على صِحَّته عَن انس عَن

তাদের জন্য পূর্বনির্ধারিত দুর্ভাগ্যের কারণে মহান আল্লাহর বাণী: (হে আমাদের রব! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ওপর প্রবল হয়েছিল—কেউ কেউ একে 'শাকাওয়াতুনা' পড়েছেন—অর্থাৎ আমাদের ওপর সেই দুর্ভাগ্য প্রবল হয়েছিল যা আমাদের জন্য লিখে রাখা হয়েছিল)। আল্লাহর বাণী: (আপনি কি দেখেন না যে, আমি কাফিরদের ওপর শয়তানদের ছেড়ে দিয়েছি, যারা তাদেরকে ভীষণভাবে উস্কানি দেয়?) অর্থাৎ তাদেরকে অস্থির করে তোলে এবং প্ররোচিত করে। আল্লাহর বাণী: (আর আমি তাদের সামনে এক প্রাচীর এবং তাদের পেছনে এক প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর আমি তাদের আচ্ছন্ন করে দিয়েছি) অর্থাৎ আমি তাদের অন্ধ করে দিয়েছি (ফলে তারা দেখতে পায় না)। আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই তোমরা এবং তোমরা যা পূজা করো) অর্থাৎ মূর্তিসমূহ (তোমরা বিভ্রান্ত করতে পারবে না) অর্থাৎ মূর্তিপূজার মাধ্যমে কিংবা আল্লাহর বিরুদ্ধে (বিভ্রান্তকারী হতে পারবে না) (কেবল তাকে ছাড়া যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে) অর্থাৎ কেবল সেই ব্যক্তিই বিভ্রান্ত হবে, যার সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান ও ইচ্ছায় রয়েছে যে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

এবং আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তিনি তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন) অর্থাৎ তিনি নফসের মধ্যে পাপাচার ও তাকওয়া সৃষ্টি করেছেন—পাপাচারের ক্ষেত্রে তাকে নিঃসঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে এবং তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাকে তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে। এবং আল্লাহর বাণী: (আর যে ব্যক্তি কল্যাণের পথে ব্যয়ে কার্পণ্য করল) (এবং তার রবের প্রতি অমুখাপেক্ষী হলো অর্থাৎ রবের পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা করল না) (এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করল) অর্থাৎ প্রতিদানকে, মতান্তরে জান্নাতকে, আবার মতান্তরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-কে (আমি তার জন্য সহজ করে দেব) (কঠিন পরিণামের পথকে; অর্থাৎ এমন আমলের দিকে যা আল্লাহ পছন্দ করেন না, যতক্ষণ না সে এর কারণে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়)। যেন তিনি বলেছেন: আমি তাকে সাহায্যহীন অবস্থায় ছেড়ে দিই এবং তাকে কঠিন পরিণতির দিকে নিয়ে যাই, আর তা হলো আজাব। বলা হয়েছে যে, ‘উসরা’ হলো জাহান্নামের একটি নাম।

 

‌‌পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: এই মর্মে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সমস্ত সৃষ্টির তাকদিরসমূহ লিখে রেখেছেন)। এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (আদম ও মুসা (আ.) তর্কে লিপ্ত হলেন। মুসা বললেন: হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, অথচ আপনি আমাদের জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন। আদম বললেন: হে মুসা! আল্লাহ আপনাকে তাঁর বাণীর জন্য মনোনীত করেছেন এবং স্বহস্তে আপনার জন্য তাওরাত লিখে দিয়েছেন। আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন যা আমার সৃষ্টির চল্লিশ বছর আগেই আমার ওপর নির্ধারিত করা হয়েছিল? এভাবে আদম (আ.) মুসা (আ.)-এর ওপর তর্কে জয়ী হলেন)। এটি এমন একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق على صحته) হয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ (وكل الله بالرحم ملكا فَيَقُول أَي رب نُطْفَة أَي رب علقَة أَي رب مُضْغَة فَإِذا أَرَادَ الله ان يقْضِي خلقهَا قَالَ يارب أذكر ام أُنْثَى شقي ام سعيد فَمَا الرزق فَمَا الاجل فَيكْتب كَذَلِك فِي بطن امهِ) هَذَا حَدِيث مُتَّفق على صِحَّته وَقَالَ عَلَيْهِ أفضل الصَّلَوَات واكمل التَّحِيَّات (كل شَيْء بِقدر حَتَّى الْعَجز والكيس) وَقَالَ الْمَقْدُور كَائِن صلى الله عليه وسلم َ - الْبَاب الثَّالِث فِي حجج الْقَدَرِيَّة صلى الله عليه وسلم َ -

وَهُوَ مُشْتَمل على فُصُول

 

‌‌الْفَصْل الأول فِي الْقدر

وَذَلِكَ فِي ثَلَاثَة عشر موضعا فِي الْبَقَرَة (يُرِيد الله بكم الْيُسْر وَلَا يُرِيد بكم الْعسر) وَفِي آل عمرَان (وَمَا الله يُرِيد ظلما للْعَالمين وَفِي حم الْمُؤمن (وَمَا الله يُرِيد ظلما للعباد وَفِي النِّسَاء (يُرِيد الله ليبين لكم وَيهْدِيكُمْ سنَن الَّذين من قبلكُمْ وَيَتُوب عَلَيْكُم وَالله عليم حَكِيم وَالله يُرِيد أَن يَتُوب عَلَيْكُم وَيُرِيد الَّذين يتبعُون الشَّهَوَات أَن تميلوا ميلًا عَظِيما يُرِيد الله أَن يُخَفف عَنْكُم وَخلق الْإِنْسَان ضَعِيفا وفيهَا (وَيُرِيد الشَّيْطَان أَن يضلهم ضلالا بَعيدا وَفِي الْمَائِدَة (مَا يُرِيد الله ليجعل عَلَيْكُم من حرج وَلَكِن يُرِيد ليطهركم وليتم نعْمَته عَلَيْكُم لَعَلَّكُمْ تشكرون) وَفِي الانفال (تُرِيدُونَ عرض الدُّنْيَا وَالله يُرِيد الْآخِرَة وَالله عَزِيز حَكِيم

 

‌‌الْفَصْل الثَّانِي فِي الْمَشِيئَة

وَذَلِكَ فِي عشرَة مَوَاضِع فِي الانعام (سَيَقُولُ الَّذين أشركوا لَو شَاءَ الله مَا أشركنا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حرمنا من شَيْء كَذَلِك كذب الَّذين من
নবী (সা.) বলেছেন, (আল্লাহ তাআলা জরায়ুতে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, হে প্রতিপালক! এটি একটি শুক্রবিন্দু (نطفة); হে প্রতিপালক! এটি একটি রক্তপিণ্ড (علقة); হে প্রতিপালক! এটি একটি মাংসপিণ্ড (مضغة)। অতঃপর আল্লাহ যখন তার সৃষ্টি সম্পন্ন করার ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতা বলেন, হে প্রতিপালক! এটি কি পুরুষ হবে নাকি নারী? দুর্ভাগা হবে নাকি সৌভাগ্যবান? তার রিজিক কী হবে এবং তার আয়ু কত হবে? তখন তার মায়ের গর্ভেই তা লিখে দেওয়া হয়।) এই হাদিসটির বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে (متفق على صحته)। যাঁর ওপর সর্বোত্তম রহমত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক, তিনি আরও বলেছেন, (সবকিছুই নির্ধারিত তকদির (القدر) অনুযায়ী হয়, এমনকি অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তাও।) তিনি (সা.) আরও বলেছেন, যা নির্ধারিত তা ঘটবেই। - তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কাদারিয়াহ সম্প্রদায়ের যুক্তিসমূহ -

এটি কয়েকটি অনুচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত।

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: তকদির (القدر) প্রসঙ্গে

এটি তেরোটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে। সূরা আল-বাকারায় (আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না)। সূরা আলে-ইমরানে (এবং আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি কোনো জুলুম করার ইচ্ছা করেন না)। সূরা আল-মুমিনে (এবং আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম করার ইচ্ছা করেন না)। সূরা আন-নিসায় (আল্লাহ চান তোমাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের তওবা কবুল করতে; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করতে চান এবং যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে তোমরা যেন বড় ধরনের বিচ্যুতিতে নিপতিত হও। আল্লাহ তোমাদের থেকে বোঝা লাঘব করতে চান এবং মানুষকে দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে)। সেখানে আরও রয়েছে (আর শয়তান চায় তাদের চরমভাবে পথভ্রষ্ট করতে)। সূরা আল-মায়িদায় (আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো)। সূরা আল-আনফালে (তোমরা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদ কামনা করছ, আর আল্লাহ আখেরাত চান; এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়)।

 

‌‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর ইচ্ছা (المشيئة) প্রসঙ্গে

এটি দশটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে। সূরা আল-আনআমে (যারা শিরক করেছে তারা বলবে, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরাও করত না এবং আমরা কোনো কিছু হারাম করতাম না। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যাারোপ করেছিল...)
(খণ্ড: ১) হুজাজুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
قبلهم حَتَّى ذاقوا بأسنا قل هَل عنْدكُمْ من علم فتخرجوه لنا إِن تتبعون إِلَّا الظَّن وَإِن أَنْتُم إِلَّا تخرصون) وَفِي النَّحْل (وَقَالَ الَّذين أشركوا لَو شَاءَ الله مَا عَبدنَا من دونه من شَيْء نَحن وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حرمنا من دونه من شَيْء كَذَلِك فعل الَّذين من قبلهم فَهَل على الرُّسُل إِلَّا الْبَلَاغ الْمُبين وَفِي يس (وَإِذا قيل لَهُم أَنْفقُوا من مَا رزقكم الله قَالَ الَّذين كفرُوا للَّذين آمنُوا أنطعم من لَو يَشَاء الله أطْعمهُ إِن أَنْتُم إِلَّا فِي ضلال مُبين وَفِي الزخرف (وَقَالُوا لَو شَاءَ الرَّحْمَن مَا عبدناهم مَا لَهُم بذلك من علم إِن هم إِلَّا يخرصون وَفِي المزمل (فَمن شَاءَ اتخذ إِلَى ربه سَبِيلا وَفِي المدثر (لمن شَاءَ مِنْكُم أَن يتَقَدَّم أَو يتَأَخَّر وَفِي الانسان (فَمن شَاءَ اتخذ إِلَى ربه سَبِيلا) وَفِي الاعمي (فَمن شَاءَ ذكره فِي صحف مكرمَة) وَفِي الْكَهْف (فَمن شَاءَ فليؤمن وَمن شَاءَ فليكفر)

 

‌‌الْفَصْل الثَّالِث فِي نفي الْهِدَايَة والضلالة

وَذَلِكَ فِي ثَلَاثِينَ موضعا فِي النِّسَاء (وَيُرِيد الشَّيْطَان أَن يضلهم ضلالا بَعيدا وفيهَا (وَلَوْلَا فضل الله عَلَيْك وَرَحمته لهمت طَائِفَة مِنْهُم أَن يضلوك وَمَا يضلون إِلَّا أنفسهم وفيهَا (ولأضلنهم وَفِي الْمَائِدَة (قد ضلوا من قبل وأضلوا كثيرا وَضَلُّوا عَن سَوَاء السَّبِيل وَفِي الانعام (وَإِن تُطِع أَكثر من فِي الأَرْض يضلوك عَن سَبِيل الله وفيهَا (فَمن أظلم مِمَّن افترى على الله كذبا ليضل النَّاس بِغَيْر علم وَفِي الاعراف (قَالَت أخراهم لأولاهم رَبنَا هَؤُلَاءِ أضلونا وَفِي التَّوْبَة (وَمَا كَانَ الله ليضل قوما بعد إِذْ هدَاهُم وَفِي يُونُس (وَمن ضل فَإِنَّمَا يضل عَلَيْهَا وَفِي ابراهيم (رب إنَّهُنَّ أضللن كثيرا من النَّاس) وَفِي النَّحْل (وَمن أوزار الَّذين يضلونهم بِغَيْر علم
...তাদের পূর্ববর্তীরাও (সত্যকে) অস্বীকার করেছিল, যতক্ষণ না তারা আমাদের শাস্তি আস্বাদন করেছিল। আপনি বলুন: ‘তোমাদের কাছে কি কোনো জ্ঞান আছে যা তোমরা আমাদের কাছে প্রকাশ করবে? তোমরা তো কেবল ধারণারই অনুসরণ করছ এবং তোমরা কেবল অনুমানই করছ।’ আর সূরা আন্-নাহলে (রয়েছে): ‘এবং মুশরিকরা বলল, আল্লাহ যদি চাইতেন তবে আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষরা তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো কিছুর ইবাদত করতাম না এবং তাঁর নির্দেশ ব্যতীত কোনো কিছু হারাম করতাম না।’ তাদের পূর্ববর্তীরাও অনুরূপ করেছিল। সুতরাং রাসূলগণের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেওয়া। এবং সূরা ইয়াসিনে (রয়েছে): ‘এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছেন তা হতে ব্যয় করো, তখন কাফিররা মুমিনদের বলে, আমরা কি তাকে আহার করাব যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করলে খাওয়াতে পারতেন? তোমরা তো কেবল সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই লিপ্ত।’ এবং সূরা আয-যুখরুফে (রয়েছে): ‘এবং তারা বলে, পরম করুণাময় যদি চাইতেন তবে আমরা তাদের ইবাদত করতাম না; এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা তো কেবল অনুমানই করছে।’ এবং সূরা আল-মুযযাম্মিলে (রয়েছে): ‘সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।’ এবং সূরা আল-মুদ্দাস্সিরে (রয়েছে): ‘তোমাদের মধ্যে যে চায় অগ্রসর হতে অথবা পিছিয়ে থাকতে।’ এবং সূরা আল-ইনসানে (রয়েছে): ‘সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।’ এবং সূরা আল-আ'মা-তে [সূরা আবাসা] (রয়েছে): ‘সুতরাং যার ইচ্ছা সে তা স্মরণ রাখুক; যা অত্যন্ত সম্মানিত সহীফাসমূহে লিপিবদ্ধ।’ এবং সূরা আল-কাহফে (রয়েছে): ‘সুতরাং যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক।’

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতার নফি (অস্বীকার) করা প্রসঙ্গে

আর এটি ত্রিশটি স্থানে রয়েছে। সূরা আন্-নিসায়: ‘শয়তান চায় তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে বহু দূরে নিয়ে যেতে।’ এবং তথায় রয়েছে: ‘যদি তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করত। অথচ তারা নিজেদের ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট করে না।’ এবং তথায় রয়েছে: ‘এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব।’ এবং সূরা আল-মায়িদাহতে: ‘তারা ইতিপূর্বেও পথভ্রষ্ট হয়েছিল এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল।’ এবং সূরা আল-আন'আমে: ‘আর যদি তুমি জমিনের অধিকাংশ লোকের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে।’ এবং তথায় রয়েছে: ‘সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রটনা করে যাতে সে মানুষকে না জেনে পথভ্রষ্ট করতে পারে?’ এবং সূরা আল-আ'রাফে: ‘তাদের পরবর্তী অনুসারীরা তাদের পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের রব! এরাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।’ এবং সূরা আত-তাওবায়: ‘আল্লাহ কোনো জাতিকে হিদায়াত দান করার পর পথভ্রষ্ট করেন না, যতক্ষণ না তিনি যা হতে তাদের বেঁচে থাকতে হবে তা স্পষ্ট করে দেন।’ এবং সূরা ইউনুসে: ‘আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তবে সে নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হয়।’ এবং সূরা ইব্রাহিমে: ‘হে আমার রব! নিশ্চয় এরা (প্রতিমাগুলো) অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে।’ এবং সূরা আন্-নাহলে: ‘যাতে তারা কিয়ামতের দিন নিজেদের পাপের পূর্ণ বোঝা এবং যাদেরকে তারা না জেনে পথভ্রষ্ট করে তাদের পাপের বোঝাও বহন করে।’