(খণ্ড: ১)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: -)
منار السبيل في شرح الدليل القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: منار السبيل في شرح الدليل
المؤلف: ابن ضويان، إبراهيم بن محمد بن سالم (ت 1353 هـ)
المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]
الناشر: المكتب الإسلامي
الطبعة: السابعة 1409 هـ-1989 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মানারুস সাবীল ফি শারহিদ দালীল বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ
গ্রন্থ: মানারুস সাবীল ফি শারহিদ দালীল
লেখক: ইবনু দাউইয়ান, ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন সালিম (মৃত ১৩৫৩ হিজরী)
সম্পাদক: যুহাইর আশ-শাভিশ [মৃত ১৪৩৪ হিজরী]
প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী
সংস্করণ: সপ্তম, ১৪০৯ হিজরী - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٣)
المجلد الأول
مقدمة…مقدمة المؤلف
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، الذي شرح صدر من شاء من عباده للفقه في الدين، ووفق لاتباع آثار السلف الصالحين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولا ند ولا معين، وأشهد أن سيدنا ونبينا محمداً عبده ورسوله الأمين، وخاتم الأنبياء والمرسلين، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد فهذا شرح على كتاب: "دليل الطالب لنيل المطالب" الذي ألفه
الشيخ مرعي بن يوسف المقدسي الحنبلي
تغمده الله برحمته، وأباحه بحبوحة جنته، ذكرت فيه ما حضرني من الدليل والتعليل، ليكون وافياً بالغرض من غير تطويل، وزدت في بعض الأبواب مسائل يحتاح إليها النبيل، وربما ذكرت رواية ثانية أو وجهاً ثانياً لقوة الدليل، نقلته من كتاب الكافي لموفق الدين عبد الله بن اًحمد بن محمد بن قدامة المقدسي ثم الدمشقي.
প্রথম খণ্ড
ভূমিকা…লেখকের ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা করেছেন দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জনের নিমিত্তে তার বক্ষ উন্মোচন করে দিয়েছেন, এবং নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ আস-সালেহীন) পদাঙ্ক অনুসরণের তাওফিক দান করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই এবং সাহায্যকারীও কেউ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল, এবং নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, এটি হলো "দালীলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব" নামক কিতাবটির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা রচনা করেছেন
শায়খ মারঈ বিন ইউসুফ আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী
আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন এবং তাঁকে তাঁর জান্নাতের সুপ্রশস্ত উদ্যানে বসবাসের অনুমতি দান করুন। এতে আমি আমার স্মরণে আসা দলীল ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ উল্লেখ করেছি, যাতে দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই এটি উদ্দীষ্ট উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট হয়। আমি কিছু অধ্যায়ে এমন কিছু মাসআলা বৃদ্ধি করেছি যা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। আর দলীলের শক্তিমত্তার কারণে আমি কখনও কখনও দ্বিতীয় কোনো বর্ণনা (রিওয়াত) বা দ্বিতীয় কোনো অভিমত (ওয়াজহ) উল্লেখ করেছি, যা আমি মুয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসী অতঃপর আদ-দিমাশকী রচিত "আল-কাফি" কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٤)
من شرح المقنع الكبير لشمس الدين عبد الرحمن بن أبي عمر بن قدامة وغالب نقلي من مختصره، ومن فروع ابن مفلح وقواعد ابن رجب وغيرها من الكتب.
وقد أفرغت في جمعه طاقتي وجهدي، وبذلت فيه فكري وقصدي، ولم يكن في ظني أن اًتعرض لذلك، لعلمي بالعجز عن الخوض في تلك المسالك، فما كان فيه من صواب فمن الله، أو خطأ فمني، وأسأله سبحانه العفو عني، ولما تكففته من أبواب العلماء وتطفلت به على موائد الفقهاء تمثلت بقول بعض الفضلاء:
أسير خلف ركاب النجب ذا عرج
… مؤملاً كشف ما لا قيت من عوج
فإن لحقت بهم من بعد ما سبقوا
… فكم لرب الورى في ذاك من فرج
وإن بقيت بظهر الأرض منقطعاً
… فما على عرج في ذاك من حرج
وإنما علقته لنفسي، ولمن فهمه قاصر كفهمي، عسى أن يكون تذكرة في الحياة، وذخيرة بعد الممات، وسميته "منار السبيل في شرح الدليل" أسأل الله العظيم أن يجعله لوجهه خالصاً، وإليه مقرباً، وأن يغفر لي ويرحمني والمسلمين، إنه غفور رحيم.
শামস উদ্দিন আব্দুর রহমান বিন আবি উমর বিন কুদামার 'শরহুল মুকনি আল-কাবির' থেকে এবং আমার উদ্ধৃতির অধিকাংশ এর সংক্ষিপ্তসার থেকে, এবং ইবনে মুফলিহের 'ফুরু', ইবনে রজবের 'কাওয়াইদ' ও অন্যান্য কিতাব হতে সংগৃহীত।
এটি সংকলনে আমি আমার সর্বাত্মক শক্তি ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং এতে আমার চিন্তা ও সংকল্প নিয়োগ করেছি। আমার ভাবনায়ও ছিল না যে আমি এ কাজে প্রবৃত্ত হব, কারণ এই পথে চলার ক্ষেত্রে নিজের অক্ষমতা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল তা আমার পক্ষ থেকে; এবং আমি তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যেহেতু আমি উলামাদের দ্বারে দ্বারে হাত পেতেছি এবং ফকীহদের দস্তরখানে অনাহূত মেহমান হয়েছি, তাই আমি জনৈক গুণী ব্যক্তির উক্তিটি তুলে ধরছি:
আমি খোঁড়া হয়েও শ্রেষ্ঠ আরোহীদের কাফেলার পিছনে চলছি
… এই আশায় যে আমি যে বক্রতার সম্মুখীন হয়েছি তা দূর হবে
তারা এগিয়ে যাওয়ার পর যদি আমি তাদের নাগাল পাই
… তবে তাতে সৃষ্টিজগতের রবের পক্ষ থেকে কতই না প্রশস্ততা রয়েছে
আর আমি যদি পৃথিবীর বুকে একা বিচ্ছিন্ন পড়ে থাকি
… তবে খোঁড়া ব্যক্তির জন্য তাতে কোনো দোষ নেই
আমি এটি কেবল নিজের জন্য এবং যাদের বোধশক্তি আমার মতো সামান্য তাদের জন্য সংকলন করেছি; যেন তা জীবনে স্মারক এবং মৃত্যুর পর পাথেয় হয়। আমি এর নাম রেখেছি "মানারুস সাবীল ফি শারহিদ দালীল"। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানান; আর যেন আমাকে ক্ষমা করেন, আমার প্রতি দয়া করেন এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة صاحب المتن مع شرحها
بسم الله الرحمن الرحيم
"الحمد لله رب العالمين" ابتدأ كتابه بالبسملة ثم بالحمدلة اقتداء بكتاب الله عز وجل، وعملاً بحديث "كل أمر ذي بال، لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر"، أي ذاهب البركة، رواه الخطيب والحافظ عبد القادر الرهاوي، وبحديث "كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أقطع" وفي رواية: "بحمد الله". وفي رواية: "بالحمد". وفي رواية "فهو أجذم". رواها الحافظ الرهاوى في الأربعين له.
"وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له مالك يوم الدين" قال ابن عباس ومقاتل: قاضي يوم الحساب، وقال قتادة: الدين الجزاء. وإنما خص يوم الدين بالذكر مع كونه مالكاً للأيام كلها، لأن الأملاك يومئذ زائلة فلا ملك ولا أمر الا له.
"وأشهد أن محمداً عبده ورسوله المبين لأحكام شرائع الدين" بأقواله وأفعاله وتقريراته، والدين هنا الإسلام، قال تعالى {وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} [المائدة: 3] وقال صلى الله عليه وسلم في حديث عمر: "هذا جبريل أتاكم يعلمكم أمر دينكم".
"الفائز بمنتهى الإرادات من ربه" كالحوض المورود، والمقام المحمود،
মূল গ্রন্থকারের ভূমিকা এবং তার ব্যাখ্যা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
"সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য।" তিনি তাঁর কিতাব বিসমিল্লাহ এবং এরপর হামদ দিয়ে শুরু করেছেন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার কিতাবের অনুসরণ করে এবং এই হাদীসের ওপর আমল করার লক্ষ্যে যে, "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা", অর্থাৎ বরকতহীন। এটি বর্ণনা করেছেন খতীব এবং হাফেজ আব্দুল কাদির আর-রুহাবী। এছাড়া অন্য হাদীসে রয়েছে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছিন্ন।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে"। অন্য বর্ণনায়: "প্রশংসার মাধ্যমে"। আর অন্য বর্ণনায়: "তা অঙ্গহীন"। এগুলো হাফেজ আর-রুহাবী তাঁর আরবাঈন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
"এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি বিচার দিবসের মালিক।" ইবনে আব্বাস ও মুকাতিল বলেন: হিসাব দিবসের বিচারক। কাতাদাহ বলেন: দ্বীন অর্থ প্রতিদান। আর সব দিনের মালিক হওয়া সত্ত্বেও বিশেষভাবে বিচার দিবসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ সেদিন সমস্ত রাজত্ব বিলীন হয়ে যাবে, ফলে সেদিন তিনি ব্যতীত আর কারো মালিকানা বা নির্দেশ থাকবে না।
"এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা এবং তাঁর রাসূল, যিনি তাঁর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতির মাধ্যমে দ্বীনের শরীয়তের বিধানসমূহ স্পষ্টকারী।" এখানে দ্বীন অর্থ ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছি" [মায়েদাহ: ৩]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমরের বর্ণিত হাদীসে বলেছেন: "ইনি জিবরীল, তোমাদের কাছে তোমাদের দ্বীনের বিষয় শিক্ষা দিতে এসেছেন।"
"যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের চূড়ান্ত পর্যায় লাভকারী", যেমন আগমনের নির্ধারিত স্থান হাউজে কাওসার এবং মাকামে মাহমুদ।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٦)
وغير ذلك من خصائصه. قال تعالى: {وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَكَ مِنَ الْأُولَى، وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى1} ، والفوز والنجاة والظفر بالخير، قاله في القاموس.
"فمن تمسك بشريعته" بفعل المأمورات، واجتناب المنهيات.
"فهو من الفائزين" في الدنيا والآخرة.
"صلى الله وسلم عليه وعلى جميع الأنبياء والمرسلين" حكى البخاري في صحيحه عن أبي العالية الصلاة من الله تعالى ثناؤه على عبده في الملأ الأعلى وقيل الرحمة، وقيل رحمة مقرونة بتعظيم. وتستحب الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً2} ولقوله صلى الله عليه وسلم: "أكثروا علي من الصلاة" وتتأكد في ليلة الجمعة ويومها، وعند ذكره، وقيل تجب لقوله صلى الله عليه وسلم: "البخيل من ذكرت عنده فلم يصل علي" وحديث: "رغم أنف رجل ذكرت عنده فلم يصل علي" وهي ركن في التشهد الأخير وخطبتي الجمعة كما يأتي - والنبي إنسان أوحي إليه بشرع ولم يؤمر بتبليغه، فإن أمر بتبليغه فهو رسول.
"وعلى آل كل وصحبه أجمعين" وآل النبي أتباعه على دينه الصحيح عندنا، وقيل أقاربه المؤمنون، والصحب اسم جمع لصاحب بمعنى الصحابي، وهو من اجتمع بالنبي صلى الله عليه وسلم مؤمناً ومات على ذلك. وجمع بين الآل والصحب رداً على الشيعة المبتدعة، حيث يوالون الآل دون الصحب.
--------------------------------------------
এবং এটি তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই পরকাল আপনার জন্য ইহকাল অপেক্ষা উত্তম। আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। ১}, আর কামিয়াবি বা সফলতা মানে হলো মুক্তি এবং কল্যাণ লাভ করা, যা আল-কামুস গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
“অতঃপর যে ব্যক্তি তাঁর শরিয়তকে আঁকড়ে ধরবে” আদেশসমূহ পালন করার এবং নিষেধসমূহ বর্জন করার মাধ্যমে।
“সে হবে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত” দুনিয়া ও আখিরাতে।
“আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি এবং সকল নবী ও রাসুলের প্রতি”। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো উচ্চ পরিষদে তাঁর বান্দার প্রশংসা করা। আর কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ রহমত, আবার কেউ বলেছেন এর অর্থ সম্মানের সাথে মিশ্রিত রহমত। মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর প্রতি সালাত পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। ২} এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “তোমরা আমার ওপর অধিক হারে সালাত পাঠ করো”—এর কারণে তাঁর ওপর সালাত পাঠ করা মুস্তাহাব। আর জুমার রাত ও দিনে এবং তাঁর নাম উচ্চারণের সময় এটি গুরুত্বের সাথে পাঠ করতে হয়। কেউ কেউ এটি ওয়াজিব বলেছেন, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সেই ব্যক্তিই কৃপণ, যার সামনে আমার আলোচনা করা হলো অথচ সে আমার ওপর সালাত পাঠ করল না।” এবং অন্য হাদিসে এসেছে: “সেই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক যার সামনে আমার আলোচনা করা হলো অথচ সে আমার ওপর সালাত পাঠ করল না।” আর সালাত হলো শেষ তাশাহহুদ ও জুমার দুই খুতবায় একটি রুকন, যা সামনে আলোচিত হবে। আর নবী হলেন এমন একজন মানুষ যাঁর প্রতি শরিয়তের ওহি অবতীর্ণ হয়েছে কিন্তু তা প্রচারের আদেশ দেওয়া হয়নি; আর যদি প্রচারের আদেশ দেওয়া হয়, তবে তিনি রাসুল।
“এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর”। আমাদের নিকট নবীর পরিবার বা ‘আল’ বলতে তাঁর সঠিক দ্বীনের অনুসারীগণ বুঝায়। আর কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ তাঁর মুমিন নিকটাত্মীয়গণ। ‘সাহাব’ শব্দটি ‘সাহাবি’ অর্থে ‘সহিব’-এর সমষ্টিবাচক নাম। সাহাবি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। আর পরিবার (আল) ও সাহাবীদের কথা একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বিদয়াতি শিয়াদের খণ্ডনস্বরূপ, যেহেতু তারা সাহাবীদের বাদ দিয়ে কেবল নবীর পরিবারকে ভক্তি করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٧)
"وبعد" يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى آخر استحباباً، في الخطب والمكاتبات، لفعله عليه السلام.
"فهذا مختصر" وهو ما قل لفظه وكثر معناه، قال علي رضي الله عنه: خير الكلام ما قل ودل ولم يطل فيمل.
"في الفقه" وهو لغةً الفهم، واصطلاحاً معرفة الأحكام الشرعية الفرعية بالاستدلال بالفعل أو بالقوة القريبة.
"على المذهب الأحمد مذهب الإمام أحمد" بن محمد بن حنبل الشيباني رضي الله عنه وأرضاه، ولد ببغداد في ربيع الأول سنة أربع وستين ومائة، ومات بها في ربيع الآخر سنة إحدى وأربعين ومائتين، وفضائله ومناقبه شهيرة.
"بالغت في إيضاحه رجاء الغفران" من الله جل وعلا.
"وبينت فيه الأحكام أحسن بيان" والأحكام خمسة: الوجوب، والحرمة، والندب، والكراهة، والإباحة.
"لم أذكر فيه إلا ما جزم بصحته أهل التصحيح والعرفان وعليه الفتوى فيما بين أهل الترجيح والإتقان" من المتأخرين.
"وسميته بدليل الطالب لنيل المطالب والله أسأل أن ينفع به من اشتغل به من المسلمين"
"وأن يرحمني والمسلمين إنه أرحم الراحمين" آمين.
"অতঃপর" শব্দটি এক প্রসঙ্গের আলোচনা থেকে অন্য প্রসঙ্গের আলোচনায় যাওয়ার জন্য ভাষণ ও চিঠিপত্রে মুস্তাহাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেহেতু নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করতেন।
"এটি একটি সংক্ষিপ্তসার" আর তা এমন সংকলন যার শব্দ সংখ্যা অল্প কিন্তু অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: সর্বোত্তম কথা তা-ই যা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ এবং যা দীর্ঘ হওয়ার কারণে বিরক্তির উদ্রেক করে না।
"ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়ে" ফিকহ-এর আভিধানিক অর্থ হলো কোনো কিছু অনুধাবন করা, আর পারিভাষিক অর্থে এর সংজ্ঞা হলো—দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে শরীআতের শাখাগত বিধানাবলি বাস্তবে অথবা নিকটবর্তী যোগ্যতার মাধ্যমে অনুধাবন করা।
"ইমাম আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হানবাল আশ-শাইবানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব অনুযায়ী"—তিনি ১৬৪ হিজরী সনের রবীউল আউয়াল মাসে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪১ হিজরী সনের রবীউল আখির মাসে সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর মর্যাদা ও গুণাবলি সুবিখ্যাত।
"মহামহিম আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার আশায় আমি এটি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি।"
"এবং আমি এতে বিধানাবলি অতি উত্তমরূপে বর্ণনা করেছি।" আর বিধানসমূহ পাঁচটি: ওয়াজিব, হারাম, মানদুব, মাকরুহ এবং মুবাহ।
"পরবর্তী যুগের নির্ভরযোগ্য এবং বিজ্ঞ আলিমগণ যে বিষয়গুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে যা অগ্রগণ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত বলে বিবেচিত, আমি এখানে কেবল সেগুলোই উল্লেখ করেছি।"
"আমি এই কিতাবটির নাম দিয়েছি 'দালিলুত তালিব লি নাইলিল মাতালিব' (উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে জ্ঞানান্বেষীর পথপ্রদর্শক)। আল্লাহর কাছে আমি প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত মুসলিমদের উপকৃত করেন।"
"এবং তিনি যেন আমার ও সকল মুসলিমের ওপর দয়া করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু।" আমীন।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٨)
كتاب الطهارة
مدخلمدخل
…كتاب الطهارة
[وهي رفع الحدث] أي زوال الوصف القائم بالبدن، المانع من الصلاة ونحوها.
[وزوال الخبث] أي النجاسة، أو زوال حكمها بالاستجمار أو التيمم [وأقسام الماء ثلاثة، أحدها طهور وهو الباقي على خلقته] التي خلق عليها سواء نبع من نبع من الأرض، أو نزل من السماء، على أي لون كان.
[يرفع الحدث ويزيل الخبث] لقوله تعالى: {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} [الأنفال: 11] وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "اللهم طهرني بالماء والثلج والبرد" متفق عليه، وقوله في البحر "هو الطهور ماؤه الحل ميتته" رواه الخمسة، وصححه الترمذي.
وهو أربعة أنواع:
1 -[ماء يحرم استعماله ولا يرفع الحدث ويزيل الخبث وهو ما ليس مباحاً] كمغصوب ونحوه، لقوله صلى الله عليه وسلم، في خطبته يوم النحر بمنى "إن دماءكم وأموالكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا" رواه مسلم من حديث جابر.
2-[وماء يرفع حدث الأنثى لا الرجل البالغ والخنثى، وهو ما خلت به المرأة المكلفة لطهارة كاملة عن حدث] لحديث الحكم بن عمرو الغفاري
পবিত্রতা বিষয়ক অধ্যায়ভূমিকাভূমিকা
…পবিত্রতা বিষয়ক অধ্যায়
[তা হলো অপবিত্রতা দূর করা] অর্থাৎ শরীরের সাথে লেগে থাকা সেই গুণের অবসান ঘটা, যা সালাত ও তদ্রূপ ইবাদত পালনে বাধা প্রদান করে।
[এবং নাপাকি দূর করা] অর্থাৎ অপবিত্র বস্তু দূর করা, অথবা ইস্তিজমার মাধ্যমে বা তায়াম্মুমের মাধ্যমে এর বিধান দূর করা। [আর পানির প্রকারভেদ তিনটি, তার একটি হলো পবিত্রকারী পানি এবং তা হলো সেই পানি যা তার নিজস্ব সৃষ্টিগত অবস্থার ওপর বহাল রয়েছে] যার ওপর তা সৃষ্টি করা হয়েছে, চাই তা ভূমি থেকে নির্গত হোক কিংবা আকাশ থেকে বর্ষিত হোক, যে কোনো রঙেরই হোক না কেন।
[তা অপবিত্রতা দূর করে এবং নাপাকি বিদূরিত করে] মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদেরকে পবিত্র করতে পারেন} [আনফাল: ১১] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "হে আল্লাহ! আমাকে পানি, বরফ ও শিলা দ্বারা পবিত্র করুন" (মুত্তাফাকুন আলাইহি), এবং সমুদ্র সম্পর্কে তাঁর বাণী: "এর পানি পবিত্রকারী এবং এর মৃত প্রাণী হালাল" (পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন)।
এটি চার প্রকার:
১ -[এমন পানি যার ব্যবহার হারাম এবং তা অপবিত্রতা দূর করে না তবে নাপাকি বিদূরিত করে, আর তা হলো যা বৈধ নয়] যেমন জবরদখলকৃত পানি এবং অনুরূপ, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির দিনে মিনায় প্রদত্ত খুতবায় বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের সম্পদ তোমাদের ওপর হারাম, যেমনটি হারাম তোমাদের আজকের এই দিনটি, তোমাদের এই মাসটি এবং তোমাদের এই শহরটি" (জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন)।
২-[এবং এমন পানি যা নারীর অপবিত্রতা দূর করে কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও হিজড়ার নয়; আর তা হলো সেই পানি যা কোনো মুকাল্লাফ নারী অপবিত্রতা থেকে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে ব্যবহার করেছে] হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারী বর্ণিত হাদীসের কারণে।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٩)
رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم "نهى أن يتوضأ الرجل بفضل طهور المرأة" رواه الخمسة. وقال أحمد: جماعة كرهوه. وخصصناه بالخلوة، لقول عبد الله بن سرجس: توضأ أنت ها هنا وهي ها هنا، فأما إذا خلت به، فلا تقربنه.
3 -[وماء يكره استعماله مع عدم الاحتياج إليه وهو ماء بئر بمقبرة] قال في الفروع في الأطعمة: وكره أحمد ماء بئر بين القبور، وشوكها وبقلها. قال ابن عقيل: كما سمد بنجس والجلالة، انتهى.
[وماء اشتد حره أو برده] لأنه يؤذي ويمنع كمال الطهارة.
[أو سخن بنجاسة أو بمغصوب] لأنه لا يسلم غالباً من صعود أجزاء لطيفة إليه، وفي الحديث "دع ما يريبك إلى ما لا يريبك" رواه النسائي والترمذي وصححه.
[أو استعمل في طهارة لم تجب] لتجديد وغسل جمعة.
[أو في غسل كافر] خروجاً من خلاف من قال: يسلبه الطهورية.
[أو تغير بملح مائي] كالملح البحري لأنه منعقد من الماء.
[أو بما لا يمازجه، كتغيره بالعود القماري، وقطع الكافور والدهن] على اختلاف أنواعه لأنه تغير عن مجاوره لأنه لا يمازج الماء وكراهته خروجاً من الخلاف، قال في الشرح: وفي معناه ما تغير بالقطران والزفت والشمع لأن فيه دهنية يتغير بها الماء.
[ولا يكره ماء زمزم إلا في إزالة الخبث] تعظيماً له ولا يكره الوضوء والغسل منه، لحديث أسامة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم "دعا بسجل من ماء زمزم فشرب منه وتوضأ" رواه أحمد عن علي،
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "পুরুষের জন্য নারীর পবিত্রতা অর্জনের পর অবশিষ্ট পানি দ্বারা ওজু করতে নিষেধ করেছেন।" এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেছেন: একদল আলেম একে অপছন্দনীয় বা মাকরুহ বলেছেন। আমরা একে নির্জনে ব্যবহারের সাথে নির্দিষ্ট করেছি, আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস-এর উক্তির কারণে: "তুমি এখানে ওজু করো এবং সেও এখানে ওজু করবে, কিন্তু যখন সে পানি নিয়ে নির্জনে চলে যাবে, তখন তুমি তার নিকটবর্তী হয়ো না।"
৩ -[এবং এমন পানি যা প্রয়োজন না থাকলে ব্যবহার করা মাকরুহ, আর তা হলো কবরস্থানের কূপের পানি।] 'আল-ফুরু' গ্রন্থের খাদ্য অধ্যায়ে বলা হয়েছে: ইমাম আহমাদ কবরের মাঝে অবস্থিত কূপের পানি, সেখানকার কাঁটা এবং শাকসবজি অপছন্দ করেছেন। ইবনুল আকিল বলেছেন: এর হুকুম তেমন যেমন অপবিত্র বস্তু দ্বারা সার দেওয়া গাছ এবং জালালাহ (নাপাক ভক্ষণকারী প্রাণী)। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
[এবং এমন পানি যা অত্যন্ত গরম বা অত্যন্ত ঠান্ডা।] কারণ তা কষ্টদায়ক এবং পবিত্রতার পূর্ণতা অর্জনে বাধা দেয়।
[অথবা যা অপবিত্র বস্তু দ্বারা বা জবরদখলকৃত বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা হয়েছে।] কারণ সাধারণত উত্তপ্ত করার সময় তা থেকে সূক্ষ্ম অপবিত্র অংশ পানিতে মেশা থেকে নিরাপদ থাকে না। হাদিসে এসেছে, "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা ত্যাগ করে এমন কিছু গ্রহণ করো যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না।" এটি নাসায়ি ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন।
[অথবা যা এমন পবিত্রতার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে যা আবশ্যক ছিল না।] যেমন ওজু নবায়ন বা জুমার গোসলের ক্ষেত্রে।
[অথবা কাফিরের গোসলের ক্ষেত্রে।] যাতে সেই মতভেদ থেকে মুক্ত থাকা যায় যারা বলেন যে: এটি পবিত্রতা প্রদানের ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
[অথবা যা জলীয় লবণের কারণে পরিবর্তিত হয়েছে।] যেমন সামুদ্রিক লবণ, কারণ এটি পানি থেকেই জমাট বাঁধে।
[অথবা এমন কিছুর মাধ্যমে যা পানির সাথে মিশে যায় না, যেমন কুমারি উদ (সুগন্ধি কাঠ), কপূরের টুকরো এবং তেল দ্বারা পরিবর্তিত হওয়া।] তেলের প্রকারভেদে ভিন্নতা থাকলেও হুকুম একই; কারণ তা পানির সান্নিধ্যের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যেহেতু তা পানির সাথে মিশে যায় না। আর এটি মাকরুহ হওয়া হলো মতভেদ থেকে বাঁচার জন্য। 'আশ-শারহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আলকাতরা, পিচ এবং মোম দ্বারা যা পরিবর্তিত হয় তাও একই অর্থের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এগুলোতে তৈলাক্ততা রয়েছে যার মাধ্যমে পানি পরিবর্তিত হয়।
[এবং জমজমের পানি মাকরুহ নয়, তবে নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে মাকরুহ] জমজমের পানির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য। তবে তা দিয়ে ওজু ও গোসল করা মাকরুহ নয়, উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের কারণে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "এক বালতি জমজমের পানি চাইলেন, অতঃপর তা থেকে পান করলেন এবং ওজু করলেন।" ইমাম আহমাদ এটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وعنه يكره الغسل لقول العباس "لا أحلها لمغتسل". وخص الشيخ تقي الدين الكراهة بغسل الجنابة.
[وماء لا يكره إستعماله كماء البحر] لما تقدم.
[والآبار والعيون والأنهار] لحديث أبي سعيد قال: قيل يا رسول الله أنتوضأ من بئر بضاعة - وهي بئر يلقى فيها الحيض ولحوم الكلاب والنتن - فقال صلى الله عليه وسلم: "الماء طهور لا ينجسه شئ". رواه أحمد وأبو داود والترمذي. وحديث "أرأيتم لو أن نهراً بباب أحدكم يغتسل منه كل يوم خمس مرات هل يبقى من درنه شئ؟..".
[والحمام] لأن الصحابة دخلوا الحمام ورخصوا فيه، ومن نقل عنه الكراهة علل بخوف مشاهدة العورة أو قصد التنعم به، ذكره في المبدع. وروى الدارقطني بإسناد صحيح عن عمر أنه كان يسخن له ماء في قمقم فيغتسل به. وروى ابن أبي شيبة عن ابن عمر أنه كان يغتسل بالحميم.
[ولا يكره المسخن بالشمس] وقال الشافعي: تكره الطهارة بما قصد تشميسه لحديث "لا تفعلي فإنه يورث البرص" رواه الدارقطني وقال: يرويه خالد بن إسماعيل، وهو متروك، وعمرو الأعسم، وهو منكر الحديث، ولأنه لو كره لأجل الضرر لما اختلف بقصد تشميسه وعدمه.
[والمتغير بطول المكث] وهو الآجن قال ابن المنذر: أجمع كل من نحفظ عنه أن الوضوء بالماء الآجن جائز سوى ابن سيرين. وكذلك ما تغير في آنية الأدم والنحاس، لأن الصحابة كانوا يسافرون
তাঁর থেকে একটি বর্ণনা মতে গোসল করা মাকরূহ, ইবনে আব্বাসের এই উক্তির কারণে যে, "আমি গোসলকারীর জন্য একে বৈধ করছি না।" আর শায়খ তাকীউদ্দীন এই মাকরূহ হওয়াকে কেবল জানাবাতের গোসলের সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন।
[এবং এমন পানি যা ব্যবহার করা মাকরূহ নয়, যেমন সমুদ্রের পানি] ইতিপূর্বে আলোচিত দলিলের কারণে।
[এবং কূপ, ঝর্ণা ও নদ-নদীর পানি] আবু সাঈদের হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি বুযাআহ কূপ থেকে অযু করব? অথচ এটি এমন এক কূপ যেখানে ঋতুস্রাবের ন্যাকড়া, কুকুরের গোশত ও দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু নিক্ষিপ্ত হয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "পানি হলো পবিত্রকারী, কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না।" এটি আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। আর এই হাদিস: "তোমরা কি মনে করো, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নদী থাকে এবং সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে কি তার দেহে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে?..."
[এবং গোসলখানা (হাম্মাম)] কারণ সাহাবায়ে কেরাম গোসলখানায় প্রবেশ করেছেন এবং সে ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন। আর যাঁদের থেকে মাকরূহ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা একে সতর উন্মুক্ত হওয়ার ভয় অথবা নিছক বিলাসিতার উদ্দেশ্য দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন, যা 'আল-মুবদি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দারা কুতনী সহীহ সনদে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর জন্য 'কুমকুম' নামক সংকীর্ণ মুখের পাত্রে পানি গরম করা হতো এবং তিনি তা দিয়ে গোসল করতেন। ইবনে আবি শায়বা ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি গরম পানি দিয়ে গোসল করতেন।
[রৌদ্রে উত্তপ্ত পানি ব্যবহার মাকরূহ নয়] ইমাম শাফেয়ী বলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে রোদে গরম করা পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা মাকরূহ; এই হাদিসের কারণে- "তুমি এমন করো না, কারণ এটি শ্বেতী রোগ সৃষ্টি করে।" এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি খালিদ ইবনে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক), এবং আমর আল-আসাম, যিনি মুনকারুল হাদিস। এছাড়া, যদি ক্ষতির আশঙ্কায় এটি মাকরূহ হতো, তবে তা রৌদ্রে উত্তপ্ত করার ইচ্ছা করা বা না করার মধ্যে কোনো পার্থক্য হতো না।
[দীর্ঘকাল জমে থাকার কারণে পরিবর্তিত পানি] একে 'আ-জিন' পানি বলা হয়। ইবনে মুনযির বলেন: আমরা যাঁদের জ্ঞান সংরক্ষণ করেছি, তাঁদের সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আ-জিন পানি দিয়ে অযু করা জায়েয, কেবল ইবনে সিরীন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। অনুরূপভাবে চামড়া ও পিতলের পাত্রে পরিবর্তিত পানিও জায়েয, কারণ সাহাবীগণ সফর করতেন
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١١)
وغالب أسقيتهم الأدم وهي تغير أوصاف الماء عادة، ولم يكونوا يتيممون معها، قاله في الشرح.
[أو بالريح من نحو ميتة] قال في الشرح: لا نعلم في ذلك خلافاً.
[أو بما يشق صون الماء عنه كطحلب، وورق شجر ما لم يوضعا] وكذلك ما تغير بممره على كبريت وقار وغيرهما، وورق شجر على السواقي والبرك، وما تلقيه الريح والسيول في الماء، من الحشيش والتبن ونحوهما، لأنه لا يمكن صون الماء عنه، قاله في الكافي.
[الثاني طاهر يجوز استعماله في غير رفع الحدث وزوال الخبث، وهو ما تغير كثير من لونه أو طعمه أو ريحه، بشئ طاهر] غير اسمه حتى صار صبغاً، أو خلاً، أو طبخ فيه فصار مرقاً، فيسلبه الطهورية، قال في الكافي: بغير خلاف لأنه أزال عنه اسم الماء فأشبه الخل.
[فإن زال تغيره بنفسه: عاد إلى طهوريته، ومن الطاهر ما كان قليلاً واستعمل في رفع حدث] لأن النبي صلى الله عليه وسلم "صب عليه جابر من وضوئه" رواه البخاري. وفي حديث صلح الحديبية: "وإذا توضأ كادوا يقتتلون على وضوئه" ويعفى عن يسيره. وهو ظاهر حال النبي، صلى الله عليه وسلم وأصحابه، لأنهم يتوضؤن من الأقداح.
[أو انغمست فيه كل يد المسلم المكلف، النائم ليلاً نوماً ينقض الوضوء قبل غسلها ثلاثاً بنية وتسمية وذلك واجب] لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا استيقظ أحدكم من نومه فليغسل يديه، قبل أن يدخلهما في الإناء ثلاثاً، فإن أحدكم لا يدري أين باتت يده" رواه مسلم. ويفتقر
তাদের অধিকাংশ পানির পাত্র ছিল চামড়ার, যা সাধারণত পানির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে দেয়। তা সত্ত্বেও তারা তা থাকা অবস্থায় তায়াম্মুম করতেন না। এটি 'শারহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে।
[অথবা মৃতদেহের মতো কিছুর গন্ধের মাধ্যমে] 'শারহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ নেই।
[অথবা এমন কিছুর মাধ্যমে যা থেকে পানি রক্ষা করা কঠিন, যেমন শেওলা এবং গাছের পাতা, যতক্ষণ না তা (পানিতে) রাখা হয়] একইভাবে গন্ধক, আলকাতরা বা অন্য কিছুর উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে যা পরিবর্তিত হয়, এবং ড্রেন বা পুকুরে গাছের পাতা, এবং বাতাস ও প্লাবন যা ঘাস, খড় ও এই জাতীয় যা কিছু পানিতে ফেলে দেয়; কারণ তা থেকে পানিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এটি 'কাফি' গ্রন্থে বলা হয়েছে।
[দ্বিতীয় প্রকার হলো পবিত্র পানি, যা অপবিত্রতা দূরীকরণ এবং নাপাকি দূর করা ব্যতীত অন্য কাজে ব্যবহার করা জায়েজ। আর তা হলো এমন পানি যার রঙ, স্বাদ বা গন্ধের অনেকাংশ কোনো পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে গেছে] যা এর নাম পরিবর্তন করে ফেলেছে, এমনকি তা রঙে বা সিরকায় পরিণত হয়েছে, অথবা তাতে কিছু রান্না করার ফলে তা ঝোলে পরিণত হয়েছে; ফলে তা তার পবিত্র করার ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। 'কাফি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এতে কোনো মতভেদ নেই, কারণ এটি তার 'পানি' নামটিকে মিটিয়ে দিয়েছে, ফলে তা সিরকার সদৃশ হয়ে গেছে।
[যদি সেই পরিবর্তন নিজে থেকেই দূর হয়ে যায়, তবে তা পুনরায় পবিত্র করার যোগ্যতায় ফিরে আসবে। আর পবিত্র পানির অন্তর্ভুক্ত হলো সেই পানি যা পরিমাণে অল্প ছিল এবং অপবিত্রতা দূর করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে] কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অজুর অবশিষ্ট পানি জাবির (রা.) তাঁর ওপর ঢেলে দিয়েছিলেন। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির হাদিসে রয়েছে: "যখন তিনি অজু করতেন, তারা তাঁর অজুর পানির জন্য প্রায় যুদ্ধে লিপ্ত হতো।" আর এর সামান্য অংশ ক্ষমাযোগ্য। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের বাহ্যিক অবস্থা থেকে সুস্পষ্ট, কারণ তাঁরা ছোট পাত্র থেকে অজু করতেন।
[অথবা যদি তাতে এমন কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের পুরো হাত ডুবে যায়, যে রাতে এমন ঘুমে ঘুমিয়েছিল যা অজু ভঙ্গ করে, তার হাতটি তিনবার ধোয়ার আগে এবং নিয়ত ও তাসমিয়াহ পাঠ করার আগে—আর এটি ওয়াজিব] নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগবে, তখন সে যেন পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে তিনবার তার হাত ধুয়ে নেয়। কারণ তোমাদের কেউ জানে না রাতে তার হাত কোথায় ছিল।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর এটি মুখাপেক্ষী...
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
للنيًة لحديث عمر "إنما الأعمال بالنيات" وللتسمية قياساً على الوضوء قاله: أبو الخطاب.
[الثالث نجس يحرم استعماله إلا للضرورة، ولا يرفع الحدث، ولا يزيل الخبث، وهو ما وقعت فيه نجاسة وهو قليل] لحديث ابن عمر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه سلم وهو يسأل عن الماء يكون في الفلاة من الأرض، وما ينو به من السباع والدواب فقال: "إذا كان الماء قلتين لم يحمل الخبث" رواه الخمسة وفي لفظ ابن ماجه وأحمد لم ينجسه شئ يدل على أن ما لم يبلغهما ينجس. وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إذا ولغ الكلب في إناء أحدكم فليغسله سبع مرات" متفق عليه يدل على نجاسة من غير تغير، ولأن الماء اليسير يمكن حفظه في الأوعية، فلم يعف عنه. قاله في الكافي. وحمل حديث بئر بضاعة على الكثير جمعاً بين الكل. قاله في المنتقى.
[أو كان كثيراً وتغير بها أحد أوصافه] قال في الكافي: بغيرخلاف. وقال في الشرح: حكاه ابن المنذر إجماعاً.
[فإن زال تغيره بنفسه أو بإضافة طهور إليه أو بنزح منه ويبقى بعده كثير طهر] أي عاد إلى طهوريته.
[والكثير قلتان [من قلال هجر] 1 تقريباً، واليسير ما دونهما] وإنما خصت القلتان بقلال هجر، لوروده في بعض ألفاظ الحديث، ولأنها كانت مشهورة الصفة، معلومة المقدار. قال ابن جريج: رأيت قلال هجر، فرأيت القلة تسع قربتين وشيئاً، والاحتياط أن يجعل الشئ نصفاً، فكانت
--------------------------------------------
নিয়ত আবশ্যক হওয়ার সপক্ষে উমরের হাদীস— "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল"— এবং ওযুর সাথে কিয়াস করে বিসমিল্লাহ বলা আবশ্যক। এটি আবু আল-খাত্তাব বলেছেন।
[তৃতীয় প্রকার হলো নাপাক পানি, যার ব্যবহার প্রয়োজন ছাড়া হারাম; এটি হদস (অজু-গোসলের আবশ্যকতা) দূর করে না এবং নাপাকিও অপসারণ করে না। এটি হলো সেই পানি যাতে নাপাকি পতিত হয়েছে অথচ তা পরিমাণে অল্প] ইবনে উমরের হাদীসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনেছি যখন তাঁকে নির্জন প্রান্তরের পানি এবং তাতে হিংস্র পশু ও চতুষ্পদ জন্তুর আগমন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা নাপাকি বহন করে না।" এটি পাঁচজন (মুহাদ্দিস) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাজাহ ও আহমাদ-এর শব্দে রয়েছে— "কোনো কিছুই তাকে নাপাক করে না"— যা প্রমাণ করে যে, পানি এই পরিমাণে না পৌঁছালে তা নাপাক হয়ে যায়। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দেয়, সে যেন তা সাতবার ধৌত করে" (মুত্তাফাকুন আলাইহি), এটি পরিবর্তনের (রঙ, স্বাদ বা গন্ধ) ব্যতিরেকেই নাপাক হওয়ার প্রমাণ দেয়। কারণ অল্প পানি পাত্রে সংরক্ষণ করা সম্ভব, তাই একে ক্ষমা করা হয়নি। এটি 'আল-কাফি' গ্রন্থে বলা হয়েছে। আর 'বি'রে বিদা'আহ' (বিদা'আহ কূপ) এর হাদীসকে অধিক পানির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে সবগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য। এটি 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে বলা হয়েছে।
[অথবা পানি অধিক ছিল এবং নাপাকির কারণে এর কোনো একটি গুণ পরিবর্তিত হয়ে গেল] 'আল-কাফি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কোনো মতভেদ ছাড়াই। এবং 'আশ-শারহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইবনুল মুনযির একে ইজমা (ঐক্যমত) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
[যদি এর পরিবর্তন নিজ থেকেই দূর হয়ে যায়, অথবা তাতে পবিত্র পানি যোগ করার মাধ্যমে, অথবা তা থেকে কিছু পানি সেচে ফেলার পর অবশিষ্ট পানি অধিক থাকে, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে] অর্থাৎ তা পুনরায় পবিত্র করার যোগ্যতায় ফিরে আসবে।
[অধিক পানি হলো প্রায় দুই কুল্লা (হাজার অঞ্চলের মটকা অনুযায়ী)১, আর অল্প হলো এর চেয়ে কম] দুই কুল্লাকে হাজার অঞ্চলের মটকা দিয়ে নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ হাদীসের কিছু শব্দে তা এসেছে এবং সেগুলো বৈশিষ্ট্যে প্রসিদ্ধ ও পরিমাণে জ্ঞাত ছিল। ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি হাজারের মটকাগুলো দেখেছি, আমি দেখেছি একটি মটকা দুই মশক এবং আরও কিছুটা পানি ধারণ করে। সতর্কতা হলো সেই "কিছুটা" অংশকে অর্ধেক ধরা, ফলে তা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
القلتان خمس قرب تقريباً، والقربة مائة رطل بالعراقي، والرطل العراقي تسعون مثقالاً.
[وهما خمسمائة رطل بالعراقي، وثمانون رطلاً وسبعان ونصف سبع بالقدسي، ومساحتهما] [أي القلتان]
[ذراع وربع طولاً وعرضاً وعمقاً. فإذا كان الماء الطهور كثيراً ولم يتغير بالنجاسة فهو طهور، ولو مع بقائها فيه] .
لحديث بئر بضاعة السابق، رواه أحمد وغيره.
[وإن شك في كثرته فهو نجس]
[وإن اشتبه ما تجوز به الطهارة، بما لا تجوز به الطهارة لم يتحر ويتيمم بلا إراقة] لأنه اشتبه المباح بالمحظور، فيما لا تبيحه الضرورة، فلم يجز التحري، كما لو كان النجس بولاً أو كثر عدد النجس، أو اشتبهت أخته بأجنبيات، قاله في الكافي.
[ويلزم من علم بنجاسة شئ إعلام من أراد أن يستعمله] لحديث "الدين النصيحة".
দুই কুল্লা প্রায় পাঁচটি মশক, আর এক মশক ইরাকি হিসেবে একশ রতল এবং এক ইরাকি রতল হলো নব্বই মিসকাল।
[আর তা ইরাকি হিসেবে পাঁচশ রতল এবং কুদসি হিসেবে আশি রতল ও এক সপ্তমাংশের দুই ভাগ ও এক সপ্তমাংশের অর্ধেক, আর এই দুই কুল্লার আয়তন হলো] [অর্থাৎ দুই কুল্লা]
[দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতায় সোয়া এক হাত। সুতরাং যখন পবিত্রকারী পানি অধিক হবে এবং নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হবে না, তখন তা পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তার মধ্যে নাপাকি অবশিষ্ট থাকে।] ।
পূর্বে উল্লিখিত বি’রে বুদাআ-এর হাদিসের কারণে, যা আহমাদ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
[আর যদি এর আধিক্যের ব্যাপারে সন্দেহ হয়, তবে তা নাপাক]
[আর যদি এমন বস্তু যার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন জায়েজ, এমন বস্তুর সাথে সংশয়যুক্ত হয়ে যায় যার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন জায়েজ নয়, তবে সে অনুসন্ধান করবে না এবং পানি না ঢেলে তায়াম্মুম করবে] কেননা বৈধ বস্তুটি নিষিদ্ধ বস্তুর সাথে এমন ক্ষেত্রে সংশয়যুক্ত হয়ে গেছে যেখানে প্রয়োজন একে বৈধ করে না, তাই অনুসন্ধান করা জায়েজ হবে না। যেমনটি হতো যদি নাপাকিটি প্রস্রাব হতো অথবা নাপাকির সংখ্যা অনেক হতো, কিংবা যদি তার বোন পরনারীদের সাথে সংশয়যুক্ত হয়ে যেত—এ কথা ‘আল-কাফি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে।
[আর যে ব্যক্তি কোনো বস্তুর নাপাকি সম্পর্কে জানবে, তার জন্য আবশ্যক যে তা ব্যবহার করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে তা জানিয়ে দেওয়া] ‘দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা’ এই হাদিসের কারণে।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
باب الانية
مدخل…باب الآنية
[يباح اتخاذ كل إناء طاهر واستعماله ولو ثميناً] في قول عامة أهل العلم، قاله في الشرح لأن النبي صلى الله عليه وسلم اغتسل من جفنة وتوضأ من تور من صفر وتور من حجارة، ومن قربةً وإداوة.
[إلا آنية الذهب والفضة والمموه بهما] لما روى حذيفة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تشربوا في آنية الذهب والفضة ولا تأكلوا في صحافها فإنها لهم في الدنيا، ولكم في الآخرة" وقال "الذي يشرب في آنية الذهب والفضة إنما يجرجر في بطنه نار جهنم" متفق عليهما. وما حرم استعماله حرم اتخاذه على هيئة الاستعمال كالطنبور، ويستوي في ذلك الرجال والنساء، لعموم الخبر.
[وتصح الطهارة بهما وبالإناء المغصوب] هذا قول الخرقي. لأن الوضوء جريان الماء على العضو، فليس بمعصية. إنما المعصية استعمال الإناء.
[ويباح إناء ضبب بضبة يسيرة من الفضة لغير زينة] لما روى أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم انكسر فاتخذ مكان الشعب سلسلة من فضة. رواه البخاري.
[وآنية الكفار وثيابهم طاهرة] لأن النبي صلى الله عليه وسلم أضافه يهودي بخبز وإهالة سنخة رواه أحمد وتوضأ من مزادة
পাত্রের অধ্যায়
ভূমিকা...পাত্রের অধ্যায়
[অধিকাংশ আলেমগণের মতে সকল পবিত্র পাত্র সংগ্রহ এবং ব্যবহার করা বৈধ, যদিও তা মূল্যবান হয়], এটি আশ-শারহ্-এ বলা হয়েছে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বড় পাত্র থেকে গোসল করেছেন এবং পিতলের পাত্র, পাথরের পাত্র, মশক ও চামড়ার পাত্র থেকে ওযু করেছেন।
[সোনা ও রূপার পাত্র এবং এ দুটির প্রলেপযুক্ত পাত্র ব্যতীত], কারণ হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এর থালায় আহার করো না। কেননা এগুলো তাদের জন্য দুনিয়াতে এবং তোমাদের জন্য আখিরাতে।" এবং তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সোনা ও রূপার পাত্রে পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুন ঢোকায়।" বুখারী ও মুসলিম হাদিস দুটি বর্ণনা করেছেন। আর যা ব্যবহার করা হারাম, তা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করাও হারাম, যেমন তম্বুরা (এক ধরণের বাদ্যযন্ত্র)। এক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান, কারণ হাদিসের বিধানটি ব্যাপক।
[এ দুটি (সোনা-রূপার) পাত্র এবং জবরদখলকৃত পাত্র দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ] এটি আল-খিরাকীর অভিমত। কারণ ওযু হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর পানি প্রবাহিত করা, যা কোনো পাপ নয়। পাপ হলো কেবল (নিষিদ্ধ) পাত্রটি ব্যবহার করা।
[সাজসজ্জা ব্যতীত অন্য প্রয়োজনে সামান্য রূপার জোড়া লাগানো পাত্র ব্যবহার করা বৈধ] কারণ আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাত্রটি যখন ভেঙে গেল, তখন তিনি ফাটলের স্থানে রূপার একটি শিকল লাগিয়ে নিয়েছিলেন। ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।
[অমুসলিমদের পাত্র ও কাপড় পবিত্র] কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একজন ইহুদি রুটি ও পুরনো চর্বি দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন —ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন— এবং তিনি (মুশরিক মহিলার) মশক থেকে ওযু করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
مشركة وتوضأ عمر رضي الله عنه من جرة نصرانية. ومن يستحل الميتات والنجاسات منهم فما استعملوه من آنيتهم فهو نجس لما روى أبو ثعلبة الخشني قال: قلت يارسول الله إنا بأرض قوم أهل كتاب أفنأكل في آنيتهم قال: "لا تاكلوا فيها إلا أن لا تجدوا غيرها فاغسلوها ثم كلوا فيها" متفق عليه. وما نسجوه، أو صبغوه، أو علا من ثيابهم، فهو طاهر، وما لاقى عوراتهم، فقال أحمد: أحب إلي أن يعيد إذا صلى فيها.
[ولا ينجس شئ بالشك ما لم تعلم نجاسته] لأن الأصل الطهارة.
[وعظم الميتة وقرنها وظفرها وحافرها وعصبها وجلدها نجس. ولا يطهر بالدباغ] في ظاهر المذهب لقوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} 1 والجلد جزء منها. وروى أحمد عن يحيى بن سعيد عن شعبة عن الحكم عن ابن أبي ليلى عن عبد الله بن عكيم قال: قرئ علينا كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في أرض جهينة وأنا غلام شاب أن لا تنتفعوا من الميتة بإهاب ولا عصب قال أحمد: ما أصلح إسناده.
[والشعر والصوف والريش طاهر] لقوله تعالى: {وَمِنْ أَصْوَافِهَا وَأَوْبَارِهَا} 2 والريش مقيس عليه، ونقل الميموني عن أحمد: صوف الميتة لا أعلم أحداً كرهه.
[إذا كان من ميتة طاهرة في الحياة ولو غير مأكولة كالهر والفأر. ويسن تغطية الآنية وإيكاء الأسقية] لحديث جابر أن النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
মুশরিক নারী থেকে এবং উমর (রা.) একজন খ্রিস্টান নারীর কলস থেকে অজু করেছেন। আর তাদের মধ্যে যারা মৃত প্রাণী ও অপবিত্র বস্তু হালাল মনে করে, তাদের ব্যবহৃত পাত্রসমূহ নাপাক; কেননা আবু সা’লাবা আল-খুশানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের জনপদে বাস করি, আমরা কি তাদের পাত্রে খাবার খাব? তিনি বললেন: "তোমরা তাতে খেয়ো না, তবে যদি অন্য কোনো পাত্র না পাও, তবে তা ধৌত করো এবং এরপর তাতে খাও।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। আর তারা যা বুনেছে, বা রঙ করেছে, অথবা তাদের পোশাকের উপরিভাগ—তা পবিত্র। আর যা তাদের লজ্জাস্থানের সংস্পর্শে এসেছে, সে সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন: তারা যদি সেই পোশাকে সালাত আদায় করে তবে তা পুনরায় পড়া আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।
[ততক্ষণ পর্যন্ত সন্দেহের কারণে কোনো কিছু নাপাক হবে না, যতক্ষণ না তার নাপাকি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়] কারণ মূল হলো পবিত্রতা।
[মৃত প্রাণীর হাড়, শিং, নখ, খুর, স্নায়ু এবং চামড়া নাপাক। আর তা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের (দাবাগাত) মাধ্যমেও পবিত্র হয় না] মাযহাবের স্পষ্ট মতানুসারে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য মৃত প্রাণী হারাম করা হয়েছে} ১ এবং চামড়া তারই অংশ। ইমাম আহমাদ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উকাইম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জুহাইনা গোত্রের এলাকায় আমাদের সামনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পত্র পড়ে শোনানো হলো যখন আমি কিশোর যুবক ছিলাম, যে— "তোমরা মৃত প্রাণীর চামড়া এবং স্নায়ু থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না।" ইমাম আহমাদ বলেন: এই সনদটি কতই না উত্তম।
[চুল, পশম এবং পালক পবিত্র] কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদের পশম ও লোম থেকে} ২ আর পালকও এর ওপর কিয়াসযোগ্য। মাইমুনি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন: মৃত প্রাণীর পশমের ক্ষেত্রে আমি কাউকে অপছন্দ করতে জানি না।
[যদি তা এমন মৃত প্রাণীর হয় যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল, যদিও তা ভক্ষণযোগ্য নয় যেমন বিড়াল ও ইঁদুর। আর পাত্র ঢেকে রাখা এবং পানপাত্রের মুখ বেঁধে রাখা সুন্নাত] জাবির (রা.)-এর হাদিসের কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
قال: "أوك سقاءك، واذكر اسم الله وخمر إناءك، واذكر اسم الله، ولو أن تعرض عليه عوداً" متفق عليه.
তিনি বললেন: "তোমার পানির পাত্রের মুখ বেঁধে রাখো এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো, এবং তোমার পাত্র ঢেকে রাখো এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো, যদিও তুমি তার ওপর আড়াআড়িভাবে একটি কাষ্ঠখণ্ড রেখে দাও।" এটি সর্বসম্মত।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
باب الاستنجاء وآداب التخلي
مدخل…باب الاستنجاء وآداب التخلي
[الاستنجاء هو ازالة ما خرج من السبيلين بماء طهور أو حجر طاهر مباح منق] قال في الشرح: والاستجمار بالخشب والخرق وما في معناهما مما ينقي جائز في قول الأكثر، وفي حديث سلمان عند مسلم: نهانا أن نستنجي برجيع أو عظم وتخصيصها بالنهي يدل على أنه أراد الحجارة وما قام مقامها.
[فالإنقاء بالحجر ونحوه أن يبقى أثر لا يزيله إلا الماء] بأن تزول النجاسة وبلتها، فيخرح آخرها نقياً لا أثر به.
[ولا يجزئ أقل من ثلاث مسحات تعم كل مسحة المحل] لقول سلمان نهانا - يعني النبي صلى الله عليه وسلم أن نستنجي باليمين، وأن نستنجي بأقل من ثلاثة أحجار، وأن نستنجي برجيع أو عظم رواه مسلم.
[والإنقاء بالماء عود خشونة المحل كما كان، وظنه كاف] دفعاً للحرج.
[ويسن الاستنجاء بالحجر ونحوه، ثم بالماء] لقول عائشة رضي الله عنها مرن أزواجكن أن يتبعوا الحجارة بالماء من أثر الغائط والبول، فإني أستحييهم، وإن النبي صلى الله عليه وسلم كان يفعله صححه الترمذي.
ইস্তিঞ্জা এবং শৌচাগারের আদব সংক্রান্ত অধ্যায়ভূমিকা...ইস্তিঞ্জা এবং শৌচাগারের আদব সংক্রান্ত অধ্যায়
[ইস্তিঞ্জা হলো পবিত্র পানি অথবা পবিত্র, বৈধ ও পরিষ্কারকারী পাথরের মাধ্যমে দুই রাস্তা (মূত্র ও মলদ্বার) থেকে নির্গত বস্তু দূর করা] ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে: অধিকাংশ আলেমের মতে কাঠ, ন্যাকড়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য পরিষ্কারকারী বস্তু দিয়ে ইস্তিজমার (পাথর বা অনুরূপ বস্তু দিয়ে শৌচকার্য) করা বৈধ। মুসলিম শরীফে বর্ণিত সালমানের হাদিসে রয়েছে: তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন; আর এই দুটি বস্তুকে নিষেদের জন্য নির্দিষ্ট করা প্রমাণ করে যে, তিনি পাথর এবং যা পাথরের স্থলাভিষিক্ত হয় তাকেই উদ্দেশ্য করেছেন।
[পাথর বা সমজাতীয় বস্তুর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের মানদণ্ড হলো এমন সামান্য চিহ্ন অবশিষ্ট থাকা যা পানি ব্যতীত দূর হয় না] অর্থাৎ নাপাকি ও তার আর্দ্রতা দূরীভূত হবে, ফলে শেষ পর্যায়ে স্থানটি এমনভাবে পরিষ্কার হবে যে তাতে কোনো চিহ্ন থাকবে না।
[তিনবারের কম মোছায় যথেষ্ট হবে না, এবং প্রতিটি মোছা যেন সংশ্লিষ্ট স্থানকে পুরোপুরি পরিবেষ্টন করে] কেননা সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিষেধ করেছেন—ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে, তিনটির কম পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে এবং গোবর বা হাড় দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে। এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
[পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের মানদণ্ড হলো সংশ্লিষ্ট স্থানের রুক্ষতা আগের মতো ফিরে আসা, এবং এ ব্যাপারে প্রবল ধারণা হওয়াই যথেষ্ট] যেন কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য তৈরি না হয়।
[সুন্নাত হলো প্রথমে পাথর বা সমজাতীয় বস্তু ব্যবহার করা, অতঃপর পানি ব্যবহার করা] কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: তোমরা তোমাদের স্বামীদের আদেশ করো যেন তারা মল ও মূত্র ত্যাগের পর পাথরের ব্যবহারের সাথে পানি ব্যবহার করে, কারণ আমি তাদের এ কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছি; আর নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করতেন। ইমাম তিরমিজি একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
[فإن عكس كره] نص عليه لأن الحجر بعد الماء يقذر المحل.
[ويجزئ أحدهما] أي الحجر أو الماء لحديث أنس كان النبي صلى الله عليه وسلم يدخل الخلاء فأحمل أنا وغلام نحوي إداوةً من ماء وعنزةً فيستنجي بالماء متفق عليه. وحديث عائشة مرفوعاً "إذا ذهب أحدكم إلى الغائط فليستطب بثلاثة أحجار فإنها تجزئ عنه" رواه أحمد وأبو داود.
[والماء أفضل] لأنه أبلغ في التنظيف ويطهر المحل. وروى أبو داود من حديث أبي هريرة مرفوعاً "نزلت هذه الآية في أهل قباء {فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا} 1 قال: كانوا يستنجون بالماء فنزلت فيهم هذه الآية".
[ويكره استقبال القبلة، واستدبارها في الاستنجاء] تعظيماً لها.
[ويحرم بروث وعظم] لحديث سلمان المتقدم.
[وطعام ولو لبهيمة] لحديث ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تستنجوا بالروث ولا بالعظام فإنه زاد إخوانكم من الجن" رواه مسلم. علل النهي بكونه زاداً للجن، فزادنا وزاد دوابنا أولى لأنه أعظم حرمة.
[فإن فعل لم يجزه بعد ذلك إلا الماء] لأن الاستجمار رخصة، فلا تستباح بالمحرم، كسائر الرخص. قاله في الكافي.
[كما لو تعدى الخارج موضع العادة] فلا يجزئ إلا الماء لأن
--------------------------------------------
[যদি এর বিপরীত করা হয় তবে তা মাকরূহ] এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ পানির পর পাথর ব্যবহার করলে স্থানটি অপবিত্র হয়ে যায়।
[উভয়ের যে কোনো একটি যথেষ্ট হবে] অর্থাৎ পাথর অথবা পানি। আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন আমি এবং আমার সমবয়সী এক কিশোর পানির একটি পাত্র এবং একটি ছোট বর্শা বহন করতাম, এরপর তিনি পানি দ্বারা ইস্তিনজা করতেন। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। এবং আয়েশা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হাদিস: "তোমাদের কেউ যখন মলত্যাগের জন্য যায়, সে যেন তিনটি পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে, কারণ তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।" এটি আহমদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
[এবং পানি উত্তম] কারণ এটি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর এবং স্থানটিকে পবিত্র করে। আবু দাউদ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "এই আয়াতটি কুবা-বাসীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে {তাতে এমন লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে} ১ তিনি বলেন: তারা পানি দিয়ে ইস্তিনজা করত, তাই তাদের ব্যাপারে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে।"
[এবং ইস্তিনজার সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ ফিরিয়ে থাকা মাকরূহ] কিবলার প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে।
[এবং গোবর ও হাড় দ্বারা ইস্তিনজা করা হারাম] পূর্বে উল্লেখিত সালমানের হাদিসের কারণে।
[এবং খাদ্যদ্রব্য দ্বারাও হারাম, যদিও তা চতুষ্পদ জন্তুর খাদ্য হয়] ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা গোবর এবং হাড় দ্বারা ইস্তিনজা করো না, কারণ তা তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এই নিষেধের কারণ জিনদের খাদ্য হওয়া; সুতরাং আমাদের খাদ্য এবং আমাদের পশুদের খাদ্য দিয়ে ইস্তিনজা করা অধিকতর নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে, কারণ এর মর্যাদা অনেক বেশি।
[যদি কেউ তা করে, তবে এরপর পানি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না] কারণ পাথর ব্যবহার করে পবিত্রতা অর্জন করা একটি বিশেষ অনুমতি (রুখসত), আর অন্যান্য অনুমতির মতো হারাম বিষয়ের মাধ্যমে এই অনুমতি বৈধ হয় না। এটি 'আল-কাফি' গ্রন্থে বলা হয়েছে।
[তেমনিভাবে যদি নির্গত নাপাকি স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম করে যায়] তবে পানি ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না, কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الاستجمار في المعتاد رخصة للمشقة في غسله لتكرار النجاسة فيه، بخلاف غيره.
[ويجب الاستنجاء لكل خارج] وهو قول أكثر أهل العلم، قاله في الشرح، لقوله صلى الله عليه وسلم في المذي: "يغسل ذكره ويتوضأ" وقال: "إذا ذهب أحدكم إلى الغائط فليذهب معه بثلاثة أحجار فإنها تجزئ عنه".
[إلا الطاهر] كالمني، وكالريح، لأنها ليست نجسة، ولا تصحبها نجاسة، قاله في الشرح والكافي لحديث: "من استنجى من الريح فليس منا". رواه الطبراني في المعجم الصغير. قال أحمد: ليس في الريح استنجاء في كتاب الله ولا في سنة رسوله.
[والنجس الذي لم يلوث المحل] لأن الاستنجاء إنما شرع لإزالة النجاسة ولا نجاسة هنا.
স্বাভাবিক ক্ষেত্রে ইস্তিঝমার (পাথর বা সমজাতীয় বস্তু দিয়ে পরিষ্কার করা) হলো একটি বিশেষ ছাড় বা সহজতা (রুখসাত), কারণ বারবার নাপাকি হওয়ার দরুন তা ধৌত করা কষ্টকর; অন্য বিষয়ের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম।
[শরীর থেকে নির্গত প্রতিটি বস্তুর জন্য ইস্তিঞ্জা করা ওয়াজিব।] এটি অধিকাংশ আলিম বা জ্ঞানবান ব্যক্তির অভিমত, যা 'আশ-শারহ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এর দলিল হলো মাজির (উত্তেজনা অবস্থায় নির্গত পিচ্ছিল সাদা তরল) ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "সে যেন তার লিঙ্গ ধৌত করে এবং অজু করে।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মলত্যাগের জন্য যায়, সে যেন সাথে তিনটি পাথর নিয়ে যায়, কেননা তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।"
[পবিত্র বস্তু ব্যতিরেকে] যেমন বীর্য এবং বায়ু; কারণ এগুলো নাপাক নয় এবং এগুলোর সাথে কোনো নাপাকিও লেগে থাকে না। 'আশ-শারহ' ও 'আল-কাফী' গ্রন্থে এই মত ব্যক্ত করা হয়েছে। এর স্বপক্ষে হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে ইস্তিঞ্জা করল, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" ইমাম তাবারানি এটি 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন: আল্লাহর কিতাবে বা তাঁর রাসূলের সুন্নাহতে বায়ু নির্গত হওয়ার জন্য ইস্তিঞ্জা করার কোনো বিধান নেই।
[এবং এমন নাপাক বস্তু যা নির্গমস্থলকে কলুষিত বা নোংরা করে না] কারণ ইস্তিঞ্জা কেবল নাপাকি দূর করার জন্যই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, আর এখানে কোনো নাপাকি (লেগে) নেই।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
فصل مايسن لداخل الخلاء[يسن لداخل الخلاء تقديم اليسرى] لأنها لما خبث.
[وقول بسم الله أعوذ بالله من الخبث والخبائث] لحديث علي مرفوعاً "ستر ما بين الجن وعورات بني آدم إذا دخل الخلاء أن يقول: بسم الله " رواه ابن ماجه. وعن أنس كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل الخلاء قال: "اللهمً إني أعوذ بك من الخبث والخبائث" رواه الجماعة.
[وإذا خرج قدم اليمنى] لأنها تقدم إلى الأماكن الطيبة.
[وقال غفرانك الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني] لحديث عائشة كان صلى الله عليه وسلم إذا خرح من الخلاء قال: "غفرانك".
শৌচাগারে প্রবেশকারীর জন্য সুন্নাত কার্যাবলীর পরিচ্ছেদ[শৌচাগারে প্রবেশকারীর জন্য বাম পা আগে বাড়ানো সুন্নাত] কারণ তা অপবিত্রতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য।
[এবং বলবে: আল্লাহর নামে, আমি অপবিত্র নর ও নারী শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি] আলী (রা.) বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে, "জিন এবং বনী আদমের লজ্জাস্থানের মধ্যবর্তী পর্দা হলো যখন তারা শৌচাগারে প্রবেশ করে তখন ‘আল্লাহর নামে’ (বিসমিল্লাহ) বলা।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর ও নারী শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এটি জামায়াত (মুহাদ্দিসগণের দল) বর্ণনা করেছেন।
[এবং যখন বের হবে তখন ডান পা আগে বাড়াবে] কারণ ডান পা পবিত্র ও উত্তম স্থানসমূহের জন্য আগে বাড়াতে হয়।
[এবং বলবে: আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি; সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে আরোগ্য দান করেছেন] আয়েশা (রা.) এর হাদিসের ভিত্তিতে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন: "আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
حسنه الترمذي. وعن أنس: كان صلى الله عليه وسلم إذا خرح من الخلاء يقول: "الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني" رواه ابن ماجه.
[ويكره في حال التخلي استقبال الشمس والقمر] تكريماً لهما.
[ومهب الريح] لئلا ترد البول عليه.
[والكلام] نص عليه لقول ابن عمر مر رجل بالنبي صلى الله عليه وسلم فسلم عليه، وهو يبول، فلم يرد عليه رواه مسلم.
[والكلام والبول في إناء] بلا حاجة نص عليه. فإن كانت لم يكره لحديث أميمة بنت رقية. رواه أبو داود.
[وشق] لأنها مساكن الجن، لحديث قتادة عن عبد الله بن سرجس نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يبال في الجحر قالوا لقتادة: ما يكره من البول في الجحر قال يقال إنها مساكن الجن رواه أحمد، وأبو داود. وروي أن سعد بن عبادة بال في جحر بالشام، ثم استلقى ميتاً.
[ونار] لأنه يورث السقم، وذكر في الرعاية: ورماد.
[ولا يكره البول قائماً] لقول حذيفة انتهى النبي صلى الله عليه وسلم إلى سباطة قوم فبال قائماً رواه الجماعة. وروى الخطابي عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم بال قائماً من جرح كان بمأبضه. قال الترمذي: وقد رخص قوم من أهل العلم في البول قائماً، وحملوا النهي على التأديب، لا على التحريم. قال ابن مسعود: "إن من الجفاء أن تبول وأنت قائم".
[ويحرم استقبال القبلة واستدبارها في الصحراء بلا حائل] لقول
ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
[মলমূত্র ত্যাগের সময় সূর্য ও চন্দ্রের দিকে মুখ করা মাকরূহ] তাদের সম্মানের খাতিরে।
[এবং বায়ু প্রবাহের অভিমুখে বসা] যাতে প্রস্রাব তার নিজের দিকে ফিরে না আসে।
[এবং কথা বলা] এ সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষ্য বর্ণিত হয়েছে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্যের কারণে যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি প্রস্রাব করছিলেন, লোকটি তাঁকে সালাম দিলেন কিন্তু তিনি তাঁর উত্তর দেননি। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
[প্রয়োজন ছাড়া পাত্রে কথা বলা এবং প্রস্রাব করা] এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাষ্য রয়েছে। তবে প্রয়োজন থাকলে তা মাকরূহ হবে না, উমাইমাহ বিনতে রুফাইয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিসের কারণে। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
[এবং ফাটল বা গর্তে প্রস্রাব করা] কারণ এগুলো জিনদের বাসস্থান; কাতাদাহ কর্তৃক আব্দুল্লাহ বিন সারজিস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। তাঁরা কাতাদাহকে জিজ্ঞেস করলেন: গর্তে প্রস্রাব করা কেন মাকরূহ? তিনি বললেন: বলা হয় যে এগুলো জিনদের বাসস্থান। এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত আছে যে, সা'দ বিন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার একটি গর্তে প্রস্রাব করেছিলেন, এরপর তিনি মৃত অবস্থায় ঢলে পড়লেন।
[এবং আগুন] কারণ এটি ব্যাধি সৃষ্টি করে, এবং 'আর-রিআয়াহ' গ্রন্থে ছাইয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
[দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরূহ নয়] হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনার কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কওমের আবর্জনার ভাগাড়ের কাছে পৌঁছে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছিলেন। এটি জামায়াত (মুহাদ্দিসগণ) বর্ণনা করেছেন। খাত্তাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাঁটুর পেছনের ভাঁজে থাকা ক্ষতের কারণে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছিলেন। তিরমিযী বলেন: একদল আলেম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তাঁরা এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাকে শিষ্টাচারমূলক হিসেবে গ্রহণ করেছেন, হারাম হিসেবে নয়। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "নিশ্চয়ই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা রূঢ়তার অন্তর্ভুক্ত।"
[খোলা প্রান্তরে কোনো আড়াল ছাড়া কিবলার দিকে মুখ করা বা কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে বসা হারাম] এই বাণীর কারণে...
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أبي أيوب قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا أتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها ولكن شرقوا أو غربوا". قال أبو أيوب: فقدمنا الشام، فوجدنا مراحيض قد بنيت نحو الكعبة، فننحرف عنها، ونستغفر الله متفق عليه.
[ويكفي إرخاء ذيله] لقول مروان الأصغر أناخ ابن عمر بعيره مستقبل القبلة، ثم جلس يبول إليه فقلت أبا عبد الرحمن أليس قد نهي عن هذا؟ قال: بلى إنما نهي عن هذا في الفضاء، أما إذا كان بينك وبين القبلة شئ يسترك فلا بأس رواه أبو داود.
[وأن يبول، أو يتغوط، بطريق مسلوك، وظل نافع] أو مورد ماء، لما روى معاذ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اتقوا الملاعن الثلاث البراز في الموارد وقارعة الطريق، والظل" رواه أبو داود.
[وتحت شجرة عليها ثمر يقصد] لما تقدم. ولئلا ينجس ما سقط منها.
[وبين قبور المسلمين] لحديث عقبة بن عامر مرفوعاً - وفيه - "ولا أبالي أوسط القبور قضيت حاجتي أو وسط السوق" رواه ابن ماجه.
[وأن يلبث فوق قدر حاجته] قال في الكافي: وتكره الإطالة أكثر من الحاجة لأنه يقال: إن ذلك يدمي الكبد ويتولد منه الباسور، وهو كشف للعورة بلا حاجة، وروى الترمذي عن ابن عمر مرفوعاً "إياكم والتعري فإن معكم من لا يفارقكم، إلا عند الغائط، وحين يفضي الرجل إلى أهله فاستحيوهم وأكرموهم".
আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমরা মলত্যাগের জন্য আসবে, তখন কিবলার দিকে মুখ করো না এবং তার দিকে পিঠও দিও না। বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফেরো।" আবু আইয়ুব (রা.) বলেন: অতঃপর আমরা সিরিয়ায় আসলাম এবং সেখানে এমন কিছু শৌচাগার দেখতে পেলাম যা কাবার দিকে মুখ করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে আমরা সেখান থেকে কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতাম। (বুখারি ও মুসলিম)।
[এবং তার কাপড়ের আঁচল নিচু করে রাখাই যথেষ্ট] মারওয়ান আল-আসগারের উক্তি অনুযায়ী, তিনি বলেন: ইবনে ওমর (রা.) তার উটকে কিবলার দিকে বসালেন, অতঃপর সেদিকে মুখ করে প্রস্রাব করতে বসলেন। আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! এ কাজ থেকে কি নিষেধ করা হয়নি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এ কাজ থেকে কেবল খোলা ময়দানে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যখন তোমার এবং কিবলার মাঝে এমন কিছু থাকে যা তোমাকে আড়াল করে, তখন এতে কোনো দোষ নেই। (আবু দাউদ)।
[এবং পথচারীদের চলাচলের পথে, উপকারী ছায়ায়] অথবা পানির ঘাটে প্রস্রাব বা মলত্যাগ করা (নিষিদ্ধ)। মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অভিশপ্ত তিনটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো: পানির ঘাটে, রাস্তার মাঝখানে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে মলত্যাগ করা।" (আবু দাউদ)।
[এবং এমন ফলবান গাছের নিচে যার ফল আহরণ করা হয়] পূর্বে উল্লেখিত কারণে। আর যাতে সেখান থেকে যা কিছু পড়ে তা নাপাক না হয়ে যায়।
[এবং মুসলিমদের কবরের মাঝে] ওকবা বিন আমের (রা.) বর্ণিত মারফু হাদীসের কারণে—যাতে রয়েছে— "আমার নিকট কবরস্থানের মাঝে মলমূত্র ত্যাগ করা কিংবা বাজারের মাঝখানে হাজত পূরণ করা একই কথা (অর্থাৎ উভয়টিই সমান গর্হিত)।" (ইবনে মাজাহ)।
[এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা] 'আল-কাফি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: প্রয়োজনের অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা মাকরূহ। কেননা বলা হয়ে থাকে: এতে কলিজা থেকে রক্তপাত হয় এবং অর্শ (পাইলস) রোগের জন্ম দেয়। তাছাড়া এটি প্রয়োজন ছাড়া সতর উন্মুক্ত রাখার শামিল। তিরমিযী ইবনে ওমর (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা নগ্ন হওয়া থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তোমাদের সাথে এমন সত্তা (ফেরেশতা) রয়েছেন যারা মলত্যাগের সময় এবং স্বামী-স্ত্রী মিলনের সময় ব্যতীত কখনো তোমাদের থেকে পৃথক হন না। সুতরাং তোমরা তাঁদের লজ্জা করো এবং তাঁদের সম্মান করো।"
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
باب السواك
مدخل…باب السواك
[يسن بعود رطب لا يتفتت] ولا يجرح الفم وكان النبي صلى الله عليه وسلم يستاك بعود أراك قاله في الكافي.
[وهو مسنون مطلقاً] لقوله صلى الله عليه وسلم: "السواك مطهرة للفم مرضاة للرب" رواه أحمد قال في الشرح ولا نعلم في استحبابه خلافاً، ولا نعلم أحداً قال بوجوبه إلا إسحاق وداود.
[إلا بعد الزوال للصائم فيكره] لحديث علي مرفوعاً: "إذا صمتم فاستاكوا بالغداة ولا تستاكوا بالعشي" أخرجه البيهقي. ولأنه يزيل خلوف فم الصائم، وخلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك، لأنه أثر عبادة مستطاب فلم تستحب إزالته كدم الشهداء.
[ويسن له قبله بعود يابس ويباح برطب] لقول عامر بن ربيعة رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لا أحصي يتسوك وهو صائم حسنه الترمذي.
[ولم يصب السنة من استاك بغير عود] وقيل بلى بقدر ما يحصل من الإنقاء. قال في الشرح: وهو الصحيح لحديث أنس مرفوعاً: "يجزئ من السواك الأصابع" رواه البيهقي، قال محمد بن عبد الواحد الحافظ: هذا إسناد لا أرى به بأساً.
[ويتأكد عند وضوء وصلاة] لقوله صلى الله عليه وسلم: "لولا أن
মিসওয়াক অধ্যায়
সূচনা...মিসওয়াক অধ্যায়
[এটি এমন একটি তাজা ডাল দ্বারা সুন্নাত যা ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায় না] এবং যা মুখকে আহত করে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আরাক' ডাল দিয়ে মিসওয়াক করতেন, যেমনটি 'আল-কাফি' গ্রন্থে বলা হয়েছে।
[এটি সর্বাবস্থায় সুন্নাত] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। 'আশ-শারহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, এর মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে আমরা কোনো মতভেদ জানি না, আর ইসহাক ও দাউদ ব্যতীত অন্য কেউ এর ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
[রোজাদারের জন্য সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ব্যতীত, কারণ তখন এটি মাকরূহ] আলীর মারফূ হাদীসের কারণে: "যখন তোমরা রোজা রাখবে, তখন ভোরে মিসওয়াক করবে এবং বিকেলে মিসওয়াক করবে না।" এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। আর কারণ এটি রোজাদারের মুখের গন্ধ দূর করে দেয়, অথচ রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশক আম্বরের ঘ্রাণের চেয়েও বেশি সুগন্ধিযুক্ত। যেহেতু এটি ইবাদতের একটি উত্তম প্রভাব, তাই এটি দূর করা পছন্দনীয় নয়, যেমনটি শহীদদের রক্ত।
[আর সূর্য ঢলে পড়ার আগে তার জন্য শুকনো ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা সুন্নাত এবং তাজা ডাল দিয়ে করা জায়েজ] আমির ইবনে রাবিয়াহ-এর বাণীর কারণে: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোজা থাকা অবস্থায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছি।" তিরমিযী একে হাসান বলেছেন।
[যে ব্যক্তি ডাল ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে মিসওয়াক করল সে সুন্নাত লাভ করল না] এবং বলা হয়েছে যে, বরং যতটুকু পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয় সে অনুপাতে সুন্নাত আদায় হবে। 'আশ-শারহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটিই সঠিক, আনাস-এর মারফূ হাদীসের কারণে: "মিসওয়াকের ক্ষেত্রে আঙুলগুলোই যথেষ্ট হবে।" এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাফিজ বলেছেন: এই সনদটিতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
[ওযু এবং সালাতের সময় এটি সুন্নাত হিসেবে আরও গুরুত্ব পায়] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "যদি না
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة" متفق عليه، وفي رواية لأحمد "لأمرتهم بالسواك مع كل وضوء" وللبخاري تعليقاً "عند كل وضوء".
[وانتباه من نوم وعند تغير رائحة فم] لأن السواك شرع لإزالة الرائحة وقراءة تطييباً للفم لئلا يتأذى الملك عند تلقي القراءة منه، وعن حذيفة كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل يشوص فاه بالسواك متفق عليه.
[وكذا عند دخول مسجد ومنزل] لما روى شريح بن هانئ قال: سألت عائشة بأي شئ كان يبدأ النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل بيته؟ قالت بالسواك رواه مسلم. والمسجد أولى من البيت.
[وإطالة سكوت وصفرة أسنان] لأن ذلك مظنة تغير الفم.
[ولا بأس أن يتسوك بالعود الواحد اثنان فصاعداً] لأن عائشة رضي الله عنها لينت السواك للنبي صلى الله عليه وسلم فاستاك به.
"যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রতি প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, এবং আহমাদ-এর এক বর্ণনায় রয়েছে: "প্রত্যেক ওযুর সাথে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম" এবং বুখারীতে মুআল্লাক হিসেবে রয়েছে: "প্রত্যেক ওযুর সময়।"
[এবং ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় এবং মুখের গন্ধ পরিবর্তনের সময়] কেননা দুর্গন্ধ দূর করার জন্য এবং কিরাআত পাঠের সময় মুখকে সুগন্ধময় করার লক্ষ্যে মিসওয়াক বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে কিরাআত গ্রহণ করার সময় ফেরেশতা কষ্ট না পান। হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (ইবাদতের জন্য) উঠতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ ঘষে পরিষ্কার করতেন। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
[অনুরূপভাবে মসজিদে এবং ঘরে প্রবেশের সময়] যেহেতু শুরাইহ ইবনে হানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন তখন কোন কাজ দিয়ে শুরু করতেন? তিনি বললেন: মিসওয়াক দিয়ে। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর মসজিদ (প্রবেশের সময় মিসওয়াক করা) ঘরের চেয়েও অধিক অগ্রগণ্য।
[দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকা এবং দাঁত হলুদ হয়ে যাওয়ার সময়] কারণ এগুলো মুখ পরিবর্তনের (দুর্গন্ধ হওয়ার) প্রবল সম্ভাবনাযুক্ত অবস্থা।
[একই কাঠি দিয়ে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিসওয়াক করায় কোনো অসুবিধা নেই] কেননা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য মিসওয়াক নরম করে দিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তা দিয়ে মিসওয়াক করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
فصل في سنن الفطرة[يسن حلق العانة ونتف الإبط وتقليم الاظافر] لحديث أبي هريرة مرفوعاً: "الفطرة خمس: الختان، والاستحداد، وقص الشارب، وتقليم الأظافر، ونتف الابط" متفق عليه.
[والنظر في المرآة] وقول "اللهم كما حسنت خلقي فحسن خلقي" رواه البيهقي عن عائًشة، ورواه ابن مردويه وزاد "وحرم وجهي على النار".
[والتطيب بالطيب] لحديث أبي أيوب مرفوعاً "أربع من سنن المرسلين، الحياء، والتعطر، والسواك، والنكاح" رواه أحمد.
ফিতরাতের সুন্নাতসমূহ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ[নাভির নিচের পশম মুণ্ডন করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং নখ কাটা সুন্নাত] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: "ফিতরাত পাঁচটি: খতনা করা, ক্ষুর ব্যবহার করা (নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা), গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা এবং বগলের পশম উপড়ে ফেলা।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
[এবং আয়না দেখা] এবং এই কথা বলা: "হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে আমার সৃষ্টি বা গঠন সুন্দর করেছেন, সেভাবে আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন।" এটি বায়হাকি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মারদুওয়াই এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: "এবং আমার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিন।"
[এবং সুগন্ধি দ্বারা সুবাসিত হওয়া] আবু আইয়ুব থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: "চারটি বিষয় রাসুলগণের সুন্নাত: লজ্জা, সুগন্ধি মাখা, মেসওয়াক করা এবং বিবাহ করা।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
[والاكتحال كل ليلة في كل عين ثلاثاً] لحديث ابن عباس كان النبي صلى الله عليه وسلم يكتحل بالإثمد كل ليلة قبل أن ينام، وكان يكتحل في كل عين ثلاثة أميال رواه أحمد والترمذي وابن ماجه.
[وحف الشارب وإعفاء اللحية] لحديث ابن عمر مرفوعاً "خالفوا المشركين أحفوا الشوارب، وأوفوا اللحى" متفق عليه.
[وحرم حلقها] ذكره الشيخ تقي الدين، قاله في الفروع.
[ولا بأس بأخذ ما زاد على القبضة منها] لأن ابن عمر كان يفعله إذا حج أواعتمر، رواه البخاري.
[والختان واجب على الذكر والأنثى] لأنه من ملة إبراهيم عليه السلام، وفي الحديث "اختتن إبراهيم بعد ما أتت عليه ثمانون سنة" متفق عليه وقد قال تعالى: {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفاً} 1 وقال صلى الله عليه وسلم لرجل أسلم: "ألق عنك شعر الكفر واختتن" رواه أبو داود. وفي قوله صلى الله عليه وسلم "إذا التقى الختانان وجب الغسل" دليل على أن النساء كن يختتن. وقال أحمد: كان ابن عباس يشدد في أمره حتى قد روي عنه أنه لا حج له ولا صلاة.
[عند البلوغ وقبله أفضل] لأنه أقرب إلى البرء، ولأنه قبل ذلك ليس مكلفاً. ونقل في الفروع عن الشيخ تقي الدين أنه قال: يجب إذا وجبت الطهارة والصلاة.
--------------------------------------------
[প্রতি রাতে প্রতিটি চোখে তিনবার সুরমা লাগানো] ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ইসমদ দ্বারা সুরমা লাগাতেন, এবং তিনি প্রতিটি চোখে তিনবার শলাকা ব্যবহার করতেন। এটি আহমদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
[গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি লম্বা করা] ইবনে উমরের মারফু হাদিসের কারণে, "তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
[এবং দাড়ি মুণ্ডানো হারাম] শায়খ তাকীউদ্দীন এটি উল্লেখ করেছেন এবং 'আল-ফুরু' গ্রন্থেও এটি বলা হয়েছে।
[দাড়ির এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কাটলে কোনো দোষ নেই] কারণ ইবনে উমর যখন হজ বা ওমরাহ করতেন তখন তা করতেন। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
[খতনা করা পুরুষ ও নারীর ওপর ওয়াজিব] কারণ এটি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মিল্লাতের (আদর্শের) অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে এসেছে, "ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আশি বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর খতনা করেছিলেন।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহি পাঠালাম যে, আপনি একনিষ্ঠ ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণ করুন} ১। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলাম গ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: "তোমার থেকে কুফরির চুল দূর করো এবং খতনা করো।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যখন দুটি খতনাকৃত স্থান মিলিত হয় তখন গোসল ওয়াজিব হয়" - এটি নারীদের খতনা করার সপক্ষে দলিল। ইমাম আহমদ বলেন: ইবনে আব্বাস এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরতা পোষণ করতেন, এমনকি তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, খতনা না করা ব্যক্তির কোনো হজ বা সালাত নেই।
[বালেগ হওয়ার সময় এটি ওয়াজিব এবং তার আগে করা উত্তম] কারণ এটি দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য অধিকতর সহায়ক এবং তখনো সে শরয়ি বিধানের দায়বদ্ধ নয়। 'আল-ফুরু' গ্রন্থে শায়খ তাকীউদ্দীন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: যখন পবিত্রতা ও সালাত ওয়াজিব হয় তখন এটিও ওয়াজিব হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
باب الوضوء
مدخل…باب الوضوء
[تجب فيه التسمية] لحديث أبي هريرة مرفوعاً: "لا صلاة لمن لا وضوء له، ولا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه" رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه.
[وتسقط سهوا] نص عليه لحديث "عفي لأمتى عن الخطأ والنسيان".
[وإن ذكرها في أثنائه ابتداء] صححه في الانصاف وقيل: يأتي بها حيث ذكرها ويبني على وضوئه، قطع به في الإقناع، وحكاه في حاشية التنقيح عن أكثر الأصحاب.
[وفروضه ستة: غسل الوجه] لقوله تعالى: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} 1
[ومنه المضمضة والاستنشاق] لحديث عثمان رضي الله عنه في صفة وضوئه صلى الله عليه وسلم وفيه: فمضمض واستنثر متفق عليه.
[وغسل اليدين مع المرفقين] لقوله تعالى: {وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ} 1
[ومسح الرأس كله] لقوله تعالى: {وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ} 1
[ومنه الأذنان] لقوله صلى الله عليه وسلم: "الأذنان من الرأس". رواه ابن ماجه.
[وغسل الرجلين مع الكعبين] لقوله تعالى: {وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} 1
--------------------------------------------
ওযুর অধ্যায়ভূমিকা...ওযুর অধ্যায়
[এতে বিসমিল্লাহ বলা ওয়াজিব] আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত মারফূ হাদীসের কারণে: "যার ওযু নেই তার নামায নেই, আর যে (ওযুর শুরুতে) আল্লাহর নাম নেয়নি তার ওযু নেই।" এটি আহমাদ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
[এবং ভুলবশত তা বাদ পড়লে রহিত হয়ে যায়] হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী এ বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে: "আমার উম্মতের ভুল এবং বিস্মৃতি ক্ষমা করা হয়েছে।"
[যদি ওযুর মাঝপথে তা স্মরণ হয় তবে তখনই পাঠ করবে] আল-ইনসাফ গ্রন্থে এটিকে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে। আর বলা হয়েছে: যেখানে মনে পড়বে সেখানেই বিসমিল্লাহ পাঠ করবে এবং ওযুর বাকি অংশ সম্পন্ন করবে; আল-ইকনা’ গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে এবং আত-তানকীহ-এর টীকায় অধিকাংশ ফকীহগণের মত হিসেবে এটি উদ্ধৃত করা হয়েছে।
[ওযুর ফরয ছয়টি: মুখমণ্ডল ধৌত করা] মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যখন তোমরা নামাযের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো} ১
[আর কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া এর অন্তর্ভুক্ত] উসমান (রা.) বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওযুর পদ্ধতি বিষয়ক হাদীসের কারণে, যাতে রয়েছে: "অতঃপর তিনি কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
[কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা] মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত (ধৌত করো)} ১
[পুরো মাথা মাসাহ করা] মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করো} ১
[আর কান দুটি মাথার অন্তর্ভুক্ত] নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "কান দুটি মাথার অংশ।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
[উভয় টাখনুসহ দুই পা ধৌত করা] মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)} ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
[والترتيب] لأن الله تعالى ذكره مرتباً. وتوضأ رسول الله صلى الله عليه وسلم مرتباً وقال "هذا وضوء لا يقبل الله الصلاة إلا به" أي بمثله.
[والموالاة] لحديث خالد بن معدان أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى رجلاً يصلي وفي ظهر قدميه لمعة قدر الدرهم لم يصبها الماء فأمره أن يعيد الوضوء رواه أحمد وأبو داود وزاد والصلاة ولو لم تجب الموالاة لأمره بغسل اللمعة فقط.
[وشروطه ثمانية: انقطاع ما يوجبه] قبل ابتدائه ليصح.
[والنية] لحديث "إنما الأعمال بالنيات".
[والإسلام والعقل والتمييز] وهذه شروط في كل عبادة إلا التمييز في الحج.
[والماء الطهور المباح] لما تقدم في المياه فلا يصح بنحو مغصوب لحديث "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد".
[وإزالة ما يمنع وصوله] إلى البشرة ليحصل الإسباغ المأمور به.
[والاستجمار] وتقدم.
[ধারাবাহিকতা] কেননা মহান আল্লাহ একে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারাবাহিকভাবে ওযু করেছেন এবং বলেছেন, "এটি এমন ওযু যা ব্যতীত আল্লাহ সালাত কবুল করেন না", অর্থাৎ এর অনরূপ পদ্ধতি ব্যতীত।
[পারস্পর্য বা বিলম্ব না করা] খালিদ বিন মা‘দান বর্ণিত হাদীসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলেন যার পায়ের পাতার উপরিভাগে দিরহাম পরিমাণ একটি শুকনো অংশ ছিল যেখানে পানি পৌঁছায়নি। তখন তিনি তাকে ওযু পুনরায় করার নির্দেশ দিলেন। এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ‘সালাত’ (পুনরায় পড়ার) কথা বর্ধিত আছে। যদি বিলম্ব না করা ওয়াজিব না হতো, তবে তিনি তাকে শুধুমাত্র ওই শুকনো স্থানটি ধোয়ার নির্দেশ দিতেন।
[এর শর্তাবলী আটটি: যা ওযু ওয়াজিব করে তা বন্ধ হওয়া] ওযু শুরু করার পূর্বে, যাতে তা শুদ্ধ হয়।
[নিয়াত] "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়াতের ওপর নির্ভরশীল" এই হাদীসের কারণে।
[ইসলাম, আকল এবং তাময়ীয (বিবেচনা শক্তি)] আর হজ্জে তাময়ীয ব্যতীত প্রতিটি ইবাদতের ক্ষেত্রে এগুলো শর্ত।
[পবিত্র ও বৈধ পানি] যা পানির আলোচনায় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং জবরদখলকৃত পানির মাধ্যমে ওযু শুদ্ধ হবে না, যেহেতু হাদীসে এসেছে, "যে ব্যক্তি এমন কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।"
[ত্বক পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে বাধা দানকারী বস্তু অপসারণ করা] যাতে নির্দেশিত পূর্ণাঙ্গ ওযু সম্পন্ন হয়।
[ইস্তিঝমার] এবং এটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فصل في النية[فالنية هنا قصد رفع الحدث أو قصد ما تجب له الطهارة كصلاة وطواف ومس مصحف أو قصد ما تسن له كقراءة وذكر وأذان ونوم ورفع شك وغضب وكلام محرم وجلوس بمسجد وتدريس علم وأكل فمتى نوى شيئاً من ذلك ارتفع حدثه ولا يضر سبق لسانه بغير مانوى] لأن محل النية القلب.
[ولا شكه فى النية. أو في فرض بعد فراغ كل عبادة وإن شك فيها
নিয়ত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ[এখানে নিয়ত হলো অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার সংকল্প করা অথবা যার জন্য পবিত্রতা আবশ্যক তা সম্পাদন করার সংকল্প করা, যেমন সালাত, তাওয়াফ এবং কুরআন স্পর্শ করা; অথবা যার জন্য পবিত্রতা সুন্নাত তা সম্পাদন করার সংকল্প করা, যেমন তিলাওয়াত, জিকর, আযান, ঘুমানো, সন্দেহ ও ক্রোধ দূর করা, হারাম কথা পরিহার করা, মসজিদে বসা, ইলম শিক্ষা দেওয়া এবং আহার করা; সুতরাং যখনই তিনি এগুলোর কোনো একটির নিয়ত করবেন, তখনই তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে এবং যা নিয়ত করেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে উচ্চারিত হওয়া কোনো ক্ষতি করবে না] কারণ নিয়তের স্থান হলো অন্তর।
[আর নিয়তের ক্ষেত্রে তার সংশয়, অথবা কোনো ইবাদত সম্পন্ন করার পর তার কোনো ফরযের ব্যাপারে সংশয় কোনো প্রভাব ফেলবে না, যদিও তিনি সে বিষয়ে সংশয় করেন]
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
في الأثناء استأنف] ليأتي بالعبادة بيقين ما لم يكثر الشك فيصير كالوسواس فيطرحه.
এমতাবস্থায় তিনি পুনরায় শুরু করবেন] যাতে তিনি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে ইবাদত পালন করতে পারেন, যতক্ষণ না সন্দেহের আধিক্য ঘটে এবং তা ওয়াসওয়াসায় পরিণত হয়; এমতাবস্থায় তিনি তা বর্জন করবেন।
(খণ্ড: ١)
মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
فصل في صفة الوضوء[في صفة الوضوء وهى أن ينوي ثم يسمي] لما تقدم.
[يغسل كفيه ثم يتمضمض ويستنشق ثم يغسل وجهه من منابت شعر الرأس المعتاد] إلى الذقن. لما روى عن عثمان رضي الله عنه أنه دعا بإناء فأفرغ على كفيه ثلاث مرات فغسلهما، ثم أدخل يمينه في الإناء فمضمض واستنثر، ثم غسل وجهه ثلاثاً، ويديه إلى المرفقين ثلاث مرات، ثم مسح برأسه، ثم غسل رجليه ثلاث مرات إلى الكعبين، ثم قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ نحو وضوئي هذا الحديث متفق عليه.
[ولا يجزئ غسل ظاهر شعر اللحية] وكذا الشارب والعنفقة والحاجبان ونحوها إذا كانت تصف البشرة فيغسلها وما تحتها.
[إلا أن لا يصف البشرة] فيجزئ غسل ظاهره.
[ثم يغسل يديه مع مرفقيه] لحديث عثمان المتقدم.
[ولا يضر وسخ يسير تحت ظفر ونحوه] لأنه يسير عادة فلو كان واجباً لبينه صلى الله عليه وسلم، قال في الإنصاف: وهو الصحيح، واختاره الشيخ تقي الدين، وألحق به كل يسير منع حيث كان من البدن كدم وعجين ونحوهما.
[ثم يمسح جميع ظاهر رأسه من حد الوجه إلى ما يسمى قفاً والبياض فوق الأذنين منه] لقوله تعالى: {وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ} 1 والباء
--------------------------------------------
ওযুর নিয়ম পদ্ধতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ[ওযুর নিয়ম হলো: প্রথমে নিয়ত করবে, অতঃপর বিসমিল্লাহ বলবে] পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার কারণে।
[সে তার কবজি পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করবে, অতঃপর কুলি করবে ও নাকে পানি দিবে, তারপর তার মুখমণ্ডল ধৌত করবে মাথার চুলের স্বাভাবিক উৎপত্তিস্থল থেকে] চিবুক পর্যন্ত। যেহেতু উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একটি পানির পাত্র আনালেন এবং তাঁর দুই হাতের কবজি পর্যন্ত তিনবার পানি ঢেলে ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর ডান হাত পাত্রে প্রবেশ করালেন এবং কুলি করলেন ও নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন এবং দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর মাথা মাসাহ করলেন, তারপর দুই পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করতে দেখেছি।" হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
[দাড়ির পশমের উপরিভাগ ধৌত করা যথেষ্ট নয়] অনুরূপভাবে গোঁফ, নিচের ঠোঁটের নিচের পশম, ভ্রু এবং এই জাতীয় পশম যদি এমন হয় যে চামড়া দেখা যায়, তবে সেগুলো এবং তার নিচের চামড়া ধৌত করতে হবে।
[তবে যদি চামড়া দেখা না যায়] সেক্ষেত্রে ওপরের অংশ ধৌত করাই যথেষ্ট।
[এরপর সে তার হাত দুটি কনুইসহ ধৌত করবে] উসমানের পূর্বে বর্ণিত হাদীসের কারণে।
[নখের নিচে সামান্য ময়লা থাকলে তা কোনো ক্ষতি করবে না] কারণ এটি সাধারণত সামান্য হয়ে থাকে; যদি তা পরিষ্কার করা ওয়াজিব হতো তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা স্পষ্ট করে দিতেন। 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটিই সঠিক মত এবং শাইখ তাকীউদ্দীন এটিই পছন্দ করেছেন। শরীরের যেখানেই সামান্য কোনো বস্তু যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়—যেমন রক্ত, আটার খামির ও অনুরূপ বস্তু—তিনি সেগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
[অতঃপর সে তার মাথার উপরিভাগের সম্পূর্ণ অংশ মাসাহ করবে, মুখমণ্ডলের সীমানা থেকে ঘাড় পর্যন্ত এবং কানের উপরের সাদা অংশও এর অন্তর্ভুক্ত] মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ করো} ১ এবং 'বা' অক্ষরটি...
--------------------------------------------