(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: -)
آراء السمعاني العقدية   (مازن بن محمد بن عيسى)

القسم: العقيدة


الكتاب: آراء الإمام أبي المظفر السمعاني العقدية، من خلال كتابه تفسير القرآن العزيز - جمعًا ودراسة

رسالة: دكتوراه في العقيدة بجامعة القرآن الكريم والعلوم الإسلامية بأم درمان في السودان

إعداد: مازن بن محمد بن عيسى

إشراف الأستاذ الدكتور: صلاح إبراهيم عيسى

العام الجامعي: 1437 هـ - 2016 م

عدد الصفحات: 738

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو القعدة 1442

আল-সাম'আনীর আকিদাগত মতামতসমূহ   (মাযেন বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা)

বিভাগ: আকিদা


বই: ইমাম আবু আল-মুজাফফর আল-সাম'আনীর আকিদাগত মতামতসমূহ, তাঁর ‘তাফসীরুল কুরআন আল-আযীয’ গ্রন্থের আলোকে - সংগ্রহ ও গবেষণা

থিসিস: সুদানের ওমদুরমানস্থ পবিত্র কুরআন ও ইসলামি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে আকিদা বিষয়ে পিএইচডি

প্রস্তুতকারী: মাযেন বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা

তত্ত্বাবধানে প্রফেসর ডক্টর: সালাহ ইব্রাহিম ঈসা

শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩৮

[শামেলা নাম্বারিং সহ ই-বুক]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলকদ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১)
آراء الإمام أبي المظفر السمعاني العقدية

من خلال كتابه "تفسير القرآن العزيز"

جمعًا ودراسة

 

إعداد الطالب: مازن بن محمد بن عيسى

إشراف الأستاذ الدكتور: صلاح إبراهيم عيسى

 

1437 هـ ـ 2016 م

 

رسالة علمية مقدمة لنيل درجة الدكتوراه في العقيدة بجامعة القرآن الكريم والعلوم الإسلامية بأم درمان في السودان لعام 1438 هـ، وقد اجيزت بتقدير ممتاز.
ইমাম আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনী-র আকিদাগত মতামতসমূহ

তাঁর রচিত "তাফসীরুল কুরআনিল আযীয" গ্রন্থের আলোকে

সংগ্রহ ও পর্যালোচনা

 

গবেষক: মাজেন বিন মুহাম্মাদ বিন ঈসা

তত্ত্বাবধানে: প্রফেসর ডক্টর সালাহ ইবরাহিম ঈসা

 

১৪৩৭ হিজরি — ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ

 

সুদানের উম্মে দুরমানস্থ ইউনিভার্সিটি অফ হলি কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক সায়েন্সেস-এ ১৪৩৮ হিজরি শিক্ষাবর্ষে আকিদা বিভাগে ডক্টরেট (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত একটি গবেষণাপত্র, যা 'মুমতাজ' (চমৎকার) গ্রেডে গৃহীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২)
أهدي هذا البحث المتواضع ..

إلى كل من له الفضل عليَّ بعد الله تعالى

إلى والديَّ الكريمين ..

أعظم القامات التي أشعرتني بالأمان والاطمئنان بعد الله تعالى ..

وأعلى الهامات التي شجعتني على البذل والعطاء ..

إلى والدي العزيز ..

أسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل المبارك نورًا وضياءً لك في قبرك .. وأن ينزل عليك شآبيب الرحمات وعظيم المكرمات

إلى والدتي العزيزة الغالية ..

أمد الله تعالى في عمرك بالصحة والخير والطاعة ومتعنا بك

إلى أساتذتي ومشايخي الكرام الأفاضل ..

جزاكم الله تعالى عني وعن المسلمين خير الجزاء، وأعظم لكم المثوبة، وأجزل لكم النوال ..

 

الشكر لله تعالى أولا وآخرًا وظاهرًا وباطنًا ..

فله الحمد والشكر حمدًا يوافي نعمه ويكافئ مزيده ..

أحمده على تمام نعمته ومنته وفضله، أبلغ حمد وأكمله، حمدًا بالغًا من التمام منتهاه ..

ثم أقدِّم خالص شكري وامتناني لكل من ساهم معي بنصح أو توجيه أو إرشاد .. حتى خرج البحث في صورته المتواضعة ..

وأخص منهم:

فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور / صلاح إبراهيم

صاحب الخلق الجم، الذي غمرني بلطفه، وسددني بغزير علمه، واتحفني بحسن توجيهاته ..

فله من الدعاء أخلصه، ومن الثناء أعطره، ومن الشكر أبلغه

وأقدِّم كذلك خالص شكري وامتناني للجامعة الموقرة:

جامعة القرآن الكريم بأم درمان، وكافة منسوبيها.

الجامعة التي فتحت آفاق العلم للراغبين، ويَسَّرت سُبله للمنهومين،

وأنارت الطريق والدرب للمتعلمين.

جعلها الله تعالى منارة للحق، وسبيل هداية للخلق
আমি এই বিনম্র গবেষণাটি উৎসর্গ করছি ..

মহান আল্লাহর পরে যাদেরই আমার ওপর অবদান রয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি

আমার সম্মানিত পিতা-মাতার প্রতি ..

মহান আল্লাহর পরে তাঁরাই সেই মহান ব্যক্তিত্ব যাঁরা আমাকে নিরাপত্তা ও প্রশান্তির অনুভূতি দিয়েছেন ..

এবং তাঁরাই সেই সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব যাঁরা আমাকে প্রচেষ্টা ও ত্যাগের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন ..

আমার প্রিয় আব্বাজানের প্রতি ..

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই বরকতময় কাজটিকে আপনার কবরে আলো ও নূরে পরিণত করেন .. এবং আপনার ওপর রহমতের বারিধারা ও মহান অনুগ্রহরাশি বর্ষণ করেন

আমার পরম প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় আম্মাজানের প্রতি ..

মহান আল্লাহ সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও আনুগত্যের সাথে আপনার হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের আপনার সান্নিধ্য দিয়ে ধন্য করুন

আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও সম্মানিত মাশায়েখদের প্রতি ..

মহান আল্লাহ আমার ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে আপনাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, আপনাদের সওয়াবকে মহান করুন এবং আপনাদের নেয়ামতকে বৃদ্ধি করুন ..

 

সর্বপ্রথম, সর্বশেষ, প্রকাশ্যে ও গোপনে যাবতীয় শুকরিয়া কেবল মহান আল্লাহর জন্য ..

সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য, এমন এক প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর বর্ধিত অনুগ্রহরাশির জন্য যথেষ্ট ..

আমি তাঁর নেয়ামত, অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণতার জন্য তাঁর প্রশংসা করছি; এটি সর্বাধিক গভীর ও পরিপূর্ণ প্রশংসা, যে প্রশংসা পূর্ণতার শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছেছে ..

অতঃপর আমি আমার ঐকান্তিক কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি, যাঁরা আমাকে নসীহত, নির্দেশনা কিংবা পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন .. যাতে এই গবেষণাটি তার এই বিনম্র অবয়বে প্রকাশিত হতে পারে ..

তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন:

বিশিষ্ট শায়খ, প্রফেসর ডক্টর / সালাহ ইব্রাহিম

যিনি অত্যন্ত বিনয়ী চরিত্রের অধিকারী, যিনি আমাকে তাঁর মহানুভবতায় সিক্ত করেছেন, তাঁর অগাধ ইলমের মাধ্যমে আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং তাঁর উত্তম নির্দেশনাবলি দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন ..

তাঁর জন্য আমার পক্ষ থেকে রইল একনিষ্ঠ দোয়া, সুগন্ধময় প্রশংসা এবং গভীরতম কৃতজ্ঞতা

আমি আরও কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এই সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি:

ইউনিভার্সিটি অব হলি কুরআন (উম্মে দুরমান) এবং এর সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি।

যে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানপিপাসুদের জন্য ইলমের দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এর পথ সহজ করে দিয়েছে,

এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পথ ও পাথেয়কে আলোকিত করেছে।

মহান আল্লাহ এটিকে সত্যের মিনার এবং সৃষ্টির জন্য হেদায়েতের পথ হিসেবে কবুল করুন।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، ملء السموات، وملء الأرض، وملء ما شاء من شيء بعد. أهل الثناء والمجد، لا نحصي ثناء عليه، هو كما أثنى على نفسه المقدسة. له الحمد سبحانه، أنزل كتابه المبارك، " فيه الخير الكثير، والعلم الغزير، والأسرار البديعة، والمطالب الرفيعة. فكل بركة وسعادة تنال في الدنيا والآخرة، فسببها الاهتداء به واتباعه "(1)

والصلاة والسلام على من أنزل عليه ربه الفرقان، وعلمه الحكمة والقرآن، فأنذر به عشيرته الأقربين، وحذر به الناس أجمعين، وبلغ رسالة رب العالمين، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا مزيدًا إلى يوم الدين؛ أما بعد:

فإن القرآن الكريم، منهج الأمة ودستورها، ومصدر عزها وشموخها، ومنبع عقائدها وتشريعاتها. فهو المحيط الثر، والبحر الزخار، الذي تنهل منه كل الأنهار، ويُستقى من معينه الصافي كل الأفكار.

إن القرآن الكريم هو مصدر الهداية، ومنبع الرسالة، وإشعاع النور. فهو الروح الذي يسري في جسد الأمة، فيحييها بعد موتها، ويوقظها من رقدتها.

وهو مصدر الحياة الحقيقية، إذ يحرك الشعور والوجدان نحو الأمل، ويُحيي فيها حب العمل. ولما كان القرآن الكريم هو مصدر الهداية والرشاد، وجب اتباعه، والتماس هديه؛ لأن أوجه هذه الهداية لا تقف عند حد، ولا يحصرها عد.

وقد جاءت هذه الأوجه في القرآن الكريم، مطلقة غير مقيدة " فيمن يهديهم، وفيما يهديهم، فيشمل الهدى أقواما وأجيالا، بلا حدود من زمان أو مكان. ويشمل ما يهديهم إليه، كل منهج، وكل طريق، وكل خير يهتدي إليه البشر في كل زمان ومكان "(2).

--------------------------------------------

(1) السعدي: تيسير الكريم الرحمن، مؤسسة الرسالة - بيروت، ط 2 - 1417 هـ، ص (9).

(2) سيد قطب: في ظلال القرآن، دار الشروق -بيروت، القاهرة، ط 17 - 1412 هـ
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন অজস্র, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা যা আসমানসমূহ পূর্ণ করে, জমিন পূর্ণ করে এবং এরপর তিনি যা কিছু চান তা পূর্ণ করে। তিনি প্রশংসা ও মহিমার যোগ্য; আমরা তাঁর প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না, তিনি ঠিক তেমনই যেমন তিনি নিজের পবিত্র সত্তার প্রশংসা করেছেন। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, তিনি তাঁর বরকতময় কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, "যাতে রয়েছে প্রচুর কল্যাণ, গভীর জ্ঞান, অপূর্ব রহস্য এবং সুউচ্চ লক্ষ্যসমূহ। সুতরাং দুনিয়া ও আখিরাতে যা কিছু বরকত ও সৌভাগ্য অর্জিত হয়, তার কারণ হলো এই কিতাবের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ এবং এর অনুসরণ।"(১)

আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর প্রতি তাঁর রব ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁকে হিকমত ও কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। ফলে তিনি এর মাধ্যমে তাঁর নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করেছেন এবং সমস্ত মানুষকে হুঁশিয়ার করেছেন, আর বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর—কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অজস্র ধারায়; অতঃপর:

নিশ্চয়ই কুরআনুল কারীম এই উম্মতের জীবনপদ্ধতি ও সংবিধান, তাদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের উৎস এবং তাদের আকিদাহ ও শরয়ি বিধানের মূলধারা। এটি এক প্রবহমান বিশাল জলরাশি ও উত্তাল সমুদ্র, যেখান থেকে সকল নদী প্রস্রবণ লাভ করে এবং যার স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা থেকে সকল চিন্তাধারা সিঞ্চিত হয়।

নিশ্চয়ই কুরআনুল কারীম হিদায়াতের উৎস, রিসালাতের মূল এবং আলোর বিচ্ছুরণ। এটি সেই রূহ যা উম্মতের দেহে প্রবাহিত হয়, ফলে এটি তাদের মৃত্যুর পর জীবিত করে এবং দীর্ঘ তন্দ্রা থেকে জাগ্রত করে।

আর এটিই প্রকৃত জীবনের উৎস, যেহেতু এটি অনুভূতি ও চেতনাকে আশার দিকে ধাবিত করে এবং তাদের মধ্যে কর্মতৎপরতার স্পৃহা জাগিয়ে তোলে। যেহেতু কুরআনুল কারীম হিদায়াত ও সঠিক পথের উৎস, তাই এর অনুসরণ করা এবং এর হিদায়াত অন্বেষণ করা আবশ্যক; কেননা এই হিদায়াতের দিকসমূহ কোনো সীমানায় আবদ্ধ নয় এবং তা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়।

কুরআনুল কারীমে এই দিকগুলো কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সাধারণভাবে এসেছে, "কাদের হিদায়াত দেয়া হচ্ছে এবং কিসের দিকে হিদায়াত দেয়া হচ্ছে—সেই ক্ষেত্রে এটি কাল বা স্থানের সীমা ছাড়াই সকল জাতি ও প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি মানুষকে যা কিছুর দিকে হিদায়াত দান করে, তার মধ্যে সেই সকল আদর্শ, সকল পথ এবং সকল কল্যাণ অন্তর্ভুক্ত যা মানুষ সর্বকালে ও সর্বস্থানে লাভ করতে পারে।"(২).

--------------------------------------------

(১) আস-সাদী: তাইসীরুল কারীমুর রাহমান, মুআসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত, ২য় সংস্করণ - ১৪১৭ হিজরি, পৃষ্ঠা (৯)।

(২) সাইয়্যিদ কুতুব: ফী জিলালিল কুরআন, দারুশ শুরূক - বৈরুত, কায়রো, ১৭তম সংস্করণ - ১৪১২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ৪)
ومن أعلى أوجه الهداية القرآنية، هدايته " للطريقة التي هي أقوم الطرق وأعدلها، وهي توحيده جل وعلا في ربوبيته، وفي عبادته، وفي أسمائه وصفاته "(1)، وتوغله في دواخل النفس البشرية، وعوالم الضمير والشعور، "بالعقيدة الواضحة البسيطة التي لا تعقيد فيها ولا غموض، والتي تطلق الروح من أثقال الوهم والخرافة، وتطلق الطاقات البشرية الصالحة للعمل والبناء، وتربط بين نواميس الكون الطبيعية، ونواميس الفطرة البشرية في تناسق واتساق"(2).

فالقرآن الكريم مصدر إشعاع ونور وهداية، يُغذي النفس البشرية، ويُشبع كل رغباتها، في جميع احتياجاتها.

فيعرفها بالإله الحق المبين، فيفتح أمامها المجال؛ لتستنطق الفطرة، وليسرح العقل في هذا الكون العجيب، متفكراً في آيات الله تعالى، ومتأملاً في آلائه عليه؛ ليقف على بصيرة من شواهد الربوبية، ودلائل الوحدانية، الموجبة استحقاق الرب للعبودية وحده دون من سواه ويجول بالنفس في نواحي الجمال والجلال والكمال، لما انطوت عليه الذات الإلهية العلية الشريفة المقدسة، من الأسماء الحسنى، والصفات العليا.

ويفتح أمامها صفحة الماضي بكل تفاصيلها، لتشاهد أخبار الأمم السابقة، كأنها عيان أمام عينيها؛ لتتعظ وتعتبر.

ولما كانت النفس متعلقة لمعرفة ما وراء الماديات، متلهفة للكشف عن الغيبيات، جاء القرآن الكريم فهذبها، ورسم أمامها معالم الطريق الصحيح، وبين أن طريقة المؤمنين، وأول صفات المتقين، الإيمان بالغيب، وأن الغيب من خصائص علم الله تعالى، وأن مدار هذه العوالم الغيبية التي لا تدركها الحواس، ومبناها على التسليم والتصديق، والإذعان والقبول.

ولما كان القرآن الكريم بهذه المثابة العظيمة، والمنزلة الكريمة، والمكانة الجليلة، تعالت همم العلماء وتسابقت نحو هذا الكتاب العزيز؛ للوقوف على مقاصده، وبيان معانيه، واستنباط أحكامه، واستخراج مراميه.

--------------------------------------------

(1) الشنقيطي: أضواء البيان، دار الفكر للطباعة -بيروت، 1415 هـ (568)

(2) سيد قطب: في ظلال القرآن: 4/ 2215
কুরআনী হিদায়াতের অন্যতম উচ্চতর দিক হলো, এর মাধ্যমে এমন একটি পথের দিশা প্রদান করা "যা সবচাইতে সুপ্রতিষ্ঠিত ও ইনসাফপূর্ণ পথ; আর তা হলো সুমহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত, ইবাদত এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিতে তাওহীদ বা একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা"(১)। এছাড়া মানুষের অভ্যন্তরীণ সত্তা, বিবেক ও অনুভূতির জগতে এর অনুপ্রবেশ ঘটে "এমন এক স্পষ্ট ও সহজ আকিদার মাধ্যমে যাতে কোনো জটিলতা বা অস্পষ্টতা নেই; যা রূহকে অলীক কল্পনা ও কুসংস্কারের বোঝা থেকে মুক্ত করে এবং কর্ম ও বিনির্মাণের জন্য মানুষের সৎ শক্তিগুলোকে উজ্জীবিত করে। এটি মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক নিয়মাবলি এবং মানুষের ফিতরাতের নিয়মাবলির মাঝে এক চমৎকার সামঞ্জস্য ও সুসমন্বয় স্থাপন করে"(২)।

সুতরাং কুরআনুল কারীম হলো আলো, নূর ও হিদায়াতের এমন এক উৎস, যা মানুষের অন্তরকে পুষ্ট করে এবং তার সকল প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষাকে তৃপ্ত করে।

এটি মানুষের সত্তাকে সত্য ও প্রকাশ্য ইলাহের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তার সামনে সুযোগ উন্মোচন করে দেয়—যাতে তার ফিতরাত বা সহজাত প্রবৃত্তি কথা বলে ওঠে এবং বিবেক এই বিস্ময়কর মহাবিশ্বে বিচরণ করতে পারে। সে যেন মহান আল্লাহর নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা করে এবং তাঁর নেয়ামতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে; যাতে সে রুবুবিয়্যাতের সাক্ষ্য ও তাওহীদের প্রমাণাদির ওপর এক চাক্ষুষ জ্ঞান লাভ করতে পারে, যা একমাত্র প্রতিপালকেরই ইবাদতের আবশ্যকতা সাব্যস্ত করে—যিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়। এটি আত্মাকে নিয়ে সৌন্দর্য, মহিমা ও পূর্ণতার দিগন্তে পরিভ্রমণ করায়, যা মহান আল্লাহর সুউচ্চ, সম্মানিত ও পবিত্র সত্তার মাঝে বিদ্যমান আসমাউল হুসনা (সুন্দরতম নামসমূহ) ও সুউচ্চ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।

এটি মানুষের সামনে অতীতের পৃষ্ঠাগুলো এর সমস্ত বিবরণসহ উন্মোচন করে দেয়, যাতে সে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদগুলো এমনভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারে যেন তা তার চোখের সামনেই ঘটছে; ফলে সে নসিহত ও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

যেহেতু মানুষের মন বস্তুগত জগতের বাইরের বিষয়াবলি জানার প্রতি আসক্ত এবং অদৃশ্যের রহস্য উন্মোচনে ব্যাকুল, তাই কুরআনুল কারীম এসে একে পরিশুদ্ধ করেছে এবং এর সামনে সঠিক পথের নিশানা এঁকে দিয়েছে। কুরআন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মুমিনদের পথ এবং মুত্তাকীদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো গায়িব বা অদৃশ্যের ওপর ঈমান আনা। আর গায়িব হলো মহান আল্লাহর ইলমের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই গায়িব বা অদৃশ্যের জগতসমূহ—যা পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়—সেগুলোর ভিত্তি হলো আত্মসমর্পণ, সত্যয়ন, আনুগত্য ও গ্রহণের ওপর।

যেহেতু কুরআনুল কারীম এমন মহান মর্যাদা, অনন্য সম্মান ও উচ্চ আসনের অধিকারী, তাই উলামায়ে কেরামের হিম্মত ও আকাঙ্ক্ষা এই মহাগ্রন্থের প্রতি ধাবিত হয়েছে এবং তারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন; যাতে এর উদ্দেশ্যসমূহ উপলব্ধি করা যায়, এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করা যায়, এর বিধানসমূহ উদ্ভাবন করা যায় এবং এর লক্ষ্যসমূহ উদ্ঘাটন করা যায়।

--------------------------------------------

(১) আশ-শানকীতী: আদওয়াউল বায়ান, দারুল ফিকর তিবায়াহ - বৈরুত, ১৪১৫ হিজরী (৫৬৮)

(২) সাইয়্যিদ কুতুব: ফী জিলালিল কুরআন: ৪/ ২২১৫
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ৫)
ومن العلماء المجتهدين، والمفسرين المبرزين، الذين خاضوا غمار هذا الباب، وولجوا مضمار هذا الكتاب، إمام الكَلِم والمعاني، أبو المظفر منصور بن محمد السمعاني، فألف كتاباً أظهر فيه المقاصد، وأبان فيه المحامد، وملأه بالجواهر والدرر، من غزير الدروس والفوائد والأحكام والعِبَر. فهو كتاب جامع لمعاني الكتاب العزيز، مُلئ إلى مُشاشه بكل نفيس عزيز.

ولما كان كتاب السمعاني في التفسير، جامعاً لفنون العلوم، وعلى رأسها علم العقيدة، انصب الاختيار عليه؛ ليكون عنواناً لرسالة الدكتوراه. وبعد اختيار الموضوع الموسوم:

(آراء الإمام أبي المظفر السمعاني العقدية

من خلال كتابه " تفسير القرآن العزيز " جمعاً ودراسةً)

وعرضه على اللجنة المختصة بالجامعة الموقرة، تم قبول العنوان، فسألت الله تعالى التيسير والقبول والرضوان.

 

‌‌أولا: أهمية الموضوع:

1 ـ يكمن في حلُّ التعارض الموهوم الذي يعرض للذهن، والذي يظهر أول وهلة في النصوص القرآنية المتعلقة بالعقائد.

2 ـ إشباع الحاجة الملحة، للباحثين عن المعرفة الصحيحة، المبنية على التحقيق والتدقيق في باب العقائد، على وفق منهج السلف.

3 ـ بيان خطأ اعتماد أهل البدع والخرافات، في تبرير بدعهم على نصوص الشرع المطهر.

4 ـ بيان خطأ القراءة النصية المجردة عن فهم السلف الصالح، الذي يؤدي إلى انحراف في الفهم، يتبعه انحراف في التطبيق.

5 ـ التخفيف من هول المشكلات التي تظهر على الساحة بين الفينة والأخرى، بين الأفراد والجماعات، ومحاولة تقليص الهوة، وسد الباب على المغرضين، خاصة فيما يتعلق بفروع مسائل الاعتقاد التي لا يُبَدع فيها المخالف؛ لأنها تُبيِّن اتجاهات علماء السلف في التعامل مع المخالف، والتفريق بين المسائل التي تُوجب الرد والهجر من غيرها.

6 ـ الذب عن علماء السلف من الاتهام المبطن، المتضمن قصور نظر السلف عن إدراك معاني آيات الصفات، وأن منهجهم قائم على التسليم للنصوص، وأن منهج الخلف مبني على الفهم والعلم، ولذا زعموا أن طريقة السلف أسلم، وطريقة الخلف أعلم وأحكم.
বিচক্ষণ মুজতাহিদ আলেম এবং প্রথিতযশা মুফাসসিরদের মধ্যে অন্যতম—যিনি এই বিষয়ের গভীরতায় অবগাহন করেছেন এবং এই কিতাবের অঙ্গনে প্রবেশ করেছেন—তিনি হলেন শব্দ ও অর্থের ইমাম, আবু আল-মুজাফফর মানসুর ইবনে মুহাম্মদ আস-সামআনি। তিনি এমন এক কিতাব রচনা করেছেন যাতে তিনি লক্ষ্যসমূহ প্রকাশ করেছেন, প্রশংসনীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন এবং একে প্রচুর শিক্ষা, ফায়দা, বিধান ও উপদেশমালার মনি-মুক্তা দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন। এটি আল-কুরআনের অর্থবলয়ের এক অনন্য সংকলন গ্রন্থ, যা এর প্রতিটি পরতে পরতে বহুমূল্য উপাদানে সমৃদ্ধ।

যেহেতু তাফসির শাস্ত্রে সামআনির কিতাবটি বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমাহার, যার শীর্ষে রয়েছে আকিদা শাস্ত্র, তাই একে ডক্টরেট থিসিসের বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। নিম্নোক্ত শিরোনামটি নির্বাচনের পর:

(ইমাম আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনির আকিদাগত মতাদর্শ: তাঁর "তাফসিরুল কুরআনিল আজিজ" গ্রন্থের আলোকে—সংকলন ও গবেষণা)

এবং এটি সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির নিকট পেশ করার পর শিরোনামটি গৃহীত হয়। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর কাছে সহজীকরণ, কবুলিয়ত ও সন্তুষ্টির প্রার্থনা করি।

 

‌‌প্রথমত: বিষয়ের গুরুত্ব:

১ ـ আকিদা সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে প্রথম দর্শনে মনে যে কাল্পনিক বিরোধের উদ্রেক হয়, তার নিরসন করা।

২ ـ সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতি অনুযায়ী আকিদার অধ্যায়ে সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে সঠিক জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জরুরি প্রয়োজন পূরণ করা।

৩ ـ বিদআতপন্থী ও কুসংস্কারাচ্ছন্নরা তাদের বিদআতকে বৈধ করার জন্য পবিত্র শরয়ি দলিলের যে অপব্যবহার করে, তার ভুল স্পষ্ট করা।

৪ ـ সালাফে সালেহীনের বুঝ ব্যতিরেকে কেবল শাব্দিক পাঠের ওপর নির্ভর করার ভুল বর্ণনা করা, যা বুঝের বিচ্যুতি ঘটায় এবং পরবর্তীতে আমল বা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বিচ্যুতির জন্ম দেয়।

৫ ـ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে সময়ে সময়ে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যার ভয়াবহতা লাঘব করা, পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা এবং সংকীর্ণমনাদের পথ রুদ্ধ করা; বিশেষ করে আকিদার সেই শাখা মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে যেগুলোর কারণে ভিন্নমতাবলম্বীকে বিদআতী বলা হয় না। কারণ এটি ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সালাফী আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোন মাসআলাগুলোতে প্রত্যাখ্যান ও সম্পর্কচ্ছেদ করা আবশ্যক আর কোনগুলোতে নয়—তার পার্থক্য স্পষ্ট করে।

৬ ـ সালাফী আলেমদের বিরুদ্ধে সেই প্রচ্ছন্ন অভিযোগের প্রতিরক্ষা করা, যাতে দাবি করা হয় যে সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াতের অর্থ অনুধাবনে সালাফদের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা ছিল এবং তাঁদের পদ্ধতি কেবল দলিলের সামনে আত্মসমর্পণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর খালাফদের পদ্ধতি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই কারণেই তারা দাবি করে যে, ‘সালাফদের পথ অধিক নিরাপদ এবং খালাফদের পথ অধিকতর জ্ঞানগর্ভ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ।’
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ৬)
7 ـ عَرْضُ آراءِ السلفِ ودراستها وفق المنهج السلفي الصحيح، مؤشر خير، يُسهم في تقويض التعصب المقيت، والتقليد المذموم، ويبين أن الآراء البشرية غير معصومة، وأنها عرضة للوقوع في الخطأ، وإن كانت آراء السلف هي الأقرب للصواب، والأحكم في الجواب؛ لقربها من عهد الرسالة، وصفاء قلوبهم من حظوظ الدنيا.

8 ـ دراسةُ آراءِ السلفِ دراسة محققة، سبيل لنشر علومهم، والاستفادة من غزير فهومهم، وفيه تأصيل لمعرفة دقائق علمهم، في التنظير والشرح والتقرير.

9 ـ دراسةُ تراثِ السلفِ، دراسة أكاديمية علمية، هو نوع تحقيق للآراء، وتمحيص وبيان للأخطاء.

10 ـ وسم الرسالة بـ (آراء الإمام أبي المظفر السمعاني العقدية) يوحي بأمرين:

أ ـ بيان مكانة علماء السلف، وعلو منزلتهم، الموجب لاحترامهم وإجلالهم، ثم دراسة أقوالهم، وتقديمها على غيرهم.

ب ـ وأن قوله الصادر عنه، هو تعبير عن رأيه، فما وافق فيها نصوص الوحيين قُبل، وما كان مخالفا رُدَّ، وهو واقع في الغالب عن اجتهاد لا عن تقصد وتقصير، وهذا بدوره يُغلق باب التعصب المقيت، وإضفاء العصمة لقول أحد دون رسول الله صلى الله عليه وسلم.

11 - وأن دراسة الجذور الفكرية، والآراء العقائدية لعلماء الأمة؛ كالسمعاني مثلا، يفتح للعقل بوابة النقد الهادف، ويهديه لطرائق الحوار والجدال المقنع، المستقى من أهله وأساطينه.

12 - وأن دراسة آراء السلف تُقوي الصلة، وتُعمق الوشائج بين الحاضر والماضي، وفيه ربط لسلسة العلوم المتوارثة التي لا انفصال بينها، والتي لا يُغني لاحقها عن سابقها.

13 - وأن هذه الدراسة المستقاة من آراء السمعاني المستنبطة من وحي النصوص القرآنية، تُؤكد ترابط العلوم وتخادمها، وأن علما لا يُغني عن علم.

ثانيًا: أسباب اختيار الموضوع:
৭ ـ সঠিক সালাফি মানহাজ অনুযায়ী সালাফদের মতামতের উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা একটি কল্যাণকর দিক। এটি ঘৃণ্য অন্ধ গোঁড়ামি এবং নিন্দনীয় অন্ধ অনুকরণকে নির্মূল করতে সহায়তা করে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, মানুষের মতামত অভ্রান্ত নয় এবং তা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যদিও সালাফদের মতামত ছিল সত্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং সমাধানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রজ্ঞাপূর্ণ; কারণ তারা ছিলেন রিসালাতের যুগের নিকটবর্তী এবং পার্থিব স্বার্থ থেকে তাদের অন্তর ছিল কলুষমুক্ত।

৮ ـ সালাফদের মতামতের ওপর প্রামাণিক গবেষণা তাদের জ্ঞান প্রচার এবং তাদের গভীর অনুধাবন থেকে উপকৃত হওয়ার একটি মাধ্যম। তাত্ত্বিক আলোচনা, ব্যাখ্যা এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞানের সূক্ষ্মতা অনুধাবনের এটি একটি মূল ভিত্তি।

৯ ـ সালাফদের জ্ঞানগত ঐতিহ্য নিয়ে একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা হলো মতামতের সত্যতা যাচাই এবং ভুলভ্রান্তি চিহ্নিতকরণ ও বিশ্লেষণের একটি রূপ।

১০ ـ গবেষণাপত্রটির নামকরণ ‘ইমাম আবু আল-মুজাফ্ফার আল-সামআনী-র আকিদাগত মতামত’ রাখা দুটি বিষয় নির্দেশ করে:

ক — সালাফ উলামাদের মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থান স্পষ্ট করা, যা তাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনকে আবশ্যক করে। অতঃপর তাদের বক্তব্যসমূহ অধ্যয়ন করা এবং অন্য সবার ওপর সেগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান করা।

খ — তার থেকে যা ব্যক্ত হয়েছে তা তার নিজস্ব মতামতেরই বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং এর মধ্যে যা ওহীর দলীলসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ হবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যা পরিপন্থী হবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। এটি সাধারণত গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত বা ইজতিহাদের কারণে ঘটে থাকে, কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংঘাত বা অবহেলার কারণে নয়। আর এটি পক্ষান্তরে ঘৃণ্য অন্ধ গোঁড়ামির পথ বন্ধ করে দেয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো বক্তব্যকে অভ্রান্ত হিসেবে সাব্যস্ত করার সুযোগ রাখে না।

১১ - উম্মাহর উলামাদের—যেমন আল-সামআনী—চিন্তাগত উৎস এবং আকিদাগত মতামতের ওপর গবেষণা করা মেধার জন্য গঠনমূলক সমালোচনার দ্বার উন্মুক্ত করে। এটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও দিকপালদের থেকে গৃহীত যুক্তিপূর্ণ সংলাপ ও বিতর্কের পদ্ধতির দিকে পথপ্রদর্শন করে।

১২ - সালাফদের মতামত অধ্যয়ন করা বর্তমান ও অতীতের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় ও গভীর করে। এর মাধ্যমে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞানের সেই অবিচ্ছিন্ন ধারার সাথে যোগসূত্র স্থাপিত হয় যার একটি অংশ অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এবং যে ধারার পরবর্তী জ্ঞান পূর্ববর্তী জ্ঞানের বিকল্প হতে পারে না।

১৩ - কুরআনী নসসমূহের ওহী থেকে উদ্ভাবিত আল-সামআনী-র মতামতের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই গবেষণাটি বিভিন্ন শাস্ত্রের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পৃক্ততা ও একে অপরের সহায়ক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং এটি প্রমাণ করে যে, একটি শাস্ত্র অন্য শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী করতে পারে না।

দ্বিতীয়ত: বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ:
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ৭)
1 ـ أن سعادة البشرية معقودة على سَيْرِ عقيدتها الصحيحة، الخالية من كل ألوان البدع والأوهام والخرافات والاعتقادات الفاسدة، وأشد ما يُناقضها الآراء المخالفة التي تحارب العقائد الصحيحة، فدراسة آراء السلف وإبرازها، يُسهم في تكثير سواد الحق، وبيان المنهج العقائدي الصحيح الذي كان عليه السلف، ويَسد الباب أمام كل مخالف بقصد أو بغير قصد.

2 ـ الحديث عن شأن العقائد في القرآن الكريم، يُعطي البحث قيمة علمية؛ لأنه يجمع بين أشرف العلوم وأنقاها، وبين أعظم الكلام وأرقاه، وكما قيل: إن شرف العلم بشرف المعلوم.

3 ـ يفتح الباب أمام الباحثين، لمعرفة مناهج وآراء المفسرين في العقائد، ودراستها على ضوء المنهج السلفي.

4 ـ وعلى حسب علمي القاصر، لم أجد من استقصى المسائل الاعتقادية من تفسير السمعاني في مؤلف خاص، وأن غالب ما كُتب إشارات من هنا وهناك، يخلص منها الباحثون إلى سلفية الإمام السمعاني، وسلامة منهجه العقائدي.

5 ـ لهذا وغيره عزمت بعد استخارة الله تعالى، واستشارة أهل العلم، لخوض غمار هذا البحث، داعيا المولى جل في علاه أن يوفقني ويمدني بعونه، وأن يرزقني البصيرة التي يُميَز بها بين الحق والباطل، ويُعرف بها خير الخيرين، وشر الشرين، وأن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل، ومحبة العلم وأهله، والإنصاف من أنفسنا، وعدم الفجور في الخصومة.

 

‌‌ثالثًا: أهداف البحث:

يهدف البحث إلى:

1 ـ جمع آراء الإمام أبي المظفر السمعاني العقائدية، من خلال كتابه: تفسير القرآن العزيز، ودراستها على ضوء المنهج السلفي.

2 ـ إبراز مكانة علماء السلف، وما تميزوا به من دقة العلوم وجلاء الأفهامهم، المتمثل في استنباط المعاني واستخراجها من النصوص القرآنية، التي تُنبئ عن توفيق وبراعة.

3 ـ الكشف عن المسائل الاعتقادية التي اشتملت عليها الآيات القرآنية الكريمة، ودراستها، وبيان مقاصدها، ووجه الحق فيها.

4 ـ استخلاص القضايا العقدية من التفاسير بأسلوب سهل ميسور.

5 ـ بيان العقيدة الصحيحة المستنبطة من نصوص القرآن الكريم.

6 ـ إظهار براعة المفسر في التصنيف والاستنباط.
1 ـ মানবজাতির সৌভাগ্য তাদের সঠিক আকিদার অনুসরণের ওপর নির্ভরশীল, যা সকল প্রকার বিদআত, মোহ, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে মুক্ত। আর এর সাথে সবচেয়ে বেশি সাংঘর্ষিক হলো সেই বিরুদ্ধ মতবাদগুলো যা সঠিক আকিদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই সালাফদের মতামত অধ্যয়ন করা এবং তা ফুটিয়ে তোলা হকের অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে এবং সালাফদের অনুসৃত সঠিক আকিদাগত মানহাজ স্পষ্ট করতে অবদান রাখে। এটি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিরোধিতাকারীদের পথ রুদ্ধ করে দেয়।

2 ـ পবিত্র কুরআনে আকিদার বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা এই গবেষণাকে একটি বৈজ্ঞানিক মূল্য প্রদান করে; কারণ এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও বিশুদ্ধতম জ্ঞান এবং সবচেয়ে মহান ও উচ্চাঙ্গের বাণীর সমন্বয় ঘটায়। আর যেমনটি বলা হয়: জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে যার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হচ্ছে তার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর।

3 ـ এটি গবেষকদের সামনে মুফাসসিরগণের আকিদাগত মানহাজ ও মতামত জানার এবং সালাফি মানহাজের আলোকে সেগুলো অধ্যয়নের পথ উন্মুক্ত করে দেয়।

4 ـ আমার সীমিত জ্ঞান অনুযায়ী, আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে ইমাম সামআনির তাফসির থেকে আকিদাগত মাসআলাগুলো বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করেছেন। এই বিষয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে তার অধিকাংশ হলো এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা কিছু ইঙ্গিত, যা থেকে গবেষকগণ ইমাম সামআনির সালাফি হওয়া এবং তাঁর আকিদাগত মানহাজের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

5 ـ এই কারণে এবং অন্যান্য কারণে আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করার পর এবং আহলে ইলমদের পরামর্শ নিয়ে এই গবেষণার সমুদ্রে অবতীর্ণ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি মহান সুউচ্চ রবের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে তাওফিক দান করেন ও তাঁর সাহায্য প্রদান করেন, এবং আমাকে এমন অন্তর্দৃষ্টি দান করেন যার মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা যায়, যা দ্বারা দুই কল্যাণের মধ্যে শ্রেষ্ঠটি এবং দুই মন্দের মধ্যে নিকৃষ্টটি চেনা যায়। আর তিনি যেন আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস, ইলম ও আহলে ইলমদের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের নফসের ব্যাপারে ইনসাফ করার ও বিরোধের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন না করার তাওফিক দান করেন।

 

‌‌তৃতীয়ত: গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:

গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ হলো:

1 ـ ইমাম আবু মুযাফফর আস-সামআনির আকিদাগত মতামতগুলো তাঁর গ্রন্থ: তাফসীরুল কুরআনিল আযীয থেকে সংগ্রহ করা এবং সালাফি মানহাজের আলোকে সেগুলো অধ্যয়ন করা।

2 ـ সালাফ উলামায়ে কেরামের মর্যাদা এবং তাঁদের সূক্ষ্ম জ্ঞান ও স্বচ্ছ বোধশক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তোলা, যা কুরআনের নস থেকে অর্থ উদ্ভাবন ও বের করে আনার ক্ষেত্রে ফুটে ওঠে, যা তাঁদের তাওফিক ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়।

3 ـ পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহে অন্তর্ভুক্ত আকিদাগত মাসআলাগুলো উদ্ঘাটন করা, সেগুলো অধ্যয়ন করা এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য ও হকের দিকটি স্পষ্ট করা।

4 ـ সহজ ও সাবলীল পদ্ধতিতে তাফসির গ্রন্থসমূহ থেকে আকিদাগত বিষয়গুলো নির্যাস আকারে তুলে ধরা।

5 ـ পবিত্র কুরআনের নস থেকে উদ্ভাবিত সঠিক আকিদা বর্ণনা করা।

6 ـ শ্রেণীবিন্যাস ও মাসআলা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মুফাসসিরের পারদর্শিতা ফুটিয়ে তোলা।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ৮)
7 ـ إبراز مكانة الإمام أبي المظفر السمعاني، وخصائص تفسيره.

8 - إبراز منهج الإمام السمعاني في دراسته وتعاطيه لمسائل العقيدة.

 

‌‌رابعًا: أسئلة البحث:

يهدف البحث للإجابة على التساؤلات التالية:

- ما مكانة الإمام السمعاني العلمية، وبخاصة في علم التفسير والعقيدة؟

- ما آراؤه العقائدية، وما مدى ملاءمتها لمنهج السلف؟

- ما الطرق التي سار عليها الإمام السمعاني في تعاطيه مع النصوص الشرعية في دراسة العقائد؟

 

‌‌خامسًا: حدود البحث:

ينصب الحديث أصالة عن آراء الإمام السمعاني الاعتقادية من خلال كتابه: تفسير القرآن العزيز.

 

‌‌سادسًا: منهج البحث:

1 ـ الاعتماد على المنهج الوصفي التحليلي الاستقرائي.

2 ـ فطبيعة البحث استدعت الوصف والتوصيف التأريخي للمفسر والتفسير وما اشتملت عليه من مسائل العقائد، ثم تحليل المعلومة بعد استقرائها من كتاب تفسير السمعاني.

3 ـ وبعد ذكر رأي الإمام السمعاني، أشير إلى حكم المسألة عند بقية العلماء، وهذا بدوره استدعى الرجوع إلى أمهات كتب العقائد والتنقيب عنها؛ لتوضيح مقاصد هذه الرسالة، ومقارنتها بما قاله الإمام السمعاني.

4 ـ نسبة الأقوال لقائليها، والإشارة إلى مصادرها حسبما تقتضيه الأمانة العلمية.

5 ـ عزو الآيات القرآنية الكريمة.

6 ـ تخريج الأحاديث النبوية الشريفة تخريجا علميا.

7 ـ الترجمة للأئمة غير المشهورين في البحث.

8 ـ ذكر خاتمة تبرز أهم نتائج البحث والتوصيات.

9 ـ ذكر المصادر والمراجع في آخر البحث.

10 ـ ترتيب الفهارس ترتيبًا علميا يسهل الحصول على المعلومة.
৭ ـ ইমাম আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনী-এর মর্যাদা এবং তাঁর তাফসিরের বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলা।

৮ - আকিদার বিষয়াবলি অধ্যয়ন ও পরিচালনায় ইমাম আস-সামআনী-এর মানহাজ বা পদ্ধতি ফুটিয়ে তোলা।

 

‌‌চতুর্থ: গবেষণার প্রশ্নাবলি:

এই গবেষণাটি নিম্নোক্ত প্রশ্নাবলির উত্তর দেওয়ার লক্ষ্য রাখে:

- ইমাম আস-সামআনী-এর জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা কী, বিশেষত তাফসির ও আকিদা শাস্ত্রে?

- তাঁর আকিদাগত মতসমূহ কী এবং সেগুলো সালাফদের মানহাজের সাথে কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ?

- আকিদা অধ্যয়নে শরিয়তের দলীলসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইমাম আস-সামআনী কোন পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করেছেন?

 

‌‌পঞ্চম: গবেষণার পরিধি:

মূলত ইমাম আস-সামআনী-এর আকিদাগত মতামত তাঁর গ্রন্থ: ‘তাফসিরুল কুরআনিল আজিজ’-এর আলোকেই আলোচনা করা হবে।

 

‌‌ষষ্ঠ: গবেষণা পদ্ধতি:

১ ـ বর্ণনামূলক, বিশ্লেষণধর্মী এবং আরোহী (inductive) পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা।

২ ـ গবেষণার প্রকৃতি মুফাসসির ও তাঁর তাফসির এবং এতে অন্তর্ভুক্ত আকিদার বিষয়াবলির ঐতিহাসিক বর্ণনা ও বিশেষায়নের দাবি রাখে। অতঃপর আস-সামআনী-এর তাফসির গ্রন্থ থেকে তথ্যগুলো আরোহণ করার পর সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

৩ ـ ইমাম আস-সামআনী-এর মতামত উল্লেখ করার পর অন্যান্য ওলামায়ে কেরামের নিকট উক্ত বিষয়ের বিধানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটি আকিদার মৌলিক গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হওয়া এবং সেগুলো অনুসন্ধানের দাবি রাখে; যাতে এই গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করা যায় এবং ইমাম আস-সামআনী যা বলেছেন তার সাথে তুলনা করা যায়।

৪ ـ বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার দাবি অনুযায়ী বক্তব্যসমূহকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বোধন করা এবং উৎসগ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করা।

৫ ـ পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান।

৬ ـ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের সঠিক ইলমি পদ্ধতিতে তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করা।

৭ ـ গবেষণায় উল্লিখিত অপরিচিত ইমামদের জীবনী প্রদান।

৮ ـ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ ফুটিয়ে তুলে একটি উপসংহার উল্লেখ করা।

৯ ـ গবেষণার শেষে উৎস ও সহায়ক গ্রন্থাবলি উল্লেখ করা।

১০ ـ সূচিপত্রকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করা, যাতে তথ্য প্রাপ্তি সহজ হয়।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌سابعًا: الدراسات السابقة:

غالب الدراسات التي اطلعت عليها، اهتمت بذكر منهج الإمام السمعاني في التفسير، وبعضها الآخر أشار إلى منحى تميز به الإمام السمعاني في تفسيره، كمنهجه في الترجيح والاستنباط.

ومع هذه الوفرة العلمية عن حياة الإمام السمعاني، إلا أني لم أحظَ أثناء بحثي عن مؤلف مستقل، عن منهج الإمام السمعاني وآرائه الإعتقادية، إلا برسالة وحيدة في بابها، بعنوان: جهود الإمام أبي المظفر السمعاني في تقرير عقيدة السلف(1).

وقد أشار الباحث في رسالته إلى جهود الإمام السمعاني في تقرير عقيدة السلف في:

ـ توضيح التوحيد وبيانه، من جهة بيان أول ما يجب على المكلف، ثم توضيح توحيد الربوبية، والألوهية، والأسماء والصفات.

ـ توضيح جملة من مسائل الإيمان، من جهة بيان مسمى الإيمان، وبيان أحكام أهل الكبائر، وفي مسائل القدر، ومباحث اليوم الآخر.

ـ توضيح ما يتعلق بحق الصحابة رضي الله عنهم، من جهة بيان وجوب محبة الصحابة رضي الله عنهم، ووجوب السكوت عما شجر بينهم، وذكر جملة من فضائلهم رضي الله عنهم.

وهذه الرسالة بينها وبين هذا البحث، مزاوجة في الأفكار، وتوارد في النتائج والآثار، غير أن المسار المتبع في الرسالتين مختلف، وإن كان محصل الرسالتين في الأخير مؤتلف. فالرسالة الأولى قامت على بيان جهود الإمام السمعاني في تقرير عقيدة السلف، على المستوى العام، مع أن النتيجة التي توصل إليها الباحث مسوقة في عنوان البحث. في حين أن هذا البحث، فيه عرض لآراء الإمام السمعاني العقدية، من خلال كتابه تفسير القرآن، وربطها ببعض أقواله في كتبه الأخرى، ثم دراستها دراسة متأنية على ضوء المنهج السلفي، ثم الخروج بنتيجة كلية، ومقارنتها بما قيل فيه من مدح وثناء وتبجيل وتعظيم؛ كونه كان نقي المعتقد، منتصرا لأهل السنة والحديث، وشوكة في حلوق أهل البدع.

--------------------------------------------

(1) وهي رسالة علمية قدمت لنيل درجة الماجستير تقدم بها الباحث محمد بن بو بكر بن عمر بنعلي، من تونس، للجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، ونوقشت بتاريخ 14/ 1/1414 هـ، وأجيزت بتقدير ممتاز، وقد أشرف عليها د. غالب العواجي، وهي مطبوعة في مجلدين، في (724) صفحة.
সপ্তম: পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

আমি যেসকল গবেষণাকর্ম পর্যবেক্ষণ করেছি, সেগুলোর অধিকাংশ ইমাম সামআনীর তাফসীর পদ্ধতির বর্ণনায় গুরুত্বারোপ করেছে। আবার কোনো কোনোটি তাঁর তাফসীরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত দিকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছে, যেমন তাঁর অগ্রাধিকার প্রদান (তারজীহ) এবং উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) পদ্ধতি।

ইমাম সামআনীর জীবন সম্পর্কে গবেষণার এমন প্রাচুর্য সত্ত্বেও, তাঁর মানহাজ বা পদ্ধতি এবং আকিদাগত মতাদর্শ নিয়ে কোনো স্বতন্ত্র রচনার সন্ধান আমি পাইনি। তবে এ বিষয়ে একটি মাত্র থিসিস বা অভিসন্দর্ভ পেয়েছি, যার শিরোনাম হলো: 'সালাফদের আকিদা প্রতিষ্ঠায় ইমাম আবু মুযাফফর আস-সামআনীর প্রচেষ্টা'(১)।

গবেষক তাঁর সেই অভিসন্দর্ভে সালাফদের আকিদা প্রতিষ্ঠায় ইমাম সামআনীর প্রচেষ্টাসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে উল্লেখ করেছেন:

— তাওহীদের ব্যাখ্যা ও বর্ণনা: একজন মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির ওপর সর্বপ্রথম যা ওয়াজিব, তা বর্ণনার দিক থেকে; এরপর তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলি)-এর ব্যাখ্যার দিক থেকে।

— ঈমানের একগুচ্ছ মাসআলার ব্যাখ্যা: ঈমানের সংজ্ঞা, কবিরা গুনাহগারদের বিধান, তাকদীরের মাসআলা এবং পরকাল সংক্রান্ত আলোচনার দিক থেকে।

— সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির ব্যাখ্যা: সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে ভালোবাসা ওয়াজিব হওয়া, তাঁদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে নীরব থাকা ওয়াজিব হওয়া এবং তাঁদের একগুচ্ছ ফযীলত বর্ণনার দিক থেকে।

এই অভিসন্দর্ভ এবং বর্তমান গবেষণার মধ্যে চিন্তাধারার যেমন মিল রয়েছে, তেমনি ফলাফল ও প্রভাবের ক্ষেত্রেও সাদৃশ্য বিদ্যমান; যদিও উভয় গবেষণায় অনুসৃত পথ ভিন্ন, তবে শেষ পর্যন্ত উভয় গবেষণার সারসংক্ষেপ একই বিন্দুতে মিলিত হয়। পূর্বোক্ত অভিসন্দর্ভটি সাধারণ পরিসরে সালাফদের আকিদা প্রতিষ্ঠায় ইমাম সামআনীর প্রচেষ্টাসমূহ বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে রচিত, যদিও গবেষক যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা গবেষণার শিরোনামেই ব্যক্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে, এই বর্তমান গবেষণায় ইমাম সামআনীর আকিদাগত মতাদর্শসমূহ তাঁর 'তাফসীরুল কুরআন' গ্রন্থের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত বক্তব্যের সাথে সেগুলোর যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে। অতঃপর সালাফি মানহাজের আলোকে সেগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে একটি সামগ্রিক ফলাফল বের করা হয়েছে এবং ইমাম সামানী সম্পর্কে যে প্রশংসা, স্তুতি ও সম্মানসূচক মন্তব্য করা হয়েছে—যেমন তিনি বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী ছিলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদীসের সাহায্যকারী ছিলেন এবং বিদআতিদের জন্য কণ্টকস্বরূপ ছিলেন—সেগুলোর সাথে এই গবেষণার ফলাফলের তুলনা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ যা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য তিউনিসিয়ার গবেষক মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন উমর বিন আলি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশ করেন। এটি ১৪/০১/১৪১৪ হিজরি তারিখে আলোচিত হয় এবং 'মুমতাজ' (চমৎকার) গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়। এটি ড. গালিব আল-আওয়াজির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে দুই খণ্ডে ৭২৪ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১০)
ويُشار إلى أن هناك مسائل كثيرة ظهرت من خلال تتبع آراء السمعاني في تفسيره، تُعدُ تأصيلا لمسائل المعتقد، وردا على المخالفين، لم يُشر إليها الباحث، ستظهر في ثنايا هذا البحث.

 

‌‌ثامنًا: هيكل البحث:

قسمت البحث إلى مقدمة، وسبعة فصول، وخاتمة، وفهارس:

المقدمة: اشتملت على: (أهمية الموضوع - وأسباب اختيار الموضوع - وأهداف البحث - وأسئلة البحث - وحدود البحث - ومنهج البحث - والدراسات السابقة - وهيكل البحث).

 

التمهيد: اشتمل على ترجمة للإمام السمعاني: عصره، وحياته، وتفسيره، ومنهجه في دراسة مسائل العقيدة.

المبحث الأول: عصره:

المطلب الأول: الحالة السياسية.

المطلب الثاني: الحالة الاجتماعية.

المطلب الثالث: الحالة العلمية والدينية.

المبحث الثاني: حياته:

المطلب الأول: اسمه ونسبه ونشأته.

المطلب الثاني: طلبه للعلم ومكانته العلمية.

المطلب الثالث: شيوخه وتلاميذه.

المطلب الرابع: آثاره ومؤلفاته.

المطلب الخامس: وفاته.

المبحث الثالث: تفسيره:

المطلب الأول: نسبة التفسير لمؤلفه، ومكانته العلمية.

المطلب الثاني: مميزات تفسيره.

المطلب الثالث: المآخذ على تفسيره.

المطلب الرابع: منهجه في التفسير.

المبحث الرابع: منهجه في دراسة مسائل العقيدة.

المطلب الأول: المنهج العام في دراسة مسائل العقيدة.

المطلب الثاني: منهجه الاستدلالي لمسائل العقيدة.

 

الفصل الأول: الإيمان بالله تعالى:

المبحث الأول: توحيد الربوبية:

المطلب الأول: تعريف الربوبية:

المسألة الأولى: تعريف الربوبية في اللغة.

المسألة الثانية: تعريف الربوبية في الاصطلاح.

المطلب الثاني: معرفة الله جل وعلا، ودلائل وجوده ووحدانيته:

المسألة الأولى: معرفة الله تعالى:

- أول واجب على المكلف.

- فطرية المعرفة.

- وجود الله تعالى.

المطلب الثالث: إقرار المشركين بالربوبية:

المسألة الأولى: الاستدلال بتوحيد الربوبية على الألوهية.

المسألة الثانية: حكم الإقرار به مجردا؟

المطلب الرابع: مدعو الربوبية:

المسألة الأولى: حقيقة مدعي الربوبية.

المسألة الثانية: أقوال الناس في الرب جل وعلا:
উল্লেখযোগ্য যে, আস-সামআনির তাফসীরে তাঁর মতামতগুলো অনুসরণের মাধ্যমে এমন অনেক বিষয় প্রকাশ পেয়েছে, যা আকিদার বিষয়গুলোর মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয় এবং বিরোধীদের খণ্ডন হিসেবে কাজ করে, যা গবেষক ইতিপূর্বে উল্লেখ করেননি। এগুলো এই গবেষণার ভেতরে পর্যায়ক্রমে ফুটে উঠবে।

 

‌‌অষ্টম: গবেষণার কাঠামো:

আমি গবেষণাকে একটি ভূমিকা, সাতটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টসমূহে বিভক্ত করেছি:

ভূমিকা: এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: (বিষয়ের গুরুত্ব - বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ - গবেষণার লক্ষ্যসমূহ - গবেষণার প্রশ্নাবলি - গবেষণার পরিধি - গবেষণা পদ্ধতি - পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ - গবেষণার কাঠামো)।

 

উপক্রমনিকা: এতে ইমাম আস-সামআনির জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: তাঁর যুগ, তাঁর জীবন, তাঁর তাফসীর এবং আকিদাগত বিষয়সমূহ অধ্যয়নে তাঁর পদ্ধতি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা।

второй অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় অবস্থা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও বেড়ে ওঠা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানার্জন ও ইলমী মর্যাদা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর অবদান ও রচনাবলি।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসীর:

প্রথম অনুচ্ছেদ: লেখকের প্রতি তাফসীরটির সম্পৃক্ততা ও এর ইলমী মর্যাদা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর তাফসীরের বৈশিষ্ট্যসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর তাফসীরের সমালোচনা বা সীমাবদ্ধতাসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাফসীরে তাঁর পদ্ধতি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আকিদাগত বিষয়সমূহ অধ্যয়নে তাঁর পদ্ধতি।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আকিদাগত বিষয়সমূহ অধ্যয়নে সাধারণ পদ্ধতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আকিদাগত বিষয়সমূহে তাঁর দলীল পেশ করার পদ্ধতি।

 

প্রথম অধ্যায়: মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: রুবুবিয়্যাহর সংজ্ঞা:

প্রথম মাসয়ালা: আভিধানিক অর্থে রুবুবিয়্যাহর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় মাসয়ালা: পারিভাষিক অর্থে রুবুবিয়্যাহর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার পরিচয় এবং তাঁর অস্তিত্ব ও একত্বের প্রমাণাদি:

প্রথম মাসয়ালা: মহান আল্লাহর পরিচয়:

- মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির ওপর প্রথম ওয়াজিব।

- পরিচয়ের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি।

- মহান আল্লাহর অস্তিত্ব।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুশরিকদের রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি:

প্রথম মাসয়ালা: উলুহিয়্যাহর সপক্ষে তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর মাধ্যমে দলীল পেশ।

দ্বিতীয় মাসয়ালা: কেবল রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতির হুকুম কী?

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: রুবুবিয়্যাহর দাবিদারগণ:

প্রথম মাসয়ালা: রুবুবিয়্যাহর দাবিদারের স্বরূপ।

দ্বিতীয় মাসয়ালা: রব জাল্লা ওয়া আলা সম্পর্কে মানুষের বক্তব্যসমূহ:
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১১)
- قول اليهود.

- قول النصارى.

- قول المشركين.

المطلب الخامس: مسائل في الربوبية:

المسألة الأولى: خضوع الجمادات لله تعالى.

المسألة الثانية: تأويل قوله تعالى: (إنما جزاء الذين يحاربون الله ورسوله).

المسألة الثالثة: تأويل قوله تعالى: (فذرني ومن يكذب بهذا الحديث).

المسألة الرابعة: تأويل قوله تعالى: (ولله ميراث السموات والأرض).

المسألة الخامسة: هل المنع والإعطاء لحكمة أم لا؟

المسألة السادسة: تأويل قوله تعالى: (سنفرغ لكم أيها الثقلان).

المبحث الثاني: توحيد الألوهية:

المطلب الأول: تعريف توحيد الألوهية:

المسألة الأولى: تعريف الألوهية في اللغة.

المسألة الثانية: تعريف الألوهية في الاصطلاح.

المطلب الثاني: تعريف العبادة، وأنواعها:

المسألة الأولى: تعريف العبادة في اللغة والاصطلاح.

المسألة الثانية: أنواع العبادة وتفاضلها:

1 - بعض أنواع العبادات: (الدعاء - السجود والركوع - الذكر).

2 - التفاضل في العبادات:

- المفاضلة بين الذكر وسائر الطاعات.

- المفاضلة بين العلم وصلاة النافلة.

- المفاضلة بين إخفاء الصدقات وإظهارها.

- المفاضلة بين الطواف والصلاة لمن قدم مكة.

المطلب الثالث: أدلة إثبات استحقاق الألوهية لله تعالى.

المطلب الرابع: نواقض توحيد الإلهية:

المسألة الأولى: نواقض توحيد الإلهية:

- الشرك بالله تعالى.

- اتباع الهوى.

- الغلو في الدين.

- موالاة الكفار والركون إليهم.

- اتباع الآباء وما كانوا عليه.

المسألة الثانية: حقيقة الشرك وصوره وأنوعه:

- بيان حقيقة الشرك.

- خطورة الشرك.

- بعض صور الشرك: (السحر - الكهانة - الطيرة - التنجيم).

المطلب الخامس: مسائل في توحيد الإلهية:

المسألة الأولى: قصة الغرانيق العُلا.

المسألة الثانية: توجيه قوله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: (لئن أشركت ليحبطن عملك).

المسألة الثالثة: تحقيق القول في وقوع الشرك من آدم عليه السلام.

المسألة الرابعة: توجيه قوله تعالى عن نبيه إبراهيم عليه السلام: (واجنبني وبني أن نعبد الأصنام).

المبحث الثالث: توحيد الأسماء والصفات.
ইহুদিদের উক্তি।

- খ্রিস্টানদের উক্তি।

- মুশরিকদের উক্তি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ:

প্রথম মাসআলা: মহান আল্লাহর প্রতি জড়পদার্থের আনুগত্য।

দ্বিতীয় মাসআলা: মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: (নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের শাস্তি...)।

তৃতীয় মাসআলা: মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: (কাজেই আমাকে এবং যারা এই কালামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাদের ছেড়ে দিন)।

চতুর্থ মাসআলা: মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: (আর আসমান ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই)।

পঞ্চম মাসআলা: দান করা বা না করা কোনো প্রজ্ঞার কারণে কি না?

ষষ্ঠ মাসআলা: মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: (হে জিন ও মানবজাতি! শীঘ্রই আমি তোমাদের প্রতি মনোনিবেশ করব)।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর সংজ্ঞা:

প্রথম মাসআলা: আভিধানিক অর্থে উলুহিয়্যাহর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় মাসআলা: পারিভাষিক অর্থে উলুহিয়্যাহর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদ:

প্রথম মাসআলা: অভিধান ও পরিভাষায় ইবাদতের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় মাসআলা: ইবাদতের প্রকারভেদ এবং এর মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্ব:

১ - কতিপয় ইবাদত: (দুআ - সিজদাহ ও রুকু - যিকর)।

২ - ইবাদতের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য:

- যিকর এবং অন্যান্য ইবাদতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের বিচার।

- ইলম এবং নফল সালাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের বিচার।

- দান গোপন করা এবং প্রকাশ করার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের বিচার।

- মক্কায় আগন্তুক ব্যক্তির জন্য তাওয়াফ এবং সালাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের বিচার।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর ইবাদতের যোগ্য হওয়ার প্রমাণাদি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ:

প্রথম মাসআলা: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ:

- আল্লাহর সাথে শিরক করা।

- খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা।

- দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা।

- কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করা এবং তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়া।

- পূর্বপুরুষদের এবং তাদের রীতিনীতির অনুসরণ।

দ্বিতীয় মাসআলা: শিরকের হাকিকত, স্বরূপ এবং প্রকারভেদ:

- শিরকের প্রকৃত রূপ বর্ণনা।

- শিরকের ভয়াবহতা।

- শিরকের কিছু রূপ: (যাদু - গণকগিরি - অশুভ লক্ষণ মানা - জ্যোতিষশাস্ত্র)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ:

প্রথম মাসআলা: উচ্চমর্যাদার 'গারানীক' সংক্রান্ত কাহিনী।

দ্বিতীয় মাসআলা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: (যদি আপনি শিরক করেন তবে অবশ্যই আপনার আমল বিফল হয়ে যাবে)।

তৃতীয় মাসআলা: আদম আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে শিরক সংঘটিত হওয়া সংক্রান্ত বক্তব্যের বিশ্লেষণ।

চতুর্থ মাসআলা: নবী ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: (আর আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন)।

তৃতীয় অধ্যায়: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১২)
المطلب الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات:

المسألة الأولى: تعريف توحيد الأسماء والصفات.

المسألة الثانية: مسألة الاسم والمسمى.

المطلب الثاني: منهج السلف في باب الأسماء والصفات.

المطلب الثالث: معاني أسماء الله تعالى وصفاته، ومقتضياتها.

المطلب الرابع: بعض الصفات الواردة في القرآن الكريم.

المطلب الخامس: مسائل في الأسماء والصفات:

- معنى الكيد من الله تعالى؟

- معنى المكر من الله تعالى؟

- معنى قوله تعالى: (يخادعون الله وهو خادعهم)؟

- معنى السخرية من الله تعالى؟

- معنى قوله تعالى: (قاتلهم الله)؟

- معنى قوله تعالى: (نسوا الله فنسيهم)؟

- معنى نصرة الله تعالى؟

- معنى حسرة الله تعالى على العباد؟

- معنى أذية الرب تعالى؟

- معنى قوله تعالى: (إن ربي على صراط مستقيم)؟

- معنى الإقراض من الله تعالى؟

- معنى الاستهزاء من الله تعالى؟

- معنى الرمي من الله تعالى؟

- معنى قوله تعالى: (ذلك لمن خاف مقامي)؟

- معنى الجد لله تعالى؟

- معنى الذكر من الله تعالى؟

- معنى الصلاة من الله تعالى؟

- معنى الإمهال من الله تعالى؟

- معنى المدافعة من الله تعالى؟

الفصل الثاني: الإيمان بالملائكة.

المبحث الأول: تعريف الملائكة، وأسماؤهم:

المطلب الأول: تعريف الملائكة.

المطلب الثاني: أسماء الملائكة وأعمالهم.

المبحث الثاني: أعمال الملائكة وصفاتهم.

المبحث الثالث: مسائل في الملائكة:

المطلب الأول: التفضيل بين الملائكة والبشر.

المطلب الثاني: هل الملائكة يموتون أم لا؟!

المطلب الثالث: الاختلاف في الرعد والبرق.

المبحث الرابع: الإيمان بالجن والشياطين.

المطلب الأول: تعريف الجن والشياطين.

المطلب الثاني: أعمال الشياطين، وأحوالهم، وصفاتهم.

المطلب الثالث: أعمال الجن، وأحوالهم، وصفاتهم.

المطلب الرابع: مسائل في عالم الجن والشياطين:

المسألة الأولى: هل إبليس من الملائكة؟

المسألة الثانية: هل من الجن رسل؟

المسألة الثالثة: هل الجن يدخلون الجنة، ويُثابون على أعمالهم؟

المسألة الرابعة: هل يمكن أن يطأ الجني الإنسية؟

الفصل الثالث: الإيمان بالكتب:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলির) তাওহীদের সংজ্ঞা:

প্রথম মাসআলা: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় মাসআলা: নাম এবং নামধারী (ইসিম ও মুসাম্মা) সংক্রান্ত মাসআলা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আসমা ও সিফাতের ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ (পদ্ধতি)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অর্থ এবং এগুলোর দাবি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কিছু গুণাবলি (সিফাত)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আসমা ও সিফাত সংক্রান্ত কিছু মাসআলা:

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কৌশলের অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মাকরের (কৌশল) অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর বাণী: (তারা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে অথচ তিনি তাদের সাথে প্রতারণা করেন)-এর অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহাসের অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন)-এর অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর বাণী: (তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে তিনিও তাদের ভুলে গিয়েছেন)-এর অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের অর্থ কী?

- বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর আক্ষেপের অর্থ কী?

- রব তাআলাকে কষ্ট দেওয়ার অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আমার রব সরল পথে আছেন)-এর অর্থ কী?

- মহান আল্লাহকে ঋণ প্রদানের অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহাস (ইসতিহযা)-এর অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিক্ষেপ করার অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর বাণী: (এটি তার জন্য যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে)-এর অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর জন্য মর্যাদার (আল-জাদ্দু) অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে স্মরণের অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাতের (রহমত) অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়ার অর্থ কী?

- মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিহত করার অর্থ কী?

দ্বিতীয় অধ্যায়: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান।

প্রথম অনুচ্ছেদ: ফেরেশতাদের সংজ্ঞা ও তাদের নামসমূহ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের নাম ও তাদের কাজসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফেরেশতাদের কাজ ও তাদের গুণাবলি।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ফেরেশতা সংক্রান্ত কিছু মাসআলা:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতা ও মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফেরেশতারা কি মৃত্যুবরণ করেন নাকি করেন না?!

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মেঘের গর্জন ও বিজলি সংক্রান্ত মতপার্থক্য।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: জিন ও শয়তানের প্রতি ঈমান।

প্রথম পরিচ্ছেদ: জিন ও শয়তানের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শয়তানদের কাজ, অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জিনদের কাজ, অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জিন ও শয়তানের জগত সংক্রান্ত কিছু মাসআলা:

প্রথম মাসআলা: ইবলিস কি ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত?

দ্বিতীয় মাসআলা: জিনদের মধ্য থেকে কি কোনো রাসূল আছেন?

তৃতীয় মাসআলা: জিনেরা কি জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের কাজের প্রতিদান পাবে?

চতুর্থ মাসআলা: কোনো জিন কি কোনো মানবীর সাথে সহবাস করতে পারে?

তৃতীয় অধ্যায়: কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান:
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأول: التعريف بالقرآن الكريم، والكتب المنزلة:

المطلب الأول: القرآن الكريم.

المطلب الثاني: التوراة، والإنجيل، والزبور.

المبحث الثاني: صفات القرآن الكريم.

المبحث الثالث: إعجاز القرآن الكريم.

المبحث الرابع: مسائل في القرآن الكريم:

المطلب الأول: وصف القرآن الكريم بأنه محكم ومتشابه.

المطلب الثاني: القرآن منزل غير مخلوق.

المطلب الثالث: التفاضل في كلام الله تعالى.

الفصل الرابع: الإيمان بالرسل عليهم السلام:

المبحث الأول: تعريف النبي والرسول، والفرق بينهما.

المطلب الأول: تعريف النبي والرسول:

المسألة الأولى: تعريف النبي.

المسألة الثانية: تعريف الرسول.

المطلب الثاني: الفرق بين النبي والرسول.

المبحث الثاني: أسماء الأنبياء الواردة في القرآن الكريم.

المبحث الثالث: خصائص الأنبياء عليهم الصلاة والسلام:

المطلب الأول: الخصائص والصفات المشتركة بينهم.

المطلب الثاني: الوحي.

المطلب الثالث: العصمة.

المطلب الرابع: المعجزات.

المطلب الخامس: الإيمان بالنبي محمد صلى الله عليه وسلم:

المسألة الأولى: اسمه ونسبه.

المسألة الثانية: خصائصه.

المسألة الثالثة: حكم تنقصه وأذيته؟

الفصل الخامس: الإيمان باليوم الآخر:

المبحث الأول: التعريف باليوم الآخر، وأشراط الساعة:

المطلب الأول: التعريف باليوم الآخر.

المطلب الثاني: أشراط الساعة.

المبحث الثاني: الموت وحقيقته.

المبحث الثالث: أحكام البرزخ.

المبحث الرابع: البعث بعد الموت.

المبحث الخامس: أحداث الآخرة وأحوالها.

الفصل السادس: الإيمان بالقدر:

المبحث الأول: مراتب القضاء والقدر.

المبحث الثاني: الرد على القدرية.

المبحث الثالث: مسائل في القدر.

المطلب الأول: هل كان الحسن البصري قدرياً؟!

المطلب الثاني: هل يجب على الله شيء؟!

المطلب الثالث: معنى اللطف الإلهي، وهل يتناهى أم لا؟!

المطلب الرابع: هل الاستطاعة تكون قبل الفعل أو معه؟!

المطلب الخامس: معنى الختم والطبع.

المطلب السادس: هل المعدوم شيء؟!

المطلب السابع: المحو والإثبات.

المطلب الثامن: هل المقتول ميت بأجله أم لا؟!
প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন এবং অবতীর্ণ কিতাবসমূহের পরিচয়:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুর।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের মুজিজা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন বিষয়ক মাসআলাসমূহ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনকে মুহকাম ও মুতাশাবিহ হিসেবে অভিহিত করা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন অবতীর্ণ, এটি সৃষ্টি নয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার কালামের (বাণীর) মধ্যে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য।

চতুর্থ অধ্যায়: রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) প্রতি ঈমান:

প্রথম অনুচ্ছেদ: নবী ও রাসূলের সংজ্ঞা এবং তাঁদের মধ্যকার পার্থক্য।

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী ও রাসূলের সংজ্ঞা:

প্রথম বিষয়: নবীর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় বিষয়: রাসূলের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী ও রাসূলের মধ্যকার পার্থক্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নবীদের নামসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) বৈশিষ্ট্যসমূহ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁদের মধ্যকার সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওহী।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসমত (নিষ্পাপতা)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুজিজাসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান:

প্রথম বিষয়: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

দ্বিতীয় বিষয়: তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ।

তৃতীয় বিষয়: তাঁকে অবমাননা করার ও কষ্ট দেওয়ার বিধান কী?

পঞ্চম অধ্যায়: পরকালের প্রতি ঈমান:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পরকাল ও কিয়ামতের আলামতসমূহের পরিচয়:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পরকালের পরিচয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের আলামতসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মৃত্যু ও এর বাস্তবতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বারযাখের বিধানাবলী।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মৃত্যুর পর পুনরুত্থান।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: পরকালের ঘটনাবলি ও অবস্থাসমূহ।

ষষ্ঠ অধ্যায়: কদরের (তাকদীরের) প্রতি ঈমান:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কাযা ও কদরের স্তরসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কাদারিয়া সম্প্রদায়ের খণ্ডন।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কদর বিষয়ক মাসআলাসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাসান বসরী কি কাদারিয়া ছিলেন?!

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর ওপর কি কোনো কিছু ওয়াজিব (আবশ্যক)?!

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঐশ্বরিক অনুগ্রহের (লুতফ) অর্থ, এবং এর কি কোনো শেষ আছে কি না?!

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সক্ষমতা কি কাজের আগে থাকে নাকি কাজের সাথে থাকে?!

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মোহর মারা ও ছাপ দেওয়ার অর্থ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: অবিদ্যমান কোনো কিছু কি কোনো 'বস্তু'?!

সপ্তম পরিচ্ছেদ: মুছে ফেলা ও বহাল রাখা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: নিহত ব্যক্তি কি তার নির্ধারিত সময়েই মৃত্যুবরণ করে নাকি অন্যভাবে?!
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
المطلب التاسع: حكم إيلام الأطفال دون ذنب؟!

المطلب العاشر: التحسين والتقبيح العقليين.

الفصل السابع: متممات العقيدة:

المبحث الأول: مسائل الإيمان والكفر.

المطلب الأول: تعريف الإيمان:

المسألة الأولى: تعريف الإيمان في اللغة.

المسألة الثانية: تعريف الإيمان في الشرع.

المسألة الثالثة: هل الإيمان هو الإسلام، أم بينهما اختلاف؟

المطلب الثاني: تعريف الكفر:

المسألة الأولى: تعريف الكفر في اللغة.

المسألة الثانية: تعريف الكفر في الشرع.

المسألة الثالثة: ما يندرج تحت مسمى الكفر.

المبحث الثاني: الكبائر.

المطلب الأول: تعريف الكبائر.

المطلب الثاني: حكم مرتكب الكبيرة؟

المطلب الثالث: هل للقاتل توبة؟!

المبحث الثالث: الديانات، وفضيلة الإسلام، وأمة الإسلام.

المطلب الأول: التعريف بالديانات:

المسألة الأولى: التعريف بالإسلام.

المسألة الثانية: التعريف باليهودية والنصرانية.

المطلب الثاني: فضل الإسلام.

المطلب الثالث: فضل أمة الإسلام.

المبحث الرابع: الصحابة، فضلهم، ومنزلتهم، ومكانتهم.

المطلب الأول: حقيقة مسمى الصحبة.

المطلب الثاني: فضائل الصحابة رضي الله عنهم.

المطلب الثالث: حكم تنقص الصحابة رضي الله عنهم.

المطلب الرابع: الموقف من الفتنة التي جرت بين الصحابة رضي الله عنهم.

المطلب الخامس: التفاضل بين الصحابة، وإثبات خلافة الأئمة الأربعة الراشدين.
নবম অনুচ্ছেদ: অপরাধ ছাড়াই শিশুদের কষ্ট দেওয়ার বিধান কী?!

দশম অনুচ্ছেদ: বুদ্ধিভিত্তিক ভালো ও মন্দ সাব্যস্ত করা।

সপ্তম অধ্যায়: আকিদার পরিপূরক বিষয়সমূহ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমান ও কুফর সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমানের সংজ্ঞা:

প্রথম মাসআলা: অভিধানে ইমানের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় মাসআলা: শরিয়তের পরিভাষায় ইমানের সংজ্ঞা।

তৃতীয় মাসআলা: ইমান কি ইসলাম, নাকি উভয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে?

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুফরের সংজ্ঞা:

প্রথম মাসআলা: অভিধানে কুফরের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় মাসআলা: শরিয়তের পরিভাষায় কুফরের সংজ্ঞা।

তৃতীয় মাসআলা: যা কিছু কুফর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কবিরা গুনাহসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: কবিরা গুনাহের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির বিধান কী?

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হত্যাকারীর কি তওবা আছে?!

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মসমূহ, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মুসলিম উম্মাহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: বিভিন্ন ধর্মের পরিচয়:

প্রথম মাসআলা: ইসলামের পরিচয়।

দ্বিতীয় মাসআলা: ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের পরিচয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরাম, তাঁদের ফজিলত, মর্তবা ও অবস্থান।

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাহাবি সংজ্ঞার বাস্তবতা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ফজিলতসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিধান।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মাঝে সংঘটিত ফিতনার ব্যাপারে অবস্থান।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: সাহাবায়ে কেরামের পারস্পরিক মর্যাদাগত পার্থক্য এবং চারজন খুলাফায়ে রাশিদিনের খিলাফত সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تاسعًا: الخاتمة:

وفيها أهم نتائج البحث والتوصيات.

 

‌‌عاشرًا: الفهارس: وتشمل:

- فهرس الآيات القرآنية.

- فهرس الأحاديث النبوية.

- فهرس الأعلام المترجم لهم.

- فهرس المصادر والمراجع.

- فهرس الموضوعات.
নবম: উপসংহার:

এতে গবেষণার প্রধান ফলাফল ও সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

দশম: নির্ঘণ্টসমূহ: যা নিম্নরূপ:

- কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

- নববী হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট।

- জীবনীমূলক ব্যক্তিদের নির্ঘণ্ট।

- উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।

- বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌تمهيد: التعريف بالإمام السمعاني

المبحث الأول: عصره

المطلب الأول: الحالة السياسية

المطلب الثاني: الحالة الاجتماعية

المطلب الثالث: الحالة الدينية والعلمية

المبحث الثاني: حياته

المطلب الأول: اسمه ونسبه ونشأته

المطلب الثاني: طلبه للعلم ومكانته العلمية

المطلب الثالث: شيوخ وتلاميذه

المطلب الرابع: آثاره ومؤلفاته

المطلب الخامس: وفاته

المبحث الثالث: تفسير أبي المظفر السمعاني

المطلب الأول: نسبة التفسير لمؤلفه ومكانته العلمية

المطلب الثاني: ميزات تفسير الإمام السمعاني

المطلب الثالث: المآخذ على تفسيرالإمام السمعاني

المطلب الرابع: منهج الإمام السمعاني في تفسييره
ভূমিকা: ইমাম সামআনী-এর পরিচয়

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগ

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও লালন-পালন

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানার্জন ও তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর অবদান ও রচনাবলি

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আবু মুজাফফর সামআনী-এর তাফসীর

প্রথম অনুচ্ছেদ: লেখকের প্রতি তাফসীরটির নিসবত এবং এর জ্ঞানগত মর্যাদা

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম সামআনী-এর তাফসীরের বৈশিষ্ট্যসমূহ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম সামআনী-এর তাফসীরের ওপর পর্যালোচনাসমূহ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইমাম সামআনী-এর তাফসীর রচনার পদ্ধতি (মানহাজ)
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
التمهيد: الإمام السمعاني: عصره، وحياته، وتفسيره:

 

‌‌المبحث الأول: عصره:

‌‌المطلب الأول: الحالة السياسية:

لكل زمان ظروفه الخاصة التي تنشأ فيه، فتؤثر على سيِره وسيرته، سلباً وإيجاباً. ففي القرن الخامس الهجري ساءت أحوال العالم الإسلامي، واضطربت أموره شرقاً وغرباً، فقامت دويلات وسقطت أخرى، وتمالأ أعداء الأمة عليها، وصوبوا سهامهم نحوها، فنتج عن ذلك: تفرق، وتشرذم، وسقوط، وانهيار. والناظر في تأريخ الأمم، يلحظ أن الضعف إنما ينشأ من صعود أرباب الغدر والخيانة، وتبوئهم مناصب كبيرة في الدولة، والتأريخ المسطور المشؤوم لابن العلقمي(1)،

--------------------------------------------

(1) ابن العلقمي: مشؤوم الطلعة، الوزير، المبير، مؤيد الدين - (بل مدمر الدين) - محمد بن محمد بن أبي طالب، البغدادي، الشيعي الرافضي، وزير المستعصم بالله. ولِي وزارة العراق أربع عشرة سنة. وكان ذا حقد على أهل السنة، بل مُلِئ قلبه غيظا وحنقا على الإسلام وأهله، فأخذ يُكاتب التتار على المجيء، وقرر معهم لنفسه أمورا انعكست عليه، وندم حين لا ينفع الندم.

انظر: الذهبي: العبر في خبر من غبر: دار الكتب العلمية، بيروت، دون ذكر رقم الطبعة وتأريخها، (3/ 284) - الذهبي: تأريخ الإسلام: دار الكتاب العربي، بيروت، ط 2 - 1413 هـ، (48/ 290) - العصامي: سمط النجوم العوالي: دار الكتب العلمية، بيروت، ط 1 - 1419 هـ (3/ 516).

يقول ابن الوردي في تأريخه، دار الكتب العلمية، بيروت، ط 1 - 1417 هـ (2/ 190): " أراد ابن العلقمي نصرة الشيعة، فنصر عليهم، وحاول الدفع عنهم فدفع إليهم، وسعى ولكن في فسادهم، وعاضد ولكن على سبي حريمهم وأولادهم، وجاء بجيوش سلبت عنه النعمة، ونكبت الإمام والأمة، وسفكت دماء الشيعة والسنة، وخلدت عليه العار واللعنة ".

 

وكانت يده الخائنة التي امتدت لهولاكو يد الكفر والفجور، أبشع يد خائنة مُدت على تأريخ بغداد، يقول ابن كثير:" … دبر على الإسلام وأهله ما وقع من الأمر الفظيع، الذي لم يُؤرخ أبشع منه منذ بُنيت بغداد، وإلى هذه الأوقات " البداية والنهاية: دار إحياء التراث، ط 1 - 1418 هـ (13/ 234). قلتُ: وما أشبه اليوم بالبارحة. وقال الصفدي: " فحصل عنده من الضغن، ما أوجب له أنه سعى في دمار الإسلام، وخراب بغداد " الوافي بالوفيات: دار إحياء التراث، بيروت، 1420 هـ (1/ 151).

ولد سنة 591 هـ، وهلك في أوائل سنة 657 هـ، وعاش 66 سنة. انظر: الصفدي: الوافي بالوفيات: (1/ 151)، العودة: كيف دخل التتر بلاد المسلمين، دار طيبة، ط 3 - 1422 هـ (53).
ভূমিকা: ইমাম সামআনি: তাঁর যুগ, তাঁর জীবন এবং তাঁর তাফসির:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগ:

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক পরিস্থিতি:

প্রতিটি সময়ের নিজস্ব কিছু পরিস্থিতি থাকে যা সেই সময়ে তৈরি হয়, যা তার গতি ও প্রকৃতির ওপর ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পূর্ব ও পশ্চিমে এর বিষয়াবলি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে কিছু ছোট ছোট রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে এবং অন্যগুলোর পতন ঘটে। উম্মাহর শত্রুরা তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তাদের দিকে তীরের নিশানা তাক করে। এর ফলে বিভক্তি, খণ্ড-বিখণ্ডতা, পতন ও ধস সৃষ্টি হয়। জাতিসমূহের ইতিহাসের দিকে নজর দিলে লক্ষ্য করা যায় যে, দুর্বলতা মূলত বিশ্বাসঘাতকতা ও খিয়ানতকারীদের উত্থান এবং রাষ্ট্রের বড় বড় পদে তাদের আসীন হওয়ার মাধ্যমেই তৈরি হয়। ইবনুল আলকামির(১) লিখিত অশুভ ইতিহাস এর বড় প্রমাণ।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আলকামি: যার আবির্ভাব অশুভ, ধ্বংসাত্মক উজির, মুয়াইয়্যিদুদ্দীন - (বরং দ্বীন ধ্বংসকারী) - মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি তালিব, বাগদাদি, শিয়া রাফেজি, মুসতাসিম বিল্লাহর উজির। তিনি চৌদ্দ বছর ইরাকের উজির পদে আসীন ছিলেন। আহলে সুন্নতের প্রতি তাঁর মনে গভীর বিদ্বেষ ছিল, বরং ইসলাম ও এর অনুসারীদের প্রতি তাঁর অন্তর ক্রোধ ও ঘৃণায় পরিপূর্ণ ছিল। ফলে তিনি তাতারদের (মঙ্গোলদের) আসার জন্য পত্রালাপ শুরু করেন এবং নিজের স্বার্থে তাদের সাথে এমন কিছু বিষয় নির্ধারণ করেন যা পরবর্তীতে তাঁর নিজের ওপরই বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি তখন অনুতপ্ত হয়েছিলেন যখন অনুতাপ কোনো কাজে আসে না।

দেখুন: আয-যাহাবি: আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, সংস্করণ ও তারিখ উল্লেখহীন, (৩/ ২৮৪) - আয-যাহাবি: তারিখুল ইসলাম: দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, ২য় প্রকাশ - ১৪১৩ হিজরি, (৪৮/ ২৯০) - আল-আসামী: সিমতুন্নুজুমিল আাওয়ালি: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম প্রকাশ - ১৪১৯ হিজরি (৩/ ৫১৬)।

ইবনুল ওয়ারদি তাঁর ইতিহাসে লিখেছেন, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম প্রকাশ - ১৪১৭ হিজরি (২/ ১৯০): "ইবনুল আলকামি শিয়াদের সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উল্টো তাদের ওপর বিপদ ডেকে আনলেন। তিনি তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলেন। তিনি তাদের উন্নতির চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু বাস্তবে তাদের সর্বনাশের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি তাদের সহায়তা করেছিলেন কিন্তু তা তাদের নারী ও সন্তানদের বন্দি হওয়ার কারণ হলো। তিনি এমন বাহিনী নিয়ে আসলেন যারা তাঁর নেয়ামত কেড়ে নিল, ইমাম ও উম্মাহকে বিপদে ফেলল, শিয়া ও সুন্নিদের রক্ত ঝরাল এবং তাঁর জন্য চিরস্থায়ী লজ্জা ও অভিশাপ রেখে গেল।"

 

হালাকু খানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া তাঁর সেই খিয়ানতকারী হাতটি ছিল কুফর ও পাপাচারের হাত, যা বাগদাদের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম খিয়ানতকারী হাত। ইবন কাসির বলেন: " ...তিনি ইসলাম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির ষড়যন্ত্র করেছিলেন, বাগদাদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যার চেয়ে নৃশংস আর কোনো ঘটনা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়নি।" আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: দারু ইহয়াইত তুরাস, ১ম প্রকাশ - ১৪১৮ হিজরি (১৩/ ২৩৪)। আমি বলছি: আজকের দিনটি গতকালের সাথে কতই না সদৃশ। আস-সাফাদি বলেন: "তাঁর অন্তরে এমন বিদ্বেষ পুঞ্জীভূত হয়েছিল যার ফলে তিনি ইসলামের বিনাশ এবং বাগদাদের ধ্বংস সাধনে সচেষ্ট হয়েছিলেন।" আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: দারু ইহয়াইত তুরাস, বৈরুত, ১৪২০ হিজরি (১/ ১৫১)।

তিনি ৫৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৫৭ হিজরির শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ৬৬ বছর বেঁচেছিলেন। দেখুন: আস-সাফাদি: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: (১/ ১৫১), আল-আওদাহ: কাইফা দাখালাত তাতার বিলাদাল মুসলিমিন, দারু তাইবা, ৩য় প্রকাশ - ১৪২২ হিজরি (৫৩)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الذي كان سببا في انهيار الدولة العباسية، أكبر دليل على ذلك.

ومن مظاهر الضعف في العالم الإسلامي:

1 - ظهور الرفض وشيوعه، يقول الإمام الذهبي وهو يشير إلى أحداث سنة إحدى وخمسين وأربعمائة: " والرفض عالٍ في الشام، ومصر، وبعض المغرب، فلله الأمر "(1). ويشير الإمام ابن كثير في تأريخه إلى حدوث الفتن المستمرة، والقتال المحتدم بين السنة والرافضة، فيقول حاكيا ما وقع من أحداث سنة اثنتين وثمانين وأربعمائة: " وفيها كانت فتن عظيمة بين الروافض والسنة، ورفعوا المصاحف، وجرت حروب طويلة، وقُتل خلق كثير … "(2).

2 - نشوء التفرق في المغرب، بسقوط الدولة الأموية، وتمزق الدولة العامرية في الأندلس(3)، ولا أدل على ذلك، من حصول الاضطراب داخل أروقة قصر الرئاسة في ذلك الزمن، إذ اختفت فيه مراسم الاحتفال بالبيعة الخاصة للخليفة، واستعيض عنها إما بالصفق على يد الخليفة داخل مقره، أو على سطح مقر رئاسته. وكانت هذه الاضطرابات مستمرة من عام 399 هـ إلى عام 422 هـ، فيما كان يُعرف حينها بعصر الفتنة(4).

ومع هذا الضعف، فقد هيأ الله تعالى للمسلمين في ذلك الزمن، من يلم شعثهم، ويوحد صفهم، ويجمع كلمتهم:

--------------------------------------------

(1) الذهبي: تأريخ الإسلام: (30/ 197)

(2) ابن كثير: البداية والنهاية: (16/ 113)

(3) يقول الأستاذ عبد الشافي عبد اللطيف في كتابه: السيرة النبوية والتأريخ الإسلامي، دار السلام - القاهرة، ط 1 - 1428 هـ (1/ 347): "وبوفاة الحكم المستنصر سنة 336 هـ، يمكن القول: إن الدولة الأموية قد انتهت فعلا في الأندلس، فاستبد بالأمر المنصور بن أبي عامر، وأصبح الحاكم المطلق هو وأولاده من بعده لمدة ثلث قرن، وقد أطلق المؤرخون على الأندلس في تلك الفترة وصف الدولة العامرية نسبة إليهم ".

(4) ينظر: سالم الخلف: نظم حكم الأمويين، الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية في المدينة المنورة، ط 1،1424 هـ (1/ 139).
যা আব্বাসীয় রাষ্ট্রের পতনের কারণ ছিল, তা-ই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

এবং মুসলিম বিশ্বের দুর্বলতার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - রাফজ বা শিয়া মতবাদের আবির্ভাব ও প্রসার। ইমাম যাহাবী ৪৫১ হিজরীর ঘটনাবলির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: "সিরিয়া, মিশর এবং মাগরিবের কিছু অংশে রাফজ (শিয়া মতবাদ) প্রবল ছিল, আর সকল বিষয় আল্লাহর ইখতিয়ারে।"(১)। ইমাম ইবনে কাসীর তাঁর ইতিহাসে নিরন্তর ফিতনা এবং সুন্নি ও রাফেজীদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ৪৮২ হিজরীর ঘটনাবলি বর্ণনা করে বলেন: "সে বছর রাফেজী ও সুন্নিদের মধ্যে বিশাল ফিতনা দেখা দিয়েছিল, তারা কুরআন তুলে ধরেছিল, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং বহু মানুষ নিহত হয়েছিল ..."(২)।

২ - মাগরিব তথা পশ্চিমে বিভক্তির উদ্ভব, উমাইয়া রাষ্ট্রের পতন এবং আন্দালুসে আমিরী রাষ্ট্রের ছিন্নভিন্ন হওয়ার মাধ্যমে(৩)। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রাসাদের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ আর নেই। তখন খলিফার জন্য বিশেষ বায়াত বা আনুগত্যের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এর পরিবর্তে খলিফার বাসভবনের ভেতরে অথবা তার ছাদের উপর খলিফার হাতে হাত চাপড়ানোর (সংক্ষিপ্ত আনুগত্য) রীতি চালু হয়। ৩৯৯ হিজরী থেকে ৪২২ হিজরী পর্যন্ত এই অস্থিরতা অব্যাহত ছিল, যা তৎকালীন সময়ে ফিতনার যুগ হিসেবে পরিচিত ছিল(৪)।

এই দুর্বলতা সত্ত্বেও, মহান আল্লাহ সেই যুগে মুসলমানদের জন্য এমন একজনকে ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন যিনি তাদের বিশৃঙ্খলা দূর করেছিলেন, তাদের কাতারকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের ঐক্য ফিরিয়ে এনেছিলেন:

--------------------------------------------

(১) যাহাবী: তারিখুল ইসলাম: (৩০/ ১৯৭)

(২) ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: (১৬/ ১১৩)

(৩) অধ্যাপক আব্দুশ শাফি আব্দুল লতিফ তাঁর গ্রন্থে বলেন: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াত তারিখুল ইসলামি, দারুস সালাম - কায়রো, ১ম সংস্করণ - ১৪২৮ হি. (১/ ৩৪৭): "৩৩৬ হিজরীতে হাকাম আল-মুসতানসিরের মৃত্যুর মাধ্যমে বলা যেতে পারে যে, আন্দালুসে উমাইয়া শাসনের প্রকৃত সমাপ্তি ঘটে। এরপর মনসুর ইবনে আবি আমির ক্ষমতা দখল করেন এবং তিনি ও তাঁর পরবর্তী সন্তানরা এক দশকের এক-তৃতীয়াংশ (তেত্রিশ বছর) সময় নিরঙ্কুশ শাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত থাকেন। ঐতিহাসিকরা আন্দালুসের সেই সময়কালকে তাদের নামানুসারে 'আমিরী রাষ্ট্র' হিসেবে অভিহিত করেছেন।"

(৪) দেখুন: সালেম আল-খালাফ: নুযুমু হুকমিল উমাইয়্যিন, প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, ১ম সংস্করণ, ১৪২৪ হি. (১/ ১৩৯)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
- ففي الأندلس، قام العلماء بعد سقوط الدولة العامرية، وتفرقها إلى طوائف، بالدعوة إلى الوحدة؛ إدراكا منهم للخطر الذي يتهدد المسلمين من النصارى، فاستجاب لطلبهم المعتمد بن عباد، الذي كان يملك أكثر البلاد الإسلامية الأندلسية، واجتمع أمرهم بالاستنجاد بدولة المرابطين في المغرب، فكان ما كان من أمر الله جل وعلا، من انتصار المسلمين على النصارى في معركة الزلاقة الشهيرة(1).

- وفي المشرق، نصر الله تعالى الإسلام وأهله، بالسلاجقة الذين دحروا زُمَر الكفر وأهله.

--------------------------------------------

(1) ينظر: جميل المصري: الزلاقة، الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، السنة 18، العددان: 69 - 70، محرم، جمادى الآخرة (1/ 178).
- আন্দালুসে, আমিরি রাষ্ট্রের পতনের পর এবং তা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হওয়ার সময়ে আলেমগণ ঐক্যের আহ্বান জানান; নাসারাদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি যে বিপদ ধেয়ে আসছিল তা উপলব্ধি করেই তারা তা করেছিলেন। ফলে আল-মুতামিদ বিন আব্বাদ তাদের আহ্বানে সাড়া দেন, যিনি আন্দালুসের অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডের অধিপতি ছিলেন। মরক্কোর মুরাবিতুন সাম্রাজ্যের কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত একীভূত হয়। অতঃপর মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী যা হওয়ার ছিল তাই হলো, অর্থাৎ বিখ্যাত জাল্লাকার যুদ্ধে নাসারাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় অর্জিত হলো(১).

- আর প্রাচ্যে আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও এর অনুসারীদের সেলজুকদের মাধ্যমে সাহায্য করেছিলেন, যারা কুফরের শক্তি ও অনুসারীদের বিতাড়িত করেছিল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জামিল আল-মিসরি: আজ-জাল্লাকা, প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৮তম বর্ষ, সংখ্যা: ৬৯ - ৭০, মহররম, জমাদিউল আখিরা (১/ ১৭৮)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২০)
وأما إقليم المشرق(1)، الذي كان يُنسب إليه الإمام السمعاني، وخاصته مرو الشاهِجَان(2) من مدن خراسان(3) الكبرى. فقد تعاقب عليها وما جاورها في القرن الخامس الهجري ثلاث دول: البويهية، والغزنوية، والسلجوقية.

--------------------------------------------

(1) إقليم المشرق ينقسم إلى ثلاثة أقاليم: خراسان، وسجستان، وما وراء النهر. ينظر: البشاري: أحسن التقاسيم في معرفة الأقاليم، مكتبة مدبولي - القاهرة، ط 3 - 1991 م، (260).

(2) مرو الشاهجان: هي مرو العظمى، أشهر مدن خراسان وقصبتها، ومعنى مرو: مرج، والشاه: الملك، والجان: الروح، وكأنه يُقال: مرج نفس الملك. وإنما قيل لها مرو؛ لتتميز عن مرو الروذ، ولأنه لم يكن بها بناء. ينظر: ابن الجوزي: المنتظم في تأريخ الأمم والملوك، دار الكتب العلمية - بيروت، ط 1 - 1412 هـ (4/ 219)، ابن الفقيه: البلدان، عالم الكتب 0 بيروت، ط 1 - 1416 هـ (1/ 136).

(3) خراسان: كلمة فارسية معناها: بلاد الشمس المشرقة، والعرب إذا ذكرت المشرق كله قالوا: فارس، فخراسان من فارس. وهي بلاد واسعة، أول حدودها لما يلي العراق، وآخر حدودها لما يلي الهند. وتشتمل على أمهات من البلاد منها: نيسابور، وهراة، ومرو، وبلخ. وهي من أحسن أرض الله، وأعمرها، وأكثرها خيرا، وأهلها أحسن الناس صورة، وأكملهم عقلا، وأقومهم طبعا، وأكثرهم رغبة في الدين والعلم. ينظر: القزويني: آثار البلاد وأخبار العباد، دار صادر - بيروت، دون ذكر رقم الطبعة وتأريخها، (361)، البكري: معجم ما استعجم من البلاد والمواضع، عالم الكتب - بيروت، ط 3 - 1403 هـ (2/ 490)، الحموي: معجم البلدان، دار صادر - بيروت، ط 2 - 1995 م، (2/ 350).
আর মাশরিক (পূর্বাঞ্চলীয়) ভূখণ্ড সম্পর্কে বলা যায়(১), যার সাথে ইমাম সামআনিকে সম্বন্ধিত করা হতো এবং এর বিশেষ অংশ ছিল খুরাসানের(৩) বড় শহরগুলোর অন্যতম মারওয়ু আশ-শাহিজান(২)। হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে এই অঞ্চল এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে তিনটি সাম্রাজ্য শাসন করেছে: বুওয়াইহি, গজনভি এবং সেলজুক।

--------------------------------------------

(১) মাশরিক ভূখণ্ড তিনটি প্রদেশে বিভক্ত: খুরাসান, সিজিস্তান এবং মা ওয়ারায়ুন নাহার। দেখুন: আল-বাশারি: আহসানুত তাকাসিম ফি মা'রিফাতিল আক্বালিম, মাকতাবাতু মাদবুলি - কায়রো, ৩য় সংস্করণ - ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ, (২৬০)।

(২) মারওয়ু আশ-শাহিজান: এটি হলো মারওয়ু আল-উজমা (বৃহত্তর মারওয়ু), যা খুরাসানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শহর এবং এর রাজধানী। 'মারওয়ু' শব্দের অর্থ: চারণভূমি, 'শাহ' মানে: রাজা এবং 'জান' মানে: প্রাণ; যেন বলা হচ্ছে: রাজার প্রাণের চারণভূমি। একে মারওয়ু বলা হয়েছে মারওয়ু আর-রূদ থেকে পৃথক করার জন্য এবং যেহেতু সেখানে কোনো দালানকোঠা ছিল না। দেখুন: ইবনুল জাওজি: আল-মুনতাজাম ফি তারিখিল উমাম ওয়াল মুলুক, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত, ১ম সংস্করণ - ১৪১২ হিজরি (৪/ ২১৯), ইবনুল ফাকিহ: আল-বুলদান, আলমুল কুতুব - বৈরুত, ১ম সংস্করণ - ১৪১৬ হিজরি (১/ ১৩৬)।

(৩) খুরাসান: এটি একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ: উদীয়মান সূর্যের দেশ। আরবরা যখন সমগ্র প্রাচ্য অঞ্চলকে উল্লেখ করত, তখন তারা বলত: ফারস; সুতরাং খুরাসান ফারসের অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি সুবিস্তৃত দেশ, যার প্রথম সীমানা ইরাকের পাশ থেকে এবং শেষ সীমানা ভারতের পাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এতে অনেকগুলো প্রধান শহর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে আছে: নিশাপুর, হেরাত, মারওয়ু এবং বালখ। এটি আল্লাহর জমিনের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, জনবহুল এবং কল্যাণময় ভূখণ্ডগুলোর একটি। এখানকার অধিবাসীরা সবচেয়ে সুন্দর অবয়বের অধিকারী, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সবচেয়ে পরিপূর্ণ, স্বভাবগতভাবে সবচেয়ে সঠিক এবং দ্বীন ও ইলমের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুরাগী। দেখুন: আল-কাযওয়িনি: আসারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ, দারু সাদির - বৈরুত, সংস্করণ নম্বর ও তারিখের উল্লেখ নেই, (৩৬১), আল-বাকরি: মু'জামু মা ইস্তা'জাম মিনাল বিলাদ ওয়াল মাওয়াদ্বি', আলমুল কুতুব - বৈরুত, ৩য় সংস্করণ - ১৪০৩ হিজরি (২/ ৪৯০), আল-হামাউয়ি: মু'জামুল বুলদান, দারু সাদির - বৈরুত, ২য় সংস্করণ - ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ, (২/ ৩৫০)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২১)
1 - أما دولة بني بويه التي امتدت من عام 334 هـ، إلى عام 447 هـ، ودخلت بلاد المسلمين في بغداد، فأفسدت البلاد والعباد، وشرعت نظام الإقطاع، وأظهرت ألوانا من النزاع العنصري بين الأجناد من الديلم والترك، ونشرت المذهب الرافضي، ودخلت في حروب، ولم يزل الأمر مستمرا على ذلك، إلى أن ظهر أمر السلطان ركن الدولة والدين طغرلبك محمد بن ميكال بن سلجوق، وقويت شوكة الترك، وانخفضت الدولة البويهية، واضمحلت وانقرضت(1).

وقد نمت الرافضة في أكناف هذه الدولة وترعرت؛ لأن " المشهور عن بني بويه التشيع والرفض"(2)، وقد مشى البويهيون على خُطى الفاطميين، يقول الإمام ابن كثير: " وقد أسرف الرافضة في دولة بني بويه في حدود الأربعمائة وما حولها "(3)، ويشير إلى أحداث سبع وأربعين وثلثمائة فيقول: " وقد رجع معز الدولة إلى بغداد بعد انعقاد الصلح، وقد امتلأت البلاد رفضا وسبا للصحابة من بني بويه وبني حمدان والفاطميين، وكل ملوك البلاد، مصرا، وشاما، وعراقا، وخراسان، وغير ذلك من البلاد كانوا رفضا، وكذلك الحجاز وغيره، وغالب بلاد المغرب، فكثر السب والتكفير منهم للصحابة "(4).

وهنا قيّض الله تعالى طغرلبك، فأزال ملك بني بويه، يقول ابن تغري بردي: "وانقرضت دولة بني بويه من بغداد، بسلطنة طغرلبك السلجوقي"(5).

--------------------------------------------

(1) ينظر: ابن القلانسي: تأريخ دمشق، دار حسان للطباعة - دمشق، ط 1 - 1403 هـ (442).

(2) ابن تغري بردي: النجوم الزاهرة، وزارة الثقافة والإرشاد القومي، دار الكتب - مصر (3/ 308)، وينظر: الموسوعة الميسرة في التأريخ الإسلامي، إعداد فريق البحوث والدراسات الإسلامية، فِدا، مكتبة خوارزم - القاهرة، (1/ 273).

(3) ابن كثير: البداية والنهاية: (8/ 220)

(4) ابن كثير: البداية والنهاية: (11/ 264).

(5) ابن تغري بردي: النجوم الزاهرة: (5/ 67 - 73)، وابن تغري بردي: هو يوسف الحنفي، مؤرخ، بحاثة، من مصنفاته: المنهل الصافي المستوفي بعد الوافي. الزركلي: الأعلام: (8/ 222).
১ - পক্ষান্তরে বনু বুওয়াইহ রাষ্ট্র, যা ৩৩৪ হিজরি থেকে ৪৪৭ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং বাগদাদে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, তারা দেশ ও জনগণকে কলুষিত করেছিল। তারা ইকতা প্রথা প্রবর্তন করেছিল এবং দায়লামি ও তুর্কি সৈন্যদের মধ্যে জাতিগত সংঘাতের নানা রূপ প্রকাশ করেছিল। তারা রাফেজি মতাদর্শ প্রচার করেছিল এবং বিভিন্ন যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। সুলতান রুকনুদ দাউলা ওয়াদ দীন তুঘরিল বেগ মুহাম্মদ বিন মিকাল বিন সেলজুকের উত্থান পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে। এর ফলে তুর্কিদের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং বুওয়াইহ রাষ্ট্র দুর্বল ও ক্ষয়িষ্ণু হয়ে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়(১)।

এই রাষ্ট্রের আশ্রয়ে রাফেজিরা বিকশিত ও লালিত-পালিত হয়েছিল; কারণ "বনু বুওয়াইহদের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ বিষয় হলো তাদের শিয়াপ্রীতি ও রাফেজি মতাদর্শ"(২)। বুওয়াইহরা ফাতেমিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল। ইমাম ইবনে কাসির বলেন: "চারশত হিজরি ও তার আশপাশের সময়ে বনু বুওয়াইহ রাষ্ট্রে রাফেজিরা চরম সীমালঙ্ঘন করেছিল"(৩)। তিনি ৩৪৭ হিজরির ঘটনাবলীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন: "সন্ধি চুক্তির পর মুয়িজ্জুদ দাউলা বাগদাদে ফিরে আসেন। তখন বনু বুওয়াইহ, বনু হামদান ও ফাতেমিদের কারণে দেশটি সাহাবীদের প্রতি ঘৃণা পোষণ ও তাদের গালিগালাজে ভরে গিয়েছিল। মিশর, শাম, ইরাক, খোরাসানসহ অন্যান্য ভূখণ্ডের সকল রাজারা ছিল রাফেজি। একইভাবে হিজাজ ও অন্যান্য স্থান এবং মাগরিবের অধিকাংশ এলাকাও ছিল রাফেজি। ফলে তাদের পক্ষ থেকে সাহাবীদের গালি দেওয়া এবং তাদের কাফের বলার প্রবণতা প্রচুর বৃদ্ধি পায়"(৪)।

এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা তুঘরিল বেগকে মনোনীত করেন, যিনি বনু বুওয়াইহদের রাজত্বের অবসান ঘটান। ইবনে তাগরি বারদি বলেন: "সেলজুকি তুঘরিল বেগের সালতানাতের মাধ্যমে বাগদাদ থেকে বনু বুওয়াইহ রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটে"(৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কালানিসি: তারিখু দামেস্ক, দারু হাসসান লিত-তিবাআহ - দামেস্ক, ১ম সংস্করণ - ১৪০৩ হিজরি (৪৪২)।

(২) ইবনে তাগরি বারদি: আন-নুজুমুজ জাহিরাহ, সংস্কৃতি ও জাতীয় নির্দেশনা মন্ত্রণালয়, দারুল কুতুব - মিশর (৩/ ৩০৮), এবং দেখুন: আল-মাওসুআতুল মুয়াসসারাহ ফিত-তারিখিল ইসলামি, ইসলামিক গবেষণা ও অধ্যয়ন দল কর্তৃক প্রস্তুতকৃত, ফিদা, মাকতাবাতু খাওয়ারিজম - কায়রো, (১/ ২৭৩)।

(৩) ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: (৮/ ২২০)

(৪) ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: (১১/ ২৬৪)।

(৫) ইবনে তাগরি বারদি: আন-নুজুমুজ জাহিরাহ: (৫/ ৬৭ - ৭৩), এবং ইবনে তাগরি বারদি হলেন: ইউসুফ আল-হানাফি, একজন ঐতিহাসিক ও গবেষক, তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো: আল-মানহালুস সাফী আল-মুস্তাওফী বা’দাল ওয়াফী। আয-যিরিকলি: আল-আলাম: (৮/ ২২২)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২২)
وفي العام الذي يلي سقوط دولة بني بويه، " اُلزم الروافض بترك الأذان بحي على خير العمل، واُمر أن يُنادي مؤذنهم في أذان الصبح وبعد حي على الفلاح: الصلاة خير من النوم مرتين، وأُزيل ما كان على أبواب المساجد ومساجدهم من كتابة: محمد وعلي خير البشر، ودخل المنشدون من باب البصرة إلى باب الكرخ، ينشدون بالقصائد التي فيها مدح الصحابة، وذلك أن نوء الرافضة اضمحل؛ لأن بني بويه كانوا حكاما، وكانوا يقوونهم وينصرونهم، فزالوا وبادوا، وذهبت دولتهم، وجاء بعدهم قوم آخرون من الأتراك السلجوقية، الذين يحبون أهل السنة ويوالونهم، ويرفعون قدرهم، والله المحمود أبدا، على طول المدى "(1).

2 - وأما الدولة الغزنوية(2): فكانت في عهد محمود بن سبكتكين في ولاء تام للخلافة، وكانت على مذهب أهل السنة والجماعة، وكانت موئلا للعلماء(3).

" ومع أوائل القرن الخامس الهجري بدأ الغزنويون فتح كابل وبلاد الأفغان، والامتداد إلى شبه القارة الهندية. ويذكر المؤرخون أنه هو الفاتح الحقيقي الشامل لشبه القارة الهندية، وأنه كان من أعاظم سلاطين المسلمين، وقد امتدت سلطنته من بهار في شرق الهند، إلى فارس، وفي أواخر القرن السادس الهجري سقطت دولة الغزنويين"(4).

--------------------------------------------

(1) ابن كثير: البداية والنهاية: (12/ 86).

(2) الدولة الغزنوية: غزنة مدينة عظيمة، وولاية واسعة في طرف خراسان، وهي مدينة عامرة، تُعرف بأفغانستان الحالية، وكانت منزل محمود بن سبكتكين إلى أن انقرضوا. وهي بلاد مخصوصة بصحة الهواء، وعذوبة الماء، وصحة التربة. ينظر: الحموي: معجم البلدان: (4/ 201)، عمران الوردي: خريدة العجائب وفريدة الغرائب، مكتبة الثقافة الإسلامية - القاهرة، ط 1 - 1428 هـ (376)، القزويني: آثار البلاد: (1/ 428).

(3) ينظر: الموسوعة الميسرة في التأريخ الإسلامي: (1/ 326).

(4) عبدالرحمن حبنكة: الحضارة الإسلامية: دار القلم - دمشق، ط 1 - 1418 هـ (616 - 617).
বনু বুওয়াইহ রাষ্ট্রের পতনের পরবর্তী বছরে, "রাফেজিদেরকে আজানে 'হাইয়্যা আলা খাইরিল আমাল' (কল্যাণকর কাজের দিকে এসো) বলা বর্জন করতে বাধ্য করা হলো এবং নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তাদের মুয়াজ্জিনরা ফজরের আজানে 'হাইয়্যা আলাল ফালাহ'-এর পরে দুই বার 'আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাউম' (নিদ্রা অপেক্ষা সালাত উত্তম) বলে। সাধারণ মসজিদ ও তাদের মসজিদগুলোর প্রবেশদ্বারে লেখা 'মুহাম্মদ ও আলী সর্বশ্রেষ্ঠ মানব' কথাটি মুছে ফেলা হলো। আবৃত্তিকারগণ বাবুল বসরা থেকে বাবুল কারখ পর্যন্ত প্রবেশ করে সাহাবায়ে কিরামের প্রশংসাসূচক কাসিদা (কবিতা) পাঠ করতে লাগলেন। এর কারণ ছিল এই যে, রাফেজিদের দাপট ম্লান হয়ে গিয়েছিল; যেহেতু বনু বুওয়াইহ শাসকরা তাদের শক্তিশালী করত এবং সাহায্য করত। সুতরাং তারা বিলুপ্ত ও ধ্বংস হয়ে গেল এবং তাদের রাষ্ট্র নিঃশেষ হলো। তাদের পরে সেলজুক তুর্কিদের মধ্য থেকে এমন এক জাতির আগমন ঘটল, যারা আহলুস সুন্নাহকে ভালোবাসত, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করত এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করত। আর দীর্ঘ কালব্যাপী সর্বদা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য"(১)।

২ - আর গজনভি রাষ্ট্র(২) প্রসঙ্গে: এটি সুলতান মাহমুদ ইবনে সাবুকতিগিনের আমলে খিলাফতের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল ছিল, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতাদর্শের অনুসারী ছিল এবং উলামায়ে কিরামের আশ্রয়স্থল ছিল(৩)।

"পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে গজনভিরা কাবুল ও আফগান ভূখণ্ড বিজয় এবং ভারতীয় উপমহাদেশে রাজ্য বিস্তার শুরু করে। ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেন যে, তিনিই ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রকৃত ও ব্যাপক বিজয়ী এবং তিনি ছিলেন মুসলিম সুলতানদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। তাঁর সালতানাত পূর্ব ভারতের বিহার থেকে শুরু করে পারস্য পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে গজনভি রাষ্ট্রের পতন ঘটে"(৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: (১২/ ৮৬)।

(২) গজনভি রাষ্ট্র: গজনী একটি বিশাল শহর এবং খুরাসান প্রান্তের একটি বিস্তৃত প্রদেশ। এটি একটি জনবহুল শহর, যা বর্তমান আফগানিস্তানে অবস্থিত। বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি ছিল মাহমুদ ইবনে সাবুকতিগিনের আবাসস্থল। এই অঞ্চলটি বিশুদ্ধ বায়ু, সুমিষ্ট পানি এবং স্বাস্থ্যকর মাটির জন্য সুপরিচিত। দ্রষ্টব্য: আল-হামাভী: মুজামুল বুলদান: (৪/ ২০১), ইমরান আল-ওয়ারদী: খারীদাতুল আজায়িব ওয়া ফারিদাতুল গারায়িব, মাকতাবাতুস সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ - কায়রো, ১ম সংস্করণ - ১৪২৮ হিজরি (৩৭৬), আল-কাযভিনী: আসারুল বিলাদ: (১/ ৪২৮)।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-মাওসুয়াতুল মুয়াসসারাহ ফিত তারিখিল ইসলামি: (১/ ৩২৬)।

(৪) আবদুর রহমান হাবান্নাকা: আল-হাদারাতুল ইসলামিয়্যাহ: দারুল কালাম - দামেস্ক, ১ম সংস্করণ - ১৪১৮ হিজরি (৬১৬ - ৬১৭)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد جرت مناوشات في هذا القرن بين عساكر غزنة، وبين السلطان ملكشاه السلجوقي، فخرج إلى عساكر غزنة إلياس بن ألب أرسلان أخو ملكشاه، فقاتلهم، وكفى ملكشاه أمر الغزنوية(1).

3 - وأما الدولة السلجوقية(2): فقد ابتدأ ملكها من عام 429 هـ، وفيها استولى طغرلبك على نيسابور، وجلس على سرير ملكها، وبعث أخاه داود إلى بلاد خراسان فملكها، وانتزعها من نُواب الملك مسعود بن محمود بن سبكتكين(3).وعلا شأنهم، وارتفع ملكهم بحلول عام 432 هـ(4). وبدأ السلطان طغرلبك بالفتوحات، ففي سنة 442 هـ، فتح السلطان أصبهان بعد حصار دام سنة، وجعلها دار إقامته(5). وفي سنة 446 هـ، غزا بلاد الروم بعد أخذه بلاد أذربيجان، فغنم من بلاد الروم وسبى، وعمل أشياء حسنة(6). ثم دخلت سنة 447 هـ، وفيها ملك طغرلبك بغداد والعراق(7). وجرت أحداث وفتن كبيرة، انتهت بمقتل رأس الفتنة البساسيري ومن معه.

وكان الملك طغرلبك خيِّرا، مصليا، محافظا على الصلاة في أول وقتها، ويُديم صيام الإثنين والخميس، حليما عمن أساء إليه، كتوما للأسرار، سعيدا في حركاته(8).

--------------------------------------------

(1) ابن تغري بردي: النجوم الزاهرة: (5/ 95).

(2) ينظر في كيفية وصول السلاجقة إلى السلطة، وابتداء أمرهم: تأريخ ابن الوردي: (1/ 335)، تأريخ ابن خلدون، دار الفكر - بيروت، ط 2 - 1408 هـ (3/ 559)، الموسوعة الميسرة في التأريخ الإسلامي: (1/ 278).

(3) ابن كثير: البداية والنهاية: (12/ 54).

(4) ابن كثير: البداية والنهاية: (12/ 60).

(5) المرجع السابق: (12/ 77).

(6) المرجع السابق: (12/ 82).

(7) المرجع السابق: (12/ 83).

(8) المرجع السابق: (12/ 111).
এই শতাব্দীতে গজনির সেনাবাহিনী এবং সেলজুক সুলতান মালিকশাহর মধ্যে কিছু সংঘর্ষ ঘটে। ফলে মালিকশাহর ভাই ইলিয়াস বিন আল্প আরসালান গজনির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করেন। তিনি মালিকশাহকে গজনভিদের আপদ থেকে রক্ষা করেন(১).

৩ - আর সেলজুক রাষ্ট্র প্রসঙ্গে(২): তাদের রাজত্ব শুরু হয় ৪২৯ হিজরি থেকে। এই সময়ে তুঘরিল বেগ নিশাপুর দখল করেন এবং এর রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি তার ভাই দাউদকে খোরাসান অঞ্চলে পাঠান, যা তিনি জয় করেন এবং সুলতান মাহমুদ বিন সবুক্তগিনের পুত্র মালিক মাসউদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নেন(৩)। ৪৩২ হিজরি নাগাদ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের রাজত্ব শক্তিশালী হয়(৪)। সুলতান তুঘরিল বেগ বিজয় অভিযান শুরু করেন। ৪৪২ হিজরিতে সুলতান এক বছর অবরোধের পর ইসফাহান জয় করেন এবং একে তার আবাসস্থলে পরিণত করেন(৫)। ৪৪৬ হিজরিতে আজারবাইজান দখলের পর তিনি রোম (বাইজেন্টাইন) অঞ্চলে অভিযান চালান। তিনি রোম ভূখণ্ড থেকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং যুদ্ধবন্দী লাভ করেন এবং সেখানে অনেক ভালো কাজ করেন(৬)। এরপর ৪৪৭ হিজরি আসে, এই বছরে তুঘরিল বেগ বাগদাদ ও ইরাক অধিকার করেন(৭)। তখন অনেক বড় ঘটনা ও ফিতনা সংঘটিত হয়েছিল, যা ফিতনার মূল হোতা বাসাসিরি এবং তার সঙ্গীদের হত্যার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

মালিক তুঘরিল বেগ ছিলেন একজন নেককার ও নামাজি ব্যক্তি। তিনি প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন। তিনি নিয়মিত সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। যারা তার সাথে দুর্ব্যবহার করত তাদের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল। তিনি গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারতেন এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপে সৌভাগ্যের ছোঁয়া থাকত(৮)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাগরি বিরদি: আন-নুজুমুজ জাহেরা: (৫/ ৯৫)।

(২) সেলজুকদের ক্ষমতায় আসা এবং তাদের শুরুর দিকের অবস্থা সম্পর্কে দেখুন: তারিখ ইবনে আল-ওয়ারদি: (১/ ৩৩৫), তারিখ ইবনে খালদুন, দারুল ফিকর - বৈরুত, ২য় সংস্করণ - ১৪০৮ হি. (৩/ ৫৫৯), আল-মাওসুয়াতুল মুয়াসসারা ফিল তারিখিল ইসলামি: (১/ ২৭৮)।

(৩) ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: (১২/ ৫৪)।

(৪) ইবনে কাসির: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: (১২/ ৬০)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস: (১২/ ৭৭)।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস: (১২/ ৮২)।

(৭) পূর্বোক্ত উৎস: (১২/ ৮৩)।

(৮) পূর্বোক্ত উৎস: (১২/ ১১১)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
فلما تُوفي خلفه ابن أخيه السلطان ألب أرسلان، فملك بعد عمه طغرلبك سبع سنين وستة أشهر وأياما. وكان هو كذلك عادلا في سيرته، كريما رحيما، شفوقا على الرعية، رفيقا بالفقراء، بارا بأهله وأصحابه ومماليكه، كثير الدعاء بدوام النعم به وعليه، كثير الصدقات، يتفقد الفقراء في كل رمضان بخمسة عشر ألف دينار، ولا يعرف في زمانه جناية ولا مصادرة، بل كان يقنع من الرعية بالخراج في قسطين؛ رفقا بهم(1).

وهذه كلها أسباب جعلت ذاك القرن يعيش نوعا من الأمن والاستقرار، خاصة إذا علمنا أن ألب أرسلان اعتمد في الوزارة على نظام الملك، الذي كان حسن السيرة، فكان وزير صدق، يُكرم العلماء والفقراء(2)، وكذا استوزره ملكشاه بعد مقتل أبيه.

وفي هذه الفترة المزهرة في حياة أولئك الأعلام الثلاثة العِظام: طغرلبك، وألب أرسلان، وملكشاه، عاش الإمام أبو المظفر السمعاني.

 

‌‌المطلب الثاني: الحالة الاجتماعية:

الفوضى السياسية العارمة، التي عمت أرجاء المشرق والمغرب، كان لها أثر على الواقع والحال الاجتماعي في تلك الدول. فمع الاضطرابات السياسية: تكثر الحروب، والسرقات، وينتهز الوجهاء والأمراء الفرصة المواتية، للانقضاض على مقاليد السلطة والحكم، مما ينتج عن ذلك: إنفاق هائل للثروات، وهدر للأموال، وهذا بدوره يؤدي إلى فقدان الأمن المعيشي، والاهتزاز الاجتماعي، واضطراب الأمن في البلدان.

فالواقع الذي شهده التأريخ في القرن الخامس، كان مزريا، مليئا بالآلام. فعانت الأمم من توترات أمنية، ونقص معيشي حاد، أُزهقت بسببه الأرواح والمُهج.

ومما زاد الأمر سوءً أن العيارين(3)

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق: (12/ 130).

(2) المرجع السابق: (12/ 111).

(3) العيارون: يقول ابن الأنباري في: الزاهر في معاني كلام الناس: مؤسسة الرسالة -بيروت، ط 1 - 1412 هـ (1/ 153):" قال أهل اللغة: العيار معناه في كلامهم: الذي يخلي نفسه وهواها، ولا يردعها ولا يزجرها، وقالوا: هو مأخوذ من عارت الدابة: إذا انفلتت. وقال آخرون: الأصل في هذا أن يُقال: تعاير القوم، إذا ذكروا العار بينهم، ثم قيل لكل من تكلم بفحش قد تعاير ".

 

وهذا الوصف إذا أُطلق في كتب التأريخ أُريد به الذم، وإن كان هذا اللفظ يُطلق ويُراد به الذم أو المدح، لكن في هذا المقام يُراد به ما يُرادف الرعاع والأوباش والطرارين، وهي فئة خارجة عن النظام والقانون، ويقوى ساعدهم، ويشد عودهم، أيام انحلال الدول، وضعف الأنظمة، وغياب القانون. ويترافق بظهورهم الفتن المذهبية، والقلاقل السياسية، والاضطرابات العنصرية. ينظر: مقال لمحمد سعيد رضا، من قسم التأريخ، كلية التربية، بغداد العراق، 31 أكتوبر 2012، موقع إنسانيات الإلكتروني على الشبكة العنكبية.
যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ভ্রাতুষ্পুত্র সুলতান আল্প আরসালান। তিনি তার চাচা তুগরিল বেগের পর সাত বছর ছয় মাস কয়েক দিন রাজত্ব করেন। তিনিও তার জীবনচরিত্র ও শাসনে ন্যায়পরায়ণ ছিলেন, অত্যন্ত দানশীল ও দয়ালু ছিলেন। প্রজাদের প্রতি অনুকম্পাশীল, দরিদ্রদের প্রতি সদয় এবং পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথি ও অনুচরদের প্রতি সদাচারী ছিলেন। তিনি নিজের ও অন্যের ওপর আল্লাহর নেয়ামত অব্যাহত থাকার জন্য প্রচুর দোয়া করতেন। তিনি অত্যন্ত সদকাকারী ছিলেন, প্রতি রমজানে পনেরো হাজার দিনার দিয়ে দরিদ্রদের খোঁজ নিতেন। তার সময়ে কোনো অপরাধমূলক জুলুম বা সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের নজির ছিল না; বরং প্রজাদের প্রতি সদয় হয়ে তিনি দুই কিস্তিতে খরাজ বা কর সংগ্রহে সন্তুষ্ট থাকতেন।(১)

এই সব কারণগুলোই সেই শতাব্দীকে এক প্রকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেছিল। বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে, আল্প আরসালান উজির হিসেবে নিযামুল মুলক-এর ওপর নির্ভর করেছিলেন, যিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ উজির, যিনি আলেম ও দরিদ্রদের সম্মান করতেন।(২) একইভাবে তার পিতার হত্যাকাণ্ডের পর মালিকশাহও তাকে উজির হিসেবে নিয়োগ দেন।

এই তিন মহান ব্যক্তিত্ব—তুগরিল বেগ, আল্প আরসালান ও মালিকশাহ—এর জীবনের এই সমৃদ্ধ সময়ে ইমাম আবু মুজাফফর আস-সামআনি বসবাস করতেন।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা:

প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার প্রভাব সেই রাষ্ট্রগুলোর বাস্তব সামাজিক অবস্থার ওপর পড়েছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে সাথে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও আমীররা ক্ষমতার মসনদ দখল করার অনুকূল সুযোগ গ্রহণ করে, যার ফলে সম্পদের ব্যাপক অপচয় ও অর্থের বিনাশ ঘটে। এটি পর্যায়ক্রমে জীবনযাত্রার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া, সামাজিক অস্থিরতা এবং দেশসমূহে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়।

পঞ্চম শতাব্দীতে ইতিহাস যে বাস্তবতার সাক্ষী হয়েছিল তা ছিল শোচনীয় ও কষ্টে ভরপুর। জাতিগুলো নিরাপত্তা সংকট ও তীব্র জীবনযাত্রার অভাবে ভুগেছে, যার কারণে অনেক প্রাণ ও আত্মা বিনষ্ট হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল যে, আইয়ারুনরা(৩)

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস: (১২/১৩০)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস: (১২/১১১)।

(৩) আইয়ারুন: ইবনুল আনবারি 'আয-যাহির ফি মাআনি কালামিন নাস' গ্রন্থে (মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ-বৈরুত, ১ম সংস্করণ - ১৪১২ হি., ১/১৫৩) বলেন: "ভাষাবিদগণ বলেছেন: তাদের পরিভাষায় আইয়ার অর্থ হলো—যে নিজেকে ও নিজের প্রবৃত্তিকে লাগামহীন ছেড়ে দেয় এবং তাকে বাধা দেয় না বা নিরস্ত করে না। তারা বলেন: এটি 'আরত আদ-দাব্বাহ' (পশু ছুটে পালানো) থেকে নেওয়া হয়েছে যখন তা বন্ধনমুক্ত হয়ে যায়। অন্যরা বলেন: এর মূল ভিত্তি হলো যখন মানুষ একে অপরের দোষ বা লজ্জার কথা (আর) উল্লেখ করে, তখন বলা হয় 'তাআয়ারা আল-কাউম'। পরবর্তীতে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা প্রত্যেক ব্যক্তিকে 'তাআয়ারা' বলা হতো।"

 

এই বর্ণনাটি যখন ইতিহাসের বইগুলোতে ব্যবহৃত হয়, তখন এর মাধ্যমে নিন্দা জ্ঞাপন করা উদ্দেশ্য থাকে। যদিও এই শব্দটি প্রশংসা বা নিন্দা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে, তবে এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিশৃঙ্খলাকারী, বখাটে এবং পকেটমারদের সমার্থক শব্দ। এটি এমন এক গোষ্ঠী যারা শৃঙ্খলা ও আইনের বাইরে চলে যায়। রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন, দুর্বল শাসন এবং আইনের অনুপস্থিতির সময়ে তাদের শক্তি ও দাপট বৃদ্ধি পায়। তাদের আবির্ভাবের সাথে সাথে মাযহাবী ফিতনা, রাজনৈতিক গোলযোগ এবং জাতিগত অস্থিরতা দেখা দেয়। দেখুন: মুহাম্মদ সাইদ রেজার প্রবন্ধ, ইতিহাস বিভাগ, শিক্ষা অনুষদ, বাগদাদ ইরাক, ৩১ অক্টোবর ২০১২, ইন্টারনেট ভিত্তিক ইনসানিয়াত ওয়েবসাইট।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
نشطوا في غيهم وفسادهم، وخرقوا هيبة السلطان، وأراقوا الدماء(1)، بل كانوا على أشد الفجور، وأعظم الخطيئة، يقول الإمام ابن الجوزي عن أحداث سنة 426 هـ: " ثم اشتد أمر العيارين، وكاشفوا بالإفطار في رمضان، وشرب الخمر، وارتكاب الفجور "(2).

وكان الأمر المؤلم لهذه الشعوب المقهورة، أن العيارين صاروا يأخذون أموالهم ليلا ونهارا، ولا مانع لهم؛ لأن السلطان كان عاجزا عن قهرهم، ولذا انتشروا في البلاد، فنهبوا النواحي، وقطعوا الطريق، وبلغوا إلى أطراف بغداد، حتى وصلوا إلى جامع المنصور، وأخذوا ثياب النساء في المقابر(3).

فعدم استقرار الأمن، هو نتيجة لما تمر به الدول من الفوضى السياسية، وأما فقدان الأمن المعيشي، فقد بلغ في هذه الأمة مبلغه، حتى لا يكاد المرء يُصدق ما يقرؤه.

فالغلاء الفاحش الذي أضر بالناس لم يستثن أحدا، فارتفعت الأسعار، وفشت الأوبئة، وصار أمر الناس في عُسر.

ففي بدايات هذا القرن الذي نتحدث عنه، " اشتد الغلاء بخراسان جميعها، وعُدِمَ القوت، حتى أكل الناس بعضهم بعضا. فكان إنسان يصيح: الخبز الخبز ويموت، ثم تبعه وباء عظيم، حتى عجز الناس عن دفن الموتى "(4).

وفي منتصف هذا القرن، كان الغلاء والوباء عاما في البلاد جميعها: مكة، والعراق، والموصل، والجزيرة، والشام، ومصر، وغيرها من البلاد(5).

وفي أواخر هذا القرن، عم الغلاء دامغان(6)، حتى شُوهد رجل يأكل كلبا مشويا في الجامع، وإنسان يُطاف به في الأسواق، وفي عنقه يد صبي قد ذبحه وأكله(7).

--------------------------------------------

(1) ابن الجوزي: المنتظم: (15/ 170).

(2) ابن الجوزي: المنتظم: (15/ 246).

(3) ابن الأثير: الكامل في التأريخ: دار الكتاب العربي - بيروت، ط 1 - 1417 هـ، (7/ 568)، ابن كثير: البداية والنهاية: (12/ 44).

(4) ابن الأثير: الكامل في التأريخ: (7/ 573).

(5) المرجع السابق: (8/ 74).

(6) دامغان: بلد كبير بين الري ونيسابور. ينظر: الحموي: معجم البلدان: (1/ 365).

(7) ابن الجوزي: المنتظم: (17/ 66).
তারা তাদের পথভ্রষ্টতা ও ফাসাদে লিপ্ত ছিল, সুলতানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছিল এবং রক্তপাত ঘটিয়েছিল(১), বরং তারা চরম পাপাচার ও মহাপাপের ওপর লিপ্ত ছিল। ৪২৬ হিজরি সালের ঘটনাবলী সম্পর্কে ইমাম ইবনুল জাওযী বলেন: "অতঃপর আইয়ারদের (ছিনতাইকারী চক্র) দৌরাত্ম্য বেড়ে গেল, তারা রমজানে প্রকাশ্যে রোজা ভঙ্গ করা, মদ পান করা এবং পাপাচার করার মাধ্যমে অবাধ্যতা প্রকাশ করল"(২)।

এই নিপীড়িত জনপদগুলোর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বিষয় ছিল যে, আইয়াররা দিন-রাত তাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করতে শুরু করল এবং তাদের বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না; কারণ সুলতান তাদের দমন করতে অক্ষম ছিলেন। ফলে তারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল, বিভিন্ন অঞ্চল লুটতরাজ করল, পথিমধ্যে ডাকাতি শুরু করল এবং বাগদাদের প্রান্তসীমা পর্যন্ত পৌঁছে গেল, এমনকি তারা মানসুর জামে মসজিদ পর্যন্ত হানা দিল এবং কবরস্থান থেকে নারীদের পোশাকও কেড়ে নিল(৩)।

সুতরাং নিরাপত্তার এই অভাব হলো সেই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলারই ফলাফল যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রগুলো অতিবাহিত হচ্ছিল। আর জীবনধারণের নিরাপত্তার অভাব এই উম্মতের মধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, একজন মানুষ যা পড়বে তা বিশ্বাস করতে পারবে না।

আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য যা মানুষের ক্ষতি করেছিল তা থেকে কেউই রেহাই পায়নি; মূল্যবৃদ্ধি ঘটল, মহামারি ছড়িয়ে পড়ল এবং মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ল।

আমরা যে শতাব্দীর কথা বলছি তার শুরুর দিকে, "সমগ্র খোরাসানে দুর্ভিক্ষ তীব্র আকার ধারণ করল এবং খাদ্যাভাব দেখা দিল, এমনকি মানুষ একে অপরকে খেতে শুরু করল। এক ব্যক্তি 'রুটি, রুটি' বলে চিৎকার করত আর মারা যেত, এরপর এক ভয়াবহ মহামারি দেখা দিল, যার ফলে মানুষ মৃতদেহ দাফন করতেও অপারগ হয়ে পড়েছিল"(৪)।

এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মক্কা, ইরাক, মসুল, আল-জাজিরা, শাম, মিশরসহ সব দেশেই দুর্ভিক্ষ ও মহামারি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল(৫)।

আর এই শতাব্দীর শেষভাগে দামগানে(৬) দুর্ভিক্ষ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ল যে, জামে মসজিদে এক ব্যক্তিকে ঝলসানো কুকুর খেতে দেখা গেল এবং এক ব্যক্তিকে বাজারে ঘোরানো হচ্ছিল যার ঘাড়ে একটি শিশুর হাত ঝুলছিল যাকে সে জবাই করে খেয়ে ফেলেছিল(৭)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল জাওযী: আল-মুনতাযাম: (১৫/ ১৭০)।

(২) ইবনুল জাওযী: আল-মুনতাযাম: (১৫/ ২৪৬)।

(৩) ইবনুল আসীর: আল-কামিল ফিত তারিখ: দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত, ১ম সংস্করণ - ১৪১৭ হিজরি, (৭/ ৫৬৮), ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: (১২/ ৪৪)।

(৪) ইবনুল আসীর: আল-কামিল ফিত তারিখ: (৭/ ৫৭৩)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস: (৮/ ৭৪)।

(৬) দামগান: রয় এবং নিশাপুরের মধ্যবর্তী একটি বড় শহর। দ্রষ্টব্য: আল-হামাউয়ি: মু'জামুল বুলদান: (১/ ৩৬৫)।

(৭) ইবনুল জাওযী: আল-মুনতাযাম: (১৭/ ৬৬)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولازالت الأحداث والنكبات تتوالى على هذه الأمم إلى أن استبد بهم: غلاءٌ، وخوفٌ، ونهبٌ، وجوعٌ، ومرضٌ، وموتٌ، وفسادٌ، عم البلدان، يقول الإمام ابن الجوزي عن أحداث سنة 448 هـ: " وعم هذا الوباء والغلاء، مكة، والحجاز، وديار بكر، والموصل، وبلاد الروم، وخراسان، والجبال، والدنيا كلها "(1).

ونتج عن هذا الفساد والعبث، واختلاف السلاطين فيما بينهم: خوف منع الناس من القدوم إلى حج بيت الله الحرام. ونظرة واحدة لكتب التأريخ تُبيِّن مدى المعاناة، وحجم المأساة، التي كانوا يعيشونها، بسبب فقدان الأمن، وكثرة الفساد.

ومع أن الحال الاجتماعي كانت مزرية، إلا أنه كان يختلف سوءً من بلد لآخر، ومن زمن لآخر. ومع هذا القحط المعيشي، والجفاف الاجتماعي، نجد أن سلاطين الدولة السلجوقية، الذين عاصرهم الإمام السمعاني، كانوا على جانب من الصلاح ومراعاة أحوال الناس.

فقد أرسل الملك طغرلبك كتابا إلى جلال الدولة، يأمره بالإحسان إلى الرعايا، والوصاة بهم(2).وكان خَلَفَه ألب أرسلان، شفوقا على رعيته، رفيقا بالفقراء، يُغدق عليهم، ويتفقد أحوالهم(3). وهذا بدوره يعكس نوع اطمئنان عند الرعية.

 

‌‌المطلب الثالث: الحالة الدينية والعلمية:

‌‌أولا: الحالة الدينية:

في القرن الخامس الهجري، تمثلت ظاهرة الفوضى الدينية عاليا، كما كانت هي الفوضى السياسية. فقد كان التشيع يضرب أطنابه متعاليا، تدعمه القوى السياسية، وتُدعم قواعده. فالدولة الفاطمية والدولة البويهية، ساهمتا في نشر الفكر الرافضي، وتثبيت أسسه، في حين جرت مزاوجة فكرية، ومقاربة عقائدية، بين المذهب الرافضي والمعتزلي، فقوي الاعتزال في ذاك الزمان؛ إذ كان يُشايعه ويُناظر له الأمراء والوجهاء والعلماء.

--------------------------------------------

(1) ابن الجوزي: المنتظم: (15/ 246).

(2) ابن كثير: البداية والنهاية: (12/ 64).

(3) المرجع السابق: (12/ 130).
এই জাতিগুলোর ওপর একের পর এক ঘটনা ও বিপর্যয় আসতেই থাকে, শেষ পর্যন্ত তাদের ওপর জেঁকে বসে: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভীতি, লুণ্ঠন, ক্ষুধা, রোগব্যাধি, মৃত্যু এবং বিশৃঙ্খলা, যা জনপদগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ইমাম ইবনুল জাওজি ৪৪৮ হিজরীর ঘটনাবলি সম্পর্কে বলেন: "এই মহামারি ও দুর্ভিক্ষ মক্কা, হিজাজ, দিয়ার বকর, মোসেল, রোম সাম্রাজ্য, খোরাসান, পার্বত্য অঞ্চল এবং সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল"(১).

এই বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা এবং সুলতানদের পারস্পরিক বিরোধের ফলে এমন ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল যা মানুষকে আল্লাহর পবিত্র ঘর হজে আসা থেকে বিরত রেখেছিল। ইতিহাস গ্রন্থগুলোর দিকে এক নজর তাকালেই ফুটে ওঠে সেই দুর্ভোগের মাত্রা এবং ট্র্যাজেডির বিশালতা, যা তারা নিরাপত্তা হীনতা ও দুর্নীতির আধিক্যের কারণে অতিবাহিত করছিল।

সামাজিক অবস্থা শোচনীয় হওয়া সত্ত্বেও, এর ভয়াবহতা দেশভেদে এবং কালভেদে ভিন্ন ভিন্ন ছিল। জীবনযাত্রার এই টানাপড়েন এবং সামাজিক শুষ্কতা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে, সেলজুক রাষ্ট্রের সুলতানগণ, যারা ইমাম সাম'ানীর সমসাময়িক ছিলেন, তারা সততা ও প্রজাসাধারণের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন।

সুলতান তুঘরিল বেগ জালালুদ্দৌলার নিকট একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন, যাতে তাকে প্রজাদের প্রতি সদাচরণ এবং তাদের দেখাশোনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন(২)। তার উত্তরসূরি আল্প আরসলান তার প্রজাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং দরিদ্রদের প্রতি কোমল ছিলেন; তিনি তাদের অকাতরে দান করতেন এবং তাদের খোঁজখবর নিতেন(৩)। এটি স্বাভাবিকভাবেই প্রজাদের মধ্যে এক প্রকার স্বস্তির প্রতিফলন ঘটায়।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা:

‌‌প্রথমত: ধর্মীয় অবস্থা:

হিজরী পঞ্চম শতাব্দীতে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার ন্যায় ধর্মীয় বিশৃঙ্খলার চিত্রটিও প্রকটভাবে ফুটে উঠেছিল। শিয়াবাদ তখন তার আধিপত্য বিস্তার করছিল, যা রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন পাচ্ছিল এবং এর ভিত্তিগুলো সুদৃঢ় করা হচ্ছিল। ফাতেমীয় এবং বুয়াইহী রাষ্ট্র রাফেযী চিন্তাধারা প্রচার এবং এর ভিত্তি স্থাপনে অবদান রেখেছিল, সে সময় রাফেযী এবং মুতাজিলা মাযহাবের মধ্যে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংমিশ্রণ এবং আকীদাগত নৈকট্য তৈরি হয়েছিল; ফলে ঐ যুগে মুতাজিলা মতবাদ শক্তিশালী হয়ে ওঠে, কারণ আমির-উমারা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আলিমগণ এর পক্ষপাতিত্ব করতেন ও এর পক্ষে বিতর্ক করতেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল জাওজি: আল-মুনতাযাম: (১৫/ ২৪৬)।

(২) ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: (১২/ ৬৪)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস: (১২/ ১৩০)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولكن ما أن مكَّن الله تعالى للخليفة القادر بالله الأمر، حتى سعى جاهدا، لتقويض أسس المعتزلة والرافضة وأهل البدع، بقوله وفعله. فألف كتابا ذكر فيه فضائل الصحابة على ترتيب مذهب أهل الحديث، وأورد فضائل عمر بن عبدالعزيز، وذكر أفكار المعتزلة، والقائلين بخلق القرآن، وكان الكتاب يُقرأ في كل جمعة في حلقة أصحاب الحديث بجامع المهدي، ويحضر الناس سماعه(1).

وفي سنة 408 هـ، استتاب القادر بالله المعتزلة والشيعة وغيرهما، من أرباب المقالات المخالفة لما يعتقده من مذاهبهم، ونهى عن المناظرة في شيء منها، ومن فعل ذلك نُكِّلَ به وعوقب(2)، فامتثل أمره محمود بن سبكتكين، وكانوا حربا على البدع وأهلها(3).

وفي سنة 420 هـ، ملك محمود بن سبكتكين الري، فنفى المعتزلة إلى خراسان، وأحرق كتب الفلسفة، ومذاهب الاعتزال والنجوم(4).

واكتمل العقد، وظهر أمر السنة وانتشر، وضعف أمر البدعة وانحسر، بتمكن السلاجقة من مشرق العالم الإسلامي ودخولهم بغداد.

إن صفحات الصراع بين السنة والرافضة طويلة مستمرة، تعلو تارة، وتخبو أخرى، وكان بداخل كل واحدٍ منهما صراعات مذهبية أخرى.

وقامت في هذا القرن فتن، واشتعلت حروب فكرية، كلٌ ينتزع الحق من الآخر، وينتصر لمذهبه، وهذه كلها دلائل وإشارات لوجود فوضى فكرية، وصراعات عقائدية، خيمت على أرجاء العالم الإسلامي، كان الحق الغالب فيها، غالبا لأهل الحق أهل السنة والجماعة.

--------------------------------------------

(1) ابن الجوزي: المنتظم: (14/ 354).

(2) ابن الأثير: الكامل في التأريخ: (7/ 649)، ابن الجوزي: المنتظم: (15/ 125).

(3) الذهبي: العبر في خبر من غبر: (7/ 711).

(4) ابن الجوزي: المنتظم: (15/ 194).
কিন্তু মহান আল্লাহ যখন খলীফা কাদির বিল্লাহকে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দান করলেন, তখন তিনি কথা ও কাজের মাধ্যমে মুতাযিলা, রাফেযী এবং বিদআতপন্থীদের ভিত্তি সমূলে উৎপাটন করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তিনি একটি কিতাব রচনা করেন যাতে আহলুল হাদীসের মাযহাব অনুযায়ী সাহাবায়ে কিরামের ফযীলতসমূহ বর্ণনা করেন এবং তাতে উমর ইবনে আবদুল আযীযের ফযীলতসমূহ উল্লেখ করেন। তিনি মুতাযিলাদের চিন্তাধারা এবং কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের বিষয়গুলোও তাতে উল্লেখ করেন। জামে মাহদীতে আহলুল হাদীসের মজলিসে প্রতি জুমুয়াবার কিতাবটি পাঠ করা হতো এবং মানুষ তা শোনার জন্য উপস্থিত হতো(১)।

আর ৪০৮ হিজরীতে কাদির বিল্লাহ মুতাযিলা, শিয়া এবং অন্যান্য ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারীদের তওবা করার আহ্বান জানান, যা তাঁর আকিদার পরিপন্থী ছিল। তিনি এসব বিষয়ে কোনো প্রকার বিতর্কে লিপ্ত হতে নিষেধ করেন; আর যে ব্যক্তি তা করত, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হতো(২)। মাহমুদ ইবনে সুবুক্তগীন তাঁর এই আদেশ পালন করেন এবং তাঁরা বিদআত ও বিদআতপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ ছিলেন(৩)।

৪২০ হিজরীতে মাহমুদ ইবনে সুবুক্তগীন 'রাই' অঞ্চল জয় করেন এবং মুতাযিলাদের খোরাসানে নির্বাসিত করেন। তিনি দর্শন, মুতাযিলা মতবাদ এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের বইপত্র পুড়িয়ে ফেলেন(৪)।

আর এই ধারা পূর্ণতা লাভ করে যখন সেলজুকরা মুসলিম বিশ্বের পূর্বাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে এবং বাগদাদে প্রবেশ করে; এর ফলে সুন্নাহর বিষয়াবলী প্রকাশিত ও প্রসারিত হয় এবং বিদআতের প্রভাব দুর্বল ও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

সুন্নী ও রাফেযীদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ইতিহাস দীর্ঘ ও নিরন্তর; যা কখনও প্রকট হয়, আবার কখনও স্তিমিত হয়ে পড়ে। তাদের প্রত্যেকের অভ্যন্তরে আবার অন্যান্য মাযহাবী দ্বন্দ্বও বিদ্যমান ছিল।

এই শতাব্দীতে ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে প্রত্যেকেই অন্যের কাছ থেকে সত্যকে ছিনিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিল এবং নিজ নিজ মাযহাবের পক্ষে বিজয় অর্জন করতে চাইত। এগুলো ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক বিশৃঙ্খলা এবং আকিদাগত দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ও নিদর্শন, যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সত্যের চূড়ান্ত বিজয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্যের অনুসারী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পক্ষেই ছিল।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল জাওযী: আল-মুনতাযাম: (১৪/ ৩৫৪)।

(২) ইবনুল আসীর: আল-কামিল ফিত তারিখ: (৭/ ৬৪৯), ইবনুল জাওযী: আল-মুনতাযাম: (১৫/ ১২৫)।

(৩) আয-যাহাবী: আল-ইবার ফী খবর মান গাবার: (৭/ ৭১১)।

(৪) ইবনুল জাওযী: আল-মুনতাযাম: (১৫/ ১৯৪)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ثانيا: الحالة العلمية:

هنا تُشرق الشمس، ويُشع ضوء الصباح، وتبتهج النفس سرورا، وينقلب اليأس أملا، والحزن فرحا، والشؤم تفاؤلا، ويظهر النور الساطع من ركام الظلام الدامس.

فلم تُؤثر تلك الصراعات السياسية، ولا الفوضى الدينية، ولا الشتات الفكري، ولا الانتكاسات الاجتماعية، ولا الانهيار الاقتصادي، على الحِراك الثقافي، والنهضة العلمية، بل ظهر قَطْرٌ من ثنايا تلك السحب المظلمة، يروي الأرض، وينبت الكلأ والعشب.

ولم تقتصر النهضة العلمية في هذا القرن، على علوم الشريعة، بل تعدتها إلى علوم وفنون أخرى. فكان من علماء هذا القرن: عالم الرياضيات والفلك المشهور البيروني(1)، وعالم الطب الحسن بن الهيثم(2)، وغيرهما.

وبرز من العلماء والأئمة في علوم الشريعة في هذا القرن كثيرون منهم:

--------------------------------------------

(1) البيروني: محمد بن أحمد أبو الريحان البيروني (362 هـ - ت 440 هـ)، فيلسوف، رياضي، مؤرخ، من أهل خوارزم. صنف كتبا كثيرة منها: الآثار الباقية عن القرون الخالية. الزركلي: الأعلام: دار العلم للملايين، ط 5 - 2002 م (5/ 314).

(2) الحسن بن الهيثم: محمد بن الحسن بن الهيثم، أبو علي (354 هـ - ت 430 هـ)، يلقب ببطليموس الثاني، له تصانيف في الهندسة، ومن كتبه: الأخلاق، وشرح قانون إقليدس. الزركلي: الأعلام: (6/ 83).
দ্বিতীয়: জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা:

এখানেই সূর্য উদিত হয়, সকালের আলো বিচ্ছুরিত হয়, আত্মা আনন্দে উল্লসিত হয় এবং হতাশা আশায়, দুঃখ সুখে এবং অমঙ্গল শুভলক্ষণ বা ইতিবাচকতায় রূপান্তরিত হয়; আর ঘনীভূত অন্ধকারের স্তূপ থেকে উজ্জ্বল আলো প্রকাশিত হয়।

সেই রাজনৈতিক সংঘাত, ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা, বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্ছিন্নতা, সামাজিক বিপর্যয় কিংবা অর্থনৈতিক ধস—সাংস্কৃতিক তৎপরতা ও বৈজ্ঞানিক জাগরণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি; বরং সেই অন্ধকার মেঘের আড়াল থেকে বারিবিন্দু প্রকাশিত হয়েছে, যা ভূমিকে সিক্ত করে এবং গবাদি পশুর খাদ্য ও ঘাস উৎপন্ন করে।

এই শতাব্দীতে বৈজ্ঞানিক জাগরণ কেবল শরীয়াহ বিজ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা অন্যান্য বিজ্ঞান ও কলার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত ছিল। এই শতাব্দীর বিজ্ঞানীদের মধ্যে ছিলেন: প্রখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-বিরুনী(১), চিকিৎসা বিজ্ঞানী আল-হাসান ইবনে আল-হাইসাম(২) এবং আরও অনেকে।

এই শতাব্দীতে শরীয়াহ বিজ্ঞানে অনেক আলেম ও ইমাম প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

--------------------------------------------

(১) আল-বিরুনী: মুহাম্মদ বিন আহমদ আবু রায়হান আল-বিরুনী (৩৬২ হি. - মৃত্যু ৪৪০ হি.), দার্শনিক, গণিতবিদ, ইতিহাসবিদ, খাওয়ারিজমের অধিবাসী। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আল-আসারুল বকিয়্যাহ আনিল কুরুনিল খলিয়্যাহ। আয-যিরিকলী: আল-আলাম: দারুল ইলম লিল-মালাউন, ৫ম সংস্করণ - ২০০২ খ্রি. (৫/৩১৪)।

(২) আল-হাসান ইবনে আল-হাইসাম: মুহাম্মদ বিন আল-হাসান ইবনে আল-হাইসাম, আবু আলী (৩৫৪ হি. - মৃত্যু ৪৩০ হি.), তাকে দ্বিতীয় টলেমি উপাধি দেওয়া হয়, জ্যামিতি শাস্ত্রে তার অনেক রচনা রয়েছে, তার গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: আল-আখলাক এবং শারহু কানূনি উকলিদাস। আয-যিরিকলী: আল-আলাম: (৬/৮৩)।
(খণ্ড: ১) আরাউস সামআনী আল-আক্বাদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
الإمام الحافظ الخطيب البغدادي(1)، والإمام البيهقي(2)، والحافظ أبو عمر ابن عبد البر(3)، والحافظ الإمام أبو نُعيم الأصبهاني(4)، والإمام الحاكم النيسابوري(5)، والإمام ابن حزم الظاهري(6)،

--------------------------------------------

(1) الخطيب البغدادي: أحمد بن علي بن ثابت (392 هـ، ت 463 هـ)، أحد الحفاظ، المؤرخين، رحل إلى مكة، والبصرة، والكوفة، كان فصيح اللهجة، عارفا بالأدب، له مؤلفات كثيرة منها: تأريخ بغداد. الزركلي: الأعلام: (1/ 172)، عمر رضا كحالة: معجم المؤلفين، دار إحياء التراث - بيروت، دون ذكر رقم الطبعة وتأريخها، (2/ 3).

(2) البيهقي: أحمد بن الحسين بن علي (384 هـ - ت 458 هـ)، محدث، فقيه، غلب عليه الحديث، ورحل في طلبه، وسمع، وصنف فيه كثيرا، منها كتاب: السنن الكبير في الحديث. كحالة: معجم المؤلفين: (1/ 206).

(3) ابن عبد البر: يوسف بن عبدالله بن محمد (368 هـ - ت 463 هـ)، من كبار حفاظ الحديث، مؤرخ، أديب، بحاثة، يقال له: حافظ المغرب، رحل رحلات طويلة في غربي الأندلس وشرقها، له مؤلفات كثيرة منها: الاستيعاب والتمهيد. الزركلي: الأعلام: (8/ 240)، كحالة: معجم المؤلفين: (13/ 315).

(4) أبو نُعيم: أحمد بن عبدالله بن أحمد الأصبهاني (336 هـ - ت 430 هـ)، الإمام الحافظ، الثقة، العلامة، شيخ الإسلام. له مؤلفات كثيرة منها: المستخرج على الصحيحين، وكتاب الحلية، وفضائل الصحابة. الذهبي: سير أعلام النبلاء: (13/ 159).

(5) الحاكم: محمد بن عبدالله بن محمد (321 هـ - ت 403 هـ)، الإمام الحافظ، الناقد، العلامة، شيخ المحدثين، صنف وخرّج، وجرّح وعدّل، وصحح وعلل، وكان من بحور العلم على تشيع قليل فيه. الذهبي: سير أعلام النبلاء: (12/ 572).

(6) ابن حزم: علي بن أحمد بن سعيد بن حزم (384 هـ - ت 456 هـ)، الإمام الأوحد، البحر، ذو الفنون والمعارف، الفقيه، الحافظ، الأديب، الوزير. له مصنفات جليلة منها: كتاب المحلى، والفِصل في الملل. الذهبي: سير أعلام النبلاء: (13/ 374) ..
ইমাম হাফিজ খতিব আল-বাগদাদী(১), এবং ইমাম আল-বায়হাকী(২), এবং হাফিজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার(৩), এবং হাফিজ ইমাম আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী(৪), এবং ইমাম আল-হাকিম আন-নিশাপুরী(৫), এবং ইমাম ইবনে হাযম আজ-জাহিরী(৬),

--------------------------------------------

(১) খতিব আল-বাগদাদী: আহমদ বিন আলী বিন সাবিত (৩৯২ হি., মৃ. ৪৬৩ হি.), অন্যতম হাফিজ ও ঐতিহাসিক, তিনি মক্কা, বসরা ও কুফায় সফর করেছেন, তিনি প্রাঞ্জলভাষী এবং সাহিত্যের পণ্ডিত ছিলেন, তাঁর বহু রচনার মধ্যে রয়েছে: তারিখ বাগদাদ। আজ-যিরিকলী: আল-আলাম: (১/ ১৭২), উমর রেজা কাহহালা: মুজামুল মুআল্লিফীন, দার ইহয়ায়িত তুরাস - বৈরুত, মুদ্রণ সংখ্যা ও তারিখের উল্লেখ ব্যতীত, (২/ ৩)।

(২) আল-বায়হাকী: আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী (৩৮৪ হি. - মৃ. ৪৫৮ হি.), মুহাদ্দিস, ফকীহ, তাঁর উপর হাদিস শাস্ত্রের প্রাধান্য ছিল এবং তিনি এর সন্ধানে সফর করেছেন, শ্রবণ করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: কিতাব আস-সুনান আল-কাবীর ফিল হাদিস। কাহহালা: মুজামুল মুআল্লিফীন: (১/ ২০৬)।

(৩) ইবনে আব্দুল বার: ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ (৩৬৮ হি. - মৃ. ৪৬৩ হি.), হাদিসের অন্যতম প্রধান হাফিজ, ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক ও গবেষক, তাঁকে মাগরিবের হাফিজ বলা হয়, তিনি পশ্চিম ও পূর্ব আন্দালুসে দীর্ঘ সফর করেছেন, তাঁর বহু রচনার মধ্যে রয়েছে: আল-ইস্তিআব এবং আত-তামহীদ। আজ-যিরিকলী: আল-আলাম: (৮/ ২৪০), কাহহালা: মুজামুল মুআল্লিফীন: (১৩/ ৩১৫)।

(৪) আবু নুয়াইম: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-আসবাহানী (৩৩৬ হি. - মৃ. ৪৩০ হি.), হাফিজ ইমাম, নির্ভরযোগ্য, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম। তাঁর বহু রচনার মধ্যে রয়েছে: আল-মুস্তাখরাজ আলাস সহীহাঈন, কিতাবুল হিলইয়াহ এবং ফাদাইলুস সাহাবা। আদ-দাহাবী: সিয়ারু আলামিন নুবালা: (১৩/ ১৫৯)।

(৫) আল-হাকিম: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ (৩২১ হি. - মৃ. ৪ trophy০৩ হি.), হাফিজ ইমাম, সমালোচক, আল্লামা, মুহাদ্দিসগণের শাইখ, তিনি সংকলন ও তখরীজ করেছেন, জারাহ ও তাদীল করেছেন, সহীহ সাব্যস্ত করেছেন এবং ত্রুটি বর্ণনা করেছেন; তিনি ছিলেন জ্ঞানের সমুদ্র, তবে তাঁর মধ্যে সামান্য শিয়া ভাবধারা বিদ্যমান ছিল। আদ-দাহাবী: সিয়ারু আলামিন নুবালা: (১২/ ৫৭২)।

(৬) ইবনে হাযম: আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাযম (৩৮৪ হি. - মৃ. ৪৫৬ হি.), অনন্য ইমাম, ইলমের সাগর, বহু শাস্ত্র ও বিদ্যার অধিকারী, ফকীহ, হাফিজ, সাহিত্যিক এবং উজির। তাঁর মহান রচনার মধ্যে রয়েছে: কিতাবুল মুহাল্লা এবং আল-ফিসাল ফিল মিলাল। আদ-দাহাবী: সিয়ারু আলামিন নুবালা: (১৩/ ৩৭৪) ..