(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: -)
عمدة الأحكام - ت القاسم   (عبد الغني المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: العمدة في الأحكام

المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي (ت 600 هـ)

المحقق: عبد المحسن بن محمد القاسم

محققة على نسخ عليها إجازة إلى المصنف

الطبعة: الثانية، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 456

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 جُمادَى الآخرة 1443

উমদাতুল আহকাম - আল-কাসিমের সম্পাদনা   (আবদুল গনি আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-উমদাহ ফিল আহকাম

লেখক: আবদুল গনি বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬০০ হিজরি)

মুহাক্কিক: আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম

এটি এমন পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত যাতে লেখকের নিকট পৌঁছানোর ইজাজত রয়েছে

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৬

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির সাথে মিল রয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١)
مُتُونُ طالِبِ العِلِم

مُحَقَّقَةٌ عَلى (230) مَخطوُطَة

المُتُونُ الإِضَافِيَّةُ

(2)

 

العُمْدَةُ في الأَحْكَامِ

مُحَقَّقةٌ عَلَى نُسَخٍ عَلَيْهَا إجَازَةٌ إلَى المُصَنِّفِ

 

لِلحَافِظِ

عَبْدِ الغَنِيّ بنِ عَبْدِ الوَاحِدِ المَقدِسِي

رحمه الله (ت 600 هـ)

 

تحقيق

د. عَبد المُحْسِن بن مُحَمَّدَ القَاسم

إمَامِ وَخَطِيبِ المَسجِدِ النَّبَوي الشَريف
ইলম অন্বেষীর পাঠ্যসমূহ

২৩০টি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত

অতিরিক্ত পাঠ্যসমূহ

(২)

 

উমদাতুল আহকাম (বিধানের মূল ভিত্তি)

এমন সব পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত যাতে গ্রন্থকার পর্যন্ত ইজাযাহ (অনুমতিপত্র) রয়েছে

 

হাফেজ

আবদুল গনী বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী

আল্লাহ তাঁকে রহম করুন (মৃত্যু: ৬০০ হিজরি)

 

সম্পাদনা

ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ আল-কাসিম

মসজিদে নববী শরীফের ইমাম ও খতীব
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢)
عبد المحسن بن محمد القاسم 1442 هـ.

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

المقدسي، عبد الغني بن عبد الواحد

العمدة في الأحكام./ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي. ـ ط 2.

المدينة المنورة، 1442 هـ.

456 ص 17 × 14 سم

ردمك: 4 - 6635 - 03 - 603 - 978

1 ـ الحديث ـ شرح

2 ـ الحديث ـ أحكام

أ. العنوان

ديوي 237، 3

3798/ 1442

ح

رقم الإيداع: 3898/ 1442

ردمك: 4 - 6635 - 03 - 603 - 978

حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الثانية

1442 هـ - 2021 م
আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ আল-কাসিম ১৪৪২ হিজরী।

প্রকাশনাকালে কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং তথ্য

আল-মাকদিসী, আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ

আল-উমদাহ ফিল আহকাম। / আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী। - ২য় সংস্করণ।

মদীনা মুনাওয়ারাহ, ১৪৪২ হিজরী।

৪৫৬ পৃষ্ঠা ১৭ × ১৪ সেমি

আইএসবিএন: ৪ - ৬৬৩৫ - ০৩ - ৬০৩ - ৯৭৮

১. হাদিস - ব্যাখ্যা

২. হাদিস - বিধিবিধান

ক. শিরোনাম

ডিউই ২৩৭.৩

৩৭৯৮/ ১৪৪২

হা

জমাদানের নম্বর: ৩৮৯৮/ ১৪৪২

আইএসবিএন: ৪ - ৬৬৩৫ - ০৩ - ৬০৩ - ৯৭৮

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪৪২ হিজরী - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٣)
مُتُونُ طالِبِ العِلِم

مُحَقَّقَةٌ عَلى (230) مَخطوُطَة

المُتُونُ الإِضَافِيَّةُ

(2)

 

العُمْدَةُ في الأَحْكَامِ

مُحَقَّقةٌ عَلَى نُسَخٍ عَلَيْهَا إجَازَةٌ إلَى المُصَنِّفِ

 

لِلحَافِظِ

عَبْدِ الغَنِيّ بنِ عَبْدِ الوَاحِدِ المَقدِسِي

رحمه الله (ت 600 هـ)

 

تحقيق

د. عَبد المُحْسِن بن مُحَمَّدَ القَاسم

إمَامِ وَخَطِيبِ المَسجِدِ النَّبَوي الشَريف
ইলম অন্বেষীর পাঠ্যমতনসমূহ

২৩০টি পাণ্ডুলিপির আলোকে সম্পাদিত

অতিরিক্ত মতনসমূহ

(২)

 

উমদাতুল আহকাম (আহকাম সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ)

এমন পাণ্ডুলিপিসমূহের ভিত্তিতে সম্পাদিত যাতে গ্রন্থকার পর্যন্ত (অবিচ্ছিন্ন) অনুমতি রয়েছে

 

হাফেয

আব্দুল গণি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী

আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন (মৃত্যু ৬০০ হিজরি)

 

সম্পাদনা

ড. আব্দুল মুহসিন ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাসিম

মসজিদে নববী শরীফের ইমাম ও খতীব
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٤)
لأهمية المتون لطالب العلم

أُنشئ قسم في المسجد النبوي لحفظ هذه المتون،

ويضم العديد من الطلاب الصغار والكبار طوال العام،

ويمكن الالتحاق به في حلقات التعليم عن بعد على الرابط:

www.mottoon.com

https:// a-alqasim.com/ books/

لتَحْمِيلِ مُتونِ طالبِ العلمِ نُسحةً إلكترُنيَّةً،

والاستماعِ إلى شرحِها مباشرةً أو تَحْميلِها على رابط:

www.a-alqasim.com
ইলম অন্বেষণকারীর জন্য মূলপাঠ্যসমূহের (মুতুন) গুরুত্বের কারণে

মসজিদে নববীতে এই মূলপাঠ্যসমূহ মুখস্থ করার জন্য একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,

এবং এতে সারা বছর জুড়ে ছোট ও বড় অসংখ্য ছাত্র অন্তর্ভুক্ত থাকে,

আর নিম্নোক্ত লিঙ্কের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ পাঠচক্রগুলোতে যোগদান করা সম্ভব:

www.mottoon.com

https:// a-alqasim.com/ books/

ইলম অন্বেষণকারীর মূলপাঠ্যসমূহের ইলেকট্রনিক কপি ডাউনলোড করার জন্য,

এবং সরাসরি এগুলোর ব্যাখ্যা শোনার জন্য অথবা এই লিঙ্কে ডাউনলোড করার জন্য:

www.a-alqasim.com
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم اللَّه الرحمن الرحيم

مُقَدِّمَةٌ

الحمدُ للَّه ربِّ العالَمِين، والصَّلاة والسَّلامُ على نبيِّنا محمدٍ وعلى آلهِ وأصحابهِ أجمعينَ.

أمَّا بعدُ:

فإنَّ علومَ السُّنَّة مِن أجلِّ العلومِ، وقد تنوَّعتْ جُهُود العلماءِ فيهَا ما بين مَبْسوطٍ ومختصَرٍ، ومنهَا ما هُو فِي بيان أقوالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وأَفْعالهِ، ومِنْها ما هو في الأحكامِ.

ومِنْ أهمِّ كُتُب أحادِيثِ الأحكَامِ: كتابُ (العُمْدَةُ فِي الأَحْكَامِ)؛ للحَافظِ عبدِ الغَنِيِّ بنِ عبدِ الواحدِ المَقْدِسِيِّ رحمه الله، وقد قَصَرَهُ على ما فِي الصَّحيحَين، فَتَلَقَّاهُ أهلُ العلمِ بالقبولِ، وتَناولوهُ بالشَّرحِ والبيانِ، وأصبحَ ممَّا يَحفظُه طلَّابُ العلمِ ويتدارَسُونَهُ.

ولأهمِّيَّته عملتُ على تحقيقِهِ ضِمْنَ سلسلةِ المُتُون الإضافيَّة مِن (مُتُونُ طَالِبِ العِلْمِ)، مُعتمِداً في ذلِكَ على نُسَخٍ خطِّيَّةٍ نفيسةٍ؛ لِيَظهَر كما صنَّفهُ مؤلِّفه.

وقد أَثبتُّ في حواشِي هذهِ النُّسخةِ الفروقَ بين نُسَخِ المخطوطَاتِ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সুন্নাহর জ্ঞানসমূহ মহানতম ইলমসমূহের অন্তর্ভুক্ত; এতে আলেমদের প্রচেষ্টা বিস্তৃত এবং সংক্ষিপ্ত উভয় রূপেই বৈচিত্র্যময় হয়েছে। এর মধ্যে কোনোটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা ও কার্যাবলীর বর্ণনায়, আবার কোনোটি শরয়ি বিধানের (আহকাম) বিষয়ে।

আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত হাদীসগ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো: হাফেজ আব্দুল গনী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী (রহিমাহুল্লাহ) বিরচিত 'উমদাতুল আহকাম' গ্রন্থটি। তিনি এটিকে কেবল সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদীসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তাই বিদগ্ধ উলামায়ে কেরাম একে কবুল করে নিয়েছেন এবং এর ব্যাখ্যা ও বর্ণনায় মনোনিবেশ করেছেন। এটি এমন এক কিতাবে পরিণত হয়েছে যা ইলম অন্বেষণকারীরা মুখস্থ করেন এবং অধ্যয়ন করেন।

এর গুরুত্বের কারণে আমি 'মুতুনু ত্বালিবিল ইলম' (শিক্ষার্থীর পাঠ্যসমূহ) সিরিজের অতিরিক্ত পাঠ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এর তাহকীক বা সম্পাদনার কাজ করেছি। এক্ষেত্রে আমি মূল্যবান পাণ্ডুলিপিসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, যাতে এটি লেখকের মূল রচনার আদলে প্রকাশ পায়।

এবং আমি এই সংস্করণের টীকাগুলোতে পাণ্ডুলিপিসমূহের মধ্যকার পাঠভেদসমূহ উল্লেখ করেছি,
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٦)
وتخريجَ الأحاديثِ، وشرحَ الغريبِ، وغيرَ ذلك، وجعلتُ نسخةً أخرى مجرَّدةً من جَمِيع ذلكَ؛ لِيَسْهُل على الطَّالب حفظُهُ.

وجعلتُ بين يدَيِ الكتابِ: منهجِي في التَّحقيقِ، وترجمَةَ المُصنِّف، واسمَ الكِتَاب، وأسماءَ رُواة «العُمْدَة» عن المُصنِّف، ومنهجَهُ في كتابهِ «العُمْدَة»، ووصفَ النُّسخ المُعتمدةِ في تحقيقِ المتنِ، ونماذجَ من النُّسخ الخطِّيَّة.

أسألُ اللَّهَ أن ينفَعَ بهِ، ويجعلَهُ خالصاً لوجههِ الكريمِ.

وصلَّى اللَّه وسلَّمَ علَى نبيِّنا مُحمَّدٍ وعَلى آلهِ وأصحابهِ أجمَعِينَ.

د. عبد المحسن بن محمد القاسم

إمام وخطيب المسجد النبوي

فرغتُ مِنه في الخامسِ والعشرينَ من ذي القَعدة

مِن عام أربعين وأربعِ مِئةٍ وألفٍ مِنَ الهجرة
হাদিসসমূহের তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ), অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা এবং আরও অন্যান্য বিষয় যোগ করেছি। আর এসব কিছু বাদ দিয়ে আমি অন্য একটি সংস্করণও তৈরি করেছি; যাতে শিক্ষার্থীর পক্ষে এটি মুখস্থ করা সহজ হয়।

আর আমি বইটির শুরুতে যুক্ত করেছি: আমার তাহকিক (সম্পাদনা) পদ্ধতি, গ্রন্থকারের জীবনী, বইটির নাম, গ্রন্থকার থেকে 'উমদাহ' এর বর্ণনাকারীদের নাম, তাঁর 'উমদাহ' গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতি, মূল পাঠ সম্পাদনায় ব্যবহৃত নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর কিছু নমুনা।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার সাধন করেন এবং একে তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

ড. আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম

ইমাম ও খতিব, মসজিদে নববী

আমি এটি সম্পন্ন করেছি পঁচিশে জিলকদ তারিখে

হিজরি এক হাজার চারশত চল্লিশ সালে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مَنْهَجِي فِي التَّحْقِيقِ

1 - رمزتُ للنُّسخ بالحروف الأبجدية بحسبِ تاريخها؛ الأقدم فالأقدم.

2 - اعتمدت نسخة (و) أصلاً في التحقيق، فأثبتُّ ما فيها إلا ما اقتضى النظر إثباته من نسخة أخرى، وأُبيِّنُ سبب ذلك غالباً.

3 - أشرتُ في بعض المواضعِ إلى ما ورد في شروح العمدة القديمة مما يوافق نسخة الأصل، وهي شرح ابن دقيق العيد، وشرح ابن العطَّار، وشرح الفاكهاني، وشرح ابن الملقِّن.

4 - أثبتُّ الفروق المهمة بين النسخ، مكتفياً بتسمية رموز النسخ المخالفة في الحاشية، دون النسخ الموافقة للمتن؛ إلا إذا كان الاختلافُ من قبِيل الضبط، وأهملتُ التنبيه على الاختلاف في صيغ الترضّي والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، وما يشبهها؛ كلفظة: «تعالى»، و «عز وجل»؛ إلا في المرفوع، والتزمتُ إثباتَ الصّلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، والتَّرضِّي عن أصحابه؛ في مواضعها المناسبة.

5 - أهملتُ في الغالب ذِكرَ ما سها فيه النُّسَّاخ، مما هو من قبيل الأخطاء المحضة، وبخاصَّة ما كان منها من قبيل الخطأ في الضبط؛ إلَّا إذا كان لهذا الخطأ وجهٌ ولو ضعيفاً؛ فإنِّي أثبته.
সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি

১ - আমি পাণ্ডুলিপিগুলোকে তাদের তারিখ অনুসারে বর্ণানুক্রমিক অক্ষরে চিহ্নিত করেছি; প্রাচীনতম থেকে ক্রমানুসারে।

২ - আমি সম্পাদনার ক্ষেত্রে (ওয়াও) পাণ্ডুলিপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। সুতরাং এতে যা আছে তা-ই বহাল রেখেছি, কেবল তখনই অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে কোনো পাঠ গ্রহণ করেছি যখন গবেষণার প্রয়োজনে তা আবশ্যক হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি তার কারণ বর্ণনা করেছি।

৩ - কিছু কিছু স্থানে আমি উমদাহ-এর প্রাচীন ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে যা বর্ণিত হয়েছে এবং মূল পাণ্ডুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তার প্রতি ইঙ্গিত করেছি। সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো হলো: ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর ব্যাখ্যা, ইবনুল আত্তার-এর ব্যাখ্যা, আল-ফাকিহানি-র ব্যাখ্যা এবং ইবনুল মুলাক্কিন-এর ব্যাখ্যা।

৪ - আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে টীকায় শুধুমাত্র মূল পাঠের সাথে ভিন্নমত পোষণকারী পাণ্ডুলিপিগুলোর সংকেত উল্লেখ করার ওপর ক্ষান্ত হয়েছি এবং মূল পাঠের সাথে একমত পোষণকারী পাণ্ডুলিপিগুলোর উল্লেখ এড়িয়ে গেছি; যদি না সেই পার্থক্য শব্দবিন্যাস বা হরকত প্রদানের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং সাহাবীদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ যেমন: «তাআলা» এবং «আযযা ওয়া জাল্লা»-এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান পার্থক্যগুলোর ব্যাপারে সতর্কতা প্রদান বর্জন করেছি; তবে মারফু বর্ণনার ক্ষেত্রে তা করিনি। আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ এবং তাঁর সাহাবীদের জন্য সন্তুষ্টির দোয়া যথোপযুক্ত স্থানে বহাল রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি।

৫ - আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিপিকারদের অসাবধানতাবশত ভুলগুলো উল্লেখ করা বর্জন করেছি, যা ছিল নিছক ভুল, বিশেষ করে শব্দবিন্যাস বা হরকত প্রদানের ক্ষেত্রে হওয়া ভুলগুলো; তবে যদি সেই ভুলের কোনো দিক বা যুক্তি থাকে—যদিও তা দুর্বল হয়—তবে আমি তা বহাল রেখেছি।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٨)
6 - إذا كان في إحدى النُّسخ كلمة غير واضحةٍ وتحتمل الخطأ أو التفرد؛ وتحتمل الصوابَ وموافقةَ بقية النسخ؛ فإنِّي أحملها على الصواب الموافق لبقية النسخ، ولا أنبّه على ذلك؛ مثاله: ما ورد في نسخة (و) من قول الرّاوي: «لَمْ يَحْنِ أَحَدٌ مِنَّا ظَهْرهُ»(1) فقد كتب الناسخ فوق الراء ما يشبه الضمة، وهي في جميع النسخ ومصادر الحديث: مفتوحة، فالأَولى حملها على أنها فتحة مشوَّهة.

7 - أثبتُّ النص على ما اشتهر من قواعد الإملاء المعاصر، ولم أُشِرْ إلى اختلاف النسخ في ذلك؛ كطريقة كتابة الهمزات، ورسم التاء مفتوحة أو مربوطة، ونحو ذلك.

8 - إذا كان الاختلاف بين النُّسخ في إثبات كلمة أوحذفها وكان المعنى يستقيم على الوجهين؛ فإنِّي أذكر في الحاشية الكلمة التي لم ترد في بعض النسخ بين قوسين مزدوجين هكذا: «» وأقول: «ليست في كذا»، وأما إذا كان المعنى لا يستقيم بحذفها؛ فأقول بعد ذكر الكلمة بين قوسين مزدوجين: «سقطت من كذا».

9 - إذا كان الاختلاف بين النسخ في تقديم كلمة على كلمة؛ فإنِّي أذكر الخلاف فقط في الحاشية، وأقول بعده: «بتقديم وتأخير».

10 - إذا اختلفت النسخ في ضبط كلمة ما؛ فإنِّي أثبت في المتن الوجه الأصحَّ والأشهر، وأشير في الحاشية إلى بقية الأوجُه، مع بيان وجهِ الترجيح من كلام العلماء غالباً.

--------------------------------------------

(1) حديث رقم (75).

৬ - যদি কোনো একটি পাণ্ডুলিপিতে এমন কোনো শব্দ থাকে যা অস্পষ্ট এবং যাতে ভুল থাকার অথবা একক পাঠ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; আবার তা সঠিক হওয়ার এবং অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিল থাকারও সম্ভাবনা রাখে; তবে আমি তাকে অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক পাঠ হিসেবেই গ্রহণ করেছি এবং এ বিষয়ে কোনো টীকা দিইনি। উদাহরণস্বরূপ: (ওয়াও) পাণ্ডুলিপিতে রাবীর বর্ণনায় এসেছে: «আমাদের কেউ পিঠ বাঁকাননি»(১) সেখানে অনুলিপিকার 'রা' বর্ণের ওপর পেশ সদৃশ একটি চিহ্ন লিখেছেন, অথচ সমস্ত পাণ্ডুলিপি ও হাদিসের উৎসসমূহে এটি জবর বিশিষ্ট। তাই শব্দটিকে বিকৃত জবর হিসেবে গণ্য করাই শ্রেয়।

৭ - আমি আধুনিক বানানরীতির প্রসিদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী পাঠ নির্ধারণ করেছি এবং এ ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোর ভিন্নতার প্রতি ইঙ্গিত করিনি; যেমন হামজা লেখার পদ্ধতি, তা-মাফতুহা বা তা-মারবুতাহর লিখনরীতি ইত্যাদি।

৮ - যদি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে কোনো শব্দ থাকা বা না থাকার ব্যাপারে পার্থক্য থাকে এবং উভয় অবস্থাতেই অর্থ ঠিক থাকে; তবে আমি যে শব্দটি কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে নেই সেটিকে পাদটীকায় ডাবল ব্র্যাকেটের মধ্যে এভাবে: «» উল্লেখ করে বলেছি: «অমুক পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই»। আর যদি শব্দটি বাদ দিলে অর্থ ঠিক না থাকে, তবে শব্দটি ডাবল ব্র্যাকেটের মধ্যে উল্লেখ করার পর বলেছি: «অমুক পাণ্ডুলিপি থেকে এটি পড়ে গেছে»।

৯ - যদি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে শব্দের আগে-পিছে হওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকে; তবে আমি পাদটীকায় শুধু পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছি এবং এরপর বলেছি: «শব্দের আগে-পিছে হওয়ার মাধ্যমে»।

১০ - যদি কোনো শব্দের হরকত বা স্বরচিহ্নের ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে ভিন্নতা থাকে; তবে আমি মূল পাঠে অধিক বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ রূপটি স্থির করেছি এবং পাদটীকায় অন্যান্য রূপগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি, সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যের আলোকে অগ্রাধিকারের কারণ বর্ণনা করেছি।

--------------------------------------------

(১) হাদিস নং (৭৫)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٩)
11 - إذا كُتبت كلمة في إحدى النسخ بوجهين في حرف واحد - مثل: التاء والياء، أو النون والياء، ونحو ذلك -؛ فإنِّي أكتب في الحاشية ما هو موافق للمتن، ثم أبين أنها بالحرفين معا؛ مثاله: كلمة «ييبسا» جاءت في نسخة (ح) بالياء والتاء في كلمة واحدة؛ بنقطتين من أسفل ونقطتين من أعلى، وبينت ذلك في الحاشية هكذا: في ح: «ييبسا» بالياء والتاء معاً.

12 - إذا ضُبطت كلمةٌ في بعض النسخ وأُهملت في بقيَّتها، ولم تختلف النُّسخ المضبوطة في وجه الضبط؛ فإنَّني أُثبت الضبط الواردَ فيها مِن غير إشارة إلى النسخ المهملة، وأمّا إذا اختلفت النُّسخ في الضبط؛ فإنِّي أشير إلى ما في النسخ المضبوطة، وأهمل ذكر النسخ غير المضبوطة، وأكتفي في وصف اختلاف النسخ ببيان الاختلاف المؤثِّر، وأمّا ما لا أثر له فلا أذكرهُ.

13 - الرموز الواردة في حواشي النسخ لم أُثبتها كما هي - بحكاية صورة رمزها -، وإنما كتبتها باللفظ المقصود منها، مثال ذلك حرف: «خ، خـ» المقصود به الإشارة إلى نسخة أخرى؛ كتبته هكذا: «في نسخة على حاشية كذا: … »، ولفظة «معاً» المشار بها إلى صحة الوجهين في لفظ الكلمة أو ضبطها؛ استغنيت عنها بذكر الوجهين بلفظِهما.

14 - راعيتُ في وصف اختلاف ضبط الكلمات: تمييزَ علامة البناء وما يرجع إلى البنية الصرفية للكلمة؛ عن علامات الإعراب؛
১১ - যদি কোনো পাণ্ডুলিপিতে একটি শব্দ একটি বর্ণের ক্ষেত্রে দুইভাবে লেখা থাকে—যেমন: তা এবং ইয়া, অথবা নুন এবং ইয়া এবং এই জাতীয়—তবে আমি মূল পাঠের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপটি পাদটীকায় লিখব, এরপর স্পষ্ট করে দেব যে এটি উভয় বর্ণেই এসেছে। উদাহরণস্বরূপ: ‘ইয়াবাসান’ শব্দটি (হা) পাণ্ডুলিপিতে একই শব্দের মধ্যে ইয়া এবং তা উভয় বর্ণসহ এসেছে; অর্থাৎ নিচে দুই ফোঁটা এবং উপরে দুই ফোঁটা দিয়ে। আমি পাদটীকায় তা এভাবে বর্ণনা করেছি: (হা) পাণ্ডুলিপিতে: ‘ইয়াবাসান’ শব্দটি ইয়া এবং তা উভয় বর্ণসহ এসেছে।

১২ - যদি কোনো শব্দ কিছু পাণ্ডুলিপিতে হরকতযুক্ত অবস্থায় থাকে এবং বাকিগুলোতে হরকতহীন থাকে, আর হরকতযুক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোতে হরকতের ধরনে কোনো ভিন্নতা না থাকে, তবে আমি পাণ্ডুলিপিগুলোতে থাকা হরকতটিই বহাল রাখব এবং হরকতহীন পাণ্ডুলিপিগুলোর প্রতি কোনো ইঙ্গিত করব না। আর যদি পাণ্ডুলিপিগুলোতে হরকতের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকে, তবে আমি হরকতযুক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোতে যা আছে তা নির্দেশ করব এবং হরকতহীন পাণ্ডুলিপিগুলোর উল্লেখ বর্জন করব। পাণ্ডুলিপির পার্থক্যের বর্ণনায় আমি কেবল অর্থবহ পার্থক্যগুলো বর্ণনা করায় সীমাবদ্ধ থাকব, আর যার কোনো বিশেষ প্রভাব নেই তা আমি উল্লেখ করব না।

১৩ - পাণ্ডুলিপিগুলোর পাদটীকায় ব্যবহৃত সংকেতগুলোকে আমি তার মূল প্রতীকি রূপে রাখিনি, বরং সেই সংকেতটি দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে সেই শব্দটি লিখেছি। উদাহরণস্বরূপ: ‘খা’ বর্ণটি দ্বারা অন্য একটি পাণ্ডুলিপির প্রতি ইঙ্গিত করা উদ্দেশ্য; আমি তা এভাবে লিখেছি: ‘অমুক পাণ্ডুলিপির পাদটীকায় রয়েছে: … ’। আর ‘মাআন’ (একত্রে) শব্দটি দ্বারা শব্দের উচ্চারণ বা হরকতের ক্ষেত্রে উভয় রূপ সঠিক হওয়া বোঝানো হয়েছে; আমি শব্দ দুটির নিজ নিজ উচ্চারণে উভয় রূপ উল্লেখ করার মাধ্যমে ঐ শব্দটির প্রয়োজনীয়তা দূর করেছি।

১৪ - শব্দের হরকতের পার্থক্য বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত বিষয়টি বিবেচনা করেছি: ‘মাবনি’ বা অপরিবর্তনীয় রূপের চিহ্ন এবং শব্দের রূপতাত্ত্বিক গঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট চিহ্নগুলোকে ‘ইরাব’ বা ব্যাকরণিক পরিবর্তনের চিহ্নগুলো থেকে পৃথক রাখা।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٠)
فأقول في الأولى: «بالضمّ أو بالفتح» مثلاً، وفي الثانية: «بالرفع أو بالنصب»، وهكذا.

15 - أثبتُّ ما ورد في حواشي النُّسَخ من تعليقات مهمَّة مفيدة للقارئ؛ كتعقُّبٍ على المصنف، أو استدراك مفيد، أو إشارة إلى اختلاف النسخ، أو تنبيه على صحَّة ضبط وخطأ آخر، لاسيما ما كان منسوباً إلى عالم معروف(1)، وأهملتُ ما كان من قبيل الشَّرح والاستطراد والنُّكَت العلميَّة.

16 - إذا كان في حاشية بعض النسخ إشارة إلى نسخة توافق النصَّ المثبت؛ فإني لا أذكر ذلك، اكتفاءً بالنسخ المعتمدة، إلا إذا كان في ذكر ذلك فائدة - كبيان عدم تفرد الأصل -؛ فإنِّي أذكره.

17 - عزوتُ أحاديث الكتاب إلى مواضعها من الصحيحين، فإذا كان اللفظ لهما اكتفيت بالعزو إليهما، وإذا كان اللفظ لأحدهما بيَّنتُه بقولي: «واللفظ للبخاري - أو لمسلم -»، وكذلك ما يوافق لفظ غيرهما من المصنِّفِين، وإذا تصرف المصنف في اللفظ تصرّفاً يسيراً مما يغتفر مثلُه؛ فإني لم أنبه على ذلك، وأمّا إذا كان الاختلاف كبيراً فإني أقول - بعد عزو الحديث إلى موضعه في الصحيحين -: «بنحوِه».

18 - اكتفيتُ في العزو إلى صحيحِ مسلم بذكر الرقم الأصليِّ للحديث دون الرقمِ الفرعيِّ - من الأرقام التي وضعها الشيخ محمد

--------------------------------------------

(1) كنسخة «د» فإنها ضُبطت على ابن مالك في المواضع المشكلة - كما سيأتي بيانه في وصف النسخ المعتمدة -.

সুতরাং আমি প্রথমটির ক্ষেত্রে বলি: উদাহরণস্বরূপ «পেশ দিয়ে অথবা যবর দিয়ে», এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে: «রফা দিয়ে অথবা নসব দিয়ে», এবং এভাবেই।

১৫ - পাণ্ডুলিপিগুলোর টীকায় (হাশিয়া) যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পাঠকের জন্য উপকারী মন্তব্য এসেছে আমি তা বহাল রেখেছি; যেমন লেখকের ওপর কোনো আপত্তি, অথবা কোনো উপকারী সংযোজন, অথবা বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত, অথবা কোনো একটি হরকতের বিশুদ্ধতা ও অন্যটির ভুল হওয়ার ব্যাপারে সতর্কীকরণ, বিশেষ করে যা কোনো প্রসিদ্ধ আলেম(১)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; আর আমি সে সমস্ত বিষয় বাদ দিয়েছি যা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, প্রাসঙ্গিক আলোচনা এবং ইলমি সূক্ষ্মতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৬ - যদি কোনো পাণ্ডুলিপির টীকায় এমন কোনো পাণ্ডুলিপির প্রতি ইঙ্গিত থাকে যা মূল পাঠের সাথে মিলে যায়, তবে আমি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোকেই যথেষ্ট মনে করে তা উল্লেখ করিনি। তবে যদি তা উল্লেখ করার মধ্যে কোনো উপকার থাকে—যেমন মূল কপিটি যে একক নয় তা স্পষ্ট করা—তবে আমি তা উল্লেখ করেছি।

১৭ - আমি কিতাবের হাদিসগুলোকে সহীহাইনের (বুখারি ও মুসলিম) সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর দিকে সম্বন্ধ করেছি। যদি শব্দ উভয় কিতাবের হয়, তবে আমি কেবল সেই দুটির দিকে সম্বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি শব্দ কেবল কোনো একটির হয়, তবে আমি আমার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছি: «এবং শব্দসমূহ বুখারির —অথবা মুসলিমের—»; তদ্রূপ যা অন্য কোনো গ্রন্থকারের শব্দের সাথে মিলে যায় তাও উল্লেখ করেছি। আর যদি গ্রন্থকার শব্দের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন করেন যা ক্ষমার যোগ্য, তবে আমি সে বিষয়ে সতর্ক করিনি; কিন্তু যদি পার্থক্য বড় হয়, তবে আমি সহীহাইনের সংশ্লিষ্ট স্থানের দিকে হাদিসটি সম্বন্ধ করার পর বলি: «এর সমার্থক শব্দে»।

১৮ - সহীহ মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে আমি হাদিসের মূল নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমেই যথেষ্ট করেছি, উপ-নম্বর উল্লেখ করিনি —সেসব নম্বর থেকে যা শেখ মুহাম্মদ প্রদান করেছেন—

--------------------------------------------

(১) যেমন «দাল» পাণ্ডুলিপি, কেননা এটি জটিল স্থানগুলোতে ইবনে মালিকের বর্ণনা অনুযায়ী যাচাই করা হয়েছে —যেমনটি নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনায় সামনে আসবে—।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١١)
عبد الباقي -، إلّا إذا ذكر المصنف للحديثِ أكثر من رواية؛ فإني أثبتُ الرقم الفرعيَّ ثم الرقم الأصليَّ مفصولاً بينهما بشَرطة؛ هكذا: (1 - 201).

19 - إذا كان اللفظُ المختارُ في المتن موجوداً في بعض نسخ الصحيحين دون بعض، أو منسوباً إلى بعض رواتهما؛ فإنِّي أكتفي بعزو الحديث دون تعليق.

20 - رقّمتُ أحاديث الكتاب ترقيماً تسلسليّاً راعيت فيه المعنى، وجعلتُ الألفاظ المبيِّنة أو المقيِّدة تابعةً لما قبلها في الترقيم، فبلغت عدد أحاديثه مجردةً من الروايات (414) حديثاً، وبلغ عدد الروايات (114) روايةً.

21 - وضعتُ علامات التَّرقيم المُتَعَارَفَ عليها؛ مراعياً في ذلك معنى الحديث.

22 - ميَّزتُ أسماءَ الكتبِ والأبوابِ والأحاديثَ القوليَّة بلونٍ أحمرَ غامق.

23 - أثبتُّ ما يفيد القارئَ من تعقبات العلماء على كتاب العمدة؛ كالزركشيِّ في كتابه «النكت»، والحافظ ابن حجر في «فتح الباري»، وبعض شروح العمدة، وغيرها.

24 - بيَّنتُ معانيَ الكلمات الغريبة؛ إلا ما بيَّنه المصنف منها؛ فإني أكتفي بتوثيقها من كتب العلماء.

25 - عزوتُ كلَّ النقول التي أوردتُها إلى مصادرها، وحافظتُ غالباً على ألفاظ العلماء، وربما تصرّفتُ في بعضها بما يناسب المقام، ولم ألتزم بيانَ التَّصرُّف - كما هي طريقة أهل العلم -.
আব্দুল বাকী - তবে যদি গ্রন্থকার হাদিসের একাধিক বর্ণনা উল্লেখ করেন, তবে আমি উপ-নম্বর এবং তারপর মূল নম্বরটি একটি হাইফেন দিয়ে পৃথক করে সাব্যস্ত করেছি; এভাবে: (১ - ২০১)।

১৯ - যদি মূল পাঠে (মতন) নির্বাচিত শব্দটি সহীহাইনের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে থাকে এবং অন্যগুলোতে না থাকে, অথবা তা তাদের কোনো বর্ণনাকারীর দিকে নিসবত করা হয়, তবে আমি কোনো মন্তব্য ছাড়াই কেবল হাদিসটির উৎস নির্দেশ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি।

২০ - আমি কিতাবের হাদিসগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি যেখানে অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে, এবং ব্যাখ্যামূলক বা শর্তযুক্ত শব্দগুলোকে নম্বরের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীটির অনুগামী করেছি। ফলে অতিরিক্ত বর্ণনা ব্যতীত মূল হাদিসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (৪১৪) টি এবং মোট বর্ণনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (১১৪) টি।

২১ - আমি প্রচলিত বিরামচিহ্নগুলো ব্যবহার করেছি; এক্ষেত্রে হাদিসের অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

২২ - আমি কিতাবের নামসমূহ, অধ্যায়সমূহ এবং বাচনিক (কউলি) হাদিসগুলোকে গাঢ় লাল রঙ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

২৩ - আমি 'উমদাহ' কিতাবের ওপর আলেমদের যে সকল সমালোচনা বা পর্যালোচনা পাঠকের জন্য উপকারী তা সাব্যস্ত করেছি; যেমন যারকাশি তাঁর «আন-নুকাত» কিতাবে, হাফেজ ইবনে হাজার «ফাতহুল বারী»তে এবং উমদাহর কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও অন্যান্য কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন।

২৪ - আমি দুর্বোধ্য শব্দগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করেছি; তবে গ্রন্থকার নিজে যা ব্যাখ্যা করেছেন তা ব্যতীত। সেক্ষেত্রে আমি আলেমদের কিতাব থেকে সেগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি।

২৫ - আমি উদ্ধৃত সকল বর্ণনাকে তাদের মূল উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলেমদের শব্দাবলি অবিকল রাখার চেষ্টা করেছি। তবে কখনো কখনো প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে শব্দে কিছুটা পরিবর্তন করেছি এবং সে পরিবর্তনের বিবরণ দেওয়া আবশ্যক মনে করিনি—যেমনটি ইলমি ব্যক্তিদের পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٢)
26 - حوَّلتُ المقاييس والأوزان والأطوال بالحسابات المعاصرة، وَفق ما حررتُه في كتابي: (تحقيق المقاييس والمكاييل الشَّرعيَّة وتنزيلها على الأطوال والأوزان المعاصرة).

27 - جعلتُ لِلكتابِ نُسْخَتين:

أ - النُّسْخةَ الأُولى: وهي النُّسْخة المُتضمِّنة لِحَواشي التَّحقيق؛ مِن الفُروقِ بين النُّسخ، والتَّرجيح بينها، والتَّعليق على ما يحتاج إلى تعليق، وهي هذه النُّسخة.

ب - النُّسْخةَ الثَّانية: نُسخةٌ صغيرة الحجم، مُجرّدةٌ من جَميع الحَواشي المثبتة في النسخة الأولى، وهي أنسب للحفظ.
২৬ - আমি পরিমাপ, ওজন এবং দৈর্ঘ্যগুলোকে সমসাময়িক হিসাব অনুযায়ী রূপান্তরিত করেছি, যা আমি আমার গ্রন্থ: (তাহকিকুল মাকায়িস ওয়াল মাকায়িলুশ শারইয়্যাহ ওয়া তানজিলুহা আলাল আতওয়াল ওয়াল আওজানিল মুআসিরাহ - শরয়ী পরিমাপ ও ওজনসমূহের যাচাই এবং সমসাময়িক দৈর্ঘ্য ও ওজনের সাথে সেগুলোর প্রয়োগ)-এ বিশ্লেষণ করেছি।

২৭ - আমি গ্রন্থটির জন্য দুটি সংস্করণ তৈরি করেছি:

ক - প্রথম সংস্করণ: এটি সেই সংস্করণ যা গবেষণামূলক টীকা (হাশিয়া) সম্বলিত; যার মধ্যে রয়েছে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পার্থক্য, সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। আর এটিই বর্তমান সংস্করণ।

খ - দ্বিতীয় সংস্করণ: এটি ক্ষুদ্রাকৃতির একটি সংস্করণ, যা প্রথম সংস্করণে থাকা সকল টীকা থেকে মুক্ত। এটি মুখস্থ করার জন্য অধিকতর উপযোগী।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌تَرْجَمَةُ المُصَنِّفِ (1)

‌‌اسْمُهُ وَنَسَبُهُ:

هو الإمام، العالم، الحافظ الكبير، تقيُّ الدين، أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحدِ بن علي بن سُرور بن رافع بن حسن بن جعفر المقدسيُّ، الجَمَّاعِيليُّ، ثم الدمشقيُّ، الصالحيُّ، الحنبليُّ.

 

‌‌مَوْلِدُهُ:

ولد بجمَّاعيلَ - من أرض نابلس -، وقد اختُلف في مولده رحمه الله، فقيل: سنة إحدى وأربعين وخمس مئة (541 هـ) كما ذكر ذلك الحافظ ضياء الدين المقدسي.

وقال الزكي المنذري رحمه الله: «ذَكَر عنه أصحابه ما يدل على أن مولده سنة أربع وأربعين وخمس مئة (544 هـ)».

وذكر ابن النجار في تاريخه - على ما نقل ابن رجب رحمهما الله - أنه سأل الحافظ عبد الغني عن مولده، فقال: «إما في سنة ثلاثٍ أو في سنة أربع وأربعين وخمس مئة، وأنَّه قال: الأظهرُ أنه سنة أربع وأربعين وخمس مئة (544 هـ)».

--------------------------------------------

(1) انظر لترجمته: التقييد لمعرفة رواة السنن والمسانيد لابن نقطة (ص 370)، وتاريخ الإسلام للذهبي (12/ 1203)، وسير أعلام النبلاء للذهبي (21/ 443)، والعبر في خبر من غبر للذهبي (3/ 129)، والبداية والنهاية لابن كثير (16/ 732)، والذيل على طبقات الحنابلة لابن رجب (3/ 1)، وشذرات الذهب في أخبار من ذهب لابن العماد (1/ 49).

গ্রন্থকারের জীবনী(১)

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন ইমাম, প্রাজ্ঞ আলিম, মহান হাফিয, তাকিউদ্দীন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর বিন রাফি বিন হাসান বিন জাফর আল-মাকদিসী, আল-জাম্মাঈলী, অতঃপর আদ-দামেশকী, আস-সালিহী, আল-হাম্বলী।

 

তাঁর জন্ম:

তিনি নাবলুস ভূখণ্ডের জাম্মাঈল নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের বছর সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন। বলা হয়েছে যে, তিনি পাঁচশত একচল্লিশ হিজরীতে (৫৪১ হি.) জন্মগ্রহণ করেছেন, যেমনটি হাফিয জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী উল্লেখ করেছেন।

যাকী আল-মুনযিরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেন: "তাঁর সাথীরা তাঁর সম্পর্কে এমন কথা উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, তাঁর জন্ম পাঁচশত চুয়াল্লিশ হিজরীতে (৫৪৪ হি.)।"

ইবনুন নাজ্জার তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন—যেমনটি ইবনু রাজাব (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) বর্ণনা করেছেন—যে তিনি হাফিয আব্দুল গনিকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন: "হয় পাঁচশত তেতাল্লিশ অথবা পাঁচশত চুয়াল্লিশ সালে।" তবে তিনি এও বলেছিলেন: "অধিকতর স্পষ্ট মত হলো যে এটি পাঁচশত চুয়াল্লিশ হিজরীতে (৫৪৪ হি.)।"

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: ইবনু নুকতাহ-র ‘আত-তাকয়ীদ লি মা’রিফাতি রুওয়াতিল সুনান ওয়াল মাসানীদ’ (পৃ. ৩৭০), আয-যাহাবীর ‘তারীখুল ইসলাম’ (১২/ ১২০৩), আয-যাহাবীর ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ (২১/ ৪৪৩), আয-যাহাবীর ‘আল-ইবার ফী খবরিন মান গবার’ (৩/ ১২৯), ইবনু কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১৬/ ৭৩২), ইবনু রাজাবের ‘আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা’ (৩/ ১), ইবনুল ইমাদের ‘শাযারাতুয যাহাব ফী আখবারিন মান যাহাব’ (১/ ৪৯)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌رِحْلَتُهُ، وَأَشْهَرُ شُيُوخِهِ:

كان الحافظ رحمه الله واسع الرحلة في طلب الحديث، فدخل دمشق، والإسكندرية، وبيت المقدس، ومصر، وبغداد، وحرَّان، والموصل، وأصبهان، وهمذان، فأخذ عن كثيرٍ من علمائها، وكَتَب الكثير.

فسمع ببغداد من الشيخ عبد القادر الجيلي، وبالإسكندرية من الحافظ أبي طاهر السِّلفي، وبأصبهان من الحافظ أبي موسى المديني، وبهمذان من الحافظ أَبِي العلاء الهمذاني، وغيرهم كثير.

 

‌‌أَشْهَرُ تَلَامِيذِهِ:

حدَّث عن الحافظ كثير من العلماء؛ منهم: الشيخ موفق الدين ابن قدامة المقدسي، والحافظ ضياء الدين المقدسي، والفقيه محمد اليونيني، والزين ابن عبد الدائم، وخلقٌ كثير.

 

‌‌ثَنَاءُ العُلَمَاءِ عَلَيْهِ:

قال التاج الكندي رحمه الله: «لم يكن بعد الدارقطنيِّ مثل الحافظ عبد الغني»(1).

وقال أيضاً: «لم يرَ الحافظُ عبد الغني مثلَ نفسه»(2).

وقال الحافظ ضياء الدين المقدسي رحمه الله: «كان شيخُنا الحافظ لا يكاد يُسأل عن حديث إلا ذكره وبيَّنه، وذكر صحته أو سقمه، ولا يسأل

--------------------------------------------

(1) تاريخ الإسلام (12/ 1207).

(2) المصدر السابق.

তাঁর সফর এবং তাঁর প্রখ্যাত উস্তাদগণ:

হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ) হাদিস অন্বেষণে ব্যাপক সফর করেছিলেন। তিনি দামেস্ক, আলেকজান্দ্রিয়া, বাইতুল মাকদিস, মিসর, বাগদাদ, হাররান, মসুল, ইসফাহান এবং হামাদানে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানকার বহু আলেম থেকে ইলম অর্জন করেন এবং প্রচুর পরিমাণে হাদিস লিপিবদ্ধ করেন।

তিনি বাগদাদে শেখ আব্দুল কাদের জিলানি থেকে, আলেকজান্দ্রিয়ায় হাফেজ আবু তাহের আল-সিলাফি থেকে, ইসফাহানে হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনি থেকে এবং হামাদানে হাফেজ আবুল আলা আল-হামাদানি থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এ ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন।

 

তাঁর প্রখ্যাত ছাত্রগণ:

হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বহু আলেম হাদিস বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শেখ মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, হাফেজ জিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসি, ফকিহ মুহাম্মদ আল-ইউনিনি, যাইন ইবনে আব্দুল দায়েম এবং আরও অসংখ্য মানুষ।

 

তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:

তাজ আল-কিন্দি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «দারাকুতনির পরে হাফেজ আব্দুল গনির মতো আর কেউ ছিলেন না»(১)।

তিনি আরও বলেন: «হাফেজ আব্দুল গনি নিজের সমতুল্য আর কাউকে দেখেননি»(২)।

হাফেজ জিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «আমাদের শায়খ হাফেজকে কোনো হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা উল্লেখ ও বর্ণনা না করে এবং সেটির বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা উল্লেখ না করে থাকতেন না; আর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে...»

--------------------------------------------

(১) তারিখুল ইসলাম (১২/ ১২০৭)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٥)
عن رجلٍ إلا قال: هو فلان بن فلان الفلاني، ويذكر نسبه، فكان أميرَ المؤمنين في الحديث»(1).

ووصفه ابن النجَّار رحمه الله بقوله: «كان غزِير الحفظ، من أهل الإتقان والتَّجويد، قيّماً بجميع فنون الحديث، عارفاً بقوانينه، وأصوله وعلله، وصحيحه، وسقيمه، وناسخه ومنسوخه وغريبِه، وشكله، وفقهه، ومعانيه، وضبطِ أسماء رواته، ومعرفة أحوالهم»(2).

وقرن الحافظ ابن كثيرٍ رحمه الله بينه وبين شيخه المزي فقال: «فلقد كانا نادرين في زمانَيهما في الرجال؛ حفظاً وإتقاناً وسماعاً وإسماعاً وسرداً للمتون وأسماء الرجال»(3).

وقد دوَّن الحافظ أبو موسى المديني على كتاب «تبيين الإصابة» للحافظ عبد الغني ثناءً عطراً حيث قال: «قلَّ من قدم علينا يفهم هذا الشأن كفهمِ الشيخ الإمام ضياء الدين(4) أبي محمد عبد الغني المقدسي، وقد وُفِّق لتبيين هذه الغلطات، ولو كان الدارقطنيُّ وأمثاله في الأحياء لصوَّبوا فعله، وقلَّ من يفهم في زماننا ما فهم، زاده اللَّه علماً وتوفيقاً»(5).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء (21/ 448).

(2) الذيل على طبقات الحنابلة (3/ 10).

(3) البداية والنهاية (16/ 735).

(4) والمشهور في لقبه: «تقي الدين».

(5) سير أعلام النبلاء (21/ 449).

...কোনো ব্যক্তি সম্পর্কেই (জিজ্ঞেস করা হয়নি), তিনি কেবল বলেছেন: তিনি হলেন অমুক বিন অমুক অমুকী এবং তিনি তার বংশপরম্পরা উল্লেখ করতেন। ফলে তিনি ছিলেন হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মুমিনীন»(১)।

এবং ইবনুন নাজ্জার (রাহিমাহুল্লাহ) তাকে এই বলে বর্ণনা করেছেন: «তিনি ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী, অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত পারদর্শী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি হাদীসের সকল শাখায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন; এর মূলনীতি, উসুল, ইল্লাত (ত্রুটি), সহীহ, সাকীম (দুর্বল), নাসিখ-মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত), গরীব (বিরল), এর পাঠভেদ, ফিকহ (তত্ত্ব), অর্থসমূহ, বর্ণনাকারীদের নামের নির্ভুল রূপ এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন»(২)।

হাফিয ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) তাকে এবং তার উস্তাদ মিযযীর সাথে তুলনা করে বলেন: «স্মৃতিশক্তি, নির্ভুলতা, শ্রবণ করা ও শ্রবণ করানো এবং মতন (মূল পাঠ) ও বর্ণনাকারীদের নাম ধারাবাহিকভাবে পাঠ করার ক্ষেত্রে তাঁরা উভয়েই সমকালীন পুরুষদের মধ্যে বিরল ছিলেন»(৩)।

হাফিয আবু মূসা আল-মাদীনি হাফিয আব্দুল গনী-এর «তাবয়ীনুল ইসাবাহ» কিতাবটির উপর অত্যন্ত উচ্চ প্রশংসা লিপিবদ্ধ করেছেন, সেখানে তিনি বলেন: «আমাদের কাছে আগত ব্যক্তিদের মধ্যে শাইখ ইমাম যিয়াউদ্দীন(৪) আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনী আল-মাকদিসীর মতো এই শাস্ত্রের বুঝ বা জ্ঞান রাখেন এমন লোক খুব কমই এসেছেন। তিনি এই ভুলগুলো স্পষ্ট করার তাওফিক পেয়েছেন। যদি ইমাম দারাকুতনী ও তাঁর মতো বিজ্ঞ ব্যক্তিরা জীবিত থাকতেন, তবে তাঁরা অবশ্যই তাঁর এই কাজকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দিতেন। আমাদের যুগে তিনি যা বুঝেছেন তা বোঝার মতো লোক খুব কমই আছে। আল্লাহ তাঁর জ্ঞান ও তাওফিক বৃদ্ধি করুন»(৫)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (২১/ ৪৪৮)।

(২) আদ-দাইলু আলা তবাকাতিল হানাবিলাহ (৩/ ১০)।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৭৩৫)।

(৪) এবং তাঁর উপনাম হিসেবে «তাকীউদ্দীন» অধিক প্রসিদ্ধ।

(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা (২১/ ৪৪৯)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌مِنْ مُؤَلَّفَاتِهِ:

1 - الاقتصاد في الاعتقاد.

2 - الأربعين من كلام رب العالمين.

3 - الكمال في معرفة الرجال.

4 - تبيين الإصابة لأوهام حصلت في معرفة الصَّحابة.

5 - الأحكام الكبرى؛ المعروف بـ «العمدة الكبرى».

6 - الأحكام الصغرى؛ المعروف بـ «العمدة في الأحكام»؛ وهو كتابنا هذا.

7 - غنية الحفاظ في تحقيق مشكل الألفاظ.

وغيرها من المصنَّفات(1).

 

‌‌وَفَاتُهُ:

توفي رحمه الله يوم الاثنين، الثالث والعشرين من شهر ربيع الأول سنة ستِّ مئة من الهجرة النبوية (600 هـ)، بعد أن مرض مرضاً شديداً منعه من الكلام والقيام، ودفن بالقرَافَة في مصر يوم الثلاثاء، فرحمه اللَّه وغفر له، وجزاه عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء.

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء (21/ 446 - 447)، والذيل على طبقات الحنابلة (3/ 24).

তাঁর রচনাবলি:

১ - আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ।

২ - আল-আরবাউন মিন কালামি রাব্বিল আলামিন।

৩ - আল-কামাল ফি মা'রিফাতির রিজাল।

৪ - তাবয়িনুল ইসাবাহ লি-আওহামিন হাসালাত ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ।

৫ - আল-আহকামুল কুবরা; যা «আল-উমদাতুল কুবরা» নামে পরিচিত।

৬ - আল-আহকামুস সুগরা; যা «আল-উমদাহ ফিল আহকাম» নামে পরিচিত; আর এটিই আমাদের এই গ্রন্থ।

৭ - গুনিয়াতুল হুফফাজ ফি তাহকিকি মুশকিলাল আলফাজ।

এবং এ ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থ(১)।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) হিজরি ৬০০ সনের তেইশে রবিউল আউয়াল সোমবার মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন যা তাঁকে কথা বলা ও দাঁড়ানো থেকে অক্ষম করে দিয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁকে মিশরের কারাফায় দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (২১/ ৪৪৬ - ৪৪৭), এবং আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৩/ ২৪)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌اسْمُ الكِتَابِ

اختلفتِ النسخُ الخطِّية في ذكر اسم الكتاب، وقد اعتمدتُ الاسم الذي اتفقت عليه أغلبُ النُّسخ الجيِّدة، وبقيَّةُ المصادر - الآتِي ذكرُها -، وهو: «العُمْدَةُ فِي الأَحْكَامِ»، وبيَّنتُ هنا أوجُهَ ورود اسم الكتاب في أهمِّ النُّسَخِ الخطِّيَّة، وما ورد في الإجازات الملحقةِ بها، والشروحات، وكتب التراجم، والفهارس ونحوها؛ من مظانِّ معرفة اسم الكتاب، مع التنبُّه إلى أنّ بعض العناوين التي وردت في الإجازات وكتب التراجم؛ إنما قُصِد بها حكايةُ اسم الكتاب، وليس النَّصُّ على لفظ اسم الكتاب كما وضعهُ مصنِّفه.

 

‌‌أَوَّلاً: اسْمُ الكِتَابِ كَمَا وَرَدَ فِي صَفْحَةِ عُنْوَانِ النُّسَخِ الخَطِّيَّةِ:

1 - في (أ): «العمدة في الأحكام، في معالم الحلال والحرام، عن خير الأنام، محمد عليه أفضل الصلاة والسلام».

2 - وفي (ب)، (هـ): «العمدة في الأحكام، عن خير الأنام، محمد عليه أفضل الصلاة والسلام».

3 - وفي (ج): «العمدة في الأحكام، المنقولة عن خير الأنام، محمد عليه أفضل الصلاة والسلام».

4 - وفي (د): «العمدة من حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم».
গ্রন্থের নাম

গ্রন্থের নাম উল্লেখের ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আমি সেই নামটিকে গ্রহণ করেছি যার ওপর অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি এবং অন্যান্য উৎসসমূহ—যা সামনে উল্লেখ করা হবে—ঐকমত্য পোষণ করেছে; আর তা হলো: «উমদাতুল আহকাম» (আহকামের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি)। আমি এখানে গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিগুলোতে গ্রন্থের নামের বিভিন্ন রূপ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইজাজত (অনুমতিপত্র), ব্যাখ্যাগ্রন্থ, জীবনীগ্রন্থ, সূচিপত্র ও এ জাতীয় গ্রন্থের নাম জানার সম্ভাব্য উৎসগুলোতে যা বর্ণিত হয়েছে তা বর্ণনা করেছি। তবে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যে, ইজাজত ও জীবনীগ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত কিছু শিরোনাম দ্বারা কেবল গ্রন্থের নামটির বর্ণনা উদ্দেশ্য ছিল, লেখক কর্তৃক নির্ধারিত নামের হুবহু পাঠ নয়।

 

‌‌প্রথমত: পাণ্ডুলিপিসমূহের শিরোনামের পৃষ্ঠায় যেভাবে গ্রন্থের নাম এসেছে:

১ - (অ) পাণ্ডুলিপিতে: «উমদাতুল আহকাম, ফী মাআলিমিল হালাল ওয়াল হারাম, আন খাইরিল আনাম, মুহাম্মাদ আলাইহি আফদালুস সালাতি ওয়াসসালাম» (অর্থাৎ: হালাল ও হারামের নিদর্শনসমূহ বিষয়ে আহকামের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি, যা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণিত)।

২ - (ব) এবং (হ) পাণ্ডুলিপিতে: «উমদাতুল আহকাম, আন খাইরিল আনাম, মুহাম্মাদ আলাইহি আফদালুস সালাতি ওয়াসসালাম» (অর্থাৎ: আহকামের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি, যা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণিত)।

৩ - (জ) পাণ্ডুলিপিতে: «উমদাতুল আহকাম, আল-মানকুলাতু আন খাইরিল আনাম, মুহাম্মাদ আলাইহি আফদালুস সালাতি ওয়াসসালাম» (অর্থাৎ: সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণিত আহকামের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি)।

৪ - (দ) পাণ্ডুলিপিতে: «আল-উমদাতু মিন হাদিসি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম» (অর্থাৎ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস থেকে সংকলিত নির্ভরযোগ্য ভিত্তি)।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٨)
5 - وفي (و): «العمدة في الأحكام، في معالم الحلال والحرام، المنقولة عن خير الأنام، محمد عليه أفضل الصلاة والسلام».

6 - وفي (ز): «عمدة الأحكام، من كلام سيد الأنام».

7 - وفي (ح): «العمدة في الأحكام، من حديث النبي عليه الصلاة والسلام».

8 - وفي (ط)، (ي)، (م)، (س)، (ق): «العمدة في الأحكام».

9 - وفي (ك): لا يوجد اسم الكتاب، وفي آخرها قيدُ سَماعٍ فيه: «الأحكام الصغرى».

10 - وفي (ل)، (ع)، (ش): «عمدة الأحكام».

11 - وفي (ن): «عمدة الأحكام الحديثية».

12 - وفي (ف): «عمدة الأحكام» بخط مغاير، وفي آخرها: «آخر كتاب (العمدة في الأحكام، عن خير الأنام، محمد عليه أفضل الصلاة والسلام)».

13 - وفي (ص): «العمدة في الأحكام، من أحاديث سيد الأنام، محمد عليه الصلاة والسلام».

14 - وفي (ر): «العمدة الأحكام(1) في أحاديث خير الأنام».

--------------------------------------------

(1) هكذا؛ سقطت منها: (في).

৫ - এবং (ওয়াও) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আল-উমদাহ ফিল আহকাম, ফী মাআলিমিল হালাল ওয়াল হারাম, যা সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত»।

৬ - এবং (যা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «উমদাতুল আহকাম, সৃষ্টির নেতার বাণী থেকে»।

৭ - এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আল-উমদাহ ফিল আহকাম, নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর হাদিস থেকে»।

৮ - এবং (ত্বা), (ইয়া), (মীম), (সীন), (ক্বাফ) পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে: «আল-উমদাহ ফিল আহকাম»।

৯ - এবং (কাফ) পাণ্ডুলিপিতে: বইটির কোনো নাম নেই, তবে এর শেষে একটি শ্রবণলিপি রয়েছে যাতে লিখা আছে: «আল-আহকামুস সুগরা»।

১০ - এবং (লাম), (আইন), (শীন) পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে: «উমদাতুল আহকাম»।

১১ - এবং (নুন) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «উমদাতুল আহকামুল হাদিসিয়্যাহ»।

১২ - এবং (ফা) পাণ্ডুলিপিতে ভিন্ন হস্তাক্ষরে রয়েছে: «উমদাতুল আহকাম», এবং এর শেষে রয়েছে: «(আল-উমদাহ ফিল আহকাম, সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণিত) বইটির সমাপ্তি»।

১৩ - এবং (সোয়াদ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আল-উমদাহ ফিল আহকাম, সৃষ্টির নেতা মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর হাদিসসমূহ থেকে»।

১৪ - এবং (রা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আল-উমদাহ আল-আহকাম(১) সৃষ্টির সেরা ব্যক্তির হাদিসসমূহ থেকে»।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে; এখান থেকে ‘ফী’ শব্দটি বাদ পড়েছে।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌ثَانِياً: اسْمُ الكِتَابِ كَمَا وَرَدَ فِي خَوَاتِيمِ النُّسَخِ وَالإِجَازَاتِ وَالسَّمَاعَاتِ المُلْحَقَةِ بِهَا:

1 - في (ب): «العمدة في الأحكام» في الخاتمة والإجازة.

2 - وفي (د): «العمدة في الأحكام» في الخاتمة، و «الأحكام»، «العمدة في الأحكام»: في السماعات.

3 - وفي (هـ)، (ط): «العمدة في الأحكام» في الإجازات.

4 - وفي (و): «العمدة» في الخاتمة، وفي خمسة مواضع من الإجازات.

5 - وفي (ز): «العمدة الأحكام»(1) في الخاتمة.

6 - وفي (ح): «العمدة من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم في الأحكام، مما اتفق عليها الشيخان، أعني البخاري ومسلماً» في الخاتمة.

7 - وفي (ك): «الأحكام الصغرى» في موضعين من السماعات.

8 - وفي (ل): «العمدة في الأحكام، من أحاديث خير الأنام، محمد عليه أفضل الصلاة والسلام» في الخاتمة.

9 - وفي (م): «الأحكام في معرفة الحلال والحرام، عن النبي الأنام(2)، عليه أفضل الصلاة والسلام، وعلى آله وأصحابه السادة الأطهار الكرام» في الخاتمة.

--------------------------------------------

(1) هكذا؛ سقطت منها: (في).

(2) كذا.

দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপিসমূহের সমাপ্তি অংশ, ইজাজত (অনুমতিপত্র) এবং এগুলোর সাথে সংযুক্ত শ্রবণ সনদে কিতাবটির নাম যেভাবে বর্ণিত হয়েছে:

১ - (ব) পাণ্ডুলিপিতে: সমাপ্তি অংশ ও ইজাজতে 'বিধানের ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন'।

২ - (দ) পাণ্ডুলিপিতে: সমাপ্তি অংশে 'বিধানের ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন' এবং শ্রবণ সনদসমূহে 'বিধানসমূহ' ও 'বিধানের ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন'।

৩ - (হ) এবং (ত) পাণ্ডুলিপিতে: ইজাজতসমূহে 'বিধানের ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন'।

৪ - (ও) পাণ্ডুলিপিতে: সমাপ্তি অংশে 'প্রধান অবলম্বন' এবং ইজাজতসমূহের পাঁচটি স্থানে।

৫ - (য) পাণ্ডুলিপিতে: সমাপ্তি অংশে 'প্রধান অবলম্বন বিধানসমূহ'(১)।

৬ - (হ) পাণ্ডুলিপিতে: সমাপ্তি অংশে 'বিধান সংক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহ থেকে প্রধান অবলম্বন, যেগুলোর ওপর দুই ইমাম—অর্থাৎ বুখারি ও মুসলিম—ঐকমত্য পোষণ করেছেন'।

৭ - (ক) পাণ্ডুলিপিতে: শ্রবণ সনদের দুইটি স্থানে 'ক্ষুদ্রতর বিধানসমূহ'।

৮ - (ল) পাণ্ডুলিপিতে: সমাপ্তি অংশে 'সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ—তাঁর ওপর শ্রেষ্ঠ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর হাদিসসমূহ থেকে বিধানের ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন'।

৯ - (ম) পাণ্ডুলিপিতে: সমাপ্তি অংশে 'সৃষ্টির নবী—তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও সম্মানিত মহান বংশধর ও সাথীবর্গের ওপর শ্রেষ্ঠ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণিত হালাল ও হারাম জানার ক্ষেত্রে বিধানসমূহ'(২)।

--------------------------------------------

(১) এভাবেই আছে; এখান থেকে 'মধ্যে' শব্দটি পড়ে গেছে।

(২) এভাবেই।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
10 - وفي (ع): «العمدة في الأحكام، عن خير الأنام، محمد عليه أفضل الصلاة والسلام» في الخاتمة.

11 - وفي (ف): «الأحكام» و «العمدة» في الخاتمة.

12 - في (ص)، (ر)، (ش): «العمدة» في الخاتمة.

 

‌‌ثَالِثاً: اسْمُ الكِتَابِ كَمَا وَرَدَ فِي كُتُبِ التَّرَاجِمِ:

أ - ما ورد في ترجمة المصنف:

1 - «العمدة في الأحكام»(1).

2 - «العمدة في الأحكام، مما اتفق عليه البخاري ومسلم»(2).

3 - «الأحكام الصغرى»(3).

4 - «الأحكام الصغير»(4).

5 - «عمدة الأحكام»(5).

6 - «العمدة»(6).

--------------------------------------------

(1) ورد في تاريخ الإسلام (12/ 1206)، والوافي بالوفيات للصفدي (19/ 22).

(2) ورد في ذيل طبقات الحنابلة (3/ 26)، والتاج المكلل لصديق حسن خان (ص 205).

(3) ورد في سير أعلام النبلاء (21/ 444)، (21/ 448)، والبداية والنهاية (13/ 38).

(4) ورد في مرآة الزمان في تواريخ الأعيان لسبط ابن الجوزي (22/ 139)، ومختصر تاريخ الدبيشي الملحق بتاريخ بغداد (15/ 273).

(5) ورد في شذرات الذهب (1/ 49)، والأعلام للزركلي (4/ 34).

(6) ورد في تذكرة الحفاظ للذهبي (4/ 113)، وطبقات الحفاظ للسيوطي (ص 488)، وحسن المحاضرة في تاريخ مصر والقاهرة للسيوطي (1/ 354).

10 - এবং (আইন) পাণ্ডুলিপিতে: উপসংহারে রয়েছে «আল-উমদাহ ফিল আহকাম, আন খাইরিল আনাম, মুহাম্মাদ আলাইহি আফদালুস সালাতি ওয়াস সালাম»।

11 - এবং (ফা) পাণ্ডুলিপিতে: উপসংহারে রয়েছে «আল-আহকাম» ও «আল-উমদাহ»।

12 - (সাদ), (রা), (শিন) পাণ্ডুলিপিতে: উপসংহারে রয়েছে «আল-উমদাহ»।

 

‌‌তৃতীয়ত: জীবনীগ্রন্থসমূহে কিতাবটির নাম যেভাবে বর্ণিত হয়েছে:

ক - লেখকের জীবনীতে যা বর্ণিত হয়েছে:

1 - «আল-উমদাহ ফিল আহকাম»(১)।

2 - «আল-উমদাহ ফিল আহকাম, মিম্মা ইত্তাফাকা আলাইহিল বুখারী ওয়া মুসলিম»(২)।

3 - «আল-আহকামুস সুগরা»(৩)।

4 - «আল-আহকামুস সাগীর»(৪)।

5 - «উমদাতুল আহকাম»(৫)।

6 - «আল-উমদাহ»(৬)।

--------------------------------------------

(১) এটি তারীখুল ইসলাম (১২/ ১২০৬) এবং আস-সাফাদীর আল-ওয়াফী বিল ওয়াফাইয়াত (১৯/ ২২)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(২) এটি যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৩/ ২৬) এবং সিদ্দীক হাসান খানের আত-তাজুল মুকাল্লাল (পৃ. ২০৫)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৩) এটি সিয়ারু আলামিন নুবালা (২১/ ৪৪৪), (২১/ ৪৪৮) এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৩/ ৩৮)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৪) এটি সিবত ইবনুল জাওযীর মিরআতুয যামান ফী তাওয়ারীখিল আইয়ান (২২/ ১৩৯) এবং তারীখে বাগদাদের পরিশিষ্ট মুখতাসারু তারীখিদ দুবাইসী (১৫/ ২৭৩)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৫) এটি শাযারাতুয যাহাব (১/ ৪৯) এবং আয-যিরিকলীর আল-আলাম (৪/ ৩৪)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৬) এটি আয-যাহাবীর তাযকিরাতুল হুফফায (৪/ ১১৩), আস-সুয়ূতীর তাবাকাতুল হুফফায (পৃ. ৪৮৮) এবং আস-সুয়ূতীর হুসনুল মুহাদারা ফী তারীখি মিসরা ওয়াল কাহিরা (১/ ৩৫৪)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢١)
ب - مما ورد في غير ترجمة المصنف(1):

1 - «عمدة الأحكام»(2).

2 - «العمدة في الأحكام»(3).

3 - «العمدة»(4).

 

‌‌رَابِعاً: اسْمُ الكِتَابِ كَمَا وَرَدَ فِي الشُّرُوحَاتِ:

1 - إحكام الأحكام؛ لابن دقيق العيد:

جاء على غلاف أشهر طبعاته تسمية الكتاب بـ (إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام)، وله طبعات أخرى، ونسخ خطية كثيرة؛ اختلف فيها اسم الكتاب عن هذا الاسم.

2 - العدة في شرح العمدة في أحاديث الأحكام؛ لابن العطّار:

قال ابن العطار رحمه الله: «فقد سألني جماعة من أصحابي في شرح كتاب (العُمْدَة في الأحكام، من أحاديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم … فأجبتهم

--------------------------------------------

(1) والمراد بهذا ما ورد في ترجمة بعض العلماء والنَّابِهين؛ ممن يُذكَر أنهم سمِعوا (العمدة) أو حفظوها، أو نسخوها، أو شرحوها … إلخ.

(2) من أمثلة ذلك: ما ورد في ترجمة ابن دقيق العيد في الوافي بالوفيات (4/ 138)، وترجمة الفيروز آبادي في طبقات المفسرين للداوودي (2/ 278)، وترجمة سبط ابن العجمي في الضوء اللامع للسخاوي (1/ 142)، مع التنبه إلى أنّ بعض المواضع وردت بزيادة: «عن سيد الأنام» أو «في الحديث»، وهي مواضع قليلة.

(3) انظر أمثلة لذلك في: ترجمة الفاكهاني في ذيل التقييد في رواة السنن والأسانيد لأبي الطيب الفاسي (2/ 248)، وترجمة ابن الصَّيَّاد في أعيان العصر للصفدي (3/ 458).

(4) انظر مثالاً لذلك: ترجمة عماد الدين بن الأثير في تاريخ الإسلام (52/ 427).

খ - যা গ্রন্থকারের জীবনী ব্যতীত অন্যান্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে:(১)

১ - «উমদাতুল আহকাম»(২)।

২ - «আল-উমদাহ ফিল আহকাম»(৩)।

৩ - «আল-উমদাহ»(৪)।

 

‌‌চতুর্থত: ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে কিতাবটির নাম যেভাবে বর্ণিত হয়েছে:

১ - ইহকামুল আহকাম; ইবনে দাকীকুল ঈদ রচিত:

এর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মুদ্রণের প্রচ্ছদে কিতাবটির নাম (ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম) হিসেবে এসেছে। এর আরও কিছু সংস্করণ এবং অসংখ্য পাণ্ডুলিপি রয়েছে; যেগুলোতে কিতাবটির নাম এই নামের চেয়ে ভিন্নভাবে এসেছে।

২ - আল-উদ্দাহ ফি শারহিল উমদাহ ফি আহাদিসিল আহকাম; ইবনুল আত্তার রচিত:

ইবনুল আত্তার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «আমার একদল সঙ্গী আমার কাছে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসসমূহ থেকে সংকলিত (আল-উমদাহ ফিল আহকাম) কিতাবটির ব্যাখ্যা লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন... অতঃপর আমি তাদের ডাকে সাড়া দিলাম...

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সব বর্ণনা যা কিছু আলেম ও বিদগ্ধ ব্যক্তিদের জীবনীতে এসেছে; যাদের সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা (আল-উমদাহ) শুনেছেন, কিংবা মুখস্থ করেছেন, অথবা অনুলিপি করেছেন, কিংবা এর ব্যাখ্যা লিখেছেন... ইত্যাদি।

(২) এর উদাহরণস্বরূপ: সাফাদীর ‘আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত’ (৪/১৩৮) গ্রন্থে ইবনে দাকীকুল ঈদের জীবনীতে যা এসেছে; দাউদীর ‘তাবাকাতুল মুফাসসিরীন’ (২/২৭৮) গ্রন্থে ফায়রোয আবাদীর জীবনীতে যা এসেছে; এবং সাখাভীর ‘আদ-দাওউল লামে’ (১/১৪২) গ্রন্থে সিবত ইবনুল আজমীর জীবনীতে যা এসেছে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কিছু স্থানে ‘আন সাইয়্যিদিল আনাম’ অথবা ‘ফিল হাদীস’ অতিরিক্ত শব্দসহ বর্ণিত হয়েছে, আর এ জাতীয় বর্ণনা সংখ্যায় খুব কম।

(৩) এর উদাহরণ দেখুন: আবুল তাইয়্যিব আল-ফাসীর ‘যাইলুত তাকয়ীদ ফি রুওয়াতিল সুনান ওয়াল আসানীদ’ (২/২৪৮) গ্রন্থে আল-ফাকেহানী-এর জীবনীতে; এবং সাফাদীর ‘আ’য়ানুল আসর’ (৩/৪৫৮) গ্রন্থে ইবনুল সাইয়্যাদ-এর জীবনীতে।

(৪) এর উদাহরণ দেখুন: যাহাবীর ‘তারীখুল ইসলাম’ (৫২/৪২৭) গ্রন্থে ইমাদুদ্দীন ইবনুল আসীর-এর জীবনীতে।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
إلى ذلك بعدَ الاستخارة … وسمّيته: كتابَ (العُدَّة في شرح العُمْدَة)»(1).

3 - رياض الأفهام في شرح عمدة الأحكام؛ للفاكهاني:

قال الفاكهاني رحمه الله: «فإنه لما عزم جماعة من الطلبة النبهاء، والحذاق الفضلاء، على قراءة كتاب (عمدة الأحكام، في أحاديثه عليه الصلاة والسلام»(2).

4 - العدة في إعراب العمدة؛ لابن فرحون:

قال ابن فرحون رحمه الله: «ولما كان كتاب (العمدة في الأحكام) من المصنفات … »(3).

5 - تيسير المرام في شرح عمدة الأحكام؛ لأحمد ابن مرزوق التلمساني الجد:

قال ابن مرزوق رحمه الله: «وهو تعليق على كتاب (عمدة الأحكام) للإمام الحافظ … »(4)، وقال أيضاً: «وسميته (تيسير المرام في شرح عمدة الأحكام)»(5).

6 - النُّكَت؛ للزَّركشيِّ:

قال الزركشي رحمه الله: «وكان كتاب (العمدة) للحافظ تقي الدين … »(6).

7 - الإعلام؛ لابن الملقن:

قال ابن الملقن رحمه الله: «فهذه نبذة مهمة على كتاب (عمدة

--------------------------------------------

(1) العدة (1/ 40).

(2) رياض الأفهام (1/ 6).

(3) إعراب العمدة (1/ 25).

(4) تيسير المرام (ص 175).

(5) تيسير المرام (ص 178).

(6) النكت (ص 68).

ইস্তিখারার পর এর দিকে … এবং আমি এর নামকরণ করেছি: (আল-উদ্দাহ ফী শারহিল উমদাহ) কিতাব।»(১).

৩ - আল-ফাকিহানি রহ.-এর রিয়াদুল আফহাম ফী শারহি উমদাতিল আহকাম:

আল-ফাকিহানি রহ. বলেন: «যখন একদল মেধাবী ছাত্র এবং বিচক্ষণ পণ্ডিত ব্যক্তি (উমদাতুল আহকাম ফী আহাদিসিহি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কিতাবটি পাঠ করার সংকল্প করলেন»(২).

৪ - ইবনে ফারহুন রহ.-এর আল-উদ্দাহ ফী ইরাবিল উমদাহ:

ইবনে ফারহুন রহ. বলেন: «যেহেতু (আল-উমদাহ ফিল আহকাম) কিতাবটি সেই সব রচনার অন্তর্ভুক্ত … »(৩).

৫ - আহমাদ ইবনে মারজুক আত-তিলিমসানি আল-জাদ্দ-এর তাইসিরুল মারাম ফী শারহি উমদাতিল আহকাম:

ইবনে মারজুক রহ. বলেন: «এটি ইমাম হাফিজ … -এর (উমদাতুল আহকাম) কিতাবের ওপর একটি টীকা»(৪), এবং তিনি আরও বলেন: «এবং আমি এর নাম রেখেছি (তাইসিরুল মারাম ফী শারহি উমদাতিল আহকাম)»(৫).

৬ - আয-যারকাশি রহ.-এর আন-নুকাত:

আয-যারকাশি রহ. বলেন: «হাফিজ তাকীউদ্দীন … -এর (আল-উমদাহ) কিতাবটি ছিল»(৬).

৭ - ইবনুল মুলাক্কিন রহ.-এর আল-ইলাম:

ইবনুল মুলাক্কিন রহ. বলেন: «এটি (উমদাহ কিতাবের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত সার»

--------------------------------------------

(১) আল-উদ্দাহ (১/ ৪০)।

(২) রিয়াদুল আফহাম (১/ ৬)।

(৩) ইরাবুল উমদাহ (১/ ২৫)।

(৪) তাইসিরুল মারাম (পৃষ্ঠা ১৭৫)।

(৫) তাইসিরুল মারাম (পৃষ্ঠা ১৭৮)।

(৬) আন-নুকাত (পৃষ্ঠা ৬৮)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الأحكام في أحاديثه عليه أفضل الصلاة والسلام)»(1)، وقال ناسخ الإعلام: «آخر كتاب شرح (العمدة) للشيخ الإِمام … »(2).

8 - كشف اللثام شرح عمدة الأحكام؛ للسفاريني:

قال السفَّاريني رحمه الله: «فهذا شرح لطيف على (عمدة الأحكام)»(3)، وقال في موضع آخر: «وسميته بـ (كشف اللثام شرح عمدة الأحكام)»(4)، وقال أيضاً عند سرده لكتب الإمام المقدسي: «كتاب (العمدة - هذا - في الأحكام، مما اتفق عليه الشيخان - البخاري ومسلم -)»(5).

9 - العدة على إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام؛ للصنعاني:

قال الصنعاني رحمه الله: « … علقتها على (عمدة الأحكام) للحافظ عبد الغني … »(6).

 

‌‌خَامِساً: اسْمُ الكِتَابِ كَمَا وَرَدَ فِي الأَثْبَاتِ وَالبَرَامِجِ وَالفَهَارِسِ وَالأَدِلَّةِ:

1 - قال أبو عبد اللَّه الوادي آشي الأندلسي رحمه الله في برنامجه -: «محمد بن أبي الفتح … سمع (العمدة في الأحكام) من أحمد بن عبد الدائم المقدسي … »(7).

--------------------------------------------

(1) الإعلام (1/ 71).

(2) المصدر السابق (10/ 422).

(3) كشف اللثام (1/ 4).

(4) المصدر السابق (1/ 6).

(5) المصدر السابق (1/ 41).

(6) العدة (1/ 44).

(7) (ص 134).

(রাসূলুল্লাহর) হাদিসসমূহে বিধিবিধান, যাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)»(১), এবং আল-ইলাম গ্রন্থের অনুলিপিকারক বলেছেন: «শায়খ ইমামের লিখিত (আল-উমদাহ)-এর ব্যাখ্যার শেষ কিতাব … »(২).

৮ - কাশফুল লিসাম শারহু উমদাতিল আহকাম; আস-সাফফারিনি রচিত:

আস-সাফফারিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «এটি (উমদাতুল আহকাম)-এর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ»(৩), এবং তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: «আমি এর নামকরণ করেছি (কাশফুল লিসাম শারহু উমদাতিল আহকাম)»(৪), এবং তিনি ইমাম মাকদিসি-এর কিতাবসমূহের তালিকা বর্ণনার সময় আরও বলেছেন: «এই (আল-উমদাহ) কিতাবটি বিধিবিধান বিষয়ক, যা শাইখাইন — বুখারি ও মুসলিম — ঐক্যবদ্ধভাবে বর্ণনা করেছেন»(৫).

৯ - আল-উদ্দাহ আলা ইহকামিল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম; আস-সানআনি রচিত:

আস-সানআনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: « … আমি হাফেজ আব্দুল গনির (উমদাতুল আহকাম)-এর ওপর এটি টীকা হিসেবে লিখেছি … »(৬).

 

‌‌পঞ্চম: কিতাবের নাম যেভাবে সনদ সংকলন, সূচিপত্র, ক্যাটালগ এবং নির্দেশিকাগুলোতে এসেছে:

১ - আবু আব্দুল্লাহ আল-ওয়াদি আশি আল-আন্দালুসি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বর্ণনাসূচির গ্রন্থে বলেছেন: «মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-ফাতাহ … তিনি আহমদ ইবনে আব্দুল দায়িম আল-মাকদিসি-এর নিকট থেকে (আল-উমদাহ ফিল আহকাম) শ্রবণ করেছেন … »(৭).

--------------------------------------------

(১) আল-ইলাম (১/ ৭১)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১০/ ৪২২)।

(৩) কাশফুল লিসাম (১/ ৪)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৬)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪১)।

(৬) আল-উদ্দাহ (১/ ৪৪)।

(৭) (পৃষ্ঠা ১৩৪)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
2 - وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله في المعجم المفهرس -: «(عمدة الأحكام)؛ للحافظ أبي محمد … »(1).

3 - وقال حاجي خليفة رحمه الله في كشف الظنون -: «(عمدة الأحكام، عن سيد الأنام)؛ لأبي محمد تقي الدين … »(2).

4 - وقال محمد مخلوف رحمه الله في شجرة النَّور الزكيَّة؛ عند سرده فهرس أبي عبد اللَّه الغرياني -: «و (عمدة الأحكام الصغرى)؛ للمقدسي»(3).

5 - وقال أبو عبد اللَّه الكتَّاني رحمه الله في الرسالة المستطرفة -: «وكتاب (عمدة الأحكام، عن سيد الأنام) … »(4).

6 - وقال إسماعيل الباباني رحمه الله في هدية العارفين -: «عبد الغني بن عبد الواحد بن علي … ومن تصانيفه: … (العمدة في الأحكام، في معالم الحلال والحرام، عن خير الأنام، محمد عليه الصلاة والسلام»(5).

 

‌‌خلاصة ما تقدَّم:

أن أغلب النسخ الخطية، وكتب التراجم، والفهارس وغيرها: اشتركت في ذكر الاسم المختار «العُمدة في الأحكام»؛ إما بلفظه أو بمعناه.

--------------------------------------------

(1) (ص 397).

(2) (2/ 1164).

(3) (1/ 676).

(4) (ص 180).

(5) (1/ 589).

২ - হাফিজ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস' গ্রন্থে বলেছেন: «(উমদাতুল আহকাম); হাফিজ আবু মুহাম্মাদ এর … »(১).

৩ - হাজি খলিফা (রাহিমাহুল্লাহ) 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে বলেছেন: «(উমদাতুল আহকাম, আন সাইয়িদুল আনাম); আবু মুহাম্মাদ তাকিউদ্দীন এর … »(২).

৪ - মুহাম্মাদ মাখলুফ (রাহিমাহুল্লাহ) 'শাজারাতুন নূর আয-যাকিয়্যাহ' গ্রন্থে আবু আব্দুল্লাহ আল-গুরইয়ানির তালিকার বর্ণনাকালে বলেছেন: «এবং মাকদিসীর (উমদাতুল আহকাম আস-সুগরা)»(৩).

৫ - আবু আব্দুল্লাহ আল-কাত্তানি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আর-রিসালা আল-মুস্তাতরাফাহ' গ্রন্থে বলেছেন: «এবং (উমদাতুল আহকাম, আন সাইয়িদুল আনাম) কিতাবটি … »(৪).

৬ - ইসমাঈল আল-বাবানি (রাহিমাহুল্লাহ) 'হাদিয়াতুল আরিফীন' গ্রন্থে বলেছেন: «আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী … এবং তাঁর সংকলনসমূহের মধ্যে রয়েছে: … (আল-উমদাহ ফিল আহকাম, ফী মাআলিমিল হালাল ওয়াল হারাম, আন খাইরিল আনাম, মুহাম্মাদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)»(৫).

 

‌‌পূর্বোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ:

অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি, জীবনী গ্রন্থ, নির্ঘণ্ট এবং অন্যান্য উৎসগুলো নির্বাচিত নাম «আল-উমদাহ ফিল আহকাম» উল্লেখ করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছে; হয় শব্দগতভাবে অথবা অর্থগতভাবে।

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ৩৯৭)।

(২) (২/ ১১৬৪)।

(৩) (১/ ৬৭৬)।

(৪) (পৃষ্ঠা ১৮০)।

(৫) (১/ ৫৮৯)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌أَسْمَاءُ رُوَاةِ «العُمْدَةِ» عَنِ الحَافِظِ عَبْدِ الغَنِيِّ

روى هذا الكتاب عن الحافظ عبد الغني رحمه الله رواةٌ كثيرون؛ ذُكِر بعضهم في كتب الفهارس والأثبات، ومنهم:

1 - ابن عبد الدَّائم المقدسي(1)، والظاهر أنه أشهر رواة «العمدة» عن مُصنِّفها:

قال الوادي آشي رحمه الله: «سمع (العمدة في الأحكام) من أحمد بن عبد الدائم المقدسي، بسماعه من مصنفها عبد الغني المقدسي، وحدث بهَا غير مرة»(2)، وقال ابن حجر رحمه الله: «و (عمدة الأحكام) عليه - يعني شيخه ابن سُكَّر -، عن ابن عبد الدائم، أخبرنا المصنف»(3).

2 - عبد الهادي بن عبد الكريم القيسي(4):

قال ابن حجر رحمه الله: «و (العمدة) قد سمعها من عبد الغني: الشيخ أحمد بن عبد الدائم بن نعمة النابلسي، وعبد الهادي بن عبد الكريم القيسي»(5).

--------------------------------------------

(1) هو: زين الدين أبو العباس، أحمدُ بن عبد الدائم بن نعمةَ المقدسيُّ الحنبليُّ، المحدِّث، مسند الشامِ، سمع من ابن الجوزي، وعبد الغني المقدسي، وخَلْقٍ، وروى عنه: النووي، وابن دقيق العيد، وابن تيمية، وغيرُهم، ولد سنة: (575 هـ)، وتوفي سنة: (668 هـ). تاريخ الإسلام (15/ 151).

(2) برنامج الوادي آشي (ص 134 - 135).

(3) المجمع المؤسس للمعجم المفهرس (1/ 410).

(4) هو: عبد الهادي بن عبد الكريم بن علي بن عيسى بن تميم، أبو الفتح القيسيُّ، المصريّ الشافعيُّ، المقرئ، المعمر، خطيب جامع المقياس، تفرّد في عصره عن جماعة، وروى الكثيرَ، ولد سنة: (577 هـ)، وتوفي سنة: (671 هـ). تاريخ الإسلام (15/ 228).

(5) المجمع المؤسِّس للمعجم المفهرس (1/ 410).

হাফেয আব্দুল গনী থেকে ‘উমদাহ’ এর বর্ণনাকারীদের নাম

হাফেয আব্দুল গনী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে এই কিতাবটি অনেক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন; ফাহরাস এবং আসবাত (সূচিপত্র ও সনদগ্রন্থ) সমূহে তাদের কয়েকজনকে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - ইবনে আব্দুল দায়িম আল-মাকদিসী(১), এবং প্রতীয়মান হয় যে, তিনিই এর গ্রন্থকারের নিকট থেকে ‘উমদাহ’ এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী:

আল-ওয়াদী আশী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “তিনি আহমাদ বিন আব্দুল দায়িম আল-মাকদিসী থেকে ‘উমদাতুল আহকাম’ শুনেছেন, আর আহমাদ ইবনে আব্দুল দায়িম তা এর গ্রন্থকার আব্দুল গনী আল-মাকদিসী থেকে শুনেছেন এবং তিনি এটি একাধিকবার বর্ণনা করেছেন”(২)। ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এবং ‘উমদাতুল আহকাম’ তার কাছে - অর্থাৎ তার শাইখ ইবনে সুক্করের নিকট -, তিনি ইবনে আব্দুল দায়িম থেকে, (যিনি বলেন) গ্রন্থকার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন”(৩)।

২ - আব্দুল হাদী বিন আব্দুল কারীম আল-কায়সী(৪):

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এবং ‘উমদাহ’ গ্রন্থটি আব্দুল গনী থেকে শ্রবণ করেছেন: শাইখ আহমাদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নি’মাহ আন-নাবুলুসী এবং আব্দুল হাদী বিন আব্দুল কারীম আল-কায়সী”(৫)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: যাইনুদ্দীন আবুল আব্বাস, আহমাদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নি’মাহ আল-মাকদিসী আল-হানবালী, মুহাদ্দিস, শামের মুসনিদ (উচ্চ সনদধারী), তিনি ইবনুল জাওযী, আব্দুল গনী আল-মাকদিসী এবং এক বিশাল জামাত থেকে শ্রবণ করেছেন। তার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন: আন-নববী, ইবনু দাকীক আল-ঈদ, ইবনে তাইমিয়াহ এবং অন্যান্যরা। তিনি ৫৭৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৬৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখুল ইসলাম (১৫/ ১৫১)।

(২) বারনামাজ আল-ওয়াদী আশী (পৃষ্ঠা ১৩৪ - ১৩৫)।

(৩) আল-মুজামুল মুয়াসসিস লিল মুজামিল মুফাহরাস (১/ ৪১০)।

(৪) তিনি হলেন: আব্দুল হাদী বিন আব্দুল কারীম বিন আলী বিন ঈসা বিন তামীম, আবুল ফাতহ আল-কায়সী, আল-মিসরী আশ-শাফিয়ী, আল-মুকরি (কুরআন পাঠ বিশেষজ্ঞ), দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত ব্যক্তি, জামে মিকয়াসের খতিব। তিনি তার সমসাময়িককালে অনেকের থেকে এককভাবে (উচ্চ সনদে) বর্ণনা করেছেন এবং প্রচুর বর্ণনা করেছেন। তিনি ৫৭৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখুল ইসলাম (১৫/ ২২৮)।

(৫) আল-মুজামুল মুয়াসসিস লিল মুজামিল মুফাহরাস (১/ ৪১০)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
3 - ابن البخاري(1) إجازةً عنه:

قال ابن حجر رحمه الله: «رأيت بخطِّه - يعني السراج ابن الملقن - غالباً في إجازة الطلبة بروايته: (العمدة)، عن القطب الحلبي وابن سيد الناس، عن الفخر ابن البخاري، عن المؤلف»(2)، وقال الكتَّاني رحمه الله: «و (عمدة) الحافظ عبد الغني المقدسي يرويها المترجَم - يعني: إبراهيم بن أبي بكر العلوي - عن المزي، عن ابن البخاري عن مؤلفها»(3).

وقد ورد في بعض نُسَخ العمدة التي اعتمدتُها أسماءُ رواةٍ آخرين لكتاب «العمدة» عن مصنفه؛ اتصلت بهم أسانيد أصحاب النسخ الخطية أو نُسَّاخها، وورد أيضاً أسماء بعض مَن أجازهم المصنف مِن غير بيان ما يثبت روايتهم عنه.

فأمّا رواة العمدة الذين اتصلت إليهم الأسانيد فهم:

1 - يوسف بن جوهر، وقد ورد في نسخة (ل).

2 - ضياء الدين بن أبي الحاج، وقد ورد في (هـ).

--------------------------------------------

(1) هو: علي بن أحمد بن عبد الواحد بن أحمد، فخر الدين أبو الحسن، المقدسيّ الحنبليُّ، المعروف بـ (ابن البخاري)، المحدث الفقيه، مسند الدنيا، روى عن ابن الجوزي وعبد الغني المقدسي إجازة، وعن أبيه البخاري وغيرهم، وأخذ الفقه عن الموفق ابن قدامة، روى عنه: المنذري وابن دقيق العيد والمزي وابن جماعة والبرزالي وابن العطار وغيرهم، ولد سنة: (595 هـ)، وتوفي سنة: (690 هـ). تاريخ الإسلام (15/ 665). ولجمال الدين ابن الظاهري الحنفي (المتوفى: 696 هـ) كتابٌ في مشيخته.

(2) المجمع المؤسس للمعجم المفهرس (2/ 316)، وقد نبه ابن حجر إلى احتمال وجود خلل في تحمُّل ابن البخاري عن الحافظ عبد الغني المقدسي رحمهما الله.

(3) فهرس الفهارس (1/ 128).

৩ - ইবনুল বুখারী(১) তাঁর থেকে প্রাপ্ত ইজাযত সূত্রে:

ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: «আমি তাঁর হস্তাক্ষরে—অর্থাৎ সিরাজ ইবনুল মুলাক্কিন—সাধারণত ছাত্রদেরকে তাঁর বর্ণনায় ‘আল-উমদাহ’ গ্রন্থের ইজাযত প্রদানের ক্ষেত্রে দেখেছি: আল-কুতুব আল-হালাবী এবং ইবনে সাইয়্যেদুন নাস থেকে, তিনি আল-ফখর ইবনুল বুখারী থেকে, তিনি গ্রন্থকারের থেকে বর্ণনা করেছেন»(২)। আল-কাত্তানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: «হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসীর ‘উমদাহ’ গ্রন্থটি যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে—অর্থাৎ ইবরাহীম বিন আবি বকর আল-আলাওয়ী—তিনি বর্ণনা করেছেন আল-মিযযী থেকে, তিনি ইবনুল বুখারী থেকে, তিনি এর গ্রন্থকারের থেকে»(৩)।

‘আল-উমদাহ’ গ্রন্থের যে সকল পান্ডুলিপির ওপর আমি নির্ভর করেছি, তার কোনো কোনোটিতে গ্রন্থকারের সূত্রে এই গ্রন্থের অন্যান্য বর্ণনাকারীদের নামও উল্লিখিত হয়েছে; যাঁদের সাথে পান্ডুলিপির মালিক বা অনুলিপিকারীদের সনদগুলো সংযুক্ত হয়েছে। এছাড়া এমন কিছু ব্যক্তিদের নামও এসেছে যাঁদেরকে গ্রন্থকার ইজাযত প্রদান করেছিলেন, তবে তাঁদের বর্ণনার বিষয়টি প্রমাণ করে এমন কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি।

অতঃপর ‘আল-উমদাহ’-এর সেই বর্ণনাকারীগণ যাঁদের পর্যন্ত সনদগুলো পৌঁছেছে, তাঁরা হলেন:

১ - ইউসুফ বিন জাওহার, তাঁর নাম (লাম) চিহ্নিত পান্ডুলিপিতে এসেছে।

২ - জিয়াউদ্দীন বিন আবিল হাজ্জ, তাঁর নাম (হা) চিহ্নিত পান্ডুলিপিতে এসেছে।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমাদ, ফখরুদ্দীন আবুল হাসান, আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী, যিনি (ইবনুল বুখারী) নামে পরিচিত। তিনি একজন মুহাদ্দিস ও ফকীহ এবং সমকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সনদধারী (মুসনিদুদ দুনিয়া)। তিনি ইবনুল জাওযী এবং আব্দুল গনি আল-মাকদিসী থেকে ইজাযত সূত্রে এবং তাঁর পিতা আল-বুখারী ও অন্যান্যদের থেকে সরাসরি বর্ণনা করেছেন। তিনি মুওয়াফফাক ইবনে কুদামাহ-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আল-মুনযিরী, ইবনু দাকীকিল ঈদ, আল-মিযযী, ইবনে জামা’আহ, আল-বিরযালী, ইবনুল আত্তার এবং অন্যান্যরা। তিনি ৫৯৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৯০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তারিখুল ইসলাম (১৫/ ৬৬৫)। জামালুদ্দীন ইবনুজ যাহিরী আল-হানাফীর (মৃত্যু: ৬৯৬ হিজরী) তাঁর মাশায়েখদের নিয়ে একটি কিতাব রয়েছে।

(২) আল-মাজমা’ আল-মুয়াসসিস লিল মু’জাম আল-মুফাহরাস (২/ ৩১৬)। ইবনে হাজার হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসী (রহ.) থেকে ইবনুল বুখারীর শ্রবণের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটির সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

(৩) ফাহরাসুল ফাহারিস (১/ ১২৮)।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
3 - عبد الجليل البهنسي، وقد ورد في (هـ).

4 - الحافظ زكي الدين عبد العظيم المنذري ابن السميدع(1)، وقد ورد في (و).

5 - أحمد بن حامد بن أحمد الأرتاحي، وقد ورد في (و).

6 - أبو عيسى ابن علَّان، وقد ورد في (و).

7 - تقي الدين أبو عبد اللَّه محمد اليونيني الحنبلي البعلبكي، وقد ورد في (ط).

إضافة إلى:

ابن عبد الدائم، وقد ورد في: (ب، د، هـ، ط، ي، ك).

وأمّا من ذُكِر في خواتم النُّسخ والإجازات أنهم سمعوا العمدة من المصنف، ولم تتصل أسانيد الإجازات من طريقهم، فهم:

1 - محمد بن عبد …(2) بن محمد الأموي صاحب الجرو.

2 - الشيخ أبو الصفا خليل بن فهد بن شبل.

3 - صديق بن بختيار بن عبد اللَّه.

--------------------------------------------

(1) هو: الإمام، العلامة، الحافظ، المحقق، شيخ الإسلام، زكي الدين، أبو محمد عبدُ العظيم بن عبد القوي بن عبد اللَّه بن سلامة بن سعد المنذِريُّ، الشامي الأصل، المصري، الشافعيّ، صاحب كتاب: «الترغيب والترهيب» وغيره، ولد سنة: (581 هـ)، وتوفي سنة: (656 هـ). سير أعلام النبلاء (23/ 319).

(2) كلمة غير واضحة في الأصل.

৩ - আবদুল জলিল আল-বাহনাসি, আর তা (হা) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে।

৪ - হাফেজ জাকিউদ্দিন আবদুল আজিম আল-মুনজিরি ইবনুস সামাইদা(১), আর তা (ওয়াও) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে।

৫ - আহমদ বিন হামিদ বিন আহমদ আল-আরতাহি, আর তা (ওয়াও) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে।

৬ - আবু ঈসা ইবনে আল্লান, আর তা (ওয়াও) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে।

৭ - তাকিউদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-ইউনিনি আল-হাম্বলি আল-বালবাকি, আর তা (তা) পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে।

এছাড়া আরও রয়েছেন:

ইবনে আবদুদ্দায়েম, আর তা (বা, দাল, হা, তা, ইয়া, কাফ) পাণ্ডুলিপিগুলোতে বর্ণিত হয়েছে।

আর পাণ্ডুলিপির শেষে এবং ইজাজতসমূহে যাদের উল্লেখ রয়েছে যে তারা গ্রন্থকারের কাছ থেকে 'আল-উমদাহ' শ্রবণ করেছেন, কিন্তু তাদের মাধ্যমে ইজাজতের সনদগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছায়নি, তারা হলেন:

১ - মুহাম্মদ বিন আবদ …(২) বিন মুহাম্মদ আল-উমাওয়ি, সাহিবুল জারউ।

২ - শায়খ আবুস সাফা খলিল বিন ফাহাদ বিন শিবল।

৩ - সিদ্দিক বিন বখতিয়ার বিন আবদুল্লাহ।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, মুহাক্কিক, শায়খুল ইসলাম, জাকিউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিম বিন আবদুল কাবি বিন আবদুল্লাহ বিন সালামাহ বিন সাদ আল-মুনজিরি; মূলগতভাবে শামি, পরবর্তীতে মিসরি, শাফেয়ি মাযহাব অনুসারী, 'আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব' এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ৫৮১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা (২৩/৩১৯)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি অস্পষ্ট।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
4 - خليل بن يونس بن عبد اللَّه.

5 - عبد الرحمن بن عبد الحافظ بن أحمد المقدسي.

6 - عبد الرحمن بن …(1) بن عبد الرحمن القُدسي.

وقد ورد هؤلاء جميعاً في خاتمة نسخة (هـ).

7 - أبو عبد اللَّه محمد بن محمد بن محمد بن ممشا الأصبهاني، وقد ورد في (ح).

8 - أبو الفضل العباس أحمد بن الحسين بن محمد العراقي.

9 - أبو محمد أحمد بن سالم بن أبي عبد اللَّه المقدسي.

10 - عبد الرحمن بن عبد اللَّه …(2) المقدسي.

11 - عوضُ بن إبراهيم بن بدر المقدسي.

وقد ورد هؤلاء في نسخة (ك).

12 - محمد بن عمرو بن عبد اللَّه المقدسي.

13 - محمد بن إسماعيل بن أحمد بن أبي الفتح المقدسي، وقد وردا في نسخة (ع).

--------------------------------------------

(1) بياض في الأصل بمقدار كلمة أو كلمتين.

(2) كلمة مطموسة في الأصل.

৪ - খলিল ইবনে ইউনুস ইবনে আব্দুল্লাহ।

৫ - আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল হাফিজ ইবনে আহমাদ আল-মাকদিসি।

৬ - আব্দুর রহমান ইবনে …(১) ইবনে আব্দুর রহমান আল-কুদসি।

তাদের সকলের উল্লেখ (হা) পাণ্ডুলিপির শেষে এসেছে।

৭ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মামশা আল-আসফাহানি, এবং তাঁর উল্লেখ (হা) পাণ্ডুলিপিতে এসেছে।

৮ - আবুল ফজল আব্বাস আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইরাকি।

৯ - আবু মুহাম্মাদ আহমাদ ইবনে সালিম ইবনে আবু আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসি।

১০ - আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ …(২) আল-মাকদিসি।

১১ - আওয়াদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে বদর আল-মাকদিসি।

তাদের সকলের উল্লেখ (কাফ) পাণ্ডুলিপিতে এসেছে।

১২ - মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসি।

১৩ - মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আহমাদ ইবনে আবুল ফাতহ আল-মাকদিসি, এবং তাঁদের উভয়ের উল্লেখ (আইন) পাণ্ডুলিপিতে এসেছে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এক বা দুই শব্দের পরিমাণ স্থান শূন্য রয়েছে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি অস্পষ্ট হয়ে গেছে।

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকাম - তাহক্বীক আল-ক্বাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌مَنْهَجُ الحَافِظِ عَبْدِ الغَنِيِّ فِي كِتَابِهِ: «العُمْدَةِ»

1 - رتَّب الحافظ مُصنَّفه على كُتُبٍ ابتدأها بكتاب الطهارة، وختمَها بكتاب العتق، وضمَّنَ غالبَ الكتبِ أبواباً، ومجموع كتبه (19) كتاباً، ومجموع أبوابه (63) باباً(1)، وعدد أحاديثه مجردة من الروايات (414) حديثاً، وعدد الروايات (114) روايةً(2).

2 - رتَّبَ الكتبَ والأبواب على ترتيب الفقه الحنبلي في الجملة.

3 - يستفتح كل كتاب بجملةٍ من الأحاديث كالمقدّمة له، ثم يذكر بعد ذلك بعضَ الأبواب، ما عدا كتاب الصَّلاة وكتاب الحجّ، فإنه ابتدأ أبوابَهما من أوَّل الكتاب، بقوله: «كتاب الصَّلاة باب المواقيت»، «كتاب الحجّ باب المواقيت»، وأخلى بعضَ الكتب من الأبواب أصلاً.

4 - عندما يذكر حديثاً في أول الباب أو في أثنائه؛ فإنه يقول: «عن» ثم يذكر الحديث، وفي خمسة مواضع فقط(3) عطف الحديث على ما قبله بحرف الواو؛ بقوله: «وعن».

--------------------------------------------

(1) هذا في أغلب النسخ، وزادت نسختان باباً آخر في آخر الكتاب - وهو موجود كذلك في نسخة شرح ابن دقيق العيد -، هو: «باب بيع المدبر»؛ فيكون مجموع الأبواب فيها (64) باباً.

(2) ولم أجعل لهذه الروايات رقماً مستقلّاً، وإنما جعلتها تابعة في العَدِّ للحديث السابق عليها.

(3) وهي الأحاديث رقم: (2)، (26)، (280)، (348)، (364)، وهذا على ما في النسخة التي جعلتُها أصلاً، وفي غيرها زيادة الواو في مواضع أخرى.

তাঁর গ্রন্থ ‘আল-উমদাহ’-তে হাফেজ আব্দুল গনি-এর অনুসৃত পদ্ধতি

১ - হাফেজ তাঁর সংকলিত গ্রন্থটিকে কতগুলো কিতাবের (অধ্যায়) ওপর বিন্যস্ত করেছেন, যা তিনি পবিত্রতা অধ্যায় (কিতাবুত তাহারাত) দিয়ে শুরু করেছেন এবং দাসমুক্তি অধ্যায় (কিতাবুল ইতক) দিয়ে শেষ করেছেন। তিনি অধিকাংশ কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন অনেকগুলো পরিচ্ছেদ (বাব)। তাঁর কিতাবসমূহের মোট সংখ্যা ১৯টি এবং পরিচ্ছেদসমূহের মোট সংখ্যা ৬৩টি(১)। বর্ণনা ব্যতীত তাঁর হাদিসসমূহের সংখ্যা ৪১৪টি এবং বর্ণনাসমূহের (রওয়ায়াত) সংখ্যা ১১৪টি(২)।

২ - তিনি সামগ্রিকভাবে হাম্বলি ফিকহের বিন্যাস অনুযায়ী কিতাব ও পরিচ্ছেদগুলো সাজিয়েছেন।

৩ - তিনি প্রতিটি কিতাব একগুচ্ছ হাদিস দ্বারা শুরু করেন যা তার জন্য ভূমিকা স্বরূপ, অতঃপর এর অধীনে কিছু পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেন। তবে নামাজ ও হজ অধ্যায় এর ব্যতিক্রম; তিনি এ দুটির পরিচ্ছেদ কিতাবের শুরু থেকেই শুরু করেছেন। যেমন তাঁর উক্তি: "নামাজ অধ্যায়: ওয়াক্তসমূহের পরিচ্ছেদ", "হজ অধ্যায়: মিকাতসমূহের পরিচ্ছেদ"। আবার কিছু কিতাবকে তিনি পরিচ্ছেদবিহীন রেখেছেন।

৪ - তিনি যখন কোনো পরিচ্ছেদের শুরুতে বা মাঝে কোনো হাদিস উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন: "হতে বর্ণিত" (আন), এবং মাত্র পাঁচটি স্থানে(৩) তিনি পূর্ববর্তী হাদিসের সাথে 'ওয়াও' (এবং) অব্যয় যোগ করে হাদিসকে সম্পৃক্ত করেছেন; যেমন তাঁর উক্তি: "এবং হতে বর্ণিত" (ওয়া আন)।

--------------------------------------------

(১) এটি অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়। তবে দুটি পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থের শেষে অন্য একটি পরিচ্ছেদ বৃদ্ধি করা হয়েছে—যা ইবনে দাকিক আল-ঈদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শারাহ) পাণ্ডুলিপিতেও বিদ্যমান—তা হলো: ‘মুদাব্বার (মৃত্যুর পর স্বাধীন হবে এমন দাস) বিক্রয় সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ’; সেক্ষেত্রে মোট পরিচ্ছেদের সংখ্যা হয় ৬৪টি।

(২) আমি এই বর্ণনাগুলোকে স্বতন্ত্র কোনো নম্বর প্রদান করিনি, বরং গণনার ক্ষেত্রে এগুলোকে তার পূর্ববর্তী হাদিসের অনুগামী করেছি।

(৩) সেগুলো হলো হাদিস নম্বর: (২), (২৬), (২৮০), (৩৪৮), (৩৬৪)। এটি আমার মূল হিসেবে গ্রহণ করা পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী, অন্য পাণ্ডুলিপিতে অন্যান্য স্থানেও 'ওয়াও' অব্যয়ের আধিক্য রয়েছে।