(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: -)
جزء في تفسير الباقيات الصالحات القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: جزء في تفسير الباقيات الصالحات
المؤلف: صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي العلائي (ت 761هـ)
المحقق: بدر الزمان محمد شفيع النيالي
الناشر: مكتبة الأيمان - المدينة المنورة
عدد الصفحات: 46
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বাকিয়াতুস সালিহাতের তাফসির বিষয়ক জুয বিভাগ: উলুমুল কুরআন ও তাফসিরের মূলনীতি
কিতাব: আল-বাকিয়াতুস সালিহাতের তাফসির বিষয়ক জুয
লেখক: সালাহউদ্দীন আবু সাঈদ খলিল ইবনে কাইকালদি ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকি আল-আলাঈ (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)
তাহকিক: বদরুজ্জামান মুহাম্মদ শফি আল-নিয়ালি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমান - মদিনা মুনাওয়ারা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬
[কিতাবের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
النَّصُّ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِالْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى وَحَسْبُنَا اللَّهُ وَكَفَى
قَالَ اللَّهُ سبحانه وتعالى:
{الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبك ثَوابًا وَخير أملا}
سَبَبُ نُزُولِ الآيَةِذَكَرَ أَهْلُ التَّفْسِيرِ أَنَّ هَذِه الْآيَة نزلت فِي عُيَيْنَة بن حصن
মূল পাঠপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই পর্যাপ্ত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:
{ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকাজসমূহ আপনার প্রতিপালকের নিকট প্রতিদানের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং আশার দিক থেকেও অধিক উত্তম।}
আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণতফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি উয়াইনাহ ইবনে হিসন-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ وَأَشْبَاهِهِمَا مِنْ رُؤَسَاءِ الْعَرَبِ الَّذِينَ قَالُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
لَوْ أَبْعَدْتَ هَؤُلاءِ عَنْ نَفْسِكَ لَجَالَسْنَاكَ
يَعْنُونَ فُقَرَاء الْمُؤمنِينَ مثل عمار وَبِلالا وَصُهَيْبًا وَسَلْمَانَ الْفَارِسِيَّ وَأَمْثَالَهُمْ رضي الله عنهم
وَقَالُوا إِنَّ رِيحَهُمْ يُؤْذِينَا
فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل فِي ذَلِكَ {وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ} الآيَةُ وَمَا بَعْدَهَا فِي ذِكْرِ عَاقِبَةِ الظَّالِمِينَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لِيُبَيِّنَ بِهِ مَآلَ هَؤُلاءِ الَّذِينَ تَكَبَّرُوا عَلَى الْفُقَرَاءِ وَحُسْنَ عَاقِبَةِ الْمُؤْمِنِينَ
ثُمَّ أَتْبَعَ سبحانه وتعالى ذَلِكَ بِقِصَّةِ الرَّجُلَيْنِ وَالْجَنَّتَيْنِ اللَّتَيْنِ لأَحَدِهِمَا وَمَا أَصَابَهُمَا مِنْ إِذْهَابِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ لَهُمَا وَحُسْنِ عَاقِبَةِ الْمُؤْمِنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {الْوَلايَةُ لِلَّهِ الْحَقِّ}
ثُمَّ أَتْبَعَ سُبْحَانَهُ ذَلِكَ بِذِكْرِ الْمَثَلِ لِلْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْحُصُولِ مِنْهَا عَلَى غَيْرِ طَائِلٍ ثُمَّ بَين أَن الَّذِي يَفْتَخِرُونَ بِهِ هَؤُلاءِ عَلَى الْفُقَرَاءِ إِنَّمَا هُوَ الْمَالُ وَالْبَنُونَ وَذَلِكَ مِنْ زِينَةِ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا الَّتِي لَا بَقَاءَ لَهَا
এবং আকরা ইবনে হাবিস ও তাদের ন্যায় আরবের ঐসব প্রধানদের সম্পর্কে, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিল:
"আপনি যদি এদেরকে আপনার নিকট থেকে সরিয়ে দিতেন, তবে আমরা আপনার সাথে বসতাম।"
তারা এর দ্বারা আম্মার, বিলাল, সুহাইব, সালমান আল-ফারিসি এবং তাঁদের মতো দরিদ্র মুমিনদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উদ্দেশ্য করেছিল।
তারা আরও বলেছিল, "নিশ্চয়ই তাদের গায়ের গন্ধ আমাদের কষ্ট দেয়।"
তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ করলেন: {আপনি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে ধৈর্যশীল রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে...} — এই আয়াত এবং এর পরবর্তী অংশসমূহ, যেখানে জালিমদের পরিণাম এবং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যাতে এর মাধ্যমে ঐসব লোকদের শেষ পরিণাম স্পষ্ট হয়ে যায় যারা দরিদ্রদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন করেছিল এবং মুমিনদের উত্তম পরিণামও পরিস্ফুট হয়।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর সাথে দুই ব্যক্তি ও তাদের দুই বাগানের কাহিনী যুক্ত করেছেন, যার একটি বাগান তাদের একজনের ছিল এবং আল্লাহ সুবহানাহু কর্তৃক বাগান দুটি বিনষ্ট হওয়া এবং কিয়ামতের দিন মুমিনের শুভ পরিণাম সম্পর্কে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে আলোকপাত করেছেন: {কর্তৃত্ব কেবল সত্য আল্লাহরই জন্য}।
এরপর তিনি (সুবহানাহু) পার্থিব জীবনের উদাহরণ পেশ করেছেন এবং তা থেকে কোনো স্থায়ী কল্যাণ অর্জিত না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর স্পষ্ট করেছেন যে, দরিদ্রদের সামনে তারা যা নিয়ে গর্ব করে তা মূলত ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি; আর এগুলো পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য মাত্র যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَلَا دوَام وَأَن الَّذِي أعْطوا هَؤُلَاءِ الْمُؤمنِينَ مِنَ الأَعْمَالِ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ هِيَ الَّتِي يَنْبَغِي أَنْ يُنَافَسَ عَلَيْهَا وَيُرْغَبَ فِيهَا لِبَقَائِهَا وَالنَّفْعِ بهَا
وَهَذَا اتساق فِي النّظم مُنَاسِب
لَكِنِ اتَّفَقَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّ هَذِهِ السُّورَةَ مَكِّيَّة
وَإِنَّمَا كَانَ مَجِيء عُيَيْنَة بن حصن وَالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبِهِمْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَخِطَابُهُمْ لَهُ بِالْمَدِينَةِ هَذَا مَا لَا رَيْبَ فِيهِ
فَالظَّاهِرُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ هَذِهِ الآيَاتِ نَزَلَتْ فِي عُظَمَاءِ الْمُشْرِكِينَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ الَّذِينَ عَابُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُلازَمَةَ الْفُقَرَاءِ الْمُؤْمِنِينَ لَهُ كَصُهَيْبٍ وَبِلالٍ رضي الله عنهم وَقَالُوا لَهُ اطْرُدْ هَؤُلاءِ عَنْكَ حَتَّى نَأْتِيَكَ
لَا فِي عُيَيْنَةَ وَالأَقْرَعِ
أَوْ تَكُونُ هَذِهِ الآيَاتُ مَدَنِيَةً
وَالأَوَّلُ أَقْرَبُ وَأَصَحُّ لاتِّفَاقِهِمْ عَلَى كَوْنِ السُّورَةِ مَكِّيَّةٍ
وَعَلَى كِلا التَّقْدِيرَيْنِ فَالْمُنَاسَبَةُ بَيْنَ هَذِهِ وَبَيْنَ مَا قَبْلَهَا ظَاهِرَةٌ
এবং এর কোনো স্থায়িত্ব নেই। পক্ষান্তরে এই মুমিনদের যে ‘আল-বাকিয়াতুস সালিহাত’ বা অবিনশ্বর সৎকর্মসমূহ দান করা হয়েছে, তার স্থায়িত্ব ও উপযোগিতার কারণে সেটিই মূলত প্রতিযোগিতার যোগ্য এবং আকাঙ্ক্ষার বস্তু হতে হবে।
আর এটি কলামবিন্যাসের একটি উপযুক্ত ধারাবাহিকতা।
কিন্তু আলেমগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এই সূরাটি মক্কী (مكية)।
তবে উয়াইনাহ বিন হিসন ও আকরা বিন হাবিস এবং ‘মুআল্লাফাতুল কুলুব’ (যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা হচ্ছে) দের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন এবং মদীনায় তাঁর সাথে তাদের কথোপকথনের বিষয়টি এমন যাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সুতরাং বাহ্যত প্রতীয়মান হয়—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—যে, এই আয়াতগুলো মক্কার ঐ সকল মুশরিক নেতাদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সুহাইব ও বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মতো দরিদ্র মুমিনদের সার্বক্ষণিক অবস্থানকে তুচ্ছজ্ঞান করেছিল এবং তাকে বলেছিল, "এদেরকে আপনার নিকট থেকে সরিয়ে দিন যাতে আমরা আপনার কাছে আসতে পারি।"
এটি উয়াইনাহ ও আকরা-এর ব্যাপারে নয়।
অথবা এই আয়াতগুলো মাদানী (مدنية) হতে পারে।
তবে প্রথম মতটিই অধিকতর নিকটবর্তী এবং অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح); যেহেতু সূরাটি মক্কী (مكية) হওয়ার ব্যাপারে তাঁদের ঐকমত্য রয়েছে।
উভয় অবস্থাতেই এই আয়াত ও এর পূর্ববর্তী বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যতা সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تَفْسِير آيَة {المَال والبنون}وَقَوْلُهُ سبحانه وتعالى {الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} لَفْظُهُ وَإِنْ كَانَ لَفْظُ الْخَبَرِ لَكِنَّ مَعَهُ قَرِينَةَ الضِّعَةِ لِلْمَالِ وَالْبَنِينَ وَتَحْقِيرُ أَمْرِ الدُّنْيَا فَيَدُلُّ بِفَحْوَاهُ عَلَى النَّهْيِ عَنِ اخْتِيَارِهَا وَإِيثَارِهَا وَالْمُفَاخَرَةِ بِهَا
وَزِينَةٌ مَصْدَرٌ وَقَدْ أَخْبَرَ بِهِ عَنْ أَشْخَاصٍ
فَإِمَّا أَنْ يَكُونَ عَلَى حَذْفِ مُضَافٍ تَقْدِيرُهُ مَقَرُّ زِينَةِ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ
وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ وَضَعَ الْمَالَ وَالْبَنِينَ بِمَنْزِلَةِ الْغِنَى وَالْكَثْرَةِ
ثُمَّ أَخْبَرَ سبحانه وتعالى أَنَّ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ خَيْرٌ عِنْدَهُ ثَوَابًا وَأَمَلا وَانْتِصَابُهُمَا عَلَى التَّمْيِيزِ أَيْ صَاحِبُهَا يَنْتَظِرُ الثَّوَابَ وَيَنْبَسِطُ أَمَلُهُ عَلَى حَالِ خَيْرٍ مِنْ حَالِ ذِي الْمَالِ وَالْبَنِينَ دُونَ عَمَلٍ صَالِحٍ
وَهَذَا عَلَى عَادَةِ تَخَاطُبِ الْعَرَبِ فَإِنَّهْمُ يَقُولُونَ فِي الشَّيْئَيْنِ هَذَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي الثَّانِي شَيْءٌ مِنَ الْخَيْرِيَّةِ كَمَا فِي قَوْلِهِ تَعَالَى أَيْضًا {أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمئِذٍ خير مُسْتَقرًّا} وَمَعْلُومٌ أَنَّهُ لَا خَيْرَ فِي مُسْتَقَرِّ أَصْحَابِ النَّار
{ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি} আয়াতের তাফসিরমহান আল্লাহ তাআলার বাণী {ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য}; এর শব্দরূপ যদিও সংবাদ (خبر)-বাচক, তবে এর সাথে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির তুচ্ছতা এবং পার্থিব বিষয়াবলিকে হীন সাব্যস্ত করার ইঙ্গিত (قرينة) বিদ্যমান। সুতরাং এটি আপন মর্মার্থের মাধ্যমে দুনিয়াকে বেছে নেওয়া, একে প্রাধান্য দেওয়া এবং এর দ্বারা পারস্পরিক গর্ব-অহংকার প্রকাশ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নির্দেশ করে।
আর 'সৌন্দর্য' শব্দটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), যা এখানে ব্যক্তিবর্গের বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়েছে।
এর ব্যাখ্যা এমন হতে পারে যে, এখানে একটি উহ্য সম্বন্ধপদ (مضاف) রয়েছে, যার প্রাক্কলিত রূপ হলো— 'পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যের আধার' বা এই জাতীয় কিছু।
অথবা এমন হতে পারে যে, এখানে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে সচ্ছলতা ও প্রাচুর্যের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, 'স্থায়ী নেক আমলসমূহ' তাঁর নিকট প্রতিদান ও প্রত্যাশার দিক থেকে অধিক উত্তম। এখানে 'প্রতিদান' ও 'প্রত্যাশা' শব্দদ্বয় বিশেষায়ন (تمييز) হিসেবে নসব (জবর) যুক্ত হয়েছে; অর্থাৎ নেক আমলকারী ব্যক্তি প্রতিদানের প্রতীক্ষা করে এবং তার প্রত্যাশা এমন এক কল্যাণকর অবস্থায় প্রসারিত হয়, যা নেক আমলবিহীন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বিশিষ্ট ব্যক্তির অবস্থার চেয়ে বহুগুণ শ্রেষ্ঠ।
আর এটি আরবদের বাকরীতির চিরাচরিত ধারা অনুযায়ী হয়েছে; কেননা তারা দুটি বিষয়ের তুলনায় বলে থাকে— 'এটি ওটির চেয়ে উত্তম', যদিও দ্বিতীয় বিষয়টির মধ্যে উত্তম হওয়ার মতো কিছুই নেই। যেমন মহান আল্লাহর অন্য আয়াতেও রয়েছে: {সেদিন জান্নাতবাসীরা অবস্থানের দিক থেকে হবে অধিক উত্তম}। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, জাহান্নামবাসীদের অবস্থানের মধ্যে কোনো প্রকার কল্যাণ বা উত্তম হওয়ার লেশমাত্র নেই।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اخْتِلافُ الْمُفَسِّرِينَ فِي الْمُرَادِ بِالْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِوَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ التَّفْسِيرِ فِي الْمُرَادِ بِالْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ هُنَا وَفِي سُورَةِ مَرْيَمَ أَيْضًا
(أ) فَقَالَتْ طَائِفَةٌ هِيَ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ
رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَيْضًا
وَقَالَهُ عَمْرُو بْنُ شُرَحْبِيلَ وَإِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ وَأَبُو مَيْسَرَةَ وَكَذَلِكَ قَالَ مَسْرُوقٌ وَابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ
(ب) وَقَالَ جُمْهُورُ الْعُلَمَاءِ هِيَ قَول سُبْحَانَ الله وَالْحَمْد لله وَلَا إِلَه إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
‘আল-বাকিয়াত আল-সালিহাত’ এর মর্মার্থ সম্পর্কে মুফাসসিরগণের মতভেদমুফাসসিরগণ এখানে এবং সূরা মারইয়ামেও ‘আল-বাকিয়াত আল-সালিহাত’ এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে মতভেদ করেছেন
(ক) একদল বলেছেন: এটি হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত
সুফিয়ান আল-সাওরী এটি আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন
এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে হورমুজ উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন
আমর ইবনে শুরাহবিল, ইব্রাহিম আন-নাখয়ী এবং আবু মাইসারাহ এটি বলেছেন; অনুরূপভাবে মাসরুক এবং ইবনে আবি মুলাইকাহ-ও একই কথা বলেছেন
(খ) জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেম বলেছেন: এটি হলো ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করা।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنْ أَبِي عَقِيلٍ زهْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ عَنِ الْحَارِثِ مَوْلَى عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ بن عَفَّان رضي الله عنه اللَّهُ عَنْهُ
وَصَحَّ ذَلِكَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما مِنْ وُجُوهٍ عِدَّةٍ
رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ أَيْضًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ وَزَائِدَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
وَهَذَا أَصَحُّ مَا رُوِيَ عَنْهُ مِنَ الأَسَانِيدِ فِيهِ
وَرَوَى حَجَّاجٌ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ مُجَاهِدٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ سَرْجِسَ أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ رضي الله عنهما عَنِ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ فَقَالَ
لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا حَوْلَ
এটি একদল (বর্ণনাকারী) আবু আকিল জুহরা ইবনে মাবাদ থেকে, তিনি উসমানের মুক্তদাস হারিস থেকে, তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
এটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বিভিন্ন সূত্রে বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে।
সুফিয়ান সাওরিও এটি আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস এবং জাইদাহ এটি আবদুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
এই বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত সনদসমূহের (أسانيد) মধ্যে এটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح)।
হাজ্জাজ ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুজাহিদ বলেন: আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে খুসাইম নাফে ইবনে সারজিস থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ‘আল-বাকিয়াতুস সালিহাত’ (চিরস্থায়ী সৎকর্মসমূহ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং কোনো ক্ষমতা নেই...
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ وَقَالَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ مِثْلَ ذَلِكَ
وَهَذَا هُوَ قَوْلُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَسَالِمٍ وَمُجَاهِدٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ وَالْحَسَنِ وَقَتَادَةَ وَجُمْهُورِ أَهْلِ التَّفْسِيرِ (ج) وَقَالَ آخَرُونَ هِيَ الْكَلامُ الطَّيِّبُ
وَهُوَ رَاجِعٌ إِلَى الْقَوْلِ الَّذِي قَبْلَهُ لأَنَّ قَوْلَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِنَ الْكَلامِ الطَّيِّبِ لَكِنَّهُ أَعَمُّ مِنْهُ مِنْ جِهَةِ عَدَمِ قَصْرِهِ عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَاتِ بَلْ يَدْخُلُ فِيهِ تِلاوَةُ الْقُرْآنِ وَبَقِيَّةُ الأَذْكَارِ وَهَذَا الْقَوْلُ رُوِيَ أَيْضًا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
(د) وَقَالَتْ طَائِفَةٌ هِيَ الأَعْمَالُ الصَّالِحَةُ كُلُّهَا مِنَ الأَقْوَالِ وَالْأَفْعَال رَوَاهُ ابْن جريج عَن عَطاء الخرساني عَن ابْن عَبَّاس وَرَوَاهُ مُعَاوِيَة ابْن صَالِحٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى {وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَات}
আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই। ইবনে জুরাইজ বলেছেন এবং আতা ইবনে আবি রাবাহ-ও অনুরূপ বলেছেন।
আর এটিই হলো সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, সালিম, মুজাহিদ, মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি, হাসান, কাতাদাহ এবং অধিকাংশ (جمهور) মুফাসসিরগণের অভিমত। (গ) অন্যগণ বলেছেন, তা হলো পবিত্র বাক্য (الكلام الطيب)।
আর এটি পূর্ববর্তী মতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, কেননা 'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'আল্লাহু আকবার' বলা পবিত্র বাক্যের অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি তার চেয়ে অধিক ব্যাপক (أعم) এই দিক থেকে যে, এটি কেবল এই শব্দগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে কুরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য জিকিরও অন্তর্ভুক্ত হয়। আর এই মতটি ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণিত (روي) হয়েছে।
(ঘ) একদল আলেম বলেছেন, তা হলো কথা ও কাজের সমন্বয়ে সকল নেক আমল। এটি ইবনে জুরাইজ আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন। আর মুআবিয়াহ ইবনে সালিহ এটি আলী ইবনে আবি তালহার সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন; তিনি মহান আল্লাহর বাণী— "স্থায়ী সৎকর্মসমূহ" (الباقيات الصالحات) প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
قَالَ هِيَ ذِكْرُ اللَّهِ قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ وَتَبَارَكَ اللَّهُ وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ وَالصِّيَامُ وَالصَّلاةُ وَالْحَجُّ وَالصَّدَقَةُ وَالْعِتْقُ وَالْجِهَادُ وَالصِّلَةُ وَجَمِيعُ أَعَمْالِ الْحَسَنَاتِ وَهُنَّ الْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ الَّتِي تَبْقَى لأَهْلِهَا فِي الْجَنَّةِ مَا دَامَت السَّمَاوَات وَالأَرْضُ
وَقَالَهُ ابْنُ زَيْدٍ أَيْضًا
وَهَذَا الْقَوْلُ رَجَّحَهُ ابْنُ جَرِيرٍ الطَّبَرِيُّ وَاخْتَارَهُ ابْنُ عَطِيَّةَ وَغَيره حملا للفظ على الْعُمُوم
وَوَجهه ظَاهر لأَنَّهُ مَتَى أَمْكَنَ حَمْلُ لَفْظِ الْقُرْآنِ عَلَى الْعُمُومِ كَانَ أَكْثَرَ فَائِدَةً فَكَانَ أَوْلَى
تَرْجِيحُ الْمُؤَلِّفِ الرَّأْيَ الثَّانِيلَكِنَّ هَذَا إِذَا لَمْ يَرِدْ مَا يَمْنَعُ مِنْ ذَلِكَ
وَقَدْ وَرَدَ هُنَا تَفْسِيرٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثَابِتٌ عَنْهُ يَدُلُّ عَلَى الْقَوْلِ الثَّانِي
أَخْبَرَنَاهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عِيسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَقْدِسِيُّ بِقِرَاءَتِي قَالَ
তিনি বলেন, এটি হলো আল্লাহর জিকির: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’, ‘আল্লাহু আকবার’, ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, ‘তাবারাকাল্লাহ’ এবং ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করা। সেই সাথে রাসুলুল্লাহর ওপর দরুদ পাঠ করা, রোজা, নামাজ, হজ, সদকা, দাসমুক্ত করা, জিহাদ, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা এবং যাবতীয় নেক আমল। এগুলিই হলো সেই চিরস্থায়ী নেক আমল যা জান্নাতে তার অধিকারীদের জন্য অবশিষ্ট থাকবে যতক্ষণ আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকবে।
ইবনে যায়েদও অনুরূপ বলেছেন।
এই মতটিকে ইবনে জারীর তাবারী প্রাধান্য দিয়েছেন এবং ইবনে আতিয়্যাহ ও অন্যান্যরা শব্দটিকে তার ব্যাপক অর্থের (عموم) ওপর প্রয়োগ করার ভিত্তিতে এটি গ্রহণ করেছেন।
এর কারণ সুস্পষ্ট, কেননা যখনই কুরআনের কোনো শব্দকে তার ব্যাপক অর্থের (عموم) ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব হয়, তখন তা অধিক ফলপ্রসূ ও অগ্রগণ্য হয়।
দ্বিতীয় মতটির প্রতি লেখকের প্রাধান্য প্রদানতবে এটি তখন প্রযোজ্য যখন এমন কিছু না থাকে যা একে বাধা প্রদান করে।
আর এখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একটি প্রমাণিত (ثابت) ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে যা দ্বিতীয় মতটির পক্ষেই প্রমাণ প্রদান করে।
আবু মুহাম্মদ ঈসা ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাকদিসি আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْحَافِظُ أَنا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ أَنا جَدِّي عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَنْصُورٍ أَنا أَحْمَدُ بْنُ خَلَفٍ الشِّيرَازِيُّ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ هَانِئٍ ثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى ثَنَا أَبُو عُمَرَ حَفْصُ بْنُ عُمَرَ ثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
خُذُوا جُنَّتَكُمْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ عَدُوٍّ حَضَرَ قَالَ لَا بَلْ جُنَّتُكُمْ مِنَ النَّارِ قَوْلُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُنْجِيَاتٍ وَمُقَدّمَاتٍ وَهُنَّ الْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ
وَأَخْبَرَنَاهُ أَعْلَى مِنْ هَذَا بِدَرَجَةٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّبَرِيُّ أَنا عَلِيُّ بْنُ الجميزِيِّ أَنا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ أَنا أَحْمَدُ بْنُ أشتعة ثَنَا أَبُو سَعِيدٍ النَّقَّاشُ أَنا أَبُو بَكْرٍ الْقطيعِي ثَنَا إِسْحَاق بن الْحسن الحري ثَنَا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ وَهُوَ حَفْصُ بْنُ عُمَرَ فَذَكَرَهُ
كَذَا أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ وَقَالَ فِيهِ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ
قُلْتُ وَفِيمَا قَالَهُ نَظَرٌ لأَنَّ مُسْلِمًا لَمْ يُخَرِّجْ لابْنِ عَجْلانَ شَيْئًا فِي الأُصُولِ إِنَّمَا أَخْرَجَ لَهُ فِي الشَّوَاهِدِ ثَلاثَةَ عَشَرَ حَدِيثًا وَقَدْ بَيَّنَهُمَا
আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাফিয খবর দিয়েছেন, আল-কাসিম বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আমাদের জানিয়েছেন, আমার দাদা উমর বিন আহমদ বিন মানসুর আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ বিন খালাফ আশ-শিরাজি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন হানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উমর হাফস বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আজলান সাঈদ বিন আবু সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
তোমরা তোমাদের ঢাল গ্রহণ করো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো শত্রু কি উপস্থিত হয়েছে? তিনি বললেন, না; বরং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য তোমাদের ঢাল (গ্রহণ করো)। তা হলো—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এবং আল্লাহু আকবার বলা। কেননা এগুলো কিয়ামতের দিন উদ্ধারকারী ও অগ্রবর্তী হিসেবে উপস্থিত হবে এবং এগুলোই হলো চিরস্থায়ী নেক আমল।
ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আত-তাবারী আমাদের এর চেয়ে এক স্তর উচ্চ (عالي) সনদে এটি সংবাদ দিয়েছেন: আলী বিন আল-জুমাইজি আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু তাহির আস-সিলাফি আমাদের খবর দিয়েছেন, আহমদ বিন আশতাআহ আমাদের জানিয়েছেন, আবু সাঈদ আন-নাককাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আল-কাতিয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন আল-হাসান আল-হারবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উমর আদ-দারির—যিনি হাফস বিন উমর—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
এভাবেই আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি ইমাম মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح), যদিও তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি যা বলেছেন তাতে পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে। কারণ ইমাম মুসলিম ইবনে আজলান থেকে মূল মূলনীতিভুক্ত (الأصول) বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছুই গ্রহণ করেননি, বরং তিনি তার থেকে কেবল সহায়ক (الشواهد) হিসেবে তেরটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الْحَاكِمُ فِي الْمَدْخَلِ إِلَى الصَّحِيحِ لَهُ وَقَدْ تَكَلَّمَ فِي حِفْظِهِ وَلَكِنَّ حَدِيثَهُ لَا يَنْزِلُ عَنْ دَرَجَةِ الْحُسْنِ
وَالْحَدِيثُ أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ أَيْضًا فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَعْقُوبَ عَنْ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ الْحَوْضِيِّ بِهِ
وَرَوَاهُ أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
وَذَلِكَ لَا يَضُرُّ لأَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيَّ ثِقَةٌ مِنْ رِجَالِ الصَّحِيحَيْنِ فَلا يَزِيدُ الْحَدِيثَ إِلا قُوَّةً
ثُمَّ إِنَّ الْحَدِيثَ لَهُ شَاهِدٌ رَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ الطَّبَرِيُّ فِي تَفْسِيرِهِ قَالَ حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى أَنا ابْنُ وَهْبٍ أَنا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ أَنَّ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
আল-হাকিম তাঁর আল-মাদখাল ইলাস সহিহ গ্রন্থে তাঁর মুখস্থশক্তি (حفظ) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তবে তাঁর হাদিস হাসান (حسن) স্তরের নিচে নামবে না।
আর হাদিসটি আন-নাসায়িও তাঁর আল-ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ গ্রন্থে ইবরাহিম বিন ইয়াকুব থেকে, তিনি হাফস বিন উমর আল-হাওদি থেকে একই সনদে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবু নাসর আত-তাম্মার এটি আব্দুল আজিজ বিন মুসলিম থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর তা কোনো ক্ষতি করে না, কারণ আবু সাঈদ আল-মাকবুরি হলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং তিনি বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত; ফলে এটি হাদিসের শক্তিই বৃদ্ধি করে।
অতঃপর এই হাদিসটির একটি সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা ইবনে জারির আত-তাবারী তাঁর তাফসির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমর বিন আল-হারিস আমাকে জানিয়েছেন যে, দাররাজ আবুস সামহ তাঁর নিকট আবুল হাইসাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
اسْتَكْثِرُوا مِنَ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ قِيلَ وَمَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الْمِلَّةُ قِيلَ وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ التَّكْبِيرُ وَالتَّهْلِيلُ وَالتَّسْبِيحُ وَالْحَمْدُ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ
أَخْبَرَتْنَاهُ عَائِشَةُ بِنْتُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُسْلِمِ وَغَيْرُهَا قَالَتْ أَنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْفَهْمِ أَنا يَحْيَى بْنُ أَسْعَدَ بْنِ بُوشَ أَنا عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ أَنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَلِيٍّ الأَزْجِيُّ أَنا الْحَسَنُ بْنُ جَعْفَرٍ الْحِرَفِيُّ ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّد الفيرابي ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى ثَنَا ابْنُ وَهْبٍ فَذِكْرُهُ كَمَا تَقَدَّمَ سَوَاءٌ
وَأَخْبَرَنَاهُ أَيْضًا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْهَيْجَاءِ وَغَيْرُهُ قَالُوا أَنا يُوسُفُ بْنُ قزعلِيٍّ سِبْطُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ الْوَاعِظِ أَنا جَدِّي الْعَلامَةُ أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِيٍّ أَنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الدِّينَوَرِيُّ أَنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَيْسَانَ النَّحْوِيُّ أَنا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ فَذَكَرَهُ وَقَالَ فِيهِ الْمَسْأَلَةُ بَدَلَ الْمِلَّةُ
وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ أَيْضًا فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة عَن أبي الطَّاهِر ابْن السَّرْحِ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ
“তোমরা ‘আল-বাকিয়াতুস সালিহাত’ (চিরস্থায়ী নেক আমলসমূহ) অধিক পরিমাণে করো।” জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলো কী?” তিনি বললেন, “মিল্লাত (দ্বীন)।” জিজ্ঞাসা করা হলো, “সেটি কী, হে আল্লাহর রাসূল?” তিনি বললেন, “তাকবির (আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা), তাহলিল (আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা), তাসবিহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা), তাহমিদ (আল্লাহর প্রশংসা) এবং ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই)।”
আমাদের নিকট এটি সংবাদ দিয়েছেন (أخبرتناه) আয়েশা বিনতে মুহাম্মদ বিন আল-মুসলিম এবং অন্যান্যরা। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবদুর রহমান বিন আবিল ফাহম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) ইয়াহইয়া বিন আসআদ বিন বুশ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবদুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আবদুল আজিজ বিন আলি আল-আজজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) হাসান বিন জাফর আল-হিরাফি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আহমাদ বিন ঈসা, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইবনু ওয়াহাব। অতঃপর তিনি এটি পূর্বের ন্যায় হুবহু উল্লেখ করেছেন।
এবং মুহাম্মদ বিন আবিল হাইজা ও অন্যান্যরাও আমাদের নিকট এটি সংবাদ দিয়েছেন (أخبرناه)। তারা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) ইবনুল জাওজির দৌহিত্র ইউসুফ বিন কুজগলি আল-ওয়ায়েজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আমার দাদা আল্লামা আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আলী বিন আবদুল ওয়াহিদ আদ-দিনাওয়ারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) হাসান বিন আলী আল-জাওহারি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আলী বিন মুহাম্মদ বিন কায়সান আন-নাহবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أনা) ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাদি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আহমাদ বিন ঈসা, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (ثনা) আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব। অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন এবং এতে ‘মিল্লাত’ শব্দের পরিবর্তে ‘মাসআলাহ’ শব্দ বলেছেন।
এবং নাসায়িও এটি ‘আল-ইয়াউমু ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে আবু তাহির ইবনুস সারহ-এর সূত্রে ইবনু ওয়াহাব থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَدَرَّاجٌ هَذَا احْتَجَّ بِهِ أَصْحَابُ السُّنَنِ وَوَثَّقَهُ بَعْضُهُمْ وَقَالَ فِيهِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ أَحَادِيثُهُ مَنَاكِيرُ
قُلْتُ لَكِنْ يَصْلُحُ حَدِيثُهُ لِلْمُتَابَعَاتِ وَالشَّوَاهِدِ وَيَقْوَى بِهِ حَدِيثُ ابْنِ عَجْلانَ الْمُتَقَدِّمُ وَلَعَلَّهُ يَنْتَهِي إِلَى دَرَجَةِ الصِّحَّةِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
وَإِذَا ثَبَتَ هَذَا الْحَدِيثُ فَهُوَ أَوْلَى مَا رَجَعَ إِلَيْهِ تَفْسِيرُ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ مَعَ مَا ثَبَتَ فِيهِ عَنْ عُثْمَانَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَغَيْرِهِمَا مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم
وَقَدْ أَجَابَ ابْنُ جَرِيرٍ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ بِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَقُلْ هُنَّ جَمِيعُ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ وَلا كُلّ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ
قَالَ وَذَلِكَ جَائِزٌ أَنْ تَكُونَ هَذِهِ بَاقِيَاتٍ صَالِحَاتٍ وَغَيْرُهَا مِنْ أَعْمَالِ الْخَيْرِ بَاقِيَاتٌ صَالِحَاتٌ
وَهَذَا الْجَوَابُ يُعَارِضُهُ مَفْهُومُ الْحَصْرِ بَيْنَ الْمُبْتَدَأِ وَالْخَبَرِ مَعَ مَا تَقْتَضِيهِ الأَلِفُ وَاللامُ وَالدَّلالَةُ عَلَى الْعَهْدِ فِي قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم هُنَّ الْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ
এই দাররাজ (Darraj), তার মাধ্যমে সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ দলিল গ্রহণ করেছেন এবং তাদের কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর আহমদ ইবনে হাম্বল তার সম্পর্কে বলেছেন, "তার হাদিসসমূহ অগ্রহণযোগ্য (مناكير)"।
আমি বলছি, তবে তার হাদিস অনুসরণমূলক (متابعات) ও সমর্থনমূলক (شواهد) বর্ণনার ক্ষেত্রে উপযোগী। এর মাধ্যমে ইবনে আজলানের পূর্ববর্তী হাদিসটি শক্তিশালী হয় এবং ইনশাআল্লাহ সম্ভবত এটি বিশুদ্ধতার (صحة) স্তরে উপনীত হয়।
যদি এই হাদিসটি প্রমাণিত (ثبت) হয়, তবে 'আল-বাকিয়াতুস সালিহাত'-এর তাফসিরের ক্ষেত্রে এটিই হবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ভিত্তি, পাশাপাশি এ বিষয়ে উসমান ও ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্য সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে তাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
ইবনে জারীর এই হাদিসটির উত্তর এভাবে দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেননি যে এগুলোই সমস্ত 'বাকিয়াতুস সালিহাত' কিংবা এগুলোই হলো 'বাকিয়াতুস সালিহাত'-এর পূর্ণ সমষ্টি।
তিনি বলেছেন, এটি সম্ভব যে এগুলো 'বাকিয়াতুস সালিহাত' এবং এগুলো ছাড়াও অন্যান্য নেক আমলও 'বাকিয়াতুস সালিহাত' হতে পারে।
তবে এই উত্তরটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী—"তারাই হলো 'আল-বাকিয়াতুস সালিহাত'"—এর মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়-র (মুবতাদা ও খবর) মধ্যকার সীমাবদ্ধকরণের ধারণা (حصر), নির্দিষ্টকরণের আলিফ-লাম এবং বিশেষ নির্দেশক (عهد) অর্থ প্রকাশের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لَكِنَّ الْمَفْهُومَ مِنْ حَصْرِ الْخَبَرِ فِي الْمُبْتَدَأِ أَقْوَى مِنْهُ كَمَا لَوْ قَالَ صلى الله عليه وسلم الْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ هُنَّ
وَمَعَ ذَلِكَ فَمَفْهُومُ حَصْرِ الْمُبْتَدَأِ فِي الْخَبَرِ قَوِيٌّ هُنَا مِنْ جِهَةِ التَّعْرِيفِ الْمَذْكُورِ وَلا يَخْرُجُ عَنْهُ إِلا بِدَلِيلٍ يُعَارِضُهُ وَلَمْ يُوجَدْ
وَأَمَّا مَا أَشَارَ إِلَيْهِ ابْنُ عَطِيَّةَ مِنَ التَّرْجِيحِ بِرُوَاتِهِ كُلُّ هَذِهِ الأَقْوَالِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فَإِنَّهُ يَدُلُّ عَلَى فَهْمِهِ الْعُمُومَ فِي حَمْلِ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ
فَجَوَابُهُ أَنَّ أَصَحَّ الطُّرُقِ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ كَمَا تَقَدَّمَ رِوَايَةُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فَهَذِهِ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ
وَأَمَّا رِوَايَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزَ فَقَدْ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ
وَرِوَايَةُ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ كَذَلِكَ أَيْضًا لأَنَّهُ مُتَكَلَّمٌ فِيهِ قَالَ فِيهِ ابْنُ حِبَّانَ رَدِيءُ الْحِفْظِ يُخْطِئُ
وَأَمَّا طَرِيقُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ فَإِنَّهَا مُرْسَلَةٌ لأَنَّهُ لَمْ يَلْقَ ابْنَ عَبَّاسٍ بَلْ أَرْسَلَ عَنْهُ التَّفْسِيرَ فَقِيلَ سَمِعَهُ مِنْ مُجَاهِدٍ عَنْهُ
কিন্তু 'খবর' (বিধেয়)-কে 'মুবতাদা' (উদ্দেশ্য)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার ধারণাটি এর চেয়েও শক্তিশালী; যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি বলতেন, ‘আল-বাকিয়াতুস সলিহাত’ (অবশিষ্ট নেক আমলসমূহ) হলো সেগুলো।
তদসত্ত্বেও, এখানে উল্লিখিত সংজ্ঞার দিক থেকে মুবতাদাকে খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টিও শক্তিশালী। কোনো বিপরীতমুখী প্রমাণ ব্যতিরেকে তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না, আর এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আর ইবনে আতিয়্যাহ ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণিত এই সকল বক্তব্যকে বর্ণনাকারীদের (رواة) মাধ্যমে অগ্রাধিকার প্রদানের যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা 'আল-বাকিয়াতুস সলিহাত'-কে ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর বোধগম্যতাকেই নির্দেশ করে।
এর উত্তর হলো, ইবনে আব্বাসের সূত্রে এ বিষয়ে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) সূত্রগুলোর (طرق) মধ্যে পূর্বোল্লিখিত আতা’র সূত্রে আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান কর্তৃক ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত বর্ণনাটিই অন্যতম; আর এটি মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী।
আর আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুজের বর্ণনার ব্যাপারে কথা হলো, ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।
আর আতা আল-খুরাসানির বর্ণনাটিও তদ্রূপ, কেননা তিনি সমালোচিত (متكلم فيه)। ইবনে হিব্বান তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি মন্দ মুখস্থশক্তি সম্পন্ন (رديء الحفظ) এবং ভুল করতেন।
আর আলী ইবনে আবি তালহার সূত্রটি (طريق) হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل); কারণ তিনি ইবনে আব্বাসের সাক্ষাৎ পাননি, বরং তিনি তাঁর থেকে তাফসীরটি বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (أرسل) করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এটি মুজাহিদের নিকট থেকে শুনে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقِيلَ مِنْ غَيْرِهِ عَلَى أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَلْحَةَ قَالَ فِيهِ أَحْمَدُ لَهُ أَشْيَاءُ مُنْكَرَاتٌ
فَتَبَيَّنَ أَنَّ أَصَحَّ الطُّرُقِ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ هُوَ الْمُوَافِقُ لِلْحَدِيثِ
وَيَتَرَجَّحُ ذَلِكَ أَيْضًا بِقَوْلِ عُثْمَانَ وَابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهم وَجُمْهُورِ الْمُفَسِّرِينَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
ذِكْرُ الأَحَادِيثِ فِي فَضْلِ التَّسْبِيحِ وَالتَّحْمِيدِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِوَقَدْ وَرَدَ فِي فَضْلِ هَذِهِ الْكَلِمَاتِ أَيْضًا أَحَادِيثُ كَثِيرَةٌ مِنْهَا مَا أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَن الْمَقْدِسِي وَأَبُو بكر بن أَحْمد ابْن عَبْدِ الدَّائِمِ قَالا أَنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الإِرْبِلِيُّ أَنا يَحْيَى بْنُ ثَابِتٍ الْبَقَّالُ أَنا طِرَادُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّيْنَبِيُّ أَنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرَانَ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْبَحِيرِيِّ ثَنَا أَحْمَدُ يَعْنِي ابْنَ الْوَلِيدِ الْفَحَّامَ
(ح) وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ الأَيْمِيُّ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْحَافِظُ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نصر أَنا الْحسن بن أَحْمد الْمُقْرِئ حظورا أَنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ ثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الرَّقِّيُّ قَالا ثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ الْمُقْعِدُ:
(ح) قَالَ الطَّبَرَانِيُّ وَثنا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ ثَنَا يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ قَالا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ جُحَادَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ عُمَيْلَةَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رضي الله عنه قَالَ:
এবং অন্যদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, আলী ইবনে আবি তালহা সম্পর্কে আহমদ বলেছেন যে, তাঁর কিছু বর্ণনা আপত্তিকর (منكرات)।
সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইবনে আব্বাস থেকে এই বিষয়ে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) সূত্রসমূহ হলো সেটিই যা হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এবং এটি উসমান ও ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং অধিকাংশ মুফাসসিরের বক্তব্যের মাধ্যমেও অগ্রাধিকার পায়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
তাসবিহ, তাহমিদ, তাহলিল ও তাকবিরের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসসমূহের আলোচনাএই বাক্যগুলোর ফজিলত সম্পর্কে আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি আমাদের জানিয়েছেন ঈসা ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাকদিসি এবং আবু বকর ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল দায়িম; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-ইরবিলি, আমাদের জানিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাবিত আল-বাক্কাল, আমাদের জানিয়েছেন তিরাদ ইবনে মুহাম্মদ আজ-জায়নাবি, আমাদের জানিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশরান, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনুল বাহিরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ—অর্থাৎ ইবনুল ওয়ালিদ আল-ফাহহাম।
(সূত্রান্তর (ح)) এবং আমাদের জানিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল কাসিম আল-আইমি, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাফিজ, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর, সশরীরে উপস্থিত থেকে আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-মুকারি, আমাদের জানিয়েছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলায়মান ইবনে আহমদ আল-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনে উমর আর-রাক্কি; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মা'মার আল-মুক'আদ:
(সূত্রান্তর (ح)) আল-তাবারানি বলেন, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া আল-হিমমানি; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস ইবনে জুহাদাহ, মানসুর থেকে, তিনি উমারা ইবনে উমাইর থেকে, তিনি রাবি ইবনে উমাইলা থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ الْكَلامِ إِلَى اللَّهِ أَرْبَعٌ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ
لَفْظُهُمَا وَاحِدٌ
أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عِيسَى عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ عَنْ أَبِيهِ بِهِ
وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ وَمُعْتَمِرِ بْنِ سُلَيْمَانَ كِلاهُمَا عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ عُمَيْلَةَ عَنْ أَبِيهِ بِهِ
وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ أَيْضًا عَنْ بُنْدَارٍ وَأَبِي مُوسَى عَنْ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلالِ بْنِ يَسَافٍ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ عُمَيْلَةَ بِهِ
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ النَّسَائِيُّ أَيْضًا مِنْ هَذَا / الْوَجْهِ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কালাম (বাক্য) চারটি: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার। এগুলোর যেকোনোটি দিয়ে শুরু করাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই।"
উভয়ের শব্দরূপ (لفظ) অভিন্ন।
ইমাম নাসায়ি এটি আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ গ্রন্থে হুসাইন ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আবদুল সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে এটি সংকলন (أخرجه) করেছেন।
এবং ইমাম মুসলিম এটি জারির ইবনে আবদিল হামিদ ও মুতামির ইবনে সুলাইমান সূত্রে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন, তাঁরা উভয়েই রুকাইন ইবনুর রাবি ইবনে উমাইলা থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মুসলিম আরও এটি বুন্দার ও আবু মুসা থেকে, তাঁরা গুন্দার থেকে, তিনি শুবা থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে, তিনি রাবি ইবনে উমাইলা সূত্রে এটি সংকলন (أخرجه) করেছেন।
অনুরূপভাবে ইমাম নাসায়িও এই সূত্র (وجه) থেকে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَقَدْ رَوَاهُ سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ عَنْ هِلالِ بْنِ يَسَافٍ عَنْ سَمُرَةَ مِنْ غَيْرِ ذِكْرِ الرَّبِيعِ بْنِ عُمَيْلَةَ بَيْنَهُمَا
وَقَدْ وَقَعَ لَنَا مِنْ طَرِيقِهِ عَالِيًا أَخْبَرَنَاهُ الزَّاهِدُ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّبَرِيُّ الإِمَامُ أَنا عَلِيُّ بْنُ هِبَةِ اللَّهِ اللَّخَمِيُّ أَنا يَحْيَى بْنُ يُوسُفَ السّقلاطُونِيُّ أَنا ثَابِتُ بْنُ بُنْدَارٍ الْبَقَّالُ أَنا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاذَانَ ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ ثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ ثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ وَعَبْدُ الصَّمَدِ فِي آخَرِينَ قَالُوا ثَنَا شُعْبَةُ
(ح) وَأَخْبَرَنَا شَيْخُنَا أَبُو الْفَضْلِ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ الْحَاكِمُ بِقِرَاءَتِي عَنْ مَحْمُودِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَنْدَهْ أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الفسيح أَنا عبد عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَاصِمٍ أَنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ ثَنَا أُسَيْدُ بْنُ عَاصِمٍ ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ ثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ كِلاهُمَا عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ هِلالِ بْنِ يَسَافٍ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رضي الله عنه قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعٌ مِنْ أَطْيَبِ الْكَلامِ إِلا الْقُرْآنَ وَهُنَّ مِنَ الْقُرْآنِ لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সালামাহ ইবন কুহাইল এটি বর্ণনা করেছেন হিলাল ইবন ইয়াসাফ থেকে, তিনি সামুরাহ থেকে; তাদের উভয়ের মাঝে রাবী ইবন উমাইলাহ-এর উল্লেখ ব্যতিরেকে।
এটি তাঁর সূত্রে আমাদের নিকট উন্নত (عاليًا) সনদসহ পৌঁছেছে; যাহিদ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ আত-তাবারী আল-ইমাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন হিবাতুল্লাহ আল-লাখমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবন ইউসুফ আস-সাকলাতুনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাবিত ইবন বুন্দার আল-বাক্কাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবন আহমাদ ইবন শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান ইবন আহমাদ আদ-দাক্কাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুল মালিক ইবন মুহাম্মদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, বিশর ইবন উমর এবং আব্দুস সামাদসহ আরও অনেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: শু'বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন।
সনদ রূপান্তর (ح) এবং আমাদের শায়খ আবুল ফজল সুলাইমান ইবন হামযাহ আল-হাকিম আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাহমুদ ইবন ইব্রাহিম ইবন মান্দাহ থেকে, আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমাদ আল-ফাসিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল ওয়াহহাব ইবন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন আসিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনুল হাসান ইবন ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসাইদ ইবন আসিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-হুসাইন ইবন হাফস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন; তাঁরা উভয়েই সালামাহ ইবন কুহাইল থেকে, তিনি হিলাল ইবন ইয়াসাফ থেকে, তিনি সামুরাহ ইবন জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কুরআন ব্যতিরেকে চারটি বাক্য সর্বোত্তম কথার অন্তর্ভুক্ত, আর সেগুলোও কুরআনের অংশ। তুমি এর যে কোনোটি দিয়ে শুরু করো না কেন, তাতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
هَذَا لَفْظُ شُعْبَةَ وَقَالَ سُفْيَانُ أَفْضَلُ الْكَلامِ أَرْبَعٌ لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ فَذَكَرَهَا
رَوَاهُ النَّسَائِيُّ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ عَنْ بُنْدَارٍ عَنْ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ بِهِ
وَأَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ بِهِ
وَالظَّاهِرُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ رِوَايَةَ مُسْلِمٍ بِزِيَادَةِ الرَّبِيعِ بْنِ عُمَيْلَةَ بَيْنَهُمَا أَصَحُّ وَقَدْ رَوَاهُ غَيْرُ سَمُرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
أَخْبَرَنَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْبَالِسِيِّ وَالْقَاسِمُ بْنُ مُظَفَّرِ بْنِ عَسَاكِرَ قَالُوا أَخْبَرَتْنَا كريمَةُ بِنْتُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الأَوَّلُ سَمَاعًا وَالآخَرَانِ حُضُورًا قَالَتْ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غبرَةَ الْكُوفِيُّ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ عَلانَ أَخْبَرَهُمْ ثَنَا الْقَاضِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُعْفِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَر الأسجعي ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ الطَّرِيفِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ ثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
এটি শু'বার শব্দাবলি। সুফিয়ান বলেছেন: "সর্বোত্তম বাক্য চারটি, এর মধ্যে যেটি দিয়েই তুমি শুরু করো না কেন তাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই," এরপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন।
নাসায়ি এটি 'আল-ইয়াওম ওয়াল-লাইলাহ' গ্রন্থে বুন্দার থেকে, তিনি গুন্দার থেকে এবং তিনি শু'বা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর ইবনে মাজাহ এটি হাফস ইবনে আমর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে এবং তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
আপাতদৃষ্টিতে—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের দুজনের মাঝে রাবি ইবনে উমায়লার সংযুক্তি সহ মুসলিমের বর্ণনাটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)। আর এটি সামুরা ছাড়া অন্যরাও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
সুলাইমান ইবনে হামজা, মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে আল-বালিসি এবং আল-কাসিম ইবনে মুজাফফর ইবনে আসাকির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: কারিমা বিনতে আবদুল ওয়াহহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—প্রথমজন শ্রবণ (سماعاً) এবং অপর দু’জন উপস্থিতির (حضوراً) মাধ্যমে। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে গুবরা আল-কুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে আলান তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন: কাযী মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-জু'ফি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-আসজায়ি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন: আলি ইবনে মুনজির আত-তারিফি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল ইবনে গাজওয়ান আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন: আমাশ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَحَبَّ الْكَلامِ إِلَى اللَّهِ أَرْبَعٌ لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُنْذِرِ هَذَا فَوَقَعَ مُوَافَقَةً لَهُ عَالِيَةً
وَأَخْبَرَنَاهُ مُتَّصِلا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْقُرَشِيُّ أَنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ ظَاهِرٍ الأَزْدِيُّ أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ السِّلَفِيُّ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ الأَنْصَارِيُّ أَنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ أَنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَاتِي ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَبْسِيُّ ثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْضَلُ الْكَلامِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ قَالَ وَقَالَ أَبُو صَالِحٍ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
إِذَا قَالَ الْعَبْدُ سُبْحَانَ اللَّهِ قَالَتِ الْمَلائِكَةُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَإِذا قَالَ لاإله إِلا اللَّهُ قَالَتِ الْمَلائِكَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَإِذَا قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ قَالَتِ الْمَلائِكَةُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ
وَرَوَاهُ أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ عَنِ الأَعْمَشِ فَسَمَّى الصَّحَابِيَّ لَكِنَّهُ غَيَّرَ الْمَتْنَ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য চারটি; এগুলোর যেকোনোটি দ্বারা তুমি শুরু করো না কেন তাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।”
নাসায়ী এটি আলী ইবনুল মুনযির থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি তাঁর জন্য একটি সমান্তরাল (موافقة) ও উচ্চস্তরের (عالية) সনদে পরিণত হয়েছে।
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহীম আল-কুরাশী আমাদের এটি অবিচ্ছিন্ন (متصلا) সনদে জানিয়েছেন; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে যাহির আল-আযদি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাফিজ আস-সিলাফি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সালাম আল-আনসারী; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنا) আলী ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মাতি; তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا) ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আবসি; তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন (ثنا) ওয়াকি' ইবনুল জাররাহ; তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবী (صحابي) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “সর্বোত্তম বাক্য হলো: সুবহানাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদুলিল্লাহ।” রাবী বলেন, আবু সালিহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবী (صحابي) থেকে বর্ণনা করেছেন:
“বান্দা যখন 'সুবহানাল্লাহ' বলে, ফেরেশতারা বলে 'আলহামদুলিল্লাহ'; যখন সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, ফেরেশতারা বলে 'আল্লাহু আকবার'; আর যখন সে 'সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার' বলে, তখন ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন’।”
আবু মুআবিয়া আদ-দারীর এটি আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সাহাবীর (صحابي) নাম উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি হাদিসের মূল পাঠ (متن) পরিবর্তন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أَخْبَرَنَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ وَعِيسَى بْنُ مَعَالِي وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَحْمَدَ وَيَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ الْمَقْدِسِيُّونَ قَالُوا أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَليّ الْمقري أَنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السِّلَفِيُّ أَنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ السِّمَنَانِيُّ أَنا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاذَانَ أَنا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ الآدَمِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَنْ أَقُولَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ
رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ وَمُسْلِمٌ أَيْضًا عَنْ أبي بكر بن أبي شيبَة وَالنَّسَائِيّ عَن أَحْمَدَ بْنِ حَرْبٍ ثَلاثَتُهُمْ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ بِهِ
فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا عَالِيًا
أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الشِّيرَازِيِّ بِقِرَاءَتِي عَنِ الزَّاهِدِ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّهْرَوَرْدِيِّ أَنا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الشِّبْلِيُّ أَنا طِرَادُ بْنُ مُحَمَّدٍ النَّقِيبُ أَنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرَانَ أَنا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّبَّاحِ ثَنَا أَبُو عَامِرٍ ثَنَا إِسْرَائِيلُ
সুলাইমান ইবন হামযা, ঈসা ইবন মা'আলি, আবু বকর ইবন আহমদ এবং ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ ইবন সা'দ আল-মাকদিসি আমাদের তা সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرناه), তাঁরা বলেন: জাফর ইবন আলী আল-মুকরি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا), আহমদ ইবন মুহাম্মদ আস-সিলাফি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أنا), আবদুর রহমান ইবন উমর আস-সিমানানি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أنا), হাসান ইবন আহমদ ইবন শাযান আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أنا), আহমদ ইবন উসমান আল-আদামি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أنا), আহমদ ইবন আব্দুল জব্বার আল-উতারিদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলা আমার নিকট এমন সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় যার ওপর সূর্য উদিত হয়।"
এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) মুসলিম এবং তিরমিযী আবু কুরাইব থেকে, এবং মুসলিম পুনরায় আবু বকর ইবন আবি শায়বা থেকে এবং নাসায়ী আহমদ ইবন হারব থেকে; তাঁরা তিনজনেই আবু মুয়াবিয়া থেকে উক্ত সনদে (به) এটি বর্ণনা করেছেন।
ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চ পর্যায়ের (عاليا) স্থলাভিষিক্ত বর্ণনা (بدلا) হিসেবে গণ্য হলো।
আবু নাসর মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন শিরাজী আমার পাঠের মাধ্যমে (بقرائتي) যাহেদ আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মদ আস-সুহরাওয়ার্দী থেকে আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أخبرنا), হেবাতুল্লাহ ইবন আহমদ আশ-শিবলি আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أنا), তিরাদ ইবন মুহাম্মদ আন-নাকীব আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أنا), আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন বিশরান আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أنا), হুসাইন ইবন সাফওয়ান আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন (أنا), আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আবদুল্লাহ ইবন আস-সাব্বাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), আবু আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) এবং ইসরাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا)।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(ح) وَأَخْبَرَنَا أَبُو الرَّبِيعِ بْنُ قُدَامَةَ الْحَاكِمُ بِقِرَاءَتِي عَنْ عُمَرَ بْنِ كَرَمٍ الزَّاهِدِ الدِّينَوَرِيِّ قَالَ أَنا عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى أَنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ أَحْمَدَ الثَّقَفِيُّ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَاكُوَيْهِ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا عَبْدُ الرازق أَنا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي سِنَانٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ الْحَنَفِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَيْضًا رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ
إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى اصْطَفَى مِنَ الْكَلامِ أَرْبَعًا سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
فَمَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ كُتِبَتْ لَهُ عِشْرُونَ حَسَنَةً وَحُطَّتْ عَنْهُ عِشْرُونَ سَيِّئَةً وَمَنْ قَالَ الله أكبر فَمثل ذَلِك
وَمن قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله فَمِثْلُ ذَلِكَ
وَمَنْ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبُّ الْعَالَمِينَ مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ كُتِبَ لَهُ بِهَا ثَلاثُونَ حَسَنَةً وَحُطَّ عَنْهُ ثَلاثُونَ سَيِّئَةً أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ عَنْ إِسْرَائِيلَ بِهِ
وَأَبُو سِنَانٍ اسْمُهُ ضِرَارُ بْنُ مرّة
(বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন/تحويل) এবং আবু আল-রবি ইবনে কুদামা আল-হাকিম আমার নিকট পাঠের মাধ্যমে উমর ইবনে কারাম আল-জাহিদ আদ-দিনাওয়ারী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আব্দুল আওয়াল ইবনে ঈসা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আহমদ আস-সাকাফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাকুওয়াইহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমদ ইবনে জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল। তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইসরাঈল, তিনি আবু সিনান থেকে, তিনি আবু সালিহ আল-হানাফি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কথা বা বাক্যসমূহ থেকে চারটি বাক্য মনোনীত করেছেন: 'সুবহানাল্লাহ', 'আল-হামদুলিল্লাহ', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'আল্লাহু আকবার'।
সুতরাং যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, তার জন্য বিশটি নেকি লেখা হবে এবং তার থেকে বিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, তার জন্যও তদ্রূপ।
এবং যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, তার জন্যও তদ্রূপ।
আর যে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে ‘আল-হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ বলবে, তার জন্য ত্রিশটি নেকি লেখা হবে এবং তার থেকে ত্রিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। নাসাঈ এটি ‘আল-ইয়াউম ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে আমর ইবনে আলী থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, তিনি ইসরাঈল সূত্রে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
এবং আবু সিনান-এর নাম হলো দিরার ইবনে মুররাহ।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَأَبُو صَالِحٍ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ قَيْسٍ وَيُقَالُ اسْمُهُ مَاهَانُ ثِقَةٌ
وَأَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرِ بْنُ الشِّيرَازِيِّ بِإِسْنَادِهِ الْمُتَقَدِّمِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ الْقرشِي قَالَ ثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ هَاشِمٍ حَدَّثَنِي حَرَمِيُّ بْنُ حَفْصٍ ثَنَا عُبَيْدُ بْنُ مِهْرَانَ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يُحَدِّثُ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنه قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَا يَسْتَطِيعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَعْمَلَ كُلَّ يَوْمٍ عَمَلا مِثْلَ أُحُدٍ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَعْمَلَ كُلَّ يَوْمٍ عَمَلا مِثْلَ أُحُدٍ قَالَ كُلُّكُمْ يَسْتَطِيعُهُ قَالُوا مَاذَا قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ أَعْظَمُ مِنْ أُحُدٍ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ أَعْظَمُ مِنْ أُحُدٍ وَاللَّهُ أَكْبَرُ أَعْظَمُ مِنْ أُحُدٍ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ أَعْظَمُ مِنْ أُحُدٍ
رَوَاهُ النَّسَائِيُّ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ أَيْضًا عَنْ عَمْرِو بْنِ مَنْصُورٍ عَنْ حَرَمِيِّ بْنِ حَفْصٍ بِهِ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَمْدُودٍ الصُّوفِيُّ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الهنِي بِبَغْدَادَ أَنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مَحْمُودٍ الْحَافِظ بْنِ الأَخْضَرِ أَنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْكُرُوخِيُّ
(ح) قَالَ شَيْخُنَا وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ أَنْجَبَ الْمُعَمَّرُ عَنِ الْكُرُوخِيِّ هَذَا أَنا مَحْمُودُ بْنُ الْقَاسِمِ الأَزْدِيُّ وَغَيْرُهُ قَالُوا أَنا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى التِّرْمِذِيّ
আবু সালিহ—তাঁর নাম আবদুর রহমান ইবনে কায়স, আবার বলা হয় তাঁর নাম মাহান—তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।
এবং আবু নাসর ইবনে শিরাজী তাঁর পূর্বে বর্ণিত সনদে (إسناد) আবদুল্লাহ আল-কুরাশী পর্যন্ত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-কাসিম ইবনে হাশিম বর্ণনা করেছেন, হারামী ইবনে হাফস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ ইবনে মিহরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসান (বসরি)-কে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ কি প্রতিদিন ওহুদ পাহাড়ের সমান আমল করতে সক্ষম নয়?" তাঁরা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিদিন ওহুদ পাহাড়ের সমান আমল করতে কে সক্ষম?" তিনি বললেন: "তোমাদের প্রত্যেকেই তা করতে সক্ষম।" তাঁরা বললেন: "তা কী?" তিনি বললেন: "'সুবহানাল্লাহ' ওহুদ পাহাড়ের চেয়ে মহান, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ওহুদ পাহাড়ের চেয়ে মহান, 'আল্লাহু আকবার' ওহুদ পাহাড়ের চেয়ে মহান এবং 'আলহামদুলিল্লাহ' ওহুদ পাহাড়ের চেয়ে মহান।"
নাসায়ি এটি 'আল-ইয়াওম ওয়াল লাইলা' গ্রন্থেও আমর ইবনে মানসুর থেকে, হারামী ইবনে হাফসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।
আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মামদুদ আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আল-হানি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফিজ (الحافظ) আবদুল আজিজ ইবনে মাহমুদ ইবনে আল-আখদার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল মালিক ইবনে আবুল কাসিম আল-কুরুখি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(সনদ পরিবর্তন - ح) আমাদের শায়খ বলেছেন এবং দীর্ঘজীবী (المعمر) আবদুল খালিক ইবনে আনজাব এই কুরুখি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাহমুদ ইবনে আল-কাসিম আল-আজদি ও অন্যান্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আবদুল জব্বার ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ثَنَا عبد الله بن أبي زِيَاد عبد الْوَاحِد ثَنَا سَيَّارٌ ثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقِيتُ إِبْرَاهِيمَ عليه الصلاة والسلام لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَقْرِئْ أُمَّتَكَ مِنِّي السَّلامَ وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ الْجَنَّةَ طَيِّبَةُ التُّرْبَةِ عَذْبَةُ الْمَاءِ وَأَنَّهَا قِيعَانٌ وَأَنَّ غِرَاسَهَا سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
قَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
قُلْتُ الْقِيعَانُ جَمْعُ قَاعٍ وَهُوَ الْمَكَانُ الْمُسْتَوِي الْفَسِيحُ فِي وَطْأَةٍ مِنَ الأَرْضِ يَعْلُوهُ مَاءُ السَّمَاءِ فَيُمْسِكُهُ وَيَسْتَوِي نَبَاتُهُ
وَالْمُرَادُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّهَا يَنْمُو غِرَاسُهَا سَرِيعًا بِهَذِهِ الْكَلِمَاتِ كَمَا يَنْمُو غِرَاسُ الْقِيعَانِ مِنَ الأَرْضِ وَنَبْتُهَا
وَبِهِ إِلَى التِّرْمِذِيِّ قَالَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ ثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ أَنَّ حُمَيْدًا الْمَكِّيَّ مَوْلَى ابْنِ عَلْقَمَة حَدثهُ أَن عَطاء ابْن أَبِي رَبَاحٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ
আবদুল্লাহ বিন আবি যিয়াদ আবদুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবদুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আবদুর রহমান বিন ইসহাক থেকে, তিনি আল-কাসিম বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন
আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন, "যে রাতে আমাকে ইসরা করানো হয়েছিল, সেই রাতে আমি ইব্রাহিম (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিন এবং তাদের সংবাদ দিন যে, জান্নাতের মাটি অত্যন্ত পবিত্র ও উর্বর, এর পানি সুপেয় এবং এটি একটি সুবিস্তৃত সমতল প্রান্তর। আর এর বৃক্ষরোপণের পাথেয় হলো—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।"
তিরমিজি বলেছেন, এই হাদিসটি উত্তম (حسن) ও একক (غريب)।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি, 'ক্বিয়ান' শব্দটি 'ক্বা' এর বহুবচন; এটি ভূমির নিচু অংশে অবস্থিত একটি সমতল ও প্রশস্ত স্থান, যেখানে আকাশের পানি জমে থাকে এবং সেখানে উদ্ভিদসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে জন্মায়।
আর এর মর্মার্থ হলো—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—এই বাক্যগুলোর বরকতে জান্নাতের চারাগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ঠিক যেমন সমতল ভূমির চারা ও উদ্ভিদসমূহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
এবং একই সনদে তিরমিজি পর্যন্ত: তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইব্রাহিম বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যায়েদ বিন আল-হুবাব যে, ইবনে আলকামার মুক্তদাস হুমাইদ আল-মাক্কি তাকে বর্ণনা করেছেন (حدثه) যে, আতা ইবনে আবি রাবাহ তাকে আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا رِيَاضُ الْجَنَّةِ قَالَ الْمَسَاجِدُ قُلْتُ وَمَا الْمَرْتَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
وَبِهِ قَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
وَبِهِ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَزِيرٍ الْوَاسِطِيُّ ثَنَا أَبُو سُفْيَانَ الْحِمْيَرِيُّ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ حُمْرَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ رضي الله عنه قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ مائَة بِالْعَشِيِّ كَانَ كَمَنْ حَجَّ مِائَةَ حَجَّةٍ
وَمَنْ حمد الله مائَة بِالْغَدَاةِ مائَة بِالْعَشِيِّ كَانَ كَمَنْ حَمَلَ عَلَى مِائَةِ فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ قَالَ غَزَا مِائَةَ غَزْوَة
وَمن هلل مائَة بِالْغَدَاةِ مائَة بِالْعَشِيِّ كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ مِائَةَ رَقَبَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ
وَمَنْ كَبَّرَ اللَّهَ مِائَةً بِالْغَدَاةِ مائَة بِالْعَشِيِّ لَمْ يَأْتِ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ أَحَدٌ بِأَكْثَرَ مِمَّا أَتَى إِلا مَنْ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَى مَا قَالَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা যখন জান্নাতের বাগানসমূহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন সেখান থেকে ফল আহরণ করবে (বা বিচরণ করবে)।” তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি আরজ করলাম, “হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের বাগানসমূহ কী?” তিনি বললেন, “মসজিদসমূহ।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! ফল আহরণ (বা বিচরণ) কী?” তিনি বললেন, “সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।”
এবং এর মাধ্যমেই তিরমিজি বলেছেন, এই হাদিসটি বিরল (غريب)।
এবং এই সূত্রেই তিনি (তিরমিজি) বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াজির আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সুফিয়ান আল-হিময়ারি থেকে, তিনি দাহহাক ইবনে হুমরাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে একশ বার এবং সন্ধ্যায় একশ বার আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে, সে একশটি হজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য হবে।”
“আর যে ব্যক্তি সকালে একশ বার এবং সন্ধ্যায় একশ বার আল্লাহর প্রশংসা করবে, সে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য একশটি ঘোড়া প্রদানকারীর ন্যায় হবে অথবা তিনি বলেছেন, একশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীর ন্যায় সওয়াব পাবে।”
“আর যে ব্যক্তি সকালে একশ বার এবং সন্ধ্যায় একশ বার আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করবে, সে ইসমাইল (আ.)-এর বংশধর হতে একশজন দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে।”
“এবং যে ব্যক্তি সকালে একশ বার এবং সন্ধ্যায় একশ বার আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করবে, সেদিন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আমল নিয়ে আর কেউ উপস্থিত হতে পারবে না; তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে তার অনুরূপ আমল করবে অথবা তার চেয়ে অধিক আমল করবে।”
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَبِهِ قَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
قُلْتُ الضَّحَّاكُ بْنُ حُمْرَةَ قَالَ فِيهِ النَّسَائِيُّ لَيْسَ بِثِقَةٍ
وَأَبُو سُفْيَانَ الْحِمْيَرِيُّ ضَعَّفَهُ ابْنُ سَعْدٍ لَكِنِ احْتَجَّ بِهِ الْبُخَارِيُّ
أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مُظَفَّرٍ الدِّمَشْقِيُّ بِقِرَاءَتِي عَنْ أَبِي الْفُتُوحِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْمَعَالِي الْوَثَّابِيِّ أَنا جَدِّي أَبُو الْمَعَالِي الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَكْرِيُّ أَنا طِرَادُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّيْنَبِيُّ أَنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ السُّكَّرِيُّ أَنا الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا الْقُرَشِيُّ ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ ثَنَا الأَحْوَصُ بْنُ جَوَّابٍ ثَنَا عَمَّارُ بْنُ زُرَيْقٍ عَنْ فِطْرٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ عَنْ حُمْرَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ عشر حَسَنَات
এবং এর মাধ্যমে তিনি বলেছেন, হাদিসটি হাসান (حسن) ও বিরল (غريب)।
আমি বলছি, আদ-দাহহাক বিন হুমরাহ সম্পর্কে ইমাম নাসায়ী বলেছেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন।
আর আবু সুফিয়ান আল-হিময়ারী সম্পর্কে ইবনে সাদ তাকে দুর্বল (ضعفه) আখ্যা দিয়েছেন, তবে ইমাম বুখারি তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتج) করেছেন।
আল-কাসিম বিন মুজাফফর আদ-দিমাশকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি—তিনি আবুল ফুতুহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবিল মাআলি আল-ওয়াস্সাবি থেকে, তিনি বলেন: আমার দাদা আবুল মাআলি আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-বাকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তিরাদ বিন মুহাম্মদ আজ-জাইনাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন মুহাম্মদ আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আবিদ দুনিয়া আল-কুরাশি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন ইসহাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আহওয়াস বিন জাওয়াব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আম্মার বিন জুরাইক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ফিতর থেকে, তিনি আল-কাসিম বিন আবি বাজাহ থেকে, তিনি আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি হুমরান থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে— সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র), আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান); তার জন্য প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি লিপিবদ্ধ করা হবে।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
رَوَاهُ النَّسَائِيُّ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ إِسْحَاقَ هَذَا وَهُوَ الصَّاغَانِيُّ فَوَافَقْنَاهُ فِيهِ
وَحُمْرَانُ هَذَا مَوْلَى الْعَبَلاتِ لَا بَأْسَ بِهِ
وَقَدْ رَوَاهُ النَّسَائِيُّ أَيْضًا مِنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مِنْ قَوْلِهِ وَهَذِهِ عِلَّةٌ فِي الْحَدِيثِ
وَبِهِ إِلَى ابْنِ أَبِي الدُّنْيَا ثَنَا هَارُونُ بْنُ سُفْيَانَ ثَنَا عَمَّارُ بْنُ عُثْمَانَ الْحَلَبِيُّ ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ ثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ
جَاءَ رَجُلٌ بَدَوِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي خَيْرًا
قَالَ قُلْ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أكبر
নাসাঈ এটি আল-ইয়াওম ওয়াল-লাইলাহ গ্রন্থে এই আবূ বকর ইবন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হলেন আস-সাগানি; ফলে এই বর্ণনায় আমরা তাঁর সাথে একমত হয়েছি।
আর এই হুমরান হলেন আবালাত গোত্রের মুক্তদাস, তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)।
আর নাসাঈ এটি ইব্রাহিম ইবন তাহমানের হাদিস থেকে আতা আল-খুরাসানি, নাফি এবং ইবন উমার (রা.)-এর সূত্রে তাঁর নিজস্ব উক্তি হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। আর এটি হাদিসের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة)।
এবং উক্ত সনদে ইবন আবিদ দুনিয়া পর্যন্ত; হারুন ইবন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আম্মার ইবন উসমান আল-হালাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত আমাদের নিকট আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
একজন বেদুইন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ভালো কিছু শিক্ষা দিন।
তিনি বললেন, তুমি বলো: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ অতি পবিত্র), আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সবচেয়ে মহান)।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
قَالَ وَعَقَدَ بِيَدِهِ أَرْبَعًا ثُمَّ ذَهَبَ فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
ثُمَّ رَجَعَ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَبَسَّمَ وَقَالَ يُفَكِّرُ الْبَائِسُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ هَذَا كُلُّهُ لِلَّهِ فَمَا لِي
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
إِذَا قُلْتَ سُبْحَانَ اللَّهِ قَالَ اللَّهُ صَدَقْتَ
وَإِذَا قُلْتَ الْحَمْدُ لِلَّهِ قَالَ اللَّهُ صَدَقْتَ
وَإِذَا قُلْتَ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ قَالَ اللَّهُ صَدَقْتَ
وَإِذَا قُلْتَ اللَّهُ أَكْبَرُ قَالَ اللَّهُ صَدَقْتَ فَتَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي فَيَقُولُ اللَّهُ قَدْ فَعَلْتُ
وَتَقُولُ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي فَيَقُولُ اللَّهُ قَدْ فَعَلْتُ
وَتَقُولُ اللَّهُمَّ ارْزَقْنِي فَيَقُولُ اللَّهُ قَدْ فَعَلْتُ
قَالَ فَعَقَدَ الأَعْرَابِيُّ سَبْعًا فِي يَدَيْهِ
فَصْلٌ فِي بَيَانِ سِرِّ فَضْلِ هَذِهِ الْكَلِمَاتِ الأَرْبَعَةِذَكَرَ الشَّيْخُ الإِمَامُ عِزُّ الدِّينِ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ رحمه الله فِي أثْنَاء كَلَامه لَهُ إِنَّ أَسْمَاءَ اللَّهِ تبارك وتعالى كُلَّهَا مُنْدَرِجَةٌ فِي هَذِهِ الْكَلِمَاتِ الأَرْبَعِ الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ
তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: অতঃপর তিনি হাত দিয়ে চারটি (সংখ্যার) গাঁট বাঁধলেন, তারপর প্রস্থান করলেন এবং বললেন: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।
অতঃপর তিনি ফিরে আসলেন; যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে দেখলেন, তিনি মুচকি হাসলেন এবং বললেন: “এই অসহায় লোকটি কিছু চিন্তা করছে।” তখন সে বলল: “হে আল্লাহর রাসূল! সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার—এই সব তো আল্লাহর জন্য; তবে আমার জন্য কী?”
রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন:
“যখন তুমি বলবে ‘সুবহানাল্লাহ’, তখন আল্লাহ বলবেন: তুমি সত্য বলেছ।”
“এবং যখন তুমি বলবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, তখন আল্লাহ বলবেন: তুমি সত্য বলেছ।”
“এবং যখন তুমি বলবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, তখন আল্লাহ বলবেন: তুমি সত্য বলেছ।”
“এবং যখন তুমি বলবে ‘আল্লাহু আকবার’, তখন আল্লাহ বলবেন: তুমি সত্য বলেছ। অতঃপর যখন তুমি বলবে: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন’, তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তা করেছি।”
“এবং যখন তুমি বলবে: ‘হে আল্লাহ! আমার প্রতি দয়া করুন’, তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তা করেছি।”
“এবং যখন তুমি বলবে: ‘হে আল্লাহ! আমাকে রিজিক দান করুন’, তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তা করেছি।”
তিনি বলেন: অতঃপর সেই বেদুইন ব্যক্তিটি তার হাতে সাতটি (বিষয়ের) গাঁট বাঁধলেন (গণনা করলেন)।
এই চারটি কালিমার ফযিলতের রহস্য বর্ণনার পরিচ্ছেদশাইখুল ইমাম ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম (রহ.) তাঁর আলোচনার এক পর্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সমস্ত নামসমূহ এই চারটি কালিমার অন্তর্ভুক্ত, যা চিরস্থায়ী নেক আমল (الباقيات الصالحات)।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৪১)
ثُمَّ بَيَّنَ رحمه الله ذَلِكَ بِأَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ مَعْنَاهُ التَّنْزِيهُ وَالسَّلْبُ أَيْ نَسْلُبُ كُلَّ نَقْصٍ وَعَيْبٍ عَنِ اللَّهِ عز وجل فَيَنْدَرِجُ تَحْتَهُ مَا كَانَ مِنَ الأَسْمَاءِ سَلْبًا كَالْقُدُّوسِ وَهُوَ الطَّاهِرُ مِنْ كُلِّ عَيْبٍ وَالسَّلامُ وَهُوَ السَّلَام مِنْ كُلِّ آفَةٍ
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مُشْتَمِلَةٌ عَلَى ضُرُوبِ الْكَمَالِ لِذَاتِهِ وَصِفَاتِهِ فَيَدْخُلُ تَحْتَهَا كُلُّ اسْم إِثْبَات كالعليم والقدير والسميع الْبَصِير
فنفينا بسبحان اللَّهِ كُلَّ عَيْبٍ عَقَلْنَاهُ وَكُلَّ نَقْصٍ فَهِمْنَاهُ
وأثبتنا بِالْحَمْد لِلَّهِ كُلَّ كَمَالٍ عَرَفْنَاهُ وَكُلَّ جَلالٍ أَدَرَكْنَاهُ
وَوَرَاءَ ذَلِكَ كُلِّهِ تِبْيَانٌ عَظِيمٌ غَابَ عَنَّا وَجَهِلْنَاهُ فَنُحَقِّقُهُ إِجْمَالا بِقَوْلِ اللَّهُ أَكْبَرُ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ فَيَدْخُلُ فِيهِ كُلُّ اسْمٍ تَضَمَّنَ ذَلِكَ كَالأَعْلَى وَالْمُتَعَالِي
فَإِذَا كَانَ فِي الْوُجُودِ مَنْ هَذَا شَأْنُهُ نَفَيْنَا أَنْ يَكُونَ فِي الْوُجُودِ مَنْ يُشَاكِلُهُ وَيُنَاظِرُهُ فَحَقَّقْنَا ذَلِكَ بِقَوْلِنَا لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ
فَيَدْخُلُ فِيهِ مِنْ أَسْمَائِهِ مَا تَضَمَّنَ ذَلِكَ كَالْوَاحِدِ وَالأَحَدِ وَذِي الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ
هَذِهِ خُلاصَةُ مَا ذَكَرَهُ الشَّيْخُ عِزُّ الدِّينِ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ رحمه الله وَبِهِ يَظْهَرُ سِرُّ فَضْلِ هَذِهِ الْكَلِمَاتِ وَكَوْنِهَا الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ
অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, ‘সুবহানাল্লাহ’-এর অর্থ হলো পবিত্রতা ঘোষণা করা (التنزيه) এবং নেতিবাচক গুণের অপনোদন (السلب)। অর্থাৎ, আমরা মহান আল্লাহ তাআলা থেকে সকল প্রকার ত্রুটি ও বিচ্যুতিকে অস্বীকার করি। সুতরাং আল্লাহর যে সকল নাম নেতিবাচকতা বর্জনের (سلبًا) সাথে সম্পৃক্ত, যেমন ‘আল-কুদ্দুস’—যিনি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র—এবং ‘আস-সালাম’—যিনি সকল আপদ থেকে মুক্ত—তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির যাবতীয় পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং ইতিবাচক সাব্যস্তকারী (إثبات) প্রতিটি নাম এর অধীনে গণ্য হবে, যেমন: ‘আল-আলিম’, ‘আল-কাদির’, ‘আস-সামিউ’ এবং ‘আল-বাসীর’।
সুতরাং আমরা ‘সুবহানাল্লাহ’-এর মাধ্যমে প্রতিটি এমন ত্রুটি নাকচ করি যা আমাদের বুদ্ধিতে আসে এবং প্রতিটি এমন অপূর্ণতাকে অস্বীকার করি যা আমরা অনুধাবন করি।
আর আমরা ‘আলহামদুলিল্লাহ’-এর মাধ্যমে সেই সকল পূর্ণতাকে সাব্যস্ত করি যা আমরা জেনেছি এবং সেই সকল মহিমাকে প্রতিষ্ঠিত করি যা আমরা উপলব্ধি করেছি।
এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে আরও মহান বর্ণনা রয়েছে যা আমাদের অগোচরে রয়ে গেছে এবং যা আমরা জানি না। আমরা ‘আল্লাহু আকবার’ বলার মাধ্যমে সংক্ষেপে তা সুনিশ্চিত করি (نحققه)। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।” অতএব, যে সকল নাম এই অর্থকে ধারণ করে তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমন: ‘আল-আলা’ এবং ‘আল-মুতাআলি’।
সুতরাং যখন অস্তিত্বের জগতে এমন সত্তা বিদ্যমান যাঁর মাহাত্ম্য এরূপ, তখন আমরা অস্তিত্বের জগতে তাঁর সমতুল্য বা সদৃশ কেউ থাকাকে অস্বীকার করি। আর আমরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার মাধ্যমে তা-ই সুপ্রতিষ্ঠিত করি।
এতে আল্লাহর ঐ সকল নাম অন্তর্ভুক্ত হবে যা এই অর্থকে ধারণ করে, যেমন: ‘আল-ওয়াহিদ’, ‘আল-আহাদ’ এবং ‘যুল জালালি ওয়াল ইকরম’।
এটিই হলো শায়খ ইযযুদ্দীন ইবনে আবদিস সালাম (রহিমাহুল্লাহ) যা বর্ণনা করেছেন তার সারসংক্ষেপ। এর মাধ্যমেই এই কালিমাগুলোর ফযিলতের রহস্য এবং এগুলোর চিরস্থায়ী সৎকর্ম (الباقيات الصالحات) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৪২)
إِضَافَةُ الْحَوْقَلَةِ إِلَى الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِوَقَدْ تَقَدَّمَ فِي حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه إِضَافَةُ لَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ إِلَيْهَا
وَكَذَلِكَ ذَكَرَهَا عُثْمَانُ رضي الله عنه فِي تَفْسِيرِهِ لَهَا أَعْنِي الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ كَمَا تَقَدَّمَ
وَمَعْنَاهَا اخْتِصَاصُ الرَّبِّ سبحانه وتعالى بِالْمَشِيئَةِ وَالْقُدْرَةِ وَسَلْبُ الْعَبْدِ عَنْ كُلِّ اخْتِيَارٍ وَتصرف إِلَّا بمشيئته سُبْحَانَهُ تَعَالَى فِي مَشِيئَتِهِ عَلَى نِهَايَةِ التَّفْوِيضِ وَخَالَصِهِ
وَلِهَذَا جَعَلَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ فِي الْحَدِيثِ الَّذِي أَخْبَرَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَلِيٍّ الْمُعَدَّلُ أَنا أَحْمَدُ بْنُ الْمُفَرّجِ الأُمَوِيُّ سَمَاعًا
(ح) وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مميلٍ الْمِزِّيُّ بِهَا عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُرْتَضَى الْعَلَوِيِّ الْعَاصِمِيِّ أَنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْدِيٍّ ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ ثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه قَالَ
كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَقَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ أَلا أَدُلُّكَ عَلَى كَلِمَةٍ مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ
قَالَ قُلْتُ بَلَى قَالَ لَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ
অক্ষয় নেক আমলসমূহের (আল-বাকিয়াতুস সালিহাত) সাথে ‘হাওকালা’ (লা-হাওলা...) যুক্ত করাইতিপূর্বে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে ‘লা-হাওলা ওয়া-লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’-কে এর (অক্ষয় নেক আমলসমূহের) অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি অতিক্রান্ত হয়েছে।
অনুরূপভাবে উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-ও এর তাফসীরে—অর্থাৎ অক্ষয় নেক আমলসমূহের (আল-বাকিয়াতুস সালিহাত) ব্যাখ্যায়—এটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
এর অর্থ হলো—ইচ্ছা ও ক্ষমতাকে কেবল মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য সুনির্দিষ্ট করা এবং বান্দার যাবতীয় এখতিয়ার ও কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে তা কেবল মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার ওপর অর্পণ করা, যা পূর্ণাঙ্গ সমর্পণ (تفويض) ও একনিষ্ঠতার বহিঃপ্রকাশ।
এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একে জান্নাতের গুপ্তভাণ্ডারসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন সেই হাদিসে, যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-মুআদ্দিল, তিনি আহমদ ইবনে মুফারিরাজ আল-উমাবী থেকে শ্রবণ (سماعا) মারফত এটি গ্রহণ করেছেন।
(সনদ পরিবর্তন/ح) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুমাইল আল-মিযযী, তিনি আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আলী ইবনুল মুরতাদা আল-আলাওয়ী আল-আসিমী থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহদী থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলী, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকী, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আসিম আল-আহওয়াল, তিনি আবু উসমান থেকে এবং তিনি আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, "হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তভাণ্ডারসমূহের একটি বাক্যের কথা জানাব না?"
তিনি (আবু মুসা) বলেন, আমি আরজ করলাম, "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "তা হলো: লা-হাওলা ওয়া-লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে ফেরার কোনো উপায় নেই এবং ইবাদত করার কোনো শক্তি নেই)।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফী তাফসীরিল বাকিয়াতুস সালিহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
اتَّفَقَ الأَئِمَّةُ السِّتَّةُ عَلَيْهِ مِنْ عِدَّةِ طُرُقٍ أَطْوَلَ مِنْ هَذَا وَفِيهِ قِصَّةٌ
وَمِنْهَا رِوَايَةُ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَالنَّسَائِيِّ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَرْبٍ كِلاهُمَا عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرِ بِهِ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا لَهُمَا عَالِيًا
وَبِهِ إِلَى الْمَحَامِلِيِّ قَالَ ثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَن عبد الرَّحْمَن ابْن أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ كَنْزٌ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ
ছয়জন ইমাম এর ওপর ঐকমত্য পোষণ (اتفق) করেছেন, যা এখানে বর্ণিত পাঠের চেয়ে দীর্ঘতর একাধিক সূত্রের (طرق) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে এবং এতে একটি ঘটনা (قصة) রয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো আবু বকর ইবনে আবি শাইবা থেকে মুসলিমের বর্ণনা (رواية) এবং আহমদ ইবনে হারব থেকে নাসায়ীর বর্ণনা (رواية); তাঁরা উভয়েই আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট তাঁদের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিকল্প (بدلاً عالياً) হিসেবে পৌঁছেছে।
এবং এর মাধ্যমেই আল-মাহামিলী পর্যন্ত সনদ পৌঁছেছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, সুফিয়ান থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" হলো জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের মধ্য হতে একটি গুপ্তধন।