0/0
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: -)
سورة الواقعة ومنهجها فى العقائد   (محمود محمد غريب)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: سورة الواقعة ومنهجها في العقائد (دراسات في التفسير الموضوعي للقرآن الكريم)

المؤلف: محمود محمد غريب

الناشر: دار التراث العربي - القاهرة

الطبعة: الثالثة، 1418 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 265

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সূরা আল-ওয়াকিআ এবং আকিদার ক্ষেত্রে এর মানহাজ   (মাহমুদ মুহাম্মদ গারিব)

বিভাগ: উলুমুল কুরআন এবং উসুলুত তাফসির


গ্রন্থ: সূরা আল-ওয়াকিআ এবং আকিদার ক্ষেত্রে এর মানহাজ (কুরআনুল কারীমের বিষয়ভিত্তিক তাফসির সংক্রান্ত গবেষণা)

লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ গারিব

প্রকাশক: দারুত তুরাস আল-আরাবি - কায়রো

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

الكتاب:‌‌ سورة الواقعة ومنهجها في العقائد

(دراسات في التفسير الموضوعي للقرآن الكريم)

المؤلف: العلامة الشيخ / محمود غريب

الناشر: دار التراث العربي

الطبعة: الثالثة - 1418 هـ - 1988 م - القاهرة

تنبيه:

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.

*************

لا تعرف الدنيا كتابا يحمل بين كل آية منه دليلا على نزوله من عند الله إلا القرآن. (المؤلف) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

গ্রন্থ:‌‌ সূরা আল-ওয়াকিআহ এবং আকিদা শাস্ত্রে এর কর্মপদ্ধতি

(পবিত্র কুরআনের বিষয়ভিত্তিক তাফসির সংক্রান্ত গবেষণাসমূহ)

লেখক: আল্লামা শায়খ / মাহমুদ গারিব

প্রকাশক: দারুত তুরাস আল-আরাবি

সংস্করণ: তৃতীয় - ১৪১৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ - কায়রো

সতর্কবার্তা:

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

আল্লাহ এর লেখক এবং যিনি এর লিখন ও অনুলিখনের ব্যয়ভার বহন করেছেন তাকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।

*************

পৃথিবী কুরআন ব্যতীত এমন কোনো গ্রন্থের কথা জানে না, যার প্রতিটি আয়াতের মধ্যেই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার প্রমাণ বিদ্যমান। (লেখক) ।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ (1) لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ (2) خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ (3) إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا (4) وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا (5) فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا (6) وَكُنْتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً (7) فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ (8) وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ (9) وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ (10) أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ (11) فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ (12) ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ (13) وَقَلِيلٌ مِنَ الْآخِرِينَ (14) عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ (15) مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ (16) يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ (17) بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ (18) لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ (19) وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ (20) وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ (21) وَحُورٌ عِينٌ (22) كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ (23) جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (24) لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا (25) إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا (26) وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ (27) فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ (28) وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ (29) وَظِلٍّ مَمْدُودٍ (30) وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ (31) وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ (32) لَا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ (33) وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ (34) إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً (35) فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا (36) عُرُبًا أَتْرَابًا (37) لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ (38) ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ (39) وَثُلَّةٌ مِنَ الْآخِرِينَ (40) وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ (41) فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ (42) وَظِلٍّ مِنْ يَحْمُومٍ (43) لَا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ (44) إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ (45) وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنْثِ الْعَظِيمِ (46) وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ (47) أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ (48) قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ (49) لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ (50) ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُّونَ الْمُكَذِّبُونَ (51) لَآكِلُونَ مِنْ شَجَرٍ مِنْ زَقُّومٍ (52) فَمَالِئُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ (53) فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ (54) فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ (55) هَذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ (56) نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ (57) أَفَرَأَيْتُمْ مَا تُمْنُونَ (58) أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ (59) نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ (60) عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ (61) وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ (62) أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ (63) أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ (64) لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ (65) إِنَّا لَمُغْرَمُونَ (66) بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ (67) أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ (68) أَأَنْتُمْ أَنْزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُونَ (69) لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ (70) أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ (71) أَأَنْتُمْ أَنْشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنْشِئُونَ (72) نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِلْمُقْوِينَ (73) فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ (74) فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ (75) وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ (76) إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ (77) فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ (78) لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ (79) تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ (80) أَفَبِهَذَا الْحَدِيثِ أَنْتُمْ مُدْهِنُونَ (81) وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ (82) فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ (85) فَلَوْلَا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ (86) تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (87) فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ (88) فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ (89) وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ (90) فَسَلَامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ (91) وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ (92) فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ (93) وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ (94) إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ (95) فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ (96) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

যখন সেই মহাসংঘটন সংঘটিত হবে (১) তার সংঘটনে কোনো মিথ্যা নেই (২) তা কাউকে নিচে নামাবে, কাউকে উপরে উঠাবে (৩) যখন পৃথিবী প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে (৪) এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় পরিণত হবে (৫) অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা (৬) আর তোমরা তিন ভাগে বিভক্ত হবে (৭) অতঃপর ডান দিকের দল; কতই না সৌভাগ্যবান ডান দিকের দল (৮) এবং বাম দিকের দল; কতই না দুর্ভাগা বাম দিকের দল (৯) আর অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই (১০) তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত (১১) নেয়ামতপূর্ণ উদ্যানসমূহে (১২) তাদের এক বিরাট অংশ পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে (১৩) আর অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে (১৪) স্বর্ণখচিত সিংহাসনসমূহে (১৫) তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে (১৬) তাদের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করবে চিরকিশোরেরা (১৭) পানপাত্র, জগ ও বিশুদ্ধ পানিপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে (১৮) যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং তারা জ্ঞানও হারাবে না (১৯) আর তাদের পছন্দমতো ফলমূল নিয়ে (২০) এবং তাদের রুচিমতো পাখির মাংস নিয়ে (২১) আর থাকবে ডাগরচোখা হুরগণ (২২) যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা (২৩) তারা যা করত, তার বিনিময়স্বরূপ (২৪) তারা সেখানে শুনবে না কোনো অসার বাক্য কিংবা পাপবাক্য (২৫) কেবল ‘সালাম, সালাম’ বাণী ছাড়া (২৬) আর ডান দিকের দল; কতই না সৌভাগ্যবান ডান দিকের দল (২৭) তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলবৃক্ষের ছায়ায় (২৮) এবং কাঁদি কাঁদি কলাগাছের নিচে (২৯) আর বিস্তৃত ছায়ায় (৩০) এবং সদা বহমান পানির কিনারে (৩১) আর প্রচুর ফলমূলের মাঝে (৩২) যা শেষ হবে না এবং যাতে কোনো বাধাও থাকবে না (৩৩) এবং সুউচ্চ শয্যায় (৩৪) নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি (৩৫) অতঃপর তাদেরকে বানিয়েছি কুমারী (৩৬) অনুরাগিণী ও সমবয়সী (৩৭) ডান দিকের দলের জন্য (৩৮) তাদের এক বিরাট অংশ পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে (৩৯) এবং এক বিরাট অংশ পরবর্তীদের মধ্য থেকে (৪০) আর বাম দিকের দল; কতই না দুর্ভাগা বাম দিকের দল (৪১) তারা থাকবে উত্তপ্ত হাওয়া ও ফুটন্ত পানিতে (৪২) আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায় (৪৩) যা শীতল নয় এবং সম্মানজনকও নয় (৪৪) ইতিপূর্বে তারা বিলাসিতায় মগ্ন ছিল (৪৫) আর তারা মহাপাপে লিপ্ত থাকত (৪৬) তারা বলত, ‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?’ (৪৭) ‘এবং আমাদের পিতৃপুরুষদেরও কি?’ (৪৮) বলুন, নিশ্চয়ই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে (৪৯) একত্রিত করা হবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে (৫০) অতঃপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা (৫১) তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে জাক্কুম গাছ থেকে (৫২) আর তা দিয়ে উদর পূর্ণ করবে (৫৩) অতঃপর তার ওপর পান করবে ফুটন্ত পানি (৫৪) তা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের মতো (৫৫) প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন (৫৬) আমিই তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তবে কেন তোমরা তা বিশ্বাস করছ না (৫৭) তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমাদের নিক্ষিপ্ত বীর্য সম্পর্কে (৫৮) তোমরা কি তা সৃষ্টি করো, নাকি আমিই স্রষ্টা (৫৯) আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই (৬০) তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ কাউকে নিয়ে আসতে এবং তোমাদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না (৬১) তোমরা তো প্রথম সৃষ্টির কথা জানোই, তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো না (৬২) তোমরা যে বীজ বপন করো সে সম্পর্কে কি ভেবে দেখেছ (৬৩) তোমরা কি তা অঙ্কুরিত করো, নাকি আমিই অঙ্কুরিত করি (৬৪) আমি চাইলে তাকে খড়কুটোয় পরিণত করতে পারতাম, তখন তোমরা অবাক হয়ে বলতে (৬৫) ‘আমরা তো দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছি’ (৬) ‘বরং আমরা বঞ্চিত হয়েছি’ (৬৭) তোমরা যে পানি পান করো সে সম্পর্কে কি ভেবে দেখেছ (৬৮) তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আনো, নাকি আমি তা বর্ষণ করি (৬৯) আমি চাইলে তাকে লোনা করে দিতে পারতাম, তবে কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো না (৭০) তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে সম্পর্কে কি ভেবে দেখেছ (৭১) তোমরাই কি তার বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, নাকি আমিই সৃষ্টি করেছি (৭২) আমি একে করেছি এক স্মারক এবং মরুবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী (৭৩) অতএব, আপনি আপনার মহান রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন (৭৪) আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির পতনের স্থানের (৭৫) নিশ্চয়ই এটি এক মহাসম্মানিত শপথ, যদি তোমরা জানতে (৭৬) নিশ্চয়ই এটি এক মহিমান্বিত কুরআন (৭৭) যা আছে এক সুরক্ষিত কিতাবে (৭৮) যা পবিত্রগণ ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না (৭৯) এটি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৮০) তবে কি তোমরা এই হাদিসকে তুচ্ছ জ্ঞান করছ (৮১) আর তোমরা তোমাদের রিজিক বানিয়ে নিয়েছ এই যে, তোমরা একে অস্বীকার করো (৮২) তবে কেন নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয় (৮৩) এবং তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো (৮৪) আর আমি তোমাদের তুলনায় তার অধিক নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না (৮৫) যদি তোমরা বিচার্য না হও (৮৬) তবে কেন তোমরা সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনো না, যদি তোমরা সত্যবাদী হও (৮৭) অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয় (৮৮) তবে তার জন্য রয়েছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত (৮৯) আর যদি সে ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত হয় (৯০) তবে (তাকে বলা হবে), ‘তোমার জন্য শান্তি, যেহেতু তুমি ডান দিকের দলের একজন’ (৯১) কিন্তু যদি সে অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয় (৯২) তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে (৯৩) এবং দহন হবে প্রজ্বলিত অগ্নিতে (৯৪) নিশ্চয়ই এটি ধ্রুব সত্য (৯৫) অতএব, আপনি আপনার মহান রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন (৯৬)।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تقرير لجنة العلماء

بسم الله الرحمن الرحيم

عرضتُ أصولَ الكتاب على لجنة موقرة من علماء الأزهر الشريف بأوقاف المنطقة الجنوبية بسلطنة عمان.

وبعد قراءتهم لأصول الكتاب، وإبداء بعض الملاحظات القميِّة التي قمتُ بعلاجها، تكرمت اللجنة بهذا التقرير:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، وسلام على النبي المصطفى، وبعد: فقد اطلعنا على كتاب سورة الواقعة ومنهجها في العقائد لفضيلة الشيخ محمود غريب - الطبعة الثانية - ولقد جاء الكتاب في وقت أحوج ما يكون الشباب المسلم إليه، لترسيخ العقيدة في نفوسهم، والكتاب يشرح السورة الكريمة، ويبين ما تهدف إليه.

ولقد بذل المؤلف الكثير من الجهد - مشكوراً - في تفنيد أراء المبطلين والرد على شبهة الملحدين، وسلك في ذلك مسلك حديثاً، في المحافظة على طابع الأسلوب القديم، وطرافة الموضوع.

وفضيلة المؤلف له باع طويل في التأليف، فقد ألَّفَ كثيراً من الكتب المفيدة النافعة، بأسلوبٍ سهلٍ ممتنعٍ، ولا يسعنا في هذا المجال إلا أن نتوجه إلى الله سبحانه وتعالى بأن يتقبل هذا العمل، وأن ينفع به البلاد والعباد

تحرير في 27/5 /1983

السابع عشر من شعبان 1403 هـ

رئيس اللجنة

فضيلة الشيخ / محمد محمود قاسم

مدير إدارة الدعوة الإسلامية بسوهاج
ওলামা কমিটির প্রতিবেদন

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমি গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি ওমান সালতানাতের দক্ষিণাঞ্চলীয় আওকাফ (ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়) বিভাগে আল-আজহার আল-শরীফের সম্মানিত আলেমদের একটি কমিটির নিকট পেশ করেছি।

পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করার পর তারা কিছু মূল্যবান পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন যা আমি সংশোধন করেছি, অতঃপর কমিটি এই প্রতিবেদনটি প্রদানের অনুগ্রহ প্রকাশ করেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর এবং শান্তি বর্ষিত হোক মনোনীত (المصطفى) নবীর ওপর। অতঃপর: আমরা ফযীলাতুশ শায়খ মাহমুদ গরীব রচিত 'সূরা আল-ওয়াকিআহ এবং আকিদাহ (عقيدة) বিষয়ে এর পদ্ধতি'—দ্বিতীয় সংস্করণ—শীর্ষক গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করেছি। মুসলিম যুবসমাজের অন্তরে আকিদাহ (عقيدة) সুদৃঢ় করার জন্য এই গ্রন্থটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম। গ্রন্থটি এই মহিমান্বিত সূরার ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং এর লক্ষ্যসমূহ সুস্পষ্ট করে।

বাতিলপন্থীদের মতবাদ খণ্ডন এবং নাস্তিকদের সংশয় (شبهة) নিরসনে লেখক অত্যন্ত প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রাচীন শৈলীর গাম্ভীর্য বজায় রেখে আধুনিক উপস্থাপনার এক নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

শ্রদ্ধেয় লেখক গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী। তিনি সহজ-সাবলীল অথচ অনুকরণাতীত ভঙ্গিতে অসংখ্য তথ্যবহুল ও উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন। পরিশেষে আমরা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমল কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধন করেন।

সম্পাদিত: ২৭/০৫/১৯৮৩ ইংরেজি

১৭ই শাবান ১৪০৩ হিজরি

কমিটির সভাপতি

ফযীলাতুশ শায়খ / মুহাম্মদ মাহমুদ কাসিম

পরিচালক, ইসলামিক দাওয়াহ বিভাগ, সোহাগ (মিশর)
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১০)
الجانب الموضوعى: الشيخ إسماعيل زمزم، واعظ أول القاهرة

والشيخ حامد أبوالسعود، واعظ أول الشرقية

الجانب الطبى: الدكتور سعيد المليجى

الجانب الزراعى: الخبير الزراى على حسن

الطبعة الثالثة راجعها الأستاذ محمد عطية سلمى

…
বিষয়ভিত্তিক দিক: শায়খ ইসমাইল জমজম, কায়রোর প্রধান ওয়ায়েজ

এবং শায়খ হামিদ আবু আল-সাউদ, শারকিয়ার প্রধান ওয়ায়েজ

চিকিৎসা বিষয়ক দিক: ডা. সাঈদ আল-মালিজি

কৃষি বিষয়ক দিক: কৃষি বিশেষজ্ঞ আলী হাসান

তৃতীয় সংস্করণ পর্যালোচনা করেছেন উস্তাদ মুহাম্মাদ আতিয়্যাহ সালমি

…
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، وسلام على النبي المصطفى، أما بعد.

الإلحاد مولود غير شرعى في بلادنا

لأن بلادنا عرفت الحق، والخير، والجمال، منذ فجرالتاريخ وبنت حضارتها، وثقافتها على عقيدة الإيمان بالله وبالبعث للاجسام.

، والدارس للحضارات القديمة في بلادينا يدرك أن الجانب الروحي هو الطاقة التي حركت فكرة بناء المعابد الضخمة والأهرام السامقة فلما جاء الإسلام لم تجد بلادنا غربة فكرية في ما جاء به، فسارعت إليه فبلادنا سبقت العالم إلى معرفة الحضارات الروحية وأنتفعت بها وصارت مسيرتنا الإيمانية في ضوء القرآن الكريم فلما تقدمت العلوم المادية. ونحن نبارك تقدمها حاول خصوم الإيمان أن يسخروا بريق العلم الحديث في سلب بلادنا أعز خصائصها الإيمانية حاولوا أن يربطو في أزهان الشباب بين التقدم العلمي والإلحاد بحجة أن بلادهم شقت طريقها للحضارة يوم أن تحررت من الأديان، ونسي هؤلاء الأفاكون أن طبيعة الأديان تختلف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, আর শান্তি বর্ষিত হোক মনোনীত নবীর প্রতি। অতঃপর।

নাস্তিক্যবাদ আমাদের ভূখণ্ডে একটি অবৈধ সন্তান।

কারণ আমাদের এই দেশ ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকেই সত্য, কল্যাণ ও সৌন্দর্যকে চিনেছে এবং মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও শারীরিক পুনরুত্থানের (البعث) আকিদার ওপর ভিত্তি করেই তার সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিনির্মাণ করেছে।

আমাদের দেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর গবেষক মাত্রই অনুধাবন করতে পারেন যে, আধ্যাত্মিক দিকটিই ছিল সেই মূল শক্তি যা বিশাল সব উপাসনালয় এবং সুউচ্চ পিরামিড নির্মাণের চেতনাকে জাগ্রত করেছিল। ফলে ইসলাম যখন আগমন করল, তখন আমাদের দেশ ইসলামের আনীত বার্তার মধ্যে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বিজাতীয়তা বা বিচ্ছিন্নতা খুঁজে পায়নি; বরং দ্রুত তার প্রতি ধাবিত হয়েছে। আধ্যাত্মিক সভ্যতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে আমাদের দেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে অগ্রগামী ছিল এবং তা থেকে উপকৃত হয়েছে। আর পবিত্র কুরআনের আলোকেই আমাদের ঈমানি পথচলা পরিচালিত হয়েছে। অতঃপর যখন বস্তুবাদী বিজ্ঞানের চরম উন্নতি সাধিত হলো—যেই উন্নতিকে আমরা স্বাগত জানাই—তখন ঈমানের শত্রুরা আধুনিক বিজ্ঞানের চাকচিক্যকে ব্যবহার করে আমাদের দেশের সবচেয়ে মূল্যবান ঈমানি বৈশিষ্ট্যসমূহ ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাল। তারা যুবকদের মস্তিষ্কে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং নাস্তিক্যবাদের মাঝে একটি যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করল এই অজুহাতে যে, তাদের দেশগুলো সভ্যতার পথে যাত্রা শুরু করেছে তখনই যখন তারা ধর্ম থেকে মুক্ত হতে পেরেছে। কিন্তু এই চরম মিথ্যাবাদীরা (الأفاكون) ভুলে গেছে যে, সকল ধর্মের প্রকৃতি এক নয়।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১২)
فبلادهم تقدمت يوم تحررت من استبداد الكنيسة وسياط رجالها على ظهور العلماء.

أما بلاد الإسلام، فقد تأخرت عن المسيره منذ أن هجرت دينها الذي كان عصمة أمرها، ومجمع كلماتها، فطبائع الأديان تختلف.

حاولوا إقناع الشباب أن هجر الشعور الديني، وما يتبعه من انطلاقة حيوانية، هو حتمية العصر، وهذه المغالطة، يفضحها شيء واحد، وهو أن الحقائق العلمية التي وصل بها رجل الفضاء الأمريكي إلى القمر، هي نفسها التي وصل بها رجل الفضاء الروسي، لأن الحقائق العلمية واحدة.

ومع ذلك فالكل من البلدين ثقافته الخاصة به، التي يؤمن بها، ويدافع عنها، مع أن كلا الثقافتين يخالف الأخرى، ويناقضه. فأي تعارض بين لون الثقافة، وبين التسابق العلمي، والحقائق العلمية؟!

ولماذا يطلب من المسلم وحده أن يتنازل عن دينه، ثمنا لمشاركته في التسابق العلمي؟

واضح أنها مؤامرة على الإسلام، ومحاولة لإذلال المسلمين.

في وسط هذا الصراع، أقول بكل سقة:

إن الدين الإسلامي سيبقى في حياة المسلم، وفي عقله، يربطه بأمجاد هذه الأمة، ويضئ له الطريق، وسوف لا يزيدنا الكشف العلمي، إلا اقتناعا بقرآننا وتعظيما لخالقنا، واعتزازاً بتراثنا المجيد.

وبين يدى القارئ الكريم دراسة علمية متواضعة حول (سورة الواقعة ومنهجها في العقائد) حاولت خلالها أن أدارس السورة الكريمة، في ضوء جميع الآيات المشتركة معها في الموضوع.. إيمانا منا بأن مجموع آيات القرآن المنتشرة في السور المختلفه إذا اجتمعت، يكمل بعضها بعضا ويفسره
তাদের দেশসমূহ তখন উন্নতি লাভ করেছে যখন তারা গির্জার স্বৈরাচার এবং বিজ্ঞানীদের পিঠে তাদের যাজকদের চাবুক থেকে মুক্তি পেয়েছে।

অন্যদিকে, মুসলিম দেশসমূহ অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে পড়েছে যখন থেকে তারা তাদের দ্বীনকে পরিত্যাগ করেছে, যা ছিল তাদের যাবতীয় বিষয়ের রক্ষাকবচ এবং তাদের সংহতির মূলকেন্দ্র; কারণ ধর্মসমূহের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

তারা যুবসমাজকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, ধর্মীয় অনুভূতি বর্জন করা এবং এর ফলে সৃষ্ট পাশবিক উন্মাদনা বর্তমান যুগের এক অনিবার্য বাস্তবতা; কিন্তু একটি সত্য এই বিভ্রান্তি উন্মোচন করে দেয়—আর তা হলো, যে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে আমেরিকান নভোচারী চাঁদে পৌঁছেছেন, সেই একই তথ্যের ভিত্তিতে রুশ নভোচারীও পৌঁছেছেন, কারণ বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ অভিন্ন।

তা সত্ত্বেও উভয় দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে, যাতে তারা বিশ্বাস করে এবং তা রক্ষা করে; যদিও এই দুই সংস্কৃতি একে অপরের পরিপন্থী ও বিপরীতমুখী। সুতরাং সংস্কৃতির ধরন এবং বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতা ও বৈজ্ঞানিক সত্যের মধ্যে আবার কিসের বিরোধ?!

তবে কেন কেবল মুসলমানের কাছেই বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মূল্য হিসেবে তার দ্বীন বিসর্জন দেওয়ার দাবি করা হয়?

এটা স্পষ্ট যে এটি ইসলামের বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত এবং মুসলমানদের লাঞ্ছিত করার একটি অপপ্রয়াস।

এই সংঘাতের মাঝে আমি পূর্ণ দৃঢ় আস্থা (ثقة) এর সাথে বলছি:

নিশ্চয়ই ইসলামি জীবনবিধান একজন মুসলমানের জীবনে এবং তার চিন্তায় অবশিষ্ট থাকবে, যা তাকে এই উম্মাহর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাথে যুক্ত রাখবে এবং তার পথকে আলোকিত করবে। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহ আমাদের কুরআনের প্রতি বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করবে, আমাদের স্রষ্টার মহিমা বৃদ্ধি করবে এবং আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতি গর্ববোধকে শাণিত করবে।

সম্মানিত পাঠকের সামনে (সূরা আল-ওয়াকিয়া এবং আকায়েদ শাস্ত্রে এর কর্মপন্থা) শীর্ষক একটি পরিমিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পেশ করা হলো। এর মাধ্যমে আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ সকল আয়াতের আলোকে এই সম্মানিত সূরাটি পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেছি। আমাদের বিশ্বাস এই যে, বিভিন্ন সূরায় ছড়িয়ে থাকা কুরআনের আয়াতসমূহকে যখন একত্রিত করা হয়, তখন তারা একে অপরের পরিপূরক হয় এবং একে অপরের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
كما وضحت فيها منهج القرآن في التربية، والجدل، والمغيبات، والحقائق العلمية.

والله أسأل أن ينفع بها الشباب الباحث عن الحقيقة، أن يجعلها في صحيفة عملنا، إنه المستعان

المؤلف:

محمود غريب

ديوان البلاط السلطاني

بسلطنة عمان
একইভাবে আমি এতে শিক্ষা-দীক্ষা, বিতর্ক, অতীন্দ্রিয় বিষয়াবলি এবং বৈজ্ঞানিক সত্যের ক্ষেত্রে কোরআনের কর্মপন্থা স্পষ্ট করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন সত্যসন্ধানী যুবসমাজ এর মাধ্যমে উপকৃত হয় এবং তিনি একে আমাদের আমলনামায় অন্তর্ভুক্ত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সাহায্যকারী।

লেখক:

মাহমুদ গরিব

দিওয়ান আল-বালাত আস-সুলতানি

ওমান সালতানাত
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الوحدة الموضوعية:

يعني هذا العنوان لونا جديدا من دراسة التفسير، هذا اللون، هو النظر إلى القرآن الكريم نظرة عامة، يبحث الدارس خلالها في كل آيات القرآن، ليستكمل الصورة الموضوعية.

وقد أكدت الدراسات المتتابعة، التي قام بها العلماء، أن مجموعة آيات القرآن الكريم في الموضوع الواحد يعطي صورة متكاملة للموضوع.

وهذا يفسر سر التكرر للمشاهد القرآنية.

وسور القرآن من ناحية (الوحدة موضوعية)

قسمان: قسم تعالج في السور أكثر من موضوع مع وجود وحدة الأسلوب، لا يستطيعها بشر.

لأن البشر إن أجاد الحديث في تخصص معين، فإن ذلك يقول دائما على حساب جهله بالتخصصات الأخرى، ومن يتحدث في كل تخصص، فهو أقدر الناس على أن يقول: لا شيء.

وقسم آخر تعالج في السور موضوعا واحدًا كسورة الواقعة، التي التزمت بموضوع البعث وما يؤيده من أدلة ومناقشات.

والآن مع السورة الكريمة، في دراسة موضوعية، والله الموفق.
বিষয়ভিত্তিক ঐক্য (الوحدة الموضوعية):

এই শিরোনামটি তাফসির অধ্যয়নের একটি নতুন পদ্ধতিকে নির্দেশ করে। এই পদ্ধতিটি হলো পবিত্র কুরআনের প্রতি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিপাত করা, যার মাধ্যমে গবেষক বিষয়ভিত্তিক চিত্রটি পূর্ণ করার লক্ষ্যে কুরআনের সমস্ত আয়াত নিয়ে গবেষণা করেন।

আলেমদের দ্বারা পরিচালিত ধারাবাহিক গবেষণাগুলো নিশ্চিত করেছে যে, একটি বিষয়ের ওপর পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের সমষ্টি উক্ত বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রদান করে।

আর এটিই কুরআনিক দৃশ্যাবলীর পুনরাবৃত্তির রহস্য ব্যাখ্যা করে।

বিষয়ভিত্তিক ঐক্যের (الوحدة الموضوعية) দিক থেকে কুরআনের সূরাসমূহ দুই প্রকার:

এক প্রকার হলো সেই সব সূরা, যেখানে রচনারীতির একতা বজায় রেখে একাধিক বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে, যা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

কারণ মানুষ যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী হয়, তবে তা সর্বদা অন্যান্য বিষয়ে তার অজ্ঞতার বিনিময়ে অর্জিত হয়। আর যে ব্যক্তি প্রতিটি বিষয়ে কথা বলতে যায়, সে মূলত কিছুই বলতে পারে না।

অন্য প্রকার হলো সেই সব সূরা, যেখানে শুধুমাত্র একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেমন সূরা আল-ওয়াকিয়াহ। এই সূরাটি পুনরুত্থান (البعث) এবং এর সপক্ষে বিভিন্ন দলিল ও আলোচনার বিষয়বস্তুকে আঁকড়ে ধরেছে।

এখন আমরা এই মহিমান্বিত সূরাটি নিয়ে একটি বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়ন করব, আর আল্লাহই তাওফিকদাতা (الموفق)।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌منهج السورة الكريمة

تنقسم السورة الكريمة إلى مقدمة، وثلاثة فصول، وخاتمة.

المقدمة:

من مطلع السورة إلى الآية رقم (6) منها.

وتذكر هذه الآيات التغيير الذي سيحدث في الكون، عند قيام الساعة.

الفصل الأول: يقسم الناس إلى أقسام ثلاثة هم: المقربون، وأصحاب اليمين، وأصحاب الشمال.

ويبين جزاء كل فريق منهم، ويبدأ من الآية 7 إلى الآية 65.

الفصل الثاني:

يناقش المنكرين للبعث، ويلزمهم الحجة. ويستخدم في الجدال معهم، عناصر الطبيعة الواضحة: النطفة، الزرع، الماء، النار.

وهي أمور يدركها رجل البادية، وفي الوقت نفسه يقف الدارس أمامها عاجزا عن إدراك أسرارها، وهذا هو السر أن كتابا واحدا وهو القرآن يؤمن به العامة، ويحْتار الخواص في دراسته.

ويبدأ هذا الفصل الآية (57) وينتهي بالآية (74) الفصل الثالث:

يتحدث عن نزول القرآن الكريم من عند الله تعالى ويربط بين الكون والقرآن،
‌‌এই মহিমান্বিত সূরার বিন্যাস ও কর্মপদ্ধতি (منهج)

এই মহিমান্বিত সূরাটি একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত।

ভূমিকা:

সূরার প্রারম্ভ থেকে ৬ নম্বর আয়াত পর্যন্ত।

এই আয়াতগুলোতে কিয়ামত সংগঠনের সময় মহাবিশ্বে যে পরিবর্তন ঘটবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: এটি মানুষকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে; তারা হলো: নৈকট্যপ্রাপ্তগণ (المقربون), ডানদিকের দল (أصحاب اليمين) এবং বামদিকের দল (أصحاب الشمال)।

এবং এটি তাদের প্রত্যেকের প্রতিদান বর্ণনা করে; এটি ৭ নম্বর আয়াত থেকে শুরু হয়ে ৬৫ নম্বর আয়াত পর্যন্ত বিস্তৃত।

দ্বিতীয় অধ্যায়:

এটি পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের নিয়ে আলোচনা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিল (الحجة) উপস্থাপন করে। তাদের সাথে বিতর্কে প্রকৃতির সুস্পষ্ট উপাদানসমূহ ব্যবহার করা হয়েছে: শুক্রবিন্দু (النطفة), শস্য (الزرع), পানি ও আগুন।

এগুলো এমন বিষয় যা একজন মরুবাসী মানুষ যেমন উপলব্ধি করতে পারে, তেমনি একজন গবেষক এর রহস্য উদঘাটনে নিজেকে অক্ষম মনে করে। এটিই সেই রহস্য যে, কুরআন নামক একটি কিতাব যা সাধারণ মানুষ (العامة) বিশ্বাস করে, আবার বিশিষ্ট সমাজও (الخواص) এর অধ্যয়নে বিষ্ময়াভিভূত হয়।

এই অধ্যায়টি ৫৭ নম্বর আয়াত থেকে শুরু হয়ে ৭৪ নম্বর আয়াতে শেষ হয়। তৃতীয় অধ্যায়:

এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনুল কারিম অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করে এবং মহাবিশ্বের সাথে কুরআনের যোগসূত্র স্থাপন করে।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
لأن الكون قرآن منثور، والقرآن كونٌ منظوم، وكلاهما يهدى إلى الله.

وثبات نزول القرآن هنا يؤكد هدف السورة وهو الإيمان بالبعث، وهذا الفصل من الآية 57 إلى الآية كنين 83.

الخاتمة:

ثم تأتى الخاتمة وهى ترد العجز على الصدر، وتقسم الناس مرة ثانية إلى أقسام ثلاثة، لتؤكد ما جاء في صدر السورة الكريمة.

ثم تختم السورة بقوله تعالى: (فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ) كأنها تقول: دع الجدل، وسبح باسم ربك العظيم.

هكذا تنسبك الآيات في السورة الكريمة انسباكا بارعاً. لتؤكد عظمة القرآن وإعجازه والله يقول الحق ويهدي وهو السبيل
কারণ মহাবিশ্ব হলো এক বিকীর্ণ কুরআন, আর কুরআন হলো এক সুবিন্যস্ত মহাবিশ্ব; এবং উভয়ই আল্লাহর দিকে পথপ্রদর্শন করে।

আর এখানে কুরআনের অবতরণের (نزول) ধ্রুবতা সূরার মূল উদ্দেশ্যকে সুনিশ্চিত করে, যা হলো পুনরুত্থানের (البعث) প্রতি ঈমান আনয়ন করা। আর এই পরিচ্ছেদটি আয়াত ৫৭ থেকে আয়াত ৮৩ পর্যন্ত বিস্তৃত।

উপসংহার:

অতঃপর উপসংহার আসে যা সূরার শেষাংশকে প্রারম্ভের সাথে সংযুক্ত করে এবং মানুষকে পুনরায় দ্বিতীয়বার তিন ভাগে বিভক্ত করে, যাতে সম্মানিত সূরার প্রারম্ভে যা বর্ণিত হয়েছে তা সুনিশ্চিত করা যায়।

এরপর সূরাটি মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়: (অতএব আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন) যেন এটি বলছে: বিতর্ক বর্জন করো এবং তোমার মহান রবের মহিমা ঘোষণা করো।

এভাবেই সম্মানিত সূরার আয়াতসমূহ অত্যন্ত নিপুণভাবে একে অপরের সাথে গ্রথিত হয়েছে, যাতে কুরআনের মাহাত্ম্য এবং এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) সুনিশ্চিত করা যায়। আর আল্লাহ সত্য বলেন, তিনিই পথপ্রদর্শন করেন এবং তিনিই সঠিক পথ।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المقدمة الكريمة

* حتمية الواقعة (عقليا)

* محكمة التاريخ عاجزة

* متى يبنون جنَّتَهم؟

* لمن هذه الجنة؟

* المسريحية ناقصة

* الضوابط. الضمير. التسامى.

* قانون العقوبات

* لا غنى عن هدى الله كما لا غنى عن رزقه.
সম্মানিত ভূমিকা

* বাস্তবতার অনিবার্যতা (যৌক্তিকভাবে)

* ইতিহাসের আদালত অক্ষম

* তারা কখন তাদের জান্নাত নির্মাণ করবে?

* এই জান্নাত কার জন্য?

* নাটকটি অসম্পূর্ণ

* নীতিমালা। বিবেক। আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা।

* দণ্ডবিধি

* আল্লাহর হিদায়েত ব্যতিরেকে কোনো গত্যন্তর নেই, যেমন তাঁর রিজিক ব্যতিরেকে কোনো উপায় নেই।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

(إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ)

أطلق القرآن اسم الواقعة ضمن الأسماء التي أطلقها على يوم القيامة لأن حتمية وقوعها عقليه، واجتماعية، وأخلاقية، كما أنها حتمية دينية، وسوف أناقش هذه الجوانب في عمق وإيجاز.

‌‌الحتمية العقلية للقيامة:

لا خلاف بين العقلاء في أن المحسن والمسيء لا يستويان، لأن مكافأة المحسن، ومعاقبة المسيء، حتمية عقلية، تقرها الفطرة، ويسلم بها جميع العقلاء.

ونسأل: هل الدنيا من الناحية العقلية تعتبر دار عدل مطلق؟

الواقع: لا.. فنحن نرى كثيرا من المجرمين، ينجحون في ستر أفعالهم، فقد يصل بعضهم إلى التقدير والاحترام في الدنيا بينما يتموت المحسن، ولا ينال جزاء إحسانه (غالبا) ..

وقد تقيد الجرائم ضد مجهول أحيانا لعدم وصولنا إلى معرفة الفاعل..

إنَّ الدنيا ليست بدار عدل مطلق، لأن الجاني يموت، والمجني عليه يموت.. وإن اختلفت صور الموت وأسبابه.. المحسن يموت، المسيء يموت.. الظالم يموت، والمظلوم يموت..

فمتى يصدق قانون العدل المطلق الذي قلنا أنه حتمية عقلية؟
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(যখন সেই অনিবার্য মহাসংঘটনটি ঘটবে)

কুরআন কিয়ামত দিবসের যে নামগুলো নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে ‘আল-ওয়াকিয়াহ’ নামটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ এর সংঘটন বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও নৈতিকভাবে যেমন অনিবার্য, তেমনি এটি ধর্মীয়ভাবেও অবধারিত। আমি এই দিকগুলো গভীর অথচ সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করব।

‌‌কিয়ামতের বুদ্ধিবৃত্তিক অনিবার্যতা:

বিবেকবানদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, সৎকর্মশীল এবং পাপাচারী সমান হতে পারে না। কেননা সৎকর্মশীলকে পুরস্কৃত করা এবং পাপাচারীকে দণ্ডিত করা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অনিবার্যতা, যা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দ্বারা সমর্থিত এবং সকল বিবেকবান ব্যক্তিই এটি স্বীকার করেন।

আমরা প্রশ্ন করি: পার্থিব জগত কি বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরম ন্যায়বিচারের আবাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে?

বাস্তবতা হলো: না। আমরা অনেক অপরাধীকে দেখি যারা তাদের অপকর্ম গোপন রাখতে সফল হয়। ফলে দুনিয়াতে তাদের কেউ কেউ সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে যায়, অথচ অনেক সময় সৎকর্মশীল ব্যক্তি তার সৎকাজের (সাধারণত) কোনো প্রতিদান না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেন।

আবার অনেক সময় অপরাধীর পরিচয় জানতে না পারার কারণে অপরাধগুলো ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

নিশ্চয়ই দুনিয়া পরম ন্যায়বিচারের স্থান নয়, কারণ অপরাধী এবং ভুক্তভোগী—উভয়েই মৃত্যুবরণ করে; যদিও মৃত্যুর ধরন ও কারণ ভিন্ন হতে থাকে। সৎকর্মশীল মারা যায়, পাপাচারীও মারা যায়; জালেম মারা যায় এবং মাজলুমও মারা যায়।

তাহলে পরম ন্যায়বিচারের সেই নীতি কখন বাস্তবায়িত হবে যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক অনিবার্যতা হিসেবে উল্লেখ করেছি?
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌محكمة التاريخ:

قال الماديون: إن محكمة العدل المطلق هي (محكمة التاريخ) وما يترتب عليها من امتداح الأجيال للمحسن، ولعنها للمسيء. وهذا يكفي في الجزاء.

أقول: إن (محكمة التاريخ) قاصرة عن تحقيق العدل المطلق.

لأن التاريخ لا يحاكم إلا العظماء، والحكام.

فمن يحاكم بقية الناس؟!

وأسأل الماديين الملاحدة: هل يشعر الميت بمدح الناس له؟ أو بلعنهم إياه بعد موته؟

إن قالوا: لا، قلنا لهم: فما قيمة المحاكمة؟

قال الشاعر:

لقد أسمعت لو ناديت حيًّا … ولكن لا حياةَ لمن تنادي

وإن قالوا: إن الميت يشعر. فهم بذلك يهدمون نظريتهم، ويثبتون الحياة والشعور بعد الموت. (فمحكمة التاريخ) خرافة، وما أكثر الذين ظلمهم التاريخ.

‌‌جنة على الأرض:

قالوا: سنبني جنة على الأرض، نستغني بها عن جنة المؤمنين بالله.

تعجبت.. وقلت لهم. متى تبدأون البناء؟! إن كل شيء يسعد البشرية نباركة نحن المسلمين.

قالوا: إذا استطاع العلم أن ينتصر على الثلاثي المخيف: الفقر، والموت، والطبقية. فإنه بذلك سوف يبنى جنة على الأرض.. قلت لهم:
ইতিহাসের আদালত:

বস্তুবাদীরা বলে: পরম ন্যায়বিচারের আদালত হলো (ইতিহাসের আদালত) এবং এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মগুলো সৎকর্মশীলদের প্রশংসা করে আর পাপাচারীদের অভিশাপ দেয়। প্রতিদান বা শাস্তি হিসেবে এটাই যথেষ্ট।

আমি বলি: (ইতিহাসের আদালত) পরম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অক্ষম।

কারণ ইতিহাস কেবল মহান ব্যক্তি এবং শাসকদেরই বিচার করে থাকে।

তাহলে সাধারণ বাকি মানুষের বিচার কে করবে?!

আমি নাস্তিক বস্তুবাদীদের কাছে প্রশ্ন করি: একজন মৃত ব্যক্তি কি তার প্রতি মানুষের করা প্রশংসা অনুভব করতে পারে? অথবা তার মৃত্যুর পর তাদের দেওয়া অভিশাপ কি সে অনুভব করতে পারে?

যদি তারা বলে: না, তবে আমরা তাদের বলব: তাহলে এই বিচারের সার্থকতা কোথায়?

কবি বলেছেন:

তুমি যদি কোনো জীবিতকে ডাকতে তবে অবশ্যই শোনাতে পারতে … কিন্তু তুমি যাকে ডাকছ তার তো প্রাণই নেই

আর যদি তারা বলে: মৃত ব্যক্তি তা অনুভব করতে পারে, তবে এর মাধ্যমে তারা তাদের নিজেদের মতবাদকেই ধূলিসাৎ করে ফেলল এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবন ও অনুভূতিকে স্বীকার করে নিল। সুতরাং (ইতিহাসের আদালত) একটি অলীক কল্পনা মাত্র, আর ইতিহাসে কত মানুষই না অন্যায়ের শিকার হয়েছে।

‌পৃথিবীতে জান্নাত:

তারা বলল: আমরা পৃথিবীতেই এক জান্নাত নির্মাণ করব, যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহতে বিশ্বাসীদের জান্নাতের প্রয়োজনীয়তা কাটিয়ে উঠব।

আমি বিস্মিত হলাম.. এবং তাদের বললাম: আপনারা কবে থেকে এই নির্মাণ কাজ শুরু করবেন?! মানবজাতির জন্য কল্যাণকর প্রতিটি বিষয়কে আমরা মুসলিমরা স্বাগত জানাই।

তারা বলল: বিজ্ঞান যখন তিনটি ভয়াবহ শত্রু—দারিদ্র্য, মৃত্যু এবং শ্রেণীবৈষম্যের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবে, তখনই এর মাধ্যমে পৃথিবীতে জান্নাত নির্মিত হবে.. আমি তাদের বললাম:
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২১)
لا بأس بالقوم من طول ومن قصر … أجسام البغال وأحلام العصافير

‌‌متى ينتصر العلم على الفقر؟..

أن المذاهب المادية، نجحت نجاحا عظيما في إفقار الأغنياء، ولكنها لم تنجح فيه إغناء الفقراء..

وأسألهم: متى ينتصر العلم على الموت؟

إن العلم حتى الآن لا يعرف لماذا نموت.

وكل النظريات العلمية التي حاولت معرفة سبب الموت، لم تسلم من الطعون.

وإذا كان العلم لم يعرف حتى الآن ما هي الروح، فكيف يمكنه العمل على بقاءها؟!

إن المشاهد في جميع أوساط العلم أن كل (مليون شخص) يموت منهم (مليون شخص) وهي النسبة نفسها التي كانت في العصر الحجري.

وطبيب أمراض القلب الذي سافر لإلقاء بحوثه القيمة، في سبب الموت (بالسكتة القلبية) مات في وسط المؤتمر (بالسكتة القلبية) .

فمتى ينتصر العلم على الموت، ليقيم للماديين الملاحدة جنة الخلود على الأرض؟ ومتى يتحرر هذا العالم من خداع الشعارات؟

‌‌لمن هذه الجنة؟

ولو فرضنا أنهم نجحوا في إقامة المجتمع السعيد، والجنة المزعومة على الأرض.. من سيدخل فيها؟ ومن سينعم بها؟

هل سيدخلها الذين عصرها، وحضروا حفل افتتاحها فقط؟

أم ستدخلها كل الأجيال التي عذبها الفقر، والموت، والطبقية؟ ولكن أعمارهم لم تمهلهم ليسعدوا بهذه الجنة المزعومة.
লোকদের দীর্ঘ বা খর্বকায় হওয়ার মাঝে কোনো সমস্যা নেই … তবে তাদের শরীর যদি হয় খচ্চরের ন্যায় আর বুদ্ধি হয় চড়ুইয়ের ন্যায় সংকীর্ণ (তবেই বিপদ)।

‌‌বিজ্ঞান কখন দারিদ্র্যের ওপর জয়লাভ করবে?..

বস্তুবাদী মতাদর্শগুলো ধনীদের দরিদ্র করার ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে, তবে দরিদ্রদেরকে সচ্ছল করার ক্ষেত্রে তা সফল হতে পারেনি।

আর আমি তাদের জিজ্ঞেস করি: বিজ্ঞান কখন মৃত্যুর ওপর জয়লাভ করবে?

বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত জানে না যে আমরা কেন মারা যাই।

মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের চেষ্টাকারী সকল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বই আপত্তি (الطعون) হতে মুক্ত হতে পারেনি।

আর বিজ্ঞান যখন এখন পর্যন্ত এটাই জানতে পারেনি যে রূহ (আত্মা) আসলে কী, তবে সেটি রূহের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কীভাবে কাজ করতে পারে?!

বিজ্ঞান জগতের সর্বত্র এটাই পর্যবেক্ষণ (المشاهد) করা যায় যে, প্রতি (দশ লক্ষ মানুষের) মধ্যে (দশ লক্ষ মানুষই) মারা যায়; আর এটি সেই একই অনুপাত যা প্রস্তর যুগেও বিদ্যমান ছিল।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সেই চিকিৎসক যিনি (হৃদরোগে) মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তার মূল্যবান গবেষণা উপস্থাপনের জন্য সফর করেছিলেন, তিনি খোদ সেই সম্মেলনের মাঝখানেই (হৃদরোগে) আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

সুতরাং বিজ্ঞান কখন মৃত্যুর ওপর জয়লাভ করবে, যাতে সে বস্তুবাদী নাস্তিকদের জন্য পৃথিবীতে এক চিরন্তন স্বর্গ প্রতিষ্ঠিত করতে পারে? আর এই বিশ্ব সমাজ কখন স্লোগানের প্রতারণা থেকে মুক্তি পাবে?

‌‌এই স্বর্গ কার জন্য?

আর আমরা যদি ধরেও নিই যে, তারা পৃথিবীতে একটি সুখী সমাজ এবং তথাকথিত (المزعومة) স্বর্গ গড়ে তুলতে সফল হয়েছে.. তবে সেখানে কারা প্রবেশ করবে? আর কারাই বা এর নেয়ামত ভোগ করবে?

সেখানে কি কেবল তারাই প্রবেশ করবে যারা সেই যুগে বসবাস করবে এবং কেবল এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে?

নাকি সেই সকল প্রজন্মও প্রবেশ করবে যাদেরকে দারিদ্র্য, মৃত্যু ও শ্রেণি বৈষম্য ক্লিষ্ট করেছে? অথচ তাদের আয়ু তাদের অবকাশ দেয়নি যেন তারা এই তথাকথিত (المزعومة) স্বর্গের সুখ উপভোগ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২২)
وهل من العدل المطلق أن تعذب آلاف الأجيال بلا مقابل ليسعد جيل واحد وهو الجيل الذي حضر حفل افتتاح هذه الجنة؟..

إنَّ الاستخفاف بالعقل الجمعي، ومحاولة تنمية خيالات المراهقين للاستفادة منهم وترويج شعارات (الخبز للجميع) ، (إقامة المجتمع السعيد) ، (العامل سيد المجتمع) وغيرها من الشعارات الجوفاء التي تتلاشى عند التنفيذ، هو الذي مكان للفكر المادي في بلاد الله، وسوف تصحوا هذه الشعوب على صوت الحقيقة فتخمدها سياط الجلادين.. فالسياط وحدها هي التي تحمي دعاة المادية وتحاول تثبيت أقدامهم.

وبعد.. إن (محكمة التاريخ) لا تيقم مجتمع العدل المطلق، وجنة الماديين أوهام، وأحلام يقظة، فأين يتحقق العدل المطلق؟

‌‌احتمالات ثلاثة:

هناك احتمالات ثلاثة أذكرها بعد ضرب مثال بسيط..

لو شاهدنا مسرحية بوليسية ورأينا أن مجرما استطاع أن يقهر الناس، ويستولي على أموالهم، ويسفك دماءهم، ثم أُسدِل الستارُ على هذا المجرم، قبل أن يقع في يد العدالة.. فماذا يكون تفسيرنا لهذه المسرحية؟

لا شك أن أي تفسير لا يخرج عن واحد من ثلاثة:

1 - أن تكون هذه المسرحية هازلة تهدف إلى قتل الوقت فقط.

2 - تكون مسرحية عابثة، تهدف إلى إشاعة الجريمة.

3 - أن تكون المسرحية ناقصة، فينتظر المشاهدون فصلا آخر، ليعرفوا مصير المجرم، ويشاهدوا جزاءه.
আর হাজার হাজার প্রজন্মকে কোনো প্রতিদান ছাড়াই শাস্তি দেওয়া এবং মাত্র একটি প্রজন্মকে সুখী করা—যে প্রজন্মটি এই জান্নাতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল—তা কি পরম ন্যায়বিচারের পরিপন্থী নয়?..

প্রকৃতপক্ষে, সমষ্টিগত বুদ্ধিবৃত্তিকে অবজ্ঞা করা এবং কিশোর-তরুণদের কল্পনাকে পুঁজি করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা এবং 'সবার জন্য অন্ন', 'সুখী সমাজ গঠন', 'শ্রমিকই সমাজের অধিপতি'—এ জাতীয় অন্তঃসারশূন্য শ্লোগান প্রচার করা, যা বাস্তবায়নের সময় বিলীন হয়ে যায়; মূলত এ বিষয়গুলোই আল্লাহর জমিনে বস্তুবাদী চিন্তাধারার স্থান করে দিয়েছে। অচিরেই এই জাতিগুলো সত্যের আহবানে জেগে উঠবে, কিন্তু জল্লাদদের চাবুক তাদের স্তব্ধ করে দেবে। কেননা, কেবল চাবুকই বস্তুবাদে বিশ্বাসীদের রক্ষা করে এবং তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

অতঃপর... নিশ্চিতভাবেই 'ইতিহাসের আদালত' পরম ন্যায়বিচারের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না এবং বস্তুবাদীদের জান্নাত হলো নিছক বিভ্রম ও দিবাস্বপ্ন। তাহলে পরম ন্যায়বিচার কোথায় বাস্তবায়িত হবে?

‌‌তিনটি সম্ভাবনা:

একটি সাধারণ উদাহরণ দেওয়ার পর আমি তিনটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করছি..

আমরা যদি একটি গোয়েন্দা নাটক দেখি যেখানে দেখা যায় যে, একজন অপরাধী মানুষকে দমন করছে, তাদের সম্পদ দখল করছে এবং রক্তপাত ঘটাচ্ছে; অতঃপর ন্যায়বিচারের হাতে ধরা পড়ার আগেই সেই অপরাধীর ওপর যবনিকা বা নাটকের পর্দা নেমে আসে—তবে এই নাটক সম্পর্কে আমাদের ব্যাখ্যা কী হবে?

নিঃসন্দেহে যেকোনো ব্যাখ্যা এই তিনটির একটির বাইরে যাবে না:

১ - এই নাটকটি হতে পারে একটি কৌতুকপূর্ণ প্রহসন, যার উদ্দেশ্য কেবল সময় অপচয় করা।

২ - এটি হতে পারে একটি লক্ষ্যহীন নাটক, যার উদ্দেশ্য অপরাধ প্রবণতা ছড়িয়ে দেওয়া।

৩ - অথবা নাটকটি হতে পারে অপূর্ণাঙ্গ, ফলে দর্শকরা পরবর্তী অংকের অপেক্ষায় থাকবে যাতে তারা অপরাধীর পরিণতি জানতে পারে এবং তার শাস্তি প্রত্যক্ষ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الاحتمال الأول:

ذهب فلاسفة الغرب والشرق الملحد إلى الاحتمال الأول، وتصوروا أن الدنيا مسرحية هزلية.

وسبب هذا التصورت بأنها متكاملة، ولم يربطوا بينها وبين الآخرة.

ونحن المسلمون، نرفض هذا التصور، رفضاً مطلقاً، لأن إيماننا بكمال الله، يمنع من نسبة الهزل إليه سبحانه والقرآن الكريم قد وضح هذا الأمر، قال تعالى: (وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ (16) لَوْ أَرَدْنَا أَنْ نَتَّخِذَ لَهْوًا لَاتَّخَذْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا إِنْ كُنَّا فَاعِلِينَ)

فهو سبحانه ليس لاعبا بخلق الكون. ولو أراد مدبر الكون أن يعبث حاش لله فلن يعبث بمشاعرنا. لأنه خلق البشر، وخلق لهم المشاعر، ليتعرفوا على كرمه، فيعبدوه حبًّا، ويقدسوه إجلالا.

(لَوْ أَرَدْنَا أَنْ نَتَّخِذَ لَهْوًا لَاتَّخَذْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا)

أي من عندنا، بعيدا عن مشاعركم، ومصائركم، ولكن الله سبحانه منزه عن ذلك علوا كبيراً، لذلك قال: (إِنْ كُنَّا فَاعِلِينَ)

والآية الكريمة ترد على دعوة الذين يتصورون الدنيا مسرحية هازلة، أو مسرحية الفصل الواحد.

الاحتمال الثاني:

هل يستوي الظالم والمظلوم؟

الدارس للقرآن الكريم، يدرك أن استواء الظالم والمظلوم في الموت ليس اتحادا لمصيرهم. لأن الموت بداية لمحكمة العدل المطلق، قال تعالى:
প্রথম সম্ভাবনা:

পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের নাস্তিক দার্শনিকগণ এই প্রথম সম্ভাবনার দিকে গিয়েছেন এবং তারা কল্পনা করেছেন যে, পৃথিবী একটি কৌতুকপূর্ণ নাটক।

এই ধারণার কারণ হলো, তারা দুনিয়াকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করেছে এবং এর সাথে পরকালের কোনো সম্পর্ক স্থাপন করেনি।

আর আমরা মুসলিমরা এই কল্পনাকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করি; কেননা আল্লাহর পূর্ণতার প্রতি আমাদের বিশ্বাস তাঁর দিকে কোনো খেল-তামাশা আরোপ করতে বাধা দেয়। পবিত্র কুরআন এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, মহান আল্লাহ বলেন: “আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুটির মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা খেলার ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি যদি খেল-তামাশা গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমি তা আমার নিজের পক্ষ থেকেই করতাম, যদি আমাকে তা করতে হতো।”

তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মহাবিশ্ব সৃষ্টির মাধ্যমে খেলছেন না। আর মহাবিশ্বের ব্যবস্থাপক যদি খেল-তামাশা করতে চাইতেন—আল্লাহ তা থেকে পবিত্র—তবে তিনি আমাদের অনুভূতি নিয়ে খেলতেন না। কেননা তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মাঝে অনুভূতি দিয়েছেন যেন তারা তাঁর বদান্যতা সম্পর্কে অবগত হতে পারে, অতঃপর ভালোবাসার সাথে তাঁর ইবাদত করে এবং শ্রদ্ধার সাথে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে।

(আমি যদি খেল-তামাশা গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমি তা আমার নিজের পক্ষ থেকেই করতাম)

অর্থাৎ আমাদের নিকট থেকে, যা তোমাদের অনুভূতি ও গন্তব্য থেকে অনেক দূরে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এ থেকে বহু ঊর্ধ্বে ও পবিত্র, তাই তিনি বলেছেন: “যদি আমাকে তা করতে হতো।”

এই মহিমান্বিত আয়াতটি তাদের দাবির অসারতা প্রমাণ করে যারা দুনিয়াকে একটি তামাশাপূর্ণ নাটক বা কেবল এক অংকের নাটক হিসেবে কল্পনা করে।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা:

অত্যাচারী ও অত্যাচারিত কি সমান হতে পারে?

পবিত্র কুরআনের গবেষক মাত্রই উপলব্ধি করেন যে, মৃত্যুতে অত্যাচারী ও অত্যাচারিতের সমান হওয়া তাদের পরিণতির সমতা নয়। কারণ মৃত্যু হলো পরম ন্যায়বিচারের আদালতের সূচনা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
(أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ (35) مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ) وقال تعالى: (أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ نَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءً مَحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ)

إن استواء الناس في الموت ليس هدما لقاعدة العدل المطلق ولكنه بداية لها.

إنَّ الله الذي خلق الناس إله عادل.

وإذا كانت موازين الدنيا ترفع النخال فوق الدقيق، فإن الله لن يجعل فاعل الخير، وفاعل الشر على حدٍّ سواء في الحياة والموت.

إنَّ في السماء محكمة عأدلة: (وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ)

الاحتمال الثالث:

إن احتمال نقص المسرحية فصلا، يتحقق فيه الجزاء العادل، وهو أقرب الاحتمالات، قال تعالى: (وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ)

وقال تعالى: (وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ)

إن الدنيا مسرحية ناقصة.. والآخرة هى الفصل المتمم، والأمل المنتظر، والحقيقة الواقعة.

‌‌السلوك والضوابط:

سلوك الناس بحاجة إلى ضوابط، تحفظ عليهم عفتهم وإنسانيتهم.
(আমি কি মুসলিমদেরকে অপরাধীদের সমান করে দেব? (৩৫) তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কীভাবে বিচার করছ?) এবং মহান আল্লাহ বলেন: (নাকি যারা মন্দ কাজ করেছে তারা মনে করে যে, আমি তাদের সেইসব লোকের মতো গণ্য করব যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, এবং তাদের জীবন ও মৃত্যু সমান হবে? তাদের ফয়সালা কতই না মন্দ।)

মৃত্যুর ক্ষেত্রে মানুষের এই সমাবস্থা পরম ন্যায়পরায়ণতার (عدل) মূলনীতির কোনো বিনাশ নয়, বরং এটি তার সূচনা মাত্র।

নিশ্চয়ই আল্লাহ, যিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি এক ন্যায়পরায়ণ (عادل) উপাস্য।

দুনিয়ার তুলাদণ্ড যদি তুষকে ময়দার ওপরে স্থান দেয়, তবে আল্লাহ কস্মিনকালেও জীবন ও মরণ উভয় ক্ষেত্রে সৎকর্মশীল ও মন্দকর্মশীলকে সমান সাব্যস্ত করবেন না।

নিশ্চয়ই আসমানে এক ন্যায়নিষ্ঠ (عادلة) আদালত রয়েছে: (আর যারা জুলুম করেছে তারা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কোথায় হবে।)

তৃতীয় সম্ভাবনা:

জীবন নাট্যের একটি অধ্যায় অসম্পূর্ণ থাকার সম্ভাবনা, যেখানে যথার্থ প্রতিদান (عادل) বাস্তবায়িত হবে; আর এটিই বাস্তবতার সবচেয়ে নিকটবর্তী সম্ভাবনা। মহান আল্লাহ বলেন: (কিয়ামতের দিন আমি ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না। যদি তা সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব; আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমিই যথেষ্ট।)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: (আর তুমি কখনো মনে করো না যে, জালিমরা যা করছে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। তিনি তো তাদের সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, যেদিন চক্ষুসমূহ আতঙ্কে স্থির হয়ে থাকবে।)

নিশ্চয়ই দুনিয়া এক অপূর্ণাঙ্গ নাট্যমঞ্চ.. আর আখিরাত হলো তার পূর্ণতাদানকারী অধ্যায়, প্রত্যাশিত আশা এবং ধ্রুব সত্য।

‌‌আচরণ ও নীতিমালা (ضوابط):

মানুষের আচরণের জন্য কতিপয় নীতিমালা (ضوابط) প্রয়োজন, যা তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা ও মানবতাকে রক্ষা করবে।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولو درسنا سلوك الحيوان، لوجدنا أن الله سبحانه خلق له صمامات عضوية تحدد الحاجة، والإشباع. فأنثى الحيوان تستغنى عن الذكر بمجرد حدوث الحمل.

أما الإنسان فقد خلا تكوينه العضوي من مثل هذه الصمامات فلا بد من ضوابط عقلية، ومعنوية، وإلا كان الإنسان أحط درجة من الحيوان..

فما هى هذه الضوابط؟

هل يترك لنداء الضمير؟

أو يحاول التسامي الفلسفى؟

أو نتركه لقانون العقوبات؟

وسوف نناقش هذه الأمور الثلاثة في إيجاز..

‌‌الضمير البشري:

عرف الإسلام الضمير البشري، وقدر رسالته، في حياة الإنسان وأطلق عليه القرآن: (بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ)

وبلغ من شرفها، أن الله سبحانه أقسم بها في القرآن الكريم، قال تعالى: (لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ (1) وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ)

ولكن الذي يعنينى هنا، هل يكفي الضمير البشري في زجر الإنسان؟ وهل يغني الضمير عن عقيدة البعث؟

قلت في كتابى (هذا نبيك يا ولدي) ص 23 ط 2: إن الدعوة إلى إحلال الضمير الأخلاقي، محل عقيدة البعث، فكرة ابتدعها علماء الاجتماع في أوروبا عندما ثارت أوروبا على الكنيسة، ورجالها، ولاحظوا أن الشباب ينطلق بلا ضوابط وأن مستقبله في خطر.

ولكن الضمير الأخلاقي مع أهميته لا يعني أبدا أن نستغني عن الآخرة، لأن الضمير الأخلاقي يتأثر في تكوينه بالبيئة التي يتربى فيها
আমরা যদি প্রাণীর আচরণ নিয়ে গবেষণা করি, তবে দেখতে পাব যে মহান আল্লাহ তাদের জন্য জৈবিক নিয়ন্ত্রক সৃষ্টি করেছেন যা তাদের প্রয়োজন ও পরিতৃপ্তিকে সুনির্দিষ্ট করে দেয়। মাদী প্রাণী গর্ভধারণ করার সাথে সাথেই পুরুষ প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়।

কিন্তু মানুষের জৈবিক গঠন এই ধরণের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রক থেকে মুক্ত; তাই মানুষের জন্য বুদ্ধিভিত্তিক ও নৈতিক নিয়মনীতি অপরিহার্য। অন্যথায় মানুষ পশুর চেয়েও নিম্নতর স্তরে পর্যবসিত হতো।

তাহলে এই নিয়ন্ত্রণ বিধিগুলো কী?

একে কি বিবেকের ডাকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে?

নাকি সে দার্শনিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা করবে?

নাকি আমরা একে দণ্ডবিধির ওপর ছেড়ে দেব?

আমরা সংক্ষেপে এই তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

‌‌মানব বিবেক:

ইসলাম মানব বিবেককে শনাক্ত করেছে এবং মানুষের জীবনে এর গুরুত্ব মূল্যায়ন করেছে। কুরআন একে ‘নফসে লাউওয়ামা’ (তিরস্কারকারী আত্মা) বলে অভিহিত করেছে।

এর মর্যাদা এতটাই অধিক যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এর শপথ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি কিয়ামত দিবসের শপথ করছি এবং শপথ করছি সেই নফসে লাউওয়ামার (তিরস্কারকারী আত্মা)।”

তবে আমার এখানে আলোচ্য বিষয় হলো, মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে কি কেবল মানব বিবেকই যথেষ্ট? আর পুনরুত্থানের আকিদার পরিবর্তে কি কেবল বিবেকই যথেষ্ট হতে পারে?

আমি আমার ‘হাযা নাবিয়্যুকা ইয়া ওয়ালাদি’ গ্রন্থের ২৩ পৃষ্ঠা (২য় সংস্করণ)-এ উল্লেখ করেছি: পুনরুত্থানের আকিদার স্থলে নৈতিক বিবেককে প্রতিস্থাপনের যে আহ্বান, তা মূলত ইউরোপের সমাজবিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। এটি তখন সূচিত হয়েছিল যখন ইউরোপ গির্জা ও যাজকতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল এবং তারা লক্ষ্য করেছিল যে তরুণ প্রজন্ম কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বল্গাহীন হয়ে পড়ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে চলেছে।

তবে নৈতিক বিবেকের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হলেও এর অর্থ এই নয় যে, আমরা পরকাল থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যাব; কারণ নৈতিক বিবেক তার গঠনপ্রক্রিয়ায় সেই পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয় যেখানে সে লালিত-পালিত হয়।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
كما يتأثر بلون الثقافة التي يلم بها صاحبه والمذهب الاقتصادي والاجتماعي الذي ينتمي إليه.

فالمسلم يتمزق من الأسى، عندما يتذكر لحظة ضعف في شبابه شرب فيها كأسا من الخمر بينما يشعر غيره بنشوة عندما يتذكر مثل هذا اليوم. لأنه تربى في مجتمع يبيح الخمر وكم يرتاح المسلم عندما يقسم تركة ميت، حسب الشريعة الإسلامية الغراء بينما يثور الشيوعي لمثل هذا العمل، لأنه يرى ذلك تفتيتاً للتركة، ويجهل هذا المادي أن الإسلام عندما حكم بتقسيم التركة وتفتيتها، أراد من كل وارث أن يستأنف العمل، لإعادة تكوينها، والأمم تبنيها الأيدي العاملة.

فالضمير البشري مع أهميته في حياتنا لا يغني عن رسالات الله، وعقيدة البعث.

وقد سيطرت فكرة الاكتفاء بالضمير الأخلاقي في العديد من مجالات التنمية حتى تسربت إلى الكثير من المساجد، فعشنا سنين طوال، لا نكاد نسمع ذكر الجنة والنار، في المواعظ والخطب، فقد قال لي أحد أساتذة الدين الإسلامي، بالجامعات العربية: أنه ناقش رسالة علمية في العقائد، فلم يجد فيها ذكرا للجنة والنار، وقد انعكس هذا الإهمال المتعمد على سلوك الكثير من المسلمين.. الذين نظموا أعمالهم في الدنيا بمعزل عن عقيدة الآخرة..

وعلي كل مصلح أن يعيد النظر فيما يقدم للشباب.

‌‌التسامي الفلسفي:

دعوة جديدة يُراد إحلالها محل عقيدة الآخرة، وأول ما يوجه لها من نقض أنها دعوة خاصة، فليس كل الناس فلاسفة. وقضية الحاجة إلى الضوابط السلوكية، قضية عامة.

من ناحية أخرى فنحن نرى نتائج الفلسفة المعاصرة أضل أتباعه وما هدي..
তেমনি এটি তার ধারক যে সংস্কৃতির সাথে পরিচিত তার রং এবং সে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মতাদর্শের অনুসারী তার দ্বারা প্রভাবিত হয়।

একজন মুসলিম যখন তার যৌবনের এমন কোনো দুর্বল মুহূর্তের কথা স্মরণ করে যেখানে সে এক পেয়ালা মদ পান করেছিল, তখন সে দুঃখে ভেঙে পড়ে; পক্ষান্তরে অন্য কেউ যখন এমন দিনের কথা মনে করে, তখন সে এক ধরনের রোমাঞ্চ অনুভব করে। কারণ সে এমন এক সমাজে বড় হয়েছে যা মদ পানকে বৈধতা দেয়। আর একজন মুসলিম যখন গৌরবোজ্জ্বল ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোনো মৃতের উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টন করে, তখন সে কতটা প্রশান্তি লাভ করে! অথচ একজন সমাজতন্ত্রী এই ধরণের কাজের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে; কারণ সে বিষয়টিকে সম্পদের খণ্ডবিখণ্ডকরণ হিসেবে দেখে। এই বস্তুবাদী ব্যক্তি জানে না যে, ইসলাম যখন উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টন ও খণ্ডবিখণ্ড করার বিধান দিয়েছে, তখন তা প্রতিটি উত্তরাধিকারীর কাছ থেকে নতুন করে কাজ শুরু করার দাবি রাখে যাতে তা পুনরায় গঠন করা যায়; আর জাতিসমূহ গড়ে ওঠে শ্রমজীবী মানুষের হাতের ছোঁয়ায়।

সুতরাং মানুষের বিবেক আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তা আল্লাহর প্রেরিত বার্তাসমূহ এবং পুনরুত্থানের আকিদার বিকল্প হতে পারে না।

উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেবল নৈতিক বিবেকের ওপর নির্ভর করার ধারণাটি এমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে যে, তা অনেক মসজিদেও প্রবেশ করেছে। ফলে আমরা দীর্ঘ বছর ধরে এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করছি যে, ওয়াজ এবং খুতবাগুলোতে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা শোনাই যায় না। আরব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইসলামি শিক্ষা বিষয়ের একজন অধ্যাপক আমাকে বলেছেন যে, তিনি আকিদা বিষয়ক একটি গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করেছেন, কিন্তু তাতে জান্নাত ও জাহান্নামের কোনো উল্লেখ পাননি। এই ইচ্ছাকৃত অবহেলার প্রতিফলন ঘটেছে অনেক মুসলিমের আচরণের ওপর, যারা পরকালের আকিদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের পার্থিব কাজগুলোকে পরিচালনা করেছে।

প্রত্যেক সংস্কারকের উচিত তরুণদের কাছে তিনি কী উপস্থাপন করছেন সে বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা।

দার্শনিক উৎকর্ষ:

এটি একটি নতুন আহ্বান যাকে পরকালের আকিদার স্থলাভিষিক্ত করার ইচ্ছা করা হয়েছে। এর খণ্ডনে প্রথম কথা হলো—এটি একটি বিশেষায়িত আহ্বান, কারণ সব মানুষ তো আর দার্শনিক নয়। অথচ আচরণগত শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা একটি সার্বজনীন বিষয়।

অন্যদিকে, আমরা সমকালীন দর্শনের ফলাফল দেখতে পাই যে, এটি তার অনুসারীদের পথভ্রষ্ট করেছে এবং কোনো সঠিক পথ দেখায়নি।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
إن العالم حائر. وما زادته المبادئ الأرضية إلا بُعداً. لقد عجزت هذه المبادئ عن جمع أهل البيت الواحد على فكرة واحدة فكيف تجمع هذه المبادئ العالم الممزق وتوحد كلمته؟!

وأي الفلسفات المعاصرة يمكنها أن تضبط سلوك البشر؟

الشيوعية: ذئب يلبس ثوب حمل، فإذا دخل القطيع فعل به ما يريد، ولولا الجلادون من الحكام لماتت في المهد.

الوجودية. إثارة للأنية الفردية، وسلب لبقايا الفضيلة الدرونية: تفسير للنشأة بغير دليل.

والذين يدافعون عنها يعلمون ذلك، ولكنهم يؤمنون بها، لأن البديل الوحيد عنها هو الإيمان بالله خالقاً، وهم يكرهون الإيمان بالله.

الفرويدية: استقراء ناقص، درس فرويد بعض الشواذ، والمرضى، ثم وضع نظرية عامة روجها الإعلام العالمي، ليمكن للصهيونية في الأرض.

ولست بصدد تتبع هذه الفلسفات، فالدارس لها لا يختلف معي في أن نتاجها، أضل العالم، وما هدي.

فكيف يطلب منها وضع ضوابط سلوكية، يستغنى بها الناس عن عقيدة البعث والجزاء.

‌‌قانون العقوبات:

قانون العقوبات عاجز أيضا عن سَدِّ فراغ النفس، إذا خلت من الإيمان بالآخرة.. فالقانون يطبقه الحكام على الرعية، فأيُّ شيء يمنع الحاكم من فعل ما يريد؟

القانون وإن كان حازما فإنه لا يحاسب، ولا يعاقب، إلا من وقع تحت طائلته. بينما نرى كثير من الذين يجرمون، يجيدون خداع القانون، والإفلات من عقوبته.

والقانون يعاقب على الجرائم بعد وقوعها، أما عقيدة الإيمان فتعمل على منع الجرائم قبل وقوعها، فالحاجة إلى الإيمان اليوم
নিশ্চয়ই বিশ্ব আজ বিভ্রান্ত। আর পার্থিব মতবাদগুলো তাকে সত্য থেকে কেবল দূরত্বই বৃদ্ধি করে দিয়েছে। এই মতবাদগুলো যেখানে একই ঘরের অধিবাসীদের একটি একক চিন্তায় ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে এই মতবাদগুলো কীভাবে এই ছিন্নভিন্ন বিশ্বকে একত্রিত করবে এবং তাদের লক্ষ্যকে অভিন্ন করবে?!

আর সমসাময়িক দর্শনগুলোর মধ্যে কোনটি মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম?

কমিউনিজম (সাম্যবাদ): এটি মেষশাবকের ছদ্মবেশধারী এক নেকড়ে; সে যখন পালের মধ্যে প্রবেশ করে, তখন সে যা ইচ্ছে তাই করে। আর যদি শাসকবর্গের জল্লাদরা না থাকত, তবে এটি সূচনালগ্নেই নিঃশেষ হয়ে যেত।

অস্তিত্ববাদ (Existentialism): এটি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের প্ররোচনা এবং মানুষের অভ্যন্তরীণ সদ্গুণের অবশিষ্টাংশের বিলুপ্তি। এটি সৃষ্টিতত্ত্বের এমন এক ব্যাখ্যা যার কোনো প্রমাণ নেই।

আর যারা এর পক্ষে সাফাই গায় তারা বিষয়টি জানে, কিন্তু তবুও তারা এতে বিশ্বাস রাখে; কারণ এর একমাত্র বিকল্প হলো স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহর প্রতি ঈমান (الإيمان) স্থাপন করা, আর তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান (الإيمان) আনাকে ঘৃণা করে।

ফ্রয়েডবাদ (Freudianism): এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ আরোহী পদ্ধতি। ফ্রয়েড কিছু অস্বাভাবিক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন, এরপর একটি সাধারণ তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছেন যা বিশ্ব মিডিয়া প্রচার করেছে, যেন পৃথিবীতে জায়নবাদের পথ প্রশস্ত করা যায়।

আমি এই দর্শনগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণে প্রবৃত্ত নই; কেননা এদের নিয়ে যারা অধ্যয়ন করেন তারা আমার সাথে একমত হবেন যে, এদের ফসল বিশ্বকে পথভ্রষ্টই করেছে, সঠিক পথ দেখায়নি।

সুতরাং কীভাবে এদের কাছে এমন আচরণগত বিধিবিধান প্রত্যাশা করা যায়, যার মাধ্যমে মানুষ পুনরুত্থান (البعث) ও প্রতিফল (الجزاء) সম্পর্কিত আকিদা (العقيدة) বা বিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত থাকতে পারে?

‌‌দণ্ডবিধি (قانون العقوبات):

দণ্ডবিধিও (قانون العقوبات) আত্মার শূন্যতা পূরণে অক্ষম, যদি তা পরকাল (الآخرة) বিশ্বাসের চেতনা থেকে রিক্ত থাকে। আইন শাসকরা প্রজাদের ওপর প্রয়োগ করেন; তবে শাসককে তার খুশিমতো কাজ করা থেকে কোন জিনিসটি বিরত রাখবে?

আইন যদিও কঠোর হয়, তবুও তা কেবল তার আওতাধীন ব্যক্তিকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনে বা শাস্তি প্রদান করে। পক্ষান্তরে আমরা দেখি অপরাধীদের অনেকেই আইনের সাথে প্রতারণা করতে এবং এর শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে পারদর্শী।

আর আইন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তার দণ্ড প্রদান করে, কিন্তু বিশ্বাসের আকিদা (عقيدة الإيمان) অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তা দমনে কাজ করে। তাই আজ ঈমানের (الإيمان) প্রয়োজনীয়তা...
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
لا تقل عن حاجة الإنسانية إليه طوال التاريخ. ولم يغن عنه الضمير الأخلاقي، أو التسامي الفلسفي، أو قانون العقوبات شيئا.

إنَّ الناس بحاجة إلى هدى الله كحاجتهم إلى رزقه، وكل دعوة لإفراغ الدين من نفوس الناس، دعوة عاجزة، لأن التدين فطرة، والإيمان بالآخرة إيمان بالحقيقة المجردة..

(وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ)
ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় এর প্রতি মানবজাতির প্রয়োজনীয়তা সামান্যতমও হ্রাস পায়নি। নৈতিক বিবেক, দার্শনিক উৎকর্ষ কিংবা দণ্ডবিধি—এর কোনোটিই এর অভাব মোচনে বিন্দুমাত্র যথেষ্ট হয়নি।

নিশ্চয়ই আল্লাহর হিদায়াতের প্রতি মানুষের মুখাপেক্ষিতা ঠিক তেমনই, যেমন রয়েছে তাঁর রিজিকের প্রতি তাদের প্রয়োজনীয়তা। মানুষের অন্তর থেকে দ্বীনকে অপসারিত করার প্রতিটি আহ্বানই একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা; কারণ ধর্মপরায়ণতা হলো মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস হলো ধ্রুব সত্যের ওপর বিশ্বাস।

আর যারা জুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে তারা কোন গন্তব্যে প্রত্যাবর্তন করবে।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌حول فناء العالم

بعد أن بينت السورة الكريمة حتمية الوقعة، واشتراك الناس جميعا في التصديق بها، بعد وقوعها، وإعادتها لتقييم الناس على حسب جوهرهم بخفضها للظالمين، ورفعها للمؤمنين.

بعد هذا كله، بينت السورة الكريمة ما سيحدث في الكون من تغيير قبيل وقوعها.

قال تعالى: (إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا (4) وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا (5) فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا)

وبقيت آيات القرآن، تكمل الصورة الذهنية، وتؤكدها، فقد أَكَّدَ القرآن حتمية إلغاء النظام الذي يحكم سير الكواكب في السماء، مما ينشأ عنه سقوط الكواكب، قال تعالى: (إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ (1) وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ) ،

(وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى) ، (إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ (1) وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ)

وأثبت القرآن أن الشمس تجري لمستقراً لها، إذا بلغته تتوقف: (وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ)

وملايين الكواكب فوقنا تجري، ليس من العجيب أن يصطدم كوكب بآخر، فيهلك العالم، ولكن العجيب أنها لا تصطدم.

فعالم السماء مصيره الفناء، حتماً.
‌‌জগতের বিলুপ্তি প্রসঙ্গে

এই মহিমান্বিত সূরাটি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অনিবার্যতার কথা এবং তা সংঘটিত হওয়ার পর সে বিষয়ে সকল মানুষের বিশ্বাসের ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করার পর, আর মানুষের প্রকৃত সারমর্ম অনুযায়ী জালিমদের হীন করে এবং মুমিনদের উচ্চমর্যাদা দান করার মাধ্যমে তাদের পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি তুলে ধরার পর...

এই সবকিছুর পর, এই সম্মানীয় সূরাটি মহাপ্রলয় সংঘটিত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মহাবিশ্বে যে সব পরিবর্তন সাধিত হবে তা বর্ণনা করেছে।

মহান আল্লাহ বলেন: (যখন পৃথিবীকে প্রবল প্রকম্পনে প্রকম্পিত করা হবে, এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে, ফলে তা হবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।)

কুরআনের অন্যান্য আয়াতসমূহ এই মানসিক চিত্রটিকে পূর্ণতা দান করে এবং তা সুদৃঢ় করে। কুরআন আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থার অনিবার্য বিলুপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যার ফলে গ্রহ-নক্ষত্রসমূহ খসে পড়বে। মহান আল্লাহ বলেন: (যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, এবং যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে।),

(শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়), (যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেওয়া হবে, এবং যখন নক্ষত্রসমূহ আলোহীন হয়ে পড়বে।)

কুরআন এও সাব্যস্ত করেছে যে, সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ধাবমান, আর সেখানে পৌঁছালে তা থেমে যাবে: (আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ধাবমান। এটি মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত পরিমাপ।)

আমাদের মাথার উপরে লক্ষ লক্ষ গ্রহ-নক্ষত্র পরিভ্রমণ করছে। একটি গ্রহের সাথে অন্যটির সংঘর্ষ ঘটা এবং তাতে জগত ধ্বংস হয়ে যাওয়াটা আশ্চর্যজনক নয়, বরং আশ্চর্যজনক বিষয় হলো যে, এগুলো একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে না।

সুতরাং আকাশজগতের পরিণতি যে ধ্বংস, তা অনিবার্য।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
والأرض أقرب إلى الخراب لأنها جحيم مستعر، لا يحجب شرها عن الناس سوى قشرة أرضية رقيقة، إن تحركت كان الزلزال المدمِّر، وإن انشقت كانت البراكين.

والعالم أمام خطر الزلزال اليوم، كالطبيب الذي يشهد احتضار ولده، يريد أن يفعل أي شيء، ولكنه لا يستطيع فالسماء فوقنا تهددنا بالخطر، والأرض تحت أقدامنا أشد اشتعالا، ولولا تذليل الله لها، لهلك الكون.

قال تعالى: (هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِنْ رِزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ (15) أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ (16) أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ)

فسفينة الحياة في جو عاصف، وأمانها الوحيد بيد الله

وحده وهو سبحانه يَمُنُّ بالأمن.

‌‌رأي الفلاسفة:

عرفنا تأكيد القرآن لحتمية التغيير في الكون ونحبُّ أن نعرف رأي الفلاسفة في هذا التغيير..

يعتقد الفلاسفة بأزلية الكون، وأبديته..

فعقولهم مع سعتها لم تتصور إمكان حدوث فناء الكون، وبنوا على ذلك عقيدتهم.

يقول الإسكندر الأفرودسى تلميذ أرسطو:

ولما لم يكن يحيط بالفلك شيء آخر، ولا كان الزمان جاريا عليه، لم يجز أن يفسد الفلك (أي لا يجوز فناؤه) وقد سار الفلاسفة المسلمون أيضا على هذا الرأي وقد تصدى لهم الإمام الغزالي في كتابه (تهافت الفلاسفة) وأبطل دعواهم،
পৃথিবী ধ্বংসের খুব নিকটবর্তী, কারণ এটি একটি প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ড; এর অনিষ্ট থেকে মানুষকে কেবল একটি পাতলা ভূত্বক আড়াল করে রেখেছে। যদি তা প্রকম্পিত হয় তবে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ঘটে, আর যদি তা ফেটে যায় তবে আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণ হয়।

আজকের বিশ্বে ভূমিকম্পের বিপদের সামনে মানুষ ঠিক সেই চিকিৎসকের মতো, যে তার সন্তানের মৃত্যুযন্ত্রণা প্রত্যক্ষ করছে; সে কিছু একটা করতে চায়, কিন্তু সে অক্ষম। কেননা আমাদের উপরের আকাশ আমাদের বিপদের হুমকি দিচ্ছে, আর আমাদের পায়ের নিচের মাটি চরমভাবে প্রজ্জ্বলিত। আল্লাহ যদি একে বশীভূত না করে দিতেন, তবে মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যেত।

মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই তো তোমাদের জন্য ভূমিকে সুগম করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা এর দিগ-বিদিক বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিযিক থেকে আহার করো। আর তাঁরই নিকট পুনরুত্থান। তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গিয়েছ যে, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদেরসহ ভূমিকে ধসিয়ে দেবেন না? এমতাবস্থায় তা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গিয়েছ যে, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী ঝড় পাঠাবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।"

সুতরাং জীবনের নৌকা এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ আবহাওয়ায় বিদ্যমান, আর এর একমাত্র নিরাপত্তা কেবল আল্লাহর হাতে

তিনি একাই এবং তিনি পবিত্র সত্তা, যিনি নিরাপত্তা দান করে অনুগ্রহ করেন।

‌‌দার্শনিকদের অভিমত:

আমরা মহাবিশ্বের পরিবর্তনের অনিবার্যতার বিষয়ে কুরআনের নিশ্চয়তা সম্পর্কে জেনেছি এবং এই পরিবর্তনের বিষয়ে দার্শনিকদের অভিমত কী তাও জানতে চাই...

দার্শনিকরা মহাবিশ্বের অনাদিত্ব ও অনন্তত্বে বিশ্বাস করেন...

তাদের বুদ্ধি ব্যাপক হওয়া সত্ত্বেও তারা মহাবিশ্বের বিনাশের সম্ভাবনা কল্পনা করতে পারেনি এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তারা তাদের আকিদা গড়ে তুলেছে।

এরিস্টটলের ছাত্র আলেকজান্ডার অফ এফ্রোডিসিয়াস বলেন:

যেহেতু আকাশমণ্ডলকে অন্য কিছু পরিবেষ্টন করে নেই এবং এর ওপর সময়ও আবর্তিত হয় না, তাই আকাশমণ্ডল বিনষ্ট হওয়া (অর্থাৎ এর ধ্বংস হওয়া) সম্ভব নয়। মুসলিম দার্শনিকরাও এই মত অনুসরণ করেছিলেন এবং ইমাম গাজালী তাঁর 'তাহাফুতুল ফালাসিফাহ' গ্রন্থে তাদের মোকাবিলা করেছেন এবং তাদের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
فالقرآن عندما أَكَّدَ صيرورة العالم إلى فناء، خالف بلذلك منهج الفلاسفة، كما خالف التصور الجاهلي الذين استبعد حدوث الفناء للجبال الراسيات، فرد عليهم القرآن: (وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا (105) فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا (106) لَا تَرَى فِيهَا عِوَجًا وَلَا أَمْتًا)

إن دعوة القرآن مستقلة عن كل فكر أرضي، لأنه منهج الله.

‌‌التصور العلمي لفناء العالم:

في كل يوم يقترب العلم من القرآن، لأن العلم يدرس الكون، والقرآن كلام من خلق الكون. وكلام الله وخلقه لا يختلفان.

وقد أَكَّدَ العلم الحديث حتمية الفناء للكون خصوصا بعد أن اكتشف قانون (الطاقة المتاحة) الذي أَكَّدَ أن الحرارة تنتقل من الأجسام الأكثر حرارة إلى الأجسام الأقل حرارة دون العكس.

ويلزم من هذا أن الشمس ستفقد حرارتها لا محالة ويفنى الكون كله عندما يفقد حرارة الشمس.

يقول الدكتور قاصر الزيدي:

والذي أكده القرآن منذ أربعة عشر قرنا من حتمية فناء العالم الحسي قد أصبح اليوم حقيقة علمية، لا تقبل الجدل.

ونقل مقالا طويلا عن مجلة (لوك) الأمريكية بعنوان (جارنا القمر ماضيه ومستقبله) جاء فيه: أن الفلكيين يقفون على حقيقة مقبضة وهى أن الفناء مكتوب على الأرض والقمر، والمنظومة الفلكية، بل حتى الشمس ومجموعتها، سوف تبدأ بالتوسع إلى أن تجرف القمر والأرض، وتتبخر

موادهما.

‌‌بين الحقائق العلمية والنظريات:

عندما نستأنس بذكر الحقائق العالمية، في مجال تفسير أو فهم القرآن فإننا نقصد من ذلك إلى أمرين:
কুরআন যখন জগতের বিনাশের (فناء) বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছে, তখন তা দার্শনিকদের মূলনীতির (منهج) বিরোধিতা করেছে; যেমনটি তা জাহেলি যুগের সেই ধারণারও বিরোধিতা করেছে যারা সুদৃঢ় পাহাড়গুলোর বিনাশ (فناء) হওয়াকে অসম্ভব মনে করত। কুরআন তাদের জবাবে বলেছে: "লোকেরা তোমাকে পাহাড়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো—আমার রব সেগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ধূলিসাৎ করে দেবেন। অতঃপর তিনি তাকে এক মসৃণ সমতল প্রান্তরে পরিণত করবেন। যেখানে তুমি কোনো বক্রতা বা উঁচু-নিচু দেখতে পাবে না।"

কুরআনের দাওয়াত যেকোনো পার্থিব চিন্তা থেকে স্বতন্ত্র, কারণ এটি আল্লাহর দেয়া জীবনবিধান (منهج)।

‌‌জগতের বিনাশ (فناء) সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণা:

প্রতিটি দিনই বিজ্ঞান কুরআনের সত্যতার নিকটবর্তী হচ্ছে, কারণ বিজ্ঞান মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণা করে আর কুরআন হলো সেই মহান সত্তার বাণী যিনি এই জগত সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর বাণী এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে কোনো বৈপরীত্য থাকতে পারে না।

আধুনিক বিজ্ঞান মহাবিশ্বের বিনাশের (فناء) অনিবার্যতা নিশ্চিত করেছে, বিশেষ করে ‘ব্যবহারযোগ্য শক্তি’ (الطاقة المتاحة) নামক সূত্রটি আবিষ্কৃত হওয়ার পর; যা নিশ্চিত করে যে, তাপ সর্বদা অধিকতর উত্তপ্ত বস্তু থেকে শীতল বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়, এর বিপরীত নয়।

এর থেকে এটিই প্রমাণিত হয় যে, সূর্য অবশ্যই তার তাপ হারিয়ে ফেলবে এবং যখন সূর্য তার তাপ হারাবে তখন সমগ্র মহাবিশ্ব বিনাশ (فناء) হয়ে যাবে।

ডক্টর কাসির আল-যাইদি বলেন:

চৌদ্দশ বছর আগে কুরআন এই দৃশ্যমান জগতের বিনাশের (فناء) যে অনিবার্যতা নিশ্চিত করেছিল, আজ তা এক অকাট্য বৈজ্ঞানিক সত্যে পরিণত হয়েছে, যা তর্কের ঊর্ধ্বে।

তিনি আমেরিকান ম্যাগাজিন 'লুক' (Look) থেকে একটি দীর্ঘ নিবন্ধ উদ্ধৃত করেছেন, যার শিরোনাম ছিল ‘আমাদের প্রতিবেশী চাঁদ: তার অতীত ও ভবিষ্যৎ’। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক পীড়াদায়ক সত্যের মুখোমুখি হয়েছেন যে, পৃথিবী, চাঁদ এবং সম্পূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থার ভাগ্যে বিনাশ (فناء) নির্ধারিত। এমনকি সূর্য ও তার সৌরজগতও আয়তনে বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে, যা শেষ পর্যন্ত চাঁদ ও পৃথিবীকে গ্রাস করবে এবং সেগুলোর

উপাদানসমূহ বাষ্পীভূত হয়ে যাবে।

‌‌বৈজ্ঞানিক সত্য ও তত্ত্বের মাঝে পার্থক্য:

কুরআনের ব্যাখ্যা (تفسير) বা অনুধাবনের ক্ষেত্রে যখন আমরা বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ উল্লেখ করি, তখন আমরা দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখি:
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
أولا: أن نردَّ على خصوم البعث باللغة التي يطعنون بها عقيدتنا.

ثانيا: لنؤكد أن الحقائق العالمية، والآيات القرآنية، لا يختلفان لأن الكون خلقه، والقرآن كتابه، وكلام الله وخلقه لا يختلفان.

هذا بالنسبة للحقائق العالمية الثابتة..

أما النظريات العلمية، فهي موضع أخذ وردٍّ، فإن خالفت القرآن فسنتركها لحكم الزمن عليها وكم من نظريات هلَّل لها العلماء، ثم أبطلها الزمن.

هذا.. وإذا رأينا حقيقة علمية، تختلف مع آية قرآنية فيقينا أننا أخطأنا فهم الآية. وسوف نسهب في هذا الموضوع في الفصل الثالث.

‌‌بين منهجين:

قررت فيما سبق أن العلم يؤمن بنهاية العالم ولا ينكرها، وهو بهذا يتفق مع القرآن الكريم، ولكن منهج العلم في تقرير هذه الحقيقة يختلف عن منهج القرآن اختلافا واضحا ويمكن أن أوجز الخلاف من عدة وجوه..

أولا: العلم يؤمن بالنهاية البطيئة للكون، كفقد حرارة الشمس، أو الفقد المنتظم لسرعة الكواكب حتى تتوقف تماما، أما القرآن فيؤكد السرعة والمباغتة في مجيئها: (وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ) .

(حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يَا حَسْرَتَنَا عَلَى مَا فَرَّطْنَا فِيهَا) .

ثانيا: العلم يؤمن بنهاية الكون، إيمانا رياضيا فقط. أما القرآن فقد ملأ بها عقول الناس، وعاطفتهم، وقدراتهم التصورية، ليجعل ذلك ضابطا لسلوكهم، ودافعا لهم إلى كل خير، قال تعالى: (أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ)
প্রথমত: আমরা পুনরুত্থান (بعث)-এর বিরোধীদের সেই ভাষায় উত্তর দেব যে ভাষায় তারা আমাদের আকিদা (عقيدة)-কে আক্রমণ করে।

দ্বিতীয়ত: এটি নিশ্চিত করার জন্য যে, জাগতিক ধ্রুব সত্যসমূহ এবং কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; কারণ এই মহাবিশ্ব তাঁর সৃষ্টি এবং কুরআন তাঁর কিতাব। আর আল্লাহর কালাম ও তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকতে পারে না।

এটি সুপ্রতিষ্ঠিত জাগতিক সত্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য...

আর বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলোর ক্ষেত্রে বলা যায়, সেগুলো গ্রহণ ও বর্জনের অবকাশ রয়েছে। যদি কোনো তত্ত্ব কুরআনের পরিপন্থী হয়, তবে আমরা তা সময়ের ফয়সালার ওপর ছেড়ে দেব। এমন কতই না তত্ত্ব রয়েছে যা এককালে বিজ্ঞানীরা উচ্চকিত প্রশংসা করেছিলেন, পরবর্তীতে সময়ের বিবর্তনে তা বাতিল হয়ে গেছে।

আর... যদি আমরা কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যকে কোনো কুরআনের আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হতে দেখি, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, আমরাই আয়াতটি বুঝতে ভুল করেছি। আমরা তৃতীয় অধ্যায়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

‌‌দুই পদ্ধতির মাঝে:

আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, বিজ্ঞান জগতের পরিসমাপ্তিতে বিশ্বাস করে এবং একে অস্বীকার করে না। এই দিক থেকে এটি পবিত্র কুরআনের সাথে একমত। কিন্তু এই বাস্তবতা প্রমাণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের পদ্ধতি এবং কুরআনের পদ্ধতির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আমি সেই মতপার্থক্যগুলো কয়েকটি দিক থেকে সংক্ষেপে তুলে ধরতে পারি...

প্রথমত: বিজ্ঞান মহাবিশ্বের ধীরগতির সমাপ্তিতে বিশ্বাস করে, যেমন সূর্যের তাপ হারিয়ে যাওয়া অথবা গ্রহগুলোর গতির নিয়মিত হ্রাস পাওয়া যতক্ষণ না সেগুলো সম্পূর্ণ থেমে যায়। পক্ষান্তরে, কুরআন কিয়ামত (ساعة) সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুততা ও আকস্মিকতার ওপর জোর দেয়: (কিয়ামতের বিষয়টি তো চোখের পলকের মতো অথবা তার চাইতেও নিকটতর)।

(এমনকি যখন কিয়ামত (ساعة) হঠাৎ করে তাদের কাছে উপস্থিত হবে, তখন তারা বলবে, হায় আফসোস! আমরা এ ব্যাপারে যা অবহেলা করেছি তার জন্য)।

দ্বিতীয়ত: বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সমাপ্তিতে কেবল গাণিতিক বিশ্বাস রাখে। কিন্তু কুরআন মানুষের মস্তিষ্ক, আবেগ এবং কল্পনাশক্তিকে এই ভাবনার মাধ্যমে পরিপূর্ণ করে দিয়েছে, যাতে এটি তাদের আচরণের নিয়ন্ত্রক এবং প্রতিটি কল্যাণের পথে চালিকাশক্তি হয়। মহান আল্লাহ বলেন: (নাকি সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, পরকাল (آخرة)-কে ভয় করে এবং তার রবের রহমতের আশা রাখে?)
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثالثا: العلم يؤمن بنهاية العالم فقط، أما قضية البعث بعد الفناء التي أكدها القرآن فلا يستطيع العلم أن يقرها، ولا أن ينكرها. لأن العلم يعمل في مجال المادة، ولا شأن له بما وراءها إثباتا أو نفيا أؤكد هذه الحقيقة ليعلم الشباب أن التشكيك في العقيدة باسم العلم، لون من الدجل الحديث.

والآن وبعد أن عرفنا موقف العلم والفلسفة من قضية نهاية العالم، نعود إلى سورة الواقعة.

قال تعالى: (إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا)

إنا الذي يجري الأرض في الفضاء، سيرجها رجًّا يهلك كل شيء، (وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً (14) فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ)

ثم يزلزلها زلزالا يخرج منها كل شيء.. (إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا (1) وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا)

وقد عرفنا موقف العلم من الزلزال الأصغر، فكيف به أمام الزلزال الأكبر؟!

(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ)

(وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا (5) فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا)

تكرر ذكر الجبال في القرآن.. وحتى لا نخطئ فهم القرآن، فسوف أجمع آيات الجبال، وأرتبها ترتيبا يثبت أن كل آية تشير إلى مرحلة من مراحل مستقبل الجبال. حتى لا يتوهم أحدٌ وجود أي تعارض بين آيات القرآن.

‌‌المرحلة الأولى:

الرجفة من هول هذا اليوم.

قال تعالى: (يَوْمَ تَرْجُفُ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ)

المرحلة الثانية: مرحلة الدك.

قال تعالى: (وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً)

المرحلة الثالثة: ألنفش كالصوف، قال تعالى: (وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوشِ)
তৃতীয়ত: বিজ্ঞান কেবল জগতের পরিসমাপ্তিতে বিশ্বাস করে, কিন্তু ধ্বংসের পর পুনরুত্থান (البعث) এর বিষয়টি যা কুরআন সুনিশ্চিত করেছে, বিজ্ঞান তা স্বীকারও করতে পারে না, আবার অস্বীকারও করতে পারে না। কারণ বিজ্ঞান কেবল বস্তুজগৎ নিয়ে কাজ করে, আর এর ঊর্ধ্বে যা কিছু রয়েছে তা প্রমাণ বা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের কোনো ভূমিকা নেই। আমি এই সত্যটি গুরুত্ব দিয়ে বলছি যাতে যুবসমাজ জানতে পারে যে, বিজ্ঞানের নামে আকিদা (العقيدة) নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করা এক ধরনের আধুনিক প্রবঞ্চনা।

আর এখন বিশ্বের পরিসমাপ্তির বিষয়ে বিজ্ঞান ও দর্শনের অবস্থান জানার পর, আমরা পুনরায় সূরা আল-ওয়াকিয়ার দিকে ফিরে যাই।

মহান আল্লাহ বলেন: (যখন পৃথিবীকে প্রবলভাবে প্রকম্পিত করা হবে)

নিশ্চয়ই যিনি মহাকাশে পৃথিবীকে সচল রেখেছেন, তিনি একে এমনভাবে প্রকম্পিত করবেন যা সবকিছুকে ধ্বংস করে দেবে, (আর পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উত্তোলন করা হবে এবং তাদের একই আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে (১৪) সেদিন মহাসংগঠনী (কিয়ামত) সংঘটিত হবে)

অতঃপর তিনি একে এমনভাবে প্রকম্পিত করবেন যা থেকে সবকিছু বের হয়ে আসবে.. (যখন পৃথিবী তার নিজস্ব কম্পনে প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে (১) এবং পৃথিবী তার ভারসমূহ বের করে দেবে)

আমরা ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের বিষয়ে বিজ্ঞানের অবস্থান জেনেছি, তাহলে মহাপ্রলয়ংকারী ভূকম্পনের সামনে তার অবস্থা কী হবে?!

(হে মানুষ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো; নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ বিষয়)

(আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে (৫) ফলে তা হয়ে যাবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা)

কুরআনে বারবার পর্বতমালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে.. আর আমরা যেন কুরআনের মর্ম উপলব্ধিতে ভুল না করি, তাই আমি পাহাড় সম্পর্কিত আয়াতগুলোকে একত্রিত করব এবং সেগুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করব যা প্রমাণ করে যে, প্রতিটি আয়াত পাহাড়ের ভবিষ্যতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতি নির্দেশ করে। যাতে কুরআনের আয়াতগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ থাকার ধারণা কারো মনে না জাগে।

‌‌প্রথম পর্যায়:

সেই দিনের ভয়াবহতায় সৃষ্ট প্রবল প্রকম্পন (الرجفة)।

মহান আল্লাহ বলেন: (যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে)

দ্বিতীয় পর্যায়: চূর্ণ-বিচূর্ণ (الدك) হওয়ার পর্যায়।

মহান আল্লাহ বলেন: (আর পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উত্তোলন করা হবে এবং তাদের একই আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে)

তৃতীয় পর্যায়: ধুনিত হওয়া (ألنفش) পশমের ন্যায়, মহান আল্লাহ বলেন: (আর পাহাড়গুলো হবে ধুনিত রঙিন পশমের মতো)
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
المرحلة الرابعة: مرحلة البس.

قال تعالى: (وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا (5) فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا)

والبس هو خلط الدقيق في السمن. ونتصوره هنا اختلاط الجبال بعد أن أصبحت عِهناً منفوشاً بذرات الكون الأخرى، ومياه البحار، فتصبح الجبال الراسيات كالهباء الذي يظهر في شعاع الشمس. ومع ضعفه يؤكد القرآن أنه (مبثوث) أي متفرق.

لقد نسفت الجبال، وبست في الكون، فأصبحت لا يرى فيها عوجا ولا أمْتا..

ويجوز أن يكون البسُّ بمعنى الدفع. من قولهم: بسست الغنم أي دفعتها.

المرحلة الخامسة: مرحلة السراب.

قال تعالى: (وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا)

وغنى عن البيان أن السراب هو الشيء الذي لا حقيقة له ولا وجود.

وبهذه المرحلة تنتهي الجبال الراسيات، لأن مهمتها قد انتهت.

وكل هذه المراحل تتم في لحظة كما عرفنا: (وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ)

آية الجبال في سورة النمل:

تتمة للموضوع، تبقى آية من سورة النمل، تحدثت عن الجبال وسيرها كالسحاب، وقد أخرتها عن آيات الجبال، لأنها تحتاج إلى دراسة عميقة.

قال تعالى: (وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُونَ)

اعتقد كثير من الدارسين أن الآية الكريمة مرحلة من مراحل الجبال يوم القيامة. واستدلوا على ذلك بأن الآية الكريمة وردت في حديث
চতুর্থ পর্যায়: চূর্ণবিচূর্ণ করার পর্যায়।

মহান আল্লাহ বলেন: (আর পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ধুলিসাৎ হয়ে যাবে (৫) ফলে তা উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে)

'বাসস' হলো ঘিয়ে আটা বা ময়দা মিশ্রিত করা। আমরা এখানে একে কল্পনা করতে পারি যে, পর্বতগুলো ধুনিত পশমের মতো হওয়ার পর মহাবিশ্বের অন্যান্য কণা ও সমুদ্রের পানির সাথে মিশে যায়, ফলে সুদৃঢ় পর্বতগুলো সূর্যের আলোতে দৃশ্যমান ধূলিকণার মতো হয়ে যায়। এর দুর্বলতা সত্ত্বেও কুরআন নিশ্চিত করেছে যে তা ‘মাবসুস’ অর্থাৎ বিক্ষিপ্ত।

পর্বতগুলোকে সমূলে উৎপাটিত করা হয়েছে এবং মহাবিশ্বে চূর্ণবিচূর্ণ করে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে সেখানে কোনো বক্রতা বা উঁচু-নিচু দেখা যাবে না।

আবার ‘বাসস’ শব্দটি হাঁকিয়ে নেওয়া বা চালনা করা অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন আরবদের উক্তি: ‘আমি বকরিগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়েছি’।

পঞ্চম পর্যায়: মরীচিকার পর্যায়।

মহান আল্লাহ বলেন: (আর পর্বতমালাকে চালিত করা হবে, ফলে তা মরীচিকায় পরিণত হবে)

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মরীচিকা হলো এমন বস্তু যার কোনো বাস্তবতা বা অস্তিত্ব নেই।

এই পর্যায়ের মাধ্যমেই সুদৃঢ় পর্বতগুলোর সমাপ্তি ঘটে, কারণ সেগুলোর উদ্দেশ্য সম্পন্ন হয়ে গেছে।

আর এই সমস্ত পর্যায় এক মুহূর্তেই সম্পন্ন হবে, যেমনটি আমরা জেনেছি: (কিয়ামতের বিষয়টি তো কেবল চোখের পলকের মতো অথবা তার চেয়েও নিকটতর)

সূরা আন-নামল-এ পর্বত সংক্রান্ত আয়াত:

বিষয়ের পরিশিষ্ট হিসেবে সূরা আন-নামল-এর একটি আয়াত অবশিষ্ট থাকে, যেখানে পর্বতমালা এবং মেঘমালার মতো সেগুলোর চলন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পাহাড় সংক্রান্ত আয়াতগুলোর পরে আমি একে উল্লেখ করেছি, কারণ এটি গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে।

মহান আল্লাহ বলেন: (আর তুমি পর্বতমালাকে দেখে অটল মনে করছ, অথচ সেগুলো মেঘমালার মতো চলে যাবে। এটি আল্লাহরই কারিগরি, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন। তোমরা যা করো সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত)

অনেক গবেষক মনে করেন যে, এই মহিমান্বিত আয়াতটি কিয়ামতের দিবসে পাহাড়ের বিভিন্ন অবস্থার একটি পর্যায়। তারা এর সপক্ষে এই প্রমাণ পেশ করেছেন যে, আয়াতটি একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
القرآن عن الآخرة، كما استدلوا بمثل قوله تعالى: (وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا)

وهذا الفهم صحيح، ويدفع أي إشكال في فهم الآية عن سلف الأمة راضي الله عنهم وعن كل الأجيال التي أعقبتهم، ممن لم يشاهدوا عهد الاكتشافات العلمية لدوران الأرض.

ولكن الذين عاصروا العلم الحديث، وهو يقرأ بعض أسرار الكون، ومنها دوران الأرض حول نفسها، وحول الشمس، يمكنهم إذا تدبروا ألفاظ الآية الكريمة، أن يفهموها فهما آخر، بلا تكلف، ولا تطويع للنص.

تدبر معي قوله تعالى: (وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً)

ونحن في الدنيا ننظر إلى الجبال فنحسبها جامدة أما في الآخرة فتكون الجبال كالعهن المنفوش.. (وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ)

ومرور السحاب في الدنيا لأنه لا سحاب في الآخرة (1) .

- - - - - - - - - -

(1) ملامح سورة النمل التي ذكرت فيها الآية:

وإذا كان سير الجبال في الدنيا عجيبا، فإن سورة النمل التي ذكرت الآية الكريمة فيها هي سورة العجائب، لقد جاء فيها خبر سليمان مع الطير: (وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ)

وقصة الهدهد بتمامها يمكن أن تقرأها في السورة الكريمة، وهي عجيبة. وفي السورة حديث النملة مع سليمان (قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ (18) فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِنْ قَوْلِهَا)

كما أن السورة الكريمة ذكرت قصة سليمان والعفريت: (قَالَ عِفْرِيتٌ مِنَ الْجِنِّ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ تَقُومَ مِنْ مَقَامِكَ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ)

ومن الأحداث العجيبة التي ذكرتها السورة الكريمة، خبر الرجل الذي عنده علم من الكتاب، وكيف استطاع أن ينقل عرش ملكة اليمن، في أقل من طرفة عين: (قَالَ الَّذِي عِنْدَهُ عِلْمٌ مِنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ)

وأشارت السورة الكريمة إلى الجانب الحضاري، والعمراني في مملكة سليمان، عمران لم يشهد العالم مثله في أرقى دولة. فقد بنى قصرا على =
পরকাল সম্পর্কে কুরআন, যেমন তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: (আর পাহাড়সমূহকে চালিত করা হবে, ফলে সেগুলো মরীচিকা হয়ে যাবে)

এই উপলব্ধিটি সঠিক (صحيح), এবং এটি উম্মাহর পূর্বসূরি (سلف) —আল্লাহ তাদের প্রতি এবং তাদের পরবর্তী সকল প্রজন্মের প্রতি সন্তুষ্ট হোন— যারা পৃথিবীর আবর্তনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের যুগ প্রত্যক্ষ করেননি, তাদের আয়াতের মর্ম উপলব্ধির ক্ষেত্রে যেকোনো জটিলতাকে নিরসন করে।

কিন্তু যারা আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বসবাস করছেন, যা মহাবিশ্বের কিছু রহস্য উন্মোচন করছে—যার মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর নিজ অক্ষের ওপর এবং সূর্যের চারদিকে আবর্তন—তারা যদি এই মহিমান্বিত আয়াতের শব্দগুলো নিয়ে চিন্তা করেন, তবে কোনো কৃত্রিমতা বা পাঠ্যের (نص) অর্থকে জোর করে টেনে নেওয়া ছাড়াই একে ভিন্নভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন।

মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি আমার সাথে লক্ষ্য করুন: (আর আপনি পাহাড়গুলোকে দেখছেন, মনে করছেন সেগুলো স্থির দাঁড়িয়ে আছে)

আমরা দুনিয়াতে পাহাড়ের দিকে তাকাই এবং সেগুলোকে স্থির মনে করি, কিন্তু পরকালে পাহাড়গুলো হবে ধুনিত রঙিন তুলার মতো... (আর সেগুলো মেঘমালার মতো চলতে থাকবে)

আর মেঘের এই চলাচল দুনিয়াতেই ঘটে, কারণ পরকালে কোনো মেঘ নেই (১)।

- - - - - - - - - -

(১) সূরা আন-নামল এর বৈশিষ্ট্যসমূহ যেখানে এই আয়াতটি বর্ণিত হয়েছে:

যদি দুনিয়াতে পাহাড়ের চলাচল বিস্ময়কর হয়, তবে সূরা আন-নামল যাতে এই মহিমান্বিত আয়াতটি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি হলো বিস্ময়ের সূরা। এতে সুলাইমান (আ.)-এর সাথে পাখির সংবাদ এসেছে: (এবং তিনি বললেন, হে লোকসকল! আমাদের পাখির ভাষা শেখানো হয়েছে এবং আমাদের সব কিছু দেওয়া হয়েছে)

হুদহুদ পাখির পুরো কাহিনী আপনি এই সম্মানিত সূরায় পড়তে পারেন, যা অত্যন্ত বিস্ময়কর। এই সূরায় সুলাইমান (আ.)-এর সাথে পিপীলিকার কথোপকথন রয়েছে (একটি পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকাদল! তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ করো, যাতে সুলাইমান ও তার বাহিনী তোমাদের পিষ্ট করতে না পারে অজান্তে (১৮) তার কথা শুনে তিনি মৃদু হাসলেন)

অনুরূপভাবে এই সম্মানিত সূরা সুলাইমান (আ.) এবং ইফরীতের কাহিনী বর্ণনা করেছে: (জিনদের একজন ইফরীত বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি সেটি আপনার কাছে নিয়ে আসব এবং নিশ্চয়ই আমি এ ব্যাপারে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত)

এই সম্মানিত সূরা যেসব বিস্ময়কর ঘটনার উল্লেখ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে সেই ব্যক্তির সংবাদ যার কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল এবং কীভাবে তিনি চোখের পলক ফেলার আগেই ইয়েমেনের রানির সিংহাসন স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছিলেন: (যার কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল সে বলল, আপনার চোখের পলক আপনার দিকে ফিরে আসার আগেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব)

এই সম্মানিত সূরা সুলাইমান (আ.)-এর রাজ্যের সভ্যতা ও স্থাপত্যের দিকের ইঙ্গিত দিয়েছে; এমন স্থাপত্য যার নজির বিশ্ব কোনো উন্নত রাষ্ট্রে দেখেনি। তিনি একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) সুরাতুল ওয়াকিআহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
(صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ)

ومعلوم أن مروها في الدنيا كالسحاب، أمر يحتاج إلى صنع دقيق وصانع حكيم، لذلك وصف الصانع الحكيم نفسه سبحانه بقوله: (صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ)

والإتقان دليل آخر على ما قلته، لأن الجبال تهدم في الآخرة، والهدم لا يوصف بأنه صنع وإتقان.

والعجيب أن ابن قتيبة في القرن الرابع الهجري قد ذكر في كتابه (تأويل مشكل القرآن) ص 6 ما يؤيد هذا الرآى

- - - - - - - - - -

= أرضية من زجاج أملس ثم دعا ملكة سبأ إلى دخول القصر، فظنته لجة من ماء راقد، فكشفت عن ساقيها فأعلمها سليمان بالحقيقة: (قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الصَّرْحَ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَكَشَفَتْ عَنْ سَاقَيْهَا قَالَ إِنَّهُ صَرْحٌ مُمَرَّدٌ مِنْ قَوَارِيرَ قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ)

ومن الأمور العجيبة التي ذكرتها سورة النمل، أن الخاطئين من قوم لوط، حكموا على الأطهار من أهله بالخروج من القرية، وعللوا أمر الخروج بتعليل عجيب.

قال تعالى: (وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوهُمْ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ)

إن التطهر في المجتمع القذر جريمة، يعاقب عليها بالطرد وويل للشرفاء في غياب الفضيلة.

وفي السورة الكريمة جاء ذكر الدابة التي تخرج من الأرض عند قرب موعد الآخرة تكلم الناس معاتبة، ومسفهة لهم، قال تعالى: (وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ)

فالسورة الكريمة سورة النمل كلها عجائب، والكون مشحون بأسرار لا يحيط بها علم البشر.

فإذا ذكرت آيات مرور الجبال كالسحاب فأي عجب في ذلك؟ إن مرور الجبال حقيقة كونية.

ولما كانت السورة الكريمة: تخبر بعجائب الأخبار، التي لم يألفها الناس في حياتهم اليومية نرى القرآن قد أكدا نزوله من عند الله مرتين، مرة في أول السورة

قال تعالى: (تِلْكَ آيَاتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُبِينٍ (1) هُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ)

وفي قوله تعالى: (وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ)

ومرة في آخرها، قال تعالى: (وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ (91) وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ)
(আল্লাহর কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন)

এটি সুপরিচিত যে, দুনিয়াতে মেঘমালার মতো পাহাড়গুলোর বিচরণ এমন একটি বিষয় যার জন্য সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং একজন প্রজ্ঞাবান কারিগর প্রয়োজন। এজন্য প্রজ্ঞাবান কারিগর মহান আল্লাহ নিজের প্রশংসা করে বলেছেন: (আল্লাহর কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন)

আর সুনিপুণতা (إتقان) হলো আমার কথার সপক্ষে আরেকটি দলীল, কারণ আখিরাতে পাহাড়সমূহকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে, আর চূর্ণ-বিচূর্ণ করাকে কারুকার্য বা সুনিপুণতা (إتقان) হিসেবে অভিহিত করা যায় না।

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর মনীষী ইবনে কুতাইবা তাঁর রচিত 'তাউইলু মুশকিলিল কুরআন' গ্রন্থের ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় এই মতের সপক্ষে বর্ণনা করেছেন।

- - - - - - - - - -

= মসৃণ কাঁচের মেঝে, অতঃপর তিনি সাবার রানিকে প্রাসাদে প্রবেশের আহ্বান জানালেন। তিনি সেটিকে গভীর স্থির জলাশয় মনে করে নিজের পায়ের কাপড় গুটিয়ে নিলেন। তখন সুলাইমান তাঁকে প্রকৃত সত্য জানালেন: (তাঁকে বলা হলো, প্রাসাদে প্রবেশ করো। যখন সে তা দেখল, সেটিকে গভীর জলাশয় মনে করল এবং তার দুই পায়ের নলা অনাবৃত করল। সুলাইমান বললেন, এটি তো স্বচ্ছ কাঁচ নির্মিত প্রাসাদ। সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি, আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।)

সূরা আন-নামলে বর্ণিত বিস্ময়কর বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, লূত সম্প্রদায়ের পাপাচারীরা তাঁর পরিবারের পবিত্র ব্যক্তিদের জনপদ থেকে বের করে দেওয়ার ফয়সালা করেছিল এবং এই বহিষ্কারের স্বপক্ষে এক অদ্ভুত যুক্তি দাঁড় করিয়েছিল।

মহান আল্লাহ বলেন: (তার সম্প্রদায়ের উত্তর এ ছাড়া আর কিছুই ছিল না যে, তারা বলল— এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, কারণ এরা এমন লোক যারা অতি পবিত্রতা অবলম্বন করে।)

কলুষিত সমাজে পবিত্রতা অর্জন করা একটি অপরাধ, যার শাস্তি হলো নির্বাসন; আর নৈতিকতার অনুপস্থিতিতে সজ্জন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ।

এই মহিমান্বিত সূরায় সেই ভূগর্ভস্থ প্রাণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা কিয়ামতের প্রাক্কালে বের হবে এবং মানুষের সাথে ভর্ৎসনা ও তাদের মূর্খতা প্রকাশ করে কথা বলবে। মহান আল্লাহ বলেন: (যখন তাদের প্রতি ঘোষিত শাস্তি কার্যকর হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন আমি তাদের জন্য মাটি থেকে এক প্রাণী বের করব যা তাদের সাথে কথা বলবে; কারণ মানুষ আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করত না।)

সুতরাং মহিমান্বিত সূরা আন-নামল পুরোটাই বিস্ময়ে ভরপুর, আর এই মহাবিশ্ব এমন সব রহস্যে ঘেরা যা মানুষের জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারে না।

অতএব, যখন মেঘমালার মতো পাহাড়ের পরিক্রমণের আয়াতগুলো উল্লেখ করা হয়, তখন তাতে আশ্চর্যের কী আছে? পাহাড়ের এই পরিক্রমণ এক মহাজাগতিক বাস্তবতা।

যেহেতু এই মহিমান্বিত সূরাটি এমন সব বিস্ময়কর সংবাদ (أخبار) প্রদান করে যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিচিত নয়, তাই আমরা দেখি যে কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি দুবার জোরালোভাবে ব্যক্ত করেছে; একবার সূরার শুরুতে—

মহান আল্লাহ বলেন: (এগুলো কুরআনের আয়াত এবং সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ।)

এবং মহান আল্লাহর বাণীতে: (আর নিশ্চয়ই আপনি এই কুরআন লাভ করছেন এক প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ সত্তার নিকট থেকে।)

এবং আরেকবার সূরার শেষে; মহান আল্লাহ বলেন: (এবং আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যেন আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই এবং কুরআন তিলাওয়াত করি।)