(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
قلائد المرجان في بيان الناسخ والمنسوخ في القرآن   (مرعي الكرمي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: قلائد المرجان في بيان الناسخ والمنسوخ في القرآن

المؤلف: مرعي بن يوسف بن أبى بكر بن أحمد الكرمى المقدسي الحنبلى (ت 1033هـ)

المحقق: سامي عطا حسن

الناشر: دار القرآن الكريم - الكويت

عدد الصفحات: 241

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ক্বলাইদুল মারজান ফি বয়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন   (মারয়ী আল-কারমী)

বিভাগ: কুরআন উলুম এবং তাফসিরের মূলনীতি


কিতাব: ক্বলাইদুল মারজান ফি বয়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন

লেখক: মারয়ী বিন ইউসুফ বিন আবি বকর বিন আহমাদ আল-কারমী আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১০৩৩ হিজরি)

মুহাক্কিক (المحقق): সামি আতা হাসান

প্রকাশক: দারুল কুরআনুল কারীম - কুয়েত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌مُقَدّمَة الْمُؤلف

الْحَمد لله الَّذِي أنزل الْقُرْآن الْمُبين مَعَ الرّوح الْأمين على قلب سيد الْمُرْسلين وَجعل مِنْهُ النَّاسِخ والمنسوخ رَحْمَة للْمُؤْمِنين وفتنة للْكَافِرِينَ أَحْمَده سبحانه وتعالى على نعْمَة الْإِسْلَام وتيسير أُمُور الْمُسلمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيد الْعَالمين وأمام الْمُتَّقِينَ النَّاسِخ بمحكم أَحْكَام شَرِيعَته مَا سلف من شرائع النَّبِيين وعَلى آله وَأَصْحَابه أولى البصيرة وَالْيَقِين وعَلى الْأَئِمَّة الْعلمَاء الْأَعْلَام من التَّابِعين وتابع التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين

وَبعد

فَهَذِهِ عرائس تجلى للناظرين ونفائس تشرى بالدر الثمين جمعت فِيهَا آيَات النَّاسِخ والمنسوخ بعد أَن كَانَت لطول كَلَام الْأَئِمَّة مفرقة بالغت حسب الطَّاقَة فِي ضمهَا وقدمت بعض فوائدي إِلَيْهَا فَإِذا هِيَ عرائس مشرقة هَذَا وَقد صنف الْأَئِمَّة من الْعلمَاء الْأَعْلَام فِي نَاسخ الْقُرْآن ومنسوخه كتبا جمة إرشادا لأهل الْإِسْلَام فَمن جُمْلَتهَا كتاب هبة الله الْمُفَسّر الْبَغْدَادِيّ الْعَلامَة الْأَمَام ذكر انه استخرج مَا فِيهِ من كتب عدتهَا خَمْسَة وَتسْعُونَ كتابا على التَّمام
লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রুহুল আমীনের মাধ্যমে রাসুলগণের সরদারের হৃদয়ে সুস্পষ্ট কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং মুমিনদের জন্য রহমত ও কাফেরদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ এতে রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয় রেখেছেন। আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি ইসলামের নেয়ামত এবং মুসলিমদের বিষয়াবলি সহজ করার জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের নেতা এবং মুত্তাকীদের ইমামের ওপর, যিনি তাঁর শরীয়তের সুদৃঢ় বিধানের মাধ্যমে পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়তসমূহ রহিত করেছেন (الناسخ)। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও প্রজ্ঞা ও সুনিশ্চিত বিশ্বাসের অধিকারী সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী বরেণ্য ইমাম ও আলেমগণের মধ্যে যারা তাবেয়ী (التابعين) ও তবে-তাবেয়ী (تابع التابعين) তাঁদের ওপর।

অতঃপর,

এটি পাঠকদের নিকট উপস্থাপিত এক সুশোভিত উপহার এবং এমন এক অমূল্য রত্ন যা দামী মুক্তার বিনিময়েও কেনা যায়। আমি এতে রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) আয়াতসমূহ একত্রিত করেছি, যা ইমামগণের দীর্ঘ আলোচনার কারণে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। আমি সাধ্যানুযায়ী সেগুলো সংকলনে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং এতে আমার কিছু নিজস্ব গবেষণালব্ধ বিষয়ও সংযোজন করেছি, ফলে তা এখন এক উজ্জ্বল রূপ পরিগ্রহ করেছে। উল্লেখ্য যে, বরেণ্য আলেম ও ইমামগণ মুসলিম উম্মাহর পথনির্দেশনার জন্য কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ের ওপর অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বরেণ্য ইমাম ও আল্লামা হিবাতুল্লাহ আল-বাগদাদী মুফাসসিরের গ্রন্থ; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর গ্রন্থের বিষয়বস্তুসমূহ পূর্ণাঙ্গ পঁচানব্বইটি গ্রন্থ থেকে চয়ন করেছেন।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
فَلَمَّا رَأَيْت ذَلِك وَعلمت أَن علم النَّاسِخ علم الْحَلَال من الْحَرَام وَفِيه من الغموض مَعَ كَثْرَة التَّطْوِيل مَا يدق فهمه عَن كثير من ذَوي الأفهام دَعَاني دَاعِي الْمَشِيئَة والإلهام إِلَى جمع مؤلف مزيلا للظلام مبالغا فِي اختصاره على وضوحه خشيَة تَطْوِيل الْأَحْكَام لَا سِيمَا والهمم قد ضعفت والنفوس قد جبلت على حب الْمُخْتَصر من الْكَلَام واعتمدت فِيهِ على مَا ذكره الْأَئِمَّة الْعلمَاء من الْمُفَسّرين هداة الْأَنَام

وَمَعَ ذَلِك فالفقير معترف بقصر الباع مغترف من بَحر غَيره للِانْتِفَاع موقن بِأَن أغراض المصنفين أغراض سِهَام أَلْسِنَة الحساد مَا وجدوا إِلَيْهَا سَبِيلا سنة الله الَّتِي قد خلت من قبل وَلنْ تَجِد لسنة الله تبديلا وسميته

قلائد المرجان فِي بَيَان النَّاسِخ والمنسوخ فِي الْقُرْآن فَأَقُول وَالله خير موفق ومعين وَبِه فِي أموري كلهَا استعين لَطِيفَة فِيهَا الْحَث على معرفَة النَّاسِخ والمنسوخ وذم من لم يعرفهُ وَلَو كَانَ عِنْده فِي الْعلم رسوخ

قَالَ صَاحب كتاب الإيجاز رُوِيَ بِالْإِسْنَادِ الصَّحِيح أَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عليا كرم الله وَجهه رأى رجلا فِي الْمَسْجِد يذكر النَّاس فَقَالَ لَهُ أتعرف النَّاسِخ من الْمَنْسُوخ قَالَ لَا فَقَالَ لَهُ هَلَكت وأهلكت وَأخرجه من الْمَسْجِد وَمنعه من الْقَصَص فِيهِ وَرُوِيَ مثل ذَلِك عَن عبد الله بن عَبَّاس وَأَنه ركله بِرجلِهِ وَقَالَ لَهُ هَلَكت وأهلكت

وروى عَن ابْن عَبَّاس فِي قَول الله تَعَالَى

{وَمن يُؤْت الْحِكْمَة فقد أُوتِيَ خيرا كثيرا} فَقَالَ هُوَ معرفَة الْقُرْآن الْكَرِيم ناسخة ومنسوخة ومحكمة ومتشابهة
যখন আমি এটি লক্ষ্য করলাম এবং বুঝতে পারলাম যে, রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কিত জ্ঞান হলো মূলত হালাল ও হারামের জ্ঞান; আর দীর্ঘ আলোচনার পাশাপাশি এর ভেতর এমন কিছু অস্পষ্টতা ও সূক্ষ্মতা রয়েছে যা বহু প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির পক্ষেও অনুধাবন করা দুষ্কর, তখন ঐশ্বরিক ইচ্ছা ও ইলহামের আহ্বানে আমি এমন একটি গ্রন্থ সংকলনে উদ্বুদ্ধ হলাম যা অন্ধকার দূরীভূত করবে। বিধি-বিধানের দীর্ঘসূত্রতার ভয়ে আমি এর স্বচ্ছতা বজায় রেখে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করেছি। বিশেষত বর্তমান সময়ে মানুষের হিম্মত ও সংকল্প কমে গেছে এবং মানুষের মন স্বভাবজাতভাবেই সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রতি অনুরাগী। আমি এই গ্রন্থ রচনায় উম্মাহর পথপ্রদর্শক বিজ্ঞ মুফাসসির ইমামগণের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি।

তা সত্ত্বেও এই অকিঞ্চিৎকর লেখক স্বীয় জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছে এবং অন্যের জ্ঞানের সমুদ্র থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য অঞ্জলি ভরছে। আমি নিশ্চিত যে, গ্রন্থকারদের উদ্দেশ্যসমূহ সর্বদা হিংসুকদের জিহ্বার তীরের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে, যদি তারা সে সুযোগ পায়। এটিই আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম যা পূর্ব থেকেই চলে আসছে, আর আপনি আল্লাহর নিয়মে কোনো পরিবর্তন পাবেন না। আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি— কালাইদুল মারজান ফি বায়ানিন নাসিখি ওয়াল মানসুখি ফিল কুরআন। আমি বলছি— আর আল্লাহই সর্বোত্তম তৌফিকদাতা ও সাহায্যকারী এবং আমার সকল বিষয়ে আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি। একটি সূক্ষ্ম বিষয়: এতে রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوখ) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সেই ব্যক্তির নিন্দা করা হয়েছে যে এ সম্পর্কে অবগত নয়, যদিও ইলমের ক্ষেত্রে তার গভীর পাণ্ডিত্য থাকে।

‘কিতাবুল ইজায’-এর লেখক বলেন: সহীহ (الصحيح) সনদ (بالإسناد) সহকারে বর্ণিত হয়েছে যে, আমিরুল মুমিনীন আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) মসজিদে এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে মানুষকে নসিহত করছে। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوখ) সম্পর্কে জানো?” সে উত্তর দিল, “না।” তিনি বললেন, “তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ।” অতঃপর তিনি তাকে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন এবং সেখানে কিচ্ছা-কাহিনী বা ওয়াজ করতে নিষেধ করলেন। অনুরূপ বর্ণনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাকে পা দিয়ে আঘাত করে বললেন, “তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ।”

মহান আল্লাহর বাণী— {যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে} এর ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: এটি হলো পবিত্র কুরআনের রহিতকারী (ناسخة) ও রহিত (منسوخة) এবং দ্ব্যর্থহীন (محكمة) ও রূপক/অস্পষ্ট (متشابهة) আয়াতসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
ومجمله ومفصله ومقدمة ومؤخرة وَحَرَامه وَحَلَاله وَأَمْثَاله

وروى عَن حُذَيْفَة بن الْيَمَان أَنه قَالَ

إِنَّمَا يُفْتِي النَّاس أحد ثَلَاثَة رجل يعلم مَنْسُوخ الْقُرْآن وناسخه وَرجل قَاض لَا يجد من الْقَضَاء بُد وَرجل متكلف وَلست بِالرجلَيْنِ الماضيين وأكره أَن أكون الثَّالِث

قَالَ الشَّيْخ الْجَلِيل هبة الله بن سَلامَة فِي كِتَابه النَّاسِخ والمنسوخ

جَاءَ عَن أَئِمَّة السّلف أَن من تعلم فِي شَيْء من علم هَذَا الْكتاب وَلم يعلم النَّاسِخ والمنسوخ كَانَ عمله نَاقِصا لِأَنَّهُ يخلط النَّهْي بِالْأَمر وَالْإِبَاحَة بالحظر

إِذا علمت ذَلِك فَعلم النَّاسِخ والمنسوخ أَمر مُهِمّ ومتفق عَلَيْهِ وَبَيَانه فرض لَازم فَلذَلِك سارعت إِلَيْهِ وَوضعت فِيهِ هَذَا الْمُخْتَص على أحسن تأسيس وأبرزت فِيهِ الْفَوَائِد لطَالب النفيس وقللت حجمه لنيل المطالب ووضحت نظمه ليقرب فهمه على الطَّالِب وَلم أودعهُ إِلَّا مَا وَجب التَّنْبِيه عَلَيْهِ ودعت الْحَاجة إِلَيْهِ وَقد ختمته أخيرا بِأَحْسَن خَاتِمَة راجيا من الله فِي الْآخِرَة حسن الخاتمة

وَبِاللَّهِ مولَايَ أستعين فَهُوَ نعم الْمولى وَنعم الْمعِين
এর সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও বিস্তারিত (مفصل), এর অগ্রবর্তী (مقدم) ও পরবর্তী (مؤخر), এর হারাম ও হালাল এবং এর উদাহরণসমূহ।

এবং হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন:

কেবল তিন ধরনের ব্যক্তি মানুষের মাঝে ফতোয়া দিয়ে থাকে: এমন ব্যক্তি যে কুরআনের রহিত (منسوخ) ও রহিতকারী (ناسخ) বিষয়গুলো জানে, এমন বিচারক যার বিচারকার্য পরিচালনা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং এমন ব্যক্তি যে নিজেকে জবরদস্তি করে কষ্ট দেয়। আর আমি প্রথমোক্ত দুই ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত নই এবং তৃতীয় ব্যক্তি হতে অপছন্দ করি।

মহান শায়খ হিবাতুল্লাহ বিন সালামাহ তার আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ কিতাবে বলেছেন:

সালাফ ইমামগণের নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এই কিতাবের (কুরআনের) কোনো জ্ঞান অর্জন করল অথচ রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوখ) সম্পর্কে জানল না, তার আমল অসম্পূর্ণ (ناقص); কেননা সে নিষেধের সাথে আদেশকে এবং হারামের সাথে বৈধতাকে মিশ্রিত করে ফেলবে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوখ) বিষয়ের জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি সর্বসম্মত (متفق عليه) বিষয়। এর বর্ণনা প্রদান করা একটি অপরিহার্য (لازم) কর্তব্য। তাই আমি দ্রুততার সাথে সর্বোত্তম ভিত্তির ওপর এই সংক্ষিপ্ত সারটি প্রস্তুত করেছি এবং মূল্যবান জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য এতে বিভিন্ন উপকারিতা প্রকাশ করেছি। উদ্দিষ্ট বিষয়গুলো অর্জনের নিমিত্তে আমি এর কলেবর সংক্ষিপ্ত করেছি এবং শিক্ষার্থীর বোধগম্য করার জন্য এর বিন্যাস সুস্পষ্ট করেছি। যে বিষয়ে সতর্কতা প্রদান করা ওয়াজিব এবং যে বিষয়ে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তা ব্যতীত অন্য কিছু আমি এতে অন্তর্ভুক্ত করিনি। আমি আল্লাহর নিকট আখিরাতে উত্তম পরিণতির আশা করে এটিকে সর্বোত্তম সমাপ্তি দ্বারা শেষ করেছি।

আর আমি আমার মওলা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, তিনিই সর্বোত্তম মওলা এবং সর্বোত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
- صلى الله عليه وسلم َ - الْبَاب الأول

‌‌الْفَصْل الأول

مُقَدّمَة فِي معنى النّسخ

قَالَ الْعلمَاء بِلِسَان الْعَرَب النّسخ لُغَة التبديل وَالرَّفْع والإزالة وَالنَّقْل وَسَيَأْتِي مَعْنَاهُ شرعا وَقَالَ الْمُحَقِّقُونَ مِنْهُم النّسخ على ثَلَاثَة أَقسَام

الأول من مَعَاني النّسخ فِي الْقُرْآن بِالْمَعْنَى الشَّرْعِيّ أَن يكون مأخوذا من قَول الْعَرَب نسخت الشَّمْس الظل إِذا أزالته ورفعته بانبساطها وحلت مَحَله وَهَذَا مُوَافق لما أَزَال الْقُرْآن لَفظه وَحكمه وَحل مَحَله

قلت ويمثل لَهُ بِآيَة الْخمس رَضعَات أَو حكمه دون لَفظه

الثَّانِي أَن يكون مأخوذا من قَوْلهم نسخت الرّيح الْآثَار وَكَذَا يَقُولُونَ فِي الأمطار إِذا أزالتها ومحتها قلت وَهُوَ بِمَعْنى الأول من حَيْثُ الْإِزَالَة لَا من حَيْثُ الْحُلُول لِأَن الرّيح لَا تحل مَحل مَا أزالته حينا وَهَذَا مَوَاقِف فِي الْقُرْآن لما زَالَ لَفظه دون حكمه كآية الرَّجْم
- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - প্রথম পরিচ্ছেদ

প্রথম অনুচ্ছেদ

রহিতকরণ (نسخ)-এর অর্থ বিষয়ক ভূমিকা

আলেমগণ বলেছেন, আরবি ভাষায় আভিধানিক (لغة) অর্থে রহিতকরণ (نسخ) হলো পরিবর্তন, বাতিল, বিলুপ্তি এবং স্থানান্তর করা; শীঘ্রই এর পারিভাষিক (شرعا) অর্থ আলোচিত হবে। তাদের মধ্য হতে গবেষক আলেমগণ বলেছেন, রহিতকরণ (نسخ) তিন প্রকার।

প্রথমত: কুরআনে পারিভাষিক (شرعا) অর্থে রহিতকরণ (نسخ)-এর একটি অর্থ হলো, এটি আরবদের এই প্রবাদ থেকে গৃহীত যে, "সূর্য ছায়াকে বিলুপ্ত (نسخت) করেছে"—অর্থাৎ যখন সূর্য তার বিস্তৃতির মাধ্যমে ছায়াকে দূরীভূত ও অপসারিত করে এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয়। এটি কুরআনের ওই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যার শব্দ (পাঠ) এবং বিধান উভয়ই রহিত করা হয়েছে এবং তার স্থলে অন্যটি স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

আমি (লেখক) বলছি: এর উদাহরণ হলো পাঁচ বার স্তন্যপান বিষয়ক আয়াত, অথবা যার বিধান রহিত হয়েছে কিন্তু শব্দ রহিত হয়নি।

দ্বিতীয়ত: এটি আরবদের এই উক্তি থেকে গৃহীত হতে পারে যে, "বাতাস চিহ্নসমূহ মিটিয়ে (نسخت) দিয়েছে"; বৃষ্টির ক্ষেত্রেও তারা একই কথা বলে যখন তা কোনো চিহ্ন দূরীভূত ও মুছে ফেলে। আমি বলছি, এটি বিলুপ্তকরণের দিক থেকে প্রথম অর্থের অনুরূপ, তবে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দিক থেকে নয়; কারণ বাতাস যা দূরীভূত করে তার স্থলাভিষিক্ত হয় না। আর এটি কুরআনের ওই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যার শব্দ রহিত (نسخ) হয়েছে কিন্তু বিধান রহিত হয়নি, যেমন—রজমের আয়াত।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
أَو زَالا مَعًا

الثَّالِث أَن يكون مأخوذا من قَوْلهم نسخت الْكتاب إِذا نقلته حاكيا للفظه وحروف هجائه

قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْمَعْرُوف بمكي فِي كِتَابه النَّاسِخ والمنسوخ وَهَذَا الْوَجْه لَا يَصح أَن يكون فِي الْقُرْآن وَأنكر على جَعْفَر أَحْمد بن النّحاس حَيْثُ أجَاز أَن يكون فِي الْقُرْآن وَاحْتج بِأَن النَّاسِخ فِيهِ لَا يَأْتِي بِلَفْظ الْمَنْسُوخ وَإِنَّمَا يَأْتِي بِلَفْظ آخر

وانتصر صَاحب كتاب الإيجاز لِأَبْنِ النّحاس فَقَالَ وَالَّذِي قَالَه أَبُو جَعْفَر قَرِيبا مُسْتَعْملا فِي كتاب الله قَالَ تَعَالَى {إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخ مَا كُنْتُم تَعْمَلُونَ} وَقَالَ {وَإنَّهُ فِي أم الْكتاب لدينا} الْآيَة وَمَعْلُوم أَن مَا نزل من الْوَحْي هُوَ مَا فِي أم الْكتاب وَهُوَ اللَّوْح الْمَحْفُوظ كَمَا قَالَ تَعَالَى

{فِي كتاب مَكْنُون لَا يمسهُ إِلَّا الْمُطهرُونَ} وَمِنْه ينْقل مَا ينزل

قَالَ تَعَالَى {يمحو الله مَا يَشَاء وَيثبت وَعِنْده أم الْكتاب} فَهَذَا أدل دَلِيل على جَوَاز النّسخ فِي كتاب الله تَعَالَى يَعْنِي بِالْمَعْنَى الْمَذْكُور

فالقرآن على هَذَا التَّأْوِيل مَنْسُوخ من أم الْكتاب مَنْقُول بالخط وحروف الهجاء وَأم كل شَيْء فِي كَلَام الْعَرَب أَصله

وَأم الْكتاب اللَّوْح الْمَحْفُوظ فَالَّذِي علل بِهِ مكي وَاعْترض لَا يبطل اسْتِعْمَال هَذَا الْوَجْه ومجيئه

قلت وَفِي جَوَاب صَاحب الإيجاز عَن ابْن النّحاس ليرد مَا قَالَه مكي نظر فَأن هَذَا أَمر مُتَّفق عَلَيْهِ

وَالْقُرْآن بِهَذَا الْمَعْنى كُله مَنْسُوخ لِأَنَّهُ نسخ من اللَّوْح الْمَحْفُوظ أَي نقل مِنْهُ وَلَيْسَ هُوَ بِمُرَاد مكي فَأَنَّهُ لَا يجهل ذَلِك وَلَا يَسعهُ إِنْكَاره
অথবা উভয়ই একসাথে অপসারিত হওয়া।

তৃতীয়ত, এটি তাদের উক্তি "আমি কিতাবটি প্রতিলিপি (نسخت) করেছি" থেকে গৃহীত হতে পারে; যখন আপনি এর শব্দ ও বর্ণমালার হুবহু অনুকরণ করে তা স্থানান্তর করেন।

আবু মুহাম্মদ, যিনি মাক্কি নামে পরিচিত, তাঁর 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' গ্রন্থে বলেছেন যে, এই প্রেক্ষিতটি কুরআনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া সঠিক নয়। তিনি আবু জাফর আহমদ ইবনুন নাহহাসের সমালোচনা করেছেন যেখানে তিনি একে কুরআনের ক্ষেত্রে বৈধ বলে গণ্য করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এতে রহিতকারী (الناسخ) শব্দ রহিত (المنسوخ) শব্দের অবয়বে আসে না, বরং তা অন্য শব্দে আসে।

'আল-ইজায' গ্রন্থের লেখক ইবনুন নাহহাসের পক্ষ সমর্থন করে বলেছেন: আবু জাফর যা বলেছেন তা আল্লাহর কিতাবে ব্যবহারের অতি নিকটবর্তী। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই তোমরা যা করতে আমরা তা প্রতিলিপিকরণ (نستنسخ) করতাম।" এবং তিনি বলেন: "আর নিশ্চয়ই তা আমাদের কাছে উম্মুল কিতাবে রয়েছে..." [আয়াতাংশ]। আর এটি সুবিদিত যে, ওহি হিসেবে যা নাজিল হয়েছে তা উম্মুল কিতাবে বিদ্যমান, আর তা হলো লাওহে মাহফুজ; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:

"এক সুরক্ষিত কিতাবে, যা পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ স্পর্শ করে না।" আর সেখান থেকেই যা নাজিল হয় তা স্থানান্তর করা হয়।

মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে উম্মুল কিতাব।" সুতরাং এটি আল্লাহর কিতাবে উল্লিখিত অর্থে রহিতকরণ বা প্রতিলিপিকরণ (النسخ) বৈধ হওয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল।

অতএব, এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী কুরআন উম্মুল কিতাব থেকে অনুলিখিত (منسوخ), যা লিপি ও বর্ণমালার মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে। আর আরবদের ভাষায় যেকোনো কিছুর 'উম্ম' (মা) হলো তার মূল।

উম্মুল কিতাব হলো লাওহে মাহফুজ। সুতরাং মাক্কি যে কারণ দর্শিয়েছেন এবং আপত্তি তুলেছেন, তা এই প্রেক্ষিতটির ব্যবহার ও এর প্রাসঙ্গিকতাকে বাতিল করে না।

আমি বলছি: মাক্কির বক্তব্য খণ্ডন করতে ইবনুন নাহহাসের পক্ষে 'আল-ইজায' লেখকের উত্তরে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ এটি একটি সর্বসম্মত বিষয়।

আর এই অর্থে পুরো কুরআনই অনুলিখিত (منسوخ), কারণ এটি লাওহে মাহফুজ থেকে প্রতিলিপি (نسخ) করা হয়েছে অর্থাৎ সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এটি মাক্কির উদ্দেশ্য ছিল না, কারণ তিনি এ সম্পর্কে অজ্ঞ নন এবং এটি অস্বীকার করার অবকাশও তাঁর নেই।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
فالاحسن حمل كَلَام مكي على الْقُرْآن بعد نُزُوله مَعَ الرّوح الْأمين على قلب سيد الْمُرْسلين

والنسخ بِالْمَعْنَى الْمَذْكُور ينفى مِنْهُ قطعا

فَكَلَام مكي على هَذَا فِي غَايَة التسديد لَكِن اعتراضه على ابْن النّحاس غير سديد لحمل كَلَامه على مَا قَالَه صَاحب الإيجاز إِذن لَا خلاف بِحَسب الْحَقِيقَة فَتَأمل
সুতরাং মক্কী-র বক্তব্যকে রাসূলগণের সরদারের হৃদয়ে রুহুল আমীনের মাধ্যমে অবতীর্ণ হওয়ার পরবর্তী কুরআনের ওপর প্রয়োগ করাই অধিকতর উত্তম।

আর উল্লিখিত অর্থে রহিতকরণ (نسخ) তা থেকে অকাট্যভাবে নাকচ হয়ে যায়।

সুতরাং এ হিসেবে মক্কী-র বক্তব্য অত্যন্ত সঠিক; তবে ইবনে আন-নাহহাসের ওপর তাঁর আপত্তি সঠিক নয়, কারণ তাঁর বক্তব্যকে আল-ইজায প্রণেতার বক্তব্যের ওপর প্রয়োগ করা হয়; ফলে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধ থাকে না, অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي

فَائِدَة فِي أَقسَام الْمَنْسُوخ فِي الْقُرْآن

‌‌هُوَ سِتَّة

الأول مَا رفع رسمه من غير بدل مِنْهُ وبقى حكمه مجمعا عَلَيْهِ نَحْو آيَة الرَّجْم

قَالَ الإِمَام عمر وَالله لقد قَرَأنَا على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا ترغبوا عَن آبائكم فَإِن ذَلِك كفر بكم الشَّيْخ وَالشَّيْخَة إِذا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ نكالا من الله وَالله عَزِيز حَكِيم
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

কুরআনের রহিত (منسوخ) বিষয়সমূহের প্রকারভেদ সম্পর্কে একটি জ্ঞাতব্য বিষয়

তা ছয় প্রকার

প্রথম প্রকার হলো—যার লিখন বা পাঠ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে কোনো বিনিময় ব্যতিরেকেই এবং এর বিধান (حكم) সর্বসম্মতিক্রমে (مجمع عليه) অবশিষ্ট রয়েছে; যেমন—রজম (رجم) সংক্রান্ত আয়াত।

ইমাম উমর (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে পাঠ করতাম: "তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের থেকে বিমুখ হয়ো না, কেননা তা তোমাদের জন্য কুফরি। বৃদ্ধ পুরুষ ও বৃদ্ধা নারী যখন ব্যভিচার করে, তখন তোমরা অবশ্যই তাদের উভয়কে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা (رجم) করো; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত দণ্ড। আর আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقد رجم عليه الصلاة والسلام المحصنين وَهُوَ المُرَاد بالشيخ وَالشَّيْخَة

الثَّانِي مَا رفع حكمه بِحكم آيَة أُخْرَى وَبَقِي رسمه وَكِلَاهُمَا ثَابت بِاللَّفْظِ والخط فِي الْمُصحف الْمجمع عَلَيْهِ

وَهَذَا هُوَ الْأَكْثَر فِي الْمَنْسُوخ كآيتي عدَّة الْوَفَاة قَالَ هبة الله إِن هَذَا فِي ثَلَاث وَسِتِّينَ سُورَة
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবাহিত (المحصنين) ব্যক্তিদের পাথর নিক্ষেপ (رجم) করার দণ্ড কার্যকর করেছিলেন এবং 'বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা' (الشَّيْخ وَالشَّيْخَة) পরিভাষা দ্বারা তাদেরকেই বোঝানো হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকার হলো সেটি, যার বিধান অন্য একটি আয়াতের বিধান দ্বারা রহিত (رُفع حكمه) করা হয়েছে অথচ তার পাঠরীতি বা লিখনশৈলী অবশিষ্ট রয়েছে। আর এই উভয় বিষয়ই সর্বসম্মতভাবে সংকলিত মুসহাফে (المصحف) বিদ্যমান শব্দাবলি ও লিপি দ্বারা প্রমাণিত।

রহিত (المنسوخ) বিষয়ের ক্ষেত্রে এটিই সর্বাধিক প্রচলিত, যেমন স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দত (عدَّة) পালন সংক্রান্ত দুটি আয়াত। হেবাতুল্লাহ বলেন যে, এটি তেষট্টিটি সূরায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
الثَّالِث مَا رفع حكمه ورسمه وَزَالَ حفظه من الْقُلُوب

وَإِنَّمَا علم ذَلِك من أَخْبَار الْآحَاد كَمَا رُوِيَ عَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ أَنه قَالَ نزلت سُورَة نَحْو بَرَاءَة ثمَّ رفعت

وروى هبة الله الْبَغْدَادِيّ فِي كِتَابه عَن أنس بن مَالك أَنه قَالَ كُنَّا نَقْرَأ على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سُورَة تعدلها سُورَة التَّوْبَة مَا أحفظ مِنْهَا إِلَّا آيَة وَاحِدَة وَهِي لَو أَن لِأَبْنِ آدم واديين من ذهب لابتغى لَهما ثَالِثا وَلَو أَن لَهُ ثَالِثا لابتغى إِلَيْهِمَا رَابِعا فَلَا يمْلَأ جَوف ابْن آدم إِلَّا التُّرَاب وَيَتُوب الله على من تَابَ وَكَذَلِكَ روى ابْن مَسْعُود قَالَ أَقْرَأَنِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم آيَة فحفظها وأثبتها فِي مصحفي فَلَمَّا كَانَ اللَّيْل رجعت إِلَى حفظي فَلم أَجدهَا وغدوت على مصحفي فَإِذا التَّوْرَاة بَيْضَاء فَأخْبرت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

فَقَالَ لي يَا ابْن مَسْعُود تِلْكَ رفعت البارحة

وَذكروا أَن سُورَة الْأَحْزَاب كَانَت مثل سُورَة الْبَقَرَة فَرفع أَكْثَرهَا
তৃতীয় প্রকার হলো সেইসব আয়াত যার বিধান ও পাঠ উভয়ই রহিত করা হয়েছে এবং অন্তর থেকে যার মুখস্থ অংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আর এটি কেবলমাত্র একক বর্ণনা (أخبار الآحاد) থেকে জানা গেছে, যেমনটি আবু মুসা আল-াশ'আরী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন, "সূরা বারাআতের সমতুল্য একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছিল, অতঃপর তা তুলে নেওয়া হয়েছে।"

হিবাতুল্লাহ আল-বাগদাদী তার কিতাবে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এমন একটি সূরা পাঠ করতাম যা সূরা আত-তাওবার সমান ছিল। এখন আমার এর থেকে মাত্র একটি আয়াত ছাড়া আর কিছুই মুখস্থ নেই, আর তা হলো— 'যদি আদম সন্তানের জন্য স্বর্ণের দুটি উপত্যকা থাকত তবে সে তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করত। আর যদি তার তিনটি থাকত তবে সে চতুর্থটির আকাঙ্ক্ষা করত। আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া আর কিছুই পূর্ণ করতে পারে না, আর আল্লাহ তাওবাকারীর তাওবা কবুল করেন'।" অনুরূপভাবে ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে একটি আয়াত শিখিয়েছিলেন, আমি তা মুখস্থ করেছিলাম এবং আমার মুসহাফে তা লিপিবদ্ধ করেছিলাম। যখন রাত হলো, আমি আমার স্মৃতির দিকে ফিরে তাকালাম কিন্তু তা আর খুঁজে পেলাম না। পরদিন সকালে আমি আমার মুসহাফের কাছে গেলাম এবং দেখলাম যে পাতাটি সম্পূর্ণ সাদা। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তা অবহিত করলাম।"

তিনি আমাকে বললেন: "হে ইবনে মাসউদ, গত রাতে তা তুলে নেওয়া হয়েছে।"

এবং তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, সূরা আল-আহজাব ছিল সূরা আল-বাকারা এর সমতুল্য, অতঃপর এর অধিকাংশ অংশ তুলে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
الرَّابِع مَا رفع حكمه ورسمه وَلم يزل حفظه من الْقُلُوب فَلذَلِك وَقع الِاخْتِلَاف فِي الْعَمَل بالناسخ وَهَذَا أَيْضا إِنَّمَا علم من طَرِيق أَخْبَار الْآحَاد نَحْو حَدِيث مُسلم عَن عَائِشَة رضي الله عنها كَانَ فِيمَا أنزل الله عشر رَضعَات مَعْلُومَات فنسخت بِخمْس مَعْلُومَات فَحكم الْعشْر رَضعَات غير مَعْمُول بِهِ إِجْمَاعًا وَإِنَّمَا الْخلاف فِي التَّحْرِيم برضعة وَاحِدَة على نَص الْقُرْآن فِي قَوْله {وأخواتكم من الرضَاعَة}

قلت وبظاهر نَص الْقُرْآن أخذت الْحَنَفِيَّة والمالكية فحرموا برضعة وَبِحَدِيث عَائِشَة أخذت الشَّافِعِيَّة والحنابلة فحرموا بِخمْس رَضعَات

الْخَامِس مَا فرض الْعَمَل بِهِ لعِلَّة ثمَّ ترك الْعَمَل لزوَال الْعلَّة الْمُوجبَة وبقى اللَّفْظ والخط نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَإِن فاتكم شَيْء من أزواجكم إِلَى الْكفَّار} الْآيَة وَقَوله
চতুর্থ (প্রকার) হলো যার বিধান ও লিখন উভয়ই রহিত হয়ে গেছে এবং তা মানুষের অন্তর থেকে বিলুপ্ত হয়নি। একারণেই রহিতকারী (الناسخ) বিধান অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে মতভেদ তৈরি হয়েছে। আর এটিও কেবল একক সূত্রের সংবাদ (أخبار الآحاد) এর মাধ্যমেই জানা গেছে, যেমন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত মুসলিম-এর হাদিস: "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছিলেন তাতে দশটি নির্দিষ্ট দুগ্ধপানের কথা ছিল, যা পরবর্তীতে পাঁচটি নির্দিষ্ট দুগ্ধপানের মাধ্যমে রহিত হয়েছে।" সুতরাং সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) দশবার দুগ্ধপানের বিধানটি আর কার্যকর নয়। মূলত কুরআনুল কারিমের এই আয়াতাংশের মূল পাঠ্যের (نص) ভিত্তিতে কেবল একবার দুগ্ধপানেই (বৈবাহিক সম্পর্ক) হারাম হওয়া নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে: {এবং তোমাদের দুগ্ধ-বোনগণ}।

আমি বলি, কুরআনুল কারিমের মূল পাঠ্যের (نص) বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে হানাফি ও মালিকি মাযহাব একবার দুগ্ধপানেই হারাম হওয়ার পক্ষাবলম্বন করেছেন। অন্যদিকে, আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের ভিত্তিতে শাফিয়ি ও হাম্বলি মাযহাব পাঁচবার দুগ্ধপানে হারাম হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন।

পঞ্চম (প্রকার) হলো যার ওপর আমল করা কোনো কারণের (علة) ভিত্তিতে ফরয করা হয়েছিল, অতঃপর সেই আবশ্যিক কারণটি দূর হয়ে যাওয়ায় আমলটি পরিত্যাগ করা হয়েছে অথচ এর শব্দ ও লিখন অবশিষ্ট রয়ে গেছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {কাফিরদের কাছে তোমাদের স্ত্রীদের কিছু থেকে গেলে...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত এবং তাঁর বাণী...
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
تَعَالَى {وَآتُوهُمْ مَا أَنْفقُوا} كل ذَلِك أمروا بِهِ بِسَبَب المهادنة الَّتِي كَانَت بَينه عليه الصلاة والسلام وَبَين مُشْركي قُرَيْش ثمَّ زَالَ ذَلِك الْفَرْض لزوَال الْعلَّة وَهِي الْهُدْنَة

السَّادِس مَا حصل من مَفْهُوم الْخطاب بقرآن متلو وَنسخ وبقى الْمَفْهُوم مِنْهُ متلوا

نَحْو قَوْله تَعَالَى {لَا تقربُوا الصَّلَاة وَأَنْتُم سكارى} فهم من هَذَا أَن السكر جَائِز إِذا لم يقرب بِهِ الصَّلَاة فنسخ ذَلِك الْمَفْهُوم بقوله {فَهَل أَنْتُم مُنْتَهُونَ}

فَحرم الْخمر وَالسكر من الْخمر وبقى اللَّفْظ الْمَفْهُوم مِنْهُ متلوا
মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তারা যা ব্যয় করেছে তা তাদেরকে দিয়ে দাও}। এই সবকিছুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল সেই সন্ধির (المهادنة) কারণে যা তাঁর (عليه الصلاة والسلام) এবং কুরাইশ মুশরিকদের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল। অতঃপর সেই কারণ অর্থাৎ সন্ধি (الهدنة) বিলুপ্ত হওয়ার ফলে উক্ত বিধানের আবশ্যকতাও দূর হয়ে যায়।

ষষ্ঠ প্রকার হলো: পঠিত বা তিলাওয়াতকৃত কুরআনের সম্বোধনের মর্মার্থ (مفهوم الخطاب) থেকে যা অর্জিত হয় এবং যা রহিত (نسخ) করা হয়েছে, অথচ যার মর্মার্থ প্রকাশের উৎস বা শব্দাবলি তিলাওয়াতকৃত (متلو) হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে।

যেমন মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না}। এখান থেকে এটি অনুধাবন করা হয় যে, নামাজের নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত নেশাগ্রস্ত হওয়া বৈধ (جائز) ছিল। অতঃপর সেই মর্মার্থটি (المفهوم) আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {তবে কি তোমরা বিরত হবে না?}।

ফলে মদ এবং মদ থেকে সৃষ্ট নেশা হারাম (حرم) করে দেওয়া হয়েছে, আর যে শব্দাবলি (اللفظ) থেকে এই মর্মার্থটি গৃহীত হয়েছিল তা তিলাওয়াতকৃত (متلو) হিসেবে অবশিষ্ট রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث

فَائِدَة فِي أَقسَام النَّاسِخ من الْقُرْآن

وَهُوَ ثَلَاثَة

الأول أَن يكون النَّاسِخ فرضا والمنسوخ كَانَ فرضا وَلَا يجوز فعل الْمَنْسُوخ بعد نسخه نَحْو قَوْله تَعَالَى {واللاتي يَأْتِين الْفَاحِشَة من نِسَائِكُم} الْآيَة

نسخ آيَة الْحَبْس إِلَى الْمَوْت بِآيَة الْجلد

قَالَ بعض الْعلمَاء هَذِه الْآيَة نسخ الله أَولهَا بآخرها وَهُوَ قَوْله {أَو يَجْعَل الله لَهُنَّ سَبِيلا} وَبَين السَّبِيل مَا هُوَ بِآيَة الْجلد

الثَّانِي أَن يكون النَّاسِخ فرضا والمنسوخ كَانَ فرضا وَنحن مخيرون فِي فعل الْفَرْض الْمَنْسُوخ وَتَركه نَحْو قَوْله تَعَالَى {إِن يكن مِنْكُم عشرُون صَابِرُونَ يغلبوا مِائَتَيْنِ} الْآيَة

فَفرض على الْمُؤمن الْوَاحِد أَلا ينهزم من عشرَة من الْمُشْركين ثمَّ نسخ بقوله تَعَالَى {فَإِن يكن مِنْكُم مائَة صابرة يغلبوا مِائَتَيْنِ وَإِن يكن مِنْكُم ألف يغلبوا أَلفَيْنِ} فَفرض على الْمُؤمن الْوَاحِد أَلا ينهزم من اثْنَيْنِ من الْمُشْركين
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

কোরআনের রহিতকারী (الناسخ) আয়াতসমূহের প্রকারভেদ সম্পর্কিত একটি জ্ঞাতব্য বিষয়

এটি তিন প্রকার

প্রথম প্রকার: রহিতকারী (الناسخ) বিধানটি ফরজ (فرض) এবং রহিতকৃত (المنسوخ) বিধানটিও ফরজ (فرض) ছিল। বিধানটি রহিত হওয়ার পর রহিতকৃত (المنسوخ) বিধান অনুযায়ী আমল করা বৈধ নয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে...} আয়াতটি শেষ পর্যন্ত

মৃত্যু পর্যন্ত বন্দি রাখার আয়াতটি বেত্রাঘাতের আয়াতের মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে

জনৈক আলেম বলেন, আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের প্রথম অংশকে এর শেষ অংশ দ্বারা রহিত (نسخ) করেছেন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো পথ করে দেবেন} এবং বেত্রাঘাতের আয়াতের মাধ্যমে সেই পথটি কী তা সুস্পষ্ট করা হয়েছে

দ্বিতীয় প্রকার: রহিতকারী (الناسخ) বিধানটি ফরজ (فرض) এবং রহিতকৃত (المنسوخ) বিধানটিও ফরজ (فرض) ছিল, তবে এক্ষেত্রে আমরা রহিতকৃত (المنسوخ) ফরজ (فرض) আমলটি পালন করা বা বর্জন করার ক্ষেত্রে ইখতিয়ার বা পছন্দের স্বাধীনতা রাখি। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দুইশর ওপর বিজয়ী হবে...} আয়াতটি শেষ পর্যন্ত

পূর্বে একজন মুমিনের জন্য দশজন মুশরিকের সামনে থেকে পলায়ন না করা ফরজ (فرض) ছিল। এরপর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি একশ জন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দুইশর ওপর বিজয়ী হবে; আর যদি তোমাদের মধ্যে এক হাজার জন থাকে, তবে তারা দুই হাজারের ওপর বিজয়ী হবে}। ফলে বর্তমানে একজন মুমিনের জন্য দুইজন মুশরিকের সামনে থেকে পলায়ন না করা ফরজ (فرض) হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَفعل الْفَرْض الْمَنْسُوخ غير محرم بل جَائِز لنا فعله وَنحن مأجورون عَلَيْهِ فَلَو وقف وَاحِد من الْمُؤمنِينَ لعشرة من الْمُشْركين صَار محتسبا منتظرا للنصر من الله الَّذِي جَاءَ بِهِ وعده الصَّادِق لم يكن عَاصِيا بل جَزَاؤُهُ الْأجر الْكَبِير

قَالَ تَعَالَى {كم من فِئَة قَليلَة غلبت فِئَة كَثِيرَة} الْآيَة

وَقَالَ بَعضهم وَمثل هَذَا قَوْله تَعَالَى {شهر رَمَضَان الَّذِي أنزل فِيهِ الْقُرْآن} نسخ فرض صِيَامه مَا كَانَ كتب على الَّذين من قبلنَا من صَوْم عَاشُورَاء وَصِيَام ثَلَاثَة أَيَّام من كل شهر فَهَذَا فرض نسخ فرضا فعل الْمَنْسُوخ جاءئز لنا وَنحن عَلَيْهِ مأجرون

الثَّالِث أَن يكون النَّاسِخ أمرا بترك الْعَمَل بالمنسوخ الَّذِي كَانَ فرضا وَنحن مخيرون فِي فعل الْمَنْسُوخ وَتَركه وَفعله أفضل وَذَلِكَ مَا نسخ من قيام اللَّيْل بعد أَن كَانَ فرضا

وَمثله مَا كَانَ فرضا على الْمُسلمين من تَحْرِيم الْأكل وَالشرب وَالْوَطْء فِي شهر رَمَضَان بعد النّوم فَهَذَا النَّاسِخ أَمر بترك الْمَنْسُوخ مَعَ أَن لنا فعله

وَزَاد بَعضهم قسما رَابِعا وَهُوَ أَن يكون النَّاسِخ فرضا والمنسوخ كَانَ ندبا كالقتال كَانَ ندبا ثمَّ صَار فرضا

قَالَ بَعضهم وَهَذَا فِي الْحَقِيقَة لَا يُسمى نسخا وَإِنَّمَا هَذَا أَمر مُؤَكد وَلَا رخصَة فِيهِ وتاركه عَاص معاقب

وَالْأول كَانَ تَاركه محروم الْأجر لَا غير فَصَارَ صَرِيح الْأَمر فارضا لِلْقِتَالِ
রহিত (منسوخ) হয়ে যাওয়া আবশ্যিক (فرض) বিধান পালন করা নিষিদ্ধ (محرم) নয়, বরং আমাদের জন্য তা পালন করা বৈধ (جائز) এবং এর জন্য আমরা সওয়াবপ্রাপ্ত হব। অতএব, মুমিনদের মধ্যে কেউ যদি দশজন মুশরিকের মোকাবিলায় আল্লাহর নিকট প্রতিদান প্রত্যাশা করে এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা সেই সাহায্যের অপেক্ষায় অটল থাকে যার প্রতিশ্রুতি তিনি সত্যবাদিতার সাথে দিয়েছেন, তবে সে অবাধ্য (عاصي) হবে না, বরং তার প্রতিদান হবে মহা পুরস্কার।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {কত ক্ষুদ্র দল বিশাল দলের ওপর জয়লাভ করেছে}—আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

তাদের কেউ কেউ বলেন, এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে}। এর সিয়ামের আবশ্যিকতা (فرض) আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর অর্পিত আশুরার রোজা এবং প্রতি মাসে তিন দিন রোজার বিধানকে রহিত (نسخ) করে দিয়েছে। এটি এমন এক আবশ্যিক (فرض) বিধান যা অপর এক আবশ্যিক (فرض) বিধানকে রহিত (نسخ) করেছে; এমতাবস্থায় রহিত (منسوخ) বিধানটি পালন করা আমাদের জন্য বৈধ (جائز) এবং আমরা এর জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হব।

তৃতীয় প্রকার হলো, রহিতকারী (ناسخ) বিধানটি সেই রহিত (منسوخ) বিধান অনুযায়ী আমল বর্জন করার নির্দেশ দেবে যা পূর্বে আবশ্যিক (فرض) ছিল। এখন আমরা সেই রহিত (منسوخ) আমলটি করা বা না করার ব্যাপারে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত (مخير), তবে সেটি পালন করা অধিক উত্তম। এর উদাহরণ হলো রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল) যা আবশ্যিক (فرض) থাকার পর রহিত (نسخ) করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে, রমজান মাসে ঘুমানোর পর পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস করা মুসলমানদের জন্য যে নিষিদ্ধ ও আবশ্যিক (فرض) বিধান ছিল [তাও রহিত হয়েছে]। এখানে রহিতকারী (ناسخ) বিধানটি রহিত (منسوخ) আমলটি বর্জন করার নির্দেশ দিচ্ছে, যদিও তা করা আমাদের জন্য বৈধ।

কেউ কেউ চতুর্থ একটি প্রকার যোগ করেছেন, তা হলো: রহিতকারী (ناسخ) বিধানটি হবে আবশ্যিক (فرض) এবং রহিত (منسوخ) বিধানটি ছিল পছন্দনীয় (ندب); যেমন জিহাদ প্রথমে পছন্দনীয় (ندب) ছিল, অতঃপর তা আবশ্যিক (فرض) করা হয়েছে।

কারো কারো মতে, এটি প্রকৃতপক্ষে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে অভিহিত হয় না, বরং এটি একটি সুনিশ্চিত আদেশ যাতে কোনো প্রকার শিথিলতা (رخصة) নেই এবং এর ত্যাগকারী অবাধ্য (عاصي) ও দণ্ডপ্রাপ্ত হবে।

পূর্বের অবস্থায় তা বর্জনকারী কেবল সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতো, অন্য কিছু নয়; অতঃপর সুস্পষ্ট আদেশের মাধ্যমে জিহাদকে আবশ্যিক (فرض) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌الْفَصْل الرَّابِع

فَائِدَة فِيمَا يجوز أَن يكون نَاسِخا ومنسوخا

وَذَلِكَ خَمْسَة أَقسَام

الأول

نسخ الْقُرْآن بِالْقُرْآنِ وَهُوَ ثَابت بِالْإِجْمَاع كَقَوْلِه تَعَالَى {مَا ننسخ من آيَة} أَي حكم آيَة {أَو ننسها}

أَي نتركها فَلَا ننسخها أَو نؤخر حكمهَا فَيعْمل بِهِ حينا نأت بِخَير مِنْهَا

أَي أَنْفَع مِنْهَا

ثمَّ قَالَ تَعَالَى {ألم تعلم أَن الله على كل شَيْء قدير} من أَمر النَّاسِخ والمنسوخ لِأَن إثباتهما فِي الْقُرْآن دلَالَة على الوحدانية {أَلا لَهُ الْخلق وَالْأَمر}
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) হওয়া বৈধ এমন বিষয়াবলি সম্পর্কিত একটি প্রয়োজনীয় আলোচনা

আর তা পাঁচটি প্রকারে বিভক্ত

প্রথম

কুরআন দ্বারা কুরআনের রহিতকরণ (نسخ); আর এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কোনো আয়াত রহিত (ننسخ) করলে} অর্থাৎ কোনো আয়াতের বিধান {অথবা আমি তা বিস্মৃত করে দিলে}

অর্থাৎ আমি তা ত্যাগ করি ফলে তা রহিত করি না অথবা আমি এর বিধানকে বিলম্বিত করি যেন কিছুকাল তা পালিত হয়, যতক্ষণ না আমি তার চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে আসি

অর্থাৎ যা তার চেয়ে অধিক উপকারী

অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান?} রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) করার বিষয়াবলির ক্ষেত্রে; কেননা কুরআনে এ দুটির বিধানের উপস্থিতি মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণ {জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই}
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الثَّانِي نسخ السّنة بِالْقُرْآنِ

وَفِيه خلاف بَين الْعلمَاء فَمنهمْ من منع وَمِنْهُم من أجَاز وعَلى الْجَوَاز أَكثر الْأَئِمَّة وَجُمْهُور الْعلمَاء

فَمن منع احْتج بِأَن السّنة مبينَة لِلْقُرْآنِ فَلَا يجوز أَن يكون الْمُبين نَاسِخا للمبين لِأَن نسخ مَا يبين الشَّيْء دَاع إِلَى عدم الْبَيَان

قَالَ تَعَالَى {لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم}

وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا} الْآيَة

وَأجِيب عَن الْجُمْهُور

بِأَن هَذَا لَيْسَ بدافع لما قَالُوا بِهِ من الْجَوَاز لِأَنَّهُ إِذا جَازَ نسخ الْقُرْآن بِالْقُرْآنِ وَهُوَ الَّذِي لَا يجوز على منزله البداء فِيهِ فأحرى وَأولى أَن يكون الْقُرْآن نَاسخ فعل من يجوز عَلَيْهِ البداء

أَلا ترى أَن عليه الصلاة والسلام كَانَ قد أحل الْمُتْعَة فِي بعض الْغَزَوَات ثَلَاثَة أَيَّام وَأمر الْمُسلمين بالتوجه إِلَى بَيت الْمُقَدّس فِي الصَّلَاة ورد من جَاءَ مُهَاجرا من الْمُشْركين للمعاهدة وَغير ذَلِك من أَفعاله الَّتِي نسخهَا الله تَعَالَى بِمَا أنزل عَلَيْهِ نَحْو مَا نسخ سُبْحَانَهُ من فعله عليه الصلاة والسلام وَفعل أَصْحَابه بِمَا كَانُوا عَلَيْهِ فِي الْكَلَام فِي الصَّلَاة بقوله تَعَالَى {وَقومُوا لله قَانِتِينَ}

وَنَحْو استغفاره عليه السلام لِعَمِّهِ نسخ بقوله تَعَالَى {مَا كَانَ للنَّبِي وَالَّذين آمنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا للْمُشْرِكين} وَهُوَ كثير فِي الْقُرْآن
দ্বিতীয়ত, কোরআন দ্বারা সুন্নাহর রহিতকরণ (نسخ)।

এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এটি নিষেধ করেছেন, আবার কেউ কেউ একে বৈধ বলেছেন। অধিকাংশ ইমাম এবং জমহুর আলেম একে বৈধ (جواز) মনে করেন।

যারা এটি নিষেধ করেছেন তারা এই যুক্তি দিয়েছেন যে, সুন্নাহ হলো কোরআনের ব্যাখ্যা দানকারী (مبينة)। সুতরাং যা ব্যাখ্যা দানকারী, তা ব্যাখ্যাত বিষয়ের রহিতকারী (ناسخ) হতে পারে না। কারণ কোনো কিছুর ব্যাখ্যাকে রহিত করা প্রকারান্তরে সেই ব্যাখ্যার কার্যকারিতা বিলুপ্তির নামান্তর।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "যাতে আপনি মানুষের নিকট তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।"

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।

জমহুর আলেমদের পক্ষ থেকে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে—

এই যুক্তিটি তাদের দাবিকৃত বৈধতার (جواز) পরিপন্থী নয়। কারণ যদি কোরআন দ্বারা কোরআনের রহিতকরণ (نسخ) বৈধ হয়—অথচ যাঁর পক্ষ থেকে এটি অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর ক্ষেত্রে পূর্বসিদ্ধান্ত পরিবর্তন (البداء) হওয়া অসম্ভব—তবে কোরআন সেই সত্তার কাজের রহিতকারী (ناسخ) হওয়া আরও বেশি সমীচীন যাঁর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অবস্থার পরিবর্তন (البداء) হওয়া সম্ভব।

আপনি কি দেখেন না যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো কোনো যুদ্ধে তিন দিনের জন্য মুত’আ বিবাহ বৈধ করেছিলেন, মুসলমানদের নামাজের সময় বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সন্ধি চুক্তির কারণে মুশরিকদের মধ্য থেকে হিজরত করে আসা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অবতীর্ণ ওহীর মাধ্যমে তাঁর এই সকল কাজকে রহিত (نسخ) করে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নামাজের মধ্যে কথা বলার যে রীতি রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে প্রচলিত ছিল, তা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত করেছেন: "এবং তোমরা আল্লাহর জন্য একান্ত অনুগত হয়ে দণ্ডায়মান হও।"

তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তাঁর চাচার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার বিষয়টি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) হয়েছে: "নবী ও মুমিনদের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।" কোরআনে এই জাতীয় উদাহরণ প্রচুর রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قلت هَذَا حَاصِل مَا قَالُوهُ وَفِي الْحَقِيقَة لَا خلاف بَين الْفَرِيقَيْنِ لِأَن من أجَاز نسخ السّنة بِالْقُرْآنِ أطلق فِي السّنة وَمن منع قيد السّنة المبينة لِلْقُرْآنِ وَلَا شكّ أَن الْمُبين لِلْقُرْآنِ من السّنة لَا ينْسَخ وَلَو سلمنَا نسخ السّنة المبينة لِلْقُرْآنِ لرجع فيالحقيقة إِلَى نسخ الْقُرْآن بِالْقُرْآنِ فَإِذا لَا خلاف بَين الْفَرِيقَيْنِ بِحَسب الْحَقِيقَة فأفهم

فَأَنِّي لم أر أَي حرج بِالْجمعِ بَين كَلَام الْفَرِيقَيْنِ وَيُؤَيّد مَا قلته قَول بعض الْمُحَقِّقين أَن الْمُبين من السّنة لِلْقُرْآنِ نوع على حِدته لَا يُسمى نَاسِخا وَلَا مَنْسُوخا

الثَّالِث نسخ الْقُرْآن بِالسنةِ المتواترة

وَهَذَا أَيْضا فِيهِ خلاف كثير بَين الْعلمَاء فَمنهمْ من أجَاز وَمِنْهُم من منع
আমি বলছি, এটি তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ। প্রকৃতপক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। কারণ, যারা কুরআনের মাধ্যমে সুন্নাহর রহিতকরণ (نسخ) জায়েজ বলেছেন, তারা সুন্নাহ শব্দটিকে সাধারণভাবে গ্রহণ করেছেন। আর যারা একে অসম্ভব বলেছেন, তারা সুন্নাহকে কুরআনের ব্যাখ্যাদানকারী হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুন্নাহর যে অংশটি কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে, তা রহিত (نسخ) হয় না। আর যদি আমরা কুরআনের ব্যাখ্যাদানকারী সুন্নাহর রহিতকরণ (نسخ) মেনেও নিই, তবে তা বাস্তবে কুরআনের মাধ্যমে কুরআন রহিতকরণের (نسخ) দিকেই ধাবিত হয়। সুতরাং বাস্তবতার নিরিখে উভয় দলের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই; বিষয়টি অনুধাবন করুন।

কেননা আমি উভয় দলের বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কোনো অসুবিধা দেখি না। আমার এই বক্তব্যকে কিছু গবেষক (محقق)-এর উক্তিও সমর্থন করে যে, সুন্নাহর যে অংশ কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়, তা একটি স্বতন্ত্র প্রকার; তাকে রহিতকারী (ناسخ) বা রহিত (منسوخ) কোনোটিই বলা হয় না।

তৃতীয়ত: মুতাওয়াতির (متواترة) সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের রহিতকরণ (نسخ)।

এটিও এমন একটি বিষয় যাতে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে জায়েজ বলেছেন, আবার কেউ কেউ একে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَقَالَ الْمُجِيز إِن قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا وَصِيَّة لوَارث نَاسخ لقَوْله تَعَالَى {الْوَصِيَّة للْوَالِدين} الْآيَة

وَاحْتج بقوله تَعَالَى {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا} وَبِقَوْلِهِ تَعَالَى {وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى} فعمم وَلم يخصص فَوَجَبَ علينا قبُوله

وَقَالَ الْمَانِع الْقُرْآن معْجزَة وَالسّنة غير معْجزَة فَلَا ينْسَخ المعجز من الْقُرْآن مَا لَيْسَ بمعجز من السّنة

وَاحْتج بِأَن السّنة مبينَة لِلْقُرْآنِ وَلَا يكون الْمُبين للشَّيْء نَاسِخا

وَاسْتدلَّ على الْمَنْع بقوله تَعَالَى {مَا ننسخ من آيَة أَو ننسها نأت بِخَير مِنْهَا أَو مثلهَا} وَالسّنة لَيست مثل الْقُرْآن إِذْ هِيَ محدثة وَالْقُرْآن غير مُحدث

قلت هَذَا اسْتِدْلَال ظاهري فِيهِ مَا فِيهِ وَأجَاب أَي الْمَانِع عَن قَوْله {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا} أَي

مَا أَعْطَاكُم مِمَّا أنزل عَلَيْهِ من الْكتاب فَخُذُوهُ واقبلوه وَصَدقُوا بِهِ

وَعَن قَوْله تَعَالَى {وَمَا ينْطق عَن الْهوى} أَي الَّذِي يأتيكم بِهِ مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم من الْقُرْآن هُوَ من عِنْد الله

لم ينْطق بِهِ من عِنْد نَفسه بِدَلِيل قَوْله تَعَالَى بعد ذَلِك

{إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى}
অনুমতি প্রদানকারী (المجيز) বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই" হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পিতামাতার জন্য অসিয়ত} আয়াতের রহিতকারী (ناسخ)।

তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} এবং আল্লাহর বাণী: {তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না, এটি তো ওহি যা তার কাছে পাঠানো হয়} দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। সুতরাং তিনি বিষয়টিকে সাধারণ (عمم) রেখেছেন এবং বিশেষ (يخصص) করেননি, তাই তা গ্রহণ করা আমাদের ওপর ওয়াজিব (وجب)।

পক্ষান্তরে বিরোধিতাকারী (المانع) বলেছেন: কুরআন হলো মুজিজা (معجزة) এবং সুন্নাহ মুজিজা নয়। সুতরাং সুন্নাহর যা মুজিজা নয় তা দিয়ে কুরআনের মুজিজা অংশকে রহিত (ينسخ) করা যাবে না।

তিনি আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী (مبينة), আর কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যাকারী (المبين) সেই বিষয়ের রহিতকারী (ناسخ) হতে পারে না।

তিনি এই নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কোনো আয়াত রহিত (ننسخ) করলে অথবা তা ভুলিয়ে দিলে তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসি} দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন। আর সুন্নাহ কুরআনের অনুরূপ নয়, কারণ সুন্নাহ হলো সৃষ্ট (محدثة) আর কুরআন অসৃষ্ট (غير محدث)।

আমি বলি, এটি একটি বাহ্যিক (ظاهري) দলীল যার মধ্যে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। আর বিরোধিতাকারী আল্লাহর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} এর উত্তরে বলেছেন যে, এর অর্থ হলো—

তার প্রতি অবতীর্ণ কিতাব থেকে তিনি তোমাদের যা প্রদান করেছেন তা তোমরা গ্রহণ করো, কবুল করো এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করো।

আর মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না} এর অর্থ হলো— মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের নিকট কুরআন থেকে যা নিয়ে আসেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে।

তিনি তা নিজের পক্ষ থেকে বলেন না, যার প্রমাণ হলো এর পরবর্তী মহান আল্লাহর বাণী—

{এটি তো ওহি (وحي) যা তার কাছে পাঠানো হয়।}
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَأجَاب عَن آيَة الْوَصِيَّة بِأَنَّهَا نسخت بِآيَة الْمَوَارِيث

وَيُؤَيِّدهُ قَول الإِمَام مَالك إِن آيَة الْمَوَارِيث نسخت آيَة الْوَصِيَّة للْوَالِدين فعلى هَذَا إِنَّمَا نسخ الْقُرْآن بقرآن مثله وَالسّنة إِنَّمَا هِيَ مبينَة لِلْآيَةِ الناسخة

قلت وَدَلِيل الْمَانِع قوي وَهُوَ الْحق إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَقَول بَعضهم

إِن قَوْله عليه الصلاة والسلام لَا تقتلُوا أهل الذِّمَّة نَاسخ لقَوْله تَعَالَى {فَاقْتُلُوا الْمُشْركين} فِيهِ نظر إِذْ هُوَ تَخْصِيص لَا نسخ

وترجيح بعض الْمُحَقِّقين للْجُوَاز وتعليله بِأَن مَحل النّسخ هُوَ الحكم وَالدّلَالَة عَلَيْهِ بالمتواتر ظنية كالآحاد فِيهِ نظر

لاسيما وَالْقُرْآن ثَابت بِالْإِجْمَاع لم يُخَالف فِيهِ مُخَالف ثَابت فِي الْمَصَاحِف متلوا بالألسن مَحْفُوظًا فِي الصُّدُور وَقد شهد الله تَعَالَى بإحكامه وَأخْبر بحفظه وعصم رَسُوله من الْغَلَط والسهو فِيهِ بِخِلَاف السّنة فَإِنَّهَا لم تأت مروية عَن جَمِيع أهل الْقبْلَة بل عَن الْوَاحِد والاثنين أَو من لم يبلغ عَددهمْ عدد من أجمع على الْقُرْآن فهما قطعا غير متساويين فِي الإعجاز وَالْحِفْظ وَالنَّقْل

قَالَ بعض الْمُحَقِّقين وأجود مَا قيل هُوَ أَن السّنة مبينَة لَا ناسخة

كَمَا جَاءَ عَنهُ فِي آيَة الزواني فِي قَوْله تَعَالَى {أَو يَجْعَل الله لَهُنَّ سَبِيلا}

فَقَالَ عليه السلام خُذُوا عني فقد جعل الله لَهُنَّ سَبِيلا وَبَين السَّبِيل مَا هُوَ بِآيَة الْجلد
তিনি অসিয়ত সম্পর্কিত আয়াতের ব্যাপারে এই জবাব দিয়েছেন যে, এটি মিরাস সম্পর্কিত আয়াতের মাধ্যমে রহিত (نسخت) হয়েছে।

একে ইমাম মালিকের এই বক্তব্য সমর্থন করে যে, মিরাস সম্পর্কিত আয়াত পিতা-মাতার জন্য অসিয়ত করার আয়াতকে রহিত (نسخت) করেছে। এই হিসেবে, কুরআন কেবল তার মতোই অন্য একটি কুরআনের মাধ্যমেই রহিত (نسخ) হয়েছে, আর সুন্নাহ মূলত রহিতকারী (الناسخة) আয়াতের ব্যাখ্যাকারী হিসেবে এসেছে।

আমি বলি, যারা এটি নিষিদ্ধ মনে করেন তাদের দলীল শক্তিশালী এবং ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক।

কারও কারও এই উক্তি যে:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—"তোমরা জিম্মিদের হত্যা করো না"—আল্লাহ তাআলার বাণী—"মুশরিকদের হত্যা করো"—এর জন্য রহিতকারী (ناسخ); এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। কারণ এটি মূলত বিশেষীকরণ (تخصيص), রহিতকরণ (نسخ) নয়।

কিছু গবেষকের একে বৈধ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এই যুক্তি দেওয়া যে—রহিতকরণের (النسخ) ক্ষেত্র হলো বিধান, আর মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনার মাধ্যমে এর প্রমাণ পাওয়াও আহাদ (آحاد) বর্ণনার মতোই ধারণাপ্রসূত—তা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

বিশেষ করে কুরআন ইজমা (الإجماع) দ্বারা প্রমাণিত, যাতে কোনো ভিন্নমত পোষণকারী দ্বিমত করেনি; যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ, মুখে পঠিত এবং অন্তরে সংরক্ষিত। আল্লাহ তাআলা নিজেই এর সুদৃঢ় হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং এর সংরক্ষণের সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূলকে এতে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেছেন। সুন্নাহর বিষয়টি এর বিপরীত; কেননা তা সমস্ত মুসলিমদের মাধ্যমে বর্ণিত (مروية) হয়ে আসেনি, বরং এটি একজনের থেকে বা দুইজনের থেকে অথবা এমন সংখ্যা থেকে এসেছে যারা কুরআনের ব্যাপারে একমত হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যায় পৌঁছেনি। অতএব অলৌকিকত্ব, সংরক্ষণ ও বর্ণনার (النقل) ক্ষেত্রে এ দুটি নিশ্চিতভাবেই সমান নয়।

কিছু গবেষক বলেছেন, এ বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম কথা হলো সুন্নাহ ব্যাখ্যাকারী, রহিতকারী (ناسخة) নয়।

যেমনটি ব্যভিচারিণীদের আয়াত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে: "অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ (سبِيلا) করে দেবেন।"

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ করো, আল্লাহ তাদের জন্য পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।" আর তিনি সেই পথটি কী হবে তা বেত্রাঘাতের আয়াতের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الرَّابِع نسخ السّنة بِالسنةِ

وَهَذَا لَا خلاف فِيهِ بَين الْعلمَاء وَهُوَ كثير

نَحْو حَدِيث مُسلم كنت نَهَيْتُكُمْ عَن زِيَارَة الْقُبُور فزوروها

وَهَذَا يعرفهُ أهل الْعلم بالآثار

فَائِدَة فِي كَيْفيَّة معرفَة النَّاسِخ والمنسوخ والمكي وَالْمَدَنِي

وَالَّذِي يحْتَاج إِلَيْهِ النَّاظر فِي النَّاسِخ والمنسوخ من السّنة وَالْقُرْآن معرفَة التَّارِيخ فَينْسَخ الْمُتَقَدّم بالمتأخر إِذْ هُوَ الْمُعْتَبر وَلَا يعْتَبر ذَلِك بمواقع الْآي من الْمُصحف لِأَنَّهُ قد جَاءَ فِيهِ النَّاسِخ فِي التَّرْتِيب قبل الْمَنْسُوخ كَمَا فِي آيتي عدَّة الْوَفَاة

وَيجب أَن نعلم مَا نزل بِمَكَّة من السُّور والآيات وَمَا نزل بِالْمَدِينَةِ لِأَنَّهُ أصل كَبِير فِي معرفَة النَّاسِخ والمنسوخ

لِأَن النَّاسِخ الْمنزل بِمَكَّة إِنَّمَا نسخ مَا قبله من الْمنزل بهَا

والمنزل بِالْمَدِينَةِ نسخ مَا قبله من الْمدنِي والمكي

ونزول الْمَنْسُوخ بِمَكَّة كثير ونزول النَّاسِخ بِالْمَدِينَةِ كثير

قَالَ بَعضهم مِمَّا يسْتَدلّ بِهِ على الْمَكِّيّ أَن كل سُورَة فِيهَا {يَا أَيهَا النَّاس} وَلَيْسَ فِيهَا {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا} فَهِيَ مَكِّيَّة وَفِي الْحَج خلاف وكل سُورَة فِيهَا {كلا} فَهِيَ مَكِّيَّة

أوفي أَولهَا حُرُوف المعجم فَهِيَ مَكِّيَّة إِلَّا الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَفِي الرَّعْد خلاف

وكل سُورَة فِيهَا ذكر الْمُنَافِقين فَهِيَ مَدَنِيَّة سوى العنكبوت

قَالَ ابْن هِشَام عَن أَبِيه أَن كل سُورَة ذكرت فِيهَا الْحُدُود والفرائض فَهِيَ مَدَنِيَّة
চতুর্থত: সুন্নাহ দ্বারা সুন্নাহর রহিতকরণ (نسخ)

এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই এবং এটি অনেক বেশি।

যেমন সহীহ মুসলিমের হাদিস: ‘আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা যিয়ারত করো।’

এটি আসার (الآثار) সম্পর্কে ইলম বা জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিগণ জানেন।

নাসিখ (الناسخ - রহিতকারী), মানসুখ (المنسوخ - রহিত), মাক্কি (المكي) এবং মাদানি (المدني) চেনার পদ্ধতির বর্ণনায় একটি প্রয়োজনীয় তথ্য

সুন্নাহ ও কুরআনের নাসিখ (الناسخ) এবং মানসুখ (المنسوخ) সম্পর্কে গবেষকের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো ইতিহাস জানা। কেননা পরবর্তী দলিল দ্বারা পূর্ববর্তী দলিলটি রহিত (نسخ) হয়ে যায়, আর এটিই গ্রহণযোগ্য। আর এটি মুসহাফে আয়াতসমূহের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় না; কারণ কখনো কখনো বিন্যাসের ক্ষেত্রে মানসুখ (المنسوخ)-এর আগেই নাসিখ (الناسخ) চলে আসে, যেমনটি মৃত্যুর ইদ্দত সংক্রান্ত দুটি আয়াতের ক্ষেত্রে হয়েছে।

মক্কায় অবতীর্ণ সূরা ও আয়াতসমূহ এবং মদীনায় অবতীর্ণ বিষয়সমূহ জানা আমাদের জন্য আবশ্যক; কারণ এটি নাসিখ (الناسخ) ও মানসুখ (المنسوخ) জানার ক্ষেত্রে একটি বড় মূলনীতি।

কারণ মক্কায় অবতীর্ণ নাসিখ (الناسخ) কেবল সেখানে ইতিপূর্বে অবতীর্ণ বিষয়কেই রহিত (نسخ) করে।

আর মদীনায় অবতীর্ণ নাসিখ (الناسخ) ইতিপূর্বের মাদানি (المدني) ও মাক্কি (المكي) উভয়কেই রহিত (نسخ) করে।

মক্কায় মানসুখ (المنسوخ) অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা প্রচুর এবং মদীনায় নাসিখ (الناسخ) অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনাও প্রচুর।

কেউ কেউ বলেন, মাক্কি (المكي) সূরা চেনার একটি নিদর্শন হলো—যে সূরায় ‘হে লোক সকল’ (يا أيها الناس) আছে কিন্তু ‘হে ঈমানদারগণ’ (يا أيها الذين آمنوا) নেই, তা মাক্কি (المكي); তবে সূরা আল-হজ্জের ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। আর যে সূরায় ‘কাল্লা’ (كلا) শব্দ আছে, তা মাক্কি (المكي)।

অথবা সূরার শুরুতে বিচ্ছিন্ন বর্ণমালা (حروف المعجم) থাকলে সেটিও মাক্কি (المكي), তবে সূরা আল-বাকারা ও আল-ইমরান এর ব্যতিক্রম এবং সূরা আর-রা'দ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে।

এবং যে সূরায় মুনাফিকদের কথা উল্লেখ আছে তা মাদানি (المدني), কেবল সূরা আল-আনকাবুত ব্যতীত।

ইবনে হিশাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, যে সকল সূরায় হুদুদ (الحدود) ও ফারায়েজ (الفرائض) উল্লেখ করা হয়েছে, তা মাদানি (المدني)।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وكل مَا كَانَ فِيهِ ذكر الْقُرُون الْمَاضِيَة فِي الْأَزْمِنَة الخالية فَهِيَ مَكِّيَّة

قَالُوا وكل آيَة نزلت فِي الصفح والإعراض فَهِيَ مَكِّيَّة

الْخَامِس نسخ الْقُرْآن بِالْإِجْمَاع وَنسخ الْإِجْمَاع بِالْإِجْمَاع وَنسخ الْقيَاس بِالْقِيَاسِ

أما نسخ الْقُرْآن بِالْإِجْمَاع فَمَنعه أَكثر الْأَئِمَّة من الْعلمَاء الراسخين وَكَذَلِكَ نسخ الْإِجْمَاع بِالْإِجْمَاع وَالْقِيَاس بِالْقِيَاسِ ذكره البغداديون والمالكيون فِي اصولهم
আর অতীতে অতিবাহিত হওয়া শতাব্দীসমূহের বর্ণনা সমৃদ্ধ প্রতিটি বিষয়ই মক্কী (مكية)।

তাঁরা বলেন, ক্ষমা ও বিমুখতা প্রদর্শন বিষয়ে অবতীর্ণ হওয়া প্রতিটি আয়াতই মক্কী (مكية)।

পঞ্চম বিষয়: ইজমা (إجماع) দ্বারা কুরআনের রহিতকরণ (نسخ), ইজমা (إجماع) দ্বারা ইজমার (إجماع) রহিতকরণ (نسخ) এবং কিয়াস (قياس) দ্বারা কিয়াসের (قياس) রহিতকরণ (نسخ)।

আর ইজমা (إجماع) দ্বারা কুরআনের রহিতকরণের (نسخ) বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী অধিকাংশ ইমামগণ তা নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে ইজমা (إجماع) দ্বারা ইজমার (إجماع) এবং কিয়াস (قياس) দ্বারা কিয়াসের (قياس) রহিতকরণ (نسخ) সম্পর্কে বাগদাদী ও মালেকী ফকীহগণ তাঁদের মূলনীতি শাস্ত্রে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌الْفَصْل الْخَامِس

الْفرق بَين النّسخ والتخصيص وَالِاسْتِثْنَاء

وَهَذِه كلهَا تَأتي فِي كتاب الله تَعَالَى لإِزَالَة حكم مُتَقَدم

فالنسخ شرعا إِزَالَة حكم الْمَنْسُوخ كُله بِبَدَل آخر أَو بِغَيْر بدل فِي وَقت معِين فَهُوَ لبَيَان أزمنة الْعَمَل بِالْفَرْضِ الأول وانتهاء مُدَّة الْعَمَل بِهِ وَابْتِدَاء الْعَمَل بِالثَّانِي فَكَانَ انتهاءه عِنْد الله مَعْلُوما وَفِي أوهامنا كَانَ استمراره ودوامه وبالناسخ علمنَا انتهاؤه فَكَانَ فِي حَقنا تبديلا وتغييرا

والتخصيص هُوَ إِزَالَة الحكم كَأَن يَأْتِي لفظ ظَاهره الْعُمُوم لما وَقع تَحْتَهُ ثمَّ يَأْتِي نَص آخر أَو دَلِيل أَو قرينَة أَو إِجْمَاع يدل على أَن ذَلِك اللَّفْظ الَّذِي هُوَ ظَاهره الْعُمُوم المُرَاد بِهِ الْخُصُوص فَهُوَ بَيَان اللَّفْظ الْعَام بِأَمْر خَاص نَحْو قَوْله تَعَالَى {يُوصِيكُم الله فِي أَوْلَادكُم} الشَّامِل للْوَلَد الْكَافِر
পঞ্চম অধ্যায়

রহিতকরণ (نسخ), নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) এবং ব্যতিক্রমের (استثناء) মধ্যকার পার্থক্য

এই সব কটি বিষয়ই মহান আল্লাহর কিতাবে কোনো পূর্ববর্তী বিধান (حكم) অপসারণের জন্য আসে।

শরিয়তের পরিভাষায় (شرعا) রহিতকরণ (نسخ) হলো, একটি নির্দিষ্ট সময়ে রহিত (منسوخ) বিষয়ের সম্পূর্ণ বিধানকে অন্য কোনো বিনিময়ের মাধ্যমে অথবা বিনিময় ছাড়াই অপসারণ করা। এটি মূলত প্রথম ফরজের ওপর আমল করার সময়কাল এবং এর ওপর আমল করার মেয়াদের পরিসমাপ্তি ও দ্বিতীয়টির ওপর আমল করার শুরুর বর্ণনা। আল্লাহর নিকট এর সমাপ্তি সুনিশ্চিত ছিল, যদিও আমাদের ধারণায় এর ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব বিদ্যমান ছিল। রহিতকারী (ناسخ) বার্তার মাধ্যমে আমরা এর পরিসমাপ্তি সম্পর্কে অবগত হয়েছি; ফলে আমাদের ক্ষেত্রে এটি একটি পরিবর্তন ও রূপান্তর হিসেবে গণ্য হয়।

নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) হলো বিধানের [ব্যাপকতা] অপসারণ; যেমন এমন কোনো শব্দের ব্যবহার যার বাহ্যিক রূপ তার অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে, অতঃপর অন্য কোনো অকাট্য প্রমাণ (نص), দলিল (دليل), সংশ্লিষ্ট অবস্থা (قرينة) অথবা ঐক্যমত্য (إجماع) আসে যা নির্দেশ করে যে, বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হওয়া সেই শব্দটি দ্বারা বিশেষত্ব (خصوص) উদ্দেশ্য। সুতরাং এটি হলো কোনো বিশেষ (خاص) বিষয়ের মাধ্যমে সাধারণ (عام) শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন", যা কাফির সন্তানকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪১)
فتلخص أَن التَّخْصِيص لبَيَان الْأَعْيَان والنسخ لبَيَان الْأَزْمَان

وَالِاسْتِثْنَاء هُوَ مَا كَانَ بِحرف الِاسْتِثْنَاء الدَّال عَلَيْهِ خلافًا للنسخ والتخصيص

وَالْفرق بَينه وَبَينهمَا أَن النّسخ لَا يكون إِلَّا مُنْفَصِلا عَن الْمَنْسُوخ والتخصيص يكون مُتَّصِلا ومنفصلا وَالِاسْتِثْنَاء لَا يكون إِلَّا مُتَّصِلا بِالْأولِ
সংক্ষেপে কথা হলো, নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) হচ্ছে ব্যক্তি বা বস্তু স্পষ্ট করার জন্য এবং রহিতকরণ (النسخ) হচ্ছে সময়কাল স্পষ্ট করার জন্য।

আর ব্যতিক্রম (الاستثناء) হলো যা এর অর্থবোধক অব্যয় দ্বারা সাধিত হয়, যা রহিতকরণ (النسخ) এবং নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) এর পরিপন্থী।

ব্যতিক্রমের সাথে এই দুটির পার্থক্য হলো, রহিতকরণ (النسخ) কেবল রহিতকৃত (المنسوخ) বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন (منفصلا) হয়ে থাকে, আর নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) সংযুক্ত (متصلا) ও বিচ্ছিন্ন (منفصلا) উভয়ভাবেই হয়ে থাকে; কিন্তু ব্যতিক্রম (الاستثناء) কেবল তার পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সংযুক্ত (متصلا) অবস্থাতেই হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌الْفَصْل السَّادِس

بَيَان مَا يخل فِيهِ النّسخ

أعلم أَن النّسخ لَا يدْخل الْخَبَر فِي قَوْله أَكثر الْفُقَهَاء والأصوليين وَبِه قَالَ مُجَاهِد وَسَعِيد بن جُبَير

وَإِنَّمَا يكون فِي الْأَمر وَالنَّهْي لطفا من الله تَعَالَى بعباده

وَقَالَ قوم إِنَّه يكون فِي الْأَخْبَار الَّتِي مَعْنَاهَا الْأَمر وَالنَّهْي وَبِه قَالَ الضَّحَّاك مُزَاحم

قلت وَعَلِيهِ يتَخَرَّج نسخ آيَة {الزَّانِي لَا ينْكح إِلَّا زَانِيَة} وَآيَة الْعدة وَقَالَ قوم أَنه يكون فِي جَمِيع أَقسَام الْكَلَام وَبِه قَالَ زيد بن أسلم وَقَالَ ابْن الباقلاني لَا يجوز فِي خبر الله وَخبر رَسُوله

وَقَالَ القَاضِي فِي نسخ الْخَبَر أَنه أَن كَانَ مِمَّا لَا يجوز أَن يَقع إِلَّا على وَجه وَاحِد كصفات الله وَخبر مَا كَانَ وَخبر مَا سَيكون لم يجز نسخه

وَيجوز إِن كَانَ مِمَّا يَصح تَغْيِيره وتحوله كالأخبار عَن زيد بِأَنَّهُ مُؤمن أَو كَافِر وَعَن الصَّلَاة بِأَنَّهَا وَاجِبَة
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

রহিতকরণ (النسخ) কোন বিষয়গুলোতে কার্যকর হয় তার বর্ণনা

জেনে রাখুন যে, অধিকাংশ ফকিহ (الفقهاء) এবং উসুলবিদদের (الأصوليون) মতে সংবাদ বা বিবৃতির (الخبر) ক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) প্রবেশ করে না; মুজাহিদ এবং সাঈদ ইবনে জুবায়েরও অনুরূপ মত পোষণ করেছেন।

বরং এটি কেবলমাত্র আদেশ (الأمر) এবং নিষেধের (النهي) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যা তাঁর বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ।

একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, এটি সেইসব সংবাদের (الأخبار) ক্ষেত্রেও হতে পারে যার অর্থ আদেশ (الأمر) ও নিষেধ (النهي) প্রকাশ করা; দাহহাক ইবনে মুজাহিম এই মত ব্যক্ত করেছেন।

আমি বলছি: এই মতের ভিত্তিতেই "ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণীকেই বিবাহ করে" আয়াতটি এবং ইদ্দত সংক্রান্ত আয়াতের রহিতকরণ (النسخ) প্রতিপন্ন হয়। আবার একদল আলিম বলেছেন যে, এটি বাক্যের সকল প্রকারভেদের (أقسام الكلام) মধ্যেই হতে পারে, যা জায়েদ ইবনে আসলাম বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনুল বাকিল্লানি বলেছেন যে, আল্লাহর সংবাদ (خبر الله) এবং তাঁর রাসূলের সংবাদের (خبر رسوله) ক্ষেত্রে এটি জায়েজ নয়।

সংবাদ (الخبر) রহিতকরণ (النسخ) প্রসঙ্গে কাজী বলেন, যদি সংবাদটি এমন কোনো বিষয়ে হয় যা কেবল একভাবেই থাকা সম্ভব—যেমন আল্লাহর গুণাবলি, অতীত ঘটনার সংবাদ কিংবা ভবিষ্যতে কী ঘটবে তার সংবাদ—তবে তার রহিতকরণ (النسخ) জায়েজ নয়।

আর যদি তা এমন বিষয় হয় যাতে পরিবর্তন বা রূপান্তর ঘটা সম্ভব, তবে তা জায়েজ। যেমন জায়েদ সম্পর্কে এই সংবাদ দেওয়া যে সে মুমিন অথবা কাফির, কিংবা সালাত সম্পর্কে এই সংবাদ দেওয়া যে তা ওয়াজিব (واجبة)।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৩)
قَالَ بعض الْمُحَقِّقين هَذَا قَول جيد

قلت وَعَلِيهِ يتَخَرَّج نسخ نَحْو آيَة المحاسبة وَآيَة المصابرة

فَائِدَة فِي جَوَاز نسخ الأخف بالأثقل والأثقل بالأخف يجوز أَن ينْسَخ الأخف بالأثقل والأثقل بالأخف فالأثقل بمضاعفة الْأجر وَرفع الدَّرَجَات بِالصبرِ وامتثال الْأَمر

والأخف للرأفة وَالرَّحْمَة مَعَ جزيل الْأجر تَعَالَى الله الْكَرِيم الْجواد فالنسخ حِينَئِذٍ تحول الْعباد من حَلَال إِلَى حرَام أَو حرَام إِلَى حَلَال وَمن مُبَاح إِلَى مَحْظُور وَمن مَحْظُور إِلَى مُبَاح وَمن خَفِيف إِلَى ثقيل وَمن ثقيل إِلَى خَفِيف كل ذَلِك لما يعلم الله تَعَالَى من الْمصلحَة لِعِبَادِهِ

فَائِدَة فِي الْفرق بَين النّسخ البداء

أَن الله تَعَالَى عَالم بِمَا فرض وبرفع ذَلِك الْفَرْض وَإِزَالَة حكمه وانقضاء زمن تِلْكَ الْعِبَادَة وَوقت الْفَرْض النَّاسِخ للْفَرض الأول

فَهُوَ تَعَالَى علام الغيوب لَيْسَ علم شَيْء عَنهُ بمحجوب يعلم سُبْحَانَهُ عواقب الْأُمُور وكل شَيْء عِنْده فِي كتاب مسطور

بِخِلَاف البداء فَإِنَّهُ من أَوْصَاف أَفعَال المخلوقين الَّذين لَا يعلمُونَ عواقب الْأُمُور

كَقَوْل الْقَائِل أَمر الْمَأْمُور افْعَل كَذَا ثمَّ يظْهر لَهُ بعد الْأَمر بِهِ والعزم عَلَيْهِ خِلَافه وَيظْهر لَهُ أَن تَركه اولى من فعله وَلم يكن مَا
কিছু গবেষক বলেছেন যে, এটি একটি উত্তম (جيد) বক্তব্য।

আমি বলছি, এর ওপর ভিত্তি করেই হিসাব গ্রহণ সংক্রান্ত আয়াত এবং ধৈর্য ধারণ সংক্রান্ত আয়াতের রহিতকরণ (نسخ) প্রতিপাদিত হয়।

সহজ বিধানকে কঠিন বিধান দ্বারা এবং কঠিন বিধানকে সহজ বিধান দ্বারা রহিতকরণ (نسخ) বৈধ হওয়ার পরিচ্ছেদ: সহজ বিধানকে কঠিন বিধান দ্বারা এবং কঠিন বিধানকে সহজ বিধান দ্বারা রহিতকরণ (نسخ) করা জায়েজ। কঠিন বিধানের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ ও নির্দেশ পালনের মাধ্যমে সওয়াব বৃদ্ধি এবং মর্যাদা উন্নত হয়।

আর সহজ বিধান হলো দয়া ও করুণাস্বরূপ, যার সাথে রয়েছে প্রচুর সওয়াব। মহান আল্লাহ অত্যন্ত সম্মানিত ও দাতা। সুতরাং রহিতকরণ (نسخ) হলো তখন বান্দাদের হালাল থেকে হারামে অথবা হারাম থেকে হালালে, বৈধ থেকে নিষিদ্ধে অথবা নিষিদ্ধ থেকে বৈধতে, হালকা থেকে ভারীতে অথবা ভারী থেকে হালকাতে পরিবর্তিত করা। এই সব কিছুই আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে করে থাকেন।

রহিতকরণ (نسخ) এবং বদা (بداء) এর মধ্যে পার্থক্যের পরিচ্ছেদ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যা ফরজ করেছেন সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত, আর সেই ফরজ স্থগিত করা, তার বিধান বিলোপ করা, সেই ইবাদতের সময়সীমা শেষ হওয়া এবং প্রথম ফরজকে রহিতকারী (ناسخ) ফরজের সময়কাল সম্পর্কেও তিনি অবগত।

তিনি অদৃশ্য জগতের পরিজ্ঞাতা, কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞান থেকে গোপন নয়। তিনি সকল বিষয়ের পরিণাম জানেন এবং সবকিছুই তাঁর কাছে কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

পক্ষান্তরে বদা (بداء) হলো সৃষ্টির কার্যাবলীর বৈশিষ্ট্য, যারা বিষয়ের পরিণাম সম্পর্কে অবগত নয়।

যেমন কোনো আদেশদাতার কথা: 'তুমি এই কাজটি করো', অতঃপর নির্দেশ প্রদানের পর এবং সেই বিষয়ে সংকল্প করার পর তার কাছে এর বিপরীত দিকটি স্পষ্ট হয় এবং তার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, কাজটি করার চেয়ে বর্জন করাই উত্তম; অথচ ইতিপূর্বে বিষয়টি এমন ছিল না।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৪)
ظهر لَهُ ثَانِيًا فِي نِيَّته حِين أَمر بِالْأولِ وَلم يعلم أَن مَا أَمر بِهِ سيبدوا لَهُ وَجه الْمصلحَة فِي الرُّجُوع عَنهُ

وَمَعَ ذَلِك فَهُوَ لَا يعلم أَي الْأَمريْنِ خير لَهُ مَا عزم أَولا أم مَا بدا لَهُ ثَانِيًا بل كل ذَلِك تبعا للظن تَغْلِيبًا لَهُ بِقِيَاس يَسْتَعْمِلهُ الْعقل ويريه إِيَّاه فِي مرْآة التجارب وَكثير من يخطىء فِي الْقيَاس ويغلط فِيهِ للعجز عَن إِدْرَاك حقائق الْأَشْيَاء لِأَن ذَلِك مِمَّا اسْتَأْثر الله بِهِ دون خلقه تَعَالَى الله علام الغيوب

فَهَذَا هُوَ الْفرق بَين النّسخ والبداء وَهُوَ من دَقِيق هَذَا الْعلم فاعرفه

قَالَ بَعضهم

ولخفائه على كثير من النَّاس منعت طَائِفَة من الصوفيين وَجَمَاعَة من الْأُصُولِيِّينَ كَأبي مُسلم الْأَصْفَهَانِي جَوَاز النّسخ فِي الْقُرْآن وأثبتوا نسخ الشَّرَائِع فمثلهم مثل قَوْلك أَنْت صَادِق يَا فلَان فِيمَا أخْبرت بِهِ وكاذب فِيهِ جهلا مِنْهُم بِمَعْرِِفَة الْفرق بَين النّسخ وَبَين البداء الْجَائِز على المخلوقين وَلَو تَأمل من أنكر النّسخ فِي الْقُرْآن مَا ذكر من الْفرق بَينهمَا لرجع عَن معتقده الْفَاسِد نَعُوذ بِاللَّه من الضَّلَالَة بعد الْهدى

إِذْ تقرر ذَلِك فلنشرع فِي الْمَقْصُود بعون الْملك المعبود
তাঁর সংকল্পে দ্বিতীয়বার এমন কিছু প্রকাশ পায় যা প্রথম আদেশের সময় ছিল না, এবং তিনি জানতেন না যে তিনি যা আদেশ করেছেন তা থেকে ফিরে আসার মধ্যেই কল্যাণের দিকটি প্রকাশিত হবে।

তদুপরি, তিনি জানেন না যে দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনটি তাঁর জন্য অধিক কল্যাণকর; যা তিনি প্রথমে দৃঢ় সংকল্প করেছিলেন নাকি যা পরবর্তীতে তাঁর নিকট প্রকাশিত হয়েছে। বরং এ সবই প্রবল ধারণার (ظن) অনুবর্তী, যা কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমানের (قياس) মাধ্যমে প্রাধান্য পায় এবং বুদ্ধি একে অভিজ্ঞতার দর্পণে প্রতিফলিত করে। অনেকেই কিয়াস বা অনুমানে (قياس) ভুল করেন এবং বিষয়ের প্রকৃত হাকিকত উপলব্ধিতে অক্ষম হওয়ার কারণে এতে ভ্রান্তিতে নিপতিত হন; কারণ এটি এমন বিষয় যা আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে ব্যতিরেকে নিজের জন্যই নির্দিষ্ট রেখেছেন; আল্লাহ তাআলা সুমহান এবং অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত।

এটিই হলো রহিতকরণ (نسخ) এবং বাদা (بداء) অর্থাৎ মানুষের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্তের উদয় হওয়ার মধ্যকার পার্থক্য; এটি এই শাস্ত্রের অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি বিষয়, সুতরাং এটি জেনে রাখুন।

তাদের কেউ কেউ বলেন:

অনেক মানুষের নিকট এটি অস্পষ্ট থাকার কারণে সুফিদের একটি দল এবং আবু মুসলিম আল-আসফাহানির মতো একদল মূলনীতিবিদের (الأصوليون) একটি গোষ্ঠী কুরআনে রহিতকরণ (نسخ) এর বৈধতাকে অস্বীকার করেছেন, যদিও তারা পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহের রহিতকরণ (نسخ) হওয়াকে স্বীকার করেছেন। তাদের উদাহরণ হলো এমন যে, আপনি কাউকে বলছেন—'হে অমুক! আপনি যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে সত্যবাদী, আবার সেই সংবাদেই আপনি মিথ্যাবাদী'। মূলত সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বাদা (بداء) এবং রহিতকরণ (نسخ)-এর মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাই এর কারণ। যারা কুরআনে রহিতকরণ (نسخ) হওয়াকে অস্বীকার করেন, তারা যদি এই দুটির মধ্যকার আলোচিত পার্থক্য সম্পর্কে চিন্তা করতেন, তবে অবশ্যই তাদের এই ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে ফিরে আসতেন। হিদায়াত লাভের পর আমরা পথভ্রষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

যেহেতু বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তাই এখন আমরা মালেক ও মাবুদ আল্লাহর সাহায্যে মূল প্রসঙ্গের অবতারণা করব।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৫)
- صلى الله عليه وسلم َ - الْبَاب الثَّانِي

‌‌الْفَصْل الأول

فِي ذكر السُّور الَّتِي دَخلهَا النَّاسِخ والمنسوخ

وَهِي خمس وَعِشْرُونَ سُورَة

الْبَقَرَة آل عمرَان النِّسَاء الْمَائِدَة الْأَنْفَال التَّوْبَة إِبْرَاهِيم مَرْيَم الْأَنْبِيَاء الْحَج النُّور الْفرْقَان الشُّعَرَاء الْأَحْزَاب سبأ الْمُؤمن الشورى الذاريات الطّور الْوَاقِعَة المجادلة المزمل المدثر التكوير الْعَصْر

والسور الَّتِي دَخلهَا الْمَنْسُوخ دون النَّاسِخ أَرْبَعُونَ وَهِي

الْأَنْعَام الْأَعْرَاف يُونُس هود الرَّعْد الْحجر النَّحْل الْإِسْرَاء الْكَهْف طه الْمُؤْمِنُونَ النَّمْل الْقَصَص العنكبوت الرّوم لُقْمَان السَّجْدَة فاطر الصافات صَاد الزمر المصابيح الزخرف الدُّخان الجاثية الاحقاف الْقِتَال ق (قَاف) النَّجْم الْقَمَر الممتحنة نون المعارج الْقِيَامَة الْإِنْسَان عبس الطارق الغاشية التِّين الْكَافِرُونَ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

প্রথম অনুচ্ছেদ

নাসেখ (ناسخ) এবং মানসুখ (منسوخ) সম্বলিত সূরাসমূহের আলোচনা প্রসঙ্গে

সেগুলো হলো পঁচিশটি সূরা:

আল-বাকারাহ, আল-ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদাহ, আল-আনফাল, আত-তাওবাহ, ইবরাহিম, মারইয়াম, আল-আনবিয়া, আল-হাজ্জ, আন-নূর, আল-ফুরকান, আশ-শুআরা, আল-আহযাব, সাবা, আল-মুমিন, আশ-শূরা, আয-যারিয়াত, আত-তূর, আল-ওয়াকিআহ, আল-মুজাদালাহ, আল-মুযযাম্মিল, আল-মুদ্দাসসির, আত-তাকভীর, আল-আসর।

আর যেসব সূরায় মানসুখ (منسوخ) অবতীর্ণ হয়েছে কিন্তু নাসেখ (ناسخ) নেই, সেগুলো হলো চল্লিশটি। যথা:

আল-আনআম, আল-আরাফ, ইউনুস, হুদ, আর-রাদ, আল-হিজর, আন-নাহল, আল-ইসরা, আল-কাহাফ, ত্বহা, আল-মুমিনূন, আন-নামল, আল-কাসাস, আল-আনকাবুত, আর-রূম, লুকমান, আস-সাজদাহ, ফাতির, আস-সাফফাত, সাদ, আয-যুমার, আল-মাসাবীহ, আয-যুখরুফ, আদ-দুখান, আল-জাছিয়াহ, আল-আহকাফ, আল-কিতাল, ক্বফ, আন-নাজম, আল-কামার, আল-মুমতাহিনাহ, নূন, আল-মাআরিজ, আল-কিয়ামাহ, আল-ইনসান, আবাসা, আত-তারিক, আল-গাশিয়াহ, আত-তীন, আল-কাফিরূন।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৬)
والسور الَّتِي دَخلهَا النَّاسِخ دون الْمَنْسُوخ سِتّ سور وَهِي

الْفَتْح الْحَشْر المُنَافِقُونَ التغابن الطَّلَاق الْأَعْلَى

وَمَا عدا ذَلِك فَلَيْسَ فِيهِ نَاسخ وَلَا مَنْسُوخ وَهِي ثَلَاث وَأَرْبَعُونَ سُورَة وَهِي أما الْكتاب يُوسُف يس الحجرات الرَّحْمَن الْحَدِيد الصَّفّ التَّحْرِيم الْملك الحاقة نوح الْجِنّ المرسلات النبأ النازعات الانفطار المطففين الانشقاق البروج الْفجْر ثمَّ إِلَى آخر الْقُرْآن سوى سورتي التِّين والكافرون

قلت حَيْثُ علمت ذَلِك فَلَا بَأْس بِذكر ضوابط قبل الشُّرُوع فِي المهم من الْمَقْصُود

الأول أَن الْأَمر بِالْقِتَالِ وإباحته فِي كل مَكَان وكل زمَان نَاسخ لجَمِيع مَا جَاءَ فِي الْقُرْآن مِمَّا فِيهِ الصَّبْر على الْأَذَى من الْمُشْركين واللين لَهُم والصفح والإعراض عَنْهُم وَالْعَفو والغفران لَهُم والجنوح لَهُم والجنوح للسلم إِذا جنحوا لَهَا

الثَّانِي أَن كل مَا أَمر الله بِهِ بعد الْأَمر بِالْقِتَالِ من الْعَفو والصفح والغفران والوعظ والتذكير بآيَات الله وأيامه يَعْنِي الْمَلَاحِم الَّتِي كَانَ فِيهَا الظفر للْمُسلمين والقوارع الَّتِي تحل بالكافرين وَالصَّبْر كَمَا صَبر أولو الْعَزْم وصلَة الرَّحِم وَنَحْو ذَلِك من أَعمال الْبر كُله مُحكم
যে সকল সূরার মধ্যে রহিতকারী (ناسخ) আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে কিন্তু কোনো রহিতকৃত (منسوخ) আয়াত নেই, তা ছয়টি। সেগুলো হলো:

আল-ফাতহ, আল-হাশর, আল-মুনাফিকুন, আত-তাগাবুন, আত-তালাক এবং আল-আ'লা।

এ ছাড়া বাকি সূরাগুলোতে কোনো রহিতকারী (ناسخ) বা রহিতকৃত (منسوخ) আয়াত নেই। এ ধরনের সূরার সংখ্যা তেতাল্লিশটি। সেগুলো হলো: উম্মুল কিতাব (সূরা আল-ফাতিহা), ইউসুফ, ইয়াসিন, আল-হুজুরাত, আর-রাহমান, আল-হাদিদ, আস-সাফ, আত-তাহরিম, আল-মুলক, আল-হাক্কাহ, নূহ, আল-জিন, আল-মুরসালাত, আন-নাবা, আন-নাযিআত, আল-ইনফিতার, আল-মুতাফফিফিন, আল-ইনশিকাক, আল-বুরুজ, আল-ফজর এবং এরপর থেকে কুরআনের শেষ পর্যন্ত—তবে আত-তীন ও আল-কাফিরুন সূরা দুটি ব্যতীত।

আমি বলি, যেহেতু আপনি এটি অবগত হলেন, তাই মূল আলোচনায় প্রবেশের আগে কিছু নীতিমালা উল্লেখ করাতে কোনো দোষ নেই।

প্রথমত: প্রতিটি স্থানে ও প্রতিটি সময়ে যুদ্ধের নির্দেশ এবং এর বৈধতা কুরআনে বর্ণিত ঐ সকল বিষয়ের জন্য রহিতকারী (ناسخ), যেগুলোতে মুশরিকদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ, তাদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন, উপেক্ষা করা, বিমুখ থাকা, ক্ষমা ও মার্জনা করা এবং তারা সন্ধির দিকে ঝুঁকলে তাদের সাথে সন্ধি করার নির্দেশ ছিল।

দ্বিতীয়ত: যুদ্ধের নির্দেশের পর আল্লাহ তাআলা ক্ষমা, মার্জনা, উপদেশ প্রদান, আল্লাহর নিদর্শনসমূহ ও তাঁর দিবসসমূহ (অর্থাৎ যে সকল সমরাঙ্গনে মুসলমানদের বিজয় লাভ হয়েছে এবং কাফেরদের ওপর বিপর্যয় নেমে এসেছে) স্মরণ করিয়ে দেওয়া, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলদের ন্যায় ধৈর্য ধারণ করা, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা এবং এই জাতীয় নেক আমলের যত নির্দেশ দিয়েছেন, তার সবই সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم)।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৭)
غير مَنْسُوخ وَلَا مَرْفُوع الحكم عَن الْمُسلمين بل هم محضوضون على فعله مأجورون عَلَيْهِ أعظم الْآجر

الثَّالِث أَن آيَة الزَّكَاة نسخت كل صَدَقَة وَصَوْم رَمَضَان نسخ كل صَوْم وذبيحة الْأَضْحَى نسخت كل ذَبِيحَة

وَذكر الْعلمَاء أَن أول نسخ وَقع فِي الشَّرِيعَة هُوَ أَمر الصَّلَاة ثمَّ أَمر الْقبْلَة ثمَّ أَمر الصّيام ثمَّ الزَّكَاة ثمَّ الْإِعْرَاض عَن الْمُشْركين ثمَّ الْأَمر بجهادهم ثمَّ إِعْلَام الله تَعَالَى نبييه صلى الله عليه وسلم مَا يفعل بهم ثمَّ أَمر بقتل الْمُشْركين ثمَّ أمره بقتل أهل الْكتاب حَتَّى يُعْطوا الْجِزْيَة عَن يَد وهم صاغرون

ثمَّ كَانَ عَلَيْهِ أهل الْعُقُود من أَمر الْمَوَارِيث ثمَّ هدم منار الْجَاهِلِيَّة ومنعهم من مُخَالطَة الْمُسلمين فِي حجهم ثمَّ نسخ المعاهدة الَّتِي كَانَت بَينه وَبينهمْ بالأربع أشهر بعد النَّحْر وَأرْسل عليه الصلاة والسلام عليا فِيهَا إِلَى الْمَوْسِم وأردفه بِأبي هُرَيْرَة فَأذن بهَا فِي الْحَج
এটি রহিত (منسوخ) নয় এবং মুসলিমদের উপর থেকে এর বিধান প্রত্যাহৃত (مرفوع) হয়নি; বরং তারা এটি পালনে উৎসাহিত এবং এর বিনিময়ে তারা মহান প্রতিদানে ভূষিত হবেন।

তৃতীয় বিষয়টি হলো, জাকাতের আয়াত সকল সাধারণ দান-সদকাকে রহিত (نسخ) করেছে, রমজানের রোজা পূর্ববর্তী সকল রোজা রাখাকে রহিত (نسخ) করেছে এবং ঈদুল আযহার কোরবানি অন্য সকল জবেহ করার বিধানকে রহিত (نسخ) করেছে।

উলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে, শরিয়তে সর্বপ্রথম যে রহিতকরণ (نسخ) সংঘটিত হয়েছিল তা হলো সালাতের বিধান, এরপর কিবলার নির্দেশ, এরপর রোজার বিধান, তারপর জাকাত, এরপর মুশরিকদের থেকে বিমুখ থাকার নির্দেশ, এরপর তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ, অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ব্যাপারে কী করণীয় তা অবহিত করেন, তারপর মুশরিকদের হত্যার নির্দেশ এবং সবশেষে আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দেন যতক্ষণ না তারা অনুগত হয়ে নিজ হাতে জিজিয়া (الجزية) প্রদান করে।

এরপর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিদের (أهل العقود) যে বিধান ছিল তা কার্যকর ছিল, অতঃপর জাহেলিয়াতের নিদর্শনসমূহ বিলোপ করা হয় এবং মুশরিকদের হজের সময় মুসলিমদের সাথে মেলামেশা করতে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর কুরবানির পরবর্তী চার মাস পর্যন্ত তাঁর ও তাদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি রহিত (نسخ) করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সময়ে হজের মৌসুমে আলীকে (রা.) প্রেরণ করেন এবং তাঁর সহযোগী হিসেবে আবু হুরায়রাকে (রা.) পাঠান, যাতে তিনি হজের সময় এ ঘোষণা প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) কালাইদুল মারজান ফী বায়ানিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ ফিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي

ذكر النَّاسِخ والمنسوخ على نظم سور الْقُرْآن

وَجُمْلَته نَحْو المائتي آيَة وَعشْرين آيَة مَا بَين مُتَّفق عَلَيْهِ ومختلف فِيهِ

‌‌سُورَة الْفَاتِحَة

مَكِّيَّة وَقيل مَدَنِيَّة وَهِي سبع آيَات وكلماتها تسع وَعِشْرُونَ وحروفها مائَة وَوَاحِد وَعِشْرُونَ على الْخلاف فِي أَن الْبَسْمَلَة آيَة فِيهَا وَمذهب الْأَئِمَّة الثَّلَاثَة مَالك وَأَبُو حنيفَة وَابْن حَنْبَل أَنَّهَا لَيست فِيهَا خلافًا للشَّافِعِيّ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

কুরআনের সূরাসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ের বর্ণনা।

এর সর্বমোট সংখ্যা প্রায় দুইশত বিশটি আয়াত, যা ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه) এবং মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) উভয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

সূরা আল-ফাতিহা

এটি মক্কী (مكية), মতান্তরে মাদানী (مدنية)। এটি সাতটি আয়াত বিশিষ্ট; এর শব্দ সংখ্যা উনত্রিশটি এবং অক্ষর সংখ্যা একশত একুশটি। এই গণনা বিসমিল্লাহ এই সূরার অন্তর্ভুক্ত কি না সেই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে। তিন ইমাম—মালিক, আবু হানিফা ও ইবনে হাম্বল-এর মাযহাব (مذهب) হলো যে, এটি সূরার অংশ নয়, যা ইমাম শাফেয়ীর মতের পরিপন্থী।