(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: -)
حكم السحر والكهانة وما يتعلق بها القسم: مسائل فقهية
الكتاب: حكم السحر والكهانة وما يتعلق بها
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز (ت 1420هـ)
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 59
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাদু, গণকগিরি এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলির বিধান বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: জাদু, গণকগিরি এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলির বিধান
লেখক: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (মৃত্যু ১৪২০ হি.)
প্রকাশক: বইটি কোনো তথ্য ছাড়াই সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: -)
[مقدمة]حكم السحر والكهانة
وما يتعلق بهما
[ভূমিকা]জাদু ও গণনাবিদ্যার বিধান
এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়াবলি
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
حكم السحر والكهانة وما يتعلق بهما (1) الحمد لله، وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، أما بعد:
فنظراً لكثرة المشعوذين في الآونة الأخيرة ممن يدَّعون الطب ويعالجون عن طريق السحر أو الكهانة، - وانتشارهم في بعض البلاد، واستغلالهم للسذج من الناس ممن يغلب عليهم الجهل - رأيت من باب النصيحة لله ولعباده أن أبين ما في ذلك من خطر عظيم على الإسلام والمسلمين لما فيه من التعلّق
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
জাদু ও গণকগিরি এবং এ সংক্রান্ত বিধান (১) সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:
বর্তমান সময়ে জাদুটোনা ও গণকগিরির মাধ্যমে চিকিৎসার দাবিদার ভণ্ড-প্রতারকদের আধিক্য, বিভিন্ন দেশে তাদের বিস্তার এবং অজ্ঞতা যাদের ওপর প্রবল—এমন সরলমনা মানুষদের তারা শোষণ করার বিষয়টি বিবেচনা করে আমি আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের প্রতি নসিহতের (কল্যাণকামিতা) জায়গা থেকে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য এর ভয়াবহ বিপদ স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করছি। কারণ এর মধ্যে এমন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
بغير الله تعالى ومخالفة أمره وأمر رسوله صلى الله عليه وسلم.
فأقول مستعيناً بالله تعالى يجوز التداوي اتفاقا، وللمسلم أن يذهب إلى دكتور أمراض باطنية أو جراحية أو عصبية أو نحو ذلك " ليشخص له مرضه ويعالجه بما يناسبه من الأدوية المباحة شرعاً حسبما يعرفه في علم الطب؛ لأن ذلك من باب الأخذ بالأسباب العادية ولا ينافي التوكل على الله، وقد أنزل الله سبحانه وتعالى الداء وأنزل معه الدواء عرف ذلك من عرفه وجهله من جهله، ولكنه سبحانه لم يجعل شفاء عباده فيما حرمه عليهم.
فلا يجوز للمريض أن يذهب إلى الكهنة الذين يدَّعون معرفة المغيبات ليعرف منهم مرضه، كما لا يجوز له أن يصدقهم فيما يخبرونه به فإنهم يتكلمون رجماً بالغيب، أو يستحضرون الجن ليستعينوا بهم
আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে এবং তাঁর ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদেশের পরিপন্থী পথে।
সুতরাং আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি যে, সর্বসম্মতভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা বৈধ। একজন মুসলমানের জন্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সার্জন, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা এই ধরনের চিকিৎসকের নিকট যাওয়া জায়েজ, যাতে তিনি তার রোগ নির্ণয় করেন এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান অনুযায়ী শরয়িভাবে বৈধ ঔষধের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করেন; কারণ এটি জাগতিক মাধ্যম অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত এবং তা আল্লাহর ওপর ভরসা করার পরিপন্থী নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যাধি অবতীর্ণ করেছেন এবং সেই সঙ্গে তার প্রতিষেধকও অবতীর্ণ করেছেন; যারা তা জানার তারা জেনেছে এবং যারা তা না জানার তারা তা জানে না। তবে তিনি তাঁর বান্দাদের আরোগ্য এমন কোনো বস্তুতে রাখেননি যা তিনি তাদের ওপর হারাম করেছেন।
অতএব রোগীর জন্য এমন গণকদের নিকট যাওয়া বৈধ নয় যারা অদৃশ্যের সংবাদ রাখার দাবি করে, যাতে সে তাদের নিকট থেকে স্বীয় রোগ সম্পর্কে অবগত হতে পারে। একইভাবে তারা যা বলে তাতে তাদের বিশ্বাস করাও জায়েজ নয়; কেননা তারা অদৃশ্যের ব্যাপারে অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলে অথবা তারা জিনদের সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যে তাদের উপস্থিত করে।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
على ما يريدون، هؤلاء حكمهم الكفر والضلال إذا ادعوا علم الغيب، وقد روى مسلم في صحيحه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من أتى عرَّافاً فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين يوماً» وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من أتى عرافا كاهناً فصدَّقه بما يقول فقد كفر بما أُنزل على محمد صلى الله عليه وسلم» رواه أبو داود وخرَّجه أهل السنن الأربع وصححه الحاكم عن النبي صلى الله عليه وسلم بلفظ: «من أتى عرافا أو كاهنا فصدَّقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم» وعن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس منا من تطير أو تطير له أو تكهن أو تكهن له أو سحر أو سحر له ومن أتى كاهناً فصدَّقه بما يقوله فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم» رواه البزار بإسناد جيد.
তারা যা চায় সেই অনুযায়ী; এরা যদি অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করে, তবে তাদের হুকুম হলো কুফর ও পথভ্রষ্টতা। মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গেল এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না।" আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং চার সুনান গ্রন্থকারগণ এটি উদ্ধৃত করেছেন। আর হাকিম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই শব্দে একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে আসল এবং সে যা বলল তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল।" ইমরান বিন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে কুলক্ষণ গ্রহণ করে অথবা যার জন্য কুলক্ষণ গ্রহণ করা হয়, কিংবা যে গণতকী করে অথবা যার জন্য গণতকী করা হয়, অথবা যে জাদু করে কিংবা যার জন্য জাদু করা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষীর কাছে আসল এবং সে যা বলল তা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল।" বাযযার এটি একটি উত্তম (جيد) সনদ (إسناد) সহকারে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
ففي الأحاديث الشريفة النهي عن إتيان العرافين والكهنة والسحرة وأمثالهم وسؤالهم وتصديقهم والوعيد على ذلك، فالواجب على ولاة الأمور وأهل الحسبة وغيرهم ممن لهم قدرة وسلطان إنكار إتيان الكهان والعرافين ونحوهم، ومنع من يتعاطى شيئاً من ذلك في الأسواق وغيرها والإنكار عليهم أشد الإنكار، والإنكار على من يجيء إليهم، ولا يجوز أن يغتر بصدقهم في بعض الأمور، ولا بكثرة من يأتي إليهم من الناس فإنهم جهال لا يجوز اغترار الناس بهم؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم قد نهى عن إتيانهم وسؤالهم وتصديقهم لما في ذلك من المنكر العظيم والخطر الجسيم والعواقب الوخيمة ولأنهم كذبة فجرة، كما أن في هذه الأحاديث دليلا على كفر الكاهن والساحر لأنهما لا يتوصلان إلى مقصدهما إلا بخدمة الجن
নিশ্চয়ই পবিত্র হাদিসসমূহে গণক, জ্যোতিষী, জাদুকর ও তাদের সমজাতীয় ব্যক্তিদের নিকট যাওয়া, তাদের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করা ও তাদের বিশ্বাস করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং এর ওপর কঠোর সতর্কবাণী বর্ণিত হয়েছে। অতএব, শাসকবর্গ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং যাদের সক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে, তাদের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো জ্যোতিষী, গণক ও তাদের ন্যায় অন্যদের নিকট যাওয়ার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করা। যারা বাজারে বা অন্য কোথাও এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তাদের বাধা প্রদান করা এবং তাদের ব্যাপারে কঠোরতম অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা আবশ্যক; সেই সঙ্গে যারা তাদের কাছে আসে তাদেরও তিরস্কার করা উচিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের সত্যবাদিতায় কিংবা তাদের কাছে আসা মানুষের আধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হওয়া মোটেও জায়েজ নয়; কারণ তারা মূলত অজ্ঞ এবং তাদের দ্বারা লোকজনের প্রবঞ্চিত হওয়া বৈধ নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে যাওয়া, প্রশ্ন করা ও তাদের বিশ্বাস করা থেকে নিষেধ করেছেন; কারণ এর মধ্যে রয়েছে জঘন্য পাপাচার, চরম ঝুঁকি ও ভয়াবহ পরিণাম। অধিকন্তু তারা হলো চরম মিথ্যাবাদী (كذبة) ও পাপাচারী (فجرة)। অনুরূপভাবে এই হাদিসগুলোতে জ্যোতিষী ও জাদুকরের কুফরি হওয়ার প্রমাণ বিদ্যমান, কারণ তারা জিনের আনুগত্য বা সেবা ব্যতীত তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وعبادتهم من دون الله وذلك كفر بالله وشرك به سبحانه والمصدق لهم في دعواهم علم الغيب يكون مثلهم، وكل من تلقى هذه الأمور عمن يتعاطاها فقد برئ منه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يجوز للمسلم أن يخضع لما يزعمونه علاجاً كنمنمتهم بالطلاسم أو صب الرصاص ونحو ذلك من الخرافات التي يعملونها، فإن هذا من الكهانة والتلبيس على الناس، ومن رضي بذلك فقد ساعدهم على باطلهم وكفرهم. كما لا يجوز أيضاً لأحد من المسلمين أن يذهب إليهم ليسألهم عمن سيتزوج ابنه أو قريبه أو عما يكون بين الزوجين وأسرتيهما من المحبة والوفاء أو العداوة والفراق ونحو ذلك؛ لأن هذا من الغيب الذي لا يعلمه إلا الله سبحانه وتعالى.
والسحر من المحرمات الكفرية كما قال الله عزَّ
এবং আল্লাহ ব্যতীত তাদের ইবাদত করা মূলত আল্লাহর সাথে কুফরি এবং শিরক। যারা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখার ব্যাপারে তাদের দাবিকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তারা তাদেরই সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি এই সকল বিষয় যারা এগুলো চর্চা করে তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করে, রসূলুল্লাহ (সা.) তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। কোনো মুসলিমের জন্য তাদের দাবিকৃত তথাকথিত চিকিৎসার নিকট নতিস্বীকার করা বৈধ নয়, যেমন জাদুমন্ত্র পাঠ করা কিংবা সীসা ঢালা এবং এই জাতীয় অন্যান্য কুসংস্কার যা তারা করে থাকে। কারণ এগুলো গণকগিরি এবং মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। আর যে ব্যক্তি এতে সন্তুষ্ট হলো, সে তাদের বাতিল কর্ম ও কুফরিতে সহায়তা করল। অনুরূপভাবে কোনো মুসলিমের জন্য তাদের নিকট গিয়ে তার সন্তান বা আত্মীয় কার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে, কিংবা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পরিবারের মাঝে ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা নাকি শত্রুতা ও বিচ্ছেদ ঘটবে—এই জাতীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাও জায়েজ নয়; কেননা এগুলো অদৃশ্যের বিষয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত আর কেউ পরিজ্ঞাত নন।
আর জাদু হলো কুফরি পর্যায়ের হারাম কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আল্লাহ মহিমান্বিত বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وجلَّ في شأن الملكين في سورة البقرة: {وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} [البقرة: 102]
فدلت هذه الآيات الكريمة على أن السحر كفر وأن السحرة يفرقون بين المرء وزوجه. كما دلت على أن السحر ليس بمؤثر لذاته نفعاً ولا ضراً وإنما يؤثر بإذن الله الكوني القدري لأن الله سبحانه وتعالى هو الذي خلق الخير والشر، ولقد عظم الضرر واشتد الخطب بهؤلاء المفترين الذين ورثوا هذه العلوم عن المشركين ولبسوا بها على ضعفاء العقول، فإنَّا لله وإنَّا
সূরা বাকারায় ফেরেশতাদ্বয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা কাউকে তা শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না তারা বলত, ‘আমরা তো কেবল এক পরীক্ষা, কাজেই তোমরা কুফরি করো না।’ এরপরও তারা তাদের নিকট থেকে এমন বিষয় শিখত যা দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা দ্বারা তারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের কোনো উপকারে আসত না। আর তারা ভালো করেই জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় করবে পরকালে তার কোনো অংশ থাকবে না। আর যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা অত্যন্ত মন্দ, যদি তারা তা জানত।} [আল-বাকারাহ: ১০২]
এই মহিমান্বিত আয়াতগুলো একথাই প্রমাণ করে যে জাদু হলো কুফরি (كفر) এবং জাদুকররা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়। এটি আরও প্রমাণ করে যে, জাদু নিজস্ব ক্ষমতায় কোনো উপকার বা ক্ষতি করার প্রভাব রাখে না, বরং এটি কেবল আল্লাহর মহাজাগতিক ও তাকদিরি অনুমতিক্রমেই প্রভাব ফেলে; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হলেন কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়ের স্রষ্টা। এই মিথ্যাবাদী (مفترين) ব্যক্তিদের কারণে ক্ষতির মাত্রা প্রকট হয়েছে এবং বিপদ চরম আকার ধারণ করেছে, যারা মুশরিকদের নিকট থেকে এই বিদ্যাগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে এবং এর মাধ্যমে স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের বিভ্রান্ত করেছে। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং আমরা তাঁরই কাছে...
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
إليه راجعون، وحسبنا الله ونعم الوكيل.
كما دلت الآية الكريمة على أن الذين يتعلمون السحر إنما يتعلمون ما يضرهم ولا ينفعهم وأنه ليس لهم عند الله من خلاق أي: (من حظ ونصيب) ، وهذا وعيد عظيم يدل على شدة خسارتهم في الدنيا والآخرة، وأنهم باعوا أنفسهم بأبخس الأثمان، ولهذا ذمهم الله سبحانه وتعالى على ذلك بقوله {وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} [البقرة: 102] والشراء هنا بمعنى البيع.
نسأل الله العافية والسلامة من شر السحرة والكهنة وسائر المشعوذين، كما نسأله سبحانه أن يقي المسلمين شرهم، وأن يوفق حكام المسلمين للحذر منهم وتنفيذ حكم الله فيهم حتى يستريح
আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী এবং আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
যেমনটি এই বরকতময় আয়াত প্রমাণ করেছে যে, যারা জাদু শিক্ষা করে তারা মূলত এমন বিষয়ই শিক্ষা করে যা তাদের ক্ষতি করে এবং কোনো উপকারে আসে না। আর আল্লাহর নিকট তাদের জন্য কোনো অংশ বা পাওনা নেই—অর্থাৎ: (অংশ ও সৌভাগ্য)। এটি একটি কঠোর হুঁশিয়ারি যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে এবং তারা অত্যন্ত নগণ্য মূল্যে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে। এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের নিন্দা জ্ঞাপন করে ইরশাদ করেছেন: {আর যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত!} [আল-বাকারা: ১০২]। এখানে 'ক্রয়' শব্দটি 'বিক্রয়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আমরা আল্লাহর নিকট জাদুকর, গণক এবং সকল প্রকার ভণ্ড-প্রতারকদের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি। তেমনিভাবে তাঁর নিকট আরও প্রার্থনা করছি তিনি যেন মুসলিমদের তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং মুসলিম শাসকদের তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার ও তাদের ওপর আল্লাহর বিধান কার্যকর করার তৌফিক দান করেন, যাতে করে মানুষ স্বস্তি পায়।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
العباد من ضررهم وأعمالهم الخبيثة إنه جواد كريم.
وقد شرع الله سبحانه لعباده ما يتقون به شر السحر قبل وقوعه، وأوضح لهم سبحانه ما يعالج به بعد وقوعه رحمة منه لهم، وإحساناً منه إليهم، وإتماماً لنعمته عليهم.
وفيما يلي بيان للأشياء التي يتقى بها خطر السحر قبل وقوعه، والأشياء التي يعالج بها بعد وقوعه من الأمور المباحة شرعاً.
أما ما يتقى به خطر السحر قبل وقوعه فأهم ذلك وأنفعه هو: التحصن بالأذكار الشرعية والدعوات والتعوذات المأثورة، ومن ذلك قراءة آية الكرسي خلف كل صلاة مكتوبة بعد الأذكار المشروعة بعد السلام، ومن ذلك قراءتها عند النوم، وآية الكرسي
বান্দাদেরকে তাদের অনিষ্ট ও তাদের নিকৃষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করুন; নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও অতি দয়ালু।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য যাদু ঘটার পূর্বেই এর অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার উপায় শরীয়তসম্মত (شرع) করেছেন এবং যাদু আক্রান্ত হওয়ার পর তা নিরাময়ের পদ্ধতিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এটি তাঁর পক্ষ থেকে বান্দাদের প্রতি রহমত, অনুগ্রহ এবং তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করার বহিঃপ্রকাশ।
নিম্নে ঐ সকল বিষয় বর্ণিত হলো যার মাধ্যমে যাদু ঘটার পূর্বে এর বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং যাদু হওয়ার পর শরীয়তসম্মত বৈধ (المباحة شرعاً) পন্থায় এর চিকিৎসা করা যায়।
যাদু ঘটার পূর্বে এর বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিকতর উপকারী পদ্ধতি হলো: শরীয়তসম্মত (الشرعية) জিকির, দোয়া ও বর্ণিত (المأثورة) আশ্রয় প্রার্থনাসূচক বাক্যসমূহের মাধ্যমে দুর্ভেদ্য বেষ্টনী তৈরি করা। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রত্যেক ফরজ (مكتوبة) নামাজের সালাম ফিরানোর পর মাসনুন জিকির শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। অনুরূপভাবে ঘুমের সময়ও এটি পাঠ করা। আর আয়াতুল কুরসি হলো-
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
هي أعظم آية في القرآن الكريم وهي قوله سبحانه: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255]
ومن ذلك قراءة: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص: 1] و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} [الفلق: 1] و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} [الناس: 1] خلف كل صلاة مكتوبة، وقراءة هذه السور الثلاث ثلاث مرات في أول النهار بعد صلاة الفجر، وفي أول الليل بعد صلاة المغرب، وعند النوم، ومن ذلك قراءة الآيتين من آخر سورة البقرة في أول الليل وهما قوله تعالى: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} [البقرة: 285] إلى آخر السورة.
এটি পবিত্র কুরআনের মহানতম আয়াত এবং তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে সেই ব্যক্তি, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিন পরিব্যাপ্ত এবং এই দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে পরিশ্রান্ত করে না। আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান।} [আল-বাকারাহ: ২৫৫]
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর পাঠ করা: {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক} [আল-ইখলাস: ১], {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভোরের রবের} [আল-ফালাক: ১] এবং {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের} [আন-নাস: ১]; আর এই তিনটি সূরা দিনের শুরুতে ফজর সালাতের পর, রাতের শুরুতে মাগরিব সালাতের পর এবং ঘুমানোর সময় তিনবার পাঠ করা। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো রাতের শুরুতে সূরা আল-বাকারাহর শেষ দুই আয়াত পাঠ করা, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।} [আল-বাকারাহ: ২৮৫] সূরার শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من قرأ آية الكرسي في ليلة لم يزل عليه من الله حافظ ولا يقربه شيطان حتى يصبح» وصح عنه أيضاً صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من قرأ الآيتين من آخر سورة البقرة في ليلة كفتاه» والمعنى والله أعلم: كفتاه من كل سوء.
ومن ذلك الإكثار من التعوذ: بكلمات الله التامات من شر ما خلق في الليل والنهار، وعند نزول أي منزل في البناء أو الصحراء أو الجو أو البحر لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من نزل منزلاً فقال: أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق لم يضره شيء حتى يرتحل من منزله ذلك» ومن ذلك أن يقول
রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাতে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন রক্ষক নিয়োজিত থাকবে এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত কোনো শয়তান তার নিকটবর্তী হতে পারবে না।" তাঁর (সা.) থেকে আরও সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।" এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—সব ধরনের অনিষ্ট থেকে তা তাকে রক্ষা করবে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো দিন ও রাতে সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে আশ্রয় প্রার্থনা করা; এবং যখন কোনো স্থানে অবতরণ করা হয়—হোক তা কোনো দালানে, মরুভূমিতে, আকাশে কিংবা সমুদ্রে। কারণ নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে বলে: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’, তবে সেই স্থান থেকে প্রস্থান করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।" এর অন্তর্ভুক্ত হলো এটি বলা যে
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المسلم في أول النهار وأول الليل ثلاث مرات: «بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء في الأرض ولا في السماء وهو السميع العليم» لصحة الترغيب في ذلك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأن ذلك سبب للسلامة من كل سوء.
وهذه الأذكار والتعوذات من أعظم الأسباب في اتقاء شر السحر وغيره من الشرور لمن حافظ عليها بصدق وإيمان وثقة بالله واعتماد عليه وانشراح صدر لما دلت عليه، وهي أيضاً من أعظم السلاح لإزالة السحر بعد وقوعه مع الإكثار من الضراعة إلى الله وسؤاله سبحانه أن يكشف الضرر ويزيل البأس.
ومن الأدعية الثابتة عنه صلى الله عليه وسلم في علاج الأمراض من السحر وغيره - وكان قيل يرقي بها أصحابه -:
একজন মুসলিম দিনের শুরুতে এবং রাতের শুরুতে তিনবার পাঠ করবে: "আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর প্রতি উৎসাহিত করার বিষয়টি বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত এবং এটি সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকার অন্যতম কারণ।
এই জিকির ও আশ্রয় প্রার্থনামূলক দোয়াগুলো জাদু এবং অন্যান্য অনিষ্ট থেকে বাঁচার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়—তাদের জন্য যারা সততা, ঈমান, আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থা (ثقة) ও নির্ভরতা এবং এগুলোর মর্মার্থের প্রতি অন্তরের প্রশান্তি নিয়ে নিয়মিত এগুলো আমল করে। জাদু আক্রান্ত হওয়ার পর তা দূর করার জন্য এগুলো এক শক্তিশালী হাতিয়ার, সাথে সাথে আল্লাহর দরবারে অধিক কাকুতি-মিনতি করা এবং তাঁর কাছে কষ্ট লাঘব ও বিপদ দূর করার প্রার্থনা করা অপরিহার্য।
জাদু এবং অন্যান্য রোগ নিরাময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রমাণিত (ثابت) দোয়াগুলোর মধ্যে—যা দিয়ে তিনি তাঁর সাহাবীদের ঝাড়ফুঁক করতেন বলে বর্ণিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
«اللهم رب الناس أذهب البأس واشف أنت الشافي لا شفاء إلا شفاؤك شفاء لا يغادر سقماً» يقولها ثلاثاً، ومن ذلك الرقية التي رقى بها جبرائيل النبي صلى الله عليه وسلم وهي قوله: «بسم الله أرقيك من كل شيء يؤذيك ومن شر كل نفس أو عين حاسد الله يشفيك بسم الله أرقيك» وليكرر ذلك ثلاث مرات.
ومن علاج السحر بعد وقوعه أيضاً وهو علاج نافع للرجل إذا حبس من جماع أهله أن يأخذ سبع ورقات من السدر الأخضر فيدقها بحجر أو نحوه ويجعلها في إناء ويصب عليه من الماء ما يكفيه للغُسل ويقرأ فيها: آية الكرسي، و {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} [الكافرون: 1] و {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص: 1] و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} [الفلق: 1] و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} [الناس: 1] وآيات السحر التي في
"হে আল্লাহ! হে মানুষের প্রতিপালক, আপনি কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদানকারী। আপনার আরোগ্য ব্যতীত অন্য কোনো আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য যা কোনো রোগকে অবশিষ্ট রাখে না।" তিনি এটি তিনবার বলবেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ঝাড়ফুঁক যা দ্বারা জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন, আর তা হলো তাঁর এই উক্তি: "আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি এমন প্রতিটি বস্তু থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয় এবং প্রতিটি প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে; আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন, আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।" এবং এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করবেন।
যাদু সংঘটিত হওয়ার পর তার প্রতিকারের অন্তর্ভুক্ত এবং স্ত্রীর সাথে সহবাসে অক্ষম হওয়া ব্যক্তির জন্য একটি উপকারী চিকিৎসা হলো এই যে, সে সাতটি সবুজ বরই পাতা গ্রহণ করবে, অতঃপর তা পাথর বা অনুরূপ কিছু দিয়ে চূর্ণ করবে এবং তা একটি পাত্রে রাখবে। এরপর তাতে গোসলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ঢালবে এবং তাতে পাঠ করবে: আয়াতুল কুরসি, এবং {বলুন: হে কাফিরগণ!} [আল-কাফিরুন: ১], {বলুন: তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়} [আল-ইখলাস: ১], {বলুন: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার প্রতিপালকের} [আল-ফালাক: ১], {বলুন: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের প্রতিপালকের} [আন-নাস: ১] এবং যাদুর আয়াতসমূহ যা...
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سورة الأعراف وهي قوله سبحانه: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ - فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ - فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ} [الأعراف: 117 - 119] والآيات في سورة يونس وهي قوله سبحانه: {وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ - فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ - فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ - وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ} [يونس: 79 - 82] والآيات في سورة طه: {قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَى - قَالَ بَلْ أَلْقُوا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى - فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى - قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى - وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى} [طه: 65 - 69]
সুরা আল-আ'রাফ, আর তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো। অমনি তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল। ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা বাতিল হয়ে গেল। সেখানে তারা পরাজিত হলো এবং লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে গেল।} [আল-আ'রাফ: ১১৭ - ১১৯] এবং সুরা ইউনুস-এর আয়াতসমূহ, আর তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর ফেরাউন বলল, তোমরা আমার কাছে প্রত্যেক অভিজ্ঞ জাদুকরকে নিয়ে এসো। অতঃপর যখন জাদুকররা উপস্থিত হলো, মূসা তাদের বললেন, তোমাদের যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ করো। অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন মূসা বললেন, তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা জাদু; নিশ্চয়ই আল্লাহ অচিরেই তা বাতিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের কাজ সংশোধন করেন না। আর আল্লাহ তাঁর বাণীসমূহ দ্বারা সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে।} [ইউনুস: ৭৯ - ৮২] এবং সুরা ত্বহা-র আয়াতসমূহ: {তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ করো, নতুবা আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি। মূসা বললেন, বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো। অমনি তাদের জাদুর প্রভাবে তাঁর মনে হতে লাগল যেন তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো দৌড়াচ্ছে। অতঃপর মূসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। আমি বললাম, ভয় পেয়ো না, নিশ্চয়ই তুমিই বিজয়ী হবে। আর তোমার ডান হাতে যা আছে তা নিক্ষেপ করো, তা তারা যা নির্মাণ করেছে তাকে গ্রাস করে ফেলবে; তারা যা নির্মাণ করেছে তা কেবল জাদুকরের কৌশল। আর জাদুকর যেখানেই আসুক না কেন, সে সফল হবে না।} [ত্বহা: ৬৫ - ৬৯]
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وبعد قراءة ما ذكر في الماء يشرب منه ثلاث حسوات ويغتسل بالباقي وبذلك يزول الداء إن شاء الله، وإن دعت الحاجة لاستعماله مرتين أو أكثر فلا بأس حتى يزول الداء.
ومن علاج السحر أيضَا - وهو من أنفع علاجه - بذل الجهود في معرفة موضع السحر في أرض أو جبل أو غير ذلك، فإذا عرف واستخرج وأتلف بطل السحر.
هذا ما تيسر بيانه من الأمور التي يتقى بها السحر ويعالج بها، والله ولي التوفيق.
وأما علاجه بعمل السحرة الذي هو التقرب إلى الجن بالذبح أو غيره من القربات فهذا لا يجوز؛ لأنه
পানিতে যা পাঠ করা হয়েছে তা পাঠ করার পর তা থেকে তিন ঢোক পান করবে এবং অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করবে। এর ফলে ইনশাআল্লাহ ব্যাধি দূর হয়ে যাবে। আর যদি দুইবার বা তার অধিকবার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তবে ব্যাধি দূর না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহারে কোনো বাধা নেই।
জাদুর আরও একটি চিকিৎসা—যা এর সর্বাধিক উপকারী চিকিৎসাগুলোর অন্তর্ভুক্ত—তা হলো জমিন, পাহাড় বা অন্য কোনো স্থানে জাদুর উপকরণ রাখার স্থানটি শনাক্ত করার চেষ্টা করা। অতঃপর যখন তা জানা যাবে এবং বের করে নষ্ট করে ফেলা হবে, তখন জাদু বাতিল হয়ে যাবে।
জাদু থেকে রক্ষা পাওয়ার এবং এর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়াবলির মধ্য থেকে যা বর্ণনা করা সহজসাধ্য হয়েছে তা এখানেই সমাপ্ত। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
আর জাদুকরদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাদুর চিকিৎসা করা—যা মূলত জিনের উদ্দেশ্যে পশু জবাই বা অন্য কোনো উপাসনার মাধ্যমে নৈকট্য হাসিল করা—তা জায়েজ নয়; কারণ এটি...
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
من عمل الشيطان بل من الشرك الأكبر. فالواجب الحذر من ذلك، كما لا يجوز علاجه بسؤال الكهنة والعرافين والمشعوذين واستعمال ما يقولون لأنهم لا يؤمنون، ولأنهم كذبة فجرة يدعون علم الغيب ويلبسون على الناس، وقد حذر الرسول من إتيانهم وسؤالهم وتصديقهم كما سبق بيان ذلك في أول هذه الرسالة، وقد صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه سُئل عن النشرة فقال: «هي من عمل الشيطان» رواه الإمام أحمد وأبو داود بإسناد جيد. والنشرة هي: حل السحر عن المسحور، ومراده خياله بكلامه هذا النشرة التي يتعاطاها أهل الجاهلية، وهي: سؤال الساحر ليحل السحر، أو حله بسحر مثله من ساحر آخر.
أما حله بالرقية والتعوذات الشرعية والأدوية
শয়তানের কর্মের অন্তর্ভুক্ত, বরং বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এটি থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক। যেমন গণক, জ্যোতিষী ও জাদুকরদের নিকট কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা এবং তারা যা বলে তা গ্রহণ করা বৈধ নয়; কারণ তারা বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তারা পাপাচারী মিথ্যাবাদী (كذبة), যারা অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করে এবং মানুষের নিকট বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট আসা, তাদের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করা এবং তাদের কথা বিশ্বাস করা থেকে সতর্ক করেছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে এই রিসালার শুরুতে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে 'নুশরা' (জাদু দিয়ে জাদু কাটানো) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «এটি শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত»। এটি ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ একটি উত্তম (جيد) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন। আর নুশরা হলো: জাদুক্রান্ত ব্যক্তির উপর থেকে জাদু দূর করা; তাঁর এই বক্তব্যের দ্বারা ঐ নুশরা উদ্দেশ্য যা জাহেলি যুগের লোকেরা চর্চা করত, আর তা হলো: জাদু কাটানোর জন্য জাদুকরের নিকট প্রার্থনা করা অথবা অন্য কোনো জাদুকরের মাধ্যমে অনুরূপ জাদুর সাহায্যে তা দূর করা।
পক্ষান্তরে রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক), শরয়ি দুয়া-কালাম এবং বৈধ ঔষধের মাধ্যমে এর সমাধান করা...
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المباحة فلا بأس بذلك كما تقدم. وقد نص على ذلك العلامة ابن القيم، والشيخ عبد الرحمن بن حسن في فتح المجيد - رحمة الله عليهما - ونص على ذلك أيضاً غيرهما من أهل العلم.
والله المسئول أن يوفق المسلمين للعافية من كل سوء، وأن يحفظ عليهم دينهم، ويرزقهم الفقه فيه، والعافية من كل ما يخالف شرعه، وصلى الله وسلم على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه.
বৈধ (مباح) বিষয়ের ক্ষেত্রে এতে কোনো অসুবিধা নেই যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম এবং 'ফাতহুল মাজীদ' গ্রন্থে শেখ আব্দুর রহমান বিন হাসান — আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন — এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া অন্যান্য বিশেষজ্ঞ আলেমগণও (أهل العلم) এ কথা ব্যক্ত করেছেন।
আর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা যেন তিনি মুসলমানদের সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা দান করেন, তাদের দ্বীনকে হিফাজত করেন, তাদেরকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (فقه) দান করেন এবং তাঁর শরীয়তের পরিপন্থী সকল বিষয় থেকে সুরক্ষা প্রদান করেন। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[سحر الزوجة على الزوج]سحر الزوجة على الزوج (1) من عبد العزيز بن باز إلى حضرة الأخ المكرم. . السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، وبعد:
وصلني كتابكم المؤرخ (بدون) وصلكم الله بهداه وما تضمنه من الإفادة عما أصابكم عندما أردت جماع زوجتك الجديدة، وعن ذهابك للشيخ وما أفتاك به وعما عملته الزوجة القديمة من العمل الذي كان سبباً لمنعك من جماع زوجتك الجديدة، وسؤالك عن الحكم في ذلك كان معلوماً.
والجواب: إذا كانت الزوجة القديمة قد أقرت بهذا العمل، أو ثبت عليها ذلك بالبينة فقد فعلت منكراً عظيماً، بل كفراً وضلالاً، لأن عملها هذا هو
--------------------------------------------
[স্বামীর ওপর স্ত্রীর জাদু করা]স্বামীর ওপর স্ত্রীর জাদু করা (১) আবদুল আজিজ ইবনে বাজের পক্ষ থেকে সম্মানিত ভাইয়ের প্রতি। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। অতঃপর:
আপনার (তারিখ বিহীন) পত্রটি আমার নিকট পৌঁছেছে, আল্লাহ আপনাকে হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আপনার নতুন স্ত্রীর সাথে মিলনের ইচ্ছাকালে আপনার ওপর যা আপতিত হয়েছিল এবং আপনি যে শাইখের নিকট গিয়েছিলেন ও তিনি আপনাকে যা ফতোয়া দিয়েছেন, সেই সাথে আপনার সাবেক স্ত্রী যে কাজ করেছেন—যা আপনার নতুন স্ত্রীর সাথে মিলনে বাধার কারণ হয়েছে—সে বিষয়ে আপনার জিজ্ঞাসিত বিধানটি অবগত হলাম।
উত্তর: যদি সাবেক স্ত্রী এই কাজের কথা স্বীকার করে থাকেন অথবা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এটি তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়, তবে তিনি এক ভয়াবহ গর্হিত বা বর্জনীয় কাজ (منكر) করেছেন; বরং এটি কুফরি ও ভ্রষ্টতা। কারণ তার এই কাজ হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
السحر المحرّم، والساحر كافر كما قال الله سبحانه: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} [البقرة: 102] فهذه الآية الكريمة تدل على أن السحر كفر، وأن الساحر كافر، وأن السحرة يتعلمون ما يضرهم ولا ينفعهم، وأن من مقاصدهم التفريق بين المرء وزوجه، وأنه لا خلاق لهم عند الله يوم القيامة - يعني لا حظ لهم في النجاة - وفي الحديث الصحيح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه
জাদু হারাম, এবং জাদুকর কাফির যেমন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর তারা অনুসরণ করল তা যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে পাঠ করত। আর সুলাইমান কুফরি করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শেখাত এবং যা বাবেলের হারূত ও মারূত নামক ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। আর তারা কাউকে কিছু শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না বলত, ‘আমরা তো কেবল পরীক্ষা, কাজেই তুমি কুফরি করো না।’ এরপর তারা তাদের নিকট থেকে শিখত যার মাধ্যমে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। আর তারা তা দ্বারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের উপকার করত না। আর তারা অবশ্যই জানত যে, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করেছে (জাদু গ্রহণ করেছে) পরকালে তার কোনো অংশ নেই। আর যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত।} [সূরা আল-বাকারাহ: ১০২]। এই মহিমান্বিত আয়াতটি প্রমাণ করে যে জাদু হলো কুফরি, এবং জাদুকর হলো কাফির। আর জাদুকররা এমন বিষয় শেখে যা তাদের ক্ষতি করে এবং কোনো উপকারে আসে না। তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো। কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তাদের কোনো অংশ থাকবে না—অর্থাৎ তাদের নাজাত পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে যে তিনি...
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال: «اجتنبوا السبع الموبقات قيل: وما هنَّ يا رسول الله؟ قال: الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حرّم الله إلا بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات.»
أما الشيخ الذي أعطاك الدواء فالظاهر أنه ساحر كالمرأة، لأنه لا يطلع على أعمال السحر إلا السحرة، وهو أيضاً من العرافين والكهنة المعروفين بادعاء الغيب في كثير من الأمور، والواجب على المسلم أن يحذرهم وألا يصدقهم فيما يدّعون من الغيب لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من أتى عرافاً فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة» أخرجه مسلم في صحيحه، وقال صلى الله عليه وسلم أيضاً: «من أتى عرافاً أو كاهناً فصدقه بما يقول فقد كفر بما أُنزل على محمد صلى الله عليه وسلم» .
তিনি বলেছেন: «তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে দূরে থাকো।» জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা (শিরক), জাদু, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে যথাযথ কারণ ব্যতীত হত্যা করা, সুদ ভক্ষণ করা, এতিমের সম্পদ গ্রাস করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সতী-সাধ্বী সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া।»
আর যে শায়খ আপনাকে ঔষধ দিয়েছেন, বাহ্যিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে তিনি ওই মহিলার মতোই একজন জাদুকর; কারণ জাদুকর ব্যতীত অন্য কেউ জাদুর ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে অবগত হয় না। তিনি সেই সকল গণক ও জ্যোতিষীদের অন্তর্ভুক্ত যারা অনেক বিষয়ে অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করার জন্য সুপরিচিত। একজন মুসলমানের ওপর আবশ্যক হলো তাদের থেকে সতর্ক থাকা এবং অদৃশ্যের বিষয়ে তাদের কোনো দাবি বিশ্বাস না করা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গেল এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, চল্লিশ রাত পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না»; এটি মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল (বা তা অস্বীকার করল)»।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
فالواجب عليك التوبة والندم على ما قد حصل منك، وإخبار رئيس الهيئة ورئيس المحكمة بالشيخ المذكور وزوجتك القديمة حتى تعمل المحكمة والهيئة ما يردعهم، وإذا عرض لك مثل هذا الحادث فاسأل علماء الشرع حتى يخبروك بالعلاج الشرعي. رزقنا الله وإياك الفقه في الدين والثبات عليه والسلامة مما يخالفه، إنه جواد كريم.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
অতএব আপনার পক্ষ থেকে যা সংঘটিত হয়েছে তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং তওবা করা আপনার জন্য ওয়াজিব (واجب)। এছাড়া উল্লিখিত শায়খ এবং আপনার পূর্বতন স্ত্রী সম্পর্কে হেইআহ (কমিশন) প্রধান ও আদালত প্রধানকে অবহিত করা আপনার দায়িত্ব, যাতে আদালত ও হেইআহ তাদের দমনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যদি ভবিষ্যতে আপনার সামনে পুনরায় এমন কোনো ঘটনার অবতারণা হয়, তবে শরয়ি আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করবেন যাতে তাঁরা আপনাকে এর শরয়ি প্রতিকার জানিয়ে দিতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এবং আপনাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ (الفقه) ও তার ওপর অবিচলতা দান করুন এবং এর পরিপন্থী যাবতীয় বিষয় থেকে নিরাপদ রাখুন। নিশ্চয়ই তিনি মহানুভব ও পরম দয়ালু।
আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[سؤال السحرة والمشعوذين]حكم سؤال السحرة والمشعوذين (1) السؤال الأخ: ص. ع. ب من الرياض يقول في سؤاله: يوجد في بعض جهات اليمن أناس يسمون: (السادة) وهؤلاء يأتون بأشياء منافية للدين مثل الشعوذة وغيرها، ويدعون أنهم يقدرون على شفاء الناس من الأمراض المستعصية، ويبرهنون على ذلك بطعن أنفسهم بالخناجر أو قطع ألسنتهم ثم إعادتها دون ضرر يلحق بهم، وهؤلاء منهم من يصلي ومنهم من لا يصلي، وكذلك يحلون لأنفسهم الزواج من غير فصيلتهم، ولا يحلون لأحد الزواج من فصيلتهم، وعند دعائهم للمرضى يقولون: (يا الله. . يا فلان) أحد أجدادهم. وفي القديم كان الناس يكبرونهم، ويعتبرونهم أناساً غير عاديين وأنهم مقربون إلى الله، بل يسمونهم رجال الله، والآن انقسم الناس فيهم: فمنهم من يعارضهم وهم فئة الشباب وبعض المتعلمين، ومنهم من لا يزال متمسكاً بهم وهم كبار السن وغير المتعلمين. نرجو من فضيلتكم بيان الحقيقة في هذا الموضوع.
--------------------------------------------
[জাদুকর ও ভেলকিবাজদের (المشعوذين) বিষয়ে জিজ্ঞাসার বিধান]জাদুকর ও ভেলকিবাজদের (المشعوذين) নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করার বিধান (১) প্রশ্নকারী ভাই: রিয়াদ থেকে স. আ. ব. তার প্রশ্নে বলেন: ইয়েমেনের কিছু এলাকায় এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের ‘সাদা’ (নেতৃস্থানীয়) বলা হয়। তারা ধর্মবিরোধী বিভিন্ন কাজে লিপ্ত হয়, যেমন ভেলকিবাজি (الشعوذة) ও অন্যান্য। তারা দাবি করে যে তারা দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মানুষকে আরোগ্য দান করতে সক্ষম। তারা এর সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে নিজেদের শরীরে খঞ্জর বিদ্ধ করে অথবা জিহ্বা কেটে ফেলে এবং পুনরায় কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এদের মধ্যে কেউ সালাত আদায় করে আবার কেউ করে না। তদুপরি, তারা নিজেদের জন্য অন্য বংশের মেয়েদের বিবাহ করা বৈধ মনে করলেও, অন্য কারো জন্য তাদের বংশের মেয়েদের বিবাহ করা বৈধ মনে করে না। অসুস্থদের জন্য দোয়া করার সময় তারা বলে: "হে আল্লাহ! হে অমুক!" (তাদের কোনো একজন পূর্বপুরুষের নাম নিয়ে)। অতীতে মানুষ তাদের অনেক বড় মনে করত এবং তাদের অসাধারণ মানুষ ও আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত (مقربون) বান্দা হিসেবে গণ্য করত; বরং তারা তাদের ‘রিজালুল্লাহ’ (আল্লাহর লোক) বলে ডাকত। বর্তমানে তাদের ব্যাপারে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে: একদল তাদের বিরোধিতা করে, যারা মূলত যুবক ও শিক্ষিত সমাজ। আর অন্য দল যারা এখনও তাদের প্রতি অনুগত রয়ে গেছে, তারা মূলত বয়োবৃদ্ধ ও অশিক্ষিত সাধারণ মানুষ। আমরা আপনার নিকট এই বিষয়ের প্রকৃত সত্য ও বিধানটি স্পষ্ট করার অনুরোধ করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الجواب: هؤلاء وأشباههم من جملة المتصوفة الذين لهم أعمال منكرة وتصرفات باطلة، وهم أيضاً من جملة العرافين الذين قال فيهم النبي صلى الله عليه وسلم: «من أتى عرافًَا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين يوماً» وذلك بدعواهم علم الغيب، وخدمتهم للجن، وعبادتهم إياهم، وتلبيسهم على الناس بما يفعلون من أنواع السحر الذي قال الله فيه في قصة
উত্তর: এরা এবং এদের সদৃশ ব্যক্তিরা সেই সকল সূফীদের অন্তর্ভুক্ত যাদের আমলসমূহ বর্জনীয় (منكر) এবং কর্মকাণ্ড বাতিল। তারা সেই সকল গণকদেরও অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে আসবে এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না»; আর এটি তাদের অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি, জিনদের সেবা করা, তাদের ইবাদত করা এবং বিভিন্ন প্রকার জাদুর মাধ্যমে মানুষের নিকট সত্য-মিথ্যার বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে, যে জাদু সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা (নির্দিষ্ট) কাহিনীতে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
موسى وفرعون: {قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ} [الأعراف: 116] فلا يجوز إتيانهم ولا سؤالهم لهذا الحديث الشريف ولقوله صلى الله عليه وسلم: «من أتى كاهناً فصدقه بما يقول فقد كفر بما أُنزل على محمد صلى الله عليه وسلم» «وفي لفظ آخر: من أتى عرافًا أو كاهنًا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم» .
وأما دعاؤهم غير الله واستغاثتهم بغير الله، أو زعمهم أن آَباءهم وأسلافهم يتصرفون في الكون، أو يشفون المرضى، أو يجيبون الدعاء مع موتهم أو غيبتهم فهذا كله من الكفر بالله عز وجل ومن الشرك الأكبر، فالواجب الإنكار عليهم وعدم إتيانهم وعدم سؤالهم وعدم تصديقهم، لأنهم قد جمعوا في هذه الأعمال بين عمل الكهنة والعرافين وبين
মুসা ও ফেরাউন: {তিনি বললেন, ‘তোমরা নিক্ষেপ করো।’ ফলে তারা যখন নিক্ষেপ করল, তখন তারা মানুষের চোখকে জাদুগ্রস্ত করল, তাদের আতঙ্কিত করল এবং তারা এক মহা জাদু প্রদর্শন করল।} [আল-আরাফ: ১১৬]। সুতরাং এই হাদিস শরিফের কারণে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে তাদের নিকট যাওয়া এবং তাদের কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা বৈধ নয়: “যে ব্যক্তি কোনো গণক (كاهن)-এর নিকট এল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।” এবং অন্য শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে: “যে ব্যক্তি কোনো অতীন্দ্রিয়বাদী (عراف) অথবা গণক (كاهن)-এর নিকট এল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।”
আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট প্রার্থনা করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, অথবা তাদের এই দাবি করা যে তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষগণ বিশ্বজগত পরিচালনা করেন, অথবা তারা রোগীদের সুস্থ করেন, অথবা তারা মৃত বা অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও দোয়া কবুল করেন—এই সবকিছুই মহান আল্লাহর সাথে কুফরি এবং বড় শিরক (الشرك الأكبر)-এর অন্তর্ভুক্ত। অতএব, তাদের প্রত্যাখ্যান করা, তাদের নিকট না যাওয়া, তাদের কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করা এবং তাদের বিশ্বাস না করা ওয়াজিব (واجب); কারণ তারা এসব কাজের মাধ্যমে গণক (كاهن) ও অতীন্দ্রিয়বাদীদের (عراف) কর্মতৎপরতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে এবং...
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عمل المشركين عباد غير الله والمستغيثين بغير الله والمستعينين بغير الله من الجن والأموات وغيرهم ممن ينتسبون إليهم ويزعمون أنهم آباؤهم وأسلافهم أو من أناس آخرين يزعمون أن لهم ولاية أو لهم كرامة، بل كل هذا من أعمال الشعوذة ومن أعمال الكهانة والعرافة المنكرة في الشرع المطهر.
وأما ما يقع من التصرفات النكرة من طعنهم أنفسهم بالخناجر أو قطعهم ألسنتهم فكل هذا تمويه على الناس، وكله من أنواع السحر المحرم الذي جاءت النصوص من الكتاب والسنة بتحريمه والتحذير منه كما تقدم، فلا ينبغي للعاقل أن يغتر بذلك، وهذا من جنس ما قاله الله سبحانه وتعالى عن سحرة فرعون: {يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى} [طه: 66] فهؤلاء قد جمعوا بين السحر وبين الشرك الأكبر والاستعانة بغير الله وبين دعوى علم الغيب
মুশরিকদের কাজ—যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করে, আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করে এবং জিন, মৃত ব্যক্তি ও অন্যদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে যাদের সাথে তারা নিজেদের সম্পর্কিত করে এবং দাবি করে যে তারা তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষ, অথবা এমন কিছু লোক যাদের ব্যাপারে তারা দাবি করে যে তাদের অভিভাবকত্ব বা অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে—প্রকৃতপক্ষে এসবই ভেলকিবাজি, গণকগিরি এবং ভবিষ্যদ্বাণীর অন্তর্ভুক্ত যা পবিত্র শরীয়তে একটি গর্হিত ও প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়।
আর নিজেদের খঞ্জর দিয়ে আঘাত করা কিংবা নিজেদের জিহ্বা কেটে ফেলার মতো যেসব জঘন্য আচরণ প্রকাশ পায়, তার সবই মানুষের ওপর ধোঁকাবাজি মাত্র। এগুলোর প্রতিটিই নিষিদ্ধ জাদুর প্রকারভেদ, যেগুলোর অবৈধতা এবং এ ব্যাপারে সতর্কতা কিতাব ও সুন্নাহর দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং কোনো বিবেকবান ব্যক্তির এগুলোতে প্রতারিত হওয়া উচিত নয়। এটি মহান আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের জাদুকরদের সম্পর্কে যা বলেছেন তারই অনুরূপ: "তাদের জাদুর প্রভাবে তার কাছে মনে হলো যে সেগুলো ছুটোছুটি করছে" [ত্বহা: ৬৬]। মূলত এরা জাদু, বড় শিরক, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট সাহায্য প্রার্থনা এবং অদৃশ্যের জ্ঞান রাখার দাবির সমন্বয় ঘটিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والتصرف في علم الكون، وهذه أنواع كثيرة من الشرك الأكبر والكفر البواح ومن أعمال الشعوذة التي حرمها الله عز وجل ومن دعوى علم الغيب الذي لا يعلمه إلا الله كما قال سبحانه: {قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ} [النمل: 65] فالواجب على جميع المسلمين العارفين بحالهم الإنكار عليهم وبيان سوء تصرفاتهم وأنها منكرة ورفع أمرهم إلى ولاة الأمور إذا كانوا في بلاد إسلامية حتى يعاقبوهم بما يستحقون شرعاً حسماً لشرهم وحماية للمسلمين من أباطيلهم وتلبيسهم. . والله ولي التوفيق.
এবং মহাবিশ্বের পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করার দাবি করা; আর এগুলো বড় শিরক ও প্রকাশ্য কুফরের অন্তর্ভুক্ত অনেক প্রকার এবং জাদুটোনার সেই সব কর্মকাণ্ডের অংশ যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা হারাম করেছেন। এটি অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করারও অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত কেউ অদৃশ্যের জ্ঞান জানে না} [আন-নামল: ৬৫]। এমতাবস্থায়, তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত সকল মুসলমানের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য হলো তাদের প্রতিবাদ করা এবং তাদের মন্দ কর্মকাণ্ডের স্বরূপ তুলে ধরা যে, তা গর্হিত (منكرة)। আর যদি তারা কোনো ইসলামী রাষ্ট্রে অবস্থান করে, তবে তাদের বিষয়টি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করা উচিত যাতে তাদের অনিষ্ট নির্মূল করতে এবং তাদের মিথ্যা ও প্রতারণা থেকে মুসলমানদের রক্ষা করতে শরিয়ত অনুযায়ী প্রাপ্য শাস্তি প্রদান করা যায়। আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[العلاج عند طبيب شعبي يستخدم الجن]العلاج عند طبيب شعبي يستخدم الجن السؤال: هناك فئة من الناس يعالجون بالطب الشعبي على حسب كلامهم، وحينما أتيت إلى أحدهم قال لي: اكتب اسمك واسم والدتك ثم راجعنا غداً، وحينما يراجعهم الشخص يقولون له: إنك مصاب بكذا وكذا وعلاجك كذا وكذا. . ويقول أحدهم: إنه يستعمل كلام الله في العلاج، فما رأيكم في مثل هؤلاء؟ وما حكم الذهاب إليهم؟ (س. ع. غ - حائل) .
الجواب: من كان يعمل هذا الأمر في علاجه فهو دليل على أنه يستخدم الجن ويدعي علم المغيبات، فلا يجوز العلاج عنده، كما لا يجوز المجيء إليه ولا سؤاله؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الجنس من الناس:
[জীন ব্যবহারকারী লোকজ চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা গ্রহণ]জীন ব্যবহারকারী লোকজ চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা গ্রহণ সংক্রান্ত প্রশ্ন: মানুষের মধ্যে এমন একটি শ্রেণি রয়েছে যারা তাদের কথানুসারে লোকজ পদ্ধতিতে (طب شعبي) চিকিৎসা প্রদান করে। আমি যখন তাদের একজনের নিকট গেলাম, তখন সে আমাকে বলল: আপনার নাম এবং আপনার মায়ের নাম লিখে দিন, অতঃপর আগামীকাল আমাদের নিকট পুনরায় আসুন। যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুনরায় তাদের নিকট যায়, তখন তারা তাকে বলে: আপনি অমুক অমুক রোগে আক্রান্ত এবং আপনার চিকিৎসা হলো এই এই। তাদের কেউ কেউ আবার দাবি করে যে, সে চিকিৎসায় আল্লাহর কালাম ব্যবহার করে। এ জাতীয় লোকদের ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কী? এবং তাদের নিকট গমনের বিধান (حكم) কী? (এস. এ. জি. - হাইল)।
উত্তর: যে ব্যক্তি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে, তা এ বিষয়ের প্রমাণ যে সে জীন ব্যবহার করে এবং অদৃশ্যের বিষয়ের জ্ঞানের (علم المغيبات) দাবি করে। সুতরাং তার নিকট চিকিৎসা গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং তার কাছে আসা কিংবা তাকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করাও জায়েজ নয়; কেননা এই শ্রেণির মানুষের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
«من أتى عرافاً فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة» أخرجه مسلم في صحيحه.
وثبت عنه صلى الله عليه وسلم في عدة أحاديث النهي عن إتيان الكهان والعرافين والسحرة والنهي عن سؤالهم وتصديقهم، وقال صلى الله عليه وسلم: «من أتى كاهناً فصدقه بما يقول فقد كفر بما أُنزل على محمد صلى الله عليه وسلم» وكل من يدعي علم الغيب باستعمال ضرب الحصى أو الوَدع أو التخطيط في الأرض أو سؤال المريض عن اسمه واسم أمه أو اسم أقاربه فكل ذلك دليل على أنه من العرافين والكهان الذين نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن سؤالهم وتصديقهم.
فالواجب الحذر منهم ومن سؤالهم ومن العلاج عندهم وإن زعموا أنهم يعالجون بالقرآن لأن من عادة أهل الباطل التدليس والخداع فلا يجوز تصديقهم
"যে ব্যক্তি কোনো গণকের নিকট আসলো এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলো, তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না।" এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একাধিক হাদিসে গণক, জ্যোতিষী ও জাদুকরদের কাছে যাওয়া এবং তাদের কিছু জিজ্ঞাসা করা ও তাদের কথা বিশ্বাস করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষীর নিকট আসলো এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করলো, সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করলো।" আর যে ব্যক্তি পাথর নিক্ষেপ, কড়ি চালনা, মাটিতে রেখা অঙ্কন কিংবা রোগীকে তার নাম, মায়ের নাম বা আত্মীয়দের নাম জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করে, তার এই প্রতিটি কাজই সে গণক বা জ্যোতিষী হওয়ার প্রমাণ বহন করে, যাদের নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করতে এবং যাদের কথা বিশ্বাস করতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন।
সুতরাং তাদের থেকে, তাদের নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করা থেকে এবং তাদের কাছে চিকিৎসা নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক। তারা যদিও দাবি করে যে তারা কুরআনের মাধ্যমে চিকিৎসা করছে, কারণ বাতিলপন্থীদের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য হলো প্রতারণা (تدليس) ও প্রবঞ্চনা; তাই তাদের বিশ্বাস করা জায়েজ নেই।
(খণ্ড: ১)
হুকমুস সিহর ওয়াল কাহানাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فيما يقولون، والواجب على من عرف أحداً منهم أن يرفع أمره إلى ولاة الأمر من القضاة والأمراء ومراكز الهيئات في كل بلد حتى يحكم عليهم بحكم الله وحتى يسلم المسلمون من شرهم وفسادهم وأكلهم أموال الناس بالباطل. والله المستعان ولا حول ولا قوة إلا بالله.
তারা যা বলছে সে বিষয়ে; আর তাদের মধ্য থেকে কেউ যদি কাউকে চিনে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—যেমন বিচারক, শাসক এবং প্রতিটি জনপদের প্রশাসনিক কেন্দ্রসমূহের নিকট তাদের বিষয়টি উত্থাপন করা আবশ্যক, যাতে তাদের ওপর আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করা যায় এবং যাতে মুসলিমরা তাদের অনিষ্ট, বিপর্যয় এবং অন্যায়ভাবে মানুষের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল এবং আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় বা শক্তি নেই।