(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
تصويبات في فهم بعض الآيات (صلاح الخالدي)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: تصويبات في فهم بعض الآيات
المؤلف: د صلاح عبد الفتاح الخالدي
الناشر: دار القلم - دمشق
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م
عدد الصفحات: 250
أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مقابل]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ربيع الأول 1432
কতিপয় আয়াত অনুধাবনের ক্ষেত্রে কিছু সংশোধন (সালাহ আল-খালিদি)
বিভাগ: কুরআনের বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতিসমূহ (أصول التفسير)
বই: কতিপয় আয়াত অনুধাবনের ক্ষেত্রে কিছু সংশোধন
লেখক: ড. সালাহ আব্দুল ফাত্তাহ আল-খালিদি
প্রকাশক: দার আল-কালাম - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫০
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইবরাহিম হাসানাইন
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি যাচাইকৃত (مقابل)]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৪)
ـ[تصويبات في فهم بعض الآيات]ـالمؤلف: د صلاح عبد الفتاح الخالديالناشر: دار القلم - دمشقالطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 معدد الأجزاء: 1أعده للشاملة/ أبو إبراهيم حسانين[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مقابل]
ـ[কতিপয় আয়াতের অনুধাবনে সংশোধনসমূহ]ـলেখক: ড. সালাহ আব্দুল ফাত্তাহ আল-খালিদিপ্রকাশক: দার আল-কালাম - দামেস্কসংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দখণ্ডের সংখ্যা: ১শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন/ আবু ইবরাহিম হাসনাইন[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এটি মূল কপির বিপরীতে যাচাইকৃত]
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم مقدمةبسم الله الرحمن الرحيمإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلوات الله وسلامه عليه، وعلى آله وصحبه.أما بعدفنقدم للقراء الكرام كتابنا الرابع من هذه السلسلة التي خصصناها للقرآن وموضوعاته ومصطلحاته، وعلومه وكنوزه: " من كنوز القرآن ".وقد اخترنا أن يكون موضوع هذا الكتاب هو تصحيح أفهام بعض المسلمين لآياتٍ من القرآن، فهموها فهماً خاطئاً، وفسروها تفسيراً مرفوضاً، واستدلوا بها على أشياء خاطئة باطلة، واستخرجوا منها دلالات غير مقبولة، فحرَّفوا بذلك معانيها، وعطَّلوا وظيفتها، وجعلنا عنوان الكتاب " تصويبات في فهم بعض الآيات".القرآن الكريم كتاب هداية، وهو روحٌ وحياة، وهو نورٌ وضياء، وهو شفاءٌ ودواء، وهو دستورٌ ومنهاج، إنه كتاب العقيدة والِإيمان، وكتاب العبادة والطاعة، وكتاب الفقه والأحكام، وكتاب الدعوة والحركة، وكتاب الجهاد والمواجهة.إنه كتاب المسلمين الأول والأخير، إنه دستورهم ومنهاجهم وقائدهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবৃন্দের ওপর বর্ষিত হোক।অতঃপরআমরা সম্মানিত পাঠকদের সম্মুখে এই সিরিজের চতুর্থ গ্রন্থটি পেশ করছি, যা আমরা কুরআন এবং এর বিষয়বস্তু, পরিভাষা (مصطلحات), উলুম (علوم) ও এর জ্ঞানভাণ্ডারের জন্য উৎসর্গ করেছি: "কুরআনের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে"।আমরা এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হিসেবে কুরআনের কিছু আয়াতের ক্ষেত্রে কতিপয় মুসলিমের অনুধাবনকে সংশোধন করাকে বেছে নিয়েছি; যা তারা ভুলভাবে বুঝেছে, বর্জনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেছে, সেগুলো দ্বারা ভ্রান্ত ও বাতিল বিষয়ের ওপর দলিল পেশ করেছে এবং সেগুলো থেকে অগ্রহণযোগ্য অর্থ বের করেছে। এর মাধ্যমে তারা আয়াতের মর্ম বিকৃত করেছে এবং এর সঠিক কার্যকারিতা নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। আমরা গ্রন্থটির শিরোনাম দিয়েছি "কিছু আয়াতের অনুধাবনে সংশোধনী"।পবিত্র কুরআন হলো হেদায়েতের কিতাব, এটি রুহ ও জীবন, এটি নূর ও আলো, এটি শেফা ও ঔষধ, এটি একটি বিধান ও জীবনপদ্ধতি। এটি আকিদাহ ও ঈমানের কিতাব, ইবাদত ও আনুগত্যের কিতাব, ফিকহ ও আহকামের (أحكام) কিতাব, দাওয়াত ও আন্দোলনের কিতাব এবং জিহাদ ও প্রতিরোধের কিতাব।এটি মুসলিমদের আদি ও অন্ত কিতাব; এটি তাদের সংবিধান, জীবনপদ্ধতি এবং তাদের পথপ্রদর্শক।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬)
ورائدهم، وإن له مهمةً عمليةً حركيةً واقعيةً في حياة المسلمين، وهو قادرٌ بإذن الله على أدائها وتحقيقها، إذا أقبل المسلمون عليه بصدقٍ وجدِّيةٍ وعزيمة، وتربوا عليه بإخلاصٍ ومجاهدة، وتحركوا به بثباتٍ ووعي، وجاهدوا الجاهلية به بجرأةٍ وشجاعة، لقد أقبل الصحابة الكرام عليه هذا الإقبال، فأدَّى مهمته خير أداء.وآيات القرآن الكريم تعرض حقائق منوعة، وتقرر بدهيات مختلفة، وتقدم مفاهيم قرآنية أصيلة صادقة. ما أكثر المفاهيم القرآنية التي تقدمها الآيات، وما أصدقها وأوفاها وأشملها وأعظمها.وقد ظهرت في هذا الزمان ظواهر غريبةٌ في حياة المسلمين وبلادهم، حيث انتشر الجهل في طبقاتٍ من المسلمين، وهو عميقٌ مُطْبِقٌ مركب، الجهل بالإسلام وتشريعاته، وبالقرآن ومفاهيمه ومبادئه وحقائقه. كثيرٌ من المسلمين يجهلون معاني آيات القرآن ولا يعرفون الدلالات الصائبة التي تؤخذ منها، فإذا فسرْتَ لهم آية أو آيات، وعرضتَ عليهم مفاهيمها ودلالاتها استغربوا مما يسمعون، وانقسموا ما بين مصدقٍ وهو مصفق، ومكذبٍ وهو معرض.ويا ليت بعض هؤلاء اكتفوا بعدم معرفتهم بمعاني الآيات، وطلبوا تفسيرها بهمَّةٍ وموضوعيةٍ وأصالة، إذن لاستفادوا وأفادوا. لكنهم حملوا جهلهم بالقرآن ومفاهيمه، واتجهوا صوب آياته، يفسرونها على أمزجتهم وأهوائهم وميولهم وثقافاتهم. فجاء تفسيرهم لها وعَرْضهم لمفاهيمها وبيانهم لمعانيها، ثمرة جهلهم المركب، ومزاجيتهم المرفوضة.كم سمعنا، وقرأنا، ونُقل لنا، من كلام هؤلاء حول الآيات، وتحريفهم لمعانيها، وتغييرهم لمفاهيمها، واستنتاجهم الباطل منها.ولقد ساءنا - عَلِمَ الله - هذا التهجم على كتاب الله، والقول فيه بدون
...এবং তাঁদের পথপ্রদর্শক। মুসলমানদের জীবনে এর একটি বাস্তবধর্মী, কর্মমুখী ও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় এটি সেই ভূমিকা পালনে এবং লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম, যদি মুসলমানরা সততা, ঐকান্তিকতা ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এর প্রতি ধাবিত হয়, ইখলাস ও কঠোর সাধনার মাধ্যমে এর আলোকে গড়ে ওঠে, দৃঢ়তা ও সচেতনতার সাথে এর দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সাহস ও বীরত্বের সাথে এর মাধ্যমে জাহিলিয়াতের মোকাবিলা করে। সম্মানিত সাহাবীগণ এর প্রতি এভাবেই নিবিষ্ট হয়েছিলেন, ফলে এটি তার দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছিল।কুরআনুল কারীমের আয়াতসমূহ বিভিন্ন ধরণের সত্য তুলে ধরে, বিবিধ স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ প্রতিষ্ঠিত করে এবং খাঁটি ও সত্য কুরআনভিত্তিক ধারণা পেশ করে। এই আয়াতসমূহ কতই না বিচিত্র কুরআনভিত্তিক ধারণা উপস্থাপন করে! আর সেগুলো কতই না সত্য, পূর্ণাঙ্গ, ব্যাপক ও মহান।বর্তমান সময়ে মুসলমানদের জীবনে ও তাদের দেশগুলোতে কিছু অদ্ভুত লক্ষণের উদ্ভব ঘটেছে, যেখানে মুসলমানদের বিভিন্ন স্তরে অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়েছে। এই অজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর, সর্বব্যাপী ও জটিল (مركب)। এটি ইসলাম ও এর বিধানাবলি এবং কুরআন, এর ধারণা, মূলনীতি ও সত্যসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞতা। অনেক মুসলমান কুরআনের আয়াতের অর্থ জানেন না এবং সেগুলো থেকে উদ্ভূত সঠিক তাৎপর্য সম্পর্কেও অবগত নন। যখন আপনি তাদের কাছে কোনো আয়াত বা আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা করেন এবং সেগুলোর মর্মার্থ ও নিহিতার্থ তুলে ধরেন, তখন তারা যা শোনে তাতে বিস্মিত হয়। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়: একদল তা সত্য বলে গ্রহণ করে এবং সমর্থন জানায়, আর অন্যদল তা অস্বীকার করে বিমুখ হয়।আফসোস! এদের কেউ কেউ যদি আয়াতের অর্থ না জানার ওপরই ক্ষান্ত থাকত এবং অত্যন্ত আগ্রহ, বস্তুনিষ্ঠতা ও মৌলিকত্বের সাথে এর ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করত, তবে তারা নিজে উপকৃত হতো এবং অন্যদেরও উপকৃত করতে পারত। কিন্তু তারা কুরআন ও এর ধারণা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাকে সাথে নিয়েই এর আয়াতের দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং নিজেদের মর্জি, খেয়াল-খুশি, ঝোঁক ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে সেগুলোর ব্যাখ্যা করছে। ফলে তাদের সেই ব্যাখ্যা, ধারণা উপস্থাপন এবং অর্থের বর্ণনা তাদের জটিল (مركب) অজ্ঞতা ও অগ্রহণযোগ্য খামখেয়ালিপনারই ফসল হয়ে দাঁড়িয়েছে।আমরা এই লোকদের কাছ থেকে আয়াতের ব্যাপারে কত কথাই না শুনেছি, পড়েছি এবং আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে; যেখানে তারা আয়াতের অর্থের বিকৃতি ঘটিয়েছে, এর মর্মার্থ পরিবর্তন করেছে এবং তা থেকে ভ্রান্ত (باطل) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।আল্লাহর কিতাবের ওপর এই আক্রমণ এবং কোনো জ্ঞান ছাড়াই এতে মন্তব্য করা আমাদের ব্যথিত করেছে—আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭)
علمٍ ولا معرفةٍ ولا اتزان، والتطاول على مفاهيمه وحقائقه، وسوء الاستشهاد والاستنباط من آياته.كم من معاني القرآن أصبحت خافية في هذا الزمان، وكم من حقائق القرآن أصبحت غائمة، وكم من مفاهيم القرآن أصبحت مشوَّشة محرَّفة.لذلك خصصنا هذا الكتاب لتطاول بعضهم على كتاب الله، وتشويههم لمفاهيمه، وهدفنا منه هو أن نصوِّب لهؤلاء - ولمن يتأثر بهم - فهمهم للآيات، ونصحح لهم تفسيرهم لها، ونبين لهم المعاني الحقيقية التي توحي بها.بدأنا الكتاب بإشاراتٍ سريعةٍ إلى: وجوب تدبُّر القرآن، وكونه مُيَسرٌ للفهم والتدبر، والتحذير من القول في تفسيره بغير علم، وأقسام القرآن من حيث تفسيره.وتحدثنا عن أهم العلوم التي يحتاجها الناظر في القرآن والمتدبر لآياته، وأهم الآداب التي تلزمه مراعاتها أثناء ذلك. كما تحدثنا عن المعوقات التي تعيق الناظر في القرآن عن حسن فهمه وتدبره، والوقوف على معانيه ومفاهيمه وحقائقه.وانتقلنا بعد ذلك إلى عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، باعتباره أميناً على حسن الفهم للقرآن، وموضِّحاً للصحابة ما غمض عليهم من معانيه، ومصوِّباً له بعض أخطاءٍ وقعوا فيها - بدون قصد - مقدِّماً المعاني الصحيحة لها، وأوردنا ستة نماذج من تصويباته في ذلك، كما نقلتها كتب الحديث.ثم وقفنا مع صحابة رسول الله عليه الصلاة والسلام، باعتبارهم أُمناء على حسن فهم القرآن، وأوردنا اثني عشر مثالاً لتصويباتهم في معاني الآيات، أو تصحيحاتهم لأخطاء وقع بها آخرون، وهم ينظرون في الآيات.
জ্ঞান, প্রজ্ঞা কিংবা ভারসাম্যহীনতা এবং এর ধারণা ও সত্যের ওপর অনধিকার চর্চা, আর এর আয়াতসমূহ থেকে ভুল উদ্ধৃতি প্রদান ও ভুল ইস্তিনবাত (استنباط) করা।বর্তমান যুগে কুরআনের কতই না অর্থ অপ্রকাশিত হয়ে পড়েছে, কতই না সত্য ঝাপসা হয়ে গিয়েছে এবং কুরআনের কত শত ধারণা বিভ্রান্ত ও বিকৃত (محرفة) হয়ে গিয়েছে।এই কারণেই আমরা এই কিতাবটি নির্দিষ্ট করেছি আল্লাহর কিতাবের ওপর কিছু মানুষের অনধিকার চর্চা এবং এর ধারণাসমূহের বিকৃতিরোধে। আমাদের লক্ষ্য হলো তাদের এবং যারা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের আয়াতসমূহ বোঝার ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা, তাদের নিকট এর তাফসির (تفسير) সংশোধন করা এবং এর মাধ্যমে নির্দেশিত প্রকৃত অর্থসমূহকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা।আমরা কিতাবটি শুরু করেছি কিছু সংক্ষিপ্ত ইশারার মাধ্যমে: কুরআন নিয়ে তাদাব্বুর (تدبر) করার আবশ্যকতা, অনুধাবন ও গবেষণার জন্য এটি সহজসাধ্য হওয়া, জ্ঞানহীনভাবে এর তাফসির (تفسير) করার ব্যাপারে সতর্কতা এবং তাফসিরের (تفسير) দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের প্রকারভেদ।আর আমরা সেই সকল গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছি যা একজন কুরআন পাঠক এবং এর আয়াতসমূহের ওপর গবেষণাকারীর প্রয়োজন হয়, আর সেই সকল শিষ্টাচার যা এ সময় তার মেনে চলা আবশ্যক। একইভাবে আমরা সেই প্রতিবন্ধকসমূহ নিয়েও কথা বলেছি যা একজন কুরআন পাঠককে এর সঠিক অনুধাবন, তাদাব্বুর (تدبر) এবং এর অর্থ, মূল ধারণা ও সত্য উপলব্ধি করতে বাধা প্রদান করে।এরপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে উপনীত হয়েছি, কারণ তিনি কুরআনের সঠিক অনুধাবনের ক্ষেত্রে আমানতদার ছিলেন, এবং সাহাবায়ে কিরামের (صحابة) নিকট এর অর্থের যা অস্পষ্ট ছিল তা তিনি স্পষ্টকারী এবং তাদের পক্ষ থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে হওয়া ভুলসমূহের সংশোধনী প্রদানকারী হিসেবে এর সঠিক মর্ম উপস্থাপন করেছেন। আমরা সেখানে তার করা সংশোধনীগুলোর ছয়টি নমুনা তুলে ধরেছি, যা হাদিসের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে।অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবায়ে কিরামের (صحابة) বিষয়ে আলোকপাত করেছি, কারণ তারাও কুরআনের সঠিক অনুধাবনের ক্ষেত্রে আমানতদার ছিলেন। আমরা আয়াতের অর্থগত বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে করা বারোটি সংশোধনীর উদাহরণ পেশ করেছি, অথবা অন্যদের করা ভুলগুলো তারা যেভাবে সংশোধন করেছেন যখন তারা আয়াতগুলো নিয়ে গবেষণা করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكان هدفنا من إيراد هذه الأمثلة من حياة الرسول عليه الصلاة والسلام وأصحابه، أن نُبين وجوب التصحيح والتصويب لكل فهمٍ خاطئٍ للقرآن، وتفسيرٍ مرفوضٍ لآياته، والرد على كل من قام بذلك، والإنكار عل كل من فعله.وخصصنا باقي الكتاب لتصحيح تفسير بعض المسلمين المعاصرين لآياتٍ من القرآن، ولتصويب فهمهم لها، واستدلالهم بها، واستشهادهم منها.لقد أوردنا ثلاثين آية ضلت أفهام بعضهم فيها، بحيث لم يفهموها فهماً صائباً، ولم يفسِّروها تفسيراً سليماً، فشوهوا مفاهيمها، وحرَّفوا معانيها، وضيَّعوا حقائقها، وأبطلوا دلالاتها، وخرجوا منها بعكس ما ألقته وقررته وأوحت به.وكانت موضوعات هذه الآيات مختلفة، ومفاهيمها متنوعة. فمنها آياتٌ في الإيمان والعقيدة، ومنها آياتٌ في الجهاد والمجاهدة، ومنها آياتٌ في الدعوة والعمل والحركة، ومنها آياتٌ في الاقتصاد والاجتماع والسياسة والتاريخ والأحوال الشخصية.ويجمع بين هذه الآيات: أنها كلها لها أبعادٌ واقعية، ومفاهيم حياتية، وقيمٌ مُعاشة، نعيشها في عصرنا عملياً.وحتى يكون فهمنا عن هذه الآيات صائباً، وتفسيرنا لها صحيحاً، وتصويبنا لكلام الآخرين عنها مقبولاً، اعتمدنا منهجاً محقِّقاً لكل هذا - بإذن الله -:1 - وقفنا أمام هذه الآيات وقفةً متجردة، ودخلنا عالمها بدون مقرراتٍ سابقة، وتلقينا منها مفاهيمها وحقائقها ومقرراتها.2 - أَطَلْنا النظر في الآيات، والوقفة أمامها، لتلقِّي ما تلقيه وتوحي به، وفعلنا ذلك من أجل دقة النظر وصحة الاستنتاج.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের জীবন থেকে এই উদাহরণগুলো পেশ করার পেছনে আমাদের লক্ষ্য ছিল কুরআনের প্রতিটি ভ্রান্ত উপলব্ধির সংশোধন (تصحيح) ও সঠিককরণের আবশ্যকতা স্পষ্ট করা, এবং এর আয়াতসমূহের প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مرفوض) ব্যাখ্যার অপনোদন করা, আর যারা তা করেছে তাদের প্রতিবাদ করা ও যারা এটি করে তাদের প্রতি অসম্মতি প্রকাশ করা।আমরা এই কিতাবের অবশিষ্ট অংশটি কুরআনের আয়াতসমূহ সম্পর্কে সমসাময়িক কিছু মুসলিমের ব্যাখ্যার সংশোধন (تصحيح), তাদের বুঝের সঠিককরণ, এবং তাদের দলীল গ্রহণ ও উদ্ধৃতি প্রদানের ভুল সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট করেছি।আমরা এখানে ত্রিশটি আয়াত উল্লেখ করেছি যেগুলোর ক্ষেত্রে কারো কারো উপলব্ধি বিচ্যুত হয়েছে; ফলে তারা সেগুলো সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি এবং সেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যাও প্রদান করতে পারেনি। তারা এগুলোর ধারণাকে বিকৃত করেছে, অর্থের পরিবর্তন ঘটিয়েছে, এর প্রকৃত সত্যকে বিলীন করেছে এবং এর নির্দেশনাসমূহকে বাতিল করেছে। এমনকি তারা আয়াতগুলো থেকে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যা আয়াতের মূল লক্ষ্য, সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত এবং বার্তার সম্পূর্ণ বিপরীত।এই আয়াতগুলোর বিষয়বস্তু ছিল ভিন্ন ভিন্ন এবং এগুলোর ধারণাও ছিল বৈচিত্র্যময়। এর মধ্যে কিছু আয়াত ঈমান ও আকিদাহ সংশ্লিষ্ট, কিছু জিহাদ ও মুজাহাদাহ বিষয়ক, কিছু আয়াত দাওয়াত, আমল ও আন্দোলন সম্পর্কিত, আবার কিছু আয়াত অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি, ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত।এই আয়াতগুলোর মধ্যে সাধারণ যোগসূত্র হলো: এগুলোর সবগুলোরই বাস্তবমুখী মাত্রা, জীবনঘনিষ্ঠ ধারণা এবং প্রায়োগিক মূল্যবোধ রয়েছে, যা আমরা বর্তমান যুগে ব্যবহারিকভাবে অনুভব করি।এই আয়াতগুলো সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি যেন সঠিক হয়, আমাদের ব্যাখ্যা যেন শুদ্ধ (صحيح) হয় এবং অন্যদের বক্তব্যের ওপর আমাদের সংশোধন যেন গ্রহণযোগ্য (مقبول) হয়, সেজন্য আমরা এই সবকিছুর জন্য —আল্লাহর ইচ্ছায়— একটি যাচাইকৃত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছি:1 - আমরা এই আয়াতগুলোর সামনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দাঁড়িয়েছি, কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা ছাড়াই এর জগতে প্রবেশ করেছি এবং এর থেকেই এর ধারণা, সত্যতা ও সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছি।2 - আয়াতগুলো কী বার্তা প্রদান করে এবং কী ইঙ্গিত করে তা গ্রহণের জন্য আমরা দীর্ঘক্ষণ সেগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি এবং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি; আর আমরা তা করেছি সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক উপসংহার বের করার স্বার্থে।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৯)
3 - حرصنا أن ننظر في آياتٍ أخرى بنفس موضوع الآية التي نقف أمامها، وجعلناها أمامنا بجانبها، واستخرجنا الدلالات من الآيات مجتمعة، وقدَّمنا مفاهيمها متكاملة، وهذا من باب تفسير القرآن بالقرآن الذي هو واجب على كل ناظرٍ في آياته.4 - اعتمدنا ما قاله الرسول صلى الله عليه وسلم في معنى الآية - إن وُجد - كما اعتمدنا أقوالاً للصحابة والتابعين في معناها كذلك.5 - نظرنا في أقوال مفسِّرين سابقين للآية، وأوردنا بعض كلامهم أحياناً، ليظهر لنا وللآخرين خطأ الأفهام المغلوطة للآية، ومخالفتها لكلام العلماء والثقات والمفسرين السابقين.6 - قررنا الفهم الذي نقضناه، والتفسير الذي رددناه، قررناه بصورةٍ أمينةٍ ودقيقةٍ وصحيحة، ولم نتقوَّل على أصحابه، ولم ننسب لهم ما لم يقولوه. واعتمدنا في هذا على ما قرأناه، أو سمعناه، أو نقله لنا ثقاتٌ صادقون.ولم نذكر القائلين بأعيانهم أو أسمائهم، حتى لا يكون اتهاماً للأشخاص، أو تجريحاً للأفراد، وحتى لا يتحول تصويبنا إلى خلافاتٍ شخصية، ولأنه لا يعنينا القائل، بل يعنينا القول ذاته، وإذا تم إبطال القول، حققنا الهدف وقمنا بالواجب إن شاء الله.فهذه التصويبات نقدمها للقراء الكرام، وقد نُتبعها بكتابٍ آخر، نقدِّم فيه مجموعاتٍ أخرى من التصويبات، وقد نوسِّع هذا الكتاب نفسه في طبعة تالية، فنضيف له آياتٍ حُرِّفت معانيها، ومفاهيم شوهت صورتها.ونرجو الله أن يكون تصحيحنا صحيحاً، وتصويبنا صائباً، وكلامنا مقبولاً، وتفسيرنا صادقاً. ونسأل الله أن يجعل القرآن الكريم ربيع قلوبنا، ونور
৩ - আমরা বর্তমানে যে আয়াতের সামনে দাঁড়িয়েছি, একই বিষয়ের অন্য আয়াতগুলো দেখার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি এবং সেগুলোকে এর পাশাপাশি রেখেছি। আমরা এই সমন্বিত আয়াতসমূহ থেকে অর্থ ও নির্দেশনা বের করেছি এবং সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ধারণা উপস্থাপন করেছি। এটি 'কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির' করার অন্তর্ভুক্ত, যা এর আয়াতসমূহ গবেষণাকারীর জন্য আবশ্যক।৪ - আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন—যদি পাওয়া যায়—আমরা তার ওপর নির্ভর করেছি। একইভাবে আমরা আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবিঈগণের বাণীর ওপরও নির্ভর করেছি।৫ - আমরা আয়াতের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মুফাসসিরগণের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করেছি এবং মাঝে মাঝে তাঁদের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছি, যাতে আমাদের ও অন্যদের কাছে আয়াতের ভুল ব্যাখ্যাগুলো স্পষ্ট হয় এবং পূর্ববর্তী আলেম, নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিবর্গ ও মুফাসসিরগণের বক্তব্যের সাথে সেগুলোর বৈপরীত্য প্রকাশিত হয়।৬ - আমরা যে বোধকে খণ্ডন করেছি এবং যে তাফসিরকে প্রত্যাখ্যান করেছি, তা অত্যন্ত বিশ্বস্ততা, সূক্ষ্মতা ও সঠিক (صحيح) পন্থায় বর্ণনা করেছি। আমরা প্রবক্তাদের ওপর কোনো মিথ্যা আরোপ করিনি এবং তাঁরা যা বলেননি তা তাঁদের প্রতি সম্বন্ধ করিনি। এ ক্ষেত্রে আমরা যা পাঠ করেছি, শ্রবণ করেছি অথবা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও সত্যবাদী (صادقون) ব্যক্তিবর্গ আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন, তার ওপর নির্ভর করেছি।আমরা প্রবক্তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় বা নাম উল্লেখ করিনি, যাতে এটি ব্যক্তিদের প্রতি কোনো অভিযোগ বা ব্যক্তিদের সমালোচনা (تجريح) করার পর্যায়ে না পড়ে এবং যাতে আমাদের এই সংশোধনী ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ না নেয়। কারণ প্রবক্তা কে সেটি আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং বক্তব্যটিই আমাদের লক্ষ্য। যদি বক্তব্যটি বাতিল করা সম্ভব হয়, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি এবং অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি।এই সংশোধনীগুলো আমরা সম্মানিত পাঠকদের সামনে পেশ করছি। হয়তো এর পরে আমরা অন্য একটি গ্রন্থ প্রকাশ করব, যেখানে আরও কিছু সংশোধনী পেশ করা হবে। অথবা পরবর্তী সংস্করণে আমরা এই গ্রন্থটিকেই আরও বিস্তৃত করব এবং এতে এমন সব আয়াত যুক্ত করব যেগুলোর অর্থ বিকৃত করা হয়েছে এবং এমন সব ধারণা যুক্ত করব যেগুলোর রূপ বিকৃত করা হয়েছে।আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন আমাদের সংশোধন সঠিক (صحيح) হয়, আমাদের সংস্কার নির্ভুল হয়, আমাদের কথা গ্রহণযোগ্য হয় এবং আমাদের ব্যাখ্যা সত্যনিষ্ঠ হয়। আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আল-কুরআনুল কারীমকে আমাদের অন্তরের বসন্ত এবং নূর বানিয়ে দেন।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১০)
صدورنا، وذهاب همومنا، وجلاء أحزاننا، وأن يعلِّمنا منه ما جهلنا، ويذكَرنا منه ما نُسِّينا، وأن يجعله حجة وشافعاً لنا يوم القيامة.وصلى الله على سيدنا محمد.صويلح: الاثنين 1/ 4 / 1407 هـ1/ 12 / 1986 مالدكتورصلاح عبد الفتاح الخالدي
...আমাদের বক্ষসমূহের প্রশান্তি, আমাদের দুশ্চিন্তা দূরকারী এবং আমাদের দুঃখ-বেদনা বিমোচনকারী বানান। আর এর থেকে যা আমরা জানি না তা যেন তিনি আমাদের শিক্ষা দেন এবং যা আমরা ভুলে গেছি তা যেন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন। আর একে কিয়ামতের দিন আমাদের জন্য প্রমাণ (حجة) ও সুপারিশকারী (شافع) হিসেবে কবুল করেন।এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর।সুয়াইলিহ: সোমবার ১/ ৪ / ১৪০৭ হিজরি১/ ১২ / ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দডক্টরসালাহ আব্দুল ফাত্তাহ আল-খালিদি
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১১)
وجوب تدبر القرآنأوجب الله على المسلمين تدبُر القرآن الكريم، وإمعان النظر في آياته، وإطالة الوقفة أمامها، والتزود بالعلوم الضرورية من أجل دقة النظر، وصوابية الفهم، وصحة النتائج والدلالات التي يخرج بها من القرآن.قال تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا}.وقال تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا}.وبيَّن لنا أنه أنزل الكتاب لنتدبر آياته، ونخرج من هذا بالفهم والعلم والذكر، وأن هذا التدبُّر وسيلة تكوين اللب الحي، والعلم النافع، والعقلية العلمية المنهجية الواعية، وأنه هو الذي يُنشِّط العقل وُيمرِّنه، وُيريِّضه الرياضة العلمية النافعة فقال: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ}.وتدبُّر القرآن لا ينتهي، فلو توافرت عليه كل العقول - المختلفة في ثقافاتها واهتماماتها - حتى قيام الساعة ما استَنفدَت علومَه ومعانيه ودلالاته
কুরআনের তাদাব্বুর (تدبر) বা গভীর অনুধাবনের আবশ্যকতাআল্লাহ মুসলিমদের ওপর পবিত্র কুরআনের তাদাব্বুর (تدبر) করা, এর আয়াতসমূহের প্রতি নিবিড় দৃষ্টিপাত করা, সেগুলোর সামনে দীর্ঘক্ষণ নিবিষ্ট থাকা এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, সঠিক উপলব্ধি ও কুরআন থেকে প্রাপ্ত ফলাফল ও নির্দেশনাসমূহের (دلالات) নির্ভুলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জ্ঞান (علوم) অর্জন করা আবশ্যক করেছেন।মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।}মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) করে না, নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?}তিনি আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে আমরা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) করি এবং এর মাধ্যমে সঠিক উপলব্ধি, জ্ঞান ও উপদেশ গ্রহণ করি। আর এই তাদাব্বুর (تدبر) হলো জীবন্ত প্রজ্ঞা, উপকারী জ্ঞান ও সচেতন পদ্ধতিগত জ্ঞানতাত্ত্বিক মানসিকতা গঠনের একটি মাধ্যম। এটিই আকল বা বুদ্ধিকে সজীব ও প্রশিক্ষিত করে এবং একে ফলপ্রসূ বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে তোলে। আল্লাহ বলেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা (تدبر) করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন উপদেশ গ্রহণ করে।}কুরআনের তাদাব্বুর (تدبر) বা গভীর অনুধাবনের কোনো শেষ নেই। কিয়ামত পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও আগ্রহের অধিকারী সকল বিচারবুদ্ধিও যদি এই কাজে নিয়োজিত হয়, তবুও তারা এর জ্ঞান, মর্মার্থ ও নির্দেশনাসমূহ (دلالات) নিঃশেষ করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولفتاته وإشاراته ولطائفه. وهذه الآية توحي بذلك، فالقرآن كتابٌ مبارك، والبركة هي النماء والزيادة، وبركة القرآن شاملة لكل الجوانب والمجالات، فهو مباركٌ في مصدره، وفي حامله، وفي من نزل عليه، ومبارك في مهمته ورسالته ووظيفته، ومباركٌ في حجمه، وفي معانيه ودلالاته، وفي علومه ومعارفه. مباركٌ بركةً دائمةً شاملةً حتى قيام الساعة.ولا ينشِّط العقل إلا تدبر القرآن، ولا يحافظ على حضوره وحيويته ونباهته إلا تدبر القرآن، ولا يقوي التفكير إلا تدبُر القرآن، لأن التدبر - كما يقول الإمام الراغب في المفردات " هو التفكير في دُبُرِ الأمور "، أي عواقبها.***
এবং এর সূক্ষ্ম দিকসমূহ, ইঙ্গিতসমূহ ও মাধুর্য। এই আয়াতটি সেই ইঙ্গিতই প্রদান করে; কারণ কুরআন হলো একটি বরকতময় (مبارك) কিতাব। আর বরকত (بركة) হলো প্রবৃদ্ধি ও বৃদ্ধি। কুরআনের বরকত সকল দিক ও ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। এটি এর উৎসে বরকতময়, এর বাহকের ক্ষেত্রে বরকতময় এবং যাঁর ওপর তা অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর ক্ষেত্রেও বরকতময়। এটি এর লক্ষ্য, বার্তা ও দায়িত্ব পালনে বরকতময়; এর কলেবর, অর্থ ও তাৎপর্য এবং এর জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও বরকতময়। কিয়ামত পর্যন্ত এটি এক চিরস্থায়ী ও ব্যাপক বরকতে ধন্য।কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) ব্যতীত অন্য কিছু বুদ্ধিবৃত্তিকে সচল করে না। এর প্রখরতা, প্রাণবন্ততা ও সচেতনতা রক্ষায় কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণার (تدبر) কোনো বিকল্প নেই। চিন্তা-গবেষণা (تدبر) ব্যতীত চিন্তাশক্তি অন্য কিছুতে শক্তিশালী হয় না। কারণ তাদাব্বুর বা গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) হলো—যেমনটি ইমাম রাগিব তাঁর মুফরাদাত গ্রন্থে বলেছেন—"কোনো বিষয়ের পরিণাম তথা শেষ পরিণতি নিয়ে চিন্তা করা।"***
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تيسير القرآن للفهمأخبرنا الله بأن كتابه الكريم - الذي أوجب علينا تدبره - ليس ألغازاً ولا طلاسم، وأن تدبره ليس عملية مستحيلة، بل هو على العكس من ذلك، أنه ميسرٌ للذكر والفهم واْلتدبر، ميسرٌ للحفظ والمراجعة، ميسرٌ للتلاوة والنظر، ميسرٌ للعمل والتطبيق ..قال تعالى: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ}.ومما تجدر الإشارة إليه أن هذه الآية ذُكرت في سورة القمر أربع مرات، وجاءت في التعقيب على بعض قصص السابقين الواردة في السورة، وهي قصص قوم نوحٍ وهودٍ وصالحٍ ولوطٍ عليهم السلام.وتتسائل الآيات الأربعة عن الذين يُقبلون على هذا القرآن الميسر للذكر والفهم: فأين هم المتذكرون؟ أين المستفيدون من هذا التيسير؟ ولماذا لا يتعامل المسلمون والناس الآخرون معه، ولا يخرجون منه بنتائج نافعة ومفاهيم هادية؟.والعجيب أن كلمة " مُدَّكِرٍ " - التي هي مأخوذة من كلمة " متذكر " اسم فاعل من تذكر - لم تذكر إلا في سورة القمر.
অনুধাবনের জন্য কুরআনের সহজীকরণআল্লাহ আমাদের অবহিত করেছেন যে, তাঁর সম্মানিত কিতাব—যা গভীরভাবে অনুধাবন করা তিনি আমাদের ওপর আবশ্যক করেছেন—তা কোনো ধাঁধা বা রহস্যময় সংকেত নয়। আর এটি অনুধাবন করা কোনো অসম্ভব প্রক্রিয়া নয়; বরং এর বিপরীত বিষয় হলো, এটি উপদেশ গ্রহণ ও অনুধাবনের জন্য সহজসাধ্য, মুখস্থ ও পুনরাবৃত্তির জন্য সহজবোধ্য, তিলাওয়াত ও পর্যালোচনার জন্য সহজ এবং আমল ও বাস্তবায়নের জন্য সহজকৃত...মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি অবশ্যই কুরআনকে উপদেশের জন্য সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?"।একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই আয়াতটি সূরা আল-কামারে চারবার বর্ণিত হয়েছে এবং এটি সূরায় উল্লিখিত পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কিছু কাহিনীর পরবর্তী পর্যালোচনা হিসেবে এসেছে; আর সেগুলো হলো নূহ, হূদ, সালিহ এবং লূত (আলাইহিমুস সালাম)-এর কওমের কাহিনীসমূহ।এই চারটি আয়াত সেইসব লোকেদের সম্পর্কে প্রশ্ন করে যারা উপদেশ গ্রহণ ও অনুধাবনের জন্য সহজকৃত এই কুরআনের প্রতি অগ্রসর হয়: তাহলে উপদেশ গ্রহণকারীরা কোথায়? এই সহজীকরণের সুফলভোগীরা কোথায়? এবং কেন মুসলিম ও অন্যান্য মানুষ এর সাথে সম্পৃক্ত হয় না, এবং কেন তারা এর থেকে কোনো কল্যাণকর ফলাফল ও হিদায়াতপূর্ণ ধারণা আহরণ করে না?আশ্চর্যের বিষয় হলো, 'মুদ্ধাকির' শব্দটি—যা 'মুতাযাক্কির' শব্দ থেকে গৃহীত এবং যা 'তাদাক্কুর' এর কর্তৃবাচক বিশেষ্য—কেবল সূরা আল-কামারেই উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فسورة القمر نصت أربع مرات على أن الله قد يسر القرآن للذكر والفهم.وسورة القمر أوردت كلمة " مُدَّكِرٍ " ست مرات، وكلها وردت في سياق الاستفهام الإنكاري {فهل من مُدَّكِرٍ} وكلها فيها إنكارٌ على الذين لا يتذكرون القرآن ولا آياته، الذين لا يستفيدون من هذا التيسير القرآني للذكر والفهم. وكأنها تريد أن تقول لهم: إن القرآن ميسرٌ للذكر والفهم والحفظ، وإنه إذا لم يستفد الناس من هذه المزية القرآنية الفريدة فإنهم هم الخاسرون والمسؤولون عن هذا.إنهم لم يتذكروا، ولو تذكروا لاستفادوا. إن التذكر هو وحده سبيل الاستفادة من تيسير القرآن لذلك، فأين المتذكرون؟ وهل من مُدَّكِرٍ؟.***
সুরা আল-কামারে চারবার স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা কুরআনকে উপদেশ গ্রহণ ও অনুধাবনের জন্য সহজ করে দিয়েছেন।সুরা আল-কামারে "মুদ্দাকির" শব্দটি ছয়বার এসেছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা অস্বীকৃতিমূলক জিজ্ঞাসার (استفهام إنكاري) প্রেক্ষাপটে—{অতঃপর কোনো উপদেশ গ্রহণকারী (مدكر) আছে কি?}—উদ্ধৃত হয়েছে। এগুলোর সবকটিতেই তাদের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হয়েছে যারা কুরআন ও এর আয়াতসমূহ থেকে উপদেশ গ্রহণ করে না এবং যারা উপদেশ গ্রহণ ও অনুধাবনের জন্য কুরআনের এই সহজবোধ্যতা থেকে উপকৃত হয় না। এটি যেন তাদের বলতে চায়: কুরআন উপদেশ গ্রহণ, অনুধাবন এবং মুখস্থ করার জন্য সহজবোধ্য; আর যদি মানুষ কুরআনের এই অনন্য বৈশিষ্ট্য থেকে উপকৃত না হয়, তবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত এবং এর জন্য তারাই দায়ী।তারা উপদেশ গ্রহণ করেনি, অথচ তারা যদি উপদেশ গ্রহণ করত তবে অবশ্যই উপকৃত হতো। প্রকৃতপক্ষে, কুরআনের এই সহজবোধ্যতা থেকে ফায়দা হাসিল করার একমাত্র উপায় হলো উপদেশ গ্রহণ করা। সুতরাং উপদেশ গ্রহণকারীরা কোথায়? আর কোনো উপদেশ গ্রহণকারী (مدكر) আছে কি?***
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
رفض الفهم الخاطئ للقرآنوتيسير القرآن للذكر والفهم لا يعني أن يكون القول في معانيه ومفاهيمه بدون ضوابط، ولا أن يكون الباب مفتوحاً لكل من هبَّ ودبَّ، ولكل صاحب هوىً مغرض، أو نفسٍ خبيثة، أو جهلٍ قاتل. إنه لا بد من ضوابط وقواعد للقول في معاني القرآن، ولا بد من آدابٍ وشروط لتفسيره، والحديث عن مفاهيمه.إنه لا يجوز أن يُقال في الآيات بدون علم، ولا أن يخرج أحد منها بغير ما توحي به، وتدل عليه، وتشير إليه، فلا يمكن أن يقع التناقض بين آيات القرآن، ولا التعارض بين معانيه وأحكامه.لقد ذم القرآن الكريم الذين يُقبلون عليه بالتحريف والتشويه، فيُجزِّئونه ويُقسِّمونه.قال تعالى: {كَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى الْمُقْتَسِمِينَ (90) الَّذِينَ جَعَلُوا الْقُرْآنَ عِضِينَ}، ومعنى جعلوا القرآن عضين أي " مفرقاً ". فقالوا كهانة، وقالوا أساطير الأولين، إلى غير ذلك مما وصفوه به.وقيل: معنى عضين: ما قال الله: {أَفَتؤمِنونَ بِبَعْضِ الكِتابِ وَتَكْفُرونَ
কুরআনের ভুল বুঝাবুঝি প্রত্যাখ্যানকুরআনকে উপদেশ গ্রহণ ও অনুধাবনের জন্য সহজ করে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, এর অর্থ ও মর্ম সম্পর্কে কোনো নিয়মনীতি (ضوابط) ছাড়াই কথা বলা যাবে। আর এর দ্বার প্রত্যেকের জন্য উন্মুক্ত নয়—চাই সে যে কেউই হোক না কেন, কিংবা কোনো হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রবৃত্তিপূজারী হোক, অথবা কোনো কলুষিত আত্মা কিংবা মারাত্মক অজ্ঞ ব্যক্তি হোক। কুরআনের অর্থ বর্ণনার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু নিয়মনীতি (ضوابط) ও মূলনীতি (قواعد) থাকা আবশ্যক এবং এর তাফসির (تفسير) ও এর মর্ম আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট শিষ্টাচার (آداب) ও শর্তাবলি (شروط) থাকা অপরিহার্য।জ্ঞান ছাড়া কুরআনের আয়াতসমূহ সম্পর্কে কোনো কথা বলা বৈধ নয়। আয়াতসমূহ যা ইঙ্গিত করে, যা নির্দেশ করে এবং যার প্রতি ইশারা করে, তা ব্যতিরেকে অন্য কোনো অর্থ বের করাও কারো জন্য সংগত নয়। কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা (تناقض) কিংবা এর অর্থ ও বিধানের (أحكام) মধ্যে কোনো বৈপরিত্য (تعارض) থাকা সম্ভব নয়।পবিত্র কুরআন ঐ সকল ব্যক্তির নিন্দা করেছে যারা বিকৃতি (تحريف) ও বিকৃতকরণের (تشويه) উদ্দেশ্যে এর প্রতি ধাবিত হয় এবং একে খণ্ড-বিখণ্ড ও বিভক্ত করে ফেলে।আল্লাহ তাআলা বলেন: {যেভাবে আমি অবতীর্ণ করেছিলাম সেই বিভাজনকারীদের প্রতি (৯০) যারা কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছে}। আর কুরআনকে 'ইযীন' (عضين) বানানোর অর্থ হলো একে 'বিভক্ত' (مفرقاً) করা। তারা একে কখনো গণকতা বলেছে, আবার কখনো পূর্ববর্তীদের উপকথা বলেছে—এ জাতীয় আরও বিভিন্ন বিশেষণে তারা একে বিশেষিত করেছে।আবার বলা হয়েছে: 'ইযীন' (عضين) এর অর্থ হলো যা আল্লাহ বলেছেন: {তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশ অস্বীকার (تكفرون) করো...}
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بِبَعْضٍ} خلاف من قال فيه {وَتُؤْمِنُونَ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ}.ونحن نختار المعنى الثاني لأنه هو الأنسب للسياق، والأكثر اتفاقاً مع فهم القرآن والتعامل معه.بل هذا القول هو المتفق مع فهم الصحابة للآية، فقد روى البخاري وجماعةٌ عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: الذين جعلوا القرآن عضين: هم أهل الكتاب، جَزَّأوه أجزاء، فآمنوا ببعضه وكفروا ببعضه ".فإذا كانت الآية تنكر على أهل الكتاب تجزئتهم للقرآن، حيث آمنوا ببعض وكفروا ببعض، وترفض منهم هذا التقسيم المرفوض، فإنها تتوجه إلى كل من فعل ذلك، لتنكر عليه فهمه الخاطئ لآيات القرآن، وتحريفه لمفاهيمها، وتشويهه لمعانيها، وتوظيفه لهذه الآيات كي تشهد لرأيه الفاسد، وتنصر فكره الباطل، وتدعم تلاعبه بدين الله وأحكامه وتشريعاته.***
...একাংশের প্রতি} এটি তাদের মতের পরিপন্থী যারা এ সম্পর্কে বলেছেন: {আর তোমরা সম্পূর্ণ কিতাবের প্রতি ঈমান আনো}।আমরা দ্বিতীয় অর্থটিকেই গ্রহণ করছি, কারণ এটি প্রসঙ্গের সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কুরআনের অনুধাবন ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে অধিক সঙ্গতিপূর্ণ।বরং এই বক্তব্যটিই আয়াতের ক্ষেত্রে সাহাবীগণের উপলব্ধির সাথে একমত। ইমাম বুখারী ও একদল বিশেষজ্ঞ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যারা কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে তারা হলো আহলে কিতাব; তারা কুরআনকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছে, অতঃপর এর কিছু অংশের প্রতি ঈমান এনেছে এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করেছে।"সুতরাং, আয়াতটি যদি আহলে কিতাবদের কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে থাকে—যেহেতু তারা কিছু অংশ বিশ্বাস করত এবং কিছু অংশ অস্বীকার করত—এবং তাদের এই বর্জনীয় বিভাজনকে নাকচ করে থাকে, তবে এটি এমন প্রত্যেকের প্রতি প্রযোজ্য হবে যারা অনুরূপ কাজ করবে। এটি তাদের কুরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান, এর মূল ভাবধারা বিকৃত করা, এর অর্থসমূহ বিকৃত করা এবং তাদের ভ্রান্ত মতামতের সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য আয়াতগুলোকে ব্যবহার করা, তাদের বাতিল চিন্তাধারাকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং আল্লাহর দীন, তাঁর আহকাম ও বিধানাবলী নিয়ে তাদের চাতুর্যপূর্ণ আচরণের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে।***
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التحذير من القول في معاني القرآن بدون علمورد التحذير من القول في معاني القرآن بدون علم، وفهم آياته وتفسيرها ممن لم يكن أهلاً لذلك، ولم يتزود بالوسائل التي تعينه على حسن الفهم، وصوابية التفسير، وصحة الاستنباط.وقد أورد الإمام ابن كثير في مقدمة تفسيره طائفةً من الأقوال عن الصحابة والتابعين في التحذير من ذلك. نختار بعضها فيما يلي:قال: " أما تفسير القرآن بمجرد الرأي فحرام:لما رُوي عن ابن عباسٍ رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من قال في القرآن برأيه، أو بما لا يعلم، فليتبوأ مقعده من النار ". أخرجه الترمذي والنسائي وأبو داود مرفوعاً، ورواه بعضهم موقوفاً عن ابن عباس، والله أعلم.وروى أبو عمران الجوني عن جندبٍ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " من قال في القرآن برأيه فقد أخطأ ". وفي رواية أخرى: " من قال في كتاب الله برأيه فأصاب فقد أخطأ ". رواه أبو داود والترمذي والنسائي وقال - الترمذي: غريب. وقد تكلم بعض أهل العلم في سهيل - يعني سهيلاً القطيعي أحد رجال السند - ومعنى قوله: من قال في كتاب الله برأيه فأصاب فقد أخطأ، كما قال ابن كثير: " أي أخطأ لأنه قد تكلف ما لا علم له به، وسلك غير ما أُمر به،
জ্ঞানহীনভাবে কুরআনের অর্থ বলার ব্যাপারে সতর্কবাণীজ্ঞান ছাড়া কুরআনের অর্থের ব্যাপারে কথা বলা, এবং যারা এর যোগ্য নয় কিংবা যারা সঠিক বোধগম্যতা, নির্ভুল তাফসির এবং বিশুদ্ধ গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (استنباط) জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের পাথেয় গ্রহণ করেনি, তাদের পক্ষ থেকে কুরআনের আয়াত অনুধাবন ও ব্যাখ্যার বিষয়ে সতর্কবাণী এসেছে।ইমাম ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরের ভূমিকায় এ বিষয়ে সতর্ক করে সাহাবী এবং তাবেয়ীদের থেকে একগুচ্ছ উক্তি উল্লেখ করেছেন। নিচে আমরা তাঁর কিছু অংশ নির্বাচন করছি:তিনি বলেন: "কেবল নিজের মতামতের ভিত্তিতে কুরআনের তাফসির করা হারাম (حرام):কারণ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে নিজের মত দিয়ে কিছু বলে অথবা যা সে জানে না সে বিষয়ে কথা বলে, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি তিরমিজি, নাসায়ি এবং আবু দাউদ মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং কেউ কেউ এটি ইবনে আব্বাস থেকে মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।আবু ইমরান আল-জাওনি জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে নিজের মত দিয়ে কিছু বলে, সে ভুল করল।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে নিজের মত দিয়ে কথা বলে এবং তাতে সঠিক হলেও সে ভুল করল।" এটি আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন— এটি গারিব (غريب)। কোনো কোনো ইলম অন্বেষী আলেম সুহাইল—অর্থাৎ সনদের (السند) অন্যতম বর্ণনাকারী সুহাইল আল-কাতায়ি—এর ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। আর তাঁর (নবীজির) বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে নিজের মত দিয়ে কথা বলে এবং তাতে সঠিক হলেও সে ভুল করল"—এর অর্থ সম্পর্কে ইবনে কাসির বলেন: "অর্থাৎ সে ভুল করেছে কারণ সে এমন বিষয়ের দায়িত্ব নিয়েছে যে সম্পর্কে তার জ্ঞান নেই এবং সে এমন পথ অবলম্বন করেছে যা তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি,
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فلو أنه أصاب المعنى في نفس الأمر، لكنه قد أخطأ لأنه لم يأت الأمر من بابه، كمن حكم بين الناس على جهلٍ، فهو في النار، وإن وافق حكمه الصواب في نفس الأمر ".وقال أبو بكر الصديق رضي الله عنه: أي أرضٍ تقلني، وأي سماءٍ تظلني، إذا قلتُ في كتاب الله ما لا أعلم.وقال ابن أبي مُلَيكة: سُئل ابن عباسٍ عن آية، لو سُئل عنها بعضكم لقال فيها، فأبى أن يقول فيها.وجاء طَلْق بن حبيبٍ إلى جندب بن عبد الله، فسأله عن آيةٍ من القرآن فقال له: أُحَرِّجُ عليك إن كنتَ مسلماً لما قمت عني.وقال يزيد بن أبي يزيد: كنا نسأل سعيد بن المسيب عن الحلال والحرام، وكان أعلم الناس، فإذا سألناه عن تفسير آيةٍ سكت كأن لم يسمع.وقال عبيد الله بن عمر: لقد أدركت فقهاء المدينة، وإنهم ليعظمون القول في التفسير. منهم: سالم بن عبد الله، والقاسم بن محمد، وسعيد بن المسيب، ونافع.وقال محمد بن سيرين: سألت عبيدة السَّلْماني عن آية من كتاب الله فقال: ذهب الذين كانوا يعلمون فيم أُنزل القرآن. فاتق الله وعليك بالسداد.وقال مسلم بن يسار: إذا حَدثتَ عن الله حديثاً، فقف حتى تنظر ما قبله وما بعده.وعن إبراهيم النخعي قال: كان أصحابنا يتقون التفسير ويهابونه.وقال الشعبي: والله ما من آية إلا وقد سألت عنها. ولكنها الرواية عن الله.
যদি তিনি বাস্তবক্ষেত্রে সঠিক অর্থটি লাভও করেন, তবুও তিনি ভুল করেছেন; কারণ তিনি বিষয়টি তার সঠিক পথ (পদ্ধতি) অনুযায়ী সম্পাদন করেননি। যেমনটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে, যে অজ্ঞতা নিয়ে মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা করে; সে জাহান্নামী—যদিও তার বিচার বাস্তবক্ষেত্রে সত্যের অনুকূলে হয়। ".এবং আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: কোন জমিন আমাকে ধারণ করবে এবং কোন আকাশ আমাকে ছায়া প্রদান করবে, যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু বলি যা আমি জানি না।এবং ইবনে আবি মুলাইকা বলেন: ইবনে আব্বাসকে এমন একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যা সম্পর্কে তোমাদের কাউকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু বলত; কিন্তু তিনি তা নিয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করলেন।তালক ইবনে হাবিব জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহর নিকট এসে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি যদি মুসলিম হয়ে থাকো, তবে আমি তোমাকে কঠোরভাবে শপথ দিচ্ছি যে, তুমি এখনই আমার কাছ থেকে উঠে যাও।এবং ইয়াজিদ ইবনে আবি ইয়াজিদ বলেন: আমরা সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে হালাল ও হারাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এবং তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। কিন্তু যখনই আমরা তাকে কোনো আয়াতের তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম, তিনি এমনভাবে নিশ্চুপ হয়ে যেতেন যেন তিনি কিছুই শোনেননি।এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর বলেন: আমি মদিনার ফকিহদের সান্নিধ্য পেয়েছি, তারা তাফসিরের বিষয়ে কথা বলাকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করতেন। তাদের মধ্যে ছিলেন: সালেম ইবনে আবদুল্লাহ, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং নাফে।এবং মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেন: আমি উবাইদাহ আস-সালমানিকে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: যারা কুরআন কী প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তারা বিদায় নিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও নির্ভুল কথা বলো।এবং মুসলিম ইবনে ইয়াসার বলেন: তুমি যখন আল্লাহ সম্পর্কে কোনো বর্ণনা প্রদান করবে, তখন থামো এবং এর পূর্বাপর বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করো।এবং ইব্রাহিম নাখয়ি থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: আমাদের সাথীরা তাফসির করার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং একে ভয় পেতেন।এবং আশ-শা'বি বলেন: আল্লাহর কসম, এমন কোনো আয়াত নেই যা সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করিনি। তবে এটি তো আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা (رواية) করা।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال مسروق: اتقوا التفسير فإنما هو الرواية عن الله.ونأخذ من هذه الأقوال التحذير من القول في التفسير بدون علم، ولذلك نوجهها للذين يدخلون هذا الباب، ولا يملكون الوسائل التي تعينهم على حسن الفهم عن الله.ولا تدل هذه الأقوال على النهي عن التفسير مطلقاً، ومنع النظر في آيات القرآن، وفهمها وعرض مفاهيمها. لأن هذا واجبٌ على كل من كان مؤهلاً لذلك. ولذلك قال ابن كثير - بعد إيراده تلك الأقوال -: فهذه الآثار الصحيحة، وما شاكلها عن أئمة السلف، محمولةٌ على تحرجهم عن الكلام في التفسير بما لا علم لهم فيه. فأما من تكلم بما يعلم من ذلك لغةً وشرعاً، فلا حرج عليه. ولهذا رُويت عن هؤلاء وغيرهم أقوالٌ في التفسير، ولا منافاة لأنهم تكلموا فيما علموه، وسكتوا عما جهلوه، وهذا هو الواجب على كل أحد، فإنه كما يجب السكوت عما لا علم له به، فكذلك يجب القول فيما سئل عنه مما يعلمه، لقول الله سبحانه: {لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلا تَكْتُمُونَهُ}، ولما جاء في الحديث الذي رُوي من طرق " من سئل عن علمٍ فكتمه أُلجم يوم القيامة بلجامٍ من نار ".وهذا الحديث الذي ذكره ابن كثير أخرجه أحمد بن حنبل في مسنده والترمذي والنسائي وأبو داود والحاكم عن أبي هريرة، ورمز له السيوطي في الجامع الصغير بالصحة، وقال المناوي في فيض القدير: " قال الترمذي:
মাসরূক (রহ.) বলেছেন: তোমরা তাফসির (تفسير) সম্পর্কে সতর্ক থাকো, কারণ এটি হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বর্ণনা (رواية) করা।এই বক্তব্যগুলো থেকে আমরা ইলম (علم) ব্যতীত তাফসির (تفسير) করার ব্যাপারে সতর্কবার্তা গ্রহণ করি। আর তাই আমরা তাদের প্রতি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করছি যারা এই ক্ষেত্রে প্রবেশ করেন অথচ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সঠিক উপলব্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ যাদের নেই।এই উক্তিগুলো ঢালাওভাবে তাফসির (تفسير) করতে নিষেধ করে না এবং কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করা, সেগুলো বোঝা ও তার মর্মার্থ বর্ণনা করতে বাধা দেয় না। কারণ যারা এর জন্য যোগ্য, তাদের ওপর এটি করা অপরিহার্য (واجب)। এজন্যই ইবনে কাসির এই উক্তিগুলো উল্লেখ করার পর বলেছেন: সালাফ (سلف) ইমামদের থেকে বর্ণিত এই সহিহ (صحيح) বর্ণনাগুলো (آثار) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বক্তব্য মূলত তাদের ইলম (علم) ব্যতীত তাফসির (تفسير) করার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও সংকোচবোধের ওপর নির্ভরশীল। তবে যে ব্যক্তি ভাষাগত (لغة) ও শরিয়তসম্মত (شرعا) জ্ঞান থাকা অবস্থায় তা থেকে বর্ণনা করেন, তার কোনো দোষ নেই। এ কারণেই তাদের থেকে এবং অন্যদের থেকে তাফসিরের (تفسير) অনেক বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ তারা যতটুকু জানতেন তা বর্ণনা করেছেন এবং যা জানতেন না সে বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করেছেন। আর এটাই প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য (واجب)। কেননা যে বিষয়ে ইলম (علم) নেই সে বিষয়ে চুপ থাকা যেমন অপরিহার্য (واجب), তেমনি জানা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে তা বর্ণনা করাও অপরিহার্য (واجب); যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না}। এছাড়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যা বিভিন্ন সূত্র (طرق) থেকে এসেছে: "যাকে কোনো জ্ঞান (علم) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তার মুখে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেওয়া হবে।"ইবনে কাসির বর্ণিত এই হাদিসটি আহমদ বিন হাম্বল তার মুসনাদে এবং তিরমিজি, নাসায়ি, আবু দাউদ ও আল-হাকিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতি আল-জামেউস সগির গ্রন্থে এটিকে সহিহ (صحيح) বলে চিহ্নিত করেছেন এবং আল-মুনাউয়ি ফয়জুল কাদির গ্রন্থে বলেছেন: "তিরমিজি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২০)
حسن. وقال الحاكم: على شرطهما، وقال المنذري: في طرقه كلها مقال، إلا أن طريق أبي داود حسن.وللحديث عن أبي هريرة طرقٌ عشرة، سردها ابن الجوزي ووهَّاها.قال الذهبي في الكبائر: إسناده صحيح، رواه عطاء عن أبي هريرة، وأشار بذلك إلى أن رجاله ثقات، لكن فيه انقطاعاً ".***
হাসান (حسن)। আল-হাকিম বলেছেন: এটি তাঁদের (বুখারি ও মুসলিমের) শর্তানুযায়ী। আল-মুনজিরি বলেছেন: এর সকল সূত্রের ব্যাপারেই সমালোচনা রয়েছে, তবে আবু দাউদের বর্ণিত সূত্রটি হাসান (حسن)।আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটির দশটি সূত্র রয়েছে, ইবনুল জাওজি সেগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে দুর্বল (وهَّاها) বলে গণ্য করেছেন।আয-যাহাবি 'আল-কাবাইর' গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح), আতা এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে এতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে।***
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২১)
أقسام القرآن من حيث تفسيرهليس القرآن من حيث تفسيره على درجةٍ واحدة، وليست آياته على مستوًى واحدٍ في هذا المجال، وقد تكلم العلماء قديماً عن هذا.روى ابن جرير الطبري في تفسيره عن ابن عباسٍ رضي الله عنهما قال: التفسير على أربعة أوجه:1 - وجهٌ تعرفه العرب من كلامها.2 - تفسيرٌ لا يُعذر أحد بجهالته.3 - تفسيرٌ يعلمه العلماء.4 - تفسير لا يعلمه إلا الله تعالى.وقد أعاد الإِمام الطبري ترتيب أقسام القرآن من حيث تفسيره، وأشار إلى أنها على ثلاثة أوجه:1 - قسمٌ لا سبيل إلى الوصول إليه: وهو ما استأثر الله بعلمه، وهو ما سوف يأتي في آخر الزمان. مثل وقت خروج الدابة، ووقت طلوع الشمس من مغربها، ووقت نزول عيسى عليه السلام، ووقت قيام الساعة، وغير ذلك.2 - قسمٌ خص الله نبيَّه عليه السلام بعلم تأويله، ووجب على الأمة جميعاً الأخذ بهذا التفسير النبوي الكريم، وذلك مثل بيانه العملي للمقصود
ব্যাখ্যার (تفسير) প্রেক্ষাপটে কোরআনের প্রকারভেদব্যাখ্যার (تفسير) দিক থেকে কোরআন একই স্তরের নয় এবং এই ক্ষেত্রে এর আয়াতসমূহও একই পর্যায়ের নয়। প্রাচীনকাল থেকেই আলেমগণ এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।ইবনে জারির তাবারী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ব্যাখ্যা (تفسير) চার প্রকার:1 - এমন এক প্রকার যা আরবরা তাদের ভাষা ও কথোপকথনের মাধ্যমে বুঝতে পারে।2 - এমন এক ব্যাখ্যা (تفسير) যা না জানার ক্ষেত্রে কারো কোনো ওজর বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।3 - এমন এক ব্যাখ্যা (تفسير) যা কেবল আলেমগণ জানেন।4 - এমন এক ব্যাখ্যা (تفسير) যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কেউ জানেন না।ইমাম তাবারী ব্যাখ্যার (تفسير) প্রেক্ষাপটে কোরআনের প্রকারভেদ পুনরায় বিন্যস্ত করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এগুলো তিন প্রকার:1 - এমন এক প্রকার যার অর্থ উপলব্ধির কোনো পথ নেই: এটি এমন বিষয় যা আল্লাহ কেবল তাঁর নিজস্ব ইলমের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন এবং যা শেষ জামানায় প্রকাশ পাবে। যেমন—দাব্বাতুল আরদ বা ভূগর্ভস্থ অদ্ভুত প্রাণী বের হওয়ার সময়, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার সময়, ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণের সময়, কিয়ামত (الساعة) সংঘটিত হওয়ার সময় ইত্যাদি।2 - এমন এক প্রকার যার ব্যাখ্যার (تأويل) জ্ঞান আল্লাহ তাঁর নবী (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য সুনির্দিষ্ট করেছেন এবং পুরো উম্মতের ওপর এই সম্মানিত নববী ব্যাখ্যা (تفسير) গ্রহণ করা আবশ্যক; যেমন অভীষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে তাঁর প্রায়োগিক বর্ণনা
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২২)
من آيات الصلاة والصيام والزكاة والحج، وتوضيحه للصحابة ما خفي عليهم من معاني القرآن وأحكامه.3 - ما كان علمه عند أهل اللسان الذي نزل به القرآن، وهم العرب الفصحاء، وهو بيان معاني القرآن ووجوه إعرابه.فإذا أدرك الناظر في القرآن هذه الأقسام، عرف ما يمكن أن يقوم به في فهم معاني القرآن، وما تُرك من مجالاتٍ فسيحةٍ شاسعةٍ لتدبر آياته، وعرْض مفاهيمه، والإشارة إلى معانيه ولطائفه وأحكامه ودلالاته، بحيث لو أمضى كل عمره في هذا، فلن يقف منه إلا على قليلٍ لا يكاد يُذكر، فيبذل أقصى جهده وغاية وسعه.***
সালাত, সিয়াম, জাকাত ও হজ সংক্রান্ত আয়াতসমূহ থেকে এবং কুরআনের যেসব অর্থ ও বিধান সাহাবিদের নিকট অস্পষ্ট ছিল, সেগুলোর ব্যাপারে তাদের নিকট তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর) ব্যাখ্যা।৩ - যে বিষয়ের জ্ঞান সেই ভাষাভাষীদের নিকট ছিল যাদের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, আর তারা হলো বিশুদ্ধভাষী আরব; আর তা হলো কুরআনের অর্থ ও এর ব্যাকরণিক রূপসমূহের বর্ণনা।সুতরাং যখন কুরআনের কোনো পাঠক এই বিভাগগুলো অনুধাবন করবেন, তখন তিনি বুঝতে পারবেন কুরআনের অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাঁর করণীয় কী এবং এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা, এর বিষয়বস্তু উপস্থাপন এবং এর অর্থ, সূক্ষ্ম রহস্য, বিধিবিধান ও নির্দেশনাসমূহ নির্দেশ করার জন্য কত বিশাল ও বিস্তৃত ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, যদি তিনি তাঁর পুরো জীবনও এই কাজে ব্যয় করেন, তবুও তিনি এর অতি সামান্য অংশই অনুধাবন করতে পারবেন যা প্রায় নগণ্য; এমতাবস্থায় তিনি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সামর্থ্য নিয়োজিত করবেন।***
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
العلوم التي يحتاجها الناظر في القرآنمنع العلماء الذين لا يملكون المؤهلات الخاصة، من القول في التفسير وبيان معاني القرآن، ولذلك اشترطوا للذي يريد أن يفسر آياتٍ من القرآن شروطاً لا بد من تحققها فيه، وحددوا له علوماً لا بد أن تتوفَّر عنده، وبيَّنوا له أدواتٍ لا بد أن تكون بين يديه، حتى يكون نظره صواباً، واستنباطه صحيحاً، وفهمه سليماً، وتفسيره مقبولاً.وقد ذكر المرحوم الشهيد محمد حسين الذهبي في " التفسير والمفسرون " أهم هذه العلوم، سنلخص كلامه عنها، ثم نضيف علوماً أخرى نراها ضرورية:1 - علم اللغة: لأنه به يمكن أن يشرح مفردات الألفاظ ومدلولاتها، ويستطيع أن يعرف معاني الكلمات الغريبة في القرآن، ويكون في هذه المعرفة ملتزماً باللغة ومقاييسها وفقهها.2 - علم النحو والصرف: لأن المعنى يختلف بحسب اشتقاق الكلمة القرآنية أو وجوه تصريفها، كما يختلف باختلاف وجوه الإعراب وتوجيه تلك الوجوه.3 - علوم البلاغة: حتى يقف على طرفٍ من بلاغة القرآن ووجوه إعجازه، ومظاهر بيانه وجماله، وأساليب أدائه، وألوان تأثيره.4 - علم القراءات: لأن القراءات توقيفيةٌ وهي كلام الله، ومنها يعرف وجوه
কুরআন গবেষণাকারীর জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমূহআলেমগণ সেই সকল ব্যক্তিকে তাফসির করা এবং কুরআনের অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করা থেকে নিষিদ্ধ করেছেন যাদের বিশেষ যোগ্যতা নেই। এই কারণে, যারা কুরআনের আয়াতসমূহ ব্যাখ্যা করতে চান, তাঁদের জন্য তাঁরা কিছু শর্তারোপ করেছেন যা পূরণ হওয়া আবশ্যক। তাঁরা গবেষকের জন্য এমন কিছু শাস্ত্র নির্দিষ্ট করেছেন যা তাঁর নিকট থাকা প্রয়োজন এবং এমন কিছু উপকরণের বিবরণ দিয়েছেন যা তাঁর আয়ত্তে থাকতে হবে; যাতে তাঁর গবেষণা সঠিক হয়, তাঁর মাসআলা উদঘাটন (استنباط) যথার্থ হয়, তাঁর উপলব্ধি ত্রুটিমুক্ত থাকে এবং তাঁর তাফসির গ্রহণযোগ্য হয়।মরহুম শহীদ মুহাম্মদ হুসাইন আয-যাহাবী তাঁর "তাফসির ওয়াল মুফাসসিরুন" গ্রন্থে এই শাস্ত্রসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলো উল্লেখ করেছেন। আমরা তাঁর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরব এবং এরপর আরও কিছু শাস্ত্র যুক্ত করব যা আমরা প্রয়োজনীয় মনে করি:1 - ভাষাতত্ত্ব (علم اللغة): কারণ এর মাধ্যমে শব্দের ব্যষ্টিক রূপসমূহ ও সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় এবং এর দ্বারা কুরআনের বিরল বা অপরিচিত শব্দের (غريب) অর্থ জানা যায়। এই জ্ঞানের ক্ষেত্রে গবেষককে অবশ্যই ভাষা, এর মানদণ্ড এবং ভাষাতত্ত্বের গভীর উপলব্ধির (فقه) প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে।2 - নাহু ও সরফ (نحو وصرف): কারণ কুরআনিক শব্দের ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) বা শব্দরূপান্তরের (تصريف) ধরন অনুযায়ী অর্থের পরিবর্তন ঘটে। ঠিক যেমন ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) এবং এই বিশ্লেষণের প্রয়োগের ভিন্নতার কারণে অর্থের পরিবর্তন হয়ে থাকে।3 - অলঙ্কারশাস্ত্র (علوم البلاغة): যাতে কুরআনের অলঙ্কার এবং এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ, এর বর্ণনাভঙ্গি ও সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ, উপস্থাপনার পদ্ধতি এবং এর প্রভাবের বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।4 - কিরাত শাস্ত্র (علم القراءات): কারণ কিরাতসমূহ অহি দ্বারা নির্ধারিত (توقيفية) এবং তা আল্লাহর কালাম। এর মাধ্যমেই বিভিন্ন ধরণ সম্পর্কে জানা যায়...
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
القراءات وتوجيهها، وبيان اختلاف المعنى والأحكام على كل قراءةٍ منها.5 - علم أصول الدين: حيث يعرف أساسيات العقيدة وخصائص التصور الإسلامي والألوهية والعبودية. ويعرف الإيمان وأركانه، والإنسان ووظيفته، والحياة ومعناها، والكون وغايته، والغيب وحقيقته، واليوم الآخر وقدومه.6 - علم أصول الفقه: ليعرف كيف يستنبط الأحكام والأدلة من القرآن، وكيف يتعامل مع أساليب الخطاب القرآني، ووجوه التكليف فيه، وطرق عرض أحكامه.7 - علم أسباب النزول: ليعرف الجو الذي نزلت فيه الآيات، والحالة التي تعاملت معها، والمشكلة التي عالجتها، والخطأ الذي قوَّمته.8 - علم الناسخ والمنسوخ: حتى لا يقع في التناقض في فهم الأحكام التي تشير إليها الآيات.9 - علم التاريخ: ليطلع على أخبار السابقين، ويحسن التعامل مع قصص القرآن، واستخراج السنن الثابتة في حياة البشرية.10 - علم الحديث: ليطلِع على تفسير الرسول عليه الصلاة والسلام للقرآن، باعتبار السنَّة موضحة للقرآن، ومفسِّرة له، ومبيِّنة لأحكامه ومكمِّلة لتوجيهاته، وليعتمد ما صحَّ من الأحاديث، ويتجنَّب ما لم يصح منها حتى لا يأخذ منها حكماً، أو يكوِّن منها رأياً.11 - علم السيرة النبوية: لأن الرسول عليه الصلاة والسلام هو الترجمة العملية للقرآن، حيث كان خلقه القرآن - كما بيَّنت عائشة رضي الله عنها ولذلك تعتبر سيرته وحياته العامة والخاصة هي أصدق تفسير للقرآن، والمظهر العملي الواقعي لتوجيهاته وأحكامه.
ক্বিরাআতসমূহ এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, এবং প্রতিটি ক্বিরাআতের ভিত্তিতে অর্থ ও বিধানের ভিন্নতা বর্ণনা করা।৫ - ইলম উসুলুদ দ্বীন (ধর্মতত্ত্ব): যার মাধ্যমে আকিদাহর মৌলিক বিষয়াবলী এবং ইসলামি আদর্শ, উলুহিয়্যাত (উপাস্যত্ব) ও উবুদিয়্যাতের (দাসত্ব) বৈশিষ্ট্যসমূহ জানা যায়। এছাড়া ঈমান ও এর রুকনসমূহ, মানুষ ও তার দায়িত্ব, জীবন ও এর তাৎপর্য, মহাবিশ্ব ও এর লক্ষ্য, অদৃশ্য জগত ও এর বাস্তবতা এবং পরকাল ও এর আগমন সম্পর্কে জানা যায়।৬ - ইলম উসুলুল ফিকহ (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি): যাতে জানা যায় কীভাবে কুরআন থেকে বিধান ও দলীলসমূহ উদঘাটন করতে হয় এবং কুরআনী সম্বোধনের শৈলী, এতে অর্পিত দায়িত্বের ধরণ এবং এর বিধানসমূহ উপস্থাপনের পদ্ধতিগুলোর সাথে কীভাবে কাজ করতে হয়।৭ - আয়াত অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) সংক্রান্ত জ্ঞান: যাতে জানা যায় কোন পরিবেশে আয়াতগুলো নাযিল হয়েছিল, কোন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল, কোন সমস্যার সমাধান করেছিল এবং কোন ভুলটি সংশোধন করেছিল।৮ - রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ) বিষয়ক জ্ঞান: যাতে আয়াতসমূহ যেসব বিধানের প্রতি ইঙ্গিত করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে কোনো বৈপরীত্যে না পড়তে হয়।৯ - ইতিহাস শাস্ত্র: যাতে পূর্ববর্তীদের সংবাদ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, কুরআনের ঘটনাবলীর সাথে যথাযথ আচরণ করা যায় এবং মানবজীবনে আল্লাহর চিরস্থায়ী বিধানসমূহ বের করা যায়।১০ - হাদিস শাস্ত্র: যাতে কুরআনের ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনের বিশদ ব্যাখ্যা দানকারী, অর্থ বর্ণনাকারী, এর বিধানসমূহের স্পষ্টকারী এবং এর দিকনির্দেশনাগুলোর পরিপূরক। আর যাতে হাদিসসমূহের মধ্যে যা সহিহ (صحيح) কেবল তার ওপর নির্ভর করা যায় এবং যা সহিহ (صحيح) নয় তা পরিহার করা যায়, যাতে সেখান থেকে কোনো বিধান গ্রহণ করা না হয় বা কোনো মত গঠন করা না হয়।১১ - সীরাত শাস্ত্র: কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন কুরআনের প্রায়োগিক রূপ। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যেমনটি বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন। আর একারণেই তাঁর সীরাত এবং তাঁর প্রকাশ্য ও ব্যক্তিগত জীবনকে কুরআনের সবচেয়ে নির্ভুল ব্যাখ্যা এবং এর দিকনির্দেশনা ও বিধানসমূহের বাস্তব ও প্রায়োগিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
12 - علم الرجال: وبخاصةٍ أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ليعرف كيف كانوا يحيون بالقرآن، ويعيشون في ظلاله، ويطبِّقون أوامره وأحكامه. فيقتدي بهم في كل هذا، ويلحظ البعد الواقعي العملي التطبيقي للآيات، الذي ينقلها من كونها مجرد توجيهاتٍ مثاليةٍ خياليةٍ نظريةٍ يستحيل تطبيقها على الواقع، إلى كونها حقائق واقعية، وقيماً حياتية وبرامجَ عملية وخططاً مُعاشة في حياة الناس ..13 - العلوم النظرية البحتة، للوقوف على الأبعاد الجديدة للآيات، وتوسيع معانيها، ورفدها بما توحي به هذه العلوم من حقائق وظواهر وبيِّنات، سواءٌ في عالم الفلك أو الزراعة أو الكون أو الطب أو الاختراع.14 - العلوم الإِنسانية والاجتماعية، التي تُعرض من خلالها مضامين جديدة للآيات التي تشير إلى هذه المجالات، فيجد من هذه الآيات حياةً وحيوية، وقوةً وتأثيراً، وتوجيهاً وإرشاداً. وهذه العلوم مثل علم النفس وعلم الاجتماع وعلم الاقتصاد والسياسة والإعلام والدعوة.15 - العلم بالأعداء الكافرين، والاطِّلاع على حياتهم وأنظمتهم وتشريعاتهم، والوقوف على أفكارهم واهتماماتهم - وبخاصة المعاصرين منهم - ليحسن فهم الآيات التي تكشفهم وتحلِّل حياتهم.***
12 - বর্ণনাকারী মূল্যায়ন বিদ্যা (علم الرجال): বিশেষত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের (أصحاب) জীবনী, যাতে জানা যায় তারা কীভাবে কুরআনের আলোকে জীবন যাপন করতেন, এর ছায়াতলে জীবন অতিবাহিত করতেন এবং এর আদেশ ও বিধানসমূহ বাস্তবায়ন করতেন। ফলে তিনি এই সব বিষয়ে তাঁদের অনুসরণ করবেন এবং আয়াতসমূহের বাস্তব, প্রায়োগিক ও কর্মমুখী দিকগুলো লক্ষ্য করবেন, যা কুরআনকে কেবল কাল্পনিক ও তাত্ত্বিক আদর্শের গণ্ডি থেকে বের করে—যা বাস্তবে প্রয়োগ করা অসম্ভব—বাস্তব সত্য, জীবনমুখী মূল্যবোধ, কর্মপরিকল্পনা এবং মানুষের জীবনে যাপিত রূপরেখায় রূপান্তরিত করে।13 - বিশুদ্ধ তাত্ত্বিক বিজ্ঞানসমূহ: আয়াতসমূহের নতুন মাত্রাগুলো উপলব্ধি করা, এর অর্থব্যাপ্তিকে প্রসারিত করা এবং এসব বিজ্ঞানের সত্য, প্রপঞ্চ ও প্রমাণাদির মাধ্যমে আয়াতসমূহকে সমৃদ্ধ করা; চাই তা জ্যোতির্বিজ্ঞান, কৃষি, মহাবিশ্ব, চিকিৎসা বিজ্ঞান কিংবা উদ্ভাবনী কোনো বিষয়েই হোক না কেন।14 - মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানসমূহ: যার মাধ্যমে এই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোর প্রতি ইঙ্গিতকারী আয়াতসমূহের নতুন বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হয়। ফলে এই আয়াতগুলোর মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য, সজীবতা, শক্তি, প্রভাব ও দিকনির্দেশনা খুঁজে পাওয়া যায়। এসব বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি, গণমাধ্যম ও দাওয়াহ।15 - কাফের শত্রুদের সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং তাদের জীবনযাপন, শাসনব্যবস্থা ও আইনকানুন সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তাদের চিন্তাধারা ও আগ্রহের বিষয়গুলো—বিশেষ করে সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে—পর্যবেক্ষণ করা, যাতে তাদের স্বরূপ উন্মোচনকারী এবং তাদের জীবন বিশ্লেষণকারী আয়াতসমূহ সঠিকভাবে অনুধাবন করা যায়।***
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الآداب التي يراعيها الناظر في القرآنوبعد ما يملك الناظر في آيات القرآن الأدوات التي أشرنا إليها، ويُحصِّل طرفاً من العلوم التي تحدثنا عنها، فإننا نضع بين يديه طائفةً من الآداب التي عليه مراعاتها، من أجل دقة النظر، وحسن الفهم، وصحة التفسير، وصوابية الاستنباط:1 - أن يتمتع بقسطٍ من الذكاء وحسن الفهم وجودة القريحة، وأن يملك موهبةً فذة، تعينه على الوقفة الصحيحة أمام الآية، والالتفات إلى لطائفها وإيحاءاتها وإشاراتها، ولفتاتها الخفية التي قد تخفى على كثيرين.2 - أن يعيش الإسلام عملياً، وأن يطبق توجيهاته على حياته، وأن يكون سلوكه وفق أحكامه، وأن يكون عمله ترجمةً لفكره، ليزداد علماً وفهماً وفطنة. وذلك لأن " العلم يهتف بالعمل فإن أجابه، وإلا ارتحل "، و" من عمل بما علم ورَّثه الله علم ما لم يعلم "، و {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ (2) كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ}.3 - أن يمارس الرياضة العقلية اليومية، وأن ينشِّط ذاكرته وحافظته وفطنته - بفن التفكير وفن الشعور وفن التأمل - ليستطيع استخراج معاني ولفتات وإشارات الآيات.
কুরআনের পর্যালোচনাকারীর (ناظر) পালনীয় শিষ্টাচারসমূহকুরআনের আয়াতের পর্যালোচনাকারী (ناظر) যখন আমাদের নির্দেশিত উপকরণসমূহ আয়ত্ত করবেন এবং আমরা যে জ্ঞানসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি তার কিঞ্চিৎ অংশ অর্জন করবেন, তখন আমরা তার সম্মুখে এমন কিছু শিষ্টাচার পেশ করছি যা পর্যবেক্ষণের সূক্ষ্মতা, সঠিক উপলব্ধি, নির্ভুল তাফসির এবং যথার্থ মাসআলা উদ্ঘাটনের (استنباط) জন্য তাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে:১ - তাকে পর্যাপ্ত মেধা, উত্তম সমঝ ও প্রখর ধীশক্তি সম্পন্ন হতে হবে এবং এমন এক অনন্য প্রতিভার অধিকারী হতে হবে, যা তাকে আয়াতের সম্মুখে সঠিক অবস্থানে থেকে এর সূক্ষ্ম মাধুর্য, ইঙ্গিত, ইশারা এবং এমন সব প্রচ্ছন্ন দিকগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করতে সাহায্য করবে যা অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থেকে যায়।২ - তাকে ইসলামকে বাস্তব জীবনে লালন করতে হবে, নিজের জীবনে এর দিকনির্দেশনাসমূহ প্রয়োগ করতে হবে এবং তার আচরণ হতে হবে এর বিধান অনুযায়ী। তার কর্ম হতে হবে তার চিন্তাধারার বাস্তব প্রতিফলন, যাতে তার জ্ঞান, সমঝ ও বিচক্ষণতা বৃদ্ধি পায়। কেননা, "জ্ঞান আমলকে আহ্বান করে; যদি সে আমল দ্বারা সাড়া দেয় তবে জ্ঞান থাকে, অন্যথায় তা প্রস্থান করে"। আর "যে ব্যক্তি তার জানা অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে এমন বিষয়ের জ্ঞান দান করেন যা সে জানত না"। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো? তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়।"৩ - তাকে দৈনন্দিন মানসিক অনুশীলন করতে হবে এবং চিন্তা, অনুভূতি ও ধ্যানের শৈল্পিক চর্চার মাধ্যমে নিজের স্মৃতিশক্তি ও প্রজ্ঞা সজীব রাখতে হবে; যাতে সে আয়াতের অর্থ, সূক্ষ্ম রহস্য ও ইঙ্গিতসমূহ উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
4 - أن يدخل عالم القرآن الرحيب بدون مقرراتٍ سابقة، بل يطلب من القرآن أن يشكِّل له خلفيته، وأن " يكوِّن " له فكره، وأن " يُنشئ " له معرفته وثقافته، فيكون قرآنياً في كل هذه الأمور.5 - أن يتحرك بالقرآن حركةً عملية، وأن يواجه به الباطل وأهله، وأن يخوض به معركةً حية، وأن ينزل به إلى الميدان، ميدان الجهاد بالموقف، والجهاد بالكلمة، والجهاد بالحجة، والجهاد بالدعوة. عندها يعطيه القرآن من فتوحاته، ويقدِّم له من معانيه، ويمنحه من كنوزه.6 - أن يكون متواضعاً لربه، طالباً منه المدد والعون والفتوحات والتفهيم، وأن يكون مخلصاً لله في نيته وهدفه وسعيه، وأن لا يفتر بعمله وقوله ونظره.***
4 - কুরআনের প্রশস্ত জগতে কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা ছাড়াই প্রবেশ করা, বরং কুরআনের নিকট এই দাবি রাখা যেন কুরআনই তার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয়, তার চিন্তাধারা ‘গঠন’ করে এবং তার জ্ঞান ও সংস্কৃতি ‘সৃজন’ করে; যাতে সে এই সকল বিষয়ে কুরআনিক হতে পারে।5 - কুরআন নিয়ে প্রায়োগিক গতিশীলতার সাথে অগ্রসর হওয়া, এর মাধ্যমে বাতিল ও বাতিলপন্থীদের মোকাবিলা করা, একে অবলম্বন করে জীবন্ত সংগ্রামে লিপ্ত হওয়া এবং একে নিয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া; তথা অবস্থানের জিহাদ (جهاد), শব্দের জিহাদ (جهاد), অকাট্য প্রমাণের (حجة) মাধ্যমে জিহাদ (جهاد) এবং দাওয়াতের (دعوة) জিহাদ (جهاد)-এর ময়দানে নেমে আসা। তখনই কুরআন তাকে এর বিজয় ও বিশেষ জ্ঞান (فتوحات) দান করবে, তার নিকট এর মর্মার্থসমূহ উপস্থাপন করবে এবং তাকে এর গুপ্তধনসমূহ থেকে অনুগ্রহ করবে।6 - নিজ রবের প্রতি বিনয়ী হওয়া এবং তাঁর নিকট সাহায্য, সহায়তা, বিজয় (فتوحات) ও সঠিক বুঝ (تفهيم) প্রার্থনা করা; আর নিজের নিয়ত (نية), উদ্দেশ্য ও প্রচেষ্টায় আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ (مخلص) থাকা এবং নিজের আমল (عمل), কথা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে না ভোগা।***
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المعوقات عن حسن فهم القرآنوعلى كل من ينظر في القرآن، ويرغب في حسن فهمه والتلقي عنه، ويرغب في استنباط أحكامه ومعانيه ودلالاته، أن يتحرز عن كل ما يحجبه عن القرآن، وأن يتجنب كل ما يقف حاجزاً بينه وبين أنوار القرآن، وأن يكون حذراً من أن يقع قي أيٍ من المعوقات التي تعيقه عن ذلك.من المعوقات أضداد ما ذكرناه سابقاً، بحيث لا يُحصِّل العلوم الضرورية ليستخرج بها بعض علوم القرآن.ومن المعوقات أن لا يراعي الآداب التي ذكرناها من قبل، كأن لا يتمتع بالموهبة والفطنة والذكاء، أو لا يطبق الإسلام على حياته وواقعه، أو لا يتمتع بالعقلية العلمية المنهجية، ولا يشحذها وُيريِّضها وينمِّيها، أو يدخل عالم القرآن بمقررٍ سابق، وثقافةٍ دخيلةٍ غريبة، ونيةٍ مغرضةٍ مدخولة، أو لا يتحرك بالقرآن في مواجهة الجاهلية، أو يكون متكبراً مزهواً متبختراً.ويضاف إلى ذلك حذره من المعوقات التالية:1 - التهجم على بيان مراد الله من كلامه مع الجهل بقوانين وأصول الشريعة.2 - الخوض فيما استأثر الله بعلمه من الغيوب المستقبلية.
কুরআন সঠিকভাবে অনুধাবনের ক্ষেত্রে অন্তরায়সমূহযে কেউ কুরআন পাঠ করে এবং তা সঠিকভাবে বুঝতে ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে চায়, এবং এর বিধান (أحكام), অর্থ ও ইঙ্গিতসমূহ উদ্ঘাটন করতে ইচ্ছুক, তাকে এমন সব বিষয় থেকে দূরে থাকতে হবে যা তাকে কুরআন থেকে বিচ্যুত করে। তাকে এমন সব কিছু এড়িয়ে চলতে হবে যা তার এবং কুরআনের নূরের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং তাকে এমন সব প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে যা তাকে এই লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেয়।অন্তরায়গুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্বে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার বিপরীত বিষয়সমূহ; যেমন কুরআনের কিছু জ্ঞান আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানসমূহ অর্জন না করা।অন্যান্য অন্তরায়ের মধ্যে রয়েছে পূর্বে উল্লিখিত শিষ্টাচারসমূহ রক্ষা না করা; যেমন মেধা, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী না হওয়া, অথবা নিজের জীবন ও বাস্তবতায় ইসলাম প্রয়োগ না করা, কিংবা সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক মানসিকতা না থাকা এবং একে শাণিত ও বিকশিত না করা। অথবা পূর্বনির্ধারিত কোনো সিদ্ধান্ত, বিজাতীয় সংস্কৃতি এবং অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কুরআনের জগতে প্রবেশ করা, অথবা জাহিলিয়াতের মোকাবিলায় কুরআনের মাধ্যমে সক্রিয় না হওয়া, কিংবা অহংকারী ও দাম্ভিক হওয়া।এর সাথে নিচের প্রতিবন্ধকতাগুলো সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে:1 - শরীয়তের (الشريعة) নিয়মকানুন ও মূলনীতি (أصول) সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ বর্ণনায় দুঃসাহস দেখানো।2 - ভবিষ্যৎ গায়েব বা অদৃশ্যের (الغيوب) এমন সব বিষয়ে লিপ্ত হওয়া যা আল্লাহ কেবল নিজের জ্ঞানের জন্যই নির্দিষ্ট রেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
3 - السير مع الهوى والاستحسان.4 - التفسير المقرر للمذهب الفاسد، بأن يجعل المذهب أصلاً، والتفسير تابعاً، فيحتال في التأويل حتى يصرفه إلى عقيدته، ويردَّه إلى مذهبه.5 - التفسير مع القطع بأن مراد الله كذا وكذا من غير دليل.ويحسن أن أورد في هذا الموضع كلاماً رائعاً للإمام أبي طالب الطبري ذكره السيوطي في الإتقان:" اعلم أن من شرط التفسير صحة الاعتقاد أولاً، ولزوم سنة الدِّين، فإن من كان مغموصاً عليه في دينه لا يؤتمن على الدنيا فكيف على الدِّين؟ ثم لا يؤتمن في الدين على الإخبار عن عالم فكيف يؤتمن في الإِخبار عن أسرار الله، ولأنه لا يُؤمَن - إِنْ كان متَّهماً بالإِلحاد - أن يبغي الفتنة، ويغرَّ الناسَ بِلَيِّهِ وخداعه، كدأب الباطنية وغلاة الرافضة. وإن كان مُتَّهَماً بهوى لم يْؤمَن أن يحمله هواه على ما يوافق بدعته، كدأب القدرية فإن أحدهم يصنِّف الكتاب في التفسير، ومقصوده منه الإِيضاح لبدعتهم، ليصدهم عن اتباع السلف، ولزوم طريق الهدى.ويجب أن يكون اعتماده على النقل عن النبي صلى الله عليه وسلم، وعن أصحابه ومن عاصرهم، ويتجنب المُحْدَثات، وإذا تعارضت أقوالهم وأمكن الجمع بينها فعل.ومن شروطه صحة القصد فيما يقول ليلقى التسديد، فقد قال الله تعالى: {وَالذينَ جاهَدوا فِينا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا}. وإنما يخلص له القصد إذا زهد في الدنيا، لأنه إذا رغب فيها لم يُؤمَن أن يتوسل به إلى غرض يصده عن صواب قصده، ويفسد عليه صحة عمله.
3 - প্রবৃত্তি (هوى) এবং ব্যক্তিগত অভিরুচির (استحسان) অনুসরণ করা।4 - ভ্রান্ত মাযহাবের সপক্ষে তাফসির করা; এভাবে যে, মাযহাবকে মূল ভিত্তি এবং তাফসিরকে তার অনুগামী করা। ফলে অপব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে বিষয়টিকে নিজের আকিদার (عقيدة) অনুকূলে নেওয়ার অপকৌশল অবলম্বন করা এবং তাকে নিজের মাযহাবের দিকে ফিরিয়ে আনা।5 - কোনো প্রমাণ (دليل) ছাড়াই আল্লাহর উদ্দেশ্য অমুক বা তমুক—এ কথা নিশ্চিতভাবে বলে তাফসির করা।এ পর্যায়ে ইমাম আবু তালিব আত-তাবারির একটি চমৎকার বক্তব্য উদ্ধৃত করা সমীচীন হবে, যা সুয়ুতি আল-ইতকান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:"জেনে রাখুন, তাফসিরের অন্যতম শর্ত হলো—প্রথমত আকিদার (اعتقاد) বিশুদ্ধতা এবং দ্বীনের সুন্নাহর (سنة) যথাযথ অনুসরণ। কেননা, যার দ্বীনদারির ব্যাপারে সংশয় রয়েছে, দুনিয়াবি বিষয়েই যাকে বিশ্বাস করা যায় না, দ্বীনি বিষয়ে সে কীভাবে বিশ্বস্ত হতে পারে? অতঃপর, দ্বীনি বিষয়ে একজন আলেম সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রেও যাকে বিশ্বাস করা যায় না, আল্লাহর রহস্যসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে সে কীভাবে বিশ্বস্ত হবে? এছাড়া সে যদি নাস্তিক্যবাদের (إلحاد) অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, তবে সে ফিতনা (فتنة) সৃষ্টি করবে এবং তার মারপ্যাঁচ ও প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে—এমন আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায় না; যেমনটি বাতিনিয়া ও চরমপন্থী রাফেজিদের স্বভাব। আর সে যদি খেয়াল-খুশির (هوى) অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, তবে তার প্রবৃত্তি তাকে নিজ বিদআতের (بدعة) অনুকূলে নিয়ে যেতে প্ররোচিত করবে—এমন আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায় না; যেমনটি কাদারিয়াদের স্বভাব। তাদের কেউ যখন তাফসির গ্রন্থ রচনা করে, তখন তার উদ্দেশ্য থাকে স্বীয় বিদআতের (بدعة) ব্যাখ্যা প্রদান করা, যাতে সে মানুষকে সালাফদের (سلف) অনুসরণ এবং হেদায়েতের (هدى) পথে চলা থেকে বিচ্যুত করতে পারে।আর তাফসিরের ক্ষেত্রে অবশ্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ (أصحاب) এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার (نقل) ওপর নির্ভর করতে হবে এবং নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات) বর্জন করতে হবে। যদি তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে আপাত বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দেয় এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় (جمع) করা সম্ভব হয়, তবে তাই করতে হবে।এর আরেকটি শর্ত হলো যা বলা হচ্ছে তাতে উদ্দেশ্যের (قصد) বিশুদ্ধতা থাকা, যাতে সঠিক পথের দিশা পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব}। আর উদ্দেশ্যের (قصد) এই একনিষ্ঠতা তখনই অর্জিত হয় যখন সে দুনিয়াবিমুখতা (زهد) অবলম্বন করে। কারণ, দুনিয়ার প্রতি তার লালসা থাকলে এমন আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায় না যে, সে একে (তাফসিরকে) হীন উদ্দেশ্য হাসিলের অসিলা বানাবে, যা তাকে সঠিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করবে এবং তার আমলের (عمل) বিশুদ্ধতাকে নষ্ট করে দেবে।"
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وتمام هذه الشرائط أن يكون ممتلئاً من عدة الإعراب، لا يلتبس عليه اختلاف وجوه الكلام ".***
আর এই সকল শর্তাবলির (شرائط) পূর্ণতা হলো এই যে, তিনি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) সরঞ্জামে সুনিপুণ হবেন, যাতে বাক্যের বিভিন্ন রূপের বৈচিত্র্য তাঁর নিকট অস্পষ্ট (التباس) না হয়ে পড়ে।***
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأمناء على حسن الفهم للقرآنكل ما ذكرناه سابقاً من العلوم الضرورية للناظر في القرآن، والآداب التي لا بد من مراعاتها لحسن فهمه لآياته، نعترف بأنه لا يحققها ولا يراعيها الجميع، وأن بعض الناظرين في القرآن يدخل عالمه وهو غير مؤهل بما ذكره العلماء وما اشترطوه له، ومن ثم يخرج بنتائج خاطئة، وتفسيرات مرفوضة، ونظرات باطلة.ويوجد هؤلاء في مختلف فترات التاريخ الإسلامي في القديم والحديث، ولكننا نعترف بأنهم أكثر وجوداً في هذا العصر، الذي تميَّز بإقصاء نظام الإسلام عن واقع الحياة، وتفريغ معاني القرآن من بُعدها الواقعي العملي الحي، وتحويلها إلى معلوماتٍ نظريةٍ باهتة. كما تميز هذا العصر بالضآلة والضحالة والقزامة لدى كثيرين ممن يزعمون العلم والمعرفة والثقافة الإسلامية.وقد زهد كثيرون في هذا العصر في العلم الشرعي والثقافة الدينية، وأعرضوا عن المنهجية العلمية والأبحاث المركزة والدراسات الجادة والمؤلفات الرصينة، وتحولوا إلى قشورٍ ومظاهر وكتابات، تتَّصف بالسطحية والنظرة التجارية.وبما أن الذين يدخلون عالم القرآن بدون أهليةٍ موجودون، وبما أن النتائج الخاطئة والتفسيرات الباطلة للآيات تصدر عن هؤلاء، فإن علماء
কুরআন সঠিকভাবে অনুধাবনের আমানতদারগণকুরআনের প্রতি দৃষ্টিদানকারীর জন্য ইতিপূর্বে আমরা যে সকল প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং এর আয়াতসমূহ সঠিকভাবে অনুধাবনের জন্য যে সকল শিষ্টাচার রক্ষা করা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছি, আমরা স্বীকার করি যে, সকলে তা অর্জন করে না বা যথাযথভাবে অনুসরণ করে না। কুরআনের প্রতি দৃষ্টিদানকারীদের কেউ কেউ এমনভাবে এর জগতে প্রবেশ করে যখন সে ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক বর্ণিত ও শর্তারোপকৃত যোগ্যতাসম্পন্ন থাকে না। এর ফলে সে ভুল ফলাফল, বর্জনীয় (مرفوض) ব্যাখ্যা ও অসার (باطل) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেরিয়ে আসে।ইসলামি ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে, অতীতে ও বর্তমানে এই ধরনের লোকদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে আমরা স্বীকার করি যে, বর্তমান যুগে তাদের উপস্থিতি অনেক বেশি। এ যুগটি জীবনের বাস্তবতা থেকে ইসলামি ব্যবস্থাকে বিচ্যুত করা এবং কুরআনের অর্থসমূহকে তার বাস্তব, কর্মমুখী ও জীবন্ত প্রেক্ষাপট থেকে রিক্ত করে নিছক নির্জীব তাত্ত্বিক তথ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে বিশেষায়িত হয়েছে। তদুপরি, বর্তমান যুগটি এমন বহু মানুষের তুচ্ছতা, অগভীরতা ও হীনম্মন্যতার দ্বারাও চিহ্নিত হয়েছে, যারা ইলম, জ্ঞান ও ইসলামি সংস্কৃতির দাবিদার।বর্তমান সময়ে অনেকে শরয়ি জ্ঞান ও দ্বীনি সংস্কৃতির প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছে এবং তারা পদ্ধতিগত ইলমি চর্চা, গভীর গবেষণা, নিবিড় অধ্যয়ন ও মানসম্মত রচনা থেকে বিমুখ হয়েছে। তারা কেবল বাহ্যিক জৌলুস ও এমন সব লেখনীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে যা অগভীরতা ও বাণিজ্যিক মানসিকতায় দুষ্ট।যেহেতু যোগ্যতা ব্যতিরেকে কুরআনের জগতে প্রবেশকারীদের অস্তিত্ব বিদ্যমান এবং যেহেতু আয়াতসমূহের ভুল ফলাফল ও ভ্রান্ত (باطل) ব্যাখ্যা তাদের পক্ষ থেকেই প্রকাশ পায়, সেহেতু ওলামায়ে...
(খণ্ড: ১)
তাসওয়ীবাত ফী ফাহমি বাদিল আয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أعلاماً يقفون لهؤلاء، يقفون حراساً أمناء على حسن الفهم لكتاب الله، يدفعون عنه الأخطاء والتحريفات والانحرافات، ويتصدّون لكل من أساء الدخول إلى عالم القرآن، ولكل من خرج منه بنتائج خاطئة أو مفاهيم مغلوطة.ويحتفظ تاريخنا الإسلامي بنماذج باهرةٍ فريدة، لهؤلاء الحراس الأمناء على كتاب الله، ومعانيه ومفاهيمه ودلالاته. ويقف في مقدمة هؤلاء الرسول المصطفى عليه الصلاة والسلام، ثم أصحابه الكرام ذلك الجيل القرآني الرائد الفريد.***
বরেণ্য মনীষীগণ তাঁদের মোকাবিলায় দাঁড়িয়েছেন; তাঁরা আল্লাহর কিতাবের সঠিক উপলব্ধির ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত প্রহরী হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা এটি থেকে ভুলভ্রান্তি, বিকৃতি ও বিচ্যুতি প্রতিহত করেন এবং যারা কুরআনের জগতে ভুল পন্থায় প্রবেশ করেছে কিংবা যারা এটি থেকে ভুল সিদ্ধান্ত বা ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে বের হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের মোকাবিলা করেন।আমাদের ইসলামি ইতিহাস আল্লাহর কিতাব এবং এর অর্থ, মর্মার্থ ও নির্দেশনাসমূহের সুরক্ষায় নিয়োজিত এই বিশ্বস্ত প্রহরীদের উজ্জ্বল ও অনন্য দৃষ্টান্তসমূহ সংরক্ষণ করে রেখেছে। তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন রাসূল মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), অতঃপর তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ—যাঁরা ছিলেন সেই অনন্য ও অগ্রগামী কুরআনি প্রজন্ম।***