(খণ্ড: ১)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: -)
نجاح القاري شرح صحيح البخاري - كتاب الجنائز القسم: شروح الحديث
الكتاب: نجاح القاري شرح صحيح البخاري - كتاب الجنائز
المؤلف: يوسف أفندي زاده (1085 - 1167 هـ)
دراسة وتحقيق: شاكر محمد محمود الزيباري (باحث عراقي)
رسالة: ماجستير، قسم الشريعة الإسلامية - كلية دار العلوم - جامعة القاهرة - مصر
إشراف: د رفعت فوزي عبد المطلب
العام الجامعي: 1435 - 1436 هـ، 2014 - 2015 م.
عدد الصفحات: 1188
[ترقيم الكتاب موافق للرسالة الجامعية]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو القعدة 1442
নাজাহুল ক্বারি শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: নাজাহুল ক্বারি শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
লেখক: ইউসুফ আফিন্দি যাদেহ (১০৮৫ - ১১৬৭ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: শাকের মুহাম্মদ মাহমুদ আয-যিবারি (ইরাকি গবেষক)
থিসিস: মাস্টার্স, ইসলামি শরিয়াহ বিভাগ - দারুল উলূম অনুষদ - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় - মিশর
তত্ত্বাবধান: ড. রিফআত ফাওযি আব্দুল মুত্তালিব
শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৫ - ১৪৩৬ হিজরি, ২০১৪ - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৮৮
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস একাডেমিক থিসিসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ যুল-ক্বাদাহ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١)
جمهورية مصر العربية
جامعة القاهرة
كلية دار العلوم
قسم الشريعة
نَجَاحُ القَارِي شَرْح صَحِيْح البُخَارِي
لِلْإِمَامِ الْعَلَّامَةِ: يُوْسُفَ أَفَنْدِيْ زَادَهْ (1085 - 1167 هـ)
دراسة وتحقيق
كتاب الجنائز
رسالة مقدمة لنيل درجة الماجستير في الشريعة الإسلامية
إعداد الطالب:
شاكر محمد محمود
بإشراف:
أ. د: رفعت فوزي عبد المطلب
للعام الجامعي
1435/ 1436 هـ - 2014/ 2015 م.
মিশর আরব প্রজাতন্ত্র
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়
দারুল উলুম অনুষদ
শরীয়াহ বিভাগ
নাজহুল কারী শারহু সহীহিল বুখারী
ইমাম আল্লামা ইউসুফ আফেন্দী জাদাহ (১০৮৫ - ১১৬৭ হিজরি) প্রণীত
গবেষণা ও সম্পাদনা
জানাজা অধ্যায়
ইসলামী শরীয়াহ বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশকৃত গবেষণাপত্র
প্রস্তুতকারী ছাত্র:
শাকের মুহাম্মদ মাহমুদ
তত্ত্বাবধানে:
অধ্যাপক ড. রিফাত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব
শিক্ষাবর্ষ
১৪৩৫/ ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৪/ ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٢)
- أ -
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
- আলিফ -
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٣)
- ب -
إهداءإلى من رباني على الفضيلة، وسهر على رعايتي، وحرص على تقديمي في درب العلم والدي العزيز.
وإلى من بذلت لي دعاءها المخلص في سجودها، وأكرمتني بحبها، وضحت من أجلي براحتها الغالية والدتي الحنون.
رب احفظهما وارحمهما كما ربياني صغيرًا، واجزهما عنّي وعن إخوتي خير الجزاء.
وإلى من جعل الله تعالى بينها وبيني مودة ورحمة
…وإلى من أشار عليّ بالكتابة في هذا البحث.
أُهدي ثمرة هذا الجهد العلمي المتواضع.
الباحث
- খ -
উৎসর্গযিনি আমাকে সচ্চরিত্রের ওপর লালন-পালন করেছেন, আমার দেখাশোনার জন্য বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করেছেন এবং আমাকে জ্ঞানের পথে অগ্রসর করতে সচেষ্ট ছিলেন—আমার প্রিয় পিতা।
আর যিনি তাঁর সিজদাহয় আমার জন্য একনিষ্ঠ দোয়া করেছেন, আমাকে তাঁর ভালোবাসা দিয়ে ধন্য করেছেন এবং আমার সুখের জন্য নিজের মূল্যবান আরাম বিসর্জন দিয়েছেন—আমার মমতাময়ী মা।
হে প্রতিপালক! তাঁদের উভয়কে রক্ষা করুন এবং তাঁদের প্রতি রহম করুন যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন; আর আমার ও আমার ভাই-বোনদের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
এবং যাঁর ও আমার মধ্যে আল্লাহ তাআলা হৃদ্যতা ও করুণা সৃষ্টি করেছেন
…এবং যিনি আমাকে এই গবেষণাপত্রটি রচনার পরামর্শ দিয়েছেন।
আমি আমার এই বিনম্র জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রচেষ্টার ফসল উৎসর্গ করছি।
গবেষক
(খণ্ড: ১)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٤)
- جـ -
شكر وتقديرهذا، وإنّ الشكر والحمد لصاحبه ومستحقه سبحانه وتعالى الذي أنعم عليّ بنعم كثيرة لا تحصى ولا تعد، {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ (53)} [النحل:53]، فله سبحانه الحمد والشكر حمداً وشكراً لا منتهى لحده.
وبعد شكر المولى عز وجل أرى لزاماً علي أن أزجي الشكر الجزيل، والثناء العاطر إلى أساتذتي في قسم الشريعة كلية دار العلوم بجامعة القاهرة، سيّما الذين تركوا في نفسي أثراً طيباً.
ولشيخي الفاضل الأستاذ الدكتور: رفعت فوزي عبد المطلب، الذي مهما أثنينا عليه من كلمات الشكر والثناء فلن نعطيه حقه؛ إزاء ما قدم لي ولغيري وسيقدم من علم وجهد وتوجيه، وفتح باب مكتبته أمام طلابه، وما كان له من رحابة صدر حتى أتممت هذا البحث.
ولكل من ساعدني أو وقف معي بدعوة صادقة أرسلها بظهر الغيب، أو بإعارة كتاب، أو إهداء نصيحة.
الباحث
- জিম -
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিঅতঃপর, সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য ও অধিকারীর জন্য, যিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা; যিনি আমাকে অগণিত ও অগণিত নিআমত দান করেছেন, {তোমাদের কাছে যে নিআমত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, অতঃপর যখন তোমাদের কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তাঁর কাছেই তোমরা উচ্চস্বরে প্রার্থনা করো (৫৩)} [আন-নাহল: ৫৩]। সুতরাং তাঁরই জন্য সুবহানাহু প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা, এমন প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা যার কোনো সীমা নেই।
মহান প্রতিপালক আজ্জা ওয়া জাল্লার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর আমি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের শরীআহ বিভাগের আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং সুগন্ধময় প্রশংসা জ্ঞাপন করা আবশ্যক মনে করছি; বিশেষ করে যারা আমার অন্তরে উত্তম প্রভাব রেখে গেছেন।
এবং আমার সম্মানিত শাইখ প্রফেসর ডক্টর রিফআত ফাউজি আব্দুল মুত্তালিব-এর প্রতি; যাঁর জন্য আমরা প্রশংসার যত শব্দই ব্যয় করি না কেন তা তাঁর প্রাপ্য হকের জন্য যথেষ্ট হবে না; যা কিছু তিনি আমাকে ও অন্যদেরকে দান করেছেন এবং ভবিষ্যতে ইলম, শ্রম ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে দান করবেন, এবং তাঁর লাইব্রেরির দরজা ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং এই গবেষণাটি সম্পন্ন করা পর্যন্ত তাঁর যে প্রশস্ত হৃদয় ছিল, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
এবং সেই প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা যারা আমাকে সাহায্য করেছেন কিংবা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন— অগোচরে কোনো আন্তরিক দোয়ার মাধ্যমে, অথবা কোনো কিতাব ধার দেওয়ার মাধ্যমে, কিংবা কোনো উপদেশ উপহার দেওয়ার মাধ্যমে।
গবেষক
(খণ্ড: ১)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: -)
نجاح القاري شرح صحيح البخاري - كتاب الجنائز القسم: شروح الحديث
الكتاب: نجاح القاري شرح صحيح البخاري - كتاب الجنائز
المؤلف: يوسف أفندي زاده (1085 - 1167 هـ)
دراسة وتحقيق: شاكر محمد محمود الزيباري (باحث عراقي)
رسالة: ماجستير، قسم الشريعة الإسلامية - كلية دار العلوم - جامعة القاهرة - مصر
إشراف: د رفعت فوزي عبد المطلب
العام الجامعي: 1435 - 1436 هـ، 2014 - 2015 م.
عدد الصفحات: 1188
[ترقيم الكتاب موافق للرسالة الجامعية]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو القعدة 1442
নাজাহুল ক্বারি শারহু সহীহিল বুখারী - জানাযা অধ্যায় বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: নাজাহুল ক্বারি শারহু সহীহিল বুখারী - জানাযা অধ্যায়
লেখক: ইউসুফ আফিন্দি জাদাহ (১০৮৫ - ১১৬৭ হিজরী)
পর্যালোচনা ও সম্পাদনা: শাকির মুহাম্মদ মাহমুদ আল-জিবারি (ইরাকি গবেষক)
থিসিস: মাস্টার্স، ইসলামি শরীয়াহ বিভাগ - দারুল উলুম অনুষদ - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় - মিশর
তত্ত্বাবধান: ড. রিফাত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব
শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৫ - ১৪৩৬ হিজরী، ২০১৪ - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৮৮
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিসের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ যুল কাদা ১৪৪২
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١)
المقدمة
الحمد لله العليم الحكيم باعث الرسل إلى طريقه المستقيم، والصلاة والسلام على من جاء رحمة للعالمين ومنقذًا للبشرية من الشر والضلال {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ (107)} [الأنبياء: 107] نبينًا محمَّد صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه أجمعين وسلم تسليمًا كثيرًا.
أما بعد، فإنما الهدى هدى الله وقد اشتمل عليه كتابه الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد.
والسنة النبوية بعد القرآن الكريم أشرف العلوم وأعلاها؛ إذ هي المبينة لمشكله، المفصّلة لمجمله، المخصّصة لعامه، المقيّدة لمطلقه وفيها أسند الله إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، بيان القرآن {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44].
لهذا تضافرت جهود المحدثين لخدمة السنة النبوية واهتموا بحفظها وتدوينها اهتمامًا بالغًا، فقد نقل الصحابة ـ رضوان الله عليهم ـ لنا أقوال رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وأفعاله كلها من مطعم ومشرب ويقظة ونوم وقيام وقعود، فلم يتركوا شيئًا صدر عنه، صلى الله عليه وسلم، إلا نقلوه.
فإن أشرف ما اشتغل به طالب العلم من بحثٍ ومراجعةٍ بعد كتاب الله الذي هو حبله المتين، الهادي للتي هي أقوم، هو دراسة كلام رسوله صلى الله عليه وسلم، واستنباط الأحكام منه، والاستدلال به، والاعتماد عليه في حل مشاكل الحياة، وقد قام حملة كنوز الشريعة وحماة الملة بعنايةٍ فائقة وجهودٍ عظيمة، يذودون عن الملة، ويبَصِّرون التائه بمنار الطريق، فخدموا سنة رسول الله جمعًا وتنسيقًا واستنباطًا، وإيضاح ما قد يشكل، وكشف ما قد يوهم، فتركوا لنا ثروةً علمية عظيمة نفيسة.
وممن اعتنى بذلك العلامة: "يوسف زاده"، فألّف كتابه "نجاح القاري شرح صحيح البخاري" الذي يعد أوسع شرح لجامع الصحيح"، قد أفرغ فيه مؤلفه وسعه، وبذل جُهده حتى أخرجه للناس كتابًا جامعًا لآراء السَلَف رواية ودراية، مشتملًا على أقوال الخَلَف بكل أمانة وعناية، فهو جامع
ভূমিকা
সকল প্রশংসা মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সরল পথের দিকে রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে এবং মানবতাকে অনিষ্ট ও ভ্রষ্টতা থেকে উদ্ধারকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন: "আমি আপনাকে কেবল বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি" [সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭]। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অত:পর, হেদায়েত কেবল আল্লাহরই হেদায়েত, যা তাঁর কিতাব ধারণ করে আছে; যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না, এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
পবিত্র কুরআনের পর সুন্নাহর ইলমই হলো সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চতর; কারণ এটি কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করে, সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিস্তারিত বর্ণনা করে, সাধারণ হুকুমগুলোকে নির্দিষ্ট করে এবং শর্তহীন বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা কুরআনের ব্যাখ্যার দায়িত্ব তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অর্পণ করেছেন: "আমি আপনার প্রতি এই যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে" [সূরা আন-নাহল: ৪৪]।
এ কারণেই মুহাদ্দিসগণ সুন্নাহর খিদমতে সম্মিলিতভাবে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং এর সংরক্ষণ ও সংকলনে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমস্ত কথা ও কাজ পৌঁছে দিয়েছেন—তাঁহার আহার, পানাহার, জাগরণ, নিদ্রা, দাঁড়ানো এবং বসা পর্যন্ত। তাঁর থেকে যা কিছু প্রকাশিত হয়েছে তার কোনো কিছুই তাঁরা বর্ণনা করা বাদ দেননি।
আল্লাহর কিতাব—যা তাঁর মজবুত রশি এবং সঠিক পথের দিশারী—তার পর একজন জ্ঞানান্বেষী (তালিবে ইলম) গবেষণা ও পর্যালোচনার জন্য যে সর্বোত্তম বিষয়ে আত্মনিয়োগ করতে পারেন, তা হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর অধ্যয়ন, তা থেকে বিধিবিধান আহরণ, দলীল হিসেবে তা উপস্থাপন এবং জীবনের সমস্যা সমাধানে এর ওপর নির্ভর করা। শরীয়তের ভাণ্ডার বহনকারী এবং মিল্লাতের রক্ষকগণ অত্যন্ত যত্ন ও মহান প্রচেষ্টার মাধ্যমে মিল্লাতকে রক্ষা করেছেন এবং পথহারাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর সংগ্রহ, বিন্যাস, মাসআলা ইস্তিম্বাত, অস্পষ্টতা দূরীকরণ এবং বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলোর নিরসনের মাধ্যমে খিদমত করেছেন; ফলে তাঁরা আমাদের জন্য এক বিশাল ও মূল্যবান ইলমী সম্পদ রেখে গেছেন।
এই বিষয়ে যারা মনোনিবেশ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা "ইউসুফ জাদাহ"। তিনি তাঁর গ্রন্থ "নাজাহুল কারী শারহু সহীহিল বুখারী" রচনা করেছেন, যা 'জামে' আস-সহীহ'-এর সবচেয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এর লেখক এতে তাঁর পূর্ণ সক্ষমতা ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, যতক্ষণ না তিনি একে মানুষের সামনে এমন এক সংকলন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন যা বর্ণনা ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে সালাফদের মতামতের সারসংক্ষেপ এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ততা ও যত্নের সাথে খালাফদের (পরবর্তী আলেমদের) উক্তিগুলোকে ধারণ করে। এটি এমন এক সংকলন...
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٢)
لخلاصة كل ما سبقه من الشروح، فنراه ينقل عن ابن بطال، والكرماني، وابن الملقن، وابن رجب، وابن حجر، والعيني، وغيرها من الشروح المعتبرة.
نسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، نافعًا لعباده، وأن يجزي فضيلة العلامة "محمد بن يوسف زاده" عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء، ويضاعف له المثوبة والأجر، إنه سميع قريب.
أهمية البحث:
تنبع أهمية هذا البحث أولًا من أهمية الحديث بشكل عام، فالحديث هو المصدر الثاني من مصادر التشريع في الإسلام، وعليه يعتمد في فهم وتفسير كثير من نصوص القران الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه.
وترجع كذلك من كونه أضخم الشروح لأصح كتاب بعد كتاب الله عز وجل، ولما يتضمنه من فوائد متنوعة في الحديث وغيره.
سبب اختياري لهذا البحث:
رشّح قسم الشريعة الإسلامية في كلية دار العلوم في جامعة القاهرة كتاب (نجاح القاري شرح صحيح البخاري) للإمام: يوسف زاده لطلاب الدراسات العليا كأطروحة ماجستير؛ لذلك رغبت بالمساهمة في هذا المشروع.
أهمية الكتاب العلمية، حيث إنه يتعلق بأهم مصدر من مصادر السنة النبوية وهو كنز ثمين أودع فيه مؤلفه رحمه الله نقولات من أمهات المصادر -بعضها مفقود حتى الآن- حاول من خلالها كشف اللثام عما رأى أنه بحاجة إلى ذلك، سواء أكان ذلك يتعلق بالإسناد أو بالمتن. ولا شك أنه مادة ثرية للبحث والمعرفة.
পূর্ববর্তী সকল ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ হিসেবে আমরা তাঁকে ইবনে বাত্তাল, আল-কিরমানি, ইবনুল মুলাক্কিন, ইবনে রাজাব, ইবনে হাজার, আল-আইনি এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিতে দেখি।
আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কাজটিকে তাঁর মহিমান্বিত চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন এবং শ্রদ্ধেয় আল্লামা "মুহাম্মদ বিন ইউসুফ জাদাহ"-কে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁর সওয়াব ও পুরস্কার বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।
গবেষণার গুরুত্ব:
এই গবেষণার গুরুত্ব প্রথমত সাধারণভাবে হাদিসের গুরুত্ব থেকে উদ্ভূত হয়েছে; কারণ হাদিস হলো ইসলামের শরয়ি বিধানের দ্বিতীয় উৎস এবং কুরআনের অনেক আয়াতের মর্ম অনুধাবন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা হয়, যে কুরআনের নিকট কোনো মিথ্যা আসতে পারে না—সামনে থেকেও নয়, পেছন থেকেও নয়।
একইভাবে এর গুরুত্বের কারণ হলো এটি আল্লাহর কিতাবের পর সহিহতম গ্রন্থের সবচেয়ে বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং এর মধ্যে হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই গবেষণাটি নির্বাচনের কারণ:
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের ইসলামি শরিয়াহ বিভাগ উচ্চতর গবেষণার ছাত্রদের জন্য ইমাম ইউসুফ জাদাহ-র কিতাব (নাজাহুল কারি শরহু সহিহিল বুখারি)-কে মাস্টার্স থিসিস হিসেবে মনোনীত করেছে; এই কারণে আমি এই প্রকল্পে অবদান রাখতে আগ্রহী হয়েছি।
কিতাবটির ইলমি গুরুত্ব অপরিসীম, যেহেতু এটি সুন্নাহর অন্যতম প্রধান উৎসের সাথে সম্পৃক্ত এবং এটি একটি মূল্যবান ভাণ্ডার যেখানে লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) মূল উৎসগ্রন্থগুলো থেকে উদ্ধৃতি জমা করেছেন—যাদের মধ্যে কিছু বর্তমানে বিলুপ্ত। এর মাধ্যমে তিনি সেই সব বিষয়কে উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন যেগুলোকে তিনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন মনে করেছেন, তা সনদের সাথে সম্পর্কিত হোক বা মতনের সাথে। নিঃসন্দেহে এটি গবেষণা ও জ্ঞানের জন্য একটি সমৃদ্ধ উপাদান।
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٣)
• الرغبة الشديدة في ممارسة تحقيق أثر من آثار العلماء الأعلام في خدمة السنة النبوية على صاحبها الصلاة والسلام، وتطبيق القواعد المتعارف عليها عند أهل الفن في تحقيق النصوص والمقابلة بين النسخ المختلفة.
أهم الصعوبات التي واجهتني في تحقيق كتاب الجنائز:
كان الإمام يوسف زاده أحيانًا يحيل بعض الأحاديث على كتب قديمة، ليست في منتناول الدارسين، إما لتلفها وإما لأنها لا تزال في عداد المخطوطات التي لم تر النور بعد.
والكتاب يعد موسوعة فقه مقارن، توسع فيه المصنف في إيراد الأقوال والمذاهب المختلفة، مما كلفنا مشقة بالغة في عزو كل قول إلى قائله.
الدراسات السابقة:
هذا المخطوط يعتبر من كنوز المخطوطات الإسلامية الذي ما زال مخطوطًا في مكتباتنا الإسلامية ولم يطبع، وقد بدأ بعض من إخواننا الطلبة في قسم الشريعة بكلية دار العلوم ــ جامعة القاهرة ــ بتحقيق بعض من هذا المخطوط.
خطة الرسالة:
قسمت هذه الرسالة إلى مقدمة، وقسمين، وخاتمة:
• أما المقدمة فيها: البسملة، والحمدلة، وأهمية البحث، وأسباب اختيار الموضوع، والدراسات السابقة، وخطة الرسالة.
أما القسمان: فيكونان على النحو التالي:
o القسم الأول: قسم الدراسة.
التعريف بالمؤلفين، وكتابيهما: (صحيح البخاري، ونجاح القاري شرح صحيح البخاري).
وفيه خمسة فصول:
• প্রথিতযশা আলেমগণের জ্ঞানগর্ভ নিদর্শনের কোনো একটির সম্পাদনার মাধ্যমে নববী সুন্নাহর (তার অধিকারীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) খিদমতে আত্মনিয়োগ করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও বিভিন্ন কপির মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট প্রচলিত নিয়মাবলি প্রয়োগ করা।
‘কিতাবুল জানায়িজ’ (জানাজা অধ্যায়) সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি যেসব প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি:
ইমাম ইউসুফ জাদাহ কখনো কখনো কিছু হাদিসকে এমন কিছু প্রাচীন কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করেছেন যা গবেষকদের নাগালের মধ্যে নেই; হয়তো সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে অথবা সেগুলো এখনো পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়ে গেছে যা আলোর মুখ দেখেনি।
এই গ্রন্থটি তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের একটি বিশ্বকোষ হিসেবে গণ্য হয়, যেখানে লেখক বিভিন্ন মতামত ও মাযহাব বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। যার ফলে প্রতিটি উক্তিকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধ করতে আমাদের চরম কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:
এই পাণ্ডুলিপিটি ইসলামি পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্যতম রত্নভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত যা এখনো আমাদের ইসলামি লাইব্রেরিগুলোতে পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়ে গেছে এবং তা মুদ্রিত হয়নি। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতু দারিল উলুমের শরীআহ বিভাগের আমাদের কিছু ছাত্র ভাই এই পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ সম্পাদনার কাজ শুরু করেছেন।
গবেষণাপত্রের পরিকল্পনা:
এই গবেষণাপত্রটিকে আমি একটি ভূমিকা, দুইটি অংশ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:
• ভূমিকা অংশে রয়েছে: বিসমিল্লাহ, হামদ (আল্লাহর প্রশংসা), গবেষণার গুরুত্ব, বিষয়টি নির্বাচনের কারণ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ এবং গবেষণাপত্রের পরিকল্পনা।
আর দুইটি অংশ নিম্নরূপ হবে:
o প্রথম অংশ: গবেষণা অংশ।
লেখকদ্বয় এবং তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ের পরিচিতি: (সহীহুল বুখারী এবং নাজাহুল ক্বারী শরহু সহীহিল বুখারী)।
এবং এতে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে:
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٤)
• الفصل الأول: الإمام البخاري، وحياته العلمية.
وهو يشمل عدة مباحث:
• المبحث الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ولقبه.
• المبحث الثاني: مولده، ونشأته، وطلبه للعلم.
• المبحث الثالث: رحلته في طلب العلم.
• المبحث الرابع: شيوخه.
• المبحث الخامس: تلاميذه.
• المبحث السادس: مؤلفاته.
• المبحث السابع: ثناء العلماء عليه.
• المبحث الثامن: محنته ووفاته.
• الفصل الثاني: التعريف بـ (الجامع الصحيح) للإمام البخاري.
• وهو يشمل أربعة مباحث:
• المبحث الأول: اسمه ونسبته إلى الإمام البخاري.
• المبحث الثاني: شرط الإمام البخاري في صحيحه.
• المبحث الثالث: روايات الجامع الصحيح للبخاري.
• المبحث الرابع: عناية العلماء بصحيح البخاري، وذكر أهم شروحه.
• الفصل الثالث: التعريف بالإمام: عبد الله بن محمد بن يوسف، المعروف بـ (يوسف زاده).
وهو يشمل المبحثين:
• المبحث الأول: عصر الإمام: عبد الله بن محمد بن يوسف، المعروف بـ (يوسف زاده)، وفيه ثلاثة مطالب.
• প্রথম অধ্যায়: ইমাম বুখারী এবং তাঁর ইলমী জীবন।
এটি বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশ পরিচয়, উপনাম এবং উপাধি।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, লালন-পালন এবং ইলম অন্বেষণ।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলম অন্বেষণে তাঁর সফর।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকগণ।
• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রগণ।
• ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী।
• সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রশংসায় আলিমগণের উক্তি।
• অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর পরীক্ষা ও মৃত্যু।
• দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম বুখারীর (আল-জামি আস-সহীহ)-এর পরিচিতি।
• এটি চারটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: এর নাম এবং ইমাম বুখারীর প্রতি এর নিসবত (সম্পর্কায়ন)।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইমাম বুখারীর শর্তসমূহ।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বুখারীর আল-জামি আস-সহীহ-এর বর্ণনা (রেওয়ায়াত) সমূহ।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সহীহ বুখারীর প্রতি আলিমগণের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং এর প্রধান ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের আলোচনা।
• তৃতীয় অধ্যায়: ইমাম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, যিনি (ইউসুফ জাদাহ) নামে পরিচিত, তাঁর পরিচিতি।
এটি দুটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ (যিনি ইউসুফ জাদাহ নামে পরিচিত)-এর যুগ, এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٥)
- المطلب الأول: الحالة السياسية.
- المطلب الثاني: الحالة الإجتماعية.
- المطلب الثالث: الحالة العلمية.
• المبحث الثاني: حياة العلامة (يوسف أفندي زاده)، وفيه ثمانية مطالب.
- المطلب الأول: اسمه ونسبه وكنيته ولقبه.
- المطلب الثاني: مولده، ونشأته، وطلبه للعلم.
- المطلب الثالث: شيوخه.
- المطلب الرابع: تلاميذه.
- المطلب الخامس: مؤلفاته.
- المطلب السادس: ثناء العلماء عليه.
- المطلب السابع: عقيدته ومذهبه الفقهي.
- المطلب الثامن: وفاته.
• الفصل الرابع: التعريف بكتاب (نجاح القاري شرح صحيح البخاري)،مع وصف المخطوط، ومنهج التحقيق.
وهو يشمل ستة مباحث:
• المبحث الأول: اسم الكتاب، وإثبات نسبته للمؤلف.
• المبحث الثاني: تاريخ بداية التأليف ونهايته.
• المبحث الثالث: منهج المؤلف في هذا الكتاب.
• المبحث الرابع: مصادر المؤلف في الكتاب.
• المبحث الخامس: مميزات هذا الشرح.
• المبحث السادس: وصف عام للمخطوط، والتعريف بالمخطوطات التي حقق عليها النص.
- প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা।
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা।
- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইলমি অবস্থা।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লামা (ইউসুফ এফেন্দি জাদেহ)-এর জীবনী, এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধি।
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও জ্ঞান অন্বেষণ।
- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদবৃন্দ।
- চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
- পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী।
- ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
- সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদা ও ফিকহি মাযহাব।
- অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল।
• চতুর্থ অধ্যায়: ‘নাজাহুল কারী শরহু সহীহিল বুখারি’ গ্রন্থের পরিচিতি, পাণ্ডুলিপির বিবরণ ও সম্পাদনা পদ্ধতিসহ।
এটি ছয়টি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততার প্রমাণ।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ রচনার সূচনা ও সমাপ্তির ইতিহাস।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের তথ্যসূত্রসমূহ।
• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এই ব্যাখ্যার বৈশিষ্ট্যসমূহ।
• ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির সাধারণ বর্ণনা এবং যেসব পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে মূল পাঠ্যটি সম্পাদিত হয়েছে সেগুলোর পরিচিতি।
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٦)
• الفصل الخامس: خمس مسائل فقهية مقارنة بفقه المذاهب الأخرى، واختيار الشارح فيها.
وهو يشمل هذه المسائل التالية:
• المَسْأَلَةُ الْأُوْلَى: الصَّلاة عَلى الغَائِب.
• المَسْأَلَةُ الثَّانِيَةُ: الصَّلَاة على الْمَيِّت فِي الْمَسْجِد
• المَسْأَلَةُ الثَّالِثَةُ: زيارة القبور للنساء.
• المَسْأَلَةُ الرَّابِعَةُ: نقل الميت من موضع إلى موضع.
• المَسْأَلَةُ الخَامِسَةُ: الصلاة على شهيد المعركة.
o القسم الثاني: تحقيق كتاب الجنائز.
• وأما الخاتمة فقد ذكرت فيها أهم النتائج التى وصلت إليها.
• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অন্যান্য মাযহাবের ফিকহের সাথে তুলনামূলক পাঁচটি ফিকহী মাসআলা এবং এতে ব্যাখ্যাকারীর অগ্রাধিকারকৃত অভিমত।
এটি নিম্নোক্ত মাসআলাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে:
• প্রথম মাসআলা: অনুপস্থিত ব্যক্তির জানাজা।
• দ্বিতীয় মাসআলা: মসজিদে জানাজা আদায় করা।
• তৃতীয় মাসআলা: নারীদের কবর জিয়ারত।
• চতুর্থ মাসআলা: মৃতদেহ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা।
• পঞ্চম মাসআলা: রণক্ষেত্রের শহীদের জানাজা।
o দ্বিতীয় অংশ: কিতাবুল জানাইযের তাহকীক (সম্পাদনা)।
• আর উপসংহারে আমি সেই গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি যেগুলোতে আমি উপনীত হয়েছি।
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٧)
القسم الأول: قسم الدراسة.
التعريف بالمؤلفين، وكتابيهما: (صحيح البخاري، ونجاح القاري شرح صحيح البخاري).
وفيه خمسة فصول:
• الفصل الأول: الإمام البخاري، وحياته العلمية.
• الفصل الثاني: التعريف بـ (الجامع الصحيح) للإمام البخاري.
• الفصل الثالث: التعريف بالإمام: عبد الله بن محمد بن يوسف، المعروف بـ (يوسف
• الفصل الرابع: التعريف بكتاب (نجاح القاري شرح صحيح البخاري).
• الفصل الخامس: خمس مسائل فقهية مقارنة بفقه المذاهب الأخرى، واختيار الشارح فيها.
প্রথম অংশ: গবেষণা অধ্যায়।
লেখকদ্বয়ের পরিচিতি এবং তাঁদের গ্রন্থদ্বয়: (সহিহ আল-বুখারি এবং নাজাহুল কারি শরহু সহিহ আল-বুখারি)।
এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারি এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারি প্রণীত (আল-জামি আস-সহিহ)-এর পরিচিতি।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমামের পরিচিতি: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ, যিনি (ইউসুফ... নামে পরিচিত।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: (নাজাহুল কারি শরহু সহিহ আল-বুখারি) গ্রন্থটির পরিচিতি।
• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অন্যান্য মাযহাবের ফিকহের সাথে তুলনামূলক পাঁচটি ফিকহি মাসআলা এবং এতে ভাষ্যকারের নির্বাচন।
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٨)
الفَصْلُ الأَوَّلُالإِمَامُ البُخَارِيُّ، وَحَيَاتُهُ الْعِلْمِيَّةُسيرة الإمام البخاري رحمه الله تستحق أن يكتب فيها الكثير، ومهما كتبت وتوسعت فلن أفي بحق سيد المحدثين والفقهاء، وما جعلني أحجم عن التوسع في ترجمته والتعريف به أن من سبق لهم الفضل في الكتابة عنه من الباحثين والمؤلفين، قد كتبوا الكثير المفيد عنه، وقد أغنى ذلك عن الإعادة والتكرار، لكنني أشير إلى حياته لمحات سريعة رجاء أن تأتي بالمطلوب.
وهو يشمل عدة مباحث:
• المبحث الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ولقبه.
• المبحث الثاني: مولده، ونشأته، وطلبه للعلم.
• المبحث الثالث: رحلته في طلب العلم.
• المبحث الرابع: شيوخه.
• المبحث الخامس: تلاميذه.
• المبحث السادس: مؤلفاته.
• المبحث السابع: ثناء العلماء عليه.
• المبحث الثامن: محنته ووفاته.
প্রথম পরিচ্ছেদইমাম বুখারি এবং তাঁর ইলমি জীবনইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী নিয়ে অনেক কিছু লেখা প্রয়োজন, আর আমি যতই লিখি বা বিস্তারিত বর্ণনা করি না কেন, মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের এই শিরোমণির হক পূর্ণরূপে আদায় করতে পারব না। তাঁর জীবনী ও পরিচিতি বিস্তারিত বর্ণনা করা থেকে যা আমাকে বিরত রেখেছে তা হলো, পূর্ববর্তী যে সকল গবেষক ও লেখক তাঁর সম্পর্কে লিখে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তাঁরা তাঁর সম্পর্কে অনেক জ্ঞানগর্ভ ও উপকারী তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন, যা পুনরাবৃত্তির প্রয়োজনীয়তা দূর করেছে। তবে আমি তাঁর জীবনের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করছি এই আশায় যে, তা কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণ করবে।
এটি কয়েকটি আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে:
• প্রথম বিষয়: তাঁর নাম, বংশ পরিচয়, কুনিয়াত (উপনাম) এবং উপাধি।
• দ্বিতীয় বিষয়: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণ।
• তৃতীয় বিষয়: জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ।
• চতুর্থ বিষয়: তাঁর উস্তাদগণ।
• পঞ্চম বিষয়: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
• ষষ্ঠ বিষয়: তাঁর রচনাবলি।
• সপ্তম বিষয়: তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা।
• অষ্টম বিষয়: তাঁর অগ্নিপরীক্ষা ও মৃত্যু।
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٩)
الْمَبْحَثُ الْأَوَّلُ: اِسْمُهُ وَنَسَبُهُ وَكُنْيَتُهُ وُلقبُهُ (1):
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং উপাধি (১):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٠)
هو أبو عبدالله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بَرْدِزْبه
(1) البخاري
(2) الجعفي، وكان بردزبه فارسيًا على دين قومه، ومات على المجوسية ثم أسلم ولده المغيرة على يد اليمان الجعفي
(3) والي بخارى
(4)، فنسب إليه نسبة ولاء إسلام، وإنما قيل له الجعفي لذلك
(5).
وأما والد الإمام البخاري إسماعيل بن إبراهيم، فكان يعد من العلماء الصالحين، حيث ترجم له ولده في كتابه التاريخ الكبير، وكناه بأبي الحسن وقال: " رأى حماد بن زيد، وصافح ابن المبارك بكلتا يديه، وسمع مالكًا"
(6).
ويكنى الإمام البخاري بأبي عبدالله، البخاري. لقب بأمير المؤمنين في الحديث، وبإمام المحدثين.
--------------------------------------------
তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুগিরা ইবনে বার্দিজবাহ
(১) আল-বুখারি
(২) আল-জুফি। বার্দিজবাহ ছিলেন পারস্যের অধিবাসী এবং তাঁর জাতির ধর্মের অনুসারী। তিনি অগ্নিপূজক (মাজুসি) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অতঃপর তাঁর পুত্র আল-মুগিরা বুখারার গভর্নর
(৪) ইয়ামান আল-জুফি
(৩)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে ইসলামি আনুগত্যের (ওয়ালা) সম্পর্কের ভিত্তিতে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় এবং এ কারণেই তাঁকে 'আল-জুফি' বলা হয়
(৫)।
আর ইমাম বুখারির পিতা ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম নেককার আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হতেন। তাঁর পুত্র তাঁর কিতাব 'আত-তারিখুল কাবির'-এ তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে 'আবু হাসান' উপনামে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদকে দেখেছেন, ইবনুল মুবারকের সাথে তাঁর উভয় হাতে মুসাফাহা করেছেন এবং মালিকের নিকট (হাদিস) শুনেছেন"
(৬)।
ইমাম বুখারি 'আবু আব্দুল্লাহ' ও 'আল-বুখারি' উপনামে পরিচিত। তিনি হাদিসশাস্ত্রে 'আমিরুল মুমিনিন' এবং 'মুহাদ্দিসগণের ইমাম' উপাধিতে ভূষিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١١)
الْمَبْحَثُ الثَّانِي: مَوْلِدُهُ، وَنَشْأَتُهُ، وَطَلَبُهُ لِلْعِلْمِ:ولد ببخارى ليلة الجمعة لثلاث عشرة ليلة خلت من شوال سنة أربع وتسعين ومائة
(1).
توفي والده عنه وهو صغير، فنشأ يتيمًا في حجر أمه، وكانت امرأة صالحة، فقد روى أن محمدًا فقد بصره في صغره، فرأت هي الخليل إبراهيم عليه السلام في المنام يقول لها: يا هذه قد ردّ الله على ابنك بصره لكثرة دعائك، فأصبح وقد ردّ الله عليه بصره
(2).
ورث عن أبيه مالًا كثيرًا
(3). قال أبوه عند موته: لا أعلم من مالي درهمًا من حرام، ولا درهمًا من شبهة
(4). فتربي بهذا المال الحلال تربية صالحة، فكان له هذا الشأن العظيم.
ألهمه الله حفظ الحديث وهو في الكتّاب حتى قيل: إنه كان يحفظ وهو صبي سبعين ألف حديث
(5).
وطلب العلم مبكرًا، واجتهد في ذلك، وبذل ما في وسعه للتزود من العلم والمنافع، وقد ساعده على ذلك ما حباه الله به من حافظة قوية وذكاء مفرط، وتحمل المشاق في تحصيل حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ولما سئل عن دواء الحفظ قال: " لا أعلم شيئًا أنفع للحفظ من نهمة الرجل، ومداومة النظر"
(6)روى الفربري عن أبي جعفر محمد بن أبي حاتم الوراق، قال: قلت لأبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري: كيف كان بدء أمرك في طلب الحديث؟
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং ইলম অন্বেষণ:তিনি ১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের তেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমআর রাতে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন
(১)।
তিনি শিশু থাকাবস্থাতেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি তাঁর মায়ের কোলে এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তিনি একজন নেককার নারী ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, মুহাম্মদ (বুখারি) শৈশবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তখন তাঁর মা স্বপ্নে খলীল ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে দেখতে পান, যিনি তাঁকে বলছেন: হে নারী! তোমার প্রচুর দোয়ার কারণে আল্লাহ তোমার পুত্রের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর ভোরে দেখা গেল যে আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন
(২)।
তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে প্রচুর ধন-সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন
(৩)। তাঁর পিতা মৃত্যুর সময় বলেছিলেন: আমার সম্পদে হারাম কোনো দিরহাম আছে বলে আমি জানি না, এমনকি কোনো সন্দেহযুক্ত দিরহামও নেই
(৪)। সুতরাং এই হালাল সম্পদের মাধ্যমে তিনি উত্তমভাবে লালিত-পালিত হন, যা তাঁর এই মহান মর্যাদার পথ প্রশস্ত করে দেয়।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে মক্তবে থাকাবস্থাতেই হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা দান করেন, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে, তিনি বালক থাকাবস্থাতেই সত্তর হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন
(৫)।
তিনি খুব অল্প বয়সেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং তাতে কঠোর পরিশ্রম করেন। জ্ঞান ও কল্যাণ অর্জনের জন্য তিনি তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। আল্লাহ প্রদত্ত প্রখর স্মৃতিশক্তি ও প্রখর বুদ্ধিমত্তা তাঁকে এ কাজে সহায়তা করেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে তিনি বহু কষ্ট সহ্য করেন। যখন তাঁকে মুখস্থ রাখার উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "স্মৃতিশক্তির জন্য মানুষের প্রবল আগ্রহ এবং নিরন্তর অধ্যয়নের চেয়ে অধিক উপকারী আর কিছু আছে বলে আমি জানি না"
(৬)ফিরিবরি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আবু হাতিম আল-ওয়াররাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারিকে বললাম: আপনার হাদিস অন্বেষণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٢)
قال: أُلهمت حفظ الحديث وأنا في الكتاب.
قال: وكم أتى عليك إذ ذاك؟
فقال: عشر سنين أو أقل، ثم خرجت من الكتاب بعد العشر فجعلت أختلف إلى الداخلي
(1)، وغيره.
وقال يوما فيما كان يقرأ للناس: سفيان عن أبي الزبير عن إبراهيم، فقلت له: يا أبا فلان! إن أبا الزبير لم يرو عن إبراهيم، فانتهرني. فقلت له: ارجع إلى الأصل إن كان عندك، فدخل ونظر فيه ثم خرج. فقال لي: كيف هو يا غلام؟ فقلت: هو الزبير بن عدي عن إبراهيم، فأخذ القلم مني وأحكم كتابه، وقال: صدقت.
فقال له بعض أصحابه: ابن كم كنت إذ رددت عليه؟
فقال: ابن إحدى عشرة، فلما طعنت في ست عشرة سنة حفظت كتب ابن المبارك ووكيع، وعرفت كلام هؤلاء - يعني أصحاب الرأي-
(2).
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমি যখন মক্তবে ছিলাম তখনই আমাকে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি (প্রশ্নকারী) বললেন: তখন আপনার বয়স কত হয়েছিল?
তিনি বললেন: দশ বছর বা তারও কম। এরপর দশ বছর বয়সের পর আমি মক্তব থেকে বের হলাম এবং আদ-দাখিলী
(১) ও অন্যদের মজলিসে যাতায়াত শুরু করলাম।
একদিন তিনি (উস্তাদ) যখন লোকজনের সামনে পড়ছিলেন, তখন বললেন: সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আবু জুবায়ের থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে। তখন আমি তাকে বললাম: হে আবু অমুক! আবু জুবায়ের তো ইব্রাহিম থেকে হাদিস বর্ণনা করেননি। তখন তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আমি তাকে বললাম: আপনার কাছে যদি মূল পাণ্ডুলিপি থাকে তবে তা পুনরায় দেখুন। এরপর তিনি ভেতরে গেলেন এবং তা দেখলেন, তারপর বেরিয়ে এলেন। তিনি আমাকে বললেন: হে বালক, তবে সেটি সঠিক কী হবে? আমি বললাম: সেটি হবে জুবায়ের ইবনে আদি, তিনি ইব্রাহিম থেকে। তখন তিনি আমার থেকে কলম নিলেন এবং তার কিতাবটি সংশোধন করলেন এবং বললেন: তুমি সত্য বলেছ।
তার জনৈক সঙ্গী তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি যখন তাকে সংশোধন করে দিয়েছিলেন তখন আপনার বয়স কত ছিল?
তিনি বললেন: এগারো বছর। এরপর যখন আমি ষোলো বছরে পদার্পণ করলাম, তখন আমি ইবনুল মুবারক ও ওয়াকির কিতাবসমূহ মুখস্থ করলাম এবং এই লোকদের অর্থাৎ রায়পন্থীদের
(২) বক্তব্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الْمَبْحَثُ الثَّالِثُ: رِحْلَتُهُ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ:بدأ البخاري رحمه الله طلب العلم في سن مبكرة -كما ذكرنا سابقًا- فحفظ مرويات بلده وهو لم يبلغ سن الحادية عشرة، ولما بلغ سن السادسة عشر حفظ كتب ابن المبارك
(1) ووكيع
(2).
ثم ركب للرحلة في طلب الحديث، وكانت البداية حين رحل إلى مكة مع أمه وأخيه أحمد، ثم رجعت أمه وأخوه، وآثر هو البقاء لطلب الحديث.
مكث البخاري في الحجاز ستة أعوام يطلب الحديث، عند علمائها متنقلًا بين مكة والمدينة، وقد تمكن في هذه الفترة من تصنيف قضايا الصحابة والتابعين وأقاويلهم، كما صنف كتاب التاريخ في الليالي المقمرة عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم
(3).
ثم توالت رحلاته إلى سائر مشايخ الحديث في مختلف الأقطار الإسلامية، وقل قطر إلا وله فيه موطئ قدم، وها هو ذا يحدث عن رحلاته فيقول: " دخلت إلى الشام ومصر والجزيرة مرتين، وإلى البصرة أربع مرات وأقمت بالحجاز ستة أعوام، ولا أحصي كم دخلت إلى الكوفة وبغداد مع المحدثين
(4).
ويقول الخطيب البغدادي- في شأن رحلات البخاري-: "رحل البخاري إلى محدثي الأمصار،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলম অন্বেষণে তাঁর সফর:ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) অল্প বয়সেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—ফলে তিনি এগারো বছর বয়সের আগেই তাঁর অঞ্চলের বর্ণিত বর্ণনাগুলো মুখস্থ করে ফেলেন। যখন তাঁর বয়স ষোল বছর হয়, তখন তিনি ইবনুল মুবারক
(১) ও ওয়াকী'র
(২) কিতাবসমূহ মুখস্থ করেন।
এরপর তিনি হাদীস অন্বেষণে সফরের উদ্দেশ্যে বের হন। এর সূচনা হয়েছিল তখন, যখন তিনি তাঁর মা ও ভাই আহমদের সাথে মক্কায় সফর করেন। পরবর্তীতে তাঁর মা ও ভাই ফিরে গেলেও তিনি হাদীস অন্বেষণের জন্য সেখানে থাকাকেই প্রাধান্য দেন।
বুখারী হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করে সেখানকার উলামাদের নিকট হাদীস অন্বেষণ করেন এবং মক্কা ও মদীনার মাঝে যাতায়াত করেন। এই সময়ে তিনি সাহাবী ও তাবিঈগণের ফয়সালা এবং তাঁদের বক্তব্যসমূহ সংকলন করতে সক্ষম হন। তেমনিভাবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে জোছনা রাতে 'তারিখ' (ইতিহাস) গ্রন্থটি রচনা করেন
(৩)।
এরপর বিভিন্ন ইসলামী জনপদে অন্যান্য হাদীস বিশারদদের কাছে তাঁর সফরের ধারাবাহিকতা চলতে থাকে। এমন কোনো জনপদ খুব কমই আছে যেখানে তাঁর পদচারণা পড়েনি। তিনি নিজেই তাঁর সফর সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: "আমি সিরিয়া, মিশর ও জাযীরায় দুইবার প্রবেশ করেছি, বসরায় চারবার এবং হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করেছি। আর মুহাদ্দিসদের সাথে আমি কতবার যে কূফা ও বাগদাদে প্রবেশ করেছি, তা গণনা করে শেষ করতে পারব না"
(৪)।
খতীব বাগদাদী ইমাম বুখারীর সফরের বিষয়ে বলেন: "বুখারী বিভিন্ন শহরের মুহাদ্দিসদের কাছে সফর করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وكتب بخراسان ومدن العراق كلها، والحجاز، والشام ومصر، وورد بغداد دفعات
(1)ومما يدعونا إلى الإعجاب بحياة الإمام البخاري تلك الرحلات الكثيرة والمتتابعة التي حرص عليها، وكتب حصيلة ذلك الجهد المبارك فأخرج لنا علمًا نافعًا منقى من كل دخيل أو معلومات ضعيفة.
--------------------------------------------
তিনি খোরাসান, ইরাকের সকল শহর, হিজাজ, সিরিয়া ও মিশরে (হাদীস) লিখেছেন এবং তিনি বেশ কয়েকবার বাগদাদে এসেছেন
(১)ইমাম বুখারীর জীবন সম্পর্কে আমাদের মুগ্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সেই অসংখ্য ও ধারাবাহিক সফরসমূহ যা তিনি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। তিনি সেই বরকতময় পরিশ্রমের ফসল লিপিবদ্ধ করেছেন এবং আমাদের জন্য এমন এক উপকারী ইলম উপস্থাপন করেছেন যা সকল প্রকার প্রক্ষিপ্ত বিষয় বা দুর্বল তথ্য থেকে বিমুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٥)
المَبْحَثُ الرَّابِعُ: شُيُوْخُهُ:لقد تلقى البخاري العلم عن عدد كبير من الشيوخ، فقد قال ورَاقه محمد بن أبي حاتم: "سمعته قبل موته بشهر يقول: كتبت عن ألف وثمانين رجلًا ليس فيهم إلا صاحب حديث "
(1).
وقد صنّف ابن عدي كتابًا في شيوخه الذين روى عنه في الصحيح
(2).
وللحافظ محمد بن اسحاق بن منده، كتاب: " أسامي مشايخ الإمام البخاري" ذكر فيه (308) شيخ
(3).
ولقد حصر الذهبي والحافظ ابن حجر من حدث عنهم البخاري رحمه الله في خمس طبقات.
الطبقة الأولى: من حدّثه عن التابعين: مثل محمد بن عبدالله الأنصاري، ومكي بن إبراهيم، وأبي عاصم النيل، وعبيد الله بن موسى، وأبي نعيم _ الفضل ابن دكين_، وخلاد بن يحيى، وعصام بن خالد.
الطبقة الثانية: من كان في عصر هؤلاء لكن لم يسمع من ثقات التابعين، كآدم بن أبي إياس، وأبي مسهر عبد الأعلى بن مسهر، وسعيد بن أبي مريم، وأيوب بن سليمان بن بلال وأمثالهم.
الطبقة الثالثة: الوسطى من مشايخه، وهي: (وهم) من لم يلق التابعين بل أخذ عن كبار تبع التابعين؛ كسليمان بن حرب، وقتيبة بن سعيد، ونعيم بن حماد، وعلي بن المديني، ويحيى بن معين، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وأبي بكر وعثمان ابني أبي شيبة، وأمثال هؤلاء.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:ইমাম বুখারি বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর লেখক (ওয়ারাক) মুহাম্মদ বিন আবি হাতিম বলেন: "আমি তাঁর মৃত্যুর এক মাস আগে তাঁকে বলতে শুনেছি: 'আমি এক হাজার আশিজন ব্যক্তির নিকট থেকে (হাদিস) লিখেছি, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিসের অনুসারী' "
(১).
ইবনে আদি একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁর সেই সকল শিক্ষকদের নিয়ে, যাদের থেকে তিনি সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন
(২).
হাফেজ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মানদাহর একটি গ্রন্থ রয়েছে: "আসামী মাশায়িখিল ইমামিল বুখারি" (ইমাম বুখারির শিক্ষকবৃন্দের নামসমূহ), যাতে তিনি (৩০৮) জন শিক্ষকের কথা উল্লেখ করেছেন
(৩).
হাফেজ আয-যাহাবি এবং হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম বুখারি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদেরকে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন।
প্রথম স্তর: যারা তাবেয়ীদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন: যেমন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, মক্কি বিন ইবরাহিম, আবু আসিম আন-নাবিল, উবায়দুল্লাহ বিন মুসা, আবু নুয়াইম —ফজল ইবন দুকাইন—, খাল্লাদ বিন ইয়াহইয়া এবং ইসাম বিন খালিদ।
দ্বিতীয় স্তর: যারা এঁদের সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু নির্ভরযোগ্য তাবেয়ীদের নিকট থেকে সরাসরি শোনেননি, যেমন আদম বিন আবি ইয়াস, আবু মুসহির আব্দুল আ’লা বিন মুসহির, সাঈদ বিন আবি মারইয়াম, আইয়ুব বিন সুলাইমান বিন বিলাল এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
তৃতীয় স্তর: তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে মধ্যবর্তী স্তর, তাঁরা হলেন: যারা তাবেয়ীদের সাক্ষাৎ পাননি বরং প্রবীণ তাবে-তাবেয়ীদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন; যেমন সুলাইমান বিন হারব, কুতাইবা বিন সাঈদ, নুয়াইম বিন হাম্মাদ, আলী বিন আল-মাদিনী, ইয়াহইয়া বিন মায়িন, আহমদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আবু বকর ও উসমান ইবনে আবি শায়বা এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الطبقة الرابعة: رفقاؤه في الطلب، ومن سمع قبله قليلًا، كمحمد بن يحيى الذهلي، وأبي حاتم الرازي، ومحمد بن عبد الرحيم صاعقة، وعبد بن حميد، وأحمد بن النصر، وغيرهم، وإنما يخرج عن هؤلاء ما فاته عن مشايخه أو ما لم يجده عند غيرهم.
الطبقة الخامسة: قوم في عداد طلبته في السن والإسناد، سمع منهم للفائدة كعبد الله بن حماد الآملي، وعبد الله بن أبي العاص الخوارزمي، وحسين بن محمد القباني وغيرهم، وقد روى عنهم أشياء يسيرة
(1).
الطبقة الأولى، هي: عوالي أسانيده، والثانية والثالثة معظم أحاديثه، وشيوخه من الطبقة الثالثة هم الذين طالت ملازمته لهم وتخرج بهم في علوم الرواية والفقه ومعرفة السنة.
وأما الرابعة والخامسة فقد بينهما ابن حجر
(2).
--------------------------------------------
চতুর্থ স্তর: ইলম অর্জনে তাঁর সহপাঠীবৃন্দ এবং যারা তাঁর সামান্য আগে হাদিস শুনেছেন; যেমন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলি, আবু হাতিম আর-রাজি, মুহাম্মদ বিন আবদুর রহিম সা'ইকাহ, আবদ বিন হুমাইদ, আহমদ বিন আন-নাসর এবং অন্যান্য। তিনি তাঁদের নিকট থেকে কেবল সেই হাদিসগুলোই বর্ণনা করেছেন যা তিনি তাঁর উস্তাদদের নিকট থেকে পাননি অথবা অন্য কারও কাছে পাননি।
পঞ্চম স্তর: এমন একদল লোক যারা বয়স এবং সনদের দিক থেকে তাঁর ছাত্রদের সমপর্যায়ের। তিনি ফায়দা অর্জনের জন্য তাঁদের থেকে হাদিস শুনেছেন, যেমন আব্দুল্লাহ বিন হাম্মাদ আল-আমুলি, আব্দুল্লাহ বিন আবিল আস আল-খাওয়ারিজমি, হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-কাব্বানি এবং অন্যান্য। তিনি তাঁদের থেকে সামান্য কিছু বিষয় বর্ণনা করেছেন
(১)।
প্রথম স্তর হলো তাঁর উচ্চতর সনদসমূহ (আওয়ালি), আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তর হলো তাঁর অধিকাংশ হাদিসের উৎস। তৃতীয় স্তরের শাইখগণ হলেন তাঁরা, যাঁদের দীর্ঘ সাহচর্যে তিনি ছিলেন এবং যাঁদের মাধ্যমে তিনি রেওয়ায়েত শাস্ত্র, ফিকহ এবং সুন্নাহর জ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন।
আর চতুর্থ ও পঞ্চম স্তর সম্পর্কে ইবনে হাজার বর্ণনা করেছেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الْمَبْحَثُ الْخَامِسُ: تَلَامِيْذُهُ:إن الأعداد الكثيرة من طلبة العلم، التي كانت المجالس العلمية للإمام البخاري جَعلتْ حصر أعداد تلامذته الذين حضروا مجالسه وتلقوا عنه العلم من الصعوبة بمكان، ويكفي في ذلك أن مجلسه في بغداد كان يحضره أكثر من عشرين ألفًا يأخذون عنه، ومن أشهر الأئمة الذين رووا عنه
(1):
1.الإمام مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري (ت 261 هـ)، صاحب الصحيح، وهو ممن آزره لما شغبوا عليه بخراسان.
2.الإمام أبو عيسى محمد بن عيسى الترمذي صاحب السنن (ت 279 هـ)، روى عنه الكثير في سننه، ونقل للأمة من كلامه في الحديث والرواة شيئًا كثيرًا.
3.إبراهيم بن إسحاق الحربي (ت 285 هـ)، صاحب غريب الحديث
(2).
4.جزرة الحافظ العلامة الثبت شيخ ما وراء النهر أبو علي صالح بن محمد بن عمرو بن حبيب الأسدي مولاهم البغدادي نزيل بخارى، (ت 293 هـ)
(3).
5.محمد بن عبدالله بن سليمان بن مُطَيَّن الحضرمي الكوفي، (ت 297 هـ)
(4).
6.أبو عبد الرحمن النَّسائي، أحمد بن شعيب بن على بن سنان النسائي الخراساني الإمام الحافظ، (ت 303 هـ).
7.أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة (ت 311 هـ)، صاحب الصحيح.
8.محمد بن سليمان بن فارس (ت 312 هـ)، من رواة التاريخ عنه
(5).
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ:ইমাম বুখারীর ইলমী মজলিসগুলোতে তালিবে ইলমদের (শিক্ষার্থীদের) বিশাল সংখ্যার কারণে তাঁর মজলিসে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জনকারী ছাত্রদের সংখ্যা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন। এর জন্য এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, বাগদাদে তাঁর মজলিসে বিশ হাজারেরও বেশি মানুষ উপস্থিত হতেন যারা তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করতেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এমন প্রসিদ্ধ ইমামদের মধ্যে রয়েছেন
(১):
১.ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী (মৃত্যু: ২৬১ হিজরি), সহীহ মুসলিমের সংকলক। তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা খোরাসানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সময় তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন।
২.ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তিরমিযী, সুনান-এর সংকলক (মৃত্যু: ২৭৯ হিজরি)। তিনি তাঁর সুনানে তাঁর (বুখারীর) থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং হাদিস ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে তাঁর অনেক বক্তব্য উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
৩.ইবরাহীম বিন ইসহাক আল-হারবী (মৃত্যু: ২৮৫ হিজরি), গারীবুল হাদিস গ্রন্থের রচয়িতা
(২)।
৪.জাযরাহ, হাফিয, আল্লামা, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব, মা-ওয়ারাউন নাহরের শাইখ, আবু আলী সালিহ বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাবীব আল-আসাদী, তাদের মুক্ত করা গোলাম, বাগদাদী এবং বুখারার অধিবাসী (মৃত্যু: ২৯৩ হিজরি)
(৩)।
৫.মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মুতাইয়্যান আল-হাদরামী আল-কুফী (মৃত্যু: ২৯৭ হিজরি)
(৪)।
৬.আবু আবদুর রহমান আন-নাসাঈ, আহমদ বিন শুআইব বিন আলী বিন সিনান আন-নাসাঈ আল-খুরাসানী, ইমাম ও হাফিয (মৃত্যু: ৩০৩ হিজরি)।
৭.আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমা (মৃত্যু: ৩১১ হিজরি), সহীহ ইবনে খুযাইমার সংকলক।
৮.মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন ফারিস (মৃত্যু: ৩১২ হিজরি), তাঁর থেকে ইতিহাস বর্ণনাকারীদের অন্যতম
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٨)
9.يحيى بن محمد بن صاعد البغدادي الحافظ المعروف، (ت 318 هـ)
(1).
10.محمد بن يوسف بن مطر، أبو عبد الله الفَرَبْرِيُّ، (ت 320 هـ) أوثق من روى (صحيح البخاري) عن مصنفه. (ت 320)
(2).
11. الحسين بن إسماعيل بن محمد الضبي المحاملي البغدادي، (ت 330 هـ)
(3).
وكل هؤلاء أئمة حفاظ، وآخرون من الحفاظ وغيرهم. قال الخطيب: آخر مَن حدَّث ببغداد عن البخارى: الحسين بن إسماعيل المحاملي
(4).
--------------------------------------------
৯.ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাগদাদি, প্রসিদ্ধ হাফিজ, (মৃত ৩১৮ হি.)
(১).
১০.মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার, আবু আবদুল্লাহ আল-ফিরাবরি, (মৃত ৩২০ হি.) তাঁর সংকলকের নিকট থেকে (সহিহ বুখারি) বর্ণনাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। (মৃত ৩২০)
(২).
১১. আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাব্বি আল-মাহামিলি আল-বাগদাদি, (মৃত ৩৩০ হি.)
(৩).
আর তাঁরা সকলেই হাফিজ ইমাম ছিলেন, এবং আরও অনেক হাফিজ ও অন্যান্যগণও রয়েছেন। আল-খাতিব বলেন: বাগদাদে বুখারি থেকে সর্বশেষ হাদিস বর্ণনাকারী হলেন: আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الْمَبْحَثُ السَّادِسُ: مُؤَلَّفَاتُهُ:ترك الإمام البخاري خلفه تركة علمية كبيرة لأهل العلم، منها ما بقي ومنها ما فقد، كانت غاية في حسن التصنيف وجودة التأليف، وقد جمع أسماء هذه المؤلفات الحافظ ابن حجر
(1)، وهي:
1.الأدب المفرد (مطبوع)
(2).
2.أسامي الصحابة.
3.الأشربة.
4.بر الوالدين.
5.التاريخ الأوسط (طبع عدة طبعات باسم التاريخ الصغير)
(3).
6.التاريخ الصغير.
7.التاريخ الكبير (مطبوع)
(4).
8.التفسير الكبير.
9.الجامع الصحيح المعروف بـ "صحيح البخاري" (مطبوع)
(5).
10.الجامع الكبير، وهو إن كان غير الصحيح.
11.خلق أفعال العباد (مطبوع)
(6).
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী:ইমাম বুখারী উত্তরসূরি হিসেবে জ্ঞানপিপাসুদের জন্য বিশাল এক ইলমী সম্পদ রেখে গেছেন, যার কিছু অংশ এখনো সংরক্ষিত আছে এবং কিছু হারিয়ে গেছে। এগুলোর বিন্যাস ও রচনার গুণগত মান ছিল অনন্য। হাফেজ ইবনে হাজার
(১) এই রচনাবলীর নামগুলো একত্রিত করেছেন, সেগুলো হলো:
১. আল-আদাবুল মুফরাদ (মুদ্রিত)
(২)।
২. আসামীউস সাহাবা।
৩. আল-আশরিবা।
৪. বিররুল ওয়ালিদাইন।
৫. আত-তারীখুল আওসাত (এটি আত-তারীখুস সাগীর নামে বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে)
(৩)।
৬. আত-তারীখুস সাগীর।
৭. আত-তারীখুল কাবীর (মুদ্রিত)
(৪)।
৮. আত-তাফসীরুল কাবীর।
৯. আল-জামেউস সহীহ যা "সহীহ বুখারী" নামে পরিচিত (মুদ্রিত)
(৫)।
১০. আল-জামেউল কাবীর, আর এটি সহীহ গ্রন্থটি থেকে ভিন্ন।
১১. খালকু আফআলিল ইবাদ (মুদ্রিত)
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
12.الضعفاء الصغير (مطبوع)
(1).
13.الضعفاء الكبير.
14.العلل.
15.الفوائد.
16.القراءة خلف الإمام (مطبوع)
(2).
17. قرة العينين برفع اليدين في الصلاة (مطبوع)
(3).
18.كتاب الهبة.
19.الكنى، وهو مطبوع في آخر التاريخ الكبير.
20.المبسوط.
21.المسند الكبير.
22.الوحدان.
--------------------------------------------
১২.আদ-দুয়াফাউস সাগীর (মুদ্রিত)
(১).
১৩.আদ-দুয়াফাউল কাবীর।
১৪.আল-ইলাল।
১৫.আল-ফাওয়াইদ।
১৬.আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম (মুদ্রিত)
(২).
১৭. কুররাতুল আইনাইন বি-রাফইল ইয়াদাইন ফিস সালাত (মুদ্রিত)
(৩).
১৮.কিতাবুল হিবা।
১৯.আল-কুনা, এটি আত-তারীখুল কাবীরের শেষে মুদ্রিত।
২০.আল-মাবসুত।
২১.আল-মুসনাদুল কাবীর।
২২.আল-উহদান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الْمَبْحُثُ السَّابِعُ: ثَنَاءُ الْعُلَمَاءِ عَلَيْهِ.
لقد حظي الإمام البخاري بتزكيات من كبار أئمة المسلمين وأعلامهم المشهود لهم بالتقوى والورع والحفظ، ومن ذلك قول شيخه قتيبة بن سعيد: " جالست الفقهاء والزهاد والعباد فما رأيت منذ عقلت مثل محمد بن إسماعيل، وهو في زمانه كعمر في الصحابة" وقال أيضًا: "لو كان محمد بن إسماعيل في الصحابة لكان آية"
(1).
وقال عنه الإمام أحمد: " ما أخرجت خراسان مثل محمد بن إسماعيل". وعنه قال: "انتهى الحفظ إلى أربعة من أهل خراسان: أبو زرعة الرازى، ومحمد بن إسماعيل البخارى،. . . "
(2).
وقال الترمذي: " لم أرَ أحدًا بالعراق ولا بخُراسان فِي معنى العلل والتّاريخ ومعرفة الأسانيد كثير أحد أعلم من محمد بن إسماعيل
(3).
وقال له مسلم بن الحجاج: "أشهد أنه ليس في الدنيا مثلك، وجاء إليه فقبله بين عينيه، وقال: دعني حتى أُقبل رجليك يا أستاذ الأستاذين وسيد المحدثين ويا طبيب الحديث في علله"
(4).
وقال أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة: ما تحت أديم السماء أعلم بالحديث من محمد بن إسماعيل البخاري
(5).
وقال موسى بن هارون: " عندي لو أن أهل الإسلام اجتمعوا على أن ينصبوا مثل محمد بن إسماعيل آخر ما قدروا عليه"
(6).
--------------------------------------------
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা.
ইমাম বুখারী মুসলিম উম্মাহর বড় বড় ইমাম এবং বরণীয় ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে প্রশংসা ও স্বীকৃতি লাভ করেছেন, যাঁদের তাকওয়া, পরহেজগারী এবং হিফজ বা মুখস্থ শক্তির নির্ভরযোগ্যতা সর্বজনবিদিত। এ প্রসঙ্গে তাঁর উস্তাদ কুতাইবা ইবনে সাঈদ বলেন: "আমি ফকীহ, যুহদ অবলম্বনকারী এবং ইবাদতগুজারদের সাথে বসেছি, কিন্তু যখন থেকে আমার বিচারবুদ্ধি হয়েছে, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো কাউকে দেখিনি। তিনি তাঁর যুগে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে উমরের মতো ছিলেন।" তিনি আরও বলেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল যদি সাহাবায়ে কেরামের যুগে থাকতেন, তবে তিনি এক বিস্ময়কর নিদর্শন হতেন।"
(১).
ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেন: "খোরাসান মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো কাউকে তৈরি করেনি।" তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: "খোরাসানবাসীদের মধ্যে হিফজ (স্মৃতিশক্তি) চারজন ব্যক্তির কাছে এসে শেষ হয়েছে: আবু যুরআহ আর-রাযী, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী..."
(২).
ইমাম তিরমিযী বলেন: "আমি ইরাক বা খোরাসানে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল), ইতিহাস এবং সনদ চেনার বিষয়ে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।"
(৩).
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁকে বলেছিলেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পৃথিবীতে আপনার মতো আর কেউ নেই।" তিনি তাঁর কাছে আসলেন এবং তাঁর কপালে (দুই চোখের মাঝে) চুম্বন করলেন এবং বললেন: "হে উস্তাদদের উস্তাদ, মুহাদ্দিসদের সরদার এবং হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, আমাকে আপনার পা দুটি চুম্বন করার অনুমতি দিন।"
(৪).
আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাহ বলেন: "আসমানের নিচে হাদিস শাস্ত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীর চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কেউ নেই।"
(৫).
মুসা ইবনে হারুন বলেন: "আমার মতে, যদি সমস্ত মুসলিম উম্মাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো দ্বিতীয় একজনকে তৈরি করার জন্য একত্রিত হতো, তবে তারা তা করতে সক্ষম হতো না।"
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقال عبدالله بن محمد بن سعيد بن جعفر: " سمعت العلماء بالبصرة يقولون ما في الدنيا مثل محمد بن إسماعيل في المعرفة والصلاح، قال عبدالله: وأنا أقول قولهم"
(1).
وقال الحافظ أبو العباس بن عقدة: " لو أن رجلًا كتب ثلاثين ألف حديث لما استغنى عن تاريخ محمد بن إسماعيل"
(2).
وقال الحاكم: "أبو أحمد في الكنى كان أحد الأئمة في معرفة الحديث وجمعه، ولو قلت إني لم أر تصنيف أحد يشبه تصنيفه في الحسن والمبالغة رجوت أن أكون صادقًا في قولي"
(3).
وقال الدارقطني "لولا البخاري لما راح مسلم ولا جاء"
(4)هذا، وإن ثناء الأئمة الحفاظ على الإمام البخاري يطول سرده، وصنَّف الأئمة والحفاظ في سيرته ومناقبه مصنفات متنوعة، لذا اكتفيت بهذِه المقتطفات من بحر فضله.
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন সাঈদ ইবন জাফার বলেন: "আমি বসরার আলিমগণকে বলতে শুনেছি যে, জ্ঞান ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পৃথিবীতে মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইলের মতো আর কেউ নেই। আবদুল্লাহ বলেন: আমিও তাঁদের কথার সাথে একমত"
(১).
হাফিজ আবুল আব্বাস ইবন উকদাহ বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি ত্রিশ হাজার হাদীসও লিপিবদ্ধ করেন, তবুও তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইলের 'তারিখ' (ইতিহাস গ্রন্থ) থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারবেন না"
(২).
আল-হাকিম বলেন: "আবূ আহমাদ (ইমাম বুখারী) উপনাম (কুনিয়ত) বিষয়ে হাদীস জানা ও তা সংকলনের ক্ষেত্রে ইমামদের অন্যতম ছিলেন। আমি যদি বলি যে, সৌন্দর্য ও সূক্ষ্মতার বিচারে তাঁর রচনার তুল্য অন্য কারো রচনা আমি দেখিনি, তবে আশা করি আমি আমার কথায় সত্যবাদী হব"
(৩).
আদ-দারাকুতনী বলেন: "বুখারী না থাকলে মুসলিম আসতেনও না, যেতেনও না"
(৪)ইমাম বুখারীর প্রশংসায় হাফিজ ইমামদের বক্তব্য অনেক দীর্ঘ, আর ইমাম ও হাফিজগণ তাঁর জীবনী ও গুণাবলি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাই আমি তাঁর বিশাল মর্যাদার সমুদ্র থেকে কেবল এই উদ্ধৃতিগুলো দিয়েই ক্ষান্ত হলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الْمَبْحَثُ الثَّامِنُ: مِحْنَتُهُ وَوَفَاتُهُ:لما ورد محمد بن إسماعيل البخاري نيسابورَ، قال محمد بن يحيى الذهلي لأهلها: اذهبوا إلى هذا الرجل الصالح العالم فاسمعوا منه. فذهب الناس إليه، وأقبلوا على السماع منه. حتى ظهر الخلل في مجالس محمد بن يحيى، فحسده بعد ذلك وتكلم فيه
(1) فدسّ بعض من يمتحنه في (مسألة اللفظ بالقرآن)، فلما حضر الناس مجلس البخاري قام إليه رجل، فقال: يا أبا عبد الله، ما تقول في اللفظ بالقرآن؟ مخلوق هو أم غير مخلوق؟ فأعرض عنه البخاري ولم يجبه، فقال الرجل: يا أبا عبد الله، فأعاد عليه القول، ثم قال في الثالثة، فالتفت إليه البخاري، وقال: القرآن كلام الله غير مخلوق، وأفعال العباد مخلوقة، والامتحان بدعة، فشغّب الرجل وشغّب الناس، وتفرقوا عنه، وقعد البخاري في منزله
(2).
قال يحيى بن سعيد القطان: قال (أي البخاري): أعمال العباد كلها مخلوقة فمرقوا عليه. وقالوا له بعد ذلك: ترجع عن هذا القول حتى نعود إليك، قال: لا أفعل إلا أن يجيئوا بحجة فيما يقولون أقوى من حجتي. قال يحيى: وأعجبني من محمد بن إسماعيل ثباته
(3).
ولم تكن محنة هذا الإمام لتنتهي بخروجه من نيسابور، بل قد وقعت له في بخارى محنة أخرى هي امتداد للأولى. إذ لما قدم البخاري (بخارى) نصب له القباب على فرسخ من البلد، واستقبله عامة أهل البلد ونثر عليه الدنانير والدراهم والسكر الكثير، فبقي أيامًا، فكتب محمد بن يحيى الذهلي إلى أمير بخارى خالد بن أحمد الذهلي: إن هذا الرجل قد أظهر خلاف السنة. فقرأ كتابه على أهل بخارى، فقالوا: لا نفارقه. فأمره الأمير بالخروج من البلد، فخرج
(4).
--------------------------------------------
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর পরীক্ষা ও মৃত্যু:যখন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী নিশাপুরে আসলেন, তখন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলী শহরবাসীকে বললেন: "তোমরা এই সৎ ও আলেম ব্যক্তির কাছে যাও এবং তাঁর থেকে (হাদিস) শ্রবণ করো।" ফলে মানুষ তাঁর কাছে যেতে শুরু করল এবং তাঁর থেকে শোনার প্রতি মনোনিবেশ করল। এমনকি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়ার মজলিসে লোকসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেল। এরপর তিনি তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হলেন এবং তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে লাগলেন
(১)। অতঃপর তিনি এমন কাউকে প্ররোচিত করলেন যে তাকে (কুরআন পাঠের উচ্চারণ বা 'লাফজ' সংক্রান্ত বিষয়ে) পরীক্ষা করবে। যখন মানুষ বুখারীর মজলিসে উপস্থিত হলো, তখন এক ব্যক্তি তাঁর দিকে দাঁড়িয়ে বলল: "হে আবু আব্দুল্লাহ, কুরআন পাঠের উচ্চারণ (লাফজ বিল কুরআন) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তা কি মাখলুক (সৃষ্ট) নাকি গাইরে মাখলুক (অসৃষ্ট)?" বুখারী তার থেকে বিমুখ হলেন এবং তাকে কোনো উত্তর দিলেন না। লোকটি আবারও একই প্রশ্ন করল, অতঃপর তৃতীয়বারও করল। তখন বুখারী তার দিকে ফিরে বললেন: "কুরআন আল্লাহর কালাম, যা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়। আর বান্দার কার্যাবলি মাখলুক (সৃষ্ট), এবং (এই বিষয়ে মানুষকে) পরীক্ষা করা বিদআত।" তখন লোকটি হট্টগোল শুরু করল এবং লোকেরাও হট্টগোল করল, তারা তাঁর নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং বুখারী নিজ গৃহে অবস্থান করতে লাগলেন
(২)।
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেন: তিনি (অর্থাৎ বুখারী) বলেছেন: "বান্দার সমস্ত আমল মাখলুক (সৃষ্ট)।" ফলে তারা তাঁর চরম বিরোধিতা করল। এরপর তারা তাঁকে বলল: "আপনি এই কথা থেকে ফিরে আসুন, তবেই আমরা আপনার কাছে ফিরে আসব।" তিনি বললেন: "তারা যা বলছে সেই বিষয়ে আমার দলিলের চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলিল না আনা পর্যন্ত আমি তা করব না।" ইয়াহইয়া বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের এই দৃঢ়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে
(৩)।
এই ইমামের পরীক্ষা নিশাপুর থেকে বের হওয়ার মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়নি, বরং বুখারায় তাঁর সাথে অন্য একটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়েছিল যা ছিল প্রথমটিরই ধারাবাহিকতা। যখন বুখারী (বুখারা শহরে) আসলেন, শহর থেকে এক ফারসাখ দূরে তাঁর জন্য অনেকগুলো তাঁবু স্থাপন করা হলো। শহরের সাধারণ মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাল এবং তাঁর ওপর প্রচুর দিনার, দিরহাম ও চিনি ছিটানো হলো। তিনি সেখানে কিছুদিন অবস্থান করলেন। এরপর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলী বুখারার আমির খালিদ ইবনে আহমদ আয-যুহলীর কাছে লিখে পাঠালেন: "এই ব্যক্তি সুন্নাহর পরিপন্থী মত প্রকাশ করেছে।" আমির তাঁর সেই চিঠি বুখারাবাসীর সামনে পাঠ করলেন। তারা বলল: "আমরা তাঁকে ছেড়ে যাব না।" অতঃপর আমির তাঁকে শহর থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি বের হয়ে গেলেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নাজাহুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী - কিতাবুল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وقد ذكر المؤرخون سببًا آخر يمكن أن يكون هو السبب الحقيقي لنفرة هذا الأمير من البخاري. فقد طلب من البخاري لما قدم "بخارى" أن يحمل " الجامع " و " التاريخ " وغيرها من كتبه ليسمعها الأمير وأهل بيته، لكن البخاري اعتبر ذلك إذلالًا للعلم. وقال لرسوله: " أنا لا أذل العلم، ولا أحمله إلى أبواب الناس، فإن كانت لك إلي شيء منه حاجة، فاحضر إلى مسجدي أو في داري، وإن لم يعجبك هذا فإنك سلطان فامنعني من المجلس ليكون لي عذر عند الله يوم القيامة؛ لأني لا أكتم العلم
(1)، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: " من سئل عن علم فكتمه ألجم بلجام من نار
(2) "
توجه إلى سمرقند بعدما آذاه والي بخارى ونفاه منها، فلما وصل إلى "خَرْتَنْك"
(3) وهي قرية على ثلاثة فراسخ
(4) من سمرقند، كان له بها أقرباء فبقي فيها أيامًا قليلة، ثم توفي وكان ذلك ليلة السبت ليلة عيد الفطر عند صلاة العشاء، ودفن يوم الفطر بعد صلاة الظهر سنة ستة وخمسين ومائتين، وعاش اثنين وستين سنة إلا ثلاثة عشر يومًا
(5) وكانت حياته كلها حافلة بالعلم معمورة بالعبادة، فجزاه الله عن الإسلام وأهله خير الجزاء.
--------------------------------------------
ঐতিহাসিকগণ অন্য একটি কারণ উল্লেখ করেছেন যা সম্ভবত এই আমীরের বুখারীর প্রতি বিরাগভাজন হওয়ার প্রকৃত কারণ হতে পারে। তিনি যখন "বুখারা"য় পদার্পণ করেন, তখন আমীর বুখারীর কাছে দাবি করেন যেন তিনি তাঁর "আল-জামি", "আত-তারিখ" এবং অন্যান্য গ্রন্থগুলো আমীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শোনানোর জন্য বহন করে নিয়ে আসেন। কিন্তু বুখারী এটিকে ইলমের (জ্ঞানের) অবমাননা বলে গণ্য করেন। তিনি তাঁর দূতের নিকট বলেন: "আমি ইলমকে লাঞ্ছিত করি না এবং তা মানুষের দ্বারে দ্বারে বহন করে নিয়ে যাই না। যদি আপনার এগুলোর প্রতি কোনো প্রয়োজন থাকে, তবে আমার মসজিদে অথবা আমার ঘরে উপস্থিত হোন। আর যদি এটি আপনার পছন্দ না হয়, তবে আপনি সুলতান; আপনি আমাকে মজলিস থেকে বিরত রাখতে পারেন, যাতে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট আমার ওজর (অজুহাত) থাকে। কেননা আমি ইলম গোপন করি না
(১)," কারণ নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যাকে কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আর সে তা গোপন করেছে, তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে
(২)।"
বুখারার ওয়ালী (গভর্নর) কর্তৃক কষ্ট পাওয়া ও বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি সমরকন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি যখন "খারতাঙ্ক"
(৩)-এ পৌঁছান, যা সমরকন্দ থেকে তিন ফারসাখ
(৪) দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম, সেখানে তাঁর কিছু আত্মীয় ছিল। তিনি সেখানে অল্প কয়েকদিন অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করেন। এটি ছিল শনিবার রাতে ঈদুল ফিতরের রাতে এশার সালাতের সময়। তাঁকে ঈদের দিন জোহরের সালাতের পর ২৫৬ হিজরি সনে দাফন করা হয়। তিনি তেরো দিন কম বাষট্টি বছর জীবিত ছিলেন
(৫)। তাঁর সমগ্র জীবন ছিল ইলমে ভরপুর এবং ইবাদতে আবাদ। আল্লাহ তাঁকে ইসলাম ও এর অনুসারীদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
--------------------------------------------