Warning: SQLite3::query(): Unable to prepare statement: 1, no such column: part in /home/u575225426/domains/shamelabangla.com/public_html/sqlite_db.php on line 274
আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ - শামেলা বাংলা
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: -)
الخزل والدأل بين الدور والدارات والديرة   (الحموي، ياقوت)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الخزل والدأل بين الدور والدارات والديرة

المؤلف: شهاب الدين أبو عبد الله ياقوت بن عبد الله الرومي الحموي (ت 626هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 59

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-খাযল ওয়াদ দা'ল বাইনাদ দূর ওয়াদ দারাত ওয়াদ দিরাহ   (আল-হামাউই, ইয়াকুত)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


বই: আল-খাযল ওয়াদ দা'ল বাইনাদ দূর ওয়াদ দারাত ওয়াদ দিরাহ

লেখক: শিহাব উদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ ইয়াকুত বিন আব্দুল্লাহ আল-রুমি আল-হামাউই (মৃত্যু ৬২৬ হিজরি)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

قال أبو عبد الله: الدار والدارة والدير، هي جميعاً من: دار، يدور، دوْراً ودوراناً ودؤوراً، ودوُوراً. وذلك إذا طاف بالشيء، أو حوله، ثم عاد إلى موضع بدئه.

فأما الدار فاسم جامعٌ للعرصة والبناء والمحلة، وإنما سميت بذلك لكثرة دوران الناس فيها، واختلافهم، وترددهم خلالها.

وتطلق أيضاً على البلد، كقوله تعالى: (فأصبحوا في ديارهم جاثمين) ، أي في بلدهم.

و"الدار" اسم لمدينة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والدارً: القبيلة، وفي الحديث (ألا أنبئكم بخير دور الأنصار؟ دور بني النجار ثم دور بني الأشهل ثم دور بني الحارث، ثم دور بن الساعدة، وفي كل دور الأنصار خير) .

فالدور ههنا جمع دار، وهي القبيلة، والمراد أنها قبائل اجتمعت، كل في محله، فسميت المحلة داراً، وسمي بها ساكنوها على المجاز، بحذف المضاف، إذ الأصل أهل الدور وهو كقوله تعالى: (واسأل القرية) ، أي أهل القرية.

وفي الحديث: (ما بقيت دارٌ إلا بني فيها مسجدٌ) أي ما بقيت قبيلةٌ لأهلها مسدٌ يجتمعون للصلاة فيه.

وقد يقال للدار دارةٌ، لكن الدارة أخص من الدار، قال أمية:

له داعٍ بمكَة مشمَعِلٌ … وآخر خلف دارَ [ته ينادي]

والدار: صنمٌ سمي به بنو عبد الدار بن قصي ابن كلاب.

والدار: اسم رجلٍ من لحمٍ.

والدار مؤنثة، قيل: وقد تذكر، كقوله تعالى: (وتنعمَ دارُ المتقين) وذلك على معنى المثوى والموضع ولها جموعُ قلةٍ وكثيرٍ، فيقال في جمع القلة: أدؤر، وأدوُرٌ، بالهمز وبغيره، فإذا همزت، فالهمزة مبدلةٌ من واوٍ مضمومةٍ.

ويقال في جمع الكثير: دورٌ وديارٌ. قال ابن سيدة جمع الدار آدُرٌ على القلب، وديارةٌ ودياراتٌ وديرانٌ ودورٌ ودوْراتٌ.

وقال الأزهري: يقال: ديرٌ ودِيرةٌ وأديارٌ ودِيرانٌ ودارَةٌ، وداراتٌ، ودُورٌ، ودوْرانٌ، وأدْوارٌ، ودِوارٌ وأدورِةٌ، وديارةٌ.

وأما الدارة: فهي ما أحاط بالشيء، ومنه دارةُ القمرِ، وهي هالته التي حوله، ود دارة الرمل وما استدار منه.

والدارة أيضاً هي كل أرضٍ واسعةٍ بين جبالٍ.

قال الزمخشري: هي أرضٌ سهلةٌ تحيط بها جبال من جهاتها جميعاً. وكل موضعٍ يدار به بشيء يحجزه فهو دارةٌ كالدارات التي تتخذ في المباطخ ونحوها، وتُجعل فيها الخمر. وأنشد:

تلقى الإوزينَ في أكنافِ دارتها … فوضى، وبين يديها التبن منثور

قال أبو منصور، حكايةً عن الأصمعي: الدارةُ رملٌ مستدير، في وسطه فجوة، وثال: الدارة هي الجوبة الواسعة تحفها الجبال، وقال أبو حنيفة: إنها تعد من بطونِ الأرض المنبتة، وقيل: هي البُهرة إلا أن البُهرة لا تكون إلا سهلة، والدار تكون غليظةً وسهلةً.

وقيل: الدارة كل جوْبة [تنفتح] في الرمل. والدارة مونثة، وجمعها داراتٌ ودورٌ، قال الراجز: من الدَّبيل ناشطاً للدور وقال زهير:

ترَبصُ، فإن تُقو ِ المروراتُ منهم … ودارتُها، لا تقوِ منهم (إذاً تخلُ)

وأما الدير، فهو بيتٌ يتعبد فيه الرهبان، ولا يكاد يكون في البصر الأعظم. إنما يكون في الصحارى، ورؤوس الجبال. فإن كان في المِصر الأعظم كان كنيسة أو بيعةً.

وربما فرقوا بينهما، فجعلوا الكنيسة لليهود، والبيعة للنصارى.

قال الجوهري: "دير النصارى أصله وجمعه أديارٌ".

والديراني: صاحبه الذي ينسبُ إليه، وهو نسبٌ على غير قياسٍ.

وقال أبو منصور: "صاحبه الذي يسكنه ويعمُرُه ديراني وديارٌ".

وقال أيضاً: قال سلمة، عن الفرَّاء: يقال دارٌ وديارٌ ودُورٌ، وفي الجمع القليل: أدْوُرٌ وأدْؤرٌ وديرانٌ ويقال: آدُرٌ، على القلب. ويقال: ديرٌ ودِيرةٌ وأديارٌ وديرانٌ، ودارةٌ وداراتٌ وأديرةٌ وديرٌ ودُورٌ ودورانٌ وأدوارٌ ودِوارٌ وأدورَةٌ، هكذا على نسقٍ.

وهذا يشعر بأن الدير من اللغات في الدار، ولعله بعد تسمية الدار به خصص بالموضع الذي تسكنه الرهبان، فصار علماً عليه، والله تعالى أعلم بالصواب.

 

‌‌الباب الأول

قال أبو عبد الله: من الدور التي حاولت استقصاءها: 1 الدارُ: معرفةً غير مضافة: محالٌ كثيرة، منا: محلةٌ كانت بين البصرة والبحرين. قال ابن درَيدٍ في الملاحين: الدار منزلٌ بين البصرة والأحساء.
‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌ভূমিকা

আবু আবদুল্লাহ বলেন: 'আদ-দার', 'আদ-দারাহ' এবং 'আদ-দাইর'—এই সব শব্দই মূলত: দারা (ঘোরা), ইয়াদুরু, দাওরান ও দাওর ইত্যাদি ধাতু থেকে আগত। এর অর্থ হলো যখন কোনো কিছু কোনো বস্তুর চারপাশে ঘোরে অথবা তার চতুর্পার্শ্বে আবর্তন করে শেষে তার শুরুর স্থানে ফিরে আসে।

আর 'দার' শব্দটি হলো প্রাঙ্গণ, ভবন ও মহল্লার একটি সমষ্টিগত নাম। মানুষের সেখানে আধিক্যহারে যাতায়াত, বৈচিত্র্যময় চলাচল এবং আনাগোনার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।

এটি জনপদ বা দেশের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর তারা নিজ নিজ জনপদে উপুড় হয়ে পড়ে রইল), অর্থাৎ তাদের দেশে বা শহরে।

এবং 'আদ-দার' শব্দটি আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের একটি নাম।

'আদ-দার' অর্থ গোত্রও হয়। হাদীসে এসেছে: (আমি কি তোমাদের আনসারদের শ্রেষ্ঠ গোত্রসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? বনী নাজ্জারের গোত্রসমূহ, তারপর বনী আশহালের গোত্রসমূহ, তারপর বনী হারিসের গোত্রসমূহ, তারপর বনী সাঈদার গোত্রসমূহ; আর আনসারদের প্রতিটি গোত্রেই কল্যাণ রয়েছে)।

এখানে 'দাওর' শব্দটি 'দার'-এর বহুবচন, যার অর্থ গোত্র। এর উদ্দেশ্য হলো—এমন কিছু গোত্র যারা একত্রিত হয়েছে, প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে; ফলে সেই মহল্লাকে 'দার' বলা হয়েছে এবং সেখানে বসবাসকারীদেরও রূপকভাবে 'দার' নামে অভিহিত করা হয়েছে সমাসবদ্ধ পদের প্রথম অংশ বিলুপ্ত করে। কারণ এর মূল হলো 'আহলুদ দাওর' (মহল্লাবাসী)। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মতো: (গ্রামটিকে জিজ্ঞেস করো), অর্থাৎ গ্রামের অধিবাসীদের।

হাদীসে এসেছে: (এমন কোনো মহল্লা বা গোত্র বাকি নেই যেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়নি) অর্থাৎ এমন কোনো গোত্র বাকি নেই যাদের লোকদের সালাতের জন্য সমবেত হওয়ার মতো কোনো মসজিদ নেই।

কখনো 'দার' শব্দটিকে 'দারাহ'ও বলা হয়, তবে 'দারাহ' শব্দটি 'দার' অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট। উমাইয়াহ বলেন:

মক্কায় তার জন্য একজন ক্ষিপ্র আহ্বানকারী রয়েছে ... এবং অন্যজন তার আঙিনার পেছনে ডাকছে।

'আদ-দার' একটি মূর্তির নাম ছিল, যার নামানুসারে বনী আবদুদ্দর ইবনে কুসাই ইবনে কিলাবের নামকরণ করা হয়েছে।

'আদ-দার' হলো লাক্ষম গোত্রের জনৈক ব্যক্তির নাম।

'দার' শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ, তবে বলা হয়েছে যে এটি পুংলিঙ্গ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (মুত্তাকীদের আবাসস্থল কতই না চমৎকার), এটি আবাসস্থল বা স্থানের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর স্বল্পবাচক ও বহুবাচক বহুবচন রয়েছে। স্বল্পবাচক বহুবচনে বলা হয়: আদ-উর (হামযাসহ বা হামযা ছাড়া)। যখন হামযা ব্যবহৃত হয়, তখন সেই হামযাটি মূলত পেশযুক্ত ওয়াও এর পরিবর্তে আসে।

বহুবাচক বহুবচনে বলা হয়: দাওর এবং দিয়ার। ইবনে সীদাহ বলেন, 'দার'-এর বহুবচন অক্ষর পরিবর্তনের মাধ্যমে আদ-উর হয়, এছাড়াও দিয়ারাহ, দিয়ারাত, দাইরান, দাওর ও দাওরাত হয়।

আল-আযহারী বলেন: দাইর, দাইরা, আদইয়ার, দাইরান, দারাহ, দারাত, দাওর, দাওরান, আদওয়ার, দিওয়ার, আদওয়িরা এবং দিয়ারাহ বলা হয়।

আর 'দারাহ' হলো যা কোনো বস্তুকে পরিবেষ্টন করে থাকে। এর থেকেই এসেছে 'দারাতুল কামার' বা চন্দ্রবলয়, যা চাঁদের চারপাশে দেখা যায়। তেমনি বালুর গোলাকার অংশকেও 'দারাতুর রামল' বলা হয়।

এছাড়াও 'দারাহ' হলো পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত প্রতিটি প্রশস্ত ভূমি।

আয-যামাখশারী বলেন: এটি এমন এক সমতল ভূমি যা চারদিক থেকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা। আর এমন প্রতিটি স্থান যা কোনো কিছুর দ্বারা বেষ্টিত হয়ে কোনো কিছুকে আটকে রাখে তাকে 'দারাহ' বলা হয়, যেমন রান্নাঘর বা অনুরূপ জায়গায় তৈরি করা আঙিনা যেখানে মদ রাখা হতো। তিনি আবৃত্তি করেন:

তার আঙিনার এক কোণে রাজহাঁসগুলোকে বিশৃঙ্খল অবস্থায় পাওয়া যায়, আর তাদের সামনে খড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে।

আবু মানসুর আল-আসমাঈ থেকে বর্ণনা করে বলেন: 'দারাহ' হলো গোলাকার বালুকাভূমি যার মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থাকে। তিনি আরও বলেন: 'দারাহ' হলো প্রশস্ত গর্ত বা নিম্নভূমি যা পাহাড় দিয়ে ঘেরা। আবু হানিফা বলেন: এটি উর্বর নিচু ভূমির অন্তর্ভুক্ত। কেউ কেউ বলেন, এটি হলো 'বুহরাহ' (প্রশস্ত ময়দান), তবে বুহরাহ শুধু সমতল ভূমির ক্ষেত্রে হয়, আর 'দার' শক্ত এবং সমতল উভয়ই হতে পারে।

আরও বলা হয়: 'দারাহ' হলো বালুর মধ্যে তৈরি হওয়া প্রতিটি গর্ত। 'দারাহ' শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ এবং এর বহুবচন হলো দারাত ও দাওর। জনৈক রাজেয কবি বলেন: দাবীল থেকে দাওর-এর দিকে ধাবমান। কবি যুহাইর বলেন:

অপেক্ষা করো, যদি মরুভূমি তাদের থেকে শূন্য হয়ে যায় এবং তার আঙিনাও, তবে তারা ফিরে আসবে না (তখন তা নির্জন হয়ে পড়বে)।

আর 'দাইর' (মঠ) হলো এমন ঘর যেখানে সন্ন্যাসীরা ইবাদত করে। এটি সাধারণত বড় শহরে থাকে না; বরং মরুভূমি এবং পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হয়। যদি এটি বড় শহরে হয়, তবে তাকে গির্জা বা উপাসনালয় বলা হয়।

অনেক সময় এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা হয়; তারা 'কানিজাহ'কে ইহুদিদের জন্য এবং 'বিয়া'আহ'কে খ্রিস্টানদের জন্য নির্দিষ্ট করেন।

আল-জাওহারী বলেন: "খ্রিস্টানদের মঠের মূল এবং এর বহুবচন হলো আদইয়ার।"

'দাইরানী' হলো এর অধিবাসী যাকে এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এই সম্বন্ধটি ব্যাকরণগত নিয়মের ব্যতিক্রম।

আবু মানসুর আরও বলেন: "এর অধিবাসী এবং আবাদকারীকে দাইরানী ও দাইয়ার বলা হয়।"

তিনি আরও বলেন: সালামাহ আল-ফাররা থেকে বর্ণনা করেন: দার, দিয়ার ও দাওর বলা হয়। স্বল্পবাচক বহুবচনে আদ-উর এবং দাইরান বলা হয়। বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে আদ-উরও বলা হয়। একইভাবে দাইর, দাইরা, আদইয়ার, দাইরান, দারাহ, দারাত, আদইরা, দাইর, দাওর, দাওরান, আদওয়ার, দিওয়ার ও আদওয়িরা ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এর দ্বারা বোঝা যায় যে 'দাইর' শব্দটি 'দার'-এরই একটি রূপ। সম্ভবত 'দার' নামকরণ করার পর এটি সন্ন্যাসীদের বসবাসের স্থানের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং পরবর্তীতে এটি ওই স্থানের নাম হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই সঠিক জ্ঞান রাখেন।

 

‌প্রথম অধ্যায়

আবু আবদুল্লাহ বলেন: আমি যে 'দার'গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি তার মধ্যে রয়েছে: ১. 'আদ-দার': কোনো সম্বন্ধ ছাড়াই নির্দিষ্ট নাম হিসেবে অনেকগুলো এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে: বসরা ও বাহরাইনের মধ্যবর্তী একটি এলাকা। ইবন দুরাইদ 'আল-মালাহিন' গ্রন্থে বলেন: 'আদ-দার' হলো বসরা ও আল-আহসার মধ্যবর্তী একটি যাত্রাবিরতি স্থল।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
2 والدارُ اسمُ لمدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم وبذلك فسر قوله تعالى: (والذين تبؤوا الدار والإيمان من قبلهم يحبون من هاجر إليهم) .

3 ودارٌ: اسم محلةٍ ذكرت في شعر نهشل بن حري:

ونحن منعنا الحيَّ أن يتقسموا … بدارٍ، وقالوا: ما لِمن فرَّ مقعدُ

‌‌4 ودارٌ: موضعٌ معروفٌ بالبحرين، إليه يُنسب الداري العطار، وقيل: إنه داراً.

وأما دارٌ مضافة فكثير، وسنذكر ما استطعنا جمعه ومعرفته، وهي: 5 دارُ الأرقم: بمكة، وهي منسوبة إلى الأرقم ابن أبي الأرقم. أورد الطبري في (نسبٍ الصحابة) عن عثمان بن الأرقم أنه قال: (كنتُ ابن سبعٍ في الإسلام. أسلم أبي سابع سبعة، وكانت داره على الصفا، وهي الدار التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعو فيها أول العهد بالإسلام. فأسلم في تلك الدار خلقٌ كثيرون، ودعا فيها النبي صلى الله عليه وسلم. ليلة الاثنين، وقال: اللهم أعز الإسلام بأحب الرجلين إليك، عمر ابن الخطاب أو عمرو بن هشام، فجاء ابن الخطاب من الغد فأسلم في دار الأرقم، فخرج المسلمون منها وكبروا وطافوا بالبيت ظاهرين، وسميت بعد ذلك بدار الإسلام، وتصدق بها الأرقم على ولده وكتب بذلك: بسم الله الرحمن الرحيم. هذا ما قضى به الأرقم في داره التي عند الصفا، إنها صدقةٌ بمكانها من الجرم، لا تباع ولا تورث، شهد بذلك هشام بن العاص ومولاه.

قال: فلم تزل هذه الدار صدقةً، فيها ولده يسكنونها حتى زمن المنصور قال يحيى بن عمران بن عثمان بن الأرقم: إني لأعلم اليوم الذي وقعت فيه الدار في نفس أبي جعفر، فقد رأيته يسعى بين الصفا والمروة في بعض حجاته، وكنا نحن على ظهر الدار، فكان يمر من تحتنا، وهو ينظر إلينا من حين يهبط بطن الوادي حتى تصعد إلى الصفا.

فلما كان خروج محمد بن عبد الله بن الحسن عليه بالمدينة، كان عبد الله بن عثمان بن الأرقم. ممن بايعه، لكنه لم يخرج معه، فبعث المنصور بكتابٍ إلى عامله على المدينة ليحبس ابن الأرقم، ثم بعث برجلٍ كوفي يقال له شهابٌ، وكتب إلى عامل المدينة ليدخله عل ابن الأرقم وهو ابن ثلاث وثمانين سنة، فوجده متضجراً من سجنه فسأله: أتريد الخروج مما أنت فيه؟ قال: نعم. قال: تبيع دار الأرقم، فإن أمير المؤمنين يريدها لنفسه، قال: إنها صدقةٌ وحظي منها هبة لأمير المؤمنين، وإن معي شركاء، إخوةً وأبناء عمومة. قال: تخلَّ عن حظك منها تخرج مما أنت فيه، فوهبها له، وتتبع أقرباءه، وأغراهم فباعوه إياها فانتهت إلى المنصور، ومن بعده للمهدي ثم للخيزران أم موسى وهارون، ثم لجعفر بن موسى الهادي، ثم اشتراها غسان بن عبادة من أبناء جعفر بن موسى.

6 دار الاستخراج: قيل: هي دار العذاب التي كان الحجاج يعذب عماله فيها إن بدر منهم تقصير، أو ما يوجب العقوبة.

7 [دار البحر: وهي بالمنصورية، قال علي الإيادي يصفها ويمدح بانيها المعزَّ العبيدي:

ولما استطالً العزُّ واستولت البُنى … على النجمِ وامتدَّ الرواقُ المُزوَّقُ

بنَى قبةٌ للمُلكِ في قلب جنةٍ … لها منظرٌ يزهى به الطرفُ مونقٌ

بمعشوقةِ الساحاتِ أما عراصُها … فخضرٌ، وأما طيرُها فهي نطقُ

تحفُّ بقصرٍ ذي قصورٍ كأنما … ترى البحر في أرجائه وهو متأقُ

إذا بثَّ فيها الليل أشخاصَ نجمهِ … رأيتَ وجوهَ الزندِ بالنارِ تحرقُ]

8 [دار بشر: قال ابن الفقيه: هي بلدة قديمة، في غوطة دمشق، تقع شرق باب جيرون بخمسة أميال. مرَّ بها عدي ابن زيدٍ موفداً من كسرى إلى ملك الروم، فنزل بها، وقال يذكرها:

ربَّ دارٍ بأسفلِ الجزعِ من دُو … مة أشهى إليّ من جيرون

وندامى لا يفرحون بما نا … لوا، ولا يرهبون صرفَ المنونِ

قد سُقيتُ الشمولَ في دار بشرٍ … قهوةً مزَّةً بماءٍ سخينِ]

9 دار ابن دعان: بمكة؛ وهي دار عبد الله بن عمرو بن كعبٍ بن سعد بن [تيمٍ] بن مرة. وهي الدار التي شهد فيها سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم حلفَ الفضول مع عمومته.

10 دار أبي سفيان: تنسب إلى أبي سفيان بن حربٍ وهي بمكة، ويقال لها: دارُ ريطة، وفي الحديث: (من دخل دار أبي سفيان فهو آمنٌ) .

11 [دار بجالة: وكانت سجناً، وهي منسوبةٌ إلى بجالة ابن عبدة] .
২. 'আদ-দার' (গৃহ) হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের (মদিনার) একটি নাম। আর এভাবেই মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা করা হয়েছে: "এবং যারা তাদের (মুহাজিরদের) আসার পূর্বে এই গৃহ (মদিনা) ও ঈমানে আবাস গেড়েছে, তারা তাদের ভালোবাসে যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে।"

৩. 'দার': একটি মহল্লার নাম যা নাহশাল বিন হুররি-এর কবিতায় উল্লেখ করা হয়েছে:

এবং আমরা গোত্রকে বিভক্ত হতে বাধা দিয়েছি … দার-এ, এবং তারা বলেছিল: যে পালিয়ে যায় তার বসার কোনো জায়গা নেই।

৪. 'দার': বাহরাইনের একটি পরিচিত স্থান, যার সাথে আতর বিক্রেতা আদ-দারি-কে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, এবং বলা হয় এটি হলো 'দারা'।

আর যেসব ক্ষেত্রে 'দার' শব্দটি সংযুক্ত (ইজাফত) হয়ে ব্যবহৃত হয়েছে তা অনেক, আমরা যা সংগ্রহ ও জানতে পেরেছি তা উল্লেখ করব। সেগুলো হলো: ৫. দারুল আরকাম: মক্কায় অবস্থিত, এটি আরকাম ইবনে আবিল আরকামের নামে নামাঙ্কিত। তাবারী (নাসাবুস সাহাবা) গ্রন্থে উসমান বিন আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "ইসলামে আমার বয়স যখন সাত বছর ছিল তখন আমার পিতা সপ্তম ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ঘরটি ছিল সাফা পাহাড়ের ওপর, এটি সেই ঘর যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের শুরুর যুগে দাওয়াত দিতেন। সেই ঘরে অনেক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সোমবার রাতে দোয়া করেছিলেন এবং বলেছিলেন: হে আল্লাহ! উমর ইবনুল খাত্তাব অথবা আমর ইবনে হিশাম—এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যে তোমার কাছে অধিক প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করো। পরের দিন ইবনুল খাত্তাব এসে দারুল আরকামে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর মুসলমানরা সেখান থেকে বের হন এবং তাকবীর ধ্বনি দেন ও প্রকাশ্যে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন। এরপর থেকে একে 'দারুল ইসলাম' (ইসলামের গৃহ) বলা হতো। আরকাম এটি তার সন্তানদের জন্য সদকা হিসেবে দিয়েছিলেন এবং তা লিখে রেখেছিলেন: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটি সাফা পাহাড়ের পাশে অবস্থিত তার ঘরের ব্যাপারে আরকামের ফয়সালা, এটি তার অবস্থানের জায়গায় একটি সদকা, যা বিক্রি করা যাবে না এবং উত্তরাধিকারসূত্রেও পাওয়া যাবে না। হিশাম বিন আস এবং তার আযাদকৃত গোলাম এর সাক্ষী ছিলেন।

তিনি বলেন: এই ঘরটি সদকা হিসেবেই ছিল, সেখানে তার সন্তানরা মানসুরের সময় পর্যন্ত বসবাস করত। ইয়াহইয়া বিন ইমরান বিন উসমান বিন আরকাম বলেন: আমি সেই দিনটি সম্পর্কে জানি যখন আবু জাফরের (মানসুরের) মনে এই ঘরের প্রতি আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল। আমি তাকে তার কোনো এক হজ্জের সময় সাফা ও মারওয়ার মধ্যে দৌড়াতে দেখেছিলাম, তখন আমরা ঘরের ছাদের ওপর ছিলাম। তিনি আমাদের নিচ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং যখনই উপত্যকার মাঝখানে নামতেন তখনই সাফা পর্যন্ত ওঠার সময় আমাদের দিকে তাকাতেন।

যখন মদিনায় মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাসানের বিদ্রোহ হলো, তখন আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন আরকাম তার সাথে বাইয়াত গ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন, কিন্তু তিনি তার সাথে বের হননি। মানসুর মদিনার আমেলের কাছে ইবনুল আরকামকে বন্দি করার জন্য চিঠি পাঠালেন। এরপর শিহাব নামক এক কুফিবাসী ব্যক্তিকে পাঠালেন এবং মদিনার আমেলের কাছে চিঠি লিখলেন তাকে যেন ইবনুল আরকামের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তার বয়স ছিল তিরাশি বছর। শিহাব তাকে তার কারাবাসের কারণে অত্যন্ত বিচলিত অবস্থায় পেলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি এখান থেকে মুক্তি পেতে চান? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাহলে দারুল আরকাম বিক্রি করে দিন, কারণ আমিরুল মুমিনীন এটি নিজের জন্য চাচ্ছেন। তিনি বললেন: এটি তো সদকা, তবে আমার অংশটুকু আমিরুল মুমিনীনের জন্য উপহার হিসেবে থাকল। আর আমার সাথে আমার ভাই ও চাচাতো ভাইদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। তিনি বললেন: আপনি আপনার অংশটি ছেড়ে দিন তাহলে আপনি মুক্তি পাবেন। সুতরাং তিনি তা তাকে দান করে দিলেন। এরপর শিহাব তার আত্মীয়দের খুঁজে বের করে প্ররোচিত করলেন এবং তারা তা বিক্রি করে দিল। ফলে এটি মানসুরের মালিকানায় চলে যায়, এরপর মাহদী, তারপর মুসা ও হারুনের মা খায়জুরান, এরপর জাফর বিন মুসা আল-হাদীর মালিকানায় যায়। এরপর গাসসান বিন উবাদাহ এটি জাফর বিন মুসার সন্তানদের কাছ থেকে কিনে নেন।

৬. দারুল ইসতিখরাজ: বলা হয়, এটি ছিল শাস্তির গৃহ যেখানে হাজ্জাজ তার কর্মচারীদের শাস্তি দিতেন যদি তাদের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা বা শাস্তির যোগ্য কিছু প্রকাশ পেত।

৭. [দারুল বাহর: এটি মানসুরিয়াতে অবস্থিত। আলী আল-ইয়াদী এর বর্ণনা দিতে গিয়ে এবং এর নির্মাতা আল-মুইয আল-উবাইদী-র প্রশংসা করে বলেছেন:

যখন মর্যাদা বৃদ্ধি পেল এবং অট্টালিকাগুলো … নক্ষত্র পর্যন্ত পৌঁছে গেল এবং কারুকার্যমণ্ডিত বারান্দাগুলো প্রসারিত হলো

তিনি জান্নাতের হৃদয়ে রাজত্বের জন্য এক গম্বুজ তৈরি করলেন … যার এমন এক মনোরম দৃশ্য রয়েছে যা দেখে দৃষ্টি ধাঁধিয়ে যায়

এর প্রাঙ্গণগুলো অত্যন্ত মনমুগ্ধকর, এর চত্বরগুলো … সবুজ এবং এর পাখিরা যেন কথা বলে

এটি এমন এক প্রাসাদের চারপাশ ঘিরে আছে যার অনেকগুলো মহল রয়েছে … মনে হয় যেন আপনি এর প্রান্তে সমুদ্র দেখছেন যা কানায় কানায় পূর্ণ

যখন রাত সেখানে তারকারাজি ছড়িয়ে দেয় … তখন মনে হয় আগুনের শিখায় চেকমকি পাথরের মুখগুলো জ্বলছে]

৮. [দারু বিশর: ইবনুল ফাকিহ বলেছেন: এটি দামেস্কের গুতা অঞ্চলে একটি প্রাচীন শহর, যা জাইরুন দরজা থেকে পাঁচ মাইল পূর্বে অবস্থিত। আদি ইবনে যায়দ কিসরার পক্ষ থেকে রোম সম্রাটের কাছে দূত হিসেবে যাওয়ার পথে এখানে অবতরণ করেছিলেন এবং এর স্মরণে বলেছিলেন:

দুমার নিচু ঢালে অবস্থিত অনেক গৃহই … আমার কাছে জাইরুনের চেয়ে অধিক প্রিয়

সেখানে এমন সব সাথী রয়েছে যারা যা পায় তাতে … উল্লসিত হয় না এবং মৃত্যুর পরিবর্তনকে ভয় পায় না

আমাকে দারু বিশরে খাঁটি শরাব পান করানো হয়েছে … যা গরম পানি মিশ্রিত টক পানীয়]

৯. দারু ইবনে দুআন: মক্কায় অবস্থিত; এটি হলো আবদুল্লাহ বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন [তাইম] বিন মুররা-র ঘর। এটি সেই ঘর যেখানে আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচাদের সাথে হিলফুল ফুজুলে (শান্তিচুক্তি) উপস্থিত ছিলেন।

১০. দারু আবি সুফিয়ান: এটি আবু সুফিয়ান বিন হারবের সাথে সম্বন্ধযুক্ত এবং এটি মক্কায় অবস্থিত। একে 'দারু রাইতা'ও বলা হয়। হাদিসে এসেছে: (যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ)।

১১. [দারু বাজালাহ: এটি একটি কারাগার ছিল এবং এটি বাজালাহ ইবনে আবদাহ-র সাথে সম্বন্ধযুক্ত]।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
12 دار البطيخ: وهي محلةٌ ببغداد، كانت لبيع الفاكهة قال الهيثم: كانت قبل أن تنقل إلى الكرخ، في درب يعرفُ بدربِ الأساكفة، وإلى جانبها دربٌ يعرفُ بدرب الخير، ثم نقلت من هذا المكان إلى موضعها بالكرخ أيام المهدي قال البصيري يذكرها:

أنتَ ابنُ كلِّ البرايا، لكنِ اقتصروا … على اسم حمزةَ وصفاً غير تشميخِ

كدارٍ بطيخَ تحوي كل فاكهة … وما اسمها الدهر إلا دارُ بطيخ

13 دار البقر: وهما قريتان بمصر، يقال للأولى: دار البقرِ القبلية، وللثانية، دار البقرِ البحرية] .

14 دار البنود: كانت داراً للسلاح، بمصر، اتخذها علويو مصر سجناً لمن يراد قتله، حبسَ فيها التهامي فقال يذكرها:

طرقَتْ خيالاً بعدَ طولِ صدودها … وفرتْ إليه السجنَ ليلةَ عيدها

أنّى اهتدت؟ ولا التيهُ منشاها ولا … سفحُ المقطمِ من مجرِّ برودها

أسرتْ إليهمن وراء تهامةٍ … وجفاهُ داني الدارِ، غيرُ بعيدها

مستوطناً دارَ البنود، وقلبُه … للرعبِ يخفقُ مثلَ خفقِ بُنودها

دارٌ تحطُّ بها المنون سنانُها … فتروحُ والمهجاتُ جلُّ صيودِها

15 دار بني بياضة: من دور المدينة، ولها ذكرٌ عند أهل السير.

16 دار بني عبد مناف: كانت بمكة، قبالة المسجد الحرام، عند باب بني شيبة.

17 دار بني جحجبى: وهي من دور المدينة.

18 دار بني جحشٍ: من دور مكة بالردم.

19 [دار بني ساعدة: من دور المدينة، ذكرها أهل السير] .

20 [دار بني سلمة: من دور المدينة أيضاً] .

21 [دار بني مالك: من دور المدينة أيضاً، وعندها بركت ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم دخوله المدينة مهاجراً] .

22 دار بني النضير: رأيتها في شعر عروة بن الورد ولا أعلم عنها شيئاً. قال:

وأحدثُ معهداً من أمٍّ وهبٍ … معرّسنُا بدارِ بني نضير

23 الدار البيضاء: كانت بأعلى مكة، وهي دار محمد بن يوسف الثقفي، بقرب بئر الطوي.

24 [والدار البيضاء أيضاً بالبصرة: ابتناها عبيد الله بن زياد بن أبيه: واعتنى ببنائها وجملها بالتصاوير، فلما فرغ منها البناؤون، أمر رجاله ألا يمنعوا أحداً من دخولها وأن يأتوه بمن تكلم بشيء عليها، فدخل إليها أعرابي بصحبة بصري، فلما شاهدا التصاوير، قال الأعرابي: لا ينتفع صاحب هذه الدار بها إلا قليلاً] .

وقال البصري: بقاؤه فيها مستحيل، ولبثُهُ [بيننا] غير طويل. فجيء بهما إلى عبيد الله، وأخبر بأمرهما وما قالاه. فقال [للأعرابي] : لم قلت ما قلت؟ فقال: لأني رأيت فيها أسداً كالحاً، وكلباً نابحاً، وكبشاً ناطحاً.

قال للبصري: وأنت، لم قلت ما قلت؟ فارتعد خوفاً وقال: لا أدري أيها الأمير، أهو مني للأعرابي احتذاء، أم أنه حمقٌ وبذاء. فأمر بإخراجهما [جراً] على البطون، ولكن كان الأمر كما قالا، فلم يسكن هذه الدار إلا قليلاً، حتى أخرجه أهل البصرة، فانطلق إلى الشام ولم يعد بعد ذلك إليها.

وفي خبرٍ ذكره الخالدي أن عبيد الله لما بنى الدار البيضاء، أمر رجاله أن يأتوه بمن يقول فيها شيئاً، فجاؤوه برجل قرأ قوله تعالى وهو ينظر إلى الدار: "أتبنون بكل ريعٍ آيةً تعبثون. وتتخذون مصانع لعلكم تخلدون" فسأله: ما الذي دعاك إلى ما قلت؟ فقال: آيةٌ عرضت لي، فقال: لأعملنَّ بالآية الثالثة ثم أمر أن يُبنى عليه ركنٌ من أركان الدار] .
১২ দারুল বাত্তীখ: এটি বাগদাদের একটি এলাকা, যেখানে ফলমূল কেনাবেচা হতো। হাইসাম বলেন: এটি কারখে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে দারবুল আসাকিফা নামে পরিচিত একটি গলিতে ছিল, যার পাশে দারবুল খায়ের নামক একটি গলি ছিল। এরপর আল-মাহদীর শাসনামলে এই স্থান থেকে কারখে তার বর্তমান অবস্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। আল-বাসীরি এটি উল্লেখ করে বলেন:

আপনি সকল সৃষ্টির সন্তান, কিন্তু তারা সংকুচিত হয়েছে … দর্পহীন হামযা নামের বর্ণনায়।

এটি দারুল বাত্তীখের মতো যা সব ফল ধারণ করে … আর অনন্তকাল ধরে এর নাম কেবল দারুল বাত্তীখই।

১৩ দারুল বাকার: এগুলো মিশরের দুটি গ্রাম, প্রথমটিকে বলা হয় দক্ষিণ দারুল বাকার এবং দ্বিতীয়টিকে উত্তর দারুল বাকার।

১৪ দারুল বুনুদ: এটি মিশরের একটি অস্ত্রাগার ছিল। মিশরের আলবীয়রা যাকে হত্যা করতে চাইত তাকে বন্দী করার জন্য একে জেলখানা হিসেবে ব্যবহার করত। আত-তিহামী সেখানে কারারুদ্ধ হয়ে এটি উল্লেখ করে বলেছিলেন:

দীর্ঘ বিমুখতার পর এক কল্পনা তার কাছে এলো … আর ঈদের রাতে তার কাছে কারাগারে ছুটে এলো।

সে কীভাবে পথ চিনল? অথচ বিভ্রান্তি তার উৎপত্তিস্থল নয় … আর মুকাত্তাম পাহাড়ের পাদদেশ তার আঁচল টেনে নেয়ার জায়গা নয়।

সে তিহামার পেছন থেকে তার কাছে ছুটে এসেছে … আর নিকটবর্তী ঘরের বাসিন্দারা তাকে ত্যাগ করেছে, যারা দূরে ছিল না।

সে দারুল বুনুদে বসবাস করছে, আর তার হৃদয় … আতঙ্কে কাঁপছে যেমন কাঁপে পতাকা।

এটি এমন এক ঘর যেখানে মৃত্যু তার বর্শা নামিয়ে রাখে … ফলে প্রাণগুলো তার প্রধান শিকারে পরিণত হয়।

১৫ দারু বনী বায়াদা: মদীনার একটি ঘর, সীরাত লেখকদের কাছে এর উল্লেখ রয়েছে।

১৬ দারু বনী আবদে মানাফ: এটি মক্কায় মসজিদে হারামের সামনে বনু শাইবা দরজার কাছে অবস্থিত ছিল।

১৭ দারু বনী জাহজাবা: এটি মদীনার একটি ঘর।

১৮ দারু বনী জাহশ: মক্কার রাদমে অবস্থিত একটি ঘর।

১৯ [দারু বনী সায়িদা: মদীনার একটি ঘর, সীরাত লেখকরা এটি উল্লেখ করেছেন]।

২০ [দারু বনী সালামা: এটিও মদীনার একটি ঘর]।

২১ [দারু বনী মালিক: এটিও মদীনার একটি ঘর, এর কাছেই হিজরত করে মদীনায় প্রবেশের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উষ্ট্রী বসেছিল]।

২২ দারু বনী নাযীর: উরওয়া ইবনে আল-ওয়ারদের কবিতায় আমি এটি দেখেছি কিন্তু এ সম্পর্কে আর কিছু জানি না। তিনি বলেন:

আর আমি উম্মে ওয়াহাবের এক স্মৃতিচিহ্ন পুনরুজ্জীবিত করি … বনু নাযীরের ঘরে আমাদের যাত্রাবিরতির স্থানে।

২৩ আদ-দারুল বায়দা: এটি মক্কার উঁচু অংশে অবস্থিত ছিল, এটি বীর তুয়ির কাছে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফীর ঘর।

২৪ [আদ-দারুল বায়দা বসরারও একটি স্থান: উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ ইবনে আবিহ এটি নির্মাণ করেছিলেন। তিনি এটি নির্মাণে অনেক যত্ন নিয়েছিলেন এবং ছবি দিয়ে সজ্জিত করেছিলেন। যখন রাজমিস্ত্রিরা কাজ শেষ করল, তখন তিনি তার লোকদের নির্দেশ দিলেন যেন কেউ সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বাধা না দেওয়া হয় এবং যদি কেউ এর ওপর বিরূপ মন্তব্য করে তবে তাকে যেন তার কাছে আনা হয়। জনৈক বেদুইন এক বসরী লোকের সাথে সেখানে প্রবেশ করল। যখন তারা ছবিগুলো দেখল, তখন বেদুইন বলল: এই ঘরের মালিক এর দ্বারা খুব সামান্যই উপকৃত হবে]।

আর বসরী লোকটি বলল: এতে তার অবস্থান করা অসম্ভব এবং আমাদের মাঝে তার অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তখন তাদের উভয়কে উবায়দুল্লাহর কাছে আনা হলো এবং তারা যা বলেছিল তা তাকে জানানো হলো। তিনি বেদুইনকে বললেন: তুমি কেন এমন কথা বললে? সে বলল: কারণ আমি এতে একটি রাগান্বিত সিংহ, একটি ঘেউ ঘেউ করা কুকুর এবং একটি গুঁতো দেয়া মেষ দেখেছি।

তিনি বসরী লোকটিকে বললেন: আর তুমি কেন এমন বললে? সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল: হে আমীর, আমি জানি না, আমি কি বেদুইনের অনুকরণ করেছি নাকি এটা আমার নির্বুদ্ধিতা ও ধৃষ্টতা ছিল। তখন তিনি তাদের পেট টেনে হেঁচড়ে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু ফলাফল তেমনই হয়েছিল যেমনটি তারা বলেছিল। সে এই ঘরে খুব অল্প সময় বসবাস করতে পেরেছিল, শেষ পর্যন্ত বসরার লোকেরা তাকে বের করে দিল। এরপর সে সিরিয়ার দিকে চলে যায় এবং এরপর আর কখনো সেখানে ফিরে আসেনি।

আর আল-খালিদী বর্ণিত একটি সংবাদে এসেছে যে, উবায়দুল্লাহ যখন আদ-দারুল বায়দা নির্মাণ করেন, তখন তিনি তার লোকদের আদেশ দিলেন যে ব্যক্তি এই ঘর সম্পর্কে কিছু বলবে তাকে যেন তার কাছে আনা হয়। তারা এক ব্যক্তিকে নিয়ে এল যে ঘরটির দিকে তাকিয়ে আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করছিল: "তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছ? এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?" তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাকে এই কথা বলতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? সে বলল: এটি একটি আয়াত যা আমার সামনে উদ্ভাসিত হয়েছে। তিনি বললেন: তবে আমি অবশ্যই তৃতীয় আয়াতের ওপর আমল করব। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তাকে ঘরের একটি স্তম্ভের মধ্যে গেঁথে দেয়া হয়]।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌25 دار التاج: كانت جليلة القدر، مشهورة واسعة، وهي ببغداد، على الجانب الشقي من دجلة. وضعأساسها المعتضد، وسماها باسمها، ولم تتم في خلافته، فأتمها ابنه المكتفي. وكان أول ما وضع من البناء في الجانب الشرقي قصر جعفر البرمكي وكان معروفاً بالشرب والتهتك مما أهم أباه كثيراً، فنهاه عما هو فيه، فلم يجد معه شيء، فطلب منه أن يتخذ لنفسه قصراً نائياً على الجانب الشرقي، ليكون مع ندمانه وقيانه بعيداً عن العيون. فبنى جعفر لنفسه قصراً عظيماً هناك فلما قارب فراغه، سار إليه في أصحابه وفيهم مويس بن عمران فطاف به فاستحسنه، وسمع ما قاله أصحابهُ فيه من تقريظ، ومويسٌ لا يتكلم. فقال له: مابك؟ قال: حسبي الذي قالوه. فأدرك جعفر ما يريده مويسٌ، فقال له: أقسمتَ عليك لتقولن. فقال: إذا مررت بدارِ صاحب لك، ورأيتها خيراً من دارك فما أنت صانعٌ؟ قال: حسبك يا مويس! فما الرأي إذاً.

قال: اغدُ على أمير المؤمنين، فإنْ سألك عن سبب تأخيرك عنه، فقلْ: كنت في قصرٍ بنيته لمولاي المأمون فدخل جعفر على الرشيد فسأله: ما أخرك عنا؛؟ قال: كنت في الجانب الشرقي في قصرٍ بنيته لمولاي المأمون هناك. وله مكانةٌ عظيمةٌ عندي، فقد جعل في حجري قبل حجرك، واستخدمني أبي له، فرغبت في أن أتخذ هذا القصر له، في تلك الناحية، ليصحَّ مزاجه، ويصفو ذهنه، في موضع طاب هواؤه، وعذب ماؤه.

فقال: والله لا سكنه أحدٌ سواك. فظلَّ جعفر يتردد إليه إلى أن أوقع الرشيد بآل برمك.

 

‌‌وكان القصر يعرف إلى ذلك الوقت بقصر جعفر، ثم انتقل إليه المأمون، وأضاف إليه جملةً من البرية حوله وجعلها ميداناً لركض الخيل واللعب بالصوالجة، ثم فتح له، باباً شرقياً، وأجرى فيه نهراً ساقه من نهر المعلى وابتنى إلى جواره منازل لأصحابه، سميت من بعد بالمأمونية ثم أنزل في القصر الفضل والحسن ابني سهلٍ، ثم لما طلبه الحسن وهبه له، فعرف بالقصر الحسني مدة، ثم آل أمره إلى بوران بنت الحسن، بعد موت أبيها [استنزلها] المعتمد عنه وعوضها منه، فجددته وأحسنت فرشه، ثم أخبرت الخليفة باعتماد أمره، فأتاه فرح في نفسه، ونزل فيه بقية عمره.

ثم آل أمره إلى المعتضد من بعده، فوسعه، وأدار سوراً من حوله، ثم ابتدئ ببناء التاج، فجمع الرجال ليحفر الأساسات، ثم اتفق خروجه إلى آمد، فلما آب رأى الدخان منه [وابتنى] تحت القصر آزاجاً من القصر إلى الثريا تمشي فيها الحُرم والجواري والسراري. وما زال باقياً إلى الغرق الأول الذي حدث ببغداد، فغفا أثره.

ومات المعتضد بالله في سنة تسع وثمانين ومائتين، وتولى بعده ابنه المكتفي بالله، فأتمَّ عمارة التاج.

 

‌‌أما صفة التاج، فكان وجهه [مبنياً] على خمسة عقود، كل عقد على عشرة أساطين. وفي أيام المقتفي وقعت صاعقةٌ سنة تسع وأربعين وخمسمائة، فتأججت النار فيه وفي القبة والدار التي كانت القبة أحد مرافقها، وبقيت النار تسعة أيام ثم أطفئت، ثم جدد المقتفي بناءه، ثم [تركه فأتمه] من بعده المستضيء، وهو يعرف إلى اليوم بدار التاج.

26 دار ثمود: بالحجر وكانت محلة لقوم صالح. وفي الحديث: (لما مرَّ بالحجر، دار ثمود، قال لأصحابه: لا تدخلوا مساكن الذين ظلموا أنفسهم إلا أن تكونوا باكين) .

27 دار جين: اسم موضع. ذكره العمراني. وفيه نظر.

28 دار الحكيم: وهي محلةٌ مشهورةٌ من محال الكوفة، تنسب إلى الحكيم بن سعد بن ثورٍ البكائي، من بني البكاء بن عامر بن صعصعة.

29 دار الحمام: بمكة، على يسار المصعد من المسجد إلى ردم عمر. بناها معاوية بن أبي سفيان.

30 دار خالصة: بمكة، وهي من دورها القديمة، تنسب إلى خالصة مولاة الخيزران.

31 دار الخيزران: بمكة. بنتها الخيزران، جارية المهدي وزوجه.

32 دار الحيل: وهي من دور الخلافة العظيمة ببغداد. كانت عظيمة الأرجاء، عالية البناء، فيها صحن عظيمٌ، ذرعه أكثر من ألف ذراع في أكثر من ألف ذراعٍ. وكان يوقف فيها في الأعياد، وعند ورود الرسل من كل أنحاء البلاد.

وفي كل جانب منها خمسمائة فرسٍ بمراكب الذهب والفضة كل فرس منها على يد شاكري.

33 دار دينار: وهما محلتان من محالٌ بغداد، يقال [لإحداهما] دار دينارٍ الكبرى.

34 وللأخرى دار دينار الصغرى.
‌‌২৫. দারুত তাজ: এটি ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সুবিখ্যাত এক বিশাল প্রাসাদ। এটি বাগদাদে দজলা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। আল-মু’তাদিদ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং নিজেই এর নামকরণ করেন। তবে তার খেলাফতকালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি, তার পুত্র আল-মুকতাফি এটি সম্পন্ন করেন। পূর্ব তীরে সর্বপ্রথম যে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল তা ছিল জাফর আল-বারমাকির প্রাসাদ। জাফর পানাহার ও বিলাসিতায় মত্ত থাকার জন্য পরিচিত ছিল, যা তার পিতাকে অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল। পিতা তাকে এই পথ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেও কোনো ফল হয়নি। অবশেষে তিনি তাকে পূর্ব তীরে একটি নির্জন স্থানে নিজের জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করতে বললেন, যাতে সে তার সঙ্গী ও গায়িকাদের নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে পারে। জাফর সেখানে নিজের জন্য এক বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। যখন নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে, তখন তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে সেখানে গেলেন, যাদের মধ্যে মুওয়াইস ইবনে ইমরানও ছিলেন। জাফর প্রাসাদটি ঘুরে দেখে আনন্দিত হলেন এবং সঙ্গীদের মুখে এর ভূয়সী প্রশংসা শুনলেন, কিন্তু মুওয়াইস চুপ ছিলেন। জাফর তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন: তারা যা বলেছে তা-ই আমার জন্য যথেষ্ট। জাফর তার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বললেন: আমি তোমাকে কসম দিচ্ছি, তোমাকে বলতেই হবে। তিনি বললেন: আপনি যখন আপনার কোনো বন্ধুর বাড়ির পাশ দিয়ে যান এবং দেখেন যে তা আপনার বাড়ির চেয়েও সুন্দর, তখন আপনি কী করেন? জাফর বললেন: যথেষ্ট হয়েছে মুওয়াইস! এখন আপনার পরামর্শ কী?

তিনি বললেন: কাল সকালেই আমিরুল মুমিনিনের কাছে যান। যদি তিনি আপনার বিলম্বে আসার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তবে বলুন: আমি আমার মওলা আল-মামুনের জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করছিলাম। জাফর তখন হারুনুর রশিদের দরবারে গেলেন। রশিদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আমাদের কাছে আসতে তোমার দেরি হলো কেন? তিনি বললেন: আমি পূর্ব তীরে ছিলাম, সেখানে আমার মওলা আল-মামুনের জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেছি। আমার কাছে তার মর্যাদা অনেক বেশি, আপনার কোলে আসার আগে সে আমার কোলে লালিত-পালিত হয়েছে। আমার পিতা আমাকে তার সেবার জন্য নিয়োজিত করেছিলেন। তাই আমি ওই এলাকায় তার জন্য এই প্রাসাদটি তৈরি করতে চেয়েছি, যাতে নির্মল হাওয়া এবং মিষ্টি পানির এই স্থানে তার শরীর ও মন ভালো থাকে।

রশিদ বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি ছাড়া আর কেউ সেখানে থাকবে না। হারুনুর রশিদ বারমাকি বংশের পতন ঘটানো পর্যন্ত জাফর সেখানে যাতায়াত করতেন।

 

‌‌ততদিন পর্যন্ত প্রাসাদটি জাফরের প্রাসাদ নামেই পরিচিত ছিল। এরপর আল-মামুন সেখানে স্থানান্তরিত হন এবং এর আশেপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা যুক্ত করে ঘোড়দৌড় ও পোলো খেলার ময়দান তৈরি করেন। তারপর তিনি এর জন্য একটি পূর্বমুখী দরজা খোলেন এবং নাহরে মুআল্লা থেকে একটি খাল প্রবাহিত করেন। এর পাশে তিনি তার সঙ্গীদের জন্য আবাসন তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে আল-মামুনিয়্যাহ নামে পরিচিত হয়। এরপর তিনি এই প্রাসাদে ফজল ও হাসান ইবনে সাহলকে থাকতে দেন। পরে হাসান যখন এটি চাইলেন, তখন তিনি তাকে এটি দান করে দেন। দীর্ঘকাল এটি আল-হাসানি প্রাসাদ নামে পরিচিত ছিল। হাসানের মৃত্যুর পর তার কন্যা বুরান এর মালিক হন। পরবর্তীতে আল-মু’তামিদ তাকে এর পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে বিনিময় করে নেন। তিনি এটি সংস্কার করেন এবং সুন্দরভাবে সজ্জিত করেন। খলিফাকে এর প্রস্তুতির কথা জানানো হলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং জীবনের বাকি সময় সেখানেই অতিবাহিত করেন।

এরপর এটি আল-মু’তাদিদের অধিকারে আসে। তিনি এটি সম্প্রসারিত করেন এবং চারদিকে প্রাচীর তৈরি করেন। এরপর ‘তাজ’ প্রাসাদের নির্মাণ শুরু হয় এবং ভিত্তিখননের জন্য লোক জড়ো করা হয়। সেই সময় তিনি আমাদ অভিমুখে যাত্রা করেন। ফিরে আসার পর তিনি সেখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন। তিনি প্রাসাদের নিচে সুড়ঙ্গপথ তৈরি করেন যা প্রাসাদ থেকে সুরাইয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যেখানে বেগম ও দাসীরা চলাফেরা করত। বাগদাদে সংঘটিত প্রথম মহাপ্লাবন পর্যন্ত এটি টিকে ছিল, তারপর এর চিহ্ন বিলীন হয়ে যায়।

আল-মু’তাদিদ বিল্লাহ ২৮৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তার পর তার পুত্র আল-মুকতাফি বিল্লাহ ক্ষমতা লাভ করে তাজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন।

 

‌‌তাজ প্রাসাদের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়, এর সম্মুখভাগ পাঁচটি খিলানের ওপর নির্মিত ছিল এবং প্রতিটি খিলান দশটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। আল-মুকতাফির সময়ে ৫৪৯ হিজরিতে সেখানে বজ্রপাত ঘটে, ফলে প্রাসাদ, এর গম্বুজ এবং সংলগ্ন ঘরগুলোতে আগুন ধরে যায়। নয় দিন পর্যন্ত সেই আগুন জ্বলছিল, তারপর তা নেভানো হয়। এরপর আল-মুকতাফি এটি পুনরায় নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে আল-মুস্তাদি এটি সম্পন্ন করেন। আজ পর্যন্ত এটি দারুত তাজ নামেই পরিচিত।

২৬. দারু সামুদ: এটি হিজর নামক স্থানে অবস্থিত এবং সালিহ আলাইহিস সালামের জাতির বসতি ছিল। হাদিসে এসেছে: ‘যখন তিনি হিজর অর্থাৎ সামুদ জাতির এলাকা অতিক্রম করছিলেন, তখন সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বললেন: তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতীত নিজেদের প্রতি অবিচারকারীদের আবাসস্থলে প্রবেশ করো না।’

২৭. দারু জাইন: এটি একটি স্থানের নাম। উমরানি এর উল্লেখ করেছেন। তবে এ ব্যাপারে দ্বিমত আছে।

২৮. দারুল হাকিম: এটি কুফার একটি বিখ্যাত এলাকা। এটি বনু বাক্কা ইবনে আমির ইবনে সা’সাআ গোত্রের হাকিম ইবনে সা’দ ইবনে সাওর আল-বাক্কায়ির নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।

২৯. দারুল হাম্মাম: এটি মক্কায় অবস্থিত, মসজিদ থেকে রদম উমরের দিকে ওঠার পথে বাম দিকে। মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এটি নির্মাণ করেছিলেন।

৩০. দারু খালিসাহ: এটি মক্কার অন্যতম প্রাচীন ঘর। এটি খায়জুরানের দাসী খালিসাহর নামানুসারে রাখা হয়েছে।

৩১. দারু খায়জুরান: এটি মক্কায় অবস্থিত। খলিফা আল-মাহদির দাসী ও স্ত্রী খায়জুরান এটি নির্মাণ করেছিলেন।

৩২. দারুল খাইলা: এটি বাগদাদের অন্যতম বিশাল খেলাফত প্রাসাদ ছিল। এটি অত্যন্ত প্রশস্ত এবং সুউচ্চ ভবন ছিল। এতে একটি বিশাল চত্বর ছিল, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ছিল এক হাজার হাতেরও বেশি। দুই ঈদে এবং দেশ-দেশান্তর থেকে দূতরা এলে এখানে জমায়েত হওয়া হতো।

এর প্রতিটি পাশে স্বর্ণ ও রৌপ্যের সাজে সজ্জিত পাঁচশ করে ঘোড়া থাকত এবং প্রতিটি ঘোড়া একজন করে খাদেমের তত্ত্বাবধানে থাকত।

৩৩. দারু দিনার: এই নামে বাগদাদে দুটি এলাকা আছে। একটিকে বলা হয় বড় দারু দিনার।

৩৪. এবং অপরটি ছোট দারু দিনার।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
وكانتا في الجانب الشرقي قرب سوق الثلاثاء، [وهما منسوبتان] إلى دينار بن عبد الله أحد موالي الرشيد، وهو الذي عاضد الحسن بن سهل في حروب فتنة إبراهيم بن المهدي قال الألوسي يذكر دار دينارٍ:

نهرُ المُعلّى لشاطي دارِ دينارِ … مجامعُ العيس أوطاني وأوطاري

حيثُ الصبا ناعمٌ، والدار دانيةٌ … والدهرُ يأتي على وقفي وإيثاري

والليل بين الدمى والغيد محتضرٌ … قصيرُ ما بينَ روحاتي وإبكاري

وقد تطاول حتى ما تخيلَ لي … أنَّ الزمانَ لياليه بأسحاري

وكان دينار المولى أجل قائد في أيام المأمون، ثم سخط عليه، وله أخٌ يسمى يحيى بن عبد الله قال دعبل يهموهما:

مازال عصياننا لله يرذلُنا … حتى دفعنا إلى يحيى بن دينارٍ

إلى عليجين لم تقطع ثمارهما … قد طالَ ما سجدا للشمس والنارِ

وقال يهجوهما، ويهجو الحسنَ بن رجاءٍ، وابني هشامٍ، أحمد وعليا، وكانوا ينزلون المحرم ببغداد:

ألا فاشتروا مني ملوكَ المخرَّمِ … أبيعْ حسناً وابني [رجاءٍ] بدرهم

وأعطِ [رجاءً] فوق ذاك زيادة … واسمح بدينارٍ بغير تندمٍ

فإن ردَّ من عيبٍ عليَّ جميعهم … فليس يرد العيب يحيى بن أكثم

35 [دار الرزبن: من نواحي سجستان، وقيل: من نواحي كرمان. والله أعلم بالصواب] .

36 [الدار الرقطاء: بمكة، كانت مسكناً لسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم.

وتُعرف بدار خديجة أيضاً، لأنه ابتنى بها في تلك الدار ولم يزل يسكنها إلى يوم هجرته صلى الله عليه وسلم، فأخذها عقيل ابن أبي طالب، ثم اشتراها معاوية في خلافته لتكون مسجداً له] .

37 دار الرقيق: وهي محلةٌ كانت ببغداد، متصلة بالحريم [الطاهري] من الجانب الغربي، ويقال لها شارع دار الرقيق أيضاً. قال: بعضهم من أبيات كتبها على حصن أبي جعفر المنصور:

إني بليتُ بظبيٍ … من الظباء رشيقِ

رأيته يتسنى … بقرب دار الرقيق

فقال لي: مولاي زُرني … فقد شرقت بريقي

فقال لي رمت أمراً … أعلى من العيوق

ودار الرقيق ما تزال باقية إلى الآن، وفيها يقول التميمي:

شارع دار الرقيق أرَّقني … فليت دار الرقيق لم تكن

به فتاةٌ للقلب فاتنةٌ … أنا فداءٌ لوجهها الحسنِ

38 [دار الروم: محلةٌ من محال بغداد، بجانبها الشرقي يقطنها جماعةٌ من الروم أنزلوا بها، ولهم فيها بيعتان] .

39 دار [الريحانيين] : من دور الخلافة ببغداد. بعد نقضه تشرف على سوق الرياحين. أستجدها المستظهر بالله بعد نقضه لدار خاتون التي بباب الغربة، ودار السيدة بنت المقتدي وكان بالريحانيين سوق للسفطيين، فأخربها، وأضافها إلى الدار، وفيها اثنان وعشرون دكاناً.

 

‌‌وهناك خان معروف بخان العاصم، ومن ورائه ثلاثة وعشرون دكاناً، وسوقٌ للعطارين فيها خمسة وأربعون دكاناً، وستة عشر، دكاناً فيها مداد الذهب، وعدة آدُر من دار الحرم، وقد عمل الجميع داراً ذات أربعة وجوه، بعضها يقابل بعضاً.

أما سعة صحنها فستمائة ذراعٍ، وكان في وسطها بستانٌ، وفيها أكثر من ستين حجرة، تنتهي إلى الباب المعروف بدرْكاه خاتون، من باب الحُرمِ، قرب باب النوبي.

وكان البدء بعملها في سنة ثلاث وخمسمائة، وفرغ منها بعد أربع سنين وفيها يقول سبطً:

تهنَّ بها أشرفَ الأرض داراً … جمعتَ العلاء بها والفخارا

تتيسه على البدر، بدر السماء … بساكنيها شرفاً وافتخارا

وأضحت حمى ملك لا يجار … عليه، وبحر ندى لا يُجارى

40 دار رائعة: بالعين مهملة، محلةٌ بمكة، فيها مدفن آمنة بنت وهب، أم سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقيل: مدفنها بالأبواء بين مكة والمدينة، وقيل: بمكة، في شعب أبي دب. والله تعالى أعلم بالصواب.

41 دار رائغة: بالغين معجمةً، محلةٌ من محال مكة، تنسب إلى امرأةٍ من أهلها، يقال لها رائغةٌ ذكرها أبو نصرٍ الساجي.

42 [دار زنْج: محلة في بعض قرى الصغانيان، ينسب إليها أبو شعيب صالح بن منصور الجراح الدار زنجي الصغاني مات سنة ثلاثمائة، روى عن قتيبة بن سعيد، وروى عنه عبيد الله بن محمد بن يعقوب البخاري] .
এগুলো ছিল পূর্বাঞ্চলে সুকুত সুলাসার (মঙ্গলবার বাজার) নিকটে, এবং এই দুটি দিরহাম রশীদের অন্যতম মুক্তদাস দিনার ইবনে আব্দুল্লাহর সাথে সম্পর্কিত। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি ইব্রাহিম ইবনুল মাহদীর ফিতনার যুদ্ধে হাসান ইবনে সাহলকে সহায়তা করেছিলেন। আল-আলুসী দার দিনার সম্পর্কে বলেন:

নাহরুল মুআল্লা থেকে দার দিনারের তীর পর্যন্ত... উটের সমাবেশই আমার আবাস ও আমার গন্তব্য।

যেখানে যৌবন ছিল সজীব এবং ঘর ছিল নিকটে... আর কাল আমার বিরতি ও পছন্দের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়।

পুতুল সদৃশ সুন্দরী ও লাবণ্যময়ীদের মাঝে রাত উপস্থিত... আমার আসা ও যাওয়ার মধ্যকার সময়টি অতি সংক্ষিপ্ত।

এটি দীর্ঘায়িত হয়েছে এমনকি আমার মনে হয়েছে... সময়ের রাতগুলো যেন আমার ভোরের সময়ের মতো।

দিনার আল-মাওলা ছিলেন আল-মামুনের সময়ের এক মহান সেনাপতি, অতঃপর তিনি তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হন। তাঁর ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ নামে এক ভাই ছিল। দি'বিল তাঁদের দুজনকে ব্যঙ্গ করে বলেন:

আল্লাহর প্রতি আমাদের অবাধ্যতা আমাদের নীচ করতে থাকল... শেষ পর্যন্ত আমরা ইয়াহইয়া ইবনে দিনারের কাছে নিক্ষিপ্ত হলাম।

দুই অবিশ্বাসী অনারবের কাছে যাদের ফল পাড়া হয়নি... তারা দীর্ঘকাল সূর্য ও আগুনের সিজদা করেছে।

তিনি তাঁদের দুজনকে এবং হাসান ইবনে রাজা ও হিশামের দুই পুত্র আহমদ ও আলীকে ব্যঙ্গ করে বলেন, যারা বাগদাদের মুহররম এলাকায় বসবাস করত:

সাবধান! আমার কাছ থেকে মুহররমের রাজাদের ক্রয় করো... আমি হাসান ও রাজার দুই পুত্রকে এক দিরহামে বিক্রি করব।

রাজাকে তার ওপর আরও অতিরিক্ত হিসেবে দিয়ে দাও... আর দিনারকে দিয়ে দাও কোনো অনুশোচনা ছাড়াই।

যদি ত্রুটির কারণে তারা সবাই আমার কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়... তবে ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম কোনো ত্রুটি ফিরিয়ে দেবেন না।

৩৫ [দারুর রাজবিন: সিজিস্তানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে, কেউ কেউ বলেন: কিরমানের অঞ্চল থেকে। আল্লাহই সঠিক বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত।]

৩৬ [আদ-দারুর রাক্বত্বা: মক্কায় অবস্থিত, এটি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাসস্থান ছিল।

একে খাদিজার ঘর হিসেবেও অভিহিত করা হয়, কারণ তিনি সেই ঘরেই তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিলেন এবং হিজরতের দিন পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেছিলেন। অতঃপর আকিল ইবনে আবি তালিব এটি গ্রহণ করেন, তারপর মুয়াবিয়া তাঁর খিলাফতকালে এটি একটি মসজিদে রূপান্তরিত করার জন্য ক্রয় করেন।]

৩৭ দারুর রাক্বীক্ব: এটি বাগদাদের একটি মহল্লা ছিল, যা পশ্চিম দিকের হারীমুত তাহিরীর সাথে যুক্ত ছিল। একে শারী'উ দারির রাক্বীক্বও (দাসপল্লীর রাস্তা) বলা হয়। কেউ কেউ আবু জাফর আল-মানসুরের দুর্গের ওপর লেখা কিছু কবিতায় বলেছেন:

আমি এক হরিণ শাবকের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি... হরিণগুলোর মাঝে সে ছিল অত্যন্ত সুঠাম।

আমি তাকে লাবণ্য প্রকাশ করতে দেখেছি... দারুর রাক্বীকের নিকটে।

সে আমাকে বলল: হে আমার প্রভু, আমাকে দেখতে আসুন... কারণ আমি পিপাসায় কণ্ঠাগত।

সে আমাকে বলল: তুমি এমন এক বিষয় কামনা করছ... যা সুরাইয়া নক্ষত্রের চেয়েও উচ্চতর।

দারুর রাক্বীক্ব এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, তামীমী এর সম্পর্কে বলেন:

দারুর রাক্বীকের রাস্তা আমাকে নিদ্রাহীন করেছে... হায়! যদি দারুর রাক্বীক না থাকত।

তাতে এমন এক কিশোরী আছে যে হৃদয়ের জন্য মোহনীয়... আমি তার সুন্দর চেহারার জন্য উৎসর্গিত।

৩৮ [দারুর রূম: বাগদাদের মহল্লাগুলোর একটি মহল্লা, এর পূর্ব পাশে একদল রোমান বসবাস করত যাদের সেখানে রাখা হয়েছিল, এবং সেখানে তাদের দুটি গির্জা ছিল।]

৩৯ দারুর রাইহানিয়্যীন: বাগদাদের খিলাফত ভবনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি ভেঙে ফেলার পর সুকুর রাইহানিয়্যীন (সুগন্ধি বাজার)-এর দিকে মুখ করে নির্মিত হয়। আল-মুস্তাজহির বিল্লাহ এটি নতুন করে নির্মাণ করেন, যখন তিনি বাবুস গুরবায় অবস্থিত খাতুনের ঘর এবং আল-মুক্তাদীর কন্যা সাইয়্যিদার ঘর ভেঙে ফেলেন। রাইহানিয়্যীন এলাকায় ঝুড়ি বিক্রেতাদের একটি বাজার ছিল, তিনি সেটি ধ্বংস করে এই ভবনের সাথে যুক্ত করেন। এতে বাইশটি দোকান ছিল।

 

‌‌সেখানে খানুল আসিম নামে পরিচিত একটি সরাইখানা ছিল, যার পেছনে তেইশটি দোকান এবং সুগন্ধি বিক্রেতাদের একটি বাজার ছিল যেখানে পঁয়তাল্লিশটি দোকান ছিল। এছাড়া ষোলটি দোকানে সোনার কালি পাওয়া যেত এবং দারুল হারামের বেশ কিছু বাড়ি ছিল। এই সবকিছু মিলিয়ে চারমুখী একটি বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল, যার এক অংশ অন্য অংশের মুখোমুখি।

এর প্রাঙ্গণের প্রশস্ততা ছিল ছয়শ হাত, এর মাঝখানে একটি বাগান ছিল এবং এতে ষাটটিরও বেশি কক্ষ ছিল, যা বাবুুল হারামের নিকটবর্তী দোরগাহে খাতুন নামক ফটকে গিয়ে শেষ হতো, যা বাবুুন নুবীর কাছে ছিল।

এর কাজ শুরু হয়েছিল পাঁচশ তিন হিজরীতে এবং চার বছর পর এর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। এ সম্পর্কে সিবত বলেন:

জমিনের সবচেয়ে সম্মানিত গৃহ নিয়ে আনন্দিত হও... যাতে তুমি উচ্চ মর্যাদা ও গৌরব একত্রিত করেছ।

এটি আকাশের পূর্ণিমার চাঁদের ওপর অহংকার করে... তার বাসিন্দাদের মাধ্যমে মর্যাদা ও গৌরবের গর্বে।

এটি এমন এক বাদশাহর আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে যার ওপর কেউ চড়াও হতে পারে না... এবং এমন এক বদান্যতার সমুদ্র যার সাথে কেউ পাল্লা দিতে পারে না।

৪০ দারু রা'ইআহ: ‘আইন’ বর্ণের মাধ্যমে, মক্কার একটি মহল্লা, যেখানে আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহব-এর কবর রয়েছে। বলা হয়: তাঁর কবর মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী আবওয়া নামক স্থানে, আবার কেউ বলেন: মক্কায় শে'বে আবু দুবে। মহান আল্লাহই সঠিক বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত।

৪১ দারু রা'ইগাহ: ‘গাইন’ বর্ণের মাধ্যমে, মক্কার মহল্লাগুলোর একটি মহল্লা, যা সেই এলাকার রা'ইগাহ নামক এক মহিলার সাথে সম্পর্কিত। আবু নাসর আস-সাজি এটি উল্লেখ করেছেন।

৪২ [দারু জানজ: সাগানিয়ানের কিছু গ্রামের একটি মহল্লা, যার সাথে আবু শুয়াইব সালিহ ইবনে মানসুর আল-জাররাহ আদ-দারু জানজি আস-সাগানি সম্পর্কিত। তিনি তিনশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-বুখারি বর্ণনা করেছেন।]
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
43 دار السلام: من أسماء بغداد، ودار السلام: الجنة، ولعل بغداد سميت بها على التشبيه.

44 [دار سوق لتمر: وهي بقرب باب الغربة، من مشرعة الإبريين، ذات الباب العالي. وتعرف بالدار القطنية] .

45 دار الشجرة: من دور الخلافة ببغداد، بناها المقتدر بالله، وهي دار فسيحة، فيها بساتين مونقة، وإنما سميت بدار الشجرة، لشجرة كانت فيها، مصنوعة من الذهب والفضة تتوسط بركة مدورة كبيرة أمام إيوانها، وبين شجر بستانها وغصونها ثمانية عشر غصناً من الذهب والفضة، ولكل غصن فروعٌ مكللة بأنواع الجواهر على شكل ثمار.

وعلى أغصانها طيور منوعة مصوغة من الذهب والفضة، إذا مر بها الهواء سمعت لها من عجائب الصفير والهديل.

 

‌‌وفي جانب الدار عن يمين البركة تمثال لخمسة عشر فارساً على خمسة عشر فرساً، ومثله عن يسارها، وقد ألبسوا أنواعاً من الحرير المدبج، متقلدين بالسيوف، وفي الأيدي المطرد، وهم يتحركونعلى خط واحد، حتى كأن كل واحد منهم إلى صاحبه قاصد.

46 دار شرشبر: بكسر الشينين المعجمتين، وبراءين مهملتين، وهي محلة كانت من قبل ببغداد وليست معروفة اليوم، رأيت لها ذكراً في شعر جحظة البرمكي ولعله كان ينزلها، قال:

سلامٌ على تلك الطلول الدوائر … وإنْ أقفرتْ بعدَ الأنيسِ المجاورِ

غرائرُ، ما فترْنَ في صيدِ غافلٍ … بألحاظهنَّ الساجيات الفواتر

سقى الله أيامي برحبة هاشمٍ … إلى دار شرشبرٍ محلٍّ الجآذر

سحائبُ يسحبنَ الذيول على الثرى … ويُضحي بهنَّ الزهرُ رطبَ المحاجرِ

منازلُ لذاتي، ودارُ صبابتي … ولهوي بأمثال النجومِ الزواهرِ

رمتنا يد المقدور عن قوس فرقةِ … فلم يُحظنا للحينِ سهم المقادرِ

ألا هلْ إلى فيء الجزيرةِ بالضُّحى … وطيبِ نسيمِ الروضِ بعدَ الظهائرِ

وأفنانها، والطير تندب شجوها … بأشجارها بين المياه الزواخرِ

ورقةِ ثوبِ الجوِّ، والريح لدنةٌ … تساق بمبسوطِ الجناحينِ ماطرِ

سبيلٌ، وقد ضاقتْ بي السُّبل حيرةً … وشوقاُ إلى أفيائها بالهواجرِ

وهي طويلة. وقال من قصيدة أخرى:

سقى الله أيامي برحبةِ هاشمٍ … إلى دارِ شرشيرٍ، وإن قدمُ العد

فقصر ابنِ حمدونٍ إلى الشارعِ الذي … غنينا به، والعيش مقتبلٌ رغْد

منازل كانتْ بالملاحِ أنيسةً … فاضحتْ، وما فيهن دعدٌ ولا هند

47 دار طازاد كانت ببغداد على شاطئ دجلة وهي الدار التي نزلها البريدي سنة 333هـ. قال ابن الفقيه: دار طازاد يقصر فرجٍ، على شاطئ جلة] .

48 دار الطلوب: ببطحاء مكة، وهي تنسب إلى الطلوب مولاة زبيدة.

49 دار الطواويس: كانت بدار الخلافة المعظمة ببغداد ابتناها المطيع، وكانت أعجوبة الزمان في عصرها، وهو الذي سماها باسمها، لما رأى الأرض حولها مخضرةً، وعليها كل ضروب الورد في أيام الربيع.

50 [دار الظالمين: من دور البصرة، سمعت بها ولا أعلم عنها شيئاً] .

51 دار العامة: بسامراء. ابتناها المعتصم في موضع دير قديمٍ كان هناك. اشتراه من دياريه بأربعة آلاف دينارٍ، وأقام الدار في موضع تلك الدير.

52 دار العجلة: بمكة، بلصق المسجد الحرام فيها، قال أحمد بن جابرٍ: حدثني العجلة بمكة، إلى من تنسب؟ فكتب: دار العجلَة هي دار سعيد بن سعد بن سهمٍ.

وبنو سعدٍ يقولون: إنها بُنيت قبل دار الندوة، وهي أول دار بنتها قريش في مكة.

53 دار عرفان: بسوق يحيى، ببغداد، بالجانب الشرقي منها، وهي محلة ابن حجاج. ذكرها في شعره فقال:

فقولا للسحابِ: إذا مرتْكَ ال … جنوبُ، وعدتَ منحلَّ العزالي

فجُدْ في دار عرفانٍ إلى أنْ … تُسقيها من الماء الزلالِ

54 [دار العقيقي: محلةٌ بدمشق، تعرفُ بدارِ الشريف العقيقي، وهي اليوم قبالة العادلية.

55 دار علقمة: من دور مكة، تنسب إلى علقمة ابن عريج بن جذيمة بن مالك بن سعد بن عوف ابن الحارث بن عبد مناة بن كنانة.

56 دار عمارة: وهما محلتان ببغداد: إحداهما على الجانب الشرقي في شارع المخرَّم، وهي دار حديثة، تنسب إلى عمارة بن أبي الخصيب، مولى روح بن حاتمٍ. قيل: إنه كان مولى المنصور.
৪৩ দারুস সালাম: এটি বাগদাদের অন্যতম নাম, এবং দারুস সালাম হলো জান্নাত; সম্ভবত জান্নাতের সাথে সাদৃশ্যের ভিত্তিতেই বাগদাদের এই নামকরণ করা হয়েছে।

৪৪ [দার সুক লিত-তামর: এটি বাবুল গুরবার নিকটবর্তী, ইব্রিয়্যিনদের ঘাট সংলগ্ন সুউচ্চ ফটকবিশিষ্ট একটি স্থান। এটি দারুল কুতনিয়্যাহ নামেও পরিচিত]।

৪৫ দারুশ শাজারাহ: বাগদাদের খিলাফত ভবনসমূহের একটি, যা আল-মুক্তাদির বিল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন। এটি একটি সুপ্রশস্ত ভবন, যেখানে মনোমুগ্ধকর বাগান ছিল। এর নাম দারুশ শাজারাহ (বৃক্ষ ভবন) রাখা হয়েছিল সেখানে থাকা একটি কৃত্রিম গাছের কারণে, যা সোনা ও রূপা দিয়ে তৈরি ছিল এবং প্রাসাদের সম্মুখস্থ একটি বড় গোলাকার হাউজের মাঝখানে অবস্থিত ছিল। সেই বাগানের বৃক্ষ ও শাখা-প্রশাখার মাঝে সোনা ও রূপার আঠারোটি ডাল ছিল এবং প্রতিটি ডালে নানা প্রকার মণি-মুক্তা খচিত ফলের আকৃতি ছিল।

আর তার শাখাগুলোতে সোনা ও রূপার তৈরি নানা প্রকার পাখি ছিল; যখন বাতাস এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতো, তখন তা থেকে বিস্ময়কর কিচিরমিচির ও সুমধুর ধ্বনি শোনা যেত।

 

‌‌ভবনটির এক পাশে হাউজের ডানে পনেরোটি ঘোড়ার ওপর পনেরো জন অশ্বারোহীর মূর্তি ছিল এবং অনুরূপ মূর্তি ছিল এর বাম পাশেও। তাদের রেশমি কারুকার্যখচিত পোশাক পরানো হয়েছিল এবং তারা তলোয়ারধারী ছিল। তাদের হাতে ছিল বর্শা এবং তারা এমনভাবে এক রেখায় চলত যে মনে হতো তাদের প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

৪৬ দারু শারশাবার: উভয় 'শীন' বর্ণে কাসরা (জের) এবং উভয় 'রা' বর্ণে নুকতাহীন। এটি বাগদাদের একটি মহল্লা ছিল যা বর্তমানে পরিচিত নয়। আমি জাহজা আল-বারমাকীর কবিতায় এর উল্লেখ দেখেছি, সম্ভবত তিনি সেখানে বসবাস করতেন। তিনি বলেছেন:

সালাম সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত চিহ্নগুলোর প্রতি … যদিও তা প্রতিবেশীদের বিদায়ের পর জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

লাবণ্যময়ী রূপসীরা, যারা অসতর্ক শিকার শিকারে ক্লান্ত হয় না … তাদের শান্ত ও আবেশ জড়ানো দৃষ্টির মাধ্যমে।

আল্লাহ যেন হাশিম চত্বরে কাটানো আমার দিনগুলোকে সিক্ত করেন … শারশাবার ভবন পর্যন্ত, যা হরিণশাবকদের আবাসস্থল।

মেঘমালা যা মাটির ওপর আঁচল টেনে নিয়ে যায় … এবং যার কারণে পুষ্পরাজি সিক্ত নয়ন নিয়ে বিকশিত হয়।

আমার আনন্দের আবাসস্থল এবং আমার অনুরাগের ঘর … আর উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির মতো সুন্দরীদের সাথে আমার ক্রীড়া-কৌতুকের স্থান।

তকদিরের হাত বিচ্ছেদের ধনুক থেকে আমাদের লক্ষ্য করে তীর ছুড়েছে … তাই সময়ের নিষ্ঠুরতায় নিয়তির তীর আমাদের রেহাই দেয়নি।

হায়! পূর্বাহ্নের রোদে জাযিরার ছায়া কি আর পাওয়া যাবে … আর দুপুরের পর বাগানের সেই স্নিগ্ধ সমীরণ?

আর তার পল্লবসমূহ, এবং পাখিরা যেখানে তাদের বিষাদময় গান গায় … উত্তাল জলরাশির মাঝে অবস্থিত বৃক্ষরাজিতে।

আকাশের মেঘের কোমলতা, আর যখন স্নিগ্ধ বাতাস বয় … যা প্রসারিত পাখাবিশিষ্ট বৃষ্টিবাহী মেঘের দ্বারা তাড়িত হয়।

এ এক পথ, অথচ দিশেহারা হয়ে আমার সব পথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে … আর দ্বিপ্রহরের তপ্ত রৌদ্রে সেই ছায়ার প্রতি ব্যাকুলতায়।

এটি একটি দীর্ঘ কবিতা। তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেছেন:

আল্লাহ যেন হাশিম চত্বরে কাটানো আমার দিনগুলোকে সিক্ত করেন … শারশাবার ভবন পর্যন্ত, যদিও তা অনেক পুরনো স্মৃতি।

ইবনে হামদুনের প্রাসাদ থেকে সেই সড়ক পর্যন্ত যেখানে … আমরা সমৃদ্ধ ছিলাম এবং জীবন ছিল সুখময় ও সচ্ছল।

এমন সব আবাসস্থল যা সুন্দরীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল … এখন তা এমন হয়েছে যে, সেখানে দা'দ বা হিন্দ (কোনো নারী) নেই।

৪৭ দারু তাজাদ: এটি বাগদাদে দজলা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল এবং এটি সেই বাড়ি যেখানে ৩৩৩ হিজরীতে আল-বারীদী অবস্থান করেছিলেন। ইবনুল ফাকিহ বলেছেন: দারু তাজাদ হলো ফরজের প্রাসাদ, যা দজলা নদীর তীরে অবস্থিত।

৪৮ দারুত তালুব: মক্কার বাতহা নামক স্থানে অবস্থিত, এটি যুবায়দার দাসী তালুবের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

৪৯ দারুত তাওয়াউস: বাগদাদের মহান খিলাফত প্রাসাদের অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল, যা আল-মুতি' নির্মাণ করেছিলেন। এটি তার সময়ের এক বিস্ময় ছিল। তিনি নিজেই এর নামকরণ করেছিলেন যখন তিনি এর চারপাশ সবুজ শ্যামল এবং বসন্তকালে সব ধরনের গোলাপ ফুলে সুশোভিত দেখেছিলেন।

৫০ [দারুজ জালিমিন: বসরার অন্যতম একটি ভবন, আমি এর কথা শুনেছি কিন্তু এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানি না]।

৫১ দারুল আম্মাহ: সামাররায় অবস্থিত। আল-মু'তাসিম এটি সেখানে একটি পুরাতন গির্জার স্থানে নির্মাণ করেছিলেন। তিনি সেটি গির্জার অধিবাসীদের কাছ থেকে চার হাজার দিনারে ক্রয় করেছিলেন এবং সেই গির্জার স্থানেই এই ভবনটি নির্মাণ করেন।

৫২ দারুল আজালাহ: মক্কায় মাসজিদুল হারামের সাথে লাগোয়া। আহমাদ ইবনে জাবির বলেছেন: আমাকে মক্কার আল-আজালাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি কার দিকে সম্বন্ধিত? তিনি লিখেছেন: দারুল আজালাহ হলো সাঈদ ইবনে সা'দ ইবনে সাহমের বাড়ি।

বানু সা'দ বলেন: এটি দারুন নাদওয়ার পূর্বে নির্মিত হয়েছিল এবং এটিই কুরাইশদের মক্কায় নির্মিত প্রথম বাড়ি।

৫৩ দারু ইরফান: বাগদাদের পূর্ব পার্শ্বে সুক ইয়াহইয়া নামক স্থানে অবস্থিত, এটি ইবনুল হাজ্জাজের এলাকা। তিনি তার কবিতায় এর উল্লেখ করে বলেছেন:

মেঘমালাকে বলো: যখন দক্ষিণ বায়ু তোমাকে অতিক্রম করবে … এবং তুমি অবিরাম বর্ষণকারী হয়ে ফিরে আসবে;

তখন দারু ইরফানে অকাতরে বর্ষণ করো … যতক্ষণ না তুমি তাকে নির্মল পানিতে সিক্ত করো।

৫৪ [দারুল আকিকি: দামেস্কের একটি এলাকা, যা শরিফ আল-আকিকির বাড়ি নামে পরিচিত; বর্তমানে এটি আদিলিয়্যার বিপরীতে অবস্থিত।

৫৫ দারু আলকামা: মক্কার বাড়িগুলোর একটি, যা আলকামা ইবনে উরাইজ ইবনে জাযিমা ইবনে মালিক ইবনে সা'দ ইবনে আউফ ইবনে হারিস ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কিনানার নামে পরিচিত।

৫৬ দারু উমারা: এগুলো বাগদাদের দুটি এলাকা: একটি পূর্ব পার্শ্বে আল-মুখাররাম সড়কে অবস্থিত, যা একটি আধুনিক ভবন; এটি রুহ ইবনে হাতিমের মুক্তদাস উমারা ইবনে আবিল খাসীবের দিকে সম্বন্ধিত। বলা হয় যে, তিনি খলিফা আল-মনসুরের মুক্তদাস ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
57 والثانية على الجانب الغربي، وهي قديمة منسوبة إلى عمارة ابن حمزة وهو من أبناء أبي لبابة مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وكان المنصور قد أقطعها مولاه عمارة، وكانت بستاناً قبل بناء بغداد، يملكه بعض ملوك الفرس، ويجاورها ربض أبي حنيفة، ثم ربض عثمان ابن نهيك، وهو ما بين دار عمارة، ومقابر قريشٍ.

58 دار فرجٍ: وهي من محال بغداد، بالجانب الشرقي منها، أعلى سوق يحيى.

وتنسب إلى فرجٍ الخادم التركي، وكان مملوكاً لحمدونة بنت غضيض، أم ولد الرشيد، ثم صار فرجٌ مولىً للرشيد، فأقطعه أرضاً بنى فيها داراً عرفت به. ولم يكن على شاطئ دجلة بناءٌ أحكم من داره.

59 [دار القتب: بكسر القاف وسكون التاء، أو بفتحتين عليهما. كانت بالبصرة، يقوم بأمرها حفص بن معاوية، (الغلابي) . قاله العمراني] .

60 دار القز: محلةٌ كبيرةٌ ببغداد، تنسب إلى بيع القز، وهي في الجانب الغربي، في طرف الصحراء. ببينها وبين بغداد فرسخٌ. كان حولها دور كثيرة، خربت، ولم يبقَ منها اليوم إلا أربعٌ متصلة هي: دار القز.

61 ودار العتابيين.

62 والنصرية.

63 و [شهارْسُوك] والباقي خرائب وتلولٌ قائمةٌ.

وفي دار القز يعمل الكاغد اليوم.

وينسب إلى دار القز أبو خفصٍ عمر بن محمد بن المعمر بن أحمد بن يحيى بن حسان بن طبرزد المؤدب الدارقزي.

سمع كثيراً بإفادة بي البقاء محمد بن محمد، وعُمِّر حتى روى ما سمعه، وحمل من بغداد إلى دمشق، فسمع عليه خلقٌ كثيرون، وعرف أنه ينفرد بكثير من الكتب مما لم يعرف إلا عنه. عاد إلى بغداد، ومات فيها سنة سبعٍ وستمائة، ودُفن بباب حربٍ، وكان مولده كما أخبر في ذي الحجة من سنة ست عشرة وخمسمائة رحمه الله.

وينسب إلى دار القز أيضاً أبو نصرٍ عبد المحسن بن غنيمة الدارقزي.

64 دار القضاء: وهي دارٌ كانت بالمدينة، لعمر بن الخطاب رضي الله عنه، ثم صارت لمروان بن الحكم، وكان يسكنها عمر، فبيعت بعد موته في قضاء دينٍ كان عليه.

وزعم بعضهم أنها كانت دار الإمارة بالمدينة، وهذا محتمل لأنها صارت لأمير المدينة مروان بن الحكم من بعد.

65 [دار القطن: وهما اثنتان: الأولى: محلة كبيرة كانت ببغداد بالجانب الغربي بين الكرخ ونهر عيسى، عند قطيعة الربيع، وإليها ينسب الإمام الحافظ أبو الحسن علي بن عمر بن أحمد ابن المهدي الدارقطني البغدادي صاحب السنن رحمه الله.

روى عن أبي القاسم البغوي، وأبي بكر بن داود وابن صاعد، والحضرمي، وابن دريدٍ، وخلقٍ آخرين لا يحصون ببغداد والبصرة والكوفة وواسطٍ.

رحل إلى مصر والشام في كهولته. وكان أديباً يحفظ عدة دواوين، منها: ديوان ديك الجن، وديوان السيد الحميري فنسب إلى التشيع، لكنه كان أبعد الناس عنه. وكان إماماً في القراءات واللغة والنحو، وتفقه على مذهب الإمام الشافعي رضي الله عنه، أخذه عن أبي سعيد الأصطخري وقيل: عن صاحب أبي سعيدٍ. وكانوا يقولون: الدارقُطني أمير المؤمنين في الحديث.

كان مولده سنة ست وثلاثمائة ووفاته في ثامن ذي القعدة سنة خمس وثمانين وثلاثمائة، وصلى عليه أبو حامد الأسفراييني ودفن قريباً من معروفٍ الكرخي.

66 ودار القطن الثانية: محلة مشهورة بحلب،] ينسب إليها عمر بن قُشام صاحب التصانيف الكثيرة، رحل إلى أصبهان في صباه، ثم رجع إلى حلب، وكان يدرس عفي مدرسة البلاط بحلب] .

67 [الدار القطنية: ذكرتها من قبل] .

68 [دار قنافة: بحمص، كانت داراً معروفة، نزلها عبد الله بن بسرٍ المازني الصحابي، الذي مات سنة ست وتسعين في بعض قرى حمص] .

69 [دار قُمام: كانت بالكوفة، عند دار الأشعث بن قيس. وهي منسوبة إلى قمام بنت الحارث بن هانئ الكندي] .

 

‌‌70 دار القوارير: قال أحمد بن جابرٍ: حدثني العباس ابن هشام، الكلبي، قال: كتب بعض الكنديين إلى أبي يسأله عن مواضع منها: دار القوارير، بمكة، فكتب له: فأما دار القوارير فكانت لعتبة بن ربيعة بن عبد شمسٍ بن عبد منافٍ ثم صارت للعباس بن [عتبة] بن أبي لهب ابن عبد المطلب، ثم صارت لأمجعفرٍ، زبيدة بنت أبي الفضل ابن المنصور، بنتها، فاستعملت في بنائها القوارير، فنسبت إليها، وكان حماد البربري قد بناها قريباً من خلافة الرشيد، وأدخل إليها بئر جبير بن مطعم بن عدي.
৫৭ এবং দ্বিতীয়টি পশ্চিম দিকে অবস্থিত; এটি প্রাচীন এবং উমারা ইবনে হামজা-এর সাথে সম্পর্কিত, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস আবু লুবাবা-এর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত।

আল-মানসুর তার মুক্তদাস উমারাকে এটি জায়গির হিসেবে দিয়েছিলেন। বাগদাদ নির্মাণের পূর্বে এটি একটি বাগান ছিল, যার মালিক ছিলেন পারস্যের জনৈক রাজা। এর পার্শ্ববর্তী এলাকা ছিল আবু হানিফার মহল্লা এবং উসমান ইবনে নাহিকের মহল্লা, যা উমারার গৃহ এবং কুরাইশদের কবরস্থানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

৫৮ দারু ফারাজ: এটি বাগদাদের পূর্ব পার্শ্বের অন্যতম একটি এলাকা, যা ইয়াহইয়া বাজারের উপরিভাগে অবস্থিত।

এটি তুর্কি ভৃত্য ফারাজের সাথে সম্পর্কিত। তিনি হারুনুর রশীদের উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) হামদুনা বিনতে গদ্বীযের দাস ছিলেন। পরবর্তীতে ফারাজ হারুনুর রশীদের মুক্তদাস হন এবং রশীদ তাকে ভূমি দান করলে তিনি সেখানে একটি গৃহ নির্মাণ করেন যা তার নামেই পরিচিতি লাভ করে। দজলা নদীর তীরে তার গৃহের চেয়ে অধিক মজবুত কোনো ইমারত ছিল না।

৫৯ [দারুল কাতাব: 'ক্বাফ' বর্ণে কাসরা (জের) এবং 'তা' বর্ণে সুকুনসহ, অথবা উভয় বর্ণে ফাতহা (যবর) সহ। এটি বসরায় ছিল, হাফস ইবনে মুয়াবিয়া (আল-গুলাবী) এর দেখাশোনা করতেন। আল-ইমরানী এমনটিই বলেছেন।]।

৬০ দারুল ক্বায: এটি বাগদাদের একটি বড় মহল্লা, যা রেশম বিক্রির সাথে সম্পর্কিত। এটি পশ্চিম পার্শ্বে মরুভূমির শেষ প্রান্তে অবস্থিত। এর এবং বাগদাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক ফারসাখ। এর আশেপাশে অনেক ঘরবাড়ি ছিল যা ধ্বংস হয়ে গেছে; বর্তমানে কেবল চারটি ঘর অবশিষ্ট আছে যেগুলো পরস্পর সংযুক্ত, আর এটিই দারুল ক্বায।

৬১ এবং দারুল আত্তাবিয়্যীন।

৬২ এবং নাসরিয়্যাহ।

৬৩ এবং [শাহারে সুক]। অবশিষ্ট অংশ ধ্বংসাবশেষ এবং ঢিবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বর্তমানে দারুল ক্বায-এ কাগজ তৈরি করা হয়।

দারুল ক্বায-এর দিকে নিসবত করা হয় আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুয়াম্মার ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান ইবনে তাবারযাদ আল-মুয়াদ্দিব আদ-দারক্বাযী-কে।

তিনি আবুল বাকা মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদের নির্দেশনায় প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন এমনকি তিনি যা শুনেছিলেন তা বর্ণনা করেছেন। তাকে বাগদাদ থেকে দামেস্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে অসংখ্য মানুষ তার নিকট হাদিস শুনেছেন। এটি জানা যায় যে, তিনি এমন অনেক কিতাব বর্ণনায় একক ছিলেন যা কেবল তার নিকট থেকেই পাওয়া যেত। তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানে ৬০৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাবে হারবে তাকে দাফন করা হয়। তার বর্ণনামতে তার জন্ম হয়েছিল ৫১৬ হিজরীর যিলহজ মাসে, আল্লাহ তাকে রহম করুন।

দারুল ক্বায-এর দিকে আবু নাসর আব্দুল মুহসিন ইবনে গানিমাহ আদ-দারক্বাযী-কেও নিসবত করা হয়।

৬৪ দারুল ক্বাযা: এটি মদিনার একটি গৃহ যা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মালিকানাধীন ছিল। পরবর্তীতে এটি মদিনার গভর্নর মারওয়ান ইবনুল হাকামের মালিকানায় আসে। উমর সেখানে বসবাস করতেন এবং তার মৃত্যুর পর তার ঋণ পরিশোধের জন্য এটি বিক্রি করা হয়েছিল।

কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি মদিনার ইমারত (প্রশাসনিক কার্যালয়) ছিল। এটি হওয়া সম্ভব কারণ পরবর্তীতে এটি মদিনার আমির মারওয়ান ইবনুল হাকামের অধীনে এসেছিল।

৬৫ [দারুল ক্বুতন: এই নামে দুটি স্থান রয়েছে: প্রথমটি: এটি বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বে কারখ এবং নহরে ঈসা-এর মধ্যবর্তী 'ক্বাতীআতুর রাবী'-এর নিকটবর্তী একটি বড় মহল্লা ছিল। ইমাম হাফিজ আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে আহমদ ইবনে মাহদী আদ-দারাকুতনী আল-বাগদাদী, যিনি সুনান গ্রন্থের রচয়িতা, আল্লাহ তাকে রহম করুন, তার দিকেই নিসবত করা হয়।

তিনি আবুল কাসিম আল-বাগাবী, আবু বকর ইবনে দাউদ, ইবনে সায়েদ, আল-হাদরামী, ইবনে দুরাইদ এবং বাগদাদ, বসরা, কুফা ও ওয়াসিত-এর আরও অসংখ্য মানুষের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

প্রৌঢ় অবস্থায় তিনি মিসর ও সিরিয়া ভ্রমণ করেন। তিনি একজন সাহিত্যিক ছিলেন এবং অনেক কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ রাখতেন, যার মধ্যে 'দীক আল-জিন'-এর কাব্যসমগ্র এবং 'আস-সাইয়িদ আল-হিময়ারী'-এর কাব্যসমগ্র উল্লেখযোগ্য। এই কারণে তাকে শিয়া মতাদলম্বী বলা হতো, অথচ তিনি তাদের থেকে সর্বাধিক দূরে ছিলেন। তিনি ক্বিরাত, ভাষা এবং ব্যাকরণ শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন এবং ইমাম শাফিয়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ অর্জন করেছিলেন। তিনি আবু সাঈদ আল-ইসতাখারীর নিকট থেকে অথবা আবু সাঈদের কোনো সঙ্গীর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তারা বলতেন: দারাকুতনী হচ্ছেন হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন।

তার জন্ম ৩০৬ হিজরীতে এবং মৃত্যু ৩৮৫ হিজরীর ৮ই যিলকদ। আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী তার জানাজার নামাজ পড়ান এবং তাকে মারুফ আল-কারখীর কবরের কাছে দাফন করা হয়।

৬৬ এবং দ্বিতীয় দারুল ক্বুতন: এটি আলেপ্পোর (হালাব) একটি প্রসিদ্ধ মহল্লা,] যার দিকে বহু গ্রন্থের রচয়িতা উমর ইবনে কুশামকে নিসবত করা হয়। তিনি শৈশবে ইসফাহান ভ্রমণ করেন, অতঃপর হালাবে ফিরে আসেন এবং হালাবের 'মাদরাসাতুল বালাত'-এ শিক্ষকতা করতেন।]।

৬৭ [আদ-দারুল ক্বুতনিয়্যাহ: আমি ইতিপূর্বে এর উল্লেখ করেছি]।

৬৮ [দারু ক্বানাফাহ: হিমস-এ অবস্থিত, এটি একটি পরিচিত গৃহ ছিল। সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-মাযানী সেখানে অবস্থান করেছিলেন, যিনি ৯৬ হিজরীতে হিমসের কোনো এক গ্রামে ইন্তেকাল করেন]।

৬৯ [দারু ক্বুমাম: এটি কুফায় আশআস ইবনে ক্বাইস-এর গৃহের নিকট ছিল। এটি কিন্দী গোত্রের হারিস ইবনে হানি-এর কন্যা ক্বুমাম-এর সাথে সম্পর্কিত]।

 

‌‌৭০ দারুল ক্বাওয়ারীর: আহমদ ইবনে জাবির বলেন: আমাকে আব্বাস ইবনে হিশাম আল-কালবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক কিন্দী ব্যক্তি আমার পিতার নিকট মক্কার 'দারুল ক্বাওয়ারীর' সহ কয়েকটি স্থান সম্পর্কে জানতে চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। আমার পিতা তাকে উত্তরে লিখেছিলেন: দারুল ক্বাওয়ারীর সম্পর্কে কথা হলো যে, এটি প্রথমে উতবা ইবনে রাবীআ ইবনে আব্দু শামস ইবনে আব্দু মানাফ-এর মালিকানায় ছিল, অতঃপর তা আব্বাস ইবনে [উতবা] ইবনে আবি লাহাব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব-এর মালিকানায় আসে। পরবর্তীতে এটি উম্মে জাফর যুবায়দা বিনতে আবুল ফজল ইবনুল মানসুরের মালিকানায় যায়। তিনি এটি নির্মাণ করেন এবং এর নির্মাণ কাজে কাঁচ (ক্বাওয়ারীর) ব্যবহার করেছিলেন, তাই এর নামকরণ সেদিকেই করা হয়। হারুনুর রশীদের খেলাফতের শুরুর দিকে হাম্মাদ আল-বারবারী এটি নির্মাণ করেছিলেন এবং সেখানে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম ইবনে আদীর কূয়াটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
71 دار كان: بفظ الفعل بعد الراء، وهي قرية من قرى مرو، تبعد عنها فرسخاً واحداً. وكنت فررتُ إليها يوم دخل التتر مرو وخربوها في سنة 616.

وقد خرج منها طائفة من العلماء منهم: أبو عمرو يعمر ابن بشر الداركاني، وكان من أصحاب عبد الله بن المبارك حدث عنه، وعن الحسين بن واقدٍ.

ومنهم علي بن [إسحاق] السلمي الداركاني، أبو الحسن، صحب ابن المبارك، وحدث ببغداد، وروى عنه أحمد بن حنبلٍ، وعباسٌ الدوري وأحمد بن الخليل البرجلاني وغيرهم. وكان عالماً فاضلاً، ثقة ورعاً. مات سنة ثلاث عشرة ومائتين.

72 دار المأمون: وتنسب إلى مأمون البطائحي وصارت إلى الطائفة الحنفية بمصر وتعرف اليوم بالسيوفية.

73 الدار المثمنة: بناها المطيع لله تعالى بدار الخلافة ببغداد.

74 الدار المربعة: بناها المطيع لله تعالى بدار الخلافة ببغداد أيضاً.

75 [دار المخرج: كانت داراً لسلاطين البويهية والسلجوقية في محلة المخرِّم ببغداد بين الرصافة ونهر المعلَّى.

خرَّبها أمير المؤمنين الناصر لدين الله أبو العباس أحمد سنة سبع وثمانين وخمسمائة. وكانت هذه الدار في محلة المخرِّم خلف الجامع المسمى بجامع السلطان.

وهي منسوبةٌ إلى مخرِّم بن يزيد بن شريح بن مخرِّم ابن مالك بن ربيعة بن الحارث بن كعبٍ. كان ينزلها أيام نزول العرب السواد أول عهدهم بالإسلام.

قال هشام: سمعت قوماً من بني الحارث يقولون: المخرَّم إقطاعٌ من عمر بن الخطاب رضي الله عنه، أقطعها المخرِّم، وقيل: إن كسرى أقطعه إياها والله تعالى أعلم بالصواب] .

76 [الدار المعزية: ببغداد، كانت بباب الشماسية بأعلى بغداد، عند الباب الشرقي منها، وكانت قريبة من قصر فرج.

وهي منسوبة إلى صاحبها معز الدولة الديلمي أحمد بن بويه، فقد بناها سنة خمسين وثلاثمائة، بعد أن هدم ما جاورها، وكان قلع الأبواب الحديد التي على مدينة المنصور والتي بالرصافة، ونقلها إلى داره، ولزمه على بنائها ثلاثة عشر ألف ألف درهم] .

77 دار المقطع: بضم أوله وفتح ثانيه، وطاء مهملة مشددة مكسورة، وبآخره عين، وهي بالكوفة، تنسب إلى المقطع الكلبي، وفيه يقول عدي بن الرقاع:

على ذي منارٍ، تعرف العين متنه … كما تعرف الأضياف دارَ المقطعِ

78 [دار ملولٍ: بفتح أوله. وهي من بلدان إفريقية، ولا أعلم موضعها] .

79 [دار المملكة: بأعلى المخرِّم، وكانت قديماً لسبكتكين الحاجب، غلام معز الدولة. نقض أكثرها عضد الدولة وأعاد بناءها، ثم نهبت [وأحرقت] . وفي سنة اثنتين وخمسمائة فوض بهروز الخادم بإعادة بنائها، فأتمها، وحملت إليها الفرش والكُسى والبُسط والآنية، ثم وقع فيها الحريق الثاني سنة خمس عشرة وخمسمائة، فأتت النيران عليها ولم يسلم منها شيء] .

80 دار نخلة: مضافة إلى واحدة النخل، وهي في موضع سوق المدينة، جاء ذكرها في الحديث.

81 [دار مؤنسٍ: كانت في سوق الثلاثاء عند مشرعة القطانين، بالقرب من دار الخلافة] .

 

‌‌82 دار الندوة: بمكة. أحدثها قصي بن كلاب بن مرة، لما تملك مكة. وكانت قريش تجتمع فيها للمشورة وإبرام الأمور في الجاهلية، وصارت بعد قصي لابنه عبد الدار بن قصي بنكلاب.

وإنما سميت دار الندوة، من لفظ الندي والنادي والمنتدى والمتندَّى.

فالندي مجلس القوم ما داموا مجتمعين فيه، فإذا تفرقوا عن مجلسهم فليس بندي. وفي الحديث: (اللهم اجعلني في الندي العلى) ، أي مع الملأ الأعلى، وهم الملائكة. والنادي كالندي، وهو المجلس يندو إليه أهله، ولا يسمى نادياً إلا إذا كان أهله فيه، فإن لم يكونوا فليس نادياً. قال تعالى: (وتأتون في ناديكم المنكر) . وقال الشاعر:

وما يندوهم النادي ولكن … بكل محلةٍ منهم فئام

ودار الندوة من ذلك المجلس الذي يندون حوله، أي يهذبون قريباً ثم يرجعون.

والنادية في الإبل هي التي تصرف عن الورد إلى المرعى قريباً، ثم يعاد بها إلى الثرب، وهو المندى.
৭১ দার কান: রা বর্ণের পরে সাকিন যোগে। এটি মার্ভের একটি গ্রাম, যা সেখান থেকে এক ফরসাখ দূরে অবস্থিত। তাতারীরা যখন ৬১৬ হিজরিতে মার্ভে প্রবেশ করে এবং তা ধ্বংস করে দেয়, তখন আমি সেখানে পালিয়ে গিয়েছিলাম।

সেখান থেকে একদল আলেম বের হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আমর ইয়া'মুর ইবনে বিশর আদ-দারকানি। তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের অন্যতম সঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে ও হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে আরও আছেন: আলী বিন [ইসহাক] আস-সুলামি আদ-দারকানি, আবু হাসান। তিনি ইবনুল মুবারকের সংশ্রব লাভ করেছিলেন এবং বাগদাদে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আহমদ ইবনে হাম্বল, আব্বাস আদ-দুরি, আহমদ ইবনুল খলিল আল-বারজালানি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন বিজ্ঞ আলেম, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, বিশ্বস্ত ও পরহেজগার ছিলেন। তিনি দুইশ তেরো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৭২ দারুল মামুন: এটি মামুন আল-বাতাইহির দিকে সম্বন্ধিত। এটি মিসরে হানাফি সম্প্রদায়ের অধিকারে ছিল এবং বর্তমানে আস-সুয়ুফিয়্যাহ নামে পরিচিত।

৭৩ আদ-দারুল মুসাম্মানাহ: এটি মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টির প্রত্যাশী আল-মুতি' লিল্লাহ বাগদাদে খেলাফত প্রাসাদে নির্মাণ করেছিলেন।

৭৪ আদ-দারুল মুরাব্বা'আহ: এটিও আল-মুতি' লিল্লাহ বাগদাদে খেলাফত প্রাসাদে নির্মাণ করেছিলেন।

৭৫ [দারুল মুখরিজ: এটি বাগদাদের আল-মুখরিম নামক এলাকায় রাসাফাহ ও নাহরুল মুআল্লার মধ্যবর্তী স্থানে বুয়াইহি ও সেলজুক সুলতানদের প্রাসাদ ছিল।

আমিরুল মুমিনিন আন-নাসির লি-দিনিল্লাহ আবু আব্বাস আহমদ ৫শ সাতাশি হিজরিতে এটি ধ্বংস করেন। এই প্রাসাদটি আল-মুখরিম এলাকায় সুলতান মসজিদের পিছনে অবস্থিত ছিল।

এটি মুখরিম বিন ইয়াজিদ বিন শুরাইহ বিন মুখরিম বিন মালিক বিন রাবিআ বিন হারিস বিন কাব-এর দিকে সম্বন্ধিত। আরবরা যখন ইসলামের প্রাথমিক যুগে সাওয়াদে বসতি স্থাপন করছিল, তখন তিনি সেখানে অবস্থান করতেন।

হিশাম বলেন: আমি বনু হারিসের একদল লোকের কাছে শুনেছি তারা বলত: মুখরিম এলাকাটি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পক্ষ থেকে একটি জায়গির ছিল, তিনি এটি মুখরিমকে প্রদান করেছিলেন। আবার বলা হয় যে, কিসরা এটি তাকে দান করেছিলেন। মহান আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন।]

৭৬ [আদ-দারুল মুইযিইয়াহ: বাগদাদে অবস্থিত। এটি বাগদাদের উপরের অংশে বাবুল শামাসিয়্যাহর কাছে পূর্ব দরজার কাছে অবস্থিত ছিল এবং এটি কাসরে ফারাজের নিকটবর্তী ছিল।

এটি এর মালিক মুইযুদ দাওলা আদ-দাইলামি আহমদ ইবনে বুয়াইহির দিকে সম্বন্ধিত। তিনি ৩৫০ হিজরিতে পার্শ্ববর্তী স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার পর এটি নির্মাণ করেন। তিনি মানসুরের শহর ও রাসাফাহর লোহার দরজাগুলো উপড়ে ফেলে তাঁর প্রাসাদে নিয়ে আসেন। এটি নির্মাণে তাঁর এক কোটি ত্রিশ লক্ষ দিরহাম ব্যয় হয়েছিল।]

৭৭ দারুল মুকাত্তা': এর প্রথম বর্ণে পেশ, দ্বিতীয় বর্ণে জবর, এবং তাশদিদযুক্ত 'ত' বর্ণের নিচে যের এবং শেষে 'আইন' বর্ণ রয়েছে। এটি কুফায় অবস্থিত। এটি মুকাত্তা' আল-কালবির দিকে সম্বন্ধিত। তাঁর সম্পর্কে আদি ইবনে রিকা' বলেন:

চিহ্নযুক্ত পথের ওপর এমন এক উচ্চভূমি, যার উপরিভাগ চোখ চিনে নেয়... যেমন মেহমানরা দারুল মুকাত্তাকে চিনে নেয়।

৭৮ [দারু মালুল: প্রথম অক্ষরে জবর। এটি আফ্রিকার অন্যতম শহর, তবে এর সঠিক অবস্থান আমার জানা নেই।]

৭৯ [দারুল মামলকাহ: এটি মুখরিমের উপরের অংশে অবস্থিত। প্রাচীনকালে এটি মুইযুদ দাওলার গোলাম হাজিব সাবুকতিকিনের অধীনে ছিল। আদুদুদ দাওলা এর অধিকাংশ অংশ ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করেন। অতঃপর এটি লুণ্ঠিত [ও ভস্মীভূত] হয়। ৫০২ হিজরিতে বেহরুজ আল-খাদিমকে এটি পুনরায় নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি তা সম্পন্ন করেন। সেখানে গালিচা, পর্দা, শতরঞ্জি ও আসবাবপত্র আনা হয়। অতঃপর ৫১৫ হিজরিতে সেখানে দ্বিতীয়বার অগ্নিকাণ্ড ঘটে, ফলে আগুন সব কিছু গ্রাস করে নেয় এবং কিছুই রক্ষা পায়নি।]

৮০ দারু নাখলা: খেজুরের একবচনের দিকে সম্বন্ধিত। এটি মদিনার বাজারের স্থানে অবস্থিত। হাদিসে এর উল্লেখ এসেছে।

৮১ [দারু মুনিস: এটি মঙ্গলবার বাজারে কাত্তানিন ঘাটের নিকট খেলাফত প্রাসাদের পাশে ছিল।]

 

‌‌৮২ দারুন নদওয়াহ: মক্কায় অবস্থিত। কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররা যখন মক্কার ক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন। জাহেলি যুগে কুরাইশরা পরামর্শ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পত্তির জন্য এখানে সমবেত হতো। কুসাইয়ের পর এটি তাঁর পুত্র আবদু দ্দার ইবনে কুসাই ইবনে কিলাবের অধীনে চলে যায়।

এর নাম দারুন নদওয়াহ রাখার কারণ হলো নদওয়াহ শব্দটি নাদি, নাদিয়ুন, মুন্তাদা ও মুতানান্দা শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

নাদি হলো একদল লোকের মজলিস যতক্ষণ তারা সেখানে সমবেত থাকে। যখন তারা সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তাকে আর নাদি বলা হয় না। হাদিসে এসেছে: (হে আল্লাহ, আমাকে উচ্চতর পরিষদে স্থান দিন), অর্থাৎ ঊর্ধ্বলোকের অধিবাসীদের সাথে, যারা হলেন ফেরেশতা। আর নাদিয়ুন ও নাদি একই অর্থবোধক, যা এমন এক মজলিস যেখানে মানুষ একত্রিত হয়। একে নাদি ততক্ষণই বলা হবে যতক্ষণ সেখানে লোকজন উপস্থিত থাকে। যদি তারা না থাকে তবে তাকে নাদি বলা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন: (আর তোমরা তোমাদের মজলিসে গর্হিত কাজ করে থাকো)। জনৈক কবি বলেছেন:

তাদের মজলিস তাদের একত্রিত করে না, বরং... তাদের প্রতিটি মহল্লায় একদল লোক থাকে।

দারুন নদওয়াহ হলো সেই মজলিস যার আশেপাশে তারা সমবেত হতো, অর্থাৎ তারা কাছাকাছি স্থানে অবস্থান করত এবং ফিরে আসত।

উটের ক্ষেত্রে নাদিয়াহ হলো সেই উট যাকে পানির ঘাট থেকে নিকটস্থ চারণভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর আবার বিশ্রামের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়, যাকে মুন্দা বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وآلت دار الندوة إلى [حكيم] بن حزام بن خويلد ابن أسد بن عبد العزى بن قصي، فباعها من معاوية بمائة ألف درهم، فلامه [ابن الزبير] على ذلك وقال: يا حكيم، لقد بيعت مكرمة آبائك. فقال: ذهبت المكارم إلا التقوى، لقد اشتريتها في الجاهلية بزق خمر، وبعتها بمائة ألف درهمٍ وإني أشهد كم الآن أن ثمنها في سبيل الله، فأينا المغبون؟ قال هشام: دار الندوة أول دارٍ بنيت لقريشٍ بمكة بناها قصي بن كلابٍ، ثم صارت إلى ولده وبنيه، حتى باعها عكرمة بن عامر لبن هاشم بن عبد منافٍ من معاوية فجعلها داراً للإمارة.

وكانت هذه الدار لاصقة بالمسجد الحرام، وكان معاوية ينزل فيها إذا حج واعتمر، ونزل فها خلفاؤه من بعده، ودخل بعض هذه الدار في زيادة عبد الملك والوليد وسليمان في المسجد الحرام، وبعضها الآخر في زيادة المنصور.

83 [دار نهشل: وجدتها في شعر بعض السعديين ولا أعرفها. قال

ثوى ناظرُ الحاجاتِ في دارِ نهشلٍ … ودار هُليكٍ، والرحامُ يهولُها]

84 [دارُ نُهيكٍ] .

85 [دار نيروز: بالبصرة، وكانت داراً عظيمة، يدور حولها سور [مديدٌ] وحولها زروعٌ وأشجار.

86 دار وأشكيدان: بواو وألف وشين معجمة، ثم كاف وياء مثناه تحتية، وذال معجمة وألف، وبأخره نون، وهي من قرى هراة، والنسبة إليها داري، يقول فيها الشاعر:

يا قرية الدار! هل لي فيكِ من دارِ

87 دار الوزارة: ثلاثة مواضع.

في الأول: دار الوزارة ببغداد، وكانت في الأصل دار سليمان بن وهبٍ، بباب المخرم على دجلة، عند مشرعة الصخر. ثم صارت مقراً للوزارة، وهي دار واسعة فيها عدة آدر منها: 88 الدارُ الدمشقية.

89 ودار المستخرج.

90 والدار الجديدة.

91 ودار البستان، وهي التي نزلها ابن الفرات سنة إحدى عشرة وثلاثمائة، في وزارته الثالثة.

92 وفي الموضع الثاني: دار الوزارة بأصبهان، ابتناها الصاحب، وأنفق في تشييدها أموالاً عظيمة. ودخلها بعد الفراغ من بنائها، وحوله رجاله وشعراؤه وهم يحيطون به، وغليها ينظرون ويعجبون. قال الضبي فيها من قصيدة له:

دارُ الوزارةِ ممدودٌ سرادِقُها … ولاحقٌ بُذارا الجوزاءِ لاحقُها

دارُ الأمير التي هذي وزارتُها … أهدتْ لها وشُحاً راقتْ غارقُها

وقد قيلت في هذه الدار أشعار كثيرةٌ 93 وفي الموضع الثالث: دار الوزارة بمصر، بناها يعقوب بن كلسٍ، وزير العزيز العبيدي نزار بن معد، صاحب مصر.

 

‌‌وكان يعقوب هذا يهودياً خبيثاً، أصله من بغداد، قيل: إنه مات على دين آبائه وقيل: إنه اسلم، وحسن إسلامه [قبل موته] بسنين. كانت ولادته ببغداد سنة ثمان عشرة وثلاثمائة بباب القز، ومات بالقاهرة سنة ثمانين وثلاثمائة.

94 دار لوكالة: كانت داراً للأفضل، وزير العبيديين بمصر، وموضعها على النيل، وكانت تسمى دار الملك.

95 [دار هُليكٍ] وقيل: باللام، وجدتها في شعر بعض بني سعدٍ، وقد ذكرته] .

96 دار الياقوتة: كانت بمكة بين الصفا والمروة، بناها نافع بن علقمة، خال بني مروان، وواليهم على الحجاز.

97 دار يزيد: بالبصرة، وهي تنسب إلى يزيد بن منصور، والله تعالى أعلم بالصواب.

ومما وجدناه بلفظ التثنية: 98 داران: وهي قريةٌ عجينة من أعمال إربل، قيل: فيها ماء يختلف لونه في أول النهار عنه في آخره ووسطه فيكون أبيض في أوله فيصير أسود في وسطه، ثم يعود أبيض في آخره.

ومما وجدناه بلفظ الجمع: 99 دوران: اسم موضع، سمعت به، وهو قريب من الكوفة.

100 الدور: محلة بنيسابور، ينسب إليها قومٌ من الرواة، منهم: أبو عبد الله الدوري، وله ذكر في حكاية أحمد بن سلمة النيسابوري.

101 والدور أيضاً: محلة في طرف بغداد، قرب دير الروم، وهي الآن خربةٌ.

102 والدور أيضاً: قرية قرب سميساط.

103 والدور أيضاً: موضع بالبادية. قال الشاعر:

وإلى لدورِ بالمروراتِ منهم … فإلى فجِّ مائرٍ فالديارِ
এবং দারুন নদওয়াহ হাকিম ইবনে হিযাম ইবনে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই-এর মালিকানাধীন হয়। তিনি এটি মুয়াবিয়ার নিকট এক লক্ষ দিরহামে বিক্রি করেন। এতে ইবনুল যুবাইর তাকে তিরস্কার করে বললেন: হে হাকিম, আপনি তো আপনার পূর্বপুরুষদের অনন্য মর্যাদা বিক্রি করে দিলেন। তিনি বললেন: তাকওয়া ব্যতীত সকল মর্যাদা বিলীন হয়ে গেছে। আমি এটি জাহেলিয়াত যুগে এক মশক মদের বিনিময়ে কিনেছিলাম, আর এখন তা এক লক্ষ দিরহামে বিক্রি করেছি। আমি আপনাদের সাক্ষী রাখছি যে, এর সম্পূর্ণ মূল্য আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিলাম; তাহলে আমাদের মধ্যে কে ক্ষতিগ্রস্ত হলো? হিশাম বলেন: মক্কায় কুরাইশদের জন্য নির্মিত প্রথম ভবন ছিল দারুন নদওয়াহ, যা কুসাই ইবনে কিলাব নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে এটি তাঁর সন্তানদের মালিকানায় থাকে, শেষ পর্যন্ত ইকরামা ইবনে আমির ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ এটি মুয়াবিয়ার নিকট বিক্রি করেন এবং তিনি একে প্রশাসনিক ভবনে পরিণত করেন।

এই ভবনটি মসজিদুল হারামের সাথে সংলগ্ন ছিল। মুয়াবিয়া যখন হজ বা ওমরাহ করতে আসতেন তখন এখানেই অবস্থান করতেন এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাগণও এখানে অবস্থান করতেন। এই ভবনের কিছু অংশ আব্দুল মালিক, ওয়ালিদ ও সুলাইমানের শাসনামলে মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং বাকি অংশ মনসুরের শাসনামলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৮৩ [দারু নাহশাল: আমি এটি বনু সা’দ গোত্রের কোনো এক কবির কবিতায় পেয়েছি কিন্তু এর অবস্থান সম্পর্কে আমার জানা নেই। কবি বলেছেন:

প্রয়োজন পূরণকারী নাহশালের গৃহে অবস্থান করেছেন ... এবং হুলইকের গৃহে, যার বিরান ভূমি তাকে আতঙ্কিত করে]

৮৪ [দারু নুহাইক]।

৮৫ [দারু নায়রূয: এটি বসরায় অবস্থিত, এটি একটি বিশাল প্রাসাদ ছিল যার চারপাশে দীর্ঘ প্রাচীর এবং শস্যক্ষেত ও বৃক্ষরাজি বেষ্টিত ছিল।

৮৬ দারু আশকাদান: এটি ওয়াও, আলিফ, শীন, কাফ, ইয়া, যাল, আলিফ এবং শেষে নুন দিয়ে গঠিত। এটি হেরাতের একটি গ্রাম, এর অধিবাসীদের ‘দারি’ বলা হয়। কবি এ সম্পর্কে বলেন:

হে দারের গ্রাম! তোমার মাঝে কি আমার কোনো গৃহ (দার) আছে?]

৮৭ দারুল ওয়াজারা (মন্ত্রীভবন): তিনটি স্থানে অবস্থিত।

প্রথমত: বাগদাদের দারুল ওয়াজারা। এটি মূলত দজলা নদীর তীরে বাবে মুখাররিম নামক স্থানে সুলাইমান ইবনে ওয়াহাব-এর ভবন ছিল। পরবর্তীতে এটি মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে পরিণত হয়। এটি একটি বিশাল ভবন যাতে বেশ কয়েকটি অট্টালিকা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: ৮৮ আদ-দারুদ্দামাশকিয়্যাহ (দামেস্কি ভবন)।

৮৯ দারুল মুস্তাখরিজ।

৯০ আদ-দারুল জাদিদাহ (নতুন ভবন)।

৯১ দারুল বুস্তান; ইবনুল ফুরাত ৩১১ হিজরিতে তাঁর তৃতীয়বার মন্ত্রিত্ব লাভের সময় এখানে অবস্থান করেছিলেন।

৯২ দ্বিতীয় স্থানে: আসফাহানের দারুল ওয়াজারা। এটি আল-সাহিব নির্মাণ করেছিলেন এবং এর নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি এতে প্রবেশ করেন এবং তাঁর চারপাশে তাঁর অনুসারী ও কবিগণ তাঁকে পরিবেষ্টন করে ছিল, তারা বিস্ময়ের সাথে এর দিকে তাকাচ্ছিল। এ সম্পর্কে আদ-দাব্বি তাঁর এক কবিতায় বলেন:

দারুল ওয়াজারার চাঁদোয়া অনেক বিস্তৃত ... এবং তা উত্তরাকাশের নক্ষত্ররাজিকেও স্পর্শ করে

এটি সেই আমিরের গৃহ যার এটিই মন্ত্রণালয় ... যা তাকে শ্রেষ্ঠত্বের এমন এক অলংকার উপহার দিয়েছে যার সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে

এই ভবন সম্পর্কে অনেক কবিতা রচিত হয়েছে। ৯৩ তৃতীয় স্থানে: মিশরের দারুল ওয়াজারা। এটি মিশরের শাসক উবাইদী নিযার ইবনে মা’দ আল-আযীযের উজির ইয়াকুব ইবনে কিলিস নির্মাণ করেছিলেন।

 

‌‌এই ইয়াকুব ছিল এক নিকৃষ্ট ইহুদি, যার আদি নিবাস ছিল বাগদাদ। বলা হয় যে, সে তার পিতৃপুরুষদের ধর্মেই মৃত্যুবরণ করেছে, আবার এও বলা হয় যে, সে ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং [মৃত্যুর] কয়েক বছর পূর্বে তার ইসলাম সুন্দর হয়েছিল। তার জন্ম ৩১৮ হিজরিতে বাগদাদের বাবে কায নামক স্থানে এবং মৃত্যু ৩৮০ হিজরিতে কায়রোতে।

৯৪ দারুল ওয়াকালাহ: এটি মিশরের উবাইদীদের উজির আল-আফদালের ভবন ছিল, যা নীল নদের তীরে অবস্থিত ছিল এবং একে দারুল মুলক বলা হতো।

৯৫ [দারু হুলইক] কারো মতে এটি লাম অক্ষর দিয়ে; আমি এটি বনু সা’দের কোনো কবির কবিতায় পেয়েছি যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

৯৬ দারুল ইয়াকুতাহ: এটি মক্কায় সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। এটি নির্মাণ করেছিলেন বনু মারওয়ানের মামা এবং হেজাজে তাদের গভর্নর নাফি’ ইবনে আলকামা।

৯৭ দারু ইয়াযিদ: এটি বসরায় অবস্থিত এবং এটি ইয়াযিদ ইবনে মনসুরের সাথে সম্পর্কিত। আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক জ্ঞান রাখেন।

দ্বিবচন শব্দে যা আমরা পেয়েছি: ৯৮ দারান: এটি ইরবিলের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম। বলা হয় যে, এখানকার পানির রঙ দিনের শুরুতে এক রকম, দুপুরে অন্য রকম এবং দিনের শেষে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। দিনের শুরুতে এটি সাদা থাকে, দুপুরে কালো হয়ে যায় এবং দিনের শেষে পুনরায় সাদা হয়ে যায়।

বহুবচন শব্দে যা আমরা পেয়েছি: ৯৯ দাওরান: একটি স্থানের নাম যা সম্পর্কে আমি শুনেছি, এটি কুফার নিকটবর্তী।

১০০ আদ-দূর: এটি নিশাপুরের একটি মহল্লা, অনেক বর্ণনাকারী এর সাথে সম্পর্কিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ আদ-দুরি, আহমদ ইবনে সালামাহ নিশাপুরির বর্ণনায় তাঁর উল্লেখ রয়েছে।

১০১ আদ-দূর আরও একটি স্থান: এটি বাগদাদের এক প্রান্তে দাইরুর রুমের নিকটে অবস্থিত একটি মহল্লা, যা বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত।

১০২ আদ-দূর আরও একটি গ্রাম যা সামাইসাতের নিকটে অবস্থিত।

১০৩ আদ-দূর মরু অঞ্চলেরও একটি স্থানের নাম। কবি বলেন:

তাদের জন্য আল-মুরুরাতের আদ-দূর পর্যন্ত ... অতঃপর ফাজ্জে মায়ির হয়ে মূল আবাসস্থল পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
104ودور بغداد مضلفة: محلة ببغداد، قرب مشهد أبي حنيفة ينسب إليها أبو عبد الله محمد بن مخلدٍ الدوري، صمع يعقوب الدوري، والزبير بن بكارٍ وممن ينسب إليها الهيثم بن محمد الدوري، ومحمد بن الباقي بن أبي الفرج محمد بن أبي اليسري الدوري البغدادي، حدث عن أبي بكر محمد بن عبد الملك بن بكران، وأبي محمد الحسن بن علي الجوهري، ومحمد بن الفتح العشاري، وحفص بن عمر بن عبد العزيز ابن صهبان الدوري البغدادي الضرير المقرئ، روى عن الكسائي، ومات في شوال من سنة ست وأربعين ومائتين.

105 الدور الأعلى: قرية كبيرة بين سامراً وتكريت.

106 الدور الأسفل: محلة بين سامراً وتكريت أيضاً وهي قريبة من الدور الأعلى، وتعرف بدور عربايا، أنزل فيها المعتصم بعض قواده من الأتراك، لما اراد بناء (سرَّ من رأى) ينسب إليها محمد بن الفرخان بن روزبة، أبو الطيب الدوري.

107 دور بني الأوقر: قرية من عمل الدجيل بينها وبين بغداد سبعة فراسخ، تعرف بدور الوزير، نسبة إلى الوزير عون الدين يحيى بن محمد بن هُبيرة، وزير المقتفي والمستنجد بالله. وفيها جامعٌ ومنبرٌ.

قال هبة الله بن الحسين الأسطرلابي يهجو الوزير يحيى ويذكر دور بني الأوقر:

أقصى أمانيك الرجو … عَ إلى المساحي والنيرْ

متربعاً وسطَ المزا … بلِ، بين دورِ بني أقرْ

أو قائداً جملَ الزبي … ري اللعين إلى سقرْ

108 [دور بني الحارث: محلة من محال المدين، وهي من دور الأنصار] .

109 [دور بني ساعدة: محلة أخرى من محال الأنصار بالمدينة أيضاً] .

110 [دور بني عبد الأشهل: من محال الأنصار بالمدينة أيضاً] .

111 [دور بني النجار: من محالهم بالمدينة] .

112 دُورُ تكريت: بين سامراً وتكريت.

113 دُورُ حبيب: وهي من عمل دجيلٍ، قريبةٌ من دور بغداد التي سبق ذكرها، وبقرب دور الوزير أيضاً.

114 دور الراسبي: بلدٌ مشهورٌ، قريبٌ من الأهواز.

115 ودور الراسبي أيضاً: بين الطيب.

وجنديسابور من أرض خوزستان. كأنه منسوب إلى بني راسب ابن ميدعان بن ماك بن نصر بن الأزد بن الغوث. يُنسب إلى دور الراسبي أبو الحسين علي بن أحمد الراسبي. وهو من عظماء العمال وأفذاذ الرجال. مات ليلة الأربعاء لليلة بقيت من ربيع الآخر سنة إحدى وثلاثين ثلاثمائة، في أيام المقتدر بالله، ووزارة وزيره علي بن عيسى. ودُفن الراسبي بداره. وخلف [بنتاً] وأخاً، وكان يتقلد من واسط إلى شهرزور، وكورتين من كور الأهواز.

ومبلغ ضمانه ألف ألف وأربعمائة ألف دينار في كل عام ولم يكن للسلطان معه غير صاحب البريد، لأن الحراج والضياع والحرث والشجر وما سواه داخل في ضمانه. وقد استطاع ضبط جميع أعماله، وحمى ما تحت يديه من الأعراب واللصوص والكرد، ومات عن أموالٍ عظيمةٍ.

 

‌‌وحين وصل خبر موته إلى بغداد، من حامد بن العباس وقع نزاع بين أخيه وختنِهِ. لأن كل واحدٍ منهماطلب الأمر لنفسه، وصار مع كل منهما بعض أصحاب الراسبي وغلمانه، فوقع قتالٌ عنيف بينهما، وقتل رجالٌ من الطرفين فانهزم أخو الراسبي، ومعه الأموال، واجتاز بحامد بن العباس من قبل ختن الراسبي، ومعه كتاب إلى أبي صخرة، ومع الكتاب عشرون ألف دينار ليصلح بها أمره عند الخليفة المقتدر فأنفذ حامد جماعة من رجاله لحفظ تركة الراسبي، والإصلاح بين الرجلين، فتمَّ له ذلك، وحمل من التركة أموالاً وفرشا وجواهر وأشياء عظيمة، هي:

العين: أربعمائة ألف وخمسة وأربعون ألفاً، وخمسمائة وسبعة وثلاثون ديناراً.

الورِقُ: ثلاثمائة ألفٍ وأربعون ألفاً ومائتان وسبعةٌ وثلاثون درهماً.

ومن الأواني الذهبية: ما زنته ثلاثة وأربعين [ألفاً] وتسعمائة وسبعون مثقالاً.

ومن الأواني الفضية: ما زنته ألفٌ وتسعمائة وخمسة وسبعون رِطلاً.

ومما وزن بالشاهين، من آنية الفضة: ثلاثة عشر ألفاً وستمائة وخمسون درهماً.

ومن الند المعمول: سبعة آلاف وأربعمائة مثقالٍ.

ومن العود [المطري] : أربعة آلاف وأربعمائة وعشرون مثقالاً.

ومن العنبر: خمسة آلاف وعشرون مثقالاً.

ومن نوافج المسك: ثمانمائة نافجة.

ومن المِسْكِ المنشور: ألف وستمائة مثقال.

ومن السُّكِّ: ألفا ألفٍ وستةٌ وأربعون مثقالاً ومن الغالية: ثلاثمائة وستةٌ وستون مثقالاً.
104 এবং দাওর বাগদাদ মুদলাফা: এটি বাগদাদের একটি মহল্লা, যা আবু হানিফার মাশহাদের (সমাধিস্থল) নিকটবর্তী। এর দিকে নিসবত করা হয় আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আদ-দুরিকে; তিনি ইয়াকুব আদ-দুরি ও জুবায়ের ইবনে বাক্কার থেকে শ্রবণ করেছেন। এছাড়া যাদের এর দিকে নিসবত করা হয় তারা হলেন হাইসাম ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি এবং মুহাম্মদ ইবনুল বাকি ইবনে আবিল ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আবিল ইয়াসরি আদ-দুরি আল-বাগদাদি; তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে বাকরান, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারি এবং মুহাম্মদ ইবনুল ফাতহ আল-উশারি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আরও আছেন হাফস ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে সাহবান আদ-দুরি আল-বাগদাদি আদ-দারির আল-মুকরি; তিনি আল-কিসায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ২৪৬ হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

105 আদ-দাওরুল আ'লা: এটি সামারা ও তিকরিতের মধ্যবর্তী একটি বড় গ্রাম।

106 আদ-দাওরুল আসফাল: এটিও সামারা ও তিকরিতের মধ্যবর্তী একটি মহল্লা এবং এটি আদ-দাওরুল আ'লার নিকটবর্তী। এটি 'দাওর আরাবায়া' নামে পরিচিত। মুতাসিম যখন (সাররা মান রাআ) সামারা নির্মাণের ইচ্ছা করেন, তখন এখানে তার কিছু তুর্কি সেনাপতিকে আবাসন দিয়েছিলেন। এর দিকে নিসবত করা হয় মুহাম্মদ ইবনুল ফারখান ইবনে রুজবাহ আবু তাইয়িব আদ-দুরিকে।

107 দাওর বানি আল-আওকার: দুজাইল অঞ্চলের একটি গ্রাম, বাগদাদ থেকে এর দূরত্ব সাত ফারসাখ। এটি 'দাওরুল উজির' নামে পরিচিত, যা আল-মুতাফি ও আল-মুসতানজিদ বিল্লাহর উজির আউন উদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুবায়রার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এতে একটি জামে মসজিদ ও মিম্বর রয়েছে।

হিবাতুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আল-আসতারলাবি উজির ইয়াহইয়ার নিন্দা করে এবং দাওর বানি আল-আওকারের উল্লেখ করে বলেন:

তোমার সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা হলো ফিরে যাওয়া … কোদাল ও জোয়ালের দিকে

বর্জ্যস্তূপের মাঝে জাঁকিয়ে বসা … দাওর বানি আওকারের মধ্যস্থলে

অথবা অভিশপ্ত জুবায়েরির উটকে … জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া

108 [দাওর বানি আল-হারিস: এটি মদিনার একটি এলাকা এবং এটি আনসারদের দাওরের (বসতি) অন্তর্ভুক্ত]।

109 [দাওর বানি সায়িদা: এটিও মদিনার আনসারদের আরেকটি এলাকা]।

110 [দাওর বানি আবদিল আশহাল: এটিও মদিনার আনসারদের একটি এলাকা]।

111 [দাওর বানি নাজ্জার: মদিনায় তাদের বসতি এলাকা]।

112 দাওর তিকরিত: এটি সামারা ও তিকরিতের মাঝে অবস্থিত।

113 দাওর হাবিব: এটি দুজাইল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্বে উল্লিখিত দাওর বাগদাদের নিকটবর্তী এবং দাওরুল উজিরের কাছাকাছি।

114 দাওরুর রাসবি: এটি আহওয়াজের নিকটবর্তী একটি প্রসিদ্ধ শহর।

115 পুনরায় দাওরুর রাসবি: এটি আল-তাইয়িব এবং

খুজিস্তান অঞ্চলের জান্দিসাবুরের মাঝে অবস্থিত। মনে হয় এটি বানি রাসিব ইবনে মায়দান ইবনে মাক ইবনে নাসর ইবনে আজদ ইবনে গাউসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। দাওরুর রাসবির দিকে নিসবত করা হয় আবু হুসাইন আলী ইবনে আহমদ আল-রাসবিকে। তিনি পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম এবং অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ৩৩১ হিজরির রবিউল আখের মাসের এক রাত বাকি থাকতে বুধবার দিবাগত রাতে আল-মুকতাদির বিল্লাহর শাসনামলে এবং তার উজির আলী ইবনে ঈসার মন্ত্রীত্বকালে মৃত্যুবরণ করেন। রাসবিকে তার নিজ গৃহেই দাফন করা হয়। তিনি এক কন্যা ও এক ভাই রেখে যান। তিনি ওয়াসিত থেকে শাহরাজুর এবং আহওয়াজের দুটি জেলা শাসন করতেন।

তার বার্ষিক জামানতের (রাজস্বের দায়িত্ব) পরিমাণ ছিল চৌদ্দ লক্ষ দিনার। সুলতানের পক্ষ থেকে সংবাদ বাহক ব্যতীত তার সাথে অন্য কেউ থাকত না, কারণ ভূমি কর, ভূসম্পত্তি, চাষাবাদ, বৃক্ষরাজি এবং এর বাইরে যা কিছু ছিল সবই তার জিম্মায় ছিল। তিনি তার সকল কার্যভার নিয়ন্ত্রণে সক্ষম ছিলেন এবং তার অধীনস্থ এলাকাকে বেদুইন, চোর ও কুর্দিদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি বিপুল ধন-সম্পদ রেখে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌যখন হামিদ ইবনে আব্বাসের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ বাগদাদে পৌঁছাল, তখন তার ভাই ও জামাতার মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হলো। কারণ তাদের প্রত্যেক একজনই ক্ষমতা নিজের জন্য দাবি করছিল। রাসবির কিছু সহচর ও অনুচর তাদের প্রত্যেকের সাথে যোগ দিয়েছিল, ফলে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ হলো এবং উভয় পক্ষের অনেক লোক নিহত হলো। রাসবির ভাই ধন-সম্পদসহ পরাজিত হলো। সে রাসবির জামাতার পক্ষ থেকে জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে হামিদ ইবনে আব্বাসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল, যার কাছে আবু সাখরার উদ্দেশ্যে একটি পত্র এবং বিশ হাজার দিনার ছিল যাতে খলিফা মুকতাদিরের কাছে তার বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া যায়। হামিদ তখন রাসবির পরিত্যক্ত সম্পত্তি রক্ষা এবং দুই ব্যক্তির মধ্যে মিমাংসার জন্য তার একদল লোককে পাঠালেন। এতে তার উদ্দেশ্য সফল হলো এবং তিনি পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে প্রচুর অর্থ, আসবাবপত্র, মণি-মুক্তা ও বিশাল সব সামগ্রী নিয়ে এলেন, যা হলো:

নগদ স্বর্ণমুদ্রা: চার লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার পাঁচশ সাইত্রিশ দিনার।

রৌপ্য মুদ্রা: তিন লক্ষ চল্লিশ হাজার দুইশ সাইত্রিশ দিরহাম।

স্বর্ণপাত্র: যার ওজন তিয়াল্লিশ হাজার নয়শ সত্তর মিসকাল।

রৌপ্যপাত্র: যার ওজন এক হাজার নয়শ পঁচাত্তর রিতল।

শাহিন পাল্লায় ওজন করা রৌপ্যপাত্র: তেরো হাজার ছয়শ পঞ্চাশ দিরহাম।

প্রস্তুতকৃত সুগন্ধি: সাত হাজার চারশ মিসকাল।

সুগন্ধি কাঠ (উদ মাতারি): চার হাজার চারশ বিশ মিসকাল।

আম্বর: পাঁচ হাজার বিশ মিসকাল।

কস্তুরীর নাফা: আটশটি।

ছড়ানো কস্তুরী: এক হাজার ছয়শ মিসকাল।

সুক (সুগন্ধি): বিশ লক্ষ ছেচল্লিশ হাজার মিসকাল এবং ঘালিয়া (সুগন্ধি): তিনশ ছেষট্টি মিসকাল।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن البرمكية: ألفٌ وثلاثمائة وتسعة وتسعون مثقالاً.

ومن الثياب: ثمانية عشر ثوباً منسوجة بالذهب، قيمة كل ثوب منها ثلاثمائة دينارٍ.

 

‌‌ومن أصناف الكسوة: ما قيمته تسعةٌ وعشرون ألف دينار.

ومن أصناف الفُرش: ما قيمته عشرة آلاف دينارٍ.

ومن قِباب الخيام الكبار: مائةٌ وخمسٌ وعشرون خيمةً.

ومن الهوادج والسروج: أربعة عشر هودجاً وعشرون سرجاً.

ومن السرج: ثلاثة عشر سراجاً.

ومن أعلاق الجواهر: حجرا ياقوت.

ومن خواتيم الياقوت: خمسة عشر خاتماً، وخاتمٌ واحدٌ فصه زَبرجَدُ.

ومن حب اللؤلؤ: سبعةٌ وسبعون حبة، زنتها تسعة عشر مثقالاً ونصف مثقال.

ومن فحول الخيلِ وإناثها: مائةٌ وخمسةٌ وسبعون رأساً.

ومن الدواب المهارى، والبغالِ: مائةٌ وثمانيةٌ وعشرون رأساً.

ومن الجماز والجمازات: تسعةٌ وتسعون رأساً.

ومن الحمير النقالة: تسعة وتسعون رأساً.

ومن الخدم السودان: مائة وأربعة عشر خادماً.

ومن الغلمان البيض: مائةٌ وثمانية وعشرون غلاماً ومن الخدم الروم والصقالبة: تسعة عشر خادماً، ومن الغلمان الأكابر: أربعون غلاماً بما يلزمهم من آلاتهم وسلاحهم ودوابهم.

116 دور سامراء: وهي من الدور المعروفة في سامراء، قيل: ينسب إليها أبو الطيب محمد بن فرخان بن روزبة حدّث عن أبي خليفة، وغيره. وأحاديثه منكرة روى عن الجنيد حكاياتٍ في التصوف والمتصوفة.

117 دورُ صدي: قريةٌ عند دجيلٍ. قيل: إنها منسوبة إلى ذكر البوم مصغراً.

118 دورُ عربايا: مدينة معروفة بين سامراً وتكريت قريبةٌ من دور تكريت، من نواحي بغداد. قيل: إنها الدور الأسفل نفسها، وقد مرت، وقيل: هي غيرها.

119 [دور الوزير: قربةٌ من عمل الدجيل] .

120 الدورة: بلفظ الجمع، وبآخره هاء، قربةٌ قرب الخليل من قرى بيت المقدس.

121 [الدويرة: بلفظ التصغير لدار، محلة ببغداد، نسب إليها قوم من العلماء منهم: أبو محمد حماد بن محمد بن عبد الله الفزاري الأزرق الدويري، كوفي نزل الدويرة ببغداد، حدَّث عن محمد بن طلحة، ومقاتل بن سليمان، وروى عنه عباس الدوري، وغيره. مات في سنة ثلاثين ومائتين] .

122 والدويرة أيضاً: قرية على فرسخين من نيسابور، ينسب إليها أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن يوسف الدويري لنيسابوري، حدث عن إسحاق بن راهويه وقتيبة بن سعيد ومحمد بن رافع. روى عنه أبو عمرو بن حمدان النيسابوري، ومات في سنة سبع وثلاثمائة.

ومما جاء بلفظ ديار جمعاً لدار، وهي محال نزول القبائل، ومواطن سُكناها أصلاً.

123 ديار بكرٍ: وهي بلادٌ كبيرةٌ، عظيمة الاتساع، تنسب إلى بكر بن وائل بن قاسط بن هنب بن أفصى بن دُعمي بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان.

وحدودها عظيمة، تبدأ من غرب دجلة إلى بلاد الجبل المطل على نصيبين، إلى دجلة في الشمال، ومنها حصْن كيفا وآمد وميافارقين، وقد يتجاوز دجلة إلى إسعرت وحيزان وحيني وما تخلل ذلك من البلاد، وما يتجاوز السهل.

قال أبو الفرج الببغاء، يمدح سيف الدولة، ويذكر ديار بكرٍ:

وكيف يُغلبُ من لله ينصرُ من … دونِ الورى، وبعزِّ اللهِ يعتصمُ

إن سارَ كان لواءُ الحمدِ يقدمُهُ … أو حلَّ كان بهِ الإقبالُ والكرمُ

يلقى العِدى بجيوشٍ لا يقاومُها … كُثرُ العساكرِ، إلا أنها هِمَمُ

لما سقى البيضَ رياً، وهي ظامئةٌ … من الدعاءِ وحكمُ لموتِ يحتكمُ

سقتْ سحائبُ كفيهِ بصيبها … ديارَ بكرٍ، فهانتْ عندها الديمُ

وينسب إلى ديار بكر من المحدثين عمر بن علي بن الحسن الديار بكري سمع الجبائي بحلب.

124 ديار بني ربيعة: وهي بلاد عظيمةٌ واسعة بين الموصل ورأس عينٍ، نحو بقعاء والقُرى، وقد تسمى ديار بكر وربيعة معاً ديار ربيعة، لأنهم كلهم من ربيعة. وديار ربيعة اسم قديم لتلك البلاد، واسم الجزيرة أشمل إن أطلق على الكلِّ.

125 ديار مضر: بلاد تقع في السهل قريباً من شرقي الفرات، جهة حران وسروج والرقة وشمشاط وتل موزن.

والديار في بلاد العرب كثيرة، ولكل قبيلة ديار تنزلها وتقيم فيها، فتسمى باسمها.
বারমাকিয়্যা থেকে: এক হাজার তিনশ নিরানব্বই মিসকাল।

পোশাকের মধ্যে: আঠারোটি স্বর্ণখচিত পোশাক, যার প্রতিটির মূল্য তিনশ দিনার।

 

‌‌পোশাক-পরিচ্ছদের প্রকারভেদ থেকে: যার মূল্য উনত্রিশ হাজার দিনার।

বিছানা ও কার্পেটের প্রকারভেদ থেকে: যার মূল্য দশ হাজার দিনার।

বড় তাবুর গম্বুজ থেকে: একশ পঁচিশটি তাবু।

হাওদা ও জিনের মধ্যে: চৌদ্দটি হাওদা এবং বিশটি জিন।

প্রদীপ থেকে: তেরোটি প্রদীপ।

মূল্যবান রত্নালঙ্কার থেকে: দুটি ইয়াকুত পাথর।

ইয়াকুতের আংটি থেকে: পনেরোটি আংটি, এবং একটি আংটি যার পাথর জাবারজাদ।

মুক্তার দানা থেকে: সাতাত্তরটি দানা, যার ওজন উনিশ মিসকাল ও অর্ধেক মিসকাল।

মাদী ও নর ঘোড়া থেকে: একশ পঁচাত্তরটি।

দ্রুতগামী উট এবং খচ্চর থেকে: একশ আটাশটি।

দ্রুতগামী উট (জাজমাজ) থেকে: নিরানব্বইটি।

পণ্যবাহী গাধা থেকে: নিরানব্বইটি।

কৃষ্ণাঙ্গ সেবকদের মধ্য থেকে: একশ চৌদ্দ জন সেবক।

শ্বেতাঙ্গ কিশোরদের মধ্য থেকে: একশ আটাশ জন কিশোর এবং রোম ও স্লাভ সেবকদের মধ্য থেকে: উনিশ জন সেবক, এবং জ্যেষ্ঠ কিশোরদের মধ্য থেকে: চল্লিশ জন কিশোর, তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, অস্ত্র ও পশুসহ।

১১৬ দূর সামাররা: এটি সামাররার সুপরিচিত এলাকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। বলা হয়: এর দিকেই আবু তাইয়্যিব মুহাম্মদ ইবন ফারখান ইবন রুজবাহ-কে সম্বন্ধ করা হয়, যিনি আবু খলিফা ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত হাদিসগুলো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। তিনি জুনায়েদ থেকে তাসাউফ ও সুফিদের বিষয়ে কিছু কিচ্ছা বর্ণনা করেছেন।

১১৭ দূর সাদি: দাজাইল-এর নিকটবর্তী একটি গ্রাম। বলা হয়: এটি পেঁচার নামের ক্ষুদ্র রূপের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

১১৮ দূর আরাবায়া: সামাররা ও তিকরিতের মধ্যবর্তী একটি সুপরিচিত শহর, যা তিকরিতের নিকটবর্তী এবং বাগদাদের আশপাশের অন্তর্ভুক্ত। বলা হয়: এটিই মূলত আল-দূর আল-আসফাল, যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আবার বলা হয়: এটি ভিন্ন কোনো স্থান।

১১৯ [দূর আল-ওয়াজির: দাজাইল প্রশাসনিক এলাকার নিকটবর্তী একটি স্থান]।

১২০ আদ-দাওরাহ: বহুবচন শব্দে, শেষে 'হা' যুক্ত। এটি খলিল (হেব্রন) শহরের নিকটবর্তী বাইতুল মুকাদ্দাসের গ্রামগুলোর একটি।

১২১ [আদ-দুওয়াইরাহ: 'দার' শব্দের ক্ষুদ্র রূপ। এটি বাগদাদের একটি মহল্লা। একদল আলেম এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু মুহাম্মদ হাম্মাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-ফাজারি আল-আজরাক আদ-দুওয়াইরি। তিনি কুফি ছিলেন, বাগদাদের দুওয়াইরাহ-তে অবস্থান করতেন। তিনি মুহাম্মদ ইবন তালহা ও মুকাতিল ইবন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তার থেকে আব্বাস আদ-দাওরি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৩০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন]।

১২২ আদ-দুওয়াইরাহ (অন্যটি): নিশাপুর থেকে দুই ফারসাখ দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম। এর দিকে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আদ-দুওয়াইরি আন-নিশাপুরি-কে সম্বন্ধ করা হয়। তিনি ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ, কুতাইবা ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন রাফে থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে আবু আমর ইবন হামদান আন-নিশাপুরি বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩০৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

'দার' শব্দের বহুবচন 'দিয়ার' হিসেবে যা যা এসেছে; যা মূলত গোত্রসমূহের আবাসস্থল এবং তাদের মূল বসবাসের স্থান।

১২৩ দিয়ার বকর: এটি একটি বিশাল ভূখণ্ড এবং অত্যন্ত প্রশস্ত এলাকা। এটি বকর ইবন ওয়ায়িল ইবন কাসিত ইবন হিনব ইবন আফসা ইবন দু'মি ইবন জাদিলা ইবন আসাদ ইবন রাবিয়া ইবন নিজার ইবন মা'আদ ইবন আদনান-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

এর সীমানা অত্যন্ত বিস্তৃত। এটি দজলা নদীর পশ্চিম থেকে শুরু হয়ে নসিবিন-এর পাহাড়ী অঞ্চল পর্যন্ত এবং উত্তরে দজলা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। এর অন্তর্ভুক্ত হলো হিসন কাইফা, আমিদ ও মিয়াফারিকিন। সীমানা দজলা ছাড়িয়ে ইসআরাত, হাইজান, হাইনি এবং মধ্যবর্তী এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং সমতল ভূমি অতিক্রম করেছে।

আবু আল-ফারজ আল-বাবাগা সাইফুদ্দৌলার প্রশংসা করে এবং দিয়ার বকরের উল্লেখ করে বলেন:

যাকে আল্লাহ সাহায্য করেন তাকে কীভাবে পরাজিত করা যাবে? … সে তো অন্য সৃষ্টির পরিবর্তে আল্লাহর ইজ্জতের মাধ্যমে সুরক্ষা কামনা করে।

সে যখন অগ্রসর হয়, প্রশংসার ঝাণ্ডা তার অগ্রগামী হয়; … আর যখন সে কোথাও অবস্থান করে, সেখানে সৌভাগ্য ও মহানুভবতা অবস্থান নেয়।

সে শত্রুর মোকাবিলা করে এমন সৈন্যবাহিনী দিয়ে যাকে রোখা অসম্ভব; … সেই বাহিনী সংখ্যায় অনেক হলেও তাদের সংকল্পই প্রধান।

যখন সে শুভ্র তরবারিগুলোকে পরিতৃপ্ত করে সিক্ত করল, অথচ সেগুলো ছিল তৃষ্ণার্ত; … দোয়ার মাধ্যমে এবং যখন মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হচ্ছিল।

তখন তার হস্তদ্বয়ের দানশীলতার মেঘমালা প্রবল বর্ষণে … দিয়ার বকরকে সিক্ত করল, ফলে সাধারণ মেঘের বর্ষণ তার কাছে তুচ্ছ প্রতিভাত হলো।

মুহাদ্দিসদের মধ্যে দিয়ার বকরের দিকে সম্বন্ধ করা হয় উমর ইবন আলী ইবন হাসান আদ-দিয়ার বাকরি-কে, তিনি হালবে (আলেপ্পো) আল-জুব্বায়ি থেকে শুনেছেন।

১২৪ দিয়ার বনি রাবিয়া: এটি মসুল ও রাসুল আইনের মধ্যবর্তী একটি সুবিস্তৃত ও বিশাল এলাকা, যেমন বক'আ ও সংলগ্ন গ্রামসমূহ। কখনও দিয়ার বকর ও রাবিয়াকে একত্রে দিয়ার রাবিয়া বলা হয়, কারণ তারা সকলেই রাবিয়া গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। দিয়ার রাবিয়া এই ভূখণ্ডের একটি প্রাচীন নাম, আর 'আল-জাজিরা' নামটি যদি সামগ্রিক অর্থে ব্যবহৃত হয় তবে তা আরও ব্যাপক।

১২৫ দিয়ার মুদার: এটি ফোরাত নদীর পূর্ব তীরের নিকটবর্তী সমতল ভূমিতে অবস্থিত একটি অঞ্চল, যা হাররান, সারুজ, রাক্কা, শামশাত ও তাল মাওজান অভিমুখে অবস্থিত।

আরব ভূখণ্ডে 'দিয়ার' বা আবাসভূমি অনেক রয়েছে। প্রতিটি গোত্রের জন্য আলাদা আলাদা দিয়ার রয়েছে যেখানে তারা অবতরণ করে এবং অবস্থান করে, ফলে সেটি তাদের নামেই নামাঙ্কিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
لكن الذي يعرف باسمهم من تلك الديار قليل، وهم على ما يُعرف عنهم أهل [نُجعةٍ] ورحيل، وحسبي ما ذكرته على جهد الطاقة، وهو قليل، والحمد لله على منه وفضله، إنه نعم الوكيل.

 

‌‌الباب الثاني

‌‌القولُ في ذِكْرِ الدَّاراتِ التي مفردُها دارَةٌ

قال أبو عبد الله: دارات العرب، مواضيع في ديارهم، وهي كثيرة، أحصاها العلماء و [أوعبوها] وذكروا مواضعها وعينوها، وتحدثوا في أمرها ونسبوها، وها أنا ذا أذكر ما وقفت إليه منها، لأعرف بها وأزيل اللبس عنها.

استخرجتها من كتب العلماء، وذللت عليها بشعر الشعراء، على حسب الجهد والطاقة، ورأيت أنها لم تتجاوز عند بعضهم العشرين، وبلغ بها أبو الحسين أحمد بن فارس الأربعين، وزدت عليها بحول الله، فأربت على [التسعين] وقد سبق أن شرحت معناها، وأوضحت أصلها واشتقاقها ومبناها وباسم الله ابدأ بأولاها، فأقول: 1 دارة: مفردة غير مضافة، جاءت في شعر الطرماح، قال:

ألا ليت شعري، هل بصحراء دارة … إلى وارداتِ الأريمينِ ربوعُ

2 [دارة: غير مضافة أيضاً، بلد بالخابور، قرب قرقيسيا] .

ومن الدارات المضافة:

‌‌3 دارة الآرآم: وهي للضباب، عند جبل لهم بين مكة والمدينة. وآرآم، يد، ويقصر، جمع رئمٍ وهو الظبي الأبيض الخالص في بياضه؛ قال برج بن مسهرٍ المازني، وكان الحجاج ألزمه الخروج إلى قتالِ الأزارقة مع المهلب: فهرب منه إلى الشام:

 

أيوعدني الحجاج إن لم أقم له … بسولاف حولا في قتال الأزارق

وإن لم أردْ أرزاقه وعطاءه … وكنتُ أمرءاً صباً بأهل الخرانق

فأبرقْ وأرعدْ لي إذا العيسُ خلّفتْ … بنا دارة الآرآم، ذات الشقائق

وحلِّفْ على اسمي بعد أخذك منكبي … وحبِّس عريف الدرْدقي المنافق

4 دارة الأرْجامِ: بالفتح في أوله، ثم السكون في ثانيه، وجيم بعدهما فألفٍ فميمٍ.

والأرجام: جبلٌ، قال الشاعر:

إن المدينة، لا مدينةَ فالزمَي … أرض الستارِ، ودارة الأرجامِ

قال الأصمعي: الستارُ: جبالٌ صغارٌ سودٌ منقادةٌ لبني أبي بكر بن كلاب.

5 دارة الأسواط: بظهر الأبرق، بالمضجع تناوحهُ حمةٌ، وهي برقةٌ بيضاءٌ لبني قيس بن جزء ابن كعب بن أبي بكر بن كلابٍ.

والأسواط في الأصل: مناقع المياه.

6 دارة الإكليل: سميت هذه الدارة باسم موضعٍ ولم أظفر لها بشاهدٍ.

7 دارة الأكوار: قال الزمخشري: في ملتقى دار ربيعة ابن عقيل، ودار نهيكٍ والأكوار جبالٌ.

8 دارة أبرق: بوزن أحمر. قال الأصمعي: الأبرق والبرقاء: حجارةٌ ورملٌ. وكذلك البُرقة.

وقال ابن الأعرابي: الأبرقُ: جبلٌ مخلوطٌ برملٍ. وقال ابن شميل: البُرقة: أرض ذات حجارة وتراب، الغالب عليها البياض، وفيها حجارة حمرٌ وسودٌ، والتراب أبيض أعفر، وهو يبرق بلون حجارتها وترابها، وإنما برقها اختلاف ألوانها، وتنبت أسنادها وظهرها البقل والشجر نباتاً كثيراً، ويكون إلى جنبها الروض أحياناً.

9 [و] دارة أبرق: ببلاد بني شيبان، عند بلدٍ لهم يقال له (البطن) .

 

‌‌قال الزمخشري: دارةٌ أبرق لبني عمرو بنربيعة.

10 دار [أُجُدٍ] : عن ابن السكيت، ولم أظفر لها بشاهدٍ.

11 دارة أهرى: من أرض هجر. قال نابغة بني جعدة:

جزى الله عنا رهط قُرَّة نظرةً … وقرَّةُ إذْ بعضُ الفعالِ مزلجُ

تدارك عمرانُ بن مرةَ ركضهُمْ … بدارة أهوى، والخوالجُ تخليجُ

وقال نصرٌ: أهوى وأُصهيب: ماءان لحمان، وهما من المروت، وأهل المروتِ من بني حمان. وبين أهوى وحجرِ اليمامة أربع ليالٍ. وعن أحمد بن يحيى أهوى، بفتح الهمزة وكسرها، ذكرها الراعي في قوله:

تهانقْتَ، واستبكاكَ رسمُ المنازلِ … بدارةِ أهوى، أو بسوقةِ حائلِ

وقال: أهوى: ماءةٌ لبني قُتيبة الباهليين. قال الراعي أيضاً:

فإن على أهوى لألأمَ حاضرٍ … حسباً، وأقبح مجلسٍ ألوانا

12 دارة باسلٍ: بالباء الموحدة، عن ابن السكيت، ولم أظفر بشاهد، وما أظنها إلا دارة مأسلٍ. وقد ذُكرت بعد هذا.
কিন্তু সেইসব এলাকা থেকে তাদের নামে যারা পরিচিত তাদের সংখ্যা অল্প, এবং তাদের সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো তারা চারণভূমি অনুসন্ধানকারী এবং যাযাবর। আমি আমার সাধ্যমতো যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট, যদিও তা সামান্য। আল্লাহ তাআলার প্রতি প্রশংসা তাঁর অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য, তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়

‌‌দারাতসমূহ (যাহার একবচন দারাহ) উল্লেখ সংক্রান্ত আলোচনা

আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আরবদের ‘দারাত’ হলো তাদের এলাকার বিভিন্ন স্থান। এগুলো সংখ্যায় অনেক। আলেমগণ এগুলো গণনা করেছেন, পূর্ণাঙ্গভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন, এদের অবস্থান উল্লেখ ও নির্দিষ্ট করেছেন এবং এগুলোর পরিচয় ও সম্বন্ধ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এখন আমি এগুলোর মধ্য থেকে যা অবগত হয়েছি তা উল্লেখ করছি, যাতে এগুলোর পরিচয় জানা যায় এবং অস্পষ্টতা দূর হয়।

আমি এগুলো আলেমদের গ্রন্থসমূহ থেকে আহরণ করেছি এবং সাধ্যানুযায়ী কবিদের কবিতার মাধ্যমে এর প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছি। আমি দেখেছি যে কারো কারো নিকট এর সংখ্যা বিশের বেশি অতিক্রম করেনি, আর আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে ফারিস এর সংখ্যা চল্লিশ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। আমি আল্লাহর শক্তিতে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি এবং নব্বইয়ের বেশিতে নিয়ে গিয়েছি। আমি ইতিপূর্বে এর অর্থ ব্যাখ্যা করেছি এবং এর মূল উৎস, বুৎপত্তি ও গঠন স্পষ্ট করেছি। আল্লাহর নামে আমি প্রথমটি দিয়ে শুরু করছি, আমি বলছি: ১. দারাহ: একবচন, কোনো শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত নয়। তুরাম্মাহ-এর কবিতায় এটি এসেছে, তিনি বলেছেন:

হায়, আমি যদি জানতাম! দারাহ-এর মরুপ্রান্তরে কি কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট আছে... যা আরিমাইন-এর পানির ঘাটে পৌঁছায়!

২. [দারাহ: এটিও কোনো শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত নয়, খাবুর অঞ্চলের একটি শহর, যা কারকিসিয়া-এর নিকটবর্তী]।

সম্বন্ধযুক্ত দারাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩. দারাত আল-আরআম: এটি জুবাব গোত্রের, মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী তাদের একটি পাহাড়ের নিকট অবস্থিত। আরআম শব্দটি দীর্ঘ বা হ্রস্ব উভয়ভাবেই পড়া যায়, এটি ‘রি’ম’-এর বহুবচন, যার অর্থ অত্যন্ত সাদা হরিণ। বুর্জ ইবনে মুসগির আল-মাজেনি এটি উল্লেখ করেছেন; হাজ্জাজ তাকে মুহাল্লাবের সাথে আযারিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করেছিলেন, তখন তিনি হাজ্জাজ থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় চলে যান এবং বলেন:

 

হাজ্জাজ কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছে যদি আমি তার জন্য সাউলাফে... এক বছর আযারিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবস্থান না করি?

যদি আমি তার রিযিক ও দান গ্রহণ করতে না চাই... অথচ আমি ছিলাম খারানিক-এর অধিবাসীদের প্রতি অতিশয় অনুরক্ত এক ব্যক্তি!

তবে আমার বিরুদ্ধে বজ্রধ্বনি করো এবং বিদ্যুৎ চমকাও, যখন দ্রুতগামী উটগুলো... আমাদের নিয়ে উপত্যকাযুক্ত দারাত আল-আরআম অতিক্রম করে যাবে।

আর আমার কাঁধ ধরার পর আমার নামে শপথ করো... এবং মুনাফিক দারদাকি বংশীয় সরদারকে বন্দী করে রাখো।

৪. দারাত আল-আরজাম: শুরুতে ফাতহা, দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন, তারপর জিম, আলিফ ও মিম।

আর আরজাম হলো একটি পাহাড়। কবি বলেন:

নিশ্চয়ই মদিনা (শহর) কোনো শহর নয়, সুতরাং তুমি সিতার ভূমি... এবং দারাত আল-আরজাম আঁকড়ে ধরো।

আসমাঈ বলেন: সিতার হলো ছোট ছোট কালো পাহাড় যা বনু আবি বকর ইবনে কিলাব গোত্রের অধীন।

৫. দারাত আল-আসওয়াত: আবরাকের পেছনে, আল-মাদজা নামক স্থানে এটি হাম্মাহ-এর বিপরীতে অবস্থিত। হাম্মাহ হলো একটি সাদা বালুময় ভূমি যা বনু কায়স ইবনে জুজ ইবনে কাব ইবনে আবি বকর ইবনে কিলাবের মালিকানাধীন।

মূলত ‘আসওয়াত’ অর্থ পানির জলাধারসমূহ।

৬. দারাত আল-ইকলীল: এই দারাহটি একটি স্থানের নামে নামকরণ করা হয়েছে, তবে আমি এর স্বপক্ষে কোনো কাব্যিক প্রমাণ পাইনি।

৭. দারাত আল-আকওয়ার: যামাখশারি বলেছেন: এটি রাবিয়াহ ইবনে আকিল এবং নাহিক গোত্রের বাসভূমির সংযোগস্থলে অবস্থিত। আকওয়ার হলো পাহাড়সমূহ।

৮. দারাত আবরাক: ‘আহমার’ শব্দের ওজনে। আসমাঈ বলেন: আবরাক এবং বারকা হলো পাথর ও বালু মিশ্রিত স্থান। বুরকাহ-ও একই অর্থ প্রকাশ করে।

ইবনুল আরাবি বলেন: আবরাক হলো বালু মিশ্রিত পাহাড়। ইবনে শামিল বলেন: বুরকাহ হলো এমন ভূমি যেখানে পাথর ও মাটি থাকে, যাতে শুভ্রতা প্রবল থাকে এবং সেখানে লাল ও কালো পাথরও থাকে। মাটি হয় ধূসর-সাদা রঙের, যা পাথর ও মাটির রঙের কারণে উজ্জ্বল দেখায়। মূলত বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্যের কারণেই একে উজ্জ্বল বা আবরাক বলা হয়। এর ঢাল ও উপরিভাগে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও বৃক্ষ জন্মে এবং কখনো কখনো এর পাশে তৃণভূমিও থাকে।

৯. [এবং] দারাত আবরাক: বনু শায়বানের এলাকায়, তাদের একটি জনপদের নিকট যাকে ‘আল-বাতন’ বলা হয়।

 

‌‌যামাখশারি বলেছেন: দারাত আবরাক বনু আমর ইবনে রাবিয়াহ-এর মালিকানাধীন।

১০. দার আজুদ: ইবনে সিক্কীত থেকে বর্ণিত, তবে আমি এর কোনো কাব্যিক প্রমাণ পাইনি।

১১. দারাত আহওয়া: হাজার অঞ্চলের ভূমি। বনু জাদার নাবিগাহ বলেছেন:

আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে কুররাহ-এর বংশধরদের উত্তম প্রতিদান দিন... আর কুররাহ সেই সময়ের সাথী যখন কিছু কাজ ছিল ত্রুটিপূর্ণ।

উমরান ইবনে মুররাহ তাদের দ্রুত পলায়নকে ধরে ফেলেছিলেন... দারাত আহওয়া-তে, যখন বিবাদগুলো ছিল অত্যন্ত জটিল।

নাসর বলেন: আহওয়া এবং উসাইহিব হলো দুটি নোনা পানির উৎস, যা আল-মুরুত অঞ্চলে অবস্থিত। মুরুতের অধিবাসীরা বনু হাম্মান গোত্রের। আহওয়া এবং ইয়ামামার হাজারের মধ্যে চার রাতের দূরত্ব। আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, আহওয়া শব্দটি আলিফে ফাতহা এবং কাসরা উভয়ভাবেই পড়া যায়। আল-রাঈ তার কবিতায় এটি উল্লেখ করেছেন:

তুমি দীর্ঘশ্বাস ফেলেছ এবং প্রাচীন ঘরবাড়ির চিহ্ন তোমাকে কাঁদিয়েছে... দারাত আহওয়া-তে অথবা সুকাত হাইলে।

তিনি আরও বলেন: আহওয়া হলো বনু কুতাইবা বাহিলিদের একটি পানির আধার। আল-রাঈ আরও বলেন:

নিশ্চয়ই আহওয়া-তে অবস্থানকারীরা বংশগতভাবে অত্যন্ত নিচ... এবং তাদের মজলিসগুলো বর্ণের দিক থেকে অতি কুৎসিত।

১২. দারাত বাসিল: ‘বা’ অক্ষরের নিচে একটি নুকতা বিশিষ্ট। ইবনে সিক্কীত থেকে বর্ণিত। আমি এর কোনো প্রমাণ পাইনি, আমার ধারণা এটি সম্ভবত ‘দারাত মাসিল’, যা পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
13 دارة بُحتْر: بضم الباء الموحدة من تحت، وبعدها حاءٌ مهملةٌ، ثم تاء مثناةٌ فوقيةٌ مضمومةٌ، ةآخره راءٌ. وسط أجأ، أحد جبلي طيئ، قرب جو، وهي مسماة ببحتر، من قبائل طيء، وهو بُحتر بن عتود بن عنين بن سلامان بن ثعل بن عمرو بن الغوث بن جلهمة، وهي طيء.

14 دارة بدوتين: لبني ربيعة بن عقيلٍ. وبدوتان: هضبتان بينهما ماءٌ.

15 دارة البيضاء: تذكر مع الجشوم.

16 دارة التلَّى.

17 دارة تُيلٍ: بكسر أوله ويفتح، وثانيه ساكن، ولام في آخره. وتيلٌ: جبلٌ أحمر شاهق من وراء وادي تربة، من ديار بني عامر بن صعصعة.

وإلى هذا الجبل تنسب دارة تيل. قال ابن مقبلٍ:

لمنِ الديارُ بجانبِ الأحفارِ … فبتيلِ دمخِ، أو بسفحِ جُرارِ

18 دارة الثَّلماء: بفتح الثاء المثلثة، وتسكين اللام وبالمد. قال نصرٌ: الثلماء ماءة لربيعة بن قريط، بظهر نملي، وهي تأنيث الأثلم، بمعنى الفُلول في السيف والحائط. قال الحفصي: الثلماء من نواحي اليمامة، وقيل ماء حفره يحيى بن أبي حفصة باليمامة. قال:

حيُّوا المنازلَ قد تقادم عهدُها … بين المُراخِ إلى نقا ثلمائها

‌‌وقال أبو زيادٍ: الثلماء من مياه أبي بكر بن كلاب، وقال الأصمعي: الثلماء لبني قرة من بني أسدٍ، وهي في عُرض القُنة في عطف الحِبسِ، أي يلزقه، ولو انقلب لوقع عليهم، وهي منه على فرسخين، والحبس: جبلٌ لهم. وقال أيضاً: غرورٌ: جبل ماؤه الثلماء، وهي ماءةٌ عليها نخلٌ كثيرٌ وشجرٌ.

19 دارة الجُأب، والجأب: المغرةُ، والجأبُ: الحمار الغليظ، ودارة لجأب لبني تميمٍ. قال جرير:

ما حاجةٌ لك في الظعْنِ التي بكرَتْ … من دارةِ الجأبِ كالنخلِ المواقيرِ

كاد التذكرُ يوم البينِ يشعفُني … إن الحليم بهذا غير معذورِ

ماذا أردتَ بربع قد وقفتَ بهِ … هل غير شوقٍ وأحزانٍ وتذكيرٍ؟

هل في الغوالي لمن قتلن من قودٍ … أو منْ دياتٍ لقتلى الأعينِ الحُورِ؟

وقال أيضاً:

إن الخليط أجدَّ البينَ يوم غدوا … من دارةِ الجأبِ إذ أحداجهُمْ زُمرُ

وقال أيضاً:

أصاحِ، أليس اليوم نتظري صحبي؟ … نُحيِّي ديار الحي من دارةِ الجأبِ

20 دارة الجثومِ: لبني الأضبط بن كلاب. والجثوم: ماء لهم يصدر في دارة البيضاء وهي للمنتْفق، من بني معاوية بن عقيلٍ. وقيل: الجثُومُ: جبلٌ. قال الشاعر:

جبلٌ يزيدُ على الجبالِ إذا بدا … بين الربائع والجثُومِ مقيمُ

21 دارة جُدَّى: بضم الجيم والتشديد في الدال، والقصر. ذكرها الأفوه الأودي في قوله:

بداراتِ جدَّى، أو بصاراتِ جنبلٍ … إلى حيث حلّتْ من كثيبٍ وهز} هَلِ

22 دارة جلجل: قال ابن دريدٍ في كتاب البنين والبنات: دارة جلجلٍ بين شُعبَي وبين حسَلاتٍ وبين وادي المياه وبين البردان، وهي للضباب مما يواجه نخيل بن فزارة.

وفي كتاب جزيرة العرب للأصمعي، أن دارة جلجلٍ بنجدٍ، من منازل حُجرٍ الكندي.

وقال يعقوب في تفسير بيت امرئ القيس:

ألا رُبَّ يومٍ لك منهن صالحٍ … ولاسيما يومٌ بدارةِ جُلجلٍ

قال: دارةُ جلجلٍ بالحمى، ويقال: بغمرِ ذي كندة.

وقال عمرو بن الخُثارم البجلي: وكنا كأنا يوم دارة جلجلٍ=مدلٌ على أشبالهِ يتهمهم والجلجل: أصله ما يعلق على الدواب، فيصوت، وفي المثل: (جريءٌ يعلق الجلجل) . قال أبو النجم:

يرعدُ إنْ يرعدُ فؤادُ الأعزلِ … إلا أمرأ يعقد خيط الجُلجلِ

يريد: الجريء الذي يخاطر بنفسه. وغلامٌ جلجلٌ وجلاجلٌ خفيف الروح، نشيطٌ في العمل.

23 دارة الجُمُدِ: وقيل: الجُمُدُ بضمتين كعنقٍ.

قال أبو عبيدة: هو جبلٌ لبني نصرٍ بنجدٍ. وقال القرَّاء: الجماد: الحجارة، واحدها جمْدٌ. قال عُمارة:

ألا يا ديار الحيِّ من دارةِ الجُمْدِ … سلمتِ على ما كان من قدمِ العهدِ

24 دارة جُهْدٍ: بضم الجيم وسكون الهاء، وبعدها دالٌ مهملة، كذا وجدته في شعر الأفوه الأودي حيث يقول:

فردَّ عليهم، والجيادُ كأنها … قطا ساربٍ يهوي هويَّ المُحجلِ

بداراتِ جهدٍ، أو بصارات جنبلٍ … إلى حيثُ حلت من كثيبٍ وعزهلِ

25 دارة جوْداتٍ: ببلاد طيئ، قال الجميحُ:
১৩. দারাতে বুহতার: নিচে এক নুকতাওয়ালা ‘বা’ হরফে পেশ যোগে, এরপর নুকতাহীন ‘হা’, এরপর উপরে দুই নুকতাওয়ালা ‘তা’ হরফে পেশ যোগে এবং শেষে ‘রা’ সহকারে। এটি তায়ি গোত্রের দুই পাহাড়ের অন্যতম ‘আজা’ এর মধ্যস্থলে এবং ‘জাও’ এর নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। এর নামকরণ করা হয়েছে তায়ি গোত্রের অন্যতম শাখা বুহতার-এর নামানুসারে। তিনি হলেন বুহতার বিন আতুদ বিন আনিন বিন সালামন বিন সা’ল বিন আমর বিন আল-গাওস বিন জুলহামা, আর তিনি হলেন তায়ি।

১৪. দারাতে বাদওয়াতাইন: এটি বনু রাবিআ বিন আকিল গোত্রের। আর বাদওয়াতাইন হলো দুটি টিলা, যার মাঝখানে পানি রয়েছে।

১৫. দারাতে বায়দা: এটি আল-জাশুম-এর সাথে উল্লিখিত হয়।

১৬. দারাতে তাল্লা।

১৭. দারাতে তুয়াল: এর প্রথম অক্ষরে যের বা যবর উভয়টি হতে পারে, দ্বিতীয় অক্ষরটি সাকিন এবং শেষে ‘লাম’। তুয়াল হলো বনু আমির বিন সা’সাআ-এর বসতি অঞ্চলের তুরবাহ উপত্যকার পশ্চাতে অবস্থিত একটি সুউচ্চ লাল পাহাড়।

আর এই পাহাড়ের নামানুসারেই দারাতে তুয়াল-এর নামকরণ করা হয়েছে। ইবনে মুকবিলের পঙ্ক্তি:

আল-আহফার পার্শ্বস্থ আবাসস্থলগুলো কার জন্য? … যেগুলো দামখ-এর তুয়াল-এ অথবা জুরার-এর পাদদেশে অবস্থিত।

১৮. দারাতে ছালমা: তিন নুকতাওয়ালা ‘ছা’ হরফে যবর, ‘লাম’ সাকিন এবং মদ্দ বা দীর্ঘস্বর সহকারে। নাসর বলেন: ছালমা হলো নামলি-এর পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত বনু রাবিআ বিন কুরাইত-এর একটি জলাশয়। এটি আল-আছলাম শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ, যার অর্থ তলোয়ার বা প্রাচীরের ফাটল। হাফসী বলেন: ছালমা হলো ইয়ামামার একটি অঞ্চল; আবার বলা হয়, এটি ইয়ামামায় ইয়াহইয়া বিন আবি হাফসার খনন করা একটি কূপ। তিনি বলেন:

গৃহগুলোর প্রতি অভিবাদন জানাও যার কাল অতিবাহিত হয়েছে … মুরাখ থেকে তার ছালমার বালুকা রাশি পর্যন্ত।

‌‌আবু যিয়াদ বলেন: ছালমা হলো আবু বকর বিন কিলাব-এর জলাশয়গুলোর অন্যতম। আসমায়ী বলেন: ছালমা হলো বনু আসাদ গোত্রের বনু কুররাহ-এর মালিকানাধীন। এটি কুননাহ নামক পাহাড়ের ঢালে আল-হিবস-এর ভাঁজে অবস্থিত, অর্থাৎ এটি পাহাড়ের সাথে লেগে আছে; এটি পাহাড় থেকে মাত্র দুই ফারসাখ দূরে অবস্থিত, আর আল-হিবস হলো তাদের একটি পাহাড়। তিনি আরও বলেন: গুরূর হলো একটি পাহাড় যার জলাশয় হলো ছালমা, আর এটি এমন এক জলাশয় যেখানে প্রচুর খেজুর গাছ ও অন্যান্য গাছগাছালি রয়েছে।

১৯. দারাতে জুআব: আর আল-জুআব অর্থ হলো লাল মাটি। আবার জুআব অর্থ বলিষ্ঠ গাধাও হয়। দারাতে জুআব হলো বনু তামিমে গোত্রের। জারির বলেন:

ভোরবেলা যাত্রা করা সেই উষ্ট্রারোহী নারীদের নিয়ে তোমার কী প্রয়োজন? … যারা দারাতে জুআব থেকে রওনা হয়েছে এবং যাদের হাওদাগুলো ফলভারনত খেজুর গাছের ন্যায়।

বিচ্ছেদের দিনের স্মৃতি যেন আমাকে উন্মাদ করে দিচ্ছিল … নিশ্চয়ই এমন অবস্থায় ধৈর্যশীল ব্যক্তিও ক্ষমার অযোগ্য।

যেই বসতিতে তুমি অবস্থান করছ, সেখানে তোমার কী উদ্দেশ্য? … সেখানে কি ব্যাকুলতা, বিষণ্ণতা আর স্মৃতিচারণ ছাড়া আর কিছু আছে?

যাদের তারা হত্যা করেছে, সেই রূপসীদের কাছে কি হত্যার বদলে হত্যা (কিসাস) আছে? … নাকি ডাগর চোখের সেই নিহতদের কোনো রক্তপণ আছে?

তিনি আরও বলেন:

নিশ্চয়ই সাথীরা যাত্রার ভোরে বিচ্ছেদের সংকল্প করল … দারাতে জুআব থেকে, যখন তাদের উটের পাল সারিবদ্ধ হয়ে গেল।

তিনি আরও বলেন:

হে বন্ধু, আজ কি আমার সাথীদের সাথে দেখা হবে না? … আমরা দারাতে জুয়াব-এর সেই গোত্রের আবাসের প্রতি অভিবাদন জানাই।

২০. দারাতে জাছুম: এটি বনু আজবাত বিন কিলাব-এর। আর জাছুম হলো তাদের একটি পানি বা জলাশয় যা দারাতে বায়দা অভিমুখে প্রবাহিত হয় এবং এটি বনু মুয়াবিয়া বিন আকিলের অন্তর্ভুক্ত আল-মুনতাফিকের মালিকানাধীন। আবার বলা হয়: জাছুম হলো একটি পাহাড়। কবি বলেন:

একটি পাহাড় যা অন্য পাহাড়গুলোর ওপর প্রাধান্য পায় যখন তা দৃশ্যমান হয় … যা রাবাই ও জাছুমের মাঝে অবস্থিত।

২১. দারাতে জুদ্দা: 'জিম' অক্ষরে পেশ এবং 'দাল' অক্ষরে তাশদিদ ও কসর (সংক্ষিপ্ত আলিফ) সহকারে। আল-আফওয়াহ আল-আওদি তার কবিতায় এটি উল্লেখ করেছেন:

দারাতে জুদ্দা অথবা সারাত জানবাল-এ … যেখানে তারা বালুর স্তূপ ও জনমানবহীন প্রান্তরে অবতরণ করেছে।

২২. দারাতে জুলজুল: ইবনে দুরাইদ তার 'কিতাবুল বানিন ওয়াল বানাত'-এ বলেন: দারাতে জুলজুল হলো শু'বাই, হাসালাত, ওয়াদি আল-মিয়াহ এবং বারদান-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি ফাযারা গোত্রের খেজুর বাগান অভিমুখী লিজাব গোত্রের এলাকা।

আসমায়ীর 'জাজিরাতুল আরব' বইতে আছে যে, দারাতে জুলজুল নজদ অঞ্চলে অবস্থিত, যা কিন্দাহ গোত্রের হুজর-এর একটি আবাসস্থল ছিল।

ইয়াকুব ইমরাউল কায়েসের পঙ্ক্তির ব্যাখ্যায় বলেন:

জেনে রেখো, তাদের সাথে কাটানো তোমার কতই না চমৎকার দিন ছিল … বিশেষ করে দারাতে জুলজুল-এর সেই দিনটি।

তিনি বলেন: দারাতে জুলজুল হলো আল-হিমা-তে অবস্থিত, আবার বলা হয় তা গামর যি কিন্দাহ-তে।

আমর বিন আল-খুছারাম আল-বাজালি বলেন: দারাতে জুলজুলের দিনে আমরা যেন এমন ছিলাম যেমন কোনো সিংহ তার শাবকদের নিয়ে গর্বিত হয়। আর জুলজুল শব্দের মূল অর্থ হলো সেই ঘণ্টা যা পশুর গলায় ঝোলানো হয় এবং আওয়াজ করে। প্রবাদে আছে: 'সাহসী ব্যক্তিই ঘণ্টা গলায় বাঁধে'। আবু নাজম বলেন:

অস্ত্রহীন ভীরু ব্যক্তির হৃদয় কেঁপে ওঠে … সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে ঘণ্টার সুতো বাঁধে।

এর দ্বারা তিনি সেই সাহসী ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন যে নিজের জীবন বাজি রাখে। আর বালককে 'জুলজুল' বা 'জুলাজিল' বলা হয় যখন সে চটপটে ও কাজে অত্যন্ত তৎপর হয়।

২৩. দারাতে জুমুদ: কেউ কেউ বলেন 'জুমুদ' অর্থাৎ দুই পেশ সহকারে।

আবু উবায়দা বলেন: এটি নজদ অঞ্চলে অবস্থিত বনু নাসর গোত্রের একটি পাহাড়। আল-ফাররা বলেন: জুমাদ অর্থ পাথর, যার একবচন হলো জুমদ। উমারা বলেন:

হে দারাতে জুমুদ-এর সেই গোত্রের আবাসস্থল! … প্রাচীনকাল থেকে যা ঘটে গেছে তার ওপর তুমি শান্তিতে থেকো।

২৪. দারাতে জুহদ: 'জিম' অক্ষরে পেশ এবং 'হা' সাকিন, এরপর নুকতাহীন 'দাল'। আল-আফওয়াহ আল-আওদি-এর কবিতায় আমি এটি এভাবেই পেয়েছি যেখানে তিনি বলেন:

তিনি তাদের কাছে ফিরে গেলেন, আর দ্রুতগামী ঘোড়াগুলো যেন … পানির সন্ধানে নামা এবং দ্রুত উড়ে চলা পাখির ঝাঁক।

দারাতে জুহদ অথবা সারাত জানবাল-এ … যেখানে তারা বালুর স্তূপ ও জনমানবহীন প্রান্তরে অবতরণ করেছে।

২৫. দারাতে জাওদাত: এটি তায়ি গোত্রের অঞ্চলে অবস্থিত। আল-জুমাইহ বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
إذا حللتُ بجوداتٍ ودارتها … وحال دني من حواءَ عرنينُ

عرفتُمُ أن حقي غيرُ منتزعٍ … وأن سلمكمُ سلمٌ لها حينُ

26 دارة جيفون: 27 دارة حلْحَلٍ: بفتح الحاءين المهملتين قبل اللامين وحلحلُ: ليس مصحفاً عن جلجلٍ، وإنما هو بالمهملتين، ومنهم من ضبطه كقنفذٍ بضم المهملتين وهو جبل بعمان، ذكره الأخطل مصغراً في قوله:

قبحَ الإلهُ من اليهود عصابةً … بالجزعِ بين حُليحلٍ وصُحارِ

28 دارة الخرج: والخرج خلاف الدخل، وهو لغةٌ في الحراج، ومنه قوله تعالى: " (فهلْ نجعلُ لك خرْجا) "، وجميعاً في قوله تعالى: " (أم تسألهمْ خرجاً فخراج ربك خيرٌ) ".

والخرْجُ: وادٍ فيه قرىً ومزارع، من أرضِ اليمامة، وهو لبني قيسٍ بن ثعلبة بن عكابة، من بكر بن وائلٍ وهو على طريق مكة من البصرة، وهو خير واد باليمامة، أرضه أرض زرعٍ، ونخله قليلٌ. قال جريرٌ يذكره:

يا حبذا الخرْجُ بين الدام فالأدْمى … فالرِّمْثُ من برقةِ الروحانِ فالغرْفُ

وقال ذو الرمة:

بنفحةٍ من خُزامى الخرْجِ هيَّجَهَا

وقال الراجز:

يضْرِبْنَ بالأحقافِ قاعَ الخرْجِ … وهنَّ في أمنيةٍ وهرْجِ

وقال المُخبّلُ يذكر درة الخرجِ:

محبّسة في دارة الخرج لم تذق … بلالاً، ولم يُسمحْ لها بنجيلِ

29 دارة الخلاءة: والخلاءة في الناقة الحران، وهو من قولك: خلأت الناقة خلأً وخلاءةً وخُلُوءاً، إذا بركت وحرنت، فلم تقم. قاله اللحياني. وقال أبو منصور: والخلاءُ لا يكون إلا للناقة عند بروكها، فلا تبرح.

30 دارة الخنازير: ليس بعيداً أن تكون التي بعدها إلا أنني وجدت العجير يقول:

ويوماً بداراتِ الخنازيرِ لم يئلْ … من الغطفانيين إلا المشرَّدُ

31 دارة خنزرٍ: بكسر الخاء المعجمة وفتحها، واللغة الأولى عن كُراع. قال الجعدي:

ألمَّ خيالٌ من أميمة موهناً … طرُوقاً، وأصحابي بدارةِ خنزَرِ

وقال الحطيئة:

إن الرزية لا أبالك هالكٌ … بين الدماخِ وبين دارةِ خنزرِ

وروي: دارة منزر. وقال العجيرُ:

ويومَ أدركنا، يومَ دارةِ خنزرِ … وحماتها، ضربٌ رحابٌ مسايرُهْ

32 دارة الخنزرتين: على التثنية للمؤنث، ويقال الخنزيرتَين قال ابن دريدٍ: وربما قالوا في الشعرِ: دارة الحنزَرِ، وهي لبني حملٍ من بني الضباب. والأرطاة: ماءة بني الضباب تصدر فيها. قال أبو زيدٍ: تخرج من الحمى، حمى ضرية، فتسير ثلاث ليالٍ مستقبلاً مهبَّ الجنوب من خارج الحمى، ثم ترد مياه الضباب. والأرطاة منها، وكلها بدارة الخنزرتين.

33 دارة خوٍّ: من ديار بني أسدٍ، وقيل: خو: وادٍ، أو كثيبٌ بنجدٍ ويوم خوِّ لبني أسدٍ على بني يربوعٍ قال شاعرهم:

وهوَّن وجدي إذ أصابت رماحنَا … عشية خوٍّ رهطَ قيسِ بن جابرِ

34 دارة داثرٍ: في أرض فزارة، وداثرٌ: اء لهم قال حجر بن عقبة الفزاري:

رأيتُ المطايا دون دارةِ داثرٍ … جنوحاً أذاقتْهُ الهوانَ خزائمُهْ

35 دارة دمُّون: ذكرها الشاعر في قوله:

إلى دارة الدَّمون من آل مالك

ودمُّونُ التي تنسب إليها هذه الدارة مذكورة في شعر امرئ القيس، قال:

تطاول الليلُ علينا دمُّونْ

دمُّونُ، إنا معشرٌ يمانُونْ

وإنا لأهلِنا مُحبُّونْ

قال ابن الحائك: عندلُ وخوزون ودمُّون: مدنٌ للصدف باليمن، والصدف من كندة، وساكن دمون الحارث بن عمرو بن حجرٍ، آكل المرار.

وكان امرؤ القيس قد زار الصدف، ثم حنَّ إليها فقال:

كأني لم أسمرْ بدمُّونَ مرةً … ولم أشهد الغارات يوماً بعنْدلِ

36 دارة الدور: وضبطها الهُنائي في كتابه المنضد بتشديد الواو. رايتها بخط يده، وما أُراه صنع شيئاً وقال بعضهم: دارة الدور، على المبالغة، فهي كرملة الرمال.

 

‌‌وكان بين حجر بن عقبة وبين أخيه شيء، فأراد أن ينتقل، فأتى أخاه يسلم عليه، فخرج إليه فيلا السلاح فقال له: ليس لهذا جئت، فبكى أخوه فقال حجرٌ:

 

ألم يأتِ قيساً كلَّها أن عزَّهَا … غداة غدٍ من دارة الدورِ ظاعنٌ

هنالك جادتْ بالدموع موانعُ ال_عيونِ، وشلَّتْ للفراقِ الظعائنُ 37 دارة الذئب: بنجدٍ، في ديار بني كلابٍ. قال عمرو بن براقة:

وهم يكدونً، وأي كدِّ
যখন আমি জুদাত ও তার দারাতে অবতরণ করলাম … এবং হাওয়া থেকে আমার নৈকট্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল উচ্চ নাসা।

তোমরা জেনেছ যে আমার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় … আর তোমাদের সন্ধি হচ্ছে এমন সন্ধি যার জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়।

২৬. দারাতু জিফুন: ২৭. দারাতু হালহাল: উভয় 'হা' বর্ণে ফাতহা যোগে লাম বর্ণের পূর্বে। হালহাল শব্দটি 'জুলজুল' এর বিকৃত রূপ নয়, বরং এটি 'হা' বর্ণ দিয়েই। কেউ কেউ একে 'কুনফুজ' এর ওজনে উভয় 'হা' বর্ণে পেশ দিয়েও পড়েছেন। এটি ওমানের একটি পাহাড়। আখতাল তার কবিতায় এর ক্ষুদ্রার্থ রূপ ব্যবহার করে বলেছেন:

আল্লাহ ইহুদিদের সেই দলকে কদর্য করুন … যারা হুলাইহিল ও সুহারের মধ্যবর্তী উপত্যকায় রয়েছে।

২৮. দারাতুল খারজ: খারজ হচ্ছে দাখল (প্রবেশ) এর বিপরীত। এটি 'খারাজ' শব্দের একটি ভাষাগত রূপ। এখান থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "(তবে কি আমি আপনাকে খারজ প্রদান করব)", এবং মহান আল্লাহর অন্য বাণীতে উভয়টি এসেছে: "(নাকি আপনি তাদের নিকট খারজ চাচ্ছেন? তবে আপনার রবের খারাযই উত্তম)।"

খারজ হলো একটি উপত্যকা যাতে গ্রাম ও কৃষিভূমি রয়েছে, যা ইয়ামামার ভূমিতে অবস্থিত। এটি বকর বিন ওয়াইল গোত্রের বনু কায়স বিন সা'লাবা বিন উকাবা শাখার অধিকারভুক্ত। এটি বসরা থেকে মক্কার পথে পড়ে। এটি ইয়ামামার শ্রেষ্ঠ উপত্যকা, এর ভূমি চাষাবাদের উপযোগী এবং এখানে খেজুর গাছ কম। জারির এর উল্লেখ করে বলেছেন:

কতই না চমৎকার আল-খারজ যা আদ-দাম ও আল-আদমার মধ্যবর্তী … তারপর বারকাতুর রুহানের রিমস ও আল-গারফ পর্যন্ত বিস্তৃত।

যু আল-রুম্মাহ বলেছেন:

আল-খারজ অঞ্চলের খুজামা ফুলের সুবাসে যা তাকে উদ্বেলিত করেছে।

রাজিক বলেছেন:

তারা বালুকাময় টিলার আঘাতে আল-খারজের সমতল ভূমিতে আঘাত করছে … আর তারা রয়েছে এক প্রত্যাশা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে।

আল-মুখাব্বাল দারাতুল খারজের উল্লেখ করে বলেছেন:

দারাতুল খারজে আবদ্ধ থেকে সে আস্বাদন করেনি … কোনো পানীয়, আর তার জন্য কোনো ঘাসও বরাদ্দ করা হয়নি।

২৯. দারাতুল খালাআহ: খালাআহ অর্থ উষ্ট্রীর বসে পড়া। এটি তোমার কথা থেকে এসেছে: উষ্ট্রীটি বসে পড়ল এবং নড়াচড়া বন্ধ করে দিল। লিহয়ানি এটি বলেছেন। আবু মানসুর বলেন: খালাআহ কেবল উষ্ট্রীর ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় যখন সে বসে পড়ে এবং সেখান থেকে নড়ে না।

৩০. দারাতুল খানাজির: এটি এর পরবর্তী স্থানটি থেকে আলাদা হওয়ার কথা নয়, তবে আমি আল-উজাইরকে বলতে দেখেছি:

আর দারাতুল খানাজিরের সেই দিনে গাতাফান গোত্রের … পলায়নকারীরা ছাড়া কেউ বাঁচতে পারেনি।

৩১. দারাতু খিনযার: 'খা' বর্ণে যের ও যবর উভয়টি পড়া যায়। প্রথম ভাষাভঙ্গিটি কুরা' থেকে বর্ণিত। জা'দি বলেন:

উমাইমার স্মৃতি শেষ রাতে কল্পনায় ভেসে এল … যখন আমার সাথীরা দারাতু খিনযারে অবস্থান করছিল।

আল-হুত্বাইয়াহ বলেছেন:

নিশ্চয়ই বিপদ হচ্ছে—তোমার কোনো পিতা না থাকুক—বিনাশ হওয়া … আদ-দিমাখ এবং দারাতু খিনযারের মধ্যবর্তী স্থানে।

বর্ণিত আছে: দারাতু মানযার। আল-উজাইর বলেছেন:

এবং যেদিন আমরা পৌঁছলাম, দারাতু খিনযারের সেই দিনে … এবং তার রক্ষকদের নিকট, এমন আঘাত যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

৩২. দারাতুল খিনযারাতাইন: এটি স্ত্রীলিঙ্গের দ্বিবচন রূপ। একে আল-খিনযিরাতাইনও বলা হয়। ইবনে দুরিদ বলেন: কবিরা কবিতায় অনেক সময় 'দারাতুল হিনযার' বলে থাকেন। এটি বনু হিলম বিন বনু দ্বিবাবের এলাকা। আল-আরত্বাহ হলো বনু দ্বিবাবের একটি কূপ যেখানে তারা ফিরে আসে। আবু যায়েদ বলেন: এটি দ্বরিয়্যাহ নামক সংরক্ষিত চারণভূমি থেকে বের হয়ে দক্ষিণ মুখী হয়ে তিন দিনের পথ চলার পর দ্বিবাব গোত্রের জলাশয়সমূহে পৌঁছায়। আল-আরত্বাহ তারই অন্তর্ভুক্ত এবং সবই দারাতুল খিনযারাতাইনের নিকটবর্তী।

৩৩. দারাতু খুওউ: এটি বনু আসাদ গোত্রের আবাসস্থল। বলা হয় খুওউ একটি উপত্যকা অথবা নাজদ অঞ্চলের একটি বালুর টিলা। বনু ইয়ারবু'র বিরুদ্ধে বনু আসাদের খুওউ যুদ্ধের দিন সম্পর্কে তাদের কবি বলেন:

আমার দুঃখ লাঘব হলো যখন আমাদের বর্শাসমূহ বিদ্ধ করল … খুওউ-এর সেই সন্ধ্যায় কায়স বিন জাবিরের গোত্রকে।

৩৪. দারাতু দাছির: ফাজারা গোত্রের ভূমিতে অবস্থিত। দাছির তাদের একটি কূপ। হুজর বিন উকবা আল-ফাজারি বলেন:

আমি উটগুলোকে দারাতু দাছিরের কাছে … নত হতে দেখলাম, যার নাকের দড়ি তাকে অপদস্থ হতে বাধ্য করেছিল।

৩৫. দারাতু দাম্মুন: কবি তার কবিতায় এর উল্লেখ করেছেন:

আলে মালিকের দারাতুদ দাম্মুনের দিকে।

আর দাম্মুন—যার সাথে এই দারাটি সম্পর্কিত—ইমরুল কায়সের কবিতায় বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন:

আমাদের উপর রাত দীর্ঘায়িত হয়েছে হে দাম্মুন।

দাম্মুন, আমরা ইয়ামেনি জাতি।

আর আমরা আমাদের স্বজনদের প্রতি মমতাময়।

ইবনুল হাইয়্যিক বলেন: আনদাল, খুযুন এবং দাম্মুন হলো ইয়ামেনের সাদাফ গোত্রের শহর। সাদাফ হচ্ছে কিনদাহ গোত্রের একটি শাখা। দাম্মুনের বাসিন্দা ছিলেন আল-হারিস বিন আমর বিন হুজর আল-আকিলুল মুররার।

ইমরুল কায়স সাদাফ গোত্র পরিদর্শন করেছিলেন, তারপর তাদের প্রতি ব্যাকুল হয়ে বলেছিলেন:

যেন আমি দাম্মুনে কখনও নৈশ আলাপে বসিনি … আর কখনও আনদাল নামক স্থানে আক্রমণে অংশ নেইনি।

৩৬. দারাতুদ দাওর: হুনায়ি তার 'আল-মুনাদ্বাদ' গ্রন্থে একে 'ওয়াও' বর্ণে তাশদিদ দিয়ে উল্লেখ করেছেন। আমি এটি তার নিজ হাতের লেখায় দেখেছি। তবে আমার মনে হয় না যে তিনি সঠিক কিছু করেছেন। কেউ কেউ আধিক্য বোঝাতে বলেছেন 'দারাতুদ দাওর', যেমনটি বলা হয় 'রামলাতুর রিমাল' (মরুর বালু)।

 

‌হুজর বিন উকবা ও তার ভাইয়ের মাঝে কোনো এক কারণে বিবাদ সৃষ্টি হলো। ফলে তিনি স্থানান্তরের ইচ্ছা করলেন। তিনি তার ভাইয়ের কাছে বিদায় নিতে এলেন। তখন তার ভাই সম্পূর্ণ সশস্ত্র অবস্থায় তার সামনে বেরিয়ে এলেন। হুজর তাকে বললেন: আমি এর জন্য আসিনি। তখন তার ভাই কেঁদে ফেললেন। হুজর বললেন:

 

সমস্ত কায়স গোত্রের নিকট কি এই সংবাদ পৌঁছেনি যে তাদের গৌরব … আগামিকাল ভোরে দারাতুদ দাওর থেকে প্রস্থান করছে।

সেখানে অশ্রু সংবরণকারী চোখগুলো অশ্রু বিসর্জন দিল, আর বিচ্ছেদের বেদনায় উটের কাফেলাগুলো যেন স্থবির হয়ে পড়ল। ৩৭. দারাতুজ যি'ব: নাজদ অঞ্চলে বনু কিলাব গোত্রের বাসভূমিতে অবস্থিত। আমর বিন বুরকা বলেন:

আর তারা কঠোর পরিশ্রম করছে, আর কী সেই পরিশ্রম!
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
من دارة الذئبِ بمُجرهِدِّ

38 دارة الذُؤيب: بتصغير سابقتيها، وهما دارتان: إحداهما: لبني الأضبط، حذاء الجثةوم، والجثُوم: ماءٌ لهم.

39 والأخرى: بنجدٍ، لبني أبي بكر بن كلاب، من هوازن.

40 دارة رابغٍ: بباء موحدة بعد الألف، ثم غينٍ معجمة.

ورابغٌ: واد يقطعه الحاج بين البزواء والجُحفة دون عزور. قال كثير يذكرها:

أقول وقد جاوزن دارات رابغٍ … مهامهِ غُبراً يفرَعُ الأكمَ آلهاً

أألحيُّ أم صيرانُ دومٍ تناوحَتْ … بتريَمَ قصْراً، واستحثّتْ شمالها؟

أرى حينَ زالت غيرُ سلمى برابغٍ … وهاجَ القلوبَ الساكناتِ زوالُها

كأن دموعَ العينِ لما تخللتْ … مخارِمَ بيضاً من تمنيّ جمالُها

و (تمني) : موضعٌ تصادفه إذا انحدرت من ثنية هرشى وأنت تريد المدينة، وبها جبال يقال لها البيض.

41 دارة الردم: في أرض بني كلابٍ، قال بعضهم:

لعَنْ سخطةٍ من خالقي، أو لشقوةٍ … تبدَّلت قرقيساءَ من دارةِ الردمِ

42 دارة الردهة: والردهة: نقرةٌ في صخرة يستنقع فيها الماء. وقال الخليل: الردهة: شبه أكمةٍ كثيرة الحجارة، والجمع ردهٌ وهي موضع في بلاد قيسٍ، دفن فيه بشر بن أبي خازم، قال وهو يجودُ بنفسه:

فمن يكُ سائلاً عن بيت بشرٍ … فإن له بجنبِ الردهِ بابا

‌‌جمع الردهة، وقيل: روي: "فإن له بدار رداه بابا" والرِّداه: جمعالردهة أيضاً. وأراد بالدار الدارة، وقيل:

روي: "بجنب الرَّد".

والرد: موضع. وبعده:

ثوى في غربةٍ لابدَّ منها … كفى بالموتِ نأياً واغترابا

43 دارة رفرفٍ: بفتح المهملتين، ويروى بضمهما وبالتكرير. قال ثعلب: رواية ابن الأعرابي (رفرف) بالضم في المهملتين، وغيره بالفتح فيهما، وهي دارة في أرض بني نميرٍ. ولها عدة معانٍ: فالرَّفْرَف: كسر الخباء، وخرقةٌ تخاطُ في أسفل الفسطاط، وثياب خضرٌ.

والرفرف الذي في التنزيل: قيل: هو رياض الجنة. وقيل: المجالس، وقيل: البسط والفُرش. وقيل: الوسائد.

والرفرف: الرف تجعل عليه طرائف البيت.

والرفرف: الرَّوشنُ.

والرفرف: ضربٌ من السمك، بحريٌ.

والرفرف: شجرٌ مسترسلٌ ناعم يكثر باليمنِ. وقال الراعي يذكر دارة رفرفٍ:

فدَعْ عنك هِنْداً والمُنى، إنما المُنَى … ولوعٌ، وهل ينهى لك الزجرُ مولَعَا

رأى ما أرته يومَ دارة رفرفٍ … لتصرعَهُ يوماً هنيدةُ مصرعا

44 دارة رمحٍ: لفظ الرمح، السلاح الذي يطعن به. وعن أبي زياد أنها بالخاء المعجمة، وهذه الدارة منسوبة إلى (ذات رمحٍ) ، وهو برقُ أبيض في أرض بني كلابٍ لبني عمرو بن ربيعة. وعنده البتيلة، ماءٌ لهم باليمامة، قال جران العود النميري:

وأقبلْنَ يمشينَ الهُوينا تهادياً … قصارَ الخُطا، منهن رابٍ ومُزحفُ

كأن النميري الذي يتبعنَهُ … بدارةِ رمحٍ ظالعُ الرجلِ، أحنفُ

45 دارة الرمرمِ: كسمسمٍ، قال الغامدي:

أعدْ نظراً، هل ترى ظُعنهُمْ … وقدْ جاوزَتْ دارة الرمرِمِ؟

46 دارة الرُّّها: يمد ويقصر، والراء مضمومة، قال المرار الأسدي:

برِئْتُ من المنازلِ غير شوقٍ … إلى الدارِ التي بلوَى أبانِ

ومنْ وادي القنانِ، وأينَ مني … بداراتِ الرُّها وادي القنانِ

47 دارة وهبي: كسكرى، وهي بالصمَّان، بديار بني تميمٍ، قال الشاعر:

بها كل ذيالِ الأصيلِ كأنه … بدارة رهبي، ذو سوارينِ امحُ

48 دارة سعرٍ: بفتح سينه المهملة، وقيل: سعر بكسرها. قال ابن دريدٍ: داراتُ الحمى ثلاثٌ: إحداهنَّ: دارة عوارم، وعوارم: هضبٌ وماءٌ للضباب وبني جعفر. والثانية: دارة وسطٍ. ووسطٌ: جبلٌ عظيمٌ طويل على أربعة أميال من وراء ضريبة، لبني جعفر. [والثالثة: دار سعرٍ، وهي لبني وقاصٍ من بني أبي بكر بن كلابٍ، وبها الشطون وهي بئرٌ زوراءٌ يستقصى منها بشطنين، أي بحبلين] .

 

‌‌49 دارة السلم: سميت باسم وادٍ ينحدر على الذنائب. والذنائب: في رض بني البكاء، على طريق البصرة إلى مكة.

والسلم في الأصل: شجرٌ، ورقه القرظُ الذي يدبغ به وبه سمي هذا الموضع، وقد أكثر الشعراء من ذكر هذا الموضع قال البكاء بن كعبٍ الفزاري، وسمي البكاء بهذا الشعر:
মোযহাহিদ এর কাছে থাকা দারাতুয যি'ব থেকে

৩৮ দারাতুয যুআইব: এর পূর্ববর্তী দুটির ক্ষুদ্রার্থ রূপ, এগুলো দুটি এলাকা: একটি বনু আযবাতের জন্য, যা জুসুমের বিপরীত দিকে অবস্থিত। আর জুসুম হলো তাদের একটি জলাশয়।

৩৯ আর অন্যটি: নজদ অঞ্চলে, বনু হাওয়াজিনের বনু আবি বকর বিন কিলাব গোত্রের জন্য।

৪০ দারাতু রাবিগ: আলিফের পর একটি 'বা', এরপর নুকতাহযুক্ত 'গাইন'।

রাবিগ: একটি উপত্যকা যা হাজীরা বাযওয়া এবং জুহফার মাঝে আযওয়ারের নিকট অতিক্রম করেন। কুসায়্যির এর উল্লেখ করে বলেছেন:

আমি বলছি যখন তারা রাবিগের এলাকাগুলো অতিক্রম করল … ধুলোমাখা মরুভূমি যার টিলাগুলোকে মরীচিকা ঢেকে দিয়েছে

এরা কি কাফেলা নাকি বুনো গরুর দল যারা বিশ্রাম নিচ্ছে … তায়রামে দ্বিপ্রহরে, আর উত্তুরে হাওয়া তাদের তাড়িত করছে?

আমি দেখলাম যখন সালমা ছাড়া অন্যরা রাবিগ থেকে চলে গেল … আর তাদের প্রস্থান শান্ত হৃদয়গুলোকে ব্যাকুল করে তুলল

যেন চোখের পানি ঝরছে যখন তা অতিক্রম করছিল … সাদা গিরিপথগুলো, যার সৌন্দর্যের আকাঙ্ক্ষা করা হয়

এবং (তামান্নি): একটি স্থান যা হারশা গিরিপথ থেকে মদিনার দিকে নামার সময় পাওয়া যায়, সেখানে 'বিয' নামক পাহাড় রয়েছে।

৪১ দারাতুর রাদম: বনু কিলাবের ভূমিতে অবস্থিত, জনৈক কবি বলেছেন:

আমার স্রষ্টার কোনো অসন্তুষ্টির কারণে, নাকি কোনো দুর্ভাগ্যের ফলে … দারাতুর রাদমের বদলে কারকিসিয়াকে বেছে নিতে হলো

৪২ দারাতুর রাযহাহ: রাযহাহ হলো পাথরের গর্ত যেখানে পানি জমে থাকে। খলিল বলেছেন: রাযহাহ হলো পাথরকীর্ণ পাহাড়ের মতো, এর বহুবচন হলো 'রায'। এটি কায়েস গোত্রের অঞ্চলের একটি স্থান, যেখানে বিশর বিন আবি খাযিম সমাহিত হয়েছেন। তিনি মৃত্যুর সময় বলেছিলেন:

বিশরের ঘর সম্পর্কে যদি কেউ প্রশ্ন করতে চায় … তবে রায-এর পাশেই তার একটি দরজা রয়েছে

‌‌রাযহাহ-এর বহুবচন, আর বলা হয়েছে: বর্ণনাভেদে রয়েছে: "তার জন্য রাদাহর ঘরে একটি দরজা রয়েছে" আর রিদাহ-ও রাযহাহ-এর বহুবচন। এখানে 'দার' বলতে 'দারাহ' বোঝানো হয়েছে। আবার বলা হয়েছে:

বর্ণিত আছে: "রাদ্দ-এর পাশে।"

আর রাদ্দ একটি স্থানের নাম। এর পরের চরণে আছে:

সে এমন এক প্রবাসে অবস্থান নিল যা অনিবার্য … দূরত্ব ও পরবাসের জন্য মৃত্যুই যথেষ্ট

৪৩ দারাতu রাফরাফ: উভয় বর্ণে জবর দিয়ে, আবার পেশ দিয়ে এবং দ্বিত্ব উচ্চারণেও বর্ণিত হয়েছে। সা'লাব বলেন: ইবনুল আরাবির বর্ণনায় পেশ দিয়ে (রুফরুফ), আর অন্যরা জবর দিয়ে বর্ণনা করেছেন। এটি বনু নুমাইর গোত্রের ভূমিতে অবস্থিত একটি এলাকা। এর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে: রাফরাফ হলো তাঁবুর প্রান্তভাগ, বড় তাঁবুর নিচে সেলাই করা কাপড়ের টুকরো এবং সবুজ কাপড়।

পবিত্র কুরআনে যে রাফরাফের উল্লেখ আছে: বলা হয়েছে তা জান্নাতের উদ্যান। কেউ বলেছেন: মজলিসসমূহ, কেউ বলেছেন: বিছানা ও কার্পেট। আবার কেউ বলেছেন: বালিশ বা কুশন।

রাফরাফ: তাক বা শেলফ যেখানে ঘরের সুন্দর জিনিসপত্র রাখা হয়।

রাফরাফ: অলিন্দ বা বারান্দা।

রাফরাফ: এক প্রকার সামুদ্রিক মাছ।

রাফরাফ: ডালপালা ঝুলে থাকা নরম গাছ যা ইয়ামেনে প্রচুর জন্মে। কবি রা'য়ী দারাতু রাফরাফের স্মরণে বলেছেন:

হিন্দ এবং তার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করো, কারণ আকাঙ্ক্ষা তো … এক আসক্তি, আর আসক্ত ব্যক্তিকে কি তিরস্কার নিবৃত করতে পারে?

সে দেখেছে যা তাকে দারাতু রাফরাফের দিন দেখানো হয়েছিল … যেন হুনাইদাহ তাকে একদিন ধরাশায়ী করে ফেলে

৪৪ দারাতু রুমহ: রুমহ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বর্ষা বা বল্লম। আবু যিয়াদের মতে এটি 'খা' দিয়ে (রুমখ)। এই এলাকাটি 'যাতু রুমহ'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা বনু কিলাব বা বনু আমর বিন রবিআহ-এর ভূমিতে এক প্রকার সাদা বিদ্যুৎ বা চমক। এর কাছেই রয়েছে বাতিলাহ, যা ইয়ামামায় তাদের একটি জলাশয়। জিরানুল আওদ আন-নুমাইরি বলেছেন:

তারা মন্থর গতিতে দুলতে দুলতে এগিয়ে এলো … ছোট ছোট কদমে, তাদের মধ্যে কেউ সতেজ আর কেউ ক্লান্ত

যেন নুমাইরি ব্যক্তিটি যাকে তারা অনুসরণ করছে … দারাতু রুমহ-এ থাকা খোঁড়া পা বিশিষ্ট এবং বাঁকা পায়ের অধিকারীর মতো

৪৫ দারাতুর রামরাম: সিমসিম-এর ওজনে। আল-গামিদি বলেছেন:

আবার দেখো, তুমি কি তাদের হাওদাগুলো দেখতে পাচ্ছ … যখন সেগুলো দারাতুর রামরাম অতিক্রম করেছে?

৪৬ দারাতুর রুহা: আলিফ দীর্ঘ বা হ্রস্ব উভয়ভাবেই পড়া যায়, 'রা' বর্ণে পেশ দিয়ে। আল-মুরার আল-আসাদী বলেছেন:

আমি আবাসস্থলগুলোর মায়া ত্যাগ করেছি কিন্তু সেই ঘরের প্রতি … ব্যাকুলতা রয়ে গেছে যা আবানের সমতলে অবস্থিত

আর কানান উপত্যকা থেকে; অথচ আমার অবস্থান কোথায় … রুহার এলাকাগুলোতে আর কোথায় কানান উপত্যকা!

৪৭ দারাতু রাহবা: সুকারা-এর ওজনে। এটি সাম্মান অঞ্চলে বনু তামীম গোত্রের আবাসভূমিতে অবস্থিত। কবি বলেছেন:

সেখানে প্রতিটি দীর্ঘ লেজ বিশিষ্ট ঘোড়া এমন দেখাচ্ছিল যেন … দারাতু রাহবায় কোনো উজ্জ্বল দুই কঙ্কনধারী ব্যক্তি

৪৮ দারাতু সি'র: 'সিন' বর্ণে জবর দিয়ে, আবার জের দিয়েও বলা হয়েছে। ইবনে দুরিদ বলেন: হিমার এলাকা তিনটি: একটি হলো দারাতু আওয়ারিম; আওয়ারিম হলো বনু যিবাব ও বনু জাফরের পাহাড় ও জলাশয়। দ্বিতীয়টি হলো দারাতু ওয়াসাত; ওয়াসাত হলো একটি বিশাল ও দীর্ঘ পাহাড় যা যারীবাহর চার মাইল পেছনে অবস্থিত, এটি বনু জাফরের এলাকা। [তৃতীয়টি হলো দারাতু সি'র, এটি বনু আবি বকর বিন কিলাবের বনু ওয়াক্কাস শাখার এলাকা, সেখানে শাতুন নামক একটি কূপ রয়েছে যা অত্যন্ত গভীর এবং দুটি দড়ি দিয়ে সেখান থেকে পানি তোলা হয়]।

 

‌‌৪৯ দারাতুস্ সালাম: একটি উপত্যকার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে যা যানায়িবের দিকে নেমে গেছে। যানায়িব হলো বনু বুক্কা গোত্রের এলাকায়, যা বসরা থেকে মক্কার পথে অবস্থিত।

মূলত সালাম হলো এক প্রকার গাছ, যার পাতা হলো কারায যা চামড়া পাকা করতে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের নামেই স্থানটির নামকরণ হয়েছে। কবিরা এই স্থানের কথা প্রচুর উল্লেখ করেছেন। বুক্কা বিন কাব আল-ফাজারি এ সম্পর্কে বলেছেন, আর এই কবিতার কারণেই তাকে 'বুক্কা' বলা হয়:
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ما كنتُ أولَ من تفرَّقَ شملُهُ … ورأى الغداةَ من الفراقِ يقينا

وبدارةِ السلم لتي شوفتُها … دمنٌ يظلُّ حمامُها يُبكينَا

50 دارة شبيثٍ: تصغير شبثٍ بالتحريك، وهي دويبةٌ كثيرة الأرجل، جمعها شبثان، واستقصيته في التبصرة. وشبيثٌ ماء معروف، ودارة شبيث لبني الأضبطِ، ببطن الجريب. والجريب: وادٍ يصبُّ في الرمة. قال الأسدي:

سكنوا شبيثاً والأحصَّ وأصبحتْ … نزلتْ منازلَهُمْ بنو ذُبيان

51 [دارة شجَا: بنجدٍ، في ديار بني كلابٍ] .

52 دارة صارة: من بلاد غطفان، قال ميدان ابن صخر:

عقلتُ شبيباً يومَ دارةِ صارةٍ … ويومَ نضادِ النيرِ أنتَ جنيبُ

وصارة الجبل في الأصل: رأسه. قال نصرٌ: وصارةُ: جبلٌ في ديار بني أسدٍ. قال لبيد:

فأجمادَ ذي رقدٍ، فأكنافَ ذادقٍ … فصارةَ توفي فوقها فالأعابلا

وقال غيره: صارهُ: جبل قرب فيدٍ، وعنده دارة صارة، وعن السيد علي: صارة: جبل بالصمد، بين تيماء ووادي القرى وأنشد:

وذو العرشِ أبراهُنَّ لي بين صارةٍ … وبين العذارى قارباتِ مبينِ

53 دارة الصفائحِ: بناحية الصمّان، ذكرها الأفوه مجموعة في شعر له. قال:

فسائل جمعنا عنّا وعنهُمْ … غداةَ السيلِ بالأسلِ الطويلِ

ألم نتركْ سراتهَمُ عيامَى … جثوماً تحت أرجاءِ الذيولِ

تُبكيها الأراملُ بالمآلي=بداراتِ الصفائحِ، والنصيلِ 54 دارة صلصلٍ: بالضم في الصاد المهملة والتكرير. والصلصل في الأصل: الراعي الحاذق، والصلصل: الفاختة ودارة صلصلٍ: منسوبة إلى صلصلٍ، وهو ماءٌ في جوف هضبةٍ حمراء لعمرو بن كلابٍ. قال جريرٌ:

إذا ما حلَّ أهلُكِ اسُليمى … بدارةِ صلصلٍ شحطوا المزارا

أبيتُ الليل أرقبُ كلَّ نجْمٍ … تعرَّض ثم أنجدَ ثم غارا

يحنُ فؤاده، والعين (تلقى … من العبرات جولاً) وانحدارا

وقال أبو ثمامة الصباحي:

همُ منعوا ما بينَ دارةِ صلصلٍ … إلى الهضباتِ من نضادٍ وحائلِ

55 دارة ظالمٍ: في ديار بني ظالم، وهي تناوح المثامن.

56 دارة عبسٍ: وهي عند ماء بنجد، في ديار بني أسدٍ قال الزمخشري: عبسٌ: جبلٌ، قال ابن مقبل:

ولا غرْوَ إلا غروَ ريقةٍ ضُحىً … بعبسٍ، ونجَّتْ طيرَهُ حينَ أسفرا

57 دارة عسعس: هذه الدارة لبني جعفرٍ، سميت باسم عسعسٍ. قال الحارزنجي: عسعس جبلٌ أحمر طويلٌ على فرسخٍ من وراء ضرية، لبني دبيرٍ من بني جعفر. وعسعس: موضعٌ بالبادية.

والأصل في الكلمة: أنها من الدنو. ومنه قوله تعالى: " (والليل إذا عسعس) " وقيل: إنه من لأضداد تقول: عسعس الليل: إذا أقبل وإذا أدبر.

قال بعض بني جعفر:

أعدَّ زيدٌ للطعانِ عسعسا

يريد أعدَّ لهم الهرب والإدبار. ودارة عسعس: لبني جعفرٍ أصحاب جبل عسعس. قال جهم بن شبل الكلابي:

تهددني وأوعدني مريدٌ … بنجوته، وأفردهُ الضِّجاجُ

فلما أنْ رأى البزرَى جميعاً … بدارةِ عسعسٍ سكتَ النباحُ

بمرهفةٍ ترى السفراء فيها … كأن وجوههُمْ عصبٌ نضاجٌ

حلفتُ لأنتجنَّ نساءَ سلمَى … نتاجاً كل أكثرَهُ الخداجُ

58 دارة عوارضَ: بضم أوله، وبعد ألفهِ راءٌ مكسورةٌ وآخره ضادٌ. وهو في الأصل اسم علمٍ مرتجل لجبلٍ أسودَ في أعلى ديارِ طيء قال العمراني: أخبرني جارُ الله أن عليه قبرَ حاتم، وقيل: إنه جبلٌ لبني أسد.

وقيل: قفَا وعوارض: جبلان لبني فزارة، ذكرهما المجنون، فقال:

ألا حبذا نجدٌ، وطيبُ تُرابها … وأرواحها، إنْ كانَ نجدٌ على العهد

ألا ليتَ شِعري عن عُوارضتَيْ قناً … لطولِ بِعادي، هل تغيرتَا بعدي؟

وقال ابن الطفيل:

فلأبغينَّكُمُ قناً وعُوارضاً … ولأقبلَنَّ الخيلَ لابةَ ضرغَد

لكن الصوابَ أن عوارض جبلٌ في ديار طيء، وناحية ديار فزارة. قال الراجز:

كأنها وقد بَدَا عوارضُ … وفاضَ من أيديهنَّ فائضُ

وأدبيٌ في الغمام غامضُ … وقطْقطٌ حيثُ يخوضُ الخائضُ

واليلُ بين قنوينِ رابضُ … بجلهَةِ الوادي قطاً نواهضُ

59 دارة عُوارِمَ: بضم أوله، وبعد ألفه راءُ مكسورة ثم ميم. وبعضهم رواه بالفتح في أوله.
আমিই প্রথম ব্যক্তি নই যার দলবল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে … এবং যে বিচ্ছেদের প্রভাতে ধ্রুব সত্য প্রত্যক্ষ করেছে।

আর সুলামের সেই প্রান্তরে যা আমি পরিষ্কার দেখেছি … সেখানে এমন কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে যার কবুতরগুলো আমাদের কাঁদায়।

৫০. শুবাইসের প্রান্তর: ‘শুবাইস’ শব্দটি ‘শাবাস’ শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, এর দ্বিতীয় বর্ণে হরকত রয়েছে। এটি অনেক পা বিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র প্রাণী, এর বহুবচন হলো ‘শাবাসান’। আমি ‘আত-তাবসিরা’ গ্রন্থে এর বিস্তারিত আলোচনা করেছি। শুবাইস একটি সুপরিচিত জলাশয়, এবং শুবাইসের প্রান্তরটি আল-জারিব উপত্যকার অভ্যন্তরে বনু আদবাত গোত্রের মালিকানাধীন। আর আল-জারিব হলো একটি উপত্যকা যা রুম্মাহ অঞ্চলে পতিত হয়। আসাদি বলেছেন:

তারা শুবাইস ও আল-আহাসে বসবাস করত, কিন্তু এখন … বনু জুবইয়ান তাদের আবাসস্থলে অবতরণ করেছে।

৫১. [শাজা-র প্রান্তর: এটি নজদ অঞ্চলে বনু কিলাব গোত্রের বসতিতে অবস্থিত]।

৫২. সারা-র প্রান্তর: এটি গাতফান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। মাইদান ইবনে সাখর বলেছেন:

সারা-র প্রান্তরের দিনে আমি শুবাইবকে বন্দি করেছিলাম … আর নিদাদ আন-নায়িরের দিনে তুমি ছিলে পার্শ্ববর্তী।

মূলত ‘সারা’ পাহাড়ের অর্থ হলো তার শিখর। নাসর বলেছেন: সারা হলো বনু আসাদ গোত্রের এলাকায় অবস্থিত একটি পাহাড়। লাবিদ বলেছেন:

অতঃপর যি-রাকদ-এর টিলাসমূহ, তারপর জাদিক-এর পার্শ্বদেশসমূহ … এরপর সারা পাহাড় যার ওপর দিয়ে মেঘমালা অতিক্রম করে, তারপর আল-আয়াবিল।

অন্যান্যরা বলেছেন: সারা হলো ফাইদ অঞ্চলের নিকটবর্তী একটি পাহাড় এবং সেখানেই সারা-র প্রান্তর অবস্থিত। সাইয়িদ আলী থেকে বর্ণিত: সারা হলো আস-সামদ অঞ্চলের একটি পাহাড়, যা তাইমা এবং ওয়াদি আল-কুরা এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। তিনি কবিতা পাঠ করেছেন:

আর আরশের অধিপতি সেগুলোকে আমার জন্য সারা … এবং আল-আযারা-র মধ্যবর্তী মুবাইনের নিকটবর্তী স্থানে সৃষ্টি করেছেন।

৫৩. আস-সাফাইহ-র প্রান্তর: এটি আস-সাম্মান অঞ্চলে অবস্থিত। আল-আফওয়াহ তার একটি কবিতায় এটি বহুবচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:

আমাদের এবং তাদের ব্যাপারে আমাদের জনসমষ্টিকে জিজ্ঞেস করো … দীর্ঘ বর্শা নিয়ে বন্যার সেই সকালের কথা।

আমরা কি তাদের সরদারদের বিভ্রান্ত অবস্থায় ফেলে আসিনি … যারা বস্ত্রের প্রান্তের নিচে উপুড় হয়ে পড়ে ছিল।

বিধবা মহিলারা শোকের বসন পরে তাদের জন্য বিলাপ করছে— আস-সাফাইহ এবং আন-নাসিলের প্রান্তরে। ৫৪. সালসাল-র প্রান্তর: এতে ‘সদ’ বর্ণে পেশ এবং বর্ণটির পুনরাবৃত্তি রয়েছে। মূলত ‘সালসাল’ মানে হলো দক্ষ রাখাল। আবার ‘সালসাল’ বলতে ঘুঘু পাখিকেও বোঝানো হয়। সালসাল-র প্রান্তরটি সালসাল নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা আমর বিন কিলাব গোত্রের একটি লাল পাহাড়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি জলাশয়। জারির বলেছেন:

হে সুলাইমা! যখন তোমার পরিবার সালসাল-র প্রান্তরে … অবস্থান নিল, তখন তারা সাক্ষাতের স্থানটিকে দূরে সরিয়ে দিল।

আমি সারারাত জেগে প্রতিটি নক্ষত্রকে পর্যবেক্ষণ করি … যা উদিত হয়, তারপর মধ্যগগণে আসে এবং সবশেষে অস্তমিত হয়।

তার হৃদয় ব্যাকুল হয় এবং চোখ থেকে অশ্রু … ঘূর্ণায়মান হয়ে প্রবাহিত হয়।

আবু সুমামা আস-সাবাহি বলেছেন:

তারা সালসাল-র প্রান্তর থেকে … নিদাদ ও হাইলের পাহাড় পর্যন্ত এলাকা রক্ষা করেছিল।

৫৫. জালিম-এর প্রান্তর: এটি বনু জালিম গোত্রের বাসভূমিতে অবস্থিত এবং এটি আল-সামামিন-এর সম্মুখভাগে অবস্থিত।

৫৬. আবসের প্রান্তর: এটি নজদ অঞ্চলের একটি জলাশয়ের নিকটবর্তী বনু আসাদ গোত্রের বাসভূমিতে অবস্থিত। যামাখশারি বলেছেন: ‘আবস’ একটি পাহাড়ের নাম। ইবনে মুকবিল বলেছেন:

সকালের লালার বিস্ময় ছাড়া আর কোনো বিস্ময় নেই … যা আবস পাহাড়ে ছিল, এবং ভোর হওয়ার পর তা তার পাখিদের মুক্তি দিল।

৫৭. আস’আস-র প্রান্তর: এই প্রান্তরটি বনু জাফর গোত্রের জন্য, যা আস’আস-এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। আল-হারাজুনজি বলেছেন: আস’আস হলো একটি দীর্ঘ লাল পাহাড় যা দারিয়াহ থেকে এক ফারসাখ দূরে অবস্থিত, এটি বনু জাফরের শাখা বনু দুবাইর গোত্রের জন্য নির্ধারিত। আর আস’আস মরুভূমির একটি স্থান।

শব্দটির মূল অর্থ হলো নিকটবর্তী হওয়া। এখান থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: “শপথ রাতের, যখন তা অবসান হয় (আস’আস)।” আবার বলা হয়েছে এটি বিপরীতার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত; অর্থাৎ রাত যখন উপস্থিত হয় তখনো ‘আস’আস’ বলা হয়, আবার যখন চলে যায় তখনো তাই বলা হয়।

বনু জাফরের কেউ কেউ বলেছেন:

যাইদ যুদ্ধের জন্য আস’আসকে প্রস্তুত করেছে।

এর দ্বারা তিনি তাদের জন্য পলায়ন এবং প্রস্থানকে বুঝিয়েছেন। আস’আস-র প্রান্তর বনু জাফর গোত্রের জন্য যারা আস’আস পাহাড়ের অধিপতি। জাহম বিন শিবল আল-কিলাবি বলেছেন:

মুরিদ আমাকে তার মুক্তি দিয়ে হুমকি ও ভয় প্রদর্শন করছিল … যখন সে একাকী ছিল।

কিন্তু যখন সে আস’আস-র প্রান্তরে … সমস্ত জনতাকে দেখতে পেল, তখন তার আস্ফালন স্তব্ধ হয়ে গেল।

সেই ধারালো তরবারির আঘাতে যাতে দূতদের মুখমন্ডলকে … দগ্ধ রক্তপিণ্ডের ন্যায় দেখা যায়।

আমি কসম করছি, আমি সালমার নারীদের এমন সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করব … যাদের অধিকাংশ হবে অসম্পূর্ণ।

৫৮. আওয়ারিদ-এর প্রান্তর: এর প্রথম বর্ণে পেশ, আলিফের পরে ‘রা’ বর্ণে যের এবং শেষে ‘দদ’। মূলত এটি তাঈ গোত্রের উচ্চভূমির একটি কালো পাহাড়ের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ নাম। আল-উমরানি বলেছেন: জারুল্লাহ আমাকে অবহিত করেছেন যে, এর উপরে হাতিম তাঈ-এর কবর রয়েছে। আবার বলা হয়েছে এটি বনু আসাদ গোত্রের একটি পাহাড়।

বলা হয়: ক্বানা এবং আওয়ারিদ হলো বনু ফাযারাহ গোত্রের দুটি পাহাড়। মাজনুন এগুলো উল্লেখ করে বলেছেন:

হায়, নজদ কতই না চমৎকার, আর কতই না পবিত্র তার মাটি … এবং তার সুগন্ধি বাতাস, যদি নজদ তার অঙ্গীকারে অটল থাকে।

হায়, আমি যদি জানতাম ক্বানা-র সেই আওয়ারিদ পাহাড় দুটি সম্পর্কে … আমার দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর, সেগুলো কি পরিবর্তিত হয়ে গেছে?

ইবনে তুফাইল বলেছেন:

আমি অবশ্যই তোমাদের ক্বানা ও আওয়ারিদ অঞ্চলে খুঁজব … আর আমি অবশ্যই যিরগাদ-এর লাভা অঞ্চল অভিমুখে ঘোড়াগুলোকে নিয়ে আসব।

তবে সঠিক কথা হলো, আওয়ারিদ হলো তাঈ গোত্রের এলাকায় অবস্থিত একটি পাহাড় যা ফাযারাহ গোত্রের এলাকার সংলগ্ন। একজন রাজায ছন্দকার বলেছেন:

যখন আওয়ারিদ দৃশ্যমান হলো তখন মনে হলো … তাদের হাত থেকে যা উপচে পড়ার তা উপচে পড়ল।

মেঘের আড়ালে অস্পষ্ট কোনো বিষয় … এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি যেখানে ডুবুরি ডুব দেয়।

রাত দুটি কুনু-র মাঝখানে থমকে আছে … উপত্যকার কিনারায় বসা কাতা পাখিগুলোর মতো।

৫৯. উওয়ারিম-এর প্রান্তর: এর প্রথম বর্ণে পেশ, আলিফের পরে ‘রা’ বর্ণে যের এবং তারপর ‘মিম’। কেউ কেউ এর প্রথম বর্ণে জবর (ফতহা) দিয়ে পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
يجوز أن يكون من العرم، وهو السكرُ والمسناة التي تسدُّ بها المياه، قال تعالى: "فأرسلنا عليهم سيلَ العرِم" أو أنه من اسم وادٍ، أو أنه الجرد، ويجوز أن يكون من العرم وهول شيء، أو أنه من قولهم: عارمٌ إذا كان النهاية في كل شيء.

ودارة عوارم: من دارات الحمى. قال ابن دريدٍ: دارات الحمى ثلاثٌ. وذكر منهن دارة عوارم.

 

‌‌وعوارمُ: هضبٌ وماءٌ للضباب وبني جعفر. قال نصرٌ: عوارم: جبل لبنيأبي بكر بن كلابٍ.

[ومن رواه بالفتح يجعله جمع عارمٍ، وهو حدُّ الشيء وشده.

قال الشاعر:

على غولٍ، وساكنِ هضبِ غولٍ … وهضبِ عوارمٍ مني السلام]

60 دارة العوجِ: بضم عينه المهملة وتسكين الواو وآخره جيم. قال الراجز:

بدارة العوجِ لسلمَى مربعُ … يكنفُهُ من جانبيهِ لعلعُ

وأنشد يعقوب لبعض بني سعدٍ:

يا دار سلمى بين داراتِ العُوجِ … جرَّتْ عليها كل ريحٍ سيهوجِ

هوجاءَ جاءتْ من جبالِ يأجوجِ … من عنْ يمينِ الخطِّ أو سماهيجِ

والعوج: يجوز أن يكون موضعاً، أو أنه جمع أعوج، وقد استوفينا تفسيره في عير هذا الكتاب. وقوله: جرت عليها يريد: جرَّت ذيلها، فحذف.

61 دارة عويجٍ: تصغير الذي قبله، أو أنه تصغير عاج، وكله معروفٌ. ودارة عويجٍ سميتْ به، ولم أظفر لها بشاهدٍ.

62 دارة غُبيرٍ: بالغين معجمة، وهو تصغير غُبرةٍ أو غبارٍ، أو غابرٍ وهو صغير ترخيمٍ في الجميع، قال نصرٌ: وهي لبني الأضبطِ من بني كلابٍ، في ديارهم بنجدٍ، عند ماء لهم يقال له الغبير سميتِ الدارة به.

63 دارة الغُزيلِ: بتصغير الغزال، من الوحش. دارةٌ لبني الحارث بن ربيعة بن أبي بكر بن كلابٍ، ولم أظفر لها بشاهد.

64 دارة الغمير: بلفظ التصغير للغمر، وهو الماء الكثير، قال أبو المنذر: سمي الغمير، لأن الماء الذي غمر ذلك الموضع غير كثيرٍ، فصغّر لذلك. وهو في ديار بني كلاب، عند الثلبوت، قال ابن البرصاء الغطاني وقد جمع:

ألمْ ترَ أنّ الحيَّ فرَّق بينهم … نوىً يومَ داراتٍ الغُميرِ لجوجُ

65 دارة فتكٍ: بالفتح في أوله، ثم بالسكون، وبآخره كافٌ، وهو في الأصل من: فتك إذا أتى الرجل صاحبه وهو غارٌ غافلٌ فيقتله.

ودارة فتكٍ: ماءةٌ بأجأ، أحد جبلي طيء قال زيد الخيلِ:

منعْنا بينَ شرقَ إلى [المطالي] … بحيٍّ ذي مكابرةٍ عنودٍ

نزلنا دارةً في جنِ فتكٍ … بحيٍّ ذي مٌدارأةٍ شديدِ

66 دارة فروعٍ: كجرولٍ، وهو موضعٌ في بلاد هذيل، قال الجموحُ الهذلي:

رأيت الأُلى يلحوْن في جنبِ مالكٍ … قُعوداً لدينا يوم دارةِ فروعِ

تخوتُ قلوبُ القومِ من كلِّ جانبٍ … كما خات طيرُ الماء ورد ملمَّعِ

فإن تزعموا أني جبئتُ فإنكم … صدقتُمْ، فهلّا جيتُمْ يوم ندَّعي

67 دارة الفروع: بضمتين على لفظ الجمعِ لفرعٍ كذا سمعتُ بها، ولا أعرفها، ولعلها سابقتها.

68 دارة القدَّاح: بالفتح وتشديد الدال، وبآخرها حاءٌ مهملةٌ: موضع بديار بني تميمٍ، عن الحازمي. ووجدت عند غيرهِ أنها دارة القداح بكسرِ أوله وتخفيف الدال، كأنه جمع قدحٍ، عن ابن السكيت.

69 دارة قُرح: بضم أوله وسكون ثانيه. والقُرح والقَرْح: لغتان في عض السلاح ونحوه مما يجرحُ الجسم، وقد قُرئ بهما، وبفتحتين.

ودارة قُرحٍ: موضع سوقِ وادي القُرى، وأنشد أبو عمرو:

حُبسْن في قُرحٍ وفي دارتِها … سبْع ليالٍ غيرِ معلوماتها

وفي الحديث: "بنى رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد الذي في صعيد قُرحِ، فعلَّمنا مصلاه بعظمٍ وأحجارٍ، فهو في المسجد الذي يصلي فيه أهل وادي القرى".

وقالوا: قُرحٌ هو الوادي الذي هلك فيه عادٌ قومُ هودٍ عليه السلام، قرب وادي القرى.

70 دارة القلتينِ: كفظ البحرين، وهي في ديار نميرٍ من وراء ثهلان. وجدته بط بعض أهل الأدب بتشديد اللام. قال بشر بن أبي خازم:

ألمَّ خيالُها يلوَى حبَيٍّ … وصحبي بين أرحلُهِمْ هجوعُ

فهلْ تقضي لبانتَهَا إلينا … بحيثُ انتابَها منها سريعُ

سمعتُ بدارةِ القلْتينِ صوتاً … لِحَنْتَمَةَ الفؤادُ به مضوعُ
এটি 'আরিম' (العرم) শব্দ থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যার অর্থ হলো বাঁধ বা জলকপাট যা দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর আমি তাদের ওপর বাঁধভাঙা প্রবল বন্যা (সায়লে আরিম) প্রেরণ করলাম।" অথবা এটি কোনো উপত্যকার নাম হতে পারে, কিংবা এটি বৃক্ষহীন ভূমি। এটি 'আরম' থেকেও হতে পারে যার অর্থ কোনো ভয়ংকর বিষয়; অথবা এটি তাদের সেই উক্তি থেকে এসেছে: 'আরাম' যখন কোনো কিছু চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

আর দারাতে আওয়ারিম: এটি হিমার অন্তর্গত একটি এলাকা। ইবন দুরেয়দ বলেছেন: হিমার দারা বা বৃত্তাকার সমতল ভূমিগুলো তিনটি, যার একটি হিসেবে তিনি দারাতে আওয়ারিমের উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌আর আওয়ারিম হলো হিল বা উঁচু ভূমি এবং পানির আধার যা জুবাব ও বনি জাফরের মালিকানাধীন। নাসর বলেছেন: আওয়ারিম হলো বনু আবি বকর বিন কিলাব গোত্রের একটি পাহাড়।

[আর যারা এটি প্রথম অক্ষরে জবর দিয়ে বর্ণনা করেন, তারা এটিকে 'আরিম'-এর বহুবচন মনে করেন, যার অর্থ হলো কোনো বস্তুর তীক্ষ্ণতা বা তীব্রতা।

কবি বলেছেন:

গুল-এর ওপর এবং গুল-এর পাহাড়ের বাসিন্দাদের ওপর... আর আওয়ারিমের পাহাড়গুলোর ওপর আমার পক্ষ থেকে সালাম রইল]

৬০. দারাতে উওয়াজ: প্রথম অক্ষরে পেশ, ওয়াও বর্ণটি সাকিন এবং শেষে জিম। জনৈক পদ্যকার বলেছেন:

দারাতে উওয়াজে সালমার বসন্তকালীন আবাস রয়েছে... এর দুই পাশ দিয়ে লা’লা’ তাকে ঘিরে আছে।

ইয়াকুব বনি সা'দ গোত্রের কারো সূত্রে কবিতা পাঠ করেছেন:

হে সালমার ঘর, যা দারাতে উওয়াজের মাঝে অবস্থিত... এর ওপর দিয়ে প্রতিটি ধূলিময় প্রবল বাতাস বয়ে গেছে।

প্রচণ্ড বাতাস যা ইয়াজুজ পাহাড় থেকে এসেছে... খাত্ত-এর ডান দিক থেকে কিংবা সামাহিজি থেকে।

আর 'উওয়াজ' কোনো স্থানের নাম হতে পারে, অথবা এটি 'আ'ওয়াজ'-এর বহুবচন হতে পারে। আমরা এই কিতাবের অন্য স্থানে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। কবির উক্তি "এর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে" এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন 'বাতাস তার আঁচল টেনে নিয়ে গেছে', এখানে কিছু শব্দ উহ্য রাখা হয়েছে।

৬১. দারাতে উওয়াইজ: এটি পূর্ববর্তী নামের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, অথবা এটি 'আজ' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার সবগুলোই সুপরিচিত। দারাতে উওয়াইজ এই নামেই পরিচিত, তবে এর সপক্ষে আমি কোনো কাব্যিক প্রমাণ পাইনি।

৬২. দারাতে গুবাইর: প্রথম অক্ষরে গাইন, এটি 'গুবরাহ' বা 'গুবার' (ধূলি) অথবা 'গাবির'-এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। নাসর বলেছেন: এটি নজদ অঞ্চলে বনি কিলাবের শাখা বনি আদবাত গোত্রের একটি এলাকা। তাদের সেখানে 'আল-গুবাইর' নামক একটি পানির আধার রয়েছে, যার নামানুসারে এই দারার নামকরণ করা হয়েছে।

৬৩. দারাতে উজাইল: বন্য হরিণ শাবক (গাজাল)-এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। এটি বনি হারিস বিন রাবিয়া বিন আবি বকর বিন কিলাবের একটি এলাকা। এর সপক্ষে আমি কোনো কাব্যিক প্রমাণ পাইনি।

৬৪. দারাতে গুমাইর: এটি 'গামর' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার অর্থ প্রচুর পানি। আবু আল-মুনজির বলেছেন: এর নাম গুমাইর রাখা হয়েছে কারণ ওই স্থানটিকে প্লাবিত করা পানির পরিমাণ খুব বেশি ছিল না, তাই একে ক্ষুদ্রার্থবোধক করা হয়েছে। এটি বনি কিলাবের বসতিতে ছালবুত-এর নিকট অবস্থিত। ইবনুল বারসা আল-গাতানি এই স্থানগুলোর উল্লেখ করে বলেছেন:

তুমি কি দেখনি যে কেল্লাবাসীরা তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে... সেই দিন গুমাইরের দারাগুলোতে বিবাদের এক দূরবর্তী গন্তব্য তৈরি হয়েছিল।

৬৫. দারাতে ফাতক: প্রথম অক্ষরে জবর, এরপর সাকিন এবং শেষে কাফ। এটি মূলত 'ফাতাক' থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি যখন তার সঙ্গীর অসতর্ক অবস্থায় অতর্কিতে আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে।

আর দারাতে ফাতক হলো তায়্যি গোত্রের দুই পাহাড়ের একটি 'আজা'-তে অবস্থিত একটি পানির আধার। জায়েদ আল-খায়ল বলেছেন:

আমরা শার্ক থেকে মাতালি পর্যন্ত এলাকা রক্ষা করেছি... এক অবাধ্য ও প্রতাপশালী গোত্রের মাধ্যমে।

আমরা ফাতকের পার্শ্ববর্তী এক দারাতে অবতরণ করেছি... এক অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রতিরোধকারী গোত্রের সাথে।

৬৬. দারাতে ফুরু': এটি হুজায়ল গোত্রের ভূখণ্ডের একটি স্থান। আল-জামুহ আল-হুজালি বলেছেন:

আমি সেই অগ্রবর্তীদের দেখেছি যারা মালিকের পাশে নিন্দা করছিল... দারাতে ফুরু'-এর দিনে আমাদের কাছে উপবিষ্ট অবস্থায়।

মানুষের হৃদয়গুলো সব দিক থেকে সংকুচিত হয়ে আসছিল... যেভাবে জলচর পাখি পানির দিকে দ্রুত অবতরণ করে।

তোমরা যদি মনে করো যে আমি ভীত হয়েছি, তবে তোমরা সত্যই বলেছ... কিন্তু যেদিন আমরা বীরত্বের দাবি করেছিলাম সেদিন তোমরা কেন আসলে না?

৬৭. দারাতে আল-ফুরু': 'ফুরু' শব্দের বহুবচন রূপ হিসেবে আমি এটি শুনেছি, তবে এটি আমার কাছে সুপরিচিত নয়। সম্ভবত এটি পূর্ববর্তী স্থানটিই হবে।

৬৮. দারাতে কাদ্দাহ: প্রথম অক্ষরে জবর এবং দাল বর্ণে তাশদিদসহ, শেষে হা। হাজেমির মতে এটি বনি তমিম গোত্রের একটি স্থান। অন্যের নিকট আমি এটি প্রথম অক্ষরে জের এবং দাল বর্ণে তাশদিদহীন অবস্থায় 'দারাতে কিদাহ' হিসেবে পেয়েছি, যেন এটি 'ক্কাদাহ' (পেয়ালা)-এর বহুবচন; এটি ইবনাস সিক্কিত থেকে বর্ণিত।

৬৯. দারাতে কুরহ: প্রথম অক্ষরে পেশ এবং দ্বিতীয় অক্ষরে সাকিন। 'কুরহ' এবং 'ক্করহ'—শরীরের যখম বা অস্ত্রের আঘাতের দুটি সমার্থক রূপ, উভয়ভাবেই এটি পড়া হয়েছে।

আর দারাতে কুরহ হলো ওয়াদিল কুরার বাজারের স্থান। আবু আমর কবিতা পাঠ করেছেন:

তাদের ক্কুরহ এবং এর দারাতে (বৃত্তাকার সমতলে) আটকে রাখা হয়েছিল... সাতটি অজানা রাতের জন্য।

হাদিসে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্কুরহ-এর উচ্চভূমির মসজিদে নামাজ আদায় করেন এবং হাড় ও পাথর দিয়ে আমাদের নামাজের স্থানটি চিহ্নিত করে দেন। এটি সেই মসজিদ যেখানে ওয়াদিল কুরার অধিবাসীরা নামাজ পড়ে থাকেন।"

তারা আরও বলেন যে: ক্কুরহ হলো সেই উপত্যকা যেখানে হুদ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় আদ ধ্বংস হয়েছিল, এটি ওয়াদিল কুরার নিকটবর্তী।

৭০. দারাতে ক্বালতাইন: এটি নুয়াইর গোত্রের বসতিতে থাহলান পাহাড়ের পেছনে অবস্থিত। সাহিত্যের কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে আমি লাম বর্ণে তাশদিদসহ এটি পেয়েছি। বিশর বিন আবি খাজিম বলেছেন:

হাবাইয়ি-এর দিকে তার কল্পনা বা স্মৃতি ভেসে আসে... যখন আমার সঙ্গীরা তাদের তাঁবুর মাঝে গভীর নিদ্রায় মগ্ন।

সে কি আমাদের কাছে তার মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে... যেখানে তার স্মৃতির দ্রুত আগমন ঘটে?

আমি দারাতে ক্বালতাইনে এক শব্দ শুনতে পেলাম... হানতামাহ-এর সেই শব্দে হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والأصل في القلْتَيَنِ أنها قرية من قرى اليمامة، لم تدخل في صلح خالد بن الوليد، يوم مقتلِ مسيلمة وقيل: هما نخلٌ لبني يشكر. وفيهما يقول الأعشى:

شربْتُ الراح بالقلتينِ حتى … حسِبْتُ دجاجةً مرَّتْ حمارا

71 دارة القُطقُطِ: بالضم والتكرير، عن كُراعٍ، وبالكسرِ، والتكرير عن غيره.

72 [دارة قيصر: من درات الشام القديمة قال الشاعر:

ولقد شربتُ الخَمر حتى خِلتُني … لما خرجتُ أجرُّ فضلَ المِئزرِ

قابوسَ أو عمرو بنَ هندٍ قاعداً … ُجبَى له ما دون دارةِ قيصرِ

في فتيةٍ بيضِ الوجوهِ خضارمٍ … عند الندامِ عشيرهُم لم يخسرِ

ولقد رميْتُ الخيل لما أقبلَتْ … بأغرَّ من ولدِ الشموسِ مشهرٍ]

73 دارة كبدٍ: بفتحٍ: ثم بكسر الموحدة من نحتُ، موضعٌ لبني أبي بكر بن كلابٍ.

وبالقرب من كبد ماءةٌ لغني: يقال لها مِذْعَى وفيهما يقول الغنويُّ:

تربعَتْ ما بين مِذعى وكبدْ

وكبدٌ أيضاً: هضبةٌ حمراءُ بالمضجعِ من ديار بني كلابٍ. قنةُ لغني قال الراعي:

غدا، ومن عالجٍ ركنٌ يُعارضهُ … عن اليمينِ، وعن شرقيهِ كبدُ

74 دارة الكبشات: بالتحريك، للضباب وبني جعفرٍ، وأصله أنه جمع كبشة، ولا أدري ما كبشة؟ إلا أن الكبش معروف، وهو الحمل الثني، وما علاه في السن، وليس لواحدٍ منها مؤنثٌ، إلا أن يكون أنثَ لتأنيث البقعة.

والكبشاتُ: أجبلٌ في ديار بني ذؤيبة، بهنَّ ماءةٌ يقال لها هراميت، وهي آبارٌ متقاربةٌ، والبكرة ماءةٌ لهم فيها. قال الأصمعي: ومن الجبال التي بالحمى كبشات، وهن أجبلٌ: كبشةٌ لبني جعفر، وكبشة لغني وتسمى لقيطة وكبشة للضباب. والله أعلم بالصواب.

75 دارة الكَوْرِ: بفتح الكاف وسكون الواو، وقيل: هي تضم الكاف، فتحها ابن الأعرابي، وضمها غيره، وهي لبني عامرٍ، ثم لبني سلولٍ منهم.

قال الراعي:

خبرتُ أن الفتى مروانَ يوعدني … فاتسبقِ بعض وعيدي أيها الرجلُ

وفي تدومٍ إذا اغبرَّتْ مناكبُهُ … أو دارة الكورِ عن مروانَ مُهتزلُ

وقال سويدٌ:

ودارةُ الكوْرِ كانت من محلّتنا … بحيثُ ناصى أنوفُ الأخزمِ الجردا

76 دارة ماسلٍ: بالهمزِ وبدونه، في ديار بني عقيلٍ قال ابن دريد: ومأسل: نخلٌ وماءٌ لعقيلٍ، وصغبرهُ مويسلٍ، قال الراجز:

ظلتْ على مؤيسلٍ خياما

ظلّتْ عليهِ تعلِك الزمَامَا

وذكره عمر بن لجأ مكبراً فقال:

لا تهْجُ ضبةَ يا جريرُ فإنهمْ … قتلوا من الرؤساء ما لم يقتلِ

قتلوا شُتيراً بابنِ غولٍ وابنهِ … وابني هشيمٍ يومَ دارةِ مأسلِ

وقال غيره:

يؤملُ شرباً عندَ دارةِ مأسَلٍ … وما الموتُ إلا حيثُ أرَّكَ مأسلُ

وقال ذو الرمة:

هجائنُ منْ ضربٍ العصافيرِ ضربُهَا … أخذْنَا أباها يومَ دارةِ مأسلِ

والعصافير: إبلٌ كانت للنعمان بن المنذر، وقيل: كانت لقيسٍ.

77 دارة متالعٍ: بضم أوله، وكسر ثالثه. يجوز أن يكون من التلعة، وهي واحدة التلاع، ومجاري الماء من الأسناد والنجاف والمواضع العالية. ويجور أن يكون من التليع، وهو الطويل. قال الاصمعي: متالعٌ: جبلٌ بنجدٍ، وفيه عينٌ يقال لها الخرارة، وقال الزمخشري: متالعٌ: جبل لبني عميلةَ.

قال صدقه بن نافعٍ العميلي يتشوق إلى متالع وأهله، وكان بعيداً عنهم:

وهل ترجِعَنْ أيامُنَا بمتالعٍ … وشربٌ بأوشالٍ بها وظلال

78 دارة محرقٍ: اشتقاقها من أحرق فهو محرقٌ. وهي بين العقبة وواقصة، لبني شهابٍ الطائيين، قال بعض الشعراء يذكرها، وقد جمعها:

ألا ليت قبراً بينَ داراتِ محرقٍ … يُخبرُهُ عنَّا الأحاديثَ خابِرُ

79 دارة المثامن: 80 دارة محصنٍ: ويقال لها: محضرٌ بالراء مكان النون. وهي في ديار بني نمير في طرف ثهلان الأقصى. ومحصن بكسر أوله وبالسكون في ثانيه وبالفتح في الصاد المهلة، وآخره نون، هكذا ذكره الأديبي. ومعناه (القصْرُ) عند [أهل] اللغة، فإن كان منقولاً منه أو شبيهاً به، فو جائزٌ. أما إن من المنعة والحضانة فالقياس محصنٌ بفتحتين في أوله وثالثه، لأن فعله حصن يحصن والمكان محصنٌ.

81 وأما دارة مِحْصَرٍ بالراء، فقدرها دريد بن الصمة في قوله:
কুলতাইন-এর মূল পরিচয় এই যে, এটি ইয়ামামার গ্রামগুলোর মধ্যে একটি গ্রাম, যা মুসায়লিমার নিহত হওয়ার দিনে খালিদ বিন ওয়ালিদের সন্ধিচুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কেউ কেউ বলেছেন: এটি বনু ইয়াশকারের মালিকানাধীন খেজুর বাগান। এই স্থানটি সম্পর্কে কবি আল-আশা বলেছেন:

আমি কুলতাইন নামক স্থানে এমনভাবে শরাব পান করেছি যে ... আমার কাছে একটি মুরগিকে গাধা বলে মনে হচ্ছিল।

৭১. দারা আল-কুতকুত: কুরা'র বর্ণনা অনুযায়ী এটি পেশ (যম্মাহ) ও পুনরাবৃত্তিসহ উচ্চারিত হয়, আর অন্যদের মতে এটি যের (কাসরা) ও পুনরাবৃত্তিসহ উচ্চারিত হয়।

৭২. [দারা কায়সার: এটি শামের প্রাচীন দারা বা উপত্যকাগুলোর একটি। কবি বলেছেন:

আমি শরাব পান করেছি যতক্ষণ না আমার মনে হয়েছে ... যখন আমি বের হলাম আমার পরিধেয় বস্ত্রের প্রান্ত টেনে হিঁচড়ে,

তখন কাবুস অথবা আমর বিন হিন্দ উপবিষ্ট ছিল ... দারা কায়সারের নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে তার জন্য রাজকর সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

উজ্জ্বল চেহারার উদারমনা যুবকদের মাঝে ... যারা পান মজলিসে তাদের সঙ্গীদের ক্ষতি করে না।

আমি ঘোড়সওয়ারদের দিকে তীর নিক্ষেপ করেছি যখন তারা এগিয়ে আসছিল ... বনু শুমুসের বংশধর এক প্রসিদ্ধ ও তেজস্বী ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে।]

৭৩. দারা কাবিদ: এটি বনু আবি বকর বিন কিলাবের একটি স্থান।

কাবিদ-এর নিকটেই গানীর একটি জলাশয় রয়েছে যাকে মিজআ বলা হয়। গানভী কবি এই দুটি স্থান সম্পর্কে বলেছেন:

সে বসন্ত অতিবাহিত করেছে মিজআ এবং কাবিদ-এর মধ্যবর্তী স্থানে।

কাবিদ আরও একটি নাম: এটি বনু কিলাব গোত্রের বাসভূমিতে অবস্থিত একটি লাল পাহাড়। এটি গানী গোত্রের একটি পাহাড়ের চূড়া। আল-রা'য়ী বলেছেন:

সে ভোরে যাত্রা করল, আর আলিজের একটি পাহাড়ের চূড়া তার সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াল ... তার ডানে এবং পূর্ব দিকে ছিল কাবিদ।

৭৪. দারা আল-কাবশাত: এটি দ্বিব্বাব ও বনু জাফরের একটি স্থান। এর মূল শব্দ হলো কাবশাহ-এর বহুবচন, আর আমি জানি না কাবশাহ বলতে কী বোঝানো হয়েছে। তবে কাবশ (ভেড়া) সুপরিচিত, যা হলো দুই বছর বয়সী মেষশাবক বা তার চেয়ে বড়। এদের স্ত্রীলিঙ্গ হয় না, তবে কোনো জায়গার নাম হিসেবে একে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়ে থাকতে পারে।

আল-কাবশাত হলো বনু জুআইবাহ-এর ভূখণ্ডের কতগুলো পাহাড়, সেখানে হারামিত নামক একটি পানির কূপ আছে, যা মূলত কয়েকটি কাছাকাছি অবস্থিত কূপ। বাকরাহ নামক জলাশয়টিও তাদের সেখানে অবস্থিত। আসমায়ী বলেছেন: সুরক্ষিত চারণভূমির (হিমা) পাহাড়গুলোর মধ্যে কাবশাত অন্যতম, আর এগুলো কয়েকটি পাহাড়: একটি কাবশাহ বনু জাফরের জন্য, একটি গানীর জন্য যাকে লাকিতা বলা হয় এবং একটি কাবশাহ দ্বিব্বাব গোত্রের জন্য। আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন।

৭৫. দারা আল-কাওর: ইবনুল আরাবীর মতে এটি কাফ বর্ণে যবর (ফাতহা) ও ওয়াও বর্ণে সাকিন যোগে উচ্চারিত হয়, আবার কেউ একে কাফ বর্ণে পেশ (যম্মাহ) দিয়ে উচ্চারণ করেছেন। এটি বনু আমের এবং পরবর্তীতে তাদের শাখা বনু সালুলের এলাকা।

আল-রা'য়ী বলেছেন:

আমাকে জানানো হয়েছে যে যুবক মারওয়ান আমাকে হুমকি দিচ্ছে ... হে ব্যক্তি, আমার সেই হুমকি বাস্তবায়নের আগেই তুমি ত্বরান্বিত হও।

তাদ্দুম নামক স্থানে যখন তার ধূলিমলিন কাঁধগুলো দৃশ্যমান হয় ... অথবা দারা আল-কাওরের পাশ দিয়ে মারওয়ান শীর্ণকায় অবস্থায় অতিক্রম করে।

সুওয়াইদ বলেছেন:

দারা আল-কাওর ছিল আমাদের বসতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত ... যেখানে আল-আখযাম পাহাড়ের নাসিকাগুলো বৃক্ষহীন সমভূমির সাথে মিশেছে।

৭৬. দারা মাসিল: এটি হামযাহসহ বা হামযাহ ছাড়াও উচ্চারিত হয়, এটি বনু আকিল গোত্রের বসতিতে অবস্থিত। ইবনু দুরাইদ বলেছেন: মা'সাল হলো বনু আকিলের খেজুর বাগান ও জলাশয়, এর ক্ষুদ্রার্থক রূপ হলো মুওয়াইসিল। রাজায ছন্দবিদ বলেছেন:

সে মুওয়াইসিলের উপর তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করল ... সেখানে অবস্থান করে সে ঘোড়ার লাগাম চিবোতে থাকল।

উমর বিন লাজা একে মূল নামেই উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:

হে জারীর, তুমি দ্বব্বাহ গোত্রকে বিদ্রূপ করো না, কারণ তারা ... এমন সব নেতাদের হত্যা করেছে যাদের অন্য কেউ হত্যা করতে পারেনি।

তারা শুতাইরকে হত্যা করেছে ইবনে গূল ও তার পুত্রের বিনিময়ে ... এবং দারা মা'সালের যুদ্ধে হিশামের দুই পুত্রকেও।

অন্য একজন কবি বলেছেন:

সে দারা মা'সালে পানীয়ের আশা করে ... অথচ মৃত্যু সেখানেই যেখানে মা'সাল তোমাকে আবদ্ধ করেছে।

যু আল-রুম্মাহ বলেছেন:

আসফীর জাতের সাদা উটগুলো তাদেরই বংশোদ্ভূত ... যাদের পিতাকে আমরা দারা মা'সালের যুদ্ধে হস্তগত করেছিলাম।

আসফীর হলো নুমান বিন মুনজিরের উটগুলো, কেউ কেউ বলেছেন এগুলো কাইস গোত্রের উট ছিল।

৭৭. দারা মুতালি': এটি প্রথম বর্ণে পেশ (যম্মাহ) এবং তৃতীয় বর্ণে যের (কাসরা) দিয়ে উচ্চারিত। এটি 'তালআ' শব্দ থেকে হতে পারে, যার অর্থ হলো উঁচু ভূমি থেকে পানির প্রবাহপথ। অথবা এটি 'তালী' শব্দ থেকে হতে পারে যার অর্থ দীর্ঘ। আসমায়ী বলেছেন: মুতালি' হলো নজদ অঞ্চলের একটি পাহাড়, যাতে 'খাররাহ' নামক একটি ঝর্ণা আছে। যামাখশারী বলেছেন: মুতালি' হলো বনু আমীলাহ গোত্রের একটি পাহাড়।

সাদাকাহ বিন নাফি আল-আমীলী মুতালি' এবং তার অধিবাসীদের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেছেন, যখন তিনি তাদের থেকে দূরে ছিলেন:

আমাদের সেই মুতালি'-এর দিনগুলো কি আর ফিরে আসবে? ... আর সেখানকার ছায়া ও সামান্য পানির সেই পানীয়গুলো?

৭৮. দারা মুহরিক: এর উৎপত্তি 'আহরাকা' (দগ্ধ করা) থেকে, তাই এটি মুহরিক (দগ্ধকারী)। এটি আকাবা ও ওয়াকিসাহ-এর মাঝে অবস্থিত এবং বনু শিহাব আত-তায়ীর মালিকানাধীন। জনৈক কবি একে বহুবচনে উল্লেখ করে বলেছেন:

হায়! যদি দারা মুহরিকের মধ্যবর্তী কোনো কবর ... কোনো সংবাদদাতার মাধ্যমে আমাদের খবর তাকে জানাতে পারত!

৭৯. দারা আল-মাছামিন: ৮০. দারা মুহসিন: একে নুন-এর স্থলে রা বর্ণ যোগে 'মুহযার'ও বলা হয়। এটি বনু নুমাইর গোত্রের এলাকায় তাহলান পাহাড়ের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। আদিবীর মতে মুহসিন শব্দটি প্রথম বর্ণে যের (কাসরা), দ্বিতীয় বর্ণে সাকিন এবং সাদ বর্ণে যবর (ফাতহা) ও শেষে নুন দিয়ে গঠিত। ভাষাবিদদের মতে এর অর্থ 'প্রাসাদ'। যদি শব্দটি সেখান থেকে গৃহীত হয় তবে তা ব্যাকরণসম্মত। আর যদি এটি প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা (হিসানাহ) থেকে হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ও তৃতীয় বর্ণে যবর (ফাতহা) হওয়ার কথা, কারণ এর ক্রিয়ামূল হলো হাসুনা-ইয়াহসুনু এবং স্থানবাচক নাম হলো মাহসান।

৮১. আর দারা মিহসার (রা বর্ণ যোগে), এর কথা দুরাইদ বিন আল-সিম্মাহ তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بدارة محصرٍ من ذي طلوحٍ … فسرداحِ المثامنِ فالضواحي

وعلى هذا فهما دارتان، ويقال: إنها دارة واحدة تلفظ بالراء، كما تلفظ بالنون. والله أعلم بالصواب.

82 دارة المراض.

83 دارة المرْدَمَةِ: بالفتح فالسكون، ثم دال مفتوحة وميم وبعدها [هاء] وهو اسم موضعٍ من: ردم الحائط يردمه إذا سدَّه، كالمشرقة والمغربة. والمردمة: جبلٌ لبني مالك بن ربيعة بن عبد الله بن أبي بكر بن كلاب عندها جبلٌ لبني مالك بن ربيعة بن عبد الله بن أبي بكر بن كلابٍ عندها جبلٌ اسود عظيمٌ يناوحه سواجٌ.

وفي دارة المردمة ماءٌ عذبٌ لهم يدعونه مريخة ومريخة. قال أبو زيادٍ: مما يذكر من بلاد أبي بكر ابن كلاب، مما فيه مياهٌ وجبالٌ المردمة، وهي بلاد واسعة فيها جبلان يسميان الأخرجين، قال شاعرٌ يذكر المريخة، وهي ماء المردمة:

ومرَّ على ساقي مريخةَ فالتمسْ … بها شربةً يسقيكما أو يبيعها

‌‌84 دارة المرورات: بفتحتين: ثم بتسكين الواو، كأنه جمع مرورة، وليس في الكلام مثل هذا البناء، فهو مما ضعفت فيه العين واللام، فهو فعلعلةٌ، مثل صمحمحةٍ، وألفه منقلبة عن ياء أصلية، وهو قول سيبويه، مثل شجوجة وأبطل أن يكون من باب عقوقل. وقال ابن السراج في (قطوْقطاةٍ) : هو مثل مرَوْراةٍ، فهو فعوْعلٌ، مثل عقوْقلٍ.

وقال سيبويه فيه: إنه من باب ضمحمة، فالياء زائدة على قول ابن السراج ووزنه عنده فعوعلةٌ.

والمرورات: موضعٌ كان فيه يومٌ من أيام العرب، ظفر فيه بنو ذبيان على بني عامرٍ. قال زهير:

تربضْ، فإن تقوِ المروراتُ منهمُ … ودارتها، لا تقوِ منهم إذاً نخلُ

بلادٌ بها نادمتهمْ، وألفتْهُمْ … فإن تقويا منهم فإنهم بسلُ

85 دارة معروفٍ: قال الأصمعي، وهو يذكر منازل بني جعفر بالحمى: ثم معروفٌ وهو ماءٌ وجبالٌ. وقال أبو زيادٍ: ومن مياه بني جعفر بن كلاب معروف، وهو في وسط الحمى، مطويٌّ متوحٌ. قال ذو الرمة:

وحتى سرتْ بعد الكرى في لويةٍ … أساريعُ معروفٍ، وصرَّتْ جنادِبُهْ

ودارة معروف عند هذا الماء من بلاد بني جعفر.

86 دارة المكامن: لبني نمير في ديار بني ظالم، قال الزمخشري: إنها تناوح المثامن.

87 دارة مكمنٍ: بفتح أوله، وسكون ثانيه، وميمه الثانية مكسورة، وفي آخره نون. وهي في بلاد قيسٍ. قال الراعي:

عرفتْ بها منازلَ كلَّ حيٍّ … فلم تملك من الطرب العُيونَا

بدارةِ مكمنٍ ساقتْ إليها … رياحُ الصيفِ آراماً وعِينا

88 دارة ملحوبٍ: بفتح أوله، وسكون ثانيه، ثم حاءٌ مهملة، فواوٌ ساكنةٌ، وباءٌ بآخره، وهو من قولك: طريق ملحوبٌ، أي واضحٌ سهل، وهو اسم ماء لنبي أسد بن خزيمة من بلاد نجدٍ. قال الشاعر:

إنْ يقتلوا ابن أبي بكرٍ فقد قتلَتْ … حُجراً بدارةِ ملحوبٍ بنو أسدِ

89 دارة منزرٍ: بالفتح في أوله، ثم السكون على النون وراء معجمةٍ مفتوحةٍ، وآخره راءٌ مهملة، وهي من داراتِ نجدٍ. قال الحُطيئة:

إنّ الرزيةَ لا رزيةَ مثلُها … فاقْنَي حياءكِ لا أبا لك واصبري

إْن الرزية لا أبا لكِ هالكٌ … بينَ الدماخِ، وبين دارةِ منزرِ

90 دارة مواضع: هكذا ذكرها العمراني، ولم يذكر موضعها، وكأنها جمع موضوعٍ.

91 دارة موضوعٍ: هي مفرد سابقتها، وهي بين ديار بني مرة وديار بني شيان. قال الحصين بن الحمام المري:

جزى اللهُ أفناءَ العشيرةِ كلها … بدارةِ موضوعٍ عفوقاً ومأثَما

بني عمِّنا الأدنيْنَ منهم، ورهْطنا … فزارةَ إذ رامتْ من الأمرِ مُعظّما

فلما رأيتُ الودَّ ليسَ بنافعي … وإنْ كانَ يوماً ذا كوكبَ مُظلِمَا

صبرْنَا، وكانَ الصبرُ منا سجيةٌ … بأسيافنا يقطعْن كفاً ومِعصَما

يُفلِّقْنَ هاماً من رجالٍ أعزةٍ … علينا، وهم كانوا أعقَّ وأظلَمَا

92 [دارة النشناشِ: بالفتح في أوله، وسكون شينه المعجمة، وبعدها نونٌ فألفٌ فشينٌ معجمةٌ، على وزن فعلال، لعله من قولهم: نشنش الطائر ريشه، أي نتفه وألقاه. قال أبو زياد: النشناش ماء لبني نمير بن عامر وهو الذي قتلت عليه بنو حنيفة، وعنده دارة عرفت به] .
দুল তুলূহ-এর মুহসির নামক চক্রাকার সমতল ভূমিতে … অতঃপর আল-মাসামিন-এর সমতল ভূমি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে

এ অনুযায়ী তারা দুটি চক্রাকার সমতল ভূমি, আর বলা হয়: এটি একটিই যা 'রা' সহযোগে উচ্চারিত হয়, যেমনটি 'নুন' সহযোগে উচ্চারিত হয়। আল্লাহ সত্য সম্পর্কে অধিক অবগত।

৮২. দারাতে আল-মিরাদ।

৮৩. দারাতে আল-মারদামাহ: মিম বর্ণে ফাতহাহ ও রা বর্ণে সুকুন, এরপর দাল বর্ণে ফাতহাহ এবং মিম ও শেষে [হা]; এটি একটি স্থানের নাম যা দেয়াল মেরামত করা (রাদমুল হাইত) থেকে উদ্ভূত যখন কেউ সেটি বন্ধ করে দেয়, যেমন ‘মাশরিকাহ’ ও ‘মাগরিবাহ’। মারদামাহ হলো বনু মালিক বিন রাবিয়াহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন কিলাব গোত্রের একটি পাহাড়, তার নিকটে বনু মালিক বিন রাবিয়াহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন কিলাব গোত্রের একটি পাহাড় রয়েছে যার পার্শ্বে ‘সুওয়াজ’ পাহাড়ের মুখোমুখি একটি বিশাল কালো পাহাড় রয়েছে।

আর দারাতে মারদামাহে তাদের জন্য মিষ্টি পানি রয়েছে যাকে তারা ‘মরাইখা’ ও ‘মুরিইখা’ বলে ডাকে। আবু জিয়াদ বলেছেন: আবু বকর ইবনে কিলাব গোত্রের জনপদসমূহের মধ্যে যার কথা উল্লেখ করা হয় এবং যেখানে পানি ও পাহাড় রয়েছে তা হলো মারদামাহ; এটি একটি বিস্তীর্ণ এলাকা যাতে ‘আখরাজাইন’ নামক দুটি পাহাড় রয়েছে। জনৈক কবি মরাইখার কথা উল্লেখ করে বলেন, যা মারদামাহর পানি:

সে মরাইখার পানি পান করানোর ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করল এবং … সেখানে এক ঢোক পানি চাইল যাতে সে তোমাদের পান করায় অথবা তা বিক্রি করে।

‌‌৮৪. দারাতে আল-মারাওরাত: দুই ফাতহাহ যোগে, অতঃপর ওয়াও বর্ণে সুকুন, যেন এটি ‘মারওরাহ’ এর বহুবচন, আর আরবী ভাষায় এই গঠনের অনুরূপ কোনো শব্দ নেই। এর ‘আইন’ ও ‘লাম’ বর্ণ দ্বিত্ব হয়েছে, তাই এটি ‘ফুআল্লালাহ’ ওজনের শব্দ, যেমন ‘সুমাহমিমাহ’। এর আলিফ মূল ‘ইয়া’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, এটি সিবওয়াইহ-এর অভিমত, যেমন ‘শাজওয়াহ’ এবং তিনি একে ‘আকাওকাল’ পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত করা বাতিল করেছেন। ইবনে সিরাজ ‘কাতাওকাতা’ প্রসঙ্গে বলেছেন: এটি ‘মারাওরাহ’ এর মতো, তাই এর ওজন ‘ফাউআল’, যেমন ‘আকাওকাল’।

সিবওয়াইহ এ সম্পর্কে বলেছেন: এটি ‘দুমাহমিমাহ’ পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, তাই ইবনে সিরাজের মতে ‘ইয়া’ বর্ণটি অতিরিক্ত এবং তার নিকট এর ওজন হলো ‘ফাউআলালাহ’।

মারাওরাত হলো একটি স্থান যেখানে আরবদের একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যাতে বনু জুবইয়ান গোত্র বনু আমির গোত্রের ওপর বিজয় লাভ করেছিল। যুহাইর বলেছেন:

তুমি অপেক্ষা করো, কেননা মারাওরাত যদি তাদের থেকে শূন্য হয়ে যায় … এবং এর সংলগ্ন এলাকাও, তবে নাখল নামক স্থানটি যেন তাদের থেকে শূন্য না হয়।

এমন একটি দেশ যেখানে আমি তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছি এবং তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছি … যদি তোমরা উভয়ে তাদের থেকে বিচ্যুত হও তবে তারা তো নির্ভীক।

৮৫. দারাতে মারূফ: আসমায়ী বলেছেন, তিনি হিমার নিকটবর্তী বনু জাফরের বসতিগুলোর কথা উল্লেখ করছিলেন: অতঃপর মারূফ যা একটি জলাশয় ও পাহাড়ের নাম। আবু জিয়াদ বলেছেন: বনু জাফর বিন কিলাবের জলাশয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মারূফ, যা হিমার মধ্যস্থলে অবস্থিত এবং এটি একটি গভীর কূপ। যুর রুম্মাহ বলেছেন:

এমনকি নিদ্রার পর সে একটি বাঁকে ভ্রমণ করল … মারূফের বালুচরের রেখাগুলো দৃশ্যমান হলো এবং এর ঝিঁঝিঁ পোকাগুলো শব্দ করতে লাগল।

আর দারাতে মারূফ বনু জাফর গোত্রের এই জলাশয়ের নিকট অবস্থিত।

৮৬. দারাতে আল-মাকামিন: বনু যালিম গোত্রের জনপদে বনু নুমাইর গোত্রের জন্য; যামাখশারী বলেছেন: এটি আল-মাসামিনের মুখোমুখি।

৮৭. দারাতে মাকমান: প্রথম বর্ণে ফাতহাহ, দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন এবং দ্বিতীয় মিমে কাসরাহ এবং শেষে নুন। এটি কায়স গোত্রের জনপদে অবস্থিত। আর-রাঈ বলেছেন:

সে সেখানে প্রতিটি গোত্রের বসতিগুলো চিনতে পারল … ফলে আনন্দের আতিশয্যে তার চোখ অশ্রু ধরে রাখতে পারল না।

দারাতে মাকমানে গ্রীষ্মের বাতাস … সাদা হরিণ ও আয়তলোচনা হরিণীদের হাঁকিয়ে নিয়ে এসেছে।

৮৮. দারাতে মালহুব: প্রথম বর্ণে ফাতহাহ, দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন, এরপর মুহমালাহ ‘হা’, এরপর সাকিন ‘ওয়াও’ এবং শেষে ‘বা’। এটি ‘সুস্পষ্ট ও সহজ পথ’ (তারিকুন মালহুব) কথাটি থেকে এসেছে। এটি নজদ অঞ্চলের বনু আসাদ বিন খুজাইমাহ গোত্রের একটি জলাশয়ের নাম। কবি বলেছেন:

যদি তারা ইবনে আবু বকরকে হত্যা করে থাকে, তবে বনু আসাদ গোত্র … দারাতে মালহুব নামক স্থানে হুজরকে হত্যা করেছে।

৮৯. দারাতে মানযার: প্রথম বর্ণে ফাতহাহ, নুন বর্ণে সুকুন এবং মুজামাহ ‘যা’ বর্ণে ফাতহাহ এবং শেষে মুহমালাহ ‘রা’। এটি নজদের চক্রাকার সমতল ভূমিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। হুতাইয়াহ বলেছেন:

নিশ্চয়ই বিপদ, এর মতো অন্য কোনো বিপদ নেই … সুতরাং তোমার লজ্জা ধরে রাখো এবং ধৈর্য ধারণ করো।

নিশ্চয়ই চরম বিপদ হলো সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি … যে দিমাক এবং দারাতে মানযারের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে।

৯০. দারাতে মাওয়াদিউ: উমরানী এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন কিন্তু এর অবস্থান বর্ণনা করেননি; মনে হয় এটি ‘মাওদু’ এর বহুবচন।

৯১. দারাতে মাওদু: এটি আগেরটির একবচন, এটি বনু মুররাহ ও বনু শাইবান গোত্রের জনপদের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। হুসাইন বিন হাম্মাম আল-মুররী বলেছেন:

আল্লাহ বংশের সকল শাখাকে … দারাতে মাওদু নামক স্থানে তাদের অবাধ্যতা ও পাপের প্রতিফল দিন।

আমাদের নিকটাত্মীয় চাচাতো ভাইদের মধ্য থেকে এবং আমাদের গোত্র … ফাজারা থেকে, যখন তারা একটি গুরুতর বিষয়ের ইচ্ছা করেছিল।

যখন আমি দেখলাম যে বন্ধুত্ব আমার কোনো উপকারে আসছে না … যদিও তা কোনো একদিন অন্ধকার নক্ষত্রময় ছিল।

আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি এবং ধৈর্যই আমাদের স্বভাব ছিল … আমাদের তলোয়ারের মাধ্যমে যা হাত ও কবজি কেটে ফেলে।

তারা আমাদের কাছে প্রিয় এমন ব্যক্তিদের মস্তক দ্বিখণ্ডিত করছিল … অথচ তারাই ছিল অধিক অবাধ্য ও জালিম।

৯২. [দারাতে আল-নাশনাস: প্রথম বর্ণে ফাতহাহ এবং মুজামাহ শিন বর্ণে সুকুন, এরপর নুন, তারপর আলিফ ও মুজামাহ শিন, এটি ‘ফিলাল’ ওজনে। সম্ভবত এটি তাদের কথা ‘পাখি তার পালক উপড়ে ফেলা’ (নাশনাসা আত-তাইরু রিশাহু) থেকে এসেছে। আবু জিয়াদ বলেছেন: নাশনাস হলো বনু নুমাইর বিন আমির গোত্রের একটি জলাশয়, যার নিকট বনু হানিফাকে হত্যা করা হয়েছিল এবং সেখানে একটি চক্রাকার সমতল ভূমি রয়েছে যা এই নামেই পরিচিত]।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
93 دارة النِّصاب: بكسر نونه، وبعدها صادٌ مهملةٌ يجوز أن يكون من نصاب الشيء، أي اصله، أو أنه من نصاب الشمس، وهو مغيبُها.

ودارة النصاب بأرض اليمن، قريبةٌ من نجرانَ، وكانت لبني الحارث بن كعبٍ. قال الأفوه الأودي:

ونحنُ الموردونَ شبا العوالي … حياضَ الموتِ بالعددِ المُثابِ

تركنا الأزدَ يبرقُ عارضَاها … على ثجرٍ فداراتِ النصابِ

94 دارة واسطٍ: لبني أسيدٍ، في ديار بني قشيرٍ، قال بعض الشعراء:

بما قدْ أرى الداراتِ، داراتِ واسطٍ … فما قابلت ذاتُ الصليلِ فجُلجُلُ

وقال بعض الأعراب وقد قتل ذئباً:

أقولُ له والنبلُ تكوي إهابَهُ … إلى جانب المعزاء: يا الَ ثاراتِ

قلائصُ أصحابي، وغيري فلم أكنْ … إذا ما كبا الرعدْيدْ ذا كبواتِ

فأنقذْتُ منه أهلَ دارة واسطٍ … وأنصلُهُ ينصلْنَ منحدرِاتِ

‌‌95 دارة وسط: وقد تحرك السين المهملة، وقد تسكن قال ابن دريد: دارات الحمى ثلاث: إحداهن دارة عوارم وقد ذكرت، ودارة وسط، وهي جبلٌ عظيم طويل على أربعة أميال من وراء ضرية، لبني جعفر. وقال الأصمعي [لبني] جعفر رملة الشقراء، شقراء واسطٍ.

وشقراء جبلٌ، ووسط علم لبني جعفر، قال بعضهم:

دعوتُ اللهَ إذْ شقيتْ عيالي … ليرزُقني ندى وسطٍ طعاما

فأعطاني ضرية خيرَ أرضٍ … تمجُّ الماءَ والحبَّ التؤاما

96 دارة وشجى: بفتح الواو، وقد تضم، وبالجيم بوزن سكرى، ركي معروف، جاء به الأديبي كذا بالجيم وهو ماء لبني عمرو بن كلابٍ.

قال المرار:

حيِّ المنازلَ، هلْ منْ أهلهَا خبرٌ … بدورِ وشجى، سقى داراتها المطرُ

وربما ذكروه بالحاء المهملة مقصوراً، قال:

صبحْنَ من وشحَى قليباً سُكّا

وجعله أبو زياد ممدوداً، وقال: دارة وشحاء موضع بنجد عند ماءة في ديار بني كلاب، لبني نفيل. وعن كراع: دارة وشحى بالحاء المهملة والقصر موضع هنالك، قال سماعه:

لعمرُكَ إني يومَ أسفلِ عاقلٍ … ودارةِ وشحَى والهوَى لتبُوعُ

97 دارة هضبٍ: ويقال لها: دارة هضب القليب. قال أبو زياد: بنو وبر بن الأضبط بن [كلاب] لهم من المياه هضبُ القليب. والقليب ماء لهم، ولهم هضبٌ كثيرةٌ قال جميلٌ:

أشاقكَ عالجٌ فإلى الكثيبِ … إلى الداراتِ من هضبِ القليبِ

وقال الأفوه:

ونحنُ الموردونَ شبَا العوالي … حياضَ الموتِ بالعددِ المُثابِ

تركنا الأزدَ يبرقُ عارضاها … على ثجرٍ فداراتِ الهضابِ

وثجرٌ: ماءُ لبني الحارث بن كعبٍ قرب نجران من أرض اليمن.

98 [دارة العضيد: لا أعرفها، ولكني وجدتها في شعر بعضهم، قال:

أو ما ترى أظعانهم مجرورة … بين الدخولِ فدارةِ اليعضيد

وقال آخر:

واحتثها الحادي بهيدٍ هيدِ

كذا لقربِ قسقسٍ كؤودِ

فصبّحَتْ من دارة البيعضيدِ

قبلَ هتافِ الطائرِ الغريدِ]

99 [دارة يمعون: بالعين المهملة وبآخره نون، وقد يروى بالزاي، قال:

....................... … بدارة يمعونٍ إلى جنبِ خشرمِ

ومما وجدناه من الدارات بلفظ التثنية: 100 الدارتان: وهو اسم موضعٍ ورد في شعر ميدان ابن صخر، قال:

ويلٌ لعينيكَ يا بن دارةَ كلما … يوماً عرفتَ بدارتين خيالا]

ومما وجدناه بلفظ الجمع: 101 الدارات: وجدتها في شعر أنشده الأصمعي:

سقى دمنتينِ ليسَ لي بهما عهدُ … بحيثُ التقى الداراتِ والجرعُ الكبدُ

والله تعالى أعلم بالصواب.

 

‌‌الباب الثالث

‌‌القولُ في ذكرِ الديرةِ التي مفردُهَا دَيْرٌ

الديرة في بلاد الله كثيرة متعددة، منها ما كان أبنية عادية أو صروحاً ممردة. منها ما اندثر وامَّحت آثاره، ومنها ما زالت أركانه مجددة وفيه عُمَّارُهُ.

قد أحصى العلماء والرواة، وأهل الأخبار كثيراً منها، وتكلموا عليها و [أفاضوا] في الحديث عنها، فنسبوها، ووصفوها، وتحدثوا عمن عمروها، وذكروا طرفاً من أخبار من نزلوا بها أو زاروها.

وقد رجعت إلى كتبٍ كثيرة ألفت فيها، فاطلعت على ما كتبه هشام وأبو الفرج والخالديان والرفاء وابن رمضان والشمشاطي والبكري والشابشي.
৯৩ দারাতুন নিসাব: এর 'নুন' বর্ণে কাসরা (জের) এবং এরপর নুকতাহীন 'সাদ' বর্ণ। এটি কোনো বস্তুর 'নিসাব' অর্থাৎ তার মূল ভিত্তি থেকে হতে পারে, অথবা সূর্যের 'নিসাব' থেকে হতে পারে, যার অর্থ তার অস্তমিত হওয়ার স্থান।

দারাতুন নিসাব ইয়ামেন ভূখণ্ডে নাজরানের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং এটি বনু আল-হারিস ইবনে কাব গোত্রের মালিকানাধীন ছিল। আল-আফওয়াহ আল-আওদি বলেছেন:

আমরাই তারা যারা বর্শার তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ নিয়ে অবতরণ করি … বারংবার সমবেত সেনাদলের মাধ্যমে মৃত্যুর কূপে।

আমরা আযদ গোত্রকে এমন অবস্থায় ছেড়ে এসেছি যে তাদের গণ্ডদেশ চমকাচ্ছিল … সাজর এবং দারাতুন নিসাবের ভূমিতে।

৯৪ দারাতু ওয়াসিত: এটি বনু কুশায়র গোত্রের জনপদে বনু উসাইদ গোত্রের জন্য নির্ধারিত। জনৈক কবি বলেছেন:

আমি যেন দেখতে পাচ্ছি সেই চত্বরগুলো, ওয়াসিতের চত্বরসমূহ … যা জাতুস সালীল ও জুলজুলের মুখোমুখি হয়নি।

জনৈক বেদুইন একটি নেকড়ে হত্যা করে বলেছিলেন:

আমি তাকে বলছিলাম যখন তীর তার চামড়া দগ্ধ করছিল … সেই বন্ধুর ভূমির পাশে: ওহে, প্রতিশোধ গ্রহণ করো!

আমার সঙ্গীদের উষ্ট্রীদের জন্য, আর আমি এমন ছিলাম না যে … ভীরু ব্যক্তি হোঁচট খেলে আমি হোঁচট খাব।

আমি তার থেকে দারাতু ওয়াসিতের অধিবাসীদের রক্ষা করেছি … আর তার তীরের ফলকগুলো নিচের দিকে খসে পড়ছিল।

‌‌৯৫ দারাতু ওয়াসাত: এতে নুকতাহীন 'সীন' বর্ণটি হরকতযুক্ত (জবরবিশিষ্ট) হতে পারে আবার সাকিনও হতে পারে। ইবনে দুরাইদ বলেন: দারাতুল হিমা তিনটি: তাদের একটি হলো দারাতু আওয়ারিম যার উল্লেখ পূর্বে করা হয়েছে, এবং দারাতু ওয়াসাত; এটি একটি বিশাল ও দীর্ঘ পাহাড় যা বনু জাফরের মালিকানাধীন যারিইয়াহর ওপারে চার মাইল দূরত্বে অবস্থিত। আসমাঈ বলেছেন, বনু জাফরের জন্য রয়েছে রামলাতুশ শাকরা, যা ওয়াসিতের শাকরা।

শাকরা হলো একটি পাহাড়, আর ওয়াসাত হলো বনু জাফরের একটি স্থানের নাম। তাদের কেউ বলেছেন:

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলাম যখন আমার পরিবার কষ্টে নিপতিত হলো … যেন তিনি আমাকে ওয়াসাতের সিক্ত ভূমি থেকে খাদ্য দান করেন।

অতঃপর তিনি আমাকে যারিইয়াহর শ্রেষ্ঠ ভূমি দান করলেন … যা থেকে পানি ও জোড়া শস্য নির্গত হয়।

৯৬ দারাতু ওয়াশাজা: 'ওয়াও' বর্ণে জবর যোগে, তবে পেশও হতে পারে। জীম বর্ণ যোগে 'সুকরা' শব্দের ওজনে। এটি একটি সুপরিচিত কূপ; আল-আদীবি এটি জীম বর্ণ দিয়েই উল্লেখ করেছেন এবং এটি বনু আমর ইবনে কিলাবের একটি পানির আধার।

আল-মিররার বলেছেন:

গৃহগুলোকে অভিবাদন জানাও, তাদের অধিবাসীদের কোনো খবর আছে কি … ওয়াশাজার চত্বরগুলোতে? বৃষ্টির পানি যেন তাদের চত্বরগুলোকে সিক্ত করে।

কখনো কখনো তারা এটিকে নুকতাহীন 'হা' বর্ণ যোগে মাকসুর (সংক্ষিপ্ত আলিফ) হিসেবে উল্লেখ করেন। কবি বলেন:

তারা ওয়াশহা থেকে একটি সংকীর্ণ কূপে সকালে উপস্থিত হলো।

আবু যিয়াদ একে মামদুদ (দীর্ঘ আলিফ) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: দারাতু ওয়াশহা হলো নজদের একটি স্থান যা বনু কিলাবের জনপদে একটি পানির আধারের নিকটে অবস্থিত এবং এটি বনু নুফায়লের মালিকানাধীন। কুরা' থেকে বর্ণিত: নুকতাহীন 'হা' এবং কাসর (সংক্ষিপ্ততা) সহ দারাতু ওয়াশহা সেখানকার একটি স্থান। সামা'আহ বলেছেন:

তোমার জীবনের শপথ! আমি সেদিন 'আকিল'-এর পাদদেশে ছিলাম … এবং দারাতু ওয়াশহায়, আর ভালোবাসা ছিল অনুগামী।

৯৭ দারাতু হাযব: একে দারাতু হাযবিল কালীদও বলা হয়। আবু যিয়াদ বলেন: বনু ওয়াবর ইবনে আল-আসবাত ইবনে কিলাবের পানির উৎসগুলোর মধ্যে হাযবুল কালীদ অন্যতম। আল-কালীদ তাদের একটি পানির আধার এবং তাদের অনেকগুলো হাযব (ছোট পাহাড়) রয়েছে। জামীল বলেছেন:

আলজ কি তোমাকে ব্যাকুল করেছে, নাকি সেই বালিয়াড়ি … হাযবুল কালীদ-এর সেই চত্বরগুলোর দিকে?

আল-আফওয়াহ বলেছেন:

আমরাই তারা যারা বর্শার তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ নিয়ে অবতরণ করি … বারংবার সমবেত সেনাদলের মাধ্যমে মৃত্যুর কূপে।

আমরা আযদ গোত্রকে এমন অবস্থায় ছেড়ে এসেছি যে তাদের গণ্ডদেশ চমকাচ্ছিল … সাজর এবং পাহাড়ের চত্বরগুলোতে।

সাজর হলো ইয়ামেন ভূখণ্ডের নাজরানের নিকটবর্তী বনু আল-হারিস ইবনে কাব গোত্রের একটি পানির আধার।

৯৮ [দারাতুল আযীদ: আমি এটি সম্পর্কে জানি না, তবে আমি এটি কারো কবিতায় পেয়েছি। কবি বলেছেন:

তুমি কি দেখছো না তাদের হাওদাগুলো টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে … আদ-দুখুল এবং দারাতুল ইয়া’দীদের মধ্যবর্তী স্থানে।

অন্যজন বলেছেন:

আর উটচালক সেগুলোকে 'হীদ হীদ' শব্দে দ্রুত তাড়িয়ে নিয়ে গেল

এভাবেই দুর্গম কাসকাস নামক স্থানের নিকটবর্তীতে

অতঃপর তারা ভোরে দারাতুল ইয়া’দীদের নিকটে পৌঁছাল

কলকাকলি করা গায়ক পাখির ডাকের পূর্বেই।]

৯৯ [দারাতু ইয়ামউন: নুকতাহীন 'আইন' এবং শেষে 'নুন' বর্ণ যোগে। এটি 'যা' বর্ণযোগেও বর্ণিত হয়। কবি বলেছেন:

....................... … খাশরামের পার্শ্ববর্তী দারাতু ইয়ামউনে।

তসনিয়া বা দ্বিবচন শব্দে আমরা যে সকল চত্বর (দারা) পেয়েছি: ১০০ আদ-দারাতান: এটি একটি স্থানের নাম যা মায়দান ইবনে সাখরের কবিতায় এসেছে। তিনি বলেন:

তোমার দুই চোখের জন্য পরিতাপ হে ইবনে দারা! যখনই … কোনো একদিন তুমি আদ-দারাতানে কোনো ছায়া বা কাল্পনিক মূর্তি দেখতে পাও।]

বহুবচন শব্দে আমরা যা পেয়েছি: ১০১ আদ-দারাত: আমি এটি আসমাঈ কর্তৃক পঠিত এক কবিতায় পেয়েছি:

তিনি সেই দুটি ধ্বংসাবশেষকে সিক্ত করেছেন যেগুলোর সাথে আমার কোনো পরিচয় নেই … যেখানে আদ-দারাত এবং জারাউল কাবিদ মিলিত হয়েছে।

আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌দীরা সম্পর্কে আলোচনা যার একবচন হলো 'দাইর' (মঠ)

আল্লাহর জমিনে দীরা (মঠসমূহ) অনেক এবং অসংখ্য। তার মধ্যে কিছু ছিল প্রাচীন অট্টালিকা বা সুউচ্চ প্রাসাদ। তার কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং তার চিহ্ন মুছে গেছে, আবার কিছু এখনো তার স্তম্ভগুলো নিয়ে টিকে আছে এবং তাতে বসবাসকারীরা রয়েছে।

বিজ্ঞজন, বর্ণনাকারী এবং ঐতিহাসিকগণ তাদের অনেকগুলো গণনা করেছেন এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন, সেগুলোর নামকরণ করেছেন, সেগুলোর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এবং যারা সেগুলো নির্মাণ করেছেন তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও যারা সেখানে অবস্থান করেছেন বা তা পরিদর্শন করেছেন তাদের খবরাখবরও উল্লেখ করেছেন।

আমি এ বিষয়ে রচিত অনেক গ্রন্থের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি হিশাম, আবুল ফারাজ, দুই খালিদী, আর-রাফ্ফা, ইবনে রমজান, আশ-শামশাতি, আল-বাকরি এবং আশ-শাবাশতির লেখনিসমূহ অবগত হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فنقلت من كتبهم، وأخذت عن الرواة والنقلة وأهل البيع والديرة، حتى اجتمع عندي في هذا الكتاب، ما لم يجتمع في غيره عند سواي من الكتاب.

وإذا كان متعذراً على المرء الموصول إلى إراكها واستيعابها والإلمام بمواضعها ووصفها في بابها، فلتكن ثمة قناعةٌ وقبول بما وصلت إليه منها، وما أحصيته وكتبته فيها وعنها.

وها أنذا أجمع ما قدرت عليه، على الحروف مرتباً، وأنسقه في نظامٍ بيع مبوباً، وعلى الله التوكل وإليه المآب، وباسمه أبداً واستعين في ثالث [الأبواب] .

1 الديرُ: مفردة غير مضافة، موضع بالبصرة.

2 واسم قرية بالعراق.

3 الديران: مثناة غير مضافة، ذكر في شعر جرير، قال:

قد كنت خِدناً لنا، يا هندُ فاعتبري … ماذا يُريبكِ ومن شيبي وتقويسي

لما تذكرتُ بالديرينِ أرقني … صوتُ الدجاجِ، وقرعٌ بالنواقيسِ

ومما وجدناه منها مضافاً إلى غيره:

‌‌4 ديَرْ أبان: من قرى الغوطة بدمشق. ذكر ابن عساكر في تاريخه أن عثمان بن أبان بن عثمان بنحرب بن عبد الرحمن بن الحكم بن أبي العاصي بن أمية كان يسكن (دير أبان) عند قرية (قرحتاء) وهذا الدير منسوب إلى أبيه أبان بن عثمان. ذكر ذلك ابن أبي العجائز.

5 دير أبشيا: بالفتح في أوله، وباء موحدة، وبالشين معجمة مكسورة، والياء المثناة من تحت وهو دير بنواحي الصعيد سيوط، من ديار مصر.

6 دير الأبلق: بفتح أوله، وباء موحدة ساكنة، ولام، ثم قاف. وهو دير بالأهواز، ثم ب (كوار) من ناحية أردشير خُرَّة.

ذكره حارثة بن بدر الغداني، في قوله:

ألم ترَ أن حارثة بن بدرٍ … أقام بديرِ من كوارا

أقام ليشربَ الصهباءَ صرفاً … إذا ما قدتَ تصرعُه استدارا

7 دير أبي بشاية: بنواحي الصعيد، من ديار مصر على شاطئ النيل.

8 دير أبي منصور: بمصر.

9 دير أبي مينا: قرية معروفة بمصر.

10 دير أبونٍ: ويقال: أبيون، وهو الصحيح، ويقع ب [قردى] ، في شرقي دجلة الجزيرة، بين جزيرة ابن عمر وقرية (الثمانين) قرب (باسورين) ، وقرب (جبل الجودي) ، وهو دير جليل عندهم، فيه رهبان كثيرون. ويزعمون أن به قبر نوح عليه السلام، وفي داخله قبر عظيم في الصخر، زعموا أنه لنوحٍ عليه السلام، وفيه يقول بعضهم يذكر محبوبة له كردية، عشقها قرب هذا الدير:

فيا ظبية الوعساء، هل فيك مطمعٌ … لصادٍ إلى تقبيلٍ خديكِ ظمآن؟

وإني إلى الثرثار والحضر حلتي … إلى ديرٍ أيونٍ، أو بزرمهرانِ

سقى الله ذاكَ الديرَ غيثاً لأهلهِ … وما قدْ حواهُ من قلالٍ ورهبانِ

11 ديرُ ابن براق: بظاهر الحيرة. قال الثرواني يذكره:

يا (دير حنة) عند القائم الساقي … إلى الخورنق من دير ابن براقِ

‌‌12 ديرٌ ابن عامر: لا أعرف موضعه، إلا أنه جاء في شعرِأحد اللصوص، قيل: عياش الضبي، وقيل: التيحان العكلي. وهو قوله:

 

ألم ترني بالدير، دير ابن عامرٍ … زلَلْتُ، وزلاتُ الرجالِ كثيرُ

ُفلولا خليلٌ خانني وأمنتهُ=وجدك، لم يقدر عليَّ أميرُ

فإنيَ قد وطنتُ نفسي لما ترى … وقلبك يا بنَ الطيلسان يطيرُ

كفى حزناً في الصدرِ أن عوائدي … حجبنَ، وأني في الحديد أسيرُ

فأجابه ابن الطيلسان بأبيات منها:

وأحموقةٍ وطنتَ نفسك خالياً … لها، وحماقات الرجال كثيرُ

13 دير ابن وضاح: بنواحي الحيرة، على سبعة فراسخ منها، من الغرب. ينسب إلى ابن وضاح اللحياني، الذي كان مع ملوك الحيرة.

وفيه يقول بكر بن خارجة:

دعِ البساتين من آسٍ وتفاحِ … واقصدْ إلى الشيح من ذات الأكيراجِ

إلى الدساكر، فالديرِ المقابلها … لدى (الأكيراحِ) أو (دير ابنِ وضاح)

منازل لم أزلْ حيناً ألازمُها … لزومَ غادٍ إلى اللذاتِ رواحِ

14 ديرُ أبي بخوم: بضمِّ الباء الموحدة، وخاء معجمة، ثم واو ساكنة وميم. وهو ديرٌ بصعيدٍ مصر، شرقي النيل، بقريةٍ يقال لها (فاو) بالفاء [والألف] والواو. و (فاو) : من قرى أقباط مصر، واللفظة قبطية. وهذا الدير أزلي قديم، له حرمة عندهم.

15 دير أبي سويرس: بفتح السين المهملة [وكسر الواو] وسكون الياء المثناة من تحت، وراءٍ مكسورة، وآخره سينٌ مهملة.
আমি তাদের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছি, এবং বর্ণনাকারী, লিপিকার এবং গির্জা ও মঠের অধিবাসীদের থেকে তথ্য গ্রহণ করেছি, যতক্ষণ না আমার এই কিতাবে এমন অনেক কিছু জমা হয়েছে যা আমার সমসাময়িক অন্য কোনো লেখকের কাছে জমা হয়নি।

আর যদি কোনো ব্যক্তির পক্ষে সেগুলোর পূর্ণ উপলব্ধি, আয়ত্তকরণ এবং তাদের সঠিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্যের পরিচয় লাভ করা দুরূহ হয়, তবে আমি সেগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু অর্জন করেছি এবং এ বিষয়ে যা কিছু গণনা ও সংকলন করেছি, তাতেই সন্তুষ্টি ও গ্রহণ করা উচিত।

আর এই আমি, যা কিছু সম্ভব হয়েছে তা বর্ণানুক্রমিকভাবে একত্রিত করছি এবং মঠসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী পরিচ্ছেদ আকারে সাজাচ্ছি। আল্লাহর ওপরই ভরসা এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন। তাঁর নামেই সর্বদা আমি তৃতীয় পরিচ্ছেদে সাহায্য প্রার্থনা করছি।

১. দাইর: এটি একটি একক শব্দ যা অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত নয়; এটি বসরার একটি স্থানের নাম।

২. এটি ইরাকের একটি গ্রামের নাম।

৩. দাইরান: এটি দ্বিবচন শব্দ যা অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত নয়। জারীরের কবিতায় এর উল্লেখ এসেছে, তিনি বলেছেন:

হে হিন্দ! তুমি আমাদের সঙ্গিনী ছিলে, তাই ভেবে দেখো... কী তোমাকে সংশয়ে ফেলে এবং আমার বার্ধক্য ও নুয়ে পড়া থেকে তোমাকে দূরে রাখে?

যখন আমি দাইরানের কথা স্মরণ করি তখন মুরগির ডাক এবং ঘণ্টার শব্দ আমাকে নির্ঘুম রাখে।

আর যেসব মঠের নাম অন্য শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় আমরা পেয়েছি, সেগুলো হলো:

৪. দাইর আবান: এটি দামেস্কের গুতা অঞ্চলের একটি গ্রাম। ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, উসমান ইবনে আবান ইবনে উসমান ইবনে হারব ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাকাম ইবনে আবি আল-আস ইবনে উমাইয়া কুরহাতা গ্রামের নিকটবর্তী (দাইর আবান)-এ বাস করতেন। এই দাইরটি তাঁর পিতা আবান ইবনে উসমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ইবনে আবিল আজাইজ এটি উল্লেখ করেছেন।

৫. দাইর আবশিয়া: শুরুতে জবর, এরপর বা, এরপর কাসরাযুক্ত শিন এবং নিচে দুই নুকতাওয়ালা ইয়া। এটি মিশরের আসয়ুত অঞ্চলের সাইদ (উচ্চ মিশর) এলাকায় অবস্থিত একটি মঠ।

৬. দাইর আল-আবলাক: শুরুতে জবর, এরপর সাকিনযুক্ত বা, তারপর লাম এবং সবশেষে কাফ। এটি আহওয়াজ এবং এরপর আরদাশির খুররাহ অঞ্চলের কাওয়ার-এ অবস্থিত একটি মঠ।

হারিসা ইবনে বদর আল-গাদানি এটি উল্লেখ করে বলেছেন:

তুমি কি দেখনি যে হারিসা ইবনে বদর কাওয়ারের এক মঠে অবস্থান নিয়েছেন?

তিনি সেখানে বিশুদ্ধ সুরা পানের জন্য অবস্থান নিয়েছিলেন; যখন তুমি তাঁকে টেনে তুলতে চাইবে, তিনি মত্ততায় টলমল করবেন।

৭. দাইর আবি বিশায়া: মিশরের সাইদ (উচ্চ মিশর) অঞ্চলে নীল নদের তীরে অবস্থিত।

৮. দাইর আবি মানসুর: মিশরে অবস্থিত।

৯. দাইর আবি মিনা: মিশরের একটি সুপরিচিত গ্রাম।

১০. দাইর আবুন: একে আবিউনও বলা হয় এবং এটিই সঠিক। এটি ইবনে উমর দ্বীপ এবং الثমানিন গ্রামের মাঝখানে জাজিরা দজলার পূর্ব দিকে কারদা-তে অবস্থিত, যা বাসুরিন এবং জুদি পাহাড়ের নিকটবর্তী। এটি তাদের কাছে একটি অত্যন্ত সম্মানিত মঠ, যেখানে অনেক সন্ন্যাসী বাস করেন। তারা দাবি করে যে এখানে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কবর রয়েছে এবং এর ভেতরে পাথরের মাঝে একটি বিশাল সমাধি আছে যা তাদের মতে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর। এই মঠের কাছে এক কুর্দি নারীর প্রেমে মত্ত হয়ে কেউ একজন তাকে স্মরণ করে বলেছিলেন:

হে প্রান্তরের হরিণী! তোমার গণ্ডদেশ চুম্বনের তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির জন্য কি কোনো আশা আছে?

আমার গন্তব্য সারসার ও হাদর থেকে দাইর আইউন অথবা বাযরামহরান পর্যন্ত।

আল্লাহ যেন সেই মঠের অধিবাসীদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং সেই মঠের ভেতরে থাকা টিলা ও সন্ন্যাসীদের সিক্ত করেন।

১১. দাইর ইবনে বাররাক: হিরার বহির্ভাগে অবস্থিত। সারওয়ানি এটি উল্লেখ করে বলেন:

হে দাইর হান্নাহ! দাইর ইবনে বাররাক থেকে খাওয়ারনাকের দিকে যে সাকি দাঁড়িয়ে আছে তার কাছে।

১২. দাইর ইবনে আমির: আমি এর অবস্থান জানি না, তবে এটি জনৈক চোরের কবিতায় এসেছে; কেউ বলেন তিনি আইয়াশ আদ-দব্বি, আবার কেউ বলেন তাইহান আল-উকিলী। তাঁর উক্তিটি হলো:

 

তুমি কি আমাকে দাইরে দেখনি, দাইর ইবনে আমিরে আমি বিচ্যুত হয়েছি, আর পুরুষদের বিচ্যুতি তো অনেক।

যদি আমার এক বন্ধু আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করত যাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম, তবে তোমার কসম, কোনো আমির আমার ওপর ক্ষমতা পেত না।

আমি যা দেখছ তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছি, অথচ হে ইবনে তাইলাসানি! তোমার অন্তর ভয়ে উড়ছে।

বুকের ভেতর এতটুকু কষ্টই যথেষ্ট যে আমার দর্শনার্থীদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আমি লৌহশৃঙ্খলে বন্দী।

এর উত্তরে ইবনে তাইলাসানি কিছু পঙ্ক্তি বলেন যার মধ্যে ছিল:

এক বোকামির জন্য তুমি নির্জনে নিজেকে প্রস্তুত করেছ, আর পুরুষদের বোকামি তো অনেক।

১৩. দাইর ইবনে ওয়াদ্দাহ: হিরা অঞ্চলের পশ্চিমে সাত ফারসাখ দূরে অবস্থিত। এটি ইবনে ওয়াদ্দাহ আল-লিহিয়ানির নামে পরিচিত, যিনি হিরার রাজাদের সাথে ছিলেন।

বকর ইবনে খারিজিয়া এ সম্পর্কে বলেন:

আশ ও আপেল বাগান ছেড়ে দাও এবং আকিরাজ অঞ্চলের শيح-এর দিকে চলো।

দাসাকিরের দিকে, এরপর তার বিপরীতে অবস্থিত মঠের দিকে, যা আকিরাহ অথবা দাইর ইবনে ওয়াদ্দাহ-এর নিকট।

এগুলো এমন আবাসস্থল যেখানে আমি সব সময় থাকতাম, যেমন আনন্দ অন্বেষণকারী সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াত করে।

১৪. দাইর আবি বাখুম: বা-তে পেশ, এরপর খিন, এরপর সাকিনযুক্ত ওয়াও এবং মিম। এটি উচ্চ মিশরের নীল নদের পূর্ব তীরের একটি মঠ, যা ফাও নামক গ্রামে অবস্থিত। ফাও মিশরের কিবতিদের একটি গ্রাম এবং শব্দটি কিবতি ভাষা থেকে আগত। এই মঠটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং তাদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত।

১৫. দাইর আবি সাওয়িরিস: সীন-এ জবর, ওয়াও-এ জের, সাকিনযুক্ত ইয়া, জেরযুক্ত রা এবং শেষে সীন।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وهو ديرٌ على شاطئ النيل بمصر، شرقيه من جهة الصعيد. [ودير سويرس أيضاً] : بأسيوط [منسوب إلى رجل] .

[16 دير أبي هور: ذكر الشابشي أنه بسرياقوس من أعمال مصر. وهو بيعة عامرة كثيرة الرهبان، فيها أعجوبة، وهو أن من كانت له خنازير، قصد هذا الموضع للعلاج فيه، فيأخذه رئيس البيعة ويضجعه ثم يأتي بخنزير، ويرسله على موضع العلة، فيأخذ الخنزير موضع الوجع ولا يتعداه، فإذا نظف الموضع ذر عليه رماد خنزير فعل هذا الفعل من قبل، ومن زيت قنديل البيعة فيبرأ. ثم يؤخذ ذلك الخنزير فيذبح ويحرق، ويعد رماده لمثل هذا العلاج فيما بعد.

17 دير أبي يوسف: فوق الموصل، ودون (بلد) بينه وبين (بلد) فرسخ واحد. وهو دير كبير، كثير الرهبان، وهو على شاطئ دجلة، في ممر القوافل.

مر به الخالدي فوصفه قائلاً:

بديرِ أبي يوسف خمرةٌ … تزيد على لهب البارقٍ

ونرجسه كنسيم الحبي … بِ عندَ محبٍ له وامقٍ

18 دير اتريب: ذكره الشابشي، وقال: ودير اتريب بمصر، ويقال له: مارت مريم. وله عيد عندهم في الحادي والعشرين من بؤؤنة. ويذكرون أن حمامة بيضاء تجيئهم فتدخل المذبح لا يدرون من أين جاءت، ثم لايرونها الى يوم مثله.

19 دير أحويشا: وأحويشا بالسريانية الحبيس.

وهذا الدير ب (إسعرت) ، وهي مدينة بدياربكر، قرب (أزرن الروم) (وجيزان) . وهو يطل على (أزرن) ، وهو دير كبير عظيم، فيه أربعمائة راهب في قلالي، وحوله بساتين وكروم، وهو في نهاية العمارة وحسن الموقع وكثرة الفاكهة والخمور. وتحمل خموره إلى ما حوله من البلدان لجودته. وبقربه عين عظيمة تدير ثلاث (أرحاء) ، وإلى جانبه نهر يعرف بنهر الروم. وفيه يقول أبو بكر بن أحمد بن محمد ابن طناب اللبادي لأنه كان يلبس لبداً أحمر:

وفتيانٍ كهمكَ من أناس … خفاف في الغدو، وفي الرواح

نهضت بهم، وستر الليل ملقى … وضوء الصبح مقصوص الجناح

نؤم بدير أحويشا غزالا … غريب الحسن كالقمر اللياح

وكابدنا السرى شوقاً إليه … فوافينا الصباح مع الصباح

نزلنا منزلاً حسناً أنيقاً … بما نهواه معمور النواحي

قسمنا الوقت فيه لاغتباق … على الوجه المليح ولاصطباح

وظلنا بين ريحان وراح … وأوتار تساعفنا فصاح

وساعفنا الزمان بما أردنا … فأبنا بالفلاح وبالنجاح

20 ديرُ أروى: بالفتح في أوله، ثم بسكون رائه المهملة، والواو وبالقصر.

و (أرْوَى) : اسم امرأة. وهو في الأصل جمع أرويةٍ وهي أنثى الوعل، بوزن أفعولة، إلا أنهم قلبوا الواو الثانية ياءً، ثم ادعمت في التي بعدها، وكسروا الأولى لتسلم الياء، وجمع القلة: أروي، والكثير أروى، على (أفْعَل) بغير قياس.

وديْرَ أروى ببادية الشام، ذكره جرير في شعره، فقال:

سألناها الشفاءَ فما شفتْنَا … ومنّتنا المواعدَ والخلابا

لشتانَ المجاورَ ديرَ أروَى … ومن سكنَ السلية والجِنايا

أسيلةُ معقدِ السمطينِ منها … وريّا حيثُ تعتقد الحقابا

وقال يذكره:

هل رام جوُّ سويقتيْن مكانَهُ … أو حلَّ بعد محلِّنا البردانْ

هلْ تؤنسانِ، ودير أروى بيننَا … بالأعزلينِ بواكرَ الأظعانْ

21 ديارات الأساقف: [بلفظ الجمع لدير، وأسقفُ: وهو من رؤساء النصارى. وديارات الأساقف: قباب وقصور بحضرتها نهر يعرف بالغدير، بالنجف، ظاهر الكوفة، عن يمينها قصر أبي الخصيب، وعن شمالها السدير، قال الحماني بذكرها:

كم وقفة لك بالخوَرْ … نقِ، ما تُوازى بالمواقفْ

بين الغديرِ إلى السدي … رِ دياراتِ الأساقفِ

فمدارج الرهبانِ في … بريةٍ فيها المصائفْ]

22 دير إسحاق: بين حمصَ وسلميةَ. في أحسنِ موقعٍ، وأنزهِ موضع.

وبقربهِ ضيعةٌ كبيرةٌ يقال لها (جدَر) ، وهي التي ذكرها الأخطل في شعره، فقال:

كأنني شاربٌ يوم استبدَّ بهمْ … من قرقفٍ ضمنتْها حمصُ أو جدَرُ

وللشعراء وأهل القصف أشعارٌ كثيرةٌ في هذا الديرِ.
এটি মিশরের নীল নদের তীরে অবস্থিত একটি মঠ, যা উচ্চ মিশরের পূর্ব দিকে। [সুইরাস মঠটিও]: আসইউতে [জনৈক ব্যক্তির নামে নামাঙ্কিত]।

[১৬ দাইর আবি হুর: আশ-শাবুশতি উল্লেখ করেছেন যে এটি মিশরের সিরইয়াকুস অঞ্চলে অবস্থিত। এটি একটি জনবহুল গির্জা যেখানে অনেক সন্ন্যাসী বাস করেন। সেখানে একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে; যার খনাজির (গ্রন্থি ফোলা রোগ) হতো, সে চিকিৎসার জন্য এই স্থানে আসত। তখন গির্জার প্রধান তাকে শুইয়ে দিতেন এবং একটি শূকর নিয়ে এসে ব্যাধির স্থানে ছেড়ে দিতেন। শূকরটি ব্যথার স্থানটি শনাক্ত করত এবং এর বাইরে যেত না। যখন স্থানটি পরিষ্কার হয়ে যেত, তখন এর ওপর ইতিপূর্বে এই কাজ করা অন্য শূকরের ছাই এবং গির্জার প্রদীপের তেল ছিটিয়ে দেওয়া হতো, ফলে সে সুস্থ হয়ে যেত। এরপর সেই শূকরটিকে জবাই করে পুড়িয়ে ফেলা হতো এবং পরবর্তীতে অনুরূপ চিকিৎসার জন্য তার ছাই প্রস্তুত রাখা হতো।

১৭ দাইর আবি ইউসুফ: এটি মসুলের উপরে এবং (বালাদ) শহরের নিচে অবস্থিত; এটি এবং (বালাদ) শহরের মধ্যে এক ফারসাখ দূরত্ব। এটি দজলা নদীর তীরে কাফেলা যাতায়াতের পথে অবস্থিত একটি বড় মঠ, যেখানে অনেক সন্ন্যাসী থাকেন।

আল-খালিদি এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় এর বর্ণনায় বলেন:

দাইর আবি ইউসুফে এমন এক শরাব আছে … যা বিদ্যুতের শিখার চেয়েও তীব্র

এবং এর নার্গিস ফুল যেন প্রেমিকের নিকট … তার প্রিয়তমার সুবাসের মতো।

১৮ দাইর আতরিব: আশ-শাবুশতি এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: মিশরের দাইর আতরিব-কে মারত মারিয়ামও বলা হয়। বাউনার ২১ তারিখে তাদের একটি উৎসব হয়। তারা উল্লেখ করেন যে, একটি সাদা কবুতর তাদের কাছে আসে এবং বেদিতে প্রবেশ করে, তারা জানে না এটি কোথা থেকে এসেছে। অতঃপর পরবর্তী বছরের এই দিন পর্যন্ত তারা এটিকে আর দেখতে পায় না।

১৯ দাইর আহুইশা: সুরয়ানি (সিরিয়াক) ভাষায় 'আহুইশা' অর্থ নির্জনবাসী বা সন্ন্যাসী।

এই মঠটি (ইসআরত) নামক স্থানে অবস্থিত, যা দিয়ারবাকরের একটি শহর, আজরুনুর রুম ও (জাইযান)-এর নিকটে। এটি আজরুন শহরের দিকে মুখ করা এক বিশাল মঠ। এর প্রকোষ্ঠগুলোতে চারশ সন্ন্যাসী রয়েছেন। এর চারপাশে বাগান ও আঙুর বাগান রয়েছে। এটি স্থাপত্যশৈলী, মনোরম অবস্থান এবং প্রচুর ফল ও শরাবের জন্য সমৃদ্ধির শীর্ষে। উন্নত মানের কারণে এর শরাব পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর সন্নিকটে একটি বিশাল ঝরনা রয়েছে যা তিনটি যাতা (ঘুরানি) পরিচালনা করে এবং এর পাশে একটি নদী রয়েছে যা 'নাহরুর রুম' নামে পরিচিত। এর সম্পর্কে আবু বকর বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনে তান্নাব আল-লাব্বাদি—যিনি লাল পশমি পোশাক পরতেন বলে তাঁকে লাব্বাদি বলা হতো—বলেছেন:

সেই যুবকদের কথা মনে করো যারা তোমার মতো ছিল … যারা সকাল-সন্ধ্যায় চটপটে ছিল

আমি তাদের নিয়ে যাত্রা করলাম যখন রাতের পর্দা ঝোলানো ছিল … এবং ভোরের আলো ছিল ডানাকাটা পাখির মতো

আমরা দাইর আহুইশার সেই হরিণের (সুন্দরী) দিকে যাচ্ছিলাম … যার সৌন্দর্য উজ্জ্বল চাঁদের মতো দুর্লভ

আমরা তার প্রতি অনুরাগে রাতের সফর সহ্য করলাম … এবং ভোরের সাথে সাথেই সেখানে পৌঁছে গেলাম

আমরা এক মনোরম ও পরিপাটি স্থানে অবতরণ করলাম … যার চতুর্দিক আমাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু দ্বারা সমৃদ্ধ

আমরা সেখানে সময়কে সান্ধ্যকালীন পানের মাঝে ভাগ করে নিলাম … এক সুন্দর চেহারার সান্নিধ্যে এবং প্রাতঃকালীন পানের মাঝে

আমরা সুগন্ধি ফুল ও শরাবের মাঝে দিন কাটালাম … এবং বাদ্যযন্ত্র আমাদের আনন্দ দিচ্ছিল

মহাকাল আমাদের যা চেয়েছিলাম তা-ই দিল … ফলে আমরা সফল ও কামিয়াব হয়ে ফিরলাম

২০ দাইর আরওয়া: প্রথমে ফাতহা, এরপর রা-তে সুকুন, অতঃপর ওয়াও এবং শেষে আলিফ মাকসুরা।

(আরওয়া) একজন মহিলার নাম। মূলত এটি 'আরউইয়্যাহ' এর বহুবচন, যার অর্থ পাহাড়ী ছাগী বা নীলগাই। এটি 'আফউলাহ' ওজনে গঠিত, তবে তারা দ্বিতীয় ওয়াও-কে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করে পরবর্তী ইয়া-র সাথে সন্ধি করেছে এবং ইয়া-কে অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রথম বর্ণে কাসরা প্রদান করেছে। এর অল্পতা বুঝাতে বহুবচন 'আরওয়ি' এবং আধিক্য বুঝাতে 'আরওয়া' ব্যবহৃত হয়, যা কিয়াসের বাইরে 'আফআল' ওজনে।

দাইর আরওয়া সিরিয়ার মরুভূমিতে অবস্থিত। জারির তার কবিতায় এটি উল্লেখ করে বলেছেন:

আমরা তার কাছে আরোগ্য প্রার্থনা করলাম কিন্তু সে আমাদের সুস্থ করল না … বরং ওয়াদা ও প্রবঞ্চনা দিয়ে আমাদের আশান্বিত রাখল

কত পার্থক্য দাইর আরওয়ার প্রতিবেশী … এবং সালিয়া ও জিনায়া-র বাসিন্দাদের মাঝে

সে সুডৌল গলার অধিকারী যার ওপর হার ঝোলে … এবং সে সুপুষ্ট দেহের অধিকারী যেখানে কোমরবন্ধ বাঁধা হয়

এবং তিনি এটি স্মরণ করে আরও বলেছেন:

সুওয়াইকাইতাইন কি তার আগের জায়গাতেই আছে … নাকি আমাদের প্রস্থানের পর বারদান সেখানে স্থলাভিষিক্ত হয়েছে?

তোমরা দুজনে কি দাইর আরওয়ার উপস্থিতিতে অনুভব করতে পারো … আযালীন নামক স্থানে উটের কাফেলার ভোরের যাত্রা?

২১ দাইয়ারাতুল আসাকিফ: [দাইর-এর বহুবচন শব্দ; আর আসকাফ হলেন খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতাদের একজন। দাইয়ারাতুল আসাকিফ হলো কিছু গম্বুজ ও প্রাসাদ, যার সামনে একটি নদী রয়েছে যা 'আল-গাদির' নামে পরিচিত; এটি কুফার অদূরে নাজাফে অবস্থিত। এর ডানদিকে আবুল খাসিবের প্রাসাদ এবং বামদিকে আস-সাদির অবস্থিত। আল-হিম্মানি এটি উল্লেখ করে বলেন:

খাওয়ারনাক প্রাসাদে তোমার অবস্থান কতই না চমৎকার … যার সাথে অন্য কোনো স্থানের তুলনা হয় না

গাদির থেকে সাদির পর্যন্ত বিস্তৃত … পাদ্রিদের এই মঠসমূহ

সন্ন্যাসীদের চলাচলের পথগুলো এক বিজন প্রান্তরে … যেখানে গ্রীষ্মকালীন আবাসস্থল রয়েছে।]

২২ দাইর ইসহাক: হিমস ও সালামিয়্যাহ-র মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও মনোরম একটি জায়গায় অবস্থিত।

এর নিকটে 'জাদার' নামক একটি বড় গ্রাম রয়েছে; এটি সেই গ্রাম যার কথা আল-আখতাল তার কবিতায় উল্লেখ করে বলেছেন:

তাদের চলে যাওয়ার দিন আমি যেন সেই আঙুররস পানকারী ছিলাম … যা হিমস অথবা জাদারের শরাব থেকে সংগৃহীত।

কবিগণ এবং আমোদপ্রিয় ব্যক্তিদের এই মঠ সম্পর্কে অনেক কবিতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
23 دير الأسكون: بفتح همزته، وسكونِ السينِ المهملة، وكافٍ مضمومة، وآخره نون. وهو بالحيرة، فيه قلالي وهياكلُ ورهبان كثيرون، يضيفون من ورد عليهم، وحوله سورٌ عالٍ حصينٌ وعليه باب جديد، ومنه يهبط الهابط إلى غدير بالحيرة، وأرضه رضراض ورمل أبيض، وله مشرعة تقابل الحيرة. لها ماء إذا انقطع النهر كان منها شرب أهل الحيرة.

قلت: هكذا وصف مصنفو الديارات (دير الاسكون) .

24 ورأيت في طريق واسط قرب دير العاقول موضعاً آخر يقال له دير الأسكون أيضاً. والله أعلم.

25 دير أشموني: قال الشابشتي: (أشموني) : امرأة، بني الدير على اسمها، ودفنت فيه. ودير أشموني ب (قطرُبل) ، من أجل متنزهات بغداد، وعيده في اليوم الثالث من تشرين الأول، وهو من الأيام العظيمة ببغداد، وكان يعرف بعيد أشموني. قال جحظة:

سقياً لأشموني ولذاتها … والعيشِ فيما بينَ عذباتها

سقياً لأيامٍ مضت} لي بها … ما بين شطيَّها وحاناتها

إذِ اصطباحي في بساتينها … وإذْ غبُوقي في دياراتِها

وفيه يقول الثرواني:

اشربْ على قرعِ النواقيسِ … في ديرِ أشموني بتغليسِ

لا تخلِ كأسَ الشربِ واليللُ في … حدِّ نعيمٍ لا ولا بوسِ

إلا على قرعِ النواقيس … أو صوتِ قسانٍ وتشمسِ

وهكذا فاشربْ وإلا فكنْ … مجاوراً بعضَ النواويسِ

وقال أبو الشبل البرجُمي:

شهدتُ مواطنَ اللذاتِ طُرا … وجبتُ بقاعَها بحراً وبراً

فلم أرَ مثل أشموني محلاً … ألذَّ أزائريهِ ولا أسرا

ولأبي الشبل قصص وأخبار تدل على تهتكه ومجونه، ذكرها أبو الفرج والشابش.

26 ديرُ الأعلى: قال الشابشتي: هذا الدير بالموصل في أعلاها، على جبلٍ يطل على دجلة والعروبِ.

وهو ديرٌ كبير عامر، يضرب به المثل في رقة الهواء، وحسن المستشرف. ويقال: إنه ليس للنصارى دير مثله، لما فيه من أناجيلهم ومتعبداتهم. وقد ظهر تحته في سنة إحدى وثلاثمائة عدة معاد، كبريتية ومرقشيثا وقلفطار.

ويزعم أهل الموصل أن تحت الدير عيناً [كبيرة تصب في دجلة ولها وقتٌ من السنة يقصدها [الناس فيه] فيستحمون فيها] وأنها تبرئ من الحرب والحكة والبثور، وتنفع المقعدين والزمنى. وإلى جانب هذا الدير مشهد عمرو بن الحمق [الخزاعي] ، وله صحبة، وبنى عليه بنو حمدان مسجداً يتصل بالقبر والشعانين في هذا الدير حسن، يخرج إليه الناس فيقيمون فيه الأيام يشربون، وللشعراء في هذا الدير أقوال كثيرة. يقول أبو الحسين بن أبي البغل وقد اجتاز به يريد الشام:

انظرْ إليَّ بأعلى الديرِ مشترفَا … لا يبلغُ الطرفُ من أرجائهِ طرفا

كأنما غريتْ غرُّ السحابِ بهِ … فجاء مختلفاً يلقاكَ مؤتلقا

فلستَ تبصرُ إلا جدولاً سرباً … أو جنةً سدفاً أو روضةً أنُفا

كما التقتْ فرقُ الأحباب من حرقٍ … من الوشاةِ، فأبدى الكل ما عرفا

باحُوا بما أضمروا فاخضرَّ ذا حسداً … واحمرَّ ذا خجلاً، واصفرَّ ذا اسفا

هذي الجنان، فإن جاؤوا بآخرهِ … فلستُ أتركُ وجهاً ضاحكاً ثقفا

وفيه يقول الخالدي:

قمرٌ بديرِ الموصلِ الأعلى … أنا [عبده] وهواه لي مولى

لثمَ الصليبَ، فقلتُ من حسدٍ … قبلُ الحبيبِ فمي بها أولى

جدْ لي بإحداهن [كيْ يحيا بها] … قلبي فحبتهُ على المقلَى

فاحمَرّ من خجل، وكم قطفَتْ … عيني شقائقَ وجنةٍ خجلى

وكلتُ صبري عندَ فرقته … فعرفْتُ كيفَ مصيبةُ الثكلَى

وللثراني فيه:

اسقني الراحَ صباحا … قهوةٌ صهباءَ راحا

واصطبحْ في الديرِ الأع … لى في الشعانينَ اصطباحا

وإنْ منْ لم يصطبَحْها ال … يومَ، لم يلقَ نجاحا

27 دير الأعور: ينسب إلى رجل بناه، يقال له الأعور الإيادي، من بني [حذاقة] بن زهرٍ بن إيادٍ. وهذا الدير بظاهر الكوفة.

28 دير الأكمن: بالفتح، ثم السكون، وضم الميم، وآخره نون، وقيل: باللام، عوضاً عن النون.

وهو على رأس جبلٍ بالقرب من (الجودي) ، وحوله من المياه والشجر والبساتين شيء كثير جداً وإليه ينسب الخمر الموصوف به، فهو النهاية في الجودة، وقيل: إنه لا يورث الخُمار.
23 দাইরুল আসকুন: এর হামযাহ-তে ফাতহা, সিন-এ সুকুন, কাফ-এ যম্মাহ এবং শেষে নুন। এটি হিরায় অবস্থিত। এখানে খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীদের কক্ষ, উপাসনালয় এবং অনেক সন্ন্যাসী রয়েছেন। যারা সেখানে উপস্থিত হন তারা তাদের আতিথেয়তা করেন। এর চারদিকে একটি উঁচু ও সুরক্ষিত প্রাচীর রয়েছে এবং তাতে একটি নতুন দরজা রয়েছে। সেখান থেকে একজন ব্যক্তি হিরার একটি জলাশয়ে নামতে পারে। এর মাটি নুড়িপাথরযুক্ত এবং সাদা বালুময়। এর একটি ঘাট আছে যা হিরার মুখোমুখি। এর পানি এমন যে যখন নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন হিরাবাসীরা এখান থেকে পানি পান করে।

আমি বলছি: মঠ বিষয়ক লেখকরা (দাইরুল আসকুন)-কে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।

24 আমি ওয়াসিত অভিমুখী পথে দাইরুল আকুল-এর কাছে আরও একটি স্থান দেখেছি যাকে দাইরুল আসকুন বলা হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

25 দাইর আশমুনি: আশ-শাবুশতি বলেছেন: (আশমুনি) জনৈকা মহিলার নাম, তার নামানুসারেই এই মঠটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছে। দাইর আশমুনি (কাতরুব্বাল)-এ অবস্থিত, যা বাগদাদের মনোরম ভ্রমণস্থলগুলোর অন্যতম। এর উৎসব অক্টোবর মাসের তৃতীয় দিনে পালিত হয়। বাগদাদে এটি একটি বড় উৎসবের দিন ছিল এবং এটি ‘আশমুনির ঈদ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। জাহযা বলেছেন:

আশমুনি ও তার আনন্দের জন্য সিক্ত হোক … এবং তার পল্লবসমূহের মাঝে অতিবাহিত জীবনের জন্য।

বিগত দিনগুলোর জন্য সিক্ত হোক যা আমি সেখানে কাটিয়েছি … তার দুই তীর ও মদের আড্ডার মাঝে।

যখন আমার সকালের মদ্যপান হতো তার বাগানগুলোতে … আর সন্ধ্যার মদ্যপান হতো তার মঠগুলোতে।

এ বিষয়ে আস-সারওয়ানি বলেন:

ঘণ্টার আওয়াজের সাথে মদ্যপান করো … ভোরের অন্ধকারকালে দাইর আশমুনিতে।

মদের পেয়ালা ও আনন্দকে ছেড়ে দিও না … চরম সুখের মুহূর্তে, নেই কোনো দুঃখ।

তবে তা হতে হবে ঘণ্টার আওয়াজের সাথে … অথবা পাদ্রিদের কণ্ঠ ও ক্রুশ প্রদর্শনের সাথে।

এভাবেই পান করো, নতুবা তুমি হও … কোনো কবরের প্রতিবেশী।

আবু আশ-শিবল আল-বুরজুমি বলেছেন:

আমি সকল আনন্দের স্থানগুলো প্রত্যক্ষ করেছি … এবং এর প্রতিটি প্রান্ত জলে ও স্থলে ভ্রমণ করেছি।

কিন্তু আমি আশমুনির মতো কোনো স্থান দেখিনি … যা দর্শনার্থীদের জন্য অধিকতর আনন্দদায়ক ও চিত্তাকর্ষক।

আবু আশ-শিবলের এমন অনেক গল্প ও সংবাদ রয়েছে যা তার নির্লজ্জতা ও পাপাচারের পরিচয় দেয়, যা আবুল ফারাজ ও আশ-শাবুশতি উল্লেখ করেছেন।

26 দাইরুল আ'লা: আশ-শাবুশতি বলেছেন: এই মঠটি মসুলে, তার উপরের অংশে অবস্থিত, যা দজলা নদী ও আল-আরুবের দিকে মুখ করা একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত।

এটি একটি বৃহৎ ও জনবহুল মঠ। এর মৃদু বাতাস এবং সুন্দর দৃশ্যের জন্য এটি প্রবাদতুল্য। বলা হয়ে থাকে যে, নাসারাদের কাছে এর মতো আর কোনো মঠ নেই, কারণ এতে তাদের ইঞ্জিলসমূহ ও ইবাদতগাহ রয়েছে। ৩০১ হিজরিতে এর নিচ থেকে গন্ধক, মারকাসিতা ও কালফাতারের মতো বেশ কিছু খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।

মসুলবাসীরা মনে করে যে, এই মঠের নিচে একটি বড় ঝরনা রয়েছে [যা দজলা নদীতে গিয়ে পড়ে এবং বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় মানুষ সেখানে আসে ও তাতে গোসল করে]। তারা বিশ্বাস করে যে, এটি খোস-পাঁচড়া, চুলকানি ও ব্রণ থেকে মুক্তি দেয় এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও দীর্ঘদিনের রোগীদের জন্য উপকারী। এই মঠের পাশে আমর ইবনে আল-হামিক [আল-খুযায়ি]-এর মাজার রয়েছে, তিনি একজন সাহাবি ছিলেন। বনু হামদান কবরের সাথে সংযুক্ত করে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছে। এই মঠের পাম সানডে উৎসব অত্যন্ত সুন্দর হয়, মানুষ সেখানে বেরিয়ে আসে এবং কয়েক দিন অবস্থান করে মদ্যপান করে। কবিরা এই মঠ সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছেন। আবুল হুসাইন ইবনে আবিল বাগল সিরিয়া যাওয়ার পথে এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেন:

মঠের উপরে উচ্চস্থান থেকে আমার দিকে তাকাও … যার দিগন্ত পর্যন্ত দৃষ্টি পৌঁছায় না।

যেন সাদা মেঘমালা এতে মোহাবিষ্ট হয়েছে … তাই তা বারবার তোমার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে আসে।

তুমি সেখানে কেবল বয়ে চলা ঝরনা দেখবে … অথবা ঘন ছায়াময় বাগান কিংবা প্রস্ফুটিত পুষ্পকানন।

যেন কুৎসা রটনাকারীদের দহনে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক যুগল মিলিত হয়েছে … এবং প্রত্যেকেই তার পরিচিত আবেগ প্রকাশ করেছে।

তারা তাদের মনের গোপন কথা প্রকাশ করে দিয়েছে, ফলে কেউ হিংসায় সবুজ হয়ে গেছে … কেউ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে, আর কেউ শোকে হলুদ হয়ে গেছে।

এই হলো জান্নাত, যদি তারা এর শেষপ্রান্তে আসে … তবে আমি কোনো হাস্যোজ্জ্বল জ্ঞানীর সঙ্গ ত্যাগ করব না।

এ বিষয়ে আল-খালিদি বলেন:

মসুলে দাইরুল আ'লাতে এক চন্দ্রবদন রয়েছে … আমি তার দাস এবং তার ভালোবাসা আমার প্রভু।

সে ক্রুশকে চুম্বন করল, আমি তখন হিংসার বশবর্তী হয়ে বললাম … আমার প্রিয়তমার ওষ্ঠাধর চুম্বনের জন্য আমার মুখই তো অগ্রগণ্য।

আমাকে একটি চুমু দাও [যাতে তার মাধ্যমে বেঁচে থাকে] … আমার হৃদয়, কারণ তার ভালোবাসা আমার চোখের মণি।

সে লজ্জায় লাল হয়ে গেল, আর কতই না লজ্জাবনত গাল থেকে … আমার চোখ রক্তিম শাপলা চয়ন করেছে।

তার বিচ্ছেদে আমি আমার ধৈর্য হারিয়েছি … তাই আমি এখন বুঝি সন্তানহারা মায়ের শোক কেমন হয়।

আস-সারওয়ানি এ সম্পর্কে বলেছেন:

আমাকে সকালবেলা সুরা পান করাও … এমন সুরা যা রক্তিম ও আনন্দদায়ক।

আর সকালবেলা পান করো দাইরুল আ'লাতে … পাম সানডের সকালে।

যে ব্যক্তি আজ সকালে তা পান করল না … সে কখনো সফলতা পাবে না।

27 দাইরুল আ'ওয়ার: এটি এমন এক ব্যক্তির নামে পরিচিত যে এটি নির্মাণ করেছিল। তাকে আ'ওয়ার আল-ইয়াদি বলা হতো, যিনি বনু [হুযাকাহ] বিন যুহর বিন ইয়াদ গোত্রের লোক ছিলেন। এই মঠটি কুফার বাইরে অবস্থিত।

28 দাইরুল আকমুন: আলিফে ফাতহা, কাফে সুকুন, মিমে যম্মাহ এবং শেষে নুন। কেউ কেউ বলেন: নুনের পরিবর্তে লাম হবে।

এটি (জুদি) পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এর চারদিকে প্রচুর পানি, গাছপালা ও বাগান রয়েছে। এর সাথে সেই মদের সম্পৃক্ততা রয়েছে যার গুনাগুণ বর্ণিত হয়, যা গুণগত মানে অনন্য। বলা হয় যে, এটি পান করলে কোনো শিরঃপীড়া বা হ্যাংওভার হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
29 دير أيّا: بفتح أوله، وبالياء المثناة من تحت. وهو بالشام.

قال الواقدي: مات أبو قلابة الجرمي بالشام بدير أيا، في سنة أربع ومائة.

30 دير أيوب: قرية بحوران، من نواحي دمشق، كان بها النبي أيوب عليه السلام، وبها ابتلاه الله عز وجل وبها العين التي ركضها برجله، والصخرة التي كان [يجلس] عليها، وبها قبره عليه السلام [وكان في القرية دير قديم، له ذكر في خبر تميم الداري. وقال الشابشتي: بني هذا الدير بعض أولاد جفنة] .

31 دير باثاوا: بالباء الموحدة، وبعد الألف ثاء مثلثة ثم واو. دير قديم، قريب من جزيرة ابن عمر، بينهما خمسة فراسخ.

32 دير باشهرا: بالباء الموحدة، والألف، ثم الشين المعجمة المفتوحة، والهاء الساكنة، وراء وألفٍ.

قال الشابشتي: هذا الدير كان على شاطئ دجلة بين سامرا وبغداد. وهو دير حسن، عامر، نزه، كثير البساتين والكروم. وأنشد فيه لأبي العيناء، فإن صح ما أنشده فهو غريب، لأن أبا العيناء قليل الشعر جداً، لم يصح له عندي شيء من الشعر ألبتة، قال:

نزلنا ديرَ باشهرا … على قسيسهِ ظُهرا

على دينِ يشوعيٍّ … فما اسنى وما أمرا

فأولى من جميلِ الفع … لِ ما يستبعدُ الحرّا

وسقّانا وروَّانا … من الصافية العذرا

وطاب الوقت في الدير … فرابطنا به عشْرا

وسُقينا به شمساً … وأخدِمنا به بدرا

ونلنا كل ما نهوا … هُ لذاتنا جهْرا

33 دير باطا: دير كبير حسن، عامر في أيام الربيع، وهو بالسن، بين الموصل وتكريت، وقربه بيع كثيرة للنصارى. ويسمى أيضاً دير الحمار، بينه وبين دجلة بعد، وبه باب حجر، يذكر النصارى أن هذا الباب يفتحه الواحد والاثنان حتى السبعة، فإن تجاوز العدد السبعة لم يقدر أحد على فتحه ألبتة، ولا يفتحه عندئذ إلا سبعة. وفيه بئرٌ تنفع من البهق، وفيه كرسي الأسقف.

34 دير باعربا: بالقصر [وقد يمدُّ] ، دير كبير، فيه رهبان كثيرون، بين الموصل والحديثة، على شاطئ دجلة، والحديثة بين تكريت والموصل.

ونصارى تلك البلاد يعظمون هذا الدير جداً.

وله حائط مرتفع نحو مائة ذراع في السماء، وله مزارع وفلاحون يعملون بها ويتبعه بيت كبير للضيافة، لأن المجتازين ينزلونه فيضافون فيه.

35 دير الباعقي: بالباء الموحدة من تحت، والألف وبعين مهملة مكسورة، وقاف، وبالقصر.

وهو دير الراهب بحيرا، صاحب القصة مع سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو قبليَّ بصرى، من أرض حوران.

36 دير باعنتل: يقرب جوسية، على أقل من ميلٍ عنها.

وجوسية من أعمال حمص، على مرحلة منها من طريق دمشق، وهو على يسار القاصد لدمشق. وفي هذا الدير عجائب منها: آزجٌ لأبواب، فيها صور الأنبياء، منقوشة عليها.

وهيكل من المرمرِ، لا تستقر عليه الأقدام.

وصورة لمريم عليها السلام منتصبة على حائطٍ. وكلما ملت إلى ناحية رأيت عينيها تنظران إليك.

[وعين ماء تسمى عين العذارى، إذا اقترب منها غيرهن انحسر الماء عن جنباتها بقدر ذراعٍ. قال بعض شعراء الشام في جارية نصرانية أحبها وذكر الدير:

حججٌ مضتْ والقلبُ خالط ظنهُ … حبُّ تصباني ب.. مرِّهَا

صادفتُها في الدير، ديرِ بعنتلٍ … والليلُ جناتٌ قضاءُ بسحرها

تسقيك كأس مدامةٍ من خدِّها … فتهيمُ تقبسُ حمرةً من ثغرها

واهاً لقلبٍ يجتويه حبُّها!! … واهاً لعهينٍ تستبَى من بهرِها!]

37 دير باغوث: دير كبير جداً، كثير الرهبان، على شاطئ دجلة، بين الموصل وجزيرة ابن عمر.

وبه خزائن كتب النصارى، ومدرسة تدرس علومهم ومن رهبانه أطباء مشهورون.

38 دير بانخيال: في أعلى الموصل، وله ثلاثة أسامٍ: أولها: بانخيال وهو المذكور.

وثانيها: مارنخايال، أو مانخايال، وسنذكره.

وثالثها: دير ميخائيل، وسنذكره أيضاً في موضعه.

39 [دير بانوب: بضم النون وسكون الواو، والباء الموحدة في آخره. وهو من الدير [التي] بصعيد مصر، بقرب أشمونين] .

40 دير البتول: وهو دير كبير جداً، مشهور بصعيد مصر، في شرقي النيل، بقرب مدينة أنصنا القديمة، من نواحي الصعيد.

ويقال: إن مريم عليها السلام وردت هذا الدير.
২৯ দাইরে আইয়্যা: প্রথম অক্ষরে ফাতহাহ এবং নিচে দুই নুক্তাওয়ালা ইয়া যোগে। এটি সিরিয়ায় অবস্থিত।

ওয়াকিদি বলেন: আবু কিলাবা আল-জারমি ১০৪ হিজরি সনে সিরিয়ার দাইরে আইয়্যাতে ইন্তেকাল করেন।

৩০ দাইরে আইয়ুব: দামেস্কের নিকটবর্তী হাওরানের একটি গ্রাম। এখানে নবী আইয়ুব আলাইহিস সালাম অবস্থান করতেন, এখানেই মহান আল্লাহ তাঁকে পরীক্ষায় ফেলেছিলেন এবং এখানেই সেই ঝরনাটি অবস্থিত যা তিনি তাঁর পা দিয়ে আঘাত করেছিলেন, আর সেই পাথরটিও রয়েছে যার ওপর তিনি [বসতেন]। এখানেই তাঁর (আলাইহিস সালাম) কবর অবস্থিত। [এই গ্রামে একটি প্রাচীন গির্জা ছিল, তামীম আদ-দারির সংবাদের বর্ণনায় যার উল্লেখ রয়েছে। আশ-শাবাশতি বলেন: জাফনার জনৈক বংশধর এই গির্জাটি নির্মাণ করেছিলেন]।

৩১ দাইরে বাথাওয়া: এক নুক্তাওয়ালা বা এবং আলিফের পর তিন নুক্তাওয়ালা সা, তারপর ওয়াও যোগে। এটি একটি প্রাচীন গির্জা, জাজিরা ইবনে উমরের নিকটবর্তী, উভয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচ ফারসাখ।

৩২ দাইরে বাশাহরা: এক নুক্তাওয়ালা বা, আলিফ, তারপর ফাতহাহযুক্ত শিন, সাকিনযুক্ত হা, রা এবং আলিফ যোগে।

আশ-শাবাশতি বলেন: এই গির্জাটি সামাররা ও বাগদাদের মধ্যবর্তী দজলা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। এটি একটি চমৎকার, জনাকীর্ণ ও মনোরম গির্জা, যেখানে প্রচুর বাগান ও আঙুর খেত ছিল। এই স্থান সম্পর্কে তিনি আবুল আইনার কিছু পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেছেন। যদি তার বর্ণিত এই পঙ্ক্তিগুলো সঠিক হয় তবে তা হবে এক বিস্ময়কর ব্যাপার, কারণ আবুল আইনা খুব কম কবিতা লিখতেন এবং আমার কাছে তার কোনো কবিতাই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। তিনি বলেন:

আমরা দুপুর বেলা দাইরে বাশাহরায় অবতরণ করলাম … তার পাদ্রীর কাছে

ইয়াসুয়ি ধর্মের অনুসারীদের মাঝে … যা কতই না চমৎকার ও নির্ভেজাল ছিল

সুন্দর আচরণের বদৌলতে যা শ্রেষ্ঠ … যা মুক্ত মানুষকেও দাসে পরিণত করে

তিনি আমাদের পান করালেন এবং তৃপ্ত করলেন … স্বচ্ছ ও কুমারী সুরা থেকে

গির্জায় সময়টি আনন্দদায়ক ছিল … তাই আমরা সেখানে দশ দিন অবস্থান করলাম

সেখানে আমাদের সূর্য পান করানো হলো … আর পূর্ণিমার চাঁদ দ্বারা আমাদের সেবা করানো হলো

আমরা আমাদের কাম্য সব কিছু লাভ করলাম … আমাদের আনন্দগুলো স্পষ্টভাবে

৩৩ দাইরে বাতা: এটি একটি বড় ও চমৎকার গির্জা, বসন্তকালে এটি জনাকীর্ণ থাকে। এটি মসুল ও তিকরিতের মধ্যবর্তী আস-সিনে অবস্থিত। এর নিকটে খ্রিস্টানদের অনেক উপাসনালয় রয়েছে। একে দাইরে হিমারও বলা হয়। দজলা নদী থেকে এর দূরত্ব কিছুটা বেশি। এতে একটি পাথরের দরজা আছে। খ্রিস্টানরা উল্লেখ করে যে, এই দরজা একজন বা দুইজন থেকে শুরু করে সাতজন পর্যন্ত খুলতে পারে; কিন্তু সংখ্যা যদি সাতের বেশি হয়ে যায়, তবে কেউই তা খোলার ক্ষমতা রাখে না। এমতাবস্থায় সাতজন ছাড়া কেউ তা খুলতে পারে না। সেখানে একটি কূপ রয়েছে যা শ্বেতী রোগের জন্য উপকারী এবং সেখানে বিশপের আসন রয়েছে।

৩৪ দাইরে বাআরবা: কাসর সহযোগে [কখনও টেনেও পড়া হয়], এটি একটি বিশাল গির্জা, যেখানে অনেক সন্ন্যাসী রয়েছেন। এটি মসুল ও আল-হাদিসার মধ্যবর্তী দজলা নদীর তীরে অবস্থিত। আর আল-হাদিসা তিকরিত ও মসুলের মাঝখানে অবস্থিত।

ঐ অঞ্চলের খ্রিস্টানরা এই গির্জাটিকে অত্যন্ত সম্মান করে।

আকাশের দিকে এর প্রাচীরের উচ্চতা প্রায় একশ হাত। এর নিজস্ব ফসলি জমি ও কৃষক রয়েছে যারা সেখানে কাজ করে। এর সাথে একটি বিশাল মেহমানখানা রয়েছে, কারণ পথচারীরা সেখানে যাত্রাবিরতি করে এবং তাদের আতিথেয়তা প্রদান করা হয়।

৩৫ দাইরে আল-বাআকি: নিচে এক নুক্তাওয়ালা বা, আলিফ, কাসরাযুক্ত আইন এবং কফ যোগে, সংক্ষেপে উচ্চারিত।

এটি সন্ন্যাসী বাহীরার গির্জা, যাঁর সাথে আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এটি হাওরান অঞ্চলের বুসরার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।

৩৬ দাইরে বাআনতাল: এটি জুসিয়ার নিকটবর্তী, এক মাইলেরও কম দূরত্বে।

জুসিয়া হলো হিমস প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত, দামেস্কের পথে হিমস থেকে এক মনজিল দূরত্বে এটি অবস্থিত। দামেস্কগামী যাত্রীর বাম দিকে এটি পড়ে। এই গির্জায় কিছু আশ্চর্যজনক বিষয় রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো: খিলানযুক্ত দরজাসমূহ, যাতে নবীদের ছবি খোদাই করা আছে।

আর একটি মার্বেল পাথরের তৈরি স্থাপনা, যেখানে পা স্থির থাকে না।

দেয়ালের ওপর মারিয়াম আলাইহাস সালামের একটি প্রতিকৃতি স্থাপিত আছে। আপনি যে দিকেই সরুন না কেন, মনে হবে যেন তাঁর দুই চোখ আপনার দিকেই তাকিয়ে আছে।

[সেখানে একটি পানির ঝরনা আছে যাকে 'কুমারী ঝরনা' বলা হয়। যদি কুমারী ব্যতীত অন্য কেউ এর নিকটবর্তী হয়, তবে এর চারপাশ থেকে পানি এক হাত পরিমাণ সরে যায়। সিরিয়ার জনৈক কবি তার ভালোবাসার এক খ্রিস্টান দাসী সম্পর্কে এবং এই গির্জার কথা উল্লেখ করে বলেছেন:

কত বছর গত হলো কিন্তু হৃদয়ে এই ধারণা মিশে আছে … যে ভালোবাসা আমাকে তার পথে আসক্ত করেছে

আমি তাকে সেই গির্জায় পেলাম, দাইরে বাআনতালে … যখন রাত তার জাদুময় ফয়সালায় আচ্ছন্ন ছিল

সে তোমাকে তার গালের রঙ থেকে সুরার পেয়ালা পান করাবে … আর তুমি তার ওষ্ঠাধরের লালিমার নেশায় বিভোর হয়ে পড়বে

হায় সেই হৃদয়ের জন্য যা তার ভালোবাসায় ব্যাকুল!! … হায় সেই চোখের জন্য যা তার রূপের মহিমায় বন্দি!]

৩৭ দাইরে বাগুস: এটি একটি অত্যন্ত বিশাল গির্জা, প্রচুর সন্ন্যাসীর বাস। এটি মসুল ও জাজিরা ইবনে উমরের মধ্যবর্তী দজলা নদীর তীরে অবস্থিত।

এখানে খ্রিস্টানদের কিতাবখানা এবং তাদের ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার একটি বিদ্যালয় রয়েছে। সেখানকার সন্ন্যাসীদের মধ্যে অনেক প্রখ্যাত চিকিৎসক রয়েছেন।

৩৮ দাইরে বাখিয়াল: এটি মসুলের উপরিভাগে অবস্থিত। এর তিনটি নাম রয়েছে। প্রথমটি: বাখিয়াল, যার কথা উল্লেখ করা হলো।

দ্বিতীয়টি: মারনাখায়াল বা মানখায়াল, যার বর্ণনা আমরা সামনে দেব।

তৃতীয়টি: দাইরে মিখাইল, এর বর্ণনাও আমরা যথাস্থানে দেব।

৩৯ [দাইরে বানুব: নুন অক্ষরে পেশ এবং ওয়াও সাকিন সহযোগে, শেষে এক নুক্তাওয়ালা বা। এটি উচ্চ মিশরের আশমুনাইনের নিকটবর্তী একটি গির্জা]।

৪০ দাইরে আল-বাতুল: এটি একটি অত্যন্ত বিশাল গির্জা, উচ্চ মিশরের নীল নদের পূর্ব তীরে প্রাচীন শহর আনসিনার নিকটবর্তী অঞ্চলে এটি বিখ্যাত।

বলা হয় যে, মারিয়াম আলাইহাস সালাম এই গির্জায় পদার্পণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
41 دير البُختِ: وهو على بعد فرسخين من دمشق. كان يسمى دير ميخائيل، وكان عبد الملك بن مروان قد ارتبط عنده بختاً له، وهي جمال الترك، فغلب الاسم على دير ميخائيل.

وكان لعلي بن عبد الله بن عباس، رضي الله عنهم عند هذا الدير جنينةٌ يتنزه فيها، مقدارها أربعة أجربة، وكان له فيها عمال وأكارون يقومون عليها.

42 دير برصوما: وهو الدير الذي ينادى له بطلب نذره في نواحي الشام والجزيرة وديار بكر وبلاد الروم.

وهو بقرب ملطية، على رأس جبل، يشبه القلعة، وعند هذا الدير متنزه وبساتين، وفيه رهبان كثيرة يؤدون في كل عام إلى ملك الروم عشرة آلاف دينارٍ من نذوره.

حدث العفيف مرجى الواسطي التاجر، قال: مررت بدير برصوما عندما كنت قاصداً إلى بلاد الروم، فحين قربت منه أخبرتُ بما له من فضائل وبكثرة ما ينذر له، وأن الذين ينذرون له يوافقون ما يطلبون إلا القليل منهم، وأخبرت أن برصوما الذي [كان مسجى] فيه، هو أحد حواريي المسيح، عليه السلام، فقلت: أنذرُ وأرى.

وكان معي قماش اشتريته بخمسة آلاف درهم، فنذرت إن بعته بسبعة آلاف درهم فلبرصوما منه خمسون درهماً. فدخلت ملطية وبعته بسبعة آلاف درهم فعجبت من موافقة هذا النذر. فلما رجعت سلمت إلى رهبان الدير خمسين درهماً، وسألتهم عن هذا الحواري الذي فيه، فقيل: إن مسجى على سريره وأظافيره تطول، وأنهم يقلمونها بالمقص في كل عام، ويحملون قلامتها إلى صاحب الروم مع ماله عليهم من أموال، فإن صح هذا فلا شيء أعجب منه في الدنيا والله أعلم.

43 دير بساك: بفتح الباء الموحدة وتشديد السين المهملة وبآخره كافٌ.

وهو حصنٌ تسكنه النصارى، وليس ديراً، وهو قرب أنطاكية، من أعمال حلب. وأظنه مركب من بس آك، والله أعلم بالصواب.

44 دير بشر: وهو عند قرية حجير بغوطة دمشق ينسب إلى بشر بن مروان بن الحكم بن أبي العاص بن أمية وبشر أخو أمير المؤمنين عبد الملك بن مروان.

45 دير بصرى: بضم أوله، وتسكين الصاد المهملة، والقصر.

وبصرى: بليدة بحوران، وهي قصبة الكورة، من أعمال دمشق.

وهذا الدير قريب من دير الباعقي، وكان الراهب بحيرا يعيش فيه، وهو الذي بشر بالنبي محمد صلى الله عليه وسلم، وقصته في ذلك مشهورة عند أهل السير.

قال المازني: دخلت دير بصرى بحوران، فرأيت في رهبانه فصاحةً، وبيان لسان، وهم من بني الصادر، من العرب الذين تنصروا في الجاهلية، فقلت لهم: ما لي لا أرى فيكم شاعراً على ما فيكم من فصاحةٍ ولسنٍ؟ فقالوا: ما فينا أحد يقول لنا إلا امرأة عجوز، فطلبت إحضارها، فجاءت فحادثتها، فوجدت فيها فصاحة تفوق أهل ديرها، فاستنشدتها فأنشدتني لنفسها أبياتاً منها:

أيا صحبةً من دير بصرى تحملتْ … تؤمُّ الحمى، لقيتِ من صحبةٍ رشداً

إذا مت بلغتمْ سالمين فبلغوا … تحية من قد ظن ألا يرى نجْدا

وقولوا: تركنا الصادري مقيداً … بكلِّ هوىً في حبكم مضمراً وجدا

فيا ليت شعري، هل أرى جانب الحمى … وقد أنبتت أجراعه بقلاً جعْدا

وهل أردنَّ الدهرَ يوماً وقيعهُ … كأنّ الصبا تسدي على متنهِ بُردا

ثم شهقتْ شهقةً خرتْ بعدها جثةً هامدة، فحملوها وهم يبكون.

46 دير البغل: سيذكر باسم دير القصير، لأنهما واحد.

47 [دير البقال: بجانب قبر معروف الكرخي، بغربي بغداد، أو أنه ملاصق لها، وتعرفه النصارى باسم دير مار كليسع وقد يسمونه باسمه الأول، وبابه قبالة مقبرة معروف الكرخي ولذا سموه المقبرة باب الدير. ودير البقال عند باب الحديد] .

 

‌‌48 دير البلاص: بالباء الموحدة من تحت، والمفتوحة ثم باللام المشددة، وبعدها ألف وصاد مهملة. قرية بصعيد مصر على الجانبالغربي، تجاه قوص وقرب دمياط.

49 دير بلاض: بالضاد المعجمة، من أعمال حلب وهو دير مشرفٌ على قرية نصرانية تدعى عم، وهو قديم، فيه رهبان كثيرون، ومن حوله مزارع عظيمة.

50 دير البلوط: قرية من أعمال الرملة، ينسب إليها أبو الحسن عبد الله بن محمد بن الفرج بن القاسم اللخمي الديربلوطي المقرئ الضرير.

قدم دمشق، وحدث بها عن أبي زكرياء عبد الرحيم بن أحمد [بن نصر بن] إسحاق البخاري، سمعه ببيت المقدس، وسمع منه محمد بن صابرٍ. وذكر أنه سأله عن مولده فقال: ولدت في دير البلوط من ضياع الرملة.
41 দাইরুল বুখত: এটি দামেস্ক থেকে দুই ফারসাখ দূরে অবস্থিত। একে দাইর মিখাইল বলা হতো। আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান এখানে তাঁর বুখত (এক প্রকার তুর্কি উট) বেঁধে রাখতেন, যার ফলে দাইর মিখাইল নামের ওপর এই নামটিই প্রাধান্য পায়।

এই দাইরের নিকট আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) একটি বাগান ছিল যেখানে তিনি ভ্রমণ ও বিনোদন করতেন। এর আয়তন ছিল চার আজিরাবা। সেখানে তাঁর শ্রমিক ও কৃষকরা নিয়োজিত ছিল যারা এর রক্ষণাবেক্ষণ করত।

42 দাইর বারসূমা: এটি সেই দাইর যেখানকার মানত আদায়ের জন্য শাম, জাজিরা, দিয়ার বকর এবং রোম সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আহ্বান জানানো হয়।

এটি মালাতিয়ার নিকটবর্তী একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত, যা দেখতে দুর্গের মতো। এই দাইরের নিকট ভ্রমণের স্থান ও বাগানসমূহ রয়েছে এবং সেখানে অনেক সন্ন্যাসী বাস করেন যারা প্রতি বছর মানত থেকে রোম সম্রাটকে দশ হাজার দিনার প্রদান করেন।

বণিক আফীফ মুরজা আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যখন রোম সাম্রাজ্যের দিকে যাচ্ছিলাম তখন দাইর বারসূমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। যখন আমি এর নিকটবর্তী হলাম, তখন আমাকে এর ফযিলত এবং এখানে যে প্রচুর মানত করা হয় সে সম্পর্কে জানানো হলো। আরও বলা হলো যে, যারা এখানে মানত করে তাদের অধিকাংশেরই উদ্দেশ্য পূরণ হয়। আমাকে আরও জানানো হলো যে, সেখানে শায়িত বারসূমা হলেন মসীহ আলাইহিস সালামের অন্যতম হাওয়ারী (শিষ্য)। তখন আমি মনে মনে বললাম: আমিও মানত করে দেখি কী হয়।

আমার সাথে পাঁচ হাজার দিরহাম মূল্যের কাপড় ছিল। আমি মানত করলাম যে, যদি আমি এটি সাত হাজার দিরহামে বিক্রি করতে পারি তবে বারসূমাকে পঞ্চাশ দিরহাম দেব। আমি মালাতিয়ায় প্রবেশ করলাম এবং তা সাত হাজার দিরহামেই বিক্রি করলাম। এই মানতের সাথে ফলাফলের মিল দেখে আমি বিস্মিত হলাম। ফেরার পথে আমি দাইরের সন্ন্যাসীদের হাতে পঞ্চাশ দিরহাম অর্পণ করলাম এবং সেখানে শায়িত হাওয়ারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। বলা হলো: তিনি তাঁর পালঙ্কে শায়িত আছেন এবং তাঁর নখ বড় হয়; তারা প্রতি বছর কাঁচি দিয়ে তা কাটে এবং সেই নখের কর্তিত অংশ রোম সম্রাটের নিকট পাঠায় তাঁর প্রাপ্য অর্থের সাথে। যদি এটি সত্য হয়, তবে পৃথিবীতে এর চেয়ে আশ্চর্যজনক কিছু নেই। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

43 দাইর বাসাক: বা-এর ওপর ফাতহাহ (যবর), সীন-এর ওপর তাশদীদ এবং শেষে কাফ।

এটি একটি দুর্গ যেখানে খ্রিস্টানরা বাস করে, এটি মূলত কোনো দাইর নয়। এটি হালব অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত আন্তাকিয়ার নিকট অবস্থিত। আমার ধারণা এটি 'বাস' ও 'আক' এর সমন্বয়ে গঠিত। আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।

44 দাইর বিশর: এটি দামেস্কের গুতা অঞ্চলের হুজাইর নামক গ্রামের নিকট অবস্থিত। এটি বিশর ইবনে মারওয়ান ইবনে হাকাম ইবনে আবুল আস ইবনে উমাইয়্যার সাথে সম্পর্কিত। বিশর ছিলেন আমিরুল মুমিনীন আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের ভাই।

45 দাইর বুসরা: প্রথম অক্ষরে পেশ (যাম্মা), দ্বিতীয় অক্ষরে সুকুন।

বুসরা: হাওরান অঞ্চলের একটি ছোট শহর। এটি দামেস্কের অন্তর্ভুক্ত এই অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র।

এই দাইরটি দাইরুল বায়াক্বীর নিকটবর্তী। সন্ন্যাসী বুহাইরা এখানে বাস করতেন, যিনি নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তাঁর ঘটনাটি সীরাত রচয়িতাদের নিকট সুপ্রসিদ্ধ।

আল-মাযানী বলেন: আমি হাওরান অঞ্চলের দাইর বুসরায় প্রবেশ করলাম। আমি সেখানকার সন্ন্যাসীদের মধ্যে বাকপটুতা ও ভাষার সাবলীলতা লক্ষ্য করলাম। তারা বনী সাদির গোত্রভুক্ত আরব ছিল যারা জাহিলী যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল। আমি তাদের বললাম: আপনাদের মধ্যে এত বাকপটুতা ও ভাষাজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও আমি কোনো কবি দেখছি না কেন? তারা বলল: আমাদের মধ্যে বৃদ্ধা এক নারী ব্যতীত কবিতা বলার মতো কেউ নেই। আমি তাঁকে উপস্থিত করার অনুরোধ জানালে তিনি এলেন। আমি তাঁর সাথে কথা বলে তাঁকে তাঁর দাইরের লোকদের চেয়েও অধিক বাকপটু পেলাম। আমি তাঁর কাছে কবিতা শুনতে চাইলে তিনি নিজের রচিত কিছু পঙ্ক্তি আবৃত্তি করলেন:

হে দাইর বুসরা থেকে বিদায় নেওয়া কাফেলা... তোমরা যখন সংরক্ষিত চারণভূমির দিকে যাত্রা করছ, তোমাদের এই যাত্রা যেন সফল ও হেদায়েতপূর্ণ হয়।

আমি যদি মারা যাই এবং তোমরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাও... তবে সেই ব্যক্তির সালাম পৌঁছে দিও যে ধারণা করেছিল সে আর কখনো নাজদ উপত্যকা দেখতে পাবে না।

আর বোলো: আমরা সাদির বংশোদ্ভূত সেই ব্যক্তিকে বন্ধী অবস্থায় রেখে এসেছি... যে তোমাদের ভালোবাসার প্রতিটি আবেগ হৃদয়ে অত্যন্ত সংগোপনে লালন করছে।

হায়! আমি কি কখনো চারণভূমির সেই দিকটি দেখতে পাব... যেখানে শ্যামল ঘাসগুলো কুঞ্চিত হয়ে জন্মেছে?

আমি কি কোনোদিন সেই জলাশয়ে পৌঁছাতে পারব... যেখানে ভোরের বাতাস তার শান্ত বুকে চাদরের মতো ঢেউ তুলে দেয়?

অতঃপর তিনি একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং নিথর দেহে লুটিয়ে পড়লেন। তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে বহন করে নিয়ে গেল।

46 দাইরুল বাগল: একে দাইরুল কাসীর নামেও উল্লেখ করা হবে, কারণ উভয়টি মূলত অভিন্ন।

47 দাইরুল বাক্কাল: এটি বাগদাদের পশ্চিমে মারুফ আল-কারখীর কবরের পাশে অথবা এর সংলগ্ন অবস্থিত। খ্রিস্টানরা একে 'দাইর মার কলিসা' নামে চিনে থাকে, আবার কখনো একে আগের নামেও ডাকে। এর দরজা মারুফ আল-কারখীর কবরের ঠিক বিপরীতে, তাই তারা কবরস্থানটিকে 'বাবুদ দাইর' নামে অভিহিত করে। দাইরুল বাক্কাল বাবে হাদীদ-এর নিকট অবস্থিত।

 

‌‌48 দাইরুল বাল্লাস: বা-এর নিচে একটি নুক্তা এবং ওপর ফাতহাহ (যবর), এরপর লাম-এর ওপর তাশদীদ, তারপর আলিফ ও সাদ। এটি মিশরের সাঈদ অঞ্চলের পশ্চিম তীরের একটি গ্রাম, যা কূস-এর বিপরীতে এবং দামইয়াতের নিকটবর্তী।

49 দাইর বালায: দাদ বর্ণের সাথে। এটি হালব অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এটি 'আম্ম' নামক একটি খ্রিস্টান গ্রামের ওপর অবস্থিত। এটি একটি প্রাচীন দাইর, যেখানে অনেক সন্ন্যাসী বাস করেন এবং এর চারপাশে বিশাল কৃষিজমি রয়েছে।

50 দাইরুল বালুত: এটি রামলা অঞ্চলের একটি গ্রাম। এর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি হলেন আবু হাসান আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফারাজ ইবনুল কাসিম আল-লাখমী আদ-দাইর-বালুতী আল-মুক্বরি আদ-দারীর।

তিনি দামেস্কে এসেছিলেন এবং সেখানে আবু যাকারিয়া আব্দুর রহীম ইবনে আহমাদ ইবনে নাসর ইবনে ইসহাক আল-বুখারীর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসে তাঁর থেকে শুনেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনে সাবির তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: আমি রামলার গ্রামগুলোর অন্যতম দাইরুল বালুতে জন্মগ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
51 دير بني مرينا: وهو دير قديم بظاهر الحيرة، ينسب إلى بني مرين، قوم من أهل الحيرة.

ومن خبر هذا الدير أن امرأ القيس بن حجر بن الحارث ابن عمرو بن حجرٍ آكل المرار، أغار على المنذر بن النعمان ابن امرئ القيس بن عمرو بن عدي، فهزمه إلى أن أدخله إلى الخورنق، وكان معه ابناه قابوس وعمروٌ، ولم يكن ولد له المنذر يومئذ، فجعل إذا غشيه امرؤ القيس يقول: ليت هنداً ولدت ولداً ثالثاً.

وهند: عمه امرئ القيس وأم ولد المنذر، فمكث المنذر بن النعمان حولاً، ثم أغار عليهم، فأصاب منهم اثني عشر رجلاً من بني حجر بن عمرو كانوا يتصيدون، فأفلت [امرؤ القيس] على فرس كانت بقربه، فطلبوه، فلم يقدروا عليه.

وقدم المنذر الحيرة بالفتية، فحبسهم شهرين بالقصر الأبيض. ثم طلب من خاصته أن يؤتى بهم، فخشي أن يؤخذوا في الطريق، فأرسل أن اضربوا أعناقهم فضربت، وهم عند الحفر الذي سمي جفر الأملاك. وهو في موضع دير بني مرينا. قال امرؤ القيس يرثيهم:

ألا يا عينُ بكي لي شنينا … وبكي لي الملوكَ الذاهبينا

ملوكاً من بني حجرٍ بن عمرو … يساقونَ العيشةَ، يقتلونا

فلو في يومِ معركة أصيبوا … ولكنْ قربَ دير بني مرينا

فلو تغسلْ جماجمهُم بسدرٍ … فكانوا بالدماءِ مرمِلينا

تظلُّ الطيرُ عاكفةً عليهم … وتنتزعُ الحواجبَ والعيونا

52 دير بولس: دير قديم بنواحي الرملة قبلي قرية دير البلوط. فيه رواهب ورهبان كثيرون، وهو في مكان نزه، مقصود من الشعراء والشاربين لطيب خموره، نزله الفضل ابن إسماعيل بن صالح بن علي بن عبد الله بن عباس، وقال فيه شعراً لم يذكر اسم الدير فيه، أوله:

عليكَ سلامُ الله يا ديرُ من فتىً … بمهجتهِ شوقٌ إليك طويلُ

ولازال من نوءِ السماكين وابلٌ … عليكَ لكي تروي ثراك هطولُ

[ويذكر في هذا الشعر ابنة قس سقته شراباً عتيقاً:

ومشمولةٍ أوقدت فيها لصحبتي … مصابيحَ ما يخبو لهن فتيلُ

تعللني بالراح هيفاءُ غادةٌ … يخال عليها للقلوبِ وكيلُ

فيا بنتَ قسِّ الدير قلبي محرقٌ … عليكِ، وجسمي مذ نأيت عليلُ]

53 دير بونا: بفتحتين ونون مشددة وبالقصر. [وقيل: باونا بالألف بعد الباء الموحدة من تحت] .

وهو دير قديم بجانب غوطة دمشق، في أنزه مكان. وبناؤه من أقدم الأبنية بالغوطة. قيل: إنه يبني على عهد المسيح، عليه السلام، أو بعده بقليل، وهو دير صغير، ورهبانه قليلون. اجتاز به الوليد بن يزيد، فأعجب به بجمال موضعه، فأقام فيه يوماً وليلة في لهوٍ وشربٍ ومحبون وقال يذكره:

حبذا ليلتي بديرِ بونا … حيثُ نسقَى شرابَنَا ونغنى

كيفما دارات الزجاجة دُرْنا … يحسبُ الجاهلون أنا جننا

ومررنا بنسوةٍ عطرات … وغناء، وقهوة، فنزلنا

وجعلنا خليفة الله فطرو … سَ مجوناً، والمستشارَ يُحنّا

فأخذنا قربانَهم ثم كفرْ … نا لصلبانِ ديرهم فكفرنا

واشتهرنا للناسِ حيث يقولو … ن، إذا خبروا بما قد فعلنا

وقال عبد الملك بن سعيد الدمشقي:

تمليتُ طيب العيشِ في دير باونا … بندمان صدقٍ كملوا الظرف والحُسنا

خطبْتُ إلى قس به، بنتَ كرمةٍ … معتقةً قد صيروا خدرها دنّا

54 [دير بهور: من أعمال أشمون] .

55 دير التجلي: سأتكلم عليه في دير الطور، لأنهما واحد.

56 دير تل عزاز: سأتكلم عليه في [دير الشيخ] لأنهما واحد.

57 دير تنادة: بناء مثناة فوقية مكسورة، ونون وألف، ثم دال مهملة مفتوحة وهاء. وهو دير مشهور بالصعيد في أرض أسيوط، غربي النيل، وتحته قرىً، ومتنزه حسن، ورهبانه كثيرون.

58 دير تنوخ: دير قديم بأعلى الأنبار، كثير الرهبان وبأسفله متنزه حسن يقصده الشعراء والمجان.

ذكره أحد بني دبيرٍ في شعره، فقال يخاطب شاعراً نصرانياً من أهل الدير هجره إلى بغداد:

هلا قصدت إلى تنوخ وأهله … فتنوخُ ديرُكَ في ذرا الأنبارِ

59 دير توما: ذكره المرار الفقعمي في قوله:

أحقاً يا حريز الرهنِ منكم … فلا إصعادَ منك ولا قفولا

تصيح إذا هجعْتَ بديرِ توما … حماماتٌ يزدنَ الليلَ طولا
৫১ দাইর বানি মারিনা: এটি হীরা নগরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি প্রাচীন মঠ, যা হীরার অধিবাসী বানি মারিন নামক এক সম্প্রদায়ের নামানুসারে পরিচিত।

এই মঠের কাহিনী হলো—আকিুল মারার নামে পরিচিত আমর বিন হুজরের পৌত্র এবং হুজর বিন আল-হারিসের পুত্র ইমরাউল কায়েস, আল-মুনজির বিন আল-নুমান বিন ইমরাউল কায়েস বিন আমর বিন আদির ওপর আক্রমণ চালান। তিনি তাকে পরাজিত করে খাওয়ারনাক প্রাসাদে প্রবেশ করতে বাধ্য করেন। তখন আল-মুনজিরের সাথে তার দুই পুত্র কাবুস ও আমর ছিল। সে সময় আল-মুনজিরের আর কোনো সন্তান ছিল না। ইমরাউল কায়েস যখন তাকে ঘিরে ফেলতেন, তখন তিনি বলতেন: "হায়! হিন্দ যদি তৃতীয় কোনো সন্তান জন্ম দিত।"

এই হিন্দ ছিলেন ইমরাউল কায়েসের ফুফু এবং আল-মুনজিরের সন্তানদের জননী। এরপর আল-মুনজির বিন আল-নুমান এক বছর অপেক্ষা করেন এবং পরে তাদের ওপর আক্রমণ চালান। তিনি বানি হুজর বিন আমরের বারোজন পুরুষকে পাকড়াও করেন যারা তখন শিকারে ব্যস্ত ছিল। তবে ইমরাউল কায়েস তার কাছে থাকা একটি ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তারা তাকে ধাওয়া করলেও ধরতে পারেনি।

আল-মুনজির সেই যুবকদের নিয়ে হীরায় ফিরে আসেন এবং তাদের দুই মাস শ্বেত প্রাসাদে বন্দী করে রাখেন। এরপর তিনি তার ঘনিষ্ঠ অনুচরদের তাদের নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। তবে পথে তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা করায় তিনি তাদের গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ পাঠান এবং তাদের হত্যা করা হয়। তারা সেই গর্তের কাছে ছিল যাকে 'জাফরুল আমলাক' বলা হয়, যা দাইর বানি মারিনা মঠের স্থানে অবস্থিত। ইমরাউল কায়েস তাদের শোকে বিলাপ করে বলেছিলেন:

ওহে চক্ষু! আমার জন্য অঝোর ধারায় অশ্রু বিসর্জন করো ... আর সেই রাজাদের জন্য কাঁদো যারা চিরতরে চলে গেছেন।

বানি হুজর বিন আমরের সেই রাজকীয় বীরগণ ... যাদের সন্ধ্যার সময় হাঁকিয়ে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

যদি তারা কোনো যুদ্ধের ময়দানে নিহত হতো (তবে কথা ছিল) ... কিন্তু তাদের হত্যা করা হয়েছে দাইর বানি মারিনা মঠের সন্নিকটে।

যদি তাদের করোটিগুলো সাবান-পাতা দিয়ে ধৌত করা হতো ... কিন্তু তারা তো রক্তে রঞ্জিত হয়ে পড়েছিল।

পাখিরা তাদের লাশের ওপর স্থির হয়ে ছায়া দিচ্ছে ... আর খুবলে নিচ্ছে তাদের ভ্রু ও চক্ষুসমূহ।

৫২ দাইর বুলুস: এটি রামলা অঞ্চলের একটি প্রাচীন মঠ, যা দাইর আল-বালুত গ্রামের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এখানে অনেক সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনী বাস করেন। এটি অত্যন্ত মনোরম একটি স্থান, যেখানে কবিরা যাতায়াত করেন এবং এর চমৎকার মদের কারণে সুরাপায়ীরা এখানে ভিড় জমায়। ফজল ইবনে ইসমাইল বিন সালেহ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এখানে অবস্থান করেছিলেন এবং এটি নিয়ে কবিতা রচনা করেছিলেন, যদিও তাতে মঠের নাম উল্লেখ করেননি। কবিতার শুরুটি ছিল এমন:

হে মঠ! তোমার ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক এক যুবকের পক্ষ থেকে ... যার হৃদয়ে তোমার জন্য দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা জমা হয়ে আছে।

সিমাকাইন নক্ষত্রের প্রভাবে অবিরাম বারিধারা ... তোমার ওপর বর্ষিত হতে থাকুক, যেন তোমার মাটি সিক্ত হয়ে ওঠে।

[এই কবিতায় তিনি একজন যাজক-কন্যার কথা উল্লেখ করেছেন যে তাকে পুরাতন মদ পান করিয়েছিল:

সেই শীতল সুরা, যা আমি আমার সঙ্গীদের জন্য প্রজ্বলিত করেছিলাম ... এমন প্রদীপের মতো যার পলিতা কখনো নেভে না।

এক তন্বী যুবতী আমাকে শরাব দিয়ে তৃপ্ত করছিল ... মনে হচ্ছিল হৃদয়ের ওপর তার পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে।

হে মঠের যাজক-কন্যা! তোমার বিচ্ছেদে আমার হৃদয় দগ্ধ ... আর তুমি দূরে যাওয়ার পর থেকে আমার দেহ রুগ্ন হয়ে পড়েছে।]

৫৩ দাইর বুনা: এটি 'বুনা' (ব-এ উ-কার, দন্ত্য ন-এ আকার) নামে পরিচিত, যাতে নুন বর্ণটি দ্বিত্ব এবং শেষে আলিফ মাকসুরা রয়েছে। [বলা হয়েছে এটি 'বাউনা' নামেও পরিচিত, যেখানে বা বর্ণের পর একটি আলিফ আছে]।

এটি দামেস্কের ঘউতার পার্শ্ববর্তী একটি প্রাচীন মঠ, যা অত্যন্ত মনোরম স্থানে অবস্থিত। ঘউতার প্রাচীনতম স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটি একটি। বলা হয় যে, এটি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে অথবা তার কিছুকাল পরে নির্মিত হয়েছিল। এটি একটি ছোট মঠ এবং এর সন্ন্যাসীর সংখ্যাও কম। ওয়ালিদ বিন ইয়াজিদ এখান দিয়ে যাওয়ার সময় এর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন এবং সেখানে একদিন ও একরাত আমোদ-প্রমোদ ও মদ্যপানে কাটান। মঠটির স্মরণে তিনি বলেন:

বুনা মঠে কাটানো আমার সেই রাতটি কতই না চমৎকার ছিল ... যেখানে আমাদের শরাব পান করানো হতো এবং আমরা গান গাইতাম।

শরাবের পেয়ালা যেভাবে ঘুরছিল, আমরাও সেভাবে টলছিলাম ... অজ্ঞ লোকেরা মনে করছিল যে আমরা পাগল হয়ে গেছি।

আমরা সুগন্ধিময় নারী, গান এবং কফির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তাই সেখানে নেমে পড়লাম ...

আমরা আল্লাহর খলিফাকে একজন কৌতুকপ্রিয় যাজক বানালাম ... আর তার পরামর্শদাতা বানালাম ইউহান্নাকে।

আমরা তাদের নৈবেদ্য গ্রহণ করলাম এবং তাদের মঠের ক্রুশগুলোর অবজ্ঞা করলাম ...

আমরা মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে গেলাম, কারণ যখন তারা আমাদের কর্মকাণ্ডের সংবাদ পেল ... তখন তারা তা নিয়ে আলোচনা করতে লাগল।

আব্দুল মালিক বিন সাঈদ আল-দামেশকি বলেন:

আমি দাইর বাউনা-তে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় উপভোগ করেছি ... এমন সত্যনিষ্ঠ সাথীদের সাথে যারা আভিজাত্য ও সৌন্দর্যে ছিল পরিপূর্ণ।

সেখানকার এক যাজকের কাছে আমি আঙ্গুর-কন্যার (মদ) পাণিপ্রার্থনা করলাম ... সেই পুরাতন শরাব, বড় মটকা যাকে তার বাসরঘর বানিয়েছিল।

৫৪ [দাইর বাহুর: এটি আশমুন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত]।

৫৫ দাইরুত তাজাল্লি: আমি দাইরুত তুর-এর বর্ণনায় এটি নিয়ে আলোচনা করব, কারণ এই দুটি আসলে একই।

৫৬ দাইর তাল আজাজ: আমি দাইরুশ শায়খ-এর বর্ণনায় এটি নিয়ে আলোচনা করব, কারণ এই দুটিও একই।

৫৭ দাইর তানাদাহ: এটি 'তা' (যাতে কাসরা), 'নুন' ও 'আলিফ', এবং এরপর 'দাল' ও 'হা' সহযোগে গঠিত। এটি ঊর্ধ্ব-মিসরের আসিউত অঞ্চলের একটি বিখ্যাত মঠ, যা নীল নদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এর নিচে অনেকগুলো গ্রাম এবং একটি সুন্দর উদ্যান রয়েছে। এখানে অনেক সন্ন্যাসী বাস করেন।

৫৮ দাইর তানুখ: এটি আনবার শহরের উচ্চভূমিতে অবস্থিত একটি প্রাচীন মঠ। এখানে অনেক সন্ন্যাসী বাস করেন এবং এর পাদদেশে একটি সুন্দর উদ্যান রয়েছে যেখানে কবি ও আমোদপ্রিয় ব্যক্তিরা যাতায়াত করেন।

বানি দাবির গোত্রের এক ব্যক্তি তার কবিতায় এর উল্লেখ করে মঠের একজন খ্রিস্টান কবিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, যিনি মঠ ছেড়ে বাগদাদে চলে গিয়েছিলেন:

কেন তুমি তানুখ এবং তার অধিবাসীদের কাছে ফিরে এলে না ... অথচ তানুখ তো আনবারের উচ্চতায় অবস্থিত তোমার আপন মঠ।

৫৯ দাইর তুমা: আল-মুরা আল-ফাকয়ামি তার বাণীতে এটি উল্লেখ করেছেন:

হে হারিজ! তোমাদের কাছ থেকে কি সত্যিই কোনো বন্ধকী বস্তু রয়েছে ... যে কারণে তোমার কোনো উন্নতি বা প্রত্যাবর্তন নেই?

তুমি যখন দাইর তুমা মঠে ঘুমাও, তখন সেখানে কবুতরেরা ডাকে ... যা দীর্ঘ রাতকে আরও দীর্ঘায়িত করে তোলে।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
إذا ما صِحنَ قلتُ: أحسن صبحاً … وقد غادرن لي ليلاً ثقيلا

خليليَّ امكُثا عندي قليلا … وصدا لي وسادي أن يميلا

60 دير الثعالب: هو دير مشهور ببغداد، بينه وبينها أقل من ميلين، في كورة نهر عيسى، عن طريق صريرٍ رايته أنا، وبقربه قرية الحارثية.

وأهل بغداد يقصدونه [ويتنزهون فيه، وله عيد لا يتخلف فيه عنه أحد من النصارى والمسلمين. وذكر الخالدي أنه ملاصق لقبر معروف الكرخي، وهو عند باب الحديد، وبين دير الثعالب وقبر معروف ميلٌ] وق قالت الشعراء فيه وأكثروا: قال ابن [الدهقان] :

ديرُ الثعالبِ مجمع الضلالِ … ومحلُ كلِّ غزالةٍ وغزالِ

كم ليلةٍ أحييتها ومنادمي … فيها أبح، مقطع الأوصالِ

سمحٌ يجود بروحهِ فإذا مضى … وقضى، سمحتُ له وجدتُ بمالي

ومنعمٍ دينُ ابنِ مريمِ دينهُ … غنجٌ يشوبُ محونهُ بدلالِ

سقيتهُ، وشربتُ فضلة كأسهِ … فرويت من عذبِ المذاقِ زلالِ

وقال بعضهم يصف فتاة راهبة فيه:

خرجتْ يوم عيدها … في ثياب الرواهبِ

فتنتْ باختيالها … كلَّ جاءٍ وذاهبِ

تتهادى بفتنةٍ … كاعبٌ في كواعبِ

هي فيهم كأنها ال … بدرُ بين الكواكبِ

لشقائي عشقتها … يوم ديرِ الثعالبِ

61 دير جابيل: هكذا وجدته في "تاريخ البصرة" وقال أبو اليقظان: كان [أهل البصرة] يشربون من قبل حفرهم لنهر الفيض من خليج يأتيهم من دير جابيل إلى موضع نهر نافذٍ.

62 دير الجاثليق: هو دير قديم البناء، رحب الفناء، من نواحي قرية مسكن، قرب بغداد، في غرب دجلة، في عرض حربى، وهو في رأس الحد بين السواد وأرض تكريتٍ.

والجاثليق في الأصل كبير النصارى، ورئيسهم الأعلى، وإليه ينسب هذا الدير بأرض العراق، وعند هذا الدير كانت الحرب بين عبد الملك بن مروان ومصعب بن الزبير سنة اثنتين وسبعين، وفيه كان مقتل مصعب وابنه عيسى. وقبرهما معروف بالدير. قال عبيد الله بن قيس الرقيات يرثيه:

لقد أورث المصرين حزناً وذلةً … قتيلٌ بديرِ الجاثليق مقيمُ

تولى قتالَ المارقينَ بنفسهِ … وقد أسلماه: مبعدٌ وحميمُ

فما قاتلتْ في الله بكرُ بن وائلٍ … ولا صدقتْ عندَ اللقاءِ تميمُ

فلو كان في قيس تعطف حوله … كتائبُ يغلي حميها ويدومُ

ولكنه ضاع الذمام، ولم يكن … بها مضري يوم ذاك كريمُ

جزى الله كوفياً بذاك ملامةً … وبصريهم، إن المليمَ ملوم

قال الشابشتي: هذا الدير باب الحديد، وهو دير كبير، حسن، نزهٌ، تحدق به البساتين والأشجار، وهو [يوازي] دير الثعالب في النزهة وعمارة الموضع فهما في بقعة واحدة.

وأنشد لمحمد بن أمية الكاتب فيه:

تذكرتُ دير الجاثليق وفتيةً … بهم تمَّ فيه السرورُ واسعفا

بهم طابت الدنيا وأدركني المنى … وسالمني صرفُ الزمان وأتحفا

ألا ربَّ يومٍ قد نعمتُ بظلِّه … أبادرُ من لذاتِ عمري ما صفا

أغازلُ فيه أدعجَ الطرف أغيداً … وأسقى به مسكيةَ الريح قرقفا

فسقياً لأيامٍ مضتْ لي بقربهم … لقد أوسعتني رأفةً وتعطفا

وتعساً لأيامٍ رمتني ببينهمْ … ودهرٍ تقاضاني الذي كان أسلفا

63 دير الجب: دير مشهور في شرقي الموصل، بينها وبين إربل، يقصده الناس المرضى لأجل الصرع، فيبرأ منه بذلك كثيرون.

64 دير الجرعة: بالتحريك، وقد تسكن الراء المهملة، قال ابن السكيت: الجرع، جمع جرعة، وهي دعص من الرمل، لإنبات فيه. قال: والذي سمعته من الغرب أن الجرعة رملة طيبة المنبت، لا وعوثة فيها.

ودير الجرعة منسوب إلى موضع بعينه، بين [النجفة] والحبرة، فالدير مضاف إليه، ويقال: إنه دير عبد المسيح بن [بقيلة] ، وهو الذي يقو فيه:

كم تجرعتُ بدير الجرعة … غصصاً كبدي بها منضدعهْ

منْ بدورٍ فوقَ أغصانٍ على … كثبٍ زرْن احتساباً بيعهْ

65 دير الجزيرة: لم أعرفه.

66 دير الجماجم: بظاهر الكوفة، على سبعة فراسخ منها، [على طريق البر للذي يسلك إلى البصرة] .

قال أبو عبيدة: الجمجمة: القدح من الخشب، وسمي دير الجماجم لأن أقداح الخشب كانت تعمل فيه.
যখন তারা চিৎকার করল, আমি বললাম: প্রভাতটি সুন্দর হোক … আর তারা আমার জন্য একটি ভারী রাত ছেড়ে গেল।

ওহে আমার দুই বন্ধু, আমার কাছে কিছুক্ষণ অবস্থান করো … এবং আমার বালিশটি যেন হেলে না পড়ে সে জন্য তা সোজা করে ধরো।

৬০. দাইরুত সাআলিব (শেয়ালের মঠ): এটি বাগদাদের একটি সুপ্রসিদ্ধ মঠ, শহর থেকে এর দূরত্ব দুই মাইলেরও কম, নহর ঈসা জেলায়, সারীর নামক রাস্তার ধারে যা আমি নিজে দেখেছি, আর এর কাছেই আল-হারিছিয়া গ্রাম অবস্থিত।

বাগদাদের অধিবাসীরা এখানে যাতায়াত করত [এবং এখানে তারা চিত্তবিনোদন করত। এখানে এমন এক উৎসব পালিত হত যেখানে খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের কেউই অনুপস্থিত থাকত না। আল-খালিদী উল্লেখ করেছেন যে, এটি মারূফ আল-কারখীর কবরের সংলগ্ন, যা বাবুল হাদীদে অবস্থিত। দাইরুত সাআলিব এবং মারূফের কবরের মাঝে এক মাইলের ব্যবধান ছিল]। কবিগণ এ সম্পর্কে অনেক কবিতা লিখেছেন। ইবনুল [দিহকান] বলেছেন:

দাইরুত সাআলিব হলো পথভ্রষ্টদের মিলনমেলা … এবং প্রতিটি হরিণী ও হরিণের আবাসস্থল।

কত রাত আমি সেখানে জাগ্রত কাটিয়েছি আর আমার সহচর … সেখানে ছিল বিমুগ্ধ ও বিভোর।

সে ছিল উদার, নিজ প্রাণ বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত, তাই যখন সে চলে গেল … এবং শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করল, তখন আমি তার জন্য উদার হলাম এবং আমার সম্পদ বিলিয়ে দিলাম।

এমন এক লাবণ্যময়ী যার ধর্ম ইবনে মারিয়ামের ধর্ম … তার চপলতা ও লাজুকতা মিলে এক অনন্য আবেশ তৈরি করে।

আমি তাকে পান করালাম এবং তার পেয়ালার অবশিষ্টাংশ পান করলাম … ফলে সেই সুস্বাদু ও নির্মল সুধা পানে আমি তৃপ্ত হলাম।

তাদের কেউ কেউ সেখানকার এক সন্ন্যাসিনী তরুণীর বর্ণনা দিয়ে বলেন:

সে তার উৎসবের দিনে বের হলো … সন্ন্যাসিনীদের পোশাকে।

সে তার গাম্ভীর্যপূর্ণ চলাফেরায় মোহিত করল … প্রত্যেক আগন্তুক ও প্রস্থানকারীকে।

সে এক অদ্ভুত মোহনীয়তায় ধীরপদে এগিয়ে আসছিল … রূপসী কিশোরীদের মাঝে এক কিশোরী।

তাদের মাঝে তাকে এমন দেখাচ্ছিল যেন … নক্ষত্ররাজির মাঝে পূর্ণিমার চাঁদ।

আমার দুর্ভাগ্যের কারণে আমি তার প্রেমে পড়লাম … দাইরুত সাআলিবের সেই দিনে।

৬১. দাইরু জাবীল: আমি 'তারীখে বাসরা' গ্রন্থে এটি এভাবেই পেয়েছি। আবু আল-ইয়াকজান বলেছেন: [বসরার অধিবাসীরা] নহরে ফায়েজ খনন করার আগে দাইরু জাবীল থেকে নহরে নাফিজের স্থান পর্যন্ত আসা একটি খাল থেকে পানি পান করত।

৬২. দাইরুল জাসালিক (ক্যাথলিকোসের মঠ): এটি একটি প্রাচীন স্থাপত্য ও প্রশস্ত প্রাঙ্গণ বিশিষ্ট মঠ। এটি বাগদাদের নিকটবর্তী মাসকান গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় দজলা নদীর পশ্চিম তীরে হারবা নামক স্থানে অবস্থিত। এটি সাওয়াদ এবং তিকরিতের সীমানার ঠিক মুখে অবস্থিত।

মূলত জাসালিক হলো খ্রিষ্টানদের বড় ধর্মগুরু বা প্রধান নেতা। ইরাক ভূখণ্ডের এই মঠটি তার নামেই নামাঙ্কিত। এই মঠের কাছেই বাহাত্তর হিজরীতে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান এবং মুসআব ইবনে যুবাইরের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এখানেই মুসআব এবং তার পুত্র ঈসা নিহত হন। তাদের কবর এই মঠেই সুপরিচিত। উবাইদুল্লাহ ইবনে কাইস আল-রুকাইয়াত তার শোকগাথায় বলেন:

নিশ্চয়ই দাইরুল জাসালিকে শায়িত এক নিহত ব্যক্তি … দুই শহরবাসীর মাঝে দুঃখ ও লাঞ্ছনা রেখে গেছেন।

তিনি নিজেই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন … অথচ তাকে ত্যাগ করেছে আপন ও পর উভয় আত্মীয়ই।

আল্লাহর পথে বকর ইবনে ওয়াইল যুদ্ধ করেনি … আর যুদ্ধের ময়দানে তামীম গোত্রও সত্যনিষ্ঠ ছিল না।

যদি কাইস গোত্র তার চারধারে সমবেত হত … তবে তাদের সেই তেজস্ক্রিয় সেনাদল অবিচল থাকত।

কিন্তু অঙ্গীকার তখন ধূলিসাৎ হয়েছিল, আর সেদিন সেখানে … কোনো মুদারী ব্যক্তি ছিল না যে উদারতা দেখাবে।

আল্লাহ কুফাবাসীদের এর জন্য তিরস্কার করুন … এবং বসরার অধিবাসীদেরও, কারণ যে তিরস্কারযোগ্য সে তো তিরস্কৃতই হবে।

আশ-শাবুশতী বলেন: এই মঠটি বাবুল হাদীদে অবস্থিত। এটি একটি বড়, সুন্দর ও মনোরম মঠ, যার চারপাশ বাগান ও বৃক্ষরাজি দিয়ে ঘেরা। এটি সৌন্দর্য ও স্থাপত্যের দিক থেকে দাইরুত সাআলিবের [সমকক্ষ], এই দুটি মঠ একই এলাকায় অবস্থিত।

তিনি সেখানে মুহাম্মাদ ইবনে উমাইয়াহ আল-কাতিবের কবিতা আবৃত্তি করেন:

আমি দাইরুল জাসালিক এবং সেই যুবকদের কথা স্মরণ করলাম … যাদের সাহচর্যে সেখানে আনন্দ পূর্ণতা পেয়েছিল এবং সুযোগ এনে দিয়েছিল।

তাদের সান্নিধ্যে পৃথিবীটা সুন্দর হয়ে উঠেছিল এবং আমি আমার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছিলাম … সময়ের নিষ্ঠুরতা আমার প্রতি শান্ত হয়েছিল এবং আমায় উপহার দিয়েছিল।

হায়! কত দিনই না আমি তার ছায়ায় সুখে কাটিয়েছি … আমার জীবনের নির্মল আনন্দগুলো পেতে আমি তড়িঘড়ি করতাম।

সেখানে আমি কালো চোখের লাবণ্যময়ীর সাথে প্রেমে মগ্ন হতাম … এবং আমায় কস্তুরীর সুবাসিত শরাব পান করানো হতো।

তাদের নৈকট্যে কাটানো দিনগুলোর ওপর রহমত বর্ষিত হোক … যা আমায় দয়া ও মমতায় সিক্ত করেছিল।

আর ধ্বংস হোক সেই দিনগুলো যা আমাকে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে … এবং সেই সময় যা আমার কাছে সেই ঋণের দাবি করছে যা আগে দিয়েছিল।

৬৩. দাইরুল জুব্ব (কূপের মঠ): এটি মোসেলের পূর্ব দিকে মোসেল ও এরবিলের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত একটি সুপ্রসিদ্ধ মঠ। মৃগীরোগীরা এই মঠের উদ্দেশ্যে আসে এবং এর ফলে অনেকেই আরোগ্য লাভ করে।

৬৪. দাইরুল জারআ: শব্দটি হরকতের সাথে উচ্চারিত হয়, আবার রা অক্ষরটি সুকুন দিয়েও পড়া যায়। ইবনে সিক্কীত বলেন: 'জার' শব্দটি 'জারআ' এর বহুবচন, যা বালুর স্তূপকে বোঝায় যেখানে কোনো উদ্ভিদ জন্মায় না। তিনি আরও বলেন: আরবদের কাছ থেকে আমি যা শুনেছি তা হলো, 'জারআ' হলো এমন একটি বালুময় ভূমি যেখানে উদ্ভিদ ভালো জন্মে এবং যা চলাচলের জন্য কঠিন নয়।

দাইরুল জারআ একটি নির্দিষ্ট স্থানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা [নাজাফা] এবং হাবারার মাঝামাঝি অবস্থিত। মঠটি সেই স্থানের নামের সাথে যুক্ত। বলা হয় এটি আব্দুল মাসীহ ইবনে [বুকাইলা] এর মঠ, যা সম্পর্কে তিনি বলেছেন:

দাইরুল জারআতে আমি কত যে বিষাদ পান করেছি … যার যন্ত্রণায় আমার কলিজাটা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে।

বালুর ঢিবির ওপর অবস্থিত ডালপালার মতো দেহধারী সেই পূর্ণিমার চাঁদের বিরহে … যারা সওয়াবের আশায় গির্জা পরিদর্শন করতে আসে।

৬৫. দাইরুল জাযীরা: এটি সম্পর্কে আমার জানা নেই।

৬৬. দাইরুল জামাজিম (পাত্রের মঠ): এটি কুফার বহির্ভাগে, কুফা থেকে সাত ফারসাখ দূরে [বসরার দিকে যাওয়ার মরুপথে] অবস্থিত।

আবু উবাইদাহ বলেন: 'জামজামা' মানে কাঠের পেয়ালা। দাইরুল জামাজিমকে এই নামে ডাকার কারণ হলো সেখানে কাঠের পেয়ালা তৈরি করা হতো।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
والجمجمة أيضاً: البئر تكون محفورة في سباخ الأرض. فيجوز أن يكون اسم الدير من ذلك، أو أن يكون من الجماجم أي السادات، وعليه القوم، أو من الجماجم بمعنى القبائل، التي تكون نسبة البطون إليها. قال الكلبي: سمي الدير بدير الجماجم، لأن تميماً وذبيان لما واقعوا بني عامر وكثرت القتلى في تميم لانتصار العامرين عليهم، فبنوا بالجماجم هذا الدير. وقوله عندي بعيد، ولعله مكذوب على الكلبي. فإن هذا القول بعيد عنه، ويبعده أن وقعة العامريين بأعدائهم إنما كانت بنجد، وأين نجد من الكوفة؟ ولعل الصحيح في هذا ما ذكره البلاذري عن الكلبي حيث قال: إن بلال بن محرزٍ الإيادي قتل قوماً من الفرس، وجمع رؤوسهم في مكان قريب من الكوفة، فسمي الموضع بدير الجماجم.

وقرأت في (أنساب المواضع) للكلبي، أن كسرى قتل جمعاً من غياد، وطرد كثيرين منهم بعيداً عن بلاده، فنزلت أعداد منهم بالسواد من العراق، فعلم بهم كسرى فأنفذ إليهم ألفاً من أساورته ليقتلوهم، وذهب رجل من إياد فأخبر كسرى بخبر القوم، وأوهمه بأنه يشيء بهم إليه، لكنه أعلم قومه بحقيقة الأمر، فأقبلوا، وأوقعوا بالأساورة وأفنوهم عن آخرهم، وجعلوا جماجمهم في قبة، فعلم كسرى، وخرج حتى بلغ المكان، فاغتم، وأمر ببناء دير سمي دير الجماجم.

وفي دير الجماجم كانت وقعة الحجاج بعبد الرحمن بن الأشعث، وكان القتل قد فشا في القراء الذين ناصروه في حربه. قال جرير يذكر هذه الوقعة ويعير الفرزدق:

كأنك لم تشهد لقيطاً ومالكاً … وعمرو بن عمرو، إذ دعوا: يال دارم

ولم تشهد الجونينِ والشعبَ ذا الصفا … وشداتِ قيسٍ يومَ ديرِ الجماجمِ

وللجونان: معاوية وحسان ابنا الجون الكندي، أسرا يوم دير الجماجم.

وقيل: قتل حسان بن الجون، وفودي أخوه معاوية.

67 دير الجمزة: بالجيم المضمومة والميم الساكنة، ثم الزاي المعجمة المفتوحة، وهاء. دير سمعت به، ولم أعرف موضعه.

68 [دير الجودي: بضم الجيم، وتسكين الواو، وبآخره ياء مشددة، وقد تخفف على قراءة الأعمش، بتخفيف الياء] .

والجُود: هو الجبل الذي رست عليه سفينة نوح عليه السلام بعد الطوفان، وقد فصلت ذلك في المعجم.

وبين الجودي وجزيرة ابن عمر سبعة فراسخ. ودير الجودي بني منذ القديم على قمة الجبل، ويقال: إنه بني منذ عهد نوح عليه السلام، ومازال كهيئته الأولى حتى هذا الوقت.

ويقال: إن من عجائب هذا الدير أن سطحه يشبر، فيكون عشرين شبراً فإن شبر ثانية كان ثمانية عشر شبراً فإذا شبر ثالثه كان اثنين وعشرين شبراً، فهو يختلف في الشبر بين مرة وأخرى، والله أعلم.

آخر القسم الأول قسيمنا، يليه القسم الثاني وأوله: 69دير حافر: 69 دير حافر: بالحاء المهملة والألف والفاء المكسورة، وبآخره راء مهملة.

وحافر: قرية بين حلب وبالس، وإليها أضيف هذا الدير. وذكر الراعي القرية في قوله:

تخطّيتْ إلينا ركنَ هيفٍ وحافرٍ … طروقاً، وأنّى منك هيفٌ وحافرٌ

وذكر القيسراني الدير في قوله:

ألَا كمْ ترامتْ بالسٌ بمسافرٍ … وكم حافرٍ أدميتَ يا ديرَ حافرِ

70 دير الحانات: جمع حانةٍ وحانوت، وهو موضع بيع الحانية، وهي الخمر.

وهذا الدير بقرب دير الجاثليق، من نواحي مسكن وعنده توافى الجمعان جمع مصعب بعسكره من جند العراق، وجمع عبد الملك بجند الشام، فتفرق عن مصعب ابن الزبير جنده وخذلوه، فقتل عند دير الجاثليق على ما قدمت.

71 دير حبيب: لا أعرف موضعه، إلا أنني سمعت به في شعر الجعدي، قال:

سلَ الريحَ إنْ هبّتْ شمالاً ضعيفةً … متى عهدها بالدَّيرِ، ديرِ حبيبِ

72 دير الحبيس: من نواحي بغداد، ذكر في شعر لأبي محمد يحيى بن محمد الأرزني، يقول فيه:

ليتني والمنى قديماً سفاهٌ … وضلالٌ وحبرةٌ وغناءُ

كنتُ صادفتُ منك يوماً بعمّا … وبديرِ الحبيسِ كان اللقاءُ

فتوافيك ضرّةُ الشمسِ تختا … لُ، كأنّ العيانَ منها هباءُ

لذَّ منها طعمٌ، وطابَ نسيمٌ … فلها الفخرُ كلّهُ والنساءُ

73 دير حرجة: بالثلاث فتحات. الحرجة في الأصل موضع كثير الشجر، لا تبلغه السائمة. والحرج: الضيق، وحرج الصدر: ضيقه، ومنه قوله تعالى: (فلا يكن في صدرك جرحٌ منه) ، أي ضيق.
জুমজুমা এর অর্থ হলো লবণাক্ত জমিতে খননকৃত কূপ। এই মঠের (দাইর) নামকরণ সেখান থেকেই হতে পারে, অথবা এটি 'জামাতিম' অর্থাৎ সর্দার বা গোত্রপ্রধানদের নাম থেকে হতে পারে, অথবা এর অর্থ হতে পারে 'গোত্র', যার সাথে বংশের শাখাগুলো সম্পৃক্ত থাকে। কালবি বলেন: এই মঠের নাম দাইরুল জামাজিম রাখা হয়েছে কারণ তামিম ও জুবইয়ান গোত্র যখন বনু আমেরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল এবং আমিরিদের বিজয়ের ফলে তামিম গোত্রে নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছিল, তখন তারা এই মাথার খুলিগুলো (জামাজিম) দিয়ে এই মঠটি নির্মাণ করেছিল। আমার মতে তার এ বক্তব্যটি সঠিক নয়, সম্ভবত এটি কালবির নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ এই বক্তব্যটি তার কাছে যুক্তিহীন মনে হওয়ার কথা, আর এর অসারতার বড় প্রমাণ হলো আমিরিদের সাথে তাদের শত্রুদের যুদ্ধ হয়েছিল নজদে, আর কুফা থেকে নজদের দূরত্ব অনেক। সম্ভবত এই বিষয়ে সঠিক তথ্য হলো যা বালাজুরি কালবির সূত্রে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: বিলাল বিন মুহরিজ আল-ইইয়াদি পারস্যের একদল লোককে হত্যা করেছিলেন এবং তাদের মাথাগুলো কুফার নিকটবর্তী এক স্থানে একত্রিত করেছিলেন, ফলে সেই স্থানটি 'দাইরুল জামাজিম' নামে পরিচিত হয়।

আমি কালবির ‘আনসাবুল মাওয়াদি’ (স্থানসমূহের বংশপরিচয়) গ্রন্থে পড়েছি যে, পারস্য সম্রাট কিসরা ইইয়াদ গোত্রের একদলকে হত্যা করেছিলেন এবং তাদের অনেককে তার রাজ্য থেকে দূরে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাদের কিছু অংশ ইরাকের সাওয়াদ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। কিসরা তাদের খবর জানতে পেরে তাদের হত্যার জন্য তার এক হাজার অশ্বারোহী সৈন্য প্রেরণ করেন। তখন ইইয়াদ গোত্রের এক ব্যক্তি কিসরার কাছে গিয়ে সংবাদ দেয় এবং তাকে বিভ্রান্ত করে যে সে তাদের ধরিয়ে দেবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে তার গোত্রকে প্রকৃত ঘটনা জানিয়ে দেয়। ফলে তারা অতর্কিতে আক্রমণ করে অশ্বারোহীদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত নিঃশেষ করে দেয় এবং তাদের মাথার খুলিগুলো একটি গম্বুজের মধ্যে স্তূপ করে রাখে। কিসরা যখন এটি জানতে পারলেন, তখন তিনি সেই স্থান পর্যন্ত গেলেন এবং অত্যন্ত শোকাতুর হলেন। এরপর তিনি সেখানে একটি মঠ নির্মাণের আদেশ দেন, যার নাম রাখা হয় দাইরুল জামাজিম।

আর এই দাইরুল জামাজিমেই হাজ্জাজ এবং আবদুর রহমান ইবনুল আশ'আসের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্যকারী ক্বারীদের (কুরআন পাঠকদের) মধ্যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। জারির এই যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে ফরাজদাককে বিদ্রূপ করে বলেন:

মনে হয় তুমি লাকিত এবং মালিকের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলে না... আর আমর ইবনে আমরের যুদ্ধেও না, যখন তারা চিৎকার করে বলছিল: হে দারিম গোত্রীয়রা!

আর তুমি উপস্থিত ছিলে না জাওনায়ান এবং সাফা নামক গিরিপথের যুদ্ধে... এবং দাইরুল জামাজিমের দিন কায়েস গোত্রের সেই বীরত্বপূর্ণ আক্রমণের সময়ও।

জাওনায়ান হলেন মুয়াবিয়া ও হাসসান, যারা আল-জাওন আল-কিনদির দুই পুত্র; তারা দাইরুল জামাজিমের যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন।

বলা হয় যে, হাসসান বিন জাওন নিহত হন এবং তার ভাই মুয়াবিয়াকে মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত করা হয়।

৬৭. দাইরুল জামজা: জিম বর্ণে পেশ এবং মিম বর্ণে সাকিন, এরপর জাই বর্ণে জবর এবং শেষে হা। এই মঠের কথা আমি শুনেছি, কিন্তু এর সঠিক অবস্থান আমার জানা নেই।

৬৮. [দাইরুল জুদি: জিম বর্ণে পেশ, ওয়াও বর্ণে সাকিন এবং শেষে ইয়া বর্ণে তাশদিদ; আ'মাশ-এর ক্বিরাত অনুযায়ী ইয়া বর্ণকে হালকা উচ্চারণ করা যেতে পারে।]

জুদি হলো সেই পাহাড় যেখানে মহাপ্লাবনের পর নূহ আলাইহিস সালামের নৌকা স্থির হয়েছিল, আমি অভিধানে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।

জুদি এবং জাজিরাত ইবনে উমরের মধ্যবর্তী দূরত্ব সাত ফারসাখ। দাইরুল জুদি প্রাচীনকাল থেকেই পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত। বলা হয় যে, এটি নূহ আলাইহিস সালামের আমল থেকে নির্মিত এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি তার আদি রূপেই বিদ্যমান।

বলা হয় যে, এই মঠের একটি আশ্চর্য বিষয় হলো, এর ছাদ যখন হাত দিয়ে মাপা হয়, তখন তা বিশ হাত হয়। দ্বিতীয়বার মাপলে তা আঠারো হাত হয়, আবার তৃতীয়বার মাপলে বাইশ হাত হয়। এভাবে প্রতিবার মাপের সময় এর পরিমাপ ভিন্ন হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি, এরপর দ্বিতীয় খণ্ড যার শুরু হলো: ৬৯. দাইর হাফির: ৬৯. দাইর হাফির: এটি হা, আলিফ এবং ফা-এ যের এবং শেষে রা বর্ণ দিয়ে গঠিত।

হাফির হলো একটি গ্রাম যা হালাব (আলেপ্পো) এবং বালিসের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, আর এই মঠটি সেই গ্রামের নামেই পরিচিত। আল-রা'ই সেই গ্রাম সম্পর্কে তার কবিতায় বলেছেন:

তুমি আমাদের কাছে হাইফ এবং হাফিরের পর্বত অতিক্রম করে রাতে পৌঁছেছ; তোমার কাছ থেকে হাইফ এবং হাফির কতই না দূরে!

আল-কায়সারানি এই মঠ সম্পর্কে তার কবিতায় বলেছেন:

হায়! বালিস কত মুসাফিরের মাধ্যমে তার গন্তব্যে পৌঁছেছে... এবং হে দাইর হাফির! তুমি কত পথচারীর পা রক্তাক্ত করেছ!

৭০. দাইরুল হানাত: এটি হানা ও হানুত শব্দের বহুবচন, যা মদ্য বিক্রির স্থানকে বোঝায়।

এই মঠটি দাইরুল জাসালিকের কাছে মাসকিনের পাশেই অবস্থিত। সেখানে ইরাকের সৈন্যদের নিয়ে মুসআবের বাহিনী এবং সিরিয়ার সৈন্যদের নিয়ে আবদুল মালিকের বাহিনী মুখোমুখি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মুসআব ইবনুল জুবায়েরের সৈন্যরা তাকে ছেড়ে চলে যায় এবং তাকে একা ফেলে দেয়, ফলে দাইরুল জাসালিকের কাছে তাকে হত্যা করা হয়, যা আমি আগে উল্লেখ করেছি।

৭১. দাইর হাবিব: আমি এর অবস্থান জানি না, তবে আল-জা'দির কবিতায় এর নাম শুনেছি। তিনি বলেছেন:

বাতাস যখন মৃদুভাবে উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে জিজ্ঞেস করো—দাইর হাবিবের সাথে তার শেষ সাক্ষাৎ কবে হয়েছিল?

৭২. দাইরুল হাবিস: এটি বাগদাদের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকা। আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-আরজানির কবিতায় এটি উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন:

হায়! যদি আমি আর আমার আকাঙ্ক্ষাগুলো দীর্ঘকালের মূর্খতা, পথভ্রষ্টতা, আনন্দ আর গান হতো!

এক দিন আম্মার নামক স্থানে তোমার সাথে আমার দেখা হতো... এবং দাইরুল হাবিসে হতো আমাদের সেই মিলন।

তখন সূর্যের প্রতিদ্বন্দ্বী সুন্দরী দোদুল্যমান গতিতে তোমার কাছে আসত... মনে হতো যেন তাকে দেখাটা একটা ভ্রম মাত্র।

তার স্বাদ কতই না সুস্বাদু এবং তার সুবাস কতই না পবিত্র... সমস্ত গৌরব আর নারীত্বের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তারই।

৭৩. দাইর হারজাহ্: তিনটি বর্ণেই জবর। হারজাহ্ মূলত এমন স্থান যেখানে প্রচুর গাছপালা থাকে এবং গবাদি পশু সেখানে পৌঁছাতে পারে না। আর হারাজ মানে হলো সংকীর্ণতা। হারাজুস সদর অর্থ হলো অন্তরের সংকীর্ণতা। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: (সুতরাং তোমার অন্তরে যেন এটি নিয়ে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে), অর্থাৎ কোনো কষ্ট বা দ্বিধা না থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-খাযলু ওয়াদ-দালু বাইনাদ-দুওয়ারি ওয়াল-দারাত ওয়াদ-দীরাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ودير حرجة بصعيد مصر، في شرقي قوص، وهو بكورة صغيرة هناك بصعيد مصر الأعلى. تسمى حرجة، أضيف الدير إليها، وعنده قرية من قرى الكورة تسمى العباسية، وربما أضيف هذا الدير إليها، فقيل: دير العباسية.

74 دير حرقة: بضم الحاء المهملة وفتح الراء المهملة والقاف، وبعدها هاء.

ينسب هذا الدير إلى حرقة بنت النعمان بن المنذر.

قال:

أقسمُ بالله نسلمُ الحلقة … ولا حريقاً وأختهُ الحرقهْ

وحريق أخو الحرقة، وهما ابنا للنعمان.

ولا أعرف موضع هذا الدير.

75 دير حرملة: بفتح الحاء المهملة وإسكان الراء المهملة ثم ميم فلام مفتوحتان، وآخره هاء.

وهذا الدير بالشام.

76 دير الحريق: وهو دير قديم بالحيرة، سمي بذلك لأنه أحرق قوم في موضع هذا الدير ودفن فيه قوم من أهليهم، فعمل ذلك الموضع ديراً.

ووجدته بخط ابن حمدون بالخاء المعجمة في الشعر والترجمة.

وفيه يقول الثرواني:

ديرُ الخريقُ، فبيعةُ المزعوقِ … بين الغديرِ، فقبةُ السنيقِ

أشهى إليّ من الصّراةِ ودورها … عندَ الصباحِ، ومن رحى البطريقِ

فاغدوا نباكرْ من ذخائرِ عتبةِ ال? … ?خمّار، من صافي الدنانِ رحيقِ

يا صاحِ، واجتنبِ الملامَ، أما ترى … سمجاً ملامكَ لي، وأنتَ صديقي

77 دير حزقيال: قال أبو الفرج: حدثني جعفر بن قدامة، قال: حدثني شريح الخزاعي: اجتزت بدير حزقيال، فبينما أنا أدور فيه، إذا بكتابة في سطرين مكتوبين على أسطوانة، فقرأتهما، فإذا فيهما:

ربَّ ليلٍ أمدَّ من نفسِ العا … شقِ طولاً قطعتهُ بانتحابِ

ونعيمٍ كوصلِ منْ كنت أهوى … قدْ تبدَّلته ببؤسِ العتاب

نسبوني إلى الجنونِ ليفوا … ما بقلبي منْ صبوةٍ واكتئابِ

ليت بي ما أدعوه من فقدِ عقلي … فهو خيرٌ من طولِ هذا العذابِ

وتحته مكتوب: هويت فمنعت، وشردت وطردت وفرق بيني وبين الوطن، وحجبت عن الألف والسكن، وحبست في هذا الدير ظلماً وعدواناً، وصفدت في الحديد زماناً.

 

وإنّي على ما نابني وأصابني … لذو مرّةٍ، باقٍ على الحدثانِ

فإن تعقبِ الأيام أظفرْ بحاجتي … وإنْ أبقَ مرمياً بيَ الرّجوان

فكمْ ميّتٍ هماً بغيظٍ وحسرةٍ … صبورٍ بما يأتي بهِ الملوانِ

هو الحبُّ أفنى كلَّ خلقٍ بجورهِ … فديماً، ويفنى بعدي الثّقلانِ

قال: فدعوت برقعة، وكتبت ذلك، وسألت عن سجين الدير، فقالوا: إنه رجل هوي ابنة عم له، فحبسه أبوها في هذا الدير، خوفاً من أن تفضح ابنته، وعزم على حمل الفتى إلى السلطان، ثم مات العم، فجاء أهله، فأخرجوه من الدير ثم زوجوه ابنة عمه فورث مال أبيها.

78 دير حشيان: بالحاء المهملة المفتوحة، والشين المعجمة الساكنة وياء مثناه من تحت، وألف، وبآخره نون.

وهو بنواحي حلب، ذكره حمدان بن عبد الرحيم في شعر له، فقال:

يا لهفَ نفسيَ مما أكابدهُ … إنْ لاحَ برقٌ من ديرِ حشيانِ

وإنْ بدتْ نفحةٌ من الجانب ال? … ?غربيِّ فاضتْ غرب أجفاني

وما سمعت الحمام في فننٍ … إلاّ وخلتُ الحمامَ فاجأني

وما اعتضتُ مذْ غبت عنكم بدلاً … وحاشا وكلاّ، ما الغدرُ من شاني

كيف سلوِّي أرضاً نعمتُ بها … أمْ كيف أنسى أهلي وجيراني؟!

لا جلّقٌ رقنَ لي معالمها … ولا أطّبتنيَ أنهار بطنانِ

ولا ازدهتني في منبجٍ فرصٌ … راقتْ لغيريَ من آلِ حمدانِ

لكنْ زمانيَ بالجزرِ أذكرني … طيبَ زماني به، فأبكاني

79 دير الحمار: هو اسم آخر ل"دير باطا"، وقد ذكرته في ديرة الباء.

80 دير حميم: هو من قولهم: ماء من قولهم: ماء حميم، أي حار ودير حميم: موضع بالأهواز، جاء في شعر قطري بن الفجاءة:

أصيبَ بدولابٍ، ولم تك موطناً … له أرض دولابٍ وديرُ حميمِ

81 دير حنظلة الطائي: بنواحي الجزيرة بالقرب من شاطئ الفرات، ومن الجانب الشرقي له. وهو دير معروف، حسن، نزه، كثير الشجر والرياض بين (الدالية) و (البسنا) ، أسفل من رحبة مالك بن طوق.
মিসরের সাইদ অঞ্চলে কুস শহরের পূর্ব দিকে দাইর হারজা অবস্থিত। এটি উচ্চ মিসরের একটি ছোট প্রশাসনিক জেলা। একে হারজা বলা হয় এবং এই মঠটি তার নামেই নামাঙ্কিত। সেখানে আব্বাসিয়া নামক একটি গ্রাম আছে, মাঝে মাঝে এই মঠটিকে সেই গ্রামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে 'দাইর আব্বাসিয়া' বলা হয়।

৭৪ দাইর হারকা: হা বর্ণের উপর পেশ, রা বর্ণের উপর যবর এবং কাফ বর্ণ দিয়ে গঠিত, এরপর একটি হা রয়েছে।

এই মঠটি নুমান ইবনে মুনযিরের কন্যা হারকার নামে পরিচিত।

কবি বলেছেন:

আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আমরা আমাদের বর্ম সমর্পণ করব … না হারিককে, আর না তার বোন হারকাকে

হারিক হলো হারকার ভাই এবং তারা দুজনেই নুমানের সন্তান।

আমি এই মঠটির অবস্থান জানি না।

৭৫ দাইর হারমালা: হা বর্ণের উপর যবর, রা বর্ণের উপর সাকিন, এরপর মীম এবং লাম বর্ণের উপর যবর দিয়ে গঠিত এবং শেষে একটি হা রয়েছে।

এই মঠটি শাম দেশে অবস্থিত।

৭৬ দাইর আল-হারিক: এটি হীরা অঞ্চলের একটি প্রাচীন মঠ। এর নাম এমন হওয়ার কারণ হলো, এই মঠের স্থানে একদল লোককে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল এবং তাদের পরিবারের লোকজনকেও সেখানে সমাহিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই স্থানটিতে একটি মঠ নির্মাণ করা হয়।

আমি ইবনে হামদুনের হস্তলিপিতে কবিতা ও জীবনীর বর্ণনায় একে 'খ' বর্ণ দিয়ে 'দাইর আল-খারিক' হিসেবে পেয়েছি।

এ প্রসঙ্গে আস-সারওয়ানি বলেন:

দাইর আল-খারিক এবং আল-মাযঊকের গির্জা … গাদীর ও সুন্নায়িকের গম্বুজের মাঝে অবস্থিত

সকালের সময় সারিহ নদী ও তার তীরবর্তী গৃহসমূহ … এবং বাতরিকের যাতা অপেক্ষা এটি আমার কাছে অধিক প্রিয়

প্রাতঃকালে আমরা উত্বাহর শুঁড়িখানার ভাণ্ডার থেকে … স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ সুরা পান করতে যাই

হে বন্ধু, তিরস্কার বর্জন করো, তুমি কি দেখছ না যে … তোমার তিরস্কার আমার কাছে কুরুচিপূর্ণ, অথচ তুমি আমার বন্ধু

৭৭ দাইর হিযকিয়াল: আবু আল-ফারাজ বলেন: জাফর ইবনে কুদামা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: শুরাইহ আল-খুযায়ি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি দাইর হিযকিয়াল অতিক্রম করছিলাম। আমি যখন সেখানে ঘুরছিলাম, তখন একটি স্তম্ভের উপর দুই লাইনের একটি লেখা দেখতে পেলাম। আমি তা পাঠ করলাম এবং সেখানে লেখা ছিল:

কত রাত যে প্রেমিকের দীর্ঘশ্বাসের চেয়েও দীর্ঘতর … আমি তা কান্নায় কাটিয়েছি

যার সান্নিধ্য আমি কামনা করতাম সেই সুখ এখন … কঠোর তিরস্কারের কষ্টে পরিবর্তিত হয়েছে

তারা আমাকে উন্মাদ বলে আখ্যায়িত করেছে, যেন তারা আমার হৃদয়ের … ব্যাকুলতা ও বিষণ্ণতাকে পূর্ণতা দিতে পারে

আমি যার দাবি করি, সেই মস্তিষ্ক বিকৃতি যদি সত্যিই হতো … তবে তা এই দীর্ঘ যন্ত্রণার চেয়ে উত্তম হতো

তার নিচে লেখা ছিল: আমি ভালোবেসেছিলাম কিন্তু বঞ্চিত হয়েছি, আমাকে ঘরছাড়া ও বিতাড়িত করা হয়েছে, আমার ও স্বদেশের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়েছে, প্রিয়জন ও আশ্রয় থেকে আমাকে দূরে রাখা হয়েছে এবং এই মঠে অন্যায় ও অবাধ্যতা স্বরূপ আমাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং দীর্ঘকাল লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখা হয়েছে।

 

আমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা সত্ত্বেও আমি … ধৈর্যশীল এবং কালের কঠিন পরীক্ষায় অটল

যদি দিনগুলো সহায় হয় তবে আমি আমার অভীষ্ট অর্জন করব … আর যদি আমি এভাবেই পরিত্যক্ত থাকি তবে তাই সই

কত মানুষ দুঃখ-ক্ষোভ ও অনুতাপে মৃতপ্রায় … যারা দিবা-রাত্রির পরিক্রমায় আসা বিপদসমূহে ধৈর্য ধারণ করে

ভালোবাসাই তো তার অন্যায়ের মাধ্যমে প্রাচীনকাল থেকে সকল সৃষ্টিকে ধ্বংস করেছে … আর আমার পরে মানব ও দানব উভয় জাতিকেও এটি নিঃশেষ করবে

তিনি বলেন: তারপর আমি একটি চিরকুট আনলাম এবং তা লিখে নিলাম। আমি মঠের বন্দি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা বলল: সে এক ব্যক্তি যে তার চাচাতো বোনকে ভালোবাসত। তার চাচা তার মেয়ের লোকলজ্জার ভয়ে তাকে এই মঠে বন্দি করে রেখেছিল এবং যুবকটিকে সুলতানের কাছে সোপর্দ করার সংকল্প করেছিল। অতঃপর চাচা মারা গেলে তার পরিবার আসে এবং তাকে মঠ থেকে মুক্ত করে তার চাচাতো বোনের সাথে বিয়ে দেয়। ফলে সে তার চাচার সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়।

৭৮ দাইর হাশইয়ান: হা বর্ণের উপর যবর, শীন বর্ণে সাকিন এবং এরপর ইয়া ও আলিফ এবং শেষে নূন রয়েছে।

এটি আলেপ্পো অঞ্চলের নিকটবর্তী। হামদান ইবনে আব্দুল রাহিম তার একটি কবিতায় এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন:

হায়! আমার প্রাণ যে যন্ত্রণায় ভুগছে … যদি দাইর হাশইয়ান থেকে বিজলি চমকায়

যদি পশ্চিম দিক থেকে বাতাসের ঝাপটা আসে … তবে আমার চোখের পাতা ভিজে অশ্রু প্রবাহিত হয়

আমি কোনো ডালে কপোতের ডাক শুনলেই … মনে করি যেন মৃত্যু আমাকে আকস্মিক আক্রমণ করেছে

তোমাদের থেকে দূরে থাকার পর থেকে আমি অন্য কাউকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করিনি … কখনোই না, কারণ বিশ্বাসঘাতকতা আমার স্বভাব নয়

আমি কীভাবে সেই ভূমিকে ভুলে থাকব যেখানে আমি সুখে ছিলাম … অথবা কীভাবে আমি আমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভুলে যাব?!

দামেস্কের চিহ্নগুলো আমার কাছে মনোমুগ্ধকর লাগেনি … আর বাতলানের নদীগুলো আমাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি

মানবিজের সুযোগগুলোও আমাকে গর্বিত করেনি … যা আলে হামদান পরিবারের অন্যদের কাছে পছন্দনীয় ছিল

কিন্তু সময় আমাকে জাজর অঞ্চলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে … সেখানকার সুন্দর সময়ের স্মৃতি আমাকে কাঁদিয়েছে

৭৯ দাইর আল-হিমার: এটি 'দাইর বাতা'-এর অন্য নাম, যা আমি 'বা' বর্ণের অধীনে মঠসমূহের আলোচনায় উল্লেখ করেছি।

৮০ দাইর حمিম: এটি তাদের প্রবাদ 'মাউন حمিম' (উষ্ণ পানি) থেকে এসেছে। দাইর حمিম আহওয়াজ অঞ্চলের একটি স্থান। কাতারি ইবনে আল-ফুজাআ-এর কবিতায় এসেছে:

দুলাব নামক স্থানে সে বিপদগ্রস্ত হয়েছে, অথচ দুলাব ও দাইর حمিম … তার স্থায়ী আবাস ছিল না

৮১ দাইর হানজালা আত-তায়ি: এটি জাজিরা অঞ্চলের অন্তর্গত ফোরাত নদীর তীরের নিকটে এবং তার পূর্ব দিকে অবস্থিত। এটি একটি সুপরিচিত, সুন্দর ও মনোরম মঠ। দালিয়া ও বিসনা অঞ্চলের মাঝামাঝি এবং মালিক ইবনে তওকের রাহবার নিম্নভাগে অনেক গাছপালা ও উদ্যানবেষ্টিত স্থানে এটি অবস্থিত।