(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: -)
العيون الغامزة على خبايا الرامزة   (بدر الدين الدماميني)

القسم: العروض والقوافي


الكتاب: العيون الغامزة على خبايا الرامزة

المؤلف: ابن الدماميني

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 95

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-উয়ুন আল-গামিযা আলা খাবায়া আর-রামিযা   (বদরুদ্দিন আদ-দামামিনী)

বিভাগ: ছন্দ ও অন্ত্যমিল


বই: আল-উয়ুন আল-গামিযা আলা খাবায়া আর-রামিযা

লেখক: ইবনুল দামামিনী

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৯৫

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

(قال) الشيخ الإمام العلامة بدر الدين أبو عبد الله محمد بن أبى بكر المخزومي رحمه الله تعالى ورضى عنه: الحمد لله الذي شرح صدورنا لسلوك عروض الإسلام، وجعل أفكارنا قافيةً لآثار العلماء الأعلام، تمسكاً من محبتهم بأوثق الأسباب، وتبركا بفضلهم الوافر الذي لا يعقله إلا العالمون أولو الألباب، أحمده حمد من ذللت له الصعاب فنجا من مهالكها، وظفر بكنوزها، ورامت المشكلات أن تتحجب عنه فاطلع على خباياها وكشف له عن رموزها. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده، لا شريك له، الذي نهى عما شان، وأمر بما زان، فقال وقوله الحق (وأقيموا الوزن بالقسط ولا تخسروا الميزان) وأشهد أن محمداً عبده ورسوله الخليل الأعظم، والسيد الذي لم تنزل مناقبه في أبيات الشرف تحل، وفي أسلاك السؤدد تنظم، الذي أفاض على أهل البسيطة مديد فضله وبسيطه، ونهك المشركين حتى أصبحت دائرة السوء بهم محيطة:

يالهُ من رسولِ حقٍ كريمٍ … للعدى والهدَى مُبيدٍ مُفيدٍ

إنْ أكنْ بالمديح أشعُر فيه … فاعترافى بالعجز بيتُ القصيدِ

صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، ذوى الشيم التي هي فاعلات لكل جميل وكافلات للظفر من مراقبة الحق بغاية التأميل، الذين أتقنوا تأسيس الدين، وأحسنوا توجيه النفوس إلى مكارم الأخلاق، وقيدوا الأوقات على هذا الصنع الجميل وما جرى مجراه فشكر لهم ذلك التقييد على الإطلاق.

ووالى الصلاة وسلم وشرف ومجد وكرم.

أما بعد، فلا يخفى أن العروض صناعة تقيم لبضاعة الشعر في سوق المحاسن وزناً، وتجعل تعاطيه بالقسطاس المستقيم سهلاً بعد أن كان حزنا. وقد كنت في زمن الصبا مشغوفا بالنظر إلى محاسن هذا الفن، مولعاً بالتنقير عن مباحثه التي طن على أذنى منها ما طن، أطيل الوقوف بمعاهده، وأتردد إلى بيوت شواهده، وأسبح في بحاره سبحا طويلا، وأجد التعلق بسببه خفيفا، وإن كان الجاهل يراه سبباً ثقيلا، إلى أن ظفرت في أثناء تصفحي لكتب هذا بالقصيدة المقصورة المسماة بالرامزة، نظم الشيخ الإمام البارع ضياء الدين أبى محمد عبد الله بن محمد الخزرجى نور الله ضريحه، وأمد بمدد الرحمة روحه، فوجدتها بديعة المثال بعيدة المنال، ورمت أن أذوق حلاوة فهمها فإذا الناس صيام، وحاولت أن أفترع أبكار نعانيها فإذا هي من المقصورات في الخيام.

وطمعت منها في لين الانقياد فأبدت إباءً وعزا، وسامتها الأفهام أن تفصح عن المراد فأبت أن تكلم الناس إلا رمزاً، فطفقت أطلق النوم لمراجعتها وأنازل السهر لمطالتعها، مع أنى لا أجد شيخا أتطفل بقدرى الحقير على فضله الجليل، ولا أرى خليلاً أشاركه في الفن، وهيهات عدم في هذا الفن الخليل.

ولم أزل على ذلك إلى أن حصلت على حل معقودها، وتحرير نقودها، وسددت سهام البحث إليها، وعطرت المحافل بنفحات الثناء عليها، فقتلتها خبراً وأحييت لها بين الطلبة ذكرا، وعلقت عليها شرحاً مختصراً يضرب في هذا الفن بسهم مصيب، ويقسم للطالب من المطلوب أوفى وأوفر نصيب.

ثم قدم علينا بعض طلبة الأندلس بشرح على هذه المقصورة للإمام العلامة قاضي الجماعة بغرناطة، السيد الشريف أبى عبد الله محمد بن أحمد الحسيني السبتى، رحمه الله عليه ورضوانه، فإذا هو شرح بديع لم يسبق إليه، ومؤلف نفيس ملأه من بدائع الحل بما يستحليه ذوق الواقف عليه، ووجدته قد سبقني إلى ابتكار ما ظننت أنى أبو عذرته، وتقدمني إلى الاحتكام في كثير مما خلت أنى مالك إمرته، فحمدت الله إذ وفقني لموافقة عالم متقدم، وشكرته على ما أنعم به من ذلك، ولم أكن على ما فات من السبق بمنتدم، لكنني أعرضت عما كنت كتيته، وطرحته في زوايا الإهمال واجتنبته، إلى أن حركت الأقدار عزمي في هذا الوقت إلى كتابة شرح وسيط، فوق الوجيز ودون البسيط، جمعت فيه بين ما سبق إليه من المعنى الشريف، وما سنح بعده للفكر من تالد وطريف، وبعض ما وقفت عليه لأئمة هذا الشآن، متحرباً لمازان متحرباً عما شان، معترفا بعجز الفكر وقصوره، وكلال الذهن وفتوره.

ولما حوى هذا الشرح عيونا من النكت تطيل على خفايا المقصورة غمزها، وتكشف للأفهام حجبها المستورة وتظهر رمزها، سميته (بالعيون الغامزة على خبايا الرامزة) والله أسأل أن ينفع به ويصل أسباب الخير بسببه، وحسبنا الله ونعم الوكيل.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(বলছেন) শাইখ, ইমাম, আল্লামা বদরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মাখযুমি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন): সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইসলামের ছন্দবিজ্ঞানে (আরুয) বিচরণ করার জন্য আমাদের বক্ষসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, এবং বরেণ্য আলেমদের পদাঙ্ক অনুসরণের ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তাধারাকে তাদের অন্ত্যমিল (কাফিয়া) স্বরূপ বানিয়েছেন; যা করা হয়েছে তাদের প্রতি ভালোবাসার কারণে এক মজবুত রজ্জু ধারণ করে এবং তাদের সেই বিপুল অনুগ্রহের বরকত লাভের আশায় যা জ্ঞানবান প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা ছাড়া আর কেউ বোঝে না। আমি তাঁর সেই প্রশংসা করি, যাঁর জন্য কঠিন পথগুলো সহজ হয়ে গিয়েছে এবং তিনি ধ্বংসাত্মক স্থানগুলো থেকে মুক্তি পেয়েছেন ও এর গুপ্তভাণ্ডার জয় করেছেন। আর সমস্যাগুলো যখন তাঁর সামনে পর্দার অন্তরালে থাকতে চেয়েছে, তখন তিনি এর গোপন রহস্যগুলো অবলোকন করেছেন এবং এর সংকেতগুলো তাঁর কাছে উন্মোচিত হয়েছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি কদর্য বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন এবং যা কিছু সৌন্দর্যমণ্ডিত তার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আর তাঁর কথা সত্য: (তোমরা ন্যায়ের সাথে ওজন কায়েম করো এবং ওজনে কম দিও না)। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু রসূল, এবং এমন এক নেতা যাঁর গুণাবলি সম্মানের পঙক্তিতে কেবল স্থানই পায় না, বরং শ্রেষ্ঠত্বের সুতোয় গাঁথা হয়ে থাকে; যিনি পৃথিবীবাসীর ওপর তাঁর সুদীর্ঘ ও বিস্তৃত অনুগ্রহ ঢেলে দিয়েছেন এবং মুশরিকদের এমনভাবে পর্যুদস্ত করেছেন যে অকল্যাণের বৃত্ত তাদের পরিবেষ্টন করে ফেলেছে:

তিনি কতই না এক মহান সত্য রসূল ... শত্রুদের বিনাশকারী এবং হিদায়াতের দিশারি।

যদি আমি তাঁর প্রশংসায় কাব্য রচনায় প্রবৃত্ত হই ... তবে আমার অক্ষমতার স্বীকৃতিই হবে সেই কাব্যের শ্রেষ্ঠ পঙক্তি।

আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, এবং তাঁর পরিবার ও সাথীদের ওপর, যারা এমন উন্নত চরিত্রের অধিকারী যা প্রতিটি সুন্দর কাজের কারিগর এবং আল্লাহর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরম আশার বিজয় লাভে জিম্মাদার। তারা দ্বীনের ভিত্তি স্থাপনে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, উন্নত চরিত্রের দিকে মানুষের মনকে ধাবিত করার ক্ষেত্রে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন এবং এই সুন্দর কাজ ও এই জাতীয় কাজের ওপর সময়কে নিবদ্ধ করেছেন। ফলে তাদের এই প্রচেষ্টার জন্য তারা নিঃশর্ত শুকরিয়ার যোগ্য হয়েছেন।

এবং দরুদ ও সালাম, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং সম্মান নিরন্তর বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এটি অস্পষ্ট নয় যে, ছন্দবিজ্ঞান (আরুয) এমন একটি শিল্প যা সৌন্দর্যের বাজারে কাব্য-পণ্যের ওজন নির্ধারণ করে এবং এর চর্চাকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করে তোলে, অথচ আগে তা কঠিন ছিল। আমি আমার কৈশোরে এই শিল্পের সৌন্দর্যের প্রতি অনুরক্ত ছিলাম, এবং এর সেইসব সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুসন্ধানে মগ্ন ছিলাম যা আমার কানে গুঞ্জরিত হতো। আমি এর শিক্ষালয়গুলোতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতাম, এর উদাহরণগুলোর দ্বারে দ্বারে যাতায়াত করতাম এবং এর সমুদ্রে দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটতাম। আমি এর সাথে যুক্ত হওয়াকে হালকা মনে করতাম, যদিও অজ্ঞ ব্যক্তিরা একে ভারী বোঝা মনে করত। অবশেষে, এই শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার সময় আমি ‘আর-রামিজাহ’ নামক মাকসূরা কাসিদাটির সন্ধান পাই, যা বিজ্ঞ ইমাম যিয়াউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-খাযরাজির রচনা; আল্লাহ তাঁর কবরকে নূরানি করুন এবং তাঁর রুহকে রহমতের ধারা দিয়ে সিক্ত করুন। আমি একে এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত এবং দুর্লভ এক রত্ন হিসেবে পেলাম। আমি এর অর্থ আস্বাদন করতে চাইলাম, কিন্তু দেখলাম মানুষ তখন এ বিষয়ে নির্বাক (রোজা পালনকারী সদৃশ)। আমি এর অর্থের কুমারী রহস্যগুলো উন্মোচন করতে চাইলাম, কিন্তু দেখলাম সেগুলো তাঁবুর ভেতরে সুরক্ষিত পর্দানশীনদের মতো আবৃত।

আমি এই কাসিদার সহজ বশ্যতা কামনা করেছিলাম কিন্তু সে অবাধ্যতা ও আভিজাত্য দেখাল; মেধা যখন একে উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার আবেদন জানাল, তখন সে সংকেত (রময) ছাড়া কথা বলতে অস্বীকার করল। ফলে আমি একে পর্যালোচনার জন্য নিদ্রা ত্যাগ করতে শুরু করলাম এবং এর অধ্যয়নের জন্য বিনিদ্র রজনী কাটাতে লাগলাম। অথচ আমি এমন কোনো শাইখ খুঁজে পাচ্ছিলাম না যার মহান অনুগ্রহের কাছে আমি আমার নগণ্য যোগ্যতা নিয়ে ছাত্র হতে পারি, কিংবা এমন কোনো বন্ধু দেখছিলাম না যার সাথে আমি এই বিদ্যায় অংশীদার হতে পারি; হায়! এই বিদ্যায় কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু (খলীল) পাওয়া দুষ্কর।

আমি এই অবস্থায় নিমগ্ন ছিলাম যতক্ষণ না আমি এর গ্রন্থিগুলো উন্মোচন করতে সক্ষম হলাম এবং এর সারবস্তুগুলো যাচাই করতে পারলাম। আমি এর প্রতি গবেষণার তীর নিক্ষেপ করলাম এবং প্রশংসার সুবাস দিয়ে মজলিসগুলোকে সুবাসিত করলাম। আমি একে গভীরভাবে অধ্যয়ন করলাম এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে এর চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করলাম। আমি এর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (শারহ) রচনা করলাম যা এই বিদ্যায় এক অব্যর্থ তীরের মতো কাজ করবে এবং শিক্ষার্থীর জন্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের পূর্ণাঙ্গ অংশ নির্ধারণ করবে।

অতঃপর আন্দালুসের কিছু শিক্ষার্থী গ্রানাডার প্রধান বিচারপতি, সাইয়িদ শরীফ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হুসাইনি আস-সাবতি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লেখা এই মাকসূরার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। আমি দেখলাম এটি এক অপূর্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নজির আগে কেউ স্থাপন করতে পারেনি। এটি একটি মূল্যবান গ্রন্থ যা তিনি ব্যাখ্যার এমন সব চমৎকার কৌশল দিয়ে পূর্ণ করেছেন যা পাঠক মাত্রই মুগ্ধ হবে। আমি দেখলাম, আমি যা নিজের উদ্ভাবন মনে করেছিলাম সেগুলোর ক্ষেত্রে তিনি আগেই পথ দেখিয়েছেন এবং অনেক বিষয়ে আমি যা নিজের কর্তৃত্ব মনে করেছিলাম তিনি সেখানে আগেই সিদ্ধান্ত দিয়ে রেখেছেন। আমি আল্লাহর প্রশংসা করলাম যে তিনি আমাকে একজন অগ্রগামী আলেমের সাথে একমত হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন; এবং তিনি যে নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য তাঁর শোকর আদায় করলাম। সেই অগ্রগামিতা হাতছাড়া হওয়ার জন্য আমি অনুতপ্ত ছিলাম না। তবে আমি যা লিখেছিলাম তা থেকে বিমুখ হলাম, সেটিকে অবহেলার কোণে ফেলে দিলাম এবং বর্জন করলাম। অবশেষে এই সময়ে তাকদির আমাকে একটি মধ্যম মানের শারহ লেখার সংকল্পে উদ্বুদ্ধ করল, যা অতি সংক্ষিপ্ত নয় আবার অতি দীর্ঘও নয়। আমি এতে তাঁর বর্ণিত চমৎকার অর্থসমূহ এবং পরবর্তীতে আমার চিন্তায় আসা নতুন ও পুরাতন বিষয়গুলো একত্রিত করেছি। সেই সাথে এই শাস্ত্রের ইমামদের থেকে যা পেয়েছি তাও যুক্ত করেছি—সুন্দর বিষয়গুলো গ্রহণ করে এবং কদর্য বিষয়গুলো পরিহার করে; আমার চিন্তার সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতা এবং বুদ্ধির ক্লান্তি স্বীকার করেই তা করেছি।

যেহেতু এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এমন সব সূক্ষ্ম তত্ত্বে পরিপূর্ণ যা এই মাকসূরার গোপন বিষয়গুলোর প্রতি ইশারা করে, এর আবৃত পর্দাগুলো মেধার সামনে উন্মোচন করে এবং এর সংকেতগুলোকে প্রকাশ করে, তাই আমি এর নাম রেখেছি: ‘আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার রামিযাহ’ (রামিজাহর গোপন রহস্যে ইঙ্গিতকারী নেত্রসমূহ)। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন এবং এর অছিলায় কল্যাণের পথগুলোকে যুক্ত করে দেন। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২)
قال الناظم رحمه الله تعالى:

وللشعرميزانٌ تسمى عروضُهُ … بها النقصُ والرجحانُ يدريهما الفتى

أقول: أورد كلامه في هذا البيت على وجه يشعر بتعريف العروض، وكأنه يشير إلى ما عرفه به بعض الفضلاء حيث قال: (العروض آلة قانونية يتعرف منها صحيح أوزان الشعر العربي وفاسدها) .

فغن قلت: الشعر في هذا التعريف مقيد بالعربي وهو في البيت غير مقيد به، فأنى يشعر كلام الناظم بذلك؟ قلت: لام التعريف من قوله للشعر هي للعهد الذهني، وذلك أن الشعر الذي يعرض فيه العروضيون كلامهم إنما هو العربي، ولما كان الناظم ذمنهم علم بقرينة الحال أن مراده بالشعر ما هو معهود في الأذهان من الشعر المتعارف عند القوم الدائر فيما بينهم، وليس إلا العربي.

وقد ذكروا في وجه تسمية هذا العلم بالعروض وجوهاً أقربها أن العروض اسم لما يعرض عليه الشيء، فنقل إلى هذا الفن لأنه يعرض عليه الشعر، فما وافقه فصحيح وما خالفه ففاسد.

وقال بعض شارحي الساوية: الذي وقع في خاطري أنه سمي بالعروض لأن الخليل ألهمه في العروض، وهي مكة، فسماه بها تبركا وتيمنا، ورغم أن هذا أجود مما ذكروا.

فإن قلت: ماذا أراد الناظم (بالنقص والرجحان) ؟ قلت: الظاهر أنه أراد بالنقص مخالفة الطريقة العربية في وزن الشعر، وبالرجحان موافقتها فيه، فما خرج عن أوزان العرب كان ناقصاً أي لا يعتبر، وما جرى على أسلوبها كان راجحاً، أي معتبراً معتداً به عند أئمة هذا الشآن.

وقال الشارح الشريف: (يريد أن صناعة العروض لما كانت هي الآلة التي يعرف بها صحة أوزان الشعر كانت له كالميزان الذي يظهر لك اعتدال الشيئين من استواء كفتيه، ويبين التباين برجحان إحداهما على الأخرى أو نقصها عنها) .

قلت: قضية هذا أن يكون النقص والرجحان جميعاً مشاراً بهما إلى مخالفة شعر العرب، وفيه ما فيه فتأمل.

فإن قلت: كيف يضبط يسمى؟ بالتاء المثناة من فوق، أم الياء آخر الحروف؟ قلت يجوز الأمران معاً، وذلك أن كل لفظتين وضعتا لذات واحدة إحداهما مؤنثة والأخرى مذكرة، وتوسطهما ضمير، جاز تأنيث الضمير وتذكيره. ذكره ابن الحاجب في شرح مفصل.

ولا يخفى أن الميزان مذكر والعروض مؤنث، وأن المراد بهما في هذا المقام واحد، وهو ما وضعنا له من هذا العلم، فقوله (يسمى) محتمل الضمير، فإن اعتبرت تذكير الميزان جعلت الضمير مذكراً، وإن اعتبرت التأنيث باعتبار العروض جعلته مؤنثاً، والتأنيث هنا أحسن لأن العروض مؤنثة، وهي في المعنى خبر عن الميزان، والخبر محط الفائدة. وإلى نحو ذلك أشار ابن الحاجب حيث تكلم على قول الزمخشرى في المفصل بأثر تعريفه للكلام: (ويسمى الجملة) .

والضمير المجرور من قوله (بها) يجوز أن يعود على العروض، وأن يعود على الميزان باعتبار كونه آلةً، أو باعتبار أن المراد به العروض، وهي مؤنثة كما سبق. فإن قلت هل من فرق بين التقديرين؟ قلت: نعم، فإنا إن أعدنا الضمير على العروض كانت الجملة بأسرها وهي قوله (بها النقص والرجحان يدريهما الفتى) لا محل لها من الإعراب، وإن أعدناه على الميزان كان لها محل من الإعراب، وهو الرفع على أنها صفة ثانية للميزان، فحرره.

وأما الشعر فقال الخليل: هو ما وافق أوزان العرب، ومقتضاه أنه لا يسمى شعراً ما خرج عن أوزانهم، بل وأن لا تكون أوزان العرب نفسها شعراً، إذ الموافق للشيء غيره، فلو دخلت أوزان العرب فيه لزم مغايرة الشيء لنفسه وهو باطل. وبعضهم عرفه بأنه: (الكلام الموزون، المقصود به الوزن المرتبط لمعنى وقافية) . قال: فالوزن تساوي شيئين عدداً وترتيباً. قال: والقصد مخرج لما ورد في القرآن والحديث من آيات وكلمات موزونة. قال: وقولنا المرتبط لمعنىً مخرج لما لا معنى له من الكلام الموزون، نحو ما أنشده القللوسى:

وجهُكَ يا عْمرو فيه طولُ … وفي وجوه الكلاب طولُ

والكلبُ يحمى عن المواشي … ولستَ تحمي ولاتصولُ

مستفعلن فاعلن فعولن … مستفعلن فاعلن فعول

بيت كما أنتَ ليس فيه … شيءٌ سوى أنه فضولُ

قلت: قوله (الكلام) يغني عن قوله (المرتبط لمعنى) ضرورة لا كلام إلا وهو مرتبط لمعنى، إذ لو خلا عن معنى يرتبط له لم يكن كلاماً.
নাযেম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন:

কবিতার জন্য রয়েছে একটি তুলাদণ্ড, যার নাম দেওয়া হয়েছে আরূয... যার মাধ্যমে যুবক [শিক্ষার্থী] কবিতার ত্রুটি ও শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করতে পারে।

আমি বলছি: তিনি এই শ্লোকে তাঁর বক্তব্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা আরূযের সংজ্ঞার প্রতি ইঙ্গিত করে। মনে হচ্ছে তিনি কোনো এক গুণী ব্যক্তির দেওয়া সংজ্ঞার প্রতি ইঙ্গিত করছেন, যিনি বলেছেন: (আরূয হলো এমন একটি পদ্ধতিগত শাস্ত্র, যার মাধ্যমে আরবি কবিতার সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণ ছন্দসমূহ চেনা যায়।)

যদি আপনি বলেন: এই সংজ্ঞায় কবিতাকে আরবির সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, অথচ শ্লোকে তা সীমাবদ্ধ নয়; তবে নাযেমের বক্তব্য কীভাবে তা নির্দেশ করে? আমি বলব: 'লিল-শায়রি' (কবিতার জন্য) শব্দের 'লাম' (আলিফ-লাম) এখানে 'আহদে যহনি'র (মানসপটে নির্ধারিত বিষয়) জন্য। কারণ, আরূযবিদগণ যে কবিতার ওপর তাঁদের শাস্ত্র প্রয়োগ করেন তা কেবল আরবি কবিতাই। আর যেহেতু নাযেমও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত, তাই উপস্থিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে বোঝা যায় যে, কবিতা দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো সেই কবিতা যা মানুষের মনে সুপরিচিত এবং যা তাঁদের মাঝে প্রচলিত রয়েছে; আর তা কেবল আরবি কবিতাই।

এই শাস্ত্রের নাম 'আরূয' রাখার পেছনে আলেমগণ অনেকগুলো কারণ উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে নিকটতর কারণ হলো, আরূয এমন বস্তুর নাম যার ওপর কোনো কিছুকে পেশ বা তুলনা করা হয়। সুতরাং এই শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে, কারণ এর ওপর কবিতাকে পেশ করা হয়। যা এর সাথে মিলবে তা সঠিক, আর যা এর পরিপন্থী হবে তা ত্রুটিপূর্ণ।

সাউয়িয়্যাহ-র জনৈক ব্যাখ্যাকার বলেছেন: আমার মনে যা উদিত হয়েছে তা হলো, একে আরূয বলা হয়েছে কারণ ইমাম খলীলকে এর ইলহাম (প্রত্যাদেশ সদৃশ জ্ঞান) দেওয়া হয়েছিল মক্কার আরূয নামক স্থানে। তাই তিনি বরকত ও কল্যাণের আশায় এর এই নামকরণ করেছেন। যদিও এটি আলেমদের উল্লিখিত কারণগুলোর চেয়ে উত্তম বলে মনে হয়।

যদি আপনি বলেন: নাযেম 'নাকস' (ত্রুটি) ও 'রুজহান' (শ্রেষ্ঠত্ব) দ্বারা কী বুঝিয়েছেন? আমি বলব: স্পষ্টত তিনি নাকস দ্বারা আরবি কবিতার ছন্দের রীতির বিরোধিতা করা এবং রুজহান দ্বারা তার অনুকূলে হওয়াকে বুঝিয়েছেন। সুতরাং যা আরবের ছন্দসমূহের বাইরে যাবে তা হবে ত্রুটিপূর্ণ তথা অগ্রহণযোগ্য। আর যা তাদের শৈলী অনুযায়ী হবে তা হবে শ্রেষ্ঠ তথা এই শাস্ত্রের ইমামদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য।

শারেহ শরীফ (রহ.) বলেছেন: (তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, আরূয শিল্পটি যেহেতু কবিতার ছন্দের বিশুদ্ধতা জানার মাধ্যম, তাই এটি কবিতার জন্য এমন একটি তুলাদণ্ডের মতো যা আপনার সামনে তার পাল্লা দুটির সমানভাবে উঠার মাধ্যমে দুটি জিনিসের ভারসাম্যকে স্পষ্ট করে, আর কোনো একটির আধিক্য বা ঘাটতির মাধ্যমে তাদের মধ্যকার পার্থক্য প্রকাশ করে)।

আমি বলব: এর দাবি হলো নাকস ও রুজহান উভয়টি দ্বারাই আরবি কবিতার বিরুদ্ধাচরণকে নির্দেশ করা হবে। তবে এতে কিছু কথা আছে, আপনি তা নিয়ে ভেবে দেখুন।

যদি আপনি বলেন: 'ইউসাম্মা' (নামকরণ করা হয়) শব্দটি কীভাবে পড়া হবে? 'তা' বর্ণের সাথে (তুসাম্মা) নাকি শেষ বর্ণ 'ইয়া' এর সাথে (ইউসাম্মা)? আমি বলব: উভয়টিই বৈধ। কারণ হলো, যখন দুটি শব্দ একই সত্তাকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয় এবং তাদের একটি স্ত্রীলিঙ্গ ও অন্যটি পুংলিঙ্গ হয়, আর তাদের মাঝে একটি সর্বনাম থাকে, তখন সেই সর্বনামকে স্ত্রীলিঙ্গ বা পুংলিঙ্গ উভয়টিই করা জায়েজ। ইবনে হাজিব 'শরহে মুফাসসাল'-এ এটি উল্লেখ করেছেন।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, মিযান (তুলাদণ্ড) শব্দটি পুংলিঙ্গ এবং আরূয শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ; আর এই স্থানে উভয়টি দ্বারা উদ্দেশ্য একই বিষয়, অর্থাৎ এই শাস্ত্র যা আমরা সংজ্ঞায়িত করছি। সুতরাং তাঁর বক্তব্য 'ইউসাম্মা'-তে সর্বনামের সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি যদি মিযানের পুংলিঙ্গ হওয়ার প্রতি লক্ষ্য করেন তবে সর্বনামকে পুংলিঙ্গ করবেন, আর যদি আরূযের স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার প্রতি লক্ষ্য করেন তবে তাকে স্ত্রীলিঙ্গ করবেন। আর এখানে স্ত্রীলিঙ্গ করাটাই অধিক উত্তম, কারণ আরূয হলো স্ত্রীলিঙ্গ, এবং এটি অর্থে মিযানের খবর (বিধেয়), আর খবরই হলো মূল উপকারের স্থল। আল্লামা ইবনে হাজিব অনুরূপ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি 'মুফাসসাল'-এ কালামের সংজ্ঞার পরে যামাখশারীর উক্তি 'একে জুমলা বলা হয়' (ইউসাম্মাল জুমলাতা) এর ওপর আলোচনা করেছেন।

আর 'বিহা' (তার মাধ্যমে) এর মাজরুর সর্বনামটি আরূযের দিকে ফিরে আসা জায়েজ, আবার মিযানের দিকে যন্ত্র বা মাধ্যম হওয়ার বিচারে ফিরে আসাও জায়েজ। অথবা এই বিচারে যে এর দ্বারা আরূয উদ্দেশ্য, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তা স্ত্রীলিঙ্গ। যদি আপনি বলেন: এই দুই সম্ভাব্যতার মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি? আমি বলব: হ্যাঁ, যদি আমরা সর্বনামটিকে আরূযের দিকে ফিরিয়ে দিই, তবে সম্পূর্ণ বাক্যটি—অর্থাৎ 'তার মাধ্যমে যুবক ত্রুটি ও শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করতে পারে'—এর কোনো এরাবগত স্থান থাকবে না। আর যদি আমরা একে মিযানের দিকে ফিরিয়ে দিই, তবে এর এরাবগত স্থান হবে; আর তা হলো মিযানের জন্য দ্বিতীয় সিফাত (গুণ) হিসেবে রফ্ হওয়া। বিষয়টি যাচাই করে নিন।

আর কবিতার ব্যাপারে ইমাম খলীল বলেছেন: তা হলো যা আরবদের ছন্দের সাথে মিল সম্পন্ন। এর দাবি অনুযায়ী, যা তাদের ছন্দের বাইরে যাবে তাকে কবিতা বলা যাবে না। বরং স্বয়ং আরবদের ছন্দগুলোও কবিতা হবে না, কারণ কোনো কিছুর সাথে মিল সম্পন্ন বস্তু সেই বস্তু থেকে ভিন্ন হয়। সুতরাং যদি আরবদের ছন্দগুলো এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে একটি বস্তু নিজের থেকে ভিন্ন হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা বাতিল। কেউ কেউ কবিতার সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: (তা হলো এমন ছন্দোবদ্ধ কথা, যার দ্বারা ছন্দবদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং যা অর্থ ও কাফিয়ার (অন্ত্যমিল) সাথে সম্পৃক্ত)। তিনি বলেন: ছন্দ (অজন) হলো সংখ্যা ও বিন্যাসের দিক থেকে দুটি জিনিসের সমান হওয়া। তিনি বলেন: 'উদ্দেশ্য করা' কথাটি দ্বারা কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত ছন্দোবদ্ধ আয়াত ও বাক্যগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন: আমাদের উক্তি 'অর্থের সাথে সম্পৃক্ত' দ্বারা সেই সমস্ত ছন্দোবদ্ধ কথাকে বের করে দেওয়া হয়েছে যার কোনো অর্থ নেই, যেমনটি কুল্লুসী আবৃত্তি করেছেন:

হে আমর! তোমার চেহারায় লম্বাটে ভাব আছে … আর কুকুরদের চেহারাতেও লম্বাটে ভাব থাকে।

আর কুকুর তার পশুপালকে পাহারা দেয় … কিন্তু তুমি তো রক্ষা করো না এবং আক্রমণও করো না।

মুসতাফইলুন ফায়িলুন ফাউলুন … মুসতাফইলুন ফায়িলুন ফাউল।

এই শ্লোকটি ঠিক তোমার মতোই, এতে কিছুই নেই … কেবল অনর্থকতা ছাড়া।

আমি বলছি: তাঁর 'কথা' (কালাম) উক্তিটি 'অর্থের সাথে সম্পৃক্ত' উক্তিটি থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়; কেননা অনিবার্যভাবে অর্থহীন কোনো শব্দ কালাম হতে পারে না। যদি তাতে কোনো অর্থ না থাকে তবে তা কালাম হিসেবে গণ্য হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
قال: وقولنا (وقافية) تحرز من الموزون وليس مقفى، نحو ما أنشده القاضي أبو بكر الباقلاني في كتاب الإعجاز له:

ربّ أخٍ كنتُ به مغتبطاً … أشد كفِّى بُعَرى صُحبتهِ

تمسكاً مني بالودِّ ولا … أحسبُه يَزهد في ذي أملِ

قلت: يلزم عليه أن لا يكون ما فيه عيب الإكفاء والإجازة شعراً.

واللازم باطل، فإنه شعر بالإجماع، وإن كان معيباً، وبعد هذا كله فهو منطبق على ما كان من الكلام بالمثابة المذكورة، وهو خارج عن الأوزان العربية، والقوم يأبون ذلك، فإن موضوع هذا العلم عندهم الكلام الموزون بشيء من هذه الأوزان المخصوصة المقررة فيه. ولو قيل: (الشعر كلام وزن على قصد بوزن عربي لكان حسناً) فقولنا (كلام) جنس يشمل المحدود وغيره، وتصدير الحد به مخرج لما لا معنى له من الألفاظ الموزونة. وقولنا (وزن) فصل يخرج الكلام المنثور. وقولنا (على قصد) يخرج ما كان وزنه اتفاقياً، كآيات شريفة اتفق جريان الوزن فيها كذلك، كما في قوله تعالى (لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون) وكلمات شريفة نبوية جاء الوزن فيها اتفاقياً غير مقصود، كما في قول النبي صلى الله عليه وسلم:

هل أنتِ إلا إصبعٌ دميتِ … وفي سبيل اله ما لقيتِ

فمثل ذلك لا يسمى شعراً، نعود بالله من ذلك. وكذا لو وقع من متكلم لفظ موزون لم يقصد كونه على طريقة الموزون كما يتفق لكثير من الناس، ويقع مثل ذلك حتى لعوام لا شعور لهم بالشعر، ولا إلمام لهم بالوزن البتة، وقد عمد قوم من الشعراء إلى آيات شريفة أدرجوها في أشعارهم إخلالاً منهم بما يجب من مراعاة الآداب والوقوف عند حدود الله، كقول ابن العفيف التلمساني يتغزل:

يا عاشقين حاذروا … مبتسماً عن ثغرهِ

فطرفه الساحرُ مْذ … شكتكمُ في أمرهِ

يريد أن يخرجِكُم … من أرضكم بسحرهِ

وكقول أبي نواس فيما حكى عنه موطئاً للآية الشريفة التي تلوناها آنفاً.

 

خُطّ في الأرداف سطرٌ … في عروض الشعر موزونْ

وهذا من أفحش السخف وأقبحه، والتهاون بالوقوع في ذلك يجر إلى الانسلال من الدين والعياذ بالله تعالى.

والعجب من قوم يروج عليهم مثل هذا الصنع القبيح، ويستلذون سماعه، ويرونه من الظرف واللطافة، ويعمرون مجالسهم وأنديتهم بمثل ذلك. أولئك لا خلاق لهم في الدنيا والآخرة.

فإن قلت: قد جعل علماء البديع تضمين المتكلم كلامه، شعراً كان أو نثراً، شيئاً من القرآن- لا على أنه منه- من المحاسن، وسموا بالاقتباس، كما هو معروف، ومعنى قولهم (لا على أنه منه) أن يورد الكلام المقتبس على وجه لا يكون فيه إشعار بأنه من القرآن، بأن لا يذكر فيه: قال اله تعالى، ونحوه، على ما صرح به التفتازانى، قلت: ذلك محمول على ما إذا لم يؤد الاقتباس إلى إخراج القرآن الشريف إلى معنى غير لائق بجلالته، وأما إذا استعمل على ما فيه إخلال بإجلاله وتعظيمه، فلا يشك مسلم في منع ذلك وتحريمه، وربما أدى إلى الكفر والعياذ بالله. ومن ذا الذي يفهم عن علماء الإسلام أن (الاقتباس) من البديع مطلقاً، سواء كان على وجه حسن أو غيره، كيف ما كان؟ هذا ما لا سبيل إليه أبداً. أو هو محمول على ما إذا ذكر المتكلم كلاماً وجد نظمه في القرآن فأورده غير مريد به القرآن.

قال الشيخ بهاء الدين السبكي في (شرح التلخيص) : فلو أخذ مراداً به القرآن كان ذلك من أقبح القبيح، ومن عظام المعاصي، نعوذ بالله منه. قال: وهذا هو معنى قول المصنف، يريد صاحب التلخيص، (لا على أنه منه) .

قلت: ولوسلم أن المراد بالاقتباس ما ذكر، وهو الأخذ من القرآن لا على أن المراد به التلاوة، فلا يكون ذلك عذراً لمن فعله على وجه المجون والسخف الذي يتعاطاه المفحشون من الشعراء، ولا ترتفع به الملامة عنه، ولا يسقط بذلك ما يتوجه عليه شرعاً من تأديب وزجر وإقامة حد، ولو فتح باب لقبول العذر لمثل هذا لتطرق إلى الدخول منه كل مريض القلب، منحل عرى الدين، واتخذه ذريعة إلى الاسترسال في الاستخفاف بالشريعة، والعياذ بالله والله أسأل أن يوفقنا لاتباع سبيل السلف الصالح في القول والعمل بمنه وكرمه.
তিনি বললেন: আমাদের উক্তি "এবং অন্ত্যমিলবিশিষ্ট" (কাফিয়া) দ্বারা এমন ছন্দোবদ্ধ বাক্য থেকে বিরত থাকা উদ্দেশ্য যা অন্ত্যমিলযুক্ত নয়, যেমনটি কাজী আবু বকর আল-বাকিলানি তাঁর ই'জায গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন:

কতই না ভাই ছিল যার প্রতি আমি ঈর্ষান্বিত ছিলাম … আমি তার বন্ধুত্বের রশিকে আমার হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরতাম

আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসার টানে তাকে আঁকড়ে ধরতাম … আর আমি মনে করতাম না যে তিনি কোনো আশাবাদীর প্রতি বিমুখ হবেন

আমি বললাম: এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যাতে 'ইকফা' এবং 'ইজাযাহ' নামক দোষ রয়েছে তা কবিতা হবে না।

অথচ এই সিদ্ধান্তটি বাতিল, কারণ এটি সর্বসম্মতিক্রমে কবিতা, যদিও তা ত্রুটিযুক্ত। এই সবকিছুর পর, এটি এমন কথার ওপর প্রযোজ্য হবে যা উল্লিখিত পর্যায়ের, আর এটি আরবি ছন্দসমূহের বহির্ভূত। অথচ বিশেষজ্ঞগণ তা অস্বীকার করেন, কারণ তাঁদের নিকট এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো সেই ছন্দোবদ্ধ কথা যা এর মধ্যে নির্ধারিত বিশেষ ছন্দসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে রচিত। যদি বলা হতো: (কবিতা হলো এমন কথা যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে আরবি ছন্দে বিন্যস্ত করা হয়েছে, তবে তা উত্তম হতো)। এখানে আমাদের উক্তি (কথা) একটি সাধারণ নাম যা সংজ্ঞায়িত বিষয় এবং অন্য সব কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমে সংজ্ঞার সূচনা করা হয়েছে এমন ছন্দোবদ্ধ শব্দসমূহকে বাদ দেওয়ার জন্য যার কোনো অর্থ নেই। আমাদের উক্তি (ছন্দোবদ্ধ) হলো একটি বিশেষক যা গদ্যকে পৃথক করে দেয়। আমাদের উক্তি (উদ্দেশ্যমূলকভাবে) দ্বারা সেই কথাগুলো বাদ পড়ে যার ছন্দ কাকতালীয়ভাবে হয়ে গেছে, যেমন কিছু সম্মানিত আয়াত যাতে ছন্দ মিলে গেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী (তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না যা তোমরা ভালোবাস তা থেকে ব্যয় করো)। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সম্মানিত বাণী যাতে ছন্দটি উদ্দেশ্যহীনভাবে ও কাকতালীয়ভাবে এসেছে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী:

তুমি তো একটি আঙ্গুল ছাড়া কিছু নও যা রক্তাক্ত হয়েছে … আর আল্লাহর পথেই তুমি যা পাওয়ার পেয়েছ

এর মতো বাক্যকে কবিতা বলা হয় না; আমরা তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। একইভাবে যদি কোনো বক্তার মুখ থেকে ছন্দোবদ্ধ শব্দ নির্গত হয় যা সে ছন্দোবদ্ধ পদ্ধতিতে বলার ইচ্ছা করেনি, যেমনটি অনেক মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এমনকি এমনটি সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটে যাদের কবিতা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই এবং ছন্দের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই। একদল কবি পবিত্র আয়াতসমূহ গ্রহণ করে সেগুলোকে তাদের কবিতার অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা তারা করেছে আদব রক্ষা করার এবং আল্লাহর সীমানার কাছে থেমে থাকার প্রয়োজনীয়তা লঙ্ঘন করে। যেমন ইবনুল আফিফ আত-তিলিমসানি তার প্রণয়গাথায় বলেছেন:

হে প্রেমিকগণ! সাবধান হও … সেই ব্যক্তির থেকে যার হাসিতে তার দাঁত প্রকাশিত হয়

কারণ তার জাদুকরী দৃষ্টি যখন … তোমাদের বিষয়ে অভিযোগ করেছে

সে চায় তার জাদু দ্বারা তোমাদেরকে … তোমাদের ভূমি থেকে বের করে দিতে

এবং যেমনটি আবু নুওয়াস সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে সে আমরা ইতিপূর্বে যে আয়াতটি পাঠ করেছি তার প্রেক্ষাপট তৈরি করতে গিয়ে বলেছে:

 

নিতম্বের ওপর একটি পংক্তি লেখা হয়েছে … যা কবিতার ছন্দে সুবিন্যস্ত

এটি চরম মূর্খতা ও জঘন্যতম কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর এই ধরনের কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রতি শিথিলতা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়, মহান আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।

এবং বিস্ময় ওই সম্প্রদায়ের প্রতি যাদের কাছে এই ধরনের কুৎসিত কাজ জনপ্রিয়তা পায়, তারা এটি শুনতে আনন্দ পায় এবং তারা একে বুদ্ধিমত্তা ও সূক্ষ্মতা মনে করে। তারা তাদের মজলিস ও আসরগুলোকে এই ধরনের বিষয় দিয়ে পূর্ণ করে। দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই।

যদি আপনি বলেন: আল-বাদি' বিশেষজ্ঞগণ বক্তার নিজের কথার মধ্যে কুরআনের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করাকে—তা কবিতা হোক বা গদ্য—সুন্দর বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং একে 'ইকতিবাস' নামে অভিহিত করেছেন, যেমনটি সুবিদিত। আর তাদের কথা (কুরআনের অংশ হিসেবে নয়) এর অর্থ হলো উদ্ধৃত কথাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে এটি কুরআন হওয়ার ইঙ্গিত না থাকে, যেমন তাতে উল্লেখ না করা: মহান আল্লাহ বলেছেন, বা এই জাতীয় কিছু—যেমনিভাবে আল-তাফতাযানি স্পষ্ট করেছেন। আমি বললাম: এটি সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য যখন এই উদ্ধৃতি প্রদান পবিত্র কুরআনকে এমন অর্থে নিয়ে যাবে না যা তার মর্যাদার সাথে বেমানান। কিন্তু যদি এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে তার মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়, তবে কোনো মুসলিম এর নিষেধাজ্ঞা ও হারাম হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ করবে না। কখনও কখনও এটি কুফর পর্যন্ত নিয়ে যায়, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। আর কে আছে যে ইসলামি পণ্ডিতদের থেকে এমনটি বুঝবে যে, (ইকতিবাস) বা উদ্ধৃতি প্রদান করা নিরঙ্কুশভাবে অলঙ্কারশাস্ত্রের সৌন্দর্য, চাই তা সুন্দরভাবে হোক বা অন্যভাবে, যেভাবেই হোক না কেন? এর কোনো পথ নেই। অথবা এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন বক্তা এমন কথা বলে যার বিন্যাস কুরআনে পাওয়া যায় কিন্তু সে এর দ্বারা কুরআন উদ্দেশ্য করেনি।

শাইখ বাহাউদ্দিন আস-সুবকি (শারহুত তালখিস) গ্রন্থে বলেছেন: যদি কেউ কুরআনকে উদ্দেশ্য করেই তা গ্রহণ করে, তবে তা হবে জঘন্যতম কাজ এবং কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তিনি বলেন: এটিই গ্রন্থকারের অর্থাৎ তালখিস প্রণেতার উক্তির মর্মার্থ, (কুরআনের অংশ হিসেবে নয়)।

আমি বললাম: যদি মেনেও নেওয়া হয় যে ইকতিবাস দ্বারা যা উল্লেখ করা হয়েছে তাই উদ্দেশ্য, আর তা হলো কুরআন থেকে গ্রহণ করা একে তিলাওয়াত হিসেবে উদ্দেশ্য না করে, তবুও এটি সেই ব্যক্তির জন্য ওজর হতে পারে না যে একে অশ্লীলতা ও ধৃষ্টতার সাথে ব্যবহার করে যা কুরুচিপূর্ণ কবিরা করে থাকে। এর ফলে তার থেকে নিন্দা দূর হবে না এবং এর কারণে শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে তার ওপর যে শাসন, ধমক এবং দণ্ডবিধি প্রবর্তন করা আবশ্যক হয় তা বাতিল হবে না। যদি এই ধরনের ব্যক্তিদের অজুহাত গ্রহণের পথ খুলে দেওয়া হয়, তবে অন্তরে ব্যাধি থাকা এবং দ্বীনের বন্ধন শিথিল করা প্রত্যেক ব্যক্তির প্রবেশের পথ তৈরি হবে এবং সে একে শরীয়তকে তুচ্ছজ্ঞান করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করবে। আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় কথা ও কাজে সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণের তাওফিক দান করেন।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وقولنا (بوزن عربي) يشمل ما كان من نظم العرب أنفسهم وما كان منظوماً من كلام المحدثين على طريقتهم، وهو مخرج لما خالف أساليب أوزانهم، ومثل ذلك بعض المتأخرين بقول البها زهير كاتب الملك الصالح حيث قال:

يامنْ لعبتْ به شَمُولٌ … ما ألطفض هذه الشمائلْ

نشوانُ يهزّه دلالٌ … كالغصن مع النسيم مائلْ

قلت: ليس هذا من الأوزان المهملة بل هو من بحر الوافر، غير أنه أعقص الجزء الأول والرابع، معقول الثاني والخامس، والعروض والضرب مقطوفان. تقطيعه هكذا:

يا مَنْلَ عِبَتْبهِي شمُولُنْ … ما أَلطَ فَها ذِهِشْ شمائلْ

مفعولُ مفاعلن فعولن … مفعول مفاعلن فعولن

أعقص معقول مقطوف … أعقص معقول مقطوف

فإن قلت: هذان البيتان من قصيدة مطولة، وكلها جاء على هذا النمط، وليس الوافر مستعملاً على هذا الوجه، قلت: هو من التزام مالا يلزم، وذلك لا يخرجه عن كونه عربياً، ألا ترى لو أن ناظماً نظم قصيدةً من بحر الطويل والتزام في جميع أبياتها قبض الجزء الخماسي حيث وقع لم يكن ذلك مخرجاً لها عن أن تكون من ذلك البحر، مع أنك لا تكاد تجد عربياً يلتزم مثله.

فإن قلت: العقص إنما يكون في صدر البيت، وهو الجزء الأول منه، لا في أول العجز، قلت: لا نسلم، فقد قيل: إن كلا من أول الصدر وأول العجز محل للخرم بشرطه، فإذا خرجت هذه القصيدة بناءً على هذا القول لم يستنكر. وسترى الكلام على ذلك في موضعه إن شاء الله تعالى.

وأول العجز محل للخرم بشرطه، فإذا خرجت هذه القصيدة بناءً على هذا القول لم يستنكر. وسترى الكلام على ذلك في موضعه إن شاء الله تعالى.

وأول العجز محل للخرم بشرطه، فإذا خرجت هذه القصيدة بناءً على هذا القول لم يستنكر. وسترى الكلام على ذلك في موضعه إن شاء الله تعالى.

وقال:

وأنواعُه قلْ خمسة عشرَ كلُّها … تُؤلفُ من جزئين فرعْينِ لاسِوى

أقول: المراد (بالأنواع) الأوزان التي نظم العرب عليها أشعارهم. وتسمى بحوراً وأصولاً وأعاريض وأنواعاً وشطورا. وكونها (خمسة عشر) هو مذهب الخليل.

وزاد الأخفش بحراً آخر ذهب إلى أنه مستعمل، وتبعه على ذلك جماعة وهو بحر المتدارك، وستقف عليه إن شاء الله تعالى. والخليل يرى أنه من المهملات.

وقوله (كلها) يحتمل أن يكون تأكيداً لأنواعه، ويحتمل أن يكون تأكيداً لضمير محذوف، أي قل هي كلها خمسة عشر، على رأي من أجاز حذف المؤكد وبقاء توكيده، على كلا الاحتمالين يضبط قوله (تؤلف) بتاء مثناة من فوق ليس إلا، ويحتمل أن يكون (كلها) مبتدأ مخبراً عنه إما بقوله (خمسة عشر) ، والجملة خبر المبتدأ الأول وهو (أنواعه) ، وإما بقوله (تؤلف) ، فيجوز حينئذ ضبط (تؤلف) بالتاء والياء، أي يكون مستنداً إلى ضمير مؤنث رعايةً لمعنى (كل) ، أو ضمير مذكر رعاية للفظها.

هذا على رأي الجمهور في تجويز الوجهين إذا كانت (كل) مضافةً إلى معرفة، وزعم ابن هشام في (المغنى) أن الصواب في ذلك أن لا يعود الضمير عليها من خبرها إلا مذكراً مفرداً على لفظها.

وسكن الناظم عين (عشر) ، وهو مما يجوز في عد المذكر من أحد عشر وثلاثة عشر إلى تسعة عشر. والجزآن اللذان ذكر أن أنواع الشعر كلها تؤلف منهما يحتمل أن يريد بهما جزئي التفعيل الخماسي والسباعي كما ستعرفه.

والمراد بفرعيتهما كونهما متفرعين عن الأسباب والأوتاد. ويحتمل أن يريد بهما السبب والوتد أنفسهما، وإطلاق الجزء على كل منهما معروف عند أهل الصناعة، والمراد حينئذ بكونهما فرعين أنهما يتفرعان عن الحرف الساكن والحرف المتحرك.
এবং আমাদের কথা (আরবি ছন্দে) তা অন্তর্ভুক্ত করে যা আরবদের নিজেদের কাব্য এবং যা আধুনিক কবিদের কথা থেকে তাদের পদ্ধতিতে রচিত হয়েছে। এটি সেই সব কাব্যকে বাদ দেয় যা তাদের ছন্দের রীতির পরিপন্থী। পরবর্তী যুগের কেউ কেউ এর উদাহরণ দিয়েছেন মালিকুস সলিহ-এর লেখক বাহা যুহাইরের এই উক্তি দ্বারা, যেখানে তিনি বলেছেন:

ওহে যার সাথে শরাব খেলা করেছে … এই স্বভাবগুলো কতই না সুন্দর!

সে নেশাগ্রস্ত যাকে বিভ্রম দুলিয়ে দিচ্ছে … যেমন মলয় বাতাসে ডাল হেলে পড়ে।

আমি বলি: এটি কোনো পরিত্যক্ত ছন্দের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি 'বাহরুল ওয়াফির'-এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এর প্রথম ও চতুর্থ অংশ 'আ'কাস' (A'qas) করা হয়েছে, দ্বিতীয় ও পঞ্চম অংশ 'মা'কুল' (Ma'qul) করা হয়েছে এবং 'আরুজ' ও 'দারব' উভয়ই 'মাকতুফ' (Maqtuf) হয়েছে। এর ছন্দবিশ্লেষণ এরূপ:

ইয়া মানলা ইবাতবিহি শামুলুন … মা আলতা ফাহা যিহিশ শামাইল

মাফউলু মাফাইলুন ফাউলুন … মাফউলু মাফাইলুন ফাউলুন

আ'কাস মা'কুল মাকতুফ … আ'কাস মা'কুল মাকতুফ

আপনি যদি বলেন: এই দুটি পঙ্ক্তি একটি দীর্ঘ কবিতার অংশ এবং এর পুরোটাই এই ধাঁচে এসেছে, অথচ 'ওয়াফির' ছন্দ এভাবে ব্যবহৃত হয় না; আমি বলব: এটি 'অপরিহার্য নয় এমন কিছুকে নিজের জন্য অপরিহার্য করে নেয়া' (التزام مالا يلزم)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা একে আরবি ছন্দ হওয়া থেকে বের করে দেয় না। আপনি কি দেখেন না যদি কোনো কবি 'বাহরুত তবিল' ছন্দে কবিতা রচনা করেন এবং তার সমস্ত পঙ্ক্তিতে যেখানেই পঞ্চাক্ষরী অংশ রয়েছে সেখানে 'কবজ' (Qabd) করাকে বাধ্যতামূলক করে নেন, তবে তা সেই কবিতাকে ওই ছন্দ থেকে বের করে দেয় না, যদিও আপনি এমন কোনো আরব কবি পাবেন না যিনি এমন নিয়ম মেনে চলতেন।

আপনি যদি বলেন: 'আকস' (A'qas) তো কেবল পঙ্ক্তির প্রথমার্ধের শুরুতে হয়, যা এর প্রথম অংশ, চরণের শেষার্ধের শুরুতে নয়; আমি বলব: আমরা তা মেনে নিচ্ছি না। কেননা বলা হয়েছে যে, প্রথমার্ধের শুরু এবং শেষার্ধের শুরু উভয়ই শর্তসাপেক্ষে 'খারম' (Kharm)-এর স্থান হতে পারে। সুতরাং যদি এই কবিতাটি এই মতের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, তবে তা অস্বীকার করার মতো কিছু নয়। ইনশাআল্লাহ যথাযোগ্য স্থানে আপনি এ বিষয়ে আলোচনা দেখতে পাবেন।

আর চরণের শেষার্ধের শুরু শর্তসাপেক্ষে 'খারম'-এর স্থান হতে পারে। সুতরাং যদি এই কবিতাটি এই মতের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, তবে তা অস্বীকার করার মতো কিছু নয়। ইনশাআল্লাহ যথাযোগ্য স্থানে আপনি এ বিষয়ে আলোচনা দেখতে পাবেন।

আর চরণের শেষার্ধের শুরু শর্তসাপেক্ষে 'খারম'-এর স্থান হতে পারে। সুতরাং যদি এই কবিতাটি এই মতের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, তবে তা অস্বীকার করার মতো কিছু নয়। ইনশাআল্লাহ যথাযোগ্য স্থানে আপনি এ বিষয়ে আলোচনা দেখতে পাবেন।

এবং তিনি বলেছেন:

এর প্রকারভেদগুলো বলো পনেরোটি, যার সবকটি … গঠিত হয়েছে দুটি শাখা-অংশ থেকে, অন্য কিছু নয়।

আমি বলছি: 'প্রকারভেদ' (আনওয়া) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই ছন্দসমূহ যেগুলোর ওপর আরবরা তাদের কবিতা রচনা করেছে। এগুলোকে বাহুর, উসুল, আ'রিজ, আনওয়া এবং শুতুর বলা হয়। আর এগুলোর সংখ্যা 'পনেরোটি' হওয়া হলো খলিলের মাযহাব।

আখফাশ আরও একটি ছন্দ বৃদ্ধি করেছেন যা তাঁর মতে ব্যবহৃত হয় এবং একদল আলিম এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন; আর তা হলো 'বাহরুল মুতাদারিক'। ইনশাআল্লাহ আপনি এ সম্পর্কে জানতে পারবেন। তবে খলিল এটিকে পরিত্যক্ত ছন্দের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন।

তার উক্তি (সবকটি) 'আনওয়া'-এর জন্য তাকিদ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, আবার একটি উহ্য সর্বনামের জন্য তাকিদ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অর্থাৎ: 'বলো সেগুলো সবকটি পনেরোটি'। এটি তাদের মতানুসারে যারা তাকিদকৃত শব্দ (মুয়াক্কাদ) বিলোপ করে তাকিদকে অবশিষ্ট রাখাকে বৈধ মনে করেন। এই উভয় সম্ভাবনা অনুযায়ী 'তুআল্লাফু' (গঠিত হয়েছে) শব্দটি কেবল 'তা' বর্ণ দিয়েই পড়া হবে। আবার এমনও সম্ভাবনা আছে যে 'সবকটি' (কুল্লুহা) শব্দটি মুবতাদা হবে এবং এর খবর হবে হয় 'পনেরো' (খামসাতা আশারা) শব্দটি - এমতাবস্থায় পুরো বাক্যটি প্রথম মুবতাদা অর্থাৎ 'আনওয়াহু'-এর খবর হবে; অথবা এর খবর হবে 'তুআল্লাফু' শব্দটি। সেক্ষেত্রে 'তুআল্লাফু' শব্দটি 'তা' এবং 'ইয়া' উভয় বর্ণ দিয়েই পড়া বৈধ হবে, অর্থাৎ এটি হয় 'কুল্ল' শব্দের অর্থ বিবেচনা করে স্ত্রীবাচক সর্বনামের দিকে ফিরে যাবে, অথবা এর শব্দের রূপ বিবেচনা করে পুরুষবাচক সর্বনামের দিকে ফিরে যাবে।

এটি জমহুর উলামাদের মত অনুযায়ী যখন 'কুল্ল' শব্দটি মারেফার দিকে সম্বন্ধযুক্ত (ইজাফত) হয় তখন উভয় পদ্ধতি বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে। তবে ইবনে হিশাম 'আল-মুগনি' গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হলো খবর থেকে কেবল একবচন পুরুষবাচক সর্বনামই 'কুল্ল' শব্দের রূপ অনুযায়ী ফিরে আসবে।

গ্রন্থকার 'আশারা' (দশ) শব্দের 'আইন' অক্ষরটিকে সাকিন (স্থির) করেছেন, যা এগারো এবং তেরো থেকে উনিশ পর্যন্ত গণনার ক্ষেত্রে পুরুষবাচক সংখ্যার জন্য বৈধ। আর যে দুটি অংশের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন যে কবিতার সমস্ত প্রকারভেদ সেই দুটি থেকে গঠিত হয়, সম্ভবত তিনি এর দ্বারা 'তাফঈলা'-এর পঞ্চাক্ষরী এবং সপ্তাক্ষরী রূপকে বুঝিয়েছেন, যেমনটি আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন।

আর এগুলোর 'শাখা' হওয়ার অর্থ হলো এগুলো 'আসবাব' (কারণসমূহ) এবং 'আওতাদ' (গজালসমূহ) থেকে উদ্ভূত। আবার এমনও সম্ভাবনা আছে যে তিনি এর দ্বারা খোদ 'সাবাব' এবং 'ওয়াতাদ'কেই বুঝিয়েছেন; এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে এগুলোর প্রত্যেকটিকে 'জুয' (অংশ) বলা সুপরিচিত। এমতাবস্থায় এগুলোর শাখা হওয়ার অর্থ হলো যে এগুলো সাকিন বর্ণ এবং মুতাহাররিক বর্ণ থেকে উৎসারিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
فإن قلت: إلى ماذا أشار بقوله (لا سوى) ؟ قلت: إما على أن المراد بالجزئين لفظا التفعيل الخماسي والسباعي، فأشار به إلى نفي أن تكون البحور مركبة بحسب الأصالة من غير الجزأين الخماسي والسباعي، فلا يركب شيء منها في دائرته من سواهما. وإما على أن المراد بالجزئين السبب والوتد، فأشار به إلى نفي الفاصلتين الصغرى والكبرى، فإن بعض العروضيين ذهب إلى عدهما فيما تتفرع عنه الأجزاء، وهو باطل، لأن الصغرى مركبة من سبب ثقيل فسبب خفيف، فلا حاجة معهما إلى عدها، والكبرى لا تكون إلا في جزء مزاحف، وهو مستفعلن الذي يخبل بحذف سينه وفائه فينقل إلى فعلن، فهذه الأحرف الأربعة المتحركة إنما اجتمعت فيه بعد التغيير، وليس الكلام فيه، إنما الكلام في الجزء الأصلي السالم من التغيير، والله أعلم قال:

وأولُ نُطْق المرءِ حرفٌ محركٌ … فإنء يأتِ ثانٍ قيل ذا سببٌ بدَا

خفيفٌ متى يسكنْ وإلا فضُّدهُ … وقُلْ وتدٌ إنْ زدتَ حرفاً بلا امتِرا

أقول: قد عرفت أن الأجزاء التي يزن بها العروضيون مركبة من السبب والوتد، فشرع الناظم في الكلام عليهما أولاً، ثم على الأجزاء ثانياً.

ومن المعلوم أن الحرف الذي ينطق به أولاً لا بد أن يكون متحركاً ضرورة أن الابتداء بالساكن متعذر، فإذا ابتدأ الناطق بحرف فهو متحرك، ثم إذا أضاف إليه حرفاً ثانياً فمجموعها يسمى عندهم سبباً. لكن إن كان ذلك الحرف الثاني ساكناً فهذا السبب هو السبب المسمى بالسبب الخفيف لخفته بسكون آخره، وإن كان ذلك الحرف الثاني متحركاً فهو السبب الثقيل وهو المراد بقوله (وإلا فضده) ، أي وإلا يسكن الثاني فهو ضد الخفيف، أي ثقيل، سمي بذلك لثقله بحركة آخره. فإن زاد الناطق حرفاً ثالثاً فمجموع تلك الأحرف الثلاثة يسمى وتداً.

وليس المراد أن الوتد عين السبب بزيادة حرف عليه، وإنما المراد أن الناطق متى أتى بحرف محرك ثم بحرفين بعده فذلك هو الوتد. وإنما خصوا الثنائي بلفظ السبب، والثلاثي بلفظ الوتد، لأن الثنائي رأوه معرضاً للزحاف والتغيير، فلا يكاد يثبت على حالة فشبهوه بالحبل الذي يقطع مرةً ويوصل آخرى، والحبل يسمى سبباً، والثلاثي غير معرض للزحاف وإن عرضت له علة دامت، فشبهوه بالوتد الثابت في الأحوال كلها قال:

وسمِّ بمجموعٍ فعلْ وبضدِّه … كفعلَ ومن جنسيهما الجُزء قد أتَى

خماسيةُ قل والسباعيّ ثم لا … يفوتُك تركيباً وسوف إذنْ تَرَى

أقول: قد سبق أن الناطق إذا نطق بثلاثة أحرف أولها متحرك سمي مجموعها وتدا، لكن إن كان الحرف الثاني متحركاً والثالث ساكناً مثل فعل بتحريك العين وإسكان اللام سمي وتداً مجموعاً، للجمع بين متحركيه، وإن كان الثاني ساكناً والثالث متحركاً مثل فعل بتسكين العين وتحريك اللام سمي وتداً مفروقاً، لفرق الساكن بين متحركيه، وهو معنى قول الناظم (وبضده كفعل) أي وسم بضد المجموع، وهو المفروق، ما كان مماثلاً لفعل.

ويقع في عبارة كثير من القوم ومنهم الشارح الشريف: (الوتد المجموع حرفان متحركان بعدهما ساكن، والوتد المفروق حرفان متحركان بينهما ساكن) . ولا أراها موفية بالمقصود، بل هي فاسدة لأن مقتضاها أن يكون كل م الوتدين عبارة عن حرفين، وهو باطل، فإن قلت: قولهم (بعدهما ساكن) أو (بينهما ساكن) وقع صفةً للحرفين المتحركين، ولا يلزم من تقييدهما بهذه الصفة دخول متعلقهما مع الموصوف في الإخبار عن المسند إليه الذي هو قولهم الوتد المجموع أو المفروق.

فإن قلت: اجعله على حذف حرف العطف، أي وبعدهما ساكن أو وبينهما، فيلزم أن يكون المخبر به عن الوتد ثلاثة ضرورة وجود حرف العطف المشترك.

قلت: مثله لا يجوز في السعة على ما هو مقرر في النحو.

وضمير الاثنين في قول الناظم (ومن جنسيهما) عائد على السبب والوتد، أي أن الجزء من حيث هو أعم من أن يكون خماسياً أو سباعياً أتى من جنسي السبب والوتد، أي تركب منهما، فلا يخلو منهما جزء من أجزاء التفاعيل الأصلية كما تراه.

ولا ينبغي أن يكون قوله (خماسية) فاعلاً لقوله (أتى) لما يلزم عليه من عيب التضمين، وإنما يجعل فاعل (أتى) ضميراً يعود على الجزء، ويكون (خماسية) فاعلاً بفعل محذوف يدل عليه الملفوظ به، أي أتى خماسية.
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: তাঁর কথা "অন্য কিছু নয়" দ্বারা তিনি কীসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন? আমি বলব: এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য হয় এই যে, শব্দগতভাবে দুই অংশ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পঞ্চাক্ষরী ও সপ্তাক্ষরী গঠন; এর মাধ্যমে তিনি এই বিষয়টি অস্বীকারের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যে, ছন্দসমূহ মৌলিকত্বের বিচারে এই পঞ্চাক্ষরী ও সপ্তাক্ষরী ছাড়া অন্য কোনো অংশ দ্বারা গঠিত। সুতরাং এর বৃত্তে (দায়েরা) এ দুটি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে কোনো ছন্দ গঠিত হয় না। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই অংশ বলতে ‘সাবাব’ ও ‘ওয়াতাদ’; এর মাধ্যমে তিনি ‘ফাসিলায়ে সুগরা’ ও ‘ফাসিলায়ে কুবরা’-কে অস্বীকার করেছেন। কারণ কিছু ছন্দবিশারদ এই দুটিকেও সেই বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত মনে করেছেন যেখান থেকে অংশগুলো শাখা হিসেবে নির্গত হয়, অথচ এটি ভুল। কেননা ‘সুগরা’ গঠিত হয় একটি ‘সাবাবে সাকিল’ ও একটি ‘সাবাবে খাফিফ’ এর সমন্বয়ে, তাই এ দুটির উপস্থিতিতে একে আলাদাভাবে গণনা করার প্রয়োজন নেই। আর ‘কুবরা’ কেবল পরিবর্তিত (মুজাহাফ) অংশেই দেখা যায়, যেমন ‘মুসতাফ’িলুন’ যার সীন এবং ফা বিলুপ্ত করে একে ‘ফা’ইলুন’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। এই চারটি স্বরযুক্ত অক্ষর কেবল পরিবর্তনের পরেই একত্রে এসেছে, অথচ এখানে তা আলোচনার বিষয় নয়। এখানে আলোচনার বিষয় হলো মূল অংশ যা পরিবর্তন থেকে মুক্ত। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বলেছেন:

মানুষের উচ্চারণের প্রথমটি হলো একটি স্বরযুক্ত অক্ষর … এরপর যদি দ্বিতীয় কোনো অক্ষর আসে তবে তাকে ‘সাবাব’ বলা হয় যা প্রকাশিত হয়েছে।

যদি দ্বিতীয়টি স্থির হয় তবে তা ‘খাফিফ’, অন্যথায় তার বিপরীত। … আর যদি কোনো সন্দেহ ছাড়াই আরও একটি অক্ষর বৃদ্ধি করেন তবে তাকে ‘ওয়াতাদ’ বলুন।

আমি বলছি: আপনি জেনেছেন যে, ছন্দবিশারদগণ যে অংশগুলোর মাধ্যমে ছন্দ পরিমাপ করেন তা ‘সাবাব’ ও ‘ওয়াতাদ’ দ্বারা গঠিত। তাই গ্রন্থকার প্রথমে এ দুটির ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছেন, এরপর দ্বিতীয়ত অংশগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন।

এটি সুপরিচিত যে, প্রথম যে অক্ষরটি উচ্চারিত হয় তা অবশ্যই স্বরযুক্ত হতে হবে, কারণ স্থির অক্ষর দিয়ে শুরু করা অসম্ভব। সুতরাং বক্তা যখন কোনো অক্ষর দিয়ে শুরু করেন তখন তা স্বরযুক্ত হয়। এরপর যদি এর সাথে দ্বিতীয় একটি অক্ষর যুক্ত করেন, তবে তাদের সমষ্টিকে তাদের পরিভাষায় ‘সাবাব’ বলা হয়। কিন্তু সেই দ্বিতীয় অক্ষরটি যদি স্থির হয়, তবে এই সাবাবকে ‘সাবাবে খাফিফ’ বলা হয়, এর শেষে স্থিরতা থাকার কারণে এটি হালকা। আর যদি দ্বিতীয় অক্ষরটি স্বরযুক্ত হয়, তবে তাকে ‘সাবাবে সাকিল’ বলা হয়, যা তাঁর কথা "অন্যথায় তার বিপরীত" দ্বারা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যদি দ্বিতীয়টি স্থির না হয় তবে তা হালকা-র বিপরীত অর্থাৎ ভারী হবে। এর শেষে স্বর থাকার কারণে একে ভারী নামকরণ করা হয়েছে। আর বক্তা যদি তৃতীয় একটি অক্ষর বৃদ্ধি করেন, তবে এই তিনটি অক্ষরের সমষ্টিকে ‘ওয়াতাদ’ বলা হয়।

আর এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, ‘ওয়াতাদ’ হলো মূল ‘সাবাব’-এর সাথে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, বক্তা যখন একটি স্বরযুক্ত অক্ষর এবং তার পরে আরও দুটি অক্ষর নিয়ে আসেন, তখন তাকে ‘ওয়াতাদ’ বলা হয়। তারা দ্বিপাক্ষিক শব্দকে ‘সাবাব’ এবং ত্রিপাক্ষিক শব্দকে ‘ওয়াতাদ’ নামে বিশিষ্ট করেছেন এই কারণে যে, দ্বিপাক্ষিক শব্দটি পরিবর্তন ও রূপান্তরের সম্মুখীন হয়, এটি প্রায়শই এক অবস্থায় স্থির থাকে না। তাই তারা একে সেই রশির (সাবাব) সাথে তুলনা করেছেন যা কখনো কাটা হয় আবার কখনো জোড়া দেওয়া হয়। আর ত্রিপাক্ষিক শব্দটি সচরাচর পরিবর্তনের সম্মুখীন হয় না, যদিও এতে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয় তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই তারা একে সুদৃঢ় খুঁটির (ওয়াতাদ) সাথে তুলনা করেছেন যা সকল অবস্থায় অটল থাকে। তিনি বলেছেন:

‘ফাআল’-কে ‘মাজমু’ নামে অভিহিত করুন এবং এর বিপরীতকে … ‘ফা’লা’-এর মতো শব্দ হিসেবে বলুন; আর এই দুই প্রকার থেকেই অংশ গঠিত হয়েছে।

পঞ্চাক্ষরী বলুন বা সপ্তাক্ষরী, তবে তার গঠন … আপনার অগোচরে থাকবে না এবং তখন আপনি তা দেখতে পাবেন।

আমি বলছি: ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, বক্তা যখন তিনটি অক্ষর উচ্চারণ করেন যার প্রথমটি স্বরযুক্ত, তখন তাদের সমষ্টিকে ‘ওয়াতাদ’ বলা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় অক্ষরটি যদি স্বরযুক্ত এবং তৃতীয়টি স্থির হয়, যেমন ‘ফাআল’ (আইন-এ হরকত এবং লাম-এ সাকিন), তবে একে ‘ওয়াতাদে মাজমু’ বলা হয়, কারণ এর দুটি স্বরযুক্ত অক্ষর পাশাপাশি আছে। আর যদি দ্বিতীয়টি স্থির এবং তৃতীয়টি স্বরযুক্ত হয়, যেমন ‘ফা’লা’ (আইন-এ সাকিন এবং লাম-এ হরকত), তবে একে ‘ওয়াতাদে মাফরুক’ বলা হয়, কারণ স্থির অক্ষরটি দুই স্বরযুক্ত অক্ষরের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। গ্রন্থকারের কথা "এবং এর বিপরীতে যেমন ফা’লা" এর অর্থ এটাই। অর্থাৎ মাজমু-এর বিপরীত অর্থাৎ মাফরুক হিসেবে সেই শব্দকে নামকরণ করুন যা ‘ফা’লা’-এর অনুরূপ।

অনেক ছন্দবিশারদের বক্তব্যে, এমনকি ভাষ্যকার শরীফ-এর কথাতেও পাওয়া যায় যে: "ওয়াতাদে মাজমু হলো এমন দুটি স্বরযুক্ত অক্ষর যাদের পরে একটি স্থির অক্ষর থাকে, আর ওয়াতাদে মাফরুক হলো এমন দুটি স্বরযুক্ত অক্ষর যাদের মাঝে একটি স্থির অক্ষর থাকে।" আমি একে যথাযথ উদ্দেশ্য পূরণকারী মনে করি না, বরং এটি ত্রুটিযুক্ত। কারণ এর দাবি হলো প্রতিটি ওয়াতাদ দুটি করে অক্ষর দ্বারা গঠিত হবে, যা ভুল। যদি আপনি বলেন: তাদের কথা "যাদের পরে স্থির" বা "যাদের মাঝে স্থির" শব্দগুলো দুটি স্বরযুক্ত অক্ষরের গুণ হিসেবে এসেছে, আর এই গুণটি সেই বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক করে না যাকে ‘ওয়াতাদে মাজমু’ বা ‘মাফরুক’ বলা হয়েছে।

যদি আপনি বলেন: একে অব্যয় বিলুপ্তির ওপর ভিত্তি করে ধরুন, অর্থাৎ "এবং তাদের পরে একটি স্থির অক্ষর" অথবা "এবং তাদের মাঝে একটি স্থির অক্ষর", তবে এর আবশ্যকীয় ফল এই হবে যে ওয়াতাদ সম্পর্কে যা সংবাদ দেওয়া হচ্ছে তা অবশ্যই তিনটি হতে হবে, কারণ সেখানে সাধারণ অংশীদারিত্বের অব্যয় বিদ্যমান।

আমি বলব: ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী ভাষার স্বাভাবিক ব্যবহারে এমনটি বৈধ নয়।

গ্রন্থকারের উক্তি "সেই দুই প্রকারের থেকে"-তে দ্বিবচনের সর্বনামটি ‘সাবাব’ ও ‘ওয়াতাদ’-এর দিকে ফিরেছে। অর্থাৎ অংশসমূহ পঞ্চাক্ষরী হোক বা সপ্তাক্ষরী হোক, তা সাবাব ও ওয়াতাদ এই দুই প্রকার থেকেই গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ এ দুটি দিয়েই তা তৈরি হয়েছে। সুতরাং আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, মৌলিক ছন্দমালার কোনো অংশই এই দুটি থেকে মুক্ত নয়।

তাঁর কথা "পঞ্চাক্ষরী" শব্দটি "আসা" ক্রিয়ার কর্তা হওয়া উচিত হবে না, কারণ এতে ‘তাদমীন’ (এক পঙক্তির অর্থ অন্যটির ওপর নির্ভর করা) নামক কাব্যের দোষ দেখা দেবে। বরং "আসা" ক্রিয়ার কর্তা হবে একটি উহ্য সর্বনাম যা 'অংশ' এর দিকে ফিরেছে, আর "পঞ্চাক্ষরী" শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়ার কর্তা হবে যা উচ্চারিত শব্দ দ্বারা নির্দেশিত হচ্ছে। অর্থাৎ "পঞ্চাক্ষরীসমূহ আসুক"।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقوله (ثم لا يفوتك تركيباً) أي إذا عرفت الأسباب والأةتاد، وتقرر عندك أن الجزء مركب منهما، خماسياً كان أو سباعياً، فلا يفوتك بعد هذا تركيبه، وكيفية العمل فيه، وسوف ترى ذلك عند تعداد الأجزاء، وفاعل (يفوتك) ضمير يعود على الجزء و (تركيباً) منصوب على التمييز عن الجملة، وهو فاعل في الأصل على ما هو معهود في نظائره، نحو تصبب زيد عرقاً. قال:

فعولن مفاعيلن مفاعلتن وفا … ع لاتن أصول الست فالعشر ماحوى

أصابتْ بسهميهما جوارحنا فدا … راكوني بهمَّة كوقعيهما سوا

فما زائرتي فيهما حَجَبَتهُما … ولايدُ طولا هنّ يعتادُها الوفا

أقول: اختار العروضيون للأجزاء الدائرة بينهم في وزن الشعر الفاء والعين واللام اقتفاءً لأهل الصرف في عادتهم وزن الأصول بهذه الحروف، فحذوا حذوهم في مطلق الوزن بها لما كان على ثلاثة أحرف مع قطع النظر عن الأصالة والزيادة، وأضافوا إلى ذلك من الحروف الزوائد سبعةً وهي الألف والياء والواو والسين والتاء والنون والميم.

ويجمع هذه الأحرف قولك (لمعت سيوفنا) . وتسمى عندهم بأحرف التقطيع. وما أحسن قول الشيخ برهان الدين القيراطى:

ومليحٍ علمَ الخليل يعانِى … ليته لو غدا خليلَ خليعِ

رمتُ وصْلاً منه فقال لحاظِى … ناطقاتٌ بأحرف التقطيعِ

إذا عرفت ذلك فالأجزاء الموضوعة في الأصل سالمةً من التغييرات الطارئة عشرة في التحقيق، وثمانية في اللفظ. وقسمها الناظم تبعاً لجماعة من العروضيين إلى أصول وفروع، فالأصول منها أربعة والفروع ستة.

الأصل الأول (فعولن) وهو مركب من وتد مجموع فسبب خفيف، وله فرع واحد وهو فاعلن. وكيفية تفريعه عنه أن تقدم السبب على الوتد فتقول (لن فعو) فيحدث الفرع المذكور وهو فاعلن.

فإن قلت: لم لا يجوز أن يكون فاعلن مركباً من وتد مفروق وهو (فاع) فسبب خفيف وهو (لن) فلا يكون على هذا التقدير فرعا عن هذا الأصل كما ادعوه؟ قلت (فاعلن) حيث وقع يجوز حذف ألفه زحافا، وهو المسمى عندهم بالخبن، فلزم أن يكون ثاني وتد مفروق كما توهمته لامتنع حذفه، لأن ثاني الوتد لا يزاحف.

وأجاب المحلى عن ذلك بأن (فا) خلف عن (لن) (وعلن) خلف عن (فعو) ، وإنما يخلف الشيء مثله، فيلزم على هذا السياق أن يكون (فا) سبباً خفيفاً (وعلن) وتداً مجموعاً، فصح التفريع. قلت: هذا كما تراه تكريراً لعين الدعوى لا جواب عن إشكال المعترض فتأمله.

الأصل الثاني (مفاعيلن) وهو مركب من وتد مجموع فسببين حفيفين، ويتفرع عنه جزآن، أحدهما (مستفعلن) المجموع الوتد، وكيفية تفريعه عنه أن تقدم السببين معاً على الوتد، فتقول (عيلن مفا) فيحدث عنه هذا الفرع.

وثانيهما (فاعلاتن) المجموع الوتد أيضاً، وكيفية تفريعه عنه أن تقدم السبب الأخير على الوتد فتقول (لن مفاعى) فيحدث الفرع المذكور.

الأصل الثالث (مفاعلتن) وهو مركب من وتد مجموع فسبب (ثقيل) فسبب (خفيف) ، وله فرع واحد مستعمل وهو (متفاعلن) وصفة تفريعه عنه أن تقدم السببين بحالهما على الوتد فتقول (علتن مفا) فيحدث هذا الفرع.

وله فرع آخر مهمل لم تنظم العرب عليه شيئاً، وذلك بأن تقدم السبب الخفيف خاصة فتقول (تن مفاعل) فيصير الوتد المجموع مكتنفا بسببين خفيف مقدم وثقيل مؤخر. ويعبر العروضيون عن هذا الفرع المهمل (بفاعلاتك) . وسيأتي الكلام عليه وعلى سبب إهماله إن شاء الله تعالى.

الأصل الرابع (فاع لاتن) المفروق الوتد، وهو مركب من وتد مفروق فسببين خفيفين، وكثير يفصل العين عن اللام في الكتابة إيذانا للناظر فيه من أول الأمر بأن وتده مفروق، وليحصل الفرق بينه وبين (فاعلاتن) المجموع الوتد خطا.

وله فرعان أحدهما (مفعولات) ، وكيفية تفريعه عنه أن تقدم السببين الخفيفين معاً على الوتد، فتقول (لاتن فاع) فيحث هذا الفرع. وثانيهما (مستفع لن) المفروق الوتد، وكيفية تفريعه عنه أن تقدم السبب الأخير على الوتد فتقول (تن فاع لا) فيحدث هذا الفرع.

وإنما جعل الجماعة هذه الأربعة أصولاً لأن الأسباب لضعفها إنما تعتهد على الأوتاد، وما يكون معتمداً عليه حقيق بالتقدم ليعتمد ما بعده عليه.

فكانت قضية البناء على هذا الأصل أن تكون أصول التفاعيل هي هذه الأجزاء الأربعة فقط، لأنه شيء من الأجزاء مصدراً بوتد غيرها.
এবং তাঁর উক্তি (অতঃপর এর গঠন যেন তোমার ছুটে না যায়) অর্থাৎ তুমি যখন 'সবব' (কারণ) ও 'ওয়াতাদ' (খুঁটি) সম্পর্কে জেনে নিলে এবং তোমার নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত হলো যে, কবিতার প্রতিটি অংশ এই দুটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত—তা পঞ্চাক্ষরী হোক বা সপ্তাক্ষরী—তবে এর পরে যেন এর গঠন পদ্ধতি এবং এতে কাজ করার প্রক্রিয়া তোমার নিকট থেকে হারিয়ে না যায়। অচিরেই তুমি তা বিভিন্ন অংশের বর্ণনার সময় দেখতে পাবে। (يفوتك) ক্রিয়াপদের কর্তা হলো একটি সর্বনাম যা 'অংশ' (জুজ)-এর দিকে ফিরেছে, আর (تركيباً) শব্দটি বাক্য থেকে 'তাময়িজ' (বিশেষণ) হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে। এটি মূলত এর সমজাতীয় শব্দগুলোর ন্যায় মূলগতভাবে কর্তা ছিল, যেমন বলা হয় 'যায়েদের ঘাম ঝরল'। তিনি বলেছেন:

ফাউলুন, মাফাইলুন, মাফা’লাতুন এবং ফাউ... লাতুন—এই চারটি মূল; আর দশটি হলো এর শাখাগুলোর সমষ্টি।

তাদের উভয়ের তীরের আঘাতে আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আহত হয়েছে, তাই তারা তাদের সেই তীরের আঘাতের ন্যায় দয়া ও করুণা নিয়ে আমার নিকট ফিরে আসুক।

তাদের মধ্যে আমার কোনো সাক্ষাৎপ্রার্থী তাদের আড়াল করেনি এবং কোনো দীর্ঘ হাত তাদের নিকট সেই আনুগত্য বা পূর্ণতার অভ্যাস করেনি।

আমি বলি: ছন্দবিশারদগণ কবিতার ওজনে তাদের মাঝে প্রচলিত অংশগুলোর জন্য 'ফা' (ف), 'আইন' (ع) ও 'লাম' (ل) বর্ণত্রয়কে নির্বাচন করেছেন। এটি মূলত রূপতত্ত্ববিদদের (সরফ শাস্ত্রবিদ) অনুসরণে করা হয়েছে, কারণ তারা মূল বর্ণগুলোর ওজনে এই বর্ণগুলো ব্যবহার করেন। সুতরাং যখন কোনো শব্দ তিন অক্ষরের হতো, তখন তারা এর মূল বা অতিরিক্ততার দিকে খেয়াল না করে সাধারণভাবে এই বর্ণগুলো দিয়েই ওজন করার নীতি অনুসরণ করেছেন। এর সাথে তারা আরও সাতটি অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করেছেন, সেগুলো হলো: আলিফ (أ), ইয়া (ي), ওয়াও (و), সিন (س), তা (ت), নুন (ن) এবং মিম (م)।

এই বর্ণগুলোকে তোমার এই উক্তিটি একত্রিত করে: (লামাআত সুয়ুফুনা - আমাদের তলোয়ারগুলো চমকে উঠল)। এগুলোকে তাদের পরিভাষায় 'আহরাফুত তাকতি' (বিশ্লেষণের বর্ণমালা) বলা হয়। শেখ বোরহানুদ্দিন আল-কিরাতি কতই না সুন্দর বলেছেন:

একজন সুশ্রী ব্যক্তি খলিলের (ছন্দশাস্ত্রের জনক) ইলম নিয়ে সাধনা করছেন; হায়, তিনি যদি কোনো প্রেমিক খলিলের বন্ধু হতেন!

আমি তাঁর নিকট মিলনের আকাঙ্ক্ষা করলাম, তখন তাঁর আঁখিযুগল যেন 'বিশ্লেষণের বর্ণমালা' (আহরাফুত তাকতি) দিয়ে কথা বলে উঠল।

তুমি যখন এটি জানতে পারলে, তখন জেনে রাখো যে, আগন্তুক পরিবর্তন থেকে মুক্ত অবস্থায় মূলত নির্ধারিত অংশগুলো গবেষণার বিচারে দশটি এবং উচ্চারণের দিক থেকে আটটি। ছন্দকার এগুলোকে একদল ছন্দবিশারদদের অনুসরণে 'মূল' (উসুল) ও 'শাখা' (ফুরু)-তে বিভক্ত করেছেন। এর মধ্যে মূল হলো চারটি এবং শাখা হলো ছয়টি।

প্রথম মূল: (ফাউলুন)। এটি একটি 'ওয়াতাদে মাজমু' (সংযুক্ত খুঁটি) ও একটি 'সববে খাফিফ' (লঘু কারণ) এর সমন্বয়ে গঠিত। এর একটি শাখা রয়েছে, যা হলো 'ফাইলুন'। একে শাখা বানানোর পদ্ধতি হলো—সববকে ওয়াতাদের আগে নিয়ে আসা, তখন তুমি বলবে (লুন ফাউ), ফলে উক্ত শাখা 'ফাইলুন' সৃষ্টি হবে।

যদি তুমি বলো: 'ফাইলুন' শব্দটি কেন একটি 'ওয়াতাদে মাফরুক' (বিযুক্ত খুঁটি) অর্থাৎ (ফা-ই) এবং একটি 'সববে খাফিফ' অর্থাৎ (লুন)-এর সমন্বয়ে গঠিত হতে পারবে না? যদি এমন হয় তবে এটি এই মূলের শাখা হবে না যেমনটি তারা দাবি করেছেন। আমি উত্তরে বলব: 'ফাইলুন' যেখানেই ব্যবহৃত হোক না কেন, 'জিহাফ' (ছান্দিক পরিবর্তন) হিসেবে এর আলিফ বিলোপ করা জায়েজ, যাকে তাদের পরিভাষায় 'খাব্ন' বলা হয়। যদি এটি তোমার ধারণার মতো 'ওয়াতাদে মাফরুক' এর দ্বিতীয় বর্ণ হতো, তবে এর বিলোপ নিষিদ্ধ হতো; কারণ ওয়াতাদের দ্বিতীয় বর্ণে 'জিহাফ' হয় না।

আল-মহাল্লি এর উত্তরে বলেছেন যে, (ফা) হলো (লুন)-এর স্থলাভিষিক্ত এবং (ইলুন) হলো (ফাউ)-এর স্থলাভিষিক্ত। আর কোনো বস্তু কেবল তার সদৃশ বস্তুরই স্থলাভিষিক্ত হয়। সুতরাং এই ধারাবাহিকতায় আবশ্যক হয় যে, (ফা) হবে 'সববে খাফিফ' এবং (ইলুন) হবে 'ওয়াতাদে মাজমু', ফলে এর শাখা হওয়া সঠিক প্রমাণিত হয়। আমি বলি: এটি যেমনটি তুমি দেখছ, দাবিরই পুনরাবৃত্তি মাত্র, এটি কোনো আপত্তিকারীর আপত্তির উত্তর নয়; সুতরাং এটি গভীরভাবে অনুধাবন করো।

দ্বিতীয় মূল: (মাফাইলুন)। এটি একটি 'ওয়াতাদে মাজমু' এবং দুটি 'সববে খাফিফ'-এর সমন্বয়ে গঠিত। এটি থেকে দুটি অংশ নির্গত হয়। একটি হলো 'মুসতাফ’ইলুন' (সংযুক্ত ওয়াতাদ বিশিষ্ট)। একে শাখা বানানোর পদ্ধতি হলো—দুটি সববকেই একসাথে ওয়াতাদের আগে নিয়ে আসা; তখন তুমি বলবে (ইলুন মাফা), ফলে এই শাখাটি সৃষ্টি হবে।

দ্বিতীয়টি হলো 'ফায়িলাতুন' (এটিও সংযুক্ত ওয়াতাদ বিশিষ্ট)। একে শাখা বানানোর পদ্ধতি হলো—শেষের সববটিকে ওয়াতাদের আগে নিয়ে আসা; তখন তুমি বলবে (লুন মাফাই), ফলে উক্ত শাখাটি সৃষ্টি হবে।

তৃতীয় মূল: (মাফা’লাতুন)। এটি একটি 'ওয়াতাদে মাজমু', একটি 'সববে সাকিল' (গুরু কারণ) এবং একটি 'সববে খাফিফ'-এর সমন্বয়ে গঠিত। এর একটি ব্যবহৃত শাখা রয়েছে, যা হলো 'মুতাফাইলুন'। একে শাখা বানানোর পদ্ধতি হলো—উভয় সববকে তাদের নিজ অবস্থায় রেখে ওয়াতাদের আগে নিয়ে আসা; তখন তুমি বলবে (লাতুন মাফা), ফলে এই শাখাটি সৃষ্টি হবে।

এর আরেকটি অব্যবহৃত (মুহমাল) শাখা রয়েছে যা দিয়ে আরবরা কোনো ছন্দ রচনা করেনি। আর তা হলো কেবল 'সববে খাফিফ'কে আগে নিয়ে আসা; তখন তুমি বলবে (তুন মাফা’লা), ফলে 'ওয়াতাদে মাজমু'টি দুটি সববের মাঝখানে পড়ে যাবে—আগে থাকবে লঘু সবব এবং পরে থাকবে গুরু সবব। ছন্দবিশারদগণ এই অব্যবহৃত শাখাকে 'ফায়িলাতুকা' দিয়ে ব্যক্ত করেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা এর আলোচনা এবং এর অব্যবহৃত থাকার কারণ সামনে আসবে।

চতুর্থ মূল: (ফা-ই লাতুন) যা 'বিযুক্ত ওয়াতাদ' (মাফরুক) বিশিষ্ট। এটি একটি 'ওয়াতাদে মাফরুক' ও দুটি 'সববে খাফিফ'-এর সমন্বয়ে গঠিত। লেখার সময় অনেকেই 'আইন' (ع) বর্ণকে 'লাম' (ل) থেকে পৃথক করে লেখেন যাতে পাঠক শুরুতেই বুঝতে পারেন যে এর ওয়াতাদটি বিযুক্ত, এবং যাতে 'সংযুক্ত ওয়াতাদ' বিশিষ্ট 'ফায়িলাতুন'-এর সাথে লেখার ক্ষেত্রে পার্থক্য বজায় থাকে।

এর দুটি শাখা রয়েছে। একটি হলো 'মাফ’উলাতু'। একে শাখা বানানোর পদ্ধতি হলো—দুটি 'সববে খাফিফ'কে একসাথে ওয়াতাদের আগে নিয়ে আসা; তখন তুমি বলবে (লাতুন ফা-ই), ফলে এই শাখাটি সৃষ্টি হবে। দ্বিতীয়টি হলো 'মুসতাফ’ই লুন' (বিযুক্ত ওয়াতাদ বিশিষ্ট)। একে শাখা বানানোর পদ্ধতি হলো—শেষের সববটিকে ওয়াতাদের আগে নিয়ে আসা; তখন তুমি বলবে (লুন ফা-ই লা), ফলে এই শাখাটি সৃষ্টি হবে।

ছন্দবিশারদগণের এই দলটি এই চারটিকেই মূল হিসেবে গণ্য করেছেন কারণ 'সবব'সমূহ তাদের দুর্বলতার কারণে 'ওয়াতাদ'-এর ওপর নির্ভর করে। আর যার ওপর নির্ভর করা হয়, তার অগ্রবর্তী হওয়াই যুক্তিসঙ্গত যাতে পরবর্তী বিষয়গুলো তার ওপর নির্ভর করতে পারে।

সুতরাং এই নীতির ওপর ভিত্তি করে ছন্দ গঠনের দাবি এটাই ছিল যে, ছন্দ-অংশগুলোর মূল যেন কেবল এই চারটি অংশই হয়, কারণ এই চারটি ব্যতীত অন্য কোনো অংশ 'ওয়াতাদ' দিয়ে শুরু হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
فإن قلت: فما وجه ترتيب الأصول على هذا النمط المسرود؟ قلت الخماسي أخف من السباعي فاقتضى ذلك تقديم (فعولن) والسبب الخفيف بالنسبة إلى الثقيل مقدم عليه لخفته فاقتضى ذلك أن يقدم (مفاعلين) من السباعية على (مفاعلتن) ، ثم الوتد المجموع أقوى من المفروق فاقتضى ذلك تقديم (مفاعلتن) على (فاع لا تن) المفروق الوتد.

واعلم أن الناظم رحمه الله لفظ بصيغ الأصول الأربعة وقال إنها أصول للفروع الستة، وترك التلفظ بصيغ الفروع اتكالاً على اشتهارها، أو على توقيف المعلم للناظر في كتابه. وأشار إلى أن الأجزاء العشرة محويةٌ في البيتين الأخيرين من هذه الأبيات الثلاثة التي أنشدناها.

فقوله ((أصابت)) وزنه فعولن أشار به إلى الأصل الخماسي، وبالألف إلى أنه الأول.

وقوله ((بسهميها)) وزنه ((مفاعيلن)) أشار به إلى هذا الأصل الموازن له من السباعية، وأشار بالباء إلى ثاني الأجزاء.

وقوله ((جوارحنا)) وزنه ((مفاعلتن)) أشار به إلى هذا الجزء السباعي الموازن له وأشار بالجيم إلى أنه الجزء الثالث.

وقوله ((داركوني)) وزنه ((فاع لاتن)) ويجب أن يكون هذا مفروق الوتد لأنه بصدد تعداد الأجزاء على الترتيب، وسياقه مقتضٍ لتقديم الأصول، ((وفاع لاتن)) الأصلي مفروق الوتد كما سبق. وأشار بالدال إلى أنه الجزء الرابع.

وقوله ((همة)) وزنه ((فاعلن)) ، ومن هنا أخذ في تعداد الفروع وهذا فرع ((فعولن)) الأصل الأول، وأشار بالهاء إلى أنه خامس الأجزاء.

وقوله ((وقعيهما)) وزنه ((مستفعلن)) وهذا فرع عن الأصل الثاني وهو ((مفاعيلن)) ، فيجب أن يكون مجموع الوتد كأصله، والواو إشارة إلى أنه سادس الأجزاء.

وقوله ((زائراتي)) وزنه ((فاعلاتن)) ، وهو الفرع الثاني المفرع عن ((مفاعيلن)) ، فيلزم أن يكون وتده مجموعا مثل أصله كما سبق، والزاي إشارة إلى أنه الجزء السابع.

وقوله ((حجبتهما)) وزنه ((متفاعلن)) وهو فرع الأصل الثالث الذي هو مفاعلتن)) ، وأشار بالحاء إلى أنه الجزء الثامن.

وقوله ((طولاهن)) وزنه ((مفعولات)) ، وهو الفرع الأول من فرعي الأصل الرابع ((فاع لاتن)) المفروق الوتد، والطاء إشارة إلى أنه الجزء التاسع.

وقوله ((يعتادها)) وزنه ((مستفع لن)) ، وهذا هو ثاني فرعي ((فاع لاتن)) المفروق الوتد، فيلزم أن يكون هذا، أعني ((مستفع لن)) المذكور، مفروق الوتد كأصله، والياء إشارة إلى أنه الجزء العاشر.

فإن قلت: حذف الناظم التاء من الست والعشر مع أن المعدود مذكر وهو الأجزاء، قلت إما أن يكون أنث العدد بتأويل الكلمات، أو رأى المعدود محذوفاً فأنث العدد بناء على جوازه عند حذف المميز المذكر. حكى الكسائي عن أبي الجراح صمنا من الشهر خمساً. وحكى الفراء أفطرنا خمساً، وصمنا خمساً، وصمنا عشراً من رمضان. وتضافرت الروايات على حذف التاء من قوله صلى الله عليه وسلم (ثم أتبعه بست من شوال) .

وبهذا يطهر ضعف قولهم: ما حكاه الكسائي لا يصح من فصيح ولا يلتفت إليه، فلعل الناظم اعتمد على هذا النقل، وإن كان المشهور عندهم خلافه.

فإن قلت: ما هو فاعل (حوى) ؟ قلت جوز فيه الشريف وجهين: أن يكون ضميراً مستتراً يعود على التركيب، يريد أن التركيب الذي تصير الأمتاد والأسباب يحتوي على عشرة أجزاء، ولا يخفى بعده. قال: (والظاهر أن فاعل (حوى) إنما هو البيتان اللذان بعده) ، يريد أن العشر هي ما حواه هذان البيتان من الأمثلة المرموزة فيهما، وهما قوله (أصابت بسهميهما) والبيت بعده. انتهى.

فإن قلت: يلزم عليه وقوع الجملة فاعلاً وهو باطل عندهم على المختار، قلت الجملة التي يرا بها لفظها تتنزل منزلة الأسماء المفردة، وهنا كذلك.
যদি আপনি বলেন: বর্ণিত এই পদ্ধতিতে মূলসমূহকে (উসুল) বিন্যাস করার রহস্য কী? আমি বলব: পঞ্চাক্ষরী ছন্দ (খুমাসি) সপ্তাক্ষরী ছন্দ (সুবাঈ) অপেক্ষা হালকা, তাই এটি 'ফাউলুন' কে আগে রাখার দাবি রাখে। আর হালকা কারণ (সাবাব খাফিফ) ভারী কারণের তুলনায় অগ্রগণ্য, তাই এটি সপ্তাক্ষরী ছন্দের মধ্য থেকে 'মাফাইলুন' কে 'মাফায়ালাতুন' এর আগে রাখার দাবি রাখে। এরপর একীভূত খুঁটি (ওয়াতাদ মাজমু) পৃথকীকৃত খুঁটি (ওয়াতাদ মাফরুক) অপেক্ষা শক্তিশালী, তাই এটি 'মাফায়ালাতুন' কে পৃথকীকৃত খুঁটি বিশিষ্ট 'ফা লা তুন' এর আগে রাখার দাবি রাখে।

জেনে রাখুন যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) চারটি মূল ছন্দের রূপ উচ্চারণ করেছেন এবং বলেছেন যে এগুলো ছয়টি শাখার মূল। আর তিনি শাখাগুলোর শব্দ উচ্চারণ করা বর্জন করেছেন তাদের প্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে অথবা কিতাব পাঠকারীর প্রতি শিক্ষকের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে। তিনি ইশারা করেছেন যে, দশটি অংশ আমাদের পঠিত এই তিনটি পংক্তির শেষ দুই পংক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তার কথা 'আসাবাত', এর ওজন হলো 'ফাউলুন'; এর মাধ্যমে তিনি পঞ্চাক্ষরী মূলের দিকে ইশারা করেছেন এবং 'আলিফ' দ্বারা বুঝিয়েছেন যে এটি প্রথম অংশ।

তার কথা 'বিসাহমিহিমা', এর ওজন হলো 'মাফাইলুন'; এর মাধ্যমে তিনি সপ্তাক্ষরী ছন্দের এই সমজাতীয় মূলের দিকে ইশারা করেছেন এবং 'বা' বর্ণ দ্বারা বুঝিয়েছেন যে এটি দ্বিতীয় অংশ।

তার কথা 'জওয়ারিহুনা', এর ওজন হলো 'মাফায়ালাতুন'; এর মাধ্যমে তিনি এই সমজাতীয় সপ্তাক্ষরী অংশের দিকে ইশারা করেছেন এবং 'জিম' বর্ণ দ্বারা বুঝিয়েছেন যে এটি তৃতীয় অংশ।

তার কথা 'দারকুনি', এর ওজন হলো 'ফা লা তুন'; এটি অবশ্যই পৃথকীকৃত খুঁটি বিশিষ্ট হতে হবে, কারণ তিনি ধারাবাহিকভাবে অংশগুলো গণনা করছেন এবং তার আলোচনার প্রেক্ষাপট মূলগুলোকে আগে রাখার দাবি রাখে। আর মূল 'ফা লা তুন' হলো পৃথকীকৃত খুঁটি বিশিষ্ট, যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি 'দাল' বর্ণ দ্বারা ইশারা করেছেন যে এটি চতুর্থ অংশ।

তার কথা 'হিম্মাহ', এর ওজন হলো 'ফাইলুন'; এখান থেকেই তিনি শাখাগুলো গণনা করা শুরু করেছেন এবং এটি প্রথম মূল 'ফাউলুন' এর একটি শাখা। তিনি 'হা' বর্ণ দ্বারা ইশারা করেছেন যে এটি পঞ্চম অংশ।

তার কথা 'ওয়াকয়িহিমা', এর ওজন হলো 'মুসতাফইলুন'; এটি দ্বিতীয় মূল তথা 'মাফাইলুন' এর একটি শাখা। তাই এটি তার মূলের ন্যায় একীভূত খুঁটি বিশিষ্ট হওয়া আবশ্যক। আর 'ওয়াও' বর্ণটি হলো এটি ষষ্ঠ অংশ হওয়ার ইশারা।

তার কথা 'জায়িরাতি', এর ওজন হলো 'ফাইলাতুন'; এটি 'মাফাইলুন' থেকে নির্গত দ্বিতীয় শাখা। সুতরাং এর খুঁটিটি তার মূলের ন্যায় একীভূত হওয়া আবশ্যক, যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর 'যা' বর্ণটি হলো এটি সপ্তম অংশ হওয়ার ইশারা।

তার কথা 'হাজাবাতহুমা', এর ওজন হলো 'মুতাফায়িলুন'; এটি তৃতীয় মূল 'মাফায়ালাতুন' এর শাখা। তিনি 'হা' বর্ণ দ্বারা ইশারা করেছেন যে এটি অষ্টম অংশ।

তার কথা 'তুলাহুন্না', এর ওজন হলো 'মাফউলাতু'; এটি পৃথকীকৃত খুঁটি বিশিষ্ট চতুর্থ মূল 'ফা লা তুন' এর দুটি শাখার প্রথমটি। আর 'ত্ব' বর্ণটি হলো এটি নবম অংশ হওয়ার ইশারা।

তার কথা 'ইয়াতাদুহা', এর ওজন হলো 'মুসতাফ ইলুন'; এটি পৃথকীকৃত খুঁটি বিশিষ্ট 'ফা লা তুন' এর দ্বিতীয় শাখা। সুতরাং এই উল্লিখিত 'মুসতাফ ইলুন' টিকে তার মূলের ন্যায় পৃথকীকৃত খুঁটি বিশিষ্ট হওয়া আবশ্যক। আর 'ইয়া' বর্ণটি হলো এটি দশম অংশ হওয়ার ইশারা।

যদি আপনি বলেন: লেখক 'সিত' (ছয়) এবং 'আশর' (দশ) শব্দ থেকে 'তা' বিলুপ্ত করেছেন অথচ গণনাকৃত বিষয়টি (অংশসমূহ) পুংলিঙ্গ? আমি বলব: হয় তিনি শব্দগুলোর (কালিমাত) দিকে লক্ষ্য রেখে সংখ্যাকে স্ত্রীলিঙ্গ করেছেন, অথবা তিনি গণনাকৃত বিষয়টি বিলুপ্ত মনে করেছেন। কেননা গণনাকৃত পুংলিঙ্গ বিষয়টি বিলুপ্ত থাকলে সংখ্যাকে স্ত্রীলিঙ্গ করা জায়েয। কিসায়ী আবু জাররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, 'আমরা মাসের পাঁচ দিন (খামসান) রোজা রেখেছি'। আর ফাররা বর্ণনা করেছেন, 'আমরা পাঁচ দিন ইফতার করেছি, পাঁচ দিন রোজা রেখেছি এবং রমজানের দশ দিন রোজা রেখেছি'। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী 'অতঃপর শওয়ালের ছয়টি (রোজা) দ্বারা তার অনুসরণ করল'—এতে 'তা' বিলুপ্ত হওয়ার ব্যাপারে বর্ণনাগুলো পরস্পর সমর্থিত।

এর মাধ্যমেই তাদের এই উক্তির দুর্বলতা প্রকাশ পায় যে: 'কিসায়ী যা বর্ণনা করেছেন তা শুদ্ধ ভাষাভাষীদের থেকে সঠিক নয় এবং এর দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না'। সম্ভবত লেখক এই বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন, যদিও তাদের নিকট প্রসিদ্ধ মতটি এর বিপরীত।

যদি আপনি বলেন: 'হাওয়া' (ধারণ করা) এর কর্তা (ফায়েল) কী? আমি বলব: আশ-শরীফ এতে দুটি দিক বৈধ বলেছেন: প্রথমটি হলো এটি একটি উহ্য সর্বনাম যা বিন্যাসের দিকে ফিরেছে। অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, খুঁটি ও কারণগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিন্যাসটি দশটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এর দূরবর্তিতা অস্পষ্ট নয়। তিনি বলেন: 'প্রকাশ্যত 'হাওয়া' এর কর্তা হলো তার পরবর্তী দুই পংক্তি'। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, দশটি অংশ হলো তাই যা এই দুই পংক্তিতে থাকা প্রতীকী উদাহরণগুলো ধারণ করে আছে। আর তা হলো তার কথা 'আসাবাত বিসাহমিহিমা' এবং তার পরের পংক্তিটি। সমাপ্ত।

যদি আপনি বলেন: এর ফলে একটি পূর্ণ বাক্য কর্তা হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দেয়, যা তাদের নিকট মনোনীত মত অনুযায়ী বাতিল। আমি বলব: যে বাক্যের দ্বারা তার শব্দই উদ্দেশ্য হয়, তা একবচন বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়; আর এখানে বিষয়টি তেমনই।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
فإن قلت: سبق أن (مفاعلتن) يتفرع عنه جزء مهمل وهو (فاعلاتك) والناظم لم ينبه على ذلك، فمن أين يفهم من كلامه أن هذا هو المهمل؟ قلت أجاب عنه الشريف: بأن هذا الجزء الذي عد مهملاً ينبغي أن لا يعتد به في الفك لأن السبب الثقيل لا يفارق الخفيف فهما معاً كالصوت الواحد، ولذلك يسميهما العروضيون فاصلة، فلولا أن مجموعها عندهم شيء واحد أم كالشيء الواحد لما وضعوا لهما معاً اسماً كما وضعوا الوتد والسبب، فجعلوا بإزاء الصوت الواحد اسماً وضعوه له، فإذا تبين أن الثقيل والخفيف شيء واحد اقتضى ذلك أن (مفاعلتن) لا ينفك منه إلا جزء واحد، لأن الصوت الواحد لا يتبعض عند الفك فلا تتبعض الفاصلة كما لا يتبعض الوتد، وكما لا يتبعض السبب.

فإذا نظرت إلى حقيقة الفك ووقفت مع قول الناظم إن الأجزاء عشر، فتبينت الأجزاء الأربعة التي هي أم لسائر الأجزاء وأصول لها، وتأملت كيفية الفك فاقتضت أن تكون الأجزاء أحد عشر، علمت أن الساقط منها إنما هو ما يؤدي فكه إلى ممتنع، وأن ذلك هو فصل الثقيل من الخفيف المؤدي إلى تبعيض الفاصلة.

قلت: أطال رحمه الله فيما هو غني عنه، وذلك لأن الناظم أتى لكل جزء من الأجزاء العشرة بلفظ موازن له وصدره بحرف من حروف أبجد يدل على مرتبته في العدد، ولما لم يذكر لفظاً يوازن الجزء المهمل علم أن ما يفك خارجاً عن الفروع الستة ليس مما يوزن به عندهم، ولا شيء يفك زائداً على الستة غير (فاعلاتك) المتفرع عن (مفاعلتن) ، فثبت أنه المهمل، إذ لا حاجة في تبيين إحالته إلى الطريقة التي ذكرها الشريف.

واستدلاله على أن المجموع من السبب الثقيل والخفيف شيء واحد، أو كالشيء الواحد، لا تفرق أجزاؤه بتسميتهم له فاصلةً غير متسبب، لجواز أن يكون المقصود بالتسمية الاختصار في اللفظ، إذ الفاصلة أخصر من قولهم سبب ثقيل فسبب خفيف، ويؤنس ذلك تسميتهم لفعلتن المخبول فاصلةً، وليس السبب في ذلك كون أجزائها كالصوت الواحد قطعاً، فكذا الفاصلة الصغرى.

وإنما أوقع الشريف رحمه الله فيما ادعاه توهمه أن الألفاظ المصدرة بحروف الرمز لم يؤت بها إلا لأجل الإشارة بما صدرت به من الحروف إلى مراتب الأجزاء فقط، وليس كذلك، بل أريد بها مع ذلك ما أسلفناه فتأمل.

(تنبيه) هذه الأجزاء تسمى بالأركان والأمثلة والأوزان والأفاعيل والتفاعيل.

وقد رأيت مرةً بالقاهرة في سنة خمس وتسعين وسبعمائة بخط قاضي القضاة مجد الدين إسماعيل الكناني الحنفي رحمه اله على ظهر كراسة: تفاعيل الشعر ثمانية، وعدها، فكتب تحته بعض الأدباء بالديار المصرية ما مثاله أخطأت أيها القاضي لأن التفاعيل جمع تفعال أو تفعول أو تفعيل، وليس شيء منها معدوداً من أجزاء العروض، فإن أجزاءه منحصرة ليس فيها شيء من هذه. فأخبرت القاضي رحمه الله أن هذا الكلام خطأ، وذكرت له أن الكاتب مسبوق بهذا الاعتراض، سبقه به الشيخ أبو حيان ولا شك أنه أخذه منه، لأني رأيت هذا بعينه في نسخ من تفسير أبي حيان كتبها هذا المعترض بخطه.

فسألني القاضي رحمه الله الكلام على ذلك فكتبت وهأنذا أورد هنا ما كتبته من ذلك وإن كان فيه طول قصداً لتكثير الفائدة فأقول: اختلف في التوابع الواقعة في قوله تعالى: (حم تنزيل الكتاب من الله العزيز العليم غافر الذنب وقابل التوب شديد العقاب) ، هل هي كلها نعوت أو كلها أبدال، أو (شديد العقاب) بدل وما عداه نعت، وهذا الأخير هو مذهب الزجاج، حكاه عنه صاحب الكشاف ونقله الشيخ في تفسيره المسمى (بالبحر المحيط) وفي (النهر) أيضاً قائلاً إلا أن الزمخشرى قال: جعل الزجاج (شديد العقاب) وحده بدلاً من بين الصفات فيه نبو ظاهر، والوجه يقال: لما صودف بين هذه المعارف هذه النكرة وحدها فقد آذنت بأن كلها أبدال غير أوصاف، ومثال ذلك قصيدة جاءت تفاعيلها كلها على مستفعلن فهي محكوم عليها أنها من الرجز، فإن وقع فيها جزء واحد على (متفاعلن) كانت من الكامل. انتهى.
যদি আপনি বলেন: আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে (মাফায়িলাতুন) থেকে একটি অব্যবহৃত অংশ নির্গত হয় যা হলো (ফায়িলাতাকা), আর মূল রচয়িতা সেদিকে ইঙ্গিত করেননি। তাহলে তাঁর কথা থেকে কীভাবে বোঝা যাবে যে এটিই সেই অব্যবহৃত অংশ? আমি উত্তরে বলব, শরীফ এর জবাব দিয়েছেন এভাবে: এই অংশটিকে যা অব্যবহৃত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, রূপান্তরের ক্ষেত্রে তা ধর্তব্য হওয়া উচিত নয়। কারণ 'ভারী সাবাব' কখনও 'হালকা সাবাব' থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না; বরং তারা উভয় মিলে একটি শব্দের মতো। এই কারণেই ছন্দবিশারদগণ উভয়কে একত্রে 'ফাসিলা' নামে অভিহিত করেন। যদি তাদের নিকট এর সমষ্টি একটি জিনিস বা একটি জিনিসের মতো না হতো, তবে তারা এই দুটির জন্য একত্রে একটি নাম নির্ধারণ করতেন না, যেমনটি তারা 'ওয়াতাদ' ও 'সাবাব'-এর জন্য করেছেন। তারা একটি শব্দের বিপরীতে একটি নাম রেখেছেন। সুতরাং যখন এটি স্পষ্ট হলো যে ভারী ও হালকা সাবাব একটিই জিনিস, তখন এটি দাবি করে যে (মাফায়িলাতুন) থেকে কেবল একটি অংশই রূপান্তরিত হবে। কারণ রূপান্তরের সময় একক শব্দ খণ্ডিত হয় না, ফলে 'ফাসিলা' খণ্ডিত হবে না যেমনটি 'ওয়াতাদ' ও 'সাবাব' খণ্ডিত হয় না।

সুতরাং যখন আপনি রূপান্তরের প্রকৃত রূপটি দেখবেন এবং রচয়িতার এই কথার ওপর স্থির থাকবেন যে অংশগুলো দশটি, এরপর যখন সেই চারটি অংশ স্পষ্ট হবে যা অন্য সকল অংশের জননী ও ভিত্তি, এবং রূপান্তরের পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করবেন যা অংশগুলোকে এগারোটি হওয়ার দাবি রাখে, তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে যা বাদ পড়েছে তা কেবল সেটিই যা রূপান্তর করলে অসম্ভব অবস্থায় নিয়ে যায়। আর তা হলো হালকা সাবাব থেকে ভারী সাবাবকে পৃথক করা, যা 'ফাসিলা'র খণ্ডন ঘটায়।

আমি বলব: তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এমন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন যা অনাবশ্যক ছিল। কারণ রচয়িতা দশটি অংশের প্রত্যেকটির জন্য এমন শব্দ এনেছেন যা তার ওজনের সমান এবং তার শুরুতে 'আবজাদ' অক্ষরের একটি অক্ষর যুক্ত করেছেন যা সংখ্যায় তার অবস্থান নির্দেশ করে। যেহেতু তিনি অব্যবহৃত অংশের ওজনের কোনো শব্দ উল্লেখ করেননি, তাই বোঝা গেল যে ছয়টি শাখা অংশের বাইরে যা কিছু রূপান্তর ঘটে তা তাদের নিকট ওজনযোগ্য নয়। আর (মাফায়িলাতুন) থেকে নির্গত (ফায়িলাতাকা) ছাড়া ছয়টির অতিরিক্ত আর কোনো কিছুই রূপান্তরিত হয় না, ফলে এটিই যে সেই অব্যবহৃত অংশ তা প্রমাণিত হলো। কারণ এর অসারতা প্রমাণের জন্য শরীফ যে পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন তার কোনো প্রয়োজন নেই।

আর তাঁর এই দলিল যে—ভারী ও হালকা সাবাবের সমষ্টি একটিই জিনিস অথবা একটি জিনিসের মতো যার অংশসমূহ পৃথক হয় না যেহেতু তারা একে 'ফাসিলা' নামকরণ করেছেন—তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এমন সম্ভাবনা আছে যে এই নামকরণের উদ্দেশ্য হলো শব্দ সংক্ষেপ করা। যেহেতু তাদের বক্তব্য 'ভারী সাবাব ও হালকা সাবাব'-এর চেয়ে 'ফাসিলা' শব্দটি সংক্ষিপ্ত। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো তাদের 'ফা’লাতুন'-কে ফাসিলা নামকরণ করা। এর কারণ নিশ্চিতভাবেই এই নয় যে এর অংশগুলো একটি শব্দের মতো। সুতরাং ক্ষুদ্র ফাসিলার ক্ষেত্রেও একই কথা।

শরীফ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) যা দাবি করেছেন সেই বিভ্রান্তিতে পড়ার কারণ হলো তাঁর এই ধারণা যে—প্রতীকী অক্ষরযুক্ত শব্দগুলো আনা হয়েছে কেবল সেই অক্ষরগুলো দ্বারা অংশগুলোর ক্রম নির্দেশ করার জন্য। বিষয়টি আসলে তেমন নয়; বরং এর পাশাপাশি আমরা আগে যা উল্লেখ করেছি সেটিও উদ্দেশ্য ছিল, সুতরাং চিন্তা করুন।

(সতর্কবার্তা) এই অংশগুলোকে আরকান, আমসিলা, আওযান, আফায়িল এবং তাফাইল নামেও অভিহিত করা হয়।

আমি একবার কায়রোতে সাতশত পঁচানব্বই হিজরি সনে কাযিউল কুজাত মাজদুদ্দীন ইসমাঈল আল-কিনানী আল-হানাফীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) হস্তাক্ষরে একটি পুস্তিকার পৃষ্ঠদেশে লিখে থাকতে দেখেছি: "কবিতার তাফাইল আটটি," এবং তিনি সেগুলো গণনা করেন। এরপর মিশরের কোনো এক সাহিত্যিক তার নিচে লিখেছিলেন: "হে কাযী, আপনি ভুল করেছেন; কারণ 'তাফাইল' হলো 'তিফআল' অথবা 'তিফউল' অথবা 'তিফইল'-এর বহুবচন, আর এগুলোর কোনোটিই ছন্দতত্ত্বের অংশের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা ছন্দের অংশগুলো সীমাবদ্ধ এবং তার মধ্যে এগুলোর কিছুই নেই।" এরপর আমি কাযী সাহেবকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) জানালাম যে এই কথাটি ভুল এবং তাঁকে বললাম যে লেখক এই আপত্তিতে অন্য কারও অনুসারী, তাঁর আগে শায়খ আবু হাইয়ান এই আপত্তি করেছিলেন এবং নিসন্দেহে লেখক এটি তাঁর কাছ থেকেই নিয়েছেন। কারণ আমি হুবহু এই বিষয়টি আবু হাইয়ানের তাফসিরের কিছু কপিতে দেখেছি যা এই আপত্তিকারী নিজ হাতে লিখেছিলেন।

কাযী সাহেব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমার কাছে এ বিষয়ে আলোচনার অনুরোধ করলেন, তাই আমি লিখলাম। ফায়দা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ হলেও আমি যা লিখেছিলাম তা এখানে তুলে ধরছি। আমি বলছি: মহান আল্লাহর এই বাণীতে অনুগামী শব্দগুলোর ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে: "হা-মীম। এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ। পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা।" (সুরা গাফির: ১-৩)। এগুলো কি সবই গুণবাচক শব্দ নাকি সবই বদল, নাকি 'শাদিদুল ইক্বাব' শব্দটি বদল এবং বাকিগুলো গুণবাচক? শেষোক্তটি হলো যাজ্জাজ-এর অভিমত। 'কাশশাফ' রচয়িতা তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ তাঁর 'আল-বাহরুল মুহীত' এবং 'আন-নাহর' নামক তাফসিরে এটি উদ্ধৃত করে বলেছেন—যামাখশারী বলেছেন: গুণাবলির মধ্য থেকে কেবল 'শাদিদুল ইক্বাব'-কে বদল হিসেবে নির্ধারণ করার মধ্যে স্পষ্ট বিচ্যুতি রয়েছে। সঠিক দিকটি হলো: যখন এই পরিচয়বাচক শব্দগুলোর মাঝে কেবল এই অনির্দিষ্ট শব্দটি পাওয়া গেল, তখন এটি ইঙ্গিত দেয় যে সবগুলোই বদল, সিফাত নয়। এর উদাহরণ হলো এমন একটি কবিতা যার সকল ছন্দ-অংশ 'মুস্তাফইলুন' ওজনে এসেছে, ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে এটি 'রাজায' ছন্দের। কিন্তু যদি তাতে একটি অংশও 'মুতাফায়িলুন' ওজনে আসে, তবে তা 'কামিল' ছন্দের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد ناقشه الشيخ فقال: ولا نبو في ذلك لأن الجري على القواعد التي استقرت وصحت هو الأصل. وقوله فقد آذنت بأن كلها أبدال تركيب غير عربي، لأنه جعل (فقد آذنت) جواب (لما) وليس في كلامهم: لما قام زيد فقد قام عمرو. وقوله (بأن كلها أبدال) فيه تكرير الأبدال. أما بدل البداء فقد تكررت فيه الأبدال، وأما بدل كل من كل، وبدل بعض من كل، وبدل اشتمال، فلا نص عن أحد من النحويين أعرفه في جواز التكرار فيها أو منعه، إلا أن في كلامه بعض أصحابنا ما يدل على أن البدل لا يتكرر، وذلك في قول الشاعر:

بأبي ابنُ أمِّ إياسَ أرحلُ ناقتي … عمروٍ فتبلغُ حاجتي أو تُزحفُ

ملكٍ إذا نزل الوفودُ ببابه … عرفوا مواردَ مُزبدٍ لا يُنزَفُ

قال: (فملك) بدل من (عمرو) ، بدل نكرة من معرفة. قال: فإن قلت لم لا يكون بدلاً من (ابن أم إياس) قلت: لأنه قد أبدل منه (عمراً) فلا يجوز أن يبدل منه مرة أخرى لأنه قد طرح.

قال الشيخ فدل هذا على أن البدل لا يتكرر ويتحد المبدل منه، ودل على أن البدل من البدل جائز، قال: وقوله: (تفاعيلها هو جمع تفعال أو تفعول أو تفعول أو تفعيل وليس شيء منها معدوداً من أجزاء العروض فإن أجزاءه منحصرة ليس فيها شيء من هذه الأوزان) ، فصوابه أن يقول: أجزاؤها كلها على مستفعلن. انتهى كلام أبي حيان.

وقد ساق تلميذه الشيخ شهاب الدين السمين هذا الفصل برمته في إعرابه، وأقره على حاله كأنه من قبيل المرتضى عنده. والذي يظهر أن جميع هذه المناقشات غير سديدة.

أما الأولى فحاصلها نفي الاستبعاد لمقالة الزجاج بناءً على أنها جارية على الأصول. وتقرير جريانها على ذلك أن توافق النعت الحقيقي ومنعوته في واحد من التعريف والتنكير أمر لازم إما اتفاقاً أو عند الأكثرين، وأن التوافق في ذلك لا يلزم إذا كان التابع بدلاً. فجعل الصفات المعرفة الواقعة في هذه الآية نعوتاً للاسم الشريف جار على القاعدة المتقدمة، وكذا جعل الصفة التي إضافتها غير محضة بدلاً جار على ما سبق من قاعدة البدل. فإذن لا خروج لما قاله الزجاج في كلا الوجهين عما استقر في قواعد كلامهم، فلا نبو فيه.

وأقول: هو وإن جرى على هذه القاعدة فقد خالف قاعدةً أخرى، وهي أنه متى اجتمع بدل ونعت قدم النعت لأنه كالجزء من متبوعه وأخر البدل لأنه تابع كلا تابع، من حيث أنه كالمستقل بمقتضى العامل. ولا خفاء بأنه إذا جعل (شديد العقاب) بدلاً (وذي الطول) الواقع بعده صفةً لزم مخالفة القاعدة المذكورة، مع أنه قد تقدم هذا البدل صفة أخرى، فصار مكتنفاً بصفتين فلزم إدخال ما هو كالأجنبي بين شيئين هما كالجزئين لما قبلهما، وذلك غير مناسب، فظهر النبو باعتبار ذلك.

فإن قلت: إنما لزم هذا حيث جعل قوله (ذي الطول) نعتاً، وليس في كلام أبي حيان ما يقتضيه فلم لا يعرب بدلاً فلا يلزم هذا المحذورظ قلت الكلام في عبارة الزمخشرى التي تعقبها أبو حيان. ومقتضى قوله في الكشاف أن الزجاج جعله بدلاً بين الصفات لا يكون (ذي الطول) بدلاً، إذ لو كان لم يقطع (شديد العقاب) بين الصفات بل بعدها وهو واضح.

وأما المناقشة الثانية وهي تلحين الزمخشرى في قوله: (لما صودف بين هذه المعارف هذه النكرة وحدها فقد آذنت بأن كلها أبدال) ، وتقريرها ظاهر من كلام الشيخ فجوابها م ثلاثة أوجه:
শায়খ তাঁর সাথে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: এতে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই, কারণ যে নিয়মগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত ও সঠিক, তার ওপর ভিত্তি করে চলাই হলো মূল নীতি। এবং তাঁর বক্তব্য "ফাকাদ আযাত বি-আন্না কুল্লাহু আবদাল" (যা ঘোষণা করে যে এগুলো সবই বদল) একটি অ-আরবি বাক্যরীতি, কারণ তিনি "ফাকাদ আযাত"-কে "লাম্মা"-র উত্তর (জাওয়াব) বানিয়েছেন, অথচ তাদের (আরবদের) বক্তব্যে এমন কোনো ব্যবহার নেই যে: 'লাম্মা কামা যায়দুন ফাকাদ কামা আমরুন'। এবং তাঁর কথা "(এগুলো সবই বদল)"-এর মধ্যে বদলের পুনরাবৃত্তি রয়েছে। "বদলে বাদা"-র ক্ষেত্রে বদলের পুনরাবৃত্তি ঘটে, কিন্তু "বদলে কুল্লুন মিন কুল", "বদলে বা'যুন মিন কুল" এবং "বদলে ইশতিমাল"-এর ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি বৈধ কি না, সে বিষয়ে কোনো ব্যাকরণবিদের বক্তব্য আমার জানা নেই। তবে আমাদের কিছু সঙ্গীর কথায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে বদলের পুনরাবৃত্তি হয় না, আর তা কবির এই বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে:

আমার পিতার কসম, ইবনে উম্মে ইয়াস, আমি আমার উষ্ট্রীকে চালিত করি … আমরের কাছে, যাতে সে আমার প্রয়োজন পূরণ করে অথবা বাহনটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

তিনি এমন এক রাজা, যখন তাঁর দরবারে প্রতিনিধি দল আসে … তারা এক উথলে ওঠা দানশীলতার প্রস্রবণ দেখতে পায় যা নিঃশেষ হয় না।

তিনি বলেন: "(মালিক)" শব্দটি "(আমরিন)" থেকে বদল, যা নির্দিষ্ট পদ থেকে অনির্দিষ্ট পদের বদল। তিনি আরও বলেন: যদি প্রশ্ন করা হয় যে এটি কেন "(ইবনে উম্মে ইয়াস)" থেকে বদল হলো না? আমি বলবো: কারণ "(আমরান)" ইতোমধ্যেই তার বদল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই দ্বিতীয়বার তার বদল আনা বৈধ নয় কারণ তাকে (প্রথমটিকে) বর্জন করা হয়েছে।

শায়খ বলেন, এটি প্রমাণ করে যে "মুবদাল মিনহু" এক থাকলে বদল পুনরাবৃত্তি হয় না, এবং এটিও প্রমাণ করে যে বদল থেকে বদল হওয়া জায়েজ। তিনি বলেন: তাঁর (যামাখশারীর) বক্তব্য: "(তাফাইলুহা) হলো তাফআল বা তাফউল বা তাফউল বা তাফয়িল-এর বহুবচন এবং এর কোনটিই ছন্দশাস্ত্রের অংশ নয় কারণ ছন্দশাস্ত্রের অংশগুলো সীমাবদ্ধ এবং এর মধ্যে এই ওজনগুলো নেই"—এর সঠিক রূপ হবে এই বলা যে: "এর সব অংশগুলো মুস্তাফইলুন ছন্দের ওপর ভিত্তি করে"। আবু হাইয়ানের বক্তব্য এখানেই শেষ।

এবং তাঁর ছাত্র শায়খ শিহাবুদ্দিন আস-সামিন তাঁর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ গ্রন্থে এই অনুচ্ছেদটি পুরোপুরি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে বহাল রেখেছেন, যেন এটি তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যা প্রকাশ পায় তা হলো, এই সব আলোচনা সঠিক নয়।

প্রথম আলোচনার সারকথা হলো, যাজ্জাজের উক্তিকে মূলনীতির অনুসারী হওয়ার ভিত্তিতে অসম্ভব বলে প্রত্যাখ্যান করা। আর এটি যে মূলনীতির অনুসারী তার প্রমাণ হলো—নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত বিশেষণ (নাত হাক্বীকি) ও বিশেষ্যের (মানউত) মধ্যে মিল থাকা আবশ্যক, হয় সর্বসম্মতিক্রমে অথবা অধিকাংশের মতে। কিন্তু অনুগামী পদটি যদি "বদল" হয়, তবে এই মিল থাকা জরুরি নয়। সুতরাং এই আয়াতে আসা নির্দিষ্ট বিশেষণগুলোকে পবিত্র নামের বিশেষণ (নাত) হিসেবে ধরা পূর্বোক্ত নিয়মানুসারী। একইভাবে যে বিশেষণের সম্বন্ধ (ইজাফত) অপ্রকৃত (গায়রে মাহদা), তাকে বদল হিসেবে ধরাও বদলের পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী সঠিক। সুতরাং যাজ্জাজ যা বলেছেন তার কোনোটিই আরবি ভাষার প্রতিষ্ঠিত নিয়ম বহির্ভূত নয়, তাই এতে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।

আমি বলি: তিনি যদিও এই নিয়ম অনুসরণ করেছেন, কিন্তু অন্য একটি নিয়মের বিরোধিতা করেছেন। নিয়মটি হলো—যখন বদল এবং বিশেষণ (নাত) একত্রে জমা হয়, তখন বিশেষণকে আগে আনতে হয় কারণ তা তার পূর্ববর্তী পদের অংশের মতো, আর বদলকে পরে আনতে হয় কারণ তা পদের পরবর্তী অংশের মতো, কেননা তা আমেলের দাবি অনুযায়ী স্বতন্ত্র পদের মতো কাজ করে। এটি স্পষ্ট যে যদি "(শাদীদুল ইকাব)" শব্দটিকে বদল এবং তার পরে আসা "(যিত-তাউল)" শব্দটিকে বিশেষণ (সিফাত) বানানো হয়, তবে উল্লিখিত নিয়মের লঙ্ঘন হয়। অথচ এই বদলের আগে আরেকটি বিশেষণ অতিক্রান্ত হয়েছে, ফলে এটি দুটি বিশেষণের মাঝে পড়ে গেল। এর ফলে যা স্বতন্ত্র পর্যায়ের, তাকে এমন দুটি বিষয়ের মাঝে প্রবেশ করানো হলো যা তাদের পূর্ববর্তী পদের অংশের মতো, আর এটি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই কারণেই অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায়।

আপনি যদি বলেন: এই জটিলতা তখনই তৈরি হয় যখন "(যিত-তাউল)" কথাটিকে বিশেষণ (নাত) হিসেবে ধরা হয়, অথচ আবু হাইয়ানের বক্তব্যে এমন কোনো দাবি নেই, তবে কেন একে বদল হিসেবে ধরা হবে না যাতে এই অসুবিধা দূর হয়? আমি বলবো: আলোচনা হচ্ছে যামাখশারীর বক্তব্যের বিষয়ে যার ওপর আবু হাইয়ান মন্তব্য করেছেন। কাশশাফ গ্রন্থে তাঁর বক্তব্যের দাবি হলো—যাজ্জাজ একে বিশেষণগুলোর মাঝে বদল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, সেখানে "(যিত-তাউল)" বদল হবে না; কারণ যদি তা হতো তবে তিনি "(শাদীদুল ইকাব)" শব্দটিকে বিশেষণগুলোর মাঝখানে না এনে শেষে নিয়ে আসতেন, আর এটি স্পষ্ট।

আর দ্বিতীয় আলোচনাটি হলো যামাখশারীর সেই বক্তব্যে ব্যাকরণগত ভুল ধরা যেখানে তিনি বলেছেন: "যখন এই নির্দিষ্ট পদগুলোর মাঝে এই একটিমাত্র অনির্দিষ্ট পদ পাওয়া গেল, তখন তা ঘোষণা করল যে এগুলো সবই বদল"। এর স্বরূপ শায়খের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট এবং এর উত্তর তিনটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الأول: أن مبنى هذا الاعتراض على منع دخول الفاء على جواب لما وهو ممنوع. فقد نص ابن مالك على جوازه مستدلاً بقول الله تعالى: (فلما نجاهم إلى البر فمنهم مقتصد) ، فإن قلت لا دليل له في هذه الآية لاحتمال أن يكون الجواب فيها محذوفاً، كما قيل تقديره: انقسموا قسمين فمنهم مقتصد، أي ومنهم غير ذلك، قلت: هو احتمال مرجوح، والظاهر خلافه، فقد ورد جواب لما مقترناً بإذا الفجائية وروداً شائعاً. قال الله تعالى: (فلما كشفنا عنهم الرجز إلى أجل هم بالغوه إذا هم ينكثون) ، وقال تعالى: (فلما أنجاهم إذا هم يبغون في الأرض بغير الحق) ، وقال تعالى: (فلما نجاهم إلى البر إذا هم يشركون) ، وفيه دليل على أن جواب لما يجوز أن يكون جملةً اسميةً، وإذا جاز ذلك فأي داع إلى ارتكاب الحذف في الآية التي أوردها ابن مالك مع أنه على خلاف الأصل؟ والفاء وإذا الفجائية أختان في ربط الجواب بالشرط، فإذا ربط بإحداهما في تركيب جاز أن يربط بالأخرى، ولا فرق. فإذن الظاهر ما قاله ابن مالك من أن الجواب في الآية التي استدل بها هو الجملة الاسمية، وأن الفاء رابطة الجواب.

فإن قلت: هذا في الجملة الاسمية، فأين وقوعه في الفعلية؟ قلت: يدل عليه قول الشاعر:

لما اتقى بيدٍ عظيمٍ جرمُها … فتركتُ ضاحي جلدهِا يتذبذبُ

لكن ابن هشام صرح في المغنى بأنها فيه زائدة. وعليه فلا يكون البيت شاهداً على المدعي.

الثاني: سلمنا امتناع دخول الفاء على جواب لما، لكن لا نسلم أن الجواب في كلام الزمخشرى مذكور حتى يلزم ما قاله أبو حيان، وإنما هو محذوف، تقدير الكلام معه: لما صودف بين هذه المعارف هذه النكرة وحدها نبا هذا القول عن الصواب، فقد آذنت هذه المصادفة بأن جميع تلك التوابع أبدال غير أوصاف، ويدل على هذا الجواب المحذوف قوله فيما سبق (فيه نبو ظاهر) ، وقد نص غير واحد على جواز الحذف في ذلك عند قيام الدليل فلم لا يكون هذا منه.

الثالث: سلمنا أن جواب لما لا يقترن بالفاء، وأنه في عبارة الزمخشرى مذكور لا محذوف، لكنا لا نسلم أن مجموع قوله (فقد آذنت) جواب، وإنما الجواب هو قوله آذنت، وأما (قد) فهي هنا اسم بمعنى (حسب) ، والفاء الداخلة عليها كالفاء الداخلة على قط في قولك (افعل هذا فقط) . أي لما صودف بين هذه المعارف هذه النكرة وحدها فحسب آذنت هذه المصادفة بما قلناه من دعوى البدلية في جميع التوابع. والشيخ أبو حيان فهم أن (قد) حرف داخل على الفعل، مثله في قولك (قد قام زيد) ، فسارع إلى تلحين الزمخشرى ذهولاً عما قلناه، والله الموفق لا رب غيره.

وأما المناقشة الثالثة وهي ما لزم على كونها أبدالاً من تكرير البدل وهو ليس بدل البداء فليست بذاك، فالشيخ قد أقر على نفسه بعدم الاطلاع على نص في المسألة إلا من جهة كلام حكاه عن بعض أصحابه، ولم يسمه، ولا يلزم من عدم عرفانه بالجواز عدم الجواز في نفسه، فالزمخشرى إمام في هذا الفن، ثبت في النقل. وقد نص غير واحد من المعربين في قوله تعالى: (الحمد لله رب العالمين الرحمن الرحيم ملك يوم الدين) ، على جواز إعراب التوابع أبدالاً مع أنها ليست بأبدال بداء قطعاً ففيه دليل على جواز ما أجازه الزمخشرى.

فإن قلت: ذلك محمول على أن كل تابع بدل مما قبله، لا أنها كلها أبدال من شيء واحد كما حكاه الشيخ عن بعض أصحابه في إعراب ذينك البيتين، قلت: وكلام الزمخشرى قابل لأن يحمل على هذا المعنى بعينه، فهو لم يقل في هذه التوابع إلا أنها أبدال، وذلك صادق بأن يجعل كل واحد منها بدلاً مما قبله، فيتعدد التابع والمتبوع، فام لم يحمله الشيخ على هذا المعنى مع أنه ليس في اللفظ ما يدفعه.

على أن ابن الحاجب رحمه الله تكلم على هذه الآية في أماليه ولا بأس بإيراد كلامه بجملته تكميلاً للفائدة. قال ما نصه: لا يستقيم أن يكون (غافر الذنب وقابل التوب) صفة لقوله (من الله العزيز العليم) ، لأن (غافر الذنب وقابل التوب) معناه أنه يغفر الذنب ويقبل التوب. قال الله تعالى: (يغفر الذنوب جميعاً) ، وقال (وهو الذي يقبل التوبة عن عباده) ، فيكون في معنى الحال والاستقبال، فتكون إضافته غير محضة. وأجيب عن ذلك بأن (غافر الذنب) على معنى ثبوت ذلك له، وإذا كان على معنى ثبوت ذلك له فهو صفة بمعنى المضي، فتكون إضافته محضةً فتفيد التعريف فيصح وصف المعرفة به.
প্রথমত: এই আপত্তির ভিত্তি হলো 'লাম্মা'-এর উত্তরের (জওয়াব) শুরুতে 'ফা' যুক্ত হওয়াকে নিষিদ্ধ মনে করা, অথচ এটি নিষিদ্ধ নয়। ইবনে মালিক এর বৈধতার ওপর স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন এবং আল্লাহ তাআলার বাণী থেকে দলিল পেশ করেছেন: "অতঃপর তিনি যখন তাদের উদ্ধার করে স্থলে নিয়ে আসেন, তখন তাদের কেউ কেউ পরিমিত পথ অবলম্বন করে"। এখন যদি আপনি বলেন যে, এই আয়াতে কোনো দলিল নেই, কারণ এখানে উত্তরটি উহ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—যেমনটি বলা হয়ে থাকে যে এর বিশ্লেষণ হলো: তারা দুই ভাগে বিভক্ত হলো, ফলে তাদের কেউ পরিমিত পথ অবলম্বনকারী, অর্থাৎ আর অন্য অংশটি অন্যরূপ—তবে আমি বলব: এটি একটি দুর্বল সম্ভাবনা এবং এর প্রকাশ্য অর্থ এর বিপরীত। কেননা 'লাম্মা'-এর উত্তর 'ইজা ফুজাইয়্যাহ' (হঠাৎ ঘটার অর্থবোধক 'ইজা') এর সাথে যুক্ত হয়ে আসার বিষয়টি বহুল প্রচলিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর যখন আমি তাদের থেকে আযাব সরিয়ে নিলাম একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যা তারা লাভ করবে, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করল"। আল্লাহ আরও বলেন: "অতঃপর যখন তিনি তাদের রক্ষা করলেন, তখনই তারা জমিনে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ শুরু করল"। তিনি আরও বলেন: "অতঃপর যখন তিনি তাদের উদ্ধার করে স্থলে নিয়ে আসলেন, তখনই তারা শিরক করতে লাগল"। এতে দলিল রয়েছে যে 'লাম্মা'-এর উত্তরটি বিশেষ্যমূলক বাক্য (জুমলা ইসমিয়া) হওয়া জায়েজ। আর যখন তা জায়েজ হয়, তখন ইবনে মালিক যে আয়াতটি পেশ করেছেন সেখানে মূল কাঠামোর বিপরীত গিয়ে কোনো কিছু উহ্য ধরার কী প্রয়োজন? 'ফা' এবং 'ইজা ফুজাইয়্যাহ' উভয়ই শর্তের সাথে উত্তরকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সহোদরের মতো; সুতরাং যখন এ দুটির কোনো একটির মাধ্যমে বাক্য গঠিত হয়, তখন অন্যটির মাধ্যমেও তা জায়েজ হবে, এতে কোনো পার্থক্য নেই। অতএব, প্রকাশ্য বিষয়টি হলো ইবনে মালিক যা বলেছেন; অর্থাৎ তিনি যে আয়াত দিয়ে দলিল দিয়েছেন সেখানে উত্তরটি হলো বিশেষ্যমূলক বাক্য এবং 'ফা' হলো উত্তরকে যুক্তকারী।

যদি আপনি বলেন: এটি বিশেষ্যমূলক বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে ক্রিয়ামূলক বাক্যে (জুমলা ফিলিয়্যাহ) এর প্রয়োগ কোথায়? আমি বলব: কবির এই উক্তি এর প্রমাণ দেয়:

যখন সে এক বিশাল অপরাধের হাত থেকে রক্ষা পেল … তখন আমি তার দেহের বহিরাংশকে কম্পমান অবস্থায় ছেড়ে দিলাম

কিন্তু ইবনে হিশাম 'আল-মুগনি' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এটি সেখানে অতিরিক্ত। সেই অনুযায়ী, এই কবিতাটি দাবিদারের পক্ষে কোনো দলিল হবে না।

দ্বিতীয়ত: আমরা যদি মেনেও নিই যে 'লাম্মা'-এর উত্তরে 'ফা' যুক্ত হওয়া অসম্ভব, তবুও আমরা এটা স্বীকার করি না যে যামাখশারীর বক্তব্যে উত্তরটি উল্লিখিত হয়েছে যার ফলে আবু হাইয়্যান যা বলেছেন তা আবশ্যক হবে। বরং উত্তরটি এখানে উহ্য। এর সম্ভাব্য বিশ্লেষণ হলো: যখন এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে একমাত্র এই অনির্দিষ্ট পদটি পাওয়া গেল, তখন এই কথাটি সঠিকতা থেকে বিচ্যুত হলো। কারণ এই প্রাপ্তিটিই জানান দিচ্ছে যে এই পরবর্তী সকল পদ বিশেষণ নয় বরং বদল। আর এই উহ্য উত্তরের দিকেই তাঁর পূর্ববর্তী কথাটি (এতে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি রয়েছে) ইঙ্গিত দেয়। একাধিক ভাষাবিদ দলিল বিদ্যমান থাকা অবস্থায় এরূপ উহ্য রাখার বৈধতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, তাহলে এটি কেন সেই অন্তর্ভুক্ত হবে না?

তৃতীয়ত: আমরা যদি মেনেও নিই যে 'লাম্মা'-এর উত্তরে 'ফা' যুক্ত হয় না এবং যামাখশারীর বক্তব্যে তা উহ্য নয় বরং উল্লিখিত, তবুও আমরা স্বীকার করি না যে তাঁর কথা "তবে তা জানান দিয়েছে" (ফাকাদ আজানাত)-এর পুরোটাই উত্তর। বরং উত্তর হলো শুধুমাত্র "জানান দিয়েছে" (আজানাত) শব্দটি। আর "কাদ" শব্দটি এখানে "যথেষ্ট/মাত্র" অর্থে একটি বিশেষ্য, আর এর শুরুতে যুক্ত "ফা" হচ্ছে ঠিক সেই "ফা"-এর মতো যা আপনার উক্তি "শুধুমাত্র এটি কর"-এর ক্ষেত্রে যুক্ত হয়। অর্থাৎ, যখন এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর মাঝে শুধুমাত্র এই একটি অনির্দিষ্ট পদ পাওয়া গেল, তখনই এই প্রাপ্তিটি আমাদের দাবিকৃত সকল অনুগামী পদের 'বদলিয়া' বা পরিপূরক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিল। শেখ আবু হাইয়্যান মনে করেছেন যে "কাদ" হলো একটি অব্যয় যা ক্রিয়ার আগে যুক্ত হয়েছে, যেমনটি আপনার উক্তি "যাইদ দাঁড়িয়েছে"-এর ক্ষেত্রে হয়। ফলে তিনি আমরা যা বললাম সে বিষয়ে অসতর্ক হয়ে দ্রুতই যামাখশারীকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা, তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই।

আর তৃতীয় আলোচনাটি হলো—এগুলোকে বদল ধরার ফলে বদলের পুনরাবৃত্তি আবশ্যক হওয়া প্রসঙ্গে যা 'বদলে বাদা' নয়—তা খুব একটা জোরালো নয়। কারণ শেখ নিজেই স্বীকার করেছেন যে এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ভাষ্য সম্পর্কে তিনি অবহিত নন, কেবল তাঁর কোনো এক সাথীর বর্ণিত কথার সূত্র ধরে এটি বলেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেননি। আর কোনো বিষয় জায়েজ হওয়া সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান না থাকা মানেই বিষয়টি নিজে থেকে নাজায়েজ হওয়া বোঝায় না। যামাখশারী এই বিদ্যায় একজন ইমাম এবং তাঁর বর্ণনা সুপ্রতিষ্ঠিত। একাধিক মুআরিবি (ব্যাকরণবিদ) আল্লাহ তাআলার বাণী: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক"-এর ক্ষেত্রে অনুগামী পদগুলোকে বদল হিসেবে গ্রহণ করা জায়েজ বলেছেন, যদিও সেগুলো নিশ্চিতভাবেই 'বদলে বাদা' নয়। সুতরাং যামাখশারী যা জায়েজ বলেছেন তার স্বপক্ষে এতে দলিল রয়েছে।

যদি আপনি বলেন: এটি এই অর্থে ধরা হবে যে প্রতিটি অনুগামী পদ তার পূর্ববর্তী পদের বদল, এমন নয় যে সবগুলোই একটি মাত্র বিষয় থেকে বদল হয়েছে—যেমনটি শেখ তাঁর কোনো এক সাথী থেকে ঐ দুটি কবিতার ব্যাকরণ আলোচনার ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি বলব: যামাখশারীর বক্তব্য হুবহু এই অর্থ গ্রহণেরই যোগ্যতা রাখে। তিনি এই অনুগামী পদগুলোর ক্ষেত্রে কেবল এটুকুই বলেছেন যে এগুলো বদল। আর এটি তখনই সত্য হবে যখন এগুলোর প্রত্যেকটিকে তার পূর্ববর্তীটির বদল হিসেবে ধরা হবে, ফলে অনুগামী ও অনুসৃত পদের সংখ্যা একাধিক হবে। শেখ কেন এই অর্থ গ্রহণ করলেন না যখন শব্দের মাঝে এমন কিছু নেই যা একে প্রতিহত করে?

ইবনে হাজিব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে এই আয়াত সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং ফায়দা পূর্ণ করার জন্য তাঁর পুরো বক্তব্যটি এখানে তুলে ধরায় কোনো অসুবিধা নেই। তিনি যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো: "পাপ ক্ষমাকারী এবং তওবা কবুলকারী" কথাটি "আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ"-এর বিশেষণ হওয়া সঠিক হয় না। কারণ "পাপ ক্ষমাকারী এবং তওবা কবুলকারী" এর অর্থ হলো তিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং তওবা কবুল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন" এবং তিনি বলেন: "তিনিই তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন"। সুতরাং এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রদান করে, ফলে এর সম্বন্ধ (ইদাফাত) হবে অশুদ্ধ বা অস্থায়ী। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, "পাপ ক্ষমাকারী" বলতে তাঁর সত্তায় এই গুণটি সুপ্রতিষ্ঠিত থাকাকে বোঝানো হয়েছে। আর যখন এটি তাঁর সত্তায় সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার অর্থে আসবে, তখন এটি অতীতকালের অর্থে বিশেষণ হবে, ফলে এর সম্বন্ধ হবে খাঁটি বা স্থায়ী এবং এটি তখন নির্দিষ্টতা (তারিফ) প্রদান করবে। ফলে এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পদের বিশেষণ হওয়া সঠিক হবে।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وهذ الجواب وإن كان سديداً في (غافر الذنب وقابل التوب) إلا أنه لا يمكن مثله في شديد العقاب، لأن (شديد العقاب) لا تكون إضافته إلا غير محضة على كل حال لأنه صفة مشبهة، فلا يفرق بين ماضيه وغيره بخلاف اسم الفاعل، فلا يكون، (يعني شديد العقاب) إلا نكرةً، فيبقى الاعتراض قائماً، فحكم بعض النحويين بأن (شديد العقاب) بدل بعد أن حكم بأن ما قبله صفات بالوجه الذي ذكرناه.

واختار بعضهم بأن يكون (غافر الذنب) من أول الأمر بدلاً كراهة أن يخالف بين الصفات فيجعل بعضها صفةً وبعضها بدلاً، وأجرى البواقي عليها بدلاً، فكأنه قال: م الله العزيز العليم، من رب غافر الذنب وقابل التوب العقاب.

وفي هذه الصفات إشكال آخر وهو قوله: (ذي الطول) ، فإنه معرفة، فلا يحسن أن يكون صفة لقوله (من الله) لأنك فصلت بينه وبينه بالبدل، ولا يحسن أن يكون صفةً للبدل لأنه نكرة (وذي الطول) معرفة، فالأولى أن يقال هو بدل من المبدل الأول، كأنه قال من الله العزيز العليم من رب غافر الذنب من الله ذي الطول، فعلى هذا يستقيم ولكن بتقدير البدل. انتهى كلامه. وفيه دليل بين على جواز تعدد البدل مع اتحاد المبدل منه، وهو غير ما حكى فيه أبو حيان المنع عن بعض أصحابه، فتأمله.

وأما المناقشة الرابعة وهو ما وقع من تغييره عن أجزاء القصيدة بالتفاعيل مع أن أجزاء العروض محصورة في أوزان معروفة لا يصح أن يكون شيء منها مفرداً للتفاعيل حسبما قرره الشيخ، فأقول هذا وهم فاحش، لأن التفاعيل عند العروضيون جمع لتفعيل، لا باعتبار أن لفظ هذا المفرد يوزن به، بل باعتبار أنه اسم موضوع للفظ خاص عندهم يوزن به ما يماثله من مطلق الحركات والسكنات، فالتفاعيل بمنزلة قولك الأجزاء، فكما أن مفرد الأجزاء جزء، وهو اسم للفظ الموزون به، كذلك مفرد التفاعيل تفعيل، وهو اسم لمفهوم الجزء عندهم، لا أنه شيء يوزن بلفظه، ففعولن مثلاً يطلق عليه جزء وتفعيل، سماه بذلك الخليل واضع هذا الفن.

والتفعيل في الأصل مصدر قولك فعلت الكلمة إذا أتيت فيها بلفظ (ف ع ل) ، ثم سمي به الجزء الذي فيه تلك الأحرف، كما أن التنوين مصدر قولك نونت الكلمة، إذا أتيت فيها بنون، ثم سموا النون نفسها إذا كانت على صفة خاصة بالتنوين، وقد يطلق العروضيون التفعيل على التقطيع مع الإتيان بالأمثلة الموازنة لذلك التقطيع كقولهم في قوله:

ستُبدى لك الأيامُ ما كنتَ جاهلاً

سَتُبدِى لَكَلْ أييَا مما كنْ تَجَاهِلَنْ

فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن

ويأتيك بالأخبار من لم تُزَوِّدِ

ويأْتي كَبلأخْبا رِمَلْلَمْ تُزوْوِدِي

فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن

وكذا في قوله:

لا تحسب المجدَ تمراً أنت آكلُهُ

لا تحسبل مجد تم رَنْ أنتَ آكِلهُو

مستفعلن فاعلن مستفعلن فعلن

لا تبلغ المجد حتى تلعق الصبرا

لا تبلغلْ مَجْدَحضتْ تا تَلعَقَص صَبِرا

مستغعلن فاعلن مستفعلن فعلن

وكذا في قوله:

سَلِى إنْ جهلتِ الناسَ عنا وعنهمُ

سلى إن جهلتننا سعننا وعنهمو

فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن

فليسَ سواءً عالمٌ وجهولُ

فليس سوا أنعا لمنو جهولو

فعول مفاعيلن فعول فعولن

إلى آخره، فيستعملونه مصدراً، وهذا واضح لا يخفى على أصاغر الطلبة، والعجب من الشيخ أبي حيان رحمه الله كيف وقع في مثل هذا، وأعجب منذلك قوم راج عندهم هذا الوهم فسفهوا رأى من قال بخلافه عجزاً عن درك الحق وإخلاداً إلى التقليد، وظناً أن لا فضل إلا بتقدم العصر، والفضل بيد الله يؤتيه من يشاء، والله ذو الفضل العظيم. أعاذنا الله من حسد يسد باب الإنصاف، ويصد عن جميل الأوصاف بمنه وكرمه.

ولنرجع إلى ما نحن بصدده من كلام الناظم رحمه الله.

قال:

فرتِّبْ إلى اليا زِنْ دوائرَ خفْ لشقْ … أولاتِ عَدٍ جزءٌ لجزءٍ ثُناثُنا
এই উত্তরটি (পাপ ক্ষমাশীল এবং তওবা কবুলকারী) এর ক্ষেত্রে সঠিক হলেও, (কঠোর শাস্তিদাতা) এর ক্ষেত্রে তেমনটি হতে পারে না। কারণ (কঠোর শাস্তিদাতা) এর ইযাফাত সর্বাবস্থায় গায়রে মাহযা (অপ্রকৃত) হয়ে থাকে, যেহেতু এটি সিফাতে মুশাব্বাহ। তাই ইসমে ফায়েলের বিপরীতে এর অতীতকাল ও অন্যান্য সময়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যায় না। ফলে (অর্থাৎ কঠোর শাস্তিদাতা) শব্দটি অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) ছাড়া অন্য কিছু হয় না। এতে করে পূর্বোক্ত আপত্তিটি বহাল থাকে। তাই কিছু ব্যাকরণবিদ (কঠোর শাস্তিদাতা) শব্দটিকে ‘বাদাল’ হিসেবে গণ্য করেছেন, যখন তারা এর পূর্ববর্তী শব্দগুলোকে আমাদের বর্ণিত নিয়মে গুণবাচক শব্দ (সিফাত) হিসেবে গণ্য করেছিলেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ শুরু থেকেই (পাপ ক্ষমাশীল) শব্দটিকে ‘বাদাল’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন যাতে গুণবাচক শব্দগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য তৈরি না হয়; অর্থাৎ কিছু শব্দকে সিফাত এবং কিছুকে বাদাল গণ্য করতে না হয়। ফলে তিনি অবশিষ্ট শব্দগুলোকেও বাদাল হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন। যেন তিনি বলেছেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি মহা পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ, সেই রবের পক্ষ থেকে যিনি পাপ ক্ষমাশীল, তওবা কবুলকারী এবং কঠোর শাস্তিদাতা।

এই গুণবাচক শব্দগুলোর ক্ষেত্রে অন্য একটি জটিলতা রয়েছে, আর তা হলো তাঁর বাণী: (অনুগ্রহের অধিকারী)। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট পদ (মারেফা)। সুতরাং (আল্লাহর পক্ষ থেকে) এর গুণবাচক শব্দ হওয়া সঙ্গত নয়, কারণ আপনি এর এবং ঐ শব্দের মাঝে ‘বাদাল’ দিয়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। আবার এটি বাদালের সিফাত হওয়াও সঙ্গত নয়, কারণ বাদাল হলো অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) আর (অনুগ্রহের অধিকারী) শব্দটি নির্দিষ্ট (মারেফা)। তাই অগ্রগণ্য মত হলো এটি প্রথম ‘মুবদাল মিনহু’ এর বাদাল। যেন তিনি বলেছেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ, সেই রবের পক্ষ থেকে যিনি পাপ ক্ষমাশীল, আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি অনুগ্রহের অধিকারী। এভাবে বিষয়টি সঠিক হয়, তবে তা ‘বাদাল’ উহ্য ধরার মাধ্যমে। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ। এতে ‘মুবদাল মিনহু’ এক হওয়া সত্ত্বেও ‘বাদাল’ একাধিক হওয়ার বৈধতার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এটি আবু হাইয়ান বর্ণিত তাঁর কিছু সাথীদের মতের পরিপন্থী যারা এটিকে নিষেধ করেছেন। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।

আর চতুর্থ আলোচনাটি হলো কবিতার অংশগুলোকে ‘তাফাইল’ (ছন্দমাত্রা) দ্বারা পরিবর্তন করা সম্পর্কে। অথচ আরুয শাস্ত্রের অংশসমূহ সুপরিচিত ও সুনির্দিষ্ট ওজনে সীমাবদ্ধ এবং শায়খ (আবু হাইয়ান) যা সাব্যস্ত করেছেন সে অনুযায়ী তার কোনোটিই এককভাবে ‘তাফাইল’ হতে পারে না। আমি বলব, এটি একটি চরম বিভ্রম। কারণ আরুয শাস্ত্রবিদদের কাছে ‘তাফাইল’ শব্দটি ‘তাফইল’ এর বহুবচন। এর অর্থ এই নয় যে এই একক শব্দটি দিয়ে ওজন করা হয়, বরং এটি তাদের কাছে একটি বিশেষ শব্দের নাম যা দিয়ে সমজাতীয় নড়াচড়া (হারাকাত) ও থামা (সাকানাত) পরিমাপ করা হয়। সুতরাং ‘তাফাইল’ শব্দটি হলো ‘অংশসমূহ’ (আজযা) বলার মতো। যেমন ‘আজযা’ এর একবচন হলো ‘জুয’ বা অংশ, যা একটি পরিমাপযোগ্য শব্দের নাম; তেমনি ‘তাফাইল’ এর একবচন হলো ‘তাফইল’, যা তাদের পরিভাষায় অংশের মূল ধারণার নাম। এমনটি নয় যে এর আক্ষরিক রূপ দিয়েই কোনো কিছু ওজন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘ফাউলুন’ শব্দটিকে একটি অংশ (জুয) এবং একটি ‘তাফইল’ বলা হয়, এই শাস্ত্রের উদ্ভাবক খলীল ইবনে আহমদ একে এই নাম দিয়েছেন।

মূলত ‘তাকতি’ বা ছন্দ বিশ্লেষণের সময় ‘তাফইল’ শব্দটি ক্রিয়া বিশেষ্য (মাসদার) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যখন আপনি কোনো শব্দে (ফ-আ-ল) অক্ষরগুলো নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে যে অংশে ওই অক্ষরগুলো বিদ্যমান থাকে তাকেও এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন ‘তানউইন’ শব্দটি একটি মাসদার, যার অর্থ হলো শব্দের শেষে ‘নুন’ যুক্ত করা, পরবর্তীতে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নুনটিকেই ‘তানউইন’ নাম দেওয়া হয়েছে। আরুয শাস্ত্রবিদগণ ছন্দ বিশ্লেষণের উদাহরণ পেশ করার সময়ও ‘তাফইল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। যেমন তাদের নিমোক্ত পঙ্ক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়:

অদূর ভবিষ্যতে দিনগুলো তোমার সামনে তা প্রকাশ করবে যা তুমি জানতে না

সা-তুব-দি-লা-কাল-আই-ইয়া-মু-মা-কুন-তা-জা-হি-লান

ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন

এবং তোমার কাছে এমন ব্যক্তি খবর নিয়ে আসবে যাকে তুমি পাথেয় দাওনি

ওয়া-ইয়াতি-কা-বিল-আখ-বা-রি-মাল-লাম-তু-যাউ-উই-দি

ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন

অনুরূপভাবে এই পঙ্ক্তিতে:

মর্যাদাকে এমন খেজুর মনে করো না যা তুমি ভক্ষণ করবে

লা-তাহ-সাবি-ল-মাজ-দা-তাম-রান-আন-তা-আ-কি-লু-হু

মুস্তাফইলুন ফায়িলুন মুস্তাফইলুন ফাউলুন

তুমি উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি তিক্ততা আস্বাদন করবে

লা-তাব-লুগিল-মাজ-দা-হাত-তা-তাল-আকাস-সাব-রা

মুস্তাফইলুন ফায়িলুন মুস্তাফইলুন ফাউলুন

অনুরূপভাবে এই পঙ্ক্তিতে:

জিজ্ঞাসা করো যদি তুমি আমাদের ও তাদের সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা দূর করতে চাও

সালি-ইন-জাহিল-তিন-না-সা-আন-না-ওয়া-আন-হু-মু

ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন

কেননা জ্ঞানী আর অজ্ঞ কখনো সমান নয়

ফালিসা-সা-ওয়া-আন-আ-লিমুন-ওয়া-জাহুলু

ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলুন ফাউলুন

ইত্যাদি। তারা একে মাসদার হিসেবে ব্যবহার করেন। এটি স্পষ্ট এবং সাধারণ ছাত্রদের কাছেও অস্পষ্ট নয়। শায়খ আবু হাইয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর মতো ব্যক্তি কীভাবে এমন ভুলের মধ্যে পড়লেন তা বিস্ময়কর। এর চেয়েও বেশি বিস্ময়কর হলো সেই সব মানুষ যাদের কাছে এই বিভ্রমটি সঠিক বলে মনে হয়েছে এবং সত্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে ও অন্ধ অনুকরণের কারণে তারা ভিন্ন মতাবলম্বীদের সিদ্ধান্তকে মূর্খতা বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা মনে করেছে যে শ্রেষ্ঠত্ব কেবল আগের যুগে জন্ম নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী। আল্লাহ আমাদের এমন হিংসা থেকে রক্ষা করুন যা ন্যায়ের পথ বন্ধ করে দেয় এবং তাঁর করুণা ও দানে উত্তম গুণাবলি থেকে বিমুখ করে রাখে।

এখন আমরা মূল লেখকের (নাযিম) আলোচনার দিকে ফিরে যাই যা আমরা আলোচনা করছিলাম।

তিনি বলেছেন:

অতঃপর ‘ইয়া’ পর্যন্ত বিন্যস্ত করো সেই বৃত্তগুলো যা বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করবে … গণনার অধিকারী অংশ থেকে অংশে দুই-দুই করে।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أقول: يعني أنك ترتب الأحرف المرموز بها في البيتين السابقين المشتملين على الأشارة إلى الأجزاء العشرة على الترتيب المعروف في (أبجد) من الألف إلى الياء، فاقتضى ذلك إلغاء ما ليس من هذه الحروف أصلاً كالفاء في (فدار كوني) ، وإلغاء ما يفضى إلى الإخلال بالترتيب المذكور كالباء من (بهمة) فإنها وإن كانت من حروف أبجد المرموز بها، لكن اعتبارها يؤدي إلى فساد الترتيب، فإن الباء ليست بعد الدال، وقد تقدمت فاقتضى ذلك إلغاءها والاعتداد بما بعدها وهو الهاء.

وقوله (زن) يعني زن بالأجزاء المتقدمة المرموز لها بأحرف أبجد المرتبة من الألف إلى الياء. والمراد بالوزن بها أنك تعمد إلى الشعر الذي تقصد وزنه فتقطعه قطعاً قطعاً على مقادير الأجزاء، وتقابل المتحرك بالمتحرك والساكن بالساكن، ويعبرون عن ذلك تارةً بالتفعيل وتارة بالتقطيع، وما أحسن قول بعض المتأخرين:

وبقلبي من الهموم مديدٌ … وبسيطٌ ووافرٌ وطويلُ

لم أكنْ عالماً بذاك إلى أنْ … قَّطع القلبَ بالقراق خليلُ

وقول الشيخ بهاء الدين السبكي رحمه الله:

إذا كنتَ ذا فكر سليم فلا تَمِلْ … لعلم عروضٍ يُوقع القلبَ في الكربِ

فكلُّ امرئٍ عانى العروضَ فإنما … تعرّضَ للتقطيع وانساقَ للضربِ

وإنما يعتبر عندهم في الوزن ما يدرك بحاسة السمع، وعلى ذلك ترسم الحروف عندهم.

فإذا عمدنا إلى تقطيع بيت وكتابته بهذا الهجاء فإننا ننظر أولاً في الشعر من أي جنس هو، وننظر أجزاءه التي تركب منها ثم نضع قطعةً من البيت مقابلةً لجزء من أجزاء التفعيل بمقداره من الحركات والسكنات ونعمل ذلك في جميع أجزاء البيت حتى يصير قطعاً بمقدار الأجزاء، ويلاحظ في ذلك مقابلة المتحرك بمثله في مطلق الحركة من غير نظر إلى خصوصيتها، وتقابل الساكن بمثله، فربما تجرأت الكلمة الواحدة فصار بعضها لجزء وباقيها لجزء آخر فيوصل بكلمة أخرى أو ببعض كلمة، كما رأيته في الأبيات التي فرغنا من تقعيلها آنفاً.

ثم لا يخلو الساكن أن يظهر على اللسان أولاً، فإن ظهر وأدركه السمع ثبت في الخط والتقطيع نحو نون (منك) . وسواء رسم في الخط الاصطلاحي أو لم يرسم نحو التنوين في (زيد) ، وصلة هاء الضمير وميم الجمع، وإن لم يظهر الساكن على اللسان لم يثبت في الخط ولا التقطيع، نحو ألف الوصل في قوله:

كلُّ عيش صائر للزوال

ونحو ما يسقط لالتقاء الساكنين من ألف أو واو أو ياء. وأما المتحرك فلا يخلو أن يكون مخففاً أو مشدداً، فإن كان مخففاً حسب بحرف واحد، وهو ظاهر، وإن كان مشدداً حسب بحرفين، الأول ساكن والثاني متحرك فيفكان في التقطيع ويلفظ بالأول بلفظ الثاني.

فإذا رسمت (الرجل) رسمته هكذا (أررجل) فأما زاده الكتاب في الهجاء الاصطلاحي كالألف بعد واو الجمع في (فعلوا) ، وكالواو في (عمرو) وكالألف في (مائة) ، أو نقصوه كهمزة (رؤس) وألف (دينر) و (كتب) وشبهه فذلك لا يعتبر في التقطيع لأنه لا يظهر على اللسان، بل يرد ذلك إلى أصله فيسقط الزائد ويلحق الناقص، بالله التوفيق.

وقوله (دوائر خف لشق) يعني زن بالأجزاء المذكورة أبحر الدوائر المرموز لها بالأحرف المجموعة من قوله (خف لشق) ، وهي أحرف اقتعطها من أسماء الدوائر ورمز لها بها.

والدوائر خمس: الأولى تسمى دائرة المختلف، وإليها أشار بالخاء، والثانية دائرة المؤتلف، وإليها أشار بالفاء، والثالثة تسمى دائرة المجتلب، وإليها أشار باللام، والرابعة تسمى دائرة المشتبه، وإليها أشار بالشين، والخامسة تسمى دائرة المتفق، وإليها أشار بالقاف.

ويقع في بعض النسخ (خف شلق) بتقديم الشين على اللام بناءً على أن الدائرة الثالثة تسمى دائرة المشتبه والرابعة تسمى دائرة الجتلب، وهو رأي لبعض العروضيين. وعلى هذه النسخة شرح الشريف. وما تقدم وهو الواقع في أكثر النسخ عندنا هو رأي الجمهور. ولا خلاف بين القائلين بالدوائر إنها خمس.
আমি বলছি: এর অর্থ হলো, আপনি আগের দুটি চরণে ব্যবহৃত প্রতীকী বর্ণগুলোকে—যেগুলো দশটি অংশকে নির্দেশ করে—‘আবজাদ’ (আলিফ থেকে ইয়া) এর পরিচিত ক্রম অনুযায়ী সাজাবেন। এর ফলে সেই বর্ণগুলো বাদ যাবে যা মূলত এই বর্ণগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন ‘ফাদার কুনি’ শব্দের ‘ফা’। আবার সেই বর্ণগুলোও বাদ যাবে যা উল্লিখিত ক্রম বজায় রাখতে বিঘ্ন ঘটায়, যেমন ‘বাহমাহ’ শব্দের ‘বা’। যদিও এটি আবজাদ অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু একে বিবেচনা করলে ক্রমবিন্যাস নষ্ট হয়ে যায়; কারণ ‘বা’ বর্ণটি ‘দাল’ এর পরে নয়, বরং তা আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। তাই একে বাদ দিয়ে এর পরবর্তী বর্ণ ‘হা’-কে গণ্য করা আবশ্যক।

আর তাঁর উক্তি ‘যিন’ (ওজন করো) এর অর্থ হলো: আলিফ থেকে ইয়া পর্যন্ত বিন্যস্ত আবজাদ বর্ণ দ্বারা নির্দেশিত পূর্বোক্ত অংশগুলো দিয়ে ওজন করো। ওজন করা বলতে উদ্দেশ্য হলো, আপনি যে কবিতাটির ছন্দ পরিমাপ করতে চান, তাকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করবেন যা ছন্দের মূল কাঠামোর সমপরিমাণ হবে। এরপর স্বরবর্ণের (মুতাহাররিক) বিপরীতে স্বরবর্ণ এবং স্থিরবর্ণের (সাকিন) বিপরীতে স্থিরবর্ণ স্থাপন করবেন। ছন্দবিদরা একে কখনো ‘তদরূপকরণ’ (তাফইল) আবার কখনো ‘ছন্দ বিশ্লেষণ’ (তাকতি) বলে অভিহিত করেন। উত্তরসূরিদের কারো উক্তি কতই না চমৎকার:

আমার হৃদয়ে দুশ্চিন্তার দীর্ঘ, প্রশস্ত, পূর্ণ ও দীর্ঘ ছন্দসমূহ বিরাজমান। … আমি এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না, যতক্ষণ না বিরহের মাধ্যমে আমার বন্ধু আমার হৃদয়কে টুকরো টুকরো করে দিল।

আর শেখ বাহাউদ্দিন সুবকি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর উক্তি:

তোমার যদি সুস্থ চিন্তা থাকে, তবে ছন্দবিদ্যার দিকে ঝুঁকো না, যা হৃদয়কে যন্ত্রণায় নিপতিত করে। … যে ব্যক্তিই ছন্দবিদ্যার কষ্ট সহ্য করেছে, সে যেন নিজ দেহকে খণ্ডবিখণ্ড করার এবং ছন্দ-আঘাতের সম্মুখীন করেছে।

ছন্দবিদদের নিকট ওজনের ক্ষেত্রে কেবল শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা যা অনুভূত হয় তা-ই বিবেচ্য। সেই অনুযায়ী তাঁদের নিকট বর্ণসমূহ চিত্রিত হয়।

আমরা যখন কোনো চরণের ছন্দ বিশ্লেষণ করতে এবং এই পদ্ধতিতে লিখতে উদ্যত হই, তখন আমরা প্রথমে দেখি কবিতাটি কোন শ্রেণির এবং এর গাঠনিক অংশগুলো কী কী। এরপর আমরা চরণের একটি অংশকে ছন্দের কাঠামোর সমপরিমাণ স্বর ও স্থিরতা অনুযায়ী মোকাবিলা করি। পুরো চরণের ক্ষেত্রে আমরা এমনটি করি যতক্ষণ না তা নির্ধারিত মাত্রার অংশে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে স্বরবর্ণের মোকাবিলায় যেকোনো স্বরবর্ণকেই ধরা হয়, তার নির্দিষ্ট প্রকার দেখা হয় না; আর স্থিরবর্ণকে স্থিরবর্ণ দিয়ে মোকাবিলা করা হয়। কখনও কখনও একটি শব্দ খণ্ডিত হয়ে যায়; ফলে তার একাংশ এক ছন্দের চরণে এবং বাকি অংশ অন্য চরণে চলে যায়, যা অন্য একটি শব্দের সাথে বা শব্দের অংশের সাথে যুক্ত হয়, যেমনটি আমরা একটু আগে ছন্দ বিশ্লেষণ শেষ করা চরণগুলোতে দেখেছি।

এরপর স্থিরবর্ণ (সাকিন) হয় মুখে উচ্চারিত হবে, নতুবা হবে না। যদি তা উচ্চারিত হয় এবং শ্রুতিগোচর হয়, তবে তা লিখন এবং বিশ্লেষণে বহাল থাকবে; যেমন ‘মিনকা’ শব্দের ‘নুন’। তা প্রচলিত লিখন পদ্ধতিতে লেখা হোক বা না হোক, যেমন ‘যাইদুন’ শব্দের তানউইন, সর্বনামের সংযোগকারী স্বর এবং বহুবচনের ‘মিম’-এর সংযোগ। আর যদি সাকিন বর্ণটি উচ্চারণে না আসে, তবে তা লিখনে বা বিশ্লেষণে স্থির থাকবে না; যেমন তাঁর এই উক্তিতে ‘আলিফ আল-ওয়াসল’ (সংযোগকারী আলিফ):

প্রতিটি জীবনই বিলুপ্তির পথে ধাবমান।

এবং দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে যে আলিফ, ওয়াও বা ইয়া বিলুপ্ত হয়। আর স্বরযুক্ত বর্ণটি (মুতাহাররিক) হয় একক হবে অথবা দ্বিত্ব হবে। যদি একক হয় তবে তাকে একটি বর্ণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যা স্পষ্ট। আর যদি দ্বিত্ব (তাশদিদযুক্ত) হয় তবে তাকে দুটি বর্ণ ধরা হবে; প্রথমটি সাকিন এবং দ্বিতীয়টি মুতাহাররিক। ছন্দ বিশ্লেষণে এদের আলাদা করা হবে এবং প্রথমটি দ্বিতীয়টির উচ্চারণে উচ্চারিত হবে।

অতএব যখন আপনি ‘আর-রাজুলু’ লিখবেন, তখন ছন্দের প্রয়োজনে তা এভাবে লিখবেন ‘আররজুলু’। আর লিপিকাররা প্রচলিত বানানে যা বৃদ্ধি করেছেন—যেমন ‘ফাআলু’ শব্দের ওয়াও-এর পরের আলিফ, ‘আমরুন’ শব্দের ওয়াও এবং ‘মিআহ’ শব্দের আলিফ—অথবা যা তাঁরা হ্রাস করেছেন—যেমন ‘রুউস’ শব্দের হামজা এবং ‘দিনার’ ও ‘কিতাব’ প্রভৃতি শব্দের আলিফ—সেগুলো ছন্দ বিশ্লেষণে বিবেচ্য হবে না। কারণ তা উচ্চারণে আসে না। বরং সেগুলোকে তাদের মূলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে; ফলে অতিরিক্ত অংশ ফেলে দেওয়া হবে এবং ঘাটতি অংশ যুক্ত করা হবে। আল্লাহর সাহায্যেই সব কাজ সম্পন্ন হয়।

আর তাঁর উক্তি ‘দাওয়াইরু খাফ লি-শাক্ক’ এর অর্থ হলো: আপনি উল্লিখিত অংশগুলো দিয়ে সেই বৃত্তের ছন্দসমূহ পরিমাপ করুন, যা ‘খাফ লি-শাক্ক’ বাক্যে সংগৃহীত বর্ণসমূহ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। এগুলো এমন কিছু বর্ণ যা তিনি বৃত্তগুলোর নাম থেকে গ্রহণ করেছেন এবং সেগুলোর প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

বৃত্তগুলো পাঁচটি: প্রথমটিকে বলা হয় ‘দা-ইরাতুল মুখতালিফ’, যার প্রতি তিনি ‘খা’ বর্ণ দ্বারা ইশারা করেছেন। দ্বিতীয়টি হলো ‘দা-ইরাতুল মুতালিফ’, যার প্রতি তিনি ‘ফা’ দ্বারা ইশারা করেছেন। তৃতীয়টিকে বলা হয় ‘দা-ইরাতুল মুজতালাব’, যার প্রতি তিনি ‘লাম’ দ্বারা ইশারা করেছেন। চতুর্থটিকে বলা হয় ‘দা-ইরাতুল মুশতাবিহ’, যার প্রতি তিনি ‘শিন’ দ্বারা ইশারা করেছেন। এবং পঞ্চমটিকে বলা হয় ‘দা-ইরাতুল মুত্তাফিক’, যার প্রতি তিনি ‘কাফ’ দ্বারা ইশারা করেছেন।

কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘লাম’-এর আগে ‘শিন’ দিয়ে ‘খাফ শালাক’ পাওয়া যায়। এটি এই যুক্তিতে যে, তৃতীয় বৃত্তটিকে ‘দা-ইরাতুল মুশতাবিহ’ এবং চতুর্থটিকে ‘দা-ইরাতুল মুজতালাব’ বলা হয়। এটি কোনো কোনো ছন্দবিদের মত। এই সংস্করণ অনুযায়ী আশ-শারিফ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তবে আগে যা বর্ণিত হয়েছে এবং আমাদের কাছে থাকা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে যা বিদ্যমান, সেটিই জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত। যারা বৃত্তের প্রবক্তা, তাঁদের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে বৃত্ত মোট পাঁচটি।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وبعض الناس أنكر الدوائر أصلاً ورأساً، وجعل كل شعر قائماً بنفسه، وأنكر أن تكون العرب قصدت شيئاً من ذلك، وقال إنا سمعناهم نطقوا بالمديد مسدساً، وبالبسيط (فعلن) في العروض مثلاً، وبالوافر () فعولن (فيها، وبالهزج والمقتضب والمجتث مربعات، ومن أين لنا أن ندرك أن أصل عروض الطويل كان مفاعيلن بالياء؟ وأن المديد كان من ثمانية أجزاء؟ وأن فعلن في البسيط كان أصله فاعلن بالألف؟ وأن عروض الوافر كانت في الأصل مفاعلتين ثم صارت على فعولن؟ إلى غير ذلك.

والأكثرون على خلاف هذا لأن حصر جميع الشعر في الدوائر المذكورة واطراد جريه فيها دل على ما اختص الله به العرب دون من عداهم، فكان ذلك سراً مكتما في طباعهم أطلع الله عليه الخليل واختصه بإلهام ذلك، وإن لم يشعروا هم به ولا نووه، كما لم يشعروا بقواعد النحو وأصول التصريف، و'نما ذلك مما فطرهم الله عليه. فالتثمين في المديد والتسديس في الهزج والمضارع وغيره من المجوزات أصل رفضه العرب كما رفضوا أصولاً كثيرةً من كلامهم على ما تقرر في علم النحو. وإذا تطرق الشك في ذلك إلى الشعر تطرق إلى الكلام حينئذ، فيتعذر باب كبير من أصول العربية، ولا خفاء بفساده، هكذا قرره بعض الفضلاء.

وقوله (أولات عد جزء لجزء ثنا ثنا) الظاهر فيه أن (أولات) منصوب على الحال، أي زن الدوائر الخمس المرموز لها بأحرف (خف لشق) حالة كونها أولات عد، أي مشتملة على أبحر معدودة مؤلفة من جزء مضموم لجزء آخر متكررين في كل بحر، وهو المراد بقوله ثنا ثنا، أي اثنين اثنين. يعني أن الأجزاء تتكرر في كل بحر من بحور الدوائر لأن كل بيت مصراعان يحتوي كل واحد منهما من الأجزاء في الأصل على مثل ما يحتوي عليه الآخر. عد مخفف من وعد المشدد، وحمله الشريف على أنه عامل الوصل معاملة الوقف، فخفف المضاعف كما يخفف في الوقف.

قال: ومثله ما أنشده أبو علي في التذكرة:

حتى إذا ما لم أجد غيرَ الشَّرِ

قال: فخفف وأطلق، ولم يكن ينبغي له إذ خفف أن يطلق، لأن التخفيف إنما هو لأجل الوقف. ونظيره قول الشاعر:

ببازلٍ وجناءَ أو عهيلِّ

فأجرى الوصل مجرى الوقف، إذ كان التشديد أيضاً جائراً في الوقف.

قال: (وإنما ساغ عندي حمل كلام الناظم على هذا القدر من الشذوذ الذي لا يحتمل إلا في الضرائر، ويجب على المولد أن يجتنبه- مع أن البيتين اللذين أنشدهما الأمر فيهما أخف منه في بيت الناظم لأن حرف الإطلاق قد لا يعد به، ألا ترى أن من أنشد:

أقلىّ اللومَ عاذلَ والعتابُ

قد حذفه- لأن الناظم كثيراً ما يرتكب مثل هذا القصيدة من الشذوذات) . قلت: قد وقع للمتقدمين ما يستند إليه قول الناظم، كقول الشاعر:

ألَا ليت اللحَى كانت حشيشاً … فنعلَفها دوابَ المسلمينا

وقول الآخر:

جَزَى الله الدّوابَ جزاء سوءٍ … وألبسهن من جَرَبٍ قميصا

وقوله (ثنا ثنا) كل واحد منهما لفظ معدول عن اثنين اثنين، وقصره للضرورة، والأول منصوب على الحال، والثاني تأكيد له. ونظيره في استعمال المعدول تأكيداً قوله صلى الله عليه وسلم: (صلاة الليل مثنى مثنى) ، فالأولى خبر المبتدأ، والثانية تأكيد لها. ووقع في شرح هذه المقصورة لمتأخر عصري النصف الثاني من هذا البيت على هذه الصورة:

أولاتِ عدا جزء كجزء ثنا ثنا

وفسره بأن قال. أي وهذا الرمز هو الآتي في البيتين الآتيين معدوداً فيهما، وجزء كل بحر من الأجزاءمكرر في دائرته مرتين، وإلى هذا أشار بقوله (ثنا ثنا) . قال الجواهري: الثنا، مقصور، الأمر يعاد مرتين. وفي الحديث. (لا ثنا في الصدقة) ، أي لا تؤخذ في السنة مرتين. وقال الشاعر:

لعمري لقد كانت زيارتُها ثنى

انتهى كلامه فتأمله. قال:

خَ ثَمن أَبِنْ زهرٌ ولهْ فلسِّتةٍ … جَلَتْ حُضّ لُذْ بَل وفِّ زِنْ شِمِ وَوطَلَا

وطولُ عزيزٍكم بِدعبلِكمْ طوَوا … يعزِّزُ قسْ تثمينَ أشرفَ ما ترى

أقول. لما أشار إلى أن الدوائر خمس: شرع في ذكرها على التفصيل، وما اشتملت عليه كل دائرة من الأبحر، ووزن كل بحر.

فقوله: (خ) إشارة إلى الدائرة الأولى، زهي دائرة المختلف. وقوله (ثمن) إشارة إلى أنها مثمنة الأجزاء، فكل بحر من أبحرها بحسب الأصل مركب من ثمانية أجزاء، وهي مشتملة على ثلاثة أبحر مستعملة.
কিছু লোক ছন্দবৃত্তসমূহকে মূলগতভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন এবং প্রতিটি কবিতাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গণ্য করেছেন। তারা অস্বীকার করেছেন যে আরবরা এগুলোর কোনোটির উদ্দেশ্য করেছিল। তারা বলেন, আমরা তাদের থেকে 'মাদীদ' ছন্দকে ষড়পদী, 'বাসীত' ছন্দের আরুযকে উদাহরণস্বরূপ 'ফালুন' রূপে, 'ওয়াফির' ছন্দে 'ফাউলুন', এবং 'হাযাজ', 'মুকতাদাব' ও 'মুজতাস' ছন্দসমূহকে চতুর্পদী হিসেবে উচ্চারিত হতে শুনেছি। আমরা কীভাবে জানব যে 'তওয়ীল' ছন্দের আরুযের মূল ছিল 'ইয়া' যুক্ত 'মাফাইয়ীলুন'? অথবা 'মাদীদ' আট অংশ বিশিষ্ট ছিল? অথবা 'বাসীত' ছন্দের 'ফালুন'-এর মূল ছিল আলিফ যুক্ত 'ফাইলাউন'? অথবা 'ওয়াফির' ছন্দের আরুয মূলে 'মাফালাতাইন' ছিল যা পরবর্তীতে 'ফাউলুন' হয়ে গেছে? ইত্যাদি।

অধিকাংশের অভিমত এর বিপরীত, কারণ উল্লিখিত বৃত্তসমূহের মধ্যে সমস্ত কবিতার সীমাবদ্ধতা এবং এর সুশৃঙ্খল প্রবাহ সেই বৈশিষ্ট্যেরই প্রমাণ যা আল্লাহ অন্যদের বাদ দিয়ে আরবদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। এটি তাদের স্বভাবের মধ্যে একটি লুকায়িত রহস্য ছিল, যা আল্লাহ খলিলকে অবগত করেছিলেন এবং তাকে এটি অনুধাবনের জন্য বিশেষভাবে ইলহাম দান করেছিলেন; যদিও তারা নিজেরা তা অনুভব করেনি বা উদ্দেশ্য করেনি, যেমনটি তারা নাহুর (ব্যাকরণ) নিয়ম এবং সরফের (রূপান্তর) মূলনীতিসমূহ অনুভব করেনি। বরং এটি আল্লাহ তাদের যে স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছেন তারই অংশ। সুতরাং 'মাদীদ' ছন্দে আট অংশবিশিষ্ট হওয়া এবং 'হাযাজ' ও 'মুদারি' এবং অন্যান্য অনুমোদিত ছন্দসমূহে ছয় অংশবিশিষ্ট হওয়া এমন এক মূলনীতি যা আরবরা পরিহার করেছে, যেমনটি তারা তাদের ভাষায় অনেক মূলনীতি পরিহার করেছে যা নাহু শাস্ত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদি কবিতার ক্ষেত্রে এতে সন্দেহের অবকাশ থাকে, তবে সে সময় গদ্যের ক্ষেত্রেও সন্দেহের অবকাশ তৈরি হবে, যার ফলে আরবির মূলনীতির একটি বড় অধ্যায় অকেজো হয়ে পড়বে; আর এর অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট। এভাবেই জনৈক শ্রেষ্ঠ আলিম এটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তাঁর উক্তি (ওলাত আদ্দু জুযয়িন লিজুযয়িন সানা সানা)-এর বাহ্যিক অর্থ হলো 'ওলাত' শব্দটি অবস্থা (হাল) হিসেবে মানসুব হয়েছে। অর্থাৎ, (খিফ লিশাক) অক্ষরগুলো দ্বারা সংকেতকৃত পাঁচটি বৃত্তের ওজন করো এমন অবস্থায় যখন সেগুলো গণনাযোগ্য হবে, অর্থাৎ প্রতিটি ছন্দে অন্য একটি অংশের সাথে যুক্ত হয়ে বারবার ফিরে আসা নির্দিষ্ট সংখ্যক ছন্দসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে। আর 'সানা সানা' তথা 'দুই দুই' বলতে এটিই বুঝানো হয়েছে। এর অর্থ হলো, বৃত্তসমূহের প্রতিটি ছন্দে অংশগুলো পুনরাবৃত্তি হবে, কারণ প্রতিটি পংক্তি হলো দুটি চরণের সমষ্টি, যার প্রতিটি মূলগতভাবে অপরটির সমান অংশসমূহ ধারণ করে। 'আদ্দুন' শব্দটি তাশদীদযুক্ত শব্দ থেকে সহজ করা হয়েছে। শরিফ এটিকে এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যে তিনি মিলনের ক্ষেত্রে বিরতির ন্যায় আচরণ করেছেন, ফলে দ্বিত্ব বর্ণকে সহজ করেছেন যেমনটি বিরতির ক্ষেত্রে করা হয়।

তিনি বলেছেন: এর অনুরূপ হলো যা আবু আলি 'তাজকিরাহ' গ্রন্থে পাঠ করেছেন:

যতক্ষণ না আমি মন্দ ব্যতীত অন্য কিছু পেলাম না

তিনি বলেছেন: তিনি সহজ করেছেন এবং দীর্ঘ করেছেন; অথচ সহজ করার সময় তার জন্য দীর্ঘ করা উচিত ছিল না, কারণ সহজ করা হয় কেবল বিরতির কারণে। এর সদৃশ হলো কবির উক্তি:

দৃঢ়পদ বিশিষ্ট মাংসল উষ্ট্রী অথবা উটের মাধ্যমে

এখানে তিনি মিলনের ক্ষেত্রে বিরতির নিয়ম প্রয়োগ করেছেন, কারণ বিরতির ক্ষেত্রেও দ্বিত্ব হওয়া জায়েয ছিল।

তিনি বলেছেন: (আমার নিকট নাযেমের বক্তব্যকে এই পর্যায়ের বিরলতার ওপর প্রয়োগ করা সমীচীন মনে হয়েছে যা কেবল কাব্যিক প্রয়োজনে ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের জন্য এটি পরিহার করা আবশ্যক—যদিও তিনি যে দুটি পংক্তি পাঠ করেছেন সেগুলোর বিষয়টি নাযেমের পংক্তির তুলনায় অনেক সহজ, কারণ দীর্ঘ স্বরবর্ণের মাধ্যমে অনেক সময় গণনা করা হয় না; আপনি কি দেখেন না যে ব্যক্তি পাঠ করেছে:

হে ভর্ৎসনাদানকারী, ভর্ৎসনা ও নিন্দা কমিয়ে দাও

সেটি বিলোপ করেছে—কারণ নাযেম এই কাসিদায় প্রায়ই এই ধরণের বিরল বিষয়গুলো গ্রহণ করেছেন)। আমি বলি: পূর্ববর্তীদের কাব্যে এমন কিছু পাওয়া যায় যা নাযেমের বক্তব্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যেমন কবির উক্তি:

আহ্! দাড়িগুলো যদি ঘাস হতো … তবে আমরা সেগুলো মুসলিমদের পশুদের খাওয়াতাম

এবং অন্য একজনের উক্তি:

আল্লাহ পশুদের মন্দ প্রতিফল দিন … এবং তাদের চুলকানিযুক্ত জামা পরিধান করান

এবং তাঁর উক্তি 'সানা সানা' এর প্রতিটি শব্দ 'দুই দুই' থেকে পরিবর্তিত শব্দ, এবং কাব্যিক প্রয়োজনে এটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। প্রথমটি অবস্থা (হাল) হিসেবে মানসুব এবং দ্বিতীয়টি তার গুরুত্ব প্রদানের জন্য। গুরুত্ব প্রদানের জন্য পরিবর্তিত শব্দের ব্যবহারের উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উক্তি: (রাতের সালাত দুই দুই রাকাত), এখানে প্রথমটি সংবাদের খবর এবং দ্বিতীয়টি তার গুরুত্ব প্রদানকারী। এই মাকসুরাহ কাব্যের জনৈক সমসাময়িক ব্যাখ্যাকারীর ব্যাখ্যায় এই পংক্তির দ্বিতীয় অর্ধাংশ এই রূপে পাওয়া গেছে:

ওলাত আদা জুযয়িন কাজুযয়িন সানা সানা

এবং তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ এই সংকেতটিই পরবর্তী দুটি পংক্তিতে গণনার সাথে আসবে, এবং প্রতিটি ছন্দের প্রতিটি অংশ তার বৃত্তে দুইবার পুনরাবৃত্তি হবে; আর 'সানা সানা' বলে তিনি এদিকেই ইশারা করেছেন। জাওহারি বলেছেন: 'আস-সানা' হলো সংক্ষিপ্ত রূপ, এর অর্থ হলো কোনো বিষয় দুইবার পুনরাবৃত্তি করা। হাদীসে এসেছে: (যাকাতের ক্ষেত্রে কোনো সানা নেই), অর্থাৎ বছরে দুইবার যাকাত নেওয়া হবে না। জনৈক কবি বলেছেন:

আমার জীবনের কসম, তার যিয়ারত ছিল দুইবার

তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ, সুতরাং এটি নিয়ে চিন্তা করুন। তিনি বলেছেন:

খা বর্ণটি আটটি প্রকাশ করে এবং এটি ছয়টির জন্য … সেগুলো উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর ওজন ও পূর্ণতা পরীক্ষা করো

এবং প্রিয়জনের দীর্ঘতা তোমাদের কবির ন্যায় দীর্ঘ … শ্রেষ্ঠ যা তুমি দেখবে তার আট অংশকে শক্তিশালী করো

আমি বলি: যখন তিনি ইশারা করলেন যে বৃত্তসমূহ পাঁচটি, তখন তিনি সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা এবং প্রতিটি বৃত্তে কতটি ছন্দ রয়েছে এবং প্রতিটি ছন্দের ওজন কী, তা বর্ণনা করতে শুরু করলেন।

সুতরাং তাঁর উক্তি: (খা) হলো প্রথম বৃত্তের প্রতি ইশারা, যা হলো বিভিন্নতার বৃত্ত। এবং তাঁর উক্তি (আট বিশিষ্ট) হলো এই ইশারা যে, এটি আট অংশ বিশিষ্ট। সুতরাং এর প্রতিটি ছন্দ মূল অনুযায়ী আটটি অংশ নিয়ে গঠিত এবং এটি তিনটি ব্যবহৃত ছন্দের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأول بحر الطويل، ووزنه (فعولن مفاعيلن) أربع مرات. أشار إلى (فعولن) بالألف من (أبن) المشار بها إلى (أصابت) ، وإلى (مفاعيلن) بالباء منه المشار بها إلى (بسهميها) ، فكأنه يقول: دائرة المختلف مثمنة، وفيها بحر وزنه: (أصابت بسهميها) أربع مرات، وعلى ذلك فقس. غير أنه فاته تسمية البحر فاستدرك ذلك عند إتيانه بالأبيات المتضمنة للكلمات المشار بها إلى شواهد الأعاريض والضروب والزحاف كما سيأتي مفصلاًَ. والنون من قوله (أبن) ملغاة لأنها ليست من أحرف الرمز.

البحر الثاني المديد. ووزنه (فاعلاتن فاعلن) أربع مرات. أشار إلى مستفعلن بالواو من قوله (وله) المشار بها إلى (وقعيهما) ، وأشار إلى (فاعلن) بالهاء منه المشار بها إلى (همة) . واللام المتوسطة بين الواو والهاء ليست من أحرف الرمز، فهي ملغاة لا يقع بها لبس.

وقد علمت أن الوتد الموجود في هذه الدائرة مجموع وأنها ليس بهل وتد مفروق، فإذن كل من (فاعلاتن) الواقع في المديد (ومستفعلن) الواقع في البسيط مجموع الوتد.

ويخرج من هذه الدائرة بحران مهملان أحدهما وزنه (مفاعيلن فعولن) أربع مرات، عكس الطويل. ويسميه بعضهم المستطيل. وحكى عن الخليل أن العرب لم تستعمله، وأن السبب في إهماله ما يلزم عليه من وقوع سببين بين وتدين في أوله فلا يمكن زحافهما.

واعترض بأن هذه العلة لو صحت للزم إهمال الهزج والمضارع والمقتضب، لأن كلاً منها مبني على سببين بين وتدين، فلا يمكن زحافهما. وأجيب بأنها لا يمكن في تأليفها إلا ذلك، إذ لا خماسي فيها، بخلاف هذا لأن فيه خاسياً، فيخرج من المحذور بتقديمه.

واستشكله الصفاقسي، قال: (والأشبه ما قاله الزجاج، وهو أن (مفاعيلن) لو وقع أولاً لجاز خرمه، لأن أوله وتد مجموع، ويلزم أن يقع الخرم في جزء أصله أن يقع بذلك في حشو البيت ولا نظير له) . واعترضه أبو الحكم بأن هذا لو صح لما وقع الخرم في (مفاعيلن) في الهزج لوقوعها في الطويل حشواً، لكن قد وقع فيها فدل على عدم اعتبار هذه العلة. قال الصفاقسي: (ولقائل أن يجيب عنه بأن المحذور الذي ألزمناه هو وقوع الخرم في جزء أصله أن يقع بذلك حشواً لبيت، أي في تلك الدائرة، و (مفاعيلن) في دائرة الهزج أصله أن يقع فيها بدءاً فلا تصلح ناقضةً لتعليله والله اعلم. وقد نظم المولدون على هذا الوزن المهمل كقول بعضهم:

لقد هاج اشتياقي غريرُ الطّرف أحورْ … أديرَ الصدغُ منه على مسكس وعنبرْ

وقول الآخر:

أَمِط عنيّ ملاماً برَى جسمي مداهُ … فما قلبي جليداً على سمع الملامِ

وقول الآخر:

أيسلو عنك قلبٌ بنار الحب يَصلَى … وقد سدّدت نحوي من الألحاظ نَصْلا

البحر الثاني المهمل مقلوب المديد. وزنه (فاعلن فاعلاتن) أربع مرات، وسموه بالممتد، وقد نظم المولدون عليه أيضاً كقول بعضهم:

صاد قلبي غزال أحور ذو دلال … كلما زدت حباً زاد مني نفورا

وقول الآخر:

قد شجاني حبيبٌ واعتراني ادكارُ … ليته إذ شجاني ما شجته الديارُ

وقد جرت العادة بأن يوضع شكل دائرة، ويرسم عليها نصف واحد من تفعيل البحر الأول منها بأن تجعل علامة المتحرك صورة حلقة صغيرة وتجعل علامة الساكن صورة ألف، فتضع الدائرة هكذا: وطريق الفك أنك تبتدئ من أول كل وتد وسبب وتمر إلى الآخر، فإن اتفق فوات شيء من أول الدائرة فتداركه آخراً بأن تضيفه إلى ما فككته حتى تصل إلى المحل الأول الذي ابتدأت منه، فتبتدئ هنا من أول وتد في الدائرة وتمر إلى منتهاها، فيكون (فعولن مفاعلين، وهو بحر الطويل. ثم تبتدئ من أول سبب فيها فتقول (لن مفاعيلن فعولن مفاعيلن وتضيف إليه ما فات مما سبق، وهو فعو، فيحدث بحر المديد، وهو (فاعلاتن فاعلن) .

ثم تبتدئ من أول الوتد الثاني فيكون (مفاعيلن فعولن مفاعيلن) وتضيف إليه ما فات سبقاً فيحدث وزن المهمل الأول المسمى بالمستطيل.

ثم تبتدئ من أول سبب بعد هذا الوتد الثاني فتقول (عيلن فعولن مفاعيلن) ، وتتدارك ما فات سبقاً، وهو (فعولن مفا) ، فيحدث بحر البسيط.

ثم تبتدئ من ثاني سبب فتقول (لن فعولن مفاعيلن) ، وتتدارك ما سبق وهو (فعولن مفاعي) ، فيحدث البحر تامسمى بالممتد.
প্রথমটি হলো তবিল বাহর, এর ওজন হলো (ফাউলুন মাফাইলুন) চার বার। তিনি (ফাউলুন)-কে 'ইবন' শব্দের 'আলিফ' দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন যা দিয়ে 'আসাবাত' শব্দটিকে বোঝানো হয়েছে, এবং (মাফাইলুন)-কে এর 'বা' বর্ণ দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন যা দিয়ে 'বিসাহমাইহা' শব্দটিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে তিনি যেন বলছেন: মুখতালিফ বৃত্তটি আটটি অংশ বিশিষ্ট, এবং এতে এমন একটি বাহর রয়েছে যার ওজন: (আসাবাত বিসাহমাইহা) চার বার, আর এর ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্যগুলো অনুমান করে নিন। তবে তিনি বাহরটির নাম উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছিলেন, তাই তিনি পরবর্তী সেই কবিতাগুলো উল্লেখ করার সময় এর সংশোধন করে নিয়েছেন যার মধ্যে আরুজ, জরব এবং যিহাফের দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহৃত শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে। আর 'ইবন' শব্দের 'নুন' বর্ণটি বাতিল বলে গণ্য, কারণ এটি সংকেতজ্ঞাপক বর্ণসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।

দ্বিতীয় বাহরটি হলো মাদিদ। এর ওজন হলো (ফাইলাতুন ফাইলুন) চার বার। তিনি তার উক্তি 'ওয়ালাহু'-এর 'ওয়াও' বর্ণ দ্বারা 'মুস্তাফইলুন'-কে ইঙ্গিত করেছেন যা দিয়ে 'ওয়াক্বআইহিমা' শব্দটিকে বোঝানো হয়েছে, আর এর 'হা' বর্ণ দ্বারা 'ফাইলুন'-কে ইঙ্গিত করেছেন যা দিয়ে 'হিম্মাহ' শব্দটিকে বোঝানো হয়েছে। 'ওয়াও' এবং 'হা'-এর মধ্যবর্তী 'লাম' বর্ণটি সংকেতজ্ঞাপক বর্ণের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি বাতিল এবং এর ফলে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে না।

আপনি ইতোমধ্যে জেনেছেন যে, এই বৃত্তে বিদ্যমান 'ওয়াতাদ' (ছন্দ-মূল) হলো 'মাজমু' (সংযুক্ত) এবং এতে কোনো 'ওয়াতাদ মাফরুক্ব' (বিচ্ছিন্ন মূল) নেই। সুতরাং, মাদিদ বাহরে অবস্থিত (ফাইলাতুন) এবং বাসিত বাহরে অবস্থিত (মুস্তাফইলুন)-এর প্রত্যেকটিই 'ওয়াতাদ মাজমু' বা সংযুক্ত মূল বিশিষ্ট।

এই বৃত্ত থেকে দুটি অব্যবহৃত (মুহমাল) বাহর বের হয়, যার একটির ওজন হলো (মাফাইলুন ফাউলুন) চার বার, যা তবিল বাহরের বিপরীত। কেউ কেউ একে 'মুস্তাতিল' নামে অভিহিত করেন। খলিল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে আরবরা এটি ব্যবহার করেনি, আর এটি অব্যবহৃত থাকার কারণ হলো এর শুরুতে দুটি ওয়াতাদের মাঝে দুটি 'সাবাব' (ছন্দ-অংশ) আসা আবশ্যক হয়ে পড়ে, ফলে সেগুলোতে 'যিহাফ' (বর্ণ সংকোচন) করা সম্ভব হয় না।

এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এই কারণটি যদি সঠিক হতো তবে হাজায, মুদারি এবং মুক্বতাদিব বাহরগুলোকেও অব্যবহৃত রাখা আবশ্যক হতো, কারণ এগুলোর প্রত্যেকটিই দুটি ওয়াতাদের মাঝে দুটি সাবাব-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত, ফলে সেগুলোতে যিহাফ সম্ভব নয়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এগুলোর গঠনে এটি ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই, কারণ এগুলোতে কোনো পঞ্চ-অক্ষর বিশিষ্ট অংশ (খুমাসি) নেই; পক্ষান্তরে আলোচ্য বাহরটি এর ব্যতিক্রম, কারণ এতে খুমাসি অংশ রয়েছে, তাই একে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে উক্ত নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

সাফাক্বিসি এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তিনি বলেন: (যাজ্জাজ যা বলেছেন সেটাই অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর তা হলো: (মাফাইলুন) যদি শুরুতে আসত তবে তাতে 'খরম' (প্রথম বর্ণ বিলোপ) জায়েজ হতো, কারণ এর শুরুটি হলো ওয়াতাদ মাজমু। আর এর ফলে এমন একটি অংশে 'খরম' হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে যার মূল অবস্থান হলো কবিতার মাঝখানে (হাশউ), অথচ এর কোনো নজির নেই)। আবু হাকাম এর ওপর আপত্তি তুলেছেন যে, এই কথা যদি সঠিক হতো তবে হাজায বাহরের (মাফাইলুন)-এ 'খরম' ঘটত না, কারণ তবিল বাহরে এটি মাঝখানের অংশ (হাশউ) হিসেবে আসে; কিন্তু বাস্তবে এতে খরম ঘটেছে, যা প্রমাণ করে যে এই কারণটি ধর্তব্য নয়। সাফাক্বিসি বলেন: (এর উত্তরে কেউ বলতে পারেন যে, আমরা যে সমস্যার কথা বলেছি তা হলো এমন অংশে 'খরম' হওয়া যার মূল হলো ওই বৃত্তের ভেতরে কবিতার মাঝখানে (হাশউ) হিসেবে থাকা; অথচ হাজায বৃত্তে (মাফাইলুন)-এর মূল হলো শুরুতে থাকা, সুতরাং এটি তার যুক্তি খণ্ডনের জন্য উপযুক্ত নয়, আল্লাহই ভালো জানেন)। পরবর্তী যুগের কবিরা (মুওয়াল্লাদুন) এই অব্যবহৃত ওজনে কবিতা রচনা করেছেন, যেমন কারো উক্তি:

সুদর্শন ও হরিণ-নয়না সুন্দরী আমার আকাঙ্ক্ষাকে প্রজ্জ্বলিত করেছে … যার গণ্ডদেশ মিশক ও আম্বরের ওপর আবর্তিত হয়।

অন্য একজনের উক্তি:

আমার থেকে সেই তিরস্কার দূর করো যা আমার দেহকে ক্ষয় করে ফেলেছে … তিরস্কার শোনার ক্ষেত্রে আমার অন্তর মোটেই ধৈর্যশীল নয়।

অন্যজনের উক্তি:

যে অন্তর ভালোবাসার আগুনে দগ্ধ হচ্ছে সে কি তোমাকে ভুলে থাকতে পারে? … অথচ তুমি আমার দিকে অপাঙ্গে তিরের ফলা নিক্ষেপ করেছ।

দ্বিতীয় অব্যবহৃত বাহরটি হলো মাদিদ বাহরের বিপরীত। এর ওজন (ফাইলুন ফাইলাতুন) চার বার, একে তারা 'মুমতাদ্দ' নামে অভিহিত করেছেন। পরবর্তী যুগের কবিরা এর ওপরও কবিতা রচনা করেছেন, যেমন কারো উক্তি:

একটি লাবণ্যময়ী ও হরিণ-নয়না সুন্দরী আমার হৃদয় শিকার করেছে … আমি যত বেশি ভালোবাসা বৃদ্ধি করি, সে তত বেশি আমা থেকে বিমুখ হয়।

অন্য একজনের উক্তি:

একজন প্রিয়জন আমাকে ব্যথিত করেছে এবং তার স্মৃতি আমাকে আচ্ছন্ন করেছে … হায়! সে যখন আমাকে ব্যথিত করল, তার গৃহগুলো কেন তাকে ব্যথিত করল না!

রীতি অনুযায়ী একটি বৃত্তের চিত্র অঙ্কন করা হয় এবং এর ওপর প্রথম বাহরের ছন্দের একটি অংশের অর্ধাংশ এমনভাবে আঁকা হয় যাতে গতিশীল (মুতাহাররিক) বর্ণের চিহ্ন হয় একটি ছোট বৃত্তের ন্যায় এবং স্থির (সাকিন) বর্ণের চিহ্ন হয় একটি আলিফের ন্যায়। আপনি বৃত্তটি এভাবে স্থাপন করবেন: আর ছন্দ বিশ্লেষণের পদ্ধতি হলো আপনি প্রত্যেক ওয়াতাদ ও সাবাব-এর শুরু থেকে যাত্রা করে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবেন। যদি বৃত্তের শুরু থেকে কিছু বাদ পড়ে যায় তবে তা শেষে যুক্ত করে সংশোধন করে নেবেন যতক্ষণ না আপনি সেই প্রথম স্থানে পৌঁছান যেখান থেকে শুরু করেছিলেন। এখানে আপনি বৃত্তের প্রথম ওয়াতাদ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত যাবেন, ফলে তা হবে (ফাউলুন মাফাইলুন), যা হলো তবিল বাহর। এরপর আপনি এর প্রথম সাবাব থেকে শুরু করবেন এবং বলবেন (লুন মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন) এবং এর সাথে পূর্বে যা বাদ পড়েছিল তা যুক্ত করবেন, আর তা হলো 'ফাউ', ফলে মাদিদ বাহর তৈরি হবে, যা হলো (ফাইলাতুন ফাইলুন)।

এরপর আপনি দ্বিতীয় ওয়াতাদের শুরু থেকে আরম্ভ করবেন, ফলে তা হবে (মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন) এবং এর সাথে পূর্বে যা বাদ গিয়েছিল তা যুক্ত করবেন, ফলে 'মুস্তাতিল' নামক প্রথম অব্যবহৃত বাহরটির ওজন তৈরি হবে।

এরপর আপনি এই দ্বিতীয় ওয়াতাদের পরের প্রথম সাবাব থেকে শুরু করবেন এবং বলবেন (ইলুন ফাউলুন মাফাইলুন), আর পূর্বে যা বাদ গিয়েছিল তা সংশোধন করে নেবেন, যা হলো (ফাউলুন মাফা), ফলে বাসিত বাহর তৈরি হবে।

এরপর আপনি দ্বিতীয় সাবাব থেকে শুরু করবেন এবং বলবেন (লুন ফাউলুন মাফাইলুন), আর পূর্বে যা বাদ গিয়েছিল তা গ্রহণ করবেন যা হলো (ফাউলুন মাফায়ি), ফলে 'মুমতাদ্দ' নামক বাহরটি তৈরি হবে।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فقد استبان لك أن هذه الدائرة تشتمل على خمسة أبحر. منها ثلاثة مستعملة، ومنها اثنان مهملان، وعرفت صفة الفك، وسميت بدائرة المختلف لتركبها من جزأين مختلفين خماسي وسباعي.

الدائرة الثانية دائرة المؤتلف، وإليها أشار بالفاء من قوله (فلستة) وأشار بالستة إلى أنها مسدسة الأجزاء، وفيها ثلاثة أبحر، اثنان منها مستعملان، وواحد مهمل.

فالأول من المستعملين هو بحر الوافر ووزنه (مفاعلتن ست مرات، وأشار إليه بالجيم من قوله (جلت) المشار بها إلى (جوارحنا) ، واللام والتاء لغو.

والثاني منها بحر الكامل، ووزنه (متفاعلن) ست مرات. أشار إليه بالحاء من قوله (حض) المشار بها إلى (حجبتهما) والضاد لغو.

والبحر المهمل وزنه (فاعلاتك) ست مرات. قال الصفاقسي: (والسبب في إهماله ما يلزم عليه من المحذور، وهو إما لزوم الوقف على المتحرك إن ترك الحرف الأخير على حاله من التحرك، أو عدم تماثل أجزاء البيت إن سكن لأنه من دائرة المؤتلف وهي مبنية على تماثل الأجزاء.

قال: وقد استعمله بعض المولدين وارتكب محذور عدم التماثل فقال:

ما رأيت من الجآذِرِ بالجزيرةِ … إذء رَمَيْنَ بأَسْهم جَرَحتَ فؤاءي

وقال الشريف إن السبب في إهماله ما يلزم عليه من تفريق السبب الثقيل من الخفيف، وكلاهما كالصوت الواحد الذي لا تفرق أبعاضه، ولذا أطلق أئمة هذا الفن عليهما اسم الفاصلة، فأفردوهما باسم يختص بهما كالوتد والسبب. وقد سبق الكلام معه في ذلك.

ولنرسم هذه الدائرة على هذه الصورة: فإذا ابتدأت من أول علامة وانتهيت إلى الآخر حدث بحر الوافر، ومن أول السبب الثقيل إليه بحر الكامل، ومن أول السبب الخفيف إليه البحر المهمل الذي ذكرناه، وسموه بالمتوفر.

وإنما سميت هذه الدائرة بدائرة المؤتلف لائتلاف أجزائها وتماثلها، لأن بحريها المستعملين مركبان من أجزاء سباعية فتماثلت لذلك.

الدائرة الثالثة دائرة المجتلب وإليها أشار باللام من قوله. (لذ، والذال ملغاة. وتشتمل على ثلاثة أبحر كلها مستعمل، ولا مهمل فيها، وهي مسدسة الأجزاء، قال الشريف. (ولم ينص الناظم على أنها مسدسة الأجزاء، لأن ما أشار إليه من التسديس عند ذكر الدائرة الثانية منسحب حكمه على جميع ما يذكر بعده حتى ينسخه بذكر التثمين عند الإشارة إلى الدائرة الخامسة، فاستصحب لهذه الدائرة والتي بعدها حال التسديس الذي نبه عليه أولاً بقوله (ستة) .

إذا تقرر ذلك فالأول من أبحر هذه الدائرة هو الهزج، ووزنه (مفاعيلن) ست مرات. أشار إليه بالباء من قوله (بل) المشار بها (بسهميها) ، واللام ماغاة، ولا يقع بإلغائها لبس، فإنها وإن كانت من الأحرف المرموز بها للدوائر فقد تقدم الرمز بها للدائرة في قوله (لذ) فلم يكن بالذي يعود إليها بعد أن فرغ منها.

البحر الثاني الرجز، ووزنه (مستفعلن) المجموع الوتد ست مرات. أشار إليه بالواو من قوله (وف) المشار بها إلى (وقعيهما) ، والفاء لغو، ولا لبس يقع بها وإن كانت رمز دائرة المؤتلفة لأنها قد تقدمت فلا يظن به الرجوع إليها بعد انتهاء الكلام عليها كما مر.

البحر الثالث الرمل، ووزنه (فاعلاتن) المجموع الوتد ست مرات. أشار إليه بالزاي من قوله (زن) المشار ها إلى (زائرتي) والنون ليست من حروف الرمز أصلاً فهي ملغاة ولا لبس.

ولترسم هذه الدائرة على هذه الصورة: فمن أول علامة إلى الآخر بحر الهزج. ومن أول السبب الأول إليه بحر الرجز، ومن أول السبب الثاني إليه بحر الرمل.

وسميت بدائرة المجتلب، لأن أجزاءها كلها اجتلبت من دائرة المختلف إليها، فمفاعيلن من الطويل، ومستفعلن من البسيط، وفاعلاتن من المديد.

فإن قلت: لم حكم باجتلابها من هناك إلى هنا دون العكس؟ قلت: أجاب الصفاقسي عنه بوجهين: الأول أن فائدة الاجتلاب إنما هي الاستعمال، وهي كلها هنا مستعملة بخلافها في دائرة المختلف، لأن بعضها مهمل. الثاني أن كل أجزاء هذه الدائرة في دائرة المختلف دون العكس.
আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই বৃত্তটি পাঁচটি বাহর (ছন্দ) অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে তিনটি ব্যবহৃত এবং দুটি অব্যবহৃত। আপনি ফাক-এর বৈশিষ্ট্য জেনেছেন এবং একে বৃত্তে মুখতালিফ (ভিন্নধর্মী বৃত্ত) নামে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ এটি পঞ্চাক্ষরী ও সপ্তাক্ষরী দুটি ভিন্ন অংশের সমন্বয়ে গঠিত।

দ্বিতীয় বৃত্তটি হলো বৃত্তে মু’তালিফ (সুসংগত বৃত্ত), যার দিকে তিনি তাঁর উক্তি ‘ফালিসিত্তাহ’ (সুতরাং ছয়টি) এর ‘ফা’ বর্ণ দিয়ে ইঙ্গিত করেছেন। আর ‘ছয়’ সংখ্যাটি দ্বারা তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে এটি ছয় অংশ বিশিষ্ট (ষড়পদী)। এতে তিনটি বাহর রয়েছে, যার দুটি ব্যবহৃত এবং একটি অব্যবহৃত।

ব্যবহৃত দুটির মধ্যে প্রথমটি হলো বাহরে ওয়াফির এবং এর ওজন (মাত্রা) হলো ‘মুফা’আলাতুন’ ছয় বার। তিনি তাঁর উক্তি ‘জাল্লাত’ এর ‘জিম’ বর্ণ দিয়ে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা দ্বারা ‘জাওয়ারিহুনা’ উদ্দেশ্য; আর ‘লাম’ ও ‘তা’ বর্ণ দুটি অতিরিক্ত।

এর মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো বাহরে কামিল এবং এর ওজন হলো ‘মুতফা’ইলুন’ ছয় বার। তিনি তাঁর উক্তি ‘হাদ্দ’ এর ‘হা’ বর্ণ দিয়ে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা দ্বারা ‘হুজাবাতুহুমা’ উদ্দেশ্য এবং ‘দাদ’ বর্ণটি অতিরিক্ত।

অব্যবহৃত বাহরটির ওজন হলো ‘ফা’ইলাতুকা’ ছয় বার। সাফাকুসি বলেন: (এটি অব্যবহৃত রাখার কারণ হলো এর ফলে যে অসুবিধার সৃষ্টি হয় তা। আর তা হলো হয় চলন্ত অক্ষরের (মুতাহাররিক) ওপর থামা বাধ্যতামূলক হওয়া—যদি শেষ অক্ষরটি তার চলন্ত অবস্থাতেই রাখা হয়, অথবা ছন্দের অংশগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতা তৈরি হওয়া—যদি সেটিকে স্থির (সাকিন) করা হয়। কারণ এটি বৃত্তে মু’তালিফ-এর অন্তর্ভুক্ত, যা অংশগুলোর সামঞ্জস্যের ওপর ভিত্তি করে গঠিত)।

তিনি বলেন: পরবর্তী যুগের কিছু কবি এটি ব্যবহার করেছেন এবং অসামঞ্জস্যতার ঝুঁকি নিয়েছেন। তিনি বলেছেন:

আমি দ্বীপে সেই হরিণশাবকদের মতো কাউকে দেখিনি … যখন তারা তাদের তীর ছুড়ল যা আমার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিল।

আশ-শরীফ বলেন, এটি অব্যবহৃত হওয়ার কারণ হলো এতে সাবাবে সাকিল (ভারী কারণ) এবং সাবাবে খাফিফ (হালকা কারণ)-এর বিচ্ছেদ ঘটে, অথচ উভয়টি একটি শব্দের মতো যার অংশগুলো পৃথক করা যায় না। এই কারণেই এই শাস্ত্রের ইমামগণ এই উভয়টিকে ফাসিলাহ নাম দিয়েছেন এবং এদেরকে একটি স্বতন্ত্র নামে অভিহিত করেছেন যা ওয়াতাদ ও সাবাবের মতো তাদের জন্য নির্দিষ্ট। এ বিষয়ে তাঁর সাথে ইতিপূর্বে আলোচনা হয়েছে।

আসুন আমরা এই বৃত্তটিকে নিম্নোক্ত চিত্রে অঙ্কন করি: যদি আপনি প্রথম চিহ্ন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পৌঁছান তবে বাহরে ওয়াফির তৈরি হবে, আর প্রথম সাবাবে সাকিল থেকে শুরু করলে বাহরে কামিল হবে, এবং প্রথম সাবাবে খাফিফ থেকে শুরু করলে সেই অব্যবহৃত বাহরটি হবে যা আমরা উল্লেখ করেছি, এবং তারা একে মুতাওয়াফফির নামে অভিহিত করেছেন।

এই বৃত্তটিকে বৃত্তে মু’তালিফ নামকরণ করা হয়েছে এর অংশগুলোর মিল ও সামঞ্জস্যের কারণে। কারণ এর দুটি ব্যবহৃত বাহর সপ্তাক্ষরী অংশ দিয়ে গঠিত, ফলে সেগুলো পরস্পর সদৃশ হয়েছে।

তৃতীয় বৃত্তটি হলো বৃত্তে মুজতালাব এবং এর দিকে তিনি তাঁর উক্তি ‘লায’ এর ‘লাম’ বর্ণ দিয়ে ইঙ্গিত করেছেন। আর ‘যাল’ বর্ণটি অতিরিক্ত। এটি তিনটি বাহর অন্তর্ভুক্ত করে যার সবগুলোই ব্যবহৃত, এতে কোনো অব্যবহৃত বাহর নেই। এটি ছয় অংশ বিশিষ্ট। আশ-শরীফ বলেন: (নাজিম বা ছন্দকার এটি ছয় অংশ বিশিষ্ট হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, কারণ দ্বিতীয় বৃত্তের আলোচনার সময় তিনি যে ষষ্ঠক হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তার হুকুম পরবর্তী সকল আলোচনার ওপর প্রযোজ্য হবে যতক্ষণ না পঞ্চম বৃত্তের বর্ণনায় অষ্টম বা আট অংশ বিশিষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি তা রহিত করেন। সুতরাং এই বৃত্ত এবং এর পরবর্তী বৃত্তের ক্ষেত্রে তিনি সেই ষষ্ঠক অবস্থাকেই বহাল রেখেছেন যা তিনি প্রথমে ‘সিততাহ’ (ছয়) বলে সতর্ক করেছিলেন)।

যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন এই বৃত্তের বাহরসমূহের মধ্যে প্রথমটি হলো হাজায, এবং এর ওজন হলো ‘মুফা’ঈলুন’ ছয় বার। তিনি তাঁর উক্তি ‘বাল’ এর ‘বা’ বর্ণ দিয়ে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা দ্বারা ‘বি-সাহমাইহা’ উদ্দেশ্য। আর ‘লাম’ বর্ণটি অতিরিক্ত, এবং এটি বাতিল করার ফলে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে না। যদিও এটি বৃত্তসমূহের প্রতীকি বর্ণগুলোর অন্যতম ছিল, কিন্তু ইতিপূর্বে ‘লায’ উক্তিতে একে বৃত্তের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং এটি সম্ভব নয় যে তিনি একটি বিষয় শেষ করার পর পুনরায় সেখানে ফিরে আসবেন।

দ্বিতীয় বাহরটি হলো রাজায, এবং এর ওজন হলো মাজমু’ ওয়াতাদ বিশিষ্ট ‘মুসতাফ’ইলুন’ ছয় বার। তিনি তাঁর উক্তি ‘ওয়াফ’ এর ‘ওয়াও’ বর্ণ দিয়ে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা দ্বারা ‘ওয়াক’আইহিমা’ উদ্দেশ্য। আর ‘ফা’ বর্ণটি অতিরিক্ত। এতে কোনো বিভ্রান্তি হবে না যদিও এটি বৃত্তে মু’তালিফাহ-এর প্রতীক ছিল, কারণ এটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এটি ধারণা করা যাবে না যে আলোচনা শেষ করার পর তিনি পুনরায় সেখানে ফিরে আসবেন, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় বাহরটি হলো রামাল, এবং এর ওজন হলো মাজমু’ ওয়াতাদ বিশিষ্ট ‘ফা’ইলাতুন’ ছয় বার। তিনি তাঁর উক্তি ‘যান’ এর ‘যা’ বর্ণ দিয়ে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা দ্বারা ‘যাইরাতি’ উদ্দেশ্য। আর ‘নুন’ বর্ণটি মূলগতভাবেই প্রতীকি বর্ণের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই এটি বাতিল এবং এতে কোনো বিভ্রান্তি নেই।

আসুন এই বৃত্তটিকে এভাবে অঙ্কন করি: প্রথম চিহ্ন থেকে শেষ পর্যন্ত বাহরে হাজায। প্রথম সাবাব থেকে শেষ পর্যন্ত বাহরে রাজায। আর দ্বিতীয় সাবাব থেকে শেষ পর্যন্ত বাহরে রামাল।

একে বৃত্তে মুজতালাব (আনীত বৃত্ত) বলা হয় কারণ এর সকল অংশ বৃত্তে মুখতালিফ থেকে এখানে আনা হয়েছে। সুতরাং ‘মুফা’ঈলুন’ নেওয়া হয়েছে বাহরে তাবিল থেকে, ‘মুসতাফ’ইলুন’ নেওয়া হয়েছে বাহরে বাসিত থেকে এবং ‘ফা’ইলাতুন’ নেওয়া হয়েছে বাহরে মাদিদ থেকে।

যদি আপনি প্রশ্ন করেন: কেন সেখান থেকে এখানে আনার হুকুম দেওয়া হলো, এর বিপরীতটি নয় কেন? আমি বলব: সাফাকুসি এর দুটি উত্তর দিয়েছেন: প্রথমত, আনার বা আহরণের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহার, আর এখানে সবগুলো বাহরই ব্যবহৃত, যা বৃত্তে মুখতালিফ-এর বিপরীত, কারণ সেখানে কিছু অংশ অব্যবহৃত। দ্বিতীয়ত, এই বৃত্তের সকল অংশ বৃত্তে মুখতালিফ-এ বিদ্যমান, কিন্তু এর বিপরীতটি সত্য নয়।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فإن قلت: الذي في دائرة المختلف وليس في هذه هو (فعولن وفاعلن) ، فجاز أن يكونا مجتلبين إليها من دائرة المتفق، إذ لا يشترط في الاجتلاب أن يكون من دائرة واحدة. ولئن سلم فيكفي اختلاف البعض في التسمية، قلت: أورده الصفاقسي أيضاً ثم قال: (ويمكن أن يجاب عنه بأن مرادنا من الاستدلال أحد الأمرين، إما المانعية، وإما الترجيح، وما ذكرتموه إنما ينفي المانعية ولا يلزم من انتفائها انتفاء الترجيح.

الدائرة الرابعة: دائرة المشتبه وإليها أشار بالشين من قوله (شم) والميم ملغاة ولا لبس يلحق بإلغائها لأنها ليست من حروف الرمز أصلاً ورأساً. وهي مسدسة الأجزاء ولم يحتج إلى التنصيص على تسديسها لما سبق.

وتشتمل على تسعة أبحر منها ستة مستعملة، والثلاثة الباقية مهملة.

فأما المستعملة فالأول منها بحر السريع. ووزنه (مستفعلن مستفعلن مفعولات) ، ومثلها. أشار إلى الجزأين الأولين بالواوين المتتاليتين من قوله (ووطء) المشار بها إلى (وقعيهما وقعيهما) وأشار إلى الجزء الثالث بالطاء المشار بها إلى (طولاهن) .

فكأنه يقول: دائرة المشتبه منها بحر وزنه: (وقعيهما طولاهن) ومثلهن.

الثاني: بحر المنسرح، ووزنه (مستفعلن مفعولات مستفعلن) ، ومثلها. أشار إلى هذه الأجزاء مرتبةً على هذا النمط بالواوين والطاء من قوله (وطول) المشار بهن إلى (وقعيهما طولاهن وقعيهما) كما سلف واللام لغو ليست من أحرف الرمز المشار به إلى الأجزاء ولا تلتبس باللام المرموز بها لدائرة المجتلب لما سبق.

الثالث: بحر الخفيف، وزنه (فاعلاتن مستفع لن فاعلاتن) ومثلها. وفاعلاتن هذه مجموعة الوتد ومستفع لن مفروقته كما سينطق لك به فك الدائرة بإذن الله تعالى. وأشار الناظم إلى أجزاء هذا البحر الثلاثة مسوقة على هذا الترتيب بالزائين والتاء بينهما من قوله: (عزيز) ، المشار بهن إلى (زائرائي يعتادها زائرتي) والعين ملغاة لا يقع بها التباس أصلاً، وكذا الكاف والميم الواقعان بعد الرمز.

الرابع: بحر المضارع، ووزنه (مفاعيلن فاع لاتن مفاعيلن) ، وثلها.

(وفاع لاتن) هذه مفروقة الوتد لما ستعرفه. وأشار الناظم إلى ذلك بالباءين والدال الواقعات في قوله (بدعبلكم) المشار بهن إلى (بسهميهما دار كوني بسهميهما) والعين واللام والكاف والميم كلها ملغاة لا ينشأ بإلغائهن ليس كما سبق.

الخامس: بحر المقتضب ووزنه (مفعولات مستفعلن مستفعلن) ومثلها.

(ومستفعلن هذه مجموعة الوتد. وأشار الناظم إلى ذلك بالطاء والواوين بعدهما من قوله (طووا) المشار بهن إلى (طولاهن وقعيهما وقعيهما) . فإن قلت: الألف بعد (طووا) ملغاة والالتباس بإلغائها واقع فإنها من الأحرف المرموز بها للأجزاء، وهي رمز (لأصابت) ، قلت: لا إلباس، وذلك لأنه قد علم أن كل بيت في الدائرة مركب من مصراعين، وكل مصراع منهما مماثل للآخر، فلو كانت الألف مشاراً بها إلى (أصابت) للزم أن يكون هذا البحر مثمناً.؟ والغرض أنه مسدس، وأيضاً فقد علم أنه لا خماسي بهذه الدائرة من الأبحر السابقة فانتفى اللبس واتضح الأمر.

السادس: بحر المجتث ووزنه (مستفع لن فاعلاتن) ومثلها. (ومستفع لن) هذه مفروقة الوتد، (وفاعلاتن) مجموعته كما يتبين لك. وأشار الناظم إلى هذه الأجزاء مسرودةً على هذا الوجه بالياء والزايين بعدها من قوله (يعزز) المشار بهن إلى (يعتادها زائراتي زائراتي) ، والعين ملغاة، ولا لبس. فهذه الأبحر الستة هي المستعملة من أبحر هذه الدائرة، وأما المهملة فثلاثة كما سبق.

البحر الأول بحر وزنه (فاعلاتن فاعلانت مستغفع لن) ، ومثلها (ومستفع لن) هذه مفروقة في الوتد لأنه مكان (لات) من (مفعولات) الذي هو الجزء الثالث من بحر السريع، وذلك لأن ابتداء (مستفع لن) من عينه كما ستراه.

ولم تضع العرب عليه شيئاً، وبيته من شعر المولدين:

ما لِسلمى في البرايا من مُشبهٍ … لا ولا البدرُ المنير المُسْتكملُ
যদি আপনি বলেন: যা 'মুতালিফ' বৃত্তের অন্তর্ভুক্ত কিন্তু এই বৃত্তে নেই তা হলো (ফাউলুন এবং ফাই্লুন), সুতরাং এটি সম্ভব যে এই দুটিকে 'মুত্তাফিক' বৃত্ত থেকে এখানে আনা হয়েছে, যেহেতু কোনো অংশ ধার করার (ইজতিলাব) ক্ষেত্রে এটি একই বৃত্ত থেকে হওয়া শর্ত নয়। আর যদি এটি মেনেও নেওয়া হয়, তবে নামকরণের আংশিক ভিন্নতাই যথেষ্ট। আমি উত্তরে বলব: সাফাকুসি এটিও বর্ণনা করেছেন এবং অতঃপর বলেছেন: (এর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, আমাদের দলীলের উদ্দেশ্য দুটি বিষয়ের একটি; হয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, অথবা অগ্রাধিকার দেওয়া। আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তা কেবল প্রতিবন্ধকতাকেই নাকচ করে, আর প্রতিবন্ধকতা নাকচ হওয়া থেকে অগ্রাধিকার নাকচ হওয়া আবশ্যক হয় না।)

চতুর্থ বৃত্ত: এটি হলো 'মুশতাবিহ' বৃত্ত এবং তিনি তাঁর উক্তি (শুম্মু) এর 'শিন' বর্ণ দ্বারা এর দিকে ইশারা করেছেন। এখানে 'মিম' বর্ণটি বর্জনীয়, আর এটি বর্জন করায় কোনো অস্পষ্টতা তৈরি হয় না, কারণ এটি মূলত কোনো সংকেতের বর্ণই নয়। এটি ছয় অংশ বিশিষ্ট, আর এর ছয় অংশ বিশিষ্ট হওয়ার কথা পূর্বে উল্লেখ করায় এখানে নতুন করে উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়নি।

এটি নয়টি ছন্দ (বাহর) অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে ছয়টি ব্যবহৃত এবং বাকি তিনটি পরিত্যক্ত।

ব্যবহৃত ছন্দগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো 'বাহর আল-সারি'। এর ওজন হলো (মুস্তাফইলুন মুস্তাফইলুন মাফউলাত) এবং এর অনুরূপ। তিনি তাঁর উক্তি 'ওয়া ওয়াতয়ু' এর পরপর দুটি 'ওয়াও' দ্বারা প্রথম দুই অংশের দিকে ইশারা করেছেন যা (ওয়াক্য়াইহিমা ওয়াক্য়াইহিমা) এর দিকে নির্দেশক। আর তৃতীয় অংশের দিকে ইশারা করেছেন 'ত' বর্ণ দ্বারা যা (তুলাহুন্না) এর দিকে নির্দেশক।

যেন তিনি বলছেন: 'মুশতাবিহ' বৃত্তের এমন একটি ছন্দ রয়েছে যার ওজন হলো: (ওয়াক্য়াইহিমা তুলাহুন্না) এবং এর অনুরূপ।

দ্বিতীয়টি হলো: 'বাহর আল-মুনসারীহ', এর ওজন হলো (মুস্তাফইলুন মাফউলাত মুস্তাফইলুন) এবং এর অনুরূপ। তিনি এই বিন্যাসে সাজানো অংশগুলোর দিকে 'ওয়াও' এবং 'ত' বর্ণ দ্বারা ইশারা করেছেন তাঁর উক্তি 'ওয়া তুলুন' এর মাধ্যমে, যা দ্বারা (ওয়াক্য়াইহিমা তুলাহুন্না ওয়াক্য়াইহিমা) কে বোঝানো হয়েছে যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে। আর 'লাম' বর্ণটি এখানে অনর্থক, এটি অংশগুলোর দিকে নির্দেশক কোনো সংকেত নয় এবং এটি 'মুজতালাব' বৃত্তের জন্য ব্যবহৃত সংকেত 'লাম' এর সাথে গুলিয়ে যাওয়ার অবকাশ নেই যা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তৃতীয়টি হলো: 'বাহর আল-খাফিফ', এর ওজন হলো (ফাইলাতুন মুস্তাফই লুন ফাইলাতুন) এবং এর অনুরূপ। এই 'ফাইলাতুন' হলো 'ওয়াতাদ মাজমু' (সংযুক্ত মূল) বিশিষ্ট এবং 'মুস্তাফই লুন' হলো 'ওয়াতাদ মাফরুক' (বিচ্ছিন্ন মূল) বিশিষ্ট, যেমনটি আল্লাহর ইচ্ছায় বৃত্ত খোলার সময় আপনার কাছে স্পষ্ট হবে। গ্রন্থকার এই ছন্দের তিনটি অংশের দিকে এই বিন্যাসে ইশারা করেছেন 'যা' এবং তার মধ্যবর্তী 'তা' বর্ণ দ্বারা তাঁর উক্তি (আযীযুন) এর মাধ্যমে। যা দ্বারা (যাইরাতি ইয়াতাদুহা যাইরাতি) এর দিকে ইশারা করা হয়েছে। এখানে 'আইন' বর্ণটি বর্জনীয়, এর দ্বারা কোনো প্রকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে না। একইভাবে সংকেতের পরে অবস্থিত 'কাফ' এবং 'মিম' বর্ণ দুটিও বর্জনীয়।

চতুর্থটি হলো: 'বাহর আল-মুদারে', এর ওজন হলো (মাফাই্লুন ফাই লাতুন মাফাই্লুন) এবং এর অনুরূপ।

আর এই (ফাই লাতুন) হলো 'ওয়াতাদ মাফরুক' বিশিষ্ট যা আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন। গ্রন্থকার এর দিকে ইশারা করেছেন তাঁর উক্তি (বিদাবলিকুম) এর মধ্যে অবস্থিত দুটি 'বা' এবং 'দাল' বর্ণ দ্বারা, যা দ্বারা (বিসাহমাইহিমা দার কুনী বিসাহমাইহিমা) এর দিকে ইশারা করা হয়েছে। আর 'আইন', 'লাম', 'কাফ' ও 'মিম'—সবই বর্জনীয়, এগুলোর বর্জনে কোনো অস্পষ্টতা তৈরি হয় না যেমনটি আগে বলা হয়েছে।

পঞ্চমটি হলো: 'বাহর আল-মুকতাদাব' এবং এর ওজন হলো (মাফউলাত মুস্তাফইলুন মুস্তাফইলুন) এবং এর অনুরূপ।

আর এই (মুস্তাফইলুন) হলো 'ওয়াতাদ মাজমু' বিশিষ্ট। গ্রন্থকার এর দিকে ইশারা করেছেন তাঁর উক্তি (তাওউ) এর 'ত' এবং এর পরের দুটি 'ওয়াও' দ্বারা, যা দ্বারা (তুলাহুন্না ওয়াক্য়াইহিমা ওয়াক্য়াইহিমা) এর দিকে ইশারা করা হয়েছে। যদি আপনি বলেন: (তাওউ) এর পরে অবস্থিত 'আলিফ' বর্ণটি বর্জনীয়, অথচ এটি বর্জন করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে কারণ এটি ছন্দাংশের একটি সংকেত বর্ণ, যা (আসাবাত) এর সংকেত। আমি বলব: কোনো অস্পষ্টতা নেই, কারণ এটি জানাই আছে যে বৃত্তের প্রতিটি পঙ্ক্তি দুটি চরণের সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতিটি চরণ অন্যটির অনুরূপ। যদি 'আলিফ' দ্বারা (আসাবাত) কে বোঝানো হতো, তবে এই ছন্দটি আট অংশ বিশিষ্ট হওয়া আবশ্যক হতো। অথচ উদ্দেশ্য হলো এটি ছয় অংশ বিশিষ্ট। তদুপরি, এটিও জানা আছে যে এই বৃত্তে পূর্ববর্তী ছন্দগুলোর মধ্যে কোনো পাঁচ বর্ণ বিশিষ্ট ছন্দ নেই, ফলে বিভ্রান্তি দূর হলো এবং বিষয়টি স্পষ্ট হলো।

ষষ্ঠটি হলো: 'বাহর আল-মুজতাস' এবং এর ওজন হলো (মুস্তাফই লুন ফাইলাতুন) এবং এর অনুরূপ। এখানে (মুস্তাফই লুন) হলো 'ওয়াতাদ মাফরুক' বিশিষ্ট এবং (ফাইলাতুন) হলো 'ওয়াতাদ মাজমু' বিশিষ্ট যেমনটি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে। গ্রন্থকার এই অংশগুলোর দিকে ধারাবাহিকভাবে ইশারা করেছেন তাঁর উক্তি (ইউইযযু) এর 'ইয়া' এবং তার পরের দুটি 'যা' বর্ণ দ্বারা। যা দ্বারা (ইয়াতাদুহা যাইরাতি যাইরাতি) এর দিকে ইশারা করা হয়েছে। এখানে 'আইন' বর্ণটি বর্জনীয় এবং কোনো অস্পষ্টতা নেই। এই ছয়টি ছন্দই হলো এই বৃত্তের ব্যবহৃত ছন্দ, আর পরিত্যক্ত ছন্দ হলো তিনটি যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

প্রথম পরিত্যক্ত ছন্দটি এমন যার ওজন হলো (ফাইলাতুন ফাইলাতুন মুস্তাফই লুন) এবং এর অনুরূপ। এখানে (মুস্তাফই লুন) এর ওয়াতাদটি বিচ্ছিন্ন (মাফরুক), কারণ এটি 'বাহর আল-সারি' এর তৃতীয় অংশ (মাফউলাত) এর 'লাত' এর স্থলাভিষিক্ত, আর এর কারণ হলো (মুস্তাফই লুন) এর শুরু হয় এর 'আইন' বর্ণ থেকে যেমনটি আপনি দেখতে পাবেন।

আর আরবরা এই ছন্দের ওপর ভিত্তি করে কিছু রচনা করেনি, এর উদাহরণ পরবর্তী যুগের কবিদের কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে:

সৃষ্টি জগতের মাঝে সালমার কোনো সমতুল্য নেই … এমনকি পূর্ণিমার উজ্জ্বল চাঁদেরও নেই।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الصفاقسي: (وزعم الزجاج أن سبب اطراحه ما يلزم عليه لو تم من وقوع (مستفع لن) المفروقة الوتد في العروض، وهو مجتنب عندهم لأنها عمدة، والأسباب مع الوتد المفروق ضعيفة، ولهذا لم يجيء السريع تاماً. قال الصفاقسي: وأقول: اللازم عليه في السريع كذلك، وتمامه أنه لو جزىء لالتبس بمجزوء الرمل. قال: واعترضه أبو الحكم بأن اطراحهم تام السريع ليس لضعف الأسباب مع الوتد المفروق بل للزوم الوقف على المتحرك. ووهمه الصفاقسي بأن الزجاج إنما علل تمام العروض لا تمام الضرب، والعروض ليست محل وقف فيمتنع تحرك آخرها لأنها في حشو البيت.

البحر الثاني المهمل بحر وزنه (مفاعيلن فاع لاتن) ومثلها، (وفاع لاتن) هذه مفروقة الوتد لأن ابتداءها من أول الوتد المفروق، وبيته من قول المولدين:

لقد ناديتُ أقواماً حين جابوا … وما بالسمع مِن وَقْرٍ لو أجابوا

قال الصفاقسي: وعلل الزجاج اطراحه بما تقدم، وفيه ما فيه، وتمامه أنه لو جزىء لا لتبس بمجزوء الهزج.

البحر الثالث المهمل بحر وزنه (فاع لاتن مفاعيلن مفاعيلن) ومثلها، (وفاع لاتن) هذه مفروقة الوتد لانفكاكها من أول وتد مفروق، ولا علة لاطراحه لا تاماً ولا مجزوء إلا عدم السماع، وبيته من قول المحدثين:

مَن مُجبري من الأشجانِ والكربِ … من مُديلي من الإبعاد بالقُربِ

وهذه صورة هذه الدائرة: وكيفية الفك منها أنك تبتدئ من أول علامة إلى الآخر فيحدث بحر السريع، ومن أمل السبب الثاني إليه البحر الأول المهمل، ومن أول الوتد المجموع الذي يلي ذينك السببين إليه البحر الثاني المهمل، ومن أول الجزء التالي لهذا الجزء إليه بحر المنسرح، ومن أول سببه الثاني إليه بحر الخفيف، ومن أول الوتد المجموع إليه بحر المضارع، ومن أول الجزء الثالث إليه بحر المقتضب، ومن أول سببه الثاني إليه بحر المجتث، ومن أول الوتد المفروق إليه البحر الثالث المهمل. وهذا آخر دائرة المشتبه.

سميت بذلك لاشتباه أبحرها. حكى ابن القطاع أن فحول الشعراء غلطوا في بحورها فأدخلوا بعضها على بعض في القصيدة الواحدة توهماً منهم أنه بحر واحد، منهم مهمل، ومرقش، وعبيد بن الأبرص، وعلقمة بن عبدة، ووقع من ذلك قصيدة للطرماح حكاها أبو المعري.

فإن قلت: المستفر عندهم أن تبدأ كل دائرة بما كان من أبحرها مصدراً بوتد مجموع لقوته فيجعل أصلاً لتلك الدائرة وتفك البحور الباقية منه، وهذه الدائرة من جملة أبحرها المستعملة بحر المضارع، وهو مصدر بوتد مجموع 'ذ وزنه (مفاعيلن فاع لاتن مفاعيلن) ، فما بالهم لم يجعلوه أصلاً لهذه الدائرة، بل عدلوا عن ذلك وجعلوا أصلها بحر السريع، قلت: أجابوا عن ذلك بأن الجزء الأول من المضارع معلول أبداً للزوم المراقبة فيه، وليس في أول الدوائر المتقدمة بيت معلول فرفض البدء به لهذا.

ورده الصفاقسي بأن لزوم إعلال المضارع في الاستعمال لا في الدائرة، والعبرة في الفك بما في الدائرة، ثم كل من الإعلال والبدء بالسريع مخالف للقياس فلم يرفض أحدخما ويرتكب الآخر؟ قال: والأولى عندي أن يقال إن المضارع لما قل في كلامهم صار كالمهمل، ولذا أنكره الزجاج، والمهمل لا يكون ابتداء الفك منه، فكذا ما أشبهه، فابتدؤا حينئذ بالسريع لخفته وحسن ذوقه.

قلت: لا نسلم أن قلة المضارع تصيره كالمهمل، ولا أن إنكار الزجاج له يصيره أيضاً في حكم المهمل، كيف والخليل رحمه الله هو الذي جعل أول هذه الدائرة بحر السريع وعدل عن ابتدائها بالمضارع، فهل يحسن مع ذلك أن يقال إن الخليل رأى إنكار الزجاج للمضارع يصيره كامهمل فلم يبدأ الدائرة به؟ هذا ما لا يتصور أن يقال.

الدائرة الخامسة: دائرة المتفق أشار إليها الناظم بالقاف من قوله (قس) والسين ملغاة لا يقع بها إلباس، وهي مثمنة الأجزاء، وإلى ذلك أشار بقوله (تثمين) ، وفيها عند الخليل بحر واحد مستعمل وهو المتقارب، ووزنه (فعولن) ثماني مرات، وأشار إلى هذا الجزء بالألف من قوله (أشرف) المشار بها إلى (أصابت) وما بعد الألف ملغى لا يلتبس بأحرف الرمز، ولا يشكل إذا تأملت.

ويخرج منه بحر وزنه (فاعلن) ثماني مرات، ولم يذكره الخليل واستدركه المحدثون، فسمي بالمتدارك، والمحدث والمخترع. قالوا: ولم يستعمل إلا مخبوناً، وحكوا له عروضاً وضرباً مخبونين كقوله:
সাফাক্বাসী বলেন: (আয-যাজ্জাজ দাবি করেছেন যে, এটি বর্জন করার কারণ হলো এর ফলে ‘মুসতাফ্ লুন’ (যা ওয়াতাদে মাফরুক যুক্ত) আরুজের মধ্যে পতিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা তাদের নিকট পরিহার্য; কারণ এটি মূল ভিত্তি স্বরূপ। আর ওয়াতাদে মাফরুকের সাথে সাবাবগুলো দুর্বল হয়ে থাকে, একারণেই সারী’ বাহরটি পূর্ণাঙ্গ (তাম) হিসেবে আসেনি। সাফাক্বাসী বলেন: আমি বলব: সারী’ বাহরের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য হয়। আর এর পূর্ণতা হলো যে, যদি একে খণ্ডিত (মাজযু) করা হয় তবে তা মাজযু রমল বাহরের সাথে মিশে যাবে। তিনি বলেন: আবু আল-হাকাম এর বিরোধিতা করে বলেছেন যে, তাদের ‘তাম সারী’ বর্জন করা ওয়াতাদে মাফরুকের সাথে সাবাবের দুর্বলতার কারণে নয়, বরং মুতাহাব্রিক (হরকতযুক্ত বর্ণ) এর ওপর থামা (ওয়াকফ) আবশ্যক হওয়ার কারণে। আর সাফাক্বাসী একে বিভ্রান্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন এই যুক্তিতে যে, যাজ্জাজ মূলত আরুজের পূর্ণতার কারণ দর্শিয়েছেন, জর্বের নয়। আর আরুজ তো থামার জায়গা নয় যে এর শেষে হরকত থাকা নিষিদ্ধ হবে, কারণ এটি তো পঙ্ক্তির মাঝখানে থাকে।

দ্বিতীয় পরিত্যক্ত বাহর হলো এমন একটি বাহর যার ওজন (মাফাইবুলুন ফা’ লাতুন) এবং তদ্রূপ। এই (ফা’ লাতুন) অংশটি হলো ওয়াতাদে মাফরুক বিশিষ্ট, কারণ এর শুরু হয়েছে ওয়াতাদে মাফরুকের প্রথম অংশ থেকে। এর উদাহরণ হলো পরবর্তী কবিদের (মুওয়াল্লাদুন) উক্তি থেকে:

নিশ্চয়ই আমি এমন এক কওমকে আহ্বান করেছি যখন তারা সাড়া দিয়েছিল ... আর কানে কোনো বধিরতা নেই যদি তারা উত্তর দিত।

সাফাক্বাসী বলেন: আয-যাজ্জাজ এটি বর্জনের কারণ হিসেবে পূর্বে উল্লিখিত বিষয়টিই উল্লেখ করেছেন, তবে এতে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। এর পূর্ণতা হলো যে, যদি একে খণ্ডিত (মাজযু) করা হয় তবে তা মাজযু হাযাজ বাহরের সাথে মিশে যাবে।

তৃতীয় পরিত্যক্ত বাহর হলো এমন একটি বাহর যার ওজন (ফা’ লাতুন মাফাইলুন মাফাইলুন) এবং তদ্রূপ। এই (ফা’ লাতুন) অংশটি ওয়াতাদে মাফরুক বিশিষ্ট কারণ এটি একটি ওয়াতাদে মাফরুকের শুরু থেকে বিচ্ছিন্ন। এটি পূর্ণাঙ্গ বা খণ্ডিত কোনোভাবেই ব্যবহৃত না হওয়ার পেছনে আর কোনো কারণ নেই কেবল আরবরা এভাবে বলেনি (আদমুস সামা’) ছাড়া। এর উদাহরণ হলো আধুনিক কবিদের উক্তি থেকে:

কে আছে যে আমাকে দুঃখ ও শোক থেকে মুক্তি দিবে ... কে আছে যে আমাকে দূরত্ব ঘুচিয়ে নৈকট্য দান করবে।

এটিই এই বৃত্তের রূপ: আর এটি থেকে বাহরগুলো বের করার পদ্ধতি হলো, আপনি প্রথম চিহ্ন থেকে শেষ পর্যন্ত শুরু করবেন, ফলে সারী’ বাহর তৈরি হবে। আর দ্বিতীয় সাবাব থেকে শুরু করলে প্রথম পরিত্যক্ত বাহরটি পাওয়া যাবে। আর এই দুটি সাবাবের পরবর্তী ওয়াতাদে মাজমু’র শুরু থেকে দ্বিতীয় পরিত্যক্ত বাহরটি পাওয়া যাবে। আর এই অংশের পরবর্তী অংশের শুরু থেকে মুনসারীহ বাহর পাওয়া যাবে। এর দ্বিতীয় সাবাব থেকে খফীফ বাহর, ওয়াতাদে মাজমু’র শুরু থেকে মুজারে’ বাহর, তৃতীয় রুকনের শুরু থেকে মুক্বতাজাব বাহর, এর দ্বিতীয় সাবাব থেকে মুজতাস বাহর এবং ওয়াতাদে মাফরুকের শুরু থেকে তৃতীয় পরিত্যক্ত বাহরটি পাওয়া যাবে। আর এটিই আল-মুশতাবিহ বৃত্তের সমাপ্তি।

এর নাম মুশতাবিহ রাখা হয়েছে এর বাহরগুলোর মাঝে সাদৃশ্য থাকার কারণে। ইবনুল ক্বাত্তাহ বর্ণনা করেছেন যে, শ্রেষ্ঠ কবিগণও এর বাহরগুলোর ক্ষেত্রে ভুল করেছেন এবং বিভ্রান্ত হয়ে এক বাহরের ভেতরে অন্য বাহর প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন এই মনে করে যে এটি একই বাহর। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুহালহিল, মুরাক্কিশ, উবাইদ বিন আল-আবরাদ, আলক্বামা বিন আবাদাহ। আর তিরিম্মাহ এর একটি কাসিদায় এমনটি ঘটেছে যা আবু মা’আরি বর্ণনা করেছেন।

আপনি যদি বলেন: তাদের নিকট নিয়ম হলো প্রতিটি বৃত্ত সেই বাহর দিয়ে শুরু করা যা ওয়াতাদে মাজমু’ দিয়ে শুরু হয়েছে, তার শক্তির কারণে। ফলে তাকে সেই বৃত্তের মূল ভিত্তি ধরা হয় এবং বাকি বাহরগুলো তা থেকে বের করা হয়। আর এই বৃত্তের ব্যবহৃত বাহরগুলোর মধ্যে একটি হলো মুজারে’ বাহর, যা ওয়াতাদে মাজমু’ দিয়ে শুরু হয়েছে, যেহেতু এর ওজন হলো (মাফাইলুন ফা’ লাতুন মাফাইলুন)। তবে তারা কেন একে এই বৃত্তের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করল না, বরং তা থেকে বিচ্যুত হয়ে সারী’ বাহরকে মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করল? উত্তরে বলা হয়েছে যে, মুজারে’ বাহরের প্রথম রুকনটি সর্বদা ত্রুটিযুক্ত (মা’লুল) হয় কারণ এতে মুরাক্বাবাহ আবশ্যক। আর পূর্ববর্তী বৃত্তগুলোর শুরুতে কোনো ত্রুটিযুক্ত পঙ্ক্তি ছিল না, তাই একে দিয়ে শুরু করা বর্জন করা হয়েছে।

সাফাক্বাসী একে খণ্ডন করেছেন এই বলে যে, ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুজারে’ বাহরে ত্রুটি থাকা আবশ্যক হওয়াটা বৃত্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ বাহর বের করার ক্ষেত্রে বৃত্তের মূল গঠনেরই গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাছাড়া, ত্রুটি থাকা এবং সারী’ বাহর দিয়ে শুরু করা—উভয়ই নিয়মের পরিপন্থী, তাহলে কেন একটিকে বর্জন করে অন্যটিকে গ্রহণ করা হবে? তিনি বলেন: আমার মতে উত্তম কথা হলো, মুজারে’ বাহর আরবদের কথায় কম ব্যবহৃত হওয়ার কারণে তা পরিত্যক্তের মতোই হয়ে গেছে। একারণেই যাজ্জাজ একে অস্বীকার করেছেন। আর পরিত্যক্ত বাহর থেকে যেহেতু বৃত্ত শুরু করা হয় না, তাই এর সদৃশ বাহর থেকেও শুরু করা হবে না। তাই তারা সহজতা এবং শ্রুতিমধুরতার কারণে সারী’ বাহর দিয়ে শুরু করেছেন।

আমি বলব: মুজারে’ বাহরের স্বল্পতা একে পরিত্যক্ত বাহরে পরিণত করে—এটি আমরা মেনে নিচ্ছি না। আবার যাজ্জাজের একে অস্বীকার করাও একে পরিত্যক্ত বাহরের পর্যায়ভুক্ত করে না। কীভাবে তা সম্ভব যখন খলীল ইবনে আহমাদ (রহ.) স্বয়ং এই বৃত্তের শুরুতে সারী’ বাহরকে রেখেছেন এবং মুজারে’ বাহর দিয়ে শুরু করা বর্জন করেছেন? এমতাবস্থায় কি এটা বলা সমীচীন হবে যে, খলীল দেখেছিলেন যে যাজ্জাজ মুজারে’ বাহরকে অস্বীকার করেছেন তাই তিনি একে পরিত্যক্ত মনে করে বৃত্ত শুরু করেননি? এটি কোনোভাবেই কল্পনা করা যায় না।

পঞ্চম বৃত্ত: মুত্তাফিক্ব বৃত্ত, যার দিকে গ্রন্থকার ‘ক্বুস’ শব্দের ‘ক্বাফ’ দিয়ে ইশারা করেছেন, আর ‘সীন’ অক্ষরটি অতিরিক্ত যা কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না। এটি আট রুকন বিশিষ্ট, আর সেদিকেই তিনি ‘তাশমীন’ শব্দ দ্বারা ইশারা করেছেন। খলীলের মতে এতে একটি মাত্র ব্যবহৃত বাহর রয়েছে আর তা হলো মুতাক্বারিহ, যার ওজন হলো আটবার (ফাউলুন)। এই রুকনের দিকে তিনি ‘আশরাফ’ শব্দের ‘আলিফ’ দিয়ে ইশারা করেছেন যা ‘আসাবাত’ এর দিকে ইঙ্গিত করে। আলিফের পরবর্তী অংশ অতিরিক্ত যা প্রতীকি বর্ণের সাথে বিভ্রান্তি তৈরি করবে না এবং চিন্তা করলে অস্পষ্ট থাকবে না।

এটি থেকে এমন এক বাহর বের হয় যার ওজন আটবার (ফাইলুন)। খলীল এটি উল্লেখ করেননি তবে পরবর্তী আলিমগণ এটি উদ্ভাবন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন মুতাদারাক, আল-মুহদাস বা আল-মুখতারা’। তারা বলেছেন: এটি কেবল ‘মাখবুন’ (এক প্রকার পরিবর্তন) হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। তারা এর আরুজ ও জর্বকে মাখবুন হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেমন তার উক্তি:
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
كرةٌق طُرحتْ بصوالجةٍ … فتلّقفها رجلٌ رجلُ

قالوا: وشذت له عروض مجزوءة ذات أضرب ثلاثة مجزوءة، الأول مرفل مذيل كقوله:

دار سُعدى بشجرش عُمان … قد كفاهاالبِلى المَلَوانْ

الثاني مذيل كفوله:

هذه دارهم أقفرت … أم زبورٌ محتها الدهور

الثالث مثلها كقوله:

قِفْ على دارهم وابكها … بين أطلالها والدّمَنْ

ويستعمل فاعلن في هذا البحر على فعلن بإسكان العين في البيت كله كقوله:

مالي مالٌ إلاّ درهم … أو برذَوني ذاك الأدهمْ

وقد اختلف في الذي صيره إلى (فعلن) فقيل دخله الخبن، ثم أضمر تشبيهاً لثانية حينئذ بثاني السبب الثقيل. وقيل: دخله القطع وجرت العلة فيه مجرى الزحاف، فاستعملت في الحشو ولم تلزم. وقيل: دخله التشعيث فذهبت اللام منه فصار فاعن فنقل إلى (فعلن) .

ويسمى هذا الوزن بقطر الميزاب، وصوت الناقوس، وركض الخيل. وعليه جاء قول الحصري:

ياليلَ الصبّ متى غدُهُ … أقيامُ الساعة موعدُهُ

رقد السُّمارُ فأرقهُ … أسفٌ للبين يرددهُ

إلا أنه لم يستعمله في جميع الأجزاء إشعاراً بأن مثل ذلك من قبيل الجائز لا الواجب، وهذه صورة هذه الدائرة: فمن أول الوتد المجموع إلى آخر العلامات بحر المتقارب، ومن أول السبب الخفيف إليه بحر المتدارك.

وسميت هذه الدائرة بدائرة المتفق لاتفاق أجزائها. واعلم أن الخطيب التبريزي سمى الدائرة الثالثة بدائرة المشتبه لاشتباه أجزائها، وسمى الدائرة الرابعة بدائرة المجتلب لكثرة أبحرها، مأخوذ من الجلب وهو الكثرة، وفي نسخة الشريف ما يقتضى ذلك فوقع فيها (خف شاق) بتقديم الشين على اللام، ووقع فيها البيتان اللذان بعد ذلك هكذا:

خَ ثَمِّنْ أبِن زَهر وله فلستِّةٍ … جَلَتْ حضّ شَمِّرْ بل وفُزنَ لذُووِطا

وطولُ عزيزٍ كمْ بد عبلكُم طَوَوا … يُعزِّزُ قِسْ تَثمينَ أشرفَ ما تَرَى

قال الشريف: وقول الناظم (قس تثمين أشرف ما ترى) جاء بالقاف رمزاً على الدائرة الخامسة، وهي دائرة المتفق، ثم نص على تثمينها وأتى بالألف رمزاً على (فعولن) لأنه أول جزء، وهو الذي أراد بقوله (أشرف ما ترى) أي هو أول ما ترى من الأجزاء في الترتيب الذي قدم فجعل له الشرف بالتقديم، ولم يأت بعد ذلك بما يدل على شيء من الأجزاء فأفاد أن هذه الدائرة ليس لها إلا شطر واحد مبني من (فعولن) ثماني مرات، وهو شطر المتقارب، انتهى.

وسلك أمين الدين المحلى في ترتيب الدوائر غير هذه الطريقة، وبنى ذلك على أصلين: أحدهما أن ما كان أبسط أو أقرب إلى البساطة فهو أولى بالتقديم مما ليس كذلك، وثانيهما أن أصول التقاعيل أربعة وباقي العشرة فروع، فقدم دائرة (فعولن) لكونه خماسياً فهو أقرب إلى البساطة من السباعي، ثم ثنى بدائرة (مفاعيلن) لأنه مؤلف من وتد وسببين خفيفين، ثم ثلث بدائرة مفاعلتن المؤلف من وتد وسببين أحدهما ثقيل، ثم قدم دائرة (فعولن مفاعيلن) على دائرة (مستفعلن مستفعلن مفعولات) لتركب الأولى من خماسي وسباعي، والثانية من سباعيين متماثلين وسباعي مخالف لهما، فلما كانت الأولى أقرب إلى البساطة من الثانية قدمت عليها.

فترتيب الدوائر عنده هكذا: دائرة الوتفق، ثم دائرة المجتلب، ثم دائرة المؤتلف، ثم دائرة المختلف، ثم دائرة المشتبه.
একটি বল যা পোলো স্টিক দিয়ে নিক্ষেপ করা হয়েছে … এবং তাকে একজন একজন করে মানুষ লুফে নিয়েছে।

তারা বলেন: তার জন্য 'মাজজু' (কর্তিত) আরুযের তিনটি 'আদরুব' (সমাপনী অংশ) ব্যতিক্রমভাবে এসেছে, যার প্রথমটি হলো 'মুরাফফাল মুযাইয়াল', যেমন তাঁর উক্তি:

ওমানের শাজরাশে সু'দার ঘর … যার জীর্ণতাকে দিন-রাত যথেষ্ট করে দিয়েছে।

দ্বিতীয়টি হলো 'মুযাইয়াল', যেমন তাঁর উক্তি:

এটি তাদের ঘর যা জনশূন্য হয়ে গেছে … নাকি এটি কোনো কিতাব যা কালচক্র মুছে দিয়েছে।

তৃতীয়টি তার অনুরূপ, যেমন তাঁর উক্তি:

তাদের ঘরের ওপর দাঁড়াও এবং ক্রন্দন করো … এর ধ্বংসাবশেষ এবং গোবরের স্তূপের মাঝে।

এই ছন্দে পুরো কবিতায় 'আইন' বর্ণকে সুকুন দিয়ে 'ফা'ইলুন'-কে 'ফা'লুন' হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেমন তাঁর উক্তি:

আমার কাছে একটি দিরহাম ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই … অথবা আমার সেই কালো বর্ণের ঘোড়াটি।

যা একে 'ফা'লুন'-এ রূপান্তরিত করেছে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে যে, এতে 'খাবন' প্রবেশ করেছে, অতঃপর দ্বিতীয় বর্ণটিকে 'সাবাব সাকীল'-এর দ্বিতীয় বর্ণের সাথে সাদৃশ্য রেখে 'ইযমার' করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: এতে 'কাত' প্রবেশ করেছে এবং এর কারণটি 'যিহাফ'-এর মতো হয়ে গেছে, তাই এটি 'হাশু' (মধ্যবর্তী অংশে) ব্যবহৃত হয়েছে এবং অপরিহার্য হয়নি। আরও বলা হয়েছে: এতে 'তাশ'ঈস' প্রবেশ করেছে ফলে তা থেকে 'লাম' বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং তা 'ফা'উন'-এ পরিণত হয়েছে, অতঃপর তা 'ফা'লুন'-এ স্থানান্তরিত হয়েছে।

এই ওযনটিকে 'কাতরুল মীযাব' (পরনালার পানি পড়া), 'সাওতুন নাকূস' (ঘণ্টার ধ্বনি) এবং 'রাকযুল খাইল' (ঘোড়ার দৌড়) বলা হয়। হুসরী-র এই কবিতাটি এই ছন্দের ওপর ভিত্তি করেই এসেছে:

হে ব্যাকুল প্রেমিকের রাত, তার সকাল কবে হবে … কিয়ামত কি তার সাক্ষাতের সময়?

গল্পগুজবকারীরা ঘুমিয়ে পড়েছে, অথচ বিচ্ছেদের শোক তাকে জাগিয়ে রেখেছে … যা সে বারবার আওড়াচ্ছে।

তবে তিনি একে সকল অংশে ব্যবহার করেননি এটা বুঝাতে যে, এই জাতীয় বিষয় বৈধতার অন্তর্ভুক্ত, আবশ্যিক নয়। আর এটি হলো এই বৃত্তের চিত্র: 'ওয়াতাদ মাজমু' এর শুরু থেকে আলামতসমূহের শেষ পর্যন্ত হলো 'মুতাক্বারিব' বাহর, আর 'সাবাব খাফীফ' এর শুরু থেকে তা হলো 'মুতাদারিক' বাহর।

এই বৃত্তটিকে 'দাইরাতুল মুত্তাফিক' (ঐক্যবদ্ধ বৃত্ত) নামকরণ করা হয়েছে এর অংশসমূহের মিল থাকার কারণে। জেনে রাখুন যে, খতীব তাবরিযী তৃতীয় বৃত্তটিকে 'দাইরাতুল মুশতাবিহ' (সদৃশ বৃত্ত) নাম দিয়েছেন এর অংশগুলোর সাদৃশ্যের কারণে এবং চতুর্থ বৃত্তটিকে 'দাইরাতুল মুজতালাব' (সংগৃহীত বৃত্ত) নাম দিয়েছেন এর বাহরসমূহের আধিক্যের কারণে। এটি 'জালব' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ আধিক্য। শরীফ-এর পাণ্ডুলিপিতে এমন কিছু রয়েছে যা একথাই নির্দেশ করে, সেখানে 'লাম'-এর আগে 'শীন' বর্ণকে প্রধান্য দিয়ে 'খাফ্ শাক্কু' এসেছে, এবং পরবর্তী দুটি পঙক্তি সেখানে এভাবে এসেছে:

খাস সাম্মিন আবিন যাহরা ওলাহু ফালিসিত্তাতিন … জালাত হাযযা শাম্মির বাল ওয়া ফুযনা লিযু-উইতা

ওয়া তুলু আযীযিন কাম বাদা ইবলাকুম তাওয়াও … ইউআযযিযু ক্বিস তাসমীনা আশরাফা মা তারা

শরীফ বলেন: নাজেমের উক্তি (ক্বিস তাসমীন আশরাফ মা তারা) এখানে 'ক্বাফ' অক্ষরটি পঞ্চম বৃত্ত অর্থাৎ 'দাইরাতুল মুত্তাফিক'-এর প্রতীক হিসেবে এসেছে। অতঃপর তিনি এর আট ভাগে বিভক্তকরণ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এবং 'আলিফ' অক্ষরটিকে 'ফাউলুন'-এর প্রতীক হিসেবে এনেছেন, কারণ এটি প্রথম অংশ। আর এটিই তিনি তাঁর উক্তি 'আশরাফ মা তারা' (তুমি যা দেখছ তার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ) দ্বারা বুঝিয়েছেন, অর্থাৎ এটি তোমার দেখা অংশগুলোর বিন্যাসের মধ্যে প্রথম, তাই তিনি একে অগ্রবর্তী করার মাধ্যমে মর্যাদা দিয়েছেন। এরপর তিনি এমন কিছু আনেননি যা অন্যান্য অংশের কোনোটির ওপর প্রমাণ করে, যা থেকে বুঝা যায় যে এই বৃত্তের জন্য 'ফাউলুন' দ্বারা গঠিত আটবার পুনরাবৃত্ত একটিই শাতর (অর্ধেক অংশ) রয়েছে, যা হলো মুতাক্বারিব-এর শাতর। সমাপ্ত।

আমীনুদ্দীন মুহাল্লী বৃত্তসমূহের বিন্যাসে এই পদ্ধতি ব্যতিরেকে অন্য পথ অনুসরণ করেছেন এবং একে দুটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন: প্রথমত, যা অধিকতর সরল বা সরলতার নিকটবর্তী তা অন্যগুলোর তুলনায় অগ্রগণ্য। দ্বিতীয়ত, তাফঈলা এর মূল ভিত্তি হলো চারটি এবং বাকী দশটি হলো শাখা। তাই তিনি 'ফাউলুন' বৃত্তকে প্রথমে রেখেছেন কারণ এটি পঞ্চাক্ষর বিশিষ্ট, ফলে এটি সপ্তাক্ষর-এর তুলনায় সরলতার নিকটবর্তী। অতঃপর তিনি 'মাফাইলুন' বৃত্তকে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছেন কারণ এটি একটি ওয়াতাদ ও দুটি সাবাব খাফীফ দ্বারা গঠিত। এরপর 'মাফা'লাতুন' বৃত্তকে তৃতীয় করেছেন যা একটি ওয়াতাদ ও দুটি সাবাব দ্বারা গঠিত যার একটি সাকীল। অতঃপর তিনি 'ফাউলুন মাফাইলুন' বৃত্তকে 'মুস্তাফইলুন মুস্তাফইলুন মাফউলাত' বৃত্তের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন কারণ প্রথমটি পঞ্চাক্ষর ও সপ্তাক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত, আর দ্বিতীয়টি দুটি সমজাতীয় সপ্তাক্ষর ও একটি ভিন্নধর্মী সপ্তাক্ষর দ্বারা গঠিত। যেহেতু প্রথমটি দ্বিতীয়টির চেয়ে অধিকতর সরলতার নিকটবর্তী, তাই একে অগ্রবর্তী করা হয়েছে।

সুতরাং তাঁর নিকট বৃত্তগুলোর বিন্যাস হলো এভাবে: দাইরাতুল মুত্তাফিক, অতঃপর দাইরাতুল মুজতালাব, অতঃপর দাইরাতুল মুতালিফ, অতঃপর দাইরাতুল মুখতালিফ, এবং সবশেষে দাইরাতুল মুশতাবিহ।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
واعترضه أبن واصل بأن هذا مخالفة للخليل بن أحمد صاحب الفن، وجميع من أتى بعده من أهل العروض من غير ضرورة تدعو إلى مخالفتهم، بل بمجرد مناسبة ضعيفة، مع أن ما ذكره الإمام رحمه الله واقتفى القوم أثره فيه له وجه من المناسبة، إن لم يكن أحسن مما ذكره المحلى فليس بدونه، ونترجح نحن بسبب موافقة جميع أهل الفن فنقول: إنما قدمت دائرة المختلف لاشتماها على الطويل والبسيط اللذين هما أشرف من سائر البحور لطولهما وحسن ذوقها وكثرة ورودهما في أشعار العرب، وقد قال أبو العلاء المعري في كتابه جامع الأوزان: أن أكثر أشعار العرب من الطويل والبسيط والكامل، ومن تصفح أشعارهم وقف على صحة ذلك، وأيضاً فكل بحور هذه الدائرة مثمن، والتثمين أشرف من التسديس لأن الثمانية زوج زوج ينتهي في التحليل إلى الواحد، بخلاف الستة التي هي زوج فرد، ولا يرد علينا دائرة المتقارب إذ تفاعيلها ثمانية لأن هذه ترجحت بطول بحورها لتركبها من خماسي وسباعي، وبكثرة ما يخرج منها من البحور، وبكثرة الاستعمال، بخلاف تلك.

ثم قدمت دائرة المؤتلف على دائرة المجتلب، إما لأن دائرة المؤتلف من بحورها الكامل، وهونظير الطويل والبسيط في حسن الذوق وكثرة الاستعمال في شعر العرب، وإما لأن دائرة المجتلب كالفرع لغيرها لأن بحورها مجتلبة من دائرة الطويل وهذه لم تجتلب بحورها من غيرها، فهي أصل في نفسها.

ثم تقدمت دائرة المجتلب على دائرة المشتبه لأن أوتاد دائرة المجتلب كلها مجموعة، ودائرة المشتبه كل بحر من بحورها فيه وتد مفروق، والمجموع أشرف ثم تقدمت دائرة المجتلب على دائرة المشتبه لأن أوتاد دائرة المجتلب كلها مجموعة، ودائرة المشتبه كل بحر من بحورها فيه وتد مفروق، والمجموع أشرف من المفروق لقوته، ولهذا لم يأت إلا في دائرة المشتبه وحدها، والمجموع أتى في الدوائر كلها.

ثم قدمت دائرة المشتبه على دائرة المتفق لأنها سباعية التفاعيل ودائرة المتفق خماسية، والسباعي أشرف من الخماسي، وأيضاً فبحور دائرة المشتبه أكثر لأنها تسعة، ستة منها مستعملة وثلاثة مهملة، ودائرة المتفق لا يخرج منها إلا بحران أحدهما مستعمل والآخر مهمل، فكانت دائرة المشتبه أولى بالتقديم لا سيما ومن بحورها السريع والمنسرح والخفيف، وهذه أكثر في الاستعمال من المتقارب فظهر بما ذكرنا وجه المناسبة في ترتيب الدوائر على مذهب الفخليل ومن تبعه من العروضيين، فالمصير إليه أولى، والله الموفق، قال: فمنها انبنى المصراع والبيت منه والقصيدة من أبيات بحر على استوا أقول: بيت الشعر له نصفان، وكل واحد منهما يسمى مصراعاً تشبيهاً له بمصراع الباب، فجعل الناظم رحمه الله المصراع مبيناً من أجزاء التفعيل الولقعة في الدوائر المتقدمة على حسب الترتيب المذكور فيها، فضمير المؤنث من قوله (فمنها) عائد على الأجزاء المذكورة كيف هي هناك، وضمير المذكر من قوله (منه) عائد إلى المصراع، أي أن بيت الشعر ينبني من المصراع إذ هو نصفه، ولابد للبيت من نصفين، فهو إذن مؤلف من المصراع، والقصيدة تنبني من أبيات بحر واحد بشرط أن تكون الأبيات كلها مستوية في أعداد الأجزاء، وفيما يجوز فيها أو يلزم أو يمتنع احترازاً بأن لا تستوي الأبيات في عدد الأجزاء، كما إذا نظم شاعر أبياتاً من بحر البسيط مثلاً بعضها واف وبعضها مجزوء فلا يمكن نظمها مع اختلاف عدد الأجزاء في سلك واحد، بحيث ينطلق على مجموعها قصيدة واحدة، واحترازاً من أن تستوي الأبيات في عدد الأجزاء ولا تستوي في الأحكام، كما إذا نظم أبياتا من بحر الطويل بعضها ضربه تام، وبعضها ضربه مقبوض، وبعضها ضربه محذوف، فلا يمكن أن يجعل مجموع ذلك قصيدة واحدة.

قال الشريف (والقصيدة مؤلفة من أبيات بحر واحد بشرط أن لا تختلف الأبيات، وذلك بأن تكون مستوية في الأحكام اللازمة. وقد قيل: لا تسمى الأبيات قصيدة حتى تكون عشرةً فما فوقها، وقيل أزيد من عشرة وقيل حتى تجاوز سبعةً، وما دون ذلك قطعة.

والقصيد جمع القصيدة من الشعر. قال في الأساس: أصله من القصيد وهو المخ السمين المكتنز الذي يتقصد، أي ينكسر، إ'ذا استخرج من قصته لسمنه فسموه به كما يستعار السمين للكلام الجزل، والغث للردى منه. وقيل القصيد فعيل بمعنى مفعول، لأن الشاعر قصده بتجويده وتنقيخه. قال:
ইবনে ওয়াসিল এর ওপর আপত্তি তুলে বলেছেন যে, এটি এই শিল্পের প্রবর্তক খলিল বিন আহমদ এবং তাঁর পরবর্তী সমস্ত ছন্দবিশারদদের (আহলুল আরুজ) মতের বিরোধিতা, যা করার মতো কোনো বিশেষ প্রয়োজন এখানে নেই। বরং এটি স্রেফ একটি দুর্বল সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অথচ ইমাম (রহ.) যা উল্লেখ করেছেন এবং অন্যান্যেরা যেটিকে অনুসরণ করেছেন, সেখানেও একটি যৌক্তিক সামঞ্জস্য রয়েছে; যদি তা মুহাল্লীর উল্লিখিত বিষয়ের চেয়ে উত্তম নাও হয়, তবুও তা কোনো অংশে কম নয়। তবে আমরা সমস্ত শিল্প-বিশারদদের ঐকমত্যের কারণে (খলিলের মতটিকেই) প্রাধান্য দিচ্ছি এবং আমরা বলি: 'দাইরাতুল মুখতালিফ'-কে (বৈচিত্র্যময় বৃত্ত) প্রথমে আনা হয়েছে কারণ এতে 'তাবিল' ও 'বাসিত' ছন্দ রয়েছে, যা তাদের দৈর্ঘ্য, শ্রুতিমধুরতা এবং আরবদের কবিতায় প্রচুর ব্যবহারের কারণে অন্যান্য ছন্দের তুলনায় অধিক শ্রেষ্ঠ। আবু আল-আলা আল-মাআরি তাঁর 'জামেউল আওজান' গ্রন্থে বলেছেন: আরবদের অধিকাংশ কবিতাই তাবিল, বাসিত ও কামিল ছন্দ থেকে রচিত। কেউ তাদের কবিতাগুলো যাচাই করলে এর সত্যতা উপলব্ধি করবেন। এছাড়াও এই বৃত্তের সমস্ত ছন্দই 'মুসাম্মান' (আট রুকন বিশিষ্ট), আর মুসাম্মান হওয়া 'মুসাদ্দাস' (ছয় রুকন বিশিষ্ট) হওয়ার চেয়ে বেশি শ্রেষ্ঠ। কারণ আট হলো জোড়ার জোড় (ইভেন অফ ইভেন), যা বিশ্লেষণের শেষে এক-এ গিয়ে শেষ হয়; পক্ষান্তরে ছয় হলো বিজোড় জোড় (ইভেন অফ অড)। আমাদের ওপর 'দাইরাতুল মুতাকারিব' নিয়ে কোনো আপত্তি আসে না যে তার রুকনগুলোও আটটি; কারণ এটি (মুখতালিফ বৃত্ত) এর ছন্দগুলোর দৈর্ঘ্য, পঞ্চাক্ষর ও সপ্তাক্ষর রুকনের সমন্বয়, অধিক ছন্দ নির্গত হওয়া এবং অধিক ব্যবহারের কারণে তার (মুতাকারিব) ওপর প্রাধান্য পেয়েছে।

এরপর 'দাইরাতুল মুআলিফ'-কে 'দাইরাতুল মুজতালাব'-এর ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হয় এই যে, মুআলিফ বৃত্তের অন্তর্ভুক্ত ছন্দ হলো 'কামিল', যা শ্রুতিমধুরতা এবং আরবদের কবিতায় ব্যবহারের আধিক্যের দিক থেকে 'তাবিল' ও 'বাসিত'-এর সমতুল্য। অথবা কারণ হলো এই যে, মুজতালাব বৃত্তটি অন্য বৃত্তের শাখার মতো; কারণ এর ছন্দগুলো 'দাইরাতু তাবিল' থেকে আহরিত (মুজতালাব), আর মুআলিফ বৃত্তের ছন্দ অন্য কোনো বৃত্ত থেকে আহরিত নয়, বরং এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি মূল।

এরপর 'দাইরাতুল মুজতালাব'-কে 'দাইরাতুল মুশতাবাত'-এর ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কারণ মুজতালাব বৃত্তের সমস্ত 'ওয়াতাদ' (অক্ষর সমষ্টি) হলো 'মাজমু' (সংযুক্ত); পক্ষান্তরে মুশতাবাত বৃত্তের প্রতিটি ছন্দের মধ্যে একটি করে 'ওয়াতাদ মাফরুক' (বিচ্ছিন্ন) রয়েছে। আর 'মাজমু' তার শক্তির কারণে 'মাফরুক'-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই কারণেই মাফরুক শুধু মুশতাবাত বৃত্তেই এসেছে, আর মাজমু সমস্ত বৃত্তেই বিদ্যমান।

এরপর 'দাইরাতুল মুশতাবাত'-কে 'দাইরাতুল মুত্তাফিক'-এর ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কারণ এটি 'সাবায়ি' (সপ্তাক্ষর) রুকন বিশিষ্ট, আর মুত্তাফিক বৃত্ত হলো 'খুমাসি' (পঞ্চাক্ষর) রুকন বিশিষ্ট; আর সপ্তাক্ষর রুকন পঞ্চাক্ষরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এছাড়াও মুশতাবাত বৃত্তের ছন্দের সংখ্যা বেশি, কারণ এতে নয়টি ছন্দ রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি ব্যবহৃত এবং তিনটি অব্যবহৃত। অন্যদিকে মুত্তাফিক বৃত্ত থেকে মাত্র দুটি ছন্দ নির্গত হয়, যার একটি ব্যবহৃত ও অন্যটি অব্যবহৃত। তাই মুশতাবাত বৃত্তকে প্রাধান্য দেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত, বিশেষত যেহেতু এর ছন্দের মধ্যে রয়েছে সারি', মুনসারিহ ও খাফিফ—যা মুতাকারিবের চেয়ে ব্যবহারে অনেক বেশি। সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করলাম তা থেকে খলিল ও তাঁর অনুসারী ছন্দবিশারদদের মাযহাব অনুযায়ী বৃত্তগুলোর বিন্যাসের যৌক্তিকতা স্পষ্ট হলো। সুতরাং এটি গ্রহণ করাই উত্তম। আল্লাহই তাওফিকদাতা। তিনি বলেন: "তা থেকেই মিসরা (অর্ধ-চরণ) গঠিত হয়, মিসরা থেকে বাইত (চরণ) এবং একটি ছন্দের বাইতসমূহ যখন সমতার ভিত্তিতে বিন্যস্ত হয়, তখন তা থেকে কাসিদা গঠিত হয়।" আমি বলছি: কবিতার চরণের দুটি অংশ থাকে, যার প্রত্যেকটিকে 'মিসরা' বলা হয়; একে দরজার কপাটের (মিসরাউল বাব) সাথে তুলনা করা হয়েছে। নাযিম (রহ.) এখানে মিসরাকে পূর্বোক্ত বৃত্তগুলোতে উল্লেখিত রুকনগুলোর অংশ দ্বারা গঠিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। "তা থেকে" (ফামিনহা) শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ সর্বনামটি উক্ত অংশগুলোর দিকে ফিরেছে। আর "তা হতে" (মিনহু) শব্দের পুংলিঙ্গ সর্বনামটি মিসরার দিকে ফিরেছে। অর্থাৎ কবিতার বাইত বা চরণ মিসরা দ্বারা গঠিত হয় যেহেতু মিসরা হলো তার অর্ধেক। একটি চরণের জন্য দুটি অর্ধাংশ থাকা আবশ্যক, তাই তা মিসরা দ্বারা গঠিত। আর কাসিদা একটি নির্দিষ্ট ছন্দের বাইতসমূহ দ্বারা গঠিত হয় এই শর্তে যে, বাইতগুলো রুকনের সংখ্যা এবং তাতে যা জায়েজ (বৈধ), লাযিম (অপরিহার্য) বা ইমতিানি' (নিষিদ্ধ) তার ক্ষেত্রে সমানভাবে বিন্যস্ত। এটি এই সতর্কতা হিসেবে যে, বাইতগুলো যেন রুকনের সংখ্যার দিক থেকে ভিন্ন না হয়। যেমন কোনো কবি যদি 'বাসিত' ছন্দে কিছু কবিতা লিখলেন যার কিছু অংশ পূর্ণ আর কিছু অংশ সংক্ষিপ্ত, তবে রুকনের সংখ্যার এই ভিন্নতার কারণে সেগুলোকে এক সুতায় গেঁথে একটি কাসিদা বলা সম্ভব হবে না। একইভাবে এই শর্তের মাধ্যমে সেই বিষয় থেকেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যেখানে বাইতগুলো রুকনের সংখ্যায় সমান হলেও বিধানের ক্ষেত্রে সমান হয় না। যেমন কেউ যদি 'তাবিল' ছন্দের কিছু কবিতা লিখলেন যার কোনোটির 'দারব' পূর্ণ, কোনোটি মাকবুদ, আবার কোনোটি মাহযুফ; তবে সেই সবগুলোর সমষ্টিকে একটি কাসিদা বানানো সম্ভব নয়।

শরিফ বলেন, "কাসিদা একটি ছন্দের বাইতসমূহ দ্বারা গঠিত হয় এই শর্তে যে, বাইতগুলোর মধ্যে ভিন্নতা থাকবে না, অর্থাৎ সেগুলো আবশ্যকীয় বিধানের ক্ষেত্রে অভিন্ন হবে।" কেউ কেউ বলেছেন: বাইতগুলোর সংখ্যা দশ বা তার বেশি না হওয়া পর্যন্ত তাকে কাসিদা বলা হবে না। আবার কেউ বলেছেন দশের অধিক হতে হবে। কেউ বলেছেন সাতটি অতিক্রম করতে হবে; এর চেয়ে কম হলে তাকে 'কিতআ' (কবিতাংশ) বলা হবে।

'আল-কাসিদ' হলো কবিতার বহুবচন 'আল-কাসিদা'। 'আল-আসাস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর মূল উৎস হলো 'কাসিদ' যা চর্বিযুক্ত পুষ্ট মজ্জাকে বোঝায়; যা তার স্থূলতার কারণে হাড় থেকে বের করার সময় খণ্ড খণ্ড হয়ে যায়। তারা এই নামটিকে কবিতার জন্য ব্যবহার করেছেন যেমনটি স্থূল বা পুষ্ট শব্দটিকে সারগর্ভ কথার জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং পাতলা বা দুর্বল শব্দটিকে নিকৃষ্ট কথার জন্য ব্যবহার করা হয়। আবার কেউ বলেছেন 'কাসিদ' হলো 'মাফউল' বা কর্মবাচক বিশেষ্যের অর্থে 'ফায়ীল'; কারণ কবি তার নৈপুণ্য ও পরিমার্জনের মাধ্যমে একে বিশেষ লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وقُلْ آخرُ الصدرِ العروضُ ومثُله … من العَجُزِ الّضربُ اعلمِ الفرقَ باعِتنا

أقول: تقدم أن المصراع هو نصف البيت، أعم من أن يكون نصفه الأول أو الثاني، فإن كان هو النصف الأول سمي صدراً، وإن كان هو النصف الثاني سمي عجزاً، والجزء الأخير من الصدر يسمى عروضاً.

وقد سبق أن العروض يطلق في الاصطلاح على هذا العلم، فقيل هو حقيقة في العلم مجاز في هذا، من باب إطلاق اسم الكل على الجزء، وقيل بالعكس من باب إطلاق اسم الجزء على الكل. قال الصفاقسي: والحق أنه مجاز في الجزء لكن ليس حقيقته هذا العلم، بل لشبهه بوسط البيت المسكون، فإنه يقال له عروض، حكاه ابن سيده في (المحكم) ووجه الشبه أن بيت الشعر سمي بيتا لأنهم بنوه على أسباب وأوتاد كالبيت المسكون، لأن الحبال أسباب. ولهذا، فإنه يقال له عروض، حكاه ابن سيده في (المحكم) ووجه الشبه أن بيت الشعر سمي بيتا لأنهم بنوه على أسباب وأوتاد كالبيت المسكون، لأن الحبال أسباب. ولهذا، فإنه يقال له عروض، حكاه ابن سيده في (المحكم) ووجه الشبه أن بيت الشعر سمي بيتا لأنهم بنوه على أسباب وأوتاد كالبيت المسكون، لأن الحبال أسباب. ولهذا، فإنه يقال له عروض، حكاه ابن سيده في (المحكم) ووجه الشبه أن بيت الشعر سمي بيتا لأنهم بنوه على أسباب وأوتاد كالبيت المسكون، لأن الحبال أسباب. ولهذا، فإنه يقال له عروض، حكاه ابن سيده في (المحكم) ووجه الشبه أن بيت الشعر سمي بيتا لأنهم بنوه على أسباب وأوتاد كالبيت المسكون، لأن الحبال أسباب. ولهذا، فإنه يقال له عروض، حكاه ابن سيده في (المحكم) ووجه الشبه أن بيت الشعر سمي بيتا لأنهم بنوه على أسباب وأوتاد كالبيت المسكون، لأن الحبال أسباب. ولهذا، فإنه يقال له عروض، حكاه ابن سيده في (المحكم) ووجه الشبه أن بيت الشعر سمي بيتا لأنهم بنوه على أسباب وأوتاد كالبيت المسكون، لأن الحبال أسباب. ولهذا، فإنه يقال له عروض، حكاه ابن سيده في (المحكم) ووجه الشبه أن بيت الشعر سمي بيتا لأنهم بنوه على أسباب وأوتاد كالبيت المسكون، لأن الحبال أسباب. ولهذا لملم يلحقوا التغيير "إلا في الأسباب لا في الأوتاد، فحقيقته حينئذ هي عروض البيت المسكون. وقد ذهب بعض العروضيين إلى أن النصف الأول بكماله هو العروض، والأول أصح لكمال الشبه فيه كما مر.

قلت: فيه مناقشتان، معنوية ولفظية، أما المعنوية فدعواه أنهم لم يلحقوا التغيير إلا في الأسباب ليست بصحيحة، بل ألحقوا التغيير في الأسباب والأوتاد جميعاً. نعم التغيير العارض على وجه الجواز لا اللزوم إنما يلحق الأسباب، وهو المعبر عنه عندهم بالزحاف، ولا شك أن هذا مراده، لكنه لو يحرر التعبير عنه.

وأما اللفظية فعطفه بلا بعد الحصر بإلا غير جائز عندهم على ما صرح به البيانيون، وإن وقع الزمخشرى في مثله في مواضع من الكشاف.

وقوله: (اعلم الفرق باعتنا) أي اعلم الفرق بين العروض والضرب حال كونك مصاحباً للاعتناء بهذا الأمر، وذلك لأن هذين اللقبين يكثر دورهما بين القوم ولهما أحكام كثيرة مهمة، فالاعتناء بشأنهما شديد. وجوز الشريف فيه معنى آخر، وهو أن يكون المراد اعلم الأحكام التي تفارق فيها الضروب الأعاريض، أو التي تفارق فيها الضروب الأعاريض غيرها من أجزاء البيت، فإنها أكيدة يجب الاعتناء بها، لأن الأعاريض والضروب محل للأحكام اللازمة، وهي الفصول والغايات، فإذا لزم العروض أو الضرب حكم في بيت من القصيدة أو القطعة وجب أن يتساوى فيه جميع الأبيات، وهو الذي أشار إليه بالاستواء في البيت الأول. قلت: فيه بعد فتأمله.

وقد كنت كتبت لبعض الأصحاب لغزاً في خيمة، ونحن إذ ذاك بمخيم الحجاج بظاهر دمشق في يوم الاثنين الخامس عشر من شوال سنة ثمانمائة وقعت التورية فيها بألفاظ دائرة بين أهل العروض، ولا بأس بإيرادها هنا. قلت:

أمولاى زين الدين يامَنَ ظلالُه … وَقَتْنا أذى الرّمضاء في البُعد والقربِ

ومَنَ صَحِبَ العلياءَ فهو خليلها … وخيَّم في أفقْ الكمال بلا عُجبِ

أحاجيكَ في بيتٍ تحررَ نظمُه … وأوتادُه للكسر دائمةُ الكَسبِ

فوائدُهُ يستروحُ القلبُ نحوها … ويبحث في الأسفار عنها ذوُو اللبِ

ويُضرب إذ تبدو العروضُ بوسطه … فيا حبذا تلك العروض مع الضربش
এবং বলো যে, সদরের (প্রথমার্ধের) শেষ অংশটি হলো আরুয এবং অনুরূপভাবে … আজুযের (দ্বিতীয়ার্ধের) শেষ অংশটি হলো যারব; বিশেষ যত্নের সাথে এই পার্থক্যটি জেনে নাও।

আমি বলি: ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, 'মিসরা' (চরণ) হলো কবিতার পঙক্তির অর্ধেক, চাই তা প্রথম অর্ধেক হোক বা দ্বিতীয়। যদি তা প্রথম অর্ধেক হয় তবে তাকে 'সদর' (বক্ষ/প্রথমার্ধ) বলা হয়, আর যদি তা দ্বিতীয় অর্ধেক হয় তবে তাকে 'আজুয' (পশ্চাদংশ/দ্বিতীয়ার্ধ) বলা হয়। আর সদরের শেষ অংশটিকে 'আরুয' বলা হয়।

ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিভাষায় 'আরুয' শব্দটি এই শাস্ত্রের (ছন্দশাস্ত্র) ওপর প্রয়োগ করা হয়। বলা হয়েছে যে, এটি শাস্ত্রের ক্ষেত্রে হাকীকাত (প্রকৃত অর্থ) এবং এই অংশের ক্ষেত্রে মাজায (রূপক অর্থ), যা মূলত 'পুরো অংশের নাম আংশিক অংশের ওপর প্রয়োগ' করার অন্তর্ভুক্ত। আবার এর উল্টোটিও বলা হয়েছে যে, এটি 'আংশিক অংশের নাম পুরো অংশের ওপর প্রয়োগ' করার অন্তর্ভুক্ত। আল-সাফাকুসী বলেন: সত্য কথা হলো, এটি এই অংশের ক্ষেত্রে মাজায, তবে এর হাকীকাত এই শাস্ত্র নয়; বরং এটি বসবাসের ঘরের মধ্যবর্তী খুঁটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে একে 'আরুয' বলা হয়। ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। সাদৃশ্যের কারণ হলো এই যে, কবিতার পঙক্তিকে 'বাইত' (ঘর) বলা হয় কারণ তারা একে 'আসবাব' (রশি) ও 'আওতাদ' (খুঁটি)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে যেমনটি বসবাসের ঘর (তৈরি করা হয়), কারণ রশিগুলো হলো উপকরণ (আসবাব)। এই কারণেই একে 'আরুয' বলা হয়, যা ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সাদৃশ্যের কারণ হলো এই যে, কবিতার পঙক্তিকে 'বাইত' বলা হয় কারণ তারা একে 'আসবাব' ও 'আওতাদ'-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে যেমনটি বসবাসের ঘর, কারণ রশিগুলো হলো আসবাব। এই কারণেই একে 'আরুয' বলা হয়, যা ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সাদৃশ্যের কারণ হলো এই যে, কবিতার পঙক্তিকে 'বাইত' বলা হয় কারণ তারা একে 'আসবাব' ও 'আওতাদ'-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে যেমনটি বসবাসের ঘর, কারণ রশিগুলো হলো আসবাব। এই কারণেই একে 'আরুয' বলা হয়, যা ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সাদৃশ্যের কারণ হলো এই যে, কবিতার পঙক্তিকে 'বাইত' বলা হয় কারণ তারা একে 'আসবাব' ও 'আওতাদ'-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে যেমনটি বসবাসের ঘর, কারণ রশিগুলো হলো আসবাব। এই কারণেই একে 'আরুয' বলা হয়, যা ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সাদৃশ্যের কারণ হলো এই যে, কবিতার পঙক্তিকে 'বাইত' বলা হয় কারণ তারা একে 'আসবাব' ও 'আওতাদ'-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে যেমনটি বসবাসের ঘর, কারণ রশিগুলো হলো আসবাব। এই কারণেই একে 'আরুয' বলা হয়, যা ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সাদৃশ্যের কারণ হলো এই যে, কবিতার পঙক্তিকে 'বাইত' বলা হয় কারণ তারা একে 'আসবাব' ও 'আওতাদ'-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে যেমনটি বসবাসের ঘর, কারণ রশিগুলো হলো আসবাব। এই কারণেই একে 'আরুয' বলা হয়, যা ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সাদৃশ্যের কারণ হলো এই যে, কবিতার পঙক্তিকে 'বাইত' বলা হয় কারণ তারা একে 'আসবাব' ও 'আওতাদ'-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে যেমনটি বসবাসের ঘর, কারণ রশিগুলো হলো আসবাব। এই কারণেই একে 'আরুয' বলা হয়, যা ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সাদৃশ্যের কারণ হলো এই যে, কবিতার পঙক্তিকে 'বাইত' বলা হয় কারণ তারা একে 'আসবাব' ও 'আওতাদ'-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে যেমনটি বসবাসের ঘর, কারণ রশিগুলো হলো আসবাব। এই কারণে তারা এতে পরিবর্তন আনয়ন করে না কেবল 'আসবাব' (রশি) সমূহে, 'আওতাদ' (খুঁটি) সমূহে নয়। এমতাবস্থায় এর হাকীকাত বা প্রকৃত অর্থ হলো বসবাসের ঘরের খুঁটি। কোনো কোনো ছন্দবিশারদ মনে করেন যে, সম্পূর্ণ প্রথমার্ধই হলো আরুয, তবে পূর্বোল্লিখিত সাদৃশ্যের পূর্ণতার কারণে প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক।

আমি বলি: এতে দুটি সমালোচনা রয়েছে—অর্থগত এবং শব্দগত। অর্থগত সমালোচনা হলো তার এই দাবি যে 'তারা কেবল আসবাব-এই পরিবর্তন ঘটান'—এটি সঠিক নয়। বরং তারা আসবাব এবং আওতাদ উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। হ্যাঁ, বৈধতার ভিত্তিতে যে পরিবর্তন আপতিত হয় যা বাধ্যতামূলক নয়, তা কেবল আসবাব-এই ঘটে থাকে, যাকে তাদের পরিভাষায় 'জিহাফ' বলা হয়। নিঃসন্দেহে এটিই তার উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু তিনি তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে পারেননি।

আর শব্দগত সমালোচনা হলো, 'ইল্লা' (ব্যতীত) দ্বারা সীমাবদ্ধ করার পর 'লা' (না) দ্বারা আতফ বা সংযোগ করা আলঙ্কারিকদের (বালাগাতবিদদের) মতে বৈধ নয়, যদিও আল-যামাখশারী তাঁর 'কাশশাফ'-এর বিভিন্ন স্থানে এরুপ ব্যবহার করেছেন।

আর লেখকের উক্তি: (যত্নসহকারে এই পার্থক্যটি জেনে নাও) অর্থাৎ আরুয এবং যারব-এর মধ্যকার পার্থক্যটি এই বিষয়ের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হয়ে জেনে নাও। কেননা এই লকব বা উপাধি দুটির ব্যবহার ছন্দবিশারদদের মধ্যে অনেক বেশি এবং এগুলোর সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধান জড়িত, তাই এ দুটির ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক। আশ-শরীফ এতে অন্য একটি অর্থের সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন, আর তা হলো—সেই বিধানগুলো জেনে নাও যার মাধ্যমে যারবসমূহ আরুযসমূহ থেকে পৃথক হয়, অথবা যার মাধ্যমে যারব ও আরুয কবিতার অন্যান্য অংশ থেকে পৃথক হয়। কারণ এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক। কেননা আরুয ও যারব হলো অপরিবর্তনীয় বিধানের স্থান, যা মূলত শেষ সীমানা ও সমাপ্তি। সুতরাং যখন কবিতার কোনো পঙক্তিতে বা টুকরোতে আরুয বা যারব-এর জন্য কোনো বিধান অবধারিত হয়, তখন সবকটি পঙক্তিতেই তা সমান হওয়া আবশ্যক। এটিই তিনি প্রথম পঙক্তিতে 'ইস্তিওয়া' (সমতা) দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। আমি বলি: এতে কিছুটা দূরসূত্রতা রয়েছে, বিষয়টি ভেবে দেখুন।

আমি আমার জনৈক বন্ধুর নিকট একটি তাঁবু সম্পর্কে একটি ধাঁধা লিখেছিলাম, তখন আমরা দামেস্কের বহির্ভাগে হাজীদের তাঁবুতে অবস্থান করছিলাম, দিনটি ছিল ৮০০ হিজরি সনের ১৫ই শাওয়াল সোমবার। এতে ছন্দশাস্ত্রবিদদের মাঝে প্রচলিত কিছু শব্দের মাধ্যমে তওরিয়া (দ্ব্যর্থবোধকতা) প্রয়োগ করা হয়েছে, এখানে তা উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই। আমি বলেছি:

হে আমার নেতা যাইনুদ্দীন, যাঁর ছায়া … দূর ও নিকটবর্তী অবস্থায় আমাদের তপ্ত মরু-রৌদ্রের কষ্ট থেকে রক্ষা করে।

যিনি উচ্চমর্যাদার সঙ্গী, তিনিই তার অকৃত্রিম বন্ধু … এবং তিনি কামিলিয়াতের দিগন্তে কোনো অহংকার ছাড়াই তাঁবু গেড়েছেন।

আমি আপনাকে একটি বাইত (ঘর/পঙক্তি) সম্পর্কে ধাঁধা দিচ্ছি যার বিন্যাস সুসংহত … আর তার আওতাদ (খুঁটিসমূহ/ছন্দের অংশ) সর্বদা কাসর (ভাঙ্গন/জের)-এর জন্য সচেষ্ট।

এর উপকারিতাগুলো অন্তরকে প্রশান্ত করে … আর বুদ্ধিমানরা কিতাবসমূহে এর সন্ধান করে।

যখন তার মাঝখানে আরুয (তাঁবুর খুঁটি/ছন্দের অংশ) প্রকাশ পায় তখন সেখানে যারব (আঘাত/ছন্দের শেষাংশ) করা হয় … কতই না চমৎকার সেই আরুয ও যারব!
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فيالكض بيتاً وافرَ الُحسن كاملاً … دوائرهُ أمست تدورُ على قُطبِ

قال:

‌‌الألقاب والأبيات

أقول: جعل الناظم الأسماء التي تطلق على الأبيات مما سيذكره ألقاباً لها كأنها عنده من قبيل أقول: جعل الناظم الأسماء التي تطلق على الأبيات مما سيذكره ألقاباً لها كأنها عنده من قبيل الأعلام التي تشعر بمدح، كالتام والوافي، أو بذم كالمنهوك، وهو محل تأمل. قال:

إذا استكمل الأجزاء بيت كحشوه … عروض وضرب تم أو خولفت وفا

اقول: يعني أن البيت إذا كان مستكملاً للأجزاء الواقعة في دائرته فهو على ضربين، أحدهما أن يكون عروضه وضربه مماثلين لحشوه في الأحكام التي تلحقه، فيجوز فيهما ما جاز فيه، ويمتنع فيهما ما امتنع فيه، فهذا يسمى التام.

الثاني: أن يكون عروضه وضربه مخالفين لحشوه بأن يعرض لهما مالا يجوز عروضه للحشو، فهذا يسمى الوافي.

فإن قلت: قوله (خولفت) على ماذا هو معطوف؟، قلت: على قوله (كحشوه عروض وضرب) .

فإن قلت يلزم تخالف الجملتين بالاسمية والفعلية، إذ الأولى اسمية والثانية فعلية، قلت لا مانع من جعل الأولى فعلية أيضاً، لأن المرفوع بعد الظرف المعتمد يجوز كونه فاعلاً بالفعل الذي يتعلق به الظرف عند جماعة، لا بنفس الظرف، وعليه فهي فعلية؛ ولا تخالف بين الجملتين، ولو سلم أنها اسمية فليس مثل هذا التخالف بممتنع على المختار عند النحويين، وهو المفهوم من قولهم في باب الاشتغال في مثل (قام زيد وعمراً أكرمت) أن نصب (عمراً) أرجح لأن تناسب الجملتين المتعاطفتين أولى من تخالفهما.

فإن قلت: الجملة المعطوف عليها صفة لبيت فيلزم أن تكون المعطوفة كذلك، فيلزم وجود الرابطة بينها وبين الموصوف وهو (بيت) ، ولا رابط. قلت: المعنى أو خولفت أجزاء حشوه، فالضمير النائب عن الفاعل عائد على الأجزاء المضافة إلى الحشو المضاف إلى ضمير البيت، فالربط حاصل بذلك، كما قاله الكسائي وتبعه ابن مالك عليه في قوله تعالى (والذين يتوفون منكم ويذرون أزواجاً يتربص) ، وذلك أنهما قالا: الأصل يتربص أزواجهم، ثم جيء بالضمير مكان الأزواج لتقدم ذكرهن، فامتنع ذكر الضمير لأن النون لا تضاف لكونها ضميراً، وحصل الربط بالضمير القائم مقام الظاهر المضاف للضمير، فانقل ذلك إلى ما نحن فيه، وإن كان الأكثرون لا يقولون به.

فإن قلت: لم لا تجعل الجملة الفعلية وهي قوله (خولفت) معطوفة على الفعلية من قوله (إذا استكمل الأجزاء بيت) وتسلم من ارتكاب هذا الوجه المؤدي إلى مخالفة الأكثرين؟ قلت: لما يلزم عليه من الفساد، وذلك لأن استكمال البيت لأجزاء الدائرة أمر لابد منه في الوفاء والتمام، فإذا جعلت قوله (خولفت) معطوفاً على قوله: استكمل الأجزاء بيت كان قسيماً له، فيلزم عدم الاستكمال مع الوفاء، وهو باطل لما قلناه، فتأمل، قال:

بزهرٍهُما وازدادَ سطحكَ جايد … أخيرُهما فالفرقُ بينهما انجلَى

أقول: اعلم أن الناظم رحمه الله جرى على الاصطلاح المعهود في حساب الجمل تارةً وخالفه أخرى، فرمز بالألف للأول، وبالباء للثاني، وبالجيم للثالث، إلى أن رمز بالياء للعاشر، وقد يرمز بمجموع العدد، فيرمز بالهاء للخمسة لا للخامس، وبالجيم للثلاثة لا للثالث.

ولا يخفى أن البحور التي تكلم عليها الناظم هي البحور المستعملة عند الخليل، وهي خمسة عشر بحراً، فبالناظم ضرورة إلى أن يرمز لها، فرمز بما تقدم من الحروف العشرة جارياً على العرف، وبقي عليه خمسة فرمز للحادي عشر بالكاف، وللثاني عشر باللام، وللثالث عشر بالميم، وللرابع عشر بالنون، وللخامس عشر بالسين، فخالف الاصطلاح إيثاراً للاختصار، وذلك لأنه لو لم يفعل ذلك وتوقف مع المصطلح المشهور للزم أن يرمز للحادي عشر بحرفين، وهما الألف والياء، فترك ذلك إلى ما صنعه لهذا القصد، ووكل الأمر في ذلك إلى توقيف المعلم، وحذق الناظر في كلامه، فإن من تتبع مواقع نظمه في ذلك لم يخف عليه هذا القدر مع أن في رمزه لخصوصية الأول والثاني والثالث إلى آخره مخالفةً لاصطلاح الحساب المذكور، فإن الألف إنما تدل فيه على واحد لا يفيد كونه الأول، والباء للاثنين لا للثاني، والجيم للثلاثة لا للثالث، والأمر في ذلك سهل.
ওহ, কতই না চমৎকার একটি গৃহ (বৈত) যা সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এবং পূর্ণাঙ্গ … যার বৃত্তগুলো একটি অক্ষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।

তিনি বলেছেন:

‌‌উপাধি এবং পংক্তিমালা

আমি বলছি: কাব্যকার পংক্তিগুলোর (বৈত) জন্য যে নামগুলো ব্যবহার করবেন সেগুলোকে তিনি উপাধি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁর নিকট এগুলো এমন কিছু নামের মতো যা প্রশংসা জ্ঞাপন করে, যেমন 'তাম' (পূর্ণাঙ্গ) এবং 'ওয়াফি' (পরিপূর্ণ), অথবা নিন্দা জ্ঞাপন করে যেমন 'মানহুক' (ক্ষয়প্রাপ্ত)। তবে এটি পর্যালোচনার বিষয়। তিনি বলেছেন:

যদি কোনো পংক্তি (বৈত) তার নির্ধারিত অংশগুলো (আজযা) পূর্ণ করে নেয়, এবং তার 'আরুজ' ও 'দারব' যদি 'হাশু'র (অভ্যন্তরীণ অংশ) অনুরূপ হয় … তবে তাকে 'তাম' বলা হয়; আর যদি তা ভিন্ন হয়, তবে তাকে 'ওয়াফি' বলা হয়।

আমি বলছি: এর অর্থ হলো, কোনো পংক্তি যদি তার বৃত্তে অবস্থিত অংশগুলো পূর্ণরূপে ধারণ করে, তবে তা দুই প্রকার। প্রথমটি হলো, এর 'আরুজ' এবং 'দারব' তাদের ওপর আপতিত বিধিবিধানের ক্ষেত্রে 'হাশু'র (পংক্তির মধ্যবর্তী অংশ) সদৃশ হবে। অর্থাৎ হাশু-তে যা যা বৈধ, এই দুটিতেও তা বৈধ হবে এবং হাশু-তে যা নিষিদ্ধ, এই দুটিতেও তা নিষিদ্ধ হবে। একে 'তাম' (পূর্ণাঙ্গ) বলা হয়।

দ্বিতীয় প্রকার: এর 'আরুজ' এবং 'দারব' তাদের 'হাশু' থেকে ভিন্ন হবে। অর্থাৎ তাদের ওপর এমন কিছু আপতিত হবে যা হাশু-র ওপর আপতিত হওয়া বৈধ নয়। একে 'ওয়াফি' (পরিপূর্ণ) বলা হয়।

যদি আপনি প্রশ্ন করেন: তাঁর উক্তি '(সেটি) ভিন্নতর হলো' কার ওপর সংযুক্ত (আতফ) হয়েছে? আমি বলব: তাঁর উক্তি 'আরুজ ও দারব হাশু-র ন্যায়'-এর ওপর।

যদি আপনি প্রশ্ন করেন যে, এতে তো দুটি বাক্যের মধ্যে বিশেষ্যমূলক ও ক্রিয়ামূলক হওয়ার দিক থেকে ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে; যেহেতু প্রথমটি বিশেষ্যমূলক এবং দ্বিতীয়টি ক্রিয়ামূলক বাক্য। আমি বলব: প্রথমটিকেও ক্রিয়ামূলক বাক্য হিসেবে গণ্য করতে কোনো বাধা নেই। কারণ একদল ব্যাকরণবিদের মতে, কোনো নির্ভরশীল অধিকরণ পদের পরে থাকা পেশযুক্ত শব্দ সেই ক্রিয়ার কর্তা হতে পারে যার সাথে অধিকরণ পদটি সংশ্লিষ্ট, খোদ অধিকরণ পদের কর্তা নয়। সেই হিসেবে এটিও ক্রিয়ামূলক বাক্য; সুতরাং বাক্য দুটির মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই। এমনকি যদি এটিকে বিশেষ্যমূলক হিসেবে মেনেও নেওয়া হয়, তবে ব্যাকরণবিদদের মনোনীত মতানুসারে এজাতীয় বৈসাদৃশ্য নিষিদ্ধ নয়। 'ইশতিগাল' অধ্যায়ে তাদের বক্তব্য—যেমন 'জায়েদ দাঁড়িয়েছে এবং আমি আমরকে সম্মান করেছি'—থেকে এটিই বোঝা যায় যে, এখানে 'আমর' শব্দটিকে জবর প্রদান করা অধিকতর উত্তম; কেননা পরস্পর সংযুক্ত দুটি বাক্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা বৈসাদৃশ্যের চেয়ে শ্রেয়।

যদি আপনি প্রশ্ন করেন: যে বাক্যের ওপর সংযোগ করা হয়েছে সেটি 'বৈত' (পংক্তি) শব্দের গুণবাচক শব্দ, ফলে সংযুক্ত বাক্যটিও অবশ্যই গুণবাচক হতে হবে। এমতাবস্থায় গুণবাচক শব্দ এবং গুণান্বিত শব্দের মধ্যে একটি সংযোগকারী থাকা আবশ্যক, অথচ এখানে কোনো সংযোগকারী নেই। আমি বলব: এর অর্থ হলো 'তার হাশু-র অংশগুলো ভিন্নতর হয়েছে'। সুতরাং এখানে কর্তার স্থলাভিষিক্ত সর্বনামটি হাশু-র সাথে সম্বন্ধযুক্ত সেই অংশগুলোর দিকে ফিরেছে, যা আবার পংক্তির সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এর মাধ্যমে সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। যেমনটি কিসায়ি বলেছেন এবং ইবনে মালিক তাঁকে অনুসরণ করেছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে: "আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা অপেক্ষা করবে।" তারা উভয়ে বলেছেন যে, এর মূল রূপ ছিল 'তাদের স্ত্রীরা অপেক্ষা করবে'। অতঃপর স্ত্রীদের কথা পূর্বে উল্লেখ থাকায় তাদের স্থলে সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু স্ত্রীবাচক সর্বনামটি সম্বন্ধপদ হতে পারে না, তাই সরাসরি সর্বনাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি। এখানে সংযোগটি এমন একটি সর্বনামের মাধ্যমে হয়েছে যা একটি স্পষ্ট বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এবং সেই বিশেষ্যটি আবার মূল পংক্তির সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। সুতরাং এই বিষয়টি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করুন, যদিও অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেন না।

যদি আপনি প্রশ্ন করেন: কেন আপনি ক্রিয়ামূলক বাক্য অর্থাৎ তাঁর উক্তি 'ভিন্নতর হলো'-কে 'যদি কোনো পংক্তি অংশগুলো পূর্ণ করে' এই ক্রিয়ামূলক বাক্যের ওপর সংযুক্ত করছেন না? তাহলে তো অধিকাংশের মতের পরিপন্থী এই ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়োজন হতো না। আমি বলব: কারণ এতে অর্থগত ত্রুটি দেখা দেবে। কেননা কোনো পংক্তির বৃত্তের অংশগুলো পূর্ণ করা 'ওয়াফি' এবং 'তাম' হওয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত। যদি আপনি 'ভিন্নতর হলো' কথাটিকে 'পংক্তি অংশগুলো পূর্ণ করেছে' কথাটির ওপর সংযুক্ত করেন, তবে এটি তার একটি বিকল্প হয়ে যাবে। এর ফলে 'ওয়াফি' হওয়ার ক্ষেত্রে অংশগুলো পূর্ণ না হওয়াও আবশ্যক হয়ে পড়বে, যা আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে ভুল। সুতরাং চিন্তা করে দেখুন। তিনি বলেছেন:

তাদের উভয়ের উজ্জ্বলতার মাধ্যমে আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি পেয়েছে … তাদের শেষটি দ্বারা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গেছে।

আমি বলছি: জেনে রাখুন যে, কাব্যকার (রহিমাহুল্লাহ) কখনো কখনো বর্ণের গাণিতিক মান (হিসাবুল জুমাল) পদ্ধতির প্রচলিত পরিভাষা অনুসরণ করেছেন এবং কখনো তার ব্যতিক্রম করেছেন। তিনি প্রথমটির জন্য 'আলিফ', দ্বিতীয়টির জন্য 'বা', তৃতীয়টির জন্য 'জিম' এবং দশমটির জন্য 'ইয়া' সংকেত ব্যবহার করেছেন। আবার কখনো তিনি সংখ্যার সমষ্টিকে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যেমন তিনি পাঁচের জন্য 'হা' ব্যবহার করেছেন পঞ্চম বুঝাতে নয়, বরং সংখ্যার মান হিসেবে; আবার তিনের জন্য 'জিম' ব্যবহার করেছেন তিন বুঝাতে, তৃতীয় বুঝাতে নয়।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, কাব্যকার যে ছন্দগুলো (বুহুর) নিয়ে আলোচনা করেছেন সেগুলো খলীল ইবনে আহমাদ কর্তৃক ব্যবহৃত ছন্দ, যা সংখ্যায় পনেরটি। তাই কাব্যকারের জন্য এগুলোর সংকেত ব্যবহার করা জরুরি ছিল। তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দশটি অক্ষরের সংকেত ব্যবহার করেছেন। বাকি রইল পাঁচটি; তাই তিনি একাদশের জন্য 'কাফ', দ্বাদশের জন্য 'লাম', ত্রয়োদশের জন্য 'মিম', চতুর্দশের জন্য 'নুন' এবং পঞ্চদশের জন্য 'সিন' সংকেত ব্যবহার করেছেন। তিনি সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে প্রচলিত পরিভাষা লঙ্ঘন করেছেন। কারণ তিনি যদি তা না করতেন এবং প্রসিদ্ধ পরিভাষার ওপর স্থির থাকতেন, তবে একাদশ বুঝাতে দুটি বর্ণের (আলিফ ও ইয়া) সংকেত ব্যবহার করতে হতো। এই উদ্দেশ্য সফল করতেই তিনি এই পদ্ধতি বর্জন করেছেন। এ বিষয়টি তিনি শিক্ষকের নির্দেশনা এবং পাঠকের মেধার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। কেননা যে ব্যক্তি তাঁর এই কাব্যের প্রয়োগগুলো অনুসরণ করবে, তার কাছে বিষয়টি গোপন থাকবে না। যদিও প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদির জন্য তাঁর নির্দিষ্ট সংকেত ব্যবহারের পদ্ধতিতে উক্ত গাণিতিক হিসাবের পরিভাষার সাথে কিছুটা বৈসাদৃশ্য রয়েছে। কারণ 'আলিফ' দ্বারা কেবল এক বোঝায়, তা 'প্রথম' হওয়া বোঝায় না। 'বা' দ্বারা দুই বোঝায়, 'দ্বিতীয়' হওয়া বোঝায় না। 'জিম' দ্বারা তিন বোঝায়, 'তৃতীয়' হওয়া বোঝায় না। তবে এ বিষয়টি খুবই গৌণ।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
إذا تقرر هذا فالباء من قوله (بزهر) ظرفية بمعنى (في) ، والزاي رمز للبحر السابع، وهو الرجز، والهاء رمز للبحر الخامس وهو الكامل، والراء لغو ليست من حروف الرمز، وضمير الاثنين راجع إلى التمام والوفاء المشار إليهما في البيت السابق، أي أن التمام والوفاء يتداخلان في الكامل والرجز فيرد كل واحد منهما تاماً تارةً ووافياً أخرى.

فمثال التام من الكامل قول عنترة:

وإذا صحوتُ فما أقصرُ عن ندىً … وكما علمتِ شمائلي وتكرّمي

ومثال الوافي منه قول الشاعر:

لِمَن الديار عَفَا معالمها … هَطِلٌ أجَشُّ وبارحٌ تَرِبُ

ومثال التام من الرجز قوله:

دارٌ لسلمى إذْ سليمى جارةٌ … قَفرٌ ترى آياتِها مثل الزُّبُرْ

ومثال الوافي منه قوله:

القلبُ منها مستريحٌ سالمٌ … والقلبُ مني جاهدٌ مجهودُ

وقوله (وازداد سطحك جايد أخيرهما) أي أخير اللقبين وهو الوافي، وهو فاعل بقوله (ازداد) أي أن الوافي يدخل في هذه الأبحر المرموز لها بقوله (سطحك جايد) زيادةً على البحرين اللذين تقدم أنه يشارك فيهما التام، فالسين رمز للخامس عشر، وهو المتقارب، والطاء للتاسع وهو السريع، والحاء للثامن وهو الرمل، والكاف للحادي عشر وهو الخفيف، والجيم للثالث وهو البسيط، والألف للاول وهو الطويل، والباء للعاشر وهو المنسرح، والدال للرابع وهو الوافر. فمثال الوافي من المتقارب قول الشاعر:

وأبني من الشعر شعراً عويصاً … ينسى الرواة الذي قد رووا

ومن السريع قوله:

أزمانَ سلمى لا يَرى مثلها الراؤن في شامٍ ولا في عراقْ

ومن الرمل قوله:

أبلغ النعمانَ عني مألكاً … أنه قد طال حَبسي وانتظارْ

ومن البسيط قوله:

يا حارِ أرمين منكم بداهيةٍ … لم يَلقها سُوقة قبلي ولا ملِكُ

ومن الطويل قوله:

ستُبدى لك الأيامُ ما كنتِ جاهلاً … ويأتيكَ بالأخبار من لم تُزَودِ

فإن قلت: كيف يكون هذا والذي قبله من الوافي، مع أن العروض والضرب ليسا مخالفين للحشو، وذلك لأنهما دخلهما في الأول الخبن، وفي الثاني القبض، وكل من الخبن والقبض يدخل في حشو بيته، فإذن لا مخالفة؟ قلت: بل المخالفة متحققة، وذلك لأن دخول الخبن أو القبض على العروض والضرب على سبيل اللزوم، وفي الحشو على سبيل الجواز. ومثال الوافي من المنسرح قوله:

إن ابنَ زيدٍ لا زال مستعملاً … للخير يَفشى في مصره العُرُفا

ودخول الطي في هذا الضرب لازم وفي الحشو جائز، فالمخالفة حاصلة.

ومثال الوافي من الوافر قوله:

لنا غنمٌ نسوِّقها غزارٌ … كأن قرونَ جلّتها العصىُّ

وأورد الشريف سؤالاً على الناظم وهو أن كلامه مقتض لأن التام لا يكون في غير الكامل والرجز، وكل من الخفيف والمتقارب يجيء تاماً، وأجاب بالمنع، فإن البيت الذي يتوهم فيه التمام من الخفيف يجوز في ضربه التشعيث، ولا يجوز في الحشو، وكذلك البيت الذي يتوهم فيه التمام من المتقارب يجوز في ضربه التشعيث ولا يجوز في الحشو، والبيت الذي يتوهم فيه المام من المتقارب يجوز في عروضه الحذف وهو ممتنع في الحشو، فخرجا عن أن يكونا تامين، وذلك في الحقيقة مأحوذ من كلام الناظم على ما ستعرفه في باب ما أخرى من العلل مجرى الزحاف.

قال:

وإسقاط جزأيه وشطر وفوقه … هوالجزء ثم الشطر والنهك إن طرأ

أقول: يعني أن من الألقاب المتعلقة بالأبيات الجزء، والشطر، والنهك.

فإذا سقط من أجزاء البحر الموجودة في الدائرة جزآن عند الاستعمال، جزء من آخر الصدر وجزء من آخر العجز، فذلك هو الجزء بفتح الجيم، مصدر جزأته إذا أخذت منه جزءاً. والبيت حينئذ مجزوء.

وإن سقط نصف الأجزاء فذلك هو الشطر، مصدر قولك شطرته إذا قطعته، والبيت مشطور.

وإن سقط الثلثان من الأجزاء فذلك هو النهك، والبيت منهوك، هو مأخوذ من قولك نهكه المرض، إذا أضعفه جداً، ويقال: نهكت الثوب لبسا، والدابة سيراً، والمال إنفاقاً، فشبه بيت الشعر لما يولغ في الإجحاف به في الحذف بمن نهكه المرض.

قلت: وقد علم بما ذكرناه أن ما يقع في كلام العروضيين من قولهم: عروض مجزوءة وضرب مجزوء فيه تسامح، لأن هذا من ألقاب الأبيات لا من ألقاب الأجزاء.
যখন এটি স্থির হলো, তখন তার কথা ‘বিজহর’ (ফুলের মাধ্যমে)-এর ‘বা’ বর্ণটি হলো অধিকরণ কারক, যা ‘মধ্যে’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘যা’ বর্ণটি হলো সপ্তম ছন্দ ‘রাজায’-এর প্রতীক। ‘হা’ বর্ণটি পঞ্চম ছন্দ ‘কামিল’-এর প্রতীক। ‘রা’ বর্ণটি নিরর্থক, এটি কোনো প্রতীকি বর্ণ নয়। দ্বিবচনের সর্বনামটি দ্বারা পূর্ববর্তী চরণে উল্লিখিত ‘তামাম’ (পূর্ণতা) এবং ‘ওয়াফা’ (পরিপূর্ণতা)-কে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ‘তামাম’ এবং ‘ওয়াফা’ কামিল ও রাজায ছন্দের ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক হয়। ফলে এগুলোর প্রত্যেকটি কখনো পূর্ণ হিসেবে আবার কখনো পরিপূর্ণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কামিল ছন্দের পূর্ণ রূপের উদাহরণ হলো আনতারার উক্তি:

আর যখন আমি সচেতন হই, তখন আমি উদারতা প্রকাশে কোনো ত্রুটি করি না … যেমনটি তুমি জানো আমার চরিত্র এবং মহানুভবতা সম্পর্কে।

তার পরিপূর্ণ রূপের উদাহরণ হলো কবির উক্তি:

কার এই গৃহসমূহ যার চিহ্নগুলো মিটে গেছে … মুষলধারে বৃষ্টি এবং ধূলিধূসরিত বায়ুর প্রবল বেগে।

রাজায ছন্দের পূর্ণ রূপের উদাহরণ হলো তার উক্তি:

এটি সালমার গৃহ যখন সালমা আমাদের প্রতিবেশী ছিল … আজ তা বিরান ভূমি, তুমি এর চিহ্নগুলো দেখতে পাচ্ছ পুরনো পাণ্ডুলিপির মতো।

তার পরিপূর্ণ রূপের উদাহরণ হলো তার উক্তি:

তার হৃদয় শান্ত ও নিরাপদ … কিন্তু আমার হৃদয় অত্যন্ত সচেষ্ট ও ক্লান্ত।

আর তার কথা ‘তোমার উপরিভাগ তাদের শেষোক্তটির মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়েছে’—এখানে ‘শেষোক্ত’ দ্বারা পরিপূর্ণ উপাধিটি উদ্দেশ্য। এটি ‘বৃদ্ধি পেয়েছে’ ক্রিয়ার কর্তা। অর্থাৎ পরিপূর্ণ রূপটি এই ছন্দগুলোতে প্রবেশ করে যার প্রতীক হলো ‘তোমার উপরিভাগ উত্তম’। এটি সেই দুটি ছন্দের অতিরিক্ত যেগুলোতে পূর্ণ ও পরিপূর্ণ শরিক ছিল। এখানে ‘সিন’ হলো পঞ্চদশ ছন্দ ‘মুতাকারিব’-এর প্রতীক। ‘ত্ব’ হলো নবম ছন্দ ‘সারী’-এর প্রতীক। ‘হা’ হলো অষ্টম ছন্দ ‘রামাল’-এর প্রতীক। ‘কাফ’ হলো একাদশ ছন্দ ‘খাফীফ’-এর প্রতীক। ‘জিম’ হলো তৃতীয় ছন্দ ‘বাসীত’-এর প্রতীক। ‘আলিফ’ হলো প্রথম ছন্দ ‘তবীল’-এর প্রতীক। ‘বা’ হলো দশম ছন্দ ‘মুনসারীহ’-এর প্রতীক। ‘দাল’ হলো চতুর্থ ছন্দ ‘ওয়াফির’-এর প্রতীক। মুতাকারিব ছন্দের পরিপূর্ণ রূপের উদাহরণ হলো কবির উক্তি:

আমি কবিতা দিয়ে এমন এক জটিল কবিতা নির্মাণ করি … যা শুনে বর্ণনাকারীরা তাদের মুখস্থ করা কবিতাগুলো ভুলে যায়।

সারী ছন্দ থেকে উদাহরণ হলো তার উক্তি:

সালমার সেই সময়গুলো, যার মতো দৃশ্য সিরিয়া বা ইরাকে কোনো দর্শক দেখেনি।

রামাল ছন্দ থেকে উদাহরণ হলো তার উক্তি:

নুমানকে আমার পক্ষ থেকে এই বার্তাটি পৌঁছে দাও … যে আমার কারাবাস এবং অপেক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে।

বাসীত ছন্দ থেকে উদাহরণ হলো তার উক্তি:

হে হারিস, আমি তোমাদের পক্ষ থেকে এমন এক বিপদে নিক্ষিপ্ত হয়েছি … যার সম্মুখীন আমার আগে কোনো সাধারণ প্রজা বা সম্রাট হয়নি।

তবীল ছন্দ থেকে উদাহরণ হলো তার উক্তি:

অচিরেই দিনগুলো তোমার কাছে প্রকাশ করবে যা তুমি জানতে না … এবং তোমার কাছে সংবাদ নিয়ে আসবে সে ব্যক্তি যাকে তুমি পাথেয় দাওনি।

যদি তুমি প্রশ্ন করো: এটি এবং এর আগেরটি কীভাবে পরিপূর্ণ হতে পারে, অথচ ছন্দের শেষাংশ এবং অন্তিম চরণ ছন্দের মধ্যভাগের সাথে সাংঘর্ষিক নয়? কারণ প্রথমটিতে খাবান এবং দ্বিতীয়টিতে কাবায প্রবেশ করেছে, আর খাবান ও কাবায উভয়ই ছন্দের মধ্যভাগেও প্রবেশ করতে পারে, ফলে কোনো পার্থক্য রইল না? আমি উত্তরে বলব: বরং পার্থক্য নিশ্চিত। কারণ ছন্দের শেষাংশ ও অন্তিমে খাবান বা কাবায আসাটা বাধ্যতামূলক, কিন্তু মধ্যভাগের ক্ষেত্রে তা ঐচ্ছিক। মুনসারীহ ছন্দের পরিপূর্ণ রূপের উদাহরণ হলো তার উক্তি:

নিশ্চয়ই ইবনে যায়েদ সর্বদা কল্যাণের কাজে রত থাকেন … তার শহরে সদ্গুণগুলো ছড়িয়ে পড়ে।

এখানে ত্বয় প্রবেশ করা অন্তিম চরণে বাধ্যতামূলক কিন্তু মধ্যভাগে ঐচ্ছিক, ফলে পার্থক্য বিদ্যমান।

ওয়াফির ছন্দের পরিপূর্ণ রূপের উদাহরণ হলো তার উক্তি:

আমাদের অনেক দুগ্ধবতী ছাগল রয়েছে যা আমরা হাঁকিয়ে নিয়ে চলি … সেগুলোর সিংগুলো যেন লাঠির মতো শক্ত।

আশ-শরীফ গ্রন্থকারের ওপর একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তা হলো—গ্রন্থকারের বক্তব্য থেকে মনে হয় যে, পূর্ণ রূপ কেবল কামিল এবং রাজায ছন্দেই হয়। অথচ খাফীফ এবং মুতাকারিব ছন্দও তো পূর্ণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তিনি এর উত্তরে অসম্মতি জানিয়েছেন। কারণ যে কবিতাকে খাফীফ ছন্দের পূর্ণ রূপ বলে মনে করা হয়, তার অন্তিম চরণে তাশঈস জায়েয, কিন্তু মধ্যভাগে তা জায়েয নয়। একইভাবে মুতাকারিব ছন্দের যে কবিতাটিকে পূর্ণ বলে মনে করা হয়, তার অন্তিম চরণে তাশঈস জায়েয অথচ মধ্যভাগে তা অসম্ভব। আবার মুতাকারিব ছন্দের যে কবিতাকে পূর্ণ মনে করা হয়, তার শেষাংশে বিলুপ্তি জায়েয যা মধ্যভাগে নিষিদ্ধ। ফলে এগুলো পূর্ণ হওয়ার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে এটি গ্রন্থকারের বক্তব্য থেকেই গৃহীত, যা আপনি পরবর্তীতে যে অধ্যায়ে রোগের আলোচনা রয়েছে সেখানে জানতে পারবেন।

তিনি বলেছেন:

আর এর দুই অংশ বিলুপ্ত হওয়া, অথবা অর্ধেক হওয়া বা তার চেয়ে বেশি হওয়া … তাকে বলা হয় জাযউ, শাতর এবং নাহক যদি তা আপতিত হয়।

আমি বলব: অর্থাৎ কবিতার ছন্দ সম্পর্কিত উপাধিগুলো হলো জাযউ, শাতর এবং নাহক।

যদি ব্যবহারের সময় ছন্দের বৃত্তে বিদ্যমান অংশগুলো থেকে দুটি অংশ বিলুপ্ত হয়ে যায়—প্রথম চরণের শেষ থেকে একটি অংশ এবং দ্বিতীয় চরণের শেষ থেকে একটি অংশ—তবে তাকে জাযউ বলা হয়। এটি জাযআতুহু থেকে আগত যার অর্থ কোনো কিছু থেকে একটি অংশ গ্রহণ করা। তখন কবিতাকে মাজযূ বলা হয়।

আর যদি অর্ধাংশ বিলুপ্ত হয় তবে তাকে বলা হয় শাতর। এটি আপনার কথা শাতরাতুহু থেকে আগত যখন আপনি কোনো কিছু কর্তন করেন। তখন কবিতাকে মাশতুর বলা হয়।

আর যদি ছন্দের তিন ভাগের দুই ভাগ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে তাকে নাহক বলা হয়। তখন কবিতাকে মানহুক বলা হয়। এটি ‘রোগ তাকে জীর্ণ করে ফেলেছে’ থেকে গৃহীত, যখন রোগ কাউকে অত্যন্ত দুর্বল করে দেয়। বলা হয়ে থাকে: পরিধানের মাধ্যমে কাপড়টি জীর্ণ হয়েছে, সফরের মাধ্যমে পশুটি ক্লান্ত হয়েছে, খরচের মাধ্যমে সম্পদ নিঃশেষ হয়েছে। সুতরাং কবিতার চরণে যখন মাত্রাতিরিক্ত বিলুপ্তি ঘটে, তখন তাকে জীর্ণ রোগীর সাথে তুলনা করা হয়েছে।

আমি বলছি: আমাদের আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ছন্দবিদদের কথায় যখন ‘মাজযূ শেষাংশ’ বা ‘মাজযূ অন্তিম’ বলা হয়, তখন তাতে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। কারণ এগুলো তো কবিতার পঙ্ক্তির উপাধি, ছন্দের অংশের উপাধি নয়।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعلم أيضاً أنه لا شيء من المجزوء والمشطور والمنهوك تام ولا واف ضرورة أن التمام والوفاء يستدعيان استكمال أجزاء الدائرة، وهو مع كل واحد من الأمور الثلاثة مفقود.

وعلم أن في كلام الناظم لفاً ونثراً مرتباً، وضرباً من الإجمال، لأن ما فوق النصف ليس متعيناً للثلثين بخصوصه، وإهمال قيد فإن الجزء ليس إذهاب جزأين من البيت أياما كاتا، بل لابد أن يكون أحدهما آخر الصدر والآخر آخر العجز. وانظر هل في قوله (جزأيه) بالإضافة إلى ضمير البيت ما يشعر بهذا القيد.

وقد أخل الناظم رحمه الله ببيان مواقع هذه الألقاب من البحور فقلت مكملا للفائدة على طريقته.

 

فلِلجَزء حتما وبلُ من فإنْ تُرِد … جوازاً فجّهز حدسَ كفءٍ أخى ذَكا

ومعناه أنّ البحرَ يمكن نظُمُه … عَريِاً عن الجزء الذي فيه قد جَرَى

ولكنْ إذا ما حَلَّ بيتاً فإنهُ … يكون بباقي النظم حتماً بلا مِرَا

وفي سابعٍ والتاسع الشطرُ سائغٌ … وجوّز أيضاً نَهكَ زيغٍ ذوُو الهُدى

وما منهما عند العروضيّ واجبٌ … فكُن فطِناً واترك سبيلض من اعتدى

أما الجزء فلا يدخل في الطويل ولا في السريع ولا في المنسرح، وبقية البحور يدخل في بعضها على سبيل الجواز وفي بعضها على سبيل الوجوب، ولا نعني بالجواز أنه يدخل في بعض أبيات القصيدة الواحدة ويترك في بعضها، ولكن معناه أن الشاعر لا يتعين عليه أن ينظم ذلك البحر مجزوءاً بل الأمر موكول إلى خيرته، فإن شاء جزأه وإن شاء ترك الجزء، وكنه إذا فعل أحد الأمرين المخير فيهما وهو الجزء في بيت من قصيدة لزمه استعماله في بقية الأبيات من تلك القصيدة، وهذا هو المراد بقولي (ومعناه أن البحر يمكن نظمه) إلى آخر البيتين.

إذا تقرر ذلك فالأبحر التي يدخل فيها الجزء على سبيل الوجوب خمسة، وهي البحر السادس وهو الهزج، وإليه الإشارة بالواو من قولي (وبل من) والبحر الثاني وهو المديد المشار إليه بالباء، والبحر الثاني عشر وهو المضارع المشار إليه باللام، والبحر الثالث عشر وهو المقتضب المشار إليه بالميم، والبحر الرابع عشر وهو المجتث المشار إليه بالنون.

والأبحر التي يدخلها الجزء جوازاً سبعة وهي البحر الثالث وهو البسيط المشار إليه بالجيم من قولي (جهز حدس كفء) .

والبحر الخامس وهو الكامل المشار إليه بالهاء، والبحر السابع وهوالرجز المشار إليه بالزاي، والبحر الثامن وهو الرمل المشار إليه بالحاء، والبحر الرابع وهو الوافر المشار إليه بالدال، والبحر الخامس عشر وهو المتقارب المشار إليه بالسين، والبحر الحادي عشر وهو الخفيف المشار إليه بالكاف، وأما الشطر والنهك فلا شيء منهما بواجب، وإنما يدخلان على سبيل الجواز بالمعنى الذي تقدم، وإليه الإشارة بقولي (فكن فطنا) ، أي تفطن لمعنى الجواز مما قررناه أولاً.

فالشطر يكون في البحر السابع وهو الرجز، وفي البحر التاسع وهو السريع. والنهك يدخل في بحرين وهما البحر السابع وهو الرجز المشار إليه بالزاي من (زيغ) ، والبحر العاشر وهو المنسرح المشار إليه بالياء.

 

‌‌الزحاف المنفرد

 

وتغيير ثاني حرفي السبب ادعه … زحافاً فأوج الجزء من ذلك احتمى

أقول: التغيير الذي يلحق أجزاء التفاعيل على نوعين، نوع يسمى بالزحاف، ونوع يسمى بالعلة. وبعض العروضيين يزيد نوعاً آخر وهو اعلة الجارية مجرى الزحاف.

وعندي أن ثم قسماً رابعاً وهو زحاف يجري مجرى العلة. ألا ترى أن القبض مثلاً من أنواع الزحاف ويدخل في عروض الطويل على وجه اللزوم، فهو زحاف من حيث هو تغيير لحق ثاني السبب، وجرى مجرى العلة من حيث لزومه.

إذا تقرر ذلك فالزحاف تغيير يلحق ثاني السبب. هذا هو الذي ارتضاه بعض الحذاق في تعريفه، وعليه مشى الناظم. وقد علمت أنه يلزم عليه أن يكون القبض في عروض الطويل زحافا، وكذا خبن عروض البسيط الأولى وضربها الأول، وهو باطل. وقد يجاب عنه بالتزام كونه زحافا من حيث هو تغيير لثاني السبب ولكنه جرى مجرى العلة من حيث هو لازم كما مر.

وقد عرف الزحاف بتعريفات أخر غير هذا وكلها مدخول.
আরও জানা গেল যে, মাজজু (খণ্ডিত), মাশতুর (অর্ধেককৃত) এবং মানহুক (দুই-তৃতীয়াংশ কর্তিত)-এর কোনোটিই পূর্ণ বা যথার্থ নয়; কারণ পূর্ণতা ও যথার্থতা বৃত্তের অংশসমূহ পূর্ণ হওয়ার দাবি রাখে, অথচ এই তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত।

আরও অবগত হওয়া গেল যে, নাজিমের (মূল লেখক) বক্তব্যে ‘লাফ ও নাশর মুরাত্তাব’ (সুশৃঙ্খল সংকলন ও প্রসারণ) এবং এক প্রকার সংক্ষিপ্ততা রয়েছে। কারণ অর্ধেকের বেশি অংশ হওয়া মানেই তা নির্দিষ্টভাবে দুই-তৃতীয়াংশ হওয়া নয়। এছাড়া একটি শর্ত বাদ পড়েছে, আর তা হলো 'জুজ' (অংশকর্তন) বলতে চরণের যেকোনো দুটি অংশকে ফেলে দেওয়া বোঝায় না, বরং আবশ্যকীয়ভাবে একটি হতে হবে সদরের (প্রথম অর্ধ) শেষ অংশ এবং অন্যটি হতে হবে আজাযের (দ্বিতীয় অর্ধ) শেষ অংশ। লক্ষ্য করুন, তাঁর বক্তব্য ‘জুজআইহি’ (তার দুই অংশ) শব্দটিতে চরণের সর্বনামের দিকে যে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তাতে কি এই শর্তের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?

নাজিম (রহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন বাহর বা ছন্দের ক্ষেত্রে এই পরিভাষাগুলোর প্রয়োগস্থল বর্ণনা করতে গিয়ে কিছুটা অসম্পূর্ণতা রেখেছেন। তাই আমি উপকার পূর্ণ করার লক্ষ্যে তাঁর পদ্ধতি অনুসরণ করেই বলছি:

 

সুতরাং জুজ (অংশকর্তন) আবশ্যিক হবে ‘ওয়াবুলু মান’-এর জন্য; আর যদি আপনি বৈধতা চান, তবে ‘জাহহিজ হাদসা কুফইন আখি যাকা’-এর প্রস্তুতি নিন …

এর অর্থ হলো, বাহর বা ছন্দকে জুজ (অংশকর্তন) ছাড়াই রচনা করা সম্ভব … যেক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

কিন্তু যখন এটি একটি চরণে প্রকাশ পায়, তখন সেটি … কাব্যের বাকি অংশেও কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই আবশ্যিকভাবে কার্যকর হবে।

সপ্তম এবং নবম বাহরে শাতর (অর্ধেক করা) প্রচলিত রয়েছে; … আর হিদায়াতপ্রাপ্তগণ ‘যাইগ’-এর ক্ষেত্রে নাহক-কেও বৈধ বলেছেন।

ছন্দবিদদের নিকট এই দুটির কোনটিই ওয়াজিব নয়; … সুতরাং আপনি বিচক্ষণ হোন এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের পথ বর্জন করুন।

আর জুজ এর বিষয়টি; এটি ত্বাবীল, সারী' এবং মুনসারিহ বাহরে প্রবেশ করে না। বাকি বাহরগুলোর কোনোটিতে এটি বৈধতার ভিত্তিতে এবং কোনোটিতে আবশ্যিকতার ভিত্তিতে প্রবেশ করে। ‘বৈধতা’ বলতে আমরা এটি বোঝাচ্ছি না যে, একই কাসিদার কিছু চরণে তা আসবে এবং কিছু চরণে তা বর্জিত হবে; বরং এর অর্থ হলো কবির জন্য ঐ বাহরটি মাজজু বা খণ্ডিত হিসেবে রচনা করা অপরিহার্য নয়, বরং বিষয়টি তাঁর পছন্দের ওপর নির্ভর করে। তিনি চাইলে সেটিকে খণ্ডিত করতে পারেন, আবার চাইলে তা বর্জন করতে পারেন। কিন্তু যখন তিনি কোনো কাসিদার একটি চরণে এই দুই এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ের একটি অর্থাৎ জুজ প্রয়োগ করবেন, তখন ঐ কাসিদার বাকি চরণগুলোতেও তা অনুসরণ করা তাঁর জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে। আমার এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য এটিই: ‘এর অর্থ হলো, বাহর বা ছন্দকে রচনা করা সম্ভব’—কবিতার এই অংশ থেকে শেষ পর্যন্ত।

যদি এটি স্থির হয়, তবে যেসব বাহরে আবশ্যিকভাবে জুজ প্রবেশ করে তা পাঁচটি। সেগুলো হলো: ষষ্ঠ বাহর অর্থাৎ হাজায, যার প্রতি আমার বক্তব্য ‘ওয়াবুলু মান’ (و ب ل م ن)-এর ‘ওয়াও’ অক্ষর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় বাহর অর্থাৎ মাদীন, যার প্রতি ‘বা’ অক্ষর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। দ্বাদশ বাহর অর্থাৎ মুদারী’, যার প্রতি ‘লাম’ অক্ষর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ বাহর অর্থাৎ মুকতাদাব, যার প্রতি ‘মীম’ অক্ষর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। এবং চতুর্দশ বাহর অর্থাৎ মুজতাস, যার প্রতি ‘নূন’ অক্ষর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

আর যেসব বাহরে জুজ বৈধতার ভিত্তিতে প্রবেশ করে তা সাতটি। সেগুলো হলো: তৃতীয় বাহর অর্থাৎ বাসীত, যা আমার উক্তি ‘জাহহিজ হাদসা কুফইন’ (جهز حدس كفء)-এর ‘জীম’ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

পঞ্চম বাহর অর্থাৎ কামিল, যা ‘হা’ অক্ষর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। সপ্তম বাহর অর্থাৎ রাজায, যা ‘যা’ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। অষ্টম বাহর অর্থাৎ রামাল, যা ‘হা’ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। চতুর্থ বাহর অর্থাৎ ওয়াফির, যা ‘দাল’ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। পঞ্চদশ বাহর অর্থাৎ মুতাক্বারিব, যা ‘সীন’ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। একাদশ বাহর অর্থাৎ খাফীফ, যা ‘কাফ’ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর শাতর এবং নাহক-এর কোনোটিই ওয়াজিব বা আবশ্যিক নয়, বরং পূর্বে বর্ণিত অর্থের ভিত্তিতে এগুলো বৈধতার পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। আমার উক্তি ‘সুতরাং আপনি বিচক্ষণ হোন’ দ্বারা সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে, অর্থাৎ আমরা শুরুতে বৈধতার যে অর্থ সাব্যস্ত করেছি সে সম্পর্কে সচেতন হোন।

সুতরাং শাতর সপ্তম বাহর অর্থাৎ রাজায এবং নবম বাহর অর্থাৎ সারী’-তে হয়ে থাকে। আর নাহক দুটি বাহরে প্রবেশ করে, সেগুলো হলো: সপ্তম বাহর অর্থাৎ রাজায—যার প্রতি ‘যাইগ’ (زيغ)-এর ‘যা’ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং দশম বাহর অর্থাৎ মুনসারিহ—যার প্রতি ‘ইয়া’ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

 

‌‌একক যিহাফ

 

সাবাব-এর দ্বিতীয় বর্ণের পরিবর্তনকে আপনি যিহাফ নামে অভিহিত করুন; … এর মাধ্যমে চরণের উচ্চতাকে সংরক্ষিত করা হয়েছে।

আমি বলছি: তাফঈলার অংশসমূহে যে পরিবর্তন ঘটে তা দুই প্রকার। এক প্রকারকে বলা হয় যিহাফ এবং অন্য প্রকারকে বলা হয় ইল্লাত (ত্রুটি)। কোনো কোনো ছন্দবিদ আরও একটি প্রকার বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হলো এমন ইল্লাত যা যিহাফ-এর স্থলাভিষিক্ত হয়।

আমার মতে সেখানে চতুর্থ একটি প্রকারও রয়েছে, আর তা হলো এমন যিহাফ যা ইল্লাত-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, ক্বাবদ যিহাফের প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তা ত্বাবীল বাহরের আরুজে আবশ্যিকভাবে প্রবেশ করে? সুতরাং এটি যিহাফ হওয়ার কারণ হলো, এটি সাবাব-এর দ্বিতীয় বর্ণের একটি পরিবর্তন; আবার এটি ইল্লাত-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণ হলো, এর আবশ্যকতা।

যখন এটি স্থির হলো, তখন যিহাফ হলো এমন পরিবর্তন যা সাবাব-এর দ্বিতীয় বর্ণে ঘটে থাকে। বিজ্ঞজনদের মধ্যে কেউ কেউ এই সংজ্ঞাই পছন্দ করেছেন এবং নাজিমও এর ওপর ভিত্তি করেই চলেছেন। আপনি জেনেছেন যে, এর ওপর ভিত্তি করলে ত্বাবীল বাহরের আরুজে ক্বাবদ-কে যিহাফ বলতে হয়, একইভাবে বাসীত বাহরের প্রথম আরুজ এবং প্রথম যারবের ক্ষেত্রে খাবন-কেও যিহাফ বলতে হয়, অথচ বিষয়টি এমন নয়। এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, সাবাব-এর দ্বিতীয় বর্ণের পরিবর্তন হিসেবে এটি যিহাফ, কিন্তু পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, আবশ্যিক হওয়ার কারণে এটি ইল্লাতের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

যিহাফকে এটি ছাড়াও আরও অন্যান্য সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তবে সেগুলোর সবকটিই ত্রুটিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فقيل هو تغيير لا يلزم ولا يكسر الوزن. ونقضه ابن واصل بالتشعيث فإنه لا يلزم ولا يكسر الوزن، مع أنه ليس زحافا ضرورة أنه تغيير في الوتد، والزحاف لا يكون في وتد. قلت: ليس اختصاص الزحاف بالاسباب متفقاً عليه حتى يرد النقض بالتشعيث، فكثير ذهب إلى أن الخرم زحاف مع أنه تغيير في الوتد.

فإن قلت: لكنه يكسر الوزن فلا يرد عليه، قلت: لا نسلم أنه يكسر الوزن، إذ لو كسره لخرج ما دخل فيه عن أن يكون شعراً ضرورة أن كل شعر لابد أن يكون موزوناً بوزن صحيح، واللازم باطل.

وقيل: الزحاف تغيير عدمه أحسن من وجوده، ونقض بقبض (فعولن) التي قبل الضرب الثالث من الطويل، فإنه أحسن من عدم القبض اتفاقا مع أنه زحاف.

وقيل: هو الذي وجوده في الشعر أكثري. ونقض بالتشعيث فإنه أكثر من عدمه في الخفيف. قلت: قد يمنع كونه أكثرياً فيه.

وقيل: هو حذف ساكن السبب الخفيف. ونقض بالإضمار والعصب والعقل، فإن كلاً منها زحاف، وليس تغييراً لثاني سبب خفيف.

وسمي هذا التغيير زحافا، وزحفاً، لما يحدث به في الكلمة من الإسراع بالنطق بحروفها لما نقص منها. مأخوذ من قولهم زحف إلى الحرب وغيرها إذا أسرع النهوض إليها. قال امرؤ القيس:

فأقبلتُ زَحفاً على الركبتينِ … فثوباً نسيتُ وثوباً أجُرّْ

قال بعضهم: إنما كان الزحاف خاصا بالأسباب دون الأوتاد لأن الزحاف أكثر وروداً في الشعر من العلل، والوتد أثبت من السبب كثير الاضطراب، فإذا زوحف السبب اعتمد على الوتد، فلو زوحف الوتد لضعف اعتماده لضعف الوتد.

وقد تقدم أن بيت الشعر كبيت الشعر، فكلما أن السبب في بيت الشعر يضطرب، وإنما يعتمد على الوتد لأنه يمسكه، كذلك هو في بيت الشعر، ولأن الأسباب أكثر وروداً في الأجزاء من الأوتاد. ألا ترى أن الواقع من الأسباب في الأجزاء العشرة ثمانية عشر، في كل واحد من الخماسيين سبب، وفي كل واحد من السباعية سببان، وليس فيهما من الأوتاد غير عشرة فقط، في كل جزء وتد، والزحاف أكثر وروداً في الشعر فجعلوا الأكثر وروداً للأكثر وجوداً قصداً للتخفيف.

وإنما اختصت ثواني الأسباب بالزحاف دون أوائلها لأن الأوائل لو زوحفت لأدى إلى الابتداء بالساكن في السبب الخفيف مطلاً، وفي الثقيل إذا أضمر، ووقع أول البيت.

وإذا علمت أن الزحاف إنما يلحق ثاني السبب لزم من ذلك أن أول الجزء وسادسه وثالثه لا يدخلها زحاف ضرورة أن الأول ليس ثاني سبب قطعا، والسادس إما أول سبب أو ثاني وتد، والثالث إما أول سبب أو ثالث وتد، أو أوله.

وإلى ذلك أشار بالألف والواو والجيم من قوله (فأوج) ، فأشار بالألف إلى الحرف الأول من الجزء، وبالواو إلى سادسه، وبالجيم إلى ثالثه، وأتى بالفاء السببية إشعاراً بأن احتماء هذه المحال المرموز لها من الزحاف مسبب عن كونه عبارةً عن تغيير ثاني السبب، فتأمل.

ووقع في شرح العصري الذي كنا أسلفنا ذكره عند الكلام على قوله (أولات عد حزء لجزء ثنا ثنا) ما نصه: (يقول إن الزحاف المنفرد مختص في الحشو بالسبب، ولا يكون إلا في ثانية، وإلى ذلك أشار بقوله (فأوج الجزء من ذلك احتمى) ، يعني أعلاه الذي أوله، فلم يشعر بأن أحرف (أوج) رمز لأول الجزء وسادسه وثالثه كما سبق. والظاهر أن هذه الأحرف كتبت في نسخته التي وقف عليها بالسواد ولم تكتب بالحمرة التي يكتب بها الرمز عادةً فوهم ولم يتنبه.

قال:

وذلك بالإسكانِ والحذفِ فيهما … يَعُمُّ علي الترتيب فاقضِ على الوَلَا

أقول: يعني أن تغيير ثاني السبب يكون تارةً بالإسكان، وتارةً بحذف الساكن، وتارةً بحذف المتحرك. فالضمير من قوله (فيهما) عائدٌ على الساكن والمتحرك المفهومين من السياق، وذلك لأن ثاني السبب يكون ساكناً ويكون متحركاً.

وقوله (يعم على الترتيب) يعني أن هذا التغيير يعم ثواني الأسباب على الترتيب الذي يقتضيه الانتقال من الخفيف إلى ما بعده، فتبدأ بإسكان المتحرك، ثم تنتقل منه إلى حذف الساكن، ثم إلى حذف المتحرك، وذلك لأن الإسكان حذف حركة، وهو أخف من حذف الحرف فتبدأ به، وحذف الساكن أخف من حذف المتحرك فيكون بعد الإسكان، وتنتقل منه إلى حذف المتحرك، فإذا جاءتك ألقاب فاحكم بأن الأول منها للأخف، والثاني لما بعده، والثالث لما بعدهما، وهو معنى قوله (فاقض على الولا) .

قال:
বলা হয়েছে যে, এটি (জিহাফ) এমন এক পরিবর্তন যা অপরিহার্য নয় এবং ছন্দভঙ্গ করে না। ইবনে ওয়াসিল 'তাশইছ'-এর মাধ্যমে এই সংজ্ঞাকে খণ্ডন করেছেন; কেননা তাশইছ অপরিহার্য নয় এবং ছন্দও ভঙ্গ করে না, অথচ তা জিহাফ নয়। কারণ এটি 'ওয়াতাদ'-এর মধ্যে সংঘটিত পরিবর্তন, আর জিহাফ কখনো ওয়াতাদে হয় না। আমি বলি: জিহাফ যে কেবল 'সাবাব'-এর সাথে সুনির্দিষ্ট, তা সর্বসম্মত বিষয় নয় যে এর মাধ্যমে তাশইছ নিয়ে আপত্তি তোলা যাবে। বরং অনেকেই মনে করেন যে 'খারম' একটি জিহাফ, অথচ তা ওয়াতাদের মধ্যে হওয়া পরিবর্তন।

যদি আপনি বলেন: কিন্তু এটি ছন্দ ভঙ্গ করে, তাই এর ওপর ওই আপত্তি প্রযোজ্য নয়। আমি বলব: এটি ছন্দ ভঙ্গ করে—তা আমরা স্বীকার করি না। কেননা যদি তা ছন্দ ভঙ্গ করত, তবে যে পঙ্ক্তিতে এটি প্রবেশ করেছে তা কবিতা হওয়ার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যেত; কারণ প্রতিটি কবিতার জন্য একটি সঠিক ছন্দে ছন্দোবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য, অথচ এর বিপরীতটি বাতিল বা অগ্রহণযোগ্য।

আবার বলা হয়েছে: জিহাফ হলো এমন পরিবর্তন যার অনুপস্থিতি উপস্থিতির চেয়ে উত্তম। কিন্তু 'তউয়িল' ছন্দের তৃতীয় 'দারব'-এর পূর্ববর্তী 'ফাউলুন' রুকনের 'কবদ' (পঞ্চম বর্ণ বিলোপ) দ্বারা এই সংজ্ঞা খণ্ডন করা হয়েছে; কারণ সর্বসম্মতভাবে সেখানে কবদ হওয়াটাই কবদ না হওয়ার চেয়ে উত্তম, যদিও তা একটি জিহাফ।

কেউ কেউ বলেছেন: এটি এমন বিষয় যার উপস্থিতি কবিতায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়। কিন্তু 'তাশইছ' দিয়ে এই সংজ্ঞা খণ্ডন করা হয়েছে; কারণ 'খফিফ' ছন্দে তাশইছ না থাকার চেয়ে থাকাই বেশি দেখা যায়। আমি বলি: সেখানে এর আধিক্যকে অস্বীকার করা যেতে পারে।

আবার বলা হয়েছে: এটি হলো 'সাবাব খফিফ'-এর সাকিন (সুপ্ত) বর্ণ বিলোপ করা। কিন্তু 'ইদমার', 'আসব' এবং 'আকল' দ্বারা এই সংজ্ঞা খণ্ডন করা হয়েছে; কেননা এগুলোর প্রতিটিই জিহাফ, অথচ এগুলো সাবাব খফিফ-এর দ্বিতীয় বর্ণের পরিবর্তন নয়।

এই পরিবর্তনকে জিহাফ বা যাহাফ বলা হয় কারণ এর ফলে শব্দের ভেতরে বর্ণ হ্রাস পাওয়ায় উচ্চারণে দ্রুততা সৃষ্টি হয়। এটি তাদের এই কথা থেকে নেওয়া হয়েছে—'সে যুদ্ধের দিকে বা অন্য কিছুর দিকে দ্রুত ধাবিত হলো (যাহাফা)'। ইমরুল কায়েস বলেছেন:

অতঃপর আমি হাঁটু গেড়ে দ্রুত এগিয়ে গেলাম ... একটি কাপড় আমি ভুলে ফেলে এসেছি, আর অন্যটি টেনে নিয়ে যাচ্ছি।

কেউ কেউ বলেছেন: জিহাফ কেবল সাবাবের সঙ্গেই নির্দিষ্ট, ওয়াতাদের সঙ্গে নয়—তার কারণ হলো কবিতায় 'ইলাল' (পরিবর্তন)-এর তুলনায় জিহাফের ব্যবহার অনেক বেশি। ওয়াতাদ হলো সাবাবের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ়, আর সাবাব অত্যন্ত অস্থির বা পরিবর্তনশীল। তাই যখন সাবাবে জিহাফ ঘটে, তখন তা ওয়াতাদের ওপর নির্ভর করে। যদি ওয়াতাদে জিহাফ ঘটত, তবে ওয়াতাদের দুর্বলতার কারণে নির্ভরতাও দুর্বল হয়ে পড়ত।

ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কবিতার ঘর (বায়ত) হলো মানুষের ঘরের মতো। ঘরের খুঁটি যেমন নড়বড়ে হয় এবং তা টিকে থাকার জন্য মজবুত কাঠ বা খুঁটির ওপর নির্ভর করে, তেমনি কবিতার চরণেও সাবাব নড়বড়ে এবং তা ওয়াতাদের ওপর নির্ভর করে তাকে ধরে রাখার জন্য। তা ছাড়া রুকনগুলোর মধ্যে ওয়াতাদের তুলনায় সাবাবের সংখ্যা অনেক বেশি। আপনি কি দেখেন না যে, দশটি মূল রুকনের মধ্যে সাবাবের সংখ্যা আঠারোটি; দুটি পঞ্চাক্ষরী রুকনের প্রতিটিতে একটি করে সাবাব আছে এবং সাতটি সপ্তাক্ষরী রুকনের প্রতিটিতে দুটি করে সাবাব আছে। অথচ এই রুকনগুলোতে ওয়াতাদ রয়েছে মাত্র দশটি, প্রতি রুকনে একটি করে ওয়াতাদ। যেহেতু কবিতায় জিহাফের প্রয়োগ বেশি, তাই তারা সহজকরণের উদ্দেশ্যে যেটির অস্তিত্ব বেশি (সাবাব), সেটিকে অধিক ব্যবহার হওয়া পরিবর্তনের (জিহাফ) জন্য নির্ধারণ করেছেন।

সাবাবের কেবল দ্বিতীয় বর্ণটিই জিহাফের জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে, প্রথম বর্ণ নয়। কারণ যদি প্রথম বর্ণে পরিবর্তন আনা হতো, তবে তা সাবাব খফিফ-এর ক্ষেত্রে সর্বদা সাকিন (স্বরহীন বর্ণ) দিয়ে শব্দ শুরু করার দিকে নিয়ে যেত। আর সাবাব সাকিল-এর ক্ষেত্রে যদি 'ইদমার' করা হতো এবং তা চরণের শুরুতে থাকত, তবে সেখানেও সাকিন দিয়ে শুরু করার আবশ্যকতা তৈরি হতো।

যখন আপনি জানলেন যে জিহাফ কেবল সাবাবের দ্বিতীয় বর্ণের সাথে যুক্ত হয়, তখন এটি অনিবার্য হয় যে—অংশের (জুজ) প্রথম, ষষ্ঠ এবং তৃতীয় বর্ণে কোনো জিহাফ প্রবেশ করবে না। কারণ প্রথম বর্ণটি কখনোই কোনো সাবাবের দ্বিতীয় বর্ণ নয়; ষষ্ঠ বর্ণটি হয় কোনো সাবাবের প্রথম বর্ণ অথবা কোনো ওয়াতাদের দ্বিতীয় বর্ণ; আর তৃতীয় বর্ণটি হয় কোনো সাবাবের প্রথম বর্ণ, অথবা কোনো ওয়াতাদের তৃতীয় বর্ণ কিংবা প্রথম বর্ণ।

আর একথার দিকেই তিনি 'ফাউজ' (فأوج) শব্দটির আলিফ, ওয়াও এবং জীম দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। আলিফ দ্বারা তিনি অংশের প্রথম বর্ণ, ওয়াও দ্বারা ষষ্ঠ বর্ণ এবং জীম দ্বারা তৃতীয় বর্ণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি এখানে 'ফা' অক্ষরটি কার্যকারণ (সাবাবিয়াহ) হিসেবে এনেছেন এটা বোঝাতে যে, জিহাফ থেকে এই চিহ্নিত স্থানগুলোর মুক্ত থাকা মূলত জিহাফের সংজ্ঞারই ফল, যা সাবাবের দ্বিতীয় বর্ণের পরিবর্তনকে বোঝায়। বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।

আল-আসরি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে (যার উল্লেখ আমরা ইতিপূর্বে 'উলাতু আদ জুজ লিজুজ ছানা ছানা' আলোচনার সময় করেছি) যা এসেছে তার পাঠ হলো: "তিনি বলছেন যে, রুকনের মধ্যবর্তী অংশে (হাশু) একক জিহাফ কেবল সাবাবের সাথে নির্দিষ্ট এবং তা কেবল তার দ্বিতীয় বর্ণেই হতে পারে। আর একথার দিকেই তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে—'অংশের ওই স্থানগুলো তা থেকে রক্ষা পেয়েছে'। অর্থাৎ এর উপরিভাগ যা শুরু থেকে আছে।" তিনি কিন্তু এটা স্পষ্ট করেননি যে 'অজ' (أوج) শব্দটির বর্ণগুলো রুকনের প্রথম, ষষ্ঠ এবং তৃতীয় বর্ণের প্রতীক। স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, তিনি যে পাণ্ডুলিপিটি দেখেছিলেন তাতে এই বর্ণগুলো সাধারণ কালো কালিতে লেখা ছিল, চিরাচরিত লাল কালিতে লেখা ছিল না যা দিয়ে সাধারণত প্রতীক বা সংকেত বোঝানো হয়; ফলে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং বিষয়টি লক্ষ্য করেননি।

তিনি বলেছেন:

আর তা হলো বর্ণকে সাকিন করা এবং বিলোপ করার মাধ্যমে ... এভাবেই ধারাবাহিকভাবে হুকুম জারি করো।

আমি বলি: এর অর্থ হলো সাবাবের দ্বিতীয় বর্ণের পরিবর্তন কখনো সাকিন করার মাধ্যমে হয়, কখনো সাকিন বর্ণ বিলোপের মাধ্যমে, আবার কখনো হরকতযুক্ত (স্বরযুক্ত) বর্ণ বিলোপের মাধ্যমে হয়। 'সে দুটির মধ্যে' (ফিহিমা) শব্দের সর্বনামটি সাকিন ও হরকতযুক্ত বর্ণের দিকে ফিরেছে যা আলোচনার প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়। কারণ সাবাবের দ্বিতীয় বর্ণটি কখনো সাকিন হয় আবার কখনো হরকতযুক্ত হয়।

আর তাঁর কথা 'ধারাবাহিকভাবে সব কটিকে অন্তর্ভুক্ত করে'—এর অর্থ হলো এই পরিবর্তনগুলো সাবাবের দ্বিতীয় বর্ণকে ক্রমানুসারে অন্তর্ভুক্ত করে, যা 'সাবাব খফিফ' থেকে তার পরবর্তীগুলোর দিকে স্থানান্তরের দাবি রাখে। তাই প্রথমে হরকতযুক্ত বর্ণকে সাকিন করা দিয়ে শুরু করতে হয়, তারপর সাকিন বর্ণ বিলোপ করা এবং সবশেষে হরকতযুক্ত বর্ণ বিলোপ করার দিকে যেতে হয়। কারণ সাকিন করা হলো কেবল হরকত বা স্বর বিলোপ করা, যা বর্ণ বিলোপের চেয়ে সহজ; তাই এটি দিয়ে শুরু হয়। আর সাকিন বর্ণ বিলোপ করা হরকতযুক্ত বর্ণ বিলোপের চেয়ে সহজ, তাই এটি সাকিন করার পরেই আসে। এরপর হরকতযুক্ত বর্ণ বিলোপ করার বিষয়টি আসে। অতএব যখন আপনার সামনে বিভিন্ন পরিভাষা আসবে, তখন ফয়সালা দেবেন যে প্রথমটি সহজটির জন্য, দ্বিতীয়টি তার পরেরটির জন্য এবং তৃতীয়টি তারও পরেরটির জন্য। আর এটিই তাঁর 'ধারাবাহিকভাবে বিচার করো' কথার মূল অর্থ।

তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فتلك بثاني الجُزء الأضمارُ متبعا … بخبنٍ ووقصٍ فادعُ كلاً بما اقَتَضى

أقول: الإشارة بقوله (تلك) عائدة ٌ إلى التغيرات الثلاثة المتقدمة التي هي إسكان المتحرك، وحذف الساكن، وحذف المتحرك.

وقد أسلف الناظم أن التغيير الذي تكلم عليه هو تغيير ثاني السبب، وأن التغييرات ثلاثة أنواع مرتبة على ما مر.

وذكر هنا أن تلك التغييرات تحل ثاني الجزء فتسمى بالإ'ضمار والخبن والوقص، فيلزم من ذلك أن يكون الإضمار عبارةً عن إسكان الثاني المتحرك من الجزء وأن يكون الخبن عبارةً عن حذف الثاني الساكن منه، وأن يكون الوقص عبارة عن حذف الثاني المتحرك مه، وأن هذا الثاني الذي اعتورته التغييرات الثلاثة لابد أن يكون ثاني سبب عملاً بما سبق.

وقوله (فادع كلا بما اقتضى) يعني أني قد أخبرتك أن ثاني الجزء محل لهذه الأمور الثللاثة المذكورة على الولاء: الإضمار والخبن والوقص، فادع كلا منها بما اقتضاه الترتيب السابق من البدء بالخفيف ثم الانتقال إلى ما بعده ثم الانتقال إلى ما بعدهما كما أسلفناه.

والإضمار لغةً مأخوذ من الإضمار الذي هو الإحفاء. تقول: أضمرت في نفسي كذا، أي أخفيته، ولما كانت حركة الحرف تميزه وتظهره وأسقطت كان إسقاطها إخفاء لبعض الحروف، فسمي لذلك إضماراً. ومنه سميت الأسماء العائدة إلى الظاهر ضمائر لأنها تخفى معانيها بالنسبة إليها.

وقيل: هو مأخوذ من قولك أضمرت البعير، إذا جعلته ضامراً مهزولا، وذلك لأن حركة الجزء لما ذهبت وأعبقها السكون ضعف بسبب ذلك فشبه بالضامر المهزول.

والخبن لغةً أن يجمع الرجل ذيل ثوبه من أمامه فيرفعه إلى صدره فيشده هناك على شيء يجعله فيه. ويقال خبن الخياط الثوب، إذا ضم ذيله إليه، فكأن الجزء لما حذف ثانية وانضم بذلك أوله من ثالثه شبه بالثوب إذا خبن.

والوقص لغةً قصر العنق، وهو أيضاً كسرها، ومنه قولهم وقص الرجل، إذا سقط عن دابته فاندقت عنقه. فكأن الجزء لما سقط ثانية المتحرك شبه بما اندقت عنقه. لأن الثاني من الجزء بمنزلة العنق.

واعلم أن من العروضيين من نقل عن الأكثرين أن الوقص دخول الخبن على الإضمار، وأن الأقلين هم القائلون بما قاله الناظم من أنه حذف الثاني المتحرك. ورجح أبو الحكم الأول بأنه لو كان المتحرك هو المحذوف منه ابتداء لجاز في متفاعلن الخبل، إذ لا مانع حينئذ منه، ولا كذلك على مذهب الجمهور لقيام المانع، وهو اجتماع ثلاث علل: الخبن والإضمار والطي. ورده الصفاقسي بأنا لا نسلم فقدان المانع حينئذ منه، بل هو قائم لفقدان جزء الخبل، وهو الخبن، لأن الخبل عبارة عن اجتماع الخبن والطي إجماعاً، لا عن اجتماع الوقص والطي، ولا خبن حينئذ في الجزء فلا يدخله الخبل.

على أن اجتماع ثلاث علل عنده ليس بمستنكر، بل الدليل حجةٌ عليه حينئذ، لوجود جزأي الخبل وهما الخبن والطي على القول الذي رجحه. سلمناه إلا أن العلة عندنا في امتناع الخبل في متفاعلن مركبةٌ، وهو ما يؤدي إليه من حذف حرفين أحدهما متحرك، وكراهية اجتماع أربعة متحركات، وحينئذ لا يرد جواز الخبل في البسيط علينا، لانتفاء بعض أجزاء العلة، وهو كون أحد الحرفين المحذوفين متحركاً لأنهما معاً ساكنان.

قال:

ورابعُه لم يبلَ إلا بطيِّه … أي الحذفِ إن يسكُن وإلا فقد نجا

أقول يعني أن الحرف الرابع من الجزء لم يغير من أنواع الزحاف إلا بالطي، فعبر عن ذلك بقوله (لم يبل) على جهة التمثيل. فإذن يكون الطي عبارة عن حذف الساكن الرابع من الجزء. سمي بذلك لأن الحرف الرابع من الجزء السباعي واقع وسطه؛ فإذا حذف التقت الحروف التي قبله بالحروف التي بعده فأشبه الثوب الذي يطوي من وسطه.

وقوله (وإلا فقد نجا) أي وإلا يسكن الحرف الرابع بأن كل متحركاً فإنه ينجو من الزحاف، كما تقرر تغيير ثاني السبب، ورابع الجزء إذا كان متحركاً لا يكون ثاني سبب، لأنه إما أن يكون حينئذ أول سبب أو ثاني وتد وكلاهما ليس محلا للزحاف.

قال:

وعصب وقبض ثم عقل بخامس … وكف سقوط السابع الساكن انقضى

أقول: يدخل في خامس الجزء مع كونه ثاني سبب تغييرات ثلاثة، وهي العصب والقبض والعقل. وقضية الجريان على الترتيب الذي أفاده الناظم أن يكون العصب إسكان الخامس المتحرك، والقبض حذف الخامس الساكن والعقل حذف الخامس المتحرك.
সেই পরিবর্তনগুলো (জুয-এর) দ্বিতীয় বর্ণে ইদমারকে অনুসরণ করে খাবন ও ওয়াকস হিসেবে আসে; সুতরাং প্রত্যেকটিকে তার যথাযথ নাম দ্বারা আহ্বান করো।

আমি বলছি: (تلك) শব্দ দ্বারা ইশারা বা ইঙ্গিত করা হয়েছে পূর্বে উল্লেখিত তিনটি পরিবর্তনের প্রতি, যা হলো— গতিশীল বর্ণকে স্থির (সাকিন) করা, স্থির বর্ণকে বিলোপ করা এবং গতিশীল বর্ণকে বিলোপ করা।

গ্রন্থকার আগেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করছেন তা হলো 'সাবাব'-এর দ্বিতীয় বর্ণের পরিবর্তন, এবং পরিবর্তনগুলো ইতিপূর্বে বর্ণিত ক্রমানুসারে তিন প্রকার।

তিনি এখানে উল্লেখ করেছেন যে, ঐ পরিবর্তনগুলো 'জুয'-এর দ্বিতীয় বর্ণে সংঘটিত হয়, আর সেগুলোকে 'ইদমার', 'খাবন' এবং 'ওয়াকস' বলা হয়। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, 'ইদমার' হলো জুয-এর দ্বিতীয় গতিশীল বর্ণকে সাকিন করা, 'খাবন' হলো তার দ্বিতীয় স্থির বর্ণকে বিলোপ করা এবং 'ওয়াকস' হলো তার দ্বিতীয় গতিশীল বর্ণকে বিলোপ করা। আর যে দ্বিতীয় বর্ণের ওপর এই তিনটি পরিবর্তন আপতিত হয়, পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী তাকে অবশ্যই কোনো 'সাবাব'-এর দ্বিতীয় বর্ণ হতে হবে।

তাঁর উক্তি (ফাদউ কুল্লান বিমা ইক্বতাদা) এর অর্থ হলো: আমি আপনাকে অবহিত করেছি যে, জুয-এর দ্বিতীয় বর্ণটি ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত এই তিনটি বিষয়ের স্থান: ইদমার, খাবন এবং ওয়াকস। অতএব, পূর্বের ক্রম অনুযায়ী—প্রথমে হালকা থেকে শুরু করে পরেরটিতে এবং তারপর তার পরেরটিতে স্থানান্তরের নিয়ম অনুসারে—প্রত্যেকটিকে তার দাবি অনুযায়ী নামকরণ করুন, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি।

আভিধানিক অর্থে 'ইদমার' শব্দটি 'আল-ইদমার' থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো গোপন করা। আপনি বলেন: 'আমি আমার মনে অমুক বিষয়টি গোপন করেছি', অর্থাৎ আমি তা লুকিয়ে ফেলেছি। যেহেতু বর্ণের হরকত (স্বরধ্বনি) বর্ণকে পৃথক ও প্রকাশ করে, আর যখন তা বিলুপ্ত করা হয়, তখন সেই বিলুপ্তি বর্ণের একাংশকে লুকিয়ে ফেলার নামান্তর হয়, তাই একে 'ইদমার' নামকরণ করা হয়েছে। এ থেকেই প্রকাশ্য বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত সর্বনামগুলোকে 'দুমাইর' বলা হয়, কারণ প্রকাশ্য বিশেষ্যের তুলনায় এগুলোর অর্থ প্রচ্ছন্ন থাকে।

আবার কেউ কেউ বলেন: এটি আপনার উক্তি 'আমি উটটিকে কৃশ করেছি' থেকে নেওয়া হয়েছে, যখন আপনি তাকে দুর্বল ও শীর্ণ করেন। এর কারণ হলো, যখন জুয-এর স্বরধ্বনি চলে যায় এবং স্থিরতা তার স্থলাভিষিক্ত হয়, তখন সেটির কারণে তা দুর্বল হয়ে পড়ে; ফলে একে শীর্ণ বা কৃশ উটের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

আভিধানিক অর্থে 'খাবন' হলো—কোনো ব্যক্তি তার কাপড়ের নিচের অংশ সামনের দিক থেকে গুটিয়ে বুকের কাছে তুলে সেখানে কোনো কিছুর সাহায্যে বেঁধে রাখা। বলা হয়, 'দর্জি কাপড়টি খাবন করেছে', যখন সে কাপড়ের নিচের প্রান্ত গুটিয়ে সেলাই করে দেয়। যেহেতু জুয-এর দ্বিতীয় বর্ণটি বিলুপ্ত হয় এবং এর ফলে তার প্রথম বর্ণটি তৃতীয় বর্ণের সাথে মিলে যায়, তাই একে খাবন করা কাপড়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

আভিধানিক অর্থে 'ওয়াকস' মানে ঘাড় ছোট হওয়া, আবার এর অর্থ ঘাড় ভেঙে যাওয়াও হয়। এ থেকেই আরবরা বলে, 'লোকটি ওয়াকসগ্রস্ত হয়েছে', যখন সে তার সওয়ারি থেকে পড়ে যায় এবং তার ঘাড় ভেঙে যায়। যেহেতু জুয-এর দ্বিতীয় গতিশীল বর্ণটি বিলুপ্ত হয়, তাই একে এমন কিছুর সাথে তুলনা করা হয়েছে যার ঘাড় ভেঙে গেছে; কারণ জুয-এর দ্বিতীয় বর্ণটি ঘাড়ের সমতুল্য।

জেনে রাখুন যে, ছন্দবিশারদদের মধ্যে কেউ কেউ অধিকাংশের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'ওয়াকস' হলো 'ইদমার'-এর ওপর 'খাবন'-এর প্রবেশ। আর অল্পসংখ্যক বিশেষজ্ঞ গ্রন্থকারের মতের প্রবক্তা যে, এটি হলো দ্বিতীয় গতিশীল বর্ণের বিলুপ্তি। আবু হাকাম প্রথম মতটিকে প্রধান্য দিয়েছেন এই যুক্তিতে যে, যদি গতিশীল বর্ণটিই সরাসরি বিলুপ্ত হতো, তবে 'মুতাফাইউন' ছন্দে 'খাবল' হওয়া জায়েয হতো, কারণ তখন এতে কোনো বাধা থাকতো না। কিন্তু জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতানুসারে এমনটি নয়, কারণ সেখানে একটি প্রতিবন্ধক বিদ্যমান; আর তা হলো তিনটি পরিবর্তনের (খাবন, ইদমার এবং তাইয়্য) একত্র হওয়া। সিফাক্বুসি একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, আমরা তখন এতে প্রতিবন্ধকের অভাব স্বীকার করি না, বরং 'খাবল'-এর উপাদান 'খাবন'-এর অনুপস্থিতির কারণে প্রতিবন্ধক বিদ্যমান থাকে। কেননা সর্বসম্মতভাবে 'খাবল' হলো খাবন ও তাইয়্য-এর সমষ্টি, ওয়াকস ও তাইয়্য-এর সমষ্টি নয়। আর তখন জুয-এর মধ্যে কোনো 'খাবন' থাকে না, তাই তাতে 'খাবল' প্রবেশ করতে পারে না।

এছাড়া তাঁর মতে তিনটি পরিবর্তনের একত্র হওয়া আপত্তিকর কিছু নয়; বরং তাঁর উপস্থাপিত দলিলটি তাঁর নিজের বিপক্ষেই যায়, কারণ তাঁর প্রধান্য দেওয়া মতানুসারে খাবল-এর দুটি অংশ তথা খাবন ও তাইয়্য সেখানে বিদ্যমান থাকে। আমরা এটি মেনে নিলেও আমাদের নিকট 'মুতাফাইউন'-এ খাবল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণটি একটি যৌগিক কারণ। আর তা হলো—এর ফলে এমন দুটি বর্ণের বিলুপ্তি ঘটে যার একটি গতিশীল, এবং পরপর চারটি গতিশীল বর্ণ একত্রিত হওয়ার অপছন্দনীয়তা। এমতামবস্থায় 'বাসীত' ছন্দে খাবল জায়েয হওয়া আমাদের ওপর আপতিত হয় না, কারণ সেখানে কারণের কিছু অংশ অনুপস্থিত; আর তা হলো বিলুপ্ত হওয়া দুটি বর্ণের একটি গতিশীল হওয়া। কারণ সেখানে (বাসীত ছন্দে) উভয় বর্ণই স্থির।

তিনি বলেন:

তার চতুর্থ বর্ণটি 'তাইয়্য' (সংকোচন) ছাড়া অন্য কোনো পরিবর্তনের শিকার হয় না; অর্থাৎ এটি বিলুপ্ত হবে যদি স্থির থাকে, নতুবা এটি রক্ষা পাবে।

আমি বলছি—এর অর্থ হলো, জুয-এর চতুর্থ বর্ণটি যিহাফ-এর প্রকারভেদগুলোর মধ্যে কেবল 'তাইয়্য' দ্বারাই পরিবর্তিত হয়। তিনি রূপক হিসেবে 'বিলীন হওয়া' শব্দ দ্বারা এটি প্রকাশ করেছেন। সুতরাং 'তাইয়্য' বলতে জুয-এর চতুর্থ স্থির বর্ণকে বিলুপ্ত করা বোঝায়। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ সাত বর্ণবিশিষ্ট জুয-এর চতুর্থ বর্ণটি মাঝখানে অবস্থিত; যখন এটি বিলুপ্ত হয়, তখন তার পূর্বের বর্ণগুলো পরের বর্ণগুলোর সাথে মিলিত হয়, ফলে এটি মাঝখান থেকে ভাঁজ করা কাপড়ের মতো মনে হয়।

তাঁর উক্তি (ওয়া ইল্লা ফাক্বাদ নাজা) এর অর্থ হলো: যদি চতুর্থ বর্ণটি স্থির না হয় অর্থাৎ গতিশীল হয়, তবে তা যিহাফ থেকে রক্ষা পাবে। যেমনটি সাবাব-এর দ্বিতীয় বর্ণের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হয়েছে। আর জুয-এর চতুর্থ বর্ণটি যদি গতিশীল হয়, তবে তা সাবাব-এর দ্বিতীয় বর্ণ হয় না; কারণ তখন তা হয় সাবাব-এর প্রথম বর্ণ অথবা ওয়াতাদ-এর দ্বিতীয় বর্ণ, আর এর কোনোটিই যিহাফের স্থান নয়।

তিনি বলেন:

আসাব, ক্বাবদ এবং আক্বল—এই তিনটি পরিবর্তন জুয-এর পঞ্চম বর্ণে প্রবেশ করে। আর সপ্তম স্থির বর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে 'কাফফ' সম্পন্ন হয়।

আমি বলছি: জুয-এর পঞ্চম বর্ণটি সাবাব-এর দ্বিতীয় বর্ণ হওয়ার পাশাপাশি এতে তিনটি পরিবর্তন প্রবেশ করে, সেগুলো হলো—আসাব, ক্বাবদ এবং আক্বল। গ্রন্থকার কর্তৃক প্রদত্ত ক্রম অনুসরণ করলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে, 'আসাব' হলো পঞ্চম গতিশীল বর্ণকে স্থির করা, 'ক্বাবদ' হলো পঞ্চম স্থির বর্ণকে বিলোপ করা এবং 'আক্বল' হলো পঞ্চম গতিশীল বর্ণকে বিলোপ করা।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإنما سمي التغيير الأول عصباً بالصاد المهملة، لأن حركة الحرف اعتصبت منه فمنع أن يتحرك. وكل شيء عصبته فمنعته الحركة فهو معصوب.

وسمي التغيير الثاني قبضاً لانقباض الصوت بالجزء الذي يدخله وذلك لأنه يدخل (فعولن ومفاعلين) ليس إلا، فإذا حذفت النون من الأول والياء من الثاني انقبض الصوت عن الغنة التي كانت موجودة مع النون، وعن اللين الذي كان موجوداً مع الياء، وفيه نظر.

وسمي التغيير الثالث عقلاً أخذاً له من العقل، ومعناه المنع، ومنه عقلت البعير، لأنه إذا عقل منع من الذهاب. ولما كان مفاعلتن تحذف منه اللام فيمتنع إذ ذاك حذف نونه حذراً من اجتماع أربعة أحرف متحركة إذ كان الجزء الواقع بعده مفتوحاً بوتد مجموع. ويحتمل أن يكون سمي بذلك لأنه لما حذفت لامه منع منها ومن حركتها فأشبه البعير الذي عُقلت يده فمنع الحركة.

وقوله (وكف سقوط السابع الساكن) معناه ظاهرٌ، وإنما اشترط في السابع أن يكون ساكناً لأنه كان متحركاً لكان ثالث وتدِ، إذ لاشيء من الأجزاء السباعية آخره حرفٌ متحرك غير (مفعولات) ، وتاؤه ثالث وتدِ مفروق، فلا مدخل للزحاف فيها، لأنه يدخل ثواني الأسباب.

سمي كفا أخذاً له من كفة القميص وهو ما يكف من ذيله، فكأن الجزء لما حذف آخره شبه بالثوب إذا كف طرفه. وقوله (انقضى) أي الزحاف المنفرد، فهو محتمل لضمير يعود على ما تقدم.

 

‌‌الزحاف المزدوج

قال:

وطيك بعد الخبن خبل وبعد أن … تقدم إضمار هو الخزل يا فتى

وكفك بعد الخبن شكل وبعد أن … جرى العصب نقص كل ذا الباب مجتوى

أقول: إذا اجتمع في الجزء الخبن والطي، كما إذا حذفت سين مستفعلن المجموع الوتد بالخبن، وفأوه بالطي، فصار متعلن سمي بذلك خبلاً، والجزء مخبول. أخذ ذلك من الخبال، وهو الفساد والاختلال. ويقال يدٌ مخبولة إذا كانت مختلة معتلة، فكلأن الجزء لما ذهب ثانيه ورابعه شبه بالذي اعتلت يداه.

وإذا اجتمع في الجزء الطي والإضمار، وذلك لا يكون إلا في (متفاعلن) فتسكن تاؤه بالإضمار وتحذف ألفه بالطي فيصير (متفعلن) فهذا هو المسمى بالخزل. يقال بالخاء المعجمة، وبالجيم، ومعناه القطع. ومنه سنام مخزول إذا قطع لما يصيبه من الدبر، فكأن الجزء لما تكرر عليه الإعلال شبه بالسنام الذي أصابه الدبر ثم قطع فاجتمع عليه إعلالان.

واجتماع الخبن والكف شكلٌ، مثل (فاعلاتن) المجموع الوتد تحذف ألفه بالخبن، ونونه بالكف فيصير (فعلات) . والشكل مصدر من قولك شكلت الدابة وغيرها بالشكال أشكلها شكلاً إذا قيدتها، وشكلت الكتاب كذلك، فكأن الجزء لما حذف أخره وما يلي أوله شبه بالدابة التي شكلت يدها ورجلها لأن الجزء يمتنع بذلك من إنطلاق الصوت وامتداده كما تمتنع الدابة بالشكل من امتداد قوائمها في عدوها.

واجتماع الكف والعصب نقصٌ، وذلك لا يكون إلا في (مفاعلتن) فتسكن لامه بالعصب، وتحذف نونه بالكف، فيصير مفاعلت، ويسمى الجزء منقوصاً لما نقص منه بالحذف والتسكين.

وقوله (كل ذا الباب مجتوى) يعني أن جميع ما ذكره في هذا الباب من الزحافات المزدوجة قبيح مستكره، وهو المراد بقوله (مجتوى) من قولك: اجتويت الموضع، إذا كرهت المقام به، ومنه حديث العرنيين (فاجيووا المدينة) .

ولا يلزم من كون جميع أنواع ها الباب قبيحةً أن يكون كل ما في الباب السابق حسناً، بل الأمر في ذلك مختلفاً، فتارةً يكون حسناً وتارة يكون صالحاً، وتارةً يكون قبيحاً. فالحسن ما كثر استعماله وتساوى عند ذوي الطبع السليم نقصان النظم به وكماله، كقبض (فعولن) في الطويل. والقبيح ما قل استعماله، وشق على الطباع السليمة احتماله، كالكف في الطويل. والصالح ما توسط بين الحالين ولم يلتحق بأحد النوعين، كالقبض في سباعي الطويل، إلى أنه إذا أكثر منه التحق بقسم القبيح، فينبغي للشاعر أن يستعمل من ذلك ما طاب ذوقه وعذب سوقه، ولا يسامح نفسه فيعتمد الزحاف المستكره إتكالاً على جوازه، فيأتي نظمه ناقص الطلاوة قليل الحلاوة، وإن كان معناه في الغاية التي تستجاب. اللهم إلا أن يستعمل من ذلك ما قل وخف عند الحاجة والاضطرار.
প্রথম পরিবর্তনটিকে আসব (নুক্তাবিহীন সাদ সহযোগে) নামকরণ করা হয়েছে, কারণ অক্ষরের স্বরধ্বনিকে এর মাধ্যমে রুদ্ধ করা হয়েছে এবং তাকে নড়াচড়া করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। যে জিনিসকেই তুমি বেঁধে ফেল এবং তার নড়াচড়া বন্ধ করে দাও, তাকেই 'মাসুব' বা রুদ্ধ বলা হয়।

দ্বিতীয় পরিবর্তনটিকে কাবদ বলা হয় কারণ যে অংশে এটি প্রবেশ করে সেখানে শব্দের আওয়াজ সংকুচিত হয়ে যায়। এর কারণ হলো এটি কেবল 'ফাউলুন' এবং 'মাফাইলুন'-এর মধ্যেই প্রবেশ করে। সুতরাং যখন প্রথমটির থেকে 'নূন' এবং দ্বিতীয়টির থেকে 'ইয়া' বিলুপ্ত করা হয়, তখন সেই অনুনাসিকতা থেকে আওয়াজ সংকুচিত হয়ে যায় যা 'নূন'-এর সাথে বিদ্যমান ছিল, এবং সেই কোমলতা থেকেও যা 'ইয়া'-এর সাথে বিদ্যমান ছিল। তবে এ বিষয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

তৃতীয় পরিবর্তনটির নাম রাখা হয়েছে আকল, যা 'ইকাল' থেকে গৃহীত। এর অর্থ হলো বাধা প্রদান। এখান থেকেই 'আমি উটকে বেঁধেছি' কথাটি এসেছে, কারণ যখন উটকে বাঁধা হয় তখন তাকে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। যেহেতু 'মাফা-আলাতুন' থেকে যখন 'লাম' বিলুপ্ত করা হয়, তখন তার 'নূন' বিলুপ্ত করা নিষিদ্ধ হয়ে যায় যাতে চারটি স্বরধ্বনিযুক্ত অক্ষর একত্রে একত্রিত না হয়, কারণ তার পরের অংশটি সংবদ্ধ যতি বা 'ওয়াতাদ মাজমু' দ্বারা শুরু হয়েছে। সম্ভবত একে এই নামে ডাকার কারণ হলো, যখন এর 'লাম' বিলুপ্ত করা হয় তখন তাকে এবং তার স্বরধ্বনিকে বিরত রাখা হয়, ফলে এটি সেই উটের সদৃশ হয় যার পা বেঁধে চলাফেরা থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

আর তাঁর উক্তি "কাফ হলো সপ্তম সাকিন বর্ণের বিলোপ" এর অর্থ স্পষ্ট। সপ্তম বর্ণটি সাকিন হওয়ার শর্তারোপ করার কারণ হলো, যদি তা স্বরধ্বনিযুক্ত হতো তবে তা 'ওয়াতাদ'-এর তৃতীয় বর্ণ হতো। কেননা সাত অক্ষর বিশিষ্ট অংশগুলোর মধ্যে 'মাফউলাতু' ব্যতীত অন্য কোনোটির শেষ অক্ষর স্বরধ্বনিযুক্ত নয়। আর এর 'তা' হলো 'ওয়াতাদ মাফরুক'-এর তৃতীয় বর্ণ। তাই এতে যিহাফ-এর কোনো প্রবেশাধিকার নেই, কারণ যিহাফ কেবল 'সাবাব'-এর দ্বিতীয় বর্ণগুলোতে প্রবেশ করে।

একে 'কাফ' বলা হয় জামার প্রান্ত বা আস্তিন থেকে গ্রহণ করে, যা এর নিচের অংশ থেকে ভাঁজ করা বা গুটিয়ে রাখা হয়। মনে হয় যেন অংশটির শেষ বর্ণটি বিলুপ্ত করার পর তাকে এমন পোশাকের সাথে তুলনা করা হয়েছে যার প্রান্ত গুটিয়ে রাখা হয়েছে। আর তাঁর উক্তি "শেষ হলো" এর অর্থ হলো একক যিহাফ শেষ হলো। এটি পূর্ববর্তী আলোচনার দিকে নির্দেশকারী একটি সর্বনাম হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

 

‌‌দ্বৈত যিহাফ

তিনি বলেন:

খাবনের পর তোমার 'তাই' করা হলো 'খাবল', আর 'ইদমার'-এর পর যা আগে অতিক্রান্ত হয়েছে তা হলো 'খাযল', হে যুবক।

খাবনের পর তোমার 'কাফ' করা হলো 'শকল', আর 'আসব' ঘটার পর সবকিছু হলো 'নাকস', এই অধ্যায়ের সবকিছুই বর্জনীয় বা অপছন্দনীয়।

আমি বলছি: যখন কোনো অংশে খাবন এবং তাই একত্রিত হয়, যেমন যদি সংবদ্ধ যতিযুক্ত 'মুসতাফইলুন' থেকে খাবনের মাধ্যমে 'সিন' এবং তাই-এর মাধ্যমে 'ফা' বিলুপ্ত করা হয়, ফলে তা 'মুতা-ইলুন' হয়ে যায়, তখন তাকে 'খাবল' বলা হয় এবং অংশটিকে 'মাখবুল' বলা হয়। এটি 'খাবাল' থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা। বলা হয়ে থাকে 'বিকলাঙ্গ হাত' যখন তা ত্রুটিপূর্ণ ও রোগাক্রান্ত হয়। মনে হয় যেন অংশটির দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ চলে যাওয়ায় তাকে এমন ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে যার দুই হাত রোগাক্রান্ত।

আর যখন কোনো অংশে তাই এবং ইদমার একত্রিত হয়, এবং এটি কেবল 'মুতাফা-ইলুন'-এই সম্ভব হয়; তখন এর 'তা' অক্ষরটি ইদমারের কারণে সাকিন হয় এবং 'আলিফ' অক্ষরটি তাই-এর কারণে বিলুপ্ত হয়, ফলে তা 'মুতাফ-ইলুন' হয়ে যায়। একেই 'খাযল' বলা হয়। এটি নুক্তাযুক্ত 'খা' এবং 'জিম' উভয়ভাবেই উচ্চারিত হয় এবং এর অর্থ হলো কর্তন করা। এখান থেকেই এসেছে 'কর্তিত কুঁজ', যখন ক্ষতের কারণে তা কেটে ফেলা হয়। মনে হয় যেন অংশটির ওপর যখন বারবার পরিবর্তনের ক্রিয়া সংঘটিত হয়, তখন তাকে এমন কুঁজের সাথে তুলনা করা হয়েছে যাতে ক্ষত হয়েছিল এবং পরে তা কেটে ফেলা হয়েছে, ফলে তার ওপর দুটি পরিবর্তন একত্রিত হয়েছে।

খাবন এবং কাফ-এর মিলন হলো শকল, যেমন সংবদ্ধ যতিযুক্ত 'ফা-ইলাতুন'-এর আলিফ খাবনের কারণে এবং নূন কাফ-এর কারণে বিলুপ্ত হয়, ফলে তা 'ফা-ইলাতু' হয়ে যায়। শকল শব্দটি 'আমি পশুকে শিকল দিয়ে বেঁধেছি' কথাটি থেকে আগত, যখন তুমি তাকে আবদ্ধ করো। কিতাবকে হরকতযুক্ত করাকেও অনুরূপ বলা হয়। মনে হয় যেন অংশটির শেষ বর্ণ এবং শুরুর নিকটবর্তী বর্ণটি বিলুপ্ত করার পর তাকে এমন পশুর সাথে তুলনা করা হয়েছে যার হাত ও পা বেঁধে রাখা হয়েছে। কারণ এর ফলে অংশটি শব্দের প্রবাহ ও বিস্তৃতি থেকে বিরত থাকে, যেমন পশু তার হাত-পা বাঁধার কারণে দৌড়ানোর সময় পা প্রসারণ থেকে বিরত থাকে।

কাফ এবং আসব-এর মিলন হলো নাকস, এবং এটি কেবল 'মাফা-আলাতুন'-এই ঘটে থাকে। এর 'লাম' অক্ষরটি আসবের কারণে সাকিন হয় এবং 'নূন' অক্ষরটি কাফ-এর কারণে বিলুপ্ত হয়, ফলে তা 'মাফা-আলাতু' হয়ে যায়। বিলুপ্তি ও সাকিন করার মাধ্যমে অংশটি হ্রাস পাওয়ার কারণে একে 'মানকুস' বা হ্রাসকৃত বলা হয়।

আর তাঁর উক্তি "এই অধ্যায়ের সবকিছুই অপছন্দনীয়" এর অর্থ হলো, তিনি এই অধ্যায়ে দ্বৈত যিহাফের যে সকল প্রকার উল্লেখ করেছেন তার সবই কুৎসিত ও অপছন্দনীয়। 'মুজতাওয়া' কথাটির অর্থ এটাই, যা তোমার উক্তি 'আমি স্থানটি অপছন্দ করেছি' থেকে এসেছে, যখন সেখানে অবস্থান করা তোমার নিকট অপছন্দনীয় হয়। এ থেকেই উরানিয়ীনদের হাদীসে এসেছে "অতঃপর তারা মদীনার আবহাওয়াকে অপছন্দ করল"।

এই অধ্যায়ের সকল প্রকার কুৎসিত হওয়ার মানে এই নয় যে, পূর্ববর্তী অধ্যায়ের সবকিছুই সুন্দর হবে। বরং এ বিষয়টি ভিন্ন ভিন্ন হয়। কখনো তা সুন্দর হয়, কখনো চলনসই হয়, আবার কখনো কুৎসিত হয়। সুন্দর হলো তা যার ব্যবহার অধিক এবং সুস্থ রুচিবোধের অধিকারীদের কাছে এর দ্বারা ছন্দের হ্রাস ও পূর্ণতা সমান মনে হয়, যেমন 'তবিল' ছন্দে 'ফাউলুন'-এর কাবদ। কুৎসিত হলো তা যার ব্যবহার কম এবং সুস্থ রুচির পক্ষে তা সহ্য করা কঠিন, যেমন 'তবিল' ছন্দে কাফ। আর চলনসই হলো যা এই দুই অবস্থার মাঝামাঝি এবং কোনো প্রকারের সাথেই পুরোপুরি যুক্ত নয়, যেমন তবিল-এর সপ্তাক্ষর বিশিষ্ট অংশে কাবদ; তবে যদি এর আধিক্য ঘটে তবে তা কুৎসিত অংশের সাথে যুক্ত হয়। সুতরাং কবির উচিত সেখান থেকে এমন কিছু ব্যবহার করা যা তার স্বাদে ভালো লাগে এবং উপস্থাপনায় সুমিষ্ট হয়। নিজের প্রতি শিথিলতা প্রদর্শন করে অনুমোদিত হওয়ার দোহাই দিয়ে যেন অপছন্দনীয় যিহাফের ওপর নির্ভর না করে। কারণ এতে তার কাব্য লালিত্যহীন ও মাধুর্যহীন হয়ে পড়ে, যদিও তার অর্থ চূড়ান্ত পর্যায়ের আকর্ষণীয় হয়। তবে অভাব ও নিরুপায় অবস্থায় যা কম এবং হালকা তা ব্যবহার করায় দোষ নেই।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال ابن برى بآثر هذا الكلام: وعلى هذا ينبغي أن يحمل قول الأصمعي: الزحاف في الشعر كالرخصة في الدين لا يقدم عليها إلا الفقيه لأن الرخصة إنما تكون للضرورة. وإذا سوغت فلا يستكثر منها. فإن قلت: أما ادعاء الناظم أن الطي واقع بعد الإضمار في الخزل، وأن الكف واقع بعد العصب في النقص فواضح، وذلك لأن الإضمار إذا قدر وقوعه أولاً بقي محل الطي، وهو الرابع الساكن، والعصب إذا قدر وقوعه أولاً بقي محل الكف، وهو السابع الساكن، فيجد حينئذ كل من الطي والكف محل قابلاً لوقوعه، وهذا ظاهر، لإخفاء به. وأما ادعاؤه أن الطي وقع بين الخبن في الخبل، وأن الكف وقع بعد الخلن في الشكل، فليس بظاهر، وذلك لأنك إذا خبنت (مستفعلن) المجموع الوتد أولاً بأن حذفت سينه، وأردت طيه بحذف الفاء وجدت محل الطي مفقوداً، وذلك لأنه إنما يحل في الرابع الساكن، والفاء الساكنة صارت ثالثة لا رابعة، وكذا إذا خبنت (فاعلاتن) المجموع الوتد بأن حذفت ألفه وأردت كفه بعد ذلك بحذف النون وجدتها سادسة لا سابعة، ففقد محل وقوع الكف، فكان ينبغي في مثل هذا أن يقدر الثاني أولاً، وذلك بأن يقدر وقوع الطي والكف قبل الخبل فيصير الثاني ساكن قبل الخبن ثابتاً في مركزه فيجد الخبن محلاً لدخوله، ولا ضير حينئذِ.

قلت: هذا كلامٌ وقع لبعض العروضيين ورده بعض الحذاق بأن دخول الزحاف الثاني على الجزء إنما هو بالنظر إليه قبل التغيير الأول، لأن التغيير طارئ فلا ينظر إلى حالته، وحينئذ فالطي إنما دخل في حرف رابع ساكن، والكف إنما دخل في سابع ساكن، وأيضاً فما ذكر في السؤال أنه ينبغي تقديره هو تقدير على خلاف الواقع، لأن المتكلم إذا تلفظ بالجزء وأدخل فيه تغييرين فإنما يدخلهما فيه حال تلفظه به، الأول فالأول، فوجب أن يكون التقدير كذلك ليطابق الواقع.

 

‌‌المعاقبة والمراقبة والمكانفة

قال:

إذا السببان استجمعا لهما النجا … أو الفرد حتماً فالمعاقبة اسم ذا

أقول: إذا اجتمع السببان ولم تجز مزاحفتهما جميعاً، بل وجب أد الأمرين، إما سلامتهما معاً أو سلامة أحدهما فذلك هو المعاقبة. فقول الناظم (لهما النجا) جملةٌ في موضع الحال من ضمير (استجمعا) . وقوله (أو الفرق) معطوفٌ على الضمير المجرور بدون إعادة الخافض، على مذهب من يراه من النحاة.

فإن قلت: أين الرابط للحال بصاحبها من المعطوف؟ قلت محذوفاً إذ التقدير أو الفرق منهما. وقوله (حتماً) حال من (النجا) الذي هو مبتدأ أو من ضميره المستكن في الظرف المستقر، وهو خبره المقدم، إما على أن يقدر ذا حتم، أي وجوباً، أو يجعل بمعنى محتوماً، أي واجباً، أو يجعل المصدر نفسه حالاً على جهة المبالغة.

فإن قلت: كيف سوغت الحال من المبتدأ وهم يطلقون القول بمنعه بنا على أن العامل في الحال هو العامل في صاحبها، والابتداء لا يصلح للعمل في الحال، قلت: هذا على حد قوله:

لمية موحشاً طلل

فصاحب الحال عند سيبويه النكرة، وهو عنده مرفوع بالابتداء، والناصب للحال الاستقرار الذي تعلق به الظرف، فما أجزته في بيت الناظم هو مثل هذا سواء، وظهر أن مقتضى ما وقع لسيبويه هنا أنه لا يلتزم صحة قوله: والعامل في الحال هو العامل في صاحبها والله تعالى أعلم.

قال: للأول أو ثانيه أو لكليهما اسم صدر وعجز قيل والطرفان جا أقول: السببان المجتمعان وهما محل المعاقبة تارةً يكونان في جزء واحد، وتارةً يكونان في جزأين. فمثال كونهما في جزء واحد (مفاعيلن) في الطويل والهزج، فالياء فيه تعاقب النون، فإذا دخله القبض سلم من اكف وإذا دخله الكف سلم من القبض، ولا يجوز فيه دخول القبض والكف معاً ويجوز أن يسلم منهما معاً.

ومثال مجيء المعاقبة من جزاين (فاعلاتن فاعلن) في المديد، فالنون من (فاعلاتن) تعاقب الألف من (فاعلن) ، فمهما زوحف (فاعلاتن) بالكف سلم (فاعلن) بعده من الخبن، ومهما زوحف (فاعلن) بالخبن سلم (فاعلاتن) قبله من الكف، وكذا (فاعلاتن) الواقع أول عجز المديد يجتمع فيه سببان قبليان، وسببان بعديان، وذلك لأن تفعيله هكذا:

فاعلاتن فاعلن فاعلاتن … فاعلاتن فاعلن فاعلاتن
ইবনে বাররী এই আলোচনার পরপরই বলেছেন: আল-আসমাঈর উক্তিটিকে এভাবেই গ্রহণ করা উচিত যে—"কবিতার জহাফ (ছন্দ-পরিবর্তন) হলো দ্বীনের রুখসত বা বিশেষ অনুমোদনের মতো, কেবল ফকিহগণই এটি প্রয়োগ করেন।" কারণ রুখসত কেবল প্রয়োজনের খাতিরেই হয়ে থাকে। আর যখন এর অনুমতি দেওয়া হয়, তখন যেন এর আধিক্য না ঘটে। যদি আপনি বলেন: ছন্দকারের এই দাবি যে, 'খজল'-এর ক্ষেত্রে 'ইদমার'-এর পরে 'তয়' সংঘটিত হয় এবং 'নকস'-এর ক্ষেত্রে 'আসব'-এর পরে 'কফফ' সংঘটিত হয়—তা তো স্পষ্ট। কারণ 'ইদমার' যদি প্রথমে ধরে নেওয়া হয়, তবে 'তয়'-এর স্থান অর্থাৎ চতুর্থ সাকিন (স্থির) বর্ণটি অবশিষ্ট থাকে। একইভাবে 'আসব' যদি প্রথমে ধরে নেওয়া হয়, তবে 'কফফ'-এর স্থান অর্থাৎ সপ্তম সাকিন বর্ণটি অবশিষ্ট থাকে। ফলে তখন 'তয়' এবং 'কফফ' উভয়ই তাদের সংঘটিত হওয়ার জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে পায়, আর এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্বিধাহীন। কিন্তু তার এই দাবি যে, 'খবল'-এর ক্ষেত্রে 'খবন'-এর মাঝে 'তয়' সংঘটিত হয় এবং 'শকল'-এর ক্ষেত্রে 'খবন'-এর পরে 'কফফ' সংঘটিত হয়—তা স্পষ্ট নয়। এর কারণ হলো, আপনি যদি 'মুসতাফইলুন' (মাজমু ওয়াতাদ বিশিষ্ট)-কে প্রথমে 'খবন' করেন অর্থাৎ এর 'সিন' বর্ণটি বিলুপ্ত করেন এবং এরপর 'ফা' বর্ণটি বিলুপ্ত করে 'তয়' করতে চান, তবে দেখবেন 'তয়' হওয়ার স্থানটি হারিয়ে গেছে। কেননা 'তয়' কেবল চতুর্থ সাকিন বর্ণে হতে পারে, অথচ 'ফা' বর্ণটি (সিন বিলুপ্ত হওয়ার পর) তৃতীয় হয়ে গেছে, চতুর্থ নয়। একইভাবে যদি 'ফায়িলাতুন' (মাজমু ওয়াতাদ বিশিষ্ট)-কে 'খবন' করেন অর্থাৎ এর 'আলিফ' বিলুপ্ত করেন এবং এরপর 'নুন' বিলুপ্ত করে 'কফফ' করতে চান, তবে দেখবেন সেটি ষষ্ঠ হয়ে গেছে, সপ্তম নয়। ফলে 'কফফ' সংঘটিত হওয়ার স্থানটি অনুপস্থিত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় উচিত ছিল দ্বিতীয়টিকে প্রথমে ধরা, অর্থাৎ 'খবল'-এর আগে 'তয়' ও 'কফফ' সংঘটিত হওয়া ধরে নেওয়া। ফলে 'খবন'-এর আগে দ্বিতীয় সাকিন বর্ণটি নিজ স্থানে স্থির থাকতো এবং 'খবন' প্রবেশের উপযুক্ত স্থান পেত, তখন আর কোনো সমস্যা থাকতো না।

আমি বলি: এটি কিছু ছন্দবিশারদের বক্তব্য, তবে সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিতগণ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে যে—একটি অংশে (জুজ) দ্বিতীয় জহাফের প্রবেশ মূলত প্রথম পরিবর্তনের আগের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হয়। কারণ পরিবর্তনটি হলো আকস্মিক, তাই পরিবর্তনের পরের অবস্থার দিকে লক্ষ করা হয় না। এমতাবস্থায় 'তয়' মূলত চতুর্থ সাকিন বর্ণেই প্রবেশ করেছে এবং 'কফফ' মূলত সপ্তম সাকিন বর্ণেই প্রবেশ করেছে। এছাড়া প্রশ্নে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে, এভাবে ধরে নেওয়া উচিত—তা বাস্তবের বিপরীত। কারণ বক্তা যখন কোনো ছন্দ-অংশ উচ্চারণ করেন এবং তাতে দুটি পরিবর্তন ঘটান, তখন তিনি উচ্চারণের সময়ই তা ঘটান—প্রথমে প্রথমটি, তারপর দ্বিতীয়টি। সুতরাং বাস্তবতা বজায় রাখার জন্য বিশ্লেষণটিও সেভাবেই হওয়া আবশ্যক।

 

‌‌আল-মুআকাবা, আল-মুরাকাবা এবং আল-মাকানাফা

তিনি (ছন্দকার) বলেছেন:

যখন দুটি 'সবব' (ছন্দ-কারণ) একত্রিত হয় তখন তাদের মুক্তি লাভ … অথবা একটির অবশ্যই বিদ্যমান থাকা হলো 'মুআকাবা'।

আমি বলি: যখন দুটি 'সবব' একত্রিত হয় এবং তাদের উভয়ের মধ্যে একই সাথে জহাফ (পরিবর্তন) জায়েজ হয় না, বরং দুটি বিষয়ের একটি আবশ্যক হয়—হয় তারা উভয়ই অক্ষত থাকবে অথবা তাদের যেকোনো একটি অক্ষত থাকবে, তবে তাকে 'মুআকাবা' বলা হয়। ছন্দকারের উক্তি (লাহুমান নাজা) বাক্যটি 'ইসতাজমাআ' ক্রিয়ার সর্বনাম থেকে 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে এসেছে। আর তার উক্তি (আও আল-ফারদু) হরফে জর পুনরায় উল্লেখ না করেই মাজরুর সর্বনামের ওপর আতফ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যাকরণবিদদের মতানুযায়ী বৈধ।

যদি আপনি বলেন: আতফ হওয়া শব্দটির সাথে হালের অধিপতির (সাহিবুল হাল) সম্পর্ক কোথায়? আমি বলব: তা উহ্য আছে, যার মূল রূপ হলো—'আও আল-ফারদু মিনহুমা'। তার উক্তি (হাতমান) শব্দটি 'আন-নাজা' থেকে হাল হয়েছে যা এখানে মুবতাদা, অথবা এটি তার উহ্য সর্বনাম থেকে হাল হয়েছে যা খবর হিসেবে বিদ্যমান। এটি হয় 'জা হাতমিন' (আবশ্যকতা সম্পন্ন) অর্থে, অথবা 'মাহতুমান' (আবশ্যককৃত) অর্থে, অথবা আধিক্য বুঝানোর জন্য মাসদারকেই হাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

যদি আপনি বলেন: মুবতাদা থেকে হাল হওয়া কীভাবে বৈধ করলেন, অথচ তারা (ব্যাকরণবিদগণ) একে সাধারণভাবে নিষিদ্ধ বলেন এই যুক্তিতে যে—হাল-এর মধ্যে আমলকারী (ক্রিয়াশীল) এবং হালের অধিপতির মধ্যে আমলকারী একই হতে হয়, আর 'ইবতিদা' (মুবতাদা হওয়া) হাল-এর মধ্যে আমল করার যোগ্যতা রাখে না? আমি বলব: এটি নিচের কাব্যংশের মতো:

লিমাইয়াতা মাওহিশান তালালে (মাইয়ার জন্য ধ্বংসাবশেষটি নির্জন অবস্থায় আছে)

সিবওয়াইহের মতে এখানে হালের অধিপতি হলো নাকেরা (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) এবং তা মুবতাদা হওয়ার কারণে 'রফা' অবস্থায় আছে। আর হালের নাসব দাতা হলো সেই স্থিরতা (ইসতিকরাব) যা জর-মাজরুরের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং ছন্দকারের কবিতায় আমি যা জায়েজ করেছি তা হুবহু এরই মতো। আর এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, সিবওয়াইহের এই প্রয়োগ থেকে বুঝা যায়—তিনি "হালের আমলকারী এবং হালের অধিপতির আমলকারী এক হতে হবে" এই নিয়মটি সর্বদা মানা আবশ্যক মনে করেন না। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভালো জানেন।

তিনি বলেছেন: প্রথমটির জন্য, অথবা দ্বিতীয়টির জন্য, অথবা উভয়ের জন্য এটি শুরুর অংশ, শেষের অংশ বা উভয় প্রান্ত হিসেবে গণ্য হয়। আমি বলি: মুআকাবার স্থান হিসেবে যে দুটি সবব একত্রিত হয়, তা কখনো একটি অংশে (তফিলা) থাকে, আবার কখনো দুটি অংশে থাকে। একটি অংশে থাকার উদাহরণ হলো—'তবিল' ও 'হাজাজ' ছন্দের 'মাফাইলুন'। এখানে 'ইয়া' এবং 'নুন' একে অপরের মুআকাবা করে। সুতরাং যদি এতে 'কবদ' প্রবেশ করে তবে তা 'কফফ' থেকে রক্ষা পায়, আর যদি 'কফফ' প্রবেশ করে তবে তা 'কবদ' থেকে রক্ষা পায়। এতে 'কবদ' এবং 'কফফ' উভয়ই একসাথে প্রবেশ করা জায়েজ নয়, তবে উভয়টি থেকে মুক্ত থাকা জায়েজ।

দুটি অংশের মধ্যে মুআকাবা হওয়ার উদাহরণ হলো—'মাদিদ' ছন্দের 'ফায়িলাতুন ফায়িলুন'। এখানে 'ফায়িলাতুন'-এর 'নুন' এবং 'ফায়িলুন'-এর 'আলিফ' একে অপরের মুআকাবা করে। সুতরাং যখনই 'ফায়িলাতুন'-এ 'কফফ' এর মাধ্যমে জহাফ হবে, তখন তার পরবর্তী 'ফায়িলুন' শব্দটি 'খবন' থেকে মুক্ত থাকবে। আর যখনই 'ফায়িলুন' শব্দে 'খবন' এর মাধ্যমে জহাফ হবে, তখন তার পূর্ববর্তী 'ফায়িলাতুন' শব্দটি 'কফফ' থেকে মুক্ত থাকবে। একইভাবে 'মাদিদ' ছন্দের দ্বিতীয় চরণের শুরুতে অবস্থিত 'ফায়িলাতুন' শব্দটিতে দুটি পূর্ববর্তী সবব এবং দুটি পরবর্তী সবব একত্রিত হয়। কারণ এর ছন্দোবদ্ধ রূপটি হলো এমন:

ফায়িলাতুন ফায়িলুন ফায়িলাতুন … ফায়িলাতুন ফায়িলুন ফায়িলাতুন
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فالمعاقبة أيضاً متصورة بين نون (فاعلاتن) الواقع آخر الصدر وألف (فاعلاتن) الواقع أول العجز، وبين نون (فاعلاتن) هذه وألف (فاعلن) الواقعة بعدها، فتتصور هنا ثلاثة أسماء ذكرها الجماعة وهي: الصدر، والعجز والطرفان.

فأما الصدر فهو ما زوحف أوله لسلامة ما قبله، كقولك هنا: فاعلاتن فعلاتن. سمي بذلك لوقوع الحذف في صدر الجزء.

والعجز هو ما زوحف آخره لسلامة ما بعده كقولك: فاعلاتُ فاعلن. سمي بذلك لوقوع الحذف في عجز الجزء. والطرفان ما زوحف أوله لسلامة ما قبله، وآخره لسلامة ما بعده، كقولك هنا: فاعلاتن فعلات فاعلن، فحينئذ إنما يقع الطرفان في الجزء الذي هو أول العجز بشكلِ فتثبت نون (فاعلاتن) قبله وألف (فاعلن) بعده.

هذا ما قالوه وهو واضح، ولا التزم تنزيله على كلام الناظم. فإن عباراته لا تفي بالمقصود، ولم يشف الشارح الشريف في تقريرها.

قال: وعاد للناظم في هذا البيت بين أول شطريه وآخرهما، فرد الصدر إلى الأول والعجز إلى ثانيه، والطرفين إلى كليهما. وسكن الناظم العجز تخفيفاً على حد قولهم في عضد عضد، وكتف كتف. هذا كلامه. قال:

تحل بيحدو كاهن بي وجزؤها … بريء متى تفقد وقد جاز أن ترى

أقول: يعني أن المعاقبة تحل في الأبحر المرموز لها في قوله (يحد وكاهن بي) الباء الأولى ليست رمزاً وإنما هي ظرفية والباء الأخيرة ليست من الرمز لأنها تقدمت فأشار بالياء إلى البحر العاشر وهو المنسرح، والمعاقبة فيه واقعة في (مستفعلن) الذي بعد (مفعولات) ، فتعاقب فاؤه سينه وذلك لأنهما لو أسقط حتى يصير الجزء إلى (فعلتن) وقبلها تاء (مفعولات) لاجتمع خمسة حركات، وذلك لا يتصور وقوعه في شعر عربي أبداً. والحاء إشارة إلى البحر الثامن وهو الرمل، والمعاقبة فيه واقعة بين نون (فاعلاتن) وألف الجزء الذي بعده.

والدال 'إشارة إلى البحر الرابع وهو الوافر؛ والمعاقبة فيه تتصور بأن يعصب (مفاعلتن) فينقل إلى (مفاعيلن) فتعاقب فيه الياء النون. والواو إشارة إلى البحر السادس وهو الهزج، والمعاقبة فيه بين ياء مفاعيلن ونونه كما تقدم. والكاف إشارة إلى البحر الحادي عشر وهو الخفيف، والمعاقبة فيه بين نون (مستفع لن) وألف (فاعلاتن) ، فلا يجتمع خبن الجزء الثاني مع كف الأول. والألف إشارة إلى البحر الأول وهو الطويل، والمعاقبة فيه بين نون مفاعيلن ويائه كما مر. والهاء اشارة الى البحر الخامس وهو الكامل. وبيان المعاقبة فيه أن (متفاعلن) يضمر فينقل الى مستفعلن فتعاقب سينه فاؤه. والنون إشارة إلى البحر الرابع عشر وهو المجتث، والمعاقبة فيه بين نون (مستفع لن) وألف (فاعلاتن) كما تقدم في الخفيف، وذلك لأن (مستفعل لن) فيهما مركب من سببين خفيفين ووتد مفروق بينهما. وقول الشريف (مركب من سببين خفيفين فإنهما وتد مفروق) فيه نظر يظهر بالتذكر لما سبق في أول الكتاب. والباء إشارة إلى البحر الثاني وهو المديد، فتعاقب فيه نون فاعلاتن أي في الجزء الذي بعده. وقوله: وجزؤها بريء متى تفقد، وقد جاز أن ترى (قال الشريف: يريد أن الجزء الذي يسلم من الزحاف للمعاقبة وهو سائغ فيه يسمى بريئاً. وحقيقة البريء أنه جزء عاقب بثابت حرف من أوله أو من آخره جزءاً بعده سقط من صدره، أو جزءاً قبله سقط من عجزه. فلت: وفي شرح عروض ابن الحاجب لابن واصل ما نصه. والبريء ما سلم من المعاقبة التي فيها الصدر والعجز والطرفان، وكذا قال غيره. فإذن قوله (قد جاز أن ترى) جملةٌ خاليةٌ من الضمير النائب عن الفاعل في قوله (تفقد ويتجه على الناظم اعتراض في إطلاقه القول بأن جزء المعاقبة على الصفة المذكورة بريء مع كونه مخصوصٌ بما تقدم. لكن وقع في كلام ابن بري وغيره أن البريء ما سلم من المعاقبة، فظاهره سواءٌ كانت المعاقبة مما فيه الطرفين أو لا. وهو موافق لإطلاق الناظم. قال:

ومنعك للضدين مبدأ شطري لم … بأربعها كلٌ مراقبةً دعا
সুতরাং 'মুআকাবাহ' (পর্যায়ক্রমিক বর্ণলোপ) এর বিষয়টি 'সদর' (প্রথম চরণের প্রথমাংশ) এর শেষে অবস্থিত 'ফা-ই-লা-তুন'-এর 'নুন' এবং 'আজয' (দ্বিতীয় চরণের প্রথমাংশ)-এর শুরুতে অবস্থিত 'ফা-ই-লা-তুন'-এর 'আলিফ'-এর মধ্যে, এবং এই 'ফা-ই-লা-তুন'-এর 'নুন' ও তার পরবর্তী 'ফা-ই-লুন'-এর 'আলিফ'-এর মধ্যেও কল্পনা করা সম্ভব। এক্ষেত্রে তিনটি পারিভাষিক নাম পাওয়া যায় যা আলিমদের একটি দল উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো: আস-সদর, আল-আজয এবং আত-তারাফাইন।

অতঃপর 'সদর' হলো তা, যার প্রথমাংশে 'জিহাফ' (বর্ণলোপ বা পরিবর্তন) হয়েছে তার পূর্ববর্তী অংশের সুস্থতার কারণে। যেমন আপনার এখানে বলা: 'ফা-ই-লা-তুন ফা-ই-লা-তুন'। এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে রুকন বা অংশের শুরুতে (সদর) বিলোপ ঘটার কারণে।

আর 'আজয' হলো তা, যার শেষাংশে 'জিহাফ' হয়েছে তার পরবর্তী অংশের সুস্থতার কারণে, যেমন আপনার বলা: 'ফা-ই-লা-তু ফা-ই-লুন'। এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে রুকনের শেষভাগে (আজয) বিলোপ ঘটার কারণে। আর 'তারাফাইন' হলো তা, যার শুরু ও শেষ উভয় দিকেই 'জিহাফ' হয়েছে যথাক্রমে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অংশের সুস্থতার কারণে। যেমন আপনার এখানে বলা: 'ফা-ই-লা-তুন ফা-ই-লা-তু ফা-ই-লুন'। এমতাবস্থায় 'তারাফাইন' কেবল 'আজয'-এর প্রারম্ভিক রুকনেই সংঘটিত হয় 'শকল' (এক প্রকার বর্ণলোপ) প্রক্রিয়ায়, ফলে তার পূর্বে 'ফা-ই-লা-তুন'-এর 'নুন' এবং পরে 'ফা-ই-লুন'-এর 'আলিফ' বহাল থাকে।

পণ্ডিতগণ যা বলেছেন তা এটাই এবং এটি সুস্পষ্ট। তবে আমি গ্রন্থকারের (নাযিম) বক্তব্যের ওপর একে প্রয়োগ করতে বাধ্য নই। কেননা তাঁর শব্দমালা উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশের জন্য যথেষ্ট নয় এবং মান্যবর ব্যাখ্যাকার (শারহ আশ-শারিফ) এর ব্যাখ্যায় সন্তোষজনক সমাধান দেননি।

তিনি বলেছেন: গ্রন্থকার এই কবিতায় তাঁর দুই চরণের (শাতর) শুরু ও শেষের মধ্যে ফিরে এসেছেন। ফলে তিনি 'সদর'-কে প্রথমটির দিকে, 'আজয'-কে দ্বিতীয়টির দিকে এবং 'তারাফাইন'-কে উভয়টির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আর গ্রন্থকার উচ্চারণের লাঘব বা সহজীকরণের জন্য 'আজয' শব্দটিকে সাকিন (ব্যঞ্জনান্ত) করেছেন, যেমনটি আরবরা 'আদুদ' (বাহু)-কে 'আদদ' এবং 'কাতিফ' (কাঁধ)-কে 'কাতফ' বলে থাকে। এটিই তাঁর বক্তব্য। তিনি আরও বলেছেন:

'বিহাদু কাহিনিন বী'-তে এটি আপতিত হয় এবং এর রুকনটি … দোষমুক্ত যখনই তুমি তা হারাবে এবং দেখা যাওয়ার অনুমতিও রয়েছে।

আমি বলছি: এর অর্থ হলো 'মুআকাবাহ' ঐসব ছন্দে (বাহর) ঘটে যেগুলোকে 'ইয়াহদু কাহিনিন বী' বাক্যাংশে সংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম 'বা' অক্ষরটি কোনো সংকেত নয় বরং এটি একটি অব্যয় (যারফ)। আর শেষের 'বা' অক্ষরটিও সংকেতের অন্তর্ভুক্ত নয় কারণ এটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং তিনি 'ইয়া' দ্বারা দশম ছন্দের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা হলো 'মুনসারিহ'। এতে 'মুআকাবাহ' সংঘটিত হয় 'মুসতাফইলুন'-এ যা 'মাফউলাতু'-এর পরে আসে। এর 'ফা' এবং 'সিন'-এর মধ্যে পর্যায়ক্রমিক লোপ ঘটে, কারণ এই দুই বর্ণ যদি বিলুপ্ত হয় তবে রুকনটি 'ফায়ালাতু'-তে পরিণত হয় এবং তার পূর্বে 'মাফউলাতু'-এর 'তা' থাকায় সেখানে পাঁচটি হরকত (স্বরধ্বনি) একত্রিত হয়ে যায়। অথচ আরবি কবিতায় এমনটি হওয়া কখনোই সম্ভব নয়। 'হা' অক্ষরটি অষ্টম ছন্দ অর্থাৎ 'রামাল'-এর দিকে ইঙ্গিত বহন করে, যাতে 'মুআকাবাহ' ঘটে 'ফা-ই-লা-তুন'-এর 'নুন' এবং তার পরবর্তী রুকনের 'আলিফ'-এর মধ্যে।

'দাল' অক্ষরটি চতুর্থ ছন্দ অর্থাৎ 'ওয়াফির'-এর দিকে ইঙ্গিত। এতে 'মুআকাবাহ' এভাবে হয় যে, 'মুফায়ালাতুন'-এর ওপর 'আসব' (এক প্রকার পরিবর্তন) প্রয়োগ করা হয় ফলে তা 'মুফায়ীলুন'-এ রূপান্তরিত হয় এবং এতে 'ইয়া' ও 'নুন'-এর মধ্যে পর্যায়ক্রম ঘটে। 'ওয়াও' অক্ষরটি ষষ্ঠ ছন্দ অর্থাৎ 'হাযাজ'-এর দিকে ইঙ্গিত, যাতে 'মুফায়ীলুন'-এর 'ইয়া' ও 'নুন'-এর মধ্যে মুআকাবাহ ঘটে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। 'কাফ' অক্ষরটি একাদশ ছন্দ অর্থাৎ 'খাফিফ'-এর দিকে ইঙ্গিত। এতে 'মুসতাফ-ইলুন' (বিচ্ছিন্ন)-এর 'নুন' এবং 'ফা-ই-লা-তুন'-এর 'আলিফ'-এর মধ্যে মুআকাবাহ ঘটে। ফলে দ্বিতীয় রুকনের 'খাবান' (বর্ণলোপ) এবং প্রথম রুকনের 'কাফফ' একত্রিত হয় না। 'আলিফ' দ্বারা প্রথম ছন্দ 'তাবীল'-এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এতে 'মুফায়ীলুন'-এর 'নুন' ও 'ইয়া'-এর মধ্যে মুআকাবাহ ঘটে যেমনটি আলোচিত হয়েছে। 'হা' অক্ষরটি পঞ্চম ছন্দ অর্থাৎ 'কামিল'-এর দিকে ইঙ্গিত। এতে মুআকাবাহর রূপ হলো 'মুতাফাই-লুন'-এর ওপর 'ইদমার' প্রয়োগ করা হয় ফলে তা 'মুসতাফইলুন'-এ রূপান্তরিত হয় এবং এর 'সিন' ও 'ফা'-এর মধ্যে মুআকাবাহ ঘটে। 'নুন' অক্ষরটি চতুর্দশ ছন্দ 'মুজতাস'-এর দিকে ইঙ্গিত। এতে 'মুসতাফ-ইলুন' এবং 'ফা-ই-লা-তুন'-এর মধ্যে মুআকাবাহ ঘটে যেমনটি 'খাফিফ' ছন্দে অতিক্রান্ত হয়েছে। কারণ উভয় ক্ষেত্রে 'মুসতাফ-ইলুন' দুটি 'সাবাবে খাফিফ' এবং তাদের মাঝে একটি 'ওয়াতাদে মাফরুক' দ্বারা গঠিত। শারিফ (ব্যাখ্যাকার)-এর এই কথা যে "দুটি সাবাবে খাফিফ দ্বারা গঠিত ফলে সেগুলো ওয়াতাদে মাফরুক"—এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে যা কিতাবের শুরুতে আলোচিত বিষয়ের স্মরণে পরিস্ফুট হয়। 'বা' অক্ষরটি দ্বিতীয় ছন্দ 'মাদিদ'-এর দিকে ইঙ্গিত, এতে 'ফা-ই-লা-তুন'-এর 'নুন' অর্থাৎ পরবর্তী রুকনের নুনের সাথে মুআকাবাহ ঘটে। আর তাঁর কথা: "এবং এর রুকনটি দোষমুক্ত যখনই তুমি তা হারাবে এবং দেখা যাওয়ার অনুমতিও রয়েছে।" (শারিফ বলেছেন: তাঁর উদ্দেশ্য হলো—মুআকাবাহর কারণে যে রুকনটি 'জিহাফ' থেকে মুক্ত থাকে এবং যা সাবলীল, তাকে 'বারী' (মুক্ত বা দোষহীন) বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে 'বারী' হলো সেই রুকন যা তার প্রথমাংশ বা শেষাংশের কোনো বর্ণকে বহাল রেখে তার পরবর্তী রুকনের শুরুর বর্ণলোপ ঘটিয়েছে, অথবা তার পূর্ববর্তী রুকনের শেষের বর্ণলোপ ঘটিয়েছে। আমি বলছি: ইবনুল হাজিবের 'আরুয'-এর ওপর ইবনু ওয়াসিলের ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা রয়েছে তার ভাষ্য হলো—'বারী' হলো তা যা সদর, আজয এবং তারাফাইন সংবলিত মুআকাবাহ থেকে নিরাপদ থাকে। অন্যান্যগণও অনুরূপ বলেছেন। সুতরাং তাঁর উক্তি "দেখা যাওয়ার অনুমতি রয়েছে"—এটি এমন একটি বাক্য যা 'নিখোঁজ হওয়া' (তুফকাদু) ক্রিয়ার নায়েবে ফায়িল (উহ্য কর্মবাচ্য কর্তা) এর সর্বনাম থেকে মুক্ত। তবে গ্রন্থকারের ওপর একটি আপত্তি উত্থাপিত হয় যে তিনি ঢালাওভাবে মুআকাবাহর রুকনকে উক্ত গুণাবলিসহ 'বারী' বলেছেন, অথচ এটি পূর্বালোচিত বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্ট। কিন্তু ইবনু বাররী এবং অন্যদের বক্তব্যে পাওয়া যায় যে, যা কিছু মুআকাবাহ থেকে মুক্ত থাকে তাকেই 'বারী' বলে; বাহ্যত এটি 'তারাফাইন' সংবলিত মুআকাবাহ হোক বা না হোক। আর এটি গ্রন্থকারের ঢালাও উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন:

এবং দুই বিপরীতের ক্ষেত্রে তোমার নিষেধাজ্ঞা যা দুই চরণের প্রারম্ভে হয়নি … তার চারটির মাধ্যমে প্রত্যেকেই তাকে 'মুরাকাবাহ' বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উয়ুনুল গামিযাহ আলা খাবায়ার্ রামীযাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
أقول: المراقبة هي أن لا يزاحف السببان المجتمعان ولا يسلمان من الزحاف، بل لابد من مزاحفة أحدهما وسلامة الآخر. وهومراد الناظم، وذلك لأن الضدين هما مزاحفة السببين جميعاً، وسلامتهما جميعاً. فإذا امتنعا لزم مزاحفة أحدهما وسلامة الآخر، فتجامع المراقبة المعاقبة في أنه إذا حذف أحد الساكنين من السببين ثبت الآخر وجوباً، وتفارقها في أن المعاقبة يجوز فيها إثباتهما معاً والمراقبة يمتنع فيها ذلك. ويقع الفرق بينهما أيضاً بأن المعاقبة تكون بين السببين المتلاقيين كانا في جزء واحد، أو في جزأين، فالمراقبة لا تكون إلا إذا كان السببان متجاورين في جزء واحد. وسميت مراقبةً لأنها يراقب فيها حذف أحد الساكنين فيثبت الآخر، أو ثبوته فيحذف الآخر.

وقوله (مبدأ شطر لم) يعني أن المراقبة تحل في مبدأ كل شطر من شطور البحرين المرموز لهما بالام والميم، وهما الثاني عشر وهو المضارع المشار إليه باللام والثالث عشر وهو المقتضب المشار إليه بالميم. فإن قلت علامة يعود الضمير من قوله (بأربعها) ؟ قلت على مبادئ الشطور الأربعة المفهومة من السياق، وذلك لأن كل بحر له شطران، ولكل شطر منهما مبدأ، فالمضارع في الاستعمال مجزوء، زنته:

مفاعيلن فاع لاتن مفاعيلن فاع لاتن.

والمقتضب كذلك، وزنته:

مفعولاتُ مستفعلن مفعولاتن مستفعلن.

فمبدأ الشطر الأول من المضارع (مفاعيلن) وكذا مبدأ شطره الثاني. ومبدأ الشطر الأول من المقتضب (مفعولات) وكذا مبدأ شطره الثاني. فإذا هي أربعة مبادئ. والمرقبة ثابتة في جميعها فلا يجوز في شيء منها إثبات السببين معاً ولا حذفهما معاً. ولابد من سلامة أحدهما ومزاحفة الآخر. فإن قلت: فكيف أنث العدد والمعدود مذكر؟ قلت، مر لنا أن الكسائي يجيزه إذا كان المعدود محذوفاً، وقال به غيره. فيجوز تخريج ذلك على هذا المذهب. وجوز الشريف عود الضمير على الأسباب الأربعة في البيت، وهما اثنان في أول المصراع الأول منه واثنان في أول المصرع الثاني، وذلك (عيلن) في المصراعين من المضارع و (مفعو) في المصراعين من المقتضب. وأنث لأنه أول السبب بالكلمة أو باللفظة قال: ويسوغ أن يريد بالأربع ثواني الأسباب، وهي الحروف السواكن والحرف يذكر ويؤنث، فقال (بأربعها) فلحظ التأنيث. قال:

وأبحر طي جزِ مكانفةٌ لها … بكملها فافعل بها أيها تشا

أقول: المكانفةُ هي جواز سلامة السببين المجتمعين، ومزاحفتهما معاً، وسلامة أحدهما ومزاحفة الآخر. وهو معنى قول الناظم (فافعل بها أيها تشا) وتدخل في أربعة أبحر، وهي البحر التاسع وهو السريع المرموز له بالطاء. والبحر العاشر هو المنسرح المرموز له بالياء. والبحر الثالث هو البسيط المرموز له بالجيم. والبحر السابع هو الرجز المرموز له بالزاي. وقوله (بكملها) يعني أن المكانفة إنما تدخل في هذه الأبحر في الأجزاء الكمل السالمة من نقص العلل، وذلك كضرب العروض الأولى من المنسرح، لأن الطي لازم له. قال الشريف: وذكر الناظم بحر المنسرح أولاً فيما يكون فيه المعاقبة ثم ذكره هنا فيما يسوغ فيه حذف الساكنيين معاً. ووجه ذلك أن أجزاؤه تختلف، فأما (مستفعلن) الواقع في أول شطريه فحذف الساكنين فيه جائزٌ قلت: وكذا (مفعولات) كما يؤخذ من الشواهد، ولا وجه للتخصيص بمستفعلن المذكور. وأما (مستفعلن) الذي يلي (مفعولات) فلا يجوز حذفهما فيه لأن قبله تاء (مفعولات) وهي متحركةٌ، فلو دخل (مستفعلن) الخبل لاجتمع فيه خمس متحركاتِ، ولذلك لا يعده بعض العروضيين من باب المعاقبة، إذ امتناع حذف الساكنيين إنما هو لأمر ِ عارض فيه، فتأمله، انتهى كلامه. فإن قلت: كيف ساغ الابتداء بقوله (مكانفة) وهي نكرة محضة لا مسوغ للإبتداء بها؟ قلت هي موصوفة بقوله (لها) والخبر قوله (بكملها) فالمسوغ موجود فلا إشكال.

 

‌‌علل الأجزاء

قال:

وما لم يكن مما مضى ادع بعلةِ … زيادته والنقص فرقاً لذى النهى
আমি বলছি: মুরাকাবা হলো এই যে, একত্রিত দুটি সবব (ছন্দগত কারণ) একসাথে যিহাফগ্রস্ত (পরিবর্তিত) হবে না এবং উভয়টি একসাথে যিহাফ থেকে মুক্তও থাকবে না; বরং অবশ্যই একটিকে যিহাফগ্রস্ত হতে হবে এবং অপরটিকে সুস্থ বা অপরিবর্তিত থাকতে হবে। নাযেমের (মূল লেখক) উদ্দেশ্যও এটিই। কারণ, দুটি বিপরীত বিষয় হলো উভয় সববই একসাথে যিহাফগ্রস্ত হওয়া অথবা উভয়টিই একসাথে সুস্থ থাকা। যখন এই দুটি বিষয় নিষিদ্ধ হয়ে যায়, তখন একটির পরিবর্তন ও অপরটির সুস্থ থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে। মুরাকাবা বিষয়টি মুআকাবার সাথে এই দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ যে, উভয় সববের যেকোনো একটির সাকিন (স্থির বর্ণ) বিলুপ্ত হলে অপরটি আবশ্যকভাবে বহাল থাকে। তবে এদের মধ্যে পার্থক্য হলো, মুআকাবাতে উভয় সববকে একসাথে বহাল রাখা জায়েজ, কিন্তু মুরাকাবাতে তা অসম্ভব। এদের মধ্যে আরও একটি পার্থক্য হলো, মুআকাবা দুটি পরস্পর সংলগ্ন সববের মধ্যে হয়—চাই তা এক রুকনের (অংশের) মধ্যে হোক বা দুই রুকনের মধ্যে। কিন্তু মুরাকাবা শুধুমাত্র তখনই হয় যখন দুটি সবব একটি রুকনের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থান করে। একে মুরাকাবা (পর্যবেক্ষণ) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে একটি সাকিন বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয় যাতে অপরটি বহাল থাকে, অথবা একটির স্থির থাকা পর্যবেক্ষণ করা হয় যাতে অন্যটি বিলুপ্ত হয়।

আর তাঁর উক্তি (শতর বা অর্ধাংশের শুরুতে 'লাম' ও 'মীম') এর অর্থ হলো, মুরাকাবা সেই দুই সমুদ্র বা ছন্দের প্রতিটির অর্ধাংশের শুরুতে ঘটে যেগুলোকে 'লাম' এবং 'মীম' দ্বারা সংকেত দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো দ্বাদশ ছন্দ 'মুদারি' (যাকে 'লাম' দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে) এবং ত্রয়োদশ ছন্দ 'মুকতাদাব' (যাকে 'মীম' দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে)। আপনি যদি প্রশ্ন করেন, তাঁর উক্তি 'সেগুলোর চারটিতে' (বি-আরবাইহা)-এর সর্বনামটি কার দিকে ফিরবে? আমি বলব, এটি প্রসঙ্গের আলোকে বোধগম্য চারটি শতর বা অর্ধাংশের সূচনার দিকে ফিরবে। কারণ প্রতিটি ছন্দের দুটি করে শতর বা অর্ধ-চরণ থাকে এবং প্রতিটি অর্ধ-চরণের একটি করে সূচনা থাকে। 'মুদারি' ছন্দটি ব্যবহারে 'মাজজু' (সংক্ষিপ্ত) হিসেবে আসে, যার ওজন হলো:

মাফাইলুন ফা লাতুন মাফাইলুন ফা লাতুন।

আর 'মুকতাদাব' ছন্দটিও অনুরূপ, এর ওজন হলো:

মাফউলাতু মুস্তাফইলুন মাফউলাতু মুস্তাফইলুন।

সুতরাং মুদারির প্রথম অর্ধ-চরণের সূচনা হলো (মাফাইলুন), তেমনি তার দ্বিতীয় অর্ধ-চরণের সূচনাও তাই। আবার মুকতাদাবের প্রথম অর্ধ-চরণের সূচনা হলো (মাফউলাতু) এবং তার দ্বিতীয় অর্ধ-চরণের সূচনাও তাই। অতএব এই হলো চারটি সূচনা। আর মুরাকাবা এই সবগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; সুতরাং এর কোনোটিতেই দুটি সববকে একসাথে রাখা যাবে না এবং একসাথে বিলুপ্তও করা যাবে না। বরং অবশ্যই একটিকে সুস্থ রাখতে হবে এবং অন্যটিকে যিহাফগ্রস্ত করতে হবে। আপনি যদি প্রশ্ন করেন: সংখ্যাটি কেন স্ত্রীলিঙ্গ আনা হলো যেখানে গণনাকৃত বিষয়টি (মাআদি) পুংলিঙ্গ? আমি বলব, আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, আল-কিসাঈ এটিকে জায়েজ মনে করেন যখন গণনাকৃত বিষয়টি উহ্য থাকে এবং অন্যান্যরাও এমনটি বলেছেন। সুতরাং এই মতের ভিত্তিতে এর ব্যাখ্যা করা সম্ভব। আশ-শরীফ জায়েজ মনে করেছেন যে, সর্বনামটি এই পঙক্তির চারটি 'সবব' বা ছন্দগত কারণের দিকে ফিরছে; যার মধ্যে দুটি হলো প্রথম চরণের শুরুতে এবং দুটি হলো দ্বিতীয় চরণের শুরুতে। সেগুলো হলো মুদারির উভয় চরণের (আইলুন) এবং মুকতাদাবের উভয় চরণের (মাফউ)। আর একে স্ত্রীলিঙ্গ আনা হয়েছে কারণ তিনি 'সবব'-কে 'কালিমা' (শব্দ) হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: 'চারটি' দ্বারা সববের দ্বিতীয় বর্ণসমূহকেও উদ্দেশ্য করা সম্ভব, যা হলো সাকিন বা স্থির বর্ণসমূহ; আর বর্ণ (হারফ) পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়টিই হতে পারে, তাই তিনি (বি-আরবাইহা) বলে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন:

আর ত্বই (সংক্ষেপণ) যুক্ত ছন্দে 'জিম' ও 'যায়' এর জন্য মুকানাফাহ রয়েছে ... সেগুলোর পূর্ণতার সাথে, হে ব্যক্তি! তুমি এর সাথে যা ইচ্ছা তা করো।

আমি বলছি: মুকানাফাহ হলো একত্রিত দুটি সবব সুস্থ থাকা, উভয়টি একসাথে যিহাফগ্রস্ত হওয়া এবং একটির সুস্থ থেকে অপরটির যিহাফগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ থাকা। এটিই নাযেমের উক্তি (এর সাথে যা ইচ্ছা তা করো)-এর অর্থ। এটি চারটি ছন্দের মধ্যে প্রবেশ করে, সেগুলো হলো: নবম ছন্দ 'সারী' (যাকে 'ত্ব' দ্বারা সংকেত দেওয়া হয়েছে), দশম ছন্দ 'মুনসারিহ' (যাকে 'ইয়া' দ্বারা সংকেত দেওয়া হয়েছে), তৃতীয় ছন্দ 'বাসিত' (যাকে 'জিম' দ্বারা সংকেত দেওয়া হয়েছে) এবং সপ্তম ছন্দ 'রাজায' (যাকে 'যায়' দ্বারা সংকেত দেওয়া হয়েছে)। তাঁর উক্তি (সেগুলোর পূর্ণতার সাথে) এর অর্থ হলো, মুকানাফাহ কেবল তখনই এই ছন্দগুলোতে প্রবেশ করে যখন এর রুকনগুলো পূর্ণ থাকে এবং 'ইল্লাত' বা ছন্দগত ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকে। যেমন মুনসারিহ ছন্দের প্রথম আরুয ও দরব-এর ক্ষেত্রে, কারণ সেখানে 'ত্বই' (এক প্রকার সংক্ষেপণ) আবশ্যক। আশ-শরীফ বলেন: নাযেম প্রথমে মুনসারিহ ছন্দকে মুআকাবার আলোচনায় উল্লেখ করেছেন, এরপর আবার এখানে এমন ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যেখানে উভয় সাকিন বিলুপ্ত করা জায়েজ। এর কারণ হলো এর অংশগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়। মুনসারিহ ছন্দের দুই অর্ধ-চরণের শুরুতে যে 'মুস্তাফইলুন' থাকে, তাতে উভয় সাকিন বিলুপ্ত করা জায়েজ। আমি বলি: তেমনি 'মাফউলাতু' রুকনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম, যা উদাহরণগুলো থেকে বোঝা যায়; সুতরাং এটি কেবল উল্লিখিত 'মুস্তাফইলুন'-এর জন্য নির্দিষ্ট করার কোনো কারণ নেই। আর যে 'মুস্তাফইলুন' রুকনটি 'মাফউলাতু'-এর পরে আসে, তাতে উভয় সাকিন বিলুপ্ত করা জায়েজ নয়। কারণ এর আগে 'মাফউলাতু'-এর 'তা' বর্ণটি রয়েছে যা একটি হরকতযুক্ত বা স্বরবর্ণযুক্ত বর্ণ। সুতরাং যদি এই 'মুস্তাফইলুন'-এ 'খাবল' (এক প্রকার পরিবর্তন) প্রবেশ করে, তবে তাতে পরপর পাঁচটি হরকতযুক্ত বর্ণ একত্রিত হয়ে যাবে। এই কারণেই কিছু ছন্দবিদ একে মুআকাবার অন্তর্ভুক্ত করেন না; কেননা উভয় সাকিন বিলুপ্ত করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি একটি আকস্মিক কারণে ঘটেছে। সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখুন—এখানেই তাঁর বক্তব্য শেষ। আপনি যদি বলেন: (মুকানাফাতুন) শব্দ দিয়ে বাক্য শুরু করা কীভাবে সঠিক হলো, অথচ এটি একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ), যা দিয়ে বাক্য শুরু করার কোনো বৈধ কারণ নেই? আমি বলব, এটি তার পরের শব্দ (লাহা) দ্বারা বিশেষিত হয়েছে এবং এর খবর বা বিধেয় হলো (বি-কুমলিহা); সুতরাং বৈধ কারণ বিদ্যমান থাকায় এখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

 

‌‌রুকনসমূহের ইল্লাত বা ত্রুটিসমূহ

তিনি বলেন:

পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা ছাড়া অন্য যা কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাসের আকারে আসে, বিচক্ষণ ব্যক্তিগণের নিকট তাকে 'ইল্লাত' (ত্রুটি) নামে অভিহিত করো।