(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
زينة العرائس من الطرف والنفائس في تخريج الفروع الفقهية على القواعد النحوية   (ابن المبرد)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: زينة العرائس من الطرف والنفائس في تخريج الفروع الفقهية على القواعد النحوية

المؤلف: يوسف بن حسن بن أحمد بن حسن ابن عبد الهادي الصالحي، جمال الدين، ابن المبرد الحنبلي (ت 909هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 28

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জিনাত আল-আরাইস মিনাত তারাফ ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজ (تخريج) আল-ফুরু আল-ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়াইদ আন-নাহউইয়্যাহ   (ইবনে আল-মিবরাদ)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র এবং ফিকহী মূলনীতিসমূহ


বই: জিনাত আল-আরাইস মিনাত তারাফ ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজ (تخريج) আল-ফুরু আল-ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়াইদ আন-নাহউইয়্যাহ

লেখক: ইউসুফ বিন হাসান বিন আহমদ বিন হাসান ইবনে আব্দুল হাদি আস-সালিহি, জামালুদ্দিন, ইবনে আল-মিবরাদ আল-হাম্বলি (মৃত ৯০৯ হি.)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌وهو حسبي ونعم الوكيل

الحمد لله المتفرد بالجلال والجمال، والمتصف بصفات البهاء والكمال، أحمده حمدا كثيرا مباركا في المستقبل والحال، وأشكره شكرا يثقل الأرض والجبال، وأوحده توحيد عبد معترف بذنوبه الثقال.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولا ضد ولا ند، ولا وزير ولا مشير، إلها واحدا، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله وحبيبه وخليله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، صلاة دائمة بالغداة والآصال، وسلم تسليما، وبعد: فهذا كتاب استخرت الله في استخراجه وإتقانه، ورسمت بعض ألفاظه من العربية، وكتبت عليها بعض المسائل الفقهية على مذهب الإمام المفضل والحبر المبجل أبي عبد الله أحمد بن محمد ابن حنبل رضي الله عنه وأرضاه، وجعل الجنة مثواه بمنه وكرمه، إنه سميع مجيب الدعوات، وأسأل الله أن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وهو حسبنا ونعم الوكيل.

 

‌‌القاعدة الأولى

قاعدة: الكلمة لاتطلق على الكلام، على الصحيح عند النحويين وقال بعضهم: يقصد بها الكلام العام، واستدلوا بقوله تعالى: "كلا إنها كلمة هو قائلها"، ويقول النبي صلى الله عليه وسلم "أفضل كلمة قالها الشاعر كلمة لبيد: ألا كل شيء ما خلا الله باطل. . ."، وغير ذلك.

إذا تقرر هذا، فمن فروع القاعدة: إذا حلف لا يكلمه فوق كلمة، حنث بالكلمة التي هو واحدة الكلام، مع أني لم أجد في هذه المسألة: نقل، والذي ينبغي أن يقال إن كان مراده بالكلمة واحدة الكلام حنث بما زاد عليها، وإن كانت نيته غير ذلك رجع إلى نيته، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: إن كلمت زيدا فوق كلمة فإنك طالق، فكلمته فوق الكلمة التي هي واحدة الكلام طلقت.

ومنها - ما قالوا في الجنائز: إنه إذا تكلم أعاد تلقينه، فإن كان مرادهم الكلام، فتكلم كلمة لم يعد تلقينه، وإن كان مرادهم: الكلمة أعيد. ومرادهم والله أعلم، أنه إذا تكلم ولو كلمة أعيد والله أعلم.

ومنها: ما قالوا في الخطبة في الجمعة: إنه يحرم الكلام، فإن أريد به: الكلام الذي واحده الكلمة لم تحرم الكلمة، لأن الكلمة تطلق ويراد بها الكلام، مرادهم - والله أعلم - أنه يحرم الكلام والكلمة وهذه المسألة فيها ثلاث روايات: يحرم، لا يحرم، يحرم لغير الإمام ومن يكلمه، والله أعلم.

ومنها: إذا سلم قبل إتمام الصلاة، ثم تكلم لغير مصلحتها بطلت فمرادهم هنا، ولو كلمة التي هي واحدة الكلام، والله أعلم.

وكذا في جميع ما ذكروا في الفقه من تحريم الكلام أو كلام، فالمراد به - والله أعلم - الكلمة التي هي واحدة الكلم.

 

‌‌القاعدة الثانية

قاعدة: القول من معاني الأفعال وكلام جميع النحاة يدل عليه، لأنك إذا قلت: "قال" فهي فعل و"ضرب" فعل.

ومن فروع هذه القاعدة: إذا حلف لا يفعل فعلا، أو لا يعمل عملا، فهل يحنث إذا كلمه أم لا؟ حكى الشيخ تقي الدين بن تيمية رضي الله عنه في كتاب درء تعارض العقل والنقل أن المسألة على وجهين.

وقال في "الفروع": "قال شيخنا: الكلام يتضمن فعلا كالحركة، ويتضمن ما يقترن به من الحروف والمعاني، فلهذا نجعل القول قسيما له، وقسما منه تارة أخرى. وينبني على ذلك، من حلف لا يعمل عملا، فقال قولا كالقراءة ونحوها، هل يحنث أم لا؟ على وجهين في مذهب أحمد وغيره" وذكر في الخلاف في قوله عليه السلام للمسيء في صلاته:"وافعل ذلك في صلاتك كلها. . ."، أنه يرجع إلى القول والفعل جميعا، لأن القراءة فعل في الحقيقة، وليس إذا كان لها اسم أخص به من الفعل يمتنع أن يسمى فعلا.

 

‌‌القاعدة الثالثة

قاعدة: لا يشترط في الكلام صدوره من ناطق واحد، ولا قصد المتكلم لكلامه، ولا إفادة المخاطب شيئا يجهله على الصحيح في الثلاث كما ذكره في "الارتشاف" مثال الأولى: أن يقول أحدهم: زيد، ويقول الآخر: قائم.

ومن فروعها: إذا كان له وكيلان بإعتاق عبد، أو وقفه، أو طلاق امرأته، فاتفقا على أن يقول أحدهما هذا، ويقول الآخر: حر، أو طالق، عتق وطلقت لأنهما قد اتفقا على العتق.
‌‌বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

‌‌তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মহিমা ও সৌন্দর্যে একক, এবং যিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত। আমি তাঁর প্রশংসা করি ভবিষ্যৎ এবং বর্তমানের জন্য প্রচুর ও বরকতময় প্রশংসায়, এবং আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এমন কৃতজ্ঞতায় যা পৃথিবী ও পাহাড়সমূহকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। আমি তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করি এমন এক বান্দার মতো যে তার গুরুভার পাপসমূহ স্বীকার করে নেয়।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর কোনো বিরোধী বা সমকক্ষ নেই, এবং কোনো উজির বা পরামর্শদাতা নেই। তিনি অদ্বিতীয় ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা, রাসুল, প্রিয়তম ও বন্ধু। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর চিরস্থায়ী রহমত বর্ষণ করুন সকাল ও সন্ধ্যায়, এবং তাঁর ওপর পূর্ণ শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর: এটি এমন একটি কিতাব যা সংকলন ও সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি। এর কিছু পরিভাষা আমি আরবি থেকে বিন্যস্ত করেছি এবং এতে ইমামুল মুফাদ্দাল ও আল-হাবরুল মুবাজ্জাল আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব অনুযায়ী কিছু ফিকহী মাসআলা লিপিবদ্ধ করেছি। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

 

‌‌প্রথম মূলনীতি

মূলনীতি: ব্যাকরণবিদদের নিকট সঠিক (صحيح) মতানুসারে, 'শব্দ' (كلمة) সাধারণত 'বাক্য' (كلام) অর্থে ব্যবহৃত হয় না। তবে তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা সাধারণ বক্তব্য উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। তারা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "কখনোই নয়, এটি তো তার একটি কথা (كلمة) মাত্র যা সে বলছে।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কবিদের বলা শ্রেষ্ঠ কথা (كلمة) হলো লাবীদ-এর এই কথাটি: জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই বাতিল..." ইত্যাদি।

যদি এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এই মূলনীতির শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ শপথ করে যে সে কারো সাথে একটি শব্দের বেশি কথা বলবে না, তবে সে যদি এমন একটি শব্দ (كلمة) উচ্চারণ করে যা বাক্য (كلام)-এর একক, তবে তার শপথ ভঙ্গ হবে। যদিও আমি এই মাসআলায় কোনো উদ্ধৃতি পাইনি; তবে যা বলা উচিত তা হলো, যদি তার উদ্দেশ্য 'শব্দ' (كلمة) দ্বারা বাক্য (كلام)-এর একক হয়, তবে এর অতিরিক্ত কথা বললে তার শপথ ভঙ্গ হবে। আর যদি তার নিয়ত অন্য কিছু হয়, তবে তা তার নিয়তের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'যদি আমি যাইদ-এর সাথে একটি শব্দের বেশি কথা বলি তবে তুমি তালাক', অতঃপর সে যদি বাক্য (كلام)-এর একক এমন একটি শব্দের অতিরিক্ত কথা বলে, তবে তালাক হয়ে যাবে।

এর মধ্যে রয়েছে—জানাযার ক্ষেত্রে তারা যা বলেছেন: যদি মৃত ব্যক্তি কথা বলে তবে তাকে পুনরায় তালকিন করতে হবে। এখন তাদের উদ্দেশ্য যদি বাক্য (كلام) হয় এবং সে মাত্র একটি শব্দ (كلمة) উচ্চারণ করে, তবে তালকিন পুনরায় করতে হবে না। আর যদি তাদের উদ্দেশ্য শব্দ (كلمة) হয়, তবে পুনরায় তালকিন করতে হবে। আল্লাহই ভালো জানেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো যদি সে কথা বলে—এমনকি একটি শব্দও হয়—তবে পুনরায় তালকিন করতে হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে—জুমার খুতবা সম্পর্কে তারা যা বলেছেন: এতে কথা বলা হারাম। যদি এর দ্বারা এমন বাক্য (كلام) উদ্দেশ্য হয় যার একক হলো শব্দ (كلمة), তবে একটি শব্দ (كلمة) বলা হারাম হবে না। কারণ শব্দ (كلمة) মাঝেমধ্যে বাক্য (كلام) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আল্লাহই ভালো জানেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো বাক্য (كلام) এবং শব্দ (كلمة) উভয়ই হারাম। এই মাসআলায় তিনটি বর্ণনা (روايات) রয়েছে: হারাম, হারাম নয়, এবং ইমাম ও তার সাথে কথোপকথনকারী ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের জন্য হারাম। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ সালাত পূর্ণ করার আগেই সালাম ফিরিয়ে দেয়, অতঃপর সালাতের কল্যাণ বহির্ভূত কোনো কথা বলে, তবে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। এখানে তাদের উদ্দেশ্য হলো একটি শব্দ (كلمة) হলেও, যা বাক্য (كلام)-এর একক। আল্লাহই ভালো জানেন।

অনুরূপভাবে ফিকহ শাস্ত্রে যেখানেই কথা বলা বা বক্তব্যের হারাম হওয়া সম্পর্কে তারা উল্লেখ করেছেন, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—সেই শব্দ (كلمة) যা বাক্য (كلام)-এর একক।

 

‌‌দ্বিতীয় মূলনীতি

মূলনীতি: 'কথা' (قول) কাজের (أفعال) অর্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং সকল ব্যাকরণবিদের বক্তব্য একথাই প্রমাণ করে। কারণ আপনি যখন বলেন: 'তিনি বলেছেন' (قال), সেটি একটি ক্রিয়া (فعل), আর 'তিনি মেরেছেন' (ضرب)-ও একটি ক্রিয়া (فعل)।

এই মূলনীতির শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ শপথ করে যে সে কোনো কাজ (فعل) করবে না বা কোনো আমল (عمل) করবে না, তবে সে যদি কথা বলে তবে কি তার শপথ ভঙ্গ হবে কি না? শেখ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি' কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসআলায় দুটি অভিমত রয়েছে।

এবং 'আল-ফুরু' কিতাবে বলা হয়েছে: "আমাদের শায়খ বলেছেন: কথা কাজের অন্তর্ভুক্ত যেমন নড়াচড়া, এবং এটি বর্ণ ও অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই আমরা কখনো 'কথা'-কে 'কাজ'-এর সমগোত্রীয় গণ্য করি, আবার কখনো একে 'কাজ'-এরই একটি অংশ হিসেবে ধরি। এর ওপর ভিত্তি করে মাসআলা হলো: যে ব্যক্তি কোনো আমল (عمل) না করার শপথ করেছে, এরপর সে কোনো কথা (قول) বলল—যেমন কিরাআত বা অনুরূপ কিছু—তবে কি তার শপথ ভঙ্গ হবে কি না? ইমাম আহমদের মাযহাবে এবং অন্যদের নিকট এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।" সালাতে ভুলকারী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণী: "এবং তুমি তোমার পুরো সালাতেই এরূপ করো...", এর বিরোধপূর্ণ বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি কথা ও কাজ উভয়কেই নির্দেশ করে। কারণ কিরাআত প্রকৃতপক্ষেই একটি কাজ (فعل)। কোনো বিষয়ের যদি কাজ (فعل) অপেক্ষা অধিকতর সুনির্দিষ্ট নাম থাকে, তবে তাকে কাজ (فعل) হিসেবে অভিহিত করতে কোনো বাধা নেই।

 

‌‌তৃতীয় মূলনীতি

মূলনীতি: বাক্য (كلام) হওয়ার জন্য এটি একজন বক্তা থেকে নির্গত হওয়া, বক্তার কথার উদ্দেশ্য থাকা এবং শ্রোতাকে অজানা কোনো তথ্য প্রদান করা—সঠিক (صحيح) মতানুসারে এই তিনটির কোনটিই শর্ত নয়, যেমনটি 'আল-ইরতিকাফ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটির উদাহরণ হলো: একজন বলল 'যাইদ' এবং অন্যজন বলল 'দণ্ডায়মান'।

এর শাখা মাসআলা হলো: যদি কারো দাস মুক্ত করা, ওয়াকফ করা অথবা স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে দুইজন প্রতিনিধি থাকে এবং তারা একমত হয় যে একজন বলবে 'এই ব্যক্তি' এবং অন্যজন বলবে 'মুক্ত' অথবা 'তালাকপ্রাপ্তা', তবে দাস মুক্ত হয়ে যাবে এবং স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। কারণ তারা উভয়েই দাস মুক্তির ব্যাপারে একমত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ومنها - ما قاله الأسنوي: إذا قال: لي عليك ألف، فقال المدعى عليه: إلا عشرة أو غير عشرة أو نحو ذلك، فهل يكون مقرا بباقي الألف؟ أما باقي الألف فهو مقر بها، وليس مقرا بالعشرة. وهذه المسألة والله أعلم ليست من فروع هذه القاعدة.

ومنها: إذا قال رجل: امرأة فلان طالق، فقال الزوج: ثلاثا، فقال الشيخ تقي الدين: تخرج على وجهين، ذكره القاضي علاء الدين في "القواعد".

ومنها: إذا قال: لي عليك ألف، فقال: صحاح، ففيها وجهان ذكرهما القاضي علاء الدين، والله أعلم. قال الشيخ تقي الدين: "هذا أصل في كل كلام من اثنين"، أي كل كلام صدر عن شخصين، ففيه وجهان.

ومنها: إذا قال العبد: أنا، فقال السيد: حر، عتق العبد لأنه قد أتى بصريح العتق فوقع.

ومنها: إذا قال: إن كلمت إحداكن زيدا كلمة فهي طالق، فكلمتاه - الثنتان - كلمة لا تطلقا إلا أن يكون قصد عدم الكلام بالكلية، وذكروا ما يشبه هذا. فإن قال: إن كلمتما زيدا وعمرا فأنتما طالقتان، فكلمت كل واحدة واحدا طلقتا، جزم به الأصحاب.

والمسألة الثانية: إذا لم يقصد المتكلم كلامه، ككلام النائم والساهي والطيور.

ومنها: إذا تكلم في الصلاة ساهيا لغير مصلحتها فهل تبطل صلاته؟ في المسألة روايتان عن الإمام أحمد، الصحيح: البطلان جزم به أكثر الأصحاب.

ومنها: إذا قرأ ساهيا أو نائما أو طيرا سجدة، فهل يلزم من سمع السجود؟ الذي جزم به الأصحاب لا يلزمهم السجود، لأنهم قالوا: يعتبر أن يكون القارئ يصلح إماما له، وهؤلاء لا يصلحوا أن يكونوا أئمة، إلا اللهم أن نقول في الساهي: يلزم فيه السجود إذا كان يصلح إماما، والله أعلم.

ومنها: إذا وقف النائم أو الساهي، لم يثبت الوقف لأن النية معتبرة في الوقف، ولا نية هنا.

ومنها: إذا أتى بصريح العتق، عتق من الساهي، ولم يعتق من النائم، وكذا النكاح والطلاق، والله أعلم.

ومنها: إذا حلف لا يكلم زيدا، فكلمه نائما، أو جاهلا لم يحنث.

ومنها: إذا أقر النائم لم يصح، ولا الساهي.

والمسألة الثالثة: الكلام الذي لا فائدة فيه، مثل الشمس حارة، والسماء فوق الأرض، ويؤيد عدم تسميته كلاما.

منها: إذا حلف: لا أصعد السماء لو أن طرت أو قلبت الحجر ذهبا، أو رددت أمس، أو شربت ماء الكوز، ولا ماء فيه، أو شاء الميت، لم يحنث.

ومنها: ما قال الأسنوي: إذا حلف أن لا يحلف، قال: يرجح أصحابهم عدم الانعقاد، فلم أر فيها لأصحابنا شيئا، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الرابعة

قاعدة: يطلق الكلام على المعاني النفسانية، الصحيح في "الارتشاف" أنه إطلاق مجازي، وقيل مشترك بينهما، وقيل هو حقيقة في النفساني دون اللساني.

إذا علمت هذا. . فمن فروع القاعدة: إذا حلف لا يتكلم، ولا يقرأ، ولا يذكر، لم يحنث إلا بما لفظ بلسانه دون ما خطر بقلبه، أو أتى به قلبه.

ومنها: الغيبة: ذكر الشخص بما يكرهه، فلو خطر بقلبه لم يكن كذلك، وذكر الأسنوي عن الغزالي والنووي بلى.

ومنها: لو طلق بقلبه، ولم يتلفظ بلسانه وقع، جزم به ابن رجب في "شرح البخاري"، والله أعلم، وصح عن مالك أنه إذا أتى به بقلبه بلا لفظ. روايتين.

ومنها: الجنب يحرم عليه قراءة القرآن، فلو أتى بقلبه لم يحرم، جزم به غير واحد من الأصحاب، كما يأتي في الكتابة.

ومنها: الصائم إذا شتم استحب أن يقول: إني صائم، فيقول بقلبه وهو قائم مقام اللفظ، وقيل: يقول باللفظ، وقيل: باللفظ في رمضان، وبالقلب في النفل، أو واجب غيره، والأولى عندي عكسه، والله أعلم.

ومنها: أن الصائم يحرم عليه الرفث والفسوق والشتم ونحوه، وكذا الحاج، فلو أتى به قلبه كان حراما.

ومنها: العتق والنذر يصح بقلبه، ولو لم يأت بلفظه.

 

‌‌القاعدة الخامسة

قاعدة: يطلق الكلام أيضا على الكتابة والإشارة وما يفهم من حال الشيء، إلا أن الصحيح - كما قاله في "الارتشاف" - أنه إطلاق مجازي، وليس من باب الاشتراك.

إذا علمت ذلك فمن فروع المسألة: الأذان لا يصح بالإشارة لأنه إعلام، لأنه لا يحصل بالإشارة، والله أعلم.

ومنها: خطبة الجمعة، هل تصح بالإشارة، إذا كانوا جميعهم طرشانا، أو يصلون ظهرا؟ فيه وجهان. الذي قدمه ابن تميم يصلون ظهرا، وهو الصحيح ومنها: الأمان يصح بالإشارة، جزم به في "الوجيز" بكل ما يدل على الأمان، والله أعلم.
এর মধ্যে একটি হলো— ইমাম আসনাউয়ি যা বলেছেন: যখন কেউ বলে, ‘তোমার কাছে আমার এক হাজার মুদ্রা পাওনা আছে’, আর বিবাদী বলে, ‘দশ বাদে’ অথবা ‘দশ ব্যতীত’ কিংবা এই জাতীয় কিছু, তবে সে কি অবশিষ্ট মুদ্রার স্বীকৃতি প্রদানকারী হিসেবে গণ্য হবে? অবশিষ্ট মুদ্রার ক্ষেত্রে সে স্বীকৃতি প্রদানকারী হবে, কিন্তু ওই দশ মুদ্রার ক্ষেত্রে সে স্বীকৃতি প্রদানকারী নয়। আর এই মাসয়ালাটি—আল্লাহই ভালো জানেন—এই কায়দার (নীতির) শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত নয়।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যখন কোনো ব্যক্তি বলে, ‘অমুকের স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা’, আর স্বামী বলে, ‘তিনবার’, তখন শাইখ তাকিউদ্দীন বলেছেন: এটি দুটি দিক থেকে পর্যালোচিত হতে পারে, যা কাজী আলাউদ্দীন কাওয়াইদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যদি কেউ বলে, ‘তোমার কাছে আমার এক হাজার পাওনা আছে’, আর বিবাদী বলে, ‘নির্ভেজাল মুদ্রা (صحاح)’, তবে এতে দুটি মত রয়েছে যা কাজী আলাউদ্দীন উল্লেখ করেছেন, আল্লাহই ভালো জানেন। শাইখ তাকিউদ্দীন বলেছেন: “এটি দুই ব্যক্তির প্রতিটি কথার মূল ভিত্তি”, অর্থাৎ দুই ব্যক্তি থেকে নির্গত প্রতিটি কথার ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যদি গোলাম বলে, ‘আমি’, আর মালিক বলে, ‘মুক্ত’, তবে গোলামটি মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ মালিক এখানে স্পষ্ট (صريح) শব্দে মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, ফলে তা কার্যকর হবে।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যদি কেউ বলে, ‘যদি তোমাদের মধ্যে কেউ যায়েদের সাথে একটি কথাও বলো, তবে সে তালাকপ্রাপ্তা’, অতঃপর তারা—অর্থাৎ দুইজনই—তার সাথে একটি কথা বলল, তবে তারা তালাকপ্রাপ্তা হবে না; যতক্ষণ না তার উদ্দেশ্য হয় সম্পূর্ণভাবে কথা না বলা, এবং ফকীহগণ এই জাতীয় বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। আর যদি সে বলে, ‘যদি তোমরা যায়েদ ও আমরের সাথে কথা বলো, তবে তোমরা তালাকপ্রাপ্তা’, অতঃপর তাদের প্রত্যেকেই একজনের সাথে কথা বলল, তবে তারা তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে; আসহাবগণ এটি নিশ্চিতভাবে (جزم) বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় মাসয়ালা: যখন বক্তা তার কথার উদ্দেশ্য স্থির করে না, যেমন ঘুমন্ত ব্যক্তি, অমনোযোগী ব্যক্তি এবং পাখির বুলি।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ নামাযের মধ্যে ভুলবশত নামাযের বহির্ভূত কোনো কথা বলে, তবে কি তার নামায বাতিল হয়ে যাবে? এই মাসয়ালায় ইমাম আহমাদ থেকে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে। সঠিক (الصحيح) মত হলো: নামায বাতিল হয়ে যাবে, অধিকাংশ আসহাব এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে (جزم) মত দিয়েছেন।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যদি কোনো অমনোযোগী ব্যক্তি, ঘুমন্ত ব্যক্তি বা কোনো পাখি সিজদার আয়াত পাঠ করে, তবে যে তা শুনেছে তার ওপর কি সিজদাহ করা আবশ্যক হবে? আসহাবগণ যে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে (جزم) মত দিয়েছেন তা হলো: তাদের ওপর সিজদাহ করা আবশ্যক হবে না। কারণ তারা বলেছেন: সিজদাহ আবশ্যক হওয়ার জন্য শর্ত হলো ক্বারিকে (পাঠক) ইমাম হওয়ার যোগ্য হতে হবে। আর এরা ইমাম হওয়ার যোগ্য নয়। তবে যদি আমরা ভুলোমনা ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলি: তার ওপর সিজদাহ আবশ্যক হবে যদি সে ইমাম হওয়ার যোগ্য হয়, আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যদি কোনো ঘুমন্ত বা ভুলোমনা ব্যক্তি ওয়াকফ করে, তবে সেই ওয়াকফ সাব্যস্ত হবে না; কারণ ওয়াকফের ক্ষেত্রে নিয়ত বিবেচ্য, আর এখানে কোনো নিয়ত নেই।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যদি কেউ স্পষ্ট (صريح) শব্দে মুক্তি প্রদান করে, তবে ভুলোমনা ব্যক্তির পক্ষ থেকে তা কার্যকর হবে, কিন্তু ঘুমন্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হবে না। বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রেও একই বিধান, আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যদি কেউ শপথ করে যে সে যায়েদের সাথে কথা বলবে না, অতঃপর ঘুমন্ত অবস্থায় বা অজ্ঞতাবশত তার সাথে কথা বলে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: যদি ঘুমন্ত ব্যক্তি কোনো কিছুর স্বীকৃতি প্রদান করে তবে তা সহীহ হবে না, ভুলোমনা ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই কথা।

তৃতীয় মাসয়ালা: যে কথার কোনো উপযোগিতা নেই, যেমন—‘সূর্য উত্তপ্ত’ এবং ‘আকাশ জমিনের ওপরে’; এটি ‘কথা’ হিসেবে গণ্য না হওয়ার বিষয়টিকেই সমর্থন করে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ শপথ করে যে: ‘আমি আকাশে উঠব না’ এমনকি যদি আমি উড়তে পারি, অথবা ‘পাথরকে স্বর্ণে পরিণত করব’, অথবা ‘গতকালকে ফিরিয়ে আনব’, অথবা ‘কুঁজার পানি পান করব’ অথচ তাতে কোনো পানি নেই, অথবা ‘মৃত ব্যক্তি যদি চায়’—তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম আসনাউয়ি বলেছেন: যদি কেউ শপথ করে যে সে আর শপথ করবে না; তিনি বলেছেন: তাদের আসহাবগণ এটি শপথ হিসেবে গণ্য না হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে আমাদের আসহাবদের পক্ষ থেকে আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাইনি, আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌চতুর্থ কায়দা

কায়দা: ‘কালাম’ (কথা) শব্দটিকে মানসিক অর্থের ওপরও প্রয়োগ করা হয়। আল-ইরতিশাফ কিতাবের সঠিক (الصحيح) মত অনুযায়ী এটি রূপক (مجازي) প্রয়োগ। কেউ বলেছেন এটি উভয়ের মাঝে সাধারণ (مشترك), আবার কেউ বলেছেন এটি মানসিক কথার ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة), মৌখিক কথার ক্ষেত্রে নয়।

আপনি যখন এটি জানতে পারলেন... তখন এই কায়দার শাখা-প্রশাখা হলো: যদি কেউ শপথ করে যে সে কথা বলবে না, পাঠ করবে না কিংবা যিকর করবে না, তবে সে ততক্ষণ শপথ ভঙ্গকারী হবে না যতক্ষণ না সে জিহ্বা দিয়ে তা উচ্চারণ করবে; মনের মধ্যে যা উদিত হয় বা মনে মনে যা করে তার কারণে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না।

এর মধ্যে রয়েছে: গীবত—কারো সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে। যদি তা কেবল মনে উদিত হয় তবে তা গীবত হবে না। আসনাউয়ি ইমাম গাজালি ও নববী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হ্যাঁ (তাও গীবত হতে পারে)।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ মনে মনে তালাক দেয় এবং মুখে উচ্চারণ না করে, তবে তা কার্যকর হবে। ইবনে রাজাব শারহ আল-বখারি-তে এটি নিশ্চিতভাবে (جزم) উল্লেখ করেছেন, আল্লাহই ভালো জানেন। আর ইমাম মালিক থেকে সহীহ বর্ণনা (صح) মতে: যদি সে শব্দ ছাড়া কেবল মনে মনে এটি নিয়ে আসে, তবে এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা (روايتين) রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: জুনুবি (অপবিত্র) ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠ করা হারাম। তবে যদি সে মনে মনে তা পাঠ করে তবে হারাম হবে না। আসহাবগণের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে (جزم) মত দিয়েছেন, যেমনটি লিখনের ক্ষেত্রে আসবে।

এর মধ্যে রয়েছে: রোযাদারকে যদি কেউ গালি দেয়, তবে তার জন্য ‘আমি রোযাদার’ বলা মুস্তাহাব। এক্ষেত্রে সে মনে মনে বলবে এবং তা মৌখিক উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হবে। কেউ বলেছেন: সে মুখে উচ্চারণ করে বলবে। আবার কেউ বলেছেন: রমযান মাসে হলে মুখে বলবে, আর নফল বা অন্য কোনো ওয়াজিব রোযা হলে মনে মনে বলবে। আমার মতে এর বিপরীতটি করাই অধিকতর শ্রেয়, আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: রোযাদার এবং হাজীর জন্য অশ্লীল কথা, পাপাচার, গালিগালাজ ইত্যাদি হারাম। যদি সে মনে মনেও এমন কিছু করে তবে তা হারাম হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: গোলাম আজাদ করা এবং মানত করা মনে মনে করলেও সহীহ হবে, যদিও সে মুখে উচ্চারণ না করে।

 

‌‌পঞ্চম কায়দা

কায়দা: ‘কালাম’ (কথা) শব্দটিকে লিখন, ইশারা এবং যা কোনো বিষয়ের অবস্থা থেকে বোঝা যায় তার ওপরও প্রয়োগ করা হয়। তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো—যেমনটি আল-ইরতিশাফ-এ বলা হয়েছে—এটি রূপক (مجازي) প্রয়োগ, এটি আভিধানিক অংশীদারিত্বের (مشترك) অন্তর্ভুক্ত নয়।

আপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তখন এই মাসয়ালার শাখা-প্রশাখা হলো: ইশারার মাধ্যমে আযান সহীহ হবে না; কারণ এটি একটি ঘোষণা, যা ইশারার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না, আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: জুমার খুতবা কি ইশারার মাধ্যমে সহীহ হবে—যদি তারা সবাই বধির হয় অথবা যুহরের নামায আদায় করে? এতে দুটি মত রয়েছে। ইবনে তামীম যেটিকে অগ্রগণ্য বলেছেন তা হলো তারা যুহরের নামায পড়বে এবং এটিই সঠিক (الصحيح)। এর মধ্যে আরও রয়েছে: ইশারার মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান সহীহ হবে। আল-ওয়াজিজ কিতাবে নিরাপত্তার নির্দেশক প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিতভাবে (جزم) বলা হয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
ومنها: البيع لا يصح بالإشارة، ولا بد فيه من اللفظ، إلا بيع المعاطاة، فإن فيه ثلاث روايات. هل يصح بلا لفظ، أو لا يصح؟ أو يصح في الشيء اليسير، وهو الذي اختاره القاضي، والله أعلم.

ومنها: الشهادة بالإشارة، لا تصح على الصحيح، ويحتمل أن تصح فيما طريقه الرؤية إذا فهمت إشارته.

ومنها: النكاح بالإشارة، قال في "الفروع": "وينعقد نكاح الأخرس بالإشارة المفهومة، نص عليه" ووالله أعلم.

ومنها: الوصية فأما الأخرس الذي لا تفهم إشارته، والصحيح الذي يقدر على الكلام، لا تصح الوصية منهما بالإشارة. وهل تصح من المثل لسانه بها؟ الصحيح عدم الصحة، وجزم به في "الوجيز"، ولنا احتمال بالصحة، وهو متجه.

ومنها: إذا حلف، لا تكلمه، فأشارت إليه لم يحنث على الصحيح، وجزم به في "الوجيز".

ومنها: إذا أشار إلى الصيد في الإحرام وهو محرم ضمنه، جزم به في "المقنع"، و"الوجيز"، وأكثر أصحاب الإمام أحمد.

ومنها: العتق، تقوم الإشارة فيه مقام النطق، ذكره ابن عقيل في "الفصول".

ومنها: الإقرار، فهل يصح بالإشارة، فذكر ابن عقيل في "الفصول" أن الإشارة فيه قائمة مقام النطق، والله أعلم.

ومنها: الإقرار، فهل يصح بالإشارة، فذكر ابن عقيل في "الفصول" أن الإشارة فيه قائمة مقام النطق، والله أعلم.

ومنها: الطلاق، وجزم ابن عقيل في "الفصول" أن الإشارة قائمة مقام اللفظ، واستدل عليه بصحة أمان المسلم الكافر بالإشارة، قاله ابن رجب في "شرح البخاري"، وهذا غريب.

ونقل عمرو بن عبد الواحد عن الأوزاعي في رجل قيل له:"أطلقت امرأتك؟ فأومأ برأسه، قيل له: كم؟ فأمسك ثلاثا". قال: لا شيء إلا أن يتكلم. قال ابن رجب في "شرح البخاري": "وذهب طائفة من العلماء إلى وقوعه بالنية المحددة، فالإشارة مع النية أولى".

وأما عدد الطلاق، فهل يكفي فيه الإشارة، فإذا قال: أنت طالق، وأشار بثلاث أصابعه ونوى الثلاث؟ فقال قتادة: "تبين منه بإشارته وظاهره أنه أوقع الثلاث بالإشارة مع النية"، وعند الشافعي وأبي عبيد هو كما لو نوى الثلاث ولم يتلفظ بها، ولا عبرة بإشارته، وكذا قال أكثر أصحابنا، وقد توقف أحمد في هذه المسألة، وحكى فيها خلافا، قال في رواية مهنا في رجل قال لامرأته: أنت طالق وأشار بثلاث أصابع، فقال: قد اختلفوا في هذه، فقال بعضهم: هي ثلاث، وقال بعضهم: هي واحدة.

وروى أبو عبيد بإسناده عن الليث عن الحكم قال: طلق رجل امرأته فأمسكوا بفيه، فأشار بأصابعه الثلاث، فأجمعوا أنه ما تكلم به، ولو قال: أنت طالق وأشار بأصابعه الثلاث، ولم يتلفظ بطلاق، فقال النخغي والشافعي لا تطلق، وهو ظاهر كلام أحمد، فإنه إن لم يتكلم بلسانه فأرجو أن لا يدخل عليه وإن عقد عليه قلبه، نقله عنه حرب، ومفهومه أنه إن أراد طلاقها طلقت.

قال الشعبي في رجل قال لامرأته: أنت هكذا، وأشار بأصابعه الثلاث: "إن نوى طلاقها فهو مانوى"، وللشافعي في هذه الصورة ثلاثة أوجه: إحداها: لا يقع به شيء.

والثاني: يقع به واحدة.

والثالث: يقع به الثلاث، وهو قول القفال وغيره.

بخلاف ما إذا قال: أنت ولم يقل هكذا، وأشار بأصابعه مع النية، لأن قوله: "أنت" ليس من ألفاظ الطلاق.

وإذا قال: أنت هكذا، فقد تكلم بجملة تامة، فسر اسم الإشارة بالطلاق، مع إشارته بأصابعه.

وللشافعية أن إشارة الناطق كناية، إن نوى بها الطلاق وقع كالأخرس.

ومذهب مالك أنه إذا أشار بالطلاق إشارة مفهومة عنه، مع نيته بقلبه فإنه يقع بالكتابة رواية واحدة المسألة الثانية: الكتابة منها: أن الجنب لا يجوز له أن يقرأ القرآن، ويجوز له كتابة القرآن، ذكره بعض أصحابنا، والله أعلم.

ومنها: الأمان يصح بالكتابة، وهو الذي ظاهر في كلام الأصحاب، لأنهم قالوا: يصح بكل ما دل عليه، فدخل فيه الكتابة.

ومنها: البيع لا يصح بالكتابة بلا خلاف فيه، والله أعلم.

ومنها: الوصية إذا كتبها بخطه صحت، جزم به الأصحاب، وهو نص أحمد، نقل حرب عن أحمد أنه سئل عن رجل ثقل لسانه، وكتب وصيته وقرأت، وقال برأسه: نعم. هل يشهدون عليه؟ قال: لا أدري، فظاهر هذا التوقف عنه، والصحيح عن الصحة، ولنا قول بعدم الصحة.
এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইশারার মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সহীহ (صحيح) হয় না, বরং এতে শব্দ উচ্চারণ করা আবশ্যক। তবে মুআতাত (হস্তান্তর) পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয় এর ব্যতিক্রম, কেননা এ বিষয়ে তিনটি বর্ণনা (روايات) রয়েছে। এটি কি শব্দ ব্যতিরেকে সহীহ (صحيح) হবে, নাকি হবে না? অথবা তুচ্ছ জিনিসের ক্ষেত্রে সহীহ (صحيহ) হবে? কাজী এটিই পছন্দ করেছেন। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান; সহীহ (صحيহ) মত অনুযায়ী এটি সহীহ (صحيহ) নয়। তবে এমন বিষয়ে এটি সহীহ (صحيহ) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা দর্শনের সাথে সংশ্লিষ্ট, যদি তার ইশারা বোধগম্য হয়।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইশারার মাধ্যমে বিবাহ। ফুরু কিতাবে বলা হয়েছে: "বাকপ্রতিবন্ধীর বিবাহ বোধগম্য ইশারার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, ইমাম আহমদ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন।" আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: অসিয়ত। তবে যে বাকপ্রতিবন্ধীর ইশারা বোঝা যায় না এবং যে সুস্থ ব্যক্তি কথা বলতে সক্ষম, তাদের কারোরই ইশারার মাধ্যমে অসিয়ত সহীহ (صحيح) হবে না। যার জিহ্বা কোনো কারণে অবশ বা আক্রান্ত হয়েছে, তার কি ইশারা সহীহ (صحيহ) হবে? সহীহ (صحيহ) মত হলো এটি সহীহ (صحيহ) না হওয়া, এবং ওয়াজিজ কিতাবে এটিই নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে। তবে আমাদের নিকট এটি সহীহ (صحيহ) হওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেটিই জোরালো অভিমত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে, "আমি তার সাথে কথা বলব না", অতঃপর সে তাকে ইশারা করে, তবে সহীহ (صحيহ) মত অনুযায়ী সে কসম ভঙ্গকারী হবে না; ওয়াজিজ গ্রন্থে এটিই নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইহরাম অবস্থায় মুহরিম ব্যক্তি যদি শিকারের প্রতি ইশারা করে, তবে তাকে এর জরিমানা দিতে হবে। মুকনি, ওয়াজিজ এবং ইমাম আহমদের অধিকাংশ অনুসারী এ বিষয়ে নিশ্চিত মত দিয়েছেন।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: দাসমুক্তি। এতে ইশারা মৌখিক উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হবে। ইবনে আকীল ফাসুল গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: স্বীকৃতি। এটি কি ইশারার মাধ্যমে সহীহ (صحيহ) হবে? ইবনে আকীল ফাসুল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এতে ইশারা মৌখিক উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: স্বীকৃতি। এটি কি ইশারার মাধ্যমে সহীহ (صحيহ) হবে? ইবনে আকীল ফাসুল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এতে ইশারা মৌখিক উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: তালাক। ইবনে আকীল ফাসুল গ্রন্থে নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, ইশারা উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত। তিনি ইশারার মাধ্যমে কাফেরকে মুসলিমের নিরাপত্তা প্রদানের বৈধতার দ্বারা এর দলিল পেশ করেছেন। ইবনে রজব শরহ বুখারী-তে এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে অদ্ভুত (غريب) বলেছেন।

আমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ ইমাম আওযাঈ থেকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "তুমি কি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছ?" জবাবে সে তার মাথা নেড়ে সায় দিল। তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো: "কয়টি?" সে তিন আঙুল তুলে ধরল। আওযাঈ বললেন: কথা না বলা পর্যন্ত কিছুই হবে না। ইবনে রজব শরহ বুখারী-তে বলেছেন: "উলামায়ে কেরামের একটি দল সুনির্দিষ্ট নিয়তের মাধ্যমে তালাক পতিত হওয়ার মত পোষণ করেছেন, সেক্ষেত্রে নিয়তের সাথে ইশারা থাকলে তা অধিক অগ্রগণ্য।"

আর তালাকের সংখ্যার ক্ষেত্রে ইশারা কি যথেষ্ট হবে? যদি কেউ বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", এবং তিন আঙুল দিয়ে ইশারা করে ও তিন তালাকের নিয়ত করে? কাতাদাহ বলেন: "তার ইশারার মাধ্যমে স্ত্রী তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে; এর বাহ্যিক অর্থ হলো সে নিয়তের সাথে ইশারার মাধ্যমে তিন তালাকই কার্যকর করেছে।" শাফেঈ ও আবু উবাইদ এর মতে, এটি ওই ব্যক্তির মতো যে তিন তালাকের নিয়ত করেছে কিন্তু তা উচ্চারণ করেনি, ফলে তার ইশারার কোনো গুরুত্ব নেই। আমাদের অধিকাংশ সাথীগণও অনুরূপ বলেছেন। ইমাম আহমদ এই মাসআলায় বিরত থেকেছেন এবং এতে মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন। মুহন্নার বর্ণনায় জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তার স্ত্রীকে বলল: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা" এবং তিন আঙুল দিয়ে ইশারা করল। ইমাম আহমদ বললেন: "এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন এটি তিন তালাক, আবার কেউ বলেছেন এটি এক তালাক।"

আবু উবাইদ তার সনদে (إسناد) লাইস থেকে, তিনি হাকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইল কিন্তু লোকেরা তার মুখ চেপে ধরল, তখন সে তার তিন আঙুল দিয়ে ইশারা করল। তারা এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সে এ বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। আর যদি সে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা" এবং তিন আঙুল দিয়ে ইশারা করে কিন্তু তালাকের শব্দ উচ্চারণ না করে, তবে নাখঈ এবং শাফেঈর মতে কোনো তালাক হবে না। ইমাম আহমদের বক্তব্য থেকেও এটিই প্রতীয়মান হয়। কেননা হারব বর্ণিত বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন: "সে যদি জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণ না করে থাকে, তবে আমি আশা করি তা তার ওপর কার্যকর হবে না, যদিও সে অন্তরে এর সংকল্প করে থাকে।" এর মর্মার্থ হলো, সে যদি তালাকের ইচ্ছা করে থাকে তবে তালাক হয়ে যাবে।

শাবী জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার স্ত্রীকে বলল: "তুমি এইরূপ" এবং তিন আঙুল দিয়ে ইশারা করল: "যদি সে তালাকের নিয়ত করে থাকে তবে সে যা নিয়ত করেছে তাই হবে।" শাফেঈর এই সুরতে তিনটি অভিমত (أوجه) রয়েছে: প্রথমটি হলো: এতে কিছুই পতিত হবে না।

দ্বিতীয়টি হলো: এক তালাক পতিত হবে।

তৃতীয়টি হলো: তিন তালাক পতিত হবে। এটি কাফফাল এবং অন্যদের অভিমত।

এর ব্যতিক্রম হলো যদি সে বলে: "তুমি" এবং "এইরূপ" কথাটি না বলে নিয়তের সাথে আঙুল দিয়ে ইশারা করে। কেননা তার "তুমি" বলাটি তালাকের শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর যখন সে বলে: "তুমি এইরূপ", তখন সে একটি পূর্ণ বাক্য বলল এবং সে ইশারাসূচক শব্দটিকে তালাক দ্বারা ব্যাখ্যা করল, সাথে তার আঙুলের ইশারাও ছিল।

শাফেঈদের মতে, কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তির ইশারা হলো পরোক্ষ ইঙ্গিত (كناية), সে যদি এর দ্বারা তালাকের নিয়ত করে তবে বাকপ্রতিবন্ধীর ন্যায় তালাক পতিত হবে।

ইমাম মালেকের মাযহাব হলো, যদি কেউ তালাকের বিষয়ে এমন ইশারা করে যা বোধগম্য এবং সাথে অন্তরের নিয়ত থাকে, তবে তা কার্যকর হবে। আর লেখার মাধ্যমে (তালাক) হওয়ার বিষয়টি একক বর্ণনা (رواية واحدة)। দ্বিতীয় মাসআলা: লিখনী। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয নয়, তবে তার জন্য কুরআন লেখা জায়েয। আমাদের কোনো কোনো সাথী এটি উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি লেখার মাধ্যমে সহীহ (صحيح) হবে। আমাদের সাথীদের বক্তব্যে এটিই প্রকাশ্য, কারণ তাঁরা বলেছেন: যা কিছু এর অর্থ প্রকাশ করে তার মাধ্যমেই এটি সহীহ (صحيহ) হবে, সুতরাং লিখনীও এর অন্তর্ভুক্ত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ক্রয়-বিক্রয় লেখার মাধ্যমে সহীহ (صحيح) হয় না, এতে কোনো মতভেদ নেই। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে: অসিয়ত। যদি কেউ নিজ হাতে তা লেখে তবে তা সহীহ (صحيহ) হবে। আমাদের সাথীগণ এ বিষয়ে নিশ্চিত মত দিয়েছেন এবং এটি ইমাম আহমদেরও সুস্পষ্ট বক্তব্য। হারব ইমাম আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার জিহ্বা ভারী হয়ে গেছে এবং সে তার অসিয়তনামা লিখেছে ও তা পাঠ করা হয়েছে, তখন সে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছে। তারা কি তার সপক্ষে সাক্ষ্য দিবে? তিনি বললেন: "আমি জানি না।" ইমাম আহমদের এই কথা থেকে এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ পায়। তবে সহীহ (صحيহ) মত হলো এটি সহীহ (صحيহ) হওয়া। আমাদের নিকট এটি সহীহ (صحيহ) না হওয়ারও একটি মত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
تحرير هذه المسألة: أنها إذا كانت بخطه تقبل على الصحيح، وإن كانت بغير خطه، وهي مشهود عليه فيها، وقرأه عليه، فالصحيح أيضا تقبل، والله أعلم.

ومنها: أن العتق بالكتابة يصح، كما هو ظاهر كلام ابن عقيل، والله أعلم.

ومنها: النكاح هل يصح بالكتابة؟ فقال في "المحرر": "ويصح بالكتابة والإشارة، نص عليه".

ومنها: الطلاق، وفيه ثلاث صور: إذا كتبه بما يبين ونوى الطلاق وقع، وجزبه في "الوجيز" و"المقنع"، وأكثر أصحاب الإمام أحمد.

الصورة الثانية: إذا كتبه ولم ينو الطلاق، لكن نوى غم أهله أو تجويد خطه، لم تطلق، جزم به في "المقنع" وأكثر الأصحاب. وهل تقبل دعواه في الحكم؟ يخرج على روايتين.

وإن لم ينو شيئا، لا تجويد خطه، ولا غم أهله، ولا شيء، فهل يقبل؟ فيه وجهان.

الصورة الثالثة: إذا كتبه بشيء لا يبين، لم يقع، جزم به في "الوجيز" وقدمه في "المقنع"، ولنا قول بالوقوع، وهو قول أبي حفص العكبري، والله أعلم بالصواب.

ومنها: إذا حلف لا تكلم زيدا، فكاتبته، حنث جزم به في "الوجيز" و "المقنع" وغيرهما.

ومنها: كتاب القاضي إلى القاضي، لا بد من الإشهاد عليه، وهو أن يقرأه عليهما، فإذا قرأه عليهما وأشهدهما بما فيه جاز، وإن كتبه وختمه وقال: أشهدا على بما فيه، ولم يقرأه عليهما، لم يجز لظاهر نص أحمد في الوصية، وخرج غير واحد الجواز في مسألة الوصية.

فأما إن كتبه وأرسله إليه من غير إشهاد، لم يقبل قولا واحدا، والله أعلم.

ومنها: الشاهد إذا وجد خطه، ولم يذكر الشهادة، وتحقق الخط، فهل له أن يشهد به؟ على روايتين. وجزم به في "الوجيز" بالشهادة عليه، والله أعلم.

ومنها: الحاكم، إذا وجد شيئا تحت ختمه في قمطرة بخطه، فهل له أن ينفذه؟ فيه روايتان، والذي جزم في "الوجيز" أيضا إنفاذه.

ومنها: إذا وجد في دفتر له عليه دينا لزمه قضاءه، وأما إذا وجد أن لأبيه دينا، فهل له أن يحلف عليه؟ فإن تحقق أنه أباه لم يقبضه فله أن يحلف عليه، وإلا فلا، والله أعلم.

ومنها: الإقرار، هل يصح بالكتابة؟ لم أر فيه شيئا المسألة الثالثة: وهو ما يفهم من حال الشيء، منها: ما حكاه الطحاوي عن الأوزاعي في أعجمي ناول امرأته حبلا، فأمسك بطرفه، والمرأة بطرفه الآخر، ثم أخذ سكينا وقطعه، وقال: أردت بذلك الطلاق، أنها تطلق. ذكره ابن رجب في "شرح البخاري".

ومنها: إذا حلف لا تكلم زيدا، فكلمته، فلم يسمع لشغل أو غفلة، أو سكرانا، أو مجنونا، أو أصم، أو راسلته، حنث، جزم به في "الوجيز"، وقدمه في "المقنع".

وإن كلمته ميتا أو غائبا، أو مغمى عليه، أو نائما لم يحنث، جزم به في "الوجيز"، وقدمه في "المقنع"، ولنا قول بالحنث، وهو قول أبي بكر بن جعفر من أصحابنا، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة السادسة

قاعدة: الضمير إذا سبقه المضاف والمضاف إليه، وأمكن عوده على كل منهما على انفراده كقوله: "مررت بغلام زيد فأكرمته"، فإنه يعود على المضاف دون المضاف إليه، لأن المضاف هو المحدث عنه، والمضاف إليه وقع ذكره بطريق التبع، وهو تعريف المضاف أو تخصيصه.

كذا ذكره أبو حيان في " تفسيره" وكتبه النحوية، وأبطل استدلال ابن حزم ومن نحا نحوه كالماوردي في الحاوي على نجاسة "الخنزير" بقوله تعالى: (أو لحم خنزير فإنه رجس) ، حيث زعموا أن الضمير في قوله تعالى: (فإنه رجس) ، يعود إلى الخنزير، وعللوه بأنه أقرب مذكور.

إذا علمت هذا فمن فروع المسألة: إذا قال له: علي ألف درهم ونصفه، قال الأسنوي:"فالقياس يلزمه ألف وخمس مائة لا ألف ونصف درهم، وهكذا القول في الوصايا، والبياعات، والوكالات، والإجارات وغيرها، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة السابعة

قاعدة: الضمير في "أنت" - بفتح التاء للمذكر وكسرها للمؤنث واختلفوا، فقال الفراء: "جميعه هو الضمير"، وقال ابن كيسان: "الاسم منه "التاء" فقط"، وذهب بعض المتقدمينفيه إلى أنه مركب من "ألف" أقوم، و"نون" نقوم، و"تاء" تقوم، ولا أصل له. قال في "الإرتشاف" وغيره: إلا أنه يشار إلى المؤنث بإشارة المذكر على إرادة الشخص وعكسه، كذلك أيضا بتقدير الذات أو التسمية ونحوهما.

إذا تقرر هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال لعبده: أنت - بكسر التاء - حر عتق، لأنه أتى بصريح العتق فيقع، ولا عبرة بالضمير ههنا، والله أعلم.
এই মাসআলার বিশ্লেষণ হলো: যদি এটি তার নিজ হস্তাক্ষরে হয়, তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে তা গ্রহণ করা হবে। আর যদি তা অন্যের হস্তাক্ষরে হয় কিন্তু তাতে সাক্ষী রাখা হয় এবং তার সামনে তা পাঠ করা হয়, তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে তাও গ্রহণ করা হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে একটি হলো: লিখিতভাবে দাসমুক্তি প্রদান করা বৈধ, যেমনটি ইবনে আকীলের বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম থেকে প্রতীয়মান হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে একটি হলো: লিখিতভাবে কি বিবাহ শুদ্ধ হয়? 'আল-মুহাররার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটি লিখিতভাবে এবং ইশারার মাধ্যমেও শুদ্ধ হয়, এর ওপর সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) রয়েছে।"

এর মধ্যে একটি হলো: তালাক। এতে তিনটি অবস্থা রয়েছে: যদি তিনি স্পষ্ট কোনো মাধ্যমে তা লেখেন এবং তালাকের নিয়ত করেন, তবে তা কার্যকর হবে। 'আল-ওয়াজিজ', 'আল-মুকনি' এবং ইমাম আহমদের অধিকাংশ অনুসারী এ ব্যাপারে দৃঢ়মত ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় অবস্থা: যদি তিনি তা লেখেন কিন্তু তালাকের নিয়ত না করেন, বরং পরিবারকে দুঃখ দেওয়া বা হস্তাক্ষর সুন্দর করার নিয়ত করেন, তবে তালাক কার্যকর হবে না। 'আল-মুকনি' এবং অধিকাংশ অনুসারী এ ব্যাপারে নিশ্চিত মত দিয়েছেন। বিচারের ক্ষেত্রে তার এই দাবি গ্রহণ করা হবে কি না? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتين) পাওয়া যায়।

আর যদি তিনি কোনো কিছুই নিয়ত না করেন—হস্তাক্ষর সুন্দর করা নয়, পরিবারকে দুঃখ দেওয়াও নয়, অন্য কিছুও নয়—তবে কি তা গ্রহণ করা হবে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।

তৃতীয় অবস্থা: যদি তিনি এমন কিছু দিয়ে লেখেন যা স্পষ্ট নয়, তবে তা কার্যকর হবে না। 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে এ বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং 'আল-মুকনি' গ্রন্থে এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের (মাযহাবে) কার্যকর হওয়ার একটি বক্তব্য রয়েছে, যা আবু হাফস আল-উকবারীর অভিমত। আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।

এর মধ্যে একটি হলো: যদি কেউ শপথ করে যে সে যায়িদের সাথে কথা বলবে না, অতঃপর তার কাছে চিঠি লেখে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। 'আল-ওয়াজিজ', 'আল-মুকনি' এবং অন্যান্য গ্রন্থে এ বিষয়ে দৃঢ়মত ব্যক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি হলো: এক বিচারকের পক্ষ থেকে অন্য বিচারকের কাছে পাঠানো পত্র। এতে সাক্ষী রাখা আবশ্যক, আর তা হলো তাদের সামনে পত্রটি পাঠ করা। যখন তিনি তাদের সামনে তা পাঠ করবেন এবং যা আছে সে বিষয়ে তাদের সাক্ষী বানাবেন, তখন তা বৈধ হবে। কিন্তু যদি তিনি তা লেখেন এবং সিলমোহর মারেন আর বলেন: "আমার এই পত্রের বিষয়বস্তুর ওপর তোমরা সাক্ষী থাকো", অথচ তাদের সামনে তা পাঠ না করেন, তবে অসিয়ত সংক্রান্ত ইমাম আহমদের সুস্পষ্ট বক্তব্যের (نص) বাহ্যিক অর্থের কারণে তা বৈধ হবে না। তবে একাধিক আলিম অসিয়তের মাসআলায় এর বৈধতার বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

কিন্তু যদি তিনি তা লেখেন এবং কোনো সাক্ষী রাখা ছাড়াই পাঠিয়ে দেন, তবে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে একটি হলো: কোনো সাক্ষী যদি তার নিজস্ব হস্তাক্ষর খুঁজে পায় কিন্তু সাক্ষ্যদানের কথা মনে করতে না পারে, অথচ হস্তাক্ষরটি যে তার তা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারে, তবে কি সেটির ভিত্তিতে সাক্ষ্য দিতে পারবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتين) রয়েছে। 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে এর ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদান করা যাবে বলে দৃঢ়মত ব্যক্ত করা হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে একটি হলো: বিচারক যদি তার দপ্তরের বাক্সে নিজের সিলমোহরের নিচে নিজ হস্তাক্ষরে কোনো নথি পান, তবে কি তিনি তা কার্যকর করতে পারবেন? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتين) রয়েছে। 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থেও তা কার্যকর করার বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি হলো: যদি কেউ তার খাতায় দেখে যে তার ওপর কারো ঋণ রয়েছে, তবে তা পরিশোধ করা তার জন্য আবশ্যক। কিন্তু যদি সে পায় যে তার পিতার কোনো পাওনা রয়েছে, তবে কি সেটির ওপর সে শপথ করতে পারবে? যদি সে নিশ্চিত হয় যে তার পিতা তা গ্রহণ করেননি, তবে সে শপথ করতে পারবে; অন্যথায় নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে একটি হলো: স্বীকৃতি কি লিখিতভাবে শুদ্ধ হয়? এ বিষয়ে আমি কিছু দেখিনি। তৃতীয় মাসআলা: যা কোনো বিষয়ের অবস্থা থেকে বোঝা যায়। এর মধ্যে রয়েছে: ইমাম তহাবী ইমাম আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন অনারব ব্যক্তি তার স্ত্রীকে একটি দড়ি দিলেন, তিনি দড়ির এক প্রান্ত ধরলেন এবং স্ত্রী অন্য প্রান্ত। অতঃপর তিনি একটি ছুরি নিয়ে তা কেটে দিলেন এবং বললেন: "আমি এর দ্বারা তালাকের ইচ্ছা করেছি"; এতে তালাক কার্যকর হবে। ইবনে রাজাব 'শারহু বুখারি' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্যে একটি হলো: যদি কেউ শপথ করে যে সে যায়িদের সাথে কথা বলবে না, অতঃপর তার সাথে কথা বলে, কিন্তু ব্যস্ততা বা অসতর্কতার কারণে সে তা শুনতে না পায়, অথবা সে যদি মাতাল, পাগল বা বধির হয়, কিংবা তাকে বার্তা পাঠায়, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে এ বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং 'আল-মুকনি' গ্রন্থে একে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আর যদি মৃত বা অনুপস্থিত, সংজ্ঞাহীন বা ঘুমন্ত অবস্থায় তার সাথে কথা বলে, তবে শপথ ভঙ্গ হবে না। 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে এ বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং 'আল-মুকনি' গ্রন্থে একে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের (মাযহাবে) শপথ ভঙ্গের একটি বক্তব্য রয়েছে, যা আমাদের অনুসারীদের মধ্যে আবু বকর ইবনে জাফরের অভিমত। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌ষষ্ঠ নীতি

নীতি: যদি সর্বনামের আগে মুদাফ এবং মুদাফ ইলাইহি থাকে এবং উভয়টির দিকেই পৃথকভাবে সর্বনাম ফেরার সম্ভাবনা থাকে, যেমন: "আমি যায়িদের গোলামের পাশ দিয়ে গেলাম এবং তাকে সম্মান করলাম"; তবে সর্বনামটি মুদাফ-এর দিকেই ফিরবে, মুদাফ ইলাইহির দিকে নয়। কারণ মুদাফ হলো প্রধান আলোচ্য বিষয়, আর মুদাফ ইলাইহি এসেছে অনুগামী হিসেবে, যা মুদাফকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া বা বিশেষায়িত করার জন্য।

আবু হাইয়্যান তার 'তাফসীর' এবং ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তিনি ইবনে হাযম এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণকারী যেমন 'আল-হাভী' গ্রন্থের লেখক মাওয়ার্দীর সেই দলিল বাতিল করে দিয়েছেন যাতে তারা শুকরের নাপাক হওয়ার বিষয়ে আল্লাহর বাণী: (অথবা শুকরের মাংস, নিশ্চয়ই তা অপবিত্র) থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন। তারা দাবি করেছিলেন যে, মহান আল্লাহর বাণী "নিশ্চয়ই তা অপবিত্র" অংশে সর্বনামটি শুকরের দিকে ফিরছে এবং তারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে এটিই নিকটবর্তী বিশেষ্য।

আপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তখন এই মাসআলার শাখা-প্রশাখা হলো: যদি কেউ কাউকে বলে: "আমার ওপর তোমার এক হাজার দিরহাম এবং তার অর্ধেক পাওনা রয়েছে", তবে আসনাভী বলেন: "কিয়াস (القياس) অনুযায়ী তার ওপর দেড় হাজার দিরহাম আবশ্যক হবে, এক হাজার এবং একটি দিরহামের অর্ধেক নয়।" অসিয়ত, ক্রয়-বিক্রয়, প্রতিনিধিত্ব, ইজারা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই বিধান। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সপ্তম নীতি

নীতি: "আনতা" সর্বনামে—পুরুষের ক্ষেত্রে 'তা' বর্ণে যবর এবং নারীর ক্ষেত্রে 'তা' বর্ণে যের সহ—উলামায়ে কিরাম মতভেদ করেছেন। ফাররা বলেছেন: "পুরো শব্দটিই সর্বনাম।" ইবনে কায়সান বলেছেন: "এর মধ্যে বিশেষ্য হলো কেবল 'তা' বর্ণটি।" কোনো কোনো পূর্বসূরী এ বিষয়ে মনে করতেন যে এটি 'আকূমু' এর আলিফ, 'নাকূমু' এর নুন এবং 'তাকূমু' এর তা বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত, যার কোনো ভিত্তি নেই। 'আল-ইরতিশাফ' এবং অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে: তবে ব্যক্তির ইচ্ছার ভিত্তিতে পুরুষের ইশারা দিয়ে নারীর দিকে ইঙ্গিত করা যায় এবং এর উল্টোটাও সম্ভব। অনুরূপভাবে সত্তা বা নামকরণের বিবেচনাতেও তা হতে পারে।

যখন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন এই নীতির শাখা হলো: যদি কেউ তার গোলামকে বলে: "আনতি" (তুমি-স্ত্রীলিঙ্গ) মুক্ত, তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ সে মুক্তির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (صريح) শব্দ উচ্চারণ করেছে, তাই তা কার্যকর হবে। এক্ষেত্রে সর্বনামের ব্যাকরণিক লিঙ্গ বিবেচ্য হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ومنها: الطلاق يقع، ولو أتى بفتح " التاء " والله أعلم.

ومنها: إذا قال للرجل "زنيتِ" بكسر التاء، وللمرأة "زنيتَ" - بفتحها - كان صريحا في القذف، جزم به في "الوجيز" وهو قول أبي بكر، وقدمه في "المقنع"، وليس بصريح في وجه آخر اختاره ابن حامد، والله أعلم.

ومنها: الشهادة، فلا بد أن يأتي فيها بلفظ المذكر للمذكر، والمؤنث للمؤنث، فلو جعل المؤنث مذكرا، أو المذكر مؤنثا لم تقبل.

 

‌‌القاعدة الثامنة

قاعدة: ضمير الغائب قد يعود على غير ملفوظ به، كالذي يفسره سياق الكلام.

من فروع المسألة: إذا قال: له علي درهم ونصفه، فإنه يلزمه درهم كامل ونصف درهم غيره، والتقدير كما قال ابن مالك: ونصف درهم آخر، إذا لو كان عائدا إلى المذكور، لكان يلزمه درهم واحد، ويكون قد أعاد النصف تأكيدا وعطفه لتغاير الألفاظ.

ومنها: إذا قال: امرأته طالق، وعنى نفسه، فيقع الطلاق، لأنه أتى بصريح الطلاق فيقع، إلا أن نقول: إنه نحو إذا قال: أنا طالق، فلا شيء عليه، وكذا أنا منك طالق، ولنا احتمال بالقوع.

والصحيح في الأول: أنه صريح، ولا يقبله قوله في هذا، ولو قبلنا قوله في هذا لأفضى إلى أن كثيرا من الناس يطلقون، ثم يقولون: أردنا هذا.

وذكر الأسنوي عن الشافعية: قولان، وقال: "حكاهما القاضي شريح الروياني عن جده. . . أبي العباس، وزاد في الروضة للشافعية فقال أرجح الوجهين الوقوع". والله أعلم.

ومنها: إذا شرط الخيار يوما ونصفه، فإن النصف يكون غير اليوم بلا نزاع. وجميع ما يرد كذا، فإن الضمير لا يعود إلى الملفوظ به، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة التاسعة

قاعدة: الضمير المرفوع للواحد المتكلم "تاء" مضمومة، وللمخاطب "تاء" مفتوحة إذا تقرر هذا فمن فروع القاعدة: إذا قال في قراءة الفاتحة: "أنعمتُ" بكسر "التاء" أو ضمها - فلا يخلو إما أن يكون هذا أماما أو منفردا، فإن كان إماما لم تصح إمامته، وإن كان يقدر على إصلاحه لم تصح صلاته، وكذا المنفرد، وإن لم يقدر صحت.

ومنها: إذا قال في البيع: "بعتَك" - بفتح التاء - فالذي يتوجه عدم الصحة، وقد ذكر بعض أصحابنا ما هو مثل هذا، فقالوا: إذا أتي في البيع بلفظ المضارع، مثل إن قال: "فَتَبِعْنِي" أو قال: أبيعُك" لم يصح، وهذا أولى، بل هو مثله، لأن "بعتَك" تحيل المعنى الذي هو دال على البيع. قال الأسنوي: "فكأنه باع نفسه إلى نفس المشتري لما قال: بعتك، والله أعلم.

ومنها: الرهن، إذا قال: رهنتَك - بفتح التاء - والذي يتوجه هنا من الرهن الصحة.

ومنها: الإجارة، والنكاح، وهما كالبيع، والذي تقدم في البيع جميعه يجري فيهما، والله أعلم.

وقد أفتى جماعة من الحنابلة المتوسطة أنه كان يعرف هذا في النكاح، فلا يصح، وإن كان لا يعرفه صح، قال الشيخ موفق الدين: "يصح لأن في الغالب لا يقوله إلا من لا يعرفه، والظاهر أنه كان لا يعرفه، فإذا عرفه وقصد هذا، مثل: إن أراد لا يعرفه ونحوه، فلا يصح، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة العاشرة

قاعدة: الظاهر قد يقع موقع الضمير في الصلة وغيرها، ومنه قول العرب:"أبو سعيد الذي رويت عن الخدري أي عنه، وقول الشاعر:

 

وأنت الذي في رحمة الله أطمع

أي في رحمته ومذهب سيبويه أن ذلك لا ينقاس، وخالف فيه بعضهم.

إذا علمت ذلك فمن فروع القاعدة: إذا كان اسمه زيد، فنودي: يازيد، فقال: غلام زيد حر، عتق عبده، لأنه قد أتى بصريح العتق، ولا يقبل منه غير هذا.

ومنها: في الطلاق إذا قيل له: يازيد، فقال: امرأة زيد طالق، طلقت امرأته إن عنى نفسه، لأنه أتى بصريح الطلاق وإن عنى غيره، فالذي ينبغي أنه لا تطلق امرأته، والصحيح عند الشافعية وقوع الطلاق، ولهم قول بعدم الوقوع، إلا أن يريد نفسه.

ومنها: إذا كان اسم زوجته هند، وامرأة أخرى اسمها هند، فقال: هند طالق، طلقت امرأته، جزم به في "الوجيز" و"المقنع"، وقال في "المقنع": "إن أراد امرأته طلقت، وإن أراد الأجنبية لم تطلق، وإن ادعاه دين فيما بينه وبين الله تعالى". وهل يقبل قوله في الحكم؟ خرج الأصحاب في روايتين.
এর মধ্যে রয়েছে: তালাক (الطلاق) কার্যকর হবে, যদিও সে ‘তা’ (تاء) বর্ণটি জবর দিয়ে উচ্চারণ করে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে কোনো পুরুষকে ‘তা’ বর্ণে জের দিয়ে ‘যানিাতি’ (زنيتِ) বলে এবং কোনো নারীকে জবর দিয়ে ‘যানিাতা’ (زنيতَ) বলে, তবে তা অপবাদের (القذف) ক্ষেত্রে স্পষ্ট (صريح) হিসেবে গণ্য হবে। আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এটি আবু বকরের অভিমত। আল-মুকনি গ্রন্থেও একে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে ইবনে হামিদ অন্য একটি মত পছন্দ করেছেন যে, এটি স্পষ্ট (صريح) নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: সাক্ষ্য প্রদান (الشهادة)। এতে পুরুষের ক্ষেত্রে পুরুষবাচক শব্দ এবং নারীর ক্ষেত্রে নারীবাচক শব্দ ব্যবহার করা আবশ্যক। সুতরাং সে যদি নারীবাচকের স্থলে পুরুষবাচক অথবা পুরুষবাচকের স্থলে নারীবাচক শব্দ ব্যবহার করে, তবে তা কবুল করা হবে না।

 

‌‌অষ্টম নীতি

নীতি (قاعدة): নামপুরুষের সর্বনাম (ضمير الغائب) কখনো কখনো এমন কিছুর দিকে ফিরে যায় যা স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়নি, বরং الكلام এর প্রাসঙ্গিকতা (سياق الكلام) যার ব্যাখ্যা প্রদান করে।

এ বিষয়ের শাখা-প্রশাখার (فروع) অন্তর্গত: যদি কেউ বলে: ‘তার নিকট আমার এক দিরহাম এবং এর অর্ধেক পাওনা আছে’, তবে তার ওপর পূর্ণ এক দিরহাম এবং অন্য একটি দিরহামের অর্ধেক আবশ্যক হবে। ইবনে মালিক যেমনটি নির্ধারণ করেছেন যে, এর প্রাক্কলিত অর্থ হবে: ‘অন্য আর এক দিরহামের অর্ধেক’। কারণ যদি এই সর্বনামটি উল্লিখিত দিরহামের দিকেই ফিরত, তবে তার ওপর কেবল এক দিরহামই আবশ্যক হতো এবং সে ক্ষেত্রে ‘অর্ধেক’ শব্দটি ভিন্নতা প্রকাশের খাতিরে তাকীদ বা নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে বলে গণ্য হতো।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা’ এবং এর দ্বারা সে নিজেকে (অর্থাৎ নিজের স্ত্রীকে) উদ্দেশ্য করে, তবে তালাক (الطلاق) কার্যকর হবে; যেহেতু সে তালাকের স্পষ্ট (صريح) শব্দ উচ্চারণ করেছে। তবে আমরা যদি বলি যে, এটি ‘আমি তালাকপ্রাপ্তা’ (أنا طالق) বলার মতো, তবে তার ওপর কিছুই বর্তাবে না। একইভাবে ‘আমি তোমা হতে তালাকপ্রাপ্তা’ (أنا منك طالق) বললেও একই হুকুম। তবে আমাদের মতে এক্ষেত্রে তালাক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো: এটি স্পষ্ট (صريح), এবং এ ব্যাপারে তার (ভিন্ন কোনো) দাবি গ্রহণ করা হবে না। আমরা যদি এ ব্যাপারে তার দাবি গ্রহণ করি, তবে তা এমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে যেখানে অনেক মানুষই তালাক প্রদান করবে এবং পরে বলবে: আমরা তো অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছিলাম।

আল-আসনাবি শাফেয়ি মাজহাবের ফকিহদের সূত্রে দুটি মত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “কাজি শুরাইহ আল-রুয়ানি এটি তার দাদা আবু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। শাফেয়িদের আর-রাওদাহ গ্রন্থে বর্ধিতভাবে বলা হয়েছে যে, দুই মতের মধ্যে তালাক কার্যকর হওয়ার বিষয়টিই অধিক শক্তিশালী (أرجح)।” আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ একদিন এবং এর অর্ধেক সময় ইখতিয়ারের (الخيار) শর্ত করে, তবে কোনো বিরোধ ছাড়াই ওই অর্ধেক সময়টি উল্লিখিত দিনটি বাদে অন্য সময় হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের যত বিষয় রয়েছে তার সব ক্ষেত্রেই সর্বনামটি উচ্চারিত শব্দের দিকে ফিরে যায় না। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌নবম নীতি

নীতি (قاعدة): উত্তম পুরুষের একবচনের মারফু সর্বনাম (الضمير المرفوع) হলো পেশযুক্ত ‘তা’ (تاء), এবং মধ্যম পুরুষের জন্য হলো জবরযুক্ত ‘তা’ (تاء)। বিষয়টি যখন সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন এই নীতির শাখা-প্রশাখা (فروع) হলো: যদি কেউ সুরা ফাতিহা পাঠ করার সময় ‘আনআমতা’ (أنعمتَ) এর ‘তা’ (تاء) বর্ণটিতে জের বা পেশ দিয়ে পাঠ করে—তবে সে হয়তো ইমাম হবে অথবা একাকী সালাত আদায়কারী হবে। সে যদি ইমাম হয় তবে তার ইমামতি সহিহ (صحيح) হবে না। আর সে যদি এটি সংশোধন করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও না করে, তবে তার সালাত সহিহ (صحيح) হবে না। একাকী সালাত আদায়কারীর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আর যদি সে সংশোধন করতে সক্ষম না হয়, তবে সালাত সহিহ (صحيح) হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘বা’তাকা’ (بعتَك) —‘তা’ (تاء) বর্ণে জবর দিয়ে— বলে, তবে সেক্ষেত্রেও সহিহ (صحيح) না হওয়ার বিষয়টিই অগ্রগণ্য। আমাদের কোনো কোনো সঙ্গী (আইনবিদ) এর অনুরূপ বিষয় উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন: যদি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালের (المضارع) ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়, যেমন কেউ যদি বলে: ‘তুমি আমার কাছে বিক্রি করো’ অথবা বলে: ‘আমি তোমার কাছে বিক্রি করছি’, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে না। এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত, বরং এটি তার অনুরূপ। কারণ ‘বা’তাকা’ (بعتَك) শব্দটি সেই অর্থকে বিকৃত করে দেয় যা বিক্রয়কে নির্দেশ করে। আল-আসনাবি বলেন: “সে যেন নিজের সত্তাকেই ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিল যখন সে বলল: আমি তোমাকে বিক্রি করলাম।” আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: বন্ধক (الرهن); যদি সে ‘রাহানতাকা’ (رهنتَك) —‘তা’ (تاء) বর্ণে জবর দিয়ে— বলে, তবে বন্ধকের ক্ষেত্রে এখানে সহিহ (صحيح) হওয়ার বিষয়টিই প্রবল।

এর মধ্যে রয়েছে: ইজারা (الإجارة) ও বিবাহ (النকাহ), যা ক্রয়-বিক্রয়ের মতোই। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পূর্বে যা যা আলোচিত হয়েছে, এখানেও তার সবকিছু প্রযোজ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

মধ্যবর্তী যুগের একদল হাম্বলি ফকিহ ফতোয়া দিয়েছেন যে, বিবাহের ক্ষেত্রে যদি সে এই ব্যাকরণগত পার্থক্য জানত তবে তা সহিহ (صحيح) হবে না, আর যদি সে না জানত তবে সহিহ (صحيح) হবে। শাইখ মুওয়াফফাকুদ্দিন বলেছেন: “সহিহ (صحيح) হবে, কারণ সাধারণত অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া কেউ এটি এভাবে বলে না। আর বাহ্যিক অবস্থা (الظاهر) হলো যে সে এটি জানত না। তবে সে যদি এটি জেনে থাকে এবং এটাই উদ্দেশ্য করে থাকে—যেমন সে বুঝাতে চেয়েছে যে সে জানে না বা এই জাতীয় কিছু—তবে তা সহিহ (صحيح) হবে না।” আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌দশম নীতি

নীতি (قاعدة): প্রকাশ্য বিশেষ্য (الظاهر) কখনো কখনো সিলাহ (الصلة) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বনামের (الضمير) স্থলাভিষিক্ত হয়। আরবদের একটি উক্তি যেমন: “আবু সাঈদ যাকে তুমি খুদরি থেকে বর্ণনা করেছ” অর্থাৎ তার থেকে। কবির উক্তি যেমন:

 

“এবং আপনিই সেই জন যার ক্ষেত্রে আল্লাহর রহমতে আমি আকাঙ্ক্ষা করি”

অর্থাৎ তাঁর রহমতে। সিবওয়াইহ-এর অভিমত হলো এটি নিয়মতান্ত্রিক (قیاسي) নয়, তবে অন্য কেউ কেউ এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

আপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তবে এই নীতির শাখা-প্রশাখা (فروع) হলো: যদি কারো নাম যায়েদ হয় এবং তাকে ‘হে যায়েদ’ বলে ডাকা হয়, আর সে বলে: ‘যায়েদের গোলাম স্বাধীন’, তবে তার দাস মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ সে দাসমুক্তির জন্য স্পষ্ট (صريح) শব্দ ব্যবহার করেছে এবং এ ছাড়া তার অন্য কোনো কথা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এর মধ্যে রয়েছে: তালাকের (الطلاق) ক্ষেত্রে, যদি তাকে বলা হয় ‘হে যায়েদ’, আর সে বলে: ‘যায়েদের স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা’, তবে তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে যদি সে নিজেকে উদ্দেশ্য করে থাকে। কারণ সে তালাকের স্পষ্ট (صريح) শব্দ উচ্চারণ করেছে। আর সে যদি অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে যুক্তিসঙ্গত হলো তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে না। কিন্তু শাফেয়িদের নিকট বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো তালাক কার্যকর হওয়া। তাদের আরেকটি মত হলো তালাক কার্যকর না হওয়া, যদি না সে নিজেকে উদ্দেশ্য করে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তার স্ত্রীর নাম হিন্দ হয় এবং অন্য এক মহিলার নামও হিন্দ হয়, এমতাবস্থায় সে বলে: ‘হিন্দ তালাকপ্রাপ্তা’, তবে তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে। আল-ওয়াজিজ ও আল-মুকনি গ্রন্থে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে। আল-মুকনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: “সে যদি তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে থাকে তবে তালাক হয়ে যাবে, আর যদি সে পর নারীকে উদ্দেশ্য করে থাকে তবে তালাক হবে না। আর যদি সে এই দাবি করে, তবে তার এবং আল্লাহর মধ্যকার আধ্যাত্মিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য হবে।” বিচারে কি তার এ কথা গ্রহণ করা হবে? এ বিষয়ে ইমামের অনুসারীগণ দুই বর্ণনার (روايتين) কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ومنها: إذا نادى امرأته، فأجابته امرأة له أخرى، فقال: أنت طالق ففيها صور. أحدها: إجراء اللفظ على ظاهره، فهل تطلقان أو المناداة وحدها؟، على روايتين. الصورة الثانية: إذا قال: علمت أنها غيرها وأردت طلاق المناداة، طلقتا معا، جزم به في "المقنع"، و "الوجيز" وأكثر أصحاب الإمام أحمد. الصورة الثالثة: إذا قال: أردت طلاق الثانية وحدها، طلقت.

ومنها: إذا لقى امرأة ظنها زوجته، فقال: فلانة أنت طالق، طلقت امرأته، جزم به أكثر أصحاب الإمام أحمد.

ومنها: إذا لقي امرأة فظنها أجنبية، فقال: أنت طالق، لم تطلق امرأته، جزم به في "الوجيز"، والله أعلم.

ومنها: إذا كان اسم امرأته "فاطمة"، فقال: "فاطمة طالق"، فإن أراد امرأته طلقت، وإن لم يرد امرأته لم تطلق، وإن ادعاه دين، وهل يقبل في الحكم؟ يخر على الروايتين، وللشافعية وجهان: أحدهما: هكذا، قال الأسنوي: "ويشبه أن يكون هو الأصح". والوجه الثاني: تطلق امرأته، والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة الحادية عشر

قاعدة: إذا اشتركت الجملة الأولى، والجملة المعطوفة عليها في اسم، جاز أن تأتي به في الثانية ظاهرا كقولك في كلمتي التشهد: "أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا رسول الله"، وضميرا كقولك: " … ورسوله".

إذا علمت هذا، فيتفرع عليه: ما إذا أتى به في التشهد في الصلاة ضميرا، فقال: "ورسوله"، فلم أر لأصحابنا فيها شيئا، وأما الأسنوي فحكى لهم فيها وجهين.

ومنها: إذا وكل إنسان آخر في شيء، ثم إن الوكيل قال للبائع: بعتَ هذا لموكلي، فقال: بعتُه، فهل يصح هذا؟ فالمتبادر إلى الفهم الصحة، وقد يقال بعدم الصحة من المسألة الأولى، وهو ما إذا قال: "بعتَك" - بفتح التاء -.

ومنها: إذا قيل له يا زيد، فقال: زيدا، عتق عبده بغير خلاف فيه، وأما في الطلاق فهي تشابه ما تقدم.

 

‌‌القاعدة الثانية عشر

قاعدة: الفصل صيغة ضمير مرفوع منفصل، يؤتى به بين المبتدأ والخبر، نحو زيد هو القائم، أو ما أصله المبتدأ والخبر نحو كان زيد هو القائم. وهو حرف عند الأكثرين، وصححه ابن عصفور، وقيل هو اسم، وعلى هذا فلا موضع له من الإعراب. وقيل محله محل ما قبله، وقيل ما بعده، وفائدته التأكيد على المشهور.

قاله أبو حيان، وقال السهيلي: الحصر.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: التعاليق والأيمان كقولك:" والله إن زيدا هو القائم، أو هو الآكل، أو هو القاعد، أو هو النائم، ونحوه، فهل يحنث بقيام غيره، وأكل غيره، وقعود غيره، ونوم غيره، وصيام غيره، إذا كان الغير هو الفاعل دونه".

 

‌‌القاعدة الثالثة عشر

قاعدة: "من" في إطلاقها على العاقل، وتقع أيضا "ما" لمختلط بمن بعقل، وذهب قطرب إلى أن "من" تقع على من لا يعقل من غير اشتراط شيء بالكلية، و"ما" لما لا يعقل، وتقع أيضا - كما قاله ابن مالك - على المختلط بالعاقل، وذهب جماعة أيضا إلى أنها تقع على من يعقل بلا شرط، وادعى ابن خروف أنه مذهب سيبويه. وتطلق أيضا "ما" على العاقل، إذا كان مبهما لا يعلم أذكر هو أم انثى إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: قول الفقهاء: من رأي هلال رمضان لزمه الصيام، مرادهم به إذا كان عاقلا مكلفا، فالمجنون وغيره لا يلزمه الصيام، وكذا من جامع لزمته الكفارة، وجميع هذا.

ومنها: إذا وقع في الدار حجر من سطح، فقال الزوج، إن لم تخبريني من رماه أنت طالق، فحكى الأسنوي أن في "فتاوى القاضي حسين"، أنها إن قالت: رماه مخلوق لم تطلق، وإن قالت: رماه آدمي طلقت، لأنه قد يكون رماه كلب أو غير آدمي.

ويرد على هذا أن "من" لمن يعقل، فكيف يسأل بصيغة "من يعقل" وتجيبه بصيغة "من لا يعقل"، ولا تطلق.

ومنها: إذا وصى له بما تحمل هذه الجارية، صح ويعطى ما تلد.

ومنها: إذا قال: غصبتك ما تعلم، ولم يعلم شيئا، حبس على تفسيره، فإن فسره بنفسه لم يقبل.

ومنها: قولهم في الحج: مستطيعه هو أن يجد مؤنته ومن يمؤنه، فإذا كان له دابة ولم يجد ما يمؤنها، لا يلزمه الحج، لكن في "المقنع" و "مؤنة عياله"، وأما إذا وجد دابة ولم يجد علفها، فما أظن أحدا يقول بوجوب الحج عليه. والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الرابعة عشر

قاعدة: صيغة "ما" في قول القائل: خذ ما شئت، يجوز أن تكون موصولة، وأن تكون مصدرية ظرفية، أن مدة مشيئتك.
এর মধ্যে রয়েছে: যখন কেউ তার স্ত্রীকে ডাকল এবং তার অন্য এক স্ত্রী উত্তর দিল, অতঃপর সে বলল: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে এর কয়েকটি অবস্থা রয়েছে। প্রথমটি: শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করা। সেক্ষেত্রে কি উভয়েই তালাকপ্রাপ্তা হবে নাকি শুধু যাকে ডাকা হয়েছিল সে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থা: সে যদি বলে: "আমি জানতাম সে অন্যজন এবং আমি যাকে ডেকেছি তাকেই তালাক দিতে চেয়েছি", তবে তারা উভয়েই তালাকপ্রাপ্তা হবে। আল-মুকনি এবং আল-ওয়াজিজ গ্রন্থদ্বয়সহ ইমাম আহমদের অধিকাংশ অনুসারী এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত প্রকাশ করেছেন। তৃতীয় অবস্থা: যদি সে বলে: "আমি কেবল দ্বিতীয়জনের তালাক চেয়েছি", তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: যখন কেউ এমন এক মহিলার সাথে সাক্ষাৎ করল যাকে সে নিজের স্ত্রী মনে করল এবং বলল: "হে অমুক, তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে। ইমাম আহমদের অধিকাংশ অনুসারী এ বিষয়ে দৃঢ় মত দিয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যখন কেউ কোনো মহিলার সাথে সাক্ষাৎ করল এবং তাকে পরনারী (أجنبية) মনে করে বলল: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে না। আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত দেওয়া হয়েছে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যখন তার স্ত্রীর নাম "ফাতিমা" হয় এবং সে বলল: "ফাতিমা তালাকপ্রাপ্তা", যদি সে তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে থাকে তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি সে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য না করে থাকে তবে তালাকপ্রাপ্তা হবে না। যদি সে ধর্মীয়ভাবে (দিয়ানাতান) এটি দাবি করে, তবে বিচারিক ক্ষেত্রে (হুকমান) কি তা গ্রহণযোগ্য হবে? এটি দুটি বর্ণনার (رواية) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। শাফিঈদের এ বিষয়ে দুটি অভিমত (وجه) রয়েছে: একটি হলো এরূপ। আল-আসনাবী বলেন: "এটিই অধিকতর সঠিক (أصح) হওয়ার সদৃশ।" দ্বিতীয় অভিমত (وجه) হলো: তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে। আল্লাহই সঠিকটি ভালো জানেন।

 

‌‌একাদশ নীতি

নীতি: যখন প্রথম বাক্য এবং তার ওপর আতফ (সংযুক্ত) করা বাক্য একটি বিশেষ্যের (ইসম) ক্ষেত্রে অংশীদার হয়, তখন দ্বিতীয় বাক্যে সেই বিশেষ্যটিকে প্রকাশ্য (ظاهر) রূপে আনা বৈধ; যেমন তাশাহহুদের দুটি বাক্যে আপনার উক্তি: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল"। আবার সর্বনাম (ضمير) রূপেও আনা বৈধ; যেমন আপনার উক্তি: "...এবং তাঁর রাসুল"।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এর থেকে শাখা মাসআলা বের হবে: যদি সালাতে তাশাহহুদের মধ্যে কেউ সর্বনাম (ضمير) ব্যবহার করে বলে: "তাঁর রাসুল", তবে এ বিষয়ে আমাদের (হাম্বলি) মাযহাবের ইমামদের থেকে আমি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাইনি। তবে আল-আসনাবী শাফিঈদের জন্য এ বিষয়ে দুটি অভিমত (وجه) উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যখন কোনো ব্যক্তি অন্যকে কোনো বিষয়ে প্রতিনিধি (وكيل) নিয়োগ করল, অতঃপর প্রতিনিধি বিক্রেতাকে বলল: "তুমি এটি আমার মুওয়াক্কিল (মক্কেল)-এর কাছে বিক্রি করেছ", আর বিক্রেতা বলল: "আমি এটি বিক্রি করেছি", তবে কি এটি সহিহ (صحيح) হবে? সাধারণ বোধগম্যতা অনুযায়ী এটি সহিহ (صحيح) হওয়া উচিত। তবে প্রথম মাসআলার নিরিখে এটি সহিহ (صحيح) না হওয়ার কথাও বলা যেতে পারে, আর তা হলো যখন সে বলে: "আমি তোমার কাছে বিক্রি করেছি" - তা-এর ওপর জবর দিয়ে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কাউকে বলা হয় "হে যায়েদ", আর সে সম্বোধনের উত্তরে বলে "যায়েদকে", তবে তার দাস কোনো মতভেদ ছাড়াই মুক্ত হয়ে যাবে। আর তালাকের ক্ষেত্রে এটি পূর্বের আলোচনার সদৃশ।

 

‌‌দ্বাদশ নীতি

নীতি: 'ফাসল' হলো মারফু মুনফাসিল (পৃথক ও কর্তৃবাচক) সর্বনামের (ضمير) একটি রূপ, যা মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবরের (বিধেয়) মাঝখানে আনা হয়; যেমন: 'যায়েদ সে-ই দণ্ডায়মান', অথবা যা মূলত মুবতাদা ও খবর ছিল তার মাঝে; যেমন: 'যায়েদ ছিল দণ্ডায়মান'। অধিকাংশের মতে এটি একটি হরফ (حرف), এবং ইবনে আসফুর একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। কেউ বলেছেন এটি একটি ইসম (اسم), আর এই মত অনুযায়ী ব্যাকরণিক অবস্থানের (ইরাব) ক্ষেত্রে এর কোনো স্থান নেই। কেউ বলেছেন এর স্থান তার পূর্ববর্তী শব্দের ন্যায়, আবার কেউ বলেছেন পরবর্তী শব্দের ন্যায়। প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী এর উপকারিতা হলো তাকিদ (দৃঢ়তা) প্রদান করা।

এটি আবু হাইয়ান বলেছেন। তবে আস-সুহাইলি বলেছেন: এটি হাসর (সীমাবদ্ধকরণ)-এর জন্য ব্যবহৃত হয়।

যখন আপনি এটি জানলেন, তবে এই নীতির শাখা মাসআলা হলো: শর্তযুক্ত করা এবং শপথের ক্ষেত্রে; যেমন আপনার উক্তি: "আল্লাহর কসম, যায়েদ সে-ই দণ্ডায়মান", অথবা "সে-ই ভক্ষণকারী", অথবা "সে-ই উপবিষ্ট", অথবা "সে-ই নিদ্রিত" এবং এই জাতীয় বাক্য। এখন সে ছাড়া অন্য কেউ দণ্ডায়মান হলে, ভক্ষণ করলে, উপবেশন করলে, নিদ্রা গেলে বা রোজা রাখলে সে কি শপথ ভঙ্গকারী (حنث) হবে, যদি সেই অন্য ব্যক্তিটিই কেবল কাজটি করে থাকে, সে নিজে নয়?

 

‌‌ত্রয়োদশ নীতি

নীতি: সাধারণত বিবেকবান (عاقل) সত্তার ক্ষেত্রে "মান" ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বিবেকবানের সাথে বিবেকহীন মিশ্রিত থাকলে "মা" ব্যবহৃত হয়। কুতরুবের মতে, "মান" শব্দটি বিবেকহীন সত্তার ক্ষেত্রেও কোনো শর্ত ছাড়াই ব্যবহৃত হতে পারে। আর "মা" বিবেকহীন সত্তার জন্য; তবে ইবনে মালিক যেমনটি বলেছেন—বিবেকবানের সাথে মিশ্রিত থাকলেও এটি ব্যবহৃত হয়। একদল আলিম এও মনে করেন যে এটি কোনো শর্ত ছাড়াই বিবেকবানের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এবং ইবনে খারুফ দাবি করেছেন যে এটিই সিবওয়াইহ-এর মাযহাব। এছাড়া বিবেকবানের ক্ষেত্রেও "মা" ব্যবহৃত হয় যখন সে অস্পষ্ট থাকে যে সে পুরুষ নাকি নারী। যখন আপনি এটি জানলেন, তবে এই নীতির শাখা মাসআলা হলো: ফকিহগণের উক্তি: "যে ব্যক্তি (মান) রমজানের চাঁদ দেখবে তার ওপর রোজা রাখা আবশ্যক।" এখানে তাদের উদ্দেশ্য হলো যখন সে বিবেকবান (عاقল) ও শরয়ি বিধানের দায়বদ্ধ (مكلف) হবে। সুতরাং পাগল ও অন্যদের ওপর রোজা আবশ্যক নয়। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি সহবাস করবে তার ওপর কাফফারা (كفارة) আবশ্যক হবে এবং এই জাতীয় সকল বিষয়।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি ছাদ থেকে ঘরে একটি পাথর পড়ে, আর স্বামী বলে: "যদি তুমি আমাকে না জানাও যে কে (মান) এটি নিক্ষেপ করেছে, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা।" আল-আসনাবী বর্ণনা করেছেন যে কাজী হুসাইনের ফাতাওয়া-য় রয়েছে: স্ত্রী যদি বলে "কোনো মাখলুক (সৃষ্টি) এটি নিক্ষেপ করেছে", তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে না। আর যদি বলে "কোনো মানুষ এটি নিক্ষেপ করেছে", তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে। কারণ এটি কোনো কুকুর বা মানুষ ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণীও নিক্ষেপ করতে পারে।

এর ওপর আপত্তি আসতে পারে যে, "মান" তো বিবেকবানের (عاقل) জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে কেন "বিবেকবান" নির্দেশক শব্দের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হলো অথচ সে "বিবেকহীন" নির্দেশক শব্দের মাধ্যমে উত্তর দেওয়া সত্ত্বেও তালাক হবে না?

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ এই দাসী যা গর্ভধারণ করবে তার জন্য অসিয়ত (وصية) করে, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে এবং সে যা প্রসব করবে তা অসিয়তকৃত ব্যক্তিকে দেওয়া হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: "আমি তোমার সেই জিনিস আত্মসাৎ করেছি যা (মা) তুমি জানো", অথচ সে কিছুই জানে না, তবে তার ব্যাখ্যার অপেক্ষায় তাকে কারারুদ্ধ রাখা হবে। সে যদি নিজে থেকে এর ব্যাখ্যা প্রদান করে তবে তা গ্রহণ করা হবে না।

এর মধ্যে রয়েছে: হজের ক্ষেত্রে ফকিহদের বক্তব্য: সামর্থ্যবান (مستطيع) সেই ব্যক্তি যে নিজের পাথেয় এবং যার ভরণপোষণ সে দেয় তার খরচ বহনে সক্ষম। সুতরাং যদি তার কাছে বাহন থাকে কিন্তু তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা না থাকে, তবে তার ওপর হজ আবশ্যক হবে না। তবে আল-মুকনি গ্রন্থে রয়েছে: "এবং তার পরিবারের ভরণপোষণ"। আর যদি সে বাহন পায় কিন্তু তার পশুর খাদ্যের ব্যবস্থা না থাকে, তবে আমি মনে করি না যে কেউ তার ওপর হজ ওয়াজিব (واجب) হওয়ার কথা বলবেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌চতুর্দশ নীতি

নীতি: কোনো ব্যক্তির উক্তি: "তুমি যা (মা) চাও গ্রহণ করো"—এখানে "মা" শব্দটি মৌসুল (موصول) হতে পারে, আবার মাসদারিয়া যারফিয়া (مصدرية ظرفية) হতে পারে, অর্থাৎ তোমার চাওয়ার সময়কাল পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
إذا علمت هذا، فمن فروع المسألة: إذا قال لامرأته: أنت طالق ما شئت، فإن كان مراده القدر الذي تشاء فيرجع فيه إلى العدد الذي تشاء، وإن كانت مصدرية طلقت عند مشيئتها له طلقة واحدة.

ومنها: إذا قال: أنت طالق ما شاء الله، فالذي ينبغي هنا الطلاق، ولم أر الأصحاب ذكروها، لكن في كلامهم ما يشبهها، وهي إذا قال: أنت طالق ما لم يشأ الله، تطلق، والله أعلم.

ومنها: إذا كان له عنده وديعة، أو كتاب أو مال، وحلفه خصمه فحلف هكذا، فقال" ما لك عندي وديعة، أو ما لك عندي كتاب، أو مالك عندي مال، لم يحنث ذكره في "المقنع" وغيره، هذا إذا كان مظلوما، وأما الظالم فلا ينفعه تأويله، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الخامسة عشر

قاعدة: "من" تكون للمعلوم، و"ما" تكون للمجهول في الغالب منها: إذا قال: بعتك ما في بطن هذه الأمة لم يصح، لأنه مجهول.

ومنها: إذا قال: بعتك من الصبرة كل قفيز بدرهم لم يصح، ذكره الأصحاب.

ومنها: إذا قال: ما زرعت من شعير فكل نصفه، وما زرعت من حنطة فكل ربعه، ولم يصح وعلله بأنه مجهول.

ومنها: إذا قال: من زرع كذا فله كذا، ومن زرع كذا فله كذا فهل يصح أم لا؟ في المسألة وجهان.

 

‌‌القاعدة السادسة عشر

قاعدة: "ما" النافية إذا دخلت عليها "إن" صيرتها إثباتية، تقول في النافية: ما أنت حيوان، وإذا دخلت عليها "إن" تقول إنما أنت حيوان.

إذا تقرر هذا فمن فروع القاعدة: إذا اختلف المتبايعان في قدر الثمن، حلف كل واحد منهما أيمانا تجمع إثباتا ونفيا، يقول البائع: ما بعته بكذا، وإنما بعته بكذا، ويحلف المشتري: ما اشتريته بكذا، وإنما اشتريته بكذا.

ومنها: في العتق، إذا قال له: ما أنت حر، لم يعتق بغير خلاف فيه، وإذا قال: إنما أنت حر عتق، وكذا في الطلاق، إذا قال: ما أنت طالق لم تطلق، فإذا قال: إنما أنت طالق طلقت.

ومنها: في القذف، إذا قال: ما زنيت، لم يكن قذفا، إلا أن يكون في خصومة، فهل يكون صريحا أو كناية؟ في المسألة وجهان. وإن قال: ما زنت أمي، فجزم ابن مفلح في "أصوله" أنه صريح في القذف، وإن قال: إنما زنيت، فهو صريح في القذف قد يحد به، والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة السابعة عشر

قاعدة: إذا احتمل كون "أل للعهد وكونها لغيره كالعموم، أو الجنس، فإنا نحملها على المعهود، لأنه تقدمه قرينة مرشدة إليه".

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: الطهارة لها معان، وإذا أطلقت إنما تنصرف إلى الطهارة المعهودة وهو الوضوء والغسل، لا إلى غيره، كما قال الشيخ شمس الدين بن أبي عمر: "الطهارة إذا أطلقت إنما تنصرف إلى الموضوع الشرعي، وكذا كل ما له معنى في الشرع واللغة إنما ينصرف إلى الموضوع الشرعي دون غيره، كالصلاة، والزكاة، والصيام، والحج، والاعتكاف ونحوه، وكالبيع، والنكاح، وسائر ما له معان" والله أعلم.

ومنها: إذا وصى له بدابة من دوابه، فالدابة اسم لك ما دب على الأرض، ولكن المعهود أنها إنما تطلق على الخيل والبغال والحمير، فيعطى من الخيل والبغال والحمير، جزم به في "المقنع" وغيره.

ومنها: إذا أوصى له بشاة أو بعير وثور، فالشاة في الحقيقة اسم للذكر والأنثى، والبعير والثور اسم للذكر والأنثى، وفي العهد اسم للشاة الأنثى، والبعير والثور للذكر، فهل يغلب العهد والحقيقة، فالذي جزم به في "الوجيز" وقدمه في "المقنع" تغليب العهد، واختار الأصحاب تغليب الحقيقة.

ومنها: إذا قال: الطلاق يلزمني، قال ابن رجب: "يراد به طلاق الجنس واستغراق الجنس" كما سيأتي في القاعدة التي بعدها.

ومنها: إذا وصى له بقوس، وله أقواس، فإنه يعطى قوس النشاب، لأنه المعهود، وهو أظهر القسي، جزم به الأصحاب والله أعلم.

ومنها: إذا حلف لا يدخل الدار، أو دار فلان فدخلها، فصارت فضاء، أو حماما، أو مسجدا، أو بستانا، أو باعها فلان، حنث، جزم به في "الوجيز"، وقدمه في "المقنع"، وكذا ما لو حلف لا يلبس القميص، فجعل سروالا أو عمامة، ونحو هذا.

ومنها: إذا حلف لا يأكل اللحم، فأكل الشحم، أو الكرش، أوالمخ، أو الكبد، أو الطحال، أو المصران ونحوه لم يحنث، جزم به في "المقنع" و "الوجيز" وأكثر الأصحاب، وكذا لو أكل المرق، جزم به في "الوجيز"، ونقل عن أحمد: "لا يعجبني". قال أبو الخطاب: "هذا على سبيل الورع".
আপনি যদি এটি জানেন তবে মাসআলার শাখাসমূহ (فروع المسألة) থেকে: যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যেভাবে তুমি চাও", যদি তার উদ্দেশ্য হয় সেই পরিমাণ যা সে ইচ্ছা করে, তবে তা সেই সংখ্যার দিকে ফিরে যাবে যা সে ইচ্ছা করে। আর যদি তা মাসদারিয়াহ (ক্রিয়ামূলীয়) হয়, তবে তার ইচ্ছার সময় এক তালাক পতিত হবে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি সে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা আল্লাহ যা চান", তবে এখানে তালাক হওয়াই সমীচীন। আমি ফকিহদের এ বিষয়ে উল্লেখ করতে দেখিনি, তবে তাদের কথার মাঝে এর সাদৃশ্য রয়েছে। আর তা হলো যখন সে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি না আল্লাহ চান", তবে তালাক হয়ে যাবে। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই ভালো জানেন)।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি তার নিকট কোনো আমানত (وديعة), বা কোনো কিতাব বা সম্পদ থাকে এবং তার প্রতিপক্ষ তাকে কসম দেয়, আর সে এভাবে কসম করে যে, "তোমার কোনো আমানত (وديعة) আমার নিকট নেই, অথবা তোমার কোনো কিতাব বা তোমার কোনো সম্পদ আমার নিকট নেই", তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না—একথা আল-মুকনি এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি তখন প্রযোজ্য যখন সে মজলুম হয়, কিন্তু জালেমের ক্ষেত্রে তার ব্যাখ্যা (تأويل) কোনো উপকারে আসবে না। আল্লাহু আলাম।

 

‌‌পঞ্চদশ নীতিমালা

নীতিমালা: "মান" সাধারণত পরিচিতর (المعلوم) জন্য এবং "মা" সাধারণত অজানা (المجهول) বিষয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "এই দাসীর গর্ভে যা আছে তা আমি তোমার কাছে বিক্রয় করলাম", তবে তা শুদ্ধ হবে না; কারণ তা অজানা (مجهول)।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি সে বলে: "আমি তোমার নিকট শস্যের স্তূপ থেকে প্রতি কাফিজ এক দিরহামে বিক্রয় করলাম", তবে তা শুদ্ধ হবে না—একথা ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি সে বলে: "তুমি যে পরিমাণ বার্লি চাষ করেছ তার অর্ধেক খাও, এবং যে পরিমাণ গম চাষ করেছ তার এক-চতুর্থাংশ খাও", তবে তা শুদ্ধ হবে না এবং এর কারণ দর্শানো হয়েছে যে এটি অজানা (مجهول)।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি সে বলে: "যে ব্যক্তি এমন কিছু চাষ করবে সে এমন কিছু পাবে, এবং যে ব্যক্তি এমন কিছু চাষ করবে সে এমন কিছু পাবে", তবে এটি শুদ্ধ হবে কি না? এ মাসআলায় দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।

 

‌‌ষোড়শ নীতিমালা

নীতিমালা: না-বোধক (النافية) "মা" এর ওপর যদি "ইন" প্রবেশ করে, তবে তা হ্যাঁ-বোধক বা সাব্যস্তকারী (إثباتية) অর্থ প্রদান করে। আপনি না-বোধক বাক্যে বলেন: "মা আনতা হাইওয়ান" (তুমি প্রাণী নও), কিন্তু যখন এর ওপর "ইন" প্রবেশ করে তখন আপনি বলেন: "ইন্নামা আনতা হাইওয়ান" (নিশ্চয়ই তুমি একজন প্রাণী)।

এটি সাব্যস্ত হওয়ার পর এই নীতিমালার শাখাসমূহ থেকে: যদি ক্রেতা-বিক্রেতা মূল্যের পরিমাণের ব্যাপারে মতভেদ করে, তবে তাদের প্রত্যেকেই শপথ করবে যা স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতি উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে। বিক্রেতা বলবে: "আমি এত দামে বিক্রি করিনি, বরং (ইন্নামা) আমি এত দামে বিক্রি করেছি।" আর ক্রেতা শপথ করবে: "আমি এত দামে ক্রয় করিনি, বরং আমি এত দামে ক্রয় করেছি।"

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: দাসমুক্তির ক্ষেত্রে; যদি সে তাকে বলে: "তুমি মুক্ত নও", তবে কোনো মতভেদ ছাড়াই সে মুক্ত হবে না। আর যদি সে বলে: "নিশ্চয়ই তুমি মুক্ত", তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে। তালাকের ক্ষেত্রেও একইরূপ; যদি সে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা নও", তবে তালাক হবে না। আর যদি সে বলে: "নিশ্চয়ই তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে তালাক হয়ে যাবে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: অপবাদের (কযফ) ক্ষেত্রে; যদি সে বলে: "তুমি জিনা করোনি", তবে তা অপবাদ হবে না, যদি না তা বিবাদ চলাকালীন সময়ে হয়। এমতাবস্থায় তা কি সুষ্পষ্ট (صريح) হবে নাকি পরোক্ষ (كناية)? এ মাসআলায় দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে। আর যদি সে বলে: "আমার মা জিনা করেনি", তবে ইবনে মুফলিহ তার উসুল গ্রন্থে দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে এটি অপবাদের ক্ষেত্রে সুষ্পষ্ট (صريح)। আর যদি সে বলে: "নিশ্চয়ই তুমি জিনা করেছ", তবে এটি অপবাদের ক্ষেত্রে সুষ্পষ্ট (صريح) যার কারণে তার ওপর দণ্ড প্রয়োগ করা যেতে পারে। আল্লাহই সঠিকটি ভালো জানেন।

 

‌‌সপ্তদশ নীতিমালা

নীতিমালা: যখন আলিফ-লাম (أل) দ্বারা পূর্ব-পরিচিত বা নির্দিষ্ট (العهد) হওয়া এবং অন্য কিছু যেমন ব্যাপকতা (العموم) বা শ্রেণীগত (الجنس) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন আমরা তাকে পূর্ব-পরিচিত বা নির্দিষ্ট (المعهود) অর্থের ওপর প্রয়োগ করব। কারণ এটি তার দিকে পথপ্রদর্শনকারী পূর্ব-প্রাসঙ্গিকতার সাথে রয়েছে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তবে এই নীতিমালার শাখাসমূহ থেকে: পবিত্রতা (তাহারাৎ) শব্দের অনেক অর্থ রয়েছে। যখন এটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি কেবল নির্দিষ্ট (المعهود) পবিত্রতার দিকেই ধাবিত হয় আর তা হলো ওজু ও গোসল; অন্য কিছুর দিকে নয়। যেমনটি শাইখ শামসুদ্দিন ইবনে আবি উমর বলেছেন: "পবিত্রতা (তাহারাৎ) যখন সাধারণভাবে বলা হয়, তখন এটি শরয়ি পরিভাষার দিকেই ধাবিত হয়। অনুরূপভাবে শরয়ি ও আভিধানিক উভয় অর্থ রয়েছে এমন প্রতিটি শব্দই অন্য কোনো অর্থের দিকে না গিয়ে কেবল শরয়ি পরিভাষার দিকেই ধাবিত হবে; যেমন: সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, ইতিকাফ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। অনুরূপভাবে ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং অন্যান্য অর্থবহ শব্দসমূহের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।" আল্লাহু আলাম।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ তার পশুগুলোর মধ্য থেকে একটি পশুর (দাব্বাহ) অসিয়ত করে; দাব্বাহ হলো জমিনে বিচরণকারী সবকিছুর নাম। কিন্তু নির্দিষ্ট ও পরিচিত (المعهود) অর্থ অনুযায়ী এটি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তাকে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার মধ্য থেকেই প্রদান করা হবে। আল-মুকনি এবং অন্যান্য গ্রন্থে এই বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ তার জন্য একটি ছাগল, উট বা বলদের অসিয়ত করে; ছাগল (শাহ) মূলত পুরুষ ও স্ত্রী উভয় জাতির নাম। উট এবং বলদও পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের নাম। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রথাগত (العهد) ব্যবহারে ছাগল বলতে স্ত্রী এবং উট ও বলদ বলতে পুরুষকে বোঝায়। এমতাবস্থায় প্রথাগত অর্থ (العهد) কি আভিধানিক মূল (الحقيقة) অর্থের ওপর প্রাধান্য পাবে? আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে যে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং আল-মুকনি গ্রন্থে যেটিকে অগ্রগণ্য বলা হয়েছে তা হলো প্রথাগত অর্থকে (العهد) প্রাধান্য দেওয়া। তবে ফকিহগণ আভিধানিক মূল (الحقيقة) অর্থকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষ অবলম্বন করেছেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ বলে: "তালাক আমার জন্য অবধারিত", ইবনে রজব বলেছেন: "এটি দ্বারা তালাকের শ্রেণী (الجنس) এবং সেই শ্রেণীর সামগ্রিকতাকে (استغراق الجنس) বোঝানো হয়েছে", যেমনটি পরবর্তী নীতিমালায় আসবে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ ধনুকের অসিয়ত করে এবং তার অনেক ধনুক থাকে, তবে তাকে তীর নিক্ষেপক ধনুক (নুশশাব) দেওয়া হবে। কারণ এটিই সুপরিচিত (المعهود) এবং এটিই ধনুকসমূহের মাঝে সুষ্পষ্ট। ফকিহগণ এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, আল্লাহু আলাম।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ শপথ করে যে সে এই বাড়িতে বা অমুকের বাড়িতে প্রবেশ করবে না, অতঃপর সে সেখানে প্রবেশ করল—এমতাবস্থায় সেটি খালি জায়গা, অথবা গোসলখানা, অথবা মসজিদ, অথবা বাগান হয়ে গেছে, অথবা অমুক ব্যক্তি তা বিক্রি করে দিয়েছে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং আল-মুকনি গ্রন্থে একে অগ্রগণ্য বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে যদি সে শপথ করে যে সে জামা পরিধান করবে না, অতঃপর সেটিকে পায়জামা বা পাগড়ি বানিয়ে পরিধান করে, তবে বিধান একইরূপ।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ গোশত না খাওয়ার শপথ করে, অতঃপর সে চর্বি, ওজরি, মগজ, কলিজা, প্লীহা অথবা অন্ত্র ইত্যাদি ভক্ষণ করে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। আল-মুকনি, আল-ওয়াজিজ এবং অধিকাংশ ফকিহগণ এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। অনুরূপভাবে যদি সে ঝোল পান করে, তবে আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে তাকে শপথ ভঙ্গকারী না হওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "এটি আমার কাছে পছন্দনীয় নয়।" আবু আল-খাত্তাব বলেছেন: "এটি পরহেজগারির খাতিরে বলা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ومنها: إذا حلف لا يأكل اللبن، فأكل الزبد، أو السمن، أو الجبن، أو المصل، لم يحنث، جزم به الأصحاب.

ومنها: إذا حلف لا يشرب الماء، حنث بالماء المعهود. ولم يحنث بماء الورد، وماء الاهتباد، وماء الحمص، وماء الباقلاء ونحوه. وإ وإذا شرب ماء البحر المالح حنث، وحكي عن الشافعية قولان.

ومنها: إذا حلف لا يأكل الجوز، فأكل جوز الهند لم يحنث.

ومنها: إذا حلف لا يأكل البطيخ، حنث بأكل الأخضر والأصفر، وحكى الأسنوي أنه لا يحنث عندهم، وهو مشكل.

ومنها: إذا حلف لا يشم الريحان، فشم الورد، أو البنفسج، أو الياسمين، أو لا يشمهما فشم دهنهما أو ماءهما، لم يحنث، جزم به في "الوجيز" وقدمه في "المقنع"، وقال بعض أصحابنا: يحنث، والله أعلم.

ومنها: إذا حلف لا يأكل لحما فأكل سمكا حنث، جزم به في "الوجيز" واختاره الخرقي، وقدمه في "المقنع"، واختار ابن أبي موسى عدم الحنث.

ومنها: إذا حلف لا يأكل الرأس والبيض، حنث بأكل الرؤوس المعهودة، وهو الرأس يؤكل منفردا، والبيض المعهود لا يؤكل بائضه حال الحياة، ذكره أبو الخطاب، وجزم في "الوجيز" وقدمه في " المقنع"، واختار القاضي يحنث بأكل رؤوس الطير والسمك وبيض السمك والجراد.

ومنها: إذا حلف لا يركب، فركب سفينة لم يحنث، وجزم في "الوجيز" وقدمه في "المقنع" الحنث.

ومنها: إذا حلف لا أكلت السويق فشربه، أو لا شربته فأكله، لم يحنث في ظاهر نص أحمد، لأنه قال فيمن حلف لا يشرب النبيذ فثرد فيه وأكله: لا يحنث، وقال الخرقي: "يحنث". وخرج الأصحاب من كلام أحمد في كل ما كان مأكولا، فحلف لا يأكله، فشربه أو عكسه وجهين.

وقال القاضي: إن عين المحلوف عليه حنث، وإلا فلا. وأكثر ثمار الأيمان يدخل في هذه القاعدة، لأن كل ما كان في "أل" وكان فيه معهود وعام يدخل فيها، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الثامنة عشر

قاعدة: الاسم المحلى ب "أل" التي ليست للعهد تفيد أي "أل" العموم مفردا كان أو جمعا، والمضاف كالمحلى ب "أل" فيما ذكرناه في إفادة العموم والجمع بطريق أولى. والكلام الآن في المفرد والجمع المضافين أو المعرفين ب "أل" تفيده العموم.

إذا عرف ذلك، فيتفرع على القاعدة مسائل: منها: بطلان بيع الغرر بقولك: "نهي عن بيع الغرر"، فدخل فيه جميع ما فيه غرر، من بيع الحمل في البطن، والصوف على الظهر، واللبن في الضرع، والمسك في الفار، والنوى في التمر.

ومنها: تحريم بيع اللحم بالحيوان بقولك: "نهى عن بيع اللحم بالحيوان"، فدخل فيه كل لحم بكل حيوان، سواء كان الحيوان يؤكل أو لا، وبيع اللحم بجنسه من الحيوان الحرام، جزم به الأصحاب. وفي بيعه بغير جنسه وجهان.

ومنها: إذا قالت المرأة: أذنت للحاكم أن يزوجني، وكان في البلد حكام، فعهد لكل واحد أن يزوجها، لم أر لأصحابنا في هذه المسألة كلاما، وأما الشافعية فذكر ابن الصلاح في فتاويه جوازه، والله أعلم.

ومنها: إذا أوصى زيد بثلث ماله، فهل يكون للجميع؟.

مقتضى كلام أصحابنا أنه لجميعهم، إلا أن يوصي لبنيه فيكون للذكور، وعند الشافعية أيضا هو لجميعهم، ذكره الروياني في "البحر" ومنها: إذا قال: والله لأشربن ماء الكوز أو الإداوة، أو البئر، لم يبرأ حتى يشرب جميعه.

وإن قال: لا شربته، فقال الشافعية: لا يحنث بشرب بعضه، ولم أر لأصحابنا فيه شيئا.

ومنها: إذا حلف لا يأكل الخبز الذي في البيت، لم يحنث حتى يأكل الجميع. إن حلف: والله لأكلن الخبز الذي في البيت، لم يبرأ حتى يأكل جميعه. والله أعلم.

ومنها: إذا قال الإمام للقاضي: وليتك الحكم، فكانت ولايته عامة في جميع الأشياء.

ومنها: ما ذكره الأسنوي: إذا قال لثلاث نسوة: من تخبرني منكن بعدد ركعات الصلاة المفروضة في اليوم والليلة، فهي طالق. فقالت واحدة: سبعة عشر ركعة، وقالت الثانية: خمسة عشر، وقالت الثالثة: إحدى عشر، لم تطلق واحدة منهن، فالأول معروف، والثاني يوم الجمعة، والثالث في السفر.

نقله الأسنوي عن الرافعي، والرافعي عن القاضي حسين. قال الأسنوي:"وهو كلام غير محرر"، وهو كما قال، لأنه عام، لأن القاعدة للعموم، فعم السفر والحضر وغير ذلك، فتخصيصه بالسفر مشكل، وقد حرره الأسنوي في كتابه فعاوده.
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ কসম করে যে সে দুধ খাবে না, অতঃপর সে মাখন, ঘি, পনির বা ঘোল খায়, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে না; আমাদের মাযহাবের বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে সে পানি পান করবে না, তবে প্রচলিত পানি পান করলে তার কসম ভঙ্গ হবে। কিন্তু গোলাপ জল, ভেষজ নির্যাসিত পানি, ছোলার পানি, শিমের পানি বা অনুরূপ কোনো পানি পান করলে কসম ভঙ্গ হবে না। আর যদি সে লোনা সমুদ্রের পানি পান করে তবে কসম ভঙ্গ হবে; এ বিষয়ে শাফেয়িগণের পক্ষ থেকে দুটি মত বর্ণিত হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে সে আখরোট খাবে না, অতঃপর সে নারিকেল খায়, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে না।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে সে তরমুজ খাবে না, তবে সবুজ বা হলুদ উভয় প্রকারের তরমুজ খেলেই কসম ভঙ্গ হবে। আল-আসনাবি বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মতে কসম ভঙ্গ হবে না, তবে এই মতটি জটিল ও প্রশ্নবিদ্ধ।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে সে রায়হান (সুগন্ধি উদ্ভিদ) শুকবে না, অতঃপর সে গোলাপ, ভায়োলেট বা জুঁই ফুল শুকল, অথবা সে যদি কসম করে যে সে ওই দুটি শুকবে না কিন্তু সেগুলোর তেল বা সুগন্ধি পানি শুকল, তবে কসম ভঙ্গ হবে না; "আল-ওয়াজিজ" গ্রন্থে এ বিষয়ে নিশ্চিত মত দেওয়া হয়েছে এবং "আল-মুকনি" গ্রন্থে একে অগ্রগণ্য বলা হয়েছে। তবে আমাদের কিছু আসহাব বলেছেন: কসম ভঙ্গ হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে সে মাংস খাবে না, অতঃপর সে মাছ খেল, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে; "আল-ওয়াজিজ" গ্রন্থে এ বিষয়ে নিশ্চিত মত দেওয়া হয়েছে এবং আল-খিরাকি একেই গ্রহণ করেছেন, আর "আল-মুকনি" গ্রন্থে একেই অগ্রগণ্য রাখা হয়েছে। তবে ইবনে আবি মুসা কসম ভঙ্গ না হওয়ার মতটি গ্রহণ করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে সে মাথা এবং ডিম খাবে না, তবে সচরাচর যে প্রাণীর মাথা আলাদাভাবে খাওয়া হয় তা খেলে এবং যে প্রাণীর ডিম সাধারণ ডিম হিসেবে পরিচিত (যা জীবিত অবস্থায় ওই প্রাণী থেকে পাওয়া যায়) তা খেলে কসম ভঙ্গ হবে। আবু আল-খাত্তাব এটি উল্লেখ করেছেন এবং "আল-ওয়াজিজ" গ্রন্থে এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত দেওয়া হয়েছে এবং "আল-মুকনি" গ্রন্থে একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। তবে আল-কাজি এই মত গ্রহণ করেছেন যে, পাখির মাথা, মাছের মাথা, মাছের ডিম এবং পঙ্গপালের ডিম খেলেও কসম ভঙ্গ হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে সে আরোহণ করবে না, অতঃপর সে নৌকায় আরোহণ করল, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে না; "আল-ওয়াজিজ" গ্রন্থে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে "আল-মুকনি" গ্রন্থে কসম ভঙ্গ হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে 'আমি ছাতু খাব না', অতঃপর সে তা পান করল, অথবা কসম করল যে 'পান করব না', অতঃপর তা খেল, তবে ইমাম আহমদের সুস্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী তার কসম ভঙ্গ হবে না। কারণ তিনি ওই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে কসম করেছে সে নবীজ (এক প্রকার পানীয়) পান করবে না, অতঃপর তাতে রুটি ভিজিয়ে খেল: তার কসম ভঙ্গ হবে না। তবে আল-খিরাকি বলেছেন: "কসম ভঙ্গ হবে"। ইমাম আহমদের বক্তব্য থেকে আমাদের আসহাবগণ প্রতিটি খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে—যা খাওয়ার কসম করে পান করা হয়েছে অথবা উল্টোটা করা হয়েছে—দুটি ভিন্ন মত বের করেছেন।

আল-কাজি বলেছেন: যদি কসমের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে তবে কসম ভঙ্গ হবে, অন্যথায় নয়। কসমের অধিকাংশ ফলাফল এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, কারণ 'আলিফ লাম' (ال) যুক্ত যে সকল শব্দে প্রচলিত বিশেষ অর্থ বা সাধারণ অর্থ বিদ্যমান, তা এর আওতাভুক্ত হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌অষ্টাদশ মূলনীতি

মূলনীতি: যে বিশেষ্য 'আলিফ লাম' (ال) দ্বারা সংজ্ঞায়িত এবং যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে বোঝানোর জন্য (লি-ল আহদ) আসেনি, তা সাধারণ অর্থ (العموم) প্রকাশ করে; চাই সেটি একবচন হোক বা বহুবচন। আমরা সাধারণ অর্থ (العموم) প্রকাশের ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করেছি, তাতে সম্বন্ধযুক্ত (মুদাফ) শব্দটিও 'আলিফ লাম' যুক্ত শব্দের মতো, বরং বহুবচনের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে একবচন এবং বহুবচন শব্দ নিয়ে যা সম্বন্ধযুক্ত অথবা 'আলিফ লাম' দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়ে সাধারণ অর্থ (العموم) প্রদান করে।

এটি জানা থাকলে, এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু মাসআলা উদ্ভূত হয়: এর মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তাপূর্ণ (الغرر) ক্রয়-বিক্রয় বাতিল হওয়া। যেমন এই বাণীর কারণে: "অনিশ্চয়তাপূর্ণ (الغرر) ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে"। ফলে এর মধ্যে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান এমন সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যেমন পেটের বাচ্চা বিক্রি করা, পশুর পিঠের পশম বিক্রি করা, ওলানের দুধ বিক্রি করা, কস্তুরী মৃগর নাভির কস্তুরী বিক্রি করা এবং খেজুরের আঁটি বিক্রি করা।

এর মধ্যে রয়েছে: প্রাণীর বিনিময়ে মাংস ক্রয়-বিক্রয় হারাম হওয়া। যেমন এই বাণীর কারণে: "প্রাণীর বিনিময়ে মাংস বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে"। ফলে এর মধ্যে যে কোনো প্রাণীর বিনিময়ে যে কোনো মাংস অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়; চাই সেই প্রাণী ভক্ষণযোগ্য হোক বা না হোক। আর হারাম প্রাণীর মাংসের বিনিময়ে সমজাতীয় মাংস বিক্রি করার ক্ষেত্রে আমাদের আসহাবগণ এটি নিশ্চিত করেছেন। তবে ভিন্ন জাতীয় মাংসের ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কোনো নারী বলে: "আমি বিচারককে (হাকিম) আমাকে বিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিলাম", আর সেই শহরে একাধিক বিচারক থাকেন, তবে তাদের প্রত্যেকেরই তাকে বিয়ে দেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত হবে। আমাদের আসহাবগণের এই মাসআলায় কোনো বক্তব্য আমি দেখিনি, তবে শাফেয়িগণের মধ্যে ইবনে আস-সালাহ তার ফতোয়া গ্রন্থে এটি জায়েজ বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি জায়েদ তার মালের এক-তৃতীয়াংশ অসিয়ত করে, তবে কি তা সকলের জন্য হবে?

আমাদের আসহাবগণের বক্তব্যের দাবি হলো এটি তাদের সকলের জন্য হবে, যদি না সে তার পুত্রদের জন্য অসিয়ত করে, তবে তা কেবল পুত্রদের জন্য হবে। শাফেয়িগণের মতেও এটি তাদের সকলের জন্য হবে; রুইয়ানি এটি "আল-বাহর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এই কুঁজো বা মশক বা কুয়োর পানি পান করব", তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার পুরোটা পান না করবে, ততক্ষণ সে কসম থেকে মুক্ত হবে না।

আর যদি সে বলে: "আমি তা পান করব না", তবে শাফেয়িগণ বলেছেন: তার কিছু অংশ পান করলেই কসম ভঙ্গ হবে না। এ বিষয়ে আমাদের আসহাবগণের কোনো বক্তব্য আমি পাইনি।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে সে ঘরের রুটি খাবে না, তবে পুরোটা না খাওয়া পর্যন্ত তার কসম ভঙ্গ হবে না। আর যদি কসম করে: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই ঘরের রুটি খাব", তবে পুরোটা না খাওয়া পর্যন্ত সে কসম মুক্ত হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি ইমাম বিচারককে বলেন: "আমি তোমাকে বিচারের দায়িত্ব প্রদান করলাম", তবে তার এই দায়িত্ব সকল বিষয়ে সাধারণ (আম) হিসেবে গণ্য হবে।

এর মধ্যে রয়েছে যা আল-আসনাবি উল্লেখ করেছেন: যদি কেউ তিন নারীকে বলে: "তোমাদের মধ্যে যে আমাকে দিন ও রাতের ফরজ নামাজের রাকাত সংখ্যা বলবে, সে তালাক"। তখন একজন বলল: সতেরো রাকাত, দ্বিতীয় জন বলল: পনেরো রাকাত এবং তৃতীয় জন বলল: এগারো রাকাত; তবে তাদের কেউই তালাক হবে না। কারণ প্রথমটি স্বাভাবিক অবস্থার জন্য পরিচিত, দ্বিতীয়টি জুমার দিনের জন্য এবং তৃতীয়টি সফরের অবস্থার জন্য।

আল-আসনাবি এটি আল-রাফেয়ি থেকে এবং আল-রাফেয়ি আল-কাজি হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-আসনাবি বলেছেন: "এটি একটি অপরিশোধিত বা অস্পষ্ট বক্তব্য"। বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন, কারণ এটি সাধারণ; যেহেতু মূলনীতিটি সাধারণ অর্থ (العموم) প্রকাশের জন্য, তাই এটি সফর, মুকিম এবং অন্যান্য সকল অবস্থাকেই শামিল করে। সুতরাং একে সফরের সাথে নির্দিষ্ট করা জটিল। আল-আসনাবি তার কিতাবে এটি বিশ্লেষণ করেছেন, তাই সেখানে পুনরায় দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ومنها: إذا قال: الحرام يلزمني، أعني به طلاقا، طلقت واحدة، وعنه أنه ظهار، وإن قال: أنوي به الطلاق: طلقت ثلاثا بغير خلاف في العدد عند أصحابنا، وعنه أنه ظهار أيضا.

ومنها: إذا قال: الطلاق يلزمني، ونوى الثلاث، طلقت ثلاثا، وإن لم ينو شيئا، فهل تطلق ثلاثا أو واحدة؟ على روايتن، وإن نوى واحدة فلم أر فيها شيئا، إلا الشافعية لا يقع إلا واحدة، والله أعلم.

قال ابن رجب في "القواعد" في القاعدة التاسعة والخمسين بعد المائة: "إذا قال: الطلاق يلزمني، فهل يلزمه واحدة أو ثلاث؟ على روايتين، لأن الألف واللام قد أراد بها العهد في الطلاق المعهود المسنون، وهو الواحدة - وهذا يجيء على القاعدة التي قبل هذه - قال -: ويراد بها مطلق الجنس، ويراد بها استغراق الجنس، لكنها في الاستغراق والعموم أظهر. والمتيقن في تلك الواحدة، والأصل بقاء النكاح.

وعلى رواية وقوع الثلاث. . . فلو نوى بها ما دونها، فهل يقع به ما نواو خاصة أو يقع به الثلاث، ويكون دون ذلك صريحا في الثلاث؟ فيه طريقا للأصحاب.

ولو قال: الطلاق يلزمني، وله أكثر من زوجة، فإن كان هناك نية أو سبب يقتضي التعميم أو التخصيص عمل به.

ومع فقد النية والسبب خرجها بعض الأصحاب على الروايتين في وقوع الثلاث بذلك على الزوجة الواحدة، لأن الاستغراق في الطلاق يكون تارة في نفسه، وتارة في محله، وقد فرق بعضهم بينهما بأن عموم المصدر لإفراده أقوى من عمومه لمفعولاته، لأنه يدل على أفراده بذاته عقلا ولفظا، ويدل على مفعولاته بواسطة، فلفظ الأكل والشرب - مثلا - يعم الأنواع منه، والأعداد أبلغ من عموم المأكول والمشروب إذا كان عاما، فلا يلزم من عمومه لأفراده وأنواعه عموم لمفعولاته. ذكر هذا كله الشيخ تقي الدين بمعناه.

وفي موضع آخر قوي وقوع الطلاق بجميع الزوجات دون وقوع الثلاث بالزوجة الواحدة، وفرق بأن وقوع الثلاث بالواحدة محرم، بخلاف وقوعه بالزوجات المتعددات.

وقد يقال: إن قوله الطلاق يلزمه، وإن كان صيغة عموم، لكن إن لم ينو عمومه، كان مخصصا بالشرع عند من يحرم جمع الثلاث، وهو ظاهر المذهب، فتكون المسألة حينئذ من صور التخصيص بالشرع.

ومنها: دعوى "الأصل في الأبوال كلها النجاسة" لقوله صلى الله عليه وسلم: "تنزهوا من البول فإن عامة عذاب القبر منه"، والأصحاب يحملوا الألف واللام هنا على العهد، وهو بول الآدمي بقرينة.

ومنها: دعوى جواز التكبير في الصلاة بقول المصلي: "الله الأكبر أو الكبير" أو إذا نكس على الخلاف في ذلك، استدلالا بقوله عليه السلام: "تحريمها التكبير.."، والمذهب "تخصيص الله أكبر"، فتكون الألف واللام للعهد، لأنه لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كبر بغير هذا.

ومنها: دعوى جواز" السلام" للخروج من الصلاة بقوله: "عليكم السلام"و "سلام عليكم" بغير تعريف، وفي المسألة وجهان ذكرهما القاضي أبو يعلى في "الجامع الكبير" وغيره، هل هما للعهد أو العموم؟ فإن أتى به بغير الألف واللام ففيه أوجه: أحدها: الإجراء إذا نونه، وهو احتمال أبداه في "الجامع الكبير"، وقد أومأ إليه أحمد في رواية مهنا.

والثاني: عدم الإجزاء على أنهما للعهد.

والثالث: عدم الإجزاء مطلقا، سواء نونه أو لا.

ومنها: إذا تيمم ونوى الصلاة أو أطلق، فالذي قاله في "المقنع" أنه لا يصلي الفرض، والذي ينبغي صلاتها، وحكى الأسنوي عن الشافعية وجهين.

ومنها: إذا قال: له علي كذا كذا درهم، فتارة يقوله كذا بلا عطف، وتارة بقوله معطوفا، وهو أن يقول: كذا وكذا.

فإن قاله بلا عطف أعطي درهما، ومع العطف درهمين، وهكذا حكى الأسنوي عن الشافعية قال: "فلو أفرد الدينار مع الإضافة أعطي حبتين عند العطف، وحبة واحدة عند عدمه.

وفرق أصحابنا في هذا وقالوا: الدرهم تارة يؤتى به بعد العطف والإضافة مرفوعا، وتارة مخفوضا، وتارة منصوبا، فإن كان مرفوعا لزمه في العطف والإضافة، ومع الخفض يلزمه بعض درهم، ومع النصب يلزمه درهم عند أبن حامد، ودرهمان عند أبي الحسن التميمي، والله أعلم.

ومنها: إذا قال لزوجته: إذا قدم الحاج فأنت طالق. فهل تطلق بأول قدوم بعضهم، أو لا تطلق حتى يقدم جميعهم؟ المتعين تطلق بأول قدومهم، مالم تكن نيته قدوم الجميع.
এর মধ্যে রয়েছে: যখন কেউ বলে: "হারাম আমার জন্য আবশ্যক হলো", এবং এর দ্বারা তালাকের নিয়ত করে, তবে এক তালাক পতিত হবে। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে যে, এটি যিহার (ظهار) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে বলে: "আমি এর মাধ্যমে তালাকের নিয়ত করছি", তবে আমাদের সাথীদের (হাম্বলি ফকিহদের) নিকট সংখ্যার ব্যাপারে কোনো মতভেদ ছাড়াই তিন তালাক পতিত হবে। তাঁর থেকে অপর একটি বর্ণনা রয়েছে যে, এটিও যিহার (ظهار) হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: "তালাক আমার জন্য আবশ্যক হলো", এবং তিন তালাকের নিয়ত করে, তবে তিন তালাকই পতিত হবে। আর যদি কোনো নিয়ত না করে, তবে কি তিন তালাক হবে নাকি এক তালাক? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। আর যদি সে এক তালাকের নিয়ত করে, তবে এ ব্যাপারে আমি (হাম্বলি মাযহাবে) কিছু পাইনি; তবে শাফেয়িগণ ব্যতীত, তাদের মতে এক তালাক ব্যতীত আর কিছু পতিত হয় না। আল্লাহই ভালো জানেন।

ইবনে রাজাব তার 'আল-কাওয়ায়েদ' গ্রন্থের ১৫৯তম নীতিমালায় বলেছেন: "যখন কেউ বলে: 'তালাক আমার জন্য আবশ্যক হলো', তখন কি তার ওপর এক তালাক নাকি তিন তালাক আবশ্যক হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। কারণ, 'আলিফ' ও 'লাম' (ال) দ্বারা প্রচলিত ও সুন্নাহসম্মত (مسنون) তালাক অর্থাৎ এক তালাক উদ্দেশ্য হতে পারে—এটি পূর্ববর্তী মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে। তিনি আরও বলেন: এর দ্বারা লিঙ্গ বা শ্রেণির সাধারণ অর্থ (مطلق الجنس) উদ্দেশ্য হতে পারে, আবার শ্রেণির সামগ্রিকতা (استغراق الجنس) উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে সামগ্রিকতা ও ব্যাপকতার (العموم) ক্ষেত্রে এটি অধিক স্পষ্ট। আর এক তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত (المتيقن), আর মূল বিধান হলো বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা।

আর তিন তালাক পতিত হওয়ার বর্ণনার ভিত্তিতে... যদি সে এর মাধ্যমে তিনের কম নিয়ত করে, তবে কি সে যা নিয়ত করেছে কেবল তাই পতিত হবে, নাকি তিন তালাকই পতিত হবে এবং তিনের কম নিয়ত করা সত্ত্বেও সেটি তিন তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ (صريح) হিসেবে গণ্য হবে? এ বিষয়ে আমাদের সাথীদের (হাম্বলি ফকিহদের) দুটি পথ বা পদ্ধতি (طريق) রয়েছে।

যদি কেউ বলে: "তালাক আমার জন্য আবশ্যক হলো", এবং তার একাধিক স্ত্রী থাকে; তবে সেখানে যদি কোনো নিয়ত বা কারণ থাকে যা ব্যাপকতা বা নির্দিষ্টকরণকে (تخصيص) আবশ্যক করে, তবে সেই অনুযায়ী ফয়সালা হবে।

আর নিয়ত ও কারণের অনুপস্থিতিতে কোনো কোনো সাথী (হাম্বলি ফকিহ) এটিকে একজন স্ত্রীর ক্ষেত্রে তিন তালাক পতিত হওয়ার দুই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সমাধান করেছেন। কারণ তালাকের সামগ্রিকতা কখনো সত্তার ক্ষেত্রে হয়, আবার কখনো স্থলের ক্ষেত্রে হয়। তাদের কেউ কেউ এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন যে, মাসদার বা ক্রিয়ামূলের সাধারণত্ব তার এককের ক্ষেত্রে তার কর্মের (মফুল) সাধারণত্বের চেয়ে শক্তিশালী। কারণ এটি বিবেক ও শব্দের বিচারে স্বভাবগতভাবে তার এককগুলোকে বোঝায়, আর কর্মকে বোঝায় মাধ্যম হিসেবে। উদাহরণস্বরূপ, 'খাওয়া' ও 'পান করা' শব্দ দুটি এর প্রকার ও সংখ্যাকে ব্যাপক বা সামগ্রিকভাবে বোঝায়, যা ভক্ষিত বা পানকৃত বস্তু সামগ্রিক হওয়ার চেয়েও অধিক জোরালো। সুতরাং প্রকার ও এককের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা মানেই কর্মের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা হওয়া আবশ্যক নয়। শেখ তাকীউদ্দিন (ইবনে তাইমিয়্যাহ) এই পুরো বিষয়টিই এর অর্থসহ উল্লেখ করেছেন।

অন্য এক স্থানে তিনি তিন তালাক একজন স্ত্রীর ওপর পতিত হওয়ার চেয়ে বরং সকল স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হওয়াকে শক্তিশালী মত হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি পার্থক্য করেছেন এভাবে যে, একজনের ওপর তিন তালাক পতিত হওয়া নিষিদ্ধ, পক্ষান্তরে একাধিক স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হওয়া তেমন নয়।

বলা হয়ে থাকে যে: "তালাক আমার জন্য আবশ্যক" কথাটি যদিও একটি ব্যাপক অর্থবোধক (عموم) বাক্য, কিন্তু যদি সে এর ব্যাপকতা নিয়ত না করে, তবে যারা তিন তালাক একত্র করাকে হারাম মনে করেন তাদের নিকট এটি শরয়ি বিধান দ্বারা নির্দিষ্ট (مخصص) হবে। আর এটিই মাযহাবের প্রকাশ্য মত। এমতাবস্থায় বিষয়টি শরয়ি সুনির্দিষ্টকরণের (التخصيص بالشرع) অন্তর্ভুক্ত হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: "মূলত সকল প্রস্রাবই নাপাক" এমন দাবি করা; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "তোমরা প্রস্রাব থেকে পবিত্র থাকো, কেননা কবরের অধিকাংশ আযাব এর কারণেই হয়ে থাকে।" আমাদের সাথীরা এখানে 'আলিফ' ও 'লাম'কে সুনির্দিষ্ট প্রস্রাব (العهد) অর্থে গ্রহণ করেছেন, যা قرينة (قرينة) বা প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে মানুষের প্রস্রাবকে বোঝায়।

এর মধ্যে রয়েছে: নামাজে তাকবীরের ক্ষেত্রে মুসল্লির "আল্লাহু আল-আকবার" বা "আল-কাবীর" বলার বৈধতার দাবি অথবা শব্দ উল্টে বলার ক্ষেত্রে মতভেদ; যার দলিল হিসেবে নবী আলাইহিস সালামের বাণী পেশ করা হয়: "এর (নামাজের) তাহরীমাহ হলো তাকবীর..."। মাযহাবের অভিমত হলো এটি "আল্লাহু আকবার" শব্দটির জন্য নির্দিষ্ট (تخصيص)। ফলে এখানে 'আলিফ' ও 'লাম' হবে সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশক (العهد), কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি ছাড়া অন্য কোনো শব্দে তাকবীর দেওয়ার কথা বর্ণিত হয়নি।

এর মধ্যে রয়েছে: নামাজ থেকে বের হওয়ার জন্য "আলাইকুমুস সালাম" বা আলিফ-লাম ছাড়া "সালামুন আলাইকুম" বলে সালাম (السلام) দেওয়ার বৈধতার দাবি। এ বিষয়ে কাজী আবু ইয়ালা 'আল-জামেউল কাবীর' ও অন্যান্য কিতাবে দুটি দিক উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো কি সুনির্দিষ্ট (العهد) অর্থে নাকি ব্যাপক (العموم) অর্থে? যদি কেউ আলিফ ও লাম ছাড়া সালাম দেয়, তবে তাতে কয়েকটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো: এটি জায়েজ হবে যদি তাতে তানভীন প্রদান করা হয়; এটি 'আল-জামেউল কাবীর' গ্রন্থে বর্ণিত একটি সম্ভাবনা, যার দিকে ইমাম আহমাদ মোহান্নার বর্ণনায় ইঙ্গিত করেছেন।

দ্বিতীয়টি হলো: এটি পর্যাপ্ত বা জায়েজ হবে না, এই ভিত্তিতে যে সালাম সুনির্দিষ্ট (العهد) শব্দের ওপর নির্ভরশীল।

তৃতীয়টি হলো: এটি المطلق (مطلق) বা সাধারণভাবে জায়েজ হবে না, চাই সে তানভীন দিক বা না দিক।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ তায়াম্মুম করে এবং নামাজের নিয়ত করে বা সাধারণভাবে (مطلق) নিয়ত করে; তবে 'আল-মুকনি' গ্রন্থে যা বলা হয়েছে তা হলো সে ফরজ নামাজ পড়বে না। কিন্তু যা হওয়া উচিত তা হলো ফরজ নামাজ পড়া; আর আল-আসনাবি শাফেয়িগণ থেকে এ বিষয়ে দুটি মত বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: "আমার ওপর তার পাওনা রয়েছে এত এত (كذا كذا) দিরহাম।" তবে কখনো সে সংযোজক অব্যয় (عطف) ছাড়া বলে, আবার কখনো সংযোজক অব্যয়সহ বলে; যেমন সে বলে: "এত এবং এত" (كذا وكذا)।

যদি সে সংযোজক অব্যয় ছাড়া বলে তবে এক দিরহাম দিতে হবে, আর অব্যয়সহ বললে দুই দিরহাম। এভাবেই আল-আসনাবি শাফেয়িগণ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "যদি সে ইযাফতসহ দিনার শব্দটিকে এককভাবে উল্লেখ করে তবে অব্যয় থাকলে দুটি কণা (হুব্বাহ) এবং অব্যয় না থাকলে একটি কণা প্রদান করতে হবে।"

আমাদের সাথীরা এ ক্ষেত্রে পার্থক্য করেছেন এবং বলেছেন: দিরহাম শব্দটি কখনো অব্যয় ও ইযাফতের পর পেশযুক্ত (مرفوع), কখনো জেরযুক্ত (مخفوض) এবং কখনো জবরযুক্ত (منصوب) অবস্থায় আসে। যদি পেশযুক্ত হয় তবে অব্যয় ও ইযাফতের ক্ষেত্রে তা আবশ্যক হবে; জেরযুক্ত হলে তার ওপর দিরহামের কিছু অংশ আবশ্যক হবে; আর জবরযুক্ত হলে ইবনে হামিদের মতে এক দিরহাম এবং আবু হাসান আত-তামিমির মতে দুই দিরহাম আবশ্যক হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে: "যখন হজযাত্রীগণ আসবে তখন তুমি তালাক।" তবে কি প্রথম কোনো একজনের আগমনেই তালাক হয়ে যাবে, নাকি যতক্ষণ না তারা সকলে আসবে ততক্ষণ তালাক হবে না? এখানে নির্ধারিত বিষয় হলো প্রথম জনের আগমনেই তালাক হয়ে যাবে, যদি না তার নিয়ত সকলের আগমনের ব্যাপারে থাকে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ومنها: إذا قال: إذا كان حملك ذكرا، فأنت طالق طلقة، وإن كان أنثى فطلقتين، فولدت ذكرا وأنثى، لم تطلق، جزم به في "المقنع"، وأكثر أصحاب الإمام، لأن حملها ليس بذكر وليس بأنثى، بل الذكر بعضه والأنثى بعض. وهذا موافق لكون المضاف للعموم، وإن قال: إن كنت حاملا، مكان "إن كان … " طلقت ثلاثا.

ومنها: إذا قال السيد لعبده: إذا قرأت القرآن فأنت مدبر، فقرأ بعضه لم يصر مدبرا، جزم به الأصحاب.

ومنها: إذا حلف لا رأى منكرا إلا رفعه إلى الوالي، من غير تعيين وال، فهل يتعين في المنصوب وبكل من ينصب بعده؟ في المسألة وجهان: قال في "الترغيب": "لتردد الألف واللام بين الجنس والعهد".

ومنها: إذا قال: إن ولدت ذكرا فأنت طالق واحدة، وإن ولدت أنثى فأنت طالق اثنتين فولدت ذكرا وأنثى.

طلقت بالأول، وبانت بالثاني، ولم تطلق به، ذكره أبو بكر، وقال ابن حامد، تطلق به.

المسألة الثانية: وهو الجمع المحلى ب"أل" أو المضاف، إذا لم يقم قرينة تدل على معهود.

ويتفرع عليه: إذا قال: إن كان الله يعذب الموحدين فأنت طالق، طلقت.

ومنها: لا يجوز التسمية بملك الملوك، وسلطان السلاطين، وجبار الجبابرة. ذكره الشيخ شمس الدين بن القيم في كتاب "تحفة المودود".

ومنها: ما قاله الأسنوي عن ابن عبد السلام: لا يجوز الدعاء للمؤمنين والمؤمنات أن يغفر الله ذنوبهم جميعها، ولا بعدم دخولهم النار، وما قاله فيه نظر.

وقال هو عن قول نوح: إنه فعل في سياق الإثبات، وذلك لا يقتضي العموم، لأن الأفعال نكرات ويجوز بها قصد معهود خاص، والذي ينبغي أن هذا يجوز، والله أعلم.

ومنها: إذا وقف على فقراء بلد، أو أقاربه، أو جماعة يمكن حصرهم واستيعابهم، وجب تعميمهم والتسوية بينهم، وإن لم يمكن جاز تفضيل بعضهم على بعض، وإلا فيصار على واحد منهم، ويحتمل أن لا يجزيه أقل من ثلاثة.

ومنها: إذا حلف ليصومن الأيام، فهو ثلاثة أيام، جزم به في "المقنع" في كتاب "جامع الأيمان" ونقله الرافعي عن بعض الشافعية، وحكى الأسنوي احتمالا عندهم أنه أيام العمر، والله أعلم.

وكذا لو قال: الأشهر، فلو قال: الشهور، فهي اثنى عشر، ذكره القاضي، وعند أبي الخطاب هي ثلاثة، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة التاسعة عشر

قاعدة: الفاعل يطلق على الحال، وعلى الاستقبال، وعلى المضي، وكذا اسم المفعول، وإطلاق النحاة يقتضي أنه إطلاق حقيقي.

إذا علمت هذا فيفرع على القاعدة فروع" منها: إذا قال لزوجته: أنت طالق أو مطلقة، فإنه يقع للماضي، لأنه يقال: طالق أمس، ويطلق في أنت طالق أمس، جزم به الأصحاب. وللحال، وهو مرادهم في جميع الطلاق.

ويراد به الاستقبال مثل أن يقول: أنت طالق إذا جاء رأس الشهر، فلو لم يقل شيئا وقع في الحال، فإن قال: أردت ذلك دين، وهل يقبل منه في الحكم؟ يخرج على روايتين، والله أعلم. وكذا في الوقف والبيع، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة العشرون

قاعدة: إذا أردت باسم الفاعل الحال أو الاستقبال، نصبت معموله، وإن أريد به المضي، فإن كان معموله ملتبسا ب "أل" جاز النصب به، وإن عري عنها فلا، بل يتعين إضافته وقال الكسائي: يجوز أن ينصب مطلقا، وحيث يجوز النصب به، فيجوز الجر أيضا، بل هو أولى لأنه الأصل. وقال سيبويه: "الجر والنصب سواء". وقال هشام: "النصب أولى".

إذا علمت ذلك. . فمن فروع القاعدة: إذا قال قائل: أنا قاتل زيد، ووجد زيد مقتولا، فإن نونه ونصب به ما بعده، لم يكن إقرارا.

 

‌‌القاعدة الواحدة والعشرون

قاعدة: مقتضى اسم الفاعل صدور الفعل منه، ومقتضى اسم المفعول صدوره عليه.

إذا تقرر هذا، فمن فروع القاعدة: إذا حلف لا يأكل مستلذا، فإنه يحنث بأكل للذيذ، سواء استلذ به أو لا، إذا كان لذيذا عند غيره، ولو عند نفسه ولم يستلذ به.

وإن حلف لا يأكل شيئا لذيذا، لم يحنث ألا بما استلذه هو، لأن المستلذ من صفات المأكول، واللذيذ من صفات الأكل.

ومنها: إذا حلف لا يأكل مرا، حلف بأكل ما كان مرا بطبعه، ولم يجده هو مرا، وإن قال شيئا مريرا لم يحنث، وفيهما نظر، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الثانية والعشرون

قاعدة: أفعل التفضيل مقتضاها المشاركة
এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: যদি তোমার গর্ভস্থ সন্তান পুত্র হয়, তবে তোমার ওপর এক তালাক, আর যদি কন্যা হয় তবে দুই তালাক। এরপর সে একটি পুত্র ও একটি কন্যা প্রসব করল; তবে তালাক পতিত হবে না। 'মাকনা' গ্রন্থে এবং ইমামের অধিকাংশ অনুসারীগণ (الأصحاب) এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (جزم) দিয়েছেন। কারণ তার গর্ভস্থ সন্তান কেবল পুত্র নয় এবং কেবল কন্যাও নয়, বরং পুত্র তার একাংশ এবং কন্যা তার একাংশ। এটি সংযোজিত পদটি ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করার অনুকূলে যায়। আর যদি সে 'যদি গর্ভস্থ সন্তান...' এর পরিবর্তে বলত 'যদি তুমি গর্ভবতী হও', তবে তিন তালাক পতিত হতো।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কোনো মনিব তার দাসকে বলে: যখন তুমি কুরআন পড়বে তখন তুমি মুদাব্বার (مدبر) (মৃত্যু পরবর্তী মুক্ত), এরপর সে কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করল, তবে সে মুদাব্বার হবে না। অনুসারীগণ (الأصحاب) এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (جزم) দিয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ শপথ করে যে সে কোনো মন্দ কাজ (منكر) দেখলেই তা শাসক (ওয়ালি)-এর কাছে পেশ করবে, কোনো নির্দিষ্ট শাসকের নাম উল্লেখ ছাড়াই; তবে তা কি দায়িত্বরত শাসকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হবে নাকি তার পরবর্তী সকল শাসকের ক্ষেত্রে? এ মাসআলায় দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে। 'তারগিব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আলিফ-লাম (الألف واللام) শব্দটি প্রকার (جنس) এবং পূর্ব-পরিচিত (عهد) হওয়ার মাঝে দোদুল্যমান হওয়ার কারণে' ।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: যদি তুমি পুত্র প্রসব কর তবে তোমার ওপর এক তালাক, আর যদি কন্যা প্রসব কর তবে তোমার ওপর দুই তালাক। এরপর সে একটি পুত্র ও একটি কন্যা প্রসব করল।

তবে প্রথমটির মাধ্যমে তালাক হবে এবং দ্বিতীয়টির মাধ্যমে সে বিচ্ছিন্ন (بانت) হয়ে যাবে, কিন্তু তার মাধ্যমে তালাক হবে না—এ কথা আবু বকর উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে হামিদ বলেছেন, তার মাধ্যমেও তালাক হবে।

দ্বিতীয় মাসআলা: আর তা হলো আলিফ-লাম (أل) যুক্ত বহুবচন অথবা সংযোজিত শব্দ, যখন এমন কোনো প্রাসঙ্গিক লক্ষণ (قرينة) বিদ্যমান না থাকে যা কোনো পূর্ব-পরিচিত (معهود) বিষয়কে নির্দেশ করে।

এর ওপর ভিত্তি করে একটি শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ বলে: যদি আল্লাহ একেশ্বরবাদীদের (الموحدين) শাস্তি দেন তবে তোমার ওপর তালাক, তবে তালাক পতিত হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: 'মালিকুল মুলুক' (রাজাধিরাজ), 'সুলতানুস সালাতিন' এবং 'জাব্বারুল জাবাবেরা' নামে নামকরণ করা বৈধ নয়। শাইখ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম 'তুহফাতুল মওদুদ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: আল-আসনাবি ইবনু আবদিস সালাম থেকে যা বর্ণনা করেছেন: মুমিন নর ও নারীদের জন্য এই দোয়া করা বৈধ নয় যে, আল্লাহ যেন তাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন অথবা তারা যেন কখনোই জাহান্নামে প্রবেশ না করে। তবে তার এই বক্তব্যে আপত্তির অবকাশ (نظر) রয়েছে।

তিনি নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি সম্পর্কে বলেছেন: এটি ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে (سياق الإثبات) ঘটিত হয়েছে, আর তা ব্যাপকতা (العموم) দাবি করে না। কারণ ক্রিয়াগুলো অনির্দিষ্টবাচক (نكرات) হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য (معهود خاص) করা বৈধ। কিন্তু সঠিক কথা হলো এটি বৈধ, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কোনো শহরের দরিদ্রদের (فقراء) জন্য, অথবা তার আত্মীয়-স্বজন বা এমন কোনো গোষ্ঠীর জন্য ওয়াকফ করে যাদের সংখ্যা নিরূপণ ও পরিবেষ্টন করা সম্ভব, তবে তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব (وجب)। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে একে অপরের ওপর প্রাধান্য দেওয়া বৈধ। অন্যথায় তাদের মধ্য থেকে একজনের ওপর সীমাবদ্ধ রাখা হবে এবং সম্ভাবনা (يحتمل) রয়েছে যে তিনজনের কম হলে তা যথেষ্ট হবে না।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ শপথ করে যে সে 'দিনসমূহ' (الأيام) রোজা রাখবে, তবে তা তিন দিন হিসেবে গণ্য হবে। 'মাকনা' গ্রন্থের 'জামি উল আইমান' অধ্যায়ে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (جزم) দেওয়া হয়েছে। রাফেয়ি এটি কিছু শাফেয়ি আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আল-আসনাবি তাদের মতে একটি সম্ভাবনা (احتمالا) উল্লেখ করেছেন যে, তা হবে সারা জীবনের দিনগুলো। আল্লাহই ভালো জানেন।

অনুরূপভাবে সে যদি বলে: 'মাসসমূহ' (الأشهر), তবে যদি সে 'শুহুর' (الشهور) শব্দ ব্যবহার করে তবে তা হবে বারো মাস—এটি কাজি উল্লেখ করেছেন। আর আবু আল-খাত্তাবের মতে তা হবে তিন মাস। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌ঊনবিংশতম নীতি

নীতি: কর্তাবাচক বিশেষ্য (الفاعل) বর্তমান (الحাল), ভবিষ্যৎ (الاستقبال) এবং অতীত (المضي) কালের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول)-এর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। ব্যাকরণবিদদের প্রয়োগ অনুযায়ী এটি প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই নীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে: 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' (أنت طالق বা مطلقة), তবে তা অতীতের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। কারণ বলা হয়: 'গতকাল তালাকপ্রাপ্তা' এবং 'তুমি গতকাল তালাকপ্রাপ্তা ছিলে' বললে তা কার্যকর হয়; অনুসারীগণ (الأصحاب) এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (جزم) দিয়েছেন। আর বর্তমানের (الحাল) ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, যা সকল তালাকের ক্ষেত্রে তাদের মূল উদ্দেশ্য।

এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ (الاستقبال) সময়কেও উদ্দেশ্য করা হয়, যেমন সে যদি বলে: 'মাসের শুরুতে তুমি তালাকপ্রাপ্তা'। আর যদি সে কোনো সময়ের কথা উল্লেখ না করে তবে তা তাৎক্ষণিক (الحال) কার্যকর হবে। যদি সে বলে: 'আমি তাই নিয়ত করেছি', তবে তা ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু বিচারিক রায়ের ক্ষেত্রে কি তা কবুল করা হবে? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা (روايتين) রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন। ওয়াকফ এবং বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রেও অনুরূপ নিয়ম। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌বিংশতম নীতি

নীতি: যদি আপনি কর্তাবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) দ্বারা বর্তমান (الحাল) বা ভবিষ্যৎ (الاستقبال) উদ্দেশ্য করেন, তবে তার পরবর্তী পদকে নসব (نصبت) প্রদান করবেন। আর যদি এর দ্বারা অতীত (المضي) উদ্দেশ্য করা হয়, তবে তার পরবর্তী পদটি যদি আলিফ-লাম (أل) যুক্ত হয় তবে তাকে নসব প্রদান করা জায়েজ। আর যদি আলিফ-লাম না থাকে তবে নসব হবে না, বরং তা সম্বন্ধপদ (إضافته) হিসেবে হওয়া আবশ্যক। আল-কিসায়ি বলেন: এটি সাধারণভাবে নসব হওয়া জায়েজ। আর যেখানে নসব জায়েজ সেখানে জর (جر) বা জের প্রদান করাও জায়েজ, বরং এটিই উত্তম কারণ এটিই মূল ভিত্তি। সিবওয়াইহি বলেন: 'জর এবং নসব উভয়ই সমান'। হিশাম বলেন: 'নসবই উত্তম'।

যখন আপনি এটি জানলেন... তখন এই নীতির একটি শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ বলে: 'আমি জায়েদকে হত্যাকারী' (أنا قاتل زيد) এবং জায়েদকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়; তবে সে যদি 'কাতিল' শব্দে তানবিন দেয় এবং পরবর্তী শব্দকে নসব প্রদান করে, তবে তা স্বীকারোক্তি (إقرار) হিসেবে গণ্য হবে না।

 

‌একুশতম নীতি

নীতি: কর্তাবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) দাবি করে যে ক্রিয়াটি তার থেকে প্রকাশ পেয়েছে, আর কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) দাবি করে যে ক্রিয়াটি তার ওপর আপতিত হয়েছে।

যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন এই নীতির একটি শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ শপথ করে যে সে কোনো 'তৃপ্তিদায়ক' (مستلذا) বস্তু খাবে না, তবে কোনো সুস্বাদু বস্তু খাওয়ার মাধ্যমে তার শপথ ভঙ্গ (يحنث) হবে; সে নিজে তৃপ্তি পাক বা না পাক, যদি তা অন্যের কাছে সুস্বাদু হয়, এমনকি যদি তা নিজের কাছেও সুস্বাদু হয় কিন্তু সে তৃপ্তি না পায়।

আর যদি সে শপথ করে যে সে কোনো 'সুস্বাদু' (لذيذا) জিনিস খাবে না, তবে সে নিজে যা থেকে তৃপ্তি পায় তা না খাওয়া পর্যন্ত শপথ ভঙ্গ হবে না। কারণ 'তৃপ্তিদায়ক' (المستلذ) হলো খাদ্যের গুণ, আর 'সুস্বাদু' (اللذيذ) হলো খাওয়ার তৃপ্তির গুণ।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ শপথ করে যে সে তিতা (مرا) কিছু খাবে না, তবে যা স্বভাবগতভাবে তিতা তা খেলেই শপথ ভঙ্গ হবে, যদিও সে নিজে তা তিতা না পায়। আর যদি সে 'মুনতাক' বা তিক্ত কিছু (مريرا) বলে তবে শপথ ভঙ্গ হবে না। তবে এই উভয় ক্ষেত্রেই আপত্তির অবকাশ (نظر) রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌বাইশতম নীতি

নীতি: আধিক্যবোধক বিশেষণ (أفعل التفضيل) অংশীদারিত্ব দাবি করে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ذكره النحاة، وتكون للمشاركة مطلقا، كما هو مقتضى كلام النحاة وسواء كان محلى ب "الألف واللام" أم لا. فالمحلى مثل: الأرشد، وغير المحلى مثل أرشدهم.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا وقف على ولده، وشرط النظر للأرشد فأرشد، اشترك جميع من استوى في الأرشدية في النظر من الذكور والإناث.

وقد رد بعض الحنفية على الفقهاء، فقال: أفعل التفضيل إذا ورد محلى ب"الألف واللام" قال أهل العربية: يجب مطابقته الموصوف إن كان مذكرا فمذكر، وإن كان مؤنثا فمؤنث، فيكون على وزن الفعلى، لا على وزن "الأفعل"،والفقهاء يدخلون الأنثى حين يقول الواقف: النظر للأرشد، فالأرشد من أولاده، والأرشد صفة للمذكر عند أهل العربية، فما وجه دخول الأنثى في لفظ الأرشد فالأرشد؟.

وجواب على هذا: وقد أجاب شيخنا الشيخ تقي الدين بن قندس عن هذا بجواب مطول، وهو أيضا في الحكم: "أيها الكاتب هذا السؤال، والواقف عليه، والسامع له، إن قوله: الأرشد صفة للمذكرعند أهل العربية، خصه ممنوع بل قد يكون للمذكر فقط، وقد يكون لما يعم المذكر والمؤنث، وألفاظ الواقفين كلها أو غالبها إنما تقع على الثاني دون الأول.

فعلى تقدير وقوعها على الأول، لا يصح إدخال الأنثى فيه، ولا يوجد الإدخال المذكور في كلام فقيه، فإن وقع فهو سهو، وإذا وقع على الثاني - كما هو المعهود من ألفاظ الواقفين - تعين الإدخال، إعطاء اللفظ حقه، ما لم يوجد مانع معتبر.

فالاستشكال إنما نشأ من الإجمال في مقام التفصيل، فإذا حصل التفصيل المعتبر، وأعطى كل مقام ما يليق به زال الإشكال واتفق كلام الفريقين - الفقهاء وأهل العربية - بتوفيق الله تعالى" فصل في بيان وجوب التفضيل بمذكور في هذا المقام، وألفاظ الإجمال بعد الاعتصام بالهادي من يشاء إلى صراط مستقيم. فنقول: إن" الأرشد" من أفعل التفضيل، وهو تابع في معناه للموصوف به، فإن كان الموصوف به للمذكر فقط، كان "الأرشد" للمذكر فقط، وإن كان الموصوف به للمذكر والمؤنث، كان "الأرشد" كذلك للمذكر والمؤنث.

فإذا وقف على ولده الأرشد، أو جعل النظر لولده الأرشد، كان ذلك شاملا للذكر والأنثى - كما هو معلوم في كلام الفقهاء وغيرهم - وليس في كلام أهل العربية ما يخالفه، بل في كلامهم ما يعضده ويوافقه.

وأما إذا قال: على ذكر ولدي الأرشد، فهو للمذكر فقط، لا يعلم في كلام فقيه ما يخالفه، وهذا كاف في جواب ما كتب، والله أعلم بالصواب.

وذلك لأن "الأرشد" صفة للمذكر والمؤنث، فلو وقف على بناته وشرط النظر للأرشد، فالأرشد، صح.

فإذا وقف على أولاده، وشرط النظر للأرشد فالأرشد، دخل فيه الذكور والإناث، لأن "الأرشد" صفة للمذكر والمؤنث، والله أعلم بالصواب.

فإذا قال: وقفت على ولدي الرجل، ووصفه بأفعل التفضيل تعين أن يقول"الأفضل"، ولا يقال: "للأفضلين"، لأن لفظ "الرجل" مفرد فتعين "الأفضل" لأنه مفرد، حتى تحصل المطابقة المعتبرة، مع أن "الرجل" للعموم فتعم كل رجل أفضل، لأن المفرد المحلى ب "الألف واللام" للعموم، اعتبرت المطابقة للفظ دون المعنى.

وأما أحكام الفقهاء فسرت على المعنى، ويدخلون تحت ذلك اللفظ مدخل "أفضل" وفسر على ذلك ما في معناه.

ولو سلم أن كلام الفقهاء مخالف لكلام أهل العربية، فوجه كلام الفقهاء أنهم يبنون الحكم على ما يتعارفه الواقفون ويفهمونه من كلامهم، لا على دقائق أهل العربية التي لا معرفة للواقف بها، فإن قيل: لا سنلم أن "الآرشد" تابع للموصوف به، فإن كان الموصوف به مذكرا ف "أرشد" للمذكر، وإن كان مذكرا ومؤنثا كان "الأرشد" للمذكر والمؤنث، كما ذكرتم.

بل نقول: الموصوف به تابع له، فإذا كان الموصوف به مذكرا كان مطابقا له، فإذا قال: ويكون النظر للابن الأرشد، ثم للرجل الأرشد، أو للذكر الأرشد، حصلت المطابقة، لأن الابن والرجل للمذكر، فحصلت الموافقة لمساواة كل منهما التذكير في الآخر.

وأما إذا كان الموصوف به يشمل المذكر والمؤنث، فإنه مخصص بذكر "الأرشد" ويصير للمذكر، فالولد - مثلا - يشمل المذكر والمؤنث إذا كان مجردا، فإذا اتصف ب "الأرشد" يخصص وصار للمذكر لكونه وصف بالمذكر، وهو "الأرشد".
ব্যাকরণবিদগণ এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটি সাধারণভাবে অংশীদারিত্ব (مشاركة) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি ব্যাকরণবিদদের বক্তব্যের দাবি। এটি 'আলিফ এবং লাম' যুক্ত হোক বা না হোক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। 'আলিফ-লাম' যুক্ত হওয়ার উদাহরণ হলো: 'আল-আরশাদ' (الأرشد), এবং 'আলিফ-লাম' বিহীন হওয়ার উদাহরণ হলো: 'আরশাদুহুম' (أرشدهم)।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির একটি শাখা হলো: যদি কেউ তার সন্তানদের অনুকূলে ওয়াকফ করে এবং শর্ত দেয় যে এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব থাকবে 'সবচেয়ে যোগ্য' (الأرشد), এরপর তার পরবর্তী যোগ্য ব্যক্তির ওপর; তবে নারী ও পুরুষের মধ্যে যারা যোগ্যতায় সমান হবে, তারা সবাই এই তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে সমানভাবে অংশীদার হবে।

কিছু হানাফি আলেম ফকিহদের ওপর আপত্তি তুলে বলেছেন: আধিক্যবোধক বিশেষণ (أفعل التفضيل) যখন 'আলিফ এবং লাম' যুক্ত হয়ে আসে, তখন ভাষাবিদগণ বলেন: এটি যার বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে (موصوف) তার সাথে লিঙ্গগত সামঞ্জস্য রক্ষা করা আবশ্যক। যদি সেটি পুরুষবাচক হয় তবে শব্দটিও পুরুষবাচক হবে, আর যদি সেটি স্ত্রীবাচক হয় তবে এটিও স্ত্রীবাচক হবে; সেক্ষেত্রে শব্দটি 'ফু'লা' (فعلى) ওজনে হবে, 'আফ'আল' (الأفعل) ওজনে নয়। অথচ ফকিহগণ যখন ওয়াকফকারী বলেন 'তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তির (الأرشد فالأرشد) ওপর' তখন সেখানে নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করেন। ভাষাবিদদের মতে 'আল-আরশাদ' (الأرشد) শব্দটি কেবল পুরুষবাচকের বিশেষণ, সুতরাং 'সবচেয়ে যোগ্য' (الأرشد فالأرشد) শব্দটির অধীনে নারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ভিত্তি কী?

এর উত্তর হলো: আমাদের শাইখ তাক্বীউদ্দীন ইবনে কুনদুস এ সম্পর্কে একটি দীর্ঘ উত্তর দিয়েছেন, যা বিচারকার্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি বলেছেন: "হে এই প্রশ্নের লেখক, এর পাঠক এবং শ্রোতা! আপনার এই কথা যে—'আল-আরশাদ' (الأرشد) শব্দটি ভাষাবিদদের নিকট কেবল পুরুষবাচকের বিশেষণ—এই সীমাবদ্ধকরণটি অগ্রহণযোগ্য। বরং এটি কখনও কেবল পুরুষবাচকের জন্য হতে পারে, আবার কখনও এমন ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে যা পুরুষ ও নারী উভয়কে শামিল করে। আর ওয়াকফকারীদের শব্দগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বা প্রায় সবই দ্বিতীয় অর্থের ওপর অর্থাৎ ব্যাপক অর্থে প্রযোজ্য হয়, প্রথমটির ওপর নয়।

সুতরাং যদি ধরে নেওয়া হয় যে এটি কেবল প্রথম অর্থের (অর্থাৎ কেবল পুরুষবাচকের) ওপর প্রযোজ্য, তবে সেক্ষেত্রে নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক হবে না এবং কোনো ফকিহর বক্তব্যেও এমন অন্তর্ভুক্তি পাওয়া যাবে না। যদি কোথাও এমনটি ঘটে তবে তা ভুল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি এটি দ্বিতীয় অর্থের ওপর (ব্যাপক অর্থে) হয়—যেমনটি ওয়াকফকারীদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত—তবে সেক্ষেত্রে শব্দটির প্রকৃত হক আদায়ের জন্য নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা অবধারিত হয়ে যায়, যদি না কোনো গ্রহণযোগ্য প্রতিবন্ধকতা থাকে।

অতএব, এই সংশয়টি বিস্তারিত বর্ণনার স্থলে সংক্ষিপ্ততার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। যখন যথাযথ বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রতিটি বিষয়কে তার উপযুক্ত স্থানে রাখা হবে, তখন সংশয় দূর হয়ে যাবে এবং ফকিহ ও ভাষাবিদদের বক্তব্যের মাঝে আল্লাহর তাওফিকে মিল স্থাপিত হবে।" অনুচ্ছেদ: এই ক্ষেত্রে আধিক্যবোধক বিশেষণ (أفعل التفضيل) ব্যবহারের আবশ্যকতা বর্ণনা এবং সংক্ষিপ্ত শব্দমালার ব্যাখ্যা; হেদায়াতদাতার কাছে আশ্রয় প্রার্থনার পর, যিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন। আমরা বলি যে: 'আল-আরশাদ' (الأرشد) শব্দটি একটি আধিক্যবোধক বিশেষণ (أفعل التفضيل), এবং এটি তার বিশেষ্যের (موصوف) অর্থের অনুগামী হয়। যদি বিশেষ্যটি কেবল পুরুষের জন্য হয়, তবে 'আল-আরশাদ' (الأرشد) শব্দটিও কেবল পুরুষের জন্য হবে। আর যদি বিশেষ্যটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য হয়, তবে 'আল-আরশাদ' (الأرشد) শব্দটিও নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সুতরাং যদি কেউ তার 'যোগ্য সন্তান' (ولده الأرشد)-এর অনুকূলে ওয়াকফ করে অথবা তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তার 'যোগ্য সন্তান'-এর ওপর ন্যস্ত করে, তবে তা পুত্র ও কন্যা উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করবে—যেমনটি ফকিহ ও অন্যান্যদের বক্তব্যে সুবিদিত। ভাষাবিদদের বক্তব্যে এমন কিছু নেই যা এর বিরোধী, বরং তাদের বক্তব্যে এমন কিছু রয়েছে যা একে সমর্থন ও পুষ্ট করে।

কিন্তু যদি সে বলে: 'আমার সন্তানদের মধ্যে যোগ্য পুরুষের (ذكر ولدي الأرشد) জন্য', তবে তা কেবল পুরুষের জন্যই নির্দিষ্ট হবে। কোনো ফকিহর বক্তব্যে এর বিপরীত কিছু জানা নেই। লিখিত প্রশ্নের উত্তরের জন্য এটাই যথেষ্ট। আর আল্লাহই সঠিক উত্তর সম্পর্কে সম্যক অবগত।

কারণ 'আল-আরশাদ' (الأرشد) শব্দটি পুরুষ ও নারী উভয়ের বিশেষণ হতে পারে। সুতরাং যদি কেউ তার কন্যাদের জন্য ওয়াকফ করে এবং পর্যায়ক্রমে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তির (الأرشد فالأرشد) তত্ত্বাবধানের শর্ত দেয়, তবে তা সঠিক হবে।

যখন কেউ তার সন্তানদের জন্য ওয়াকফ করবে এবং পর্যায়ক্রমে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তির (الأرشد فالأرشد) তত্ত্বাবধানের শর্ত দিবে, তখন তাতে নারী ও পুরুষ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ 'আল-আরশাদ' (الأرشد) শব্দটি নারী ও পুরুষ উভয়ের বিশেষণ হতে পারে। আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।

সুতরাং যদি সে বলে: "আমি আমার পুরুষ সন্তানের (ولدي الرجل) জন্য ওয়াকফ করলাম" এবং সেখানে আধিক্যবোধক বিশেষণ (أفعل التفضيل) ব্যবহার করে, তখন 'আল-আফদাল' (الأفضل) বলা নির্দিষ্ট হয়ে যায়। সেখানে 'আল-আফদালীন' (الأفضلين) বলা যাবে না। কারণ 'আর-রাজুল' (الرجل) শব্দটি একবচন, তাই 'আল-আফদাল' (الأفضل) একবচন হওয়া আবশ্যক যাতে যথাযথ সামঞ্জস্য বজায় থাকে। যদিও 'আর-রাজুল' (الرجل) শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক হওয়ায় প্রতিটি শ্রেষ্ঠ পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ 'আলিফ-লাম' যুক্ত একবচন শব্দ ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে; এখানে অর্থের চেয়ে শব্দের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

আর ফকিহদের বিধানসমূহ অর্থের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তারা উক্ত শব্দের অধীনে 'শ্রেষ্ঠ' (أفضل) এর অর্থ এবং সমজাতীয় অর্থসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেন।

যদি ধরেও নেওয়া হয় যে ফকিহদের বক্তব্য ভাষাবিদদের বক্তব্যের পরিপন্থী, তবে ফকিহদের বক্তব্যের ভিত্তি হলো—তারা ওয়াকফকারীদের প্রচলিত রীতি এবং তারা তাদের কথাবার্তা থেকে যা বোঝেন তার ওপর ভিত্তি করে বিধান প্রদান করেন। তারা ভাষাবিদদের সূক্ষ্ম ব্যাকরণিক মারপ্যাঁচের ওপর ভিত্তি করেন না, যা সম্পর্কে ওয়াকফকারীর কোনো ধারণাই নেই। যদি বলা হয়: আমরা এটি মানি না যে 'আল-আরশাদ' (الأرشد) তার বিশেষ্যের (موصوف) অনুগামী হবে; অর্থাৎ বিশেষ্য পুরুষ হলে বিশেষণ পুরুষ হবে আর বিশেষ্য উভয় লিঙ্গের হলে বিশেষণও উভয় লিঙ্গের হবে, যেমনটি আপনারা উল্লেখ করেছেন।

বরং আমরা বলি: বিশেষ্যটিই বিশেষণের অনুগামী হয়। সুতরাং যখন বিশেষ্যটি পুরুষবাচক হয়, তখন বিশেষণটিও তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। যেমন যদি কেউ বলে: "তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব যোগ্য পুত্রের (للابن الأرشد), এরপর যোগ্য ব্যক্তির (للرجل الأرشد), অথবা যোগ্য পুরুষের (للذكر الأرشد) ওপর"; তবে এখানে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। কারণ 'পুত্র' (الابن) এবং 'ব্যক্তি' (الرجل) শব্দগুলো পুরুষবাচক, ফলে একে অপরের সাথে লিঙ্গগত সমতা ও সামঞ্জস্য অর্জিত হয়েছে।

কিন্তু যখন বিশেষ্যটি নারী ও পুরুষ উভয়কে শামিল করে, তখন 'আল-আরশাদ' (الأرشد) ব্যবহারের মাধ্যমে তা বিশেষিত হয়ে যায় এবং কেবল পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট হয়। উদাহরণস্বরূপ, 'সন্তান' (الولد) শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তা নারী ও পুরুষ উভয়কে শামিল করে। কিন্তু যখন এর সাথে 'আল-আরশাদ' (الأرشد) বিশেষণ যুক্ত হয়, তখন এটি নির্দিষ্ট হয়ে কেবল পুরুষের জন্য হয়ে যায়, যেহেতু একে পুরুষবাচক শব্দ 'আল-আরশাদ' (الأرشد) দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وهذا ظاهر يبطل قولكم: إن "الأرشد" تابع للموصوف به، بل الآخر بالعكس، وهو أن الأرشد ما وصف به تابع له وتخصص به، قلنا: الجواب عن ذلك أن أهل العربية الذي اعتمدتم عليه في الاستشكال وأوردتم لأجله السؤال يهدم دعواكم، وينصب في المقام سواكم.

ألا ترى أنهم يقولون: إذا كان أفعل التفضيل ب "الألف واللام" لزم مطابقته لما هو له، أي أفعل التفضيل يطابق الموصوف به، فيكون أفعل التفضيل تابعا للموصوف به لا بالعكس. وهذا ظاهر واضح لا يخفى على من هو عالم يعطي التأمل حقه.

وأيضا إذا كان الموصوف موضوعا للمذكر والمؤنث، ووصف بالمذكر فقط، فقد يقال: لا تحصل المطابقة المعتبرة في المقام، وأيضا لو صح ذلك لجاز أن يوصف الشامل للمذكر والمؤنث، فيصح أن يقول: ولدي "الأرشد"، ويصح أن يقول: ولدي "الرشدى"، ويصح أن يقول على الطائفة "الأفضل"، والطائفة "الفضلى"، وعلى الفريق "الأفضل"، وعلى الفريق "الفضلى"، وهلم جرا.

وصريح كلام أهل العربية يمنع ذلك، وأنه تتعين المطابقة، والقبيلة - مثلا - "الفضلى" والفريق "الأفضل"، لأن لفظ "الطائفة" ونحوها مؤنث، ولفظ الفريق مذكر، وإن كان كلا منهما يشمل المذكر والمؤنث في المعنى والدلالة.

ولذلك لفظ " الولد" مذكر فتعين له لفظ "الأرشد" لأنه مذكر، وإن كان يدخل في المعنى كلا منهما - المذكر والمؤنث، وكذلك إذا قال: "القبيلة" تعين - مثلا - أن يقول " العظمى"، ولا يقال: "الأعظم"، لأن الأعظم، لأن لفظ "الأعظم" مذكر، و"العظمى" مؤنث، فتعين المؤنث للمطابقة، ولا يمنع الفقهاء من إدخال الذكر والأنثى في مثل هذه، لأن معناها شامل لهما، وهذا يقوي أن أهل العربية مرادهم الألفاظ دون المعاني الشاملة، لأنهم ذكروا في المطابقة الإفراد والتثنية والجمع ومنها: إذا وصى لأقارب زيد، دخل الأبوان - كما قد صرح به الأصحاب -.

ومنها: إذا قال: أنت أزنى الناس، أو أزنى من فلان، كان صريحا في القذف، وإن قال: أنت أزنى مني كان قذفا، ولو قيل له: يازان، فقال: أنت أزنى مني، كان قاذفا. وحكى الأسنوي أنه لا يكون قاذفا، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الثالثة والعشرون

قاعدة: لفظ "الأكثر" - ب "الثاء" المثلثة - أفعل تفضيل في أصل الوضع إذا تقرر هذا، فمن فروع القاعدة: إذا ادعى عليه فقال: لفلان علي أكثر من مالك، وقال: أردت التهزئ، لم يقبل منه ويلزمه حق لهما.

ولنا وجه لا يلزمه شيء، والصحيح الأول، ويكون حق من قال له على أكثر، "أكثر" وسواء كان نفعا أو بقاء، ونحوه كما سيأتي.

ومنها: إذا قال: له علي أكثرمن مال فلان، لزمه التفسير، فإن فسره بأكثر قدرا قبل، وإن قل، وإن فسره بأكثر بقاء أو نفعا قبل منه مع يمينه، وسواء علم مال فلان أو جهله، أو ذكر قدره أو لم يذكره. جزم به الأصحاب في كتبهم، والله أعلم.

ومنها: إذا قال له: علي دراهم كثيرة، قبل تفسيرها بثلاثة دراهم فما فوقها، جزم به الأصحاب.

وإن قال: مال كثير، قبل تفسيره بالقليل والكثير.

ومنها: إذا حلف لا يصلي صلاة كثيرة، حنث بثلاث ركعات، والصيام الكثير ثلاثة أيام ومنها: إذا قال: أنت طالق أكثر الطلاق، طلقت ثلاثا، كما قد صرح به الأصحاب في كتبهم فانظروه.

ومنها: إذا أوصى له بأكثر ماله، فهو فوق النصف بأي شيء كان.

ومنها: الأكثر عددا أفضل من الأحسن في الأضاحي، مثاله: إذا كانت شاة بعشرة، وخمسة بعشرة، فالخمسة أفضل، ذكره في "تجريد العناية"، وذكره أنه نص أحمد، وأطلق في "القواعد الرجبية" في المسألة روايتين.

ومنها: أن تعدد الركعات في الصلاة أفضل من طول القنوت، جزم به بعض الأصحاب، وأطلق بعضهم في المسألة روايتين.

 

‌‌القاعدة الرابعة والعشرون

قاعدة: المصدر المنسبك نحو يعجبني صنعك إن كان بمعنى الماضي أو الحال، فينحل إلى "ما" و "الفعل" نحو ما صنعت، أو تصنع، وإن كان بمعنى الاستقبال فينحل إلى "أن" و"الفعل"، وكذا "أن" المشددة مع "الفعل". وذكر في "الارتشاف" أن النحاة فرقوا بين "انطلاقك" و "أنك منطلق"، أن المصدر لا دليل فيه على الوقوع.

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة:
এবং এটি স্পষ্টত আপনাদের বক্তব্যকে বাতিল করে যে: "আল-আরশাদ" শব্দটি তার দ্বারা বিশেষিত শব্দের অনুগামী হয়; বরং বিষয়টি এর বিপরীত, আর তা হলো "আল-আরশাদ" যা দ্বারা বিশেষিত হয় তা তার অনুগামী হয় এবং তার মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয়। আমরা বলি: এর উত্তর হলো, আরবী ভাষাবিদগণ যাদের ওপর ভিত্তি করে আপনারা সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, তারাই আপনাদের দাবিকে খণ্ডন করেন এবং এই ক্ষেত্রে আপনাদের পরিবর্তে অন্য মতকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

আপনি কি দেখেন না যে তারা বলেন: অতিশয়ার্থবোধক বিশেষণ (আফআলুত তাফদিল) যখন "আলিফ ও লাম" যুক্ত হয়, তখন তা যার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক? অর্থাৎ অতিশয়ার্থবোধক বিশেষণটি বিশেষিত শব্দের অনুগামী হয়, এর বিপরীত নয়। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সুনিশ্চিত, যা কোনো চিন্তাশীল আলিমের নিকট গোপন নয়।

তাছাড়া, বিশেষিত শব্দটি যদি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য হয় এবং শুধুমাত্র পুংলিঙ্গ দ্বারা বিশেষিত করা হয়, তবে বলা যেতে পারে যে, এই ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য সামঞ্জস্য অর্জিত হয়নি। আবার এটি যদি সঠিক হতো, তবে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এমন শব্দকে বিশেষিত করা জায়েজ হতো; ফলে কারো পক্ষে বলা সঠিক হতো: আমার সন্তান "আল-আরশাদ" (সবচেয়ে সুপথগামী), আবার বলা সঠিক হতো: আমার সন্তান "আর-রুশদা" (স্ত্রীলিঙ্গে)। একইভাবে একটি দল সম্পর্কে "আল-আফদাল" (সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ) এবং "আল-ফুদলা" বলা কিংবা একটি বাহিনী সম্পর্কে "আল-আফদাল" ও "আল-ফুদলা" বলা সঠিক হতো, এবং এভাবে চলতে থাকত।

কিন্তু আরবী ভাষাবিদদের স্পষ্ট বক্তব্য একে নিষেধ করে এবং জানায় যে, সামঞ্জস্য রক্ষা করা আবশ্যক। উদাহরণস্বরূপ, গোত্র হলো "আল-ফুদলা" এবং বাহিনী হলো "আল-আফদাল"; কারণ "ত্বাইফা" (দল) ও এই জাতীয় শব্দগুলো স্ত্রীলিঙ্গ এবং "ফারিক" (বাহিনী) শব্দটি পুংলিঙ্গ, যদিও তাদের উভয়ই অর্থ ও প্রয়োগের দিক থেকে পুরুষ ও নারী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

সেই কারণে "ওয়ালাদ" (সন্তান) শব্দটি পুংলিঙ্গ হওয়ায় এর জন্য "আল-আরশাদ" শব্দটি নির্ধারিত হয়েছে, কারণ এটি পুংলিঙ্গ; যদিও এর অর্থের মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়। একইভাবে যখন কেউ "আল-কাবিল্যাহ" (গোত্র) বলে, তখন তার জন্য উদাহরণস্বরূপ "আল-উজমা" (সর্বশ্রেষ্ঠ) বলা আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং "আল-আ’জাম" বলা যায় না; কারণ "আল-আ’জাম" শব্দটি পুংলিঙ্গ এবং "আল-উজমা" শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ। সুতরাং সামঞ্জস্য রক্ষার খাতিরে স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করা আবশ্যক। ফকিহগণ এই জাতীয় শব্দে নারী ও পুরুষ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধা দেন না, কারণ এর অর্থ উভয়কেই শামিল করে। এটি এই মতকে শক্তিশালী করে যে, আরবী ভাষাবিদদের উদ্দেশ্য হলো শব্দগত দিক, এমন ব্যাপক অর্থ নয় যা উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ তারা সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচনের উল্লেখ করেছেন। এর একটি উদাহরণ হলো: কেউ যদি জায়েদের আত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করে, তবে তাতে পিতা-মাতা অন্তর্ভুক্ত হবেন—যেমনটি আসহাবগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

আরেকটি উদাহরণ: যদি কেউ বলে: "তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যভিচারী" অথবা "তুমি অমুকের চেয়ে বড় ব্যভিচারী", তবে তা স্পষ্ট (صريح) অপবাদ (قذف) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি বলে: "তুমি আমার চেয়ে বড় ব্যভিচারী", তবে তাও অপবাদ (قذف) হবে। যদি কাউকে বলা হয়: "হে ব্যভিচারী", আর সে উত্তরে বলে: "তুমি আমার চেয়ে বড় ব্যভিচারী", তবে সে অপবাদদানকারী হিসেবে গণ্য হবে। আসনাউয়ি বর্ণনা করেছেন যে, সে অপবাদদানকারী হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌ত্রয়োবিংশ নিয়ম

নিয়ম: "আল-আকসার" (অধিকাংশ) শব্দটি মূল ভাষাগত গঠনে একটি অতিশয়ার্থবোধক বিশেষণ। যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন এই নিয়মের শাখাগুলো হলো: যদি কেউ কারো বিরুদ্ধে দাবি করে আর বিবাদী বলে: "তোমার মালের চেয়ে অমুকের পাওনা আমার নিকট অধিক (আকসার)", এবং পরে বলে: "আমি উপহাস করতে চেয়েছিলাম", তবে তার এই দাবি গ্রহণ করা হবে না এবং উভয়ের হক আদায় করা তার জন্য আবশ্যক হবে।

আমাদের নিকট একটি অভিমত আছে যে তার ওপর কিছুই আবশ্যক হবে না, তবে প্রথম মতটিই সহিহ (صحيح)। আর যার সম্পর্কে সে "অধিক" বলেছে তার হক "অধিক" সাব্যস্ত হবে, তা উপকারের দিক থেকে হোক বা স্থায়িত্বের দিক থেকে, যা সামনে আসছে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি সে বলে: "অমুকের মালের চেয়েও অধিক মাল তার আমার নিকট পাওনা রয়েছে", তবে তাকে এর ব্যাখ্যা করতে হবে। যদি সে পরিমাণের দিক থেকে অধিক হওয়ার ব্যাখ্যা দেয় তবে তা গ্রহণ করা হবে, যদিও তা পরিমাণে কম হয়। আর যদি স্থায়িত্ব বা উপকারের দিক থেকে অধিক হওয়ার ব্যাখ্যা দেয়, তবে শপথসহ তার কথা গ্রহণ করা হবে। সে অমুকের মালের পরিমাণ জানুক বা না জানুক, অথবা তার পরিমাণ উল্লেখ করুক বা না করুক—আসহাবগণ তাদের কিতাবসমূহে এটি নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি সে বলে: "তার আমার নিকট অনেক (কাছিরাহ) দিরহাম পাওনা রয়েছে", তবে তিন বা তার অধিক দিরহামের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দিলে তা গৃহীত হবে; আসহাবগণ এটি নিশ্চিত করেছেন।

আর যদি বলে: "অনেক মাল", তবে তা অল্প বা বেশি যেকোনো পরিমাণ দ্বারা ব্যাখ্যা করলে গ্রহণ করা হবে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ শপথ করে যে সে "অনেক নামাজ" পড়বে না, তবে তিন রাকাত পড়লে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। আর "অনেক রোজা" বলতে তিন দিন বোঝাবে। এর আরেকটি উদাহরণ: যদি কেউ বলে: "তোমাকে অধিকাংশ (আকসার) তালাক দিলাম", তবে তিন তালাক পতিত হবে, যেমনটি আসহাবগণ তাদের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন; সুতরাং তা দেখে নিন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ তার সম্পদের "অধিকাংশ" অসিয়ত করে, তবে তা অর্ধেকের বেশি যেকোনো পরিমাণকে বোঝাবে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: কোরবানির ক্ষেত্রে সংখ্যার দিক থেকে অধিক হওয়া গুণের দিক থেকে উত্তম হওয়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। উদাহরণস্বরূপ: যদি একটি ছাগলের দাম দশ হয় এবং পাঁচটি ছাগলের দামও দশ হয়, তবে পাঁচটিই উত্তম। এটি "তাজরিদুল ইনায়া" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি ইমাম আহমদের বক্তব্য (নস)। তবে "কাওয়াইদ ইবনে রজব" গ্রন্থে এই মাসআলায় দুটি বর্ণনা (رواية) নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: নামাজে রাকাতের সংখ্যা বৃদ্ধি করা দীর্ঘ কুনুত পড়ার চেয়ে উত্তম। আসহাবদের কেউ কেউ এটি নিশ্চিতভাবে বলেছেন, আবার কেউ কেউ এই মাসআলায় দুটি বর্ণনা (رواية) নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌চতুর্বিংশ নিয়ম

নিয়ম: মাসদারে মুনসাবিক (উহ্য ক্রিয়ামূল), যেমন "তোমার কাজ আমাকে মুগ্ধ করে", যদি অতীত বা বর্তমানের অর্থে হয়, তবে তা "মা" এবং "ক্রিয়া" দ্বারা বিশ্লেষিত হয়; যেমন "তুমি যা করেছ বা করছ"। আর যদি তা ভবিষ্যতের অর্থে হয়, তবে তা "আন" এবং "ক্রিয়া" দ্বারা বিশ্লেষিত হয়। অনুরূপভাবে তাশদীদযুক্ত "আন্না" এবং "ক্রিয়া" এর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। "আল-ইরতিশাফ" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাকরণবিদগণ "ইনতিলাকুক" (তোমার প্রস্থান) এবং "আন্নাকা মুনতালিক" (নিশ্চয়ই তুমি প্রস্থানকারী) এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন যে, মাসদারের মধ্যে ঘটনাটি ঘটার কোনো প্রমাণ নেই।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই নিয়মের শাখাগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
إذا قال: أوصيت لك أن تسكن هذه الدار، أو بأن يخدمك هذا العبد، فإنه يكون إباحة لا تمليكا، وفي كلام الفقهاء ما يدل عليه، لأنهم قالوا في الأمة: يجوز أن يوصي لشخص بمنافعها، والآخر برقبتها.

ومنها: لو وكله، وقال: وكلتك في أن تبيع هذا، أو أن تشتريه، أو في أن تصدق به، أو في أن تقفه، تارة يكون قصد الموكل بهذا أن لا يوكل، فليس للوكيل أن يوكل فيه، وتارة لا يكون له قصد، فهذا يجوز للوكيل أن يوكل بشروط، والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة الخامسة والعشرون

قاعدة: قد يحذف المصدر وتقام صفته مقامه.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: أنت واحدة، وقع عليها واحدة، وإن وقع بالرفع، فهي من كنايات الطلاق الخفية، جزم به في "المقنع"، وأكثر أصحاب الإمام أحمد، ويقع بها ما نواه من واحدة وثلاث، وما نوى.

ومنها: إذا قال: أنت طالق أقل من طلقتين، وأكثر من واحدة وقع طلقتان، وأفتى بهذا أبو المعالي من أصحاب الشافعي.

وأفتى أبو إبراهيم بوقوع ثلاث، لأنه قال: أقل من طلقتين وقعت واحدة، وأكثر من واحدة وقع ثلاث.

 

‌‌القاعدة السابعة والعشرون

قاعدة: المصدر لا يشتق من المصدر بلا خلاف بين النحويين إنما اختلفوا أن المصدر.. هل هو أصل والفعل والوصف مشتقان منه؟ أو أن الفعل أصل والمصدر والوصف مشتقان منه؟ أو أن كلا منهما أصل بنفسه؟ فيه أقوال للنحاة.

إذا علمت ذلك فمن فروع القاعدة" الكتاب مشتق من الكتب، والكتب مصدر، والكتاب مصدر ذكر ذلك الفقهاء، وقد رد بعضهم كلام الفقهاء، وقال المصدر لا يشتق من المصدر.

وقد أجاب عنه شيخنا تقي الدين بن قندس فقال: "الفقهاء لم يقولوا: الكتاب مشتق من الكتب، إلا بعد حكمهم على"الكتاب" بأنه اسم مفعول، ولهذا قالوا: "كالخلق بمعنى المخلوق"، والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة الثامنة والعشرون

قاعدة: "مع" اسم استصحاب، وحركته إعراب، يجوز بناؤه بالسكون على لغة، وأصلها "معي"، فحذفوا الياء للتخفيف إذا علمت هذا فمن فروع القاعدة: إذا قال أنت طالق طلقة مع طلقة، أو معها طلقة، طلقت طلقتين. جزم به في "المقنع" وغيره من أصحاب الإمام أحمد رحمه الله.

ومنها: إذا أوقع بامرأته طلاقا، أو ظهارا، أو إيلاء، أو غيره، ثم قال لأخرى: أنت معها، وقع بها مثل ما وقع بالأولى. جزم به الأصحاب.

ومنها: إذا قال: زنيت مع فلان، كان قذفا لها.

ومنها: إذا قال: له علي درهم مع درهم، لزمه درهمان. جزم به الأصحاب، وعند الشافعية يلزمه درهم.

ومنها: إذا حلف لا يخرج من البلد إلا معه، فخرجا معا، لكن تقدم أحدهما عن الآخر خطوات، فلم أر لأصحابنا فيها شيئا، لكن الذي ينبغي عدم الحنث، وللشافعية وجهان، وصحح في "الروضة لهم عدم الحنث.

ومنها: إذا قال لوكيله: بع هذا العبد مع هذا الآخر، فإن كان قصده اجتماعهما في البيع، فليس للوكيل التفريق بينهما، وإن لم يكن قصده ذلك جاز.

ومنها: إذا قال: بعتك هذه الدابة مع أخرى في البيت، فلا يصح، وكذا كل ما جمع فيه بين معلوم ومجهول.

ومنها: إذا قال: إن كلمت زيدا مع عمرو، فأنت طالق، فلا تطلق حتى تكلمهما. وهل تطلق إذا كلمتهما منفردين، أو لا بد من اجتماعهما؟ الذي ينبغي أن لا تطلق حتى تحدثهما مجتمعين، صرح بهذا بعضهم. وذكر الرافعي: ويحتمل أن تطلق حيث وجد الكلام، وهو المتباردر إلى الذهن من الحالف، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أنت طالق طلقة واحدة مع طلقتين، طلقت ثلاثا، كما جزم به الأصحاب، والله أعلم.

ومنها: إذا حلف: لا أقام مع زيد، أو لا جلس معه، فجلس في قوم هو فيهم، فإن كان يعلم حنث، وإن لم يعلم لم يحنث، فإن علم وهو بينهم خرج، فإن لم يخرج حنث.

ومنها: إذا حلف: لا أقمت مع الماء، وكان الماء راكدا، حنث، وإن كان جاريا لم يحنث، إذا كان يرى الماء الذي هو فيه بعينيه.

ومنها: إذا حلف: لا أقام في هذه الساعة، لم يحنث لأنه لا يقيم فيها، لأن المذكور مثل الماء الجاري، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة التاسعة والعشرون

قاعدة: إذا قطعت "مع" عن الإضافة، فإنها تنون، وتكون مثل "جميعا" في المعنى.

قال أبو حيان: "ومعناها لا تدل على الاتحاد في الوقت، بل معناه التأكيد، وقال أحمد بن يحيى: "تدل على الاتحاد في الوقت".
যদি তিনি বলেন: "আমি তোমাকে এই বাড়িতে বসবাসের অসিয়ত করলাম", অথবা "এই দাসটি তোমার খিদমত করবে", তবে এটি ব্যবহারের অনুমোদন (إباحة), মালিকানা প্রদান (تمليك) নয়। ফকিহগণের (فقهاء) বক্তব্যে এর সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে; কেননা দাসীর ক্ষেত্রে তারা বলেছেন: কোনো ব্যক্তির জন্য তার থেকে প্রাপ্ত উপযোগিতার অসিয়ত করা জায়েজ, আর অন্য ব্যক্তির জন্য তার মূল সত্তার (رقبة) অসিয়ত করা জায়েজ।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ কাউকে প্রতিনিধি (وكيل) নিযুক্ত করে বলে: "আমি তোমাকে এটি বিক্রয় করার, অথবা এটি ক্রয় করার, অথবা এটি সদকা করার, অথবা এটি ওয়াকফ (وقف) করার প্রতিনিধি (وكিল) নিযুক্ত করলাম"; কখনও মউক্কিলের (موكل) উদ্দেশ্য থাকে যে সে যেন অন্য কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত না করে, সেক্ষেত্রে প্রতিনিধির (وكيل) জন্য অন্য কাউকে সাব-প্রতিনিধি নিযুক্ত করা বৈধ নয়। আবার কখনও এমন কোনো উদ্দেশ্য থাকে না, সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে প্রতিনিধির (وكিল) জন্য অন্য কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা জায়েজ। আল্লাহ তাআলাই সঠিক বিষয়টি ভালো জানেন।

 

‌‌পঞ্চবিংশতম নীতি

নীতি: কখনও ক্রিয়ামূল (مصدر) বিলুপ্ত হয় এবং তার বিশেষণকে (صفة) তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখাগুলো হলো: যদি কেউ (স্ত্রীকে) বলে: "তুমি এক", তবে তার ওপর একটি তালাক পতিত হবে। যদি এটি রফ (رفع) বা পেশ যোগে উচ্চারিত হয়, তবে তা তালাকের প্রচ্ছন্ন রূপক শব্দসমূহের (كنايات الطلاق الخفية) অন্তর্ভুক্ত হবে; আল-মুকনি গ্রন্থে এবং ইমাম আহমদের অধিকাংশ অনুসারী এ বিষয়ে অকাট্য মত প্রদান করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি এক বা তিন—যা নিয়ত করবেন তাই পতিত হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "তুমি দুই তালাকের কম এবং এক তালাকের বেশি তালাকপ্রাপ্তা", তবে দুই তালাক পতিত হবে। শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে আবু আল-মাআলি এই ফতোয়া দিয়েছেন।

তবে আবু ইব্রাহিম তিন তালাক পতনের ফতোয়া দিয়েছেন। কারণ তিনি বলেছেন: "দুই তালাকের কম" বললে এক তালাক পতিত হয়, আর "এক তালাকের বেশি" বললে তিন তালাক পতিত হয়।

 

‌‌সপ্তবিংশতম নীতি

নীতি: ব্যাকরণবিদদের (نحويين) মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে, ক্রিয়ামূল (مصدر) থেকে ক্রিয়ামূল (مصدر) নিষ্পন্ন হয় না। তবে তারা মতভেদ করেছেন যে, ক্রিয়ামূল (مصدر) কি মূল ভিত্তি এবং ক্রিয়া (فعل) ও বিশেষণ (وصف) কি তা থেকে নিষ্পন্ন (مشتق)? অথবা ক্রিয়া (فعل) কি মূল এবং ক্রিয়ামূল (مصدر) ও বিশেষণ (وصف) কি তা থেকে নিষ্পন্ন (مشتق)? অথবা তাদের প্রতিটিই কি স্বতন্ত্রভাবে মূল? এ বিষয়ে ব্যাকরণবিদদের (نحاة) একাধিক মত রয়েছে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখা হলো: 'কিতাব' শব্দটি 'কাতব' থেকে নিষ্পন্ন (مشتق), আর 'কাতব' হলো ক্রিয়ামূল (مصدر) এবং 'কিতাব'-ও একটি ক্রিয়ামূল (مصدر)। ফকিহগণ (فقهاء) এটি উল্লেখ করেছেন। তবে তাদের কেউ কেউ ফকিহগণের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন যে, ক্রিয়ামূল (مصدر) থেকে ক্রিয়ামূল (مصدر) নিষ্পন্ন হয় না।

আমাদের শায়খ তাকিউদ্দিন বিন কুনদুস এর উত্তর দিয়ে বলেছেন: "ফকিহগণ 'কিতাব' শব্দটিকে 'কাতব' থেকে নিষ্পন্ন (مشتق) বলেননি, যতক্ষণ না তারা 'কিতাব'-কে কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) হিসেবে গণ্য করেছেন। এই কারণেই তারা বলেছেন: এটি 'খালকুন' শব্দের মতো যা 'মাখলুকুন' (সৃষ্টি) অর্থে ব্যবহৃত হয়।" আল্লাহ তাআলাই সঠিক বিষয়টি ভালো জানেন।

 

‌‌অষ্টবিংশতম নীতি

নীতি: "মা'আ" (مع) হলো সহাবস্থান সূচক বিশেষ্য (اسم استصحاب), এবং এর হরকত হলো ই'রাব (إعراب)। একটি ভাষা (لغة) অনুযায়ী একে সুকুন (سكون) যোগে মাবনি বা অপরিবর্তনীয় (بناء) পড়াও জায়েজ। এর মূল রূপ ছিল "মাঈ", পরবর্তীতে সহজীকরণের জন্য তারা 'ইয়া' বিলুপ্ত করেছে। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখা হলো: যদি কেউ বলে, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা এক তালাক, সাথে (مع) আরেক তালাক" অথবা "তার সাথে (معها) এক তালাক", তবে দুই তালাক পতিত হবে। আল-মুকনি গ্রন্থে এবং ইমাম আহমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহির অন্যান্য অনুসারীগণ এ বিষয়ে অকাট্য মত দিয়েছেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ তার এক স্ত্রীর ওপর তালাক, জিহার (ظهار), ঈলা (إيلاء) অথবা অন্য কিছু কার্যকর করে, এরপর অন্য স্ত্রীকে বলে: "তুমি তার সাথে (معها)", তবে প্রথম স্ত্রীর ওপর যা পতিত হয়েছে দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপরও তাই পতিত হবে। মাজহাবের অনুসারীগণ এ বিষয়ে অকাট্য মত দিয়েছেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "আমি অমুকের সাথে (مع) ব্যভিচার করেছি", তবে এটি সেই নারীর জন্য অপবাদ (قذف) হিসেবে গণ্য হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "আমার নিকট তার এক দিরহামের সাথে (مع) আরেক দিরহাম প্রাপ্য", তবে তার ওপর দুই দিরহাম আবশ্যক হবে। মাজহাবের অনুসারীগণ এটি অকাট্যভাবে বলেছেন, তবে শাফেয়ি মাজহাব মতে তার ওপর এক দিরহাম আবশ্যক হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ শপথ করে যে, সে অমুককে ছাড়া (তার সাথে (معه) না হয়ে) শহর থেকে বের হবে না, এরপর তারা একসাথেই বের হলো কিন্তু একজন অন্যজনের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে থাকল; এ বিষয়ে আমি আমাদের অনুসারীদের কোনো বক্তব্য পাইনি। তবে যা হওয়া উচিত তা হলো—শপথ ভঙ্গ (حنث) হবে না। শাফেয়ি মাজহাবের এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে এবং আল-রওদাহ গ্রন্থে তাদের জন্য শপথ ভঙ্গ (حنث) না হওয়াকে সঠিক বলা হয়েছে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ তার প্রতিনিধিকে (وكيل) বলে: "এই দাসের সাথে (مع) ওই অন্য দাসটিকেও বিক্রয় করো", তবে যদি তার উদ্দেশ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উভয়কে একত্রিত করা হয়, তাহলে প্রতিনিধির (وكিল) জন্য তাদের পৃথক করা জায়েজ নয়। আর যদি তার উদ্দেশ্য এমন না হয়, তবে জায়েজ।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "আমি তোমার কাছে ঘরের ভেতরের অন্য একটির সাথে (مع) এই পশুটি বিক্রয় করলাম", তবে তা সহিহ (صحيح) হবে না। অনুরূপভাবে প্রতিটি লেনদেন যাতে জ্ঞাত (معلوم) এবং অজ্ঞাত (مجهول) বিষয়কে একত্রিত করা হয়, তা বাতিল হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "যদি তুমি জায়েদের সাথে (مع) আমরের সাথে কথা বলো, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে সে যতক্ষণ পর্যন্ত উভয়ের সাথে কথা না বলবে ততক্ষণ তালাক হবে না। এখন প্রশ্ন হলো, সে যদি তাদের সাথে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলে তবে কি তালাক হবে, নাকি তাদের একত্রে থাকা আবশ্যক? যা হওয়া উচিত তা হলো—উভয়ের সাথে একত্রে কথা না বলা পর্যন্ত তালাক হবে না, কেউ কেউ এটি স্পষ্টভাবে বলেছেন। আল-রাফেয়ি উল্লেখ করেছেন: এটিও সম্ভব যে কথা পাওয়া গেলেই তালাক হয়ে যাবে, আর শপথকারীর মনস্তত্ত্ব থেকে এটিই প্রথমে অনুভূত হয়। আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "তুমি এক তালাকের সাথে (مع) দুই তালাক প্রাপ্তা", তবে তিন তালাক পতিত হবে, যেমনটি মাজহাবের অনুসারীগণ অকাট্যভাবে বলেছেন। আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ শপথ করে: "আমি জায়েদের সাথে (مع) অবস্থান করব না" অথবা "তার সাথে (معه) বসব না", এরপর সে এমন এক কওমের সাথে বসল যাদের মধ্যে জায়েদও ছিল; যদি সে বিষয়টি জানে তবে তার শপথ ভঙ্গ (حنث) হবে, আর না জানলে শপথ ভঙ্গ (حنث) হবে না। যদি সে তাদের মাঝে থাকাকালীন জানতে পারে তবে তাকে বেরিয়ে যেতে হবে, না বের হলে শপথ ভঙ্গ (حنث) হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ শপথ করে: "আমি পানির সাথে (مع) অবস্থান করব না", আর পানি যদি স্থির থাকে তবে সে শপথ ভঙ্গকারী (حنث) হবে। আর পানি যদি প্রবাহিত হয় তবে সে শপথ ভঙ্গকারী (حنث) হবে না, যদি সে সেই পানিকে চাক্ষুষ প্রবহমান দেখে যাতে সে অবস্থান করছে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ শপথ করে: "আমি এই মুহূর্তের সাথে অবস্থান করব না", তবে সে শপথ ভঙ্গকারী (حنث) হবে না। কারণ সে তাতে অবস্থান করতে পারে না, কেননা উল্লিখিত বিষয়টি প্রবহমান পানির মতো। আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন।

 

‌‌উনত্রিংশতম নীতি

নীতি: যখন "মা'আ" (مع) শব্দটিকে সম্বন্ধ (إضافة) থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, তখন তাতে তানউইন (تنوিন) যুক্ত হয় এবং তা অর্থগতভাবে "জামিয়ান" (جميعا - একত্রে) এর মতো হয়।

আবু হাইয়ান বলেছেন: "এর অর্থ সময়ের ঐক্যের ওপর দালালত (প্রমাণ) করে না, বরং এর অর্থ হলো গুরুত্ব প্রদান বা তাকিদ (تأكيد)"। আহমদ বিন ইয়াহইয়া বলেছেন: "এটি সময়ের ঐক্যের ওপর দালালত করে।"
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: إن ولدتما معا، أو دخلتما معا، أو إن خرجتما معا، فأنتما طالقتان، أو حران.

هذه المسألة لم أر لأصحابنا فيها منقولا، لكن الذي ينبغي الوقوع بدخولهما ولو مع التفرق كما هو أحد الوجهين عن الشافعية، نقله ابن الرفعة عن الشافعي، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الثلاثون

قاعدة: أول الأيام "الأحد" عند أهل اللغة، وقال بعض العلماء: أولها السبت منه قول الشاعر:

 

ألم تر أن الدهر يوما وليلة … بكران من سبت عليك إلى سبت

والأشهر الحرم أربعة: ذي القعدة، وذي الحجة، ومحرم، ورجب، وذهب الكوفيون إلى أن الابتداء بالمحرم قلت: وعندي أولها رجب، والله أعلم بالصواب.

ويترتب على هذا: النذور، والطلاق، والأيمان، وجميع التحاليف، والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة الواحدة والثلاثون

قاعدة: لفظ "قبل" نقيض "بعد"، فإن مدلوله التقدم في الزمان، وهل يستدعي وجودهما؟ فيه خلاف.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: أنت طالق قبل أن أنكحك، أو أمس، فإن نوى إيقاع الطلاق وقع، وإن لم ينو لم يقع في ظاهر كلام أحمد، وجزم به في "الوجيز"، وقال القاضي: "وحكى عن أبي بكر لا يقع إذا قال: أنت طالق أمس، ويقع إذا قال قبل أن أنكحك"، وإن قال: أردت أن زوجا قبلي كان طلقها، أو طلقتها أنا في نكاح قبل هذا، قبل منه، إن احتمل الصدق في ظاهر كلامه، فإن مات، أو جن، أو خرس قبل العلم بمراده لم تطلق، جزم به في "الوجيز"، ولنا وجه تطلق، وأطلقها في "المقنع" ومنها: إذا قال: أنت طالق قبل قدوم زيد بشهر، فقدم قبل مضي شهر، لم تطلق، وإن قدم بعد شهر وجزء يقع الطلاق فيه وقع، جزم به في "المقنع" و "الوجيز".

ومنها: إذا قال: أنت طالق قبل موتي، تطلق في آخرجزء من حياته.

ومنها: إذا قال: أنت طالق قبل أن تدخلي الدار، فإنها تطلق في الحال.

ومنها: إذا قال: له علي درهم قبله درهم، لزمه درهمان، جزم به الأصحاب.

ومنها: إذا قال: له علي درهم قبل درهم، لزمه درهمان، جزم به في "المقنع".

ومنها: إذا قال: أنت طالق في شهر قبل رمضان، أو قبل ما قبل قبله رمضان، وقد نظم بعض الفضلاء فيها بيتين فقال:

 

ماذا يقول الفقيه أيده الله … ولا زال عنده الإحسان

في فتى علق الطلاق بشهر … قبل ما قبل قبله رمضان

وهذا البيت ذكروا فيه أن منه مسائل بعضه يدخل في هذه القاعدة التي بعدها، فأربع مسائل تدخل في هذه، وأربع في التي بعدها: أحدها: كما في البيت "قبل ما قبل قبله" والثاني: "قبل مابعد بعده" الثالث: "قبل ما بعد قبله".

الرابع: "قبل ما قبل بعده" والأربع مسائل تجيء في القاعدة التي بعدها، وقد ترى هذه المسألة في غير هذا الكتاب، والضابط فيها أنك إن قدمت لفظة "بعد" جاءت أربعة أوجه: الأولى: كلها "بعدات".

الثانية: "بعدان وقبل" الثالثة: "بعد وقبلان" الرابعة: "بعد وقبل ثم بعد" وإن تقدمت لفظة "قبل" جاءت أربعة كذلك.

إذا عرفت هذا فضابط الجواب عن هذه الأقسام الثمانية، أنه إذا اتفقت الألفاظ، فإن كان "قبلا"، فيكون الشهر هو الذي تقدمه رمضان بثلاثة أشهر، فيقع الشهر في ذي الحجة، فكأنه قال: أنت طالق في شهر ذي الحجة، لأن المعنى: أنت طالق في شهر رمضان قبل قبل قبله، فلو قال: رمضان قبله، طلقت في شوال، ولو قال: قبل قبله، طلقت في ذي القعدة، وقبل رمضان تطلق في شعبان.

وسيأتي الكلام على "البعدات" في القاعدة التي بعدها، وإن قال: في شهر قبل قبل رمضان طلقت في جماى، وقيل: في رجب، وقيل في شعبان.

 

‌‌القاعدة الثانية والثلاثون

قاعدة: "بعد" ظرف زمان يدل على تأخر ما قبله عما بعده إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة ما ذكرناه في المسألة الأولى.

إذا قال: أنت طالق في شهر بعد ما بعد بعده رمضان، وقد قلبت ما في البيتين وهو:

 

ما يقوله الفقيه أيده الله … ولا زال عنده الإحسان

في فتى علق الطلاق بشهر … بعد ما بعد بعده رمضان

إذا قال: بعد ما بعد ما بعده رمضان، طلقت في جمادى الآخرة، ولو قال: بعده رمضان، أو رمضان بعده طلقت في شعبان، ولو قال: بعد بعده رمضان طلقت في رجب.
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির (قاعدة) শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: ‘যদি তোমরা উভয়ে একসাথে সন্তান প্রসব করো’, অথবা ‘একসাথে প্রবেশ করো’, অথবা ‘একসাথে বের হও, তবে তোমরা উভয়েই তালাকপ্রাপ্তা’, অথবা ‘তোমরা উভয়েই মুক্ত’।

এই মাসআলাটি সম্পর্কে আমি আমাদের ফকিহদের (الأصحاب) কোনো উদ্ধৃতি দেখিনি; তবে শাফেঈদের বর্ণিত দুটি অভিমতের (الوجهين) একটির ন্যায় তাদের উভয়ের প্রবেশের মাধ্যমেই তালাক কার্যকর হওয়া উচিত, যদিও তাদের প্রবেশ পৃথক সময়ে হয়। ইবনুর রিফআ এটি ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

 

‌‌ত্রিশতম মূলনীতি (القاعدة)

মূলনীতি (قاعدة): ভাষাবিদদের মতে সপ্তাহের প্রথম দিন হলো ‘রবিবার’। তবে কোনো কোনো আলিম বলেছেন: এর শুরু হলো শনিবার; জনৈক কবির পংক্তিটি সেই মতেরই অনুকূলে:

 

তুমি কি দেখনি যে, কাল হলো দিবস ও রজনী … যা তোমার ওপর শনিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আবর্তিত হয়।

আর হারাম মাস (الأشهر الحرم) চারটি: যিলকদ, যিলহজ, মুহররম এবং রজব। কুফাবাসীরা মনে করেন যে, বছরের সূচনা মুহররম থেকে। আমি বলব: আমার মতে এর প্রথম মাস হলো রজব। আল্লাহ তাআলাই সঠিক (الصواب) বিষয়টি ভালো জানেন।

এর ওপর ভিত্তি করেই মানত, তালাক, শপথ এবং যাবতীয় কসমের বিধান আবর্তিত হয়। আল্লাহ তাআলাই সঠিক (الصواب) বিষয়টি ভালো জানেন।

 

‌‌একত্রিশতম মূলনীতি (القاعدة)

মূলনীতি (قاعدة): ‘পূর্বে’ (قبل) শব্দটি ‘পরে’ (بعد) শব্দের বিপরীত (نقيض)। কেননা এর অর্থ হলো সময়ের দিক থেকে অগ্রবর্তী হওয়া। এখন প্রশ্ন হলো, এটি কি ওই দুই বিষয়ের অস্তিত্ব দাবি করে? এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির (قاعدة) শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: ‘আমার সাথে তোমার বিয়ের পূর্বে তুমি তালাকপ্রাপ্তা’ অথবা ‘গতকাল তুমি তালাকপ্রাপ্তা ছিলে’, তবে সে যদি তালাক কার্যকর করার নিয়ত করে থাকে তবে তালাক হয়ে যাবে। আর যদি নিয়ত না করে থাকে, তবে ইমাম আহমদ-এর প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী তালাক হবে না। ‘আল-ওয়াজিজ’ গ্রন্থে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে (جزم) বলা হয়েছে। কাজী বলেন: ‘আবু বকর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যদি সে বলে—তুমি গতকাল তালাকপ্রাপ্তা ছিলে, তবে তালাক হবে না; কিন্তু যদি বলে—বিয়ের পূর্বে তালাকপ্রাপ্তা, তবে তালাক হয়ে যাবে’। আর যদি সে বলে: ‘আমি এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছি যে, আমার আগের কোনো স্বামী তাকে তালাক দিয়েছিল, অথবা আমিই আগের কোনো বিয়েতে তাকে তালাক দিয়েছিলাম’, তবে তার বক্তব্য গ্রহণ করা হবে যদি তার কথার সত্যতার সম্ভাবনা থাকে। আর যদি তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ার আগেই সে মারা যায়, পাগল হয়ে যায় বা বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে, তবে তালাক হবে না; ‘আল-ওয়াজিজ’ গ্রন্থে এটিই নিশ্চিতভাবে (جزم) বলা হয়েছে। তবে আমাদের অন্য একটি অভিমত (وجه) রয়েছে যে তালাক হয়ে যাবে; ‘আল-মুকনি’ গ্রন্থে বিষয়টিকে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই উল্লেখ করা হয়েছে। এর আরও একটি উদাহরণ: যদি কেউ বলে: ‘জায়েদ আসার এক মাস আগে তুমি তালাকপ্রাপ্তা’, অতঃপর জায়েদ এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই চলে আসে, তবে তালাক হবে না। আর যদি জায়েদ এক মাস এবং তার অতিরিক্ত কিছু সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আসে যার মধ্যে তালাক কার্যকর হওয়া সম্ভব, তবে তালাক হয়ে যাবে। ‘আল-মুকনি’ ও ‘আল-ওয়াজিজ’ গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে (جزم) বলা হয়েছে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘আমার মৃত্যুর পূর্বে তুমি তালাকপ্রাপ্তা’, তবে তার জীবনের শেষ মুহূর্তে তালাক কার্যকর হবে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘ঘরে প্রবেশ করার পূর্বে তুমি তালাকপ্রাপ্তা’, তবে তৎক্ষণাৎ তালাক হয়ে যাবে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘তার পাওনা আমার কাছে এক দিরহাম, যার পূর্বে আরও এক দিরহাম রয়েছে’, তবে তার ওপর দুই দিরহাম আবশ্যক হবে। ফকিহগণ (الأصحاب) এটি নিশ্চিতভাবে (جزم) বলেছেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘তার পাওনা আমার কাছে এক দিরহাম এক দিরহামের আগে’, তবে তার ওপর দুই দিরহাম আবশ্যক হবে। ‘আল-মুকনি’ গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে (جزم) বলা হয়েছে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘তুমি রমজানের আগের মাসে তালাকপ্রাপ্তা’ অথবা ‘রমজানের আগের আগের আগের মাসে তালাকপ্রাপ্তা’। জনৈক বিদগ্ধ ব্যক্তি এ বিষয়ে দুটি পংক্তি রচনা করেছেন:

 

ফকিহ (আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করুন) কী বলেন, যার প্রতি সর্বদা আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হয় …

সেই যুবক সম্পর্কে যে তালাককে এমন মাসের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে যা রমজানের আগের আগের আগের মাস?

এই কবিতার চরণে তারা উল্লেখ করেছেন যে, এর কিছু মাসআলা এই মূলনীতির (قاعدة) অন্তর্ভুক্ত এবং কিছু পরবর্তী মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। চারটি মাসআলা এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত এবং চারটি পরবর্তী মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। প্রথমটি হলো কবিতায় উল্লিখিত: ‘আগের আগের আগের’ (قبل ما قبل قبله)। দ্বিতীয়টি: ‘পরের পরের আগের’ (قبل ما بعد بعده)। তৃতীয়টি: ‘আগের পরের আগের’ (قبل ما بعد قبله)।

চতুর্থটি: ‘পরের আগের আগের’ (قبل ما قبل بعده)। এই চারটি মাসআলা পরবর্তী মূলনীতিতেও আসবে। এই মাসআলাটি আপনি অন্য কিতাবেও দেখতে পারেন। এর নিয়ামক (الضابط) হলো এই যে, আপনি যদি ‘পরে’ (بعد) শব্দটিকে আগে নিয়ে আসেন তবে চারটি সুরত তৈরি হয়। প্রথম: সবকটিই ‘পরে’ (بعد) যোগে।

দ্বিতীয়: দুইবার ‘পরে’ এবং একবার ‘আগে’ (قبل)। তৃতীয়: একবার ‘পরে’ এবং দুইবার ‘আগে’। চতুর্থ: একবার ‘পরে’, একবার ‘আগে’ এবং পুনরায় ‘পরে’। আর যদি ‘আগে’ (قبل) শব্দটিকে সামনে রাখা হয়, তবে একইভাবে চারটি সুরত হবে।

আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন এই আটটি প্রকারের উত্তরের নিয়ামক (ضابط) হলো: যদি শব্দগুলো অভিন্ন হয়, তবে সেগুলো যদি ‘আগে’ (قبل) বুঝায়, তবে মাসটি হবে সেই মাস যার তিন মাস পূর্বে রমজান ছিল। ফলে তালাকটি যিলহজ মাসে পতিত হবে। কেননা এর অর্থ হলো: ‘তুমি রমজানের আগের আগের আগের মাসে তালাকপ্রাপ্তা’। সুতরাং কেউ যদি বলে: ‘রমজান তার আগে’, তবে শাওয়াল মাসে তালাক হবে। যদি বলে ‘তার আগের আগে রমজান’, তবে যিলকদ মাসে তালাক হবে। আর ‘রমজানের পূর্বে’ বললে শাবান মাসে তালাক হবে।

পরবর্তী মূলনীতিতে ‘পরে’ (بعد) সম্পর্কিত আলোচনা আসবে। আর যদি সে বলে: ‘রমজানের আগের আগের মাসে’, তবে জুমাদাল উলা মাসে তালাক হবে। কারো মতে রজবে, আবার কারো মতে শাবানে তালাক হবে।

 

‌‌বত্রিশতম মূলনীতি (القاعدة)

মূলনীতি (قاعدة): ‘পরে’ (بعد) হলো সময়ের একটি ظرف (কালবাচক অব্যয়) যা পূর্ববর্তী বিষয়টি পরবর্তী বিষয়ের পরে হওয়া বুঝায়। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির (قاعدة) শাখাগুলো হলো যা আমরা প্রথম মাসআলায় উল্লেখ করেছি।

যদি কেউ বলে: ‘তুমি রমজানের পরের পরের পরের মাসে তালাকপ্রাপ্তা’। আমি কবিতার চরণ দুটিকে এভাবে পরিবর্তন করেছি:

 

ফকিহ (আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করুন) কী বলেন, যার প্রতি সর্বদা আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হয় …

সেই যুবক সম্পর্কে যে তালাককে এমন মাসের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে যা রমজানের পরের পরের পরের মাস?

যদি সে বলে: ‘রমজানের পরের পরের পরের মাস’, তবে জুমাদাল আখিরা মাসে তালাক হবে। যদি সে বলে: ‘তার পরে রমজান’ অথবা ‘রমজান তার পরে’, তবে শাবান মাসে তালাক হবে। আর যদি বলে ‘রমজানের পরের পরে’, তবে রজব মাসে তালাক হবে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وإن اختلفت الألفاظ، وهي ست مسائل فضابطها: إن كل ما اجتمع فيه "قبل" و "بعد" فألغهما نحو قبل بعد بعده، وبعد قبل قبله، فاعتبر الثالث.

فإذا قال: قبل بعد بعده، أوبعد قبل قبله فألغ اللفظين.

الأول: يصير كأنه قال في الأول: بعده رمضان، فيكون شعبان.

وفي الثاني: كأنه قال: قبله رمضان، فيكون شوال.

وتقرير هذا أن كل شهر واقع قبل ما هو بعده، ويعد ما هو قبله، وإن توسطت لفظة بين مضادين لها، نحو قبل بعد قبله، وبعد قبل بعده، فألغ اللفظتين: الأول: فيكون شوال في الصورة الأولى، كأنه قال في شهر قبله رمضان.

وشعبان في الثانية، كأنه قال: بعده رمضان.

وإذا قال: بعد بعد قبله، أو قبل قبل بعده، هما تمام الثمانية.

طلقت في الأولى في شعبان، فكأنه قال: بعده رمضان.

وفي الثانية في شوال، كأنه قال: قبله رمضان، والله أعلم.

ومنها: إذا قال السيد لعبده: أنت حر بعد موتي، فإنه يصح ويعتق بعد موته.

ومنها: إذا قال: إذا عتق سالم، فأنت حر بعده صح، ومتى عتق سالم عتق عبده، لأنهم ذكروا أن العتق يصح تعليقه بالصفات، وهذا من جملتها.

ومنها: إذا قال: أنت طالق بعد موتي، لم تطلق، جزم به أكثر أصحاب الإمام أحمد.

ومنها: إذا تزوج أمة أبيه، ثم قال: أنت طالق بعد موت أبي، فمات أبوه، لم تطلق، قدمه في "المقنع"، ويحتمل أن تطلق.

ومنها: إذا قال: أنت طالق اليوم وبعده وبعده، فهل تطلق ثلاثا أو واحدة؟ في المسألة وجهان حكاهما الأصحاب.

ومنها: إذا قال: بعد ما أطلقت فأنت طالق، ثم طلقها، فالذي ينبغي أن لا تطلق إلا واحدة إن كان الطلاق بائنا، مع أني لم أر للأصحاب فيها كلاما، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: له علي درهم بعد درهم، فإنه يلزمه درهمان، جزم به أكثر أصحاب الإمام أحمد، منهم الشيخ موفق الدين في كتبه وصاحب"الوجيز" وغيرهم.

ومنها: إذا قال وقفت على أولادي وأولاد أولادي، بطنا بعد بطن.

قال الشيخ تقي الدين بن تيمية: "هذا ترتيب جملة".

قال صاحب "الفروع": "مع أنه محمتل، فإن زاد على أنه، إن توفي أحد من أولاد الموقوف عليه ابتدأ في حياة والده أي الواقف وله ولد غير الذي مات، ثم مات الأب أي الواقف عن أولاده لصلبه وعن ولد ولده لصلبه، الذي مات أبوه قبل استحقاقه، فله معهم ما لأبيه لو كان حيا، فهو صريح في ترتيب الأفراد.

وقال الشيخ تقي الدين أيضا فيما إذا قال: بطنا بعد بطن، ولم يزد شيئا: "هذه مسألة فيها نزاع، والأظهر أن نصيب كل واحد ينتقل إلى ولده، ثم إلى ولد ولده، ولا مشاركة".

وقال صاحب "الفروع" في أول هذه المسألة: "ولو قال أولادي، ثم أولادهم، ثم الفقراء، فترتيب جملة، وقيل: أفراده".

وفي الانتصار: "إذا قوبل جمع بجمع، اقتضى مقابلة الفرد منه بالفرد من مقابلة لغة، فعلى هذا الأظهر استحقاق الولد، وإن لم يستحق أبوه، قاله الشيخ تقي الدين".

وأن الأظهر فيمن وقف على ولديه نصفين، ثم أولادهما وأولاد أولادهما، وعقبهما بعدهما بطنا بعد بطن، أنه ينتقل نصيب كل واحد إلى والده، ثم ولد ولده، ولا شك أنه ترتيب، لكن الخلاف هو: هل هو ترتيب جملة أو أفراد؟.

وعند الشافعية: هو ترتيب، صرح به البندنيجي، والماوردي، وإمام الحرمين، والغزالي، والقاضي حسين، وصاحب "الذخائر"، وصححه صاحب "التعجيز"، وهو المذكور في فتاوى الشيخ تقي الدين بن رزين، ونقله الرافعي عن الزيادي.

وذهب العبادي والفوراتي والبغوي إلى عدم الترتيب، وصححه الرافعي تقليدا للبغوي، ثم النووي تقليدا للرافعي. قال الأسنوي "وهو باطل بحثا ونقلا". والذي يظهر لي من كلامهم أن اختلافهم هل هو ترتيب أم لا؟ أنه إذا لم تقل: إنه ترتيب، كل ما مات أحد من الطبقة انتقل نصيبه إلى ولده، ومن قال: إنه ترتيب يقول: لم يستحق أحد من الأولاد شيئا حتى ينقرض جميع الآباء، ثم ينتقل إلى البنين، ثم إذا انقرضوا إلى بنيهم، وإن مات أحد البنين عن أولاد، وعن إخوته الذين هم طبقته، إنما ينتقل إلى إخوته لا إلى ولده، فإذا انقرض إخوته انتقل إلى أولاده وأولادهم.

 

‌‌القاعدة الثالثة والثلاثين

قاعدة: "إذ" ظرف للوقت الماضي من الزمان، لازم للنصب على الظرفية، والإضافة على جملة ملفوظ بها أو مقدرة.
যদি শব্দগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়, তবে এ সংক্রান্ত মাসআলা হলো ছয়টি। এর মূলনীতি (ضابط) হলো: যেখানেই 'আগে' (قبل) এবং 'পরে' (بعد) শব্দ দুটি একত্রিত হবে, সেখানে প্রথম দুটিকে বাদ দিয়ে দাও। যেমন— 'আগে পরে তার পরে', এবং 'পরে আগে তার আগে'; এমন ক্ষেত্রে তৃতীয় শব্দটি বিবেচনা করো।

যদি কেউ বলে: 'আগে পরে তার পরে', অথবা 'পরে আগে তার আগে', তবে প্রথম শব্দ দুটি বাদ দাও।

প্রথমটি: প্রথম উদাহরণের বিষয়টি এমন হবে যেন সে বলেছে— 'তার পরে রমজান', ফলে মাসটি হবে শাবান।

দ্বিতীয়টি: দ্বিতীয় উদাহরণের বিষয়টি এমন হবে যেন সে বলেছে— 'তার আগে রমজান', ফলে মাসটি হবে শাওয়াল।

এর ব্যাখ্যা হলো, প্রতিটি মাস তার পরের মাসের আগে (قبل) অবস্থিত এবং তার আগের মাসের পরে (بعد) অবস্থিত। যদি বিপরীত অর্থবোধক দুটি শব্দের মাঝে অন্য একটি শব্দ আসে, যেমন: 'আগে পরে তার আগে' এবং 'পরে আগে তার পরে', তবে শব্দ দুটি বাদ দাও। প্রথম সুরত: প্রথম উদাহরণে মাসটি হবে শাওয়াল, যেন সে বলেছে— 'রমজানের আগের মাস'।

দ্বিতীয় সুরতে মাসটি হবে শাবান, যেন সে বলেছে— 'তার পরে রমজান'।

আর যদি সে বলে: 'পরে পরে তার আগে' অথবা 'আগে আগে তার পরে', তবে এই দুটিসহ মোট আটটি সুরত পূর্ণ হলো।

প্রথম সুরতে তালাক কার্যকর হবে শাবান মাসে, যেন সে বলেছে— 'তার পরে রমজান'।

দ্বিতীয় সুরতে শাওয়াল মাসে, যেন সে বলেছে— 'তার আগে রমজান'। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয়: যদি কোনো মুনিব তার দাসকে বলে, 'তুমি আমার মৃত্যুর পর স্বাধীন (حر)', তবে তা শুদ্ধ (صحيح) হবে এবং তার মৃত্যুর পর দাসটি মুক্ত হয়ে যাবে।

আরেকটি বিষয়: যদি সে বলে, 'যদি সালিম মুক্ত হয়, তবে তুমি তার পরে মুক্ত', তবে তা শুদ্ধ (صحيح) হবে। যখনই সালিম মুক্ত হবে, তখনই তার এই দাসটিও মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন যে, কোনো গুণের (صفة) সাথে ঝুলিয়ে রেখেও মুক্তি প্রদান করা শুদ্ধ (صحيح) হয়; আর এটিও তারই অন্তর্ভুক্ত।

আরেকটি বিষয়: যদি সে বলে, 'তুমি আমার মৃত্যুর পর তালাকপ্রাপ্তা', তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে না। ইমাম আহমদের অধিকাংশ অনুসারী এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন।

আরেকটি বিষয়: যদি কেউ তার পিতার দাসীকে বিবাহ করে, অতঃপর বলে, 'তুমি আমার পিতার মৃত্যুর পর তালাকপ্রাপ্তা', এরপর তার পিতা মারা যান, তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে না। আল-মুকনি গ্রন্থে এই মতটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আরেকটি বিষয়: যদি সে বলে, 'তুমি আজ তালাকপ্রাপ্তা এবং তার পরে এবং তার পরে', তবে কি তিনটি তালাক হবে নাকি একটি? এ মাসআলায় দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে যা ইমাম আহমদের অনুসারীরা বর্ণনা করেছেন।

আরেকটি বিষয়: যদি সে বলে, 'আমি তালাক দেওয়ার পর তুমি তালাকপ্রাপ্তা', এরপর সে তাকে তালাক দিল— তবে এখানে একটির বেশি তালাক না হওয়াই উচিত যদি সেই তালাকটি বিচ্ছেদকারী (بائن) হয়। যদিও এ বিষয়ে আমি হাম্বলি ফকিহদের কোনো বক্তব্য পাইনি। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

আরেকটি বিষয়: যদি সে বলে, 'আমার ওপর তার এক দিরহামের পর (بعد) আরেক দিরহাম পাওনা রয়েছে', তবে তার ওপর দুই দিরহাম আবশ্যক হবে। ইমাম আহমদের অধিকাংশ অনুসারী এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন, যাদের মধ্যে শেখ মুওয়াফফাকুদ্দিন তাঁর গ্রন্থসমূহে এবং আল-ওয়াজিজ গ্রন্থের লেখক ও অন্যান্যরা রয়েছেন।

আরেকটি বিষয়: যদি কেউ বলে, 'আমি আমার সন্তান এবং সন্তানদের সন্তানদের জন্য ওয়াকফ করলাম, এক প্রজন্মের পর অন্য প্রজন্ম (بطنا بعد بطن)'।

শেখ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "এটি হলো সামষ্টিক বিন্যাস (ترتيب جملة)।"

আল-ফুরু গ্রন্থের লেখক বলেন: "যদিও এতে অন্য অর্থেরও সম্ভাবনা রয়েছে; তবে যদি সে এই শব্দের সাথে আরও বৃদ্ধি করে বলে যে— যদি ওয়াকফকৃত সন্তানদের কেউ তার পিতার (ওয়াকফকারীর) জীবদ্দশায় মারা যায় এবং ওয়াকফকারীর ওই মৃত সন্তান ছাড়া আরও সন্তান থাকে, অতঃপর ওয়াকফকারী তার নিজের সন্তানদের এবং তার সেই মৃত সন্তানের সন্তানদের রেখে মারা যায় যে তার পাওনা পাওয়ার আগেই মারা গেছে, তবে ওই নাতি তার পিতার প্রাপ্য অংশ পাবে যদি তার পিতা জীবিত থাকত। তবে এটি হবে ব্যষ্টিক বিন্যাসের (ترتيب أفراد) ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বক্তব্য।"

শেখ তাকিউদ্দিন আরও বলেন, যখন কেউ শুধু 'এক প্রজন্মের পর অন্য প্রজন্ম' (بطنا بعد بطن) বলবে এবং অন্য কিছু যোগ করবে না: "এই মাসআলাটিতে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রবল মত (الظاهر) হলো, প্রত্যেকের অংশ তার সন্তানদের দিকে স্থানান্তরিত হবে, এরপর তাদের সন্তানদের দিকে; এখানে অন্য কেউ অংশীদার হবে না।"

আল-ফুরু গ্রন্থের লেখক এই মাসআলার শুরুতে বলেন: "যদি কেউ বলে— আমার সন্তানরা, অতঃপর তাদের সন্তানরা, অতঃপর অভাবীগণ; তবে এটি সামষ্টিক বিন্যাস (ترتيب جملة) হিসেবে গণ্য হবে। কেউ কেউ বলেছেন এটি ব্যষ্টিক বিন্যাস (ترتيب أفراد) হবে।"

আল-ইনতিসার গ্রন্থে রয়েছে: "যখন ভাষার প্রয়োগে এক সমষ্টির মোকাবিলায় অন্য সমষ্টিকে আনা হয়, তখন ভাষাগত দিক থেকে তা ব্যষ্টিক মোকাবিলা দাবি করে। এই ভিত্তিতে প্রবল মত (الظاهر) হলো, সন্তান পাওনাদার হবে যদিও তার পিতা পাওনাদার না হয়। শেখ তাকিউদ্দিন একথাই বলেছেন।"

এবং প্রবল মত (الظاهر) হলো— যে ব্যক্তি তার দুই সন্তানের জন্য অর্ধেক অর্ধেক ওয়াকফ করল, অতঃপর তাদের সন্তানদের জন্য এবং তাদের সন্তানদের সন্তানদের জন্য, এবং তাদের বংশধরদের জন্য তাদের পরে এক প্রজন্মের পর অন্য প্রজন্ম (بطنا بعد بطن) হিসেবে— তবে প্রত্যেকের অংশ তার পিতার দিকে এবং এরপর তার সন্তানদের দিকে স্থানান্তরিত হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি বিন্যাস (ترتيب); কিন্তু মতভেদ হলো: এটি কি সামষ্টিক বিন্যাস (ترتيب جملة) নাকি ব্যষ্টিক বিন্যাস (ترتيب أفراد)?

শাফেয়ি মাজহাবের মতে: এটি একটি বিন্যাস (ترتيب); আল-বান্দানিজি, আল-মাওয়ারদি, ইমামুল হারামাইন, আল-গাযালি, কাজি হুসাইন এবং আয-যাখাইর গ্রন্থের লেখক এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আল-তা'জিজ গ্রন্থের লেখক একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং শেখ তাকিউদ্দিন বিন রাজিন-এর ফতোয়াসমূহেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইমাম রাফেয়ি এটি আল-যিয়াদি থেকে বর্ণনা করেছেন।

পক্ষান্তরে আল-ইবাদি, আল-ফুরাতি এবং আল-বাগাবি বিন্যাস না হওয়ার (عدم الترتيب) দিকে মত দিয়েছেন। ইমাম রাফেয়ি আল-বাগাবি-র অনুকরণের ভিত্তিতে একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন, এবং পরবর্তীতে ইমাম নববি ইমাম রাফেয়ি-র অনুকরণের ভিত্তিতে একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। আল-আসনাবি বলেন, "গবেষণা ও বর্ণনার বিচারে এটি বাতিল (باطل)।" তাদের বক্তব্য থেকে আমার কাছে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, তাদের মতভেদ কি কেবল এটি বিন্যাস (ترتيب) কি না তা নিয়ে? যদি আপনি একে বিন্যাস (ترتيب) না বলেন, তবে ওই স্তরের কেউ মারা গেলেই তার অংশ তার সন্তানের দিকে চলে যাবে। আর যারা একে বিন্যাস (ترتيب) বলেন তারা বলেন: প্রথম স্তরের সকল পিতা (পূর্বপুরুষ) নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্তানদের কেউ কিছুই পাবে না; এরপর তা সন্তানদের দিকে যাবে, এরপর তারা নিঃশেষ হলে তাদের সন্তানদের দিকে যাবে। যদি সন্তানদের কেউ তার সন্তান এবং তার সমপর্যায়ের ভাইদের রেখে মারা যায়, তবে তার অংশ তার ভাইদের দিকে যাবে, তার সন্তানের দিকে নয়। যখন তার ভাইয়েরা নিঃশেষ হয়ে যাবে, তখন তা তার সন্তান ও তাদের সন্তানদের দিকে স্থানান্তরিত হবে।

 

‌৩৩তম নীতি (القاعدة)

নীতি (القاعدة): "ইয" (إذ) হলো অতীতকালের সময়ের আধার (ظرف), যা যরফিইয়াতের (ظرفية) ভিত্তিতে নসবযুক্ত হওয়া আবশ্যক এবং কোনো উচ্চারিত বা উহ্য বাক্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأجاز الأخفش والزجاج نصبه على المفعولية، وذكر ابن مالك أنها تجيء حرفا للتعليل.

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: إذا قال: أنت طالق إذ قمت، أو إذ تزوجتك، فإن كان المراد المضي فتطلق، أشبه ما لو قال: أنت طالق قبل أن تدخلي الدار. وإن كانت للتعليل، فيكون قوله: أنت طالق لأجل قيامك، أو لأجل تزوجك، أو لأجل نومك، أو لأجل صومك، ونحوه. والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الرابعة والثلاثون

قاعدة: "إذا" ظرف للمستقبل من الزمان، فيه معنى الشرط غالبا، وقد تقع للماضي، وقد لا يكون فيها معنى الشرط، وإذا دلت على الشرط، فلا تدل على التكرار على الصحيح، قيل: بلى، واختاره ابن عصفور.

إذا علمت هذا، من فروع المسألة: إذا مت فأنت حر، فإنه يصير مدبرا بهذا، وإن قال: إذا أردت فأنت مدبر، كان على التراخي لأنه للاستقبال، بخلاف ما ذكروا في "إن شئت". وكذا في العتق، والله أعلم.

ومنها: في الطلاق، إذا قال: أنت طالق إذا قدم زيد، أو إذا جاء غدا، أو إذا جاء رأس الشهر، أو إذا شئتِ، أو إذا شاء زيد، إو إذا ذهبتِ فتطلق.

وكذا سائر التعاليق تدخل في هذه القاعدة من الطلاق والأيمان ونحوهما، وكذا في الإقرار، إذا قال: له علي ألف إذا شهد بها فلان، أو إذا جاء رأس الشهر، والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة الخامسة والثلاثون

قاعدة: "إذ" تقع موقع "إذا" فتكون للمستقبل، وكذلك بالعكس في أحد المذهبين للنحاة، وأصحها المنع.

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: جميع ما ذكر في "إذا"، فإنه يجيء في هذا إذا كان مراده، ك "أنت طالق إذ قمت"، إذا كان مراده "إذا" وإذ نمت، وإذ صمت، وإذ قمت.

والدليل على هذا ما في صحيح البخاري في حديث ورقة بن نوفل "ياليتني أكون حيا إذ يخرجك قومك.." والدليل الأول قول الله عز وجل: (وإذ قال الله ياعيسى ابن مريم ءأنت قلت للناس) الآية، والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة السادسة والثلاثون

قاعدة: كما لا تدل "إذا" أيضا على التكرار، لا تدل أيضا على العموم على الصحيح، وقيل: تدل عليه. وهل هي للتراخي أو على الفور؟ فيه وجهان.

إذا علمت هذا، فمن فروع المسألة: إذا قال: إذا طلقت امرأة، فعبد من عبيدي حر، ثنتان فعبدان، وثلاثا فثلاثة، وأربعا فأربعة، ثم طلقهن معا، عتق أربعة من عبيده، لأنها تقتضي التكرار. وعند الشافعية يعتق واحد لأنها لا تقضي التكرار ولا العموم، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: إذا أتاك طلاقي فأنت طالق، ثم كتب إليها: إذا أتاك طلاقي فأنت طالق، فأتاها، وقيل: أو أتى موضع الطلاق، طلقت طلقتين، وإن أراد بالثاني الأول، ففي قبول قوله في الحكم روايتان ومنها: لو كتب إليها: إذا قرأت كتابي هذا فأنت طالق، فقرئ عليها، وقع إن كانت أمية وإلا فوجهان. وفي "الترغيب" قال أحمد: "لاتتزوج حتى يشهد عندها شهود عدول، شاهدان لا حامل الكتاب وحده، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: إذا قمت فأنت طالق، فقامت، طلقت، ولا يتكرر الطلاق بتكرر القيام، جزم به في "الفروع"، وكذا إذا قال: إذا رأيت فقيها، أو إذا أكلت رمانة، ونحوه.

ومنها: إذا قال: إذا حضت فأنت طالق، وقع بأوله، نقل مهنا: تطلق برؤية الدم.

وفي "الانتصار" و "الفنون" و"الترغيب" و"الرعاية": يتبينه بمضي أقله، ويقع في: إذا حضت حيضة بانقطاعه، وقيل: وغسلها.

وذكر ابن عقيل رواية من أول حيضة مستقبلة، وإن قال: إن طهرت وقع الطلاق بأول طهر مستقبل، نص عليه، وفي "التنبيه" قول: حتى تغتسل.

وإذا قال: إذا حضت نصف حيضة فأنت طالق، فمضت حيضة مستقرة، وقع لنصفها، وفي وقوعه ظاهرا بمضي دم سبعة أيام ونصف، أو لنصف العادة وجهان. وقيل: فيها كالمسألتين الأوليين.

وكذا إذا قال: إذا كلمت زيدا فأنت طالق، فكلمته طلقت، ولا يتكرر بالتكرار. ويتركب على هذا مسائل كثيرة في الطلاق تفهم من هذا التركيب، وذلك أن كل مسألة فيها "إذا" تدخل في هذه القاعدة، وكذا في الأيمان والعتق.

 

‌‌القاعدة السابعة والثلاثون

قاعدة: "إن" من أدوات الشرط، وليست للتكرار، وهي على التراخي، ما لم تقترن بها "لم".

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة:
আখফাশ এবং যাজ্জাজ একে কর্মকারক হিসেবে নসব হওয়া বৈধ বলেছেন এবং ইবনে মালিক উল্লেখ করেছেন যে এটি কারণ দর্শানোর (تعليل) হরফ হিসেবে আসে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখাগুলো হলো: যদি কেউ বলে: 'তুমি তালাক যখন (إذ) তুমি দন্ডায়মান হয়েছিলে' অথবা 'যখন (إذ) আমি তোমাকে বিবাহ করেছি'; তবে যদি উদ্দেশ্য অতীতকাল হয় তবে তালাক হয়ে যাবে, এটি সেই ব্যক্তির বক্তব্যের সদৃশ যে বলল: 'তুমি ঘরে প্রবেশের পূর্বে তালাক'। আর যদি এটি কারণ দর্শানোর (تعليل) জন্য হয়, তবে তার বক্তব্য এমন হবে: 'তোমার দন্ডায়মান হওয়ার কারণে, অথবা তোমার বিবাহের কারণে, অথবা তোমার নিদ্রার কারণে, অথবা তোমার সিয়ামের কারণে' বা এই জাতীয় কারণে তুমি তালাকপ্রাপ্তা। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।

 

‌‌চৌত্রিশতম মূলনীতি

মূলনীতি: "ইযা" (إذا) ভবিষ্যতের সময়ের জন্য একটি অব্যয় (ظرف), যার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শর্তের (شرط) অর্থ থাকে। কখনো এটি অতীতের জন্যও ব্যবহৃত হয় এবং কখনো এতে শর্তের অর্থ থাকে না। যখন এটি শর্ত নির্দেশ করে, তখন সঠিক (صحيح) মতানুসারে এটি পুনরাবৃত্তি (تكرار) বোঝায় না। কেউ কেউ বলেছেন: এটি পুনরাবৃত্তি বোঝায়, আর ইবনে উসফুর এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মাসআলার শাখাগুলো হলো: "আমি যদি মারা যাই তবে তুমি মুক্ত", এর দ্বারা সে মুদাব্বার (মৃত্যুর পর স্বাধীন হওয়ার চুক্তিবদ্ধ) হয়ে যাবে। আর যদি সে বলে: "আমি যদি চাই তবে তুমি মুদাব্বার", তবে এটি বিলম্বিত (تراخي) হওয়ার অর্থ প্রকাশ করবে, কারণ এটি ভবিষ্যৎকাল নির্দেশক; যা তারা "যদি তুমি চাও" (إن شئت) এর ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করেছেন তার বিপরীত। দাস মুক্তির (عتق) ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তালাকের ক্ষেত্রে, যদি সে বলে: 'তুমি তালাক যখন (إذا) যায়েদ আসবে', অথবা 'যখন আগামীকাল আসবে', অথবা 'যখন মাসের শুরু আসবে', অথবা 'যখন তুমি চাইবে', অথবা 'যখন যায়েদ চাইবে', অথবা 'যখন তুমি যাবে', তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে।

অনুরূপভাবে তালাক, শপথ এবং এই জাতীয় অন্যান্য সকল ঝুলন্ত বিষয়সমূহ এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে। স্বীকারোক্তির (إقرار) ক্ষেত্রেও একই বিধান; যদি সে বলে: 'তার পাওনা আমার নিকট এক হাজার টাকা হবে যখন (إذا) অমুক ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে', অথবা 'যখন মাসের শুরু আসবে'। আল্লাহই সঠিক বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত।

 

‌‌পঁয়ত্রিশতম মূলনীতি

মূলনীতি: "ইয" (إذ) কখনো "ইযা" (إذا) এর স্থলাভিষিক্ত হয়, ফলে তা ভবিষ্যৎকাল নির্দেশ করে। ব্যাকরণবিদদের দুটি মতের একটি অনুযায়ী এর বিপরীতটিও ঘটে থাকে (অর্থাৎ ইযা এর স্থলে ইয বসে), তবে এর মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মতটি হলো এটি নিষিদ্ধ।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখাগুলো হলো: "ইযা" (إذا) এর ক্ষেত্রে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, এখানেও তার সবকিছু প্রযোজ্য হবে যদি বক্তার উদ্দেশ্য তাই হয়। যেমন: "তুমি তালাক যখন (إذ) তুমি দন্ডায়মান হবে", যদি তার উদ্দেশ্য "ইযা" (إذا) হয়; এবং যখন তুমি ঘুমালে, যখন তুমি সিয়াম পালন করলে এবং যখন তুমি দন্ডায়মান হলে।

এর প্রমাণ হলো যা সাহিহ বুখারী-তে ওরাকা ইবনে নওফলের হাদিসে এসেছে: "হায়! আমি যদি জীবিত থাকতাম যখন (إذ) তোমার কওম তোমাকে বের করে দেবে..."। আর প্রথম দালিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: (এবং স্মরণ করো যখন (إذ) আল্লাহ বলবেন, হে মারইয়াম তনয় ঈসা, তুমি কি মানুষকে বলেছিলে...) শেষ পর্যন্ত। আল্লাহ সঠিক বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত।

 

‌‌ছত্রিশতম মূলনীতি

মূলনীতি: "ইযা" (إذا) যেমন পুনরাবৃত্তি (تكرار) বোঝায় না, তেমনি সঠিক (صحيح) মতানুসারে এটি ব্যাপকতাও (عموم) বোঝায় না। কেউ কেউ বলেছেন: এটি ব্যাপকতা বোঝায়। এটি কি বিলম্বিত (تراخي) নাকি তাৎক্ষণিক (فور) হওয়ার জন্য? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মাসআলার শাখাগুলো হলো: যদি সে বলে: 'যখন (إذا) আমি কোনো স্ত্রীকে তালাক দেব, তখন আমার দাসদের মধ্য থেকে একজন স্বাধীন', তবে দুই জনের ক্ষেত্রে দুইজন, তিন জনের ক্ষেত্রে তিনজন এবং চার জনের ক্ষেত্রে চারজন স্বাধীন হবে। অতঃপর যদি সে তাদের সকলকে একসাথে তালাক দেয়, তবে তার চারজন দাসই স্বাধীন হয়ে যাবে; কারণ এটি পুনরাবৃত্তি দাবি করে। কিন্তু শাফেয়ী মাযহাব মতে মাত্র একজন স্বাধীন হবে, কারণ তাদের মতে এটি পুনরাবৃত্তি বা ব্যাপকতা কোনোটিই দাবি করে না। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি সে বলে: 'যখন (إذا) তোমার কাছে আমার তালাক পৌঁছাবে তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা', অতঃপর সে তার কাছে লিখে পাঠাল: 'যখন তোমার কাছে আমার তালাক পৌঁছাবে তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা', অতঃপর তা তার কাছে পৌঁছাল; কেউ কেউ বলেছেন: অথবা তালাকের স্থানে পৌঁছাল, তবে সে দুই তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি সে দ্বিতীয়টি দ্বারা প্রথমটিই উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে বিচারের ক্ষেত্রে তার কথা গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এর আরেকটি শাখা হলো: যদি সে তার কাছে লেখে: 'যখন (إذا) তুমি আমার এই পত্রটি পাঠ করবে তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা', অতঃপর তাকে সেটি পড়ে শোনানো হলো; যদি সে নিরক্ষর হয় তবে তালাক হয়ে যাবে, অন্যথায় এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। "আত-তারগীব" গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ইমাম আহমদ (রহ.) বলেছেন: "সে স্ত্রী ততক্ষণ বিবাহ করবে না যতক্ষণ না তার নিকট ন্যায়পরায়ণ (عدول) সাক্ষীগণ সাক্ষ্য দেয়, দুইজন সাক্ষী লাগবে, কেবল পত্রবাহক একাকী হলে হবে না"। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি সে বলে: 'যখন (إذا) তুমি দন্ডায়মান হবে তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা', অতঃপর সে দন্ডায়মান হলো, তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে। দন্ডায়মান হওয়ার পুনরাবৃত্তিতে তালাক পুনরাবৃত্তি হবে না; "আল-ফুরু" গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে যদি সে বলে: 'যখন তুমি কোনো ফকীহ দেখবে', অথবা 'যখন তুমি কোনো ডালিম খাবে' ইত্যাদি।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি সে বলে: 'যখন (إذا) তুমি ঋতুবর্তী হবে তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা', তবে ঋতুর শুরুতেই তালাক হয়ে যাবে। মুহান্না বর্ণনা করেছেন: রক্ত দেখার সাথে সাথেই সে তালাকপ্রাপ্তা হবে।

"আল-ইনতিসার", "আল-ফুনুন", "আত-তারগীব" এবং "আর-রিআয়াহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: ঋতুর সর্বনিম্ন সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হবে। আর যদি বলে: "যখন তুমি এক ঋতু (حيضة) অতিবাহিত করবে", তবে তা রক্ত বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে কার্যকর হবে; কেউ কেউ বলেছেন: এবং তার গোসলের মাধ্যমে।

ইবনে আকীল ভবিষ্যতে শুরু হওয়া প্রথম ঋতু থেকে তালাক হওয়ার একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। আর যদি সে বলে: "যদি তুমি পবিত্র হও", তবে ভবিষ্যতে শুরু হওয়া প্রথম পবিত্রতার সাথেই তালাক কার্যকর হবে, এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। "আত-তানবীহ" গ্রন্থে একটি মত রয়েছে যে: যতক্ষণ না সে গোসল করে।

অনুরূপভাবে যদি সে বলে: 'যখন (إذا) তুমি যায়েদের সাথে কথা বলবে তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা', অতঃপর সে তার সাথে কথা বলল, তবে তালাক হয়ে যাবে এবং কথার পুনরাবৃত্তিতে তালাক পুনরাবৃত্তি হবে না। এই কাঠামোর উপর তালাকের অনেক মাসআলা বিন্যস্ত হয় যা এই বিন্যাস থেকে বোঝা যায়। কারণ যে মাসআলায় "ইযা" (إذا) থাকবে, তা এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে; একইভাবে শপথ এবং দাস মুক্তির ক্ষেত্রেও।

 

‌‌সাঁইত্রিশতম মূলনীতি

মূলনীতি: "ইন" (إن) শর্তের (شرط) অব্যয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি পুনরাবৃত্তি (تكرار) বোঝায় না, বরং এটি বিলম্বিত (تراخي) হওয়ার অর্থ দেয়, যতক্ষণ না এর সাথে "লাম" (لم) যুক্ত হয়।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখাগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
إذا قال: إن قمتِ، أو قعدتِ، أو إن دخلتِ فأنت طالق، فقامت طلقت، ولو بعده بزمن، لأنها على التراخي، ولا يتكرر بتكراره، جزم به في "الفروع"، والله أعلم.

ومنها:: إذا قال: إذا أكلت رمانة، أو إن أكلت نصفها فأنت طالق، فأكلت رمانة فثنتان، واختار الشيخ تفي الدين بن تيمية وحدة.

ومنها: إذا قال: إن حضتِ فأنت طالق، فهي مثل"إذا". وإن قال: إن حضت فأنت وضرتك طالقتان، طلقتا بإقراره بالحيض، ولو لم تحيضا، وإن ادعته وأنكر طلقت دون ضرتها، كقوله: إن أضمرت بغضي فادعته، بخلاف دخول الدار.

وإن قال: إن حضتما فأنتما طالقتان، فادعتاه طلقتا إن صدقهما، وإن كذب واحدة طلقت وحدها.

وإن قال لأربع، فادعيته وصدقهن، طلقن، وإن كذب واحدة طلقت وحدها.

ومنها: إذا قال: أن قمت، فتارة يكون بفتح الهمزة، وتارة لا، فإن كان بفتح الهمزة شرط من العامي، وقيل: يقع إذا كان وجد ك "نحوي"، وقيل: إن نوى مقتضاه، وفيه - في الترغيب - وجه يقع "إذن" ولو لم يوجد كتطليقها لرضاء أبيها، وأطلق جماعة عن أبي بكر فيها يقع إذن.

ولو بدل "إن" ك "هي"، وفي "الكافي": يقع إذن ك "إذ"، وفيه احتمال ك "أمس"، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: إن قمت، إن قعدت، لم تطلق حتى تقعد ثم تقوم، قدمه في "الفروع"، وذكر القاضي إنه ك "الواو"، وعنه تطلق بأحدهما، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: إن كنت حاملا بذكر، فأنت طالق واحدة، وإن كنت حاملا بأنثى فاثنتين، فوضعتهما، فثلاث.

وإن قال: "إن كان" مكان "كنت" لم تطلق وإن قال: إن كنت حاملا، وهذه المسألة مشهور في كتب أصحاب الإمام أحمد.

ومنها: إذا قال ل "عمرة": إن طلقتك، فحفصة طالق، ثم قال ل "حفصة": إن طلقتك ف "عمرة" طالق، فحفصة هنا كعمرة هناك، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: إذا كلمت زيدا فأنت طالق، فكلمته، طلقت، ولا يتكرر الطلاق بتكرار الكلام، ويكون ذلك على التراخي.

وهذه القاعدة يدخل فيها مسائل كثيرة في الطلاق والأيمان والعتق، ولا تخفى على الطالب إذا عرف أصلها مما قررناه، فإن العلماء ذكروا مسائل كثيرة من فروع هذه القاعدة، وغالبها في باب تعليق الطلاق بالشروط، والله الموفق.

 

‌‌القاعدة الثامنة والثلاثون

قاعدة: "متى" من أدوات الشرط، وليست للتكرار، وقيل: بلى وهي على التراخي.

إذا علمت ذلك فمن فروع القاعدة: إذا قال: متى قمت فأنت طالق، فقامت طلقت، جزم به الأصحاب. وهل يتكرر الطلاق بتكرار القيام؟ في المسألة وجهان، أطلقهما في الفروع، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: متى لم أطلقك، فأنت طالق، فمضى ما يمكنه طلاقها فيه، ولم يطلقها طلقت، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: متى حضت، أو متى حملت، أو متى ولدت، طلقت إذا، أو ولدت أو حملت، ولا يتكرر ذلك بتكرار الحمل على الصحيح، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: متى كلمت زيدا، وحكمها حكم ما سبق.

ويدخل في هذه القاعدة مسائل كثيرة من هذا الباب، ومن باب الأيمان والعتق أيضا، والله الموفق.

 

‌‌القاعدة التاسعة والثلاثون

قاعدة: "مَنْ" أيضا من أدوات الشرط، وليست للتكرار، فهل هي للفور أو على التراخي؟ قولان.

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: إذا قال: من قامت فهي طالق، فمتى قامت طلقت، ولا يتكرر بتكراره، جزم به في "الفروع" وغيره. وهل يكون على الفور؟ جزم في "الفروع" أنه على التراخي، ويمكن أن يكون مبنيا على الخلاف في الأصل، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: من حاضت، أو من حملت، أو من ولدت، أو من طهرت. ولا يخفى أمر ذلك عليك، وكذا إذا قال: من رأت الهلال وسائر التعاليق.

ومنها: من بشرتني بقدوم أخي فهي طالق، فأخبرته به امرأتان، طلقت الأولى منهما، إلا أن تكون الثانية هي الصادقة، فتطلق وحدها، وإن قال: من أخبرتني بقدومه فهي طالق، فكذلك عند القاضي، وعند أبي الخطاب: يطلقان. ولا يخفى عليك فروع هذه القاعدة أيضا هنا، وفي الأيمان والعتق، والتدبير.

 

‌‌القاعدة الأربعون

قاعدة: أي أيضا من أدوات الشرط، وليست للتكرار، وهل هي على التراخي، إلا أن تضاف إلى شخص إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: إذا قال: أي وقت قمت فأنت طالق، فأي وقت قامت طلقت، ولا يتكرر بتكرار القيام، والله أعلم.
যদি তিনি বলেন: "যদি তুমি দাঁড়াও, বা বসো, অথবা যদি তুমি প্রবেশ করো তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে যখনই তিনি দাঁড়াবেন তিনি তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবেন, এমনকি এর কিছু সময় পরেও। কারণ এটি বিলম্বিত সময়ের (على التراخي) জন্য প্রযোজ্য। এবং কার্যের পুনরাবৃত্তির ফলে তালাক পুনরাবৃত্তি হবে না। 'আল-ফুরু' গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে (جزم به) ব্যক্ত করা হয়েছে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: "যদি তুমি একটি ডালিম খাও, অথবা যদি তুমি তার অর্ধেক খাও তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", অতঃপর তিনি একটি ডালিম খেলে দুটি তালাক হবে। শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ একটি তালাক হওয়ার মতকে বেছে নিয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: "যদি তোমার ঋতুস্রাব হয় তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে এটি 'ইযা' (যদি/যখন) শব্দের মতোই। আর যদি তিনি বলেন: "যদি তোমার ঋতুস্রাব হয় তবে তুমি এবং তোমার সতীন তালাকপ্রাপ্তা", তবে ঋতুস্রাবের স্বীকারোক্তির মাধ্যমেই তারা তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে, যদিও তাদের ঋতুস্রাব না-ও হয়। আর যদি স্ত্রী তা দাবি করে এবং স্বামী অস্বীকার করে, তবে তার সতীন ছাড়া কেবল সে-ই তালাকপ্রাপ্তা হবে। যেমনটি তার এই কথার ন্যায়: "যদি তুমি আমার প্রতি ঘৃণা পোষণ করো (তবে তালাক)", অতঃপর স্ত্রী তা দাবি করল। ঘরে প্রবেশের মাসয়ালাটি এর ব্যতিক্রম।

আর যদি তিনি বলেন: "যদি তোমাদের উভয়ের ঋতুস্রাব হয় তবে তোমরা উভয়েই তালাকপ্রাপ্তা", অতঃপর তারা উভয়েই তা দাবি করল, তবে স্বামী তাদের সত্যয়ন করলে তারা তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি স্বামী একজনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে কেবল সেই একজনই তালাকপ্রাপ্তা হবে।

আর যদি চারজন স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন এবং তারা দাবি করে ও স্বামী তাদের সত্যয়ন করে, তবে তারা তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি একজনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে কেবল সেই একজনই তালাকপ্রাপ্তা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: 'আন' (أن) তুমি দাঁড়াও, তবে কখনো এটি হামযার ফাতাহ (জবর) দিয়ে হয়, আবার কখনো হয় না। যদি ফাতাহ দিয়ে হয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এটি একটি শর্ত। বলা হয়েছে: এটি কার্যকর হবে যদি ব্যাকরণবিদ (نحوي) সুলভ প্রয়োগ পাওয়া যায়। আবার বলা হয়েছে: যদি এর অর্থের নিয়ত করেন (তবে কার্যকর হবে)। 'আত-তারগিব' গ্রন্থে একটি অভিমত (وجه) রয়েছে যে, এটি 'ইযান' (তখনই) হিসেবে কার্যকর হবে যদিও শর্তটি পাওয়া না যায়, যেমন তার পিতার সন্তুষ্টির জন্য তাকে তালাক দেওয়া। একদল আলিম আবু বকর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক্ষেত্রে 'ইযান' হিসেবে তালাক পতিত হবে।

আর যদি 'ইন' (যদি) এর পরিবর্তে 'হিয়া' (সে) ব্যবহার করা হয়; 'আল-কাফি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি 'ইয' (যখন) এর মতো 'ইযান' হিসেবে কার্যকর হবে। এতে 'আমসি' (গতকাল) এর ন্যায় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: "যদি তুমি দাঁড়াও, যদি তুমি বসো", তবে যতক্ষণ না তিনি বসেন এবং এরপর দাঁড়ান, ততক্ষণ তালাক হবে না। 'আল-ফুরু' গ্রন্থে একে অগ্রগণ্য বলা হয়েছে। আল-কাদি উল্লেখ করেছেন যে এটি 'ওয়াও' (এবং) অক্ষরের মতো। তাঁর পক্ষ থেকে অন্য একটি বর্ণনা হলো যে কোনো একটির মাধ্যমেই তালাক হয়ে যাবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: "যদি তুমি পুত্র সন্তান গর্ভে ধারণ করো তবে তুমি এক তালাক, আর যদি তুমি কন্যা সন্তান গর্ভে ধারণ করো তবে দুই তালাক", অতঃপর তিনি উভয়টিই প্রসব করলেন, তবে তিন তালাক হবে।

আর যদি 'কুন্তি' (তুমি হও) এর স্থলে 'ইন কানা' (যদি হয়) বলেন, তবে তালাক হবে না। আর যদি বলেন 'যদি তুমি গর্ভবতী হও', এই মাসয়ালাটি ইমাম আহমাদ রহ.-এর অনুসারীদের কিতাবসমূহে প্রসিদ্ধ।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি 'আমরহ' কে বলেন: "যদি আমি তোমাকে তালাক দেই তবে হাফসাহ তালাকপ্রাপ্তা", এরপর 'হাফসাহ' কে বললেন: "যদি আমি তোমাকে তালাক দেই তবে আমরাহ তালাকপ্রাপ্তা", তবে এক্ষেত্রে হাফসাহ-এর হুকুম ওখানে আমসাহ-এর হুকুমের ন্যায় হবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: "যদি তুমি যায়িদের সাথে কথা বলো তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", অতঃপর তিনি তার সাথে কথা বললেন, তবে তালাক হয়ে যাবে। কথার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তালাক পুনরাবৃত্তি হবে না এবং এটি বিলম্বিত সময়ের (على التراخي) জন্য হবে।

এই মূলনীতির অধীনে তালাক, শপথ এবং দাসমুক্তি সংক্রান্ত অনেক মাসয়ালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থী যদি আমাদের সাব্যস্তকৃত বিষয় থেকে এর মূল উৎস জানতে পারে তবে তা তার কাছে অস্পষ্ট থাকবে না। কেননা ওলামায়ে কেরাম এই মূলনীতির শাখা হিসেবে অনেক মাসয়ালা উল্লেখ করেছেন, যার অধিকাংশই শর্তযুক্ত তালাকের অধ্যায়ে রয়েছে। আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা।

 

‌‌৩৮তম মূলনীতি

মূলনীতি: "মাতা" (متى) শর্তবাচক অব্যয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, এটি পুনরাবৃত্তির জন্য নয়। বলা হয়েছে: হ্যাঁ (পুনরাবৃত্তির জন্য), এবং এটি বিলম্বিত সময়ের (على التراخي) জন্য প্রযোজ্য।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখা মাসয়ালা হলো: যদি কেউ বলে: "যখনই (মাতা) তুমি দাঁড়াবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", অতঃপর তিনি দাঁড়ালে তালাক হয়ে যাবে। (মাযহাবের) সাথীগণ এটি নিশ্চিতভাবে (جزم به) ব্যক্ত করেছেন। দাঁড়ানোর পুনরাবৃত্তির ফলে কি তালাক পুনরাবৃত্তি হবে? এই মাসয়ালায় দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে, 'আল-ফুরু' গ্রন্থে উভয়টিকেই নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: "যখনই আমি তোমাকে তালাক না দেব তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা", এরপর এমন সময় অতিবাহিত হলো যাতে তাকে তালাক দেওয়া সম্ভব ছিল কিন্তু তিনি তাকে তালাক দেননি, তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: "যখনই তোমার ঋতুস্রাব হবে", অথবা "যখনই তুমি গর্ভবতী হবে", অথবা "যখনই তুমি সন্তান প্রসব করবে", তবে তখনই তালাক হয়ে যাবে। শুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী বারবার গর্ভধারণের ফলে তালাক পুনরাবৃত্তি হবে না। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তিনি বলেন: "যখনই তুমি যায়িদের সাথে কথা বলবে", এর হুকুম পূর্বের আলোচনার হুকুমের মতোই।

এই মূলনীতির অধীনে এই অধ্যায়ের এবং শপথ ও দাসমুক্তি অধ্যায়েরও অনেক মাসয়ালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা।

 

‌‌৩৯তম মূলনীতি

মূলনীতি: "মান" (من) শব্দটিও শর্তবাচক অব্যয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, এটি পুনরাবৃত্তির জন্য নয়। তবে এটি কি তাৎক্ষণিক (الفور) হওয়ার জন্য নাকি বিলম্বিত সময়ের (على التراخي) জন্য? এক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখা মাসয়ালা হলো: যদি কেউ বলে: "যে দাঁড়াবে সে তালাকপ্রাপ্তা", তবে যখনই সে দাঁড়াবে তালাক হয়ে যাবে। তার পুনরাবৃত্তির ফলে তালাক পুনরাবৃত্তি হবে না। 'আল-ফুরু' এবং অন্যান্য কিতাবে এটি নিশ্চিতভাবে (جزم به) বলা হয়েছে। এটি কি তাৎক্ষণিক (الفور) হবে? 'আল-ফুরু' গ্রন্থে নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে যে এটি বিলম্বিত সময়ের (على التراخي) জন্য। আর এটি মূলনীতির মতভেদের ওপর ভিত্তি করে হওয়া সম্ভব। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: "যার ঋতুস্রাব হবে", অথবা "যে গর্ভবতী হবে", অথবা "যে সন্তান প্রসব করবে", অথবা "যে পবিত্র হবে"। এই বিষয়টি আপনার কাছে অস্পষ্ট নয়। অনুরূপ যদি বলে: "যে নতুন চাঁদ দেখবে" এবং অন্যান্য সকল শর্তযুক্ত বিষয়।

এর মধ্যে রয়েছে: "যে আমাকে আমার ভাইয়ের আগমনের সুসংবাদ দিবে সে তালাকপ্রাপ্তা", এরপর দুইজন মহিলা তাকে সংবাদ দিলে তাদের মধ্যে প্রথমজন তালাকপ্রাপ্তা হবে। তবে যদি দ্বিতীয়জন সত্যবাদী হয় তবে কেবল সে-ই তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি তিনি বলেন: "যে আমাকে তার আগমনের সংবাদ দিবে সে তালাকপ্রাপ্তা", তবে আল-কাদির মতে এটিও একই রূপ হবে। আর আবু আল-খাত্তাবের মতে: উভয়েই তালাকপ্রাপ্তা হবে। এই মূলনীতির শাখা মাসয়ালাগুলো এখানে এবং শপথ, দাসমুক্তি ও মুদাব্বার করার ক্ষেত্রেও আপনার নিকট অস্পষ্ট নয়।

 

‌‌৪০তম মূলনীতি

মূলনীতি: "আইয়ুন" (أي) শব্দটিও শর্তবাচক অব্যয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, এটি পুনরাবৃত্তির জন্য নয়। আর এটি কি বিলম্বিত সময়ের (على التراخي) জন্য প্রযোজ্য? যদি না তা কোনো ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করা হয়। যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখা মাসয়ালা হলো: যদি কেউ বলে: "যে কোনো সময়ে তুমি দাঁড়াবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে যে কোনো সময়ে তিনি দাঁড়ালে তালাক হয়ে যাবে। দাঁড়ানোর পুনরাবৃত্তির ফলে তালাক পুনরাবৃত্তি হবে না। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنها: إذا قال: أي وقت لم أطلقك فأنت طالق، ومضى ما يمكن طلاقها فيه ولم يطلق، وقع عليه الطلاق، والله أعلم.

ومنها: أي وقت حضت فأنت طالق، طلقت بأول الدم، وكذا أو وقت طهرت، وأي وقت حملت، وأي وقت ولدت، فأنه تطلق بأو وجوده. والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أي وقت أخبرتيني بكذا، فأخبرته، وهو سكران، أو لم يسمع، أو نائم، أو في غفلة، ففيه خلاف.

ولا يخفى عليك ما يترتب على هذه القاعدة من التعاليق والله الموفق.

 

‌‌القاعدة الحادية والأربعون

قاعدة: "كلما" أيضا من أدوات الشرط، وهي للتكرار، تكون على التراخي.

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: كلما قمت فأنت طالق، فمتى قامت طلقت، ويتكرر بتكرار القيام، جزم به في "الفروع" وغيره. وكذا إذا قال: كلما صمت، أو كلما قعدت، أو كلما رأيت فقيها، أو كلما أكلت رمانة، ونحوه.

ومنها: إذا قال: كلما حاضت إحداكن فضراتها طوالق، فادعيته وصدقن، طلقن ثلاثا ثلاثا، وإن صدق واحدة لم تطلق بل ضراتها طلقة طلقة، وإن صدق ثنتين طلقتا طلقة طلقة، والمكذبتين ثنتين ثنتين، وإن صدق ثلاثا، طلقن ثنتين، والمكذبة ثلاثا، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: كلما طلقتك فأنت طالق، ثم طلقها، ثم طلقها وقع ثنتان، وإن قال: كلما وقع عليك طلاقي، فثلاث، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: كلما طلقتك واحدة فعبد من عبيدي حر، وكلما طلقت اثنتين فاثنتان، وثلاثا فثلاثة، وأربعا فأربعة، ثم طلقهن معا أو لا، عتق خمسة عشر، وقيل: سبعة عشر، وقيل: عشرون، وقيل: أربعة وقيل عشرة، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: كلما كلمت زيدا، أو كلما خرجب بغير إذني، أو كلما شئت، أو كلما قعدت، أو كلما صمت، أو كلما أردت نحو هذا، فإنه يكون للتكرار، ويكون على التراخي.

ولا يخفى عليك ما يترتب على هذه القاعدة من هذا الباب، ومن كتاب الأيمان، ومن التعاليق، والله أعلم وعليه التكلان.

 

‌‌القاعدة الثانية والأربعون

قاعدة: حيث قلنا "إذا" للشرط، فلا يلزم اتفاق زمان شرطها وجزائها، بخلاف "متى" فإنه يشترط فيها ذلك.

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: إذا قال: إذا جاء غدا، أو متى جاء غدا، وإذا جاء الشهر، أو متى جاء الشهر، أو إذا جاء الشتاء، ومتى جاء الشتاء.

ولا يخفى عليك ما يتعلق بهذه القاعدة. والله الموفق.

 

‌‌القاعدة الثالثة والأربعون

قاعدة: تقول: صمت رمضان وقمته، وإن شئت أضفت إليه "شهرا"، فتقول: قمت شهر رمضان، وجوز بعضهم إضافة" الشهر" إلى سائر الشهور، وخصه بعضهم رمضان والربيعين، وضبطه بكل شهر في أوله "راء" إلا رجب.

إذا علمت هذا: فإذا قال: صمت رمضان، فيكون العمل في جميعه في أوقات خاصة، وإن قال: صمت شهرا كان الفعل في جميعه، وإن قال: صمت شهر رمضان يحتمل أن يكون العمل في جميعه، ويحتمل أن يكون في بعضه.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: النذر، إذا نذر صيام شهر أو شهر رمضان، أو شهر رجب، أو شهر ربيع الأول، أو شهر صفر بلا "شهرا" وكذا الاعتكاف، والنذر ونحو ذلك والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الرابعة والأربعون

قاعدة: إذا علق فعلا بيوم، كان في بعضه وفي جميعه، سواء أضفت إليه شهرا أو لا، وقال ابن خروف: هي كالشهور فيجيء فيها ما فيها.

ويترتب على ذلك التعاليق ونحوها، والأيام البيض الثالث عشر والرابع عشر والخامس عشر، وغيره الشهر ثلاثة أيام من أوله.

وسَلْخ الشهر وانسلاخه ومُنْسَلَخُهُ، بضم الميم وفتح السين واللام، وهو اليوم الأخير منه والليلة الأخيرة. وينبني على ذلك التعاليق في الطلاق، والله أعلم.

و"الوسط" - بسكون السين - ظرف مكان، وينبني عليه التعاليق في الطلاق والقرض ونحوهما، كما لو قيل: إذا جاء وسط الشهر، أو وسط السنة، أو وسط الدار، أو وسط النهر، ونحوه والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الخامسة والأربعون

قاعدة: هل "غير" هو الصفة، والاستثناء لها عارض، بعكس "إلا"؟ إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: علي درهم غير دانق، فإنه يكون استثناء، كما يفهم من كلام الأصحاب، وهو الصحيح من مذهب الشافعي، وقال بعض الشافعية والنحاة: إن رفع "غير" فعليه درهم تام، لأنه صفة، ومنها: إذا قال: كل امرأة لي غيرك طالق فقط استثناها، إلا ما يفهم من كلام بعض الشافعية.
এর মধ্যে একটি হলো: সে যদি বলে: "যেকোনো সময় যদি আমি তোমাকে তালাক না দেই, তবে তোমার ওপর তালাক পতিত হবে", এবং তালাক দেওয়া সম্ভব এমন সময় অতিবাহিত হলো অথচ সে তালাক দেয়নি, তবে তার ওপর তালাক পতিত হবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: "যেকোনো সময় তোমার ঋতুস্রাব শুরু হলে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে রক্ত দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই তালাক হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে "যেকোনো সময় তুমি পবিত্র হলে", "যেকোনো সময় তুমি গর্ভধারণ করলে", বা "যেকোনো সময় তুমি সন্তান জন্ম দিলে" বললেও তা ঘটার সাথে সাথেই তালাক হয়ে যাবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: সে যদি বলে: "যেকোনো সময় তুমি আমাকে অমুক বিষয়ে সংবাদ দিবে...", অতঃপর সে তাকে সংবাদ দিল এমতাবস্থায় যে স্বামী মাতাল ছিল, অথবা সে কথা শুনতে পায়নি, অথবা সে ঘুমন্ত বা অন্যমনস্ক ছিল, তবে এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

শর্তযুক্ত তালাকের (تعاليق) ক্ষেত্রে এই নীতি থেকে যেসব বিধান উদ্ভূত হয় তা আপনার অজানা নয়। আর আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা।

 

‌‌একচল্লিশতম নীতি

নীতি: "কুল্লামা" (كلما - যতবারই) শব্দটিও শর্তের (شرط) অব্যয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি পুনরাবৃত্তি বোঝায়, যা বিলম্বে সংঘটিত হওয়ার (تراخي) সুযোগ রাখে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখাগত মাসয়ালা হলো: "যতবারই তুমি দাঁড়াবে, তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে যখনই সে দাঁড়াবে তখনই তালাক পতিত হবে এবং দাঁড়ানোর পুনরাবৃত্তির সাথে সাথে তালাকেরও পুনরাবৃত্তি ঘটবে; আল-ফুরু ও অন্যান্য কিতাবে এটি দৃঢ়ভাবে বলা হয়েছে। অনুরূপ বিধান হবে যদি সে বলে: "যতবারই তুমি রোজা রাখবে", "যতবারই তুমি বসবে", "যতবারই তুমি কোনো ফকিহকে দেখবে", অথবা "যতবারই তুমি একটি ডালিম খাবে" ইত্যাদি।

এর মধ্যে রয়েছে: সে যদি বলে: "তোমাদের মধ্যে যারই ঋতুস্রাব হবে, তার সতিনরা তালাকপ্রাপ্তা", এরপর তারা তা দাবি করল এবং স্বামী তাদের সত্যয়ন করল, তবে তাদের ওপর তিনটি করে তালাক পতিত হবে। আর যদি স্বামী একজনের কথা সত্যয়ন করে তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে না বরং তার সতিনরা একটি করে তালাকপ্রাপ্তা হবে। যদি স্বামী দুইজনের কথা সত্যয়ন করে তবে তারা একটি করে তালাকপ্রাপ্তা হবে এবং যাদের স্বামী মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তারা দুটি করে তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর স্বামী যদি তিনজনের কথা সত্যয়ন করে তবে তারা দুটি করে তালাকপ্রাপ্তা হবে এবং যাকে স্বামী মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে সে তিনটি তালাকপ্রাপ্তা হবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: "যতবারই আমি তোমাকে তালাক দেব, তুমি তালাকপ্রাপ্তা", এরপর সে তাকে তালাক দিল, অতঃপর আবারও তালাক দিল, তবে দুটি তালাক পতিত হবে। কিন্তু সে যদি বলে: "যতবারই তোমার ওপর আমার তালাক পতিত হবে", তবে তিনটি পতিত হবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: "যতবারই আমি তোমাকে একটি তালাক দেব, আমার দাসদের মধ্যে একজন মুক্ত হবে; আর যতবারই দুটি দেব তখন দুইজন, তিনটির ক্ষেত্রে তিনজন এবং চারটির ক্ষেত্রে চারজন", এরপর সে তাদের একত্রে তালাক দিল কি দিল না, তবে পনেরো জন দাস মুক্ত হবে। কেউ বলেছেন: সতেরো জন, কেউ বলেছেন: বিশ জন, কেউ বলেছেন: চারজন এবং কেউ বলেছেন: দশ জন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: "যতবারই তুমি জায়েদের সাথে কথা বলবে", বা "যতবারই তুমি আমার অনুমতি ছাড়া বের হবে", অথবা "যতবারই তুমি চাইবে", "যতবারই তুমি বসবে", "যতবারই তুমি রোজা রাখবে", অথবা "যতবারই তুমি এমন কিছু ইচ্ছা করবে", তবে এটি পুনরাবৃত্তি এবং বিলম্বের (تراخي) অর্থ প্রকাশ করবে।

তালাক অধ্যায়, শপথ অধ্যায় এবং শর্তযুক্ত তালাকের (تعاليق) ক্ষেত্রে এই নীতি থেকে যেসব বিধান উদ্ভূত হয় তা আপনার অজানা নয়। আল্লাহ-ই ভালো জানেন এবং তাঁর ওপরই ভরসা।

 

‌‌বিয়াল্লিশতম নীতি

নীতি: যেখানে আমরা বলেছি যে "ইযা" (إذا - যদি) শর্তের (شرط) জন্য ব্যবহৃত হয়, সেখানে তার শর্ত (شرط) এবং ফলাফল বা বিনিময়ের (جزاء) সময়ের অভিন্নতা জরুরি নয়। কিন্তু "মাতা" (متى - যখনই) এর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, সেখানে সময়ের অভিন্নতা শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য হয়।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখাগত মাসয়ালা হলো: সে যদি বলে: "যদি সে আগামীকাল আসে", অথবা "যখনই সে আগামীকাল আসে", "যদি মাসটি আসে", অথবা "যখনই মাসটি আসে", অথবা "যদি শীতকাল আসে", "যখনই শীতকাল আসে"।

এই নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আপনার অজানা নয়। আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা।

 

‌‌তেতাল্লিশতম নীতি

নীতি: বলা হয়: "আমি রমজানের রোজা রেখেছি এবং তাতে কিয়াম করেছি (নামাজ পড়েছি)", আর আপনি চাইলে তার সাথে "মাস" (شهر) শব্দটি যোগ করে বলতে পারেন: "আমি রমজান মাসে কিয়াম করেছি"। কোনো কোনো ফকিহ সকল মাসের নামের সাথে "মাস" (شهر) শব্দটি যোগ করা বৈধ বলেছেন। আবার কেউ কেউ একে কেবল রমজান ও দুই রবি (রবিউল আউয়াল ও রবিউস সানি) মাসের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। অন্য একজন একে এমন প্রতি মাসের জন্য নির্ধারিত করেছেন যার শুরুতে 'রা' (راء) অক্ষর রয়েছে, তবে রজব মাস ব্যতিরেকে।

আপনি যখন এটি জানলেন: সে যদি বলে: "আমি রমজানের রোজা রেখেছি", তবে আমলটি বিশেষ সময়ের সাথে পুরো মাস ব্যাপী হবে। আর যদি সে বলে: "আমি এক মাস রোজা রেখেছি", তবে পুরো সময় জুড়েই কাজটি হবে। আর যদি সে বলে: "আমি রমজান মাসের রোজা রেখেছি", তবে এর দ্বারা পুরো মাসে আমল করাও বোঝাতে পারে আবার মাসের কিছু অংশে আমল করাও বোঝাতে পারে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখাগত মাসয়ালা হলো: মানত (نذر); যখন কেউ এক মাস বা রমজান মাস, বা রজব মাস, বা রবিউল আউয়াল মাস অথবা সফর মাসের রোজা মানত করে "মাস" (شهر) শব্দ ছাড়া। অনুরূপভাবে ইতিকাফ (اعتكاف), মানত (نذر) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

 

‌‌চুয়াল্লিশতম নীতি

নীতি: যখন কোনো কাজকে দিবসের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়, তখন তা দিনের কিছু অংশে বা পুরো অংশেই হতে পারে, চাই আপনি তার সাথে মাসের নাম যুক্ত করুন বা না করুন। ইবনে খারুফ বলেছেন: দিবসগুলো মাসের মতোই, সুতরাং সেখানেও অনুরূপ বিধান কার্যকর হবে।

এর ওপর ভিত্তি করে শর্তযুক্ত তালাক (تعاليق) ও এই জাতীয় বিষয়গুলো এবং আইয়ামে বিয তথা মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ এবং মাসের শুরুতে তিন দিন রোজা রাখার মতো বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়।

আর মাসের শেষ দিন বা শেষ রাত বোঝাতে 'সালখ' (سَلْخ), 'ইনসিলাখ' (انسلاخه) এবং 'মুনসালাখ' (مُنْسَلَخُهُ) - মিম বর্ণে পেশ এবং সিন ও লাম বর্ণে জবর সহকারে ব্যবহৃত হয়। এর ওপর ভিত্তি করে তালাকের শর্তাবলি (تعاليق) নির্ধারিত হয়। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

আর 'ওয়াসাত' (الوسط) - সিন বর্ণে সুকুন বা সাকিন সহকারে - এটি স্থানবাচক অব্যয় (ظرف مكان)। এর ওপর ভিত্তি করে তালাক, ঋণ এবং এই জাতীয় বিষয়ের শর্তাবলি (تعاليق) নির্ধারিত হয়। যেমন যদি বলা হয়: "যদি মাসের মধ্যভাগ আসে", অথবা "বছরের মধ্যভাগ", অথবা "বাড়ির মাঝখানে", অথবা "নদীর মাঝখানে" ইত্যাদি। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

 

‌‌পঁয়তাল্লিশতম নীতি

নীতি: 'গাইর' (غير) কি মূলত বিশেষণ (صفة), আর তার ব্যতিক্রম হওয়াটা (استثناء) কি আপতকালীন বিষয়, যা 'ইল্লা' (إلا) এর বিপরীত? আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখাগত মাসয়ালা হলো: কেউ যদি বলে: "আমার জিম্মায় এক দিরহাম রয়েছে এক দানিক ব্যতীত (غير دانق)", তবে এটি ব্যতিক্রম (استثناء) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি ফকিহগণের আলোচনা থেকে বোঝা যায়; আর এটিই শাফেয়ি মাযহাবের সঠিক (صحيح) মত। কোনো কোনো শাফেয়ি ফকিহ ও ব্যাকরণবিদ বলেছেন: যদি 'গাইর' (غير) শব্দটিকে পেশ (رفع) দিয়ে পড়া হয়, তবে তার ওপর পূর্ণ এক দিরহাম সাব্যস্ত হবে, কারণ তখন তা বিশেষণ (صفة) হবে। এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি সে বলে: "তুমি ছাড়া আমার সকল স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা", তবে কেবল সেই স্ত্রী ব্যতিক্রম (استثناء) হিসেবে গণ্য হবে, যদিও কোনো কোনো শাফেয়ি ফকিহর বক্তব্য থেকে ভিন্ন কিছু বোঝা যায়।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فإن قال كل امرأة لي غير هند طالق، فلم أر لأصحابنا فيها شيئا، وهذه على كلام من يقول: إنها تطلق هناك تطلق هنا من باب أولى، وأما على قواعدنا فلا يجيء هذا، والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة السادسة والأربعون

قاعدة: كيف للحال، سواء كانت استفهاما أو خبرا إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: أنت طالق كيف شئت، لم تطلق حتى تشاء، جزم به أكثر الأصحاب، وهو على التراخي، قدمه في "الفروع" و "المقنع" وهو الصحيح، وقيل: تختص إن بالمجلس، حكاه في "الفروع" قولا، وفي "المقنع" احتمال، ولو شاءت كارهة، ذكره في "الفروع"، وقيل يقع وإن لم تشأ، حكاه فيها.

ومنها: في القذف، إذا قال: كيف زنيت؟ فانه صريح في القذف، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة السابعة والأربعون

قاعدة: صيغة الجمع "كل" عند الإطلاق من ألفاظ العموم الدالة على التفصيل إذا تقرر هذا، فمن فروع القاعدة: إذا أجره كل يوم، أو كل شهر بعشرة، صح، جزم به في "المقنع" و"الفروع".

ومنها: إذا استأجره كل دلو بتمر بتمرة صح، نص عليه الإمام أحمد، وجزم به غالب الأصحاب.

ومنها: إذا أكراه الدابة عشرة أيام، فما زاد فله بكل يوم درهم، فقال أحمد: هو جائز، وقال القاضي: يصح في العشرة وحدها، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: كل عبد أملكه أو لي حر، عتق مدبروه، ومكاتبوه، وأمهات اولاده، وشقص ما يملكه. جزم به في "المقنع" و"الفروع"، وعبد عبده التاجر. والله أعلم.

ومنها: إذا باعه وشرط البراءة من كل عيب، فهو فاسد لا يبطل البيع ولا يبرأ به، قدمه في "المقنع" و "الفروع"، وقال: "في ظاهر المذهب. قال أبو الخطاب وجماعة، لأنه خيار يثبت بعد البيع، فلا يسقط قبله كالشفعة، واعتمد عليه في "عيون المسائل"، وعنه: يبرأ إن لم يكتمه ونقل ابن هانئ: إن عينه صح، ومعناه نقل ابن القاسم وغيره: لا يبرأ إلا أن يخبره بالعيوب كلها لأنه مرفق في البيع كالأجل والخيار. وفي "الانتصار": الأشبه بأصولنا أن ننصر الصحة كبراءة من مجهول، وذكره أيضا هو وغيره رواية، وإن خرج عيب باطن لايعرف غوره فاحتمالان، وإن باعه على أنه به، وأنه برئ صح.

ومنها: إذا قال: أنت طالق كل الطلاق، فإنها تطلق ثلاثا، جزم به الأصحاب.

ومنها: إذا قال: كل واحدة منكن طالق، طلق جميع نسائه، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أنت طالق كل يوم، فهل تطلق واحدة، أو ثلاثا؟ يخرج على وجهين، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الثامنة والأربعون

قاعدة: يشترط في التثنية والجمع اتحاد المفردات في اللفظ، وهل يشترط اتحادهما في المعنى؟ فيه مذهبان.

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: إذا وقف على مواليه، وله موال من فوق، وموال من أسفل، تناول جميعهم، قدمه غير واحد من الأصحاب، وقال ابن حامد: "تختص الموالي من فوق"

‌‌القاعدة التاسعة والأربعون

قاعدة: "القوم" اسم جمع للرجال، واحده في المعنى"رجل" ذكره النحاة واللغويون، واستدلوا بقوله تعالى: (ياأيها الذين آمنوا لا يسخر قوم من قوم عسى أن يكونوا خيرا منهم ولا نساء من نساء عسى أن يكن خيرا منهن) ويقول الشاعر:

 

فما أدري ولست أخال أدري … أقوم آل حصين أم نساء

إذا علمت هذا فمن فروع القاعدة: ما إذا أوصى، أو وقف على قوم، فهو للرجال والنساء من أولاده، وأولاد أبيه، وجد أبيه، وعنه إن كان يصل قرابته من قبل إمه، صرف إليهم وإلا فلا.، وحكى في "الفروع" عن ابن الجوزي أنه للرجال دون النساء وهو مذهب الشافعي.

ونقل القاضي أبو الفتوح من الشافعية في كتاب "أحكام الخنائي" في دخولهن وجهين.

 

‌‌القاعدة الخمسون

قاعدة: أقل الجمع "ثلاثة" وهو الصحيح عند النحاة، وقيل اثنان، وأكثره، عشرة.

إذا علمت هذا، فمن فروع المسألة: إذا قال: له علي دراهم، فله "ثلاثة"، جزم به في "المقنع" وغيره، وقدمه في "الفروع"، وقال: "ويتوجه أن يلزمه عشرة"، وأما الشافعية فمنهم من قال: يلزمه ثلاثة، ومنهم من بناها على هذه القاعدة.

ومنها: إذا قال: أعتقت عبيدا، أو نذرت دراهم، أو صلاة، أو صياما، ونحو ذلك.
যদি তিনি বলেন, "হিন্দ ব্যতীত আমার সকল স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা," তবে এ বিষয়ে আমি আমাদের মাযহাবের ইমামগণের পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনা পাইনি। তবে যারা মনে করেন সেখানে তালাক হবে, তারা এখানেও তালাক হওয়ার কথা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বলবেন। আর আমাদের মূলনীতির আলোকে এটি প্রযোজ্য হবে না। আল্লাহই সঠিক উত্তর সম্পর্কে সম্যক অবগত।

 

‌‌ছেচল্লিশতম মূলনীতি

মূলনীতি: 'كيف' (কাইফা) শব্দটি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়, চাই তা প্রশ্নবোধক হোক বা বর্ণনামূলক। যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখা মাসয়ালা হলো: যদি কেউ বলে, "তুমি যেভাবে চাও তালাকপ্রাপ্তা," তবে সে ইচ্ছা না করা পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না। অধিকাংশ ইমামগণ এ বিষয়ে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন। এটি বিলম্বিত হওয়ার অবকাশ রাখে; 'আল-ফুরু' ও 'আল-মুকনি' গ্রন্থে একেই অগ্রগণ্য করা হয়েছে এবং এটিই সঠিক (صحيح)। কারো মতে, এটি কেবল সেই মজলিসের সাথে সীমাবদ্ধ; যা 'আল-ফুরু' গ্রন্থে একটি অভিমত হিসেবে এবং 'আল-মুকনি' গ্রন্থে একটি সম্ভাবনা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এমনকি যদি সে অপছন্দ সত্ত্বেও ইচ্ছা পোষণ করে তবুও তালাক হবে, যা 'আল-ফুরু' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কারো মতে, সে ইচ্ছা না করলেও তালাক হবে, যা সেখানে বর্ণিত হয়েছে।

এর মধ্য থেকে: অপবাদের ক্ষেত্রে যদি কেউ বলে, "তুমি কীভাবে ব্যভিচার করেছ?" তবে এটি অপবাদের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (صريح) বক্তব্য। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সাতচল্লিশতম মূলনীতি

মূলনীতি: 'كل' (কুল্লুন) সমষ্টিবাচক শব্দ যখন নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি ব্যাপকতা প্রকাশকারী শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা বিস্তারিত বিবরণের ওপর প্রমাণ দেয়। যখন এটি নির্ধারিত হলো, তখন এই মূলনীতির শাখা মাসয়ালা হলো: যদি কেউ প্রতিদিন বা প্রতি মাস দশের বিনিময়ে ভাড়া দেয়, তবে তা সঠিক হবে; 'আল-মুকনি' ও 'আল-ফুরু' গ্রন্থে এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্য থেকে: যদি কেউ প্রতিটি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর দেওয়ার শর্তে তাকে ভাড়া করে, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে। ইমাম আহমদ এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং অধিকাংশ ইমামগণ এ ব্যাপারে দৃঢ় মত দিয়েছেন।

এর মধ্য থেকে: যদি কেউ কোনো পশুকে দশ দিনের জন্য ভাড়া নেয় এবং দশ দিনের অতিরিক্ত সময়ের জন্য প্রতিদিন এক দিরহাম করে নির্ধারণ করে, তবে ইমাম আহমদ বলেছেন: এটি জায়েজ। আর আল-কাদি বলেছেন: কেবল প্রথম দশ দিনের জন্যই তা সঠিক (صحيح) হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্য থেকে: যদি কেউ বলে: "আমার মালিকানাধীন সকল দাস স্বাধীন," তবে তার মুদাব্বার, মুকাতাব, উম্মে ওয়ালাদ এবং মালিকানার আংশিক অংশও মুক্ত হয়ে যাবে। 'আল-মুকনি' ও 'আল-ফুরু' গ্রন্থে এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার ব্যবসায়ী দাসের অধীনস্থ দাসও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্য থেকে: যদি সে বিক্রয় করে এবং সকল ত্রুটি থেকে দায়মুক্ত থাকার শর্তারোপ করে, তবে তা ফাসিদ বা ত্রুটিযুক্ত হবে; এতে বিক্রয় বাতিল হবে না এবং সে দায়মুক্তও হবে না। 'আল-মুকনি' ও 'আল-ফুরু' গ্রন্থে একে অগ্রগণ্য বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে: এটিই মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত। আবু খাত্তাব ও একদল আলেম বলেছেন, এটি এমন এক ইখতিয়ার যা বিক্রয়ের পরে সাব্যস্ত হয়, তাই বিক্রয়ের আগে তা রহিত হবে না, যেমন শুফআহ। 'উয়ুনুল মাসাইল' গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করা হয়েছে। তাঁর থেকে অন্য বর্ণনায় আছে: যদি সে দোষ গোপন না করে তবে দায়মুক্ত হবে। ইবনে হানি বর্ণনা করেছেন: যদি সে দোষ নির্দিষ্ট করে দেয় তবে তা সঠিক (صحيহ) হবে। ইবনুল কাসিম ও অন্যান্যদের বর্ণনার অর্থ হলো: সে দায়মুক্ত হবে না যতক্ষণ না সে তাকে সকল ত্রুটি সম্পর্কে অবগত করবে; কারণ এটি বিক্রয়ের একটি সুবিধা যেমন মেয়াদ বা ইখতিয়ার। 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমাদের মূলনীতির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো এর সঠিক (صحيح) হওয়ার পক্ষে মত দেওয়া, যেমন অজানা বিষয় থেকে দায়মুক্ত হওয়া। তিনি এবং অন্যান্যরা একে একটি বর্ণনা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। আর যদি এমন কোনো অভ্যন্তরীণ ত্রুটি প্রকাশ পায় যার গভীরতা জানা সম্ভব নয়, তবে সেখানে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি সে তা ত্রুটিযুক্ত অবস্থাতেই বিক্রয় করে এবং দায়মুক্তির ঘোষণা দেয়, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে।

এর মধ্য থেকে: যদি কেউ বলে, "তুমি পূর্ণ তালাক (কুল্লাত তালাক) তালাকপ্রাপ্তা," তবে তার ওপর তিন তালাক পতিত হবে; ইমামগণ এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

এর মধ্য থেকে: যদি কেউ বলে, "তোমাদের প্রত্যেকে (কুল্লা ওয়াহিদা) তালাকপ্রাপ্তা," তবে তার সকল স্ত্রীই তালাকপ্রাপ্তা হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্য থেকে: যদি কেউ বলে, "তুমি প্রতিদিন তালাকপ্রাপ্তা," তবে কি এক তালাক হবে নাকি তিন তালাক? এ বিষয়ে দুটি দিক রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌আটচল্লিশতম মূলনীতি

মূলনীতি: দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে একবচন শব্দগুলোর শব্দগত ঐক্য শর্ত। তবে অর্থগত ঐক্য শর্ত কি না সে বিষয়ে দুটি মাযহাব রয়েছে।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখা মাসয়ালা হলো: যদি কেউ তার 'মওলাদের' জন্য ওয়াকফ করে এবং তার উচ্চ ও নিম্ন স্তরের উভয় ধরণের মওলা থাকে, তবে তারা সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত হবে। একাধিক ইমাম একে অগ্রগণ্য বলেছেন। তবে ইবনে হামিদ বলেছেন: "এটি উচ্চ স্তরের মওলাদের জন্য নির্দিষ্ট হবে।"

‌‌উনপঞ্চাশতম মূলনীতি

মূলনীতি: 'قوم' (কাওম) শব্দটি পুরুষদের সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, যার অর্থগত একবচন হলো 'رجل' (পুরুষ)। ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণ এটি উল্লেখ করেছেন এবং আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: (হে মুমিনগণ, কোনো পুরুষ দল যেন অপর কোনো পুরুষ দলকে উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম; আর নারীরাও যেন অপর নারীদের উপহাস না করে, হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম)। কবি বলেন:

 

আমি জানি না, আর জানব বলে মনে হয় না … তারা কি হুসাইনের বংশের পুরুষ দল নাকি নারী?

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখা মাসয়ালা হলো: যদি কেউ কোনো সম্প্রদায়ের জন্য অসিয়ত করে বা ওয়াকফ করে, তবে তা তার সন্তান এবং তার পিতার সন্তান ও পিতামহের সন্তানদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই হবে। তাঁর অন্য বর্ণনায় আছে, যদি তার মায়ের দিকের আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক থাকে তবে তারা পাবে, অন্যথায় নয়। 'আল-ফুরু' গ্রন্থে ইবনুল জাওজি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি নারীদের বাদ দিয়ে কেবল পুরুষদের জন্য হবে; আর এটিই ইমাম শাফেয়ির মাযহাব।

শাফেয়ি আলেমদের মধ্যে কাদি আবুল ফুতুহ 'আহকামুল খানায়ি' গ্রন্থে নারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে দুটি অভিমত বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌পঞ্চাশতম মূলনীতি

মূলনীতি: বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো 'তিন'; ব্যাকরণবিদদের নিকট এটিই সঠিক (صحيح) মত। কারো মতে এটি 'দুই'। আর বহুবচনের সর্বোচ্চ সংখ্যা হলো 'দশ'।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন মাসয়ালার শাখা হলো: যদি কেউ বলে, "আমার ওপর তার দিরহামসমূহ পাওনা আছে," তবে তার ওপর 'তিন' দিরহাম আবশ্যক হবে; 'আল-মুকনি' ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং 'আল-ফুরু' গ্রন্থে একে অগ্রগণ্য বলা হয়েছে। তবে এ মতও ব্যক্ত করা হয়েছে যে, "তার ওপর দশ দিরহাম আবশ্যক হবে।" আর শাফেয়ি আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, তার ওপর তিন দিরহাম আবশ্যক হবে এবং কেউ কেউ এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিধান দিয়েছেন।

এর মধ্য থেকে: যদি সে বলে, "আমি অনেক দাসকে মুক্ত করেছি," অথবা দিরহাম, নামাজ, রোজা বা অনুরূপ কিছুর মানত করে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ومنها: صلاة الجماعة، هل لا بد فيها من ثلاثة، أو اثنان يكفي فيها؟ فالذي جزم به في "الكافي" و"الفروع" يكفي اثنان، قال في "الكافي": فإن أم الرجل عبده، أو أمته كان جماعة..".

ومنها: الأم له الثلث إذ لم يكن له ولد، ولا ولد ابن وكذا اثنان من الإخوة، لقوله تعالى: (فإن كان له إخوة) هذا جمع فأقل الجمع اثنان، وقال مجاهد: ثلاثة لأنه أقل الجمع.

ومنها: الصلاة على الميت، ويكفي فيها واحد، جزم به في "الفروع"، وعند الشافعية يكفي واحد، وقيل: لا يكفي.

وهل يشترط إذا لم يكف اثنان أو ثلاثة؟ على وجهين.

ومنها: شهادة الاستفاضة، تثبت من عدلين، قاله القاضي، وظاهر كلام أحمد والخرقي، وجزم به أكثر الأصحاب، لاتثبت إلا من عدد يقع العلم بخبرهم.

 

‌‌القاعدة الواحدة والخمسون

قاعدة: بضعة عشر رجلا، وبضع عشرة امرأة للمونث - ب "تاء" - في "عشرة" وللمذكر في "بضعة".

ولا يخفى عليك فروع هذه القاعدة.

 

‌‌القاعدة الثانية والخمسون

قاعدة: المضارع حقيقة في الحال، مجاز في الاستقبال، وقيل عكس هذا، وقيل: لا يستعمل في الاستقبال أصلا، وقيل: لا يستعمل في الحال أصلا. وقيل: مشترك بينهما، وهو الصحيح.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال لزوجته: طلقي نفسك، فقالت: أطلق، فتارة تريد الوقوع في الحال فيقع، وتارة تريد الاستقبال فلا يقع في الحال شيء، وتارة تريد المعنى.

ومنها: إذا ادعى عليه فقال: أنا أقر، فقد قال الأصحاب: إنه لا يكون إقرارا، جزم به أكثرهم، وصححه في "الفروع".

 

‌‌القاعدة الثالثة والخمسون

قاعدة: المضارع المنفي ب "لا" يتخلص للاستقبال، وقيل: هو للأمرين فإن دخلت عليه "لام" الابتداء، أو حصل النفي ب "ليس" أو كان مضارعا، ففي تعيينه الحال قولان.

إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: اليمين على هذه الصفة.

ومنها: إذا ادعى عليه فقال: لا أنكر، فجزم في "المقنع" أنه لا يكون مقرا في "لا أنكر"، وصححه في "الفروع"، وذكر الأزجي إن قال: لا أنكر دعواك، يكون مقرا، والله أعلم.

ومنها: إذا قال الموصَى له: لا أقبل هذه الوصية، كان ردا لها، ليس فيه خلاف لكن بعد الموت.

 

‌‌القاعدة الرابعة والخمسون

قاعدة: الفعل الماضي إذا وقع شرطا انقلب إلى الإنشاء.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: إن قمت فأنت طالق، فلا يحمل على قيام صدر منها. قبل: هذا ليس في طلاق، وكذا العتق ونحوه.

 

‌‌القاعدة الخامسة والخمسون

قاعدة: "كان" تدل على اتصال في اسمها بخبرها في الماضي، وهل تدل على انقطاعه أم لا، بل هي ساكتة عنه؟ فيه قولان.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا ادعى عينا فشهدت بينة أنها كانت له لم تقبل ومنها: إذا قال: كان علي ألف، فقال الخرقي: ليس بإقرار، والقول قوله مع يمينه.، وقال أبو الخطاب: يكون مقرا مدعيا للقضاء.

ومنها: إذا قال: إن كانت زوجتي: "طالق"، فليس هذا صريح في لفظ الطلاق، ومهما قال فلن يقبل منه.

ومنها: إذا قال: كان عبدي "حر"، عتق، إلا أن يريد حرا قبل أسره فيدين فيه.، وهل يقبل في الحكم؟ يخرج على روايتين.

 

‌‌القاعدة السادسة والخمسون

قاعدة: "أرى" يستعمل بمعنى "علم" وبمعنى "ظن"، تقول: رأيت الله عظيما، أي علمت. وفي أظن تقول: رأيت أن يجيء الخبر، ونحوه.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال لغيره أنت ترى أن عبدي حر، فإن قلنا: إنه للعلم عتق، وإن قلنا: للظن لم يعتق. ولكن يتعين هنا العتق، لأنها تطلق على العلم والظن، فتحقق العتق، وهذا قاله أيضا الرافعي من الشافعية، وقاله عن الروياني، وقال النووي: الصواب عدم الوقوع. قال الأسنوي "وقول النووي واضح".

قلت والله أعلم: إنهم نظروا إلى أن الحرية ثابتة، وهذا لفظ يحتمل العتق وعدمه، فالحرية ثابتة، والعتق مشكوك فيه، فظاهر كلام الأسنوي أنه يرجع إلى نية القائل، فإن قال أردت"العلم" عتق، وإن قال: "تظن" لم يعتق، وكذا الطلاق.

 

‌‌القاعدة السابعة والخمسون

قاعدة: "كاد" في الإثبات مثل: كاد زيد يفعل، معناها مقاربة الفعل، والنفي مثل: ما كاد زيد يفعل فمعناها الإثبات، أي فعل بعد مشقة، والصحيح أنه لنفي المقاربة، ويلزم من عدم المقاربة عدم الفعل.
এর মধ্যে রয়েছে: জামাত (জামাতে নামাজ), এতে কি তিন জন হওয়া আবশ্যক, নাকি দুই জনই যথেষ্ট? আল-কাফি এবং আল-ফুরু গ্রন্থে যা নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে তা হলো, দুই জনই যথেষ্ট। আল-কাফি গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যদি কোনো ব্যক্তি তার গোলাম বা বাঁদির ইমামতি করে, তবে তা জামাত হিসেবে গণ্য হবে।"

এর মধ্যে রয়েছে: মৃত ব্যক্তির সন্তান বা নাতি না থাকলে মা এক-তৃতীয়াংশ পাবেন। একইভাবে দুই জন ভাই থাকলেও। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তার ভাই থাকে।" এটি বহুবচন, আর বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো দুই। মুজাহিদ রহ. বলেছেন: তিন জন, কারণ এটিই বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা।

এর মধ্যে রয়েছে: জানাজা নামাজ, এতে এক জনই যথেষ্ট। এটি আল-ফুরু গ্রন্থে নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে। শাফেয়ি মাজহাব মতেও এক জন যথেষ্ট, তবে কেউ কেউ বলেছেন যে তা যথেষ্ট নয়।

যদি দুই বা তিন জনে যথেষ্ট না হয়, তবে কি তার বেশি হওয়া শর্ত হবে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: ইস্তিফাযাহ (ব্যাপক প্রসিদ্ধি) ভিত্তিক সাক্ষ্য, যা দুই জন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। কাজী এ কথা বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও খিরাকির বক্তব্য থেকেও তা-ই প্রতীয়মান হয়। অধিকাংশ ফকিহ এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি এমন সংখ্যা ব্যতীত সাব্যস্ত হবে না যার মাধ্যমে সংবাদটি নিশ্চিত জ্ঞান হিসেবে গণ্য হয়।

 

‌‌৫১তম নীতি

নীতি: এগারো থেকে ঊনিশ পর্যন্ত সংখ্যার ক্ষেত্রে স্ত্রীর লিঙ্গের জন্য 'বিদ্‌আত' এবং পুরুষের জন্য 'বিদ্‌আ' ব্যবহৃত হয় - 'দশ' শব্দের ক্ষেত্রে 'তা' যোগে এবং পুরুষের ক্ষেত্রে 'বিদ্‌আ' শব্দের ক্ষেত্রে।

এই নীতির শাখা-প্রশাখাগুলো আপনার কাছে অস্পষ্ট নয়।

 

‌‌৫২তম নীতি

নীতি: বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল বাচক ক্রিয়া মূলত বর্তমান কালের জন্য এবং রূপকভাবে ভবিষ্যৎ কালের জন্য ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ এর বিপরীত কথা বলেছেন। আবার কেউ বলেছেন, এটি আদৌ ভবিষ্যৎ কালের জন্য ব্যবহৃত হয় না। কেউ বলেছেন, এটি আদৌ বর্তমান কালের জন্য ব্যবহৃত হয় না। আবার কেউ বলেছেন, এটি উভয়ের মধ্যে সাধারণ। আর এটিই সঠিক (صحيح)।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির একটি শাখা হলো: যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে: "তুমি নিজেকে তালাক দাও", আর সে বলে: "আমি তালাক দিচ্ছি", তবে কখনো সে বর্তমান সময় উদ্দেশ্য নেয়, ফলে তালাক হয়ে যায়। আবার কখনো সে ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য নেয়, সেক্ষেত্রে বর্তমানে কিছুই পতিত হয় না। আবার কখনো সে মূল অর্থ উদ্দেশ্য নেয়।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তার বিরুদ্ধে কেউ দাবি করে আর সে বলে: "আমি স্বীকার করছি", তবে ফকিহগণ বলেছেন: এটি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে না। অধিকাংশ ফকিহ এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন এবং আল-ফুরু গ্রন্থে একে সঠিক (صحيح) বলে অভিহিত করা হয়েছে।

 

‌‌৫৩তম নীতি

নীতি: 'লা' যোগে না-বোধক বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল বাচক ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। কেউ বলেছেন: এটি উভয় কালের জন্যই। যদি এতে ইবতিদাহর 'লাম' যুক্ত হয় অথবা 'লাইসা' যোগে না-বোধক হয় অথবা তা বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল বাচক হয়, তবে তা বর্তমান কালের জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির একটি শাখা হলো: এই বৈশিষ্ট্যের ওপর শপথ।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি তার বিরুদ্ধে দাবি করা হয় আর সে বলে: "আমি অস্বীকার করছি না", তবে আল-মুকনি গ্রন্থে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, "আমি অস্বীকার করছি না" বললে সে স্বীকৃতিকারী হবে না। আল-ফুরু গ্রন্থে একে সঠিক (صحيح) বলা হয়েছে। আজাজি উল্লেখ করেছেন যে, যদি সে বলে: "আমি তোমার দাবি অস্বীকার করছি না", তবে সে স্বীকৃতিকারী হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যাকে অসিয়ত করা হয়েছে সে যদি বলে: "আমি এই অসিয়ত গ্রহণ করছি না", তবে এটি প্রত্যাখ্যান হিসেবে গণ্য হবে। মৃত্যুর পরের ক্ষেত্রে এতে কোনো মতভেদ নেই।

 

‌‌৫৪তম নীতি

নীতি: অতীতকাল বাচক ক্রিয়া যখন শর্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা বর্তমান কার্যকর অর্থে রূপান্তরিত হয়।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির একটি শাখা হলো: যদি কেউ বলে: "যদি তুমি দাঁড়াও তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে এটি তার আগে ঘটে যাওয়া দাঁড়ানোর ওপর গণ্য হবে না। বলা হয়েছে: এটি তালাকের ক্ষেত্রে নয়, একইভাবে দাসমুক্তি ও অনুরূপ ক্ষেত্রেও।

 

‌‌৫৫তম নীতি

নীতি: 'কানা' শব্দটি অতীতে তার ইসিম এবং খবরের নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্ক বোঝায়। এটি কি সেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া বোঝায় নাকি এ বিষয়ে এটি নীরব থাকে? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির একটি শাখা হলো: যদি কেউ কোনো বস্তুর দাবি করে আর সাক্ষ্যপ্রমাণ এই মর্মে সাক্ষ্য দেয় যে বস্তুটি তার 'ছিল', তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি সে বলে: "আমার নিকট এক হাজার (দিরহাম) ছিল", তবে খিরাকি বলেন: এটি স্বীকৃতি নয়, বরং শপথসহ তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। আবু খাত্তাব বলেন: সে স্বীকৃতিকারী হবে এবং পরিশোধের দাবিদার হবে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: "যদি আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে থাকে", তবে এটি তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয়। সে যাই বলুক না কেন, তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: "আমার গোলাম মুক্ত ছিল", তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে; যদি না সে তার বন্দী হওয়ার আগের মুক্তি উদ্দেশ্য করে, তবে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। বিচারিক ক্ষেত্রে কি তা গ্রহণ করা হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায়।

 

‌‌৫৬তম নীতি

নীতি: 'আরা' শব্দটি 'জানা' এবং 'ধারণা করা' উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়। আপনি বলেন: "আমি আল্লাহকে মহান হিসেবে দেখেছি", অর্থাৎ জেনেছি। ধারণার ক্ষেত্রে বলেন: "আমি দেখছি সংবাদটি আসবে", এবং অনুরূপ।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির একটি শাখা হলো: যদি কেউ অন্যকে বলে: "তুমি দেখছো যে আমার গোলাম মুক্ত", যদি আমরা বলি এটি 'জানা' অর্থে, তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি বলি এটি 'ধারণা' অর্থে, তবে সে মুক্ত হবে না। কিন্তু এখানে দাসমুক্তি নিশ্চিত হবে, কারণ এটি জানা এবং ধারণা উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়, ফলে দাসমুক্তি সাব্যস্ত হয়। শাফেয়ি মাজহাবের রাফেয়ি এ কথা বলেছেন এবং তিনি এটি রুয়ানি থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী বলেন: সঠিক হলো তা কার্যকর না হওয়া। আসনাভি বলেন: "নববীর কথাটি সুস্পষ্ট।"

আমি বলি, আল্লাহই ভালো জানেন: তারা লক্ষ্য করেছেন যে স্বাধীনতা একটি স্থায়ী বিষয়, আর এটি এমন শব্দ যা দাসমুক্তি হওয়া এবং না হওয়া উভয় সম্ভাবনা রাখে। সুতরাং স্বাধীনতা সাব্যস্ত, আর দাসমুক্তি হওয়া সন্দেহযুক্ত। আসনাভির বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো যে, এটি বক্তার নিয়তের দিকে ফিরে যাবে। যদি সে বলে যে আমি 'জানা' উদ্দেশ্য নিয়েছি, তবে সে মুক্ত হবে; আর যদি বলে 'ধারণা' করা উদ্দেশ্য নিয়েছি, তবে মুক্ত হবে না। তালাকের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।

 

‌‌৫৭তম নীতি

নীতি: হ্যাঁ-বোধক বাক্যে 'কাদা', যেমন: "যায়েদ কাজটি করার উপক্রম হয়েছে", এর অর্থ হলো কাজের নিকটবর্তী হওয়া। আর না-বোধক বাক্যে, যেমন: "যায়েদ কাজটি করার উপক্রম হয়নি", এর অর্থ হলো কাজটি সাব্যস্ত হওয়া; অর্থাৎ কষ্টের পর সে কাজটি করেছে। সঠিক মত হলো এটি নিকটবর্তী হওয়াকে অস্বীকার করার জন্য, আর নিকটবর্তী না হওয়া থেকে কাজটি না হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: ما كدت أطلق امرأتي، أو ما كدت أعتق عبدي، طلقت على الأول دون الثاني، هذا هو القياس، وجزم البغوي في "فتاويه" بالوقوع. وإن قال: كدت، لم تطلق بغير خلاف، وكذا في العتق والله أعلم بالصواب.

 

‌‌القاعدة الثامنة والخمسون

قاعدة: "الباء" الموحدة تكون للسببية كقوله تعالى: (فبظلم من الذين هادوا) ، وبمعنى "في" كقوله تعالى: (لتمرون عليهم مصبحين وبالليل) .

إذا علمت هذا فمن فروع القاعدة: إذا قال: إن عصيت بسفرك فإنت طالق، فينظر - فإن إراد بنفس السفر طلقت إذا كان السفر سفر معصية، وإن لم يرد نفس السفر لكنه أراد معصيتها فيه، لم تطلق بالسفر، ويحتمل أن تطلق عاصية بالسفر، والأول أصح لأنه علم أن سفرها معصية ولم يطلقها به، وإنما طلقها بالمعصية فيه. والله أعلم. وهي تبنى على القاعدة: إن إراد بمعنى "في" أو "بسبب السفر".

ومنها: إذا قال: وقفت هذا بهذا، فإن إراد سبب وقف هذا لم يصر وفقا، وإن أراد "في" صار وقفا، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أعتقت هذا بهذا، أو طلقت هذه بهذه، فإن أراد السببية لم يعتق الثاني ولم تطلق الثانية، وإن أراد "في" عتق وطلقت، وإن ادعى هذا دين، وهل يقبل في الحكم؟ على روايتين.

ومنها: إذا قال: طلقة بطلقتين، فإن أراد "في" طلقت ثلاثا، وإن أراد تعدل طلقتين، طلقت طلقتين، وإن أراد الاستصحاب، أن مع طلقتين، طلقت ثلاثا، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة التاسعة والخمسون

قاعدة: "من" تستعمل لمعان منها التبعيض، مثل أخذت من الدراهم إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال لزوجته: اختاري من ثلاث طلقات ماشئت، لم يكن لها أن تختار أكثر من اثنتين، كما قد صرح به الأصحاب في غالب كتبهم.

ومنها: إذا قال: بع من عبيدي ما شئت، فالظاهر فيه الصحة. قال في "الكافي": "وإن كان وكله في بيع ماله كله، أو ما شاء منه، أو قبض ديونه كلها، أو بالإبراء منها، أو ما شاء منها صح. ويحتمل عدم الصحة.، قال في "الكافي": "ولاتصح إلا في تصرف معلوم، وهنا التوكيل مجهول، ولا يجوز أن يبيع الجميع.

قال القاضي علاء الدين: في "القواعد": "هل يبيع الجميع استعمالا للفظة "من" بمعنى التبيين، أو البعض استعمالا لها بمعنى التبعيض؟ وظاهر كلام الأصحاب جواز بيع الجميع".

وصحت الوكالة، ذكره الرافعي من الشافعية في "المهذب" و "التهذيب"، وذكر في "الحلية" ما يخالفه، فإن قال: لا يصح حتى يميز. زاد النووي في "الروضة" بإنه يتصرف في البعض، لأن"من" للتبعيض، وبه صرح إمام الحرمين والغزالي في "البسيط"، قالوا: ولو باعهم إلا واحدا صح.

والنووي في "الروضة" قد استدرك على الرافعي، فقال: إن الذي نقله عن "الحلية" إن كان المراد به "حلية" الروياني، فهو غلط من الرافعي، فإن المذكور في "الحلية" خلافه، ثم ذكر كلام الحلية.

قال الأسنوي: "والذي ذكره النووي غلط فاحش، فإن الروياني قد صرح بذلك في "الحلية"، فذهل عنه النووي، وذكر كلاما آخر مذكورا بعده بنحو خمسة أسطر ظنا منه أنه هو".

ومنها: إذا قال: له علي من درهم إلى عشرة لزمه ثمانية، وجزم به ابن شهاب، وقيل: عشرة، وقيل: تسعة.

 

‌‌القاعدة الستون

قاعدة: تكون "من" أيضا للتعليل، كقوله تعالى: (كلما أرادوا أن يخرجوا منها من غم) . وتأتي بمعنى "الباء" كقوله عز وجل: (يحفظونه من أمر الله) و (يلقي الروح من أمره) . وبمعنى "في" كقوله عز وجل: (أروني ماذا خلقوا من الأرض) وبمعنى "على" كقوله عز وجل: (ونصرناه من القوم) وتكون زائدة في المنفي وشبهه، وهو النهي والاستفهام، إذا كان المجرور نكرة كقوله عز وجل: (ما لكم من إلاه غيره) . وأما في الإثبات فلا يجوز، وقيل: بلى مطلقا لقوله تعالى: (يغفر لكم من ذنوبكم) ، وقيل: إن كان نكرة جاز كقوله: (يحلون فيها من أساور) وإن كان معرفة فلا.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: أذا قال: برئت من طلاقك، إن أراد علة الطلاق لم تطلق، وإن نوى الطلاق وقع.، وقال بعض الشافعية: إن أراد برئت إليك من طلاقك طلقت.

ومن فروع الثانية: إذا قال: أنت حر منه، لم يعتق إلا الأول، لأنه أراد العلة، إذا أن يرد ب "من" بمعنى "الباء" أي به، فيعتق العبدان، وكذا إذا قال: أنت طالق منها، وكذا في الوقت.
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই মূলনীতির শাখাসমূহ নিম্নরূপ: যদি কেউ বলে: ‘আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার উপক্রম হইনি’, অথবা ‘আমি আমার গোলামকে আজাদ করার উপক্রম হইনি’, তবে প্রথম ক্ষেত্রে তালাক পতিত হবে কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে নয়; এটিই হলো কিয়াস। আর আল-বাগাউয়ি তাঁর ‘ফাতোয়া’ গ্রন্থে তালাক কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য মত দিয়েছেন। আর যদি সে বলে: ‘আমি উপক্রম হয়েছিলাম’, তবে কোনো দ্বিমত ছাড়াই তালাক হবে না, গোলাম আজাদের ক্ষেত্রেও একই কথা। আর আল্লাহই সঠিক উত্তর সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।

 

‌‌আটান্নতম মূলনীতি

মূলনীতি: এক নুকতাওয়ালা ‘বা’ (الباء) কারণ দর্শাতে (সাবাবিয়্যাহ) ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (ফবজুলমিম মিনাল্লাজিনা হাদূ) অর্থাৎ ‘আর ইয়াহুদীদের জুলুমের কারণে’। আবার এটি ‘ফি’ (في) এর অর্থেও আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (লিতামুররূনা আলাইহিম মুসবিহীনা ওয়াবিল্লাইল) অর্থাৎ ‘তোমরা তাদের অতিক্রম করো ভোরে এবং রাতে’।

আপনি যখন এটি জানলেন, তবে এই মূলনীতির শাখাসমূহ নিম্নরূপ: যদি কেউ বলে: ‘যদি তুমি তোমার সফরের মাধ্যমে অবাধ্য হও তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা’, তখন বিষয়টি লক্ষ্য করা হবে—যদি সে খোদ সফরকেই উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে সফরটি যদি গুনাহের সফর হয় তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি সে সফরকে উদ্দেশ্য না করে বরং সফরের মধ্যে অবাধ্য হওয়াকে উদ্দেশ্য করে, তবে শুধু সফরের কারণে তালাক হবে না। আর এখানে সফরের কারণে অবাধ্য হওয়ার কারণে তালাক হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে, তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ (الأصح); কেননা এটি জানা গেছে যে তার সফরটি ছিল অবাধ্যতা স্বরূপ কিন্তু তিনি তাকে তার মাধ্যমে তালাক দেননি, বরং তাকে তালাক দিয়েছেন তার মধ্যে অবাধ্য হওয়ার কারণে। আল্লাহই ভালো জানেন। আর এটি এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যে, তিনি কি ‘ফি’ (في) অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন নাকি ‘সফরের কারণে’ অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন।

এর মধ্য থেকে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘আমি এটিকে এটির বিনিময়ে ওয়াকফ করলাম’, তবে সে যদি এই ওয়াকফের কারণ উদ্দেশ্য করে থাকে তবে তা ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে না। আর যদি সে ‘ফি’ (মধ্যে) অর্থ উদ্দেশ্য করে থাকে তবে তা ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর মধ্য থেকে আরও রয়েছে: যদি সে বলে: ‘আমি এটিকে এটির বিনিময়ে আজাদ করলাম’ অথবা ‘এটিকে এটির বিনিময়ে তালাক দিলাম’, তবে সে যদি কারণ দর্শানো উদ্দেশ্য করে থাকে তবে দ্বিতীয়জন আজাদ হবে না এবং দ্বিতীয়জন তালাকপ্রাপ্তাও হবে না। আর যদি সে ‘ফি’ (মধ্যে) অর্থ উদ্দেশ্য করে থাকে তবে আজাদ ও তালাক হয়ে যাবে। আর যদি সে এটি দাবি করে তবে তা কি বিচারিক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

এর মধ্য থেকে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘এক তালাক দুই তালাকের সাথে’, তবে যদি সে ‘ফি’ (মধ্যে) উদ্দেশ্য করে তবে তিন তালাক হবে। আর যদি সে দুই তালাকের সমতুল্য হওয়ার ইচ্ছা করে তবে দুই তালাক হবে। আর যদি সে সাহচর্য উদ্দেশ্য করে যে দুই তালাকের সাথে, তবে তিন তালাক হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌উনষাটতম মূলনীতি

মূলনীতি: ‘মিন’ (من) শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে একটি হলো আংশিকতা (তাব’ঈয)। যেমন: ‘আমি কিছু দিরহাম গ্রহণ করেছি’। আপনি যখন এটি জানলেন, তবে এই মূলনীতির শাখাসমূহ নিম্নরূপ: যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে: ‘তুমি তিন তালাকের মধ্য থেকে যা চাও পছন্দ করে নাও’, তবে তার জন্য দুইটির বেশি পছন্দ করার সুযোগ নেই; যেমনটি আমাদের ফকীহগণ তাদের অধিকাংশ কিতাবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্য থেকে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘আমার গোলামদের মধ্য থেকে যা চাও বিক্রি করো’, তবে এর বৈধতা (الصحة) প্রকাশমান। ‘আল-কাফি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘যদি সে তার সমস্ত সম্পদ বিক্রির জন্য অথবা তার যা ইচ্ছা তা বিক্রির জন্য, কিংবা তার সমস্ত ঋণ উসুল করার জন্য বা তা থেকে দায়মুক্ত করার জন্য অথবা তার যা ইচ্ছা তা করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে। তবে এটি সঠিক (صحيح) না হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।’ ‘আল-কাফি’ গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে: ‘পরিচিত কোনো লেনদেন ব্যতীত প্রতিনিধি নিয়োগ সঠিক (صحيح) হয় না, আর এখানে প্রতিনিধি নিয়োগ অজ্ঞাত, তাই সব বিক্রি করা জায়েজ নয়।’

কাযি আলাউদ্দিন ‘আল-কাওয়াইদ’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘মিন (من) শব্দটিকে বর্ণনা অর্থে ব্যবহার করে কি সব বিক্রি করা যাবে, নাকি আংশিকতা (তাব’ঈয) অর্থে ব্যবহার করে কিছু অংশ বিক্রি করা হবে? ফকীহগণের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো সব বিক্রি করা জায়েজ’।

আর প্রতিনিধি নিয়োগও সঠিক (صحيح) হবে। শাফেয়ি মাযহাবের ইমাম রাফেয়ি ‘আল-মুহাজ্জাব’ ও ‘আত-তাহজিব’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তবে ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে এর বিপরীত মত পাওয়া যায়, সেখানে বলা হয়েছে: ‘বিচ্ছিন্নভাবে নির্দিষ্ট না করা পর্যন্ত তা সঠিক (صحيح) হবে না’। ইমাম নববী ‘আর-রাওজাহ’ গ্রন্থে সংযোজন করেছেন যে, সে কিছু অংশে হস্তক্ষেপ করবে, কারণ ‘মিন’ শব্দটি আংশিকতার (তাব’ঈয) জন্য। ইমামুল হারামাইন এবং আল-গাযালি ‘আল-বাসিত’ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন: যদি একজন ব্যতীত সবাইকে বিক্রি করে দেয় তবে তা সঠিক (صحيح) হবে।

আর ইমাম নববী ‘আর-রাওজাহ’ গ্রন্থে ইমাম রাফেয়ির ওপর সংশোধন এনে বলেছেন: ইমাম রাফেয়ি ‘আল-হিলয়াহ’ থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তা যদি রুইয়ানির ‘আল-হিলয়াহ’ হয়ে থাকে তবে তা ইমাম রাফেয়ির ভুল; কারণ ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে যা আছে তা এর বিপরীত। অতঃপর তিনি ‘আল-হিলয়াহ’ এর বক্তব্য উল্লেখ করেন।

আল-ইসনাবি বলেছেন: ‘নববী যা উল্লেখ করেছেন তা একটি গুরুতর ভুল, কারণ রুইয়ানি ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম নববী তা খেয়াল করেননি এবং প্রায় পাঁচ লাইন পরে বর্ণিত অন্য একটি বক্তব্যকে সেটি মনে করে উল্লেখ করেছেন’।

এর মধ্য থেকে আরও রয়েছে: যদি কেউ বলে: ‘এক থেকে দশ দিরহাম পর্যন্ত তার পাওনা আমার নিকট রয়েছে’, তবে তার ওপর আট দিরহাম আবশ্যক হবে। ইবনে শিহাব এ ব্যাপারে অকাট্য মত দিয়েছেন। কারো মতে দশ দিরহাম এবং কারো মতে নয় দিরহাম।

 

‌‌ষাটতম মূলনীতি

মূলনীতি: ‘মিন’ (من) শব্দটি কারণ দর্শানোর (তালীলের) জন্যও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (কুল্লামা আরাদু আই ইয়াখরুজু মিনহা মিন গম্মিন) অর্থাৎ ‘যখনই তারা দুঃখ-কষ্টের কারণে সেখান থেকে বের হতে চাইবে’। এটি ‘বা’ (الباء) এর অর্থেও আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (ইয়াহফাজুনাহু মিন আমরিল্লাহ) এবং (ইউনঝিলুর রুহা মিন আমরিহি)। আবার ‘ফি’ (في) এর অর্থেও আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আরূনি মাজা খালাকূ মিনাল আরদ)। আবার ‘আলা’ (على) এর অর্থেও আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (ওয়া নাসারনাহু মিনাল কউম)। এছাড়া এটি না-বোধক এবং অনুরূপ বাক্য যেমন নিষেধাজ্ঞা ও প্রশ্নবোধক বাক্যে অতিরিক্ত (যায়েদাহ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যদি পরবর্তী শব্দটি নাকেরা (অনির্দিষ্ট) হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (মা লাকুম মিন ইলাহিন গইরুহু)। কিন্তু হ্যাঁ-বোধক বাক্যে এটি (অতিরিক্ত হিসেবে) জায়েজ নয়। তবে কারো মতে শর্তহীনভাবেই জায়েজ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (ইয়াগফির লাকুম মিন জুনূবিকুম)। আবার কারো মতে, যদি শব্দটি নাকেরা (অনির্দিষ্ট) হয় তবে জায়েজ, যেমন: (ইউহাল্লাওনা ফীহা মিন আসাবির)। আর যদি মারেফা (নির্দিষ্ট) হয় তবে জায়েজ নয়।

আপনি যখন এটি জানলেন, তবে এই মূলনীতির শাখাসমূহ নিম্নরূপ: যদি কেউ বলে: ‘আমি তোমার তালাক হতে মুক্ত হলাম’, যদি সে তালাকের কারণ উদ্দেশ্য করে তবে তালাক হবে না। আর যদি তালাকের নিয়ত করে তবে তালাক পতিত হবে। জনৈক শাফেয়ি ফকীহ বলেছেন: যদি সে উদ্দেশ্য করে যে ‘আমি তোমার তালাকের বিষয়ে তোমার থেকে দায়মুক্ত হলাম’, তবে তালাক হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় অর্থের শাখা থেকে: যদি কেউ বলে: ‘তুমি এর থেকে মুক্ত (حر منه)’, তবে কেবল প্রথমজনই আজাদ হবে, কারণ সে কারণটি উদ্দেশ্য করেছে। তবে যদি সে ‘মিন’ (من) কে ‘বা’ (الباء) অর্থে ব্যবহার করে অর্থাৎ ‘তার মাধ্যমে’, তবে উভয় গোলাম আজাদ হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে যদি বলে: ‘তুমি এর মাধ্যমে তালাকপ্রাপ্তা’, এবং সময়ের ক্ষেত্রেও একই হুকুম।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ومنها: إذا قال: أنت طالق من عدد الحصي أو الرمل ونحوه، فإذا أراد العلة طلقت واحدة، وإن أراد بمعنى "الباء" طلقت ثلاثا.

ومنها: إذا قال: أنت طالق بالمعصية من سفرك، إذا أراد بها "في" لم تطلق إلا بالمعصية فيه، وإن أراد "الباء" لم تطلق إلا أن يكون السفر سفر معصية.

ومنها: إذا قال: أنت طالق واحدة ومن هذه ثنتان، إن نوى من أجل هذه ثنتان، طلقت ثلاثا، وإن نوى بها "على" - أي على هذه ثنتان - فتطلق الأولى واحدة، والثانية ثنتين، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أنوي زوجة لي منكِ، فالنكاح يصح لأن "من" زائدة، وكذا عند الشافعية.

وإن نزلت هذه على القاعدة، وقع الخلاف فيها، لأنه إثبات، وكذا في الطلاق والبيع ونحو ذلك، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة الواحدة والستون

قاعدة: تأتي "الباء" مكان اللام" كقوله تعالى: (ما خلقنا السماوات والأرض ومابينهما إلا بالحق) . وتكون بمعنى"من" قال عز وجل: (عينا يشرب بها) ، وتكون بمعنى "عن"، قال عز وجل: (فسئل به خبيرا) إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: أنت طالق أكثر الطلاق بالسنة، فإن كان مراده ب "الباء" إجراءها على معناها، فالسنة هي التي وردت عن النبي صلى الله عليه وسلم، فنطلق أكثر ماوردت به السنة، سواء كان في زمن بدعة أو سنة، وإن أراد بمعنى "اللام" فتطلق ثلاثا في طهر لم يصبها فيه. وعنه تطلق في كل طهر واحدة. فالأولى طالق أكثر العدد الذي وردت به السنة، والثاني أكثر الطلاق في زمن السنة.

ومنها:: إذا حلف لا شربت بالشربة، فإن كانت نيته ب "الباء" أجراءها على ما هي، لم يحنث إذا شرب من ثملها، وغ، كان مراده بمعنى"من" حنث إن شرب منه، وكذا إن حلف: لا أقمت بك.

ومنها: إذا حلف: لا دخلت بك، وإن كان مراده بإجراء "الباء" على مقتضاها، حنث إن دخل بها، وإن كان مراده بمعنى "عن"، فيكون معناها: لا دخلت عنك، وتجري على هذا أيضا التعاليق.

 

‌‌القاعدة الثانية والستون

قاعدة: تكون "عن" بمعنى "مِن" كقوله تعالى: (وهو الذي يقبل التوبة عن عباده) . وتكون بمعنى الباء كقوله تعالى: (وما ينطق عن الهوى) .

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا حلف: لا أرحل عنك، فإنه يدخل في هذه العبارة إدخال "عن" على ماهي، وبمعنى "من" أن منك، ومعنى "الباء" أي بك.

ويدخل في هذه القاعدة جميع التعاليق.

 

‌‌القاعدة الثالثة والستون

قاعدة: "على" تكون بمعنى "من" قال الله عز وجل: (إذا اكتالوا على الناس) ، وقال الشاعر:

 

متى تذكروها تعرفوها … على إقراها علق بغيت

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا طلق امرأة، وكانت له امرأة أخرى فقال عن المرأة المطلقة: طلاقها عليك، فإن نوى تطليقها طلقت، وإن نوى "منك" لم تطلق، وإن ادعاه دين، وهل يقبل في الحكم؟ يخرج على روايتين.

وتنبني تعاليق كثيرة على هذه القاعدة.

 

‌‌القاعدة الرابعة والستون

قاعدة: "لام" الجر أصلها الفتح، وإنما كسرت مع الظاهر مناسبة لعملها، وتدل - مع الفتح والضمير - على الجزاء، وترد الشيء إلى أصله.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا ادعى عليه شيئا، فقال: ما له علي، فهي محتملة أن تكون "إقرار" ومحتملة أن تكون نافية، وأما من العالم بها، فينبغي أن تكون "إقرار"، فإن قال "حق" بعدها - وبضم اللام - فإن فهو إقرار، وإلا فلا.، وذكر الأسنوي أنه إن عرف العربية، فهو إقرار وإلا فلا، وقال: إن أحمد بن فارس اللغوي في تصنيفه المنقول عن فتوى ففيه العرب، أن أبا عبيد ابن حربويه من أصحابهم صرح بذلك.، وكذا إذا قال: مالي عليه ونحوه، والله أعلم.

ومنها: إذا كان له مع عبده مال، فقال له: مالي سبيل عليك، فإن أراد المال لم يعتق، ويدين فيه، وهل يقبل في الحكم؟ يخرج على الخلاف، وإن كان يعرف أنه يعتق بهذا، وقاله عتق، وكذا إن لم يكن عليه مال.

وكذا إذا قال لامرأته: ما لي سبيل عليك، فإن لم ينو الطلاق، ونوى المال لا يقع شيء، وإن نوى الطلاق فهي كناية خفية يقع بها ما نواه، من واحدة وثلاث ونحوهم.

 

‌‌القاعدة الخامسة والستون
আর এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'তুমি পাথর বা বালুকণার সংখ্যার ন্যায় তালাক', এমতাবস্থায় যদি সে কারণ (علة) বোঝাতে চায় তবে এক তালাক হবে, আর যদি সে 'বা' (باء) বর্ণের অর্থে ব্যবহার করে থাকে তবে তিন তালাক হবে।

আর এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: 'তোমার সফরের অবাধ্যতার কারণে তুমি তালাক', যদি এর দ্বারা সে 'মধ্যে' (في) অর্থ বোঝাতে চায়, তবে সেই সফরে অবাধ্যতা না করা পর্যন্ত তালাক হবে না। আর যদি সে 'দ্বারা' (باء) অর্থ উদ্দেশ্য করে, তবে সেই সফরটি যদি অবাধ্যতার সফর হয় তবেই তালাক হবে।

আর এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: 'তুমি এক তালাক এবং এই থেকে (من) দুই তালাক', যদি সে এই কারণে দুই তালাক নিয়ত করে তবে তিন তালাক হবে। আর যদি এর দ্বারা 'উপর' (على) অর্থ নিয়ত করে—অর্থাৎ এই একের ওপর দুই তালাক—তবে প্রথমটি এক তালাক এবং দ্বিতীয়টি দুই তালাক হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

আর এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে বলে: 'আমি তোমার থেকে আমার জন্য একজন স্ত্রী হওয়ার নিয়ত করছি', তবে বিবাহ শুদ্ধ হবে। কারণ এখানে 'থেকে' (من) শব্দটি অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শাফেয়ি মাজহাবের আলেমদের নিকটও অনুরূপ।

যদি এই মাসআলাটি মূলনীতির ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে এতে মতভেদ সৃষ্টি হবে; কারণ এটি একটি স্বীকৃতিমূলক বাক্য। অনুরূপ বিধান তালাক, ক্রয়-বিক্রয় এবং এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌একষট্টিতম নীতি

নীতি: 'বা' (باء) বর্ণটি 'লাম' (لام)-এর স্থলে ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আমি আসমানসমূহ, জমিন ও এর মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা যথাযথভাবেই (بالحق) সৃষ্টি করেছি"। আবার এটি 'হতে' (من) অর্থ প্রকাশ করে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "এমন এক ঝরনা যা হতে (بها) আল্লাহর বান্দারা পান করবে"। আবার এটি 'সম্পর্কে' (عن) অর্থও প্রদান করে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "সুতরাং সে সম্পর্কে (به) কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করো"। যখন আপনি বিষয়টি জানলেন, তখন এই নীতির শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ বলে: 'সুন্নাহ অনুযায়ী তুমি সর্বোচ্চ তালাকপ্রাপ্তা', তবে যদি তার উদ্দেশ্য 'বা' (باء) বর্ণটিকে তার নিজস্ব অর্থেই প্রয়োগ করা হয়, তবে সুন্নাহ বলতে যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তাকে বোঝাবে। সেক্ষেত্রে সুন্নাহয় সর্বোচ্চ যে সংখ্যা বর্ণিত হয়েছে তত তালাকই হবে, চাই তা বিদআত (بدعة) কিংবা সুন্নাহসম্মত সময়ে হোক। আর যদি সে 'জন্য' (لام) অর্থ উদ্দেশ্য করে, তবে এমন পবিত্র অবস্থায় তিন তালাক হবে যাতে সে স্ত্রীর সাথে সহবাস করেনি। আর একটি বর্ণনা মতে, প্রতি পবিত্র অবস্থায় এক তালাক করে হবে। প্রথম মত অনুযায়ী সুন্নাহ বর্ণিত সর্বোচ্চ সংখ্যার তালাক হবে, আর দ্বিতীয় মত অনুযায়ী সুন্নাহসম্মত সময়ের সর্বোচ্চ তালাক হবে।

আর এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ শপথ করে যে 'আমি এই পাত্রের পানি দ্বারা পান করব না', যদি তার নিয়ত 'বা' (باء) বর্ণটিকে তার প্রকৃত অর্থে রাখা হয়, তবে সেই পাত্রের অবশিষ্ট অংশ থেকে পান করলে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। আর যদি তার উদ্দেশ্য 'হতে' (من) অর্থ হয়, তবে তা থেকে পান করলে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। অনুরূপ যদি সে শপথ করে: 'আমি তোমার দ্বারা অবস্থান করব না'।

আর এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ শপথ করে: 'আমি তোমার সাথে (বা) প্রবেশ করব না', যদি সে 'বা' (باء) বর্ণটিকে তার নিজস্ব দাবি অনুযায়ী প্রয়োগ করে, তবে তার সাথে প্রবেশ করলে শপথ ভঙ্গ হবে। আর যদি তার উদ্দেশ্য 'সম্পর্কে' (عن) অর্থ হয়, তবে তার অর্থ হবে: 'আমি তোমার থেকে বিমুখ হয়ে প্রবেশ করব না'। শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

 

‌‌বাষট্টিতম নীতি

নীতি: 'আন' (عن) বর্ণটি 'মিন' (من) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তিনিই তাঁর বান্দাদের নিকট হতে (عن) তওবা কবুল করেন"। আবার এটি 'বা' (باء) অর্থেও আসে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তিনি প্রবৃত্তি হতে (عن) কথা বলেন না"।

যখন আপনি বিষয়টি জানলেন, তখন এই নীতির শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ শপথ করে: 'আমি তোমার থেকে (عن) প্রস্থান করব না', তবে এই শব্দচয়নের মধ্যে 'আন' (عن) বর্ণটি তার নিজস্ব অর্থে, 'মিন' (من) অর্থাৎ 'তোমার হতে' অর্থে এবং 'বা' (باء) অর্থাৎ 'তোমার সাথে' অর্থে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই নীতির অধীনে সকল শর্তযুক্ত বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

‌‌তেষট্টিতম নীতি

নীতি: 'আলা' (على) বর্ণটি 'মিন' (من) অর্থে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যখন তারা মানুষের নিকট থেকে (على) মেপে নেয়"। জনৈক কবি বলেছেন:

 

যখনই তোমরা তা স্মরণ করবে, তা চিনতে পারবে … এর পাঠের ওপর (على) আমার অন্বেষা নিবদ্ধ।

যখন আপনি বিষয়টি জানলেন, তবে এই নীতির শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং তার অন্য একজন স্ত্রী থাকে, অতঃপর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী সম্পর্কে সে বলে: 'তার তালাক তোমার ওপর (على)', এখন যদি সে তাকে তালাক দেওয়ার নিয়ত করে তবে তালাক হবে। আর যদি সে 'তোমার থেকে' (من) নিয়ত করে তবে তালাক হবে না। যদি সে একে ঋণ হিসেবে দাবি করে, তবে বিচারকার্যে তা গ্রহণ করা হবে কি না? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

এই নীতির ওপর অনেক শর্তযুক্ত বিষয় নির্ভরশীল।

 

‌‌চৌষট্টিতম নীতি

নীতি: হরফে জর 'লাম' (لام)-এর মূল হলো জবর (ফাতহা) হওয়া। কেবল স্পষ্ট বিশেষ্যের সাথে আমলের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে একে যের (কাসরা) দেওয়া হয়েছে। এটি ফাতহা এবং সর্বনামের সাথে বিনিময় বা প্রতিফল বোঝায় এবং কোনো বস্তুকে তার মূলের দিকে ফিরিয়ে দেয়।

যখন আপনি বিষয়টি জানলেন, তখন এই নীতির শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো কিছুর দাবি করে এবং সে উত্তরে বলে: 'আমার ওপর তার কিছুই নেই' (মা লাহু আলাইয়্যা), তবে এটি স্বীকৃতি (إقرار) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে আবার অস্বীকারসূচক (نافية) হওয়ারও সম্ভাবনা রাখে। তবে যিনি এ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন, তার ক্ষেত্রে এটি স্বীকৃতি (إقرار) হওয়াই সমীচীন। যদি সে এরপর 'হক' শব্দটি বলে—এবং লাম বর্ণে পেশ দেয়—তবে তা স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় নয়। আল-আসনাবি উল্লেখ করেছেন যে, যদি সে আরবি ভাষা জানে তবে এটি স্বীকৃতি, নতুবা নয়। তিনি আরও বলেন, ভাষাবিদ আহমদ ইবনে ফারিস তার সংকলনে বর্ণনা করেছেন যে, আরবদের ফতোয়া ও ভাষাগত বিষয়ে আবু উবায়েদ ইবনে হারবুয়াহ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ যদি সে বলে: 'তার জন্য আমার ওপর রয়েছে' ইত্যাদি। আল্লাহই ভালো জানেন।

আর এর মধ্যে রয়েছে: যদি তার এবং তার দাসের মধ্যে কোনো সম্পদ থাকে এবং সে তাকে বলে: 'তোমার ওপর আমার কোনো পথ নেই', তবে যদি সে এর দ্বারা সম্পদ বোঝায় তবে দাস মুক্ত হবে না এবং এটি তার ধর্মীয় সততার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বিচারিক রায়ে এটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না? এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে সে যদি জানে যে এর দ্বারা দাস মুক্ত হয়ে যায় এবং তবুও তা বলে, তবে দাস মুক্ত হয়ে যাবে। অনুরূপ যদি তার ওপর কোনো সম্পদ না-ও থাকে।

একইভাবে যদি সে তার স্ত্রীকে বলে: 'তোমার ওপর আমার কোনো পথ নেই', যদি সে তালাকের নিয়ত না করে বরং সম্পদের নিয়ত করে তবে কিছুই হবে না। আর যদি সে তালাকের নিয়ত করে তবে এটি একটি অস্পষ্ট ইঙ্গিতবহ (كناية خفية) শব্দ, যার মাধ্যমে তার নিয়ত অনুযায়ী এক বা তিন তালাক পতিত হবে।

 

‌‌পঁয়ষট্টিতম নীতি
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قاعدة: "إلى" حرف يدل لانتهاء الغاية زمانا ومكانا، وإذا لم تقم قرينة على أن ما بعدها داخل فيما قبلها أو غير داخل، ففي دخوله أقوال: دخوله مطلقا، وعكسه، والثالث: إن كان من جنس ما قبله فيحتمل الدخول، وإلا فيحتمل الدخول وعدمه.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا حلف لا تخرج امرأته إلى العرس فخرجت بقصده، ولم تصل إليه، فقال الأسنوي: "لايحنث"، والذي ينبغي الحنث، لأنه إنما علق اليمين بالخروج، وقد وجد. وإن خرجت لغيره، ثم عدلت إليه، فقال الأسنوي أيضا: لا يحنث، وقد صرح به الأصحاب في كتبهم أنه إذا حلف: لا تخرج إلى غير الحمام إلا بإذنه، فخرجت إلى الحمام وعدلت إلى غيره، طلقت، قدمه في "المقنع" وغيره، ويحتمل أن لا تطلق. قال الأسنوي: "فإن قال: للعرس، طلقت بمجرد الخروج، لأن حرف "إلى" لم يوجد،. . . كذا قاله القاضي أبو الطيب".

قال القاضي علاء الدين في "قواعده": " يحتمل أن يحنث إذا وصلت إلى الحمام، ولم تدخل إليه بناء على المشهور من القاعدة.

ويحتمل أن يقال: إنها تخرج على مسألة الاكتفاء ببعض الصفة، ولأصحاب في الاكتفاء ببعض الصفة في الطلاق والعتاق طرق ثلاثة: إحداهن: الاكتفاء بذلك، كما يكتفي بذلك في اليمين على إحدى الروايتين، وهي طريقة القاضي، واستثنى من ذلك "في" "الجامع" أن تكون الصفة معاوضة.

الثانية: لا يكتفي بها، وإن اكتفيا ببعض المحلوف عليه في اليمين.

والثالثة: إن كانت الصفة تقتضي حضا، أو منعا، أو تصديقا، فهي كاليمين، وإلا فهي علة محضة، فلا بد من وجودها بكمالها، وهي طريقة صاحب "المحرر".

فإذا تقرر هذا، فمتى خرجت لذلك طلقت، وصلت إلى الحمام أو لم تصل، بناء على طريقة صاحب "المحرر".

وإذا إن قصد منعا، أو بناء على طريقة القاضي إن لم يقصد شيئا، والله أعلم بالصواب.

ومنها: إذا أرسل شخص إلى بيت فلان، وعلم أنه لم يفعل، وحلف بالطلاق أنه أرسله إلى بيت فلان، فينبغي عدم الوقوع، وهو منقول عن الرافعي، ونقله الروياني، قال: هو الحق، وعلل بأنه يصدق أن يقال: أرسله فلم يمتثل الأمر.، وحكى الأسنوي عندهم قوله بوقوع الطلاق، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أنت طالق إلى مكة، ولم ينو بلوغها، طلقت في الحال، وجزم به بعض المتأخرين من أصحابنا، وذكره القاضي علاء الدين في "القواعد" قال: "ولكن نقول: ينبغي أن يحمل الكلام على جهة صحيحة، وهو إما أن يحمل على معنى "أنت طالق إذا دخلت مكة"، أو إذا خرجت إلى مكة، فلا تطلق إلا بالدخول إلى مكة، قال: وهو الأولى".، وإن حمل على معنى "إن خرجت" فهي كمسألة الحمام، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: له علي من درهم إلى العشرة، أو ما بين درهم إلى العشرة. لزمه تسعة. وهو الصحيح، بناء على أن ما بعد الغاية لا يدخل فيها، وهو الدرهم العاشر. وقيل: عشرة.، وحكي رواية بناء على تناول ما بعدها، وقيل: ثمانية، إلغاء للطرفين. وجزم به ابن شهاب وكما لو قال: "من هذا الحائط إلى هذا الحائط". قال القاضي في "الجامع": إنما ألزمنا الابتداء في العدد، لأنا نحتاج أن نبني عليه الثاني، ولا يصح البناء على الثاني إلا بعد دخول الابتداء، وليس ذلك للغاية، لأنا لا نحتاج إلى أن نبني عليها شيئا، فلم يجز إثباتها".

قال الشيخ تقي الدين: "والذي ينبغي أن يجمع بين الطرفين من الأعداد، فإذا قال: من واحد إلى العشرة، لزمه خمسة وخمسون، إن أدخلنا الطرفين، وخمسة وأربعون إذا أدخلنا المبتدأ فقط، وأربعة وأربعون إن أخرجناهما". قال القاضي علاء الدين: "وما قاله ظاهر على قاعدته إن كان ذلك عرف المتكلم، فإنه يعتبر في الإقرار عرف المتكلم، قال: والأصحاب قالوا: يلزمه خمسة وخمسون إن أراد مجموع الأعداد. وطريق ذلك: أن يزيد أول العدد وهو واحد على العشرة، ويضربها في نصف العشرة يكن المبلغ. فإن قال: ما بين عشرة إلى عشرين، قال أبو البركات: "لزمه تسعة عشر على الأول، وعشرون على الثاني. قال: وقياس الثالث: تسعة. والله أعلم.

ومنها: إذا أجل المديون إلى المحرم - مثلا - تعلق بأوله، جزم به الأصحاب ويتخرج لنا وجه، أنه لا يحل إلا بانقضائه من مسألة الأيمان، فيتيقن به. والله أعلم.
নিয়ম: "ইলা" (إلى) হলো এমন একটি অব্যয় যা সময় ও স্থানের চূড়ান্ত সীমা নির্দেশ করে। যদি এমন কোনো আলামত বা প্রমাণ না থাকে যে এর পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী অংশের অন্তর্ভুক্ত হবে কি হবে না, তবে এর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে একাধিক মত রয়েছে: প্রথমত, তা নিঃশর্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে; দ্বিতীয়ত, এর বিপরীত (অর্থাৎ অন্তর্ভুক্ত হবে না); এবং তৃতীয়ত: যদি তা পূর্ববর্তী বিষয়ের সমগোত্রীয় হয় তবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অন্যথায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা না হওয়ার উভয় সম্ভাবনা থাকে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নিয়মের একটি শাখা হলো: যদি কেউ শপথ করে যে তার স্ত্রী বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবে না, আর সে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলো কিন্তু সেখানে পৌঁছালো না, তবে আল-আসনাবি বলেছেন: "সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না।" কিন্তু যেটি হওয়া উচিত তা হলো সে শপথ ভঙ্গকারী হবে, কারণ সে শপথকে ঘর থেকে বের হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে এবং তা সংঘটিত হয়েছে। আর যদি সে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বের হয় এবং পরে বিয়ের অনুষ্ঠানের দিকে মোড় নেয়, তবে আল-আসনাবি এক্ষেত্রেও বলেছেন: সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। অথচ ফকিহগণ তাদের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যদি কেউ শপথ করে: "সে অনুমতি ছাড়া গোসলখানা ব্যতীত অন্য কোথাও বের হবে না", অতঃপর সে গোসলখানার উদ্দেশ্যে বের হয়ে অন্য কোথাও গেল, তবে তার তালাক হয়ে যাবে; এটি আল-মুকনি ও অন্যান্য কিতাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অবশ্য তালাক না হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আল-আসনাবি বলেছেন: "যদি সে বলে: 'বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য', তবে বের হওয়ার সাথে সাথেই তালাক হয়ে যাবে, কারণ এখানে 'ইলা' (إلى) অব্যয়টি বিদ্যমান নেই... কাজি আবু তাইয়্যেব এমনটিই বলেছেন।"

কাজি আলাউদ্দিন তার কাওয়াইদ গ্রন্থে বলেছেন: "প্রসিদ্ধ (مشهور) নিয়ম অনুযায়ী সম্ভাবনা রয়েছে যে, সে গোসলখানায় পৌঁছালে এবং তাতে প্রবেশ না করলে শপথ ভঙ্গকারী হবে।

আরও সম্ভাবনা রয়েছে যে বলা হবে: বিষয়টি 'গুণের আংশিক উপস্থিতিতেই যথেষ্ট হওয়া' সংক্রান্ত মাসআলার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। তালাক ও দাসমুক্তির ক্ষেত্রে আংশিক গুণ বা শর্তপূরণে যথেষ্ট হওয়ার বিষয়ে ফকিহদের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে: প্রথমত: এতেই যথেষ্ট হওয়া, যেমনটি শপথের ক্ষেত্রে দুই বর্ণনা (رواية) এর একটি অনুযায়ী যথেষ্ট মনে করা হয়; এটি কাজির অনুসৃত পদ্ধতি। তবে আল-জামি গ্রন্থে বিনিময়যোগ্য গুণের ক্ষেত্রে একে ব্যতিক্রম ধরা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: এতে যথেষ্ট হবে না, যদিও শপথের ক্ষেত্রে শপথকৃত বিষয়ের আংশিক সম্পন্ন হওয়াকে যথেষ্ট ধরা হয়।

তৃতীয়ত: যদি গুণ বা শর্তটি উৎসাহিত করা, বাধা দেওয়া বা সত্যয়ন করার অর্থ বহন করে, তবে তা শপথের মতো গণ্য হবে। অন্যথায় তা কেবলই একটি কারণ হিসেবে গণ্য হবে, ফলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যাওয়া আবশ্যক। এটি আল-মুহাররার প্রণেতার পদ্ধতি।

সুতরাং এটি যখন সাব্যস্ত হলো, তখন সে যখনই সেই উদ্দেশ্যে বের হবে তখনই তালাক হয়ে যাবে—চাই সে গোসলখানায় পৌঁছাক বা না পৌঁছাক; এটি আল-মুহাররার প্রণেতার পদ্ধতি অনুযায়ী।

আর যদি বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে অথবা কাজির পদ্ধতি অনুযায়ী যদি কোনো উদ্দেশ্য না থাকে (তবে তালাক হবে)। আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো: যদি কেউ কাউকে অমুকের বাড়িতে পাঠায় এবং জানতে পারে যে সে তা করেনি, আর সে তালাকের শপথ করে বলে যে সে তাকে অমুকের বাড়িতে পাঠিয়েছে, তবে এখানে শপথ ভঙ্গ না হওয়া বা তালাক না হওয়া উচিত। এটি ইমাম রাফেয়ি থেকে বর্ণিত এবং আল-রুয়ানি এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এটিই সত্য। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, এ কথাটি সত্য বলে গণ্য হবে যে: 'সে তাকে পাঠিয়েছে কিন্তু সে আদেশ পালন করেনি'। তবে আল-আসনাবি তাদের নিকট থেকে তালাক হয়ে যাওয়ার উক্তিটিও বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এর আরেকটি উদাহরণ: যদি কেউ বলে: "মক্কা পর্যন্ত (إلى) তুমি তালাক", আর মক্কায় পৌঁছানোর নিয়ত না করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তালাক হয়ে যাবে। আমাদের মাজহাবের পরবর্তী যুগের একদল ফকিহ এ বিষয়ে দৃঢ় মত দিয়েছেন। কাজি আলাউদ্দিন কাওয়াইদ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "তবে আমরা বলব: কথাটিকে একটি সঠিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করা উচিত। সেটি হয় এই অর্থে যে: 'যখন তুমি মক্কায় প্রবেশ করবে তখন তুমি তালাক', অথবা 'যখন তুমি মক্কার উদ্দেশ্যে বের হবে'। ফলে মক্কায় প্রবেশ না করা পর্যন্ত তালাক হবে না। তিনি বলেছেন: এটিই অধিকতর উত্তম।" আর যদি 'বের হওয়ার' অর্থে ধরা হয়, তবে তা গোসলখানার মাসআলার মতোই হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এর আরেকটি উদাহরণ: যদি কেউ বলে: "আমার ওপর তার এক দিরহাম থেকে দশ পর্যন্ত (إلى) পাওনা রয়েছে" অথবা "এক থেকে দশ দিরহামের মধ্যবর্তী পরিমাণ", তবে তার ওপর নয় দিরহাম আবশ্যক হবে। এটিই সঠিক (صحيح) মত, কারণ সীমার পরবর্তী অংশ সীমার অন্তর্ভুক্ত হয় না; আর এখানে দশম দিরহামটি হলো সীমা। কেউ কেউ বলেছেন: দশ। এটি সীমার পরবর্তী অংশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন: আট—উভয় প্রান্তকে বাদ দিয়ে। ইবনে শিহাব এ মতটি নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেমনটি কেউ যদি বলে: "এই দেয়াল থেকে ওই দেয়াল পর্যন্ত।" কাজি আল-জামি গ্রন্থে বলেছেন: "আমরা সংখ্যার শুরুতে যা আছে তা আবশ্যক করেছি কারণ আমাদের দ্বিতীয়টির ওপর ভিত্তি স্থাপন করতে হয়, আর শুরুর অংশ অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া দ্বিতীয়টির ওপর ভিত্তি স্থাপন করা সঠিক হয় না। এটি চূড়ান্ত সীমার মতো নয়, কারণ এর ওপর আমাদের কোনো ভিত্তি স্থাপন করার প্রয়োজন নেই, তাই তা সাব্যস্ত করা বৈধ হবে না।"

শেখ তাকিউদ্দিন বলেছেন: "উচিত হলো সংখ্যার উভয় প্রান্তকে একত্রিত করা। সুতরাং যদি কেউ বলে: 'এক থেকে দশ পর্যন্ত', তবে তার ওপর পঞ্চান্ন আবশ্যক হবে যদি আমরা উভয় প্রান্তকে অন্তর্ভুক্ত করি। আর যদি কেবল শুরুর সংখ্যাটি অন্তর্ভুক্ত করি তবে পঁয়তাল্লিশ এবং যদি উভয়টি বাদ দেই তবে চুয়াল্লিশ আবশ্যক হবে।" কাজি আলাউদ্দিন বলেছেন: "তিনি যা বলেছেন তা তার নিয়মানুযায়ী স্পষ্ট যদি সেটি বক্তার প্রথা বা অভ্যাস হয়ে থাকে। কেননা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বক্তার অভ্যাস বা পরিভাষাকে বিবেচনা করা হয়।" তিনি আরও বলেছেন: "ফকিহগণ বলেছেন, যদি সে সংখ্যার সমষ্টি উদ্দেশ্য করে তবে তার ওপর পঞ্চান্ন আবশ্যক হবে। এর নিয়ম হলো: প্রথম সংখ্যা তথা একের সাথে দশ যোগ করতে হবে এবং তাকে দশের অর্ধেক দিয়ে গুণ করতে হবে, তাহলে মোট যোগফল পাওয়া যাবে।" আর যদি বলে: "দশ থেকে বিশের মধ্যে", তবে আবু বারাকাত বলেছেন: "প্রথম মত অনুযায়ী ১৯ এবং দ্বিতীয় মত অনুযায়ী ২০ আবশ্যক হবে। তিনি বলেছেন: তৃতীয় মতের কিয়াস (قياس) হলো ৯।" আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এর আরেকটি উদাহরণ: যদি দেনাদারকে মহররম মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়—উদাহরণস্বরূপ—তবে তা মাসের শুরুর সাথে সংশ্লিষ্ট হবে; ফকিহগণ এ বিষয়ে দৃঢ় মত দিয়েছেন। তবে আমাদের নিকট একটি অভিমত (وجه) বের হয়ে আসে যে, শপথের মাসআলার আলোকে সেই মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর হবে না, যাতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومنها: إذا قال: لمن هذا الحائط، جزم القاضي في "الجامع الكبير" أنه لا يدخل الحائطان. قال: لأن ذكر الحائطين في الإقرار بالجهة التحديد، والحد لا يدخل في المحدود، مثل ما إذا قال البائع: حده إلى الطريق، لم يدخل الطريق في البيع.

ومنها: لو قال الموصي: يعطى فلان من واحد إلى عشرة، فإن وصيته بعشرة على التخيير فيما فوق واحد، ومن الناس من جعله على الخلاف كالأقارب، قال الحارثي: "والأول أظهر". هذه الصيغة من الأمر والإذن يفهم منها التخيير فوجب الحمل عليه، وأما الإقرار فلا يقبل التخيير في إيقاع واحد منها فافترقا. والله أعلم.

ومنها: إذا حلف لا يفعل شيئا إلى يوم الفطر، فلما كان يوم الفطر فعله. نقل أحمد بن محمد بن صدقة عن الإمام أحمد الحنث. ونقل محمد بن موسى التبريزي عدمه. والله أعلم بالصواب.

ومنها: إذا قال له علي من درهم إلى عشرة فإنه يلزمه تسعة، قدمه في "المقنع"، وجزم به في "الوجهين" ويحتمل أن يلزمه عشرة، وقيل يلزمه ثمانية.

ومنها: إذا قال: أنت طالق من واحدة إلى الثلاث، فإنها تطلق اثنين، قدمه في "المقنع"، ويحتمل أن تطلق ثلاثا، أشار لهما القاضي علاء الدين في القواعد روايتين، وقال" ذكرهما أبو البركات، ثم قال: المذهب تطلق اثنين، كما قدمه في "المقنع". فأذا لم ينو انتهاء الغاية، وإنما قال: نويت واحدة، دين، وهل يقبل في الحكم؟ على روايتين، ذكره القاضي في "الجامع". قال القاضي علاء الدين: "ويخرج وجه تطلق واحدة" وكذا التعاليق مثل: حتى. . . إلى البصرة ونحوها.

ومنها: إدخال المرفقين والكعبين في الغسل واجب لقوله عز وجل (. . . إلى المرافق. . . إلى الكعبين) ، وأما في الصيام فإنها بمعنى "مع" أي مع الليل، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة السادسة والستون

قاعدة: "في" للظرفية، وتكون لظرف الزمان والمكان.

فإذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال لزوجته وهما في "الشام" أنت طالق في مكة، فالذي ينبغي أن تطلق في الحال، لأن المطلقة في بلد مطلقة في غيره. وقال البويطي من أصحاب الشافعي، وتبعه عليه في "الروضة"، ونقل الأسنوي عن "طبقات العبادي" عن البويطي أنها لا تطلق حتى تدخل مكة، وقواه الأسنوي. وقال: ذكر الرافعي عن إسماعيل البوشنجي مثله ايضا، وأقره عليه، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: له عندي قص في خاتم، فهل يكون مقرا بهما أم لا؟ أطلق في "المقنع" وجهان، وكذا "الفروع" وجزم في "الوجيز" أنه مقر بالثاني، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: له عندي تمر في جراب، أو سكين في قراب، أو ثوب في منديل، ونحوه، فهل يكون مقرا بالظرف؟ قال في "المقنع": يحتمل وجهين، وجزم في "الوجيز" أنه لا يكون مقرا به، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: له عندي درهم في عشرة، فإنه يلزمه درهم، إلا أن يريد الحساب، فيلزمه عشرة. جزم به في "المقنع" و "الوجيز". فإن لم يعرف الحساب لزمه الحكم.

ومنها: إذا قال: أنت طلق في اليوم، وفي غد، وفي بعده، فهل تطلق ثلاثا أو واحدة؟ على وجهين.

ومنها: إذا قال: له علي درهم في دينار، لزمه درهم، جزم به في "المقنع" و "الوجيز" وغيرهم، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أنت طالق طلقة في اثنتين، ونوى طلقة مع طلقتين، طلقت ثلاثا، وإن نوى موجبه عند الحساب وهو يعرفه طلقت طلقتين، وإن لم يعرفه فكذلك عند أبي حامد، وعند القاضي تطلق واحدة.، وإن لم ينو وقع بامرأة الحاسب طلقتان، وبغيرها طلقة، ويحتمل أن تطلق ثلاثا، وفي "المحرر" أذا نوى به طلقة وقع ما نواه، وإن لم ينو وقع طلقتان عند أبي بكر، وقيل طلقة.

 

‌‌القاعدة السابعة والستون

قاعدة: الظرفية المستفادة من "في" مطلقة، أو لا إشعار لها يكون "في" أول الظرف أو وسطه أوآخره؟ إذا علمت ذلك، فمن فروع القاعدة: إذا وكله في شراء بيت في البلد، فإن له أن يشتريه في أوله ووسطه وآخره، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أنت طالق في رجب، أو في يوم السبت، طلقت بأول ذلك، جزم به الأصحاب رحمهم الله تعالى، وكذا العتق والوقف.

ومنها: إذا كانوا قاصدين مكة، فقال: أنت طالق في مكة، طلقت بأول دخولها، والله أعلم.

4- ومنها: إذا شرط في المسلم أن يؤديه إليه في الحصاد، أو في شهر كذا، فإنه يكون في أوله، والله أعلم.

ولا يخفى عليك أصول هذه القاعدة
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কেউ বলে: "এই প্রাচীরবেষ্টিত বাগানটি (حائط) কার?", তখন আল-কাজি 'আল-জামি আল-কাবীর' গ্রন্থে সিদ্ধান্ত (جزم) দিয়েছেন যে, এতে সীমানা নির্ধারণকারী দেয়ালদ্বয় অন্তর্ভুক্ত হবে না। তিনি বলেন: কারণ কোনো দিকের স্বীকৃতির (إقرار) ক্ষেত্রে প্রাচীরের উল্লেখ করা হয় সীমা নির্ধারণের (تحديد) জন্য, আর সীমা (حد) কখনোই মূল সীমানাভুক্ত বিষয়ের (محدود) অন্তর্ভুক্ত হয় না। যেমন বিক্রেতা যদি বলে: "এর সীমানা রাস্তা পর্যন্ত", তবে বিক্রয়ের মধ্যে রাস্তা অন্তর্ভুক্ত হবে না।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি অসিয়তকারী (موصي) বলে: "অমুক ব্যক্তিকে এক থেকে দশ পর্যন্ত দেওয়া হোক", তবে তার এই অসিয়ত (وصية) একের অধিক সংখ্যার ক্ষেত্রে পছন্দ করার সুযোগ (تخيير) হিসেবে দশ নির্ধারিত হবে। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ একে নিকটাত্মীয়দের ন্যায় মতভেদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আল-হারিসি বলেন: "প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট"। আদেশ ও অনুমতির এই শব্দরূপ থেকে পছন্দ করার সুযোগ (تخيير) বুঝা যায়, তাই এর ওপরই বিধান প্রয়োগ করা আবশ্যক (واجب)। আর স্বীকৃতির (إقرار) ক্ষেত্রে কোনো একটি প্রয়োগ করার ব্যাপারে পছন্দ করার সুযোগ (تخيير) গ্রহণযোগ্য নয়, ফলে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কেউ শপথ (حلف) করে যে, সে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত কোনো কাজ করবে না, অতঃপর ঈদুল ফিতরের দিন সে তা করল। আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাদাকাহ ইমাম আহমাদ থেকে শপথ ভঙ্গ (حنث) হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। আর মুহাম্মাদ বিন মুসা আত-তিবরিজি শপথ ভঙ্গ না হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কেউ বলে: "আমার নিকট তার এক দিরহাম থেকে দশ দিরহাম পর্যন্ত পাওনা রয়েছে", তবে তার ওপর নয় দিরহাম আবশ্যক (واجب) হবে। 'আল-মুকনি' গ্রন্থে একে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং 'আল-ওয়াজহাইন'-এ এর ওপর সিদ্ধান্ত (جزم) প্রদান করা হয়েছে। তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে, তার ওপর দশ দিরহাম আবশ্যক (واجب) হবে; আবার বলা হয়েছে যে, আট দিরহাম আবশ্যক (واجب) হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কেউ বলে: "তোমাকে এক থেকে তিন তালাক দেওয়া হলো", তবে তার ওপর দুই তালাক পতিত হবে। 'আল-মুকনি' গ্রন্থে একে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি তালাক পতিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আল-কাজি আলাউদ্দিন 'আল-কাওয়াইদ' গ্রন্থে এ বিষয়ে দুইটি বর্ণনার (روايتين) দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন: "আবু আল-বারাকাত এ দুটি উল্লেখ করেছেন।" অতঃপর তিনি বলেন: "মাযহাব (المذهب) হলো দুই তালাক পতিত হওয়া, যেমনটি 'আল-মুকনি' গ্রন্থে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।" কিন্তু যদি সে শেষ সীমানা নিয়ত (نوى) না করে বরং বলে: "আমি এক তালাকের নিয়ত করেছি", তবে ধর্মীয়ভাবে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে; কিন্তু আদালতের বিচারে তা গ্রহণ করা হবে কি না—এ নিয়ে দুইটি বর্ণনা (روايتين) রয়েছে, যা আল-কাজি 'আল-জামি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আল-কাজি আলাউদ্দিন বলেন: "একটি তালাক হওয়ার সম্ভাবনাও (وجه) বের হয়ে আসে।" একইভাবে শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রেও, যেমন: "পর্যন্ত... বসরা পর্যন্ত" এবং এই জাতীয় শব্দ।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: গোসলের (غسل) মধ্যে কনুই ও টাখনু অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক (واجب), কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: (...কনুই পর্যন্ত... টাখনু পর্যন্ত)। আর সিয়ামের ক্ষেত্রে এটি "সাথে" (مع) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ রাতের সাথে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌ষটষষ্টিতম নিয়ম

নিয়ম: "ফি" (في) অব্যয়টি আধার (ظرفية) বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং তা সময় ও স্থানের আধার হিসেবে হতে পারে।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই নিয়মের শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে—এমতাবস্থায় যে তারা উভয়ে "শাম" (সিরিয়া) দেশে অবস্থান করছে—"তোমাকে মক্কায় তালাক দেওয়া হলো", তবে তৎক্ষণাৎ তালাক হয়ে যাওয়া উচিত। কারণ এক দেশে তালাকপ্রাপ্তা নারী অন্য দেশেও তালাকপ্রাপ্তা হিসেবেই গণ্য হয়। শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে আল-বুইতি এটি বলেছেন এবং 'আর-রাওদাহ' গ্রন্থে এটি অনুসরণ করা হয়েছে। আল-আসনাবি 'তাবাকাতুল আবাদি' থেকে আল-বুইতির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, সে মক্কায় প্রবেশ না করা পর্যন্ত তালাকপ্রাপ্তা হবে না, এবং আল-আসনাবি একে শক্তিশালী মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আর-রাফেয়ি ইসমাইল আল-বুশানজি থেকে অনুরূপ মত উল্লেখ করেছেন এবং তা বহাল রেখেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কেউ বলে: "তার জন্য আমার নিকট আংটির পাথর (قص) আংটির মধ্যে (في) রয়েছে", তবে সে কি উভয়টির স্বীকৃতি (إقرار) প্রদানকারী হবে নাকি হবে না? 'আল-মুকনি' গ্রন্থে এ বিষয়ে দুটি মত (وجهان) অমীমাংসিত রাখা হয়েছে, তেমনি 'আল-ফুরু' গ্রন্থেও। তবে 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে সিদ্ধান্ত (جزم) দেওয়া হয়েছে যে, সে দ্বিতীয়টির (আংটির) স্বীকৃতি প্রদানকারী হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কেউ বলে: "তার জন্য আমার নিকট থলের মধ্যে খেজুর রয়েছে", অথবা "মিয়ানের মধ্যে তলোয়ার রয়েছে", অথবা "রুমালের মধ্যে কাপড় রয়েছে" এবং এই জাতীয় শব্দ, তবে সে কি সেই আধারেরও (ظرف) স্বীকৃতি (إقرار) প্রদানকারী হবে? 'আল-মুকনি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এতে দুটি মতের (وجهين) সম্ভাবনা রয়েছে। আর 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে সিদ্ধান্ত (جزم) দেওয়া হয়েছে যে, সে সেই আধারের স্বীকৃতি প্রদানকারী হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কেউ বলে: "তার জন্য আমার নিকট দশের মধ্যে এক দিরহাম রয়েছে", তবে তার ওপর এক দিরহাম আবশ্যক (واجب) হবে; যদি না সে হিসাবের নিয়ত করে, তবে দশ দিরহাম আবশ্যক (واجب) হবে। 'আল-মুকনি' ও 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে একথাই নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে। আর যদি সে হিসাব না জানে, তবে বিচারকের রায় (حكم) তার ওপর কার্যকর হবে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "তোমাকে আজ, কাল এবং তার পরের দিনে তালাক দেওয়া হলো", তবে কি তিন তালাক হবে নাকি এক তালাক? এ বিষয়ে দুটি মত (وجهين) রয়েছে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "তার পাওনা আমার ওপর এক দিনারের মধ্যে এক দিরহাম", তবে তার ওপর এক দিরহাম আবশ্যক (واجب) হবে। 'আল-মুকনি', 'আল-ওয়াজিজ' এবং অন্যান্য গ্রন্থে একথাই নিশ্চিত করা হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ বলে: "তোমাকে দুই তালাকের মধ্যে এক তালাক দেওয়া হলো", এবং সে দুই তালাকের সাথে এক তালাকের নিয়ত (نوى) করে, তবে তিন তালাক পতিত হবে। আর যদি সে হিসাব অনুযায়ী তার ফল নিয়ত করে এবং সে হিসাব জানে, তবে দুই তালাক পতিত হবে। আর যদি সে হিসাব না জানে, তবে আবু হামিদের মতে অনুরূপ (দুই তালাক) হবে, কিন্তু আল-কাজির মতে এক তালাক পতিত হবে। আর যদি সে কোনো নিয়ত না করে, তবে হিসাবকারীর স্ত্রীর ক্ষেত্রে দুই তালাক এবং অন্যদের ক্ষেত্রে এক তালাক পতিত হবে। তবে তিন তালাক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। 'আল-মুহাররার' গ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি সে এর দ্বারা এক তালাকের নিয়ত করে তবে যা নিয়ত করেছে তাই হবে, আর যদি কোনো নিয়ত না থাকে তবে আবু বকরের মতে দুই তালাক পতিত হবে; কারো মতে এক তালাক।

 

‌‌সাতষষ্টিতম নিয়ম

নিয়ম: "ফি" (في) থেকে প্রাপ্ত আধার হওয়ার অর্থ কি ব্যাপক (مطلق)? নাকি এতে আধারের শুরু, মধ্য বা শেষ কোনটি হবে সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত নেই? যখন আপনি এটি জানলেন, তখন এই নিয়মের শাখা মাসআলা হলো: যদি কেউ কাউকে শহরের মধ্যে একটি বাড়ি কেনার জন্য উকিল (وكله) নিযুক্ত করে, তবে তার জন্য শহরের শুরুতে, মধ্যে বা শেষে বাড়ি কেনার অধিকার থাকবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কেউ বলে: "তোমাকে রজব মাসে তালাক দেওয়া হলো", অথবা "শনিবার দিনে", তবে সেই সময়ের শুরুতেই তালাক হয়ে যাবে। আমাদের মাযহাবের ইমামগণ (الأصحاب) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত (جزم) দিয়েছেন। দাসমুক্তি ও ওয়াকফের (الوقف) ক্ষেত্রেও একই বিধান।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি তারা মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় এবং সে বলে: "মক্কায় প্রবেশ করলে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে মক্কায় প্রবেশের শুরুতেই তালাক হয়ে যাবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

৪- এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি সালাম চুক্তিতে (المسلم) শর্ত করা হয় যে, সে তাকে ফসল কাটার সময় বা অমুক মাসে তা পরিশোধ করবে, তবে তা সেই সময়ের শুরুতেই হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এই নিয়মের মূলনীতিসমূহ আপনার কাছে অস্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌القاعدة الثامنة والستون

قاعدة: "كاف التشبيه" تدل على مطلقه، ويتعين محل ذلك بالقرائن وقد يخرج عن الحرفية إلى الاسمية، فتستعمل فاعلة ومفعولة ومجرورة وقال سيبويه: لا تخرج إلى هذا إلا في ضرورة الشعر، وأجازه الأخفش وغيره في الكلام، وقال بعضهم يكون اسما دائما، و"مثل" أيضا تدل على مطلق للتشبيه، وما أخذ منها أيضا.

إذا علمت هذا، فيتفرع على القاعدة فروع: منها: إذا قال: أحرمت كإحرام زيد، أو بمثل ما أحرم به فلان، صح، وانعقد إجرامه بمثله، جزم به أكثر الأصحاب.

ومنها: إذا قال: أنت طالق كالثلج، أو كالنار، طلقت واحدة، وهو قول الشافعية، وقال أبو حنيفة: إن أراد كالثلج في البياض، وكالنار في الإضاءة طلقت للسنة، وإن أراد كالبرودة، وكالإحراق، طلقت للبدعة.

ومنها: إذا قال: أنت علي كالدم، وكالميتة، والخمر، والخنزير، وقع ما نواه من الطلاق والظهار واليمين جزم به في "المقنع" و "الوجيز" فإن لم ينو شيئا فهل يكون ظهارا أو يمينا؟ على وجهين أطلقهما في "المقنع"، وجزم في "الوجيز" أنه ظهار. وقال الأسنوي: "إن أراد الاستقذار صدق، وإن أراد الطلاق أو الظهار نفذ، وإن نوى التحريم لزمه الكفارة".، وإن أطلق، فقال الرافعي: ظاهر النص أنه كالتحريم، وذكر البغوي أنه لا شيء عليه. وكذا قال فيهم: "مثل الميتة" ونحوه، لأن "مثل" للتشبيه.

ومنها: إذا رأي امرأته تفعل شيئا، فقال: إن عدت لمثل هذا فأنت طالق، طلقت إذا فعلت مثله والله أعلم ومنها: إذا قال: لعمرو علي كمالك أو مثل مالك، فإن قال: أردت بهذا التهزئ لزمه حق لهما يفسره وقيل: لا يلزمه شيء.

ومنها: إذا قال: أنت طالق كألف، أو مثل ألف، طلقت ثلاثا، جزم به في "المقنع" وقدمه في "الفروع"، ولو نوى واحدة نص عليه، وإن نوى كألف في صعوبتها، ففي قبلوه في الحكم الخلاف، فإذا أوقعتا الثلاث أتم بالزيادة ذكره في "الانتصار" و "المستوعب"، والله أعلم.

ومنها: إذا قال لعبده: أنت حر مثل هذا العبد، أو كهذا العبد، وأشار إلى عبد آخر، فلم أر لأصحابنا فيها كلاما، لكن ينبغي أن يعتق، أو أن يعتقان، لأنه لما قال للأول: أنت حر عتق، ولما قال: مثل عتق الثاني، لأنه مثل الحريتين، لأن معنى قوله: أنت حر مثل حرية هذا، ولا تمثل الحرية على رق، وإنما تمثل بالحرية، فكأنه أعتق العبدين، وقال الروياني من الشافعية: يحتمل أن لا يعتق المشبه لعدم حرية المشبه به، وتكون الحرية في كلامه محمولة على حرية الخلق. قال: فلو لم يذكر العبد، بل قال: أنت حر مثل هذا، فيحتمل أن يعتق. قال الأسنوي "والأصح أنهما لا يعتقان، وقال النووي: ينبغي عتق المشبه في الصورة الأولى". قال: "الصواب عتقهما في الثانية أيضا".

قال الأسنوي: "وما ذكره في الصورة الأولى واضح.. وما قاله في الثانية ضعيف". قال: "والصواب فيها عتق الأول دون الثاني".

ومنها: إذا قال: أنت طالق كالحصي، أو كالقطر، أو كالملح، أو كالرمل، أو كالبحار، أو كالجبال، ونحوه. فإن أراد العدد طلقت ثلاثا، كما لو قال: كالثلح وتقدمت، وإن أراد غير العدد طلقت واحدة، كما لو قال: كالثلج، وتقدمت.

ومنها: إذا قال: أنت علي ظهر أمي، كان مظاهرا، فإن قال: كأمي كان مظاهرا، وإن قال: أردت في الكراهة دين، وهل يقبل في الحكم، يخرج على روايتين.

 

‌‌القاعدة التاسعة والستون

قاعدة: إذا نصب المضارع ب "حتى" فمذهب البصريين أنها حرف جر، والنصب بإضمار بعدها "أن" وقال الكوفيون: هي الناصب، وحين نصبت كانت للتعليل وللغاية. وذكر ابن هشام وتبعه ابن مالك إنها تأتي بمعنى"إلا أن" فتكون للاستثناء المنقطع إذا علمت هذا.. فمن فروع القاعدة: إذا قال: أنت طالق حتى يتم الثلاث، ولم أر لأصحابنا فيها شيء، وينبغي أن تطلق ثلاثا، كما هو أحد الوجهين، في مذهب الشافعي، وكذا إذا قال: حتى أكمل الثلاث، أو أوقع عليك ثلاثا.

ومنها: إذا قال لعبده: أنت حر حتى تكمل الحرية، فإن يصير حر بهذا، والله أعلم.
‌‌অষ্টষষ্ঠীতম নিয়ম

নিয়ম: "উপমাবাচক কাফ" (كاف التشبيه) তার সাধারণ (مطلق) অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণসমূহের (قرائن) মাধ্যমে তার নির্দিষ্ট ক্ষেত্র নির্ধারিত হয়। কখনও এটি অব্যয় থেকে বিশেষ্যের অর্থেও ব্যবহৃত হয়; সেক্ষেত্রে এটি কর্তা (فاعل), কর্ম (مفعول) এবং সম্বন্ধসূচক (مجرور) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সিবাওয়াইহ বলেন: কবিতার অপরিহার্যতা ছাড়া এটি বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। তবে আখফাশ ও অন্যান্যগণ গদ্যেও একে বৈধ (صحيح) বলেছেন। কেউ কেউ বলেন, এটি সর্বদা বিশেষ্য হিসেবেই গণ্য হয়। তদ্রূপ "মিসল" (مثل) শব্দটিও উপমার সাধারণ (مطلق) অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং এই শব্দ থেকে যা কিছু গঠিত হয় তাও একই অর্থ প্রদান করে।

যখন আপনি বিষয়টি অবগত হলেন, তখন এই নিয়মের ভিত্তিতে কিছু শাখা-প্রশাখা নির্গত হবে: তার মধ্যে একটি হলো: যদি কেউ বলে, "আমি যায়িদের ইহরামের ন্যায় ইহরাম (إحرام) গ্রহণ করলাম" অথবা "অমুক ব্যক্তি যে পদ্ধতিতে ইহরাম (إحرام) গ্রহণ করেছে আমিও তেমন করলাম", তবে তা বৈধ (صحيح) হবে এবং তার অনুরূপ ইহরাম (إحرام) সংঘটিত হবে। অধিকাংশ ফকিহগণ এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন।

আরেকটি হলো: যদি কেউ বলে, "তুমি বরফের ন্যায় তালাকপ্রাপ্তা" কিংবা "আগুনের ন্যায় তালাকপ্রাপ্তা", তবে এক তালাক কার্যকর হবে; এটি শাফিঈ মাযহাবের বক্তব্য। ইমাম আবু হানিফা বলেন: যদি সে বরফের শুভ্রতা এবং আগুনের উজ্জ্বলতা উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে তা সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী তালাক হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে শীতলতা বা দহন ক্ষমতা উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে তা বিদআহ (بدعة) অনুযায়ী তালাক হিসেবে গণ্য হবে।

আরেকটি হলো: যদি কেউ বলে, "তুমি আমার নিকট রক্ত, মৃত প্রাণী, মদ কিংবা শূকরের ন্যায়", তবে তালাক, জিহার (ظهار) কিংবা শপথ (يمিন) এর মধ্য থেকে সে যা নিয়ত করবে তাই কার্যকর হবে। আল-মুকনি এবং আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত দেওয়া হয়েছে। আর যদি সে কোনো কিছুর নিয়ত না করে, তবে তা কি জিহার (ظهار) হবে নাকি শপথ (يمিন)? এ ব্যাপারে দুইটি মত রয়েছে যা আল-মুকনি গ্রন্থে বিন্যস্ত করা হয়েছে; তবে আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে একে জিহার (ظهار) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আল-আসনাবি বলেন: "যদি সে ঘৃণা প্রকাশ করতে চায় তবে তার কথা গ্রহণ করা হবে। আর যদি তালাক বা জিহার (ظهار) এর ইচ্ছা করে তবে তাই কার্যকর হবে। আর যদি হারাম হওয়ার নিয়ত করে তবে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে।" আর যদি সে কোনো কিছুই নির্দিষ্ট না করে কেবল বলে দেয়, তবে রাফেয়ি বলেন: মূল ভাষ্য অনুযায়ী এটি 'হারাম' বলার ন্যায় হবে। আল-বাগাওয়ি উল্লেখ করেছেন যে, তার ওপর কিছুই বর্তাবে না। অনুরূপভাবে "মৃত প্রাণীর মতো" এবং এই জাতীয় শব্দ বললেও একই হুকুম হবে, কারণ "মিসল" শব্দটি উপমার জন্য ব্যবহৃত হয়।

আরেকটি হলো: যদি কেউ তার স্ত্রীকে কোনো কাজ করতে দেখে বলে, "তুমি যদি পুনরায় এর ন্যায় (مثل) কাজ করো তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", এমতাবস্থায় সে যদি অনুরূপ কাজ করে তবে তালাক হয়ে যাবে। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)। আরেকটি হলো: যদি কেউ বলে, "আমরের নিকট আমার পাওনা তোমার সম্পদের ন্যায় (كمال) বা তোমার সম্পদের মতো (مثل مالك)", এরপর যদি সে বলে যে আমি এর মাধ্যমে উপহাস করার ইচ্ছা করেছি, তবে তার ওপর এমন একটি হক সাব্যস্ত হবে যা তারা উভয়ে ব্যাখ্যা করবে। কেউ কেউ বলেন, এতে তার ওপর কিছুই আবশ্যিক হবে না।

আরেকটি হলো: যদি কেউ বলে, "তুমি এক হাজারের ন্যায় (كألف) তালাকপ্রাপ্তা" বা "এক হাজারের মতো (مثل ألف) তালাকপ্রাপ্তা", তবে তিন তালাক কার্যকর হবে। আল-মুকনি গ্রন্থে এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত দেওয়া হয়েছে এবং আল-ফুরু গ্রন্থে একে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে সে যদি এর দ্বারা এক তালাকের নিয়ত করে তবে মূল ভাষ্য অনুযায়ী তাই হবে। আর যদি সে "কঠিন হওয়ার দিক থেকে" এক হাজারের ন্যায় নিয়ত করে, তবে বিচারিক ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যখন তিন তালাক কার্যকর হয়ে যাবে, তখন অবশিষ্ট সংখ্যাগুলো আধিক্য হিসেবে গণ্য হবে; এ বিষয়টি আল-ইন্তিসার এবং আল-মুসতাউবিব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহু আলাম।

আরেকটি হলো: যদি কেউ তার গোলামকে বলে, "তুমি এই গোলামের ন্যায় (مثل هذا العبد) বা এই গোলামের মতো (كهذا العبد) স্বাধীন", এবং অন্য একজন গোলামের দিকে ইঙ্গিত করে, তবে এ বিষয়ে আমাদের ইমামদের কোনো বক্তব্য আমি পাইনি। তবে সংগত হলো যে, উভয়ই স্বাধীন হয়ে যাবে; কারণ যখন সে প্রথমজনকে বলল "তুমি স্বাধীন" তখন সে স্বাধীন হয়ে গেল, আর যখন বলল "দ্বিতীয়জনের মতো", তখন দ্বিতীয়জনও স্বাধীন হবে কারণ এটি দুই স্বাধীনতার উপমা। কেননা তার কথার অর্থ হলো: "তুমি এই ব্যক্তির স্বাধীনতার ন্যায় স্বাধীন"। আর স্বাধীনতা গোলামির ওপর উপমিত হয় না, বরং স্বাধীনতার মাধ্যমেই উপমিত হয়। সুতরাং মনে হচ্ছে যেন সে উভয় গোলামকেই স্বাধীন করেছে। শাফিঈ মাযহাবের আল-রুয়ানি বলেন: উপমিত গোলামটি স্বাধীন না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ যার সাথে উপমা দেওয়া হয়েছে তার তো স্বাধীনতা নেই (যদি সে কৃতদাস হয়); সেক্ষেত্রে তার কথাটি সৃষ্টিগত স্বাধীনতার অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি আরও বলেন: যদি সে গোলামের কথা উল্লেখ না করে কেবল বলে "তুমি এর ন্যায় স্বাধীন", তবে তার স্বাধীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আল-আসনাবি বলেন, "সঠিক মত হলো তারা উভয়েই স্বাধীন হবে না। ইমাম নববী বলেন: প্রথম সুরতে উপমিত গোলামটি স্বাধীন হওয়া উচিত।" তিনি আরও বলেন: "সঠিক হলো দ্বিতীয় সুরতেও উভয়টি স্বাধীন হওয়া।"

আল-আসনাবি বলেন: "প্রথম সুরতে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা স্পষ্ট... কিন্তু দ্বিতীয় সুরতে যা বলেছেন তা দুর্বল।" তিনি বলেন: "সেক্ষেত্রে সঠিক হলো কেবল প্রথম গোলামটি স্বাধীন হবে, দ্বিতীয়টি নয়।"

আরেকটি হলো: যদি কেউ বলে, "তুমি কণা, বৃষ্টিবিন্দু, লবণ, বালুকণা, সমুদ্র কিংবা পাহাড়ের ন্যায় তালাকপ্রাপ্তা।" যদি সে এর দ্বারা সংখ্যা উদ্দেশ্য করে তবে তিন তালাক হবে, যেমনটি বরফের উপমার ক্ষেত্রে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যদি সে সংখ্যা ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে তবে এক তালাক হবে, যেমনটি বরফের উপমার ক্ষেত্রে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আরেকটি হলো: যদি কেউ বলে, "তুমি আমার নিকট আমার মায়ের পিঠের ন্যায়", তবে সে জিহার (ظهار) কারী হিসেবে গণ্য হবে। যদি বলে, "মায়ের ন্যায়", তবুও সে জিহার (ظهار) কারী হবে। আর যদি সে বলে যে এর দ্বারা আমি কেবল অপছন্দনীয় হওয়া উদ্দেশ্য করেছি, তবে দ্বীনিভাবে তা গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু বিচারিক ক্ষেত্রে তা কবুল করা হবে কি না, সে ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

 

‌‌ঊনসত্তরতম নিয়ম

নিয়ম: যখন মুদারি (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) ক্রিয়া "হাত্তা" (حتى) এর মাধ্যমে নসব (নصب/যবর) প্রাপ্ত হয়, তখন বসরার ব্যাকরণবিদদের মতে এটি একটি অব্যয় (حرف جر) এবং নসবটি মূলত এর পরে একটি উহ্য "আন" (أن) এর কারণে হয়। অন্যদিকে কুফার ব্যাকরণবিদদের মতে, "হাত্তা" নিজেই নসব প্রদানকারী; আর যখন এটি নসব প্রদান করে তখন তা কারণবাচকতা (تعليل) অথবা প্রান্তসীমা (غاية) বোঝানোর জন্য আসে। ইবনে হিশাম এবং তার অনুসরণে ইবনে মালিক উল্লেখ করেছেন যে, এটি কখনও "ইল্লা আন" (إلا أن) বা "ব্যতীত" অর্থে আসে, যা বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম (استثناء منقطع) হিসেবে গণ্য হয়। যখন আপনি বিষয়টি জানলেন, তখন এই নিয়মের শাখা হবে: যদি কেউ বলে, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যতক্ষণ না তিন পূর্ণ হয়।" এ বিষয়ে আমাদের ফকিহদের কোনো বক্তব্য আমি পাইনি, তবে সংগত হলো যে তিন তালাকই হবে; যেমনটি শাফিঈ মাযহাবের দুই মতের একটি। অনুরূপভাবে যদি বলে, "যতক্ষণ না আমি তিন পূর্ণ করি" বা "তোমার ওপর তিন তালাক পতিত করি।"

আরেকটি হলো: যদি কেউ তার গোলামকে বলে, "তুমি স্বাধীন যতক্ষণ না স্বাধীনতা পূর্ণ হয়", তবে এর দ্বারা সে স্বাধীন হয়ে যাবে। আল্লাহু আলাম।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومنها: إذا حلف لا فارقتك حتى أستوفي حقي، فلم يوفه الجميع، حنث، وإن هرب حنث، قدمه في "المقنع"، وقال: "نص عليه"، وقال في "المحرر": وهو اختياره: "إن أمكنه متابعته وإمساكه، فلم يفعل، حنث، وإلا فلا"، وجزم به في "الوجيز" وقال الخرقي: "إن هرب منه لم يحنث"، وإن فلسه الحاكم وحكم عليه بفراقه، فخرجه الأصحاب على روايتين.، وإن كان حلفه: لا افترقنا، فهرب منه، حنث قولا واحدا، والله أعلم.

ومنها: إذا حلف البائع لا يسلم المبيع حتى يقبض الثمن، وحلف المشتري لا يسلم الثمن حتى يقبض المبيع، والثمن عين، فإنه يجعل بينهما عدل يقبض منهما ويسلم عليهما، وإن كان دينا، أجبر البائع ثم يعطيه المشتري، والله أعلم.

 

‌‌القاعدة السبعون

قاعدة: الحروف الناصبة للمضارع يجعله للاستقبال، وقيل بل هو باق على احتمال الأمرين، والأول أصح.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال لوكيله خلع زوجتى على أن تأخذ مالي منها، فإنه يشترط تقدم أخذ المال، وهو المذكور نقله الرافعي من الشافعية عن السرخسي. قال الأسنوي: "ثم رأيته في كلام إبي الفرج …

قال الأسنوي: "وللقائل أن يقول: مقتضى ما سبق أن يكون الأخذ بعد الخلع.

 

‌‌القاعدة الحادية والسبعون

قاعدة: "الواو العاطفة" تشرك في الحكم بين المعطوف والمعطوف عليه.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال: أنت طالق وطالق وطالق، طلقت ثلاثا، إن كانت مدخولا بها، وإن كانت غير مدخول بها بانت بالأولى ولم يلزمه ما بعدها. وإن نوى في المدخول بها الإفهام ونحوه وقع واحدة، وإن ادعاه دين. وهل يقبل في الحكم؟ على الخلاف.

ومنها: إذا قال: أنت طالق اليوم وغدا وبعد غد، فهل تطلق ثلاثا أو واحدة؟ على وجهين. أطلقهما في "المقنع" وجزم في "الوجيز" أنها تطلق واحدة، إلا أن ينوي في كل يوم.

ومنها: إذا قال: له علي كذا وكذا درهم، فتارة يأتي بالدرهم "مرفوع" فيلزمه درهم. وتارة يأتي به "مجرور" فيلزمه بعض درهم. وتارة يأتي به منصوبا، فقال ابن حامد: يلزمه درهم، وقال أبو الحسن التميمي يلزمه درهمان، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: له علي ألف ودرهم، أو ألف ودينار، أو ألف وثوب، أو ألف وفرس، أو درهم وألف، أو دينار وألف. فقال ابن حامد والقاضي: الألف من جنس ما عطف عليه، وجزم به في "الوجيز"، وقدمه في "الفروع" وقال التميمي وأبو الخطاب: يرجع في تفسير "الألف" إليه، قال في "الفروع" وقيل تفسيره مع العطف، وذكر الأزجي أنه بلا عطف لا يفسره باتفاق الأصحاب، وقال: مع العطف لا بد أن يفسره ومنها: إذا قال: له علي ألف وخمسون درهما، أو خمسون وألف درهم، فالجميع دراهم. قدمه في "المقنع"، وجزم به في "الوجيز"، قال في "المقنع": "ويحتمل على قول التميمي أنه يرجع في تفسير"الألف" إليه".

ومنها: إذا قال: له علي اثنى عشر درهما ودينار، فإن رفع الدينار فواحد، واثنى عشر "درهم"، وإن رضيه نحوي فمعناه: الاثنى عشر دراهم ودنانير، حكاه في "الفروع" عن الشيخ تقي الدين رضي الله عنه.

ومنها: إذا قال: وقفت على زيد وعمر وبكر، اشترك جميعهم في الوقف، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: له علي درهم ودرهم، لزمه درهمان، جزم به في "المقنع".

ومنها: في "الخلع" إذا قال: أنت طالق وطالق وطالق بألف، فإنها تبين بالأولى، ولا يلزمها ما بعدها، قدمه في "الفروع"،سواء كان قبل الدخول أو بعده فيعامل بها.، وقيل: وقيل تبين بالثلاث. وقيل: إن أتى بالألف بعد الثانية بانت بها، ووقع الأولى رجعية ولغت الثالثة.

 

‌‌القاعدة الثانية والسبعون

قاعدة: "واو العطف" تفيد الترتيب قاله بعض البصريين، وجماعة من الكوفيين والمعروف عند البصريين أنها لا تدل عليه.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قال لزوجته: إن دخلت الدار وكلمت زيدا، فأنت طالق، فلا فرق بين أن يتقدم "الكلام" أو "الدخول".

ومنها: إذا قال في مرض الموت: أعتقت زيدا وعمرا، وضاق عنهما الثلث، فإن يعتق من الاثنين بقدر الثلث، ولا يقدم المتقدم في اللفظ، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: خذ مالي من زوجتي وخالعها، فإنه لا يشترط تقدم أخذ المال، والله أعلم.

ومنها: إذا حلف لا يدخل الحمام ولا يدخل الدار، أو حلف لا يلبس الثوب والجبة، أو حلف ونحوه.
এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে, আমি আমার পাওনা পূর্ণ না করা পর্যন্ত তোমার থেকে পৃথক হব না, অতঃপর সে পূর্ণ পাওনা আদায় করল না, তবে তার কসম ভংগকারী (حنث) হবে। আর যদি সে পলায়ন করে তবেও সে কসম ভংগকারী (حنث) হবে; আল-মুাকনি গ্রন্থে একে অগ্রগণ্য বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে: "ইমাম আহমদ এর ওপর স্পষ্ট বক্তব্য (نص عليه) প্রদান করেছেন"। আল-মুহাররার গ্রন্থে বলা হয়েছে এবং এটিই লেখকের পছন্দ: "যদি তার পক্ষে অনুসরণ করা এবং পাকড়াও করে রাখা সম্ভব হয় এবং সে তা না করে, তবেই সে কসম ভংগকারী (حنث) হবে, অন্যথায় নয়"। আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। আল-খিরাকি বলেছেন: "যদি সে তার নিকট থেকে পলায়ন করে তবে কসম ভংগকারী (حنث) হবে না"। আর যদি বিচারক তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন এবং তার থেকে বিচ্ছেদের ফয়সালা করেন, তবে আসহাবগণ (ইমাম আহমদের অনুসারীবৃন্দ) এটিকে দুটি বর্ণনার (روايتين) ওপর ভিত্তি করে বের করেছেন। কিন্তু যদি তার কসম এমন হয় যে: 'আমরা পৃথক হব না', অতঃপর সে পলায়ন করে, তবে সর্বসম্মত মতানুসারে (قولا واحدا) সে কসম ভংগকারী (حنث) হবে। আল্লাহ ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি বিক্রেতা কসম করে যে, সে বিক্রিত পণ্য সোপর্দ করবে না যতক্ষণ না মূল্য কবজ করে, আর ক্রেতা কসম করে যে, সে মূল্য সোপর্দ করবে না যতক্ষণ না পণ্য কবজ করে, আর মূল্য যদি নির্দিষ্ট বস্তু (عين) হয়, তবে তাদের মধ্যে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি (عدل) নিযুক্ত করা হবে যিনি উভয়ের থেকে গ্রহণ করে উভয়ের নিকট সোপর্দ করবেন। আর যদি তা ঋণ বা দায় (دين) হয়, তবে বিক্রেতাকে বাধ্য করা হবে (পণ্য সোপর্দ করতে), অতঃপর ক্রেতা তাকে মূল্য প্রদান করবে। আল্লাহ ভালো জানেন।

 

‌‌সত্তরতম নীতি

নীতি: মুদারে-কে নসব প্রদানকারী অব্যয়সমূহ (الحروف الناصبة للمضارع) সেটিকে ভবিষ্যৎকালের (استقبال) জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। কেউ কেউ বলেছেন বরং এটি উভয় কালের সম্ভাবনার ওপরই থাকে, তবে প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ তার প্রতিনিধিকে (وكيل) বলে, আমার স্ত্রীকে এই শর্তে তালাক (خلع) দাও যে তুমি তার থেকে আমার সম্পদ গ্রহণ করবে, তবে আগে সম্পদ গ্রহণ করা শর্ত হবে। এটিই শাফিঈ মাযহাবের রাফেয়ি কর্তৃক সারাখসি থেকে বর্ণিত হয়েছে। আল-আসনাবি বলেছেন: "অতঃপর আমি এটি আবু আল-ফারাজ-এর বক্তব্যে দেখেছি …

আল-আসনাবি বলেছেন: "বক্তা বলতে পারেন: ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার দাবি হলো গ্রহণ প্রক্রিয়াটি তালাকের (خلع) পরে হওয়া।

 

‌‌একাত্তরতম নীতি

নীতি: "সংযোজক ওয়াও" (الواو العاطفة) সংযোজিত শব্দ (معطوف) এবং যার সাথে সংযোজন করা হয়েছে (معطوف عليه), উভয়ের মধ্যে বিধানের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব তৈরি করে।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'তুমি তালাক এবং তালাক এবং তালাক', তবে সে যদি সহবাসকৃত স্ত্রী হয় তবে তিন তালাক হবে। আর যদি সহবাস না করা স্ত্রী হয়, তবে প্রথম তালাক দ্বারাই সে বিচ্ছিন্না (بانت) হয়ে যাবে এবং পরবর্তীগুলো তার ওপর বর্তাবে না। আর সহবাসকৃত স্ত্রীর ক্ষেত্রে যদি সে এর দ্বারা কেবল বুঝানো বা এই জাতীয় কোনো নিয়ত করে তবে এক তালাক পতিত হবে। আর যদি সে এটি দাবি করে তবে ধর্মীয় দিক থেকে তা গৃহীত হবে। কিন্তু বিচারিক ফয়সালার ক্ষেত্রে কি তা গ্রহণ করা হবে? এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'তুমি আজ এবং আগামীকাল এবং তার পরের দিন তালাক', তবে কি তিন তালাক হবে নাকি এক তালাক? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। আল-মুাকনি গ্রন্থে অভিমত দুটিকে অমীমাংসিত রাখা হয়েছে, তবে আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে সুনিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে যে, এতে এক তালাক হবে, যদি না সে প্রতিদিনের জন্য আলাদা নিয়ত করে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'আমার ওপর তার এত এত দিরহাম পাওনা রয়েছে', তখন কখনো সে 'দিরহাম' শব্দটিকে পেশযুক্ত (مرفوع) হিসেবে উল্লেখ করে, ফলে তার ওপর একটি দিরহাম আবশ্যক হয়। কখনো সে এটিকে জেরযুক্ত (مجرور) হিসেবে উল্লেখ করে, ফলে তার ওপর একটি দিরহামের অংশ বিশেষ আবশ্যক হয়। আর কখনো সেটিকে জবরযুক্ত (منصوب) অবস্থায় উল্লেখ করে, তখন ইবনে হামিদ বলেছেন: তার ওপর এক দিরহাম আবশ্যক হবে। আবু আল-হাসান আত-তামিমি বলেছেন: তার ওপর দুই দিরহাম আবশ্যক হবে। আল্লাহ ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'আমার ওপর তার পাওনা রয়েছে এক হাজার ও এক দিরহাম', অথবা 'এক হাজার ও এক দিনার', অথবা 'এক হাজার ও একটি কাপড়', অথবা 'এক হাজার ও একটি ঘোড়া', অথবা 'এক দিরহাম ও এক হাজার', অথবা 'এক দিনার ও এক হাজার'। ইবনে হামিদ এবং আল-কাদি বলেছেন: 'এক হাজার' শব্দটি তার পরবর্তী সংযোজিত শব্দের সমজাতীয় হবে। আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে এই মতটিকেই সুনিশ্চিত বলা হয়েছে এবং আল-ফুরু গ্রন্থে একেই অগ্রগণ্য করা হয়েছে। আত-তামিমি এবং আবুল খাত্তাব বলেছেন: এই 'হাজার' এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হবে। আল-ফুরু গ্রন্থে বলা হয়েছে: কেউ কেউ বলেছেন এর ব্যাখ্যা সংযোজক অব্যয়সহ হতে হবে। আল-আজজি উল্লেখ করেছেন যে, সংযোজক অব্যয় ছাড়া হলে আসহাবগণের ঐক্যমতে এর ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকবে না। তিনি আরও বলেন: সংযোজক অব্যয় থাকলে অবশ্যই এর ব্যাখ্যা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'আমার ওপর তার এক হাজার পঞ্চাশ দিরহাম পাওনা রয়েছে', অথবা 'পঞ্চাশ ও এক হাজার দিরহাম', তবে সবকটিই দিরহাম হিসেবে গণ্য হবে। আল-মুাকনি গ্রন্থে একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে এবং আল-ওয়াজিজ গ্রন্থে একে সুনিশ্চিত বলা হয়েছে। আল-মুাকনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আত-তামিমির বক্তব্য অনুযায়ী এটিও সম্ভাবনা রাখে যে, 'হাজার' এর ব্যাখ্যার জন্য তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হবে।"

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'আমার ওপর তার বারো দিরহাম ও দিনার পাওনা রয়েছে', সে যদি দিনার শব্দটিকে পেশযুক্ত করে তবে তা একটি দিনার এবং বারোটি 'দিরহাম'। আর যদি কোনো ব্যাকরণবিদের নিকট তা গ্রহণযোগ্য হয় তবে তার অর্থ হবে: বারোটি দিরহাম এবং কিছু দিনার। এটি আল-ফুরু গ্রন্থে শাইখ তাকিউদ্দীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'আমি যায়েদ, আমর এবং বকরকে এই ওয়াকফ প্রদান করলাম', তবে তারা সকলে ওয়াকফের ক্ষেত্রে অংশীদার হবে। আল্লাহ ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'আমার ওপর তার পাওনা এক দিরহাম ও এক দিরহাম', তবে তার ওপর দুই দিরহাম আবশ্যক হবে। আল-মুাকনি গ্রন্থে এই সিদ্ধান্তটি সুনিশ্চিতভাবে দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: "তালাকের (خلع)" অধ্যায়ে; যদি কেউ বলে: 'তুমি এক হাজার মুদ্রার বিনিময়ে তালাক এবং তালাক এবং তালাক', তবে সে প্রথমটি দ্বারাই বিচ্ছিন্না (بانت) হয়ে যাবে এবং পরবর্তীগুলো তার ওপর বর্তাবে না। আল-ফুরু গ্রন্থে একেই অগ্রগণ্য করা হয়েছে, চাই তা সহবাসের আগে হোক বা পরে। তবে কেউ কেউ বলেছেন: সে তিন তালাক দ্বারাই বিচ্ছিন্না (بانت) হবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: যদি এক হাজার মুদ্রার কথা দ্বিতীয়টির পরে বলে, তবে সেটির দ্বারাই বিচ্ছিন্না (بانت) হবে, এবং প্রথমটি রাজয়ি (رجعي) তালাক হিসেবে গণ্য হবে এবং তৃতীয়টি অকার্যকর হয়ে যাবে।

 

‌‌বাহাত্তরতম নীতি

নীতি: "সংযোজক ওয়াও" (واو العطف) ধারাবাহিকতা বা অনুক্রম (ترتيب) প্রকাশ করে—এ কথা জনৈক বসরাবাসী এবং কুফাবাসীদের একটি দল বলেছেন। তবে বসরাবাসীদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো এটি ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে না।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে: 'যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো এবং যায়েদের সাথে কথা বলো, তবে তুমি তালাক', তবে 'কথা বলা' আগে হোক বা 'ঘরে প্রবেশ' আগে হোক, এতে কোনো পার্থক্য হবে না।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন বলে: 'আমি যায়েদ এবং আমরকে মুক্ত করে দিলাম', অথচ তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) উভয়ের জন্য যথেষ্ট নয়, তবে সেই এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ অনুযায়ী তাদের উভয়কে মুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে উচ্চারণের ক্রম অনুসারে একজনকে আগে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। আল্লাহ ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ বলে: 'আমার স্ত্রীর কাছ থেকে আমার সম্পদ গ্রহণ করো এবং তাকে তালাক (خلع) দাও', তবে সম্পদ আগে গ্রহণ করা শর্ত হবে না। আল্লাহ ভালো জানেন।

এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ কসম করে যে, সে গোসলখানায় প্রবেশ করবে না এবং ঘরে প্রবেশ করবে না, অথবা কসম করে সে জামা পরবে না এবং জুব্বা পরবে না, অথবা এই জাতীয় কসম করে।
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا يخفي عليك أصول هذه المسألة، والله الموفق.

 

‌‌القاعدة الثالثة والسبعون

قاعدة: "الفاء" تدل على الترتيب وعلى التعقيب مثل: تزوج فولد له، وعلى السببية كقوله تعالى: (فوكزه موسى فقضى عليه) .

إذا علمت هذا، فمن فروع هذه القاعدة: إذا قال: له علي درهم فدرهم، لزمه درهمان، جزم به في "الوجيز"، والله أعلم.

ومنها: إذا قال: أنت طالق فطالق، طلقت طلقتين، جزم به في "المقنع".

 

‌‌القاعدة الرابعة والسبعون

قاعدة: "الألف" المفردة تأتي حرفا ينادى به القريب كقول الشاعر:

 

مهلا بعض هذا التدلل

وذكر ابن الخباز عن شيخه أنها للمتوسط، وأن الذي للقريب "يا" وتكون للاستفهام، وتكون للاستنكار.

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا كان اسم امرأته "سلمى"، واسم امرأة أخرى "سلمى"، فقال: أسلمى أنت طالق، فإن أراد امرأته طلقت، وإن أراد الأجنبية لم تطلق وإن ادعاه دين. وهل يقبل في الحكم؟ يخرج على روايتين.

ومنها: إذا قال: أسلمى، فأجبته امرأة أخرى له، فقال: أنت طالق، يظنها المناداة، طلقتا في إحدى الروايتين، والأخرى تطلق التي ناداها. وإن قال علمت أنها غيرها، وقال: أردت طلاق المناداة، طلقتا معا، وإن قال: أردت طلاق الثانية، طلقت وحدها.

ومنها: إذا لقي اجنبية فظنها امرأته، فقال: أسلمى أنت طالق، طلقت امرأته. جزم به في "الوجيز"، وأطلق في المحرر روايتين. وكذلك حكم العتق.

ومنها: إذا قال لزوجته وهي في بلاد بعيدة عنه: أفاطم أنت طالق، طلقت، وكذا العتق، وهو مخالف للقاعدة.

ومنها: إذا قال: أقف، أو أطلق، أو أعتق، لم يصر وقفا بذلك، ويعتق بذلك، ولا تطلق، والله أعلم.

ومنها: إذا أخبر أنه تطلق زوجته، وكان الخبر منها، فآتاها، فقال: أنت طالق، لم تطلق بذلك، وكذا في العتق، لأنه لفظ استنكار.

 

‌‌القاعدة الخامسة والسبعون

قاعدة: "إذن" حرف، وقيل اسم، وعلى الأول فالصحيح أنها بسيطة لا مركبة قال سيبويه: "معناها الجواب والجزاء"، وقال الفارسي: "وقد تتمحض للجواب"، والأكثر على الأول، قاله ابن هشام في "المغني" إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قيل له: تطلق امرأتك؟ فقال: إذن، أو قالت له طلقني؟ فقال: إذن، فالذي ينبغي أن تكون من كنايات الطلاق الخفية، يقع بها ما نواه.

وكذا إذا قال لعبده: أنت حر إذن، فإنه يعتق بلا خلاف فيه.

فإن قال لزوجته: إنت طالق إذن، طلقت أيضا.

ولا يخفى عليك ما يتعلق بهذه القاعدة من الفروع، والله الموفق.

 

‌‌القاعدة السادسة والسبعون

قاعدة: "ام" تكون متصلة كقول الشاعر:

 

ما أدري وسوف إخال أدري … أقوم آل حصن أم نساء

وتكون منقطعة كقوله تعالى: (تنزيل الكتاب لا ريب فيه من رب العالمين، أم يقولون افتراه) . وتكون زائدة كقوله: (أم أنا خير من هذا الذي هو مهين) وتكون للتعريف كقول النبي صلى الله عليه وسلم: "ليس من أمبر أمصيام في أمسفر" إذا علمت هذا، فيتفرع على القاعدة فروع: منها: إذا قال: أنت حرم أم طالق، فإن نوى بهذا الطلاق، فالظاهر أنه كناية فيه، وإن لم ينو به الطلاق لم يقع شيء. وإن قال لعبده: أنت حر أم عبد، لم يعتق به، والله أعلم بالصواب.

ومنها: إذا قال: أنت طالق أم هذه، فالظاهر أن هذا اللفظ تخيير لا يقع به الطلاق، فإن نوى طلاق الأولى وقع، وإن نوى طلاقهما معا وقع. ويحتمل أن نقل: لما قال للأولى: أنت طالق وقع، فلما قال أم هذه، فالثاني لغو، ويقع بالأولى.

ومنها: إذا قال: أنت طالق أم لا، لم يقع الطلاق، كما صرح به أكثر الأصحاب، ويحتمل أن يقع.

 

‌‌القاعدة السابعة والسبعون

قاعدة: "اي" - بالكسر والسكون - حرف جواب بمعنى "نعم"، و"أي" - بالفتح السكون - حرف نداء للقريب أو البعيد أو المتوسط - على خلاف فيه - قال الشاعر:

 

ألم تسمعي أي عبد في رونق الضحى … بكاء حمامات لهن هدير
এবং এই মাসআলার মূলনীতিসমূহ আপনার নিকট অস্পষ্ট নয়, আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

‌‌তিয়াত্তরতম নীতি

নীতি: "ফা" (الفاء) বর্ণটি পর্যায়ক্রমিকতা (الترتيب) এবং অবিলম্বতা (التعقيب)-এর অর্থ প্রকাশ করে, যেমন: "সে বিয়ে করল এবং তার সন্তান হলো"। এছাড়া এটি কারণত্ব (السببية) এর অর্থও প্রকাশ করে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর মুসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং তার মৃত্যু ঘটালেন)।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির একটি শাখা হলো: যদি কেউ বলে: "আমার নিকট তার এক দিরহাম প্রাপ্য, অতঃপর (ফা) এক দিরহাম", তবে তার ওপর দুই দিরহাম আবশ্যক হবে। "আল-ওয়াজিজ" কিতাবে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে (جزم) উল্লেখ করা হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আরেকটি শাখা হলো: যদি সে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা, অতঃপর (ফা) তালাকপ্রাপ্তা", তবে দুই তালাক পতিত হবে। "আল-মুকনি" কিতাবে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে (جزم) বলা হয়েছে।

 

‌‌চুয়াত্তরতম নীতি

নীতি: একক "আলিফ" বর্ণটি নিকটবর্তী কাউকে ডাকার জন্য সম্বোধনসূচক অব্যয় (حرف نداء) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন কবির উক্তি:

 

থামো হে প্রিয়তমা, তোমার এই ন্যাকামির কিছুটা কমাও...

ইবনুল খাব্বায তার উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি মধ্যবর্তী দূরত্বের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর নিকটবর্তীর জন্য হলো "ইয়া"। এছাড়া এটি জিজ্ঞাসাবোধক (الاستفهام) এবং অসম্মতিসূচক (الاستنكار) অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির একটি শাখা হলো: যদি কারো স্ত্রীর নাম হয় "সালমা" এবং অন্য এক মহিলার নামও হয় "সালমা", অতঃপর সে বলে: "হে (আ) সালমা, তুমি তালাকপ্রাপ্তা", এমতাবস্থায় যদি সে নিজ স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে থাকে তবে তালাক হয়ে যাবে। আর যদি সে পর নারীকে উদ্দেশ্য করে থাকে তবে তালাক হবে না, যদিও ধর্মীয় বিষয় (دين) হিসেবে তার এই দাবি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু আদালতের বিচারে কি এটি গ্রহণযোগ্য হবে? এ ব্যাপারে দুটি বর্ণনা (روايتين) পাওয়া যায়।

আরেকটি শাখা হলো: যদি সে বলে: "হে সালমা", আর তার অন্য এক স্ত্রী তাতে উত্তর দেয়, অতঃপর সে মনে করে যে এটি সেই যাকে সে ডেকেছে এবং বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে একটি বর্ণনা (روايتين) অনুযায়ী উভয় স্ত্রীই তালাক হয়ে যাবে; আর অন্য বর্ণনা অনুযায়ী যাকে সে ডেকেছিল শুধু সে-ই তালাক হবে। আর যদি সে বলে: "আমি জানতাম যে সে অন্যজন", এবং বলে: "আমি যাকে ডেকেছি তাকেই তালাক দিতে চেয়েছি", তবে উভয়ই একসাথে তালাক হয়ে যাবে। আর যদি বলে: "আমি দ্বিতীয়জনকে তালাক দিতে চেয়েছি", তবে কেবল সে একাই তালাক হবে।

আরেকটি শাখা হলো: যদি সে কোনো পর নারীর দেখা পায় এবং তাকে নিজের স্ত্রী মনে করে বলে: "হে (আ) সালমা, তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে তার প্রকৃত স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। "আল-ওয়াজিজ" কিতাবে এটি নিশ্চিতভাবে (جزم) বলা হয়েছে, তবে "আল-মুহাররার" কিতাবে দুটি বর্ণনা (روايتين) উল্লেখ করা হয়েছে। গোলাম আজাদ করার বিধানও তদ্রূপ।

আরেকটি শাখা হলো: যদি সে তার স্ত্রীকে—যে তার থেকে অনেক দূরের দেশে অবস্থান করছে—উদ্দেশ্য করে বলে: "হে (আ) ফাতিমা, তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে সে তালাক হয়ে যাবে। গোলাম আজাদের ক্ষেত্রেও একই বিধান, যদিও এটি মূলত উক্ত নীতির পরিপন্থী।

আরেকটি শাখা হলো: যদি সে বলে: "আ-ওয়াকিফ" (আমি কি ওয়াকফ করব?), অথবা "আ-তালিক" (আমি কি তালাক দেব?), অথবা "আ-আতিক" (আমি কি আজাদ করব?), তবে এর দ্বারা ওয়াকফ সাব্যস্ত হবে না; তবে এর দ্বারা গোলাম আজাদ হয়ে যাবে, কিন্তু স্ত্রী তালাক হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

আরেকটি শাখা হলো: যদি তাকে সংবাদ দেওয়া হয় যে তার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে এবং সংবাদটি স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসে, অতঃপর সে তার কাছে এসে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা?" (আ-আন্তি তলিক), তবে এর দ্বারা তালাক হবে না। গোলাম আজাদের ক্ষেত্রেও একই কথা, কারণ এটি একটি অসম্মতিসূচক (الاستنكار) শব্দ।

 

‌‌পঁচাত্তরতম নীতি

নীতি: "ইযান" (إذن) একটি অব্যয়, কারো মতে এটি একটি বিশেষ্য। প্রথম মতানুসারে সঠিক (الصحيح) হলো এটি একটি মৌলিক (بسيطة) শব্দ, যৌগিক (مركبة) নয়। সিবওয়াইহি বলেছেন: "এর অর্থ হলো উত্তর ও প্রতিদান (الجواب والجزاء)"। ফারসি বলেছেন: "কখনো এটি নিছক উত্তর দেওয়ার জন্য আসে"। অধিকাংশের মত প্রথমটিই, যা ইবনে হিশাম "আল-মুগনি" কিতাবে উল্লেখ করেছেন। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতির একটি শাখা হলো: যদি তাকে বলা হয়: "তোমার স্ত্রীকে কি তালাক দেবে?" সে উত্তরে বলল: "ইযান"; অথবা স্ত্রী তাকে বলল: "আমাকে তালাক দাও", সে বলল: "ইযান", তবে এটি তালাকের অস্পষ্ট রূপক (كنايات الطلاق الخفية) হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত, যার দ্বারা তার নিয়ত অনুযায়ী তালাক পতিত হবে।

অনুরূপভাবে যদি সে তার গোলামকে বলে: "তবে তুমি স্বাধীন (ইযান)", তবে এতে কোনো মতভেদ ছাড়াই গোলাম আজাদ হয়ে যাবে।

আর যদি সে তার স্ত্রীকে বলে: "তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা (ইযান)", তবে তাতেও তালাক হয়ে যাবে।

এই নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাখা মাসআলাসমূহ আপনার কাছে অস্পষ্ট নয়, আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

‌‌ছিয়াত্তরতম নীতি

নীতি: "আম" (أم) কখনো সংযুক্ত (متصلة) হয়, যেমন কবির উক্তি:

 

আমি জানি না, তবে শীঘ্রই জেনে নেব বলে মনে করছি... তারা কি হুসনের বংশধর পুরুষ, নাকি নারী?

আবার কখনো এটি বিযুক্ত (منقطعة) হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (এই কিতাব বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নাকি (আম) তারা বলে যে, সে এটি নিজে রচনা করেছে?)। কখনো এটি অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে আসে, যেমন আল্লাহর বাণী: (নাকি আমি শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি অপেক্ষা যে অতি নগণ্য)। আবার কখনো এটি নির্দিষ্টকরণার্থে (للتعريف) আসে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সফরে রোজা রাখা পুণ্যের কাজ নয়"। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এই নীতি থেকে কিছু শাখা মাসআলা বের হয়: তার মধ্যে একটি হলো: যদি সে বলে: "তুমি হারাম নাকি (আম) তালাকপ্রাপ্তা", এখন সে যদি এর দ্বারা তালাকের নিয়ত করে, তবে প্রকাশ্যত এটি তালাকের ক্ষেত্রে একটি রূপক (كناية)। আর যদি সে এর দ্বারা তালাকের নিয়ত না করে, তবে কিছুই পতিত হবে না। আর যদি গোলামকে বলে: "তুমি স্বাধীন নাকি (আম) দাস", তবে সে আজাদ হবে না। আল্লাহই সঠিক বিষয়টি ভালো জানেন।

আরেকটি শাখা হলো: যদি সে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা নাকি (আম) এই নারী", তবে প্রকাশ্যত এই শব্দটি একটি পছন্দের সুযোগ প্রদান করে যার দ্বারা তালাক পতিত হয় না। তবে সে যদি প্রথম স্ত্রীর তালাকের নিয়ত করে তবে তা পতিত হবে, আর যদি উভয়ের তালাকের নিয়ত করে তবে উভয়ই তালাক হয়ে যাবে। আবার এমন সম্ভাবনাও আছে যে: যখন সে প্রথমজনকে বলল "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তখনই তালাক হয়ে গেল; আর যখন বলল "নাকি এই নারী", তখন পরের অংশটি অর্থহীন (لغو) হবে এবং প্রথমজনের ওপরই তালাক কার্যকর হবে।

আরেকটি শাখা হলো: যদি সে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা নাকি (আম) না", তবে তালাক হবে না, যেমনটি অধিকাংশ ফকিহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে তালাক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

‌‌সাতাত্তরতম নীতি

নীতি: "আই" (اي) —কাসরা ও সুকুন যোগে— একটি উত্তরসূচক অব্যয় (حرف جواب) যার অর্থ হলো "হ্যাঁ" (نعم)। আর "আই" (أي) —ফাতহা ও সুকুন যোগে— একটি সম্বোধনসূচক অব্যয় (حرف نداء) যা নিকটবর্তী, দূরবর্তী বা মধ্যবর্তী কারো জন্য ব্যবহৃত হয়—এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কবি বলেছেন:

 

হে আব্দুল (আই আবদু), তুমি কি প্রভাতের আলোয় কবুতরের সেই কান্না শোনোনি যাদের সুমিষ্ট সুর রয়েছে?
(খণ্ড: ১) যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যাহ আলাল কাওয়ায়েদিন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي الحديث "أي رب" ويكون حرف تفسير، تقول: "عندي عسجد أي ذهب، وغضنفر أي أسد". و"أي" - بالفتح وتشديد الباء - تكون شرطية، نحو قوله تعالى: (إيما الأجلين قضيت فلا عدوان علي) ، واستفهاما كقوله عز وجل: (فبأي حديث بعده يؤمنون) ، وموصولا نحو قوله تعالى: (ثم لننزعن من كل شيعة أيهم أشد) . وتكون دالا على معنى الكمال، كقولك: "زيد رجل أي رجل". وتكون واصلة إلى نداء ما فيه "أل" نحو "يا أيها الرجل".

إذا علمت هذا، فمن فروع القاعدة: إذا قيل له: أطلقت امرأتك؟ فقال: إي - بالكسر - طلقت، لأنها بمعنى نعم، وإن قال بالفتح فكذلك إذا قيل: إنها حرف تفسير، وإلا لم تطلق، وإن قال - بالتشديد - لم تطلق، لأنها استفهام. وكذا العتق.

ومنها: إذا قال الخاطب للولي: أزوجت؟ فقال: إي، وقال للمتزوج أقبلت: فقال: إي - بالكسر والفتح - خرجت على القولين في "نعم" وإن قال بالتشديد لم يصح.
হাদিসের মধ্যে 'আই রব্ব' শব্দটির ব্যবহার রয়েছে এবং এটি একটি ব্যাখ্যামূলক অব্যয় হিসেবে কাজ করে। যেমন আপনি বলেন: 'আমার নিকট আসজাদ অর্থাৎ স্বর্ণ এবং গাদুনফার অর্থাৎ সিংহ রয়েছে'। আর 'আই' — ফাতহা এবং 'বা' বর্ণে তাশদিদ সহ — এটি শর্তবোধক হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "দুটি মেয়াদের যে কোনোটিই আমি পূর্ণ করি না কেন, তাতে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকবে না।" আবার এটি প্রশ্নবোধক হতে পারে, যেমন মহান রবের বাণী: "অতঃপর তারা এর পরে আর কোন হাদিসের ওপর ঈমান আনবে?" এছাড়া এটি সম্বন্ধসূচক হতে পারে, যেমন আল্লাহর বাণী: "অতঃপর প্রত্যেক দল থেকে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যকার অধিক অবাধ্যদের আলাদা করব।" এটি পূর্ণতা বা শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ একজন পুরুষ, আর সে কী চমৎকার পুরুষ!"। এছাড়া এটি 'আল' যুক্ত শব্দের সম্বোধনের ক্ষেত্রে সংযোগকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: "হে ব্যক্তি!"।

আপনি যদি বিষয়টি অবগত হন, তবে এই মূলনীতির শাখা-প্রশাখা হলো: যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয়: 'তুমি কি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছ?' আর সে উত্তরে 'ঈ' (কাসরা বা জের সহ) বলে, তবে স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে; কারণ এটি 'হ্যাঁ' অর্থ প্রদান করে। আর যদি সে 'আই' (ফাতহা সহ) বলে, তবে এটি ব্যাখ্যামূলক অব্যয় হওয়ার মতানুসারে তালাক হয়ে যাবে, অন্যথায় তালাক হবে না। আর যদি সে তাশদিদ সহকারে বলে, তবে তালাক হবে না; কারণ এটি তখন প্রশ্নবোধক হিসেবে গণ্য। দাস মুক্তির ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।

এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি মাসআলা হলো: যদি বিবাহপ্রার্থী অভিভাবককে বলে: 'আপনি কি বিয়ে দিয়েছেন?' আর সে উত্তরে বলে: 'ঈ', এবং বরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়: 'তুমি কি কবুল করেছ?' আর সে উত্তরে বলে: 'ঈ' — কাসরা এবং ফাতহা উভয় ক্ষেত্রেই এটি 'হ্যাঁ' শব্দের বিধান সংক্রান্ত দুটি মতের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। তবে যদি সে তাশদিদ সহকারে বলে, তবে বিবাহ বৈধ (صحيح) হবে না।