(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: -)
لطائف الذخيرة وطرائف الجزيرة   (الأسعد بن مماتي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: لطائف الذخيرة وطرائف الجزيرة (مستخلص من كتاب الذخيرة لابن بسام)

المؤلف: أسعد (أبو المكارم) بن مهذب (الملقب بالخطير أبي سعيد) بن مينا بن زكريا، ابن مماتي (ت 606هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 92

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

লাতায়েফুয যাখিরা ওয়া তারায়েফুল জাযিরা   (আল-আসআদ বিন মাম্মাতি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: লাতায়েফুয যাখিরা ওয়া তারায়েফুল জাযিরা (ইবনে বাসসামের যাখিরা গ্রন্থ থেকে সংকলিত)

লেখক: আসআদ (আবু আল-মাকারিম) বিন মুহাযযাব (আল-খাতীর আবু সাঈদ উপাধিতে ভূষিত) বিন মীনা বিন যাকারিয়্যা, ইবনে মাম্মাতি (মৃত্যু ৬০৬ হি.)

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الفن الأول

‌‌من لطائف الذخيرة وطرائف الجزيرة

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌قال ابن مماتي

الحمد لله الذي أطلع بدور الفضائل من أفق المغرب، وجمع لهم شوارد المعاني فارتبطوا منها كل معنى مرقص ومطرب، وأباح لهم رياض البلاغة فاقتطعوا منها كل زهر مؤنق معجب، وفتح لهم مستصعب كنوزهم ففازوا منها بالذخائر، وعرفهم حل رموزها فعقدوا من إكسيرها ما قصر عن شأوهم فيه زكريا وجابر.

والصلاة والسلام على من آمن برسالته الثقلان، وأخرس بفصاحته كل منطيق ملسان "المؤيد بأقوى حجة وأقوم برهان، المخصوص بمعجزة القرآن، الذي رد عنه طرف من أراد معارضته حسيراً، حين تلا عليهم "قل لئن اجتمعت الإنس والجن على أن يأتوا بمثل هذا القرآن لا يأتون بمثله ولو كان لبعضهم لبعض ظهيرا".

صلى الله عليه وعلى آله ذوي الأوجه الصبيحة، والألسن الفصيحة، وأصحابه الذين أرشدوا الخلق، وهدوا من ضلّ في تيه الضلال إلى منهج الحق، وقاموا بعده بتبليغ دعوته حتى طبقت الغرب والشرق.

وبعد: فلما عضّني الدهر بنابه، وأرغى بي كل غُمرٍ ليس بنابه، رأيت أن الخلاص من أشراك مصائده، فالتوقى من سهام مكائده، لا يُنال إلاّ بالأسفار، وهي بارتكاب الأخطار، فخرجت من مصر خائفا أترقب، هائما لا أدري أين أذهب، حتى أدناني الهرب، إلى مدينة الشَهبَاء حلب، فلجأت إلى جانب سلطانها الملك الظاهر، وتفيأت من ظلال دولته ما أذهب عنّي حرّ الهواجر، وحين وجدته ملجأ للجاني، ومأمنا للعاني، وحرما لا تنفر أطياره، وطودا لا تسهل أوعاره، أنخت به مطايا الترحال، واطلعت بواعث الآمال في المرور من خدمته ببال الإقبال، وقطعت الأهوال في الوصول إليه مختفيا من الرقباء كطيف الخيال، ولحظ خدمتي، وحفظ حرمتي، وأجمل وفادتي، وأجزل إفادتي، وأجراني في الإكرام والاحترام على أنفس عادة سعادتي، وبسط أملي بلسان الإحسان، وقبض وجلي بما أعطاني من الزمان الأمان".

تكفل بي الوزير الصاحب الأجل العالم الصدر الإمام الفاضل الكامل، نظام الدين، شمس الإسلام والمسلمين، سيد الوزراء، أوحد الفضلاء، رئيس الرؤساء، تاج الملة، عضد الدولة، كهف الأمة، عمدة الأئمة، خلاصة الخلافة، شرف الإمامة، ذو المآثر والمفاخر مصطنع أمير المؤمنين، ذو البلاغتين، محمد بن الحسين"- أدام الله نفاذ مراسمه، واستحواذ مكارمه، وأمضى عزمه في كف الدهر ورفع مظالمه، فلا زالت أقلامه سود اللمم، شواب الهمم، جارية بأرزاق الأمم، متحدثه ألسنها بما يبهج الموالي ويزعج المعادي من أخبار النعم والنقم، ساعية على رؤوسها في الخدمة الظاهرية بما تظهر به أعلام فتوحها ظهور النار على العلم،- وتلقاني من عام إنعامه بما اقتضته هممه، وتوخاني من إتمام اهتمامه بما أمضته شيمه، وضاعف امتنانه لدي، وملأ بكرمه عيني فضلاً عن يدي، وعاملني بما سرّ القلب، وجاملني بما سرّى الكرب، وجمع لي فيما بين ماله وأدبه، وأطلق خاطري بما أطلق يدي فيه من خزانة كتبه.

فكان من جملتها "كتاب الذخيرة في محاسن أهل الجزيرة"، تأليف أبي الحسن علي بن بسّام رحمه الله، وهو كتاب جليل المقدار، جميل الآثار؛ منتظم من عقود عقول الفضلاء، وفصوص فصول الأدباء، ما تغص به الأقطاب والأقطار، ويملأ ساحات ساعات الليل والنهار، وأشار -أبقاه الله- إلى أن أختارَ منه الطائل الطائر، ويُقتصَر فيه على النادّ النادر فبادرت إلى المرسوم، وثابرت على العمل بالمفهوم".

ووجدت الكتاب المشار إليه يشتمل على أربعة أقسام: الأول: فيما يختصّ بقرطبة وما يصاقبها من مواسطة الأندلس.

والثاني: فيما يتعّلق بالجانب الغربي من الأندلس واشبيلية وما يتّصل بذلك من بلاد البحر المحيط.

والثالث: في ذكر أهل الجانب الشرقي من الأندلس إلى منتهى كلمة الإسلام هنالك.

والرابع: فيمن طرأ على الجزيرة من الفضلاء والأدباء ووصل ذلك بذكر من نجم من الشعراء بافريقية وغيرها من الشام والعراق.
প্রথম পরিচ্ছেদ

‌আয-যাখিরা-এর সূক্ষ্ম শিল্প এবং আল-জাযিরা-এর বিস্ময়কর বর্ণনা হতে

‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌ইবনে মাম্মাতি বলেন

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পশ্চিম দিগন্ত হতে শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণিমা চাঁদসমূহ উদিত করেছেন এবং তাদের জন্য দুর্লভ অর্থসমূহ একত্রিত করেছেন, ফলে তারা সেখান থেকে প্রতিটি ছন্দোময় ও আনন্দদায়ক ভাব অর্জন করেছেন। তিনি তাদের জন্য অলঙ্কারশাস্ত্রের উদ্যানসমূহ উন্মুক্ত করেছেন, যেখান থেকে তারা প্রতিটি মনোমুগ্ধকর ও বিস্ময়কর ফুল সংগ্রহ করেছেন। তিনি তাদের জন্য জ্ঞানভাণ্ডারের কঠিন কপাটসমূহ খুলে দিয়েছেন, ফলে তারা সেখান থেকে অমূল্য সম্পদ লাভে ধন্য হয়েছেন। তিনি তাদেরকে এই ভাণ্ডারের রহস্যময় সংকেতসমূহ চিনিয়েছেন, যার ফলে তারা এমন এক অপরসায়ন (কিমিয়া) প্রস্তুত করেছেন যা অর্জনে যাকারিয়া ও জাবির (ইবনে হাইয়ান)-ও ব্যর্থ হয়েছেন।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর রিসালাতের ওপর জিন ও মানবজাতি ঈমান এনেছে এবং যাঁর প্রাঞ্জলতা প্রতিটি বাগ্মী ও সুবক্তাকে নির্বাক করে দিয়েছে; যিনি সুদৃঢ় দলিল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রমাণের মাধ্যমে সমর্থিত এবং কুরআনের মুজিজার মাধ্যমে বিশেষিত। যে ব্যক্তি এই কুরআনের বিরোধিতা করতে চেয়েছে, কুরআন তিলাওয়াত শুনেই তার দৃষ্টি নিস্তেজ হয়ে ফিরে এসেছে, যখন তিনি তাদের কাছে পাঠ করেছেন: "বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।"

আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর এবং তাঁর উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী পরিবারবর্গের ওপর, এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা সৃষ্টিজগতকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং গোমরাহীর গোলকধাঁধায় পথহারাদের সত্যের পথের দিশা দিয়েছেন। তাঁরা তাঁর ইনতিকালের পর তাঁর দাওয়াত প্রচারের দায়িত্ব পালন করেছেন, এমনকি তা পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ছেয়ে গেছে।

অতঃপর: কালচক্র যখন আমাকে তার দাঁত দিয়ে দংশন করল এবং প্রতিটি অযোগ্য ব্যক্তি আমার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করল, তখন আমি দেখলাম যে এর জাল থেকে মুক্তির পথ এবং এর চক্রান্তের তীর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো দেশভ্রমণ, যা বিপদসংকুল পথ পাড়ি দেওয়ার মাধ্যমে সম্ভব। ফলে আমি শঙ্কিত ও আতঙ্কিত অবস্থায় মিশর থেকে বেরিয়ে পড়লাম এবং লক্ষ্যহীনভাবে চলতে লাগলাম, জানি না কোথায় যাব। অবশেষে পলায়নের পরিক্রমা আমাকে 'শাহবা'খ্যাত আলেপ্পো শহরে নিয়ে এল। সেখানে আমি এর সুলতান আল-মালিক আল-জাহিরের আশ্রয় গ্রহণ করলাম এবং তাঁর শাসনের ছায়াতলে এমন সুশীতল আশ্রয় পেলাম যা আমার থেকে মধ্যাহ্নের প্রচণ্ড দহন দূর করে দিল। যখন আমি তাঁকে অপরাধীদের আশ্রয়স্থল, দুর্গতদের নিরাপদ ভূমি, এমন এক পবিত্র স্থান যেখানে পাখিরাও ভীত হয় না এবং এমন এক সুউচ্চ পর্বত হিসেবে পেলাম যার চড়াই-উতরাই পাড়ি দেওয়া কঠিন নয়, তখন আমি সেখানে আমার সফরের উটগুলো থামালাম। তাঁর খিদমতে থেকে আমার মনে উচ্চাশা জাগ্রত হলো এবং পাহারাদারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কল্পনার ছায়ার মতো অত্যন্ত গোপনে তাঁর নিকট পৌঁছানোর মাধ্যমে সকল ভয়ভীতি জয় করলাম। তিনি আমার খিদমত গ্রহণ করলেন, আমার সম্মান রক্ষা করলেন, আমাকে উত্তমভাবে বরণ করলেন এবং আমাকে অঢেল দান-অনুগ্রহ করলেন। তিনি তাঁর রাজকীয় রীতি অনুযায়ী আমাকে পরম সম্মান ও সমাদরের সাথে গ্রহণ করলেন, তাঁর অনুগ্রহের ভাষায় আমার আশাকে প্রসারিত করলেন এবং আমাকে এই জামানায় নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে আমার ভীতি দূর করে দিলেন।

আমার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন মহান উজির, বিদগ্ধ প্রাজ্ঞ ব্যক্তি, ইমাম, ফাযেল ও কামেল ব্যক্তিত্ব, নিযামুদ্দিন, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সূর্য, উজিরগণের সরদার, অদ্বিতীয় গুণীজন, প্রধানদের প্রধান, মিল্লাতের মুকুট, রাষ্ট্রের অবলম্বন, উম্মাহর আশ্রয়স্থল, ইমামগণের খুঁটি, খিলাফতের সারবত্তা, ইমামতের গৌরব, গৌরবময় কীর্তি ও ঐতিহ্যের অধিকারী, আমিরুল মুমিনিনের প্রিয়ভাজন, উভয় শাস্ত্রের অলঙ্কার (গদ্য ও পদ্যে পারদর্শী) মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন—আল্লাহ তাঁর নির্দেশনাবলির কার্যকারিতা এবং তাঁর মহানুভবতার শ্রেষ্ঠত্ব চিরস্থায়ী করুন, আর কালের দুর্যোগ দমন ও জুলুম দূরীকরণে তাঁর সংকল্পকে সুতীক্ষ্ণ করুন। তাঁর কলমসমূহ সর্বদা জাতির রিযিক বন্টনে সচল থাকুক; যা বন্ধুদের আনন্দিত করে এবং শত্রুদের বিচলিত করে—এমন সব নেয়ামত ও দণ্ডবিধির সংবাদ প্রচার করুক। তাঁর কলমসমূহ যেন সুলতানের খিদমতে নিরলসভাবে বিজয় নিশান উড্ডীন করে—যেমনটি পাহাড়ের চূড়ায় অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হয়ে দৃশ্যমান হয়। তিনি তাঁর ব্যাপক অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যা তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপযোগী ছিল, এবং তাঁর স্বভাবজাত মহানুভবতার মাধ্যমে আমার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি আমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন এবং তাঁর দাক্ষিণ্যে আমার হাতের সাথে সাথে আমার চোখকেও পূর্ণ করেছেন। তিনি আমার সাথে এমন আচরণ করেছেন যা আমার অন্তরকে প্রফুল্ল করেছে এবং আমার বিষণ্ণতা দূর করেছে। তিনি আমার জন্য তাঁর সম্পদ ও সাহিত্যজ্ঞান উভয়ই অবারিত করেছেন এবং তাঁর কুতুবখানা (লাইব্রেরি) আমার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে আমার চিন্তাশক্তিকে মুক্তি দিয়েছেন।

সেই বইগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল আবু আল-হাসান আলী বিন বাসসাম (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "কিতাবুজ যাখিরা ফি মাহাসিনি আহলিল জাযিরা" (দ্বীপবাসীর সৌন্দর্যে সঞ্চিত ভাণ্ডার)। এটি অত্যন্ত উচ্চমানের এবং চমৎকার নিদর্শন সম্বলিত একটি গ্রন্থ; যা গুণীজনদের বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তার মালা এবং সাহিত্যিকদের গদ্যশৈলীর অলঙ্কারে সজ্জিত, যা দেশ-দিগন্তকে মোহিত করে এবং দিবা-রাত্রির প্রতিটি মুহূর্তকে সার্থকতায় ভরিয়ে দেয়। তিনি—আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন—আমাকে ইঙ্গিত দিলেন যাতে আমি তা থেকে মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ অংশগুলো বাছাই করি এবং কেবল বিরল ও দুর্লভ বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি। ফলে আমি তাঁর নির্দেশ পালনে দ্রুত অগ্রসর হলাম এবং এর মর্মার্থ অনুযায়ী কাজ করার প্রয়াস পেলাম।

আমি উল্লেখিত কিতাবটিকে চারটি খণ্ডে বিন্যস্ত পেয়েছি: প্রথম খণ্ড: যা কর্ডোভা এবং তার সংলগ্ন আন্দালুসের মধ্যাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট।

দ্বিতীয় খণ্ড: যা আন্দালুসের পশ্চিমাঞ্চল, সেভিল এবং এর সাথে সংযুক্ত আটলান্টিক মহাসাগর উপকূলীয় শহরগুলো সংশ্লিষ্ট।

第三 খণ্ড: আন্দালুসের পূর্বাঞ্চলীয় অধিবাসীদের আলোচনায়, যেখানে ইসলামের শাসনের বিস্তৃতি ছিল।

চতুর্থ খণ্ড: ওইসব গুণী ও সাহিত্যিকদের বর্ণনায় যাঁরা এই দ্বীপে (আন্দালুস) আগমন করেছিলেন, এবং এর সাথে উত্তর আফ্রিকা এবং সিরিয়া ও ইরাকসহ অন্যান্য স্থানের উদীয়মান কবিদের আলোচনাও যুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ووجدت المصنف المذكور لم يلزم قانونا في تقديم المقدم وتأخير المؤخر، بل ذكر كل اسم على ما اتفق له من ذكره، وخدم ذلك الاسم بما وجده من أخباره ونظمه ونثره، وألمّ في بعض الأشعار بالتنبيه على ما يشاكلها، والإشارة إلى ما يماثلها. فجردت منه خيار ما ودت فيه، وأظهرت من محاسنه ما كان الإكثار يغمره ويخفيه، وجعلته ثلاثة أجزاء: الأول: في المختار من الأشعار على ولاء ما ألف ونسق ما صنف.

الثاني: فيما دلّ ابتسام نواجذه، على دقائق مآخذه، مما تشاكلت معانيه وتماثلت مبانيه.

الثالث: في سحر عيون الأخبار، وما يستدل به على أن وجوه الآثار ألسنة الآثار، وسميته "لطائف الذخيرة وطرائف الجزيرة".

فإن وافق الغرض، ونهض بالمفترض، وإلاّ فكلّ مجتهد مصيب، وآخذ من العذر بنصيب، إن شاء الله، وهو ثقتي لا معبود سواه.

1- قال الأديب أبو عمر أحمد بن الدراج القسطلي من قصيدة:

وقد لمعت حوليك منهم أسنةٌ … تُخيلُ أن الحزن والسهل نيران

أسود هياج ما تزال تراهم … تطير بهم الكريهة عقبان

وقال من أخرى:

خوصٌ نفحن بنا البري حتى انثنتْ … أشلاؤهُنّ كمثل أنصاف البُرى

وخططتُ بين جفانها وجُفونها … حرما أبتْ حُرماتهُ أنْ تُخفرا

وقال في قصيدة:

أفي مثلها تنبو أياديك عن مثلي … وهذي الأماني فيكَ جامعةُ الشّملِ

وقد أمّن المقْدارُ ما كنتُ أتّقي … وأرْخَصَت الأيام ما كنت أستغلي

وهذا مُقامي منذ تسعٍ وأربعٍ … رجائي في قيدٍ وحظّي في غلِّ

ولم تُصفني خُلقاً أرقّ من الهوى … ولم تُولني نُعمي ألذّ من الوصل

ومن شيمة الماء القراح وإن صفا … إذا اضطرمَتْ من تحته النارُ أنْ يغلي

منها:

أبا الأصبغ المعنى هل أنت مُصْرخي … وهل أنت لي مُغنٍ وهل أنت لي معلي

فاكْسو لك الأيام من حرّ ما أشي … وأملأ سمع الدّهر من سحرِ ما أُملي

وقال من قصيدة:

وتنبو الرّدينيّات والطولُ وافرٌ … وينفذُ نصْل السّهم وهو قصير

وقال من أخرى:

إليك شحنّا الفُلك تهوي كأنّها … وقد ذعرَتْ من مغرب الشمس غربان

على لُججٍ خضرٍ إذا هبّت الصّبا … ترامى بنا فيها ثبيرٌ وثهلان

ومنها:

وإنّ بلاداً أخرجتني لعطّلٌ … وإنّ زمناً خان عهدي لخوّان

سلامٌ على الإخوان تسلْيمِ يائس … وسقياً لدهر كان لي فيه إخوان

يودّعهم شخصي بشجو كمثْل ما … أجابت حفيف السهم عوجاء مرنان

فلا مؤنس إلا شهيقٌ وزفرةُ … ولا مسعد إلا دموع وأشجان

قضى عيشهم بعدي وعيشي بعدهمْ … بأني قد خنتُ الوفاء خانوا

ومنها:

وجوهٌ كرام في البلاد قبورها … وأنهم في القلب منّي لسكّانُ

وما بليت في الترب إلا تجددت … عليها من القلب الموجع أحزان

متى تلحظوا قصر المرية تنزلوا … ببحر ندى يمناه درُّ ومرجان

وتستبدلوا من موج بحر شجاكم … ببحر لكم منه لُجينٌ وعقيان

ومنها:

وأنْسيتَهم حمل القنا، فسلاحهمْ … عليك

إذا لاقوكَ

ذلّ وإذعان

فيا ذلّ أعلام الهدى بعد عزّهم … ويا عز أعلام الهدى بك إذ هانوا

حفرت لهم في يوم قبْرة بالقَنا … قبوراً هواء الجوّ منهنّ ملآن

فلو نُشر الأملاكُ يومك فيهم … لألقى إليكَ التاج كسرى وخاقان

كتائب بل كتبٌ بنصرك طرزت … ووجهكَ "بسم الله" والسيف عنوان

2- وقال الوزير أبو المغيرة عبد الوهاب بن حزم من قصيدة:

فكم لي فيه من جنابٍ وطئته … كريماً فلا آسى ولا أتأسّف

يمدّ علينا بالسّحاب سرادق … ويُسحبُ فينا للجنائب مِطرَف

ومنها:

بدا العَلمُ الفرد الذي كنتُ عالما … به وسرى العَرف الذي كنتُ أعرفُ

ومنها:

وركب سرَوا والليل مرْخ عليهمُ … ستوراً من الظّلماء لا تتكشفُ

خبطتُ بهم أكنافه ونجومه … روائم أظآرٌ على البدر عكّفُ

على كل قنْعاسٍ كأنّ لغامَه … وقد سئم الإرقال

قطن مندّفُ

هدايا خطوبٍ بات ينحرها السّرى … ولكنّها من باطن الخف ترعفُ
আমি উক্ত গ্রন্থকারকে দেখেছি যে, তিনি আগে উপস্থাপিত বিষয়কে আগে এবং পরে উপস্থাপিত বিষয়কে পরে রাখার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করেননি; বরং তিনি প্রতিটি নাম যেভাবে তাঁর সামনে এসেছে সেভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং সেই নামের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু সংবাদ, কবিতা ও গদ্য পেয়েছেন তা দ্বারা তার খিদমত করেছেন। তিনি কিছু কবিতার ক্ষেত্রে সেগুলোর সদৃশ বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং সমজাতীয় বিষয়গুলোর প্রতি ইশারা করেছেন। ফলে আমি তা থেকে বাছাইকৃত অংশগুলো গ্রহণ করেছি এবং তার সেই সৌন্দর্যগুলো প্রকাশ করেছি যা আধিক্যের কারণে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল ও প্রচ্ছন্ন ছিল। আমি এটিকে তিনটি খণ্ডে বিভক্ত করেছি: প্রথম খণ্ড: গ্রন্থকার যা সংকলন ও বিন্যাস করেছেন তার অনুক্রমে নির্বাচিত কবিতা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় খণ্ড: তার সূক্ষ্ম রহস্যের ইঙ্গিতসমূহ যা তার গভীর ভাবকে প্রকাশ করে, যার অর্থসমূহ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং গঠনসমূহ সদৃশ।

তৃতীয় খণ্ড: খবরাখবরের জাদুকরী নির্যাস প্রসঙ্গে, এবং যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে ইতিহাসের স্বরূপই হলো ইতিহাসের ভাষা। আমি এর নামকরণ করেছি "লাতাইফুদ দাখিরা ওয়া ত্বরাইফুল জাজিরা" (ভাণ্ডারের সূক্ষ্মতা ও উপদ্বীপের চমৎকারিত্ব)।

যদি এটি উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয় (তবে ভালো), অন্যথায় প্রত্যেক মুজতাহিদ সঠিক পথের অনুসারী এবং ক্ষমার ভাগীদার, ইনশাআল্লাহ। তিনিই আমার নির্ভরযোগ্য সত্তা, তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কোনো উপাস্য নেই।

১- সাহিত্যিক আবু উমর আহমদ বিন দাররাজ আল-কাসতাল্লি একটি কসিদায় বলেছেন:

আপনার চারদিকে তাদের বর্শাফলকগুলো চমকাচ্ছিল … যা দেখে মনে হচ্ছিল পাহাড় আর সমতল ভূমি যেন আগুনের লেলিহান শিখা।

তারা যুদ্ধের এমন সিংহ যে আপনি সর্বদা তাদের দেখবেন … রণক্ষেত্রের ভয়াবহতা তাদের শিকারি পাখির মতো উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

অন্য একটি কবিতায় তিনি বলেছেন:

কৃশকায় উষ্ট্রীগুলো আমাদের নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দিল যতক্ষণ না তাদের শরীরগুলো … জীর্ণ ধনুকের ছিলা বা কাঠির অর্ধাংশের মতো বেঁকে গেল।

আমি তাদের আতিথেয়তার পাত্র এবং তাদের চোখের পাতার মাঝে … এমন এক মর্যাদা ও পবিত্র সীমা নির্ধারণ করেছি যা তারা ক্ষুণ্ন হতে দিতে অস্বীকার করে।

একটি কসিদায় তিনি বলেছেন:

এমন পরিস্থিতিতেও কি আপনার অনুগ্রহ আমার মতো ব্যক্তির কাছ থেকে বিমুখ হবে? … অথচ আপনার মাঝেই আমার সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা একত্রিত হয়েছে।

তাকদীর আমাকে সেই বিষয় থেকে নিরাপত্তা দিয়েছে যা আমি ভয় পেতাম … আর দিনগুলো সেই জিনিসের দাম কমিয়ে দিয়েছে যা আমি মূল্যবান মনে করতাম।

নয় বছর চার মাস ধরে এটিই আমার অবস্থান … আমার আশাগুলো শৃঙ্খলিত আর আমার ভাগ্য বেড়িগ্রস্ত।

আপনি আমাকে ভালোবাসার চেয়ে কোমল কোনো স্বভাব দান করেননি … আর মিলনের চেয়ে সুস্বাদু কোনো নেয়ামত আমাকে দেননি।

বিশুদ্ধ স্বচ্ছ পানির স্বভাব হলো, তা নির্মল হলেও … যখন তার নিচে আগুন জ্বলে ওঠে তখন তা টগবগ করে ফুটতে থাকে।

তার অংশবিশেষ:

হে আবু আসবাগ! আপনি কি আমার আর্তনাদে সাড়া দেবেন? … আপনি কি আমাকে অভাবমুক্ত করবেন এবং আপনি কি আমাকে উচ্চমর্যাদা দেবেন?

তবে আমি আপনার জন্য দিনগুলোকে আমার বুনন করা পংক্তির উত্তাপ দিয়ে সুশোভিত করব … এবং কালের কর্ণকুহরকে আমার মুখনিসৃত জাদুর দ্বারা পূর্ণ করব।

একটি কসিদায় তিনি বলেছেন:

রুয়াইনি বর্শা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় যদিও তা যথেষ্ট দীর্ঘ হয় … কিন্তু তীরের ফলা লক্ষ্যভেদ করে যদিও তা ছোট হয়।

অন্য একটি কবিতায় তিনি বলেছেন:

আমরা আপনার দিকে নৌকা বোঝাই করে পাঠিয়েছি যা এমন দ্রুতবেগে ধাবিত হচ্ছিল যেন … সূর্যাস্তের ভয়ে ভীত একদল কাক।

সবুজ অতল জলরাশির ওপর দিয়ে, যখন পুবালি বাতাস বয়ে যায় … তখন তা আমাদের নিয়ে সাবির ও থাহলান পাহাড়ের মতো তরঙ্গের ওপর আছড়ে পড়ে।

তার অংশবিশেষ:

যে দেশ আমাকে বের করে দিয়েছে তা নিশ্চয়ই রিক্ত … আর যে সময় আমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে তা নিশ্চয়ই চরম বিশ্বাসঘাতক।

ভাইদের প্রতি সালাম জানাই এক নিরাশ ব্যক্তির সালামের মতো … আর সেই সময়ের জন্য করুণা বর্ষিত হোক যখন আমার ভাইগণ ছিল।

আমার অস্তিত্ব তাদের বিষণ্ণতার সাথে বিদায় জানাচ্ছে, ঠিক যেভাবে … ধনুকের গুণ থেকে তীর বেরিয়ে যাওয়ার সময় করুণ সুর ধ্বনিত হয়।

দীর্ঘশ্বাস আর বুকফাটা কান্না ছাড়া কোনো সঙ্গী নেই … আর অশ্রু ও দুঃখ ছাড়া কোনো সাহায্যকারী নেই।

আমার পরে তাদের জীবন এবং তাদের পরে আমার জীবন ফয়সালা করে দিয়েছে যে … আমি কি বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করেছি নাকি তারাই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তার অংশবিশেষ:

অনেক সম্মানিত চেহারা যাদের কবর এই দেশে … কিন্তু তারা আমার অন্তরের ভেতরেই বসবাস করছে।

মাটির নিচে তারা জীর্ণ হয়নি বরং নবায়ন হয়েছে … ব্যথিত হৃদয় থেকে তাদের প্রতি শোক ও বেদনা।

যখনই তোমরা আল-মারিয়ার প্রাসাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবে, তোমরা যেন … এক দানশীলতার সমুদ্রে অবতীর্ণ হবে যার ডান হাতে রয়েছে মুক্তা ও প্রবাল।

এবং তোমরা তোমাদের দুঃখের সমুদ্রের ঢেউয়ের বদলে … এমন এক সমুদ্র পাবে যার কাছে রয়েছে রূপা ও স্বর্ণ।

তার অংশবিশেষ:

আপনি তাদের বর্শা বহন করতে ভুলিয়ে দিয়েছেন; ফলে তাদের অস্ত্র … আপনার বিরুদ্ধে

যখন তারা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করে

তখন কেবল লাঞ্ছনা ও আনুগত্য প্রকাশ পায়।

হায়! হেদায়েতের পতাকাবাহীদের কী অপদস্থতা তাদের সম্মানের পরে … আর আপনার মাধ্যমে হেদায়েতের পতাকাবাহীদের কী সম্মান যখন তারা লাঞ্ছিত হয়েছিল।

আপনি কাবরা’র যুদ্ধে তাদের জন্য বর্শা দিয়ে এমন সব কবর খনন করেছিলেন … যার দ্বারা আকাশের শূন্যস্থান পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

যদি সেই দিনে ফেরেশতারা তাদের মাঝে প্রকাশিত হতো … তবে কিসরা ও খাকান আপনার কাছে তাদের মুকুট সঁপে দিত।

এগুলো কেবল সেনাবাহিনী নয় বরং কিতাব যা আপনার বিজয়ের দ্বারা অলঙ্কৃত … আপনার চেহারা হলো 'বিসমিল্লাহ' আর তলোয়ার হলো তার শিরোনাম।

২- উজির আবু মুগীরা আব্দুল ওয়াহহাব বিন হাযম একটি কসিদায় বলেছেন:

সেখানে আমার কত সম্মানিত স্থান ছিল যা আমি পদদলিত করেছি … আমি আক্ষেপ করি না এবং অনুতাপও করি না।

মেঘমালার মাধ্যমে আমাদের ওপর শামিয়ানা ছড়িয়ে দেওয়া হয় … এবং আমাদের মাঝে উন্নত ঘোড়াদের জন্য রেশমি বস্ত্র টেনে নেওয়া হয়।

তার অংশবিশেষ:

সেই অনন্য নিদর্শনটি প্রকাশ পেল যা আমি জানতাম … এবং সেই সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ল যা আমি চিনতাম।

তার অংশবিশেষ:

এবং এক কাফেলা যারা রাতে পথ চলল যখন রাত তাদের ওপর … অন্ধকারের এমন পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছিল যা অপসৃত হচ্ছিল না।

আমি তাদের নিয়ে রাতের দিগন্ত ও নক্ষত্ররাজির মাঝে পথ চললাম … যেগুলো যেন পূর্ণিমার চাঁদের ওপর ঝুঁকে পড়া মমতাময়ী ধাত্রী।

এমন প্রতিটি বিশালদেহী উটের ওপর যার মুখের ফেনা … যখন সে দ্রুত চলতে চলতে ক্লান্ত

তা যেন ধুনট করা তুলা।

বিপদাপদের উপহারসমূহ যা নৈশভ্রমণ যবেহ করছিল … কিন্তু সেগুলো খুরের ভেতর থেকে রক্ত ঝরাচ্ছিল।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
إلى أن أفاق الصّبحُ ينفض عرفه … وطائره في غرّة الفجر يهتفُ

ومنها:

وما نام حتّى لمّ مُفترق العلا … فها هي عقدٌ في يديه مؤلّف

إياسٌ وبسطام بن قيس وحاتمٌ … وقيس ولقمان بن عادٍ وأحنف

وما هذه الأيّام إلاّ مقاولٌ … تلت سوراً من مجده وهو مصحف

وقال من قصيدة:

وسللتُ منْ نار الصّبابة صارماً … وجردتُ من وفد التصابي عسكرا

بتنا وبات المسك فينا واشياً … بمكاننا، والحليُ عنّا مخبرا

ورنت بألحاظ تدير كؤوسها … فينا فنشربها حلالاً مسكرا

واللّيل يُلحفني سرابيل الدجى … جهلاً وقد عانقت صُبحاً مسفرا

لو جئنا لرأيت أعجب منظرٍ … أسدٌ توسّد كفّ ظبي أعفر

ومنها:

شيمٌ غدت قُرط الزّمان فلم أنم … حتى نظمتُ عليه شعري جوهراً

ومقامةٌ لك في الأعادي قد حمتْ … أيّام قومٍ قبلها أنْ تذكرا

كان اللّسان لها الحسام المنتضَى … والمنبر العالي الأغرَّ الأشقرا

ومنها:

غيري الذي اتّخذ المدائح مكسباً … وسواي من جعل القوافي متجرا

3- وقال الوزير أبو عامر أحمد بن عبد الملك بن شهيد من قصيدة:

وأغرّ قد لبس الدجى … بُرداً فراقك وهو فاحم

يحكي بغرته هلا … لَ الفطر لاح لعين صائم

فكأنّما خاض الصّبا … ح فجاء مُبيضّ القوائم

ويسير في يبس الثّرى … وكأنّه في البحر عائم

ومنها:

وتمايلت أيدي الثُريّا … وهي مذهبة الخواتم

ورنت ذُكاء بناظرٍ … رمدٍ من الأقذاء سالم

ومنها:

الكُفر عنهم قاعدٌ … قدماً ودين اله قائم

حكمَ الزّمان بظلمهم … دهراً وصرف الدهر ظالم

ومنها:

قمرٌ تضيء له الخطوب … على دآديها الفواحم

تسري الرّياح بنجده … فنسيمها بالغور فاغم

وقال من قصيدة:

ورعيت من وجه السماء خميلةً … خضراء لاح البدر من غدرانها

وكأنّما فيه الثريّا جوهرٌ … نشرتْ فرائده يدا دبرانها

وقال:

وما هاج هذا الشّوق إلاّ حمائمٌ … بكيتُ لها لمّا سمعتُ بكاءها

وقال من أخرى:

كلّما كلّمني قبّلته … فهو مهما قال قولاً ردّدا

كاد أن يرجع من لثمي له … وارتشافي الثغر منه أدردا

شربت أعطافه خمر الصّبا … وسقاه الحُسن حتى عربدا

قام في الليل بجيد أتلع … ينفض اللمة من دمع النّدى

رشأ بل غادةٌ ممكورةٌ … عممتْ صبحاً بليل أسودا

وقال من قصيدة:

إذا نحن أوجهنا إليها تبلجت … مواردنا عن نيّرات المصادر

وقال من قطعة:

حتّام أنت على الضّراء مضطجعٌ … مُعرس في ديار الظُلْم والظُلَم؟

ثم استمرّت بفضل القول تنهضني … فقلتُ: إني لأستحي بني الحكمِِ

المُلحِفين رداء الشمس مجدهم … والمنعلين الثريّا أخمص القدمِ

ومنها:

ألممت بالحب حتى لو دنا أحلى … لما وجدت لطعم الموت من ألم

هناك لا تقتفي غير السّماء يدي … ولا تخف إلى غير العُلا قدمي

حتى تراني في أدنى مواكبهم … على النّعامة شلالاً من النعم

قدّام أروع من قومٍ وجدتهم … أرعى لحقّ العلا من سالف الأمم

4- وقال ذو الوزارتين أبو الوليد بن زيدون:

الهوى في طلوع تلك النجوم … والمنى في هبوب ذاك النسيم

سرّنا عيشنا الرقيق الحواشي … لو يدوم السرور للمستديم

ومنها:

أيّها المؤذني لظلم الليالي … ليس يومي بواحد ممن ظلوم

ما ترى البدر إن تأملت والشمس … لما يكسفان دون النجوم

ومنها:

واحدٌ سلّم الجميع له الفضل … فكان الخصوص فوق العموم

وقال من أخرى:

وما استطلتُ ذماء الليل من أسف … إلاّ على ليلة سرّت مع القصر

فهمتُ معنى الهوى من وحي طرفك لي … إن الحوار لمفهومك من الحور

ومنها:

إن تطوِ برد شبابي كبرةٌ وأرى … برق المشيب اعتلى في عارض الشّعر

ومنها:

هل الرياح بنجم الأرض عاصفةٌ … أم الكسوف لغير الشّمس والقمر

ومنها:
যতক্ষণ না সকাল জেগে উঠল তার কেশর ঝেড়ে … আর তার পাখি ভোরের শুরুতে গান গাইতে লাগল।

এবং তা থেকে:

এবং সে ঘুমায়নি যতক্ষণ না সে উচ্চতার বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করেছে … তাই এখন তা তার হাতে একটি সুসংগঠিত হার।

ইয়াস, বিস্তাম ইবনে কাইস এবং হাতিম … এবং কাইস, লুকমান ইবনে আদ এবং আহনাফ।

আর এই দিনগুলো কেবল বর্ণনাকারী … যা তার মহিমার সূরাগুলো পাঠ করে, আর সে নিজেই একখানা কুরআন।

তিনি একটি কসিদা থেকে বলেছেন:

আমি প্রেমের আগুন থেকে একখানা তলোয়ার কোষমুক্ত করেছি … এবং যৌবনের উন্মাদনা থেকে এক বিশাল বাহিনী গঠন করেছি।

আমরা রাত কাটিয়েছি এবং কস্তুরী আমাদের মধ্যে চোগলখোর হয়ে রাত কাটিয়েছে … আমাদের অবস্থান সম্পর্কে, আর অলঙ্কার আমাদের বিষয়ে খবর দিচ্ছিল।

সে এমন দৃষ্টিতে তাকাল যা তার পেয়ালাগুলো ঘোরাচ্ছিল … আমাদের মধ্যে, ফলে আমরা তা পান করলাম হালাল মাদক হিসেবে।

আর রাত আমাকে অন্ধকারের পোশাকে ঢেকে দিচ্ছিল … অজ্ঞতাবশত, অথচ আমি এক উজ্জ্বল প্রভাতকে আলিঙ্গন করেছিলাম।

তুমি যদি আসতে তবে এক বিস্ময়কর দৃশ্য দেখতে … একটি সিংহ এক ধূসর হরিণের হাতের তালুকে বালিশ বানিয়ে শুয়ে আছে।

এবং তা থেকে:

এমন স্বভাব যা কালের কর্ণকুণ্ডল হয়ে গেছে, তাই আমি ঘুমাইনি … যতক্ষণ না আমি তার উপর আমার কবিতাকে রত্ন হিসেবে গেঁথেছি।

শত্রুদের মাঝে আপনার এমন এক অবস্থান যা রক্ষা করেছে … সেই কওমের দিনগুলোকে যা আগে স্মরিত হতো।

জিহ্বা ছিল তার জন্য উন্মুক্ত তলোয়ার … আর উচ্চ মিম্বর ছিল উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়।

এবং তা থেকে:

আমি ছাড়া অন্য কেউ প্রশংসাকে উপার্জনের মাধ্যম বানিয়েছে … আর আমি ব্যতীত অন্য কেউ ছন্দকে ব্যবসায় পরিণত করেছে।

৩- উজির আবু আমির আহমদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে শুহাইদ একটি কসিদায় বলেছেন:

এক উজ্জ্বল ঘোড়া যা অন্ধকারকে চাদর হিসেবে পরেছে … তা তোমার বিচ্ছেদে কয়লার মতো কালো।

তার কপালে শুভ্রতা দিয়ে সে বর্ণনা করে ঈদুল … ফিতরের চাঁদ যা এক রোজাদারের চোখে ভেসে উঠেছে।

মনে হয় যেন সে ভোরের আলোতে … ডুবেছে, তাই তার পাগুলো সাদা হয়ে ফিরে এসেছে।

সে শুষ্ক মাটির উপর দিয়ে চলে … অথচ মনে হয় সে যেন সাগরে সাঁতার কাটছে।

এবং তা থেকে:

এবং সুরাইয়া নক্ষত্রের হাতগুলো হেলেদুলে পড়ল … আর সেগুলো ছিল স্বর্ণখচিত আংটি পরিহিত।

আর সূর্য এমন এক দৃষ্টিতে তাকাল … যা চোখ ওঠা রোগ থেকে মুক্ত কিন্তু রোগাক্রান্তের মতো।

এবং তা থেকে:

কুফর তাদের থেকে অনেক আগে থেকেই বসে আছে … আর আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত আছে।

কাল দীর্ঘকাল ধরে তাদের প্রতি জুলুমের ফয়সালা করেছে … আর কালের আবর্তন জালেম।

এবং তা থেকে:

এক চাঁদ যার জন্য বিপদগুলো আলোকিত হয় … ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতগুলোতে।

বাতাস তার সাহায্যের জন্য প্রবাহিত হয় … ফলে নিম্নভূমিতে তার সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি একটি কসিদায় বলেছেন:

আমি আকাশের চেহারা থেকে এক সবুজ উদ্যান প্রত্যক্ষ করেছি … যার জলাশয় থেকে পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয়েছে।

আর মনে হয় যেন তাতে সুরাইয়া নক্ষত্র একটি রত্ন … যার মুক্তোগুলো দাবরান নক্ষত্রের দুই হাত ছড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেছেন:

এই আকাঙ্ক্ষাকে কেবল কবুতরগুলোই জাগ্রত করেছে … যাদের জন্য আমি কেঁদেছি যখন আমি তাদের কান্না শুনেছি।

তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেছেন:

যখনই সে আমার সাথে কথা বলেছে আমি তাকে চুম্বন করেছি … ফলে সে যাই বলুক না কেন তা পুনরাবৃত্তি করত।

আমার চুম্বনের কারণে এবং তার দাঁতহীন মুখের স্বাদ নেওয়ার কারণে … সে প্রায় দাঁতহীন বৃদ্ধে পরিণত হতে চলেছিল।

তার অবয়ব যৌবনের সুরা পান করেছে … এবং সৌন্দর্য তাকে পান করিয়েছে যতক্ষণ না সে মাতাল হয়ে গেছে।

সে রাতে লম্বা ঘাড় নিয়ে দাঁড়িয়েছে … কুয়াশার অশ্রু থেকে তার চুলগুলো ঝেড়ে ফেলছে।

হরিণশাবক বরং এক সুন্দরী নারী … যে কালো রাতের মাধ্যমে প্রভাতকে পাগড়ি পরিয়েছে।

তিনি একটি কসিদায় বলেছেন:

যখন আমরা তার দিকে আমাদের মুখ ফেরালাম, আমাদের গন্তব্যগুলো … উজ্জ্বল উৎসগুলোর মতো আলোকিত হয়ে উঠল।

তিনি একটি পংক্তিতে বলেছেন:

কতকাল তুমি কষ্টের শয্যায় শুয়ে থাকবে … জুলুম ও অন্ধকারের জনপদে অবস্থান করবে?

তারপর কথার শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে সে আমাকে জাগিয়ে তুলতে লাগল … তখন আমি বললাম: আমি বনু হাকামের কাছে লজ্জিত।

যারা সূর্যের চাদরকে তাদের মহিমা দিয়ে আবৃত করেছে … আর সুরাইয়া নক্ষত্রকে তাদের পায়ের তলার জুতা বানিয়েছে।

এবং তা থেকে:

আমি ভালোবাসায় এমনভাবে আচ্ছন্ন হয়েছি যে, যদি মৃত্যুও কাছে আসে … তবে আমি মৃত্যুর স্বাদে কোনো যাতনা পাব না।

সেখানে আমার হাত আকাশ ছাড়া অন্য কিছুর অনুসরণ করবে না … আর আমার পা শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়া অন্য কোথাও দ্রুত ধাবিত হবে না।

যতক্ষণ না তুমি আমাকে তাদের কাফেলার একদম কাছে দেখবে … উটপাখির পিঠে নেয়ামতের ঝরনা হয়ে।

এমন এক বীর সম্প্রদায়ের সামনে যাদের আমি পেয়েছি … যারা পূর্ববর্তী জাতিগুলোর তুলনায় শ্রেষ্ঠত্বের অধিকার রক্ষায় বেশি যত্নশীল।

৪- ‘যুল উইযারাতাইন’ আবু আল-ওয়ালিদ ইবনে যাইদুন বলেছেন:

ভালোবাসা সেই নক্ষত্রগুলোর উদিত হওয়ার মাঝে … আর আকাঙ্ক্ষা সেই সমীরণ বয়ে যাওয়ার মাঝে।

আমাদের কোমল জীবন আমাদের আনন্দিত করেছে … যদি এই আনন্দ চিরস্থায়ী হতো।

এবং তা থেকে:

হে রাতের অন্ধকার সম্পর্কে আমাকে সতর্ককারী … আমার এই দিনটি অত্যাচারীদের কোনো দিন নয়।

তুমি কি পূর্ণিমার চাঁদ ও সূর্যের দিকে লক্ষ্য করে দেখেছ … যখন তারা নক্ষত্রগুলো বাদ দিয়ে নিজেরাই গ্রহণগ্রস্ত হয়?

এবং তা থেকে:

তিনি অদ্বিতীয়, যার শ্রেষ্ঠত্ব সবাই স্বীকার করেছে … ফলে বিশেষত্ব সাধারণের ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছে।

তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেছেন:

আমি দুঃখের কারণে রাতের দীর্ঘতা অনুভব করিনি … কেবল সেই রাতের জন্য যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আনন্দ দিয়েছিল।

আমি তোমার চোখের ইশারায় ভালোবাসার অর্থ বুঝেছি … নিশ্চয়ই তোমার আয়তলোচন চোখের কথাগুলো বোঝার মতো।

এবং তা থেকে:

যদি বার্ধক্য আমার যৌবনের চাদর গুটিয়ে নেয় এবং আমি দেখি … বার্ধক্যের বিদ্যুৎ আমার চুলের পাশে চড়ে বসেছে।

এবং তা থেকে:

বাতাস কি পৃথিবীর নক্ষত্রগুলোর উপর প্রবল বেগে বইতে পারে … নাকি সূর্য ও চন্দ্র ছাড়া অন্য কারো জন্য গ্রহণ লাগতে পারে?

এবং তা থেকে:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
من لم أزل من تأنيه على ثقةٍ … ولم أبت من تجنيه على حذر

كم اشترى بكرى عينيه من سهر … هدوء عين الهدى في ذلك السهر

وقال من قصيدة:

ألم يأن أنم يبكي الغمام على مثل … ويطلب ثأري البرق منصلت النصل

أقلي بكاء لست أول حرّةٍ … طوت بالأسى كشحاً على مضض الثكل

وفي أمّ موسى عبرةٌ إذ رمت به … إلى اليم في التابوت فاعتبري واسلي

ولله فينا علْم غيبٍ وحسبنا … به عند جور الدهر من حكمٍ عدل

ومنها:

كريمٌ عريقٌ في الكرام وقلما … يرى الفرع إلا مستمداً من الأصل

يرفّ على التأميل لألاء بشره … كما رفّ لألاء الحسام على الصقل

ويغني عن المدح اكتفاءً بغيره … غنى المقلة الكحلاء عن زينة الكحل

ومنها:

حمائم شكري صبحتك هوادلاً … تناديك من أفنان آدابك الهدل

جواد إذا استنّ الجياد إلى مدى … تمطّر فاستولى على أمد الخصل

ومنها:

وإنّي لتناهى نهايَ عن التي … أشار بها الواشي ويعقلني عقلي

ومنها:

ألا إنّ ظنّي بين فعليك واقفٌ … وقوف الهوى بين القطيعة والوصل

وأين جواب منك ترضي به العلا … إذا سألتني عنك ألسنة الحفل؟

وقال من قصيدة:

وفي الرّبرب الإنسي أحوي كناسه … نواحي ضميري لا الكثيب ولا السقط

وقال من قصيدة:

ما على ظنّي باس … يجرح الدّهر وياسو

ربّما أشرف بالمرء … على الآمال ياس

ووادي لك نصٌ … لم يخالفه القياس

فادر ذكرى كاساً … ما امتطت كفّك كاس

فعسى أن يسمح الدّهر … فقط طال الشماس

لا يكن عهدك ورداً … إنّ عهدي لك آس

وقال من قصيدة:

نكاد حين تناجيكم ضمائرنا … يقضي علينا الأسى لولا تأسّينا

حالت لفقدكم أيامنا فغدت … سوداً وكانت بكم بيضاً ليالينا

إذ جانب العيش طلقٌ من تألفنا … ومورد اللهو صافٍ من تصافينا

لا تحسبوا نأيكم عنّا يغيرنا … أنْ طالما غيّر النأيُ المحبينا

والله ما طلبتْ أهواؤنا بدلاً … منكم ولا انصرفت عنكم أمانينا

يا روضةً طالما جنت لواحظنا … ورداً جلاه الصّبا غضاً ونسرينا

ومنها:

فكأنّما لم نبت والوصل ثالثنا … والسعد قد غض من أجفان واشينا

سرّان في خاطر الظلماء يكتمنا … حتى يكاد لسان الصبح يغشينا

إنّا قرأنا الأسى عند النوى سفراً … مكتوبة وأخذنا الصبر تلقينا

أمّا هواك فلم نعدل بمنهله … شرباً وإن كان يروينا فيظمينا

لم نجف أفق جمال أنت كوكبه … سالين عنه ولم هجره قالينا

ومنها:

لا أكؤس الرّاح تبدى من شمائلنا … سيما ارتياحٍ ولا الأوتار تلهينا

فما استعدنا خليلاً عنك يصرفنا … ولا استفدنا حبيباً عنك يسلينا

وقال من أخرى:

والروض عن مائه الفضّي مبتسمٌ … كما حللت عن اللبات أطواقاً

الآن أحمد ما كنّا لعهدهم … سلوتم وبقينا نحن عشاقا

وقال: لو كان أمري في كتم الهوى بيدي=ما كان يعلم ما في قلبي البدن وقال أيضاً:

غريب بأرض الشرق يشكر للصبّا … تحمّلها منه السلام إلى الغرب

وما ضر أنفاس الصّبا في احتمالها … سلتم فتى يهديه جسم إلى قلب

وقال:

أنت معنى الضّنى وسر الضلوع … وسبيل الهوى وقصد الدموع

أنت والشمس ضرتان ولكن … لك عند الغروب فضل الطلوع

إنما أنت والحسود معنّى … كوكب يستقيم بعد الرجوع

وقال:

سالمت أعدائي لأنك منهم … يا من يصحّ بمقلتيه ويسقم

أصبحت تسخطني وأمنحك الرّضى … جوراً وتظلمني ولا أتظلم

يا من تألّف ليله ونهاره … فالحسن بينهما مضيء مظلم

قد كان في شكوى الهوى لي راحةٌ … لو أنني أشكو إلى من يرحم

قال من قصيدة:

أما في نسيم الريح عرف معرف … لنا هل لذات الوقف بالجزع موقف

فنقضي أوطار المنى في زيارةٍ … لنا كلف منها بما نتكلّف

منها:

وإني ليستهوييني البرق صبوةً … إلى برق ثغرٍ إن بدا كاد يخطف
যার ধৈর্য ও ধীরস্থিরতার ওপর আমি সর্বদা আস্থাশীল ছিলাম … এবং যার অবিচারের কারণে আমি কখনো সতর্ক অবস্থায় রাত কাটাইনি।

তিনি তার চোখের অনিদ্রার বিনিময়ে কতই না রাত্রি কিনেছেন … সেই অনিদ্রার মাঝেই ছিল হিদায়াতের চোখের প্রশান্তি।

তিনি একটি কাসিদা থেকে বলেছেন:

মেঘের কি এখনো সময় হয়নি এমন একজনের বিরহে কাঁদার … আর বিদ্যুতের কি সময় হয়নি উন্মুক্ত তরবারির মতো আমার প্রতিশোধ নেওয়ার?

তোমার কান্না কমাও, তুমিই প্রথম কোনো স্বাধীন নারী নও … যে প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণায় ধৈর্য ও শোক সংবরণ করেছে।

আর মুসার জননীর মাঝে রয়েছে এক বড় শিক্ষা, যখন তিনি তাকে সিন্দুকে ভরে … দরিয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন; সুতরাং তুমি শিক্ষা নাও এবং সান্ত্বনা খোঁজো।

আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে গায়েবের জ্ঞান রয়েছে এবং আমাদের জন্য যথেষ্ট … কালের অবিচারের মুখে তিনি এক ন্যায়পরায়ণ বিচারক।

সেই কাসিদা থেকে আরও কিছু অংশ:

তিনি এক মহানুভব ব্যক্তি, যিনি উচ্চবংশীয়দের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত; আর খুব কমই … শাখাকে তার মূল থেকে প্রাণশক্তি আহরণ করা ছাড়া দেখা যায়।

প্রত্যাশাকারীদের ওপর তার চেহারার উজ্জ্বলতা চিকচিক করে … যেমন শাণ দেওয়ার পর তলোয়ারের উজ্জ্বলতা চমকায়।

তিনি অন্য সব গুণের উপস্থিতির কারণে প্রশংসার মুখাপেক্ষী নন … যেমন প্রাকৃতিকভাবে কাজল কালো চোখের জন্য কৃত্রিম কাজলের প্রয়োজন পড়ে না।

সেই কাসিদা থেকে আরও কিছু অংশ:

আমার কৃতজ্ঞতার কপোতদল সুপ্রভাতে তোমার কুজনরত … তোমার শিষ্টাচারের শাখাগুলো থেকে তারা তোমাকে ডাকছে।

তিনি এক তেজস্বী অশ্ব, যখন অন্য ঘোড়ারা লক্ষ্যপানে দৌড়ায় … তখন তিনি ক্ষিপ্রগতিতে এগিয়ে গিয়ে বিজয়ের চরম সীমায় পৌঁছে যান।

সেই কাসিদা থেকে আরও কিছু অংশ:

চোগলখোর যেদিকে ইশারা করে, আমার বিবেক আমাকে সে পথ থেকে নিবৃত্ত করে … এবং আমার বুদ্ধি আমাকে সংবরণ করে।

সেই কাসিদা থেকে আরও কিছু অংশ:

জেনে রেখো, তোমার দুই কাজের মাঝে আমার ধারণা থমকে আছে … যেমন বিচ্ছেদ ও মিলনের মাঝে ভালোবাসা থমকে থাকে।

আর তোমার কাছে এমন কী উত্তর আছে যা দিয়ে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সন্তুষ্ট হবে … যখন মজলিসের বক্তারা আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে?

তিনি একটি কাসিদা থেকে বলেছেন:

আর মানুষের সেই হরিণদলের মাঝে এক হরিণ রয়েছে যার আশ্রয়স্থল … আমার অন্তরের নিভৃত কোণে, বালুর ঢিবিতে কিংবা কোনো জনমানবহীন প্রান্তরে নয়।

তিনি একটি কাসিদা থেকে বলেছেন:

আমার ধারণায় কোনো ক্ষতি নেই … কাল যেমন ক্ষত সৃষ্টি করে, তেমনি সে উপশমও করে।

কখনও কখনও মানুষের জন্য … চরম নিরাশা থেকেই আশার আলো ফুটে ওঠে।

তোমার জন্য আমার কাছে এমন এক অকাট্য দলীল রয়েছে … যার পরিপন্থী কোনো যুক্তি নেই।

সুতরাং স্মৃতির পেয়ালা ঘুরিয়ে দাও … তোমার হাত তো কখনো পাপের পেয়ালা স্পর্শ করেনি।

হতে পারে কাল আমাদের প্রতি সদয় হবে … কারণ বিমুখতা অনেক দীর্ঘ হয়েছে।

তোমার প্রতিশ্রুতি যেন ক্ষণস্থায়ী গোলাপের মতো না হয় … কারণ তোমার প্রতি আমার অঙ্গীকার চিরসবুজ সুগন্ধি লতার মতো।

তিনি একটি কাসিদা থেকে বলেছেন:

যখন আমাদের অন্তর আপনার সাথে গোপনে কথা বলে … তখন আমরা প্রায় দুঃখের দহনে শেষ হয়ে যেতাম, যদি না আমরা ধৈর্য ধরতাম।

আপনাদের হারিয়ে আমাদের দিনগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে … ফলে সেগুলো কালো হয়ে গেছে, অথচ আপনাদের সান্নিধ্যে আমাদের রাতগুলোও শুভ্র ও উজ্জ্বল ছিল।

যখন আমাদের সখ্যতায় জীবন ছিল আনন্দময় … এবং আমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় আনন্দের উৎস ছিল স্বচ্ছ।

ভাববেন না যে আমাদের থেকে আপনাদের দূরত্ব আমাদের বদলে দেবে … যদিও দূরত্ব অনেক সময়ই প্রেমিকদের বদলে দেয়।

আল্লাহর কসম, আমাদের হৃদয় আপনাদের কোনো বিকল্প খুঁজেনি … আর আমাদের আকাঙ্ক্ষাগুলো আপনাদের থেকে কক্ষনো বিচ্যুত হয়নি।

হে উদ্যান, যেখানে আমাদের দৃষ্টি দীর্ঘকাল আহরণ করেছে … সতেজ গোলাপ ও বুনো জুঁই যা ভোরের হাওয়া প্রস্ফুটিত করেছিল।

সেই কাসিদা থেকে আরও কিছু অংশ:

মনে হয় যেন আমরা এমন কোনো রাত কাটাইনি যখন মিলন ছিল আমাদের তৃতীয় সঙ্গী … আর সৌভাগ্য চোগলখোরের চোখকে অন্ধ করে দিয়েছিল।

আমরা অন্ধকারের বুকে লুকিয়ে থাকা দুটি রহস্য ছিলাম … যতক্ষণ না ভোরের আলো আমাদের উন্মোচিত করার উপক্রম করেছিল।

আমরা বিরহের সময় দুঃখকে এক লিখিত কিতাব হিসেবে পাঠ করেছি … আর ধৈর্যকে এক পরম শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করেছি।

আপনার ভালোবাসার সুধা পানের ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিকল্প গ্রহণ করিনি … যদিও তা আমাদের তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি আরও তৃষ্ণার্ত করে।

আমরা সেই সৌন্দর্যের আকাশকে অবজ্ঞা করিনি যার নক্ষত্র আপনি … আমরা তা ভুলে যাইনি এবং তার বিচ্ছেদ আমাদের মনে ঘৃণার সৃষ্টি করেনি।

সেই কাসিদা থেকে আরও কিছু অংশ:

না মদের পেয়ালা আমাদের স্বভাবে কোনো আনন্দের চিহ্ন দেখায় … আর না বাদ্যযন্ত্রের সুর আমাদের অন্যমনস্ক করতে পারে।

আমরা এমন কোনো বন্ধু গ্রহণ করিনি যে আমাদের আপনাদের থেকে দূরে সরাবে … আর না এমন কোনো প্রিয়জন পেয়েছি যে আপনাদের অভাব পূরণ করে আমাদের সান্ত্বনা দেবে।

তিনি অন্য এক কবিতা থেকে বলেছেন:

রুপালি পানির ঝরনায় উদ্যানটি এমনভাবে হাসছে … যেন আপনি কণ্ঠের হারগুলো উন্মোচন করেছেন।

এখন আমি সেই দশার প্রশংসা করি যা আপনাদের সময় ছিল না … আপনারা আমাদের ভুলে গিয়ে শান্ত হয়েছেন, অথচ আমরা এখনও প্রেমিক রয়ে গেছি।

তিনি বলেছেন: ভালোবাসা গোপন রাখা যদি আমার নিয়ন্ত্রণে থাকত, তবে আমার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও জানতে পারত না যে আমার হৃদয়ে কী লুকিয়ে আছে। তিনি আরও বলেছেন:

পূর্ব দেশের এক প্রবাসী ভোরের হাওয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা জানায় … কারণ সে তার পক্ষ থেকে পশ্চিম দেশে সালাম বয়ে নিয়ে গেছে।

ভোরের হাওয়ার জন্য তা বয়ে নেওয়া মোটেও কঠিন ছিল না … আপনারা এমন এক যুবককে ভুলে গেছেন যার শরীর হৃদয়ের অনুগামী।

তিনি বলেছেন:

আপনিই যন্ত্রণার প্রকৃত অর্থ এবং হৃদয়ের গোপন রহস্য … আপনিই ভালোবাসার পথ এবং চোখের পানির লক্ষ্য।

আপনি এবং সূর্য যেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু … সূর্যাস্তের সময় আপনার উদিত হওয়ার এক বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।

আপনি এবং আপনার হিংসুক যেন এক কষ্টে থাকা … নক্ষত্র, যা বক্রগতির পর আবার সঠিক পথে ফিরে আসে।

তিনি বলেছেন:

আমি আমার শত্রুদের সাথে সন্ধি করেছি কারণ আপনি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত … হে এমন এক প্রিয়জন, যার চোখ কাউকে সুস্থ করে আবার কাউকে অসুস্থ করে।

আপনি আমাকে ক্ষুব্ধ করেন আর আমি আপনাকে সন্তুষ্টি দান করি … আপনি অন্যায় ও জুলুম করেন আর আমি কখনো নালিশ করি না।

হে এমন একজন, যার রূপের মাঝে রাত ও দিন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে … ফলে সৌন্দর্য তাদের মাঝে যুগপত উজ্জ্বল ও অন্ধকারময়।

ভালোবাসার অভিযোগ করার মাঝে আমার জন্য শান্তি নিহিত ছিল … যদি আমি এমন কারো কাছে অভিযোগ করতাম যে দয়া করতে জানে।

তিনি একটি কাসিদা থেকে বলেছেন:

বাতাসের মৃদু গুঞ্জনে কি আমাদের জন্য কোনো পরিচিত বার্তা নেই … যে ব্যাকুলতা নিয়ে অপেক্ষমানদের জন্য কোনো গন্তব্য আছে কি না?

যাতে আমরা একটি সাক্ষাতের মাধ্যমে আমাদের মনের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে পারি … যাতে আমাদের সেই তীব্র অনুরাগ প্রশমিত হয় যা আমরা বহন করছি।

আরও কিছু অংশ:

আর বিদ্যুতের চমক আমাকে অনুরাগের টানে ব্যাকুল করে … মুক্তার মতো দাঁতের সেই হাসির বিদ্যুতের প্রতি, যা প্রকাশিত হলে দৃষ্টি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করে।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
منها:

على السيف من تلك الصرامة مستسم … وفي الروض من تلك الطلاقة زخرف

وقال من أخرى:

أما وزمان مضى عهده … حميداً لقد جار لما حكم

قضى بالصبابة لمّا انقضى … وما اتصل الود حتى انصرم

منها:

وأيامنا مذهبات البرود … رقاق الحواشي صوافي الأدم

ووشّح زهرة ذاك الزمان … بما حاز من زهر تلك الشيم

ومنها:

فأطولهم بالأيادي يداً … وأثبتهم في المعالي قدم

سما للمجرة في أفقها … فجرّ عليها ذيول الهمم

ومنها:

نجوم هدّى والمعالي بروجٌ … وأسد وغيّ والعوالي أجم

وقال من مرثية:

يا من شأى الأمثال منه واحد … ضربت له في السؤدد الأمثال

نقصت حياتك حين فضلك كامل … هلاّ استضاف إلى الكمال كمال

وقال من أخرى:

فهلا عداه أنّ علياك حلة … وذكرك في أركان أيامه عطر

غشيت فلم تغش الطّراد سوابحٌ … ولا جردت بيض ولا أشرعت سمر

وقال من أرخى يعابث:

عمدت لشعري ولم تتئد … تعارض جوهره بالعرض

وشمّرت للخوض في لجة … هي الموت ساحلها لم يخض

5- وقال أبو عبد الله بن الحناط الكفيف من قصيدة أولها: راحت تذكّر بالنسيم الرّحا

أخفي مسالكها الظلام فأوقدت … من برقها كي تهتدي مصباحا

وكأن صوت الرّعد خلف سحابها … حادٍ إذا ونت السحائب صاحا

منها:

جادت على التلعات فاكتست الرّبى … حللاً أقام لها الربيع وشاحا

روضٌ يحاكي الفاطمي شمائلاً … طبيباً ومزنٌ قد حكاه سماحا

منها:

لما طلعت لها بكل ثنيةٍ … أنسيتها المنصور والسفاحا

وقال من أخرى:

وحيّا الحيا عهداً عهدناه باللوى … لوى ديننا فيه صدود وهجران

ليالي روض الوصل فيهن ممرعٌ … وغصن الصبا إذ ذاك أخضر فينان

تدير علينا الرّاح فيها جآذرٌ … ويسكرنا باللحظ منهن غزلان

منها:

ولم أر مثلي كيف صار بقلبه … من الوجد بركانٌ وفي الجفن طوفان

ولا مثل هذا العدل كيف أعاده … عليٌّ وقد مرّت من الظلم أزمان

وقال من أخرى:

ولما علوا بالحزن واعتسفت بنا … رسوم الديار البعملات الرّواسم

لوينا بأعناق المطي إلى اللوى … وقد علمتنا البين تلك المعالم

فكم ليلة فيه وصلت نعيمها … بأخرى وأنف الهجر بالوصل راغم

ومنها:

ويزهر في يمناه نورٌ من الظبا … له من رؤوس الدّار عين كمائم

منها:

سيوفٌ إذا اعتلت جهات ثغورها … فمنهن في أعناقهن تمائم

بكل خميس طبّق الجوّ نقعه … وضيّق مسراه الجياد الصلادم

كأنّ مثار النقع إثمد عينه … وأشفار جفنيه الشّفار الصوارم

وقال من قصيدة:

كأنّ ابتسام البرق فيها إذا بدت … سيوف عليٍ بالدماء رواعف

وقال من أخرى:

وأشرقت الدنيا بنور خليفة … به لاح بدر الحق بعد أفوله

من الهاشميين الذين بمجدهم … تعود شخص المجد جرّ ذيوله

فلا تسل الأيام عما أتت به … فما زالت الأيام تأتي بسوله

6- وقال الأديب عبادة بن ماء السماء:

ولا تشكون إذا عثرت … إلى خليط سوء حالك

فيريك ألواناً من الإذ … لال لم تخطر ببالك

إيّاك أن تدري يمينك … ما يدور على شمالك

واصبر على نوب الزّمان … وإن رمت بك في المهالك

وإلى الذي أغنى وأقنى … اضرع وسله صلاح حالك

قال:

لا تشكون لحاسدٍ أو راحمٍ … حاليك في البأساء والضّراء

فلرحمة المتوجعين حرارةٌ … في القلب مثل شماتة الأعداء

وقال يتغزّل:

غزالٌ بجسمي فترةٌ من جفونه … وفي أدمعي من لون وجنته صبغٌ

إذا رمت الورد ساورني صدغه … بعقرب سحرٍ في فؤادي له لدغٌ

وقال من أخرى:

كأنها صارم الأمير وقد … خضّب حدّيه من عداه دم

واحد بتذكاره الكؤوس فما=يلذ نقلاً سوى ثناه فم وقال من أبيات:

كانت خلافتنا في الغرب مظلمةٌ … كأن أيامنا فيها لياليه

جلّت أياديه حتى إنّ أنفسنا … وما ملكناه جزءٌ من أياديه
তা থেকে:

তরবারির উপর সেই দৃঢ়তার চিহ্ন অঙ্কিত … আর উদ্যানে সেই প্রফুল্লতার কারুকার্য।

তিনি অন্য একটি কবিতা থেকে বলেছেন:

হায় সেই সময়ের শপথ, যার যুগ অতিবাহিত হয়েছে … প্রশংসিত অবস্থায়, কিন্তু সে যখন বিচার করল তখন অবিচার করল।

বিদায়বেলায় সে অনুরাগের ফয়সালা করল … আর প্রেম পূর্ণ হওয়ার আগেই তা ছিন্ন হয়ে গেল।

তা থেকে:

আমাদের দিনগুলো ছিল সোনালী কারুকাজ খচিত বস্ত্রের মতো … যার প্রান্তগুলো ছিল সূক্ষ্ম এবং বহিরাবরণ ছিল স্বচ্ছ।

সেই সময়ের ফুলগুলোকে ভূষিত করা হয়েছে … সেই চরিত্রের সৌরভ দ্বারা যা সে অর্জন করেছে।

এবং তা থেকে:

তাদের মধ্যে তিনিই দানে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ হাতের অধিকারী … এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে সর্বাপেক্ষা অবিচল পায়ের অধিকারী।

তিনি আকাশমণ্ডলীর ছায়াপথের দিকে আরোহণ করলেন … এবং তার ওপর উচ্চাকাঙ্ক্ষার আঁচল টেনে দিলেন।

এবং তা থেকে:

তারা হেদায়েতের নক্ষত্র এবং উচ্চমর্যাদা হলো তাদের রাশিচক্র … তারা যুদ্ধের সিংহ এবং বর্শাগুলো হলো তাদের বন।

তিনি একটি শোকগাথা থেকে বলেছেন:

হে সেই ব্যক্তি, যার উপমা তিনি নিজেই একক … শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে যার উদাহরণ দেওয়া হয়।

আপনার জীবন সংকুচিত হয়েছে যখন আপনার শ্রেষ্ঠত্ব ছিল পূর্ণাঙ্গ … পূর্ণতার সাথে কেন আরও পূর্ণতা যুক্ত হলো না?

তিনি অন্য একটি কবিতা থেকে বলেছেন:

কেন আপনার উচ্চমর্যাদা তাকে অতিক্রম করল না? … অথচ আপনার স্মরণ তার দিনগুলোর প্রতিটি স্তম্ভে সুগন্ধি হয়ে আছে।

আপনি ঢেকে দিয়েছেন, কিন্তু দ্রুতগামী অশ্বগুলো দৌড়াতে পারেনি … আর না সাদা তরবারি কোষমুক্ত হয়েছে, না বাদামী বর্শা উঁচানো হয়েছে।

তিনি কৌতুকচ্ছলে বলেছেন:

তুমি আমার কবিতার প্রতি লক্ষ্য করেছ কিন্তু ধৈর্য ধরোনি … তুমি এর সারবস্তুকে তুচ্ছ বিষয়ের সাথে তুলনা করেছ।

তুমি এমন এক অতল সমুদ্রে ডুব দিতে কোমর বেঁধেছ … যার তীর হলো মৃত্যু, যেখানে কেউ অবগাহন করেনি।

৫- আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল হান্নাত আল-কাফিফ একটি কাসিদা থেকে বলেছেন, যার শুরু ছিল: 'সে চলল মলয় বাতাসের সাহায্যে রহাকে স্মরণ করিয়ে দিতে'—

অন্ধকার তার পথগুলোকে লুকিয়ে ফেলেছিল, তাই সে প্রজ্বলিত করল … তার বিজলি থেকে প্রদীপ যেন সে পথ খুঁজে পায়।

তার মেঘমালার আড়ালে বজ্রের গর্জন যেন … এক উষ্ট্রচালকের হাঁক, যখন মেঘগুলো মন্থর হয়ে যায় তখন সে চিৎকার করে ওঠে।

তা থেকে:

তা বর্ষিত হলো উঁচু ভূমির ওপর, ফলে টিলাগুলো পরিধান করল … এমন পোশাক যার জন্য বসন্ত কোমরবন্ধ তৈরি করেছে।

এক বাগান যা ফাতিমীয়ের চরিত্রের অনুকরণ করে … পবিত্রতায়; আর মেঘমালা তার দানশীলতার অনুকরণ করে।

তা থেকে:

আপনি যখন প্রতিটি গিরিপথ দিয়ে তাদের সামনে উদিত হলেন … আপনি তাদের ভুলিয়ে দিলেন মানসুর এবং সাফফাহকে।

তিনি অন্য একটি কবিতা থেকে বলেছেন:

বৃষ্টি যেন সেই সময়কে অভিবাদন জানাল যা আমরা লিওয়ায় কাটিয়েছিলাম … যেখানে উপেক্ষা ও বিচ্ছেদ আমাদের দ্বীনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মিলন-উদ্যানের সেই রাতগুলো ছিল শস্যশ্যামল … আর যৌবনের ডালপালা তখন ছিল সবুজ ও সতেজ।

সেখানে হরিণশাবকেরা আমাদের মাঝে মদ্য পরিবেশন করছিল … আর হরিণনয়নারা তাদের দৃষ্টি দিয়ে আমাদের মাতাল করছিল।

তা থেকে:

আমি আমার মতো কাউকে দেখিনি, যার হৃদয়ে … অনুরাগের আগ্নেয়গিরি আর চোখের পাতায় প্লাবন সৃষ্টি হয়েছে।

আর না দেখেছি এই ন্যায়বিচারের মতো কিছু, যা আলী ফিরিয়ে এনেছেন … অথচ দীর্ঘকাল জুলুমের রাজত্ব চলে আসছিল।

তিনি অন্য একটি কবিতা থেকে বলেছেন:

যখন তারা বিষাদ নিয়ে আরোহণ করল এবং দ্রুতগামী … উটগুলো আমাদের নিয়ে জনশূন্য প্রান্তরে পথ হারিয়ে ফেলল।

আমরা আমাদের সওয়ারিগুলোর ঘাড় লিওয়ার দিকে ফিরিয়ে নিলাম … আর বিচ্ছেদ আমাদের সেই চিহ্নগুলো চিনিয়ে দিল।

সেখানে কত রাত আমি এক নিয়ামতের সাথে … অন্য নিয়ামতকে যুক্ত করেছি, আর মিলনের মাধ্যমে বিচ্ছেদের নাক ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছি।

এবং তা থেকে:

তার ডান হাতে তলোয়ারের আলো প্রজ্বলিত হয় … যা শত্রুদের মস্তকগুলোকে কুঁড়ির মতো ছিন্ন করে ফেলে।

তা থেকে:

এমন সব তলোয়ার, যা যখন সীমান্ত অঞ্চলে উত্তোলিত হয় … তখন সেগুলো তাদের গলায় তাবিজের মতো শোভা পায়।

প্রতিটি বিশাল বাহিনীর ধূলিকণা আকাশ ছেয়ে ফেলেছিল … আর শক্তিশালী ঘোড়াগুলো তাদের চলার পথকে সংকীর্ণ করে দিয়েছিল।

উত্থিত ধূলিকণা যেন তার চোখের সুরমা … আর তার চোখের পাপড়িগুলো যেন তীক্ষ্ণ তলোয়ার।

তিনি একটি কাসিদা থেকে বলেছেন:

সেখানে যখন বিদ্যুৎ চমকায়, মনে হয় যেন … আলীর রক্তমাখা তলোয়ারগুলো থেকে রক্ত ঝরছে।

তিনি অন্য একটি কবিতা থেকে বলেছেন:

পৃথিবী এক খলিফার নূরে আলোকিত হলো … যার মাধ্যমে হকের পূর্ণিমা তার অস্ত যাওয়ার পর পুনরায় উদিত হলো।

তিনি হাশেমী বংশের অন্তর্ভুক্ত, যাদের গৌরবে … আভিজাত্য স্বয়ং তার আঁচল টেনে চলতে শুরু করে।

কালচক্র যা নিয়ে এসেছে তা নিয়ে প্রশ্ন করো না … কারণ দিনগুলো সর্বদা তার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু নিয়ে আসে।

৬- সাহিত্যিক উবাদাহ ইবনে মাউস সামা বলেছেন:

তুমি যখন হোঁচট খাবে, তখন তোমার সঙ্গীর কাছে … তোমার খারাপ অবস্থার অভিযোগ করো না।

তবে সে তোমাকে এমন লাঞ্ছনা দেখাবে … যা তোমার কল্পনাতেও ছিল না।

সাবধান! তোমার ডান হাত যেন জানতে না পারে … তোমার বাম হাত কী করছে।

সময়ের পরিবর্তনের ওপর ধৈর্য ধরো … যদিও তা তোমাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

আর যিনি অভাবমুক্ত করেন এবং সম্পদ দান করেন … তাঁর কাছেই বিনতি করো এবং তোমার অবস্থার উন্নতির জন্য প্রার্থনা করো।

তিনি বলেছেন:

সুখ কিংবা দুঃখে তোমার অবস্থা … কোনো হিংসুক বা করুণাকারীর কাছে প্রকাশ করো না।

কারণ ব্যথিতদের করুণা হৃদয়ে … শত্রুর উপহাসের মতোই দাহ সৃষ্টি করে।

তিনি প্রেমমূলক কবিতা প্রসঙ্গে বলেছেন:

এমন এক হরিণশাবক, যার চোখের পলকে আমার শরীরে শিথিলতা আসে … আর তার গালের রঙে আমার চোখের জল রঞ্জিত হয়।

আমি যখন তার গালের গোলাপ কামনা করি, তখন তার জুলফি আমাকে … জাদুকরী বিচ্ছুর মতো দংশন করে, যার দংশন আমার হৃদয়ে অনুভূত হয়।

তিনি অন্য একটি কবিতা থেকে বলেছেন:

তা যেন আমিরের তীক্ষ্ণ তলোয়ার, যার … উভয় ধার শত্রুর রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।

পাত্রগুলো তার স্মরণে আলোড়িত হয়, আর তার প্রশংসা ছাড়া কোনো মুখই সুস্বাদু হয় না। তিনি আরও কিছু পঙক্তিতে বলেছেন:

পশ্চিমে আমাদের খেলাফত ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন … মনে হতো যেন আমাদের দিনগুলো ছিল রাতের মতো।

তাঁর হাতগুলো (দানসমূহ) এতই মহান যে আমাদের জীবন … এবং আমাদের যা কিছু আছে সবই তাঁর হাতের (দানের) একটি অংশ মাত্র।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال من أخرى:

دارت دوائر صدغه فكأنما … حامت على تقبيل نقطة خاله

وقال من أخرى:

لنا حاجب حاز المعالي بأسرها … فأصبح في أخلاقه واحدٍ الخلق

فلا يغترر منه الجهول بشره … فشدة صوت الرّعد من أثر البرق

7- وقال أبو الوليد أبو حفص بن برد الأصغر:

هو الحسن كالجواد … بريح الصّبا حذي

زين إذ جاء سابقاً … بعذارى زمرّذِ

وقال أيضاً:

وجه لمصباح السماء مباه … بيدي الشباب عليه رشح مياه

نادى عليه الحسن حين لقيته … هذا المنمنم في طراز الله

وقال يصف كلف البدر:

والبدر كالمرآة غيّر صقلها … عبث العذارى فيه بالأنفاس

واللّيل ملتبس بضوء صباحه … مثل التباس النّقس بالقرطاس

وقال في مبتلى:

بحر سقم ماج في أعطافه … فرمى في جلده بالزّبد

كان مثل السيف إلا أنه … حمل الدّهر عليه فصدي

8- وقال الأديب أبو مروان عبد الملك بن زيادة الطيبي:

يا من مدامي ونقلي … بوجنتيه وفيه

هلاّ جزيت فؤادي … بعض مالك فيه

وقال:

عجباً أن يكون ساكن قلبي … راتعاً منه في بساتين حبي

جازني كيف شئت إلا أترك … الذنب إذا كان فرط حبك ذنبي

9- وقال الوزير أبو عبد اله محمد بن مسعود:

ريمٌ إذا رمت أن أكلّمه … كلّمني من جفونه خنجر

كأنّ خيلانه ووجنته … سماء حسنٍ نجومها تزهر

وقام في خدّه لعاشقه … عذرٌ بذاك العذار إذ عذّر

وقال:

فتور ألحاظك 1ذاك الذي … أعار أعضائي هذا الفتور

وقال من قصيدة:

قد صيغ من فضة بيضاء صافية … ووشّح الحسن خديه بتذهيب

يا غائباً قد أطالت كفّ غيبته … على لظى الشوق والأحزان تقليبي

ومنها:

سجنٌ وقيدٌ وأعداءٌ منيت بهم … لا يسأمون مع الأيام تعذيبي

وقال:

ظلت أسقيها رشّاً في جفنه … سنةٌ تورث عيني أرقا

فكأن لكأس في أنمله … صفرة النرجس تعلو الورقا

أصبحت شمساً وفوه مغرباً … وبد الساقي المحيي مشرقا

فإذا ما غربت في فمه … تركت في الخد منه شفقا

وغمام هطل شؤبوبه … نادم الرّوض فغني وسقى

وكأن الورد يعلوه النّدى … وجنة المعشوق تندى عرقا

10- وقال أبو جعفر اللمائي:

قد قلت إذ سار السّفين بهم … والبين ينهب مهجتي نهبا

لو أنّ لي ملكاً أصول به … لأخذت كل ّ سفينة غصبا

قال:

وكان للإيقاع فوق … قضيب منطقه بيان

فكأنما يدي فم … وقضيبه فيها لسان

11- أبو محمد بن مالك القرطبي:

مضى القطر والأضحى ولا نيل يقتضى … فلم أخفقت وحدي إليك مطالبي

سأرحل عنكم دون زادٍ لبلغةٍ … وتلك لعمري سبةٌ في العواقب

وقال:

وأكثر ما نخشاه طغيان ثروةٍ … فإنّا نرى الإنسان يطغى إذا استغنى

وقال من قصيدة:

فلم أذل ساحباً أذيال بردته … حتى عثرت بأرداني فأرداني

ومنها:

وليس فضلك مطوياً صحيفته … فيستدل على ضمن بعنوان

فالصبح أبين لألاء لمبصره … من أن يعان بشرح أو ببيان

12- وقال الأديب أبو محمد عبد العزيز القرطبي (المشهور بالمنفتل) :

كأنّ ليلتنا والصبح يتبعها … زنجيةٌ هربت قدام رومي

وقال:

ولما تجلى الليل والبرق لامع … كما سلّ زنجي حسامناً من التبر

وقال:

مالي بجور الحبيب من قبل … هل حاكم عادلٌ فيحكم لي؟

حمرة خديه من دمي صبغت … ويدّعي أنها من الخجل

وقال:

قدّ فؤادي بحسن قدّه … وسدّ باب الكرى بصدّه

وقال:

إن جفاني الكرى وواصل قوماً … فله العذر في التخلف عني

لم يخلّ الهوى لجسمي شخصاً … فإذا جاءني الكرى لم يجدني

وقال:

يأبى غزالٌ زارني … يشفي الفؤاد المدنفا

عانقته فكأنني … يعقوب عانق يوسفا

وقال:

كنت أدعوك للعناق ولكن … أتقي أن تذوب من أنفاسي

وقال:

تبدو على أضراسه صفرةٌ … كأنه من فمه قد خرى

وقال:
তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেন:

তার ললাটদেশের অলকগুচ্ছ এমনভাবে আবর্তিত হয়েছে যেন … তারা তার তিলটি চুম্বন করার জন্য চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে।

তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেন:

আমাদের এমন এক রক্ষক রয়েছেন যিনি সমস্ত উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছেন … ফলে তিনি স্বীয় চরিত্রে সৃষ্টির মধ্যে অনন্য হয়ে উঠেছেন।

অজ্ঞ ব্যক্তি যেন তার কঠোরতায় প্রতারিত না হয় … কারণ বজ্রের প্রবল গর্জন তো বিদ্যুতেরই প্রভাব মাত্র।

৭- আবু আল-ওয়ালিদ আবু হাফস ইবনে বুরদ আল-আসগর বলেন:

সৌন্দর্য যেন সেই তেজী ঘোড়ার মতো … যা পুবালি বাতাসের ঝাপটায় দ্রুত ধাবমান হয়।

সে সুশোভিত হয়ে অগ্রগামী হিসেবে আবির্ভূত হলো … মরকতময় অলকগুচ্ছ ধারণ করে।

তিনি আরও বলেন:

এমন এক মুখমণ্ডল যা আকাশের প্রদীপের (সূর্যের) সাথে গৌরব করে … যৌবনের দুই হাত তার ওপর বারিধারা সিঞ্চন করেছে।

যখন আমি তার সাক্ষাৎ পেলাম, সৌন্দর্য তাকে সম্বোধন করে বলল … 'ইনি আল্লাহর নকশা করা এক সূক্ষ্ম কারুকাজ'।

তিনি চাঁদের কলঙ্ক বর্ণনা করে বলেন:

পূর্ণিমা যেন এক আয়না যার ঔজ্জ্বল্য ম্লান হয়ে গেছে … কুমারীদের নিশ্বাসের ক্রীড়ায়।

আর রাত তার প্রভাতের আলোর সাথে এমনভাবে মিশে আছে … যেমনভাবে কাগজের সাথে কালি মিশে থাকে।

তিনি এক রোগাক্রান্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন:

অসুস্থতার এক সাগর তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ঢেউ খেলছে … আর তার চামড়ার ওপর ফেনা নিক্ষেপ করছে।

তিনি ছিলেন তরবারির মতো, কিন্তু … কালচক্রের আঘাতে তাতে মরিচা ধরে গেছে।

৮- সাহিত্যিক আবু মারওয়ান আবদুল মালিক ইবনে যিয়াদা আত-তিবি বলেন:

ওহে সেই প্রিয়জন, যার গাল ও মুখমণ্ডল … আমার শরাব ও আপ্যায়নের সামগ্রী।

তুমি কি আমার অন্তরকে প্রতিদান দেবে না … তোমার কাছে তার যে পাওনা রয়েছে তার কিঞ্চিৎ অংশ দিয়ে?

তিনি বলেন:

আশ্চর্যের বিষয় যে, আমার হৃদয়ের অধিবাসী … আমারই ভালোবাসার উদ্যানে বিচরণ করছে।

তুমি আমাকে যেভাবে ইচ্ছা শাস্তি দাও, কিন্তু আমি এ অপরাধ ছাড়ব না … যদি তোমার প্রতি অত্যধিক ভালোবাসা পোষণ করা আমার অপরাধ হয়ে থাকে।

৯- উজির আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ বলেন:

সে এক হরিণশাবক, যখনই আমি তার সাথে কথা বলতে চাই … তার চোখের পাতার খঞ্জর আমার সাথে কথা বলে ওঠে।

তার গালের তিলগুলো যেন … সৌন্দর্যের এক আকাশ যার নক্ষত্ররাজি ঝলমল করছে।

তার প্রেমিকের জন্য তার গালে এক অজুহাত তৈরি হলো … যখন সেখানে অলকগুচ্ছের রেখা ফুটে উঠল।

তিনি বলেন:

তোমার চোখের এই আড়ষ্ট চাহনিই … আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এমন অবশ ভাব এনে দিয়েছে।

তিনি একটি কাসিদায় বলেন:

তাকে যেন শুভ্র ও স্বচ্ছ রূপা দিয়ে গড়া হয়েছে … আর সৌন্দর্য তার গালদুটিকে সোনালি আভায় সজ্জিত করেছে।

ওহে অনুপস্থিত প্রিয়তম, যার বিরহের হাত দীর্ঘায়িত করেছে … শোক ও ব্যাকুলতার অনলে আমার দহনকে।

সেখান থেকেই:

এক কারাগার, এক শৃঙ্খল আর কিছু শত্রু—যাদের দ্বারা আমি আক্রান্ত হয়েছি … দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তারা আমাকে যাতনা দিতে ক্লান্ত হয় না।

তিনি বলেন:

আমি এক হরিণশাবককে পানীয় পান করাতে থাকলাম, যার চোখের পাতায় … এমন এক তন্দ্রা রয়েছে যা আমার চোখে অনিদ্রা বয়ে আনে।

তার আঙুলের ডগায় রাখা পানপাত্রটি যেন … সবুজ পাতার ওপর ফুটে থাকা পীতবর্ণের নার্গিস ফুল।

পানপাত্রটি যেন সূর্য হয়ে উঠল, আর তার মুখ হলো তার অস্তাচল … এবং জীবনদানকারী সাকির হাত হলো তার উদয়াচল।

যখন তা তার মুখে অস্তমিত হয় … তখন তা তার গালে গোধূলির লাল আভা রেখে যায়।

আর এক মেঘমালা যার বারিধারা ঝরে পড়ল … উদ্যানের সঙ্গী হয়ে সে গান গাইল এবং তৃষ্ণা মেটাল।

শিশিরসিক্ত গোলাপ যেন … ঘর্মাক্ত মাশুকের গাল।

১০- আবু জাফর আল-লাম্মায়ি বলেন:

আমি তখন বললাম যখন জাহাজ তাদের নিয়ে যাত্রা করল … আর বিরহ আমার প্রাণকে লুণ্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছিল।

আমার যদি কোনো সাম্রাজ্য থাকত যা দিয়ে আমি প্রভাব খাটাতাম … তবে আমি প্রতিটি জাহাজকে জোরপূর্বক দখল করে নিতাম।

তিনি বলেন:

তার বাক্যের ছন্দের তালে … এক চমৎকার বর্ণনাশৈলী বিদ্যমান ছিল।

যেন হাতটি একটি মুখ … আর তার হাতের দণ্ডটি তার ভেতরকার জিহ্বা।

১১- আবু মুহাম্মদ ইবনে মালিক আল-কুরতুবি:

বৃষ্টির দিন এবং ঈদুল আজহা অতিবাহিত হলো অথচ প্রাপ্তি ঘটল না … তবে কেন কেবল আমার দাবিগুলোই তোমার কাছে বিফল হলো?

আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো পাথেয় ছাড়াই চলে যাব … আর আমার জীবনের কসম, এটি পরিণামে একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন:

আমরা সবচেয়ে বেশি ভয় পাই প্রাচুর্যের ঔদ্ধত্যকে … কারণ আমরা দেখতে পাই যে, মানুষ যখন নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে তখন সে সীমালঙ্ঘন করে।

তিনি একটি কাসিদায় বলেন:

আমি তার চাদরের আঁচল টেনেই চলছিলাম … শেষ পর্যন্ত আমার নিজেরই আস্তিনে হোঁচট খেয়ে ভূপাতিত হলাম।

সেখান থেকেই:

তোমার শ্রেষ্ঠত্বের পান্ডুলিপি এমনভাবে গুটিয়ে রাখা হয়নি … যে তার শিরোনাম দেখে বিষয়বস্তু অনুধাবন করতে হবে।

কারণ সকালের উজ্জ্বলতা দর্শকের কাছে এতটাই স্পষ্ট … যে তার জন্য কোনো ব্যাখ্যা বা বর্ণনার সাহায্যের প্রয়োজন হয় না।

১২- সাহিত্যিক আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ আল-কুরতুবি (যিনি আল-মুনফাতিল নামে পরিচিত) বলেন:

আমাদের এই রাত এবং তার অনুগামী সকাল যেন … এক নিগ্রো নারী যে একজন রোমান ব্যক্তির সামনে থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন:

যখন রাত উন্মোচিত হলো এবং বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করল … মনে হলো যেন কোনো নিগ্রো ব্যক্তি স্বর্ণের কোষ থেকে তলোয়ার বের করেছে।

তিনি বলেন:

প্রিয়ার অবিচারের বিরুদ্ধে আমার কিছুই করার নেই … এমন কোনো ন্যায়পরায়ণ বিচারক কি আছেন যিনি আমার পক্ষে রায় দেবেন?

তার গালের লাল আভা আমার রক্ত দিয়ে রাঙানো … অথচ সে দাবি করে যে এটি লজ্জার কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন:

সে তার সুঠাম দেহের সৌন্দর্যে আমার অন্তর বিদীর্ণ করেছে … আর তার বিমুখতা দিয়ে ঘুমের দুয়ার রুদ্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন:

যদি ঘুম আমাকে ত্যাগ করে অন্য কারো সাথে মিলিত হয় … তবে আমার কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য তার কাছে যুক্তিসঙ্গত অজুহাত রয়েছে।

ভালোবাসা আমার শরীরে কোনো অবয়বই অবশিষ্ট রাখেনি … তাই যখন ঘুম আমার কাছে আসে, তখন সে আমাকে খুঁজেই পায় না।

তিনি বলেন:

এক হরিণশাবক যে আমার কাছে এসেছিল, সে অস্বীকার করছে … এই রুগ্ণ হৃদয়ের উপশম করতে।

আমি তাকে আলিঙ্গন করলাম, তখন মনে হলো যেন … ইয়াকুব ইউসুফকে আলিঙ্গন করছেন।

তিনি বলেন:

আমি তোমাকে আলিঙ্গনের জন্য ডাকতাম, কিন্তু … আমি ভয় পেতাম যে তুমি হয়তো আমার নিশ্বাসের উত্তাপে গলে যাবে।

তিনি বলেন:

তার মাড়ির দাঁতগুলোতে এমন হলদেটে ভাব প্রকাশ পাচ্ছে … যেন সে মুখ দিয়েই মলত্যাগ করেছে।

তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
شرف الزمان بمثله … شرف الأسنّة بالعوامل

سكن النّدي في كفّه … سكني الرّواجب في الأنامل

وجرى الحياء بوجهه … جرى الفرند على المناصل

13- وقال الأديب أبو المطرف عبد الرحمن بن فتوح:

وخلّ كان بألفني قديماً … مؤالفة الصوادي للورود

فلما قلّ وفرى صار يلقي … تحياتي بلغظ من بعيد

14- وقال الأسعد إبراهيم بن أسعد القرطبي:

لو كنت شاهدنا عشية أمسنا … والمزن تبكينا بعيني مذنب

خلت الرذاذ برادة من فضةٍ … قد غربلت من فوق نطع مذهب

وقال:

ظلت به والدموع جارية … أقبّل الجيد منه واللّيتا

تقطر درّاً حتى إذا وردت … روضة خدّيه عدن ياقوتا

وقال:

ليس ليوم البين عندي سوى … مدامع نجيعها سكب

كأنما فضّى بأجفانها … رمّانةٌ فانتشر الحب

وقال:

عوذت قلبي منه بكل ما يتعوذ

كأمنا خدّه والعذار حين تأخذ

تفاحة علقت في سلاسل من زمرّد

وقال:

قمر لوى من فوقه … من صدغ غالية حنش

ودنا ليلثم جمرةً … من وجنتيه فانكمش

وقال: الأسعد بن إبراهيم في قبيح بين قبيحين:

أما ترى الدّهر وما قد أتى … من حسن هذين وهذا السّمج

كدرتي عقدٍ على ثغرةٍ … بينهما واسطةٌ بين سبج

وقال في أسود:

يا ربّ زنجي لهوت به … الشمس عند سناه ممقوته

محدودب قد غاب كاهله … في منكبيه فلا ترى ليته

قد حكّم التجعيد لمته … فتراكبت فكأنما توتة

وإذا سعى بالكأس تحسبه … جعلاً يدحرج فص ياقوتة

وكأنه والكأس في يده … نجمٌ رمى في الجو عفريته

وقال من قصيدة:

توهم عطف الصّدغ نوناً بخدّه … فبات بمسك الخال ينقطه نقطا

حياً ألبس البستان وشيّاً مرصّعاً … ومدّ على العقبان من سندس بسطا

تألّف من در وشذر نجاره … فجاءت به العليا على جيدها سمطا

وقال من أخرى:

عليك عقلت مطيّ الأمل … وعنك اعتقلت بروق الأسل

15- وقال أبو عبد الله محمد عبادة بن القزاز:

ثناؤك ليس تسبقه الرّياح … يطير ومن نداك له الجناح

تطيب بذكرك الأفواه حتى … كأنّ رضابها مسكٌ وراح

جليت إلى الأعادي أسدّ غاب … براثنها المهنّدة الصّفاح

وقدتهم فكان لهم ظهور … ولولا الشمس ما ظهر الصّباح

وقال:

شابت وزارة عصرنا … ما شبّها عبد العزيز

فكأنما هو يوسفٌ … وكأنها امرأة العزيز

16- وقال أبو عبد الله محمد مالك الطبري:

بخل الظاعنون بالتسليم … فأعاروا الجفون سهد السليم

ما عليهم لو ودّعوا مستهاماً … ذا غرامٍ مغري به كالغريم

منها:

علّمي القضب منك حسن التثني … فبها حاجةٌ إلى التعليم

17- وقال جعفر بن محمد بن مكي بن أبي طالب:

لو كان علم الدين يبكي ميتاً … لبكي الحديث عليه والتنزيل

يستجهل العلماء عند حضوره … ويسكت الخطيب حين يقول

18- وقال أبو محمد الصقلي:

ولما رحلتم بالنّدى في أكفكم … وقلقل رضوى منكم وثبير

رفعت لساني بالقيامة قد دنت … فهذي الجبال الرّاسبات تسير

19- وقال أبو محمد عبد المجيد بن عبدون من مرثية:

يا نائم الفكر في ليل الشّباب أفق … فصبح شيبك في أفق النّهى بادي

وأسلمت للمنايا آل مسلمة … وعبّدت للرزايا آل عبّاد

عضّت عنانك أيدي الدهر ناسخةً … علماً بجهل وإصلاحاً بإفساد

لقد هوت منك خائنها قوادمها … بكوكب في سماء المجد وقّاد

منها:

ومالك كان يحمي شول قرطبةً … استغفر الله لا بل شول بغداد

شقّ العلوم نطاقاً والعلا زهراً … فبتن ما بين روّاد وورّاد

20- وقال الوزير أبو الحسين سراج بن عبد الملك:

لما تمكن من فؤادي منزلا … وغدا يسلّط مقلتيه عليه

ناديته مترحماً من عبرةٍ … أفضت بأسرار الضّمير إليه

رفقاً بمنزلك الذي تحتله … يا من يخرب بيته بيديه

وقال:
যুগ তার মতো মানুষের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে … যেমন বল্লমের অগ্রভাগ তার দণ্ডের মাধ্যমে সম্মানিত হয়।

দানশীলতা তার হাতের তালুতে এমনভাবে অবস্থান করে … যেমন আঙুলের জোড়গুলো আঙুলের অগ্রভাগে অবস্থান করে।

তার মুখে লজ্জা এমনভাবে খেলা করে … যেমন তলোয়ারের ধারের ওপর তরবারির উজ্জ্বল আভা খেলে যায়।

১৩- সাহিত্যিক আবু আল-মুতাররিফ আবদুর রহমান বিন ফুতুহ বলেন:

এক বন্ধু ছিল যে দীর্ঘকাল আমার সাথে ঘনিষ্ট ছিল … যেমন তৃষ্ণার্তরা পানির ঘাটের সাথে ঘনিষ্ট থাকে।

কিন্তু যখন আমার সম্পদ কমে গেল, সে দূর থেকে রুক্ষ ভাষায় আমাকে অভিবাদন জানাতে লাগল।

১৪- আল-আসআদ ইব্রাহিম বিন আসআদ আল-কুরতুবি বলেন:

যদি তুমি গত সন্ধ্যায় আমাদের অবস্থা দেখতে … যখন মেঘমালা আমাদের জন্য কোনো অপরাধীর চোখের মতো কাঁদছিল।

তবে তুমি সেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিকে রুপার গুঁড়ো মনে করতে … যা একটি সোনালি চাদরের ওপর চালুনী দিয়ে ঝরানো হচ্ছে।

এবং তিনি বলেন:

আমি সেখানে ছিলাম প্রবহমান অশ্রু নিয়ে … আমি তার গ্রীবা ও গালের পাশ চুম্বন করছিলাম।

অশ্রু মুক্তার মতো ঝরছিল, এমনকি যখন তা তার গালরুপী বাগানে পৌঁছাল … তখন তা ইয়াকুত পাথরে পরিণত হলো।

এবং তিনি বলেন:

বিচ্ছেদের দিনের জন্য আমার কাছে প্রবহমান রক্তিম অশ্রু ছাড়া আর কিছুই নেই।

যেন তার চোখের পাতায় একটি ডালিম বিদীর্ণ হয়েছে … আর তার দানাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এবং তিনি বলেন:

যার মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়া যায়, তার সবকিছু দিয়ে আমি আমার হৃদয়কে তার থেকে রক্ষা করার জন্য আশ্রয় চেয়েছি।

যেন তার গাল ও গালের পাশের লতি যখন দৃষ্টিগোচর হয়,

তা যেন পান্না দিয়ে তৈরি শিকলে ঝোলানো একটি আপেল।

এবং তিনি বলেন:

এক চাঁদ, যার মাথার ওপর সুগন্ধিযুক্ত অলকগুচ্ছ একটি সাপের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে।

সে তার গালের আভারূপী অগ্নিশিখা চুম্বন করতে এগিয়ে গেল, কিন্তু ভয়ে সংকুচিত হয়ে গেল।

আল-আসআদ বিন ইব্রাহিম দুই রূপবানের মাঝে এক কুৎসিত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন:

তুমি কি কালচক্রকে এবং তা যা নিয়ে এসেছে তা দেখছ না … এই দুইজনের সৌন্দর্য এবং এই কুৎসিত ব্যক্তির বিষয়ে?

যেন একটি কণ্ঠহারের দুটি উজ্জ্বল মুক্তা … যাদের মাঝে একটি কালো রঙের বড় পুঁতি রয়েছে।

এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন:

হে কতই না নিগ্রো যুবক যার সাথে আমি আনন্দ করেছি … যার উজ্জ্বলতার কাছে সূর্যও তুচ্ছ।

সে কুঁজো, তার ঘাড় দুই কাঁধের মাঝে এমনভাবে হারিয়ে গেছে যে … তার গ্রীবা দেখাই যায় না।

কোঁকড়ানো ভাব তার চুলের ওপর এমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে … যে সেগুলো স্তূপাকার হয়ে যেন তুঁত ফলের মতো হয়ে গেছে।

যখন সে পানপাত্র নিয়ে দ্রুত চলে, তখন তোমার মনে হবে … যেন একটি গোবরে পোকা একটি ইয়াকুত পাথরের টুকরো গড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আর যখন পানপাত্রটি তার হাতে থাকে, তখন তাকে মনে হয় … যেন আকাশের এক নক্ষত্র বায়ুমণ্ডলে কোনো দানবের দিকে উল্কা নিক্ষেপ করছে।

একটি কাসিদা থেকে তিনি বলেন:

সে তার গালের অলকগুচ্ছের বাঁককে 'নুন' বর্ণ কল্পনা করল … তাই সে তার কস্তুরীর মতো তিল দিয়ে তাতে নুকতা বা বিন্দু দিতে লাগল।

বৃষ্টি বাগানকে কারুকার্যখচিত পোশাক পরিয়ে দিয়েছে … আর পাহাড়ের চূড়াগুলোতে মিহি রেশমের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে।

তার বংশধারা মুক্তা ও স্বর্ণরেণু দিয়ে গঠিত … তাই আভিজাত্য একে তার গ্রীবায় একটি কণ্ঠহার হিসেবে ধারণ করেছে।

অন্য একটি কবিতা থেকে তিনি বলেন:

তোমার ওপরই আমি আশার উট বেঁধেছি … আর তোমার ভয়েই আমি বল্লমের বিজলি আটকে রেখেছি।

১৫- আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ উবাদা বিন আল-কাযযায বলেন:

তোমার প্রশংসা বাতাসকেও ছাড়িয়ে যায় … এটি উড়তে থাকে আর তোমার দানশীলতা এর পাখা হিসেবে কাজ করে।

তোমার আলোচনায় মুখগুলো এমন সুবাসিত হয় যে … এমনকি লালা যেন কস্তুরী ও সুধায় পরিণত হয়।

তুমি শত্রুদের সামনে বনের এমন সিংহ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছ … যাদের নখর হলো ধারালো ভারতীয় তরবারি।

তুমি তাদের পরিচালনা করেছ তাই তাদের বিজয় হয়েছে … আর সূর্য না থাকলে তো সকালের আলো প্রকাশ পেত না।

এবং তিনি বলেন:

আমাদের যুগের মন্ত্রিত্ব বার্ধক্যে পৌঁছে গিয়েছিল … কিন্তু আবদুল আজিজ তাকে পুনরায় যৌবন দান করেছেন।

যেন তিনি ইউসুফ … আর মন্ত্রিত্ব হলো আজিজের স্ত্রী।

১৬- আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ মালিক আত-তাবারী বলেন:

প্রস্থানকারীরা বিদায়কালীন সালাম দিতে কার্পণ্য করল … ফলে তারা চোখের পাতায় দংশিত ব্যক্তির বিনিদ্র রজনী অর্পণ করল।

তাদের কী ক্ষতি হতো যদি তারা একজন পাগলপ্রায় প্রেমিককে বিদায় জানাত … যে প্রেমের জালে এমনভাবে আটকা পড়েছে যেমন কোনো ঋণদাতা ঋণীকে আঁকড়ে ধরে।

এর মধ্য থেকে:

তুমি তোমার থেকে নমনীয় ডালপালাকে সুন্দরভাবে হেলতে-দুলতে শেখাও … কারণ সেগুলোর শেখার প্রয়োজন রয়েছে।

১৭- জাফর বিন মুহাম্মদ বিন মক্কি বিন আবি তালিব বলেন:

যদি দ্বীনি জ্ঞান কোনো মৃতের জন্য কাঁদত … তবে হাদিস ও কুরআন তার জন্য অবশ্যই কাঁদত।

তার উপস্থিতিতে আলেমরা নিজেদের অজ্ঞ মনে করেন … আর যখন তিনি কথা বলেন তখন বাগ্মীরা নীরব হয়ে যায়।

১৮- আবু মুহাম্মদ আস-সাকালি বলেন:

যখন তোমরা তোমাদের হাতে দানশীলতা নিয়ে চলে গেলে … তখন তোমাদের বিরহে রাযওয়া ও সাবির পাহাড়ও কেঁপে উঠল।

আমি উচ্চস্বরে বললাম যে কিয়ামত ঘনিয়ে এসেছে … কারণ এই যে সুদৃঢ় পাহাড়গুলো চলতে শুরু করেছে।

১৯- আবু মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বিন আবদুন একটি শোকগাঁথা থেকে বলেন:

হে যৌবনের রাতে চিন্তাহীন ঘুমন্ত ব্যক্তি, জেগে ওঠো … কারণ প্রজ্ঞার দিগন্তে তোমার বার্ধক্যের সকাল উদিত হয়েছে।

মৃত্যুর হাতে অর্পণ করা হয়েছে মাসলামা বংশকে … আর বিপদের দাসে পরিণত করা হয়েছে আব্বাদ বংশকে।

মহাকালের হাত তোমার লাগাম কামড়ে ধরেছে … জ্ঞানকে মূর্খতা দিয়ে এবং সংশোধনকে বিশৃঙ্খলা দিয়ে প্রতিস্থাপন করে।

তোমার থেকে মর্যাদা ও গৌরবের আকাশ থেকে … এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে।

এর মধ্য থেকে:

তোমার সেই মালিক বা শাসক যে কর্ডোভার সম্পদ রক্ষা করত … আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, বরং সে ছিল বাগদাদের রক্ষক।

সে জ্ঞানকে একটি কটিবন্ধ এবং মর্যাদাকে ফুল হিসেবে বিকশিত করেছে … ফলে সেগুলো জ্ঞানান্বেষী ও জ্ঞানপিপাসুদের মাঝে রয়ে গেছে।

২০- উজির আবু আল-হুসাইন সিরাজ বিন আবদুল মালিক বলেন:

যখন সে আমার হৃদয়ে স্থায়ী আবাসন গড়ে নিল … এবং তার চোখ দুটিকে এর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে দিল।

আমি করুণা ভিক্ষা করে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে ডাকলাম … যা আমার অন্তরের গভীর রহস্য তার কাছে প্রকাশ করে দিচ্ছিল।

যে ঘরে তুমি বাস করো তার প্রতি সদয় হও … ওহে সেই ব্যক্তি, যে নিজ হাতে নিজের ঘর ধ্বংস করছ!

এবং তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
لما رأيت اليوم ولّى عمره … والليل مقتبل الشبيبة داني

والشمس تنفض زعفراناً في الربى … وتفت مسكتها على الغطيان

أطلعتها شمساً وأنت عطاردٌ … وخففتها بكواكب النّدمان

وقال:

نوائب غالتني فأبدت فضائلي … فكانت وكنت النّار والعنبر الوردا

وقال:

أضاع مجدي مالٌ ضيعته يدي … ما أضيع المجد إن لم يرعه مال

منها:

أطال شغلي فراغي مذ حللت به … إنّ الفراغ من الأشغال أشغال

21- وقال أبو محمد غانم:

وإذا الدّيار تنكرت عن حالها … فذر الدّيار وأسرع التحويلا

ليس المقام عليك حتماً واجباً … في ببلدة تدع العزيز ذليلا

وقال:

صيّر فؤادك للمحبوب منزلة … سمّ الخياط مجال للجبين

ولا تسامح بغيضاً في معاشرةٍ … فقلّما تسع الدنيا بغيضين

وقال:

ما لي وللبرق استسقيته من ظمأٍ … هيهات لا ريّ إلاّ من ثناياك

وقال:

ومن الغريب غروب شمس في الثرى … وضياؤها باقٍ على الآفاق

22- وقال أبو عبد الله بن السراج المقالي:

عليك سلام الله يا ماء موضع … شربنا عليه مثله قهوةً خمرا

وروّى التي من حسنها وجفونها … سقتني سحراً خمرةً تُسكر السّحرا

وقال:

ذكرتك بالوادي الذي كنت مرةً … لقيتك فيه والهوى بيننا وعر

فحرّك منّي باعث الشّوق ساكناً … وكلّفني ومن أين لي صبر؟

فيا نازحاً والدار منّي قريبةٌ … إلى كم يطول الصد لي منك والهجر؟

إذا الله خصّ بالقطر ساحة … فلا زال منهلاً بساحتك القطر

وقال:

ألا من منقذي من كرب ليل … تعرّض بين طرفي وارتياحي؟

تضاعف طوله واشتد حزني … به حتى يئست من الصباح

23- وقال خلف بن فرج السّميسر:

يا مشفقاً من خمول قوم … ليس لهم عندنا خلاق

ذلّوا وقد طالما أذلّوا … دعهم يذوقوا الذي أذاقوا

وقال:

أقارب السّوء داء سوء … فاحمل آذاهم تعش حميدا

فمن تكن قرحةٌ بفيه … يصير على مصه الصّديدا

وقال:

لا تعذل الإنسان في شهواته … في الناس من يلتذّ طعم الحصرم

24- وقال أبو العباس أحمد بن قاسم:

قالت وقد نظرت شيبي فروعها … إنّ المشيب لسود الشعر أكفان

فقلت: أنكرت كافور الزمان به … من بعد مسك وطيب الدّهر ألوان

25- وقال أبو طالب عبد الجبار الذي يعرف بالمتنبي:

وهبّ لنا النسيم بكل طيبٍ … كأنّا منه في زمن الرّبيع

على نهر كأن الماء فيه … بقايا فوق خدّ من دموع

وقال:

وشادن وجهه ذكاء … فيه حيا الحسن والحياء

ثم تذكرت قول ربى … يزيد في الخلق ما يشاء

قال:

سقاني ثم غنائي بصوت … فداوى ما بقلبي من جروح

فقلت له لكم سنة تراها … فقال أظنّها من عهد نوح

وحيّاني وفدّاني بكأسٍ … وقبّلني فردّ إليّ روحي

26- وقال أبو القاسم بن عياد:

ياسمين حسن المنظر … يفوق في المرأى وفي المخبر

كأنه من فوق أغصانه … دراهم في مطرف أخضر

27- وقال المعتضد بالله عبّاد ابن أبي الوزارتين محمد بن عباد يخاطب أباه:

شطّ المزار بنا والدار دانية … يا حبّذا الفأل لو صحّت زواجره

وقال يخاطب أباه:

أطعتك في سرّي وفي جهري جاهداً … فلم يك لي إلا الملام ثواب

وما كنت بعد البين إلاّ موطناً … بعزمي على أن لا يكون إياب

(ولكنك الدنيا إليّ حبيبةٌ … فما عنك لي إلا إليك ذهاب)

أصب بالرضى عني مسرّة مهجتي … وإنّ لم يكن في ما أتيت صواب

28- وقال المعتمد على الله بن المعتضد:

أكثرت هجري غير أنّك ربّما … عطفتك أحياناً عليّ أمور

فكأنما زمن التهاجر بيننا … ليلٌ وساعات الوصال بدور

وقال يعتذر عن عيادة:

مرضتم فأمسكت الزيارة عامداً … ما عن قلّي أمسكتها لا ولا هجر

ولكني أشفقت من أن أزوركم … وأبصر آثار الخسوف على البدر

وقال:

ريعت من البرق وفي كفّها … برقٌ من القهوة لمّاع
যখন দেখলাম দিনটি তার আয়ু শেষ করে বিদায় নিচ্ছে … এবং রাত তার যৌবন নিয়ে নিকটবর্তী হচ্ছে।

সূর্য পাহাড়ের চূড়ায় জাফরান ছিটিয়ে দিচ্ছে … এবং আচ্ছাদনগুলোর ওপর তার কস্তুরী চূর্ণ ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তুমি তাকে সূর্য হিসেবে উদিত করেছ অথচ তুমি বুধ গ্রহ … এবং তুমি তাকে মদ্যপায়ীদের সহচর নক্ষত্র দ্বারা ম্লান করে দিয়েছ।

এবং তিনি বলেছেন:

বিপদ-আপদ আমাকে গ্রাস করেছিল, ফলে তা আমার গুণাবলীকে প্রকাশ করে দিয়েছে … সুতরাং সেগুলো ছিল আগুন আর আমি ছিলাম গোলাপী অম্বর।

এবং তিনি বলেছেন:

আমার হাত যে সম্পদ নষ্ট করেছে, তা আমার মর্যাদাকেও বিনষ্ট করেছে … মর্যাদা কতই না অসহায় যদি সম্পদ তাকে রক্ষা না করে।

তার মধ্য থেকে:

যখন থেকে আমি অবসর পেয়েছি, তখন থেকেই আমার ব্যস্ততা দীর্ঘ হয়েছে … নিশ্চয়ই কাজ থেকে অবসরও এক প্রকার ব্যস্ততা।

২১- এবং আবু মুহাম্মদ গানিম বলেছেন:

যখন স্বদেশ তার অবস্থা পরিবর্তন করে অপরিচিত হয়ে যায় … তখন সেই দেশ ত্যাগ করো এবং দ্রুত প্রস্থান করো।

এমন শহরে অবস্থান করা তোমার জন্য অবধারিত বা আবশ্যিক নয় … যা সম্মানীত ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করে ছাড়ে।

এবং তিনি বলেছেন:

তোমার হৃদয়কে প্রিয়তমার আবাসস্থল করো … সুইয়ের ছিদ্রও কপালে চুম্বনের জন্য প্রশস্ত স্থান।

মেলামেশার ক্ষেত্রে কোনো বিদ্বেষী ব্যক্তির প্রতি উদারতা দেখিও না … কারণ দুনিয়া খুব কমই দু’জন বিদ্বেষী ব্যক্তিকে একসাথে ধারণ করতে পারে।

এবং তিনি বলেছেন:

বিদ্যুৎ চমকের সাথে আমার কী সম্পর্ক যে আমি পিপাসার্ত হয়ে তার কাছে পানি চাইছি? … হায়! তোমার হাসিমাখা দাঁত ছাড়া তৃষ্ণা মেটার কোনো উপায় নেই।

এবং তিনি বলেছেন:

আর অদ্ভুত বিষয় হলো মাটির নিচে সূর্যের অস্ত যাওয়া … অথচ দিগন্তজুড়ে তার আলো তখনও অবশিষ্ট আছে।

২২- এবং আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল সাররাজ আল-মাকালি বলেছেন:

হে বিশেষ স্থানের পানি, তোমার ওপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক … যেখানে আমরা কফির মতো সুরা পান করেছিলাম।

এবং তিনি সেই রমণীকে পরিতৃপ্ত করুন, যে তার সৌন্দর্য ও চোখের পল্লব দিয়ে … শেষ রাতে আমাকে এমন সুরা পান করিয়েছে যা জাদুকেও মাতাল করে দেয়।

এবং তিনি বলেছেন:

আমি তোমাকে সেই উপত্যকায় স্মরণ করেছি যেখানে একবার … তোমার সাথে আমার দেখা হয়েছিল, আর আমাদের মাঝে প্রেম ছিল বন্ধুর।

ফলে তা আমার ভেতরের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করেছে … এবং আমাকে ভারাক্রান্ত করেছে; আর আমার ধৈর্যই বা কোথায়?

হে প্রবাসী, অথচ তোমার ঘর আমার কাছেই … আর কতদিন তোমার পক্ষ থেকে এই বিমুখতা ও বিচ্ছেদ দীর্ঘ হবে?

আল্লাহ যদি কোনো আঙিনাকে বৃষ্টির জন্য নির্দিষ্ট করেন … তবে তোমার আঙিনায় যেন সর্বদা বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকে।

এবং তিনি বলেছেন:

হায়! কে আমাকে এই রাতের কষ্ট থেকে মুক্তি দেবে … যা আমার দৃষ্টি ও স্বস্তির মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে?

এর দীর্ঘতা দ্বিগুণ হয়েছে এবং এতে আমার দুঃখ তীব্র হয়েছে … এমনকি আমি সকাল হওয়ার ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েছি।

২৩- এবং খালাফ ইবনে ফারাজ আস-সুমাইসির বলেছেন:

হে সেই ব্যক্তি যে এমন এক জাতির পতন দেখে ব্যথিত … যাদের আমাদের কাছে কোনো অংশ বা মর্যাদা নেই।

তারা লাঞ্ছিত হয়েছে অথচ তারা দীর্ঘকাল অন্যদের লাঞ্ছিত করেছিল … তাদের তা আস্বাদন করতে দাও যা তারা অন্যদের আস্বাদন করিয়েছিল।

এবং তিনি বলেছেন:

মন্দ আত্মীয়-স্বজন এক মারাত্মক ব্যাধি … সুতরাং তাদের কষ্ট সহ্য করো, তবেই তুমি প্রশংসিত হয়ে বেঁচে থাকবে।

যার মুখে ক্ষত আছে … তাকে পুঁজ চোষার ওপর ধৈর্য ধারণ করতে হয়।

এবং তিনি বলেছেন:

মানুষের প্রবৃত্তির ব্যাপারে তাকে তিরস্কার করো না … কারণ মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা টক আঙুরের স্বাদ উপভোগ করে।

২৪- এবং আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে কাসেম বলেছেন:

যখন সে তার কেশগুচ্ছ থেকে আমার বার্ধক্য লক্ষ্য করল, তখন সে বলল … নিশ্চয়ই বার্ধক্য হলো কালো চুলের কাফন।

আমি বললাম: তুমি কি এর মাধ্যমে সময়ের কর্পূরকে অস্বীকার করছ? … অথচ কস্তুরীর পর সময়ের সুগন্ধি বিভিন্ন রঙের হয়।

২৫- এবং আবু তালিব আব্দুল জাব্বার, যিনি আল-মুতানাব্বি নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন:

আমাদের দিকে মৃদু সুগন্ধি বাতাস বয়ে এল … যেন আমরা বসন্তকালে আছি।

এমন এক নদীর তীরে যেখানে পানি দেখে মনে হয় … গালের ওপর গড়িয়ে পড়া অবশিষ্ট অশ্রুবিন্দু।

এবং তিনি বলেছেন:

এমন এক তরুণ যার মুখমণ্ডল প্রখর দীপ্তিময় … যাতে সৌন্দর্যের প্রাণ ও লজ্জা বিদ্যমান।

অতপর আমি আমার রবের বাণী স্মরণ করলাম … তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন।

তিনি বলেছেন:

সে আমাকে পান করাল এবং সুমধুর কণ্ঠে গান শোনাল … যা আমার হৃদয়ের ক্ষতগুলো সারিয়ে দিল।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এর বয়স কত বলে মনে করো? … সে বলল, আমি মনে করি এটি নূহ আলাইহিস সালামের আমল থেকে।

সে আমাকে অভিবাদন জানাল এবং পানপাত্র দিয়ে আমাকে আপ্যায়ন করল … সে আমাকে চুম্বন করল আর আমার মধ্যে প্রাণ ফিরিয়ে আনল।

২৬- এবং আবুল কাসেম ইবনে ইয়াদ বলেছেন:

চমৎকার দর্শন জুঁই ফুল … যা বাহ্যিক রূপ ও অভ্যন্তরীণ গুণ উভয় ক্ষেত্রেই শ্রেষ্ঠ।

ডালপালার ওপর এগুলো যেন … সবুজ চাদরে বিছানো রুপার দিরহাম।

২৭- এবং মুতাদিদ বিল্লাহ আব্বাদ ইবনে আবি আল-বিজারাতাইন মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ তার পিতাকে সম্বোধন করে বলেছেন:

আমাদের সাক্ষাৎস্থল দূরে সরে গেছে অথচ ঘর কাছেই … কতই না ভালো হতো যদি শুভ লক্ষণগুলো সত্য হতো।

এবং তিনি তার পিতাকে সম্বোধন করে বলেছেন:

আমি গোপনে এবং প্রকাশ্যে যথাসাধ্য আপনার আনুগত্য করেছি … কিন্তু প্রতিদান হিসেবে আমি তিরস্কার ছাড়া কিছুই পাইনি।

বিচ্ছেদের পর আমি এই সংকল্পে অবিচল ছিলাম … যে আর ফিরে আসব না।

(কিন্তু আপনিই আমার কাছে প্রিয় পৃথিবী স্বরূপ … তাই আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার পথ কেবল আপনার দিকেই ফিরে আসা।)

আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আমার হৃদয়ে আনন্দ দান করুন … যদিও আমার কাজে কোনো সঠিকতা না থেকে থাকে।

২৮- এবং মুতামিদ আলাল্লাহ ইবনুল মুতাদিদ বলেছেন:

তুমি আমার সাথে বিচ্ছেদ দীর্ঘ করেছ, তবুও মাঝেমধ্যে … কিছু বিষয় তোমাকে আমার প্রতি দয়াপরবশ করে তোলে।

যেন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদের সময়টা … অন্ধকার রাত, আর মিলনের মুহূর্তগুলো হলো পূর্ণিমার চাঁদ।

এবং তিনি অসুস্থতা দেখতে যাওয়ার অক্ষমতার ওজোর পেশ করে বলেছেন:

আপনারা অসুস্থ হয়েছিলেন, তাই আমি ইচ্ছে করেই সাক্ষাৎ থেকে বিরত ছিলাম … তুচ্ছজ্ঞান বা বিচ্ছেদের কারণে আমি এটি করিনি।

বরং আমি এই ভয়ে শঙ্কিত ছিলাম যে, আপনাদের দেখতে এসে … পূর্ণিমার চাঁদে গ্রহণের চিহ্ন দেখতে পাব।

এবং তিনি বলেছেন:

সে বিদ্যুৎ চমক দেখে ভীত হলো, অথচ তার হাতে … কফির এক উজ্জ্বল বিদ্যুৎ চমক ছিল।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
يا ليت شعري وهي شمس الضحى … كيف من الأنوار ترتاع

وقال:

لولا عيونٌ من الواشين ترمقني … وما أحاذره من قول حرّاس

لزرتكم لأكافئكم بجفوتكم … مشياً على الوجه أو أحبوا على الرأس

29- وقال الفقيه أبو الوليد بن الباجي من قصيدة يمدح السمناني ببغداد:

لو كنت أنبأت الديار صبابتي … نحل الصبا بفنائها والجلمد

ما هالني صعب المرام ولا الذي … تستبعد الأيام عندي يبعد

هذا الشهاب المستضاء بنوره … علم الهدى هذا الإمام الأوحد

وقال من مرثية:

أحن ويثني اليأس نفسي على الأسى … كما اضطر محمول على المركب الصّعب

وقال من أخرى:

أسرّوا إلى الليل البهيم سراهم … فنمت عليه في الشمال شمائل

متى نزلوا ثاوين في الخيف من منى … بدت لهوى بالمأزمين مخايل

فلله ما ضمّت منّي وشعابها … وما ضمنت تلك الربى والمنازل

لما التقينا للجمار وأبرزت … أكفٌ لتقليب الحصى وأنامل

أشارت إلينا بالغرام محاجر … وباحت به منّا جسوم نواحل

30- وقال الوزير أبو عامر بن مسلمة:

كأنما شاربه بهجة … زمردٌ من فوق مرجان

كأنما أردافه عالج … وقدّه غصن من البان

31- وقالب أبو الوليد محمد بن عبد العزيز من قصيدة في الأسطول:

أنشأتهنّ سفائناً ومدائناً … وجنبتهن كتائباً ورعيلا

دهم تخال البيض في أوساطهم … بلقاً وفي أطرافها تحجيلا

قرعت بأسواط الرياح فأسرعت … في الماء تعمل كلكلاً وتليلا

ومنها:

طلع الحسن من جبينك بدراً … وعلى عارضيك ورداً وطلا

فكأن العزار خاف على الورد … خفاقاً فممد بالشعر ظلا

وقال من أخرى:

وبين جوانحي قلبٌ مطارٌ … جناحاه ادّكار واشتياق

ولم أنس الكثيب وليلتيه … كأنهما اختلاس واستراق

ومنها:

تذكرت الصبابة والتصابي … هنالك إذ تروق ولا تراق

ونحن كأننا غصناً أراك … قد اشتبكا وضمهما عناق

32- وقال أبو الوليد إسماعيل بن محمد الملقب بحبيب:

كأن نور الكتّان حين بدا … وقد جلا حسنه صدا الأنفس

أكفٌ فيروزج معاصمها … وقد سترتهن خضرة الملبس

وقال في الخمر:

كأنها والحباب يحجبها … بجرٌ من التبر يقذف الجوهر

33- وقال الأديب أبو جعفر بن البار:

وكأن جنح الليل طرفٌ أدهم … متضمن من صبحه تحجيلا

وكأن غائرة النجوم بأفقها … عن وجهه تغضي عيوناً حولا

وكأنما الجوزاء إذ بصرت به … ألقت إليه نطاقها محلولا

منها: لا تكثروا فالحب في حومائه=كالحمد في أسماع إسماعيلا ومنها:

راعت وقائع بأسه حتى لقد … ترك الحمام بنفسه مشغولا

إن كانت الأسد الضواري … لا تخاف صياله فلم اتخذن الغيلا

ومنها:

ولقد خشيت على الثرى وعلى الورى … لما دنوا من كفه تقبيلا

هل كان يعصم منه إلا عفوه … لو أنّ أنمله جرين سيولا

34- وقال أبو الحسن علي بن حصن الاشبيلي:

غزالٌ يخيل لي ريقه … يشاب به المسك والقرقف

كأن العذار على خدّه … نجاد ومقلته مرهف

وقال:

شربناها كميت اللون حتى … رأيت الفجر قد وضع النقابا

وأحسب أنها كانت عقيقاً … جرت أنفاسنا فيه فذابا

وقال:

طلّ على خدّه العذار … فافتضح الأس والبهار

وابيضّ هذا واسودّ هذا … واجتمع الليل والنهار

حتى جرى للنعيم فيه … ماء بأحشاي منه نار

رشا أعار الغزال لحظاً … فحسنه منه مستعار

شربت من خمر مقلتيه … كأسين لي منهما خمار

عذاره قائمٌ بعذري … فليس لي فالهوى اعتذار

وقال من قصيدة:

تلين له الأيام وهي شدائد … وتعنو وجوه الحادثات وتذعن

فلا تأنس منه بلين عريكة … فقد يقطع الصمصام والمتن لين

35- وقال الوزير أبو عمر الباجي:

لله أيامٌ بقربك أنعمت … ما ضرّها أن لم تكن أعيادا

راقت محاسنها وطاب نعيمها … فأتى الزمان حدائقاً وعهادا
হায়! আমি যদি জানতাম, সে তো পূর্বাহ্নের সূর্য … তবে সে কেন আলোর কারণে আতঙ্কিত হয়?

তিনি আরও বলেন:

যদি চোগলখোরদের চোখ আমার দিকে তাকিয়ে না থাকত … এবং রক্ষীদের কথার ভয় না থাকত

তবে তোমাদের অবহেলার প্রতিদান দিতে আমি তোমাদের সাথে দেখা করতাম … চেহারার ওপর ভর দিয়ে হেঁটে কিংবা মাথার ওপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে।

২৯- ফকিহ আবু আল-ওয়ালিদ ইবনে আল-বাজি বাগদাদে আস-সামনানি-র প্রশংসায় রচিত এক কাসিদা থেকে বলেন:

আমি যদি আমার প্রগাঢ় প্রেম সম্পর্কে লোকালয়কে জানাতাম … তবে তার প্রাঙ্গণে যৌবন ও কঠিন পাথরও গলে যেত।

কোনো কঠিন লক্ষ্য আমাকে ভীত করেনি এবং যা কালপরিক্রমা অসম্ভব মনে করে … তা আমার কাছে অসম্ভব নয়।

এই সেই উল্কা যার আলোয় পথ চলা হয় … হিদায়াতের পতাকা, এই সেই অদ্বিতীয় ইমাম।

এক শোকগাঁথা থেকে তিনি বলেন:

আমি ব্যাকুল হই এবং নিরাশা আমার আত্মাকে শোকের দিকে ফিরিয়ে নেয় … যেমন কোনো আরোহী এক দুরারোহ বাহনে চড়তে বাধ্য হয়।

অন্য একটি কবিতা থেকে তিনি বলেন:

তারা অন্ধকার রাতে তাদের ভ্রমণকে গোপন রেখেছিল … কিন্তু উত্তর বায়ুর সুগন্ধি তা ফাঁস করে দিয়েছিল।

যখন তারা মিনার 'খাইফ'-এ যাত্রাবিরতি করেছিল … তখন 'মাআযামাইন'-এ প্রেমের লক্ষণসমূহ ফুটে উঠেছিল।

আল্লাহরই প্রশংসা, মিনা ও তার উপত্যকাগুলো যা ধারণ করে আছে … এবং সেই টিলা ও মনজিলগুলো যা বহন করছে।

যখন আমরা কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য সমবেত হলাম এবং পাথর ওলটপালট করার জন্য … হাতের তালু ও আঙুলসমূহ বের হলো

তখন চোখের কোণগুলো আমাদের দিকে অনুরাগের ইঙ্গিত করল … আর আমাদের ক্ষীণকায় দেহগুলো তা প্রকাশ করে দিল।

৩০- উজির আবু আমির ইবনে মাসলামাহ বলেন:

তার গোঁফের লাবণ্য যেন … প্রবালের ওপর পান্না।

তার নিতম্ব যেন বালুকাময় মরুভূমি … আর তার দেহবল্লরি যেন বানের (সুগন্ধি বৃক্ষ) শাখা।

৩১- আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ রণতরী বিষয়ক এক কাসিদা থেকে বলেন:

আমি সেগুলোকে জাহাজ ও নগরের ন্যায় নির্মাণ করেছি … আর সেগুলোকে সৈন্যদল ও অশ্বারোহী বাহিনীর ন্যায় সাজিয়েছি।

কালো বর্ণের জাহাজসমূহ, যাদের মাঝে শ্বেতবর্ণের জাহাজগুলোকে দেখলে তোমার মনে হবে … যেন সাদা ছোপযুক্ত ঘোড়া এবং তাদের প্রান্তভাগে রয়েছে শুভ্র দাগ।

বায়ুর চাবুক দ্বারা সেগুলোকে আঘাত করা হলো, ফলে সেগুলো দ্রুত বেগে চলল … পানিতে বুক ও গ্রীবা দিয়ে অগ্রসর হতে লাগল।

তা থেকে আরও:

তোমার ললাট থেকে সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উদিত হয়েছে … আর তোমার গণ্ডদেশে গোলাপ ও সুরা হয়ে।

যেন গণ্ডদেশের লোম গোলাপের ওপর কোনো কম্পনের ভয় করেছিল … তাই চুল দিয়ে তার ওপর ছায়া প্রসারিত করে দিয়েছে।

অন্য একটি কবিতা থেকে তিনি বলেন:

আমার পাজরের ভেতর এক উড়ন্ত হৃদয় রয়েছে … যার দুই ডানা হলো স্মৃতিচারণ ও আকুলতা।

আমি বালিয়াড়ি ও তার দুই রাতের কথা ভুলিনি … যেন তা ছিল হঠাৎ কেড়ে নেওয়া ও চুরি করে দেখা।

তা থেকে আরও:

আমি সেই প্রগাঢ় অনুরাগ ও প্রণয়লীলার কথা স্মরণ করলাম … যখন তা ছিল মনোরম কিন্তু অশ্রু ঝরানো ছিল না।

আর আমরা যেন আরাক বৃক্ষের দুটি শাখা … যা একে অপরের সাথে জড়িয়ে গেছে এবং আলিঙ্গন তাদের আবদ্ধ করে রেখেছে।

৩২- হাবিব উপাধিতে ভূষিত আবু আল-ওয়ালিদ ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ বলেন:

তিসি ফুলের জ্যোতি যখন প্রকাশিত হলো … এবং তার সৌন্দর্য অন্তরের মরিচা দূর করল।

তখন মনে হলো যেন ফিরোজার তৈরি হাত, যাদের কব্জি … সবুজ পোশাকের আড়ালে ঢাকা রয়েছে।

মদ্য সম্পর্কে তিনি বলেন:

বুদবুদ যখন তাকে আবৃত করে রাখে, তখন তাকে মনে হয় … যেন স্বর্ণের সমুদ্র যা মণি-মুক্তা নিক্ষেপ করছে।

৩৩- সাহিত্যিক আবু জাফর ইবনে আল-বার বলেন:

রজনীর অন্ধকার যেন এক কৃষ্ণবর্ণের ঘোড়া … যার সকালের শুভ্রতা যেন তার পায়ের শুভ্র দাগ।

দিগন্তে অস্তগামী নক্ষত্রগুলো যেন … তার চেহারার সামনে তির্যক চোখ বন্ধ করে নিয়েছে।

কালপুরুষ মন্ডলী যখন তাকে দেখল … তখন যেন সে তার কোমরবন্ধ খুলে তার দিকে ছুড়ে দিল।

তা থেকে: তোমরা বাড়াবাড়ি করো না, কারণ ভালোবাসার গভীরতা ইসমাইলের কানে প্রশংসার ন্যায়। তা থেকে আরও:

তার বীরত্বের ঘটনাবলি এমন ত্রাস সৃষ্টি করেছে যে … তা মৃত্যুকে নিজের চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে।

হিংস্র সিংহরা যদি … তার আক্রমণকে ভয় না-ই পেত, তবে কেন তারা ঝোপঝাড়কে আশ্রয়স্থল বানাল?

তা থেকে আরও:

আমি মাটি ও মানুষের জন্য শঙ্কা বোধ করলাম … যখন তারা তার হাতের তালু চুম্বন করার জন্য নিকটবর্তী হলো।

তার ক্ষমা ছাড়া কি কোনো কিছু তাকে রক্ষা করতে পারত … যদি তার আঙুলগুলো প্লাবনের ন্যায় প্রবাহিত হতো?

৩৪- আবু আল-হাসান আলি ইবনে হিসন আল-ইশবিলি বলেন:

এক হরিণ-শাবক, যার লালা আমার কাছে মনে হয় … কস্তুরী ও সুরার মিশ্রণ।

তার গণ্ডদেশের লোম যেন তার মুখে … তলোয়ারের বেল্ট, আর তার চোখ যেন ধারালো তলোয়ার।

তিনি বলেন:

আমরা লোহিত বর্ণের সুরা পান করলাম যতক্ষণ না … আমি দেখলাম ভোর তার নেকাব সরিয়ে দিয়েছে।

আমার মনে হয় সেটি ছিল আকিক পাথর … আমাদের নিঃশ্বাস তাতে প্রবাহিত হওয়ায় তা গলে গেছে।

তিনি বলেন:

তার গণ্ডদেশে লোমরাজির উদ্ভব হলো … ফলে লবঙ্গ ও বাহার ফুল লজ্জিত হলো।

এটি শ্বেতবর্ণ আর ওটি কৃষ্ণবর্ণ … এভাবে দিবা ও রজনী একত্রিত হলো।

এমনকি তাতে সজীবতার জন্য প্রবাহিত হলো … পানি, যার কারণে আমার অন্তরে অগ্নির সৃষ্টি হলো।

এমন এক হরিণ-শাবক যে হরিণকে তার চাহনি ধার দিয়েছে … তাই হরিণের সৌন্দর্যও তার কাছ থেকেই ধার করা।

আমি তার চোখের সুরা থেকে … দুই পেয়ালা পান করেছি, যার কারণে আমার ঝিমুনি এসেছে।

তার গণ্ডদেশের লোমই আমার ওজর হিসেবে দাঁড়িয়েছে … তাই প্রেমে আমার কোনো ওজর নেই।

এক কাসিদা থেকে তিনি বলেন:

তার জন্য দিনগুলো নমনীয় হয়ে যায় অথচ সেগুলো ছিল কঠিন … আর বিপদের চেহারাগুলো তার কাছে নত ও বশীভূত হয়।

তার স্বভাবের নমনীয়তায় তুমি আশ্বস্ত হয়ে যেয়ো না … কারণ ধারালো তলোয়ারও কাটতে পারে যদিও তার পিঠ নমনীয় হয়।

৩৫- উজির আবু ওমর আল-বাজি বলেন:

আল্লাহরই প্রশংসা সেই দিনগুলোর জন্য যা তোমার সান্নিধ্যে ধন্য হয়েছে … সেগুলো যদি ঈদ নাও হতো তবে কোনো ক্ষতি ছিল না।

তার সৌন্দর্য ছিল মনোমুগ্ধকর এবং তার সুখ ছিল আনন্দদায়ক … ফলে সময়টি বাগান ও বৃষ্টির সজীবতা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
36- وقال أبو العلاء زهر بن عبد الملك بن وزهر:

كن كيف شئت مشاهداً أو غائباً … لا كان قلبٌ لست في سودائه

وقال في العذار:

محيت أية النهار فأضحى … بدر تم وكان شمس نهار

كان يعشي العيون نوراً إلى أن … شغل الله خدّه بالعذار

37- وقال أبو عمر أحمد بن محمد بن حجاج:

أين القرون السابقات إلى النهى … هل مقلة ترنو وأذن تسمع

أين القياصرة الأكاسرة الأولى … غلبوا الملوك وأين عاد وتبع

38- وقال الفقيه أبو بكر محمد بن سليمان المعروف بابن القصيرة:

شيم الليوث تبين في أشبالها … من قبل أن تلغوا الدماء رواسفا

وبدا بأفق المجد فيه كوكبٌ … لألاؤه تنفي الظلام العاكف

وقال:

والشبل قبل الفرس يعلم بأسه … في جنسه بقياس بأس أوائله

39- وقال الوزير أبو القاسم بن الجدّ من قصيدة:

أمثلك يبغي في سمائي كوكباً … وفي حوّك الشمس المنيرة والبدر

ويلتمس الحصباء في نوب الحصى … ومن بحرك الفيّاض يستخرج الدر

منها:

وإني لصبٌ بالتّلاقي وإنّما … يصدّ ركابي عن معاهدك العسر

أذوب حياءً من زيارة صاحب … إذا لم يساعدني على برّه الوفر

40- وقال محمد بن عبد الغفور:

بأعمادي ومن عليه اعتمادي … عشت ما شئت مدركاً ما تشاء

وقال:

تركت التصابي للصواب وأهله … وبيض الطلا للبيض والسمر للسمر

مدادي مدامعي والكئوس محابري … وندماي أقلامي ومقلمتي شعري

41- وقال الفقيه أبو أيوب سليمان بن سلامة:

ويؤنسني أثار فضلك كلّما … نظرت ولولا الخصب لم يحمد الحب

42- وقال الوزير أبو الحسين القرشي:

وضعت عليك برود من أنفس … تبقى ولا تبل بطول لباس

وجرت سعوداً غير وانية النداء … جرى الخلافة في بني العباس

منها:

وبسالة تثني الرد متهيباً … وتحول بين الأسد والأحباس

ومنها:

أنت الذي ملأ المكارم هزةً … ليست بفرع البانة المياس

يا مرسلاً ديم السماح وماسكاً … بأعنةً الأقلام والأفراس

صبراً على شيم الليالي إنّها … فيما علمت لئيمة الأغراس

وقال:

وبالخيمة القصوى عقيلة زبرت … أبرد ثناياها على كبدي برد

خليلي هل ليلي ونجد كعهدنا … فيا حبذا ليلي ويا حبذا نجد

43- وقال أبو بكر بن عمار من قصيدة:

وعني أثار الرعد صرخة طالب … لثأرٍ وهزّ البرق صفحة صارم

وما لبست زهر النجوم حدادها … لغيري ولا قامت له بماتم

خذوا بي أن لم تهذروا كلّ سابح … لريح الصّبا في إثره أنف راغم

من العباسات الدّهم إلا التفاتة … إلى غرةٍ أهدت له ثغر باسم

طوى بي عرض البيد فوق قوائم … توهمتني منهن فوق قوادم

وخاض بي الظلماء حتى حسبته … له مربطٌ بين النجوم العواتم

ومنها:

أنال سهادي من جفونٍ نواعس … وأجني عذابي من غصون نواعم

وليل لنا بالسد بين معاطف … من النهر ينساب انسياب الأراقم

ومنها:

أريد حياة البين والبين قاتلي … وأرجو انتصار الدهر والدهر ظالمي

ومنها:

له هزة في الجود معتضديّة … تهزّ إلى التشتيت شمل الدراهم

إذا نشرت لخمٌ بذكراه فخرها … طوت طيءٌ من خجلةٍ جود حاتم

ومنها:

إذا ركبوا فانظره أوّل طاعن … وإن نزلوا فانظره آخر طاعم

ومنها:

وإني إذا أنصفت بعدك خادمٌ … لدهري وكان الدهر عندك خادمي

ولا غرو إن حيّتك بالطّيب روضة … سمحت لها بالعارض المتراكم

وقال من أخرى:

إلى الله أشكو أنّ مالك في دمي … شريكٌ ومالي في هواك نصيب

سأشهد قومي أن طرفك من دمي … بريء وإن كان الفتور يريب

وقال:

أدر الزجاجة فالنسيم قد انبرى … والنجم قد صرف العنان عن السرى

والصبح قد أهدي لنا كافوره … لما استرد الليل منا العنبرا

منها:

أيقنت أني من ذراه بجنّة … لما سقاني من نداه الكوثرا

ومنها:

السيف أصدق من زيادٍ خطبة … في الحرب إن كانت يمينك منبرا
৩৬- আবু আল-আলা যুহর বিন আব্দুল মালিক বিন যুহর বলেছেন:

তুমি যেমন চাও তেমন হও, উপস্থিত থাকো বা অনুপস্থিত থাকো … এমন কোনো হৃদয় না থাকুক যার কেন্দ্রস্থলে তুমি নেই।

এবং তিনি তারুণ্যের নবীন রেখা (মুখের রেখা) সম্পর্কে বলেছেন:

দিনের নিদর্শন মুছে গেল এবং তা পূর্ণিমার চাঁদে পরিণত হলো, অথচ তা ছিল দিনের সূর্য।

তা আলো দিয়ে চোখকে ধাঁধিয়ে দিচ্ছিল, অবশেষে … আল্লাহ তার গালকে তারুণ্যের নবীন রেখা দিয়ে বিভূষিত করলেন।

৩৭- আবু উমর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাজ্জাজ বলেছেন:

প্রজ্ঞার অধিকারী পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলো আজ কোথায়? … কোনো চোখ কি আজ তাকাচ্ছে বা কোনো কান কি আজ শুনছে?

সেই পূর্বতন কায়সার ও কিসরাগণ কোথায় যারা … রাজাদের ওপর বিজয়ী হয়েছিল? আর কোথায় আদ ও তুব্বা জাতি?

৩৮- ফকিহ আবু বকর মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, যিনি ইবনুল কাসীরা নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন:

সিংহের স্বভাব তার শাবকদের মধ্যে প্রকাশ পায় … তারা শিকারে রক্তে মুখ রাঙানোর আগেই।

মর্যাদার দিগন্তে তার মাঝে একটি নক্ষত্র উদিত হয়েছে … যার উজ্জ্বলতা পুঞ্জীভূত অন্ধকারকে দূর করে দেয়।

তিনি আরও বলেছেন:

শাবকটি যুদ্ধে লড়ার আগেই তার বীরত্ব সম্পর্কে জানা যায় … তার পূর্বপুরুষদের বীরত্বের মাপকাঠিতে তার স্বজাতির মধ্যে।

৩৯- উজির আবু আল-কাসিম বিন আল-জিদ একটি কাসিদা থেকে বলেছেন:

আপনার মতো কেউ কি আমার আকাশে নক্ষত্র খুঁজবে? … অথচ আপনার আয়ত্তেই রয়েছে উজ্জ্বল সূর্য ও পূর্ণিমার চাঁদ।

সে কি কাঁকরের ভিড়ে নুড়ি পাথর খুঁজবে, … অথচ আপনার প্রবাহমান সমুদ্র থেকে মুক্তো আহরণ করা হয়?

তার অংশবিশেষ:

আমি সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল, কিন্তু … অভাব-অনটনই আমার বাহনকে আপনার আবাসস্থল থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।

কোনো বন্ধুর সাক্ষাতে যেতে আমি লজ্জায় বিদীর্ণ হই … যখন তার প্রতি সৌজন্য প্রকাশের মতো যথেষ্ট সম্পদ আমার অনুকূলে থাকে না।

৪০- মুহাম্মদ বিন আব্দুল গাফুর বলেছেন:

আমার অবলম্বনসমূহ এবং যাঁর ওপর আমার নির্ভরতা তাঁর শপথ, … আপনি যা চান তা লাভ করে আপনার ইচ্ছানুযায়ী জীবনযাপন করুন।

তিনি আরও বলেছেন:

আমি যৌবনের চপলতা ছেড়ে দিয়েছি সঠিক পথ ও তার অনুসারীদের জন্য … আর রূপবতী ও গুণবতীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি মোহ।

আমার অশ্রু হলো আমার কালি, আর দোয়াত হলো আমার পানপাত্র … কলমগুলো আমার সঙ্গী, আর আমার কলমদানি হলো আমার কবিতা।

৪১- ফকিহ আবু আইয়ুব সুলাইমান বিন সালামাহ বলেছেন:

যখনই আমি তাকাই আপনার অনুগ্রহের চিহ্নসমূহ আমাকে স্বস্তি দেয় … আর ভূমি উর্বর না হলে তো শস্যের প্রশংসা করা হতো না।

৪২- উজির আবু আল-হুসাইন আল-কুরাশি বলেছেন:

আপনার ওপর মহামূল্যবান প্রাণসমূহের চাদর রাখা হয়েছে … যা দীর্ঘকাল পরিধানেও পুরাতন হয় না বরং চিরস্থায়ী থাকে।

অবিরাম কল্যাণ প্রবাহিত হয়েছে … যেমন আব্বাসীয় বংশে খিলাফতের ধারা প্রবাহিত হয়েছিল।

তার অংশবিশেষ:

এমন বীরত্ব যা মৃত্যুকে ভীত হয়ে পলায়ন করতে বাধ্য করে … এবং যা সিংহ ও তার শিকারের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

আরও অংশবিশেষ:

আপনিই সেই ব্যক্তি যিনি মহানুভবতাকে এমন এক প্রাণচাঞ্চল্যে ভরিয়ে দিয়েছেন … যা কেবল বাতাসের দোলায় দোদুল্যমান বনস্পতি শাখার চপলতা নয়।

হে বদান্যতার বারিধারা বর্ষণকারী এবং … কলম ও অশ্বের লাগাম ধারণকারী!

রাত্রির আচরণের ওপর ধৈর্য ধারণ করুন, কারণ আমি যতটুকু জানি … তার মূলে রয়েছে হীনতা।

তিনি আরও বলেছেন:

দূরবর্তী তাঁবুতে এক সুন্দরী নারী পর্দাবৃত ছিল … যার শীতল দন্তপঙক্তির হাসি আমার হৃদয়ে শীতলতা এনে দিয়েছে।

হে আমার দুই বন্ধু! আমার রাত ও নজদ অঞ্চল কি আগের মতোই আছে? … হায়, কতই না চমৎকার ছিল আমার সেই রাত আর কতই না প্রিয় ছিল নজদ!

৪৩- আবু বকর বিন আম্মার একটি কাসিদা থেকে বলেছেন:

আমার কাছে বজ্রের গর্জন ছিল প্রতিশোধকামী কোনো ব্যক্তির চিৎকার … আর বিদ্যুতের চমক ছিল তীক্ষ্ণ তলোয়ারের উজ্জ্বল ধার।

উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি আমি ছাড়া আর কারো জন্য … শোকের পোশাক পরেনি এবং কারো জন্য শোকসভা করেনি।

যদি তোমরা অনর্থক কথা না বলো, তবে প্রতিটি দ্রুতগামী ঘোড়া নিয়ে আমার সাথে চলো … যার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে গিয়ে পুবালি বাতাস ধূলিমলিন হয়ে ফেরে।

কৃষ্ণবর্ণের সেই সব ঘোড়াগুলোর দিকে কেবল একবার তাকানো যায় … সেই কপালে যা হাসিমাখা মুখমণ্ডল উপহার দেয়।

বিশাল মরুভূমি সে আমাকে পিঠে নিয়ে পাড়ি দেয় এমন সব পায়ের ওপর … যেগুলোকে আমার কাছে পাখির ডানার মতো মনে হয়।

সে আমাকে নিয়ে অন্ধকার পাড়ি দেয়, এমনকি আমার মনে হয় … অনুজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোর মাঝে তার আস্তাবল রয়েছে।

তার অংশবিশেষ:

তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখের পাতা থেকে আমি আমার অনিদ্রা লাভ করি … আর কোমল ডালপালার মতো লাবণ্যময়ী থেকে আমি আমার যন্ত্রণা আহরণ করি।

নদীর বাঁকগুলোর মাঝে আমাদের এমন এক রাত কেটেছে … যেখানে নদী সাপের মতো এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়।

তার অংশবিশেষ:

আমি বিচ্ছেদের জীবন চাই অথচ বিচ্ছেদই আমার ঘাতক … আর আমি মহাকালের সাহায্য আশা করি অথচ মহাকালই আমার ওপর জুলুমকারী।

তার অংশবিশেষ:

দানশীলতায় তার মধ্যে মুতাদিদী উদ্দীপনা রয়েছে … যা দিরহামের স্তূপকে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।

যখন লাখম গোত্র তার স্মরণে তাদের গৌরব প্রকাশ করে … তখন তাঈ গোত্র লজ্জায় হাতেম তাঈ-এর বদান্যতাকে গুটিয়ে নেয়।

তার অংশবিশেষ:

যখন তারা সওয়ার হয় তখন তাকে প্রথম আক্রমণকারী হিসেবে দেখো … আর যখন তারা অবতরণ করে তখন তাকে সবার শেষে আহারকারী হিসেবে দেখো।

তার অংশবিশেষ:

আমি যদি ন্যায়বিচার করি তবে আপনার পরে আমি আমার মহাকালের সেবক … অথচ আপনার সান্নিধ্যে মহাকালই ছিল আমার সেবক।

এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যদি কোনো উদ্যান সুবাস দিয়ে আপনাকে অভিবাদন জানায় … যার প্রতি আপনি বর্ষণমুখর মেঘের মতো উদারতা দেখিয়েছেন।

অন্য একটি কাসিদা থেকে তিনি বলেছেন:

আল্লাহর কাছেই আমি অভিযোগ করি যে আমার রক্তপাতে আপনার … কোনো অংশ নেই, আর আপনার ভালোবাসায় আমার কোনো নসিব নেই।

আমি আমার স্বজাতিকে সাক্ষী রাখব যে আপনার চোখ আমার রক্তপাত থেকে … মুক্ত, যদিও আপনার ক্লান্ত চাহনি সন্দেহ তৈরি করে।

তিনি আরও বলেছেন:

পানপাত্র ঘোরাও, কারণ মৃদু বাতাস বইতে শুরু করেছে … আর নক্ষত্ররা রাতের ভ্রমণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

প্রভাত আমাদের কর্পূরের শুভ্রতা উপহার দিয়েছে … যখন রাত আমাদের কাছ থেকে আম্বরের সুবাস কেড়ে নিয়েছে।

তার অংশবিশেষ:

আমি নিশ্চিত হয়েছি যে আমি তার আশ্রয়ে জান্নাতে আছি … যখন তিনি তার বদান্যতা থেকে আমাকে কাউসার পান করিয়েছেন।

তার অংশবিশেষ:

যুদ্ধের ময়দানে তলোয়ার যিয়াদের খুতবার চেয়েও বেশি সত্যবাদী … যদি আপনার ডান হাত হয় তার মিম্বর।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ومنها:

وإليكها كالروض زارته الصّبا … وحنا عليها الطّل حتى نوّرا

نمقته وشياً بذكرك مذهباً … وفتقته مسكاً بحمدك أذفرا

من ذا ينافحني وذكرك مندل … أوردته من نار فكري مجمرا

وقال يخاطب المعتمد:

الكأس ظامئه إلى يمناكا … والروض مرتاح إلى لقياكا

فأدر بآفاق الزجاج كواكباً … تخذت أكفّ سقاتها أفلاكا

راحاً إذا هبّ النسيم حسبتها … مسروقة الأنفاس من رياكا

يسري على ريحانه نفس الصّبا … سحراً فيوهم أنه ذكرّاكا

وقال في غلام لبس درعاً:

بكيت وقد دنا ونأي رضاه … وقد يبكي من الطرب الجليد

قسا قلباً وسنّ عليه درعاً … فباطنه وظاهره حديد

وقال:

وهويته يسقي المدام كأنه … قمر يدور بكوكب في مجلس

متأرج الحركات تندي ريحه … كالغصن هزّته الصبا بتنفس

يسقي بكأس في أنامل سوسنٍ … وبدير أخرى من محاجر نرجس

وقال من أبيات:

ولو لمعت لي من سمائك برقةٌ … ركبت إلى مغناك هوج الجنائب

وقال من أبيات:

وإنّي لتثنيني إليك مودّةٌ … يغيرها ما قد تعرّض من ذنب

فما أعجب الأيام في ما قضت به … تريني بعدي عنك أنس من قربي

أخافك للحق الذي لك في دمي … وأرجوك للحبّ الذي لك في قلبي

44- وقال أبو الوليد حسان بن المصيصي:

وقد صغت من ذاك المحيّا وحسنه … صباحاً ومن تلك الخلائق أنجما

أراه وأرجوه وأنشد فضله … فيملأ منى العين والكفّ والفما

وقال من قصيدة:

أقدم على حذر وأرغب على زهد … أغلظ على رقة وأسفر على خجل

حاز المؤيّد ممّا قلت أفضله … وزاد للفرق بين القول والعمل

ومنها:

صفحت عنه لآمال له سلفت وبما كره التفصيل للجمل

وكم جلوا بالندى من ليل مفتقر … كأنّه دمعةٌ في جفن مكتحل

ومنها:

من مبلغ يده أني نظمت لها … شكراً جعلت قوافيه من القبل

وقال:

روض لشباب تناوبت أزهاره … ولّى بنفسجه وجاء بهاره

ودّ البهاء لو أن أسود لحظها … أضحى خضاباً حين شاب عذاره

قد كان يعجبهن خفّة حلمه … والآن ساء الغانيات وقاره

45- وقال الوزير الفقيه أبو بكر بن الملح:

حسب القوم أنني عنك سالي … أنت تدري بأنني ما أبالي

قمري أنت كلّ حين وبدري … فمتى كنت قبل هذا هلالي

وقال من قصيدة:

والعضب يستره القراب وربما … خشنت مضاربه الرقاق من الصدا

والروض يبعث بالنسيم كأنّما … أهداه يضرب لاصطباحك موعدا

ومنها:

كم قد ركبت إليك كاهل همّة … كادت تغالط في أخيه الفرقدا

وقال من قصيدة:

حاز السناء وما أسنّ وإنما … نمت الفروع بطيب أصل العنصر

منها:

ثبتوا على الأصل القديم وأثبتوا … لسب الكواكب في قبائل حمير

ونموا على السّعي القديم فأثبتوا … نسب المكارم من تراث المنذر

بقى الثناء عليهم فكأنما … ركبوا المنابر في بطون المقبر

وقال من أخرى:

كذلك يبدو الموت ناراً ولجةً … على صفحتي صمصامك الوافد الندي

يصلن السرى والماء غور كأنما … حملن عصا موسى على كلّ جلمد

له جدولٌ من صارمٍ متسلسلٍ … إلى غصن من ذابل متأوّد

وقال من أخرى:

وتركت ذاك الجيش نهباً للظبا … متخاذل الأنصار مطلول الدم

منها:

أنا ضاحك للدّهر ضحكة شامت … إن كان يعبس للندى المتيسم

وقال من أخرى:

تواصلوا بأعمال الشقاوة بينهم … وعاذوا بشيطان هناك رجيم

منها:

تحاموا بلاداً مزّقتهم كأنما … مضت في رباها عاصف بهشيم

سروا تحت ألأطراف الرماح كأنهم … شياطين ضلّت تحت رصد نجوم

وقال:

وغافل بالصّبا عن قطع مدّته … قد راش أجنحة الأيام بالجذل

منها:

إذا الهوى فاض طوفاناً ركبت له … فلك العزاء ولم آوى إلى جبل

منها:

ضاق الزمان بما حطمت من قضب … في رعيهن وما تصدّت من أسل

ومنها:
এবং তার মধ্য হতে:

এটি আপনার প্রতি একটি বাগানের মতো যা পুবালি বাতাসের সান্নিধ্য পেয়েছে … এবং শিশির তার উপর ঝুঁকে পড়েছে যতক্ষণ না তা প্রস্ফুটিত হয়েছে

আমি আপনার স্মরণে একে কারুকাজখচিত কাপড়ের মতো অলঙ্কৃত করেছি … এবং আপনার প্রশংসায় একে তীব্র সুগন্ধযুক্ত কস্তুরীর মতো সুবাসিত করেছি

কে আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে যখন আপনার স্মরণ হচ্ছে ‘মানদাল’ চন্দন কাঠ … যা আমি আমার চিন্তার আগুন থেকে অঙ্গার হিসেবে উপস্থাপন করেছি

এবং তিনি আল-মুতামিদকে সম্বোধন করে বলেন:

পানপাত্র আপনার ডান হাতের জন্য তৃষ্ণার্ত … আর বাগান আপনার সাক্ষাতের জন্য প্রফুল্ল

সুতরাং কাঁচের দিগন্তে নক্ষত্ররাজিকে আবর্তিত করুন … যার পরিবেশনকারীদের হাতের তালুগুলোকে তারা কক্ষপথ হিসেবে গ্রহণ করেছে

এমন সুরা যা যখন মৃদু বাতাস বয় তখন আপনি তাকে মনে করবেন … আপনার সুগন্ধি হতে চুরি করা দীর্ঘশ্বাস

শেষ রাতে এর সুগন্ধি লতার ওপর পুবালি বাতাসের শ্বাস প্রবাহিত হয় … ফলে এমন ভ্রম তৈরি হয় যে সে আপনাকে স্মরণ করেছে

এবং তিনি এক কিশোর সম্পর্কে বলেন যে বর্ম পরিধান করেছিল:

আমি কেঁদেছি যখন সে কাছে এসেছে এবং তার সন্তুষ্টি দূরে সরে গেছে … অথচ কখনও কখনও ধৈর্যশীল ব্যক্তিও আনন্দের আতিশয্যে কেঁদে ফেলে

তার হৃদয় কঠোর হয়েছে এবং সে নিজের ওপর একটি বর্ম পরেছে … ফলে তার ভেতর এবং বাহির উভয়ই এখন লোহা

এবং তিনি বলেন:

আমি তাকে ভালোবেসেছি যে সুরা পান করাচ্ছিল, যেন সে … একটি মজলিসে নক্ষত্র নিয়ে আবর্তিত চাঁদ

তার নড়াচড়া সুগন্ধে ভরপুর, তার ঘ্রাণ সিক্ত করে দেয় … পুবালি বাতাস তার নিশ্বাসে দুলিয়ে দেওয়া ডালপালার মতো

সে লিলি ফুলের মতো আঙ্গুলের ডগায় থাকা পাত্র দিয়ে পান করায় … এবং নার্সিসাস ফুলের মতো চোখের কোণ দিয়ে অন্যজনকে মোহাচ্ছন্ন করে

তিনি কিছু চরণে বলেন:

যদি আপনার আসমান থেকে আমার জন্য একটি বিজলিও চমকাত … তবে আমি আপনার আবাসস্থলের দিকে দ্রুতগামী উটে চড়ে রওনা হতাম

তিনি কিছু চরণে বলেন:

নিশ্চয়ই আপনার প্রতি ভালোবাসা আমাকে আপনার দিকে ফিরিয়ে নেয় … যা কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়

কালচক্র যা ফয়সালা করেছে তা কতই না আশ্চর্যজনক … আপনার থেকে আমার দূরত্বকে তা আমার নৈকট্যের চেয়েও বেশি আনন্দদায়ক হিসেবে দেখায়

আমার রক্তের ওপর আপনার যে অধিকার রয়েছে তার কারণে আমি আপনাকে ভয় করি … আর আমার হৃদয়ে আপনার প্রতি যে ভালোবাসা আছে তার কারণে আপনার নিকট আশা রাখি

৪৪- এবং আবু আল-ওয়ালিদ হাসান ইবনুল মুসাইসি বলেন:

আমি সেই চেহারা এবং তার সৌন্দর্য থেকে একটি সকাল তৈরি করেছি … এবং সেই চরিত্রগুলো থেকে নক্ষত্ররাজি নির্মাণ করেছি

আমি তাকে দেখি, তার নিকট আশা রাখি এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করি … ফলে সে আমার চোখ, হাত এবং মুখ পূর্ণ করে দেয়

তিনি একটি কসিদায় বলেন:

আমি সতর্কতার সাথে অগ্রসর হই এবং অনাসক্তির সাথে আকাঙ্ক্ষা করি … কোমলতার সাথে কঠোর হই এবং লজ্জার সাথে আত্মপ্রকাশ করি

আমি যা বলেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অংশ আল-মুয়াইয়িদ অর্জন করেছেন … এবং কথা ও কাজের পার্থক্যের ক্ষেত্রে তিনি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন

এবং তার মধ্য হতে:

আমি তাকে ক্ষমা করেছি তার পূর্ববর্তী আশা-আকাঙ্ক্ষার কারণে এবং বিস্তারিত বর্ণনার চেয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকে সে অপছন্দ করে বলে

তারা দানশীলতার মাধ্যমে দরিদ্রদের কত রজনী উজ্জ্বল করেছেন … যা যেন সুরমা লাগানো চোখের পাতার একটি অশ্রুবিন্দু

এবং তার মধ্য হতে:

তার হাতের কাছে কে এই বার্তা পৌঁছে দেবে যে আমি তার জন্য কৃতজ্ঞতাস্বরূপ একটি কবিতা গেঁথেছি … যার অন্ত্যমিলগুলো আমি চুম্বনের দ্বারা সাজিয়েছি

এবং তিনি বলেন:

এটি যৌবনের একটি বাগান যার ফুলগুলো পর্যায়ক্রমে আসে … তার বেগুনি ফুল চলে গেছে এবং বসন্তের ফুল এসেছে

সৌন্দর্য কামনা করেছিল যদি তার চোখের কালো অংশ … কলপ হয়ে যেত যখন তার কানের পাশের চুল পেকে শুভ্র হয়েছে

নারীরা তার সহনশীলতার লঘুতাকে পছন্দ করত … আর এখন তার গাম্ভীর্য সুন্দরী রমণীদের কাছে মন্দ লাগে

৪৫- এবং উজির ফকিহ আবু বকর ইবনুল মিলহ বলেন:

লোকেরা ধারণা করে যে আমি আপনাকে ভুলে গেছি … অথচ আপনি জানেন যে আমি তাতে ভ্রূক্ষেপ করি না

আপনি সর্বদা আমার চাঁদ এবং পূর্ণিমা … এর আগে আপনি কবে আমার জন্য হেলাল বা সরু চাঁদ ছিলেন?

তিনি একটি কসিদায় বলেন:

তীক্ষ্ণ তলোয়ারকে খাপ ঢেকে রাখে, আর কখনও কখনও … মরিচার কারণে তার ধারালো পাত কর্কশ হয়ে যায়

বাগানটি মৃদু বাতাসের বার্তা পাঠায় যেন সে … আপনার সকালের পানীয় পানের জন্য নির্ধারিত সময়ের উপহার পাঠিয়েছে

এবং তার মধ্য হতে:

আমি আপনার উদ্দেশ্যে কতই না উচ্চাকাঙ্ক্ষার স্কন্ধে আরোহণ করেছি … যা প্রায় তার ভ্রাতৃপ্রতিম ফরকাদ নক্ষত্রকেও বিভ্রান্ত করে দিত

তিনি একটি কসিদায় বলেন:

তিনি উচ্চমর্যাদা লাভ করেছেন যদিও তিনি বৃদ্ধ হননি, বরং … মূল উপাদানের বিশুদ্ধতার কারণেই শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পায়

তার মধ্য হতে:

তারা প্রাচীন মূলের ওপর অটল ছিলেন এবং হিমইয়ার গোত্রগুলোর মধ্যে … নক্ষত্রদের মর্যাদাকে সাব্যস্ত করেছেন

এবং তারা প্রাচীন প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে বিকশিত হয়েছেন, ফলে তারা … মুনজিরের উত্তরাধিকার থেকে মহত্ত্বের বংশপরম্পরা প্রমাণ করেছেন

তাদের প্রশংসা অবশিষ্ট রয়েছে, যেন তারা … কবরের অভ্যন্তরে থেকেও মিম্বরগুলোতে আরোহণ করে আছেন

তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেন:

এভাবেই মৃত্যু আগুন ও তরঙ্গের ন্যায় উদিত হয় … আপনার ধারালো ও সিক্ত তলোয়ারের দুই পিঠে

তারা রাতের সফর অব্যাহত রাখে যখন পানি অনেক গভীরে থাকে, যেন তারা … প্রতিটি পাথরের ওপর মুসার লাঠি বহন করছে

তার জন্য একটি ঝরনা রয়েছে যা নিবদ্ধ তরবারি থেকে প্রবহমান … একটি নমনীয় ও দীর্ঘাকৃতি বর্শার শাখা পর্যন্ত

তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেন:

এবং আপনি সেই বাহিনীকে তলোয়ারের শিকারে পরিণত করেছেন … যাদের সাহায্যকারীরা ছত্রভঙ্গ এবং যাদের রক্ত বৃথা ঝরেছে

তার মধ্য হতে:

আমি কালচক্রের প্রতি উপহাসকারীর ন্যায় হাসি … যদি সে হাস্যোজ্জ্বল দানশীলতার প্রতি ভ্রুকুটি করে

তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেন:

তারা নিজেদের মধ্যে দুর্ভাগ্যের কাজে লিপ্ত হয়েছে … এবং সেখানে এক বিতাড়িত শয়তানের আশ্রয় গ্রহণ করেছে

তার মধ্য হতে:

তারা এমন জনপদ এড়িয়ে চলেছে যা তাদের ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, যেন … তার টিলাগুলোতে শুকনো ঘাসের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে গেছে

তারা বর্শার অগ্রভাগের নিচ দিয়ে পথ চলেছে যেন তারা … নক্ষত্রদের পাহারার নিচে পথভ্রষ্ট শয়তান

এবং তিনি বলেন:

যৌবনের উন্মাদনায় বিভোর এক ব্যক্তি তার আয়ু শেষ হওয়ার বিষয়ে উদাসীন … সে আনন্দের মাধ্যমে দিনগুলোর ডানাকে দ্রুতগামী করেছে

তার মধ্য হতে:

যখন প্রবৃত্তি প্লাবনের ন্যায় উথলে ওঠে, তখন আমি তার জন্য … ধৈর্যের নৌকায় আরোহণ করি এবং কোনো পাহাড়ের আশ্রয় নেই না

তার মধ্য হতে:

আপনি যে তরবারিগুলো ভেঙেছেন সেগুলোর কারণে সময় সংকীর্ণ হয়ে গেছে … তাদের পরিচালনার ক্ষেত্রে এবং যে বর্শাগুলো আপনি মোকাবিলা করেছেন সেগুলোর ক্ষেত্রে

এবং তার মধ্য হতে:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
مدحنكم حيث لا مجداً أزيدكم … فقد كحلت عيوناً جمّة الكحل

وقال:

سرنا نراقب إعلان الصباح بنا … كأننا في ضمير الليل كتمان

منها:

هو المقرّ العلا والخيل سارحة … واللابس الحمد والصمصام عريان

والمبصر الرشد أقصى مطالبه … والناس منة فتنة الأهواء عميان

منها:

تاهت بمجدك قحطان وعدنان … كما تضاءل تؤبان وساسان

ركبت جودك درباً والعدى جزرٌ … وسيفك النار والأطيار ضيفان

وهاج فيه وريح البأس تنسجه … جيش هو اليم والأسياف خلجان

وللدماء غدير فوق ضفّته … للجيش دوج وسمر الخطّ أغصان

وقال من أخرى:

توهمهم سلماً فسولمت ظاهراً … وشنّوا على ظهر المغيب حروبا

وثقت بهم في النائبات فأخلفوا … وكانوا إلى جنب الخطوب خطوبا

فكم صاحب منهم يبيت بقلبه … بعيداً ويغدو باللسان قريبا

نشرت له برد الإخاء كأنما … خضبت بها في العارضين مشيبا

46- وقال الأديب أبو محمد عبد الجليل بن وهبون:

ولما رأيت الزور في الناس فاشيا … تخيّل لي أن الشباب خضاب

ولولا ابن عمار وفاضل سعيه … لأصبح ربع المجد وهو خراب

ولا أحرقت أرض العدو صواعقٌ … ولا مطرت أرض العفاة سحاب

وقال:

ومن لم يخضّب رمحه في عداته … تساوت به في الحي ذات خضاب

منها:

إذا ورق الفولاذ هزّ تساقطت … ثمار حتوف أو ثمار عذاب

وقال من أخرى:

قل للرشيد وقد هبّت نوافحه … أسرفت يا ديمة المعروف فاقتصد

أثريت عندك من جاه ومن نسب … حتى وجت الغنى في همتي ويدي

عاد الزمان بما أوليتني غصناً … غضاً فقمت مقام الطائر الغرد

وقال من أخرى يصف مواني الأسطول:

من كل لابسة الشباب ملاءة … حسب اقتدار الصانع المتأنق

شهدت لهن العين أن شواهناً … وزحفن زحف مراكب في مأزق

بمجادفٍ تحكي أراقم ربوة … نزلت لتكرع في غدير متأق

وقال:

بأي لفظ أحلّي منك ذا شيم … لولا حلاها لكان الدهر ذا عطل

منها:

وأرى البصيرة لا تزري الأناة به … ولا تعود عليه آفة العجل

47- وقال الوزير أبو القاسم بن مرزقان:

ما دجا ليلٌ على آمله … كل ليل بأياديه نهار

48- وقال الوزير أبو مروان بن عبد العزيز:

بحور بلاغة ونجوم عز … وأطواد رواس من جلال

فكم كافور أيامٍ خلطناه … ولم تظلم بمسك من ليال

وقال:

أمحيي معاهد رسم الأدب … ومنشئ مشاهد فخر العرب

ومن نظم الفضل نظم الجمان … ومن سبك الشعر سبك الذهب

49- وقال أبو الحسن البكري:

ولأشربنّ كأس الصبابة علقماً … حتى أغاطي كاس وصل سكّرا

وإذا سما بسمائه بدر الدّجى … فعليه من قلبي السلام مكررا

50- وقال الوزير أبو الحسين بن محمد بن الجد:

دع السيف يوهى ما بناه فإنما … على السيف أن يبني بما هو يهدم

لربعك يخذي كلّ نضو كأنها … قسي عليها من عفاتك أسهم

منها:

ولولا الأسى ما رق شعر مهلهل … ولا حاز سبقا في الرثاء متمم

وقال:

تدرعت قلبي وحشة حشت الحشا … وأقفر من أنس كما أقفر الربع

هما نصرتا من لم تؤيده قدرة … وبئس النصيران التنفس والدمع

منها:

شكري لنعماك شكر الروض للدّيم … فاقطف بأيدي الأيادي روضة الكلم

وقال:

سجيةٌ في العلا شابت ذوائبها … وهمّة نشأت في تربة الكرم

منها:

جيش أياديك الحسني تقد لجباً … واجعل سلاحك ما تسديه من نعم

تهزم أعاديك اللائي إذا فحصت … عنها المكارم لم توجد من الأمم

والفظ جناه وإن لذّت مذاقته … فربما شرق الغصان بالشيم

ومنها:

لولاك لم تنتظم في السلك لؤلؤة … ولا غدا الشعب منه جدّ ملتئم

ومنها:

دلائل الفضل في السادات واضحة … منها الوفاء ومنها الرعي للذمم

تبلي الليالي ولا تبلي عرائكها … وربما جددتها لبسة القدم

من لي بتأدية الشكر الذي كتبت … جدواك أسطره في صفحتي عدمي
আমি আপনাদের প্রশংসা করেছি এমনভাবে যে আপনাদের মহিমা বৃদ্ধি করার কিছু নেই … কেননা অনেক চোখই সুরমার আধিক্যে সুরঞ্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন:

আমরা চলছিলাম আমাদের মাঝে ভোরের আগমনের প্রতীক্ষায় … যেন আমরা রজনীর অন্তঃস্থলে লুক্কায়িত কোনো রহস্য।

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

তিনিই উচ্চ মর্যাদার স্থান আর ঘোড়াগুলো বিচরণশীল … তিনি প্রশংসার পোশাক পরিহিত আর তার তীক্ষ্ণ তরবারি উন্মুক্ত।

তিনি স্বীয় চরম আকাঙ্ক্ষায় সঠিক পথের দর্শক … অথচ মানুষ প্রবৃত্তির ফিতনার কারণে অন্ধ।

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

আপনার মহিমায় কাহতান ও আদনান বংশ বিমোহিত হয়েছে … যেভাবে তুউবান ও সাসানীয়রা তুচ্ছ হয়ে গেছে।

আমি আপনার দানশীলতাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করেছি যখন শত্রুরা ছিল শিকার … আপনার তরবারি হলো অগ্নি আর পাখিরা হলো তার মেহমান।

সেখানে বীরত্বের বাতাস এক বাহিনীকে তরঙ্গায়িত করছে … সেই বাহিনী যেন এক সমুদ্র আর তলোয়ারগুলো তার খাঁড়ি।

আর রক্তের এক জলাশয় রয়েছে যার তীরে … বাহিনীর জন্য হাওদা আর খাত্তি বল্লমগুলো যেন বৃক্ষশাখা।

তিনি অন্য এক কবিতায় বলেন:

আপনি তাদের শান্তিকামী মনে করেছিলেন তাই প্রকাশ্যে সন্ধি করেছিলেন … অথচ তারা অগোচরে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছিল।

বিপদকালে আপনি তাদের ওপর ভরসা করেছিলেন কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে … তারা বিপদের পাশে নিজেরাই এক এক আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাদের মধ্যে কত এমন বন্ধু আছে যে অন্তরে অনেক দূরে অবস্থান করে … অথচ মুখে অনেক আপন সেজে সকালে আবির্ভূত হয়।

আপনি তার জন্য ভ্রাতৃত্বের চাদর বিছিয়েছিলেন, যেন আপনি … তার মাধ্যমে আপনার দুই গালের শুভ্রতাকে রঞ্জিত করেছেন।

৪৬- সাহিত্যিক আবু মুহাম্মদ আব্দুল জলীল বিন ওয়াহবুন বলেন:

যখন আমি মানুষের মাঝে মিথ্যাচার ছড়িয়ে পড়তে দেখলাম … তখন আমার মনে হলো যেন যৌবনই এক প্রকার ক্ষণস্থায়ী রঙ।

ইবনে আম্মার ও তার শ্রেষ্ঠ প্রচেষ্টা যদি না থাকতো … তবে গৌরবের আবাসভূমি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো।

শত্রুর ভূমিতে বজ্রপাত হতো না … আর সাহায্যপ্রার্থীদের ভূমিতে মেঘমালাও বৃষ্টি ঝরাত না।

তিনি বলেন:

যে ব্যক্তি শত্রুর রক্তে নিজের বল্লম রঞ্জিত করে না … সে গোত্রের অলঙ্কার পরিহিত রমণীর সমান হয়ে যায়।

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

যখন ইস্পাতের পাতা প্রকম্পিত হয়, তখন ঝরে পড়ে … মৃত্যুর ফল অথবা যন্ত্রণার ফল।

তিনি অন্য এক কবিতায় বলেন:

রশিদকে বলো যখন তার অনুগ্রহের সুগন্ধি প্রবাহিত হয় … হে বদান্যতার অবিরাম বারিধারা! আপনি তো অকাতরে দান করছেন, একটু পরিমিত হোন।

আপনার নিকট থেকে আমি মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রাচুর্য লাভ করেছি … এমনকি আমার সংকল্পে ও হাতে আমি সচ্ছলতা খুঁজে পেয়েছি।

আপনি আমাকে যা দান করেছেন তার মাধ্যমে সময় এক সজীব শাখায় … পরিণত হয়েছে, আর আমি সেখানে সুকণ্ঠী পাখির ন্যায় গান গাইছি।

তিনি অন্য এক কবিতায় নৌবহরের বন্দরের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:

যৌবনের চাদর পরিহিত প্রত্যেক জাহাজ থেকে … নিপুণ কারিগরের সক্ষমতা ফুটে ওঠে।

চোখ সাক্ষ্য দিয়েছে যে সেগুলো যেন বাজপাখি … অথচ সংকীর্ণ পথে সেগুলো মন্থর গতিতে জাহাজের মতো এগিয়ে চলেছে।

এমন সব দাঁড় দিয়ে যা টিলার ওপরকার সাপের রূপ ধারণ করে … যা উপচে পড়া জলাশয়ে পানি পান করতে নেমেছে।

তিনি বলেন:

কোন শব্দ দিয়ে আপনার সেই গুণাবলিকে অলঙ্কৃত করব … যার মিষ্টতা না থাকলে মহাকাল অলঙ্কারহীন থাকত।

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

আমি দেখি যে অন্তর্দৃষ্টি তার ধৈর্যকে ক্ষুন্ন করে না … আর তাড়াহুড়োর বিপদ তার ওপর আপতিত হয় না।

৪৭- উজির আবু আল-কাসিম বিন মারজুকান বলেন:

তার আশাবাদীর ওপর কোনো রাত অন্ধকার হয় না … তার অনুগ্রহের বদৌলতে প্রতিটি রাতই যেন দিবাভাগ।

৪৮- উজির আবু মারওয়ান বিন আব্দুল আজিজ বলেন:

বাগ্মিতার সমুদ্র এবং সম্মানের নক্ষত্ররাজি … এবং গাম্ভীর্যের সুউচ্চ সুদৃঢ় পর্বতমালা।

দিনের কত কর্পূর আমরা মিশিয়েছি … যা রাতের কস্তুরীর কারণে অন্ধকার হয়ে যায়নি।

তিনি বলেন:

হে সাহিত্যের রীতিনীতির নিদর্শনসমূহের পুনরুজ্জীবনকারী … এবং আরবদের গৌরবের দৃশ্যপটসমূহের নির্মাতা।

যিনি শ্রেষ্ঠত্বকে মুক্তার দানার ন্যায় গেঁথেছেন … আর কবিতাকে সোনার ন্যায় নিখুঁতভাবে ঢালাই করেছেন।

৪৯- আবু আল-হাসান আল-বাকরি বলেন:

আমি ভালোবাসার পেয়ালা তিক্ততা হিসেবে পান করব … যতক্ষণ না মিলনের শর্করাযুক্ত পেয়ালা লাভ করি।

আর যখন অন্ধকার রাতের পূর্ণিমা তার আকাশে উদিত হয় … তখন আমার হৃদয়ের পক্ষ থেকে তার ওপর বারবার সালাম বর্ষিত হোক।

৫০- উজির আবু আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-জাদ্দ বলেন:

তরবারিকে তা ধ্বংস করতে দাও যা সে নির্মাণ করেছে, কারণ … তরবারির দায়িত্ব হলো তা দিয়ে নির্মাণ করা যা সে ধ্বংস করে।

আপনার অঙ্গনের দিকে প্রতিটি শীর্ণ উট দ্রুত ধাবিত হয়, যেন সেগুলো … ধনুক আর আপনার সাহায্যপ্রার্থীরা হলো তার তীর।

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

যদি শোক না থাকতো তবে মুহালহিলের কবিতা এত কোমল হতো না … আর শোকগাঁথায় মুতাম্মিম শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারত না।

তিনি বলেন:

আমার হৃদয়ে এমন এক নির্জনতা বাসা বেঁধেছে যা অন্তরকে আচ্ছন্ন করেছে … আর তা আপনজনহীন হয়ে পড়েছে যেমন কোনো জনপদ জনশূন্য হয়ে পড়ে।

এই দুটি তাকে সাহায্য করে যাকে কোনো ক্ষমতা সমর্থন করে না … দীর্ঘশ্বাস এবং অশ্রু কতই না মন্দ সাহায্যকারী!

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

আপনার অনুগ্রহের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা যেন বৃষ্টির প্রতি বাগানের কৃতজ্ঞতা … অতএব অনুগ্রহের হাতের মাধ্যমে শব্দের বাগিচা থেকে ফল আহরণ করুন।

তিনি বলেন:

এটি উচ্চমর্যাদার এক স্বভাব যার কেশরাজি পক্ক হয়েছে … আর এমন এক সংকল্প যা বদান্যতার মাটিতে লালিত হয়েছে।

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

আপনার কল্যাণময় অনুগ্রহের বাহিনী শোরগোলকারী বাহিনীকে পরিচালনা করুক … আর আপনি আপনার দানকৃত নেয়ামতসমূহকেই অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করুন।

আপনি আপনার সেই শত্রুদের পরাজিত করেন যাদের সম্পর্কে যখন … মহৎ গুণাবলি অনুসন্ধান করা হয়, তখন তাদের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না।

আর এর অর্জিত ফল বর্জন করুন যদিও তার স্বাদ মিষ্টি হয় … কারণ অনেক সময় কণ্ঠরোধকারী ঘাসও সুন্দর মনে হতে পারে।

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

আপনি না থাকলে সুতোয় মুক্তা গাঁথা হতো না … আর কোনো বিচ্ছিন্ন জনপদ সুসংহত হতো না।

এর অন্তর্ভুক্ত অংশ:

নেতৃবৃন্দের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণাদি সুস্পষ্ট … তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বস্ততা এবং অঙ্গীকার রক্ষা করা।

রজনীসমূহ জীর্ণ হয়ে যায় কিন্তু তাদের স্বভাব জীর্ণ হয় না … আর সম্ভবত জীর্ণ পোশাকই তাদের নতুনত্ব দান করে।

কে আছে আমার পক্ষ থেকে সেই কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য যার পংক্তিমালা … আপনার দান আমার অভাবী পৃষ্ঠায় লিখেছে।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
51- وقال الوزير أبو الحسن صالح بن صالح الشنتمري:

حولي وحولك أعين ومسامع … أخفي الهوى عنهن عند لقاك

لولا الحياء وأن تشيع سريرتي … لنثرت شمل الدمع حين أراك

وقال:

أسني ليالي الدهر عندي ليلة … لم أخل فيها الكأس من إعمال

فرّقت فيها بين جفني والكرى … وجمعت بين القرط والخلخال

وقال:

للحسن في خلق من أهوى خلائقه … روض بهي بسيف اللحظ محمي

فالجيد سوسنة والعين نرجسة … والخد ورد وذاك الخال خيري

وقال:

لله ما صنع الحياء بصفحة … لم تبق عندي لتجلد مذهبا

كان البياض بها لجيناً خالصاً … فأحاله فغدا لجينا مذهبا

وقال:

أبدى الحبيب تعجباً من طول مك … ث الورد عندي عندما أهداه

لم يدر أنّ دوامه في منزلي … من أجل أنّ مدامعي سقياه

52- وقال أبو الحكم عمرو بن مذحج:

أرى الدهر أعطاك التقدم في العلا … وإن كان قد أوفى أخيراً بك الدهر

لئن حازت الدنيا لك الفضل آخراً … ففي أخريات الليل ينبلج الفجر

53- وقال أبو الوليد محمد بن يحيى بن حزم:

أتجزع من دمعي وأنت أسلته … ومن نار أحشائي ومنك لهيبها

وتزعم أنّ النفس غيرك علّقت … وأنت ولا من عليك حبيها

إذا طلعت شمس عليّ بسلوة … أثار الهوى لبين الضلوع لهيبها

وقال:

وطارحك الواشون عنّي بسلوة … مغالطة هيهات ذاك بعيد

منها:

بلى إن عرتني فترة الصبر هزّني … تذكر أيامي بكم فأعود

وقال:

وخيل الظلام أمام الصباح … والركض قد ضمّ أعطافها

وقد فضض الفجر أذيالها … وزاد فذهب أعرافها

منها:

وذكرني بادرات الحمام … حمائم تندب ألافها

وقال:

لله أيام على وادي القرى … سلفت لنا والدهر ذو ألوان

إذا تجتني في ظلّه تمر المنى … والطير عاكفة على الأغصان

والشمس تنظر من محاجر أرمد … والظل يركض في النسيم الواني

فلثمت فاه والتزمت عناقه … ويد الوصال على قفا الهجران

وقال من قطعة:

وفي ساعدي حلو الشمائل مترف … لعوب بيأسي تارة ورجائي

أطارحه حلو العتاب وربّما … تغاضب فاسترضيته ببكائي

وفي لفظه من سورة الكأس فترةٌ … تمت على ألحاظه بولاء

وقد عابثته الراح حتى رمت به … لقي بين ثنيي بردتي وبردائي

على حاجة في النفس لو شئت نلتها … ولكن حمتني عفتي وحيائي

وقال:

لاح العذار فلاح عذري فيه … وسقى ومن عينيه ما يسقيه

كالغصن غازلت الصبا أعطافه … فتطاء لمحة ناظري تثنية

أطوي الهوى شحاً عليه ورقةً … والدهر ينشر منه ما أطويه

يجني فاضمر هجرة لا عن قلّي … والحب يغفر كلّ ما يجنيه

ولكم صددت فعارضتني سورة … من ورد وجنته وخمرة فيه

كم ليلة ضمّت عليه ساعدي … والمسك يأخذ منه ما يعطيه

وقال:

فلما تناهى الشوق واستحكم الهوى … وقيل فلان طاعة لفلان

ناي عن مكاني حين لا لي حيلة … وقد حلّ من قلبي بكل مكان

وقال:

أساكن قلبي والمقام كما ترى … لعلك تصغي ساعة فأقول

وكم أملوا لا بلغوا فيك خطة … وحاشاك منها والحديث يطول

منها:

وسد طريق اللحظ دمعٌ كأنما … تشحط من جفني فيه قتيل

وقال:

وكم معشر لاموا عليك رددتهم … وأكبادهم غيظاً عليّ تذوب

ومالوا إليّ رجم الظّنون وبيننا … إذا ما خلونا للعفاف رقيب

ولما بدت أشياء منك تريبني … وأكثر فيها مخطئ ومصيب

إذا عرّضوا أوليتهم فيك سكتةً … ويعرض دمعي دونهم فيجيب

وقال:

لما استمالك معشر لم أرضهم … والقول فيك كما علمت كثير

داريت دونك مهجتي فيما شكت … من بعد ما كادت إليك تطير

فاذهب فغير جوانحي لك منزلٌ … واسمع فغير وفائك المشكور

وقال:

وكيف وقد حلّ ذاك الحمى … وقد سلك الناس ذاك السبيلا

وقال:

وصنت وجه عفافي عهن تبدّله … حتى سلا القلب عنه وارعوي البصر
৫১- এবং উজির আবু আল-হাসান সালিহ ইবনে সালিহ আল-শাতামারি বলেছেন:

আমার এবং তোমার চারপাশে রয়েছে অনেক চোখ এবং কান … তোমার সাথে সাক্ষাতের সময় তাদের থেকে আমি প্রেম লুকিয়ে রাখি।

যদি লজ্জা না থাকত এবং আমার গোপন কথা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয় না থাকত … তবে তোমাকে দেখার সময় আমি অশ্রুর মালা ছড়িয়ে দিতাম।

এবং তিনি বলেছেন:

আমার কাছে যমানার রাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল সেই রাতটি … যাতে আমি পানপাত্রকে কর্মহীন রাখিনি।

তাতে আমি আমার চোখের পাতা এবং ঘুমের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছি … এবং কানের দুল ও নূপুরকে একত্র করেছি।

এবং তিনি বলেছেন:

আমি যাকে ভালোবাসি তার সৌন্দর্যের মাঝে এমন এক স্বভাব রয়েছে … যা চোখের পলকের তলোয়ার দ্বারা সুরক্ষিত এক মনোরম উদ্যান।

তার ঘাড় হলো শ্বেতপদ্ম, চোখ হলো নার্গিস ফুল … গাল হলো গোলাপ আর ঐ তিল হলো সুগন্ধি ফুল।

এবং তিনি বলেছেন:

আল্লাহর কসম, লজ্জা চেহারার ওপর যা করেছে … তা আমার ধৈর্য ধারণের কোনো পথ অবশিষ্ট রাখেনি।

সেখানে শুভ্রতা ছিল খাঁটি রুপার মতো … লজ্জা তা পরিবর্তন করে স্বর্ণমণ্ডিত রুপায় পরিণত করেছে।

এবং তিনি বলেছেন:

প্রিয়তম বিস্ময় প্রকাশ করল যে তার উপহার দেওয়া গোলাপ … আমার কাছে কত দীর্ঘ সময় সতেজ রইল।

সে জানে না যে আমার ঘরে সেটির স্থায়িত্বের কারণ হলো … আমার অশ্রুবিন্দু দিয়েই তাকে সেচন করা হয়।

৫২- এবং আবু আল-হাকাম আমর ইবনে মাজহিজ বলেছেন:

আমি দেখছি যমানা তোমাকে উচ্চমর্যাদায় অগ্রগণ্য করেছে … যদিও যমানা তোমাকে শেষ দিকে পূর্ণতা দিয়েছে।

দুনিয়া যদি শেষ পর্যন্ত তোমার জন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে থাকে … তবে জেনে রেখো রাতের শেষ ভাগেই ফজর উদ্ভাসিত হয়।

৫৩- এবং আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাযম বলেছেন:

তুমি কি আমার অশ্রু দেখে ঘাবড়ে যাচ্ছ, অথচ তুমিই তা প্রবাহিত করেছ? … এবং আমার অন্তরের আগুন দেখে, অথচ তোমার থেকেই তার শিখা?

আর তুমি দাবি করছ যে আমার মন অন্য কারো সাথে যুক্ত হয়েছে … অথচ তুমি ছাড়া আমার আর কোনো প্রিয় নেই।

যদি সূর্য আমার ওপর সান্ত্বনা নিয়ে উদিত হয় … তবে বিরহের প্রেম পাঁজরের হাড়ের নিচে তার শিখা জ্বালিয়ে দেয়।

এবং তিনি বলেছেন:

নিন্দুকেরা আমার পক্ষ থেকে তোমার কাছে সান্ত্বনার কথা বলে তোমাকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে … কিন্তু হায়! তা অনেক দূরের কথা।

তার মধ্য থেকে:

হ্যাঁ, ধৈর্যের বিরতি যখন আমাকে আচ্ছন্ন করে, তখন তোমাদের সাথে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতি আমাকে আন্দোলিত করে … তখন আমি পুনরায় প্রেমে ফিরে আসি।

এবং তিনি বলেছেন:

সকালের সামনে অন্ধকারের ঘোড়াসমূহ … আর দ্রুত ধাবমানতা তাদের পার্শ্বদেশগুলোকে সংকুচিত করেছে।

ভোর তাদের আঁচলগুলোকে রুপালি করেছে … আর তাদের কেশরগুলোকে স্বর্ণালি করে দিয়েছে।

তার মধ্য থেকে:

এবং আমাকে কবুতরগুলোর অকাল মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দিয়েছে … সেই কবুতরগুলো যারা তাদের সঙ্গীদের জন্য বিলাপ করছে।

এবং তিনি বলেছেন:

ওয়াদি আল-কুরা-তে কাটানো সেই দিনগুলো কতই না চমৎকার ছিল … যা আমাদের জীবন থেকে গত হয়েছে যখন যমানা ছিল বর্ণিল।

যখন তার ছায়ায় তুমি কামনার ফল পাড়তে … আর পাখিরা ডালপালার ওপর অবস্থান করত।

সূর্য যেন এক রুগ্ন চোখের কোটর থেকে তাকাচ্ছিল … আর ছায়া মৃদু বাতাসে দ্রুত ধাবিত হচ্ছিল।

তখন আমি তার মুখ চুম্বন করলাম এবং তাকে আলিঙ্গন করলাম … আর মিলনের হাত ছিল বিচ্ছেদের ঘাড়ের ওপর।

এবং একটি কবিতার অংশ থেকে তিনি বলেছেন:

আমার বাহুদ্বয়ের মাঝে ছিল মিষ্ট স্বভাবের এক বিলাসপ্রিয় জন … যে কখনো আমার নিরাশা আবার কখনো আশা নিয়ে খেলত।

আমি তার সাথে মিষ্টি অনুযোগ বিনিময় করতাম, আর কখনো সে রাগ করত … তখন আমি আমার কান্নার মাধ্যমে তাকে সন্তুষ্ট করতাম।

তার কথায় শরাবের পানপাত্রের আবেশের এক শিথিলতা ছিল … যা তার চোখের পলকে আনুগত্যের সাথে পূর্ণতা পেত।

মদ তার সাথে এমনভাবে খেলছিল যে শেষ পর্যন্ত সে … আমার চাদরের দুই ভাঁজের মাঝে নিক্ষিপ্ত হলো।

মনের এক বিশেষ প্রয়োজনে, আমি চাইলে তা পূর্ণ করতে পারতাম … কিন্তু আমার পবিত্রতা ও লজ্জা আমাকে বিরত রেখেছে।

এবং তিনি বলেছেন:

গালের দাড়ি প্রকাশ পেল, ফলে তার প্রতি আমার ওজরও প্রকাশ পেল … এবং সে তার দুই চোখ থেকে যা পান করানোর তা পান করাল।

সে যেন এক শাখা যার পাশ দিয়ে দক্ষিণা বাতাস বয়ে যাচ্ছে … ফলে আমার চোখের পলকে সে নুয়ে পড়ছে।

আমি তার প্রতি মমতা ও কার্পণ্যবশত আমার প্রেম লুকিয়ে রাখি … কিন্তু যমানা তা প্রকাশ করে দেয় যা আমি লুকিয়ে রাখি।

সে অপরাধ করে, তখন আমি তার থেকে দূরে থাকার সংকল্প করি—ঘৃণা থেকে নয় … আর ভালোবাসা তার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দেয়।

আমি কতবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি, কিন্তু তার গালের গোলাপ … আর তার মুখের সুরা আমাকে বাধা দিয়েছে।

কত রাত সে আমার বাহুবন্দি ছিল … আর কস্তুরী তার থেকে যা নিত তা তাকে ফিরিয়ে দিত।

এবং তিনি বলেছেন:

যখন আকাঙ্ক্ষা চরমে পৌঁছাল এবং প্রেম সুদৃঢ় হলো … আর বলা হলো অমুক অমুকের অনুগত।

সে আমার স্থান থেকে দূরে সরে গেল যখন আমার কোনো উপায় ছিল না … অথচ সে আমার হৃদয়ের প্রতিটি স্থানে স্থান করে নিয়েছে।

এবং তিনি বলেছেন:

হে আমার হৃদয়ের নিবাসী! বর্তমান অবস্থা তো তুমি দেখছই … সম্ভবত তুমি কিছুক্ষণ কর্ণপাত করবে যাতে আমি কিছু বলতে পারি।

অনেকেই তোমার ব্যাপারে হীন ষড়যন্ত্রের আশা করেছিল, তারা যেন তাতে সফল না হয় … তোমার থেকে তা অনেক দূরে এবং এ আলোচনা অনেক দীর্ঘ।

তার মধ্য থেকে:

চোখের দৃষ্টির পথ অশ্রু দ্বারা রুদ্ধ হয়ে গেছে যেন … তাতে আমার চোখের পাতা থেকে কোনো নিহত ব্যক্তি ছটফট করছে।

এবং তিনি বলেছেন:

কত দল তোমার ব্যাপারে আমাকে নিন্দা করেছে, আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি … অথচ আমার ওপর রাগে তাদের কলিজা গলে যাচ্ছিল।

তারা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে আমার দিকে ঝুঁকেছে, অথচ আমাদের নির্জনতায় … চারিত্রিক পবিত্রতার একজন পাহারাদার বিদ্যমান ছিল।

যখন তোমার পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পেল যা আমাকে সন্দিহান করে … এবং সে বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই ভুল বা সঠিক কথা বলছিল।

যখন তারা ইঙ্গিত করত, আমি তোমার ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করতাম … আর তাদের সামনে আমার অশ্রু প্রকাশ পেয়ে উত্তর দিত।

এবং তিনি বলেছেন:

যখন একদল লোক তোমাকে প্রলুব্ধ করল যাদের ওপর আমি সন্তুষ্ট নই … আর তোমার ব্যাপারে মানুষের কথা অনেক, যেমনটি তুমি জানো।

তোমার অগোচরে আমি আমার প্রাণের সাথে সেই অভিযোগ নিয়ে সদ্ভাব রেখেছি যা সে করেছে … তোমার কাছে উড়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ার পর।

সুতরাং তুমি চলে যাও, আমার পাঁজরের হাড় ছাড়া তোমার অন্য কোনো ঘর আছে … আর শোনো, তোমার প্রশংসিত আনুগত্য ছাড়া অন্য সব এখন অতীত।

এবং তিনি বলেছেন:

কীভাবে হবে, অথচ সেই চারণভূমি এখন উন্মুক্ত … এবং মানুষ সেই পথে চলতে শুরু করেছে।

এবং তিনি বলেছেন:

আমি আমার পবিত্রতার চেহারাকে পরিবর্তনের হাত থেকে রক্ষা করেছি … যতক্ষণ না অন্তর তা থেকে মুক্তি পেল এবং দৃষ্টি সংযত হলো।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
يا أملح الناس إلا ريبة عرضت … تكاد من ذكرها الأحشاء تنفطر

ومنها:

وباحث عن غرامي فيك قلت له … عنّي إليك فلا عينٌ ولا أثر

ويلي عليه وويلي من تبذله … وطالما صنته لو ساعد القدر

وقال:

وحاشاك أن تعزي إلى المجد خطة … تجشمه داءً وأنت طبيب

ولكن أبي إلا إليك التفاتةً … فؤاد عليه من هواك رقيب

وود وإن أخرتموه مقدم … وصدرٌ وإن أحرجتموه رحيب

منها:

يدير علينا السحر ملء جفونه … فكل بريءٍ عند ذاك مريب

وقال:

كالغصن غازلت الصبا أعطافه … نشوان يعبث بالنفوس وربما

وكأنما غمر الكرى أجفانه … فتضرجت وجناته منها دما

وكأنما لبس الملاحة حلةً … ولقد خجلت لقولتي فكأنما

فلئن هممت فغير مشدود الحمى … ولئن عففت فغير ممنوع اللحى

وقال:

عتاباً لحدّ السيف إلا بقيةً … عليك ولولاها لساءك ما يفري

وأعدته للدهر عدةً واثق … وألفيته سيفاً عليّ مع الدهر

وأرسلته سهماً سديداً على العدا … فأخطأهم عمداً وعاد إلى نحري

54- وقال أبو بكر يحيى بن بقي في أقلام:

ونكبت عن قومٍ مضوا وبودّهم … لو أن ثرى رجلي لأجفانهم كحل

وقال:

يزهي بها الطرس حسناً ما نثرت بها … مسك المداد على الكافور من ورقه

وقال:

سل بالعيون فتىً أصيب بها … مثلي لتعلم صحّة الأمر

هنّ السيوف من الردى طبعت … تبري القلوب وقلما تبري

وقال:

وتُيموا بعيون غير فاترة … من الأسنّة لم تهجع مع المقل

إلا تكن أعيناً نجلاً فإن لها … في أضلع القوم مثل الأعين النجل

وقال:

أتى به الدهر فرداً في فضائله … وفي الفرائد ما يربي على الجمل

بياض عرضي تحامى الذّم جانبه … ليس السواد بأبهى منه في المقل

وقال:

وعندي حشاشة ننفس في سبيل ردى … إن شئتها اليوم لم أمطل بها لغد

خذها وهات ولا تمزج فتفسدها … الماء في النار أصل غير مطرد

وقال: ولقد وصفت لعاذلي من حسنه=طرفاً فودّ بأنّه لم يعذل

وعصيته فيما مضى من عهدنا … وأنا الذي أعصيه في المستقبل

وقال:

كيف صبري على الكؤوس إذا ما … عثر الروض في ذيول النسيم

وبدا معصم الخليج فخطّت … فوقه الريح أسطراً من وشوم

منها في الحمر:

كرمت في حدائق غرسوها … لكرام فسميب بالكروم

وقال:

خذها على وجه الربيع المخصب … لم يقض حقّ الروض من لم يشرب

هممي سماء علاً وهممي ماردٌ … فأرجمه من تلك الكؤوس بكوكب

وقال:

عاطيته والليل يسحب ذيله … صهباء كالمسك الفتيق لناشق

وضممته ضم الكمي لسيفه … وذؤابتاه حمائل في عاتقي

حتى إذا مالت به سنة الكرى … زحزحته شيئاً وكان معانقي

باعدته عن أضلع تشتاقه … كي لا ينام على وساد خافق

55- وقال أبو الحسن بن هارون الشنتمري:

ذو لحظة إن لم تمكن في الحشا … رمحاً وإلا فهي في السيف

56- وقال المتوكل على الله بن المظفر:

فما بالهم لا أنعم الله بالهم … ينيطون بي ذمّاً وقد علموا فضلي

وقد كنت تشكيني إذا جئت شاكياً … فقل لي لمن أشكو صنيعك بي قل لي

وقال:

أنهض أبا طالب إلينا … واسقط سقوط الندى علينا

فنحن عقد بغير وسطى … ما لم تكن حاضراً لدينا

57- وقال الوزير أبو عبد الله بن عبد المجيد بن عبدون البايري:

وافاك من لفق الصباح تبسم … وإنجاب من غسق الظلام تجهم

منها:

بيني وبين الدهر يومٌ مثله … والبيض تشهد والقوافل تحكم

ومن المشاهد كالشهود مواضع … ومن الأسنّة ألسن تتكلم

منها:

ومحبّةٌ موروثةٌ مكسوبةٌ … بدئ الزمان بها ومنها يختم

منها:

وتعلمت منك الغمامة شيمة … تهمي وفيها للبروق تبسم

وقال:

إذا مرقوا من بطن ليل رقت بهم … إلى ظهر يوم عزمة هي ما هيا

ومنها:

همام أقام الحرب وهي قعيدةٌ … وروّى القنا منها وكانت صواديا

وقال:
হে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর, কেবল একটি সন্দেহ ব্যতীত যা উদিত হয়েছে … যার স্মরণে কলিজা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়।

তন্মধ্যে হতে:

এবং তোমার প্রতি আমার অনুরাগের অনুসন্ধানকারীকে আমি বললাম … আমার থেকে তোমার দিকে (ফিরে যাও), কেননা এখানে কোনো চিহ্ন বা হদিস নেই।

ধিক তার প্রতি এবং ধিক তার অবহেলার প্রতি … কতকাল আমি তাকে রক্ষা করেছি, যদি ভাগ্য সহায় হতো।

এবং তিনি বলেন:

আপনার শান এমন নয় যে আপনি শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি এমন কোনো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করবেন … যা তাকে ব্যাধিতে আক্রান্ত করবে, অথচ আপনিই চিকিৎসক।

কিন্তু এক হৃদয় তোমার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা ছাড়া অন্য কিছু অস্বীকার করেছে … যার ওপর তোমার ভালোবাসার একজন প্রহরী রয়েছে।

এবং এমন এক হৃদ্যতা যা আপনারা পিছিয়ে দিলেও তা অগ্রগামী … এবং এমন এক বক্ষ যা আপনারা সংকীর্ণ করলেও তা প্রশস্ত।

তন্মধ্যে হতে:

সে তার চোখের পাতা ভরে আমাদের ওপর জাদু বর্ষণ করে … তখন প্রত্যেক নির্দোষ ব্যক্তিও সন্দেহভাজন হয়ে পড়ে।

এবং তিনি বলেন:

ডালপালার মতো যার ভাঁজগুলোকে পুবালি বাতাস আদর করে … সে মাতাল হয়ে প্রাণের সাথে খেলা করে এবং সম্ভবত—

যেন তন্দ্রা তার চোখের পাতাগুলোকে আচ্ছন্ন করেছে … ফলে তার গালগুলো তন্দ্রার আবেশে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।

যেন সে লাবণ্যের এক পোশাক পরিধান করেছে … আমার একথার জন্য আমি লজ্জিত, যেন—

যদি আমি সংকল্প করি তবে তা কোনো সংরক্ষিত এলাকার মতো দুর্ভেদ্য নয় … আর যদি আমি পবিত্র থাকি তবে তা কোনো বাধা থাকার কারণে নয়।

এবং তিনি বলেন:

তরবারির ধারের প্রতি অভিযোগ, তবে তোমার ওপর এর কিছুটা অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে … যা না থাকলে তা যা ছিন্ন করত তা তোমাকে ব্যথিত করত।

এবং আমি তাকে মহাকালের জন্য এক ভরসার সরঞ্জাম হিসেবে প্রস্তুত করেছিলাম … কিন্তু আমি তাকে মহাকালের সাথে আমার বিরুদ্ধে এক তরবারি হিসেবে পেলাম।

এবং আমি তাকে শত্রুদের বিরুদ্ধে এক অব্যর্থ তীর হিসেবে নিক্ষেপ করেছিলাম … কিন্তু সে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো এবং আমার কণ্ঠনালীতে ফিরে এলো।

৫৪- এবং আবু বকর ইয়াহইয়া ইবন বাকি কলম সম্পর্কে বলেন:

আমি সেই জাতি থেকে বিমুখ হয়েছি যারা গত হয়েছে, অথচ তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল … যদি আমার পায়ের ধুলো তাদের চোখের সুরমা হতো।

এবং তিনি বলেন:

কাগজ তাতে সৌন্দর্য প্রকাশ করে যখন তুমি তাতে ছড়িয়ে দাও … পাতার কর্পূরের ওপর কালির কস্তুরী।

এবং তিনি বলেন:

চোখের মাধ্যমে এমন এক যুবকের কথা জিজ্ঞাসা করো যে তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে … আমার মতো, যাতে তুমি বিষয়ের সত্যতা জানতে পারো।

সেগুলো ধ্বংসের তরবারিসমূহ যা তৈরি করা হয়েছে … সেগুলো হৃদয়কে কর্তন করে কিন্তু খুব কমই আরোগ্য দেয়।

এবং তিনি বলেন:

এবং তারা নির্নিমেষ নয় এমন চোখের দ্বারা মোহিত হয়েছে … বর্শার ফলক থেকে যা চোখের মণির সাথে ঘুমায় না।

যদি সেগুলো ডাগর চোখ নাও হয়, তবে মানুষের পাঁজরের ভেতর … সেগুলোর প্রভাব ডাগর চোখের মতোই।

এবং তিনি বলেন:

মহাকাল তাকে তার গুণাবলীতে অনন্য হিসেবে নিয়ে এসেছে … আর একক মুক্তাগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যা সমষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে।

আমার সম্মানের শুভ্রতা নিন্দা থেকে রক্ষা পেয়েছে … চোখের মণির কালো অংশ এর চেয়ে অধিক উজ্জ্বল নয়।

এবং তিনি বলেন:

আর আমার কাছে প্রাণের শেষ বিন্দু অবশিষ্ট আছে যা বিনাশের পথে বিলিয়ে দিচ্ছি … যদি তুমি তা আজ চাও, তবে আমি তা আগামীকালের জন্য দেরি করব না।

তা গ্রহণ করো এবং দাও, আর মিশ্রণ করো না নতুবা তা নষ্ট করে ফেলবে … আগুনের মধ্যে জল মিশ্রিত হওয়া কোনো স্থায়ী নিয়ম নয়।

এবং তিনি বলেন: আমি আমার নিন্দাকারীর কাছে তার সৌন্দর্যের এক অংশ বর্ণনা করলাম, ফলে সে আকাঙ্ক্ষা করল যেন সে নিন্দা না করত।

এবং আমাদের অতীতের দিনগুলোতে আমি তার অবাধ্য হয়েছি … এবং ভবিষ্যতেও আমিই তার অবাধ্য হব।

এবং তিনি বলেন:

সুরাপাত্রের ওপর আমার ধৈর্য কেমন হবে যখন … বাগান মৃদু বাতাসের আঁচলে হোঁচট খাবে।

এবং নদীখাঁড়ির কবজি দৃশ্যমান হলো, আর বাতাস … তার ওপর উল্কির মতো রেখাসমূহ অঙ্কন করল।

সুরা সম্পর্কে তন্মধ্যে হতে:

সে সম্মানিতা হয়েছে এমন বাগানে যা তারা রোপণ করেছে … সম্মানিতদের জন্য, তাই তাকে আঙ্গুরলতা নামে অভিহিত করা হয়েছে।

এবং তিনি বলেন:

উর্বর বসন্তের আগমনে তা গ্রহণ করো … যে পান করেনি সে বাগানের হক আদায় করেনি।

আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা উচ্চতার আকাশ আর আমার সংকল্প এক বিদ্রোহী … তাই আমি তাকে সেই সুরাপাত্রের নক্ষত্র দিয়ে পাথর মারি।

এবং তিনি বলেন:

আমি তাকে সুরা পান করালাম যখন রাত তার আঁচল টানছিল … সুগন্ধি ছড়ানো কস্তুরীর মতো লোহিত সুরা ঘ্রাণ গ্রহণকারীর জন্য।

এবং আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম যেভাবে একজন বীর তার তরবারিকে জড়িয়ে ধরে … আর তার চুলের বেণীদ্বয় ছিল আমার কাঁধের ঝোলানো ফিতার মতো।

অবশেষে যখন তন্দ্রা তাকে জাপটে ধরল … তখন আমি তাকে সামান্য সরিয়ে দিলাম অথচ সে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছিল।

আমি তাকে সেই পাঁজরগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দিলাম যা তাকে পাওয়ার জন্য আকুল … যাতে সে স্পন্দিত হৃদয়ের বালিশে ঘুমিয়ে না পড়ে।

৫৫- এবং আবুল হাসান ইবন হারুন আল-শান্তামারি বলেন:

এমন এক দৃষ্টির অধিকারী যে যদি বক্ষে … বর্শা বিদ্ধ না করে তবে তা তরবারিতে পরিণত হয়।

৫৬- এবং আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ ইবনুল মুজাফফর বলেন:

তাদের কী হয়েছে—আল্লাহ তাদের অবস্থা শান্তিময় না করুন—তারা আমার সাথে নিন্দা জুড়ে দিচ্ছে অথচ তারা আমার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত।

আমি যখন অভিযোগ নিয়ে আসতাম তখন তুমি আমার অভিযোগ শুনতে … এখন বলো, তোমার এই আচরণের অভিযোগ আমি কার কাছে করব, বলো আমাকে।

এবং তিনি বলেন:

হে আবু তালিব, আমাদের দিকে উঠে এসো … আর শিশিরের পতনের মতো আমাদের ওপর ঝরে পড়ো।

আমরা মধ্যম মণিহীন এক হার … যতক্ষণ না তুমি আমাদের কাছে উপস্থিত থাকো।

৫৭- এবং উজির আবু আবদুল্লাহ ইবন আবদিল মাজিদ ইবন আবদুন আল-বায়িরি বলেন:

ভোরের আলো থেকে তোমার কাছে এক হাসি ফুটে উঠেছে … আর অন্ধকারের বিষণ্ণতা দূর হয়ে গেছে।

তন্মধ্যে হতে:

আমার এবং মহাকালের মধ্যে এমন একটি দিন রয়েছে … যেখানে উজ্জ্বল তরবারিসমূহ সাক্ষ্য দেয় এবং কাফেলাসমূহ বিচার করে।

আর সাক্ষীসমূহের মতো এমন কিছু স্থান রয়েছে … এবং বর্শার ফলকসমূহ থেকে এমন কিছু জিহ্বা আছে যা কথা বলে।

তন্মধ্যে হতে:

আর এমন এক ভালোবাসা যা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ও অর্জিত … যা দিয়ে মহাকালের শুরু হয়েছিল এবং যা দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে।

তন্মধ্যে হতে:

মেঘমালা তোমার থেকে এক স্বভাব শিখেছে … যা বর্ষিত হয় এবং যাতে বিজলির হাসি ফুটে ওঠে।

এবং তিনি বলেন:

যখন তারা রাতের পেট চিরে বেরিয়ে আসে, তখন তাদের নিয়ে উন্নীত হয় … দিনের পিঠের দিকে এমন এক সংকল্প যা অতুলনীয়।

তন্মধ্যে হতে:

এমন এক বীর যিনি যুদ্ধকে দাঁড় করিয়েছেন যখন তা বসে ছিল … এবং তিনি তার বর্শাগুলোকে তা থেকে তৃপ্ত করেছেন যখন সেগুলো তৃষ্ণার্ত ছিল।

এবং তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الصبح يبدي ربى نجد وإن صغرت … والليل يستر كثباناً على الكبر

58- وقال أبو جعفر بن عبد الله بن هريرة القيس الأعمى من قصيدة:

بنوا الهيجاء طاروا وغاها … وإن كانت حلومهم ثقالاً

إذا شهدوا القتال فسوف تدري … لأية علة شهدوا القتالا

ونعم النازلون على الروابي … إذا ما الشمس أحرقت الظلالا

منها:

عدا بي أن أزورك صرف دهر … ألح فما أطيق له احتيالا

وهم من همومي لو توخى … طريق الريح كان لها عقالا

وقال من قصيدة:

يا ربّ قد سفكت أو الوفاء دمي … وقد تخوفت يوماً أن تؤاخذ بي

وقد وهبت لها قلبي وما خطري … حتى يعاقب ذاك الحسن من سببي

وقال:

أعتبتم فعتبتم وأطعمتم … فعصيتم ووصلتم فهجرتم

ولقد علمتم أنني قد رمته … فضعفت عنه فافعلوا ما شئتم

أنتم مناي وفيتم أو خنتم … ولكم هواي دنوتم أو بنتم

وقال من قصيدة:

وسؤلت لي نفسي أن أفارقها … والماء في المزن أصفى من الغدر

منها:

كم ساهر يستطيل الليل من دنفٍ … لم يدر أن الكرى آت مع السحر

أما اشتفت مني الأيام في وطني … حتى تضايق في ما عن من وطري

59- وقال أبو بكر عبد العزيز سعيد البطليوسي:

فإذا سعدت بنظرة من وجهه … فاهد السلام لكفه تقبيلا

واذكر له شوقي ووجدي مجملاً … ولو استطعت شرحته تفصيلا

بتحيةٍ تُهدى إليه كأنما … جرّت على زهر الرياض ذبولا

منها:

لا أدركت تلك الأهلّة دهرها … نقصاً ولا تلك النجوم أفولا

وقال:

وأمنن به ضافي الجناح كأنما … حذيت قوادمه بريح شمأل

أعدو به عجباً أصرف في يدي … ريحاً وآخذ مطلقاً بمكبل

وقال:

وقد شقّ هدب الليل عن شملة الضحى … ببرق على ثوب الدجى منه تكتيب

كأن أهازيج الذباب أساقف … لها من أزاهير الرياض محاريب

وقال يشكو رمداً:

شاعركم كان زهيراً وقد … أصبح مما ناله الأغشى

يقرأ والشمس على رأسه … تنير (والليل إذا يغشى)

وقال:

ذكرت سليمي وحر الوغى … كجسمي ساعة فارقتها

فأبصرت بين القنا قدها … وقد ملن نحوي فعانقتها

60- وقال أبو بكر بن قزمان:

ركبوا السيول من الخيول وركبوا … فوق العوالي السمر زرق نطاف

وتحللوا الغدران من ماذيهم … مربحة إلا على الأكتاف

وقال:

لا تطمئن على أحد … واحذر وشمر واستعد

فالكل كلب مؤسد … إلا إذا وجدوا أسد

61- وقال أبو زيد عبد الرحمن بن مقانا الأشبوني:

خماص البطون مراض الجفون … أقمن الشعور مقام الردا

لدان القدود حسان الخدود … صغار النهود طوال الطلى

عذاب الثغور لطاف الخصور … خفاف الصدور ثقال الخطى

مشين الهوينا ووادي الخزامى … يود من البشر أن لو مشى

فمازلن يرفلن حتى إذا … عقدت لواء الهوى باللوى

منها:

وشمت سيوفك في جلّق … فشامت خراسان منها الحيا

وقال:

إن كان واديك نيلا لا يحاز به … فما لنا قد حرمنا النيل والنيلا

إن كان ذنبي خروجي من بلنسية … فما كفرت ولا بدلت تبديلا

هي المقادير تجري في أعنتها … ليقض الله كان مفعولا

وقال:

البرق لائح من أندرين … شرقت عيناك بالدمع المعين

لعبت أسيافه عارية … كمخاريق بأيدي اللاعبين

ولصوت الرعد زجر وحنين … ولقلبي زفراتٌ وأنين

عيّرتني بسقام وضني … إن هذين لزين العاشقين

منها:

شربوا الراح على خدّ فتى … نور الورد به والياسمين

منها:

لوت الصدغ على حاجبيه … ضمة اللام على عطفة نون

منها:

ويسقون إذا ما شربوا … بأباريق وكأس من معين

وكأن الطلّ مسك في الثرى … وكأن النور در في الغصون

والندى يفطر من نرجسه … كدموع أسبلتهن الجفون

وانبرى جنح الدجى عن أفقه … كغراب طار عن بيض كنين

وكأن الشمس لما أشرقت … فأثنت عنها عيون الناظرين
প্রভাত নজদ-এর টিলাসমূহকে প্রকাশ করে দেয় যদিও তা ক্ষুদ্র … আর রাত বিশালাকার বালিয়াড়িগুলোকে ঢেকে ফেলে।

৫৮- আবু জাফর বিন আবদুল্লাহ বিন হুরায়রা আল-কায়সী আল-আমা একটি قصيدة (দীর্ঘ কবিতা) থেকে বলেছেন:

রণাঙ্গনের বীরেরা যুদ্ধের ময়দানে উড়ে চলল … যদিও তাদের ধৈর্য ও গাম্ভীর্য ছিল সুদৃঢ়।

যখন তারা যুদ্ধে উপস্থিত হবে, তখন তুমি জানতে পারবে … ঠিক কোন কারণে তারা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।

কতই না উত্তম তারা যারা টিলাসমূহে অবতরণ করে … যখন সূর্য তার তাপে ছায়াসমূহকে দগ্ধ করে।

তার অংশবিশেষ:

কালের চড়াই-উৎরাই তোমাকে দর্শন করা থেকে আমাকে নিবৃত্ত রেখেছে … সে এতই পিছু লেগেছে যে, আমি কোনো কৌশল করতে পারছি না।

তারা আমার এমন সব চিন্তা, যা যদি বাতাসের পথও অনুসরণ করত … তবে তার চরণে তা বেড়ি হয়ে দাঁড়াত।

আরেকটি কবিতা থেকে তিনি বলেছেন:

হে আমার প্রতিপালক, পূর্ণ আনুগত্য আমার রক্ত ঝরিয়েছে … আর আমি একদিন ভয় পেয়েছিলাম যে, আমাকে নিয়ে লজ্জিত হতে হবে।

আমি তাকে আমার হৃদয় দান করেছি, তবে আমার এমন কী বা মর্যাদা … যে সেই সৌন্দর্যের অধিকারিণী আমার কারণে শাস্তি ভোগ করবে।

তিনি বলেছেন:

তোমরা ভর্ৎসনা করেছ, তাই আমি নতি স্বীকার করেছি; তোমরা তুষ্ট করেছ … এরপর তোমরা অবাধ্যতা করেছ; তোমরা সম্পর্ক গড়েছ, এরপর আবার বর্জন করেছ।

তোমরা নিশ্চয়ই জেনেছ যে আমি তা চেয়েছিলাম … কিন্তু আমি তাতে অক্ষম হয়ে পড়েছি, তাই তোমরা যা চাও তা-ই করো।

তোমরাই আমার আকাঙ্ক্ষা, তোমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করো কিংবা বিশ্বাসঘাতকতা করো … তোমাদের প্রতিই আমার ভালোবাসা, তোমরা কাছে থাকো বা দূরে সরে যাও।

আরেকটি কবিতা থেকে তিনি বলেছেন:

আমার আত্মা আমার নিকট আবেদন জানিয়েছে যেন আমি তাকে ত্যাগ করি … অথচ মেঘের নির্মল পানি গর্তের জমা পানির চেয়েও স্বচ্ছ।

তার অংশবিশেষ:

কত নির্ঘুম ব্যক্তি অসুস্থতার যন্ত্রণায় রাতকে দীর্ঘ মনে করে … সে জানেই না যে শেষ রাতে সুখনিদ্রা আসন্ন।

কালচক্র কি আমার স্বদেশে আমার ওপর তৃপ্ত হয়নি … যে অবশেষে আমার সব ইচ্ছা ও বাসনা সংকুচিত হয়ে পড়ল।

৫৯- আবু বকর আবদুল আজিজ সাইদ আল-বাতালইউসি বলেছেন:

যদি তুমি তার দর্শনে ধন্য হও … তবে চুম্বনের উদ্দেশ্যে তার হাতের প্রতি সালাম দিও।

তার কাছে আমার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও বিরহ সংক্ষেপে তুলে ধরো … যদি আমি সমর্থ হতাম, তবে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতাম।

এমন এক অভিবাদনের সাথে যা তাকে দেওয়া হয়, যেন তা … বাগানের প্রস্ফুটিত পুষ্পের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু বাতাস।

তার অংশবিশেষ:

সেই নতুন চাঁদগুলো যেন কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত না হয় … আর সেই নক্ষত্রসমূহ যেন কখনও অস্তমিত না হয়।

তিনি বলেছেন:

তাকে প্রশস্ত পাখা দিয়ে ধন্য করো যেন … তার অগ্রভাগ উত্তরীয় বাতাসের নাল পরিহিত।

আমি তাকে নিয়ে গর্বভরে দৌড়াচ্ছি, আমি আমার হাতে এক বাতাসকে পরিচালিত করছি … আর এক মুক্তোর বিনিময়ে এক আবদ্ধকে গ্রহণ করছি।

তিনি বলেছেন:

রাতের আঁধার প্রভাতের চাদর থেকে বিদীর্ণ হয়েছে … অন্ধকারের পোশাকের ওপর বিজলির লিখন দিয়ে।

যেন মাছিদের গুঞ্জন হলো ধর্মযাজক … যাদের জন্য বাগানের ফুলগুলো হচ্ছে পবিত্র উপাসনালয়।

চোখের পীড়া সম্পর্কে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন:

তোমাদের কবি ছিলেন জুহাইর, আর তিনি … যা প্রাপ্ত হয়েছেন তার কারণে অন্ধ হয়ে গেছেন।

তিনি পাঠ করছেন অথচ সূর্য তার মাথার ওপর … জ্যোতি দিচ্ছে (শপথ রাত্রির যখন তা আচ্ছন্ন হয়)।

তিনি বলেছেন:

যুদ্ধের প্রচণ্ড উত্তাপের মাঝে আমি সুলাইমাকে স্মরণ করেছি … যা ছিল তাকে বিদায় জানানোর মুহূর্তের আমার দেহের অবস্থার মতো।

বর্শার বনের মাঝে আমি তার অবয়ব দেখলাম … যখন বর্শাগুলো আমার দিকে ঝুঁকে পড়ল, তখন আমি তাদের আলিঙ্গন করলাম।

৬০- আবু বকর বিন কুজমান বলেছেন:

তারা অশ্বারূপী প্লাবনের ওপর সওয়ার হয়েছে এবং তারা … উন্নত বাদামী বর্শার ওপর নীল স্বচ্ছ পানি ধারণ করেছে।

তারা তাদের লৌহবর্মের মধ্যে জলাশয় তৈরি করেছে … যা কাঁধের ওপর ছাড়া সবখানেই লাভদায়ক।

তিনি বলেছেন:

কারও ওপর নিশ্চিন্ত হয়ো না … সতর্ক থাকো, তৎপর হও এবং প্রস্তুত থাকো।

কেননা সবাই এক এক শিকারি কুকুর … যতক্ষণ না তারা সিংহের দেখা পায়।

৬১- আবু জায়েদ আবদুর রহমান বিন মুকানা আল-আশবুনি বলেছেন:

ক্ষীণ উদর ও পরিশ্রান্ত আঁখি … তারা তাদের কেশরাশিকে চাদরের বিকল্প করেছে।

কোমল দেহ ও লাবণ্যময় গাল … ক্ষুদ্র উন্নত স্তন ও দীর্ঘ গ্রীবা।

সুমিষ্ট অধর ও সূক্ষ্ম কটি … হালকা বক্ষ ও ভারী পদবিক্ষেপ।

তারা অতি ধীরে হেঁটে চলল, আর ল্যাভেন্ডার উপত্যকা … কোনো মানুষ হয়ে তাদের সাথে হাঁটার আকাঙ্ক্ষা করল।

তারা এভাবেই আনন্দচিত্তে চলতে থাকল, যতক্ষণ না … আমি প্রান্তরের বাঁকে প্রেমের পতাকা উড্ডীন করলাম।

তার অংশবিশেষ:

তুমি দামেস্কে তোমার তলোয়ারসমূহ কোষবদ্ধ করেছ … ফলে খোরাসান তার থেকে বৃষ্টির সজীবতা অনুভব করেছে।

তিনি বলেছেন:

যদি তোমার উপত্যকা এমন এক নীল নদ হয় যার নাগাল পাওয়া যায় না … তবে কেন আমরা নীল নদ ও তার দান থেকে বঞ্চিত হলাম?

ভ্যালেন্সিয়া থেকে আমার বহির্গমন যদি আমার অপরাধ হয় … তবে আমি সত্য অস্বীকার করিনি এবং কোনো নীতিও পরিবর্তন করিনি।

এগুলো হলো তাকদির যা তার আপন গতিতে চলে … যাতে আল্লাহ যা ফয়সালা করে রেখেছেন তা বাস্তবায়িত হয়।

তিনি বলেছেন:

আন্দারিন থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে … তোমার দু’চোখ অঝোর অশ্রুধারায় সিক্ত হয়েছে।

তার উন্মুক্ত তলোয়ারগুলো এমনভাবে খেলা করছে … যেন খেলোয়াড়দের হাতের জাদুর লাঠি।

বজ্রধ্বনির মাঝে রয়েছে গর্জন ও হাহাকার … আর আমার হৃদয়ে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস ও আর্তনাদ।

তুমি আমাকে রোগ ও জীর্ণতার জন্য তিরস্কার করেছ … অথচ এ দু’টি তো প্রকৃত প্রেমিকের অলঙ্কার।

তার অংশবিশেষ:

তারা এক যুবকের গণ্ডদেশের পাশে সুরা পান করেছে … যাতে গোলাপ ও জেসমিনের শুভ্রতা বিকশিত হয়েছে।

তার অংশবিশেষ:

সে তার ভ্রুর ওপর অলকগুচ্ছকে এমনভাবে পেঁচিয়ে দিয়েছে … যেমন ‘লাম’ অক্ষরের বাঁক ‘নুন’ অক্ষরের ওপর যুক্ত হয়।

তার অংশবিশেষ:

যখন তারা পান করে তখন তাদের পান করানো হয় … কুঁজো এবং সুপেয় ঝর্ণার পানপাত্র দিয়ে।

যেন মাটির ওপর শিশিরবিন্দু হলো মিশক … আর যেন বৃক্ষশাখায় ফুলগুলো হলো মুক্তা।

নার্গিস ফুল থেকে শিশির ঝরছে … যেন চোখের পাতা থেকে গড়িয়ে পড়া অশ্রুমালা।

অন্ধকারের পাখা তার দিগন্ত থেকে গুটিয়ে গেল … যেন সুরক্ষিত ডিমের আড়াল থেকে একটি দাঁড়কাক উড়ে গেল।

আর সূর্য যখন উদিত হলো … তখন দর্শকদের চোখ তার প্রখরতায় বিমুখ হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وجه إدريس بن يحيى بن علي … بن حمود أمير المؤمنين

حط بالمسك على أبوابه … أدخلوها بسلام آمنين

ملك ذو هيبة لكنّه … خاشع لله رب العالمين

وإذا أشكل خطب معضل … صدع الشك بمصباح اليقين

وإذا راهن في السبق أني … وبيمناه لواء السابقين

يا بني أحمد خير الورى … لأبيكم كان وفد المسلمين

نزل الوحي عليه فاحتبى … في الدجى فوقهم الروح الأمين

خلقوا من ماء عدل وتقي … وجميع الماس من ماء وطين

انظرونا نقتبس من نوركم … إنه من نور رب العالمين

62=وقال أبو عبد الله محمد بن البين:

ولما تولت بالجمال جمالهم … تولى جميل الصبر يوم تولت

بوادي الكرى لاقيتها وهي عاطل … فأرسلت درّ العين حتى تجلت

وقال:

غصبوا الصباح فقسموه حدودا … واستوهبوا قضب الأراك قدودا

ورأوا حصى الياقوت دون محلهم … فاستبدلوا منه النجوم عقودا

واستودعوا حدق المها أجفانهم … فسبوا بهن ضراغما وأسوادا

لم يكف أن خلفوا الأسنة والظبا … حتى استعاموا أعيناً وخدودا

وتضافروا بضفائر أبدوا لنا … ضوء النار بليله معقودا

صاغوا الثغور من الأقاحي بيناه … ماء الحياة لو اغتدى مورودا

63- وقال أبو محمد بن هود:

ضللتم جميعاً يآل هود عن الهدى … وضيعتم الرأي الموقق أجمعا

وإن طلعت تلك البدور أهلّةً … فلم يبق إلا أن أغيب وأطلعا

فلا تقطعوا الأسباب بيني وبينكم … فأنفكم منكم وإن كان أجدعا

وقال:

تركت محلّي جنّةً فوجدتها … على كل أيدي الحادثات جهنما

لتصنع بي الأيام ما شئن آخرا … فما صنعت بي أولاً كان أعظما

64- وقال أبو عمر بن فتح بن برلوصة:

إن ابن برد لفتى ماجد … ونفسه بالجود مفتونة

مددت كفى نحو بلوطة … فقال: دعها وخذ التينة

65- وقال أبو عمر يوسف بن كوثر الشنتريني:

إلا لا يفند عاشقاً من له ذهن … فو الله لولا العشق ما عرف الحسن

66- وقال أبو الوليد المعروف بالنحلي:

راقت محاسنها ورقّ أديمها … فتكاد تبصر باطناً من ظاهر

وتمايلت كالغصن في ورق النقا … تلتف في ورق الشباب الناضر

يندى بماء الورد مسبل ثغرها … كالطل يسقط من جناح الطائر

تزهى برونق حسنها وجمالها … زهو المؤيد بالثناء العاطر

ملك تضاءلت الملوك لقدره … وعنا له صرف الزمان الجائر

وإذا لمحت جبينه ويمينه … أبصرت بدراً فوق بحر زاخر

67- وقال أبو بكر محمد بن سوار الأشبوني:

سريت وأصحابي يميلهم الكرى … فهم منه في سكر وما بهم سكر

وأفردت سهماً واحداً في كنانة … من الحرب لا يخشى على مثله الكسر

وكنت عهدت الحرب مكراً وخدعة … ولكن مع المقدور مالا مرئ مكر

فطاعنتهم حتى تحطمت القنا … وضاربتهم حتى تكسرت البتر

وقال:

فضاقت عليّ الأرض حتى كأنها … بما رحبت ما كان في طولها شبر

وقال:

بانوا وروحي عندهم وحشاشبي … فتظن أنهم مضوا وبقيت

هذا فؤادي إن وجدتم غيرها … في طيها فالنار والكبريت

منها:

ولقد حملت من الوقار سكينة … لم يحتملها قبلك التابوت

وقال:

أنتم الأحباب في حكم الهوى … فارفقوا لا تفعلوا فعل الأعادي

تكمن الشحناء في أحشائهم … ككمون الجمر في جوف الرماد

منها:

وعفاف واعتكاف وتقىً … ووفاء وعطاء وأيادي

وقال:

بدت الغزالة والعزالة وجهها … وتكلمت فسمعت ظبياً يبغم

جالستها وتبسمت فظننتها … عن مثل ما في نحرها تتبسم

فتشابهت منها الثلاثة أضرب … عق وثغر طيب وتكلم

ومضت تجر وراءها شعراً كما … أعطاك خافية الغراب الأسحم

يمحو مواقع خطوها فكأنه … يخيفه عن عين الرقيب ويكتم

والمسك فوق الترب من أردانها … خطٌ كما رقم الرداء المعلم

هلاّ التقينا حيث تنتثر الظبا … والهام تسقط والقنا تتحطم
ইদরিস ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলী … ইবনে হাম্মুদ আমিরুল মুমিনিনের চেহারা

তাঁর দ্বারে কস্তুরি ছিটানো হয়েছে … তোমরা শান্তিতে ও নিরাপদে এতে প্রবেশ করো

তিনি এক প্রভাবশালী প্রতাপশালী বাদশাহ কিন্তু … বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট তিনি বিনীত

যখন কোনো কঠিন সংকট উপস্থিত হয় … তখন তিনি একীনের প্রদীপ দিয়ে সন্দেহের প্রাচীর চূর্ণ করেন

যদি তিনি শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন … তবে তাঁর ডান হাতে থাকে অগ্রগামীদের বিজয় নিশান

হে আহমাদ (সা.)-এর বংশধরগণ, যিনি সৃষ্টির সেরা … মুসলিমদের প্রতিনিধিদল তোমাদের পিতার নিকট উপস্থিত হয়েছিল

তাঁর ওপর ওহি নাজিল হয়েছিল এবং তিনি জাঁকজমকপূর্ণভাবে উপবেশন করেছিলেন … অন্ধকারের মাঝে তাদের ওপর ছিলেন রুহুল আমিন (জিবরাইল)

তাঁরা ইনসাফ ও তাকওয়ার নির্যাস থেকে সৃষ্ট … আর সমস্ত মানুষ পানি ও মাটি থেকে সৃষ্ট

আমাদের প্রতি তাকাও যেন আমরা তোমাদের নূর থেকে কিছু গ্রহণ করতে পারি … নিশ্চয় তা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নূর থেকে প্রাপ্ত

৬২= এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-বাইয়িন বলেছেন:

যখন তাদের উটগুলো সৌন্দর্য নিয়ে চলে গেল … তখন সে চলে যাওয়ার দিনে সুন্দর ধৈর্যও বিদায় নিল

ঘুমের উপত্যকায় আমি তাঁর সাথে দেখা করলাম যখন তিনি অলঙ্কারহীন ছিলেন … তখন আমি চোখের মণি থেকে অশ্রু বিসর্জন দিলাম যতক্ষণ না তিনি প্রকাশিত হলেন

এবং তিনি বললেন:

তারা প্রভাতকে ছিনিয়ে নিয়েছে এবং তাকে গাল হিসেবে ভাগ করে নিয়েছে … এবং তারা আরাক বৃক্ষের ডালকে দেহের গড়ন হিসেবে ধার নিয়েছে

তারা ইয়াকুত পাথরকে তাদের মর্যাদার নিচে দেখেছে … তাই তারা তার বদলে নক্ষত্রপুঞ্জকে হারের লকেট হিসেবে গ্রহণ করেছে

তারা হরিণীর চক্ষুকে তাদের চোখের পাতায় আমানত রেখেছে … আর তা দিয়ে তারা সিংহদের বন্দি করেছে

এটাই যথেষ্ট ছিল না যে তারা বল্লম ও তরবারি পেছনে ফেলে এসেছে … এমনকি তারা চোখ ও গাল দিয়ে দাস বানিয়ে নিয়েছে

তারা বেনী দিয়ে সুসংহত হয়েছে যা আমাদের নিকট প্রকাশ করেছে … আগুনের আলো যা রাতের আঁধারে আবদ্ধ

তারা তাদের দাঁতগুলোকে ডেইজি ফুল দিয়ে তৈরি করেছে … যাতে জীবনের জল রয়েছে যদি কেউ তা পান করতে আসত

৬৩- এবং আবু মুহাম্মদ বিন হুদ বলেছেন:

হে হুদের বংশধরগণ, তোমরা সকলেই হিদায়াত থেকে বিচ্যুত হয়েছ … এবং তোমরা সকলেই সঠিক সিদ্ধান্তকে নষ্ট করেছ

যদি সেই পূর্ণিমা চাঁদগুলো বাঁকা চাঁদ হয়ে উদিত হয় … তবে আমার ডুবে যাওয়া ও উদিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই

আমার ও তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন করো না … কারণ নাক তোমাদের শরীরেরই অংশ যদিও তা কর্তিত হয়

এবং তিনি বললেন:

আমি আমার ঘরকে জান্নাত হিসেবে রেখে গিয়েছিলাম কিন্তু একে পেয়েছি … কালের বিবর্তনের কবলে পড়ে তা জাহান্নামে পরিণত হয়েছে

দিনগুলো পরবর্তীতে আমার সাথে যা ইচ্ছা তা-ই করুক … কারণ শুরুতে আমার সাথে যা করেছে তা ছিল আরও ভয়াবহ

৬৪- এবং আবু উমর বিন ফাতহ বিন বারলুসা বলেছেন:

নিশ্চয়ই ইবনুল বারদ একজন মহান যুবক … এবং তার আত্মা দানশীলতায় মোহগ্রস্ত

আমি বাল্লুতা এর দিকে হাত বাড়িয়েছিলাম … তিনি বললেন: এটি ছাড়ো এবং ডুমুর গ্রহণ করো

৬৫- এবং আবু উমর ইউসুফ বিন কাওসার আল-শান্তারিনি বলেছেন:

সাবধান, যার বিবেক আছে সে যেন কোনো প্রেমিককে তিরস্কার না করে … কারণ আল্লাহর কসম, প্রেম না থাকলে সৌন্দর্য চেনা যেত না

৬৬- এবং আন-নাহলি নামে পরিচিত আবু আল-ওয়ালিদ বলেছেন:

তাঁর রূপ লাবণ্য চমৎকার এবং তাঁর গায়ের চামড়া অতি পাতলা … যে তাঁর বাহির দেখে ভেতরটাও প্রায় দেখা যায়

তিনি বালুর ঢিবির পাতার মাঝে ডালপালার মতো দুলছিলেন … সতেজ যৌবনের পাতায় মোড়ানো অবস্থায়

তাঁর ঝুলে পড়া ওষ্ঠাধর গোলাপ জলে সিক্ত হয় … যেন পাখির ডানা থেকে ঝরে পড়া শিশির বিন্দু

তিনি তাঁর রূপের দীপ্তি ও সৌন্দর্যে গর্বিত হন … যেমন সুগন্ধি প্রশংসায় পুষ্ট কোনো ব্যক্তি গর্ব করে

এমন এক বাদশাহ যার মর্যাদার কাছে অন্য বাদশাহরা তুচ্ছ … এবং অত্যাচারী সময়ের আবর্তন তাঁর সামনে নত হয়েছে

আপনি যখন তাঁর কপাল ও ডান হাতের দিকে তাকাবেন … তখন উত্তাল সমুদ্রের ওপর পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পাবেন

৬৭- এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন সাওয়ার আল-আশবউনি বলেছেন:

আমি রাতের বেলা পথ চলেছি যখন আমার সঙ্গীরা ঘুমে ঢলে পড়ছিল … তারা ঘুমের ঘোরে মাতাল ছিল অথচ তারা মদ্যপ ছিল না

আমি তূণীরে যুদ্ধের জন্য একটি মাত্র তীর রেখেছিলাম … যার ভাঙার কোনো ভয় ছিল না

আমি যুদ্ধকে জানতাম কৌশল ও প্রতারণা হিসেবে … কিন্তু তকদিরের সামনে মানুষের কোনো কৌশল চলে না

আমি তাদের বল্লম দিয়ে আঘাত করেছি যতক্ষণ না তা চূর্ণ হয়েছে … এবং তাদের তলোয়ার দিয়ে আঘাত করেছি যতক্ষণ না তা ভেঙেছে

এবং তিনি বললেন:

পৃথিবী আমার ওপর সংকীর্ণ হয়ে গেল এমনকি মনে হচ্ছিল … এটি প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও এর দৈর্ঘ্য এক বিঘতও ছিল না

এবং তিনি বললেন:

তারা চলে গেল অথচ আমার আত্মা ও শেষ নিঃশ্বাস তাদের কাছে … তাই তোমরা ভাবছ তারা চলে গেছে আর আমি অবশিষ্ট আছি

এটিই আমার হৃদয়, যদি এর ভাঁজে তোমরা অন্য কাউকে পাও … তবে সেখানে আগুন ও গন্ধক রয়েছে

সেখান থেকে:

এবং আপনি গাম্ভীর্যের এমন প্রশান্তি বহন করেছেন … যা আপনার আগে পবিত্র সিন্দুক (তাবুত) বহন করতে পারেনি

এবং তিনি বললেন:

প্রেমের বিধানে তোমরাই প্রিয়জন … তাই সদয় হও, শত্রুদের মতো আচরণ করো না

তাদের অন্তরে শত্রুতা লুকিয়ে থাকে … যেমন ছাইয়ের ভেতরে জলন্ত কয়লা লুকিয়ে থাকে

সেখান থেকে:

আর পবিত্রতা, ইতিকাফ ও তাকওয়া … এবং আনুগত্য, দান ও হাতসমূহ (অনুগ্রহ)

এবং তিনি বললেন:

সূর্য উদিত হলো আর সূর্যই ছিল তাঁর চেহারা … এবং তিনি কথা বললেন তখন আমি হরিণ শাবকের ডাক শুনতে পেলাম

আমি তাঁর সাথে বসলাম এবং তিনি মুচকি হাসলেন তখন আমি ভাবলাম … তাঁর গলায় যা আছে তেমন কিছুর জন্যই তিনি হাসছেন

তাঁর তিনটি জিনিস একই রকম হয়ে গেল … লাল পাথর (অধরোষ্ঠ), সুগন্ধি মুখ এবং কথা

তিনি চলে গেলেন এবং তাঁর পেছনে চুলগুলো এমনভাবে লুটোপুটি খাচ্ছিল যেমন … কালো কাকের ডানা তোমার ওপর ছায়া ফেলে

তা তাঁর পায়ের চিহ্নের স্থানগুলো মুছে দিচ্ছিল যেন … তা পাহারাদারের চোখ থেকে ভয় পাচ্ছিল এবং গোপন করছিল

তাঁর হাতা থেকে ঝরে পড়া কস্তুরি মাটির ওপর এমন দাগ কাটছিল … যেন তা কোনো নকশা করা চাদরের কারুকাজ

হায়! আমরা যদি সেখানে দেখা করতাম যেখানে তলোয়ারগুলো বিক্ষিপ্ত থাকে … মস্তকগুলো ভূপাতিত হয় এবং বল্লমগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والجو أدكن بالغبار قميصه … والجيش أرعن والخميس عرمرم

وكأن كل كمي حرب ماردٌ … تهدي إليه من الأسنة أنجم

ومدربين على الطعان لقيتهم … وكأنهم في الشمس ليلٌ مظلم

لبسوا جلود الرقم واعتقلوا القنا … فرأيت كيف يجرأ رقم أرقم

حتى علوناهم بكل مهند … يبكي فتحسبه لهم يترحم

ذو خطبة في الهام يسمع صوتها … في كل قطر وهو لا يتكلم

منها:

رد التحية مثل ودي غضّة … إني عليك مع النسيم مسلم

ولقد كتبت وأدمعي منهلة … والقلب فيه جذوة تتضرم

أمن السوية أن أكون كما أنا … فيفوز غيري بالنعيم وأحرم

وقال:

إلى ضوء ذاك البارق المتعالي … حننت وجنت أينقي وجمالي

تألق مدحي عارضاً مثل أدمعي … ويحكي فؤادي خفقه المتوالي

ولولا شمالي في زمام شملة … لطارت إليه في صبا وشمال

منها:

هم بعثوا طيف الخيال الذي سرى … فعانق جسماً مثل طيف خيال

فيا دارهم بالحزن حزني مجدد … عليك وقلبي ليس عنك بسالي

منها:

وأبيض هندي كأن بحده … مطار ذباب أو محدب نمال

جرى فوقه ماء الفرند وتحته … وجال على متنيه كل مجال

وقد أظهرت فيه المنايا نفوسها … كما خوضت لجّ السراب سعالي

منها:

إليك رمتنا العيس حتى كأنها … من الوهن أقواس رمت بنبال

وقال:

والقرط كالقلب من خوف ومن حذر … كأنه هو في خوف وتعذيب

ولا انتهت إلى أطناب قبتها … إلا على ظهر مطعون ومضروب

بأبيض بدم الأجساد مغتسل … وأسمر بدم الأكباد مخضوب

والطبع أكرم في تركيب خلقته … من أن أكون محباً غير محبوب

إن كنت يا دهر لم تحسن معاشرتي … فيما مضى فلقد أحسنت تأديبي

وقال:

رعى الله فيكم ذمّة المجد والعلا … فلا خلق أرعى منهم لذمام

وقال:

حطوا عن الأكوار قد مات الذي … يتحمل الأعباء وهي ثقال

وتهدّم الجبل المنيف فزلزلت … رتب العلا ومن الرجال رجال

وقال:

سوداء أشرق نجمها فلو أنني … أجري على فلك لكنت هلالها

منها:

يمشون فوق الأرض تحت حلومهم … فتخالهم أوتادها وجبالها

لولاهم لتحركت حيتانها … من وجفة ولزلزلت زلزالها

وقال:

قامت تقبلني فقلت لها امسكي … عني لأني لا أقارب راحا

فمضت وقد أخجلتها فتبسمت … فرأيت في أرض العقيق أقاحا

وقال:

تكلفني نظم النجوم قلائداً … لعمري لقد كلفتني مرتقى صعباً

منها:

موقق آراء القضاء كأنما … بصيرته في الغيب يخترق الحجبا

إذا اكتسب الناس الدنانير عدّة فأحمد لا يرضى بغير العلا كبسا

وقال:

ورزيه نزلت بآل محمد خصت … وعمت آل دين محمد

وقال:

الصبر أجمل عند كل ملمة … لكن على فقديمها لم يجمل

قمران غيب بالكسوف سناهما … لا تخسف الأقمار إن لم تكمل

من قاصين موفقين كأنما … هذا شريح في القضاء وذا علي

وروية من حكمة وقضية … من فطنة وبديهة من منصل

68- وقال أبو محمد عبد الله بن صارة:

وحرمت منلك بغير ما أملته … أشقى البرية عاشقٌ محروم

وقال:

لم تطوك الأيام عني إنما … نقلتك من عيني إلى أضلاعي

وقال:

لا غرو إن جرح التوهم خده … فالسحر يفعل في البعيد النازح

وقال:

أهد الثناء إلى زمان مشرق … أهدي إليك شقائق النعمان

قامت فرادى فوق سوق زبرجد … صيغت عليه جمائم العقيان

يهفو بها مر النسيم كأنها … حمر البنود نشرن في الميدان

وقال:

وحديقة في نرجس وبهار … رفعت لواء الحسن للنظار

فكأنما هذا ضحى متهلل … وكأنما هذا أصيل نهار

شربا سلاف القطر حتى عربدا … وتراجما بكواكب الأزهار

وقال:

أيا من جارت العلياء فيه … فما تدري له العلياء كنها

بجيد الليل منا عقد أنس … أقام بغير واسطة فكنها

وقال:

وأطوي طول ليلي ذكر ليلى … ولا أقرأ على سلمي السلاما

وقال:
আকাশ ধুলিকণায় ধূসরিত তার জামায় … আর বাহিনীটি বিশাল এবং সৈন্যদল সুসজ্জিত।

যেন যুদ্ধের প্রতিটি বীর এক একজন অবাধ্য দানব … যাদের দিকে বর্শার ফলকগুলো নক্ষত্রের মতো ধাবিত হচ্ছে।

বর্শা চালনায় পারদর্শী এমন এক দলের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো … সূর্যের আলোতেও তারা যেন এক অন্ধকার রাত।

তারা চিতাবাঘের চামড়া পরিধান করেছে এবং বর্শা ধারণ করেছে … আমি দেখলাম কীভাবে এক চিতাবাঘ অন্যটির ওপর চড়াও হয়।

অবশেষে আমরা ধারালো তলোয়ার নিয়ে তাদের ওপর বিজয়ী হলাম … যা রোদন করছে, অথচ তুমি মনে করবে সেটি তাদের ওপর দয়া করছে।

মাথার খুলির ওপর যার ভাষণ শোনা যায় … প্রতিটি প্রান্তে, অথচ সে নিজে কথা বলে না।

সেখান থেকে:

আমার ভালোবাসার মতোই সতেজ অভিবাদনের উত্তর দাও … আমি মৃদু বাতাসের সাথে তোমার প্রতি সালাম পাঠাচ্ছি।

আমি লিখেছি যখন আমার অশ্রু ছিল বিগলিত … আর হৃদয়ে জ্বলছিল আগুনের শিখা।

এটা কি ন্যায়বিচার যে আমি যেমন আছি তেমনই থাকব … অথচ অন্যরা নেয়ামত লাভ করবে আর আমি বঞ্চিত হব?

এবং তিনি বলেছেন:

সেই সুউচ্চ বিদ্যুতের আলোর পানে … আমি ব্যাকুল হলাম এবং আমার উষ্ট্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়ল।

আমার প্রশংসা মেঘের মতো উদ্ভাসিত হলো আমার অশ্রুর ন্যায় … এবং আমার হৃদয় তার ক্রমাগত স্পন্দন বর্ণনা করছে।

যদি আমার বাম হাত চাদরের আঁচলে না থাকত … তবে তা পুবালি ও উত্তুরে বাতাসের সাথে সেদিকে উড়ে যেত।

সেখান থেকে:

তারা সেই কল্পিত ছায়া পাঠিয়েছে যা রাতে বিচরণ করে … ফলে তা এমন এক দেহকে আলিঙ্গন করল যা নিজেও কল্পিত ছায়ার মতো।

হে তাদের গৃহ, তোমার শোকে আমার শোক নতুন করে জেগেছে … তোমার প্রতি, আর আমার হৃদয় তোমাকে ভুলে থাকার নয়।

সেখান থেকে:

এবং এমন এক সাদা ভারতীয় তলোয়ার যার ধারে মনে হয় … মাছির উড্ডয়ন ক্ষেত্র অথবা পিঁপড়াদের পিঠের কুঁজ।

তার ওপর তলোয়ারের উজ্জ্বলতা খেলা করে এবং তার নিচেও … তার পিঠের ওপর সবদিকে তা বিচরণ করে।

মৃত্যু তার মধ্যে নিজের সত্তা প্রকাশ করেছে … যেমন মরুভূমির মরীচিকায় নেকড়েরা বিচরণ করে।

সেখান থেকে:

তোমার দিকে সাদা উটগুলো আমাদের নিয়ে ছুটেছে, যেন তারা … দুর্বলতার কারণে এমন ধনুক যা তীর নিক্ষেপ করছে।

এবং তিনি বলেছেন:

কানের দুলটি ভয় ও সতর্কতায় হৃদয়ের মতো … যেন সে নিজেও ভয় ও যন্ত্রণার মধ্যে আছে।

তার তাঁবুর রশির কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি … আহত বা প্রহৃত ব্যক্তির পিঠে সওয়ার হওয়া ছাড়া।

এমন সাদা তলোয়ার দিয়ে যা দেহের রক্তে স্নান করেছে … এবং এমন বাদামী বর্শা যা কলিজার রক্তে রঞ্জিত।

আমার স্বভাব তার সৃষ্টিগত গঠনে এর চেয়েও সম্মানজনক … যে আমি এমন এক প্রেমিক হব যাকে ভালোবাসা হয় না।

হে মহাকাল, অতীতে যদি তুমি আমার সাথে ভালো আচরণ না-ও করে থাকো … তবে তুমি আমাকে চমৎকার শিক্ষা দিয়েছ।

এবং তিনি বলেছেন:

আল্লাহ তোমাদের মাঝে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন … কেননা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো সৃষ্টি নেই।

এবং তিনি বলেছেন:

উটের পিঠ থেকে হাওদা নামিয়ে ফেলো, কারণ তিনি মারা গেছেন … যিনি ভারী বোঝাগুলো বহন করতেন।

সুউচ্চ পাহাড়টি ধসে পড়েছে, ফলে উচ্চ মর্যাদাগুলো প্রকম্পিত হয়েছে … আর পুরুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পুরুষ বিদায় নিয়েছেন।

এবং তিনি বলেছেন:

এক কৃষ্ণাঙ্গী যার নক্ষত্র উদ্ভাসিত হয়েছে, যদি আমি … কোনো কক্ষপথে বিচরণ করতাম, তবে আমি হতাম তার অর্ধচন্দ্র।

সেখান থেকে:

তারা তাদের গাম্ভীর্য নিয়ে পৃথিবীর ওপর হাঁটে … তখন তুমি তাদের পৃথিবীর পেরেক ও পাহাড় মনে করবে।

তারা না থাকলে কম্পনের ফলে পৃথিবীর মাছগুলো নড়ে উঠত … এবং পৃথিবী প্রবলভাবে প্রকম্পিত হতো।

এবং তিনি বলেছেন:

সে আমাকে চুম্বন করতে এগিয়ে এল, তখন আমি তাকে বললাম বিরত থাকো … আমার থেকে, কারণ আমি মদের কাছে যাই না।

সে চলে গেল আর আমি তাকে লজ্জিত করলাম, তখন সে মৃদু হাসল … ফলে আমি আকিক পাথরের ভূমিতে সাদা ফুল দেখতে পেলাম।

এবং তিনি বলেছেন:

তুমি আমাকে নক্ষত্র দিয়ে মালা গাঁথার দায়িত্ব দিচ্ছ … আমার জীবনের কসম, তুমি আমাকে এক কঠিন চড়াইয়ের দায়িত্ব দিয়েছ।

সেখান থেকে:

বিচারিক মতামতের ক্ষেত্রে এমন সফল যে মনে হয় … তার অন্তর্দৃষ্টি অদৃশ্যের পর্দাগুলো ভেদ করে চলে যায়।

মানুষ যখন পাথেয় হিসেবে দিনার অর্জন করে, তখন আহমাদ উচ্চ মর্যাদা লাভ ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হয় না।

এবং তিনি বলেছেন:

মুহাম্মাদ (সা.)-এর পরিবারের ওপর এমন এক মুসিবত নেমে এসেছে যা নির্দিষ্টভাবে তাদের … এবং সাধারণভাবে মুহাম্মাদ (সা.)-এর দ্বীনের অনুসারীদের গ্রাস করেছে।

এবং তিনি বলেছেন:

প্রতিটি বিপদে ধৈর্য ধারণ করাই অধিক সুন্দর … কিন্তু এই দুই ব্যক্তিকে হারানোর শোকের ওপর ধৈর্য সুন্দর নয়।

দুটি চাঁদ, যাদের জ্যোতি গ্রহণের ফলে আড়ালে চলে গেছে … চাঁদগুলো যদি পূর্ণ না হতো তবে তাতে গ্রহণ লাগত না।

দুজন সফল বিচারকের মধ্য থেকে, যেন … ইনি বিচারে শুরাইহ এবং উনি আলী।

প্রজ্ঞা থেকে উৎসারিত চিন্তা এবং বিচারিক সিদ্ধান্ত … যা মেধা এবং তীক্ষ্ণ উপস্থিত বুদ্ধি থেকে উদ্ভূত।

৬৮- আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে সারা বলেছেন:

আমি তোমার থেকে বঞ্চিত হয়েছি আমার প্রত্যাশার বিপরীতে … সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা হলো সেই প্রেমিক যে বঞ্চিত।

এবং তিনি বলেছেন:

দিনগুলো তোমাকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়নি, বরং … তোমাকে আমার চোখ থেকে পাঁজরের ভেতরে সরিয়ে নিয়েছে।

এবং তিনি বলেছেন:

আশ্চর্যের কিছু নেই যদি কল্পনা তার গালকে ক্ষতবিক্ষত করে … কারণ জাদু দূরবর্তী ব্যক্তির ওপরও প্রভাব বিস্তার করে।

এবং তিনি বলেছেন:

সেই উজ্জ্বল সময়ের প্রতি প্রশংসা নিবেদন করো … যা তোমার কাছে লাল টিউলিপ ফুল উপহার নিয়ে এসেছে।

সেগুলো পান্না সদৃশ ডাঁটার ওপর একাকী দাঁড়িয়ে আছে … যার ওপর স্বর্ণের মুকুট তৈরি করা হয়েছে।

মৃদু বাতাসের দোলায় সেগুলো দুলছে, যেন তারা … ময়দানে ওড়ানো লাল রঙের পতাকা।

এবং তিনি বলেছেন:

নার্গিস ও বাহার ফুলে ভরা এক বাগান … দর্শকদের জন্য সৌন্দর্যের পতাকা তুলে ধরেছে।

যেন এটি এক উজ্জ্বল প্রভাত … আর এটি দিনের শেষ ভাগ।

তারা বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানি পান করেছে যতক্ষণ না তারা মাতাল হয়ে পড়েছে … এবং একে অপরের দিকে ফুলের নক্ষত্র ছুড়ে মারছে।

এবং তিনি বলেছেন:

হে সেই ব্যক্তি যার প্রতি শ্রেষ্ঠত্ব অন্যায় করেছে … ফলে শ্রেষ্ঠত্বও তার প্রকৃত রহস্য জানে না।

রাতের গ্রীবায় আমাদের বন্ধুত্বের এক মালা রয়েছে … যা কোনো মাধ্যম ছাড়াই স্থায়ী হয়েছে, তাই তাকে গোপন রাখো।

এবং তিনি বলেছেন:

আমি সারারাত লায়লার স্মৃতি রোমন্থন করি … এবং সালমার প্রতি সালাম পাঠাই না।

এবং তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
عشق السواد فأصبحت أسنانه … تشري السواد ببيع كل بياض

فإذا شحا فاه رأيت خنافساً … يأوين من فيه إلى مرحاض

وقال:

وأبخر قص حديثاً له … فقال الحضور فسا ذا الحدث

فقلت لهم بادروا بالقيام … فإن الفساء نذير الحدث

وقال:

أما الثنايا فإني لست منثنياً … عن الثناء عليها آخر الأبد

تبدى إلى السمع من ألفاظه نغماً … كأنها نفثات السحر في العقد

له فمٌ كحر في شكل صورته … ترمي عقاربه العينين بالرمد

وقال:

طالع بغرتك الميمون طائرها … تواطئاً بك في أمن من الطير

ولا تدعني في كف الزمان سدى … كالقوس يخطلها الرامي من الوتر

وقال:

أٌلدهم حر الثناء فإنهم … بجيد المعالي واسطات القلائد

وقال: أهزّ حساماً من لسانك إن سطت=مضاربه ذلت رقاب الشدائد

عسى أملي يحظى بإدراك سؤله … فتثمر بالإنجاز أيك المواعد

وقال:

إن طاف من حدثانه الطوفان بي … فمكارم القاضي سفينة نوح

69- وقال القائد أبو عيسى بن لبون:

والجلنار دماء قتلي معرك … والياسمين حباب ماء قد طفا

وقال:

لو كنت تشهد يا هذا عشيتنا … والمزن يسكب أحياناً وينحدر

والأرض مصفرة بالمزن كاسية … أبصرت تبراً عليه الدر ينتثر

وقال:

يا رب ليل شربنا فيه صافية … حمراء في لونها تنفي التباريحا

ترى الفراش على الأكواس طائفة … كأنها أبصرت منها مصابيحا

وقال:

تبدي إلينا حشوه ذهب … أنامل العاج والأطراف عنّاب

وقال أبو مروان عبد الملك بن رزين:

إذا شعشعت في الكأس خلت حبابها … لآلئ قد نظمن في لبة الشمس

فإن شئت قل فيها أرق من الهوى … وإن شئت قل فيها أرق من النفس

قال:

أنحي على جسمي النحول فلم يدع … متوهماً من رسمه المعلوم

عبثت به أيدي الضنا فكأنه … سرّ خفي في ضمير كتوم

وقال:

أقسمت بالورد الجني … ورنتي ناي وعود

لأواصلنك بالرضى … أو تأنفن من الصدود

ولأشربنك بالمنى … ولألثمنك من بعيد

ولأرضينك إن سخط … ت بذلة الدنف العميد

وقال:

برح السقم بي فليس صحيحاً … من رأت عينه عيوناً مراضا

إن للأعين المراض ساماً … صيرت أنفس الورى أغراضا

وقال:

ولأدنينك بالمنى … ولأشربنك بالضمير

71- وقال الماهر أبو عامر أبو المطرف عبد الرحمن فاخر المعروف بابن الدباغ:

نفس فداؤك من خليل واصلٍ … أهدي إلينا الدر من آدابه

علقت يميني منك علق مضنة … شدت أناملها على أسبابه

وكسوتني من حر شعرك ملبساً … وقد كان غير عواتقي أولى به

فأجبت عنه على الورى وربما … كنت المقصر في اعتراض جوابه

قال:

حلم لو أن الدهر حمل بعضه … لشكت عواتقه من الإعياء

وإذا تناولت الرقاع بنانه … أنستك طرز الوشي في صنعاء

وله إذا شاء انتظام غرائب … لا تدّعيها فطنة الشعراء

72- وقال أبو الربيع سليمان بن مهيار السرقسطي:

لا تنسني من سحتك المكسوب … واجعل نصيبك منه مثل نصيبي

وإذا اغتري بك في القيامة أهله … فبمثل ما أوليتني تغري بي

وهي الذنوب، وبالغ في لؤمه … أقصى النهاية باخل بذنوب

73- وقال عبد الله بن خلصة الضرير:

ولو جاد بالدنيا وثنى بمثلها … لظن من استصغارها أنه ضنا

ولا عيب في إنعامه غير أنه … إذا من لم يتبع مواهبه منّا

وقال:

يا ملكاً حسدت عليه زمانه … أمم خلت من قبله وقرون

مالي أرى الآمال بيضاً وضحاً … ووجوه آمالي حوالك جون

أنا آمن فرق وراج يائس … ورو صدٍ ومسرح مسجون

لا تعدني أنواء يمنك لا عدا … ك النصر والتأييد والتمكين

وقال:

لم تدر من قبله عين ولا بصرت … بالبدر والبحر والرئبال في رجل

خدمتكم ليكون الدهر من خدمي … فما أحالته عن عاداته نيلي

إن لم تكن بكم حالي مبدلة … فما انتفاعي بعلم الحال والبدل

وقال:
সে কৃষ্ণবর্ণের প্রেমে পড়েছে, ফলে তার দন্তরাজি হয়ে গেছে … সকল শুভ্রতা বিসর্জন দিয়ে সে যেন কৃষ্ণবর্ণই ক্রয় করছে।

যখন সে মুখব্যাদান করে, তখন তুমি গুবরে পোকা দেখতে পাও … যা তার মুখ গহ্বর থেকে শৌচাগারের দিকে আশ্রয় নেয়।

তিনি বলেন:

এক দুর্গন্ধযুক্ত মুখধারী ব্যক্তি তার একটি কাহিনী শোনাল … উপস্থিত জনতা বলল, এই অপবিত্র ব্যক্তিটি বায়ু ত্যাগ করেছে।

আমি তাদের বললাম, তোমরা দ্রুত উঠে দাঁড়াও … কেননা বায়ু ত্যাগ করা হলো মল ত্যাগের পূর্বাভাস।

তিনি বলেন:

সম্মুখের দন্তরাজির প্রশংসার ক্ষেত্রে আমি অনন্তকাল পর্যন্ত … নিবৃত্ত হব না।

তার শব্দাবলি থেকে কর্ণে এমন সুর ঝংকৃত হয় … যেন তা জাদুর ফুৎকার যা সুতোর গ্রন্থিতে দেওয়া হয়েছে।

তার এমন একটি মুখ আছে যা আকৃতির দিক থেকে লজ্জাস্থানের মতো … তার বৃশ্চিকগুলো চোখে ছানি ঢেলে দেয়।

তিনি বলেন:

তোমার কপালে উদিত হয়েছে সৌভাগ্যের নক্ষত্র … যা তোমার সাথে শুভ সংগতিপূর্ণ এবং অমঙ্গল থেকে নিরাপদ।

সময়ের হাতে আমাকে অবহেলায় পড়ে থাকতে দিও না … সেই ধনুকের ন্যায় যাকে তীরন্দাজ জ্যা থেকে বিচ্যুত করে দেয়।

তিনি বলেন:

তাদের প্রতি বিশুদ্ধ প্রশংসা বর্ষণ করো, কারণ তারা … মর্যাদার গ্রীবায় কণ্ঠহারের মধ্যমণি সদৃশ।

তিনি বলেন: আমি তোমার জিহ্বার তলোয়ার নেড়ে দেখি; যদি তার ধার আঘাত করে তবে কঠিন বিপদগুলোর ঘাড় নুয়ে পড়ে।

হয়তো আমার আকাঙ্ক্ষা তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে … ফলে প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে অঙ্গীকারের উদ্যান ফলবতী হবে।

তিনি বলেন:

যদি মহাকালের বিপর্যয়ের মহাপ্লাবন আমাকে পরিবেষ্টন করে … তবে বিচারকের বদান্যতা হবে নূহের কিশতি।

৬৯- সেনাপতি আবু ঈসা ইবনে লাবুন বলেন:

ডালিম ফুল যেন যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের রক্ত … আর জুঁই ফুল যেন পানির বুদবুদ যা উপরে ভেসে উঠেছে।

তিনি বলেন:

হে ব্যক্তি! তুমি যদি আমাদের সন্ধ্যাটি প্রত্যক্ষ করতে … যখন মেঘমালা কখনো বর্ষণ করছিল আবার কখনো অপসৃত হচ্ছিল।

আর পৃথিবী বৃষ্টির আবরণে হলদেটে বর্ণ ধারণ করে ঢাকা ছিল … তুমি দেখতে পেতে স্বর্ণের ওপর মুক্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন:

কত রাত আমরা তাতে স্বচ্ছ সুরা পান করেছি … যা রক্তিম বর্ণের এবং সকল দুঃখ-বেদনা দূর করে দেয়।

তুমি পানপাত্রের ওপর পতঙ্গদের পরিভ্রমণ করতে দেখবে … যেন তারা সেখানে প্রদীপ্ত প্রদীপ দেখতে পেয়েছে।

তিনি বলেন:

সে আমাদের কাছে যা প্রকাশ করে তার অভ্যন্তরে রয়েছে স্বর্ণ … হস্তিদন্তের ন্যায় আঙ্গুল এবং করমচার ন্যায় নখরাজি।

আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক ইবনে রাজিন বলেন:

যখন পানপাত্রে সুরা ঝিলমিল করে, তখন তুমি তার বুদবুদগুলোকে মনে করবে … যেন তা মুক্তা যা সূর্যের বক্ষস্থলে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।

তুমি চাইলে বলতে পারো তা অনুরাগের চেয়েও সূক্ষ্ম … আর চাইলে বলতে পারো তা আত্মার চেয়েও সূক্ষ্ম।

তিনি বলেন:

কৃশতা আমার দেহকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে, সে ছাড়েনি … তার পরিচিত চিহ্নের কোনো কল্পিত অংশও।

দীর্ঘ অসুস্থতার হাত তার সাথে খেলছে, ফলে তা যেন … এক নিভৃত রহস্য যা সংগুপ্ত অন্তরে লুক্কায়িত আছে।

তিনি বলেন:

আমি সতেজ গোলাপের কসম করছি … এবং বাঁশি ও ঊদ বাদ্যযন্ত্রের গুঞ্জনের।

আমি সন্তুষ্টির সাথে তোমার সাথে সংযোগ রক্ষা করবই … অথবা তুমি বিমুখতা নিয়ে ঘৃণাভরে ফিরে যাবে।

আমি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তোমাকে পান করব … এবং দূর থেকে তোমাকে চুম্বন করব।

আর তুমি অসন্তুষ্ট হলে আমি তোমাকে সন্তুষ্ট করবই … সেই জরাজীর্ণ প্রেমিকের লাঞ্ছনা ও বিনয় দিয়ে।

তিনি বলেন:

অসুস্থতা আমাকে কাবু করেছে, তাই সে সুস্থ নয় … যার চোখ রুগ্ন চোখগুলোর দেখা পেয়েছে।

নিশ্চয়ই রুগ্ন চোখগুলোর মধ্যে বিষ রয়েছে … যা সৃষ্টিজগতের প্রাণগুলোকে লক্ষ্যে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন:

আমি আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে তোমাকে নিকটে আনব … এবং অন্তরের গহীনে তোমাকে পান করব।

৭১- নিপুণ সাহিত্যিক আবু আমির আবু আল-মুতররিফ আব্দুর রহমান ফাখের, যিনি ইবনে আদ-দাব্বাগ নামে পরিচিত, তিনি বলেন:

হে অন্তরঙ্গ বন্ধু, তোমার জন্য প্রাণ উৎসর্গ হোক … যিনি তার শিষ্টাচার ও সাহিত্য থেকে আমাদের মুক্তা উপহার দিয়েছেন।

আমার ডান হাত তোমার থেকে এক অমূল্য সম্পদ আঁকড়ে ধরেছে … যার রশিগুলোতে তার আঙ্গুলগুলো সুদৃঢ়ভাবে নিবদ্ধ।

তুমি তোমার শ্রেষ্ঠ কবিতা দিয়ে আমাকে এমন এক পোশাক পরিয়েছ … যা আমার স্কন্ধ ছাড়া অন্য কারো জন্য অধিকতর উপযুক্ত ছিল।

আমি সমগ্র সৃষ্টিজগতের সামনে তার উত্তর দিয়েছি, অথচ কখনো কখনো … আমি তার প্রতিপক্ষের উত্তর প্রদানে অক্ষম ছিলাম।

তিনি বলেন:

এমন এক ধৈর্য, যদি মহাকাল তার কিয়দাংশ বহন করত … তবে তার কাঁধগুলো ক্লান্তির অভিযোগ করত।

যখন তার আঙ্গুলগুলো পত্রাবলি স্পর্শ করে … তখন তা তোমাকে সানআর কারুকার্যময় বস্ত্রের কথা ভুলিয়ে দেয়।

তার এমন সব অপূর্ব রচনার বিন্যাস রয়েছে … কবিদের প্রখর মেধাও যার দাবি করতে পারে না।

৭২- আবু আল-রবী সুলাইমান ইবনে মাহইয়ার আস-সারাকুস্তি বলেন:

তোমার উপার্জিত অবৈধ সম্পদ থেকে আমাকে বিস্মৃত হয়ো না … আর তাতে তোমার অংশকে আমার অংশের ন্যায় সমান করে দাও।

কিয়ামতের দিন যদি তার হকদাররা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে … তবে তুমি আমাকে যা দিয়েছ তার বিনিময়ে আমার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনো।

… যে পাপের ব্যাপারেও কৃপণতা প্রদর্শন করে।

৭৩- আব্দুল্লাহ ইবনে খালসা আদ-দারীর বলেন:

যদি সে দুনিয়া দান করে দিত এবং পুনরায় তার অনুরূপ দান করত … তবে দুনিয়াকে তুচ্ছ মনে করার কারণে সে নিজেকে কৃপণ বলে গণ্য করত।

তার অনুগ্রহের মধ্যে কোনো খুঁত নেই কেবল এটি ব্যতীত যে … সে যখন দান করে তখন তার দানের পেছনে খোঁটা দেয় না।

তিনি বলেন:

হে এমন এক অধিপতি, যার জন্য তার সমসাময়িক কালকে ঈর্ষা করেছে … তার পূর্ববর্তী অতিক্রান্ত জাতিসমূহ এবং শতাব্দীগুলো।

আমার কী হলো যে আমি আশাসমূহকে উজ্জ্বল ও শুভ্র দেখি … অথচ আমার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যগুলোর চেহারা ঘোর কৃষ্ণবর্ণ।

আমি এক শঙ্কিত নিরাপদ ব্যক্তি এবং এক হতাশ আশাবাদী … এক তৃপ্ত তৃষ্ণার্ত এবং এক বিচরণশীল কারাবন্দী।

তোমার বরকতময় বৃষ্টি যেন আমাকে অতিক্রম না করে, আর সাহায্য … সমর্থন ও সক্ষমতা যেন তোমাকে ছেড়ে না যায়।

তিনি বলেন:

তার পূর্বে কোনো চোখ দেখেনি এবং অবলোকন করেনি … একই ব্যক্তির মধ্যে পূর্ণিমার চাঁদ, সমুদ্র এবং সিংহ।

আমি আপনাদের সেবা করেছি যেন মহাকাল আমার সেবকদের অন্তর্ভুক্ত হয় … কিন্তু আমার প্রাপ্তি তাকে তার অভ্যাস থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

আপনাদের অসিলায় যদি আমার অবস্থার পরিবর্তন না হয় … তবে ব্যাকরণের 'অবস্থা' (হাল) ও 'পরিবর্তন' (বদল) এর জ্ঞান দিয়ে আমার কী লাভ?

তিনি বলেন:

(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
تعبدني حباً وتيمني هوى=فيا ما أذل العاشقين وما أخزى

وما درت الروض الأنيق نباته … لروض علاء ينبت المجد والعزّا

وقال:

كدت أقضي عليك نحي نحيباً … وأرى ذاك في رضاك قليلا

وقال:

يا أبا عامر عزاء جميلاً … فإليكم يعزى العزاء الجميل

سنة الله في العباد وما في … سنة الله للورى تبديل

حكمه الفصل ليس عنه انفصال … وهو العدل ليس عنه عدول

وإذا كاشف الحقائق عقل … شهدت لي بما أقول العقول

74- وقال أبو مروان بن الحجاري:

أخوك أخو نكبات لها … يرق العدو فكيف الصديق

كسدت ونظمي درّ نفيس … وضعت ونثري مسك سحيق

منها:

فشيعه مكن دموعي انسكاب … وودعه من فؤادي خفوق

وقال:

لو حسبت في الورى مواهبه … لم يخل حسّابها من الغلت

وقد استرد الشباب خلعته … ونبّهتني الخطوب من سنة

لولا أتتني الخطوب تطلبني … ما علمت موضعي ولا درت

وقال:

فديتك لا تخف مني سلواً … إذا ما غير الشعر الصغارا

أهيم بدن خل كان خمراً … وأهوى لحيةً كانت عذارا

75- وقال أبو علي الإدريس بن اليماني:

قبلةٌ كانت على دهش … أذهبت ما بي من العطش

ولها في القلب منزلة … لو عدتها النفس لم تعش

منها:

وكأن النجم حين بدا … درهم في كف مرتعش

وقال في صبي عليه أسمال:

توشح بالظلماء وهو صباح … فأمرضت الألباب وهي صحاح

وظل فؤادي طائراً عن جوانحي … فليس له إلا الغرام جناح

قضيب صباح في وشاح دجنة … ألا ليتني تحت الوشاح وشاح

ولا عجب أن أفسدتني جفونه … فكل فساد في هواه صلاح

وقال:

علقته شادناً صغيراً … وكنت لا أعشق الصغارا

أعارني سقم ناظريه … فاستشعرت نفسه حذارا

يسفر عن وجه مستنير … يرد جنح الدجى نهارا

لم أر من قبل ذاك ماء … أضرم فيه الحياء نارا

وقال:

وعقبان خطف من نتاج أعوج … تنقض من فرسانها بسباع

وقال:

ولرب ليل قد طرقت وهمتي … أسرى بها إذ ليس يسري كوكب

منها:

وسروا فمغرب كلّ أرض مشرق … لهم ومشرق كل أرض مغرب

والفجر ملقى النقاب مبرقع … والليل مسدول الرواق مطنب

وكأن باهرة الكواكب معشر … قام الهلال بهم خطيباً يخطب

وكأن نور الصبح راية فارس … حمراء يتبعها خميس أشهب

وقال:

وقد سكنت عين دهمائهم … كما سكن الفعل جزماً بلم

ملوك ولكنهم في الملوك … كأمة أحمد بين الأمم

وطيب حتى رضاب الثغور … فلا فم إلا وفيه شبم

منها:

همامٌ له شيمةٌ كالشمول … تميت الهموم وتحيي الهمم

تنسمت نعمته بالثناء … ونشر الثناء نسيم النعم

يد تقع الهام تحت الحسام … بها والأقاليم تحت القلم

منها:

ولو خطرت بحبيب بن أوس … طوى كلّ ما حاك في المعتصم

فيا كعبة الحسن وافاك عبد … لطاعة سيده ملتزم

حججت وطفت أسابيع لكن … تمام طوافي أن أستلم

وقال:

ثقلت زجاجات أتتنا فرغاً … حتى إذا ملئت بصرف الراح

خفّت فكادت تستطير بما حوت … وكذا الجسوم تخف بالأرواح

ولئن بك استغنيت عن كل ففي … ضوء الصباح عن المصباح

وقال:

زعم العبير بأنه حاكاك … كذب العبير وما حكى رياك

هذا شميمك فليهب نسيمه … حتى تبين مقالة الأفّاك

وإن ادعى ريم الفلاة بأن في … عينيه لمحة طرفك الفتاك

فليلتمحك بمقلتيه مغاذلاً … حتى تفند قوله عيناك

وقال:

أنبات الهديل أسعدن … أوعدن قليل العزاء بالأسعاد

بيد أني لا أرتضي ما فعلتن … وأطواقكن في الأجياد

وقال:

وصدق دعوى الشوق برهان جسمه … وما كل ذي دعوى تصدق دعواه

بذي لعس للاقحوان ثناياه … وللورد خدّاه وللآس صدغاه

وللسوسن الريان صفحة خدّه … وللبدر مجلاه وللمسك رياه

منها:
তুমি ভালোবাসায় আমায় দাস বানিয়েছ এবং অনুরাগে আমায় মোহাবিষ্ট করেছ; ওহ, প্রেমিকেরা কতই না লাঞ্ছিত এবং কতই না অপমানিত!

আর মনোরম উদ্যান তার উদ্ভিদরাজি সম্পর্কে জানত না … এমন এক উচ্চমর্যাদার উদ্যানের জন্য যা মহিমা ও সম্মান উৎপাদন করে।

তিনি বলেন:

তোমার জন্য বিলাপ করতে করতে আমি প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম … অথচ তোমার সন্তুষ্টির পথে আমি তাকে সামান্যই মনে করি।

তিনি বলেন:

হে আবু আমির! সুন্দর ধৈর্য ধারণ করুন … কেননা আপনাদের প্রতিই সুন্দর ধৈর্য ও সান্ত্বনা আরোপ করা হয়।

বান্দাদের মাঝে এটিই আল্লাহর নীতি এবং … সৃষ্টির জন্য আল্লাহর নীতির কোনো পরিবর্তন নেই।

তাঁর ফয়সালা চূড়ান্ত, তা থেকে কোনো বিচ্ছেদ নেই … এবং তিনিই ন্যায়বিচারক, যা থেকে কোনো বিচ্যুতি নেই।

আর যখন কোনো বুদ্ধি সত্যসমূহ উন্মোচন করে, … তখন বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তাসমূহ আমি যা বলি তার সাক্ষ্য দেয়।

৭৪- আবু মারওয়ান বিন আল-হাজ্জারি বলেছেন:

তোমার ভাই তো সেই মুসিবতের সাথী যার জন্য … শত্রুরও দয়া হয়, তাহলে বন্ধুর অবস্থা কী হবে!

আমি অবহেলিত হয়েছি অথচ আমার কাব্য মহামূল্যবান মুক্তা, … আমি তুচ্ছ হয়েছি অথচ আমার গদ্য চূর্ণিত কস্তুরী।

তার মধ্য থেকে একটি অংশ:

আমার অশ্রুর প্রবাহ তাকে বিদায় জানিয়েছে … আর আমার হৃদয়ের স্পন্দন তাকে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়েছে।

তিনি বলেন:

সৃষ্টির মাঝে যদি তার দানসমূহ গণনা করা হতো, … তবে গণনাকারী ভুল করা থেকে রেহাই পেত না।

যৌবন তার পোশাক ফিরিয়ে নিয়েছে … আর বিপদ-আপদ আমাকে তন্দ্রা থেকে জাগ্রত করেছে।

বিপদ-আপদ যদি আমাকে খুঁজতে না আসত, … তবে সে আমার অবস্থান জানত না এবং বুঝতও না।

তিনি বলেন:

তোমার জন্য আমি উৎসর্গিত, আমার পক্ষ থেকে বিস্মৃতির ভয় করো না, … যখন চুল পরিবর্তন হয়ে ছোটদের বড় করে দেয়।

আমি সেই বন্ধুর দেহের জন্য ব্যাকুল যা সুরাসম ছিল, … আর আমি সেই দাড়িকে ভালোবাসি যা একসময় কোমল গণ্ডদেশ ছিল।

৭৫- আবু আলী আল-ইদ্রিস বিন আল-ইয়ামানি বলেছেন:

বিস্ময়বিহ্বল অবস্থায় দেওয়া একটি চুম্বন … আমার ভেতরের তৃষ্ণা দূর করে দিয়েছে।

হৃদয়ে তার এমন এক মর্যাদা রয়েছে যে, … যদি প্রাণ তা হারিয়ে ফেলে তবে সে আর বাঁচবে না।

তার মধ্য থেকে একটি অংশ:

তারকাটি যখন উদিত হলো, তখন তাকে মনে হচ্ছিল … যেন এক কম্পমান হাতের তালুতে থাকা একটি দিরহাম।

জীর্ণবস্ত্র পরিহিত এক কিশোর সম্পর্কে তিনি বলেন:

সে অন্ধকারের চাদর জড়িয়েছে অথচ সে নিজেই প্রভাত, … ফলে সে সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্নদের অসুস্থ করে দিয়েছে।

আমার হৃদয় পাঁজরের ভেতর থেকে উড়ে বেড়ায়, … অনুরাগ ছাড়া তার কোনো ডানা নেই।

অন্ধকারের ওড়নার নিচে সে এক ভোরের ডাল; … হায়! আমি যদি সেই ওড়নার নিচের কোমরবন্ধ হতাম।

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে তার চোখের পাতা আমাকে ধ্বংস করেছে, … কারণ তার প্রেমে প্রতিটি ধ্বংসই হলো মঙ্গল।

তিনি বলেন:

আমি এক তরুণ হরিণশাবকের প্রেমে পড়েছি, … অথচ আমি অল্পবয়সীদের প্রতি আসক্ত ছিলাম না।

তার চোখের অসুস্থতা (আবেশ) আমাকে সে ধার দিয়েছে, … ফলে তার প্রাণ সতর্ক অনুভব করেছে।

সে এক দীপ্তিময় চেহারা উন্মোচন করে, … যা অন্ধকারের পাখাকে দিনে রূপান্তর করে।

এর আগে আমি এমন কোনো পানি দেখিনি, … যাতে লজ্জা আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন:

আর আ’ওয়াজ বংশীয় ঘোড়া থেকেজাত ছোঁ মারা ঈগলসমূহ, … যারা তাদের আরোহী শিকারি পশুদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

তিনি বলেন:

অনেক রাত আমি অতিক্রম করেছি যখন আমার সংকল্প … তাতে ভ্রমণ করছিল, যখন কোনো নক্ষত্রও পরিভ্রমণ করছিল না।

তার মধ্য থেকে একটি অংশ:

তারা পরিভ্রমণ করল, ফলে প্রতিটি ভূমির পশ্চিম দিক তাদের জন্য … পূর্ব দিকে পরিণত হলো এবং প্রতিটি ভূমির পূর্ব দিক পশ্চিম দিকে পরিণত হলো।

ভোর তার ঘোমটা ফেলে দিয়ে মুখাবরণ পরেছে, … আর রাত তার শামিয়ানা ঝুলিয়ে দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে দিয়েছে।

মনে হচ্ছিল উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি এক জনসমষ্টি, … যাদের মাঝে নতুন চাঁদ খতিব হয়ে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়েছে।

মনে হচ্ছিল ভোরের আলো এক ঘোড়সওয়ারের রক্তিম পতাকা, … যার পেছনে এক ধূসর বাহিনী অনুগমন করছে।

তিনি বলেন:

তাদের কৃষ্ণবর্ণ ঘোড়ার চোখ স্থির হয়ে গেছে, … যেমন ‘লাম’ দ্বারা জযম হওয়ার ফলে ক্রিয়াপদ স্থির (সাকিন) হয়ে যায়।

তারা রাজা, কিন্তু রাজাদের মাঝে তারা … জাতিসমূহের মাঝে আহমদ (সা.)-এর উম্মতের ন্যায়।

এমনকি মুখের লালা পর্যন্ত পবিত্র ও সুমিষ্ট, … এমন কোনো মুখ নেই যাতে শীতলতা নেই।

তার মধ্য থেকে একটি অংশ:

তিনি এমন এক বীর যার চরিত্র সুরার মতো, … যা দুশ্চিন্তাকে বিলীন করে এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে উজ্জীবিত করে।

আমি প্রশংসার মাধ্যমে তার অনুগ্রহের সুবাস নিয়েছি, … আর প্রশংসা ছড়িয়ে দেওয়াই হলো অনুগ্রহের মলয় সমীরণ।

এমন এক হাত যার দ্বারা মস্তকসমূহ তরবারির নিচে পড়ে, … আর ভূখণ্ডসমূহ কলমের শাসনাধীনে থাকে।

তার মধ্য থেকে একটি অংশ:

যদি এগুলো হাবিব বিন আউসের মনে আসত, … তবে মুতাসিম সম্পর্কে তিনি যা কিছু রচনা করেছিলেন তা গুটিয়ে ফেলতেন।

হে সৌন্দর্যের কাবা! তোমার কাছে এক দাস এসেছে … যে তার প্রভুর আনুগত্যে অবিচল।

আমি হজ করেছি এবং সাতবার তওয়াফ করেছি, কিন্তু … আমার তওয়াফের পূর্ণতা হলো তোমাকে স্পর্শ করা বা চুম্বন করা।

তিনি বলেন:

কাঁচের পাত্রগুলো যখন খালি অবস্থায় আমাদের কাছে এল তখন ভারি মনে হচ্ছিল, … কিন্তু যখন সেগুলো খাঁটি সুরায় পূর্ণ হলো,

তখন সেগুলো হালকা হয়ে গেল এবং তাতে যা আছে তা নিয়ে প্রায় উড়ে যেতে চাইল; … এভাবেই দেহসমূহ আত্মার উপস্থিতিতে হালকা হয়ে যায়।

যদি তোমার কারণে আমি অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী হই, তবে … ভোরের আলোতে প্রদীপের কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন:

সুগন্ধি দাবি করেছে যে সে তোমার অনুকরণ করেছে, … সুগন্ধি মিথ্যা বলেছে, সে তোমার সুবাসের নাগাল পায়নি।

এই তো তোমার সুবাস, তার মন্দ সমীরণ বইতে দাও, … যাতে মিথ্যাবাদীর কথা স্পষ্ট হয়ে যায়।

আর যদি মরুভূমির হরিণ দাবি করে যে তার … চোখে তোমার মারাত্মক দৃষ্টির এক ঝলক আছে,

তবে সে যেন তার আঁখি দিয়ে তোমার দিকে কটাক্ষ করে তাকায়, … যাতে তোমার চোখ জোড়া তার কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেয়।

তিনি বলেন:

ঘুঘুর কূজন কি আনন্দ দিয়েছে, … নাকি ধৈর্যহারা ব্যক্তিকে আনন্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?

তবে তোমরা যা করেছ তাতে আমি সন্তুষ্ট নই, … অথচ তোমাদের গলায় রয়েছে হাড়ের কণ্ঠহার।

তিনি বলেন:

তীব্র আকাঙ্ক্ষার দাবির সত্যতা তার শরীরের শীর্ণতা দ্বারা প্রমাণিত হয়, … আর প্রতিটি দাবিদারের দাবি সত্য হয় না।

লালচে ঠোঁটওয়ালার সামনের দাঁতগুলো যেন গুলবাহার ফুল, … তার গণ্ডদেশ গোলাপের মতো আর কানের পাশের চুলগুলো যেন সুগন্ধি লতা।

তার মসৃণ গাল যেন সতেজ শাপলা ফুল, … তার প্রকাশ যেন পূর্ণিমা চাঁদ আর তার সুবাস যেন কস্তুরী।

তার মধ্য থেকে একটি অংশ:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
لقد كان معنى الجود عمي فانبرى … له ابن أبي موسى ففك معماه

وما فتحت أيدي الحيا زهرة الربى … كما فتحت روض القريض عطاياه

وقال:

الخاطفات أسافلاً وأعاليا … فكأنهن ضراغم وأجادل

منها: تصبو غليك مشارق ومغارب=وتهيم فيك منابر ومحافل

تجري بما فيها تشاء كأنما … حركتها فعلٌ وأنت الفاعل

لولا اضطرام اليأس فيك لدى الوغى … لا خضر في يدك الوشيج الذابل

وقال:

وما اصفر وجه الشمس إلا لأنه … لوجه الأمير الأريحي حسود

فغرته تغري سناك على الدجى … وراحته تبدي الندى وتعيد

76- وقال أبو الأصبغ بن أرقم:

انكسفي ويحك يا شمس … وازة بما ضمنت يا رمس

في سر أجفانك لي مقلة … وبين أضلاعك لي نفس

77- وقال أبو جعفر بن جرج:

بيض مناظرها سود غدائرها … كما تلاقى جنود الروم والحبش

كيف النجاة لقلب بات منتهشاً … ما بين عقرب ذاك الصدغ والحنش

وقال:

ساروا فودعهم طرفي وأودعهم … قلبي فما بعدوا عني ولا قربوا

هم الشموس ففي أعيني إذا طلعوا … في القادمين وفي قلبي إذا غربوا

78- وقال أبو الفضل بن حسداي الإسلامي:

عهد لليلى تقاضته الأمانات … بانت وما قضيت منه لبانات

يدني التوهم للمشتاق ممتزجاً … من الوصال وفي الأوهام راحات

تقضي عدات إذا هب الكرى وإذا … هب النسيم فقد تهدي تحيات

لعل عتبي الليالي أن تعود إلى … عتبي فتبلغ أوطار ولذات

79- قال الأديب أبو اسحق إبراهيم بن خفاجة يستدعي نديماً:

لو ترى الشرب حولها من بعيد … قلت قوم من قرة يصطلونا

وقال من قصيدة:

أذعت بهم سر الصباح وإنما … سررت بهم ليل السرى فتبسما

فبتنا وبحر الليل مرتطم بنا … نرى العيس غرقى والكواكب نوما

وقد وترت منها قسياً يد السرى … وفوق منا فوقها المجد أسهما

وما هاجني إلا تألق بارق … لبست به برد الدجنة معلما

فيا رب وضاح المحاسن أشقر … رميت به الهيجا وقد فغرت فما

وبحر حديد قد تلاطم أخضر … إذا عصفت ريح الجياد به طمى

وقد أفصحت أعطافه عن سيادة … فشاهدت منه صامتاً متكلما

وطال رجال الحي طولاً ونجدة … فأسدى يد النعمى وذاد عن الحمى

فلو وصلوا يوماً كعوباً لأسمره … لكان على حكم السيادة لهذما

وقال من أخرى:

سايرته في حيث يحمل لأمتي … أسد ويلوي معطفيه شجاع

في ليلة للرعد فيها صرخة … لا تستطاب وللحياة إيقاع

والصبح قد صدع الظلام كأنه … وجه وضئ شق عنه قناع

ودفعت في صدر الردى عن مطلب … بيني وبين الدهر فيه قراع

وقال:

ورفلت في خلع علي من الدجى … عقدت لها من أنجم أزرار

والليل يقصر خطوه ولربما … طالت ليالي الركب وهي قصار

وقد شاب من طوق المجرة مفرقٌ … فيها ومن خط الهلال عذار

وقال:

شراب الأماني لو علمت سارب … وعتبى الليالي لو عرفت عتاب

وهل مهجة الإنسان إلا طريدة … تحوم عليها للعقاب عقاب

وكيف يغيض الدمع أو يبرد الحشا … وقد ماد أفنان وفات شباب

أقلب طرفي لا أرى غير ليلة … وقد حط عن وجه الصباح نقاب

كأني وقد الصباح حمامه … يمد جناحيه على غراب

وقال:

كفى حزناً أن لم يردني على النوى … رسول ولم ينفذ إليك كتاب

وإني إذا يممت قبرك زائراً … وقفت ودوني للتراب حجاب

ولو أن حياً كان جاور ميتاً … لطال كلام بيننا وخطاب

وقال:

أراعي نجوم الليل حباً لبدره … ولست كما ظن الخلي منجما

أقلب منه ناظري في غيابة … لو اعترضت دون الصباح لأظلما

ترى يوسفا في ثوبه حسن صورة … وتسمع داوداً لها مترنماً

وقال من أخرى:

سقياً ليوم قد أنخت بسرجة … رياً تلاعبها الرياح فتلعب

سكرى يغنيها الحمام فتنثني … طرباً ويسقيها الغمام فتشرب

تلهو فترفع للشبيبة راية … فيه ويطلع للبهارة كوكب
বদান্যতার অর্থ ছিল অস্পষ্ট, অতঃপর ইবনে আবি মুসা এগিয়ে এলেন এবং এর রহস্য উন্মোচন করলেন।

বৃষ্টির হাত পাহাড়ের চূড়ার ফুলকে সেভাবে প্রস্ফুটিত করতে পারেনি, যেভাবে তার দানসমূহ কবিতার বাগানকে বিকশিত করেছে।

তিনি বলেছেন:

নিচ ও ওপর থেকে যারা ছিনিয়ে নেয়, তারা যেন সিংহ এবং শিকারি বাজপাখি।

তন্মধ্যে: পূর্ব ও পশ্চিম তোমার দিকেই ধাবিত হয়, আর মিম্বর ও মজলিসসমূহ তোমার প্রেমে ব্যাকুল।

সব কিছু তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী চলে, যেন তাদের গতিবিধি কেবল একটি ক্রিয়া আর তুমিই হলে তার কর্তা।

যুদ্ধের ময়দানে যদি তোমার মধ্যে নিরাশার দহন না থাকত, তবে তোমার হাতের সেই শুষ্ক বর্শাটিও সজীব হয়ে উঠত।

তিনি বলেছেন:

সূর্যের চেহারা বিবর্ণ হয়ে পড়েছে কেবল এই কারণে যে, সে সেই উদারমনা আমিরের চেহারার প্রতি ঈর্ষাতুর।

অন্ধকার রাতে তার ললাট তোমার ঔজ্জ্বল্যকে প্রলুব্ধ করে, আর তার করতল বারবার বদান্যতা প্রকাশ করে ও পুনরায় ফিরিয়ে আনে।

৭৬- আবু আল-আসবাহ ইবনে আরকাম বলেছেন:

হে সূর্য, তোমার ধ্বংস হোক, তুমি গ্রহণগ্রস্ত হও! আর হে কবর, তুমি যা ধারণ করেছ তা নিয়ে গর্বিত হও।

তোমার চোখের পাতার গভীরে আমার জন্য একটি চোখ রয়েছে, আর তোমার পাঁজরের মাঝে আমার জন্য একটি প্রাণ।

৭৭- আবু জাফর ইবনে জুরজ বলেছেন:

তাদের রূপ শ্বেত শুভ্র আর অলকদাম কৃষ্ণবর্ণ, যেন রোম ও আবিসিনিয়ার সৈন্যরা পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে।

সেই হৃদয়ের মুক্তি কোথায়, যা সেই অলকের বিচ্ছু আর সাপের মাঝে দংশিত হয়ে রাত কাটিয়েছে?

তিনি বলেছেন:

তারা চলে গেল, আমার দৃষ্টি তাদের বিদায় জানাল আর আমার হৃদয় তাদের সঁপে দিল; তারা আমার থেকে দূরেও গেল না, কাছেও রইল না।

তারাই তো সূর্য; যখন তারা আগন্তুকদের মাঝে উদিত হয় তখন তারা আমার চোখে থাকে, আর যখন অস্ত যায় তখন তারা আমার হৃদয়ে থাকে।

৭৮- আবু আল-ফজল ইবনে হাসদায় আল-ইসলামি বলেছেন:

লায়লার সাথে সেই প্রতিশ্রুতি যা আমানতসমূহ দাবি করেছিল; সে চলে গেছে অথচ তার প্রতি আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।

কল্পনা মিলনমিশ্রিত সেই স্মৃতিকে বিরহীর কাছে ফিরিয়ে আনে, আর কল্পনার মাঝেই রয়েছে প্রশান্তি।

যখন তন্দ্রা আসে তখন সে প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে, আর যখন মৃদুমন্দ বাতাস বয় তখন সে হয়তো অভিবাদন পাঠায়।

সম্ভবত রজনীর প্রতি আমার অনুযোগ আবারও অনুকূলে ফিরবে, ফলে উদ্দেশ্য ও আনন্দসমূহ অর্জিত হবে।

৭৯- সাহিত্যিক আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে খাফাজাহ তার সঙ্গীকে আহ্বান করে বলেছেন:

তুমি যদি দূর থেকে এর চারপাশের পানরতদের দেখতে, তবে বলতে যে তারা তীব্র শীতে আগুন পোহানো একদল লোক।

একটি কাসিদা থেকে তিনি বলেছেন:

আমি তাদের মাঝে ভোরের রহস্য প্রচার করেছি, বরং আমি তাদের মাধ্যমে নৈশ ভ্রমণের রাতকে আনন্দিত করেছি, ফলে তা মুচকি হেসেছে।

আমরা রাত কাটালাম এমতাবস্থায় যে রাত্রির সমুদ্র আমাদের উপর আছড়ে পড়ছিল; আমরা দেখলাম উটগুলো যেন নিমজ্জিত আর নক্ষত্রগুলো নিদ্রামগ্ন।

নৈশ ভ্রমণের হাত যেন সেই উটগুলো দিয়ে ধনুকে ছিলা পরিয়ে দিয়েছে, আর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব তার ওপর তীরের ফলার মতো লক্ষ্যভেদ করেছে।

বিদ্যুতের চমক ছাড়া আর কিছুই আমাকে ব্যাকুল করেনি, যার মাধ্যমে আমি অন্ধকারের চিহ্নিত চাদর পরিধান করেছি।

কতই না উজ্জ্বল সৌন্দর্যমণ্ডিত লালচে ঘোড়া, যা নিয়ে আমি যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছি যখন যুদ্ধের মুখ উন্মুক্ত ছিল।

আর এক লৌহসমুদ্র যা সবুজ ঢেউ তুলছিল; যখন ঘোড়াদের বায়ু তাতে প্রবাহিত হতো, তখন তা উত্তাল হয়ে উঠত।

তার অবয়ব তার শ্রেষ্ঠত্বকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করছিল, ফলে আমি তার মাঝে এক কথা বলা নীরবতাকে প্রত্যক্ষ করেছি।

গোত্রের পুরুষরা বীরত্বে ও উচ্চতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করল; সে অনুগ্রহের হাত বাড়িয়ে দিল এবং চারণভূমি রক্ষা করল।

যদি তারা কোনোদিন তার শ্যামবর্ণ বর্শার গিটগুলো যুক্ত করত, তবে তার শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে তা এক ধারালো তলোয়ারে পরিণত হতো।

অন্য একটি কবিতা থেকে তিনি বলেছেন:

আমি তার সাথে এমন এক জায়গায় পথ চলেছি যেখানে আমার বর্ম বহন করছিল এক সিংহ এবং এক বীর তার কাঁধ বাঁকা করে চলছিল।

এমন এক রাতে যাতে বজ্রের এক বিকট চিৎকার ছিল যা সুখকর নয়, আর জীবনের ছিল এক নিজস্ব ছন্দ।

ভোর অন্ধকারকে বিদীর্ণ করল, যেন এক উজ্জ্বল চেহারা যার ওপর থেকে নেকাব সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

আমি এক লক্ষ্যের সন্ধানে মৃত্যুর বুক ঠেলে এগিয়ে গেছি, যার ব্যাপারে আমার ও মহাকালের মাঝে এক লড়াই বিদ্যমান।

তিনি বলেছেন:

আমি অন্ধকারের পোশাক পরে দম্ভভরে হেঁটেছি, যার বোতামগুলো নক্ষত্র দিয়ে গাঁথা ছিল।

রাত্রি তার পদবিক্ষেপ ছোট করছিল, আর অনেক সময় কাফেলার রাত দীর্ঘ মনে হয় অথচ আসলে তা সংক্ষিপ্ত।

আকাশগঙ্গার বেষ্টনীতে তার সিঁথি সাদা হয়ে গেছে এবং চাঁদের রেখায় দাড়ি গাল বেয়ে নেমেছে।

তিনি বলেছেন:

তুমি যদি জানতে, কামনার পানীয় তো মরীচিকা মাত্র, আর রজনীর অনুযোগ তো কেবলই তিরস্কার।

মানুষের প্রাণ কি শিকার ছাড়া আর কিছু, যার ওপর শাস্তির বাজপাখিগুলো উড়ছে?

অশ্রু কীভাবে শুকাবে বা অন্তর কীভাবে শীতল হবে, যখন ডালপালাগুলো নুয়ে পড়েছে এবং যৌবন গত হয়েছে?

আমি চোখ ঘুরিয়ে কেবল রাতকেই দেখছি, অথচ ভোরের চেহারা থেকে নেকাব সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

আমি যেন ভোরের আলোতে এমন এক কবুতর যা একটি কাকের ওপর তার ডানা মেলে ধরেছে।

তিনি বলেছেন:

শোকের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, বিরহের সময় কোনো দূত আমার কাছে ফিরে আসেনি এবং তোমার কাছে কোনো পত্র পৌঁছায়নি।

যখন আমি দর্শনার্থী হিসেবে তোমার কবরের দিকে যাই, আমি দাঁড়িয়ে থাকি অথচ আমার ও তোমার মাঝে মাটির পর্দা অন্তরায় হয়ে থাকে।

যদি কোনো জীবিত ব্যক্তি মৃতব্যক্তির প্রতিবেশী হতে পারত, তবে আমাদের মাঝে অনেক কথা ও কথোপকথন হতো।

তিনি বলেছেন:

আমি পূর্ণিমার চাঁদের প্রতি ভালোবাসা থেকে রাতের নক্ষত্রদের পর্যবেক্ষণ করি, মুক্তমনাদের ধারণা অনুযায়ী আমি কোনো জ্যোতিষী নই।

আমি সেই অন্ধকারে আমার দৃষ্টি ঘুরাই, যদি তা ভোরের আগে বাধা হয়ে দাঁড়াত তবে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যেত।

তুমি তার পোশাকে ইউসুফের ন্যায় রূপের সৌন্দর্য দেখতে পাবে এবং তার সুরে দাউদের ন্যায় গুণগুনানি শুনতে পাবে।

অন্য একটি কবিতা থেকে তিনি বলেছেন:

ধন্য সেই দিন, যখন আমি সারজাহ নামক স্থানে উট বসিয়েছিলাম; এক সুজলা ভূমি যার সাথে বাতাস খেলা করছিল এবং সেও খেলছিল।

সে মাতোয়ারা, ঘুঘুরা তাকে গান শোনায় আর সে আনন্দে দুলতে থাকে; মেঘমালা তাকে পান করায় আর সে পান করে।

সে আনন্দ করে, ফলে তাতে তারুণ্যের নিশান ওড়ে এবং বসন্তের রূপের নক্ষত্র উদিত হয়।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
والروض وجه أزهر والظل فر … ع أخضر والماء ثغر أشنب

في حيث أطربنا الحمام عشية … فشدا يغنينا الحمام المطرب

واهتز عطف الغصن مكن طرب بنا … وافتر عن ثغر الهلال المغرب

فكأنه والحسن مقترن به … طوق على برد الغمامة مذهب

منها:

كرموا فلا غيث السماحة مخافٌ … يوماً ولا برق اللطافة خلب

من كل أزهر للنعيم بوجهه … ماء يرقرقه الشباب فيسكب

وقال يندب الأخوان:

ألا عرس الإخوان في ساحة البلى … وما رفعوا غير القبور قبابا

فدمع كما سح الغمام ولوعة … كما ضربت ريح الشمال شهابا

منها:

فطال وقوفي بين وجد وزفرة … أنادي رسوماً لا تحير جوبا

وأمحو جميل الصبر طوراً بعبرة … أخط بها في صفحتي كتابا

وحسبي شجواً أن أرى الدار بلقعاً … خلاء وأشلاء الحبيب ترابا

وقال:

طاف الخيال به فأسرج أدهماً … وسما السماك له فأسرج لهذما

وسرى يطير به عقاب كاسرٌ … باتت تلاعب من عناق أرقما

في سدفة يندي حياها صفحة … وبطيب رياً ريحها متنسما

فتكاد ريقة طلها أن تجتني … رشفاً وتبسم ريقها أن يلثما

وسرى الهلال يدب فيها عقرباً … وانساب منعطف المجرة أرقما

منها في صفة منزل:

أكرمته عن أن يذال بوطأة … ولمثله من منزل أن يكرما

دمعت به عين الغمام صبابة … ولربما طرب الجواد فحمحما

وقال يصف شجرة:

خط الربيع قناعها عن مفرق … شمط كما يرتد كأس الراح

فضح الثرى نوارها فكأنما … مسحت معاطفها يمين سماح

لذا حاك لها الغمام ملاءة … لبست بها حسناً قميص صباح

ولوى الخليج هناك صفحة معرض … لثمت سوالفها ثغور أقاح

وقال:

وأغيد أهدي نرجساً من محاجر … وثنى فأتلى سوسناً من سوالف

تطلع مثل الرمح لوناً وقامة … وفتكة ألحاظ ولين معاطف

فقبل طرفي في محياه مبسماً … شنيباً ومن صدغيه لعس مراشف

وقال:

ما للعذار وكان وجهك قبلة … قد خط فيه من الدجى محرابا

ولقد علمت بكون ثغرك بارقاً … أن سوف يزجي للعذار سحابا

وقال:

يا رب وضاح الجبين كأنما … رسم العذار بصفحتيه كتاب

خلعت عليه من الصباح غلالة … تندى ومن شفق المساء نقاب

منها:

لقد حللت بشاطئيه يهزني … طرباً شباب راقني وشراب

وعبرت دجلته يضاحكني بها … فرحاً حبيب شاقني وحباب

وقال من قطعة:

مر بنا وهو بدر تم … يسحب من ذيله سحابا

بقامة تنثني قضيباً … وغرة تلتظي شهابا

بات بها مبسم الأقاحي … يرشف من طلها رضابا

وقال في الكأس:

فكأنه در تحلل … في شعاع قد نجسم

فقرأت سطر زمرد … فيه بمسك الخال مفعم

وكأن جوهر لفظه … نظم بفيه إذا تبسم

وكأن لؤلؤ ثغره … نثر بفيه إذا تكلم

وقال:

علقت طرفاً فاتناً فاتراً … فيك وغراً منك غرارا

ينشر من صفحته رقعةً … ويدمج الأصداغ أسطارا

يدير للأعين من وجهه … كعبة حسن حيثما دارا

فلي به عينٌ مجوسيةٌ … تعبد من وجنته نارا

وقال:

كأنني بعدكم شمالٌ … قد فارقت منكم يمينا

وقال:

ومن لي بذاك الخشف من متقنص … فآكله عضاً وأشربه لثما

وقال:

وأصغي إلى لحن فصيح يهزّه … كما هزّ نشر الريح ريحانة سكرى

تهش إليه النفس حتى كأنه … على كبد نعمي وفي أذن بشرى

وقال:

وكانت سماء الله لا تمطر الحصى … ليالي كنا لا نطيش حلوما

فلما تحولنا عفاريت شرةٍ … تحول شؤبوب الغمام رجوما

وقال:

أغار لخديه على الورد كلما … بدا ولعطفيه على غصن البان

حبيب عليه لجةٌ من صوارم … علاها حباب من أسنّة مرّان

طوى برده منه صحيفة فتنة … قرأنا لها من وجهه سطر عنوان

محبته ديني ومثواه كعبتي … ورؤيته حجي وذكراه قرآني

وقال:
উদ্যান যেন এক উজ্জ্বল মুখমণ্ডল, আর ছায়া এক সবুজ শাখা … আর পানি হলো শুভ্র ও নির্মল দন্তরাজি।

যেখানে সন্ধ্যাবেলা কবুতর আমাদের মুগ্ধ করেছিল … ফলে সেই সুকণ্ঠী কবুতর আমাদের গান শুনিয়ে আনন্দ দিচ্ছিল।

আমাদের আনন্দে বৃক্ষশাখার প্রান্তসমূহ দুলে উঠল … আর পশ্চিমাকাশের অর্ধচন্দ্রের হাসিতে তার শুভ্র দন্তরাজি প্রকাশিত হলো।

সৌন্দর্য যেন তার সাথে এমনভাবে মিশে আছে … যেন মেঘের চাদরের ওপর একটি স্বর্ণখচিত কণ্ঠহার।

তার মধ্য হতে:

তাঁরা মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন, তাই মহানুভবতার বৃষ্টির শেষ হওয়ার ভয় নেই … আর কমনীয়তার বিদ্যুৎ কখনো বিফল হয় না।

এমন প্রত্যেক উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী যার মুখমণ্ডলে নেয়ামতের আভা বিদ্যমান … যৌবন যাকে লাবণ্যময় করে তুলেছে এবং যা ঝরে পড়ছে।

বন্ধুদের জন্য শোকগাথা গেয়ে তিনি বললেন:

সাবধান! বন্ধুদের বাসর তো এখন বিনাশের প্রাঙ্গণে … আর তারা কবর ব্যতীত অন্য কোনো গম্বুজ নির্মাণ করেনি।

অতএব অশ্রু ঝরছে মেঘের বর্ষণের মতো, আর হৃদয়ের দহন … যেন উত্তরীয় বায়ুতাড়িত আগুনের শিখা।

তার মধ্য হতে:

বিরহ ও দীর্ঘশ্বাসের মাঝে আমার দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘ হলো … আমি এমন সব স্মৃতিচিহ্নকে ডাকছি যা কোনো উত্তর দেয় না।

আমি কখনো অশ্রুবিন্দুর মাধ্যমে সুন্দর ধৈর্যকে মুছে ফেলি … যা দিয়ে আমি আমার গণ্ডদেশে কিতাব লিখি।

আমার দুঃখের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি ঘরটিকে জনশূন্য দেখছি … বিরাণ প্রান্তর এবং প্রিয়জনের দেহাবশেষ এখন ধুলোয় মিশে গেছে।

তিনি বললেন:

তার কল্পনা বিচরণ করল, ফলে সে এক কৃষ্ণবর্ণ ঘোড়ায় জিন চড়াল … আর সিমাক নক্ষত্র তার উচ্চতায় আরোহণ করল, ফলে সে এক তীক্ষ্ণ বর্শা প্রস্তুত করল।

সে নৈশভ্রমণে বের হলো এক শিকারি ঈগলের পিঠে চড়ে … যা আলিঙ্গনের মাধ্যমে যেন এক চিত্রিত সর্পের সাথে খেলায় মেতেছিল।

এক গভীর অন্ধকারে যার সজীবতা দিগন্তকে সিক্ত করে … আর যার সুবাসিত বায়ু মৃদুভাবে প্রবাহিত হয়।

তার শিশিরের লাবণ্য যেন পান করার মতো কুড়িয়ে নেওয়া যায় … আর তার লাবণ্যময় হাসি যেন চুম্বন করার মতো।

বাঁকা চাঁদ যেন সেখানে বৃশ্চিকের মতো হামাগুড়ি দিয়ে চলছে … আর ছায়াপথের বাঁক যেন এক চিত্রিত সর্পের মতো এঁকেবেঁকে যাচ্ছে।

তার মধ্য হতে একটি গৃহের বর্ণনায়:

আমি একে পদদলিত হওয়া থেকে সম্মানিত রেখেছি … আর এমন গৃহের জন্যই তো সম্মান উপযুক্ত।

মেঘের চোখ সেখানে অনুরাগে অশ্রু বিসর্জন দিল … আর অনেক সময় শ্রেষ্ঠ অশ্বটি আনন্দে হ্রেষাধ্বনি করে উঠল।

একটি গাছের বর্ণনায় তিনি বললেন:

বসন্ত তার সিঁথি থেকে ঘোমটা সরিয়ে দিয়েছে … যা শুভ্রতা মিশ্রিত ছিল যেন শরাবের পেয়ালা ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মাটি তার ফুলগুলোকে প্রস্ফুটিত করল, যেন … মহানুভবতার ডান হাত তার ডালপালার ভাঁজে স্পর্শ বুলিয়ে দিয়েছে।

এজন্যই মেঘ তার জন্য একটি চাদর বুনে দিল … যার মাধ্যমে সে ভোরের সৌন্দর্যের জামা পরিধান করল।

আর জলধারা সেখানে বিমুখ হওয়ার ভঙ্গিতে বাঁক নিল … যার গণ্ডদেশকে ডেইজি ফুলের মুখমণ্ডল চুম্বন করল।

তিনি বললেন:

এক নমনীয় কিশোর যার চোখের কোটর থেকে নার্গিস ফুলের আভা উপহার দেয় … আর সে যখন মুখ ফিরায়, তখন তার গণ্ডদেশ থেকে লিলি ফুলের আভা ফুটে ওঠে।

সে রঙে ও উচ্চতায় বর্শার মতো আবির্ভূত হলো … তার চাহনিতে ছিল আক্রমণ আর অঙ্গে ছিল কোমলতা।

ফলে আমার চোখ তার চেহারার উজ্জ্বল হাসি … এবং তার অলকগুচ্ছের লাবণ্যময় ঠোঁটকে চুম্বন করল।

তিনি বললেন:

গণ্ডদেশের এই রেখার কী হলো? অথচ তোমার চেহারা তো ছিল কিবলা … এখন তাতে অন্ধকারের কালিতে এক মেহরাব আঁকা হয়েছে।

আমি জানতাম যে তোমার দন্তরাজি বিদ্যুতের মতো উজ্জ্বল … যা শীঘ্রই গণ্ডদেশের জন্য অশ্রুর মেঘ বয়ে আনবে।

তিনি বললেন:

হে কতই না উজ্জ্বল ললাটধারী! যেন … তার গণ্ডদ্বয়ে তারুণ্যের রেখা একটি লিখিত কিতাব।

প্রভাত তার ওপর এক সিক্ত পোশাক অর্পণ করেছে … আর সন্ধ্যার গোধূলি তাকে পরিয়ে দিয়েছে নেকাব।

তার মধ্য হতে:

আমি তার দুই তীরে পদার্পণ করলাম; আমাকে আনন্দে … আন্দোলিত করল আমার পছন্দের যৌবন ও পানীয়।

আর আমি তার দজলা নদী পার হলাম; সেখানে আমাকে … প্রিয়জন ও পানির বুদবুদ হাসিমুখে আনন্দ দিচ্ছিল।

এক খণ্ড কবিতা থেকে তিনি বললেন:

সে আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রান্ত হলো যখন সে পূর্ণিমা চাঁদ … তার পোশাকের প্রান্ত যেন মেঘমালাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

এমন এক উচ্চতা যা ডালপালার মতো নমনীয় … আর এক ললাট যা উল্কাপিণ্ডের মতো প্রজ্বলিত।

সেখানে ডেইজি ফুলের হাসি রাত কাটাল … তার শিশিরবিন্দু থেকে সুধা পান করল।

পেয়ালা সম্পর্কে তিনি বললেন:

এ যেন গলে যাওয়া মুক্তা … যা ঘনীভূত আলোর কিরণের মাঝে মিশে আছে।

আমি তাতে পান্নার একটি পঙক্তি পড়লাম … যা তিলকের কস্তুরীতে ভরপুর।

আর তার কথার জওহর যেন … তার মুখে গেঁথে দেওয়া হয়েছে যখন সে হাসে।

আর তার দাঁতের মুক্তাসমূহ যেন … তার মুখে ছড়িয়ে দেওয়া হয় যখন সে কথা বলে।

তিনি বললেন:

তোমার মাঝে আমি এক মোহনীয় ও মায়াবী দৃষ্টির প্রেমে পড়েছি … আর তোমার পক্ষ হতে এক প্রতারক ধোঁকায়।

সে তার চেহারা থেকে এক টুকরো কাগজ মেলে ধরে … আর অলকগুচ্ছকে পঙক্তির মতো গেঁথে দেয়।

সে যেখানেই ঘোরে, তার চেহারা দিয়ে চোখের সামনে … সৌন্দর্যের এক কাবা উপস্থাপন করে।

তার প্রতি আমার এক অগ্নিউপাসক চোখ রয়েছে … যা তার গণ্ডদেশের আগুনকে পূজা করে।

তিনি বললেন:

তোমাদের বিরহে আমি যেন এক বাম হস্ত … যা তোমাদের নিকট হতে দক্ষিণ হস্তকে হারিয়েছে।

তিনি বললেন:

সেই হরিণশাবকের শিকারী কে হবে আমার জন্য … যাকে আমি দংশনের মাধ্যমে আহার করব এবং চুম্বনের মাধ্যমে পান করব।

তিনি বললেন:

আমি এক প্রাঞ্জল সুরের প্রতি কর্ণপাত করি যা তাকে আন্দোলিত করে … যেমন বসন্তের বায়ু কোনো মাতাল রায়হান ফুলকে আন্দোলিত করে।

মন তার প্রতি এমনভাবে আনন্দিত হয় যে, মনে হয় তা … কলিজার জন্য এক নিয়ামত আর কানের জন্য এক সুসংবাদ।

তিনি বললেন:

আল্লাহর আকাশ পাথর বর্ষণ করত না … সেই রাতগুলোতে যখন আমাদের প্রজ্ঞা দিশেহারা হতো না।

কিন্তু যখন আমরা অনিষ্টকারী অবাধ্য সত্তায় পরিণত হলাম … তখন মেঘের বারিধারা শাস্তির পাথরে পরিণত হলো।

তিনি বললেন:

যখনই তার গণ্ডদেশ প্রকাশিত হয়, আমি গোলাপের জন্য ঈর্ষা করি … আর যখন তার দেহলতা দেখি, তখন বান বৃক্ষের ডালের জন্য ঈর্ষা করি।

এমন এক প্রিয়জন যার ওপর তীক্ষ্ণ তলোয়ারের অথৈ সাগর … যার ওপর মাররান বর্শার ফলার বুদবুদ ভাসছে।

তার চাদরটি একটি ফিতনার পৃষ্ঠা গুটিয়ে রেখেছে … যার শিরোনামের পঙক্তি আমরা তার চেহারায় পড়েছি।

তার প্রতি ভালোবাসা আমার ধর্ম, তার আবাস আমার কাবা … তাকে দর্শন করা আমার হজ এবং তার স্মরণ আমার কুরআন।

তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وحيداً تهاداني الفيافي فاجتلى … وجوه المنايا في قناع الغياهب

ولا أنس إلا أن أضاحك ساعة … ثغور الأماني في وجوه المطالب

بليل إذا ما قلت قد باد فانقضى … تكشف عن وعد من الظن كاذب

سحبت الدياجي فيه سود ذوائب … لأعتنق الآمال بيض ترائب

منها:

وأرعن طماح الذؤابة باذخ … يطاول أعنان السماء بغارب

يسد مهب الريح عن كل وجهة … ويزحم ليلاً شهبه بالمناكب

وقور على ظهر الفلاة كأنه … طوال الليالي مطرق في العواقب

يلوث عليه الغيم سود عمائم … لها من وميض البرق حمر ذوائبه

أصخت إليه وهو أخرس صامت … فحدثني ليل السرى بالعجائب

منها:

وما غيض السلوان دمعي وإنما … نزفت دموعي في فراق الأصاحب

فاسمعني من وعظه كل عبرة … يترجمها عنه لسان التجارب

وقال في إهداء مهر بهيم أدهم:

تقبل المهر من أخي ثقة … أرسل ريحاً به إلى مطر

مشتملاً بالظلام من شية … لم يشتمل ليلها على سحر

منتسباً لونه وغرته … إلى سواد الفؤاد والبصر

تحسبه من علاك مسترقاً …

بهجة مرأى وحسن مختبر

حنّ إلى راحة تفيض ندى … فمال ظل به على نهر

ترى به والنشاط يلهبه … ما شئت من فحمة ومن شرر

اسود وابيض فعله كرما … فالتفت الحسن منه عن حور

كأنه والنفوس تعشقه … مركب من محاسن الصور

فازدد سنا بهجة بدهمته … فالليل أذكى لغرة القمر

ومثل شكري على تقبله … يجمع بين النسيم والزهر

وقال أيضاً من أخرى:

وليل تعاطينا المدام وبيننا … حديث كما هب النسيم عن الورد

ونقلي أقاح الثغر أو سوسن الطلي … ونرجسة الأجفان أو وردة الخد

فأقبلت أستهدي لما بين أضلعي … من الحر ما بين الثنايا من البرد

أغازل منه الغصن في مغرس النقا … وألثم وجه الشمس في درج السعد

فإن لم يكنها أو تكنه فإنه … أخوها كما قد الشرك من الجلد

تسافر كلتا راحتي بجسمه … فطوراً إلى خصر وطوراً إلى نهد

فتهبط من كشحيه كف تهامة … وتصعد من نهديه أخرى إلى نجد

وقال:

فجمعت بين رضابه وشرابه … وشربت من ريق ومن صهباء

ولثمت في ظلماء ليلة وفرة … شفقاً هناك لوجنة حمراء

والليل مشمط الذؤابة كبرة … خرف يدب على عصا الجوزاء

ثم انثى والصبح يسحب ذيله … ويجر من طرب فضول رداء

وقال:

فلله طود للجزالة راسخ … على الجد يهتز ارتياحاً إلى هزل

ينيل على العلات بيض مكارم … تريك الجبال الشم في عدد الرمل

ويطلع الندى متهللاً … مضى لسان النار في الحطب الجزل

منها:

والريح تلوي عطف كل أراكة … لي السرى وهناً لعطف الناعس

فالحر مفتقر إلى عز الغنى … فقر الحسام إلى يمين الفارس

منها:

واستسق منه إن ظمئت غمامة … يخضر عنها كل عود يابس

من آل حمدين الأولى حليت بهم … قدماً صدور كتائب ومدارس

من أسرة نشأوا غمائم أزمة … ولربما طلعوا بدور حنادس

وجنوا ثمار النصر من شجر القنا … بأكفهم ولنعم غرس الغارس

سلس الكلام على السماع كأنه … سنة ترقرق بين جفني ناعس

يطأ العدي ما بين نصل ضاحك … تحت العجاج ووجه طرف عابس

في حيث يلعب بالقناة شهامة … لعب النعامي بالقضيب المائس

وقال من قصيدة أولهات:

سمح الخيال على النوى بمزار … والصبح يمسح عن جبين نهار

منها:

ولوى القضيب هناك جيداً أتلعاً … قد قبلته مباسم النوار

باكرته والغيم قطعة عنبر … مشبوبة والبرق لفحة نار

والريح تلطم فيه أرداف الربى … لعباً وتلثم أوجه النوار

في فتية جنبوا العجاجة ليلة … ولربما سفروا عن الأقمار

شاهدت من هماتهم وهباتهم … إشراف أطواد وفيض بحار

من كل منتقب بوردة خجلة … كرماً ومشتمل بثوب وقار

ضافي رداء المجد طماح العلا … طامي عباب الجود رحب الدار
একাকী মরুপ্রান্তর আমাকে টেনে নিয়ে যায়, আর অন্ধকারের অবগুণ্ঠনে আমি মৃত্যুর মুখচ্ছবি প্রত্যক্ষ করি।

আমার কোনো ঘনিষ্ঠতা নেই, কেবল আকাঙ্ক্ষার হাসিমুখগুলোকে চাহিদার সামনে মুহূর্তের জন্য হাসানো ছাড়া।

এমন এক রাত, যখনই আমি বলি যে তা শেষ হয়ে গেছে, তখনই তা একটি মিথ্যা ধারণার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রকাশ পায়।

আমি সেখানে গাঢ় অন্ধকারের কালো অলকগুচ্ছ টেনে নিয়েছি, যাতে ধবধবে সাদা বক্ষের আকাঙ্ক্ষাকে আলিঙ্গন করতে পারি।

তার মধ্য থেকে:

আর এক আকাশচুম্বী পাহাড়, যার চূড়া অতি উচ্চ ও গগনভেদী, যা আপন শিখর দিয়ে আকাশের মেঘমালাকে ছাড়িয়ে যেতে চায়।

তা সব দিক থেকে বায়ুপ্রবাহের পথ রোধ করে দাঁড়ায় এবং নিজের কাঁধ দিয়ে রাতের নক্ষত্ররাজিতে ভিড় জমায়।

মরুভূমির বুকে তা অত্যন্ত গম্ভীর, মনে হয় দীর্ঘ রাত ধরে সে পরিণাম নিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন।

মেঘমালা তার মাথায় কালো পাগড়ি পেঁচিয়ে দেয়, যার কিনারাগুলো বিদ্যুতের চমকে লাল হয়ে ওঠে।

আমি তার প্রতি কান পাতলাম যখন সে নিথর ও নিশ্চুপ ছিল, তখন রাতের সফর আমাকে বিস্ময়কর গল্প শোনাল।

তার মধ্য থেকে:

সান্ত্বনা আমার অশ্রু শুকিয়ে দেয়নি, বরং বন্ধুদের বিচ্ছেদে আমি আমার চোখের জল নিঃশেষ করেছি।

সে আমাকে তার উপদেশের প্রতিটি শিক্ষা শুনিয়েছে, যা অভিজ্ঞতার ভাষা দিয়ে অনুবাদ করা হয়েছে।

এবং তিনি একটি গাঢ় কালো রঙের ঘোড়া উপহার দেওয়ার বিষয়ে বললেন:

একজন নির্ভরযোগ্য ভাইয়ের কাছ থেকে এই ঘোড়াটি গ্রহণ করুন, যিনি বৃষ্টির দিকে বাতাসের ঝাপটা পাঠিয়েছেন।

এটি এমন এক বর্ণের অন্ধকারে আবৃত, যার রাতের শেষে কোনো ভোর নেই।

এর রং এবং কপালের শুভ্রতা যেন হৃদয়ের গভীর অন্ধকার ও দৃষ্টির কৃষ্ণিমার সাথে সম্পৃক্ত।

আপনি একে আপনার উচ্চমর্যাদা থেকে চুরি করা মনে করবেন...

দেখার আনন্দ এবং গুণের উৎকর্ষে।

এটি এমন এক হাতের তালুর জন্য ব্যাকুল হয়েছে যা দানশীলতায় সিক্ত, তাই এটি নদীর ধারের ছায়ার মতো ঝুঁকে পড়েছে।

যখন এর চঞ্চলতা একে উদ্দীপ্ত করে, তখন আপনি এতে কয়লার কৃষ্ণতা ও আগুনের স্ফুলিঙ্গ—উভয়ই দেখতে পাবেন।

এটি কালো বর্ণের হলেও এর কর্মগুলো অতি উজ্জ্বল ও মহানুভব, যার সৌন্দর্য মোহনীয় চোখকে সরিয়ে নেয়।

প্রাণগুলো একে ভালোবাসে, যেন এটি সৌন্দর্যের সব রূপ দিয়ে গঠিত।

এর কালো রঙের উজ্জ্বলতায় আনন্দ বাড়িয়ে নিন, কারণ রাতই চাঁদের শুভ্রতাকে বেশি ফুটিয়ে তোলে।

এটি গ্রহণের জন্য আমার কৃতজ্ঞতা যেন বসন্তের বাতাস ও ফুলের সমাহার।

তিনি অন্য একটি কবিতায় আরও বলেছেন:

এমন এক রাত যখন আমরা সুধা বিনিময় করছিলাম, আর আমাদের মাঝে আলাপচারিতা ছিল বসন্তের বাতাসে ফুলের সুবাসের মতো।

আমার উপাদেয় ছিল ওষ্ঠাধরের সাদা ফুল বা গ্রীবার শ্বেতপদ্ম, আর চোখের পাপড়ির নার্গিস বা গালের গোলাপ।

আমার পাঁজরের মাঝখানের তাপ মেটাতে আমি ওষ্ঠাধরের শীতলতা ভিক্ষা করতে এগিয়ে গেলাম।

আমি বালুকাময় উদ্যানের সেই লতাটির সাথে প্রেম নিবেদন করি এবং সৌভাগ্যের সোপানে সূর্যমুখ চুম্বন করি।

যদি সে এটি না হয় বা এটি সে না হয়, তবে এটি তার ভাইয়ের মতো, যেমন চামড়া থেকে জুতা তৈরি করা হয়।

আমার দুই হাতের তালু তার শরীরে বিচরণ করে; কখনো কটিদেশে, আবার কখনো বক্ষদেশে।

আমার এক হাত তার কটিদেশ থেকে তিহামার দিকে নেমে যায়, আর অন্য হাতটি তার বক্ষদেশ থেকে নজদের দিকে উঠে যায়।

তিনি বলেছেন:

আমি তার মুখের লাবণ্য ও পানীয়ের স্বাদ একত্রিত করেছি, আর লাবণ্যমাখা জল ও লাল সুধা পান করেছি।

আমি এক ঘন চুলে ঘেরা আঁধার রাতে লাল গালের রক্তিম আভায় চুম্বন করেছি।

রাতটি ছিল বার্ধক্যে পাকা চুলে ভরা এক বৃদ্ধের মতো, যে কালপুরুষের লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটছে।

অতঃপর তা বিদায় নিল যখন প্রভাত তার আঁচল টেনে আনছিল এবং আনন্দের আতিশয্যে তার পোশাকের প্রান্ত ঘষছিল।

তিনি বলেছেন:

আল্লাহর জন্য এক গাম্ভীর্যের সুদৃঢ় পাহাড়, যা দৃঢ়তার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েও কৌতুকের প্রতি সানন্দে আন্দোলিত হয়।

প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি এমন শুভ্র বদান্যতা দান করেন, যা আপনাকে বালুকণার সংখ্যার মাঝেও সুউচ্চ পর্বতমালা দেখায়।

আর দানশীলতার আভা প্রফুল্ল হয়ে প্রকাশ পায়, যেন ভারী কাষ্ঠখণ্ডে আগুনের শিখা দ্রুত বয়ে যাচ্ছে।

তার মধ্য থেকে:

বাতাস প্রতিটি আরাক বৃক্ষের ডালকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে, যেমন রাতের সফর তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তির শরীরকে নুয়ে দেয়।

একজন স্বাধীনচেতা মানুষ সম্পদের সম্মানের প্রতি ঠিক তেমনি মুখাপেক্ষী, যেমন একটি তরবারি একজন বীর যোদ্ধার ডান হাতের মুখাপেক্ষী।

তার মধ্য থেকে:

আপনি তৃষ্ণার্ত হলে তার কাছে মেঘের প্রার্থনা করুন, যার বর্ষণে প্রতিটি শুষ্ক ডাল পুনরায় সবুজ হয়ে ওঠে।

তিনি হামদিন পরিবারের বংশধর, যাদের মাধ্যমে প্রাচীনকাল থেকেই সেনাদল ও শিক্ষালয়গুলোর সম্মুখভাগ সুশোভিত হয়ে আসছে।

এমন এক পরিবার থেকে তারা এসেছেন যারা সংকটের দিনে মেঘ হয়ে আবির্ভূত হন এবং ঘোর অন্ধকারের মাঝে পূর্ণিমা হয়ে উদিত হন।

তারা তাদের হাতের তালু দিয়ে বল্লমের গাছ থেকে বিজয়ের ফল সংগ্রহ করেছেন; আর বপনকারীর রোপণ করা সেই চারা কতই না চমৎকার!

তার কথাবার্তা শোনার সময় এতটাই সাবলীল যে, মনে হয় তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তির চোখের পাতায় ঘুম খেলা করছে।

তিনি ধূলিঝড়ের নিচে হাসিমুখ তরবারির ফলক এবং বিমর্ষ ঘোড়ার পিঠের মাঝে শত্রুদের পদদলিত করেন।

যেখানে বীরত্ব বল্লম নিয়ে ঠিক সেভাবেই খেলে, যেভাবে মলয় বাতাস দোদুল্যমান ডালের সাথে খেলা করে।

তিনি এমন একটি কবিতা থেকে বলেছেন যার শুরু ছিল:

দূর প্রবাসে কল্পনার সেই ছায়াটি সাক্ষাতের বদান্যতা দেখাল, যখন প্রভাত দিনের কপাল থেকে আঁধার মুছে দিচ্ছে।

তার মধ্য থেকে:

সেখানে নমনীয় শাখাটি একটি দীর্ঘ গ্রীবাকে বাঁকিয়ে দিল, যাকে প্রস্ফুটিত ফুলের হাসিমুখগুলো চুম্বন করেছিল।

আমি খুব ভোরে তার কাছে গেলাম, যখন মেঘ ছিল একখণ্ড আম্বর এবং বিদ্যুৎ ছিল আগুনের হল্কা।

বাতাস সেখানে খেলার ছলে টিলাগুলোর পশ্চাদ্দেশে আঘাত করছিল এবং ফুলের মুখগুলোকে চুম্বন করছিল।

এমন একদল যুবকের মাঝে যারা এক রাতে ধূলিঝড়কে এড়িয়ে চলেছিল, অথচ তারা হয়তো চাঁদের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল ছিল।

আমি তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দানশীলতার মাঝে সুউচ্চ পর্বতমালা এবং সমুদ্রের প্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছি।

তাদের প্রত্যেকেই মহানুভবতার কারণে লজ্জাবনত গোলাপের আবরণে ঢাকা এবং গাম্ভীর্যের পোশাকে আবৃত।

তিনি মর্যাদার প্রশস্ত চাদরধারী, সুউচ্চ শিখরে আরোহী, দানশীলতার উত্তাল তরঙ্গ এবং প্রশস্ত গৃহের অধিকারী।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
جرار أذيال المعالي والقنا … حامي الحقيقة والحمى والجار

ومنها:

ملتفة أعطافه بجبيرة … مكحولة أجفانه بنضار

ترمى به الأمل القصي فينثني … معطوف راء الظفر والمنقار

ومنها في صفة الكلاب:

وبكل الشوط أشدق أخزر … طاوي الحشا حالي المقلد ضار

يفتر عن مثل النضال وإنما … يمشي على مثل القنا الخطار

من كل مسود تلهب طرفه … فرمتك فحمته بشعلة نار

ومورس السربال يخلع قده … عن نجم في سماء غبار

يستن في سطر الطريق وقد عفا … قدماً فيقرأ أحرف الآثار

عطف الضمور سراته فكأنه … والنقع يحجبه هلال سرار

يجري على حذر فيجمع بسطة … تهوي فينعطف انعطاف سوار

ممتد حبل الشأو يعسل رائغاً … فيكاد يفلت أيدي الأقدار

متردداً يرمي به خوف الردّى … كرة تهاداها أكف قفار

ومنها في وصف الطير:

من كل قاصرة الخطى مختالة … مشى الفتاة تجر ذيل إزار

مخضوبة المنقار تحسب أنها … كرعت على ظمأ بكأس عقار

منها:

خدم القضاء مراده فكأنما … ملكت يداه أعنة الأقدار

جذلان يملأ بهجة وبشاشة … أيدي العفاة وأعين الزوار

بيمينه يوم الوغى وشماله … ما شاء من نار ومن إعصار

والسمر حمر والجياد عوابس … والجو كاس والسيوف عوار

والخيل تعثر في شبا شوك القنا … نضواً وتسبح في الدم الموار

والنقع يكسر من سنا شمس الضحى … فكأنه صدأ على دينار

ومنها في السيف:

ومضى وقد ملكته هزة عزة … تحت العجاج وضحكة استبشار

وقال من أخرى:

وأراكة ضربت سماء فوقنا … تندى وأفلاك الكؤوس تدار

حفت بدوحتها مجرة جدول … نثرت عليه نجومها الأزهار

فكأنها وكأن جدول مائها … حسناء شد بخصرها زنار

زف الزجاج بها عروس مدامة … تجلى ونوار الغصون نثار

غناء ينشر وشيه البزاز لي … فيها ويفتق مسكه العطار

نام الغبار بها وقد نضح الندى … وجه الثرى واستيقظ النوار

وقال:

جمعت ذؤابته ونور جبينه … بين الدجنة والصباح المشرق

طالت مراقبة الخيال ودونه … رعى الدجى فمتى أنام فنلتقي

ما بين نحر بالدموع مقلد … فرحاً وجيد بالعناق مطوق

وقال:

بحيث يهز الموت من أكعب القنا … غصوناً ويجني من ثمار الجماجم

وينظر عن طرف من الرمح أزرق … ويضحك عن ثغر من السيف باسم

وقد فاض بحر للردى من دم العدا … فسال حياء في وجوه الصوارم

وقال:

في حيث جر المجد فضل إزاره … ومشى الهوينا مشية الخيلاء

قد راق بين فصاحة وصباحة … سمع المصيخ له وعين الرائي

وكأنه من عزمة في رحمة … متركب من جذوة في ماء

تثني به ريح المكارم خوطة … في حيث تسجع ألسن الشعراء

وقال:

حدر القناع عن الصباح المسفر … ولوى القضيب على الكثيب الأعفر

وتملكته هزة في عزة … فارتج في ورق الشباب الأخضر

متنفساً عن مثل نفحة مسكة … متبسماً عن مثل سمطي جوهر

سلت علي سيوفها ألحاظه … فلقيتهن من المشيب بمغفر

منها:

نزر الكرى يرمي الظلام بمقلة … سهرت لأخرى تحته لم تسهر

منها:

بيني وبينك ذمة مرعية … فإذا تنوسيت المودة فاذكر

وإذا غشيت ديار ليلى باللوى … فاسأل رياح الطيب عنها تخبر

والمح صحيفة صفحتي فاقرأ بها … سطرين من دمع بها متحدر

كتبتهما تحت الظلام يد الضنى … خوف الوشاة بأحمر في أصفر

ولئن جريت مع الصبا … وشربتها من كف ظبي أحور

ناجيت منه عطارداً ولربما … فبلته فلثمت وجه المشتري

ولقد خلوت به أقسم نظرتي=ما بين جؤذر رملة وغضنفر منها:

أضحكت ثغر النصر فيه من العدا … ولربما أبكيت عين السمهر

وجرى الحديث بطيب ذكرى طاهر … فجعلت جزل وقودها من عنبر

وقال:

صحونا وقد أصحت هناك سماؤنا … وكنا نشاوي تحت ظل الغمائم
উচ্চমর্যাদা ও বর্শার আঁচল টেনে চলায় অভ্যস্ত … সত্য, সীমানা ও প্রতিবেশীর রক্ষক।

এবং তার মধ্য থেকে:

তার পার্শ্বদেশ পট্টি দিয়ে জড়ানো … তার চোখের পাতা স্বর্ণালি সুর্মায় রঞ্জিত।

তার মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী আশা পূরণ করা হয়, ফলে সে ফিরে আসে … জয়ী হয়ে তার নখর ও চঞ্চু বাঁকিয়ে।

এবং শিকারি কুকুরের বর্ণনায়:

প্রতিটি দৌড়ে চওড়া চোয়াল ও ছোট চোখের অধিকারী … কৃশকায় উদর, অলংকৃত কণ্ঠ এবং হিংস্র।

সে তীরের ফলার মতো দাঁত বের করে হাসে, আর সে চলে … কম্পমান বর্শার ওপর দিয়ে।

প্রত্যেক কালো বর্ণের প্রাণী থেকে যার দৃষ্টি প্রজ্বলিত … যার কৃষ্ণতা আগুনের শিখার মতো তোমাকে বিদ্ধ করে।

জাফরান রঙের পোশাক পরা দেহ থেকে যেন সে বের হয়ে আসে … ধুলোবালির আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে।

সে রাস্তার রেখায় দ্রুত চলে যখন তা প্রাচীন হয়ে মিটে যায় … ফলে সে পদচিহ্নের অক্ষরগুলো পড়ে নেয়।

কৃশতা তার পিঠকে বাঁকিয়ে দিয়েছে, যেন সে … ধুলার আড়ালে লুকানো শেষ রাতের বাঁকা চাঁদ।

সে সতর্কতার সাথে দৌড়ায় এবং নিজের দেহকে গুটিয়ে নেয় … যখন সে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন কঙ্কনের মতো বেঁকে যায়।

তার লক্ষ্যের রশি দীর্ঘ, সে আঁকাবাঁকা পথে দ্রুত ছোটে … মনে হয় যেন সে তকদিরের হাত থেকে ফসকে যাবে।

দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় ধ্বংসের ভয় তাকে ছুড়ে মারে … যেন একটি বল যা জনমানবহীন প্রান্তরের হাতগুলো পরস্পর আদান-প্রদান করছে।

এবং পাখির বর্ণনায়:

প্রতিটি ধীরপদক্ষেপী অহংকারী পাখি থেকে … যে যুবতী মেয়ের মতো তার আঁচল টেনে টেনে হাঁটে।

রঞ্জিত চঞ্চু দেখে মনে হয় যেন সে … তৃষ্ণার্ত অবস্থায় এক পেয়ালা লাল মদ পান করেছে।

তার মধ্য থেকে:

ভাগ্য তার ইচ্ছার সেবা করে, যেন তার … দুই হাত তকদিরের লাগাম ধারণ করেছে।

আনন্দিত ব্যক্তি প্রফুল্লতা ও হাসি দিয়ে পূর্ণ করে দেয় … প্রার্থীগণের হাত এবং দর্শকদের চোখ।

যুদ্ধের দিনে তার ডান হাতে ও বাম হাতে থাকে … আগুন ও ঘূর্ণিঝড়ের মধ্য থেকে সে যা চায়।

বাদামী বর্শাগুলো রক্তে লাল এবং ঘোড়াগুলো বিষণ্ণ … আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং তলোয়ারগুলো কোষমুক্ত।

ঘোড়াগুলো বর্শার তীক্ষ্ণ অগ্রভাগে হোঁচট খেয়ে … ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং টগবগ করে ফোটা রক্তে সাঁতার কাটে।

ধুলোবালি পূর্বাহ্ণের সূর্যের আলোকে ম্লান করে দেয় … যেন তা স্বর্ণমুদ্রার ওপর পড়া মরিচা।

এবং তলোয়ারের বর্ণনায়:

সে চলে গেল যখন বীরত্বের উন্মাদনা তাকে আচ্ছন্ন করেছে … ধুলোর নিচে সুসংবাদের হাসির সাথে।

এবং তিনি অন্য এক কবিতায় বলেছেন:

আর একটি আরাক গাছ আমাদের ওপর আকাশের মতো ছায়া দিচ্ছে … যা সিক্ত এবং পানপাত্রের কক্ষপথগুলো ঘুরছে।

তার বিশাল বৃক্ষটিকে ঘিরে আছে এক ঝরনার ছায়াপথ … যার ওপর ফুলগুলো তার নক্ষত্ররাজি ছড়িয়ে দিয়েছে।

ফলে সেটি এবং তার পানির ঝরনা যেন … এক সুন্দরী নারী যার কোমরে কটিবন্ধনী বাঁধা।

কাঁচের পাত্র যেন সেখানে মদের নববধূকে তুলে দিয়েছে … যা প্রকাশিত হচ্ছে এবং ডালপালার ফুলগুলো ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এটি একটি সুরভিত উদ্যান যেখানে কাপড় বিক্রেতা তার নকশা করা কাপড় ছড়ায় … এবং সুগন্ধি বিক্রেতা তার কস্তুরী উন্মুক্ত করে।

সেখানে ধুলোবালি ঘুমিয়ে পড়েছে যখন শিশির … মাটির মুখ ধুয়ে দিয়েছে এবং ফুলগুলো জেগে উঠেছে।

এবং তিনি বলেছেন:

তার চুলের গুচ্ছ এবং ললাটের জ্যোতি একত্রিত করেছে … অন্ধকার রাত এবং উজ্জ্বল সকালের মাঝে।

কল্পনার প্রতীক্ষা দীর্ঘ হয়েছে, আর তার বিপরীতে … সে রাত জেগেছে, তবে আমি কখন ঘুমাবো যাতে আমরা মিলিত হতে পারি?

অশ্রুজলে অলংকৃত কণ্ঠদেশ … আনন্দের সাথে এবং আলিঙ্গনে আবদ্ধ গ্রীবা।

এবং তিনি বলেছেন:

যেখানে মৃত্যু বর্শার গিঁট থেকে … ডালপালাকে কাঁপিয়ে দেয় এবং খুলির ফল আহরণ করে।

সে নীল বর্শার ফলক দিয়ে তাকায় … এবং হাস্যোজ্জ্বল তলোয়ারের দাঁত বের করে হাসে।

শত্রুর রক্তে ধ্বংসের সমুদ্র উপচে পড়েছে … ফলে তা ধারালো তলোয়ারগুলোর মুখে লজ্জার ন্যায় প্রবাহিত হলো।

এবং তিনি বলেছেন:

যেখানে মর্যাদা তার চাদরের অতিরিক্ত অংশ টেনে নিয়ে যায় … এবং গর্বভরে মন্থর গতিতে হাঁটে।

সাবলীলতা ও সৌন্দর্যের মাঝে তা চমৎকার হয়েছে … মনোযোগী শ্রোতার কান এবং দর্শকের চোখের জন্য।

দয়ার মাঝে তার সংকল্প যেন … পানির ভেতর আগুনের ফুলকি দিয়ে গঠিত।

মহত্ত্বের বাতাস তাকে নমনীয় ডালপালার মতো দুলিয়ে দেয় … যেখানে কবিদের জিহ্বা সুমধুর ছন্দে কথা বলে।

এবং তিনি বলেছেন:

সে উদ্ভাসিত সকাল থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছে … এবং ধূসর বালির ঢিবির ওপর ডালটি বাঁকিয়ে দিয়েছে।

বীরত্বের আতিশয্য তাকে আচ্ছন্ন করেছে … ফলে সে যৌবনের সবুজ পাতার মাঝে কেঁপে উঠেছে।

সে কস্তুরীর সুবাসের মতো নিশ্বাস ছাড়ে … এবং মুক্তার হারের মতো দাঁত বের করে হাসে।

তার চাহনি আমার ওপর তলোয়ার চালিয়েছে … ফলে আমি বার্ধক্যের শিরস্ত্রাণ দিয়ে সেগুলোর মোকাবিলা করেছি।

তার মধ্য থেকে:

স্বল্প নিদ্রা অন্ধকারের দিকে এমন এক চোখ নিক্ষেপ করে … যা জেগে ছিল অন্য এক চোখের জন্য, যেটি তার নিচে জাগ্রত ছিল না।

তার মধ্য থেকে:

তোমার ও আমার মাঝে এক সংরক্ষিত অঙ্গীকার রয়েছে … যদি ভালোবাসা ভুলে যাওয়া হয় তবে তা স্মরণ করো।

যখন তুমি বালুকাময় মরুপ্রান্তরে লায়লার আবাসের ওপর দিয়ে যাবে … তখন সুগন্ধি বায়ুকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, সে সংবাদ দেবে।

আমার গণ্ডদেশের পৃষ্ঠার দিকে তাকাও এবং সেখানে পড়ো … গড়িয়ে পড়া অশ্রুর দুটি পঙক্তি।

অন্ধকারের নিচে যন্ত্রণার হাত সেই দুটি লিখেছে … পরনিন্দাকারীদের ভয়ে হলুদের ওপর লাল রঙে।

আর যদি তুমি পুবাল বাতাসের সাথে চলো … এবং তা পান করো এক সুন্দর নয়না হরিণ-বালকের হাত থেকে।

আমি তার সাথে বুধ গ্রহের ন্যায় গোপনে কথা বলেছি এবং সম্ভবত … আমি তাকে চুম্বন করেছি, ফলে বৃহস্পতি গ্রহের মুখমণ্ডল চুম্বন করেছি।

আমি তার সাথে নির্জনে ছিলাম, আমি আমার দৃষ্টিকে ভাগ করেছি—মরুভূমির হরিণশাবক এবং সিংহের মাঝে। তার মধ্য থেকে:

তুমি তার মাঝে শত্রুর বিপক্ষে বিজয়ের হাসি ফুটিয়েছ … এবং অনেক সময় তুমি শক্ত বর্শার চোখকে কাঁদিয়েছ।

পবিত্র স্মৃতির সুগন্ধে আলাপচারিতা এগিয়ে চলল … ফলে আমি তার জ্বালানি কাঠকে আম্বর দিয়ে তৈরি করলাম।

এবং তিনি বলেছেন:

আমরা সচেতন হলাম যখন সেখানে আমাদের আকাশ পরিষ্কার হলো … অথচ আমরা মেঘের ছায়ার নিচে মত্ত ছিলাম।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولا هالني إلا نذير برحلة … مسحت له من روعة جفن نائم

منها:

فإن دقت الهيجاء أرماح حلبة … فثم من الآراء أمضى لهاذم

وإن هدت الأسياف أركان دولة … فثم من الأقلام أقوى دعائم

ترى بهم من هزة في طلاقة … لدان العوالي ففي بريق الصوارم

وقال:

لله نورية المحيا … تحمل نارية الحميا

درنا بها تحت ظل دوح … قد راق وطاب ريا

تجسم النور فيه نوراً … فكل غصن به ثريا

وقال:

ومعرض لي بالهجاء وهجره … جاوبته عن شعره في ظهره

فلئن نكن بالأمس قد لطنا به … فاليوم أشعاري تلوط بشعره

وقال الخفاجي:

تعقله ريان من خمر ريقة … له رشفها دوني ولي دونه السكر

ترقرق ماء مقلتاي ووجهه … ويذكي على قلبي وجنته الجمر

ولا عجب أن طاب نشراً فإنما … محاسنه في غصن قامته زهر

أرق نسيبي فيه رقة حسنه … فلم أدر أي قبلها منهما السحر

وطبنا معا ثغراً وشعراً كأنما … له منطقي ثغر ولي ثغره شعر

وقال في ذم رقعة:

معوجة أسطارها وحروفها … كأن بها من برد لفظك فالجا

وقال:

ومهفهف طاوي الحشا … خنث المعاطف والنظر

فإذا رنا وإذا شدا … وإذا سعى وإذا سفر

فضح المدامة والحما … مة والغمامة والقمر

وقال:

خذها وقد سفرت إليك يد الصبا … عن وجه أفق بالغمام ملثم

واقدح بها زند السرور وقد طمى … بحر الدجى وطفا حباب الأنجم

وانجاب نقع الغيم من قمر الدجى … عن غرة وضحت بجبهة أدهم

وتعثرت قدم الثريا سحرة … في برد ليل بالمجرة معلم

وقال:

وحوراء بيضاء المحاسن … لبست بها الليل البهيم نهارا

هززت لأغصان القدود معاطفاً … بها ولرمان النهود ثمارا

فسقياً لأيام هناك سحبتها … ذيولاً على حكم السرور قصارا

وقال:

وإني إذا ما الليل جاء بفحمة … لأوري زناد الهم فيها فأقدح

وأتبع طيب الذكر أنة موجع … فينفح هذا حيث هاتك تلفح

وألقى بياض الصبح يسود وحشة … فأحسبني أمسي على حين أصبح

غريقاً ببحر الدمع والهم والدجى … ولو كان بحراً واحداً مكنت لأسبح

ففي ناظري لليل مربط أدهم … وفي وجنتي للدمع أشهب يجمح

وقال:

خفقت لذكرك أضلعي فكأن لي … في كل جارحة جناحاً يخفق

وتملكني لوعة مشبوبة … شوقاً إليك وعبرة تترقرق

فابعث بطيفك باغتاً أو واعداً … إني إليه كيف كان لشيق

وصل التحية إن عهدك زهرة … تندى وذكرك نفحة تتنشق

وقال:

فالصبح ثغر في كتابك ضاحك … والليل طرف في ذراك كحيل

ولكم قصيد من يراعك شاحب … قد فات صدر الرمح وهو طويل

وتطلعت من برقة وغمامة … في كل أفق راية ورعيل

فالروض مهتز المعاطف نعمة … نشوان تعطفه الصبا فيميل

ريان فضضه الندى ثن انجلى … عنه فذهب صفحتيه أصيل

منها:

والزق منجدل يكب لوجهه … ويمج روح الراح منه قتيل

منها:

شاكي السلاح بقده وبطرفه … رمح أصم وصارم مسلول

وأخ تهز له العلا أعطافها … فكأنه ريحانة وشمول

مياس أعطاف السماح كأنه … غصن تنفس نوره مطلول

طلق الجبين وللحسام تبسم … طاوي المصير وبالقناة ذبول

والنقع أدهم للرماح بوجهه … غرر تلوح وللسيوف حجول

والخيل سطر بالأسنة معجم … وبحمر ألسنة الظبا مشكول

وقال:

من أشهب شق عنه الركض هبوته … كما تفري أديم الليل عن فلق

وأدهم فضض التحجيل أكرعه … كما تعلق بدء الصبح بالغسق

وأشقر سائل في وجهه وضح … كما تصوب نجم الرجم في شفق

وقال:

ومطروراً أجرده صقيلاً … ويعبوباً أكر به كليما

يشيم به وراء النقع برقاً … تألق شهبة وصفا أديما

إذا أوطأته أعقاب ليل … طردت من الظلام به ظليما

وقال:

وارتج يعثر في أذيال خجلته … غصن بعطفيه من إستبرق ورق
যাত্রার সতর্কবাণী ব্যতীত অন্য কিছু আমাকে ভীত করেনি … আমি তার জন্য ঘুমের চোখের পাতা থেকে আতঙ্কের চিহ্ন মুছে ফেলেছি।

এর মধ্যে রয়েছে:

যদি যুদ্ধের ময়দানে বর্শাগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়ে … তবে সেখানে এমন সব মতামত রয়েছে যা তীক্ষ্ণ তলোয়ারের চেয়েও ধারালো।

আর যদি তলোয়ার কোনো রাষ্ট্রের ভিত্তি ধ্বংস করে দেয় … তবে সেখানে কলমগুলো হবে শক্তিশালী খুঁটি।

আপনি তাদের মধ্যে এমন এক প্রফুল্ল কম্পন দেখতে পাবেন … যেমনটি দেখা যায় নমনীয় উচ্চতর বর্শায় অথবা ঝকঝকে তীক্ষ্ণ তলোয়ারে।

তিনি আরও বলেছেন:

আল্লাহর জন্য উৎসর্গীকৃত সেই উজ্জ্বল মুখমণ্ডল … যা বহন করে তেজস্বী মদের অগ্নিময় প্রভাব।

আমরা তা নিয়ে ঘুরেছি বিশাল বৃক্ষের ছায়াতলে … যার সুবাস চমৎকার ও আনন্দদায়ক হয়ে উঠেছিল।

তাতে আলো নিজেই আলোর রূপ ধারণ করেছে … ফলে প্রতিটি শাখা যেন এক একটি সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ।

তিনি বলেছেন:

যে ব্যক্তি নিন্দা ও বিচ্ছেদের মাধ্যমে আমার থেকে বিমুখ হয়েছে … আমি তার পিঠের ওপর তার কবিতার জবাব দিয়েছি।

গতকাল যদি আমরা তার সাথে সংলগ্ন হয়ে থাকতাম … তবে আজ আমার কবিতা তার কবিতার সাথে সংলগ্ন হয়েছে।

আল-খাফাজি বলেছেন:

তার লালার মদিরায় সে সিক্ত ও মত্ত … আমি বঞ্চিত কিন্তু তার জন্য রয়েছে চুমুক দেওয়া, আর তার পরিবর্তে আমার জন্য রয়েছে মাতাল হওয়া।

আমার দুই চোখের পানি এবং তার মুখমণ্ডল টলমল করছে … আর তার গাল আমার হৃদয়ে জ্বলন্ত অঙ্গার প্রজ্বলিত করছে।

এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যদি তার সুবাস চমৎকার হয়, কারণ … তার দৈহিক গঠনরূপী শাখায় তার সৌন্দর্য হলো ফুল।

তার সৌন্দর্যের কোমলতায় আমার প্রেমের কবিতা কোমল হয়ে উঠেছে … আমি জানি না এই দুটির মধ্যে কোনটি আগে জাদুময় ছিল।

আমরা একসাথে হাসি এবং কবিতায় প্রফুল্ল হয়েছি, যেন … আমার কথাগুলো তার জন্য হাসি, আর তার হাসি আমার জন্য কবিতা।

তিনি একটি চিঠির নিন্দায় বলেছেন:

এর পঙ্ক্তি ও অক্ষরগুলো আঁকাবাঁকা … যেন আপনার শব্দের শীতলতায় এতে পক্ষাঘাত হয়েছে।

তিনি বলেছেন:

ক্ষীণকটি সুঠাম দেহধারী … যার অঙ্গভঙ্গি ও চাহনি নমনীয় ও মোহনীয়।

যখন সে তাকায়, যখন সে গান গায় … যখন সে চলে এবং যখন সে মুখ উন্মোচন করে।

সে মদিরা, কবুতর, মেঘমালা এবং চাঁদকেও হার মানায়।

তিনি বলেছেন:

একে গ্রহণ করো যখন পুবালি বাতাসের হাত তোমার দিকে উন্মোচিত হয়েছে … মেঘের ঘোমটায় ঢাকা দিগন্তের মুখ থেকে।

এর মাধ্যমে আনন্দের আগুন প্রজ্বলিত করো, যখন … অন্ধকারের সমুদ্র উথলে উঠেছে এবং নক্ষত্ররাজির বুদবুদ ভেসে উঠেছে।

আর রাতের চাঁদ থেকে মেঘের ধূলি সরে গেছে … যেন এক কালো ঘোড়ার কপালে উজ্জ্বল শুভ্র চিহ্ন প্রকট হয়েছে।

শেষ রাতে সুরাইয়া নক্ষত্রের পা হোঁচট খেয়েছে … ছায়াপথ দ্বারা চিহ্নিত রাতের চাদরে।

তিনি বলেছেন:

এক শ্বেতশুভ্র সুন্দরী হুর … যার মাধ্যমে আমি ঘোর অন্ধকার রাতকে দিনে পরিণত করেছি।

আমি তার দেহের গঠনরূপী ডালপালা নাড়িয়েছি … এবং তার ডালিম সদৃশ স্তনরূপী ফল পেড়েছি।

সেই দিনগুলো সিক্ত হোক, যখন আমি আনন্দের আদেশে … ছোট ছোট আঁচল টেনে হেঁটেছি।

তিনি বলেছেন:

যখন রাত তার নিকষ কালো রঙ নিয়ে আসে … তখন আমি তাতে চিন্তার অগ্নিপাথর ঘষে আগুন জ্বালাই।

আর আমি সুস্মৃতির পেছনে ব্যথিত দীর্ঘশ্বাস ফেলি … ফলে এটি সুবাস ছড়ায় যখন ওটি দহন করে।

আমি ভোরের শুভ্রতাকে একাকিত্বে কালো হতে দেখি … তাই আমি মনে করি যে আমি ভোরেই সন্ধ্যা যাপন করছি।

অশ্রু, দুশ্চিন্তা ও অন্ধকারের সাগরে নিমজ্জিত … যদি এটি একটি মাত্র সমুদ্র হতো, তবে আমি সাঁতরে পার হতে পারতাম।

আমার চোখে রাতের জন্য রয়েছে কালো ঘোড়ার আস্তাবল … আর আমার গালে অশ্রুর জন্য রয়েছে অবাধ্য ধূসর ঘোড়া।

তিনি বলেছেন:

তোমার স্মরণে আমার পাঁজরের হাড়গুলো কেঁপে ওঠে, মনে হয় … আমার প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে একটি করে ডানা ঝাপটাচ্ছে।

তোমার প্রতি ব্যাকুলতা ও টলমল অশ্রু … এক প্রজ্বলিত যাতনা আমাকে গ্রাস করে।

তোমার কল্পনাকে আকস্মিক বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে পাঠাও … কারণ আমি তার জন্য কতটা যে লালায়িত!

অভিবাদন পৌঁছে দাও, কারণ তোমার প্রতিশ্রুতি এক সিক্ত ফুল … আর তোমার স্মরণ এক সুবাস যা নাকে লাগে।

তিনি বলেছেন:

সকাল হলো তোমার কিতাবের এক হাস্যোজ্জ্বল মুখ … আর রাত হলো তোমার আশ্রয়ের সুরমা মাখা চোখ।

তোমার কলম থেকে নিসৃত কতই না পাণ্ডুর কবিতা রয়েছে … যা দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও বর্শার অগ্রভাগকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ ও মেঘমালা থেকে উঁকি দিয়েছে … প্রতিটি দিগন্তে এক একটি ঝাণ্ডা ও এক একটি দল।

ফলে বাগানটি নেয়ামতে দুলছে … পুবালি বাতাসের মাতাল স্পর্শে তা হেলে পড়ছে।

শিশির যাকে রুপালি করেছে, অতঃপর তা সরে গেলে … শেষ বিকেলের আলো তার দুই পাশকে সোনালি করে দিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে:

মদের মশকটি উপুড় হয়ে পড়ে আছে … যেন এক নিহত ব্যক্তি তার থেকে মদের প্রাণ উগড়ে দিচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে:

সে তার দেহের গঠন এবং চাহনি দিয়ে অস্ত্রসজ্জিত … যেন এক নিরেট বর্শা এবং এক উন্মুক্ত তলোয়ার।

এমন এক ভাই যার জন্য উচ্চমর্যাদা আনন্দিত হয় … যেন সে এক সুগন্ধি ফুল এবং শীতল বায়ু।

উদারতার দোলাচলে সে এমন … যেন শিশিরসিক্ত এক প্রস্ফুটিত শাখা।

সে প্রফুল্ল ললাটসম্পন্ন এবং তলোয়ারের হাসিসদৃশ … সে ধৈর্যশীল এবং বর্শার মতো কৃশ।

যুদ্ধের ধূলি যেন এক কালো ঘোড়া, যার মুখে বর্শাগুলো … সাদা চিহ্নের মতো উজ্জ্বল আর তলোয়ারগুলো পায়ের শুভ্রতার মতো।

ঘোড়াগুলো যেন বর্শার ফলার মাধ্যমে লেখা একটি পঙ্ক্তি … যা তলোয়ারের লাল জিহ্বার মাধ্যমে হরকতযুক্ত।

তিনি বলেছেন:

এমন এক ধূসর ঘোড়া যার দৌড় ধূলিকণাকে বিদীর্ণ করেছে … যেমন ভোরের আলো রাতের চামড়াকে বিদীর্ণ করে।

আর এমন এক কালো ঘোড়া যার পাগুলো রুপালি শুভ্রতায় মণ্ডিত … যেমন ভোরের শুরুটা অন্ধকারের সাথে লেগে থাকে।

আর এমন এক লালচে ঘোড়া যার মুখে শুভ্রতা প্রবাহিত … যেমন গোধূলির আকাশে উল্কাপাত ঘটে।

তিনি বলেছেন:

আমি ধারালো ও চকচকে তলোয়ার কোষমুক্ত করি … এবং দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আক্রমণ করি।

ধূলির আড়ালে সে বিদ্যুতের মতো ঝিলিক দেয় … যা ধূসর রঙের মতো উজ্জ্বল এবং চামড়ার মতো স্বচ্ছ।

যখন আমি তাকে রাতের শেষভাগে চালিত করি … তখন আমি তার মাধ্যমে অন্ধকার থেকে অন্ধকারকে বিতাড়িত করি।

তিনি বলেছেন:

সে তার লজ্জার আঁচলে হোঁচট খেয়ে কেঁপে ওঠে … যেন এক শাখা যার দুই পাশে রেশমি সবুজ পাতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
تخال خيلانه في نور وجنته … كواكباً في شعاع الشمس تحترق

عجبت والعين ماء والحشا لهب … كيف التقت بهما في حبه الطرق

وقال في شجرة نارنج:

وتندى بها في مهب الصبا … زبرجدة أثمرت باللهب

وقال فيها:

ومياسة تزهى وقد خلع الحيا … عليها حلي حمراً وأردية خضرا

يذوب لها ريق الغمامة فضة … ويجمد في أعطافها ذهباً نضرا

وقال:

يضاحكها ثغر من الشمس ضاحك … ويلحظها طرف من الماء أزرق

وتجلى بها للماء والنار صورة … تروق فطرفي حيث يغرق يحرق

وقال:

وارتد للشمس طرف به من السقم فتره

يجول للغيم كحل … فيه وللقطر عبره

وقال:

والليل قد ولى يقلص برده … كداً ويسحب ذيله في المغرب

وكأنما نجم الثريا سحرة … كف تمسح عن معاطف أشهب

وقال في البرد:

فالأرض تضحك عن قلائد أنجم … نثرت بها والجو جهم قاطب

وكأنما زنت البسيطة تحته … فأكب يرجمها الغمام الحاصب

وقال في أسود:

يا جامعاً بمساويه وطلعته … بين السوادين من ظلم ومن ظلم

أمثله حسداً في مثله جسداً … لقد تألف بين النار والفحم

وقال في صفة شعره:

تلوح به في دهمة الحبر غرة … ويركض في شوط الفصاحة سابح

وقال:

وندىً أنس هزني … هز الشراب من الشباب

والليل وضاح الجبين … قصير أذيال الثياب

فقنصت منه حمامة … بيضاء تنسخ من غراب

والنور مبتسم وخد … الورد محطوط النقاب

وكأن كأس سلافة … ضحكت إليهم عن حباب

وقال:

وصدر ناد نظمنا له القوافي عقدا

في منزل قد سحبنا بظله العز بردا

قد تأرج نور غض يخالط وردا

تذكو به الشهب جمراً ويعبق الليل ندا

كما تنفس ثغر عذب يقبل خدا

وقال:

وأغيد في صدر الندى لحسنه … حلي وفي صدر القصيد نسيب

جلاها وقد غنى الحمام عشية … عجوزاً عليها للحباب مشيب

وجاء بها حمراء أما زجاجها …

فماء وأما ملؤه فلهيب

وغازلنا جفن هناك لنرجس … ومبتسم للأقحوان شنيب

ففله ذيل للتصابي سحبته … وعيش بأكناف الشباب رطيب

وقال:

ومقنع بخلاً بنضرة حسنه … أمسى هلالاً وهو بدر تمام

قبلت منه أقحوانة مبسم … رفت وراء كمامة لللثام

ولثمت جمرة وجنة تندى به فكرعت في برد بها وسلام

وبكل مرقبة مناخ غمامة … مثل الضريب بها مجاج نعام

أوحت هناك إلى الربى أن بشري … بالري فرع أراكة وبشام

وكفى بلمح غمزة حاجب … وبصوت ذاك الرعد رجع كلام

ذاكي لسان النار تحسب أنه … برق تمزق عنه جيب غمام

وكأن بدء النار في أطرافه … شفق لوى عطفاً بذيل ظلام

وقال من أخرى:

وما شاقني إلا وميض غمامة … تطلع في نجد فحيا اللوى ربعا

فقل في أتى قد تهادى كأنه … إذا ما ثنى أعطافه حية تسعى

وماء مسيل سائل لقرارة … فبينا ترى منه حساماً ترى درعا

وقال:

وهل هي إلا جملة من محاسن … تغاير أبصار عليها وآذان

بأمثالها من حكمة في بلاغة … تحلل أضغان وترحل أظعان

وتنظم في نحر المعالي قلادة … وتسحب في نادي المفاخر أردان

تدفق ماء الطبع فيه تدفقاً … فجاء كما يصفو على النار عقيان

أتاني يرف النور فيه نضارة … ويكرع منه في الغمامة ظمآن

فهل ترد الأستاذ عني تحية … تسير كما عاطي الزجاجة ندمان

تهش إليها روضة الحزن سحرة … ويثني إليها من معاطفه البان

وقال:

نبه وليدك من صباه بزجرة … فلربما أغفى هناك ذكاؤه

وانهره حتى تستهل دموعه … في وجنتيه وتلتظي أحشاؤه

فالسيف لا تذكو بكفك ناره … حتى يسيل بصفحتيه ماؤه

وقال:

هذه نعماه مل يدي … وثنا حسناه ملء فمي

وقال:

غازلته والأقحوانة مبسم … والآس صدغ والبنفسج خال

ووراء خفاق النجاد ضبارم … يسري به خلف الظلام خيال
তাঁর গালের নূরের মাঝে তাঁর তিলগুলোকে মনে হয় যেন সূর্যের রশ্মিতে প্রজ্জ্বলিত নক্ষত্ররাজি।

আমি আশ্চর্য হলাম যে চোখ হলো পানি আর অন্তঃকরণ হলো অগ্নিশিখা; তাঁর ভালোবাসায় কীভাবে এই দুই বৈপরিত্য একত্রিত হলো?

তিনি একটি কমলা গাছ সম্পর্কে বলেছেন:

পুবালি বাতাসের প্রবাহে তা সিক্ত হয়; যেন এক মরকত মণি যা অগ্নিশিখার ন্যায় ফল দান করেছে।

তিনি এটি সম্পর্কে আরও বলেছেন:

এক দোদুল্যমান বৃক্ষ যা গর্বভরে দাঁড়িয়ে আছে, আর লজ্জা তার ওপর লাল অলঙ্কার ও সবুজ চাদর পরিয়ে দিয়েছে।

মেঘের জলীয় কণা তার জন্য রূপা হয়ে গলে পড়ে, আর তার শাখা-প্রশাখায় তা উজ্জ্বল সোনা হয়ে জমাট বাঁধে।

তিনি বলেছেন:

সূর্যের এক হাস্যোজ্জ্বল মুখ তাকে দেখে হাসছে, আর পানির এক নীল চোখ তাকে পর্যবেক্ষণ করছে।

তার মাঝে পানি ও আগুনের এমন এক রূপ প্রকাশিত হয়েছে যা চমৎকার; ফলে আমার দৃষ্টি যেখানেই নিমজ্জিত হয়, সেখানেই দগ্ধ হয়।

তিনি বলেছেন:

সূর্যের দিকে এমন এক দৃষ্টি ফিরে এল যাতে অসুস্থতাজনিত ক্লান্তি রয়েছে।

তাতে মেঘের জন্য সুরমা বিচরণ করে এবং বৃষ্টির জন্য অশ্রুবিন্দু রয়েছে।

তিনি বলেছেন:

রাত বিদায় নিয়েছে, কষ্টের সাথে সে তার শীতল চাদর গুটিয়ে নিচ্ছে এবং পশ্চিমে তার আঁচল টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

আর শেষ রাতে সুরাইয়া (কৃত্তিকা) নক্ষত্রপুঞ্জ যেন এক হাতের তালু, যা ধূসর ঘোড়ার ঘাড় থেকে ধুলো মুছে দিচ্ছে।

তিনি শিলাবৃষ্টি সম্পর্কে বলেছেন:

পৃথিবী যেন নক্ষত্রের হারের ওপর হাসছে যা তার ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ আকাশ তখন বিমর্ষ ও ভ্রুকুটিবদ্ধ।

মনে হচ্ছিল যেন তার নিচে জমিন পাপে লিপ্ত হয়েছে, তাই পাথরবর্ষণকারী মেঘ ঝুঁকে পড়ে তাকে পাথর মারছে।

তিনি এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন:

হে ব্যক্তি, যে নিজের মন্দ কাজ ও চেহারা দিয়ে অন্ধকার ও অন্যায়ের দুই কৃষ্ণতাকে একত্রিত করেছ।

আমি তাকে হিংসাভরে তার দেহের সাথে তুলনা করি; যেন আগুন ও কয়লার মাঝে মিতালি ঘটেছে।

তিনি তাঁর কবিতার বর্ণনায় বলেছেন:

কালির অন্ধকারে তার মাঝে এক উজ্জ্বল শুভ্রতা উদ্ভাসিত হয়, আর বাগ্মিতার ময়দানে এক দ্রুতগামী অশ্ব দৌড়ায়।

তিনি বলেছেন:

এক বন্ধুত্বের সিক্ততা আমাকে আন্দোলিত করেছে, যেমন তারুণ্যকে সুরা আন্দোলিত করে।

আর রাতটি ছিল উজ্জ্বল ললাটবিশিষ্ট এবং তার পোশাকের আঁচল ছিল সংক্ষিপ্ত।

আমি সেখান থেকে একটি সাদা কবুতর শিকার করলাম যা কাকের অন্ধকারকে মিটিয়ে দেয়।

আলো তখন হাস্যোজ্জ্বল আর গোলাপের গাল থেকে পর্দা সরানো ছিল।

আর মনে হচ্ছিল যেন খাঁটি সুরার পেয়ালাটি বুদবুদের মাধ্যমে তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে।

তিনি বলেছেন:

এক সভার শুরুতে আমরা কবিতার ছন্দে এক হার গেঁথেছিলাম।

এমন এক গৃহে যার ছায়ায় আমরা সম্মানের চাদর টেনে নিয়েছি।

সেখানে সজীব আলোর সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে যা গোলাপের সাথে মিশ্রিত।

তার মাধ্যমে নক্ষত্রগুলো অঙ্গারের মতো জ্বলে ওঠে আর রাত সুগন্ধিতে ম ম করে।

যেন এক মিষ্টি মুখ গাল চুম্বন করার সময় নিঃশ্বাস ছাড়ছে।

তিনি বলেছেন:

সভার মধ্যমণি এক সুতনু যুবক, যার সৌন্দর্যই অলঙ্কার এবং কবিতার সূচনা যার প্রেমগাথা।

সে তা প্রকাশ করল যখন কবুতরগুলো সন্ধ্যায় গান গাইছিল; এক পুরাতন সুরা যার ওপর বুদবুদের শুভ্রতা ছিল।

সে তা লাল বর্ণে নিয়ে এল; যার পাত্রটি যেন

পানি আর তার ভেতরের বস্তু যেন অগ্নিশিখা।

সেখানে নার্গিস ফুলের পল্লব আমাদের সাথে প্রেমালিঙ্গন করছিল আর আকহুয়ান ফুলের সুন্দর হাসিমাখা মুখ ছিল।

আমি সেখানে যৌবনের চপলতার আঁচল টেনেছি এবং তারুণ্যের ছায়াতলে এক সিক্ত জীবন কাটিয়েছি।

তিনি বলেছেন:

কৃপণতাবশত স্বীয় রূপের লাবণ্যকে আবৃতকারী ব্যক্তি; সে সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ হয়ে দেখা দিল অথচ সে ছিল পূর্ণিমা।

আমি তার হাস্যোজ্জ্বল মুখের আকহুয়ান ফুলকে চুম্বন করলাম যা নেকাবের আবরণের আড়ালে কাঁপছিল।

আর আমি সিক্ত গালের অগ্নিশিখাকে চুম্বন করলাম; ফলে আমি তাতে শীতলতা ও প্রশান্তির স্বাদ গ্রহণ করলাম।

প্রতিটি উচ্চ স্থানে মেঘের বিশ্রামের জায়গা ছিল, যা তুষারপাতের মতো উটপাখির লালার ন্যায় প্রতীয়মান হচ্ছিল।

তা সেখানে টিলাগুলোকে সংকেত দিচ্ছিল যে, আরাক ও বাশাম বৃক্ষের ডালগুলোকে পরিতৃপ্ত হওয়ার সুসংবাদ দাও।

ভ্রুর সামান্য ইশারাই যথেষ্ট ছিল, আর সেই বজ্রধ্বনি ছিল কথার প্রতিধ্বনি।

আগুনের প্রজ্জ্বলিত শিখা, তুমি মনে করবে এটি যেন বিদ্যুৎ যা মেঘের বুক চিরে বেরিয়ে এসেছে।

তার প্রান্তে আগুনের সূচনা যেন গোধূলির আভা, যা অন্ধকারের আঁচলের সাথে মিশেছে।

তিনি অন্য এক কবিতায় বলেছেন:

মেঘের বিদ্যুৎ চমক ছাড়া আর কিছুই আমাকে ব্যাকুল করেনি, যা নাজদ অঞ্চলে উদিত হয়ে বালুকাময় প্রান্তরকে অভিবাদন জানিয়েছে।

সেই স্রোত সম্পর্কে বলো যা দুলতে দুলতে আসছিল; যখন সে মোড় নিচ্ছিল তখন তাকে মনে হচ্ছিল যেন এক ধাবমান সাপ।

গর্তের দিকে বয়ে যাওয়া প্রবাহমান পানি; এক মুহূর্তে তুমি তাকে তরবারি মনে করবে, অন্য মুহূর্তে বর্ম দেখবে।

তিনি বলেছেন:

এগুলো তো সৌন্দর্যের সমষ্টি বৈ কিছু নয়, যার প্রতি চোখ ও কান ঈর্ষা পোষণ করে।

অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন সব প্রজ্ঞাপূর্ণ কথার মাধ্যমে বিদ্বেষ দূর হয় এবং গন্তব্যের দিকে কাফেলা যাত্রা করে।

এটি উচ্চমর্যাদার কণ্ঠে হার গেঁথে দেয় এবং গৌরবের মজলিসে আস্তিন টেনে নিয়ে যায়।

এতে সহজাত প্রতিভার স্রোত এমনভাবে প্রবাহিত হয়েছে যে, এটি আগুনের ওপর পরিশোধিত খাঁটি সোনার মতো হয়ে এসেছে।

এটি আমার কাছে এমন দীপ্তি নিয়ে এসেছে যাতে সজীবতা রয়েছে, আর তৃষ্ণার্থ ব্যক্তি মেঘের ছায়ায় তা থেকে পান করে।

ওস্তাদ কি আমার পক্ষ থেকে সেই অভিবাদন গ্রহণ করবেন, যা পাত্র বিনিময়কারী সহচরের মতো ধাবমান?

শেষ রাতে বিষাদময় বাগান যার প্রতি প্রফুল্ল হয় এবং বন বৃক্ষ তার দিকে ঝুঁকে পড়ে।

তিনি বলেছেন:

তোমার সন্তানকে শৈশবেই শাসনের মাধ্যমে সজাগ করো, কারণ হতে পারে সেখানে তার মেধা সুপ্ত অবস্থায় আছে।

তাকে ধমক দাও যতক্ষণ না তার গালে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে এবং তার ভেতরটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কারণ তরবারির ধারালো আভা তোমার হাতে ততক্ষণ ফুটে ওঠে না, যতক্ষণ না তার দুই পিঠ শান দেওয়ার পানিতে সিক্ত হয়।

তিনি বলেছেন:

এটি তাঁর নেয়ামত যা আমার হাত পূর্ণ করে দিয়েছে, আর তাঁর সুন্দর প্রশংসা আমার মুখ পূর্ণ করে রেখেছে।

তিনি বলেছেন:

আমি তার সাথে প্রেম বিনিময় করেছি যখন আকহুয়ান ছিল তার হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সুগন্ধি লতা ছিল তার অলকগুচ্ছ এবং বনফশা ছিল তার তিল।

আর দোদুল্যমান তলোয়ারের ঝালরের পেছনে ছিল এক সাহসী বীর, যার কল্পনা অন্ধকারের আড়ালে বিচরণ করে।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ألقى العصا في حيث يعثر بالحصى … نهر وتلعب بالغصون شمال

وكأنما بين الغصون تنازع … وكأنما بين المياه جدال

فكأنما ألقى هنالك درعه … بطل وجرد وشيه مختال

بيد الجيرة منه سوط خافق … وبساق ليلة قرة خلخال

وقال:

ألا هل إلى أرض الجزيرة أوبة … فأسكن أنفاساً وأهدأ مضجعا

أغازل فيها للغزالة سنة … تحط الصبا عنها من الغيم برقعا

وقد فض عقد القطر في كل تلعة … نسيم تمشي بينها فتضوعا

وبات سقط الطل يضرب سرحة … ترف بواديها وينضح أجرعا

وقال:

إن للجنة بالأندلس … مجتلى حسن وريا نفس

فسنا صبحتها من شنبٍ … ودجى ليلتها من لعس

فإذا ما هبت الريح صبا … صحت وأشواقاً إلى الأندلس

وقال من قصيدة:

وليل كما مد الغراب جناحه … وسال على وجه السجل مداد

منها:

كأني وأحشاء البلاد تضمني … سريرة حب والظلام فؤاد

أجوب جيوب والصبح صارم … له الليل غمد والمجر نجاد

وفي مصطلى الآفاق جمر كواكب … علاها من الفجر المطل رماد

ولما تفرى من دجى الليل طحلب … وأعرض من ماء الصباح ثماد

حننت وقد ناح الحمام صبابة … وشق من الليل البهيم حداد

وقال:

إذا بسطت كف الهياج إلى العدا … أنامل سمر الخط كانوا لها زندا

رأيت جفون الليل والليل إثمد … تقلب من جمر الجذى أعيناً رمدا

وقال:

كتبت وقد خصرت راحتي … فهل من حريق لكأس الرحيق

وقد أعوزت نارهها حملة … فلولاك شبهتها بالرفيق

وقال:

وأسمر يلحظ عن أزرق … كأنه كوكب رجم وقد

يضحك من بيض حباب طفاً … فيه ومن درع غدير حمد

حيث الوغى بحر وبيض الظبا … موج وخرصان العوالي زند

وقال في سفينة:

وجارية ركبت بها ظلاماً … يطير من الصباح بها جناح

إذا الماء اطمأن فرق خصراًِ … علا من موجه ردف رداح

وقد فغر الحمام هناك فاه … وأتلع جيده الأجل المتاح

فما أدري أموج أو قلوب … وأنفاس تصعد أم رياح

وقال:

فزففتها بكراً إذا قبلتها … ألقت على وجهي قناعاً أحمرا

والريح تنخل من رذاذ لؤلؤاً … رطباً وتفتق من غمام عنبرا

وقال:

وافي بنا صحفية صفحة … جعل العذار بها يسيل مدادا

متجهماً تكل الشباب وإنما … لبس العذار على الشباب حدادا

وقال في كلب صيد:

جرى شدا وللصبح التماع … بحيث جرى وللبرق التماح

فحجله وسوره وميض … جرى معه وطوقه صباح

وقال فيما يتعلق بصفة جبل:

وصهوة عزم قد تمطيت والدجى … منكب كأن الصبح في صدره سر

وقد ألحفتني شملة الطل شمال … يقلقل أحشاء الأراك بها ذعر

وشق الدجى نجم النفط مرسل … ترامى من الليل البهيم به فجر

وأشرف طماح الذؤابة شامخ … تنطق الجوزاء ليلاً له خصر

ولاذبه نجم السماء كأنما … يحن إلى وكر به ذلك النسر

وقال:

وأقسم لو مثلت ليلة … لعفت الكرى واستطبت الأرق

منها:

وما رفلت في قميص الدجى … ولا اشتملت برداء الغسق

ولكن تسيل عليها القلوب … هوى وتذوب عليها الحدق

وقال:

وأغر ضاحك وجهه مصباحه … فأنار ذا قمراً وذلك فرقداً

ما إن خبا تلقاء نور جبينه حتى ذكا بذكائه فتوقدا

وقال:

أطل وقد خط وجهه … من الشعر سطر دقيق الحروف

فقات أرى الشمس مكسوفة … فقوما فصلوا صلاة الكسوف

وقال:

سود ما ورد من خده … فآل فحماً ذلك الجمر

وقال:

هل ساءه أن عاد آساً ورده … وتعطلت من فيه كأس تشرب

وكأن صفحته وبدء عذاره … ماء يثور بصفحتيه طحلب

وقال:

وغمامة لم يستقل بها السرى … فمشت على الظلماء مشى مقيد

حملت بها ريح القبول سحابة … سحابة الأذيال تلمس باليد

في ليلة ليلاء يلحس حبرها … وهناً لسان البارق المتوقد

نسخ الضريب بها الظلام حمامة … فابيض كل غراب ليل أسود

وقال:
সেখানে লাঠি নিক্ষেপ করল যেখানে কঙ্কর হোঁচট খায় … এক নদী, আর উত্তরীয় বায়ু শাখা-প্রশাখা নিয়ে খেলা করে।

মনে হয় যেন শাখাগুলোর মাঝে বিবাদ চলছে … আর পানির মাঝে চলছে বিতর্ক।

মনে হয় যেন কোনো বীর সেখানে তার বর্ম নিক্ষেপ করেছে … আর অহংকারী কারুকার্যময় পোশাক খুলে ফেলেছে।

প্রতিবেশীর হাতে স্পন্দিত চাবুক … আর রাতের শীতল পায়ে নূপুর।

তিনি বললেন:

আহা, জাজিরা ভূমিতে কি কোনো প্রত্যাবর্তন আছে? … তবে আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতাম এবং আমার শয্যা শান্ত হতো।

সেখানে আমি হরিণীরূপী সূর্যের সাথে প্রেম নিবেদন করি … যার ওপর থেকে দখিনা বাতাস মেঘের নেকাব সরিয়ে দেয়।

প্রতিটি টিলায় বৃষ্টির বাঁধন খুলে গেছে … মৃদুমন্দ বাতাস তাদের মাঝে হেঁটে যায় এবং সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয়।

শিশিরবিন্দুরা রাতভর বৃক্ষকে আঘাত করতে থাকে … যা উপত্যকায় দুলতে থাকে এবং বালুকাময় প্রান্তরে সিঞ্চন করে।

তিনি বললেন:

আন্দালুসে জান্নাতের জন্য রয়েছে … সৌন্দর্যের প্রকাশস্থল এবং প্রাণের প্রশান্তি।

তার প্রভাতের দীপ্তি সাদা দাঁত থেকে … আর তার রজনীর অন্ধকার ওষ্ঠাধরের কৃষ্ণাভ সৌন্দর্য থেকে।

যখনই পুবালি বাতাস বয়ে যায় … আমি চিৎকার করে উঠি আন্দালুসের প্রতি ব্যাকুলতায়।

তিনি একটি কাসিদা থেকে বললেন:

আর এক রাত যেন দাঁড়কাক তার ডানা মেলেছে … আর খাতার পৃষ্ঠায় কালি গড়িয়ে পড়েছে।

তার অংশবিশেষ:

মনে হয় যেন ভূখণ্ডের উদর আমাকে জাপটে ধরেছে … প্রেমের গোপনীয়তা হিসেবে, আর অন্ধকার হলো তার হৃদয়।

আমি অলিগলি পাড়ি দিই যখন ভোর হলো এক ধারালো তলোয়ার … রাত্রি যার খাপ এবং ছায়াপথ যার ঝোলানো ফিতা।

দিগন্তের অগ্নিকুণ্ডে নক্ষত্ররূপী অঙ্গারসমূহ … যার ওপর উদীয়মান ভোরের ভস্মরাশি জমেছে।

যখন রাতের অন্ধকারের শ্যাওলা বিদীর্ণ হলো … এবং ভোরের পানির উৎসসমূহ দৃশ্যমান হলো।

আমি ব্যাকুল হলাম যখন কবুতর প্রেমে বিলাপ করল … আর নিবিড় অন্ধকার থেকে শোকের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হলো।

তিনি বললেন:

যখন যুদ্ধের হাত শত্রুদের দিকে প্রসারিত হয় … বাদামী বল্লমের আঙুলগুলো তার জন্য চকমকি পাথর হয়ে যায়।

আমি রাতের পল্লবগুলো দেখলাম যখন রাত ছিল সুরমা … যা জ্বলন্ত অঙ্গার থেকে অসুস্থ চোখ উল্টেপাল্টে দিচ্ছে।

তিনি বললেন:

আমি লিখলাম যখন আমার হাতের তালু জমে হিম হয়ে গেছে … সুরা-পেয়ালার আগুনের কি কোনো যোগান আছে?

তার আগুন বাহকদের অভাব বোধ করছিল … আপনি না হলে আমি একে বন্ধুর সাথে তুলনা করতাম।

তিনি বললেন:

এক শ্যামল কিশোর যার দৃষ্টি নীল … যেন সে এক নিক্ষিপ্ত নক্ষত্র যা প্রজ্বলিত হয়েছে।

সে ভাসমান সাদা বুদবুদ দেখে হাসে … এবং প্রশংসিত জলাশয়ের বর্ম দেখে।

যেখানে রণক্ষেত্র হলো সমুদ্র আর সাদা তলোয়ারসমূহ … ঢেউ, আর উন্নত বল্লমগুলো হলো আগুন জ্বালানোর কাঠি।

তিনি একটি জাহাজ সম্পর্কে বললেন:

এক তরণী যাতে চড়ে আমি অন্ধকারে যাত্রা করলাম … প্রভাত যার পাখা নিয়ে উড়ে চলে।

যখন পানি শান্ত হয় তখন সে কোমরকে চিরে ফেলে … তার ঢেউয়ের ওপর ভারী নিতম্ব জেগে ওঠে।

সেখানে মৃত্যু তার মুখ ব্যাদান করেছে … আর নির্ধারিত মরণ তার ঘাড় উঁচিয়ে আছে।

আমি জানি না এগুলো ঢেউ নাকি হৃদয় … আর এগুলো কি উর্ধ্বগামী দীর্ঘশ্বাস নাকি বাতাস।

তিনি বললেন:

আমি তাকে নববধূর সাজে বাসর ঘরে নিলাম, যখন আমি তাকে চুম্বন করলাম … সে আমার মুখে এক লাল নেকাব ছুড়ে দিল।

আর বাতাস গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থেকে সিক্ত মুক্তো ঝাড়ছে … আর মেঘমালা থেকে আম্বর বিদীর্ণ করছে।

তিনি বললেন:

সে আমাদের কাছে এক লিখিত পৃষ্ঠার ন্যায় মুখমণ্ডল নিয়ে এলো … গালের অবাধ্য চুলগুলো যাতে কালির মতো বয়ে চলেছে।

ভ্রূকুটি কুঞ্চিত যা যৌবনকে ক্লান্ত করে, আসলে … গালের চুলগুলো যৌবনের ওপর শোকের পোশাক পরেছে।

তিনি একটি শিকারী কুকুর সম্পর্কে বললেন:

সে দৌড়ে চলল যখন ভোরের আভা দেখা দিল … যেখানে সে দৌড়ালো সেখানে বিদ্যুতের চমক ছিল।

তার পায়ের সাদা চিহ্ন এবং গলার বেষ্টনী যেন এক ঝলকানি … যা তার সাথে দৌড়ায়, আর তার গলার হার যেন প্রভাত।

তিনি একটি পাহাড়ের বর্ণনায় বললেন:

সংকল্পের পিঠে আমি সওয়ার হলাম যখন অন্ধকার ছিল … এক কাঁধ, যেন প্রভাত তার বক্ষে এক রহস্য।

শিশিরের চাদর আমাকে আবৃত করল যখন উত্তরীয় বায়ু … ত্রাসের মাধ্যমে পিলু বৃক্ষের অভ্যন্তরকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল।

অন্ধকারকে বিদীর্ণ করল প্রেরিত অগ্নি-নক্ষত্র … নিবিড় অন্ধকার থেকে যার মাধ্যমে এক প্রভাত নিক্ষিপ্ত হলো।

এক সুউচ্চ শৃঙ্গ আত্মপ্রকাশ করল … কালপুরুষ নক্ষত্র যার কোমরে রাতে কোমরবন্ধ বাঁধে।

আকাশের নক্ষত্র তার কাছে আশ্রয় নিল যেন সে … সেই ঈগলের বাসার প্রতি ব্যাকুল হয়েছে।

তিনি বললেন:

আমি শপথ করছি, যদি একটি রাত মূর্ত হতো … তবে আমি নিদ্রাকে ঘৃণা করতাম এবং অনিদ্রাকেই উত্তম মনে করতাম।

তার অংশবিশেষ:

সে অন্ধকারের জামা পরে দম্ভভরে চলেনি … কিংবা গোধূলির চাদর গায়ে জড়ায়নি।

কিন্তু তার ওপর হৃদয়গুলো অনুরাগে বয়ে যায় … আর তার জন্য চোখের মণি গলে যায়।

তিনি বললেন:

এক উজ্জ্বল ব্যক্তি যার হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডলই তার প্রদীপ … যা চাঁদকে এবং নর্থ স্টারকে আলোকিত করেছে।

তার ললাটের নূরের সামনে তা নেভেনি যতক্ষণ না … তা তার উজ্জ্বলতায় উদ্দীপ্ত হয়ে জ্বলে উঠল।

তিনি বললেন:

সে উদিত হলো যখন তার মুখে চুল দিয়ে … সূক্ষ্ম অক্ষরের একটি লাইন লেখা হলো।

আমি বললাম, আমি সূর্যকে গ্রহণলাগা অবস্থায় দেখছি … অতএব তোমরা দাঁড়াও এবং গ্রহণের নামাজ পড়ো।

তিনি বললেন:

তার গালের গোলাপগুলো কালো হয়ে গেল … ফলে সেই অঙ্গারগুলো কয়লায় পরিণত হলো।

তিনি বললেন:

তার গোলাপ যখন মির্টল ফুলে পরিণত হলো তখন কি সে কষ্ট পেল? … আর তার মুখ থেকে পান করার পেয়ালা কি অকেজো হয়ে গেল?

তার গাল এবং গালের নবোদগত চুল যেন … এমন পানি যার দুই তলে শ্যাওলা জন্ম নিচ্ছে।

তিনি বললেন:

এক মেঘখণ্ড যা নৈশ ভ্রমণে সমর্থ ছিল না … তাই সে অন্ধকারের ওপর দিয়ে শৃঙ্খলিত ব্যক্তির মতো হেঁটে চলল।

পুবালি বাতাস তাকে এক মেঘ হিসেবে বহন করল … প্রলম্বিত আঁচলওয়ালা মেঘ যা হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়।

এক ঘোর কৃষ্ণবর্ণ রাতে যার কালি লেহন করে … মধ্যরাত্রে প্রজ্বলিত বিদ্যুতের জিহ্বা।

তুষারপাত তার মাধ্যমে অন্ধকারকে কবুতরে রূপান্তরিত করল … ফলে কালো রাতের প্রতিটি দাঁড়কাক সাদা হয়ে গেল।

তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فنبت مناب البدر في ليلة السرى … وقمت مقام الوبل في البلد المحل

وأضمرت نار الطعن في ثغر العدا … وأجريت ماء النصر في صفحة النصل

فحيت أبا يحيى ذراك غمامة … صقيلة ثغر البرق وارفة الظل

تجرر أذيال الرباب على الربى … ويمشي بها وإني النسيم على رسل

فطل عمر الدنيا وطأ قمم العدا … وخيم مع العليا وحز قصب الخصل

ومن بها أندى نسيماً من الصبا … [لدى] وأحلى موقعاً من جني النحل

ولا تحتقرها من نوالك برة … فللطل معنى ليس للمطر الوبل

قال في فرس أشقر:

مطهم شرق الأديم كأنما … ألفت معاطفه النجيع خضابا

طرب إذا غنى الحسام ممزق … ثوب العجاجة جيئة وذهابا

قدحت يد الهيجاء منه بارقاً … متلهباً يزجي القتام سحابا

رمى الحفاظ به شياطين العدا … فانقض في ليل الغبار شهابا

بسام ثغر الحلي تحسب أنه كأس أثار بها المزاج حبابا

قال:

وحسام بكف أشوس أجري … في الطلى ماءه أضرم ناره

عطف الضرب منه عارض شيب … فانحنى يخضب النجع ع1ذاره

فوق ورد محجل مزج الحسن … بمرآه ماءه وعقاره

خلصته نار الطبيعة سبكاً وأسالت لجينه ونضاره

قدح الركض زنده فاستطارت … في دخان العجاج منه شراره

يضحك الحلي فوقه عن أقاح … نثرتها الصبا على جلناره

وقال في شادن شاد:

ملأ المسامع والعيون محاسناً … فلم أدر أصغي إليه أم أنظر

قال:

والبس رداء السيف مطرز … تحت العجاجة بالنجيع الأحمر

وارم الكريهة بالكريمة وارتشف … صفو الحياة من العجاج الأكدر

وقال:

خلعت رداء الصبر فيها علاقة … ويحسن إلا في هوى مثلها الصبر

ولا غرو أن تروي بها عين ناظر … وباطنها ماء وظاهرها خمر

وقال:

وقد جال من جون الغمامة أدهم … له البرق سوط والشمال عنان

وضمخ ردع الشمس نحر حديقة … عليه من الطلى السقيط جمان

ونمت بأسرار الرياض خميلة … لها النور ثغر والنسيم لسان

وقال:

طبعت من النوار بيض دراهم … مدت إليك بها غصون

فما احتمى جانب لم يحمه ملك … ولا مضى صارم لم يمضه بطل

وقال يصف الليل:

لاطمت لجته بموجة أشهب … يرمي بها بحر الظلام فترتمي

قد سال في وجه الدجنة غرة … فالليل في شية الأغر الأدهم

أطلعت منه ومن سنان أزرق … ومهند عضب ثلاثة أنجم

جاذبته فضل العنان وقد طغى … فانساح ينسل انسياب الأرقم

في خصر غرو بالأراك موشح … أو رأس طود بالغمام معمم

حتى تهادى الغصن يأطر متنه … طرياً لشدو الطائر المترنم

وكأن ضوء الصبح ظافر … نفضت بها الهيجاء نضحاً من دم

وقال:

رطيب النسيم كأن الصبا … تجرر فيه ذيول الغمام

وقال:

ومجر ذيل غمامة قد نمنمت … وشى الربيع به يد الأنواء

وشربتها عذراء تحسب أنها … معصورة من وجنتي عذراء

ومنها:

خذها كما اطلعت إليك عرارة … مفترة عن لؤلؤ الأنداء

صفراء في بيضاء تحسب أنها … شمس العشية في قرار الماء

ويوم ترى برقه أشقراً … يطارد من مزنة أشهبا

ترى الأرض منه وقد فضضت … ووجه السماء وقد ذهبا

وقد اطلع الروض من أيكة … سماء ومن زهرة كوكبا

وكرز أثواب خضر الغصون … ورصع تيجان هام الربى

وقد قبل الماء كأس المدام … فاضحك ثغراً لها أشنبا

وشف المزاج بها جمرة … تكاد بها الكأس أن تلهبا

عروساً ترى خدهها أحمراً … يشوق ومفرقها أشيبا

وقال:

إلا إن ثغر الدمع فيك لباسم … وقد طال من وجه الظلام قطوب

ومن لي بطيف منك يطرق مضجعي … وبين الكرى العين فيك حروب

وإني لمهتز لذكراك لوعة … كما اهتز في مسرى النسيم قضيب

وقال:

وقد جال من كأس المدامة أشقر … يسابقه من جدول الماء أشهب

كأن لسان البرق فيه عشية … لواء خضيب أو رداء مذهب

وقال يصف أثر السيل:
আপনি নৈশ সফরের পূর্ণিমার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত জনপদে প্রবল বৃষ্টির স্থান অধিকার করেছেন।

আপনি শত্রুর মুখে বর্শাঘাতের আগুন গোপন করেছেন এবং তলোয়ারের পৃষ্ঠে বিজয়ের পানি প্রবাহিত করেছেন।

হে আবু ইয়াহইয়া! আপনার উচ্চতাকে এক মেঘমালা অভিবাদন জানিয়েছে, যার বিজলী-মুখ সুমার্জিত এবং যার ছায়া সুদীর্ঘ।

তা টিলার উপর সাদা মেঘের আঁচল টেনে নিয়ে যায়, আর মৃদুমন্দ বাতাস তাকে ধীরে ধীরে পথ দেখায়।

আপনি দীর্ঘায়ু হোন, শত্রুদের মস্তক দলিত করুন, উচ্চমর্যাদার সাথে অবস্থান করুন এবং শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার ছিনিয়ে নিন।

আর এখানে এমন একজন আছেন যার সুবাস পুবালি বাতাসের চেয়েও স্নিগ্ধ এবং যার অবস্থান মৌচাকের মধুর চেয়েও মিষ্টি।

আপনার দান হিসেবে একে তুচ্ছ জ্ঞান করবেন না; কারণ শিশিরের এমন এক মাহাত্ম্য আছে যা প্রবল বৃষ্টিরও নেই।

তিনি একটি লাল বর্ণের ঘোড়া সম্পর্কে বলেন:

সুঠামদেহী ও উজ্জ্বল চর্মবিশিষ্ট, যেন তার দুই পার্শ্ব নিহতদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।

সে উল্লাসিত হয় যখন তলোয়ার গান গায়, সে ধূলিকণার পোশাক ছিঁড়ে বারবার যাতায়াত করে।

যুদ্ধের হাত তার থেকে এক জ্বলন্ত বিদ্যুৎ শিখা নির্গত করেছে, যা মেঘের মতো ধূলিকণা তাড়িয়ে নিয়ে যায়।

সংরক্ষণকারীরা তা শত্রুরূপ শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপ করেছে, ফলে ধূলিময় রাতে তা উল্কার মতো আঘাত হেনেছে।

তার অলঙ্কারসমূহ এমন হাস্যোজ্জ্বল যেন মনে হয় এটি একটি পেয়ালা যার মিশ্রণ বুদবুদ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন:

এক সাহসী বীরের হাতের তলোয়ার, যা গ্রীবাতে নিজের পানি প্রবাহিত করে আবার আগুনও প্রজ্বলিত করে।

আঘাতের তীব্রতা তাকে বার্ধক্যের শুভ্রতায় পরিণত করেছে, তাই সে রক্ত দিয়ে নিজের গণ্ডদেশ রঞ্জিত করতে নুয়ে পড়েছে।

শুভ্র পদচ্ছাপযুক্ত গোলাপী ঘোড়ার পিঠে, সৌন্দর্যের তার রূপে পানি ও সুরাকে মিশ্রিত করেছে।

প্রকৃতির আগুন তাকে গলিয়ে খাঁটি করেছে এবং তার রূপা ও সোনাকে গলিয়ে দিয়েছে।

দৌড়ানোর ফলে তার খুর থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ঠিকরে বের হয় এবং ধূলার ধোঁয়ায় তা উড়ে বেড়ায়।

তার উপরের অলঙ্কারসমূহ ক্যামোমাইল ফুলের মতো হাসছে, যা পুবালি বাতাস ডালিম ফুলের ওপর ছড়িয়ে দিয়েছে।

এক গায়ক কিশোর সম্পর্কে তিনি বলেন:

সে কান ও চোখকে সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিয়েছে, তাই আমি বুঝতে পারছি না তার গান শুনব নাকি তাকে দেখব।

তিনি বলেন:

আর তলোয়ারের পোশাক পরিধান করুন, যা ধূলিঝড়ের নিচে লাল রক্ত দিয়ে কারুকার্য খচিত।

বিপদকে আভিজাত্য দিয়ে প্রতিহত করুন এবং ঘোলাটে ধূলিকণার মাঝেই জীবনের স্বচ্ছতা আস্বাদন করুন।

তিনি বলেন:

আমি আসক্তির কারণে ধৈর্যের পোশাক ত্যাগ করেছি; এমন প্রেমের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ শোভন নয়।

আশ্চর্যের কিছু নেই যে দর্শকের চোখ এতে তৃপ্ত হয়; এর ভেতরটা পানি এবং বাহিরটা সুরা।

তিনি বলেন:

কালো মেঘের বুক থেকে এক শ্যামল ঘোড়া বিচরণ করছে, যার চাবুক হলো বিদ্যুৎ আর লাগাম হলো উত্তুরে হাওয়া।

সূর্যের আভা এক বাগানের বক্ষদেশকে সুবাসিত করেছে, যার উপর শিশিরবিন্দু মোতির মতো ঝরে পড়ছে।

বাগানের গোপন রহস্য এক কুঞ্জবন ফাঁস করে দিয়েছে, যার মুখ হলো আলো আর জিহ্বা হলো মলয় বাতাস।

তিনি বলেন:

ফুল থেকে যেন রূপালি দিরহাম মুদ্রিত হয়েছে, যা শাখাগুলো আপনার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এমন কোনো দিক সংরক্ষিত হয়নি যা রাজা রক্ষা করেননি, আর এমন কোনো তলোয়ার চলেনি যা বীর চালায়নি।

তিনি রাত বর্ণনা করে বলেন:

আমি রাতের অতলকে ধূসর তরঙ্গের মাধ্যমে আঘাত করেছি, যা অন্ধকারের সাগরে নিক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় ফিরে আসে।

অন্ধকারের মুখমণ্ডলে শুভ্র আভা প্রবহমান হয়েছে, যেন রাতটি কপালে তিলকধারী এক কৃষ্ণবর্ণের ঘোড়া।

আমি সেখান থেকে, নীল বর্শাফলক থেকে এবং ধারালো তলোয়ার থেকে তিনটি নক্ষত্র উদিত করেছি।

আমি তার লাগাম টেনে ধরেছি যখন সে অবাধ্য হয়েছিল, অতঃপর সে চিতল সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলতে লাগল।

সেটি যেন আরাক বৃক্ষ সজ্জিত কোনো সুতনুর কোমর, অথবা মেঘের পাগড়ি পরা কোনো পাহাড়ের চূড়া।

অবশেষে শাখাটি দুলতে দুলতে তার পিঠ বাঁকিয়ে দিল, সুরেলা পাখির গানের জন্য তা সজীব হয়ে উঠল।

মনে হয় ভোরের আলো একজন বিজয়ী, যার মাধ্যমে যুদ্ধ রক্তের ছিটা ঝেড়ে ফেলেছে।

তিনি বলেন:

স্নিগ্ধ বাতাস, যেন পুবালি হাওয়া তাতে মেঘের আঁচল টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন:

মেঘের আঁচল টেনে নিয়ে যাচ্ছে যা কারুকার্যখচিত, ঝড়ের হাত বসন্তকে তার মাধ্যমে অলঙ্কৃত করেছে।

আমি তা এমন এক কুমারীর মতো পান করেছি, যা মনে হয় কোনো কুমারীর গাল থেকে নিংড়ে নেওয়া হয়েছে।

তার অংশবিশেষ:

এটি গ্রহণ করুন যেভাবে একটি ফুল আপনার সামনে ফুটে উঠেছে, যা শিশিরবিন্দুর মুক্তা প্রকাশ করে হাসছে।

শ্বেতশুভ্রতার মাঝে হলুদ বর্ণ, যেন মনে হয় স্বচ্ছ পানির গভীরে অপরাহ্ণের সূর্য।

এমন একদিন যখন আপনি এর বিদ্যুৎকে লাল বর্ণের ঘোড়া হিসেবে দেখবেন, যা মেঘ থেকে একটি ধূসর ঘোড়াকে তাড়া করছে।

আপনি দেখবেন জমিন রৌপ্যখচিত হয়েছে এবং আকাশের চেহারা স্বর্ণমণ্ডিত হয়েছে।

বাগানটি কুঞ্জবন থেকে আকাশ হিসেবে এবং ফুল থেকে নক্ষত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

শাখাগুলো সবুজ পোশাক ভাঁজ করে রেখেছে এবং টিলাগুলোর মস্তকে মুকুট খচিত হয়েছে।

পানি সুরার পেয়ালাকে চুম্বন করেছে, ফলে এর শুভ্র সুন্দর দাঁতগুলো হেসে উঠেছে।

মিশ্রণটি তার মাঝে একটি জ্বলন্ত অঙ্গার প্রকাশ করেছে, যাতে মনে হয় পেয়ালাটি এখনই জ্বলে উঠবে।

এমন এক কনে যার লাল গণ্ডদেশ আকাঙ্ক্ষা জাগায় এবং যার সিঁথি পক্ককেশের ন্যায় শুভ্র।

তিনি বলেন:

আপনার জন্য চোখের পানির হাসি ফুটে উঠেছে, অথচ অন্ধকারের চেহারার ভ্রুকুটি দীর্ঘ হয়েছে।

আপনার কল্পচ্ছায়া কে আমার শয্যায় নিয়ে আসবে? নিদ্রা ও চোখের মাঝে আপনার কারণে যুদ্ধ চলছে।

আপনার স্মরণে আমি ব্যথায় এমনভাবে কেঁপে উঠি, যেমন মলয় বাতাসে পল্লব কেঁপে ওঠে।

তিনি বলেন:

সুরার পেয়ালা থেকে একটি লাল ঘোড়া বিচরণ করছে, যার সাথে পানির নহরের একটি ধূসর ঘোড়া পাল্লা দিচ্ছে।

মনে হয় সন্ধ্যায় তার মাঝে বিদ্যুতের জিহ্বা একটি রঞ্জিত পতাকা অথবা সোনালি পোশাক।

তিনি স্রোতের চিহ্নের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قد غمر القيعان ماء مصندل … كما أترع الساقي الزجاجة بالخمر

وقال:

فإليك يا نفس الصبا فلطالما … أذكى نداك حرارة الأشواق

ها إن بي لمما يؤرق ناظري … أسفاً فهل من نافث أو راق

وقال من قصيدة:

وافتق بناديه التحية زهرة … نفاحة تغني عن استنشاق

واهزز بها من معطفيه فإنما … شعشعتها كأساً بيمني ساق

وقال:

وقد نسمت ريح النعامى فنبهت … عيون الندامى تحت ريحانة الفجر

وخدر فتاة قد طرقت وإنما … أبحت به وكر الحمامة للصقر

ومنها:

أشيم بها برق الحديد وربما … عثرت بأطراف الردينية السمر

فلم ألق إلا صعدة فوق لأمة … فقلت قضيب قد أطل على نهر

ولا شمت إلا غرة فوق شقرة … فقلت حباب يستدير على خمر

فسرت وقلب البرق يخفق غيرة … هناك وعين النجم تنظر عن شزر

وطار إليها بي جناح صبابة … فطار بها عنّي جناح من الذعر

وأطرب سجع الحلي من خيزرانة … تميل بها ريح الشبيبة السكر

غزالية الألحاظ ريمية الطلى … مدامية الألمي حبابية الثغر

تلاقي نسيبي في هواها وأدمعي … فمن لؤلؤ نظم ومن لؤلؤ نثر

وقد خلعت ليلاً علينا يد الهوى … رداء عناق مزقته يد الفجر

وحط رداء الغيم عن منكب الصبا … ودل على ذيل الربا نفس الزهر

صدت ودون النجم ستر غمامة … يشف كما شف الرماد عن الجمر

منها:

ووجه وضئ شف عنه لثامه … كما شف رقراق الغمام عن البدر

سرى بين نوار لزرق أسنة … حداد وأوراق لراياته خضر

ومنها:

وأدهم لولا أنه راق صورة … لما عرفته العين من ليلة الهجر

له غرة تستصحب النصر طلقة … كفاك بها في سورة الحسن من بشر

ومنها:

رميت بآمالي إليه وإنما … حملت به المرعى الحديب إلى القطر

وقال:

ولم أدر ما أشجى وأدعي إلى الهوى … أخفقة برق أم غناء حمام

وقل لغمام الحف الأرض ذيله … فلف فجاجاً تحته بإكام

منها:

ومنتصب كالرمح هزة عرة … وفتلة بآس واستواء قوام

وقال:

أقوى محل من شبابك آهل … فوقفت أندب منه رسماً عافياً

مثل العذار هناك نؤياً داثراً … واسردت الخيلان فيه أثافيا

وقال:

فإن بكيت فقد يبكي الجليد فعن … شجو يفجر عين الماء في الحجر

80- وقال الأديب أبو بكر بن عيسى الداني المعروف بابن اللبانة:

بدا على خده عذار … في مثله يعذز الكئيب

وليس ذاك العذار شعراً … لكنما سره غريب

لما أراق الدماء ظلماً … بدت على خده الذنوب

وقال:

بدا على خده خال يزينه … فزادني شغفاً فيه على شغف

كأن حبة فقلبي حين رؤيته … طارت فقال لها في الخد منه قفي

وقال:

يروقك في أهل الجمال ابن سيد … كترجمة راقت وليس لها معنى

حكى شجر الدفلاء حسناً ومنظراً … فما أحسن المجلى وما أقبح المجنى

وقال:

كرمت ولا بحر حكاك ولا حيا … وفت فلا عجم شأتك ولا عرب

وأوليتني منك الجميل فواله … عسى السح من نعماك يتبعه السكب

وقال يعاتب:

نبا بيدي حسام من رضاكا … فوافتني النوائب عند ذاكا

وكيف يقيم عندك من رمته … خطوب الدهر في أعلى ذراكا

فلا ناديك يحضره لأنس … ولا في وقت تأميل يراكا

وقال:

يا موقداً بجوانحي نار الأسى … رفقاً فماء الدمع قد بلغ الزبى

نبت الصبا في صحن خدك روضة … لو لم يدب الصدغ فيها عقربا

منها:

ملك غدا معنى غريباً في العلا … وغدت به الأيام لفظاً معربا

أجلى من السيف الصقيل المنتضى … صفحاً، وأمضى من ظباه مضربا

حادثته فلقطت منه جوهراً … ونظرته فرأيت منه كوكبا

رطب اللسان كان في ألفاظه … راحاً معتقةً وشدواً مطربا

راقت على عليائه آدابه … فكأنها زهر تفتح في ربى

يهب الديار المستقرة، والهضا … ب المستقلة، والبسيط المعشبا
চন্দনের সুবাসিত পানি নিচু ভূমিগুলোকে প্লাবিত করেছে … যেমন সাকি মদের মাধ্যমে কাঁচের পাত্রকে পূর্ণ করে।

তিনি বলেছেন:

হে যৌবনের প্রাণ, তোমার কাছেই (ফিরে আসা), কারণ দীর্ঘকাল ধরে … তোমার আর্দ্রতা অনুরাগের তাপকে প্রজ্বলিত করেছে।

দেখ, আমার মধ্যে এমন কিছু আছে যা আমার চোখকে বিনিদ্র করে রাখে … অনুশোচনায়, তবে কি কোনো ফুঁকদানকারী বা ঝাড়ফুঁককারী আছে?

তিনি একটি কসিদা থেকে বলেছেন:

তার মজলিসে সম্ভাষণ হিসেবে একটি ফুল প্রস্ফুটিত করো … যার সুঘ্রাণ আঘ্রাণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দেয়।

তার দুই কাঁধ থেকে তা আন্দোলিত করো, কেননা তার উজ্জ্বলতা … সাকির ডান হাতের একটি পেয়ালার মতো।

তিনি বলেছেন:

দখিনা বাতাস বয়ে গেছে এবং তা জাগ্রত করেছে … ভোরের সুগন্ধি লতার নিচে সহচরদের চোখগুলোকে।

আমি এক তরুণীর অন্তঃপুরে প্রবেশ করেছি, যেন আমি … তার মাধ্যমে কবুতরের বাসাকে বাজপাখির জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি।

তার মধ্য থেকে:

আমি তাতে অস্ত্রের বিদ্যুৎ প্রত্যক্ষ করি এবং কখনো কখনো … আমি রুদাইনি বংশের শ্যামল বর্শার অগ্রভাগে হোঁচট খাই।

আমি বর্মের উপরে সোজা বর্শা ছাড়া আর কিছুই দেখিনি … তাই আমি বললাম, এটি একটি ডাল যা নদীর ওপর ঝুঁকে পড়েছে।

আর আমি লালাভ ঘোড়ার কপালে শুভ্র তিলক ছাড়া কিছুই দেখিনি … তাই আমি বললাম, এটি মদের ওপর ঘূর্ণায়মান একটি বুদবুদ।

আমি চললাম যখন বিদ্যুতের হৃদয় ঈর্ষায় স্পন্দিত হচ্ছিল … সেখানে নক্ষত্রের চোখ আড়চোখে তাকাচ্ছিল।

অনুরাগের ডানা আমাকে তার দিকে উড়িয়ে নিয়ে গেল … ফলে ভয়ের ডানা তাকে আমার থেকে দূরে উড়িয়ে নিয়ে গেল।

আর অলঙ্কারের ছন্দময় শব্দ এক ললিত কায়া থেকে আনন্দ দিচ্ছিল … যাকে মাতাল যৌবনের হাওয়া দুলিয়ে দিচ্ছিল।

হরিণীর মতো তার দৃষ্টি, হরিণ-শাবকের মতো তার ঘাড় … তার ঠোঁট মদের মতো লাল আর দাঁতগুলো বুদবুদের মতো উজ্জ্বল।

তার প্রেমে আমার কাব্য এবং আমার অশ্রু মিলিত হয়েছে … যেন কোনোটি গাঁথা মুক্তো আর কোনোটি ছড়ানো মুক্তো।

প্রেমের হাত রাতে আমাদের ওপর আলিঙ্গনের চাদর পরিয়ে দিয়েছিল … যা ভোরের হাত ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

মেঘের চাদর যৌবনের কাঁধ থেকে সরে গেল … আর ফুলের নিঃশ্বাস পাহাড়ের পাদদেশের দিকে পথ দেখাল।

সে বিমুখ হলো যখন নক্ষত্রের নিচে মেঘের পর্দা ছিল … যা স্বচ্ছ ছিল যেমন ছাইয়ের নিচে জ্বলন্ত কয়লা দেখা যায়।

তার মধ্য থেকে:

একটি উজ্জ্বল মুখ যার নেকাব সরে গেছে … যেমন পাতলা মেঘের আড়াল থেকে পূর্ণিমা চাঁদ প্রকাশ পায়।

সে নীল বর্শার ফলারূপী তীক্ষ্ণ ফুলের মাঝ দিয়ে পথ চলল … আর তার পতাকাসমূহ ছিল সবুজ পাতার মতো।

তার মধ্য থেকে:

আর একটি কৃষ্ণবর্ণ ঘোড়া, যদি তার রূপ সুন্দর না হতো … তবে বিচ্ছেদের রাতের অন্ধকারে চোখ তাকে চিনতে পারত না।

তার কপালে রয়েছে বিজয়ের সঙ্গী এক উজ্জ্বল তিলক … সৌন্দর্যের অধ্যায়ে সুসংবাদ হিসেবে এটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।

তার মধ্য থেকে:

আমি আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তার দিকে ছুটেছি, যেন আমি … তার মাধ্যমে শুষ্ক চারণভূমিকে বৃষ্টির দিকে নিয়ে গেছি।

তিনি বলেছেন:

আমি জানি না কোনটি বেশি শোকাবহ এবং প্রেমের দিকে বেশি আহ্বানকারী … বিদ্যুতের চমক নাকি কবুতরের গান।

সেই মেঘকে বলো যার আঁচল ভূমিকে স্পর্শ করেছে … আর তার নিচে পাহাড়ের সাথে পথগুলোকে পেঁচিয়ে নিয়েছে।

তার মধ্য থেকে:

বর্শার মতো সোজা এবং দোদুল্যমান … আর রায়হান ফুলের মতো কমনীয়তা এবং সুঠাম গঠন।

তিনি বলেছেন:

তোমার যৌবনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ স্থানটি জনাকীর্ণ ছিল … তাই আমি দাঁড়িয়ে তার মুছে যাওয়া চিহ্নের ওপর বিলাপ করছি।

গালের পশমের মতো সেখানে বিলুপ্ত পরিখা ছিল … আর তিলগুলো সেখানে চুলার পাথরের মতো সারিবদ্ধ ছিল।

তিনি বলেছেন:

আমি যদি কাঁদি, তবে বরফও কাঁদতে পারে … সেই দুঃখের কারণে যা পাথরের বুক চিরে পানির ঝরনা প্রবাহিত করে।

80- সাহিত্যিক আবু বকর বিন ঈসা আদ-দানি, যিনি ইবনে আল-লাব্বানা নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন:

তার গালে তারুণ্যের আভা ফুটে উঠেছে … যার কারণে শোকাতুর ব্যক্তিকে ক্ষমা করা যায়।

আর সেই রেখাগুলো দাড়ি নয় … বরং তার রহস্য অতি চমৎকার।

যখন সে অন্যায়ভাবে রক্ত ঝরিয়েছে … তখন তার গালে সেই পাপগুলো প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেছেন:

তার গালে একটি তিল ফুটে উঠেছে যা তাকে অলঙ্কৃত করছে … ফলে তা আমার অনুরাগের ওপর অনুরাগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মনে হলো তাকে দেখার সময় আমার হৃদপিণ্ডটি … উড়ে গিয়েছিল, তখন সে গালের ওপর তাকে বলল—থেমে যাও।

তিনি বলেছেন:

সৌন্দর্যশালীদের মধ্যে ইবনে সাইয়্যেদ তোমাকে মুগ্ধ করবে … এমন এক চমৎকার অনুবাদের মতো যার কোনো অর্থ নেই।

সে সৌন্দর্যে ও দৃশ্যে ডাফলা গাছের মতো … যার বাহ্যিক রূপ কতই না সুন্দর আর অভ্যন্তরীণ স্বাদ কতই না কুৎসিত।

তিনি বলেছেন:

আপনি সম্মানিত হয়েছেন যেখানে কোনো সমুদ্র বা বৃষ্টি আপনার সমতুল্য নয় … আপনি শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছেন যেখানে কোনো অনারব বা আরব আপনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।

আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে কল্যাণ দান করেছেন, আল্লাহর কসম … সম্ভবত আপনার নেয়ামতের ঝিরঝিরে বৃষ্টির পর মুষলধারে বৃষ্টি আসবে।

তিনি অনুযোগ করে বলেছেন:

আপনার সন্তুষ্টির তলোয়ার আমার হাত থেকে ফসকে গেছে … তাই সেই সময়ে বিপদগুলো আমাকে ঘিরে ধরেছে।

আর সে কীভাবে আপনার কাছে অবস্থান করবে যাকে … আপনার উচ্চ শিখরে থাকা অবস্থায় কালের দুর্যোগসমূহ আঘাত করেছে।

সে বন্ধুত্বের জন্য আপনার মজলিসে উপস্থিত হতে পারে না … আর না সে প্রত্যাশার সময়ে আপনাকে দেখতে পায়।

তিনি বলেছেন:

হে আমার পাঁজরের মধ্যে শোকের আগুন প্রজ্বলিতকারী … দয়া করো, কেননা চোখের পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে।

তোমার গালের প্রশস্ত জমিনে যৌবন এক বাগান হয়ে ফুটেছে … যদি না অলকগুচ্ছ সেখানে বিচ্ছু হয়ে বিচরণ করত।

তার মধ্য থেকে:

তিনি এমন এক রাজা যিনি শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য অর্থ হয়ে উঠেছেন … আর তার মাধ্যমে দিনগুলো অর্থবহ শব্দে পরিণত হয়েছে।

পার্শ্বদেশ হিসেবে তিনি কোষমুক্ত চকচকে তলোয়ারের চেয়েও স্বচ্ছ … আর আঘাত হানার দিক থেকে তার ফলার চেয়েও তীক্ষ্ণ।

আমি তার সাথে কথা বলেছি এবং তার থেকে মুক্তো কুড়িয়েছি … আর আমি তার দিকে তাকিয়েছি এবং তার মধ্যে এক নক্ষত্র দেখেছি।

তিনি মিষ্টভাষী, তার শব্দগুলোর মধ্যে ছিল … পুরাতন মদ এবং আনন্দদায়ক সুর।

তার উচ্চ মর্যাদায় তার শিষ্টাচারগুলো চমৎকার হয়েছে … যেন সেগুলো টিলার ওপর প্রস্ফুটিত ফুল।

তিনি স্থায়ী ঘরবাড়ি, অটল পাহাড় … এবং তৃণাবৃত সুবিস্তৃত প্রান্তর দান করেন।
(খণ্ড: ১) লাতাঈফুয যাখীরাহ ওয়া তারাঈফুল জাযীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والسابري مضاعفاً، والسمهري … مثقفاً، والمشرفي مشطبا

وقال:

ضممتها ضم مشتاق إلى كبدي … حتى توهمت أن الحلي منكسر

ومنها:

لا غرو أن يتسمى غيره بعلاً … وما له في العلا رأي ولا نظر

وقد يسمى سماء كل مرتفع … وإنما الفضل حيث الشمس والقمر

وقال:

أبثك البث عن قلب به حرق … وليس عن غير نار يرتمي الشرر

إن لم أكن أهل نعمى أرتجيك لها … فالسلك خيط وفيه تنظم الدرر

منها:

كأنما الأرض مني غير راضية … فليس لي وطن فيها ولا وطر

إن الهموم مع الأعمار ماشية … لا ينقضي الهم حتى ينقضي العمر

وقال:

غاروا على الريح فاستعلت رماحهم … دون المهب فما للريح متسع

لا تؤت نصحك مفتوناً بمذهبه … فما لأعمى بضوء الصبح منتفع

منها:

ملك يضيء ويبدي منظراً ويرى … والجو محلولك والغيث منقشع

عذب المناجاة ما في لفظه خطل … وطاهر الذات ما في طبعه صيع

منها:

إن كان مجدك شعراً في تناسقه … فإنما أنت بيت فيه مخترع

وقال:

خلعت عذاري في عذار على خد … حكى خضرة الريحان في حمرة الورد

صقيل كمثل السيف أخضر مثله … يبيت ولكن من فؤادي في غمد

منها:

هو الدهر في تصريفه لصروفه … فمن جهة يحيى ومن جهة يردي

إليه، وإلا قيدوا قدم السرى … وفيه، وإلا أخرسوا منطق الحمد

يطالع عن صبح، وينهل عن حياً … ويخطف عن برق ويقصف عن رعد

يؤثر في الأفلاك من بعد غوره … كتأثير نور الشمس في الأعين الرمد

وقال:

أخذت عليك مسالك السلوان … حدق المها وسوالف الغزلان

منها:

زادوا جفاء فانتقصت مودة … ومن الزيادة موجب النقصان

أنا مثل مرآة صقيل صفحها … ألقى الوجوه بمثل ما تلقاني

كالماء ليس يريك من لون سوى … ما تحته من صبغة الألوان

منها:

وإذا غدت راياته منشورة … فالخافقان لهن في خفقان

ولقلما يفري الحسام ضريبة … إلا وحامله حسام ثان

منها:

حنت إلى أرماحهم مهج العدا … وكذا الطيور تحن للأوكان

منها:

يخفي المكارم وهو يوقد نارها … فكأنها نار بغير دخان

ويجيء نوء بنانه بغريبة … تروي الربى والشمس في السرطان

فعلت بآمالي عوارف كفه … ما تفعل الأرواح بالأبدان

الأرض حاجتها إليك بطبعها … كالعين حاجتها إلى الإنسان

عالج بسيفك ما وراء بحورها … فعليلها في أضعف البحران

لا تشغلنك خدعة فلربما … في الكتب سر ليس في العنوان

والخبر يجلو كل شيء مثلما … تجلو الشكوك إقامة البرهان

منها: عبتم رطوبة منطقي فكأنكم=عبتم فتور اللحظ من وسنان وقال:

في مثل لمته سريت وفي يدي … سيف كطرة عارضيه صقيل

شفق وشارقة لديه ورقة … فكأنما هو بكرة وأصيل

منها:

وإذا رنا للرمح طرف شاخص … واحمر خد للحسام صقيل

وشدا صهيل مطرب فأجابه … من نحو ألسنة الغمود صهيل

وقف الوغى منه على ذي هيبة … يقف العزيز لديه وهو ذليل

منها:

جمعت وشعري في بساطك مثلما … جمعت بثينة في الهوى وجميل

وقال:

أنت المنية والمنى، فيك استوى … ظل الغمامة والهجير المحرق

لك قد ذابلة الوشيج ولونها … لكن سنانك أكحل لا أزرق

يا من رشقت إلى السلو فردني … سبقت جفونك كل سهم يرشق

لم يدر طيفك موضعي من مضجعي … فعذرته في أنه لا يطرق

وكأن أعلام الأمير مبشر … نشرت على قلبي فأصبح يخفق

الخيزرانة تلتظي في كفه … والتاج فوق جبينه يتألق

بأس كما جمد الحديد، وراءه … كرم يسيل كما يسيل الزئبق

عبقت بنار الحرب نفحة عوده … ما كل عود في وقود يعبق

تلقي العفاة يمينه وكأنها … قلب إلى لقيا الأحبة شيق

منها:

وعلى الخليج كتيبة جرارة … مثل الخليج كلاهما متدفق

وبنو الحروب على الحرابي التي … تجري كما تجري الجياد السبق
সাবিরি বর্মটি দ্বিগুণ মজবুত, সামহারি বর্শাটি … সুগঠিত এবং মুশরাফি তলোয়ারটি ধারালো

তিনি বলেছেন:

আমি তাকে আমার হৃদয়ের সাথে একজন ব্যাকুল ব্যক্তির মতো জড়িয়ে ধরেছি … এমনকি আমার ধারণা হচ্ছিল যে অলঙ্কারগুলো ভেঙে যাচ্ছে

এর অন্তর্ভুক্ত:

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে অন্য কেউ নিজেকে অধিপতি নামে অভিহিত করবে … অথচ উচ্চমর্যাদার বিষয়ে তার কোনো চিন্তা বা দৃষ্টিভঙ্গি নেই

প্রত্যেক উচ্চ বিষয়কেই আকাশ বলা হতে পারে … তবে শ্রেষ্ঠত্ব তো সেখানেই যেখানে সূর্য ও চন্দ্র বিদ্যমান

তিনি বলেছেন:

আমি তোমার কাছে এমন এক হৃদয়ের দুঃখ প্রকাশ করছি যাতে দহন রয়েছে … আর আগুন ছাড়া তো স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হয় না

আমি যদি সেই নিয়ামতের যোগ্য না-ও হই যার জন্য আমি তোমার কাছে আশা করি … তবুও সুতো তো কেবল একটি সুতোই, কিন্তু তাতেই মুক্তোগুলো গেঁথে রাখা হয়

এর অন্তর্ভুক্ত:

মনে হচ্ছে যেন পৃথিবী আমার ওপর সন্তুষ্ট নয় … তাই এতে আমার কোনো স্বদেশ নেই এবং নেই কোনো উদ্দেশ্য

নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তাগুলো আয়ুর সাথে সাথেই চলতে থাকে … আয়ু শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুশ্চিন্তা শেষ হয় না

তিনি বলেছেন:

তারা বাতাসের ওপর ঈর্ষান্বিত হলো, ফলে তাদের বর্শাগুলো বায়ুপ্রবাহের স্থলের সামনে … উঁচিয়ে ধরল, ফলে বাতাসের জন্য আর কোনো প্রশস্ত স্থান রইল না

নিজের মতে মুগ্ধ কোনো ব্যক্তিকে উপদেশ দিও না … কারণ অন্ধ ব্যক্তি সকালের আলো দ্বারা উপকৃত হতে পারে না

এর অন্তর্ভুক্ত:

এমন একজন রাজা যিনি দীপ্তিমান হন এবং রূপ প্রকাশ করেন যা দেখা যায় … অথচ আকাশ তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং বৃষ্টি দূরীভূত

মিষ্টভাষী, যার শব্দ চয়নে কোনো ভুল নেই … এবং পবিত্র সত্তার অধিকারী, যার চরিত্রে কোনো বিচ্যুতি নেই

এর অন্তর্ভুক্ত:

যদি তোমার গৌরব তার সুশৃঙ্খল বিন্যাসের কারণে কবিতা হয় … তবে তুমি হলে সেই কবিতার এক অনন্য শ্লোক

তিনি বলেছেন:

আমি গণ্ডদেশের সেই রোমরাজির মোহে আমার লোকলজ্জা বিসর্জন দিয়েছি … যা গোলাপের লালিমার মাঝে রায়হান উদ্ভিদের শ্যামলতার মতো

তলোয়ারের মতো উজ্জ্বল এবং তারই মতো শ্যামল … এটি রাত অতিবাহিত করে কিন্তু আমার হৃদয়ের খাপের মধ্যে

এর অন্তর্ভুক্ত:

তিনি যেন কালচক্র তার বিবর্তন পরিচালনায় … একদিকে তিনি জীবন দান করেন এবং অন্যদিকে ধ্বংস করেন

তার দিকেই সকল যাত্রা, নতুবা নৈশ ভ্রমণের পাগুলো শৃঙ্খলিত করো … এবং তার জন্যই সকল প্রশংসা, নতুবা প্রশংসার বাণীকে স্তব্ধ করো

তিনি প্রভাতের মতো উদিত হন, বৃষ্টির মতো তৃষ্ণা মেটান … বিদ্যুতের মতো ছোঁ মেরে নেন এবং বজ্রের মতো গর্জন করেন

তার সুদূর গভীরতা সত্ত্বেও তিনি আকাশমণ্ডলে প্রভাব বিস্তার করেন … যেমন চোখের রোগে আক্রান্ত চোখে সূর্যের আলোর প্রভাব পড়ে

তিনি বলেছেন:

বুনো গরুর চোখ এবং হরিণশাবকের গণ্ডদেশ … তোমার কাছ থেকে ধৈর্য ধারণের সকল পথ কেড়ে নিয়েছে

এর অন্তর্ভুক্ত:

তারা নিষ্ঠুরতা বাড়িয়েছে ফলে ভালোবাসা কমে গেছে … আর কোনো কিছুর বৃদ্ধিই হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়

আমি একটি স্বচ্ছ আয়নার মতো যার উপরিভাগ মসৃণ … মুখমণ্ডলগুলো আমাকে যেভাবে দেখে আমিও তাদের সেভাবেই গ্রহণ করি

পানির মতো যা তোমাকে তার নিচের রঙের রঞ্জিত রূপ ছাড়া … অন্য কোনো রঙ দেখায় না

এর অন্তর্ভুক্ত:

যখন তার পতাকাগুলো উড্ডীন হয় … তখন পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত তাদের কম্পনে প্রকম্পিত হয়

তলোয়ার খুব কমই লক্ষ্যবস্তুকে দ্বিখণ্ডিত করে … যদি না তার বাহক নিজেই দ্বিতীয় একটি বীরত্বপূর্ণ তলোয়ার না হয়

এর অন্তর্ভুক্ত:

শত্রুদের প্রাণ তাদের বর্শার জন্য আকুল হয় … যেমন পাখিরা তাদের বাসার জন্য আকুল হয়

এর অন্তর্ভুক্ত:

তিনি মহানুভবতা গোপন রাখেন অথচ তার আগুন প্রজ্বলিত করেন … যেন তা ধোঁয়াহীন এক অগ্নি

তার আঙুলের দান এক অদ্ভুত প্রাচুর্য নিয়ে আসে … যা টিলাগুলোকে সিক্ত করে অথচ সূর্য তখন কর্কট রাশিতে

তার হাতের দানশীলতা আমার আশার সাথে তেমন আচরণই করেছে … যা প্রাণ দেহের সাথে করে থাকে

পৃথিবীর তোমার প্রতি প্রয়োজনীয়তা তার প্রকৃতিগত … যেমন চোখের প্রয়োজনীয়তা তার মণির প্রতি

তোমার তলোয়ার দিয়ে সমুদ্রের ওপারের বিষয়গুলোর চিকিৎসা করো … কারণ সেখানকার রুগ্ন অবস্থা সংকটের চরম পর্যায়ে রয়েছে

কোনো প্রতারণা যেন তোমাকে ব্যস্ত না রাখে, কারণ অনেক সময় … বইয়ের ভেতরে এমন রহস্য থাকে যা শিরোনামে থাকে না

আর সংবাদ সবকিছুকে স্পষ্ট করে দেয় যেমন … প্রমাণ উপস্থাপন সকল সন্দেহকে দূর করে দেয়

এর অন্তর্ভুক্ত: তোমরা আমার বাচনভঙ্গির কোমলতার ত্রুটি ধরেছ, যেন তোমরা তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তির চোখের শৈথিল্যের ত্রুটি ধরছ। তিনি বলেছেন:

তার চুলের গোছার মতো অন্ধকারে আমি পথ চলেছি এবং আমার হাতে ছিল … তার গাল বরাবর অলকের মতো এক উজ্জ্বল তলোয়ার

তার কাছে গোধূলি, সূর্যোদয় এবং স্নিগ্ধতা রয়েছে … যেন সেটি সকাল এবং সন্ধ্যা

এর অন্তর্ভুক্ত:

যখন বর্শার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকানো হয় … এবং উজ্জ্বল তলোয়ারের গাল রক্তিম হয়ে ওঠে

আর যখন আনন্দদায়ক হ্রেষাধ্বনি গীত হয়, তখন তার উত্তর দেয় … খাপের মুখ থেকে নির্গত তরবারির হ্রেষাধ্বনি

যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি এমন এক গাম্ভীর্যের সাথে দাঁড়িয়েছেন … যে তার সামনে শক্তিশালী ব্যক্তিও হীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে

এর অন্তর্ভুক্ত:

আমি এবং আমার কবিতা তোমার মজলিসে সেভাবেই একত্রিত হয়েছি … যেভাবে প্রেমে বুসাইনা এবং জামিল একত্রিত হয়েছিল

তিনি বলেছেন:

তুমিই মৃত্যু এবং তুমিই আকাঙ্ক্ষা, তোমার মাঝেই সমান হয়েছে … মেঘের ছায়া এবং দহনকারী উত্তাপ

তোমার দেহ সুগঠিত বর্শার মতো দীর্ঘ … তবে তোমার বর্শার ফলকটি সুরমা রঙের, নীল নয়

হে সেই ব্যক্তি, যাকে আমি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু সে আমাকে ফিরিয়ে এনেছে … তোমার চোখের পাতা নিক্ষেপ করা প্রতিটি তীরের আগে পৌঁছে যায়

আমার শয্যায় আমার অবস্থান কোথায় তা তোমার কল্পমূর্তি চিনতে পারেনি … তাই সে না আসার কারণে আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি

আমিরের পতাকাগুলো যেন সুসংবাদদাতা … যা আমার হৃদয়ের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফলে তা স্পন্দিত হতে শুরু করেছে

তার হাতে রাজদণ্ড জ্বলজ্বল করছে … এবং তার ললাটে মুকুট দীপ্তি পাচ্ছে

এমন এক বীরত্ব যা জমাটবদ্ধ লোহার মতো শক্ত, আর তার পেছনে রয়েছে … এমন এক উদারতা যা পারদের মতো প্রবাহিত হয়

যুদ্ধের আগুনে তার বীরত্বের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে … আর সব কাঠ তো আগুনে পুড়লে সুগন্ধ ছড়ায় না

সাহায্যপ্রার্থীরা তার ডান হাতের সাক্ষাৎ পায়, আর তা যেন … প্রিয়জনের সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল কোনো হৃদয়

এর অন্তর্ভুক্ত:

উপসাগরের তীরে এক বিশাল সেনাবাহিনী রয়েছে … তারা এবং উপসাগর উভয়ই প্রবাহমান

এবং যোদ্ধারা সেই দ্রুতগামী বাহনগুলোর ওপর সওয়ার যারা … ধাবমান ঘোড়ার মতো দ্রুত গতিতে চলে