القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: رجال المعلقات العشر
المؤلف: مصطفى بن محمد سليم الغلايينى (ت 1364هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 62
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: দশ মুআল্লাকার ব্যক্তিবর্গ
লেখক: মোস্তফা বিন মুহাম্মাদ সালিম আল-গালায়িনী (মৃ. ১৩৬৪ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
এর পটভূমি হলো, যখন (بكر بن وائل - বকর বিন ওয়ায়েল) গোত্র মূর্খতায় লিপ্ত হলো এবং তাদের নির্বোধরা তাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করল, আর তাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেল, তখন তাদের নেতারা একমত হলেন। তারা বললেন: "আমাদের নির্বোধরা আমাদের বিষয়াবলির ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করেছে, ফলে শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করছে এবং আমরা তা পরিবর্তন করতে সক্ষম নই। তাই আমরা মনে করি যে, আমাদের ওপর একজন রাজা নিযুক্ত করা উচিত যাকে আমরা বকরি ও উট প্রদান করব। তিনি শক্তিশালী ব্যক্তির নিকট থেকে দুর্বলের অধিকার আদায় করবেন এবং জালেমের নিকট থেকে মজলুমের পাওনা ফিরিয়ে দেবেন। কিন্তু আমাদের নিজস্ব কোনো গোত্র থেকে রাজা হওয়া সম্ভব নয়, কারণ অন্য গোত্র তাকে অস্বীকার করবে, ফলে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হবে। বরং আমরা (تبعا - তুব্বা)-র কাছে যাই এবং তাকে আমাদের রাজা নিযুক্ত করি।" অতঃপর তারা তার কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা ব্যক্ত করলেন। তখন তিনি তাদের ওপর (حجر آكل المرار الكندي - হুজর আকিল আল-মুরার আল-কিন্দি)-কে রাজা হিসেবে নিযুক্ত করলেন। তিনি এলেন এবং (بطن عاقل - বাতনে আকিল) নামক স্থানে অবস্থান করলেন। এরপর তিনি (بكر بن وائل - বকর বিন ওয়ায়েল) গোত্রকে সাথে নিয়ে (الحيرة - আল-হীরা)-র লাখমি রাজাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন, যারা ছিল মুনাজিরাহ তথা আরবদের রাজা এবং তাদের একেকজনকে (المنذر - আল-মুনজির) বলা হতো। তারা সেই অঞ্চলের অনেক দেশ জয় করেছিল, বিশেষ করে (بكر بن وائل - বকর বিন ওয়ায়েল)-এর এলাকাগুলো। এমনকি তিনি এই রাজাদের হাতে থাকা অধিকাংশ এলাকা ছিনিয়ে নিলেন এবং তাদের শাসনের প্রান্তসীমায় হঠিয়ে দিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি তাদের নিয়ে (الشام - শাম)-এর রাজাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছিলেন যারা ছিল (الغسانيون - গাসসানি)।
ولما ملك (حجر) سدد أمورهم وساسهم أحسن سياسة حتى مات في أواسط القرن الخامس الميلادي.(حجر - হুজর) যখন রাজত্ব লাভ করলেন, তিনি তাদের যাবতীয় বিষয় সুশৃঙ্খল করলেন এবং পঞ্চম খ্রিস্টীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের শাসনকার্য পরিচালনা করলেন।
ولما مات خلفه ابنه (عمرو بن حجر) وهو (المقصور) . وسمي (المقصور) لأنه اقتصر على ملك أبيه، أي أقعد فيه كرها.তার মৃত্যুর পর তার পুত্র (عمرو بن حجر - আমর বিন হুজর) তার স্থলাভিظিক্ত হন, যিনি (المقصور - আল-মাকসুর) নামে পরিচিত ছিলেন। তাকে (المقصور - আল-মাকসুর) বলা হতো কারণ তিনি কেবল তার পিতার রাজত্বের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, অর্থাৎ বাধ্য হয়ে সেখানেই অবস্থান করেছিলেন।
فلما مات خلفه ابنه "الحارث بن عمرو" فكان شديد الملك، بعيد الصيت. وفي أيامه فتح الأحباش "اليمن"، فضعف أمر دولته. فوجه عزيمته نحو "اللخميين" لينتزع الملك منهم. وكان يحسدهم لمنزلتهم عند الأكاسرة. وكان "كسرى قباذ" على "المنذر بن ماء السماء" اللخمي ملك العرب، فاغتنم "الحارث" تغير "كسرى" عليه، وأخذ يسعى بالتقرب منه.অতঃপর যখন তিনি মারা গেলেন, তখন তার পুত্র "الحارث بن عمرو - আল-হারিস বিন আমর" তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী রাজা ছিলেন এবং তার খ্যাতি ছিল সুদূরপ্রসারী। তার রাজত্বকালে হাবশারা (ইথিওপীয়রা) "اليمن - ইয়েমেন" জয় করে, ফলে তার রাজ্যের ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন তিনি "اللخميين - লাখমিদের" দিকে মনোযোগ দিলেন যাতে তাদের থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে পারেন। পারস্য সম্রাটদের (আকাসিরাহ) নিকট তাদের যে উচ্চ মর্যাদা ছিল, সেজন্য তিনি তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলেন। সেই সময় "كسرى قباذ - কাসরা কুবাদ" আরব রাজা লাখমি "المنذر بن ماء السماء - আল-মুনজির বিন মা-উস সামা"-র ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। "الحارث - হারিস" কাসরার এই অসন্তোষের সুযোগ নিলেন এবং তার নৈকট্য লাভের জন্য প্রচেষ্টা শুরু করলেন।
মজদাকীয় মতবাদ
وقد ذكروا في سبب تغير "كسرى قباذ" على "المنذر بن ماء السماء" أنه قد خرج في أيامه رجل يقال له "مزدك" فدعا الناس إلى الزندقة وإباحة الحرم وأن لا يمنع أحد أخاه ما يريده من ذلك. وكان "المنذر بن ماء السماء" يومئذ عاملا على "الحيرة" ونواحيها. فدعاه "قباذ" إلى الدخول معه في ذلك فأبى. فدعا "الحارث بن عمرو" فأجابه، فشدد له ملكه، واطرد المنذر عن مملكته، وغلب على ملكه. فعظم "الحارث" عند القبائل من "نزار" أتاه أشرافهم، فقالوا: "إنا نخاف أن نتفانى مما يحدث بيننا، فوجه معنا بنيك ينزلون فينا، فيكفون بعضنا عن بعض". ففرق ولده في قبائل العرب. وكان له خمسة أولاد. فملك ابنه "حجرا" أبا "امرئ القيس" صاحب المعلقة على بني "أسد" و"غطفان" وفرق أولاده الأربعة وهم "شرحبيل" قتيل "يوم الكلاب" و"معد يكرب" وهو "غلفي" "سمي بذلك لأنه كان يغلف رأسه" و"عبد الله" و"سلمة" على قبائل العرب يحكمون فيهم."المنذر بن ماء السماء - আল-মুনজির বিন মা-উস সামা"-র ওপর "كسرى قباذ - কাসরা কুবাদ"-এর অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন যে, তার রাজত্বকালে "مزدك - মজদাক" নামক এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে। সে মানুষকে ধর্মহীনতা (জান্দাকা) এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে সবার জন্য বৈধ করার আহ্বান জানায় এবং প্রচার করে যে, কেউ যেন তার ভাইকে তার কামনাবাসনা পূর্ণ করতে বাধা না দেয়। "المنذر بن ماء السماء - আল-মুনজির বিন মা-উস সামা" তখন "الحيرة - আল-হীরা" ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন। "قباذ - কুবাদ" তাকে এই মতবাদে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। অতঃপর তিনি "الحارث بن عمرو - আল-হারিস বিন আমর"-কে আহ্বান করলে তিনি তাতে সাড়া দেন। ফলে কুবাদ তার রাজত্বকে শক্তিশালী করেন এবং মুনজিরকে তার রাজ্য থেকে বহিষ্কার করে তার ক্ষমতা দখল করেন। এতে "نزار - নিজার" গোত্রগুলোর নিকট "الحارث - হারিস"-এর মর্যাদা অনেক বেড়ে গেল। তাদের অভিজাত ব্যক্তিবর্গ তার কাছে এসে বলল: "আমরা ভয় পাচ্ছি যে আমাদের নিজেদের মধ্যকার কোন্দলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। তাই আপনার সন্তানদের আমাদের কাছে পাঠান যেন তারা আমাদের মাঝে অবস্থান করে একে অপরকে সংযত রাখতে পারে।" ফলে তিনি তার সন্তানদের বিভিন্ন আরব গোত্রের মাঝে ভাগ করে পাঠিয়ে দিলেন। তার পাঁচজন পুত্র ছিল। তিনি তার পুত্র "حجرا - হুজর"-কে (যিনি মুআল্লাকার কবি "امرئ القيس - ইমরুল কায়েস"-এর পিতা) "أسد - আসাদ" ও "غطفان - গাতাফান" গোত্রের রাজা নিযুক্ত করলেন। আর বাকি চার পুত্র—"شرحبيل - শুরাহবিল" (যিনি 'ইয়াওমুল কিলাব'-এর যুদ্ধে নিহত হন), "معد يكرب - মা'দিকারিব" (যিনি 'গুলফি' নামে পরিচিত ছিলেন কারণ তিনি তার মাথা আবৃত করে রাখতেন), "عبد الله - আবদুল্লাহ" ও "سلمة - সালামাহ"-কে তিনি বিভিন্ন আরব গোত্রের ওপর বিচারক ও শাসক হিসেবে প্রেরণ করলেন।
غير أن الحال لم تدم للحارث بن عمرو. بل قد قلب له الدهر ظهر المجن. فقد نكب ثم قتل.তবে আল-হারিস বিন আমরের এই সুসময় চিরস্থায়ী হয়নি। বরং মহাকাল তার প্রতি বিমুখ হলো। তিনি প্রথমে মহাবিপদে পতিত হলেন এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করা হলো।
وقد ذكروا في سبب نكبته أن أم "أنو شروان" كانت يوما بين يدي "كسرى قباذ" - وهي امرأته - فدخل عليه "مزدك" الزنديق السالف الذكر، فلما رأى أم "أنو شروان" قال لقباذ: "ادفعها إلي لأقضي حاجتي منها". فقال له: "دونكها" فوثب إليه "أنو شروان"، فلم يزل يسأله ويضرع إليه أن يهب له أمه، حتى قبل رجله. فتركها له. فكانت تلك في نفس "أنو شروان".তার বিপদের কারণ সম্পর্কে তারা উল্লেখ করেছেন যে, "أنو شروان - আনু শিরওয়ান"-এর মাতা (যিনি কুবাদের স্ত্রী ছিলেন) একদিন "كسرى قباذ - কাসরা কুবাদ"-এর সামনে উপস্থিত ছিলেন। তখন সেখানে ইতঃপূর্বে উল্লিখিত ধর্মহীন "مزدك - মজদাক" প্রবেশ করল। সে আনু শিরওয়ানের মাকে দেখে কুবাদকে বলল: "তাকে আমার কাছে সমর্পণ করো যেন আমি তার সাথে আমার কামনাবাসনা পূর্ণ করতে পারি।" কুবাদ তাকে বলল: "এই তো সে, নিয়ে নাও।" তখন "أنو شروان - আনু শিরওয়ান" তার দিকে ছুটে গেলেন এবং তার মায়ের জীবন ভিক্ষা চেয়ে অত্যন্ত অনুনয়-বিনয় করতে লাগলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি মজদাকের পায়ে চুমু খেলেন। তখন মজদাক তাকে ছেড়ে দিল। এই অপমানজনক ঘটনা "أنو شروان - আনু শিরওয়ান"-এর মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
মজদাকপন্থীদের হত্যা
فلما هلك "قباذ" وهو على تلك الحال من الزندقة، وملك بعده "أنو شروان"، وهو الملقب بالعادل، جلس في مجلس الملك. وبلغ المنذر هلاك "قباذ" فأقبل إلى "أنو شروان". وقد علم خلافه على أبيه فيما كانوا قد دخلوا فيه. فأذن "أنو شروان" للناس. وكان فيمن دخل عليه "مزدك" الزنديق صاحب أبيه. ثم دخل عليه "المنذر". فقال "أنو شروان": "إني كنت قد تمنيت أمنيتين أرجو أن يكون الله قد جمعهما لي". فقال "مزدك": "وما هما أيها الملك؟ "؟ قال "تمنيت أن أملك فأستعمل هذا الرجل الشريف "يعني المنذر Strings"، وأن أقتل هؤلاء الزنادقة". فقال له "مزدك": "أو تستطيع أن تقتل الناس كلهم؟ ". قال: "إنك لههنا يا ابن الزانية؟ ". والله ما ذهب "نتن ريح جوربك من أنفي منذ قبلت رجلك إلى يومي هذا". وأمر به فقتل وصلب. وأمر بقتل الزنادقة، فقتل منهم ما بين "حاذر" إلى "النهروان" إلى "المدائن" في ضحوة واحدة مئة ألف زنديق، وصلبهم، وسمي يومئذ "أنو شروان".অতঃপর "قباذ - কুবাদ" যখন সেই ধর্মহীন অবস্থায় মারা গেল এবং তার পর "أنو شروان - আনু শিরওয়ান" (যিনি 'আল-আদিল' বা ন্যায়বিচারক উপাধিতে ভূষিত ছিলেন) সিংহাসনে আরোহণ করলেন এবং রাজকীয় দরবারে বসলেন। মুনজির যখন কুবাদের মৃত্যুর সংবাদ পেলেন, তখন তিনি আনু শিরওয়ানের কাছে এলেন। তিনি জানতেন যে, আনু শিরওয়ান তার পিতার গ্রহণ করা সেই ভ্রান্ত মতবাদের ঘোর বিরোধী। আনু শিরওয়ান জনগণের জন্য রাজদরবার উন্মুক্ত করে দিলেন। আগন্তুকদের মধ্যে তার পিতার সঙ্গী ধর্মহীন "مزدك - মজদাক"-ও উপস্থিত ছিল। এরপর "المنذر - মুনজির" প্রবেশ করলেন। আনু শিরওয়ান বললেন: "আমার দুটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, আমি আশা করি আল্লাহ তা আমার জন্য একত্রে পূরণ করেছেন।" মজদাক জিজ্ঞেস করল: "হে রাজা, সেই আকাঙ্ক্ষা দুটি কী?" তিনি বললেন: "আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যেন আমি রাজত্ব লাভ করি এবং এই মহৎ ব্যক্তিকে (অর্থাৎ মুনজিরকে) গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত করতে পারি, আর এই ধর্মহীনদের হত্যা করতে পারি।" মজদাক তাকে বলল: "আপনি কি সব মানুষকে হত্যা করতে পারবেন?" তিনি বললেন: "ওরে ব্যভিচারিণীর সন্তান, তুই এখানে?" আল্লাহর কসম, "যেদিন তোর পায়ে চুমু খেয়েছি, আজ পর্যন্ত তোর মোজার দুর্গন্ধ আমার নাক থেকে যায়নি।" অতঃপর তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং শূলে চড়ালেন। তিনি ধর্মহীন মজদাকপন্থীদের হত্যার নির্দেশ প্রদান করলেন, যার ফলে এক সকালের ব্যবধানে "حاذر - হাজির" থেকে "النهروان - নাহরাওয়ান" এবং "المدائن - মাদায়েন" পর্যন্ত এক লক্ষ ধর্মহীনকে হত্যা করা হলো এবং তাদের শূলে চড়ানো হলো। সেদিন থেকেই তার নাম সুপ্রতিষ্ঠিত হলো "أنو شروان - আনু শিরওয়ান" হিসেবে।
এবং আমাদের তরবারিসমূহ যেন এক অন্ধকার রাত, যা থেকে তারকারাজি খসে পড়ছে।ইমরুল কায়েস এবং বাশশারের উভয় চরণে দুটি বিষয়কে অন্য দুটি বিষয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তবে ইমরুল কায়েস উপমায় নিপুণ বিভাজনে অগ্রগামী ছিলেন, আর বাশশার কেবল একটি বাক্যকে অন্যটির সাথে তুলনা করতে পেরেছেন, কিন্তু সুক্ষ্ম বিভাজন ও বিস্তারিত বর্ণনায় সক্ষম হননি।তার উপমাগুলোর মধ্যে যা প্রশংসিত হয়েছে তা হলো:বিচ্ছেদের প্রভাতে যখন তারা বিদায় নিচ্ছিল, যেন আমি গোত্রের বাবলা গাছের কাছে... ইন্দ্রবারুণী ফল ছিন্নকারীর ন্যায় (বেদনায় কাতর)।এবং তার উক্তি:যেন বন্যপ্রাণীদের চোখগুলো... আমাদের তাবু ও আসবাবপত্রের চারপাশে... এমন পুতির ন্যায় যাতে কোনো ছিদ্র নেই।রাতের বর্ণনায় তার উক্তি:আর এক রাত সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তার পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছে... আমার উপর নানা প্রকার চিন্তা নিয়ে আমাকে পরীক্ষা করার জন্য।অতঃপর আমি রাতকে বললাম যখন সে তার মেরুদণ্ড টান টান করল... পশ্চাৎভাগ প্রলম্বিত করল এবং বুক দিয়ে চেপে ধরল:ওহে দীর্ঘ রাত! তুমি কি প্রভাতের আলোতে বিদায় নেবে না? যদিও প্রভাত তোমার চেয়ে খুব একটা উত্তম নয়।কেউ কেউ এর বিপরীতে নাবিগার এই কবিতাটি উপস্থাপন করেন:হে উমায়মা! আমাকে দুঃখের সাগরে ছেড়ে দাও... এক কষ্টসাধ্য রাত যা আমি যাপন করছি, যার নক্ষত্ররাজি অতি ধীরগতির।রাতের প্রথমাংশ যখন বিদায় নেয়, তখন দুশ্চিন্তাগুলো ফিরে আসে এবং চারপাশ থেকে দুঃখ দ্বিগুণ হয়ে যায়।রাতটি থমকে গিয়েছিল, এমনকি আমি ভাবলাম এটি কখনো শেষ হবে না... আর নক্ষত্রদের যে রাখাল (চাঁদ বা সময়) সেও আর ফিরে আসবে না।কোনো এক খলিফার দরবারে এই কাব্যিক বিতর্কটি উপস্থাপিত হলে ইমরুল কায়েসের চরণগুলোকেই শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় এবং এর রূপকগুলো প্রশংসিত হয়। কারণ তিনি রাতকে এমন একটি দেহ দান করেছেন যার একটি বুক আছে যা সরে যেতে ভারি মনে হয়, যার সমাপ্তি অত্যন্ত ধীরগতির। তিনি রাতের জন্য অনেকগুলো পশ্চাৎভাগ এবং একটি দীর্ঘ মেরুদণ্ড কল্পনা করেছেন যা বিস্তৃত হয়। তারা মনে করেন, এটি আবু তাম্মামের সেই সব বুনো, দূরহ ও অগ্রহণযোগ্য রূপকগুলোর মতো নয়। তারা এর শব্দ চয়নকেও অত্যন্ত সুন্দর মনে করেছেন।