(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: -)
القسم الثاني من المعجم الأوسط للطبراني   (الطبراني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: القسم الثاني من المعجم الأوسط

(تحقيق ودراسة، مع ملاحظة أحكامه على الأحاديث بالتفرد)

من حديث (401) حديث واثلة بن الأسقع، قال سمعت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يقول «قال الله - عز وجل - أنا عند ظن عبدي بي» … الحديث، إلى حديث (650) حديث ابن عباس، قال «تضيفت خالتي ميمونة، وهي ليلتئذ حائض لا تصلي … » الحديث.

تنبيه: المراد بالقسم في العنوان، تقسيم خاص بتوزيع الرسائل العلمية على الباحثين في قسم الحديث وعلومه - كلية أصول الدين، جامعة الأزهر

المؤلف: أبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني (ت 360 هـ)

تحقيق ودراسة: محمود محمد محمد عمارة السعدني

رسالة: ماجستير، قسم الحديث وعلومه - كلية أصول الدين، جامعة الأزهر

إشراف: د أحمد محمد محمد علي سالم، د أحمد محمد صبري

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للرسالة الجامعية]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو القعدة 1442

তাবারানির আল-মু'জামুল আওসাত এর দ্বিতীয় অংশ   (তাবারানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আল-মু'জামুল আওসাত এর দ্বিতীয় অংশ

(তাহকীক ও অধ্যয়ন، হাদীসসমূহের ওপর একক বর্ণনার হুকুমগুলো বিবেচনার সাথে)

হাদীস নং (৪০১) ওয়াসিলা ইবনুল আসকা-এর হাদীস থেকে، তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কে বলতে শুনেছি «আল্লাহ - আযযা ওয়া জাল্লা - বলেছেন: আমি আমার বান্দার আমার প্রতি ধারণার নিকটবর্তী থাকি» … হাদীস শেষ পর্যন্ত، হাদীস নং (৬৫০) ইবনে আব্বাস-এর হাদীস পর্যন্ত، তিনি বলেন «আমি আমার খালা মায়মুনার মেহমান হলাম، তিনি সে রাতে ঋতুবতী ছিলেন এবং সালাত আদায় করছিলেন না … » হাদীস শেষ পর্যন্ত.

সতর্কতা: শিরোনামে ‘অংশ’ বলতে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদীস ও হাদীস বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের মাঝে বৈজ্ঞানিক থিসিস বিতরণের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ বিভাগ বুঝানো হয়েছে.

লেখক: আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ আত-তাবারানি (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরি)

তাহকীক ও অধ্যয়ন: মাহমুদ মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইমারা আস-সা'দানি

থিসিস: মাস্টার্স، হাদীস ও হাদীস বিজ্ঞান বিভাগ - উসুলুদ্দীন অনুষদ، আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়

তত্ত্বাবধানে: ড. আহমাদ মুহাম্মদ মুহাম্মদ আলী সালিম، ড. আহমাদ মুহাম্মদ সাবরি

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

[কিতাবটির সংখ্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুল ক্বাদা ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১)
القسم الثاني مِن المعجم الأوسط

للإمام أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبرانيّ رحمه الله ت 360 هـ - تحقيق ودراسة مع ملاحظة أحكامه على الأحاديث بالتَّفرد.

مِنْ حديث (401) حديث وَاثِلَة بن الأَسْقَعِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «قَالَ اللَّهُ عز وجل: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي … الحديث»، إلى حديث رقم (650) حديث ابن عَبَّاسٍ، قَالَ: «تَضَيَّفْتُ خَالَتِي مَيْمُونَةَ، وَهِيَ لَيْلَتَئِذٍ حَائِضٌ لَا تُصَلِّي … الحديث».

 

رسالة مُقَدَّمةٌ لنيل درجة التَّخصص (الماجستير)

في الحديث وعلومه

 

إعداد الباحث:

محمود محمد محمد عمارة السعدني

 

تحت إشراف

 

فضيلة الأستاذ الدكتور/ أ. د/أحمد محمد محمد علي سالم:

أستاذ الحديث ووكيل كلية الدراسات الإسلامية والعربية للبنات بالزقازيق

 

فضيلة الأستاذ الدكتور/ أ. د/أحمد محمد صبري. مدرس الحديث وعلومه بالكلية

 

الجزء الأول
আল-মু'জামুল আওসাত-এর দ্বিতীয় অংশ

ইমাম আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ আত-তাবারানী (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ৩৬০ হিজরী)-এর রচিত - একক বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদীসগুলোর ওপর তাঁর প্রদত্ত হুকুমের পর্যবেক্ষণসহ তাহকীক ও গবেষণা।

৪০১ নম্বর হাদীস থেকে: ওয়াসিলা বিন আল-আসকা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার সাথে থাকি … হাদীসের শেষ পর্যন্ত», ৬৫০ নম্বর হাদীস পর্যন্ত: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস, তিনি বলেন: «আমি আমার খালা মায়মুনার মেহমান হলাম, সে রাতে তিনি ঋতুবতী ছিলেন এবং সালাত আদায় করছিলেন না … হাদীসের শেষ পর্যন্ত»।

 

বিশেষায়িত ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জনের জন্য উপস্থাপিত থিসিস

হাদীস ও হাদীস শাস্ত্র বিষয়ে

 

গবেষক:

মাহমুদ মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আম্মারা আস-সা'দানী

 

তত্ত্বাবধানে

 

ফজিলতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর আহমাদ মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আলী সালেম:

হাদীস শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং জাকাজিক-এর নারী ইসলামিক ও অ্যারাবিক স্টাডিজ অনুষদের উপ-উপাচার্য

 

ফজিলতুশ শাইখ প্রফেসর ডক্টর আহমাদ মুহাম্মাদ সাবরি। উক্ত অনুষদের হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রের শিক্ষক

 

প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৩)
الحمد لله رب العالمين

الحمد لله بجميع محامده كلها ما علمتُ مِنْها

وما لم أعلم، على جميع نعمه كلها ما علمتُ مِنْها

وما لم أعلم، عدد خلقه كلهم ما علمتُ مِنْهم وما

لم أعلم، حمدًا يُوافي نعمه ويُكافئُ مزيده.

يا ربنا لك الحمد كما ينبغي لجلال وجهك

وعظيم سُلْطانك.
সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আমি আল্লাহর সকল প্রকার প্রশংসার দ্বারা তাঁরই প্রশংসা করছি, যার মধ্য থেকে আমি যা জানি

এবং যা আমি জানি না; তাঁর সকল নিআমতের ওপর যার মধ্য থেকে আমি যা জানি

এবং যা আমি জানি না; তাঁর সকল সৃষ্টির সংখ্যা অনুযায়ী যাদের মধ্য থেকে আমি জানি এবং যাদের

আমি জানি না; এমন এক প্রশংসা যা তাঁর নিআমতসমূহের হক আদায় করে এবং তাঁর বর্ধিত অনুগ্রহের সমতুল্য হয়।

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই প্রশংসা যেমনটি আপনার চেহারার মহিমা

এবং আপনার মহান রাজত্বের জন্য উপযুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৪)
اللهم صلِّ على سيدنا محمد، وعلى آله، وصحبه،

ومَنْ تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين.

صلاة تكون لنا طريقًا لقربه، وتأكيدًا لحبه، وبابًا … لجمعنا عليه، وهديَّة مقبولة بين يديه.

وسلِّم اللهم كذلك تسليمًا كثيرًا أبدا.

وارض اللهم عن آله، وصحبه السعدا، واكسنا يا ربنا

حلل الرضا، والطف بنا بلطفك في القضا.
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন,

এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন।

এমন এক রহমত যা আমাদের জন্য তাঁর নৈকট্য লাভের পথ হবে, তাঁর প্রতি ভালোবাসার সুনিশ্চয়তা হবে এবং তাঁর ওপর আমাদের একত্রিত হওয়ার এক দ্বার … ও তাঁর সম্মুখে এক কবুলযোগ্য উপঢৌকন হবে।

হে আল্লাহ! আপনি একইভাবে সর্বদা প্রচুর পরিমাণে শান্তি অবতীর্ণ করুন।

হে আল্লাহ! আপনি তাঁর পরিবার এবং তাঁর সৌভাগ্যবান সাথীদের ওপর সন্তুষ্ট হোন। আর হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পরিধান করিয়ে দিন

সন্তুষ্টির পোশাক এবং আপনার বিশেষ অনুগ্রহের দ্বারা আমাদের ফয়সালার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতি সদয় হোন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الإهداء

إلى نبينا وسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، وآله الطاهرين، وأصحابه الميامين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

إلى الحافظ الثِّقَة، الرَّحَّال الجَوَّال، مُحَدِّثِ الإسلام، عَلَمِ المُعَمَّرين: أبي القاسم سُلَيْمان بن أحمد الطبرانيّ.

إلى شيخيّ الكريمين المشرفين على الرسالة: أ. د/أحمد محمد سالم وأ. د/أحمد محمد صبري.

إلى كل مَنْ ساهم في تحقيق "المعجم الأوسط"، وإخراجه مِنْ عالم المخطوط إلى عالم المطبوع، وأخص بالذكر الشيخ/طارق بن عوض الله، والشيخ/عبد المحسن الحسيني، وفريق التحقيق معهما، فجزاهم الله خيرا.

إلى شيخي وأستاذي الفاضل أ. د/أحمد معبد عبد الكريم، وجميع أساتذتي بكلية أصول الدين بطنطا.

إلى والديَّ الكريمين الذين تحملا الصعاب، وزرعا لي مِنْ غَرس فؤاديهما جَنَّاتٍ لأعيش هانئًا سعيدًا، وفرشا لي مِنْ مُقْلَة عُيونهما دُرُبًا، إلى أُمي الغالية، وأبي الغالي، اللذين في رعايتهما تَقَلَّبت، وفي كنفهما ارتفعت، وبسببهما تَعَلَّمت، أسأل الله عز وجل أن يُطيل في عُمرهما على الخير والطاعة، وأن يُمتعهما بالصحة والعافية، وأن يجعل مقامهما الفردوس الأعلى، وجزاهما الله عني خير الجزاء، إنَّه ولي ذلك ومولاه.

إلى ريحانة فؤادي التي شاركتني حياتي فكانت نِعْم الشريك، ورافقتني مسيرتي فكانت نعم الرفيق، بَذَلَت لسعادتي كل ما تسطيع، وساعدتني على تحمل عناء الدراسة، وآنستني وساندتني في تقلبات أحوالي، إلى زوجتي الغالية التي كان لها أثر بارز في إنهاء هذا البحث بالكتابة والتنسيق، فجزاها الله عني خير الجزاء.

إلى مَنْ غمراني بالسعادة، وأضحكاني، قرة عيوني: مريم، ومحمد، جعلهما الله عز وجل مِنْ خُدَّام هذا الدين.

إلى أخواتي الأربعة: أُم أحمد، وأُم زينب، وأُم مريم، والصغرى حنان اللائي أفضن عليّ بالعطف والحنان، والوقت والمال، والنَّصيحة والامتنان، والتَّضرع إلى الله والابتهال أن يرزقني العون والتوفيق والجنان.

إلى كل من أسدى إلىَّ معروفًا، أو تعلمت منه شيئا، أو بذل لي نصحًا، أو مد يد العون لي، مِنْ مشايخي الفضلاء، وأساتذتي الأعزاء، وإخواني مِنْ طلبة العلم.

إلى هذا الصرح الشامخ جامعة الأزهر الشريف، من أساتذة وعلماء وقائمين على العمل الدراسي.

إليهم جميعًا أُهدي هذا العمل المتواضع، وأسأل الله عز وجل أن يجعله من العلم النافع، والعمل الصالح.

والحمد لله رب العالمين،،،

الباحث
উৎসর্গ

আমাদের নবী ও নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর বরকতময় সাহাবীগণ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের প্রতি।

বিশ্বস্ত হাফেজ, পরিব্রাজক পর্যটক, ইসলামের মুহাদ্দিস, দীর্ঘজীবীদের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব: আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানির প্রতি।

এই গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ক আমার দুই সম্মানিত শিক্ষক: অধ্যাপক ডক্টর আহমদ মুহাম্মদ সালেম এবং অধ্যাপক ডক্টর আহমদ মুহাম্মদ সাবরির প্রতি।

যারা "আল-মু'জামুল আওসাত" এর তাহকিক এবং একে পাণ্ডুলিপি থেকে মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করতে অবদান রেখেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি; বিশেষভাবে উল্লেখ করছি শাইখ তারিক ইবনে আওয়াদুল্লাহ, শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-হুসাইনি এবং তাঁদের সাথে থাকা তাহকিক দলটির নাম, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমার শিক্ষক ও গুণী উস্তাদ অধ্যাপক ডক্টর আহমদ মাবাদ আব্দুল কারিম এবং তানতা উসুলুদ্দিন অনুষদের আমার সকল শিক্ষকের প্রতি।

আমার সম্মানিত পিতা-মাতার প্রতি, যারা অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন এবং আমাকে সুখে-শান্তিতে রাখার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে জান্নাতসম পরিবেশ রোপণ করেছেন, তাঁদের চোখের মণি দিয়ে আমার পথ প্রশস্ত করেছেন। আমার প্রিয় মা এবং প্রিয় বাবার প্রতি, যাঁদের যত্নে আমি বেড়ে উঠেছি, যাঁদের আশ্রয়ে আমি উন্নত হয়েছি এবং যাঁদের কারণে আমি শিক্ষা লাভ করেছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি কল্যাণ ও আনুগত্যের ওপর তাঁদের দীর্ঘায়ু দান করেন, তাঁদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা দিয়ে ধন্য করেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁদের আবাসস্থল বানান। আল্লাহ তাঁদের আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও অধিপতি।

আমার হৃদয়ের সুবাসিত ফুল, যিনি আমার জীবনের অংশীদার হয়ে এক শ্রেষ্ঠ জীবনসঙ্গিনী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন এবং আমার পথচলার সহযাত্রী হয়ে এক শ্রেষ্ঠ বন্ধু হয়েছেন; যিনি আমার সুখের জন্য সাধ্যমতো সব করেছেন, পড়াশোনার ক্লান্তি সইতে আমাকে সাহায্য করেছেন এবং জীবনের উত্থান-পতনে আমাকে সঙ্গ ও সমর্থন দিয়েছেন। আমার প্রিয় স্ত্রীর প্রতি, যার এই গবেষণাপত্র লেখা ও বিন্যাস করে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রয়েছে; আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

যারা আমাকে সুখে ভাসিয়েছে এবং আমাকে হাসিয়েছে, আমার নয়নমণি: মারিয়াম এবং মুহাম্মদ। মহান আল্লাহ তাঁদের এই দ্বীনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন।

আমার চার বোন: উম্মে আহমদ, উম্মে যয়নাব, উম্মে মারিয়াম এবং কনিষ্ঠ বোন হানান; যারা আমার প্রতি মমতা ও ভালোবাসা বর্ষণ করেছেন, সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন, উপদেশ ও কৃতজ্ঞতা দিয়েছেন এবং আল্লাহর কাছে রোনাজারি ও প্রার্থনা করেছেন যেন তিনি আমাকে সাহায্য, তাওফিক এবং জান্নাত দান করেন।

যারা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যাদের কাছ থেকে আমি কিছু শিখেছি, যারা আমাকে উপদেশ দিয়েছেন অথবা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন; আমার সম্মানিত শাইখগণ, প্রিয় উস্তাদগণ এবং তালিবে ইলম ভাইদের প্রতি।

এই সুউচ্চ প্রতিষ্ঠান আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, এর শিক্ষক, উলামায়ে কেরাম এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি।

তাঁদের সকলের প্রতি আমি আমার এই বিনম্র কাজ উৎসর্গ করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি একে উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমল হিসেবে কবুল করেন।

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

গবেষক
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌مقدمة الرسالة
রিসালাতের ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}‌‌(1)، الحمد لله بجميع مَحَامِده كلها ما علمتُ مِنْها وما لم أعلم، على جميع نعمه كلها ما علمتُ منها وما لم أعلم، عدد خلقه كلهم ما علمتُ مِنْهُم وما لم أعلم، حَمْدًا يُوافي نعمه، ويُكافئ مزيده، يا ربنا لك الحمد كما ينبغي لجلال وجهك ولعظيم سلطانك.‌‌(2)

وأشهدُ أن لا إله إلا اللَّهُ، وحده لا شَرِيكَ له، له الملك وله الحمد يُحيي ويُميتُ، وهو على كل شيء قدير، إِقْرَارَ مَنْ لاح له الهُدَى فَعَرَفَ، وأشهد أنَّ سيدنا محمدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ مُنْتَهَى الكَرَمِ والشَّرَفِ، صَلَّى اللَّهُ وسلَّم عليه، وعلى آله وصحبه ومَنْ قَفَا أَثَرَهُمْ، ومِنْ بِحَارِ عُلُومِهِمُ اغْتَرَفَ.‌‌(3)

أمَّا بعد:

فإنَّ علم الحديث مَفْخَرةٌ مِنْ مفاخر العلوم الإسلامية، وجوهرةٌ مِنْ جواهرها النَّفيسة، فقد كان أول مَنْهجٍ عِلْمِيٍّ يُوضع في تاريخ العلوم الإنسانية لتمحيص الرِّوايات، وتدقيق الأخبار، ومعرفةِ الصحيح مِنْ الضعيف، والمقبول مِنْ المردود، بَيْنَما كان هذا الأمر غُفْلاً عند الأُمم الأُخْرَى؛ ينقلون ما هبَّ ودَبَّ مِنْ الرِّوايات والقصص والأخبار؛ دون أن يكون لديهم أي ميزانٍ أو ضابطٍ لها، حتى لو كانت تتعلَّقُ بدينهم، أو تدخل في عقائدهم؛ لذا راجت عندهم الأساطير، ودَاخَلَ مُعتقداتهم التحريفُ، وشَابت كُتُبَهم التُّرَّهاتُ والأباطيل.

فكان هذا العلم - وهو علم الحديث - مِنْ تكريم الله سبحانه وتعالى لهذه الأمة، ومِنْ تشريفه لها، وكيف لا … ؟ وقد جعلها الله عز وجل خير أمَّة أُخرجت للنَّاس!! قال الله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ}‌‌(4).

وهو إعجازٌ مِنْ الله سبحانه وتعالى في حفظ كتابه؛ لأنَّ السُّنة هي المُبَيِّنةُ للقرآن، وهي المُفَسِّرةُ له، وحفظ الشيء يكون بحفظ بيانه، قال الله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ}‌‌(5).‌‌(6)

لذلك فإنَّ الله تعالى وَفَّق للسُّنَّة حُفاظًا عارفين، وجهابذة عالمين، وصيارفة ناقدين، ينفون عنها تحريف الغالين، وانتحال المُبطلين، وتأويل الجاهلين، فتنوعوا في تصنيفها، وتفننوا في تدوينها على أنحاءٍ كثيرةٍ،

--------------------------------------------

‌‌(1) سورة "الفاتحة"، الآية رقم (2).

‌‌(2) مِمَّا حفظته مِنْ شيخنا الجليل فضيلة الشيخ/عبد السلام أبي الفضل رحمه الله، ورضي الله عنا وعنه، وأرضانا وأرضاه آمين -، وكان كثيرًا ما يُرَدِّدُها في خطبه، ودروسه - نفعنا الله بها -.

‌‌(3) مقتبسٌ مِنْ مقدمة كتاب "إتحاف المهرة" للحافظ ابن حجر (1/ 157) - بتصرف -.

‌‌(4) سورة "آل عمران"، الآية رقم (110).

‌‌(5) سورة "النحل"، الآية (44).

‌‌(6) مقتبسٌ مِنْ مقدمة كتاب "التَّفرُّد في رواية الحديث ومنهج المُحَدِّثين في قبوله" د/عبد الجَوَاد حَمَام (ص/9 - 10).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

{সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}‌‌(১), আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর সমস্ত প্রশংসার মাধ্যমে, যা আমি জানি এবং যা জানি না, তাঁর সকল নিআমতের ওপর, যা আমি জানি এবং যা জানি না, তাঁর সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা অনুযায়ী, যা আমি জানি এবং যা জানি না; এমন এক প্রশংসা যা তাঁর নিআমতগুলোর সমান হয় এবং তাঁর অনুগ্রহের আধিক্যের সমতুল্য হয়। হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, যেমনটি আপনার মহিমান্বিত সত্তার জন্য এবং আপনার সুমহান রাজত্বের জন্য উপযোগী।‌‌(২)

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান—সেই ব্যক্তির স্বীকৃতির ন্যায় যার কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ফলে সে চিনেছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি সম্মান ও মর্যাদার চরম শিখরে অবস্থানকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ও তাঁদের জ্ঞানের সমুদ্র থেকে আহরণ করেছেন, তাঁদের সবার ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।‌‌(৩)

অতঃপর:<

নিশ্চয়ই হাদীস শাস্ত্র ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের অন্যতম গৌরব এবং এর এক অমূল্য রত্ন। কেননা এটিই ছিল মানবিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে বর্ণনাসমূহকে যাচাই-বাছাই, সংবাদসমূহকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ এবং সহীহ ও যঈফ তথা গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয়র মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের জন্য প্রণীত প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। অথচ অন্যান্য জাতিসমূহের কাছে এই বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ অবহেলিত; তারা যে কোনো ধরনের বর্ণনা, কিচ্ছা ও সংবাদ গ্রহণ করে নিত, যেগুলোর জন্য তাদের কাছে কোনো মাপকাঠি বা নিয়মনীতি ছিল না—এমনকি সেই সংবাদগুলো তাদের ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট বা তাদের আকিদার অন্তর্ভুক্ত হলেও। এই কারণেই তাদের মাঝে উপকথা ও রূপকথার ব্যাপক প্রচার ঘটেছে, তাদের বিশ্বাসে বিকৃতি প্রবেশ করেছে এবং তাদের কিতাবসমূহে অসার ও মিথ্যা কথা সংমিশ্রিত হয়েছে।

সুতরাং এই হাদীস শাস্ত্র ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের প্রতি একটি সম্মান ও বিশেষ মর্যাদা। আর কেনই বা তা হবে না...? অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল একে মানুষের কল্যাণে আবির্ভূত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন!! আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের কল্যাণে বের করা হয়েছে}‌‌(৪)।

আর এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কিতাব সংরক্ষণের এক অলৌকিকতা; কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী। আর কোনো বস্তুর সংরক্ষণ তখনই পূর্ণ হয় যখন তার ব্যাখ্যা বা বিবরণকেও সংরক্ষণ করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার কাছে ‘জিকির’ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা বর্ণনা করে দেন এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে}‌‌(৫)।‌‌(৬)

এই কারণেই আল্লাহ তাআলা সুন্নাহর জন্য এমন হাফিজদের তাওফীক দিয়েছেন যারা প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ এবং যারা সূক্ষ্ম বিচারক; তারা এর থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, মিথ্যাবাদীদের অপবাদ এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। তাঁরা এই ইলমকে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এনেছেন এবং এটি সংকলনের ক্ষেত্রে নানাবিধ শৈল্পিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন,

--------------------------------------------

‌‌(১) সূরা "ফাতিহা", আয়াত নম্বর (২)।

‌‌(২) এটি আমাদের মহান শায়খ ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল সালাম আবি আল-ফাদল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তিনি আমাদের ওপর ও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং আমাদেরকে ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন - আমীন) থেকে আমার মুখস্থ করা অংশ; তিনি তাঁর খুতবা ও দরসসমূহে এটি প্রায়ই পুনরাবৃত্তি করতেন—আল্লাহ যেন আমাদের এর দ্বারা উপকৃত করেন।

‌‌(৩) হাফিয ইবনে হাজার রচিত "ইতহাফুল মাহারা" (১/১৫৭) গ্রন্থের ভূমিকা থেকে গৃহীত - পরিমার্জিত।

‌‌(৪) সূরা "আলে ইমরান", আয়াত নম্বর (১১০)।

‌‌(৫) সূরা "নাহল", আয়াত (৪৪)।

‌‌(৬) ড. আব্দুল জাওয়াদ হাম্মাম রচিত "আত-তাফাররুদু ফী রিওয়ায়াতিল হাদীস ওয়া মানহাজুল মুহাদ্দিসীনা ফী কবুলিহি" (পৃষ্ঠা ৯-১০) গ্রন্থের ভূমিকা থেকে সংকলিত।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৮)
وضروبٍ عديدةٍ، حرصًا على حفظها، وخوفًا من إضاعتها.‌‌(1)

وقَيَّض الله عز وجل للسُّنِّة الشريفة أئمةً كبارًا، وجهابذة نُقَّادًا، ورجالًا أفذاذاً، سَخَّروا حياتهم لها، وبذلوا حياتهم بل وبذلوا كُلَّ ما لديهم مِنْ غالٍ ونفيسٍ خدمة لها، حتى مَيَّزوا لنا صحيح الحديث مِنْ سقيمه، ونقدوا لنا الإسناد والمتن بتمحيصٍ شديدٍ، وتوثيقٍ بالغٍ لا مثيل له على مرّ العصور والدهور.

ولقد اعتنى المُحَدِّثون بشتى أنواع علوم الحديث المختلفة التي تخدم حديث النَّبيّ صلى الله عليه وسلم.

وكان مِنْ أهم أنواع علوم الحديث التي اعتنى بها صيارفة الحديث ونُقَّاده أشد عناية واهتمام:

علم الغرائب والأفراد؛ لكون الإكثار مِنْ التَّفرد والإغراب، ورواية ما لا يعرفون - خاصة عند المخالفة، وشدة النكارة في المروي - سبباً مِنْ أسباب جرح الراوي، وضعفه، وأدعى إلى عدم قبوله ورده.

ولكون معرفة الأفراد والغرائب من أهم وسائل الكشف عن العلة كما قال ابن الصلاح: ويُسْتَعانُ على إدراكِها - أي العلة - بتَفَرُّدِ الراوي، وبمخالفةِ غيرِهِ لهُ، مَعَ قرائنَ تَنْضَمُّ إلى ذلك.‌‌(2)

ولدقة هذه المسألة وحساسيتها، وتداخلها مع أهم علوم الحديث، كعلم الجرح والتعديل، وعلل الحديث، ولكثرة الأنواع المتفرعة عنها، والمتصلة بها اتصالاً وثيقًا؛ كالشاذ، والمُنْكر، وزيادة الثقة، وغيرها.‌‌(3)

لذا تكلَّموا عليه في شتى كتب الحديث وعلومه: كَكُتُبِ المتون‌‌(4)،

والمصطلح‌‌(5)، وكُتُبِ تراجم الرِّجال،

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "تهذيب الكمال في أسماء الرجال" للإمام أبي الحجَّاج يوسف المزيّ (1/ 147).

‌‌(2) يُنظر: "معرفة علوم الحديث" لابن الصلاح (ص/187).

‌‌(3) يُنظر: "التَّفرُّد في رواية الحديث ومنهج المُحدِّثين في قبوله" (ص/195).

‌‌(4) يُنظر: "الزهد" لابن المبارك حديث رقم (948 و 949). "صحيح البخاري" ك/الطلاق، ب/الخُلْعِ وَكَيْفَ الطَّلَاقُ فِيهِ برقم (5273)، حيث أورد حديثًا لعكرمة عن ابن عبَّاس رضي الله عنهما، ثُمَّ قال: لا يُتَابَعُ فيه عن ابن عَبَّاسٍ؛ أي: لا يتابع أزهر بن جميل - شيخ البخاري في الحديث - على ذكر ابن عباس رضي الله عنهما في هذا الحديث. "السنن" لابن ماجه حديث رقم (2143 و 2162)، "السنن" لأبي داود حديث رقم (50 و 155 و 333 و 1120 و 2254 و 2348 و 2868 و 4476)، "السنن" للترمذي، وأكثر فيه الترمذي مِنْ ذكر غرائب وأفراد الرواة في هذا الكتاب، منها على سبيل المثال: حديث رقم (7 و 21 و 40 و 43 و 57 و 73 و 106 و 127 و 210 و 211 و 268 و 269 و 294 و 334 و 349 و 411 وغير ذلك كثير)، "السنن الكبرى" للنَّسائي حديث رقم (1639 و 4160 و 11589 وغيرها)، "صحيح ابن خزيمة" حديث رقم (14 و 177 و 229 و 305 و 573 وغيرها)، "شرح مُشْكِل الآثار" للطحاوي حديث رقم (418 و 572)، "المسند" لأبي سعيد الشاشي حديث رقم (215)، "صحيح ابن حبَّان" حديث رقم (الإحسان/174 و 175 و 378 و 1406 و 1479 و 1508 و 1786 و 1953 وغير ذلك كثير)، وقد اهتم ابن حبَّان رضي الله عنه في "صحيحه" بنفي التَّفرد عن بعض الأحاديث التي وصفها البعض بالتَّفرد في إحدى طبقات إسنادها، فكثيرًا ما يقول: ذِكْرُ الخَبَرِ المُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ هذا الخَبَرَ تَفَرَّدَ بِهِ فلان عن فلان، والمواضع في ذلك تزيد عن مائة موضع مِنْ الكتاب، مِنْها على سبيل المثال: (الإحسان/130 و 167 و 255 وغيرها) .. "رؤية الله" للدَّارقُطني حديث رقم (59 و 233)، "السنن" للدَّارقُطني حديث رقم (125 و 173 و 179 و 194 و 244، وغير ذلك كثير)، "المُسْتدرَك على الصحيحين" حديث رقم (94 و 166 و 418 و 639 و 645 وغيرها)، "حلية الأولياء" لأبي نُعيم ويُعتبر مِنْ مظان الأفراد مِنْ الأحاديث، والمُقَلِّب لصفحاته يقف على مِئات المواضع الدَّالة على ذلك، مِنْها على سبيل المثال: (1/ 168 و 1/ 226 و 1/ 227 و 1/ 315 و 1/ 315، وغيرها كثير)، "السنن الكبرى" للبيهقي حديث رقم (131 و 177 و 207 و 249 و 827، وغيرها كثير)، "معجم ابن عساكر" حديث رقم (42 و 67 و 146 و 162 و 258، وغيرها)، وغير ذلك مِنْ كتب المتون، والله أعلم.

‌‌(5) وفي كتب المصطلح افردوه بعناوين مُسْتَقِلَّة، واعتنوا به أشد عناية، وتكلَّموا عنه ضمن بقية علوم الحديث المتداخلة معه، والمترابطة به كالشاذ، والمنكر، ونحوهما، كما سيأتي بيانه والإشارة إليه في الفصل الثالث مِنْ القسم الأول في هذه الدَّراسة.
এবং বিভিন্ন প্রকারের (পদ্ধতি), তা সংরক্ষণের আকাঙ্ক্ষায় এবং তা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে।‌‌(১)

মহান আল্লাহ সুন্নাহর জন্য বড় বড় ইমাম, সুদক্ষ সমালোচক এবং অনন্য ব্যক্তিবর্গকে নির্ধারণ করেছেন, যারা এর জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং এর সেবায় নিজেদের মূল্যবান ও প্রিয় সবকিছু ব্যয় করেছেন। এমনকি তারা আমাদের জন্য সহীহ হাদীসকে দুর্বল হাদীস থেকে পৃথক করেছেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও নজিরবিহীন নির্ভরযোগ্যতার সাথে আমাদের জন্য হাদীসের সনদ ও মতন (মূল পাঠ) সমালোচনা করেছেন, যা যুগ যুগ ধরে অতুলনীয়।

মুহাদ্দিসগণ উলূমুল হাদীসের বিভিন্ন শাখা নিয়ে যত্নবান ছিলেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সেবা করে।

হাদীস বিশারদ ও সমালোচকদের অত্যন্ত যত্ন ও গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা উলূমুল হাদীসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল:

আল-গরাইব ওয়াল আফরাদ বিদ্যা (অপরিচিত ও একক বর্ণনা বিষয়ক জ্ঞান); কেননা একক বর্ণনা ও অপরিচিত বর্ণনার আধিক্য এবং যা অজানা তা বর্ণনা করা—বিশেষ করে বিরোধিতার ক্ষেত্রে এবং বর্ণিত বিষয়ে চরম আপত্তিকর অবস্থার উপস্থিতিতে—এটি রাবীর দোষারোপ (জারহ), তার দুর্বলতা এবং তার বর্ণনা গ্রহণ না করা ও তা প্রত্যাখ্যানের অন্যতম কারণ।

এছাড়া একক ও অপরিচিত বর্ণনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) উদঘাটনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। যেমন ইবনুস সালাহ বলেছেন: "এটি (অর্থাৎ ইল্লাত) অনুধাবনের ক্ষেত্রে রাবীর একক বর্ণনা এবং তার বিপরীতে অন্যদের বর্ণনা করার সাহায্য নেওয়া হয়, সাথে আরও কিছু আনুষঙ্গিক নিদর্শন যুক্ত থাকে।"‌‌(২)

এই মাসআলার সূক্ষ্মতা ও সংবেদনশীলতা এবং উলূমুল হাদীসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সাথে এর সম্পৃক্ততা যেমন জারহ ওয়া তা'দীল, ইলালুল হাদীস এবং এর থেকে উদ্ভূত ও নিবিড়ভাবে যুক্ত বহু প্রকারের হাদীসের কারণে; যেমন শায, মুনকার, যিয়াদাতুত সিকাহ (নির্ভরযোগ্য রাবীর অতিরিক্ত বর্ণনা) ও অন্যান্য।‌‌(৩)

তাই তাঁরা হাদীস ও উলূমুল হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন: যেমন মতনের গ্রন্থসমূহ,‌‌(৪)

মুসতালাহ (হাদীসশাস্ত্রের পরিভাষা),‌‌(৫) এবং রিজালশাস্ত্রের (রাবীদের জীবনী) গ্রন্থসমূহ,

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: ইমাম আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিজ্জি বিরচিত "তাহযীবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল" (১/১৪৭)।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: ইবনুস সালাহ বিরচিত "মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস" (পৃ. ১৮৭)।

‌‌(৩) দ্রষ্টব্য: "আত-তাফাররুদ ফি রিওয়ায়াতিল হাদীস ওয়া মানহাজুল মুহাদ্দিসীনা ফি কবুলিহি" (পৃ. ১৯৫)।

‌‌(৪) দ্রষ্টব্য: ইবনুল মুবারকের "আয-যুহদ" হাদীস নং (৯৪৮ ও ৯৪৯)। "সহীহ বুখারী", কিতাবুত তালাক, অধ্যায়: খুল এবং তাতে তালাকের পদ্ধতি, হাদীস নং (৫২৭৩), যেখানে তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে ইকরিমার একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: ইবনে আব্বাস থেকে এই বর্ণনায় কেউ তার অনুসরণ করেনি; অর্থাৎ এই হাদীসে ইবনে আব্বাসের বর্ণনার ক্ষেত্রে বুখারীর উস্তাদ আযহার ইবনে জামীল অনুসৃত হননি। ইবনে মাজাহর "আস-সুনান" হাদীস নং (২১৪৩ ও ২১৬২), আবু দাউদের "আস-সুনান" হাদীস নং (৫০, ১৫৫, ৩৩৩, ১১২০, ২২৫৪, ২৩৪৮, ২৮৬৮ ও ৪৪৭৬), তিরমিযীর "আস-সুনান", আর ইমাম তিরমিযী এই গ্রন্থে রাবীদের অপরিচিত ও একক বর্ণনা প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করেছেন, উদাহরণস্বরূপ: হাদীস নং (৭, ২১, ৪০, ৪৩, ৫৭, ৭৩, ১০৬, ১২৭, ২১০, ২১১, ২৬৮, ২৬৯, ২৯৪, ৩৩৪, ৩৪৯, ৪১১ এবং আরও অনেক)। নাসায়ীর "আস-সুনানুল কুবরা" হাদীস নং (১৬৩৯, ৪১৬০, ১১৫৮৯ ও অন্যান্য)। "সহীহ ইবনে খুযাইমা" হাদীস নং (১৪, ১৭৭, ২২৯, ৩০৫, ৫৭৩ ও অন্যান্য)। তাহাবীর "শারহু মুশকিলিল আসার" হাদীস নং (৪১৮ ও ৫৭২)। আবু সাঈদ আশ-শাশীর "আল-মুসনাদ" হাদীস নং (২১৫)। "সহীহ ইবনে হিব্বান" হাদীস নং (আল-ইহসান/১৭৪, ১৭৫, ৩৭৮, ১৪০৬, ১৪৭৯, ১৫০৮, ১৭৮৬, ১৯৫৩ এবং আরও অনেক)। ইবনে হিব্বান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে এমন কিছু হাদীস থেকে একক বর্ণনার দাবি খণ্ডন করতে গুরুত্ব দিয়েছেন যেগুলোকে কেউ কেউ সনদের কোনো এক স্তরে একক বর্ণনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রায়শই বলেন: "সেই ব্যক্তির উক্তি খণ্ডনকারী সংবাদ উল্লেখ করা যিনি মনে করেন যে এই খবরটি অমুক থেকে অমুক বর্ণনায় একক।" এ জাতীয় স্থান এই গ্রন্থে একশ'রও বেশি রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ: (আল-ইহসান/১৩০, ১৬৭, ২৫৫ ও অন্যান্য)। আদ-দারাকুতনীর "রু'ইয়াতুল্লাহ" (আল্লাহর দর্শন) হাদীস নং (৫৯ ও ২৩৩)। আদ-দারাকুতনীর "আস-সুনান" হাদীস নং (১২৫, ১৭৩, ১৭৯, ১৯৪, ২৪৪ এবং আরও অনেক)। "আল-মুসতাদরাক আলাস সহীহাঈন" হাদীস নং (৯৪, ১৬৬, ৪১৮, ৬৩৯, ৬৪৫ ও অন্যান্য)। আবু নুয়াইমের "হিলয়াতুল আউলিয়া", যাকে একক হাদীস বর্ণনার অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়; এর পৃষ্ঠাগুলো উল্টালে শত শত এমন স্থান পাওয়া যাবে যা এর প্রমাণ দেয়, উদাহরণস্বরূপ: (১/১৬৮, ১/২২৬, ১/২২৭, ১/৩১৫, ১/৩১৫ এবং আরও অনেক)। বায়হাকীর "আস-সুনানুল কুবরা" হাদীস নং (১৩১, ১৭৭, ২০৭, ২৪৯, ৮২৭ এবং আরও অনেক)। "মু'জাম ইবনে আসাকির" হাদীস নং (৪২, ৬৭, ১৪৬, ১৬২, ২৫৮ ও অন্যান্য), এবং মতনের অন্যান্য গ্রন্থ থেকে। আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌(৫) এবং মুসতালাহ এর গ্রন্থসমূহে তাঁরা একে স্বতন্ত্র শিরোনামে স্থান দিয়েছেন এবং এর প্রতি সর্বোচ্চ যত্ন নিয়েছেন। তাঁরা একে উলূমুল হাদীসের অন্যান্য বিষয় যা এর সাথে সংমিশ্রিত ও সম্পর্কিত—যেমন শায, মুনকার ও অনুরূপ—সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনা করেছেন, যেমনটি এই গবেষণার প্রথম অংশের তৃতীয় অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা ও ইঙ্গিত দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ৯)
والتواريخ والبلدان‌‌(1)،

وكُتُبِ العلل‌‌(2)، وغيرها مِنْ المؤلَّفات؛ فنراهم يُوردون عقب الروايات مَنْ تَفَرَّد بها مِنْ الرواة، ويُوردون في تراجم الرِّجال ما تَفَرَّدوا به مِنْ الغرائب والمناكير.

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "التاريخ الكبير" للبخاري (1/ 110 و 138 و 179 و 230 و 357 وغيرها كثير)، ويَسْتَعْمِلُ ذلك بقول: لا يُتابع عليه. "الجرح والتعديل" (3/ 570)، "التاريخ" لابن يونس (1/ 353 و 1/ 445 و 1/ 493)، "المجروحين" لابن حبَّان (1/ 112 و 116 و 216)، "الكامل في ضعفاء الرجال" لابن عدي، وهذا الكتاب أصل في غرائب الرواة وأفرادهم، وهو أمر واضح لمن تَصَفَّحه، مِنْ ذلك على سبيل المثال: (1/ 101 و 104 و 112 و 379 و 507 وغير ذلك الكثير)، وتنوَّعت عبارات ابن عدي في ذلك، فأحياناً يقول: تَفَرَّد به فلان، وأحيانًا: غريب مِنْ حديث فلان، وأحيانًا: لم يروه عن فلان إلا فلان، وأحيانًا: لا يُتابع على حديثه، وعامة ما يرويه لا يُتابع عليه، ونحو ذلك. "طبقات المُحدِّثين بأصبهان" لأبي الشيخ، قال في مقدمته (1/ 147): "هذا كتاب "طَبَقَاتِ أَسْمَاءِ الْمُحَدِّثِينَ مِمَّنْ قَدِمَ أَصْبَهَانَ" مِنَ الصَّحَابَةِ والتَّابِعِينَ وَمَنْ كان بها وَقْتَ فَتْحِهَا إلى زَمَانِنَا هذا، مع ذِكْرِ كُلِّ مَنْ تَفَرَّدَ به وَاحِدٌ مِنْهُمْ بذلك الحديث ولم يَرْوِهِ غيره بذلك الإسنادِ .... الخ"، وهذا ظاهر في بعض المواضع في كتابه، فإنَّه أحيانًا يذكر ترجمة الراوي، ويقول: ومِمَّا تَفَرَّد به ما حدَّثنا، ويشرع في ذكر الحديث، يُنظر على سبيل المثال: (2/ 17 و 52 و 68 و 143 و 3/ 88 وغيرها)، "معرفة الصحابة" لابن مندة وفيه الكثير مِنْ ذلك، أذكر على سبيل المثال: (ص/194 و 209 و 309 و 313 و 320 وغيرها)، "معرفة الصحابة" لأبي نُعيم، وهو يشتمل على مواضع كثيرة، مِنْها على سبيل المثال: حديث برقم (33 و 282 و 285 و 286 و 354 وغيرها). "تاريخ بغداد" (2/ 471 و 536 و 3/ 120 و 225 و 330 وغيرها)، وأكثر مِنْ النقل عن الأئمة السابقين، خاصة الطبراني، والدَّارقُطني. "تاريخ دمشق" لابن عساكر (4/ 169 و 24/ 225 و 36/ 382 وغيرها)، وأكثر كذلك مِنْ النَّقل عن الأئمة السابقين، خاصة الطبراني والدَّارقُطني، وغيرهما. وأكثر المزيُّ في "تهذيب الكمال" بنقل أحكام الأئمة السابقين كالبخاري، والترمذي، وابن عدي، والعُقَيْليّ، وغيرهم على الأحاديث بالتَّفرد، أو على الرواة بالإكثار مِنْ الأغراب والأفراد، مِنْ ذلك على سبيل المثال: (2/ 22 و 107 و 3/ 240 و 503 و 4/ 157 وغيرها)، وأخرج حديثًا مِنْ طريق الطبراني، ونقل عقبه قول الطبراني: لم يَرْوِهِ عن ثَابِتٍ إلا محمد بن سالم البَصْرِيّ، تفرد ابنُ الطَّبَّاعِ، ثُمَّ أورده عند الترمذي مِنْ طريق آخر عن محمد بن سالم، ثُمَّ تَعَقَّب الطبراني، فقال: وفِيهِ اسْتِدَرَاكٌ عَلَى الطَّبَرَانِيِّ فِي قَوْلِهِ: تَفَرَّدَ بِهِ ابْنُ الطَّبَّاعِ. "التهذيب" (25/ 243 - 244). وفي موضع آخر (26/ 97) ذكر حديثًا وعزاه إلى البخاريّ، ثُمَّ قال: وهُوَ مِنْ غَرَائِبِ الصَّحِيحِ، مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ شَرِيك بْنُ عَبد الله بْن أبي نمر، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرة، وتَفَرَّدَ بِهِ خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ سُلَيْمان بْنِ بِلالٍ، عَنْ شَرِيك، واللَّهُ أَعْلَمُ. واهتم بهذا الأمر أيضًا الذهبي في كتبه، فأحيانًا يحكم بنفسه بالغرابة والتَّفرُّد مِنْ ذلك على سبيل المثال: "تاريخ الإسلام" (1/ 372 و 429 و 516 و 613)، "سير أعلام النبلاء" (1/ 128 و 2/ 164 و 3/ 252 و 8/ 527 و 9/ 510)، "ديوان الضعفاء" (1/ 276)، "ميزان الاعتدال" (1/ 43 و 63 و 213 وغيرها)، وأمَّا نقله عن الأئمة السابقين فهذا أشهر مِنْ أن يُذكر له مثال، فقد أكثر مِنْ ذلك في عامة كتبه. وأكثر كذلك الحافظ ابن حجر في عامة كتبه في الرجال مِنْ نقل الأقوال الأئمة في ذلك، وحكم بنفسه كذلك بالتَّفرد: "تهذيب التهذيب" (2/ 235)، والله أعلم.

‌‌(2) يُنظر: "العلل الكبير" للترمذي (ص/211 و 216 و 360). "علل الحديث في صحيح مسلم" للشهيد الهروي حديث رقم (13 و 15). "العلل" للدَّارقُطني (1/ 162 و 174 و 220 و 233 و 2/ 40 و 55 و 3/ 58 و 171 و 4/ 22 و 67 وغيرها كثير).
এবং ইতিহাস ও দেশ-দেশান্তর বিষয়ক গ্রন্থসমূহ‌‌(১),

এবং ‘ইল্লাল’ (হাদিসের সূক্ষ্ম দোষ-ত্রুটি) বিষয়ক কিতাবসমূহ‌‌(২) ও অন্যান্য রচনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; আমরা দেখি যে, তারা বর্ণনাগুলোর পরপরই সেই বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেন যারা তা বর্ণনায় একক ছিলেন। আবার বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্তের আলোচনায় তারা তাদের এমন একক বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেন যা অদ্ভুত ও প্রত্যাখ্যাত হিসেবে গণ্য।

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: বুখারীর "আত-তারিখুল কাবীর" (১/১১০, ১৩৮, ১৭৯, ২৩০, ৩৫৭ এবং আরও অনেক স্থান); তিনি এটি বোঝাতে এই পরিভাষা ব্যবহার করেন যে: "এ ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করা হয়নি"। "আল-জারহ ওয়াত তাদীল" (৩/৫৭০), ইবনে ইউনুসের "আত-তারিখ" (১/৩৫৩, ১/৪৪৫, ১/৪৯৩), ইবনে হিব্বানের "আল-মাজরুহীন" (১/১১২, ১১৬, ২১৬), ইবনে আদীর "আল-কামিল ফি দুয়াফাউর রিজাল"; এই কিতাবটি বর্ণনাকারীদের অদ্ভুত ও একক বর্ণনাসমূহের ক্ষেত্রে একটি মূল উৎস, যা এই কিতাবটি পাঠ করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ: (১/১০১, ১০৪, ১১২, ৩৭৯, ৫০৭ এবং আরও অনেক)। ইবনে আদী এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেছেন, কখনও তিনি বলেন: "অমুক এটি বর্ণনায় একক", কখনও বলেন: "এটি অমুকের হাদিসের অন্তর্ভুক্ত একটি অদ্ভুত বর্ণনা", কখনও বলেন: "এটি অমুক থেকে অমুক ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেনি", আবার কখনও বলেন: "তার হাদিসের ব্যাপারে কাউকে অনুসরণ করা হয়নি" অথবা "সাধারণত তিনি যা বর্ণনা করেন সে ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করা হয় না" ইত্যাদি। আবুশ শায়খ তার "তবকাতুল মুহাদ্দিসীন বি-আসবাহান" গ্রন্থের ভূমিকায় (১/১৪৭) বলেন: "এটি আসবাহানে আগত সাহাবী, তাবীঈ এবং আমাদের সময় পর্যন্ত সেখানে অবস্থানকারী মুহাদ্দিসদের নামের তবকাত বা স্তরবিন্যাস বিষয়ক গ্রন্থ; যেখানে তাদের প্রত্যেকের এমন সব হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে যা বর্ণনায় তাদের কেউ একজন একক ছিলেন এবং সেই সনদ অনুযায়ী অন্য কেউ তা বর্ণনা করেনি... ইত্যাদি।" তার কিতাবের কিছু স্থানে এটি সুস্পষ্ট, কেননা তিনি কখনও কখনও বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করে বলেন: "তিনি যা বর্ণনায় একক ছিলেন তার মধ্যে রয়েছে যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন..." এরপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করতে শুরু করেন; উদাহরণস্বরূপ দেখুন: (২/১৭, ৫২, ৬৮, ১৪৩, ৩/৮৮ ইত্যাদি)। ইবনে মানদাহ-এর "মা’রিফাতুস সাহাবা" গ্রন্থেও এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ: (পৃষ্ঠা ১৯৪, ২০৯, ৩০৯, ৩১৩, ৩২০ ইত্যাদি)। আবু নুয়াইমের "মা’রিফাতুস সাহাবা" গ্রন্থেও এমন অনেক স্থান রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ: হাদিস নম্বর ৩৩, ২৮২, ২৮৫, ২৮৬, ৩৫৪ ইত্যাদি। "তারিখে বাগদাদ" (২/৪৭১, ৫৩৬, ৩/১২০, ২২৫, ৩৩০ ইত্যাদি); তিনি পূর্ববর্তী ইমামদের থেকে, বিশেষ করে তাবারানী ও দারা কুতনী থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ইবনে আসাকিরের "তারিখে দিমাশক" (৪/১৬৯, ২৪/২২৫, ৩৬/৩৮২ ইত্যাদি); তিনিও তাবারানী ও দারা কুতনীসহ পূর্ববর্তী ইমামদের থেকে অধিক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। আল-মিযযী তার "তাহযীবুল কামাল" গ্রন্থে বুখারী, তিরমিযী, ইবনে আদী, উকাইলী প্রমুখ ইমামদের পক্ষ থেকে কোনো হাদিস একক হওয়ার অথবা কোনো বর্ণনাকারী অধিক পরিমাণ অদ্ভুত ও একক হাদিস বর্ণনা করার ব্যাপারে যে হুকুম দিয়েছেন তা প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃত করেছেন; উদাহরণস্বরূপ: (২/২২, ১০৭, ৩/২৪০, ৫০৩, ৪/১৫৭ ইত্যাদি)। তিনি তাবারানীর সূত্র ধরে একটি হাদিস উল্লেখ করে তার পরপরই তাবারানীর উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে: "ছাবিত থেকে এটি মুহাম্মদ ইবনে সালিম আল-বসরী ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেনি, ইবনুত তাব্বা’ এটি বর্ণনায় একক।" এরপর তিনি তিরমিযীর বরাতে মুহাম্মদ ইবনে সালিম থেকে অন্য সূত্রে হাদিসটি উল্লেখ করে তাবারানীর উক্তির সংশোধন করে বলেন: "তাবারানীর উক্তি—ইবনুত তাব্বা’ এটি বর্ণনায় একক—এর উপর এখানে আপত্তি রয়েছে।" দেখুন: "আত-তাহযীব" (২৫/২৪৩-২৪৪)। অন্য এক স্থানে (২৬/৯৭) তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করে তা বুখারীর দিকে নেসবত করেছেন এবং বলেছেন: "এটি সহিহ গ্রন্থের অদ্ভুত বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি নামির, আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং আবু হুরায়রা থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন; আর খালিদ ইবনে মাখলাদ এটি সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে এবং তিনি শারীক থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।" হাফেজ যাহাবীও তার কিতাবসমূহে এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, কখনও তিনি নিজেই অদ্ভুত হওয়া বা একক হওয়ার হুকুম দিয়েছেন; উদাহরণস্বরূপ: "তারিখুল ইসলাম" (১/৩৭২, ৪২৯, ৫১৬, ৬১৩), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১/১২৮, ২/১৬৪, ৩/২৫২, ৮/৫২৭, ৯/৫১০), "দিওয়ানুয দুয়াফা" (১/২৭৬), "মিযানুল ইতিদাল" (১/৪৩, ৬৩, ২১৩ ইত্যাদি)। আর পূর্ববর্তী ইমামদের থেকে তার উদ্ধৃতি প্রদানের বিষয়টি এতই প্রসিদ্ধ যে তার উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ তিনি তার প্রায় সব কিতাবেই তা প্রচুর পরিমাণে করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজারও বর্ণনাকারীদের বিষয়ক তার সাধারণ কিতাবগুলোতে ইমামদের এই সংক্রান্ত উক্তিগুলো প্রচুর উদ্ধৃত করেছেন এবং নিজেও একক হওয়ার হুকুম দিয়েছেন: "তাহযীবুত তাহযীব" (২/২৩৫)। আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: তিরমিযীর "আল-ইলাল আল-কাবীর" (পৃষ্ঠা ২১১, ২১৬, ৩৬০)। শহীদ আল-হারাওয়ীর "ইলালুল হাদিস ফি সহিহ মুসলিম", হাদিস নম্বর ১৩ ও ১৫। দারা কুতনীর "আল-ইলাল" (১/১৬২, ১৭৪, ২২০, ২৩৩, ২/৪০, ৫৫, ৩/৫৮, ১৭১, ৪/২২, ৬৭ এবং আরও অনেক)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১০)
بل وأفردوا لهذا العلم كذلك الكُتُب والمُصَنَّفات، مِنْها على سبيل المثال:

- "التَّفرُّد" للإمام أبي داود - صاحب "السنن" -، وهو: ما تَفَرَّد به أهل الأمصار مِنْ السنن.

- و"المفاريد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم " لأبي يعلى أحمد بن عليّ بن المُثَنَّى الموصليّ.

- و"المسند" للإمام أبي بكر أحمد بن عَمرو - المعروف بالبَزَّار -.

- و"المعجم الأوسط"، و"المعجم الصغير" وكلاهما للإمام أبي القاسم سُليمان بن أحمد الطبراني.

- و"الجزء الخامس مِنْ الأفراد" للإمام أبي حفص عُمر بن أحمد - المعروف بابن شاهين -.

- و"الأفراد" للإمام أبي الحسن علي بن عُمر الدَّارقُطني.

- و"أطراف الغرائب والأفراد" للإمام أبي الفضل محمد بن طاهر المقدسي، المعروف بابن القيسراني.‌‌(1)

ومِنْ أهم هذه الكتب، وأكثرها شهرة، كتاب "المعجم الأوسط" للإمام الطبراني - قيد بحثي ودراِستي -.

 

‌‌أسباب اختياري للموضوع:

وبعد انتهائي مِنْ مرحلة الدراسات العليا بقسم الحديث وعلومه - بكلية أصول الدين، جامعة الأزهر الشريف -، وأثناء تَقَدُّمي لإعداد بحثٍ - لنيل درجة التخصص (الماجستير) -، وجدت أنَّ هناك عِدَّة دوافع وأسباب، دفعتني بقوة للتسجيل في خدمة جُزءٍ مِنْ هذا الكتاب بالتحقيق والدِّراسة، وهي كالآتي:

1) التقرب إلى الله تعالى بخدمة السنة المشرفة عمومًا، وبخدمة هذا السفر الجليل خصوصًا.

2) مكانة هذا الكتاب وعلو كعب مُؤلِّفِه؛ فمُؤلِّفُه إمامٌ عَلَمٌ وناقدٌ خبيرٌ، عَمَّر قرنًا مِنْ الزمان، واتسعت رحلته حتى شارك بعض شيوخه في مشايخهم، وأتى من الروايات الغريبة والأفراد والفوائد بما لم يأت بها غيره، فأجهد من جاء بعده، وأتعب كل من أراد تحقيق كتاب من مصنفاته، فرحمه الله رحمة واسعة.

3) أهمية الكتاب، وعظيم نفعه: فموضوع الكتاب يَتَمَثَّلُ في جمع الأحاديث الغرائب والفوائد، والتَّنصيص على غرابتها، وموضع التَّفرُّد أو المخالفة فيها، فالكتاب يُعَدُّ مصدراً أساسيًا لعلل الحديث.

قال الإمام الذهبي: يأتي فيه عن كل شيخ بما له من الغرائب والعجائب، بيَّن فيه فَضِيلَتَه، وَسَعَةَ رِوَايَتِهِ، وكان يقول: هَذَا الكِتَابُ رُوحِي، فإنَّه تَعِبَ عليه، وفيه: كُلُّ نَفِيسٍ وَعَزِيزٍ وَمُنْكَرٍ.‌‌(2)

4) كون الإمام الطبراني حكم على جُلِّ أحاديث الكتاب بالتَّفرد، فأردت أن أُسهم في هذا المضمار، ببيان موقفي مِنْ ذلك بعد الدِّراسة بالموافقة أو المخالفة أو الجمع، بناءً على قواعد أهل هذا الفن.

5) شدة حاجة أهل العلم والمشتغلين بهذا الفن إلى هذا الكتاب؛ فعلى الرغم من أهميته، وتقدم مُؤَلِّفه، إلا أنَّه لم يُخدم الخدمة التي تليق به.

6) رغبتي في اكتساب الملكة والخبرة في مجال تحقيق المخطوطات، كمقابلتها بأصولها الخطية، ولا يُتِمُّ هذا للباحث إلا بالخوض في أغمار هذا العلم الشريف.

--------------------------------------------

‌‌(1) وسيأتي - بإذن الله عز وجل الإشارة إليها بشيء مِنْ التفصيل، وذلك في الفصل الثالث مِنْ القسم الأول مِنْ هذه الرسالة.

‌‌(2) يُنظر: "تذكرة الحفاظ" (3/ 85).
বস্তুত, তাঁরা এই শাস্ত্রের জন্য পৃথক গ্রন্থ ও সংকলনও রচনা করেছেন, উদাহরণস্বরূপ:

- ইমাম আবু দাউদ - 'আস-সুনান'-এর রচয়িতা - এর 'আত-তাফাররুদ', এটি হলো: বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীরা যেসব সুনান এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

- আবু ইয়ালা আহমদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না আল-মাওসিলী রচিত 'আল-মুফারিদ আন রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'।

- ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনে আমর - যিনি আল-বাযযার নামে পরিচিত - এর 'আল-মুসনাদ'।

- 'আল-মু'জাম আল-আওসাত' এবং 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'; উভয়টি ইমাম আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানির রচনা।

- ইমাম আবু حفص উমর ইবনে আহমদ - যিনি ইবনে শাহীন নামে পরিচিত - এর 'আল-জুযউল খামিস মিনাল আফরাদ'।

- ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারা কুতনীর 'আল-আফরাদ'।

- ইমাম আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি - যিনি ইবনে আল-কায়সারানি নামে পরিচিত - এর 'আতরাফুল গরাইব ওয়াল আফরাদ'।‌‌(১)

এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রসিদ্ধ হলো ইমাম তাবারানির 'আল-মু'জাম আল-আওসাত' গ্রন্থটি, যা আমার গবেষণা ও পর্যালোচনার বিষয়।

 

‌‌বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদিস ও এর উলুম (হাদিস শাস্ত্র) বিভাগ থেকে উচ্চতর শিক্ষা শেষ করার পর, যখন আমি একটি গবেষণা প্রস্তাব - মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য - পেশ করছিলাম, তখন দেখলাম যে এমন কিছু প্রেষণা ও কারণ রয়েছে যা আমাকে এই গ্রন্থের একটি অংশের তাহকীক ও পর্যালোচনার কাজে যুক্ত হতে প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। সেগুলো নিম্নরূপ:

১) সাধারণভাবে সুন্নাহর সেবা এবং বিশেষভাবে এই মহান গ্রন্থের সেবার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা।

২) এই গ্রন্থের মর্যাদা এবং এর লেখকের সুউচ্চ অবস্থান; কারণ এর লেখক একজন প্রখ্যাত ইমাম এবং অভিজ্ঞ সমালোচক। তিনি এক শতাব্দীকাল বেঁচে ছিলেন এবং তাঁর সফর এত দীর্ঘ ছিল যে তিনি তাঁর কিছু উস্তাদের উস্তাদদের সাথেও হাদিস শ্রবণে শরিক হয়েছেন। তিনি এমন সব দুর্লভ (গরাইব), একক (আফরাদ) এবং মূল্যবান (ফাওয়ায়িদ) বর্ণনা নিয়ে এসেছেন যা অন্য কেউ আনতে পারেননি। তিনি তাঁর পরবর্তী প্রজন্মকে ক্লান্ত করে দিয়েছেন এবং তাঁর কোনো গ্রন্থ তাহকীক করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করেছেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি অবারিত রহমত বর্ষণ করুন।

৩) গ্রন্থের গুরুত্ব এবং এর বিশাল উপকারিতা: এই গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য হলো দুর্লভ (গরাইব) এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত (ফাওয়ায়িদ) হাদিসসমূহ সংগ্রহ করা, সেগুলোর দুর্লভতা স্পষ্ট করা এবং সেখানে একক বর্ণনা বা বিরোধপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা। তাই এই গ্রন্থটি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) শাস্ত্রের একটি মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি এতে প্রত্যেক শায়খ (শিক্ষক) থেকে তাঁর বর্ণিত দুর্লভ ও বিস্ময়কর হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি শায়খের মর্যাদা এবং তাঁর বর্ণনার বিশালতা ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি বলতেন: "এই কিতাবটি আমার প্রাণ," কারণ তিনি এর জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। এতে প্রতিটি মূল্যবান, দুর্লভ এবং মুনকার বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে।‌‌(২)

৪) ইমাম তাবারানি এই কিতাবের অধিকাংশ হাদিসকে 'তাফাররুদ' (একক বর্ণনা) হিসেবে হুকুম দিয়েছেন। তাই আমি এই ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চেয়েছি, যাতে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের মূলনীতির আলোকে পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁর সেই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হওয়া, দ্বিমত পোষণ করা বা উভয়ের মাঝে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে আমার অবস্থান স্পষ্ট করতে পারি।

৫) আলিম সমাজ এবং এই শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্টদের কাছে এই গ্রন্থের তীব্র প্রয়োজনীয়তা; কারণ এর গুরুত্ব এবং লেখকের শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও, একে যথাযোগ্য গুরুত্বের সাথে পরিবেশন করা হয়নি।

৬) পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, যেমন মূল পাণ্ডুলিপির সাথে সেগুলোর তুলনা করা। আর এই মহান শাস্ত্রের গভীরে অবগাহন করা ছাড়া কোনো গবেষকের পক্ষে এটি পূর্ণ করা সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

‌‌(১) মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই গবেষণাপত্রের প্রথম খণ্ডের তৃতীয় অধ্যায়ে এ সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: 'তাযকিরাতুল হুফফায' (৩/ ৮৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১১)
7) كثرة نصح وشِدَّة إلحاح مشايخنا وإخواننا إلى العناية بالكتاب، بتخريج متونه، ودراسة أسانيده، والحكم عليها بالقبول أو الرَّد، وبيان منهج مُصَنِّفه.‌‌(1)

لهذه الأسباب وغيرها؛ تَوَجَّهت هِمَّتي، وقويت عزيمتي، واندفعت إرادتي، فاستخرت الله تعالى، مُسْتَعينًا به، ومُعْتَمِداً عليه، ومُتوجهًا إليه، وسجلتُ في هذا الموضوع الوعر، وكان عنوان البحث:

القسم الثاني مِنْ "المعجم الأوسط" للإمام أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبرانيّ رحمه الله (ت 360 هـ)

تحقيق ودراسة مع ملاحظة أحكامه على الأحاديث بالتَّفرد

مِنْ حديث رقم (401) حديث وَاثِلَة بن الأَسْقَعِ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "قَالَ اللَّهُ عز وجل: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي … الحديث"، إلى حديث رقم (650) حديث ابن عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: "تَضَيَّفْتُ خَالَتِي مَيْمُونَةَ، وَهِيَ لَيْلَتَئِذٍ حَائِضٌ لا تُصَلِّي … الحديث".

سائلًا المولى سبحانه وتعالى العون عليه، والتوفيق والسداد فيه، بلطفه ورأفته، إنَّه وليُّ ذلك، والقادرُ عليه.

--------------------------------------------

‌‌(1) ومِمَّن كان لهم الأثر الأوفر في التسجيل في هذا البحث الأخ الفاضل/ رضا عبد الله، حيث وجَّهني إليه، ولفت نظري له، وأخذ على يديّ، وشَدَّ مِنْ ساعدي، للتَّسجيل فيه، فاستخرت الله عز وجل، وانطلقت إلى الكتاب فنظرتُ فيه، مُتَصَفِّحاً أوراقه، مُتأملاً كلماته، ثُمَّ شاورت جميع إخواني، وكل ما استطعت أن أصل إليه مِنْ مشايخي الفضلاء، فكان مِنْهم المُشَجِّع عليه، والمُحفِّز له، ذاكرين لِيَ فضله ومكانته وأهميته، وكان منهم مَنْ خَوَّفني خوض غِمَار هذا البحث؛ لصعوبته، وشِدَّة وعورته - ولقد رأيت ذلك أثناء العمل في البحث بالفعل -، فجزى الله الجميع عني خير الجزاء.

ومكثت فترة بين الإقدام والإحجام حتى قذف الله عز وجل في قلبي حب الكتاب ومُؤلِّفه، فوجدتُني مَدفوعاً إليه، وإلى خدمته، تَقَرُّبًا إلى الله عز وجل بخدمة سنة النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، ووفاءً وإكراماً لمُؤلِّفه رضي الله عنه.

وكان مِمَّن شَجَّعني على خوض غمار هذا البحث بعض أساتذتي الفضلاء بقسم الحديث وعلومه بكلية أصول الدين والدعوة بطنطا، كالأستاذ الدكتور/شهاب الدين أبو زهو، والأستاذ الدكتور/محمد العشماوي، والأستاذ الدكتور/منجي حامد، والأستاذ الدكتور/السيد إبراهيم متولي، وكذلك بعض مشايخي الفضلاء بجامعة الأزهر كالأستاذ الدكتور/سعيد محمد صالح صوابي أستاذ الحديث وعلومه بكلية أصول الدين بالقاهرة، والأستاذ الدكتور/أحمد مُحَرَّم رئيس قسم الحديث وعلومه بكلية أصول الدين بأسيوط - وقد التقيت به في المؤتمر الأول لخدمة السنة النبوية بجامعة الأزهر -، - فجزى الله الجميع عني خير الجزاء -.

 

وقد مَنَّ الله عز وجل عليَّ أثناء حضوري للمؤتمر الأول لخدمة السنة النَّبوية "السُنَّةُ النَّبويّة بين الواقع والمأمول" المنعقد في الفترة مِنْ 21 إلى 23 صفر لسنة 1433 هـ بمركز الأزهر للمؤتمرات، حيث التَقَيتُ فيه قبل التسجيل في هذا الموضوع ببعض مشايخنا الفضلاء وشاورتهم في هذا الموضوع، فما شاورت فيهم أحداً إلا وقَوَّى مِنْ عزيمتي، وشدَّ مِنْ آزري للتَّسجيل فيه، وكان على رأسهم: فضيلة الأستاذ الدكتور/ الشريف حاتم بن عارف العوني، والأستاذ الدكتور/ بَشَّار عَوَّاد، والأستاذ الدكتور/ محمد عَوَّامة، والأستاذ الدكتور/ حمزة المليباري، وأخيراً المُحقق الفذ الأستاذ/صبري عبد الخالق الشافعي - فجزاهم الله خير الجزاء -.
৭) এই কিতাবের প্রতি মনোযোগ প্রদান, এর মূল পাঠ্যসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্ণয়), এর সনদগুলোর পর্যালোচনা এবং সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান এবং এর সংকলকের কর্মপদ্ধতি বর্ণনার ব্যাপারে আমাদের শায়খ এবং ভাইদের পক্ষ থেকে বারবার উপদেশ ও জোরালো তাগিদ।‌‌(১)

এই সব এবং অন্যান্য কারণে আমার হিম্মত ও সংকল্প দৃঢ় হয় এবং আমার ইচ্ছা চালিত হয়। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর ওপরই ভরসা করে এবং তাঁরই অভিমুখী হয়ে এই দুর্গম বিষয়ে নাম নিবন্ধন করি। গবেষণার শিরোনাম ছিল:

ইমাম আবু আল-কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি রহি মাহুল্লাহ (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি) রচিত "আল-মু'জাম আল-আওসাত"-এর দ্বিতীয় খণ্ড

হাদিসগুলোর ওপর একক হওয়ার (তাফাররুদ) হুকুমের পর্যালোচনাসহ তাহকিক ও গবেষণা

হাদিস নং (৪০১) যা ওয়াসিলা বিন আল-আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে, আমি তার কাছে তেমনই... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)" থেকে হাদিস নং (৬৫০) যা ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আমার খালা মায়মুনার কাছে মেহমান হয়েছিলাম, তিনি সেই রাতে ঋতুমতী ছিলেন এবং সালাত আদায় করছিলেন না... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)"।

আমি মহান রবের কাছে এর জন্য সাহায্য এবং এতে সঠিক পথ ও সফলতার তাওফিক প্রার্থনা করছি তাঁর দয়া ও করুণার মাধ্যমে। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ সক্ষম।

--------------------------------------------

‌‌(১) এই গবেষণায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শ্রদ্ধেয় ভাই রেজা আবদুল্লাহ। তিনি আমাকে এর দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং আমাকে এই কাজে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং কিতাবটির দিকে অগ্রসর হলাম। আমি এর পাতাগুলো উলটে দেখলাম এবং এর শব্দগুলো নিয়ে চিন্তা করলাম। এরপর আমি আমার সকল ভাই এবং আমার যে সকল শ্রদ্ধেয় শায়খদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব ছিল তাদের সবার সাথে পরামর্শ করলাম। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাকে উৎসাহ ও উদ্দীপনা জুগিয়েছেন এবং এই কিতাবের শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা ও গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই গবেষণার কঠিন ও দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার ব্যাপারে আমাকে সতর্ক করেছেন—গবেষণার কাজ করার সময় আমি প্রকৃতপক্ষে সেই কাঠিন্যের সম্মুখীন হয়েছি—আল্লাহ তাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

বেশ কিছুকাল আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে ছিলাম, অবশেষে আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে এই কিতাব এবং এর লেখকের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন। এরপর আমি নিজেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এবং এর লেখকের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য এই কাজে নিবেদিত দেখতে পেলাম।

এই গবেষণার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার ব্যাপারে আমাকে যারা উৎসাহ দিয়েছেন তাদের মধ্যে তানতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ দ্বীন ও দাওয়াহ অনুষদের হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক রয়েছেন। যেমন প্রফেসর ড. শিহাবুদ্দিন আবু জাহউ, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আল-আশমাউয়ি, প্রফেসর ড. মুনজি হামিদ এবং প্রফেসর ড. আস-সাইয়্যিদ ইবরাহিম মুতাওয়াল্লি। এছাড়াও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার কয়েকজন শ্রদ্ধেয় শায়খ রয়েছেন, যেমন কায়রোর উসুলুদ দ্বীন অনুষদের হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. সাইদ মুহাম্মদ সালিহ সাওয়াবি এবং আসইউতের উসুলুদ দ্বীন অনুষদের হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. আহমাদ মুহাররাম—তাঁর সাথে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্নাহর খিদমতে আয়োজিত প্রথম সম্মেলনে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল—আল্লাহ তাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

১৪৩৩ হিজরির ২১ থেকে ২৩ সফর পর্যন্ত আল-আজহার কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রথম সুন্নাহ সম্মেলন "বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে সুন্নাহ"-তে উপস্থিত থাকাকালীন আল্লাহ তাআলা আমার ওপর বিশেষ অনুগ্রহ করেন। এই বিষয়ে নিবন্ধনের পূর্বে সেখানে আমি আমাদের কয়েকজন শ্রদ্ধেয় শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করি এবং এ বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করি। আমি যার সাথেই পরামর্শ করেছি, তিনি আমার সংকল্পকে দৃঢ় করেছেন এবং আমাকে উৎসাহিত করেছেন। তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন: শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ড. আশ-শরিফ হাতিম বিন আরিফ আল-আওনি, প্রফেসর ড. বাশার আওয়াদ, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আওয়ামা, প্রফেসর ড. হামজা আল-মালিবারি এবং সবশেষে অসাধারণ গবেষক জনাব সবরি আব্দুল খালিক আশ-শাফিয়ি। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌منهجي في البحث:

اقتضت طبيعة البحث أن يأتي في مقدمةٍ، وقسمين، وخاتمة، ومنتهيا بالفهارس العلمية.‌‌(1)

وبيان ذلك على النحو التالي:

- أولاً: المقدمة:

بَيَّنْتُ فيها أسباب اختياري للموضوع، وإبراز منهجي فيه.

- ثانياً: القسم الأول:

قسم الدِّراسة: ويشتمل على التعريف بالمُؤلِّف، وكتابه، ودراسة لبعض الجوانب النظرية التي لها علاقة مباشرة بموضوع البحث، وذلك في ثلاثة فصول مُجْمَلَةٍ في العرض التالي:

• الفصل الأول: التعريف بالمُؤلِّف، وذلك في ثلاثة مباحث:

- المبحث الأول: حياة الإمام الطبراني الشخصية، وذلك في مطلبين:

المطلب الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ونسبته.

المطلب الثاني: مولده، ونشأته، وأسرته.

- المبحث الثاني: حياة الإمام الطبراني العلمية، ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: طلبه للعلم.

المطلب الثاني: رحلاته العلمية.

المطلب الثالث: أشهر شيوخه.

- المبحث الثالث: مكانته العلمية وآثاره، ووفاته، ويشتمل على سبعة مطالب:

المطلب الأول: كثرة حديثه، وسعة حفظه.

المطلب الثاني: أشهر تلاميذه.

المطلب الثالث: بعض مؤلَّفاته.

المطلب الرابع: ثناء العلماء عليه.

المطلب الخامس: عقيدته.

المطلب السادس: وفاته، وعمره.

المطلب السابع: بعض مصادر ترجمته.

• الفصل الثاني: التعريف بالكتاب وما يتعلق به، وذلك في ستة مباحث:

- المبحث الأول: اسم الكتاب، واسم مُؤلِّفه.

- المبحث الثاني: التثبت من صحة نسبة الكتاب إلى مؤلِّفه، بالوسائل المعروفة لدى أهل العلم.

--------------------------------------------

‌‌(1) قمتُ بتعديل بعض الأشياء اليسيرة بناءً على توجيه أستاذي الكريمين - جزاهما الله خيرًا -.
আমার গবেষণার পদ্ধতি:

গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী এটি একটি ভূমিকা, দুইটি অংশ এবং একটি উপসংহার নিয়ে বিন্যস্ত হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্টের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।(১)

এর বিবরণ নিম্নরূপ:

- প্রথমত: ভূমিকা:

এতে আমি এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণ এবং এতে আমার অনুসৃত পদ্ধতি তুলে ধরেছি।

- দ্বিতীয়ত: প্রথম অংশ:

গবেষণামূলক অংশ: এটি লেখক ও তাঁর গ্রন্থের পরিচিতি এবং গবেষণার বিষয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত কিছু তাত্ত্বিক দিক পর্যালোচনার ওপর مشتمل, যা পরবর্তী বর্ণনায় সংক্ষেপে তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত:

• প্রথম অধ্যায়: লেখকের পরিচিতি; এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

- প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ব্যক্তিগত জীবন; এটি দুইটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশ পরিচয়, উপনাম এবং নিসবত।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং পরিবার।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ইলমি জীবন; এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলম অর্জন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি সফরসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রখ্যাত শিক্ষকগণ।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা, রচনাবলী এবং মৃত্যু; এটি সাতটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর হাদিসের প্রাচুর্য এবং মুখস্থ শক্তির প্রশস্ততা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রখ্যাত ছাত্রগণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর কতিপয় গ্রন্থ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদা।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু এবং বয়স।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর জীবনী সংক্রান্ত কিছু উৎস।

• দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পরিচিতি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী; এটি ছয়টি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

- প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নাম এবং লেখকের নাম।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আলেমদের নিকট পরিচিত পন্থাসমূহের মাধ্যমে লেখকের প্রতি গ্রন্থটির নিসবত বা সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ।

--------------------------------------------

(১) আমার সম্মানীয় দুই শিক্ষকের নির্দেশনার ভিত্তিতে আমি সামান্য কিছু বিষয় পরিবর্তন করেছি - আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
- المبحث الثالث: موضوع الكتاب.

- المبحث الرابع: منهج المؤلِّف في الجزء الخاص بالدراسة لهذه الرسالة، وتقويم ذلك المنهج.

- المبحث الخامس: جهود العلماء حول هذا الكتاب.

- المبحث السادس: وصف النُّسخ المخطوطة، والمطبوعة للكتاب.

• الفصل الثالث: التَّفرد والغرابة، وموقف العلماء منهما، وذلك في ثلاثة مباحث:

- المبحث الأول: التفرد لغة واصطلاحًا.

- المبحث الثاني: أقسام التفرد، مع ذكر أحكام كل قسم.

- المبحث الثالث: موقف الأئمة تجاه الغرائب.

- ثالثاً: القسم الثاني:

النَّص المُحَقَّق: ويشتمل على تحقيق ودراسة الجزء الخاص بهذا البحث، ومنهجي فيه على النحو التالي:

• أولاً: منهجي في تحقيق النص:

1) قُمتُ بتوثيق النَّص، بمقابلة المطبوع - طبعة دار الحرمين -، على النُّسخة الخطية، ومعالجة إشكالات النص؛ بالرجوع إلى كتب السنة، وكتب التراجم والتخريج، وغيرها، وأَثْبَتُّ الفروق في الهامش.

2) قُمتُ بضبط النص ضبطًا كاملاً قريبًا مِنْ التَّمام، مُراعيًا قواعد الإملاء الحديثة.

3) قُمتُ بضبط ما يُشْكِل مِنْ أسماء الرواة، وكناهم وألقابهم، ضبط قلم، ورُبَّما ضبطته بالحروف في الحاشية إذا اقتضت الحاجة.

4) قُمتُ بشرح غريب الألفاظ، وترجمة الأعلام، والبلدان والمواضع في الحاشية.

5) قُمتُ بعزو الآيات القرآنية إلى المصحف الشريف في الهامش، بذكر اسم السورة، ورقم الآية.

6) قمتُ بترقيم الأحاديث ترقيمًا مُسَلْسَلاً، وذكرت قبل كُلّ حديث رقمين بين معقوفتين هكذا [1/ 1]، وجعلتُ الرقم الأول خاص بالأحاديث الخاصة بالدِّراسة، والرقم الثاني يُشير إلى رقم الحديث في المطبوع.

• ثانياً: منهجي في تخريج الأحاديث:

1) خَرَّجتُ الحديث - قيد البحث - مِنْ مسند الصحابي المذكور في إسناد المُصَنِّف رضي الله عنه، مع مراعاة الاختصار إلا إذا اقتضت الحاجة إلى التوسع، مع الاكتفاء في العزو برقم الحديث إذا كان الكتاب مُرَقَّمًا، وذكرت اسم الكتاب، واسم الباب في الكتب الستة فقط؛ للإشارة إلى فقه الحديث، وخشية التطويل.

2) خَرَّجتُ الخلاف على الراوي في الإسناد أو المتن، أوهما معا، مع بيان الراجح وعلته، وكذا الجمع.

3) اكتفيتُ بما يسد الأغراض الثلاثة: درجة الحديث، والخلاف على الراوي، ودفع التفرد، أو إثباته.

4) رتَّبتُ الطرق على حسب المتابعات الأتم فالأقل، فإن تساوت رتَّبتُ المُخَرِّجين على سنة الوفاة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই গবেষণাপত্রটির জন্য নির্ধারিত অংশে লেখকের পদ্ধতি এবং উক্ত পদ্ধতির মূল্যায়ন।

- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এই গ্রন্থটি নিয়ে আলেমগণের প্রচেষ্টা।

- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির বিবরণ।

• তৃতীয় অধ্যায়: একক বর্ণনা (তাফাররুদ) ও অনন্যতা (গারাবাত) এবং এ ব্যাপারে আলেমদের অবস্থান; এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

- প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাফাররুদ।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফাররুদের প্রকারভেদ এবং প্রতিটি প্রকারের বিধানের বর্ণনা।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিরল বা অনন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমামগণের অবস্থান।

- তৃতীয়ত: দ্বিতীয় অংশ:

সম্পাদিত মূল পাঠ: এটি এই গবেষণার জন্য নির্ধারিত অংশের সম্পাদনা ও পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত, এবং এতে আমার পদ্ধতি নিম্নরূপ:

• প্রথমত: মূল পাঠ সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি:

১) আমি পাণ্ডুলিপির সাথে মুদ্রিত সংস্করণের (দারুল হারামাইন সংস্করণ) তুলনা করে মূল পাঠের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করেছি এবং মূল পাঠের জটিলতাসমূহ সুন্নাহর কিতাবসমূহ, জীবনীগ্রন্থ ও তাখরিজ গ্রন্থ ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে সমাধান করেছি; আর পাঠভেদের পার্থক্যসমূহ টীকায় উল্লেখ করেছি।

২) আমি আধুনিক বানানরীতি অনুসরণ করে মূল পাঠকে প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে হরকত বা চিহ্ন দ্বারা বিন্যস্ত করেছি।

৩) বর্ণনাকারীদের নাম, উপনাম ও উপাধির ক্ষেত্রে যেখানে অস্পষ্টতা ছিল, সেখানে লেখনীর মাধ্যমে সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ করেছি এবং প্রয়োজনবোধে টীকায় তা অক্ষরের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি।

৪) আমি টীকায় কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দেশ ও স্থানের পরিচয় উল্লেখ করেছি।

৫) আমি ফুটনোটে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে কুরআনের আয়াতসমূহকে মূল কিতাবের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

৬) আমি হাদিসসমূহকে ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি এবং প্রতিটি হাদিসের আগে তৃতীয় বন্ধনীর ভেতরে দুটি নম্বর এভাবে [১/ ১] উল্লেখ করেছি; যেখানে প্রথম নম্বরটি এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিসের জন্য এবং দ্বিতীয় নম্বরটি মুদ্রিত কপির হাদিস নম্বরের প্রতি নির্দেশ করে।

• দ্বিতীয়ত: হাদিসের উৎস নির্ণয়ে (তাখরিজ) আমার পদ্ধতি:

১) আমি পর্যালোচনাধীন হাদিসটির উৎস গ্রন্থকারের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে উল্লিখিত সাহাবীর মুসনাদ থেকে বের করেছি। তবে প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ না করে সংক্ষেপ করার নীতি অনুসরণ করেছি। কোনো কিতাব নম্বরযুক্ত থাকলে শুধু হাদিস নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে তথ্যসূত্র প্রদানে ক্ষান্ত হয়েছি। আর হাদিসের ফিকহ বা মর্ম অনুধাবনের সুবিধার্থে এবং দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে শুধুমাত্র কুতুবে সিত্তা বা প্রধান ছয়টি হাদিস গ্রন্থের ক্ষেত্রে কিতাব ও অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেছি।

২) আমি সনদে বা মতনে অথবা উভয় ক্ষেত্রেই বর্ণনাকারীর মধ্যকার মতপার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করেছি এবং সঠিক মত ও তার কারণ বর্ণনা করেছি, পাশাপাশি একাধিক মতের মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতিও উল্লেখ করেছি।

৩) আমি তিনটি লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট হয় এমন তথ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি: হাদিসের মান, বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মতপার্থক্য এবং একক বর্ণনার খণ্ডন অথবা প্রমাণ।

৪) আমি হাদিসের সূত্রগুলোকে তুলনামূলক পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের ভিত্তিতে সাজিয়েছি। আর এ ক্ষেত্রে সমতা থাকলে উৎস গ্রন্থকারদের মৃত্যুসাল অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
• ثالثاً: منهجي في دراسة الإسناد:

1) ترجمتُ للراوي المذكور في الإسناد بذكر: اسمه، ونسبه، وكنيته، ولقبه، وذكر بعض شيوخه وتلامذته، على أن يكون الشيخ أو التلميذ مِنْ المذكورين في الإسناد قيد البحث، وتلخيص كلام النُّقاد فيه جرحًا أو تعديلًا، وأختم بذكر خلاصة حاله، بناءً على الدِّراسة، وإعمال قواعد أهل العلم.

2) إذا كان المُتَرجم له مِنْ الثِّقات المُتَّفَقِ على توثيقهم اختصرت ترجمته، وكذا إن كان مُتَّفَقًا على ضعفه، وأمَّا إن كان مُخْتلفًا في حاله قُمْتُ بذكر كلام النُّقَّاد فيه جرحًا وتعديلًا، محاولاً الجمع بينها أو الترجيح بناء على قواعد الجرح والتعديل.

3) وإن كان الرَّاوي موصوفًا بالاختلاط أو التدليس، حَرَّرت القول فيه مِنْ كتب أهل العلم المُختصة بذلك، وفَصَلْتُ القول فيه بالجمع، أو الإثبات، أو النَّفي؛ وذلك بناءً على قواعد أهل هذا الفن.

4) وأما المتابعات والشواهد التي تفيد في تقوية الحديث، فإن كانت في "الصحيحين" أو أحدهما اكتفيت بذلك في الحكم علي صحتها، وإن كانت في غيرهما درست أسانيدها في المُسَوَّدة، واكتفيت في البحث بذكر الحكم على الإسناد فقط، مع التعليل إن كان الحديث ضَعيفًا.

5) وإذا كان الحديث مختلفًا فيه على أحد رواته، وكان الحديث مِنْ وجه المُصَنِّف مَرْجُوحًا قمتُ بدراسة إسناد الوجه الراجح - بشرط ألا يكون في "الصحيحين" أو أحدهما -؛ مُكتفيًا في ترجمة الرَّاوي بذكر ما يُميِّزه مِنْ اسمه، ونسبه، وكنيته، ولقبه، وخلاصة حاله تَعديلاً، أو جرحًا، مُكْتَفِيًا بحكم الحافظ ابن حجر عليه مِنْ "التقريب"، إلا إذا كان الحافظ قد جانبه الصواب في حكمه، فتوسَّعتُ في ترجمته، وحكمت عليه بما يتَّفق مع بقيَّة أقوال النُّقَّاد الأخرى في الرَّاوي.

• رابعاً: منهجي في الحكم على الحديث:

1) حكمت على الحديث بما يليق بحاله، مُبَيِّنًا عِلَّة الحكم إن كان الحديث حسنًا أو ضَعيفًا.

2) نَقَلتُ أقول أهل العلم السَّابقين، وكذا أغلب المعُاصرين في الحكم على الحديث، موافقًا، أو مُخالفًا، مُعَقِّبًا ومُعِلِّلاً عند مُخالفتي لهم في الحكم على الحديث.

3) وإذا كان الحديث مُخْتَلَفًا على أحد رواته، لَخَّصْتُ الخلاف الموجود على الراوي، مُبَيِّنًا القول فيه إمَّا بالجمع أو الترجيح، بناءً على الدِّراسة، وإعمال قواعد أهل العلم، وذكرتُ أقوال النُّقَّاد في ذلك.

4) وإذا كان وجه المُصَنِّف راجحاً حكمت عليه بما يليق بحاله، مُكتفياً بذلك في الحكم، وذكرتُ ما يُفيده ويُقَويه مِنْ المتابعات والشواهد إن كان الحديث حسنًا أو ضَعيفًا؛ وأمَّا إنْ كان الحديث مِنْ وجه المُصَنِّف مرجوحًا حكمتُ عليه بما يليق بحاله مِنْ الشُذُوذ أو النَّكارة، مُعَلِّلاً ذلك بناءً على الدِّراسة، ثُمَّ حكمت على الحديث مِنْ وجهه الراجح.
• তৃতীয়ত: সনদ পর্যালোচনায় আমার কর্মপদ্ধতি:

১) সনদে উল্লিখিত রাবির জীবনী আলোচনা করেছি তাঁর নাম, বংশপরিচয়, কুনিয়াত এবং উপাধি উল্লেখ করার মাধ্যমে; পাশাপাশি তাঁর কিছু উস্তাদ ও ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছি, তবে শর্ত হলো সেই উস্তাদ বা ছাত্র যেন আলোচ্য সনদের অন্তর্ভুক্ত হন। সেইসাথে রাবির ব্যাপারে সমালোচকদের জরাহ ও তাদিল (সমালোচনা ও গুণগান) বিষয়ক বক্তব্যের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি এবং পরিশেষে গবেষণা ও বিজ্ঞ আলেমদের মূলনীতি প্রয়োগের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেছি।

২) যদি কোনো রাবি এমন নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত হন যাদের বিশ্বস্ততার বিষয়ে সকলে একমত, তবে আমি তাঁর জীবনী সংক্ষিপ্ত করেছি; একইভাবে যদি তাঁর দুর্বলতার বিষয়ে সকলে একমত হন। আর যদি তাঁর অবস্থা নিয়ে মতভেদ থাকে, তবে আমি জরাহ ও তাদিল শাস্ত্রের ইমামদের বক্তব্য উল্লেখ করে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার অথবা এই শাস্ত্রের মূলনীতির আলোকে কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

৩) যদি কোনো রাবি 'ইখতিলাত' (স্মৃতিবিভ্রম) বা 'তাদলিস' (প্রকৃত তথ্য গোপন)-এর দোষে সাব্যস্ত হন, তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রীয় গ্রন্থাবলি থেকে তাঁর সম্পর্কে সঠিক বক্তব্যটি যাচাই করেছি এবং এই শাস্ত্রের ইমামদের মূলনীতির আলোকে সমন্বয়, সাব্যস্তকরণ অথবা নাকচ করার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছি।

৪) আর মুতাবাআত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) এবং শাওয়াহিদ (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) যা হাদিসকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে—সেগুলো যদি "সহীহাইন" (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে হাদিসের বিশুদ্ধতার মানদণ্ড হিসেবে সেটুকুই যথেষ্ট মনে করেছি। আর যদি অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে খসড়া পাণ্ডুলিপিতে সেগুলোর সনদসমূহ পর্যালোচনা করেছি এবং গবেষণাপত্রে হাদিসটি দুর্বল হলে তার কারণসহ কেবল সনদের হুকুম বা মান উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।

৫) যদি কোনো রাবির বর্ণনার কারণে হাদিসের মধ্যে ইখতিলাফ (পার্থক্য) পরিলক্ষিত হয় এবং গ্রন্থকারের বর্ণিত হাদিসটি যদি 'মারজুহ' (অপ্রাধান্যযোগ্য) হয়, তবে আমি 'রাজীহ' (প্রাধান্যযোগ্য) সূত্রের সনদ পর্যালোচনা করেছি—তবে শর্ত হলো সেটি যেন "সহীহাইন" বা এই দুটির কোনো একটিতে না থাকে। সেক্ষেত্রে রাবির জীবনীতে কেবল তাঁর বৈশিষ্ট্যসূচক নাম, বংশপরিচয়, কুনিয়াত, উপাধি এবং জরাহ-তাদিলের আলোকে তাঁর চূড়ান্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে আমি হাফেজ ইবন হাজার (রহ.)-এর "তাকরীব" গ্রন্থের হুকুমের ওপরই নির্ভর করেছি; তবে হাফেজ ইবন হাজার যদি তাঁর সিদ্ধান্তে কোনো ভুল করে থাকেন, তবে আমি তাঁর জীবনী বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি এবং রাবির ব্যাপারে অন্যান্য সমালোচকদের বক্তব্যের আলোকে যা সঠিক সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিয়েছি।

• চতুর্থত: হাদিসের মান নির্ধারণে আমার কর্মপদ্ধতি:

১) হাদিসের মান অনুযায়ী তার ওপর হুকুম দিয়েছি; হাদিসটি হাসান (উত্তম) বা জয়িফ (দুর্বল) হলে তার ইল্লত বা কারণ স্পষ্ট করে দিয়েছি।

২) হাদিসের মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য এবং সমসাময়িক অধিকাংশ আলেমদের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছি; তাদের সাথে ঐকমত্য বা ভিন্নমত পোষণ করার ক্ষেত্রে কারণসহ নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছি।

৩) যদি কোনো হাদিস কোনো রাবির ওপর নির্ভর করে মতভেদপূর্ণ হয়, তবে সেই রাবির ব্যাপারে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরেছি এবং গবেষণা ও আলেমদের মূলনীতি প্রয়োগের ভিত্তিতে তার সমাধান হিসেবে সমন্বয় অথবা কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। সেইসাথে এ বিষয়ে সমালোচক ইমামদের বক্তব্যও উল্লেখ করেছি।

৪) গ্রন্থকারের বর্ণিত সূত্রটি যদি 'রাজীহ' (প্রাধান্যযোগ্য) হয়, তবে তার মান অনুযায়ী হুকুম দিয়েছি এবং এটুকুই যথেষ্ট মনে করেছি; সেইসাথে হাদিসটি হাসান বা জয়িফ হলে তার সমর্থনে মুতাবাআত ও শাওয়াহিদ উল্লেখ করেছি। আর যদি গ্রন্থকারের বর্ণিত সূত্রটি 'মারজুহ' (অপ্রাধান্যযোগ্য) হয়, তবে গবেষণার ভিত্তিতে তার 'শুযুয' (বিচ্যুতি) বা 'নাকারাত' (অস্বাভাবিকতা) বর্ণনা করে হুকুম দিয়েছি; এরপর হাদিসটির 'রাজীহ' বা সঠিক সূত্রটির ওপর হুকুম প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
• خامساً: منهجي في النظر في أحكام الإمام على الأحاديث بالتفرد:

1) قُمتُ بالنظر في أحكام المُصَنِّف على الأحاديث بالتفرد.

2) وذكرتُ أقوال أهل العلم الموافقين أو المخالفين له في الحكم بالتفرد إن وجد.

3) ونظرت في قول المُصَنِّف وإخوانه مِنْ أهل العلم بالموافقة أو المخالفة أو الجمع، بناءً على التخريج، مُراعيًا قواعد أهل هذا الفن.

• سادساً: منهجي في التعليق على الحديث:

- ختمتُ الكلام على الحديث - في الغالب - بالتعليق عليه، وذكرتُ كلام بعض شُرَّاح الحديث مِنْ أجل أن أوضِّح معانيه، وأجليها، ورُبَّما تَدَخَلْتُ بالعبارة لتوضيح بعض ألفاظ أهل العلم.

- رابعاً: الخاتمة:

• وقد ضَمَّنتُها تلخيصًا لأهم الفوائد، والنتائج، والتوصيات التي ظهرت لي مِنْ خلال معايشة البحث، ودراسته، وذكرت عدد الأحاديث الواردة في البحث من حيث القبول والرد.

- خامساً: الفهارس العلمية:

قمتُ بوضع فهارس البحث على النظام التالي:

1) فهرس الآيات القرآنية الواردة في البحث على ترتيب السور في المصحف العثماني.

2) فهرس الأحاديث النبوية على نظام ألف بائي باعتبار مطلع الحديث.

3) فهرس الأحاديث النبويَّة مُرَتَّباً على الموضوعات.

4) فهرس للرواة جميعا على حروف المعجم.

5) فهرس شيوخ الطبراني، مُرَتَّبين على حروف الهجاء، في الجزء الخاص بالدراسة.

6) فهرس تفردات الرواة في الجزء الخاص بالدراسة.

7) فهرس المراجع: ذكرت فيه اسمه، ومُصَنِّفه، وطبعته، وتاريخها إن وجد، مُرَتَّبًا على نظام ألف بائي.

8) فهرس الموضوعات.
• পঞ্চম: হাদিসসমূহের একক বর্ণনা (তাফাররুদ) সংক্রান্ত ইমামের হুকুম বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি:

১) হাদিসসমূহের একক বর্ণনার বিষয়ে গ্রন্থকারের সিদ্ধান্তগুলো আমি পর্যবেক্ষণ করেছি।

২) একক বর্ণনার হুকুমের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে একমত পোষণকারী অথবা ভিন্নমত পোষণকারী আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি, যদি তা পাওয়া যায়।

৩) এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মূলনীতিসমূহ অনুসরণপূর্বক তাখরিজের ভিত্তিতে গ্রন্থকার ও তাঁর সমসাময়িক আলেমদের বক্তব্যের মধ্যে ঐক্য, অনৈক্য বা সমন্বয় সাধনের বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখেছি।

• ষষ্ঠ: হাদিসের ওপর টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি:

- হাদিসের আলোচনার সমাপ্তি টেনেছি—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—এর ওপর টীকা প্রদানের মাধ্যমে। আমি হাদিসের অর্থসমূহ পরিষ্কার ও প্রাঞ্জল করার লক্ষ্যে হাদিসের কিছু ব্যাখ্যাকারকের বক্তব্য উল্লেখ করেছি। কখনও কখনও আলেমদের কিছু শব্দ পরিষ্কার করার জন্য আমি শব্দ চয়নে সামান্য হস্তক্ষেপ করেছি।

- চতুর্থ: উপসংহার:

• এতে আমি গবেষণা ও অধ্যয়নের মাধ্যমে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা, ফলাফল এবং সুপারিশমালার সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করেছি। পাশাপাশি গবেষণায় উল্লেখিত হাদিসসমূহের গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রহণযোগ্যতার বিচারে সংখ্যা উল্লেখ করেছি।

- পঞ্চম: ইলমি সূচিপত্রসমূহ:

আমি গবেষণার সূচিপত্রসমূহ নিম্নলিখিত নিয়মে বিন্যস্ত করেছি:

১) উসমানি মুসহাফের সূরার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী গবেষণায় ব্যবহৃত কুরআনের আয়াতসমূহের সূচি।

২) হাদিসের শুরুর শব্দ অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে হাদিসের সূচি।

৩) বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসে হাদিসের সূচি।

৪) বর্ণানুক্রমিকভাবে সকল বর্ণনাকারীর সূচি।

৫) অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিশেষ অংশে ইমাম তাবারানির উস্তাদগণের বর্ণানুক্রমিক সূচি।

৬) অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিশেষ অংশে বর্ণনাকারীদের একক বর্ণনার সূচি।

৭) তথ্যসূত্রের তালিকা: এতে গ্রন্থের নাম, লেখক, সংস্করণ এবং তারিখ (যদি থাকে) বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছি।

৮) বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأخيراً: الشكر والتقدير:

أشكر الله عز وجل كثيراً على ما وفَّقني وهداني لخدمة جُزءٍ مِنْ هذا السفر الجليل، وتقديمه مُحَقَّقاً، ومَخْدومًا.

ولا يسعني إلا أن أتقدم بخالص الشكر والامتنان لشيخيّ وأستاذيّ الكريمين الذين قَبِلا - تواضعا منهما - الإشراف على هذه الرسالة، فضيلة الأستاذ الدكتور/ أحمد محمد محمد سالم أستاذ الحديث وعلومه، ووكيل كلية الدراسات الإسلامية والعربية للبنات بالزقازيق، وفضيلة الدكتور/ أحمد محمد صبري مدرس الحديث وعلومه بكلية أصول الدين بالزقازيق، فلقد سهلا لي طريق البحث بنصحهما وإرشادهما، وتعلمت الكثير مِنْ خُلُقهما وأدبهما وكرمهما البالغ، فجزاهما الله عنى وعن إخواني من طلبة العلم خير الجزاء.

كما أتقدم بالشكر والعرفان لشيخي المُحَدِّث المُسْنِد فضيلة الأستاذ الدكتور/ أحمد معبد عبد الكريم، والذى كان له أثرٌ كبيرٌ في الحصول على النسخة الكاملة للمخطوط، حيث صَوَّرها لنا - بعد عناءٍ شديدٍ مِنْ مصدرها بتركيا - على نفقته الخاصة، وكان لتوجيهاته أثرٌ كبيرٌ في خروج البحث بهذه الصورة النهائية.

كما أتقدم بالشكر والعرفان لعميد ووكيل كلية أصول الدين والدعوة بالزقازيق، ولأعضاء هيئة التدريس بقسم الحديث وعلومه بالكلية، وأخص منهم بالذكر فضيلة الأستاذ الدكتور/ ممدوح محمد أحمد أستاذ الحديث وعلومه، على ما قَدَّمه لي مِنْ نصح وإرشاد وتوجيهٍ، ومُساعدة، فجزاه الله عني خير الجزاء.

كما أتقدم بخالص شكري وتقديري وعرفاني ودعواتي إلى جميع العاملين بكلية أصول الدين والدعوة بطنطا عمومًا، ولأعضاء هيئة التدريس بقسم الحديث وعلومه خصوصًا، وأخص منهم بالذكر فضيلة أ. د/ياسر شحاته - رئيس قسم الحديث حاليًا -، وأ. د/ أيمن مهدي - رئيس قسم الحديث سابقًا -، وأ. د/محمود … عبد الرحمن، وأ. د/شهاب الدين أبو زهو، وأ. د/محمد العشماوي، وأ. د/ منجي حامد، وأ. د/ السيد متولي، وأ. د/أحمد العزبي، وجميع مشايخي - وكلهم أصحاب فضل وامتنان عليَّ -، وجميع إخواني المُعيدين، والمدرسين المساعدين بالقسم على ما قدموه لي مِنْ نصحٍ وإرشادٍ - فجزاهم الله عني خير الجزاء -.

كما أتوجه بخالص الشكر والتقدير للسادة العلماء أعضاء لجنة المناقشة على قبولهم النظر في الرسالة وإبداء ملاحظاتهم، وإنَّي على يقين أنَّني سأستفيد من توجيهاتهم وإرشاداتهم - حفظهم الله رب العالمين -، والله أسأل أن يُنَضِّر وجوه مشايخنا في الدنيا والآخرة، وأن يجزيهم عنى وعن طلبة العلم خير الجزاء، وأن يجعل هذا الجهد في موازين حسناتهم في يوم تكون العاقبة فيه للمتقين.

وأخيراً أتقدم بخالص شكري ودعواتي لشيخي الكريم الأخ الفاضل/ رضا عبد الله عبد الحميد فلقد كان له أثر بالغٌ في التسجيل في هذا الموضوع، وإخراجه بهذه الصورة، وكم تعلَّمت منه واستفدتُ - فجزاه الله عني خير الجزاء -، وإلى أخي الحبيب ورفيقي النَّجيب الشيخ/ محمد فوزي السعدني - الذي تعلمتُ مِنْه الحلم والأناة -، وإلى كل إخواني وأحبابي في الله تعالى مِمَّن لم أذكرهم - فجزاهم الله جميعًا عني خير الجزاء -.

ولا يفوتني أن أتقدَّم بخالصي دعواتي لأخي ورفيقي الحبيب وخالي الغالي/ هاني محمود السعدني أن يتغمَّده الله عز وجل بواسع رحمته، وأن يجعله في منازل المُقَرَّبين مع النَّبيِّن والشهداء والصالحين.
পরিশেষে: কৃতজ্ঞতা ও মূল্যায়ন:

আমি মহান আল্লাহর কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, তিনি আমাকে এই মহান গ্রন্থের একটি অংশের খিদমত করার এবং এটি তাহকীক ও গবেষণাসমৃদ্ধ রূপে উপস্থাপন করার তাওফিক ও হিদায়াত দান করেছেন।

আমি আমার দুই পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ ও উস্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও বিনয় প্রকাশ না করে পারছি না, যারা তাদের বিনয়বশত এই থিসিসটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা হলেন—শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর আহমেদ মুহাম্মদ মুহাম্মদ সালেম, হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং জাকাজিকের মহিলা ইসলামি ও আরবি শিক্ষা অনুষদের ডিন; এবং শ্রদ্ধেয় ডক্টর আহমেদ মুহাম্মদ সাবরি, জাকাজিকের উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষক। তারা উভয়েই তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনার মাধ্যমে আমার গবেষণার পথকে সুগম করেছেন। আমি তাদের চরিত্র, শিষ্টাচার এবং সুমহান উদারতা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আল্লাহ যেন তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে এবং অন্যান্য ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

আমি আমার শায়খ, মুহাদ্দিস ও মুসনিদ, শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর আহমেদ মাবাদ আব্দুল কারীমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি, পাণ্ডুলিপিটির পূর্ণাঙ্গ কপি প্রাপ্তিতে যার বিরাট অবদান রয়েছে। কেননা তিনি অনেক কষ্ট করে তুরস্কের মূল উৎস থেকে এটি আমাদের জন্য তার নিজস্ব অর্থায়নে কপি করে এনেছিলেন। গবেষণাপত্রটি এই চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পেছনে তার দিকনির্দেশনার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

এছাড়াও আমি জাকাজিকের উসুলুদ্দীন ও দাওয়াহ অনুষদের ডিন ও ডেপুটি ডিনের প্রতি এবং উক্ত অনুষদের হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র বিভাগের শিক্ষকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি প্রকাশ করছি। বিশেষভাবে স্মরণ করছি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর মামদুহ মুহাম্মদ আহমেদকে, যিনি হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের অধ্যাপক। তিনি আমাকে যে নসিহত, পথপ্রদর্শন, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।

আমি তানতার উসুলুদ্দীন ও দাওয়াহ অনুষদের সাধারণ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি এবং বিশেষ করে হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র বিভাগের শিক্ষকবৃন্দের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, স্বীকৃতি ও দোয়া পেশ করছি। আমি বিশেষভাবে নাম উল্লেখ করছি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর ইয়াসির শিহাতা —বর্তমানে হাদিস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান—, অধ্যাপক ডক্টর আয়মান মাহদী —হাদিস বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান—, অধ্যাপক ডক্টর মাহমুদ … আব্দুর রহমান, অধ্যাপক ডক্টর শিহাবুদ্দীন আবু জাহু, অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ আল-আশমাউই, অধ্যাপক ডক্টর মুনজি হামিদ, অধ্যাপক ডক্টর আল-সাইয়্যেদ মুতাওয়াল্লী, এবং অধ্যাপক ডক্টর আহমেদ আল-আজবী-র। আমার সকল শায়খ —যাদের সকলেরই আমার প্রতি অনুগ্রহ ও অবদান রয়েছে— এবং বিভাগের সকল প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষকদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার জন্য — আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

আমি বিচারক মণ্ডলীর সম্মানিত আলেমদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি, কারণ তারা এই গবেষণাপত্রটি পর্যালোচনা এবং এর ওপর তাদের মতামত প্রদানের বিষয়টি গ্রহণ করেছেন। আমি নিশ্চিত যে, তাদের দিকনির্দেশনা ও নির্দেশনা থেকে আমি উপকৃত হব —রাব্বুল আলামীন তাদের হেফাজত করুন—। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের শায়খদের মুখমণ্ডল দুনিয়া ও আখিরাতে উজ্জ্বল করেন এবং আমার ও ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আর এই প্রচেষ্টাকে যেন কিয়ামতের দিনে তাদের আমলনামায় নেক আমল হিসেবে যুক্ত করেন, যেদিন শেষ পরিণাম হবে মুত্তাকীদের জন্য।

পরিশেষে, আমি আমার শ্রদ্ধেয় শায়খ ও সম্মানিত ভাই রেজা আব্দুল্লাহ আব্দুল হামিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও দোয়া পেশ করছি; এই বিষয়ে নাম নিবন্ধনে এবং এটি এভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তার সুদূরপ্রসারী ভূমিকা ছিল। আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং উপকৃত হয়েছি —আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন—। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই আমার প্রিয় ভাই ও মেধাবী সঙ্গী শেখ মুহাম্মদ ফাউজি আল-সাদানিকে —যার কাছ থেকে আমি ধৈর্য ও স্থিরতা শিখেছি— এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার সেই সমস্ত ভাই ও প্রিয়জনদের প্রতি যাদের নাম আমি এখানে উল্লেখ করিনি —আল্লাহ তাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন—।

আমি আমার ভাই, প্রিয় সঙ্গী এবং প্রাণপ্রিয় মামা হানি মাহমুদ আল-সাদানির জন্য দোয়া করতে ভুলে যাব না; আল্লাহ তাআলা তাকে তার প্রশস্ত রহমতে আবৃত করুন এবং তাকে নবীগণ, শহীদগণ ও সালেহীনদের সাথে উচ্চ মাকামে আসীন করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وختامًا: جعلنا الله عز وجل مِمَّن تَكَلَّف الجَهْدَ في حِفْظِ السُّنَنِ ونَشْرِها، وتمييز صحيحها مِنْ سقيمها، والتفقه فيها، والذب عنها، إنَّه المَانُّ على أوليائه بمنازل المُقَرَّبين، والمُتفضِّلُ على أحبابه بدرجة الفائزين.‌‌(1)

هذا وإنِّي أضع بين أيديكم هذا الجُهْدَ الذى هو نهاية علمي، وغاية فهمي، وحصيلة سهري وتعبي، وعلى كل حالٍ فهو جُهدٌ متواضعٌ في خدمة السُّنَّة، حرصتُ أن أسلك فيه سُبُل المُحَدِّثين، وأن أقتفي آثار الحُفَّاظ المُتَقَدِّمين، فإن وُفِّقْتُ فالفضل كله لله تعالى، وإن زَلَّ قلمي، أو تَعَثَّرْتُ في شيء مِنْه، فمن نفسي وقلَّة علمي، وبسبب ذنوبي وآثامي - عاملنا الله بلطفه وستره ورحمته -.

والأمر كما قال القاضي عبد الرحيم البيساني رضي الله عنه: إني رأيتُ أنَّه لا يكتب أحد كتاباً في يومهِ إلا قال في غَدِهِ: لو غُيِّرَ هذا لكان أحسن، ولو زيد هذا لكان يُستحَسن، ولو قُدَّم هذا لكان أفضل، ولو تُرِك هذا لكان أجمل، وهذا أعظم العبر، وهو دليلٌ على استيلاء النقص على جملة البشر، فأرجو مسامحة ناظريه فهم أهلوها، وأؤمل جميلهم فهم أحسن النَّاس وجُوهًا.‌‌(2)

وإني لأتمثل في هذا المقام بقول من قال مِنْ أهل العلم:

وما كنتُ أهلًا للذي قد كَتَبْتُه … وإنِّي لفي خوفٍ مِنْ الله نادم

ولكنَّنِي أرجو مِنْ الله عفوه … وإنِّي لأهل العلم لا شك خادم‌‌(3)

والله من وراء القصد، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا وإمامنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

--------------------------------------------

‌‌(1) مُقتبسٌ مِنْ كلام ابن حبَّان في كتابه "الثقات" (9/ 297).

‌‌(2) يُنظر: "إتحاف السادة المتقين" للزَّبيديّ (1/ 3)، وهي من رسالة البيساني إلى العماد - رحمهما الله تعالى -.

‌‌(3) قالها الشيخ/ محمد بن محمد بن أبي حامد بن حسن بن علي المالكي البكري، المُتوفى سنة (918 هـ)، عقب نسخه لكتاب "شرح علل الترمذي" لابن رجب الحنبلي. يُنظر: مقدمة التحقيق لـ "شرح علل الترمذي" بتحقيق د/هَمَّام سعيد (1/ 317).
উপসংহার: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা সুন্নাহ সংরক্ষণ ও প্রসারে শ্রম দিয়েছে, তার সহীহ ও দুর্বলকে পৃথক করেছে, তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছে এবং তার পক্ষাবলম্বন করেছে। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর প্রিয়ভাজনদের নৈকট্যশীলদের মর্যাদায় ভূষিত করেন এবং তাঁর মাহবুব বান্দাদের সফলকামদের স্তরে উন্নীত করে অনুগ্রহ করেন।‌‌(১)

তদুপরি আমি আপনাদের সম্মুখে এই শ্রমের ফসল পেশ করছি যা আমার জ্ঞানের শেষ সীমা, উপলব্ধির চূড়ান্ত স্তর এবং আমার বিনিদ্র রজনী ও ক্লান্তির নির্যাস। যাই হোক, সুন্নাহর সেবায় এটি একটি বিনীত প্রচেষ্টা; এতে আমি মুহাদ্দিসগণের পথ অনুসরণ এবং পূর্বসূরি হাফেজগণের পদাঙ্ক অনুসরণে সচেষ্ট হয়েছি। আমি যদি সফল হই, তবে তার সকল কৃতিত্ব মহান আল্লাহর। আর যদি আমার লেখনী বিচ্যুত হয় কিংবা কোনো বিষয়ে আমি হোঁচট খাই, তবে তা আমার নিজের সত্তা ও জ্ঞানের স্বল্পতা এবং আমার গুনাহ ও ত্রুটির কারণে—আল্লাহ আমাদের সাথে তাঁর কোমলতা, আবরণ ও রহমতের আচরণ করুন।

বিষয়টি তেমনই যেমনটি কাজী আব্দুর রহীম আল-বাইসানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “আমি দেখেছি যে, কোনো ব্যক্তি একদিন কোনো কিতাব রচনা করলে পরদিন অবশ্যই সে বলে—যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে আরও সুন্দর হতো, যদি এটি বৃদ্ধি করা হতো তবে তা পছন্দনীয় হতো, যদি এটি আগে আনা হতো তবে তা আরও উত্তম হতো, আর যদি এটি বর্জন করা হতো তবে আরও চমৎকার হতো। এটি এক মহা শিক্ষা এবং এটি সমগ্র মানবজাতির ওপর অপূর্ণতার আধিপত্যের প্রমাণ।” অতএব আমি এর পাঠকদের নিকট ক্ষমা প্রত্যাশা করছি, কেননা তারাই এর যোগ্য; আর আমি তাদের মহানুভবতা কামনা করি, কারণ তারাই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্বভাবের অধিকারী।‌‌(২)

আর আমি এই স্থানে আহলে ইলমদের মধ্য থেকে একজনের পংক্তি উদ্ধৃত করছি:

আমি যা লিখেছি তার যোগ্য ছিলাম না … আর আমি আল্লাহর ভয়ে অত্যন্ত অনুতপ্ত

কিন্তু আমি আল্লাহর নিকট তাঁর মার্জনা প্রত্যাশা করি … আর আমি নিশ্চয়ই জ্ঞানীদের একজন সেবক‌‌(৩)

আল্লাহই আমাদের উদ্দেশ্যের মূল লক্ষ্য, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। দরূদ, সালাম ও বরকত নাযিল হোক আমাদের নেতা ও ইমাম মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর। আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

--------------------------------------------

‌‌(১) ইবনে হিব্বানের 'আস-সিকাত' (৯/২৯৭) গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: যুবায়দীর 'ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন' (১/৩); এটি আল-বাইসানী থেকে আল-ইমাদের কাছে প্রেরিত একটি পত্রের অংশ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।

‌‌(৩) এটি শায়খ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি হামিদ বিন হাসান বিন আলী আল-মালিকী আল-বাকরী (মৃত্যু: ৯১৮ হি.) বলেছেন; ইবনে রজব আল-হাম্বলীর 'শারহু ইলালিত তিরমিযী' গ্রন্থটি অনুলিপি করার পর। দ্রষ্টব্য: ড. হাম্মাম সাঈদের সম্পাদনায় 'শারহু ইলালিত তিরমিযী'-এর ভূমিকা (১/৩১৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
القسم الأول: قسم الدراسة:

ويشتمل على التعريف بالمُؤلِّف، وكتابه، ودراسة بعض الجوانب النظرية

التي لها علاقة مباشرة بموضوع البحث.

وذلك في ثلاثة فصول:
প্রথম অংশ: গবেষণা অংশ:

এতে লেখক ও তাঁর কিতাবের পরিচিতি এবং কিছু তাত্ত্বিক দিক পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে

যা সরাসরি গবেষণার বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত।

আর এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول: التعريف بالمُؤلِّف

وذلك في ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: حياة الإمام الطبراني الشخصية.

وذلك في مطلبين:

المطلب الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ونسبته.

المطلب الثاني: مولده، ونشأته، وأسرته.

المبحث الثاني: حياة الإمام الطبراني العلمية.

ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: طلبه للعلم.

المطلب الثاني: رحلاته العلمية.

المطلب الثالث: أشهر شيوخه.

المبحث الثالث: مكانته العلمية، وعقيدته، ووفاته.

ويشتمل على سبعة مطالب:

المطلب الأول: كثرة حديثه، وحفظه.

المطلب الثاني: أشهر تلاميذه.

المطلب الثالث: بعض مؤلَّفاته.

المطلب الرابع: ثناء العلماء عليه.

المطلب الخامس: عقيدته.

المطلب السادس: وفاته، وعمره.

المطلب السابع: بعض مصادر ترجمته.
প্রথম অধ্যায়: লেখকের পরিচিতি

যা তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ব্যক্তিগত জীবন।

যা দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, কুনিয়াত ও নিসবত।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পরিবার।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ইলমি (বিদ্বৎ) জীবন।

এবং এটি তিনটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলম অন্বেষণ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি সফরসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা, আকিদাহ ও মৃত্যু।

এবং এটি সাতটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রচুর হাদিস বর্ণনা ও হিফজ (স্মৃতিশক্তি)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর কিছু গ্রন্থাবলী।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর বিষয়ে আলেমগণের প্রশংসা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদাহ।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু ও বয়স।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর জীবনীর কিছু উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الأول: حياة الإمام الطبراني الشخصية.

وذلك في مطلبين:

المطلب الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ونسبته.

المطلب الثاني: مولده، ونشأته، وأسرته.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ব্যক্তিগত জীবন.

তা দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং নিসবত।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং পরিবার।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المطلب الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ونسبته:

• اسمه، ونسبه، وكنيته: الإمامُ، الحافظُ، الثِّقَةُ، الرَّحَالُ، الجَوَّالُ، مُحَدِّثُ الإسلام، عَلَمُ المُعَمَّرين، أبو القاسم‌‌(1)

سُلَيْمَانُ بن أحمد بن أيوب بن مُطَير اللَّخْمِيُّ، الشَّامِيُّ، الطَّبَرَانِيُّ، أحد الأئمة المعروفين، والحُفَّاظ المُكْثرين، والطُلاب الرَّحّالين الجوّالين، والمشايخ المُعَمَّرين، والمُصَنِّفين المُحَدِّثين، والثِّقَات المُعَدّلين.

• نسبته: اللخميُّ، والطبرانيُّ، والأصبهانيُّ:

واللخمي: بفتح اللام وسكون الخاء المعجمة وبعدها ميم، هذه النسبة إلى لخم، وهي قبيلته، واسمه مالك بن عدي، وهو أخو جذام، واسم جذام عَمرو بن عدي، وكانا قد تشاجرا فلخم عمرو مالكا - أي لطمه - فضرب مالك عَمرًا بمدية فجذم يده - أي قطعها - فسُمِّي مالك لخمًا، وسُمِّي عمرو جذاماً لهذا السبب.‌‌(2)

والطبراني: قال السمعاني: بفتح الطاء المهملة، والباء المنقوطة بواحدة، والراء، وفي آخرها النون، هذه النسبة إلى طبرية، وهي مدينة من الأردن بناحية الغور … بت بها ليلة، ودخلت حمامها الّذي هو من عجائب الدنيا … والمنسوب إليها جماعة … وذكر منهم: أبا القاسم سليمان بن أحمد الطبراني … الخ.‌‌(3)

وفُتحت طبرية على يد شرحبيل بن حسنة رضي الله عنه، سنة (13 هـ)، صلحًا على أنصاف منازلهم وكنائسهم، واستولى عليها الإفرنج أثناء الحروب الصليبية، واستخلصها منهم صلاح الدين الأيوبي سنة (583 هـ) بواقعة حطين الشهيرة، وبسبب توالي تلك الأحداث عليها خربت مبانيها، وذهبت أكثر معالمها، ثُمَّ استولى عليها نابليون أثناء حملته على فلسطين عام (1214 هـ-1799 م)، لكنَّه لم يدم طويلاً بسبب هزيمته أمام عكا، وطبرية اليوم تخضع تحت حكم الاحتلال الإسرائيلي الخاشم الظالم، وهي اليوم مدينة يهودية، وذلك إثر سقوطها في سنة 1948 م، وهي ثاني مدينة يهودية صِرف بعد تل أبيب، وقد تغيَّرت كل معالمها تمامًا، وهُدِّمت مبانيها العربية، وتُسمى اليوم باسم طفرياه.‌‌(4)

--------------------------------------------

‌‌(1) أخرج البخاري في "صحيحه" (6196) ك/الأدب، ب/مَنْ سَمَّى بِأَسْمَاءِ الأَنْبِيَاءِ، ومُسلمٌ في "صحيحه" (2131) ك/الآداب، ب/النَّهْيِ عَنِ التَّكَنِّي بِأَبِي الْقَاسِمِ، عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه، أنَّ النَّبي صلى الله عليه وسلم، قال: «سَمُّوا بِاسْمِي، وَلَا تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي، فَإِنَّمَا بُعِثْتُ قَاسِمًا أَقْسِمُ بَيْنَكُمْ». قال الإمام النووي في "المنهاج شرح صحيح مسلم" (14/ 112): اخْتَلَفَ الْعُلَمَاءُ فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ عَلَى مَذَاهِبَ كَثِيرَةٍ، وَجَمَعَهَا الْقَاضِي وَغَيْرُهُ، أَحَدُهَا: مَذْهَبُ الشافعي، وأهل الظاهر أنَّه لا يحل التَّكَنِّي بِأَبِي الْقَاسِمِ لِأَحَدٍ أَصْلًا سَوَاءٌ كَانَ اسْمُهُ مُحَمَّدًا أَوْ أَحْمَدَ أَمْ لَمْ يَكُنْ لِظَاهِرِ هَذَا الْحَدِيثِ، وَالثَّانِي: أَنَّ هَذَا النَّهْيَ مَنْسُوخٌ فَإِنَّ هَذَا الْحُكْمَ كَانَ فِي أَوَّلِ الْأَمْرِ، ثُمَّ نُسِخَ، قَالُوا: فَيُبَاحُ التَّكَنِّي الْيَوْمَ بِأَبِي الْقَاسِمِ لِكُلِّ أَحَدٍ سَوَاءٌ مَنِ اسْمُهُ مُحَمَّدٌ وَأَحْمَدُ وَغَيْرُهُ، وَهَذَا مَذْهَبُ مَالِكٍ، قَالَ الْقَاضِي: وَبِهِ قَالَ جُمْهُورُ السَّلَفِ وَفُقَهَاءُ الْأَمْصَارِ وَجُمْهُورُ الْعُلَمَاءِ، قَالُوا: وَقَدِ اشْتُهِرَ أَنَّ جَمَاعَةً تَكَنَّوْا بِأَبِي الْقَاسِمِ فِي الْعَصْرِ الْأَوَّلِ وَفِيمَا بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى الْيَوْمِ مَعَ كَثْرَةِ فَاعِلِ ذَلِكَ وَعَدَمِ الانكار … الخ ..

‌‌(2) يُنظر: "الأنساب" (11/ 18)، "وفيات الأعيان" لابن خلكان (1/ 167).

‌‌(3) يُنظر: "الأنساب" للسمعاني (8/ 198 - 200).

‌‌(4) يُنظر: "الطبراني وجهوده في خدمة السنة" (ص/53 - 60)، "بلادنا فلسطين" مصطفي مراد الدباغ (9/ 316 - 337).
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম (কুনিয়াত) এবং নিসবত (সম্পর্কিত নাম):

• তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম: ইমাম, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), পর্যটক, পরিব্রাজক, ইসলামের মুহাদ্দিস, দীর্ঘায়ু লাভকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, আবুল কাসিম‌‌(১)

সুলাইমান ইবন আহমদ ইবন আইয়ুব ইবন মুতাইর আল-লাখমি, আশ-শামি, আত-তাবারানি। তিনি প্রসিদ্ধ ইমামগণের অন্যতম, অধিক হাদিস সংগ্রহকারী হাফিজদের একজন, জ্ঞান অন্বেষণে নিরন্তর ভ্রমণকারী শিক্ষার্থী, সুদীর্ঘ জীবন লাভকারী শায়খদের অন্তর্ভুক্ত, মুহাদ্দিস গ্রন্থকার এবং নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারীদের একজন।

• তাঁর নিসবত (সম্পর্কিত নাম): আল-লাখমি, আত-তাবারানি এবং আল-আসবাহানি:

আল-লাখমি: 'লাম' অক্ষরে ফাতহাহ (যবর), 'খা' অক্ষরে সুকুন (জযম) এবং এরপর 'মিম'। এই নিসবতটি 'লাখম' এর দিকে করা হয়েছে, যা তাঁর গোত্র। লাখমের নাম ছিল মালিক ইবন আদি। তিনি জুযাম-এর ভাই। জুযামের নাম ছিল আমর ইবন আদি। তাঁদের উভয়ের মাঝে ঝগড়া হলে আমর মালিককে ঘুষি (লাখাম) মারেন। তখন মালিক একটি ছুরি দিয়ে আমরকে আঘাত করে তাঁর হাত কেটে (জাযামা) ফেলেন। এই কারণে মালিকের নাম রাখা হয় 'লাখম' এবং আমরের নাম রাখা হয় 'জুযাম'।‌‌(২)

আত-তাবারানি: সামআনি বলেন: নুকতাহীন 'ত' অক্ষরে ফাতহাহ, এক নুকতাযুক্ত 'ব' অক্ষরে ফাতহাহ, এরপর 'র' এবং শেষে 'ন'। এই নিসবতটি 'তাবারিয়া' (তিবরিয়াস) এর দিকে করা হয়েছে। এটি জর্ডানের একটি শহর যা গুর অঞ্চলে অবস্থিত... আমি সেখানে এক রাত কাটিয়েছি এবং এর একটি হাম্মামে (গোসলখানা) প্রবেশ করেছি যা পৃথিবীর এক বিস্ময়... এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বহু লোক রয়েছেন... তিনি তাঁদের মধ্যে আবুল কাসিম সুলাইমান ইবন আহমদ আত-তাবারানির নাম উল্লেখ করেছেন... ইত্যাদি।‌‌(৩)

হিজরি ১৩ সনে শুরাহবিল ইবন হাসানা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে সন্ধির মাধ্যমে তাবারিয়া বিজিত হয়। সন্ধির শর্ত ছিল সেখানকার অর্ধেক বাড়িঘর ও গির্জা মুসলিমদের এবং বাকি অর্ধেক তাদের থাকবে। ক্রুসেড যুদ্ধের সময় ইউরোপীয়রা এটি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বিখ্যাত হিত্তিন যুদ্ধের মাধ্যমে ৫৪৩ হিজরিতে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি এটি তাঁদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। ধারাবাহিক এই যুদ্ধের কারণে এখানকার দালানকোঠা ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর অধিকাংশ ঐতিহাসিক নিদর্শন বিলীন হয়ে যায়। অতঃপর ১২১৪ হিজরি (১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে) ফিলিস্তিন অভিযানের সময় নেপোলিয়ন এটি দখল করেন। তবে এক্কা (আক্রা) দুর্গের কাছে পরাজিত হওয়ার কারণে সেখানে তাঁর শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমান তাবারিয়া দখলদার ইসরাইলি জালিম ও আগ্রাসী শাসনের অধীনে রয়েছে। ১৯৪৮ সালে পতনের পর এটি আজ একটি ইহুদি অধ্যুষিত শহর। তেল আবিবের পর এটি দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ ইহুদি শহর। এখানকার সমস্ত নিদর্শন সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হয়েছে, আরবের দালানকোঠাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে এর নাম রাখা হয়েছে ‘তাফরিয়াহ’।‌‌(৪)

--------------------------------------------

‌‌(১) ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে (৬১৯৬), আদব অধ্যায়, নবীদের নামে নাম রাখা বিষয়ক পরিচ্ছেদে এবং ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে (২১৩১), আদব অধ্যায়, আবুল কাসিম উপনাম গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক পরিচ্ছেদে জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনাম (কুনিয়াত) গ্রহণ করো না। কেননা আমি ‘কাসিম’ (বণ্টনকারী) হিসেবে প্রেরিত হয়েছি, আমি তোমাদের মাঝে বণ্টন করি।” ইমাম নববী ‘আল-মিনহাজ শারহু সহিহ মুসলিম’ (১৪/১১২) গ্রন্থে বলেন: এই মাসআলায় আলেমগণ অনেকগুলো মতভেদে বিভক্ত হয়েছেন, যা কাজী আইয়ায ও অন্যান্যরা সংকলন করেছেন। প্রথম মত: ইমাম শাফেয়ি এবং আহলে জাহেরদের মত হলো, কারও জন্যই 'আবুল কাসিম' উপনাম রাখা বৈধ নয়; চাই তার নাম মুহাম্মদ বা আহমদ হোক কিংবা অন্য কিছু হোক, এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থের কারণে। দ্বিতীয় মত: এই নিষেধাজ্ঞাটি মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। কেননা এই হুকুম ইসলামের শুরুর দিকে ছিল, পরে তা রহিত করা হয়েছে। তাঁরা বলেন: সুতরাং বর্তমানে যে কারও জন্য ‘আবুল কাসিম’ উপনাম রাখা জায়েজ, চাই তার নাম মুহাম্মদ, আহমদ বা অন্য যা-ই হোক না কেন। এটি ইমাম মালিকের মত। কাজী আইয়ায বলেন: জমহুর সালাফ, বিভিন্ন শহরের ফকিহগণ এবং জমহুর ওলামায়ে কেরাম এই মতই পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেন: প্রথম যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অনেক মানুষ ‘আবুল কাসিম’ উপনামে ভূষিত হওয়ার বিষয়টি প্রসিদ্ধ, অথচ এটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও কেউ এর প্রতিবাদ করেননি... ইত্যাদি।

‌‌(২) দেখুন: ‘আল-আনসাব’ (১১/১৮), ইবন খাল্লিকানের ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ (১/১৬৭)।

‌‌(৩) দেখুন: সামআনির ‘আল-আনসাব’ (৮/১৯৮-২০০)।

‌‌(৪) দেখুন: ‘আত-তাবারানি ওয়া জুহুদুহু ফি খিদমাতিস সুন্নাহ’ (পৃষ্ঠা: ৫৩-৬০), মোস্তফা মুরাদ আদ-দাব্বাগের ‘বিলাদুনা ফিলাসতিন’ (৯/৩১৬-৩৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২২)
والأصبهاني: نسبة إلى مدينة أصبهان: بفتح الهمزة، وكسرها، وهي مدينة مشهورة من أعلام المدن وأعيانها، وقد اختلف في سبب تسميتها على عدة أقوال، فُتحت في عهد سيدنا عمر بن الخطاب رضي الله عنه سنة 21 هـ، وهي من أخصب المدن وأكثرها مالا وخيرات وفواكه.‌‌(1) وتقع أصبهان اليوم في دولة إيران.

وإذا كانت طبرية هي بلده الأول حيث مولده، وطفولته، ونشأته، وبداية طلبه للعلم، فإنَّ أصبهان هي بلده الثاني الذي قضى فيه أكثر عُمره، وعاش فيه فترة تفوق الفترة التي عاشها في بلده الأول طبرية‌‌(2)؛ فلقد رحل إلى أصبهان مرتين، فدخل في المرة الأولى سنة تسعين ومائتين‌‌(3)، ومكث في أصبهان ست سنين تقريبًا، ثُمَّ خرج مِنْ أصبهان مُرْتحلاً إلى شتى المدن والبلدان، وغاب في هذه الرحلة مُدَّةً تُقَدَّر بأربع عشرة سنة تقريبًا، ثُمَّ عاد إلى أصبهان في المرة الثانية سنة عشر وثلاثمائة‌‌(4)، وأقام بأصبهان مُحَدِّثاً ستين سنة.‌‌(5)

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "معجم البلدان" (1/ 206).

‌‌(2) يُنظر: "الحافظ الطبراني وجهوده في خدمة السنة النبوية" (ص/61).

‌‌(3) يُنظر: "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم سُليمان بن أحمد بن أيوب الطبراني وبعض مناقبه ومولده ووفاته وعدد تصانيفه" للإمام أبي زكريا يحيى بن عبد الوهاب بن مندة (ص/34 - 35)، ويُنظر: "تاريخ أصبهان" (1/ 335)، "تاريخ دمشق" (22/ 165).

‌‌(4) يُنظر: "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" (ص/31).

‌‌(5) يُنظر: "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" (ص/34)، و"تاريخ أصبهان" (1/ 335)، "تاريخ دمشق" (22/ 165).
আল-আসবাহানী: এটি আসবাহান শহরের সাথে সম্পৃক্ততা; হামযাহ বর্ণে ফাতহাহ (আ) অথবা কাসরাহ (ই) যোগে। এটি সুপরিচিত এবং প্রধান শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর নামকরণের কারণ সম্পর্কে বেশ কয়েকটি মতামত রয়েছে। এটি আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খেলাফতকালে ২১ হিজরি সনে বিজিত হয়। এটি সবচেয়ে উর্বর এবং অধিক সম্পদ, কল্যাণ ও ফলমূল সমৃদ্ধ শহরগুলোর একটি।‌‌(১) বর্তমানে আসবাহান ইরান রাষ্ট্রে অবস্থিত।

যদি তাবারিয়া তাঁর প্রথম শহর হয়ে থাকে যেখানে তাঁর জন্ম, শৈশব, বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা হয়েছিল, তবে আসবাহান হলো তাঁর দ্বিতীয় শহর যেখানে তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি তাঁর প্রথম শহর তাবারিয়ার তুলনায় অনেক বেশি সময় অতিবাহিত করেছেন।‌‌(২) তিনি আসবাহানে দুইবার সফর করেছিলেন। প্রথমবার ২৯০ হিজরি সনে সেখানে প্রবেশ করেন‌‌(৩) এবং প্রায় ছয় বছর আসবাহানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি আসবাহান থেকে প্রস্থান করে বিভিন্ন শহর ও জনপদে সফর করেন। এই সফরে তিনি আনুমানিক চৌদ্দ বছর অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর ৩১০ হিজরি সনে তিনি দ্বিতীয়বার আসবাহানে ফিরে আসেন‌‌(৪) এবং সেখানে মুহাদ্দিস হিসেবে ষাট বছর অবস্থান করেন।‌‌(৫)

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "মুজামুল বুলদান" (১/ ২০৬)।

‌‌(২) দেখুন: "আল-হাফিয আত-তাবারানি ওয়া জুহুদুহু ফি খিদমাতিস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ" (পৃষ্ঠা/৬১)।

‌‌(৩) দেখুন: ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মানদাহ রচিত "জুযুন ফিহি যিকর আবি আল-কাসিম সুলায়মান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি ওয়া বাদু মানাকিবিহি ওয়া মাওলিদিহি ওয়া ওয়াফাতিহি ওয়া আদাদু তাসানিফিহি" (পৃষ্ঠা/৩৪ - ৩৫), এবং দেখুন: "তারিখে আসবাহান" (১/ ৩৩৫), "তারিখে দামেশক" (২২/ ১৬৫)।

‌‌(৪) দেখুন: "জুযুন ফিহি যিকর আবি আল-কাসিম আত-তাবারানি" (পৃষ্ঠা/৩১)।

‌‌(৫) দেখুন: "জুযুন ফিহি যিকর আবি আল-কাসিম আত-তাবারানি" (পৃষ্ঠা/৩৪), এবং "তারিখে আসবাহান" (১/ ৩৩৫), "তারিখে দামেশক" (২২/ ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المطلب الثاني: مولده، ونشأته، وأسرته:

• مولده: قال الإمام أبو زكريا يحيى بن مندة: سَمِعتُ الإِمَام عمي - عبد الرحمن بن محمد بن إسحاق ابن مندة -، وَمُحَمّد بن بديع، يَقُولَانِ: سمعنَا أبا بكر أحمد بن موسى بن مردويه، يقول:

سَمِعتُ الإمام أبا القَاسِم الطَّبَرَانِيّ، يَقُول: وُلِدتُ سنة سِتِّينَ وَمِائَتَيْنِ.‌‌(1)

وقال القاضي ابن أبي ليلى، والذهبي: كان مولده بعكّا، في صفر سنة ستين ومائتين، وأمّه من عَكّا.‌‌(2)

بينما قال ياقوت الحموي، وابن الأثير، وابن خلكان،: كان مولده بطبرية، سنة ستين ومائتين.‌‌(3)

ولعَلَّ الراجح - والله أعلم - أنَّه وُلِدَ بطبرية، لنسبته إليها.‌‌(4)

• نشأته: نشأ على طلب العلم منذ الصغر، وتربى في بيت علمٍ وفضلٍ، فسمع الحديث مُبَكِّراً وعُمُره ثلاث عشرة سنةٍ تقريبًا، قال الذهبي: أوَّل سماعه في سنة ثلاث وسبعين ومائتين بطبريّة، وارتحل به أبوه، وحرص عليه، فإنَّه كان صاحب حديثٍ من أصحاب دحيم، فبقي في الارتحال ستة عشر عامًا.‌‌(5)

• أسرته: كان والده مِنْ طبرية، وكان صاحب حديث مِنْ أصحاب دُحيم، وأمُّه عَكَّاوية مِنْ عَكَّا، ولم أقف - على حد بحثي فيما وقفت عليه مِنْ مصادر لترجمته - على ذكر أحد مِنْ أخواته، والله أعلم.

وأمَّا أولاده: فله ابنٌ يُسمَّى مُحَمَّدًا، ويُكَنَّى أبا ذر - كنَّاه الطبرانيُّ بكنية أبيه أحمد‌‌(6) -: يَروي عن أبي عَليّ الوَرَّاق، وأبي عَمْرو بن حَكِيم، وعبد الله بن جَعْفَر - بانتخاب وَالِده -، وروى عَنهُ جمَاعَةٌ مِنْ كِبَار المُحَدِّثين: كأبي طَاهِر بن عُرْوَة، وأبي أحمد العَطَّار، وعليّ بن سعيد البَقَّال، وغيرهم مِنَ المُتَأَخِّرين جَمَاعَةٌ، مَاتَ في رَجَب سنة تسع وَتِسْعين وثلاثمائة، وقبره بِجنب قبر وَالِده - رحمهمَا الله تعالى -.

وله بنتٌ تُسَمَّى فَاطِمَة: أمها أسماء بنت أحمد بن محمَّد بن شدرة الخَطِيب، وَذُكِرَ أنَّها كانت تَصُوم يَوْمًا، وتفطر يَوْمًا، وكانت لا تنام مِنْ اللَّيْل إلا قَلِيلًا - رحمها الله تعالى - ولها عقب.‌‌(7)

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" (ص/30 - 31)، و"تاريخ أصبهان" (1/ 335)، "تاريخ دمشق" (22/ 165).

‌‌(2) يُنظر: "طبقات الحنابلة" (2/ 50)، "تاريخ الإسلام" (8/ 144)، "سير أعلام النبلاء" (16/ 119).

‌‌(3) يُنظر: "معجم البلدان" (4/ 19)، "اللباب في تهذيب الأنساب" (2/ 273)، "وفيات الأعيان" (2/ 407).

‌‌(4) يُنظر: "الحافظ الطبراني وجهوده في خدمة السنة النبوية" (ص/52).

‌‌(5) يُنظر: "سير أعلام النبلاء" (16/ 119)، "تاريخ الإسلام" (8/ 143).

‌‌(6) يُنظر: "سير أعلام النبلاء" (16/ 123).

‌‌(7) يُنظر: "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" للإمام أبي زكريا يحيى بن عبد الوهاب بن مندة (ص/32 - 33).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পরিবার:

• তাঁর জন্ম: ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মান্দাহ বলেন: আমি আমার চাচা—আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মান্দাহ—এবং মুহাম্মদ ইবনে বাদি'কে বলতে শুনেছি, তাঁরা বলেন: আমরা আবু বকর আহমদ ইবনে মুসা ইবনে মারদুবাইহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:

আমি ইমাম আবুল কাসিম আত-তাবারানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি দুইশ ষাট হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছি।‌‌(১)

কাজী ইবনে আবি লায়লা এবং আয-যাহাবি বলেন: তাঁর জন্ম হয়েছিল 'আক্কা'য়, দুইশ ষাট হিজরির সফর মাসে, এবং তাঁর মা ছিলেন আক্কার বাসিন্দা।‌‌(২)

অন্যদিকে ইয়াকুত আল-হামাউই, ইবনুল আসির এবং ইবনে খাল্লিকান বলেন: তাঁর জন্ম হয়েছিল তাবারিয়ায়, দুইশ ষাট হিজরি সনে।‌‌(৩)

সম্ভবত সঠিক মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি তাবারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন, কারণ তাঁর নিসবত (নামের শেষাংশ) সেদিকেই নির্দেশ করে।‌‌(৪)

• তাঁর বেড়ে ওঠা: তিনি ছোটবেলা থেকেই ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণে বড় হয়েছেন এবং জ্ঞান ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি খুব অল্প বয়সেই—প্রায় তেরো বছর বয়সে—হাদিস শ্রবণ শুরু করেন। আয-যাহাবি বলেন: তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ ছিল দুইশ তিয়াত্তর হিজরি সনে তাবারিয়ায়। তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন এবং তাঁর ইলম অর্জনের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন দুহাইমের ছাত্রদের মধ্যে একজন হাদিস বিশারদ। তিনি ভ্রমণে ষোলো বছর অতিবাহিত করেন।‌‌(৫)

• তাঁর পরিবার: তাঁর পিতা ছিলেন তাবারিয়ার বাসিন্দা এবং তিনি দুহাইমের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত একজন হাদিস বিশারদ ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন 'আক্কা'র বাসিন্দা। আমার যতটুকু গবেষণা এবং যেসব জীবনীসংক্রান্ত উৎসের সন্ধান আমি পেয়েছি, তাতে তাঁর কোনো বোনের কথা উল্লেখ থাকতে দেখিনি; আল্লাহই ভালো জানেন।

আর তাঁর সন্তানদের কথা বলতে গেলে: তাঁর মুহাম্মদ নামে একজন পুত্র ছিল, যাঁর উপনাম (কুনিয়াত) ছিল আবু যার—আত-তাবারানি তাঁকে তাঁর পিতা আহমদের উপনামে ডেকেছেন‌‌(৬)—। তিনি আবু আলী আল-ওয়াররাক, আবু আমর ইবনে হাকিম এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে—তাঁর পিতার নির্বাচনের ভিত্তিতে—হাদিস বর্ণনা করেছেন। একদল বড় মুহাদ্দিস তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: যেমন আবু তাহির ইবনে উরওয়াহ, আবু আহমদ আল-আত্তার, আলী ইবনে সাইদ আল-বাক্কাল এবং পরবর্তী সময়ের আরও একদল। তিনি তিনশ নিরানব্বই হিজরির রজব মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর কবর তাঁর পিতার কবরের পাশেই অবস্থিত—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।

তাঁর ফাতেমা নামে এক কন্যা ছিল: তাঁর মা ছিলেন আসমা বিনতে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাদরাহ আল-খাতিব। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং এক দিন রোজা ভাঙতেন, আর রাতে খুব অল্প সময় ঘুমাতেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—এবং তাঁর বংশধর রয়েছে।‌‌(৭)

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: "জুযউন ফিহি জিকরুন আবি আল-কাসিম আত-তাবারানি" (পৃ. ৩০ - ৩১), "তারিখু আসবাহান" (১/ ৩৩৫), "তারিখু দিমাস্ক" (২২/ ১৬৫)।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: "তাবাকাতুল হানাবিলাহ" (২/ ৫০), "তারিখুল ইসলাম" (৮/ ১৪৪), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/ ১১৯)।

‌‌(৩) দ্রষ্টব্য: "মুজামুল বুলদান" (৪/ ১৯), "আল-লুবাব ফি তাহজিবিল আনসাব" (২/ ২৭৩), "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" (২/ ৪০৭)।

‌‌(৪) দ্রষ্টব্য: "আল-হাফিজ আত-তাবারানি ওয়া জুহুদুহু ফি খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ" (পৃ. ৫২)।

‌‌(৫) দ্রষ্টব্য: "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/ ১১৯), "তারিখুল ইসলাম" (৮/ ১৪৩)।

‌‌(৬) দ্রষ্টব্য: "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/ ১২৩)।

‌‌(৭) দ্রষ্টব্য: ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মান্দাহ রচিত "জুযউন ফিহি জিকরুন আবি আল-কাসিম আত-তাবারানি" (পৃ. ৩২ - ৩৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الثاني: حياة الإمام الطبراني العلمية.

ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: طلبه للعلم.

المطلب الثاني: رحلاته العلمية.

المطلب الثالث: أشهر شيوخه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ইলমি জীবন.

এবং এটি তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি সফরসমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المطلب الأول: طلبه للعلم:

كان أوّل سماعه بطبرية سنة ثلاثٍ وسبعين ومائتين، وله ثلاث عشرة سنة، سمّعه أبوه، ورحل به؛ لأنّه كان له ماسَّة بالحديث.‌‌(1)

قال أبو بكر بن أبي عَليّ العدل - رَحِمَه الله تعالى -:

سَأَلَ وَالِدي رحمه الله الطَّبَرَانِيَّ عن كَثْرَةِ حَدِيثه؟ فقال: كنت أَنَامُ على البَوَارِي‌‌(2) ثلاثِينَ سنة.‌‌(3)‌‌(4)

 

‌‌المطلب الثاني: رحلاته العلمية:

كعادة أهل العلم في طلب الحديث نشأ الطبراني رضي الله عنه في بلده يطلب العلم مِنْ شيوخها وعُلمائها، ولا شك أنَّ أولهم والده رحمه الله فقد كان صاحب حديث مِنْ أصحاب دُحيم.

وكان أول سماعه للحديث ببلده سنة ثلاثٍ وسبعين ومائتين، فواصل الليل بالنهار في طلب العلم لمدة عام، وسرعان ما بدأ في رحلته لطلب العلم يَشُقُّ الصحاري والجبال، ويمر على الأنهار والوديان، تاركًا الأهل والمال والأوطان، والشوق يحترق في قلبه لحديث النَّبي العدنان صلى الله عليه وسلم.

فرحل إلى القدس سنة أربعٍ وسبعين ومائتين، ثُمَّ إلى قيسارية وعكا سنة خمسٍ وسبعين ومائتين، ورحل إلى حلب سنة ثمان وسبعين ومائتين، ودخل اليمن تقريبًا سنة ثمانين ومائتين، وطاف بالبلدان كمصر، والحجاز وبغداد وغيرها، حتي دخل أصبهان في المرة الأولى سنة تسعين ومائتين، ومكث بها ست سنين تقريبًا، ثُم بدأ يرحل مَرَّة أخرى يطوف البلدان ويجوب الأقطار لمدةٍ استغرقت أربع عشرة سنة تقريبًا، ويعود إلى أصبهان للمرة الثانية سنة عشرٍ وثلاثمائة، فَيُقِيم بها مُحَدِّثًا ستين سنة؛ وعليه فتكون المدة التي قضاها منذ أن خرج مِنْ بلده طبرية سنة أربع وسبعين ومائتين، إلى أن عاد إلى أصبهان مستوطنًا بها سنة عشر

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "تاريخ الإسلام" (8/ 143).

‌‌(2) البواري: الحصير المعمول مِنْ القصب. يُنظر: "لسان العرب" (1/ 386).

‌‌(3) يُنظر: "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" (ص/37)، "تاريخ دمشق" (22/ 165).

‌‌(4) في مثل هذا الموطن يحسنُ بي أن أنقل ما قال الإمام أبو عبد الله الحاكم في "معرفة علوم الحديث" (ص/2 - 3) في ذكر مناقب أهل الحديث: فقد أخرج بسنده عن مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَا يَزَالُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمُ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ»، وأسند أبو عبد الله الحاكم عن الإمام أَحْمَدَ بن حَنْبَلٍ، أَنَّه سُئِلَ عَنْ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ: «إِنْ لَمْ تَكُنْ هَذِهِ الطَّائِفَةُ الْمَنْصُورَةُ أَصْحَابَ الْحَدِيثِ فَلَا أَدْرِي مَنْ هُمْ؟!» .. ثُمَّ قال الحاكم: لقد أَحْسَنَ أحمد بن حَنْبَلِ فِي تَفْسِيرِ هَذَا الْخَبَرِ أَنَّ الطَّائِفَةَ الْمَنْصُورَةَ الَّتِي يُرْفَعُ الْخِذْلَانُ عَنْهُمْ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ هُمْ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ، وَمَنْ أَحَقُّ بِهَذَا التَّأْوِيلِ مِنْ قَوْمٍ سَلَكُوا مَحَجَّةَ الصَّالِحِينَ، وَاتَّبَعُوا آثَارَ السَّلَفِ مِنَ الْمَاضِينَ، وَدَمَغُوا أَهْلَ الْبِدَعِ وَالْمُخَالِفِينَ بِسُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، مِنْ قَوْمٍ آثَرُوا قَطْعَ الْمَفَاوِزِ وَالْقِفَارِ، عَلَى التَّنَعُّمِ فِي الدّمَنِ وَالْأَوْطَارِ، وَتَنَعَّمُوا بِالْبُؤْسِ فِي الْأَسْفَارِ، مَعَ مُسَاكَنَةِ الْعِلْمِ وَالْأَخْبَارِ، وَقَنَعُوا عِنْدَ جَمْعِ الْأَحَادِيثِ وَالْآثَارِ بِوُجُودِ الْكِسَرِ وَالْأَطْمَارِ، قَدْ رَفَضُوا الْإِلْحَادَ الَّذِي تَتُوقُ إِلَيْهِ النُّفُوسُ الشَّهْوَانِيَّةُ، وَتَوَابِعُ ذَلِكَ مِنَ الْبِدَعِ وَالْأَهْوَاءِ وَالْمَقَايِيسِ وَالْآرَاءِ وَالزَّيْغِ؛ جَعَلُوا الْمَسَاجِدَ بُيُوتَهُمْ، وَبَوَارِيَها فُرُشَهُمْ.
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলম অর্জন:

২৭৩ হিজরি সনে তাবারিয়াতে তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ শুরু হয়। তাঁর পিতা তাঁকে হাদিস শ্রবণ করাতেন এবং তাঁকে সাথে নিয়ে সফর করতেন; কারণ হাদিসের সাথে তাঁর গভীর সম্পৃক্ততা ছিল।(১)

আবু বকর বিন আবি আলী আল-আদল (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন:

আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাবারানিকে তাঁর প্রচুর হাদিস সংগ্রহের রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন: "আমি ত্রিশ বছর যাবত চাটাইয়ের ওপর ঘুমিয়েছি।"(২))(৩)(৪)

 

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত সফরসমূহ:

হাদিস অন্বেষণে আহলে ইলমদের রীতি অনুযায়ী তাবারানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিজ শহরে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানকার শায়খ ও আলেমদের নিকট ইলম অর্জন করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁদের মধ্যে প্রথম ছিলেন তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), কারণ তিনি দুহাইমের ছাত্রদের মধ্যে একজন হাদিস বিশারদ ছিলেন।

নিজ শহরে ২৭৩ হিজরি সনে তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ শুরু হয়। এরপর তিনি এক বছর পর্যন্ত ইলম অর্জনে দিন-রাত এক করে দেন। শীঘ্রই তিনি জ্ঞান অন্বেষণের সফরে বেরিয়ে পড়েন; মরুভূমি ও পাহাড় পাড়ি দেন, নদ-নদী ও উপত্যকা অতিক্রম করেন এবং পরিবার, সম্পদ ও স্বদেশ ত্যাগ করেন; অথচ তাঁর হৃদয়ে নবী আদনানি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের প্রতি গভীর তামান্না প্রজ্বলিত ছিল।

তিনি ২৭৪ হিজরিতে বাইতুল মাকদিস (জেরুজালেম) সফর করেন, তারপর ২৭৫ হিজরিতে কায়সারিয়া ও আক্কায় যান। ২৭৮ হিজরিতে তিনি আলেপ্পো (হালাব) সফর করেন এবং আনুমানিক ২৮০ হিজরিতে ইয়ামেনে প্রবেশ করেন। তিনি মিশর, হিজাজ, বাগদাদসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন, এমনকি ২৯০ হিজরিতে প্রথমবার আসবাহানে প্রবেশ করেন এবং সেখানে প্রায় ছয় বছর অবস্থান করেন। এরপর তিনি পুনরায় দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ ও সফর শুরু করেন যা প্রায় চৌদ্দ বছর স্থায়ী হয়। এরপর ৩১০ হিজরিতে দ্বিতীয়বারের মতো আসবাহানে ফিরে আসেন এবং সেখানে মুহাদ্দিস হিসেবে ষাট বছর অবস্থান করেন। সেই হিসেবে ২৭৪ হিজরিতে নিজ শহর তাবারিয়া থেকে বের হওয়ার পর ৩১০ হিজরিতে আসবাহানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর সফরের সময়কাল ছিল...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: "তারিখুল ইসলাম" (৮/১৪৩)।

(২) আল-বাওয়ারি: নলখাগড়া দিয়ে তৈরি চাটাই। দ্রষ্টব্য: "লিসানুল আরব" (১/৩৮৬)।

(৩) দ্রষ্টব্য: "জুযুন ফিহি জিকরু আবিল কাসিম আত-তাবারানি" (পৃ. ৩৭), "তারিখু দামেশক" (২২/১৬৫)।

(৪) এই প্রসঙ্গে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর "মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস" (পৃ. ২-৩) গ্রন্থে আহলে হাদিসদের মর্যাদা সম্পর্কে যা বলেছেন তা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি: তিনি তাঁর সনদে মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়।» এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে এই হাদিসের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «যদি এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি 'আসহাবুল হাদিস' (হাদিসের অনুসারী) না হয়, তবে তারা কারা তা আমি জানি না!» .. অতঃপর আল-হাকিম বলেন: আহমাদ বিন হাম্বল এই খবরের ব্যাখ্যায় অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত যে সাহায্যপ্রাপ্ত দল লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত থাকবে তারা হলো আসহাবুল হাদিস। আর এই ব্যাখ্যার সবচেয়ে যোগ্য তারাই যারা সৎকর্মশীলদের পথ অবলম্বন করেছে, পূর্বসূরি সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর মাধ্যমে বিদআতি ও বিরোধীদের দমন করেছে। তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা আরাম-আয়েশ ও ভোগবিলাসের চেয়ে মরুভূমি ও জনমানবহীন প্রান্তর পাড়ি দেওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং জ্ঞান ও হাদিসের সান্নিধ্যে থেকে সফরের কষ্টকে সানন্দে গ্রহণ করেছে। তারা হাদিস ও আসার (সাহাবীদের বাণী) সংগ্রহের সময় জীর্ণ পোশাক ও রুটির টুকরোতেই তুষ্ট থেকেছে। তারা সেই ধর্মদ্রোহিতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে যার প্রতি কুপ্রবৃত্তি উসকানি দেয় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিদআত, খেয়ালখুশি, রায় (ব্যক্তিগত মতামত) ও বিচ্যুতিকে বর্জন করেছে। তারা মসজিদসমূহকে তাদের ঘর এবং সেখানকার চাটাইকে তাদের বিছানা বানিয়ে নিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وثلاثمائة تُقَدَّرُ بسبعة وثلاثين عامًا تقريبًا، فتلك هي المدة التي قضاها في رحلته العلمية، والله أعلم.‌‌(1)

لذا فلا عجب مِنْ إمامٍ طاف البلاد والأقطار في مدة تقرب مِنْ نصف عمره، ودخل ستين بلدة تقريبًا‌‌(2)، أن يأتي بما لم يأت به غيره مِنْ أهل العلم، فرحمه الله رحمة واسعه، وجعل الجنة مثوانا ومثواه.

وهو القائل رضي الله عنه:

طَلَبُ الحَدِيثِ مَذَلَّةٌ وَصَغَارُ … والصَّبْرُ عَنْهُ تَنَدُّمٌ وشنَارُ

فَاصبِر عَلَى طَلَبِ الحَدِيثِ … فَإِنَّه مِنْ بَعْد ذُلٍّ عِزَّةٌ وَوَقَارُ‌‌(3)

 

• قلتُ: لمَّا قضى الإمام الطبراني حياته ليلاً ونهاراً في طلب العلم، والانشغال بالعبادة، وبحديث النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، باحثًا وجامعاً، حافظًا وناشراً، مُتفقهًا ومُحققًا، مُدَقِّقًا وناقدًا، رواية وتدوينًا، وحفظًا وتمحيصًا، كان الجزاء مِنْ جنس العمل، حيث إنَّ الله عز وجل عَجَّل له البشرى في الدُّنيا برؤية النَّبي صلى الله عليه وسلم في المنام - نسأل الله عز وجل أن يمنَّ علينا برؤيته صلى الله عليه وسلم في الدُّنيا ومجاورته يوم القيامة -:

قال الإمام يحيى بن مندة: قال أبو القاسم الطبرانيّ: رأيتُ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم في المنام في شوال سنة ثَلَاث وَعشْرين وثلاثمائة فِي ما بين يهودية أَصْبَهَان، ومهرنيتها في صحراء من صحاريها، وكان مضَارب النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم مَضْرُوبَة مربعة غير مقببة مغشاة بأغشية بيض حَسَنَة البيَاض، وكان أزواجه صلى الله عليه وسلم في المضَارب.

ورأيتُ عَائِشَة بارزة عن مضربٍ مِنْ المضَارب، مُولِّيَةً وجهها نحو المضرب، مرتدية برد أَبيض شَدِيد البيَاض، فَمَرَّ بها طِفْلٌ فدعَتْ له، فَسَمِعْتُ فصاحتها، ولم أنظر إلى وجهها.

فانتهيتُ إلى النَّبِي صلى الله عليه وسلم وهو جالسٌ على كُرْسِيٍّ، وهو بارزٌ على المضَارب، فَقَبَّلتُ ما بين عَيْنَيْهِ وعاتقيه، ثُمَّ جَلَستُ بين يَدَيْهِ، فَرفعتُ يَديّ، فدعوت لنَفْسي وَلِلْمُؤْمنِينَ وَالْمُؤْمِنَات وَالْمُسْلِمين وَالْمُسلمَات دُعَاء كثيرًا، وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم مُقْبِلٌ عَليّ بِوَجْهِهِ مُبْتَسِمٌ لم يفتر عن أنيابه.‌‌(4)

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "العبر في خبر مَنْ غَبر" (2/ 106)، "تاريخ الإسلام" (8/ 143 - 144)، "سير النبلاء" (16/ 119 - 121).

‌‌(2) عدَّها د/محمد أحمد رضوان في رسالته "الحافظ الطبراني وجهوده في خدمة السنة" (ص/74)، وأوصلها إلى (59) بلدة.

‌‌(3) أسنده ابن عساكر في "تاريخ دمشق" (22/ 169) إلى الإمام أبي القاسم الطبراني رضي الله عنه. وهذه الأبيات قال بنحوها وزاد عليها الإمام الفضل بن جعفر السلمسيني لمحمد بن جرير الطبري، كما في "المنتخب من معجم شيوخ السمعاني" (1/ 655).

‌‌(4) يُنظر: "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" للإمام أبي زكريا يحيى بن عبد الوهاب بن مندة (ص/41 - 42).
এবং তিনশত যা প্রায় সাইত্রিশ বছর হিসেবে ধারণা করা হয়; এটিই ছিল সেই সময় যা তিনি তার ইলমি সফরে ব্যয় করেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।‌‌(১)

তাই এমন একজন ইমামের ব্যাপারে আশ্চর্যের কিছু নেই যিনি তার জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় ধরে দেশ ও জনপদসমূহ ভ্রমণ করেছেন এবং প্রায় ষাটটি শহরে প্রবেশ করেছেন‌‌(২), যে তিনি এমন কিছু নিয়ে আসবেন যা ইলমের অধিকারী অন্য কেউ আনতে পারেননি। আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং জান্নাতকে আমাদের ও তার আবাসস্থল করুন।

তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন:

হাদিস অন্বেষণ হলো (শুরুতে) লাঞ্ছনা ও তুচ্ছতা … আর তা থেকে ধৈর্য ধারণ করা (বিমুখ থাকা) হলো অনুশোচনা ও অপমান

সুতরাং তুমি হাদিস অন্বেষণে ধৈর্য ধরো … কারণ নিশ্চয়ই লাঞ্ছনার পরেই রয়েছে সম্মান ও গাম্ভীর্য‌‌(৩)

 

• আমি বলছি: যেহেতু ইমাম তাবারানি তার জীবন রাত-দিন ইলম অন্বেষণে, ইবাদতে মগ্ন থেকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের গবেষণায়, সংগ্রহে, মুখস্থকরণে ও প্রচারে, ফিকহ ও তাহকিকে, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে ও সমালোচনায়, বর্ণনা ও সংকলনে এবং মুখস্থ রাখা ও যাচাই-বাছাইয়ে ব্যয় করেছেন, তাই প্রতিফলটি ছিল আমল অনুযায়ী। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে দুনিয়াতেই সুসংবাদ ত্বরান্বিত করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখার মাধ্যমে - আমরা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের দুনিয়াতে তাকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখার এবং কিয়ামতের দিন তার প্রতিবেশী হওয়ার তাওফিক দান করেন -:

ইমাম ইয়াহইয়া বিন মান্দাহ বলেন: আবুল কাসেম তাবারানি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখেছি ৩২৩ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে ইসফাহানের ইয়াহুদিয়া ও মাহারানিয়ার মধ্যবর্তী কোনো এক মরুভূমিতে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাবুগুলো ছিল চতুষ্কোণ বিশিষ্ট, গম্বুজহীন এবং অত্যন্ত চমৎকার সাদা কাপড়ে আবৃত। তার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীগণ সেসব তাবুর ভেতরে ছিলেন।

আমি আয়েশা (রা.)-কে একটি তাবু থেকে বের হতে দেখলাম, তিনি তাবুর দিকে মুখ ফিরিয়ে ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধবধবে সাদা একটি চাদর পরিহিত ছিলেন। একটি শিশু তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তিনি তার জন্য দোয়া করলেন। আমি তার প্রাঞ্জল ভাষা শুনলাম, তবে আমি তার চেহারার দিকে তাকাইনি।

এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলাম, তিনি একটি চেয়ারে বসে ছিলেন এবং তাবুগুলোর বাইরে দৃশ্যমান ছিলেন। আমি তার দুই চোখের মাঝখানে এবং তার দুই কাঁধে চুম্বন করলাম। তারপর আমি তার সামনে বসলাম এবং হাত তুলে নিজের জন্য এবং মুমিন নর-নারী ও মুসলিম নর-নারীদের জন্য অনেক দোয়া করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে ছিলেন এবং তার দন্ত মোবারক প্রকাশিত হচ্ছিল না।‌‌(৪)

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: "আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার" (২/ ১০৬), "তারিখুল ইসলাম" (৮/ ১৪৩ - ১৪৪), "সিয়ারু নুবালা" (১৬/ ১১৯ - ১২১)।

‌‌(২) ড. মুহাম্মদ আহমদ রাদওয়ান তার "আল-হাফিজ আত-তাবারানি ওয়া জুহুদুহু ফি খিদমাতিস সুন্নাহ" (পৃ. ৭৪) নামক অভিসন্দর্ভে এটি গণনা করেছেন এবং ৫৯টি শহর পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন।

‌‌(৩) ইবনে আসাকির "তারিখু দিমাসক" (২২/ ১৬৯) গ্রন্থে ইমাম আবুল কাসেম তাবারানি (রা.) পর্যন্ত এটি বর্ণনা করেছেন। এই কবিতাগুলো ফজল বিন জাফর আস-সুলমাসিনি সামান্য পরিবর্তন ও বর্ধিত আকারে মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারির জন্য বলেছিলেন, যেমনটি "আল-মুনতাখাব মিন মু'জামু শুয়ুখিস সাম'আনি" (১/ ৬৫৫) গ্রন্থে রয়েছে।

‌‌(৪) দ্রষ্টব্য: ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মান্দাহ রচিত "জুযউ ফিহি যিকর আবি আল-কাসেম আত-তাবারানি" (পৃ. ৪১ - ৪২)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطلب الثالث: أشهر شيوخه:

رحل الطبراني إلى مُعظم بلاد المسلمين، لذا سمع الحديث مِنْ شيوخٍ كثيرين، فسمع مِنْ ألف شيخٍ أو يزيدون‌‌(1)، وقد ألف الطبراني معجميه "الصغير، والأوسط" مرتبين على أسماء شيوخه، وبلغ عدد شيوخه الذين سمع منهم في "المعجم الأوسط" (837) تقريبًا‌‌(2)، بينما بلغ عددهم في "المعجم الصغير" (1150) تقريباً‌‌(3)، وقال الشيخ حَمَّاد الأنصاري: وقد جَرَّدت أسماءهم في "المعجم الصغير"، وغيره مِنْ مُؤلَّفاته فبلغت عدَّدتهم ثلاثة وخمسون ومائتين وألف (1253) شيخًا، وأعتقد أنَّه ليس للطبراني مِنْ المشايخ أكثر مِنْ هذا العدد.‌‌(4) بينما قال نايف بن صلاح المنصوري: وقد جرَّدتُ أسماءهم مِنْ مُؤلَّفاته البالغة خمسة عشر مُؤلَّفًا وغيرها، فبلغوا (1325)‌‌(5)، بينما نجده لم يُترجم لشيوخ الطبراني إلا لـ (1170) شيخًا فقط.‌‌(6)

وقد اهتم جماعة مِنْ أهل العلم بشيوخ الطبراني، إمَّا عرضًا أثناء تحقيقهم لكتاب مِنْ كتبه‌‌(7)، أو عَمْداً وجمعًا بإفرادهم في مُؤَلَّفٍ مُستقلٍ، بالترجمة لهم، مع بيان حالهم، كما فعل الشيخ/حَمَّاد الأنصاري في "بلغة القاصي والداني في تراجم شيوخ الطبراني"‌‌(8)، والشيخ/نايف بن صلاح المنصوري في "إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني"‌‌(9)، وغيرهم.

ونظرًا لاعتناء هؤلاء بشيوخه، فإنَّني أكتفي بذكر بعضهم، مع عدم الإطالة، مُعتمداً عليهم، كالآتي:

1) الإمام الحافظ النَّاقد مُحَدِّثُ بغداد عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني: روى عن: أبيه شيئًا كثيراً، وشيبان بن فروخ، والهيثم بن خارجة، وغيرهم. وروى عنه: أبو القاسم الطبراني وأكثر عنه في "معاجمه"، وأبو عبد الرحمن النسائي، وابن صاعد، وآخرون. وهو "ثِقَةٌ ثَبْتٌ إمامٌ حُجَّةٌ".‌‌(10)

2) الإمام الحافظ المُعَمَّر أبو مسلم إبراهيم بن عبد الله بن مسلم البصري، الكجي: روى عن: أبي عاصم

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "سير أعلام النبلاء" (16/ 120).

‌‌(2) قمت بِعَدِّهم مِنْ خلال فهرس شيوخ الطبراني المذكور في طبعة دار الحرمين "للمعجم الأوسط" (9/ 292 - 308).

‌‌(3) قاله الأستاذ مطاع الطرابيشي في بحثٍ له بعنوان "فوائد معجم شيوخ الطبراني"، نشرته مجلة اللغة العربية بدمشق، نقلاً عن مقدمة كتاب "الأوائل" للطبراني بتحقيق مروان العطية، وشيخ الراشد (ص/16).

‌‌(4) يُنظر: "بلغت القاصي والداني" (ص/5)، نقلاً عن مقدمة "إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني" (ص/24).

‌‌(5) يُنظر: مقدمة كتاب "إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني" (ص/24).

‌‌(6) فقد ترجم لشيوخ الطبراني في كتابه "إرشاد القاصي والداني"، ورقَّمهم ترقيماً مُسلسلاً آخرهم برقم (1170)، (ص/709).

‌‌(7) اعتنى بجمع هؤلاء وذكرهم الشيخ/ نايف بن صلاح المنصوري في مقدمة كتابه "إرشاد القاصي والداني" (ص/30 - 32).

‌‌(8) طُبع في مكتبة الغرباء الأثرية بالمدينة المنورة سنة (1415 هـ-1995 م)، ويقع في (394) صفحة، واستغرق في تأليفه أكثر مِنْ ثلاثين سنة، لعدم توافر المراجع. نقلاً عن مقدمة كتاب "إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني" (ص/27).

‌‌(9) طُبع في دار الكيان بالرياض، ومكتبة ابن تيمية بالشارقة، سنة (1427 هـ-2006 م)، ويقع في (711) صفحة.

‌‌(10) يُنظر: "تهذيب الكمال" (14/ 285)، "سير أعلام النبلاء" (13/ 516).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ শায়খগণ:

তাবারানী অধিকাংশ মুসলিম দেশ ভ্রমণ করেছিলেন, ফলে তিনি অসংখ্য শায়খের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি এক হাজার বা তারও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন‌‌(১)। তাবারানী তাঁর 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' এবং 'আল-মু'জাম আল-আওসাত' গ্রন্থদ্বয় তাঁর শায়খদের নামের ক্রমানুসারে সংকলন করেছেন। 'আল-মু'জাম আল-আওসাত'-এ তাঁর সেই সব শায়খদের সংখ্যা প্রায় ৮৩৭ জন যাঁদের নিকট থেকে তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন‌‌(২), অপরদিকে 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এ তাঁদের সংখ্যা প্রায় ১১৫০ জন‌‌(৩)। শেখ হাম্মাদ আল-আনসারী বলেছেন: আমি 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' এবং তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ থেকে তাঁদের নামগুলো পৃথক করেছি, ফলে তাঁদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বারো শত তিপ্পান্ন (১২৫৩) জন; আর আমি মনে করি যে তাবারানীর এর চেয়ে অধিক সংখ্যক শায়খ নেই।‌‌(৪) অন্যদিকে নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরী বলেছেন: আমি তাঁর পনেরটি গ্রন্থ এবং অন্যান্য উৎস থেকে তাঁদের নামগুলো সংগ্রহ করেছি, ফলে তাঁদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (১৩২৫) জন‌‌(৫), যদিও আমরা দেখতে পাই যে তিনি তাবারানীর শায়খদের মধ্যে মাত্র (১১৭০) জনের জীবনী বর্ণনা করেছেন।‌‌(৬)

একদল আলেম তাবারানীর শায়খদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন; হয় তাঁর কোনো গ্রন্থ সম্পাদনা (তাহকীক) করার সময় প্রাসঙ্গিকভাবে‌‌(৭), অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁদেরকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন ও তাঁদের জীবনী আলোচনার মাধ্যমে, সাথে তাঁদের অবস্থা বর্ণনা করে; যেমনটি করেছেন শেখ হাম্মাদ আল-আনসারী তাঁর "বুলুগাতুল কাসি ওয়াদ দানি ফি তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানী" গ্রন্থে‌‌(৮), এবং শেখ নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরী তাঁর "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানী" গ্রন্থে‌‌(৯) এবং অন্যান্যরা।

যেহেতু তাঁরা এই শায়খদের ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন, তাই আমি তাঁদের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ না করে সংক্ষেপে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি, যা নিম্নরূপ:

১) ইমাম, হাফেজ, সমালোচক, বাগদাদের মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আল-শায়বানী: তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে অনেক বর্ণনা করেছেন, এছাড়া শায়বান ইবনে ফাররুখ, হাইসাম ইবনে খারিজাহ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু কাসিম তাবারানী—যিনি তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থগুলোতে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন—আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ী, ইবনু সাঈদ এবং আরও অনেকে। তিনি "নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ইমাম এবং দলিলস্বরূপ"।‌‌(১০)

২) ইমাম, হাফেজ, দীর্ঘজীবী আবু মুসলিম ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম আল-বাসরী, আল-কাজ্জি: তিনি আবু আসেম থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/১২০)।

‌‌(২) আমি দারুল হারামাইন থেকে প্রকাশিত "আল-মু'জাম আল-আওসাত"-এর (৯/২৯২-৩০৮) শেষে উল্লেখিত তাবারানীর শায়খদের সূচি থেকে তাঁদের গণনা করেছি।

‌‌(৩) এটি উস্তাদ মুতা আল-তরাবিশী তাঁর "ফাওয়াইদু মু'জাম শুয়ুখিত তাবারানী" শীর্ষক একটি গবেষণাপত্রে বলেছেন, যা দামেস্কের আরবি ভাষা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে; মারওয়ান আল-আতিয়্যাহ ও শেখ আর-রাশিদ কর্তৃক সম্পাদিত তাবারানীর "আল-আওয়াইল" গ্রন্থের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ১৬) থেকে উদ্ধৃত।

‌‌(৪) দ্রষ্টব্য: "বুলুগাতুল কাসি ওয়াদ দানি" (পৃষ্ঠা ৫), যা "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানী" গ্রন্থের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ২৪) থেকে উদ্ধৃত।

‌‌(৫) দ্রষ্টব্য: "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানী" গ্রন্থের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ২৪)।

‌‌(৬) তিনি তাঁর "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি" গ্রন্থে তাবারানীর শায়খদের জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাঁদেরকে ধারাবাহিকভাবে নম্বর দিয়েছেন, যার সর্বশেষ নম্বর হলো (১১৭০), (পৃষ্ঠা ৭০৯)।

‌‌(৭) শেখ নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরী তাঁর "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি" গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৩০-৩২) তাঁদের নাম একত্রিত ও উল্লেখ করার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছেন।

‌‌(৮) এটি মদিনা মুনাওয়ারার মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিইয়াহ থেকে ১৪১৫ হিজরী-১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি ৩৯৪ পৃষ্ঠার একটি বই। প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্রের অভাবে এটি রচনা করতে ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানী" গ্রন্থের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ২৭) থেকে উদ্ধৃত।

‌‌(৯) এটি রিয়াদের দারুল কিয়ান এবং শারজাহর মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে ১৪২৭ হিজরী-২০০৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি ৭১১ পৃষ্ঠার একটি বই।

‌‌(১০) দ্রষ্টব্য: "তাহযীবুল কামাল" (১৪/২৮৫), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৩/৫১৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৮)
النبيل، ومحمد بن عبد الله الأنصاري، وآخرين. وروى عنه: أبو القاسم الطبراني وأكثر عنه في "معاجمه"، وأبو بكر أحمد بن جعفر القطيعي، وأبو بكر الآجري، وخلقٌ سواهم. وهو: "ثِقَةٌ ثَبتٌ فاضلٌ نبيلٌ".‌‌(1)

3) الإمام الحافظ الصدوق أبو الحسن عليُّ بن عبد العزيز بن المَرْزُبَان البغويُّ: روى عن: موسى بن إسماعيل، وأحمد بن يونس، وعلي بن الجعد، وغيرهم. وروى عنه: أبو القاسم الطبراني وأكثر عنه في "معاجمه"، وأبو علي حامد الرفاء، وأبو الحسن القطان، وخلقٌ. وهو: "ثِقَةٌ صدوقٌ مأمونٌ حافظٌ".‌‌(2)

4) الإمام الحافظ المُسْنِد، أبو جعفر محمد بن عثمان بن أبي شيبة العبسيُّ، الكوفيُّ: روى عن: علي بن المديني، وأبيه، وعميه أبي بكر والقاسم، وآخرين. وروى عنه: أبو القاسم الطبراني في "معاجمه"، ومحمد الباغنديُّ، والقاضي المحامليُّ، وابن صاعد، وآخرون. قال الذهبي: جَمَعَ وصَنَّف، وله "تاريخٌ" كبيرٌ، ولم يُرزق حظًا، بل نالوا منه، وكان من أوعية العلم، مُحَدِّثًا فَهْمًا واسع الرواية، صاحب غرائب.‌‌(3)

5) الإمامُ الحافظُ شيخُ الإسلام، أبو إسحاق إبراهيم بن إسحاق بن إبراهيم بن بشير البغدادي، صاحب التصانيف: روى عن: هوذة بن خليفة، وأحمد بن حنبل، وعفَّان بن مسلم، وآخرين. روى عنه: أبو القاسم الطبراني، وأبو بكر الشافعي، وأبو بكر القطيعي، وخلقٌ كثيرٌ. وهو: "ثِقَةٌ حافظٌ فقيهٌ، عالمٌ زاهدٌ، عالمٌ باللغة، مِنْ أجلِّ أصحاب أحمد".‌‌(4) وغيرهم كثير،،،

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "تاريخ بغداد" (7/ 36)، "سير أعلام النبلاء" (13/ 423).

‌‌(2) يُنظر: "سير أعلام النبلاء" (13/ 348).

‌‌(3) يُنظر: "تاريخ بغداد" (4/ 68)، "تاريخ الإسلام" (6/ 1036)، "سير أعلام النبلاء" (14/ 21).

‌‌(4) يُنظر: "تاريخ الإسلام" (6/ 703)، "سير أعلام النبلاء" (13/ 356).
আন-নাবীল, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী এবং আরও অনেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবুল কাসিম আত-তাবারানি (যিনি তাঁর "মুজাম" গ্রন্থাবলীতে তাঁর থেকে অনেক বেশি বর্ণনা করেছেন), আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর আল-কাতিয়ী, আবু বকর আল-আজুররি এবং আরও অসংখ্য লোক। তিনি হলেন: "নির্ভরযোগ্য, সুপ্রতিষ্ঠিত, গুণী ও মহৎ।"‌‌(১)

৩) ইমাম, হাফিজ, পরম সত্যবাদী আবু হাসান আলী ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আল-মারজুবান আল-বাগাওয়ী: তিনি বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসমাইল, আহমাদ ইবনে ইউনুস, আলী ইবনে আল-জাদ এবং অন্যদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আত-তাবারানি (যিনি তাঁর "মুজাম" সমূহে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন), আবু আলী হামিদ আর-রাফ্ফা, আবু হাসান আল-কাত্তান এবং অসংখ্য মানুষ। তিনি হলেন: "নির্ভরযোগ্য, পরম সত্যবাদী, নিরাপদ ও হাফিজ।"‌‌(২)

৪) ইমাম, হাফিজ, আল-মুসনিদ আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শাইবাহ আল-আবসি আল-কুফি: তিনি বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল মাদিনী, তাঁর পিতা, এবং তাঁর দুই চাচা আবু বকর ও আল-কাসিম এবং অন্যদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আত-তাবারানি তাঁর "মুজাম" সমূহে, মুহাম্মাদ আল-বাগিন্দি, কাযী আল-মুহামিলি, ইবনে সায়েদ এবং আরও অনেকে। আয-যাহাবি বলেন: তিনি হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন, তাঁর একটি বিশাল "তারিখ" (ইতিহাস গ্রন্থ) রয়েছে; তবে তিনি (সমালোচকদের থেকে) রেহাই পাননি, বরং তারা তাঁর সমালোচনা করেছেন। তিনি ইলমের ভাণ্ডারস্বরূপ ছিলেন, তিনি ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস যার বর্ণনার পরিধি ছিল ব্যাপক এবং তিনি বিরল বর্ণনার অধিকারী ছিলেন।‌‌(৩)

৫) ইমাম, হাফিজ, শায়খুল ইসলাম আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে বাশির আল-বাগদাদি, বহু গ্রন্থের রচয়িতা: তিনি বর্ণনা করেছেন হাওযাহ ইবনে খলিফা, আহমাদ ইবনে হাম্বল, আফফান ইবনে মুসলিম এবং অন্যদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আত-তাবারানি, আবু বকর আশ-শাফিয়ী, আবু বকর আল-কাতিয়ী এবং আরও অসংখ্য লোক। তিনি হলেন: "নির্ভরযোগ্য, হাফিজ, ফকিহ, আলেম, যাহিদ, ভাষাবিদ এবং ইমাম আহমাদের শ্রেষ্ঠ অনুসারীদের অন্যতম।"‌‌(৪) এবং আরও অনেকে...

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "তারিখ বাগদাদ" (৭/৩৬), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৩/৪২৩)।

‌‌(২) দেখুন: "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৩/৩৪৮)।

‌‌(৩) দেখুন: "তারিখ বাগদাদ" (৪/৬৮), "তারিখুল ইসলাম" (৬/১০৩৬), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৪/২১)।

‌‌(৪) দেখুন: "তারিখুল ইসলাম" (৬/৭০৩), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৩/৩৫৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ক্বিসমুত সানী মিনাল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الثالث: مكانته العلمية وآثاره، وعقيدته، ووفاته.

ويشتمل على سبعة مطالب:

المطلب الأول: كثرة حديثه، وسعة حفظه.

المطلب الثاني: أشهر تلاميذه.

المطلب الثالث: بعض مؤلَّفاته.

المطلب الرابع: ثناء العلماء عليه.

المطلب الخامس: عقيدته.

المطلب السادس: وفاته، وعمره.

المطلب السابع: بعض مصادر ترجمته.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও অবদান, আকিদা এবং মৃত্যু.

এটি সাতটি অনুবিভাগ সংবলিত:

প্রথম অনুবিভাগ: তাঁর হাদিসের প্রাচুর্য এবং মুখস্থশক্তির প্রখরতা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ।

তৃতীয় অনুবিভাগ: তাঁর কতিপয় গ্রন্থ।

চতুর্থ অনুবিভাগ: তাঁর প্রশংসায় আলেমগণের অভিমত।

পঞ্চম অনুবিভাগ: তাঁর আকিদা।

ষষ্ঠ অনুবিভাগ: তাঁর ইন্তেকাল এবং বয়স।

সপ্তম অনুবিভাগ: তাঁর জীবনীর কতিপয় উৎস।