(খণ্ড: ১) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: -)
شرح الزرقاني على الموطأ   (الزرقاني، محمد بن عبد الباقي)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: شرح الزرقاني على موطأ الإمام مالك

المؤلف: محمد بن عبد الباقي بن يوسف الزرقاني المصري الأزهري

تحقيق: طه عبد الرءوف سعد

الناشر: مكتبة الثقافة الدينية - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1424هـ - 2003م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুয়াত্তার ওপর আল-যুরকানীর ব্যাখ্যা   (আল-যুরকানী, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকী)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


কিতাব: ইমাম মালিকের মুয়াত্তার ওপর আল-যুরকানীর ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকী বিন ইউসুফ আল-যুরকানী আল-মিসরী আল-আযহারী

তাহকীক: ত্বহা আব্দুর রউফ সাদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিইয়্যাহ - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[কিতাবটির সংখ্যায়ন মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥١)
‌‌[خطبة الشارح]

بسم الله الرحمن الرحيم

خُطْبَةُ الشَّارِحِ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْلَعَ شُمُوسَ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ فِي سَمَاءِ السَّعَادَةِ، وَأَشْرَقَ أَقْمَارَ صَنِيعِهِمْ فِي أَرْقِعَةِ مَرْفُوعَاتِ السِّيَادَةِ، وَوَصَلَ حَبْلَ انْقِطَاعِهِمْ إِلَيْهِ فَأَدْرَجَهُمْ مَعَ الصِّدِّيقِينَ وَأَثَابَهُمُ الْحُسْنَى وَزِيَادَةً، وَأَرْسَلَ فِينَا رَءُوفًا رَحِيمًا بِالْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَةِ الْمُنْقَادَةِ، أَحْمَدُهُ وَأَشْكُرُهُ عَلَى تَوَاتُرِ آلَائِهِ رَاجِيًا الزِّيَادَةَ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا وَنَبِيَّنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَحَبِيبُهُ وَخَلِيلُهُ الْمُرْسَلُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ فَوَطَّأَ الدِّينَ الْمَتِينَ فَاقْتَبَسْنَا الْهُدَى مِنْ كَوَاكِبِ أَنْوَارِهِ الْوَقَّادَةِ، صَلَّى اللَّهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ نُجُومِ الْهُدَى الْفَائِزِينَ بِرُؤْيَةِ وَجْهِهِ الْحَسَنِ فَسَلْسَلَ عَلَيْهِمْ إِسْعَادُهُ، فَوَقَفُوا أَنْفُسَهُمْ عَلَى نَصْرِ شَرِيعَتِهِ وَمَهَّدُوا إِرْشَادَهُ، صَلَاةً وَسَلَامًا أَرْجُو بِهِمَا فِي الدَّارَيْنِ قُرْبَهُ وَإِمْدَادَهُ.

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ الْعَاجِزَ الضَّعِيفَ الْفَانِيَ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ يُوسُفَ الزَّرْقَانِيَّ لَمَّا مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِ بِقِرَاءَةِ كِتَابِ الْمُوَطَّأِ بِالسَّاحَاتِ الْأَزْهَرِيَّةِ، وَكَانَ الِابْتِدَاءُ فِي عَاشِرِ جُمَادَى الْأُولَى لِسَنَةِ تِسْعٍ بَعْدَ مِائَةٍ وَأَلْفٍ مِنَ الْهِجْرَةِ النَّبَوِيَّةِ، بَعْدَمَا هُجِرَ بِمِصْرَ الْمَحْمِيَّةِ، حَتَّى كَادَ لَا يُعْرَفُ مَا هُوَ، كَتَبْتُ عَلَيْهِ مَا أَتَاحَهُ لَهُ ذُو الْمِنَّةِ وَالْفَضْلِ، وَإِنْ لَمْ أَكُنْ لِذَلِكَ وَلَا لِأَقَلَّ مِنْهُ بِأَهْلٍ؛ لِأَنَّ شُرُوحَهُ وَإِنْ كَثُرَتْ عَزَّتْ بِحَيْثُ لَا يُوجَدُ مِنْهَا فِي بِلَادِنَا إِلَّا مَا قَلَّ وَجَعَلْتُهُ وَسَطًا لَا بِالْقَصِيرِ وَلَا بِالطَّوِيلِ، وَأَتَيْتُ فِي ضَبْطِهِ بِمَا يَشْفِي - لِلْقَوَاصِرِ مِثْلِي - الْغَلِيلَ، غَيْرَ مُبَالٍ بِتَكْرَارِهِ كَبَعْضِ التَّرَاجِمِ لِمَا عُلِمَ مِنْ غَالِبِ حَالِنَا مِنَ النِّسْيَانِ، ثُمَّ إِنِّي لَا أَبِيعُهُ بِالْبَرَاءَةِ مِنَ الْعُيُوبِ بَلْ هِيَ كَثِيرَةٌ لَا سِيَّمَا لِأَهْلِ هَذَا الزَّمَانِ، لَكِنِّي أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ حَاسِدٍ يَدْفَعُ بِالصَّدْرِ، فَهَذَا لِلَّهِ لَا لِزَيْدٍ وَلَا لِعَمْرٍو، وَاللَّهُ أَسْأَلُ مِنْ فَضْلِهِ الْعَظِيمِ، مُتَوَسِّلًا إِلَيْهِ بِحَبِيبِهِ الْكَرِيمِ، أَنْ يَجْعَلَهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ وَيُسَهِّلَ بِالتَّمَامِ، وَأَنْ يَجْعَلَهُ وُصْلَةً إِلَى خَيْرِ الْأَنَامِ، وَأَنْ يَأْخُذَ بِيَدِي فِي الدُّنْيَا وَيَوْمِ الْقِيَامِ، وَيُمَتِّعَنِي بِرُؤْيَتِهِ وَرُؤْيَةِ حَبِيبِهِ فِي دَارِ السَّلَامِ.
‌[ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৌভাগ্যের আকাশে হাদিস বিশারদগণের সূর্যসমূহকে উদিত করেছেন এবং উচ্চমর্যাদার আঙিনায় তাদের কর্মের চাঁদগুলোকে দীপ্তিমান করেছেন। তিনি তাদের পার্থিব বিচ্ছিন্নতার সংযোগ নিজের সাথে স্থাপন করেছেন, ফলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন সিদ্দীকগণের সাথে এবং তাদের প্রতিদান দিয়েছেন কল্যাণ ও আরও অতিরিক্ত নেয়ামত। আর তিনি আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন এক দয়ালু ও করুণাময় রাসূলকে, সহজ ও অনুগত সত্যনিষ্ঠ দ্বীনসহ। আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর ক্রমাগত অনুগ্রহরাজির জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশায়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর পরিজ্ঞাত। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মদ তাঁর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর প্রিয়তম ও তাঁর বন্ধু, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে। তিনি সুদৃঢ় দ্বীনকে সুগম করেছেন, ফলে আমরা তাঁর প্রজ্জ্বলিত নূরানী নক্ষত্ররাজি থেকে হিদায়াত গ্রহণ করেছি। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যারা হিদায়াতের নক্ষত্র এবং আল্লাহর সুন্দর চেহারা দর্শনের মাধ্যমে সফলকাম হয়েছেন। ফলে তাঁর প্রদত্ত সৌভাগ্য তাঁদের ওপর ক্রমাগত বর্ষিত হয়েছে। তাঁরা নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর শরীয়তকে বিজয়ী করতে এবং তাঁর দিকনির্দেশনাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে। এমন সালাত ও সালাম যার মাধ্যমে আমি উভয় জাহানে তাঁর নৈকট্য ও সাহায্য প্রত্যাশা করি।

অতঃপর: অক্ষম, দুর্বল ও নশ্বর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী বিন ইউসুফ আল-যারকানী বলছেন, যখন আল্লাহ তাআলা তাকে আল-আযহার প্রাঙ্গণে মুয়াত্তা কিতাবটি পাঠ করার সুযোগ দিয়ে অনুগ্রহ করলেন—আর এর সূচনা ছিল হিজরী ১১০৯ সালের ১০ই জুমাদাল উলা মাসে—যখন সুরক্ষিত দেশ মিশরে এটি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল, এমনকি এটি কী তা জানাই প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল; তখন আমি এর ওপর তা-ই লিখেছি যা মহান দাতা ও অনুগ্রহকারী আল্লাহ তাওফীক দিয়েছেন। যদিও আমি এর জন্য বা এর চেয়ে নগণ্য কিছুর জন্যও যোগ্য ছিলাম না। কারণ এই কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ অনেক হলেও আমাদের দেশে তা দুর্লভ ছিল, যৎসামান্য ছাড়া পাওয়া যেত না। আমি একে নাতিদীর্ঘ করে মধ্যম মানের করেছি এবং এর শব্দ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এমন বর্ণনা দিয়েছি যা আমার মতো জ্ঞানপিপাসুদের পিপাসা মেটাবে। কোনো বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করতে আমি দ্বিধাবোধ করিনি, যেমন কিছু জীবনী আলোচনা, যেহেতু আমাদের সাধারণ অবস্থা বিস্মৃতিপরায়ণতা হিসেবে পরিচিত। অতঃপর আমি একে ভুলত্রুটিমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে পেশ করছি না, বরং এতে অনেক ভুল থাকতে পারে, বিশেষ করে এই যমানার লোকদের জন্য। তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এমন হিংসুক থেকে যে হঠকারিতা করে। এটা তো আল্লাহর জন্য, যায়েদ বা আমরের জন্য নয়। আমি আল্লাহর সুমহান অনুগ্রহের কাছে তাঁর সম্মানিত প্রিয় হাবীবের অসিলায় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন একে কেবল তাঁর চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর পূর্ণতা দান সহজ করে দেন; একে যেন সৃষ্টির সেরা মানবের নিকট পৌঁছানোর মাধ্যম বানান; এবং দুনিয়া ও কিয়ামতের দিন যেন আল্লাহর হাত আমার হাত ধরেন (আমাকে সাহায্য করেন) এবং আমাকে জান্নাতে আল্লাহর চেহারা দর্শন ও তাঁর প্রিয় হাবীবের দর্শনের মাধ্যমে ধন্য করেন।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥٢)
وَحَيْثُ أَطْلَقْتُ لَفْظَ الْحَافِظِ فَمُرَادِي خِتَامُ الْحُفَّاظِ ابْنُ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيُّ.

وَاللَّهُ حَسْبِي وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ، مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، وَكُلَّ أَمْرِي لَهُ أَسْلَمْتُ وَفَوَّضْتُ.
আর যেখানেই আমি 'হাফিজ' শব্দটি নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহার করেছি, সেখানে আমার উদ্দেশ্য হলো হাফিজগণের ধারার সমাপ্তিদানকারী ইবনে হাজার আসকালানি।

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি; আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়) এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই। আমি আমার সকল বিষয় তাঁর নিকটেই সমর্পণ ও অর্পণ করেছি।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥٣)
‌‌[مقدمة الشارح]

عَنِ الْكِتَابِ وَمُؤَلِّفِهِ

مُؤَلِّفُ هَذَا الْكِتَابِ إِمَامُ الْأَئِمَّةِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، يَنْتَهِي نَسَبُهُ إِلَى يَعْرُبَ بْنِ يَشْجُبَ بْنِ قَحْطَانَ الْأَصْبَحِيِّ، جَدُّهُ أَبُو عَامِرٍ صَحَابِيٌّ جَلِيلٌ. شَهِدَ الْمَغَازِي كُلَّهَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَلَا بَدْرًا، كَذَا قَالَ الْقَاضِي عِيَاضٌ نَقْلًا عَنِ الْقَاضِي بَكْرِ بْنِ الْعُلَا الْقُشَيْرِيِّ، لَكِنْ قَالَ غَيْرُهُ: أَبُو عَامِرٍ جَدُّ مَالِكٍ الْأَعْلَى، كَانَ فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَلْقَهُ، سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَهُوَ تَابِعِيٌّ مُخَضْرَمٌ. قَالَ الْحَافِظُ الذَّهَبِيُّ فِي " التَّجْرِيدِ ": لَمْ أَرَ أَحَدًا ذَكَرَهُ فِي الصَّحَابَةِ وَنَقَلَهُ فِي الْإِصَابَةِ وَلَمْ يَزِدْ عَلَيْهِ. وَابْنُهُ مَالِكٌ جَدُّ الْإِمَامِ مِنْ كِبَارِ التَّابِعِينَ وَعُلَمَائِهِمْ، يَرْوِي عَنْ عُمَرَ وَعُثْمَانَ وَطَلْحَةَ وَعَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَحَسَّانَ وَغَيْرِهِمْ، وَهُوَ مِنَ الْأَرْبَعَةِ الَّذِينَ حَمَلُوا عُثْمَانَ لَيْلًا إِلَى قَبْرِهِ وَغَسَّلُوهُ وَدَفَنُوهُ. يَرْوِي عَنْهُ بَنُوهُ: أَنَسٌ وَبِهِ يُكَنَّى وَأَبُو سُهَيْلٍ نَافِعٌ وَالرَّبِيعُ. مَاتَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ عَلَى الصَّحِيحِ كَمَا قَالَهُ الْحَافِظُ، وَرَوَى مَالِكٌ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مَرْفُوعًا: " «ثَلَاثٌ يَفْرَحُ لَهُنَّ الْجَسَدُ فَيَرْبُو عَلَيْهِنَّ: الطِّيبُ وَالثَّوْبُ اللَّيِّنُ وَشُرْبُ الْعَسَلِ» " أَخْرَجَهُ الْخَطِيبُ وَضَعَّفَهُ مِنْ رِوَايَةِ يُونُسَ بْنِ هَارُونَ الشَّامِيِّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عُمَرَ بِهِ. وَأَخْرَجَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي " الضُّعَفَاءِ " وَقَالَ: هَذَا لَمْ يَأْتِ بِهِ عَنْ مَالِكٍ غَيْرُ يُونُسَ، وَقَدْ أَتَى بِعَجَائِبَ لَا تَحِلُّ الرِّوَايَةُ عَنْهُ. وَأَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَقَالَ: هَذَا لَا يَصِحُّ عَنْ مَالِكٍ، وَيُونُسُ ضَعِيفٌ.

وَأَمَّا مَالِكٌ: فَهُوَ الْإِمَامُ الْمَشْهُورُ صَدْرُ الصُّدُورِ وَأَكْمَلُ الْعُقَلَاءِ وَأَعْقَلُ الْفُضَلَاءِ، وَرِثَ حَدِيثَ الرَّسُولِ، وَنَشَرَ فِي أُمَّتِهِ الْأَحْكَامَ وَالْفُصُولَ، أَخَذَ عَنْ تِسْعِمِائَةِ شَيْخٍ فَأَكْثَرَ، وَمَا أَفْتَى حَتَّى شَهِدَ لَهُ سَبْعُونَ إِمَامًا أَنَّهُ أَهْلٌ لِذَلِكَ، وَكَتَبَ بِيَدِهِ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ، وَجَلَسَ لِلدَّرْسِ وَهُوَ ابْنُ سَبْعَةَ عَشَرَ عَامًا، وَصَارَتْ حَلْقَتُهُ أَكْبَرَ مِنْ حَلْقَةِ مَشَايِخِهِ فِي حَيَاتِهِمْ، وَكَانَ النَّاسُ يَزْدَحِمُونَ عَلَى بَابِهِ لِأَخْذِ الْحَدِيثِ وَالْفِقْهِ كَازْدِحَامِهِمْ عَلَى بَابِ السُّلْطَانِ، وَلَهُ حَاجِبٌ يَأْذَنُ أَوَّلًا لِلْخَاصَّةِ فَإِذَا فَرَغُوا أَذِنَ لِلْعَامَّةِ، وَإِذَا جَلَسَ لِلْفِقْهِ جَلَسَ كَيْفَ كَانَ، وَإِذَا أَرَادَ الْجُلُوسَ لِلْحَدِيثِ اغْتَسَلَ وَتَطَيَّبَ وَلَبِسَ ثِيَابًا جُدُدًا وَتَعَمَّمَ وَقَعَدَ عَلَى مِنَصَّتِهِ بِخُشُوعٍ
[ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা]

গ্রন্থ এবং এর লেখক সম্পর্কে

এই গ্রন্থের লেখক হলেন ইমামদের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির ইবনে আমর ইবনে আল-হারিস, যাঁর বংশধারা ইয়াবুব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে কাহলান আল-আসবাহি পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। তাঁর দাদা আবু আমির ছিলেন একজন মহান সাহাবী। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বদর যুদ্ধ ছাড়া আর সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। কাজী ইয়াদ এটি কাজী বকর ইবনুল উলা আল-কুশাইরি থেকে বর্ণনা করে উল্লেখ করেছেন। তবে অন্যরা বলেছেন: আবু আমির ছিলেন ইমাম মালিকের ঊর্ধ্বতম দাদা, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে জীবিত ছিলেন কিন্তু তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেননি। তিনি উসমান ইবনে আফফানের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, সুতরাং তিনি একজন মুখাদরাম তাবেয়ি। হাফেজ যাহাবি ‘আত-তাজরিদ’ গ্রন্থে বলেছেন: আমি কাউকে দেখিনি যিনি তাঁকে সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর আল-ইসাবাহ গ্রন্থেও তা নকল করা হয়েছে কিন্তু সেখানে কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করা হয়নি। আর তাঁর পুত্র মালিক (ইমামের দাদা) বড় মাপের তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের মধ্যকার বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তিনি উমর, উসমান, তালহা, আয়েশা, আবু হুরাইরা, হাসসান এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন সেই চারজন ব্যক্তির একজন যারা উসমানকে (রা.) রাতের বেলা বহন করে তাঁর কবরের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁকে গোসল দিয়েছিলেন এবং দাফন করেছিলেন। তাঁর পুত্রগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আনাস—যাঁর নামানুসারে ইমামের কুনিয়াত রাখা হয়েছে—আবু সুহাইল নাফে এবং রাবি। বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনি চুয়াত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি হাফেজ বলেছেন। মালিক তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: “তিনটি বস্তু রয়েছে যাতে শরীর আনন্দিত হয় এবং সতেজ হয়: সুগন্ধি, নরম পোশাক এবং মধু পান করা।” খতিব এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইউনুস ইবনে হারুন আশ-শামি সূত্রে মালিক থেকে, তাঁর পিতা ও দাদার মাধ্যমে উমর থেকে বর্ণিত এই রেওয়ায়েতটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনে হিব্বান ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করে বলেছেন: ইউনুস ব্যতীত অন্য কেউ এটি মালিক থেকে বর্ণনা করেনি, আর সে এমন সব অদ্ভুত বর্ণনা নিয়ে এসেছে যা তাঁর থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়। দারা কুতনি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি মালিক থেকে প্রমাণিত নয় এবং ইউনুস একজন দুর্বল বর্ণনাকারী।

আর ইমাম মালিকের ব্যাপারে বলা যায়: তিনি হলেন বিখ্যাত ইমাম, শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, জ্ঞানীদের মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণ এবং গুণীজনদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান। তিনি রাসূলের হাদিসের উত্তরাধিকার লাভ করেছিলেন এবং উম্মতের মাঝে বিধিবিধান ও মাসয়ালাসমূহ প্রচার করেছেন। তিনি নয়শ বা তারও বেশি শায়খের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সত্তর জন ইমাম সাক্ষ্য দেননি যে তিনি এর যোগ্য, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি ফতোয়া প্রদান করেননি। তিনি নিজ হাতে এক লক্ষ হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। মাত্র সতের বছর বয়সে তিনি পাঠদানের জন্য বসেন এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর মজলিস তাঁর শিক্ষকদের মজলিসের চেয়েও বড় আকার ধারণ করেছিল। মানুষ তাঁর দরজায় হাদিস ও ফিকহ অর্জনের জন্য এমনভাবে ভিড় করত যেমন সুলতানের দরজায় ভিড় করা হয়। তাঁর একজন দ্বাররক্ষী ছিল যিনি প্রথমে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতি দিতেন, অতঃপর তাঁরা অবসর হলে সাধারণ মানুষকে আসার অনুমতি দিতেন। তিনি যখন ফিকহ আলোচনার জন্য বসতেন তখন সাধারণভাবেই বসতেন, কিন্তু যখন হাদিস বর্ণনার জন্য বসার ইচ্ছা করতেন তখন গোসল করতেন, সুগন্ধি মাখতেন, নতুন পোশাক পরিধান করতেন, পাগড়ি পরিধান করতেন এবং অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে তাঁর আসনে উপবেশন করতেন।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥٤)
وَخُضُوعٍ وَوَقَارٍ، وَيُبَخِّرُ الْمَجْلِسَ بِالْعُودِ مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى فَرَاغِهِ تَعْظِيمًا لِلْحَدِيثِ، حَتَّى بَلَغَ مِنْ تَعْظِيمِهِ لَهُ أَنَّهُ لَدَغَتْهُ عَقْرَبٌ وَهُوَ يُحَدِّثُ سِتَّ عَشْرَةَ مَرَّةً فَصَارَ يَصْفَرُّ وَيَتَلَوَّى حَتَّى تَمَّ الْمَجْلِسُ وَلَمْ يَقْطَعْ كَلَامَهُ، وَرُبَّمَا كَانَ يَقُولُ لِلسَّائِلِ انْصَرِفْ حَتَّى أَنْظُرَ، فَقِيلَ لَهُ فَبَكَى وَقَالَ: أَخَافُ أَنْ يَكُونَ لِي مِنَ السَّائِلِ يَوْمٌ وَأَيُّ يَوْمٍ، وَإِذَا أَكْثَرُوا سُؤَالَهُ كَفَّهُمْ وَقَالَ: " حَسْبُكُمْ مَنْ أَكْثَرَ فَقَدْ أَخْطَأَ "، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُجِيبَ عَنْ كُلِّ مَسْأَلَةٍ فَلْيَعْرِضْ نَفْسَهُ عَلَى الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُجِيبُ، وَقَدْ أَدْرَكْنَاهُمْ إِذَا سُئِلَ أَحَدُهُمْ فَكَأَنَّ الْمَوْتَ أَشْرَفَ عَلَيْهِ، وَسُئِلَ عَنْ ثَمَانِيَةٍ وَأَرْبَعِينَ مَسْأَلَةً فَقَالَ فِي ثِنْتَيْنِ وَثَلَاثِينَ مِنْهَا: لَا أَدْرِي، وَقَالَ: " يَنْبَغِي لِلْعَالِمِ أَنْ يُوَرِّثَ جُلَسَاءَهُ لَا أَدْرِي لِيَكُونَ أَصْلًا فِي أَيْدِيهِمْ يَفْزَعُونَ إِلَيْهَا، وَكَانَ إِذَا شَكَّ فِي الْحَدِيثِ طَرَحَهُ، وَإِذَا قَالَ أَحَدٌ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَبَسَهُ بِالْحَبْسِ وَقَالَ: يَصِحُّ مَا قَالَ ثُمَّ يَخْرُجُ، وَكَانَ يُقَامُ بَيْنَ يَدَيْهِ الرَّجُلُ كَمَا يُقَامُ بَيْنَ يَدَيِ الْأُمَرَاءِ، وَكَانَ مُهَابًا جِدًّا إِذَا أَجَابَ فِي مَسْأَلَةٍ لَا يُمْكِنُ أَنْ يُقَالَ لَهُ مِنْ أَيْنَ؟ وَدَخَلَ عَلَى الْمَنْصُورِ الْخَلِيفَةِ الْعَبَّاسِيِّ وَهُوَ عَلَى فَرْشِهِ وَصَبِيٌّ يَدْخُلُ وَيَخْرُجُ فَقَالَ: تَدْرِي مَنْ هَذَا؟ هُوَ ابْنِي، وَإِنَّمَا يَفْزَعُ مِنْ هَيْبَتِكَ، وَفِيهِ أَنْشَدَ:

يَأْبَى الْجَوَابَ فَلَا يُرَاجَعُ هَيْبَةً وَالسَّائِلُونَ نَوَاكِسُ الْأَذْقَانِ

أَدَبُ الْوَقَارِ وَعِزُّ سُلْطَانِ التُّقَى فَهُوَ الْمُطَاعُ وَلَيْسَ ذَا سُلْطَانِ وَكَانَ يَقُولُ فِي فُتْيَاهُ: مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، وَلَا يَدْخُلُ الْخَلَاءَ إِلَّا كُلَّ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مَرَّةً وَيَقُولُ: وَاللَّهِ قَدِ اسْتَحْيَيْتُ مِنْ كَثْرَةِ تَرَدُّدِي لِلْخَلَاءِ، وَيُرْخِي الطَّيْلَسَانَ عَلَى رَأْسِهِ حَتَّى لَا يُرَى وَلَا يَرَى. وَقِيلَ لَهُ: كَيْفَ أَصْبَحْتَ؟ فَقَالَ: فِي عُمُرٍ يَنْقُصُ وَذُنُوبٍ تَزِيدُ.

وَلَمَّا أَلَّفَ " الْمُوَطَّأَ "، اتَّهَمَ نَفْسَهُ بِالْإِخْلَاصِ فِيهِ فَأَلْقَاهُ فِي الْمَاءِ وَقَالَ: إِنِ ابْتَلَّ فَلَا حَاجَةَ لِي بِهِ فَلَمْ يَبْتَلَّ مِنْهُ شَيْءٌ.

ثَنَاءُ الْأَئِمَّةِ عَلَيْهِ كَثِيرٌ.

قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: رَحِمَ اللَّهُ مَالِكًا مَا كَانَ أَشَدَّ انْتِقَادِ مَالِكٍ لِلرِّجَالِ، وَكَانَ لَا يُبَلِّغُ مِنَ الْحَدِيثِ إِلَّا مَا كَانَ صَحِيحًا، وَلَا يُحَدِّثُ إِلَّا عَنْ ثِقَاتِ النَّاسِ.

وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ: مَا بَقِيَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ آمَنُ عَلَى حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَلَا أُقَدِّمُ عَلَيْهِ فِي صِحَّةِ الْحَدِيثِ أَحَدًا، وَمَا رَأَيْتُ أَعْقَلَ مِنْهُ، قَالَ: وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ إِمَامٌ فِي الْحَدِيثِ وَلَيْسَ بِإِمَامٍ فِي السُّنَّةِ. وَالْأَوْزَاعِيُّ إِمَامٌ فِي السُّنَّةِ وَلَيْسَ بِإِمَامٍ فِي الْحَدِيثِ. وَمَالِكٌ إِمَامٌ فِيهِمَا جَمِيعًا.

سُئِلَ ابْنُ الصَّلَاحِ عَنْ مَعْنَى هَذَا الْكَلَامِ فَقَالَ: السُّنَّةُ هَاهُنَا ضِدُّ الْبِدْعَةِ، فَقَدْ يَكُونُ الْإِنْسَانُ عَالِمًا بِالْحَدِيثِ وَلَا يَكُونُ عَالِمًا بِالسُّنَّةِ.
এবং বিনয় ও গাম্ভীর্যের সাথে (তিনি বসতেন), এবং হাদীসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে মজলিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উদ (সুগন্ধি কাষ্ঠ) জ্বালিয়ে ধূপ দিতেন। এমনকি হাদীসের প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, হাদীস বর্ণনা করার সময় একটি বিচ্ছু তাঁকে ষোলোবার দংশন করেছিল, যার ফলে তিনি বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছিলেন এবং যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন, তবুও মজলিস শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর কথা (হাদীস পাঠ) বন্ধ করেননি। মাঝে মাঝে তিনি প্রশ্নকারীকে বলতেন, "ফিরে যাও যতক্ষণ না আমি বিষয়টি ভেবে দেখি।" তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "আমি ভয় করি যে, প্রশ্নকারীর কারণে (কিয়ামতের দিন) আমার জন্য একটি কঠিন দিন আসবে, আর সেটি কতই না ভয়াবহ দিন!" যখন তারা অধিক প্রশ্ন করত, তিনি তাদের থামিয়ে দিতেন এবং বলতেন, "তোমাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট; যে ব্যক্তি অধিক প্রশ্ন করে, সে ভুল করে।" এবং তিনি বলতেন, "যে ব্যক্তি প্রতিটি বিষয়ের উত্তর দিতে পছন্দ করে, সে যেন নিজেকে জান্নাত ও জাহান্নামের সামনে পেশ করে, তারপর উত্তর দেয়।" তিনি আরও বলতেন, "আমরা তাঁদের (সালাফদের) দেখেছি যে, যখন তাঁদের কাউকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন মনে হতো যেন মৃত্যু তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।" তাঁকে আটচল্লিশটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার মধ্যে বত্রিশটি সম্পর্কেই তিনি বলেছিলেন, "আমি জানি না।" এবং তিনি বলতেন, "একজন আলেমের উচিত তাঁর কাছে উপবিষ্টদের মাঝে 'আমি জানি না'—এই কথাটি উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাওয়া, যাতে এটি তাদের হাতের মূল সম্বল হয় যার প্রতি তারা (সংশয়ের সময়) প্রত্যাবর্তন করবে।" যখনই তিনি কোনো হাদীসের ব্যাপারে সন্দেহ করতেন, তিনি তা বর্জন করতেন। যখন কেউ বলত, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন", তিনি তাকে আটকে রাখতেন এবং বলতেন, "সে যা বলেছে তা সঠিক কিনা তা যাচাই করা হবে, অতঃপর সে মুক্তি পাবে।" তাঁর সামনে মানুষকে সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে হতো যেভাবে আমিরদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন; যখন তিনি কোনো মাসআলার উত্তর দিতেন, তখন তাঁকে 'এটি কোথা থেকে পেলেন?'—একথা জিজ্ঞাসা করার সাহস কারও হতো না। তিনি আব্বাসীয় খলিফা মনসুরের নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি তাঁর আসনে উপবিষ্ট ছিলেন এবং একটি শিশু ভেতরে ঢুকছিল ও বের হচ্ছিল। খলিফা বললেন, "আপনি কি জানেন এটি কে? এ আমার ছেলে। সে কেবল আপনার গাম্ভীর্যের কারণেই ভয় পাচ্ছে।" তাঁর শানে কবি কবিতা পাঠ করেছেন:

তিনি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাম্ভীর্যের কারণে পুনরায় প্রশ্ন করা হয় না, আর প্রশ্নকারীরা মস্তক অবনত করে থাকে।

গাম্ভীর্যের শিষ্টাচার এবং তাকওয়ার কর্তৃত্বের প্রভাব; ফলে তিনি আনুগত্য প্রাপ্ত হন, অথচ তিনি কোনো (পার্থিব) শাসক নন। তিনি তাঁর ফতোয়া প্রদানের সময় বলতেন: "আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়), আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।" তিনি প্রতি তিন দিনে মাত্র একবার শৌচাগারে যেতেন এবং বলতেন, "আল্লাহর কসম, আমি আমার বারবার শৌচাগারে যাতায়াতের আধিক্যের কারণে লজ্জিত।" তিনি তাঁর মাথার উপর চাদর এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখতেন যাতে তিনি কাউকে না দেখেন এবং কেউ তাঁকে দেখতে না পায়। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "আপনার সকাল কেমন কাটল?" তিনি বললেন, "এমন এক বয়সের মধ্যে যা হ্রাস পাচ্ছে এবং এমন পাপের মধ্যে যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।"

যখন তিনি "আল-মুয়াত্তা" সংকলন করলেন, তখন তিনি নিজের ইখলাসের (একনিষ্ঠতা) বিষয়ে নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করলেন এবং তা পানিতে নিক্ষেপ করে বললেন, "যদি এটি ভিজে যায়, তবে আমার এর প্রয়োজন নেই।" কিন্তু এর কোনো অংশই ভিজল না।

ইমামগণের পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা অনেক।

সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা বলেন: "আল্লাহ মালিকের ওপর রহম করুন, বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইয়ে তিনি কতই না কঠোর ছিলেন। তিনি হাদীসের কেবল সেই অংশই পৌঁছাতেন যা সহীহ ছিল এবং কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকেই হাদীস বর্ণনা করতেন।"

আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের ক্ষেত্রে মালিক ইবনে আনাসের চেয়ে অধিক নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি পৃথিবীতে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। হাদীসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আমি তাঁর ওপর কাউকে প্রাধান্য দেই না এবং আমি তাঁর চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান কাউকে দেখিনি।" তিনি আরও বলেন, "সুফিয়ান সাওরী হাদীসের ইমাম, কিন্তু সুন্নাহর ইমাম নন। আওযায়ী সুন্নাহর ইমাম, কিন্তু হাদীসের ইমাম নন। আর মালিক উভয়েরই ইমাম।"

ইবনুস সালাহকে এই কথার অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এখানে সুন্নাহ বলতে বিদআতের বিপরীত বুঝানো হয়েছে। কেননা কোনো মানুষ হাদীসের আলেম হয়েও সুন্নাহর (আকীদা ও আদর্শের) আলেম নাও হতে পারেন।"
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥٥)
وَأَخْرَجَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ مَالِكٍ قَالَ: قَدِمَ عَلَيْنَا الزُّهْرِيُّ فَأَتَيْنَاهُ وَمَعَنَا رَبِيعَةُ فَحَدَّثَنَا بِنَيِّفٍ وَأَرْبَعِينَ حَدِيثًا، ثُمَّ أَتَيْنَاهُ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ: انْظُرُوا كِتَابًا حَتَّى أُحَدِّثَكُمْ مِنْهُ، أَرَأَيْتُمْ مَا حَدَّثْتُكُمْ أَمْسِ أَيُّ شَيْءٍ فِي أَيْدِيكُمْ مِنْهُ؟ فَقَالَ لَهُ رَبِيعَةُ: هَاهُنَا مَنْ يُورِدُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثْتَ بِهِ أَمْسِ، قَالَ: وَمَنْ هُوَ؟ قَالَ: ابْنُ أَبِي عَامِرٍ، قَالَ: هَاتِ فَحَدَّثْتُهُ بِأَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنْهَا، فَقَالَ الزُّهْرِيُّ: مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنَّهُ بَقِيَ أَحَدٌ يَحْفَظُ هَذَا غَيْرِي.

وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَيَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: مَالِكٌ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْحَدِيثِ. زَادَ ابْنُ مَعِينٍ: كَانَ مَالِكٌ مِنْ حُجَجِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ، إِمَامٌ مِنْ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ مُجْمَعٌ عَلَى فَضْلِهِ.

وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: إِذَا جَاءَ الْأَثَرُ فَمَالِكٌ النَّجْمُ، وَإِذَا ذُكِرَ الْعُلَمَاءُ فَمَالِكٌ النَّجْمُ الثَّاقِبُ، وَلَمْ يَبْلُغْ أَحَدٌ مَبْلَغَ مَالِكٍ فِي الْعِلْمِ لِحِفْظِهِ وَإِتْقَانِهِ وَصِيَانَتِهِ، وَمَا أَحَدٌ أَمَنَّ عَلَيَّ فِي عِلْمِ اللَّهِ مِنْ مَالِكٍ، وَجَعَلْتُ مَالِكًا حُجَّةً بَيْنِي وَبَيْنَ اللَّهِ، وَمَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ الْقَرِينَانِ لَوْلَاهُمَا لَذَهَبَ عِلْمُ الْحِجَازِ، وَالْعِلْمُ يَدُورُ عَلَى ثَلَاثَةٍ: مَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ.

وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: قُلْتُ لِأَبِي: مَنْ أَثْبَتُ أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ؟ قَالَ: مَالِكٌ أَثْبَتُ فِي كُلِّ شَيْءٍ.

وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ: لَوْلَا مَالِكٌ وَاللَّيْثُ لَضَلَلْنَا.

وَكَانَ الْأَوْزَاعِيُّ إِذَا ذَكَرَ مَالِكًا قَالَ: عَالِمُ الْعُلَمَاءِ، وَعَالِمُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، وَمُفْتِي الْحَرَمَيْنِ.

وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ لَمَّا بَلَغَتْهُ وَفَاتُهُ: مَا تُرِكَ عَلَى الْأَرْضِ مِثْلُهُ. وَقَالَ: مَالِكٌ إِمَامٌ وَعَالِمُ أَهْلِ الْحِجَازِ، وَمَالِكٌ حُجَّةٌ فِي زَمَانِهِ، وَمَالِكٌ سِرَاجُ الْأُمَّةِ، وَإِنَّمَا كُنَّا نَتَّبِعُ آثَارَ مَالِكٍ، وَقَدَّمَهُ ابْنُ حَنْبَلٍ عَلَى الثَّوْرِيِّ وَاللَّيْثِ وَالْحَكَمِ وَحَمَّادٍ وَالْأَوْزَاعِيِّ فِي الْعِلْمِ، وَقَالَ: هُوَ إِمَامٌ فِي الْحَدِيثِ وَالْفِقْهِ. وَسُئِلَ عَنْ مَنْ تُرِيدُ أَنْ تَكْتُبَ الْحَدِيثَ وَفِي رَأْيِ مَنْ تَنْظُرُ؟ فَقَالَ: حَدِيثُ مَالِكٍ وَرَأْيُ مَالِكٍ.

وَقَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ فِي حَدِيثٍ: " «يُوشِكُ أَنْ يَضْرِبَ النَّاسُ أَكْبَادَ الْإِبِلِ يَطْلُبُونَ الْعِلْمَ فَلَا يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَةِ» " أَخْرَجَهُ مَالِكٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ، وَالنَّسَائِيُّ وَالْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا؛ نَرَى أَنَّهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ. وَفِي رِوَايَةٍ: كَانُوا يَرَوْنَهُ، قَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ: يَعْنِي سُفْيَانَ بِقَوْلِهِ: كَانُوا التَّابِعِينَ. وَقَالَ غَيْرُهُ: هُوَ إِخْبَارٌ عَنْ غَيْرِهِ مِنْ نُظَرَائِهِ أَوْ مِمَّنْ هُوَ فَوْقَهُ. وَفِي رِوَايَةٍ عَنْ سُفْيَانَ: كُنْتُ أَقُولُ هُوَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ، حَتَّى قُلْتُ: كَانَ فِي زَمَانِهِ سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ وَسَالِمٌ وَغَيْرُهُمَا ثُمَّ أَصْبَحْتُ الْيَوْمَ أَقُولُ إِنَّهُ مَالِكٌ، وَذَلِكَ أَنَّهُ عَاشَ حَتَّى لَمْ يَبْقَ لَهُ نَظِيرٌ بِالْمَدِينَةِ.

قَالَ الْقَاضِي عَبْدُ الْوَهَّابِ: لَا يُنَازِعُنَا فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَحَدٌ مِنْ أَرْبَابِ الْمَذَاهِبِ؛ إِذْ
ইবনে আবদিল বার হুসাইন ইবনে উরওয়াহ থেকে এবং তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যুহরী আমাদের নিকট আসলেন, তখন আমরা রবীআহসহ তাঁর নিকট গেলাম। তিনি আমাদের নিকট চল্লিশটিরও বেশি হাদীস বর্ণনা করলেন। এরপর দিন আমরা তাঁর নিকট আসলে তিনি বললেন: একটি কিতাব দেখো যাতে আমি তা থেকে তোমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতে পারি। গতকাল আমি যা বর্ণনা করেছি, তা থেকে তোমাদের হাতে কী অবশিষ্ট আছে তা কি দেখেছ? রবীআহ তাঁকে বললেন: এখানে এমন একজন আছে যে আপনার কাছে গতকাল যা বর্ণনা করেছেন তা পেশ করতে পারবে। তিনি বললেন: সে কে? তিনি বললেন: ইবনে আবী আমির। তিনি বললেন: পেশ করো। অতঃপর আমি তাঁকে তার মধ্য থেকে চল্লিশটি হাদীস শুনালাম। তখন যুহরী বললেন: আমি মনে করিনি যে আমি ছাড়া আর কেউ এটি মুখস্থ রেখেছে।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: হাদীসের ক্ষেত্রে মালিক হলেন আমিরুল মুমিনীন। ইবনে মাঈন আরও বাড়িয়ে বলেছেন: মালিক ছিলেন তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রমাণসমূহের অন্যতম, মুসলিমদের ইমামদের একজন, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত।

শাফিঈ বলেন: যখন কোনো বর্ণনা আসে, তখন মালিক হলেন নক্ষত্র। আর যখন আলেমদের আলোচনা করা হয়, তখন মালিক হলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। মালিকের স্মৃতিশক্তি, প্রজ্ঞা এবং সংরক্ষণের কারণে জ্ঞানের ক্ষেত্রে কেউ তাঁর স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। আল্লাহর ইলমের ক্ষেত্রে মালিকের চেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী আমার ওপর আর কেউ নেই। আমি মালিককে আমার ও আল্লাহর মাঝে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছি। মালিক এবং ইবনে উয়াইনাহ হলেন সমকক্ষ; তাঁরা দুজন না থাকলে হিজাযের ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেত। ইলম তিনজনের ওপর আবর্তিত হয়: মালিক, ইবনে উয়াইনাহ এবং লাইস ইবনে সা'দ।

আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: যুহরীর সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কে? তিনি বললেন: মালিক সব কিছুতেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য।

ইবনে ওয়াহাব বলেন: মালিক এবং লাইস না থাকলে আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম।

আওযায়ী যখন মালিকের কথা উল্লেখ করতেন, তখন বলতেন: আলেমদের আলেম, মদীনার আলেম এবং দুই হারামের মুফতী।

ইবনে উয়াইনাহর কাছে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: তাঁর মতো আর কাউকে জমিনে রেখে যাওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন: মালিক হিজাযবাসীদের ইমাম ও আলেম, মালিক তাঁর সময়ের এক অকাট্য প্রমাণ এবং মালিক উম্মাহর প্রদীপ। আমরা কেবল মালিকের রেখে যাওয়া চিহ্নসমূহ অনুসরণ করতাম। ইবনে হাম্বল ইলমের ক্ষেত্রে তাঁকে সাওরী, লাইস, হাকাম, হাম্মাদ এবং আওযায়ীর ওপর প্রধান্য দিতেন। তিনি বলতেন: তিনি হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের ইমাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কার হাদীস লিখতে চান এবং কার মতামতের দিকে লক্ষ্য করেন? তিনি বললেন: মালিকের হাদীস এবং মালিকের মতামত।

সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ একটি হাদীস সম্পর্কে বলেন: "শীঘ্রই মানুষ ইলম অন্বেষণে উটের কলিজায় আঘাত করবে (তথা দীর্ঘ সফর করবে), তখন তারা মদীনার আলেমের চেয়ে বড় কোনো আলেম খুঁজে পাবে না।" এটি মালিক, তিরমিযী (তিনি একে হাসান বলেছেন), নাসাঈ এবং হাকিম (তিনি একে সহীহ বলেছেন) আবু হুরাইরাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন; আমরা মনে করি তিনি হলেন মালিক ইবনে আনাস। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তারা তাকে মালিক মনে করত। ইবনে মাহদী বলেন: সুফিয়ান তাঁর "তারা" উক্তি দ্বারা তাবিঈদের বুঝিয়েছেন। অন্য একজন বলেছেন: এটি তাঁর সমসাময়িক অথবা তাঁর ঊর্ধ্বতনদের থেকে দেওয়া সংবাদ। সুফিয়ান থেকে অন্য এক বর্ণনায় আছে: আমি বলতাম যে তিনি হলেন ইবনুল মুসায়্যিব, এমনকি আমি এও বলেছি যে তাঁর যুগে সুলায়মান ইবনে ইয়াসার, সালিম ও অন্যান্যরা ছিলেন। কিন্তু আজ আমি বলছি যে তিনি হলেন মালিক, কারণ তিনি এত দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন যে মদীনায় তাঁর কোনো সমকক্ষ অবশিষ্ট ছিল না।

কাযী আবদুল ওয়াহহাব বলেছেন: মাযহাবের ইমামদের কেউ আমাদের সাথে এই হাদীস নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না; যেহেতু-
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥٦)
لَيْسَ مِنْهُمْ مَنْ لَهُ إِمَامٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ فَيَقُولُ هُوَ إِمَامِي، وَنَحْنُ نَقُولُ: إِنَّهُ صَاحِبُنَا بِشَهَادَةِ السَّلَفِ لَهُ، وَبِأَنَّهُ إِذَا أُطْلِقَ بَيْنَ الْعُلَمَاءِ قَالَ عَالِمُ الْمَدِينَةِ وَإِمَامُ دَارِ الْهِجْرَةِ، فَالْمُرَادُ بِهِ مَالِكٌ دُونَ غَيْرِهِ مِنْ عُلَمَائِهَا.

قَالَ عِيَاضٌ: فَوَجْهُ احْتِجَاجِنَا بِهَذَا الْحَدِيثِ مِنْ ثَلَاثَةِ أَوْجُهٍ: الْأَوَّلُ: تَأْوِيلُ السَّلَفِ أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ مَالِكٌ وَمَا كَانُوا لَيَقُولُونَ ذَلِكَ إِلَّا عَنْ تَحْقِيقٍ.

الثَّانِي: شَهَادَةُ السَّلَفِ الصَّالِحِ لَهُ وَإِجْمَاعُهُمْ عَلَى تَقْدِيمِهِ، يَظْهَرُ أَنَّهُ الْمُرَادُ إِذَا لَمْ تَحْصُلِ الْأَوْصَافُ الَّتِي فِيهِ لِغَيْرِهِ وَلَا أَطْبَقُوا عَلَى هَذِهِ الشَّهَادَةِ لِسِوَاهُ.

الثَّالِثُ: مَا نَبَّهَ عَلَيْهِ بَعْضُ الشُّيُوخِ أَنَّ طَلَبَةَ الْعِلْمِ لَمْ يَضْرِبُوا أَكْبَادَ الْإِبِلِ مِنْ شَرْقِ الْأَرْضِ وَغَرْبِهَا إِلَى عَالِمٍ وَلَا رَحَلُوا إِلَيْهِ مِنَ الْآفَاقِ رِحْلَتَهُمْ إِلَى مَالِكٍ:

فَالنَّاسُ أَكْيَسُ مِنْ أَنْ يَحْمَدُوا رَجُلًا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَجِدُوا آثَارَ إِحْسَانِ

وَرَوَى أَبُو نُعَيْمٍ عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ سَعِيدٍ سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ: " مَا بِتُّ لَيْلَةً إِلَّا رَأَيْتُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَأَخْرَجَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ وَغَيْرُهُ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا بِمَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ مَالِكٍ فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ: أَيُّكُمْ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَالِكٌ؟ فَقَالُوا: هَذَا، فَجَاءَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَاعْتَنَقَهُ وَقَبَّلَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَضَمَّهُ إِلَى صَدْرِهِ وَقَالَ: وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ الْبَارِحَةَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا فِي هَذَا الْمَوْضِعِ فَقَالَ: (هَاتُوا مَالِكًا، فَأُتِيَ بِكَ تَرْعَدُ فَرَائِصُكَ، فَقَالَ: لَيْسَ عَلَيْكَ بَأْسٌ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ. وَكَنَّاكَ وَقَالَ: اجْلِسْ. فَجَلَسْتَ فَقَالَ: افْتَحْ حِجْرَكَ. فَفَتَحْتَ فَمَلَأَهُ مِسْكًا مَنْثُورًا. وَقَالَ: ضُمَّهُ إِلَيْكَ وَبُثَّهُ فِي أُمَّتِي. فَبَكَى مَالِكٌ طَوِيلًا وَقَالَ: الرُّؤْيَا تَسُرُّ وَلَا تَغُرُّ، وَإِنْ صَدَقَتْ رُؤْيَاكَ فَهُوَ الْعِلْمُ الَّذِي أَوْدَعَنِي اللَّهُ.

وَلْنُمْسِكْ عِنَانَ الْقَلَمِ فَهَذِهِ لُمَعٌ ذَكَرْتُهَا تَبَرُّكًا وَتَذْكِرَةً لِلْقَاصِرِ مِثْلِي، وَإِلَّا فَتَرْجَمَتُهُ تَحْتَمِلُ عِدَّةَ أَسْفَارٍ كِبَارٍ، وَقَدْ أَفْرَدَهَا جَمَاعَةٌ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ وَالْمُتَأَخِّرِينَ بِالتَّصَانِيفِ الْعَدِيدَةِ. قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: أَلَّفَ النَّاسُ فِي فَضَائِلِهِ كُتُبًا كَثِيرَةً.

وُلِدَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَتِسْعِينَ عَلَى الْأَشْهَرِ. وَقِيلَ: سَنَةَ تِسْعِينَ. وَقِيلَ: غَيْرُ ذَلِكَ، وَحَمَلَتْ بِهِ أُمُّهُ وَهِيَ الْعَالِيَةُ بِنْتُ شُرَيْكِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَزْدِيَّةُ. وَقِيلَ: إِنَّهَا (طَلْحَةُ) مَوْلَاةُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ ثَلَاثَ سِنِينَ عَلَى الْمَعْرُوفِ وَقِيلَ: سَنَتَيْنِ.

قَالَ ابْنُ سَعْدٍ: أَنْبَأَنَا مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْيَسَارِيُّ قَالَ: كَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ طَوِيلًا عَظِيمَ الْهَامَةِ أَصْلَعَ أَبْيَضَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ أَبْيَضَ شَدِيدَ الْبَيَاضِ إِلَى الشُّقْرَةِ. وَقَالَ مُصْعَبُ الزُّبَيْرِيُّ: كَانَ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ وَجْهًا وَأَحْلَاهُمْ عَيْنًا وَأَنْقَاهُمْ بَيَاضًا وَأَتَمِّهِمْ طُولًا فِي جَوْدَةِ بَدَنٍ. وَقِيلَ: كَانَ رَبْعَةً، وَالْمَشْهُورُ الْأَوَّلُ.
তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জন্য মদীনার অধিবাসীদের মধ্য থেকে এমন কোনো ইমাম রয়েছেন যাকে তিনি নিজের ইমাম হিসেবে দাবি করতে পারেন; অথচ আমরা বলি: সালাফদের (পূর্বসূরিদের) সাক্ষ্য অনুযায়ী তিনি আমাদের ইমাম। আর উলামায়ে কেরামের মাঝে যখন সাধারণভাবে 'মদীনার আলেম' ও 'দারুল হিজরতের ইমাম' বলা হয়, তখন এর দ্বারা মদীনার অন্য কোনো আলেমকে নয় বরং মালিককেই উদ্দেশ্য করা হয়।

কাযী ইয়ায বলেন: এই হাদীসটি দ্বারা আমাদের দলিল পেশ করার পদ্ধতি তিনটি দিক থেকে: প্রথমত: সালাফদের ব্যাখ্যা যে এর দ্বারা মালিককেই বোঝানো হয়েছে এবং তাঁরা নিশ্চিত না হয়ে এমন কথা বলতেন না।

দ্বিতীয়ত: সালাফ-এ-সালেহীনদের তাঁর প্রতি সাক্ষ্য প্রদান এবং তাঁকে অগ্রগণ্য করার ক্ষেত্রে তাঁদের ঐকমত্য। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনিই এর উদ্দেশ্য, কারণ তাঁর মধ্যে বিদ্যমান গুণাবলী অন্য কারো মাঝে পাওয়া যায় না এবং তাঁরা অন্য কারো ক্ষেত্রে এমন সাক্ষ্য প্রদানের ওপর একমত হননি।

তৃতীয়ত: যা কিছু কতিপয় শাইখ ইঙ্গিত করেছেন যে, ইলম অন্বেষণকারীরা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্য কোনো আলেমের সন্ধানে উট ছুটিয়ে দেননি এবং দিগন্তের দূর-দূরান্ত থেকে অন্য কোনো আলেমের কাছে সেভাবে সফর করেননি যেভাবে তাঁরা মালিকের কাছে করেছেন:

কেননা মানুষ এতটা বিচক্ষণ যে, তারা কোনো ব্যক্তির প্রশংসা ততক্ষণ করে না যতক্ষণ না তার ইহসানের (উপকারের) চিহ্নসমূহ দেখতে পায়।

আবু নুয়াইম মুসান্না ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি মালিককে বলতে শুনেছি: "এমন কোনো রাত পার হয়নি যাতে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখিনি।"

ইবনে আব্দিল বার এবং অন্যান্যরা মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-যুবাইরী থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে মালিকের সাথে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করল: আপনাদের মধ্যে আবু আব্দুল্লাহ মালিক কে? তারা বলল: এই যে ইনি। তখন সে এসে তাকে সালাম করল, তাকে জড়িয়ে ধরল এবং তার দুই চোখের মাঝে চুম্বন করল ও তাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। সে বলল: আল্লাহর কসম, আমি গত রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই স্থানে বসা অবস্থায় দেখেছি। তিনি বললেন: 'মালিককে নিয়ে এসো'। তখন আপনাকে আনা হলো এমন অবস্থায় যে আপনার কাঁধ কাঁপছিল। তিনি বললেন: 'হে আবু আব্দুল্লাহ, তোমার কোনো ভয় নেই।' তিনি আপনাকে উপনামে ডাকলেন এবং বললেন: 'বস'। আপনি বসলেন। এরপর তিনি বললেন: 'তোমার কোল উন্মুক্ত করো।' আপনি তা উন্মুক্ত করলেন, তখন তিনি তাতে ছড়িয়ে থাকা মিশক (কস্তুরী) দিয়ে পূর্ণ করে দিলেন এবং বললেন: 'এটি তোমার কাছে রাখো এবং আমার উম্মতের মাঝে তা প্রচার করো।' তখন মালিক দীর্ঘক্ষণ কাঁদলেন এবং বললেন: 'স্বপ্ন আনন্দ দেয় কিন্তু ধোঁকায় ফেলে না। আর যদি তোমার স্বপ্ন সত্য হয়, তবে তা হচ্ছে সেই ইলম যা আল্লাহ আমার কাছে আমানত রেখেছেন।'

এখন কলমের লাগাম টেনে ধরি, এগুলো কিছু বিচ্ছুরিত আলোকছটা যা আমি বরকত এবং আমার মতো অক্ষমদের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেছি। অন্যথায় তাঁর জীবনী তো বহু খণ্ডের বিশাল বইয়ের দাবি রাখে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের একটি জামাত তাঁর জীবনী নিয়ে বহু স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইবনে আব্দিল বার বলেন: মানুষ তাঁর ফযীলত সম্পর্কে অনেক কিতাব সংকলন করেছেন।

প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি ৯৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয় ৯০ হিজরীতে, আবার অন্য মতও রয়েছে। তাঁর মাতা আলিয়া বিনতে শুরাইক বিন আব্দুর রহমান আল-আযদিয়াহ তাঁকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। কোনো কোনো মতে তিনি ওবায়দুল্লাহ বিন মা’মারের আযাদকৃত দাসী (তালহা) ছিলেন; প্রসিদ্ধ মতে তিনি তিন বছর গর্ভে ছিলেন, আবার বলা হয় দুই বছর।

ইবনে সাদ বলেন: মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়াসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস দীর্ঘকায়, বিশাল মস্তকবিশিষ্ট, কেশহীন, ধবধবে সাদা চুল ও দাড়ির অধিকারী ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত উজ্জ্বল ফর্সা থেকে লালাভ বর্ণের ছিলেন। মুসআব আল-যুবাইরী বলেন: তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার, অত্যন্ত আকর্ষণীয় চোখের, অতি পরিচ্ছন্ন শুভ্র বর্ণের এবং সুঠাম দেহের অধিকারী পূর্ণ দীর্ঘাকৃতির পুরুষ ছিলেন। বলা হয় যে তিনি মাঝারি গড়নের ছিলেন, তবে প্রথম বর্ণনাটিই প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥٧)
مَرِضَ مَالِكٌ يَوْمَ الْأَحَدِ فَأَقَامَ مَرِيضًا اثْنَيْنِ وَعِشْرِينَ يَوْمًا، وَمَاتَ يَوْمَ الْأَحَدِ لِعَشْرٍ خَلَوْنَ. وَقِيلَ: لِأَرْبَعَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَبِيعِ الْأَوَّلِ سَنَةَ تِسْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ، وَقَالَ سَحْنُونٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ: تُوُفِّيَ مَالِكٌ وَهُوَ ابْنُ سَبْعٍ وَثَمَانِينَ سَنَةً، وَقَالَ الْوَاقِدِيُّ: بَلَغَ تِسْعِينَ سَنَةً، وَأَقَامَ مُفْتِيًا بِالْمَدِينَةِ بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ سِتِّينَ سَنَةً. وَتَرَكَ مِنَ الْأَوْلَادِ يَحْيَى وَمُحَمَّدًا وَحَمَّادًا وَأُمَّ أَبِيهَا. قَالَ ابْنُ شَعْبَانَ: وَيَحْيَى يَرْوِي عَنْ أَبِيهِ نُسْخَةً مِنَ الْمُوَطَّأِ، وَيُرْوَى عَنْهُ بِالْيَمَنِ، رَوَى عَنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ وَابْنُهُ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَدِمَ مِصْرَ وَكَتَبَ عَنْهُ، حَدَّثَ عَنْهُ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، انْتَهَى.

وَلِمُحَمَّدٍ ابْنِ الْإِمَامِ ابْنٌ اسْمُهُ أَحْمَدُ سَمِعَ جَدَّهُ مَالِكًا وَمَاتَ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ، ذَكَرَهُ الْبَرْقَانِيُّ فِي كِتَابِ " الضُّعَفَاءِ "، وَذَكَرَهُ غَيْرُهُ، وَبَلَغَتْ تَرِكَةُ الْإِمَامِ ثَلَاثَةَ آلَافِ دِينَارٍ وَثَلَاثَمِائَةِ دِينَارٍ وَنَيِّفًا. قَالَ بَكْرُ بْنُ سُلَيْمٍ الصَّوَّافُ: دَخَلْنَا عَلَى مَالِكٍ فِي الْعَشِيَّةِ الَّتِي قُبِضَ فِيهَا فَقُلْنَا: كَيْفَ تَجِدُكَ؟ قَالَ: لَا أَدْرِي مَا أَقُولُ لَكُمْ إِلَّا أَنَّكُمْ سَتُعَايِنُونَ غَدًا مِنْ عَفْوِ اللَّهِ مَا لَمْ يَكُنْ فِي حِسَابٍ، قَالَ: ثُمَّ مَا رُحْنَا حَتَّى أَغْمَضْنَاهُ. رَوَاهُ الْخَطِيبُ. وَقِيلَ: إِنَّهُ تَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ: لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ. وَرَأَى عُمَرُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ لَيْلَةَ مَاتَ مَالِكٌ قَائِلًا يَقُولُ:

لَقَدْ أَصْبَحَ الْإِسْلَامُ زُعْزِعَ رُكْنُهُ … غَدَاةَ ثَوَى الْهَادِي لَدَى مُلْحَدِ الْقَبْرِ

إِمَامُ الْهُدَى مَا زَالَ لِلْعِلْمِ صَائِنًا … عَلَيْهِ سَلَامُ اللَّهِ فِي آخِرِ الدَّهْرِ

قَالَ: فَانْتَبَهْتُ وَكَتَبْتُ الْبَيْتَيْنِ فِي السِّرَاجِ وَإِذَا بِصَارِخَةٍ عَلَى مَالِكٍ رحمه الله.

الرُّوَاةُ عَنِ الْإِمَامِ مَالِكٍ:

وَالرُّوَاةُ عَنْهُ فِيهِمْ كَثْرَةٌ جِدًّا بِحَيْثُ لَا يُعْرَفُ لِأَحَدٍ مِنَ الْأَئِمَّةِ رُوَاةٌ كَرُوَاتِهِ. وَقَدْ أَلَّفَ الْخَطِيبُ كِتَابًا فِي الرُّوَاةِ عَنْهُ أَوْرَدَ فِيهِ أَلْفَ رَجُلٍ إِلَّا سَبْعَةً. وَذَكَرَ عِيَاضٌ أَنَّهُ أَلَّفَ فِيهِمْ كِتَابًا ذَكَرَ فِيهِ نَيِّفًا عَلَى أَلْفٍ وَثَلَاثِمِائَةِ اسْمٍ، وَعَدَّ فِي مَدَارِكِهِ نَيِّفًا عَلَى أَلْفٍ ثُمَّ قَالَ: إِنَّمَا ذَكَرْنَا الْمَشَاهِيرَ وَتَرَكْنَا كَثِيرًا، فَمِمَّنْ رَوَى عَنْهُ مِنْ شُيُوخِهِ مِنَ التَّابِعِينَ:

ابْنُ شِهَابٍ مَاتَ قَبْلَ مَالِكٍ بِخَمْسٍ وَخَمْسِينَ سَنَةً، وَأَبُو الْأَسْوَدِ يَتِيمُ عُرْوَةَ مَاتَ قَرِيبًا مِنْ ذَلِكَ، وَأَيُّوبُ السِّخْتِيَانِيُّ مَاتَ قَبْلَهُ بِتِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ سَنَةً، وَرَبِيعَةُ بِثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ بِسِتٍّ وَثَلَاثِينَ، وَمُوسَى بْنُ عُقْبَةَ بِثَمَانٍ وَثَلَاثِينَ، وَهِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ بِأَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثِينَ، وَنَافِعٌ الْقَارِي، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، وَأَبُو النَّضْرِ سَالِمٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي ذِئْبٍ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ جُرَيْجٍ وَمَاتَ قَبْلَهُ بِثَلَاثِينَ، وَسُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ، وَخَلْقٌ.

وَمِنْ أَقْرَانِهِ:
মালিক রবিবার অসুস্থ হন এবং বাইশ দিন অসুস্থ অবস্থায় থাকেন। তিনি রবিবারে ইন্তেকাল করেন যখন রবিউল আউয়াল মাসের দশ দিন অতিবাহিত হয়েছিল। কেউ কেউ বলেছেন: ১৭৯ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। সাহনুন আব্দুল্লাহ ইবনে নাফি'র সূত্রে বলেন: মালিক সাতাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ওয়াকিদী বলেন: তিনি নব্বই বছর বয়সে পদার্পণ করেছিলেন। তিনি মদীনার জনমানুষের মাঝে ষাট বছর যাবত মুফতি হিসেবে অবস্থান করেছিলেন। তিনি সন্তানদের মধ্যে ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ, হাম্মাদ এবং উম্মু আবিহাকে রেখে যান। ইবনে শা'বান বলেন: ইয়াহইয়া তাঁর পিতার নিকট থেকে 'মুওয়াত্তা'-র একটি অনুলিপি বর্ণনা করেছেন, যা ইয়ামেনে তাঁর সূত্রে বর্ণিত হয়। তাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, যিনি মিশরে এসেছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে তা লিখে নিয়েছিলেন। তাঁর নিকট থেকে হারিস ইবনে মিসকিন হাদিস বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।

ইমামের পুত্র মুহাম্মদের আহমদ নামে এক পুত্র ছিল, যিনি তাঁর দাদা মালিকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং ২৫৬ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। বারকানি তাঁর 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং অন্যরাও এটি উল্লেখ করেছেন। ইমামের পরিত্যক্ত সম্পদের পরিমাণ ছিল তিন হাজার তিনশত দিনারের কিছু বেশি। বকর ইবনে সুলাইম আস-সাওয়াফ বলেন: আমরা মালিকের কাছে সেই সন্ধ্যায় প্রবেশ করলাম যে সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, অতঃপর আমরা বললাম: আপনি কেমন বোধ করছেন? তিনি বললেন: আমি তোমাদের কী বলব জানি না, তবে তোমরা আগামীকাল আল্লাহর ক্ষমার এমন কিছু প্রত্যক্ষ করবে যা তোমাদের ধারণায় ছিল না। তিনি বলেন: তারপর আমরা সেখান থেকে প্রস্থান করিনি যতক্ষণ না আমরা তাঁর চক্ষুদ্বয় মুদিত করলাম। এটি খতিব বর্ণনা করেছেন। বলা হয়: তিনি তাশাহহুদ পাঠ করেন, অতঃপর বলেন: আগের ও পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই। উমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী মালিকের মৃত্যুর রাতে একজনকে বলতে শোনেন:

ইসলামের স্তম্ভ আজ প্রকম্পিত হয়ে গেছে … আজ প্রভাতে যখন সেই পথপ্রদর্শক কবরের গহ্বরে শায়িত হলেন

হেদায়েতের ইমাম, তিনি সর্বদা ইলমের সংরক্ষণকারী ছিলেন … মহাকালের শেষ অবধি তাঁর ওপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক

তিনি বলেন: আমি সজাগ হলাম এবং প্রদীপের আলোয় এই দুই পঙক্তি লিখে রাখলাম, আর তখনই মালিক রহিমাহুল্লাহ-র বিয়োগব্যথায় বিলাপকারিণীর কান্না শোনা গেল।

ইমাম মালিকের নিকট থেকে বর্ণনাকারীগণ:

তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি, এমনকি ইমামদের মধ্যে আর কারো জন্য তাঁর মতো এত বেশি বর্ণনাকারী পরিচিত নয়। আল-খতিব তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যেখানে তিনি সাতজন কম এক হাজার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। ইয়াজ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁদের বিষয়ে একটি গ্রন্থ লিখেছেন যাতে তেরোশ’র কিছু বেশি নাম উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তাঁর 'মাদারিক' গ্রন্থে এক হাজারেরও বেশি সংখ্যা গণনা করেছেন, অতঃপর বলেছেন: আমরা কেবল প্রখ্যাতদের কথা উল্লেখ করেছি এবং অনেককে বর্জন করেছি। তাঁর উস্তাদ তাবেয়ীদের মধ্যে যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তারা হলেন:

ইবনে শিহাব, যিনি মালিকের পঞ্চান্ন বছর আগে মারা যান; আবু আসওয়াদ উরওয়ার ইয়াতীম, যিনি প্রায় অনুরূপ সময়ে মারা যান; আইয়ুব আস-সিখতিয়ানী, যিনি তাঁর উনপঞ্চাশ বছর আগে মারা যান; রবীআ তেতাল্লিশ বছর আগে; ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারী ছত্রিশ বছর আগে; মুসা ইবনে উকবা আটত্রিশ বছর আগে; হিশাম ইবনে উরওয়া ত্রিশ বছরেরও বেশি আগে; নাফি’ আল-কারী; মুহাম্মদ ইবনে আজলান; আবু নাদর সালিম; মুহাম্মদ ইবনে আবি যিব; আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ, যিনি তাঁর ত্রিশ বছর আগে মারা যান; সুলাইমান আল-আমাশ এবং আরও অসংখ্য জনমণ্ডলী।

এবং তাঁর সমসাময়িকদের মধ্য থেকে:
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥٨)
السُّفْيَانَانِ، وَالْحَمَّادَانِ، وَاللَّيْثُ، وَالْأَوْزَاعِيُّ وَمَاتَ قَبْلَهُ بِعِشْرِينَ سَنَةً، وَشُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ وَمَاتَ قَبْلَهُ بِسَبْعَ عَشْرَةَ، وَأَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، وَأَبُو حَنِيفَةَ وَمَاتَ قَبْلَهُ بِثَلَاثِينَ سَنَةً، وَابْنُ لَهِيعَةَ، وَشَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَاضِي، وَخَلْقٌ كَثِيرٌ.

الدَّارَقُطْنِيُّ: لَا أَعْلَمُ أَحَدًا مِمَّنْ تَقَدَّمَ أَوْ تَأَخَّرَ اجْتَمَعَ لَهُ مَا اجْتَمَعَ لِمَالِكٍ، رَوَى عَنْهُ رَجُلَانِ حَدِيثًا وَاحِدًا بَيْنَ وَفَاتَيْهِمَا نَحْوٌ مِنْ مِائَةٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً. الزُّهْرِيُّ شَيْخُهُ تُوُفِّيَ سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ، وَأَبُو حُذَافَةَ السَّهْمِيُّ تُوُفِّيَ بَعْدَ الْخَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ، وَرَوَيَا عَنْهُ حَدِيثَ الْفُرَيْعَةِ بِنْتِ مَالِكٍ فِي سُكْنَى الْمُعْتَدَّةِ.

وَأَمَّا الَّذِينَ رَوَوْا عَنْهُ الْمُوَطَّأَ فَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ: مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ الْقَعْنَبِيُّ الْمَدَنِيُّ ثُمَّ الْبَصْرِيُّ بِمُوَحَّدَةٍ سَمِعَ مِنَ الْإِمَامِ نِصْفَ الْمُوَطَّأِ وَقَرَأَ هُوَ عَلَيْهِ النِّصْفَ الْبَاقِي، وَأَبُو مُصْعَبٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ الْحَارِثِ الزُّهْرِيُّ، وَبَكَّارٌ وَمُصْعَبٌ ابْنَا عَبْدِ اللَّهِ، وَعَتِيقُ بْنُ يَعْقُوبَ الزُّبَيْرِيُّونَ، وَمُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَإِسْمَاعِيلُ وَعَبْدُ الْحَمِيدِ ابْنَا أَبِي أُوَيْسٍ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَيُّوبُ بْنُ صَالِحٍ وَسَكَنَ الرَّمْلَةَ، وَسَعِيدُ بْنُ دَاوُدَ، وَمُحْرِزٌ الْمَدَنِيُّ. قَالَ عِيَاضٌ: وَأَظُنُّهُ ابْنَ هَارُونَ الْهُدَيْرِيُّ - بِضَمِّ الْهَاءِ مُصَغَّرٌ -، وَيَحْيَى بْنُ الْإِمَامِ مَالِكٍ ذَكَرَهُ ابْنُ شَعْبَانَ وَغَيْرُهُ، وَفَاطِمَةُ بِنْتُ الْإِمَامِ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحُنَيْنِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، وَسَعْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْأَنْصَارِيُّ. ذَكَرَهُمُ الْحَافِظُ شَمْسُ الدِّينِ ابْنُ نَاصِرٍ سَبْعَةَ عَشَرَ.

وَمِنْ أَهْلِ مَكَّةَ: يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ - بِفَتْحِ الْقَافِ وَالزَّايِ وَالْعَيْنِ الْمُهْمَلَةِ -، وَالْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ حَفِظَ الْمُوَطَّأَ بِمَكَّةَ وَهُوَ ابْنُ عَشْرٍ فِي تِسْعِ لَيَالٍ. وَقِيلَ: فِي ثَلَاثِ لَيَالٍ ثُمَّ رَحَلَ إِلَى مَالِكٍ فَأَخَذَهُ عَنْهُ.

وَمِنْ أَهْلِ مِصْرَ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ، وَيَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ - بِضَمِّ الْبَاءِ مُصَغَّرٌ - وَقَدْ يُنْسَبُ إِلَى جَدِّهِ فِي " الدِّيبَاجِ " أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ مَالِكٍ الْمُوَطَّأَ سَبْعَ عَشْرَةَ مَرَّةً، وَسَعِيدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ عُفَيْرٍ - بِمُهْمَلَةٍ وَفَاءٍ، مُصَغَّرٌ - الْأَنْصَارِيُّ وَيُنْسَبُ إِلَى جَدِّهِ، وَعَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ خَالِدٍ، وَحَبِيبُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ وَإِبْرَاهِيمُ وَقِيلَ: مَرْزُوقٌ كَاتِبُ مَالِكٍ وَأَشْهَبُ، ذَكَرَهُمُ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ وَغَيْرُهُ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ التِّنِّيسِيُّ - بِكَسْرِ الْفَوْقِيَّةِ وَالنُّونِ وَإِسْكَانِ التَّحْتِيَّةِ - وَأَصْلُهُ دِمَشْقِيٌّ، وَذُو النُّونِ الْمِصْرِيُّ. عَدَّهُمُ ابْنُ نَاصِرٍ أَحَدَ عَشَرَ.

وَمِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ وَغَيْرِهِمْ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ النَّصْرِيُّ ذَكَرَهُ جَمَاعَةٌ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سَهْلٍ الْهَرَوِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ جَمِيلٍ - بِفَتْحِ الْجِيمِ - الْبَلْخِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ الْحَنْظَلِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى الطَّبَّاعُ - بِطَاءٍ مُهْمَلَةٍ وَمُوَحَّدَةٍ مَفْتُوحَتَيْنِ - الْبَغْدَادِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الشَّيْبَانِيُّ صَاحِبُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ بُرْدٍ - بِضَمِّ الْمُوَحَّدَةِ وَسُكُونِ الرَّاءِ - بْنِ نَجِيحٍ التُّجِيبِيُّ، وَأَبُو حُذَافَةَ - بِضَمِّ الْمُهْمَلَةِ فَمُعْجَمَةٌ فَأَلِفٌ فَفَاءٌ - أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السَّهْمِيُّ الْبَغْدَادِيُّ سَمَاعُهُ لِلْمُوَطَّأِ صَحِيحٌ وَخَلَطَ فِي غَيْرِهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ شَرُوسٍ
উভয় সুফিয়ান, উভয় হাম্মাদ, লাইস, আওযাঈ—যিনি তাঁর বিশ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন, শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ—যিনি তাঁর সতেরো বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন, আবু ইসহাক আল-ফাযারী, আবু হানিফা—যিনি তাঁর ত্রিশ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন, ইবনে লাহীআহ, শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাযী এবং আরও অসংখ্য লোক।

দারা কুতনী বলেন: পূর্ববর্তী বা পরবর্তীগণের মধ্যে এমন কাউকে আমি চিনি না, যার ক্ষেত্রে এমন কিছু একত্রিত হয়েছে যা মালিকের ক্ষেত্রে হয়েছে। তাঁর নিকট থেকে দুজন ব্যক্তি একটি মাত্র হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাদের উভয়ের মৃত্যু সময়ের ব্যবধান প্রায় একশত ত্রিশ বছর। তাঁর উস্তাদ যুহরী মৃত্যুবরণ করেন ১২৫ হিজরিতে, আর আবু হুযাফা আস-সাহমী মৃত্যুবরণ করেন ২৫০ হিজরির পর; তাঁরা উভয়েই তাঁর থেকে ইদ্দত পালনকারিণীর বসবাসের স্থান সম্পর্কে ফুরাইআহ বিনতে মালিকের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

আর যারা তাঁর নিকট থেকে মুওয়াত্ত্বা বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে মদিনাবাসীরা হলেন: মা'ন ইবনে ঈসা আল-কাযযায, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ ইবনে কা'নাব আল-কা'নাবী আল-মাদানী—অতঃপর বসরী (এক নুকতা বিশিষ্ট বর্ণ দিয়ে), তিনি ইমামের নিকট থেকে মুওয়াত্ত্বার অর্ধেক শ্রবণ করেছেন এবং বাকি অর্ধেক তাঁর নিকট পাঠ করেছেন; আবু মুসআব আহমদ ইবনে আবি বকর ইবনুল কাসিম ইবনুল হারিস আয-যুহরী, বাক্কার ও মুসআব—আব্দুল্লাহর দুই পুত্র, অতীক ইবনে ইয়াকুব—যারা যুবাইরী গোত্রভুক্ত, মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ, ইসমাঈল ও আব্দুল হামিদ—আবু উওয়াইস আব্দুল্লাহর দুই পুত্র, আইয়ুব ইবনে সলিহ—যিনি রামলায় বসবাস করতেন, সাঈদ ইবনে দাউদ এবং মুহরিয আল-মাদানী। ইয়াদ বলেন: আমার ধারণা তিনি হলেন হারুন আল-হুদাইরীর পুত্র—হুদাইরী শব্দটি 'হা' বর্ণে পেশসহ ক্ষুদ্রতাসূচক—এবং ইমাম মালিকের পুত্র ইয়াহইয়া, যাকে ইবনে শাখা'বান ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন, ইমামের কন্যা ফাতিমা, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হুনাইনী, আব্দুল্লাহ ইবনে নাফি' এবং সা'দ ইবনে আব্দুল হামিদ আল-আনসারী। হাফিয শামসুদ্দিন ইবনে নাসির তাঁদের সংখ্যা সতেরো জন উল্লেখ করেছেন।

মক্কাবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াহইয়া ইবনে কাযা'আহ—'কাফ', 'যা' এবং বিন্দুহীন 'আইন' বর্ণে যবরসহ—এবং ইমাম শাফেয়ী, যিনি দশ বছর বয়সে নয় রাতে মক্কায় মুওয়াত্ত্বা হিফজ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে: তিন রাতে, অতঃপর তিনি মালিকের নিকট সফর করেন এবং তাঁর নিকট থেকে তা গ্রহণ করেন।

মিশরবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর—'বা' বর্ণে পেশসহ ক্ষুদ্রতাসূচক—"আদ-দীবাজ" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি মালিকের নিকট থেকে সতেরো বার মুওয়াত্ত্বা শ্রবণ করেছেন; সাঈদ ইবনে কাসীর ইবনে উফাইর—বিন্দুহীন 'আইন' ও 'ফা' বর্ণসহ ক্ষুদ্রতাসূচক—আল-আনসারী, তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধ করা হয়; আব্দুর রাহীম ইবনে খালিদ, হাবীব ইবনে আবি হাবীব, ইব্রাহিম—বলা হয়: মালিকের লেখক মারযুক এবং আশহাব; ইবনে আব্দুল বার ও অন্যান্যরা তাঁদের উল্লেখ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আত-তিন্নীসী—উপরের নুকতা বিশিষ্ট বর্ণ 'তা' ও 'নুন' বর্ণে যের এবং নীচের নুকতা বিশিষ্ট 'ইয়া' বর্ণে সুকুনসহ—মূলত তিনি দামেস্কী ছিলেন এবং যুন-নুন আল-মিসরী। ইবনে নাসির তাঁদের সংখ্যা এগারো জন গণনা করেছেন।

ইরাকবাসী ও অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আন-নাসরী—একটি দল তাঁকে উল্লেখ করেছেন, সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ ইবনে সাহল আল-হারাভী, কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ ইবনে জামীল—'জীম' বর্ণে যবরসহ—আল-বালখী, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আত-তামীমী আল-হানজালী আন-নাইসাবুরী, ইসহাক ইবনে ঈসা আত-তাব্বা'—বিন্দুহীন 'ত্বা' ও এক নুকতা বিশিষ্ট 'বা' বর্ণদ্বয়ে যবরসহ—আল-বাগদাদী, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী—যিনি আবু হানিফার সাথী, সুলাইমান ইবনে বুরদ—এক নুকতা বিশিষ্ট 'বা' বর্ণে পেশ ও 'রা' বর্ণে সুকুনসহ—ইবনে নাজীহ আত-তুজীবী, আবু হুযাফা—বিন্দুহীন বর্ণে পেশ, অতঃপর বিন্দুযুক্ত বর্ণ, অতঃপর আলিফ ও 'ফা' বর্ণসহ—আহমদ ইবনে ইসমাঈল আস-সাহমী আল-বাগদাদী, মুওয়াত্ত্বার ক্ষেত্রে তাঁর শ্রবণ বিশুদ্ধ কিন্তু অন্যগুলোতে তিনি সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন এবং মুহাম্মদ ইবনে শারূস।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٥٩)
الصَّنْعَانِيُّ، وَأَبُو قُرَّةَ السَّكْسَكِيُّ - بِضَمِّ الْقَافِ وَشَدِّ الرَّاءِ - وَاسْمُهُ مُوسَى بْنُ طَارِقٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْحَرَّانِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ الصُّورِيُّ، وَبَرْبَرٌ - بِمُوَحَّدَتَيْنِ مَفْتُوحَتَيْنِ بَعْدَ كُلِّ رَاءٍ بِلَا نَقْطٍ الْمُغَنِّي - بِضَمِّ الْمِيمِ وَمُعْجَمَةٌ - نِسْبَةً إِلَى الْغِنَاءِ بَغْدَادِيٌّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الْمَوْصِلِيُّ مَوْلَى بَنِي مَخْزُومٍ ذَكَرَهُ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، وَرَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، وَجُوَيْرِيَّةُ بْنُ أَسْمَاءَ - بِلَفْظِ تَصْغِيرِ جَارِيَةٍ -، وَأَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْبَصْرِيُّونَ، وَأَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ الْكُوفِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى السَّبَئِيُّ الْيَمَانِيُّ، وَالْوَلِيدُ بْنُ السَّائِبِ الْقُرَشِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ صَدَقَةَ الْفَدَكِيُّ، وَالْمَاضِي بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْعُودٍ الْغَافِقِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ النُّعْمَانِ بْنِ شِبْلٍ الْبَاهِلِيُّ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَيْشِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْحَضْرَمِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشِيرٍ الْمَغَافِرِيُّ النَّاجِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ مُضَرَ الْقَيْسِيُّ ذَكَرَهُمُ ابْنُ نَاصِرٍ، تِسْعَةٌ وَعِشْرُونَ.

وَمِنْ أَهْلِ الْمَغْرِبِ مِنَ الْأَنْدَلُسِ: زِيَادُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُلَقَّبُ شَبَطُونَ - بِشِينٍ مُعْجَمَةٍ فَمُوَحَّدَةٍ وَطَاءٍ مُهْمَلَةٍ - سَمِعَ " الْمُوَطَّأَ " مِنْ مَالِكٍ، وَيَحْيَى بْنُ يَحْيَى اللَّيْثِيُّ، وَحَفْصٌ وَحَسَّانُ ابْنَا عَبْدِ السَّلَامِ، وَالْغَازُ - بِغَيْنٍ مُعْجَمَةٍ فَأَلِفٌ فَزَايٌ مَنْقُوطَةٌ - بْنُ قَيْسٍ، وَقُرْعُوسُ بْنُ الْعَبَّاسِ - بِضَمِّ الْقَافِ وَسُكُونِ الرَّاءِ وَضَمِّ الْعَيْنِ الْمُهْمَلَتَيْنِ، وَبِكَسْرِ الْقَافِ وَإِسْكَانِ الرَّاءِ وَفَتْحِ الْعَيْنِ بِزِنَةِ فِرْدَوْسٍ، وَزُنْبُورٌ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ، وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدُوسٍ، وَعَبَّاسُ بْنُ صَالِحٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هِنْدَ، وَشَبَطُونَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ الطُّلَيْطِلِيَّانِ - بِضَمِّ الطَّاءِ الْأُولَى - نِسْبَةً إِلَى مَدِينَةٍ بِالْأَنْدَلُسِ.

وَمِنَ الْقَيْرَوَانِ: أَسَدُ بْنُ الْفُرَاتِ، وَخَلَفُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ فَضَالَةَ.

وَمِنْ تُونِسَ: عَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ، وَعِيسَى بْنُ شَجَرَةَ سَبْعَةَ عَشَرَ.

وَمِنْ أَهْلِ الشَّامِ: عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ مُسْهِرٍ الْغَسَّانِيُّ، وَعُبَيْدُ بْنُ حِبَّانَ - بِكَسْرِ الْمُهْمَلَةِ وَشَدِّ الْمُوَحَّدَةِ - الدِّمَشْقِيَّانِ، وَعُتْبَةُ - بِالْفَوْقِيَّةِ - بْنُ حَمَّادٍ الدِّمَشْقِيُّ إِمَامُ الْجَامِعِ، وَمَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ السَّلَمِيُّ دِمَشْقِيَّانِ أَيْضًا، وَيَحْيَى بْنُ صَالِحٍ الْوُحَاظِيُّ - بِضَمِّ الْوَاوِ وَخِفَّةِ الْمُهْمَلَةِ ثُمَّ مُعْجَمَةٌ - الْحِمْصِيُّ؛ ذَكَرَ الْأَرْبَعَةَ ابْنُ نَاصِرٍ، وَخَالِدُ بْنُ نِزَارٍ الْأَيْلِيُّ - بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ وَسُكُونِ التَّحْتِيَّةِ - سَبْعَةٌ.

قَالَ عِيَاضٌ بَعْدَ ذِكْرِ غَالِبِهِمْ: فَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ حَقَّقْنَا أَنَّهُمْ رَوَوْا عَنْهُ الْمُوَطَّأَ، وَنَصَّ عَلَى ذَلِكَ الْمُتَكَلِّمُونَ فِي الرِّجَالِ، وَذَكَرُوا أَيْضًا أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ الْبَصْرِيَّ أَخَذَهُ عَنْهُ كِتَابَةً، وَإِسْمَاعِيلَ بْنَ إِسْحَاقَ مُنَاوَلَةً، يَعْنِي وَهُوَ غَيْرُ إِسْمَاعِيلَ الْقَاضِي؛ لِأَنَّهُ وُلِدَ سَنَةَ مِائَتَيْنِ فَلَمْ يُدْرِكْ مَالِكًا، قَالَ: وَأَمَّا أَبُو يُوسُفَ الْقَاضِي فَرَوَاهُ عَنْ رَجُلٍ - يَعْنِي أَسَدَ بْنَ الْفُرَاتِ - عَنْ مَالِكٍ، قَالَ: وَذَكَرُوا أَيْضًا أَنَّ الرَّشِيدَ وَبَنِيهِ الْأَمِينَ وَالْمَأْمُونَ وَالْمُؤْتَمَنَ أَخَذُوا عَنْهُ " الْمُوَطَّأَ "، وَأَنَّ الْمَهْدِيَّ وَالْهَادِيَ سَمِعَا مِنْهُ وَرَوَيَا عَنْهُ، وَأَنَّهُ كَتَبَ الْمُوَطَّأَ لِلْهَادِي، قَالَ: وَلَا مِرْيَةَ أَنَّ رُوَاةَ الْمُوَطَّأِ أَكْثَرُ مِنْ هَؤُلَاءِ، وَلَكِنْ إِنَّمَا ذَكَرْنَا مِنْهُمْ مَنْ بَلَغَنَا نَصًّا سَمَاعُهُ لَهُ مِنْهُ وَأَخْذُهُ لَهُ عَنْهُ أَوْ مَنِ اتَّصَلَ إِسْنَادُنَا لَهُ فِيهِ عَنْهُ. قَالَ: وَالَّذِي اشْتَهَرَ مِنْ نُسَخِ الْمُوَطَّأِ مِمَّنْ رَوَيْتُهُ أَوْ وَقَفْتُ عَلَيْهِ أَوْ كَانَ فِي رِوَايَاتِ شُيُوخِنَا أَوْ
আস-সানআনী, এবং আবু কুররাহ আস-সাকসাকী—যাতে ক্বাফ বর্ণে পেশ এবং রা বর্ণে তাশদীদ রয়েছে—তার নাম হলো মুসা ইবনে তারিক। আরও আছেন আহমদ ইবনে মানসুর আল-হাররানী, মুহাম্মদ ইবনে আল-মুবারক আস-সুরী এবং বারবার—যাতে দুই রা-এর পরে নুকতাহীন দুটি বা-বর্ণ যবরযুক্ত অবস্থায় আছে—আল-মুগান্নী—যাতে মীম বর্ণে পেশ এবং নুকতাযুক্ত গাইন বর্ণ রয়েছে—গানের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে এই নাম, তিনি বাগদাদী। আরও আছেন ইসহাক ইবনে মুসা আল-মাওসিলী যিনি বনু মাখজুমের মুক্তদাস, খতীব আল-বাগদাদী তার কথা উল্লেখ করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, রাওহ ইবনে উবাদাহ, জুওয়াইরিয়াহ ইবনে আসমা—জারিয়া শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ—আবু আল-ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক আল-বাসরীগণ, আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন আল-কুফী, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাবাঈ আল-ইয়ামানী, আল-ওয়ালীদ ইবনে আস-সাইব আল-কুরাশী, মুহাম্মদ ইবনে সাদাকা আল-ফাদাকী, আল-মাদী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ আল-গাফেকী, মুহাম্মদ ইবনে আন-নুমান ইবনে শিবল আল-বাহিলী, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আইশী, মুহাম্মদ ইবনে মুআবিয়া আল-হাদরামী, মুহাম্মদ ইবনে বাশীর আল-মাগাফিরী আন-নাজী এবং ইয়াহইয়া ইবনে মুদার আল-কায়সী। ইবনে নাসির তাদের কথা উল্লেখ করেছেন, তারা মোট ঊনত্রিশ জন।

মাগরিব তথা আন্দালুসবাসীদের মধ্যে রয়েছেন: যিয়াদ ইবনে আব্দুর রহমান, যার উপাধি হলো শাবতূন—যাতে নুকতাযুক্ত শীন, এরপর একটি বা এবং এরপর নুকতাহীন ত রয়েছে—তিনি মালিকের নিকট থেকে "আল-মুওয়াত্ত্তা" শুনেছেন। আরও আছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-লাইসী, হাফস ও হাসসান—আব্দুস সালামের দুই পুত্র, আল-গায—যাতে নুকতাযুক্ত গাইন, এরপর আলিফ এবং এরপর নুকতাযুক্ত যা রয়েছে—ইবনে কায়স, কুরউস ইবনে আল-আব্বাস—যাতে ক্বাফ বর্ণে পেশ, রা বর্ণে সুকুন এবং নুকতাহীন আইন বর্ণে পেশ রয়েছে; আবার ক্বাফ বর্ণে যের, রা বর্ণে সুকুন এবং আইন বর্ণে যবরসহ "ফিরদাউস"-এর ওজনেও পড়া হয়। আরও আছেন যুনবুর, সাঈদ ইবনে আব্দুল হাকাম, সাঈদ ইবনে আবি হিন্দ, সাঈদ ইবনে আবদূস, আব্বাস ইবনে সালিহ, আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান ইবনে হিন্দ এবং শাবতূন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী। শেষোক্ত দুইজন তুলাইতিলা-র অধিবাসী—যাতে প্রথম ত বর্ণে পেশ রয়েছে—আন্দালুসের একটি শহরের দিকে সম্বন্ধ করে এই নাম।

কায়রাওয়ান থেকে রয়েছেন: আসাদ ইবনে আল-ফুরাত এবং খালাফ ইবনে জারীর ইবনে ফাদালাহ।

টিউনিস থেকে রয়েছেন: আলী ইবনে যিয়াদ এবং ঈসা ইবনে শাজারাহ। তারা সতেরো জন।

শামবাসীদের মধ্য থেকে রয়েছেন: আব্দুল আ'লা ইবনে মুসহির আল-গাসসানী এবং উবাইদ ইবনে হিব্বান—যাতে নুকতাহীন হরফে যের এবং নুকতাযুক্ত বা-তে তাশদীদ রয়েছে—এই দুইজন দামেশকী। আরও আছেন উতবাহ—তা বর্ণসহ—ইবনে হাম্মাদ আদ-দামেশকী যিনি জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন, মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ এবং উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আস-সুলামী—তারাও দামেশকী। আরও আছেন ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আল-উহাযী—যাতে ওয়াও বর্ণে পেশ এবং নুকতাহীন হরফে হালকা উচ্চারণ ও পরে নুকতাযুক্ত বর্ণ রয়েছে—তিনি হিমস-এর অধিবাসী। ইবনে নাসির এই চারজনের কথা উল্লেখ করেছেন। আরও আছেন খালিদ ইবনে নিযার আল-আইলী—যাতে হামজায় যবর এবং ইয়াহ-তে সুকুন রয়েছে। তারা মোট সাত জন।

ইয়াদ তাদের অধিকাংশের কথা উল্লেখ করার পর বলেন: এরাই তারা যাদের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে তারা তাঁর থেকে মুওয়াত্ত্তা বর্ণনা করেছেন এবং রিজাল শাস্ত্রবিদগণ এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী আল-বাসরী তাঁর থেকে লিখিতভাবে এটি গ্রহণ করেছেন এবং ইসমাইল ইবনে ইসহাক হস্তান্তরের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন; অর্থাৎ তিনি ইসমাইল আল-কাজী নন, কারণ তিনি দুইশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং মালিকের সাক্ষাৎ পাননি। তিনি আরও বলেন: আর কাজী আবু ইউসুফ এটি এক ব্যক্তির মাধ্যমে—অর্থাৎ আসাদ ইবনে আল-ফুরাতের মাধ্যমে—মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, আল-রশীদ এবং তার পুত্রগণ আল-আমীন, আল-মামুন ও আল-মুতামান তাঁর নিকট থেকে "আল-মুওয়াত্ত্তা" গ্রহণ করেছেন। আর আল-মাহদী এবং আল-হাদী তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আল-হাদীর জন্য মুওয়াত্ত্তা লিখে দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মুওয়াত্ত্তা-র বর্ণনাকারীর সংখ্যা এদের চেয়ে অনেক বেশি, কিন্তু আমরা কেবল তাদের কথাই উল্লেখ করেছি যাদের তাঁর থেকে সরাসরি শোনা এবং গ্রহণ করার বিষয়টি আমাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে পৌঁছেছে অথবা যাদের সাথে তাঁর সূত্রে আমাদের সনদ অবিচ্ছিন্ন রয়েছে। তিনি বলেন: মুওয়াত্ত্তা-র সেই সব সংস্করণ যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং যা আমি বর্ণনা করেছি কিংবা দেখার সুযোগ পেয়েছি অথবা আমাদের উস্তাদদের বর্ণনায় বিদ্যমান ছিল সেগুলো হলো...
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٠)
نَقَلَ مِنْهُ أَصْحَابُ اخْتِلَافِ الْمُوَطَّآتِ نَحْوُ عِشْرِينَ نُسْخَةً، وَذَكَرَ بَعْضُهُمْ أَنَّهَا ثَلَاثُونَ نُسْخَةً، وَقَدْ رَأَيْتُ الْمُوَطَّأَ رِوَايَةَ مُحَمَّدِ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ مَالِكٍ وَهُوَ غَرِيبٌ، وَلَمْ يَقَعْ لِأَصْحَابِ اخْتِلَافِ الْمُوَطَّآتِ، فَلِذَا لَمْ يَذْكُرُوا مِنْهُ شَيْئًا، انْتَهَى.

وَقَالَ الْحَافِظُ صَلَاحُ الدِّينِ الْعَلَائِيُّ: رَوَى " الْمُوَطَّأَ " عَنْ مَالِكٍ جَمَاعَاتٌ كَثِيرَةٌ، وَبَيْنَ رِوَايَاتِهِمُ اخْتِلَافٌ مِنْ تَقْدِيمٍ وَتَأْخِيرٍ وَزِيَادَةٍ وَنَقْصٍ، وَأَكْبَرُهَا رِوَايَةُ الْقَعْنَبِيِّ، وَمِنْ أَكْبَرِهَا وَأَكْثَرِهَا زِيَادَاتٍ رِوَايَةُ أَبِي مُصْعَبٍ، فَقَدْ قَالَ ابْنُ حَزْمٍ: فِي رِوَايَةِ أَبِي مُصْعَبٍ زِيَادَةٌ عَلَى سَائِرِ الْمُوَطَّآتِ نَحْوَ مِائَةِ حَدِيثٍ.

وَقَالَ السُّيُوطِيُّ: فِي رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ أَحَادِيثُ يَسِيرَةٌ زِيَادَةً عَلَى سَائِرِ الْمُوَطَّآتِ مِنْهَا حَدِيثُ: " «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ» " الْحَدِيثَ، وَبِذَلِكَ يَتَبَيَّنُ صِحَّةُ قَوْلِ مَنْ عَزَا رِوَايَتَهُ إِلَى الْمُوَطَّأِ وَوَهْمُ مَنْ خَطَّأَهُ فِي ذَلِكَ، انْتَهَى.

وَمُرَادُهُ الرَّدُّ عَلَى قَوْلِ " فَتْحِ الْبَارِي ": هَذَا الْحَدِيثُ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ أَخْرَجَهُ الْأَئِمَّةُ الْمَشْهُورُونَ إِلَّا " الْمُوَطَّأَ "، وَوَهِمَ مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ فِي " الْمُوَطَّأِ " مُغْتَرًّا بِتَخْرِيجِ الشَّيْخَيْنِ لَهُ وَالنَّسَائِيِّ مِنْ طَرِيقِ مَالِكٍ، انْتَهَى. وَقَالَ فِي " مُنْتَهَى الْآمَالِ ": لَمْ يَهِمْ، فَإِنَّهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي الرِّوَايَاتِ الشَّهِيرَةِ فَإِنَّهُ فِي رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ أَوْرَدَهُ فِي آخِرِ كِتَابِ النَّوَادِرِ. وَقِيلَ: آخِرِ الْكِتَابِ بِثَلَاثِ وَرَقَاتٍ، وَتَارِيخُ النُّسْخَةِ الَّتِي وَقَفْتُ عَلَيْهَا مَكْتُوبَةٌ فِي صَفَرٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، وَفِيهَا أَحَادِيثُ يَسِيرَةٌ زَائِدَةٌ عَلَى الرِّوَايَاتِ مَشْهُورَةٌ، وَهِيَ خَالِيَةٌ مِنْ عِدَّةِ أَحَادِيثَ ثَابِتَةٍ فِي سَائِرِ الرِّوَايَاتِ.

وَفِي " الْإِرْشَادِ " لِلْخَلِيلِيِّ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: كُنْتُ سَمِعْتُ " الْمُوَطَّأَ " مِنْ بِضْعَةَ عَشَرَ رَجُلًا مِنْ حُفَّاظِ أَصْحَابِ مَالِكٍ فَأَعَدْتُهُ عَلَى الشَّافِعِيِّ لِأَنِّي وَجَدْتُهُ أَقْوَمَهُمْ.

وَقَالَ ابْنُ خُزَيْمَةَ: سَمِعْتُ نَصْرَ بْنَ مَرْزُوقٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ: أَثْبَتُ النَّاسِ فِي " الْمُوَطَّأِ " عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ التِّنِّيسِيُّ بَعْدَهُ.

قَالَ الْحَافِظُ: وَهَكَذَا أَطْلَقَ ابْنُ الْمَدِينِيِّ وَالنَّسَائِيُّ أَنَّ الْقَعْنَبِيَّ أَثْبَتُ النَّاسِ فِي الْمُوَطَّأِ، وَذَلِكَ مَحْمُولٌ عَلَى أَهْلِ عَصْرِهِ فَإِنَّهُ عَاشَ بَعْدَ الشَّافِعِيِّ بِضْعَ عَشْرَةَ سَنَةً، وَيُحْتَمَلُ أَنَّ تَقْدِيمَهُ عِنْدَ مَنْ قَدَّمَهُ بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ سَمِعَ كَثِيرًا مِنَ الْمُوَطَّأِ مِنْ لَفْظِ مَالِكٍ بِنَاءً عَلَى أَنَّ السَّمَاعَ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ أَثْبَتُ مِنَ الْقِرَاءَةِ عَلَيْهِ.

وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَثْبَتُ أَصْحَابِ مَالِكٍ وَأَوْثَقُهُمْ مَعْنُ بْنُ عِيسَى، انْتَهَى.

وَفِي " الدِّيبَاجِ " قَالَ النَّسَائِيُّ: ابْنُ الْقَاسِمِ ثِقَةٌ رَجُلٌ صَالِحٌ، سُبْحَانَ اللَّهِ مَا أَحْسَنَ حَدِيثَهُ وَأَصَحَّهُ عَنْ مَالِكٍ، لَيْسَ يَخْتَلِفُ فِي كَلِمَةٍ وَلَمْ يَرْوِ أَحَدٌ الْمُوَطَّأَ عَنْ مَالِكٍ أَثْبَتَ مِنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ مَالِكٍ عِنْدِي مِثْلَهُ، قِيلَ لَهُ: فَأَشْهَبُ؟ قَالَ: وَلَا أَشْهَبُ وَلَا غَيْرُهُ، وَهُوَ أَعْجَبُ مِنَ الْعَجَبِ، الْفَضْلُ وَالزُّهْدُ وَصِحَّةُ الرِّوَايَةِ وَحُسْنُ الْحَدِيثِ، حَدِيثُهُ يَشْهَدُ لَهُ، انْتَهَى.

فَقَدِ اخْتَلَفَ النَّقْلُ عَنِ النَّسَائِيِّ فِي أَثْبَتِ رُوَاةِ الْمُوَطَّأِ. وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ: أَثْبَتُ
মুওয়াত্তার বিভিন্ন বর্ণনার ভিন্নতা বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা এর প্রায় বিশটি পাণ্ডুলিপি বা বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন এবং তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে তা ত্রিশটি। আমি ইমাম মালিক থেকে মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ ইবনে আবদুর রহীম আস-সান'আনীর সূত্রে বর্ণিত মুওয়াত্তা দেখেছি যা বিরল। মুওয়াত্তার বিভিন্নতা বর্ণনাকারীদের নিকট এটি পৌঁছেনি, ফলে তারা এটি থেকে কিছু উল্লেখ করেননি। সমাপ্ত।

হাফেজ সালাহুদ্দীন আল-আলাই বলেছেন: বহু সংখ্যক লোক ইমাম মালিক থেকে "মুওয়াত্তা" বর্ণনা করেছেন এবং তাদের বর্ণনাসমূহের মধ্যে আগে-পিছে হওয়া, অতিরিক্ত হওয়া এবং কম হওয়ার বিষয়ে ভিন্নতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো আল-কা'নাবীর বর্ণনা। আর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ সম্বলিত হলো আবু মুস'আব-এর বর্ণনা। কেননা ইবনে হাজম বলেছেন: আবু মুস'আবের বর্ণনায় অন্যান্য সকল মুওয়াত্তার বর্ণনার তুলনায় প্রায় একশত হাদিস অতিরিক্ত রয়েছে।

ইমাম সুয়ূতী বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনায় অন্যান্য সকল মুওয়াত্তার বর্ণনার তুলনায় সামান্য কিছু হাদিস অতিরিক্ত রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল" হাদিসটি। এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির কথার বিশুদ্ধতা স্পষ্ট হয় যিনি এই হাদিসটিকে মুওয়াত্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং ঐ ব্যক্তির সংশয় প্রকাশ পায় যিনি তাকে এক্ষেত্রে ভুল বলে আখ্যায়িত করেছেন। সমাপ্ত।

আর তার উদ্দেশ্য হলো "ফাতহুল বারী"-তে বলা বক্তব্যের খণ্ডন করা: এই হাদিসটির বিশুদ্ধতার উপর সকলে একমত, প্রসিদ্ধ ইমামগণ এটি সংকলন করেছেন তবে "মুওয়াত্তা" ব্যতীত। আর ঐ ব্যক্তি বিভ্রান্ত হয়েছেন যিনি ধারণা করেছেন যে এটি "মুওয়াত্তা"-তে রয়েছে, যেহেতু তিনি বুখারী, মুসলিম ও নাসায়ীর মালিকের সূত্রের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করার দ্বারা প্ররোচিত হয়েছেন। সমাপ্ত। "মুনতাহাল আমাল"-এ বলা হয়েছে: তিনি বিভ্রান্ত হননি, কারণ যদিও এটি প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলোতে নেই, তবে এটি মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনায় কিতাবুন নাওয়াদিরের শেষে বর্ণিত হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: কিতাবের সমাপ্তির তিন পৃষ্ঠা আগে রয়েছে। আমি যে পাণ্ডুলিপিটি দেখেছি তার তারিখ লেখা আছে পাঁচশত চুয়াত্তর হিজরীর সফর মাস। তাতে প্রসিদ্ধ বর্ণনাসমূহের অতিরিক্ত কিছু হাদিস রয়েছে এবং এটি অন্যান্য বর্ণনায় থাকা অনেক সুসাব্যস্ত হাদিস থেকে মুক্ত।

খলীলীর "আল-ইরশাদ" গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: আমি ইমাম মালিকের ছাত্রদের মধ্যে দশের অধিক হাফেজে হাদিসের নিকট থেকে "মুওয়াত্তা" শ্রবণ করেছি, এরপর আমি তা ইমাম শাফেয়ীর নিকট পুনরায় পাঠ করেছি কারণ আমি তাকে তাদের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ ও নির্ভুল পেয়েছি।

ইবনে খুজাইমা বলেন: আমি নাসর ইবনে মারযুককে বলতে শুনেছি যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছেন: "মুওয়াত্তা" বর্ণনায় সবচেয়ে সুদৃঢ় ব্যক্তি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা আল-কা'নাবী এবং এরপর আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আত-তিন্নিসী।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এভাবেই ইবনে মাদীনী এবং নাসায়ী সাধারণভাবে বলেছেন যে, আল-কা'নাবী মুওয়াত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুদৃঢ় ব্যক্তি। এটি তার সমসাময়িকদের বিবেচনায় বলা হয়েছে, কেননা তিনি ইমাম শাফেয়ীর ইনতিকালের পর দশ বছরেরও বেশি সময় জীবিত ছিলেন। আর এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, যারা তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তারা এই বিবেচনায় দিয়েছেন যে, তিনি মুওয়াত্তার অনেক অংশ ইমাম মালিকের মুখনিঃসৃত শব্দ থেকে সরাসরি শুনেছেন; এই মূলনীতির ভিত্তিতে যে, শাইখের মুখ থেকে সরাসরি শ্রবণ করা তাঁর সামনে পাঠ করার তুলনায় অধিক সুদৃঢ়।

আবু হাতিম বলেছেন: ইমাম মালিকের ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় এবং নির্ভরযোগ্য হলেন মা'ন ইবনে ঈসা। সমাপ্ত।

"আদ-দীবাজ" গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, ইমাম নাসায়ী বলেছেন: ইবনে কাসিম নির্ভরযোগ্য এবং একজন সৎ ব্যক্তি। সুবহানাল্লাহ, ইমাম মালিকের সূত্রে তার বর্ণিত হাদিস কতই না সুন্দর এবং বিশুদ্ধ! তাতে একটি শব্দেরও হেরফের হয় না। ইবনে কাসিমের চেয়ে সুদৃঢ়ভাবে কেউ ইমাম মালিক থেকে মুওয়াত্তা বর্ণনা করেনি। আমার নিকট ইমাম মালিকের ছাত্রদের মধ্যে তার তুল্য কেউ নেই। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে কি আশহাব? তিনি বললেন: আশহাবও নয় এবং অন্য কেউও নয়। তিনি বিস্ময়ের চেয়েও বিস্ময়কর; শ্রেষ্ঠত্ব, দুনিয়াবিমুখতা, বর্ণনার বিশুদ্ধতা এবং সুন্দরভাবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তার হাদিসই তার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেয়। সমাপ্ত।

সুতরাং মুওয়াত্তার বর্ণনাকারীদের মধ্যে কে সবচেয়ে সুদৃঢ় সে বিষয়ে ইমাম নাসায়ী থেকে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেল। মুহাম্মদ ইবনে আবদিল হাকাম বলেছেন: সবচেয়ে সুদৃঢ়...
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦١)
النَّاسِ فِي مَالِكٍ ابْنُ وَهْبٍ وَهُوَ أَفْقَهُ مِنَ ابْنِ الْقَاسِمِ إِلَّا أَنَّهُ كَانَ يَمْنَعُهُ الْوَرَعُ مِنَ الْفُتْيَا. وَقَالَ أَصْبَغُ: ابْنُ وَهْبٍ أَعْلَمُ أَصْحَابِ مَالِكٍ بِالسُّنَنِ وَالْآثَارِ إِلَّا أَنَّهُ رَوَى عَنِ الضُّعَفَاءِ. وَذَكَرَ الْحَافِظُ مُغْلَطَايْ أَنَّهُ وَالْقَعْنَبِيُّ عِنْدَ الْمُحَدِّثِينَ أَوْثَقُ وَأَتْقَنُ مِنْ جَمِيعِ مَنْ رَوَى عَنْ مَالِكٍ. وَتَعَقَّبَهُ الْحَافِظُ بِأَنَّهُ غَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا: ابْنُ وَهْبٍ لَمْ يَكُنْ جَيِّدَ التَّحَمُّلِ فَكَيْفَ يَنْقُلُ هَذَا الرَّجُلُ أَنَّهُ أَوْثَقُ وَأَتْقَنُ أَصْحَابِ مَالِكٍ؟ انْتَهَى.

وَقَالَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ: اخْتَارَ أَحْمَدُ فِي " مُسْنَدِهِ " رِوَايَةَ ابْنِ مَهْدِيٍّ، وَالْبُخَارِيُّ رِوَايَةَ التِّنِّيسِيِّ، وَمُسْلِمٌ رِوَايَةَ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيِّ التَّمِيمِيِّ، وَأَبُو دَاوُدَ رِوَايَةَ الْقَعْنَبِيِّ، وَالنَّسَائِيُّ رِوَايَةَ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، انْتَهَى.

وَهَذَا كُلُّهُ أَغْلَبِيٌّ، وَإِلَّا فَقَدَ رَوَى كُلٌّ مِمَّنْ ذُكِرَ عَنْ غَيْرِ مَنْ عَيَّنَهُ، وَيَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ شَيْخُ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ وَلَيْسَ هُوَ صَاحِبُ الرِّوَايَةِ الْمَشْهُورَةِ الْآنَ فَإِنَّهُ أَنْدَلُسِيٌّ وَقَدْ يَلْتَبِسَانِ عَلَى مَنْ لَا يَعْلَمُ. وَرَوَاهُ عَنِ الْأَنْدَلُسِيِّ ابْنُهُ عُبَيْدُ اللَّهِ - بِضَمِّ الْعَيْنِ - وَمُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ الْحَافِظُ الْأَنْدَلُسِيُّ.

قَالَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرِ بْنُ الْعَرَبِيِّ فِي شَرْحِ التِّرْمِذِيِّ: الْمُوَطَّأُ هُوَ الْأَصْلُ الْأَوَّلُ، وَ " اللُّبَابُ " وَ " الْبُخَارِيُّ " الْأَصْلُ الثَّانِي فِي هَذَا الْبَابِ، وَعَلَيْهَا بَنَى الْجَمِيعُ كَمُسْلِمٍ وَالتِّرْمِذِيِّ. قَالَ: وَذَكَرَ ابْنُ الْهَيَّابِ أَنَّ مَالِكًا رَوَى مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ جَمَعَ مِنْهَا الْمُوَطَّأَ عَشَرَةَ آلَافٍ، ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يَعْرِضُهَا عَلَى الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَيَخْتَبِرُهَا بِالْآثَارِ وَالْأَخْبَارِ حَتَّى رَجَعَتْ إِلَى خَمْسِمِائَةٍ.

وَقَالَ إِلْكِيَا الْهَرَّاسِيُّ: مُوَطَّأُ مَالِكٍ كَانَ تِسْعَةَ آلَافِ حَدِيثٍ ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يَنْتَقِي حَتَّى رَجَعَ إِلَى سَبْعِمِائَةٍ. وَفِي " الْمَدَارِكِ " عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ: أَلَّفَ مَالِكٌ الْمُوَطَّأَ وَفِيهِ أَرْبَعَةُ آلَافِ حَدِيثٍ أَوْ أَكْثَرُ، وَمَاتَ وَهِيَ أَلْفُ حَدِيثٍ وَنَيِّفٌ، يُخَلِّصُهَا عَامًا عَامًا بِقَدْرِ مَا يَرَى أَنَّهُ أَصْلَحُ لِلْمُسْلِمِينَ وَأَمْثَلُ فِي الدِّينِ.

وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الْأَبْهَرِيُّ: جُمْلَةُ مَا فِي الْمُوَطَّأِ مِنَ الْآثَارِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَنِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ أَلْفٌ وَسَبْعُمِائَةٍ وَعِشْرُونَ حَدِيثًا، الْمُسْنَدُ مِنْهَا سِتُّمِائَةِ حَدِيثٍ، وَالْمُرْسَلُ مِائَتَانِ وَاثْنَانِ وَعِشْرُونَ حَدِيثًا، وَالْمَوْقُوفُ سِتُّمِائَةٍ وَثَلَاثَةَ عَشَرَ. وَمِنْ قَوْلِ التَّابِعِينَ مِائَتَانِ وَخَمْسَةٌ وَثَمَانُونَ. وَقَالَ الْغَافِقِيُّ: " مُسْنَدُ الْمُوَطَّأِ " سِتُّمِائَةِ حَدِيثٍ وَسِتَّةٌ وَسِتُّونَ حَدِيثًا.

وَأَخْرَجَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ صَاحِبِ الْأَوْزَاعِيِّ: عَرَضْنَا عَلَى مَالِكٍ الْمُوَطَّأَ فِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَقَالَ: كِتَابٌ أَلَّفْتُهُ فِي أَرْبَعِينَ سَنَةً أَخَذْتُمُوهُ فِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا مَا أَقَلَّ مَا تَفْقَهُونَ فِيهِ.

وَأَخْرَجَ أَبُو نُعَيْمٍ فِي " الْحِلْيَةِ " عَنْ أَبِي خُلَيْدٍ قَالَ: أَقَمْتُ عَلَى مَالِكٍ فَقَرَأْتُ الْمُوَطَّأَ فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ فَقَالَ مَالِكٌ: عِلْمٌ جَمَعَهُ شَيْخٌ فِي سِتِّينَ سَنَةً أَخَذْتُمُوهُ فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ لَا فَقِهْتُمْ أَبَدًا.
মালিকের (শিষ্যদের) মধ্যে ইবনে ওয়াহাব হলেন এমন একজন, যিনি ইবনে আল-কাসিমের চেয়েও অধিক ফকীহ; তবে পরহেজগারী তাঁকে ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত রাখত। আসবাগ বলেন: ইবনে ওয়াহাব সুন্নাহ ও আসার সম্পর্কে ইমাম মালিকের সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন, তবে তিনি দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। হাফেজ মুগলাতাই উল্লেখ করেছেন যে, মুহাদ্দিসদের নিকট তিনি এবং আল-কা'নাবি ইমাম মালিক থেকে বর্ণনাকারী সকল ব্যক্তির মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সূক্ষ্ম। হাফেজ (ইবনে হাজার) এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, একাধিক ব্যক্তি বলেছেন: ইবনে ওয়াহাব (হাদিস) গ্রহণের ক্ষেত্রে উত্তম ছিলেন না, তবে এই ব্যক্তি কীভাবে বর্ণনা করলেন যে তিনি ইমাম মালিকের সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিখুঁত? সমাপ্ত।

জনৈক গুণীজন বলেছেন: ইমাম আহমদ তাঁর "মুসনাদে" ইবনে মাহদীর বর্ণনাটিকে বেছে নিয়েছেন, ইমাম বুখারি তিন্নীসির বর্ণনাটিকে, ইমাম মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আন-নায়সাবুরি আত-তামিমির বর্ণনাটিকে, আবু দাউদ আল-কা'নাবির বর্ণনাটিকে এবং নাসাঈ কুতাইবা ইবনে সাঈদের বর্ণনাটিকে বেছে নিয়েছেন। সমাপ্ত।

আর এই সবকিছুই অধিকাংশের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় উল্লিখিত ব্যক্তিদের প্রত্যেকেই তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়াও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াহইয়া আন-নায়সাবুরি হলেন বুখারি ও মুসলিমের উস্তাদ, তিনি বর্তমানের সেই সুপরিচিত বর্ণনার অধিকারী নন; কারণ তিনি (সুপরিচিত ব্যক্তি) হলেন আন্দালুসি। যারা জানেন না তাদের কাছে এই দুজনের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ঘটতে পারে। আর আন্দালুসি থেকে তাঁর পুত্র উবায়দুল্লাহ - 'আইন' বর্ণে পেশ যোগে - এবং হাফেজ মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াদ্দাহ আল-আন্দালুসি বর্ণনা করেছেন।

কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: মুয়াত্তাই হলো প্রথম মূলভিত্তি, আর "আল-লুবাব" ও "বুখারি" হলো এই শাস্ত্রের দ্বিতীয় মূলভিত্তি; এবং এগুলোর উপর ভিত্তি করেই মুসলিম ও তিরমিজির মতো সকলে (তাঁদের গ্রন্থ) গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন: ইবনুল হাইয়াব উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক এক লক্ষ হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেখান থেকে তিনি মুয়াত্তায় দশ হাজার হাদিস সংকলন করেছিলেন। এরপর তিনি অবিরাম সেগুলোকে কিতাব ও সুন্নাহর কষ্টিপাথরে যাচাই করতে থাকেন এবং আসার ও আখবারের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত তা পাঁচশ হাদিসে এসে পৌঁছে।

ইলকিয়া আল-হাররাসি বলেছেন: মালিকের মুয়াত্তায় নয় হাজার হাদিস ছিল, এরপর তিনি বাছাই করতে থাকেন যতক্ষণ না তা সাতশ হাদিসে এসে থামে। "আল-মাদারিক" গ্রন্থে সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে বর্ণিত হয়েছে: ইমাম মালিক মুয়াত্তা সংকলন করেন এবং তাতে চার হাজার বা তার বেশি হাদিস ছিল। তিনি যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তাতে এক হাজারের কিছু বেশি হাদিস অবশিষ্ট ছিল; তিনি প্রতি বছর এগুলোকে পরিমার্জন করতেন যতটা তিনি মুসলমানদের জন্য অধিক কল্যাণকর এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে অধিক উত্তম মনে করতেন।

আবু বকর আল-আভহারি বলেছেন: মুয়াত্তায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত মোট আসারের সংখ্যা হলো এক হাজার সাতশ বিশটি হাদিস। এর মধ্যে 'মুসনাদ' হলো ছয়শটি হাদিস, 'মুরসাল' হলো দুইশ বাইশটি হাদিস, এবং 'মাওকুফ' হলো ছয়শ তেরটি। আর তাবেয়ীদের উক্তি হলো দুইশ পঁচাশিটি। গাফেকি বলেছেন: "মুসনাদুল মুয়াত্তা" এর হাদিস সংখ্যা হলো ছয়শ ছেষট্টিটি।

ইবনে আব্দুল বার আওজায়ির সঙ্গী উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমরা চল্লিশ দিনে ইমাম মালিকের নিকট মুয়াত্তা পেশ করলাম (পড়ে শুনালাম)। তখন তিনি বললেন: যে কিতাব আমি চল্লিশ বছরে সংকলন করেছি, তোমরা তা চল্লিশ দিনে গ্রহণ করলে! তোমাদের উপলব্ধি কতই না নগণ্য!

আবু নুআইম "আল-হিলইয়া" গ্রন্থে আবু খুলাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিকের নিকট অবস্থান করলাম এবং চার দিনে মুয়াত্তা পড়ে শেষ করলাম। তখন ইমাম মালিক বললেন: যে ইলম একজন শায়খ ষাট বছরে জমা করেছেন, তোমরা তা চার দিনে গ্রহণ করলে! তোমরা কখনোই সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٢)
وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكَتَّانِيُّ الْأَصْفَهَانِيُّ: قُلْتُ لِأَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيِّ: مُوَطَّأُ مَالِكٍ لِمَ سُمِّيَ الْمُوَطَّأَ؟ فَقَالَ: شَيْءٌ صَنَعَهُ وَوَطَّأَهُ لِلنَّاسِ حَتَّى قِيلَ " مُوَطَّأُ مَالِكٍ " كَمَا قِيلَ " جَامِعُ سُفْيَانَ ". وَرَوَى أَبُو الْحَسَنِ بْنُ فِهْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْخَلَنْجِيِّ: سَمِعْتُ بَعْضَ الْمَشَايِخِ يَقُولُ: قَالَ مَالِكٌ: عَرَضْتُ كِتَابِي هَذَا عَلَى سَبْعِينَ فَقِيهًا مِنْ فُقَهَاءِ الْمَدِينَةِ فَكُلُّهُمْ وَاطَأَنِي عَلَيْهِ فَسَمَّيْتُهُ الْمُوَطَّأَ. قَالَ ابْنُ فِهْرٍ: لَمْ يَسْبِقْ مَالِكًا أَحَدٌ إِلَى هَذِهِ التَّسْمِيَةِ، فَإِنَّ مَنْ أَلَّفَ فِي زَمَانِهِ بَعْضُهُمْ سَمَّى بِالْجَامِعِ، وَبَعْضُهُمْ سَمَّى بِالْمُصَنَّفِ، وَبَعْضُهُمْ بِالْمُؤَلَّفِ، وَلَفْظَةُ الْمُوَطَّأِ بِمَعْنَى الْمُمَهَّدِ الْمُنَقَّحِ.

وَأَخْرَجَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ عَنِ الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَرْبٍ الْمَدَنِيِّ قَالَ: أَوَّلُ مَنْ عَمِلَ كِتَابًا بِالْمَدِينَةِ عَلَى مَعْنَى الْمُوَطَّأِ - مِنْ ذِكْرِ مَا اجْتَمَعَ عَلَيْهِ أَهْلُ الْمَدِينَةِ - عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجَشُونَ وَعَمِلَ ذَاكَ كَلَامًا بِغَيْرِ حَدِيثٍ فَأَتَى بِهِ مَالِكٌ فَنَظَرَ فِيهِ فَقَالَ: مَا أَحْسَنَ مَا عَمِلَ وَلَوْ كُنْتُ أَنَا الَّذِي عَمِلْتُ ابْتَدَأْتُ بِالْآثَارِ ثُمَّ سَدَّدْتُ ذَلِكَ بِالْكَلَامِ.

قَالَ: ثُمَّ إِنَّ مَالِكًا عَزَمَ عَلَى تَصْنِيفِ الْمُوَطَّأِ فَصَنَّفَهُ فَعَمِلَ مَنْ كَانَ بِالْمَدِينَةِ يَوْمَئِذٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ الْمُوَطَّآتِ، فَقِيلَ لِمَالِكٍ: شَغَلْتَ نَفْسَكَ بِعَمَلِ هَذَا الْكِتَابِ وَقَدْ شَرَكَكَ فِيهِ النَّاسُ وَعَمِلُوا أَمْثَالَهُ فَقَالَ: ائْتُونِي بِمَا عَمِلُوا فَأُتِيَ بِذَلِكَ فَنَظَرَ فِيهِ وَقَالَ: لَتَعْلَمُنَّ أَنَّهُ لَا يَرْتَفِعُ إِلَّا مَا أُرِيدَ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ، قَالَ: فَكَأَنَّمَا أُلْقِيَتْ تِلْكَ الْكُتُبُ فِي الْآبَارِ وَمَا سَمِعْتُ لِشَيْءٍ مِنْهَا بَعْدَ ذَلِكَ بِذِكْرٍ.

وَرَوَى أَبُو مُصْعَبٍ أَنَّ أَبَا جَعْفَرٍ الْمَنْصُورَ قَالَ لِمَالِكٍ: ضَعْ لِلنَّاسِ كِتَابًا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ، فَكَلَّمَهُ مَالِكٌ فِي ذَلِكَ فَقَالَ: ضَعْهُ فَمَا أَحَدٌ الْيَوْمَ أَعْلَمَ مِنْكَ، فَوَضَعَ الْمُوَطَّأَ فَمَا فَرَغَ مِنْهُ حَتَّى مَاتَ أَبُو جَعْفَرٍ وَفِي رِوَايَةٍ: أَنَّ الْمَنْصُورَ قَالَ: ضَعْ هَذَا الْعِلْمَ وَدَوِّنْ كِتَابًا وَجَنِّبْ فِيهِ شَدَائِدَ ابْنِ عُمَرَ، وَرُخَصَ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَشَوَاذَّ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَاقْصِدْ أَوْسَطَ الْأُمُورِ وَمَا أَجْمَعَ عَلَيْهَا الصَّحَابَةُ وَالْأَئِمَّةُ.

وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّهُ قَالَ لَهُ: اجْعَلْ هَذَا الْعِلْمَ عِلْمًا وَاحِدًا، فَقَالَ لَهُ: إِنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَفَرَّقُوا فِي الْبِلَادِ فَأَفْتَى كُلٌّ فِي مِصْرِهِ بِمَا رَأَى، فَلِأَهْلِ الْمَدِينَةِ قَوْلٌ، وَلِأَهْلِ الْعِرَاقِ قَوْلٌ تَعَدَّوْا فِيهِ طَوْرَهُمْ، فَقَالَ: أَمَّا أَهْلُ الْعِرَاقِ فَلَا أَقْبَلُ مِنْهُمْ صَرْفًا وَلَا عَدْلًا وَإِنَّمَا الْعِلْمُ عِلْمُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ فَضَعْ لِلنَّاسِ الْعِلْمَ.

وَفِي رِوَايَةٍ عَنْ مَالِكٍ فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّ أَهْلَ الْعِرَاقِ لَا يَرْضَوْنَ عِلْمَنَا، فَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: يُضْرَبُ عَلَيْهِ عَامَّتُهُمْ بِالسَّيْفِ، وَنَقْطَعُ عَلَيْهِ ظُهُورَهُمْ بِالسِّيَاطِ.

قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: وَبَلَغَنِي عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ لِي مَالِكٌ: مَا يَقُولُ النَّاسُ فِي مُوَطَّئِي؟ فَقُلْتُ لَهُ: النَّاسُ رَجُلَانِ مُحِبٌّ مُطْرٍ وَحَادٌّ مُفْتَرٍ، فَقَالَ لِي مَالِكٌ: إِنَّ مَدَّ بِكَ عُمُرٌ فَسَتَرَى مَا يُرِيدُ اللَّهُ بِهِ.
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-কাত্তানি আল-আসবাহানি বলেন: আমি আবু হাতিম আর-রাজিকে বললাম: মালিকের ‘মুওয়াত্তা’-কে কেন ‘মুওয়াত্তা’ নামকরণ করা হয়েছে? তিনি বললেন: এটি এমন একটি কাজ যা তিনি রচনা করেছেন এবং মানুষের জন্য তা সুগম (মুওয়াত্তা) করেছেন, এমনকি একে ‘মালিকের মুওয়াত্তা’ বলা হতে থাকে, যেমনটি ‘সুফিয়ানের জামি’ বলা হতো। আবুল হাসান বিন ফিহর আলি বিন আহমাদ আল-খালানজি থেকে বর্ণনা করেন: আমি জনৈক মাশায়েখকে বলতে শুনেছি যে, মালিক বলেছেন: আমি আমার এই গ্রন্থটি মদিনার ফকিহদের মধ্য থেকে সত্তর জন ফকিহর সামনে পেশ করেছি, তারা সকলেই এই বিষয়ে আমার সাথে একমত হয়েছেন, তাই আমি এর নাম রেখেছি ‘আল-মুওয়াত্তা’। ইবনে ফিহর বলেন: মালিকের পূর্বে এই নামকরণে কেউ অগ্রগামী হননি। কারণ তাঁর সমসাময়িক লেখকদের কেউ গ্রন্থের নাম দিয়েছেন ‘আল-জামি’, কেউ ‘আল-মুসান্নাফ’ আবার কেউ ‘আল-মুআল্লাফ’। আর ‘মুওয়াত্তা’ শব্দটির অর্থ হলো সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত।

ইবনে আব্দুল বার ফাদল বিন মুহাম্মদ বিন হারব আল-মাদানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনার অধিবাসীদের ঐকমত্যের বিষয়গুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে ‘মুওয়াত্তা’-এর আদলে মদিনায় প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু সালামাহ আল-মাজিশুন। তিনি তা হাদিস ছাড়াই কেবল বর্ণনামূলক আলোচনা হিসেবে তৈরি করেছিলেন। মালিকের নিকট সেটি আনা হলে তিনি তা দেখে বললেন: তিনি যা করেছেন তা কতই না সুন্দর! আমি যদি এটি করতাম তবে আসার (হাদিস ও আসার) দিয়ে শুরু করতাম এবং পরে তা আলোচনার মাধ্যমে সুদৃঢ় করতাম।

তিনি বলেন: অতঃপর মালিক ‘মুওয়াত্তা’ সংকলনের দৃঢ় সংকল্প করলেন এবং তা সংকলন করলেন। সেই সময় মদিনার অন্য আলেমগণও বিভিন্ন ‘মুওয়াত্তা’ রচনা করেছিলেন। তখন মালিককে বলা হলো: আপনি কেন নিজেকে এই কিতাব রচনায় ব্যস্ত রেখেছেন, অথচ অন্যরাও আপনার সাথে এতে শরিক হয়েছে এবং এর অনুরূপ গ্রন্থ রচনা করেছে? তিনি বললেন: তারা যা করেছে তা আমার কাছে নিয়ে এসো। সেগুলো আনা হলে তিনি তা দেখে বললেন: তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে যে, আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) উদ্দেশ্য করে যা করা হয়েছে তা ছাড়া আর কিছুই টিকে থাকবে না। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর যেন সেই বইগুলো কূপে নিক্ষিপ্ত হলো এবং এরপর সেগুলোর আর কোনো উল্লেখ শোনা যায়নি।

আবু মুসআব বর্ণনা করেন যে, আবু জাফর আল-মানসুর মালিককে বলেছিলেন: মানুষের জন্য এমন একটি গ্রন্থ রচনা করুন যার ওপর আমি তাদের পরিচালিত করব। মালিক এ বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বললে তিনি বললেন: আপনি এটি রচনা করুন, কেননা বর্তমান সময়ে আপনার চেয়ে বড় কোনো আলেম নেই। অতঃপর তিনি মুওয়াত্তা রচনা করলেন, কিন্তু তা সমাপ্ত করার আগেই আবু জাফর মৃত্যুবরণ করেন। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: আল-মানসুর বলেছিলেন: এই ইলমকে সুবিন্যস্ত করুন এবং একটি গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করুন। সেখানে ইবনে উমরের কঠোরতা, ইবনে আব্বাসের শিথিলতা এবং ইবনে মাসউদের বিরল (শাজ) মতগুলো পরিহার করবেন। বরং আপনি মধ্যম পন্থা এবং সাহাবী ও ইমামগণের ঐকমত্যের বিষয়গুলো অনুসরণ করবেন।

অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি তাকে বলেছিলেন: এই ইলমকে একটি একক ইলমে পরিণত করুন। মালিক তাকে বললেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ শহরে নিজ নিজ বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন। ফলে মদিনাবাসীদের একটি বক্তব্য রয়েছে, আর ইরাকবাসীদেরও একটি বক্তব্য রয়েছে যাতে তারা তাদের সীমা অতিক্রম করেছে। তখন তিনি (মানসুর) বললেন: ইরাকবাসীদের থেকে কোনো ওজর বা বিনিময় আমি গ্রহণ করব না। বরং ইলম কেবল মদিনাবাসীদের ইলম, সুতরাং আপনি মানুষের জন্য ইলম লিপিবদ্ধ করুন।

মালিক থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, আমি তাকে বললাম: ইরাকবাসীরা আমাদের ইলমে সন্তুষ্ট হবে না। তখন আবু জাফর বললেন: এর জন্য তাদের সাধারণ জনগণকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করা হবে এবং তাদের পিঠ চাবুক দিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হবে।

ইবনে আব্দুল বার বলেন: মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ থেকে আমার নিকট খবর পৌঁছেছে, তিনি বলেন: মালিক আমাকে বললেন: আমার ‘মুওয়াত্তা’ সম্পর্কে মানুষ কী বলে? আমি তাকে বললাম: মানুষ দুই ধরনের; একদল অতি প্রশংসাকারী এবং অন্যদল কট্টর অপবাদদাতা। মালিক আমাকে বললেন: যদি তোমার আয়ু দীর্ঘ হয়, তবে অচিরেই তুমি দেখতে পাবে আল্লাহ তাআলা এটি দ্বারা কী ইচ্ছা করেন।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٣)
وَرَوَى الْخَطِيبُ عَنْ أَبِي بُكَيْرٍ الزُّبَيْرِيِّ قَالَ: قَالَ الرَّشِيدُ لِمَالِكٍ: لَمْ نَرَ فِي كِتَابِكَ ذِكْرًا لَعَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: لَمْ يَكُونَا بِبَلَدِي وَلَمْ أَلْقَ رِجَالَهُمَا، فَإِنَّ صَحَّ هَذَا فَكَأَنَّهُ أَرَادَ ذِكْرًا كَثِيرًا، وَإِلَّا فَفِي " الْمُوَطَّأِ " أَحَادِيثُ عَنْهُمَا.

قَالَ الْغَافِقِيُّ: عِدَّةُ شُيُوخِهِ الَّذِينَ سَمَّاهُمْ خَمْسَةٌ وَتِسْعُونَ رَجُلًا، وَعِدَّةُ صَحَابَتِهِ خَمْسَةٌ وَثَمَانُونَ رَجُلًا، وَمِنْ نِسَائِهِمْ ثَلَاثٌ وَعِشْرُونَ امْرَأَةً، وَمِنَ التَّابِعِينَ ثَمَانِيَةٌ وَأَرْبَعُونَ رَجُلًا كُلُّهُمْ مَدَنِيُّونَ إِلَّا سِتَّةً: أَبُو الزُّبَيْرِ الْمَكِّيُّ، وَحُمَيْدٌ وَأَيُّوبُ الْبَصْرِيَّانِ، وَعَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ، وَعَبْدُ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَيْلَةَ الشَّامِيُّ.

وَأَخْرَجَ ابْنُ فِهْرٍ عَنِ الشَّافِعِيِّ: مَا عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ كِتَابٌ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ أَصَحُّ مِنْ كِتَابِ مَالِكٍ. وَفِي لَفْظٍ: مَا عَلَى الْأَرْضِ كِتَابٌ هُوَ أَقْرَبُ إِلَى الْقُرْآنِ مِنْ كِتَابِ مَالِكٍ. وَفِي لَفْظٍ: مَا بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ أَكْثَرُ صَوَابًا مِنْ مُوَطَّأِ مَالِكٍ. وَفِي آخَرَ: مَا بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ أَنْفَعُ مِنَ الْمُوَطَّأِ. وَأَطْلَقَ جَمَاعَةٌ عَلَى الْمُوَطَّأِ اسْمَ الصَّحِيحِ، وَاعْتَرَضُوا قَوْلَ ابْنِ الصَّلَاحِ: أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ فِيهِ الْبُخَارِيُّ وَإِنْ عَبَّرَ بِقَوْلِهِ: " الصَّحِيحُ الْمُجَرَّدُ " لِلِاحْتِرَازِ عَنِ الْمُوَطَّأِ فَلَمْ يُجَرِّدْ فِيهِ الصَّحِيحَ بَلْ أَدْخَلَ الْمُرْسَلَ وَالْمُنْقَطِعَ وَالْبَلَاغَاتِ، فَقَدْ قَالَ مُغْلَطَايْ: لَا فَرْقَ بَيْنَ الْمُوَطَّأِ وَالْبُخَارِيِّ فِي ذَلِكَ لِوُجُودِهِ أَيْضًا فِي الْبُخَارِيِّ مِنَ التَّعَالِيقِ وَنَحْوِهَا، لَكِنْ فَرَّقَ الْحَافِظُ بِأَنَّ مَا فِي الْمُوَطَّأِ كَذَلِكَ " هُوَ مَسْمُوعٌ لِمَالِكٍ غَالِبًا، وَمَا فِي الْبُخَارِيِّ قَدْ حُذِفَ إِسْنَادُهُ عَمَلًا لِأَغْرَاضٍ قُرِّرَتْ فِي التَّعْلِيقِ، فَظَهَرَ أَنَّ مَا فِي الْبُخَارِيِّ مِنْ ذَلِكَ لَا يُخْرِجُهُ عَنْ كَوْنِهِ جَرَّدَ فِيهِ الصَّحِيحَ بِخِلَافِ الْمُوَطَّأِ.

وَقَالَ الْحَافِظُ مُغْلَطَايْ: أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ الصَّحِيحَ مَالِكٌ، وَقَوْلُ الْحَافِظِ هُوَ صَحِيحٌ عِنْدَهُ وَعِنْدَ مَنْ يُقَلِّدُهُ عَلَى مَا اقْتَضَاهُ نَظَرُهُ مِنْ الِاحْتِجَاجِ بِالْمُرْسَلِ وَالْمُنْقَطِعِ وَغَيْرِهِمَا، لَا عَلَى الشَّرْطِ الَّذِي اسْتَقَرَّ عَلَيْهِ الْعَمَلُ فِي حَدِّ الصِّحَّةِ، تَعَقَّبَهُ السُّيُوطِيُّ بِأَنَّ مَا فِيهِ مِنَ الْمَرَاسِيلِ مَعَ كَوْنِهَا حُجَّةً عِنْدَهُ بِلَا شَرْطٍ وَعِنْدَ مَنْ وَافَقَهُ مِنَ الْأَئِمَّةِ هِيَ حُجَّةٌ عِنْدِنَا أَيْضًا؛ لِأَنَّ الْمُرْسَلَ حُجَّةٌ عِنْدَنَا إِذَا اعْتُضِدَ، وَمَا مِنْ مُرْسَلٍ فِي الْمُوَطَّأِ إِلَّا وَلَهُ عَاضِدٌ أَوْ عَوَاضِدُ، فَالصَّوَابُ إِطْلَاقُ أَنَّ الْمُوَطَّأَ صَحِيحٌ لَا يُسْتَثْنَى مِنْهُ شَيْءٌ. وَقَدْ صَنَّفَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ كِتَابًا فِي وَصْلِ مَا فِي الْمُوَطَّأِ مِنَ الْمُرْسَلِ وَالْمُنْقَطِعِ وَالْمُعْضَلِ قَالَ: وَجَمِيعُ مَا فِيهِ مِنْ قَوْلِهِ بَلَغَنِي، وَمِنْ قَوْلِهِ عَنِ الثِّقَةِ عِنْدَهُ مِمَّا لَمْ يُسْنِدْهُ أَحَدٌ وَسِتُّونَ حَدِيثًا كُلُّهَا مُسْنَدَةٌ مِنْ غَيْرِ طَرِيقِ مَالِكٍ إِلَّا أَرْبَعَةً لَا تُعْرَفُ:

أَحَدُهَا: إِنِّي لَا أَنْسَى وَلَكِنْ أُنَسَّى لِأَسُنَّ.

وَالثَّانِي: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُرِيَ أَعْمَارَ النَّاسِ قَبْلَهُ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ، فَكَأَنَّهُ تَقَاصَرَ أَعْمَارَ أُمَّتِهِ أَنْ لَا يَبْلُغُوا مِنَ الْعَمَلِ مِثْلَ الَّذِي بَلَغَهُ غَيْرُهُمْ فِي طُولِ الْعُمُرِ فَأَعْطَاهُ اللَّهُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ خَيْرًا مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ.
খতিব আল-বাগদাদি আবু বুকাইর আল-জুবাইরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রশিদ ইমাম মালিককে বললেন: ‘আমি আপনার কিতাবে আলি এবং ইবনে আব্বাসের কোনো উল্লেখ দেখছি না।’ তিনি উত্তরে বললেন: ‘তাঁরা আমার শহরে ছিলেন না এবং আমি তাঁদের বর্ণনাকারীদের সাথে সাক্ষাৎ করিনি।’ যদি এই বর্ণনাটি সঠিক হয়, তবে সম্ভবত তিনি তাঁদের থেকে অধিক বর্ণনার কথা বুঝিয়েছেন; অন্যথায় ‘মুওয়াত্তা’ গ্রন্থে তাঁদের থেকে বর্ণিত হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।

গাফিকি বলেন: ইমাম মালিক তাঁর যে সকল শাইখদের নাম উল্লেখ করেছেন তাঁদের সংখ্যা পঁচানব্বই জন। তাঁর সাহাবিদের সংখ্যা পঁচাশি জন, তাঁদের মধ্য থেকে নারীদের সংখ্যা তেইশ জন, আর তাবেয়িদের সংখ্যা আটচল্লিশ জন। তাঁদের ছয়জন ব্যতীত সকলেই মদিনাবাসী। তাঁরা হলেন: আবুয জুবাইর আল-মাক্কি, হুমাইদ ও আইয়ুব আল-বাসরিদ্বয়, আতা আল-খুরাসানি, আব্দুল কারিম আল-জাজারি এবং ইবরাহিম ইবনে আবি আইলা আশ-শামি।

ইবনে ফিহর ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন: ‘আল্লাহর কিতাবের পর জমিনের বুকে মালিকের কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কোনো কিতাব নেই।’ অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: ‘জমিনের বুকে আল্লাহর কিতাবের পর মালিকের কিতাবের চেয়ে কুরআনের অধিক নিকটবর্তী আর কোনো কিতাব নেই।’ অন্য শব্দে: ‘আল্লাহর কিতাবের পর মালিকের মুওয়াত্তার চেয়ে অধিক নির্ভুল আর কিছু নেই।’ অন্য বর্ণনায়: ‘আল্লাহর কিতাবের পর মুওয়াত্তার চেয়ে অধিক উপকারী আর কিছু নেই।’ একদল আলেম মুওয়াত্তাকে ‘সহিহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁরা ইবনুস সালাহর এই উক্তির প্রতিবাদ করেছেন যে: ‘বুখারিই প্রথম সহিহ কিতাব সংকলন করেছেন’। যদিও ইবনুস সালাহ ‘সহিহুল মুজাররাদ’ (কেবল সহিহ হাদিস সংবলিত) শব্দ ব্যবহার করেছেন মুওয়াত্তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে; কারণ ইমাম মালিক এতে কেবল সহিহ হাদিসই পৃথকভাবে রাখেননি, বরং মুরসাল, মুনকাতি এবং বালাগাতসমূহও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মুগলাতাই বলেছেন: এই ক্ষেত্রে মুওয়াত্তা এবং বুখারির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ বুখারিতেও তালিআত এবং অনুরূপ বর্ণনা বিদ্যমান। তবে হাফিজ ইবনে হাজার পার্থক্য করেছেন এভাবে যে, মুওয়াত্তায় যা রয়েছে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের সরাসরি শ্রবণকৃত, আর বুখারিতে যার সনদ বিলুপ্ত করা হয়েছে তা বিশেষ লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে যা তালিআত-এর আলোচনায় সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, বুখারিতে এ ধরণের বর্ণনা থাকলেও তা কেবল সহিহ হাদিস সংকলনের মর্যাদা থেকে তাকে বিচ্যুত করে না, যা মুওয়াত্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

হাফিজ মুগলাতাই বলেছেন: ‘প্রথম সহিহ কিতাব সংকলনকারী হলেন মালিক।’ হাফিজের এই বক্তব্যটি তাঁর নিজের কাছে এবং তাঁর অনুসারীদের কাছে সঠিক, যা মুরসাল, মুনকাতি এবং অন্যান্য বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে; এটি বিশুদ্ধতার সেই শর্ত অনুযায়ী নয় যা পরবর্তীতে স্থির হয়েছে। সুয়ূতী এর উত্তরে বলেছেন যে, মুওয়াত্তায় যে সকল মুরসাল বর্ণনা রয়েছে তা ইমাম মালিক এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারী ইমামদের নিকট শর্তহীনভাবে দলিল হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কাছেও তা দলিল। কারণ মুরসাল আমাদের নিকট দলিল হিসেবে গণ্য হয় যখন তা অন্য কোনো বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত হয়। আর মুওয়াত্তার এমন কোনো মুরসাল নেই যার কোনো না কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই। সুতরাং সঠিক মত হলো, সাধারণভাবে মুওয়াত্তাকে ‘সহিহ’ বলা যাবে এবং এর কোনো কিছুই এর ব্যতিক্রম হবে না। ইবনে আব্দুল বার মুওয়াত্তার মুরসাল, মুনকাতি এবং মুদাল বর্ণনাগুলোকে সনদযুক্ত করার বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন। তিনি বলেন: মুওয়াত্তায় ইমাম মালিকের ‘আমার কাছে পৌঁছেছে’ এবং ‘নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে’ বলে বর্ণিত যে সকল হাদিস অন্য কেউ মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেননি, তার সংখ্যা হলো ৬১টি। মালিকের সূত্র ছাড়াও এর সবগুলোই অন্য সূত্রে মুসনাদ হিসেবে পাওয়া যায়, কেবল চারটি ব্যতীত যেগুলোর সনদ পাওয়া যায় না:

তার একটি হলো: ‘আমি ভুলি না, বরং আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয় যাতে আমি সুন্নাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।’

দ্বিতীয়টি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর পূর্ববর্তী উম্মতদের জীবনকাল দেখানো হলো—অথবা আল্লাহ এ বিষয়ে যা চাইলেন। ফলে তিনি তাঁর উম্মতের হায়াতকে স্বল্প মনে করলেন যে, তারা দীর্ঘ হায়াত প্রাপ্ত অন্য উম্মতদের আমলের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তখন আল্লাহ তাঁকে ‘লাইলাতুল কদর’ দান করলেন যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٤)
وَالثَّالِثُ: قَوْلُ مُعَاذٍ: آخِرُ مَا أَوْصَانِي بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ وَضَعْتُ رِجْلِي فِي الْغَرْزِ أَنْ قَالَ: " «حَسِّنْ خُلُقُكَ لِلنَّاسِ» ".

وَالرَّابِعُ: إِذَا نَشَأَتْ حَجْرِيَّةٌ ثُمَّ تَشَاءَمَتْ فَتِلْكَ عَيْنٌ عُدَيْقَةٌ. وَالْمُوَطَّأُ مِنْ أَوَائِلِ مَا صُنِّفَ.

قَالَ فِي " مُقَدِّمَةِ فَتْحِ الْبَارِي ": اعْلَمْ أَنَّ آثَارَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ تَكُنْ فِي عَصْرِ الصَّحَابَةِ وَكِبَارِ تَابِعِيهِمْ مُدَوَّنَةً فِي الْجَوَامِعِ وَلَا مُرَتَّبَةً لِأَمْرَيْنِ؛ أَحَدِهِمَا: أَنَّهُمْ كَانُوا فِي ابْتِدَاءِ الْحَالِ قَدْ نُهُوا عَنْ ذَلِكَ كَمَا فِي " مُسْلِمٍ " خَشْيَةَ أَنْ يَخْتَلِطَ بَعْضُ ذَلِكَ بِالْقُرْآنِ.

وَالثَّانِي: سِعَةُ حِفْظِهِمْ وَسَيَلَانُ أَذْهَانِهِمْ، وَلِأَنَّ أَكْثَرَهُمْ كَانُوا لَا يَعْرِفُونَ الْكِتَابَةَ، ثُمَّ حَدَثَ فِي أَوَاخِرِ عَصْرِ التَّابِعِينَ تَدْوِينُ الْآثَارِ وَتَبْوِيبُ الْأَخْبَارِ لَمَّا انْتَشَرَ الْعُلَمَاءُ فِي الْأَمْصَارِ، وَكَثُرَ الِابْتِدَاعُ مِنَ الْخَوَارِجِ وَالرَّوَافِضِ وَمُنْكِرِي الْأَقْدَارِ، فَأَوَّلُ مَنْ جَمَعَ ذَلِكَ الرَّبِيعُ بْنُ صُبَيْحٍ وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ وَغَيْرُهُمَا، فَصَنَّفُوا كُلَّ بَابٍ عَلَى حِدَةٍ، إِلَى أَنْ قَامَ كِبَارُ أَهْلِ الطَّبَقَةِ الثَّالِثَةِ فِي مُنْتَصَفِ الْقَرْنِ الثَّانِي فَدَوَّنُوا الْأَحْكَامَ.

فَصَنَّفَ الْإِمَامُ مَالِكٌ " الْمُوَطَّأَ " وَتَوَخَّى فِيهِ الْقَوِيَّ مِنْ حَدِيثِ أَهْلِ الْحِجَازِ، وَمَزَجَهُ بِأَقْوَالِ الصَّحَابَةِ وَفَتَاوَى التَّابِعِينَ.

وَصَنَّفَ ابْنُ جُرَيْجٍ بِمَكَّةَ، وَالْأَوْزَاعِيُّ بِالشَّامِ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ بِالْكُوفَةِ، وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ بِالْبَصْرَةِ، وَهُشَيْمٌ بِوَاسِطٍ، وَمَعْمَرٌ بِالْيَمَنِ، وَابْنُ الْمُبَارَكِ بِخُرَاسَانَ، وَجَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ بِالرَّيِّ، وَكَانَ هَؤُلَاءِ فِي عَصْرٍ وَاحِدٍ فَلَا يُدْرَى أَيُّهُمْ سَبَقَ، ثُمَّ تَلَاهُمْ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ عَصْرِهِمْ فِي النَّسْجِ عَلَى مِنْوَالِهِمْ إِلَى أَنْ رَأَى بَعْضُ الْأَئِمَّةِ أَنْ يُفْرَدَ حَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً وَذَلِكَ عَلَى رَأْسِ الْمِائَتَيْنِ فَصَنَّفُوا الْمَسَانِيدَ، انْتَهَى.

وَقَالَ أَبُو طَالِبٍ الْمَكِّيُّ فِي " الْقُوتِ ": هَذِهِ الْكُتُبُ حَادِثَةٌ بَعْدَ سَنَةِ عِشْرِينَ أَوْ ثَلَاثِينَ وَمِائَةٍ، وَيُقَالُ أَوَّلُ مَا صُنِّفَ كِتَابُ ابْنِ جُرَيْجٍ بِمَكَّةَ فِي الْآثَارِ وَحُرُوفٍ مِنَ التَّفَاسِيرِ، ثُمَّ كِتَابُ مَعْمَرٍ بِالْيَمَنِ جَمَعَ فِيهِ سُنَنًا مَنْثُورَةً مُبَوَّبَةً، ثُمَّ " الْمُوَطَّأُ " بِالْمَدِينَةِ، ثُمَّ ابْنُ عُيَيْنَةَ " الْجَامِعُ "، وَالتَّفْسِيرُ فِي أَحْرُفٍ مِنْ عِلْمِ الْقُرْآنِ وَفِي الْأَحَادِيثِ الْمُتَفَرِّقَةِ، وَ " جَامِعُ " سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ صَنَّفَهُ أَيْضًا فِي هَذِهِ الْمُدَّةِ وَقِيلَ: إِنَّهَا صُنِّفَتْ سَنَةَ سِتِّينَ وَمِائَةٍ، انْتَهَى.

وَأَفَادَ فِي " الْفَتْحِ " أَنَّ أَوَّلَ مَنْ دَوَّنَ الْحَدِيثَ ابْنُ شِهَابٍ بِأَمْرِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، يَعْنِي كَمَا رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ مِنْ طَرِيقِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ زَبَالَةَ، عَنْ مَالِكٍ قَالَ: أَوَّلُ مَنْ دَوَّنَ الْعِلْمَ ابْنُ شِهَابٍ.

وَأَخْرَجَ الْهَرَوِيُّ فِي " ذَمِّ الْكَلَامِ " مِنْ طَرِيقِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ: لَمْ يَكُنِ الصَّحَابَةُ وَلَا التَّابِعُونَ يَكْتُبُونَ الْأَحَادِيثَ إِنَّمَا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا لَفْظًا وَيَأْخُذُونَهَا حِفْظًا إِلَّا كِتَابَ الصَّدَقَاتِ وَالشَّيْءَ الْيَسِيرَ الَّذِي يَقِفُ عَلَيْهِ الْبَاحِثُ بَعْدَ الِاسْتِقْصَاءِ، حَتَّى خِيفَ عَلَيْهِ الدُّرُوسُ، وَأَسْرَعَ فِي الْعُلَمَاءِ الْمَوْتُ، أَمَرَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَبَا بَكْرٍ الْحَزْمِيَّ فِيمَا كَتَبَ
এবং তৃতীয়টি হলো মুয়াজের উক্তি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সর্বশেষ যে উপদেশটি দিয়েছিলেন, যখন আমি রেকাবে আমার পা রেখেছিলাম, তা হলো: "মানুষের সাথে তোমার চরিত্রের সদ্ব্যবহার করো।"

এবং চতুর্থটি: যখন কোনো মেঘমালা পাথুরে ভূমি থেকে উৎপন্ন হয়, অতঃপর উত্তর দিকে অগ্রসর হয়, তখন তা প্রচুর বৃষ্টিবর্ষণকারী মেঘ। আর 'মুয়াত্তা' হলো সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম আদি কিতাব।

'ফাতহুল বারী'র ভূমিকায় বলা হয়েছে: জেনে রাখুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আসার (হাদিসসমূহ) সাহাবী এবং বড় তাবেয়ীদের যুগে কিতাব আকারে সংকলিত বা সুবিন্যস্ত ছিল না; এর দুটি কারণ ছিল। প্রথমটি হলো: শুরুর দিকে তাদের এটি করতে নিষেধ করা হয়েছিল, যেমনটি 'মুসলিম' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, যাতে কুরআনের সাথে হাদিসের কোনো অংশ মিশ্রিত না হয়ে যায়।

দ্বিতীয়টি হলো: তাদের মুখস্থ রাখার ব্যাপক ক্ষমতা এবং মেধার প্রখরতা; তাছাড়া তাদের অধিকাংশই লিখতে জানতেন না। পরবর্তীতে তাবেয়ীদের যুগের শেষভাগে আসার (হাদিস) সংকলন এবং সংবাদসমূহের (আখবার) অধ্যায় বিন্যাস শুরু হয় যখন আলেমরা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েন এবং খাওয়ারিজ, রাফেজি ও কদর অস্বীকারকারীদের পক্ষ থেকে বিদআত বেড়ে যায়। অতঃপর যারা প্রথম তা একত্রিত করেন তারা হলেন রাবী ইবনে সাবিহ, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ এবং আরও অনেকে। তারা প্রতিটি অধ্যায়কে আলাদাভাবে বিন্যাস করেন, যতক্ষণ না দ্বিতীয় হিজরি শতকের মাঝামাঝি সময়ে তৃতীয় স্তরের বিশিষ্ট ইমামগণ আবির্ভূত হয়ে শরিয়তের বিধানসমূহ সংকলন করেন।

ফলে ইমাম মালিক 'আল-মুয়াত্তা' সংকলন করেন এবং এতে তিনি হিজাজবাসীদের হাদিসসমূহের মধ্যে শক্তিশালী হাদিসগুলো চয়ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এবং এর সাথে সাহাবীদের বাণী ও তাবেয়ীদের ফতোয়াসমূহ মিশ্রিত করেন।

মক্কায় ইবনে জুরাইজ, শামে আওজায়ী, কুফায় সুফিয়ান সাওরি, বসরায় হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, ওয়াসিতে হুশাইম, ইয়ামেনে মা'মার, খোরাসানে ইবনুল মুবারক এবং রাই শহরে জারির ইবনে আব্দুল হামিদ কিতাব সংকলন করেন। তারা সবাই একই যুগে ছিলেন, তাই কে আগে সংকলন করেছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। অতঃপর তাদের সমসাময়িক আরও অনেকে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, যতক্ষণ না কিছু ইমাম মনে করলেন যে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসগুলোকেই স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করা উচিত। আর এটি ঘটেছিল দুই শত হিজরির শুরুতে, তখন তারা 'মুসনাদ' কিতাবসমূহ সংকলন করেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আবু তালিব মক্কী 'কুতুল কুলুব' গ্রন্থে বলেন: এই কিতাবগুলো ১২০ বা ১৩০ হিজরির পর সংকলিত হয়েছে। বলা হয় যে, সর্বপ্রথম সংকলিত কিতাব হলো মক্কায় ইবনে জুরাইজের 'আল-আসার' এবং তাফসিরের কিছু অংশ। এরপর ইয়ামেনে মা'মারের কিতাব, যাতে তিনি বিক্ষিপ্ত সুন্নাহগুলোকে অধ্যায়ভিত্তিকভাবে একত্রিত করেছেন। এরপর মদিনায় 'আল-মুয়াত্তা', এরপর ইবনে উয়াইনার 'আল-জামি' এবং কুরআন বিজ্ঞানের কিছু অংশ ও বিক্ষিপ্ত হাদিস সম্বলিত তাফসির। আর সুফিয়ান সাওরীর 'জামি'ও এই সময়ের মধ্যে সংকলিত হয়েছে। বলা হয় যে, এগুলো ১৬০ হিজরিতে সংকলিত হয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বপ্রথম হাদিস সংকলন করেন ইবনে শিহাব, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের আদেশে। অর্থাৎ আবু নুয়াইম যেভাবে মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে জাবালার সূত্রে ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সর্বপ্রথম ইলম (হাদিস) সংকলন করেন ইবনে শিহাব।

আর হারাবী 'দাম্মুল কালাম' গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ হাদিস লিখতেন না; বরং তারা মৌখিকভাবে তা বর্ণনা করতেন এবং মুখস্থ করে তা গ্রহণ করতেন। কেবল সদকার হিসাব-নিকাশ এবং অতি সামান্য কিছু বিষয় ব্যতীত যা গভীর অনুসন্ধানের পর গবেষক জানতে পারেন। অবশেষে যখন ইলম বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিল এবং ওলামাদের মৃত্যু ত্বরান্বিত হলো, তখন ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ আবু বকর আল-হাজমিকে এই মর্মে আদেশ দিলেন যা তিনি লিখেছিলেন...
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٥)
إِلَيْهِ: أَنِ انْظُرْ مَا كَانَ مِنْ سُنَّةِ أَوْ حَدِيثِ عُمَرَ فَاكْتُبْهُ.

وَقَالَ مَالِكٌ فِي " الْمُوَطَّأِ " رِوَايَةَ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ: أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبَ إِلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ: أَنِ انْظُرْ مَا كَانَ مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ سُنَّةٍ أَوْ حَدِيثٍ أَوْ نَحْوِ هَذَا فَاكْتُبْهُ لِي فَإِنِّي خِفْتُ دُرُوسَ الْعِلْمِ وَذَهَابَ الْعُلَمَاءِ. عَلَّقَهُ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ "، وَأَخْرَجَهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي " تَارِيخِ أَصْبَهَانَ " بِلَفْظِ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى الْآفَاقِ انْظُرُوا حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاجْمَعُوهُ. وَرَوَى ابْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ: كَانَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَكْتُبُ إِلَى الْأَمْصَارِ يُعَلِّمُهُمُ السُّنَّةَ وَالْفِقْهَ، وَيَكْتُبُ إِلَى الْمَدِينَةِ يَسْأَلُهُمْ عَمَّا مَضَى وَأَنْ يَعْمَلُوا بِمَا عِنْدَهُمْ، وَيَكْتُبُ إِلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنْ يَجْمَعَ السُّنَنَ، وَيَكْتُبَ بِهَا إِلَيْهِ، فَتُوُفِّيَ عُمَرُ وَقَدْ كَتَبَ ابْنُ حَزْمٍ كُتُبًا قَبْلَ أَنْ يَبْعَثَ بِهَا إِلَيْهِ. وَأَفَادَ فِي " الْمَدَارِكِ " أَنَّهُ لَمْ يُعْتَنَ بِكِتَابٍ مِنْ كُتُبِ الْحَدِيثِ وَالْعِلْمِ اعْتِنَاءَ النَّاسِ بِالْمُوَطَّأِ، فَعَدَّ نَحْوَ تِسْعِينَ رَجُلًا تَكَلَّمُوا عَلَيْهِ شُرُوحًا وَغَيْرَهَا مِنْ تَعَلُّقَاتِهِ، وَقَالَ فِيهِ عِيَاضٌ رحمه الله:

إِذَا ذُكِرَتْ كُتُبُ الْعُلُومِ فَحَيْهَلَ … بِكُتُبِ الْمُوَطَّأِ مِنْ تَصَانِيفِ مَالِكِ

أَصَحُّ أَحَادِيثًا وَأَثْبَتُ حُجَّةً … وَأَوْضَحُهَا فِي الْفِقْهِ نَهْجًا لِسَالِكِ

عَلَيْهِ مَضَى الْإِجْمَاعُ مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ … عَلَى رَغْمِ خَيْشُومِ الْحَسُودِ الْمُمَاحِكِ

فَعَنْهُ فَخُذْ عِلْمَ الدِّيَانَةِ خَالِصًا … وَمِنْهُ اسْتَفِدْ شَرْعَ النَّبِيِّ الْمُبَارَكِ

وَشُدَّ بِهِ كَفَّ الصِّيَانَةِ تَهْتَدِي … فَمَنْ حَادَ عَنْهُ هَالِكٌ فِي الْهَوَالِكِ
তাঁর কাছে: উমরের সুন্নাহ বা হাদিস যা কিছু আছে তা তালাশ করো এবং তা লিখে রাখো।

মুহাম্মদ ইবনে হাসানের বর্ণনায় ইমাম মালিক "মুয়াত্তা"-তে বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের জানিয়েছেন যে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযমের কাছে লিখেছিলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বা সুন্নাহ বা এই জাতীয় যা কিছু আছে তা তালাশ করো এবং তা আমার জন্য লিখে রাখো; কারণ আমি ইলম (জ্ঞান) মিটে যাওয়া এবং আলেমদের চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। ইমাম বুখারি তাঁর 'সহিহ'-তে এটি মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আবু নুআইম তাঁর 'তারিখে আসবাহান'-এ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ বিভিন্ন প্রান্তে লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস তালাশ করো এবং তা সংগ্রহ করো। ইবনে আবদুর রাজ্জাক ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: উমর ইবনে আবদুল আজিজ বিভিন্ন শহরে সুন্নাহ ও ফিকহ শেখানোর জন্য লিখে পাঠাতেন। তিনি মদিনাবাসীদের কাছে লিখে পাঠাতেন তাদের কাছে অতীতে যা ছিল সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এবং তাদের কাছে যা (ইলম) আছে সে অনুযায়ী আমল করতে। তিনি আবু বকর ইবনে হাযমকে সুন্নাহসমূহ সংগ্রহ করতে এবং তা লিখে তাঁর কাছে পাঠাতে লিখেছিলেন। অতঃপর উমর ইন্তেকাল করেন, অথচ ইবনে হাযম তাঁর কাছে পাঠানোর আগেই বেশ কিছু কিতাব লিখেছিলেন। "আল-মাদারিক"-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাদিস ও ইলমের কিতাবসমূহের মধ্যে মুয়াত্তার প্রতি মানুষের যতটুকু গুরুত্ব ও যত্ন ছিল, অন্য কোনো কিতাবের প্রতি তা ছিল না। তিনি প্রায় নব্বইজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যারা এর ওপর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাজ করেছেন। এ বিষয়ে কাযী আইয়াজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

যখন ইলমের কিতাবসমূহের আলোচনা হয়, তখন মালিকের সংকলিত মুয়াত্তার দিকেই ছুটে এসো … মালিকের সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে।

এটি হাদিসের বিচারে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও প্রমাণের দিক থেকে অধিক সুদৃঢ় … এবং পথিকের জন্য ফিকহ শাস্ত্রের পথে অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

এর ওপর প্রতিটি উম্মতের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে … যদিও তা হঠকারী ও হিংসুকদের জন্য অপমানজনক।

এর থেকেই তুমি দ্বীনের বিশুদ্ধ ইলম গ্রহণ করো … এবং এ থেকেই বরকতময় নবীর শরিয়ত থেকে উপকৃত হও।

একে হেফাযতের হাত দিয়ে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো, তবেই তুমি হেদায়েত পাবে … কেননা যে এটি থেকে বিচ্যুত হয়, সে ধ্বংসশীলদের সাথে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٦)
ثُمَّ إِنَّ الْإِمَامَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى ابْتَدَأَ بِقَوْلِهِ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

مُقْتَصِرًا عَلَيْهَا كَأَكْثَرِ الْمُتَقَدِّمِينَ دُونَ الْحَمْدِ وَالشَّهَادَةِ مَعَ وُرُودِ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: " «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِحَمْدِ اللَّهِ أَقْطَعُ» "، وَقَوْلِهِ: " «كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا شَهَادَةٌ فَهِيَ كَالْيَدِ الْجَذْمَاءِ» " أَخْرَجَهُمَا أَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ. قَالَ الْحَافِظُ: لِأَنَّ الْحَدِيثَيْنِ فِي كُلٍّ مِنْهُمَا مَقَالٌ سَلَّمْنَا صَلَاحِيَتَهُمَا لِلْحُجَّةِ، لَكِنْ لَيْسَ فِيهِمَا أَنَّ ذَلِكَ مُتَعَيِّنٌ بِالنُّطْقِ وَالْكِتَابَةِ مَعًا، فَلَعَلَّهُ حَمِدَ وَتَشَهَّدَ نُطْقًا عِنْدَ وَضْعِ الْكِتَابِ وَلَمْ يَكْتُبْ ذَلِكَ اقْتِصَارًا عَلَى الْبَسْمَلَةِ؛ لِأَنَّ الْقَدْرَ الَّذِي يَجْمَعُ الْأُمُورَ الثَّلَاثَةَ ذِكْرُ اللَّهِ وَقَدْ حَصَلَ بِهَا، وَيُؤَيِّدُهُ أَنَّ أَوَّلَ شَيْءٍ نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} [العلق: 1] [سُورَةُ الْعَلَقِ: الْآيَةُ 1] فَطَرِيقُ التَّأَسِّي بِهِ الِافْتِتَاحُ بِالْبَسْمَلَةِ وَالِاقْتِصَارُ عَلَيْهَا. وَيُؤَيِّدُهُ أَيْضًا وُقُوعُ كُتُبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُلُوكِ، وَكُتُبِهِ فِي الْقَضَايَا مُفْتَتَحَةً بِالتَّسْمِيَةِ دُونَ حَمْدَلَةٍ وَغَيْرِهَا كَمَا فِي حَدِيثِ أَبِي سُفْيَانَ فِي قِصَّةِ هِرَقْلَ، وَحَدِيثِ الْبَرَاءِ فِي قِصَّةِ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو فِي صُلْحِ الْحُدَيْبِيَةِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْأَحَادِيثِ، قَالَ: وَهَذَا يُشْعِرُ بِأَنَّ لَفْظَ الْحَمْدِ وَالشَّهَادَةِ إِنَّمَا يُحْتَاجُ إِلَيْهِ فِي الْخُطَبِ دُونَ الرَّسَائِلِ وَالْوَثَائِقِ، فَكَأَنَّ الْمُصَنِّفَ لَمَّا لَمْ يَفْتَتِحُ بِخُطْبَةٍ أَجْرَاهُ مَجْرَى الرَّسَائِلِ إِلَى أَهْلِ الْعِلْمِ لِيَنْتَفِعُوا بِمَا فِيهِ تَعَلُّمًا وَتَعْلِيمًا. وَأُجِيبُ أَيْضًا بِأَنَّهُ تَعَارَضَ عِنْدَهُ الِابْتِدَاءُ بِالتَّسْمِيَةِ أَوِ الْحَمْدِ، فَلَوِ ابْتَدَأَ بِالْحَمْدِ لَخَالَفَ الْعَادَةَ أَوِ الْبَسْمَلَةَ لَمْ يَعُدْ مُبْتَدِيًا بِالْحَمْدَلَةِ فَاكْتَفَى بِالتَّسْمِيَةِ. وَتَعَقَّبَ بِأَنَّهُ لَوْ جَمَعَ بَيْنَهُمَا لَكَانَ مُبْتَدِيًا بِالْحَمْدِ بِالنِّسْبَةِ إِلَى مَا بَعْدَ التَّسْمِيَةِ، وَهَذِهِ هِيَ النُّكْتَةُ فِي حَذْفِ الْوَاوِ فَيَكُونُ أَوْلَى لِمُوَافَقَةِ الْكِتَابِ الْعَزِيزِ، فَإِنَّ الصَّحَابَةَ افْتَتَحُوا كِتَابَتَهُمْ فِي الْإِمَامِ الْكَبِيرِ بِالتَّسْمِيَةِ ثُمَّ الْحَمْدِ تِلْوَهَا، وَتَبِعَهُمْ جَمِيعُ مَنْ كَتَبَ الْمُصْحَفَ بَعْدَهُمْ فِي جَمِيعِ الْأَمْصَارِ مَنْ يَقُولُ بِأَنَّ الْبَسْمَلَةَ آيَةٌ مِنْ أَوَّلِ الْفَاتِحَةِ وَمَنْ لَا يَقُولُ بِذَلِكَ. وَأُجِيبُ أَيْضًا بِأَنَّهُ رَاعَى قَوْلَهُ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [الحجرات: 1] (سُورَةُ الْحُجُرَاتِ: الْآيَةُ 1) فَلَمْ يُقَدِّمْ عَلَى كَلَامِ رَسُولِهِ شَيْئًا وَاكْتَفَى بِهِ عَنْ كَلَامِ نَفْسِهِ وَتَعَقَّبَ بِأَنَّهُ كَانَ يُمْكِنُهُ أَنْ يَأْتِيَ بِلَفْظِ الْحَمْدِ مِنْ كَلَامِ اللَّهِ تَعَالَى، وَأَيْضًا
অতঃপর ইমাম (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু করেছেন: পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

অধিকাংশ পূর্বসূরিদের ন্যায় তিনি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) ও শাহাদাহ (সাক্ষ্য প্রদান) উল্লেখ করেননি; যদিও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী বর্ণিত রয়েছে: "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বরকতহীন", এবং তাঁর বাণী: "যেকোনো খুতবা যাতে শাহাদাহ নেই, তা কুষ্ঠরোগী হাতের ন্যায়।" আবু দাউদ ও অন্যান্যরা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে উভয়টি বর্ণনা করেছেন। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: কারণ হাদীস দুটির প্রত্যেকটির সনদেই আপত্তি রয়েছে। যদি আমরা সেগুলোকে দলীল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য বলে মেনেও নেই, তবুও সেগুলোতে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে এটি মুখে উচ্চারণ এবং লেখনি—উভয় মাধ্যমেই হতে হবে। সুতরাং সম্ভবত তিনি কিতাবটি রচনার সময় মুখে হামদ ও শাহাদাহ পাঠ করেছিলেন, কিন্তু কেবল বাসমালাহর ওপর সীমাবদ্ধ থেকে তা লেখেননি; কারণ যে বিষয়টি এই তিনটি বিষয়কে একত্রিত করে তা হলো আল্লাহর স্মরণ, যা এর (বাসমালাহ) মাধ্যমেই অর্জিত হয়ে গেছে। এর সপক্ষে যুক্তি হলো কুরআনের সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো {পাঠ করুন আপনার রবের নামে} [আলাক: ১] [সূরা আল-আলাক: আয়াত ১]। সুতরাং এর অনুসরণের পদ্ধতি হলো বাসমালাহ দিয়ে শুরু করা এবং কেবল তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা। এর আরও সপক্ষে রয়েছে বাদশাহদের কাছে লেখা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চিঠিপত্রসমূহ এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাঁর লিখিত দলিলসমূহ হামদ ছাড়াই কেবল তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) দ্বারা শুরু করা হয়েছিল, যেমনটি হিরাক্লিয়াসের ঘটনায় আবু সুফিয়ানের হাদীসে এবং হুদায়বিয়ার সন্ধিকালীন সুহাইল বিন আমরের ঘটনায় বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে ও অন্যান্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি (হাফিজ) বলেন: এটি ইঙ্গিত দেয় যে হামদ ও শাহাদাহর শব্দগুলো কেবল খুতবা বা ভাষণে প্রয়োজন হয়, চিঠিপত্র বা দলিলে নয়। সুতরাং গ্রন্থকার যখন কোনো খুতবা দিয়ে কিতাবটি শুরু করেননি, তখন তিনি এটিকে জ্ঞানীদের প্রতি প্রেরিত বার্তার ন্যায় গণ্য করেছেন যাতে তারা এর শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন। এর উত্তরে আরও বলা হয়েছে যে, তাঁর নিকট তাসমিয়া নাকি হামদ দিয়ে শুরু করা হবে তা নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। যদি তিনি হামদ দিয়ে শুরু করতেন তবে তা প্রচলিত প্রথার বিপরীত হতো, আর যদি বাসমালাহর পর হামদ আনতেন তবে তিনি হামদ দিয়ে শুরুকারী হিসেবে গণ্য হতেন না; তাই তিনি কেবল তাসমিয়াতেই ক্ষান্ত হয়েছেন। এর ওপর আপত্তি জানানো হয়েছে যে, যদি তিনি উভয়টিকে একত্রিত করতেন, তবে তাসমিয়ার পরবর্তী অংশের বিচারে তিনি হামদ দিয়েই শুরুকারী হতেন। আর এটিই হলো ‘ওয়াও’ (এবং) বর্জনের নিগূঢ় রহস্য, যা মহাগ্রন্থ (কুরআন)-এর অনুসরণের জন্য অধিক উত্তম। কারণ সাহাবীগণ প্রধান ইমামের (মুসহাফের) সংকলনে শুরুতে তাসমিয়া এবং এরপরই হামদ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এবং তাঁদের পরবর্তী সকল ভূখণ্ডের মুসহাফ লেখকরা তাঁদের অনুসরণ করেছেন—চাই যারা বাসমালাহকে সূরা ফাতিহার অংশ মনে করেন কিংবা যারা তা মনে করেন না। এর উত্তরে আরও বলা হয়েছে যে, তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হয়ো না} [হুজুরাত: ১] (সূরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১)। তাই তিনি তাঁর রাসূলের বাণীর ওপর অন্য কিছুকে অগ্রাধিকার দেননি এবং নিজের কথার পরিবর্তে রাসূলের বাণীকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, তাঁর পক্ষে আল্লাহ তাআলার বাণী থেকে হামদ বা প্রশংসার শব্দগুলো নিয়ে আসা সম্ভব ছিল, এবং আরও...
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٧)
قَدْ قَدَّمَ التَّرْجَمَةَ وَهِيَ مِنْ كَلَامِهِ، وَكَذَا السَّنَدُ قَبْلَ الْحَدِيثِ.

وَالْجَوَابُ عَنْ ذَلِكَ بِأَنَّ التَّرْجَمَةَ وَالسَّنَدَ وَإِنْ كَانَا مُقَدَّمَيْنِ لَفْظًا لَكِنَّهُمَا مُتَأَخِّرَانِ تَقْدِيرًا، فِيهِ نَظَرٌ؛ أَيْ: لِأَنَّ التَّقْدِيمَ وَالتَّأْخِيرَ مِنْ أَحْكَامِ الظَّاهِرِ لَا التَّقْدِيرِ، فَهُوَ فِي الظَّاهِرِ مُقَدَّمٌ وَإِنْ كَانَ فِي نِيَّةِ التَّأْخِيرِ، وَأَبْعَدُ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ قَوْلُ مَنِ ادَّعَى أَنَّهُ ابْتَدَأَ بِخُطْبَةٍ فِيهَا حَمْدٌ وَشَهَادَةٌ فَحَذَفَهَا الرُّوَاةُ عَنْهُ، وَكَأَنَّ قَائِلَ هَذَا مَا رَأَى تَصَانِيفَ الْأَئِمَّةِ الَّذِينَ لَا يُحْصَوْنَ مِمَّنْ لَمْ يُقَدِّمْ فِي ابْتِدَاءِ تَصْنِيفِهِ خُطْبَةً وَلَمْ يَزِدْ عَلَى التَّسْمِيَةِ وَهُمُ الْأَكْثَرُ، كَمَالِكٍ وَعَبْدِ الرَّزَّاقِ وَأَحْمَدَ وَالْبُخَارِيِّ وَأَبِي دَاوُدَ فَيُقَالُ لَهُ فِي كُلِّ هَؤُلَاءِ: إِنَّ الرُّوَاةَ عَنْهُ حَذَفُوا ذَلِكَ كُلَّهُ، بَلْ يُحْمَلُ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ مِنْ صَنِيعِهِ، عَلَى أَنَّهُمْ حَمَدُوا لَفْظًا، أَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَلِكَ مُخْتَصًّا بِالْخُطَبِ دُونَ الْكُتُبِ كَمَا تَقَدَّمَ، وَلِهَذَا قَلَّ مَنِ افْتَتَحَ كِتَابَهُ مِنْهُمْ بِخُطْبَةِ حَمْدٍ وَتَشَهُّدٍ كَمَا صَنَعَهُ مُسْلِمٌ، وَقَدِ اسْتَقَرَّ عَمَلُ الْأَئِمَّةِ الْمُصَنِّفِينَ عَلَى افْتِتَاحِ كُتُبِ الْعِلْمِ بِالْبَسْمَلَةِ وَكَذَا مُعْظَمُ كُتُبِ الرَّسَائِلِ، وَاخْتَلَفَ الْقُدَمَاءُ فِيمَا إِذَا كَانَ الْكِتَابُ كُلُّهُ شِعْرًا فَجَاءَ عَنِ الشَّعْبِيِّ مَنْعُ ذَلِكَ. وَعَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: مَضَتِ السُّنَّةُ أَنْ لَا يُكْتَبَ فِي الشِّعْرِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ جَوَازُ ذَلِكَ، وَقَالَ الْخَطِيبُ: هُوَ الْمُخْتَارُ، انْتَهَى.

وَأَخْرَجَ الْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " «أَنَّ عُثْمَانَ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَقَالَ: " هُوَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى وَمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اسْمِ اللَّهِ الْأَكْبَرِ إِلَّا كَمَا بَيْنَ سَوَادِ الْعَيْنِ وَبَيَاضِهَا مِنَ الْقُرْبِ» ".

وَرَوَى ابْنُ مَرْدَوَيْهِ عَنْ جَابِرٍ: " لَمَّا نَزَلَتْ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] (سُورَةُ الْفَاتِحَةِ: الْآيَةُ 1) هَرَبَ الْغَيْمُ إِلَى الْمَشْرِقِ وَسَكَنَتِ الرِّيَاحُ وَمَاجَ الْبَحْرُ وَأَصْغَتِ الْبَهَائِمُ بِآذَانِهَا وَرُجِمَتِ الشَّيَاطِينُ وَحَلَفَ اللَّهُ بِعِزَّتِهِ وَجَلَالِهِ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْمُهُ عَلَى شَيْءٍ إِلَّا بَارَكَ فِيهِ ".
তিনি শিরোনাম উপস্থাপন করেছেন যা তাঁর নিজের কথা, অনুরূপভাবে হাদীসের পূর্বে সনদও উপস্থাপন করেছেন।

এর উত্তরে বলা হয় যে, যদিও শিরোনাম এবং সনদ শব্দগতভাবে অগ্রবর্তী, কিন্তু পরোক্ষভাবে (তাকদিরান) তারা পরবর্তী—এ কথার অবকাশ রয়েছে। অর্থাৎ, অগ্রগামী হওয়া এবং পশ্চাৎগামী হওয়া হলো বাহ্যিক বিষয়ের বিধান, পরোক্ষ বিষয়ের নয়। সুতরাং তা বাহ্যিকভাবে অগ্রবর্তীই হবে, যদিও মনে মনে তা পরে আনার নিয়ত থাকে। আর এ সবের চেয়েও দূরবর্তী হলো ওই ব্যক্তির দাবি যে বলে যে, তিনি একটি খুতবা (প্রারম্ভিক ভাষণ) দিয়ে শুরু করেছিলেন যাতে আল্লাহর প্রশংসা ও সাক্ষ্যপ্রদান (শাহাদাহ) ছিল, কিন্তু বর্ণনাকারীরা তা তাঁর থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। মনে হয় এই দাবিদার সেই অসংখ্য ইমামদের কিতাবসমূহ দেখেননি যারা তাঁদের কিতাবের শুরুতে খুতবা উপস্থাপন করেননি এবং বিসমিল্লাহর অতিরিক্ত কিছু লিখেননি; আর তাঁরাই সংখ্যায় অধিক। যেমন মালেক, আবদুর রাজ্জাক, আহমাদ, বুখারী এবং আবু দাউদ। তবে কি তাদের সবার সম্পর্কেও বলা হবে যে, বর্ণনাকারীরা তাদের থেকে সেই সবকিছু বাদ দিয়ে দিয়েছেন? বরং একে তাদের নিজস্ব কর্ম হিসেবেই গণ্য করা উচিত। হতে পারে তারা মুখে আল্লাহর প্রশংসা পাঠ করেছেন, অথবা তারা মনে করেছেন যে এটি খুতবা বা ভাষণের জন্য নির্দিষ্ট, কিতাবের জন্য নয়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই কারণেই তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই হামদ ও তাশাহহুদ সংবলিত খুতবা দিয়ে কিতাব শুরু করেছেন যেমনটি মুসলিম করেছেন। গ্রন্থকার ইমামগণের আমল ইলমি কিতাবসমূহ বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করার ওপরই স্থির হয়েছে, অনুরূপভাবে অধিকাংশ চিঠিপত্র বা ছোট কিতাবসমূহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আর পূর্ববর্তীগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, যদি পুরো কিতাবটি কবিতা হয় (তবে শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা যাবে কি না)। শাবী থেকে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। যুহরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সুন্নাত এভাবেই চলে আসছে যে কবিতায় বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম লেখা হয় না।" আর সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এর বৈধতা বর্ণিত হয়েছে। খতীব বলেন: "এটাই পছন্দনীয় মত।" সমাপ্ত।

হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন ইবনে আব্বাস থেকে: "উসমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এটি আল্লাহ তাআলার নামসমূহের মধ্য হতে একটি নাম। এর এবং আল্লাহর মহান নামের (ইসমে আযম) মাঝে কেবল চোখের মণি ও তার সাদা অংশের মধ্যকার দূরত্বের মতোই নৈকট্য রয়েছে।"

ইবনে মারদুওয়াইহ জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে (সূরা ফাতিহা: আয়াত ১) নাযিল হলো, তখন মেঘমালা পূর্ব দিকে পলায়ন করল, বায়ুপ্রবাহ শান্ত হলো, সমুদ্রে তরঙ্গ সৃষ্টি হলো, চতুষ্পদ জন্তুসমূহ তাদের কান পেতে মনোযোগী হলো, শয়তানদেরকে বিতাড়িত করা হলো এবং আল্লাহ তাঁর সম্মান ও মহিমার কসম খেয়ে বললেন যে, তাঁর নাম যে জিনিসের ওপর স্মরণ করা হবে তাতে তিনি অবশ্যই বরকত দান করবেন।"
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٨)
‌‌[وُقُوتِ الصّلاةِ] ‌‌[بَاب وُقُوتِ الصَّلَاةِ]

ِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ بَاب وُقُوتِ الصَّلَاةِ

قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثِيُّ عَنْ مَالِكٍ بْن أَنَس عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ «مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ فَصَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ بِهَذَا أُمِرْتُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ اعْلَمْ مَا تُحَدِّثُ بِهِ يَا عُرْوَةُ أَوَ إِنَّ جِبْرِيلَ هُوَ الَّذِي أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الصَّلَاةِ» قَالَ عُرْوَةُ كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ

ـــــــــــــــــــــــــــــ

1 - كِتَابُ وُقُوتِ الصَّلَاةِ

1 - بَابُ وُقُوتِ الصَّلَاةِ

بِضَمِّ الْوَاوِ وَالْقَافِ الْمَفْرُوضَةِ

وَقَدَّمَ ذَا الْبَابَ عَلَى سَائِرِ أَبْوَابِ الْكِتَابِ؛ لِأَنَّهَا أَصْلٌ فِي وُجُوبِ الصَّلَاةِ، إِذْ هِيَ عِبَادَةٌ مُقَدَّرَةٌ بِالْأَوْقَاتِ.

قَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} [النساء: 103] (سُورَةُ النِّسَاءِ: الْآيَةُ 103) أَيْ: فَرْضًا مُوَقَّتًا، فَإِذَا دَخَلَ الْوَقْتُ وَجَبَ الْوُضُوءُ وَغَيْرُهُ، فَلِذَا قَدَّمَ الْأَوْقَاتَ عَلَى غَيْرِهَا.

وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ بُكَيْرٍ، أَوْقَاتٌ: جَمْعُ قِلَّةٍ وَهُوَ أَظْهَرُ لِكَوْنِهَا خَمْسَةً، لَكِنْ وَجْهُ رِوَايَةِ الْأَكْثَرِينَ " وُقُوتٌ " جَمْعُ كَثْرَةٍ أَنَّهَا وَإِنْ كَانَتْ خَمْسَةً لَكِنْ لِتَكَرُّرِهَا كُلَّ يَوْمٍ صَارَتْ كَأَنَّهَا كَثِيرَةٌ، كَقَوْلِهِمْ: شُمُوسٌ وَأَقْمَارٌ بِاعْتِبَارِ تَرَدُّدِهِمَا مَرَّةً بَعْدَ مَرَّةٍ، وَلِأَنَّ الصَّلَوَاتِ فُرِضَتْ خَمْسِينَ وَثَوَابَهَا كَثَوَابِ الْخَمْسِينَ كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي حَدِيثِ الْمِعْرَاجِ: " «هُنَّ خَمْسٌ وَهُنَّ خَمْسُونَ» "، وَلِأَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنَ الْجَمْعَيْنِ قَدْ يَقُومُ مَقَامَ الْآخَرِ تَوَسُّعًا، أَوْ لِأَنَّهُمَا يَشْتَرِكَانِ فِي الْمَبْدَأِ مِنْ ثَلَاثَةٍ وَيَفْتَرِقَانِ فِي الْغَايَةِ عَلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ بَعْضُ الْمُحَقِّقِينَ، أَوْ لِأَنَّ لِكُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثَةَ أَوْقَاتٍ: اخْتِيَارِيٌّ وَضَرُورِيٌّ وَقَضَاءٌ.

(قَالَ) الرَّاوِي عَنْ يَحْيَى وَهُوَ ابْنُهُ عُبَيْدُ اللَّهِ - بِضَمِّ الْعَيْنِ - اللَّيْثِيُّ فَقِيهُ قُرْطُبَةَ وَمُسْنِدُ الْأَنْدَلُسِ كَانَ ذَا حُرْمَةٍ عَظِيمَةٍ وَجَلَالَةٍ رَوَى عَنْ خَلْقٍ كَثِيرٍ، تُوُفِّيَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَتَيْنِ: 2 1 - (حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ يَحْيَى) بْنِ كَثِيرِ بْنِ وِسْلَاسَ - بِكَسْرِ الْوَاوِ وَسِينَيْنِ مُهْمَلَتَيْنِ؛ الْأُولَى سَاكِنَةٌ وَبَيْنَهُمَا لَامُ أَلِفٍ وَيُزَادُ فِيهِ نُونٌ فَيُقَالُ وِسْلَاسِنُ، وَمَعْنَاهُ بِالْبَرْبَرِيَّةِ سَيِّدُهُمْ، كَمَا ضَبَطَهُ صَاحِبُ الْوَفَيَاتِ - أَسْلَمَ وِسْلَاسُ عَلَى يَدِ يَزِيدَ بْنِ عَامِرٍ اللَّيْثِيِّ لَيْثِ بَنِي كِنَانَةَ فَقِيلَ
[সালাতের ওয়াক্তসমূহ] [সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায়]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায়।

তিনি বলেন, লাইসী আমার নিকট মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আযীয একদিন সালাত বিলম্বিত করলেন। তখন উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে অবহিত করলেন যে, মুগীরাহ ইবনে শু'বাহ একদিন কুফায় থাকাকালীন সালাত বিলম্বিত করেছিলেন। তখন আবু মাসউদ আল-আনসারী তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন: "হে মুগীরাহ, এটা কী? আপনি কি জানেন না যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হলেন এবং সালাত আদায় করলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; অতঃপর তিনি আবার সালাত আদায় করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; অতঃপর তিনি আবার সালাত আদায় করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; অতঃপর তিনি আবার সালাত আদায় করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করলেন; অতঃপর তিনি আবার সালাত আদায় করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (জিবরাঈল) বললেন: আমি এভাবেই আদিষ্ট হয়েছি।" তখন উমর ইবনে আব্দুল আযীয বললেন: "হে উরওয়াহ! আপনি কী বর্ণনা করছেন তা ভেবে দেখুন! জিবরাঈলই কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন?" উরওয়াহ বললেন: "বাশীর ইবনে আবু মাসউদ আল-আনসারী তাঁর পিতা থেকে এভাবেই বর্ণনা করতেন।"

ـــــــــــــــــــــــــــــ

১ - সালাতের ওয়াক্তসমূহের কিতাব

১ - সালাতের ওয়াক্তসমূহের পরিচ্ছেদ

ওয়াও এবং কাফ বর্ণদ্বয়ের পেশসহ (উকুউত), যার অর্থ নির্ধারিত ফরযসমূহ।

তিনি এই পরিচ্ছেদকে গ্রন্থের অন্যান্য পরিচ্ছেদের ওপর অগ্রগণ্য করেছেন; কারণ সালাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই মূল ভিত্তি, কেননা এটি সময়ের দ্বারা নির্ধারিত একটি ইবাদত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর সময়ের দ্বারা নির্ধারিত ফরয।" [সূরা আন-নিসা: ১০৩] অর্থাৎ: সময়-নির্ধারিত ফরয। সুতরাং যখন ওয়াক্ত শুরু হয়, তখন ওযু এবং অন্যান্য বিষয় ওয়াজিব হয়; এই কারণেই তিনি অন্যান্য বিষয়ের আগে ওয়াক্তের আলোচনাকে অগ্রগণ্য করেছেন।

ইবনে বুকাইরের বর্ণনায় 'আওকাত' এসেছে; এটি স্বল্প সংখ্যাবাচক বহুবচন এবং সালাত পাঁচটি হওয়ার কারণে এটিই অধিক স্পষ্ট। তবে অধিকাংশের বর্ণনায় 'উকুউত' (অধিক সংখ্যাবাচক বহুবচন) আসার কারণ হলো, যদিও সালাত পাঁচটি, কিন্তু প্রতিদিন এর পুনরাবৃত্তির কারণে তা অধিক বলে মনে হয়। যেমন বলা হয়ে থাকে: 'শুমুস' (অনেক সূর্য) ও 'আকমার' (অনেক চাঁদ), বারবার সেগুলোর যাতায়াতের বিবেচনায়। এছাড়া সালাত যেহেতু পঞ্চাশটি ফরয করা হয়েছিল এবং এর সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান, যেমনটি মিরাজের হাদীসে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এগুলো পাঁচটি আবার এগুলোই পঞ্চাশটি।" এছাড়া ভাষাগত প্রসারের উদ্দেশ্যে এক বহুবচন অন্য বহুবচনের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। অথবা কোনো কোনো গবেষকের মতে উভয় শব্দই তিন থেকে শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে এক হলেও শেষ সীমার ক্ষেত্রে ভিন্ন। অথবা প্রতিটি সালাতের তিনটি ওয়াক্ত রয়েছে: পছন্দনীয় (ইখতিয়ারী), জরুরি (দরুরী) এবং কাযা।

(বলেন) ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনাকারী, তিনি হলেন তাঁর পুত্র উবাইদুল্লাহ -আইন বর্ণে পেশসহ- আল-লাইসী। তিনি কর্ডোভার ফকীহ এবং আন্দালুসের হাদীস বিশারদ ছিলেন। তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও মর্যাদাবান ছিলেন। তিনি বহু লোকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ২৭৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন: ২ ১ - (আমার নিকট ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন) তিনি ইবনে কাসীর ইবনে উইসলাস -ওয়াও বর্ণে যের এবং দুই সীনসহ; প্রথমটি সুকুনযুক্ত এবং উভয়ের মাঝে একটি আলিফ রয়েছে। এতে নূন যোগ করে 'উইসলাসিন'ও বলা হয়। বার্বার ভাষায় এর অর্থ হলো 'তাদের নেতা', যেমনটি 'ওয়াফায়াত' গ্রন্থের লেখক নির্দিষ্ট করেছেন-। উইসলাস ইয়াযীদ ইবনে আমির আল-লাইসী আল-কিনানীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন, তাই তাকে লাইসী বলা হয়।

(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٦٩)
(اللَّيْثِيُّ) مَوْلَاهُمُ الْقُرْطُبِيُّ أَبُو مُحَمَّدٍ فَقِيهٌ ثِقَةٌ قَلِيلُ الْحَدِيثِ وَلَهُ أَوْهَامٌ، مَاتَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَثَلَاثِينَ وَمِائَتَيْنِ عَلَى الصَّحِيحِ عَنْ ثِنْتَيْنِ وَثَمَانِينَ سَنَةً، سَمِعَ الْمُوَطَّأَ لِأَوَّلِ نَشْأَتِهِ مِنْ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْمَعْرُوفِ بِشَبَطُونَ، ثُمَّ رَحَلَ وَهُوَ ابْنُ ثَمَانٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً إِلَى مَالِكٍ فَسَمِعَ مِنْهُ الْمُوَطَّأَ غَيْرَ أَبْوَابٍ فِي كِتَابِ الِاعْتِكَافِ شَكَّ فِيهَا فَحَدَّثَ بِهَا عَنْ زِيَادٍ، وَكَانَ يَحْيَى عِنْدَ مَالِكٍ فَقِيلَ: هَذَا الْفِيلُ فَخَرَجُوا لِرُؤْيَتِهِ وَلَمْ يَخْرُجْ فَقَالَ لَهُ مَالِكٌ: لِمَ لَمْ تَخْرُجْ لِنَظَرِ الْفِيلِ وَهُوَ لَا يَكُونُ بِبِلَادِكَ؟ فَقَالَ: لَمْ أَرْحَلْ لِأَنْظُرَ الْفِيلَ وَإِنَّمَا رَحَلْتُ لِأُشَاهِدَكَ وَأَتَعَلَّمَ مِنْ عِلْمِكَ وَهَدْيِكَ، فَأَعْجَبَهُ ذَلِكَ وَسَمَّاهُ عَاقِلَ الْأَنْدَلُسِ، وَإِلَيْهِ انْتَهَتْ رِيَاسَةُ الْفِقْهِ بِهَا وَانْتَشَرَ بِهِ الْمَذْهَبُ، وَتَفَقَّهَ بِهِ مَنْ لَا يُحْصَى، وَعُرِضَ لِلْقَضَاءِ فَامْتَنَعَ فَعَلَتْ رُتْبَتُهُ عَلَى الْقُضَاةِ وَقُبِلَ قَوْلُهُ عِنْدَ السُّلْطَانِ، فَلَا يُوَلَّى قَاضِيًا فِي أَقْطَارِهِ إِلَّا بِمَشُورَتِهِ وَاخْتِيَارِهِ، وَلَا يُشِيرُ إِلَّا بِأَصْحَابِهِ فَأَقْبَلَ النَّاسُ عَلَيْهِ لِبُلُوغِ أَغْرَاضِهِمْ وَهَذَا سَبَبُ اشْتِهَارِ الْمُوَطَّأِ بِالْمَغْرِبِ مِنْ رِوَايَتِهِ دُونَ غَيْرِهِ، وَكَانَ حَسَنَ الْهَدْيِ وَالسَّمْتِ يُشْبِهُ سَمْتُهُ سَمْتَ مَالِكٍ، قَالَ: لَمَّا وَدَّعْتُ مَالِكًا سَأَلْتُهُ أَنْ يُوصِيَنِي. فَقَالَ لِي: عَلَيْكَ بِالنَّصِيحَةِ لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ، قَالَ: وَقَالَ لِي اللَّيْثُ مِثْلَ ذَلِكَ (عَنْ مَالِكِ) بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرِ بْنِ عَمْرٍو الْأَصْبَحِيِّ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْمَدَنِيِّ الْفَقِيهِ إِمَامِ دَارِ الْهِجْرَةِ أَكْمَلِ الْعُقَلَاءِ وَأَعْقَلِ الْفُضَلَاءِ، رَأْسِ الْمُتْقِنِينَ، وَكَبِيرِ الْمُتَثَبِّتِينَ، حَتَّى قَالَ الْبُخَارِيُّ: أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ كُلِّهَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، مَاتَ سَنَةَ تِسْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ، وَكَانَ مَوْلِدُهُ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَتِسْعِينَ، وَقَالَ الْوَاقِدِيُّ: بَلَغَ تِسْعِينَ سَنَةً (عَنْ) مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ - بِضَمِّ الْعَيْنِ - بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بِفَتْحِهَا (ابْنِ شِهَابٍ) بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ زُهْرَةَ بْنِ كِلَابٍ الْقُرَشِيِّ الزُّهْرِيِّ أَبِي بَكْرٍ الْفَقِيهِ الْحَافِظِ الْمُتَّفَقِ عَلَى جَلَالَتِهِ وَإِتْقَانِهِ، لَقِيَ عَشَرَةً مِنَ الصَّحَابَةِ وَمَاتَ سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ وَقِيلَ: قَبْلَهَا بِسَنَةٍ أَوْ سَنَتَيْنِ، لَهُ فِي الْمُوَطَّأِ مَرْفُوعًا مِائَةٌ وَثَلَاثَةٌ وَثَلَاثُونَ حَدِيثًا (أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ) بْنِ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي الْعَاصِي بْنِ أُمَيَّةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ الْأُمَوِيَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، أُمُّهُ أُمُّ عَاصِمٍ بِنْتُ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَلِيَ إِمْرَةَ الْمَدِينَةِ لِلْوَلِيدِ، وَكَانَ مَعَ سُلَيْمَانَ كَالْوَزِيرِ، وَوَلِيَ الْخِلَافَةَ بَعْدَهُ فَعُدَّ مِنَ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ، مَاتَ فِي رَجَبٍ سَنَةَ إِحْدَى وَمِائَةٍ وَلَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً، وَمُدَّةُ خِلَافَتِهِ سَنَتَانِ وَنِصْفٌ.

(أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا) أَيْ: صَلَاةَ الْعَصْرِ كَمَا لِلْبُخَارِيِّ مِنْ طَرِيقِ اللَّيْثِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، زَادَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ فِي إِمَارَتِهِ عَلَى الْمَدِينَةِ، وَلِأَبِي دَاوُدَ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ أَنَّ عُمَرَ كَانَ قَاعِدًا عَلَى الْمِنْبَرِ فَعُرِفَ بِهَذَا سَبَبُ تَأْخِيرِهِ،
(আল-লাইসী) তাদের মুক্তদাস, আল-কুরতুবী, আবু মুহাম্মাদ; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ফকিহ ছিলেন, হাদিস বর্ণনায় তাঁর স্বল্পতা ছিল এবং তাঁর কিছু ভ্রান্তি (আওহাম) রয়েছে। সহীহ মতানুযায়ী তিনি দুইশত চৌত্রিশ হিজরি সালে বিরাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর প্রথম জীবনে যিয়াদ ইবনে আবদুর রহমান আবু আবদিল্লাহ (যিনি শাবাতুন নামে পরিচিত) এর নিকট মুয়াত্তা শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি আটাশ বছর বয়সে মালিকের (ইমাম মালিক) নিকট সফর করেন এবং তাঁর নিকট থেকে মুয়াত্তা শ্রবণ করেন, তবে ইতিকাফ অধ্যায়ের কিছু অনুচ্ছেদ ব্যতীত; যা নিয়ে তাঁর সন্দেহ ছিল, তাই তিনি সেগুলো যিয়াদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া যখন ইমাম মালিকের নিকট ছিলেন, তখন বলা হলো: "এই তো হাতি এসেছে!" তখন তারা হাতি দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ল, কিন্তু তিনি বের হলেন না। মালিক তাঁকে বললেন: "হাতি দেখার জন্য তুমি কেন বের হলে না, অথচ তোমার দেশে তো হাতি নেই?" তিনি উত্তর দিলেন: "আমি হাতি দেখার জন্য আসিনি, বরং আপনার দর্শন লাভের জন্য এবং আপনার জ্ঞান ও আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সফর করেছি।" এতে মালিক মুগ্ধ হলেন এবং তাঁকে "আন্দালুসের বুদ্ধিমান" (আকিলুল আন্দালুস) বলে অভিহিত করলেন। তাঁর মাধ্যমেই সেখানে (আন্দালুসে) ফিকহ শাস্ত্রের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মাযহাব বিস্তার লাভ করে। অগণিত মানুষ তাঁর নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন। তাঁকে বিচারকের (কাযী) পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, ফলে বিচারকদের উপরেও তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং সুলতানের নিকট তাঁর কথা গ্রহণযোগ্যতা পায়। তাঁর পরামর্শ ও পছন্দ ব্যতীত তাঁর অঞ্চলসমূহের কোনো স্থানেই কোনো বিচারক নিয়োগ করা হতো না। তিনি কেবল তাঁর সঙ্গীদের কথাই পরামর্শ দিতেন, তাই মানুষ তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাঁর প্রতি ঝুঁকে পড়ত। আর এটাই ছিল অন্য বর্ণনার পরিবর্তে তাঁর বর্ণনার সূত্রে মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা ও মরক্কো) অঞ্চলে মুয়াত্তা প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ। তিনি উত্তম আদর্শ ও গাম্ভীর্যের অধিকারী ছিলেন, তাঁর গাম্ভীর্য ইমাম মালিকের গাম্ভীর্যের সদৃশ ছিল। তিনি বলেন: যখন আমি ইমাম মালিকের নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম, তখন তাঁকে আমাকে অসিয়ত করার জন্য অনুরোধ করলাম। তিনি আমাকে বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য এবং মুসলিমদের ইমাম ও সাধারণ জনগণের জন্য নসিহতকে (শুভাকাঙ্ক্ষিতা) নিজের জন্য আবশ্যক করে নাও।" তিনি বলেন: আল-লাইসও (ইমাম লাইস ইবনে সাদ) আমাকে ইমাম মালিকের মতোই কথা বলেছিলেন (মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির ইবনে আমর আল-আসবাহি, আবু আবদিল্লাহ আল-মাদানি, ফকিহ, দারুল হিজরতের ইমাম, জ্ঞানীদের মধ্যে পূর্ণতম এবং গুণীজনদের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান, পারদর্শী মুতকিনদের শিরোমণি এবং নির্ভরযোগ্যদের শ্রেষ্ঠ। এমনকি বুখারি বলেছেন: সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো—মালিক, নাফি’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি একশত ঊনআশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম হয়েছিল তিরানব্বই হিজরিতে। ওয়াকিদি বলেছেন: তিনি নব্বই বছর বয়সে উপনীত হয়েছিলেন। তাঁর সূত্রে বর্ণিত) মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ (উবাইদ-এর আইন বর্ণে পেশ সহকারে) ইবনে আবদুল্লাহ (আইন বর্ণে জবর সহকারে), (ইবনে শিহাব) ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জুহরা ইবনে কিলাব আল-কুরাশি আয-জুহরি, আবু বকর, ফকিহ ও হাফিয; যার মহত্ত্ব ও পারদর্শিতার বিষয়ে সকলে একমত। তিনি দশজন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং একশত পঁচিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কেউ বলেছেন এর এক বা দুই বছর পূর্বে। মুয়াত্তায় তাঁর মারফু সূত্রে বর্ণিত একশত তেত্রিশটি হাদিস রয়েছে। (নিশ্চয় উমর ইবনে আবদুল আজিজ) ইবনে মারওয়ান ইবনে হাকাম ইবনে আবিল আস ইবনে উমাইয়া ইবনে আবদু শামস ইবনে আবদু মানাফ আল-উমায়ি, আমিরুল মুমিনীন। তাঁর মাতা হলেন উম্মে আসিম বিনতে আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব। তিনি ওয়ালিদের শাসনামলে মদিনার গভর্নর নিযুক্ত হন এবং সুলাইমানের শাসনামলে মন্ত্রীর ন্যায় ছিলেন। এরপর তিনি খেলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন এবং তাঁকে খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। তিনি একশত এক হিজরির রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। তাঁর খেলাফতের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

(একদিন তিনি সালাত বিলম্বিত করেছিলেন) অর্থাৎ আসরের সালাত, যেমনটি বুখারিতে লাইসের সূত্রে জুহরি থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আবদুল বার বর্ণনা করেছেন যে, এটি ছিল মদিনার গভর্নর থাকাকালীন সময়। আবু দাউদে অন্য সূত্রে বর্ণিত আছে যে, উমর মিম্বরে বসা ছিলেন, এর মাধ্যমে তাঁর সালাত বিলম্বের কারণ জানা যায়।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٠)
وَكَأَنَّهُ كَانَ مَشْغُولًا إِذْ ذَاكَ بِشَيْءٍ مِنْ مَصَالِحِ الْمُسْلِمِينَ.

قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: ظَاهِرُ سِيَاقِهِ أَنَّهُ فَعَلَ ذَلِكَ يَوْمًا لَا أَنَّ ذَلِكَ كَانَ عَادَةً لَهُ وَإِنْ كَانَ أَهْلُ بَيْتِهِ مَعْرُوفِينَ بِذَلِكَ، قَالَ: وَالْمُرَادُ أَنَّهُ أَخَّرَهَا حَتَّى خَرَجَ الْوَقْتُ الْمُسْتَحَبُّ لَا أَنَّهُ أَخَّرَهَا حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ.

قَالَ الْحَافِظُ: وَيُؤَيِّدُهُ رِوَايَةُ اللَّيْثِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عِنْدَ الْبُخَارِيِّ فِي بَدْءِ الْخَلْقِ، وَلَفْظُهُ: " أَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا " وَبِهِ تَظْهَرُ مُنَاسَبَةُ ذِكْرِ عُرْوَةَ حَدِيثَ عَائِشَةَ بَعْدَ حَدِيثِ أَبِي مَسْعُودٍ، وَمَا رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ: أَمْسَى عُمَرُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَهَا مَحْمُولٌ عَلَى أَنَّهُ قَارَبَ الْمَسَاءَ لَا أَنَّهُ دَخَلَ فِيهِ وَقَدْ رَجَعَ عُمَرُ عَنْ ذَلِكَ، فَرَوَى الْأَوْزَاعِيُّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَعْنِي فِي خِلَافَتِهِ كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ فِي السَّاعَةِ الثَّامِنَةِ وَالْعَصْرَ فِي السَّاعَةِ الْعَاشِرَةِ حِينَ تَدَخُلُ (فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ) بْنِ الْعَوَّامِ بْنِ خُوَيْلِدٍ الْأَسَدِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْمَدَنِيُّ التَّابِعِيُّ الْكَبِيرُ الثِّقَةُ الْفَقِيهُ الْمَشْهُورُ أَحَدُ الْفُقَهَاءِ السَّبْعَةِ مَاتَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ عَلَى الصَّحِيحِ وَمَوْلِدُهُ فِي أَوَائِلِ خِلَافَةِ عُثْمَانَ (فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ) بْنِ مَسْعُودِ بْنِ مُعَتِّبٍ الثَّقَفِيَّ الصَّحَابِيَّ الْمَشْهُورَ أَسْلَمَ قَبْلَ الْحُدَيْبِيَةِ وَوَلِيَ إِمْرَةَ الْبَصْرَةِ ثُمَّ الْكُوفَةِ وَمَاتَ سَنَةَ خَمْسِينَ عَلَى الصَّحِيحِ.

(أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا) أَيْ: صَلَاةَ الْعَصْرِ، فَلِعَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ بِلَفْظٍ فَقَالَ: أَمْسَى الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ بِصَلَاةِ الْعَصْرِ (وَهُوَ بِالْكُوفَةِ) وَكَانَ إِذْ ذَاكَ أَمِيرًا عَلَيْهَا مِنْ قِبَلِ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ.

وَلِلْبُخَارِيِّ عَنِ الْقَعْنَبِيِّ، عَنْ مَالِكٍ وَهُوَ بِالْعِرَاقِ وَتَعَقَّبَهُ الْحَافِظُ بِأَنَّ الَّذِي فِي الْمُوَطَّأِ رِوَايَةَ الْقَعْنَبِيِّ وَغَيْرِهِ، عَنْ مَالِكٍ وَهُوَ بِالْكُوفَةِ، وَكَذَا أَخْرَجَهُ الْإِسْمَاعِيلِيُّ، عَنْ أَبِي خَلِيفَةَ عَنِ الْقَعْنَبِيِّ، وَالْكُوفَةُ مِنْ جُمْلَةِ الْعِرَاقِ، فَالتَّعْبِيرُ بِهَا أَخَصُّ مِنَ التَّعْبِيرِ بِهِ.

(فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ) عُقْبَةُ - بِالْقَافِ - ابْنُ عَمْرِو بْنِ ثَعْلَبَةَ (الْأَنْصَارِيُّ) الْبَدْرِيُّ صَحَابِيٌّ جَلِيلٌ مَاتَ قَبْلَ الْأَرْبَعِينَ وَقِيلَ: بَعْدَهَا (فَقَالَ: مَا هَذَا) التَّأْخِيرُ (يَا مُغِيرَةُ؟ أَلَيْسَ) كَذَا الرِّوَايَةُ وَهُوَ اسْتِعْمَالٌ صَحِيحٌ، لَكِنَّ الْأَفْصَحَ وَالْأَكْثَرَ اسْتِعْمَالًا فِي مُخَاطَبَةِ الْحَاضِرِ أَلَسْتَ؟ وَفِي مُخَاطَبَةِ الْغَائِبِ أَلَيْسَ؟ وَتَوْجِيهُ الْأُولَى أَنَّ فِي " لَيْسَ " ضَمِيرَ الشَّأْنِ، كَذَا قَالَهُ ابْنُ السَّيِّدِ فِي شَرْحِ الْمُوَطَّأِ، وَتَبِعَهُ ابْنُ دَقِيقِ الْعِيدِ وَالْحَافِظُ وَالزَّرْكَشِيُّ وَغَيْرُهُمْ، وَتَعَقَّبَ ذَلِكَ الدَّمَامِينِيُّ بِأَنَّهُ يُوهِمُ جَوَازَ اسْتِعْمَالِ هَذَا التَّرْكِيبِ مَعَ إِرَادَةِ أَنْ يَكُونَ مَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ ضَمِيرُ الْغَائِبِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ بَلْ هُمَا تَرْكِيبَانِ مُخْتَلِفَانِ وَلَيْسَ أَحَدُهُمَا بِأَفْصَحِ مِنَ الْآخَرِ فَإِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ كُلٌّ مِنْهُمَا فِي مَقَامٍ خَاصٍّ، فَإِنْ أُرِيدَ إِدْخَالُ لَيْسَ عَلَى ضَمِيرِ الْمُخَاطَبِ تَعَيَّنَ أَلَسْتَ قَدْ عَلِمْتَ؟ وَإِنْ أُرِيدَ إِدْخَالُهَا عَلَى ضَمِيرِ الشَّأْنِ مُخْبَرًا عَنْهُ بِالْجُمْلَةِ الَّتِي أُسْنِدَ فِعْلُهَا إِلَى الْمُخَاطَبِ تَعَيَّنَ أَلَيْسَ (قَدْ عَلِمْتَ؟) قَالَ عِيَاضٌ: ظَاهِرُهُ عِلْمُ
এবং মনে হয় তিনি তখন মুসলমানদের কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

ইবনু আব্দুল বার বলেন: প্রসঙ্গের বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে, তিনি একদিন এমন করেছিলেন, এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়নি, যদিও তার পরিবারের লোকেরা এ জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো তিনি সালাতকে ততক্ষণ বিলম্ব করেছিলেন যতক্ষণ না মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) ওয়াক্ত পার হয়ে যায়, এর অর্থ এই নয় যে তিনি সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত তা বিলম্ব করেছিলেন।

হাফেজ (ইবনু হাজার) বলেন: বুখারির 'বাদউল খালক' অধ্যায়ে যুহরি থেকে লাইসের বর্ণনা একে সমর্থন করে, যার শব্দ হলো: "তিনি আসরের সালাত কিছুটা বিলম্ব করলেন"। এর মাধ্যমেই উরওয়া কর্তৃক আবু মাসউদের হাদিসের পর আয়েশার হাদিস উল্লেখ করার প্রাসঙ্গিকতা প্রকাশ পায়। আর তাবারানি যা বর্ণনা করেছেন: "উমর সালাত আদায়ের আগেই সন্ধ্যা করে ফেললেন", তা এর ওপর নির্ভরশীল যে তিনি সন্ধ্যার নিকটবর্তী হয়েছিলেন, কিন্তু সন্ধ্যায় প্রবেশ করেননি। উমর (পরবর্তীতে) তা থেকে ফিরে এসেছিলেন। আওযায়ী বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনু আব্দুল আজিজ—অর্থাৎ তার খিলাফতকালে—যোহরের সালাত অষ্টম ঘণ্টায় এবং আসরের সালাত দশম ঘণ্টায় প্রবেশকালে আদায় করতেন। (অতঃপর তার কাছে উরওয়া ইবনু যুবায়ের) ইবনু আওয়াম ইবনু খুওয়াইলিদ আল-আসাদি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানি প্রবেশ করলেন, যিনি একজন বড় তাবেঈ, বিশ্বস্ত, প্রসিদ্ধ ফকিহ এবং সাত ফকিহদের একজন। বিশুদ্ধ মতে তিনি চুরানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার জন্ম উসমানের খিলাফতের প্রথম দিকে। (তিনি তাকে সংবাদ দিলেন যে মুগীরা ইবনু শুবা) ইবনু মাসউদ ইবনু মুআত্তিব আস-সাকাফি, প্রসিদ্ধ সাহাবি, হুদাইবিয়ার পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তিনি বসরার এবং পরে কুফার গভর্নর নিযুক্ত হন। বিশুদ্ধ মতে তিনি পঞ্চাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(একদিন সালাত বিলম্ব করলেন) অর্থাৎ: আসরের সালাত। আব্দুর রাজ্জাক মা’মার থেকে এবং তিনি ইবনু শিহাব থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেন যে: "মুগীরা ইবনু শুবা আসরের সালাত আদায়ে সন্ধ্যা করে ফেললেন" (এবং তিনি কুফায় ছিলেন)। তখন তিনি মুআবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ানের পক্ষ থেকে সেখানকার গভর্নর ছিলেন।

বুখারিতে কানাবি থেকে এবং তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: "এবং তিনি ইরাকে ছিলেন"। হাফেজ (ইবনু হাজার) এর সমালোচনা করে বলেন যে, মুওয়াত্তায় কানাবি ও অন্যদের বর্ণনায় মালিক থেকে আছে: "এবং তিনি কুফায় ছিলেন"। অনুরূপভাবে ইসমাইলি আবু খালিফা থেকে এবং তিনি কানাবি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর কুফা ইরাকেরই অন্তর্ভুক্ত, তাই কুফা শব্দটি ব্যবহার করা ইরাক শব্দ ব্যবহারের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট।

(অতঃপর তার নিকট আবু মাসউদ প্রবেশ করলেন) উকবা—‘কাফ’ সহ—ইবনু আমর ইবনু সা’লাবা (আনসারি) আল-বাদরি, একজন মহান সাহাবি, তিনি চল্লিশ হিজরির পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন, আবার বলা হয় তার পরে। (তিনি বললেন: এটি কী) বিলম্ব (হে মুগীরা? আপনি কি জানেন না?) বর্ণনায় এভাবেই এসেছে এবং এটি একটি সঠিক ব্যবহার। তবে উপস্থিত ব্যক্তিকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও অধিক ব্যবহৃত রূপ হলো 'আলাস্তা' (আপনি কি নন?); আর অনুপস্থিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'আলাইসা' (সে কি নয়?)। প্রথমটির ব্যাখ্যা হলো 'লাইসা'-এর মধ্যে 'শানের' (অবস্থার) সর্বনাম বা জমির রয়েছে। মুওয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনুস সাইয়্যিদ এভাবেই বলেছেন এবং ইবনু দাকীকুল ঈদ, হাফেজ (ইবনু হাজার), যারকাশি ও অন্যান্যরা তাকে অনুসরণ করেছেন। দামামিনি এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, এটি এই বিভ্রম তৈরি করে যে এই গঠনটি তখন ব্যবহার করা বৈধ যখন এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়টি অনুপস্থিত বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, বরং এগুলো দুটি ভিন্ন গঠন এবং একটি অন্যটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ নয়। কারণ এগুলোর প্রতিটিই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যদি 'লাইসা'-কে সম্বোধনবাচক সর্বনামের ওপর প্রবেশ করানো উদ্দেশ্য হয়, তবে তা 'আলাস্তা ক্বাদ আলিমতা?' হওয়া অনিবার্য। আর যদি তাকে 'জমিরে শান'-এর ওপর প্রবেশ করানো উদ্দেশ্য হয় যার সংবাদ সেই বাক্য দিয়ে দেওয়া হচ্ছে যার ক্রিয়া সম্বোধিত ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তবে তা 'আলাইসা' হওয়া অনিবার্য। (আপনি কি জানেন না?) ইয়াদ বলেন: এর বাহ্যিক দিক হলো...
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧١)
الْمُغِيرَةِ بِذَلِكَ، وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ ظَنٌّ مِنْ أَبِي مَسْعُودٍ لِعِلْمِهِ بِصُحْبَةِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ الْحَافِظُ: وَيُؤَيِّدُ الْأَوَّلَ رِوَايَةُ شُعَيْبٍ عِنْدَ الْبُخَارِيِّ فِي غَزْوَةِ بَدْرٍ بِلَفْظٍ فَقَالَ: " لَقَدْ عَلِمْتَ " بِغَيْرِ أَدَاةِ اسْتِفْهَامٍ، وَنَحْوُهُ لِعَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ وَابْنِ جُرَيْجٍ مَعًا (أَنَّ جِبْرِيلَ) - بِكَسْرِ الْجِيمِ، وَفَتْحِهَا - اسْمٌ أَعْجَمِيٌّ مَمْنُوعٌ مِنَ الصَّرْفِ لِلْعَلَمِيَّةِ وَالْعُجْمَةِ.

رَوَى ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: جِبْرِيلُ كَقَوْلِكَ عَبْدُ اللَّهِ جِبْرٌ عَبْدٌ وَإِيلُ اللَّهُ، وَهُوَ أَفْضَلُ الْمَلَائِكَةِ كَمَا نُقِلَ عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ.

وَقَالَ السُّيُوطِيُّ: لَا خِلَافَ أَنَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ وَمَلَكَ الْمَوْتِ رُءُوسُ الْمَلَائِكَةِ وَأَشْرَافُهُمْ، وَأَفْضَلُ الْأَرْبَعَةِ جِبْرِيلُ وَإِسْرَافِيلُ، وَفِي التَّفْضِيلِ بَيْنَهُمَا تَوَقُّفٌ سَبَبُهُ اخْتِلَافُ الْآثَارِ فِي ذَلِكَ.

وَفِي مُعْجَمِ الطَّبَرَانِيِّ الْكَبِيرِ حَدِيثُ: " «أَفْضَلُ الْمَلَائِكَةِ جِبْرِيلُ» " لَكِنَّ سَنَدَهُ ضَعِيفٌ وَلَهُ مُعَارِضٌ فَالْأَوْلَى الْوَقْفُ عَنْ ذَلِكَ.

(نَزَلَ) قَالَ إِمَامُ الْحَرَمَيْنِ: نُزُولُهُ فِي صِفَةِ رَجُلٍ مَعْنَاهُ أَنَّ اللَّهَ أَفْنَى الزَّائِدَ مِنْ خَلْقِهِ أَوْ أَزَالَهُ عَنْهُ ثُمَّ يُعِيدُهُ إِلَيْهِ بَعْدُ، وَجَزَمَ ابْنُ عَبْدِ السَّلَامِ بِالْإِزَالَةِ دُونَ الْفَنَاءِ، إِذْ لَا يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ انْتِقَالُهَا مُوجِبًا لِمَوْتِهِ بَلْ يَجُوزُ أَنْ يَبْقَى الْجَسَدُ حَيًّا، لِأَنَّ مَوْتَهُ بِمُفَارَقَةِ الرُّوحِ لَا يَجِبُ عَقْلًا بَلْ بِعَادَةٍ أَجْرَاهَا اللَّهُ فِي بَعْضِ خَلْقِهِ، وَنَظِيرُهُ انْتِقَالُ أَرْوَاحِ الشُّهَدَاءِ إِلَى أَجْوَافِ طُيُورٍ خُضْرٍ تَسْرَحُ فِي الْجَنَّةِ.

وَقَالَ الْبَلْقِينِيُّ: يَجُوزُ أَنَّ الْآتِيَ هُوَ جِبْرِيلُ بِشَكْلِهِ الْأَصْلِيِّ إِلَّا أَنَّهُ انْضَمَّ فَصَارَ عَلَى قَدْرِ هَيْئَةِ الرَّجُلِ وَإِذَا تَرَكَ ذَلِكَ عَادَ إِلَى هَيْئَتِهِ، وَمِثَالُ ذَلِكَ الْقُطْنُ إِذَا جُمِعَ بَعْدَ أَنْ كَانَ مُنْتَفِشًا فَإِنَّهُ بِالنَّفْشِ يَحْصُلُ لَهُ صُورَةٌ كَبِيرَةٌ وَذَاتُهُ لَمْ تَتَغَيَّرْ وَهَذَا عَلَى سَبِيلِ التَّقْرِيبِ.

قَالَ الْحَافِظُ: وَالْحَقُّ أَنَّ تَمْثِيلَ الْمَلَكِ رَجُلًا لَيْسَ مَعْنَاهُ أَنَّ ذَاتَهُ انْقَلَبَتْ رَجُلًا بَلْ مَعْنَاهُ أَنَّهُ ظَهَرَ بِتِلْكَ الصُّورَةِ تَأْنِيسًا لِمَنْ يُخَاطِبُهُ، وَالظَّاهِرُ أَنَّ الْقَدْرَ الزَّائِدَ لَا يَزُولُ وَلَا يَفْنَى بَلْ يَخْفَى عَلَى الرَّائِي فَقَطْ.

وَقَالَ الْقُونَوِيُّ: يُمْكِنُ أَنَّ جِسْمَهُ الْأَوَّلَ بِحَالِهِ لَمْ يَتَغَيَّرْ وَقَدْ أَقَامَ اللَّهُ لَهُ شَبَحًا آخَرَ، وَرُوحُهُ مُتَصَرِّفَةٌ فِيهِمَا جَمِيعًا فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ وَكَانَ نُزُولُهُ صَبِيحَةَ الْإِسْرَاءِ.

قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: لَمْ يُخْتَلَفْ أَنَّ جِبْرِيلَ هَبَطَ صَبِيحَةَ الْإِسْرَاءِ عِنْدَ الزَّوَالِ فَعَلَّمَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم الصَّلَاةَ وَمَوَاقِيتَهَا وَهَيْئَتَهَا.

قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: حَدَّثَنِي عُتْبَةُ بْنُ مُسْلِمٍ مَوْلَى بَنِي تَمِيمٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: وَكَانَ نَافِعٌ كَثِيرَ الرِّوَايَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا فُرِضَتِ الصَّلَاةُ وَأَصْبَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.

وَذَكَرَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: قَالَ نَافِعُ بْنُ جُبَيْرٍ وَغَيْرُهُ: " «لَمَّا أَصْبَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلَةِ الَّتِي أُسْرِيَ بِهِ لَمْ يَرْعُهُ إِلَّا جِبْرِيلُ نَزَلَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ وَلِذَلِكَ سُمِّيَتِ الْأُولَى، فَأَمَرَ فَصِيحَ بِأَصْحَابِهِ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ، فَاجْتَمَعُوا فَصَلَّى جِبْرِيلُ بِالنَّبِيِّ وَصَلَّى النَّبِيُّ بِالنَّاسِ طَوَّلَ الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ ثُمَّ قَصَّرَ الْبَاقِيَتَيْنِ، ثُمَّ سَلَّمَ جِبْرِيلُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسَلَّمَ النَّبِيُّ عَلَى النَّاسِ، ثُمَّ نَزَلَ فِي الْعَصْرِ عَلَى مِثْلِ ذَلِكَ فَفَعَلُوا كَمَا فَعَلُوا فِي الظُّهْرِ، ثُمَّ نَزَلَ فِي أَوَّلِ اللَّيْلِ فَصِيحَ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ فَصَلَّى جِبْرِيلُ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم،
মুগিরাহ এ সম্পর্কে জানতেন, আর এটা সম্ভব যে মুগিরার সাহচর্যের কারণে আবু মাসউদ এমনটি ধারণা করেছিলেন। হাফিজ বলেন: প্রথম মতটিকে বুখারিতে বর্ণিত বদর যুদ্ধের অধ্যায়ে শুয়াইবের বর্ণনা সমর্থন করে, যেখানে শব্দগুলো ছিল: "আপনি তো জানেনই"—কোনো প্রশ্নবোধক অব্যয় ছাড়াই। অনুরূপ বর্ণনা আবদুর রাজ্জাক থেকে মা’মার ও ইবনে জুরাইজ উভয়ের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, (জিবরাইল)—জিম বর্ণে কাসরা বা ফাতহা যোগে—এটি একটি অনারব নাম যা নামবাচক বিশেষ্য ও অনারবীয় উৎসের কারণে রূপান্তর-অযোগ্য।

ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাইল শব্দটি তোমার 'আবদুল্লাহ' বলার মতো; 'জিবর' অর্থ 'বান্দা' এবং 'ইল' অর্থ 'আল্লাহ'। তিনি ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, যেমনটি কা’ব আল-আহবার থেকে বর্ণিত হয়েছে।

সুয়ূতী বলেন: এতে কোনো মতভেদ নেই যে জিবরাইল, মিকাইল, ইসরাফিল ও মালাকুল মাউত ফেরেশতাদের প্রধান ও তাদের মধ্যে অতি সম্মানিত। এই চারজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন জিবরাইল ও ইসরাফিল; তবে এই দুজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণে বিরত থাকা হয়েছে, যার কারণ হলো এ বিষয়ে বর্ণিত তথ্যাদির বিভিন্নতা।

তাবারানির 'মু’জামুল কাবীর'-এ একটি হাদিস রয়েছে: "ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন জিবরাইল", তবে এর সনদ দুর্বল এবং এর বিপরীতে ভিন্ন বর্ণনাও রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

(অবতরণ করলেন) ইমামুল হারামাইন বলেন: মানুষের আকৃতিতে তাঁর অবতরণের অর্থ হলো, আল্লাহ তাঁর অতিরিক্ত সৃষ্টিকে বিলুপ্ত করে দিয়েছিলেন অথবা তা তাঁর থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন এবং পরে পুনরায় তা তাঁর কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ইবনে আব্দুস সালাম বিলুপ্তির পরিবর্তে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করেছেন, কারণ সেই অংশগুলো আলাদা হওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হওয়া আবশ্যক নয়; বরং দেহ জীবিত থাকা সম্ভব। কেননা রূহ পৃথক হওয়ার মাধ্যমে মৃত্যু হওয়া যৌক্তিকভাবে অনিবার্য নয়, বরং এটি একটি সাধারণ নিয়ম যা আল্লাহ তাঁর কিছু সৃষ্টির ক্ষেত্রে জারি রেখেছেন। এর দৃষ্টান্ত হলো শহীদদের রূহ সবুজ পাখির উদরে স্থানান্তরিত হওয়া, যারা জান্নাতে বিচরণ করে।

আল-বালকিনি বলেন: এটা সম্ভব যে, আগমনকারী জিবরাইল তাঁর আদি রূপেই ছিলেন, তবে তিনি সংকুচিত হয়ে একজন মানুষের আকৃতি ধারণ করেছিলেন। যখন তিনি সেই রূপ ত্যাগ করেন, তখন পুনরায় নিজ আকৃতিতে ফিরে যান। এর উদাহরণ হলো তুলা; তা যখন ছড়িয়ে থাকে তখন অনেক বড় দেখায়, কিন্তু যখন তা একত্রিত করা হয়, তখন তা ছোট রূপ ধারণ করে, অথচ তার মূল সত্তার কোনো পরিবর্তন হয় না। এটি বিষয়টিকে বোঝানোর জন্য একটি নিকটবর্তী উদাহরণ মাত্র।

হাফিজ বলেন: সত্য হলো ফেরেশতার মানুষের রূপ ধারণ করার অর্থ এই নয় যে, তাঁর সত্তা মানুষে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। বরং এর অর্থ হলো, যাকে সম্বোধন করা হচ্ছে তাঁর সাথে সখ্যতা তৈরির জন্য তিনি সেই আকৃতিতে আবির্ভূত হয়েছেন। স্পষ্ট বিষয় হলো যে, তাঁর অতিরিক্ত অংশগুলো অপসারিত বা বিলুপ্ত হয় না, বরং তা কেবল দর্শকের নিকট অদৃশ্য থাকে।

আল-কুনাবি বলেন: এটি সম্ভব যে তাঁর আদি দেহ নিজ অবস্থায় অপরিবর্তিত ছিল এবং আল্লাহ তাঁর জন্য অন্য একটি অবয়ব তৈরি করেছিলেন, আর তাঁর রূহ একই সাথে উভয় দেহের ওপর নিয়ন্ত্রণশীল ছিল। তাঁর এই অবতরণ ছিল ইসরা বা মেরাজের পরবর্তী সকালেই।

ইবনে আব্দুল বার বলেন: এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, জিবরাইল ইসরার পরবর্তী সকালে সূর্য ঢলে পড়ার সময় অবতরণ করেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাত, এর সময়সূচি এবং এর নিয়মাবলী শিক্ষা দেন।

ইবনে ইসহাক বলেন: আমার কাছে বনু তামিমে বংশের মুক্তদাস উতবা বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন নাফি বিন জুবায়ের থেকে। নাফি ইবনে আব্বাস থেকে প্রচুর বর্ণনা করতেন। তিনি বলেন: যখন সালাত ফরজ করা হলো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকাল করলেন।

আবদুর রাজ্জাক ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নাফি বিন জুবায়ের এবং অন্যান্যরা বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে রাতে ইসরা করেছিলেন, তার পরবর্তী সকালে জিবরাইল ছাড়া অন্য কোনো কিছু তাঁকে চমকিত করেনি। সূর্য যখন ঢলে পড়ল তখন জিবরাইল অবতরণ করেন। আর একারণেই একে ‘আল-উলা’ বা প্রথম সালাত বলা হয়। তখন নবী নির্দেশ দিলেন, ফলে তাঁর সাহাবীদের মাঝে ঘোষণা দেওয়া হলো যে, সালাত সমবেতভাবে হতে যাচ্ছে। তারা সমবেত হলেন, এরপর জিবরাইল নবীকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং নবী মানুষের সাথে সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ করলেন এবং পরবর্তী দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত করলেন। এরপর জিবরাইল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলেন এবং নবী মানুষকে সালাম দিলেন। এরপর তিনি আসরের সময়ও অনুরূপভাবে অবতরণ করলেন এবং তারা যোহরের মতো একইভাবে তা আদায় করলেন। এরপর রাতের শুরুতে তিনি পুনরায় অবতরণ করলেন এবং ঘোষণা দেওয়া হলো সালাত সমবেতভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তখন জিবরাইল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে সালাত আদায় করলেন..."
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٢)
وَصَلَّى النَّبِيُّ بِالنَّاسِ طَوَّلَ فِي الْأُولَيَيْنِ وَقَصَّرَ فِي الثَّالِثَةِ، ثُمَّ سَلَّمَ جِبْرِيلُ عَلَى النَّبِيِّ وَسَلَّمَ النَّبِيُّ عَلَى النَّاسِ، ثُمَّ لَمَّا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ صِيحَ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ فَاجْتَمَعُوا فَصَلَّى جِبْرِيلُ لِلنَّبِيِّ وَصَلَّى النَّبِيُّ لِلنَّاسِ، فَقَرَأَ فِي الْأُولَيَيْنِ فَطَوَّلَ فِيهِمَا وَقَصَّرَ فِي الْأَخِيرَتَيْنِ، ثُمَّ سَلَّمَ جِبْرِيلُ عَلَى النَّبِيِّ وَسَلَّمَ النَّبِيُّ عَلَى النَّاسِ، فَلَمَّا طَلَعَ الْفَجْرُ صِيحَ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ فَصَلَّى جِبْرِيلُ لِلنَّبِيِّ وَصَلَّى النَّبِيُّ لِلنَّاسِ فَقَرَأَ فِيهِمَا فَجَهَرَ وَطَوَّلَ وَرَفَعَ صَوْتَهُ، وَسَلَّمَ جِبْرِيلُ عَلَى النَّبِيِّ وَسَلَّمَ النَّبِيُّ عَلَى النَّاسِ» " قَالَ الْحَافِظُ: وَفِي هَذَا رَدٌّ عَلَى مَنْ زَعَمَ أَنَّ بَيَانَ الْأَوْقَاتِ إِنَّمَا وَقَعَ بَعْدَ الْهِجْرَةِ، وَالْحَقُّ أَنَّ ذَلِكَ وَقَعَ قَبْلَهَا بِبَيَانِ جِبْرِيلَ وَبَعْدَهَا بِبَيَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

قَالَ السُّيُوطِيُّ: وَهُوَ صَرِيحُ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " «أَمَّنِي جِبْرِيلُ عِنْدَ الْبَيْتِ» " رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُمَا.

وَفِي رِوَايَةِ الشَّافِعِيِّ عِنْدَ بَابِ الْبَيْتِ: فَصَلَّى) جِبْرِيلُ الظُّهْرَ (فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ (ثُمَّ صَلَّى) الْعَصْرَ (فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ (ثُمَّ صَلَّى) الْمَغْرِبَ (فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ (ثُمَّ صَلَّى) الْعِشَاءَ (فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ (ثُمَّ صَلَّى) الصُّبْحَ (فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ.

هَكَذَا ذَكَرَهُ خَمْسَ مَرَّاتٍ.

قَالَ عِيَاضٌ: وَهَذَا إِذَا اتُّبِعَ فِيهِ حَقِيقَةُ اللَّفْظِ أَعْطَى أَنَّ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ بَعْدَ فَرَاغِ صَلَاةِ جِبْرِيلَ، لَكِنْ مَفْهُومُ هَذَا الْحَدِيثِ وَالْمَنْصُوصُ فِي غَيْرِهِ أَنَّ جِبْرِيلَ أَمَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَيُحْمَلُ قَوْلُهُ: " صَلَّى " " فَصَلَّى " عَلَى أَنَّ جِبْرِيلَ كُلَّمَا فَعَلَ جُزْءًا مِنَ الصَّلَاةِ فَعَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَهُ حَتَّى تَكَامَلَتْ صَلَاتُهُمَا انْتَهَى. وَتَبِعَهُ النَّوَوِيُّ.

وَقَالَ غَيْرُهُ: الْفَاءُ بِمَعْنَى الْوَاوِ، وَاعْتَرَضَ بِأَنَّهُ يَلْزَمُ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَقَدَّمُ فِي بَعْضِ الْأَرْكَانِ عَلَى جِبْرِيلَ عَلَى مَا يَقْتَضِيهِ مُطْلَقُ الْجَمْعِ، وَأُجِيبَ بِمُرَاعَاةِ الْحَيْثِيَّةِ وَهِيَ التَّبْيِينُ فَكَانَ لِأَجْلِ ذَلِكَ يَتَرَاخَى عَنْهُ. وَقِيلَ: الْفَاءُ لِلسَّبَبِيَّةِ كَقَوْلِهِ: {فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ} [القصص: 15] (سُورَةُ الْقَصَصِ: الْآيَةُ 15) .

وَفِي رِوَايَةِ اللَّيْثِ عِنْدَ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ: " «نَزَلَ جِبْرِيلُ فَأَمَّنِي فَصَلَّيْتُ مَعَهُ» ".

وَفِي رِوَايَةِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ: " «نَزَلَ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى النَّاسُ مَعَهُ» " وَهَذَا يُؤَيِّدُ رِوَايَةَ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ الْمُتَقَدِّمَةَ، وَإِنَّمَا دَعَاهُمْ بِقَوْلِهِ: " «الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ» " لِأَنَّ الْأَذَانَ لَمْ يَكُنْ شُرِعَ حِينَئِذٍ.

(ثُمَّ قَالَ) جِبْرِيلُ: (بِهَذَا أُمِرْتَ) بِفَتْحِ التَّاءِ عَلَى الْمَشْهُورِ؛ أَيْ: هَذَا الَّذِي أُمِرْتَ بِهِ أَنْ تُصَلِّيَهُ كُلَّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ.

وَرُوِيَ بِالضَّمِّ؛ أَيْ: هَذَا الَّذِي أُمِرْتُ بِتَبْلِيغِهِ لَكَ.

قَالَ ابْنُ الْعَرَبِيِّ: نَزَلَ جِبْرِيلُ مَأْمُورًا مُكَلَّفًا بِتَعْلِيمِ النَّبِيِّ لَا بِأَصْلِ الصَّلَاةِ، وَاحْتَجَّ بِهِ بَعْضُهُمْ عَلَى جَوَازِ الِائْتِمَامِ بِمَنْ يَأْتَمُّ بِغَيْرِهِ.

وَأَجَابَ الْحَافِظُ بِحَمْلِهِ عَلَى أَنَّهُ كَانَ مُبَلِّغًا فَقَطْ كَمَا قِيلَ فِي
নবী (সা.) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তিনি প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ করলেন এবং তৃতীয় রাকাতে সংক্ষিপ্ত করলেন। এরপর জিবরাঈল (আ.) নবীকে (সা.) সালাম দিলেন এবং নবী (সা.) লোকদের সালাম দিলেন। অতঃপর যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলো, তখন উচ্চস্বরে আহ্বান করা হলো ‘সালাত সমবেতভাবে হওয়ার জন্য’, ফলে তারা একত্রিত হলেন। তখন জিবরাঈল (আ.) নবীকে (সা.) নিয়ে সালাত পড়লেন এবং নবী (সা.) লোকদের নিয়ে সালাত পড়লেন। তিনি প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পড়লেন এবং সেগুলোতে দীর্ঘ করলেন, আর শেষ দুই রাকাতে সংক্ষিপ্ত করলেন। এরপর জিবরাঈল (আ.) নবীকে (সা.) সালাম দিলেন এবং নবী (সা.) লোকদের সালাম দিলেন। যখন ফজর উদিত হলো, তখন উচ্চস্বরে আহ্বান করা হলো ‘সালাত সমবেতভাবে হওয়ার জন্য’। তখন জিবরাঈল (আ.) নবীকে (সা.) নিয়ে সালাত পড়লেন এবং নবী (সা.) লোকদের নিয়ে সালাত পড়লেন। তিনি উভয় রাকাতে কিরাত পড়লেন এবং উচ্চস্বরে ও দীর্ঘ কিরাত পড়লেন এবং তাঁর কণ্ঠস্বর উঁচু করলেন। জিবরাঈল (আ.) নবীকে (সা.) সালাম দিলেন এবং নবী (সা.) লোকদের সালাম দিলেন। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: এতে ওই ব্যক্তির ধারণার খণ্ডন রয়েছে, যে দাবি করে যে ওয়াক্তসমূহের বর্ণনা কেবল হিজরতের পরেই প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সত্য হলো এই যে, তা হিজরতের পূর্বে জিবরাঈল (আ.)-এর বর্ণনার মাধ্যমে এবং হিজরতের পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে।

সুয়ূতী বলেন: আর এটি ইবনে আব্বাসের (রা.) হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "জিবরাঈল (আ.) বায়তুল্লাহর নিকটে আমার ইমামতি করেছেন।" এটি আবু দাউদ, তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

ইমাম শাফিঈর বর্ণনায় বায়তুল্লাহর দরজার কাছে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: অতঃপর জিবরাঈল (আ.) যোহরের সালাত পড়লেন (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সালাত পড়লেন), এরপর আসরের সালাত পড়লেন (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সালাত পড়লেন), এরপর মাগরিবের সালাত পড়লেন (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সালাত পড়লেন), এরপর ইশার সালাত পড়লেন (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সালাত পড়লেন), এরপর ফজরের সালাত পড়লেন (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সালাত পড়লেন)।

এভাবে তিনি পাঁচবার এটি উল্লেখ করেছেন।

কাযী আয়ায বলেন: এটি যদি শব্দের প্রকৃত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত জিবরাঈল (আ.)-এর সালাত শেষ হওয়ার পর ছিল। কিন্তু এই হাদিসের মর্মার্থ এবং অন্য হাদিসের স্পষ্ট বর্ণনা হলো এই যে, জিবরাঈল (আ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইমামতি করেছেন। সুতরাং তাঁর উক্তি "তিনি সালাত পড়লেন অতঃপর তিনি সালাত পড়লেন" এর ব্যাখ্যা এভাবে করা হবে যে, জিবরাঈল (আ.) সালাতের প্রতিটি অংশ যখনই সম্পাদন করছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরপরই তা সম্পাদন করছিলেন, যতক্ষণ না তাঁদের সালাত পূর্ণ হলো। (এখানেই তাঁর উদ্ধৃতি শেষ)। ইমাম নববীও তাঁর অনুসরণ করেছেন।

অন্যান্যরা বলেন: এখানে ‘অতঃপর’ (ফা) বর্ণটি ‘এবং’ (ওয়াও) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এর ফলে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কোনো রুকনে জিবরাঈল (আ.)-এর অগ্রবর্তী ছিলেন, যা সাধারণ একত্রীকরণের দাবি। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, এখানে হিকমত বা লক্ষ্যটি হলো শিক্ষা দান বা বর্ণনা করা; এ কারণেই তিনি তাঁর থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন: ‘ফা’ বর্ণটি এখানে কারণ দর্শাতে (সাবাবিয়া) ব্যবহৃত হয়েছে যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "অতঃপর মূসা তাকে ঘুষি মারলেন, ফলে সে মারা গেল" [সূরা আল-কাসাস: ১৫]।

বুখারী ও মুসলিমের নিকট লায়সের বর্ণনায় রয়েছে: "জিবরাঈল (আ.) অবতীর্ণ হলেন এবং আমার ইমামতি করলেন, ফলে আমি তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম।"

আব্দুর রাজ্জাক মা’মার থেকে বর্ণনা করেন: "তিনি অবতীর্ণ হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত পড়লেন, অতঃপর লোকেরা তাঁর সাথে সালাত পড়ল।" এটি নাফে ইবনে জুবাইরের পূর্বোক্ত বর্ণনাকে সমর্থন করে। আর তিনি তাদের ‘সালাত সমবেতভাবে হওয়ার জন্য’ বলে আহ্বান করেছিলেন কারণ তখনো আযান বিধিবদ্ধ হয়নি।

(অতঃপর) জিবরাঈল (আ.) বললেন: (তোমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে), এখানে প্রসিদ্ধ মতানুসারে 'তা' বর্ণে যবর দিয়ে (উমিরতা) বলা হয়েছে; অর্থাৎ: এটিই সেই সালাত যা আদায়ের জন্য তোমাকে প্রতিদিন ও রাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পেশ দিয়েও (উমিরতু) বর্ণিত হয়েছে; অর্থাৎ: এটিই সেই বিষয় যা তোমার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইবনুল আরাবী বলেন: জিবরাঈল (আ.) আদিষ্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন নবীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য, মূল সালাতের বিধানের জন্য নয়। কেউ কেউ এটি দিয়ে ওই ব্যক্তির পেছনে ইক্তিদা করার বৈধতার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, যে ব্যক্তি নিজে অন্য কারো পেছনে ইক্তিদা করছে।

হাফিজ (ইবনে হাজার) এর জবাবে বলেছেন যে, তাঁকে কেবল একজন মুবাল্লিগ (বার্তা পৌঁছানোকারী) হিসেবে গণ্য করা হবে, যেমনটি বলা হয়েছে...
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٣)
صَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ خَلْفَ النَّبِيِّ وَصَلَاةِ النَّاسِ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ، وَرَدَّهُ السُّيُوطِيُّ بِأَنَّهُ وَاضِحٌ فِي قِصَّةِ أَبِي بَكْرٍ، وَأَمَّا هُنَا فَفِيهِ نَظَرٌ لِأَنَّهُ يَقْتَضِي أَنَّ النَّاسَ اقْتَدَوْا بِجِبْرِيلَ لَا بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

وَهُوَ خِلَافُ الظَّاهِرِ وَالْمَعْهُودِ مَعَ مَا فِي رِوَايَةِ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ مِنَ التَّصْرِيحِ بِخِلَافِهِ، وَالْأَوْلَى أَنْ يُجَابَ بِأَنَّ ذَلِكَ كَانَ خَاصًّا بِهَذِهِ الْوَاقِعَةِ؛ لِأَنَّهَا كَانَتْ لِلْبَيَانِ الْمُعَلَّقِ عَلَيْهِ الْوُجُوبُ، وَاسْتُدِلَّ بِهِ أَيْضًا عَلَى جَوَازِ صَلَاةِ الْمُفْتَرِضِ خَلْفَ الْمُتَنَفِّلِ لِأَنَّ الْمَلَائِكَةَ لَيْسُوا مُكَلَّفِينَ بِمِثْلِ مَا كُلِّفَ بِهِ الْإِنْسُ، قَالَهُ ابْنُ الْعَرَبِيِّ وَغَيْرُهُ.

وَأَجَابَ عِيَاضٌ بِاحْتِمَالِ أَنْ لَا تَكُونَ تِلْكَ الصَّلَاةُ وَاجِبَةً عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَئِذٍ، وَتَعَقَّبَهُ بِمَا تَقَدَّمَ أَنَّهَا كَانَتْ صَبِيحَةَ لَيْلَةِ فَرْضِ الصَّلَاةِ.

وَأُجِيبَ بِاحْتِمَالِ أَنَّ الْوُجُوبَ كَانَ مُعَلَّقًا بِالْبَيَانِ فَلَمْ يَتَحَقَّقِ الْوُجُوبُ إِلَّا بَعْدَ تِلْكَ الصَّلَاةِ، قَالَ: وَأَيْضًا لَا نُسَلِّمُ أَنَّ جِبْرِيلَ كَانَ مُتَنَفِّلًا بَلْ كَانَتْ تِلْكَ الصَّلَاةُ وَاجِبَةً عَلَيْهِ؛ لِأَنَّهُ مُكَلَّفٌ بِتَبْلِيغِهَا فَهِيَ صَلَاةُ مُفْتَرِضٍ خَلْفَ مُفْتَرِضٍ.

وَقَالَ ابْنُ الْمُنِيرِ: قَدْ يَتَعَلَّقُ بِهِ مَنْ يُجَوِّزُ صَلَاةَ مُفْتَرِضٍ بِفَرْضٍ آخَرَ قَالَ الْحَافِظُ: وَهُوَ مُسَلَّمٌ لَهُ فِي صُورَةِ الْمُؤَدَّاةِ مَثَلًا خَلْفَ الْمُؤَدَّاةِ لَا فِي صُورَةِ الظُّهْرِ خَلْفَ الْعَصْرِ مَثَلًا.

(فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: اعْلَمْ) بِصِيغَةِ الْأَمْرِ (مَا تُحَدِّثُ بِهِ يَا عُرْوَةُ) وَفِي رِوَايَةٍ لِلشَّافِعِيِّ عَنْ سُفْيَانَ عَنِ الزُّهْرِيِّ فَقَالَ: اتَّقِ اللَّهَ يَا عُرْوَةُ وَانْظُرْ مَا تَقُولُ.

قَالَ الرَّافِعِيُّ: فِي شَرْحِ الْمُسْنَدِ: لَا يُحْمَلُ مِثْلُهُ عَلَى الِاتِّهَامِ، وَلَكِنَّ الْمَقْصُودَ الِاحْتِيَاطُ وَالِاسْتِثْبَاتُ لِيَتَذَكَّرَ الرَّاوِي وَيَجْتَنِبَ مَا عَسَاهُ يَعْرِضُ مِنْ نِسْيَانٍ وَغَلَطٍ.

(أَوَ) بِفَتْحِ هَمْزَةِ الِاسْتِفْهَامِ، وَالْوَاوُ الْعَاطِفَةُ عَلَى مُقَدَّرٍ (إِنَّ) بِكَسْرِ الْهَمْزَةِ عَلَى الْأَشْهَرِ قَالَ فِي الْمَطَالِعِ: ضَبَطْنَا " إِنَّ " بِالْكَسْرِ وَالْفَتْحِ مَعًا، وَالْكَسْرُ أَوْجَهُ؛ لِأَنَّهُ اسْتِفْهَامٌ مُسْتَأْنَفٌ عَنِ الْحَدِيثِ إِلَّا أَنَّهُ جَاءَ بِالْوَاوِ لِيَرُدَّ الْكَلَامَ عَلَى كَلَامِ عُرْوَةَ؛ لِأَنَّهَا مِنْ حُرُوفِ الرَّدِّ، وَالْفَتْحُ عَلَى تَقْدِيرِ أَوَ عَلِمْتَ أَوَ حَدَّثْتَ أَنَّ (جِبْرِيلَ هُوَ الَّذِي أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ وَقْتَ الصَّلَاةِ) أَيْ: جِنْسَ وَقْتِهَا، وَرَوَاهُ الْمُسْتَمْلِي فِي الْبُخَارِيِّ " وُقُوتَ " بِالْجَمْعِ.

(قَالَ عُرْوَةُ: كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ) بِفَتْحِ الْمُوَحَّدَةِ (ابْنُ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ) الْمَدَنِيُّ التَّابِعِيُّ الْجَلِيلُ، ذُكِرَ فِي الصَّحَابَةِ لِكَوْنِهِ وُلِدَ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَآهُ، وَقَالَ الْعِجْلِيُّ: تَابِعِيٌّ ثِقَةٌ (يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ) عُقْبَةَ بْنِ عَمْرٍو الْبَدْرِيِّ، قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: هَذَا السِّيَاقُ مُنْقَطِعٌ عِنْدَ جَمَاعَةٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ؛ لِأَنَّ ابْنَ شِهَابٍ لَمْ يَقُلْ حَضَرْتُ مُرَاجَعَةَ عُرْوَةَ لِعُمَرَ، وَعُرْوَةُ لَمْ يَقُلْ: حَدَّثَنِي بَشِيرٌ لَكِنَّ الِاعْتِبَارَ عِنْدَ الْجُمْهُورِ ثُبُوتُ اللِّقَاءِ وَالْمُجَالَسَةِ لَا بِالصِّيَغِ.

وَقَالَ الْكِرْمَانِيُّ: هَذَا الْحَدِيثُ لَيْسَ مُتَّصِلَ الْإِسْنَادِ إِذْ لَمْ يَقُلْ أَبُو مَسْعُودٍ: شَاهَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَعَقَّبَهُ الْحَافِظُ بِأَنَّهُ لَا يُسَمَّى مُنْقَطِعًا اصْطِلَاحًا وَإِنَّمَا
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে আবু বকরের সালাত এবং আবু বকরের পিছনে মানুষের সালাত আদায় করার প্রসঙ্গ। আস-সুয়ূতী একে খণ্ডন করে বলেছেন যে, এটি আবু বকরের ঘটনার ক্ষেত্রে স্পষ্ট; কিন্তু এখানে এই বক্তব্যের অবকাশ রয়েছে, কারণ এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে মানুষ জিবরীলের অনুসরণ করেছিল, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নয়।

এবং এটি স্পষ্ট ও প্রচলিত বিষয়ের পরিপন্থী, তদুপরি নাফে' ইবনে জুবায়েরের বর্ণনায় এর বিপরীতটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এর উত্তম উত্তর হলো, এটি এই বিশেষ ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট ছিল; কেননা তা ছিল সেই ব্যাখ্যার জন্য যার ওপর আবশ্যকতা (ওয়াজিব হওয়া) নির্ভর করছিল। এর দ্বারা নফল আদায়কারীর পিছনে ফরজ আদায়কারীর সালাত বৈধ হওয়ার দলিলও পেশ করা হয়েছে, কারণ ফেরেশতারা মানুষের মতো শরীয়তের বিধানে আদিষ্ট নন—একথা ইবনুল আরাবি এবং অন্যান্যরা বলেছেন।

আল্লামা ইয়ায উত্তর দিয়েছেন যে, সম্ভবত সেই সালাত তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ওয়াজিব ছিল না; এর জবাবে পূর্বে যা বলা হয়েছে যে, তা ছিল সালাত ফরজ হওয়ার রাতের পরবর্তী সকালের ঘটনা।

আরও উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, সম্ভবত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যার সাথে স্থগিত ছিল, তাই সেই সালাতের পরেই ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন: আমরা এ কথা মেনে নিচ্ছি না যে জিবরীল নফল আদায়কারী ছিলেন, বরং সেই সালাত তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল; কারণ তিনি তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট ছিলেন, সুতরাং এটি ছিল ফরজ আদায়কারীর পিছনে ফরজ আদায়কারীর সালাত।

ইবনুল মুনাইর বলেন: এক ফরজের পেছনে অন্য ফরজের সালাত বৈধ মনে করেন যারা, তারা এর দ্বারা দলিল গ্রহণ করতে পারেন। হাফেজ বলেন: এটি সমজাতীয় সালাতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য, যেমন আদায় সালাতের পেছনে আদায় সালাত, কিন্তু যেমন আসরের পেছনে জোহরের সালাত—এমন ক্ষেত্রে নয়।

(অতঃপর উমর ইবনে আবদুল আজিজ বললেন: জেনে রাখ) আদেশসূচক ক্রিয়ারূপে (তুমি কী বর্ণনা করছ হে উরওয়াহ)। শাফেয়ীর বর্ণনায় সুফিয়ান থেকে যুহরীর সূত্রে রয়েছে, তিনি বললেন: হে উরওয়াহ, আল্লাহকে ভয় করো এবং দেখ তুমি কী বলছ।

রাফেয়ী 'শরহুল মুসনাদ'-এ বলেছেন: এই জাতীয় বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, বরং এর উদ্দেশ্য হলো সতর্কতা এবং দৃঢ়তা নিশ্চিত করা, যাতে বর্ণনাকারী স্মরণ করতে পারেন এবং বিস্মৃতি বা ভুলের সম্ভাবনা এড়াতে পারেন।

(অথবা) প্রশ্নবোধক হামযার জবর এবং ওয়াও অব্যয়টি একটি উহ্য শব্দের ওপর সংযুক্ত হয়েছে। অধিকাংশের মতে 'ইন্না' শব্দটি যের যোগে। 'আল-মাতালি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমরা 'ইন্না' শব্দটি যের এবং জবর উভয়ভাবেই পেয়েছি, তবে যের হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত; কারণ এটি হাদিস সম্পর্কে নতুন একটি প্রশ্ন। আর এখানে 'ওয়াও' আসার কারণ হলো উরওয়াহ-এর কথার উত্তর প্রদান করা; কারণ এটি প্রত্যুত্তরের বর্ণগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর জবর হওয়ার সুরতে এর অর্থ হবে—তুমি কি জানতে পেরেছ বা তুমি কি বর্ণনা করেছ যে (জিবরীল তিনিই রাসূলুল্লাহর জন্য সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণ করেছিলেন) অর্থাৎ ওয়াক্তের ধরন। আল-মুস্তামলী বুখারীতে এটি 'ওয়াকুত' (বহুবচন) শব্দে বর্ণনা করেছেন।

(উরওয়াহ বললেন: বশীর) ব-এ জবর সহকারে (ইবনে আবি মাসউদ আনসারী) যিনি মদিনার একজন মহান তাবেয়ী, তাঁকে সাহাবীদের মধ্যে গণ্য করা হয় কারণ তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁকে দেখেছিলেন। আল-ইজলী বলেছেন: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী। (তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতেন) অর্থাৎ উকবা ইবনে আমর আল-বাদরী থেকে। ইবনে আবদুল বারর বলেন: এই সনদটি একদল আলেমের মতে বিচ্ছিন্ন; কারণ ইবনে শিহাব বলেননি যে তিনি উমর ও উরওয়াহ-এর কথোপকথনের সময় উপস্থিত ছিলেন, আর উরওয়াহ-ও বলেননি যে 'বশীর আমাকে হাদিসটি শুনিয়েছেন'। কিন্তু জুমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মতে বিবেচ্য বিষয় হলো সাক্ষাৎ ও মজলিসে উপস্থিতি প্রমাণিত হওয়া, বর্ণনার শব্দাবলি নয়।

আল-কিরমানী বলেন: এই হাদিসটির সনদ সংযুক্ত নয়, কারণ আবু মাসউদ বলেননি যে 'আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি' কিংবা 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন'। হাফেজ এর প্রতিবাদ করে বলেছেন যে, পরিভাষায় একে বিচ্ছিন্ন বলা হয় না বরং...
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٤)
هُوَ مُرْسَلُ صَحَابِيٍّ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يُدْرِكِ الْقِصَّةَ، فَاحْتَمَلَ أَنَّهُ سَمِعَهَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ بَلَغَهُ عَنْهُ بِتَبْلِيغِ مَنْ شَاهَدَهُ أَوْ سَمِعَهُ كَصَحَابِيٍّ آخَرَ، عَلَى أَنَّ رِوَايَةَ اللَّيْثِ عِنْدَ الْبُخَارِيِّ - أَيْ وَمُسْلِمٍ - تُزِيلُ الْإِشْكَالَ كُلَّهُ. وَلَفْظُهُ: فَقَالَ عُرْوَةُ: سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " نَزَلَ جِبْرِيلُ " فَذَكَرَهُ.

زَادَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ: فَمَا زَالَ عُمَرُ يَعْتَلِمُ وَقْتَ الصَّلَاةِ بِعَلَامَةٍ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا.

قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: فَإِنْ قِيلَ جَهْلُ مَوَاقِيتِ الصَّلَاةِ لَا يَسَعُ أَحَدًا فَكَيْفَ جَازَ عَلَى عُمَرَ؟ قِيلَ: لَيْسَ فِي جَهْلِهِ بِالسَّبَبِ الْمُوجِبِ لِعِلْمِ الْمَوَاقِيتِ مَا يَدُلُّ عَلَى جَهْلِهِ بِهَا وَقَدْ يَكُونُ ذَلِكَ عِنْدَهُ عَمَلًا وَاتِّفَاقًا وَأَخْذًا عَنْ عُلَمَاءِ عَصْرِهِ، وَلَا يُعْرَفُ أَصْلُ ذَلِكَ كَيْفَ كَانَ النُّزُولُ مِنْ جِبْرِيلَ بِهَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَمْ بِمَا سَنَّهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأُمَّتِهِ كَمَا سَنَّ غَيْرَ مَا شَيْءٍ وَفَرَضَهُ فِي الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ انْتَهَى.

وَفِي فَتْحِ الْبَارِي: لَا يَلْزَمُ مِنْ كَوْنِ عُمَرَ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ عِلْمٌ مِنْ إِمَامَةِ جِبْرِيلَ أَنْ لَا يَكُونَ عِنْدَهُ عِلْمٌ بِتَفَاصِيلِ الْأَوْقَاتِ مِنْ جِهَةِ الْعَمَلِ الْمُسْتَمِرِّ، لَكِنْ لَمْ يَكُنْ يَعْرِفُ أَنَّ أَصْلَهُ بِتَبْيِينِ جِبْرِيلَ بِالْفِعْلِ، فَإِذَا اسْتَثْبَتَ فِيهِ وَكَأَنَّهُ كَانَ يَرَى أَنْ لَا مُفَاضَلَةَ بَيْنَ أَجْزَاءِ الْوَقْتِ الْوَاحِدِ وَكَذَا يُحْمَلُ عَمَلُ الْمُغِيرَةِ وَغَيْرِهِ مِنَ الصَّحَابَةِ وَلَمْ أَقِفْ عَلَى شَيْءٍ مِنَ الرِّوَايَاتِ عَلَى جَوَابِ الْمُغِيرَةِ لِأَبِي مَسْعُودٍ وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ رَجَعَ إِلَيْهِ، وَكَذَا سِيَاقُ ابْنِ شِهَابٍ لَيْسَ فِيهِ تَصْرِيحٌ بِسَمَاعِهِ لَهُ مِنْ عُرْوَةَ، لَكِنَّ فِي رِوَايَةِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: كُنَّا مَعَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَفِي رِوَايَةِ شُعَيْبٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ: سَمِعْتُ عُرْوَةَ يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ.

قَالَ الْقُرْطُبِيُّ: لَيْسَ فِيمَا ذَكَرَهُ عُرْوَةُ حُجَّةٌ وَاضِحَةٌ عَلَى عُمَرَ إِذْ لَمْ يُعَيِّنْ لَهُ الْأَوْقَاتَ.

وَأَجَابَ الْحَافِظُ بِأَنَّ فِي رِوَايَةِ مَالِكٍ اخْتِصَارًا وَقَدْ وَرَدَ بَيَانُهَا مِنْ طَرِيقِ غَيْرِهِ، فَأَخْرَجَ الدَّارَقُطْنِيُّ وَالطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ فِي التَّمْهِيدِ مِنْ طَرِيقِ أَيُّوبَ بْنِ عُتْبَةَ وَالْأَكْثَرُ عَلَى تَضْعِيفِهِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فِي زَمَنِ الْحَجَّاجِ وَالْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، وَكَانَ ذَلِكَ زَمَانًا يُؤَخِّرُونَ فِيهِ الصَّلَاةَ، فَحَدَّثَ عُرْوَةُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ وَبَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ كِلَاهُمَا قَدْ صَحِبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: " «أَنَّ جِبْرِيلَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ دَلَكَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ صَلِّ الظُّهْرَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَهُ حِينَ كَانَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ صَلِّ الْعَصْرَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَهُ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ صَلِّ الْمَغْرِبَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَهُ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ صَلِّ الْعِشَاءَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَهُ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ
এটি সাহাবীর মুরসাল; কারণ তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেননি। তাই সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি তা সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন অথবা তাঁর কাছে তা পৌঁছেছে এমন কারো মাধ্যমে যিনি প্রত্যক্ষ করেছেন বা শুনেছেন, যেমন অন্য কোনো সাহাবী। তবে বুখারী ও মুসলিমে লাইসের বর্ণনাটি সকল অস্পষ্টতা দূর করে দেয়। এর শব্দগুলো হলো: উরওয়াহ বলেন: আমি বশীর ইবনে আবি মাসউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: "জিবরীল অবতীর্ণ হলেন..." অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন।

আবদুর রাজ্জাক, মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে: এরপর থেকে উমর আমৃত্যু কোনো না কোনো চিহ্নের মাধ্যমে নামাযের সময় নির্ধারণ করতেন।

ইবনে আবদুল বার বলেন: যদি প্রশ্ন করা হয় যে, নামাযের ওয়াক্তসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়, তাহলে উমরের ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব হলো? উত্তরে বলা হয়েছে: ওয়াক্তসমূহ সাব্যস্ত হওয়ার মূল কারণ সম্পর্কে তাঁর অনবহিত থাকা মানেই এই নয় যে তিনি ওয়াক্তগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন। বরং হতে পারে বিষয়টি তাঁর কাছে আমল হিসেবে, ঐকমত্য হিসেবে এবং তাঁর যুগের আলেমদের থেকে গ্রহণ করা হিসেবে প্রচলিত ছিল; কিন্তু এর মূল ভিত্তি অর্থাৎ জিবরীল (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর এগুলোর অবতরণ কীভাবে ছিল, অথবা নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য এগুলোকে কীভাবে বিধিবদ্ধ করেছেন—যেমনটি তিনি নামায ও যাকাতের অন্যান্য বিষয়াদি বিধিবদ্ধ ও ফরয করেছেন—সে সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। (সমাপ্ত)

ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে: জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর ইমামতি সম্পর্কে উমরের জ্ঞান না থাকার বিষয়টি থেকে এটি অনিবার্য হয় না যে, নিরবচ্ছিন্ন আমলের মাধ্যমে ওয়াক্তগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল না। বরং এর মূল ভিত্তি যে জিবরীলের সরাসরি আমল দ্বারা স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে ছিল, তা তিনি জানতেন না। যখন তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত হলেন, তখন মনে হলো যে তিনি সম্ভবত একই ওয়াক্তের বিভিন্ন অংশের মধ্যে কোনো তারতম্য আছে বলে মনে করতেন না। মুগীরা এবং অন্যান্য সাহাবীদের আমলকেও একইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। আবু মাসউদের কথার জবাবে মুগীরা কী বলেছিলেন সে সংক্রান্ত কোনো বর্ণনা আমি পাইনি, তবে বাহ্যত বোঝা যায় যে তিনি তাঁর বর্ণনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। তেমনি ইবনে শিহাবের বর্ণনার প্রেক্ষাপটে উরওয়াহ থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি স্পষ্ট নয়, কিন্তু আবদুর রাজ্জাক, মা’মার থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আমরা উমর ইবনে আবদুল আযীযের সাথে ছিলাম। আর শুআইব, যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আমি উরওয়াহকে উমর ইবনে আবদুল আযীযের কাছে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি।

ইমাম কুরতুবী বলেন: উরওয়াহ যা উল্লেখ করেছেন তাতে উমরের বিরুদ্ধে কোনো স্পষ্ট দলীল নেই, কারণ তিনি তাঁর কাছে ওয়াক্তগুলোকে সুনির্দিষ্ট করেননি।

হাফেয (ইবনে হাজার) এর উত্তর দিয়েছেন যে, ইমাম মালিকের বর্ণনায় সংক্ষেপ রয়েছে এবং অন্যান্য সূত্রে এর বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। যেমন দারাকুতনী, তাবারানী তাঁর 'আল-কাবীর'-এ এবং ইবনে আবদুল বার 'আত-তামহীদ'-এ আইয়ুব ইবনে উতবাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন (যদিও অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে দুর্বল বলেছেন), তিনি আবু বকর ইবনে হাযম থেকে বর্ণনা করেন যে, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর উমর ইবনে আবদুল আযীযের কাছে হাদীস বর্ণনা করছিলেন যখন তিনি হাজ্জাজ ও ওয়ালীদ ইবনে আবদুল মালিকের যুগে মদীনার আমীর ছিলেন। সেটি এমন এক সময় ছিল যখন তারা নামায বিলম্বিত করত। উরওয়াহ উমরের কাছে বর্ণনা করে বললেন: আমাকে আবু মাসউদ আনসারী ও বশীর ইবনে আবি মাসউদ হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়েই নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহচর্য পেয়েছিলেন: "সূর্য যখন ঢলে পড়ল তখন জিবরীল নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! যুহরের নামায পড়ুন। ফলে তিনি নামায পড়লেন। এরপর যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার সমান হলো তখন তিনি আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আসরের নামায পড়ুন। ফলে তিনি নামায পড়লেন। এরপর যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! মাগরিবের নামায পড়ুন। ফলে তিনি নামায পড়লেন। এরপর যখন গোধূলির লালিমা অদৃশ্য হয়ে গেল তখন তিনি আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! এশার নামায পড়ুন। ফলে তিনি নামায পড়লেন। এরপর যখন ঊষালোক প্রস্ফুটিত হলো..."
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٥)
فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ صَلِّ الصُّبْحَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَهُ الْغَدُ حِينَ كَانَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهُ فَقَالَ: صَلِّ الظُّهْرَ فَصَلَّى، ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ كَانَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ فَقَالَ: صَلِّ الْعَصْرَ فَصَلَّى، ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ: صَلِّ الْمَغْرِبَ فَصَلَّى، ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ: صَلِّ الْعِشَاءَ فَصَلَّى، ثُمَّ أَتَاهُ حِينَ أَضَاءَ الْفَجْرُ وَأَسْفَرَ فَقَالَ: صَلِّ الصُّبْحَ فَصَلَّى، ثُمَّ قَالَ: مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ يَعْنِي أَمْسِ وَالْيَوْمَ» " قَالَ عُمَرُ لِعُرْوَةَ: أَجِبْرِيلُ أَتَاهُ؟ قَالَ: نَعَمْ.

وَأَخْرَجَ أَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُهُ وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَغَيْرُهُ مِنْ طَرِيقِ ابْنِ وَهْبٍ وَالطَّبَرَانِيُّ مِنْ طَرِيقِ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ كِلَاهُمَا عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ اللَّيْثِيِّ أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَانَ قَاعِدًا عَلَى الْمِنْبَرِ فَأَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ: أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ قَدْ أَخْبَرَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِوَقْتِ الصَّلَاةِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: اعْلَمْ مَا تَقُولُ، فَقَالَ عُرْوَةُ: سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " «نَزَلَ جِبْرِيلُ فَأَخْبَرَنِي بِوَقْتِ الصَّلَاةِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ حَسَبَ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ، فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ يُصَلِّي الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حِينَ يَشْتَدُّ الْحَرُّ، وَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَهَا الصُّفْرَةُ فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ مِنَ الصَّلَاةِ فَيَأْتِي ذَا الْحُلَيْفَةِ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ، وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ حِينَ تَسْقُطُ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعِشَاءَ حِينَ يَسْوَدُّ الْأُفُقُ وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حَتَّى تَجْتَمِعَ النَّاسُ، وَصَلَّى الصُّبْحَ مَرَّةً بِغَلَسٍ ثُمَّ صَلَّى مَرَّةً أُخْرَى فَأَسْفَرَ بِهَا، ثُمَّ كَانَتْ صَلَاتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ التَّغْلِيسِ حَتَّى مَاتَ لَمْ يَعُدْ إِلَى أَنْ يُسْفِرَ» " قَالَ الْحَافِظُ: فَفِي هَذِهِ الرِّوَايَةِ بَيَانُ أَبِي مَسْعُودٍ لِلْأَوْقَاتِ وَفِيهِ مَا يَرْفَعُ الْإِشْكَالَ وَيُوَضِّحُ احْتِجَاجَ عُرْوَةَ بِهِ.

وَذَكَرَ أَبُو دَاوُدَ أَنَّ أُسَامَةَ تَفَرَّدَ بِتَفْسِيرِ الْأَوْقَاتِ، وَأَنَّ أَصْحَابَ الزُّهْرِيِّ لَمْ يَذْكُرُوا تَفْسِيرًا.

قَالَ: وَكَذَا ذَكَرَهُ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ وَحَبِيبُ بْنُ أَبِي مَرْزُوقٍ، عَنْ عُرْوَةَ لَمْ يَذْكُرَا تَفْسِيرًا انْتَهَى.

وَرِوَايَةُ هِشَامٍ أَخْرَجَهَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَرِوَايَةُ حَبِيبٍ أَخْرَجَهَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ فِي مُسْنَدِهِ، وَقَدْ وَجَدْتُ مَا يُعَضِّدُ رِوَايَةَ أُسَامَةَ وَيَزِيدُ عَلَيْهَا أَنَّ الْبَيَانَ مِنْ فِعْلِ جِبْرِيلَ، وَذَلِكَ فِيمَا رَوَاهُ الْبَاغَنْدِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ فَذَكَرَهُ مُنْقَطِعًا، لَكِنْ رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عُرْوَةَ فَرَجَعَ الْحَدِيثَ إِلَى عُرْوَةَ وَوَضَّحَ أَنَّ لَهُ أَصْلًا وَأَنَّ فِي رِوَايَةِ مَالِكٍ وَمَنْ تَابَعَهُ اخْتِصَارًا، وَبِهِ جَزَمَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ، وَلَيْسَ فِي رِوَايَتِهِ وَمَنْ وَافَقَهُ مَا يَنْفِي الزِّيَادَةَ الْمَذْكُورَةَ فَلَا يُوصَفُ وَالْحَالَةُ هَذِهِ بِالشُّذُوذِ، انْتَهَى.

أَيْ: فِيهَا اخْتِصَارٌ مِنْ وَجْهَيْنِ؛ أَحَدِهِمَا: أَنَّهُ لَمْ يُعَيِّنِ الْأَوْقَاتَ. وَثَانِيهِمَا: أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ صَلَاةَ جِبْرِيلَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْخَمْسَ إِلَّا مَرَّةً وَاحِدَةً، وَقَدْ عُلِمَ مِنْ رِوَايَةِ أَيُّوبَ أَنَّهُ صَلَّى بِهِ الْخَمْسَ مَرَّتَيْنِ فِي يَوْمَيْنِ، وَقَدْ وَرَدَ مِنْ رِوَايَةِ الزُّهْرِيِّ نَفْسِهِ، فَأَخْرَجَ ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ فِي مُوَطَّئِهِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ
তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, ফজরের সালাত আদায় করুন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। তারপর পরবর্তী দিন তিনি এলেন যখন প্রতিটি জিনিসের ছায়া তার সমপরিমাণ হলো, তখন তিনি বললেন: যোহরের সালাত আদায় করুন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি এলেন যখন প্রতিটি জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ হলো, তখন তিনি বললেন: আসরের সালাত আদায় করুন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি এলেন যখন সূর্য অস্তমিত হলো, তখন তিনি বললেন: মাগরিবের সালাত আদায় করুন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি এলেন যখন রাতের একটি প্রহর অতিবাহিত হলো, তখন তিনি বললেন: এশার সালাত আদায় করুন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি এলেন যখন ফজর উদ্ভাসিত ও ফর্সা হলো, তখন তিনি বললেন: ফজরের সালাত আদায় করুন। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি বললেন: এই দুই (সময়ের) মধ্যবর্তী সময়টিই হলো সালাতের ওয়াক্ত; অর্থাৎ গতকাল এবং আজকের মধ্যবর্তী সময়টুকু। উমর উরওয়াকে বললেন: জিবরীল কি তাঁর নিকট এসেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজায়মাহ ও অন্যরা এটিকে সহীহ বলেছেন। এটি ইবনে ওয়াহাব এবং তাবারানী ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে উসামা ইবনে যায়িদ আল-লাইসি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে শিহাব তাঁকে অবহিত করেছেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ মিম্বরে উপবিষ্ট ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি আসরের সালাতে কিছুটা বিলম্ব করলেন। তখন উরওয়া তাঁকে বললেন: জেনে রাখুন, জিবরীল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। উমর তাঁকে বললেন: আপনি কী বলছেন তা ভেবে দেখুন। তখন উরওয়া বললেন: আমি বশীর ইবনে আবি মাসউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আবু মাসউদ আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "জিবরীল অবতীর্ণ হলেন এবং আমাকে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে অবহিত করলেন। অতঃপর আমি তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম, তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম, তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম, তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম, তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম"—এভাবে তিনি তাঁর আঙুলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত গণনা করলেন। "আমি রাসূলুল্লাহ-কে দেখেছি তিনি যোহরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য ঢলে পড়ত, আর কখনো কখনো প্রচণ্ড গরমে তিনি তা বিলম্ব করতেন। আমি তাঁকে দেখেছি তিনি আসরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য উঁচুতে উজ্জ্বল থাকতো, তাতে হলদে ভাব আসার আগেই; ফলে একজন লোক সালাত শেষ করে সূর্য ডোবার আগেই 'যা আল-হুলাইফা' নামক স্থানে পৌঁছাতে পারতেন। আর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য ডুবে যেত। এবং তিনি এশার সালাত আদায় করতেন যখন দিগন্ত কালো হয়ে যেত, আর কখনো কখনো মানুষ সমবেত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করতেন। তিনি একবার ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতে আদায় করেছেন, আবার অন্য সময় তা ফর্সা হলে আদায় করেছেন। এরপর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সালাত সেই অন্ধকারের মধ্যেই ছিল, তিনি আর ফর্সা হওয়ার দিকে ফিরে যাননি।" হাফেজ বলেন: এই বর্ণনায় আবু মাসউদের পক্ষ থেকে ওয়াক্তসমূহের বর্ণনা রয়েছে এবং এতে এমন বিষয় রয়েছে যা অস্পষ্টতা দূর করে এবং এর মাধ্যমে উরওয়ার দলিল পেশ করার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন যে, উসামা ওয়াক্তসমূহের বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন, আর যুহরীর ছাত্ররা এই ব্যাখ্যা উল্লেখ করেননি।

তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়া এবং হাবিব ইবনে আবি মারজুক উরওয়া থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা বিস্তারিত ব্যাখ্যা উল্লেখ করেননি। সমাপ্ত।

হিশামের বর্ণনাটি সাঈদ ইবনে মানসুর সংকলন করেছেন এবং হাবিবের বর্ণনাটি হারিস ইবনে আবি উসামা তাঁর মুসনাদে সংকলন করেছেন। আমি উসামার বর্ণনার স্বপক্ষে একটি সমর্থক বর্ণনা পেয়েছি এবং এতে অতিরিক্ত রয়েছে যে, এই বর্ণনাটি জিবরীলের আমল বা কাজের মাধ্যমে ছিল। তা বা গান্দী এবং বায়হাকী আবু বকর ইবনে হাযম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর কাছে আবু মাসউদ থেকে এই খবর পৌঁছেছে। তিনি এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তবে তাবারানী আবু বকর থেকে উরওয়ার মাধ্যমে অন্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে হাদিসটি উরওয়ার দিকেই ফিরে যায় এবং এটি স্পষ্ট করে যে এর একটি মূল ভিত্তি রয়েছে। আর মালেকের বর্ণনা এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন তাদের বর্ণনায় সংক্ষিপ্তকরণ রয়েছে; ইবনে আব্দুল বার এটি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন। তাঁর বর্ণনায় এবং যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন তাদের বর্ণনায় উল্লিখিত অতিরিক্ত অংশটি নাকচ করার মতো কিছু নেই। সুতরাং এই অবস্থায় একে 'শাজ' (বিচ্ছিন্ন বা ত্রুটিপূর্ণ) হিসেবে অভিহিত করা যাবে না। সমাপ্ত।

অর্থাৎ: এতে দুই দিক থেকে সংক্ষিপ্তকরণ রয়েছে; প্রথমত: তিনি ওয়াক্তগুলো সুনির্দিষ্ট করেননি। দ্বিতীয়ত: তিনি জিবরীল কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের বিষয়টি মাত্র একবার উল্লেখ করেছেন। অথচ আইয়ুবের বর্ণনা থেকে জানা গেছে যে, তিনি তাঁর সাথে দুই দিনে দুইবার পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছেন। এটি স্বয়ং যুহরীর নিজস্ব বর্ণনা থেকেও বর্ণিত হয়েছে; ইবনে আবি যিব তাঁর মুওয়াত্তায় ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উরওয়া ইবনে যুবায়েরকে উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট বর্ণনা করতে শুনেছেন...
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٦)
أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلَاةَ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ فَقَالَ: أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى وَصَلَّى وَصَلَّى وَصَلَّى وَصَلَّى ثُمَّ صَلَّى ثُمَّ صَلَّى ثُمَّ صَلَّى ثُمَّ صَلَّى ثُمَّ صَلَّى ثُمَّ قَالَ: هَكَذَا أُمِرْتُ.

وَثَبَتَ أَيْضًا صَلَاتُهُ بِهِ مَرَّتَيْنِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيِّ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فِي التِّرْمِذِيِّ وَالنَّسَائِيِّ وَالدَّارَقُطْنِيِّ وَابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ فِي التَّمْهِيدِ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عِنْدَ أَحْمَدَ وَالطَّبَرَانِيِّ فِي الْكَبِيرِ وَابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ أَخْرَجَهُ الْبَزَّارُ وَابْنُ عُمَرَ أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ، وَبِهَذَا رَدُّ قَوْلِ ابْنِ بَطَّالٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ دَلِيلٌ عَلَى ضَعْفِ حَدِيثِ أَنَّ جِبْرِيلَ أَمَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمَيْنِ بِوَقْتَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ لِكُلِّ صَلَاةٍ؛ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ صَحِيحًا لَمْ يُنْكِرْ عُرْوَةُ عَلَى عُمَرَ صَلَاتَهُ فِي آخِرِ الْوَقْتِ مُحْتَجًّا بِصَلَاةِ جِبْرِيلَ، مَعَ أَنَّ جِبْرِيلَ قَدْ صَلَّى فِي الْيَوْمِ الثَّانِي فِي آخِرِ الْوَقْتِ وَقَالَ: الْوَقْتُ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ.

قَالَ الْحَافِظُ: وَأُجِيبُ بِاحْتِمَالِ أَنَّ صَلَاةَ عُمَرَ كَانَتْ قَدْ خَرَجَتْ، عَنْ وَقْتِ الِاخْتِيَارِ وَهُوَ مَصِيرُ ظِلِّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ لَا عَنْ وَقْتِ الْجَوَازِ وَهُوَ مَغِيبُ الشَّمْسِ، فَيَتَّجِهُ إِنْكَارُ عُرْوَةَ وَلَا يَلْزَمُ مِنْهُ ضَعْفُ الْحَدِيثِ، أَوْ يَكُونُ عُرْوَةُ أَنْكَرَ مُخَالَفَةَ مَا وَاظَبَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ الصَّلَاةُ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ، وَرَأَى أَنَّ الصَّلَاةَ بَعْدَ ذَلِكَ إِنَّمَا هِيَ لِبَيَانِ الْجَوَازِ فَلَا يَلْزَمُ مِنْهُ ضَعْفُ الْحَدِيثِ أَيْضًا.

وَقَدْ رَوَى سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ مُرْسَلًا: " إِنَّ «الرَّجُلَ لَيُصَلِّي الصَّلَاةَ وَمَا فَاتَتْهُ وَلَمَا فَاتَهُ مِنْ وَقْتِهَا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ» " وَرَوَاهُ أَيْضًا عَنِ ابْنِ عُمَرَ مِنْ قَوْلِهِ: وَيُؤَيِّدُ ذَلِكَ احْتِجَاجُ عُرْوَةَ بِحَدِيثِ عَائِشَةَ: " «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا» " وَهِيَ الصَّلَاةُ الَّتِي وَقَعَ الْإِنْكَارُ بِسَبَبِهَا، وَبِذَلِكَ تَظْهَرُ مُنَاسَبَةُ ذِكْرِهِ لِحَدِيثِ عَائِشَةَ بَعْدَ حَدِيثِ أَبِي مَسْعُودٍ؛ لِأَنَّ حَدِيثَهَا يُشْعِرُ بِمُوَاظَبَتِهِ عَلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ، وَحَدِيثَ أَبِي مَسْعُودٍ يُشْعِرُ بِأَنَّ أَصْلَ بَيَانِ الْأَوْقَاتِ كَانَ بِتَعْلِيمِ جِبْرِيلَ.

وَفِي الْحَدِيثِ مِنَ الْفَوَائِدِ: دُخُولُ الْعُلَمَاءِ عَلَى الْأُمَرَاءِ وَإِنْكَارُهُمْ عَلَيْهِمْ مَا يُخَالِفُ السُّنَّةَ، وَاسْتِثْبَاتُ الْعَالِمَ فِيمَا يَسْتَغْرِبُهُ السَّامِعُ وَالرُّجُوعُ عِنْدَ التَّنَازُعِ لِلسُّنَّةِ، وَفَضِيلَةُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَالْمُبَادَرَةُ بِالصَّلَاةِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ الْفَاضِلِ، وَقَبُولُ الْخَبَرِ الْوَاحِدِ الْمُثْبَتِ، وَاسْتَدَلَّ بِهِ ابْنُ بَطَّالٍ وَغَيْرُهُ، عَلَى أَنَّ الْحُجَّةَ بِالْمُتَّصِلِ دُونَ الْمُنْقَطِعِ؛ لِأَنَّ عُرْوَةَ أَجَابَ عَنِ اسْتِفْهَامِ عُمَرَ لَهُ لَمَّا أَنْ أَرْسَلَ الْحَدِيثَ بِذِكْرِ مَنْ حَدَّثَهُ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَكَأَنَّ عُمَرَ قَالَ لَهُ: تَأَمَّلْ مَا تَقُولُ فَلَعَلَّهُ بَلَغَكَ عَنْ غَيْرِ ثَبْتٍ، وَكَأَنَّ عُرْوَةَ قَالَ لَهُ: بَلْ قَدْ سَمِعْتُهُ مِمَّنْ سَمِعَ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَالصَّاحِبُ قَدْ سَمِعَهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَاسْتَدَلَّ بِهِ عِيَاضٌ عَلَى جَوَازِ الِاحْتِجَاجِ بِالْمُرْسِلِ الثِّقَةِ لِصَنِيعِ عُرْوَةَ حِينَ احْتَجَّ عَلَى عُمَرَ قَالَ: وَإِنَّمَا رَاجَعَهُ عُمَرُ لِيُثَبِّتَهُ فِيهِ لَا لِكَوْنِهِ لَمْ يَرْضَ بِهِ مُرْسَلًا كَذَا قَالَ، وَظَاهِرُ السِّيَاقِ يَشْهَدُ لِمَا قَالَهُ ابْنُ بَطَّالٍ انْتَهَى.
আবু মাসউদ আল-আনসারি থেকে বর্ণিত যে, মুগীরা বিন শু'বা সালাতকে বিলম্বিত করলেন, তখন আবু মাসউদ তার নিকট প্রবেশ করে বললেন: আপনি কি জানেন না যে জিবরাঈল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অবতীর্ণ হলেন এবং সালাত আদায় করলেন, সালাত আদায় করলেন, সালাত আদায় করলেন, সালাত আদায় করলেন, সালাত আদায় করলেন, অতঃপর পুনরায় সালাত আদায় করলেন, সালাত আদায় করলেন, সালাত আদায় করলেন, সালাত আদায় করলেন, সালাত আদায় করলেন, এরপর বললেন: আমাকে এভাবেই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

জিবরাঈল কর্তৃক তাকে নিয়ে দুইবার সালাত আদায়ের বিষয়টি ইবনে আব্বাস থেকে আবু দাউদ ও তিরমিযীতে, এবং জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে তিরমিযী, নাসাঈ, দারা কুতনী ও ইবনে আব্দুল বার কর্তৃক ‘আত-তামহীদ’-এ বর্ণিত হয়ে সাব্যস্ত হয়েছে। এছাড়াও আবু সাঈদ খুদরী থেকে আহমাদ, তাবারানী কর্তৃক ‘আল-কাবীর’-এ ও ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা থেকে বাযযার এবং ইবনে উমর থেকে দারা কুতনী এটি বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে ইবনে বাত্তালের সেই বক্তব্যের খণ্ডন হয় যেখানে তিনি বলেছিলেন—এই হাদিসটি সেই হাদিসের দুর্বলতার প্রমাণ বহন করে যেখানে বলা হয়েছে জিবরাঈল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দুই দিনে প্রতিটি সালাত ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পড়িয়েছেন; কারণ যদি তা সহীহ হতো তবে উরওয়া জিবরাঈলের সালাতের মাধ্যমে দলিল পেশ করে উমরের শেষ সময়ে সালাত আদায়ের ওপর আপত্তি জানাতেন না, অথচ জিবরাঈল দ্বিতীয় দিন শেষ সময়েই সালাত আদায় করেছিলেন এবং বলেছিলেন: ‘সময় হলো এই দুইয়ের মধ্যবর্তী’।

হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, সম্ভবত উমরের সালাতটি ঐচ্ছিক সময় (ওয়াক্ত আল-ইখতিয়ার) অতিক্রম করে গিয়েছিল—যা হলো প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত—কিন্তু তা বৈধ সময়ের (ওয়াক্ত আল-জাওয়াজ) বাইরে যায়নি যা হলো সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এমতাবস্থায় উরওয়ার আপত্তির বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত হয় এবং এর দ্বারা হাদিস দুর্বল হওয়া আবশ্যক হয় না। অথবা হতে পারে উরওয়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেটির ওপর নিয়মিত ছিলেন—অর্থাৎ ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করা—তার বিপরীত করার কারণে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন যে, এর পরের সময়গুলো শুধুমাত্র বৈধতা বর্ণনার জন্য, ফলে এর মাধ্যমেও হাদিস দুর্বল হওয়া সাব্যস্ত হয় না।

সাঈদ বিন মানসুর তালক বিন হাবীব থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই ব্যক্তি সালাত আদায় করে অথচ তার সময় অতিবাহিত হয়ে যায় না, কিন্তু ওয়াক্তের যে অংশটুকু সে হারাল তা তার পরিবার ও সম্পদের চেয়েও অধিক উত্তম।" তিনি এটি ইবনে উমর থেকেও তার নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উরওয়া কর্তৃক আয়েশার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা একে সমর্থন করে যে: "তিনি (রাসূলুল্লাহ) আসরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য তখনও তার হুজরার ভেতর থাকত।" আর এটিই সেই সালাত যার কারণে আপত্তির ঘটনাটি ঘটেছিল। এর মাধ্যমেই আবু মাসউদের হাদিসের পর আয়েশার হাদিস উল্লেখ করার প্রাসঙ্গিকতা স্পষ্ট হয়; কারণ আয়েশার হাদিসটি রাসূলুল্লাহর ওয়াক্তের শুরুতে আসরের সালাত নিয়মিত আদায় করার বিষয়টি জানান দেয়, আর আবু মাসউদের হাদিসটি ইঙ্গিত দেয় যে সালাতের ওয়াক্তসমূহের মূল বিবরণ জিবরাঈলের শিক্ষার মাধ্যমেই হয়েছিল।

এই হাদিসে বিদ্যমান শিক্ষা বা ফায়দাসমূহ হলো: আলেমদের শাসকবর্গের নিকট যাওয়া এবং সুন্নাহর পরিপন্থী কাজের জন্য তাদের ওপর আপত্তি জানানো। শ্রোতা যে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে সে বিষয়ে আলেমের দৃঢ়তা প্রদর্শন করা এবং বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্রে সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা। উমর বিন আব্দুল আযীযের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পাওয়া। ফযিলতপূর্ণ ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায়ে ত্বরান্বিত করা। একক সূত্রে বর্ণিত প্রমাণিত সংবাদ (খবর আল-ওয়াহিদ) গ্রহণ করা। ইবনে বাত্তাল ও অন্যান্যরা এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, বিচ্ছিন্ন সনদের পরিবর্তে সংযুক্ত সনদের (মুত্তাসিল) হাদিসই হলো প্রমাণ; কারণ উরওয়া যখন মুরসাল হিসেবে হাদিসটি পেশ করেছিলেন তখন উমরের জিজ্ঞাসার উত্তরে তিনি তার বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেন এবং তার দিকে ফিরে যান। যেন উমর তাকে বলেছিলেন: আপনি যা বলছেন তা ভেবে দেখুন, সম্ভবত এটি আপনার কাছে কোনো অনির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে পৌঁছেছে। আর উরওয়া যেন তাকে বলেছিলেন: বরং আমি এমন ব্যক্তির কাছ থেকে শুনেছি যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীর কাছ থেকে শুনেছেন, আর সাহাবী তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে শুনেছেন। আর ইয়ায (কাযী ইয়ায) উরওয়ার আচরণের ওপর ভিত্তি করে নির্ভরযোগ্য রাবীর মুরসাল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার বৈধতার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: উমর কেবল তাকে দৃঢ় করার জন্যই পুনরায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মুরসাল হওয়ার কারণে তিনি এটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য নয়—তিনি এমনই বলেছেন, তবে প্রসঙ্গের বাহ্যিক দিক ইবনে বাত্তালের বক্তব্যের পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٦)
قَالَ عُرْوَةُ وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ

ـــــــــــــــــــــــــــــ

2 - 2
উরওয়াহ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করতেন এমতাবস্থায় যখন সূর্য তাঁর কামরার মধ্যে থাকত, তা উপরে ওঠার পূর্বেই।

ـــــــــــــــــــــــــــــ

২ - ২
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٧)
- (قَالَ عُرْوَةُ) مَقُولُ ابْنِ شِهَابٍ فَهُوَ مَوْصُولٌ لَا مُعَلَّقٌ كَمَا زَعَمَ الْكِرْمَانِيُّ، قَالَ الْحَافِظُ: وَهُوَ عَلَى بُعْدِهِ مُخَالِفٌ لِلْوَاقِعِ؛ أَيْ: لِرِوَايَةِ الصَّحِيحَيْنِ لِهَذَا الْقَدْرِ وَحْدَهُ أَيْضًا عَنْ سُفْيَانَ عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَمِنْ طَرِيقٍ أُخْرَى عَنِ اللَّيْثِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بَلْ وَكَذَا أَفْرَدَهُ فِي الْمُوَطَّأِ رِوَايَةَ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكٌ قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ.

(وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ) بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ أَفْقَهُ النِّسَاءِ مُطْلَقًا (زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَفْضَلُ أَزْوَاجِهِ إِلَّا خَدِيجَةَ فَفِيهَا خِلَافٌ أَصَحُّهُ تَفْضِيلُ خَدِيجَةَ، مَاتَتْ عَائِشَةُ سَنَةَ سَبْعٍ وَخَمْسِينَ عَلَى الصَّحِيحِ (أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ) سُمِّيَتِ الْعَصْرَ لِأَنَّهَا تَعْصِرُ، رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ وَعَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ؛ أَيْ: يَتَبَطَّأُ بِهَا، قَالَ الْجَوْهَرِيُّ: قَالَ الْكِسَائِيُّ: يُقَالُ جَاءَ فُلَانٌ عَصْرًا؛ أَيْ: بَطِيئًا.

(وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا) بِضَمِّ الْحَاءِ الْمُهْمَلَةِ وَسُكُونِ الْجِيمِ؛ أَيْ: بَيْتِهَا، قَالَ ابْنُ سِيدَهْ: سُمِّيَتْ بِذَلِكَ لِمَنْعِهَا الْمَالَ؛ أَيْ: وَوُصُولِ الْأَغْيَارِ مِنَ الرِّجَالِ، وَلِلْبَيْهَقِيِّ: فِي قَعْرِ حُجْرَتِهَا وَفِيهِ نَوْعُ الْتِفَاتٍ، وَفِي رِوَايَةٍ: فِي حُجْرَتِي عَلَى الْأَصْلِ.

(قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ) أَيْ: تَرْتَفِعَ، قَالَ فِي الْمُوعَبِ: ظَهَرَ فُلَانٌ السَّطْحَ إِذَا عَلَاهُ، وَمِنْهُ: {فَمَا اسْطَاعُوا أَنْ يَظْهَرُوهُ} [الكهف: 97] (سُورَةُ الْكَهْفِ: الْآيَةُ 97) أَيْ: يَعْلُوهُ.

وَقَالَ الْخَطَّابِيُّ: مَعْنَى الظُّهُورِ الصُّعُودُ وَمِنْهُ: {وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ} [الزخرف: 33] (سُورَةُ الزُّخْرُفِ: الْآيَةُ 33) وَقَالَ عِيَاضٌ: قِيلَ: الْمُرَادُ تَظْهَرُ عَلَى الْجُدُرِ. وَقِيلَ: تَرْتَفِعُ كُلُّهَا عَنِ الْحُجْرَةِ. وَقِيلَ: تَظْهَرُ بِمَعْنَى تَزُولُ عَنْهَا كَمَا قَالَ: وَتِلْكَ شَكَاةٌ ظَاهِرٌ عَنْكَ عَارُهَا، انْتَهَى.

وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ فِي الصَّحِيحَيْنِ: " «كَانَ يُصَلِّي صَلَاةَ الْعَصْرِ وَالشَّمْسُ طَالِعَةٌ فِي حُجْرَتِي لَمْ يَظْهَرِ الْفَيْءُ بَعْدُ» " فَجَعَلَ الظُّهُورَ لِلْفَيْءِ.

وَفِي رِوَايَةِ مَالِكٍ: " جَعَلَهُ لِلشَّمْسِ " وَجَمَعَ الْحَافِظُ بِأَنَّ كُلًّا مِنَ الظُّهُورِ غَيْرُ الْآخَرِ، فَظُهُورُ الشَّمْسِ خُرُوجُهَا مِنَ الْحُجْرَةِ، وَظُهُورُ الْفَيْءِ انْبِسَاطُهُ فِي الْحُجْرَةِ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي كَانَتِ الشَّمْسُ فِيهِ بَعْدَ خُرُوجِهَا.

قَالَ: وَالْمُسْتَفَادُ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجِيلُ صَلَاةِ الْعَصْرِ فِي أَوَّلِ وَقْتِهَا، وَهَذَا هُوَ الَّذِي فَهِمَتْهُ عَائِشَةُ وَكَذَا عُرْوَةُ الرَّاوِي عَنْهَا، وَاحْتَجَّ بِهِ عَلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي تَأْخِيرِهِ صَلَاةَ الْعَصْرِ كَمَا مَرَّ، وَشَذَّ الطَّحَاوِيُّ فَقَالَ: لَا دَلَالَةَ فِيهِ عَلَى التَّعْجِيلِ لِاحْتِمَالِ أَنَّ الْحُجْرَةَ كَانَتْ قَصِيرَةَ الْجِدَارِ فَلَمْ تَكُنْ تَحْتَجِبُ عَنْهَا إِلَّا بِقُرْبِ غُرُوبِهَا فَيَدُلُّ عَلَى التَّأْخِيرِ لَا عَلَى التَّعْجِيلِ، وَتَعَقَّبَ بِأَنَّ هَذَا الِاحْتِمَالَ إِنَّمَا يُتَصَوَّرُ مَعَ اتِّسَاعِ الْحُجْرَةِ، وَقَدْ عُرِفَ بِالِاسْتِفَاضَةِ وَالْمُشَاهَدَةِ أَنَّ حُجَرَ أَزْوَاجِهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ تَكُنْ مُتَّسِعَةً وَلَا يَكُونُ ضَوْءُ الشَّمْسِ بَاقِيًا فِي قَعْرِ الْحُجْرَةِ الصَّغِيرَةِ لَا وَالشَّمْسُ قَائِمَةً مُرْتَفِعَةً، وَإِلَّا مَتَى مَالَتْ جِدًّا ارْتَفَعَ ضَوْؤُهَا
(উরওয়াহ বলেন) এটি ইবনে শিহাবের উক্তি, সুতরাং এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত), মুআল্লাক (ঝুলন্ত) নয় যেমনটি কিরমানি দাবি করেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: এটি দূরবর্তী হওয়ার পাশাপাশি বাস্তবতার পরিপন্থী; অর্থাৎ, সুফিয়ান হতে যুহরী থেকে বর্ণিত এবং লাইস হতে ইবনে শিহাবের সূত্রে বর্ণিত সহীহাইনের এই নির্দিষ্ট অংশের বর্ণনারও পরিপন্থী। বরং ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনায় মুওয়াত্তায় এটি পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন: মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে শিহাব যুহরী আমাকে উরওয়াহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন।

(নিশ্চয়ই আয়েশা আমাকে বর্ণনা করেছেন) তিনি আবু বকর সিদ্দিকের কন্যা, উম্মুল মুমিনীন, নিরঙ্কুশভাবে নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকীহ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী এবং খাদিজা ব্যতীত তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তবে খাদিজার ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে যার মধ্যে খাদিজাকে শ্রেষ্ঠ বলার মতটিই অধিক বিশুদ্ধ। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে সাতান্ন হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন)। (নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাজ আদায় করতেন) একে আসর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি সময়কে সংকুচিত করে; যা দারা কুতনী আবু কিলাবা ও মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন; অর্থাৎ এতে দেরি করা হয়। জাওহারী বলেন: কিসায়ী বলেছেন: বলা হয়, অমুক ব্যক্তি আসর বা দেরিতে এসেছে।

(এমতাবস্থায় যে সূর্য তাঁর হুজরার ভেতর থাকতো) 'হুজরা' শব্দের হা বর্ণে পেশ এবং জীম বর্ণে সাকিন যোগে; অর্থাৎ তাঁর ঘরে। ইবনে সীদাহ বলেন: একে হুজরা বলা হয়েছে সম্পদ এবং বেগানা পুরুষদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণে। বায়হাকীর বর্ণনায় রয়েছে: 'হুজরার গভীর তলদেশে', আর এতে এক প্রকার ইলতিফাত (বাক্যরীতি পরিবর্তন) রয়েছে। এক বর্ণনায় এসেছে: 'আমার হুজরায়', যা মূল সূত্র অনুযায়ী বর্ণিত।

(উপরে ওঠার আগে) অর্থাৎ উঁচুতে ওঠার আগে। 'আল-মুআব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: অমুক ব্যক্তি ছাদের উপরে উঠেছে যখন সে তার উপরে আরোহণ করে। এর থেকেই এসেছে: {অতঃপর তারা তা অতিক্রম করতে পারল না} [সূরা কাহাফ: ৯৭] অর্থাৎ তার উপরে উঠতে পারল না।

খাত্তাবী বলেন: 'জুহুর' শব্দের অর্থ হলো আরোহণ করা। এর থেকে এসেছে: {এবং সিঁড়ি, যার উপরে তারা আরোহণ করে} [সূরা যুখরুফ: ৩৩]। ইয়ায বলেন: বলা হয়েছে এর অর্থ হলো সূর্য দেয়ালের উপর উঠে আসা। আবার বলা হয়েছে এর অর্থ হলো সূর্য হুজরা থেকে পুরোপুরি উপরে উঠে যাওয়া। আবার বলা হয়েছে 'জুহুর' অর্থ হলো অপসারিত হওয়া যেমন কবি বলেছেন: 'আর তা হলো এমন এক রোগ যার গ্লানি তোমার থেকে দূর হয়ে গেছে', উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

সহীহাইনে ইবনে শিহাব হতে ইবনে উয়াইনার বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি আসরের নামাজ আদায় করতেন যখন সূর্য আমার হুজরার ভেতর উজ্জ্বল থাকতো এবং তখনও ছায়া প্রকাশ পায়নি (উপরে ওঠেনি)"। এখানে 'জুহুর' শব্দটি ছায়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

মালিকের বর্ণনায় এটি সূর্যের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। হাফেজ (ইবনে হাজার) উভয় বর্ণনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, এখানে এক 'জুহুর' অন্যটি থেকে ভিন্ন। সূর্যের 'জুহুর' বা প্রকাশ পাওয়া মানে হুজরা থেকে বেরিয়ে যাওয়া, আর ছায়ার 'জুহুর' বা প্রকাশ পাওয়া মানে হলো হুজরা থেকে সূর্য বেরিয়ে যাওয়ার পর সেই স্থানে ছায়া বিস্তৃত হওয়া।

তিনি বলেন: এই হাদিস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা হলো আসরের নামাজ তার ওয়াক্তের শুরুতে দ্রুত আদায় করা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারী উরওয়াহ-ও এটিই বুঝতে পেরেছিলেন। আর এর দ্বারাই তিনি ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করেছিলেন যখন তিনি আসরের নামাজ দেরিতে আদায় করেছিলেন যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। ইমাম তহাবী এই মতের ব্যতিক্রম করেছেন এবং বলেছেন: এতে দ্রুত নামাজ পড়ার কোনো দলিল নেই, কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে হুজরার দেয়ালগুলো নিচু ছিল, তাই সূর্যাস্তের নিকটবর্তী সময় ছাড়া সূর্যের আলো হুজরা থেকে আড়াল হতো না। সুতরাং এটি দেরি করে পড়ার প্রমাণ দেয়, দ্রুত পড়ার নয়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এই সম্ভাবনাটি কেবল তখনই কল্পনা করা যায় যদি হুজরাটি বিশাল হতো। অথচ বহুল প্রচার এবং চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি সুপরিচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের হুজরাগুলো বিশাল ছিল না। আর সূর্য উজ্জ্বল এবং উঁচুতে থাকা ছাড়া ছোট হুজরার তলদেশে সূর্যের আলো অবশিষ্ট থাকা সম্ভব নয়। অন্যথায় যখনই সূর্য খুব বেশি হেলে পড়বে, তার আলো উপরে উঠে যাবে।
(খণ্ড: ١) শারহুয যারকানী আলাল মুয়াত্তা (পৃষ্ঠা: ٧٨)
عَنْ قَاعِ الْحُجْرَةِ وَلَوْ كَانَتِ الْجُدُرُ قَصِيرَةً.

قَالَ النَّوَوِيُّ: كَانَتِ الْحُجْرَةُ ضَيِّقَةَ الْعَرْصَةِ قَصِيرَةَ الْجِدَارِ بِحَيْثُ كَانَ طُولُ جِدَارِهَا أَقَلَّ مِنْ مَسَافَةِ الْعَرْصَةِ بِشَيْءٍ يَسِيرٍ، فَإِذَا صَارَ ظِلُّ الْجِدَارِ مِثْلَهُ كَانَتِ الشَّمْسُ بَعْدُ فِي أَوَاخِرِ الْعَرْصَةِ، انْتَهَى.

وَفِيهِ أَنَّ أَوَّلَ وَقْتِ الْعَصْرِ مَصِيرُ ظِلِّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهُ بِالْإِفْرَادِ، وَلَمْ يُنْقَلْ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ خِلَافَ ذَلِكَ إِلَّا عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، فَالْمَشْهُورُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: أَوَّلُ وَقْتِ الْعَصْرِ مَصِيرُ ظِلِّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ بِالتَّثْنِيَةِ.

قَالَ الْقُرْطُبِيُّ: خَالَفَهُ النَّاسُ كُلُّهُمْ فِي ذَلِكَ حَتَّى أَصْحَابُهُ؛ يَعْنِي الْآخِذِينَ عَنْهُ، وَإِلَّا فَقَدَ انْتَصَرَ جَمَاعَةٌ مِمَّنْ جَاءَ بَعْدَهُمْ فَقَالُوا: ثَبَتَ الْأَمْرُ بِالْإِبْرَادِ، وَلَا يَذْهَبُ إِلَّا بَعْدَ ذَهَابِ اشْتِدَادِ الْحَرِّ، وَلَا يَذْهَبُ فِي تِلْكَ الْبِلَادِ إِلَّا بَعْدَ أَنْ يَصِيرَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهُ، فَيَكُونُ أَوَّلُ وَقْتِ الْعَصْرِ عِنْدَ مَصِيرِ الظِّلِّ مِثْلَيْهِ، وَحِكَايَةُ مِثْلِ هَذَا تُغْنِي عَنْ رَدِّهِ، انْتَهَى.

وَهَذَا الْحَدِيثُ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي الْمَوَاقِيتِ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ فَذَكَرَهُ.

وَمُسْلِمٌ: أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ فَذَكَرَهُ.

وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ.
কামরার মেঝে থেকে, যদিও দেয়ালগুলো নিচু ছিল।

ইমাম নববী বলেন: কামরাটির আঙিনা ছিল সংকীর্ণ এবং দেয়াল ছিল নিচু, যার ফলে দেয়ালের উচ্চতা আঙিনার দৈর্ঘ্যের চেয়ে সামান্য কম ছিল। সুতরাং যখন দেয়ালের ছায়া তার সমান হতো, তখন সূর্য আঙিনার শেষ প্রান্তে অবশিষ্ট থাকতো। (সমাপ্ত)।

আর এতে (প্রমাণ) রয়েছে যে, আসরের ওয়াক্তের শুরু হলো যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হয়। ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত অন্য কোনো আলেম থেকে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত হয়নি। তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ অভিমত হলো যে, তিনি বলেছেন: আসরের ওয়াক্তের শুরু হলো যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হয়।

ইমাম কুরতুবী বলেন: এই বিষয়ে সকল মানুষ তাঁর বিরোধিতা করেছেন, এমনকি তাঁর ছাত্রগণও; অর্থাৎ যারা তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। তবে পরবর্তীতে একদল আলেম তাঁর পক্ষ অবলম্বন করে বলেছেন: 'ইবরাদ' (নামাজ বিলম্বে ঠাণ্ডা করে পড়া) এর নির্দেশ সাব্যস্ত রয়েছে, আর প্রচণ্ড গরম না কমা পর্যন্ত তা অর্জিত হয় না। আর ঐ সমস্ত দেশগুলোতে গরমের প্রচণ্ডতা ততক্ষণ কমে না যতক্ষণ না প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হয়, ফলে আসরের ওয়াক্তের শুরু হবে যখন ছায়া দ্বিগুণ হবে। আর এই ধরণের বর্ণনা উল্লেখ করাই এর অসারতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। (সমাপ্ত)।

আর এই হাদিসটি ইমাম বুখারী 'নামাযের ওয়াক্ত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিকের নিকট এটি পাঠ করেছি, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

এবং ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আত-তামিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিকের নিকট এটি পাঠ করেছি, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

আর এটি ইমাম আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ-ও বর্ণনা করেছেন।