(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: -)
الحواشى على سنن ابن ماجه   (البرهان الحلبي)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: الحواشى على سنن ابن ماجه

(نسخة الملك المحسن ابن الملك الناصر صلاح الدين وهى النسخة التى اعتمدها الشارح)

المؤلف: برهان الدين إبراهيم بن محمد بن خليل الحلبي المعروف بسبط ابن العجمي (841 هـ)

المحقيق: د فاضل بن خلف الحُمَّادَة الرَّقىّ

الناشر: دار أطلس الخضراء، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 ربيع الآخر 1445

সুনান ইবনে মাজাহ-র ওপর টীকা   (আল-বুরহান আল-হালাবি)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সুনান ইবনে মাজাহ-র ওপর টীকা

(আল-মালিক আল-মুহসিন ইবনে আল-মালিক আন-নাসির সালাহউদ্দীন-এর পাণ্ডুলিপি, যা ব্যাখ্যাকারক মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন)

লেখক: বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন খলিল আল-হালাবি, যিনি সিবত ইবনুল আজামি নামে পরিচিত (৮৪১ হিজরি)

সম্পাদক: ড. ফাদেল বিন খালাফ আল-হাম্মাদা আর-রাক্কি

প্রকাশক: দার আতলাস আল-খাদরা, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة التحقيق

بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم لك الحمدُ على مَا أوليت مِن نِعَم، ولك الحمدُ على ما دفعت مِن نِقَم، ونسألك اللهم البرَّ والإحسان، ونعوذ بك مِن الذل والخسران، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له اللطيف الخبير بالعباد، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدُه المرسَلُ إلى الناس خير هادٍ، صلى الله عليه وسلم، وعلى آله وأصحابه، والتابعين وتابعيهم بإحسانٍ إلى يومِ المعاد.

وبعد:

فقد استقر صنيعُ أهل هذا الشأن على عدِّ السنن لابن ماجَه سادسَ كتب السنة، ومع هذا لم يلقَ هذا الكتابُ كبيرَ عناية كبقية الستة، وشروحُه إذا ما أُحصيت فقليلة، وبعضُها لا يزال مخطوطًا، ومِنْ هذه الشروح النفيسة درةٌ مكنونةٌ، وحاشيةٌ لطيفةٌ، للإمام سبط ابن العَجَمي، وبعد الاستخارة والاستشارة، شرعتُ في هذا العملِ راجيًا ثواب الجليل الكريم.

 

‌‌عملي في الكتاب:

1 - جعلتُ أحاديث السنن في الأعلى، وأتبعتُه بالشرح، وبينهما فاصلٌ.

2 - تخريج أحاديث السنن من الكتب الخمسة، بذكر الرمز والرقم، وهي: صحيح البخاري: خ، وصحيح مسلم: م، وسنن أبي داود: د، وسنن الترمذي: ت، وسنن النسائي: س، ولم أبين المكرر في تلك الكتب.
সম্পাদকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি যে নিআমত দান করেছেন তার ওপর। আর সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি যে বিপদাপদ দূর করেছেন তার ওপর। আমরা আপনার নিকট নেক আমল ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করি এবং আপনার নিকট লাঞ্ছনা ও ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবহিত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা এবং মানুষের নিকট প্রেরিত সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

হাদিস শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতদের কর্মপদ্ধতি সুুনান ইবনে মাজাহ-কে সুন্নাহর ষষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করার ওপর স্থির হয়েছে। তা সত্ত্বেও, কুতুবে সিত্তাহর বাকি গ্রন্থগুলোর মতো এই কিতাবটি খুব বেশি মনোযোগ পায়নি। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ গণনা করলে দেখা যায় যে তা সংখ্যায় অতি নগণ্য এবং এর কিছু অংশ এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে। এই মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি লুক্কায়িত মুক্তা ও চমৎকার টীকা হলো ইমাম সিবত ইবনুল আজামির লিখিত গ্রন্থটি। অতঃপর ইস্তিখারা এবং পরামর্শের পর, আমি মহান ও দয়ালু প্রতিপালকের নিকট সওয়াবের প্রত্যাশায় এই কাজে ব্রতী হয়েছি।

 

এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি:

১ - আমি সুনান-এর হাদিসগুলোকে উপরে রেখেছি এবং এরপর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি; আর উভয়ের মাঝে একটি বিভাজক চিহ্ন রেখেছি।

২ - প্রতীক ও নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে বাকি পাঁচটি কিতাব থেকে সুনান-এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করা। কিতাবগুলো হলো: সহীহ বুখারী: খ, সহীহ মুসলিম: ম, সুনান আবু দাউদ: দ, সুনান তিরমিযী: ত এবং সুনান নাসাঈ: স। তবে আমি উক্ত কিতাবগুলোতে পুনরাবৃত্ত হওয়া হাদিসগুলো বর্ণনা করিনি।
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
3 - بينتُ أطراف الحديث (المكرر) في سنن ابن ماجه.

4 - تخريج الأحاديث والآثار الواردة في الشرح.

5 - توثيق الأقوال والنقولات الواردة في الشرح.

6 - ترجمتُ للإمام سبط ابن العَجَمي ترجمةً متوسطة.

7 - أفردت فصلًا في منهج الإمام سبط ابن العجمي في الشرح.

8 - عملتُ فهارس تفصيلية: وهي:

فهرس الآيات الواردة في الشرح.

فهرس الأحاديث الواردة في الشرح.

فهرس الأحاديث التي حكم عليها.

فهرس الإجماعات.

فهرس الناسخ والمنسوخ.

فهرس الجرح والتعديل.

فهرس علوم الحديث.

فهرس الفوائد والقواعد.

فهرس أحاديث السنن.
৩ - আমি সুনানে ইবনে মাজাহ-তে (পুনরাবৃত্ত) হাদিসসমূহের আত্বরাফ (প্রান্তিক অংশ) বর্ণনা করেছি।

৪ - ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লিখিত হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ (উৎস নিরূপণ)।

৫ - ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণিত বক্তব্য ও উদ্ধৃতিসমূহের প্রামাণ্যতা নিশ্চিতকরণ।

৬ - আমি ইমাম সিবত ইবনুল আজামির একটি নাতিদীর্ঘ জীবনী সংকলন করেছি।

৭ - আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইমাম সিবত ইবনুল আজামির মানহাজ (কর্মপদ্ধতি) সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছি।

৮ - আমি বিস্তারিত নির্ঘণ্টসমূহ তৈরি করেছি; সেগুলো হলো:

ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণিত আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণিত হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট।

যেসব হাদিসের ওপর হুকুম (মান) প্রদান করা হয়েছে সেগুলোর নির্ঘণ্ট।

ইজমা (ঐকমত্য) সমূহের নির্ঘণ্ট।

নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত) সমূহের নির্ঘণ্ট।

জারহ ও তাদিল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) সংক্রান্ত নির্ঘণ্ট।

হাদিস বিজ্ঞানের (উলুমুল হাদিস) নির্ঘণ্ট।

ফায়দা ও কায়দাহ (উপকারিতা ও মূলনীতি) সমূহের নির্ঘণ্ট।

সুনানের হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌وصف النسخ الخطية

* اعتمدت في ضبط نصِّ الشرح على نسخة فريدة بخطِّ المصنِّف، وهي مِن محفوظات مكتبة فيض الله برقم (496) ضمن مجموع للسبط حوى كتابين:

الأول: مختصر المبهمات لابن بشكوال، وشغل الأوراق (1 - 29 أ).

والثاني: الحواشي على سنن ابن ماجه، وشغلت الوراق (29 ب- 262).

وهي نسخة راجعها السبط، وفي هوامشها لحقٌ كثير.

* أما ضبط نصِّ السنن فاعتمدتُ على النسخة التي اعتمدها الشارح؛ وهي نسخةُ الملك المحسن، وهي نسخةٌ نفيسةٌ محفوظةٌ في مكتبة جار الله برقم (290)، وتقعُ في (367) ورقة.

وهي فرعٌ أصيلٌ عن نسخة ابن قدامة، مقروءةٌ عليه، مقابلة بأصلين.

قرأها وقابلها الملكُ المحسنُ ابن الملك الناصر صلاح الدين(1).

--------------------------------------------

(1) هو المحدث العالم الزاهد ظهير الدين أحمد ابن السلطان صلاح الدين يوسف بن أيوب، روى عن يحيى الثقفي وابن صدقة وغيرهم، وعني بالحديث وطلبه، وكتب واستنسخ وقرأ على الشيوخ، وكان مليح الكتابة، جيد النقل، متواضعًا متزهدًا حسن الأخلاق، مفضلًا على أصحاب الحديث وعلى الشيوخ، وحصل الكتب النفيسة والأصول المليحة، ووجد المحدثون به راحةً عظيمةً وجاهًا ووجاهةً، وكان كثير التحرِّي في القراءة، توفي بحلب في الرابع والعشرين من محرم سنة أربع وثلاثين وست مئة، وله سبع وخمسون سنة، وحُمل إلى الرقة فدفن بها بقرب قبر عمار بن ياسر، مما قيل فيه:

ملك به وأبيه يفتخر العلا … ويفوق فخرهما السها والفرقدا

ترجمته في سير أعلام النبلاء 23/ 17 - 18، وتاريخ الإسلام 46/ 179 - 180.

وينظر: الروضتين في أخبار الدولتين 3/ 375.

পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা

* ব্যাখ্যার (শারহ) পাঠ বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমি গ্রন্থকারের স্বহস্তে লিখিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি; যা ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরিতে (৪৯৬) নম্বর সংকলনের অধীনে সংরক্ষিত সাবত-এর একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, যাতে দুটি বই রয়েছে:

প্রথমটি: ইবনে বাশকুয়ালের 'মুখতাসারুল মুবহামাত', যা ১ - ২৯ (ক) পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত।

দ্বিতীয়টি: 'আল-হাওয়াশি আলা সুনানে ইবনে মাজাহ', যা ২৯ (খ) - ২৬২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত।

এটি এমন একটি পাণ্ডুলিপি যা সাবত নিজে সংশোধন করেছেন এবং এর পার্শ্বটীকায় অনেক সংযোজন রয়েছে।

* আর 'সুনান'-এর পাঠ বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমি সেই পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যা ব্যাখ্যাকার নিজে গ্রহণ করেছিলেন; আর সেটি হলো আল-মালিক আল-মুহসিনের পাণ্ডুলিপি। এটি একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি যা জারুল্লাহ লাইব্রেরিতে ২৯০ নম্বর ক্রমে সংরক্ষিত এবং ৩৬৭টি পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত।

এটি ইবনে কুদামার পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত একটি মূল শাখা, যা তাঁর কাছে পাঠ করা হয়েছে এবং দুটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

এটি পাঠ করেছেন এবং মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখেছেন আল-মালিক আল-মুহসিন ইবনুল মালিক আন-নাসির সালাহউদ্দীন(১)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুহাদ্দিস, আলিম ও যাহিদ (সংসারবিরাগী) জহিরুদ্দীন আহমদ ইবনুল সুলতান সালাহউদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুব। তিনি ইয়াহইয়া আস-সাকাফি, ইবনে সাদাকাহ এবং অন্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদীস চর্চা ও জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন; তিনি লিখেছেন, অনুলিপি করেছেন এবং শায়খদের কাছে পাঠ করেছেন। তাঁর হস্তাক্ষর ছিল সুন্দর, অনুলিপি পদ্ধতি ছিল নিখুঁত, এবং তিনি ছিলেন বিনয়ী, পরহেযগার ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী। তিনি হাদীস বিশারদ ও শায়খদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল ছিলেন। তিনি মূল্যবান কিতাব ও চমৎকার মূল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন। মুহাদ্দিসগণ তাঁর সান্নিধ্যে অত্যন্ত প্রশান্তি, প্রতিপত্তি ও মর্যাদা লাভ করতেন। তিনি পাঠের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন। ৬৩৪ হিজরীর ২৪শে মহররম সাতান্ন বছর বয়সে তিনি হালাবে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে রাক্কাহ-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আম্মার বিন ইয়াসির-এর কবরের পাশে দাফন করা হয়। তাঁর প্রশংসায় বলা হয়েছে:

এমন এক বাদশাহ যার মাধ্যমে এবং যাঁর পিতার মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা গর্ববোধ করে … এবং তাঁদের উভয়ের গৌরব সুহা ও ফারকাদ নক্ষত্রকেও ছাড়িয়ে যায়।

তাঁর জীবনী দ্রষ্টব্য: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৭ - ১৮, এবং তারিখুল ইসলাম ৪৬/ ১৭৯ - ১৮০।

আরও দেখুন: আর-রওদাতাইন ফি আখবারিদ দাওলাতাইন ৩/ ৩৭৫।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والنسخةُ وقفٌ مؤبد وحبسٌ مُحرَّمٌ على أهل الشام، ثم انتقلت إلى حلب لحاجتهم إليها كما جاء ذلك بخط المزي في اللوحة (67) في بداية الجزء الرابع.

وعليها أيضًا سماعات للأئمة على السبط وغيره.

وفيها تقديم وتأخير عن المطبوع:

فقد جاءت الأحاديث (223، 224، 226، 230، 233، 238) بعد الحديث (258).

وجاءت الأحاديث (628، 631، 632، 633، 635، 640، 642، 643، 645) بعد الحديث (657).

وفيها نقصٌ عما هو مطبوع عشرات الأحاديث، وقد استدركتها من المطبوع.

وفي الختام: جزى الله خيرًا كلَّ مَن ساهم في إنجازِ هذا العمل، والحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الأمين، وعلى آله وصحبه أجمعين.

الرياض 22 جمادى الآخرة 1437 هـ

31/ 3/ 2016 م

أبو تَميم الرَّقِّي
এই পাণ্ডুলিপিটি সিরিয়াবাসীদের (আহলুশ শাম) জন্য একটি চিরস্থায়ী ওয়াকফ এবং অলঙ্ঘনীয় উৎসর্গ; পরবর্তীতে তাদের প্রয়োজনের কারণে এটি আলেপ্পোতে স্থানান্তরিত হয়, যেমনটি চতুর্থ খণ্ডের শুরুতে ৬৭ নম্বর পৃষ্ঠায় আল-মিযযীর হস্তাক্ষরে বর্ণিত হয়েছে।

এতে আস-সিবত এবং অন্যদের নিকট ইমামদের শ্রবণের (সামা'আত) বিবরণও রয়েছে।

মুদ্রিত সংস্করণের তুলনায় এতে ক্রমবিন্যাসে কিছু অগ্র-পশ্চাৎ লক্ষ্য করা যায়:

যেমন: ২২৩, ২২৪, ২২৬, ২৩০, ২৩৩, ২৩৮ নম্বর হাদিসগুলো ২৫৮ নম্বর হাদিসের পরে এসেছে।

এবং ৬২৮, ৬৩১, ৬৩২, ৬৩৩, ৬৩৫, ৬৪০, ৬৪২, ৬৪৩, ৬৪৫ নম্বর হাদিসগুলো ৬৫৭ নম্বর হাদিসের পরে এসেছে।

মুদ্রিত সংস্করণের তুলনায় এতে কয়েক ডজন হাদিসের ঘাটতি রয়েছে, যা আমি মুদ্রিত সংস্করণ থেকে সংগ্রহ করে পরিপূরণ করেছি।

পরিশেষে: যারা এই কাজটির পূর্ণতা দানে সহযোগিতা করেছেন আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

রিয়াদ, ২২ জমাদিউল আখিরা ১৪৩৭ হিজরী

৩১/ ০৩/ ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ

আবু তামীম আর-রাক্কী
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة الإمام برهان الدين سبط ابن العَجَمي

‌‌أولًا: اسمه ونسبه:

هو الإمام الحافظ برهان الدين، أبو إسحاق، وقيل: أبو الوفاء، إبراهيم بن محمد بن خليل الطرابلسي الحلبي(1).

واشتهر بسبط ابن العَجَمي؛ لكون أمّه ابنة عمر بن محمد بن الموفق أحمد بن هاشم بن أبي حامد عبد الله بن العَجَمي الحلبي(2).

ويُعرف البرهان بالقُوف؛ لقَّبه به بعض أعدائه، وكان يغضب منه(3).

وهو خادمُ السنة، وشيخُ الحديث بالبلاد الحلبية بلا مُدافع(4).

 

‌‌ثانيًا: ولادته ونشأته:

ولد سبط ابن العجمي بالجَلُّوم، حارة في حلب، في شهر رجب سنة ثلاث وخمسين وسبعمائة(5).

--------------------------------------------

(1) ذيل التقييد 1/ 440، وتوضيح المشتبه 3/ 289، ولحظ الألحاظ ص 308، والضوء اللامع 1/ 138، وطبقات الحفاظ ص 551، وشذرات الذهب 7/ 237.

(2) ذيل التقييد 1/ 440، ولحظ الألحاظ ص 308، والضوء اللامع 1/ 138.

(3) لحظ الألحاظ ص 308، والضوء اللامع 1/ 138، وطبقات الحفاظ ص 551.

(4) ذيل التقييد 1/ 440، ولحظ الألحاظ ص 314، ونزهة الألباب 2/ 104، والضوء اللامع 1/ 142.

(5) الضوء اللامع 1/ 138، وطبقات الحفاظ ص 551، وشذرات الذهب 7/ 237.

ইমাম বুরহানুদ্দীন সিবত ইবনুল আজমীর জীবনী

‌‌প্রথমত: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন ইমাম হাফিজ বুরহানুদ্দীন, আবু ইসহাক, এবং বলা হয়েছে: আবুল ওয়াফা, ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন খলিল আত-তারাবলুসী আল-হালাবী(১)।

তিনি সিবত ইবনুল আজমী নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন; কারণ তাঁর মাতা ছিলেন ওমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুওয়াফফাক আহমদ বিন হাশেম বিন আবু হামিদ আব্দুল্লাহ ইবনুল আজমী আল-হালাবীর কন্যা(২)।

আল-বুরহান 'আল-কুফ' নামেও পরিচিত ছিলেন; তাঁর জনৈক শত্রু তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন এবং এতে তিনি রাগান্বিত হতেন(৩)।

তিনি ছিলেন সুন্নাহর খাদেম এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই হালাব অঞ্চলের হাদিসের শায়খ(৪)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

সিবত ইবনুল আজমী সাতশত তিপ্পান্ন হিজরী সালের রজব মাসে হালাবের জাল্লুম নামক মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন(৫)।

--------------------------------------------

(১) যাইলুত তাকয়ীদ ১/ ৪৪০, তাওদীহুল মুশতাবিহ ৩/ ২৮৯, লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩০৮, আদ-দউউল লামি ১/ ১৩৮, তাবাকাতুল হুফফাজ পৃষ্ঠা ৫৫১, শাযারাতুয যাহাব ৭/ ২৩৭।

(২) যাইলুত তাকয়ীদ ১/ ৪৪০, লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩০৮, আদ-দউউল লামি ১/ ১৩৮।

(৩) লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩০৮, আদ-দউউল লামি ১/ ১৩৮, তাবাকাতুল হুফফাজ পৃষ্ঠা ৫৫১।

(৪) যাইলুত তাকয়ীদ ১/ ৪৪০, লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩১৪, নুযহাতুল আলবাব ২/ ১০৪, আদ-দউউল লামি ১/ ১৪২।

(৫) আদ-দউউল লামি ১/ ১৩৮, তাবাকাতুল হুফফাজ পৃষ্ঠা ৫৫১, শাযারাতুয যাহাব ৭/ ২৩৭।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
واختلف في تحديد اليوم على أقوال(1).

مات أبوه وهو صغير جدًا، فكفلته أمه وانتقلت به إلى دمشق فحفظ به بعض القرآن، ثم رجعت به إلى حلب(2).

فنشأ بها وطلب العلم فيها، واشتغل في الفقه والقراآت والتصريف والبديع والتصوف(3).

وكان طلبُه للحديث بنفسه بعد كبره؛ فإنه كتبَ الحديث في جمادى الثانية سنة سبعين، وأقدم سماع له في سنة تسع وستين، وعني بهذا الشأن أتم عناية، فسمع وقرأ الكثير ببلده على‌‌ شيوخها(4).

ثم رحَلَ في الطلب، وسيأتي تفصيل رحلاته.

 

‌‌ثالثًا: شيوخه وتلامذته:

أما شيوخه: فيقول البرهان الحلبي: "مشايخي في الحديث نحو المائتين، ومَن رويت عنه شيئًا مِن الشعر دون الحديث بضع وثلاثون، وفي العلوم غير الحديث نحو الثلاثين"(5).

--------------------------------------------

(1) قيل: (12)، وقيل: (22)، وقيل: (28). ينظر: لحظ الألحاظ ص 308، والمنهل الصافي 1/ 131، والضوء اللامع 1/ 138، وشذرات الذهب 7/ 237.

(2) لحظ الألحاظ ص 308، والضوء اللامع 1/ 138.

(3) لحظ الألحاظ ص 309، وشذرات الذهب 7/ 237 - 238.

(4) الضوء اللامع 1/ 139.

(5) الضوء اللامع 1/ 140.

দিনটি নির্ধারণের ব্যাপারে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে(১).

যখন তিনি অত্যন্ত ছোট ছিলেন তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তাঁর মা তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন এবং তাঁকে নিয়ে দামেশকে চলে যান। সেখানে তিনি কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ করেন, এরপর তাঁর মা তাঁকে নিয়ে পুনরায় আলেপ্পোতে ফিরে আসেন(২).

তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং ইলম অর্জন করেন। তিনি ফিকহ, কিরাত, ইলমুত তাসরিফ (শব্দরূপান্তর), ইলমুল বাদি' (অলঙ্কারশাস্ত্র) এবং তাসাউফ চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন(৩).

তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজে থেকেই হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন; তিনি সত্তর হিজরি সালের জুমাদাস সানি মাসে হাদিস লিপিবদ্ধ করেন। তাঁর প্রাচীনতম শ্রুত হাদিসটি ছিল উনসত্তর হিজরি সালের। তিনি এই শাস্ত্রের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন। ফলে তিনি নিজ শহরের উস্তাদদের নিকট প্রচুর হাদিস শ্রবণ ও পাঠ করেন(৪).

এরপর তিনি ইলম অন্বেষণে সফর করেন, তাঁর সফরসমূহের বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

 

‌‌তৃতীয়ত: তাঁর উস্তাদগণ ও ছাত্রবৃন্দ:

তাঁর উস্তাদদের ব্যাপারে বুরহান আল-হালাবি বলেন: "হাদিস শাস্ত্রে আমার উস্তাদ প্রায় দুইশত জন। আর যাঁদের নিকট থেকে হাদিস ব্যতীত কেবল কবিতা বর্ণনা করেছি তাঁদের সংখ্যা ত্রিশের কিছু বেশি এবং হাদিস ব্যতীত অন্যান্য বিদ্যায় উস্তাদের সংখ্যা প্রায় ত্রিশ জন"(৫).

--------------------------------------------

(১) বলা হয়েছে: (১২ তারিখ), আবার বলা হয়েছে: (২২ তারিখ), এবং আরও বলা হয়েছে: (২৮ তারিখ)। দ্রষ্টব্য: লাহযুল আলহায পৃ. ৩০৮; আল-মানহালুস সাফি ১/১৩১; আদ-দাউউল লামি' ১/১৩৮; শাযারাতুয যাহাব ৭/২৩৭।

(২) লাহযুল আলহায পৃ. ৩০৮; আদ-দাউউল লামি' ১/১৩৮।

(৩) লাহযুল আলহায পৃ. ৩০৯; শাযারাতুয যাহাব ৭/২৩৭-২৩৮।

(৪) আদ-দাউউল লামি' ১/১৩৯।

(৫) আদ-দাউউল লামি' ১/১৪০।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال: "حفاظ مصر أربعة أشخاص، وهم من مشايخي: البلقيني وهو أحفظُهم لأحاديث الأحكام، والعراقي وهو أعلمُهم بالصنعة، والهيثمي وهو أحفظُهم للأحاديث مِن حيث هي، وابن الملقن وهو أكثرُهم فوائد في الكتابة على الحديث"(1).

وسأقتصر في شيوخه على هؤلاء الأربعة:

 

‌‌1 - السراج ابن الملقن (723 هـ-804 هـ)(2):

هو عمدةُ المحدثين وقدوةُ المصنفين شيخُ الإسلام الإمامُ الفقيهُ الحافظُ سراجُ الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد بن محمد بن عبد الله الأنصاري، الوادي آشي الأندلسي الأصل، نزيل القاهرة، أحدُ شيوخ الشافعية وأئمة الحديث، وصاحب التصانيف الكثيرة، كشرح البخاري وغيره.

عُرف بابن النحوي؛ لأن أباه كان عالمًا به.

وأما شهرته بابن الملقن؛ فنسبة إلى زوج أمِّه الشيخ عيسى المغربي، وكان خيرًا صالحًا يُلقن القرآن العظيم بجامع ابن طولون، تزوج بأمه، بعد وفاة أبيه وعمره سنة، وتربّى في حجره بحيث أنه نسب إليه حتى صار يعرف بابن الملقن، وصار علمًا عليه إلى أن مات.

--------------------------------------------

(1) لحظ الألحاظ ص 201.

(2) ترجمته في: لحظ الألحاظ ص 197، والضوء اللامع 6/ 100، وذيل طبقات الحفاظ ص 369، والبدر الطالع 1/ 508.

এবং তিনি বলেন: "মিসরের হাফেজ (হাদিস বিশারদ) চারজন ব্যক্তি, আর তাঁরা আমার শায়খদের অন্তর্ভুক্ত: আল-বালকিনি, তিনি তাঁদের মধ্যে আহকাম সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি পারদর্শী; আল-ইরাকি, তিনি তাঁদের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রের কারিগরি দিক সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী; আল-হাইতামি, তিনি সামগ্রিকভাবে হাদিস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য; এবং ইবনুল মুলাক্কিন, তিনি হাদিস বিষয়ক লেখনীতে সবচেয়ে বেশি তথ্যবহুল।"(১).

আর আমি তাঁর শায়খদের বর্ণনায় এই চারজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব:

 

‌‌১ - সিরাজ ইবনুল মুলাক্কিন (৭২৩ হি.-৮০৪ হি.)(২):

তিনি মুহাদ্দিসগণের প্রধান অবলম্বন এবং গ্রন্থকারদের জন্য আদর্শ, শায়খুল ইসলাম, ইমাম, ফকিহ, হাফেজ সিরাজুদ্দিন আবু হাফস ওমর ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি। তাঁর আদি নিবাস আল-আন্দালুসের ওয়াদি আশি, কায়রোতে বসবাসকারী, শাফেয়ী মাজহাবের অন্যতম শায়খ এবং হাদিসের ইমামগণের একজন। তিনি 'শরহে বুখারি' এবং অন্যান্য অসংখ্য গ্রন্থের রচয়িতা।

তিনি 'ইবনুন নাহবি' নামে পরিচিত ছিলেন; কারণ তাঁর পিতা ব্যাকরণ শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন।

আর 'ইবনুল মুলাক্কিন' হিসেবে তাঁর প্রসিদ্ধির কারণ হলো, এটি তাঁর মাতার স্বামী শায়খ ঈসা আল-মাগরিবির সাথে সম্পর্কিত। তিনি একজন নেককার ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ইবনে তুলুন মসজিদে মহান কুরআন শিক্ষা দিতেন (তালকিন করতেন)। ইবনুল মুলাক্কিনের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর মাতাকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র এক বছর। তিনি তাঁরই কোলে লালিত-পালিত হন, ফলে তাঁর দিকেই তাঁকে সম্পৃক্ত করা হতো এবং শেষ পর্যন্ত তিনি 'ইবনুল মুলাক্কিন' নামেই পরিচিতি লাভ করেন এবং মৃত্যু অবধি এটাই তাঁর পরিচিতি হয়ে দাঁড়ায়।

--------------------------------------------

(১) লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ২০১।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন: লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ১৯৭, আদ-দাওউল লামে' ৬/১০০, জাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ, পৃষ্ঠা ৩৬৯ এবং আল-বাদরুত তালি' ১/৫০৮।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌2 - سراج الدين البُلقَيني (724 هـ- 805 هـ)(1):

هو الإمامُ العلامةُ شيخُ الإسلام الحافظُ الفقيهُ البارعُ ذو الفنون المجتهدُ سراج الدين أبو حفص عمر بن رسلان بن نصير بن صالح بن شهاب بن عبد الخالق بن محمد بن مسافر الكناني العسقلاني الشافعي، نزيل القاهرة.

والبُلْقيني نسبة إلى بُلْقَين مِن قُرى مصر.

انتهت إليه رياسة المذهب والإفتاء، وله شرح على البخاري والترمذي وأشياء أُخر.

 

‌‌3 - زين الدين العراقي (725 هـ-806 هـ)(2):

هو الإمام الكبير والحافظ الشهير زين الدين أبو الفضل عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم، المهراني المولد، العراقي الأصل، الكردي الشافعي، نزيل القاهرة.

ويُعرف بالعراقي؛ انتسابًا لعراق العرب، وهو كردي الأصل أقام سلفه ببلدة من أعمال اربل يقال لها رازنان، ثم تحوّل والدُه لمصر وهو صغير.

شَرَع في إملاء الحديث من سنة (796 هـ) فأحيا الله به سنة الإملاء بعد

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: توضيح المشتبه 1/ 591، ولحظ الألحاظ ص 206، والضوء اللامع 6/ 85، وذيل طبقات الحفاظ ص 369، وشذرات الذهب 7/ 51.

(2) ترجمته في: لحظ الألحاظ ص 220، والضوء اللامع 4/ 171، وذيل طبقات الحفاظ ص 370، وشذرات الذهب 7/ 55، والبدر الطالع 1/ 354.

২ - সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনি (৭২৪ হিজরি - ৮০৫ হিজরি)(১):

তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম, হাফেজ, দক্ষ ফকিহ, বহুমুখী বিদ্যার অধিকারী, মুজতাহিদ, সিরাজুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে রুসলান ইবনে নুসায়ের ইবনে সালিহ ইবনে শিহাব ইবনে আবদুল খালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসাফির আল-কিনানি আল-আসকালানি আশ-শাফেয়ি, কায়রোর অধিবাসী।

আর বুলকিনি নামটি মিশরের বুলকিন নামক গ্রামের সাথে সম্পর্কিত।

তাঁর মাধ্যমেই মাযহাবের নেতৃত্ব ও ফতোয়া প্রদানের কার্যাদি পূর্ণতা পায়। বুখারি ও তিরমিযির ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অন্যান্য কৃতি রয়েছে।

 

৩ - যাইনুদ্দিন আল-ইরাকি (৭২৫ হিজরি - ৮০৬ হিজরি)(২):

তিনি হলেন মহান ইমাম এবং প্রসিদ্ধ হাফেজ যাইনুদ্দিন আবু আল-ফদল আবদুর রহিম ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ইবনে ইব্রাহিম; জন্মসূত্রে মেহরানি, বংশসূত্রে ইরাকি, কুর্দি, শাফেয়ি এবং কায়রোর অধিবাসী।

তিনি 'ইরাকি' নামে পরিচিত; ইরাকে আরবের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে। তবে তিনি মূলত কুর্দি বংশোদ্ভূত; তাঁর পূর্বপুরুষগণ ইরবিলের অন্তর্গত রাযনান নামক এক জনপদে বসবাস করতেন। অতঃপর তাঁর পিতা শিশুকালেই তাঁকে নিয়ে মিশরে চলে আসেন।

তিনি ৭৯৬ হিজরি থেকে হাদিস শ্রুতিলিখনের (ইমলা) কাজ শুরু করেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা শ্রুতিলিখনের সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করেন... পরবর্তীতে...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে: তাওদিহুল মুশতাবিহ ১/ ৫৯১, লাহযুল আলহায পৃষ্ঠা ২০৬, আদ-দাউউল লামি' ৬/ ৮৫, দাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ পৃষ্ঠা ৩৬৯ এবং শাদারাতুজ জাহাব ৭/ ৫১-এ।

(২) তাঁর জীবনী রয়েছে: লাহযুল আলহায পৃষ্ঠা ২২০, আদ-দাউউল লামি' ৪/ ১৭১, দাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ পৃষ্ঠা ৩৭০, শাদারাতুজ জাহাব ৭/ ৫৫ এবং আল-বাদরুত তালি' ১/ ৩৫৪-এ।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أن كانت داثرة فأملى أكثر من أربعمائة مجلس، وكانت أماليه يمليها من حفظه متقنة مهذبة محررة كثيرة الفوائد الحديثية.

وبه تخرّج البرهانُ الحلبي، وصار شيخَ البلاد الحلبية بلا مدافع.

 

‌‌4 - نور الدين الهيثمي (735 هـ-807 هـ)(1):

هو الحافظُ نور الدين أبو الحسن علي بن أبي بكر بن سليمان بن عمر بن صالح الهيثمي القاهري الشافعي.

صحبَ الزين العراقي وهو بالغٌ، ولم يفارقه سفرًا وحضرًا حتى مات؛ بحيث حجَّ معه جميع حجاته، ورحل معه سائر رحلاته، ورافقه في جميع مسموعه بمصر والقاهرة والحرمين وبيت المقدس ودمشق وبعلبك وحلب وحماة وحمص وطرابلس وغيرها.

وكان العراقي يحبه كثيرًا ويرشده إلى التصنيف، ولم يكن الزين يعتمد في شيء من أموره إلا عليه، وزوَّجه ابنته خديجة، ورزق منها عدة أولاد وكتب الكثير من تصانيف الشيخ بل قرأ عليه أكثرها وتخرج به في الحديث بل دربه في إفراد زوائد الكتب.

قال البرهان الحلبي: كان من محاسن القاهرة، ومِن أهل الخير؛ غالب نهاره في اشتغال وكتابة، مع ملازمة خدمة الشيخ.

--------------------------------------------

(1) ترجمته بها: الضوء اللامع 5/ 200 - 203، ذيل طبقات الحفاظ ص 372.

যদ্যপি তা বিলুপ্তপ্রায় ছিল, তবুও তিনি চারশতেরও বেশি মজলিসে শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন। তাঁর সেই শ্রুতিলিপিগুলো তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে, সুবিন্যস্তরূপে, সুশৃঙ্খলভাবে এবং প্রচুর হাদিসতাত্ত্বিক উপকারিতাসহ নিজের স্মৃতি থেকে মুখস্থ প্রদান করতেন।

তাঁর নিকট থেকেই বুরহান আল-হালাবি শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই তিনি হালাব অঞ্চলের প্রধান শাইখে পরিণত হন।

 

‌‌৪ - নূরুদ্দিন আল-হাইসামি (৭৩৫ হিজরি - ৮০৭ হিজরি)(১):

তিনি হলেন হাফিজ নূরুদ্দিন আবুল হাসান আলি ইবনে আবি বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে উমর ইবনে সালিহ আল-হাইসামি আল-কাহিরি আশ-শাফিঈ।

তিনি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় জাইনুল ইরাকির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সফরে কিংবা আবাসে কখনোই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেননি; এমনকি তিনি তাঁর সাথে তাঁর সকল হজ সম্পাদন করেছেন, তাঁর সকল ইলমি সফরে সাথে ছিলেন এবং মিসর, কায়রো, হারামাইন, বায়তুল মাকদিস, দামেস্ক, বালবাক, হালাব, হামাত, হিমস, ত্রিপোলি ও অন্যান্য স্থানে তাঁর শ্রবণ করা সকল মজলিসে তাঁর সঙ্গী ছিলেন।

ইরাকি তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং গ্রন্থ রচনায় তাঁকে দিকনির্দেশনা দিতেন। জাইনুল ইরাকি তাঁর কোনো বিষয়েই তিনি ব্যতীত অন্য কারো ওপর নির্ভর করতেন না। তিনি তাঁর কন্যা খাদিজাকে তাঁর সাথে বিবাহ দেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর বেশ কয়েকজন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তিনি শাইখের অনেকগুলো গ্রন্থ অনুলিপি করেছেন, বরং সেগুলোর অধিকাংশ তাঁর নিকট পাঠ করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর নিকট থেকেই ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন; এমনকি তিনি তাঁকে বিভিন্ন গ্রন্থের অতিরিক্ত হাদিসগুলো পৃথক করার কাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

বুরহান আল-হালাবি বলেন: তিনি ছিলেন কায়রোর অন্যতম সৌন্দর্য এবং পুণ্যবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত; তাঁর দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় হতো জ্ঞানচর্চা ও লেখালিখিতে এবং সেই সাথে তিনি সর্বদা শাইখের খিদমতে নিয়োজিত থাকতেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী এখানে দ্রষ্টব্য: আদ-দাউ আল-লামি ৫/ ২০০ - ২০৩, জাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ পৃষ্ঠা ৩৭২।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
قلتُ: وللبرهان الحلبي ثَبَتٌ كبير؛ جَمع فيه رحلاته، وذَكر في كل رحلة الشيوخَ والمسموعات، وقد أخذتُ منه سنده إلى السنن.

واعتمد الحافظ ابن حجر على الثبت في استخراج مشيخة ذكر فيها أحوال الشيوخ المذكورين ومروياتهم ليستفيدها الرحالة، ثم بعث بها إلى شيخه(1).

كما جمع شيوخَه النجمُ ابن فهد الهاشمي في مجلد ضخم؛ بيَّن فيه أسانيده وتراجم شيوخه(2).

 

وأما‌‌ تلاميذه: فسأقتصر على أربعة أيضًا، وهم:

‌‌1 - علاء الدين ابن خطيب الناصرية (774 هـ- 843 هـ)(3):

هو الإمام علاء الدين أبو الحسن علي بن محمد بن سعد الحلبي الشافعي، المعروف بابن خطيب الناصرية.

اشتهر ذِكرُه، وصار مرجع الشافعية في قطره، وقد كثر اعتناؤه بأخبار بلده وتراجم أعيانها؛ بحيث جمع لها تاريخًا حافلًا ذيل به على تاريخ ابن العديم.

وكانت دروسه حافلة؛ بحيث كان شيخه البرهان الحلبي يقول: هي دروس اجتهاد، لم أسمع شبهها إلا من شيخنا البلقيني.

--------------------------------------------

(1) الضوء اللامع 1/ 143.

(2) الضوء اللامع 1/ 140.

(3) الضوء اللامع 5/ 303 - 306.

আমি বলছি: বুরহান আল-হালাবির একটি বৃহৎ 'ছাবাত' (সনদ গ্রন্থ) রয়েছে; এতে তিনি তাঁর সফরসমূহ সংকলন করেছেন এবং প্রতিটি সফরে তাঁর শিক্ষক ও শ্রবণকৃত বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন। আমি তা থেকে 'সুনান' গ্রন্থসমূহের প্রতি তাঁর সনদ গ্রহণ করেছি।

হাফিজ ইবনে হাজার এই 'ছাবাত'-এর ওপর নির্ভর করে একটি 'মাশয়াখাহ' (শিক্ষকদের তালিকা) তৈরি করেন, যেখানে তিনি উল্লিখিত শিক্ষকদের অবস্থা ও তাঁদের বর্ণিত বিষয়সমূহ উল্লেখ করেন যাতে পরিব্রাজকরা উপকৃত হতে পারেন। অতঃপর তিনি তা তাঁর শিক্ষকের নিকট প্রেরণ করেন(১)।

একইভাবে নাজমুদ্দিন ইবনে ফাহাদ আল-হাশেমি একটি বিশাল খণ্ডে তাঁর শিক্ষকদের তালিকা সংকলন করেছেন; সেখানে তিনি তাঁর সনদসমূহ এবং শিক্ষকদের জীবনী বর্ণনা করেছেন(২)।

 

আর তাঁর‌‌ ছাত্রগণ: আমি এখানেও মাত্র চারজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব, তাঁরা হলেন:

‌‌১ - আলাউদ্দিন ইবনে খাতিব আন-নাসিরিয়্যাহ (৭৭৪ হি. - ৮৪৩ হি.)(৩):

তিনি হলেন ইমাম আলাউদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন সা'দ আল-হালাবি আশ-শাফি'য়ি, যিনি ইবনে খাতিব আন-নাসিরিয়্যাহ নামে পরিচিত।

তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি তাঁর অঞ্চলে শাফি'য়ি মাজহাবের প্রধান ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি তাঁর শহরের সংবাদ এবং সেখানকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী রচনার প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন; এমনকি তিনি এর জন্য একটি সমৃদ্ধ ইতিহাসগ্রন্থ সংকলন করেন, যা ইবনে আল-আদীমের ইতিহাসের একটি পরিশিষ্ট হিসেবে গণ্য।

তাঁর দরসসমূহ ছিল অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ; এমনকি তাঁর উস্তাদ বুরহান আল-হালাবি বলতেন: এগুলো ইজতিহাদপূর্ণ দরস, আমাদের উস্তাদ আল-বুলকিনি ব্যতীত অন্য কারও নিকট আমি এমন দরস শুনিনি।

--------------------------------------------

(১) আদ-দউ আল-লামি ১/১৪৩।

(২) আদ-দউ আল-লামি ১/১৪০।

(৩) আদ-দউ আল-লামি ৫/৩০৩ - ৩০৬।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌2 - ابن حجر (773 هـ-852 هـ)(1):

هو شيخ الإسلام وإمام الحفاظ قاضي القضاة شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد العسقلاني المصري الشافعي، المعروف بابن حجر.

عانى أولًا الأدب ونظم الشعر فبلغ فيه الغاية، ثم طلب الحديث فسمع الكثير ورحل، وصنَّف التصانيف التي عمَّ النَّفعُ بها كشرح البخاري.

 

‌‌3 - ابن فهد المكي (812 هـ- 885 هـ)(2):

هو الإمام النجم والسراج أبو القاسم عمر بن محمد بن محمد بن أبي الخير الهاشمي، المعروف بابن فهد.

بدأ بحفظ مَتن الخرقي على مذهب أحمد، ثم حوَّله أبوه شافعيًا،

وطاف البلدان وطول الرحلة، وتردد في جميع مدائن مصر والشام وغيرهما، وكتب الكثير بخطه، وسمع العالي والنازل، ومَهر في الحديث وصنَّف فيه مصنفات، وخرَّج لنفسه مُعجمًا، ولشيخه البرهان مُعجمًا.

 

‌‌4 - ابن زُريق (812 هـ- 900 هـ)(3):

هو الإمام ناصر الدين أبو البقاء محمد بن أبي بكر بن عبد الرحمن بن محمد القرشي الدمشقي الحنبلي، ويُعرف كأبيه بابن زُريق.

--------------------------------------------

(1) ذيل طبقات الحفاظ ص 380 - 382.

(2) الضوء اللامع 6/ 126 - 131، والبدر الطالع 1/ 512.

(3) لحظ الألحاظ ص 196، والضوء اللامع 7/ 169 - 171، شذرات الذهب 7/ 366.

২ - ইবনে হাজার (৭৭৩ হি. - ৮৫২ হি.)(১):

তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম এবং হাফেজদের ইমাম, প্রধান বিচারপতি শিহাবুদ্দিন আবুল ফাদল আহমাদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মাদ আল-আসকালানি আল-মিসরি আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত।

তিনি প্রথমে সাহিত্য চর্চা ও কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন এবং তাতে চরম শিখরে পৌঁছান। এরপর তিনি হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন এবং প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন ও দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেন। তিনি এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা দ্বারা ব্যাপক কল্যাণ সাধিত হয়েছে, যেমন সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরাহ)।

 

‌৩ - ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি (৮১২ হি. - ৮৮৫ হি.)(২):

তিনি হলেন ইমাম আন-নাজম ওয়াস-সিরাজ আবুল কাসিম উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি আল-খাইর আল-হাশেমি, যিনি ইবনে ফাহদ নামে পরিচিত।

তিনি আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী 'মাতনুল খিরাকি' মুখস্থ করার মাধ্যমে শিক্ষা শুরু করেন, এরপর তাঁর পিতা তাঁকে শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী করে দেন।

তিনি দেশ-দেশান্তর সফর করেন এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন। তিনি মিশর, সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের সকল শহরে যাতায়াত করেন এবং নিজ হাতে প্রচুর লেখালেখি করেন। তিনি উচ্চ এবং নিম্ন উভয় স্তরের সনদ সম্বলিত হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন এবং এতে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি নিজের জন্য একটি 'মুজাম' এবং তাঁর শায়খ বুরহানের জন্য একটি 'মুজাম' সংকলন করেন।

 

‌৪ - ইবনে জুরাইক (৮১২ হি. - ৯০০ হি.)(৩):

তিনি হলেন ইমাম নাসিরুদ্দিন আবুল বাকা মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি; তিনি তাঁর পিতার ন্যায় ইবনে জুরাইক নামে পরিচিত।

--------------------------------------------

(১) যাইলে তাবাকাতিল হুফফাজ, পৃষ্ঠা ৩৮০-৩৮২।

(২) আদ-দাউউল লামি' ৬/১২৬-১৩১, এবং আল-বাদরুত তালি' ১/৫১২।

(৩) লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ১৯৬, আদ-দাউউল লামি' ৭/১৬৯-১৭১, শাযারাতুয যাহাব ৭/৩৬৬।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقرأ بحلب على حافظها البرهان الكثير؛ كسنن النسائي وابن ماجه والمحدث الفاصل ومشيخة الفخر وعشرة الحداد وغيرها قراءة وسماعًا، ووصفه بالشيخ الفاضل المحدث الرحال، سليل السادة الأخيار، العلماء الأحبار، وأنه إنسان حسن ذو أخلاق جميلة، ويقرأ سريعًا.

 

‌‌رابعًا: رحلاته العلمية:

تنقل سبطُ ابن العَجَمي بين إقليمين طلبًا للعلم، وهما:

إقليم الشام: سمع بحلب ودمشق وحماة وحمص وطرابلس وبعلبك والقدس والخليل ونابلس والرملة وغزة(1).

إقليم مصر: ارتحل إلى الديار المصرية مرتين، فسمع بالقاهرة والإسكندرية ودمياط وتنِّيس وبِلبِيس(2).

وسافر إلى الإقليم الثالث:

إقليم الحجاز: فحج في سنة ثلاث عشرة وثمانمائة، وكانت الوقفة الجمعة، ولم يحج سواها، وزار المدينة النبوية(3).

وفي ثَبَته المشهور ذكر رحلاته ومشيخته ومسموعاته في كل بلد ورحلة.

--------------------------------------------

(1) لحظ الألحاظ ص 311 - 312، والضوء اللامع 1/ 140، وشذرات الذهب 7/ 238.

(2) لحظ الألحاظ ص 311 - 312، والضوء اللامع 1/ 140، وشذرات الذهب 7/ 238.

(3) لحظ الألحاظ ص 314 - 315، والضوء اللامع 1/ 140.

তিনি হালাবে এর হাফিজ বুরহানুদ্দীনের নিকট প্রচুর পাঠ করেছেন; যেমন সুনানে নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল, মাশয়াখাতুল ফাখর, আশারাতুল হাদ্দাদ এবং এ ছাড়া অন্যান্য কিতাব পাঠ ও শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি তাঁকে ‘মর্যাদাবান শায়খ, পরিভ্রমণকারী মুহাদ্দিস, পুণ্যবান ও সুবিজ্ঞ আলেমদের বংশধর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি একজন উত্তম মানুষ, সুন্দর চরিত্রের অধিকারী এবং দ্রুত পাঠ করতে সক্ষম।

 

‌‌চতুর্থ: তাঁর ইলমি সফরসমূহ:

সিবত ইবনুল আজামি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে দুটি অঞ্চলের মধ্যে যাতায়াত করেছেন, সেগুলো হলো:

শাম অঞ্চল: তিনি হালাব, দামেস্ক, হামাত, হিমস, ত্রিপোলি, বালবাক, কুদস, খলিল, নাবলুস, রামলা এবং গাজায় (হাদিস) শুনেছেন(১)।

মিশর অঞ্চল: তিনি দুইবার মিশর ভূখণ্ডে সফর করেন, অতঃপর কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, দ্যামিয়েটা, তেন্নিস এবং বিলবিসে (হাদিস) শুনেছেন(২)।

এবং তিনি তৃতীয় অঞ্চলের দিকেও সফর করেছেন:

হিজাজ অঞ্চল: তিনি আটশ তেরো হিজরিতে হজ পালন করেন, ঐ বছর আরাফাতে অবস্থানের দিনটি (ওয়াকফা) ছিল শুক্রবার। তিনি এ ছাড়া আর কোনো হজ করেননি এবং তিনি মদিনায়ে নববী যিয়ারত করেছেন(৩)।

তাঁর প্রসিদ্ধ ‘সাবাত’ (সনদ ও তথ্য সংবলিত গ্রন্থ)-এ তিনি তাঁর সফরসমূহ, শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রতিটি দেশ ও সফরের শ্রবণকৃত বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) লাহযুল আলহায পৃ. ৩১১ - ৩১২, আদ-দাওউল লামি ১/ ১৪০, শাযারাতুয যাহাব ৭/ ২৩৮।

(২) লাহযুল আলহায পৃ. ৩১১ - ৩১২, আদ-দাওউল লামি ১/ ১৪০, শাযারাতুয যাহাব ৭/ ২৩৮।

(৩) লাহযুল আলহায পৃ. ৩১৪ - ৩১৫, আদ-দাওউল লামি ১/ ১৪০।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌خامسًا: مذهبه الفقهي:

السبط ابن العجمي شافعي المذهب، إلا أنه يميل إلى طريقة أهل الحديث في الفقه، ومَدحَ هذا المسلك في غير موضع من هذه الحواشي.

 

‌‌سادسًا: تأثره بالمدارس العلمية:

تأثر السبط بمدرستين:

المدرسة المصرية: ويمثلها أربعة من الحفاظ المتقنين؛ قال السبط: "حفاظ مصر أربعة أشخاص، وهم من مشايخي: البلقيني وهو أحفظُهم لأحاديث الأحكام، والعراقي وهو أعلمُهم بالصنعة، والهيثمي وهو أحفظُهم للأحاديث مِن حيث هي، وابن الملقن وهو أكثرُهم فوائد في الكتابة على الحديث"(1).

المدرسة الشامية: وهي مدرسة ابن تيمية رحمه الله تعالى، واستفاد سبط ابن العَجَمي من تلاميذه؛ ابن القيم، والذهبي.

بل كان شديد التقدير لهذه المدرسة؛ قال السخاوي: لما دخل التقي الحصني حلب بلغني أنه لم يتوجه لزيارته؛ لكونه كان ينكر مشافهة على لابسي الأثواب النفيسة على الهيئة المبتدعة وعلى المتقشفين، ولا يعدو حال الناس ذلك، فتحامى قصده، فما وسع الشيخ إلا المجيء إليه، فوجده نائمًا بالمدرسة الشرفية، فجلس حتى انتبه ثم سلم عليه، فقال له: لعلك التقي الحصني؟!

فقال: أنا أبو بكر.

--------------------------------------------

(1) لحظ الألحاظ ص 201.

পঞ্চম: তাঁর ফিকহি মাযহাব:

সিবত ইবনুল আজমী শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তবে তিনি ফিকহ শাস্ত্রে আহলে হাদীসের পদ্ধতির প্রতি ঝুঁকে ছিলেন এবং এই টীকাগ্রন্থের একাধিক স্থানে তিনি এই পথের প্রশংসা করেছেন।

 

ষষ্ঠ: ইলমী ধারাসমূহ দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়া:

সিবত দুটি ধারা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন:

মিশরীয় ধারা: চারজন দক্ষ হাফেজ এর প্রতিনিধিত্ব করেন; সিবত বলেন: "মিসরের হাফেজ হলেন চারজন ব্যক্তি, আর তাঁরা আমার উস্তাদগণের অন্তর্ভুক্ত: আল-বুলকিনী, যিনি আহকামের হাদীসসমূহে তাঁদের মাঝে সবচেয়ে বড় হাফেজ; আল-ইরাকী, যিনি হাদীস শাস্ত্রে তাঁদের মাঝে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী; আল-হায়সামী, যিনি সাধারণ হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁদের মাঝে সবচেয়ে বড় হাফেজ; এবং ইবনুল মুলাক্কিন, যিনি হাদীসের ওপর লেখনীর ক্ষেত্রে তাঁদের মাঝে সবচেয়ে বেশি উপকারী"(১)।

শামী (সিরীয়) ধারা: এটি ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর ধারা, আর সিবত ইবনুল আজমী তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম ও আয-যাহাবী থেকে উপকৃত হয়েছেন।

বরং তিনি এই ধারার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন; আস-সাখাভী বলেন: যখন তাকীউদ্দীন আল-হিসনী আলেপ্পোতে প্রবেশ করেন, তখন আমার কাছে সংবাদ পৌঁছে যে, তিনি (সিবত) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে যাননি; কারণ তিনি (আল-হিসনী) জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধানকারী এবং কৃচ্ছ্রসাধনকারীদের নব আবিষ্কৃত বেশভূষার ওপর সরাসরি আপত্তি জানাতেন, আর মানুষের অবস্থা এর বাইরে ছিল না। তাই তিনি তাঁর সঙ্গ এড়িয়ে চলতেন। এমতাবস্থায় শেখ (আল-হিসনী) নিজেই তাঁর কাছে আসলেন এবং তাঁকে শারফিয়্যাহ মাদরাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় পেলেন। তিনি তাঁর জেগে ওঠা পর্যন্ত বসে থাকলেন, এরপর তাঁকে সালাম দিলেন। তখন তিনি (সিবত) তাঁকে বললেন: সম্ভবত আপনিই তাকীউদ্দীন আল-হিসনী?!

তিনি বললেন: আমি আবু বকর।

--------------------------------------------

(১) লাহযুল আলহায, পৃ. ২০১।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم سأله عن شيوخه، فسماهم له.

فقال له: إن شيوخك الذين سميتهم هم عبيد ابن تيمية، أو عبيد مَن أخذ عنه، فما بالك تحط أنت عليه؟!

فما وسع التقي إلا أن أخذ نعله وانصرف، ولم يجسر يرد عليه(1).

 

‌‌سابعًا: ثناء العلماء عليه:

قال ابن ناصر الدين الدمشقي: محدث حلب(2).

وقال العلاء بن خطيب الناصرية: شيخٌ إمامٌ عاملٌ عالمٌ حافظٌ، ورعٌ مفيدٌ زاهدٌ على طريق السلف الصالح، ليس مقبلًا إلا على شأنه من الاشتغال والأشغال والإفادة(3).

وقال ابن حجر: يُسمع الحديث ويقرؤه مع الدين والتواضع، واطراح التكلف، وعدم الالتفات إلى بني الدنيا(4).

وقال أيضًا: ومصنفاته ممتعة محررة دالة على تتبع زائد وإتقان، وهو قليل المباحث فيها كثير النقل(5).

--------------------------------------------

(1) الضوء اللامع 1/ 145.

(2) توضيح المشتبه 3/ 289.

(3) الضوء اللامع 1/ 142 - 143.

(4) الضوء اللامع 1/ 143.

(5) الضوء اللامع 1/ 143.

অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর শিক্ষকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি তাঁদের নাম তাঁর নিকট বর্ণনা করলেন।

তখন তিনি তাঁকে বললেন: আপনার উল্লেখিত শায়খগণ তো ইবনে তাইমিয়্যার অনুসারী অথবা যাঁরা তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁদের অনুসারী; এমতাবস্থায় আপনি কেন তাঁর সমালোচনা করছেন?!

তখন তাকীউদ্দীন নিজের জুতো জোড়া নিয়ে প্রস্থান করা ছাড়া আর কোনো উপায় খুঁজে পেলেন না এবং তিনি তাঁর কোনো প্রত্যুত্তর দেওয়ার সাহস করলেন না(১)।

 

‌‌সপ্তম: তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:

ইবনে নাসিরুদ্দীন আদ-দামিশকী বলেন: তিনি হালবের মুহাদ্দিস(২)।

আলা ইবনে খাতীব আন-নাসিরিয়্যাহ বলেন: তিনি একজন শায়খ, ইমাম, আমলকারী আলেম এবং হাফিজ। তিনি পরহেযগার, উপকারী এবং সালাফে সালেহীনদের পথ অনুসরণকারী একজন যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সর্বদা নিজের পাঠদান, জ্ঞানচর্চা ও মানুষের উপকারের কাজে মগ্ন থাকতেন(৩)।

ইবনে হাজার বলেন: তিনি দ্বীনদারী ও বিনয়ের সাথে হাদীস শ্রবণ ও পাঠ করতেন। তিনি কৃত্রিমতা বর্জনকারী ছিলেন এবং দুনিয়াদারদের প্রতি তাঁর কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না(৪)।

তিনি আরও বলেন: তাঁর রচনাবলী অত্যন্ত চমৎকার ও পরিমার্জিত, যা তাঁর গভীর অনুসন্ধান ও নিপুণতার পরিচায়ক। তিনি সেখানে তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে উদ্ধৃতি ও বর্ণনা বেশি পেশ করেছেন(৫)।

--------------------------------------------

(১) আদ-দাউ আল-লামি ১/১৪৫।

(২) তাওদিহুল মুশতাবিহ ৩/২৮৯।

(৩) আদ-দাউ আল-লামি ১/১৪২ - ১৪৩।

(৪) আদ-দাউ আল-লামি ১/১৪৩।

(৫) আদ-দাউ আল-লামি ১/১৪৩।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال أيضًا في مقدمة المشيخة التي خرجها له: أما بعد فقد وقفت على ثَبَت الشيخ الإمام العلامة الحافظ المسند شيخ السنة النبوية برهان الدين الحلبي سبط ابن العجمي(1).

وقال التقي المقريزي: صار شيخ البلاد الحلبية بغير تدافع، مع تدين وانجماع وسيرة حميدة(2).

وقال البقاعي: كان على طريقة السلف في التوسط في العيش، وفي الانقطاع عن الناس، لاسيما أهل الدنيا، عالمًا بغريب الحديث، شديد الاطلاع على المتون، بارعًا في معرفة العلل(3).

وقال ابن فهد: الإمام العلامة برهان الدين أبو الوفاء(4).

وقال السيوطي: شيخ البلاد الحلبية بلا مدافع(5).

قال ابن العماد: الشيخ الإمام الحافظ الحلبي(6).

وقال أيضًا: كان إمامًا حافظًا بارعًا مفيدًا، سمع الكثير، وألف التآليف

--------------------------------------------

(1) الضوء اللامع 1/ 143.

(2) الضوء اللامع 1/ 144.

(3) الضوء اللامع 1/ 144.

(4) لحظ الألحاظ ص 308.

(5) طبقات الحفاظ ص 551.

(6) شذرات الذهب 7/ 237.

তিনি তাঁর জন্য সংকলিত মাশইয়াখার (শিক্ষক-তালিকা) ভূমিকাতে আরও বলেন: অতঃপর আমি শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফিজ, মুসনিদ, সুন্নাতে নববীর শায়খ বুরহানউদ্দিন আল-হালাবী সিবত ইবনুল আজমীর ‘সাবাত’ (সনদ-সংকলন) পর্যবেক্ষণ করেছি।(১).

তাকী আল-মাকরীযী বলেন: তিনি কোনো প্রকার বিরোধিতা ছাড়াই হালাব অঞ্চলের প্রধান শায়খে পরিণত হয়েছিলেন; এর সাথে যুক্ত ছিল তাঁর দ্বীনদারি, নিভৃতচারিতা এবং প্রশংসনীয় জীবন চরিত।(২).

আল-বিকায়ী বলেন: তিনি জীবনযাপনে মধ্যপন্থা অবলম্বন এবং মানুষের সংস্পর্শ থেকে—বিশেষ করে দুনিয়াদারদের থেকে—বিচ্ছিন্ন থাকার ক্ষেত্রে সালাফদের আদর্শের ওপর ছিলেন। তিনি গারীব হাদীস সম্পর্কে অভিজ্ঞ, হাদীসের মতনসমূহে অগাধ পাণ্ডিত্য সম্পন্ন এবং ‘ইলাল’ (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) শাস্ত্রের জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন।(৩).

ইবনে ফাহদ বলেন: ইমাম, আল্লামা বুরহানউদ্দিন আবু আল-ওয়াফা।(৪).

সুয়ূতী বলেন: হালাব অঞ্চলের অবিসংবাদিত প্রধান শায়খ।(৫).

ইবনুল ইমাদ বলেন: শায়খ, ইমাম, হাফিজ আল-হালাবী।(৬).

তিনি আরও বলেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, হাফিজ, পারদর্শী ও উপকারী আলেম; তিনি প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আদ-দাউ আল-লামি ১/ ১৪৩।

(২) আদ-দাউ আল-লামি ১/ ১৪৪।

(৩) আদ-দাউ আল-লামি ১/ ১৪৪।

(৪) লাহযুল আলহায পৃষ্ঠা ৩০৮।

(৫) তাবাকাতুল হুফফায পৃষ্ঠা ৫৫১।

(৬) শাযারাতুয যাহাব ৭/ ২৩৭।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المفيدة الحسنة(1).

وأجمع ما قيل فيه: كان إمامًا علامة حافظًا خيرًا دينًا ورعًا متواضعًا، وافر العقل، حسن الأخلاق، متخلقًا بجميل الصفات، جميل العشرة، متواضعًا، محبًا للحديث وأهله، كثير النصح والمحبة لأصحابه، ساكنًا منجمعًا عن الناس، متعففًا عن التردد لبني الدنيا، قانعًا باليسير، طارحًا للتكلف، رأسًا في العبادة والزهد والورع، مديم الصيام والقيام، سهلًا في التحدث، كثير الإنصاف والبشر لمن يقصده للأخذ عنه، خصوصًا الغرباء، مواظبًا على الاشتغال والأشغال والإقبال على القراءة بنفسه، حافظًا لكتاب الله تعالى كثير التلاوة له، صبورًا على الإسماع؛ ربما أسمع اليوم الكامل من غير ملل ولا ضجر(2).

 

‌‌ثامنًا: مؤلفاته:

1 - الاغتباط بمن رمى بالاختلاط(3).

2 - التبيين لأسماء المدلسين(4).

3 - تذكرة الطالب المعلم فيمن يقال أنه مخضرم(5).

--------------------------------------------

(1) شذرات الذهب 7/ 238.

(2) لحظ الألحاظ ص 313، والضوء اللامع 1/ 142.

(3) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 142.

(4) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 142.

(5) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 142.

উপকারী ও উত্তম(১)।

তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে সারগর্ভ যা বলা হয়েছে: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত (আল্লামা), হাফেজ, কল্যাণকামী, ধর্মপ্রাণ, পরহেজগার, বিনয়ী, প্রখর বুদ্ধিমান, সচ্চরিত্রবান, সুন্দর গুণাবলীতে ভূষিত, উত্তম মেলামেশাসম্পন্ন, বিনয়ী, হাদিস ও হাদিসবিদদের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী, তাঁর সাথীদের প্রতি অত্যন্ত হিতাকাঙ্ক্ষী ও স্নেহশীল, শান্ত স্বভাবের ও লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা পছন্দকারী, দুনিয়াদারদের কাছে আসা-যাওয়া থেকে বিরত, অল্পে তুষ্ট, কৃত্রিমতা বর্জনকারী, ইবাদত, দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ) ও পরহেজগারিতে শীর্ষস্থানীয়, সর্বদা সিয়াম ও কিয়াম (রাতের ইবাদত) পালনকারী, কথাবার্তায় সহজ-সরল, যারা তাঁর কাছ থেকে ইলম গ্রহণের উদ্দেশ্যে আসতেন—বিশেষ করে বিদেশিদের প্রতি অত্যন্ত ইনসাফকারী ও হাস্যোজ্জ্বল, সর্বদা ইলমি ব্যস্ততা ও নিজে পাঠে মনোযোগী, আল্লাহর কিতাবের হাফেজ ও এর অধিক তিলাওয়াতকারী, হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ধৈর্যশীল; কখনো কখনো তিনি কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই পুরো দিন হাদিস শুনতেন(২)।

 

‌‌অষ্টম: তাঁর রচনাবলী:

১ - ইখতিলাত বা স্মৃতিবিভ্রমের দোষে অভিযুক্তদের পরিচয়(৩)।

২ - মুদাল্লিস বা দোষ গোপনকারী বর্ণনাকারীদের নামের বর্ণনা(৪)।

৩ - মুখাদরাম হিসেবে অভিহিত ব্যক্তিদের বিষয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য স্মারক(৫)।

--------------------------------------------

(১) শাযারাতুয যাহাব ৭/২৩৮।

(২) লাহযুল আলহায পৃষ্ঠা ৩১৩, এবং আদ-দাওউল লামে ১/১৪২।

(৩) লাহযুল আলহায পৃষ্ঠা ৩১৪, এবং আদ-দাওউল লামে ১/১৪২।

(৪) লাহযুল আলহায পৃষ্ঠা ৩১৪, এবং আদ-দাওউল লামে ১/১৪২।

(৫) লাহযুল আলহায পৃষ্ঠা ৩১৪, এবং আদ-দাওউল লামে ১/১৪২।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
4 - تلخيص المبهمات لابن بشكوال(1).

5 - التلقيح لفهم قارئ الصحيح(2).

6 - ثَبَت كثير الفوائد(3).

7 - حاشية على الكاشف للذهبي(4).

8 - حاشية على المراسيل للعلائي(5).

9 - حاشية على تجريد الصحابة للذهبي(6).

10 - حاشية على سنن أبي داود(7).

11 - حاشية على صحيح مسلم لكنها ذهبت في الفتنة(8).

12 - الحواشي على تلخيص المستدرك للذهبي(9).

13 - الحواشي على سنن ابن ماجه(10).

--------------------------------------------

(1) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 142.

(2) لحظ الألحاظ ص 313، والضوء اللامع 1/ 141، وشذرات الذهب 7/ 238.

(3) لحظ الألحاظ ص 312، والضوء اللامع 1/ 142.

(4) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 141.

(5) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 141.

(6) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 141.

(7) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 141.

(8) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 141.

(9) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 141.

(10) لحظ الألحاظ ص 313، والضوء اللامع 1/ 141، وشذرات الذهب 7/ 238.

৪ - ইবনে বাশকুয়ালের 'তালখিসুল মুবহামাত' (অস্পষ্ট বিষয়সমূহের সংক্ষিপ্তসার)(১).

৫ - সহীহ (বুখারী) পাঠকারীর উপলব্ধির জন্য 'আত-তালকীহ'(২).

৬ - বহু ফায়দা সম্বলিত একটি 'ছাবাত' (সনদ সংকলন)(৩).

৭ - যাহাবীর 'আল-কাশিফ' এর উপর একটি টীকা(৪).

৮ - আলায়ীর 'আল-মারাসীল' এর উপর একটি টীকা(৫).

৯ - যাহাবীর 'তাজরীদু আসমাইস সাহাবা' এর উপর একটি টীকা(৬).

১০ - সুনানে আবু দাউদ এর উপর একটি টীকা(৭).

১১ - সহীহ মুসলিমের উপর একটি টীকা, তবে তা যুদ্ধের গোলযোগের (ফিতনা) সময় হারিয়ে গেছে(৮).

১২ - যাহাবীর 'তালখিসুল মুস্তাদরাক' এর উপর টীকাসমূহ(৯).

১৩ - সুনানে ইবনে মাজাহ এর উপর টীকাসমূহ(১০).

--------------------------------------------

(১) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৪; এবং আদ-দাওউল লামি' ১/১৪২।

(২) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৩; আদ-দাওউল লামি' ১/১৪১; এবং শাজারাতুয যাহাব ৭/২৩৮।

(৩) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১২; এবং আদ-দাওউল লামি' ১/১৪২।

(৪) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৪; এবং আদ-দাওউল লামি' ১/১৪১।

(৫) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৪; এবং আদ-দাওউল লামি' ১/১৪১।

(৬) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৪; এবং আদ-দাওউল লামি' ১/১৪১।

(৭) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৪; এবং আদ-দাওউল লামি' ১/১৪১।

(৮) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৪; এবং আদ-দাওউল লামি' ১/১৪১।

(৯) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৪; এবং আদ-দাওউল লামি' ১/১৪১।

(১০) লাজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ৩১৩; আদ-দাওউল লামি' ১/১৪১; এবং শাজারাতুয যাহাব ৭/২৩৮।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
14 - شرح ألفية العراقي، بل وزاد في المتن أبياتًا(1).

15 - الكشف الحثيث عمن رمى بوضع الحديث(2).

16 - المقتفى في ضبط ألفاظ الشفا(3).

17 - نهاية السول في رواة الستة الأصول(4).

18 - نور النبراس على سيرة ابن سيد الناس(5).

19 - نثل الهميان في معيار الميزان(6).

 

‌‌تاسعًا: وفاته:

مات، رحمه الله، مطعونًا في يوم الاثنين السادس والعشرين من شوال سنة إحدى وأربعين وثمانمائة بحلب، ولم يغبْ له عقلٌ، بل مات وهو يتلو، وصلى عليه بالجامع الأموي بعد الظهر، ودفن بالجبيل عند أقاربه، وكانت جنازته مشهودة(7).

--------------------------------------------

(1) الضوء اللامع 1/ 141.

(2) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 142.

(3) لحظ الألحاظ ص 314، والضوء اللامع 1/ 141، وشذرات الذهب 7/ 238.

(4) لحظ الألحاظ ص 313، والضوء اللامع 1/ 141، وشذرات الذهب 7/ 238.

(5) لحظ الألحاظ ص 313، والضوء اللامع 1/ 141، وشذرات الذهب 7/ 238.

(6) لحظ الألحاظ ص 313، والضوء اللامع 1/ 141، وشذرات الذهب 7/ 238.

(7) لحظ الألحاظ ص 315، والضوء اللامع 1/ 145، وشذرات الدهب 7/ 238.

১৪ - আলফিয়্যাতুল ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, বরং তিনি এর মূল পাঠে কিছু পঙক্তিও যুক্ত করেছেন(১).

১৫ - আল-কাশফুল হাসিস আম্মান রুমিয়া বি-ওয়াদউল হাদিস (হাদিস জাল করার অপবাদে অভিযুক্তদের বর্ণনায় ত্বরিত উম্মোচন)(২).

১৬ - আল-মুক্তাফা ফি দাপ্তি আলফাজিশ শিফা(৩).

১৭ - নিহায়াতুস সুল ফি রুওয়াতিস সিত্তাতিল উসুল(৪).

১৮ - নুরুন্নাবরাস আলা সিরাতি ইবনে সাইয়িদিন নাস(৫).

১৯ - নাসলুল হামইয়ান ফি মিইয়ারিল মিজান(৬).

 

‌‌নবম: তাঁর মৃত্যু:

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৮৪১ হিজরি সালের ২৬শে শাওয়াল সোমবার আলেপ্পোতে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পায়নি, বরং তিনি (কুরআন) তিলাওয়াত করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। জোহরের নামাজের পর জামে উমউয়িতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং জুবাইল নামক স্থানে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়েছিল(৭).

--------------------------------------------

(১) আদ-দাউউল লামি ১/ ১৪১।

(২) লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩১৪, এবং আদ-দাউউল লামি ১/ ১৪২।

(৩) লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩১৪, আদ-দাউউল লামি ১/ ১৪১, এবং শাজারাতুজ জাহাব ৭/ ২৩৮।

(৪) লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩১৩, আদ-দাউউল লামি ১/ ১৪১, এবং শাজারাতুজ জাহাব ৭/ ২৩৮।

(৫) লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩১৩, আদ-দাউউল লামি ১/ ১৪১, এবং শাজারাতুজ জাহাব ৭/ ২৩৮।

(৬) লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩১৩, আদ-দাউউল লামি ১/ ১৪১, এবং শাজারাতুজ জাহাব ৭/ ২৩৮।

(৭) লাহজুল আলহাজ পৃষ্ঠা ৩১৫, আদ-দাউউল লামি ১/ ১৪৫, এবং শাজারাতুজ জাহাব ৭/ ২৩৮।

(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌منهجُ سبط ابن العَجَمي في الحواشي

إن مما استقرَّ في الفُهوم أنَّ منهجَ المصنِّف هو البوابةُ التعريفيَّة للكتاب، ومفتاحُ التعامُل معه، ومِن المعلوم أنَّ منهجَ الأئمة يُعرف بطريقين:

الأولى: النصُّ: وذلك بأن ينصّ الإمامُ على المنهج المُتبع في تصنيفه، وَيذكر الشروط التفصيلية لما يُودعه في كتابه.

الثانية: الاستقراءُ: وهو تتبعُ الجزئيات في الكتاب، وضمُّ المسائل إلى أخواتها، والأقوال إلى نظائرها، ومن ثم تحليلها؛ للخروج بنتيجةٍ كليةٍ أو أغلبيةٍ.

كما أن الطريق الثانية -أي الاستقراء- هي المؤشرُ الحقيقي على التزام صاحب الكتاب بما نصَّ عليه من المنهجية العامة أو الخاصة.

ولم ينصّ الإمامُ سبطُ ابنُ العَجَمي على منهجه في هذه الحواشي، لذا سيتم عرض منهجه باختصار في حاشيته على سنن ابن ماجه استقراءً مِن خلال المباحث التالية:

المبحث الأول: عناية سبط ابن العجمي بالسنن: وفيه مطلبان:

المطلب الأول: قراءته للسنن ونسخه.

المطلب الثاني: شرط ابن ماجه وأوهام السنن.

المبحث الثاني: الصنعة الحديثية: وفيه ثلاثة مطالب:
টীকাভাষ্যে সিবত ইবনুল আজামির মানহাজ

এটি একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয় যে, কোনো গ্রন্থকারের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি হলো সেই গ্রন্থের পরিচিতিমূলক প্রবেশদ্বার এবং তা ব্যবহারের চাবিকাঠি। এটি সর্বজনবিদিত যে, ইমামগণের মানহাজ দুটি উপায়ে জানা যায়:

প্রথমত: বর্ণনা বা উদ্ধৃতি: এটি হলো ইমাম তাঁর রচনায় অনুসৃত মানহাজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন এবং তাঁর গ্রন্থে যা অন্তর্ভুক্ত করেছেন তার বিস্তারিত শর্তাবলি বর্ণনা করবেন।

দ্বিতীয়ত: ইস্তিকরা বা অনুসন্ধিৎসু পর্যবেক্ষণ: এটি হলো গ্রন্থের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অনুসন্ধান করা, সমজাতীয় মাসআলাগুলোকে একত্রে মেলানো এবং অনুরূপ বক্তব্যগুলোকে একত্রিত করা, এরপর সেগুলোকে বিশ্লেষণ করা; যাতে একটি সামগ্রিক বা সংখ্যাগুরু সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়।

পাশাপাশি দ্বিতীয় পথটি—অর্থাৎ ইস্তিকরা—হলো গ্রন্থকারের বর্ণিত সাধারণ বা বিশেষ মানহাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার প্রকৃত সূচক।

ইমাম সিবত ইবনুল আজামি এই টীকাগুলোতে তাঁর মানহাজ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট বর্ণনা দেননি। তাই সুনান ইবনে মাজাহ-এর ওপর তাঁর হাশিয়াতে (টীকাভাষ্য) অনুসৃত মানহাজ ইস্তিকরার মাধ্যমে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলোর আলোকে সংক্ষেপে তুলে ধরা হবে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুনানের প্রতি সিবত ইবনুল আজামির যত্ন ও মনোযোগ: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর সুনান পাঠ এবং এর অনুলিপি তৈরি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইবনে মাজাহ-এর শর্ত এবং সুনানের ভুলভ্রান্তি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসতত্ত্বের প্রয়োগ: এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الأول: صناعة الإسناد.

المطلب الثاني: صناعة المتن.

المطلب الثالث: التخريج.

المبحث الثالث: الصنعة الفقهية: وفيه مطلبان:

المطلب الأول: أصول الفقه وقواعده.

المطلب الثاني: مسائل الفقه.

المبحث الرابع: موارد الحواشي: وفيه مطلبان:

المطلب الأول: المدراس.

المطلب الثاني: الكتب.
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসনাদ নির্মাণ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মতন নির্মাণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাখরীজ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহী গঠনশৈলী: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: উসূলে ফিকহ ও এর মূলনীতিসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফিকহী মাসআলাসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: টীকাসমূহের উৎসসমূহ: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মাদরাসাসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কিতাবসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الأول عناية سبط ابن العجمي بالسنن

‌‌المطلب الأول: قراءته للسنن ونسخه:

قرأ سبط ابن العجمي السنن وأقرأها أكثر مِن مرةٍ؛ كما يَظهر مِن السماعات على نسخة الملك المحسن، وقد مَدَح هذه النسخة سبط ابن العجمي في غير موضع، ومن ذلك قوله عند شرحه للحديث (1168): "ولم أرَ أصلًا لابن ماجه مثله".

وهو أصل مجوَّدٌ في المواضع المُشكلة، كما في الحديث (319) وغيره.

وقُوبلت نسخة الملك المحسن على نسخة ابن عساكر؛ فتحت الحديث (2845): "هذا الحديث مضروب عليه في الأصل، وفي نسخة أخرى ليس نسخة السماع، وهي نسخة الحافظ ابن عساكر، انتهى".

ورجَعَ الشارحُ إلى نُسخٍ أُخرى مِن السنن؛ كما صرَّح بذلك عند شرحه للحديث (709) فقال: "أثبت الترجيع؛ لأنه وقع في عدة نسخ لابن ماجه، وإن كان سقط من أصلنا".

وقوله عند الحديث (3664): "قوله: "عَنْ أَسِيدِ بْنِ عبيد"، وفي نسخة أخرى: "عن أَسيد بن عَليِّ بْنِ عُبَيْدٍ": كذا نسبَهُ غيرُ واحدٍ، وكأنه في النسخة الأولى نسبه إلى جده".
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুনান গ্রন্থের প্রতি সিবত ইবনুল আজমির যত্ন

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর সুনান পাঠ ও এর অনুলিপি প্রস্তুতকরণ:

সিবত ইবনুল আজমি সুনান গ্রন্থটি পাঠ করেছেন এবং একাধিকবার তা পাঠ করিয়েছেন; যেমনটি আল-মালিক আল-মুহসিনের পাণ্ডুলিপিতে থাকা শ্রবণলিপি (সামাআত) থেকে প্রতীয়মান হয়। সিবত ইবনুল আজমি বিভিন্ন স্থানে এই পাণ্ডুলিপিটির প্রশংসা করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো ১১৬৮ নম্বর হাদিসের ব্যাখ্যায় তাঁর এই উক্তি: "আমি ইবনে মাজাহর এর অনুরূপ কোনো মূল পাণ্ডুলিপি দেখিনি।"

এটি জটিল বা অস্পষ্ট স্থানগুলোর সমাধানের ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট পাণ্ডুলিপি, যেমনটি ৩১৯ নম্বর হাদিস ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখা যায়।

আল-মালিক আল-মুহসিনের পাণ্ডুলিপিটি ইবনে আসাকিরের পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে; ২৮৪৫ নম্বর হাদিসের নিচে উল্লেখ আছে: "এই হাদিসটি মূল পাণ্ডুলিপিতে কেটে দেওয়া হয়েছে, এবং অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে—যা শ্রবণকৃত পাণ্ডুলিপি (নুসখাতুস সামা) নয়, বরং হাফেজ ইবনে আসাকিরের পাণ্ডুলিপি—তা বিদ্যমান রয়েছে, সমাপ্ত।"

ভাষ্যকার সুনানের অন্যান্য পাণ্ডুলিপির দিকেও প্রত্যাবর্তন করেছেন; যেমনটি তিনি ৭০৯ নম্বর হাদিসের ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে বলেছেন: "আমি 'তারজি' (পুনরাবৃত্তি) সাব্যস্ত করছি; কারণ এটি ইবনে মাজাহর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, যদিও আমাদের মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ পড়েছিল।"

৩৬৬৪ নম্বর হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর উক্তি: "তাঁর বক্তব্য: 'উসাইদ বিন উবাইদ থেকে বর্ণিত', এবং অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে আছে: 'উসাইদ বিন আলী বিন উবাইদ থেকে বর্ণিত'। একাধিক ব্যক্তি এভাবেই তাঁর বংশপরিচয় উল্লেখ করেছেন, আর মনে হচ্ছে প্রথম পাণ্ডুলিপিতে তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المطلب الثاني: شرط ابن ماجه وأوهام السنن:

‌‌1 - شرط السنن:

لم يذكر الإمام ابنُ ماجه شرطَه في السنن ولا مُرادَه في التبويب، وكذا الشارح خلا مواطن يسيرة؛ ومِن ذلك قولُه في أبواب المساجد، بَاب كَرَاهِيَة النُّخَاعَةِ فِي المَسْجِدِ: "أطلق جماعة من الأصحاب، وكذا ابن ماجه في التبويب، لفظ الكراهة، ولعل مرادهم كراهة التحريم؛ لأنه من عادة الأولين التعبير عن التحريم بالكراهة".

وقوله في أبواب الرهون، باب مُعَامَلَة النَّخِيلِ وَالكرومِ: "إن قيل: إن المؤلف ذكر في الترجمة "الكروم" وليس في الحديث الذي ساقه في الأصل كروم.

فالجواب: لعله أخذه من قوله: "من ثمر" والثمر يشمل النخيل والكروم، أو إنه صنع كما يصنع البخاري إذا كان في المسألة حديث، ولم يكن على شرطه، يذكره في الترجمة مشيرًا إليه".

ثم شرَعَ الشارحُ بذكر الحديث وطرقه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে মাজাহর শর্ত এবং সুনান গ্রন্থের বিভ্রমসমূহ:

১ - সুনান গ্রন্থের শর্ত:

ইমাম ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে নিজের শর্ত কিংবা পরিচ্ছেদ বিন্যাসে তাঁর উদ্দেশ্য কী তা উল্লেখ করেননি। অনুরূপভাবে ব্যাখ্যাকারকও খুব সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত তা বর্ণনা করেননি। এর একটি উদাহরণ হলো মসজিদের অধ্যায়সমূহে 'মসজিদে শ্লেষ্মা ফেলার অপছন্দনীয়তা' পরিচ্ছেদে তাঁর বক্তব্য: "সহচরদের একটি দল এবং অনুরূপভাবে ইবনে মাজাহ পরিচ্ছেদ বিন্যাসে অপছন্দনীয়তা (কারাহাত) শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন। সম্ভবত তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল হারাম পর্যায়ের অপছন্দনীয়তা (কারাহাতে তাহরিমী); কারণ প্রাচীনদের অভ্যাস ছিল হারামের বিষয়টি অপছন্দনীয়তা শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা।"

এবং বন্ধক অধ্যায়সমূহে 'খেজুর গাছ ও আঙুর বাগানের লেনদেন' পরিচ্ছেদে তাঁর বক্তব্য: "যদি বলা হয়: লেখক শিরোনামে 'আঙুর বাগান' উল্লেখ করেছেন, অথচ মূলে তিনি যে হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন তাতে আঙুর বাগানের উল্লেখ নেই।

উত্তর হলো: সম্ভবত তিনি একে তাঁর 'ফল হতে' কথাটি থেকে গ্রহণ করেছেন, আর ফল শব্দ খেজুর গাছ ও আঙুর বাগান উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। অথবা তিনি তেমনই করেছেন যেমন ইমাম বুখারী করেন—যদি কোনো বিষয়ে হাদিস থাকে কিন্তু সেটি তাঁর শর্ত অনুযায়ী না হয়, তবে তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করে শিরোনামে তা উল্লেখ করেন।"

এরপর ব্যাখ্যাকারক হাদিসটি এবং এর বিভিন্ন সূত্রসমূহ উল্লেখ করা শুরু করেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌2 - أوهام السنن:

يُشير الشارحُ إلى ما وقع في السنن من أوهام، ومِن ذلك قوله تحت الحديث (3416): "قوله: "حَدَّثَنَا عَزْرَةُ بْنُ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ عامر بْنِ عَبْدِ الله، عَنْ أَنَسٍ": وعلى عامر ضبة، ومكتوب تجاهه، وأظنه بخط واقف الأصل الملك المحسن ما لفظه حاشية: وكذا ذكره المقدسي، وهو وهم فاحش وقع في الأصل، وإنما هو ثمامة بن عبد الله، وقد أخرجه مسلم من حديثه، انتهى".

ثم ساق الشارحُ تخريجًا للحديث يبين هذا الوهم.

ثم قال: "ولم يتعرض المزي للوهم الذي وقع هنا".

ومن ذلك قولُه تحت الحديث (4037): "كذا في أصلنا: "عن إسماعيل الأسلمي"، وهذا وهم فيه ابن ماجه، كذا خرج وهمه الذهبي في الميزان، وإنما هو أبو إسماعيل كثير، والله أعلم".

وسبب هذه الأوهام كما نقل الشارحُ عن المزي تحت الحديث (1114) قوله: "وكتابُ ابن ماجه إنما تداولته شيوخ لم يعتنوا به، بخلاف صحيحي البخاري ومسلم فإن الحفاظ تداولوهما واعتنوا بضبطهما وتصحيحهما.

قال: ولذلك وقع فيه أغلاط وتصحيف".
২ - সুনান গ্রন্থের ভ্রমসমূহ:

ব্যাখ্যাকার সুনান গ্রন্থে সঙ্ঘটিত কিছু ভুলের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যার মধ্যে ৩৪১৬ নং হাদিসের অধীনে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম: "তাঁর কথা: 'আমাদের নিকট আজরা ইবনে সাবিত আল-আনসারি বর্ণনা করেছেন, আমের ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে, আনাস (রা.) থেকে': আমের শব্দটির ওপর একটি চিহ্ন (দাব্বাহ) রয়েছে এবং এর বিপরীতে লেখা আছে—যা আমার ধারণা মতে মূল পাণ্ডুলিপির ওয়াকিফ (দানকারী) বাদশাহ আল-মুহসিনের হস্তাক্ষরে একটি টীকা—যার ভাষ্য হলো: মাকদিসিও এভাবেই উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে সঙ্ঘটিত একটি গুরুতর ভুল। প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন সুমামাহ ইবনে আব্দুল্লাহ। ইমাম মুসলিম তাঁর বর্ণিত এই হাদিসটি সংকলন করেছেন। সমাপ্ত।"

অতঃপর ব্যাখ্যাকার হাদিসটির একটি তাখরিজ (উৎস বিশ্লেষণ) পেশ করেছেন যা এই ভুলটি স্পষ্ট করে দেয়।

এরপর তিনি বলেন: "ইমাম মিযযি এখানে সঙ্ঘটিত ভুলের ব্যাপারে কোনো আলোকপাত করেননি।"

এর আরেকটি উদাহরণ হলো ৪০৩৭ নং হাদিসের অধীনে তাঁর এই উক্তি: "আমাদের মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে: 'ইসমাঈল আল-আসলামি থেকে', এটি ইবনে মাজাহর একটি ভুল। ইমাম জাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে তাঁর এই ভুলটি বের করেছেন। মূলত তিনি হলেন আবু ইসমাঈল কাসির। আল্লাহই ভালো জানেন।"

এই ভুলগুলোর কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যাকার ১১১৪ নং হাদিসের অধীনে ইমাম মিযযির উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: "ইবনে মাজাহর গ্রন্থটি মূলত এমন কিছু শায়খদের মাধ্যমে আবর্তিত হয়েছে যারা এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন না। বুখারি ও মুসলিমের সহিহাইন এর ব্যতিক্রম, কারণ হাফেজগণ (হাদিস বিশারদগণ) সেগুলো একে অপরের থেকে গ্রহণ করেছেন এবং সেগুলোর নির্ভুলতা রক্ষা ও সংশোধনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন: আর এই কারণেই এতে কিছু ভুল ও লিখন-বিভ্রাট (তাসহিফ) সঙ্ঘটিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الثاني الصنعة الحديثية

‌‌المطلب الأول: صناعة الإسناد: وبيان هذه الصناعة من خلال:

‌‌1 - ضبط الأعلام:

يَضبطُ الشارحُ الأعلامَ بالحروف دفعًا للوهم، ومن ذلك قوله تحت الحديث (3177) -"عَنْ مُرِّيِّ بْنِ قَطَرِيٍّ: أما "مُري" فهو بضم الميم وفتح الراء وتشديد الياء، و"قَطري" بفتح القاف والطاء المهملة وكسر الراء وتشديد الياء".

بل ربما سَاق قاعدة جامعة مانعة في ضبط الأعلام؛ كقوله تحت الحديث (3385): "ابن أَوْسٍ الْعَنسِيُّ، عن بِلَالِ بن يحيى الْعَنسِيِّ: هما بنون في أصلنا، وقد رأيتهما مضبوطين في بعض كُتب الأسماء بالموحدة فيهما، فتعارض الضبطان، فنرجع إلى القاعدة، فنقول: في الشاميين عنسي بالنون، وعبسي في الكوفيين، وهذان كوفيان؛ فهما بالموحدة".

 

‌‌2 - التنبيه على الأوهام:

ومن ذلك قوله تحت الحديث (2161): "وقد ذكر الخطابي وابن عبد البر أنه لم يرو هذا الحديث عن أبي الزبير غير حماد بن سلمة، وهذا غلط؛ لأن مسلمًا رواه من رواية معقل، هو ابن عبيد الله عن أبي الزبير، والله أعلم".
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসতাত্ত্বিক কৌশল

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসনাদ বা সনদ বিন্যাস পদ্ধতি: এবং এই পদ্ধতির ব্যাখ্যা নিম্নোক্ত বিষয়ের মাধ্যমে:

‌১ - ব্যক্তি-নামের যথাযথ উচ্চারণ নির্ধারণ:

ব্যাখ্যাকার ভ্রান্তি দূর করার জন্য বর্ণমালার সাহায্যে নামগুলোর সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে (৩১৭৭) নম্বর হাদিসের অধীনে তাঁর উক্তি— "মুররি বিন কাতারি থেকে বর্ণিত: 'মুররি' শব্দটি মিম বর্ণে পেশ, রা বর্ণে জবর এবং ইয়া বর্ণে তাশদিদ সহকারে; আর 'কাতারি' শব্দটি কাফ ও বিন্দুমুক্ত ত্বা বর্ণে জবর, রা বর্ণে যের এবং ইয়া বর্ণে তাশদিদ সহকারে।"

এমনকি কখনো কখনো তিনি নাম নির্ধারণে একটি সর্বাত্মক ও সংজ্ঞায়িত নীতি উপস্থাপন করেন; যেমন (৩৩৮৫) নম্বর হাদিসের অধীনে তাঁর উক্তি: "ইবন আওস আল-আনসি, বিলাল বিন ইয়াহইয়া আল-আনসি থেকে বর্ণিত: আমাদের মূল পাণ্ডুলিপিতে উভয়ের নাম 'নুন' বর্ণ সহকারে রয়েছে। তবে আমি নাম বিষয়ক কিছু কিতাবে উভয়কে এক নুকতাওয়ালা বর্ণ (বা) সহকারে নির্ধারিত হতে দেখেছি। ফলে দুই ধরণের পাঠের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা মূলনীতির দিকে ফিরে যাব। নীতিটি হলো: শামী বা সিরীয় রাবীদের ক্ষেত্রে 'আনসি' নুন বর্ণ দিয়ে হয়, আর কুফী রাবীদের ক্ষেত্রে 'আবসি' এক নুকতাওয়ালা বর্ণ (বা) দিয়ে হয়। যেহেতু এই দুইজন কুফী, তাই তাঁরা এক নুকতাওয়ালা বর্ণ (বা) সহকারেই হবেন।"

 

‌২ - ভুল-ভ্রান্তির ব্যাপারে সতর্ককরণ:

এর মধ্যে রয়েছে (২১৬১) নম্বর হাদিসের অধীনে তাঁর উক্তি: "খাত্তাবি এবং ইবন আবদিল বার উল্লেখ করেছেন যে, হাম্মাদ বিন সালামাহ ছাড়া আর কেউ আবু যুবায়র থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি। কিন্তু এটি ভুল; কারণ ইমাম মুসলিম এটি মা'কিল—যিনি ইবন উবায়দুল্লাহ—এর সূত্রে আবু যুবায়র থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌3 - الاستدراك على مصنفات الرجال:

ومن ذلك قوله تحت الحديث (2991): "عَنْ وَهْبِ بْنِ خَنْبَشٍ": هو بخاء معجمة مفتوحة ثم نون ساكنة ثم موحدة مفتوحة ثم شين معجمة، وقيل اسمه هرم بن خنبش، وقد وقع كذلك في هذا الكتاب، وهو تصحيف، والصحيح وهب، وهو صحابي معروف، انفرد عنه الشعبي.

ومثله: عبد الرحمن بن خنبش، صحابي أيضًا.

وعبد الصمد بن خنبش شيخ لعبد الغني، وخنبش بن يزيد حمصي قديم، ومحمد بن أحمد بن أبي خنبش قاضي بعلبك، وغيرهم.

ولم يستوعبهم الذهبي في مشتبه النسبة.

 

‌‌4 - محاكمة أقوال الأئمة:

ومن ذلك قوله تحت الحديث (3109): "صفية هذه بنت شيبة بن عثمان ابن أبي طلحة عبد الله بن عبد العُزى العبدري الحجبي".

ثم قال: "وقد حمّر اسمها في تجريده، ومن عادته أنه إذا حمّر اسمًا يكون الراجح فيه أنه تابعي، فهي تابعية عنده".

ثم قال: "لكن في صحيح البخاري في باب الإذخر والحشيش في القبر: وقال أَبَانُ بن صَالِحٍ، عن الحسَنِ بن مُسْلِمٍ، عن صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ سمعت النبي صلى الله عليه وسلم مثله.
৩ - রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের ওপর সংশোধন:

তার অন্তর্ভুক্ত হলো হাদিস নং (২৯৯১)-এর অধীনে তাঁর বক্তব্য: "ওয়াহাব ইবনে খানবাশ হতে বর্ণিত": এটি নুক্তাযুক্ত ‘খা’ যবর বিশিষ্ট, অতঃপর সুকুনযুক্ত ‘নুন’, এরপর এক নুক্তাওয়ালা ‘বা’ যবর বিশিষ্ট, অতঃপর নুক্তাযুক্ত ‘শীন’ দিয়ে গঠিত। কেউ কেউ বলেছেন তাঁর নাম হারাম ইবনে খানবাশ, আর এই কিতাবে এভাবেই এসেছে, যা মূলত একটি লিখনশৈলীগত বিভ্রম (তাসহিফ)। সঠিক হলো ওয়াহাব, তিনি একজন পরিচিত সাহাবী, যাঁর থেকে কেবল শাবি বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে: আবদুর রহমান ইবনে খানবাশ, তিনিও একজন সাহাবী।

এবং আবদুস সামাদ ইবনে খানবাশ আব্দুল গনির একজন উস্তাদ, আর খানবাশ ইবনে ইয়াজিদ একজন প্রাচীন হিমসি বর্ণনাকারী, এবং মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি খানবাশ বা’লাবাকের বিচারক ছিলেন, এছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন।

ইমাম যাহাবি তাঁর ‘মুশতাবিহুন নিসবাহ’ গ্রন্থে তাঁদের সকলকে পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেননি।

 

‌৪ - ইমামদের বক্তব্যের বিচার-বিশ্লেষণ:

তার অন্তর্ভুক্ত হলো হাদিস নং (৩১০৯)-এর অধীনে তাঁর বক্তব্য: "এই সাফিয়া হলেন শাইবা ইবনে উসমান ইবনে আবি তালহা আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল উযযা আল-আবদারি আল-হাজাবি-এর কন্যা।"

অতঃপর তিনি বলেন: "তিনি তাঁর ‘তাজরিদ’ গ্রন্থে তাঁর নামটিকে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করেছেন। আর তাঁর নিয়ম হলো যখন তিনি কোনো নাম লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করেন, তখন সেটি তাঁর নিকট তাবেয়ী হওয়ার মতটিকে প্রবল করে। সুতরাং তাঁর নিকট তিনি একজন তাবেয়ী।"

অতঃপর তিনি বলেন: "কিন্তু সহীহ বুখারীর কবরের মধ্যে ইযখির ও ঘাস রাখা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে: আবান ইবনে সালিহ হাসান ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি সাফিয়া বিনতে শাইবা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুরূপ কথা বলতে শুনেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فانظر هذه العبارة فإنها صريحة بصحبتها، وكذا هذان الحديثان اللذان ذكرتهما وغيرهما".

ثم خَتمَ بعد كلامٍ مخُتصرٍ: "والذي ظهر لي بعد التأمل، والله أعلم، أنها صحابية، وكذا رجحه بعضهم، وقال: إنه المشهور".

فالشارحُ يتلقى كلام الأئمة بالفحص والتثبت، فيأخذ ما ثَبتَ، ويردُّ ما فيه وَهمٌ بأسلوبٍ علمي وخلقٍ رفيع.

 

‌‌5 - قواعد الجرح والتعديل:

يَذكرُ الشارحُ في سياق كلام أئمةِ الجرح والتعديل بعضًا مِن قواعد هذا الفنِّ، ومِن ذلك:

- التعديلُ المقيدُ بالشيوخ: جاء تحت الحديث (1604) في ترجمة شُرَحْبِيلَ بْنِ شُفْعَةَ: "شفعة هو بضم الشين المعجمة وبعدها فاء ساكنة ثم عين مهملة مفتوحة ثم تاء التأنيث الساكنة.

قال أبو داود: شيوخ حريز كلهم ثقات.

وقد يكون اعتمد الذهبي كلام أبي داود، فقال في كاشفه: وُثِّق".

- قاعدة ابن حبَّان في الثقات: جاء تحت الحديث (1637) في ترجمة زَيْدِ بْنِ أَيْمَنَ: "اعلم أنه روى عنه سعيد بن أبي هلال فقط، وقد ذكره ابن حبان في ثقاته على قاعدته في ذكره فيها مَن لا يعرفه".
"সুতরাং এই বক্তব্যের দিকে তাকান, এটি তাঁর সাহাবী হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট, আর আমি যে দুটি হাদিস উল্লেখ করেছি এবং অন্যান্যগুলোও তদ্রূপ।"

অতঃপর তিনি সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর শেষ করেছেন: "গভীর চিন্তার পর আমার নিকট যা প্রকাশ পেয়েছে—আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত—তাহলো তিনি একজন নারী সাহাবী, অনুরূপভাবে কেউ কেউ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন: এটিই প্রসিদ্ধ মত।"

সুতরাং ব্যাখ্যাকারী ইমামগণের বক্তব্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও সুনিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করেন; ফলে যা প্রমাণিত তা তিনি গ্রহণ করেন এবং যাতে ভ্রমের সম্ভাবনা রয়েছে তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও উন্নত শিষ্টাচারের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন।

 

‌‌৫ - জারহ ও তাদীল-এর মূলনীতিসমূহ:

ব্যাখ্যাকারী জারহ ও তাদীলের ইমামগণের বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতায় এই শিল্পের কিছু মূলনীতি উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

- শাইখদের সাথে সংশ্লিষ্ট সীমিত তাদীল: ১৬০৪ নম্বর হাদিসের অধীনে শুরাহবিল ইবনে শুফ'আহ-এর জীবনীতে এসেছে: "শুফ'আহ শব্দটি শিন বর্ণের উপর পেশ, এরপর ফা সাকিন, এরপর আইন বর্ণের উপর যবর এবং শেষে গোল তা সাকিন সহযোগে।

আবু দাউদ বলেন: হারীযের সকল শাইখ নির্ভরযোগ্য।

আর সম্ভবত যাহাবি আবু দাউদের বক্তব্যের উপর নির্ভর করেছেন, তাই তিনি তাঁর 'আল-কাশিফ' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে।"

- সিকাত গ্রন্থে ইবনে হিব্বানের মূলনীতি: ১৬৩৭ নম্বর হাদিসের অধীনে যায়িদ ইবনে আয়মানের জীবনীতে এসেছে: "জেনে রাখুন যে, তাঁর থেকে কেবল সাঈদ ইবনে আবি হিলাল বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে হিব্বান তাঁকে তাঁর 'আস-সিকাত' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন তাঁর সেই মূলনীতির ভিত্তিতে, যার মাধ্যমে তিনি এমন বর্ণনাকারীকেও সেখানে উল্লেখ করেন যাকে তিনি চেনেন না।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
- الوَهم والإتقان إذا اجتمعا في الراوي: جاء تحت الحديث (3093):

"اعلم أن معمرًا أحد الأعلام الثقات، وقد روى له الأئمة الستة، لكن له أوهام معروفة احتملت له في سعة ما أتقن".

- التوثيق الضمني: جاء تحت الحديث (1653) في ترجمة أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنسِ بْنِ مَالِكٍ: "هو أكبر ولد أنس بن مالك، يقال اسمه عبدُ الله، عن عمومة له في ثبوت العيد بعد الزوال، وصلاة العيد مِن الغد، لا يُعرف إلا بهذا، وبحديث آخر، تفرد عنه أبو بشر.

قال ابن القطان: لم تثبت عدالته.

وصحَّحَ حديثه ابنُ المنذر وابنُ حَزم وغيرهما، فذلك توثيق له".

 

‌‌6 - المتفق والمفترق:

وهو فنٌ يُتقنه جهابذة المحدثين، وقد أشارَ الشارحُ إلى نُتف مِن ذلك، فتَحت الحديث (2425) قال: "عَنْ حَنَشٍ: هو بحاء مهملة ثم نون مفتوحتين ثم شين معجمة، هو حنش بن عبد الله، ويقال: ابن علي الصنعاني الدمشقي، أبو راشد، نزيل إفريقية.

وليس هو بحنش بن الحارث النخعي، هذا ليس له شيء في الكتب الستة.

ولا بابن المعتمر، ويقال: ابن ربيعة، فإنه ليس له في ابن ماجه".
- বর্ণনাকারীর মধ্যে যখন ভ্রম এবং নিখুঁত হওয়া উভয়ই বিদ্যমান থাকে: হাদিস নম্বর (৩০৯৩)-এর অধীনে এসেছে:

"জেনে রাখুন যে, মা'মার হলেন প্রসিদ্ধ বিশ্বস্ত ইমামগণের অন্যতম এবং ছয়জন প্রধান ইমাম তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর কিছু পরিচিত ভ্রম রয়েছে যা তাঁর বিশাল পরিমাণ নিখুঁত বর্ণনার সাপেক্ষে গ্রহণ করে নেওয়া হয়েছে।"

- পরোক্ষভাবে বিশ্বস্ততা সাব্যস্তকরণ: আবু উমাইর ইবন আনাস ইবন মালিকের জীবনীতে হাদিস নম্বর (১৬৫৩)-এর অধীনে এসেছে: "তিনি আনাস ইবন মালিকের জ্যেষ্ঠ পুত্র, বলা হয় যে তাঁর নাম আবদুল্লাহ। তিনি তাঁর চাচাদের নিকট থেকে দ্বিপ্রহরের পর ঈদের চাঁদ সাব্যস্ত হওয়া এবং পরদিন ঈদের সালাত আদায় করার বিষয়ে বর্ণনা করেছেন। তিনি কেবল এই হাদিস এবং অন্য একটি হাদিসের মাধ্যমেই পরিচিত, যা তাঁর থেকে এককভাবে আবু বিশর বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল কাত্তান বলেছেন: তাঁর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত নয়।

তবে ইবনুল মুনজির, ইবন হাজম এবং অন্যান্যেরা তাঁর হাদিসকে সহিহ বলেছেন, আর এটিই তাঁর বিশ্বস্ততা সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ।"

 

‌‌৬ - আল-মুত্তাফিক ওয়াল-মুফতারিক:

এটি এমন একটি শাস্ত্র যাতে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ পারদর্শী হয়ে থাকেন। ব্যাখ্যাকারী এর কিছু নমুনা নির্দেশ করেছেন; হাদিস নম্বর (২৪২৫)-এর অধীনে তিনি বলেছেন: "হানাশ থেকে বর্ণিত: এটি হরকতবিহীন 'হা' এরপর যবরযুক্ত 'নুন' এবং সবশেষে নুকতাযুক্ত 'শিন' যোগে গঠিত। তিনি হলেন হানাশ ইবন আবদুল্লাহ, যাকে ইবন আলী আস-সান'আনী আদ-দিমাশকীও বলা হয়। তাঁর উপনাম আবু রাশিদ এবং তিনি আফ্রিকায় বসবাস করতেন।

তিনি হানাশ ইবন আল-হারিস আন-নাখায়ি নন, কারণ কুতুবে সিত্তায় (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থে) তাঁর কোনো বর্ণনা নেই।

আর তিনি ইবনুল মু'তামিরও নন, যাকে ইবন রাবি'আহ বলা হয়, কারণ ইবন মাজাহ গ্রন্থে তাঁর কোনো বর্ণনা নেই।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المطلب الثاني: صناعة المتن: وبيانُ هذه الصناعة مِن خلال:

‌‌1 - العناية بمبهمات المتن:

ومن ذلك ما جاء تحت الحديث (4238): "عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَتْ عِنْدِي امْرَأَةٌ، فَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: مَنْ هَذه؟ قُلتُ: فُلانةُ، لَا تَنَامُ تَذْكُرُ مِنْ صَلَاتِهَا، الحديث: هذه المرأة هي الحَوْلَاءَ بنت تُوَيْتِ بن حبيب بن أسد بن عبد العُزَّى، وقد صرَّح بها مسلمٌ في صحيحه".

فهو يذكرُ المبهمَ، ويسوقُ الحجةَ في ذلك، كسلفِه ابن بشكوال وغيره.

 

‌‌2 - قواعد جامعة وفارقة في المعاني:

ومن ذلك ما جاء تحت الحديث (1858) في تفسيره لقوله: "تَرِبَتْ يَدَاكَ": قال: والأصحُّ فيه وفي مثله من هذه الألفاظ أنه دعاء يُدعم به الكلام، ويوصل تهويلًا، مثل انج لا أبا لك، وثكلته أمّه، وهوت أمّه، وويل أُمّه، وعقرى حلقى، وغير ذلك، ولا يراد وقوع شيء من ذلك، وإن كان أصله الدعاء، لأنهم قد أخرجوه عن أصله إلى التأكيد تارة، وإلى التعجب والاستحسان تارة، وإلى الإنكار والتعظيم أخرى".

 

‌‌3 - تفسير الراوي أولى:

ومن ذلك ما جاء تحت الحديث (2197): "نَهَى عَنْ حَبَلِ الحَبَلَةِ": "واختلفوا في المراد بالنهي؛ فقيل: هو البيع بثمن مؤجل إلى أن تلد الناقة ويلد ولدها، وهذا تفسيرُ ابن عمر ومالك والشافعي وغيرهم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মতন (মূল পাঠ) বিন্যাস: এবং এই বিন্যাসের বর্ণনা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে:

১ - মতনের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ:

এর মধ্য থেকে একটি উদাহরণ হলো যা হাদিস নং (৪২৩৮)-এর অধীনে এসেছে: "আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট একজন নারী বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: ইনি কে? আমি বললাম: অমুক নারী, যিনি ঘুমান না বরং কেবল তার সালাত সম্পর্কে আলোচনা করতে থাকেন। হাদিসটির পরবর্তী অংশ: এই নারী হলেন হাওলা বিনতে তুওয়াইত ইবনে হাবিব ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা। ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।"

তিনি অস্পষ্ট নামটি উল্লেখ করেন এবং সে বিষয়ে তার পূর্বসূরি ইবনে বাশকুওয়াল ও অন্যদের ন্যায় প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

 

২ - অর্থগত ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পার্থক্যকারী মূলনীতিসমূহ:

এর একটি উদাহরণ হলো যা হাদিস নং (১৮৫৮)-এর অধীনে 'তোমার দুই হাত ধুলোমলিন হোক' বাক্যটির ব্যাখ্যায় এসেছে। তিনি বলেন: "এই শব্দ এবং এর অনুরূপ শব্দাবলির ক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক মত হলো, এটি এমন একটি দোয়া যা কথাকে জোরালো করতে ব্যবহৃত হয় এবং ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হয়। যেমন: 'তোমার পিতা না থাকুক', 'তার মা তাকে হারাক', 'তার মা ধ্বংস হোক', 'তার মায়ের জন্য আফসোস', 'বন্ধ্যা হোক ও গলায় রোগ হোক' ইত্যাদি। এগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কোনো কিছু ঘটার উদ্দেশ্য থাকে না, যদিও এর মূল বুৎপত্তি দোয়া বা প্রার্থনা থেকে। কারণ আরবরা একে এর মূল অর্থ থেকে সরিয়ে কখনো তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য, কখনো বিস্ময় ও প্রশংসা প্রকাশের জন্য, আবার কখনো অস্বীকৃতি ও মহত্ত্ব প্রকাশের জন্য ব্যবহার করে থাকে।"

 

৩ - বর্ণনাকারীর ব্যাখ্যাই অধিক গ্রহণযোগ্য:

এর একটি উদাহরণ হলো যা হাদিস নং (২১৯৭)-এর অধীনে 'ভ্রূণের ভ্রূণ বিক্রয় (হাবালুল হাবালাহ) নিষিদ্ধ হওয়া' প্রসঙ্গে এসেছে: "এই নিষেধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে: এটি হলো এমন ক্রয়-বিক্রয় যার মূল্য পরিশোধের সময় ততক্ষণ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয় যতক্ষণ না উটনি বাচ্চা প্রসব করে এবং সেই বাচ্চাও বড় হয়ে পুনরায় বাচ্চা প্রসব করে। এটি হলো ইবনে উমর, মালেক, শাফেয়ি এবং অন্যান্যদের ব্যাখ্যা।"
(খণ্ড: ১) আল-হাওাশী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقيل: هو بيع ولد ولد الناقة الحامل في الحال.

قاله أبو عبيدة وأبو عبيد، وأحمد وإسحاق، وهو أقرب إلى اللغة؛ لكن الأول أقوى؛ لأنه تفسير الراوي، وهو أعرف".

بل أحيانًا يفسِّر الحديث بالحديث؛ كما جاء تحت الحديث (3017): "فَإِذَا وَجَدَ فَجْوَة نَصَّ: أما الفجوة فهي المتسع من الأرض، وهي الفجواء يخرج إليها من ضيق، وقد روي في الموطأ: "فرجة"، وهي رواية يحيى وابن بكير وأبي مصعب، وعند ابن القاسم والقعنبي: "فجوة".

 

‌‌4 - اجتهاد الشارح في المعنى تفقهًا:

ومن ذلك ما جاء تحت الحديث (1846): "فَمَنْ لَمْ يَعْمَل بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي: معناه، والله أعلم، مَن تركها إعراضًا عنها غير معتقد لها على ما هي عليه.

قلتُ ذلك تفقهًا مِن غير أن أر فيه لأحد كلامًا".

 

‌‌5 - الراوية والمعنى الصحيح:

ومن ذلك ما جاء تحت الحديث (4258): "أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذمِ اللَّذَّاتِ": هاذم بالذال المعجمة، كذا في أصلنا، وكذا قاله السهيلي في روضه في غزوة أحد، وذلك في قتل وحشي حمزة، وذكر أنه الرواية، انتهى.

ولا يعرف هذا إلا القليل من الناس، ومعناه بالمعجمة قاطع اللذات، وله بالمهملة معنى، ولكن الرواية كما قال.
এবং বলা হয়েছে: এটি হলো বর্তমান গর্ভবতী উটনীর গর্ভস্থ বাচ্চার বাচ্চার বিক্রয়।

আবু উবাইদাহ, আবু উবাইদ, আহমদ এবং ইসহাক এটিই বলেছেন এবং ভাষাগত দিক থেকে এটিই অধিকতর সঙ্গতিপূর্ণ; তবে প্রথমটি অধিক শক্তিশালী; কারণ সেটি বর্ণনাকারীর নিজস্ব ব্যাখ্যা, আর তিনি অধিক অবগত।

বরং কখনও কখনও তিনি হাদিসকে হাদিস দ্বারাই ব্যাখ্যা করেন; যেমনটি ৩০১৭ নম্বর হাদিসের অধীনে এসেছে: "অতঃপর যখন তিনি প্রশস্ত স্থান পেলেন তখন দ্রুত চললেন: 'ফজওয়াহ' হলো ভূমির প্রশস্ত অংশ, আর এটি এমন এক প্রসস্থতা যেখানে সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসা যায়। মুওয়াত্তায় 'ফুরজাহ' শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যা ইয়াহইয়া, ইবনে বুকাইর এবং আবু মুসআবের বর্ণনা; আর ইবনুল কাসিম ও আল-কানা'বি-র নিকট শব্দান্তরটি হলো 'ফজওয়াহ'।

 

‌‌৪ - ফিকহী প্রজ্ঞার আলোকে অর্থের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাকারীর ইজতিহাদ:

এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা ১৮৪৬ নম্বর হাদিসের অধীনে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করল না, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়: এর অর্থ হলো—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—যে ব্যক্তি সুন্নাহর প্রতি বিমুখ হয়ে তা বর্জন করে এবং সুন্নাহ যে অবস্থায় রয়েছে তার ওপর বিশ্বাস পোষণ করে না।

আমি এটি ফিকহী প্রজ্ঞার আলোকে বলেছি, এ বিষয়ে আমি অন্য কারো বক্তব্য দেখিনি।"

 

‌‌৫ - হাদিসের পাঠ এবং সঠিক অর্থ:

এর উদাহরণ হলো যা ৪২৫৮ নম্বর হাদিসের অধীনে এসেছে: "তোমরা স্বাদ ধ্বংসকারীকে অধিক স্মরণ করো": 'হাযিম' শব্দটি নুকতাযুক্ত 'যাল' বর্ণ সহযোগে, আমাদের মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। সুহাইলি তাঁর 'আর-রাওদ' গ্রন্থে ওহুদ যুদ্ধের বর্ণনায় হামযাহ (রা.)-কে ওয়াহশি কর্তৃক হত্যার প্রসঙ্গে এরূপই বলেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এটিই হলো বর্ণিত পাঠ, সমাপ্ত।

খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এটি জানে। নুকতাযুক্ত বর্ণ যোগে এর অর্থ হলো স্বাদ ছিন্নকারী, আর নুকতাহীন বর্ণ যোগেও এর একটি অর্থ আছে, তবে বর্ণিত পাঠটি তেমনই যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন।