(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: -)
آراء ابن عجيبة العقدية عرضا ونقدا   (عبد الهادي العمري)

القسم: العقيدة


الكتاب: آراء ابن عجيبة العقدية -عرضًا ونقدًا -

المؤلف: عبد الهادي بن عوض العمري

أصل الكتاب: رسالة دكتوراة، قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة كلية أصول الدين بالرياض - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2019 م

عدد الصفحات: 968

[كتاب إلكتروني]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو القعدة 1442

ইবনে আজিবার আকিদাগত মতাদর্শ: উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা   (আব্দুল হাদি আল-ওমারি)

বিভাগ: আকিদা


বই: ইবনে আজিবার আকিদাগত মতাদর্শ -উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা -

লেখক: আব্দুল হাদি বিন আওয়াদ আল-ওমারি

মূল গ্রন্থ: পিএইচডি থিসিস, আকিদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগ, কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন (ধর্মতত্ত্ব অনুষদ), রিয়াদ - ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬৮

[ই-বুক]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলকদ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১)
آراء ابن عجيبة العقدية

عرضًا ونقدًا

 

تأليف الدكتور:

عبد الهادي بن عوض العمري
ইবনে আজীবাহর আকিদাগত মতবাদসমূহ

উপস্থাপন ও সমালোচনা

 

রচনায় ডক্টর:

আব্দুল হাদি বিন আওয়াদ আল-উমারি
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

1. أهمية الموضوع وأسباب اختياره

2. أهدف البحث

3. الدراسات السابقة

4. خطة البحث

5. الصعوبات التي واجهت الباحث

6. منهج البحث

7. الشكر والتقدير
ভূমিকা

১. বিষয়ের গুরুত্ব এবং তা নির্বাচনের কারণসমূহ

২. গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ

৩. পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ

৪. গবেষণা পরিকল্পনা

৫. গবেষকের সম্মুখীন হওয়া প্রতিকূলতাসমূহ

৬. গবেষণা পদ্ধতি

৭. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أنَّ محمَّدًا عبدهُ ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}(1).

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}(2).

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}(3).

أما بعد:

فإنَّ الخيرية الثابتة بالكتاب والسُّنَّة لهذه الأُمَّة تتحقق باقتفاء أثر رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين، فمن سلك سبيل الهدى نجا ومن حاد عنها ضلَّ وغوى، والنجاة من الضلالة لا تتم إلا بالاعتصام بالكتاب والسُّنَّة علمًا وعملًا ودعوةً وبيانًا، ومن فضل الله عز وجل على أُمَّة محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم أن قيَّض في كلِّ زمانٍ ومكان من يُبيِّن للناس انتحال المبطلين وتأويل الجاهلين ومغالات الغالين، ومن بيان

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران: 102.

(2) سورة النساء: 1.

(3) سورة الأحزاب: 70 - 71.
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং আল্লাহর কাছে আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না}(১)।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের দুজন থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক}(২)।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে}(৩)।

অতঃপর:

কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা এই উম্মতের জন্য সাব্যস্ত হওয়া শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় কিয়ামত পর্যন্ত ইহসানের সাথে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে। সুতরাং যে ব্যক্তি হেদায়াতের পথ অবলম্বন করবে সে মুক্তি পাবে, আর যে তা থেকে বিচ্যুত হবে সে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হবে। আর ইলম, আমল, দাওয়াত ও বর্ণনার ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা ছাড়া ভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার এক বিশেষ অনুগ্রহ এই যে, তিনি প্রতিটি সময়ে ও স্থানে এমন ব্যক্তিদের ব্যবস্থা করে দেন যারা মানুষের সামনে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার, মূর্খদের অপব্যাখ্যা এবং অতিরঞ্জনকারীদের বাড়াবাড়ি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। আর বর্ণনার অংশ হিসেবে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান: ১০২।

(২) সূরা আন-নিসা: ১।

(৩) সূরা আল-আহযাব: ৭০ - ৭১।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৬)
ذلك دراسة المؤلفات التي انتشرت بين الناس في مشارق الأرض ومغاربها وسطرتها أقلام ناس وثق بهم قومهم لما رأوا فيهم من صلاحٍ وضربٍ في شتى العلوم النقلية والعقلية ومؤلفاتٍ عديدة، فغرَّهم ذلك وانطوت عليهم تلك التأويلات الفاسدة والمحرَّفة؛ فظنُّوا أنه الحق، ولولا أنَّ أصحاب هذا القول كثروا وظهروا لم يكن بنا حاجة إلى بيان فساد هذه الأقوال، وإيضاح هذا الضلال.

وكان من بين القوم أحمد بن عجيبة، الذي ضرب بحظٍّ وافرٍ في التفسير والحديث، واللغة، والأدب، والتصوف، والعقائد، فألَّف ما يربو على خمسةٍ وأربعين كتابًا، تداولها الناس من عصره إلى يومنا هذا، وله مكانة عند الصوفية، وضريحه أصبح مزارًا.

لذلك استخرت الله عز وجل ثم استشرت أولي الفضل بأن تكون رسالتي لنيل درجة الدكتوراه بعنوان: آراء ابن عجيبة العقدية -عرضًا ونقدًا-، والله أسأل التوفيق والسَّداد.

د. عبد الهادي بن عوض العمري

abdulhadi.alamri 92@gmail.com
এটি সেই গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন যা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যা এমন সব ব্যক্তিদের কলমে লিখিত হয়েছে যাদেরকে তাদের স্বজাতি বিশ্বস্ত মনে করেছে; কেননা তারা তাদের মাঝে সততা এবং বিভিন্ন আকলি ও নকলি বিদ্যায় পারদর্শিতা এবং অসংখ্য রচনা প্রত্যক্ষ করেছে। ফলে এই বিষয়গুলো তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে এবং সেই সমস্ত ভ্রান্ত ও বিকৃত ব্যাখ্যাগুলো তাদের ওপর চেপে বসেছে; ফলে তারা মনে করেছে যে এটিই সত্য। যদি এই মতবাদের প্রবক্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না পেত এবং তারা প্রকাশ্য না হতো, তবে আমাদের এই উক্তিগুলোর অসারতা বর্ণনা করার এবং এই বিভ্রান্তি স্পষ্ট করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।

আর এই লোকদের মধ্যে ছিলেন আহমদ ইবনে আজিবা, যিনি তাফসির, হাদিস, ভাষা, সাহিত্য, তাসাউফ এবং আকাইদ শাস্ত্রে বিপুল পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। তিনি পঁয়তাল্লিশটিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা তাঁর সময়কাল থেকে আজ অবধি মানুষের মাঝে প্রচলিত রয়েছে। সুফিদের নিকট তাঁর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং তাঁর সমাধি আজ মাজারে পরিণত হয়েছে।

এজন্যই আমি মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি এবং অতঃপর গুণীজনদের পরামর্শ গ্রহণ করেছি যাতে ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য আমার গবেষণাপত্রটির শিরোনাম হয়: "ইবনে আজিবার আকিদাগত মতামত: উপস্থাপন ও পর্যালোচনা"। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিকতা প্রার্থনা করছি।

ড. আব্দুল হাদি বিন আওয়াদ আল-উমারি

abdulhadi.alamri 92@gmail.com
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أهمية الموضوع وأسباب اختياره:

1 - المخالفات العقدية التي بثَّها ابن عجيبة في كتبه لا سيَّما تفسيره (البحر المديد في تفسير القرآن المجيد)، وكثرة كتبه وتنوعها، وفيها حكى وتكلَّم عن قضايا عقدية كثيرة.

2 - أنه مؤسِّسٌ لإحدى الطرق الصوفية، وهي الطريقة الدرقاوية.

3 - عناية المتصوفة بكتبه ونشرها والدفاع عنه ومدحه.

 

‌‌أهدف البحث:

1 - جمع آراء ابن عجيبة العقدية.

2 - دراسة آراء ابن عجيبة في ضوء عقيدة أهل السُّنَّة والجماعة.

3 - تقرير وبيان مذهب أهل السُّنَّة والجماعة في المسائل التي خالف فيها ابن عجيبة.

 

‌‌الدراسات السابقة:

بعد البحث والدراسة لم أجد من كتب عن آراء ابن عجيبة العقدية ولكن وجدت رسالة بعنوان: (ابن عجيبة وآراؤه الصوفية، دراسة تحليلية نقدية)، للباحث: علاء عشماوي زيدان عشماوي، من جامعة المنوفية كلية الآداب قسم الفلسفة، وهي دراسة لنيل درجة الماجستير، قام الباحث بالمقارنة بين ابن عجيبة وآراء أعلام التصوف السابقين عليه واللاحقين لبيان مدى التأثير وما إذا كان هناك ثمة جديد أتى به أو انفرد به، وبيَّن الباحث مدى ما تمتَّع به ابن عجيبة -من وجهة نظره- من ثراء فكري واهتمام كبير بالتصوف ورجاله وعن دوره في تبسيط الحقائق الصوفية.
‌‌বিষয়ের গুরুত্ব ও এটি নির্বাচনের কারণসমূহ:

১ - ইবনে আজিবা তার বইগুলোতে বিশেষ করে তার তাফসির (আল-বাহরুল মাদিদ ফি তাফসিরিল কুরআনিল মাজিদ)-এ যেসব আকিদাগত বিচ্যুতি প্রচার করেছেন; এবং তার প্রচুর সংখ্যক ও বৈচিত্র্যময় গ্রন্থাবলি, যেখানে তিনি অনেক আকিদাগত বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

২ - তিনি একটি সুফি তরিকার প্রতিষ্ঠাতা, আর সেটি হলো দারকাউয়্যাহ তরিকা।

৩ - সুফিদের পক্ষ থেকে তার বইগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন, সেগুলো প্রকাশ করা এবং তার পক্ষাবলম্বন ও প্রশংসা করা।

 

‌‌গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:

১ - ইবনে আজিবার আকিদাগত মতামতসমূহ সংগ্রহ করা।

২ - আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার আলোকে ইবনে আজিবার মতামতগুলো পর্যালোচনা করা।

৩ - যেসব বিষয়ে ইবনে আজিবা বিরোধিতা করেছেন, সেগুলোতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব (মতাদর্শ) সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্পষ্ট করা।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর আমি ইবনে আজিবার আকিদাগত মতামতের ওপর কোনো লেখা পাইনি, তবে আমি একটি অভিসন্দর্ভ পেয়েছি যার শিরোনাম: (ইবনে আজিবা ও তার সুফি চিন্তাধারা: একটি বিশ্লেষণাত্মক ও সমালোচনামূলক পর্যালোচনা)। এটি গবেষক আলা আশমাউয়ি যায়দান আশমাউয়ি-র কাজ, যিনি মনোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য এটি সম্পন্ন করেছেন। গবেষক এখানে ইবনে আজিবার সাথে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রখ্যাত সুফিদের মতামতের তুলনা করেছেন যাতে তার ওপর অন্যদের প্রভাবের মাত্রা এবং তিনি নতুন কোনো কিছু নিয়ে এসেছেন কি না বা কোনো বিষয়ে একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কি না তা স্পষ্ট হয়। গবেষক তার দৃষ্টিভঙ্গিতে ইবনে আজিবার বুদ্ধিবৃত্তিক সমৃদ্ধি, তাসাউফ ও এর প্রবক্তাদের প্রতি তার গভীর আগ্রহ এবং সুফি সত্যসমূহ সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৮)
وحسب اطلاعي على فحوى رسالته تبيَّن لي:

أولًا: أنَّ دراسةَ الباحث خاصَّةٌ بآراء ابن عجيبة الصوفية، ولم يدرس آراءَه العقدية.

وجاءت رسالة الباحث في خمسة فصول:

الفصل الأول: ابن عجيبة النشأة والتكوين الصوفي.

الفصل الثاني: مفهوم التصوف عند ابن عجيبة ولغته الرمزية.

الفصل الثالث: طريق التصوف عند ابن عجيبة والفناء في الحقيقة المطلقة.

الفصل الرابع: المعرفة الصوفية عند ابن عجيبة بين النظرية والتطبيق.

الفصل الخامس: موقف ابن عجيبة من قضايا التصوف الفلسفي.

وهي تختلف عما سأقوم به إن شاء الله عز وجل من دراسة آرائه العقدية -عرضًا ونقدًا-وفق منهج أهل السُّنَّة والجماعة.

ثانيًا: أنَّ دراسة الباحث لم تكن مبنيَّةً على منهج أهل السُّنَّة والجماعة في العرض والنقد، وبيان حقيقة التصوف وموقف أهل السُّنَّة والجماعة منه.

ثالثًا: أنَّ الباحث أثناء كلامه عن ابن عجيبة يثني ثناءً كبيرًا على آرائه الصوفية، ويصف مؤلفاته -المليئة بالمخالفات العقدية- بالتراث الكبير، ويصفه بالشخصية الصوفية الكبيرة، وهذا قول الموافق لا المخالف.

رابعًا: أنَّ طريقة الباحث في دراسته لفصول رسالته أراد بيان آراء ابن عجيبة الصوفية وجهوده في الدفاع عن التصوف، وتقريب منهجه لكلِّ مريدٍ وباحثٍ في التصوف على حدِّ زعمه.

وأما الفرق بين دراستي للموضوع ودراسة الباحث فلا وجه للمقارنة
আমার কাছে তার বার্তার সারমর্ম পর্যালোচনার পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে:

প্রথমত: গবেষকের অধ্যয়নটি ইবনে আজিবার সুফি মতবাদ সম্পর্কিত এবং তিনি তার আকিদাগত মতবাদসমূহ অধ্যয়ন করেননি।

গবেষকের অভিসন্দর্ভটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত:

প্রথম অধ্যায়: ইবনে আজিবা - শৈশব এবং সুফি গঠন।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবনে আজিবার নিকট তাসাউফের ধারণা এবং তার রূপক ভাষা।

তৃতীয় অধ্যায়: ইবনে আজিবার নিকট তাসাউফের পথ এবং পরম সত্যে বিলীন হওয়া (ফানা)।

চতুর্থ অধ্যায়: ইবনে আজিবার নিকট সুফি জ্ঞান - তত্ত্ব ও প্রয়োগের মাঝে।

পঞ্চম অধ্যায়: দার্শনিক তাসাউফের বিষয়সমূহে ইবনে আজিবার অবস্থান।

এবং এটি মহান আল্লাহ চাইলে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী তার আকিদাগত মতবাদসমূহের যে অধ্যয়ন (উপস্থাপন ও সমালোচনা) আমি করব, তা থেকে ভিন্ন।

দ্বিতীয়ত: গবেষকের অধ্যয়নটি উপস্থাপন ও সমালোচনা এবং তাসাউফের বাস্তবতা ও এ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অবস্থান বর্ণনার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের ওপর ভিত্তি করে ছিল না।

তৃতীয়ত: ইবনে আজিবা সম্পর্কে আলোচনার সময় গবেষক তার সুফি মতবাদসমূহের প্রচুর প্রশংসা করেছেন এবং তার রচনাবলিকে - যা আকিদাগত বিরোধিতায় পূর্ণ - বিশাল ঐতিহ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাকে একজন মহান সুফি ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা বিরোধিতাকারীর নয় বরং একমত পোষণকারীর বক্তব্য।

চতুর্থত: তার অভিসন্দর্ভের অধ্যায়সমূহ অধ্যয়নে গবেষকের পদ্ধতি ছিল ইবনে আজিবার সুফি মতবাদসমূহ বর্ণনা করা এবং তাসাউফ রক্ষায় তার প্রচেষ্টা তুলে ধরা এবং তার দাবি অনুযায়ী প্রত্যেক মুরিদ ও তাসাউফ গবেষকের জন্য তার মানহাজকে নিকটবর্তী করা।

আর এই বিষয়ে আমার অধ্যয়ন এবং উক্ত গবেষকের অধ্যয়নের মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে তুলনার কোনো অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৯)
بينهما، لكن على سبيل الإجمال لا التفصيل أُضيف إلى ما سبق:

أولًا: اشتملت خطة بحثي على باب بأكمله في مصادر التلقِّي عند ابن عجيبة، وهذا لم يتطرَّق له الباحث.

ثانيًا: اشتملت خطة بحثي على باب في آراء ابن عجيبة في أصول الإيمان ومسائله، وهذا لم يذكره الباحث.

ثالثًا: ذكرت في خطتي آراء ابن عجيبة في الولاية والكرامة، وهذا لم يذكره الباحث.

رابعًا: اشتملت خطتي على موقف ابن عجيبة من أعلام الصوفية وطرقها، وهذا لم يذكره الباحث.

خامسًا: ذكرت في الفصل السادس التعريف بالطريقة الدرقاوية ودوره في تأسيسها وموقف علماء أهل السُّنَّة منها، وهذا لم يذكره أيضًا.

وثمة رسائل في فنونٍ أخرى، لا تَمُتُّ إلى الموضوع بصلة، وهي:

1 - الشيخ ابن عجيبة ومنهجه في التفسير، للدكتور: حسن عزوزي، طبعة وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية بالرباط، 1422 هـ، 2001 م، تناول الباحث في رسالته منهج ابن عجيبة في تفسيره وقال: إن ابن عجيبة يذكر أسباب النزول بدون دقة، ولا عزو في كثير من المواضع، ويتعرض لفضائل السور والآيات، وتعرض الباحث لموقف ابن عجيبة من تفسير القرآن بأقوال السلف، وقال: لا يتعرض ابن عجيبة لسوق الآثار إلا قليلًا وفيها بواطلُ، وذكر الدكتور موقف ابن عجيبة من السيرة والتاريخ وذكر الغزوات، ومنهج ابن عجيبة من الإسرائيليات وأنه يذكرها بدون تمحيص، فلا علاقة لهذه الدراسة بموضوع بحثي.
তাদের উভয়ের মধ্যে, তবে বিস্তারিতভাবে নয় বরং সংক্ষেপে পূর্বের আলোচনার সাথে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যোগ করছি:

প্রথমত: আমার গবেষণা পরিকল্পনায় ইবনে আজিবার নিকট জ্ঞান অর্জনের উৎসসমূহ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ঐ গবেষক আলোচনা করেননি।

দ্বিতীয়ত: আমার গবেষণা পরিকল্পনায় ঈমানের মূলনীতি ও এর মাসআলাসমূহ সম্পর্কে ইবনে আজিবার মতামত সংক্রান্ত একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা গবেষক উল্লেখ করেননি।

তৃতীয়ত: আমি আমার পরিকল্পনায় বেলায়াত ও কারামত সম্পর্কে ইবনে আজিবার মতামত উল্লেখ করেছি, যা গবেষক উল্লেখ করেননি।

চতুর্থত: আমার পরিকল্পনায় প্রখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব ও তাদের তরিকাসমূহ সম্পর্কে ইবনে আজিবার অবস্থান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা গবেষক উল্লেখ করেননি।

পঞ্চমত: আমি ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে দারকাউয়ি তরীকার পরিচয়, এটি প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং এর প্রতি আহলুস সুন্নাহর আলেমদের অবস্থান উল্লেখ করেছি, যা তিনিও উল্লেখ করেননি।

এছাড়াও অন্যান্য শাস্ত্রে আরও কিছু অভিসন্দর্ভ রয়েছে, যেগুলোর সাথে এই বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলো হলো:

১ - শায়খ ইবনে আজিবা ও তাঁর তাফসির পদ্ধতি, ডক্টর হাসান আজজুজি রচিত, রাবাতে অবস্থিত আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত, ১৪২২ হিজরি, ২০০১ খ্রিস্টাব্দ। গবেষক তাঁর অভিসন্দর্ভে ইবনে আজিবার তাফসির পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: ইবনে আজিবা যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন না করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সূত্র উল্লেখ না করেই শানে নুযুল উল্লেখ করেন। তিনি সূরা ও আয়াতের ফজিলত সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন। গবেষক সালাফদের বাণীর আলোকে কুরআন তাফসিরের ক্ষেত্রে ইবনে আজিবার অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন: ইবনে আজিবা কদাচিৎ আসার (পূর্ববর্তীদের বাণী) উল্লেখ করেন এবং সেগুলোতে ভিত্তিহীন কথা রয়েছে। ডক্টর ইবনে আজিবার সিরাত, ইতিহাস ও যুদ্ধসমূহ বর্ণনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসরাঈলি বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেগুলো বর্ণনা করেন। সুতরাং আমার গবেষণার বিষয়ের সাথে এই অধ্যয়নের কোনো সম্পর্ক নেই।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১০)
2 - تحقيق البحر المديد رسالة دكتوراه للباحث: أحمد عبد الله القرشي رسلان من كلية أصول الدين بطنطا، جامعة الأزهر.

3 - أحمد بن عجيبة شاعر التصوف المغربي، للدكتور نور الدين ناس الفقيه، رسالة لنيل دبلوم الدراسات العليا المعمقة من كلية الآداب بجامعة سيدي محمد بن عبد الله، بفاس، قام الباحث بدراسة شعر ابن عجيبة في سياق رصد ما يزخر به المتن الشعري الصوفي بالمغرب من مميزات موضوعية فنية، رجع فيه إلى ديوان شعر ابن عجيبة، وكتاب (معراج التشوف إلى حقائق التصوف) ووجد فيه عددًا من المصطلحات الصوفية التي تخدم بحثه.

4 - دراسة شرح ابن عجيبة على الحكم العطائية، للباحث: محمد محمدي سليمان، رسالة ماجستير من كلية الآداب بجامعة الإسكندرية.

والخلاصة أنَّ موضوع (آراء ابن عجيبة العقدية، عرضًا ونقدًا) لم يُكتب فيه بحثٌ وفق منهج أهل السُّنَّة والجماعة -حسب علمي-، والله أسأل أن يوفقني فيه للصواب.
২ - আল-বাহরুল মাদিদ-এর সম্পাদনা ও গবেষণা, গবেষক আহমদ আবদুল্লাহ আল-কুরাশি রাসলানের পিএইচডি থিসিস, উসুলুদ্দীন অনুষদ, তানতা, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।

৩ - আহমদ বিন আজিবা: মরক্কোর সুফি কবি, ড. নুর উদ্দিন নাস আল-ফকিহ কর্তৃক প্রণীত, এটি ফেসে অবস্থিত সিদি মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য অনুষদ থেকে উচ্চতর গবেষণার ডিপ্লোমা অর্জনের জন্য পেশকৃত একটি থিসিস। এতে গবেষক মরক্কোর সুফি কাব্যগ্রন্থসমূহের শৈল্পিক ও বিষয়গত বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে ইবনে আজিবার কবিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি ইবনে আজিবার কাব্য সংকলন (দেওয়ান) এবং 'মিরাজুত তাশাউফ ইলা হাকাইকিত তাসাউফ' গ্রন্থের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং সেখানে তাঁর গবেষণার উপযোগী বেশ কিছু সুফি পরিভাষা পেয়েছেন।

৪ - হিকামুল আতাউইয়্যাহ-এর ওপর ইবনে আজিবার ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি পর্যালোচনা, গবেষক: মুহাম্মদ মুহাম্মাদি সুলাইমান, আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য অনুষদ থেকে প্রাপ্ত মাস্টার্স থিসিস।

সারকথা হলো, 'ইবনে আজিবার আকিদাগত মতবাদ: উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা' বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ বা আদর্শ অনুযায়ী কোনো গবেষণা—আমার জানামতে—এখনো রচিত হয়নি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এতে সঠিক বিষয়টি তুলে ধরার তাওফিক দান করেন।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌خطة البحث:

تتكون الرسالة من مقدمة وتمهيد، وثلاثة أبواب، وخاتمة، وفهارس.

المقدمة، وفيها:

أهمية الموضوع وأسباب اختياره، وأهداف البحث، والدراسات السابقة وخطة البحث، ومنهجه.

التمهيد، وفيه:

- ترجمة ابن عجيبة ترجمة موجزة.

- التعريف بالطرق الصوفية إجمالًا.

الباب الأول: مصادر التلقي عند ابن عجيبة، وفيه فصلان:

الفصل الأول: الكتاب والسُّنَّة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الكتاب.

المبحث الثاني: السُّنَّة.

الفصل الثاني: المصادر الصوفية في التلقي، وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: الكشف.

المبحث الثاني: الذوق.

المبحث الثالث: الوجد.

المبحث الرابع: الرؤى والحكايات.

المبحث الخامس: دعوى التلقِّي عن الخضر عليه السلام.

الباب الثاني: آراء ابن عجيبة في أصول الإيمان ومسائله، وفيه سبعة فصول:

الفصل الأول: آراؤه في الإيمان بالله، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: مسائل الربوبية.

المبحث الثاني: مسائل الأسماء والصفات.

المبحث الثالث: مسائل الألوهية.

الفصل الثاني: آراؤه في الإيمان بالملائكة، وفيه ثلاثة مباحث:
গবেষণা পরিকল্পনা:

গবেষণা প্রবন্ধটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি ভাগ, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত।

ভূমিকা, এতে রয়েছে:

বিষয়ের গুরুত্ব ও এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার লক্ষ্যসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণা পদ্ধতি।

উপক্রমণিকা, এতে রয়েছে:

- ইবনে আজিবার সংক্ষিপ্ত জীবনী।

- সুফি তরিকাসমূহের সাধারণ পরিচিতি।

প্রথম ভাগ: ইবনে আজিবার নিকট জ্ঞান আহরণের উৎসসমূহ, এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কিতাব ও সুন্নাহ, এতে রয়েছে দুটি অনুচ্ছেদ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কিতাব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞান আহরণের সুফি উৎসসমূহ, এতে রয়েছে পাঁচটি অনুচ্ছেদ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কাশফ (উন্মোচন)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জাওক (অনুভব)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ওয়াজদ (ভাবাবেগ)।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: স্বপ্ন ও কাহিনীসমূহ।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: খিজির আলাইহিস সালাম থেকে জ্ঞান আহরণের দাবি।

দ্বিতীয় ভাগ: ঈমানের মূলনীতি ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইবনে আজিবার মতামত, এতে রয়েছে সাতটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ঈমান বিষয়ে তার মতামত, এতে রয়েছে তিনটি অনুচ্ছেদ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: রুবুবিয়্যাহ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: উলুহিয়্যাহ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান বিষয়ে তার মতামত, এতে রয়েছে তিনটি অনুচ্ছেদ:
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الأول: معنى الإيمان بالملائكة.

المبحث الثاني: خلق الملائكة.

المبحث الثالث: المفاضلة بين الملائكة وصالحي البشر.

الفصل الثالث: آراؤه في الإيمان بالكتب، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف الكتب.

المبحث الثاني: منزلة الإيمان بالكتب من الإيمان.

الفصل الرابع: آراؤه في الإيمان بالرسل، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الإيمان بالرسل والأنبياء عمومًا.

المبحث الثاني: الفرق بين النبي والولي.

المبحث الثالث: عقيدته في الرسول محمد صلى الله عليه وسلم.

الفصل الخامس: آراؤه في الإيمان باليوم الآخر، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: أشراط الساعة.

المبحث الثاني: أحوال اليوم الآخر.

المبحث الثالث: الجنَّة والنَّار.

الفصل السادس: آراؤه في الإيمان بالقدر، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: معنى القدر ومراتبه.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমানের তাৎপর্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের সৃষ্টি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফেরেশতা ও পুণ্যবান মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ।

তৃতীয় অধ্যায়: কিতাবসমূহের ওপর ঈমান বিষয়ে তাঁর মতামতসমূহ, এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কিতাবসমূহের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কিতাবসমূহের ওপর ঈমানের মর্যাদা।

চতুর্থ অধ্যায়: রাসূলগণের ওপর ঈমান বিষয়ে তাঁর মতামতসমূহ, এতে রয়েছে তিনটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে রাসূল ও নবীগণের ওপর ঈমান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী ও ওলীর মধ্যে পার্থক্য।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে তাঁর আকিদা।

পঞ্চম অধ্যায়: পরকালের ওপর ঈমান বিষয়ে তাঁর মতামতসমূহ, এতে রয়েছে তিনটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের আলামতসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরকালের অবস্থাসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জান্নাত ও জাহান্নাম।

ষষ্ঠ অধ্যায়: তাকদীরের ওপর ঈমান বিষয়ে তাঁর মতামতসমূহ, এতে রয়েছে তিনটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাকদীরের অর্থ ও এর স্তরসমূহ।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الثاني: أفعال العباد.

المبحث الثالث: المشيئة والإرادة.

الفصل السابع: آراؤه في مسائل الإيمان، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: مفهوم الإيمان والفرق بينه وبين الإسلام.

المبحث الثاني: زيادة الإيمان ونقصانه.

المبحث الثالث: حكم مرتكب الكبيرة.

الباب الثالث: آراء ابن عجيبة الصوفية، وفيه ستة فصول:

الفصل الأول: المريد والشيخ، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: مفهوم المريد والشيخ.

المبحث الثاني: الصلة بين المريد والشيخ.

الفصل الثاني: الولاية والكرامة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الولاية ومراتب الأولياء.

المبحث الثاني: الكرامة وأقسامها.

الفصل الثالث: الحلول والاتحاد ووحدة الوجود، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الحلول والاتحاد.

المبحث الثاني: وحدة الوجود.

الفصل الرابع: الأحوال والمقامات، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الأحوال.

المبحث الثالث: المقامات.

المبحث الثالث: الصلة بين الأحوال والمقامات.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বান্দাদের কর্মসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইচ্ছা ও অভিপ্রায়।

সপ্তম অধ্যায়: ঈমান বিষয়ক মাসআলাসমূহে তাঁর মতামত, এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ঈমানের ধারণা এবং ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার পার্থক্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির বিধান।

তৃতীয় ভাগ: ইবনে আজীবাহ-এর সুফিবাদী মতামতসমূহ, এবং এতে ছয়টি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: মুরিদ ও শায়খ, এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুরিদ ও শায়খের ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুরিদ ও শায়খের মধ্যকার সম্পর্ক।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বেলায়াত ও কারামত, এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বেলায়াত ও আউলিয়াগণের স্তরসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কারামত ও এর প্রকারভেদ।

তৃতীয় অধ্যায়: হুলুল, ইত্তিহাদ এবং ওয়াহদাতুল উজুদ, এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হুলুল ও ইত্তিহাদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওয়াহদাতুল উজুদ।

চতুর্থ অধ্যায়: হাল ও মাকামসমূহ, এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হালসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাকামসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাল ও মাকামসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১৪)
الفصل الخامس: موقفه من أعلام الصوفية وطرقها وأثره على من بعده، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: موقفه من أعلام الصوفية.

المبحث الثاني: موقفه من طرقها.

المبحث الثالث: أثره على من بعده.

الفصل السادس: التعريف بالطريقة الدرقاوية ودوره في تأسيسها، وموقف علماء أهل السُّنَّة منها، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: التعريف بالطريقة الدرقاوية.

المبحث الثاني: دوره في تأسيسها.

المبحث الثالث: موقف أعلام السُّنَّة من الطريقة الدرقاوية.

الخاتمة: وفيها أهم النتائج والتوصيات.

الفهارس العلمية.

1 - فهرس الآيات القرآنية.

2 - فهرس الأحاديث والآثار.

3 - فهرس الأعلام المترجم لهم.

4 - فهرس المصطلحات والغريب.

5 - فهرس الأماكن والبلدان.

6 - فهرس الفرق والمذاهب.

7 - فهرس المصادر والمراجع.

8 - فهرس الموضوعات.
পঞ্চম অধ্যায়: সুফী ব্যক্তিত্ব ও তরীকাগুলোর প্রতি তাঁর অবস্থান এবং উত্তরসূরিদের ওপর তাঁর প্রভাব; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুফী ব্যক্তিত্বদের প্রতি তাঁর অবস্থান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তরীকাগুলোর প্রতি তাঁর অবস্থান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উত্তরসূরিদের ওপর তাঁর প্রভাব।

ষষ্ঠ অধ্যায়: দারকাউয়ী তরীকার পরিচয়, এর প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা এবং এর প্রতি আহলে সুন্নাহর আলেমদের অবস্থান; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: দারকাউয়ী তরীকার পরিচয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দারকাউয়ী তরীকার প্রতি আহলে সুন্নাহর ইমামগণের অবস্থান।

উপসংহার: এতে রয়েছে প্রধান ফলাফল ও সুপারিশমালা।

গবেষণামূলক নির্ঘণ্টসমূহ।

১ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

২ - হাদিস ও আসারসমূহের নির্ঘণ্ট।

৩ - জীবনচরিত বর্ণিত ব্যক্তিত্বদের নির্ঘণ্ট।

৪ - পারিভাষিক ও দুর্লভ শব্দাবলির নির্ঘণ্ট।

৫ - স্থান ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট।

৬ - দল ও মতবাদসমূহের নির্ঘণ্ট।

৭ - উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।

৮ - বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الصعوبات التي واجهت الباحث:

1 - كثرة كتب ابن عجيبة وعدم توفرها في مكتبات المملكة العربية السعودية، مما جعل الباحث يسافر عدة مرات إلى المملكة المغربية وينقِّب في المكتبات للحصول عليها.

2 - ظهر للباحث أن لابن عجيبة مخطوطات، وهذا مما أثقل هم الباحث في معرفة أماكنها وطريقة الحصول عليها، رغم أن الباحث لم يدون في منهج بحثه أنه سيرجع إليها، ولكن الله عز وجل يسرَّ للباحث التواصل مع السفارة السعودية في المملكة المغربية، وأخذ خطابًا من الدكتور خالد بن فرج آل مطلق الملحق الثقافي- السابق- بالرباط موجهًا للجامعات المغربية والخزانات المختصة بالمخطوطات لتسهيل إجراءات البحث والاطلاع، والحصول على نسخ من المواضيع والمخطوطات التي تهم الباحث.

3 - صعوبة قراءة المخطوطات فلقد كُتبت بخط الرعشة المغربي، مما تطلَّب بذل الجهد في قراءتها والاستعانة بمن يوثق به وله دراية بقراءة خط الرعشة.

4 - آثرت أن أوثِّق ما كتبته في المقدمة بأن له ضريحًا يزوره الصوفية كل سنة، فاستشرت فضيلة المشرف على الرسالة أن أذهب إلى مكان الضريح، وأوثق ذلك بالصور لكي لا يكون الكلام جزافًا، فشدَّ من أزري وشجَّعني على ذلك، ولكن الأمر لم يكن سهلًا كما ظننته؛ لأن مكان الضريح يوجد في منطقة يقال لها خميس الانجرا(1) والتي تبعد عن مدينة طنجة 60 كلم، إلا أن الضريح لا يوجد في هذه

--------------------------------------------

(1) خميس الانجرا: لم أجد معلومات عنها في الكتب، ولكن سألت مغربيًّا فقال: هي قرية صغيرة يجتمع الناس فيها كل خميس؛ لأنَّ فيها سوقًا يُقام كلّ خميس يسمى سوق الانجرا، وسكانها بيوتهم متفرقة في نواحي هذه القرية.
গবেষক যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন:

১ - ইবনে আজিবার কিতাবসমূহের আধিক্য এবং সৌদি আরব রাজ্যের লাইব্রেরিগুলোতে সেগুলোর অপ্রাপ্যতা, যার ফলে গবেষককে সেগুলো সংগ্রহের জন্য মরক্কো রাজ্যে বেশ কয়েকবার সফর করতে হয়েছে এবং লাইব্রেরিগুলোতে অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে।

২ - গবেষকের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে ইবনে আজিবার কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যা সেগুলোর অবস্থান জানা এবং তা সংগ্রহের পদ্ধতির ক্ষেত্রে গবেষকের চিন্তাকে ভারাক্রান্ত করেছে; যদিও গবেষক তাঁর গবেষণা পদ্ধতিতে এটি উল্লেখ করেননি যে তিনি সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করবেন। তবে আল্লাহ তাআলা গবেষকের জন্য মরক্কো রাজ্যে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ সহজ করে দিয়েছেন এবং তিনি রাবাতে নিযুক্ত সাবেক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ড. খালিদ বিন ফারাজ আল-মুতলাকের নিকট থেকে মরক্কোর বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং পাণ্ডুলিপি সংশ্লিষ্ট সংরক্ষণাগারগুলোর উদ্দেশ্যে একটি পত্র গ্রহণ করেন, যাতে গবেষণা ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং গবেষকের প্রয়োজনীয় বিষয় ও পাণ্ডুলিপির অনুলিপি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

৩ - পাণ্ডুলিপিগুলো পাঠ করার জটিলতা; কেননা সেগুলো মাগরিবী ‘রা’শা’ লিপিতে লিখিত ছিল। যার ফলে তা পাঠ করার ক্ষেত্রে কঠোর শ্রম ব্যয় করার এবং এই লিপি পাঠে পারদর্শী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তির সহযোগিতা গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।

৪ - আমি ভূমিকায় যা লিখেছি যে তাঁর একটি মাজার রয়েছে যেখানে সুফিরা প্রতি বছর যিয়ারতে আসেন, তা প্রমাণ করতে চাইলাম। তাই আমি প্রবন্ধের সম্মানীয় তত্ত্বাবধায়কের নিকট মাজারের স্থানে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করলাম এবং ছবি তুলে তা নথিভুক্ত করার সংকল্প করলাম যাতে বিষয়টি কেবল অনুমাননির্ভর না হয়। তিনি আমাকে দৃঢ় সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করলেন। তবে বিষয়টি আমার ধারণার মতো সহজ ছিল না; কারণ মাজারটি ‘খামিস আল-আনজরা’(১) নামক একটি এলাকায় অবস্থিত যা তানজাহ শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে। তবে মাজারটি এই

--------------------------------------------

(১) খামিস আল-আনজরা: কিতাবসমূহে এ সম্পর্কে আমি কোনো তথ্য পাইনি, তবে আমি একজন মরক্কোবাসীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এটি একটি ছোট গ্রাম যেখানে প্রতি বৃহস্পতিবার মানুষ সমবেত হয়; কারণ সেখানে প্রতি বৃহস্পতিবার একটি বাজার বসে যাকে ‘আনজরা বাজার’ বলা হয় এবং এর বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি এই গ্রামের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১৬)
الأخيرة بل يوجد في أعلى الجبل في منطقة يقال لها الزميج، وعند وصولي إليه وجدت رجلًا مسنًّا معه مفتاح للضريح، ففتح لي، وقمت بتوثيق ضريحه، وكذلك أضرحة أبنائه.

ثم ذهبت بعد ذلك لتوثيق ضريح صاحب الطريقة الدرقاوية في منطقة بني زروال والتي توجد في شمال مدينة تطوان، وكل ذلك موثق في ملاحق الرسالة.

5 - كثرة استخدام ابن عجيبة للرموز الصوفية، مما جعل عباراته غامضة، فقد يلبس على من ليس له دراية بكلام القوم بأنَّه على حق، خاصة في كتابه البحر المديد، الذي سار في منهجه بتفسير الآيات بالظاهر والباطن، وهذا يتطلب الرجوع إلى كافة كتبه ومخطوطاته لكي يكون الحكم على قوله دقيقًا ومنصفًا.
শেষেরটি, বরং এটি পাহাড়ের চূড়ায় যামিজ নামক একটি এলাকায় অবস্থিত। সেখানে পৌঁছানোর পর আমি একজন বৃদ্ধ লোককে পেলাম যার কাছে মাজারের চাবি ছিল। তিনি আমার জন্য দরজা খুলে দিলেন এবং আমি তার মাজার ও তার সন্তানদের মাজারগুলোর তথ্য নথিভুক্ত করলাম।

এরপর আমি তেতুয়ান শহরের উত্তরে অবস্থিত বানি যারওয়াল এলাকায় দারকাউয়ি তরীকার প্রতিষ্ঠাতার মাজারের তথ্য নথিভুক্ত করতে যাই। এই সমস্ত কিছুই গবেষণাপত্রের পরিশিষ্টে নথিভুক্ত রয়েছে।

৫ - ইবনে আজিবা কর্তৃক সুফি প্রতীকসমূহের অত্যধিক ব্যবহার তার বক্তব্যকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। ফলে এই সম্প্রদায়ের পরিভাষা সম্পর্কে যাদের জ্ঞান নেই, তাদের কাছে মনে হতে পারে যে তিনি সত্যের ওপর আছেন; বিশেষ করে তার 'আল-বাহরুল মাদিদ' গ্রন্থে, যেখানে তিনি আয়াতের প্রকাশ্য ও অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যার পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তার বক্তব্যের ওপর নির্ভুল ও ন্যায়সঙ্গত বিচার করার জন্য তার সমস্ত কিতাব ও পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনা করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌منهج البحث:

سلكت في كتابة هذا البحث المنهج الاستقرائي التحليلي النقدي وفق ما يلي:

1 - جمع المادة العلمية ومعرفة آرائه العقدية.

2 - نقدها في ضوء مذهب السلف.

3 - عزو الآيات القرآنية الواردة في البحث إلى مواضعها من القرآن الكريم بذ كر اسم السورة ورقم الآية مع كتابتها بالرسم العثماني.

4 - تخريج الأحاديث النبوية من مصادرها الأصلية، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت به وإلا خرجته من مظانه مع ذكر حكم الأئمة عليه.

5 - توثيق الآثار الواردة في البحث إلى مصادرها.

6 - شرح الألفاظ الغريبة.

7 - التعريف بالفرق والطوائف والمذاهب والأماكن والبلدان.

8 - تذييل البحث بالفهارس اللازمة.

9 - التعريف بالأعلام غير المشتهرين.
‌‌গবেষণা পদ্ধতি:

এই গবেষণাটি রচনায় আমি নিম্নলিখিত বিষয়াদির আলোকে আরোহী, বিশ্লেষণধর্মী ও সমালোচনামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - গবেষণার উপাদানসমূহ সংগ্রহ করা এবং তাঁর আকিদাহগত মতামতসমূহ চিহ্নিত করা।

২ - সালাফদের আদর্শের আলোকে সেগুলোর পর্যালোচনা করা।

৩ - গবেষণায় উল্লেখিত কুরআনের আয়াতসমূহকে কুরআনে কারীমের সংশ্লিষ্ট স্থানে নির্দেশ করা; এক্ষেত্রে সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করার পাশাপাশি তা উসমানী লিপিতে লিপিবদ্ধ করা।

৪ - মূল উৎস হতে হাদীসসমূহের তাখরীজ করা; হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে (অথবা যেকোনো একটিতে) থাকলে কেবল তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি, অন্যথায় সম্ভাব্য উৎসসমূহ হতে তা তাখরীজ করার পাশাপাশি হাদীসটির মান সম্পর্কে ইমামদের মতামত উল্লেখ করেছি।

৫ - গবেষণায় উল্লিখিত আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) সমূহকে তাদের মূল উৎসের বরাতে প্রামাণ্য রূপ দান করা।

৬ - অপ্রচলিত ও কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করা।

৭ - বিভিন্ন দল, উপদল, মতাদর্শ, স্থান ও জনপদসমূহের পরিচয় প্রদান করা।

৮ - প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) সংযোজনের মাধ্যমে গবেষণার ইতি টানা।

৯ - স্বল্প পরিচিত ব্যক্তিবর্গের পরিচয় প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الشكر والتقدير

الحمد لله عز وجل الذي أنعم عليَّ بفضله وكرمه على إتمام هذا البحث.

والشكر الجزيل لمن قرن الله عز وجل شكره بشكرهما فقال في كتابه الكريم: {أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ}(1) والداي اللذان ربياني صغيرًا وسهَّلا لي طلب العلم بتشجيعهما ودعائهما، وأسأل الله عز وجل أن يوفقني لبرِّهما ويمتّعني بصحتهما، والشكر كذلك لزوجتي أم صهيب لصبرها وجهودها.

وعملًا بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من صنع لكم معروفًا فكافئوه، فإن لم تجدوا ما تكافئونه فادعوا له حتى تروا أنكم قد كافأتموه»(2)، وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يشكرُ اللهَ من لا يشكرُ النَّاسَ»(3)؛ فإنِّي أتوجه بالشكر الجزيل لفضيلة الشيخ الدكتور عبد الرحمن بن عبد الله التركي الأستاذ بقسم العقيدة والمذاهب المعاصرة على تفضُّله بالإشراف على هذه الرسالة ومتابعتي وحثِّي دائمًا على الدقَّةِ في الألفاظ والتحرِّي في الصواب مما كان له أثر في إخراج هذا البحث بحلَّته التي أرجو أن يكون على النحو المأمول.

وأتوجَّه بالشكر أيضًا للمناقِشَين الكريمين اللذين تفضَّلا بفحص هذه الرسالة وتقويمها، وهما: أ. د. عبد الله بن محمد السَّند، (عميد كلية أصول الدين بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية- سابقاً- والأستاذ بقسم العقيدة والمذاهب

--------------------------------------------

(1) سورة لقمان: 14.

(2) أخرجه الإمام أحمد، 9/ 266، رقم 5365، وأبو داود، كتاب الزكاة، باب عطية من سأل بالله، 2/ 310، رقم 1672، والنسائي، كتاب الزكاة، باب من سأل بالله عز وجل، 5/ 82، من حديث ابن عمر رضي الله عنهما، والحديث صحَّحه الألباني في صحيح سنن أبي داود 1/ 314.

(3) أخرجه أبو داود، كتاب الأدب، باب في شكر المعروف 5/ 157، رقم 4811، والترمذي، كتاب البر والصلة، باب ما جاء في الشكر لمن أحسن إليك 4/ 299، رقم 1954، وصحَّحه الألباني في صحيح سنن الترمذي رقم 1592.
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর অনুগ্রহ ও করুণার মাধ্যমে আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার নিয়ামত দান করেছেন।

সেই সত্তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, মহান আল্লাহ যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে তাঁর নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতার সাথে যুক্ত করেছেন। তিনি তাঁর সম্মানিত গ্রন্থে বলেছেন: {আমার প্রতি এবং তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; প্রত্যাবর্তন তো আমারই কাছে}(১) আমার সেই পিতামাতা, যাঁরা শৈশব থেকে আমাকে লালন-পালন করেছেন এবং তাঁদের উৎসাহ ও দুআর মাধ্যমে আমার ইলম অন্বেষণের পথকে সুগম করেছেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার তাওফিক দান করেন এবং তাঁদের সুস্থতার সাথে দীর্ঘজীবী করেন। একইভাবে আমার স্ত্রী উম্মু সুহাইবকে তাঁর ধৈর্য ও প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর ওপর আমল করে: «কেউ তোমাদের প্রতি কোনো অনুগ্রহ করলে তার প্রতিদান দাও; যদি প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না পাও, তবে তার জন্য দুআ করো—যতক্ষণ না তোমরা মনে করো যে তোমরা তাকে যথাযথ প্রতিদান দিয়েছ»(২), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না»(৩); আমি আকীদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগের অধ্যাপক সম্মানীয় শায়খ ডক্টর আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আত-তুর্কির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি এই থিসিসের তত্ত্বাবধান করার জন্য অনুগ্রহ করেছেন, আমাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং শব্দ চয়ন ও সঠিকতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বদা সূক্ষ্ম হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। এরই প্রভাবে এই গবেষণাটি এমন এক রূপে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছে যা আমি প্রত্যাশা করেছিলাম।

আমি সেই দুজন সম্মানিত পরীক্ষকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা অনুগ্রহপূর্বক এই থিসিসটি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করেছেন। তাঁরা হলেন: প্রফেসর ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস-সানাদ (ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের সাবেক ডিন এবং আকীদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগের অধ্যাপক)।

--------------------------------------------

(১) সূরা লোকমান: ১৪।

(২) ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন, ৯/২৬৬, হাদীস নং ৫৩৬৫; আবু দাউদ, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর দোহাই দিয়ে চাইলে তাকে দান করা, ২/৩১০, হাদীস নং ১৬৭২; নাসাঈ, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর দোহাই দিয়ে চায়, ৫/৮২; ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীস হতে। আলবানী একে সহীহ সুনানে আবু দাউদ ১/৩১৪-এ সহীহ বলেছেন।

(৩) আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, আদব অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: উপকারের কৃতজ্ঞতা স্বীকার প্রসঙ্গে, ৫/১৫৭, হাদীস নং ৪৮১১; তিরমিযী, বিরর ও সিলাহ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে তোমার প্রতি উপকার করে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, ৪/২৯৯, হাদীস নং ১৯৫৪। আলবানী একে সহীহ সুনানে তিরমিযী নং ১৫৯২-এ সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ১৯)
المعاصرة)، و أ. د. سليمان بن سالم السُّحيمي (رئيس قسم العقيدة بكلية الدعوة وأصول الدين بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية سابقاً).

كما أتوجه بالشكر إلى جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية ممثلةً في كلية أصول الدين قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة على ما تقدِّمه لطلابها من اهتمامٍ وحسن رعاية.

ولا يفوتني أن أشكر مدير تعليم المدينة النبوية الأستاذ ناصر بن عبد الله العبد الكريم على تشجيعه لمنسوبي إدارته من مشرفين ومعلمين، وتذليل الصعوبات لهم لإكمال الدراسات العليا لمرحلتي الماجستير والدكتوراه في الجامعات الداخلية والخارجية، مما يحقق الأثر المنشود والنفع الموعود بإذن الله عز وجل لهذه الدولة المباركة المملكة العربية السعودية.

والشكر أيضًا للملحقية الثقافية السعودية في مدينة الرباط بدولة المغرب على اهتمامهم وتزويدهم لي ببعض الكتب والمراجع التي كانت مهمة في بحثي من داخل مكتبة الملحقية أو من خارجها، وشكري الخاص لمدير الملحقية الأستاذ عبد الله البخيت على حفاوة الاستقبال والحرص على بذل كل ما في الوسع من تزويدي ببعض المراجع.

وكذلك شكري وتقديري لمن فتح لي بيته وقلبه في مدينة الرياض أثناء دراستي لمنهجية الدكتوراه الأخ الفاضل اللواء مرزوق بن مبيريك الحربي، قائد المجموعة المرافقة، والمشرف على الحراسة لصاحب السمو الملكي الأمير نايف بن عبد العزيز آل سعود رحمه الله والمستشار لوزير الداخلية صاحب السمو الملكي الأمير عبد العزيز بن سعود بن نايف آل سعود فجزاه الله خيرًا وجعل ذلك في موازين حسناته.
সমসাময়িক), এবং প্রফেসর ড. সুলাইমান বিন সালিম আস-সুহাইমি (মদিনা নববী ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদের আকীদা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান)।

অনুরূপভাবে, আমি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে উসুলুদ দ্বীন অনুষদের আকীদা ও সমসাময়িক মতবাদ বিভাগকে, তাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি তারা যে বিশেষ মনোযোগ ও সুচারু তত্ত্বাবধান প্রদান করে তার জন্য।

আমি মদিনা নববীর শিক্ষা পরিচালক উস্তাদ নাসির বিন আব্দুল্লাহ আল-আব্দুল কারীমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলছি না, তার প্রশাসনের পরিদর্শক ও শিক্ষকদের প্রতি তার উৎসাহ প্রদান এবং দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি স্তরের উচ্চতর শিক্ষা সমাপ্ত করার ক্ষেত্রে তাদের পথ সুগম করে দেওয়ার জন্য; যা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই বরকতময় রাষ্ট্র সৌদি আরব রাজ্যের জন্য কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কল্যাণ বয়ে আনবে।

মরক্কো রাষ্ট্রের রাবাত শহরে অবস্থিত সৌদি সাংস্কৃতিক মিশনকেও ধন্যবাদ তাদের আন্তরিকতা এবং মিশনের লাইব্রেরি বা এর বাইরে থেকে আমার গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই ও তথ্যসূত্র সরবরাহ করার জন্য। বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি মিশনের পরিচালক উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-বাখিতকে তার উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আমাকে কিছু তথ্যসূত্র সরবরাহে সাধ্যমতো চেষ্টা করার জন্য।

সেই সাথে আমার কৃতজ্ঞতা ও সমাদর সেই ব্যক্তির প্রতি যিনি রিয়াদ শহরে আমার পিএইচডি পদ্ধতির পড়াশোনার সময় তার ঘর ও হৃদয় আমার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, তিনি হলেন সম্মানীয় ভাই মেজর জেনারেল মারজুক বিন মুবাইরিক আল-হারবি। তিনি ছিলেন রাজকীয় উচ্চপদস্থ যুবরাজ নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ (আল্লাহ তাকে রহম করুন)-এর দেহরক্ষী দলের প্রধান ও নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজকীয় উচ্চপদস্থ যুবরাজ আব্দুল আজিজ বিন সাউদ বিন নায়েফ আল সৌদ-এর উপদেষ্টা। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং একে তার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌التمهيد

وفيه:

1 - ترجمة ابن عجيبة ترجمة موجزة

2 - التعريف بالطرق الصوفية إجمالا
ভূমিকা

এতে রয়েছে:

১ - ইবনে আজিবার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী

২ - সামগ্রিকভাবে সুফি তরিকাসমূহের পরিচয়
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ترجمة ابن عجيبة ترجمة موجزة

‌‌أولًا: اسمه ونسبه وكنيته

قال: أنا أحمد بن محمد بن المهدي بن الحسين بن محمد بن عجيبة الحجوجي(1)، ثم يذكر بعد ذلك الصلة بين عبد الله بن عجيبة والبيت الحجوجي فيقول: "الحجوجي بن سيدي بن عبد الله بن عجيبة ثم إلى سيدي سحنون ابن مولاي إبراهيم بن مولاي محمد بن مولاي موسى بن مولاي بن عبد الله ثم إلى مولاي أحمد بن مولاي إدريس الأصغر بن مولاي إدريس الأكبر، هكذا رأيت بخط جدي الحسين المذكور أعني الجمع بين النسبتين ابن عجيبة والحجوجي"(2).

أما كنيته فيكنَّى بأبي العبَّاس(3).

والملاحظ أن ابن عجيبة يصر على أن يلصق نسبه بآل البيت(4)، فأكد على نسبته بعبد الله ابن عجيبة الذي يتصل نسبه بالأدارسة(5) أشراف المغرب.

--------------------------------------------

(1) وهذا اللَّقب أُطلق على جدِّه -بزعمه- أنَّه يقف كل عام مع الحجاج بعرفة على سبيل الطي وخرق العادة، وهذا ديدن الصوفية من الخرافات التي لا يصدقها من لديه أدنى مسكة عقل. ينظر: الفهرسة، لابن عجيبة، ص 16.

(2) الفهرسة، ص 16.

(3) ينظر: شجرة النور الزكية في طبقات المالكية 1/ 526.

وقد أخطأ محمد مخلوف في كتابه شجرة النور الزكية عند ترجمته لابن عجيبة بقوله: "هو أحمد بن عجيبة الفاسي"، وعُرف عن ابن عجيبة أن مركزه الأصل في بني زروال ثم انتقل إلى تطوان واستقرَّ بها، وأمَّا القول بأنه فاسي فإنَّه خطأ، فهو زار فاس للعلم ولم يمكث بها، وكذلك أخطأ في زمن وفاته، حيث قال: توفي سنة 1266 هـ، وإنما كانت وفاته سنة 1224 هـ. ينظر: شجرة النور الزكية في طبقات المالكية 2/ 426.

(4) ومن تتبَّع كتب المتصوفة يجد أنَّ شيوخ المتصوفة يلصقون أنفسهم إمَّا بالحسن أو الحسين عن طريق الرؤى؛ لكي تكون لهم حظوة عند أتباعهم، ينظر: طبقات الشاذلية الكبرى، ص 266.

(5) الأدارسة: بطنٌ من بني الحسن السبط أمير المؤمنين علي بن أبي طالب من بني هاشم من العدنانية، وهم بنو إدريس بن عبد الله بن الحسن المثنى بن الحسن السبط بن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه، كان لهم ملكٌ بالمغرب الأقصى، وكان السبب في ذلك أنَّه خاف من الهادي العباسي ففرَّ إلى بلاد المغرب فتعصَّب له متعصِّبون وملك المغرب الأقصى سنة ثلاث وسبعين ومائة، ثم ملك بعده أولاده إلى أن غلبهم على ذلك المنصور بن أبي عامر من القحطانية، واستولى على ما بيدهم من ذلك مع ما بيده من الأندلس. ينظر: نهاية الأرب في معرفة أنساب العرب 1/ 59.
ইবনে আজিবার সংক্ষিপ্ত জীবনী

প্রথমত: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম

তিনি বলেছেন: "আমি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মাহদী বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আজিবা আল-হাজ্জুজি", এরপর তিনি আবদুল্লাহ বিন আজিবা এবং হাজ্জুজি পরিবারের মধ্যকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন: "হাজ্জুজি বিন সিদি বিন আবদুল্লাহ বিন আজিবা, অতঃপর সিদি সাহনুন বিন মাওলায় ইবরাহিম বিন মাওলায় মুহাম্মদ বিন মাওলায় মুসা বিন মাওলায় বিন আবদুল্লাহ বিন মাওলায় আহমদ বিন মাওলায় ইদরিস আল-আসগর বিন মাওলায় ইদরিস আল-আকবর। আমার পূর্বোক্ত দাদা আল-হুসাইনের হাতের লেখায় আমি এভাবেই ইবনে আজিবা ও হাজ্জুজি—এই উভয় সম্পর্কের সমন্বয় দেখেছি" ।

তাঁর উপনাম হলো আবুল আব্বাস।

লক্ষ্যণীয় যে, ইবনে আজিবা তাঁর বংশপরিচয়কে আহলে বাইতের সাথে যুক্ত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন, তাই তিনি আবদুল্লাহ বিন আজিবার সাথে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যাঁর বংশধারা মরক্কোর আশরাফ বা ইদরিসিয়াদের সাথে গিয়ে মিলিত হয়।

--------------------------------------------

(১) তাঁর দাবি অনুযায়ী এই উপাধিটি তাঁর দাদার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো, কারণ তিনি অলৌকিকভাবে পথ পাড়ি দিয়ে প্রতি বছর আরাফার ময়দানে হাজীদের সাথে অবস্থান করতেন। এটি সুফিদের প্রচলিত সেই সব কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত যা সামান্যতম বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিও বিশ্বাস করবে না। দেখুন: আল-ফাহরাসা, ইবনে আজিবা, পৃষ্ঠা ১৬।

(২) আল-ফাহরাসা, পৃষ্ঠা ১৬।

(৩) দেখুন: শাজারাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল মালিকিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫২৬।

মুহাম্মদ মাখলুফ তাঁর 'শাজারাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ' গ্রন্থে ইবনে আজিবার জীবনী বর্ণনায় ভুল করেছেন এই কথা বলে যে: "তিনি আহমদ বিন আজিবা আল-ফাসি"। অথচ ইবনে আজিবার মূল কেন্দ্র ছিল বনী জারওয়াল, এরপর তিনি তিতওয়ানে চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ী হন। আর তাঁকে 'ফাসি' (ফেসবাসী) বলাটা ভুল, কারণ তিনি ইলম অর্জনের জন্য ফাস সফর করেছিলেন কিন্তু সেখানে অবস্থান করেননি। একইভাবে তিনি তাঁর মৃত্যুর সময়ের ব্যাপারেও ভুল করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: ১২৬৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন; অথচ তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১২২৪ হিজরিতে। দেখুন: শাজারাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল মালিকিয়্যাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪২৬।

(৪) সুফিদের কিতাবগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সুফি শায়খগণ নিজেদের অনুসারীদের কাছে মর্যাদা পাওয়ার জন্য স্বপ্নযোগে নিজেদের বংশধারা হাসান বা হুসাইনের (রা.) সাথে যুক্ত করে থাকেন। দেখুন: তাবাকাতুশ শাযিলিয়্যাহ আল-কুবরা, পৃষ্ঠা ২৬৬।

(৫) ইদরিসিয়া: তাঁরা হলেন আমিরুল মুমিনিন আলী বিন আবি তালিবের পুত্র হাসান আস-সিবত (রা.)-এর বংশধর এবং আদনানিয়া গোত্রভুক্ত বনু হাশেমের একটি শাখা। তাঁরা মূলত ইদরিস বিন আবদুল্লাহ বিন হাসান আল-মুসান্না বিন হাসান আস-সিবত বিন আমিরুল মুমিনিন আলী বিন আবি তালিব (রা.)-এর বংশধর। মরক্কোর দূরবর্তী অঞ্চলে (মাগরিব আল-আকসা) তাঁদের রাজত্ব ছিল। এর কারণ ছিল এই যে, ইদরিস বিন আবদুল্লাহ (আব্বাসীয় খলিফা) আল-হাদী-এর ভয়ে পালিয়ে মরক্কোর ভূখণ্ডে চলে যান। সেখানে কিছু লোক তাঁর পক্ষাবলম্বন করে এবং ১৭৩ হিজরিতে তিনি মরক্কোর দূরবর্তী অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণ করেন। এরপর তাঁর সন্তানরা রাজত্ব করেন, যে পর্যন্ত না কাহতানিয়া গোত্রের মনসুর বিন আবি আমির তাঁদের পরাজিত করে তা দখল করে নেন। তিনি তাঁদের অধিকৃত অঞ্চল এবং নিজের অধীনে থাকা আন্দালুস—উভয়ই জয় করে নেন। দেখুন: নিহায়াতুল আরাব ফি মা'রিফাতি আনসাবিল আরাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৯।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذا يظهر من خلال النقاط الآتية:

1 - عدم موافقة بيت عبد الله بن عجيبة على ذلك، فقد سعوا إلى عزلهم.

قال ابن عجيبة: "ولقد وقعت مشاجرة كبيرة بين الفريقين في حياة شيخنا العلامة سيدي عبد الكريم بن قريش حين أرادوا أن يعزلونا من نسب الشيخ ابن عجيبة"(1).

2 - ابن عجيبة كان يعُرف آباؤه باسم الحجوجي.

3 - تسمية ابن عجيبة لم تكن مشتهرة له سوى لأبناء عبد الله ابن عجيبة، والذي زعم ابن عجيبة أن جده الحسين بن محمد هو ابن أخيه.

يقول ابن عجيبة: "ولم نقف أيضًا على تحقيق نسبه أعني سيدي الحسين، غير أن الظن القوي به أنه من قرابة شيخه عبد الله بن عجيبة، بل ولد أخيه"(2).

4 - شك في نسبه، يقول: " … فقلت له يا سيدي(3)، هل وقفت على صحة نسبنا؟ فنظر إليَّ وقال: لا تشك"(4).

5 - إضافة إلى أنه كان مهتمًا بهذا الأمر، قال: "ولقد كنت فيما أسلفت

--------------------------------------------

(1) الفهرسة، ص 17.

(2) الفهرسة، ص 17.

(3) أي شيخه العربي الدرقاوي.

(4) الفهرسة، ص 19.
এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়:

১ - আবদুল্লাহ ইবনে আজীবাহর পরিবারের এতে অসম্মতি ছিল, কারণ তারা তাদের বংশধারা থেকে পৃথক করার চেষ্টা করেছিল।

ইবনে আজীবাহ বলেন: "আমাদের শায়খ আল্লামা সাইয়্যিদি আবদুল কারীম ইবনে কুরাইশ-এর জীবদ্দশায় উভয় পক্ষের মধ্যে এক বড় বিবাদ সংঘটিত হয়েছিল যখন তারা আমাদের শায়খ ইবনে আজীবাহর বংশধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল"(১)।

২ - ইবনে আজীবাহর পূর্বপুরুষগণ 'আল-হাজ্জুজি' নামে পরিচিত ছিলেন।

৩ - ইবনে আজীবাহ উপাধিটি আবদুল্লাহ ইবনে আজীবাহর বংশধরদের বাইরে সুপরিচিত ছিল না, যাদের ব্যাপারে ইবনে আজীবাহ দাবি করেছিলেন যে তাঁর দাদা হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ছিলেন তাঁর (আবদুল্লাহর) ভ্রাতুষ্পুত্র।

ইবনে আজীবাহ বলেন: "আমি তাঁর অর্থাৎ সাইয়্যিদি হুসাইনের বংশপরিচয়ের কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণের সন্ধান পাইনি, তবে তাঁর সম্পর্কে প্রবল ধারণা এই যে, তিনি তাঁর শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে আজীবাহর নিকটাত্মীয় ছিলেন, বরং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ছিলেন"(২)।

৪ - তাঁর বংশধারা নিয়ে সংশয়; তিনি বলেন: " ... আমি তাঁকে বললাম, হে আমার সাইয়্যিদি(৩), আপনি কি আমাদের বংশপরিচয়ের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জেনেছেন? তখন তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন: সন্দেহ করো না"(৪)।

৫ - এর পাশাপাশি তিনি এই বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, তিনি বলেন: "অতীতকালে আমি ছিলাম...

--------------------------------------------

(১) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ১৭।

(২) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ১৭।

(৩) অর্থাৎ তাঁর শায়খ আল-আরাবি আদ-দারকাওয়ি।

(৪) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ১৯।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ২৫)
مهتمًا بهذا الأمر"(1).

ولكن كيف دفع ابن عجيبة هذه الشكوك؟

لقد اتخذ من أقوال الشيوخ، والأولياء، والرؤى مصادر لصحة إلصاق نسبه بالبيت النبوي.

أ- قول شيخه الدرقاوي له: " … وأنا(2) قد خصَّني الله تعالى بخصوصية وهي أني مهما رأيت الشريف نعرفه من غيره، والله على ما نقول وكيل"(3)، وعندما سأله ابن عجيبة: "يا سيدي هل وقفت على صحة نسبنا؟ فنظر إليَّ وقال: لا تشك ولقد هممت أن أكتب بصحة نسبكم على ظهر كتابك، يعني شرح الحكم"(4).

ب- الرؤى، قال: "وقف عليَّ في النوم رجل بيده كتاب فقال: خذ تنظر ترجمة جدكم، ففتحت الكتاب فإذا فيه خط رائق، فجعلت أتصفح أوراقه لنقف على الترجمة، فكلَّمني فلما نظرت إليه قال لي: جدكم هو عبد الله بن عجيبة بن فلان بن فلان بن فلان، فما زال يذكر أسماء الأجداد إلى عمر بن إدريس"(5).

ج- الخلاصة مما سبق أن ابن عجيبة يصل إلى قضية أشغلته قرابة سبعٍ وأربعين عامًا(6) وهي: صحة تأكيد نسبه فهو يقول: "وقد كنت أتنكب الانتساب، وأتحرج منه في شهادتي وكتبي، لعدم تحقق ذلك حتى رأيت شيخنا وشيخه وهما:

--------------------------------------------

(1) الفهرسة، ص 17.

(2) شيخه الدرقاوي.

(3) الفهرسة، ص 19.

(4) الفهرسة، ص 20.

(5) الفهرسة، ص 19.

(6) يتبيَّن هذا التحديد -والله أعلم- من خلال التالي: 1 - ولد سنة 1161 هـ، 2 - سلك الطريقة على يد شيوخه عام 1208 هـ، 3 - كتابتهما له أثناء المراسلة له فقوي اليقين بصحَّة النسبة.
এই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদানকারী(১)।

কিন্তু ইবনে আজিবা কীভাবে এই সন্দেহগুলো দূর করেছেন?

তিনি শায়খদের বক্তব্য, আউলিয়াদের বাণী এবং স্বপ্নসমূহকে নববী বংশধারার (আহলুল বাইত) সাথে তাঁর বংশগত সংশ্লিষ্টতার সঠিকতা প্রমাণের উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

ক- তাঁর শায়খ আদ-দারকাওয়ী তাকে বলেছিলেন: " … আর আমাকে(২) আল্লাহ তাআলা একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন, আর তা হলো আমি যখনই কোনো শরীফকে (নবী বংশীয়) দেখি, তাকে অন্যদের থেকে চিনতে পারি। আর আমরা যা বলছি সে বিষয়ে আল্লাহই কর্মবিধায়ক"(৩)। এবং যখন ইবনে আজিবা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আমার সায়্যিদ, আপনি কি আমাদের বংশের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন? তখন তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন: তুমি কোনো সন্দেহ করো না; আমি তোমার কিতাবের পেছনে, অর্থাৎ শারহুল হিকাম-এর পেছনে তোমাদের বংশের সঠিকতা সম্পর্কে লিখে দেওয়ার সংকল্প করেছি"(৪)।

খ- স্বপ্নসমূহ; তিনি বলেছেন: "স্বপ্নে আমার সামনে এক ব্যক্তি দাঁড়ালেন যার হাতে একটি কিতাব ছিল। তিনি বললেন: এটি নাও এবং তোমার দাদার জীবনী দেখ। আমি কিতাবটি খুললাম এবং দেখলাম তাতে অত্যন্ত চমৎকার লিপি রয়েছে। আমি তার পাতাগুলো উল্টাতে শুরু করলাম যেন জীবনীটি খুঁজে পাই। এরপর তিনি আমার সাথে কথা বললেন; যখন আমি তাঁর দিকে তাকালাম, তিনি আমাকে বললেন: তোমাদের দাদা হলেন আব্দুল্লাহ বিন আজিবা বিন অমুক বিন অমুক বিন অমুক। এভাবে তিনি উমর বিন ইদরিস পর্যন্ত পূর্বপুরুষদের নামগুলো উল্লেখ করতে থাকলেন"(৫)।

গ- পূর্বোল্লিখিত বর্ণনার সারসংক্ষেপ হলো যে, ইবনে আজিবা এমন একটি বিষয়ে উপনীত হন যা তাকে প্রায় সাতচল্লিশ বছর(৬) ব্যতিব্যস্ত রেখেছিল, আর তা হলো: তাঁর বংশধারার সঠিকতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন: "আমি এই বংশগত পরিচয় দিতে বিমুখ ছিলাম এবং আমার সাক্ষ্য ও গ্রন্থাবলীতে তা উল্লেখ করতে দ্বিধাবোধ করতাম, কারণ বিষয়টি সুনিশ্চিত ছিল না; যতক্ষণ না আমি আমাদের শায়খ এবং তাঁর শায়খকে দেখলাম, আর তাঁরা হলেন:

--------------------------------------------

(১) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ১৭।

(২) তাঁর শায়খ আদ-দারকাওয়ী।

(৩) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ১৯।

(৪) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ২০।

(৫) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ১৯।

(৬) এই সময়সীমাটি -আল্লাহই ভালো জানেন- নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট হয়: ১ - তিনি ১১৬১ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, ২ - তিনি ১২০৮ হিজরীতে তাঁর শায়খদের নিকট তরিকত চর্চা শুরু করেন, ৩ - চিঠিপত্র আদান-প্রদানের সময় তাঁর প্রতি তাঁদের লিখনী, যার ফলে বংশের সঠিকতার ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ২৬)
(العربي الدرقاوي، والبوزيدي) يصرحان به في كتبهما لي ولأخي وهما يتكلمان بالله، وينظران بنور الله فعلمت صحة النسبة مع الحكاية المتقدمة قبلُ والرؤيا … فقوي اليقين بصحة النَّسب"(1).

 

‌‌ثانيًا: ولادته

ولد ابن عجيبة سنة 1160 هـ، بمدشر أعجيبش من قبيلة الحوز(2)، وهذه القبيلة إحدى القبائل الجبلية الواقعة بين مدينة تطوان(3) وسبته(4) والأرض التي عليها تطوان وضواحيها تعد قطعة من هذه القبيلة، وقبيلة الحوز قسمان:

1 - الحوز البحري وهو المتصل بالبحر الأبيض المتوسط.

2 - الحوز البري وتفصله الجبال عن البحر(5).

ولقد وقع كثير من أصحاب التراجم، في اضطراب أثناء تنصيصهم على تاريخ ولادته ومكانها، فإنهم نصَّوا على أن ولادته كانت في حدود عام 1159 هـ، وأنه ولد

--------------------------------------------

(1) الفهرسة، ص 20.

(2) الحوز: إحدى القبائل الجبلية الواقعة في مدينتي تطوان وسبته شمال المغرب، والأرض التي عليها مدينة تطوان وضواحيها تعد قطعة من هذه القبيلة، وقبيلة الحوز قسمان: الحوز البحري وهو المتصل بالبحر الأبيض المتوسِّط، ومنه مداشر بني سالم، والسرور، والكوف، ووادي الزرجون. ينظر: تاريخ تطوان، محمد داود 6/ 175.

(3) تطوان: وتسمى أيضًا تطاون، عاصمةُ المنطقة الشمالية للمغرب، احتلَّها الأسبان أول مرة سنة 1286 هـ، ثم انجلو عنها بعد ذلك، وتقع تطوان على بعد 10 كلم من شاطئ البحر المتوسط، وتبعد عن مدينة سبته حوالي 40 كلم، وعن طنجة 60 كلم. ينظر: المملكة المغربية تعريف بالمدن والقُرى والقبائل والأسر والجهات، ص 97 - 98.

(4) سبتة: مدينة من بلاد الأندلس على شاطئ مجمع البحرين، استولى البرتغاليون عليها سنة 818 هـ، وسُكَّانها خليطٌ من المسلمين والنصارى واليهود، ينظر: الاستقصاء لأخبار دول المغرب 1/ 152، معجم البلدان 3/ 128.

(5) ينظر: تاريخ تطوان 6/ 214.
(আল-আরাবি আদ-দারকাউয়ি এবং আল-বুয়িদি) তাঁদের কিতাবসমূহে আমার এবং আমার ভাইয়ের জন্য এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা আল্লাহর সাহায্যে কথা বলেন ও আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখেন। ফলে আমি পূর্বোক্ত বর্ণনা ও স্বপ্নের সাথে এই বংশপরিচয়ের সত্যতা সম্পর্কে অবগত হলাম … এবং বংশপরিচয়ের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে দৃঢ় নিশ্চিত হলাম।"(১).

 

‌‌দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম

ইবনে আজিবা ১১৬০ হিজরিতে হাওয গোত্রের আজিবশ পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন(২), এবং এই গোত্রটি তিতওয়ান(৩) ও সেউতা(৪) শহরের মধ্যবর্তী পাহাড়ি গোত্রগুলোর একটি। তিতওয়ান শহর ও এর আশপাশের ভূমি এই গোত্রেরই একটি অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। হাওয গোত্রটি দুই ভাগে বিভক্ত:

১ - সামুদ্রিক হাওয: যা ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত।

২ - স্থলীয় হাওয: যা পাহাড় দ্বারা সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন(৫)।

অনেক জীবনীকার তাঁর জন্মের তারিখ ও স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন; তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম ১১৫৯ হিজরির দিকে এবং তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-ফিহরাসা, পৃষ্ঠা ২০।

(২) হাওয: মরক্কোর উত্তরাঞ্চলে তিতওয়ান ও সেউতা শহরের মধ্যবর্তী পাহাড়ি গোত্রগুলোর অন্যতম। তিতওয়ান শহর ও এর আশপাশের ভূমি এই গোত্রেরই একটি অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। হাওয গোত্রটি দুই ভাগে বিভক্ত: সামুদ্রিক হাওয যা ভূমধ্যসাগরের সাথে সংযুক্ত, এর মধ্যে রয়েছে বনি সালিম, আস-সুরুর, আল-কুফ এবং ওয়াদি আয-যারজুন পল্লীগুলো। দেখুন: তারিখু তিতওয়ান, মুহাম্মাদ দাউদ ৬/ ১৭৫।

(৩) তিতওয়ান: একে তিতাউনও বলা হয়, এটি মরক্কোর উত্তরাঞ্চলের রাজধানী। স্পেনীয়রা প্রথমবার ১২৮৬ হিজরিতে এটি দখল করে, তারপর তারা সেখান থেকে চলে যায়। তিতওয়ান ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সেউতা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার এবং তানজিয়ার থেকে ৬০ কিলোমিটার। দেখুন: আল-মামলাকাতুল মাগরিবিয়্যা তারিফ বিল-মোদুন ওয়াল-কুরা ওয়াল-কাবাইল ওয়াল-আসর ওয়াল-জিহাত, পৃষ্ঠা ৯৭ - ৯৮।

(৪) সেউতা (সাবতাহ): এটি আন্দালুস অঞ্চলের একটি শহর যা দুই সাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। পর্তুগিজরা ৮১৮ হিজরিতে এটি দখল করে। এর অধিবাসীরা মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের মিশ্রণ। দেখুন: আল-ইস্তিকসা লি আখবার দুওয়ালিল মাগরিব ১/ ১৫২, মুজামুল বুলদান ৩/ ১২৮।

(৫) দেখুন: তারিখু তিতওয়ান ৬/ ২১৪।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ২৭)
في تطوان(1)، وهذا خطأ، والذي أوقعهم -والله أعلم- في هذا عدم اطلاعهم على كتاب الفهرسة لابن عجيبة.

وما قيل أنه ولد في تطوان لا يسلم لهذا القول، فابن عجيبة يقول عن نفسه: "قدم بي أبي وأنا صغير لمدينة تطوان بقصد زيارة علمائها"(2).

 

‌‌ثالثًا: نشأته

عند سبر حياته يتضح أن ابن عجيبة منذ أن نشأ كان محبًا للصوفية متأثرًا بأسرته، ولكنه لم ينخرط في التصوف كمنهج إلا بعد أن التقى بشيخه البوزيدي وسلك الطريقة الدرقاوية الشاذلية، وهذا يدل على أنه لم يكن سالمًا من لوثة التصوف التي اكتسبها من أسرته، فلقد ذكر عدة أمور دلَّت على ذلك منها:

1 - ما ذكره من تعبده في زاوية جده الحسين الحجوجي، قال: "وخلوته التي كان يتعبد فيها مشهورة … وقد تعبدنا فيها بعض الأيام"(3).

2 - ذكره لكرامات جداته وخرافاتهم الصوفية(4).

3 - وكذلك الثناء على نفسه منذ طفولته، بأنه حُفظ وعُصم، وأنه أُلهم منذ صغره لحب الخلوة، والوحدة(5).

--------------------------------------------

(1) ينظر: شجرة النور الزكية في طبقات المالكية، ص 400، واليواقيت الثمينة في أعيان مذهب عالم المدينة، ص 70.

(2) الفهرسة، ص 40.

(3) الفهرسة، ص 16.

(4) الفهرسة، ص 16، 24، وسيأتي لها مبحثٌ مستقلٌّ في موضعها.

(5) الفهرسة، ص 28.
তেতুয়ানে(১), আর এটি একটি ভুল। যা তাদের এই ভুলের মধ্যে নিপতিত করেছে—আল্লাহই ভালো জানেন—তা হলো ইবনে আজিবার 'আল-ফাহরাসা' গ্রন্থটি সম্পর্কে তাদের অবগতি না থাকা।

তিনি তেতুয়ানে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে যা বলা হয়েছে, সেই বক্তব্যটি সঠিক হিসেবে গ্রহণীয় নয়। কারণ ইবনে আজিবা নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার পিতা আমাকে তেতুয়ান শহরে নিয়ে এসেছিলেন সেখানকার আলেমদের যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে"(২)।

 

‌‌তৃতীয়ত: তাঁর লালন-পালন

তাঁর জীবনী পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট হয় যে, ইবনে আজিবা শৈশব থেকেই সুফিবাদ পছন্দ করতেন এবং তাঁর পরিবারের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তবে তিনি তাঁর শায়খ আল-বুজিদী-র সাথে সাক্ষাতের আগে এবং দারকাওয়ী শাযিলী তরিকায় দীক্ষিত হওয়ার আগে সুফিবাদকে একটি পদ্ধতি বা মানহাজ হিসেবে গ্রহণ করেননি। এটি নির্দেশ করে যে, তিনি তাঁর পরিবার থেকে প্রাপ্ত সুফিবাদের প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলেন না। তিনি এমন বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা এর প্রমাণ দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - তাঁর দাদা হুসাইন আল-হাজুজি-র 'যাবিয়া' বা খানকাহ-তে তাঁর ইবাদত করার কথা যা তিনি উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন: "তাঁর সেই নির্জন কক্ষটি (খালওয়াহ), যেখানে তিনি ইবাদত করতেন, তা ছিল সুপরিচিত ... এবং আমরাও সেখানে কিছু দিন ইবাদত করেছি"(৩)।

২ - তাঁর নানি-দাদিদের কারামত এবং তাদের সুফি রূপকথা বা কিচ্ছাকাহিনীর কথা উল্লেখ করা(৪)।

৩ - একইভাবে শৈশব থেকেই নিজের প্রশংসা করা যে, তাঁকে রক্ষা করা হয়েছে ও পাপমুক্ত রাখা হয়েছে, এবং শৈশব থেকেই তাঁকে নির্জনতা ও একাকীত্বের প্রতি অনুরাগী হওয়ার অনুপ্রেরণা (ইলহাম) দেওয়া হয়েছে(৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শাজরাতুন নূর আজ-জাকিয়্যাহ ফি তবাকাতিল মালিকিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪০০, এবং আল-ইয়াওয়াকিতুস সামিনাহ ফি আ'ইয়ানি মাজহাবি আলিমিল মদিনাহ, পৃষ্ঠা ৭০।

(২) আল-ফাহরাসা, পৃষ্ঠা ৪০।

(৩) আল-ফাহরাসা, পৃষ্ঠা ১৬।

(৪) আল-ফাহরাসা, পৃষ্ঠা ১৬, ২৪; অচিরেই এর জন্য নির্ধারিত স্থানে একটি স্বতন্ত্র আলোচনা আসবে।

(৫) আল-ফাহরাসা, পৃষ্ঠা ২৮।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌رابعًا: طلبه للعلم

أ طلبه للعلم في الصغر (1160 هـ-1178 هـ).

وضح أنه ابتدأ الطلب صغيرًا، فيقول عن نفسه: "ألقى الله تعالى في قلبي محبة العلم وأنا في حال الصبا"(1)، فقرأ كتابًا في أحكام الصلاة(2)، ثم شرع بمدارسة القرآن وحفظه، ثم تلقى إتقانه بالتجويد على يد شيوخه.

ب طلبه للعلم في طور الشباب (1178 - 1208 هـ).

قال: "ولما بلغت من العمر تسع عشرة سنة أو ثمان عشرة سنة شرعت في قراءة العلم الظاهر"(3).

وكان طلبه للعلم ابتداءً في تطوان، ثم انتقل إلى مدينة القصر الكبير(4) وبقي فيه عامين مشتغلًا بالعلم إذ يقول: "ولما اطمأن بنا الموضع اشتغلت بقراءة العلم ففنيت فيه فناءً عظيمًا حتى أهملت نفسي، ونسيت أمرها"(5)، ثم عاد بعد ذلك لتطوان عندما أُصيب بالحمى(6).

--------------------------------------------

(1) الفهرسة، ص 26.

(2) القرطبية، لأبي العباس الأنصاري المتوفى سنة 656 هـ. ينظر: الفهرسة، ص 26.

(3) الفهرسة، ص 29، وقصده بالعلم الظاهر: علم الحديث، والتفسير، والفقه، والنحو، والسيرة، والمنطق. ينظر: الفهرسة، ص 101.

(4) القصر الكبير: مدينة تقع في مفترق الطرق بين العرائش وفاس وطنجة تحيط بها الجنان والحقول والبساتين التي يسقيها نهر اللكوس، وبضاحية المدينة على مقربة من إحدى محطات القطار الذاهب من القصر إلى طنجة توجد السهول التي وقعت فيها معركة وادي المخازن التاريخية بين الجند السعدي والجند البرتغالي، سنة 1578. ينظر: تعريف بالمدن والقرى والقبائل والأسر والجهات، ص 83.

(5) الفهرسة، ص 20.

(6) الفهرسة، ص 30.
চতুর্থ: তাঁর ইলম অর্জন

ক. শৈশবকালে তাঁর ইলম অন্বেষণ (১১৬০ হিজরী - ১১৭৮ হিজরী)।

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি অল্প বয়সেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেছিলেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি শৈশব অবস্থায় থাকাকালেই আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে ইলমের প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছেন"(১)। অতঃপর তিনি সালাতের বিধান সংক্রান্ত একটি কিতাব পাঠ করেন(২), এরপর কুরআন অধ্যয়ন ও হিফয শুরু করেন, তারপর তাঁর শাইখদের নিকট তাজবীদসহ তা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেন।

খ. যৌবনকালে তাঁর ইলম অন্বেষণ (১১৭৮ - ১২০৮ হিজরী)।

তিনি বলেন: "যখন আমার বয়স উনিশ বছর বা আঠারো বছর হলো, তখন আমি বাহ্যিক ইলম (ইলমে যাহির) পাঠ শুরু করি"(৩)।

প্রাথমিকভাবে তাঁর ইলম অর্জন ছিল তিতওয়ানে, এরপর তিনি আল-কাসর আল-কাবীর শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে ইলম চর্চায় লিপ্ত থেকে দুই বছর অবস্থান করেন। তিনি বলেন: "যখন স্থানটি আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হলো, তখন আমি ইলম পাঠে মগ্ন হলাম এবং এতে এতটাই নিমগ্ন হলাম যে নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করলাম এবং নিজের কথা ভুলে গেলাম"(৫)। এরপর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি পুনরায় তিতওয়ানে ফিরে আসেন(৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাহরাসাহ, পৃ. ২৬।

(২) আল-কুরতুবিয়্যাহ, আবু আব্বাস আল-আনসারী (মৃত্যু ৬৫৬ হি.) রচিত। দেখুন: আল-ফাহরাসাহ, পৃ. ২৬।

(৩) আল-ফাহরাসাহ, পৃ. ২৯; বাহ্যিক ইলম দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো: হাদিস, তাফসীর, ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ), সীরাত এবং মানতিক (যুক্তিবিদ্যা)। দেখুন: আল-ফাহরাসাহ, পৃ. ১০১।

(৪) আল-কাসর আল-কাবীর: এটি লারাশ, ফাস এবং তানজাহর সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি শহর। এটি বাগান, শস্যক্ষেত ও ফলদ বাগান দ্বারা বেষ্টিত যা লুক্কোস নদী দ্বারা বিধৌত। কাসর থেকে তানজাহগামী একটি রেল স্টেশনের নিকটবর্তী শহরের উপকণ্ঠে সেই প্রান্তরসমূহ অবস্থিত যেখানে ১৫৭৮ সালে সাদী বাহিনী এবং পর্তুগিজ বাহিনীর মধ্যে ঐতিহাসিক 'ওয়াদি আল-মাখাযিন'-এর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। দেখুন: তারিফ বিল মুদুন ওয়াল কুরা ওয়াল কাবাইল ওয়াল উসার ওয়াল জিহাত, পৃ. ৮৩।

(৫) আল-ফাহরাসাহ, পৃ. ২০।

(৬) আল-ফাহরাসাহ, পৃ. ৩০।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌خامسًا: شيوخه

بدأ ابن عجيبة بذكر أشياخه(1) الذين تتلمذ على أيديهم فذكر أنه:

1 - حفظ القرآن على يد جده المهدي بن الحسين بن عجيبة.

2 - أبو عبد الله محمد بن علي بن أحمد بن محمد الورزازي أصلًا التطواني دارًا وموطنًا، قال عنه ابن عجيبة: له مشاركة حسنة في فنون من العلم كالفقه، والنحو، والبيان، والأصول، والحساب، والتنجيم، توفي عام 1214 هـ(2).

3 - محمد بن الحسين الجنوي، درس على يديه: مختصر خليل، ومختصر السبكي، وورقات الخطاب في الأصول للجويني، وقرأ عليه صحيح البخاري مرتين، وجزءًا من صحيح مسلم، والرسالة في الفقه المالكي لابن أبي زيد القيرواني، وحكم ابن عطاء، وأصول الطريقة في التصوف، وجزءين من تفسير القرآن العظيم(3).

4 - أحمد بن عبد الرحمن الرُّشَاي بضم الراء وفتح الشين (أو الرشي أو الرشاوي)، قرأ عليه ألفية ابن مالك، ومختصر خليل، والسلم للأخضري(4).

5 - عبد السلام بن محمد بن محمد بن قاسم بن سعيد بن قريش، قاضي تطوان، درس عليه تفسير القرآن العظيم، وشمائل الترمذي، توفي سنة 1207 هـ(5).

6 - عبد الكريم بن قريش، قرأ عليه التفسير، وصحيح البخاري، ومختصر خليل، والرسالة، وتحفة الحكام لابن عاصم الغرناطي، والألفية، ولامية الأفعال لابن

--------------------------------------------

(1) ينظر: الفهرسة، ص 27.

(2) ينظر: تاريخ تطوان 6/ 156، وفهرسة أبي عبد الله الورزازي، ص 5.

(3) الفهرسة، ص 32.

(4) ينظر تاريخ تطوان 7/ 333.

(5) المرجع نفسه 6/ 152.
পঞ্চম: তাঁর শিক্ষকগণ

ইবনে আজিবা তাঁর সেই সকল শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন(১) যাঁদের নিকট তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে:

১ - তিনি তাঁর দাদা আল-মাহদী ইবনুল হুসাইন ইবনে আজিবার নিকট কুরআন হিফজ করেছেন।

২ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়ারজাজি—মূলত ওয়ারজাজ বংশোদ্ভূত, তিতওয়ানে তাঁর নিবাস ও জন্মভূমি। তাঁর সম্পর্কে ইবনে আজিবা বলেন: ইলমের বিভিন্ন শাখায় যেমন ফিকহ, নাহু, বালাগাত, উসুল, গণিত এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর চমৎকার পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি ১২১৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন(২)।

৩ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-জানাবি; তাঁর নিকট তিনি অধ্যয়ন করেছেন: মুখতাসার খলীল, মুখতাসার সুবকী, এবং উসুল শাস্ত্রে জুয়াইনীর ওরাকাতুল খাত্তাব। তাঁর নিকট তিনি দুইবার সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিমের কিছু অংশ পাঠ করেছেন। আরও পাঠ করেছেন ইবনে আবি জায়েদ আল-কায়রাওয়ানীর মালিকি ফিকহ গ্রন্থ 'আর-রিসালাহ', হিকাম ইবনে আতাউল্লাহ, তাসাউফের মূলনীতিসমূহ এবং তাফসীরে কুরআনুল আজীমের দুই খণ্ড(৩)।

৪ - আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আর-রুশাই—'রা' বর্ণে পেশ এবং 'শিন' বর্ণে জবর যোগে (অথবা আর-রুশি বা আর-রুশাওয়ি); তাঁর নিকট তিনি ইবনে মালিকের আলফিয়াহ, মুখতাসার খলীল এবং আখদারীর আস-সুল্লাম পাঠ করেছেন(৪)।

৫ - আব্দুস সালাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে সাঈদ ইবনে কুরাইশ, তিতওয়ানের বিচারক (কাযী); তাঁর নিকট তিনি তাফসীরে কুরআনুল আজীম এবং শামায়েলে তিরমিযী অধ্যয়ন করেছেন। তিনি ১২০৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন(৫)।

৬ - আব্দুল করীম ইবনে কুরাইশ; তাঁর নিকট তিনি তাফসীর, সহীহ বুখারী, মুখতাসার খলীল, আর-রিসালাহ, ইবনে আসিম আল-গারনাতির তুহফাতুল হুক্কাম, আলফিয়াহ এবং ইবনে [মালিকের] লামিয়াতুল আফ'আল পাঠ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ২৭।

(২) দেখুন: তারিখু তিতওয়ান ৬/ ১৫৬ এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-ওয়ারজাজির ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ৫।

(৩) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ৩২।

(৪) দেখুন: তারিখু তিতওয়ান ৭/ ৩৩৩।

(৫) একই সূত্র ৬/ ১৫২।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৩০)
مالك، وجزءًا من مغني اللبيب لابن هشام الأنصاري، والسلم في المنطق، وتلخيص المفتاح في البيان، ومختصر السبكي في الأصول، والشفا في تعريف حقوف المصطفى للقاضي عياض، والهمزية في مدح خير البرية للبوصيري(1).

7 - أبو عبد الله محمد بَنَّيس الفاسي بفتح الباء وتشديد النون المكسورة، درس عليه الفرائض، وجزءًا من التسهيل لابن مالك في النحو(2) وقال عنه: وهو شيخنا الفهامة فرضي وقته، وإمام عصره، واختص بعلم الفرائض فإليه الملجأ بفاس في حل مشكلاته(3).

8 - محمد التاودي ابن سودة، أخذ عنه الفقه والحديث، ووصفه بقوله: الفقيه المحدِّث(4).

9 - محمد بن أحمد بن غيلان، جلس ابن عجيبة في حلقته مرة أو مرتين(5)، وصفه بأنه كان فقيهًا، عالمًا عابدًا(6).

10 - أبو الحسن سيدي علي بن محمد بن شطير الحسني، قال عنه ابن عجيبة: "كان فقيهًا نحويًا محدثًا، سمعت منه جزءًا من ألفية ابن مالك، وكان يُدرِّس صحيح البخاري في مسجد الرابطة بتطوان، ومختصر خليل، توفي سنة 1190 هـ"(7).

--------------------------------------------

(1) الفهرسة، ص 31.

(2) الفهرسة، ص 32.

(3) مخطوط طبقات العلماء والصلحاء الأعيان ل/228.

(4) المرجع السابق ل/228 - 229.

(5) الفهرسة، ص 31.

(6) مخطوط أزهار البستان في طبقات الأعيان ل/230.

(7) المرجع نفسه ل/225، ل/226.
মালিক, এবং ইবনে হিশাম আল-আনসারী রচিত মুগনি আল-লাবীব-এর একটি অংশ, মানতিক শাস্ত্রে আস-সুল্লাম, বায়ান শাস্ত্রে তালখিস আল-মিফতাহ, উসুল শাস্ত্রে সুবকী-এর মুখতাসার, কাযী আইয়াজ রচিত আশ-শিফা ফী তারিফ হুকুক আল-মুস্তফা, এবং আল-বুসিরী রচিত খাইরুল বারিয়্যাহর প্রশংসায় আল-হামযিয়্যাহ(১).

৭ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বাননিস আল-ফাসি (বা বর্ণের উপরে ফাতহা এবং নুন বর্ণের নিচে কাসরাসহ তাশদীদ যোগে), তাঁর নিকট ফারায়েয এবং নাহু শাস্ত্রে ইবনে মালেকের আত-তাসহীল-এর একটি অংশ অধ্যয়ন করেছেন(২) এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি আমাদের বিজ্ঞ শায়খ, তাঁর সময়ের ফারায়েয বিশেষজ্ঞ এবং নিজ যুগের ইমাম; তিনি ফারায়েয বিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী ছিলেন, ফলে ফাস শহরে এর জটিল সমস্যার সমাধানে তাঁর কাছেই শরণাপন্ন হওয়া হতো"(৩).

৮ - মুহাম্মদ আত-তাউদী ইবনে সাওদাহ, তাঁর নিকট থেকে ফিকহ ও হাদীস গ্রহণ করেছেন এবং তাঁকে এই বলে বর্ণনা করেছেন: "ফকীহ ও মুহাদ্দিস"(৪).

৯ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন গাইলান, ইবনে আজিবা তাঁর মজলিসে এক বা দুইবার বসেছিলেন(৫), তিনি তাঁকে ফকীহ, আলিম ও আবেদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন(৬).

১০ - আবুল হাসান সিদি আলী বিন মুহাম্মদ বিন শাতীর আল-হাসানি, তাঁর সম্পর্কে ইবনে আজিবা বলেন: "তিনি ফকীহ, নাহুবিদ ও মুহাদ্দিস ছিলেন, আমি তাঁর নিকট ইবনে মালেকের আলফিয়্যাহ-র একটি অংশ শুনেছি। তিনি তেতুয়ানের মসজিদ আর-রাবিতাহ-এ সহীহ আল-বুখারী এবং মুখতাসার খলীল পাঠদান করতেন; তিনি ১১৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন"(৭).

--------------------------------------------

(১) আল-ফিহরিসাহ, পৃষ্ঠা ৩১।

(২) আল-ফিহরিসাহ, পৃষ্ঠা ৩২।

(৩) মাখতুত তাবাকাত আল-উলামা ওয়া আস-সুলাহা আল-আ'ইয়ান, ল/২২৮।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্র, ল/২২৮ - ২২৯।

(৫) আল-ফিহরিসাহ, পৃষ্ঠা ৩১।

(৬) মাখতুত আযহার আল-বুস্তান ফী তাবাকাত আল-আ'ইয়ান, ল/২৩০।

(৭) একই সূত্র, ল/২২৫, ল/২২৬।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌سادسًا: تلاميذه

في الحقيقة لم يذكر ابن عجيبة أسماء تلاميذه الذين تلقوا عنه العلوم، بل ذكر في كتابه الفهرسة عنوانًا "ذكر من أخذ عنا التربية النبوية من الفقراء والمتجردين والمنتسبين، ولم يذكر أحدًا باسمه، وعلل سبب ذلك كثرتهم وعدم استقصاء عددهم"(1).

وفي موضع آخر فاضل بينهم، وقسمهم إلى قسمين فقال:

1 - قسم درس على يدية علم الظاهر، ولكنه وصفهم بالضعف فقال: "فأما من كنا زرعنا فيه العلم الظاهر حين التدريس فكانت ثمرته ضعيفة، فمنهم من صار قاضيًا أو إمامًا للتدريس ومنهم من اشتغل بأسباب المعاش"(2).

2 - وقسم درس على يديه علم الباطن، ولقد وصفهم بحصولهم على الغنى الأكبر فقال: "وأما من زرعنا فيه العلم الباطن فجلهم حصل له الغنى الأكبر ودخلوا مقام الإحسان بالذوق أو العلم إذا كان متجردًا، وإن كان متسببًا حصل له القناعة، والاستقامة، والتقوى، وتنوير الباطن فكلهم على بيِّنة من ربهم"(3).

وعند التنقيب والبحث وجدت بعضًا من المؤرخين ذكر أسماء بعض تلاميذه.

منهم: أبو محمد عبد السلام بن أحمد سكيرج التطواني المتوفى سنة 1250 قرأ على ابن عجيبة النصيحة الزروقية، والبردة للبصيري، والنحو والصرف، وعبد الله بن علي شطير، قرأ على ابن عجيبة تلخيص المفتاح(4)، وعبد الغفور بن التهامي البناني،

--------------------------------------------

(1) الفهرسة، ص 77.

(2) الفهرسة، ص 75.

(3) الفهرسة، ص 77.

(4) ينظر: تاريخ تطوان 7/ 330.
ষষ্ঠত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ

বস্তুত ইবনে আজিবা তাঁর সেই সকল ছাত্রদের নাম উল্লেখ করেননি যারা তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, বরং তিনি তাঁর 'আল-ফিহরাসাহ' গ্রন্থে একটি শিরোনাম দিয়েছেন: "যাঁরা আমাদের নিকট থেকে নববী তরবিয়ত গ্রহণ করেছেন সেই সকল ফকীর, দুনিয়াত্যাগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবরণ"। তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি এবং এর কারণ হিসেবে তাদের আধিক্য এবং সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব না হওয়াকে দর্শিয়েছেন(১)।

অন্য এক স্থানে তিনি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণ করেছেন এবং তাদেরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে বলেছেন:

১ - এক দল তাঁর নিকট বাহ্যিক জ্ঞান (ইলমে জাহির) অধ্যয়ন করেছেন, তবে তিনি তাঁদের দুর্বলতা দিয়ে বিশেষায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর যাদের মাঝে আমরা অধ্যয়নকালীন বাহ্যিক জ্ঞানের বীজ বপন করেছিলাম, তাদের ফল ছিল দুর্বল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিচারক (কাজী) বা পাঠদানের ইমাম হয়েছেন এবং কেউ কেউ জীবনিকা অর্জনের উপায় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন"(২)।

২ - আর এক দল তাঁর নিকট অভ্যন্তরীণ জ্ঞান (ইলমে বাতিন) অধ্যয়ন করেছেন এবং তিনি তাঁদের 'মহা সম্পদ' লাভের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আর যাদের মাঝে আমরা অভ্যন্তরীণ জ্ঞানের বীজ বপন করেছি, তাদের অধিকাংশেরই মহা সম্পদ হাসিল হয়েছে এবং তারা স্বাদ (যাওক) অথবা ইলমের মাধ্যমে ইহসানের মাকামে প্রবেশ করেছে, যদি সে দুনিয়াত্যাগী (মুতাজাররিদ) হয়ে থাকে। আর যদি সে জীবিকা অন্বেষী (মুতাসাববিব) হয়, তবে তার অল্পে তুষ্টি, অবিচলতা, তাকওয়া এবং অন্তরের নূর হাসিল হয়েছে। সুতরাং তারা প্রত্যেকেই তাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত"(৩)।

অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে, কিছু ইতিহাসবিদ তাঁর কয়েকজন ছাত্রের নাম উল্লেখ করেছেন।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু মুহাম্মদ আবদুস সালাম বিন আহমদ সুকাইরিজ আল-তিতওয়ানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি), যিনি ইবনে আজিবার নিকট 'আন-নাসিহা আজ-জাররুকিয়্যাহ', বুসিরির 'আল-বুরদাহ' এবং নাহু ও সরফ পাঠ করেছেন। আর আব্দুল্লাহ বিন আলী শাতীর, যিনি ইবনে আজিবার নিকট 'তালখিসুল মিফতাহ' পাঠ করেছেন(৪) এবং আব্দুল গাফুর বিন আল-তুহামি আল-বান্নানি।

--------------------------------------------

(১) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ৭৭।

(২) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ৭৫।

(৩) আল-ফিহরাসাহ, পৃষ্ঠা ৭৭।

(৪) দ্রষ্টব্য: তারিখে তিতওয়ান ৭/৩৩০।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৩২)
والذي نسخ البحر المديد في تفسير القرآن المجيد وحاشية ابن عجيبة على الجامع الصغير للحافظ السيوطي(1).

 

‌‌سابعًا: مؤلفاته

1 - تسهيل المدخل لتنمية الأعمال بالنية الصالحة عند الإقبال

وهو أول كتاب ألَّفه ابن عجيبة عام 1196 هـ وهو يبحث في النية، فلقد ذكر فصلًا في نيات لباس الثوب، وذكر سبعة عشر مجالًا للنية في ذلك، فقد يلبس الثوب بنية ستر العورة وذلك واجب، وقد يكون من أجل التزين امتثالًا للسنة في إظهار النعم … وذكر أن من أسباب تأليفه دراسته لكتاب الحكم لابن عطاء الله(2)، والمدخل لمحمد ابن الحاج الفاسي(3)، وقوت القلوب في معاملة المحبوب لأبي طالب المكي(4).

وهذا الكتاب توجد منه نسخة بالخزانة العامة بالرباط تحمل رقم 1148 ك، ضمن مجموع، ص 249 - 321، ونسخة بخزانة تطوان تحمل رقم 872، ولقد قام بدراسته وتحقيقه الدكتور عبد المجيد المرزوقي.

--------------------------------------------

(1) ينظر: تاريخ تطوان 6/ 218.

(2) هو: أحمد بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الرحمن أبو العباس الصوفي المالكي الشاذلي، له عدة مصنَّفات منها: الحكم العطائية، تاج العروس، لطائف المنن، توفي بالإسكندرية سنة 709 هـ. ينظر: الدرر الكامنة 1/ 291، طبقات الشافعية الكبرى 9/ 23 - 24، البدر الطالع 1/ 107.

(3) هو: محمد بن محمد بن محمد بن الحاج أبو عبد الله العبدري المالكي الفاسي، نزيل مصر، تفقَّه في بلاده، وقدم مصر، جمع كتابًا سمَّاه المدخل كثير الفوائد، ومات سنة 737 هـ. ينظر: الدرر الكامنة 4/ 355.

(4) هو: أبو عبد الله عمرو بن عثمان المكي، إمامُ الطائفة في الأصول والطريقة، مات ببغداد سنة 291 هـ. ينظر: طبقات الصوفية، للسلمي، ص 200.
যিনি আল-বাহর আল-মাদিদ ফি তাফসির আল-কুরআন আল-মাজিদ এবং হাফিজ সুয়ুতির আল-জামিউস সাগির-এর ওপর ইবনে আজিবার ব্যাখ্যাগ্রন্থ অনুলিপি করেছেন(১)।

 

‌‌সপ্তম: তাঁর রচনাবলি

১ - তাসহিলুল মাদখাল লি-তানমিয়াতিল আ'মাল বিন-নিয়্যাহ আস-সালিহাহ ইনদাল ইকবাল

এটি ১১৯৬ হিজরিতে ইবনে আজিবা কর্তৃক রচিত প্রথম গ্রন্থ এবং এতে নিয়ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি পোশাক পরিধানের নিয়তের ওপর একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন এবং এতে নিয়তের সতেরোটি ক্ষেত্র বর্ণনা করেছেন। কখনও পোশাক পরিধান করা হয় সতর ঢাকার নিয়তে যা ওয়াজিব, আবার কখনও তা হতে পারে সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে—যা নেয়ামত প্রকাশের সুন্নাহ পালনের অন্তর্ভুক্ত … তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই গ্রন্থটি রচনার অন্যতম কারণ হলো ইবনে আতাউল্লাহর আল-হিকাম(২), মুহাম্মদ ইবনুল হাজ আল-ফাসির আল-মাদখাল(৩) এবং আবু তালিব আল-মাক্কির কুতুল কুলুব ফি মুয়ামালাতিল মাহবুব(৪) গ্রন্থগুলো নিয়ে তাঁর অধ্যয়ন।

এই গ্রন্থটির একটি পাণ্ডুলিপি রাবাতের আল-খিজানা আল-আম্মাহ-তে ১১৪৮ কাফ নম্বরে একটি সংকলনের ২৪৯ - ৩২১ পৃষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া অন্য একটি পাণ্ডুলিপি তেতুয়ান লাইব্রেরিতে ৮৭২ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। ডক্টর আব্দুল মাজিদ আল-মারজুকি এটি অধ্যয়ন ও সম্পাদনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ তেতুয়ান ৬/ ২১৮।

(২) তিনি হলেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন আব্দুর রহমান আবুল আব্বাস আস-সুফি আল-মালিকি আশ-শাজিলি। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-হিকাম আল-আতাইয়্যাহ, তাজুল আরুস, লাতাইফুল মিনান। তিনি ৭০৯ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/ ২৯১, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা ৯/ ২৩ - ২৪, আল-বাদরুত তালি ১/ ১০৭।

(৩) তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ bin মুহাম্মদ বিন আল-হাজ আবু আব্দুল্লাহ আল-আবদারি আল-মালিকি আল-ফাসি। তিনি মিশরের অধিবাসী ছিলেন, নিজ দেশে ফিকহ চর্চা করেন এবং পরে মিশরে আসেন। তিনি 'আল-মাদখাল' নামে একটি অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ সংকলন করেন এবং ৭৩৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/ ৩৫৫।

(৪) তিনি হলেন: আবু আব্দুল্লাহ আমর বিন উসমান আল-মাক্কি, উসুল ও তরিকত শাস্ত্রের এক ইমাম। তিনি ২৯১ হিজরিতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সুলামি রচিত তাবাকাতুস সুফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২০০।
(খণ্ড: ১) আরাউ ইবনে আজীবাহ আল-আক্বাদী আরদান ওয়া নাক্বদান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
2 - اللوائح القدسية في شرح الوظيفة الزروقية

الوظيفة الزروقية هي عبارة عن مجموعة أدعية وصلوات وآيات قرآنية يتلوها أتباع الطريقة الزروقية كل يوم، واحتوى شرحه على مقدمتين الأولى: التعريف بزروق ومناقبه، والثانية: في فضل الوظيفة ووقتها، وكيفية ذكرها، وكانت مصادره في شرحها، كتب التفسير، كتفسير البيضاوي، وابن جزي، وأحيانًا تفسير ابن عطية، وهذا الشرح يعطي صورة واضحة على النزعة الصوفية لابن عجيبة منذ بداية حياته، وقد بينت هذا من قبل.

وهذا الكتاب توجد منه نسخة مخطوطة في الخزانة العامة بتطوان ضمن مجموع برقم 301 وهو مطبوع، ويقع الكتاب ضمن مجموعة رسائل قام بتحقيقها عبد السلام العمراني، وسماها بالجواهر العجيبة.

3 - الأنوار القدسية في شرح القصيدة الهمزية

وهي شرح لقصيدة البوصيري، اشتملت على أربع مائة وخمسة وخمسين بيتًا، شرحها ابن عجيبة شرحًا مطولًا، واعتمد في شرحه على بعض كتب القوم، كتفسير القشيري، وكتب الغزالي فهو ينقل نقلًا مطولًا عن الإحياء، وهو كتاب مطبوع بتحقيق عبد السلام العمراني خديم العلم والصوفية كما سمَّى نفسه.

4 - تأليف في التوحيد والصلاة

هذا الكتاب لم يذكره ابن عجيبة في كتابه الفهرسة، ولكن ذُكر في كتاب تاريخ تطوان للمؤلف محمد داود وقال إنه وقف عليه في عشر صفحات.

وهذا الأمر تطلب مني السفر إلى المغرب للتنقيب عن الكتاب، وذهبت للخزانة العامة في الرباط، واتضح أن الأمر قد التبس على مفهرس الخزانة العامة
২ - আল-লাওয়াইহুল কুদসিয়্যাহ ফি শারহিল ওয়াজিফাতিল যাররুকিয়্যাহ

ওয়াজিফাতুল যাররুকিয়্যাহ হলো মূলত কিছু দুআ, দরুদ এবং কুরআনের আয়াতের সমষ্টি যা যাররুকিয়া তরিকার অনুসারীরা প্রতিদিন পাঠ করেন। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দুটি ভূমিকা সম্বলিত; প্রথমটি: যাররুকের পরিচিতি ও তার গুণাবলি এবং দ্বিতীয়টি: ওয়াজিফার ফজিলত, সময় এবং তা জিকির করার পদ্ধতি সম্পর্কে। এর ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর উৎস ছিল তাফসির গ্রন্থসমূহ, যেমন—তাফসিরে বায়দাবি, ইবনে জুযাই এবং কখনো কখনো তাফসিরে ইবনে আতিয়্যাহ। এই ব্যাখ্যাটি ইবনে আজিবার জীবনের শুরু থেকেই তাঁর সুফি প্রবণতার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে, যা আমি পূর্বেই বর্ণনা করেছি।

এই বইটির একটি পাণ্ডুলিপি তেতুয়ানের সাধারণ গ্রন্থাগারে ৩০১ নম্বর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি মুদ্রিত। বইটি একগুচ্ছ রিসালার (পত্র/প্রবন্ধ) অন্তর্ভুক্ত যা আবদুস সালাম আল-উমরানি সম্পাদনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন 'আল-জাওয়াহিরুল আজিবা'।

৩ - আল-আনওয়ারুল কুদসিয়্যাহ ফি শারহিল কাসিদাতিল হামজিয়্যাহ

এটি হলো আল-বুসিরির কাসিদার ব্যাখ্যা, যা চারশত পঞ্চান্নটি পঙক্তি সম্বলিত। ইবনে আজিবা এটি দীর্ঘভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি তাঁর ব্যাখ্যায় এই সম্প্রদায়ের (সুফিদের) কিছু গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন, যেমন—তাফসিরে কুশায়রি এবং আল-গাজালির গ্রন্থসমূহ; তিনি ইহয়া (উলুমিদ দ্বীন) থেকে দীর্ঘ উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এটি আবদুস সালাম আল-উমরানির সম্পাদনায় মুদ্রিত একটি গ্রন্থ, যিনি নিজেকে 'ইলম ও সুফিবাদের সেবক' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

৪ - তাওহিদ ও সালাত বিষয়ক একটি রচনা

ইবনে আজিবা তাঁর 'আল-ফিহরাসাত' গ্রন্থে এই বইটির কথা উল্লেখ করেননি, তবে লেখক মুহাম্মদ দাউদ তাঁর 'তারিখে তেতুয়ান' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি দশ পৃষ্ঠার এই রচনাটি দেখেছেন।

আর এই বিষয়টি বইটির অনুসন্ধানে আমার মরক্কো ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। আমি রিবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারে যাই এবং এটি স্পষ্ট হয় যে সাধারণ গ্রন্থাগারের ক্যাটালগ প্রস্তুতকারীর কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট বা গোলমেলে ছিল।