(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: -)
الروضة الفيحاء في أعلام النساء القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الروضة الفيحاء في أعلام النساء
المؤلف: ياسين بن خير الله بن محمود بن موسى الخطيب العمري (ت بعد 1232هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আর-রাওদাতুল ফায়হা ফি আ'লামিন নিসা বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আর-রাওদাতুল ফায়হা ফি আ'লামিন নিসা
লেখক: ইয়াসিন বিন খাইরুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন মুসা আল-খতিব আল-উমারি (মৃত্যু ১২৩২ হিজরির পর)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: -)
الروضة الفيحاء في أعلام النساء
বিখ্যাত নারী মণীষীদের জীবনীতে সুবাসিত উদ্যান
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١)
المقالة الأولى في ذكر النساء الصالحات
[1]حواء أم البشرسميت حواء لأنها لقت ن شيء حي، ولما خلقها الله تعالى: كان في الطالع السرطان، وذكر في "المعالم" قوله تعالى: (
… يا آدمُ اسكنْ أنتَ وزوجكَ الجنَّةَ
… (الآية، وذلك أن آدم عليه السلام لم يكن له في الجنة من يؤنسه ويجالسه، فنام، فخلق الله حواء زوجته فصيرها من شقه الأيسر، خلقها الله من غير أن أحس بها آدم عليه السلام ولا وجد ألما، ولو وجد ألماً لما عطف الرجل على امرأة، فلما استيقظ رآها جالسة عند رأسه كأحسن ما خلق الله، فقال لها: من أنت؟ قالت: زوجتك، خلقني الله لك؛ لكي تسكن إلي وأسكن إليك.
قيل: إن آدم عليه السلام لما واقعها قالت: يا آدم زدنا منه، ما أطيبه. وذكر صاحب: "البستان" أن كل شهوة يعطيها الرجل نفسه، فإنها تسقي قلبه إلا الجماع، فإنه يصفي القلب، ولهذا كان يفعله الأنبياء عليهم السلام وفي الجماع منافع وضرر، فأما منافعه: فإن الرجل إن كان به هم فإنه [بالجماع] يقل [عنه] ذلك، ولو كان قلبه متعلقاً بحرام يزول عنه، ويزول الوسواس، ويسكن الغضب، وينفع من بعض القروح في النفس إذا كانت طبيعته الحرارة.
وقال في "الفؤاد": منافع الجماع المعتدل: خفة البدن، والنوم وانتعاش الحرارة الغريزية، ويزيل الفكر الردي، وينفع أكثر الأمراض السوداوية والبلغمية، وربما يقع تارك الجماع في الأمراض مثل: الدوار، وظلمة البصر وثقل البدن، وإذا عاد إليه المرء برئ، وأما مضرته، فإنه يضعف البدن والبصر، ويحدث ويحدث منه وجع الساقين والرأس والظهر، والاستقلال منه انفع.
وقال في "في المعالم": لما أراد إبليس لعنه الله ليوسوس لآدم وحواء، عزم على الدخول إلى الجنة، فمنعته الخزنة، فأتى إلى الحية، وكان لها أربع قوائم، وهي من خزان الجنة، فسألها ان تدخله الجنة، فأدخلته في فمها، فلما دخل وقف بين يدي آدم وحواء وهما لا يعرفانه إبليس، فبكى وناح، فأحزنهما، فقالا له: ما يبكيك؟ قال: أبكي عليكما تموتان فتفارقان هذه النعمة، فاغتما ومضى إبليس، ثم أتاهما، فقال قوله تعالى: (
… يا آدمُ هلْ أدلُّك على شجرةِ الخلدِ وملكٍ لا يبلى (فدله على أكل شجرة الحنطة، فأبى آدم، فبادرت حواء إلى أكل الشجرة، ثم ناولت آدم، فأكل منها، قوله تعالى: (
… فبدت لهما سوءاتهما
… (.
وقيل: إن حواء سقته الخمر أولاً، حتى أكل آدم.
قال سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضي الله عنهم: إن الله تعالى قال: يا آدم ما حملك على ما صنعت؟ قال: يا رب زينته لي حواء. قال: فإني أعقبتها أن [لا] تحمل إلا كرهاً [ولا تضع إلا كرهاً] وأدميتها في الشهر مرتين، فرنت حواء عند ذلك، فقيل: عليك الرنة، وعلى بناتك، واهبطا إلى الأرض، فأهبط [آدم] بسرنديب من أرض الهند، وأهبطت حواء بجدة، وأهبط إبليس بالأبلة والحية بأصفهان، فبكى آدم وحواء على ما فاتهما مائتي سنة، ولم يأكلا ويشربا أربعين يوماً، ولم يقرب آدم حواء مائة سنة.
قيل: إن هبوطها تاسع ساعة من يوم الجمعة، واجتمع آدم بحواء بعد انقضاء مائة سنة، اجتمعا في عرفة، وإنما سمي جبل عرفة، لأن آدم عرف به حواء. ولما هبطا إلى الأرض كان لهما ولدان: هابيل وقابيل وتوءماتهما، وسلب آدم وحواء كل ما كانا فيه من النعمة والكرامة، وكانت توءمة قابيل، أجمل من توءمة هابيل، فأراد آدم أن يزوج هابيل بتوءمة قابيل، وتوءمة هابيل بقابيل، فلم يطب ذلك لقابيل، فأخذ توءمته وقتل أخاه هابيل وهرب قابيل، وقصتهما مشهورة، فحزن آدم وحواء على هابيل وبكيا عليه أربعين يوماً، فأوحى الله إلى آدم أن اكفف عن بكائك، فإني قد وهبت لكما غلاماً مثله، يكون أبا الأنبياء، فاجتمع آدم بحواء، فحملت بشيث عليه السلام وحده م غير توءم، فلما ولدته كان كأنه هابيل، وذلك سنة مائة وثلاثين من هبوطهما.
সৎ নারীদের বর্ণনায় প্রথম প্রবন্ধ [১]হাওয়া, মানবজাতির জননীহাওয়াকে 'হাওয়া' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তিনি একটি জীবিত সত্তা থেকে সৃষ্টি হয়েছেন। যখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন, তখন কর্কট রাশি উদীয়মান ছিল। "আল-মাআলিম" গ্রন্থে আল্লাহ তাআলার এই বাণী উল্লেখ করা হয়েছে: (
... হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো
... (আয়াত)। এর কারণ হলো, জান্নাতে আদম আলাইহিস সালামের এমন কেউ ছিল না যে তাঁর একাকীত্ব দূর করবে বা যাঁর সাথে তিনি বসবেন। ফলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করে তাঁর বাম পাঁজরের হাড় থেকে গঠন করলেন। আল্লাহ তাঁকে এমনভাবে সৃষ্টি করলেন যে আদম আলাইহিস সালাম তা টেরও পাননি এবং কোনো ব্যথা অনুভব করেননি। যদি তিনি ব্যথা অনুভব করতেন, তবে পুরুষ কখনো নারীর প্রতি মমতা বোধ করত না। যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তখন নিজের মাথার কাছে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মধ্যে এক অনিন্দ্য সুন্দর নারীকে উপবিষ্ট দেখতে পেলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কে? সে উত্তর দিল: আমি আপনার স্ত্রী, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য সৃষ্টি করেছেন যাতে আপনি আমার কাছে প্রশান্তি লাভ করেন এবং আমিও আপনার কাছে প্রশান্তি লাভ করি।
বলা হয়ে থাকে যে, আদম আলাইহিস সালাম যখন তাঁর সাথে সহবাস করলেন, তখন তিনি বললেন: হে আদম! আমাদের এটি আরও বাড়িয়ে দিন, এটি কতই না উত্তম। "আল-বুস্তান" গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, পুরুষ নিজের নফসকে যে কোনো কামনাই প্রদান করুক না কেন তা তার অন্তরকে কলুষিত করে, কেবল সহবাস ব্যতীত; কারণ এটি অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করে। একারণেই নবীগণ আলাইহিমুস সালাম এটি সম্পাদন করতেন। সহবাসের উপকারিতা ও অপকারিতা উভয়ই রয়েছে। এর উপকারিতা হলো: পুরুষের যদি কোনো উদ্বেগ থাকে, তবে সহবাসের ফলে তা হ্রাস পায়। যদি তার অন্তর হারামের প্রতি আসক্ত থাকে তবে তা দূর হয়, কুচিন্তা দূরীভূত হয়, ক্রোধ প্রশমিত হয় এবং এটি নফসের কিছু ক্ষতের ক্ষেত্রে উপকারী হয় যদি তার প্রকৃতি উগ্র হয়।
এবং "আল-ফুয়াদ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: পরিমিত সহবাসের উপকারিতাগুলো হলো: দেহের হালকা অনুভব, ভালো ঘুম এবং সহজাত তাপশক্তির সঞ্চার। এটি কুচিন্তা দূর করে এবং অধিকাংশ পিত্ত ও শ্লেষ্মাজনিত রোগে উপকার দেয়। সম্ভবত সহবাস বর্জনকারী ব্যক্তি মাথা ঘোরা, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়া এবং দেহের স্থবিরতার মতো রোগে আক্রান্ত হতে পারে; আর যখন সে পুনরায় এটি শুরু করে তখন সে আরোগ্য লাভ করে। তবে এর অপকারিতা হলো: এটি শরীর ও দৃষ্টিশক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং এর ফলে পায়ের গোছা, মাথা ও পিঠে ব্যথার সৃষ্টি হয়; তাই এর স্বল্পতা অধিকতর কল্যাণকর।
"আল-মাআলিম" গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইবলিস লানাতুল্লাহি আলাইহি যখন আদম ও হাওয়াকে প্ররোচিত করার ইচ্ছা পোষণ করল, তখন সে জান্নাতে প্রবেশের সংকল্প করল। কিন্তু জান্নাতের রক্ষীরা তাকে বাধা প্রদান করলেন। তখন সে সাপের কাছে এলো; সেই সময়ে সাপের চারটি পা ছিল এবং সে ছিল জান্নাতের অন্যতম পাহারাদার। ইবলিস তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে সাপ তাকে নিজের মুখে ভরে জান্নাতে নিয়ে গেল। যখন সে ভেতরে প্রবেশ করল, সে আদম ও হাওয়ার সামনে দাঁড়াল অথচ তাঁরা তাকে ইবলিস হিসেবে চিনতে পারলেন না। সে কাঁদতে ও বিলাপ করতে লাগল, যা তাঁদের ব্যথিত করল। তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমার কান্নার কারণ কী? সে বলল: আমি তোমাদের জন্য কাঁদছি কারণ তোমরা মৃত্যুবরণ করবে এবং এই নেয়ামত থেকে বিচ্যুত হবে। এতে তাঁরা চিন্তিত হলেন এবং ইবলিস প্রস্থান করল। এরপর সে পুনরায় তাঁদের কাছে এসে আল্লাহ তাআলার এই বাণী বলল: (
... হে আদম! আমি কি তোমাকে অবিনশ্বর বৃক্ষ ও চিরস্থায়ী রাজত্বের পথ দেখিয়ে দেব? (তখন সে তাঁদের গমের গাছ থেকে ফল খেতে প্ররোচিত করল। আদম তা অস্বীকার করলেন, কিন্তু হাওয়া ত্বরিত সেই ফল খেয়ে ফেললেন। এরপর তিনি আদমকে দিলে তিনিও তা আহার করলেন। আল্লাহ তাআলার বাণী: (
... তখন তাঁদের লজ্জাস্থানগুলো তাঁদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল
... (।
বলা হয়ে থাকে যে, হাওয়া প্রথমে তাঁকে মদ পান করিয়েছিলেন, যার ফলে আদম আহার করেছিলেন।
সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা বললেন: হে আদম! তুমি যা করেছ, তা করতে তোমাকে কিসে প্ররোচিত করল? তিনি বললেন: হে রব! হাওয়া এটি আমার কাছে সুশোভিত করেছিল। আল্লাহ বললেন: তবে আমি এর প্রতিদানে তাকে অবধারিত করলাম যে, সে কষ্ট ছাড়া গর্ভধারণ করবে না এবং কষ্ট ছাড়া সন্তান প্রসব করবে না, আর প্রতি মাসে দুবার করে তার রক্তপাত (ঋতুস্রাব) ঘটালাম। তখন হাওয়া বিলাপ করে উঠলেন। তখন বলা হলো: এই বিলাপ তোমার ও তোমার কন্যাদের জন্য অবধারিত হলো। আর তোমরা উভয়ই জমিনে নেমে যাও। অতঃপর আদমকে হিন্দুস্তানের সরণদ্বীপ পাহাড়ে নামিয়ে দেওয়া হলো এবং হাওয়াকে জেদ্দায় নামিয়ে দেওয়া হলো। ইবলিসকে উবুলাহতে এবং সাপকে ইসফাহানে নিক্ষেপ করা হলো। আদম ও হাওয়া তাঁদের হারানো নেয়ামতের শোকে দুইশ বছর ক্রন্দন করলেন; তাঁরা চল্লিশ দিন আহার ও পানীয় গ্রহণ করেননি এবং আদম একশ বছর হাওয়ার নিকটবর্তী হননি।
বলা হয়ে থাকে: তাঁদের অবতরণ ছিল জুমার দিনের নবম প্রহরে। একশ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আদম ও হাওয়া আরাফাত ময়দানে মিলিত হন। আরাফাত পাহাড়ের নাম আরাফাত হওয়ার কারণ হলো, আদম সেখানে হাওয়াকে চিনতে পেরেছিলেন। তাঁরা যখন পৃথিবীতে অবতরণ করলেন, তাঁদের দুটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করল: হাবিল ও কাবিল এবং তাঁদের যমজ বোনরা। আদম ও হাওয়া যে সকল নেয়ামত ও মর্যাদার মধ্যে ছিলেন তা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হলেন। কাবিলের যমজ বোন হাবিলের যমজ বোনের চেয়ে অধিক সুন্দরী ছিল। আদম চাইলেন হাবিলের সাথে কাবিলের যমজ বোনকে এবং কাবিলের সাথে হাবিলের যমজ বোনকে বিবাহ দিতে। কিন্তু কাবিল তাতে সন্তুষ্ট হলো না; সে নিজের যমজ বোনকেই গ্রহণ করল এবং নিজের ভাই হাবিলকে হত্যা করে পালিয়ে গেল। তাঁদের কাহিনী সুপ্রসিদ্ধ। হাবিলের মৃত্যুতে আদম ও হাওয়া অত্যন্ত শোকাহত হলেন এবং চল্লিশ দিন তাঁর জন্য রোদন করলেন। তখন আল্লাহ আদমের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, তোমার ক্রন্দন থামাও; আমি তোমাদের তার বদলে অনুরূপ একটি পুত্র সন্তান দান করব, যে নবীদের পিতা হবে। এরপর আদম হাওয়ার সাথে মিলিত হলেন এবং হাওয়া একাকী (যমজ নয়) শীস আলাইহিস সালামকে গর্ভে ধারণ করলেন। যখন তিনি ভূমিষ্ঠ হলেন, তাঁকে দেখতে হুবহু হাবিলের মতো মনে হচ্ছিল। এটি ছিল তাঁদের পৃথিবীতে অবতরণের একশ ত্রিশ বছর পরের ঘটনা।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢)
وتوفي آدم سنة تسعمائة وثلاثين من هبوطه، وعاشت حواء بعده سنة وماتت سنة تسعمائة وإحدى وثلاثين ودفنت مع آدم في مشارق الفردوس عند قرية هناك، وهي أول قرية بنيت على وجه الأرض، ولم تمت حواء حتى بلغت أولادها وأولاد أولادها أربعين ألفاً، وقيل: ألفي ألف ولد، وقيل: هذا العدد كان حين وفاة آدم عليه السلام، وحواء عاشت بعده سنة، ولا بد أن أولادها ولد لهم غير هذا كثير، وقيل: إن حواء حملت من آدم أربعين ولداً بعشرين بطناً، وقيل: ثمانين، وقيل: مائة والله سبحانه وتعالى أعلم.
[2]سارة بنت هارونابن ناخور، وهو عم إبراهيم عليه السلام وهي زوجة إبراهيم عليه السلام آمنت به بعدما ألقي في النار، فهاجر بها إبراهيم إلى حران، ثم سار بها إلى مصر، وصاحبها فرعون، وقيل: سنان بن علوان، وقيل: وليس، فبلغه جمال سارة وحسنها، فأمر فرعون بإحضارها، فأحضروها ومعها إبراهيم عليه السلام فسأله فرعون، فقال إبراهيم عليه السلام: هي أختي، يعني في الإسلام فهم فرعون بها، فأيبس الله بدنه ورجليه، فتوسل بإبراهيم، وحلف أن لا يقربها بسوء، فأطلقه الله بدعوة إبراهيم عليه السلام ثم هم فرعون بها مرة ثانية، فجرى له مثل الأول فعاهد إبراهيم مرة أخرى فأطلق، وقال فرعون لهذه أن تخدم نفسها، فوهب لها هاجر جارية، فجاءت بها إلى إبراهيم عليه السلام ثم سار بهما إبراهيم من مصر إلى الشام، وأقام بهما بين الرملة وإيلياء. وكانت سارة لا تلد، فوهبت هاجر لإبراهيم عليه السلام فولدت له إسماعيل عليه السلام لمضي ست وثمانين من عمر إبراهيم عليه السلام فحزنت سارة لذلك، فوهبها الله اسحق عليه السلام وعمرها إذا ذاك تسعون سنة، وسرت سارة بهاجر وابنها ثم بعد ذلك أوحي إلى إبراهيم عليه السلام إن يأخذ هاجر وابنها إلى الحجاز، فسافر بهما إلى مكة، وماتت سارة في حياة إبراهيم قبل بثمانية وخمسين سنة، وعمرها مائة وسبع وعشرين سنة، ودفنت بمزرعة بحبزون، ودفن قريباً منها إبراهيم عليه السلام وكانت وفاتها سنة ثلاثة آلاف وأربعمائة وأربعين من هبوط آدم عليه السلام. وكانت قد ولدت إسحاق عليه السلام بعد إسماعيل عليه السلام باثنين وعشرين سنة. وبنى إبراهيم عليه السلام الكعبة في السنة التي ولد إسحاق عليه السلام وتزوج إبراهيم عليه السلام بعد سارة بامرأة من الكنعانيين، فولدت له ستة أولاد، فجملة أولاد إبراهيم عليه السلام ثمانية، إسحاق من سارة، وإسماعيل من هاجر، وستة أولاد من الكنعانية ولما صار لإبراهيم عليه السلام من العمر مائة سنة، ولد له إسحاق عليه السلام ولما صار لإسحاق عليه السلام ستون سنة ولد له يعقوب.
[3]هاجر زوجة إبراهيم عليه السلام
আদম তাঁর অবতরণের নয়শত ত্রিশ বছর পর ইন্তেকাল করেন। হাওয়া তাঁর পরে এক বছর বেঁচেছিলেন এবং নয়শত একত্রিশ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে আদমের সাথে ফিরদাউসের পূর্বদিকের একটি জনপদের কাছে দাফন করা হয়, যা পৃথিবীতে নির্মিত প্রথম জনপদ ছিল। হাওয়া ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না তাঁর সন্তান ও সন্তানদের সন্তানের সংখ্যা চল্লিশ হাজারে পৌঁছেছিল; কেউ কেউ বলেছেন বিশ লক্ষ সন্তান। আবার বলা হয়েছে, এই সংখ্যাটি ছিল আদম আলাইহিস সালামের মৃত্যুর সময়কার, আর হাওয়া তাঁর পরে এক বছর জীবিত ছিলেন। নিশ্চয়ই তাদের সন্তানদের আরও অনেক সন্তান জন্ম নিয়েছিল। আরও বলা হয়েছে যে, হাওয়া আদমের মাধ্যমে বিশটি গর্ভে চল্লিশটি সন্তান প্রসব করেছিলেন; কারও মতে আশিটি, আবার কারও মতে একশতটি। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বজ্ঞ।
[২]সারাহ বিনতে হারুনইবনে নাখুর, তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের চাচা। তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের স্ত্রী ছিলেন। ইব্রাহিমকে আগুনে নিক্ষেপ করার পর তিনি তাঁর প্রতি ঈমান আনেন। অতঃপর ইব্রাহিম তাঁকে নিয়ে হাররানে হিজরত করেন, তারপর তাঁকে নিয়ে মিশরে যান। সেখানকার অধিপতি ছিল ফেরাউন, কারও মতে (তার নাম) সিনান বিন আলওয়ান, আবার কারও মতে ওলাইস। সারাহর রূপ ও সৌন্দর্যের কথা ফেরাউনের নিকট পৌঁছালে সে তাকে উপস্থিত করার আদেশ দেয়। তারা তাঁকে নিয়ে আসে এবং তাঁর সাথে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামও ছিলেন। ফেরাউন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন: "তিনি আমার বোন", অর্থাৎ ইসলামের দিক থেকে। ফেরাউন তাঁর প্রতি কু-মতলবে উদ্যত হলে আল্লাহ তার দেহ ও পা অবশ করে দিলেন। তখন সে ইব্রাহিমের নিকট প্রার্থনা জানাল এবং অঙ্গীকার করল যে সে তাঁকে কোনো কষ্ট দেবে না। অতঃপর ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাকে মুক্তি দিলেন। ফেরাউন দ্বিতীয়বার তাঁর প্রতি উদ্যত হলো, ফলে প্রথমবারের মতোই তার দশা হলো। সে পুনরায় ইব্রাহিমের নিকট অঙ্গীকার করল এবং মুক্তি পেল। ফেরাউন বলল যে, এই মহীয়সীর নিজের সেবা করার জন্য লোক প্রয়োজন, তাই সে হাজের নামক এক দাসীকে তাঁকে উপহার দিল। তিনি হাজেরকে নিয়ে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কাছে এলেন। তারপর ইব্রাহিম তাঁদের দুজনকে নিয়ে মিশর থেকে শামে চলে যান এবং রামলা ও ইলিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করেন। সারাহ নিঃসন্তান ছিলেন, তাই তিনি হাজেরকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের নিকট অর্পণ করলেন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বয়স যখন ছিয়াশি বছর, তখন হাজেরের গর্ভে তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের জন্ম হয়। এতে সারাহ বিষণ্ণ হলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে ইসহাক আলাইহিস সালামকে দান করলেন, সে সময় সারাহর বয়স ছিল নব্বই বছর। সারাহ হাজের ও তাঁর পুত্রের প্রতি ঈর্ষাবোধ করলেন। এরপর ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি ওহি নাজিল হলো যে, তিনি যেন হাজের ও তাঁর পুত্রকে হিজাজে নিয়ে যান। তিনি তাঁদের নিয়ে মক্কায় যাত্রা করলেন। সারাহ ইব্রাহিমের জীবদ্দশায়, তাঁর মৃত্যুর আটান্ন বছর আগে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল একশত সাতাশ বছর। তাঁকে বাহবাজুন নামক বাগানে দাফন করা হয় এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকেও তাঁর কাছেই দাফন করা হয়েছিল। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল আদম আলাইহিস সালামের অবতরণের তিন হাজার চারশত চল্লিশ বছর পর। তিনি ইসমাইল আলাইহিস সালামের জন্মের বাইশ বছর পর ইসহাক আলাইহিস সালামকে জন্ম দিয়েছিলেন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সেই বছর কাবা নির্মাণ করেন যে বছর ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্ম হয়। সারাহর পর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কেনানীয়দের এক নারীকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে ছয়টি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মোট সন্তানের সংখ্যা হলো আটজন: সারাহর গর্ভে ইসহাক, হাজেরের গর্ভে ইসমাইল এবং কেনানীয় স্ত্রীর গর্ভে ছয়জন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বয়স যখন একশত বছর তখন ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্ম হয়, আর ইসহাক আলাইহিস সালামের বয়স যখন ষাট বছর তখন ইয়াকুবের জন্ম হয়।
[৩]হাজের, ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের স্ত্রী
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٣)
وهي جارية سارة التي وهبها لها ملك مصر فرعون، فوهبتها سارة لإبراهيم عليه السلام فحملت بإسماعيل عليه السلام وولدته سنة ثلاثة آلاف وأربعمائة من هبوط آدم في عر فريدون، وكانت بين الرملة وإيلياء، وسرن سارة بها وأوحي إلى إبراهيم بالسفر بها مع إسماعيل إلى الحجاز، فهاجر بها إبراهيم إلى مكة، وذكر في "المعالم": قال ابن عباس رضي الله عنهما: أول من اتخذ المناطق من النساء هاجر أم إسماعيل، اتخذت منطقاً عند سفرها إلى الحجاز، ثم هاجر بها إبراهيم عليه السلام إلى مكة ومعها إسماعيل عليه السلام ترضعه، فوضعها عند البيت وليس في مكة أحد ولا ماء، وترك عندهم جراباً فيه تمر وسقاء فيه ماء. ثم عاد إبراهيم عليه السلام منطلقاً فتبعته هاجر وقالت: أين تذهب وتتركنا في هذا الوادي الذي ليس فيه أنيس ولا شيء؟ فلم يجبها. وقالت ذلك مراراً وهو لا يلتفت إليها. فقالت له: الله أمرك بهذا؟ قال: نعم. قالت: إذاً لا يضيعنا. ثم رجعت وجعلت ترضع إسماعيل عليه السلام وتشرب من ذلك الماء، حتى إذا نفذ ما في السقاء عطشت وعطش إسماعيل عليه السلام فانطلقت إلى الصفا تنظر هل ترى من أحد، فلم تر، فعادت إلى الوادي، ثم سارت إلى المروة. وفعلت ذلك سبع مرات، ولما أشرفت على المروة، سمعت صوتاً، فقالت: صه: ثم سمعت صوتاً فقالت: قد سمعت إن كان عندك غواث، فعادت، فإذا هي بالملك عند موضع زمزم فبحث بعقبه أو بجناحه حتى ظهر الماء، فجعلت هاجر تحوضه. قال صلى الله عليه وسلم: "يرحمُ اللهُ أمّ إسماعيل لوْ تركتْ زمزم". وقال صلى الله عليه وسلم: "لوْ لمْ تغرفْ منَ الماءِ لكانتْ زمزمُ عيناً معيناً فشربتْ وأرضعتْ إسماعيل". فقال لها الملك: لا تخافا الضيعة، فإن هاهنا بيتاً يبنيه هذا الغلام وأبوه. فأقامت إلى أن قدمت عرب جرهم ونزلوا عندها، وكبر إسماعيل عليه السلام وتزوج امرأة من جرهم، وتعلم العربية، وماتت أمه هاجر.
وذكر في "المصابيح"، حديث إبراهيم عليه السلام وسارة لما وهبها هاجر. فقال أبو هريرة رضي الله عنه في حق هاجر: تلك أمكم يا بني ماء السماء. وأراد بماء السماء، يعني العرب.
وذكر في كتاب "كشف الأسرار" قوله صلى الله عليه وسلم: "لولا تحويطُ هاجر وتحريصها على زمزم حين اتَّبعها جبرائيلُ، وعندَ نزولِ جرهم لكانتْ زمزمُ عينا معيناً".
وذكر بعضهم قوله صلى الله عليه وسلم: "ماءُ زمزمٍ لما شربَ لهُ، فمنْ شربهُ على نيَّةِ قضاءِ حاجةٍ أو شفاءٍ منْ مرضٍ، أعطاه الله تعالى". وكان الذبح في حياة هاجر وقصته مشهورة: والذبيح إسماعيل عليه السلام لقوله صلى الله عليه وسلم: "أنا ابنُ الذَّبيحين". وهذا هو الأصح ومعنى قوله صلى الله عليه وسلم: "أنا ابنُ الذَّبيحين". أراد به إسماعيل عليه السلام ووالده عبد الله، فإن جده عبد المطلب نذر لله تعالى إن [بلغ] ولده عشرة بنين ليذبحن أحدهم قرباناً لله، وأبو طالب، وحجل، والزبير والحارث وأبو لهب، والمقدم، والفيداق، فملا تكاملوا عزم على ذبح أحدهم، فسار إلى الكاهن وأخبره بما نذر، فأمره أن يلقي عليهم قرعة ففعل، ووقعت القرعة على عبد الله والد النبي صلى الله عليه وسلم فوضع عشرة جمال، وألقى القرعة، فوقعت أيضاً على عبد الله، فما زال يزيد الجمال حتى بلغت مائة جمل، فوقعت القرعة على الجمال، فنحرها عبد المطلب فداءً لولده عبد الله، وتركها في البر طعاماً للخلائق والطيور، ولهذا أشار صلى الله عليه وسلم بقوله: "أنا ابنُ الذَّبيحين". وهذا بخلاف من قال: الذبيح إسحاق عليه السلام وتوفيت هاجر في حياة إسماعيل عليه السلام.
[4]يوحانذ بنت لاوي بن يعقوب عليه السلام
তিনি ছিলেন সারাহর দাসী, যাকে মিশরের রাজা ফেরাউন তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। অতঃপর সারাহ তাঁকে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট দান করেন। এরপর তিনি ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-কে গর্ভে ধারণ করেন এবং ফারিদুনের রাজত্বকালে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর পৃথিবীতে অবতরণের তিন হাজার চারশত বছর পর তাঁকে জন্ম দেন। এই স্থানটি ছিল রামলা ও ইলিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায়। সারাহ তাঁকে নিয়ে আনন্দিত হয়েছিলেন এবং ইব্রাহিমের নিকট ওহি আসলো যে তিনি যেন ইসমাইলসহ তাঁকে নিয়ে হিজাজে সফর করেন। ফলে ইব্রাহিম তাঁকে নিয়ে মক্কায় হিজরত করলেন। 'আল-মাআলিম' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম কোমরবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন ইসমাইলের মা হাজেরা; হিজাজে সফরের সময় তিনি কোমরবন্ধ ধারণ করেছিলেন। অতঃপর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁকে নিয়ে মক্কায় হিজরত করেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর সাথে ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) ছিলেন এবং তিনি তাঁকে স্তন্যদান করছিলেন। তিনি তাঁকে বাইতুল্লাহর কাছে রেখে আসলেন, অথচ তখন মক্কায় কোনো মানুষ ছিল না এবং পানিও ছিল না। তিনি তাঁদের নিকট এক থলে খেজুর ও এক মশক পানি রেখে গেলেন। অতঃপর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) প্রস্থান করার জন্য ফিরে চললেন, তখন হাজেরা তাঁর পিছু নিলেন এবং বললেন: 'আপনি কোথায় যাচ্ছেন এবং আমাদের এমন এক উপত্যকায় রেখে যাচ্ছেন যেখানে কোনো জনমানব বা কোনো কিছুই নেই?' তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। হাজেরা বারবার এ কথা বললেন কিন্তু তিনি তাঁর দিকে ফিরে তাকালেন না। তখন হাজেরা তাঁকে বললেন: 'আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'। হাজেরা বললেন: 'তাহলে তিনি আমাদের ধ্বংস করবেন না'। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন এবং ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-কে দুধ পান করাতে লাগলেন ও সেই পানি পান করতে লাগলেন। অবশেষে যখন মশকের পানি ফুরিয়ে গেল, তখন তিনি ও ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) উভয়েই তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লেন। তিনি সাফা পাহাড়ের দিকে ছুটে গেলেন কেউ আছে কি না দেখার জন্য, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। পুনরায় তিনি উপত্যকায় ফিরে আসলেন, এরপর মারওয়া পাহাড়ের দিকে গেলেন। এভাবে তিনি সাতবার করলেন। যখন তিনি মারওয়া পাহাড়ের ওপর উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন: 'চুপ!' এরপর পুনরায় শব্দ শুনলে তিনি বললেন: 'আমি তোমার আওয়াজ শুনেছি, যদি তোমার নিকট সাহায্যের কোনো উপায় থাকে (তবে সাহায্য করো)'। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন এবং জমজমের স্থানে একজন ফেরেশতাকে দেখতে পেলেন। ফেরেশতা তাঁর পায়ের গোড়ালি দিয়ে অথবা তাঁর ডানা দিয়ে মাটি খুঁড়লেন, ফলে পানি বের হয়ে আসল। হাজেরা সেই পানিকে বাঁধ দিতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'আল্লাহ ইসমাইলের মায়ের প্রতি রহম করুন, যদি তিনি জমজমকে ছেড়ে দিতেন—'। এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: 'যদি তিনি পানি আজলা ভরে না নিতেন, তবে জমজম একটি প্রবহমান ঝরনা হয়ে থাকত। অতঃপর তিনি পানি পান করলেন এবং ইসমাইলকে দুধ পান করালেন।' ফেরেশতা তাঁকে বললেন: 'তোমরা ধ্বংসের ভয় করো না, কেননা এখানে একটি ঘর রয়েছে যা এই বালক ও তার পিতা নির্মাণ করবে।' তিনি সেখানে অবস্থান করতে লাগলেন যতক্ষণ না জুরহুম গোত্রের আরবরা এল এবং তাঁর নিকট যাত্রাবিরতি করল। ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) বড় হলেন এবং জুরহুম গোত্রের এক মহিলাকে বিবাহ করলেন এবং আরবি ভাষা শিখলেন। তাঁর মাতা হাজেরা সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
'আল-মাসাবিহ' গ্রন্থে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) ও সারাহর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে যখন সারাহ তাঁকে হাজেরা দান করেছিলেন। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাজেরা সম্পর্কে বলেছেন: 'হে আকাশের পানির সন্তানেরা! তিনি তোমাদের মাতা।' তিনি 'আকাশের পানির সন্তান' দ্বারা আরবদের উদ্দেশ্য করেছেন।
'কাশফুল আসরার' কিতাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী উদ্ধৃত করা হয়েছে: 'যদি হাজেরা জমজমকে বাঁধ না দিতেন এবং জিবরাঈল যখন পানি বের করলেন তখন ও জুরহুম গোত্রের অবতরণের সময় জমজম নিয়ে সচেষ্ট না হতেন, তবে জমজম একটি প্রবহমান ঝরনা হয়ে থাকত।'
কেউ কেউ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী উল্লেখ করেছেন: 'জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সফল হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো প্রয়োজন পূরণের বা রোগমুক্তির নিয়তে এটি পান করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে তা দান করবেন।' হাজেরার জীবদ্দশাতেই কুরবানির ঘটনাটি ঘটেছিল এবং সেই কাহিনী সুপ্রসিদ্ধ। আর যবেহকৃত সন্তান ছিলেন ইসমাইল (আলাইহিস সালাম), কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'আমি দুই যবেহকৃত ব্যক্তির সন্তান।' এটিই সঠিক মত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর অর্থ হলো—তিনি এর দ্বারা ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর পিতা আব্দুল্লাহকে উদ্দেশ্য করেছেন। কেননা তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব আল্লাহর নিকট মানত করেছিলেন যে, যদি তাঁর দশটি পুত্র সন্তান পূর্ণ হয় তবে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাদের একজনকে কুরবানি করবেন। (তাঁদের মধ্যে ছিলেন) আবু তালিব, হাজল, যুবায়ের, হারিস, আবু লাহাব, আল-মুকাদ্দাম এবং আল-ফাইদাক। যখন তাঁরা পূর্ণ সংখ্যায় পৌঁছালেন, তিনি তাঁদের একজনকে যবেহ করার সংকল্প করলেন। তিনি গণকের নিকট গিয়ে নিজের মানত সম্পর্কে জানালেন। গণক তাঁকে তাদের ওপর লটারি করার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তাই করলেন। লটারিতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিতা আব্দুল্লাহর নাম আসলো। তখন তিনি দশটি উট রাখলেন এবং লটারি করলেন, এবারও আব্দুল্লাহর নাম আসলো। তিনি ক্রমাগত উটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকলেন যতক্ষণ না তা একশ উটে পৌঁছাল। তখন লটারি উটের ওপর পড়ল। আব্দুল মুত্তালিব তখন তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর মুক্তিপণ হিসেবে উটগুলো যবেহ করলেন এবং সেগুলো সৃষ্টিজগত ও পাখিদের খাবারের জন্য প্রান্তরে ফেলে রাখলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে এদিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে: 'আমি দুই যবেহকৃত ব্যক্তির সন্তান।' এটি সেই মতের পরিপন্থী যারা বলে যে, যবেহকৃত সন্তান ছিলেন ইসহাক (আলাইহিস সালাম)। হাজেরা ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেন।
[৪]ইউহানাদ বিনতে লাবি বিন ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٤)
زوجة عمران أم موسى عليه السلام وكان عمران من وزراء فرعون واسمه الوليد بن مصعب، وكان قد أخبره المنجمون أن زوال ملكه على يد فتى من بني إسرائيل، فجعل فرعون يقتل الأطفال، حتى قتل سبعين طفلاً، وكان يعذب الحوامل حتى يسقطن حملهن، ولما حملت أم موسى عليه السلام به، أخبر المنجمون فرعون بحمله، فشدد فرعون على نساء بني إسرائيل، فأمر القوابل أن يطفن على نساء بني إسرائيل ففعلن، ولم يدخلن بيت عمران لقربه من الملك ولما تم حملها، وجاءها الطلق ليلاً، فولدت موسى عليه السلام وفرحت به فرحاً عظيماً، وأخفت أمرها مخافة من فرعون، فكانت ترضع موسى عليه السلام وتضعه في تنور ولم تعلم له أخته كلثم، واستمرت على ذلك أياماً، فاتفق يوماً، خرجت لبعض شأنها، وجاءت كلثم أخت موسى عليه السلام وسجرت التنور لتخبز فيه، ولم تعلم أن موسى عليه السلام فيه، وقد بلغ فرعون ولادة موسى عليه السلام من بعض القوابل، فبعث فرعون هامان والرايات معه فدخل دار عمران، ودور جميع الدار فلم ير لموسى عليه السلام أثراً، والتنور يسجر، ثم خرج من دار عمران، وأقبلت أم موسى عليه ورأت أعوان فرعون قد خرجوا من بيتها، فخافت على نفسها وعلى موسى عليه السلام وكادت أن تموت من الغم، فدخلت في سرعة، وأقبلت إلى التنور، فرأته يشتعل بالنار، فلطمت وجهها وقالت: ما نفعني الحذر! والتمست موسى عليه السلام فوجدته سالماً، فأخرجته من التنور وأرضعته، وتمرض أبوه عمران ومات، وقد صار لموسى عليه السلم من العمر أربعون يوماً، فخافت على موسى من فرعون، فأوحى الله إليها، وذلك قوله تعالى: (وأوحينا إلى أمِّ موسى أنْ أرضعيهِ فإذا خفتِ عليهِ فألقيهِ في اليمِّ ولا تخافي ولا تحزني إنَّا رآدُّوه إلي وجاعلوهُ منَ المرسلينَ (.
وقيل: ألقى الله في قلبها، فوضعته في صندوق وأحكمنه لئلا يدخل إليه ماء فيغرق، فألقته في النيل ليلاً، ولم يعلم بها أحد، فسار الصندوق على وجه الماء، ودخل إلى دار فرعون، فرأته آسية بنت عم موسى عليه السلام وهي زوجة فرعون، فأمرت بإخراجه، فجملوه إليها، ففتحت الصندوق، ووجدت فيه موسى عليه السلام فحملته إلى فرعون وأخبرته بالخبر، فهم فرعون بقتله، فقالت له آسية قوله تعالى: (
… قرة عين لي ولك لا تقتلوه عسى أن ينفعنا أو نتخذه ولداً
… (، ولم يكن لفرعون ولد من آسية، ولم تزل به آسية حتى تركه وسموه موسى ومعنى مو: الماء، ومعنى سا: الشجر، وعرضت آسية القوابل على موسى عليه السلام فأبى إرضاعه، وكانت أخت موسى كلثم قد تبعت الصندوق حتى إلى دار فرعون ودخلت مع المراضع وذلك قوله تعالى: (وقالتْ لأختهِ قصِّيهِ فبصرتْ بهِ عنْ جنبٍ وهمْ لا يشعرونَ (وحرَّمنا عليهِ المراضعَ منْ قبلُ فقالتْ هلْ أدلُّكمْ على أهلِ بيتٍ يكفلونهُ لكمْ وهمْ لهُ ناصحونَ (فقالت آسية: نعم، فرجعت كلثم وأخبرت أمها، فقدمت ودخلت على آسية، فوضعت موسى عليه السلام في حجرها وأعطته ثديها، فرضع، وأقامت ترضعه إلى أن كبر وفطمته من الرضاع وماتت أم موسى عليه السلام.
وذكر في كتاب "خواص القرآن": قوله تعالى: (وأوحينا إلى أمِّ موسى أنْ أرضعيهِ (إلى قوله: (منَ المرسلينَ (إذا كتبت في ورقة وعلقت على امرأة قد قل حليبها، در ثديها وكثر حليبها.
وقيل: إذا تليت هذه الآية سبع مرات على سبع من الزبيب الأسود على واحدة سبع مرات، وأطعمت لمن قل حليبها أكثر بإذن الله تعالى ببركة هذه الآية الشريفة.
وذكر في كتاب "كشف الأسرار": ما الحكمة في إلقاء موسى عليه السلام في اليم؟ قيل: لان المنجمين إذا ألقي شيء في الماء يخفى عليهم أمره، فأراد الله أن يخفى على المنجمين حال موسى حتى لا يخبروا به فرعون، وأراد أيضاً أن يبين لأمه حفظه، فقال: ألقيه في التلف لأنجيه بالتلف من التلف. وقال أيضاً: سلميه إليَّ صبياً أسلمه لك نبياً، وأيضاً: فكما مجاه في البحر في الابتداء، كذلك أنجاه في الانتهاء، وأغرق فرعون في البحر.
وعن ابن عباس رضي الله عنه: إنما سمِّيَ موسى لأنَّهُ ألقي بينَ شجرٍ وماءٍ، فالماءُ بالقبطيَّةِ "مو"، والشجرُ "سا".
وقال الثعلبي: عاش موسى عليه السلام مائة وعشرين سنة.
ইমরানের স্ত্রী ছিলেন মুসা আলাইহিস সালামের মাতা। ইমরান ছিলেন ফেরাউনের উজিরদের একজন এবং তার নাম ছিল ওয়ালিদ বিন মুসআব। জ্যোতিষীরা ফেরাউনকে সংবাদ দিয়েছিল যে, বনী ইসরাঈলের এক যুবকের হাতে তার রাজত্বের অবসান ঘটবে। এরপর ফেরাউন শিশুদের হত্যা করতে শুরু করল এবং সত্তর জন শিশুকে হত্যা করল। সে গর্ভবতী নারীদের ওপর নির্যাতন চালাত যাতে তারা গর্ভপাত করে। যখন মুসা আলাইহিস সালামের মাতা তাকে গর্ভে ধারণ করলেন, তখন জ্যোতিষীরা ফেরাউনকে তার গর্ভধারণের খবর জানাল। ফলে ফেরাউন বনী ইসরাঈলের নারীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করল। সে ধাত্রীদের আদেশ দিল যেন তারা বনী ইসরাঈলের নারীদের তদারকি করে, তারা তা-ই করল। তবে রাজপ্রাসাদের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে তারা ইমরানের ঘরে প্রবেশ করেনি। যখন তার গর্ভাবস্থা পূর্ণ হলো এবং রাতে প্রসববেদনা শুরু হলো, তখন তিনি মুসা আলাইহিস সালামকে প্রসব করলেন এবং অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। ফেরাউনের ভয়ে তিনি বিষয়টি গোপন রাখলেন। তিনি মুসা আলাইহিস সালামকে দুধ পান করাতেন এবং তাকে একটি চুল্লির (তন্দুর) ভেতরে লুকিয়ে রাখতেন। এমনকি তার বোন কুলসুমও বিষয়টি জানতেন না। কয়েকদিন এভাবেই চলল। একদিন ঘটনাচক্রে তিনি তার কোনো প্রয়োজনে বাইরে গেলেন এবং মুসার বোন কুলসুম এসে রুটি সেঁকার জন্য চুল্লিতে আগুন জ্বালালেন। তিনি জানতেন না যে মুসা আলাইহিস সালাম তার ভেতরে আছেন। ইতিমধ্যে ফেরাউন কোনো এক ধাত্রীর কাছ থেকে মুসার জন্মের কথা জানতে পারল। ফেরাউন হামানকে তার বাহিনীসহ পাঠাল। সে ইমরানের ঘরে এবং আশেপাশের সব ঘরে প্রবেশ করল কিন্তু মুসা আলাইহিস সালামের কোনো চিহ্ন পেল না, আর তখন চুল্লিটি জ্বলছিল। এরপর সে ইমরানের ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। মুসার মা ফিরে এসে দেখলেন ফেরাউনের সহকারীরা তার ঘর থেকে বের হচ্ছে। তিনি নিজের এবং মুসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে ভীত হলেন এবং দুশ্চিন্তায় প্রায় মরণাপন্ন হয়ে পড়লেন। তিনি দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে চুল্লির কাছে গেলেন এবং দেখলেন সেটি দাউদাউ করে জ্বলছে। তিনি নিজের মুখে আঘাত করে বললেন: "সতর্কতা আমার কোনো কাজে এল না!" এরপর তিনি মুসা আলাইহিস সালামকে খুঁজলেন এবং তাকে অক্ষত অবস্থায় পেলেন। তিনি তাকে চুল্লি থেকে বের করে দুধ পান করালেন। এরপর তার পিতা ইমরান অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন। তখন মুসা আলাইহিস সালামের বয়স ছিল মাত্র চল্লিশ দিন। এরপর তিনি ফেরাউনের ব্যাপারে মুসার জন্য ভীত হলেন। তখন আল্লাহ তার প্রতি ওহী করলেন, যা মহান আল্লাহর এই বাণী: (আর আমি মুসার মায়ের প্রতি ওহী করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও। যখন তুমি তার ব্যাপারে কোনো আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো এবং ভয় পেয়ো না ও দুশ্চিন্তা করো না। নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব।)
বলা হয়েছে: আল্লাহ তার অন্তরে বিষয়টি ঢেলে দিলেন। তিনি তাকে একটি সিন্দুকে রাখলেন এবং সেটি মজবুত করলেন যাতে পানি ভেতরে প্রবেশ করে শিশুটি ডুবে না যায়। এরপর তিনি তাকে রাতে নীল নদে নিক্ষেপ করলেন। কেউ তার খবর জানল না। সিন্দুকটি পানির ওপর ভেসে ফেরাউনের প্রাসাদের সীমানায় প্রবেশ করল। মুসা আলাইহিস সালামের চাচার কন্যা আসিয়া তাকে দেখলেন, যিনি ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী। তিনি সেটি বের করার আদেশ দিলেন এবং তা তার কাছে আনা হলো। তিনি সিন্দুকটি খুললেন এবং ভেতরে মুসা আলাইহিস সালামকে পেলেন। তিনি তাকে ফেরাউনের কাছে নিয়ে গেলেন এবং বিস্তারিত জানালেন। ফেরাউন তাকে হত্যা করতে চাইল। তখন আসিয়া তাকে মহান আল্লাহর এই বাণী বললেন: (
... সে আমার এবং তোমার চক্ষুশীতলকারী। তোমরা তাকে হত্যা করো না। সম্ভবত সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করব
... )। ফেরাউনের ঔরসে আসিয়ার কোনো সন্তান ছিল না। আসিয়া অনবরত পিড়াপিড়ি করতে থাকলেন যতক্ষণ না ফেরাউন তাকে মুক্তি দিল। তারা তার নাম রাখলেন মুসা। 'মু' শব্দের অর্থ: পানি, এবং 'সা' শব্দের অর্থ: গাছ। আসিয়া ধাত্রীদের মুসা আলাইহিস সালামের কাছে উপস্থিত করলেন কিন্তু তিনি কারো দুধ পান করতে চাইলেন না। মুসার বোন কুলসুম সিন্দুকটিকে অনুসরণ করে ফেরাউনের প্রাসাদ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং ধাত্রীদের সাথে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। এটিই মহান আল্লাহর বাণী: (আর সে তার বোনকে বলল: তাকে অনুসরণ করো। ফলে সে তাকে দূর থেকে লক্ষ্য করল অথচ তারা বুঝতে পারল না। আর আমি পূর্বেই তার ওপর ধাত্রীদের স্তন্যপান নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলাম। তখন সে বলল: আমি কি তোমাদের এমন এক পরিবারের সন্ধান দেব যারা তোমাদের হয়ে তার লালন-পালনের দায়িত্ব নেবে এবং তারা তার হিতাকাঙ্ক্ষী হবে?) আসিয়া বললেন: "হ্যাঁ"। এরপর কুলসুম ফিরে গিয়ে তার মাকে খবর দিলেন। মা আসিয়া বিনতে মুজাহিমের কাছে উপস্থিত হলেন। তিনি মুসা আলাইহিস সালামকে তার কোলে নিলেন এবং তার স্তন দিলেন, অমনি তিনি দুধ পান করলেন। বড় হওয়া ও দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত মা-ই তাকে দুধ পান করালেন। এরপর মুসা আলাইহিস সালামের মা মৃত্যুবরণ করলেন।
"খাওয়াসুল কুরআন" কিতাবে উল্লেখ আছে: মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি মুসার মায়ের প্রতি ওহী করলাম যে তাকে দুধ পান করাও) হতে (রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব) পর্যন্ত আয়াতটি যদি কাগজে লিখে এমন নারীর অঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় যার বুকের দুধ কম, তবে তার স্তন থেকে দুধের ধারা প্রবাহিত হবে এবং দুধ বৃদ্ধি পাবে।
আরও বলা হয়েছে: যদি এই আয়াতটি সাতটি কালো কিশমিশের ওপর (প্রতিটির ওপর সাতবার করে) পাঠ করা হয় এবং সেই নারীকে খাওয়ানো হয় যার দুধ কম, তবে মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এই বরকতময় আয়াতের উসিলায় তার দুধ বৃদ্ধি পাবে।
"কাশফুল আসরার" কিতাবে উল্লেখ আছে: মুসা আলাইহিস সালামকে নদীতে নিক্ষেপ করার হিকমত কী? বলা হয়েছে: কারণ কোনো কিছু পানিতে নিক্ষেপ করলে জ্যোতিষীদের গণনায় তার খবর গোপন থাকে। তাই আল্লাহ চাইলেন মুসার অবস্থা জ্যোতিষীদের কাছে গোপন রাখতে যাতে তারা ফেরাউনকে সংবাদ দিতে না পারে। তিনি তার মায়ের কাছেও তার সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাইলেন। তাই তিনি বললেন: তাকে ধ্বংসের জায়গায় নিক্ষেপ করো যাতে আমি তাকে ধ্বংসের মাধ্যমেই ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পারি। তিনি আরও বললেন: তাকে শিশু অবস্থায় আমার কাছে সঁপে দাও, আমি তাকে নবী হিসেবে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব। আরও বলা হয়েছে: শুরুতে যেমন তাকে নদী রক্ষা করেছিল, শেষেও তেমনি তাকে নদী রক্ষা করেছিল এবং ফেরাউনকে সেই নদীতেই ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: মুসার নাম 'মুসা' রাখা হয়েছে কারণ তাকে গাছ ও পানির মাঝখানে পাওয়া গিয়েছিল। কিবতি ভাষায় 'মু' অর্থ পানি এবং 'সা' অর্থ গাছ।
আল-সালাবি বলেন: মুসা আলাইহিস সালাম একশত বিশ বছর জীবিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٥)
وذكر في التفسير قوله تعالى: (
… اقذفيهِ
… (ألقيه في التابوت، (
… فاقذفيهِ في اليمِّ
… (في النيل (
… فليلقهِ اليمُّ بالسَّاحلِ
… (الجانب (
… يأخذهُ عدوٌّ لي وعدوٌّ لهُ
… (يعني فرعون.
وروي: أنها جعلت في التابوت قطناً محلوجاً فوضعته فيه وقيرته، ثم ألقته في اليم وكان يشرع منه إلى بستان فرعون نهر الكبير، فبينما هو جالس على بركة مع آسية، إذ [هم] بالتابوت، فأمر به، فأخرج ففتح، فإذا صبي به أصبح الناس وجها، ً فهم فرعون بالأمر بقتله لولا موافقته لطلب ءاسية، ولم يعلم أنه قاتله إذا كبر.
وقال في كتاب "تفسير مدارك" قوله تعالى (يذبِّحُ أبناءهمْ
… (إلى آخرها وسبب الذبح أن كاهناً قال لفرعون: يولد مولود في بني إسرائيل يذهب ملكك على يديه. فقيل: إنه ذبح في طلب موسى تسعين ألف وليد.
وروي: أنها حين ضربها الطلق، كانت بعض القوابل الموكلات بحبالى بني إسرائيل مصافية لها. فعالجتها حتى ولدت، فلما وقع إلى الأرض، هالها نور بين عينيه، ودخل حبه قلبها فقالت القابلة: ما جئتك إلا لأقتل مولودك، وأخبر به فرعون ليقتله، ولكني وجدت حباً ما وجدت مثله، فاحفظيه، فلما خرجت القابلة جاءت عيون فرعون فلفته في خرقة، ووضعته في تنور مسجور، ولم تعلم ما تصنع، لأنه طاش عقلها، فطلبوا، فلم يلقوا شيئاً، فخرجوا وهي لا تدري مكانه، فسمعت من التنور صوته، فانطلقت وأخرجته، وقد جعل الله النار عليه برداً وسلاماً.
وذكر بعضهم قوله تعالى: (وأصبحَ فؤادُ أم موسى فارغاً (الآية، إذا تلاها إنسان وهو على مائدة وأكل لم يشبع، وإن أكل المائدة كلها
…وذكر لي بعضهم أن اسم أم موسى إذا تلي على قفل مقفول سقط من غير مفتاح، وقد جربته، فما وجدت له أصلاً، والله سبحانه وتعالى أعلم.
[5]صفورة بنت نبي الله شعيبعليه السلام وهي زوجة موسى عليه السلام ولما كان من أمر موسى عليه السلام ما كان، [ولما كبر وبلغ أشده دخل المدينة على حين غفلة من أهلها] قوله تعالى: (فوجدَ فيها رجلينِ يقتتلانِ هذا من شيعتهِ وهذا منْ عدوِّهِ ((فوكزهُ موسى فقضى عليهِ (ومات القبطي من ساعته فخاف موسى من فرعون. [و] قوله تعالى: (
… يا موسى إنَّ الملأَ يأتمرونَ بكَ ليقتلوكَ فاخرجْ إنِّي لكَ منَ النَّاصحين (فخرجَ منها خائفاً يترقبُ
… (وسار قاصداً من مصر إلى مدين. قال في "المعالم" قوله تعالى (ولمَّا وردَ ماءَ مدينَ وجدَ عليهِ أمَّةً منَ النَّاسِ يسقونَ ووجدَ منْ دونهمُ امرأتينِ تذودانِ
… (إلى قوله: (فسقى لهما
… (فتقدم موسى عليه السلام وزاحم القوم وسقى غنم المرأتين ثم جلس تحت ظل شجرة من شدة الحر، وهو جائع، وذلك قوله تعالى: (ربِّ إنِّي لما أنزلتَ إليَّ منْ خيرٍ فقيرٌ (وكان يعلم أنه من الأنبياء، فرجعت المرأتان.
وهما ابنتا شعيب عليه السلام بالأغنام إلى أبيهما سريعاً، فقال لهما: ما أعجلكما، وكانا إذا سقوا أغنامهم يبطئون، ولا يسقون إلا بعد قومهم، ويبطئون على أبيهم قالتا: وجدنا رجلاً رحمنا، فسقر لنا أغنامنا فقالت له إحداهما قوله تعالى:
… (يا أبتِ استأجرهُ إنَّ خيرَ منِ استأجرتَ القويُّ الأمينُ (فقال شعيب عليه السلام لإحداهما: اذهبي فادعيه، فذهبت وذلك قوله تعالى:
… (إنَّ أبي يدعوكَ ليجزيكَ أجرَ ما سقيتَ لنا
… (فدعته، وتبعها يمشي خلفها فوجد الريح تلعب بأثوابها فوقف وقال لها، امشي لامن خلفي ودليني على الطريق، [فإنا أهل بيت لا ننظر في أعقاب النساء] ففعلت، وسار موسى وهي تدله على الطريق إلى أن دخل موسى على شعيب، فقال له: اجلس يا شاب وتعش. فقال موسى عليه السلام أعوذ بالله. فقال له شعيب عليه السلام: ولم ذلك، ألست جائع؟ قال: بلى، ولكن أخاف أن يكون عوضاً لما سقيت لهما، فقال له: [لا] والله [يا شاب] ولكنها عادتي [وعادة آبائي نقري الضيف ونطعم الطعام] فجلس موسى عليه السلام وأكل.
قال في "المعالم" فعند ذلك قالت له إحدى ابنتيه (
… يا أبتِ استأجرهُ (إلى آخرها فقال له شعيب قوله تعالى (
… إنِّي أريدُ أنْ أنكحكَ إحدى ابنتيَّ هاتينِ على أنْ تأجرني ثماني حججٍ فإنْ أتممتَ عشراً فمنْ عندكَ
… (قال: وشرط عليه أن يرعى أغنامه ثماني سنين، وإن أتممها عامين أخريين فذاك من عنده.
তাফসিরে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে: (
… তাকে নিক্ষেপ করো
… (তাকে সিন্দুকে রাখো, (
… অতঃপর তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো
… (নীলনদে (
… যেন নদী তাকে তীরে ফেলে দেয়
… (তীরবর্তী স্থানে (
… তাকে আমার শত্রু এবং তার শত্রু গ্রহণ করবে
… (অর্থাৎ ফেরাউন।
বর্ণিত আছে যে: তিনি (মুসার মা) সিন্দুকটিতে ধুনিত তুলা রাখলেন এবং তাকে (মুসাকে) তাতে স্থাপন করে সিন্দুকটি আলকাতরা দিয়ে লিপ্ত করলেন। অতঃপর তা নদীতে ভাসিয়ে দিলেন। নীলনদ থেকে একটি বড় খাল ফেরাউনের বাগানের দিকে প্রবাহিত ছিল। একদিন ফেরাউন যখন আছিয়ার সাথে একটি জলাশয়ের পাশে বসা ছিল, তখন তারা সিন্দুকটি দেখতে পেল। সে তা আনার আদেশ দিলে তা বের করা হলো এবং খোলা হলো। দেখা গেল সেখানে এক শিশু রয়েছে যে মানুষের মধ্যে সবচাইতে সুন্দর চেহারার অধিকারী। আছিয়ার অনুরোধে সম্মত না হলে ফেরাউন তখনই তাকে হত্যার সংকল্প করেছিল। সে জানত না যে, এই শিশুই বড় হয়ে তাকে ধ্বংস করবে।
এবং "তাফসিরে মাদারিক" গ্রন্থে আল্লাহর বাণী (সে তাদের পুত্রদের জবাই করত
… (আয়াতের শেষ পর্যন্ত) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের কারণ ছিল এক গণক ফেরাউনকে বলেছিল: বনী ইসরাঈলে এমন এক শিশুর জন্ম হবে যার হাতে তোমার রাজত্ব বিলুপ্ত হবে। বলা হয় যে, মুসাকে খোঁজার জন্য সে নব্বই হাজার নবজাতককে জবাই করেছিল।
বর্ণিত আছে: যখন তাঁর (মুসার মায়ের) প্রসব বেদনা উঠল, তখন বনী ইসরাঈলের গর্ভবতী মহিলাদের দায়িত্বে নিয়োজিত ধাত্রীদের একজন তাঁর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করত। সে তাঁর সেবা করল এবং প্রসব সম্পন্ন হলো। শিশুটি যখন ভূমিষ্ঠ হলো, তখন তার দুই চোখের মাঝখানের জ্যোতি দেখে ধাত্রী অভিভূত হয়ে পড়ল এবং তার অন্তরে ভালোবাসা সঞ্চার হলো। ধাত্রী বলল: আমি এখানে এসেছিলাম কেবল তোমার সন্তানকে হত্যা করতে এবং ফেরাউনকে খবর দিতে যাতে সে তাকে মেরে ফেলে, কিন্তু আমি তার প্রতি এমন ভালোবাসা অনুভব করেছি যার নজির আমি আগে কখনো পাইনি। সুতরাং তাকে রক্ষা করো। ধাত্রী চলে যাওয়ার পর ফেরাউনের গোয়েন্দারা উপস্থিত হলো। তখন তিনি (মুসার মা) দিশেহারা হয়ে তাকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে প্রজ্বলিত তন্দুর চুলার ভেতর রেখে দিলেন। তিনি কী করছেন তা বুঝতে পারছিলেন না, কারণ তাঁর হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছিল। তারা তল্লাশি চালিয়ে কিছুই পেল না এবং চলে গেল। তারা চলে যাওয়ার পর তিনি তার হদিস পাচ্ছিলেন না। হঠাৎ তিনি তন্দুর থেকে শিশুর শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি সেখানে গিয়ে তাকে বের করে আনলেন। আল্লাহ তায়ালা তার জন্য আগুনকে শীতল ও নিরাপদ করে দিয়েছিলেন।
কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর বাণী: (আর মুসার মায়ের অন্তর ব্যাকুল হয়ে পড়ল (আয়াতটি), যদি কোনো ব্যক্তি দস্তরখানে বসে আহার করার সময় এটি পাঠ করে, তবে সে তৃপ্ত হবে না, এমনকি যদি সে দস্তরখানের সমস্ত খাবার খেয়ে ফেলে তবুও
…আমার কাছে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, মুসার মায়ের নাম যদি কোনো বন্ধ তালার ওপর পাঠ করা হয় তবে তা চাবি ছাড়াই খুলে পড়ে যায়। আমি এটি পরীক্ষা করে দেখেছি, কিন্তু এর কোনো ভিত্তি পাইনি। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সর্বাধিক অবগত।
[৫]আল্লাহর নবী শুয়াইবের কন্যা সাফুরাআলাইহিস সালাম, যিনি মুসা আলাইহিস সালামের স্ত্রী ছিলেন। মুসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে যা ঘটার তা যখন ঘটল, [যখন তিনি পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলেন, তখন তিনি শহরের অধিবাসীদের অসতর্কাবস্থায় তাতে প্রবেশ করলেন] আল্লাহর বাণী: (সেখানে তিনি দুই ব্যক্তিকে লড়াইরত পেলেন, একজন তাঁর নিজ দলের এবং অন্যজন তাঁর শত্রুদলের ((অতঃপর মুসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং তার মৃত্যু ঘটালেন (কিবতি লোকটি তখনই মারা গেল এবং মুসা ফেরাউনের ভয়ে ভীত হলেন। [এবং] আল্লাহর বাণী: (
… হে মুসা! সর্দাররা তোমাকে হত্যার পরামর্শ করছে, সুতরাং তুমি বেরিয়ে যাও, আমি তোমার হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন (অতঃপর তিনি ভীত ও সতর্ক অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লেন
… (এবং মিশর থেকে মাদিয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। "আল-মাআলিম" গ্রন্থে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বলা হয়েছে (যখন তিনি মাদিয়ানের জলাশয়ে পৌঁছালেন, তখন সেখানে একদল মানুষকে পশুদের পানি পান করাতে দেখলেন এবং তাদের পেছনে দুই নারীকে পেলেন যারা তাদের পশুগুলোকে আগলে রাখছিল
… (এই পর্যন্ত: (অতঃপর তিনি তাদের জন্য পানি পান করালেন
… (মুসা আলাইহিস সালাম এগিয়ে গিয়ে ভিড় ঠেলে দুই নারীর ছাগলগুলোকে পানি পান করিয়ে দিলেন। তারপর প্রচণ্ড গরমে ক্ষুধার্ত অবস্থায় একটি গাছের ছায়ার নিচে বসলেন। এটিই আল্লাহর বাণী: (হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ অবতীর্ণ করবেন আমি তার ভিখারি (তিনি জানতেন যে তিনি নবীদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর নারীদ্বয় ফিরে গেল।
তারা ছিলেন শুয়াইব আলাইহিস সালামের দুই কন্যা। তারা দ্রুত তাদের পিতার কাছে ফিরে গেলে তিনি তাদের বললেন: আজ কেন তোমরা এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলে? সাধারণত যখন তারা পানি পান করাতে যেত, তখন দেরি হতো এবং তারা অন্য লোকদের পরেই পানি পান করাতে পারত এবং পিতার কাছে ফিরতে দেরি হতো। তারা বলল: আমরা এক দয়ালু ব্যক্তিকে পেয়েছি, যিনি আমাদের ছাগলগুলোকে পানি পান করিয়ে দিয়েছেন। তখন তাদের একজন তাকে আল্লাহর বাণী অনুযায়ী বলল:
… (হে পিতা! আপনি তাকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিযুক্ত করুন, নিশ্চয়ই আপনার নিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তম হলো সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত (তখন শুয়াইব আলাইহিস সালাম তাদের একজনকে বললেন: যাও, তাকে ডেকে আনো। সে গেল, আর এটিই আল্লাহর বাণী:
… (নিশ্চয়ই আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন যাতে আপনি আমাদের জন্য যা পানি পান করিয়েছেন তার পারিশ্রমিক আপনাকে দিতে পারেন
… (সে তাকে ডাকল এবং মুসা তার পেছনে হাঁটতে লাগলেন। তিনি দেখলেন বাতাস তার কাপড়ের ওপর খেলা করছে (কাপড় উড়িয়ে দিচ্ছে), তখন তিনি থেমে গেলেন এবং তাকে বললেন, তুমি আমার পেছনে হাঁটো এবং আমাকে পথ দেখিয়ে দাও, [কেননা আমরা এমন এক পরিবার যারা নারীদের পেছনের দিকে তাকাই না]। সে তাই করল এবং মুসা পথ চললেন আর সে তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল যতক্ষণ না মুসা শুয়াইবের কাছে পৌঁছালেন। তিনি তাকে বললেন: হে যুবক, বসো এবং রাতের খাবার খাও। মুসা আলাইহিস সালাম বললেন: আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। শুয়াইব আলাইহিস সালাম তাকে বললেন: কেন? তুমি কি ক্ষুধার্ত নও? তিনি বললেন: হ্যাঁ, কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি যে এটি হয়তো আমার পানি পান করানোর বিনিময় হিসেবে হচ্ছে। তখন তিনি তাকে বললেন: [না], আল্লাহর কসম [হে যুবক], বরং এটি আমার এবং আমার পূর্বপুরুষদের রীতি যে আমরা মেহমানদারি করি এবং আহার করাই। অতঃপর মুসা আলাইহিস সালাম বসলেন এবং আহার করলেন।
"আল-মাআলিম" গ্রন্থে বলা হয়েছে: তখন তার দুই কন্যার একজন তাকে বলল (
… হে পিতা! তাকে নিযুক্ত করুন (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। তখন শুয়াইব তাকে আল্লাহর বাণী অনুযায়ী বললেন (
… আমি চাই আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে, আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ করো তবে তা তোমার পক্ষ থেকে
… (তিনি বললেন: তিনি তার ওপর শর্ত দিলেন যে তাকে আট বছর তার ছাগল চরাতে হবে, আর যদি সে আরও দুই বছর পূর্ণ করে তবে তা তার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সৌজন্য হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٦)
ولما تعاقدا قال شعيب عليه السلام لابنته، وأمرها أن تعطي موسى عصاً فأعطته. وأقام يرعى الأغنام إلى أن تم الأجل، وسلم شعيب عليه السلام ابنته صفورة إلى موسى عليه السلام فقال لها موسى يوماً: اطلبي من أبيك أن يجعل لنا بعض الغنم، فطلبت من أبيها، فقال شعيب عليه السلام لها: لكما كل ما ولدت هذا العام كل أبلق وبلقاء.
فأوحى الله إلى موسى عليه السلام في المنام أن اضرب بعصاك الماء الذي في مستسقى الأغنام، ففعل موسى ثم سقى الأغنام فوضعت كلها ما بين أبلق وبلقاء، فوفى لهم شعيب عليه السلام بشرطه، وأقام موسى عليه السلام بعد ذلك الأجل عشر حجج أخر ثم استأذن شعيب عليه السلام بالمسير إلى مصر، فأذن له. فخرج موسى من مدين بأهله قاصداً إلى مصر، فلما انتهى إلى قريب من جبل الطور أتى امرأته الطلق، وذلك قوله تعالى: (
… آنسَ من جانبِ الطُّورِ ناراً قالَ لأهلهِ امكثوا إنِّي آنستُ ناراً لعلِّي آتيكم منها بخبرٍ
… ) وذكر في كتاب "المدارك" في التفسير: روي أن شعيب عليه السلام كان عنده عصي الأنبياء عليهم السلام فقال لموسى عليه السلام بالليل: ادخل ذلك البيت، فخذ عصا من تلك العصي. فدخل موسى وأخذ عصاً هبط بها آدم من الجنة، ولم تزل الأنبياء يتوارثونها حتى وقعت إلى شعيب عليه السلام فمسها شعيب، وكان مكفوف البصر، فرماها بالبيت [وضن بها] وقال لموسى: خذ غيرها، فدخل موسى فما وقع في يده غيرها سبع مرات فعلم شعيب أن له شأناً، فقال له: خذها.
ولما أصبح الصباح قال له شعيب: إذا بلغت مفرق الطرق، فلا تأخذ على يمينك فإن الكلأ وإن كان بها كثيراً، إلا أن فيها تنيناً أخشى عليك وعلى الغنم منه. فسار موسى بالغنم، فأخذت الغنم ذات اليمين ولم يقدر موسى على كفها، فمشى على إثرها، فإذا عشب ومرعى لم ير مثله، فنام موسى عليه السلام والأغنام ترعى. فأقبل التنين فحاربته العصا حتى قتلته، وعادت إلى جنب موسى دامية، فانتبه موسى عليه السلام وأبصرها دامية، والتنين مقتولاً فارتاح لذلك، ولما رجع لمس شعيب عليه السلام الأغنام فوجدها ملأى البطون، غزيرة اللبن، فأخبره موسى عليه السلام بخبر العصا والتنين، ففرح شعيب عليه السلام وحمد الله تعالى وعلم أن لموسى والعصا شأناً، وقال له: إني وهبت لك من نتاج غنمي هذا العام كل أدرع ودرعاء، فأوحى الله إلى موسى في المنام، أن اضرب بعصاك مستقى الغنم، ففعل، ثم سقى الأغنام، فوضعت كلهن أدرعاً ودرعاء، فوفى له بشرطه. وذلك قوله تعالى: (فلمَّا قضى موسى الأجلَ
… ) قال صلى الله عليه وسلم "قضى أوفاهما، وتزوَّجَ صغراهما".
قيل: ولما عاد موسى عليه السلام من الطور وجد امرأته صفورة قد ولدت ابناً، فحملها إلى مصر وأقام بمصر يدعو فرعون إلى الإيمان وماتت صفورة في حياة موسى عليه السلام.
[6]آسية عليها السلامبنت مزاحم بن فاحث بن لاوي بن يعقوب عليه السلام بن إسحاق عليه السلام بن إبراهيم الخليل عليه السلام وهي ابنة عم موسى عليه السلام وزوجة فرعون واسمه الوليد بن مصعب، وكان أبوه يرعى البقر، وبلغ من العمر مائة وسبعين سنة ولم يرزق ولداً، فرأى بقرة يوماً ولدت عجلة فتأوه وتألم، فنادته النقرة: يا مصعب لا تحزن فسيولد لك ولد مشؤوم يكون من أهل جهنم.
ورجع مصعب فواقع زوجته، فحملت بفرعون، ومات مصعب قبل وضعه وولدته أمه وربته، وتنقلت به الأحوال حتى ملك مصر، وطغى وتجبر، وادعى الربوبية، فبلغه حسن آسية وجمالها: فأرسل إلى أبيها مزاحم أخي عمران يخطبها، وحمل إليه أموالاً وتزوجها.
وقيل: إن الله عصمها منه فكان إذا واقعها تتشبه بها جنية فيواقع الجنية. وقيل: إن السحرة الذين آمنوا بموسى عليه السلام كانوا مائتي ألف وأربعين ألف ومائتين واثنين وخمسين رجلاً وهم من رؤساء السحرة وكان غرق فرعون سنة ثلاثة آلاف وثمانمائة وثمانية وعشرين من هبوط آدم عليه السلام ووفاة آسية قبل غرق فرعون بأعوام قليلة، نحو عامين أو أكثر، والله سبحانه أعلم.
وذكر في كتاب "حسن المحاضرة في أخبار مصر والقاهرة": وقد قيل بنبوة نسوة دخلن مصر: مريم بنت عمران، وسارة امرأة الخليل، وأم موسى عليه السلام وآسية امرأة فرعون. وممن آمن مع آسية ماشطة بنت فرعون.
যখন তাঁরা পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হলেন, তখন শুয়াইব আলাইহিস সালাম তাঁর কন্যাকে বললেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি মূসাকে একটি লাঠি দেন। ফলে তিনি তাঁকে তা দিলেন। নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি বকরী চরালেন। শুয়াইব আলাইহিস সালাম তাঁর কন্যা সাফুরাকে মূসা আলাইহিস সালামের কাছে সমর্পণ করলেন। একদিন মূসা তাঁকে বললেন: তোমার পিতার কাছে আবেদন করো যেন তিনি আমাদের জন্য কিছু বকরী নির্ধারণ করে দেন। তিনি তাঁর পিতার কাছে আবেদন করলেন। শুয়াইব আলাইহিস সালাম তাঁকে বললেন: এই বছর যে সব সাদা-কালো মিশ্রিত বাচ্চা জন্মাবে, সেগুলো তোমাদের।
এরপর আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালামকে স্বপ্নে ওহী করলেন যে, তোমার লাঠি দিয়ে সেই পানিতে আঘাত করো যেখান থেকে বকরীগুলো পানি পান করে। মূসা তাই করলেন এবং বকরীগুলোকে পানি পান করালেন। ফলে সবগুলোই সাদা-কালো মিশ্রিত বাচ্চা জন্ম দিল। শুয়াইব আলাইহিস সালাম তাঁর শর্ত পূরণ করলেন। সেই মেয়াদের পর মূসা আলাইহিস সালাম আরও দশ বছর সেখানে অবস্থান করলেন। এরপর তিনি শুয়াইব আলাইহিস সালামের কাছে মিশরে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন এবং তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। মূসা সপরিবারে মিশর অভিমুখে মাদইয়ান থেকে বের হলেন। যখন তিনি তূর পাহাড়ের নিকটবর্তী হলেন, তখন তাঁর স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠল। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: (
… তিনি তূর পাহাড়ের পার্শ্বে আগুন দেখতে পেলেন, তিনি তাঁর পরিবারকে বললেন, তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য সেখান থেকে কোনো খবর নিয়ে আসতে পারব
… ) এবং "আল-মাদারিক" তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: বর্ণিত আছে যে, শুয়াইব আলাইহিস সালামের কাছে নবীদের লাঠিগুলো ছিল। তিনি রাতে মূসা আলাইহিস সালামকে বললেন: ওই ঘরে প্রবেশ করো এবং ওই লাঠিগুলোর মধ্য থেকে একটি লাঠি নাও। মূসা প্রবেশ করলেন এবং এমন একটি লাঠি নিলেন যা আদম জান্নাত থেকে নিয়ে নেমেছিলেন। নবীরা উত্তরাধিকার সূত্রে এটি লাভ করে আসছিলেন, শেষ পর্যন্ত তা শুয়াইব আলাইহিস সালামের হস্তগত হয়। শুয়াইব আলাইহিস সালাম লাঠিটি স্পর্শ করলেন, তিনি ছিলেন দৃষ্টিহীন। তিনি সেটি ঘরে ছুড়ে ফেললেন [এবং সেটি দিতে কার্পণ্য করলেন] এবং মূসাকে বললেন: অন্যটি নাও। মূসা প্রবেশ করলেন কিন্তু সাতবারই তাঁর হাতে সেই লাঠিটিই আসল। তখন শুয়াইব বুঝতে পারলেন যে এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, তাই তিনি বললেন: এটিই নাও।
যখন সকাল হলো, শুয়াইব তাঁকে বললেন: যখন তুমি রাস্তার মোড়ে পৌঁছাবে, তখন তোমার ডান দিকের পথ ধরবে না। কারণ যদিও সেখানে প্রচুর ঘাস রয়েছে, কিন্তু সেখানে একটি বিশাল অজগর আছে, যার ব্যাপারে আমি তোমার ও বকরীগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি। মূসা বকরীগুলো নিয়ে চললেন, কিন্তু বকরীগুলো ডান দিকের পথ ধরল এবং মূসা সেগুলোকে ফেরাতে সক্ষম হলেন না। ফলে তিনি সেগুলোর পিছু পিছু চললেন। হঠাৎ সেখানে এমন ঘাস ও চারণভূমি দেখতে পেলেন যার মতো তিনি আগে কখনও দেখেননি। তখন মূসা আলাইহিস সালাম ঘুমিয়ে পড়লেন আর বকরীগুলো চরতে লাগল। এমন সময় অজগরটি এগিয়ে এল, তখন লাঠিটি তার সাথে যুদ্ধ করল এবং তাকে হত্যা করল। এরপর লাঠিটি রক্তমাখা অবস্থায় মূসার পাশে ফিরে এল। মূসা আলাইহিস সালাম জাগ্রত হয়ে সেটিকে রক্তমাখা অবস্থায় দেখলেন এবং অজগরটিকে মৃত অবস্থায় দেখে স্বস্তি পেলেন। যখন তিনি ফিরে আসলেন, শুয়াইব আলাইহিস সালাম বকরীগুলো স্পর্শ করে দেখলেন যে সেগুলোর পেট পূর্ণ এবং প্রচুর দুধ দিচ্ছে। তখন মূসা আলাইহিস সালাম তাঁকে লাঠি ও অজগরের খবর জানালেন। এতে শুয়াইব আলাইহিস সালাম আনন্দিত হলেন এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে মূসা এবং লাঠির বিশেষ মহিমা রয়েছে। তিনি তাঁকে বললেন: আমি এই বছর আমার বকরীর বাচ্চাদের মধ্য থেকে প্রতিটি কালো শরীর ও সাদা মাথা বিশিষ্ট বাচ্চা তোমাকে দান করলাম। আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালামকে স্বপ্নে ওহী করলেন যে, বকরীদের পানি পানের স্থানে তোমার লাঠি দিয়ে আঘাত করো। তিনি তাই করলেন এবং বকরীদের পানি পান করালেন। ফলে সবগুলোই কালো শরীর ও সাদা মাথা বিশিষ্ট বাচ্চা জন্ম দিল। তিনি তাঁর শর্ত পূরণ করলেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: (যখন মূসা মেয়াদ পূর্ণ করলেন
… ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তিনি তাদের মধ্যকার দীর্ঘতম মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন এবং তাদের ছোট কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন।"
বলা হয়: মূসা আলাইহিস সালাম যখন তূর পাহাড় থেকে ফিরলেন, দেখলেন তাঁর স্ত্রী সাফুরা একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন। তিনি তাঁকে মিশরে নিয়ে আসলেন এবং মিশরে অবস্থান করে ফেরাউনকে ঈমানের দাওয়াত দিতে থাকলেন। সাফুরা মূসা আলাইহিস সালামের জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেন।
[৬]আসিয়া আলাইহাস সালামমুযাহিম ইবনে ফাহিস ইবনে লাবি ইবনে ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ইবনে ইসহাক আলাইহিস সালাম ইবনে ইব্রাহিম খলীল আলাইহিস সালামের কন্যা। তিনি মূসা আলাইহিস সালামের চাচাতো বোন এবং ফেরাউনের স্ত্রী ছিলেন। ফেরাউনের নাম ছিল ওয়ালিদ ইবনে মুসআব। তার পিতা গরু চরাতেন। তার বয়স যখন একশত সত্তর বছর হলো তখনও তিনি কোনো সন্তান লাভ করেননি। একদিন তিনি একটি গাভীকে দেখলেন যা একটি বাছুর প্রসব করেছে, তখন তিনি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন এবং ব্যথিত হলেন। তখন অদৃশ্য থেকে আওয়াজ এল: হে মুসআব! চিন্তিত হয়ো না, শীঘ্রই তোমার একটি দুর্ভাগা সন্তান জন্মাবে যে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
মুসআব ফিরে এসে তাঁর স্ত্রীর সাথে মিলিত হলেন, ফলে তিনি ফেরাউনকে গর্ভে ধারণ করলেন। ফেরাউনের জন্মের আগেই মুসআব মারা যান এবং তার মা তাকে জন্ম দেন ও লালন-পালন করেন। বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সে মিশরের অধিপতি হয় এবং সীমালঙ্ঘন ও অহংকার শুরু করে এবং নিজেকে রব হিসেবে দাবি করে। তখন আসিয়ার রূপ ও সৌন্দর্যের কথা তার কাছে পৌঁছাল। সে ইমরানের ভাই মুযাহিমের কাছে তাঁর বিয়ের পয়গাম পাঠাল এবং তার কাছে অনেক ধনসম্পদ পাঠাল এবং তাঁকে বিবাহ করল।
বলা হয়: আল্লাহ তাঁকে তার থেকে রক্ষা করেছিলেন। যখন সে তাঁর সাথে মিলিত হতে চাইত, তখন এক জিন আসিয়ার রূপ ধারণ করত এবং সে সেই জিনের সাথেই মিলিত হতো। আরও বলা হয়: যে জাদুকররা মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান এনেছিলেন তাদের সংখ্যা ছিল দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার দুইশত বাহান্ন জন এবং তারা ছিলেন জাদুকরদের নেতা। আদম আলাইহিস সালামের অবতরণের তিন হাজার আটশত আটাশ বছর পর ফেরাউন ডুবে মারা যায়। আর আসিয়ার মৃত্যু ফেরাউন ডুবে মরার অল্প কয়েক বছর আগে হয়েছিল, যা প্রায় দুই বছর বা তার কিছু বেশি। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ভালো জানেন।
"হুসনুস মুহাদারাহ ফি আখবারি মিসর ওয়াল কাহিরা" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: মিশরে প্রবেশকারী কয়েকজন মহিলার নবুওয়াতের কথা বলা হয়েছে: তাঁরা হলেন ইমরানের কন্যা মারইয়াম, খলীলের স্ত্রী সারা, মূসা আলাইহিস সালামের মাতা এবং ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া। আসিয়ার সাথে যারা ঈমান এনেছিলেন তাদের মধ্যে ফেরাউনের কন্যার কেশবিন্যাসকারিণীও ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٧)
أخرج الحاكم في "المستدرك" وصححه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لمْ يتكلَّمْ في المهدِ إلا عيسى، وشاهدُ يوسف، وصاحبْ جريح، وابن ماشطة ابنة فرعون". وروي عن ابن عباس رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم "لما كانت ليلة أسري بي أتيت على رائحة طيبة، فقلت: يا جبرائيل: ما هذه الرائحة الطيبة؟ قال: هذه رائحة ماشطة ابنة فرعون وأولادها، قلت: وما شأنها؟ قال: بينما هي تمشط ابنة فرعون، ذات يوم، إذ وقع المدرى من يدها، فقالت: بسم الله، فقالت لها ابنة فرعون: أوَ لكِ ربٌّ غيرُ أبي؟ قالت: لا، لكن ربي ورب أبيك الله تعالى. قال: فأخبرت أباها بذلك، فدعاها وقال لها: يا فلانة أو أن لك رباً غيري!؟ قالت: نعم ربي وربك الله. فأمر بنقرة من نحاس فأحميت ثم أمر أن تلقى بها هي وأولادها. فألقوا بين يديها واحداً واحداً إلى أن انتهى ذلك إلى صبي لها رضيع، فجيء به فتقاعست من أجله، فانطقه الله تعالى وقال: يا أمَّاه اقتحمي فإن عذاب الدنيا أهون من عذاب الآخرة، فاقتحمت فما تجده هو من رائحتها".
وذكر الرازي في تفسيره قال وهب: إن فرعون يوسف هو فرعون موسى وهذا غير صحيح إذ كان بين دخول يوسف عليه السلام مصر وموسى أكثر من أربعمائة سنة. وقال محمد بن إسحاق: هو غير فرعون يوسف، فإن فرعون يوسف اسمه الريان بن الوليد.
وذكر في كتاب "حسن المحاضرة": أن فرعون موسى أقام بالملك خمسمائة سنة حتى أغرقه الله،. وطان قبطياً واسمه طلما، وقيل: كان من العمالقة وكان يكنى بأبي مرة. وعن أبي بكر الصديق رضي الله عنه قال: كان فرعون موسى أثرم. وقيل: مكث فرعون أربعمائة سنة الشباب يغدو عليه ويروح، وقيل: مكث أربعمائة سنة لم يصدع له رأس، وكان يملك ما بين مصر إلى إفريقية، وعن ابن عباس رضي الله عنهما كان يقعد على كراسي فرعون مائتان عليهم الديباج وأساور الذهب.
وذكر فخر الدين الرازي في تفسيره: لما أراد الله غرق فرعون والقبط أمر موسى عليه السلام بني إسرائيل أن يستعيروا حلي القبط ليخرجوا خلفهم بطلب المال، ولتبقى أموالهم في أيدي بني إسرائيل، ثم نزل جبرائيل بالعشي فقال لموسى: أخرج قزمك ليلاً، وكانوا ستمائة ألف نفس. فلما خرج بهم، بلغ فرعون ذلك، فقال فرعون: لا تتبعوهم حتى يصيح الديك، وما صاح ليلته ديك. فلما أصبحوا، قال قتادة: اجتمع إليه ألف ألف ومائتا ألف نفس من القبط، كل واحد على فرس حصان. فتبعوهم نهاراً، وذلك قوله تعالى: (فأتبعوهمْ مُّشرقينَ) أي بعد طلوع الشمس (فلمَّا ترآءى الجمعانِ قالَ أصحابُ موسى إنَّا لمدركونَ، قال كلَاّ إنَّ معي ربِّي سيهدينِ) ، فلما سار بهم موسى وأتى البحر قال له يوشع عليه السلام أين أمرك ربك؟ فقال له: إلى أمامك، وأشار إلى البحر، فاقتحم يوشع البحر بنفسه فسبح به الفرس، ثم رجع وقال له: يا موسى أين أمرك ربك؟ فقال: البحر. ففعل ثلاث مرات فأوحى الله إلى موسى: (
… أنِ اضرب بعصاكَ البحرَ فانفلقَ
… ) الآية، فانشق البحر اثني عشر جبلاً في كل واحد الطريق، فقال له: ادخل. وهبت الصبا فجف البحر وصار كل طريق يابساً، وأخذ كل سبط منهم طريقاً، فقال لموسى: إن بعضنا لا يرى صاحبه، فضرب البحر بعصاه فصار بين الطرق منافذ وكوى يرى بعضهم بعضاً، ثم أتبعهم فرعون فرأى إبليس واقفاً ونهاه عن الدخول فهم بالرجوع فجاء جبرائيل على مهرة أمام فرعون، وكان فرعون على فحل فتبعه، ودخل فرعون البحر فصاح ميكائيل عليه السلام بهم: ألحقوا، آخركم بأولكم، فلما دخلوا البحر كلهم أمر الله البحر فنزل عليهم الماء، فذاك قوله تعالى: (
… وأغرقنا آل فرعونَ وانتمْ تنظرون) ذلك يوم عاشوراء فصام موسى شكراً لله تعالى.
আল-হাকিম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "দোলনায় থাকা অবস্থায় চারজন ব্যতীত কেউ কথা বলেনি: ঈসা, ইউসুফের সাক্ষী, জুরায়েজের সাথী এবং ফেরাউনের কন্যার ক্ষৌরকারিণীর পুত্র।" ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে রাতে আমাকে মেরাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আমি একটি চমৎকার সুগন্ধি পেলাম। আমি বললাম: হে জিবরাঈল! এই চমৎকার সুগন্ধি কিসের? তিনি বললেন: এটি ফেরাউনের কন্যার ক্ষৌরকারিণী এবং তার সন্তানদের সুগন্ধি। আমি বললাম: তার ব্যাপারটি কী ছিল? তিনি বললেন: একদিন সে যখন ফেরাউনের কন্যাকে চুল আঁচড়ে দিচ্ছিল, তখন তার হাত থেকে চিরুনিটি পড়ে গেল। তখন সে বলল: আল্লাহর নামে। ফেরাউনের কন্যা তাকে বলল: আমার বাবা ছাড়া কি তোমার কোনো রব আছে? সে বলল: না, বরং আমার রব এবং তোমার বাবার রব হলেন আল্লাহ তাআলা। জিবরাঈল বললেন: মেয়েটি তার বাবাকে সে বিষয়ে খবর দিল। তখন সে তাকে ডাকল এবং বলল: হে অমুক! আমার ছাড়া কি তোমার কোনো রব আছে? সে বলল: হ্যাঁ, আমার ও তোমার রব হলেন আল্লাহ। তখন সে একটি তামার ডেকচি আনার নির্দেশ দিল এবং তা উত্তপ্ত করা হলো। এরপর নির্দেশ দিল যেন তাকে ও তার সন্তানদের তাতে নিক্ষেপ করা হয়। তার চোখের সামনেই একে একে তাদের নিক্ষেপ করা হলো, শেষ পর্যন্ত তার এক দুগ্ধপোষ্য শিশুর পালা এল। শিশুটিকে যখন আনা হলো, তখন সে তার মায়ের প্রতি মমতার কারণে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হলো। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে কথা বলার শক্তি দিলেন এবং সে বলল: হে মা! ঝাপিয়ে পড়ুন, কেননা দুনিয়ার আজাব আখেরাতের আজাবের চেয়ে অনেক সহজ। তখন সে ঝাপিয়ে পড়ল। এখন যা পাওয়া যাচ্ছে তা তারই সুগন্ধি।"
রাযী তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন, ওয়াহাব বলেছেন: ইউসুফের ফেরাউন এবং মুসার ফেরাউন একই ব্যক্তি। তবে এটি সঠিক নয়, কারণ ইউসুফ (আ.)-এর মিশরে প্রবেশ এবং মুসা (আ.)-এর আবির্ভাবের মধ্যে চারশ বছরেরও বেশি সময়ের ব্যবধান ছিল। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেছেন: তিনি ইউসুফের ফেরাউন নন; কেননা ইউসুফের ফেরাউনের নাম ছিল রাইয়ান ইবনে ওয়ালীদ।
'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: মুসার ফেরাউন পাঁচশ বছর রাজত্ব করেছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে ডুবিয়ে মারেন। সে কিবতি ছিল এবং তার নাম ছিল তালমা। বলা হয়: সে আমালেক সম্প্রদায়ের ছিল এবং তার উপনাম ছিল আবু মুররাহ। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুসার ফেরাউন ছিল সামনের দাঁত ভাঙা। বলা হয়: ফেরাউন চারশ বছর যৌবন অবস্থায় কাটিয়েছিল যে অবস্থায় তার সকাল-সন্ধ্যা কাটত। আরও বলা হয়: চারশ বছর তার একবারও মাথাব্যথা হয়নি। সে মিশর থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত রাজত্ব করত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ফেরাউনের সিংহাসনের চারপাশে দুইশ জন লোক বসত যাদের পরনে থাকত রেশমি বস্ত্র এবং স্বর্ণের কঙ্কন।
ফখরুদ্দিন রাযী তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন: আল্লাহ যখন ফেরাউন ও কিবতিদের ডুবিয়ে মারার ইচ্ছা করলেন, তখন মুসা (আ.)-কে নির্দেশ দিলেন যেন বনী ইসরাইলরা কিবতিদের থেকে অলঙ্কার ধার করে নেয়, যাতে তারা সম্পদ নিয়ে বের হতে পারে এবং তাদের সম্পদ যেন বনী ইসরাইলদের হাতে থাকে। এরপর জিবরাঈল সন্ধ্যায় অবতরণ করে মুসাকে বললেন: আপনার লোকদের নিয়ে রাতে বেরিয়ে পড়ুন। তারা সংখ্যায় ছিল ছয় লক্ষ। তারা যখন তাদের নিয়ে বের হলেন, ফেরাউন তা জানতে পেরে বলল: মোরগ ডাকা পর্যন্ত তাদের অনুসরণ কোরো না। অথচ সেদিন রাতে কোনো মোরগ ডাকেনি। যখন ভোর হলো, কাতাদাহ বলেন: কিবতিদের মধ্য থেকে বারো লক্ষ লোক সমবেত হলো, যাদের প্রত্যেকেই ঘোড়ার ওপর সওয়ার ছিল। তারা দিনের বেলা তাদের অনুসরণ করল। আর এটিই আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল) অর্থাৎ সূর্য ওঠার পর। (যখন উভয় দল একে অপরকে দেখল, মুসার সাথীরা বলল: আমরা তো ধরা পড়ে যাচ্ছি। তিনি বললেন: কখনই নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার রব আছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন)। মুসা যখন তাদের নিয়ে চললেন এবং সমুদ্রের কিনারে পৌঁছালেন, ইউশা (আ.) তাকে বললেন: আপনার রব আপনাকে কোথায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: সামনের দিকে, এবং সমুদ্রের দিকে ইশারা করলেন। তখন ইউশা নিজেই সমুদ্রে ঝাপিয়ে পড়লেন এবং ঘোড়া নিয়ে সাঁতরাতে লাগলেন। এরপর ফিরে এসে বললেন: হে মুসা! আপনার রব আপনাকে কোথায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: সমুদ্র। তিনি তিনবার এমনটি করলেন। অতঃপর আল্লাহ মুসার প্রতি ওহি পাঠালেন: (...তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো, ফলে তা বিভক্ত হয়ে গেল...) আয়াত শেষ পর্যন্ত। সমুদ্র বারোটি পাহাড়ের মতো খণ্ডে বিভক্ত হয়ে গেল এবং প্রত্যেকটির মাঝে পথ তৈরি হলো। তিনি বললেন: প্রবেশ করো। তখন পুবালি বাতাস বইল এবং সমুদ্র শুকিয়ে গেল, ফলে প্রতিটি পথ শুষ্ক হয়ে গেল। প্রতিটি গোত্র এক একটি পথ ধরল। তারা মুসাকে বলল: আমাদের কেউ তার সাথীকে দেখতে পাচ্ছে না। তখন তিনি সমুদ্রকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন, ফলে পথগুলোর মাঝে গবাক্ষ ও জানালা তৈরি হলো যাতে তারা একে অপরকে দেখতে পায়। এরপর ফেরাউন তাদের অনুসরণ করল। সে ইবলিসকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকে প্রবেশ করতে নিষেধ করল এবং সে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবল। তখন জিবরাঈল ফেরাউনের সামনে একটি ঘোটকীতে চড়ে এলেন। ফেরাউন একটি পুরুষ ঘোড়ার ওপর ছিল এবং সে তার অনুসরণ করল। ফেরাউন যখন সমুদ্রে প্রবেশ করল, মিকাইল (আ.) উচ্চস্বরে বললেন: তোমাদের শেষ জন যেন প্রথম জনের সাথে মিলিত হয়। তারা যখন সবাই সমুদ্রে প্রবেশ করল, আল্লাহ সমুদ্রকে নির্দেশ দিলেন এবং পানি তাদের ওপর নেমে এল। আর এটিই আল্লাহর বাণী: (...এবং আমরা ফেরাউনের অনুসারীদের ডুবিয়ে দিলাম এমতাবস্থায় যে তোমরা তা দেখছিলে)। সেটি ছিল আশুরার দিন, তাই মুসা (আ.) আল্লাহর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোজা পালন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٨)
وذكر في "الكشاف" قوله تعالى (فأرسلَ فرعونُ في المدآئنِ حاشرينَ) قيل: إنه مات في تلك الليلة في كل بيت من بيوتهم ولد فاشتغلوا بموتاهم حتى خرج موسى بقومه، وروي أن الله أوحى لموسى، أن اجمع بني إسرائيل كل أربعة أبيات في بيت ثم يذبحوا جديا، واضربوا بدمها على أبوابكم فغني سآمر الملائكة أن لا يدخلوا بيتاً على بابه دم، وسآمرهم بقتل أبكار القبط، واخبزوا خبزاً فطيراً؛ فإنه أسرع لكم، ثم أسر بعبادي وقيل: إن بني إسرائيل لما خرجوا من البحر قالوا لموسى عليه السلام وذلك قوله تعالى: (
… اجعلْ لنا إلهاً كما لهم آلهةٌ
… ) وقصتهم مشهورة، ومن الجد المفحم قيل: إن رجلاً من اليهود قال يوماً لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه: ما دفنتم نبيكم حتى قالت الأنصار: منا أمير ومنكم أمير، فقال له علي بن أبي طالب رضي الله عنه: انتم ما جفت أقدامكم من ماء البحر حتى قلتك لموسى (اجعلَ لنا إلهاَ كما لهمْ آلهةٌ) ، انتهى والله أعلم.
[7]زليخا زوجة يوسف عليه السلامكان اسمها راعيل، وكان اسم زوجها الأول قطفير، وكان على خزانة الريان ابن الوليد صاحب مصر، وهو الذي اشترى يوسف عليه السلام من القافلة التي أخرجته من الجب، وجعله قطفير مثل ولده، ولم يكن له ولد، فأحبته زوجته.
ومما قيل في كتاب "معالم التنزيل" للإمام البغوي رحمه الله تعالى أ. هـ?، في تفسير قوله تعالى: (ولقد هممت به وهم بها
… ) . وقال ابن زيد: كان لملك مصر خزائن كثيرة، فسلمها ليوسف عليه السلام ومات قطفير ثم تزوج يوسف زليخا، ولما دخل عليها قال لها: أليس هذا خيراً مما كنت تريدين؟ فقالت له: أيها الصديق لا تلمني، فغني كنت امرأة حسناء وناعمة كما ترى في ملك ودنيا، وكان صاحبي لا يأتي النساء، وكنت كما جعلك الله في حسنك وهيئتك فغلبتني نفسي، ولما دخل عليها يوسف عليه السلام وجدها عذراء فأصابها، فولدت له غلامين في بطنين أحدهما إفرائيم والآخر ميشا.
وذكر في كتاب "كشف الأسرار" ما معنى قوله تعالى: (ولقد همَّتْ بهِ وهمَّ بها) قيل: همت به حراماً وهم بها حلالاً، وهمت به سفاحاً وهم بها نكاحاً، وقيل: همت به بالمضاجعة وهم بها بالمدافعة، وفيل: همت به شهوة وهم بها موعظة.
وذكر في "شرح الجوهرة": الفرق بين الهم والعزم، ويعرف أنه لا مؤاخذة على يوسف لأنه لم يقع منه إلا الأول لا الثاني. كذا قيل. والتحقيق أنه لم يقع منه عليه السلام ولا غيرها. والآية عند أبي حاتم وغيره محمولة على الحذف والتقديم والتأخير والتقدير: (
… لولا أن رأى برهان ربه
… ) أي لولا رؤية البرهان لهم بها، ولكنه لم يهم لأنه رآه.
وذكر في "تأريخ ابن الوردي": أن مالك بن دعر اشترى يوسف عليه السلام من إخوته بثمن بخس، قيل: عشرون درهماً، وقيل: أربعون، وذكروا: أنه عبدهم وقد أبق فخافهم يوسف عليه السلام ولم يذكر خاله لهم فسار به مالك إلى مصر وباعه إلى العزيز على خزائن الريان، فأحضره إلى زوجته زليخة ولم يكن لهما ولد فقال لزليخا: (
… أكرمي مثواهُ
… ) الآية.
فهوته زليخا وكتمت حبه ثم أظهرته وراودته عن نفسه فامتنع وهرب فلحقته وقبضته من قميصه فانقد، وألفيا سيدها لدى الباب. فلما رأته زليخا لطمت على وجهها وقالت: إن هذا يوسف قد راودني عن نفسي فأنكر يوسف، فهم العزيز بقتله وكان عنده طفل ابن شهرين، وهو ابن داية زليخا، فقال للعزيز لا تعجل (
… إن كان قميصه قد من قبل فصدقت وهو من الكاذبين، وإن كان قميصه قد من دبر فكذبت وهو من الصادقين) . فنظر العزيز فإذا القميص قد من دبر، فظهرت براءة يوسف.
وبلغ زليخا أن نسوة من نساء الأكابر قد عبنها على فعلها، فأرسلت إليهن، وأحضرتهن وأعطت كل واحدة منهن سكيناً وأترجةً، وزينت يوسف وأخرجته عليهن، فلما رأينه دهشن به وهن يقطعن الأترج، فقطعن أيديهن، وتلوثت بالدماء ولم يشعرن، فقالت زليخا لهن (
… فذلكنَّ الذي لمتنني فيهِ
… ) وقيل: إن النساء خلون في يوسف ليعذلنه في زليخا فراودته كل واحدة منهن عن نفسها، فأبى ثم انصرفن، وما زالت زليخا تشكو يوسف إلى زوجها وتقول: إنه يقول للناس إني راودته عن نفسي، وقد فضحني بين الناس. فحبسه العزيز.
"আল-কাশশাফ"-এ আল্লাহ তাআলার এই বাণীর (অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারীদের পাঠাল) ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে: বলা হয় যে, সেই রাতে তাদের প্রত্যেকটি ঘরে একজন করে সন্তান মারা গিয়েছিল, ফলে তারা তাদের মৃতদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং সেই সুযোগে মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর কওমকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে ওহী পাঠিয়েছিলেন যে, তুমি বনী ইসরাঈলের প্রতি চারটি পরিবারকে এক একটি ঘরে একত্রিত করো, তারপর একটি ছাগল জবাই করো এবং সেটির রক্ত তোমাদের দরজায় মাখিয়ে দাও; কেননা আমি ফেরেশতাদের নির্দেশ দেব যেন তারা সেই ঘরে প্রবেশ না করে যার দরজায় রক্ত আছে। আর আমি তাদের কিবতীদের (মিসরীয়দের) প্রথমজাত সন্তানদের হত্যার নির্দেশ দেব। আর তোমরা খামিরহীন রুটি তৈরি করো, কারণ এটি তোমাদের জন্য দ্রুত হবে। তারপর আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের আঁধারে বেরিয়ে পড়ো। বলা হয় যে, বনী ইসরাঈল যখন সমুদ্র পার হলো, তখন তারা মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিল—যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: (
... আমাদের জন্য একটি ইলাহ বানিয়ে দিন যেমন তাদের অনেক ইলাহ রয়েছে
... ) এবং তাদের এই ঘটনাটি সুপ্রসিদ্ধ। একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও অকাট্য জবাবের কথা বর্ণিত আছে: এক ইহুদী ব্যক্তি একদিন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলল, ‘তোমরা তোমাদের নবীকে দাফনও করতে পারোনি, তার আগেই আনসাররা বলতে শুরু করল: আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির হবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির হবে।’ তখন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, ‘তোমাদের পা সমুদ্রের পানি থেকে শুকানোর আগেই তোমরা মূসাকে বলেছিলে (আমাদের জন্য একটি ইলাহ বানিয়ে দিন যেমন তাদের অনেক ইলাহ রয়েছে)।’ সমাপ্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।
[৭]ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রী জুলাইখাতার নাম ছিল রাঈল এবং তার প্রথম স্বামীর নাম ছিল কিতফীর। সে মিসরের অধিপতি রাইয়ান ইবনুল ওয়ালীদ-এর কোষাগারের দায়িত্বে ছিল। সেই ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে ঐ কাফেলা থেকে ক্রয় করেছিল যারা তাঁকে কূয়া থেকে উদ্ধার করেছিল। কিতফীর ইউসুফকে নিজের সন্তানের মতো করে রেখেছিল; তার কোনো সন্তান ছিল না। পরবর্তীতে তার স্ত্রী ইউসুফের প্রেমে পড়ে যায়।
ইমাম বাগাভী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'মাআলিমুত তানজিল' কিতাবে আল্লাহ তাআলার বাণী (অবশ্যই সে তার সংকল্প করেছিল এবং সেও তার সংকল্প করত ...) এর ব্যাখ্যায় যা বলা হয়েছে তা হলো: ইবনে জায়েদ বলেন, মিসরের বাদশাহর অনেক ধনভাণ্ডার ছিল, তিনি সেগুলো ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর হাতে তুলে দেন। কিতফীর মারা যাওয়ার পর ইউসুফ জুলাইখাকে বিবাহ করেন। যখন তিনি তার কাছে গেলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: "এটি কি তার চেয়ে উত্তম নয় যা তুমি চেয়েছিলে?" সে বলল: "হে সত্যবাদী, আমাকে ভর্ৎসনা করবেন না। আমি একজন সুন্দরী এবং সুখে থাকা নারী ছিলাম যেমনটি আপনি রাজত্ব ও পার্থিব প্রাচুর্যের মধ্যে দেখছেন, আর আমার স্বামী নারীদের সংস্পর্শে আসতেন না। এদিকে আল্লাহ আপনাকে যে রূপ ও অবয়ব দান করেছেন, তাতে আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম।" ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) যখন তার কাছে গেলেন, তখন তাকে কুমারী হিসেবে পেলেন এবং তার সাথে মিলিত হলেন। ফলে তার গর্ভে দুই পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, যাদের একজনের নাম ইফরাঈম এবং অন্যজনের নাম মীশা।
'কাশফুল আসরার' কিতাবে আল্লাহ তাআলার বাণী (অবশ্যই সে তার সংকল্প করেছিল এবং সেও তার সংকল্প করত)-এর অর্থ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে: বলা হয়, জুলাইখা হারামের সংকল্প করেছিল আর ইউসুফ হালালের সংকল্প করেছিলেন; সে ব্যভিচারের সংকল্প করেছিল আর তিনি বিবাহের সংকল্প করেছিলেন। আবার বলা হয়: সে শয্যাগ্রহণের সংকল্প করেছিল আর তিনি তা প্রতিহত করার সংকল্প করেছিলেন। আরও বলা হয়: সে কুপ্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে সংকল্প করেছিল আর তিনি উপদেশের সংকল্প করেছিলেন।
'শারহুল জাওহারা'-তে উল্লেখ করা হয়েছে: 'হাম' (প্রাথমিক চিন্তা) এবং 'আযম' (দৃঢ় সংকল্প)-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এর মাধ্যমে জানা যায় যে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর কোনো দায় নেই, কারণ তাঁর পক্ষ থেকে কেবল প্রথমটি ঘটেছিল, দ্বিতীয়টি নয়। এমনটিই বলা হয়েছে। তবে প্রকৃত সত্য হলো, তাঁর বা অন্য নবীদের থেকে এ জাতীয় কোনো অপরাধ ঘটেনি। আবু হাতেম ও অন্যান্যদের মতে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় শব্দ উহ্য রয়েছে এবং আগে-পিছে বিন্যাস (তাকদীম ও তাখীর) রয়েছে। এর প্রকৃত অর্থ হবে: (
... যদি না তিনি তাঁর রবের নিদর্শন দেখতেন
... ); অর্থাৎ যদি তিনি নিদর্শন না দেখতেন তবে তিনি সংকল্প করতেন, কিন্তু তিনি নিদর্শন দেখেছিলেন বলে কোনো সংকল্পই করেননি।
'তারিখে ইবনুল ওয়ারদী'-তে উল্লেখ করা হয়েছে: মালেক ইবনে দো'র ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর ভাইদের কাছ থেকে নগণ্য মূল্যে ক্রয় করেছিল। কেউ বলেছেন বিশ দিরহাম, কেউ বলেছেন চল্লিশ দিরহাম। তারা বলেছিল যে তিনি তাদের গোলাম এবং পালিয়ে এসেছেন। ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) তাদের ভয় পেয়েছিলেন এবং তাদের কাছে তাঁর মামার কথা উল্লেখ করেননি। মালেক তাঁকে নিয়ে মিসরে চলে যায় এবং রাইয়ানের কোষাগারের দায়িত্বশীল আযীযের কাছে তাঁকে বিক্রি করে দেয়। আযীয তাঁকে তাঁর স্ত্রী জুলাইখার কাছে নিয়ে আসেন। তাদের কোনো সন্তান ছিল না, তাই তিনি জুলাইখাকে বলেছিলেন: (
... তার থাকার জায়গাকে মর্যাদাপূর্ণ করো
... )—আয়াত।
জুলাইখা তাঁর প্রেমে পড়ে যায় এবং সেই প্রেম গোপন রাখে। পরে সে তা প্রকাশ করে এবং কুপ্রস্তাব দেয়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং দৌড়ে পালিয়ে যেতে চান। সে পেছন থেকে তাঁকে ধরে ফেলে এবং তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়। তারা দরজার কাছে তার স্বামীকে দেখতে পায়। যখন জুলাইখা তাকে দেখল, তখন সে নিজের গালে চড় মারল এবং বলল: "এই ইউসুফ আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছে।" ইউসুফ তা অস্বীকার করলেন। আযীয তাঁকে হত্যার সংকল্প করলে সেখানে উপস্থিত একটি দুই মাস বয়সী শিশু—যে জুলাইখার ধাত্রীর পুত্র ছিল—সে আযীযকে বলল: "তাড়াহুড়ো করবেন না। (
... যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছেঁড়া হয় তবে নারী সত্য বলেছে এবং সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি তার জামা পেছনের দিক থেকে ছেঁড়া হয় তবে নারী মিথ্যা বলেছে এবং সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত)।" আযীয তাকিয়ে দেখলেন যে জামা পেছনের দিক থেকে ছেঁড়া, ফলে ইউসুফের নির্দোষিতা প্রমাণিত হলো।
জুলাইখা যখন জানতে পারল যে সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলারা তার এই কাজের নিন্দা করছে, তখন সে তাদের কাছে খবর পাঠাল এবং তাদের উপস্থিত করল। সে তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে ছুরি ও একটি করে লেবু দিল। সে ইউসুফকে সুসজ্জিত করে তাদের সামনে বের করে আনল। যখন তারা তাঁকে দেখল, তখন তারা মোহিত হয়ে গেল এবং লেবু কাটার সময় নিজেদের হাত কেটে ফেলল। রক্ত ঝরতে থাকলেও তারা তা টের পায়নি। তখন জুলাইখা তাদের বলল: (
... এই সেই ব্যক্তি যার ব্যাপারে তোমরা আমার নিন্দা করছিলে
... )। বলা হয় যে, মহিলারা ইউসুফের সাথে একান্তে মিলিত হয়ে তাঁকে জুলাইখার ব্যাপারে উপদেশ দিতে চাইল, কিন্তু তারা প্রত্যেকেই তাঁকে নিজের জন্য কুপ্রস্তাব দিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তারা চলে গেল। জুলাইখা ক্রমাগত তার স্বামীর কাছে ইউসুফের নামে অভিযোগ করতে লাগল এবং বলতে লাগল: "সে মানুষের কাছে বলে বেড়াচ্ছে যে আমি নাকি তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছি, সে মানুষের কাছে আমাকে অপদস্থ করেছে।" ফলে আযীয তাঁকে কারারুদ্ধ করল।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٩)
ثم إن فرعون مصر الريان غضب على الساقي والخباز فحبسهما عند يوسف. فرأى كل منهما رؤيا وقصها على يوسف، وقد اقترحاهما ليختبرا يوسف، فعبر لهما يوسف كما قال الله تعالى في القرآن: (ودخلَ معهُ السِّجنَ فتيانِ قالض أحدهما إنِّي أراني
… ) فلما عبرهما لهما، فقالا له: عجباً منك تعبر لنا رؤيتين كاذبتين! فقال يوسف قوله تعالى: (
… قضي الأمر الذي فيه تستفتيان) وبعد ثلاثة أيام رضي فرعون عن الساقي وأعاده، وصلب الخباز، ولبث يوسف في السجن بضع سنين، يعني سبع سنين، وقيل اثني عشر سنة بعدد الحروف التي قالها الساقي وهي قوله تعالى: (
… اذكرني عند ربك
… 9 ثم إن الريان رأى الرؤيا فتذكر الساقي يوسف فوصفه للريان فأرسل إليه فعبرها له، ثم أحضره وأعجبه حسنه فاصطفاه لنفسه.
ومات العزيز فجعل الريان يوسف مكانه، فأحسن يوسف عليه السلام السياسة، وجمع الأقوات في تلك السبع سنين، فلما جاءت أيام القحط إلى أرض كنعان، وباعت زليخا جميع ضياعها وصرفت جميع مالها وافتقرت، فجاءت تستطعم يوسف فعرفها، فردها إلى نزلها ورد عليها ضياعها وأموالها وأملاكها وأرسل إليها طعاماً كثيراً، ثم استأذن ربه في زواجها فأذن له فتزوجها يوسف ورد الله عليها حسنها وجمالها، ودخل عليها فوجدها عذراء، وولد منها ولدين، إفرائيم وميشا.
وذكر الرازي في تفسيره: قال وهب: إن فرعون يوسف هو فرعون موسى، وهذا غير صحيح، إذ كان بين دخول يوسف مصر وموسى أكثر من أربعمائة، وقال محمد بن إسحاق: هو غير فرعون موسى عليه السلام فإن فرعون يوسف اسمه الريان بن الوليد.
وذكر في كتاب "تاريخ الأنبياء والدول": قال ابن عبد الحكيم: اشتد الجوع بمصر فاشترى يوسف من أهل مصر الفضة والذهب بالطعام، ثم اشتروا بأغنامهم ومواشيهم حتى لم يبق لهم شيء في سنتين، وفي السنة الثالثة اشترى أرضهم كلها لفرعون.
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: فوض الريان إلى يوسف تدبير الملك وهو ابن ثلاثين سنة، وقيل: أوحى الله إلى يوسف في الصغر كما أوحى إلى يحيى عليه السلام وألقي في الجب، وعمره سبع عشرة سنة، واجتمع مع أبيه وأمه وأخوته بعد انقضاء خمس عشرة سنة، وذلك سنة ثلاثة آلاف وستمائة وثلاث عشرة سنة من هبوط آدم عليه السلام وتوفيت زليخا في حياة يوسف عليه السلام ودفنت في مصر، ثم توفي يوسف ودفن في مصر نحو ثلاثمائة سنة، ثم حمل إلى بيت المقدس، وعاش مائة وعشرين سنة.
وقيل: إن يوسف عليه السلام لما ألقي في الحب دعا بهذا الدعاء وهو قوله: يا عدتي في شدتي، ويا مؤنسي في وحشتي، ويا راحم عبرتي، ويا كاشف كربتي، ويا مجيب دعوتي، ويا إلهي ويا إله آبائي: إبراهيم وإسحاق ويعقوب ارحم صغر سني وضعف ركني وقلة حيلتي يا حي يا قيوم يا ذا الجلال والإكرام.
وذكر في "كشف الأسرار" قوله: لم قطعن أيديهن ولم تقطع زليخا يديها؟ قيل: لأن يوسف كان في منزلها، ولم تخف الفراق، وهن قطعن أيديهن للفراق، وقيل: لأنهن كن يغبن زليخا، وللبغي مصرع ويقال قطعن أيديهن لدهشتهن، والمدهوش لا يدرك وما يعقل.
وقال الكرماني في "العجائب" في قوله تعالى: (نحنُ نقصُّ عليكَ أحسنَ القصصِ) قيل: هي قصة يوسف لاشتمالها على حاسد ومحسود، ومالك ومملوك، وشاهد ومشهود، وعاشق ومعشوق، وحبس وإطلاق، وسجن وخلاص، وخصب وجدب وغيرها.
وقال في "خلاصة الإتقان": وقد صحح الحاكم النهي عن التعليم سورة يوسف للنساء، وعن الحسن: أن يوسف عليه السلام ألقي في الجب وهو ابن اثنتي عشرة سنة، ولقي أباه بعد الثمانين، وتوفي وله مائة وعشرون سنة، والله أعلم.
[8]رحمةبنت أفرائيم بن يوسف عليه السلام بن يعقوب عليه السلام بن إبراهيم الخليل عليه السلام وهي زوجة أيوب عليه السلام بن موهب بن تاريخ بن روم بن العيص بن إسحاق عليه السلام بن إبراهيم الخليل عليه السلام وأم أيوب عليه السلام بنت لوط عليه السلام. وتزوج أيوب عليه السلام رحمة وله حشمة وأموال وبغل وبقر وغنم وخيل وبغال وحمير، وله خمسمائة فدان يتبعها خمسمائة عبد لكل عبد امرأة ولد. وبعثه الله رسولاً لما بلغ من العمر أربعين سنة إلى أهل البثنية من الجولان من بلاد دمشق والجابية.
অতঃপর মিসরের ফেরাউন রায়্যান পানপাত্রবাহক এবং রুটিপ্রস্তুতকারকের ওপর রাগান্বিত হলো এবং তাদেরকে ইউসুফের নিকট কারারুদ্ধ করল। তারা উভয়েই একটি করে স্বপ্ন দেখল এবং ইউসুফের কাছে তা বর্ণনা করল। তারা ইউসুফকে পরীক্ষা করার জন্য সেই প্রস্তাব দিয়েছিল। ইউসুফ তাদের স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে দিলেন যেমনটি আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন: (এবং তার সাথে কারাগারে প্রবেশ করল দুই যুবক, তাদের একজন বলল আমি নিজেকে দেখছি
… ) যখন তিনি তাদের স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলেন, তারা তাকে বলল: তোমার জন্য বিস্ময়! তুমি আমাদের জন্য দুটি মিথ্যা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলে। তখন ইউসুফ আল্লাহ তাআলার এই কথাটি বললেন: (
… যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছিলে তা ফয়সালা হয়ে গেছে)। তিন দিন পর ফেরাউন পানপাত্রবাহকের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে পুনর্বহাল করল এবং রুটিপ্রস্তুতকারককে শূলে চড়ালো। ইউসুফ কারাগারে কয়েক বছর অর্থাৎ সাত বছর অবস্থান করলেন। কারো মতে বারো বছর ছিল, সেই অক্ষরগুলোর সংখ্যা অনুযায়ী যা পানপাত্রবাহক বলেছিল, আর তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (
… তোমার রবের কাছে আমার কথা স্মরণ করো
… )। অতঃপর রায়্যান একটি স্বপ্ন দেখল, তখন পানপাত্রবাহকের ইউসুফের কথা মনে পড়ল এবং সে রায়্যানের কাছে তাঁর বর্ণনা দিল। রায়্যান তাঁর কাছে লোক পাঠালো এবং তিনি তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে দিলেন। তারপর তাকে উপস্থিত করা হলো এবং রায়্যান তাঁর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করে নিল।
আজীজ (মিসর) মারা গেল এবং রায়্যান ইউসুফকে তার স্থলাভিষিক্ত করল। ইউসুফ আলাইহিস সালাম উত্তমভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেন এবং সেই সাত বছরে খাদ্যশস্য জমা করলেন। যখন কেনান ভূখণ্ডে দুর্ভিক্ষের দিনগুলো এল, তখন জুলাইখা তার সমস্ত ভূসম্পত্তি বিক্রি করে দিল, তার সমস্ত অর্থ ব্যয় করল এবং নিঃস্ব হয়ে পড়ল। সে ইউসুফের কাছে খাবার চাইতে এল, তখন তিনি তাকে চিনতে পারলেন। তিনি তাকে তার আবাসে ফিরিয়ে দিলেন এবং তার ভূসম্পত্তি, অর্থ ও মালিকানা তাকে ফিরিয়ে দিলেন এবং তার কাছে প্রচুর খাবার পাঠালেন। এরপর তিনি তার রবের কাছে জুলাইখাকে বিবাহের অনুমতি চাইলেন। আল্লাহ তাকে অনুমতি দিলেন এবং ইউসুফ তাকে বিবাহ করলেন। আল্লাহ তার সৌন্দর্য ও রূপ ফিরিয়ে দিলেন। তিনি যখন তার কাছে গেলেন, তখন তাকে কুমারী হিসেবে পেলেন এবং তার গর্ভে ইফরাইম ও মিশা নামে দুই পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করল।
রাযী তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন: ওয়াহাব বলেছেন যে, ইউসুফের ফেরাউনই হলো মূসার ফেরাউন। কিন্তু এটি সঠিক নয়, কারণ ইউসুফের মিসরে প্রবেশ এবং মূসার সময়ের মাঝে চারশ বছরেরও বেশি ব্যবধান ছিল। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেছেন: সে মূসা আলাইহিস সালামের ফেরাউন থেকে ভিন্ন ছিল, কেননা ইউসুফের ফেরাউনের নাম ছিল রায়্যান ইবনে ওয়ালিদ।
'তারিখুল আম্বিয়া ওয়াদ দুওয়াল' কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে: ইবনে আবদিল হাকিম বলেছেন: মিসরে দুর্ভিক্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে ইউসুফ মিসরীয়দের কাছ থেকে খাবারের বিনিময়ে সোনা ও রূপা কিনে নিলেন। এরপর তারা তাদের ছাগল ও গবাদি পশুর বিনিময়ে খাবার কিনল, এভাবে দুই বছরের মধ্যে তাদের কাছে আর কিছু অবশিষ্ট রইল না। তৃতীয় বছরে তিনি ফেরাউনের জন্য তাদের সমস্ত জমি কিনে নিলেন।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রায়্যান ইউসুফের হাতে রাজ্য পরিচালনার ভার অর্পণ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর। বলা হয়ে থাকে: আল্লাহ তাআলা ইউসুফকে শৈশবেই ওহী দান করেছিলেন যেমনটি ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামকে দান করেছিলেন। তাঁকে যখন কূপে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল সতেরো বছর। পনেরো বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি তাঁর পিতা, মাতা ও ভাইদের সাথে মিলিত হন। আর এটি ছিল আদম আলাইহিস সালামের পৃথিবীতে আগমনের তিন হাজার ছয়শ তেরো বছর পরের ঘটনা। জুলাইখা ইউসুফ আলাইহিস সালামের জীবদ্দশায় মারা যান এবং মিসরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এরপর ইউসুফ ইন্তেকাল করেন এবং প্রায় তিনশ বছর মিসরে সমাহিত থাকেন। এরপর তাঁকে বাইতুল মুকাদ্দাসে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি একশ বিশ বছর জীবিত ছিলেন।
বলা হয়ে থাকে: ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যখন কূপে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তিনি এই দুআটি করেছিলেন: হে আমার সংকটের সময়ের আশ্রয়, হে আমার একাকীত্বের সঙ্গী, হে আমার অশ্রুর প্রতি দয়াকারী, হে আমার বিপদ মোচনকারী, হে আমার দুআর কবুলকারী, হে আমার ইলাহ এবং আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ইলাহ; আমার অল্প বয়সের প্রতি দয়া করুন, আমার দুর্বলতার প্রতি এবং আমার অসহায়ত্বের প্রতি দয়া করুন, হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।
'কাশফুল আসরার' কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে: কেন সেই মহিলারা তাদের হাত কাটল অথচ জুলাইখা তার হাত কাটেনি? বলা হয়েছে: কারণ ইউসুফ তার বাড়িতেই ছিলেন এবং তিনি বিচ্ছেদের ভয় পাননি, কিন্তু মহিলারা বিচ্ছেদের কারণে তাদের হাত কেটে ফেলেছিল। বলা হয়েছে: কারণ তারা জুলাইখাকে কষ্ট দিচ্ছিল, আর সীমালঙ্ঘনের পরিণাম পতন। আরও বলা হয় যে, তারা তাদের বিমুগ্ধতার কারণে হাত কেটে ফেলেছিল, আর যে ব্যক্তি বিমুগ্ধ বা হতবিহ্বল হয়ে পড়ে সে কিছু অনুভব করতে পারে না এবং কিছু বুঝতে পারে না।
কিরমানী 'আল-আজায়িব' কিতাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: (আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি) এর ব্যাখ্যায় বলেন: এটি ইউসুফের কাহিনী কারণ এতে হিংসুক ও হিংসার পাত্র, মালিক ও মালিকানাধীন, সাক্ষী ও যার জন্য সাক্ষ্য দেওয়া হয়, আশিক ও মাশুক, বন্দিত্ব ও মুক্তি, কারাগার ও খালাস, প্রাচুর্য ও দুর্ভিক্ষ এবং অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
'খুলাসাতুল ইতকান' কিতাবে বলা হয়েছে: হাকেম মহিলাদেরকে সূরা ইউসুফ শিক্ষা দিতে নিষেধ করার বিষয়টিকে সহীহ বলেছেন। হাসান থেকে বর্ণিত: ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যখন কূপে নিক্ষেপ করা হয় তখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর। আশি বছর পর তিনি তাঁর পিতার সাক্ষাৎ পান। তিনি একশ বিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
[৮]রহমাহতিনি ইউসুফ আলাইহিস সালামের পুত্র ইফরাইমের কন্যা, যিনি ইয়াকুব আলাইহিস সালামের পুত্র এবং ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের বংশধর। তিনি আইয়ুব আলাইহিস সালামের স্ত্রী। আইয়ুব ইবনে মাওহাব ইবনে তারিখ ইবনে রুম ইবনে ঈস ইবনে ইসহাক আলাইহিস সালাম ইবনে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম। আইয়ুব আলাইহিস সালামের মা ছিলেন লুত আলাইহিস সালামের কন্যা। আইয়ুব আলাইহিস সালাম রহমাহকে বিবাহ করেন এবং তাঁর অনেক প্রভাব-প্রতিপত্তি, ধন-সম্পদ, খচ্চর, গরু, ছাগল, ঘোড়া ও গাধা ছিল। তাঁর পাঁচশ ফাদান জমি ছিল, যার দেখাশোনায় পাঁচশ গোলাম নিযুক্ত ছিল এবং প্রত্যেক গোলামের স্ত্রী ও সন্তান ছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সে দামেস্কের জুলাম অঞ্চলের বাষানিয়া ও জাবিয়া অধিবাসীদের কাছে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وذكر في "الجامع" قوله تعالى: (وأيُّوبَ إذْ نادى ربَّهُ أنِّي مسَّنيَ الضُّرُّ وأنتَ أرحمُ الرَّاحمينَ) وكان نبياً مرسلاً صاحب أنعام وحرث وأولاد، فابتلاه الله بذهاب كلها، وهلاكها، ثم ابتلاه بجسده فلم يبق منه سليم سوى قلبه ولسانه يذكر بهما ربه ويقال: إنها احتاجت فصارت تخدم الناس من اجله، وقوله تعالى: (فاستجبنا لهُ فكشفنا ما بهِ منْ ضرٍّ وآتيناهُ أهلهُ ومثلهمْ معهمْ) بإحياء من مات من أولاده، أو أعطاه مثلهم من أولاده، قيل: إنه قيل له: إن أهلك في الجنة إن شئت أتيناك بهم وإن شئت تركناهم لك فيها، وعوضناك مثلهم في الدنيا، فاختار الثانية.
وذكر في كتاب "كشف الأسرار": لما قصدت رحمة زوجة أيوب أن تقطع ذوائبها فعرف أيوب ذلك، حلف غضباً لله تعالى لان امرأته كانت محرمة وطلبت قطع ذوائبها، فأبى وحلف، ولذلك لما عوفي قا [ل] له تعالى: (وخذْ بيدكَ ضغثاً فاضربْ بهِ ولَا تحنثْ
… ) ثم أمطر الله عليه جراراَ من ذهب، وذلك عوضاً عن البلاء الذي أصاب جسمه، ولم يسلم سوى لسانه وقلبه.
وذكر في "المدارك" في تفسير قوله تعالى: (
… وآتيناه أهله ومثلهم معهم
… ) وروي، أن أيوب عليه السلام وكان له من البنين سبعون، ومن البنات سبعة، وله ثلاث آلاف بعير، وسبعة آلاف شاة، وخمسمائة عبد لكل عبد امرأة وولد، فابتلاه الله بذهاب أولاده وماله، وتمرض في بدنه ثماني عشرة سنة، أو ثلاث عشرة سنة، أو ثلاث سنين، فقالت له امرأته رحمة يوماً: لو دعوت الله عز وجل فقال لها: كم كانت مدة الرخاء؟ فقالت: ثمانين سنة، فقال: أنا أستحي من الله أن أدعوه، وما بلغت من بلائي مدة رخائي، فلما كشف الله عنه أحيا أولاده ورزقه مثلهم معهم.
وذكر في "الإتقان": قال ابن أبي حيثمة: كان أيوب عليه السلام بعد سليمان عليه السلام وابتلي وهو ابن سبعين سنة ومدة بلائه سبع سنين، وروى الطبري، أن مدة عمر أيوب ثلاث وتسعون سنة.
وذكر في "كشف الأسرار": اختلف في مدة بلائه. [و] روى ابن شهاب عن انس رضي الله عنه يرفعه: "أنَّ أيُّوبَ لبثَ في بلائهِ ثماني عشرة سنة" وقال وهب: ثلاث سنين لم يزد يوماً، وقال كعب: سبع سنين، وقيل: سبع سنين وسبعة أشهر وسبعة أيام.
وذكر في كتاب "البستان" أن أيوب عليه السلام تزوج ليا بنت يعقوب عليه السلام وقيل: رحمة بنت ابن يوسف، وهو الأصح. وقيل: إن رحمة بنت ميشا ابن يوسف عليه السلام وذكر في "تاريخ ابن الوردي" ناقلاً عن "الكامل لابن الأثير: أن أيوب عليه السلام بن موص بن رازج بن عيص بت إسحاق بن إبراهيم الخليل عليه السلام وكان صاحب أموال عظيمة، وكانت له البثنية من أعمال دمشق ملكاً، وكانت زوجته رحمة، فابتلاه الله في جسده وكانت وتقوم بنفسها وبه، ولأنها قطعت ضفائرها، وحلف لئن عافاه الله ليضربنها مائة سوط، ولما أراد الله كشف البلاء عنه عجزت رحمة. في ذلك اليوم عن القوت فباعت ضفيرتها من امرأة برغيفين من الخبز، وأتت إلى أيوب وأخبرته فقال عند ذلك: (
… أنِّي مسَّنيَ الضُّرُّ وأنتَ أرحمُ الراحمينَ) قال تعالى: (فاستجبنا لهث فكشفنا ما بهِ منْ ضرٍّ
… ) فأرجل جبرائيل فبشره وأخذه بيده وأقامه، وأنبه الله له عيناً من تحت قدميه، فشرب منها، فشفي من جميع ما في بدنه من العلل، ثم اغتسل فيها فخرج كأحسن ما كان، ورد الله عليه ضعف ما فقد له من الأموال، ورد إليه أهله وأولاده، ورد إلى زوجته رحمة حسنها وجمالها، وولدا لأيوب ستة وعشرين ولداً ذكراً. ومنهم: بشر وهود والكفل عليه السلام.
ولما عوفي أيوب أمره الله أن يأخذ عرجوناً من النخل فيه مائة شمراخ فيضرب به زوجته ضربة واحدة ليبر في يمينه ففعل كذلك وكان أيوب عليه السلام نبياً في عهد يعقوب عليه السلام في قول بعضهم.
وذكر في "التحفة" لابن حجر: أن الرسول من البشر ذكر حر، أكمل معاصريه غير الأنبياء عقلاً وفطنةً، وقوة رأي، وخلق معصوماً، ولو من الصغيرة سهواً، ولو قبل النبوة على الأصح. سليم من دناءة أب، وخنا أم وإن عليا، ومن منفر كعمى وبرص وجذام.
وذكر في "المصابيح" قال صلى الله عليه وسلم: "بينا أيُّوُب يغتسلُ عرياناً فخرَّ عليهِ جرادٌ من ذهبٍ، فجعلَ أيُّوبُ يحتثي في ثوبهِ، فناداهُ ربُّهُ: يا أيوبُ، ألمْ أكنْ أغنيتكَ عمّا ترى؟ قال: بلى وعزتك، ولكن لا غنى بي عن ركبتك".
"আল-জামি" গ্রন্থে মহান আল্লাহর এই বাণী উল্লেখ করা হয়েছে: (আর স্মরণ করুন আইয়ুবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমি কষ্টে পতিত হয়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’) তিনি ছিলেন একজন প্রেরিত নবী, গবাদি পশু, কৃষিজমি ও বহু সন্তানের অধিকারী। আল্লাহ তাঁকে সেই সবকিছুর বিনাশ ও ধ্বংসের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। এরপর তাঁর শরীরেও পরীক্ষা দেন, ফলে তাঁর অন্তর ও জিহ্বা ছাড়া আর কোনো অংশই সুস্থ ছিল না, যা দিয়ে তিনি তাঁর পালনকর্তাকে স্মরণ করতেন। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর স্ত্রী অভাবের কারণে মানুষের সেবা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁর যে কষ্ট ছিল তা দূর করে দিলাম, আর তাঁকে তাঁর পরিবারবর্গ দান করলাম এবং তাঁদের সাথে তাঁদের সমপরিমাণ আরও দিলাম)। এটি হয়েছিল তাঁর মৃত সন্তানদের জীবিত করার মাধ্যমে, অথবা তাঁদের সমপরিমাণ সন্তান দান করার মাধ্যমে। বলা হয় যে, তাঁকে বলা হয়েছিল: ‘তোমার পরিবার যদি চাও তবে জান্নাতে রাখা হবে, আর যদি চাও তবে দুনিয়াতেই তাঁদের ফিরিয়ে দেব।’ তিনি দ্বিতীয়টি পছন্দ করেছিলেন।
"কাশফুল আসরার" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: যখন আইয়ুবের স্ত্রী রহমাহ তাঁর চুলের বেণী কেটে ফেলার ইচ্ছা করলেন, তখন আইয়ুব তা জানতে পেরে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাগান্বিত হয়ে শপথ করলেন। কারণ তাঁর স্ত্রীর জন্য তা নিষিদ্ধ ছিল এবং তিনি তা কাটার প্রস্তাব করেছিলেন। তাই তিনি অস্বীকার করেন এবং শপথ করেন। একারণে যখন তিনি সুস্থ হলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে বললেন: (আর তোমার হাতে এক মুষ্ঠি ঘাস নাও, তা দিয়ে আঘাত করো এবং শপথ ভঙ্গ করো না
… )। এরপর আল্লাহ তাঁর ওপর সোনার পঙ্গপাল বর্ষণ করলেন। এটি ছিল তাঁর দেহের সেই কষ্টের বিনিময়, যেখানে তাঁর জিহ্বা ও অন্তর ছাড়া আর কিছুই অক্ষত ছিল না।
"আল-মাদারিক" গ্রন্থে মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে: (
… আর তাঁকে তাঁর পরিবারবর্গ দান করলাম এবং তাঁদের সাথে তাঁদের সমপরিমাণ আরও দিলাম
… )। বর্ণিত আছে যে, আইয়ুব (আ.)-এর সত্তরজন পুত্র ও সাতজন কন্যা ছিল। তাঁর তিন হাজার উট, সাত হাজার ভেড়া এবং পাঁচশ গোলাম ছিল; প্রত্যেক গোলামের স্ত্রী ও সন্তান ছিল। আল্লাহ তাঁকে সন্তান ও সম্পদ কেড়ে নিয়ে এবং আঠারো বছর, অথবা তেরো বছর, অথবা তিন বছর শারীরিক অসুস্থতা দিয়ে পরীক্ষা করেন। একদিন তাঁর স্ত্রী রহমাহ তাঁকে বললেন: ‘আপনি যদি আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতেন!’ তিনি বললেন: ‘সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময়কাল কত ছিল?’ স্ত্রী বললেন: ‘আশি বছর’। তখন তিনি বললেন: ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লজ্জা বোধ করছি, কারণ আমার কষ্টের মেয়াদ এখনও সুখের মেয়াদের সমান হয়নি।’ অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর কষ্ট দূর করলেন, তখন তাঁর সন্তানদের জীবিত করলেন এবং তাঁদের সাথে তাঁদের সমপরিমাণ আরও সন্তান দান করলেন।
"আল-ইতকান" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: ইবনে আবি হাইসামা বলেন, আইয়ুব (আ.) ছিলেন সুলাইমান (আ.)-এর পরবর্তী সময়ে। সত্তর বছর বয়সে তিনি পরীক্ষায় পড়েন এবং তাঁর কষ্টের মেয়াদ ছিল সাত বছর। তাবারী বর্ণনা করেছেন যে, আইয়ুব (আ.)-এর আয়ু ছিল ৯৩ বছর।
"কাশফুল আসরার" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: তাঁর পরীক্ষার মেয়াদ নিয়ে মতভেদ আছে। ইবনে শিহাব আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: “নিশ্চয়ই আইয়ুব তাঁর কষ্টে আঠারো বছর অতিবাহিত করেছেন।” ওয়াহাব বলেছেন: তিন বছর, একদিনও বেশি নয়। কা’ব বলেছেন: সাত বছর। আবার বলা হয়েছে: সাত বছর, সাত মাস এবং সাত দিন।
"আল-বুস্তান" কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আইয়ুব (আ.) ইয়াকুব (আ.)-এর কন্যা লিয়াকে বিয়ে করেছিলেন। বলা হয়, তিনি ইউসুফ (আ.)-এর পুত্রের কন্যা রহমাহকে বিয়ে করেছিলেন, এবং এটিই অধিক বিশুদ্ধ। আরও বলা হয়, রহমাহ ছিলেন ইউসুফ (আ.)-এর নাতি মাইশা-এর কন্যা। "তারিখে ইবনুল ওয়ার্দি" গ্রন্থে "আল-কামিল লি-ইবনিল আসির" থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে, আইয়ুব (আ.) ছিলেন মুস বিন রাজেজ বিন ঈস বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম খলিল (আ.)-এর বংশধর। তিনি বিশাল সম্পদের মালিক ছিলেন। দামেস্কের বাথানিয়া অঞ্চলটি তাঁর মালিকানাধীন ছিল। তাঁর স্ত্রী ছিলেন রহমাহ। আল্লাহ তাঁর শরীরে পরীক্ষা দেন। রহমাহ নিজের ও তাঁর সেবা করতেন। তিনি তাঁর চুলের বেণী কেটেছিলেন বিধায় আইয়ুব শপথ করেছিলেন যে, আল্লাহ তাঁকে সুস্থ করলে তিনি তাঁকে একশত বেত্রাঘাত করবেন। যখন আল্লাহ তাঁর কষ্ট দূর করতে চাইলেন, সেই দিন রহমাহ খাবারের ব্যবস্থা করতে অসমর্থ হয়ে জনৈক মহিলার কাছে এক জোড়া রুটির বিনিময়ে নিজের বেণী বিক্রি করেন। তিনি আইয়ুবের কাছে এসে সব জানালেন। তখন আইয়ুব (আ.) বললেন: (
… আমি কষ্টে পতিত হয়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু)। আল্লাহ বলেন: (অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁর যে কষ্ট ছিল তা দূর করে দিলাম
… )। তখন জিবরাইল (আ.)-কে পাঠানো হলো, তিনি তাঁকে সুসংবাদ দিলেন এবং তাঁর হাত ধরে দাঁড় করালেন। আল্লাহ তাঁর পায়ের নিচ থেকে একটি ঝর্ণা প্রবাহিত করলেন। তিনি সেখান থেকে পান করলেন এবং তাঁর শরীরের সমস্ত রোগ থেকে মুক্তি পেলেন। তারপর সেখানে গোসল করলেন এবং পূর্বের চেয়েও সুন্দর হয়ে বের হলেন। আল্লাহ তাঁর হারানো সম্পদের দ্বিগুণ তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন, তাঁর পরিবার ও সন্তানদের ফিরিয়ে দিলেন এবং তাঁর স্ত্রী রহমাহর রূপ ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিলেন। আইয়ুবের ২৬ জন পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের মধ্যে বিশর, হূদ এবং যুল-কিফল (আ.) অন্যতম।
আইয়ুব (আ.) যখন সুস্থ হলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে আদেশ দিলেন যেন তিনি খেজুর গাছের একটি ডাল (যাতে একশটি কাঠি থাকে) নিয়ে তাঁর স্ত্রীকে একবার আঘাত করেন, যাতে তাঁর শপথ পূর্ণ হয়। তিনি তাই করলেন। কারো কারো মতে, আইয়ুব (আ.) ইয়াকুব (আ.)-এর সমসাময়িক নবী ছিলেন।
ইবনে হাজারের "আত-তুহফা" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: মানবজাতির মধ্য থেকে রাসূল হলেন এমন এক স্বাধীন পুরুষ, যিনি বুদ্ধি ও প্রজ্ঞায় তাঁর সমসাময়িক অন্যান্য সাধারণ মানুষের চেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং যাঁর চিন্তাচেতনা সুদৃঢ়। তিনি নিষ্পাপ (মাসুম) হিসেবে সৃজিত, এমনকি ভুলবশত সগীরা গুনাহ থেকেও তিনি পবিত্র। অধিক বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী নবুওয়াত লাভের পূর্বেই তিনি এমন গুণের অধিকারী। তিনি পিতার হীনতা ও মাতার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত, যদিও তা পূর্বপুরুষদের ঊর্ধ্বস্তন পর্যায়ে হোক না কেন। তিনি ঘৃণা উদ্রেককারী ব্যাধি যেমন অন্ধত্ব, শ্বেতী ও কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্ত।
"আল-মাসাবিহ" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “একবার আইয়ুব (আ.) নগ্ন অবস্থায় গোসল করছিলেন, তখন তাঁর ওপর সোনার পঙ্গপাল ঝরতে শুরু করল। আইয়ুব তা তাঁর কাপড়ে জড়াতে লাগলেন। তখন তাঁর পালনকর্তা তাঁকে ডেকে বললেন: হে আইয়ুব! তুমি যা দেখছ, তা থেকে কি আমি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিইনি? তিনি বললেন: অবশ্যই, আপনার সম্মানের কসম! কিন্তু আপনার বরকতের ব্যাপারে আমি অমুখাপেক্ষী নই।”
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١١)
وماتت رحمة في حياة أيوب عليه السلام وقيل: عشت بعده قليلاً، وماتت ودفنت بأرض الشام. والله أعلم.
[9]حنة بنت فاقوذاوهي زوجة عمران، وأخت زوجة زكريا عليه السلام وأم مريم عليها السلام تزوجها عمران، ولم تحمل منه وأسنت، ولم يكن لها ولد فأبصرت يوماً طائراً يطعم أفراخه، فتحركت لذلك نفسها، واشتاقت للولد، وتمنت أن يكون لها ولد حتى تحن عليه مثل هذا الطائر، فهنالك دعت إلى الله تعالى أن يهب لها ولداً، وقالت: اللهم لك علي بأن رزقتني ولداً أن أتصدق به على بيت المقدس. فواقعها زوجها عمران، فحملت مريم ولفتها في خرقة من يومها، وحملتها إلى المسجد الأقصى، ووضعتها عند الأحبار، من أبناء هارون عليه السلام وقالت لهم: دونكم وهذه النذيرة. وذلك قوله تعالى: (فلمَّا وضعتها قالتْ ربِّ إنِّي وضعتها أنثى..) الآي، فتنافس فيها الأحبار، وكان عمران قد مات قبل الولادة، فطلبها زكريا ليأخذها وقال: أنا أحق بها لأن خالتها عندي. فتقارعوا عليها فوقعت القرعة لزكريا عليه السلام قيل: إنها لم تلقم ثديا منذ ولدت، وقيل: إن أمها كانت ترضعها. وذكر في كتاب "تأريخ ابن الوردي": أن حنة أم مريم عليها السلام، وهي أخت إيشاع زوجة زكريا عليه السلام وذكر مثل ما سبق ذكره من دعاء حنة، وطلبها الولد بعد ما كبرت، وقيل: إن عمرها لما ولدت مريم كان ستين سنة، وقيل: إنها توفيت وقد بلغت مريم من العمر عشر سنين. والله أعلم.
[10]مريم عليها السلامبنت عمران بن آذن بن ماثين بن فيلقوس بن آسابن ياهوثا بن إينا بن رجعيم ابن سليمان عليه السلام بن داود عليه السلام بن اثيا بن سلمون بن عدن بن جابر ابن عسوار بن عمران بن دارم بن عمر قاص بن يهوذا بن يعقوب عليه السلام ابن اسحاق عليه السلام بن إبراهيم الخليل عليه السلام. وأمها حنة، وقد سبق الذكر في كيفية حملها، في ترجمة أمها. ومات أبوها عمران وأمها حامل بها، ولما وضعتها، و (
… قالتْ ربِّ إنِّي وضعتها أنثى
… ) لفتها في خرقة وحملتها إلى المسجد وسمتها مريم.
قال في "المعالم": ومعنى مريم: العابدة والخادمة بلغتهم، وكانت مريم من أجمل النساء في وقتها، قال أبو هريرة رضي الله عنه: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ما منْ بني آدمَ [من] مولودٍ لا يمسُّه الشَّيطانُ حين يولدُ فيستهلُّ [الصبي] صارخاً منْ مسِّ الشيطانِ غيرِ مريم وابنها". ولما دخلت بها على الأحبار من أولاد هارون قالت: لهم دونكم وهذه المندورة. فتنافس فيها الأحبار، لأنها كانت بنت إمامهم، وصاحب قربانهم وقد مات قبل ولادتها، فقال لهم زكريا عليه السلام: أنا أحق بها لان عندي خالتها. فلم ترض الأحبار. فتقارعوا عليها، فوقعت لزكريا، فتكلفها وذلك قوله تعالى: (
… وكفَّلها زكريَّا
… ) وضمها إلى خالتها حتى إذا بلعت مبلغ النساء بنى لها زكريا محراباً في المسجد وجعل بابها في الوسط [لا] يرقى إليها [إلا] بسلم، وكان لا يدخل عليها غيره، يأتيها بشرابها وطعامها ودهنها كل يوم، وإذا خرج يغلق عليها سبعة أبواب. قال [أبو] الحسن: منذ ولدت مريم لم تلقم ثدياً قط، بل كان يأتيها رزقها من الجنة، فيقول لها زكريا (
… أنَّى لكِ هذا) معناه من أين لك هذا؟ قالت: (
… هوَ منْ عندِ اللهِ
… ) تكلمت وهي صغيرة.
وذكر في "المصابيح" عن أبي موسى، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "كملَ منَ الرِّجالِ كثيرٌ، ولمْ يكملْ منَ النِّساءِ إلا مريمُ بنتُ عمرانَ، وآسيةُ امرأةُ فرعونَ وفضلُ عائشةُ على النساءِ كفضلِ الثَّريدِ على [سائرِ] الطَّعامِ".
وذكر في كتاب "كشف الأسرار": إنما سميت مريم من قولهم رمت غي طلبت ويقال: مرت في الطاعة كمرور الحوت في اليم، وسماها الله مريم باسمها سبع مرات في القرآن العظيم ولم يسم من النساء غيرها. وخاطبها فقال: (يا مريمُ
… ) ، كما خاطب الأنبياءَ، وقال: (واذكرْ في الكتابِ مريمَ
… ) كما قال لإبراهيم وغيره من الأنبياء. وقال: (
… يا مريمُ إنَّ اللهَ اصطفاكِ وطهَّركِ
… ) .
আইয়ুব আলাইহিস সালামের জীবদ্দশায় রাহমাহ ইন্তেকাল করেন। আবার বলা হয়েছে: তিনি তাঁর পরে অল্পকাল জীবিত ছিলেন, অতঃপর মৃত্যুবরণ করেন এবং শাম দেশে সমাহিত হন। আল্লাহই ভালো জানেন।
[৯]হান্নাহ বিনতে ফাকুদাতিনি ছিলেন ইমরানের স্ত্রী, জাকারিয়া আলাইহিস সালামের স্ত্রীর বোন এবং মারইয়াম আলাইহাস সালামের মাতা। ইমরান তাঁকে বিবাহ করেন, কিন্তু তিনি গর্ভবতী হচ্ছিলেন না এবং তাঁর বয়স অনেক হয়ে গিয়েছিল। তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। একদিন তিনি একটি পাখিকে তার বাচ্চাদের খাওয়াতে দেখলেন, এতে তাঁর মনে মাতৃত্বের মমতা জেগে উঠল এবং তিনি সন্তানের আকাঙ্ক্ষা করলেন। তিনি কামনা করলেন যদি তাঁরও এমন একটি সন্তান থাকত যার প্রতি তিনি এই পাখির মতো মমতা দেখাতে পারতেন। তখন তিনি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলেন যেন তিনি তাঁকে একটি সন্তান দান করেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আপনি যদি আমাকে একটি সন্তান দান করেন, তবে আমি তাকে বায়তুল মুকাদ্দাসের জন্য উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করছি। অতঃপর তাঁর স্বামী ইমরান তাঁর সাথে মিলিত হলেন এবং তিনি মারইয়ামকে গর্ভে ধারণ করলেন। জন্মের দিনই তিনি তাকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে মসজিদে আকসায় নিয়ে গেলেন এবং হারুন আলাইহিস সালামের বংশধর পুরোহিতদের নিকট রেখে আসলেন। তিনি তাদের বললেন: এই উৎসর্গকৃত সন্তানটিকে আপনারা গ্রহণ করুন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর যখন তিনি তাকে প্রসব করলেন, তখন বললেন: হে আমার রব! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি...) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তখন পুরোহিতরা তাকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু করলেন। মারইয়ামের জন্মের পূর্বেই ইমরান ইন্তেকাল করেছিলেন। জাকারিয়া তাকে লালন-পালনের জন্য চাইলেন এবং বললেন: আমিই তার সবচেয়ে বেশি হকদার, কারণ তার খালা আমার ঘরে (স্ত্রী হিসেবে) আছে। অতঃপর তারা লটারি করলেন এবং লটারিতে জাকারিয়া আলাইহিস সালামের নাম আসলো। বলা হয় যে, জন্মের পর থেকে মারইয়াম কখনো স্তন্যপান করেননি; আবার কেউ কেউ বলেন তাঁর মা-ই তাঁকে দুধ পান করাতেন। "তারিখে ইবনুল ওয়ারদি" গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে: হান্নাহ ছিলেন মারইয়াম আলাইহাস সালামের মাতা এবং তিনি জাকারিয়া আলাইহিস সালামের স্ত্রী ঈশা-এর বোন ছিলেন। সেখানে হান্নাহর দোয়া এবং বার্ধক্যে সন্তান কামনার বিষয়টি পূর্বের মতোই বর্ণিত হয়েছে। বলা হয় যে, মারইয়ামের জন্মের সময় হান্নাহর বয়স ছিল ষাট বছর। আরও বলা হয় যে, মারইয়ামের দশ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
[১০]মারইয়াম আলাইহাস সালামতিনি হলেন বিনতে ইমরান ইবনে আদান ইবনে মাথিন ইবনে ফায়লাকুস ইবনে আসাব ইবনে ইয়াহুদা ইবনে ইনা ইবনে রাজঈম ইবনে সুলাইমান আলাইহিস সালাম ইবনে দাউদ আলাইহিস সালাম ইবনে এথিয়া ইবনে সালমুন ইবনে আদন ইবনে জাবির ইবনে আসওয়ার ইবনে ইমরান ইবনে দারিম ইবনে উমর কাস ইবনে ইয়াহুদা ইবনে ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ইবনে ইসহাক আলাইহিস সালাম ইবনে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম। তাঁর মাতা ছিলেন হান্নাহ। তাঁর গর্ভধারণের বিবরণ তাঁর মাতার জীবনীতে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। মারইয়াম যখন গর্ভে ছিলেন তখনই তাঁর পিতা ইমরান ইন্তেকাল করেন। যখন হান্নাহ তাঁকে প্রসব করলেন এবং বললেন: (হে আমার রব! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি...) তখন তিনি তাঁকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে মসজিদে নিয়ে গেলেন এবং তাঁর নাম রাখলেন মারইয়াম।
‘আল-মাআলিম’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁদের ভাষায় মারইয়াম শব্দের অর্থ হলো ইবাদতকারিণী ও সেবিকা। মারইয়াম ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে সুন্দরী নারী। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আদম সন্তানদের মধ্যে এমন কোনো নবজাতক নেই যাকে তার জন্মের সময় শয়তান স্পর্শ করে না, যার ফলে সে শয়তানের স্পর্শে চিৎকার করে ওঠে, কেবল মারইয়াম ও তাঁর পুত্র ছাড়া।" যখন হান্নাহ তাঁকে হারুন বংশীয় পুরোহিতদের নিকট নিয়ে আসলেন, তখন তিনি বললেন: এই উৎসর্গকৃত সন্তানটিকে আপনারা গ্রহণ করুন। তখন পুরোহিতরা তাঁকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু করলেন, কারণ তিনি ছিলেন তাঁদের ইমাম ও নেতার কন্যা এবং তাঁর জন্মের আগেই তাঁর পিতা মারা গিয়েছিলেন। জাকারিয়া আলাইহিস সালাম তাঁদের বললেন: আমিই তাঁর সবচেয়ে যোগ্য অভিভাবক কারণ তাঁর খালা আমার কাছে আছে। কিন্তু পুরোহিতরা এতে রাজি হলেন না। অতঃপর তাঁরা লটারি করলেন এবং লটারিতে জাকারিয়ার নাম এল। ফলে তিনি তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নিলেন, আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: (...এবং জাকারিয়াকে তাঁর অভিভাবক নিযুক্ত করলেন...)। তিনি তাঁকে তাঁর খালার কাছে রাখলেন। যখন মারইয়াম যৌবনে পদার্পণ করলেন, তখন জাকারিয়া মসজিদের ভেতর তাঁর জন্য একটি মিহরাব (উপাসনা কক্ষ) তৈরি করে দিলেন এবং এর দরজা মাঝখানে রাখলেন, যেখানে সিঁড়ি ছাড়া পৌঁছানো যেত না। জাকারিয়া ছাড়া আর কেউ সেখানে প্রবেশ করত না। তিনি প্রতিদিন তাঁর জন্য পানীয়, খাবার ও তেল নিয়ে আসতেন। তিনি যখন কক্ষ থেকে বের হতেন, তখন সাতটি দরজা তালাবদ্ধ করে যেতেন। আবু হাসান বলেন: মারইয়াম জন্মের পর থেকে কখনো স্তন্যপান করেননি, বরং জান্নাত থেকে তাঁর রিজিক আসত। জাকারিয়া তাঁকে জিজ্ঞেস করতেন: (...হে মারইয়াম, এসব তুমি কোথায় পেলে?) অর্থাৎ এই খাবার তোমার কাছে কোথা থেকে এল? তিনি বলতেন: (...এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে...)। তিনি শৈশবকালেই কথা বলেছিলেন।
‘আল-মাসাবিহ’ গ্রন্থে আবু মুসা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা লাভ করেছেন, কিন্তু নারীদের মধ্যে মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ব্যতীত কেউ পূর্ণতা লাভ করেননি। আর সকল নারীর ওপর আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে সমস্ত খাবারের ওপর সারীদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো।"
‘কাশফুল আসরার’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে: মারইয়াম নামটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁদের এই কথা থেকে যে, তিনি হেদায়েত অন্বেষণ করেছেন। আবার বলা হয়: সাগরে মাছের চলার মতো তিনি আল্লাহর আনুগত্যে ক্ষিপ্র ছিলেন। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সাতবার তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন এবং নারীদের মধ্যে একমাত্র তাঁর নামই কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে সম্বোধন করে বলেছেন: (হে মারইয়াম...), যেমনটি তিনি নবীদের সম্বোধন করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: (এই কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করুন...), যেভাবে তিনি ইব্রাহিম ও অন্যান্য নবীদের সম্পর্কে বলেছেন। আল্লাহ আরও বলেছেন: (...হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র করেছেন...)।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ومن كراماتها: رزقها بغير حساب، كما أعطى سليمان، وقال: (هذا عطاؤنا فامننْ أو أمسكْ بغيرِ حسابٍ) ، وتكليم الملائكة لها، وإرسال جبرائيل إليها، وولادتها من غير مس، وبراءتها بلسان صبي، وضمها مع نبي في آية واحدة فقال تعالى: (وجعلنا ابنَ مريمَ وأمَّهُ آيةً
… ) وبهذا ذهب بعضهم إلى أنها نبية.
وذكر في "حلية الأبرار" قوله مريم عليها السلام ولقمان هل هما نبيان أم لا؟ فأجاب الشيخ محي الدين النووي: إن الجماهير على أنهما ليسا نبيين، وقد شذ من قال في نبوتها، ولا التفات إليه، ولا تعريج عليه.
وذكر في كتاب "شرح اللآلي"لعلي القادري قوله: ظاهر الأدلة يشير إلى نفي النبوة عن الأنثى، وعن ذي القرنين ولقمان ونحوهما كتبع، فإنه صلى الله عليه وسلم قال: "ولا ادري أنّّهُ نبيٌ أمْ ملك"، وكالخضر عليه السلام فإنه قيل: نبي، وقيل: ولي، وقيل: رسول على ما في "التمهيد" فلا ينبغي لأحد أن يقطع بنفي أو وذكر في "شرح الجوهرة": أن النبي الذي تظهر المعجزة على يده فذلك يحكم بنبوته وعلى هذا [ال] قول قد ذكر صاحب "كشف الأسرار" ما ظهر على مريم من المعجزات وعد منها: كان يأتيها رزقها، وتكليم الملائكة لها، وحملها بعيسى من غير رجل. فعلى قول صاحب "كشف الأسرار" أنها نبية والله أعلم.
وذكر في "شرح الجوهرة": قيل بنبوة مريم بنت عمران كما اختاره القرطبي في "شرح مسلم" وآسية امرأة فرعون، وقيل: بعدم نبوتهما كما هو الصحيح وعليه الأكثر، فإن قلت: فقد صح الحديث عن أبي هريرة رضي الله عنه من طرق عدة "خير نساء العالمين أربع: مريمُ بنتُ عمرانَ، وآسيةُ بنتُ مزاحم امرأةُ فرعون، وخديجةُ، وفاطمةُ". وصح أيضاً حديث ابن عباس رضي الله عنه: "أفضلُ نساءِ الجنَّةِ خديجةُ وفاطمةُ ومريمُ وآسية" فهذا يقتضي التسوية بينهن، فيعارضه قوله تعالى (
… إنَّ اللهَ اصطفاكِ وطهَّركِ واصطفاكِ على نساءِ العالمين) وقد تحمل على نساء العالمين في زمانها، وفضل مريم من حيث الاختلاف في نبوتها وذكرها في القرآن مع الأنبياء عليهم السلام. وقد اختلف بنبوتها، ممن قال بنبوتها فقد احتج بقوله تعالى: (وجعلنا ابنَ مريمَ وأمَّهُ آيةً
… ) وغيرها من الآيات الدالة على نبوتها، ومن قال أنها ليست بنبية احتج بقوله: (وجعلنا
… ) أي شانها آية، وقيل: معناه جعلنا كل واحد آية.
واختلف العلماء في كيفية الإيمان بالأنبياء المتقدمين الذين نسخت شرائعهم، وحقيقة الخلاف أن شرعه لما صار منسوخاً فهل تصير نبوته منسوخة؟ قال: إن نسخ الشريعة لا يقتضي، نسخ النبوة قالوا: نؤمن بأنهم أنبياء ورسل في الحال، وقد تنبه لهذا بعض الفضلاء، وقد ذكر في "الفقه الأكبر" قوله صلى الله عليه وسلم: "كملَ منَ الرِّجالِ كثير، ولمْ يكملْ منَ النِّساءِ إلا ثلاثةَ: مريمُ وآسيةُ وخديجةُ".
وذكر في "المعلم" في تفسير قوله تعالى: (واذكر في الكتابِ مريمَ إذِ انتبذتْ منْ أهلها مكاناً شرقياً) أي تنحت واعتزلت من قومها مكاناً في الدار مما يلي الشرق، وكان يوماً شاتياً شديد البرد، فجلست في مشرفة تفلي رأسها وقيل: إنها طهرت من الحيض فذهبت للغسل فضربت ستراً وتجردت للغسل من الحيض إذ عرض لها جبرائيل في صورة شاب أمرد، فلما رأته يقص نحوها نادته من بعيد، قوله تعالى: (إنِّي أعوذُ بالرَّحمنِ منكَ إنْ كنتَ تقياً) فقال لها جبرائيل: (إنَّما أنا رسولُ ربِّكِ لأهبَ لكِ غلاماً زكيّاً) فقالت له مريم: (
… أنَّى يكونُ لي غلامٌ ولمْ يمسسني بشرٌ ولمْ أكُ بغيّاً) فقال لها جبرائيل: (
… كذلكَ قالَ ربُّكِ هوَ عليَّ هيِّن
… ) ثم رفع جبرائيل درعها فنفخ في جيبها فحملت حين لبست درعها، وقيل نفخ في كم قميصها، وقيل: في فيها، وقيل: نفخ من بعيد فوصل إليها الريح إليها فحملت وتنحت بالحمل وانفردت بعيداً من أهلها.
আর তাঁর কারামাতসমূহের মধ্যে রয়েছে: অগণিত রিযিক লাভ করা, যেমনটি সুলাইমানকে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি বলেছিলেন: (এটি আমাদের দান, সুতরাং তুমি অনুগ্রহ করো অথবা রেখে দাও অগণিত।) আর ফেরেশতাদের তাঁর সাথে কথা বলা, তাঁর কাছে জিবরাঈলকে পাঠানো, পুরুষ স্পর্শ ছাড়াই তাঁর সন্তান প্রসব করা, এবং একজন শিশুর জবানিতে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করা, আর একটি আয়াতে একজন নবীর সাথে তাঁর নাম যুক্ত করা, মহান আল্লাহ বলেন: (আর আমরা মারইয়ামের পুত্র ও তাঁর মাতাকে একটি নিদর্শন বানিয়েছি
… ) আর এ কারণেই কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে তিনি একজন নবী ছিলেন।
"হিলয়াতুল আবরার" কিতাবে মারইয়াম আলাইহাস সালাম এবং লুকমান সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা কি নবী ছিলেন নাকি ছিলেন না? তদুত্তরে শাইখ মুহিউদ্দীন আন-নববী বলেন: জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামায়ে কেরামের মতে তারা নবী ছিলেন না। যারা তাঁর নবুওয়াতের কথা বলেছেন তারা বিরল মত পোষণ করেছেন, যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না এবং তা গ্রাহ্যও হবে না।
আলী আল-কাদরী রচিত "শারহুল লাআলী" কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে: দলিলের বাহ্যিক দিকটি নারী এবং যুল-কারনাইন, লুকমান ও তাদের সমগোত্রীয় যেমন তুব্বা-এর নবুওয়াত অস্বীকার করার ইঙ্গিত দেয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি জানি না তিনি (তুব্বা) কি নবী নাকি ফেরেশতা"। তদ্রূপ খিজির আলাইহিস সালাম সম্পর্কেও বলা হয়েছে: তিনি নবী, কেউ বলেছেন ওলী, আবার কেউ বলেছেন তিনি রাসূল, যেমনটি "আত-তামহীদ" কিতাবে রয়েছে। সুতরাং কারো পক্ষে নবুওয়াত অস্বীকার বা সাব্যস্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। "শারহুল জাওহারা" কিতাবে উল্লেখ আছে: যার হাতে মুজিযা প্রকাশ পায় তাকেই নবী হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মতানুসারে "কাশফুল আসরার" এর লেখক মারইয়ামের পক্ষ থেকে প্রকাশিত মুজিযাসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে গণনা করেছেন: তাঁর নিকট রিযিক আসা, ফেরেশতাদের তাঁর সাথে কথা বলা এবং পুরুষ ছাড়াই ঈসাকে গর্ভে ধারণ করা। সুতরাং "কাশফুল আসরার" এর লেখকের মতে তিনি একজন নবী ছিলেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
"শারহুল জাওহারা" কিতাবে উল্লেখ আছে: মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়ার নবুওয়াতের কথা বলা হয়েছে, যেমনটি আল-কুরতুবী "শারহু মুসলিম"-এ পছন্দ করেছেন। আবার বলা হয়েছে: তাদের নবুওয়াত নেই, যেমনটি সঠিক এবং এর ওপরই অধিকাংশ ওলামা রয়েছেন। আপনি যদি বলেন: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, "বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নারী চারজন: মারইয়াম বিনতে ইমরান, ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া বিনতে মুজাহিম, খাদিজা এবং ফাতিমা"। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে: "জান্নাতের শ্রেষ্ঠ নারী হলেন খাদিজা, ফাতিমা, মারইয়াম এবং আছিয়া"। এটি তাদের মধ্যে সমতা দাবি করে, তবে মহান আল্লাহর এই বাণীর সাথে এর বৈপরীত্য দেখা দেয় (
… আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, তোমাকে পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বের নারীদের ওপর তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন)। এটি তাঁর সময়ের নারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে ধরা হতে পারে। আর মারইয়ামের শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর নবুওয়াতের বিষয়ে মতভেদ এবং কুরআনে নবীদের সাথে তাঁর উল্লেখ থাকার কারণে। তাঁর নবুওয়াত নিয়ে মতভেদ রয়েছে; যারা তাঁর নবুওয়াতের কথা বলেছেন তারা মহান আল্লাহর এই বাণীকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন: (আর আমরা মারইয়ামের পুত্র ও তাঁর মাতাকে একটি নিদর্শন বানিয়েছি
… ) এবং তাঁর নবুওয়াত প্রমাণকারী অন্যান্য আয়াত। আর যারা বলেন তিনি নবী নন তারা দলিল হিসেবে পেশ করেন: (আর আমরা বানিয়েছি
… ) অর্থাৎ তাঁর অবস্থাকে একটি নিদর্শন বানিয়েছেন। কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো আমরা তাদের প্রত্যেককে একটি নিদর্শন বানিয়েছি।
ওলামায়ে কেরাম পূর্ববর্তী নবীদের ওপর ঈমান আনার পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ করেছেন যাদের শরীয়ত রহিত হয়ে গেছে। মতভেদের মূল বিষয়টি হলো, যখন তাঁর শরীয়ত রহিত হয়ে গেল তখন কি তাঁর নবুওয়াতও রহিত হয়ে যাবে? তিনি বলেছেন: শরীয়ত রহিত হওয়া নবুওয়াত রহিত হওয়াকে আবশ্যক করে না। তারা বলেছেন: আমরা বিশ্বাস করি যে তারা বর্তমানেও নবী ও রাসূল। কোনো কোনো বিদগ্ধ আলেম এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। "আল-ফিকহুল আকবার" কিতাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী উল্লেখ করা হয়েছে: "পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন, কিন্তু নারীদের মধ্যে মারইয়াম, আছিয়া এবং খাদিজা—এই তিনজন ব্যতীত কেউ পূর্ণতা লাভ করেননি।"
মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে "আল-মুয়াল্লিম" কিতাবে উল্লেখ আছে: (আর কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করো, যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে এক পূর্ব দিকের স্থানে আশ্রয় নিল) অর্থাৎ সে তার সম্প্রদায় থেকে দূরে সরে ঘরের পূর্ব দিকের একটি স্থানে নির্জনে অবস্থান নিয়েছিল। সেটি ছিল হাড়কাঁপানো শীতের একটি দিন। সে একটি উঁচু স্থানে চুল পরিষ্কার করার জন্য বসেছিল। কেউ বলেছেন: সে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হয়েছিল এবং গোসলের জন্য গিয়েছিল। সে একটি পর্দা টাঙিয়ে ঋতুস্রাব পরবর্তী গোসলের জন্য বিবস্ত্র হয়েছিল, তখনই জিবরাঈল এক সুঠামদেহী যুবকের বেশে তার সামনে উপস্থিত হন। যখন সে তাকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখল, তখন দূর থেকেই তাকে ডেকে বলল, মহান আল্লাহর বাণী: (আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যদি তুমি মুত্তাকী হও)। তখন জিবরাঈল তাকে বললেন: (আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করতে পারি)। মারইয়াম তাকে বললেন: (
… কেমন করে আমার পুত্র হবে যখন আমাকে কোনো মানুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?) জিবরাঈল তাকে বললেন: (
… তোমার রব এভাবেই বলেছেন, এটি আমার জন্য সহজ
… )। এরপর জিবরাঈল তাঁর পোশাকের উপরিভাগ তুলে তাঁর জামার কলার বা বুকের কাছে ফুঁ দিলেন। ফলে যখন তিনি পোশাকটি পরিধান করলেন তখনই গর্ভবতী হলেন। কেউ বলেছেন তিনি জামার হাতায় ফুঁ দিয়েছিলেন, কেউ বলেছেন তাঁর মুখে ফুঁ দিয়েছিলেন, আবার কেউ বলেছেন দূর থেকে ফুঁ দিয়েছিলেন এবং সেই বাতাস তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি গর্ভধারণ করেন। তিনি সেই গর্ভ নিয়ে পরিবার থেকে দূরে নির্জনে চলে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
قال ابن عباس رضي الله عنهما: كان الحمل والولادة في ساعة واحدة، وقيل: في تسعة أشهر، وقيل ثمانية أشهر، وقيل: ستة أشهر، وقال مقاتل: حملته مريم في ساعة، وصور في ساعة، ووضعته في ساعة، وعمرها إذ ذاك عشر سنين، ولما ولدته حملته في الحال إلى قومها فأنكروا عليها. وذلك قوله تعال: (يا أختَ هارونَ ما كانَ أبوكِ امرأ سوءٍ وما كانت أمُّكِ بغيَّاً) فلما سمعت إنكارهم وقولهم (فأشارتْ إليهِ) أي كلموه (قالوا كيفَ نكلِّمُ من كان في المهد صبياً) فقال له زكريا عليه السلام: أنطق بحجتك إن كنت أمرت بها. وقيل لماسمع عيسى عليه اليلام كلامهم وإنكارهم اتكأ على يساره، وترك الرضاع وأقبل عليهم يشير بيمينه (قال إنِّي عبدُ اللهِ آتانيَ الكتابَ وجعلني نبيّاً، وجعلني مباركاً أينَ ما كنتُ وأوصاني بالصلواتِ والزَّكوة ما دمتُ حياً، وبراً بوالدتي ولم يجعلني جبّاراً شقياً، والسَّلام عليَّ يومَ ولدتُ ويوم أموتُ ويومَ أبعثُ حيَّا) فلما كلمهم صدقوا وعلموا براءة مريم، عليها السلام. ثم سكت عيسى بعد ذلك فلم يتكلم حتى بلغ المدة التي يتكلم فيها الصبيان.
وذكر في كتاب "كشف الأسرار": أن أسماء عيسى عليه السلام أربعة: عيسى، وكلمة، ومسيح، وروح، فعيسى هو: الأبيض في اللغة، ويقال: غير هذا الاشتقاق له. وروح لأنه من ريح جبرائيل، ويقال: لا بل خرج من الماء من تربة أمه إلى رحمها بنفخة جبرائيل، وهو من الماء لا من الريح، ويقال: ولد من ساعته، ويقال: لثمانية أشهر، ويقال: للمدة الكاملة، وأما تسميته كلمة فلأنه صار بكلمة مخلوقاً وسماه مسيحاً لأنه كان يسيح في الأرض، ويقال: ولد ممسوحاً بالدهن، ويقال: لأنه كان يمسح الضر عن الأعمى والأكمه والأبرص ويقال: المسيح الذي لا يكون لقدميه أخمص. وفيه أيضاً: لما أمرها بهز جذع النخلة بقوله تعالى: (وهزِّيَ إليكِ بجذعِ النَّخلةِ تساقطْ عليكِ رطباً جنيّاً) قيل: لأنها من ولد بغير أب فقال لها ذلك، فهزت بجذع يابسة بلا فحل ولا طلح طلع، لها أربع عجائب: الرطب من نخل يابس بلا فحل كيلا تعجب من ولد بغير أب ولا مس. وفيه أيضاً، لم أجري النهر بغير سعيها ولم يعطها الرطب إلا بسعيها؟ قيل: لان الرطب غذاء وشهوة. والماء سبب للطهارة والخدمة، ويقال: لما كانت وحيدة بعث إليها طعاماً من الجنة بلا سبب، فلما ولدت جاءت الواسطة فأمرها بهز النخلة. وذكر في "تاريخ ابن الوردي" ناقلاً من "الكامل" لابن الأثير قال: ولدت مريم عيسى في بيت لحم سنة أربع وثلاثمائة لغلبة الاسكندر، ولهبوط آدم عليه السلام خمسة آلاف وخمسمائة وأربع وثمانون، ولطوفان نوح عليه السلام ثلاث آلاف وثلاثمائة واثنتان وأربعون سنة، ولمولد إبراهيم عليه السلام ألفان ومائتان وإحدى وستون، ولوفاة موسى عليه السلام ألف وسبعمائة وست عشرة سنة، ولابتداء ملك بخت نصر سبعمائة وثمان وثلاثون سنة، وقبل الهجرة بستمائة وإحدى وثلاثين سنة، ولما ولدته أتت به قومها تحمله فأخذوا الحجارة ليرموها ويرجموها فتكلم عيسى وهو في المهد معلقاً في منكبها (قال إني عبد الله..) الآية، فلما سمعوا كلام عيسى تركوها، فأخذته مريم وسارت به إلى مصر مع ابن عمها يوسف النجار ابن يعقوب، وزعم بعضهم أن يوسف تزوج مريم، ولم يقربها، ويوسف هذا هو أول من أنكر حملها ثم تحقق براءتها وسار معها، فأقاما في مصر اثنتي عشرة سنة، ثم عاد عيسى وأمه إلى الشام ونزلا الناصرة وبها سميت النصارى، وأقام بها حتى أرسل وقد صار له من العمر ثلاثون سنة، وابتدأ بالدعوة لستة أيام خلت من كانون الثاني، وأظهر المعجزات، وأحيا عازر بعد موته بثلاثة أيام، ولبس الصوف والشعر، وأكل من نبات الأرض، وبما تقوت من غزل أمه، وجعل من الطين طيراً، وأبرأ الأكمه والأبرص، ومشى على الماء.
والحواريون الذين اتبعوه اثنا عشر، وهم: شمعون الصفا، وشمعون القناني، ويعقوب بن زيدي، ويعقوب بن خلفي، وقولوس، ومارقوس، واندراوس، وتمريللا، ويوحنا، ولوقا، وتوما، ومتى.
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: গর্ভধারণ ও প্রসব একই সময়ে হয়েছিল। কেউ বলেছেন: নয় মাসে, কেউ বলেছেন: আট মাসে, আবার কেউ বলেছেন: ছয় মাসে। মুকাতিল বলেন: মারইয়াম তাকে এক ঘণ্টার মধ্যে গর্ভে ধারণ করেন, এক ঘণ্টার মধ্যে তার অবয়ব গঠিত হয় এবং এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে প্রসব করেন; তখন মারইয়ামের বয়স ছিল দশ বছর। যখন তিনি তাকে প্রসব করলেন, তখন তৎক্ষণাৎ তাকে বহন করে নিজের সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে এলেন, এতে তারা তাকে নিন্দা জানাল। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: (হে হারূনের বোন! তোমার পিতা কোনো মন্দ লোক ছিলেন না এবং তোমার মা-ও ব্যভিচারিণী ছিলেন না)। যখন তিনি তাদের নিন্দা ও মন্তব্য শুনলেন, তখন (তিনি তার দিকে ইশারা করলেন) অর্থাৎ তারা যেন তার সাথে কথা বলে। (তারা বলল, আমরা কীভাবে তার সাথে কথা বলব যে দোলনায় থাকা একটি শিশু?) তখন যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম) তাকে বললেন: যদি তোমাকে আদেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তোমার প্রমাণ পেশ করো। বলা হয়ে থাকে, যখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাদের কথা ও নিন্দা শুনলেন, তখন তিনি তার বাম দিকে হেলান দিলেন, দুগ্ধপান ছেড়ে দিলেন এবং তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে তার ডান হাত দিয়ে ইশারা করলেন। (তিনি বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সালাত ও যাকাতের, যতদিন আমি জীবিত থাকি। আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। শান্তি আমার ওপর যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন আমাকে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে)। যখন তিনি তাদের সাথে কথা বললেন, তারা বিশ্বাস করল এবং মারইয়ামের (আলাইহাস সালাম) পবিত্রতা সম্পর্কে জানতে পারল। এরপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) চুপ হয়ে গেলেন এবং সাধারণ শিশুরা যে বয়সে কথা বলে সেই বয়স পর্যন্ত তিনি আর কথা বলেননি।
‘কাশফুল আসরার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে: ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর নাম চারটি: ঈসা, কালিমাহ (বাক্য), মাসীহ এবং রূহ। অভিধান অনুযায়ী ‘ঈসা’ অর্থ হলো উজ্জ্বল শ্বেতবর্ণ; এর অন্য ব্যুৎপত্তির কথাও বলা হয়। আর ‘রূহ’ কারণ তিনি জিবরাঈলের ফুঁৎকার থেকে সৃষ্ট; আবার বলা হয়, না, বরং জিবরাঈলের ফুঁৎকারের মাধ্যমে তাঁর মায়ের মাটির নির্যাস থেকে জরায়ুতে নির্গত পানির মাধ্যমে তিনি সৃষ্ট, সুতরাং তিনি পানি থেকে সৃষ্ট, বাতাস থেকে নয়। কেউ বলেছেন তিনি গর্ভধারণের মুহূর্তেই ভূমিষ্ঠ হন, কেউ বলেছেন আট মাসে, আবার কেউ বলেছেন পূর্ণ মেয়াদে। আর ‘কালিমাহ’ (বাক্য) নামকরণের কারণ হলো তিনি একটি বাক্যের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছেন। তাঁকে ‘মসীহ’ বলা হয় কারণ তিনি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করতেন; কেউ বলেছেন তিনি তেল দ্বারা মর্দিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কেউ বলেছেন কারণ তিনি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীদের রোগ হাত বুলিয়ে মুছে দিতেন। আবার বলা হয়, মাসীহ তাকেই বলা হয় যার পায়ের পাতায় কোনো খাঁজ নেই। এতে আরও আছে: যখন মহান আল্লাহর বাণী (আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা ও পাকা খেজুর ফেলবে)-এর মাধ্যমে তাকে খেজুর গাছের কাণ্ড নাড়া দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন বলা হয়: যেহেতু তিনি পিতা ছাড়া সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাই তাকে এটি বলা হয়েছিল। তিনি কোনো পুরুষ বা পরাগায়ন ছাড়াই একটি শুকনো কাণ্ড নাড়া দিলেন এবং ফল উৎপন্ন হলো। এতে চারটি বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে: পরাগায়নহীন শুকনো খেজুর গাছ থেকে তাজা খেজুর পাওয়া, যাতে করে তিনি পিতা বা স্পর্শ ছাড়া সন্তান হওয়ার বিষয়ে আশ্চর্য না হন। এতে আরও বলা হয়েছে, কেন নদী প্রবাহিত হলো তাঁর কোনো চেষ্টা ছাড়াই, কিন্তু খেজুর দেওয়া হলো তাঁর চেষ্টার মাধ্যমে? বলা হয়েছে: কারণ খেজুর হলো খাদ্য ও স্বাদ। আর পানি হলো পবিত্রতা ও সেবার মাধ্যম। কেউ বলেছেন: যখন তিনি একা ছিলেন, তখন মাধ্যম ছাড়াই জান্নাত থেকে তাঁর কাছে খাবার পাঠানো হতো, কিন্তু যখন তিনি সন্তান জন্ম দিলেন তখন মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল, তাই তাকে গাছ নাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলো। ‘তারিখে ইবনুল ওয়ারদী’-তে ইবনুল আসীরের ‘আল-কামিল’ থেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে: আলেকজান্ডারের বিজয়ের তিনশত চার বছর পর মারইয়াম বাইতুল লাহমে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে জন্ম দেন। তখন আদম (আলাইহিস সালাম)-এর পৃথিবীতে আগমনের পাঁচ হাজার পাঁচশত চুরাশি বছর, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর মহাপ্লাবনের তিন হাজার তিনশত বিয়াল্লিশ বছর, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর জন্মের দুই হাজার দুইশত একষট্টি বছর, মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ইন্তেকালের এক হাজার সাতশত ষোলো বছর, বুখতে নাসরের রাজত্ব শুরুর সাতশত আটত্রিশ বছর এবং হিজরতের ছয়শত একত্রিশ বছর আগে ছিল। যখন তিনি তাকে প্রসব করলেন, তখন তাকে বহন করে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট এলেন। তারা তাকে পাথর মারার জন্য পাথর তুলে নিল, তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর মায়ের কাঁধে থাকা অবস্থায় দোলনাতেই কথা বলে উঠলেন (তিনি বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা...) শেষ পর্যন্ত। যখন তারা ঈসার কথা শুনল, তখন তাকে ছেড়ে দিল। এরপর মারইয়াম তাকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ইউসুফ নাজ্জার ইবনে ইয়াকুবের সাথে মিসরের দিকে যাত্রা করলেন। কেউ কেউ দাবি করেন যে ইউসুফ মারইয়ামকে বিয়ে করেছিলেন কিন্তু তাঁর নিকটবর্তী হননি। এই ইউসুফই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি তাঁর গর্ভাবস্থা নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন, পরে তাঁর পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং তাঁর সাথে সফর করেন। তারা মিসরে বারো বছর অবস্থান করেন। এরপর ঈসা ও তাঁর মা সিরিয়ায় ফিরে আসেন এবং নাসিরাতে অবস্থান করেন, যার নামানুসারে নাসারা নামকরণ করা হয়েছে। তিনি সেখানে অবস্থান করেন যতক্ষণ না ত্রিশ বছর বয়সে তিনি নবুওয়াত লাভ করেন। তিনি জানুয়ারি মাসের ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পর দাওয়াতের কাজ শুরু করেন এবং মুজিযা প্রদর্শন করেন। তিনি আযরকে তার মৃত্যুর তিন দিন পর জীবিত করেন। তিনি পশম ও চুলের পোশাক পরিধান করতেন, যমিনের লতাগুল্ম খেতেন এবং তাঁর মায়ের সুতা কাটার উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি কাদা দিয়ে পাখি বানাতেন, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীদের সুস্থ করতেন এবং পানির ওপর দিয়ে হাঁটতেন।
হাওয়ারীগণ যারা তাঁর অনুসরণ করেছিলেন তারা ছিলেন বারোজন: শামউন আস-সাফা, শামউন আল-কানানী, ইয়াকুব ইবনে যায়দী, ইয়াকুব ইবনে খালফী, কলাস, মারকুস, আন্দরাউস, তামরিল্লা, ইউহান্না, লুকা, তুমা এবং মাত্তা।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ولما رفعه الله إلى السماء وقال اليهود ما قالوا، أنزله الله من السماء إلى أمه مرين وهي تبكي عليه، فقال لها: إن الله رفعني إليه، ولم يصبني إلا الخير وأمرها فجمعت له الحواريين فبثهم في الأرض رسلاً عن الله. ثم رفعه الله تعالى وتفرق الحواريون. وكان رفعه لمضي ثلاثمائة وست وثلاثين من غلبة الاسكندر، وكان بين رفع عيسى ومولد النبي صلى الله عليه وسلم خمسمائة وخمس وأربعون سنة تقريباً.
وعاشت مريم عليها السلام ثلاثاً وخمسين سنة، وحملت بالمسيح ولها ثلاث عشرة سنة، وحاضت قبل حملها حيضتين، وعاشت مجتمعه معه ثلاثاً وثلاثين سنة، وبقيت بعد رفعه ست سنين.
وكان ملك اليهود الذي هم بقتل عيبس اسمه هردوس. قال ابن سعيد: وكانت اليهود قد جدت في طلبه فحضر بعض الحواريين إلى هردوس ملك اليهود، وقال له ولجماعة اليهود، ما تجعلون لي إذا دللتكم على المسيح. فجعلوا له ثلاثين درهماً فأخذها ودلهم عليه فرفع الله المسيح إليه وألقى شبهه على الذي دلهم عليه، فقبضه اليهود وربطوه بحبل وقادوه ويقولون له: أنت كنت تحيي الموتي، أفلا تخلص نفسك من هذا الحبل ويبصقون في وجهه، ويلقون عليه الشوك وهو يستغيث بهم ويقول لهم: أنا فلان وهم لا يصدقونه وصلبوه على الخشبة ست ساعات ثم استوهبه يوسف النجار من هردوس ودفنه في قبر كان يوسف قد أعده لنفسه ثم ظهر لهم أنه هو الحواري الذي دل على عيسى، وأنزل الله عيسى على أمه وهي تبكي واجتمع بالحواريين وبعثهم رسلاً إلى البلاد.
وبزعمهم قال متى في إنجيله: إن المسيح قال: إني أرسلتكم إلى الأمم كما أرسلني أبي إليكم، فاذهبوا وادعوا الأمم باسم الأب والابن والروح القدس.
قلت: تعالى الله عن ذلك علواً كثيراً، إنما هذا من كلامهم، فإن كلام الله قوله تعالى: (لا تدع مع الله إلهاً آخر) (إنما هو إله واحد) وقال تعالى: (قل هو الله أحد الله الصمد لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد) والظاهر أن قول عيسى عليه السلام لهم: "الحق ليكفرن لبين أحدكم" يحتمل أنه أراد به متى، وقوله: ليبيعني.. ذلك الذي دل اليهود عليه،، اخذ ثلاثين درهماً ثم صلب [بعد] ذلك.
ومن فضائح النصارى، ذكر في كتاب "تخجيل من حرف الأناجيل": أن للنصارى كنيسة يحجون إليها، ويزعمون أن يد الله تخرج إليهم من وراء الستر فتصافحهم في يوم من السنة، فبلغ ذلك بعض ملوكهم، فمضى إلى الكنيسة في ذلك اليوم، فلما ظهرت اليد قربها الأقساء إليه ليقبلها فقبضها، فصاح به الأقسة قالوا: الساعة تخسف بنا الأرض فقال: دعوا عنكم، لا أضعها حتى أرى صاحبها. فقالوا له: رجعت عن دينك فقال: لا، ولكني أردت معرفة ذلك فقالوا: إنها يد أسقف من أصحابنا فلا تفضحنا.
ومن فضائحهم: كان في الروم كنيسة يحجون إليها في يوم من السنة فيرون صنماً بها، إذا قرئ الإنجيل بين يديه در ثدياه، وخرج منهما اللبن، فبحث ملكهم عن ذلك فوجد القيم قد نقب من وراء الجدار طاقة وهندمها حتى أوصلها ثدي الصنم وجعل فيها أنبوبة من نحاس. وأخفاها فإذا كان يوم العيد فتحها وصب فيها لبناً فيخرج من ثدي الصنم ويقطر قطة قطرة، فلا يشك من حضر أنها آية، فلما علم ملكهم ضرب عنق القيم وحلف أن لا يبقي في الكنائس صوراً، وكفر بعضهم [ب] بعضٍ.
وزعم النصارى: أن المسيح علم هذه الأقوال إلى الحواريين، ويقولون: إنها سورة ويسمونها فاتحة الأناجيل وهي: أبانا الذي في السموات، قدوس اسمك، يأتي ملكوتك، كما في السماء كذلك يكون على وجه الأرض. آتنا خبزنا قوتاً في اليوم، واغفر لنا ما وجب علينا، كما نحب أن تغفر لمن أخطأ إلينا، ولا تدخلنا التجارب لكن نجنا من الشرير، لك المجد والقوة والملك إلى الأبد. آمين فانظر رحمك الله إلى هذه الألفاظ وانظر إلى فاتحة الكتاب، فبين الفاتحة وبين هذه الكلمات كما بين الأرض والعرش لا السحاب.
যখন আল্লাহ তাকে আকাশে তুলে নিলেন এবং ইয়াহুদিরা যা বলার বলল, তখন আল্লাহ তাকে আকাশ থেকে তাঁর মাতা মরিয়মের কাছে নামিয়ে দিলেন, এমতাবস্থায় যে মরিয়ম তার জন্য কাঁদছিলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে তাঁর দিকে তুলে নিয়েছেন এবং আমার কেবল কল্যাণই হয়েছে।" এরপর তিনি তাঁকে নির্দেশ দিলে মরিয়ম তাঁর জন্য হাওয়ারীদের (শিষ্যদের) একত্র করলেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল হিসেবে তাঁদেরকে জমিনে ছড়িয়ে দিলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে পুনরায় তুলে নিলেন এবং হাওয়ারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। তাঁর এই ঊর্ধ্বারোহণ ছিল আলেকজান্ডারের বিজয়ের তিনশ ছত্রিশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর। আর ঈসা (আ.)-এর ঊর্ধ্বারোহণ এবং নবী (সা.)-এর জন্মের মধ্যবর্তী সময় ছিল প্রায় পাঁচশ পঁয়তাল্লিশ বছর।
মরিয়ম (আলাইহাস সালাম) তিপ্পান্ন বছর জীবিত ছিলেন। তেরো বছর বয়সে তিনি মসীহকে গর্ভে ধারণ করেন। গর্ভধারণের পূর্বে তিনি দুইবার ঋতুবতী হয়েছিলেন। তিনি মসীহের সাথে একত্রে তেত্রিশ বছর কাটিয়েছেন এবং তাঁর ঊর্ধ্বারোহণের পর ছয় বছর জীবিত ছিলেন।
ইয়াহুদিদের যে রাজা ঈসাকে হত্যার সংকল্প করেছিল তার নাম ছিল হিরোদাস। ইবনে সাঈদ বলেন: ইয়াহুদিরা তাঁর সন্ধানে অত্যন্ত তৎপর ছিল। তখন জনৈক হাওয়ারী ইয়াহুদিদের রাজা হিরোদাসের কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে ও ইয়াহুদি গোষ্ঠীকে বলল: "আমি যদি তোমাদেরকে মসীহের সন্ধান দিয়ে দিই তবে তোমরা আমাকে কী দেবে?" তারা তাকে ত্রিশ দিরহাম দিতে চাইল। সে তা গ্রহণ করে তাদের পথ দেখিয়ে দিল। তখন আল্লাহ মসীহকে তাঁর দিকে তুলে নিলেন এবং যে ব্যক্তি তাদের পথ দেখিয়েছিল তার উপর মসীহের সাদৃশ্য নিক্ষেপ করলেন। ফলে ইয়াহুদিরা তাকে পাকড়াও করল এবং রশি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। তারা তাকে বলতে লাগল: "তুমি তো মৃতদের জীবিত করতে, তবে এখন নিজেকে এই রশি থেকে মুক্ত করছ না কেন?" তারা তার মুখে থুতু নিক্ষেপ করল এবং তার উপর কাঁটা ছিটিয়ে দিল। সে তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে বলছিল: "আমি অমুক ব্যক্তি", কিন্তু তারা তাকে বিশ্বাস করল না। তারা তাকে কাঠের ওপর ছয় ঘণ্টা বিদ্ধ করে রাখল। এরপর ইউসুফ নাজ্জার হিরোদাসের কাছে তাকে চেয়ে নিলেন এবং একটি কবরে দাফন করলেন যা ইউসুফ নিজের জন্য তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে তাদের কাছে প্রকাশ পেল যে, সে ছিল সেই হাওয়ারী যে ঈসা (আ.)-এর সন্ধান দিয়েছিল। আর আল্লাহ ঈসা (আ.)-কে তাঁর মাতার কাছে নামিয়ে দিলেন যখন তিনি কাঁদছিলেন। তিনি হাওয়ারীদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁদেরকে রাসূল হিসেবে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দিলেন।
তাদের দাবি অনুযায়ী মথি তার ইঞ্জিলে বলেছেন: মসীহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে জাতিসমূহের কাছে প্রেরণ করছি যেমন আমার পিতা আমাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং যাও এবং পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে জাতিসমূহকে আহ্বান করো।"
আমি বলি: আল্লাহ তাদের এই বক্তব্য থেকে অনেক ঊর্ধ্বে, সুমহান। এটি কেবল তাদেরই কথা। কারণ আল্লাহর বাণী হলো তাঁর এই ঘোষণা: "আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডেকো না", "নিশ্চয়ই তিনি একমাত্র উপাস্য"। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।" বাহ্যত মনে হয় যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁদেরকে যা বলেছিলেন: "সত্যিই তোমাদের মধ্য থেকে একজন অবশ্যই কুফরি করবে"—এর দ্বারা সম্ভবত তিনি মথিকে উদ্দেশ্য করেছিলেন। আর তাঁর কথা: "সে আমাকে বিক্রি করে দেবে"—এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ইয়াহুদিদের পথ দেখিয়েছিল, ত্রিশ দিরহাম গ্রহণ করেছিল এবং এরপর ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিল।
খ্রিস্টানদের কলঙ্কজনক বিষয়সমূহের মধ্যে "তাখজিলু মান হাররাফাল আনাজিল" নামক কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে: খ্রিস্টানদের একটি গির্জা আছে যেখানে তারা হজ্জ করতে যায়। তারা দাবি করে যে, বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে পর্দার আড়াল থেকে আল্লাহর হাত তাদের দিকে বেরিয়ে আসে এবং তাদের সাথে করমর্দন করে। এই সংবাদ তাদের জনৈক রাজার কাছে পৌঁছালে সে ওই দিনে গির্জায় গেল। যখন আল্লাহর হাত প্রকাশিত হলো, তখন পাদ্রীরা রাজাকে তা চুম্বন করার জন্য নিকটে নিয়ে গেল। রাজা হাতটি জাপটে ধরলেন। পাদ্রীরা চিৎকার করে বলতে লাগল: "এই মুহূর্তে আমাদের জমিন ধসে যাবে!" রাজা বললেন: "তোমরা থামো, এর মালিককে না দেখা পর্যন্ত আমি হাত ছাড়ব না।" তারা তাকে বলল: "আপনি আপনার ধর্ম ত্যাগ করেছেন।" তিনি বললেন: "না, বরং আমি বিষয়টি জানতে চাই।" তখন তারা বলল: "আসলে এটি আমাদেরই এক বিশপের হাত, সুতরাং আমাদের ইজ্জত নষ্ট করবেন না।"
তাদের আরও কিছু কলঙ্কজনক বিষয়: রোমে একটি গির্জা ছিল যেখানে তারা বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে হজ্জ করতে যেত। সেখানে তারা একটি মূর্তি দেখতে পেত; যখনই তার সামনে ইঞ্জিল পাঠ করা হতো, মূর্তির স্তন থেকে দুধ প্রবাহিত হতো। তাদের রাজা যখন এ বিষয়ে অনুসন্ধান করলেন, তখন দেখতে পেলেন যে খাদেম দেয়ালের পেছন থেকে একটি সূক্ষ্ম ছিদ্র করেছে এবং সেটি মূর্তির স্তন পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে। সেখানে সে একটি তামার নল লাগিয়েছিল এবং তা লুকিয়ে রেখেছিল। যখন উৎসবের দিন আসত, সে সেটি খুলে দিত এবং তাতে দুধ ঢেলে দিত, যা মূর্তির স্তন দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে নির্গত হতো। যারা সেখানে উপস্থিত হতো তাদের মনে কোনো সন্দেহ থাকত না যে এটি একটি অলৌকিক নিদর্শন। যখন তাদের রাজা বিষয়টি জানলেন, তিনি সেই খাদেমের শিরশ্ছেদ করলেন এবং শপথ নিলেন যে গির্জাগুলোতে কোনো ছবি বা মূর্তি রাখবেন না। এভাবে তারা একে অপরকে অস্বীকার করতে লাগল।
খ্রিস্টানরা দাবি করে যে, মসীহ হাওয়ারীদের এই বাক্যগুলো শিক্ষা দিয়েছেন। তারা বলে: এটি একটি সূরা এবং এর নাম দিয়েছে "ইঞ্জিলের ফাতিহা"। তা হলো: "হে আমাদের পিতা যিনি স্বর্গে আছেন, আপনার নাম পবিত্র হোক, আপনার রাজত্ব আসুক, যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও হোক। আজ আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য দান করুন, আর আমাদের উপর যা আবশ্যক তা ক্ষমা করুন, যেমন আমরা আমাদের অপরাধীদের ক্ষমা করতে ভালোবাসি। আমাদের পরীক্ষায় ফেলবেন না, বরং আমাদের শয়তান থেকে রক্ষা করুন। চিরকাল গৌরব, শক্তি ও রাজত্ব আপনারই। আমীন।" হে আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আপনি এই শব্দগুলোর দিকে তাকান এবং কিতাবের ফাতিহা (সূরা ফাতিহা)-এর দিকে তাকান। সূরা ফাতিহা এবং এই শব্দগুলোর মধ্যে ব্যবধান জমিন এবং আরশের মধ্যবর্তী ব্যবধানের মতো, মেঘমালার ব্যবধানের মতো নয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ومما يقرءونه في الساعة الأولى من صلاتهم: المسيح الإله الصالح، الطويل الروح، الكثير الرحمة، الداعي الكل إلى الإخلاص، قلت: إذا كان المسيح هو الإله فلم لا خلص نفسه من الصلب كما يزعمون، إنما هو كلمة الله وروح منه. (وما صلبوه ولكن شبه لهم..) ويقرءون في صلاة السحر: تعالوا بنا نسجد للمسيح إلهنا. وقاله تعالى (يا عيسى ابن مريم أأنت قلت للناس اتخذوني من دون الله قال سبحانك ما يكون لي أن أقول ما ليس لي بحث إن كنت قلته فقد علمته تعلم ما في نفسي ولا أعلم ما في نفسك إنك أنت علام الغيوب* ما قلت لهم إلا ما أمرتني به أن اعبدوا الله ربي وربكم..) .
فتعساً لهم ما أظلمهم وأعمى أبصارهم. ولهم من هذه الخرافات والكفريات أشياء كثيرة، فمنها أنهم يقرءون في الساعة الثالثة من صلاتهم: يا والدة الله يا مريم العذراء افتحي لنا أبواب الرحمة. وغير ذلك مما تنفر عنه الطباع.
ومن فضائحهم: أنه ظهر لهم في الموصل دين جديد سنة ألف ومائة وثلاث وتسعين أتت به البواتر من بلاد الفرنج، ويسمونه المسيحي، وهو أراجيف من الأول، وصارت غالب نصارى الموصل على ذلك الاعتقاد، وجعلوا يلعنون من مات قبلهم من آبائهم وأمهاتهم، ويشهدون عليهم بالكفر، فلعنهم الله وأخزاهم، ولي فيهم قصيدة ذكرت فيها فضائحهم، وقد ذكرتها في كتابي "الدر المنتشر في أدباء القرن الثالث عشر". وذكر ابن الأثير، أنه اجتمعت البطارقة والمطارنة والأساقفة في مدينة القسطنطينية بمحضر من ملكهم قسطنطين، وكانوا ثلاثمائة وثلاثة عشر رجلاً واتفقوا على هذه الكلمات اعتقاداً ودعوة، وهي قولهم: نؤمن بالله الواحد الأب، مالك كل شيء وصانع ما يرى وما لا يرى، وبالابن الوحيد إيسوع المسيح ابن الله الواحد بكر الخلائق كلها، وليس بمصنوع. غله حق من إله حق، من جوهر أبيه الذي بيده أتقنت العوالم وكل شيء، الذي من أجلنا وأجل خلاصنا نزل من السماء، وتجسد في روح القدس، وولد من مريم البتول، وصلب ودفن ثم قام في اليوم الثالث وصعد إلى السماء، وجلس على يمين أبيه وهو مستعد للمجيء تارة أخرى للقضاء بين الأموات والأحياء، ونؤمن بروح القدس الواحد روح الحق الذي يخرج من أبيه وبمعمودية واحدة، ولغفران الخطايا، وبالجماعة واحدة قدسية مسيحية جاثليقية وبقيام أبداننا، وبالحياة الدائمة أبد الآبدين.
فانظر وفقك الله بين هذا المعتقد السخيف، والإيمان الصادق الطاهر العفيف [في] قولنا: آمنت بالله وملائكته وكتبه ورسله وبالبعث بعد الموت، وبالقدر خيره وشره من الله تعالى.
وذكر في "النقاية" أن العالم حادث، وصانعه الله واحد قديم لا ابتداء لوجوده ولا انتهاء لذاته، وذاته مخالف لسائر الذوات، وصفاته: الحياة والإرادة والعلم والقدرة والسمع والبصر، والكلام القائم بذاته المعبر عنه بالقرآن المحفوظ بألفاظه المقروءة [ال] القديم، منزه عن التجسم واللون والطعم والعرض والحلول، ليس كمثله شيء، وما ورد في الكتاب والسنة نؤمن به، والقدر خيره وشره منه. أرسل رسله بالمعجزات الباهرات وختم بهم محمداً صلى الله عليه وسلم ونعتقد أن عذاب القبر حق، وسؤال الملكين حق، وأن الحشر والمعاد حق، وأن رؤية المؤمنين له تعالى حق، وأن المعراج بجسد المصطفى صلى الله عليه وسلم حق يقظة، وأن نزول عيسى بن مريم قرب الساعة وقتله الدجال حق، وأن رفع القرآن حق، وأن الجنة والنار حق مخلوقتان اليوم، وأن الجنة في السماء، والنار تحت الأرض السابعة، ونعتقد أن الموت بالأجل فإذا [قال] الإنسان هذه الأشياء واعتقدها فقد حظي بالإيمان الكامل.
وفي سنة ألف مائتين وواحد قرأت ما ذكره ابن الأثير من معتقد النصارى على قس للنصارى فقال: هذا هوالإيمان الكامل؟ فسحقاً له من إيمان كامل، إنما هو ناقص وكفر محض، وكلام أساقفة وشمامسة لعنهم الله ما أظلمهم وأعمى أبصارهم.
তারা তাদের প্রার্থনার প্রথম প্রহরে যা পাঠ করে: মসীহ পুণ্যবান ঈশ্বর, দীর্ঘ ধৈর্যশীল, পরম করুণাময়, যিনি সকলকে একনিষ্ঠতার দিকে আহ্বান করেন। আমি বলি: মসীহ যদি ঈশ্বরই হন, তবে কেন তিনি নিজেকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করলেন না যেমনটি তারা দাবি করে? অথচ তিনি তো আল্লাহর বাণী এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত রুহ (আত্মা)। (আর তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য সদৃশ করা হয়েছিল...)। ভোরের প্রার্থনায় তারা পাঠ করে: এসো আমরা আমাদের ঈশ্বর মসীহের সামনে সেজদা করি। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (হে মারয়াম পুত্র ঈসা! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো? তিনি বললেন: আপনি পবিত্র! যা বলার অধিকার আমার নেই, তা বলা আমার পক্ষে শোভা পায় না। আমি যদি তা বলতাম, তবে আপনি অবশ্যই তা জানতেন। আমার অন্তরে যা আছে তা আপনি জানেন, কিন্তু আপনার অন্তরে যা আছে তা আমি জানি না। নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়ে পরিজ্ঞাত। আমি তাদের তাই বলেছি যা আপনি আমাকে আদেশ করেছেন যে, তোমরা আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদত করো...)।
তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য, তারা কতই না জালিম এবং তাদের দৃষ্টি কতই না অন্ধ। তাদের এই জাতীয় অনেক কাল্পনিক গল্প ও কুফরি বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, তারা তাদের প্রার্থনার তৃতীয় প্রহরে পাঠ করে: হে ঈশ্বরের মাতা, হে কুমারী মারয়াম, আমাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দিন। এছাড়া আরও অনেক কিছু যা প্রকৃতিগতভাবেই ঘৃণ্য।
তাদের কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটি হলো: এগারোশ তিরানব্বই হিজরি সনে মোসেলে তাদের মধ্যে একটি নতুন ধর্মের উদ্ভব ঘটে যা ফ্রাঙ্কদের দেশ থেকে আসা ধর্মযাজকরা নিয়ে এসেছিল। তারা একে 'মসিহী' (খ্রিস্টান) বলে অভিহিত করে, যা মূলত আদি ভিত্তিহীন কথারই অংশ। মোসেলের অধিকাংশ নাসারা (খ্রিস্টান) সেই বিশ্বাস গ্রহণ করে এবং তারা তাদের পূর্বে মারা যাওয়া পূর্বপুরুষ ও পিতামাতাদের লানত দিতে শুরু করে এবং তাদের কাফের হওয়ার সাক্ষ্য দেয়। আল্লাহ তাদের লানত দিন এবং লাঞ্ছিত করুন। তাদের সম্পর্কে আমার একটি কাসিদা (কবিতা) আছে যেখানে আমি তাদের কলঙ্কগুলো উল্লেখ করেছি; আমি সেটি আমার কিতাব "আদ-দুররুল মুনতাশির ফি উদাবাইল করনিল ছালিছ আশার"-এ উল্লেখ করেছি। ইবনুল আসির উল্লেখ করেছেন যে, প্যাট্রিয়ার্ক, মেট্রোপলিটন এবং বিশপগণ তাদের রাজা কনস্টানটাইনের উপস্থিতিতে কনস্টান্টিনোপল শহরে একত্রিত হয়েছিলেন। তারা সংখ্যায় তিনশ তেরো জন ছিলেন এবং তারা এই শব্দগুলোর উপর বিশ্বাস ও দাওয়াতের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন, যা হলো: আমরা বিশ্বাস করি অদ্বিতীয় ঈশ্বর পিতাতে, যিনি সবকিছুর মালিক এবং দৃশ্য ও অদৃশ্যের স্রষ্টা। এবং তাঁর অদ্বিতীয় পুত্র যিশু খ্রিস্টে, যিনি আল্লাহর পুত্র, সমস্ত সৃষ্টির প্রথমজাত এবং তিনি সৃষ্ট নন। তিনি সত্য ঈশ্বর থেকে উৎপন্ন সত্য ঈশ্বর, তাঁর পিতার সারসত্তা থেকে যাঁর হাতে জগতসমূহ ও সবকিছু সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যিনি আমাদের এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন, এবং পবিত্র আত্মার মাধ্যমে দেহ ধারণ করেছেন, কুমারী মারয়ামের গর্ভে জন্ম নিয়েছেন, ক্রুশবিদ্ধ হয়েছেন ও সমাহিত হয়েছেন, অতঃপর তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং স্বর্গে আরোহণ করেছেন, এবং তাঁর পিতার ডান পাশে বসেছেন। তিনি জীবিত ও মৃতদের বিচারের জন্য পুনরায় আসার জন্য প্রস্তুত। আর আমরা বিশ্বাস করি অদ্বিতীয় পবিত্র আত্মায়, যিনি সত্যের আত্মা এবং তাঁর পিতা থেকে নির্গত হয়েছেন; এবং এক বাপ্তিস্মে, পাপের ক্ষমার জন্য এবং এক পবিত্র বৈশ্বিক খ্রিস্টীয় মণ্ডলী এবং আমাদের শরীরের পুনরুত্থানে ও চিরস্থায়ী জীবনে।
অতএব, আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দিন, আপনি এই অসার বিশ্বাস এবং আমাদের এই বক্তব্য: "আমি বিশ্বাস করি আল্লাহতে, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলদের প্রতি, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত"—এই সত্য, পবিত্র ও নির্মল ইমানের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করুন।
"আন-নুকায়া" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জগত নশ্বর, এবং এর নির্মাতা আল্লাহ এক ও অনাদি, যাঁর অস্তিত্বের কোনো শুরু নেই এবং সত্তার কোনো শেষ নেই। তাঁর সত্তা অন্য সকল সত্তা থেকে ভিন্ন। তাঁর গুণাবলি হলো: জীবন, ইচ্ছা, জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন এবং তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান কালাম (বাক্য) যা কুরআনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যার শব্দসমূহ সংরক্ষিত এবং পঠিত যা অনাদি। তিনি শারীরিক গঠন, রঙ, স্বাদ, আকস্মিক গুণাবলি এবং অনুপ্রবেশ থেকে পবিত্র। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। কিতাব ও সুন্নাহতে যা কিছু এসেছে আমরা তাতে বিশ্বাস করি। ভাগ্যের ভালো ও মন্দ তাঁরই পক্ষ থেকে। তিনি তাঁর রাসুলদের উজ্জ্বল মুজিজাসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমাপ্ত করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি যে, কবরের আজাব সত্য, দুই ফেরেশতার সওয়াল সত্য, হাশর ও কিয়ামত সত্য, মুমিনদের জন্য আল্লাহ তাআলার দিদার সত্য, জাগ্রত অবস্থায় মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সশরীরে মিরাজ সত্য, কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঈসা ইবনে মারয়ামের অবতরণ এবং তাঁর দাজ্জালকে হত্যা করা সত্য, কুরআন তুলে নেওয়া সত্য, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য যা আজই সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে, জান্নাত আসমানে এবং জাহান্নাম সপ্তম জমিনের নিচে অবস্থিত। আমরা বিশ্বাস করি যে মৃত্যু নির্ধারিত সময়েই হয়। যখন মানুষ এই বিষয়গুলো বলবে এবং বিশ্বাস করবে, তখন সে পূর্ণ ইমান লাভে ধন্য হবে।
বারোশ এক হিজরি সনে আমি ইবনুল আসির বর্ণিত নাসারাদের এই আকিদা জনৈক খ্রিস্টান পাদ্রীর সামনে পাঠ করলাম। তখন সে বলল: এটাই কি পূর্ণাঙ্গ ইমান? তার এই পূর্ণাঙ্গ ইমানের জন্য বিনাশ অনিবার্য! এটা তো অপূর্ণাঙ্গ এবং স্পষ্ট কুফর। আর বিশপ ও ডিকনদের কথা, আল্লাহ তাদের লানত দিন, তারা কতই না জালিম এবং তাদের দৃষ্টি কতই না অন্ধ।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ومن فضائح اليهود: ذكر في كتاب "تخجيل من حرف الأناجيل": أن قدماء اليهود عبدة الكواكب والزهرة، منهم عبدوا العجل الذي صنعه السامري ومنهم طائفة تعتقد أن لله مضاد من خلقه وهو فاعل الشر، وطائفة تزعم أن عيسى عليه السلام ومحمد صلى الله عليه وسلم نبيان مرسلان لقومهما خاصة، وطائفة تقر بنبوة موسى وهارون ويوشع، وتجحد بنبوة ما عداهم من النبيين، وطائفة تعترف بنبوة [ال] كل ما عدا عيسى عليه السلام ونبينا محمد صلى الله عليه وسلم وتزعم أن المسيح لم يبعث بعد وسيأتي.
ومن فضائحهم: زعمهم أن الله حين أكمل خلق العالم قال تعالى حتى نخلق بشراً مثلنا، فخلق آدم. ولذلك اعتقد اليهود أن الله في صورة شيخ كبير، وأنه جالس على كرسي والملائكة قيام بين يديه تعالى الله عن ذلك. ومن فضائحهم: زعمهم أن الله لما خلق آدم ورأى معاصي نبيه كثرت قال: لقد ندمت إذ خلقت آدم فأرسل الطوفان، فأباد به من على وجه الأرض، ثم ندم وقال: لا أعود أفعل ذلك! وهل يخفى على علام الغيوب ما كان وما سيكون؟ قاتلهم الله إنى يؤفكون ما أعماهم عن الهدى! وغلى هذا أشار صاحب الهمزية بقوله رضي الله عنه وأرضاه فقال:
فاسألوهم أكان في مسخهم نسخ
… لآياتِ اللهِ أمْ إنشاءُ
وبداء في قولهم ندمُ الله
… على خلق آدم أم خطَّاءُ
[11]إيشاع بنت فاقوذاهي زوجة زكريا عليه السلام وأخت حنة أم مريم عليها السلام بنت عمران، تزوجها زكريا عليه السلام ولم تحمل منه وكانت عاقراً، وبلغت من العمر كثيراً حتى انقطع حيضها، وكانت أكبر من أختها حنة، وقيل أصغر منها.
ذكر في "المعالم" في تفسير سورة "كهيعص" قوله تعالى: (قال ربِّ إني وهن العظم مني واشتعل الرأس شيباً ولم أكن بدعائك رب شقيا) أي قال زكريا: عودتني الإجابة فيما مضى، وقوله تعالى: (وإني خفت الموالي من ورائي وكانت امرأتي عاقراً فهب لي من لدنك ولياً) أي: ابناً، وقوله تعالى: (يرثني ويرث آل يعقوب..) قال الحسن: يرثني مالي، ويرث من آل يعقوب النبوة والحبورة لأن زكريا عليه السلام كان نبياً مرسلاً، ورأس الأحبار. وقوله تعالى: (يا زكريا إنا نبشرك بغلام اسمه يحيى..) وعن ابن عباس رضي الله عنهما: أنه لم تلد العواقر مثله. وقوله تعالى: (قال رب اجعل لي آية..) أي دلالة على حمل امرأتي، لأنها عاقر وقد كبرت وأسنت قال تعالى: (آيتك ألا تكلم الناس ثلاث ليال سويا) أي: صحيحاً سليماً من غير بأس ولا خرس، وكان الناس ينتظرون خروجه من وراء المحراب، فخرج عليهم متغيراً لونه، فأنكروه وقالوا له: ما لك؟ فكتب لهم في الأرض (.. أن سبحوا بكرة وعشيا
… ) لأنه كان يخرج عليهم بكرة وعشياً، فلما كان وقت حمل امرأته إنشاع ومنع من الكلام خرج إليهم وأمرهم بالصلاة [إشارة] ، ولماتم حملها ولدت يحيى عليه السلام ولما صار له من العمر ثلاث سنين أتاه الله الحكم صبياً، قرأ التوراة وهو صغير وذكر في "تاريخ ابن الوردي": أن إيشاع ولدت يحيى عليه السلام قبل ما ولدت مرين عليها السلام عيسى بستة اشهر، فكان مولد يحيى سنة أربع وثلاثمائة لغلبة الاسكندر، ولهبوط آدم عليه السلام خمسة آلاف، وخمسمائة وأربع وثمانين.
وكان لهردوس حاكم اليهود بنت أخ، فأراد أن يتزوجها حسبما هو جائز في دين اليهود، فنهاه يحيى عليه السلام عن ذلك، فطلبت أم البنت من هردوس قتل يحيى فامتنع، فعاودته هي والبنت وألحت عليه، فأمر بذبح يحيى عليه السلام فذبح لديهما قبل رفع المسيح بمدة يسيرة.
وذكر في "تاريخ الدول": ولد يحيى قبل عيسى بستة اشهر، ونبئ وهو صغير، وكان لليهود ملكاً اسمه آجب، وقيل: هردوس، وكان يكرم يحيى، وكان يحب بنت أخيه. وقيل: بنت زوجته، فشاور يحيى بأن يتزوجها، فمنعه، فبلغ [منعه] أم البنت، فعمدت حين جلس هردوس للشرب وزينت بنتها وأرسلتها إلى هردوس لتسقيه الخمر، فإذا راودها تأبى حتى يعطيها رأس يحيى في طشت، ففعلت، ولما راودها أبت وطلبنا منه ذلك، فبعث الملعون إلى يحيى، وهو يصلي في محراب داود عليه السلام فذبحوه وحملوا رأسه في طشت، وأدخلوه على هردوس، والراس يتكلم ويقول: لا تحل لك، ووضعوه قدام تلك العاهرة، ثم أمر هردوس بدفنه، والدم يغلي منه ويفور، فوضعوه في حفرة، في دار هردوس.
ইয়াহুদিদের কলঙ্কসমূহের মধ্যে রয়েছে: "তাজহিলু মান হাররাফাল আনাজিল" কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাচীন ইয়াহুদিরা ছিল গ্রহ-নক্ষত্র ও শুক্র গ্রহের পূজারি। তাদের কেউ কেউ সেই গোবৎসকে পূজা করত যা সামিরি নির্মাণ করেছিল। তাদের মধ্যে একটি দল মনে করে যে, সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর একজন বিরোধী সত্তা রয়েছে যে অকল্যাণের কর্তা। আরেকটি দল দাবি করে যে, ঈসা আলাইহিস সালাম এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল তাঁদের নিজ নিজ কওমের জন্য প্রেরিত নবী ছিলেন। একটি দল মূসা, হারুন ও ইউশা আলাইহিমুস সালাম-এর নবুওয়াত স্বীকার করে কিন্তু তাঁদের পরবর্তী নবীদের নবুওয়াত অস্বীকার করে। আরেকটি দল ঈসা আলাইহিস সালাম ও আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতিরেকে সকলের নবুওয়াত স্বীকার করে এবং দাবি করে যে মাসিহ এখনো প্রেরিত হননি, অচিরেই তিনি আসবেন।
তাদের কলঙ্কসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে: তাদের এই দাবি যে, আল্লাহ যখন জগত সৃষ্টি সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি বললেন, 'এসো আমরা আমাদের মতো মানুষ সৃষ্টি করি', অতঃপর তিনি আদমকে সৃষ্টি করলেন। একারণেই ইয়াহুদিরা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ একজন বৃদ্ধ মানুষের আকৃতিতে আছেন এবং তিনি একটি কুরসির ওপর উপবিষ্ট আর ফেরেশতারা তাঁর সামনে দণ্ডায়মান—আল্লাহ তাআলা তাদের এই বর্ণনা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। তাদের আরও কিছু কলঙ্ক হলো: তাদের দাবি যে আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং দেখলেন তাঁর নবীর অবাধ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন তিনি বললেন: 'আমি আদমকে সৃষ্টি করে অনুতপ্ত হয়েছি', অতঃপর তিনি মহাপ্লাবন পাঠালেন এবং এর মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠের ওপর যা কিছু ছিল সব ধ্বংস করে দিলেন। এরপর তিনি আবার অনুতপ্ত হলেন এবং বললেন: 'আমি আর কখনো এমন করব না!' অথচ যা হয়ে গেছে এবং যা হবে—তা কি অদৃশ্যের মহাজ্ঞানী আল্লাহর নিকট গোপন থাকতে পারে? আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কীভাবে সত্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং হিদায়েত থেকে কতটা অন্ধ হয়ে আছে! হামজিয়া কাব্যের রচয়িতা (রাদিআল্লাহু আনহু) তাঁর বাণীতে এ দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন:
তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদের কদাকার আকৃতিতে রূপান্তর হওয়াটা কি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের রদবদল ছিল
… নাকি নতুন সৃষ্টি?
আর তাদের একথার ভিত্তি কী যে আদমকে সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহর অনুশোচনা
… বা ভুল হয়েছিল?
[১১]ইশা বিনতে ফাকুযাতিনি হলেন যাকারিয়া আলাইহিস সালাম-এর স্ত্রী এবং মারইয়াম আলাইহাস সালাম-এর মা হান্নার বোন ও ইমরানের কন্যা। যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তাঁকে বিবাহ করেছিলেন কিন্তু তিনি গর্ভবতী হননি এবং বন্ধ্যা ছিলেন। তাঁর বয়স অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল এমনকি তাঁর ঋতুস্রাবও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি তাঁর বোন হান্নার চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন, মতান্তরে ছোট ছিলেন।
"আল-মাআলিম" কিতাবে সূরা "কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ"-এর তাফসিরে আল্লাহর বাণী: (তিনি বললেন: হে আমার পালনকর্তা! আমার অস্থিগুলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যে মাথা শুভ্র হয়ে গেছে, আর হে আমার পালনকর্তা! আপনার নিকট দুআ করে আমি কখনো বিফল হইনি) অর্থাৎ যাকারিয়া বললেন: আপনি অতীত থেকেই আমাকে দুআ কবুল করতে অভ্যস্ত করেছেন। এবং আল্লাহর বাণী: (আর আমি আমার পর আমার উত্তরাধিকারীদের ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করছি, আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন) অর্থাৎ: পুত্র। এবং আল্লাহর বাণী: (যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে...) হাসান রহ. বলেন: সে আমার সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুবের বংশের নবুওয়াত ও ধর্মীয় নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী হবে, কারণ যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ছিলেন একজন প্রেরিত নবী এবং ধর্মনেতাদের প্রধান। আল্লাহর বাণী: (হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি যার নাম হবে ইয়াহইয়া...) ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: বন্ধ্যা নারীরা তাঁর মতো সন্তান প্রসব করেনি। আল্লাহর বাণী: (তিনি বললেন: হে আমার পালনকর্তা! আমার জন্য একটি নিদর্শন নির্ধারণ করুন...) অর্থাৎ আমার স্ত্রীর গর্ভধারণের একটি প্রমাণ, কারণ তিনি বন্ধ্যা ছিলেন এবং অত্যন্ত বৃদ্ধা হয়ে গিয়েছিলেন। আল্লাহ বললেন: (তোমার নিদর্শন হলো তুমি সুস্থ-সবল থাকা সত্ত্বেও টানা তিন রাত মানুষের সাথে কথা বলবে না) অর্থাৎ কোনো রোগ বা জড়তা ছাড়াই তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। মানুষ মেহরাবের পেছনে তাঁর বের হওয়ার অপেক্ষা করছিল, অতঃপর তিনি বর্ণহীন বা পরিবর্তিত অবস্থায় তাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন। তারা বিষয়টি অপছন্দ করল এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করল: আপনার কী হয়েছে? তখন তিনি মাটির ওপর লিখে দিলেন: (সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো
… ) কারণ তিনি তাদের সামনে সকাল ও সন্ধ্যায় বের হতেন। যখন তাঁর স্ত্রী ইশার গর্ভধারণের সময় হলো এবং তাঁর কথা বলা বন্ধ হয়ে গেল, তখন তিনি তাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন এবং ইশারায় তাঁদের সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। যখন গর্ভকাল পূর্ণ হলো, তখন তিনি ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম-কে জন্ম দিলেন। যখন তাঁর বয়স তিন বছর হলো, তখন আল্লাহ তাঁকে শৈশবেই প্রজ্ঞা দান করলেন। তিনি ছোট থাকতেই তাওরাত পাঠ করতেন। "তারিখু ইবনিল ওয়ারদি" কিতাবে উল্লেখ আছে যে, ইশা ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম-কে জন্ম দেন মারইয়াম আলাইহাস সালাম কর্তৃক ঈসা আলাইহিস সালাম-কে প্রসব করার ছয় মাস পূর্বে। ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম-এর জন্ম ছিল আলেকজান্ডারের বিজয়ের ৩০৪ বছর পরে এবং আদমের অবতরণের ৫৫৮৪ বছর পরে।
ইয়াহুদিদের শাসক হেরোডাসের এক ভ্রাতুষ্পুত্রী ছিল। সে তাকে বিবাহ করতে চেয়েছিল, যা ইয়াহুদিদের শরিয়তে বৈধ ছিল। কিন্তু ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম তাকে একাজ করতে নিষেধ করেন। ফলে মেয়েটির মা হেরোডাসের নিকট ইয়াহইয়াকে হত্যার আবেদন জানায় কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর মা ও মেয়ে হেরোডাসকে বারবার প্ররোচিত করতে থাকে। পরিশেষে সে ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম-কে জবেহ করার নির্দেশ দেয়। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার অল্পকাল পূর্বে তাঁদের সামনেই ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম-কে জবেহ করা হয়।
"তারিখুদ দুয়াল" কিতাবে বর্ণিত আছে: ইয়াহইয়া ঈসার ছয় মাস পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবেই নবুওয়াত প্রাপ্ত হন। ইয়াহুদিদের একজন রাজা ছিল যার নাম আজাব, মতান্তরে হেরোডাস। সে ইয়াহইয়াকে সম্মান করত। সে তার ভ্রাতুষ্পুত্রীকে ভালোবাসত (অন্যমতে তার স্ত্রীর কন্যা)। সে তাকে বিবাহ করার ব্যাপারে ইয়াহইয়ার পরামর্শ চাইলে তিনি তাকে বাধা দেন। এই বাধার খবর মেয়েটির মায়ের কানে পৌঁছালে সে হেরোডাস যখন মদ্যপানে বসেছিল তখন নিজের মেয়েকে সাজিয়ে হেরোডাসের কাছে পাঠায় যেন সে তাকে মদ পান করায়। মেয়েটি শর্ত দিল যদি সে তাকে বিবাহ করতে চায় তবে যেন উপহার হিসেবে একটি পাত্রে ইয়াহইয়ার মাথা তাকে প্রদান করে। সে তাই করল। সে যখন তাকে পেতে চাইল মেয়েটি তা অস্বীকার করে ঐ দাবি পুনরায় পেশ করল। তখন সেই অভিশপ্ত ব্যক্তি ইয়াহইয়ার কাছে লোক পাঠাল, তখন তিনি দাউদ আলাইহিস সালাম-এর মেহরাবে সালাত আদায় করছিলেন। তারা তাঁকে জবেহ করে তাঁর মাথাটি একটি পাত্রে করে হেরোডাসের কাছে নিয়ে আসে। তখন মাথাটি কথা বলছিল এবং বলছিল: 'সে তোমার জন্য হালাল নয়'। তারা মাথাটি সেই ব্যভিচারিণীর সামনে রেখে দিল। এরপর হেরোডাস তাঁকে দাফন করার নির্দেশ দিল, অথচ তখনো রক্ত টগবগ করে ফুটছিল। তারা হেরোডাসের বাড়ির একটি গর্তে তাঁকে দাফন করল।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ثم خسف الله بهردوس وزوجته وبنتها العاهرة، وذلك سنة خمسة آلاف وستمائة وأربع عشرة.
وذلك الذبح قبل رفع عيسى عليه السلام إلى السماء، واستمر الدم يغلي ويفور ثلاثة وأربعين سنة، حتى سلط الله على اليهود طيطرس، وقيل: بخت نصر، وقتل اليهود وخرب بيت المقدس، وقد قتل من اليهود نحو سبعين ألفاً فعند ذلك أهبط الدم الذي كان يفور من رأس يحيى، وماتت أمه إيشاع قبل ذبحه بسنين، ودفنت في بيت المقدس، وقد أسنت، والله سبحانه وتعالى أعلم.
وذكر في "الإتقان" يحيى أول من سمي بنص القرآن، ولد قبل عيسى بستة أشهر، ونبئ صغيراً، وقتل ظلماً، وسلط الله على قاتله، بخت نصر وجيوشه، وإنما سمي يحيى لأنه أحياه الله بالإيمان وقيل: أنه أحيا به رحم أمه، وقيل: لأنه استشهد والشهداء أحياء، وقيل: معناه يموت، كقولهم المفازة للمهلكة، والسليم للديغ.
وذكر في "كشف الأسرار" قوله: لم أعطاه الحكم صبياً؟ قال: لأن أباه قال: (واجعله رب رضياً) فأكرمه في أول الحال بالحكمة ليكون مرضياً من أول عمره إلى آخره، وأكرمه بالحكمة في صباه ليعتاد الصلاح، لأن النفس ما عودتها به تتعود [عليه] ، لأنه كان فيه ثلاثة أشياء وهي: قوله تعالى: (.. وسيداً وحصوراً ونبياً من الصالحين..) وأما تلك الحكمة: فإن الله أكرم أربعة من الصبيان بأربعة أشياء: يوسف بالوحي في الجب، وعيسى بالنطق في المهد، وسليمان بالفهم، ويحيى بالكلمة. فإن قيل: لم ابتلاه الله بالقتل؟ قيل: لأنه ليس في الدنيا درجة بعد النبوة أبلغ من الشهادة، فأكرمه الله بها.
انتهى والله أعلم.
[12]سارةزوجة داود عليه السلام وقيل: اسمها آسية، وقيل: كليثمة، وهي من بني إسرائيل، وكانت حسنة في الغاية بديعة الجمال.
وذكر في "المعالم" في تفسير قوله تعالى: (إن هذا أخي له تسع وتسعون نعجة..) وذكر في فتاوى ابن حجر المكي [أنه] سئل عمن لها أزواج في الدنيا؟ [فأجاب] : هي فقي الجنة لآخر أزواجها أو لأحسنهم خلقاً في الدنيا. وفي "شرح الروض في الخصائص": ولأن المرأة لآخر أزواجها كما قاله ابن القشيري في "مجموع الأحباب" نقلاً لأبي الفرج، وروي عن أبي الدرداء وحذيفة: "إن المرأة لآخر أزواجها في الدنيا"، وجاء أنها تكون لأحسنهم خلقاً.
وفي "حاشية الأشباه" للحموي روى الطبراني في "الكبير والأوسط": عن أم سلمة رضي الله عنها، ولفظه قلت يا رسول الله، المرأة تتزوج الزوجين والثلاثة والربعة في الدنيا، ثم تموت فتدخل الجنة، ويدخلون معها، من يكون زوجها منهم؟ قال: يا أم سلمة: "إنها تتخير فتختار أحسنهم خلقاً، فتقول: أي رب، إن هذا كان أحسنهم معي خلقاً فزوجنيه" [قالت] أم سلمة: ذهب حسن الخلق بخيري في الدنيا والآخرة.
وذكر في كتاب "كشف الأسرار" قوله: سؤال: لم سمي داود عليه السلام داود؟ قال ابن عباس رضي الله عنه هو بلسان العبراني، من لا عمر له، فلذلك وهب له آدم من عمره ستين سنة، وقيل: أنه حصل له الداء بالذنب الصغير، والود من الله بالتوبة، وقلت في لغز داود.
أي اسم قد تسامى
… عند رومٍ وعرب
أول الاسم سقم
… آخر الاسم خشب
وذكر في "تاريخ ابن الوردي" نقلاً عن الكامل: لما صار لداود عليه السلام من العمر خمس وخمسون سنة، وهي السنة الثامنة والعشرون من لكه، كانت قصته مع الخصمين، وتزوج داود زوجته، ولما صار له سبعون سنة توفي، وذلك سنة خمس وثلاثين وخمسمائة لوفاة موسى عليه السلام ومن وفاة موسى عليه السلام إلى هبوط آدم عليه السلام، ثلاثة آلاف وثمانمائة، وثمان وستون سنة، وتوفيت زوجته في حياته قبل مماته بثلاث سنين، وقيل: بسنتين، والله سبحانه وتعالى أعلم.
[13]?بلقيس
এরপর আল্লাহ হেরোডোস, তার স্ত্রী এবং তার ব্যভিচারিণী কন্যাকে মাটির নিচে ধসিয়ে দিলেন, আর তা ছিল ৫৬১৪ সনে।
এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বে। সেই রক্ত তেতাল্লিশ বছর যাবত টগবগিয়ে ফুটতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহ ইহুদিদের ওপর টাইটাসকে (বলা হয়ে থাকে বখতে নসরকে) কর্তৃত্ব প্রদান করেন। সে ইহুদিদের হত্যা করে এবং বায়তুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করে দেয়। সে সময় প্রায় সত্তর হাজার ইহুদি নিহত হয়েছিল। তখন ইয়াহইয়ার মাথা থেকে প্রবাহিত হওয়া সেই ফুটন্ত রক্ত শান্ত হয়। ইয়াহইয়ার শাহাদাতের কয়েক বছর পূর্বে তাঁর মাতা ঈশা ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাসে সমাহিত করা হয়। তখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছিলেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।
'আল-ইতকান' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইয়াহইয়া হলেন প্রথম ব্যক্তি যাকে কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ছয় মাস পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবকালেই নবুওয়াত লাভ করেন। তাঁকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আল্লাহ তাঁর হত্যাকারীর ওপর বখতে নসর ও তার বাহিনীকে কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর নাম ইয়াহইয়া রাখার কারণ হলো, আল্লাহ তাঁকে ঈমানের মাধ্যমে জীবিত (আহইয়াহু) করেছিলেন। কেউ বলেন: তাঁর মাধ্যমে তাঁর মাতার জরায়ুকে আল্লাহ জীবিত করেছিলেন। আবার বলা হয়: যেহেতু তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন আর শহীদগণ জীবিত থাকেন। এটাও বলা হয় যে, এর অর্থ হলো তিনি মৃত্যুবরণ করবেন; যেমন ধ্বংসাত্মক স্থানকে 'মাফাযাহ' (সাফল্যের স্থান) এবং দংশিত ব্যক্তিকে 'সালীম' (সুস্থ) বলা হয়।
'কাশফুল আসরার' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: কেন তাঁকে শৈশবে প্রজ্ঞা বা হিকমত দান করা হয়েছিল? বলা হয়েছে: যেহেতু তাঁর পিতা দুয়া করেছিলেন: "হে আমার রব! আপনি তাকে সন্তোষভাজন করুন"। তাই আল্লাহ তাঁর জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সন্তোষভাজন রাখার জন্য জীবনের শুরুতেই তাঁকে হিকমত দিয়ে সম্মানিত করেছেন। শৈশবে তাঁকে হিকমত দান করেছেন যাতে তিনি নেক আমলের অভ্যস্ত হন; কারণ নফসের স্বভাব হলো সে যে বিষয়ে অভ্যস্ত হয় তা-ই আঁকড়ে ধরে। কেননা তাঁর মধ্যে তিনটি বিষয় ছিল, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে বিদ্যমান: "..এবং নেতা, নারীবিমুখ ও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী"। আর সেই হিকমতের বিষয়টি হলো: আল্লাহ চারজন শিশুকে চারটি বিষয়ে সম্মানিত করেছেন—ইউসুফকে কূপের মধ্যে ওহী দিয়ে, ঈসাকে দোলনায় কথা বলার শক্তি দিয়ে, সুলায়মানকে প্রখর বুঝশক্তি দিয়ে এবং ইয়াহইয়াকে হিকমত বা প্রজ্ঞা দিয়ে। যদি প্রশ্ন করা হয়: আল্লাহ কেন তাঁকে হত্যার মাধ্যমে পরীক্ষা করলেন? উত্তর হলো: দুনিয়াতে নবুওয়াতের পর শাহাদাতের চেয়ে উচ্চতর কোনো মাকাম নেই, তাই আল্লাহ তাঁকে এর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।
সমাপ্ত, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
[১২]সারাদাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রী। বলা হয়ে থাকে যে তাঁর নাম ছিল আসিয়া, আবার বলা হয় কলিসমা। তিনি বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী ও লাবণ্যময়ী।
'আল-মাআলিম' গ্রন্থে আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে: "নিশ্চয় এই আমার ভাই, তার নিরানব্বইটি দুম্বা রয়েছে..."। ইবনে হাজার আল-মাক্কীর ফাতাওয়ায় উল্লেখ আছে যে, দুনিয়াতে যার একাধিক স্বামী ছিল তার বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি উত্তর দেন: জান্নাতে সে তার সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে অথবা দুনিয়াতে যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর ছিল তার সঙ্গে থাকবে। 'শারহুর রওয' কিতাবের বৈশিষ্ট্যাবলি অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে: নারী তার সর্বশেষ স্বামীর অধিকারভুক্ত হবে, যেমনটি ইবনুল কুশাইরী 'মাজমুউল আহবাব' গ্রন্থে আবুল ফারাজের বরাতে উল্লেখ করেছেন। আবু দারদা ও হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: "দুনিয়াতে নারী তার সর্বশেষ স্বামীর হবে"। আবার এমন বর্ণনাও এসেছে যে, সে শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারীর হবে।
হামাভী রচিত 'হাশিয়াতুল আশবাহ'-এ উল্লেখ রয়েছে যে তাবারানী 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাত' গ্রন্থে উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনার ভাষা হলো—আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়াতে একজন নারীর দুই, তিন বা চারজন স্বামী হতে পারে, এরপর সে মারা গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করল এবং তার স্বামীরাও সেখানে প্রবেশ করল; তখন সে তাদের মধ্যে কার স্ত্রী হবে? তিনি বললেন: হে উম্মে সালামাহ! সে তাদের মধ্য থেকে পছন্দ করার সুযোগ পাবে এবং তাদের মধ্যে যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো তাকে বেছে নেবে। সে বলবে: হে আমার রব! এই ব্যক্তি দুনিয়াতে আমার সাথে সবচেয়ে ভালো আচরণ করেছে, তাই তার সাথে আমার বিয়ে দিন। উম্মে সালামাহ বলেন: উত্তম চরিত্র দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণ নিয়ে গেছে।
'কাশফুল আসরার' কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে: দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে কেন দাউদ নামকরণ করা হয়েছে? ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ইবরানী ভাষায় এর অর্থ হলো যার কোনো নির্দিষ্ট আয়ু নেই। এ কারণেই আদম (আলাইহিস সালাম) তাঁকে তাঁর নিজের আয়ু থেকে ষাট বছর দান করেছিলেন। কেউ বলেন: সামান্য ত্রুটির কারণে তাঁর মধ্যে রোগ বা ব্যধির (দা) সৃষ্টি হয়েছিল এবং তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালোবাসা বা প্রেম (উদ্দ) লাভ করেছিলেন। দাউদ নামের ধাঁধা সম্পর্কে বলা হয়েছে—
কোন সে নাম যা রোমক ও আরবদের নিকট সুউচ্চ হয়েছে?
নামের প্রথমাংশ রোগ আর শেষাংশ হলো কাঠ।
ইবনুল ওয়ারদীর ইতিহাসে 'আল-কামিল' থেকে উদ্ধৃত হয়েছে: দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর বয়স যখন পঞ্চান্ন বছর হয়, যা ছিল তাঁর রাজত্বের আঠাশতম বছর, তখন দুই বিবাদমান ব্যক্তির সেই ঘটনাটি ঘটেছিল এবং দাউদ তাঁর স্ত্রীকে বিবাহ করেন। সত্তর বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। আর তা ছিল মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মৃত্যুর ৫৩৫ বছর পরের ঘটনা। মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মৃত্যু থেকে আদমের পৃথিবীতে অবতরণ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান ছিল ৩৮৬৮ বছর। দাউদের স্ত্রী তাঁর ইন্তেকালের তিন বছর পূর্বে (মতান্তরে দুই বছর পূর্বে) মারা যান। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।
[১৩]বিলকিস
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
بنت الهدهاد بن شرحبيل بن عمرو بن غالب بن المنتاب بن زيد بن يعفر بن السكسك بن وائل بن حمير بن عبد شمي بن تشخب بن يعرب بن قحطان بن عابر بن شالخ بن قينان بن أرفخشذ بن سام بن نوح علايه السلام وهي زوجة سليمان عليه السلام ملكت اليمن بعد أبيها سنة أربعة آلاف وأربعمائة وثماني عشرة سنة من هبوط آدم عليه السلام وذكر في "المعالم" أن بلقيس كانت أمها من الجن، [و] كان أبوها ملكاً في اليمن، وقد ملك قبله أربعون ملكاً، وهو آخرهم، وكان يقول لملوك الأطراف: ليس أحد منكم كفواً لي أن أتزوج منكم. فزوجوه امرأة من الجن يقال لها: ريحانة بنت السكن فولدت له بلقيس ولم يكن له ولد غيرها.
قال العلماء ما ثبت إنجاب أولاد من جني أو جنية وقيل أن أحد أبوي بلقيس كان جنياً، فلما مات أبوها طمعت بلقيس في الملك فأطاعها قوم، وعصاها آخرون وملكوا عليهم رجلا، وافترقت مملكة اليمن فرقتين، ثم إن الرجل أساء السيرة في مملكته وجعل يمد يده إلى حرم رعيته، ويفجر بهن، فأراد قومه خلعه فلم يقدروا عليه، فلما بلغ ذلك بلقيس أدركتها الغيرة فأرسلت إليه تعرض نفسها عليه فأجابها الملك، فأرسلت إليه أن اجمع رجال قومي واخطبني، فجمعهم وخطبها، فجاءوا إليها وأخبروها فرضيت وقالت: أجبت الولد فزوجوها منه، فلما زفت إليه خرجت في أناس كثيرين فلما جاءته سقته الخمر حتى سكر، ثم جزت رأسه، وانصرفت من الليل إلى منزلها، فلما أصبح الناس رأوا الملك قتيلا، ورأسه منصوب على باب دارها، فاجتمعوا إليها، وقالوا: أنت بهذا الملك أحق من غيرك، فملكوها عليهم، فملكت اليمن بأسره.
তিনি ছিলেন হাদহাদ ইবনে শারহাবীল ইবনে আমর ইবনে গালিব ইবনে মুনতাব ইবনে যায়দ ইবনে ইয়া’ফুর ইবনে সাকসাক ইবনে ওয়ায়েল ইবনে হিমইয়ার ইবনে আবদ শামস ইবনে তশখুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান ইবনে আবির ইবনে শালাখ ইবনে কাইনান ইবনে আরফাখশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ (আলাইহিস সালাম)-এর কন্যা। তিনি ছিলেন সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রী। আদমের (আলাইহিস সালাম) পৃথিবীতে আগমনের ৪৪১৮ বছর পর তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ইয়ামেনের শাসনভার গ্রহণ করেন। ‘আল-মাআলিম’ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যে, বিলকিসের মা ছিলেন জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত। তাঁর পিতা ইয়ামেনের একজন সম্রাট ছিলেন; তাঁর পূর্বে চল্লিশজন সম্রাট শাসন করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। তিনি পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রাজাদের বলতেন, “তোমাদের কেউ আমার সমকক্ষ নও যে আমি তোমাদের বংশে বিবাহ করব।” ফলে তাঁরা তাঁর সাথে রায়হানা বিনতুস সাকান নামক একজন জিন নারীর বিবাহ দেন। তাঁর গর্ভে বিলকিস জন্মগ্রহণ করেন এবং বিলকিস ছাড়া তাঁর আর কোনো সন্তান ছিল না।
উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, কোনো জিন বা জিন নারীর মাধ্যমে সন্তান জন্ম হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। তবে বলা হয়ে থাকে যে, বিলকিসের পিতামাতার একজন জিন ছিলেন। যখন তাঁর পিতার মৃত্যু হলো, তখন বিলকিস ক্ষমতার প্রত্যাশী হলেন। জাতির একদল তাঁর আনুগত্য করল এবং অন্য দল তাঁর বিরোধিতা করে এক ব্যক্তিকে রাজা হিসেবে নিয়োগ দিল। ফলে ইয়ামেন সাম্রাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল। অতঃপর সেই ব্যক্তি তার শাসনকালে অত্যন্ত দুশ্চরিত্রের পরিচয় দিল। সে প্রজাদের নারীদের সম্মানহানি করতে শুরু করল এবং তাদের সাথে পাপাচার করত। তার কওম তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েও সক্ষম হলো না। যখন বিলকিসের কাছে এ খবর পৌঁছাল, তখন তাঁর মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত হলো। তিনি সেই রাজার কাছে নিজেকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পাঠালেন। রাজা তাতে সম্মতি দিল। বিলকিস খবর পাঠালেন যেন রাজা তাঁর গোত্রের লোকদের সমবেত করে তাঁর বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রাজা তাদের একত্রিত করল এবং বিয়ের প্রস্তাব দিল। তারা বিলকিসের কাছে এসে বিষয়টি অবগত করলে তিনি রাজী হলেন এবং বললেন, “আমি বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি দিচ্ছি।” অতঃপর তারা রাজাকে তাঁর সাথে বিবাহ দিল। যখন তাঁকে নববধূর সাজে রাজার কাছে পাঠানো হলো, তখন তাঁর সাথে অনেক লোক ছিল। তাঁর কাছে পৌঁছে তিনি রাজাকে মদ পান করালেন, যতক্ষণ না সে মাতাল হয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি তার শিরশ্ছেদ করলেন এবং রাতের আঁধারেই নিজ গৃহে ফিরে গেলেন। পরদিন সকালে লোকজন রাজাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেল এবং তার মস্তক বিলকিসের দরজায় ঝুলানো অবস্থায় পেল। তখন তারা তাঁর কাছে সমবেত হয়ে বলল, “এই রাজত্বের জন্য অন্য যে কারো চেয়ে আপনিই অধিক যোগ্য।” ফলে তারা তাঁকে নিজেদের শাসক হিসেবে গ্রহণ করল এবং তিনি সমগ্র ইয়ামেনের একচ্ছত্র অধিপতি হলেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
قال ابن عباس رضي الله عنه: كان عرش بلقيس ثلاثين ذراعاً في ثلاثين ذراع، وطوله في السماء ثلاثون ذراعاً. وقال مقاتل: طوله ثمانون ذراعا في ثمانين، وطوله في السماء ثمانون، وقيل: طوله ثمانون ذراعاً وعرضه أربعون ذراعا وارتفاعه ثلاثون وقيل: كان سريراً ضخما مضربا من الذهب، مكللا بالدر والياقوت والزمرد، وعليه سبعة أبيات، على كل بيت باب مغلق وكان في ملكها في أيام سليمان عليه السلام فاتفق أن سليمان عليه السلام سار في الجهاد، وكانت الطيور تظله من الشمس، والهدهد دليله إلى الماء، يعرف الماء تحت الأرض، ويراه كما يرى في الزجاج، ويعرف قريبه وبعيده، فينقر الأرض ثم تجيء الشياطين فيخرجون الماء. فنزل سليمان منزلا فاحتاج إلى الماء فتفقد الهدهد فلم يجده، فقال: ما لي لا أرى الهدهد؟ وكان سليمان قد وافى نحو صنعاء ورأى أرضا حسنة تزهر خضرتها، فنزل هناك، وقال الهدهد في نفسه: إن سليمان قد اشتغل بالنزل، فأرتفع نحو السماء وأنظر إلى طول الدنيا وعرضها، ففعل، ورأى بستان بلقيس فنزل إليه فوجد هناك أيضاً هدهدا مثله واسمه عنفير، واسم هدهد سليمان يعفور فقال عنفير ليعفور: من أين أقبلت، وإلى أين تريد؟ قال: من الشام مع سليمان بن داود، فقال عنفير: من سليمان؟ قال يعفور: ملك الجن والشياطين والإنس والطير والوحش والهوام والرياح، فمن أنت؟ قال عنفير: أنا من هذه البلاد. فقال له: ومن يملكها؟ قال بلقيس، وتحت يدها اثنا عشر ألف قائد، تحت يد كل قائد مائة ألف مقاتل، فهل لك أنت تنطلق معي حتى تنظر إلى ملكها؟ فانطلق معه، ونظر إلى بلقيس وملكها، ورجع إلى عند سليمان وقت العصر، وكان سليمان قد سأل النسر عن الهدهد، فقال: ما أدري أين هو؟ فغضب سليمان وقال: لأعذبنه أو لأذبحنه، ثم دعا بالعقاب سيد الطيور فقال: علي بالهدهد. فرفع العقاب نفسه بالهواء فإذا هو بالهدهد مقبلا من نحو اليمن فانقض عليه، فناشده الله وقال له: ارحمني فولى عنه العقاب فقال له: إن نبي الله قد حلف أن يعذبك أو يذبحك، ثم توجها فلما وصلا العسكر لقبه النسر والطير فقالوا له أين كنت فلقد توعدك سليمان. وأخبروه. فقال الهدهد: وما استثنى قالوا: بلى، قال أو ليأتيني بسلطان مبين. قال: نجوت إذاً، ثم أتيا سليمان، فقال العقاب أتيتك به، فلما قرب الهدهد رفع رأسه وأرخى ذنبه وجناحيه يجرهما على الأرض. فلما دنا منه أخذ برأسه، وقال له: أين كنت؟ لأعذبنك عذابا شديداً، فقال الهدهد: جئتك بسلطان مبين، فعفا عنه، وسأله ما: الذي أبطأك عني؟ فقال قوله تعالى: (أحطت بما لم تحط به وجئتك من سبأ بنبأ يقين، إني وجدت امرأة تملكهم) الآية. قال سليمان للهدهد قوله تعالى: (سننظر أصدقت أم كنت من الكاذبين) فدلهم الهدهد على الماء فشربوا ورووا الدواب، ثم كتب كتابا: من عبد الله سليمان بن داود إلى بلقيس ملكة سبأ، بسم الله الرحمن الرحيم، السلام على من اتبع الهدى. أما بعد، ألا تعلوا علي، وأتوني مسلمين، ولما تم الكتاب طبعه بالمسك. وختمه بخاتمه، قال للهدهد: اذهب بكتابي هذا فألقه إليهم، ثم تول عنهم وتنح وكن قريباً منهم فانظر، ماذا يرجعون؟ فأخذ الهدهد الكتاب وسار به إلى اليمن، وأتى بلقيس فكانت بأرض يقال لها مأرب تبعد عن صنعاء ثلاثة أيام، فوافها في قصرها وقد غلقت الأبواب، لأنها كانت إذا رقدت غلقت الأبواب، ووضعت المفاتيح تحت رأسها فأتاها الهدهد وهي نائمة على قفاها، فألقى الكتاب على نحرها، هكذا رواه قتادة، وقال مقاتل: حمل الكتاب بمنقاره حتى وقف على رأس بلقيس، وحولها القادة والجنود فرفرف، ورفعت رأسها بلقيس تنظر إليه، فألقى الكتاب في حجرها، وقال ابن منبه: كان لها كوة مستقبلة الشمس تقع الشمس فيها حين تطلع فإذا رأتها سجدت لها: فجاء الهدهد وسد الكوة بجناحيه، فارتفعت الشمس ولم تعلم بلقيس فقامت تنظر إليها، فرمى الهدهد الكتاب إليها، فأخذته بلقيس وقرأه، فلما رأت الخاتم ارتعدت وعلمت أن الذي أرسله أعظم ملكاً منها فخرجت وجلست على سريرها وجمعت قومها وهم اثنا عشر قائداً مع كل قائد مائة ألف مقاتل. وعن ابن عباس: كان مع بلقيس مائة ألف قيل مع كل قيل مائة ألف، والقيل ملك دون الملك الأعظم. وقال مقاتل: أهل مشورتها ثلاثمائة وثلاثة عشر رجلاً، كل واحد منهم على عشرة آلاف، فقالت لهم بلقيس (إني ألقي إلي كتاب كريم، إنه من
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: বিলকীসের আরশ ছিল ত্রিশ হাত দীর্ঘ ও ত্রিশ হাত প্রস্থ, আর আকাশে এর উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। মুকাতিল বলেন: এর দৈর্ঘ্য ছিল আশি হাত ও প্রস্থ ছিল আশি হাত, আর আকাশে এর উচ্চতা ছিল আশি হাত। কেউ কেউ বলেন: এর দৈর্ঘ্য ছিল আশি হাত, প্রস্থ ছিল চল্লিশ হাত এবং উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। আরও বলা হয় যে: এটি ছিল একটি বিশাল সিংহাসন যা স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত এবং মুক্তা, ইয়াকুত ও পান্না দ্বারা খচিত ছিল। এর ওপর সাতটি কক্ষ ছিল এবং প্রতিটি কক্ষের দরজা ছিল রুদ্ধ। সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর রাজত্বকালে এটি বিলকীসের মালিকানাধীন ছিল। ঘটনাক্রমে সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) জিহাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। মেঘমালা তাকে রোদ থেকে ছায়া দিচ্ছিল এবং হুদহুদ পাখি ছিল পানির সন্ধানে তার পথপ্রদর্শক। সে মাটির নিচের পানি চিনতে পারত এবং তা স্বচ্ছ কাঁচের ন্যায় দেখতে পেত। সে পানির নিকট ও দূর সম্পর্কে জানত, ফলে সে ভূমিতে ঠোকর দিত এবং শয়তানরা এসে মাটি খুঁড়ে পানি বের করে আনত।
সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) এক স্থানে অবতরণ করলেন এবং তার পানির প্রয়োজন হলো। তিনি হুদহুদকে খুঁজলেন কিন্তু তাকে পেলেন না। তিনি বললেন: "কী হলো যে আমি হুদহুদকে দেখছি না?" সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) সানা অঞ্চলের নিকটবর্তী হয়েছিলেন এবং একটি চমৎকার শ্যামল ভূমি দেখতে পেয়ে সেখানে অবতরণ করেন। হুদহুদ মনে মনে ভাবল: সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) এখন বিশ্রামে ব্যস্ত আছেন, তাই আমি আকাশের দিকে উড়ি এবং পৃথিবীর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ প্রত্যক্ষ করি। সে তাই করল এবং বিলকীসের বাগান দেখতে পেল। সেখানে সে তার মতোই এক হুদহুদকে দেখতে পেল যার নাম ছিল আনফীর। আর সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর হুদহুদের নাম ছিল ইয়াফুর।
আনফীর ইয়াফুরকে জিজ্ঞেস করল: তুমি কোথা থেকে এসেছ এবং কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছ? সে বলল: আমি সুলাইমান ইবনে দাউদের সাথে শাম দেশ থেকে এসেছি। আনফীর বলল: সুলাইমান কে? ইয়াফুর বলল: তিনি জিন, শয়তান, মানুষ, পাখি, বন্যপ্রাণী, কীট-পতঙ্গ এবং বায়ুর অধিপতি। তুমি কে? আনফীর বলল: আমি এই ভূখণ্ডের অধিবাসী। ইয়াফুর জিজ্ঞেস করল: এখানকার শাসক কে? সে বলল: বিলকীস। তার অধীনে বারো হাজার সেনাপতি রয়েছে এবং প্রত্যেক সেনাপতির অধীনে এক লক্ষ যোদ্ধা রয়েছে। তুমি কি আমার সাথে আসবে তার রাজত্ব দেখার জন্য? সে তার সাথে গেল এবং বিলকীস ও তার রাজ্য প্রত্যক্ষ করল। আসরের সময় সে সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট ফিরে এল। সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) ইগল পাখিকে হুদহুদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইগল বলেছিল: সে কোথায় আমি জানি না। সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) ক্রুদ্ধ হলেন এবং বললেন: আমি অবশ্যই তাকে কঠোর শাস্তি দেব অথবা যবেহ করব। অতঃপর তিনি পাখিদের সর্দার উকাবকে ডেকে বললেন: হুদহুদকে আমার কাছে নিয়ে এসো।
উকাব আকাশে উড়ে গেল এবং ইয়েমেনের দিক থেকে হুদহুদকে আসতে দেখল। সে তাকে পাকড়াও করতে চাইল, তখন হুদহুদ তাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলল: আমার প্রতি দয়া করো। উকাব তাকে ছেড়ে দিল এবং বলল: আল্লাহর নবী শপথ করেছেন যে তিনি তোমাকে শাস্তি দেবেন অথবা যবেহ করবেন। অতঃপর তারা উভয়ে অগ্রসর হলো। যখন তারা সৈন্যবাহিনীর কাছে পৌঁছাল, তখন শকুন ও অন্যান্য পাখিরা তার সাথে দেখা করল এবং বলল: তুমি কোথায় ছিলে? সুলাইমান তোমাকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা তাকে বিস্তারিত জানাল। হুদহুদ বলল: তিনি কি কোনো ব্যতিক্রম (ইনশাআল্লাহ) করেননি? তারা বলল: হ্যাঁ, করেছেন। সে বলল: "অথবা সে আমার নিকট স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসবে।" হুদহুদ বলল: তবে তো আমি মুক্তি পেয়েছি। অতঃপর তারা সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট এল। উকাব বলল: আমি তাকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছি। হুদহুদ যখন নিকটে এল, তখন সে মাথা উঁচু করল এবং তার লেজ ও ডানা মাটিতে টেনে টেনে চলতে লাগল। সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) যখন তার নিকটে গেলেন, তখন তিনি তার মাথা ধরলেন এবং বললেন: তুমি কোথায় ছিলে? আমি তোমাকে অবশ্যই কঠোর শাস্তি দেব। হুদহুদ বলল: আমি আপনার কাছে এক স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছি। তখন তিনি তাকে ক্ষমা করলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: কী কারণে তুমি আমার থেকে দূরে ছিলে?
হুদহুদ মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করল: "আমি এমন বিষয় অবগত হয়েছি যা আপনি অবগত নন এবং আমি সাবা থেকে আপনার নিকট নিশ্চিত খবর নিয়ে এসেছি। আমি এক নারীকে তাদের ওপর রাজত্ব করতে দেখেছি" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) হুদহুদকে বললেন: "আমি দেখব তুমি সত্য বলেছ নাকি তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।" অতঃপর হুদহুদ তাদের পানির সন্ধান দিল, তারা পানি পান করল এবং গবাদি পশুদের তৃষ্ণা নিবারণ করল। এরপর তিনি একটি পত্র লিখলেন: আল্লাহর বান্দা সুলাইমান ইবনে দাউদের পক্ষ থেকে সাবার রাণী বিলকীসের প্রতি। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। যারা হেদায়াতের অনুসরণ করে তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর কথা এই যে, তোমরা আমার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো না এবং অনুগত হয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও। পত্রটি লেখা শেষ হলে তিনি তাতে মিশক আম্বর লাগালেন এবং তার মোহর দ্বারা তা মোহরাঙ্কিত করলেন। তিনি হুদহুদকে বললেন: আমার এই পত্রটি নিয়ে যাও এবং তা তাদের কাছে ফেলে দাও, অতঃপর তাদের থেকে দূরে সরে দাঁড়াও এবং লক্ষ্য করো তারা কী উত্তর দেয়।
হুদহুদ পত্রটি নিয়ে ইয়েমেনের দিকে যাত্রা করল এবং বিলকীসের কাছে পৌঁছাল। বিলকীস তখন 'মারিব' নামক স্থানে ছিল যা সানা থেকে তিন দিনের পথ। সে তার প্রাসাদে ছিল এবং সব দরজা বন্ধ ছিল। কারণ সে যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করত, তখন দরজাগুলো বন্ধ করে চাবি তার মাথার নিচে রাখত। হুদহুদ তার কাছে এমন অবস্থায় এল যখন সে চিৎ হয়ে ঘুমাচ্ছিল। সে তার বুকের ওপর পত্রটি ফেলে দিল। কাতাদাহ এভাবেই বর্ণনা করেছেন। মুকাতিল বলেন: হুদহুদ তার ঠোঁটে করে পত্রটি বহন করে বিলকীসের মাথার ওপর এসে দাঁড়াল। সে সময় তার চারপাশে সেনাপতি ও সৈন্যরা উপস্থিত ছিল। সে ডানা ঝাপটাতে লাগল, ফলে বিলকীস মাথা উঁচু করে তার দিকে তাকাল। তখন সে তার কোলে পত্রটি ফেলে দিল। ইবনে মুনাব্বিহ বলেন: বিলকীসের একটি জানালা ছিল যা সূর্যের অভিমুখী ছিল। সূর্য উদিত হওয়ার সময় সূর্যের আলো সেখানে পড়ত এবং সে তাকে সিজদা করত। হুদহুদ এসে তার ডানা দিয়ে জানালাটি আড়াল করে দিল। সূর্য উদিত হলো কিন্তু বিলকীস তা জানতে পারল না। সে উঠে সেদিকে তাকালে হুদহুদ তার দিকে পত্রটি নিক্ষেপ করল। বিলকীস তা নিল এবং পাঠ করল। যখন সে মোহরটি দেখল, সে কেঁপে উঠল এবং বুঝতে পারল যে এর প্রেরক তার চেয়ে বড় সম্রাট। সে বের হয়ে তার সিংহাসনে বসল এবং তার কওমকে সমবেত করল। তারা ছিল বারো হাজার সেনাপতি এবং প্রত্যেক সেনাপতির অধীনে এক লক্ষ যোদ্ধা। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: বিলকীসের সাথে এক লক্ষ 'কাইল' (উপ-রাজা) ছিল এবং প্রত্যেক কাইলের সাথে এক লক্ষ যোদ্ধা ছিল। মুকাতিল বলেন: তার পরামর্শদাতা ছিল তিনশ তেরোজন ব্যক্তি, যাদের প্রত্যেকের অধীনে দশ হাজার সৈন্য ছিল। বিলকীস তাদের বলল: "হে পারিষদবর্গ, আমার নিকট একটি সম্মানজনক পত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। নিশ্চয়ই এটি...
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
سليمان وإنه بسم الله الرحمن الرحيم، ألا تعلوا علي وأتوني مسلمين، قالت يا أيها الملأ أفتوني في أمري ما كنت قاطعة أمراً حتى تشهدون، قالوا نحن أولوا قوة وأولوا بأس شديد والأمر إليك فانظري ماذا تأمرين) قوله تعالى: (فانظري ماذا تأمرين) (قالت إن الملوك إذا دخلوا قرية أفسدوها) الآية. وأرسلت له هدية. قال ابن عباس: وصفاء ووصائف وألبستهم لباساً واحداً كي لا يعرف الذكر من الأنثى. وقال مجاهد: ألبست الغلمان لباس الجواري، وألبست الجواري لباس الغلمان. قيل: مائة وصيف ومائة وصيفة، وقيل: مائتي غلام ومائتي جارية، وأرسلت له لبنة من ذهب في حرير. وقال ثابت: صفائح من ذهب في أوعية ديباج، وقيل أربع لبنات من ذهب، وقال وهب: خمسمائة غلام وخمسمائة جارية، وألبست الجواري لباس الغلمان، وألبست الغلمان لباس الجواري بالأساور والأطواق والأقراط، وخمسمائة لبنة من ذهب، وخمسمائة لبنة من فضة، وتاجاً مكللاً بالدر والياقوت، ومسكاً وعنبراً وعوداً، وحقة فيها درة ثمينة غير مثقوبة، وجزعة معوجة الثقب ودعت رجلاً من أشراف قومها اسمه المنذر بن عمرو وضمت إليه رجالاً، وكتبت معه كتاباً بنسخة الهدية وفيه: إن كنت نبياً فميز بين الوصفاء والوصائف، وأخبرني بما في الحقة، وأثقب الدرة ثقباً مستويا، وأدخل خيطاً بالخرزة المثقوبة. وأمرت الغلمان أن يكلموا سليمان بكلام تأنيث وتخنيث مثل كلام النساء، وأمرت الجواري أن يكلمنه بكلام غليظ فيه حدة يشبه كلام الرجال، ثم قالت بلقيس للمنذر: إذا دخلت عليه فانظر إن نظر إليك نظر الغضب فاعلم أنه ملك ولا يهولنك فإني أعز منه، وإن رأيته هشاً بشاً لطيفا فاعلم أنه نبي، فافهم ورد الجواب. فانطلق المنذر بالهدايا وأقبل الهدهد مسرعاً إلى سليمان عليه السلام وأخبره بالخبر كله، فأمر سليمان الإنس والجن أن يضربوا لبنات الذهب والفضة، وأمرهم أن يبسطوا من مكانه إلى تسع فراسخ ميدانا واحداً بلبنات الذهب والفضة، وأن يجعلوا على طول الميدان حائطاً شرفه من الذهب والفضة ففعلوا. وأمرهم فأتوه بدواب البحر وشدوها على يمين الميدان ويساره ولهم أجنحة، وألقوا لهم علفهم، وأحضر أولاد الجن وأقامهم على يمين الميدان ويساره، وأمر الشياطين أن يصطفوا صفوفاً فراسخ، وكذا الإنس فراسخ، وكذا الوحوش والسباع والهوام والطير عن يمينه ويساره. فلما دنا القوم من الميدان ورأوا دواب البحر تروث على لبن الذهب والفضة رموا ما معهم من الهدايا من اللبن، وقيل: إن سليمان ترك مكاناً خالياً من اللبن على عدد ما معهم، فلما دخلوا وضعوا ذلك اللبن في ذلك المكان خوف أن يتهموا بذلك، ولما رأوا الشياطين فزعوا فنادوهم: جوزوا، لا بأس عليكم فمروا على كردوس من الجن والإنس والطير والسباع والوحوش حتى وقفوا بين يدي سليمان عليه السلام، فنظر إليهم، بوجه طلق، وسألهم فأخبره رئيس القوم بما أتى معه، وأعطاه كتاب بلقيس فقرأه. فقال أين الحقة؟ فأتى بها، فجاء جبرائيل وأخبره بما فيها: درة ثمينة غير مثقوبة، وجزعة مثقوبة معوجة الثقب. فقال الرسول: صدقت، فاثقب الدرة وأدخل الخيط في الجزعة، فجاءت الأرضة وثقبت الدرة، فجعل سليمان رزقها في الشجر. ثم جاءت دودة بيضاء ودخلت ثقب الجزعة المعوجة، وفي فمها خيط وخرجت من الجانب الآخر، فجعل رزقها في الفواكه، ثم ميز سليمان بين الجواري والغلمان، ثم رد سليمان الهدية كما قال تعالى: (أتمدونن بمال) الآية. قال وهب: لما رجع رسل بلقيس أخبروها، قالت: عرفت والله أنه ليس بملك. فبعثت إلى سليمان أني قادمة إليك بقومي، وجعلت عرشها في بيت، وأغلقت عليه سبعة أبواب، ووكلت به حراساً يحفظونه وسارت في إثنا عشر ألف قيل من ملوك اليمن، تحت يد كل قيل ألوف. فلما دنت فرسخا من سليمان، رآها سليمان: فقال: ما هذه العساكر؟ قالوا: بلقيس. فقال سليمان للجن قوله تعالى: (أيكم يأتيني بعرشها) الآية. (قال عفريت من الجن أنا آتيك به قبل أن تقوم من مقامك) فقال سليمان: أريد أسرع من هذا. (قال الذي عنده علم من الكتاب) قيل: جبرائيل، وقيل آصف بن برخيا، وكان يعرف الاسم الأعظم، قيل: خر آصف بن برخيا ساجداً، ودعا باسم الله الأعظم، فغار عرشها تحت الأرض، ونبع عند كرسي سليمان، فقال سليمان قوله تعالى (نكروا لها عرشها) أي غيروا لها سريرها فجعلوا مكان الجوهر الأحمر أخضر وبالعكس، وقال
সুলাইমান এর পক্ষ থেকে; আর তা হলো: দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। তোমরা আমার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো না এবং আত্মসমর্পণকারী হিসেবে আমার কাছে উপস্থিত হও। সে (রানি) বলল, হে পরিষদবর্গ! আমার এ বিষয়ে তোমরা আমাকে সিদ্ধান্ত দাও; তোমাদের উপস্থিত ব্যতিরেকে আমি কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই না। তারা বলল, আমরা শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা, আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনারই; অতএব ভেবে দেখুন আপনি কী আদেশ করবেন।) আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতএব ভেবে দেখুন আপনি কী আদেশ করবেন) (সে বলল, রাজন্যবর্গ যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্য্যস্ত করে দেয়) আয়াত শেষ পর্যন্ত। আর সে তার কাছে উপঢৌকন পাঠাল। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: সে দাস ও দাসী পাঠাল এবং তাদের সবাইকে একই পোশাক পরিয়ে দিল যাতে পুরুষ ও নারী চেনা না যায়। মুজাহিদ (রহ.) বলেন: সে বালকদের দাসীদের পোশাক এবং দাসীদের বালকদের পোশাক পরিয়েছিল। বলা হয়েছে: একশ জন দাস এবং একশ জন দাসী ছিল; আবার বলা হয়েছে: দুইশ জন বালক এবং দুইশ জন বালিকা ছিল। সে তার কাছে রেশমের কাপড়ে মোড়ানো স্বর্ণের ইট পাঠিয়েছিল। সাবিত (রহ.) বলেন: দীবাজ রেশমের পাত্রে স্বর্ণের পাত ছিল। আবার বলা হয়েছে চারটি স্বর্ণের ইট ছিল। ওয়াহাব (রহ.) বলেন: পাঁচশ জন বালক এবং পাঁচশ জন বালিকা ছিল। সে বালিকাদের বালকদের পোশাকে এবং বালকদের বালিকাদের পোশাকে সজ্জিত করেছিল, যাদের হাতে ছিল কঙ্কন, গলায় হার এবং কানে দুল। আরও ছিল পাঁচশটি স্বর্ণের ইট, পাঁচশটি রৌপ্য ইট এবং মুক্তা ও ইয়াকুত খচিত একটি মুকুট। আরও ছিল কস্তুরী, আম্বর ও উদ কাঠ। একটি কৌটা যাতে ছিদ্রহীন একটি মূল্যবান মুক্তা ছিল এবং একটি বক্র ছিদ্রযুক্ত মণি ছিল। সে তার সম্প্রদায়ের মুন্দজির ইবনে আমর নামক এক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে ডেকে তার সাথে কিছু লোক পাঠাল। উপহারের তালিকার একটি অনুলিপিসহ সে একটি চিঠি লিখে পাঠাল, যাতে লেখা ছিল: আপনি যদি নবী হন তবে দাস ও দাসীদের মধ্যে পার্থক্য করুন, কৌটার ভেতরে কী আছে তা আমাকে বলুন, মুক্তাটিকে সোজাসুজি ছিদ্র করুন এবং ছিদ্রযুক্ত মণিটির ভেতর দিয়ে সুতা প্রবেশ করান। সে বালকদের নির্দেশ দিল যেন তারা সুলাইমানের সাথে নারীদের মতো নরম ও কোমল স্বরে কথা বলে, আর বালিকাদের নির্দেশ দিল যেন তারা তার সাথে পুরুষদের মতো কর্কশ ও উগ্র স্বরে কথা বলে। তারপর বিলকিস মুন্দজিরকে বলল: যখন তুমি তার কাছে প্রবেশ করবে, তখন লক্ষ্য করবে যদি সে তোমার দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকায়, তবে জানবে যে সে একজন রাজা, তাকে ভয় পেয়ো না কারণ আমি তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। আর যদি তাকে প্রফুল্ল ও দয়ালু দেখ, তবে জানবে যে সে একজন নবী; অতএব তা বুঝবে এবং উত্তর নিয়ে আসবে। অতঃপর মুন্দজির উপহার নিয়ে রওনা হলো এবং হুদহুদ দ্রুত সুলাইমান (আ.)-এর কাছে এসে সমস্ত খবর জানাল। তখন সুলাইমান মানুষ ও জিনদের স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট তৈরি করার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তার স্থান থেকে নয় ফারসাখ পর্যন্ত স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট দিয়ে একটি ময়দান বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং ময়দানের দৈর্ঘ্য বরাবর স্বর্ণ ও রৌপ্যের প্রাচীর তৈরি করা হয়। তারা তা-ই করল। তিনি তাদের নির্দেশ দিলে তারা সমুদ্রের প্রাণী নিয়ে এল এবং সেগুলোকে ময়দানের ডানে ও বামে বেঁধে রাখল, যাদের ডানা ছিল। তাদের জন্য খাদ্য দেওয়া হলো। তিনি জিনদের সন্তানদের উপস্থিত করে তাদের ময়দানের ডানে ও বামে দাঁড় করালেন। তিনি শয়তানদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা কয়েক ফারসাখ পর্যন্ত সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়, একইভাবে মানুষরাও কাতারবন্দি হলো। তেমনি বন্যপশু, হিংস্র প্রাণী, পোকামাকড় এবং পাখিরাও তার ডানে ও বামে সারিবদ্ধ হলো। যখন কাফেলাটি ময়দানের কাছে পৌঁছাল এবং দেখল যে সমুদ্রের প্রাণীরা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইটের ওপর বিষ্ঠা ত্যাগ করছে, তখন তারা সাথে থাকা স্বর্ণের ইটের উপহারগুলো ফেলে দিল। বলা হয়েছে যে, সুলাইমান তাদের সাথে থাকা ইটের সংখ্যা অনুযায়ী কিছু জায়গা ইটে খালি রেখেছিলেন; ফলে তারা যখন প্রবেশ করল, তখন চুরির অপবাদ থেকে বাঁচতে তাদের আনা ইটগুলো সেই খালি জায়গায় রেখে দিল। যখন তারা শয়তানদের দেখল তখন ভীত হলো, তখন তাদের ডেকে বলা হলো: ভেতরে যান, আপনাদের কোনো ভয় নেই। অতঃপর তারা জিন, মানুষ, পাখি, হিংস্র প্রাণী ও বন্যপশুর ভিড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেল এবং সুলাইমান (আ.)-এর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তিনি প্রসন্ন মুখে তাদের দিকে তাকালেন এবং তাদের জিজ্ঞাসা করলে দলের নেতা তার সাথে আনা জিনিসের বিবরণ দিল এবং বিলকিসের চিঠি তার হাতে দিল। তিনি তা পাঠ করলেন। তিনি বললেন, কৌটাটি কোথায়? সেটি আনা হলো। জিবরাঈল (আ.) এসে তাকে এর ভেতরের খবর জানিয়ে দিলেন: একটি ছিদ্রহীন মূল্যবান মুক্তা এবং একটি বক্র ছিদ্রযুক্ত মণি। রাসূল (দূত) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। এখন মুক্তাটি ছিদ্র করুন এবং মণির ভেতরে সুতা ঢুকিয়ে দিন। তখন উঁইপোকা এল এবং মুক্তাটি ছিদ্র করে দিল। সুলাইমান গাছের মধ্যে তার রিযিকের ব্যবস্থা করে দিলেন। এরপর একটি সাদা পোকা এল এবং মণির বক্র ছিদ্রের ভেতরে প্রবেশ করল, যার মুখে ছিল একটি সুতা এবং সে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে এল। তিনি ফলের মধ্যে তার রিযিকের ব্যবস্থা করলেন। এরপর সুলাইমান দাস ও দাসীদের আলাদা করে চিনে নিলেন। অতঃপর সুলাইমান সেই উপহার ফেরত দিলেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তোমরা কি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতে চাও?) আয়াতাংশ। ওয়াহাব (রহ.) বলেন: বিলকিসের দূতরা যখন ফিরে গিয়ে তাকে সব জানাল, সে বলল: আল্লাহর কসম, আমি বুঝতে পেরেছি যে তিনি কোনো সাধারণ রাজা নন। এরপর সে সুলাইমানের কাছে এই মর্মে বার্তা পাঠাল যে, আমি আমার সম্প্রদায়সহ আপনার কাছে আসছি। সে তার সিংহাসনটি একটি ঘরের ভেতর রেখে সাতটি দরজা তালাবদ্ধ করে দিল এবং তা পাহারা দেওয়ার জন্য রক্ষী নিযুক্ত করল। এরপর সে ইয়ামেনের বারো হাজার সেনাপতি বা রাজার সাথে রওনা হলো, যাদের প্রত্যেকের অধীনে হাজার হাজার সৈন্য ছিল। যখন সে সুলাইমান (আ.)-এর এক ফারসাখ কাছে পৌঁছাল, তিনি তাকে দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: এই বাহিনী কিসের? তারা বলল: বিলকিসের। তখন সুলাইমান জিনদের উদ্দেশ্য করে বললেন, যা আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন: (তোমাদের মধ্যে কে আছে যে তার সিংহাসনটি আমার কাছে নিয়ে আসবে?) আয়াতাংশ। (জিনদের এক ইফরিত বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব।) সুলাইমান বললেন: আমি এর চেয়েও দ্রুত চাই। (যাঁর কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল তিনি বললেন) বলা হয়েছে তিনি জিবরাঈল, আবার বলা হয়েছে আসাফ ইবনে বারখিয়া, যিনি ইসম-ই-আজম জানতেন। বলা হয়েছে: আসাফ ইবনে বারখিয়া সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং আল্লাহর মহান নামে দোয়া করলেন, ফলে তার সিংহাসনটি মাটির নিচে তলিয়ে গেল এবং সুলাইমানের সিংহাসনের কাছে উদিত হলো। তখন সুলাইমান বললেন, যা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তার সিংহাসনটিকে তার জন্য অচেনা করে দাও) অর্থাৎ তার পালঙ্কটি পরিবর্তন করে দাও। ফলে তারা লাল মণির জায়গায় সবুজ এবং সবুজের জায়গায় লাল মণি বসিয়ে দিল, আর তিনি বললেন
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
المحققون من العلماء لما جاءت بلقيس ودخلت الصرح حسبته لجة من الماء فكشفت عن ساقيها لتخوضه إلى سليمان فناداها كما أخبر الله تعالى عنه بقوله: (إنه صرح ممرد من قوارير) فتقدمت إليه فدعاها إلى الإسلام فأجابت وآمنت وأسلمت مع سليمان وأما ما ادعاه متبعو الإسرائيليات من المفسرين بأن سليمان عليه السلام قال له الشياطين إن رجليها كحافر حمار وأنها شعراء الساقين فاتخذ هذه الحيلة حتى تكشف عن ساقيها فينظر إليها فهذا ما لا يليق بنبي كريم على الله ولا يصح القول بمثله ثم لما تزوجها سليمان أحبها وأقرها على ملكها، فكان يزورها سليمان في كل شهر مرة، بعد أن ردها إلى ملكها، ويقيم عندها ثلاثة أيام وولدت له ولداً ذكراً.
وعن وهب قال: زعموا أنها لما أسلمت قال لها سليمان: اختاري رجلاً من قومك أزوجك. فقالت: إن كان ولابد فزوجني من تبع ملك همدان فزوجه إياها ثم ردها إلى اليمن.
وذكر في "المدارك" في تفسير قوله تعالى: (وإني مرسلة إليهم بهدية فناظرة بم يرجع المرسلون) أي بقبولها أم بردها، ولأنها عرفت عادة الملوك فإن كان ملكاً قبلها وانصرف، وإن كان نبياً ردها ولم يرض منا إلا أن نتبعه على دينه، فبعثت خمسمائة غلام عليهم ثياب الجواري وحليهن، وأركبتهن خيلاً مغشاة بالديباج، محلاة اللجم والسروج بالذهب المرصع بالجواهر، وخمسمائة جارية عل رماك في زي الغلمان وألف لبنة من ذهب وفضة. وتاجاً مكللاً بالدر والياقوت، وحقة فيها درة عذراء، وجزعة معوجة الثقب، وبعثت رسلاً وأمرت عليهم المنذر بن عمرو، وكتبت كتاباً فيه نسخة الهدايا، وقالت: إن كنت نبياً فميز بين الوصفاء والوصائف، وأخبرنا بما في الحقة، وأثقب الدرة، واسلك في الخرزة خيطاً، ثم قالت للمنذر: إن نظر إليك نظرة غضب فهو ملك، وإن رأيته بشا لطيفا فهو نبي. فعاد الهدهد وأخبر سليمان، فأمر الجن فضربوا لبنات الذهب والفضة وفرشوها في ميدان طوله سبعة فراسخ، وجعلوا حول الميدان حائطاً شرفه من الذهب والفضة، وأمر بأحسن دواب البحر والبر أن تربط على يمين الميدان ويساره على اللبنات، وأمر أولاد الجن أن يقوموا على اليمين واليسار ثم جلس على سريره، والكراسي من جانبيه، ثم اصطفت الشياطين صفوفاً فراسخ، والإنس صفوفاً فراسخ، والوحش والسباع والهوام والطيور كذلك. فلما دنا القوم ورأوا الدواب تروث على اللبن رموا بما معهم من الهدايا، ولما وقفوا بين يديه نظر إليهم سليمان بوجه طلق، فأعطوه كتاب بلقيس، فنظر فيه وقال: أين الحقة؟ فأمر الأرضة فأخذت شعرة ونفذت بالدرة، وأخذت دودة بيضاء الخيط بفيها بثقب الخرزة المعوجة، ودعا بالماء فكانت الجارية تأخذ الماء بيده فتجعله في الأخرى ثم تضرب به وجهها، والغلام يأخذه بيده ويضرب به وجهه فميز بينهم. ثم رد الهدية، وقال للمنذر (ارجع إليهم) الآية. فقدمت إلى عند سليمان وأسلمت وتزوجها.
وفيه أيضاً، في تفسير قوله تعالى: (قال الذي عنده علم من الكتاب) أي ملك، أرسله الله عند قول العفريت (أنا أتيك به قبل أن تقوم من مقامك) الآية. أو جبرائيل أو الخضر، أو آصف بن برخيا كاتب سليمان. وهو الأصح وعليه الجمهور، وكان عنده الاسم الأعظم الذي إذا دعي به أجاب، وهو: يا حي يا قيوم، يا ذا الجلال والإكرام، وقيل: يا إلهنا وإله كل شيء إلهاً واحداً لا إله إلا أنت. وذكر في كتاب "الأزهية في أحكام الأدعية" إنه: يا ذا الجلال والإكرام. وقيل: هو في سورة الإخلاص، وقيل آية الكرسي. وذكر في "المصابيح": عن بريدة: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سمع رجلاً يقول: اللهم إني أسألك بأنك أنت الله لا إله إلا أنت، الأحد الصمد، الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفواً أحد، فقال صلى الله عليه وسلم: "دعا باسمه الأعظم، الذي إذا سئل به أعطى وإذا دعي به أجاب".
وعن أسماء بنت يزيد، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "اسم الله الأعظم في هاتين الآيتين: (وإلهكم إله واحد لا إله إلا هو الرحمن الرحيم) وفاتحة آل عمران (آلم، الله لا إله إلا هو الحي القيوم) .
وعن أنس رضي الله عنه قال كنت جالساً مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد ورجل يصلي فقال: اللهم إني أسألك بأن لك الحمد، لا إله إلا أنت الحنان المنان، بديع السموات والأرض، يا ذا الجلال والإكرام، يا حي يا قيوم أسألك
…
গবেষক আলেমদের মতে, বিলকিস যখন আগমন করলেন এবং প্রাসাদে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি একে গভীর জলাশয় মনে করলেন। ফলে তিনি সুলাইমানের কাছে যাওয়ার জন্য কাপড় তুলে তাঁর দুই পা উন্মুক্ত করলেন। তখন সুলাইমান তাঁকে ডাক দিলেন যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: (এটি কাঁচ দিয়ে নির্মিত স্বচ্ছ প্রাসাদ)। এরপর বিলকিস তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সুলাইমান তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তিনি তাতে সাড়া দিলেন, ঈমান আনলেন এবং সুলাইমানের সাথে ইসলাম গ্রহণ করলেন। আর ইসরাঈলি বর্ণনার অনুসারী মুফাসসিরগণ যা দাবি করেছেন যে— শয়তানরা সুলাইমান আলাইহিস সালামকে বলেছিল যে তাঁর (বিলকিসের) পা দুটি গাধার খুরের মতো এবং তাঁর পা পশমযুক্ত, ফলে সুলাইমান এই কৌশল অবলম্বন করেন যাতে তিনি তাঁর পা উন্মুক্ত করেন এবং তিনি তা দেখতে পান— এসব এমন বিষয় যা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত সম্মানিত কোনো নবীর শানে শোভা পায় না এবং এ ধরনের কথা বলাও সহীহ নয়। এরপর সুলাইমান যখন তাঁকে বিয়ে করলেন, তখন তিনি তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসলেন এবং তাঁকে তাঁর রাজ্যের ওপর বহাল রাখলেন। সুলাইমান তাঁকে তাঁর রাজ্যে ফেরত পাঠানোর পর প্রতি মাসে একবার তাঁকে দেখতে যেতেন এবং তাঁর নিকট তিন দিন অবস্থান করতেন। আর বিলকিস সুলাইমানের এক পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন।
ওয়াহব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা ধারণা করেন যে, বিলকিস যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, সুলাইমান তাঁকে বললেন: তোমার কওমের মধ্য থেকে কোনো একজনকে নির্বাচন করো, আমি তোমার সাথে তার বিয়ে দেব। তিনি বললেন: যদি দিতেই হয়, তবে হামদানের রাজা তুব্বার সাথে আমার বিয়ে দিন। ফলে তিনি তাঁর সাথে বিলকিসের বিয়ে দিলেন এবং তাঁকে ইয়ামেনে ফেরত পাঠালেন।
এবং 'আল-মাদারিক' গ্রন্থে আল্লাহর বাণীর তাফসিরে উল্লেখ করা হয়েছে: (আমি তাদের কাছে একটি উপহার পাঠাচ্ছি এবং দেখছি প্রেরিতরা কী নিয়ে ফিরে আসে) অর্থাৎ তিনি দেখতে চাইলেন যে উপহারটি গ্রহণ করা হয় নাকি ফেরত দেওয়া হয়। কারণ তিনি রাজাদের অভ্যাস জানতেন যে, যদি তিনি কেবল একজন রাজা হন তবে উপহার গ্রহণ করবেন এবং ক্ষান্ত হবেন, আর যদি তিনি নবী হন তবে উপহার ফিরিয়ে দেবেন এবং আমরা তাঁর দ্বীনের অনুসরণ না করা পর্যন্ত তিনি সন্তুষ্ট হবেন না। এরপর তিনি পাঁচশত দাস পাঠালেন যাদের পরনে ছিল দাসীদের পোশাক ও অলঙ্কার, আর তাদের এমন ঘোড়ায় চড়ালেন যা রেশমি বস্ত্রে ঢাকা ছিল এবং যার লাগাম ও জিন ছিল মণি-মুক্তা খচিত স্বর্ণের। আরও পাঠালেন পাঁচশত দাসী যারা ছিল দাসের পোশাকে ঘোড়সওয়ার, এবং এক হাজার স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট। আরও ছিল মুক্তা ও ইয়াকুত খচিত একটি মুকুট, একটি কৌটা যার ভেতর ছিল ছিদ্রহীন মুক্তা এবং একটি খাঁজকাটা ছিদ্রযুক্ত পুঁতি। তিনি দূত পাঠালেন এবং তাদের ওপর মুনজির বিন আমরকে আমীর নিযুক্ত করলেন। তিনি একটি চিঠি লিখলেন যাতে উপহারের তালিকা ছিল এবং বললেন: আপনি যদি নবী হন তবে কিশোর ও কিশোরীদের আলাদা করে দেখান, কৌটার ভেতরে কী আছে তা আমাদের বলুন, মুক্তাটি ছিদ্র করুন এবং পুঁতিটির ছিদ্রে সুতা প্রবেশ করান। এরপর তিনি মুনজিরকে বললেন: তিনি যদি তোমার দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকান তবে তিনি একজন রাজা, আর যদি তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল ও নম্র দেখেন তবে তিনি একজন নবী। এরপর হুদহুদ ফিরে এসে সুলাইমানকে সব সংবাদ জানিয়ে দিল। তখন সুলাইমান জিনদের নির্দেশ দিলেন, তারা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট তৈরি করে সাত ফারসাখ দীর্ঘ একটি ময়দানে তা বিছিয়ে দিল। তারা ময়দানের চারপাশে স্বর্ণ ও রৌপ্যের প্রাচীর তৈরি করল। তিনি নির্দেশ দিলেন যেন সমুদ্র ও স্থলের শ্রেষ্ঠ চতুষ্পদ প্রাণীগুলোকে ময়দানের ডানে ও বামে ওই ইটগুলোর ওপর বেঁধে রাখা হয়। তিনি জিন সন্তানদের ডানে ও বামে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি তাঁর সিংহাসনে বসলেন এবং তাঁর দুই পাশে আসনগুলো সাজানো হলো। এরপর শয়তানরা সারিবদ্ধভাবে কয়েক ফারসাখ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে গেল, এরপর মানুষরা কয়েক ফারসাখ পর্যন্ত কাতারবদ্ধ হলো, একইভাবে বন্যপ্রাণী, হিংস্র জানোয়ার, কীটপতঙ্গ এবং পাখিরাও কাতারবদ্ধ হলো। যখন কাফেলাটি কাছে পৌঁছাল এবং দেখল যে পশুরা স্বর্ণ-রৌপ্যের ইটের ওপর মলত্যাগ করছে, তখন তারা তাদের সাথে থাকা উপহারগুলো ফেলে দিল। যখন তারা সুলাইমানের সামনে দাঁড়াল, তিনি প্রসন্ন মুখে তাদের দিকে তাকালেন। তারা তাঁকে বিলকিসের পত্রটি দিল। তিনি তাতে দৃষ্টিপাত করে বললেন: কৌটাটি কোথায়? এরপর তিনি উইপোকাকে নির্দেশ দিলেন, সেটি একটি চুল নিয়ে মুক্তাটি ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করল। এরপর একটি সাদা পোকা তার মুখে সুতা নিয়ে ওই বাঁকা ছিদ্রযুক্ত পুঁতিটির ভেতর দিয়ে সুতা পার করে দিল। সুলাইমান পানি চাইলেন; তখন দেখা গেল দাসীরা এক হাত দিয়ে পানি নিয়ে অন্য হাতে দিচ্ছিল এবং তা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিচ্ছিল, আর দাসরা এক হাতে পানি নিয়েই সরাসরি মুখে দিচ্ছিল। এভাবে তিনি তাদের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করলেন। এরপর তিনি উপহার ফিরিয়ে দিলেন এবং মুনজিরকে বললেন: (তাদের কাছে ফিরে যাও) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর বিলকিস সুলাইমানের কাছে উপস্থিত হলেন, ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সুলাইমান তাঁকে বিয়ে করলেন।
এতে আরও রয়েছে আল্লাহর বাণীর তাফসিরে: (যাঁর কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল তিনি বললেন) অর্থাৎ একজন ফেরেশতা, যাকে আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন যখন ইফরিত বলেছিল: (আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অথবা তিনি ছিলেন জিবরাঈল, অথবা খিজির, অথবা সুলাইমানের লেখক আসিফ বিন বারখিয়া। এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত এবং জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের অভিমত। তাঁর কাছে আল্লাহর 'ইসমে আজম' বা মহিমান্বিত নাম জানা ছিল, যা দিয়ে ডাকলে তিনি সাড়া দেন। আর তা হলো: 'ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম' (হে চিরঞ্জীব, হে মহাব্যবস্থাপক), 'ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম' (হে মহিমময় ও মহানুভব)। কেউ কেউ বলেছেন: হে আমাদের ইলাহ এবং সবকিছুর ইলাহ, এক ইলাহ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। "আল-আযহিয়্যাহ ফি আহকামিল আদইয়াহ" কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি হলো: 'ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম'। আবার বলা হয়েছে: এটি সূরা আল-ইখলাসে রয়েছে, কেউ বলেছেন আয়াতুল কুরসিতে। "আল-মাসাবিহ" গ্রন্থে বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকে জন্ম দেওয়া হয়নি এবং যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই'। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে আল্লাহর ওই মহিমান্বিত নামে (ইসমে আজম) ডাকল, যা দিয়ে চাইলে তিনি দান করেন এবং যা দিয়ে ডাকলে তিনি সাড়া দেন।"
আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর মহিমান্বিত নাম (ইসমে আজম) এই দুটি আয়াতের মধ্যে রয়েছে: (আর তোমাদের ইলাহ একক ইলাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরম করুণাময় দয়ালু) এবং সূরা আলে-ইমরানের শুরুতে (আলিফ লাম মিম, আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, মহাব্যবস্থাপক)।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মসজিদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসেছিলাম এবং এক ব্যক্তি সালাত আদায় করছিল। সে বলল: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পরম দয়ালু, অশেষ দাতা, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, হে মহিমময় ও মহানুভব, হে চিরঞ্জীব, হে মহাব্যবস্থাপক, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি
…
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
فقال النبي صلى الله تعالى عليه وسلم: "دعا الله باسمه الأعظم الذي إذا دعي به أجاب وإذا سئل به أعطى".
وعن عائشة رضي الله عنها، قالت: قال صلى الله تعالى عليه وسلم: "يا عائشة قد علمت أن الله قد دلني على الاسم الأعظم الذي إذا دعي به أجاب؟ فقلت: يا رسول الله بأبي أنت وأمي فعلمنيه! قال: إنه لا ينبغي لك يا عائشة، فتنحيت وجلست ساعة ثم قمت فقبلت رأسه، ثم قلت: يا رسول الله علمنيه، قال: إنه لا ينبغي أن تسألي به شيئاً للدنيا. قالت: فقمت وتوضأت وصليت ركعتين وقلت: اللهم إني أدعوك الله، وأدعوك الرحمن، وأدعوك البر الرحيم، وأدعوك بأسمائك الحسنى كلها ما علمت منها وما لم أعلم أن تغفر لي وترحمني. فاستضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: إنه لفي الأسماء التي دعوت إليها" رواه ابن ماجة.
وذكر في كتاب "حصن الحصين": أن الاسم الأعظم (لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت من الظالمين) . وفي "تحفة البركات" قال اليافعي: قال لي بعض العارفين: ألا أعلمك الإسم الأعظم؟ قلت: بلى قال: اقرأ الفاتحة والإخلاص وآية الكرسي وسورة القدر. ثم استقبل القبلة وادع بما أحببت فإنه يجيبك. وذكر في "كتاب الأزهية" أن المعتمد هو الله.
وذكر الشيخ علي القارئ في "العقائد" أنه ملك شرقاً وغرباً مؤمنان، سليمان عليه السلام وذو القرنين عليه السلام وكافران: بخت نصر والنمرود بن كنعان، وقال جماعة: اختلف في نبوة ذي القرنين اسكندر فقيل ليس بنبي بل ملك مؤمن عادل وهو الحق.
وقال مقاتل: هو نبي ويؤيده ما في سورة الكهف بحسب الظاهر ووافقه الضحاك، وأما سليمان عليه السلام فنبي مرسل وملك، وقال أهل التاريخ: ملك سليمان وهو ابن ثلاثة عشرة سنة، وابتدأ الملك ببناء المقدس بعد ملكه بأربع سنين، ومات وله من العمر ثلاث وخمسون سنة.
وذكر في كتاب "كشف الأسرار": لم وضع ملكه في فص خاتم؟ قيل: أراه ملك الجنة، فقال: حجر من الجنة له هذه الهيئة، وأيضاً أراه أنه تعالى يعز من يشاء كما أعز الحجر الأسود والذهب والفضة، فإن قيل: لم جعل رسوله طيراً؟ قيل: أراد أن يبين لهم أحوال الجنة وطاعة الطيور له.
وذكر في "المدارك" في تفسير قوله تعالى: (قالت نملة يا أيها النمل ادخلوا مساكنكم) الآية. قيل: إنها نملة عرجاء تسمى طاخية أو منذرة. وعن قتادة: أنه دخل الكوفة فقال: سلوا عما شئتم، فسأله أبو حنيفة رضي الله عنه وهو شاب عن نملة سليمان، أكانت ذكراً أم أنثى؟ فأفحم. فقال أبو حنيفة رضي الله عنه: كانت أنثى، فقيل له: بم عرفت؟ لقوله تعالى: (قالت نملة) ولو كانت ذكراً لقال: قال نملة، وذلك أن النملة مثل الحمامة في وقوعها على الذكر والأنثى، فيميز بينهما بعلامة نحو قولهم: حمامة ذكر، حمامة أنثى، وهو [و] هي.
وذكر في "كشف الأسرار": قوله: سؤال: لم لم يأت بعرشها بدعائه؟ قيل: أراه الله عجزه في ملكه، وأراه أنه لا يعطي الكل إلى أحد، فإنه لو أعطى الكل إلى أحد، لكان ذلك الواحد كاملاً، وليس الكمال إلا لله تعالى. وقيل: إن رجلاً وامرأته اختلفا في ولد لهما أسود، فقالت المرأة: هو ابنك، وأنكر الرجل، فقال سليمان عليه السلام للرجل: هل جامعتها في الحيض، قال: نعم قال: هو ولدك إنما سود الله وجهه عقوبة لكما. وهو المراد بقوله تعالى (ففهمناها سليمان) وذكر في "المدارك" في تفسير قوله تعالى: (ففهمناها سليمان) قيل: إن الغنم رعت الحرث وأفسدته بلا راع ليلاً، فتحاكما إلى داود عليه السلام فحكم بالغنم لأهل الحرث وقد استوت قيمتاهما، فقال سليمان: وهو ابن إحدى عشرة سنة ارفق بالفريقين، فعزم عليه ليحكمن، فقال: أرى أن تدفع الغنم إلى أهل الحرث ينتفعون بألبانها وأولادها وصوفها، والحرث إلى رب الغنم حتى يصلح الحرث، ويعود إلى هيئته يوم أفسد ثم يترادان. فقال داود عليه السلام: القضاء ما قضيت. وقال مجاهد: كان هذا صلحا، وما فعله داود عليه السلام حكما، والصلح خير، وأما في شريعتنا فلا ضمان عند أبي حنيفة وأصحابه ليلاً كان أم نهاراً، إلا أن يكون مع البهيمة سائق أو قائد، وعند الشافعي يجب الضمان بالليل.
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তিনি আল্লাহর নিকট তাঁর সেই মহান নামে (ইসমে আজম) দোয়া করেছেন, যার মাধ্যমে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দ্বারা প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন।"
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আয়েশা! তুমি কি জানো যে আল্লাহ আমাকে সেই মহান নামের সন্ধান দিয়েছেন, যা দ্বারা দোয়া করলে তিনি সাড়া দেন?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর উৎসর্গ হোক, আপনি আমাকে তা শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: "হে আয়েশা! এটি তোমাকে শেখানো সমীচীন হবে না।" তখন আমি সরে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলাম, তারপর উঠে তাঁর পবিত্র মস্তকে চুম্বন করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে তা শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: "দুনিয়ার কোনো কিছুর প্রার্থনা করার জন্য এটি তোমার চাওয়া সমীচীন নয়।" আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: অতঃপর আমি দাঁড়ালাম এবং অজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলাম। এরপর বললাম: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি 'আল্লাহ' নামে, প্রার্থনা করছি 'রাহমান' (পরম করুণাময়) নামে, প্রার্থনা করছি 'বাররুর রাহিম' (কল্যাণময় দয়ালু) নামে এবং আপনার সকল সুন্দর নামের অসীলায় প্রার্থনা করছি—যা আমি জানি এবং যা জানি না—যাতে আপনি আমাকে ক্ষমা করেন এবং আমার ওপর দয়া করেন।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই এটি সেই সকল নামের মধ্যেই রয়েছে যা দ্বারা তুমি দোয়া করেছ।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
"হিসনে হাসিন" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসমে আজম হলো (লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন)। আর "তুহফাতুল বারাকাত" গ্রন্থে ইয়াফেয়ি রহ. বলেন: জনৈক আরিফ (আল্লাহভীরু বিজ্ঞ ব্যক্তি) আমাকে বললেন: আমি কি তোমাকে ইসমে আজম শিখিয়ে দেব না? আমি বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: তুমি ফাতিহা, ইখলাস, আয়াতুল কুরসি এবং সূরা কদর পাঠ করো। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে যা ইচ্ছা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি তোমার দোয়ায় সাড়া দেবেন। "কিতাবুল আযহিয়্যাহ"-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী এটি হলো 'আল্লাহ' নাম।
শাইখ আলী আল-ক্বারী "আল-আকাইদ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ব ও পশ্চিম জগতের রাজত্ব দুইজন মুমিন ব্যক্তি লাভ করেছেন—সুলায়মান আলাইহিস সালাম ও যুল-কারনাইন আলাইহিস সালাম; এবং দুইজন কাফির—বখতে নসর ও নমরূদ ইবনে কানআন। একদল আলিম বলেছেন: ইসকান্দার যুল-কারনাইনের নবুওয়াতের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে যে তিনি নবী নন, বরং একজন ন্যায়পরায়ণ মুমিন বাদশাহ ছিলেন এবং এটিই সঠিক মত।
মুকাতিল রহ. বলেছেন: তিনি একজন নবী ছিলেন এবং সূরা কাহাফের বাহ্যিক বর্ণনা একে সমর্থন করে। যাহহাক রহ.-ও তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আর সুলায়মান আলাইহিস সালাম একজন প্রেরিত নবী ও বাদশাহ ছিলেন। ঐতিহাসিকগণ বলেছেন: সুলায়মান আলাইহিস সালাম তেরো বছর বয়সে রাজত্ব লাভ করেন। তাঁর রাজত্বের চার বছর পর তিনি বাইতুল মাকদিস নির্মাণ শুরু করেন। আর তেপ্পান্ন বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
"কাশফুল আসরার" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: কেন তাঁর রাজত্বকে আংটির পাথরের মধ্যে রাখা হয়েছিল? বলা হয়েছে: তাঁকে জান্নাতের রাজত্ব দেখানো হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে, জান্নাতের একটি পাথর এই আকৃতির হয়। আরও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন—যেমন তিনি হাজরে আসওয়াদ, স্বর্ণ ও রৌপ্যকে সম্মানিত করেছেন। যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন তিনি পাখিকে তাঁর বার্তাবাহক বানিয়েছিলেন? উত্তরে বলা হয়েছে: তিনি তাদের নিকট জান্নাতের অবস্থা এবং তাঁর অনুগত পাখিদের আনুগত্য প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।
"আল-মাদারিক" গ্রন্থে মহান আল্লাহর বাণী: (এক পিঁপড়া বলল, হে পিঁপড়ারা! তোমরা নিজ নিজ ঘরে প্রবেশ করো...) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: সেটি ছিল একটি খোঁড়া পিঁপড়া যার নাম ছিল তাখিয়্যাহ বা মুনযিরাহ। কাতাদাহ রহ. হতে বর্ণিত যে, তিনি কুফায় প্রবেশ করে বললেন: তোমরা যা ইচ্ছা আমাকে জিজ্ঞাসা করো। তখন আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু আনহু যুবক অবস্থায় তাকে সুলায়মান আলাইহিস সালামের পিঁপড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন—সেটি পুরুষ ছিল না স্ত্রী? তিনি (কাতাদাহ) নিরুত্তর হয়ে গেলেন। তখন আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: সেটি ছিল স্ত্রী পিঁপড়া। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: মহান আল্লাহর বাণী (ক্বালাত নামলাহ - এক স্ত্রী পিঁপড়া বলল) থেকে; কারণ যদি সেটি পুরুষ হতো তবে আল্লাহ (ক্বালা নামলাহ) বলতেন। বিষয়টি হলো এই যে, কবুতরের মতো পিঁপড়াও পুরুষ ও স্ত্রী উভয় লিঙ্গের ওপর প্রযুক্ত হয়, ফলে কোনো চিহ্নের মাধ্যমে তাদের পার্থক্য করা হয় যেমন বলা হয়: পুরুষ কবুতর, স্ত্রী কবুতর, অথবা 'সে' (পুরুষ) ও 'সে' (স্ত্রী)।
"কাশফুল আসরার" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: প্রশ্ন: কেন তিনি (সুলায়মান আ.) নিজের দোয়ার মাধ্যমে বিলকীসের সিংহাসন নিয়ে আসলেন না? বলা হয়েছে: আল্লাহ তাঁকে তাঁর রাজত্বের সীমাবদ্ধতা দেখাতে চেয়েছিলেন এবং এটি দেখাতে চেয়েছিলেন যে তিনি সকল কিছু একজনকে দান করেন না; কারণ যদি তিনি সকল কিছু একজনকে দান করতেন তবে সেই ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ হয়ে যেত, অথচ পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যই নির্দিষ্ট। আরও বলা হয়েছে: এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর মধ্যে তাদের একটি কালো সন্তানকে নিয়ে বিরোধ দেখা দিল। স্ত্রী বলল: এটি আপনারই সন্তান, কিন্তু স্বামী তা অস্বীকার করল। সুলায়মান আলাইহিস সালাম লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি ঋতুস্রাব অবস্থায় তার সাথে সহবাস করেছিলে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটি তোমারই সন্তান, তোমাদের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ এর চেহারা কালো করে দিয়েছেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী (আমি সুলায়মানকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম) দ্বারা উদ্দেশ্য। "আল-মাদারিক" গ্রন্থে মহান আল্লাহর বাণী (আমি সুলায়মানকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম) এর তাফসীরে বলা হয়েছে: এক পশুপালকের মেষ কোনো রাখাল ছাড়াই রাতে একটি শস্যক্ষেতে চরে ফসলের ক্ষতি করেছিল। তখন তারা দাউদ আলাইহিস সালামের কাছে বিচার নিয়ে এল। দাউদ আলাইহিস সালাম মেষগুলো শস্যক্ষেতের মালিকদের দিয়ে দেওয়ার ফয়সালা করলেন কারণ উভয়ের মূল্য সমান ছিল। তখন সুলায়মান আলাইহিস সালাম—যাঁর বয়স তখন এগারো বছর—বললেন: উভয় পক্ষের প্রতি আরও সহনশীল হওয়া উচিত। দাউদ আলাইহিস সালাম তাঁকে ফয়সালা করার নির্দেশ দিলে তিনি বললেন: আমার অভিমত হলো, আপনি মেষগুলো শস্যক্ষেতের মালিকদের দিয়ে দিন যাতে তারা সেগুলোর দুধ, বাচ্চা ও পশম দ্বারা উপকৃত হতে পারে, আর শস্যক্ষেতটি মেষের মালিককে বুঝিয়ে দিন যাতে সে ক্ষেত্রটি সংস্কার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়; যখন শস্যক্ষেতটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে তখন উভয় পক্ষ তাদের সম্পদ বিনিময় করে নেবে। তখন দাউদ আলাইহিস সালাম বললেন: তুমি যা ফয়সালা করেছ সেটিই প্রকৃত বিচার। মুজাহিদ রহ. বলেন: এটি ছিল একটি আপস-মীমাংসা, আর দাউদ আলাইহিস সালাম যা করেছিলেন তা ছিল চূড়ান্ত বিচার, আর আপস-মীমাংসাই উত্তম। তবে আমাদের শরীয়তে ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের মতে রাতে বা দিনে কোনো সময়ই ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হয় না, যদি না পশুর সাথে কোনো চালক বা পরিচালক থাকে। আর ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর মতে রাতের বেলা (ক্ষতির জন্য) জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া ওয়াজিব।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وفيه أيضاً في تفسير قوله تعالى (وحشر سليمان جنوده) الآية. روي أن معسكره كان مائة فرسخ في مائة فرسخ، خمسة وعشرون للجن، وخمسة وعشرون للإنس، وخمسة وعشرون للطير، وخمسة وعشرون للوحش، وكان له ألف بيت من قوارير على الخشب فيها ثلاثمائة منكوحة، وسبعمائة سرية وقد نسجت له الجن بساطاً من ذهب وإبريسم فرسخاً في فرسخ. فيوضع منبره في وسطه، وهو من ذهب وفضة، فيقعد عليه وحوله ستمائة ألف كرسي من ذهب وفضة، فيقعد الأنبياء على كراسي الذهب والعلماء على كراسي الفضة، وحولهم الناس وحول الناس الجن والشياطين، وتظلله الطيور بأجنحتها حتى لا يقع عليه حر الشمس، وترفع ريح الصبا البساط فتسير به مسيرة شهر. فأوحى الله إليه وهو يسير بين السماء والأرض: إني قد زدت في ملكك، أن لا يتكلم أحد بشيء إلا ألقته الريح في سمعك، فيحكى: أنه قد مر بحراث فقال: لقد أوتي آل داود ملكاً عظيماً، فألقته الريح في أذن سليمان، فنزل ومشى إلى الحراث وقال: إنما مشيت إليك لئلا تتمنى ما لا تقدر عليه، ثم قال له: لتسبيحة واحدة يقبلها الله خير مما أوتي آل داود.
وذكر في "تاريخ ابن الوردي" أن سليمان عليه السلام لما ملك كان عمره اثنتي عشرة سنة، وفي السنة الرابعة من ملكه في أيار سنة تسع وثلاثين وخمسمائة لوفاة موسى عليه السلام ابتدأ بعمارة بيت المقدس، وأقام في عمارته سبع سنين وفرغ منه في الحادي عشر من ملكه، أواخر سنة ست وأربعين وخمسمائة لوفاة موسى عليه السلام وارتفاعه ثلاثون ذراعاً، وطوله ستون في عرض عشرين ذراعاً. وخارج البيت سور محيط به امتداده خمسمائة في خمسمائة ثم شرع في بناء دار ملكه بالقدس، وتمم عمارته في ثلاث عشرة سنة، وانتهت في الرابعة والعشرين من ملكه، وفي الخامسة والعشرين من ملكه جاءته بلقيس ملكة اليمن، وأطاعه ملوك الأرض، وتوفي وعمره اثنتان وخمسون سنة، ومدة ملكه أربعون سنة، فتكون وفاته في أواخر سنة خمس وسبعين وخمسمائة لوفاة موسى عليه السلام وماتت بلقيس قبل وفاة سليمان عليه السلام وقيل: بعد وفاته، وهو الأصح، وملك اليمن بعدها عمها ناشر النعم، واسمه مالك، والله سبحانه وتعالى بذلك أعلم.
[14] آمنة، أم رسول الله صلى الله عليه وسلمبنت وهب بن عبد مناف بن زهرة، بن كلاب، وهي أم رسول الله صلى الله عليه وسلم تزوجها عبد الله بن عبد المطلب وعمره خمس وعشرون سنة، وقيل ثلاثون سنة، وكانت آمنة في حجر عمها أهيب لأن أباها قد مات فأتى عبد المطلب إلى أهيب، وخطب ابنته هالة لنفسه، فزوجه إياها، وخطب آمنة بنت وهب لولده عبد الله، فزوجها له في مجلس واحد.
وذكر في "شرح ذات الشفا" قال أهل السير: خرج عبد المطلب ومعه ولده عبد الله، وكان أحسن رجل في قريش خلقاً وخلقاً، وكان نور النبوة ظاهراً في وجهه، فخرج مع أبيه ليزوجه، فمر بامرأة منه بني أسد بن عبد العزى وهي أخت ورقة بن نوفل، وكانت قد سمعت من أخيها بقرب ظهور النبي الأمي العربي وأن علامة أبيه نور في غرته، فلما رأت عبد الله وقع في قلبها أنه هو، فقالت له: يا عبد الله لك مثل الإبل التي نحرت عنك، وقع علي الآن، فأبى عبد الله، وأنشد:
أما الحرامُ فالمماتُ دونه
… والحلُّ لا حلَّ فأستبينه
فكيفَ بالأمرِ الذي تبغينه
… يحمي الكريمُ عرضهُ ودينه
এতে আল্লাহ তাআলার বাণী 'এবং সুলাইমানের জন্য তার সৈন্যদের একত্রিত করা হলো'—এই আয়াতে তাফসিরে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর সামরিক শিবিরের আয়তন ছিল একশ ফারসাখ গুণ একশ ফারসাখ। এর মধ্যে পঁচিশ ফারসাখ ছিল জিনদের জন্য, পঁচিশ ফারসাখ মানুষের জন্য, পঁচিশ ফারসাখ পাখিদের জন্য এবং পঁচিশ ফারসাখ ছিল বন্যপ্রাণীদের জন্য। তাঁর কাঠের ওপর নির্মিত কাঁচের এক হাজার ঘর ছিল, যেখানে তাঁর তিনশ জন স্ত্রী ও সাতশ জন উপপত্নী বসবাস করতেন। জিনেরা তাঁর জন্য স্বর্ণ ও রেশম দ্বারা এক ফারসাখ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের একটি গালিচা তৈরি করেছিল। তাঁর স্বর্ণ ও রুপার তৈরি মিম্বরটি গালিচার মাঝখানে স্থাপন করা হতো। তিনি সেই মিম্বরে বসতেন এবং তাঁর চারপাশে স্বর্ণ ও রুপার ছয় লক্ষ চেয়ার রাখা হতো। স্বর্ণের চেয়ারগুলোতে নবিগণ এবং রুপার চেয়ারগুলোতে আলেমগণ উপবেশন করতেন। তাঁদের চারপাশে সাধারণ মানুষ এবং মানুষের চারপাশে জিন ও শয়তানরা অবস্থান করত। পাখিরা তাঁদের ওপর ডানা মেলে ছায়া প্রদান করত যাতে সূর্যের তাপ তাঁর ওপর না লাগে। পুবালি বাতাস সেই গালিচাটিকে বহন করে এক মাসের পথ নিয়ে যেত। যখন তিনি আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে বিচরণ করতেন, তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহি নাজিল করেন: 'আমি তোমার রাজত্বে এমন প্রবৃদ্ধি দান করেছি যে, কেউ কোনো কথা বললে বাতাস তা তোমার কানে পৌঁছে দেবে।' বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার এক কৃষকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কৃষকটি বলল: 'দাউদের পরিবারকে তো বিশাল রাজত্ব দান করা হয়েছে।' বাতাস কথাটি সুলাইমানের কানে পৌঁছে দিল। তখন তিনি নিচে নেমে কৃষকের দিকে হেঁটে গেলেন এবং বললেন: 'আমি তোমার কাছে হেঁটে এসেছি যাতে তুমি এমন কোনো বিষয়ের আকাঙ্ক্ষা না করো যা পাওয়ার ক্ষমতা তোমার নেই।' অতঃপর তিনি তাকে বললেন: 'আল্লাহর নিকট কবুল হওয়া একটি মাত্র তাসবিহ দাউদ পরিবারকে যা দেওয়া হয়েছে তার চেয়েও উত্তম।'
ইবনে আল-ওয়ারদীর ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুলাইমান আলাইহিস সালাম যখন রাজত্বভার গ্রহণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর। তাঁর রাজত্বের চতুর্থ বছরে, অর্থাৎ মুসা আলাইহিস সালামের ইন্তেকালের পাঁচশ উনচল্লিশ বছর পর মে মাসে তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এর নির্মাণে তিনি সাত বছর সময় ব্যয় করেন এবং তাঁর রাজত্বের একাদশ বছরে, মুসা আলাইহিস সালামের ইন্তেকালের পাঁচশ ছেচল্লিশ বছর শেষ হওয়ার দিকে তিনি এর নির্মাণ সম্পন্ন করেন। এর উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত এবং দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত ও প্রস্থ ছিল বিশ হাত। এই গৃহের বাইরে একটি পরিবেষ্টিত প্রাচীর ছিল যার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ছিল পাঁচশ হাত গুণ পাঁচশ হাত। এরপর তিনি কুদস শহরে তাঁর রাজপ্রাসাদ নির্মাণ শুরু করেন এবং তেরো বছরে এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন, যা তাঁর রাজত্বের চব্বিশতম বছরে সমাপ্ত হয়। রাজত্বের পঁচিশতম বছরে ইয়েমেনের রানি বিলকিস তাঁর কাছে আসেন এবং পৃথিবীর রাজন্যবর্গ তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেন। বায়ান্ন বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর রাজত্বের মেয়াদ ছিল চল্লিশ বছর। সুতরাং তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল মুসা আলাইহিস সালামের ইন্তেকালের পাঁচশ পঁচাত্তর বছর পর। বিলকিস সুলাইমান আলাইহিস সালামের ইন্তেকালের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। আবার কেউ বলেন, তাঁর ইন্তেকালের পর; আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত। এরপর ইয়েমেনের রাজত্ব গ্রহণ করেন তাঁর চাচা নাশিরুন নেয়াম, যাঁর নাম ছিল মালিক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।
[১৪] আমিনা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাতাতিনি ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে জোহরা ইবনে কিলাবের কন্যা এবং তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাতা। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব পঁচিশ বছর বয়সে তাঁকে বিবাহ করেন, তবে কেউ বলেছেন ত্রিশ বছর বয়সে। আমিনা তাঁর চাচা উহাইবের তত্ত্বাবধানে ছিলেন কারণ তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেছিলেন। আব্দুল মুত্তালিব উহাইবের নিকট এসে নিজের জন্য তাঁর কন্যা হালের বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তিনি তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করেন। একই মজলিসে তিনি তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর জন্য আমিনা বিনতে ওয়াহাবের বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তিনি তাঁর বিয়েও করিয়ে দেন।
‘শারহু জাতুশ শিফা’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ঐতিহাসিকগণ বলেন: আব্দুল মুত্তালিব বের হলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহও ছিলেন। আব্দুল্লাহ ছিলেন কুরাইশ বংশের সবচেয়ে সুন্দর অবয়ব ও চরিত্রের অধিকারী। তাঁর চেহারায় নবুয়তের নূর উদ্ভাসিত ছিল। পিতা তাঁকে বিয়ে করানোর জন্য নিয়ে বের হলেন। পথিমধ্যে তিনি বনু আসাদ ইবনে আবদিল উযযা গোত্রের এক মহিলার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি ছিলেন ওয়ারাকা ইবনে নাওফালের বোন। তিনি তাঁর ভাইয়ের নিকট শুনেছিলেন যে উম্মি আরবি নবির আবির্ভাবের সময় আসন্ন এবং তাঁর পিতার কপালে একটি নূর থাকবে। যখন তিনি আব্দুল্লাহকে দেখলেন, তাঁর হৃদয়ে সুনিশ্চিত বিশ্বাস হলো যে তিনিই সেই ব্যক্তি। তিনি বললেন: 'হে আব্দুল্লাহ! তোমার বদলে যে উটগুলো কোরবানি দেওয়া হয়েছিল, আমি তোমাকে সেই সমপরিমাণ উট দেব যদি তুমি এখনই আমার সাথে মিলিত হও।' আব্দুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:
হারাম কাজের পরিণাম তো মৃত্যু ... আর হালাল কোনো পথ তো আমি স্পষ্ট দেখছি না।
সুতরাং তুমি যা চাচ্ছ তা কীভাবে সম্ভব? ... একজন সম্মানিত ব্যক্তি তার সম্মান ও দ্বীন রক্ষা করে চলে।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وكان اسم هذه المرأة رقية، وقيل: فاطمة بنت مر الخثعمية، وكانت من أجمل النساء وأعفهن فدعته إلى نكاحها فظن أنها تريد الحرام، فأنشد بما قال، وأما قولها: لك مثل الإبل التي نحرت عنك، وذلك أن عبد المطلب لم يكن له ولد إلا الحارث، فجرت بينه وبين عمه عدي مخاصمة ومجاورة فعيره بقلة العدد فغضب عبد المطلب وقال: لله علي لئن رزقني الله تعالى عشرة ذكور أن أجعل أحدهم نذراً نحيرة. ثم افترقوا فلما مضت من الدهر أعوام، ولد لعبد المطلب عشرة أولاد ذكور سوى الحارث، وست بنات، فلما بلغ الذكور عشرة قال: لابد من الوفاء فجمعهم، وأقبل إلى الكعبة فأحال عليهم القداح فخرجت القدح على عبد الله، وكان يحبه، فأخذ بيده، وجاء به إلى إساف ونائلة فأضجعه وربطه، فبلغ ذلك أخواله بني مخزم فجاءوه في جماعة من قريش، فقالوا: ما هذا الذي تفعل، والله ما أحسنت عشرة أمه ثم تريد نحر ولدها، فارتحل نحو الحجاز فإن من أهله عرافة عالمة، ولها تابع من الجن، ففعل عبد المطلب، ورحل معهم فأتوها وأعطوها رشوتها، وأخبروها، فقالت: انصرفوا وأحضروا إبلاً وصاحبكم واستقسموا على عشرة من الإبل وعليه حتى تبلغوا رضى ربكم. فعادوا راجعين إلى مكة، فأوقفوا عشرة من الإبل وعبد الله، ودعوا صاحب الأزلام فاستقسم على عبد الله والإبل فخرجت على عبد الله، فزادوا عشرة فوقعت على عبد الله، فلم يزل يزيد عشرة عشرة حتى بلغت الإبل مائة، فخرج القدح على الإبل، وفعل ذلك ثلاث مرات، وهي تقع على الإبل، فخلى عن عبد الله، ونحرت الإبل لا يدفع عنها طائر ولا سبع ولا إنس، ولذلك أشار بقوله صلى الله عليه وسلم: "أنا ابن الذبيحين" يعني بهما إسماعيل عليه السلام وأباه عبد الله.
ولما أتى عبد المطلب أهيب عمها، وقيل أبوها وهب، وخطب منه آمنة لعبد الله فزوجه إياها، وهي يومئذ أفضل امرأة في قريش نسباً وموضعاً فدخل بها عبد الله، فحملت برسول الله صلى الله عليه وسلم وانتقل ذلك النور إليها، وكان ذلك يوم الإثنين، في شعب أبي طالب، عند الجمرة الوسطى، وقيل: إن عبد الله بعد ما دخل على آمنة أتى المرأة التي عرضت نفسها عليه، فقال لها: مالك لا تعرضي علي ما عرضت بالأمس؟ فقالت له: فارقك النور الذي كان معك، فما لي بك حاجة.
وقال الكلبي رضي الله عنه ثبت عندي للنبي صلى الله عليه وسلم خمسمائة أم من قبل أمه وأبيه فما وجدت فيهن سفاحاً. وعن أنس رضي الله عنه أنه قرأ صلى الله عليه وسلم (لقد جاءكم رسول من أنفسكم) بفتح الفاء، وقال: "أنا أنفسكم نفساً وصهراً وحسباً، ليس في آبائي من لدن آدم سفاح، كلها نكاح".
এই মহিলার নাম ছিল রুকাইয়া; আবার বলা হয়: ফাতিমা বিনতে মুর আল-খাশআমিয়্যাহ। তিনি ছিলেন নারীদের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দরী এবং পবিত্ৰা। তিনি আব্দুল্লাহকে বিবাহের আহ্বান জানালেন, কিন্তু আব্দুল্লাহ ধারণা করলেন যে তিনি অবৈধ কোনো কাজ চাচ্ছেন, তাই আব্দুল্লাহ যা বলার তা কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করলেন। আর ঐ মহিলার কথা—'আপনার পরিবর্তে যে উটগুলো কোরবানি করা হয়েছে, আপনার জন্য ঠিক ততগুলো উটই রয়েছে'—এর প্রেক্ষাপট হলো এই যে, আব্দুল মুত্তালিবের আল-হারিস ছাড়া আর কোনো সন্তান ছিল না। একদা তাঁর ও তাঁর চাচা আদীর মধ্যে বিবাদ ও ঝগড়া সৃষ্টি হলে আদী তাঁকে জনবল কম হওয়ার কারণে উপহাস করল। এতে আব্দুল মুত্তালিব রাগান্বিত হয়ে বললেন: আল্লাহর শপথ, যদি আল্লাহ তাআলা আমাকে দশজন পুত্র সন্তান দান করেন, তবে আমি অবশ্যই তাঁদের একজনকে নযর বা মানত হিসেবে কুরবানি দেব। অতঃপর তাঁরা পৃথক হয়ে গেলেন। কালক্রমে কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আব্দুল মুত্তালিবের হারিস ব্যতীত আরও দশজন পুত্র সন্তান এবং ছয়জন কন্যা সন্তান জন্ম নিল। যখন পুত্রদের সংখ্যা দশে পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: মানত পূর্ণ করা এখন অপরিহার্য। ফলে তিনি তাঁদের একত্রিত করলেন এবং কাবার দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি তাঁদের ওপর লটারি নিক্ষেপ করলেন। লটারিতে আব্দুল্লাহর নাম উঠল, যাকে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তখন তিনি আব্দুল্লাহর হাত ধরলেন এবং তাঁকে ইসাফ ও নাইলার (মূর্তি) কাছে নিয়ে এসে শুইয়ে দিয়ে বেঁধে ফেললেন। এই সংবাদ তাঁর মাতুল পক্ষ বনী মাখযুমের কাছে পৌঁছালে তাঁরা কুরাইশদের একটি দলসহ সেখানে উপস্থিত হলেন এবং বললেন: আপনি এ কী করছেন? আল্লাহর শপথ, আপনি কি তাঁর মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করেননি যে এখন তাঁর সন্তানকে যবেহ করতে চাচ্ছেন! আপনি বরং হিজাজের দিকে যাত্রা করুন, সেখানে একজন অভিজ্ঞ মহিলা গণক আছেন যার অনুগত জিন রয়েছে। আব্দুল মুত্তালিব তা-ই করলেন এবং তাঁদের সাথে যাত্রা করলেন। তাঁরা সেই মহিলার কাছে গিয়ে তাঁকে উপঢৌকন দিলেন এবং বিষয়টি জানালেন। সে বলল: আপনারা ফিরে যান এবং কিছু উট ও আপনাদের সেই সন্তানকে সাথে নিয়ে আসুন। অতঃপর দশটি উট ও তাঁর (আব্দুল্লাহর) নামে লটারি করুন যতক্ষণ না আপনাদের রব সন্তুষ্ট হন। তাঁরা মক্কায় ফিরে এলেন এবং দশটি উট ও আব্দুল্লাহকে দাঁড় করালেন। অতঃপর লটারি নিক্ষেপকারীকে ডাকলেন, সে আব্দুল্লাহ ও উটগুলোর মধ্যে লটারি করল। লটারিতে আব্দুল্লাহর নাম উঠল। তখন তাঁরা আরও দশটি উট বাড়ালেন, তবুও আব্দুল্লাহর নামই উঠল। এভাবে তাঁরা দশটি দশটি করে উট বাড়াতে থাকলেন যতক্ষণ না উটের সংখ্যা একশতে পৌঁছাল। এরপর লটারিতে উটের নাম উঠল। তিনি তিনবার এরূপ করলেন এবং প্রতিবারই লটারিতে উটের নামই উঠল। তখন তিনি আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দিলেন এবং উটগুলো কুরবানি করা হলো। পাখি, হিংস্র প্রাণী বা মানুষ—কাউকেই সেই গোশত গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়নি। সেদিকেই ইঙ্গিত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি দুই যবেহকৃত ব্যক্তির সন্তান", অর্থাৎ ইসমাঈল আলাইহিস সালাম এবং তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ।
অতঃপর আব্দুল মুত্তালিব আমিনার চাচা উহাইবের কাছে—মতান্তরে তাঁর পিতা ওয়াহাবের কাছে—এলেন এবং আব্দুল্লাহর জন্য আমিনার বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। তিনি তাঁর সাথে আমিনার বিবাহ সম্পন্ন করলেন। সে সময় তিনি (আমিনা) বংশীয় মর্যাদা ও অবস্থানের দিক থেকে কুরাইশদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নারী ছিলেন। আব্দুল্লাহ তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গর্ভে ধারণ করলেন। সেই নূর তখন আমিনার মধ্যে স্থানান্তরিত হলো। এটি ছিল সোমবার দিন, শেবে আবু তালিবে, জুমরাতুল উসতা-র নিকট। বর্ণিত আছে যে, আমিনার সাথে সাক্ষাতের পর আব্দুল্লাহ সেই মহিলার কাছে গেলেন যিনি নিজেকে তাঁর কাছে নিবেদন করেছিলেন। আব্দুল্লাহ তাঁকে বললেন: গতকাল তুমি যা প্রস্তাব করেছিলে আজ তা করছ না কেন? মহিলাটি বলল: আপনার সাথে যে নূর ছিল তা আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে, তাই আপনার প্রতি আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই।
কালবী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতৃ ও মাতৃ উভয় বংশের দিক থেকে আমার নিকট পাঁচশ জন মায়ের কথা প্রমাণিত আছে, যাদের কারোর মধ্যেই আমি কোনো অবৈধ সম্পর্কের কথা খুঁজে পাইনি। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "মিন আনফাসিকুম" (ফা অক্ষরের ওপর ফাতহা বা যবর দিয়ে) পাঠ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি সত্তা, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং বংশমর্যাদার দিক থেকে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ। আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আমার পিতৃপুরুষদের মধ্যে কোনো অবৈধ সম্পর্ক ছিল না, সবই ছিল বৈধ বিবাহের মাধ্যমে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وعن العباس رضي الله عنه قال: قال والدي عبد المطلب قدمنا اليمن فنزلنا على حبر من اليهود، فقال: ممن الرجال؟ فقلت من قريش. قال من أيهم؟ قلت من بني هاشم. قال: أتأذن لي أن أنظر بعضك؟ قلت: نعم، قال ففتح إحدى منخري، فنظر فيه ثم نظر في الأخرى، فقال: أشهد أن في إحدى منخريك ملكاً وفي الأخرى نبوة، وإنما نجد ذلك في بني زهرة، فكيف ذلك؟ قلت: لا أدري. قال: هل من شاعة؟ يعني زوجاً منهم لأنها تشايع زوجها وتناصره، قلت: أما اليوم فلا، لي زوجة منهم، فقال: إذا تزوجت فتزوج منهم، فلما رجع عبد المطلب تزوج هالة بنت وهب، وزوج عبد الله آمنة بنت وهب، فولدت هالة الحمزة رضي الله عنه، وولدت آمنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وقيل: إن الحبر قال لعبد المطلب: أرى ملكاً ونبوة، وأراهما في المنافين عبد مناف بن قصي، وعبد مناف بن زهرة، واختلف في وقت حمل آمنة به صلى الله عليه وسلم فقيل: إنها حملت به يوم الاثنين من رجب، وقيل أيام منى، والأول منطبق على القول بأن ميلاده صلى الله عليه وسلم في ربيع الأول، والقول الثاني موافق لما ذهب أن ميلاده صلى الله عليه وسلم كان في رمضان، وكانت آمنة تقول: ما شعرت أني حملت به، ولا وجدت له ثقلاً كما تجد النساء إلا أني أنكرت رفع حيضتي، وربما كانت ترفع عني وتعود، وقالت آمنة: أتاني آت وأنا بين النائمة والياقظة فقال: هل شعرت أنك حملت بسيد هذه الأمة ونبيها؟ وأمهلني حتى دنت ولادتي فأتاني فقال: قولي إذا ولدته، أعيذه بالواحد الصمد من شر كل حاسد، يأخذ بالمراصد، ثم سميه محمداً، فإن اسمه في التوراة والإنجيل أحمد يحمده أهل السماء والأرض، وفي القرآن محمد وفي رواية أخرى: اسمه أحمد، وقالت آمنة: أتاني آت حين مر بي من حملي ستة أشهر في المنام. وقال لي: يا آمنة إنك حملت بخير العالمين. فإذا ولدته فسميه محمداً، واكتمي شأنك، وقال ابن عباس رضي الله عنه: كان من دلالة حمل آمنة أن كل دابة لقريش نطقت تلك الليلة، ولم يبق سرير لملك من ملوك الدنيا إلا أصبح منكوساً، وعن كعب الأحبار: أن صبيحة تلك الليلة أصبحت أصنام الدنيا منكوسة. وقال أهل السير: وكانت السنة مجدبة والناس في ضيق، وشدة فاخضرت الأرض، وحملت الأشجار، وأتاهم الرفد من كل جانب فسميت سنة الفتح والابتهاج، وفي الحديث: "أن الله تعالى قد أذن تلك السنة لنساء الدنيا أن يحملن ذكوراً" كرامة لرسول الله صلى الله عليه وسلم. وذكر الحافظ النيسابوري: أن نور النبي صلى الله عليه وسلم لما صار إلى عبد الله كان يضيء في غرته وتفوح من فمه رائحة المسك الأذفر، وكانو يستسقون به فيسقون. ونام في الحجر فانتبه مكحولاً مدهونا قد كسي حلل المهابة، والجمال، فتحير ولم يدر من فعل به ذلك، فانطلق به أبوه إلى كهنة قريش، فقالوا: إن إله السموات قد أذن لهذا الغلام أن يتزوج، ونام مرة أخرى في الحجر فرأى رؤيا فقصها على الكاهن، فقالوا: لئن صدقت رؤياك ليخرجن من ظهرك من يؤمن به أهل السموات والأرض، وليكونن للناس علماً مبينا، هذا الذي ذكره شارح الهمزية. وقال أيضاً: ولما حملت به آمنة ظهرت عليها الأنوار، وكسيت أثواب البهاء والجمال، وهتفت بها الهواتف بالبشارات، وقيل: إن راهباً كان بمر الظهران وهو مكان بمكة، كان يقول: يوشك أن يولد منكم يا أهل مكة مولود اسمه محمد تدين له العرب، ويملك العجم، وهذا زمانه، فكان لا يولد مولود إلا سئل عنه حتى ولد صلى الله عليه وسلم وأخبر الراهب جده بولادته فقال: سميه محمداً وقد طلع نجمه البارحة، وعن عائشة رضي الله عنها، أنه كان بمكة يهودي فصاح ليلة ولادته: يا أهل مكة هل ولد فيكم الليلة مولود؟ فقالوا: لا نعلم. فقال: ولد الليلة نبي الأمة الأخيرة، بين كتفيه علامة فيها شعرات متواترات كأنهن عرف فرس، فأدخلوه على أمه آمنة لما ولد صلى الله عليه وسلم وكشف له عن ظهره فرأى تلك العلامة فخر مغشياً عليه ثم أفاق، فقال: ذهبت النبوة من بني إسرائيل.
ومن آيات حمله صلى الله عليه وسلم ما كانت تراه أمه وأبوه وجده من الرؤيا الصادقة، ولما حملت به أخبرت الكاهن بقرب ظهوره، وطلوع كوكب نوره، ومنها ما سمعته قريش من الهواتف على الحجون شعراً:
فأقسمُ ما أنثى منَ النَّاسِ أنجبت
… ولا ولدت أنثى من النَّاسِ واحدة
আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আবদুল মুত্তালিব বলেছেন, আমরা ইয়ামেনে গেলাম এবং ইহুদিদের একজন বড় আলেমের নিকট অবস্থান করলাম। সে বলল: আপনারা কোন গোত্রের লোক? আমি বললাম: কুরাইশ বংশের। সে বলল: কুরাইশদের কোন শাখা থেকে? আমি বললাম: বনু হাশিম থেকে। সে বলল: আপনি কি আমাকে আপনার শরীরের কিছু অংশ দেখার অনুমতি দেবেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। সে আমার একটি নাসারন্ধ্র (নাকের ছিদ্র) উন্মুক্ত করল এবং তাতে তাকাল, তারপর অপরটিতে তাকাল। এরপর সে বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনার একটি নাসারন্ধ্রে রাজত্ব এবং অপরটিতে নবুওয়াত বিদ্যমান। আর আমরা সাধারণত এটি বনু যুহরাহ গোত্রের মধ্যে পাই, তবে এটি এখানে কীভাবে হলো? আমি বললাম: আমি জানি না। সে বলল: সেখানে কি কোনো 'শাআহ' আছে? অর্থাৎ তাদের মধ্য থেকে কোনো স্ত্রী, কারণ স্ত্রী তার স্বামীকে অনুসরণ ও সাহায্য করে। আমি বললাম: আজ পর্যন্ত না, তবে তাদের মধ্য থেকে আমার একজন স্ত্রী আছে। সে বলল: যখন আপনি বিবাহ করবেন, তখন তাদের মধ্য থেকেই বিবাহ করবেন। যখন আবদুল মুত্তালিব ফিরে এলেন, তিনি হালাহ বিনতে ওয়াহাবকে বিবাহ করলেন এবং আবদুল্লাহর সাথে আমিনা বিনতে ওয়াহাবের বিবাহ দিলেন। ফলে হালাহ হামযা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জন্ম দিলেন এবং আমিনা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জন্ম দিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, সেই আলেম আবদুল মুত্তালিবকে বলেছিলেন: আমি রাজত্ব ও নবুওয়াত দেখতে পাচ্ছি, আর আমি উভয়কে দুই আবদে মানাফের মধ্যে দেখছি—আবদে মানাফ ইবনে কুসাই এবং আবদে মানাফ ইবনে যুহরাহ। আমিনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গর্ভে ধারণ করার সময় সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়: তিনি রজব মাসের সোমবার তাকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। আবার বলা হয়: মিনার দিনগুলোতে। প্রথম মতটি সেই মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে অনুযায়ী তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্ম রবিউল আউয়াল মাসে। আর দ্বিতীয় মতটি সেই মতের অনুকূলে যে অনুযায়ী তার জন্ম রমজান মাসে হয়েছিল। আমিনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলতেন: আমি বুঝতেই পারিনি যে আমি গর্ভধারণ করেছি, আর নারীরা যেমন গর্ভাবস্থায় ভার অনুভব করে, আমি তেমন কোনো ভার অনুভব করিনি; কেবল আমার ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া থেকে আমি বিষয়টি বুঝতে পারি। কখনো কখনো ঋতুস্রাব বন্ধ থাকত আবার ফিরে আসত। আমিনা বলেন: আমার কাছে একজন আগন্তুক এলেন যখন আমি তন্দ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। তিনি বললেন: আপনি কি অনুভব করেছেন যে আপনি এই উম্মতের নেতা ও নবীর গর্ভধারণ করেছেন? এরপর আমার প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত তিনি আমাকে সময় দিলেন। যখন সময় নিকটবর্তী হলো, তিনি পুনরায় এলেন এবং বললেন: যখন তিনি ভূমিষ্ঠ হবেন তখন আপনি বলবেন, ‘আমি তাকে এক এবং অমুখাপেক্ষী আল্লাহর আশ্রয়ে সমর্পণ করছি প্রত্যেক হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যে ওত পেতে থাকে’। তারপর তার নাম রাখবেন ‘মুহাম্মদ’। কেননা তাওরাত ও ইঞ্জিলে তার নাম ‘আহমদ’, আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা তার প্রশংসা করবে, আর কুরআনে তার নাম ‘মুহাম্মদ’। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তার নাম আহমদ। আমিনা আরও বলেন: আমার গর্ভকাল যখন ছয় মাস অতিবাহিত হলো, তখন স্বপ্নে এক আগন্তুক আমার নিকট এলেন এবং আমাকে বললেন: হে আমিনা! নিশ্চয়ই আপনি বিশ্বজগতের শ্রেষ্ঠতম সত্তাকে গর্ভে ধারণ করেছেন। সুতরাং যখন তিনি ভূমিষ্ঠ হবেন, তখন তার নাম রাখবেন মুহাম্মদ এবং আপনার এই বিষয়টি গোপন রাখবেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: আমিনার গর্ভধারণের একটি নিদর্শন ছিল এই যে, সেই রাতে কুরাইশদের প্রতিটি চতুষ্পদ জন্তু কথা বলে উঠেছিল এবং পৃথিবীর সকল বাদশাহর সিংহাসন উল্টে গিয়েছিল। কাব আল-আহবার থেকে বর্ণিত যে, সেই দিনের ভোরে পৃথিবীর সকল মূর্তি উল্টে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ইতিহাসবিদগণ বলেন: সেই বছরটি ছিল দুর্ভিক্ষের এবং মানুষ অত্যন্ত সংকীর্ণতা ও কষ্টের মধ্যে ছিল। এরপর জমিন শস্য-শ্যামল হয়ে উঠল, বৃক্ষরাজি ফলবতী হলো এবং সব দিক থেকে তাদের নিকট সচ্ছলতা আসতে লাগল। তাই সেই বছরকে 'বিজয় ও আনন্দের বছর' নাম দেওয়া হয়। হাদীসে এসেছে: “আল্লাহ তাআলা সেই বছর পৃথিবীর নারীদের পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন” রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্মানে। হাফেজ নিশাপুরী উল্লেখ করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নূর যখন আবদুল্লাহর মধ্যে স্থানান্তরিত হলো, তখন তা তার কপালে চমকাত এবং তার মুখ থেকে উত্তম কস্তুরীর সুগন্ধ বিচ্ছুরিত হতো। লোকেরা তার উসিলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করত এবং তারা বৃষ্টি পেত। আবদুল্লাহ একবার হাতিমে কাবায় ঘুমিয়ে ছিলেন, যখন জাগ্রত হলেন তখন দেখলেন তার চোখে সুরমা লাগানো, শরীরে তেল মাখা এবং তাকে গাম্ভীর্য ও সৌন্দর্যের পোশাকে আবৃত করা হয়েছে। তিনি বিস্মিত হলেন এবং বুঝতে পারলেন না কে তার সাথে এমনটি করেছে। তার পিতা তাকে কুরাইশদের গণকদের কাছে নিয়ে গেলেন। তারা বলল: আসমানের ইলাহ এই যুবককে বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি পুনরায় হাতিমে কাবায় ঘুমান এবং একটি স্বপ্ন দেখেন, যা গণকদের কাছে বর্ণনা করেন। তারা বলল: যদি আপনার স্বপ্ন সত্য হয়, তবে আপনার বংশ থেকে এমন এক সত্তার আবির্ভাব ঘটবে যার ওপর আসমান ও জমিনবাসী ঈমান আনবে এবং তিনি মানুষের জন্য এক সুস্পষ্ট নিদর্শনে পরিণত হবেন। এটি 'হামজিয়া' কাব্যের ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন: যখন আমিনা তাকে গর্ভে ধারণ করলেন, তখন তার ওপর বিভিন্ন নূর প্রকাশিত হলো এবং তিনি লাবণ্য ও সৌন্দর্যের পোশাকে আবৃত হলেন। গায়েবী আওয়াজ তাকে সুসংবাদ দিতে লাগল। বলা হয়: মাররুজ জাহরান নামক স্থানে (যা মক্কার একটি জায়গা) একজন রাহেব (খ্রিস্টান সন্ন্যাসী) বাস করতেন। তিনি বলতেন: হে মক্কাবাসী! শীঘ্রই তোমাদের মধ্য থেকে একজন সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে যার নাম হবে মুহাম্মদ। আরবরা তার আনুগত্য করবে এবং তিনি অনারবদের অধিপতি হবেন, আর এটিই তার সময়। ফলে কোনো সন্তান জন্ম নিলেই তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, অবশেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভূমিষ্ঠ হলেন। সেই রাহেব তার দাদাকে তার জন্মের সংবাদ দিয়ে বললেন: তার নাম মুহাম্মদ রাখুন, গতরাতেই তার নক্ষত্র উদিত হয়েছে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, মক্কায় এক ইহুদি ছিল। যে রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভূমিষ্ঠ হলেন, সে রাতে সে চিৎকার করে বলল: হে মক্কাবাসী! আজ রাতে কি তোমাদের মাঝে কোনো সন্তান জন্ম নিয়েছে? তারা বলল: আমরা জানি না। সে বলল: আজ রাতে এই শেষ উম্মতের নবী জন্মগ্রহণ করেছেন। তার দুই কাঁধের মাঝখানে একটি চিহ্ন রয়েছে যাতে ঘোড়ার কেশরের মতো ঘন পশম আছে। যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভূমিষ্ঠ হলেন, তারা তাকে তার মা আমিনার কাছে নিয়ে গেল এবং তার পিঠ উন্মুক্ত করা হলো। সেই ইহুদি যখন সেই চিহ্নটি দেখল, তখন সে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। যখন তার জ্ঞান ফিরল, সে বলল: বনু ইসরাঈল থেকে নবুওয়াত বিদায় নিল।
তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গর্ভে আসার নিদর্শনগুলোর মধ্যে ছিল তার মা, বাবা এবং দাদার দেখা সত্য স্বপ্নসমূহ। যখন তিনি গর্ভধারণ করেন, তিনি গণকদেরকে তার আবির্ভাবের নিকটবর্তী হওয়া এবং তার নূরের নক্ষত্রের উদয় হওয়ার সংবাদ দেন। এর মধ্যে কুরাইশদের হাজুন নামক স্থানে অদৃশ্য কণ্ঠ থেকে শোনা এই কবিতাও ছিল:
আমি শপথ করে বলছি, মানবজাতির কোনো নারী এমন সন্তান প্রসব করেনি
… এবং কোনো নারী এমন অদ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেয়নি।
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
كما ولدت زهريّة ذاتَ مفخرٍ
… مجنَّبةً لؤمَ القبائلِ ماجدة
ومنها أنه كان يسمع كل شهر من شهور حمله: أبشروا فقد آن أن يظهر أبو القاسم مباركاً ميموناً.
ومنها أن نودي في الملكوت، أن النور المكنون قد انتقل إلى بطن أمه آمنة ذات العقل الباهر والفضل الظاهر، ولما صار لآمنة شهران من حملها برسول الله صلى الله عليه وسلم أمر عبد المطلب ولده عبد الله أن يسافر إلى غزة من أرض الشام، ليأخذ لهم ما يحتاجون من لباس وطعام وغير ذلك، فسار مع التجار، واشترى لهم طعاماً وثياباً وغير ذلك، ولما عاد التجار عاد معهم عبد الله، فتمرض بالطريق، ولما وصلوا إلى المدينة ثقل بعبد الله المرض فتخلف بها عند أخواله بني عدي بن النجار، ولبث في المدينة أياماً ومات ودفن هناك وله من العمر ثلاثون سنة، ولما بلغ خبر وفاته إلى عبد المطلب وجد عليه وجداً شديدا، وحزن عليه وبكى، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم حملاً في بطن أمه، وذلك بعد شهرين، فعلى رواية أنه تزوج عبد الله بآمنة في رجب وولد صلى الله عليه وسلم في ربيع الأول، فتكون وفاة عبد الله في أوائل رمضان، وخلف عبد الله جاريته أم أيمن وخمسة جمال، وقطعة غنم، فورث ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وقد نقل الإمام أبو حيان في تفسيره: أن جعفر الصادق قيل له: لم يتم صلى الله عليه وسلم من أبويه؟ قال: لئلا يكون عليه حق المخلوقين، وقال ابن العماد في "كشف الأسرار" إنما رباه يتيماً لينظر صلى الله عليه وسلم إذا وصل إلى مدارج عزه وإلى أوائل أمره فيعلم أن العزيز من أعزه الله، وأن قوته ليست من الآباء والأمهات، ولا المال، بل قوته من الله تعالى وأيضاً ليرحم الأيتام والفقراء.
واختلف في مدة حمله صلى الله عليه وسلم فقيل: تسعة أشهر وقيل عشرة أشهر، وقيل: سبعة أشهر، وقيل: ثمانية أشهر، وقيل: ستة أشهر وذكر في "السيرة الحلبية" كان حمله ووضعه في ساعة واحدة، وقيل في ثلاث ساعات، كما قيل في ولادة عيسى عليه السلام وهذا غير صحيح، واختلف في شهر ولادته صلى الله عليه وسلم فالجمهور على أنه ولد في شهر ربيع الأول، قال ابن كثير والحافظ ابن حجر، وهذا هو الصحيح، وأنه ولد يوم الاثنين لاثنتي عشر ليلة من ربيع الأول وبه جزم ابن إسحاق وتبعه ابن سيد الناس، ورواه ابن أبي شيبة عن جابر وابن عباس رضي الله عنهما هكذا ذكره في "التبيين في أنساب القرشيين" وقيل: ولد في ثاني ربيع الأول، وقيل: في ثامنه، وبهذا قال ابن حجر: أنه مقتضى أكثر الأخبار: وقيل: في عاشره، رواه الدمياطي عن جعفر الصادق وصححه، وقيل: لسبع عشرة منه، وهذا الذي رواه ابن أبي شيبة وهو حديث معلول، وقيل: لاثنتي عشرة ليلة بقيت من ربيع الأول، وقيل في صفر، وقيل في ربيع الآخر، وقيل في رجب، وقيل في رمضان، وقيل في يوم عاشوراء كعيسى عليه السلام وقيل: لخمس بقين من محرم، وعن ابن عباس رضي الله عنهما، أنه ولد صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين من ربيع الأول، وأنزلت عليه النبوة يوم الاثنين من ربيع الأول، وهاجر يوم الاثنين من ربيع الأول، وأنزلت عليه سورة البقرة يوم الاثنين من ربيع الأول، وتوفي يوم الاثنين من ربيع الأول. وقال بعضهم: هذا غريب جداً، وقيل: إنه صلى الله عليه وسلم ولد ليلاً، ويؤيده ما رواه عثمان بن عفان بن أبي العاصي عن أمه أنها شهدت ولادة النبي، صلى الله عليه وسلم ليلاً، قالت: فما شيء أنظر إليه من البيت إلا نورا أو أني لأنظر إلى النجوم تدنو حتى أني لأقول علي، وقال ابن دحية: هذا حديث مقطوع. وفي الحديث الصحيح أنه سئل صلى الله عليه وسلم عن صوم يوم الاثنين فقال: "فيه ولدت". وهذا ما رواه ابن عباس وقال أصحاب الإشارة: قوله تعالى: (والضحى والليل إذا سجى) إشارة إلى ليلة مولده صلى الله عليه وسلم أو ليلة معراجه وروى الحافظ ابن عساكر أن ولادته كانت حين طلوع الفجر، ويؤيد ذلك قول عبد المطلب: ولد لي الليلة مع الصبح مولود. وعن سعيد ابن المسيب أنه ولد صلى الله عليه وسلم عند إبهار النهار، وذلك في وسطه، وقال ابن سعيد رضي الله عنه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "رأت أمي حين وضعت سطع منها نور أضاءت له قصور بصرى"، وكان مولده، صلى الله عليه وسلم في فصل الربيع في شهر نيسان لعشرين ليلة خلت منه، وقيل: في برج الحمل: وفي بعض الأقاويل:
যেমন এক গৌরবময়ী জোহরাবংশী নারী জন্ম দিয়েছিলেন
… যিনি সকল গোত্রের হীনতা থেকে মুক্ত ছিলেন, এক মহান নারী।
এর মধ্যে একটি হলো এই যে, তাঁর গর্ভকালীন মাসগুলোর প্রতিটিতে শোনা যেত: "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, বরকতময় ও কল্যাণময় আবুল কাসেমের আত্মপ্রকাশের সময় ঘনিয়ে এসেছে।"
এর মধ্যে আরেকটি হলো এই যে, ঊর্ধ্বজগতে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, সেই নিহিত নূর তাঁর মা আমিনার গর্ভে স্থানান্তরিত হয়েছে, যিনি ছিলেন প্রখর বুদ্ধি ও প্রকাশ্য মর্যাদার অধিকারিণী। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গর্ভকালীন দুই মাস অতিক্রান্ত হলো, তখন আবদুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে সিরিয়ার গাজা অভিমুখে সফরের নির্দেশ দিলেন, যাতে তিনি তাঁদের প্রয়োজনীয় পোশাক, খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে আসতে পারেন। অতঃপর তিনি বণিকদলের সাথে রওনা হলেন এবং তাঁদের জন্য খাবার, পোশাক ও অন্যান্য জিনিস কিনলেন। যখন বণিকরা ফিরে এল, আবদুল্লাহও তাঁদের সাথে ফিরছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁরা যখন মদিনায় পৌঁছালেন, আবদুল্লাহর অসুস্থতা বেড়ে গেল এবং তিনি সেখানে তাঁর মাতুল বংশ বনু আদি বিন নাজ্জারের কাছে থেকে গেলেন। তিনি কয়েকদিন মদিনায় অবস্থান করার পর ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর। যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আবদুল মুত্তালিবের কাছে পৌঁছাল, তিনি প্রচণ্ড মর্মাহত হলেন, তাঁর জন্য শোক করলেন এবং কাঁদলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের গর্ভে ছিলেন, আর তা ছিল দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পর। এক বর্ণনা অনুযায়ী, আবদুল্লাহ রজব মাসে আমিনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সে হিসেবে আবদুল্লাহর মৃত্যু রমজানের শুরুতে হয়েছিল। আবদুল্লাহ তাঁর দাসী উম্মে আয়মান এবং পাঁচটি উট ও কিছু ভেড়া রেখে গিয়েছিলেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন।
ইমাম আবু হাইয়ান তাঁর তাফসিরে বর্ণনা করেছেন যে, জাফর সাদিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতামাতা উভয়ের অবর্তমানে এতিম হয়েছিলেন? তিনি বললেন: যাতে তাঁর ওপর সৃষ্টির কোনো অধিকার না থাকে। ইবনুল ইমাদ 'কাশফুল আসরার' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁকে এতিম হিসেবে লালন-পালন করা হয়েছে যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সম্মানের উচ্চাসনে এবং তাঁর নবুওয়াতের সূচনা লগ্নে পৌঁছাবেন, তখন তিনি দেখতে পান এবং জানতে পারেন যে, সেই শক্তিশালী যাকে আল্লাহ শক্তিশালী করেছেন এবং তাঁর শক্তি পিতামাতা বা সম্পদ থেকে নয়, বরং তাঁর শক্তি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর যেন তিনি এতিম ও দরিদ্রদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গর্ভকালীন সময় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: নয় মাস, আবার বলা হয়েছে: দশ মাস, আবার বলা হয়েছে: সাত মাস, আট মাস বা ছয় মাস। 'সিরাতে হালাবিয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর গর্ভে আসা এবং জন্ম গ্রহণ করা একই সময়ে হয়েছিল, আবার বলা হয়েছে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে, যেমনটি ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে; তবে এটি সঠিক নয়। তাঁর জন্মের মাস নিয়ে মতভেদ রয়েছে, জমহুর বা অধিকাংশের মতে তিনি রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে কাসির ও হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন, এটাই সঠিক। তিনি রবিউল আউয়ালের বারো তারিখ সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন, ইবনে ইসহাক এটি নিশ্চিত করেছেন এবং ইবনে সাইয়্যেদুন নাস তাঁকে অনুসরণ করেছেন। ইবনে আবি শায়বা জাবের ও ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন, যা 'আত-তাবয়ীন ফি আনসাবিল কুরাশিয়্যীন' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে: তিনি রবিউল আউয়ালের দুই তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন, আবার বলা হয়েছে: আট তারিখে। ইবনে হাজার এ সম্পর্কে বলেছেন: অধিকাংশ বর্ণনার দাবি এটাই। আবার বলা হয়েছে: দশ তারিখে, যা দাময়াতি জাফর সাদিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। বলা হয়েছে: সতেরো তারিখে, যা ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন তবে এটি একটি ত্রুটিযুক্ত হাদিস। আবার বলা হয়েছে: রবিউল আউয়াল মাস শেষ হওয়ার বারো দিন বাকি থাকতে। আরও বলা হয়েছে যে তিনি সফর মাসে, অথবা রবিউস সানি মাসে, অথবা রজব মাসে, অথবা রমজান মাসে, অথবা ঈসা আলাইহিস সালামের মতো আশুরার দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন। আবার বলা হয়েছে: মহররম মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে। ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়ালের সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন, রবিউল আউয়ালের সোমবার তাঁর ওপর নবুওয়াত নাজিল হয়েছে, রবিউল আউয়ালের সোমবার তিনি হিজরত করেছেন, রবিউল আউয়ালের সোমবার সূরা বাকারা নাজিল হয়েছে এবং রবিউল আউয়ালের সোমবার তিনি ইন্তেকাল করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: এটি অত্যন্ত বিরল। বলা হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে জন্মগ্রহণ করেছেন, যা উসমান বিন আবি আস তাঁর মা থেকে বর্ণনা করেছেন তা সমর্থন করে, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন: আমি ঘরের যেদিকেই তাকাচ্ছিলাম শুধু নূরই দেখছিলাম, আর আমি দেখছিলাম নক্ষত্রগুলো এত কাছে চলে এসেছে যে আমি ভাবছিলাম সেগুলো বুঝি আমার ওপর ঝরে পড়বে। ইবনে দাহইয়া বলেন: এটি একটি বিচ্ছিন্ন হাদিস। সহিহ হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি।" এটিই ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন। রূপক অর্থ অন্বেষণকারীগণ বলেন: মহান আল্লাহর বাণী "শপথ পূর্বাহ্নের এবং শপথ রাত্রির যখন তা নিঝুম হয়" এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের রাতের অথবা মেরাজের রাতের দিকে ইঙ্গিত। হাফেজ ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল ফজর উদয়ের সময়, আর এটি আবদুল মুত্তালিবের এই উক্তিকে সমর্থন করে: "আজ রাতে সুবহে সাদেকের সাথে আমার এক পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে।" সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত যে, তিনি দিনের প্রখরতার সময় অর্থাৎ মধ্যাহ্নে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে সাঈদ (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার মা আমাকে প্রসব করার সময় দেখেছিলেন যে, তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যার দ্বারা বসরার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম হয়েছিল বসন্তকালে নিসান মাসের বিশ তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর। বলা হয়েছে: মেষ রাশিতে। কিছু বর্ণনায় এসেছে:
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
يقولُ لنا لسانُ الحالِ منهُ
… وقولُ الحقِّ يعذبُ للسّميعِ
فوجهي والزَّمانُ وشهرُ وضعي
… ربيعٌ في ربيعٍ في ربيعِ
وذكر في كتاب "التبيين" كان وضعه صلى الله عليه وسلم في الدار التي كانت لمحمد بن يوسف الثقفي أخي الحجاج، وكانت قبل داراً لعقيل ابن أبي طالب، ولم تزل بيد أولاده إلى أن باعوها لمحمد بن يوسف بمائة ألف دينار. وقيل: إن الأصح كان مولده بمكة، وهم يزورونه في كل عام، وقيل في شعب بني هاشم وفي كلام ابن دحية، أن الدار التي ولد فيها صلى الله عليه وسلم لما حجت الخيرانة أم الرشيد أخرجتها من دار محمد بن يوسف، وبنتها مسجداً، وقيل: إن تلك الدار عند الصفا بنتها زبيدة زوجة الرشيد أم الأمين مسجداً لما حجت، وقيل: ولد في الردم، أي ردم بني جمح، ويعرف الآن بالمدعى لأنه يؤتى فيه الدعاء الذي يقال عند رؤية الكعبة، وقيل: في شعب أبي طالب، ومما نص عليه بعض الفقهاء، أنه يجب على الولي أن يعلم ولده إذا ميز أنه صلى الله عليه وسلم ولد بمكة ومات بالمدينة، واختلف في عام ولادته صلى الله عليه وسلم فقيل في عام الفيل. وقيل: في يومه، وعن ابن عباس رضي الله تعالى عنه قال: ولد صلى الله عليه وسلم يوم الفيل، وعن قيس بن مخرامة: ولدت أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفيل ضحى، وفي "تاريخ ابن حبان": ولد صلى الله عليه وسلم عام الفيل في اليوم الذي بعث الله الطير الأبابيل على أصحاب الفيل. وذكر في "تاريخ المؤيد" أنه ولد يوم العاشر من ربيع الأول عام الفيل، وذلك بعد الفيل بخمسين يوماً، لأن الفيل كان في منتصف المحرم، وهذا هو المشهور، وقيل: ولد بعد الفيل بخمسة وخمسين يوماً، وقال بأربعين، وقال بشهر، وقيل بعشر سنين، وقال بثلاث وعشرين سنة، وقيل: بثلاثين سنة، وقيل بأربعين سنة، وقيل: بسبعين سنة.
وذكر الحافظ الدمياطي: أنه بعد الفيل بخمسة وخمسين يوماً، وهو الأصح وقال إبراهيم بن المنذر شيخ البخاري، لا يشك فيه أحد من العلماء، وعليه الإجماع، وقيل: أنه ولد صلى الله عليه وسلم قبل عام الفيل خمسة عشر عاماً، وهذا غريب منكر ضعيف وقال الحافظ النيسابوري: كان نور النبوة في وجه عبد المطلب يضيء كالغرة، وكانت قريش إذا أصابهم جذب أخذوا بيد عبد المطلب وصعدوا به إلى جبل ثبير يستسقون فيه فيسقون ببركة ذلك النور.
وقصة أصحاب الفيل أن أبرهة الأشرم ملك الحبشة بنى له كنيسة في اليمن، وأمر الناس بالحج إليها كالكعبة، وزخرفها وجعل فيها صلبان الذهب والفضة، ومنابر العاج، والأبنوس، ثم إن بعض العرب من كنانة دخل الكنيسة، وتغوط فيها ولوث جدرانها بالعذرة، ولطخ قبلتها فحلف أبرهة ليهدمن من الكعبة فسار بعسكره إلى الكعبة ومعه أفيال، وأعظمها فيه المسمى المحمود، فقاتل العرب وأسرهم، وتقدم ونزل قريباً من الطائف، وأرسل خيله ونهبت إبل قريش، وفيها لعبد المطلب أربعمائة ناقة: وتحصنت قريش بجبال مكة، فجاء رسول أبرهة إلى عبد المطلب، وأخبره إنما جاء الملك لهدم البيت، فقال عبد المطلب: للبيت رب سوف يحميه، وسار عبد المطلب مع الرسول إلى أبرهة فأكرمه وأجلسه معه على السرير، فقال لترجمانه: قل له، فيا أتيت؟ فقال بطلب الجمال والخيل، فقال له: الجمال والخيل وتركت هدم البيت؟ فقال عبد المطلب: أنا رب الإبل، وأما البيت فله رب إن شاء منعه. فقال أبرهة: ما كان ليمنعه مني ثم انصرف عبد المطلب بجماله وخيله وصعد على الجبل، وأحاطت عساكر أبرهة بالحرم، فأقبل عبد المطلب وأخذ بأذن الفيل محمود، وقال له: أبرك محموداً فهذا بيت الله وحرمه فبرك محمود عند وادي محسر فصاروا يضربونه فلا يقوم فوجهوه إلى اليمن فهرول، وكذا إلى الشام، وسقوه الخمر ليذهب تمييزه فلم يفد ذلك، وكان عبد المطلب قد دخل البيت فأخذ بحلقة الباب، ومعه نفر من قريش فقال:
لاهمَّ إنَّ المرءَ يمنعُ رحلهُ
… فامنع رحالك
وانصر على آلِ الصليبِ
… وعابديه اليومَ آلك
لا يغلبنَّ صليبهم
… ومحالهم أبداً محالك
তার অবস্থার ভাষা আমাদের বলে
… আর সত্য কথা শ্রবণকারীর কাছে মিষ্টি লাগে
আমার চেহারা, কাল এবং আমার জন্মের মাস
… বসন্তের মাঝে বসন্ত, তার মাঝে বসন্ত
‘আত-তাবয়ীন’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্ম হয়েছিল মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফির বাড়িতে, যিনি হাজ্জাজের ভাই ছিলেন। এটি আগে আকিল ইবনে আবি তালিবের বাড়ি ছিল এবং তাঁদের সন্তানদের হাতেই ছিল যতক্ষণ না তাঁরা এটি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের কাছে এক লক্ষ দিনারে বিক্রি করেন। বলা হয়েছে যে, সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তাঁর জন্ম মক্কায় এবং মানুষ প্রতি বছর তা যিয়ারত করে। কেউ বলেছেন বনু হাশিমের গিরিপথে। ইবনে দাহিয়ার বক্তব্যে আছে যে, যে বাড়িতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছিলেন, হারুনুর রশীদের মা খাইজুরান যখন হজ করেন, তখন তিনি সেই বাড়িটিকে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের বাড়ি থেকে পৃথক করেন এবং সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। আরও বলা হয়েছে যে, সাফার নিকটবর্তী সেই বাড়িটিতে রশীদের স্ত্রী এবং আমিনের মা জুবায়দা হজের সময় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। আরও বলা হয়েছে: তিনি ‘রাদমে’ অর্থাৎ বনু জুমাহর রাদমে জন্মগ্রহণ করেন, যা বর্তমানে ‘মুদ্দায়া’ নামে পরিচিত, কারণ সেখানে কাবা দেখার সময় যে দুআ করা হয় তা পাঠ করা হয়। কেউ বলেছেন: আবু তালিবের গিরিপথে। কতিপয় ফকিহ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অভিভাবকের ওপর তার সন্তানকে এটা শেখানো ওয়াজিব যে, যখন সে ভালো-মন্দ পার্থক্য করার বয়সে পৌঁছাবে, তখন তাকে জানাতে হবে যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের বছর নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে যে, হাতি বাহিনীর বছর (আমুল ফীল)। কেউ বলেছেন সেই দিনেই। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতির দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন। কাইস ইবনে মাখরামাহ থেকে বর্ণিত: আমি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতির বছরের চাশতের সময় জন্মগ্রহণ করেছি। ‘তারিখে ইবনে হিব্বান’-এ আছে: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতির বছরে সেই দিনে জন্মগ্রহণ করেন যেদিন মহান আল্লাহ হাতি বাহিনীর ওপর আবাবীল পাখি পাঠিয়েছিলেন। ‘তারিখে মুয়াইয়্যাদ’-এ উল্লেখ আছে যে, তিনি হাতির বছরের ১০ই রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন, আর তা ছিল হাতির ঘটনার পঞ্চাশ দিন পর, কারণ হাতির ঘটনাটি ছিল মুহাররম মাসের মাঝামাঝি সময়ে এবং এটাই প্রসিদ্ধ মত। কেউ বলেছেন: হাতির ঘটনার পঞ্চান্ন দিন পর। কেউ বলেছেন চল্লিশ দিন পর, কেউ এক মাস পর। আবার কেউ দশ বছর পর, কেউ তেইশ বছর পর, কেউ ত্রিশ বছর পর, কেউ চল্লিশ বছর পর এবং কেউ সত্তর বছর পর বলেছেন।
হাফেজ দিময়াতি উল্লেখ করেছেন যে: হাতির ঘটনার পঞ্চান্ন দিন পর, আর এটিই অধিকতর সঠিক। ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইব্রাহিম ইবনে মুনজির বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো আলেম সন্দেহ পোষণ করেন না এবং এর ওপর ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত। কেউ বলেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাতির বছরের পনের বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছেন, তবে এটি অত্যন্ত বিরল, আপত্তিকর ও দুর্বল মত। হাফেজ নিশাপুরী বলেন: আব্দুল মুত্তালিবের চেহারায় নবুওয়াতের নূর উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো চকমক করত। কুরাইশরা যখন দুর্ভিক্ষের শিকার হতো, তখন তারা আব্দুল মুত্তালিবের হাত ধরত এবং তাঁকে নিয়ে সাবীর পাহাড়ে উঠত। সেখানে তারা বৃষ্টির প্রার্থনা করত এবং সেই নূরের বরকতে তারা বৃষ্টি পেত।
হাতি বাহিনীর ঘটনা হলো, আবিসিনিয়ার রাজা আবরাহা আল-আশরাম ইয়েমেনে তার জন্য একটি গির্জা নির্মাণ করেছিল এবং কাবার মতো সেখানে হজ করার জন্য মানুষকে আদেশ দিয়েছিল। সেটিকে সে সুসজ্জিত করেছিল এবং তাতে সোনা ও রূপার ক্রুশ, হাতির দাঁত ও আবলুস কাঠের মিম্বর স্থাপন করেছিল। অতঃপর কিনানা গোত্রের জনৈক আরব সেই গির্জায় প্রবেশ করে এবং সেখানে মলত্যাগ করে তার দেওয়ালে ময়লা লেপে দেয় এবং তার কিবলা অপবিত্র করে ফেলে। তখন আবরাহা শপথ করল যে সে অবশ্যই কাবা ধ্বংস করবে। সে তার সেনাবাহিনী নিয়ে কাবার দিকে অগ্রসর হলো, তার সাথে অনেক হাতি ছিল এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাতির নাম ছিল মাহমুদ। সে আরবদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের বন্দী করল এবং অগ্রসর হয়ে তায়েফের কাছাকাছি অবতরণ করল। সে তার অশ্বারোহী বাহিনী পাঠাল এবং কুরাইশদের উটগুলো লুণ্ঠন করল, যার মধ্যে আব্দুল মুত্তালিবের চারশটি উট ছিল। কুরাইশরা মক্কার পাহাড়গুলোতে আশ্রয় নিল। আবরাহার দূত আব্দুল মুত্তালিবের কাছে এসে তাঁকে খবর দিল যে, রাজা এই ঘর (কাবা) ধ্বংস করতে এসেছেন। তখন আব্দুল মুত্তালিব বললেন: এই ঘরের একজন রব আছেন, তিনিই একে রক্ষা করবেন। আব্দুল মুত্তালিব দূতের সাথে আবরাহার কাছে গেলেন। আবরাহা তাঁকে সম্মান করল এবং নিজের সাথে সিংহাসনে বসাল। সে তার দোভাষীকে বলল: তাঁকে জিজ্ঞেস করো, তিনি কেন এসেছেন? তিনি বললেন: উট এবং ঘোড়াগুলো ফেরত চাওয়ার জন্য। আবরাহা তাঁকে বলল: আপনি উট এবং ঘোড়ার কথা বলছেন অথচ ঘর ধ্বংসের বিষয়ে কিছু বলছেন না? আব্দুল মুত্তালিব বললেন: আমি হলাম উটের মালিক, আর এই ঘরের একজন রব আছেন, তিনি চাইলে একে রক্ষা করবেন। আবরাহা বলল: তিনি একে আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন না। অতঃপর আব্দুল মুত্তালিব তাঁর উট ও ঘোড়া নিয়ে চলে গেলেন এবং পাহাড়ে উঠলেন। আবরাহার সেনাবাহিনী হারাম শরীফ ঘেরাও করল। আব্দুল মুত্তালিব এগিয়ে গেলেন এবং মাহমুদ নামক হাতির কান ধরলেন এবং তাকে বললেন: হে মাহমুদ! বসে পড়ো, কেননা এটি আল্লাহর ঘর এবং তাঁর হারাম। তখন মাহমুদ মুহাসসির উপত্যকার কাছে বসে পড়ল। তারা তাকে আঘাত করতে লাগল কিন্তু সে দাঁড়াল না। তারা তাকে ইয়েমেনের দিকে মুখ করে দিলে সে দ্রুত দৌড়াতে লাগল, শামের দিকেও তেমনি করল। তারা তাকে মদ পান করাল যাতে তার হিতাহিত জ্ঞান চলে যায়, কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হলো না। আব্দুল মুত্তালিব কাবার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং দরজার কড়া ধরলেন, তাঁর সাথে কুরাইশদের একদল লোক ছিল। তিনি বললেন:
হে আল্লাহ! মানুষ তার আবাসস্থল রক্ষা করে
… সুতরাং আপনি আপনার ঘর রক্ষা করুন
আজ ক্রুশধারী ও তার পূজারীদের বিরুদ্ধে
… আপনার অনুসারীদের সাহায্য করুন
তাদের ক্রুশ এবং তাদের কৌশল যেন কখনোই
… আপনার কৌশলের ওপর প্রবল না হয়
(খণ্ড: ১)
আর-রওজাতুল ফাইহা ফী আলামিন নিসা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ثم صعد بهم إلى رؤوس الجبال، ولم تزل الحبشة تضرب رأس الفيل محمود ومراقه لينهض نحو البيت، وهو لا يفعل حتى أرسل الله عليهم الطير الأبابيل مع كل طير ثلاثة أحجار في منقاره ورجليه، كل حجرة بقدر العدسة يلقيها على رأس أحدهم فتخرج من دبره، ويتساقط لحمه، ولما أحس أبرهة بالشر ركب في نفر من أصحابه وسار على وجه، والطيور على رؤوسهم مثل الخطاطيف، فجعلت ترمي واحداً واحدا وهم يتساقطون في الطرق، ورمت أبرهة فجعل يتساقط جسده شيئاً فشيئا حتى هلك، ولم ينج منهم سوى واحد دخل على النجاشي فأخبره بالخبر والطير على رأسه، فلما فرغ ألقى عليه الحجر، فخرقت البناء ونزلت على رأسه فألحقته بهم. وعظمت قريش، وتمزقت الحبشة، وبقيت كنيسة أبرهة خربة حولها الوحوش والحيات.
وذكر في "حياة الحيوان" أن الأبابيل تعشش وتفرخ بين السماء والأرض. وذكر في "المعالم" أن عبد المطلب لما دخل البيت، أخذ بحلقة الباب وجعل يقول:
يا ربَّ لا أرجو لهم سواكا
… يا ربِّ فامنع منهم حماكا
إنَّ عدوَّ البيتِ من عاداكا
… امنعهم أن يخرّبوا قراكا
وذكر فيه أيضاً: أن النجاشي ملك الحبشة بعث إلى أرض اليمن رجلاً اسمه أرياط فملك اليمن ثم ظهر أبرهة، وقتل أرياط واستولى على اليمن من قبل النجاشي، فكان منه ما كان وبعث الله إلى أبرهة داء في جسده فجعلت تتساقط أنامله، كلما سقطت أنملة تبعها دم وقيح حتى وصل إلى صنعاء، وعجل الله بروحه إلى النار.
وقال مقاتل: كان معهم فيل واحد، وقال الضحاك: ثمانية، وقيل: إثنا عشر سوى الفيل الأعظم. وعن ابن عباس رضي الله عنه قال: كانت طير أبابيل لها خراطيم كخراطيم الطير، وأكف كأكف الكلاب، وقال عكرمة: لها رؤوس كرؤوس السباع، وقال الربيع: لها أنياب كأنياب السباع، وقال سعيد بن جبير: طير خضر لها مناقير صفر، وقال قتادة: طير سود جاءت من قبل البحر فوجاً فوجا مع كل طائر ثلاثة أحجار، حجران في رجليه وحجر في منقاره، لا يصيب شيئاً إلا هشمه، وقالت عائشة، رضي الله عنها: أدركت قائد الفيل وسائقه بمكة أعميين مقعدين يستطعمان الناس.
وفي "تاريخ ابن الوردي" أن بين هبوط آدم عليه السلام ومولده صلى الله عليه وسلم ستة آلاف وثلاثاً وستين سنة. وفي "أخبار الدول" عن الشيخ محيي الدين يروي عن ابن عباس: أنه كان من آدم عليه السلام إلى نبينا صلى الله عليه وسلم خمسة آلاف وخمسمائة وخمس وسبعون سنة.
وذكر محمد بن جرير الطبري: أن من آدم إلى انقضاء الخلق سبعة آلاف سنة، ويؤيده ما روي في الحديث "أن عمر الدنيا سبعة آلاف سنة وأن في آخرها ألفاً" وعن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أن جبرائيل قال: "مضى من الدنيا ستة آلاف وسبعمائة" وعن أبي هريرة رضي الله عنه، سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ كم خلق الدنيا فقال: "أخبرني ربي عز وجل أنه خلقها منذ سبعمائة ألف سنة إلى اليوم الذي بعثني فيه رسولاً إلى الناس" وذكره البلخي وقال: يدل على ذلك ما جاء في الخبر، أن إبليس عبد الله تعالى قبل أن يخلق آدم بخمسة وثمانين ألف سنة، وأنه خلق بعدما خلقت السماوات والأرض من المدد ما شاء الله تعالى وجاء في الحديث "أن كل شيء خلقه الله تعالى كان قبل آدم، وأن آدم بعد إيجاد الخلق لأن خلق آخر الأيام، التي خلق فيها الخلق" وزعم بعضهم أنه كان قبل آدم في الأرض خلق لهم لحم ودم، قيل: إنهم كانوا خلقاً، فبعث إليهم نبياً اسمه يوسف فقتلوه، وكان إبليس منهم فأسره الملائكة فعاش فيهم وصار يتخلق بأخلاقهم إلى أن كان من أمره ما كان، وعاد إلى فطرته.
অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করলেন। হাবশীরা হাতি মাহমুদের মাথায় ও স্পর্শকাতর অঙ্গে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকল যেন সে কাবাগৃহের দিকে অগ্রসর হয়, কিন্তু সে তা করল না। পরিশেষে আল্লাহ তাদের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি (আবাবীল) পাঠালেন। প্রতিটি পাখির ঠোঁটে ও দুই পায়ে তিনটি করে পাথর ছিল। প্রতিটি পাথর ছিল মসুর ডালের সমান। যখনই তারা কারো মাথায় পাথর নিক্ষেপ করত, তা তার মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে যেত এবং তার শরীরের গোশত খসে পড়তে শুরু করত। যখন আবরাহা বিপদের আঁচ পেল, সে তার কিছু সঙ্গীকে নিয়ে আরোহণ করল এবং এক দিকে চলতে শুরু করল। পাখিরা সোয়ালো পাখির মতো তাদের মাথার ওপর উড়ছিল। তারা একে একে পাথর নিক্ষেপ করছিল আর তারা রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছিল। আবরাহার ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হলে তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে একে খসে পড়তে শুরু করল এবং পরিশেষে সে ধ্বংস হলো। তাদের মধ্যে কেবল একজনই বেঁচে ফিরতে পেরেছিল, যে নাজাশীর কাছে গিয়ে খবরটি পৌঁছে দেয়। সে সময়ও একটি পাখি তার মাথার ওপরে ছিল। যখন তার বিবরণ শেষ হলো, পাখিটি তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করল, যা অট্টালিকা ভেদ করে তার মাথায় পড়ল এবং তাকেও তাদের সাথে পরলোকে পাঠিয়ে দিল। এতে কুরাইশদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেল এবং হাবশীরা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। আবরাহার গির্জাটি বিরান হয়ে পড়ে থাকল, যার চারদিকে বন্যপ্রাণী ও সাপ বিচরণ করতে লাগল।
“হায়াতুল হাইওয়ান” গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবাবীল পাখি আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে। “আল-মাআলিম” গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, আব্দুল মুত্তালিব যখন কাবাগৃহে প্রবেশ করলেন, তখন দরজার কড়া ধরে বলতে লাগলেন:
হে প্রতিপালক! তাদের মোকাবিলার জন্য আপনি ছাড়া অন্য কারো প্রতি আমার আশা নেই
… হে প্রতিপালক! আপনার পবিত্র ঘরকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।
নিশ্চয়ই কাবাগৃহের শত্রু আপনারই শত্রু
… তাদের বাধা দিন যেন তারা আপনার জনপদ ধ্বংস করতে না পারে।
এতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে: হাবশার রাজা নাজাশী ইয়েমেন অভিমুখে আরইয়াত নামক এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন। সে ইয়েমেন শাসন করে, অতঃপর আবরাহার আবির্ভাব ঘটে এবং সে আরইয়াতকে হত্যা করে নাজাশীর পক্ষ থেকে ইয়েমেন দখল করে নেয়। তারপর যা ঘটার তা-ই ঘটল এবং আল্লাহ আবরাহার দেহে রোগ পাঠিয়ে দিলেন, ফলে তার আঙুলগুলো খসে পড়তে শুরু করল। যখনই একটি আঙুলের গিঁট খসে পড়ত, সেখান থেকে রক্ত ও পুঁজ বের হতো। এভাবে সে সানআ পর্যন্ত পৌঁছাল এবং আল্লাহ দ্রুত তার আত্মাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন।
মুকাতিল বলেন: তাদের সাথে একটি হাতি ছিল। দাহহাক বলেন: আটটি। কেউ বলেন: প্রধান হাতিটি ছাড়া আরও বারোটি হাতি ছিল। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবাবীল পাখিদের চঞ্চু ছিল পাখির চঞ্চুর মতো, আর থাবা ছিল কুকুরের থাবার মতো। ইকরিমা বলেন: তাদের মাথা ছিল হিংস্র পশুর মাথার মতো। রাবী বলেন: তাদের দাঁত ছিল হিংস্র পশুর দাঁতের মতো। সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: তারা ছিল সবুজ রঙের পাখি যাদের ঠোঁট ছিল হলুদ। কাতাদা বলেন: তারা ছিল কালো রঙের পাখি যা সমুদ্রের দিক থেকে দলে দলে এসেছিল। প্রতিটি পাখির সাথে তিনটি করে পাথর ছিল—দুটি তার দুই পায়ে এবং একটি তার ঠোঁটে। সেই পাথর যাকেই আঘাত করত তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি মক্কায় হাতির চালক ও তার সহিসকে অন্ধ ও পঙ্গু অবস্থায় মানুষের কাছে খাবার ভিক্ষা করতে দেখেছি।
“তারীখে ইবনুল ওয়ারদী”-তে উল্লেখ আছে যে, আদম (আলাইহিস সালাম)-এর পৃথিবীতে অবতরণ এবং নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্মের মধ্যবর্তী সময়কাল ছিল ছয় হাজার তেষট্টি বছর। “আখবারুদ দুওয়াল” গ্রন্থে শেখ মুহিউদ্দীন ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে: আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত সময়কাল ছিল পাঁচ হাজার পাঁচশ পঁচাত্তর বছর।
মুহাম্মদ ইবনে জারীর তাবারী উল্লেখ করেছেন: আদম থেকে সৃষ্টির সমাপ্তি পর্যন্ত সময়কাল হলো সাত হাজার বছর। এর সমর্থনে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, “দুনিয়ার আয়ু সাত হাজার বছর এবং এর শেষাংশে রয়েছে এক হাজার বছর।” আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে জিবরাঈল বলেছেন: “দুনিয়ার ছয় হাজার সাতশ বছর অতিবাহিত হয়েছে।” আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল দুনিয়া সৃষ্টির কত কাল হয়েছে? তিনি বললেন: “আমার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন আজ থেকে সাত লক্ষ বছর আগে যেদিন তিনি আমাকে মানুষের কাছে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন।” বালখী এটি উল্লেখ করে বলেছেন: রেওয়ায়েতে যা এসেছে তা এর প্রমাণ দেয় যে, ইবলিস আদম সৃষ্টির পঁচাশী হাজার বছর আগে আল্লাহর ইবাদত করত। আর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে। হাদীসে এসেছে, “আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার সবকিছুই আদমের আগে ছিল, আর আদমের অস্তিত্ব লাভ হয়েছে সৃষ্টির শেষে, কারণ তাকে সৃষ্টির শেষ দিনগুলোতে সৃষ্টি করা হয়েছে।” কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, আদমের পূর্বে পৃথিবীতে রক্ত-মাংসের এক প্রকার সৃষ্টিজীব ছিল। বলা হয়ে থাকে তারা এমন এক সৃষ্টি ছিল যাদের কাছে ইউসুফ নামক এক নবী পাঠানো হয়েছিল এবং তারা তাকে হত্যা করেছিল। ইবলিস তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল, অতঃপর ফেরেশতারা তাকে বন্দী করে নিয়ে যায়। সে ফেরেশতাদের মাঝে বসবাস করতে থাকে এবং তাদের স্বভাব গ্রহণ করে। পরিশেষে তার ব্যাপারে যা ঘটার ছিল তা-ই ঘটে এবং সে তার আদি স্বভাবের দিকে ফিরে যায়।