القسم: علوم أخرى
الكتاب: أنس الملا بوحش الفلا
المؤلف: جلال الدين، محمد بن محمود بن منكلي بوغا القاهري (ت 784هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 55
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: অন্যান্য বিজ্ঞানসমূহ
গ্রন্থ: বন্য পশুর সাথে মানুষের সখ্যতা
লেখক: জালালুদ্দীন، মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ বিন মানকালি বুগা আল-কাহিরি (মৃত্যু: ৭৮৪ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, প্রত্যেকটি বিষয় থেকে সতর্ক থাকা শরীয়তগত এবং যুক্তিগতভাবে শাসকের জন্য আবশ্যক। যখন তিনি কোথাও অবতরণ করবেন, তখন যার ওপর তিনি নির্ভর করেন তার থেকে অগ্রগামী হবেন না। তাঁর অবতরণ যেন রাজকীয় আদব অনুযায়ী সুলতানি সুশৃঙ্খলতার সাথে হয়, বরং তিনি এমন কিছু নিয়মনীতি বেছে নেবেন এবং অনুসন্ধান করবেন যা পূর্বে কেউ করেনি এবং যা বুদ্ধিমান ও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট প্রশংসনীয়। মহান আল্লাহ বলেন: (এখানে আয়াত আছে), আর এটি প্রত্যেক দায়িত্বশীল শাসকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যখন তিনি অবতরণ করবেন, তখন বিশ্রাম নেবেন এবং যার জন্য তিনি দায়িত্বশীল তাদের প্রত্যেকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং যারা তাঁর নিকট আসতে চায় তাদের অবস্থা সম্পূর্ণরূপে উন্মোচন করবেন। আমি বলি: রাজার উচিত নয় তাঁর শিকারের জন্য নিজের অবস্থানস্থল থেকে দূরে যাওয়া। তিনি প্রতি মুহূর্তে তাঁর দুর্গের সেই সব খবরবাহকদের খবরাখবর অনুসন্ধান করবেন যারা ছোট-বড় সকল সংবাদ নিয়ে আসে। তিনি তাঁর অবসরে দাবা খেলার মতো নিরর্থক কাজে মগ্ন হবেন না। আমি বলি: দাবা খেলায় অতিমাত্রায় মগ্ন হওয়া রাজাদের জন্য মোটেও শোভনীয় নয়। দাবা খেলায় অতি মগ্নতার কারণে অনেক সাম্রাজ্যের ভিত্তি ধসে পড়েছে এবং এর কারণ সুস্পষ্ট। কেননা দক্ষ দাবাড়ুদের অধিকাংশ জুয়াড়ি এবং তারা অনিবার্যভাবেই হারামে লিপ্ত। তারা সর্বদা রাজা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়। রাজাদের গোপন তথ্য ফাঁসের কারণও স্পষ্ট; তা হলো, দাবা খেলায় আসক্ত রাজা যখন কোনো দক্ষ খেলোয়াড়ের সাথে খেলেন, তখন সেই খেলোয়াড় রাজাকে উপহাস করে এবং তাকে ছাড় দেয়। ফলে রাজা মনে করেন তিনি জয়ী হচ্ছেন, অথচ বাস্তবে তিনি পরাজিত। রাজা নিজের জয় মনে করে আনন্দিত হন এবং এমন কথা বলে ফেলেন যা গোপন রাখা উচিত ছিল। তিনি তখন মদ্যপানে মাতাল ব্যক্তির ন্যায় কথা বলেন। আর অতিরিক্ত আনন্দের অবস্থা রাগান্বিত অবস্থার মতোই। অতএব রাজা এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত তাঁর কথাবার্তায় সতর্ক থাকা। দাবাড়ু এমন কথা শুনতে পায় যা গোপন রাখা জরুরি, এরপর সে তা ফাঁস করে দেয়। দাবার ছাত্রদের মাঝে সেই কথা ছড়িয়ে পড়ে এবং একজনের থেকে অন্যজনের কাছে স্থানান্তরিত হয়। ফলে ক্ষতির সৃষ্টি হয়, আর খিয়ানতকারীদের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আমি বলি: এতে তাদের কোনো দোষ নেই, বরং দোষ তাদের যারা তাদেরকে কাছে টেনে নিয়েছে। কারণ তাদের নৈকট্য হলো অপমানজনক এবং পদমর্যাদার অবনতি। সুলতান আল-মানসুর লাজিনের অবস্থা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত, আল্লাহ তাঁকে রহমত দ্বারা আবৃত করুন, ইবনুল আসসালের (আল্লাহ তাকে রহমত করুন) উপস্থিতিতে দাবা খেলার কারণে তাঁর সাথে যা ঘটেছিল।
তাঁর যে প্রচণ্ড ভীতি অর্জিত হয়েছিল তা-ই যথেষ্ট ছিল। এটি ছিল তাঁর জন্য এক শিক্ষা যে, কীভাবে তিনি খেলার স্থানে উপস্থিত হলেন এবং মৃত্যু থেকে রক্ষা পেলেন।
মুহাম্মদ ইবনে মানকালি বলেন: রাজার জন্য আবশ্যক হলো যখন তিনি কোথাও অবতরণ করবেন, তখন তাঁর বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সাথে দ্রুতগামী এবং ধৈর্যশীল ঘোড়াগুলোকে কাছে রাখা। একইভাবে যখন তিনি সমতল ভূমিতে চলবেন, তখন দ্রুতগামী ঘোড়াগুলো তাঁর নিকটবর্তী থাকবে। কিছু সৈন্য আমার সাথে উৎকৃষ্ট ঘোড়া নিয়ে বিতর্ক করেছিল যে, ঘোড়ার নিকট কাঙ্ক্ষিত হলো তার চলার ভঙ্গি (ধীর পদচারণা)। আমি বললাম: আমি এটি মানি না, বরং ঘোড়ার নিকট কাঙ্ক্ষিত হলো তার দৌড়। আমি এর পক্ষে শরীয়তগত এবং যুক্তিগত প্রমাণ পেশ করলাম, ফলে সে নিরুত্তর হলো, তা মেনে নিল এবং উপকৃত হলো। হে আমার মণিভ! আপনি হয়ত বলবেন, শরীয়তগত এবং যুক্তিগত প্রমাণ কী? শরীয়তগত প্রমাণ হলো: ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহিহ রেওয়ায়েত, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আরবীয় ঘোড়াকে দক্ষিণা বাতাস থেকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: "আমি তোমাকে অনুসন্ধান এবং পলায়নের জন্য সৃষ্টি করেছি। আমি তোমার পিঠে এমন পুরুষদের আসীন করব যারা আমার তাসবিহ পাঠ করবে, আমার প্রশংসা করবে এবং আমার মহিমা ঘোষণা করবে। তারা যখন তাসবিহ পড়বে তুমিও তাসবিহ পড়বে, তারা যখন প্রশংসা করবে তুমিও প্রশংসা করবে এবং তারা যখন আমার উদ্দেশ্যে মহিমা ঘোষণা করবে তুমিও তা করবে।" এর মধ্যে হাঁটার ভঙ্গির চেয়ে দৌড়ানোর শ্রেষ্ঠত্বের সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। আর যদি উভয়টি অর্জিত হয় তবে তো চমৎকার।
দ্রুতগামী ঘোড়া ধ্বংস ও শত্রুর কবল থেকে মুক্তি দেয় এবং শিকার ধরাসহ অন্যান্য উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হয়, বিশেষ করে দীর্ঘশ্বাস সম্পন্ন ঘোড়া। জন্মগত প্রশংসনীয় গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সমান শক্তির সাথে দৌড়ানো। ঘোড়াদের মধ্যে এটি বিরল। তাদের মধ্যে কেউ আছে ক্ষীপ্র, শুরুতে গতি প্রবল কিন্তু শেষে দৌড় খারাপ হয়; এর একটি নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কেউ আছে এর বিপরীত, অর্থাৎ শুরুতে গতি ধীর, কিন্তু যতই ঘামায় এবং সামনে বাড়ে তার দৌড় ততই ভালো হয়। তবে এতে একটি সমস্যা আছে, সম্ভবত যখন তাকে চাওয়া হয় তখন ক্ষীপ্র ঘোড়াটি শুরুতেই তাকে ধরে ফেলে এবং আরোহীকে বিপদে ফেলে। এই বিস্তারিত বর্ণনা আমি ইতিপূর্বে শুনিনি তবে এটি সুস্পষ্ট।
বন্য প্রাণীদের ওপর ঘোড়াদের এই প্রশিক্ষণ সম্পর্কে আমি কখনও শুনিনি এবং কোনো কিতাবেও তা দেখিনি। তবে এটি আমার রবের অনুগ্রহ, যিনি আমাকে এর প্রেরণা দান করেছেন। সুতরাং সেই দাতার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যিনি তাঁর অনুগ্রহে দান করেন। আর পদব্রজে সিংহের মোকাবিলা করার সাহস কেবল সেই করতে পারে যার হৃদয় অবিচল। তাকে অবশ্যই দুটি খঞ্জর সাথে রাখতে হবে, যার একটি তার বাম কব্জিতে বাঁধা থাকবে এবং অপরটি পেটের আড়াআড়ি থাকবে, যার হাতল থাকবে শিকারীর ডান হাতের দিকে; আর যদি সে বামহাতি হয় তবে এর বিপরীত হবে। সে তার দুই হাতে শক্ত সুতো দিয়ে সেলাই করা একটি মোটা আলখাল্লা (পশমি কাপড়) বেঁধে নেবে। তার বাম হাতে থাকবে শক্ত কাঠ বা লোহার তৈরি একটি খুঁটির মতো দণ্ড, যার মাথা হবে সূঁচালো। ডান হাতে থাকবে তলোয়ার, যা বিদ্ধ করার জন্য উপযোগী। সিংহ যখন অগ্রসর হয়ে মুখ খুলবে, তখন শিকারী সেই দণ্ডটি তার মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দেবে এবং তালুর ওপর দাঁড় করিয়ে দেবে। তখন দণ্ডটি তার তালুর উপরিভাগ ও দুই চোয়ালের মাঝে গেঁথে যাবে। যখন তা ঠিকমতো বসে যাবে, তখন তলোয়ার দিয়ে তার দুই হাত বা একটির ওপর আঘাত করো এবং যথাসম্ভব শক্তি দিয়ে নিজেকে আড়াল করে পিছিয়ে যাও। আল্লাহ তাআলা যদি তোমাকে শক্তি ও স্থিরতা দান করেন এবং তুমি তলোয়ার দিয়ে তার কোনো একটি চোখ বিদ্ধ করতে পারো, তবে তুমিই সফল। আর যদি তুমি তোমার শরীরে হাতাছাড়া কোনো মোটা পশমি কাপড় পরিধান করো—যেমনটা আমি চিতাবাঘ হত্যার বর্ণনায় পরে উল্লেখ করব—তবে সে যদি তোমাকে ভয় পাইয়ে দেয় এবং তোমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তোমাকে নিচে ফেলে দেয়, তবে খঞ্জর বের করে তার পেট চিরে ফেলো। সিংহের সাথে লড়াইয়ে প্রসিদ্ধ আমির (রহিমাহুল্লাহ) এভাবেই করতেন।
যদি দুজন শক্তিশালী হৃদয়ের প্রস্তুত ব্যক্তি থাকে, তবে সিংহ হত্যা করা কুকুরের হত্যার চেয়েও সহজ। এর নিয়ম হলো, একজন সিংহের সামনে থাকবে এবং অন্যজন পিছনে। পিছনের জন এমন দূরত্বে থাকবে যাতে সিংহ পিছনে ফিরলে তাকে নাগাল না পায়। পিছনের লোকটিকে একটু পাশ কাটিয়ে দাঁড়াতে হবে। সিংহ যখন সামনের জনকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, তখন পিছনের জন তার পায়ের পেছনের শিরায় বা দুটির কোনো একটিতে আঘাত করবে। যখন পিছনের জন আঘাত করবে এবং সিংহ তা অনুভব করবে, তখন সে হয়তো পিছনের দিকে ফিরবে, তবে সচরাচর সে ফিরে না—এটিই তার প্রকৃতি। যদি সে না ফেরে, তবে তার অন্য শিরার ওপর আঘাতটি জোরদার করো। যখন তুমি তার দুই পায়ের শিরা কেটে দেবে, তখন পিছনের জন সামনে এগিয়ে আসবে এবং তার পার্শ্বদেশে আঘাত করে পেট চিরে ফেলবে। যদি আঘাত বাম পাশে হয়, তবে সেটি তার দ্রুত মৃত্যুর কারণ হবে, কারণ তার হৃদপিণ্ড বাম পাশে থাকে। শর্ত হলো, উভয় ব্যক্তিকে শক্তিশালী হৃদয়ের অধিকারী, দ্রুত চলাচলে সক্ষম এবং খঞ্জর নিয়ে প্রস্তুত হতে হবে। যদি দুর্ভাগ্যবশত সিংহ সামনের জনকে ধরে ফেলে, তবে পিছনের জন যেন এগিয়ে এসে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে তার চোখ উপড়ে ফেলে। এতে সে নিশ্চিতভাবে অন্যমনস্ক হবে, এরপর সে অন্য চোখটিও উপড়ে ফেলবে এবং এভাবে এই ক্ষতিকর প্রাণীকে হত্যার মাধ্যমে আল্লাহর মাখলুকাতকে তার হাত থেকে রক্ষা করে সফল হবে।হে আমার সর্দার, আপনি হয়তো আপনার মমতা ও নেতৃত্বের কারণে বলবেন যে, কাউকেই যেন এমন বিপদে না ফেলা হয় কারণ তারা নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। হে আমার সর্দার, আল্লাহ এমন কিছু সৃষ্টি করেছেন যারা তাদের সহজাত বীরত্ব এবং গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব কাজের জন্যই সৃষ্ট, আর আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই।ইয়েমেন দেশে 'আওলাদে উম্মে ঈসা' নামে খ্যাত কিছু লোক আছে, যারা হায়েনা দেখলে অস্থির হয়ে পড়ে এবং তাদের কেউ হায়েনা দেখে নিজেকে সংবরণ করতে পারে না।উলামায়ে কেরামের মধ্য হতে একজন ওলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি তাদের নেককার লোকদের মধ্যে একজনকে দেখেছি, তিনিই আমার কাছে ঐসব লোকদের বীরত্ব এবং হায়েনার ওপর তাদের ঝাঁপিয়ে পড়ার সংবাদ দিয়েছেন।আর এই দুর্বল গোলামের অবস্থা এই যে, আমি যখন কোনো সাপ দেখি, তখন আমার ওপর এমন এক অবস্থা সওয়ার হয় যে আমি তার থেকে পিছু হটতে পারি না, যতক্ষণ না আল্লাহ তার ব্যাপারে কোনো ফয়সালা করেন। আমার হাতে তাদের অনেকগুলো নিহত হয়েছে এবং এটি একটি বিশেষ গুণের কারণে যার বিভিন্ন অর্থ হতে পারে।তেমনিভাবে যখন আমি 'যুদ্ধ' শব্দটি লিখিত দেখি, তখন আমার অন্তরে এক প্রকার আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং আমি শক্তি অনুভব করি।আল্লাহর কসম, আমি এটি অহঙ্কার বা প্রশংসার জন্য উল্লেখ করিনি, বরং কেবল বিশেষ বাস্তব ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়, আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী। সিংহের কিছু বিশেষ গুণাগুণ ও উপকারিতাতার মধ্যে একটি হলো: যদি কোনো মানুষ মাসের শুরুতে ডিমের সাথে সিংহের পিত্ত পান করে, তবে নারীদের থেকে (যাদুগ্রস্ত হয়ে) অক্ষম হওয়া ব্যক্তির বাঁধন খুলে যায়।মস্তিষ্ক: গাভীর দুধের সাথে দুই দানা পরিমাণ মস্তিষ্ক পান করলে কখনও চুল পাকবে না।সিংহের চামড়ার টুকরো: যদি এটি মৃগী রোগীর গলায় চুলে বেঁধে লটকানো হয়, তবে সে আরোগ্য লাভ করবে। এটি বালেগ হওয়ার পূর্বের কথা; যদি বালেগ হওয়ার পর মৃগী রোগ হয়, তবে এতে উপকার হবে না।চর্বি: যে ব্যক্তি এটি তার শরীরে মাখবে, সমস্ত বন্য প্রাণী তার থেকে দূরে পালাবে এবং তার কোনো ক্ষতি হবে না। একইভাবে সিংহের পিত্ত শরীরে মাখলে সিংহ তার কাছে আসবে না।সিংহের কপালে চামড়া ও চর্বি নিয়ে গোলাপ জলের সাথে মিশিয়ে যদি মুখে মাখা হয়, তবে বাদশাহরা সেই ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা করবে এবং সমস্ত মানুষ তাকে ভয় পাবে।যদি দুটি প্রদীপ জ্বালানো হয়, যার একটি সিংহের চর্বি দিয়ে এবং অন্যটি ভেড়ার চর্বি দিয়ে, আর সেগুলো মুখোমুখি রাখা হয়, তবে প্রদীপ দুটি একে অপরের সাথে লড়াই করবে; গুণাগুণ শাস্ত্রে এমনই পাওয়া গেছে।যদি মেছতা বা চামড়ার দাগে সিংহের চর্বি মাখা হয়, তবে তা দূর হয়ে যায়।যে ব্যক্তি সিংহের পিত্ত দিয়ে সুরমা লাগাবে, তার দৃষ্টিশক্তি প্রখর হবে।সিংহের পিত্ত মধুর সাথে জ্বাল দিয়ে মিশ্রিত করে গলার গ্ল্যান্ড বা ক্ষতরোগে প্রলেপ দিলে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় তা উপশম হবে।যদি সিংহের পিত্ত চূর্ণ করে তলোয়ারের ক্ষতের ওপর ছিটিয়ে দেওয়া হয়, তবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ইচ্ছায় ক্ষতটি জোড়া লেগে যাবে। একইভাবে বল্লমের আঘাত ও অন্যান্য জখমের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর।মুতাওয়াক্কিল চিতাবাঘ দিয়ে শিকার করতে পছন্দ করতেন। একদিন তিনি একটি চিতাবাঘ সাথে নিয়ে বের হলেন। তাঁর এক শত্রু পালিয়ে গিয়েছিল, যাকে শিকারের বলয়ের মধ্যে পাওয়া গেল এবং তাকে তাঁর নিকট নিয়ে আসা হলো। বলা হয় যে, সেই শত্রু এমন অপরাধ করেছিল যার জন্য রাজন্যবর্গের কঠোর শাস্তি অবধারিত ছিল। যখন তাকে সামনে আনা হলো, মুতাওয়াক্কিল তাঁর তলোয়ার কোষমুক্ত করলেন এবং তার গর্দান উড্ডয়নের সংকল্প করলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সেই লোকটির মাঝখান থেকে—যাকে মুতাওয়াক্কিল হত্যা করার সংকল্প করেছিলেন—একটি খরগোশ লাফিয়ে উঠল। মুতাওয়াক্কিল তাঁর হাত থেকে তলোয়ার ফেলে দিলেন এবং সেই খরগোশটির পিছু পিছু চিতাবাঘটিকে লেলিয়ে দিলেন। তিনি সেটির পেছনে ঘোড়া ছোটালেন যতক্ষণ না সেটি শিকার হলো। এরপর তিনি নিচে নামলেন, খরগোশটি জবাই করলেন এবং চিতাবাঘটিকে খাওয়াতে লাগলেন। তারপর তিনি তাঁর পারিষদবর্গের দিকে তাকিয়ে বললেন: "আমি আমার এই শত্রুকে হত্যা করার মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতাম, কিন্তু এই খরগোশটি তার প্রতি আমার অন্তরে যে বিদ্বেষ ছিল তা দূর করে দিয়েছে।" এরপর তিনি তাকে সামনে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। যখন সে নিকটবর্তী হলো, মুতাওয়াক্কিল মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: "এবং আমি তাকে এক মহান কোরবানির বিনিময়ে মুক্ত করলাম।" এরপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন, তার প্রতি সদয় আচরণ করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাকে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচরদের অন্তর্ভুক্ত রাখলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
শিকারের নেশায় মত্ত ব্যক্তিদের অবস্থার বর্ণনায় এটি অন্যতম এক বিস্ময়কর ঘটনা।
হারুনুর রশিদও শিকারের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন, মুতাসিমও তদ্রূপ। তবে মুহাম্মদ আল-আমিন ছিলেন শিকারের প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিমগ্ন। আমরা যদি শিকারপ্রিয় খলিফা, রাজা এবং অন্যদের গণনা করতে বসি, তবে বিষয়টি দীর্ঘ হয়ে যাবে।
চিতাবাঘের শিকারের পরবর্তী প্রশিক্ষণ, যেমন হরিণ শাবকের শুষ্ক মাংস দিয়ে চিতাবাঘকে শিকার থেকে ফিরিয়ে আনা, তা প্রশিক্ষকরা শিখিয়েছেন। আর চিতাবাঘকে সর্বদা পুরুষ হরিণ শিকারে উৎসাহিত করার বিষয়টি আমি ইনশাআল্লাহ উল্লেখ করছি: প্রশিক্ষক যখন চিতাবাঘকে শিকারে পাঠায় এবং সে একটি পুরুষ হরিণ শিকার করে, তখন সেটির পেট চিরে দেওয়া হয় যাতে সে তার কাম্য সবকিছু পেট ভরে খেতে পারে। কিন্তু যদি সে মাদি হরিণ বা অন্য কিছু শিকার করে, তবে প্রশিক্ষক তাকে তাড়িয়ে দেয় এবং কিছুই খেতে দেয় না। যদি একান্তই খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়, তবে ঘোড়ার পিঠে আরোহণের পর খাওয়ানো হয়। বারবার এমনটি করলে সে পুরুষ হরিণ ভক্ষণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং পালের মধ্যে সেটিকেই শনাক্ত করে নেয় এবং ইনশাআল্লাহ সেটি ছাড়া অন্য কিছু শিকার করতে চায় না।
চিতাবাঘ পালানোর অভ্যাস করলে তা পরিবর্তনের অধ্যায়
জেনে রাখুন যে, এটি একটি ত্রুটি এবং এর লক্ষণ হলো—যখন সে শিকারের নিকট পৌঁছায় তখন তার থাবা দিয়ে মাটিতে আঘাত করে। যদি তার মধ্যে এমনটি দেখা যায়, তবে প্রশিক্ষক পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোনো প্রতিকার নেই। যদি তাতেও কাজ না হয় এবং চিতাবাঘটি তার অভ্যাসে অটল থাকে, তবে প্রশিক্ষক তাকে শিকারের দিকে পাঠানোর সময় তার খাবারের এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেবে এবং তাকে কেবল আস্বাদন করার মতো সামান্য খাবার দেবে। এরপর পনীরের ওপর লবণের মতো গুঁড়ো ছিটিয়ে দিয়ে তাকে সেই আস্বাদনের এক-তৃতীয়াংশের মতো দেবে। তারপর সেটিকে ছোট ছোট লোকমা বানাবে। প্রতিবার যখন সে লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে, তখন একটি ভালো লোকমা তাকে খাওয়াবে। এভাবে তিন বা পাঁচ দিন করবে এবং আস্বাদন করার অতিরিক্ত খাবার তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে দেবে না। যদি এমনটি করা হয়, তবে চিতাবাঘ আর সেই পূর্বের আচরণ করবে না, যদি না সে তার প্রশিক্ষককে ভয় পায় অথবা ঘোড়ার কারণে আতঙ্কিত হয়। কারণ কিছু চিতাবাঘ এমন আছে যে, যখন ঘোড়ার পিঠ থেকে নামে তখন স্বস্তি অনুভব করে এবং ঘোড়ার প্রতি বিরাগের কারণে সে আর তার প্রশিক্ষকের কাছে ফিরে আসতে চায় না। এই বিষয়টি সংশোধন করা অত্যন্ত কঠিন।
বলা হয়ে থাকে যে, ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সর্বপ্রথম এগুলোকে ঘোড়ার পিঠে বহন করেছিলেন।
চিতাবাঘের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এরিস্টটল বলেছেন: হিংস্র প্রাণীরা চিতাবাঘের ঘ্রাণ পছন্দ করে এবং এর মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে। কখনও কখনও তারা একে অপরের নিকটবর্তী হয়। চিতাবাঘ গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে, যখন কোনো হরিণ হঠাৎ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, সে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তার কাঁধে নখ গেঁথে দেয় এবং তার রক্ত চুষে খায় যতক্ষণ না হরিণটি দুর্বল হয়ে পড়ে যায়। তখন অন্য চিতাবাঘগুলো তার কাছে সমবেত হয় এবং তাকে ভক্ষণ করে। যদি কোনো সিংহ সেখান দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সে উঠে দাঁড়ায় এবং সিংহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে শিকারটি তার জন্য ছেড়ে দেয়।
চিতাবাঘের এক প্রকার রোগ হয় যাকে 'চিতাবাঘের শ্বাসরোধ' বলা হয়। এই রোগ হলে সে মল ভক্ষণ করার অনুপ্রেরণা পায় এবং এর ফলে সে আরোগ্য লাভ করে।
তার স্বভাবের মধ্যে রয়েছে যে, সে সুমধুর শব্দ পছন্দ করে এবং তা মনোযোগ দিয়ে শোনে। কখনও কখনও এটিই তার শিকার হওয়ার কারণ হয়। তার অন্যতম প্রকৃতি হলো, যখন বার্ধক্য বা অন্য কোনো কারণে সে উপার্জনে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন অন্য চিতাবাঘরা প্রতিদিন তার জন্য পরিতৃপ্ত হওয়ার মতো শিকার করে আনে। এই বন্য প্রাণীর মধ্যে কী চমৎকার সহমর্মিতা!
মল: ঘোড়া যদি লাগাম চিবানোর অভ্যস্ত হয়, তবে তার ওপর চিতাবাঘের টাটকা মল লেপে দিলে সে ঘ্রাণ পেয়ে চিবানো থেকে বিরত থাকে। চিতাবাঘ যখন শিকার ধরতে ব্যর্থ হয়, তখন সে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ফিরে আসে এবং কখনও কখনও সেই সময় তার রক্ষককে হত্যা করে ফেলে।
তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে: যে তার প্রতি সদয় আচরণ করে সে তার অনুগত হয়। বলা হয় যে, সে হিংস্র প্রাণীদের মধ্যে এক বড় তস্কর। আমি তার পিত্ত ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গের বিশেষ কোনো গুণ দেখিনি; পিত্ত গলিয়ে ক্ষতের ওপর প্রলেপ দিলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়।
আর তার পিত্ত এক প্রাণঘাতী বিষ। যখন এটি জিঞ্জারের সাথে মিশ্রিত করা হয়, তখন তা প্রলেপ হিসেবে টিউমার ফাটিয়ে দেয়।
চিতাবাঘ দিয়ে খরগোশ শিকারের অধ্যায়