(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: -)
التباريح في صلاة التراويح القسم: مسائل فقهية
الكتاب: التباريح في صلاة التراويح
المؤلف: د. عبد الرحمن بن عبد العزيز العقل
الناشر: مركز النخب العلمية - مطبعة معالم الهدى للنشر والتوزيع.
الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م
عدد الصفحات: 158
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو الحجة 1441
আত-তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আত-তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
লেখক: ড. আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-আকল
প্রকাশক: মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ - মাতবাআতু মাআলিমিল হুদা লিন-নাশরি ওয়াত-তাওযী।
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৭ হিজরী - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৮
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৭ যিলহজ্জ ১৪৪১
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله الذي أمر النَّاس أن يعبدوه مخلصين له الدين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولي الصالحين، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله إمام المتقين، وخاتم النبيين، صلى الله وسلم عليه، وعلى آله وصحبه أجمعين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فيقول الله تعالى: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا} [السجدة:16].
يجتمع على الإنسان جواذب النفس من دواعي الراحة، ونداء الفراش الوثير في صورةٍ من المجاهدة والمدافعة تنتصر فيها القلوب المؤمنة الحية التي شُغِلَت بربها، وعاشت بين خشيته والخوف من عذابه، والطمع في رضاه ورجاء رحمته.
فهي صورةٌ مشرقةٌ وضيئةٌ لعدم الركون إلى مُتَع الحياة التي لا يراها المؤمن هدفًا من أهدافه الكبيرة، فلئن ركن الناس إلى ملذات الدنيا يغوصون فيها، يسترخون ويستمتعون وينامون ملء أجفانهم، فإن المؤمن يدفعه القلق على مصيره، وعلى حسن خاتمته، ساعيًا إلى سعادة
উপস্থাপনাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি নেককারদের অভিভাবক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, মুত্তাকিদের ইমাম এবং নবীগণের মোহর। তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাহাবী (الصحابة) এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী (التابعين) সকলের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে; তারা তাদের প্রতিপালককে ডাকেন আশায় ও আশঙ্কায়।} [আস-সাজদাহ: ১৬]।
মানুষের ওপর নফসের আরাম-আয়েশের আকর্ষণ এবং আরামদায়ক শয্যার আহ্বান এমন এক মুজাহাদা ও প্রতিরোধের আবহে একত্রিত হয়, যেখানে সেই জীবন্ত মুমিন হৃদয়গুলো জয়লাভ করে যারা তাদের প্রতিপালকের চিন্তায় বিভোর থাকে এবং যারা তাঁর ভীতি ও আযাবের আশঙ্কা এবং তাঁর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা ও রহমতের প্রত্যাশার মাঝে জীবন অতিবাহিত করে।
এটি পার্থিব জীবনের ভোগবিলাসের প্রতি ঝুঁকে না পড়ার একটি উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত চিত্র, যে ভোগবিলাসকে মুমিন তার কোনো বড় লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করে না। মানুষ যদি দুনিয়ার লালসায় মগ্ন হয়ে তাতে ডুবে থাকে, আমোদ-প্রমোদ ও উপভোগে লিপ্ত হয়ে দুচোখ ভরে ঘুমিয়ে কাটায়, তবে মুমিনকে তার পরিণাম এবং সুন্দর পরিসমাপ্তির চিন্তা অস্থির করে রাখে, ফলে সে এমন এক সৌভাগ্যের সন্ধানে সচেষ্ট হয়...
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأبد في ظل الكرم الرباني في صورةٍ من الجزاء الرفيع الذي لا حدود لعطائه {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السجدة:17].
تعبيرٌ عجيبٌ أَخَّاذٌ يَشي بتكريم الله لهذه الثُّلَّة والصفوة الذين أراد الله أن تَقَرَّ أعينهم بنعيم الآخرة، الذي جاء بيان حقيقته على لسان النبي صلى الله عليه وسلم حينما وصف الجنة بقوله: «فِيهَا مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ»
(1).
يا لله! كم ذا يفيض الله على عباده من العطاء! كم ذا يغمرهم بالنعيم والكرم!
وفي صورةٍ مرهفة أخرى يرسم القرآن مشهدًا من مشاهد عبودية أولئك في الليل، فيقول سبحانه: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ (17) وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الذاريات:17، 18]، إنهم أيقاظٌ أبدانًا وقلوبًا؛ يبيتون مناجاةً لله في جُنْحِ الليل، وتذللًا لربهم في الظلام والناس نيام، ذاقوا لذيذ القيام؛ فهجروا المنام، تبتلًا وقرآنًا ودعاءً واستغفارًا، لا يَطْعَمُون الكرى
(2) إلا قليلًا، ولا يهجعون
(3) إلا يسيرًا.
--------------------------------------------
রব্বে কারিমের অশেষ মেহেরবানীর ছায়ায় অনন্তকাল ধরে এমন এক উচ্চমর্যাদাপূর্ণ প্রতিদান, যার দানে কোনো সীমারেখা নেই— {অতঃপর কেউই জানে না তাদের জন্য তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ চোখের প্রশান্তি স্বরূপ কী গোপন রাখা হয়েছে} [আস-সাজদাহ: ১৭]।
এটি এক বিস্ময়কর ও হৃদয়স্পর্শী অভিব্যক্তি যা এই ক্ষুদ্র দল এবং মনোনীত বান্দাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়, যাদের চোখ পরকালীন নেয়ামতের মাধ্যমে শীতল করতে আল্লাহ ইচ্ছা করেছেন। সেই নেয়ামতের প্রকৃত হাকিকত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানিতে বর্ণিত হয়েছে যখন তিনি জান্নাতের বর্ণনায় বলেছিলেন: «তাতে এমন সব নেয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও তা কখনো উদিত হয়নি»
(১)।
হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদের প্রতি কতই না অঢেল দান বর্ষণ করেন! আপনি তাঁদের কতই না নেয়ামত ও করুণার চাদরে আবৃত করেন!
অন্য এক সূক্ষ্ম বর্ণনায় কুরআন তাঁদের রাতের ইবাদত ও দাসত্বের একটি দৃশ্য চিত্রায়িত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা রাতের খুব সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত (১৭) এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত} [আয-যারিয়াত: ১৭, ১৮]। তাঁরা শারীরিক ও আত্মিকভাবে জাগ্রত থাকতেন; তাঁরা রাতের অন্ধকারে আল্লাহর সাথে নিভৃতে আলাপ এবং রবের প্রতি বিনয় ও দৈন্য প্রকাশ করে রাত কাটাতেন যখন সাধারণ মানুষ ঘুমে বিভোর থাকত। তাঁরা কিয়ামুল লাইলের স্বাদ আস্বাদন করেছিলেন; ফলে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও ইস্তিগফারের নিমিত্তে তাঁরা আরামের নিদ্রা বর্জন করেছিলেন। তাঁরা অতি সামান্যই তন্দ্রার স্বাদ গ্রহণ করতেন এবং রাতের খুব অল্প সময়ই ঘুমাতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ما الذي أطار نومهم؟ إنه الأنس بالله! ولذة مناجاة الله؛ فلأجلها كابدوا الليل، فلا ينامون من الليل إلا أَقَلَّه.
أما وقت الأسحار - الذي ينزل فيه ربنا إلى سماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر - فَهُمْ في عالمٍ من نعيم الأرواح؛ يستغفرون ربهم، ويدعونه ويسألونه، فيفيض عليهم من رحماته، ويمنحهم من سوابغ هِبَاتِهِ؛ فيجدون لتلك اللحظات من البركات في نهارهم ما لو وُزِنَت لهم بذلك الدنيا ما وَزَنَت عندهم لحظة من لحظات تلك العبادة الخاشعة.
إن لديهم طموحًا عارمًا بغسل ثياب الذنوب؛ لتعود القلوب نقيةً زكيةً مشرقةً كإشراقة الصبح.
وفي إطلالة قرآنيةٍ أخرى: نجد أن القرآن يرسم نماذج من القدوات الرفيعة في الانكسار بين يدي الله والبكاء والخرور سجدًا لله {أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ مِنْ ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا} [مريم:58].
إنهم أنبياء الله، وخيرة خلقه الذين كانوا في تلك اللحظات الروحانية يبلغون مبلغ الخرور إلى الأرض، بعيونٍ دامعةٍ وبكاءٍ وخشوعٍ في مشهد عظيم من مشاهد الصدق.
مشهد السجود الذي يمثل ذروة الذل والتذلل للواحد القهار.
কোন সে ব্যাকুলতা যা তাঁদের নিদ্রা হরণ করেছিল? তা ছিল আল্লাহর সান্নিধ্যের পরমানন্দ এবং তাঁর সাথে নিভৃত আলাপের আস্বাদ; এই কারণেই তাঁরা বিনিদ্র রজনীর কষ্ট সহ্য করতেন, ফলে তাঁরা রাতের অতি সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করতেন।
আর শেষ রাতের সেই প্রহর—যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের রব দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হন—তখন তাঁরা এক আধ্যাত্মিক নেয়ামতের জগতে বিচরণ করেন; তাঁরা তাঁদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাঁকে আহ্বান করেন এবং তাঁর কাছে যাঞ্চা করেন। ফলে তিনি তাঁদের ওপর স্বীয় রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁদেরকে তাঁর অঢেল দানে ধন্য করেন। তাঁরা তাঁদের দিবসে সেই মুহূর্তগুলোর এমন বরকত অনুভব করেন যে, যদি তার বিনিময়ে তাঁদের সমগ্র পৃথিবীও প্রদান করা হতো, তবে সেই বিনম্র ইবাদতের একটি মুহূর্তের সমতুল্য তা তাঁদের নিকট বিবেচিত হতো না।
তাঁদের অন্তরে পাপাচারের কলুষতা ধুয়ে ফেলার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান; যাতে অন্তরসমূহ উষার আলোর ন্যায় পবিত্র, বিশুদ্ধ ও দীপ্তিময় হয়ে ওঠে।
কুরআনের অন্য এক আলোকপাতে আমরা দেখি যে, আল্লাহ তাআলার সমীপে বিনয়াবনত হওয়া, ক্রন্দন করা এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে কুরআন কতিপয় সুমহান আদর্শের চিত্র অঙ্কন করেছে: {এরাই তাঁরা, নবীদের মধ্য থেকে যাঁদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—আদমের বংশধরদের মধ্য থেকে এবং যাঁদেরকে আমি নূহের সাথে আরোহণ করিয়েছিলাম তাঁদের মধ্য থেকে, আর ইবরাহিম ও ইসরাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে এবং যাঁদেরকে আমি পথপ্রদর্শন করেছি ও মনোনীত করেছি। যখন তাঁদের নিকট পরম দয়াময়ের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতো, তখন তাঁরা ক্রন্দনরত অবস্থায় সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন।} [মারইয়াম: ৫৮]।
তাঁরা ছিলেন আল্লাহর নবী এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব, যাঁরা সেই আধ্যাত্মিক মুহূর্তগুলোতে অশ্রুসিক্ত নয়নে, রোনাজারি ও পরম বিনয়ের সাথে ভূমিতে লুটিয়ে পড়তেন, যা ছিল সত্যনিষ্ঠার এক অনুপম দৃশ্য।
সিজদার সেই দৃশ্য, যা একমাত্র মহাপরাক্রমশালী সত্তার সমীপে চরম দীনতা ও হীনতা প্রকাশের চূড়ান্ত শিখরস্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
عجيبٌ والله! ماذا صنع الوحي في نفوسهم؟
عجبًا لهاتيك القلوب النقية!
ولكي لا يتطرق الوهم إلى الأذهان، فيظن ظانٌّ أن تلك الهيئة الخاشعة مخصوصةٌ بالأنبياء الكرام؛ فإن القرآن يُجَلِّي ذلك فيذكر مشاهد لأقوامٍ من المؤمنين، كانت تفيض دموعهم خشيةً لله، حين يسمعون كلام الله، فلا يستطيعون لذلك دفعًا؛ لأن ذلك يفوق قدرتهم على الاحتمال، استثارت آيات الله قلوبهم، فتساقطت تلك الدموع وتلامعت في المحَاجِرِ {وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ} [المائدة:83]، بل إن القرآن يكشف صورةً أخرى من صور التأثير في الجوارح التي تهتز حين سماع القرآن؛ فتعلوها قشعريرة لا يتمالكها السامع، فتسري آثارها في أوصال الإنسان وخبايا جسده: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} [الزُّمَر:23].
هنا تفصح هذه الآية الكريمة عن صورةٍ دقيقةٍ عجيبةٍ لمراحل التأثر بآيات الله: قشعريرة الجلود، ثم لينها، ثم لين القلوب الذي يعقبه الخضوع الإيماني، والانكسار النفسي، وهذا الأثر الوجداني الغريب لا يمكن أن يكون لغير القرآن؛ لقوة وقع كلام الله على النفس البشرية فيرتقي بها إلى حالةٍ من الإخبات، كما جاء ذلك في
আল্লাহর কসম, বিস্ময়কর! ওহী তাদের হৃদয়ে কী বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল!
সেই নির্মল অন্তরগুলোর জন্য কতই না বিস্ময়!
এবং যাতে মনে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি (وهم) প্রবেশ না করে এবং কেউ যেন মনে না করে যে, এই বিনম্র অবস্থা কেবল সম্মানিত নবীদের জন্যই নির্দিষ্ট; তাই কুরআন বিষয়টি সুস্পষ্ট করে মুমিনদের এমন কিছু দলের দৃশ্য বর্ণনা করে, যাদের চক্ষু আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ত যখন তারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত। তারা সেই অশ্রু রোধ করতে পারত না; কারণ তা ছিল তাদের সহ্যক্ষমতার ঊর্ধ্বে। আল্লাহর আয়াতসমূহ তাদের অন্তরকে এমনভাবে আলোড়িত করত যে, তাদের নেত্রপল্লবে অশ্রু উপচে পড়ত এবং তা উজ্জ্বল হয়ে উঠত: {এবং যখন তারা রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা শ্রবণ করে, তখন আপনি তাদের চক্ষু দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে দেখবেন, কেননা তারা সত্যকে চিনতে পেরেছে। তারা বলে: হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন} [আল-মায়িদাহ: ৮৩]। বরং কুরআন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর প্রভাবের অন্য একটি চিত্রও উন্মোচন করে, যা কুরআন শ্রবণের সময় প্রকম্পিত হয়; ফলে শ্রোতার ওপর এমন এক শিহরণ তৈরি হয় যা সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তার প্রভাব মানুষের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এবং শরীরের নিভৃত কোণে ছড়িয়ে পড়ে: {আল্লাহ সর্বোত্তম হাদিস অবতীর্ণ করেছেন এমন এক কিতাব হিসেবে যা সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابها) এবং যা বারবার পঠিত (مثاني), যা শুনে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণে তাদের দেহ ও মন কোমল হয়ে যায়} [আয-জুমার: ২৩]।
এখানে এই মহান আয়াতটি আল্লাহর আয়াতের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার পর্যায়গুলোর এক সূক্ষ্ম ও বিস্ময়কর চিত্র প্রকাশ করে: চর্মের রোমাঞ্চ বা শিহরণ, এরপর তা কোমল হওয়া, এরপর হৃদয়ের কোমলতা যার অনিবার্য ফল হলো ঈমানি আনুগত্য ও আত্মিক বিনয়। এই অদ্ভুত আবেগীয় প্রভাব কুরআন ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে হওয়া সম্ভব নয়; কারণ মানবাত্মার ওপর আল্লাহর কালামের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী, যা তাকে বিনম্র আনুগত্যের (إخبات) স্তরে উন্নীত করে, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قول الله تعالى: {وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ} [الحج:54]
(1).
إنها درجةٌ من أرفع درجات الإيمان التي جاءت بها آيات القرآن، والإخبات في الآية، هو: الخضوع والتَّذلُّل لله عز وجل مع المحبَّة له
(2).
ولما سبق فإن من أَجَلِّ مقاصد صلاة التراويح في رمضان: صياغة القلوب صياغةً مهذبةً بالإيمان من خلال القرآن؛ ولهذا قال الإمام ابن تيمية رحمه الله: «مِن أَجَلِّ مقصود التراويح: قراءة القرآن فيها؛ ليسمع المسلمون كلام الله»
(3).
ليكون القرآن والصيام والصلاة خير زادٍ للمسلم في هذه الدنيا؛ لتحمُّل مشاق الحياة، وللنهوض بأعبائها؛ ولهذا جاءت دعوة السماء للنبي الكريم صلى الله عليه وسلم في أول مراحل دعوته: {يَاأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ (1) قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا (2) نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا (3) أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا} [المزَّمل: 1 - 4].
إنها الدعوة الربانية لصفوة البشر؛ ليتهيأ للمهمة الصعبة، ويقوم بالدور العظيم الذي ينتظره، وينهض بالعبء الثقيل الذي اصْطُفِيَ له {يَاأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ (1) قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا}.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর বাণী: {আর যেন যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা জানতে পারে যে, এটি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য; ফলে তারা এতে ঈমান আনে এবং তাদের অন্তরসমূহ এর প্রতি বিনীত হয়} [আল-হাজ্জ: ৫৪]
(১).
এটি ঈমানের সেই সুউচ্চ স্তরসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা কুরআনের আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর আয়াতে বর্ণিত 'ইখবাত' (বিনম্রতা) হলো: আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাসহ তাঁর সম্মুখে আনুগত্য প্রকাশ ও বিনয়াবনত হওয়া
(২).
উল্লিখিত বিষয়ের প্রেক্ষিতে, রমজান মাসে তারাবিহ সালাতের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য হলো: কুরআনের মাধ্যমে ঈমান দ্বারা অন্তরসমূহকে পরিশীলিতভাবে গঠন করা; একারণেই ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তারাবিহর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো: এতে কুরআন তিলাওয়াত করা; যাতে মুসলিমরা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করতে পারে»
(৩).
যেন কুরআন, সিয়াম এবং সালাত এই দুনিয়ায় মুসলিমের জন্য জীবনের কষ্টসমূহ সহ্য করার এবং এর গুরুদায়িত্ব পালনের সর্বোত্তম পাথেয় হয়; এই কারণেই নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে আসমানী আহ্বান এসেছিল: {হে চাদর আবৃতকারী! (১) রাতে দণ্ডায়মান হোন, তবে অল্প সময় বাদে। (২) রাতের অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে কিছুটা কম করুন। (৩) অথবা তার চেয়ে বৃদ্ধি করুন এবং স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে কুরআন তিলাওয়াত করুন} [আল-মুয্যাম্মিল: ১-৪]।
এটি ছিল মানবকুলের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির প্রতি রব্বানী আহ্বান; যেন তিনি কঠিন কাজের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন এবং তাঁর জন্য অপেক্ষমাণ সেই মহান দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং সেই ভারী বোঝা বহন করতে পারেন যার জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে: {হে চাদর আবৃতকারী! (১) রাতে দণ্ডায়মান হোন, তবে অল্প সময় বাদে}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
كلمةٌ مجلجلةٌ رهيبةٌ تجتذب خير الورى من الفراش الدافئ؛ ليكون ذلك أعظم وقود له على متاعب الطريق، ومضايق الحياة؛ إذ إنه صلى الله عليه وسلم سيحمل أمانةً عظيمةً وقولًا ثقيلًا {إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا} [المزَّمل:5].
إن الذي يعيش لنفسه ومصالحه الذاتية، يمكن أن يعيش مستريحًا بعيدًا عن مصارع المخاض بين الزعازع
(1) والأنواء
(2)، لكنه يعيش صغيرًا ويموت صغيرًا.
أما من كان كبير الهمة، عظيم النفس والطموح، فهذا هو من يصنع - بإذن الله - المجد التليد.
إنه كبيرٌ يحمل عبئًا كبيرًا، فما لهذا والنوم؟ وكيف سيجد سبيلًا للراحة؟ وإخلادًا للفراش الدافئ، والعيش الهادئ؟ ولهذا جاء الأمر الإلهي للنبي الكريم أن يقوم نصف الليل أو أكثره؛ ليتهيأ للمهمة الكبرى، وهكذا كل من حَمَلَ أمانةً، وتحمل أعباءً من أعباء الحياة الثقيلة، يحسن به ويتأكد في حقه أن يَتَزَوَّدَ لتلك المشاق بزاد الليل، ومعين القرآن.
--------------------------------------------
একটি প্রকম্পিত ও গম্ভীর বাণী যা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তাকে উষ্ণ শয্যা থেকে টেনে আনে; যাতে তা পথের ক্লান্তি ও জীবনের সংকীর্ণতায় তাঁর জন্য শ্রেষ্ঠ পাথেয় হয়; কারণ তিনি (সা.) এক মহান আমানত এবং এক গুরুভার বাণী বহন করবেন {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করব} [মুয্যাম্মিল: ৫]।
নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি কেবল নিজের এবং নিজের ব্যক্তিস্বার্থের জন্য বেঁচে থাকে, সে প্রতিকূলতা
(১) ও ঝঞ্ঝার
(২) ঝোড়ো প্রসববেদনার সংগ্রাম থেকে দূরে আরামদায়ক জীবন কাটাতে পারে, কিন্তু সে ক্ষুদ্র হয়েই বেঁচে থাকে এবং ক্ষুদ্র হয়েই মারা যায়।
পক্ষান্তরে যিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী, মহান আত্মা ও সুউচ্চ সংকল্পের অধিকারী, তিনিই—আল্লাহর অনুমতিক্রমে—সুপ্রাচীন গৌরবগাথা নির্মাণ করেন।
তিনি এক মহান ব্যক্তিত্ব যিনি এক বিশাল ভার বহন করছেন, এমতাবস্থায় তাঁর ঘুমের অবকাশ কোথায়? আর কীভাবে তিনি বিশ্রামের পথ খুঁজে পাবেন? কিংবা উষ্ণ শয্যা ও শান্ত জীবনের প্রতিই বা কীভাবে নিবিষ্ট হবেন? আর এই কারণেই মহানবীর প্রতি আল্লাহ তাআলার নির্দেশ এসেছে যেন তিনি রাতের অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশি সময় দাঁড়িয়ে ইবাদত করেন; যাতে তিনি এই মহান দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। আর এভাবেই, যে ব্যক্তিই কোনো আমানত গ্রহণ করেছে এবং জীবনের গুরুভার দায়িত্বসমূহ কাঁধে নিয়েছে, তার জন্য সমীচীন ও আবশ্যক হলো এই যে, সে যেন সেই সব কষ্টের মোকাবিলায় রাতের পাথেয় এবং কুরআনের প্রস্রবণ থেকে রসদ সংগ্রহ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
تأمل معي أخي في هذه الأسرار الثلاثة: (الصيام - القرآن - التراويح) وما لها من أثرٍ عجيبٍ في رمضان، إنها علاقةٌ ثلاثيةٌ لها أبعادها وآثارها في تهذيب النفس البشرية؛ لتصبح نفسًا هادئةً مؤمنةً تحوطُها السكينة، ويلفّها اليقين، فيا ليتنا نجدد حياتنا في رمضان بروحٍ جديدةٍ مع الصيام، وعيشٍ كريمٍ مع القرآن، وخشوع وصفاء بين يدي ربنا في التراويح.
يا ليتنا نعيش رمضان بمضامين جديدة توازي عظمة القرآن، وجمال التراويح.
وفي هذه الرسالة التي بين يديك خلاصة (تباريح في صلاة التراويح)، نفع الله بها وجعلها خالصةً لوجهه الكريم.
د. عبد الرحمن بن عبد العزيز العقل
الأستاذ المساعد بقسم السنة في كلية الشريعة بجامعة القصيم
وإمام وخطيب جامع ابن القيم بمدينة بريدة
8/ 8/1437 هـ
হে আমার ভাই, আমার সাথে এই তিনটি রহস্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন: (সিয়াম - কুরআন - তারাবিহ) এবং রমজানে এগুলোর বিস্ময়কর প্রভাব। এটি এমন এক ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক যার নিজস্ব গভীরতা এবং মানবাত্মার সংস্কারে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে; যেন আত্মা এক প্রশান্ত ও বিশ্বাসী সত্তায় পরিণত হয় যাকে সাকিনাহ (স্থিরতা) বেষ্টন করে থাকে এবং সুনিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) আবৃত করে রাখে। হায়, আমরা যদি রমজানে সিয়ামের এক নতুন প্রাণশক্তিতে আমাদের জীবনকে নবায়ন করতে পারতাম, কুরআনের সাথে এক মর্যাদাশীল জীবন কাটাতে পারতাম এবং তারাবিহতে আমাদের রবের সামনে পরম বিনয় ও স্বচ্ছতা নিয়ে দাঁড়াতে পারতাম!
হায়, আমরা যদি কুরআনের মহিমা এবং তারাবিহর সৌন্দর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন কোনো তাৎপর্য নিয়ে রমজান অতিবাহিত করতে পারতাম!
আপনার নিকট উপস্থিত এই পুস্তিকাটি হলো '(তাবারিহ ফি সালাতিত তারাবিহ)' এর সারসংক্ষেপ; আল্লাহ এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তৌফিক দান করুন এবং একে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন।
ড. আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-আকল
কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের সুন্নাহ (السنة) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক
এবং বুরাইদাহ শহরের জামে ইবনুল কাইয়্যিমের ইমাম ও খতিব
৮/ ৮/ ১৪৩৭ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الأول:مفهوم صلاة التراويح ومشروعيتها وفضلها:وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: تسمية صلاة التراويح.
المطلب الثاني: مشروعية صلاة التراويح.
المطلب الثالث: فضل صلاة التراويح.
প্রথম পরিচ্ছেদ:তারাবিহর নামাজের ধারণা, এর বিধান (مشروعية) এবং এর ফজিলত:এতে তিনটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তারাবিহর নামাজের নামকরণ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তারাবিহর নামাজের বিধান (مشروعية)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তারাবিহর নামাজের ফজিলত।
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الأول:تسمية صلاة التراويحالتراويح: على وزن (تفاعيل)، وهي من صيغ منتهى الجموع، ومفردها: ترويحة، وهي: المرة الواحدة من الراحة، مشتقة من الفعل رَوَّح يروِّح ترويحًا، يُقال: رَاوحَ بين رجليه: إذا قام على إحداهما مرة، وعلى الأخرى مرة
(1).
وأصل هذه المادة يدل على الفسحة والسعة، قال ابن فارس: «الراء والواو والحاء: أصل كبير مطرد، يدل على سَعَة وفُسحة واطِّرَاد»
(2).
والتراويح في الاصطلاح، هي: صلاة القيام جماعة في ليالي رمضان بعد صلاة العشاء
(3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:তারাবিহ নামাজের নামকরণতারাবিহ: এটি ‘তাফাউইল’ (تفاعيل) ওজনে গঠিত, যা বহুবচনের চূড়ান্ত রূপ (منتهى الجموع) সমূহের অন্তর্ভুক্ত; এর একবচন (مفرد) হলো: তারউইয়াহ (ترويحة), যার অর্থ: একবারের বিশ্রাম। এটি ‘রাউওয়াহা-ইউরাউউইহূ-তারউইহান’ (رَوَّح يروِّح ترويحًا) ক্রিয়া থেকে ব্যুৎপন্ন। বলা হয়ে থাকে: ‘সে তার দুই পায়ের মাঝে বিশ্রাম বা বিবর্তন করেছে’ (رَاوحَ بين رجليه); যখন সে একবার এক পায়ের ওপর এবং অন্যবার অন্য পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ায়
(১)।
এই শব্দমূলটি মূলত প্রশস্ততা ও প্রসারের অর্থ প্রকাশ করে। ইবন ফারিস বলেছেন: ‘রা, ওয়াও এবং হা—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত মূলনীতি, যা প্রশস্ততা (سعة), সচ্ছলতা (فسحة) ও ধারাবাহিকতা (اطراد) নির্দেশ করে’
(২)।
পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে তারাবিহ হলো: রমজান মাসের রাতগুলোতে ইশার নামাজের পর জামাতের (جماعة) সাথে আদায়কৃত কিয়াম বা দণ্ডায়মান সালাত (صلاة القيام)
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وسُمِّيت بهذا الاسم؛ لأنَّ السلف أوَّل ما اجتمعوا عليها كانوا يطيلون القيام، ويستريحون بين كل تسليمتين
(1).
وقد روى البيهقي في السنن الكبرى بسنده عن المغيرة بن زياد الموْصِلِيِّ، عن عطاء، عن عائشة رضي الله عنها، قالت: «كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي اللَّيْلِ، ثُمَّ يَتَرَوَّحُ، فَأَطَالَ حَتَّى رَحِمْتُهُ، فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللهِ، قَدْ غَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ، قَالَ: أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا؟».
قال البيهقي: «وقوله: (ثُمَّ يَتَرَوَّحُ) إنْ ثبت؛ فهو أصل في تَرَوُّح الإمام في صلاة التراويح»
(2).
--------------------------------------------
এবং এই নামে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) যখন প্রথমবার এটিতে একত্রিত হয়েছিলেন, তখন তাঁরা কিয়াম দীর্ঘ করতেন এবং প্রতি দুই সালামের মধ্যবর্তী সময়ে বিশ্রাম নিতেন
(১).
ইমাম বায়হাকি সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে তাঁর সনদসহ (سند) মুগীরা ইবনে যিয়াদ আল-মাওসিলি থেকে, তিনি আতা থেকে এবং আতা আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন, এরপর বিশ্রাম নিতেন। তিনি কিয়াম এত দীর্ঘ করতেন যে তাঁর প্রতি আমার মায়া হতো। আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক, আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ তিনি বললেন: ‘আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?’»।
বায়হাকি বলেন: «এবং তাঁর উক্তি: (এরপর বিশ্রাম নিতেন) যদি সাব্যস্ত (ثبت) হয়; তবে এটি তারাবিহ সালাতে ইমামের বিশ্রামের মূল ভিত্তি»
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطلب الثاني:مشروعية صلاة التراويحثبتت مشروعية صلاة التراويح، بالسُّنَّة، والإجماع.
فأما السنة، فمنها:
1) حديث عائشة رضي الله عنها: «أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم خَرَجَ ذَاتَ لَيْلَةٍ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ، فَصَلَّى فِي المَسْجِدِ، فَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلاتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ، فَتَحَدَّثُوا، فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ، فَصَلَّوْا مَعَهُ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ، فَتَحَدَّثُوا، فَكَثُرَ أَهْلُ المَسْجِدِ مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ، فَخَرَجَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم، فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ المَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ حَتَّى خَرَجَ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ، فَلَمَّا قَضَى الفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَتَشَهَّدَ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَيَّ مَكَانُكُمْ، لَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ، فَتَعْجِزُوا عَنْهَا»
(1).
2) حديث أبي هريرة رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:তারাবিহ নামাজের বৈধতাসুন্নাহ (سنة) এবং ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা তারাবিহ নামাজের বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে।
সুন্নাহ (سنة) থেকে এর কিছু প্রমাণ নিম্নরূপ:
১) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিস: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে মধ্যরাত্রে বের হলেন এবং মসজিদে নামাজ আদায় করলেন। কিছু লোক তাঁর সাথে নামাজ পড়ল। সকালে লোকজন এ নিয়ে আলোচনা করল, ফলে পরবর্তী রাতে আরও বেশি লোক সমবেত হলো এবং তাঁর সাথে নামাজ পড়ল। সকালে পুনরায় মানুষ এ নিয়ে আলোচনা করলে তৃতীয় রাতে মসজিদে মুসল্লিদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং তাঁরা তাঁর সাথে নামাজ আদায় করলেন। যখন চতুর্থ রাত এল, তখন মসজিদে মুসল্লিদের সংকুলান হওয়া কঠিন হয়ে পড়ল। শেষ পর্যন্ত তিনি কেবল ফজরের নামাজের জন্য বের হলেন। ফজরের নামাজ শেষ করে তিনি মানুষের দিকে মুখ ফেরালেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করলেন। এরপর বললেন: 'অতঃপর কথা হলো, তোমাদের অবস্থান আমার কাছে অজানা ছিল না; কিন্তু আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, তোমাদের ওপর এটি ফরজ করে দেওয়া হতে পারে, আর তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়বে'»
(১)।
২) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি রমজানে কিয়াম (নামাজ) আদায় করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
(1).
قال النووي رحمه الله: «المراد بقيام رمضان: صلاة التراويح»
(2).
وأما الإجماع:
فقد أجمعت الأمة على مشروعية صلاة التراويح، واتَّفق العلماء على استحبابها.
قال السَّرَخْسي رحمه الله: «الأمة أجمعت على شَرْعِيَّتها وجوازِها، ولم ينكرها أحد من أهل العلم؛ إلا الروافض، لا بارك الله فيهم»
(3).
وقال النووي رحمه الله: «صلاة التراويح سُنَّة باتفاق العلماء»
(4).
وقال أيضًا: «اتفق العلماء على استحبابها»
(5).
--------------------------------------------
ঈমান ও সওয়াব লাভের আশায় (কিয়াম করবে), তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে
(১)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «রমজানের কিয়াম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তারাবিহ নামাজ»
(২)।
আর ঐকমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে:
উম্মাহ তারাবিহ নামাজের বিধিবদ্ধতার (مشروعية) বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে এবং ওলামায়ে কেরাম এটি মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
ইমাম সারাখসি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «উম্মাহ এর বিধিবদ্ধতা (شَرْعِيَّتها) ও বৈধতার (جوازِها) বিষয়ে ঐকমত্য (أجمعت) পোষণ করেছে, এবং আহলে ইলমদের কেউ এটি অস্বীকার করেননি; কেবল রাফেজিরা ব্যতীত, আল্লাহ তাদের ওপর বরকত নাজিল না করুন»
(৩)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য অনুযায়ী তারাবিহ নামাজ হলো সুন্নাত (سُنَّة)»
(৪)।
তিনি আরও বলেছেন: «এটি মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়ে আলেমগণ একমত হয়েছেন»
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثالث:فضل صلاة التراويحصلاة التراويح: هي من جملة قيام الليل، فتَشْمَلُها نصوصُ الكتاب والسنة التي وردت في بيان فضل قيام الليل، ومن هذه النصوص:
قوله تعالى عن المتقين: {كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} [الذاريات:17].
وقوله: {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ} [الزمر:9].
وقوله: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا} [السجدة:16].
وفي الصحيحين من طريق حميد بن عبد الرحمن، عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا؛ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
(1).
وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «أَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ: صَلَاةُ اللَّيْلِ»
(2).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:সালাতুত তারাবিহর ফজিলতসালাতুত তারাবিহ হলো কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত; তাই কুরআন ও সুন্নাহর সেই সকল দলিল একে শামিল করে যা কিয়ামুল লাইলের ফজিলত বর্ণনায় এসেছে। এই দলিলসমূহের মধ্য থেকে কিছু হলো:
মুত্তাকীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত} [আয-যারিয়াত: ১৭]।
এবং তাঁর বাণী: {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখেরাতকে ভয় করে এবং তার রবের রহমত আশা করে} [আয-যুমার: ৯]।
এবং তাঁর বাণী: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক থাকে, তারা তাদের রবকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকে} [আস-সাজদাহ: ১৬]।
সহিহাইন-এ হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমানের সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»
(১)।
সহিহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত: «ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال الحسن البصري رحمه الله: «ما نعلم عملًا أشدَّ من مكابدة الليل ونفقة المال، قيل له: ما بالُ المتهجدين أحسنُ الناس وجوهًا؟ قال: لأنهم خلوا بالرحمن فألبسهم من نوره»
(1).
بَكَى الْبَاكُونَ لِلرَّحْمَنِ لَيْلًا
… وَبَاتُوا دَمْعَهُمْ مَا يَسْأَمُونَا
بِقَاعُ الْأَرْضِ مِنْ شَوقٍ إِلَيْهِمْ
… تَحِنُّ مَتَى عَلَيْهَا يَسْجُدُونَا
وكان السلف رحمهم الله يجِدُون لقيام الليل لذَّة وسرورًا، يفرحون بمجيئه، ويحزنون لانقضائه.
قال ثابت البُناني رحمه الله: «ما شيءٌ أجدُه في قلبي ألذُّ عندي من قيام الليل»
(2).
وقال سفيان الثوري رحمه الله: «إذا جاء الليل فرحت، وإذا جاء النهار حزنت»
(3).
وقال أبو سليمان الداراني رحمه الله: «لَأَهْلُ الطاعة بليلهم أَلَذُّ من أهل اللهو بلهوهم، ولولا الليلُ ما أحببت البقاء في الدنيا»
(4).
--------------------------------------------
হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «রাতের কঠোর সাধনা এবং অর্থ ব্যয় করার চেয়ে অধিক কঠিন কোনো আমল আমাদের জানা নেই। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের চেহারা সকল মানুষের মধ্যে অধিক সুন্দর হয় কেন? তিনি বললেন: কারণ তাঁরা পরম দয়াময় আল্লাহর সাথে নির্জনে সময় কাটান, ফলে তিনি তাঁদেরকে আপন নূর (জ্যোতি) দ্বারা ভূষিত করেন»
(১).
ক্রন্দনকারীরা পরম দয়াময় আল্লাহর স্মরণে রাতে রোদন করে
… আর তারা বিনিদ্র রজনী কাটায় অথচ তাদের অশ্রু কখনো ক্লান্তি বোধ করে না
জমিনের প্রতিটি ভূখণ্ড তাদের প্রতি অনুরাগের ব্যাকুলতায়
… তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকে যে, কখন তারা সেখানে সেজদা করবে
সালাফে সালেহীন (রহিমাহুমুল্লাহ) রাতের ইবাদতে এক অনন্য স্বাদ ও আনন্দ খুঁজে পেতেন; তাঁরা রাত আগমনে আনন্দিত হতেন এবং রাত অতিক্রান্ত হলে ব্যথিত হতেন।
ছাবেত আল-বুনানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «রাতের ইবাদতের চেয়ে অধিক তৃপ্তিদায়ক কোনো কিছু আমি আমার হৃদয়ে অনুভব করি না»
(২).
সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «যখন রাত আসে আমি আনন্দিত হই, আর যখন দিন আসে আমি ব্যথিত হই»
(৩).
আবু সুলায়মান আদ-দারানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আল্লাহর অনুগত বান্দারা তাদের রাতের ইবাদতে ভোগ-বিলাসে মগ্ন ব্যক্তিদের আমোদ-প্রমোদের চেয়েও বেশি তৃপ্তি পায়। যদি রাত না থাকত, তবে আমি এ দুনিয়ায় বেঁচে থাকা পছন্দ করতাম না»
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال بعضهم: «مساكينُ أهل الدنيا، خرجوا منها وما ذاقوا أَطْيَبَ ما فيها، قيل: وما أطيب ما فيها؟ قال: محبة الله، ومعرفته وذكره»
(1).
وقال ابن تيمية رحمه الله: «إنَّ في الدنيا جنةً مَنْ لم يدخلها لم يدخل جنة الآخرة»
(2).
- أيُّ أوقات القيام أفضلُ؟
كل الليل وقت للقيام، فللمرء أن يصلي أولَ الليل أو أوسطَه أو آخرَه، فقد جاء في صحيح مسلم من طريق الأعمش، عن أبي سفيان، عن جابر رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَافَ أَنْ لا يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ، وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ؛ فَإِنَّ صَلَاةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ، وَذَلِكَ أَفْضَلُ»
(3).
إلا أن صلاة آخر الليل أفضل؛ لما سبق، ولما رَوَى البخاري ومسلم في صحيحيهما من طريق مسروق عن عائشة رضي الله عنها، قالت: «مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ، وَأَوْسَطِهِ، وَآخِرِهِ، فَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ»
(4).
--------------------------------------------
وقال কেউ কেউ বলেছেন: «দুনিয়ার অধিবাসীরা কতই না নিঃস্ব! তারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে অথচ এর মধ্যে থাকা সবচাইতে উত্তম বস্তুটির স্বাদ তারা গ্রহণ করতে পারেনি। জিজ্ঞাসা করা হলো: এর সবচাইতে উত্তম বস্তুটি কী? তিনি বললেন: আল্লাহর ভালোবাসা, তাঁর পরিচয় লাভ এবং তাঁর যিকির (স্মরণ)»
(১)।
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «নিশ্চয়ই দুনিয়াতে একটি জান্নাত রয়েছে, যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে না, সে আখেরাতের জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না»
(২)।
- কিয়াম (রাতের নামাজ) আদায়ের সর্বোত্তম সময় কোনটি?
পুরো রাতই কিয়ামের সময়, সুতরাং একজন ব্যক্তির জন্য রাতের প্রথম অংশে, মধ্যভাগে অথবা শেষভাগে নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। সহীহ মুসলিম-এ আমাশ-এর সূত্র (طريق) থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে এবং তিনি জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যার রাতের শেষভাগে জাগ্রত হতে না পারার আশঙ্কা রয়েছে, সে যেন রাতের শুরুতেই বিতর আদায় করে। আর যার রাতের শেষভাগে জাগ্রত হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, সে যেন রাতের শেষভাগেই বিতর আদায় করে; কেননা রাতের শেষভাগের সালাতে ফেরেশতাগণ উপস্থিত থাকেন, আর এটিই সর্বোত্তম»
(৩)।
তবে রাতের শেষভাগে সালাত আদায় করা অধিক উত্তম; ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণে এবং বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে মাসরুক-এর সূত্র (طريق) থেকে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করার কারণে। তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতের সব অংশেই—শুরুতে, মধ্যভাগে ও শেষে—বিতর আদায় করেছেন। অবশেষে তাঁর বিতর আদায়ের সময়টি সাহরি পর্যন্ত স্থির হয়েছিল»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولحديث النزول الإلهي الثابت في الصحيحين من طريق أبي سلمة، وأبي عبد الله الأغر، عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يَنْزِلُ رَبُّنَا تبارك وتعالى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ، يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ»
(1).
وينبغي أن يكون للمرء قسط من الليل بحسَب وُسعه، وما تيسر له، من أول الليل، أو أوسطه، أو آخره، ولو كان قليلًا، أما القيام في رمضان فذلك ما تنبعث له سوابق الهمم.
--------------------------------------------
আর মহান আল্লাহর অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসটি যা সহীহাইনে সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت), যা আবু সালামাহ ও আবু আব্দুল্লাহ আল-আগারের সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমাদের প্রতিপালক বরকতময় ও সুউচ্চ, প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?»
(১).
আর মানুষের উচিত তার সামর্থ্য ও সহজসাধ্যতা অনুযায়ী রাতের একটি অংশ ইবাদতে কাটানো, তা রাতের শুরুতে হোক, মধ্যভাগে হোক বা শেষ ভাগে হোক, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়। তবে রমজান মাসের কিয়ামের বিষয়টি এমন, যার জন্য উচ্চ সংকল্পের অধিকারীরাই ধাবিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الثاني:صفة صلاة التراويحوفيه خمسة مطالب:
المطلب الأول: عدد ركعات صلاة التراويح.
المطلب الثاني: صفة ركعات صلاة التراويح.
المطلب الثالث: ما يقال بين تسليمات التراويح.
المطلب الرابع: القراءة في صلاة التراويح.
المطلب الخامس: القنوت في صلاة التراويح.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:তারাবিহ নামাজের পদ্ধতিএতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তারাবিহ নামাজের রাকাতসমূহের পদ্ধতি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তারাবিহ নামাজের সালামসমূহের মধ্যবর্তী সময়ে যা বলা হয়।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তারাবিহ নামাজে কিরাত পাঠ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তারাবিহ নামাজে কুনুত।
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المطلب الأول:عدد ركعات صلاة التراويحالثابت في السنة من غير وجهٍ أنه صلى الله عليه وسلم لم يكن يزيدُ على إحدى عشرةَ ركعةً لا في رمضانَ ولا في غيرِه، جاء في الصحيحين من طريق مالك، عن المقبري، عن أبي سلمة، عن عائشة رضي الله عنها، قالت: «مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلا تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا
… » الحديثَ
(1).
قال ابن عبد البر رحمه الله: «وأكثر الآثار على أن صلاته كانت إحدى عشرة ركعة»
(2).
وكذلك الثابت عن الصحابة القيام بإحدى عشرة ركعة، كما جاء في الموطأ بسند صحيح عن محمد بن يوسفَ، عن السائب ابن يزيد رضي الله عنه، قال: «أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الخطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً»
(3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যাসুন্নাহর একাধিক সূত্রে এটি সাব্যস্ত (الثابت) হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান কিংবা রমজানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। সহিহাইন-এ ইমাম মালিকের সূত্রে, মাকবুরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানে কিংবা রমজানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি বৃদ্ধি করতেন না। তিনি চার রাকাত পড়তেন, অতঃপর সেই রাকাতগুলোর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আর জিজ্ঞেস করো না; এরপর তিনি আবারও চার রাকাত পড়তেন
… » হাদিস
(১)।
ইবনে আব্দুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «অধিকাংশ বর্ণনা (الآثار) অনুযায়ী তাঁর নামাজ ছিল এগারো রাকাত»
(২)।
অনুরূপভাবে সাহাবায়ে কেরাম থেকেও এগারো রাকাত কিয়াম করার বিষয়টি সাব্যস্ত (الثابت) হয়েছে, যেমনটি মুয়াত্তা-এ সহিহ (صحيح) সনদে (بسند) মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উবাই ইবনে কাব এবং তামিম আদ-দারি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা মানুষকে নিয়ে এগারো রাকাত নামাজ আদায় করেন»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأما الأثر المشهور: «كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الخطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً»
(1)، فقد رواه مالك عن يزيدَ بن رُومان، عن عمر، ويزيد لم يدرك عمر، فالسند منقطع
(2)، وهو معارض لما صح عن عمر من أمره بإحدى عشرة ركعة في الأثر السابق.
وجاء عند عبد الرزاق، عن داودَ بنِ قيس، عن محمدِ بنِ يوسفَ، عن السائب بن يزيد: «أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه جَمَعَ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ عَلَى أُبَيٍّ وَتَمِيم عَلَى إِحْدَى وَعِشْرِينَ رَكْعَةً»
(3)، ولكن هذا الأثر غير محفوظ، والرواية الثابتة ما رواه الإمام مالك، عن محمد بن يوسف، عن السائب: «أَنَّهُ جَمَعَهُمْ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً»، وأئمة الحديث يقدِّمون مالكًا على داود بن قيس، بل يقدمون مَنْ دون مالك في الحفظ على داود بن قيس.
والخلاصة: أن الأصح عن عمر أنه جمع الناس على أبيٍّ وتميم بإحدى عشرة ركعة، ولكن ما سبق تقريره عن النبي صلى الله عليه وسلم، وعن عمر لا يعني عدمَ جوازِ الزيادة على إحدى عشرة ركعة.
فصلاة القيام غير محصورة بعدد معين، وقد دلَّ على ذلك الكتاب، والسنة، والإجماع.
--------------------------------------------
আর প্রসিদ্ধ আসার (أثر): «উমর ইবনুল খাত্তাব-এর যুগে মানুষ রমজানে তেইশ রাকাত সালাত আদায় করতেন»
(1) প্রসঙ্গে বলা যায়, এটি ইমাম মালেক বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে রুমান থেকে, তিনি উমর থেকে; অথচ ইয়াজিদ উমর-এর সাক্ষাৎ পাননি। ফলে সনদটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)
(2) এবং এটি পূর্ববর্তী আসারে উমর থেকে এগারো রাকাতের যে আদেশটি বিশুদ্ধভাবে (صح) বর্ণিত হয়েছে, তার পরিপন্থী।
আব্দুর রাজ্জাক-এর বর্ণনায় দাউদ ইবনে কায়েস থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে এবং তিনি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: «উমর (রা.) রমজানে উবাই এবং তামিমে-এর ইমামতিতে মানুষকে একুশ রাকাতের ওপর সমবেত করেছিলেন»
(3); কিন্তু এই আসার (أثر) টি অসংরক্ষিত (غير محفوظ)। সুপ্রতিষ্ঠিত (الثابتة) বর্ণনা হলো যা ইমাম মালেক, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে এবং তিনি সায়েব থেকে বর্ণনা করেছেন যে: «তিনি তাদের এগারো রাকাতের ওপর সমবেত করেছিলেন»। আর হাদিস বিশারদগণ দাউদ ইবনে কায়েস-এর ওপর মালেককে প্রাধান্য দেন, এমনকি তাঁরা স্মৃতিশক্তির (الحفظ) বিচারে মালেকের চেয়ে নিম্নস্তরের বর্ণনাকারীদেরও দাউদ ইবনে কায়েস-এর ওপর প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
সারকথা: উমর থেকে অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) তথ্য হলো তিনি উবাই ও তামিমে-এর ইমামতিতে মানুষকে এগারো রাকাতের ওপর সমবেত করেছিলেন। তবে নবী (সা.) এবং উমর থেকে যা পূর্বে সাব্যস্ত হয়েছে, তার অর্থ এই নয় যে এগারো রাকাতের বেশি বৃদ্ধি করা জায়েজ নয়।
কেননা কিয়ামের (রাত্রিকালীন সালাত) কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারিত নয়, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (الإجماع) দ্বারা প্রমাণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فأما الكتاب:
فقوله تعالى: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} [المزَّمل:20]، أي: من غير تحديد بوقت، وعبَّر عن الصلاة بالقراءة، كما في قوله: {وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ} [الإسراء:110]، أي: بقراءتك
(1).
وقوله تعالى: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ} [المزَّمل:20]، أي: فصلوا ما تيسر لكم من صلاة الليل
(2).
وأما السُّنَّة:
فعن سعد بن هشام بن عامر، قال: «قُلْتُ: يَا أُمَّ المؤْمِنِينَ أَنْبِئِينِي عَنْ وِتْرِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: كُنَّا نُعِدُّ لَهُ سِوَاكَهُ وَطَهُورَهُ، فَيَبْعَثُهُ اللهُ مَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَهُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيَتَسَوَّكُ، وَيَتَوَضَّأُ، وَيُصَلِّي تِسْعَ رَكَعَاتٍ لَا يَجْلِسُ فِيهَا إِلَّا فِي الثَّامِنَةِ، فَيَذْكُرُ اللهَ وَيَحْمَدُهُ وَيَدْعُوهُ، ثُمَّ يَنْهَضُ وَلَا يُسَلِّمُ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي التَّاسِعَةَ، ثُمَّ يَقْعُدُ فَيَذْكُرُ اللهَ وَيَحْمَدُهُ وَيَدْعُوهُ، ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمًا يُسْمِعُنَا، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ وَهُوَ قَاعِدٌ، فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَيَّ، فَلَمَّا أَسَنَّ نَبِيُّ الله صلى الله عليه وسلم، وَأَخَذَهُ اللَّحْمُ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ، وَصَنَعَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَنِيعِهِ الْأَوَّلِ، فَتِلْكَ تِسْعٌ يَا بُنَيَّ، وَكَانَ نَبِيُّ الله صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى صَلَاةً أَحَبَّ أَنْ يُدَاوِمَ عَلَيْهَا»
(3).
--------------------------------------------
আর পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ হলো:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা কুরআনের যতটুকু সহজ হয় তা পাঠ করো} [আল-মুযাম্মিল: ২০], অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ ছাড়াই। আর এখানে 'সালাত' বা নামাজকে 'কিরাআত' বা পাঠ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {তোমার সালাতে স্বর উচ্চ করো না} [আল-ইসরা: ১১০], অর্থাৎ তোমার কিরাআতে বা তিলাওয়াতে
(১)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা তা থেকে যতটুকু সহজসাধ্য হয় পাঠ করো} [আল-মুযাম্মিল: ২০], অর্থাৎ রাতের সালাত হতে তোমাদের জন্য যতটুকু সহজ হয়, তা আদায় করো
(২)।
আর সুন্নাহ (سنة) থেকে প্রমাণ হলো:
সা'দ ইবনে হিশাম ইবনে আমির হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি বললাম: হে মুমিন জননী! আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিতর সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: আমরা তাঁর জন্য মেসওয়াক এবং ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর রাতের বেলা আল্লাহ যখন তাঁকে জাগ্রত করার ইচ্ছা করতেন, তখন তাঁকে জাগ্রত করতেন। এরপর তিনি মেসওয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং নয় রাকাত সালাত আদায় করতেন; এর মধ্যে অষ্টম রাকাত ব্যতীত তিনি বসতেন না। অতঃপর তিনি আল্লাহর যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেন। তারপর তিনি সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে যেতেন এবং নবম রাকাত সালাত আদায় করতেন। এরপর তিনি পুনরায় বসে আল্লাহর যিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর নিকট দুআ করতেন। অতঃপর তিনি আমাদের শুনিয়ে সালাম ফিরাতেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি বসে থাকা অবস্থায় আরও দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! এই হলো মোট এগারো রাকাত। অতঃপর যখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং তাঁর শারীরিক ভার বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি সাত রাকাত বিতর পড়তেন এবং পরবর্তী দুই রাকাতের ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় আমল করতেন। হে বৎস! এই হলো নয় রাকাত। আর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সালাত আদায় করতেন, তখন তা নিয়মিত পালন করা পছন্দ করতেন»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وعن ابن عباس رضي الله عنها، قال: «كَانَتْ صَلَاةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً؛ يَعْنِي بِاللَّيْلِ»
(1).
وعن عائشة رضي الله عنها، قالت: «كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسٍ، لَا يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ إِلَّا فِي آخِرِهَا»
(2).
وأما الإجماع:
فقال ابن عبد البر رحمه الله: «أجمع العلماء على أنه لا حَدَّ ولا شيءَ مقدرٌ في صلاة الليل
… فمَنْ شاء أطال فيها القيام وقَلَّتْ رَكَعاتُه، ومن شاء أكثرَ الركوعَ والسجودَ»
(3).
وقال أيضًا: «لا خلاف بين المسلمين أن صلاة الليل ليس فيها حَدٌّ محدود، وأنها نافلة وفعل خير وعمل بر؛ فمن شاء استقل، ومن شاء استكثر»
(4).
وقال ابن الملقن رحمه الله: «ولا خلاف أنه ليس في ذلك حد لا يزاد عليه ولا ينقص منه، وأن صلاة الليل من الطاعات التي كلما زيدت زاد الأجر، وإنما الخلاف في فعله عليه الصلاة والسلام وما اختاره لنفسه»
(5).
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত ছিল তেরো রাকাত; অর্থাৎ রাতের বেলা»
(1).
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন, এর মধ্যে তিনি পাঁচ রাকাত বিতর পড়তেন এবং শেষ রাকাত ছাড়া অন্য কোনো রাকাতে বসতেন না»
(2).
আর ইজমার (الإجماع) ক্ষেত্রে:
ইবনে আব্দুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «উলামাগণ ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, রাতের সালাতের কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা নির্ধারিত পরিমাণ নেই … সুতরাং যার ইচ্ছা সে দীর্ঘ কিয়াম করবে এবং রাকাত সংখ্যা কমিয়ে দেবে, আর যার ইচ্ছা সে রুকু ও সিজদার সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে»
(3).
তিনি আরও বলেন: «মুসলিমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, রাতের সালাতের কোনো নির্ধারিত সীমা নেই এবং এটি একটি নফল (نافلة) ইবাদত, পুণ্যময় কাজ ও সৎ আমল; সুতরাং যার ইচ্ছা সে কম করবে, আর যার ইচ্ছা সে বেশি করবে»
(4).
ইবনুল মুলাক্কিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, এতে এমন কোনো সীমা নেই যা বাড়ানো যাবে না বা কমানো যাবে না। আর রাতের সালাত এমন এক আনুগত্যের কাজ যা যত বাড়ানো হবে সওয়াবও তত বৃদ্ধি পাবে। মূলত মতভেদ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল এবং তিনি নিজের জন্য যা পছন্দ করেছিলেন সেই বিষয়ে»
(5).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في معرض حديثه عن عدد الركعات في صلاة التراويح -: «والصواب أن ذلك جميعه حسن
… فيكون تكثيرُ الركعات وتقليلها بحسَب طول القيام وقصره»
(1).
وقال أيضًا: «قيام رمضان لم يوقت النبي صلى الله عليه وسلم فيه عددًا معينًا
… وكان طائفة من السلف يقومون بأربعين ركعة، ويوترون بثلاث، وآخرون قاموا بست وثلاثين، وأوتروا بثلاث، وهذا كله سائغ فكيفما قام في رمضان من هذه الوجوه فقد أحسن.
والأفضل يختلف باختلاف أحوال المصلين، فإن كان فيهم احتمال لطول القيام؛ فالقيام بعشر ركعات وثلاث بعدها، كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي لنفسه في رمضان وغيره، هو الأفضل، وإن كانوا لا يحتملونه؛ فالقيام بعشرين هو الأفضل، وهو الذي يعمل به أكثر المسلمين، فإنه وسط بين العشر، وبين الأربعين.
وإن قام بأربعين وغيرها جاز ذلك، ولا يكره شيء من ذلك، وقد نص على ذلك غير واحد من الأئمة كأحمد وغيره، ومن ظن أن قيام رمضان فيه عدد موقت عن النبي صلى الله عليه وسلم لا يزاد فيه ولا ينقص منه فقد أخطأ، فإذا كانت هذه السعة في نفس عدد القيام فكيف الظن بزيادة القيام لأجل دعاء القنوت أو تركه؟ كل ذلك سائغ حسن، وقد ينشط
--------------------------------------------
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন: «সঠিক মত হলো এর সবই উত্তম (حسن)
… সুতরাং দীর্ঘ কিয়াম ও সংক্ষিপ্ত কিয়ামের ওপর ভিত্তি করে রাকাত সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো হবে»
(১).
তিনি আরও বলেন: «রমজানের কিয়ামের (সালাতুত তারাবিহ) ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে দেননি
… সালাফদের একটি দল চল্লিশ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন; আবার অন্য একটি দল ছত্রিশ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। এসবের প্রতিটিই বৈধ; সুতরাং রমজানে যেভাবেই এই পদ্ধতিগুলোর কোনো একটি অনুযায়ী নামাজ আদায় করুক না কেন, সে উত্তম কাজই করেছে।
আর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে মুসল্লিদের অবস্থার ভিন্নতার ওপর। যদি তাদের দীর্ঘ কিয়াম সহ্য করার সক্ষমতা থাকে, তবে দশ রাকাত এবং এরপর তিন রাকাত (বিতর) পড়া—যেভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানে ও রমজানের বাইরে নিজের জন্য নামাজ পড়তেন—তা-ই শ্রেষ্ঠ। আর যদি তারা তা সহ্য করতে না পারে, তবে বিশ রাকাত পড়া শ্রেষ্ঠ; অধিকাংশ মুসলিম এটিই অনুসরণ করেন। কেননা এটি দশ এবং চল্লিশের মাঝামাঝি একটি সংখ্যা।
আর কেউ যদি চল্লিশ রাকাত বা অন্য কোনো সংখ্যায় নামাজ পড়ে, তবে তা জায়েজ এবং এর কোনোটিই অপছন্দনীয় নয়। ইমাম আহমাদসহ একাধিক ইমাম স্পষ্টভাবে এ কথা উল্লেখ করেছেন। আর যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, রমজানের কিয়ামের ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বর্ণিত হয়েছে যার চেয়ে বাড়ানো বা কমানো যাবে না, সে ভুল করেছে। সুতরাং রাকাত সংখ্যার মধ্যেই যখন এই প্রশস্ততা রয়েছে, তখন কুনুতের দোয়ার কারণে কিয়াম দীর্ঘ করা বা তা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কী ধারণা করা যেতে পারে? এর সবই বৈধ ও উত্তম (حسن), এবং এটি উৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الرجل فيكون الأفضل في حقه تطويل العبادة، وقد لا ينشط فيكون الأفضل في حقه تخفيفها.
وكانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم معتدلة؛ إذا أطال القيام أطال الركوع والسجود، وإذا خفف القيام خفف الركوع والسجود، هكذا كان يفعل في المكتوبات، وقيام الليل، وصلاة الكسوف، وغير ذلك»
(1).
ومن كلام شيخ الإسلام نصل إلى هذه الخلاصة:
أن القيام لا يُحدُّ بعدد الركعات وإنما يُحدُّ بالزمن، كما بيَّن ذلك العلامةُ الشيخ ابن جبرين رحمه الله وقال: «ومن كلام شيخ الإسلام وغيره من الآثار يُعلم أن قيام الليل يُحدد بالزمان لا بعدد الركعات، وأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي إحدى عشرة ركعة في نحو خمس ساعات، وأحيانًا يصلي الليل كله»
(2).
--------------------------------------------
একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইবাদত দীর্ঘ করা উত্তম হতে পারে, আবার কখনও তিনি উদ্যমী না-ও হতে পারেন, সেক্ষেত্রে তার জন্য ইবাদত সংক্ষেপ করা উত্তম হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত ছিল ভারসাম্যপূর্ণ; যখন তিনি কিয়াম দীর্ঘ করতেন, তখন রুকু ও সিজদাও দীর্ঘ করতেন। আবার যখন কিয়াম সংক্ষেপ করতেন, তখন রুকু ও সিজদাও সংক্ষেপ করতেন। তিনি ফরজ নামাজসমূহ, কিয়ামুল লাইল, কুসুফ (সূর্যগ্রহণ)-এর সালাত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে এভাবেই করতেন»
(১)।
শাইখুল ইসলামের বক্তব্য থেকে আমরা এই সারসংক্ষেপে উপনীত হই:
কিয়াম (দাঁড়ানো) রাকাতের সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত নয়, বরং এটি সময়ের ব্যাপ্তি দ্বারা নির্ধারিত। যেমনটি আল্লামা শাইখ ইবনে জিবরীন (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «শাইখুল ইসলামের বক্তব্য এবং অন্যান্য বর্ণনা (آثار) থেকে জানা যায় যে, কিয়ামুল লাইল সময়ের দ্বারা নির্ধারিত হয়, রাকাতের সংখ্যা দ্বারা নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং কখনও কখনও পুরো রাত সালাত আদায় করতেন»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المطلب الثاني:صفة ركعات صلاة التراويحأكمل القيام ما وافق فيه المصلي السُّنَّة كمية وكيفية:
أما الكمية: فيراد بها العدد وهي إحدى عشرة ركعة كما سبق معنا فيما رواه البخاري ومسلم من طريق مالك، عن المقبري، عن أبي سلمة، عن عائشة رضي الله عنها.
وأما الكيفية: فإنه صلى الله عليه وسلم، كان يصلي مثنى مثنى، ويطيل القيام والركوع والسجود، فقد قام صلى الله عليه وسلم في ركعةٍ بسورة البقرة والنساء وآل عمران كما ثبت في صحيح مسلم عن حذيفة
(1)، وعند ابن حبان، عن عائشة رضي الله عنها: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْكُثُ فِي سُجُودِهِ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً»
(2).
وقد اتَّفق الفقهاء على أنَّ المشروع في صلاة الليل مثنى مثنى، ولكنهم اختلفوا في حكم ذلك هل هو على الوجوب، أم الاستحباب؟
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:তারাবিহ সালাতের রাকাতসমূহের ধরনসালাতে কিয়ামের পূর্ণতা অর্জিত হয় তাতে মুসল্লির সংখ্যা ও পদ্ধতির দিক থেকে সুন্নাহর (السنة) অনুসরণের মাধ্যমে:
সংখ্যার ক্ষেত্রে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাকাত সংখ্যা, আর তা হলো এগারো রাকাত; যেমনটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে আমাদের সামনে অতিক্রান্ত হয়েছে, যা ইমাম মালিক থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর পদ্ধতির বিষয়টি হলো, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতেন এবং কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করতেন। সহিহ মুসলিমে হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাকাতেই সূরা আল-বাকারাহ, আন-নিসা এবং আলে ইমরান তিলাওয়াত করেছিলেন
(১)। আর সহিহ ইবনে হিব্বানে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সিজদায় ততক্ষণ অবস্থান করতেন যতক্ষণ তোমাদের কেউ পঞ্চাশটি আয়াত পাঠ করতে পারে"
(২)।
ফকিহগণ (الفقهاء) এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, রাতের সালাতের বিধিবদ্ধ পদ্ধতি হলো দুই দুই রাকাত করে আদায় করা। তবে এর বিধানের ক্ষেত্রে তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, এটি কি ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার পর্যায়ভুক্ত নাকি মুস্তাহাব (الاستحباب) হওয়ার পর্যায়ভুক্ত?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فذهب مالك
(1)، والشافعي
(2)، وأحمد
(3)، إلى أن المشروع في صلاة الليل السلامُ من كل ركعتين؛ لما ثبت في الصحيحين من طريق مالك، عن نافع، وعبد الله بن دينار، عن ابن عمر رضي الله عنه أن رجلًا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن صلاة الليل، فقال: «صَلاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُم الصُّبْحَ، صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى»
(4). ومعنى (مَثْنَى مَثْنَى) أي ركعتين ركعتين.
وأكثر أهل العلم على أنَّ هذا على سبيل الوجوب، وجاء عن أحمد فيمن قام في التراويح إلى الثالثة: «يرجع وإن قرأ ولا بد»
(5). وفي رواية أخرى مشهورة عن الإمام أحمد: «أن القيام في هذه الحالة مكروه»
(6).
وذهب آخرون إلى جواز صلاة أربع ركعات بتسليم واحد، وهذا هو رأي أبي حنيفة، ورواية عن الإمام أحمد
(7)، قال أبو حنيفة: إن شئت ركعتين، وإن شئت أربعًا، وإن شئت ستًّا وثمانيًا لا تسلمُ إلا في آخرهن
(8).
--------------------------------------------
ইমাম মালিক
(১), শাফিয়ি
(২) এবং আহমাদ
(৩) এই মত পোষণ করেছেন যে, রাতের সালাতে বিধিবদ্ধ পদ্ধতি হলো প্রতি দুই রাকাআত অন্তর সালাম ফিরানো; যেহেতু মালিক-এর সূত্রে নাফে ও আবদুল্লাহ বিন দিনার থেকে, আর তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যা সহিহাইন-এ প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, এক ব্যক্তি নবী (সা.)-কে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: «রাতের সালাত দুই রাকাআত দুই রাকাআত করে, এরপর তোমাদের কেউ যদি সুবহে সাদিকের আশঙ্কা করে, তবে সে এক রাকাআত পড়বে, যা তার ইতিপূর্বে পড়া সালাতকে বিতর (বিজোড়) করে দিবে»
(৪)। আর 'মাছনা মাছনা' (مَثْنَى مَثْنَى)-এর অর্থ হলো দুই রাকাআত দুই রাকাআত।
অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেন যে, এটি ওয়াজিব হিসেবে গণ্য। ইমাম আহমাদ থেকে এমন ব্যক্তির ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে তারাবিহর সালাতে (ভুলবশত) তৃতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়: «সে অবশ্যই ফিরে আসবে, যদিও সে কিরাত পড়ে ফেলে»
(৫)। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অপর একটি প্রসিদ্ধ (مشهورة) বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে: «এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে যাওয়া মাকরূহ»
(৬)।
অন্যান্যগণ এক সালামে চার রাকাআত সালাত আদায় করা বৈধ হওয়ার দিকে মত দিয়েছেন; এটি আবু হানিফার অভিমত এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)
(৭)। আবু হানিফা বলেন: তুমি চাইলে দুই রাকাআত, চাইলে চার রাকাআত, আর চাইলে ছয় বা আট রাকাআত পড়বে এবং কেবলমাত্র তাদের শেষ রাকাআতেই সালাম ফিরাবে
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وعلى رأي أبي حنيفة يُخير الإمام بين ذلك، لكن الأفضل في مذهبه صلاة أربع بتسليم واحد؛ لما ثبت في الصحيحين من طريق أبي سلمة ابن عبد الرحمن، عن عائشة أنها قالت لأبي سلمة حين سألها عن صلاة النبي صلى الله عليه وسلم: «يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاثًا»
(1).
وهذا الحديث ظاهره الجواز، لكنه ليس صريحًا فيه.
وحديث ابن عمر: «صَلاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى»، ليس صريحًا في وجوب التسليم من كل ركعتين، فيُحْمَل على الاستحباب، وأنه ينبغي أن يكون هو الهديَ الغالبَ، ولكن من نسي فقام إلى الثالثة فله أن يجعلهن أربعًا ولا يلزمه الرجوع على رأي أبي حنيفة وأحمد في رواية، وهذا فيه توسعة على الناس، لا سيما أن حديث عائشة: «يُصَلِّي أَرْبَعًا
… » يحتمل ذلك، وظاهره أنه يصلي أربعًا بتسليم واحد، يفعل ذلك أحيانًا، وإن كان هديه الغالب صلى الله عليه وسلم أنه يسلم من اثنتين كما يدل عليه حديث ابن عمر رضي الله عنه.
--------------------------------------------
এবং ইমাম আবু হানিফার মতানুসারে ইমামকে এ বিষয়ে ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ দেওয়া হবে, তবে তাঁর মাজহাবে এক সালামে চার রাকাত নামাজ পড়াই উত্তম; যেহেতু সহীহাইন-এ আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমানের সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, যখন তাঁকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি আবু সালামাকে বলেছিলেন: «তিনি চার রাকাত পড়তেন, সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে প্রশ্ন করো না; এরপর তিনি চার রাকাত পড়তেন, সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে প্রশ্ন করো না; এরপর তিনি তিন রাকাত পড়তেন»
(১).
এই হাদিসটির বাহ্যিক দিক (ظاهر) বৈধতা (الجواز) নির্দেশ করে, তবে এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট (صريح) নয়।
আর ইবনে ওমরের হাদিস: «রাতের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে», এটি প্রতি দুই রাকাত অন্তর সালাম ফেরানো ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (صريح) নয়। ফলে একে মুস্তাহাব (الاستحباب) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং এটিই হওয়া উচিত প্রধান আদর্শ। কিন্তু যদি কেউ ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তবে আবু হানিফা এবং আহমদের এক বর্ণনা অনুযায়ী সে চার রাকাত পূর্ণ করতে পারবে এবং তার ফিরে আসা আবশ্যক নয়। এতে মানুষের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে, বিশেষ করে আয়েশা (রা.)-এর হাদিস: «তিনি চার রাকাত পড়তেন...» এটি সেই সম্ভাবনা রাখে। আর এর বাহ্যিক দিক (ظاهر) নির্দেশ করে যে, তিনি মাঝে মাঝে এক সালামে চার রাকাত পড়তেন; যদিও তাঁর প্রধান আদর্শ ছিল যে, তিনি দুই রাকাত পর সালাম ফেরাতেন, যেমনটি ইবনে ওমরের (রা.) হাদিস দ্বারা নির্দেশিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المطلب الثالث:ما يقال بين تسليمات التراويحلم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولا عن أحد من السلف الصالح، تخصيصُ ما بين تسليمات التراويح بذكر معيَّن، ولكن إذا ذَكَر الإمام أو المأموم بين تسليمات التراويح شيئًا من ذكر الله تعالى، أو الصلاة على رسوله؛ استنادًا على عموم الأدلة في الذكر المطلق، دون تخصيص ذلك المحل بذكر معين أو هيئة محددة، فلا بأس بذلك.
وقد سُئل ابن حجر الهيتمي رحمه الله: هل تسن الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم بين تسليمات التراويح أو هي بدعة ينهى عنها؟
فأجاب، بقوله: «الصلاة في هذا المحل بخصوصه لم نَرَ فيها شيئًا في السنة، ولا في كلام أصحابنا، فهي بدعة يُنهَى عنها مَنْ يأتي بها بقصد كونها سنة في هذا المحل بخصوصه دون من يأتي بها لا بهذا القصد، كأن يقصد أنها في كل وقت سنة من حيث العموم، بل جاء في أحاديث ما يؤيد الخصوص إلا أنه غير كاف في الدلالة لذلك»
(1).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:তারাবিহর সালামগুলোর মাঝে যা বলা হয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিংবা কোনো পুণ্যবান পূর্বসূরি (سلف صالح) থেকে তারাবিহর সালামগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জিকর সাব্যস্ত (ثابت) হয়নি। তবে ইমাম বা মুক্তাদি যদি তারাবিহর সালামগুলোর মাঝে আল্লাহ তায়ালার কোনো জিকর করেন কিংবা তাঁর রাসূলের ওপর দরুদ পাঠ করেন; কোনো নির্দিষ্ট জিকর বা নির্দিষ্ট পদ্ধতি সাব্যস্ত না করে বরং সাধারণ জিকরের দলিলের ব্যাপকতার ওপর ভিত্তি করে, তবে তাতে কোনো দোষ নেই।
ইবনে হাজার আল-হাইতামি রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: তারাবিহর সালামগুলোর মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা কি সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গণ্য হবে, নাকি এটি একটি বর্জনীয় বিদআত (بدعة)?
উত্তরে তিনি বলেন: «বিশেষভাবে এই স্থানে দরুদ পাঠ করার ব্যাপারে আমরা সুন্নাহ (سنة) কিংবা আমাদের (শাফেয়ি মাজহাবের) ফকিহগণের বক্তব্যে কিছু পাইনি। সুতরাং এটি এমন একটি বিদআত (بدعة) যা থেকে সেই ব্যক্তিকে নিষেধ করা হবে, যে একে এই নির্দিষ্ট স্থানে পালনের জন্য সুন্নাহ (سنة) মনে করে। কিন্তু যে ব্যক্তি এই উদ্দেশ্য ছাড়া দরুদ পাঠ করে, যেমন সে মনে করে এটি সাধারণভাবে সব সময়ের জন্যই সুন্নাহ (سنة), তার জন্য এটি নিষিদ্ধ নয়। বরং কিছু হাদিস এমন এসেছে যা এর বিশেষত্বকে সমর্থন করে, তবে সেগুলো এর স্বপক্ষে দালিলিক নির্দেশক (دلالة) হিসেবে যথেষ্ট নয়»
(1).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال ابن الحاج المالكي رحمه الله: «وينبغي له أن يتجنب ما أحدثوه من الذكر بعد كل تسليمتين من صلاة التراويح، ومن رفع أصواتهم بذلك والمشي على صوت واحد، فإن ذلك كله من البدع
… والحدث في الدين ممنوع وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم ثم الخلفاء بعده ثم الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، ولم يُذْكَر عن أحد من السلف فعل ذلك فيسعنا ما وسعهم»
(1).
والمقصود أنَّه «لا أصل لذلك - فيما نعلم - من الشرع المطهر، بل هو من البدع المحدثة، فالواجب تركه، ولن يُصلِح آخرَ هذه الأمة إلا ما أَصلح أولَها، وهو اتباع الكتاب والسنة، وما سار عليه سلف الأمة، والحذر مما خالف ذلك»
(2).
وجاء في فتاوى اللجنة الدائمة: «الأذكار أو الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم جماعة عقب الصلاة - فريضة أو نافلة أو بين ركعات التراويح - بدعة محدثة»
(3).
--------------------------------------------
ইবনুল হাজ আল-মালিকী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তার উচিত তারাবিহর সালাতের প্রতি দুই সালামের পর মানুষ যে সকল জিকির নতুনভাবে উদ্ভাবন করেছে এবং উচ্চস্বরে জিকির করা ও সমস্বরে আওয়াজ তোলা থেকে বিরত থাকা; কেননা এই সবই বিদআত (بدعة)
… আর দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটানো নিষিদ্ধ। সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ, অতঃপর তাঁর পরবর্তী খলিফাগণ, অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর আদর্শ। সালাফদের (পূর্বসূরিদের) কারোর থেকেই এরূপ আমল করার কথা বর্ণিত হয়নি, সুতরাং তাদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল আমাদের জন্যও তা যথেষ্ট»
(১).
উদ্দেশ্য হলো যে, «আমাদের জানামতে পবিত্র শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই; বরং এটি নবউদ্ভাবিত বিদআত (بدعة محدثة)-এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তা বর্জন করা আবশ্যক। এই উম্মতের পরবর্তী অংশকে কেবল তা-ই সংশোধন করবে যা এর প্রথম অংশকে সংশোধন করেছিল; আর তা হলো কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ, উম্মতের সালাফগণ যে পথের ওপর চলেছেন তার অনুসরণ এবং এর পরিপন্থী বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকা»
(২).
ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ-তে এসেছে: «সালাতের পর—তা ফরজ হোক, নফল হোক অথবা তারাবিহর রাকাতসমূহের মধ্যবর্তী সময়ে হোক—সম্মিলিতভাবে জিকির করা বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা একটি নবউদ্ভাবিত বিদআত (بدعة محدثة)»
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাবারীহ ফী সালাতিত তারাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المطلب الرابع:القراءة في صلاة التراويحفي هذا المطلب عدد من المسائل المتعلقة بالقراءة في صلاة التراويح، وهي:
-
المسألة الأولى: مَنْ أفضل القراء؟
المقصود بالسؤال هل الأفضل المُجَوِّد لحروف القرآن؟
أم صاحب الصوت الندي؟
أم المتقن للقرآن حفظًا وحرفًا؟
بالتأكيد ليس هؤلاء جميعًا أفضلَ القراء، وإنما أفضلُ القراء ما جاء بيانه على لسان النبي صلى الله عليه وسلم كما في حديث ابن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عندما سئل عن أحسن الناس قراءة: «مَنْ إِذَا سَمِعْتَهُ يَقْرَأُ، رَأَيْتَ أَنَّهُ يَخْشَى اللهَ»
(1).
--------------------------------------------
চতুর্থ অনুচ্ছেদ:তারাবিহ নামাজে তিলাওয়াতএই অনুচ্ছেদে তারাবিহ নামাজে তিলাওয়াত সংক্রান্ত বেশ কিছু মাসয়ালা বা বিষয় রয়েছে, সেগুলো হলো:
-
প্রথম মাসয়ালা: তিলাওয়াতকারীদের মধ্যে কে সর্বশ্রেষ্ঠ?এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য হলো, যিনি কুরআনের হরফসমূহ তাজবিদসহ তিলাওয়াত করেন তিনি কি শ্রেষ্ঠ?
নাকি সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তি?
নাকি যিনি হিফজ ও হরফসমূহের আদায়ের ক্ষেত্রে কুরআনে অত্যন্ত পারদর্শী?
নিশ্চয়ই তাঁরা সবাই শ্রেষ্ঠ ক্বারী নন, বরং শ্রেষ্ঠ ক্বারী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যাঁর বিবরণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র জবান থেকে বর্ণিত হয়েছে; যেমনটি ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যখন মানুষের মধ্যে তিলাওয়াতের দিক থেকে কে সবচেয়ে উত্তম সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: «যাঁর তিলাওয়াত শুনলে তোমার মনে হয় যে সে আল্লাহকে ভয় করছে»
(1).
--------------------------------------------