(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: -)
الأثر الثمين في نصرة عائشة - رضي الله عنها - أم المؤمنين القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الأثر الثمين في نصرة عائشة - رضي الله عنها - أم المؤمنين
المؤلف: أحمد محمود الشوابكة
تقديم ومراجعة: أ. د. عبد الناصر أبو البصل - أ. د. محمود السرطاوي - أ. د. أحمد نوفل - د. محمد الملكاوي - أ. د. عبد المقصود حامد
الناشر: دار الفاروق للنشر والتوزيع، عمان
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2012 م
عدد الصفحات: 272
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 ذو القعدة 1442
আল-আসারুস সামিন ফি নুসরতি আয়েশা - রাদিয়াল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনিন বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আল-আসারুস সামিন ফি নুসরতি আয়েশা - রাদিয়াল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনিন
লেখক: আহমদ মাহমুদ আশ-শাওয়াবিকাহ
উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা: প্রফেসর. ড. আবদুন নাসির আবু আল-বাসাল - প্রফেসর. ড. মাহমুদ আস-সারতাবি - প্রফেসর. ড. আহমদ নওফাল - ড. মুহাম্মাদ আল-মালকাউই - প্রফেসর. ড. আব্দুল মাকসুদ হামিদ
প্রকাশক: দারুল ফারুক পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, আম্মান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণকপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ জিলকদ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١)
الأثر الثمين
في نصرة عائشة رضي الله عنها أمّ المؤمنين
دراسات في سيرة عائشة رضي الله عنها أمّ المؤمنين وعدالة الصحابة أجمعين والوقاية من الفتن في كل زمان وحين
أحمد محمود الشّوابكة
تقديم ومراجعة
أ. د. عبد النَّاصر أبو البصل
رئيس جامعة العلوم الإسلاميّة العالميّة
أ. د. محمود السّرطاوي
كليّة الشّريعة ـ الجامعة الأردنيّة
أ. د. أحمد نوفل
كليّة الشّريعة ـ الجامعة الأردنيّة
د. محمّد الملكاوي
كليّة الشّريعة ـ جامعة اليرموك
أ. د. عبد المقصود حامد
كلية الشّريعة ـ جامعة العلوم الإسلاميّة العالميّة
{وأزواجه أمهاتهم}
অমূল্য নিদর্শন
মুমিন জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সপক্ষে
মুমিন জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জীবনী, সকল সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা এবং সকল যুগের ফিতনা থেকে সুরক্ষা বিষয়ক গবেষণা
আহমাদ মাহমুদ আশ-শাওয়াবিকাহ
উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা
প্রফেসর ডক্টর আব্দুল নাসের আবু আল-বাসাল
প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্সেস অ্যান্ড এডুকেশন ইউনিভার্সিটি
প্রফেসর ডক্টর মাহমুদ আস-সারতাবি
শরীআহ ফ্যাকাল্টি — জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়
প্রফেসর ডক্টর আহমাদ নাওফাল
শরীআহ ফ্যাকাল্টি — জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়
ডক্টর মুহাম্মদ আল-মালকাউয়ি
শরীআহ ফ্যাকাল্টি — ইয়ারমুক বিশ্ববিদ্যালয়
প্রফেসর ডক্টর আব্দুল মাকসুদ হামিদ
শরীআহ ফ্যাকাল্টি — ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্সেস অ্যান্ড এডুকেশন ইউনিভার্সিটি
{এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাঁদের মাতা}
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢)
حقوق الطّبع محفوظة
الطبعة الأولى
1423 هـ - 2012 م
حقوق الطبع محفوظة. لا يسمح بإعادة نشر هذا الكتاب أو أي جزء منه بأي شكل من
الأشكال أو حفظه ونسخه في أي نظام ميكانيكي أو إلكتروني يمكن من استرجاع
الكتاب أو أي جزء منه. ولا يسمح باقتباس أي جزء من الكتاب أو ترجمته الى أي لغة
أخرى دون الحصول على إذن خطي مسبق من دار الفاروق.
دار الفاروق
للنشر والتوزيع
عمان - العبدلي - عمارة جوهرة القدس
تلفكاس 0096264640064
E-mail: daralfarouq@ yahoo.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৩ হিজরী - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দার আল-ফারুকের পূর্ব লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এই বই বা এর কোনো অংশ কোনোভাবেই পুনপ্রকাশ করা অথবা বই বা এর কোনো অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব এমন কোনো যান্ত্রিক বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও অনুলিপি করা অনুমোদিত নয়। দার আল-ফারুকের পূর্ব লিখিত অনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে বইটির কোনো অংশ উদ্ধৃত করা বা অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করাও অনুমোদিত নয়।
দার আল-ফারুক
প্রকাশনী ও পরিবেশনী
আম্মান - আল-আবদালি - জাওহারাত আল-কুদস ভবন
টেলিফ্যাক্স: ০০৯৬২৬৪৬৪০০৬৪
ইমেইল: daralfarouq@yahoo.com
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
الإهداءإِلى مَنْ أوْصَاني ربِّي بهما خَيراً، فقال:
{فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا (23)} [الإسراء].
إِلى مَنْ أَسْأَلُ رَبِّي لهما خَيراً، فأقول:
{رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا (24)} [الإسراء].
وإلى صفيي وفرطي عبيدة، الّذي أجاب ربّه، وأوجعني فقده!
عسى الله أن يجمعني بهم جميعا في مستقرّ رحمته، مع الأحبة: النّبيّ صلى الله عليه وسلم وصحبه رضي الله عنهم.
الغَنِيُّ بالفَقْرِ إِلى الله
أحمد محمود الشوابكة
أبو عبيدة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
উৎসর্গযাঁদের প্রতি আমার রব আমাকে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন:
“সুতরাং তাদের উদ্দেশ্যে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না, বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।” [আল-ইসরা: ২৩]।
যাঁদের জন্য আমি আমার রবের নিকট কল্যাণের প্রার্থনা করি এবং বলি:
“হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।” [আল-ইসরা: ২৪]।
এবং আমার প্রিয় ও অগ্রগামী উবাইদাহ-এর প্রতি, যে তার রবের ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং যার বিচ্ছেদ আমাকে ব্যথিত করেছে!
আশা করি আল্লাহ আমাকে তাদের সকলের সাথে তাঁর রহমতের আলয়ে একত্রিত করবেন, সেই প্রিয়জনদের সাথে: নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এবং তাঁর সঙ্গীগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হন)।
আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী হওয়ার মাধ্যমে ঐশ্বর্যশালী
আহমদ মাহমুদ আশ-শাওয়াবিকাহ
আবু উবাইদাহ
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٤)
تقديمأ. د. عبد النّاصر أبو البصلالحمد لله ربّ العالمين، والصَّلاة والسَّلام على سيِّدنا وقدوتنا محمَّد خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى أزواجه وأصحابه أجمعين، والتَّابعين لهم بإحسان إلى يوم الدِّين.
أمَّا بعد، فلا شكَّ أنَّ الحديث عن خيْرِ القرونِ محبَّبٌ إلى النَّفس، ويلامسُ القَلْبَ، ونتسَّمُ من خلاله عرفاً طيِّباً نديّاً؛ كيف لا وهو ينقلنا إلى بيت النُّبوَّة، فنسمع أَقْوالَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وتوجيهاتِه وحركاته وسكناته وما يحبّه وما يكرهه، ونعرف أسْلُوبَ حياته مَعَ أقاربه وجيرانه وزوجاته وبناته وأصحابه، نعرف عنه ما لا نعْرفه عن أنْفسنا.
نعم إنَّه حديث محبَّبٌ للنّفوس لأنَّه ينقلنا إلى أَرْوقةِ المدينة وميادين الجهاد الَّتي كان رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يخوضُ حُروبَهُ فيها، وإلى سَاحَاتِ الأسْواقِ الَّتي يتاجِرُ فيها.
وفي هذا الكتاب الَّذي جَعَلَ الباحِثُ الفاضِلُ الأستاذ أحمد محمود الشّوابكة محْوَرَه العامّ الحديث عن الصَّحابة الكرام الَّذين يعدّون الحلقة الأولى الَّتي تلقَّت الوحيَ ونقلته عن الرَّسول صلى الله عليه وسلم، ومحوره الخاصّ الحديث عن إحدى سيِّدات النُّبوَّة عن الصِّدِّيقة بنت الصِّدِّيق، الّتي كانت تمثِّلُ جانباً من جوانبِ مشاركة المرأة المسلمة في الدَّعوةِ والسِّياسة والتَّعليم والتَّوجيه والأمر بالمعروف والنَّهي عن المنكر وفق رؤى اجتهاديَّة منهجيَّة تمثِّلُ مرحلة مِنْ مَراحلِ النُّضج العلميّ والفكريّ وصلت إليها السَّيِّدة عائشة وسائر نساء وسيّدات هذا البيت الطَّاهر.
উপস্থাপনাপ্রফেসর ড. আব্দুল নাসের আবু আল-বাসালসকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও আদর্শ, নবী ও রাসূলগণের পরিসমাপ্তি দানকারী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এবং তাঁর স্ত্রীগণ ও সকল সঙ্গী-সাথীদের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার প্রতি।
অতঃপর, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ সম্পর্কে আলোচনা আত্মার কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং তা হৃদয়কে স্পর্শ করে; আমরা এর মাধ্যমে এক সুগন্ধিময় ও সতেজ ঘ্রাণ অনুভব করি। কেনই বা হবে না, অথচ এটি আমাদের নবুওয়াতের ঘরে নিয়ে যায়, ফলে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, তাঁর দিকনির্দেশনা, তাঁর প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা এবং তাঁর পছন্দ-অপছন্দ শুনতে পাই। আমরা তাঁর আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, স্ত্রী, কন্যা ও সাহাবীদের সাথে তাঁর জীবনযাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারি; আমরা তাঁর সম্পর্কে এমন সব বিষয় জানতে পারি যা আমরা নিজেদের সম্পর্কেও জানি না।
হ্যাঁ, এটি আত্মার কাছে এক অত্যন্ত প্রিয় আলোচনা, কারণ এটি আমাদের মদীনার অলিগলি এবং জিহাদের সেই ময়দানগুলোতে নিয়ে যায় যেখানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধে লিপ্ত হতেন, আর সেই বাজারের চত্বরগুলোতে নিয়ে যায় যেখানে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন।
এই বইটিতে—যাকে গুণী গবেষক উস্তাদ আহমদ মাহমুদ আল-শাওয়াবিকা তাঁর আলোচনার সাধারণ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্ধারণ করেছেন—মর্যাদাবান সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যারা ওহী গ্রহণকারী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তা বর্ণনাকারী প্রথম স্তর হিসেবে গণ্য। আর তাঁর আলোচনার বিশেষ কেন্দ্রবিন্দু হলো নবুওয়াতের ঘরানার অন্যতম মহীয়সী নারী আস-সিদ্দীকা বিনতে আস-সিদ্দীক সম্পর্কে, যিনি দাওয়াত, রাজনীতি, শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে মুসলিম নারীর অংশগ্রহণের একটি দিক ফুটিয়ে তুলেছেন। এটি এমন এক পদ্ধতিগত গবেষণালব্ধ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে যা বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতার একটি পর্যায়কে উপস্থাপন করে, যেখানে সাইয়্যেদাহ আয়েশা এবং এই পবিত্র ঘরের অন্যান্য মহীয়সী নারীরা পৌঁছেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٥)
كما تمثِّلُ السَّيِّدة عائشة ومن معها من الصَّحابة الَّذين كان لهم أثرٌ وفاعليّة في الحياة العامَّة في ذلك الجيل أنموذجاً حيّاً للتربية النَّبويَّة المباشرة؛ فهي زوجه وملازمته، وهي أصْغرُ نساء النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم سِنّاً، وأكثرهنَّ رواية، ولعلَّ الحكمة من اجتماعِ هذه الصِّفات وغيرها في أمِّ المؤمنين عائشة رضي الله عنها جليَّة، فَمَنْ سيروي الأحاديثَ المتعلِّقة بالحياة الخاصَّة للرَّسول صلى الله عليه وسلم وأسرته، ومن سيلاحِظُ دقائقَ الأمور إن لم يكنْ في مثْلِ سنِّها رضي الله عنها، وفي مثْلِ ذكائها، ومَنْ ستكون لها القوَّةُ والجرْأَةُ لِتحاوِرَ وتأْمُر بالمعروف وتنهى عن المنكر، وتقول رأيها بكلِّ قوَّة لما تعرفه مِنْ أَمْر النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم غيرها رضي الله عنها؟ إنَّها مسْأَلة اختيار واصطفاء وتقدير من الله سبحانه وتعالى.
لا أقولُ مِنَ العجب، بل مِنْ غير المعقول ومِنْ أَغْرب الغرائب أنْ ينبري نفرٌ للتَّطاول على هذه السَّيِّدة على أمِّ المؤمنين رضي الله عنها وعن أبيها، غافلين أو متغافلين عن:
ـ مكانتها عند الرَّسول صلى الله عليه وسلم ومحبَّته الكبيرة لها والَّتي تحدَّث عنها صلى الله عليه وسلم بكلِّ صراحة ووضوح؛ ليضرب المثل الأعلى في الكمال البشريّ، حيث سُئِلَ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ أحَبُّ النَّاسِ إِلَيْكَ؟ قَالَ: عَائِشَةُ".
ـ أنَّ القرآن الكريم نزل في بيتها بل والرَّسول صلى الله عليه وسلم نائم في فراشها ورأسه في حجرها وعلى صدرها.
ـ أنَّها بنت الصِّدِّيق رضي الله عنه، الّتي حَفِظَ الله تعالى بها كثيرًا من سُنّة رسوله صلى الله عليه وسلم -
তেমনিভাবে সৈয়দা আয়েশা এবং তাঁর সাথে সেই প্রজন্মের ঐ সকল সাহাবী—যাঁদের জনজীবনে প্রভাব ও সক্রিয়তা ছিল—তাঁরা সরাসরি নববী তারবিয়াতের এক জীবন্ত নমুনা। তিনি ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং সর্বদা তাঁর সান্নিধ্যে থাকা সহচরী। তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ এবং তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী। সম্ভবত উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো এবং অন্যান্য গুণের সমন্বয়ের পেছনে নিহিত প্রজ্ঞা সুষ্পষ্ট। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিগত জীবন ও তাঁর পরিবার সংক্রান্ত হাদিসসমূহ আর কে বর্ণনা করবে এবং সূক্ষ্ম বিষয়গুলোই বা কে পর্যবেক্ষণ করবে, যদি তিনি তাঁর মতো কমবয়সী এবং তাঁর মতো প্রখর মেধাসম্পন্ন না হতেন? আর কারই বা থাকবে সেই শক্তি ও সাহস—যিনি আলোচনা করবেন, সৎ কাজের আদেশ দেবেন, অসৎ কাজে নিষেধ করবেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ সম্পর্কে তাঁর জানাশোনার ভিত্তিতে পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে নিজের মতামত ব্যক্ত করবেন—তিনি ব্যতীত? এটি ছিল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে নির্বাচন, মনোনয়ন ও নির্ধারিত বিষয়।
আমি শুধু বিস্ময়কর বলছি না, বরং এটি বিবেকবহির্ভূত এবং চরম আশ্চর্যের বিষয় যে, একদল লোক এই মহীয়সী নারী তথা উম্মুল মুমিনীন (তাঁর প্রতি এবং তাঁর পিতার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন)-এর মর্যাদাহানি করতে উদ্যত হয়; অথচ তারা নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে উদাসীন বা জেনেশুনেই এড়িয়ে যাচ্ছে:
— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ভালোবাসা, যে বিষয়ে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আলোচনা করেছেন; যাতে মানবীয় পূর্ণতার এক সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়। যখন তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "লোকদের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে?" তিনি বললেন: "আয়েশা"।
— নিশ্চয়ই তাঁর ঘরে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে, এমনকি তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বিছানায় শায়িত ছিলেন এবং তাঁর মাথা ছিল আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোলে ও তাঁর বুকের ওপর।
— তিনি হলেন সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যা, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর এক বিশাল অংশ হিফাজত করেছেন—
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٦)
ـ أنَّه قد ثبت لها وصْفُ لقب أمّ المؤمنين الوارد في قوله الله أكبر: {وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ (6)} [الأحزاب] فلها حقوق أمَّهات المؤمنين.
أ. د. عبد النّاصر أبو البصل
رئيس جامعة العلوم الإسلاميَّة العالميَّة
23/جمادى الأولى/1433 هـ
الأحد/15/نيسان/2012 م
- নিশ্চয়ই তাঁর জন্য 'উম্মুল মুমিনীন' উপাধির বর্ণনা সাব্যস্ত হয়েছে যা আল্লাহর মহান বাণীতে এসেছে: {এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের জননী স্বরূপ (৬)} [আল-আহযাব]। অতএব উম্মুল মুমিনীনগণের যে সকল অধিকার রয়েছে, তিনি তার অধিকারী।
প্রফেসর ড. আব্দুল নাসের আবু আল-বাসাল
প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি
২৩ জুমাদাল উলা, ১৪৩৩ হিজরি
রবিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٧)
تقديمأ. د. محمود السّرطاويالْحَمْدُ لله حَمْدًا يُوَافِي نِعَمَهُ، وَيُكَافِئُ مَزِيدَهُ، والصَّلاة والسَّلام على الرَّحمة المهداة سيِّد الأنبياء والمرسلين محمّد صلى الله عليه وسلم، وعلى ذُرِّيَّتِه وأزواجه وأصحابه ومَنْ تبعهم بإحسان.
وبعد، فما أحوج الأمَّة الإسلاميَّة في هذه الأزمنة الَّتي تموج فيها الفِتَنُ إلى الدُّعاة الَّذين يرفعون لها رَايَاتِ النَّجاة! وتعلو صيحتهم بالحقِّ على الباطل {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ (18)} [الأنبياء].
لقد كثرت في هذه الآونة الأبواق التي تدقُّ نواقيس الفتن بين المسلمين، والكل يدَّعي حبَّه لرسُولِ الله صلى الله عليه وسلم وآله والتَّمسك بهديه، ولا أدري كيف تستقيم أو تصحُّ هذه المحبَّةُ مع النَّيل مِنْ صحابته الكرام، وأزواجه، وهنَّ أمَّهات المؤمنين بنص القرآن؟!
ولم يحسن بعض أهل العلم مُجَادلةَ هؤلاءِ بالَّتي هي أحسن، مع أنَّ الله تعالى قد أمر أنْ يُجَادَلَ أَهْلُ الكتابِ بالَّتي هي أحسن، فكيف بمجادلةِ مَنْ جعلهم الله تعالى أولياء لبعضهم {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ (71)} [التّوبة]، وبِمَنْ وصفهم الله تعالى بأنَّهم رُحَماءُ بينهم {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ .. (29)} [الفتح].
ولا يغرب عن البال أنَّ فريقاً مِنَ المسلمين مِن هذا وذاك لا يقرُّ هذا النَّهج الَّذي يعرفه الخاصَّة والعامَّة.
ভূমিকাপ্রফেসর ড. মাহমুদ আস-সারতাবিসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহের বৃদ্ধির সমান। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই রহমতের ওপর যাকে উপহারস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, নবীদের ও রাসুলদের সরদার মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর বংশধর, স্ত্রীগণ, সাহাবীগণ এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করে তাদের ওপর।
অতঃপর, এই বর্তমান সময়ে যখন ফিতনা উত্তাল হয়ে উঠেছে, তখন মুসলিম উম্মাহর জন্য সেই সকল দাঈদের প্রয়োজনীয়তা কতই না বেশি যারা উম্মাহর জন্য নাজাতের পতাকা তুলে ধরবেন! বাতিলের ওপর হকের বলিষ্ঠ আওয়াজ দিয়ে তাঁদের চিৎকার গর্জে উঠবে। {বরং আমি সত্য দিয়ে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। (১৮)} [আল-আম্বিয়া]।
বর্তমানে এমন অনেক অপপ্রচারকারীর আধিক্য দেখা দিয়েছে যারা মুসলিমদের মধ্যে ফিতনার ঘণ্টা বাজাচ্ছে। সবাই রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর হেদায়েতের ওপর অবিচল থাকার দাবি করে। তবে আমি জানি না, তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ এবং তাঁর স্ত্রীগণ—যারা কুরআনের অকাট্য দলিলে মুমিনদের জননী—তাদের অবমাননা করে এই ভালোবাসা কীভাবে সঠিক বা শুদ্ধ হতে পারে?!
কিছু আলেম এদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করতে সক্ষম হননি, অথচ আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদের সাথেই উত্তম পন্থায় বিতর্ক করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে তাদের সাথে তর্কের ক্ষেত্রটি কেমন হওয়া উচিত যাদেরকে আল্লাহ তাআলা একে অপরের বন্ধু হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন? {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু (৭১)} [আত-তাওবাহ]। এবং যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন যে তারা নিজেদের মধ্যে পরম দয়ালু: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; আর যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু... (২৯)} [আল-ফাতহ]।
এটিও বিস্মৃত হওয়া উচিত নয় যে, এই পক্ষ ও ঐ পক্ষের মুসলিমদের একটি দল এই পদ্ধতিকে সমর্থন করে না, যা সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের কাছেই পরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٨)
وإذا كان هذا هو الحال فلا سبيل لِنَبْذِ الفتنة إلا أن يتصدَّى لها نَفَرٌ مِنَ العلماء والدُّعاة المخلصين بالحكمة والموعظة الحسنة، فإنَّها هي الكفيلة بإذن الله بوأْدِها وقطع دابرها.
وقد جاء هذا الكتاب "الأثر الثمين في نصرة عائشة رضي الله عنها أم المؤمنين" ليعلي رايةً للإصلاح، ويجيب على ما أُثِير حولها رضي الله عنها وحول الصحابة رضي الله عنهم من شُبُهات وافتراءات بالحكمة والكلمة الطيَّبة، معتمداً الحجَّة والدَّليل من القرآن الكريم، وما صَحَّ مِنْ حديث سيِّد المرسلين.
فبعد أن بيَّن ما لأزواج النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم من مكانة وفضل، خصَّ السَّيِّدة عائشة رضي الله عنها وعن أبيها بمزيد من البيان، فهي قطب الرَّحى وواسطة القلادة، وأردف بالحديث عن مكانة الصَّحابة رضوان الله عليهم أجمعين، وذكر الفتن وأسبابها وسُبُلَ النَّجاة منها.
ولما كانت هذه هي الغاية مِنَ الكتاب، فإنَّه لا يضيره عدم التَّوسُّع في الحديث عن فقه السيدة عائشة رضي الله عنها؛ فإنَّ تناوله يضاعف حجم الكتاب أضعافاً مضاعفة.
وإنَّه لمنهج أحكم الباحث سبكه وأحسن نظمه قَصْدَ الدَّعوة إلى الإصلاح والتَّحذير من السَّير في ركاب الفتنة، وقد أتى على موضوعات البحث بعبارة أدبيَّة رصينة تأخذ بالقلوب، وبحجج تستجيب لها العقول، كلّ ذلك مِنْ غير إِيجاز مخلٍّ أو إِطْناب مملٍّ.
فالله تعالى أسأل أن يثيب الأخ الأستاذ أبا عبيدة أحمد وأن يجعله في ميزان
আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে ফিতনা বর্জনের কোনো পথ নেই যতক্ষণ না একদল একনিষ্ঠ আলেম ও দাঈ হিকমত এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এর মোকাবিলা করেন। কারণ আল্লাহর ইচ্ছায় এটিই ফিতনাকে সমূলে বিনাশ করতে এবং এর মূলোৎপাটন করতে সক্ষম।
এই কিতাবটি "আল-আসারুস সামিন ফি নুসরতি আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা উম্মিল মুমিনিন" (উম্মুল মুমিনিন আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার সহযোগিতায় মূল্যবান প্রভাব) সংস্কারের ঝাণ্ডাকে সমুন্নত করার জন্য এবং তাঁর সম্পর্কে ও সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয় ও অপবাদের জবাব হিকমত এবং উত্তম বাক্যের মাধ্যমে দেওয়ার জন্য প্রণীত হয়েছে। এতে পবিত্র কুরআন এবং রাসুলগণের সরদারের সহিহ হাদিস থেকে দলিল ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সহধর্মিণীগণের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার পর বিশেষভাবে সায়্যিদাহ আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং তাঁর পিতার ব্যাপারে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তিনিই হলেন মূল কেন্দ্র এবং হারের মধ্যমণি। এরপর লেখক সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ফিতনাসমূহ, সেগুলোর কারণ ও তা থেকে মুক্তির উপায় উল্লেখ করেছেন।
যেহেতু এটিই ছিল কিতাবটির মূল লক্ষ্য, তাই সায়্যিদাহ আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার ফিকহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা না করা এতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না; কারণ তা আলোচনা করলে কিতাবটির কলেবর বহুগুণ বৃদ্ধি পেত।
গবেষক অত্যন্ত নিপুণভাবে এই পদ্ধতিটি সাজিয়েছেন এবং সংস্কারের দাওয়াত দেওয়া ও ফিতনার পথে চলা থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে একে সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি গবেষণার বিষয়গুলো এমন শক্তিশালী সাহিত্যিক ভাষায় উপস্থাপন করেছেন যা হৃদয়কে আকৃষ্ট করে এবং এমন দলিলের মাধ্যমে যা বিবেকের কাছে গ্রহণযোগ্য। এ সবকিছুই করা হয়েছে কোনো ক্ষতিকর সংক্ষিপ্ততা কিংবা বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই।
পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন ভাই উস্তাদ আবু উবাইদাহ আহমাদকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٩)
حسناته وأن ينفع به وبعلمه آمين، والحمد لله رب العالمين.
أ. د. محمود علي السرطاوي
أستاذ الفقه المقارن
نائب رئيس جامعة العلوم الإسلامية العالمية
وعميد كلية الشريعة /الجامعة الأردنية سابقاً
السّبت/10/ربيع الثّاني/ 1433 هـ
4/ آذار/ 2012 م
তাঁর নেক আমলসমূহ কবুল করুন এবং তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর ইলমের দ্বারা উপকৃত করুন, আমীন। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
প্রফেসর ড. মাহমুদ আলী আস-সারতাবি
তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ইসলামিক সায়েন্সেস-এর উপ-উপাচার্য
এবং সাবেক ডিন, শরীয়াহ অনুষদ / জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়
শনিবার/ ১০ রবিউস সানি/ ১৪৩৩ হিজরি
৪/ মার্চ/ ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٠)
تقديمأ. د. أحمد نوفلالحمد لله، والصَّلاة والسَّلام رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعد: فقد اطَّلعت على كتاب الأخ أحمد الشّوابكة (الأثر الثّمين في نصرة عائشة رضي الله عنها أمّ المؤمنين)، والأخ أحمد ذو حِرْص وغيرة وهمَّة في طَلَبِ العِلْمِ ونصرة الدِّين والدِّفاع عن حُرُمَات المؤمنين، فكيف إذا كُنَّ أمَّهات المؤمنين، وبالأخصِّ الأعزّ منهنَّ على قَلْبِ نبيِّنا الأمين خاتم المرسلين.
ومعلوم أنَّ التَّاريخ يمكن أن يدوَّن وأن يُقرأَ من زوايا عديدة، وأن يُحَمَّل ما يحتمل وما لا يحتمل، فكيف من التَّاريخ الصَّفحات المتحدّثة عن الاختلافات والوقائع الَّتي أثارت الانقسامات بين الطَّوائف والجماعات؟
لكن الذَّي لا يحتمل أن يكذّب القاطع من الأدلَّة، وهل أصدق من القرآن؟ {وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا (122)} [النِّساء] أفبعد شهادته الله أكبر القاطعة ببراءتها يتقوَّل متقوِّل ويتخرَّص متخرِّص! ألا فليخرس هذا الَّذي أخرج نفسه بهذا من ربقة الإيمان وجماعة المؤمنين.
ألا يعلم أنَّ أزواجَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم اختيار الله تعالى له، فكأنَّ مَنْ يتَّهم منهنَّ واحدة إنَّما يشكِّك في حكمة الله الله أكبر.
وقد غلب على الكتاب الرِّوايات الحديثيّة وهذا امتياز، ولكن هناك بعض مواطن الاستطراد فيما يسمّيه أحياناً ما يؤخذ من الحديث.
وكنت أودُّ لو بَرَزَ التَّحليلُ أكثر تاريخيّاً ونفسيّاً ولُغويّاً، لكان ذلك تنويعاً مطلوباً.
ভূমিকাপ্রফেসর ড. আহমদ নওফলসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর। অতঃপর: আমি ভ্রাতা আহমদ আশ-শাওয়াবিকার রচিত ‘আল-আثارুস সামীন ফী নুসরতি আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উম্মিল মুমিনীন’ (উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সহযোগিতায় মূল্যবান প্রভাব) নামক গ্রন্থটি পাঠ করেছি। ভ্রাতা আহমদ ইলম অন্বেষণে, দ্বীনের সাহায্যে এবং মুমিনদের মর্যাদা রক্ষায় অত্যন্ত আগ্রহী, আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। আর সেই মর্যাদা যদি হয় উম্মুল মুমিনীনদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আমাদের আমানতদার নবী ও সর্বশেষ রাসূলের হৃদয়ের সবচেয়ে প্রিয়তমা স্ত্রীর ক্ষেত্রে, তবে তা কতই না গুরুত্বপূর্ণ!
এটি সর্বজনবিদিত যে, ইতিহাস বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে লিপিবদ্ধ এবং পঠিত হতে পারে, আর এতে সম্ভাব্য এবং অসম্ভাব্য সকল কিছুর ভারারোপ করা হতে পারে। তাহলে ইতিহাসের সেই পাতাগুলোর অবস্থা কী হবে, যা এমন সব মতভেদ ও ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করে যা বিভিন্ন দল ও উপদলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে?
কিন্তু যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় তা হলো অকাট্য দলিলসমূহকে অস্বীকার করা; আর আল্লাহর বাণীর চেয়ে সত্য আর কী হতে পারে? {আর কথার দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে? (১২২)} [সূরা আন-নিসা]। তাঁর (আয়েশার) পবিত্রতার ব্যাপারে আল্লাহর সুমহান অকাট্য সাক্ষ্য প্রদানের পরও কি কোনো অপবাদদাতা অপবাদ দেবে আর কোনো মিথ্যাচারী মিথ্যা রটাবে! জেনে রাখো, সেই ব্যক্তি যেন স্তব্ধ হয়ে যায়, যে এর মাধ্যমে নিজেকে ঈমানের বন্ধন ও মুমিনদের জামাত থেকে বের করে নিয়েছে।
সে কি জানে না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ তাঁর জন্য মহান আল্লাহরই নির্বাচন? ফলে যে ব্যক্তি তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজনের ওপর অপবাদ দেয়, সে যেন মহান আল্লাহর হিকমত বা প্রজ্ঞার বিষয়েই সন্দেহ পোষণ করে।
বইটিতে হাদীসের বর্ণনাগুলোর প্রাধান্য রয়েছে এবং এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তবে লেখক মাঝে মাঝে 'হাদীস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা' হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন, সেখানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিষয়ের অবতারণা কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়েছে।
আমি আশা করেছিলাম যদি ঐতিহাসিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং ভাষাগত বিশ্লেষণগুলো আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত, তবে তা একটি কাঙ্ক্ষিত বৈচিত্র্য হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١١)
ومع هذا وذاك فإنَّ الجهد مشكور، والدَّأب الغيور في البحث مقدَّر، واللّغة العالية في الكتاب معتبرة. فاللّغة هي الطَّبق الَّذي يحوي الوجبة الفكريَّة العلميَّة، أو هي الأصداف الَّتي تحوي اللّؤلؤ، فلا يعقل أن يكون المعنى جميلاً، والثَّوب اللُّغويُّ خَلَقاً.
أمّا هذا البحث فقد كان ـ إن شاء الله ـ نُوراً على نُورٍ: رصانة في العلم، وجودة في السَّبك واللّغة والصّياغة، هذا بعض حقِّه، تقبّل الله عَمَلَه وعِلْمَه، وتسخيره إيَّاهما في سبيل الله تعالى، ونصرة المؤمنين، وفَّقه الله، ونفع به، {وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (182)} [الصّافات].
أ. د. أحمد نوفل
أستاذ التَّفسير والدِّراسات القرآنيَّة
كليَّة الشَّريعة ـ الجامعة الأردنيَّة
الأحد/2/جمادى الأولى/1433 هـ
25 /آذار/ 2012 م
এতদসত্ত্বেও এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার, গবেষণায় একাগ্র পরিশ্রম মূল্যায়নের যোগ্য এবং কিতাবটির উচ্চমার্গীয় ভাষা সমাদৃত। কেননা ভাষা হলো সেই আধার যা বুদ্ধিবৃত্তিক ও তাত্ত্বিক খোরাক ধারণ করে, অথবা তা হলো সেই ঝিনুক যা মুক্তা ধারণ করে; অতএব অর্থ সুন্দর হবে অথচ তার ভাষাগত পোশাক জীর্ণ হবে—তা যুক্তিসঙ্গত নয়।
আর এই গবেষণাটি ছিল—ইনশাআল্লাহ—নূরের ওপর নূর: ইলমের গভীরতা এবং বিন্যাস, ভাষা ও শৈলীর শ্রেষ্ঠত্ব; এটি তার প্রাপ্য হকের সামান্য অংশ মাত্র। আল্লাহ তার আমল ও ইলম কবুল করুন এবং আল্লাহর পথে ও মুমিনদের সাহায্যার্থে এই উভয়ের আত্মনিয়োগকে কবুল করুন। আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন এবং তার দ্বারা উম্মাহর উপকার সাধন করুন। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য (আস-সাফফাত: ১৮২)।
প্রফেসর ড. আহমদ নওফাল
তাফসির ও কুরআন শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক
শরীয়াহ অনুষদ — জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়
রবিবার, ২ জুমাদাল উলা, ১৪৩৩ হিজরি
২৫ মার্চ, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٢)
تقديمد. محمّد ملكاوييأبى اللهُ تعالى إلَّا أنْ يجْعَلَ في كلِّ زمانٍ ومكانٍ رَبَّانِيِّينَ يدافعون عن دينه وسنَّةِ نبيِّه صلى الله عليه وسلم ويحمون أَعْراضَ المؤمنين والمؤمناتِ، وفي مُقَدِّمَتِهم أَصْحَابُ نبيِّه وأزواجُه صلى الله عليه وسلم، فإنَّ مَنْ حمى مؤمناً مِنْ منافق يغتابه حماهُ اللهُ مِنْ نار الآخرة.
ومن هؤلاء الرَّبَّانِيِّينَ أخونا الفاضل الأستاذ أحمد محمود الشّوابكة، الَّذي أحبَّ الله تعالى ورسُولَه صلى الله عليه وسلم وأصحابَه وأزواجَه والمؤمنين، فقد طَمِعَ الأستاذ الشّوابكة بحُبِّهم أن يستنقذ نفْسَه وأَهْلَه من عذاب الآخرة، وأن يكون رفيق الَّذين أنعم الله عليهم مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ والصَّالحين في جنَّات النَّعيم، فسخَّر الأستاذ الفاضل وقته وجهده للتَّبحُّر في سيرة الرَّعِيل الأوَّل لاستخراج الدُّرر النَّفيسة، الَّتي أَذْهل الكثيرين عنها الانشغالُ بمطالب الحياة الدُّنيا، فلم يبق لهم وقتاً للبحثِ والتنقيب، وأغفلَ عنها الكثيرين أيضا دعاةُ الضَّلالة الَّذين اشتروا عَرَضاً دنيويّاً زائلاً بجنَّاتٍ نعيمها مقيم.
وكان من بعض دُرَرِ الأستاذ الشّوابكة كتابه " الأثر الثَّمين في نصرة عائِشَةَ رضي الله عنها أمِّ المؤمنين" فقد اقتفى فيه جُلَّ ما دوَّنته الكتبُ الموثَّقةُ في سيرةِ هذه الطَّيِّبةِ المطيَّبة رضي الله عنها، ورَدَّ فيه على الشُّبهات التي أُشْرِبتْها قُلُوبُ الحاقِدِين الَّذين سيْطَرَ عليهم إِبْلِيسُ، فأوحى إليهم زُخْرُفَ القُوْل غُرُوراً، فظنَّوا أنَّهم يَفْتِنُون المؤمنين عن الحقِّ المبين، فخاب سعيُهم؛ إذ تَتَبَّعَ الأستاذ الفَاضِلُ شُبُهَاتِهم وَرَدَّها كلَّها بما قاله فيها الطَّيِّبُ صلى الله عليه وسلم، وبما قاله أيضاً أَحْبَارُ الأمَّة من المحدِّثين والمفسِّرين والمؤرِّخين الَّذين شَرَوا أَنْفُسَهم ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ الله.
ভূমিকাড. মুহাম্মদ মালকাউয়িমহান আল্লাহ তাআলা প্রতিটি যুগে ও স্থানে এমন রব্বানি (আল্লাহনিষ্ঠ) ব্যক্তিদের রাখা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যারা তাঁর দ্বীন ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে রক্ষা করবেন এবং মুমিন নর-নারীদের সম্মান হিফাজত করবেন। আর তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন তাঁর নবীর সাহাবীগণ ও তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে তার গীবতকারী কোনো মুনাফিকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে, আল্লাহ তাকে পরকালের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।
এই সকল রব্বানি ব্যক্তিদের একজন হলেন আমাদের সম্মানিত ভাই উস্তাদ আহমদ মাহমুদ আশ-শাওয়াবিকাহ, যিনি মহান আল্লাহ, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণ ও মুমিনদের ভালোবাসেন। উস্তাদ শাওয়াবিকাহ তাঁদের এই ভালোবাসার মাধ্যমে নিজের ও নিজের পরিবারকে পরকালের আযাব থেকে উদ্ধার করার এবং জান্নাতুন নাঈমে ঐ সকল ব্যক্তিদের সঙ্গী হওয়ার আশা পোষণ করেছেন যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ ও নেককার বান্দাগণ। অতঃপর এই সম্মানিত উস্তাদ তাঁর সময় ও শ্রমকে ব্যয় করেছেন প্রথম প্রজন্মের মহান ব্যক্তিদের জীবনীতে গভীর মনোনিবেশ করার জন্য, যেন সেখান থেকে মূল্যবান মণি-মুক্তা আহরণ করা যায়। পার্থিব জীবনের বিভিন্ন চাহিদা ও ব্যস্ততা অনেককেই এই মণি-মুক্তাগুলো থেকে গাফেল করে রেখেছে, ফলে তাদের কাছে গবেষণা ও অনুসন্ধানের পর্যাপ্ত সময় নেই। আবার অনেককে সেসব বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিরাও বিমুখ করে রেখেছে যারা চিরস্থায়ী নেয়ামতে ভরপুর জান্নাতের বিনিময়ে ক্ষণস্থায়ী পার্থিব তুচ্ছ বস্তু ক্রয় করেছে।
উস্তাদ শাওয়াবিকাহর সংগৃহীত সেই মণি-মুক্তাগুলোর অন্যতম হলো তাঁর গ্রন্থ "আল-আসারুস সামীন ফী নুসরাতি আয়িশাতা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) উম্মুল মু'মিনীন"। এতে তিনি এই পবিত্রা ও পবিত্রতাপ্রাপ্তা মহীয়সী নারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) জীবনী সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে যা কিছু লিপিবদ্ধ হয়েছে তার অধিকাংশ অনুসরণ করেছেন। এছাড়া তিনি এতে সেই সকল সংশয়ের জবাব দিয়েছেন যা সেই সব হিংসুকদের অন্তরে গেঁথে দেয়া হয়েছিল যাদের ওপর ইবলিস আধিপত্য বিস্তার করেছে। ইবলিস প্রতারণার উদ্দেশ্যে তাদের মনে চাকচিক্যময় কথার কুমন্ত্রণা দিয়েছে, ফলে তারা ধারণা করেছিল যে তারা মুমিনদেরকে সুস্পষ্ট সত্য থেকে বিচ্যুত করে ফিতনায় ফেলবে। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে; কেননা সম্মানিত উস্তাদ তাদের প্রতিটি সংশয়কে চিহ্নিত করেছেন এবং সেই সবগুলোর উত্তর দিয়েছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মাধ্যমে এবং এই উম্মতের সেই সব বিজ্ঞ মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও ঐতিহাসিকদের বক্তব্যের মাধ্যমে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন ও সত্তাকে উৎসর্গ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٣)
فأسأل الله العليَّ القدير أَنْ يجْزِيَ الأستاذ أبا عبيدة خَيْرَ الجزاءِ على نيَّته وإخلاصِه وحبِّه أحباب الله، وأن يُنِيلَه بحُبِّهم شفاعتهم، وأن يُعِينَهُ على تزويدِ المكتبةِ المعَاصِرةِ بمزيدٍ منَ الذَّخائر الَّتي لا يستغني عنها طَالِبُ الحقِّ، ولا يَتَنكَّبُها إلا مَغْبُونٌ، وصلَّى الله على النَّبيِّ الأمّيِّ محمَّد صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصْحَابِهِ وأزواجِهِ وأتباعِه ومَنْ تَبِعَهم بإحْسانٍ إلى يومِ الدِّينِ، وآخرُ دعْوانا أن الحمدُ لله ربِّ العالمين.
د 0 محمّد أحمد محمّد عبد القادر ملكاوي
أستاذ العقيدة ومقارنة الأديان
قسم أصول الدِّين/كليَّة الشَّريعة/جامعة اليرموك
الاثنين/ 28 /ربيع الأول/ 1433 هـ
20/شباط/ 2012 م
তাই আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি উস্তাদ আবু উবাইদাহকে তাঁর নিয়ত, ইখলাস এবং আল্লাহর প্রিয়জনদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আর তাঁদের ভালোবাসার উসিলায় যেন তাঁকে তাঁদের শাফাআত নসিব করেন। এবং সমকালীন লাইব্রেরিকে আরও এমন সব মূল্যবান সম্পদ দ্বারা সমৃদ্ধ করতে তাঁকে সহায়তা করেন, যা সত্যের অন্বেষণকারীর জন্য অপরিহার্য, এবং যা কেবল বঞ্চিতরাই পরিহার করে। আর আল্লাহ সালাত পেশ করুন উম্মী নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, পত্নীগণ, অনুসারীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর। আর আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ড. মুহাম্মদ আহমদ মুহাম্মদ আব্দুল কাদির মালকাভী
আকিদা ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক
উসুলুদ দীন বিভাগ/শরীয়াহ অনুষদ/ইয়ারমুক বিশ্ববিদ্যালয়
সোমবার/ ২৮ রবিউল আউয়াল/ ১৪৩৩ হিজরি
২০ ফেব্রুয়ারি/ ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٤)
تقديمأ. د. عبد المقصود حامدلقد اطَّلعْتُ على كتاب (الأثر الثَّمين في نصرة عائشة رضي الله عنها أمّ المؤمنين) لمؤلِّفه الأخ الأستاذ أحمد محمود الشَّوابكة، فَنَالَ إِعجابي لما يأتي:
أوَّلاً: اعتماد الكتابِ على النُّصوصِ الصَّحيحةِ مِنَ السُّنَّة، وحُسْنِ توظيفها فيما قيلت فيه.
ثانياً: العرض الهادِئ والهادِف والبنَّاء دون تجريح لأحدٍ مِنَ المخالفين، الَّذي أكسب الكتابَ صورةَ البحثِ العلميِّ.
ثالثاً: شمل الكتاب إلى جانب مناقب أمِّ المؤمنين عائشة رضي الله عنها البحث في موضوعين هامَّين، أحدهما في عدالة الصَّحابة أجمعين، والآخر في الوقاية من الفتن في كلِّ زمان وحين.
شَكَرَ الله للمؤلِّفِ، وأعاننا وإيَّاه على كلِّ خير، والحمد لله ربِّ العالمين.
أ. د. عبد المقصود حامد عبد المقصود
أستاذ العقيدة والفلسفة
ومستشار رئيس جامعة العلوم الإسلاميّة العالميّة
الأحد/18/ربيع الثّاني/1433 هـ
11/ 3/2012 م
উপস্থাপনাঅধ্যাপক ড. আব্দুল মাকসুদ হামিদআমি ভ্রাতৃপ্রতিম উস্তাদ আহমদ মাহমুদ আশ-শাওয়াবকাহ লিখিত (মুমিনজননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর সমর্থনে মূল্যবান নিদর্শন) শীর্ষক বইটি পাঠ করেছি। বইটি নিম্নোক্ত কারণে আমার প্রশংসা অর্জন করেছে:
প্রথমত: সুন্নাহর সহিহ ভাষ্যসমূহের ওপর বইটির নির্ভরতা এবং যে প্রেক্ষাপটে সেগুলো বর্ণিত হয়েছে তাতে সেগুলোর নিপুণ প্রয়োগ।
দ্বিতীয়ত: কোনো বিরোধীকে আক্রমণ না করে শান্ত, উদ্দেশ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক উপস্থাপনা, যা বইটিকে একটি সার্থক বৈজ্ঞানিক গবেষণার রূপ দান করেছে।
তৃতীয়ত: মুমিনজননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর গুণাবলি বর্ণনার পাশাপাশি বইটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে; যার একটি হলো সকল সাহাবীর ন্যায়পরায়ণতা প্রসঙ্গে, আর অন্যটি হলো সর্বকালে ও সর্বাবস্থায় ফিতনা থেকে সুরক্ষা প্রসঙ্গে।
আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের ও তাকে সকল কল্যাণের কাজে তাওফিক দিন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
অধ্যাপক ড. আব্দুল মাকসুদ হামিদ আব্দুল মাকসুদ
আকিদাহ ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক
এবং চ্যান্সেলরের উপদেষ্টা, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্সেস অ্যান্ড এডুকেশন ইউনিভার্সিটি
রবিবার/১৮ রবিউস সানি/১৪৩৩ হিজরি
১১/০৩/২০১২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٥)
المقدّمةالحمدُ لله الَّذي ألَّف بين قلوبِ أهْلِ الإيمان وجعلهم بنعمته إِخواناً، وجمعهم على حُبِّ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وآله أصولاً فلم يتفرَّقوا أغصاناً وأفناناً، ووعدهم من لدنه مغفرةً ورضواناً. والصَّلاة والسَّلام على المبعوثِ رحمة للعالمين صلى الله عليه وسلم، وعلى أصحابه البَرَرَةِ المتَّقين، وعلى أزواجه الطَّيِّبات المطيَّبات الطَّاهرات المطهَّرات أمَّهات المؤمنين رضي الله عنهن، وعلى التَّابعين بإحسَانٍ إلى يوم الدِّين.
وبعد، فَمِنْ حُقوقِ الله تعالى على عباده صَدُّ عاديات الأدعياء وأباطيل الدُّخلاء، عن الإسلام ونبيِّ الإسلام صلى الله عليه وسلم وأصحابه الكرام، بالَّتي هي أحسن للَّتي هي أقوم، وبالحجَّة والبرهان، والدُّعاء باللِّسان والقلب والجنان، أن يهديهم الله تعالى لما اختلفوا فيه من الحقِّ بإذنه: {وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (213)} [البقرة].
وقد ألَّف وصنَّف وأرَّخَ وتَرْجَمَ كثيرٌ من الأئمَّة الأعلام وأربابُ الأقلام، ممَّن سَلَفَ وخَلَفَ كتباً عن أمِّ المؤمنين عائشة رضي الله عنها، فمنهم من أجاد المطلع والمقطع ولم يَأْتَل، ومنهم من عُدَّت سقطاتُه وأُحْصِيت هفواته وحُفِظَت فَلَتاتُه، ومنهم من غَثَّ حديثُه وموَّه باطله حتَّى شبَّهه بالحقِّ، بِلُغَةٍ فيها سِحْرٌ ودهاء، ومكر وبلاء، وَعَدَّ نَفْسَهُ من العلماء الأجلَّاء {وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ (220)} [البقرة].
وكم هم الَّذين يضمرون حقداً وغيظاً، ويظهرون مخالصةً وودّاً، فالحَذَرَ الحَذَرَ مِن اختلاف الأقلام، والكتب الَّتي جرَّت النَّوائب العِظام الجِسَام، وتربَّى
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ঈমানদারদের হৃদয়ের মাঝে বন্ধন তৈরি করে দিয়েছেন এবং তাঁর অনুগ্রহে তাদেরকে ভাই ভাই হিসেবে গড়ে দিয়েছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিজনদের ভালোবাসার ওপর তাঁদের মূলগতভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, ফলে তাঁরা শাখা-প্রশাখা হিসেবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাননি; এবং তিনি তাঁর পক্ষ থেকে তাঁদের ক্ষমা ও সন্তুষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, তাঁর নেককার ও মুত্তাকী সাহাবীগণের ওপর, তাঁর পূত-পবিত্র ও পবিত্রতা প্রাপ্ত মুমিনদের মাতা ও সহধর্মিণীগণের ওপর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর, বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর হকের অন্তর্ভুক্ত হলো ইসলাম, ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের বিরুদ্ধে ভণ্ডদের আক্রমণ ও অনুপ্রবেশকারীদের বাতিল প্রচারণা প্রতিহত করা; আর তা হতে হবে সর্বোত্তম পন্থায় যা অত্যন্ত সুদৃঢ়, যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে এবং জবান ও অন্তরের দোয়ার মাধ্যমে, যেন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সেই সত্যের দিকে হেদায়েত দান করেন যে বিষয়ে তারা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে: "আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।" [আল-বাকারা: ২১৩]।
পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী যুগের অনেক প্রথিতযশা ইমাম এবং লেখক উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, সংকলন করেছেন, ইতিহাস লিখেছেন এবং জীবনী বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত নিপুণভাবে কাজ করেছেন এবং কোনো ত্রুটি করেননি। আবার কারও কারও পদস্খলনগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, ভুলত্রুটিগুলো নিরূপণ করা হয়েছে এবং অসতর্ক বাণীগুলো সংরক্ষিত হয়েছে। আবার এমন কেউ কেউ আছেন যাদের বক্তব্য অসার এবং যারা তাদের বাতিলকে এমনভাবে রঞ্জিত করেছে যে তা সত্যের সদৃশ মনে হয়; আর তারা তা করেছে যাদুমিশ্রিত চাতুর্যপূর্ণ ভাষা, ধূর্ততা ও ফিতনার মাধ্যমে, অথচ সে নিজেকে মহান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে। "আর আল্লাহ সংশোধনকারী থেকে অনিষ্টকারীকে পৃথকভাবে জানেন।" [আল-বাকারা: ২২০]।
এমন অনেক লোক আছে যারা অন্তরে ঘৃণা ও ক্রোধ পোষণ করে, অথচ প্রকাশ করে অকৃত্রিমতা ও ভালোবাসা। সুতরাং সাবধান! কলমের বৈচিত্র্য এবং সেইসব কিতাব সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক হোন যা বড় বড় বিপদ ও মুসিবত বয়ে এনেছে, এবং যা লালিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٦)
عليها أجيال وأقوام.
وأنا أعلم أنَّه لا يخلو زمانٌ من منافقين، فالخير والشَّرُّ له وارثون، فلا عَجَبَ أن نسْمَعَ مَنْ يتحدَّث بالإفك ويلوكه، ويجمعه ويفرِّقه، ويلمّ شَعَثه ويشيعه، ويقْشِره ويخفيه، وينْشُره ويفشيه.
{يَاحَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ (30)} [يس] يجهل أكثرُهم أنَّ لكلِّ واحدٍ منهم نصيباً من الإثم؛ لمتابعته ومشايعته رأس النِّفاق ابن أبيّ، فلم يكن هذا ليقع إلّا من منافق مارق، أو فاسق هالك {فَاعْتَبِرُوا يَاأُولِي الْأَبْصَارِ (2)} [الحشر].
ويا خَيْبَةَ مَنْ يحبُّ أن تشيع الفاحشة في المؤمنين، قال عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ (19)} [النّور] والطَّامَّة أنَّه لا ينعق ناعق إلَّا وجدت مَنْ يسارع الوثْبَةَ إليه، فلكلِّ ساقطة لاقطة، ولكلِّ ثوب لابس.
والله يشهد أنَّني ما وضعت هذا الكِتابَ الصَّادع الرَّادع إلّا لأظهرَ بالحجَّة على كلِّ متحيِّز إلى فئة ترجع إلى الأهواء والآراء: {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ (42)} [الأنفال].
ولا ريب أنَّ مُفَارَقَةَ أهل الأهواء في الدُّنيا خَيْرٌ من مُرَافَقَتِهم في الآخرة، وقد قال الله تعالى: {احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ (22)} [الصَّافات].
وقد جَهَدْتُ جَهْدِي لأقيم حقّاً، أو أهدم باطلاً؛ حتَّى يعرف الحقَّ مَنْ جهله، ويَرْعَوِي عن البَغْي مَن اقترفه، وعذري أنَّه ليس على مجتهد بَذَلَ وُسْعَه في
এর ওপর প্রজন্ম ও সম্প্রদায়সমূহ অতিবাহিত হয়েছে।
আর আমি জানি যে, কোনো কালই মুনাফিকদের থেকে মুক্ত নয়; কেননা কল্যাণ ও অকল্যাণ—উভয়েরই উত্তরাধিকারী রয়েছে। সুতরাং আমরা যদি এমন কাউকে শুনি যে মিথ্যা অপবাদ নিয়ে কথা বলছে এবং তা চিবিয়ে চিবিয়ে প্রচার করছে, তা একত্রিত করছে ও ছড়িয়ে দিচ্ছে, তার অগোছালো অংশগুলো কুড়িয়ে নিয়ে তা প্রচার করছে, তার আবরণ উন্মোচন করছে ও লুকিয়ে রাখছে, এবং তা বিস্তার ও ফাঁস করছে, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
"হায় আফসোস বান্দাদের জন্য!" (ইয়াসীন: ৩০)। তাদের অধিকাংশেরই অজানা যে, তাদের প্রত্যেকের জন্য পাপের একটি অংশ রয়েছে; কারণ তারা নিফাকের মূল হোতা ইবনে উবাইয়ের অনুসরণ ও অনুগমন করেছে। এটি কেবল কোনো ধর্মত্যাগী মুনাফিক বা ধ্বংসপ্রাপ্ত ফাসিকের পক্ষ থেকেই সংঘটিত হওয়া সম্ভব। "অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো" (আল-হাশর: ২)।
আর সেই ব্যক্তির জন্য দুর্ভোগ, যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক—তা পছন্দ করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক—তা পছন্দ করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে" (আন-নূর: ১৯)। আর মহা বিপদ এই যে, যখনই কোনো চিৎকারকারী চিৎকার করে, তখনই তাকে লুফে নেওয়ার জন্য কাউকে না কাউকে দ্রুত ধাবিত হতে দেখা যায়। কারণ প্রতিটি তুচ্ছ জিনিসের জন্য কুড়ানি থাকে এবং প্রতিটি পোশাকের জন্যই পরিধানকারী থাকে।
আর আল্লাহ সাক্ষী যে, আমি এই অকাট্য ও কঠোর কিতাবটি কেবল এই উদ্দেশ্যেই সংকলন করেছি যেন এমন প্রতিটি দলের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থাপন করতে পারি যারা খেয়ালখুশি ও মতবাদের অনুসারী: "যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে" (আল-আনফাল: ৪২)।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দুনিয়াতে প্রবৃত্তি পূজারীদের সঙ্গ ত্যাগ করা পরকালে তাদের সঙ্গী হওয়ার চেয়ে উত্তম। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: "তোমরা একত্রিত করো জালিমদের এবং তাদের সহচরদের" (আস-সাফফাত: ২২)।
আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি যেন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি অথবা মিথ্যাকে নির্মূল করতে পারি; যাতে অজ্ঞ ব্যক্তি সত্য জানতে পারে এবং যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করেছে সে তা থেকে নিবৃত্ত হয়। আমার ওজর হলো এই যে, এমন কোনো মুজতাহিদ (গবেষক) এর ওপর দায় নেই যিনি তার সাধ্য উজাড় করে দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٧)
طَلَبِ الحقِّ مِن عتب:
فإنْ لامَنِي القَومُ قُلْتُ أَعْذِروا فليس على أَعْرَجٍ مِنْ حَرَج
وأين يذهب مَنْ تزيَّا بزيِّ العلماء، وتعمَّم بعمائمهم، ثمَّ تولَّى عن آيات الله و {أَعْرَضَ وَنَأَى بِجَانِبِهِ (83)} [الإسراء] واتَّبع الهوى ليَضِلَّ عن سبيل الله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ (26)} [ص].
كذلك وضعته عظةً وعبرةً وتذكرة لِمَنْ لم يَسْلَمِ الصَّحابةُ من لِسَانه ويده، ولمن بَسَطَ لسَانَهُ في أعراضِهم، وأكل وشبع من لحومهم {لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا (113)} [طه] ولا أيأس من رَوْحِ الله، {لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا (1)} [الطلاق].
ولم آلُ جَهْداً في نظمه وتأليفه، وتَرْصِيفِه وترصيعه، وزبرجته وتحبيره؛ فخراً بلغتنا العربيَّة لغة القرآن، ولغة سيِّد الأنام صلى الله عليه وسلم وأصحابه الكرام رضي الله عنهم. ولم أدَّخِر وُسْعاً ولا سَعْياً ببلاغةِ بلاغه، بل سلكت إليها كلَّ سبيل؛ التزاماً بما ألزمنا الله تعالى بِه، فقد قال جل جلاله: {وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ (18)} [العنكبوت]، ذلك أنَّ البلاغ المبين يكشف كُلَّ شبهة، ويزيل كلَّ لُبْسَة، ويدرَأُ كلَّ مفسدة، ويدفَعُ كُلَّ إشكال، ويجلِّي المُوَرَّى، ويوضِّح المُعَمَّى، ويجعل الحقَّ كَالشَّمْسِ في رَيْعَان الضُّحَى، لا يتمارى فيه اثنان.
ولذلك وَصَفَ الله تعالى كتابه بالمبين في غير آية، فقال: {وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ (2)} [الزّخرف]، ووصف البلاغ المكتوب على الرُّسل بالبلاغ المبين،
অভিযোগ থেকে সত্যের সন্ধান:
যদি লোকেরা আমাকে তিরস্কার করে, তবে আমি বলি—আপনারা আমাকে ক্ষমা করুন, কেননা পঙ্গু ব্যক্তির ওপর কোনো অপরাধ নেই।
আর সে ব্যক্তিই বা কোথায় যাবে, যে আলেমদের পোশাক পরিধান করে এবং তাদের মতো পাগড়ি মাথায় দেয়, অতঃপর আল্লাহর আয়াতসমূহ থেকে বিমুখ হয় এবং "সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও দূরে সরে যায়" [বনী ইসরাঈল: ৮৩] এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করে যাতে সে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়; "নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি, যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছিল" [সোয়াদ: ২৬]।
তেমনিভাবে আমি একে একটি উপদেশ, শিক্ষা ও স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করেছি তাদের জন্য, যাদের জিহ্বা ও হাত থেকে সাহাবায়ে কেরাম নিরাপদ ছিলেন না; এবং যারা তাঁদের সম্মানের ওপর নিজেদের জিহ্বা প্রসারিত করেছে এবং তাঁদের গোশত ভক্ষণ করে উদরপূর্তি করেছে, "যাতে তারা আল্লাহকে ভয় করে অথবা এটি তাদের জন্য কোনো উপদেশ তৈরি করে" [ত্বহা: ১১৩]। আর আমি আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হই না, "আপনি জানেন না, হয়তো আল্লাহ এরপর নতুন কোনো পথ তৈরি করে দেবেন" [তালাক: ১]।
আমি এর বিন্যাস, রচনা, সুসংবদ্ধকরণ, অলঙ্করণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি; এটি আমাদের আরবি ভাষার প্রতি এক গর্ব—যা কুরআনের ভাষা এবং সৃষ্টির সেরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ভাষা। এর প্রচারের প্রাঞ্জলতা রক্ষায় আমি আমার সর্বস্ব ও সাধ্য ব্যয় করেছি, বরং এর জন্য প্রতিটি পথই অবলম্বন করেছি; কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের যা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন আমি তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেছেন: "স্পষ্টভাবে প্রচার করাই রাসুলের একমাত্র দায়িত্ব" [আনকাবুত: ১৮]। কেননা, স্পষ্ট প্রচার প্রতিটি সংশয় উন্মোচন করে, প্রতিটি অস্পষ্টতা দূর করে, প্রতিটি অনিষ্ট প্রতিহত করে, প্রতিটি জটিলতা নিরসন করে, যা কিছু লুকায়িত তা প্রকাশ করে, যা কিছু অস্পষ্ট তা স্পষ্ট করে এবং সত্যকে ঠিক পূর্বাহ্নের সূর্যের মতো উজ্জ্বল করে তোলে, যা নিয়ে দু'জন মানুষের মধ্যেও কোনো মতভেদ থাকে না।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবকে একাধিক আয়াতে 'সুস্পষ্ট' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের" [যুখরুফ: ২]। আর তিনি রাসুলদের ওপর অর্পিত প্রচারের দায়িত্বকেও 'সুস্পষ্ট প্রচার' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٨)
فقال: {فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ (35)} [النَّحل].
ولا ريب أنَّ البَلاغَ المبين من خصائص أسلوبِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، الَّذي أَعْجَزَ بَلاغُهُ البُلغَاءَ، وتَبَلَّدَ أَمَامه الفُصَحَاءُ؛ فقد أُوتِيَ جَوامِعَ الكَلِم، قَالَ صلى الله عليه وسلم: "بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ "
(1).
وما مِنْ شكٍّ أنَّ الموعظة بالكلمة البليغة لها أثرها وتأثيرها حتَّى على الكافرين والمنافقين، قال تعالى: {فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُلْ لَهُمْ فِي أَنْفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِيغًا (63)} [النِّساء] فالآية فيها فضل البلاغة والفصاحة.
ومع هذا لا يخلو زماننا الَّذي قلَّ فيه العلم وكثر فيه الظُّلم ممَّن رَغِبَ عن بيانه صلى الله عليه وسلم، وزهد في بلاغه، وممَّن استحبَّ العمى على الهدى فناله في أحبِّ النَّاس إليه، ألا بِئْسَ ما قدَّمت أيديهم ليوم الحِسَاب!
وأنا أعْلمُ ـ وليتهم يعلمون ـ أنَّ أمَّ المؤمنين عائشة رضي الله عنها شَغَلَت العُلماءَ المتقدِّمين والمتأخِّرين، وأثارت برزانة عقلها وغزارةِ علمِها إجلالَ السَّلفِ والخلف، بل لا توجد امرأةٌ بَرَزَ اسْمُها في تاريخ الإِسْلامِ والمسلمين، وحظيت باهتمام الباحثين والدَّارسين عَبْرَ القرون كما حظيت به عائشة رضي الله عنها، فهيهات أن يجود الزَّمان بمن يشقّ غبارها، أو يدنو من آثارها، فكيف باللَّحاق بها! وأين في النِّساء مثل عائشة رضي الله عنها؟! الرَّاجحة في موازين العقل، السَّابقة في ميادين الفضل؛ فلا عَجَبَ أن أسِيْرَ خَلْفَ السَّلف بِقَلْبٍ بِسِيرَتِها أَسِير.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "রাসূলগণের দায়িত্ব কি সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু?" [সূরা আন-নাহল: ৩৫]।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুস্পষ্ট প্রচার হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যার অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনা অলঙ্কারবিদদের অক্ষম করে দিয়েছে এবং যার সামনে বাগ্মীরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছে; কেননা তাঁকে 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী) প্রদান করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে জাওয়ামিউল কালিম দিয়ে পাঠানো হয়েছে।"
(১)।
এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অলঙ্কারপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে নসিহতের প্রভাব ও কার্যকরিতা কাফির এবং মুনাফিকদের ওপরও পড়ে। মহান আল্লাহ বলেন: "সুতরাং আপনি তাদের উপেক্ষা করুন, তাদের নসিহত করুন এবং তাদের সম্পর্কে তাদের নিজেদের জন্য মর্মস্পর্শী কথা বলুন।" [সূরা আন-নিসা: ৬৩]। সুতরাং এই আয়াতে অলঙ্কার শাস্ত্র ও বাগ্মিতার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণিত হয়েছে।
তা সত্ত্বেও আমাদের এই যুগে, যেখানে ইলম কমে গেছে এবং জুলুম বেড়ে গেছে, এমন লোকের অভাব নেই যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং তাঁর অলঙ্কারপূর্ণ বাণীর প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছে। আবার কেউ হিদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকে বেছে নিয়েছে, ফলে সে তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তির ব্যাপারে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। সাবধান! বিচার দিবসের জন্য তাদের হাত যা আগে পাঠিয়েছে তা কতই না নিকৃষ্ট!
আর আমি জানি—এবং হায়! যদি তারাও জানত—যে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল আলেমদের মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন এবং তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক গাম্ভীর্য ও অগাধ ইলম দ্বারা সালাফ ও খালাফদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। বরং ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাসে এমন কোনো নারীর নাম প্রকাশ পায়নি এবং শতাব্দী জুড়ে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিকট এমন গুরুত্ব পায়নি যা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা পেয়েছেন। সুতরাং এমন কেউ আসার সম্ভাবনা সুদূরপরাহত যে তাঁর ধূলিকণা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে অথবা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারবে, তবে তাঁকে ধরা তো বহুদূর! নারীদের মাঝে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার মতো আর কে আছে?! বুদ্ধিবৃত্তিক পাল্লায় যিনি শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদার ময়দানে যিনি অগ্রগামী। সুতরাং আমি যদি সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এমন এক হৃদয় নিয়ে চলি যা তাঁর জীবনীতে বন্দি, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ١٩)
كما أعلم أنَّ الله تعالى أغناها رضي الله عنها عن دفاع كُلِّ أحد، فقد تولَّى الله عز وجل الدِّفاع
عنها وعن المؤمنين، {إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا (38)} [الحجّ]، وأعلم أنَّ الله تعالى حَسْبُها، {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ (64)} [الأنفال]، وأنَّه وليُّها، {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا (257)} [البقرة] وأنَّه أنزل في إخلاء ساحتها عشر آيات بيِّنات نيِّرات.
لكن مضَّني سماعُ ثَلْبِهم وقَرْفِهم لمن زكَّاه اللهُ وقَرَظَه وأَطْرَاه، وأمرضني أن أظهروا العداوة ودَقُّوا عِطْرَ مَنْشِمِ، {قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ (118)} [آل عمران] وصار في صدْري بلابِلُ تقطِّع الأنفاسَ أَسَفاً على ما آل إليه أمْرُ المسلمين!
لكن مهما طالت الأيدي وقصرت، فستظلّ دعوتُهم صَرْخَةً في وادٍ، أو ضربةً في حديد بارد، أو نفخةً في رَمَاد، أو سحابةَ صَيْفٍ سُرْعَان ما تنقشع وتتكشَّف، فالحقُّ له مقامٌ ومقال:
الحقُّ أَبْلَجُ لا تَزِيغُ سَبِيلُهُ وَالحقُّ يَعْرِفُهُ أُولُو الألبَاب
فلا يضرُّ عالماً جَهْلُ جَاهِلٍ، ولا يضرُّ شريفاً عيبُ وضيعٍ، وكفى بالمرءِ شرّاً أنْ يقع في الصَّالحين، وهو ليس منهم! وصدق القائل:
ذو العقلِ لا يَسْلَمُ مِن جاهلٍ يسومُهُ عَسْفاً وإِعناتا
وقد جعلت هذا الكتاب في أَقسام ثمانية، وضمَّنته من الآيات المحكمات، والأحاديث القاطعات، والحجج الباهرات، والبراهين السَّاطعات، والأخبار المسندات ما يشرح الصُّدور، ويداوي المصدور.
আমি যেমন জানি যে আল্লাহ তাআলা তাকে (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কারো প্রতিরক্ষার মুখাপেক্ষী রাখেননি, কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নিজেই তার এবং মুমিনদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন,
{নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেন (৩৮)} [হাজ্জ], এবং আমি জানি যে আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট, {হে নবী! আপনার জন্য এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট (৬৪)} [আনফাল], এবং তিনি তার অভিভাবক, {আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক (২৫৭)} [বাকারা] এবং তার পবিত্রতা ঘোষণা করে তিনি দশটি সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল আয়াত অবতীর্ণ করেছেন।
কিন্তু যাকে আল্লাহ পবিত্র করেছেন, প্রশংসা করেছেন এবং গুণকীর্তন করেছেন, তার বিরুদ্ধে তাদের নিন্দা ও কুৎসা শোনা আমাকে ব্যথিত করেছে। তারা যে শত্রুতা প্রকাশ করেছে এবং চরম বিদ্বেষের আশ্রয় নিয়েছে তা আমাকে পীড়িত করেছে, {তাদের মুখ থেকে বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছে আর তাদের অন্তর যা গোপন রাখে তা আরও গুরুতর (১১৮)} [আল-ইমরান] এবং মুসলিমদের অবস্থা যে পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে তাতে আক্ষেপে আমার হৃদয়ে এমন এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে যা আমার শ্বাসরোধ করে দিচ্ছে!
তবে (আক্রমণকারী) হাত যতই দীর্ঘ বা খাটো হোক না কেন, তাদের এই আহ্বান কোনো নির্জন প্রান্তরে আর্তনাদ, অথবা শীতল লোহায় আঘাত, অথবা ছাইয়ের ওপর ফুঁ দেওয়া কিংবা গ্রীষ্মের মেঘের মতোই থেকে যাবে যা দ্রুতই কেটে যায় ও বিলীন হয়ে যায়। কেননা সত্যের রয়েছে নিজস্ব মর্যাদা ও বক্তব্য:
সত্য সমুজ্জ্বল, এর পথ বিচ্যুত হয় না, আর প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরাই সত্যকে চেনে।
কোনো মূর্খের অজ্ঞতা একজন আলিমের ক্ষতি করতে পারে না, আর কোনো নীচ ব্যক্তির দোষারোপ একজন মর্যাদাবান ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারে না। আর একজন মানুষের জন্য এতটুকুই মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে পুণ্যবানদের সমালোচনা করে অথচ সে নিজে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়! আর বক্তা সত্যই বলেছেন:
বুদ্ধিমান ব্যক্তি এমন মূর্খ থেকে নিরাপদ থাকতে পারেনা, যে তার ওপর অন্যায় ও কঠোরতা চাপিয়ে দেয়।
আর আমি এই কিতাবটিকে আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি এবং এতে সুদৃঢ় আয়াতসমূহ, অকাট্য হাদীসসমূহ, উজ্জ্বল দলিলসমূহ, প্রদীপ্ত প্রমাণাদি এবং সনদযুক্ত বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করেছি যা অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং ব্যথিত হৃদয়ের আরোগ্য দান করে।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقد نثرت من نثره النَّظيم كلَّ درَّة تُزِيل ظلْمةَ اللَّيل البهيم: {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (4)} [الجمعة].
وكان صدور هذا الكتاب أُمْنِية قبل أن توافيني المنيَّة: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ (43)} [الأعراف]. وختاماً، اللهَ أسألُ أن يُعِيْنَ مَنْ أعانني في هذا الكتاب، وأن يثيبه النَّعِيمَ المُقِيمَ الَّذِي لَا يَحُولُ وَلَا يَزُولُ، وأن يعود هذا الكتاب على مَنْ سعى في نشره بالخير العتيد، والنَّفع الَّذي لا ينقطع ولا يبيد، وأن يجزي خيراً مَنْ أقال الكَبْوة، وتدارك الهفوة، وسَدَّ الخلل، وأصلح الزَّلل، وأن ينفع به من قرأه أو نظر فيه النَّفع العميم، والخير السَّابغ الجسيم، وأن يجعله في صحائف أعماله يوم الدِّين: {يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئًا وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ (19)} [الانفطار] وآخر دعوانا {أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (10)} [يونس].
المؤلِّف
أحمد محمود الشّوابكة
أبو عبيدة
আমি তাঁর সুবিন্যস্ত গদ্য থেকে এমন প্রতিটি মুক্তো ছড়িয়ে দিয়েছি যা ঘোর অন্ধকারের অন্ধকারকে দূর করে দেয়: {এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন; আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী। (৪)} [আল-জুমুআ]।
আর মৃত্যু আসার আগে এই কিতাবটির প্রকাশনা ছিল আমার একটি আকাঙ্ক্ষা: {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আর আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো পথ পেতাম না। (৪৩)} [আল-আরাফ]। পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে সাহায্য করেন যে এই কিতাবটি তৈরিতে আমাকে সাহায্য করেছে, এবং তাকে দান করেন স্থায়ী নেয়ামত যা পরিবর্তন হয় না এবং শেষ হয় না। আর এই কিতাবটি যারা প্রসারে সচেষ্ট হয়েছে তাদের জন্য যেন এটি সঞ্চিত কল্যাণ এবং অবিরাম ও অক্ষয় উপকারের কারণ হয়। আর আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন যে কোনো হোঁচট খাওয়াকে ক্ষমা করেছে, ভুল সংশোধন করেছে, ত্রুটি পূরণ করেছে এবং বিচ্যুতি সংস্কার করেছে। আর এর মাধ্যমে একে পাঠকারী বা অধ্যয়নকারীকে যেন ব্যাপক উপকার এবং অঢেল মহান কল্যাণ দান করেন। আর বিচার দিবসে তিনি যেন এটিকে তাদের আমলনামায় যুক্ত করেন: {যেদিন কেউ কারো জন্য কোনো উপকার করার ক্ষমতা রাখবে না; আর সেদিন সমস্ত বিষয় হবে আল্লাহর ইখতিয়ারে। (১৯)} [আল-ইনফিতার]। আর আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো {সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (১০)} [ইউনুস]।
লেখক
আহমদ মাহমুদ আশ-শাওয়াবকাহ
আবু উবাইদাহ
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢١)
القسم الأوَّلترجمة عائشة رضي الله عنها -
نسبهاهي عَائِشَةُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيق أمّ المؤمنين رضي الله عنها، تكنَّى أمَّ عبد الله، والدها عَبْدُ الله بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ كَعْبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ القرشي التيمي، أبو بكر الصِّدِّيق بن أبي قحافة، خليفة رسُولِ الله صلى الله عليه وسلم. ويجتمع نسب أبي بكر رضي الله عنه مع النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم في مرَّة بن كعب، وعليه فأمُّ المؤمنين عائشة رضي الله عنها يتَّصل نسبها بنسب خير خلق الله تعالى محمَّد صلى الله عليه وسلم، وهي من قبيلة تيم، ومن أسرة سبقت إلى الإسلام.
مولدها رضي الله عنها
ولدت عائشة رضي الله عنها في الإسلام بعد مبعثه صلى الله عليه وسلم، وقبل الهجرة بنحو ثمان سنين، كانت تقول: "لَمْ أَعْقِلْ أَبَوَيَّ إِلَّا وَهُمَا يَدِينَانِ الدِّينَ"
(1).
أمّها أمّ رومان رضي الله عنها
أمُّها الصَّحَابيَّة الجليلة أُمُّ رُومَانَ بِنْتُ عَامِرِ بْنِ عُوَيْمِرِ الكنانيّة، واسمها زينب، وقيل: دعد. أسلمت قديماً كما يدلُّ عليه كلام عائشة رضي الله عنها، أنَّها وجدت أبويها: أبا بكر، وأمَّ رومان منذ عقلت، وهما يدينان دين الإسلام. وقد هاجرت أمُّ رومان رضي الله عنها بعدما استقرَّ أبو بكر رضي الله عنه في المدينة.
--------------------------------------------
প্রথম অংশআয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জীবনী -
তাঁর বংশপরিচয়তিনি হলেন উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বিনতে আবু বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহা। তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) হলো উম্মু আব্দুল্লাহ। তাঁর পিতা হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুয়াই আল-কুরাশি আত-তাইমি, আবু বকর আস-সিদ্দীক বিন আবি কুহাফা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলিফা। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বংশধারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মুররা ইবনে কাব-এ গিয়ে মিলিত হয়। সে অনুযায়ী উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বংশধারা আল্লাহর সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারার সাথে যুক্ত। তিনি তাইম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং এমন এক পরিবারের সদস্য যারা ইসলামের দিকে অগ্রগামী ছিলেন।
তাঁর জন্ম রাদিয়াল্লাহু আনহা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ইসলামের যুগে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) নবুয়ত লাভের পর এবং হিজরতের প্রায় আট বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বলতেন: "আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই আমার পিতামাতাকে দ্বীনের (ইসলামের) অনুসারী হিসেবে পেয়েছি।"
(১).
তাঁর মাতা উম্মু রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহা
তাঁর মাতা হলেন মহান সাহাবী উম্মু রুমান বিনতে আমির ইবনে উওয়াইমির আল-কিনানিয়্যাহ, তাঁর নাম যয়নব, আর কারো মতে দা'দ। তিনি অনেক আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যেমনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি যখন থেকে বুঝতে শিখেছেন তখন থেকেই তাঁর পিতামাতা—আবু বকর ও উম্মু রুমানকে—ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে পেয়েছেন। উম্মু রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর হিজরত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
إخوتها رضي الله عنها
تزوَّج أبو بكر في الجاهليَّة قتلة، أوقتيلة بنت عبد العزَّى القرشيَّة العامريَّة، واختلف في إسلامها، فولدت له: عبد الله، وأسماء (ذات النِّطاقين)، وتزوَّج أمَّ رومان، وولدت له: عبد الرَّحمن، وعائشة.
وتزوَّج في الإسلام أسماء بنت عميس، وولدت له محمَّداً في طريق المدينة إلى مكة في حَجَّةِ الوَدَاع كما ثبت عند مسلم في حديث جابر بن عبد الله الطَّويل، وتزوَّج حبيبة بنت خارجة، وولدت له بعد وفاته أمَّ كلثوم.
نشأتها رضي الله عنها
نشأت رضي الله عنها في بيت أبيها أبي بكر الصِّدِّيق رضي الله عنه، أعلم العرب قاطبة بِأَنْسَاب قريش، قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم لحسّان رضي الله عنه: "لَا تَعْجَلْ، فَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ أَعْلَمُ قُرَيْشٍ بِأَنْسَابِهَا ـ وَإِنَّ لي فِيهِمْ نَسَبًا ـ حَتَّى يُلَخِّصَ لَكَ نَسَبِي"
(1). وقد شابهت أباها في صفات عديدة وخلائق حميدة، فقد ورثت عنه الصِّدق، فهي الصِّدِّيقة بنت الصِّدِّيق.
وكان الصَّادق الأمين صلى الله عليه وسلم قد أطلق على أبيها لقب الصِّدِّيق، حَدَّثَ أَنَسُ رضي الله عنه:أنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ أُحُدًا، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَعُثْمَانُ، فَرَجَفَ بِهِمْ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "اثْبُتْ أُحُدُ، فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ، وَصِدِّيقٌ، وَشَهِيدَانِ"
(2). والصِّدِّيق مرتبة دون الأنبياء وفوق الشُّهداء، قال تعالى: {ا وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ (69)} [النّساء].
--------------------------------------------
তাঁর ভাইবোন রাদিয়াল্লাহু আনহা
আবু বকর জাহিলিয়াত যুগে কুতলা অথবা কুতাইলা বিনতে আব্দুল উযযা আল-কুরাশী আল-আমিরিয়াকে বিবাহ করেন, তাঁর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি তাঁর জন্য আব্দুল্লাহ এবং আসমা (যাতুন নিতাকাইন)-কে জন্ম দেন। এবং তিনি উম্মে রুমানকে বিবাহ করেন, তিনি তাঁর জন্য আব্দুর রহমান ও আয়েশাকে জন্ম দেন।
তিনি ইসলাম যুগে আসমা বিনতে উমাইসকে বিবাহ করেন এবং তিনি বিদায় হজ্জের সময় মদিনা থেকে মক্কার পথে তাঁর জন্য মুহাম্মদকে জন্ম দেন, যেমনটি মুসলিম শরীফে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর দীর্ঘ হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি হাবিবা বিনতে খারিজাহকে বিবাহ করেন এবং তাঁর (আবু বকরের) মৃত্যুর পর তিনি উম্মে কুলসুমকে জন্ম দেন।
তাঁর বেড়ে ওঠা রাদিয়াল্লাহু আনহা
তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর পিতা আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘরে লালিত-পালিত হন, যিনি কুরাইশদের বংশলতিকা সম্পর্কে সমগ্র আরবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: "তাড়াহুড়ো করো না, কারণ আবু বকর কুরাইশদের বংশধারা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী — এবং তাদের মধ্যে আমারও বংশীয় সম্পর্ক রয়েছে — যতক্ষণ না তিনি তোমার কাছে আমার বংশপরিচয় স্পষ্ট করেন"
(১)। তিনি অনেক গুণাবলি ও প্রশংসনীয় চরিত্রের দিক থেকে তাঁর পিতার সদৃশ ছিলেন। তিনি তাঁর থেকে সত্যবাদিতা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিলেন, তাই তিনি হলেন সিদ্দীকা বিনতে সিদ্দীক (সিদ্দীকের কন্যা সিদ্দীকা)।
আর সাদিকুল আমিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতাকে সিদ্দীক উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর, উমর ও উসমান। তখন পাহাড়টি তাঁদের নিয়ে প্রকম্পিত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে উহুদ, স্থির হও! কারণ তোমার উপরে একজন নবী, একজন সিদ্দীক এবং দুইজন শহীদ রয়েছেন"
(২)। আর সিদ্দীকের মর্যাদা হলো নবীদের নিচে এবং শহীদদের উপরে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীলগণ (৬৯)} [সূরা আন-নিসা]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
فأبوها أبو بكر رضي الله عنه ليس ككلِّ الآباء، فقد شابه النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم في خلال محمودة
وخصال مشهودة، فإلى جانب صفة الصِّدق، وَصَفَهُ ابْنُ الدَّغِنَةِ في حديث الهجرة بصفات اشتهر بها النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم، فقد قال له مستغرباً لمَّا لقيه خارجاً في طريقه إلى الحبشة: "إِنَّ مِثْلَكَ لَا يَخْرُجُ، وَلَا يُخْرَجُ؛ فَإِنَّكَ تَكْسِبُ المعْدُومَ، وَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ "
(1).
وهي نظير صفات النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم الَّتي وصفت بها خديجة رضي الله عنها النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم في حديث بدء الوحي حيث قالت للنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:"إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَصْدُقُ الْحَدِيثَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ المعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ"
(2).
ولمّا انطلقت خديجة به صلى الله عليه وسلم بعد ذلك إلى ابن عمِّها وَرَقَة، استبعد صلى الله عليه وسلم أن يخرجه قومه؛ لما جمع من مكارم الأخلاق، فلمّا قال له وَرَقَةُ: " ليتني أكون حيّاً إذ يخرجك قومُكَ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أومخرجيَّ هم؟! قال: نعم؛ لم يأتِ رجلٌ قطُّ بمثل ما جئت به إلّا عودي"
(3).
ولعلَّ ابْنَ الدَّغِنَةِ استدلَّ بمكارم الأخلاق الَّتي حازها أبو بكر عَلَى أَنَّه لَا يَخْرُج. ولاعجبَ أن يجمع أبوبكر هذه الأخلاق كُلَّها، فقد كان صاحِبَ صَاحِب الخلق العظيم، الَّذي قال له جل جلاله: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} [القلم]، فلم
--------------------------------------------
অতঃপর তাঁর পিতা আবু বকর (রা.) অন্য সাধারণ পিতাদের মতো ছিলেন না। তিনি প্রশংসনীয় গুণাবলি ও সুপরিচিত বৈশিষ্ট্যে নবী (সা.)-এর সাদৃশ্য অর্জন করেছিলেন। সততার গুণের পাশাপাশি হিজরতের হাদীসে ইবনে দাগিনাহ তাঁকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন, যার জন্য নবী (সা.) সুপরিচিত ছিলেন। তিনি যখন আবিসিনিয়া যাওয়ার পথে তাঁকে বের হওয়া অবস্থায় পেলেন, তখন বিস্ময় প্রকাশ করে তাঁকে বলেছিলেন: "আপনার মতো মানুষ নিজে থেকে বের হয়ে যায় না এবং তাকে বেরও করে দেওয়া হয় না। কেননা আপনি নিঃস্বদের জন্য উপার্জন করেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্যের পথে বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করেন"
(১)।
এগুলো হুবহু নবী (সা.)-এর সেই গুণাবলি, যা দিয়ে ওহী শুরুর হাদীসে খাদীজা (রা.) নবী (সা.)-কে বিশেষায়িত করেছিলেন। তখন তিনি নবী (সা.)-কে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জন করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্যের পথে বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করেন"
(২)।
এরপর খাদীজা (রা.) যখন তাঁকে (সা.) নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকার কাছে গেলেন, তখন নবী (সা.) তাঁর স্বজাতির মাধ্যমে বিতাড়িত হওয়ার বিষয়টি অসম্ভব মনে করেছিলেন; কারণ তাঁর মাঝে সকল মহান চরিত্রের সমাহার ঘটেছিল। কিন্তু ওয়ারাকা যখন তাঁকে বললেন: "হায়! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যখন আপনার কওম আপনাকে বের করে দেবে।" তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন: "তারা কি আমাকে বের করে দেবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ; আপনি যা নিয়ে এসেছেন, তা নিয়ে যখনই কোনো ব্যক্তি এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে"
(৩)।
সম্ভবত ইবনে দাগিনাহ আবু বকরের অর্জিত মহান চরিত্রসমূহ থেকে একথাই প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, তাঁর মতো মানুষকে বের করা যায় না। আর আবু বকর এই সমস্ত চরিত্রের অধিকারী হবেন এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই; কারণ তিনি ছিলেন সেই মহান চরিত্রের অধিকারী (নবী)-এর সঙ্গী, যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত (৪)} [আল-কালাম], ফলে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
يمرَّ يومٌ إلّا ويزوره النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم صباحاً ومساءً، فطوبى لأعين اكتحلت برؤيتك يا رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم مؤمنة!
قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها في سياق حديث الهجرة: " وَلَمْ يَمُرَّ عَلَيْنَا يَوْمٌ إِلَّا يَأْتِينَا فِيهِ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم طَرَفَيْ النَّهَارِ بُكْرَةً وَعَشِيَّةً، فَلَمَّا ابْتُلِيَ المسْلِمُونَ خَرَجَ أَبو بَكْرٍ مُهَاجِراً قِبَلَ الحَبَشَةِ، حَتَّى إِذَا بَلَغَ بَرْكَ الْغِمَادِ
(1)، لَقِيَهُ ابْنُ الدَّغِنَةِ، وَهُوَ سَيِّدُ القَارَةِ
(2)، فَقَالَ: أَيْنَ تُرِيدُ يَا أَبا بَكْرٍ؟ فَقَالَ أَبو بَكْرٍ: أَخْرَجَنِي قَوْمِي، فَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَسِيحَ فِي الْأَرْضِ، فَأَعْبُدَ رَبِّي، قَالَ ابْنُ الدَّغِنَةِ: إِنَّ مِثْلَكَ لَا يَخْرُجُ، وَلَا يُخْرَجُ؛ فَإِنَّكَ تَكْسِبُ المعْدُومَ، وَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ، وَأَنَا لَكَ جَارٌ فَارْجِعْ، فَاعْبُدْ رَبَّكَ بِبِلَادِكَ.
فَارْتَحَلَ ابْنُ الدَّغِنَةِ، فَرَجَعَ مَعَ أَبِي بَكْرٍ، فَطَافَ فِي أَشْرَافِ كُفَّارِ قُرَيْشٍ، فَقَالَ لَهُمْ: إِنَّ أَبا بَكْرٍ لَا يَخْرُجُ مِثْلُهُ وَلَا يُخْرَجُ، أَتُخْرِجُونَ رَجُلًا يُكْسِبُ المعْدُومَ، وَيَصِلُ الرَّحِمَ، وَيَحْمِلُ الكَلَّ، وَيَقْرِي الضَّيْفَ، وَيُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الحقِّ؟!
فَأَنْفَذَتْ قُرَيْشٌ جِوَارَ ابْنِ الدَّغِنَةِ، وَآمَنُوا أَبا بَكْرٍ، وَقَالُوا لِابنِ الدَّغِنَةِ: مُرْ أَبا بَكْرٍ، فَلْيَعْبُدْ رَبَّهُ فِي دَارِهِ، فَلْيُصَلِّ، وَلْيَقْرَأْ مَا شَاءَ، وَلَا يُؤْذِينَا بِذَلِكَ، وَلَا يَسْتَعْلِنْ بِهِ؛ فَإِنَّا قَدْ خَشِينَا أَنْ يَفْتِنَ أَبْنَاءَنَا وَنِسَاءَنَا. قَالَ ذَلِكَ ابْنُ الدَّغِنَةِ لِأَبِي بَكْرٍ، فَطَفِقَ أَبو بَكْرٍ يَعْبُدُ رَبَّهُ فِي دَارِهِ، وَلَا يَسْتَعْلِنُ بِالصَّلَاةِ وَلَا الْقِرَاءَةِ فِي غَيْرِ دَارِهِ، ثُمَّ بَدَا لِأَبِي بَكْرٍ، فَابْتَنَى مَسْجِدًا بِفِنَاءِ دَارِهِ، وَبَرَزَ، فَكَانَ يُصَلِّي فِيهِ وَيَقْرَأُ القُرْآنَ فَيَتَقَصَّفُ
--------------------------------------------
এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল-সন্ধ্যা তাঁর কাছে না আসতেন। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ধন্য সেই সব চোখ যা মুমিন অবস্থায় আপনার দর্শনে সুরমা মেখেছে (আপনাকে দেখেছে)!
হিজরতের হাদীসের প্রেক্ষাপটে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "আমাদের ওপর দিয়ে এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের দুই প্রান্ত—সকাল ও সন্ধ্যায়—আমাদের কাছে না আসতেন। এরপর যখন মুসলিমরা পরীক্ষার সম্মুখীন হলেন, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবিসিনিয়ার (হাবশা) দিকে হিজরত করার জন্য বের হলেন। পথিমধ্যে যখন তিনি 'বারকুল গিমাদ'
(১) নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন ইবনুদ দাগিনাহর সাথে তাঁর দেখা হলো। সে ছিল কারাহ্
(২) গোত্রের নেতা। সে জিজ্ঞেস করল: হে আবু বকর! আপনি কোথায় যেতে চান? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমার সম্প্রদায় আমাকে বের করে দিয়েছে, তাই আমি পৃথিবীতে বিচরণ করতে চাই যাতে আমি আমার রবের ইবাদত করতে পারি। ইবনুদ দাগিনাহ বলল: আপনার মতো ব্যক্তি নিজে থেকে বের হতে পারে না এবং তাকে বেরও করে দেয়া যায় না। কেননা, আপনি নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আসা বিপদাপদে সাহায্য করেন। আমি আপনার জন্য আশ্রয়দাতা, সুতরাং আপনি ফিরে চলুন এবং আপনার নিজের শহরেই আপনার রবের ইবাদত করুন।
অতপর ইবনুদ দাগিনাহ যাত্রা করল এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ফিরে এল। সে কুরাইশ কাফেরদের নেতাদের কাছে গিয়ে বলল: আবু বকরের মতো ব্যক্তি নিজে থেকে বেরিয়ে যায় না এবং তাকে বেরও করে দেয়া যায় না। তোমরা কি এমন একজন মানুষকে বের করে দিচ্ছ যে নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, অক্ষমদের বোঝা বহন করে, মেহমানদারি করে এবং হকের পথে আসা বিপদাপদে সাহায্য করে?!
তখন কুরাইশরা ইবনুদ দাগিনাহর আশ্রয় মেনে নিল এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নিরাপত্তা দিল। তারা ইবনুদ দাগিনাহকে বলল: আবু বকরকে বলে দাও, সে যেন তার নিজের বাড়িতেই তার রবের ইবাদত করে, সেখানে সালাত আদায় করে এবং যা ইচ্ছা পাঠ করে। কিন্তু এর মাধ্যমে যেন আমাদের কষ্ট না দেয় এবং তা প্রকাশ্যে না করে। কারণ আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে, সে আমাদের সন্তানদের ও নারীদের বিভ্রান্ত করবে। ইবনুদ দাগিনাহ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এ কথা জানালে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিজ বাড়িতেই ইবাদত করতে লাগলেন এবং বাড়ির বাইরে প্রকাশ্যে সালাত আদায় বা তিলাওয়াত করতেন না। এরপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনে এক নতুন চিন্তা এল, তাই তিনি তাঁর বাড়ির আঙিনায় একটি মসজিদ তৈরি করলেন এবং সেখানে প্রকাশ্যে আসতে লাগলেন। তিনি সেখানে সালাত আদায় করতেন এবং কুরআন পাঠ করতেন, আর এতে (মানুষের) ভিড় উপচে পড়ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
عَلَيْهِ نِسَاءُ المشْرِكِينَ وَأَبْنَاؤُهُمْ يَعْجَبُونَ وَيَنْظُرُونَ إِلَيْهِ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ رَجُلاً بَكَّاءً لَا يَمْلِكُ دَمْعَهُ حِينَ يَقْرَأُ القُرْآنَ، فَأَفْزَعَ ذَلِكَ أَشْرَافَ قُرَيْشٍ مِنْ المشْرِكِينَ، فَأَرْسَلُوا إِلَى ابْنِ الدَّغِنَةِ، فَقَدِمَ عَلَيْهِمْ، فَقَالُوا لَهُ:
إِنَّا كُنَّا أَجَرْنَا أَبَا بَكْرٍ عَلَى أَنْ يَعْبُدَ رَبَّهُ فِي دَارِهِ وَإِنَّهُ جَاوَزَ ذَلِكَ، فَابْتَنَى مَسْجِدًا بِفِنَاءِ دَارِهِ، وَأَعْلَنَ الصَّلَاةَ وَالْقِرَاءَةَ، وَقَدْ خَشِينَا أَنْ يَفْتِنَ أَبْنَاءَنَا وَنِسَاءَنَا فَأْتِهِ فَإِنْ أَحَبَّ أَنْ يَقْتَصِرَ عَلَى أَنْ يَعْبُدَ رَبَّهُ فِي دَارِهِ فَعَلَ، وَإِنْ أَبَى إِلَّا أَنْ يُعْلِنَ ذَلِكَ، فَسَلْهُ أَنْ يَرُدَّ إِلَيْكَ ذِمَّتَكَ، فَإِنَّا كَرِهْنَا أَنْ نُخْفِرَكَ وَلَسْنَا مُقِرِّينَ لِأَبِي بَكْرٍ الِاسْتِعْلَانَ.
قَالَتْ عَائِشَةُ: فَأَتَى ابنُ الدَّغِنَةِ أَبَا بَكْرٍ، فَقَالَ: قَدْ عَلِمْتَ الَّذِي عَقَدْتُ لَكَ عَلَيْهِ، فَإِمَّا أَنْ تَقْتَصِرَ عَلَى ذَلِكَ، وَإِمَّا أَنْ تَرُدَّ إِلَيَّ ذِمَّتِي، فَإِنِّي لَا أُحِبُّ أَنْ تَسْمَعَ العَرَبُ أَنِّي أُخْفِرْتُ فِي رَجُلٍ عَقَدْتُ لَهُ، قَالَ أَبو بَكْرٍ: إِنِّي أَرُدُّ إِلَيْكَ جِوَارَكَ وَأَرْضَى بِجِوَارِ الله، وَرَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ بِمَكَّةَ، فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: قَدْ أُرِيتُ دَارَ هِجْرَتِكُمْ، رَأَيْتُ سَبْخَةً ذَاتَ نَخْلٍ بَيْنَ لَابَتَيْنِ، وَهُمَا الْحَرَّتَانِ، فَهَاجَرَ مَنْ هَاجَرَ قِبَلَ المدِينَةِ حِينَ ذَكَرَ ذَلِكَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم وَرَجَعَ إِلَى المدِينَةِ بَعْضُ مَنْ كَانَ هَاجَرَ إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ "
(1) (.
الهجرةلم تبلغْ أُسْرَةٌ في التَّضحية والبطولة والفداء ما بلغته أسرةُ أبي بكر رضي الله عنه، فقد بادر جميعُ أفراد هذه الأسرة إلى الإسلام، عدا عبد الرّحمن شقيق عائشة رضي الله عنها، فقد
--------------------------------------------
মুশরিকদের নারীরা এবং তাদের সন্তানরা সেখানে ভিড় করত এবং আশ্চর্যান্বিত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকত। আবু বকর (রা.) ছিলেন অতিশয় ক্রন্দনকারী এক ব্যক্তি; যখন তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারতেন না। বিষয়টি মুশরিক কুরাইশদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আতঙ্কিত করে তুলল। তারা ইবনে আদ-দাগিনাহর কাছে লোক পাঠাল এবং সে তাদের নিকট এলে তারা তাকে বলল:
আমরা আবু বকরকে এই শর্তে আশ্রয় দিয়েছিলাম যে, তিনি তাঁর ঘরেই তাঁর রবের ইবাদত করবেন। কিন্তু তিনি সেই সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তাঁর ঘরের আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তিনি সেখানে প্রকাশ্যে সালাত আদায় ও কুরআন পাঠ করছেন। আমরা আশঙ্কা করছি যে, তিনি আমাদের সন্তান ও নারীদের ফিতনায় ফেলে দেবেন। অতএব আপনি তাঁর কাছে যান; যদি তিনি কেবল নিজের ঘরে রবের ইবাদত করতে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি হন তবে তাই হবে, আর যদি তিনি তা প্রকাশ্যেই করতে চান, তবে তাঁকে আপনার নিরাপত্তার জিম্মাদারি ফেরত দিতে বলুন। কারণ আপনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা আমরা অপছন্দ করি, আবার আবু বকরের এই প্রকাশ্যে ইবাদত করাও আমরা মেনে নেব না।
আয়েশা (রা.) বলেন: অতঃপর ইবনে আদ-দাগিনাহ আবু বকরের নিকট এসে বলল: আমি আপনার সাথে যে শর্তে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম তা আপনি জানেন। এখন হয় আপনাকে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, অথবা আমার দেওয়া নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। কারণ আমি চাই না আরবরা শুনুক যে, আমি যাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম তার ব্যাপারে আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। আবু বকর (রা.) বললেন: আমি আপনার দেওয়া নিরাপত্তা আপনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি এবং আমি আল্লাহর জিম্মাদারিতেই সন্তুষ্ট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মক্কায় ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমাকে তোমাদের হিজরতের স্থান দেখানো হয়েছে। আমি দুটি কালো পাথুরে প্রান্তরের (হাররাহ) মাঝে খেজুর বাগান সমৃদ্ধ একটি লবণাক্ত ভূমি দেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ কথা উল্লেখ করলেন, তখন যারা হিজরত করার তারা মদিনার দিকে হিজরত করলেন। আর যারা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন তাদের মধ্যে কিছু লোক মদিনায় ফিরে এলেন।"
(১) (.
হিজরতত্যাগ, বীরত্ব এবং আত্মোৎসর্গের ক্ষেত্রে আবু বকর (রা.)-এর পরিবার যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তা অন্য কোনো পরিবার স্পর্শ করতে পারেনি। আয়েশা (রা.)-এর সহোদর ভাই আবদুর রহমান ব্যতীত এই পরিবারের সকল সদস্য ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
تأخَّر إسلامه.
وقدَّمت هذه الأسرةُ أعْظَمَ مثل في الجِهَاد يوم الهجرة، الَّتي تعدُّ نقطة تحوّل في تاريخ الدَّعوة، حتَّى أَمَرَ عُمَرُ رضي الله عنه الصَّحابة في خلافته أن يؤرِّخوا بها، قال عمر رضي الله عنه:
" الهجرة فرَّقت بين الحقِّ والباطل فأرِّخوا بها"
(1)، وقال سهل بن سعد رضي الله عنه: " مَا عَدُّوا مِنْ مَبْعَثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَا مِنْ وَفَاتِهِ مَا عَدُّوا إِلَّا مِنْ مَقْدَمِهِ المدِينَةَ "
(2).
وقد روى البخاري قصّة الهجرة بطولها، وأقتطع منها دور هذه الأسرة الكريمة، قالت عائشة رضي الله عنها: " وَتَجَهَّزَ أَبو بَكْرٍ قِبَلَ المدِينَةِ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: عَلَى رِسْلِكَ فَإِنِّي أَرْجُو أَنْ يُؤْذَنَ لِي، فَقَالَ أَبو بَكْرٍ: وَهَلْ تَرْجُو ذَلِكَ بِأَبِي أَنْتَ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَحَبَسَ أَبو بَكْرٍ نَفْسَهُ عَلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، لِيَصْحَبَهُ وَعَلَفَ رَاحِلتَيْنِ كَانَتَا عِنْدَهُ وَرَقَ السَّمُرِ، وَهُوَ الْخَبَطُ
(3)، أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ.
قَالَتْ عَائِشَةُ: فَبَيْنَمَا نَحْنُ يَوْماً جُلُوسٌ فِي بَيْتِ أَبِي بَكْرٍ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ
(4)،
قَالَ قَائِلٌ لِأَبِي بَكْرٍ: هَذَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم مُتَقَنِّعاً فِي سَاعَةٍ لَمْ يَكُنْ يَأْتِينَا فِيهَا، فَقَالَ أَبو بَكْرٍ: فِدَاءٌ لَهُ أَبِي وَأُمِّي، والله مَا جَاءَ به فِي هَذِهِ السَّاعَةِ إِلَّا أَمْرٌ، قَالَتْ: فَجَاءَ
--------------------------------------------
তাঁর ইসলাম গ্রহণ করতে বিলম্ব হয়েছিল।
এই পরিবার হিজরতের দিনে জিহাদের এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, যা দাওয়াতের ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর খিলাফতকালে সাহাবায়ে কিরামকে এর মাধ্যমেই ইতিহাস গণনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:
"হিজরত সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছে, তাই তোমরা এর মাধ্যমেই ইতিহাস (সন) গণনা করো।"
(১) আর সাহল বিন সা'দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে কিংবা তাঁর মৃত্যু থেকে গণনা করেননি, বরং তাঁরা তাঁর মদীনায় আগমনের সময় থেকেই গণনা শুরু করেছেন।"
(২)ইমাম বুখারী হিজরতের ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, আমি সেখান থেকে এই মহীয়সী পরিবারের ভূমিকাটুকু উদ্ধৃত করছি। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মদীনার অভিমুখে হিজরতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: 'ধৈর্য ধরুন, কারণ আমি আশা করছি যে আমাকেও অনুমতি দেওয়া হবে।' আবু বকর বললেন: 'আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি কি এমনটিই আশা করছেন?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ।' তখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গী হওয়ার জন্য নিজেকে বিরত রাখলেন এবং তাঁর কাছে থাকা দুটি উটকে চার মাস ধরে 'সামুর' গাছের পাতা অর্থাৎ ঝরা পাতা
(৩) খাওয়ালেন।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: একদিন যখন আমরা ঠিক দুপুর বেলায় আবু বকরের ঘরে বসেছিলাম,
তখন জনৈক ব্যক্তি আবু বকরকে উদ্দেশ্য করে বলল: 'এই তো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাথা ও মুখ ঢেকে এমন এক সময়ে আসছেন, যে সময়ে তিনি সাধারণত আমাদের কাছে আসতেন না।' আবু বকর বললেন: 'তাঁর জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক। আল্লাহর কসম! এই অসময়ে নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো কারণ তাঁকে নিয়ে এসেছে।' তিনি (আয়েশা) বলেন: অতঃপর তিনি আসলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم، فَاسْتَأْذَنَ، فَأُذِنَ لَهُ فَدَخَلَ، فَقَالَ: النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأَبِي بَكْرٍ: أَخْرِجْ مَنْ عِنْدَكَ، فَقَالَ أَبو بَكْرٍ: إِنَّمَا هُمْ أَهْلُكَ
(1) ـ بِأَبِي أَنْتَ
(2) ـ يَا رَسُولَ الله، قَالَ: فَإِنِّي قَدْ أُذِنَ لِي فِي الخُرُوجِ، فَقَالَ أَبو بَكْرٍ: الصَّحَابَةَ
(3) ـ بِأَبِي أَنْتَ ـ يَا رَسُولَ الله، قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: نَعَمْ، قَالَ أَبو بَكْرٍ: فَخُذْ ـ بِأَبِي أَنْتَ ـ يَا رَسُولَ الله، إِحْدَى رَاحِلَتَيَّ هَاتَيْنِ، قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: بِالثَّمَنِ
(4).
قَالَتْ عَائِشَةُ: فَجَهَّزْنَاهُمَا أَحَثَّ
(5) الْجِهَازِ، وَصَنَعْنَا لهما سُفْرَةً فِي جِرَابٍ، فَقَطَعَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ قِطْعَةً مِنْ نِطَاقِهَا، فَرَبَطَتْ به عَلَى فَمِ الْجِرَابِ؛ فَبِذَلِكَ سُمِّيَتْ ذَاتَ النِّطَاقِ.
قَالَتْ: ثُمَّ لَحِقَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم وَأَبو بَكرٍ بِغَارٍ فِي جَبَلِ ثَوْرٍ، فَكَمَنَا فِيهِ ثَلَاثَ
لَيَالٍ، يَبِيتُ عِنْدَهُمَا عَبْدُ الله بْنُ أَبِي بَكْرٍ، وَهُوَ غُلَامٌ شَابٌّ ثَقِفٌ لَقِنٌ
(6)، فَيُدْلِجُ مِنْ عِنْدِهِمَا بِسَحَرٍ، فَيُصْبِحُ مَعَ قُرَيْشٍ بِمَكَّةَ كَبَائِتٍ، فَلَا يَسْمَعُ أَمْرًا يُكْتَادَانِ
(7) بِهِ إِلَّا وَعَاهُ حَتَّى يَأْتِيَهُمَا بِخَبَرِ ذَلِكَ حِينَ يَخْتَلِطُ الظَّلَامُ، وَيَرْعَى عَلَيْهِمَا عَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ مِنْحَةً مِنْ غَنَمٍ، فَيُرِيحُهَا عَلَيْهِمَا حِينَ تَذْهَبُ سَاعَةٌ مِنْ الْعِشَاءِ، فَيَبِيتَانِ فِي
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি চাইলেন, তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো এবং তিনি প্রবেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বললেন: "তোমার নিকট যারা আছে তাদের বের করে দাও।" আবু বকর বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, তারা তো আপনারই পরিবার
(১) — আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন
(২) —।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমাকে বের হওয়ার (হিজরতের) অনুমতি দেওয়া হয়েছে।" আবু বকর বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি সফরসঙ্গী হতে পারি?
(৩) — আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন —।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ।" আবু বকর বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল — আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন — তাহলে আমার এই দুটি সওয়ারির একটি আপনি গ্রহণ করুন।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "মূল্যের বিনিময়ে।"
(৪)আয়িশা বললেন: অতঃপর আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে
(৫) তাঁদের পাথেয় প্রস্তুত করে দিলাম এবং একটি চামড়ার থলিতে তাঁদের জন্য খাদ্যসামগ্রী তৈরি করলাম। আবু বকরের কন্যা আসমা তাঁর কোমরবন্ধনী (নিতাক) থেকে এক টুকরো কাপড় ছিঁড়ে তা দিয়ে থলির মুখ বেঁধে দিলেন; এ কারণেই তাঁর নাম রাখা হয় 'যাতুন নিতাক' (কোমরবন্ধনী বিশিষ্ট)।
তিনি বললেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর সওর পর্বতের একটি গুহায় গিয়ে পৌঁছালেন এবং সেখানে তিন রাত আত্মগোপন করে থাকলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর তাঁদের নিকট রাত কাটাতেন, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও প্রখর মেধার অধিকারী তরুণ
(৬)। তিনি শেষ রাতে তাঁদের নিকট থেকে প্রস্থান করতেন এবং ভোরে মক্কায় কুরাইশদের সাথে এমনভাবে মিশে যেতেন যেন তিনি মক্কাতেই রাত কাটিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্তের
(৭) কথা শুনলেই তিনি তা মুখস্থ করে নিতেন এবং অন্ধকার নেমে এলে তাঁদের কাছে সেই খবর নিয়ে আসতেন। আর আবু বকরের মুক্তদাস আমির ইবনে ফুহাইরা তাঁদের নিকট এক পাল দুধেল বকরী চরাতেন এবং এশার কিছু সময় অতিক্রান্ত হলে সেগুলো তাঁদের কাছে নিয়ে আসতেন। ফলে তাঁরা রাত কাটাতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
رِسْلٍ
(1)، وَهُوَ لَبَنُ مِنْحَتِهِمَا وَرَضِيفِهِمَا
(2) حَتَّى يَنْعِقَ بِهَا عَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ بِغَلَسٍ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ تِلْكَ اللَّيَالِي الثَّلَاثِ "
(3).
هجرتها رضي الله عنها وتحمّلها للمشاق
لا شكَّ أنَّ الهجرة أشقُّ على النِّساء من الرِّجال، فالرِّجال من شأنهم السَّعي والضَّرب في أكباد الأرض، فبعد أن أقام النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم وصاحبه في المدينة مع المسلمين مهاجرين وأنصار، هاجرت عائشة وأسماء معاً مع بنات النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ومع آل أبى بكر، فنزلوا جميعاً المدينة.
وقد تحمَّلت عائشة رضي الله عنها كغيرها المصاعب في طريق الهجرة، روت عائشة رضي الله عنها، قالت: "قدمنا مهاجرين، فسلكنا في ثنيَّة صعبة، فنفر جمل كُنْتُ عليه نُفُوراً مُنكراً، فوالله ما أَنْسَى قول أمِّي: يا عريسة، فركِبَ بي رأسَه، فَسَمِعْتُ قائِلاً يقول: ألقي خِطَامَه، فألقيته، فقام يستدير كأنَّما إنسانٌ قائمٌ تحته"
(4).
ولمَّا وصلت عائشة المدينة نزلت مع أهلها في دار بَنِي الْحَارِثِ بْنِ خَزْرَجٍ، ومرضت بالحمَّى حتَّى تمزَّق شعرها، روى البخاري عنها أنَّها رضي الله عنها قالت: " فَقَدِمْنَا المَدِينَةَ فَنَزَلْنَا فِي بَنِي الْحَارِثِ بْنِ خَزْرَجٍ فَوُعِكْتُ فَتَمَرَّقَ (انْتَتَفَ) شَعَرِي فَوَفَى
(5)--------------------------------------------
দুধের মাধ্যমে
(১), আর তা ছিল তাদের দান করা পশুর দুধ এবং উত্তপ্ত পাথরে জ্বাল দেওয়া দুধ
(২); যতক্ষণ না আমির ইবনে ফুহাইরা রাতের শেষ অন্ধকারে তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে আসতেন। তিনি সেই তিন রাতের প্রতি রাতেই এমনটি করতেন।
(৩).
তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হিজরত এবং তাঁর কষ্ট সহ্য করা
নিঃসন্দেহে হিজরত করা পুরুষদের তুলনায় নারীদের জন্য অধিক কষ্টসাধ্য। কেননা পুরুষদের কাজই হলো দেশ-বিদেশে দৌড়ঝাঁপ ও বিচরণ করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গী মুহাজির ও আনসারদের সাথে মদিনায় অবস্থান করার পর, আয়েশা ও আসমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যাগণ ও আবু বকরের পরিবারের সাথে একত্রে হিজরত করেন এবং তাঁরা সকলে মদিনায় অবতরণ করেন।
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) অন্যদের মতো হিজরতের পথে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা মুহাজির হিসেবে রওয়ানা হলাম। আমরা একটি দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করছিলাম, এমন সময় আমি যে উটের ওপর ছিলাম সেটি ভীষণভাবে বিগড়ে গেল। আল্লাহর কসম! আমি আমার মায়ের সেই কথাটি ভুলতে পারি না: 'হে নববধু!' উটটি আমাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করল। তখন আমি এক অদৃশ্য বক্তাকে বলতে শুনলাম: 'এর লাগাম ছেড়ে দাও!' আমি লাগাম ছেড়ে দিলাম। তখন উটটি দাঁড়িয়ে চক্কর দিতে লাগল যেন তার নিচে কোনো মানুষ দাঁড়িয়ে তাকে স্থির রাখছে।"
(৪).
আয়েশা যখন মদিনায় পৌঁছালেন, তখন তিনি তাঁর পরিবারের সাথে বনু হারিস ইবনে খাযরাজের বাড়িতে উঠলেন। সেখানে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হলেন, এমনকি তাঁর মাথার চুল পড়ে গেল। বুখারি তাঁর থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: "আমরা মদিনায় আসলাম এবং বনু হারিস ইবনে খাযরাজের ঘরে উঠলাম। এরপর আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম এবং আমার মাথার চুল পড়ে (ছিঁড়ে) গেল। এরপর তা আবার পর্যাপ্ত পরিমাণে গজালো"
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুস সামীন ফী নুসরতি আইশাহ - রাদিআল্লাহু আনহা - উম্মুল মুমিনীন
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
جُمَيْمَةً
(1) "
(2). وعند مسلم أنَّها مرضت شهراً كاملاً، تقول عائشة رضي الله عنها:"قَدِمْنَا المَدِينَةَ فَوُعِكْتُ شَهْراً فَوَفَى شَعْرِي جُمَيْمَةً"
(3).
وكانت المدينة عند قدومهم وبِئَة، فلمّا رأى النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم شكوى أصحابه، دعا لها أن يصحِّحها وينقل حمَّاها إلى الجُحْفَة فأجاب الله دعوته، تقول عائشة رضي الله عنها: "قَدِمْنَا المَدِينَةَ وَهِيَ وَبِيئَةٌ، فَاشْتَكَى أَبُو بَكْرٍ، وَاشْتَكَى بِلَالٌ، فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم شَكْوَى أَصْحَابِهِ، قَالَ: "اللهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا المَدِينَةَ كَمَا حَبَّبْتَ مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ، وَصَحِّحْهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِهَا وَمُدِّهَا، وَحَوِّلْ حُمَّاهَا إِلَى الْجُحْفَةِ
(4) "
(5).
وفي الحديث من الفقه: جواز التَّداوي بالدّعاء لرفع الوباء وكشف البلاء، وفيه الدُّعاء للمسلمين بالبركة والرَّخاء ورفع الدَّاء، وجواز الدُّعاء على الأعداء لشغلهم عن الدَّعوة، فقد دعا صلى الله عليه وسلم بنقل الحمَّى إلى الجحفة وكانت دار شرك فكفى الله المؤمنين.
وكان صلى الله عليه وسلم قد دعا على قريش لمَّا أبطؤوا عن الإسلام واستعصوا عليه ورأى منهم إدباراً، فقال: "اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوسُفَ"
(6).
--------------------------------------------
জুমাইমাহ
(১) "
(২)। আর মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি পূর্ণ এক মাস অসুস্থ ছিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "আমরা মদীনায় আসলাম, অতঃপর আমি এক মাস জ্বরে আক্রান্ত হলাম, ফলে আমার চুলগুলো জুমাইমাহ (ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল) পরিমাণ হলো"
(৩)।
তাদের আগমনের সময় মদীনা ছিল রোগাক্রান্ত ভূমি। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের অসুস্থতা দেখলেন, তখন তিনি মদীনার সুস্থতার জন্য দোয়া করলেন এবং এর জ্বর আল-জুহফায় স্থানান্তরিত করার প্রার্থনা করলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "আমরা যখন মদীনায় পৌঁছালাম তখন সেটি ছিল একটি রোগাক্রান্ত স্থান। ফলে আবু বকর অসুস্থ হলেন এবং বিলালও অসুস্থ হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাহাবীদের কষ্ট দেখলেন, তখন তিনি বললেন: 'হে আল্লাহ! মদীনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন যেভাবে মক্কাকে প্রিয় করেছেন অথবা তার চেয়েও বেশি। এর পরিবেশকে সুস্থ করে দিন, আমাদের জন্য এর সা' এবং মুদ-এ (পরিমাপক যন্ত্রে) বরকত দান করুন এবং এর জ্বরকে জুহফাতে পাঠিয়ে দিন
(৪)' "
(৫)।
এই হাদীস থেকে প্রাপ্ত ফিকহ হলো: মহামারী দূর করতে এবং বিপদ মুক্তির জন্য দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা করা বৈধ। এতে আরও রয়েছে মুসলমানদের বরকত, সচ্ছলতা ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া করা এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে দোয়া করা জায়েজ যাতে তারা দাওয়াতি কাজে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বরকে জুহফাতে স্থানান্তরের দোয়া করেছিলেন, আর তখন সেটি ছিল শিরকের আবাসস্থল, ফলে আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের বিরুদ্ধে দোয়া করেছিলেন যখন তারা ইসলাম গ্রহণে বিলম্ব করছিল, তাঁর অবাধ্য হয়েছিল এবং তিনি তাদের মধ্যে বিমুখতা দেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! ইউসুফের (আ.) সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মতো সাত বছরের দুর্ভিক্ষ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন"
(৬)।
--------------------------------------------