(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: -)
نكت الإعراب = قواعد الإعراب ونزهة الطلاب   (ابن هشام النحوي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: قواعد الإعراب ونزهة الطلاب

المؤلف: جمال الدين أبو محمد عبد الله بن يوسف بن هشام الأنصاري (ت 761 هـ)

المحقق: الشبراوي بن أبي المعاطي المصري الحسني

الناشر: دار الريادة للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 66

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 شوّال 1442

নুকাতুল ই'রাব = কাওয়াইদুল ই'রাব ওয়া নুজহাতুত তুল্লাব   (ইবনে হিশাম আন-নাহবি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: কাওয়াইদুল ই'রাব ওয়া নুজহাতুত তুল্লাব

লেখক: জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে হিশাম আল-আনসারি (মৃ. ৭৬১ হি.)

মুহাক্কিক: আশ-শাবরাওয়ি বিন আবিল মাআতি আল-মিসরি আল-হাসানি

প্রকাশক: দারুর রিয়াদাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হি. - ২০২১ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাহ লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ للهِ ربِّ العالمينَ، وأشْهَدُ أن لا إلهَ إلَّا اللهُ وحدَهُ لا شَريكَ لَهُ، وأشْهَدُ أنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، صلَّى اللهُ عليهِ وعلى آلِهِ وَصَحْبِهِ وسَلَّمَ تَسليمًا كَثيرًا، أما بعد:

فلا يخفى على مَن له عنايةٌ بالعلمِ الشَّرعيِّ أهميَّةُ مَعْرِفةِ اللُّغةِ العربيَّة؛ وذلك لأنَّ القرآنَ نزلَ بلغةِ العرب، على نبيِّنا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وهو عربيٌّ، وقد بلَّغَ رسالةَ ربِّهِ بلسانِ قومِهِ وهم العرب، فلا يُمكنُ أن يتصدَّى لتفسيرِ كتابِ اللهِ مَن يجهلُ العربيَّة، ولا يُمكنُ أن يُبيِّنَ معنى كلامِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم مَنْ يجهلُ اللُّغةَ العربيَّة، يقول اللهُ تعالى عن كتابه العزيز: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء: 192 - 195].

وقال عمرُ بنُ الخطابِ رضي الله عنه: «تفقَّهُوا في السُّنَّة، وتفقَّهُوا في العربيَّة، وأعرِبُوا القرآنَ»(1).

--------------------------------------------

(1) رواه سعيد بن منصور في كما التفسير من «سننه» (70)، وابن أبي شيبة في «المصنف» (29914)، والبيهقي في «شُعَب الإيمان» (2098).

ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

শরয়ী (الشرعي) জ্ঞানের প্রতি যাদের সামান্যতম অনুরাগ রয়েছে, তাদের কাছে আরবি ভাষা জানার গুরুত্ব কোনো গোপন বিষয় নয়। কারণ, কুরআন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি একজন আরব ছিলেন। তিনি তাঁর জাতির ভাষা অর্থাৎ আরবিতে তাঁর রবের রিসালাত (رسالة) পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আরবি সম্পর্কে অজ্ঞ, তার পক্ষে আল্লাহর কিতাবের তাফসির (تفسير) করার প্রয়াস চালানো সম্ভব নয় এবং যে ব্যক্তি আরবি ভাষা জানে না, তার পক্ষে নবী (সা.)-এর বাণীর অর্থ বর্ণনা করাও সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: {নিশ্চয় এটি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (১৯২) তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত রুহ (১৯৩) আপনার অন্তরে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন (১৯৪) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় (১৯৫)} [সূরা আশ-শুআরা: ১৯২ - ১৯৫]।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «তোমরা সুন্নাহ (السنة) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করো, আরবি ভাষা শেখো এবং কুরআনের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) করো»(১)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনান-এর তাফসির অধ্যায়ে (৭০), ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফ-এ (২৯৯১৪) এবং বায়হাকি তাঁর শুয়াবুল ইমান-এ (২০৯৮)।

(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال ابنُ مسعودٍ رضي الله عنه: «أعرِبُوا القرآنَ فإنَّهُ عربيٌّ»(1).

وقال حمادُ بنُ سلمةَ رحمه الله: «مَثَلُ الذي يَطلُبُ الحديثَ، ولا يعرفُ النَّحْوَ؛ مثلُ الحِمارِ، عليه مخلاةٌ؛ لا شعيرَ فيها»(2).

وقال ابنُ خلدون رحمه الله: «مأخذُ الأحكامِ الشَّرعيَّةِ كلِّها مِن الكتابِ والسُّنَّة، وهي بلغةِ العرب، ونَقَلَتُها مِن الصَّحابةِ والتَّابعين عربٌ، وشرحُ مُشكِلاتِها من لُغاتِهِم، فلا بدَّ من معرفةِ العلومِ المتعلِّقةِ بهذا اللِّسانِ لمَن أرادَ عِلمَ الشَّريعة»(3).

ثم قال رحمه الله: «إنَّ الأهمَّ المقدَّمَ منها هو النَّحو؛ إذ به تتبيَّنُ أصولُ المقاصدِ بالدَّلالة، فَيُعْرَفُ الفاعلُ مِن المفعول، والمبتدأُ مِن الخبر، ولَوْلاهُ لجُهِلَ أصلُ الإفادة»(4).

ولما كان علمُ النحوِ بهذه المنزلةِ صُنِّفَتْ فيه التَّصَانِيف، وأُلِّفَتْ فيه التَآلِيف؛ فمن مُقِلٍّ ومُسْتَكْثِر، ومِن هذه المُصنفات هذه الرسالةُ «قواعد الإعراب، ونزهة الطلاب»، وتُعْرَفُ بـ «القواعد

--------------------------------------------

(1) رواه الطبراني في «المعجم الكبير» (8686)، وذكره الهيثمي في «مجمع الزوائد» (11658)، وقال: «رواه الطبراني من طرق، وفيها: ليث بن أبي سليم، وفيه ضعف، وبقية رجال أحد الطرق رجال الصحيح».

(2) رواه الخطيب البغدادي في «الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع» (1074)، والمِخْلَاةُ: ما يُجْعَلُ فيه الحشيش ونحوه؛ كما في «الصحاح» للجوهري (6/ 2332).

(3) انظر: «تاريخ ابن خلدون» (1/ 545).

(4) المصدر السابق.

এবং ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: «তোমরা কুরআনকে শুদ্ধভাবে (ইররাবসহ) পাঠ করো, কারণ এটি আরবি ভাষায়»(১)।

হাম্মাদ বিন সালামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «যে ব্যক্তি হাদিস অন্বেষণ করে কিন্তু নাহু (ব্যাকরণ) জানে না, তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ গাধার মতো যার পিঠে খাদ্যের থলে রয়েছে কিন্তু তাতে কোনো যব নেই»(২)।

ইবনে খালদুন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «সমস্ত শরয়ী বিধানের উৎস হলো কিতাব ও সুন্নাহ, আর এগুলো আরবি ভাষায়। আর এর বর্ণনাকারীগণ—যাঁরা হলেন সহাবাগণ ও তাবিঈগণ—তাঁরা ছিলেন আরব। এর কঠিন বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাও তাঁদের ভাষার আলোকে। সুতরাং যে ব্যক্তি শরীয়তের ইলম অর্জন করতে চায়, তার জন্য এই ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহ জানা অপরিহার্য»(৩)।

অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «নিশ্চয়ই এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রগণ্য হলো নাহু; কারণ এর মাধ্যমেই অর্থের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে ফায়েল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম) এবং মুবতাদা ও খবরের পার্থক্য বোঝা যায়। এটি না থাকলে অর্থ প্রদানের মূল ভিত্তিই অজানা থেকে যেত»(৪)।

যেহেতু নাহু শাস্ত্র এই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, তাই এই বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ ও সংকলন রচিত হয়েছে; কেউ সংক্ষিপ্ত করেছেন আবার কেউ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আর এসকল সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হলো এই রিসালাহ (ক্ষুদ্র পুস্তিকা) «কাওয়াইদুল ইরাব ওয়া নুজহাতুত তুল্লাব», যা «আল-কাওয়াইদ» নামে পরিচিত

--------------------------------------------

(১) তাবারানি এটি «আল-মুজামুল কাবীর» (৮৬৮৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাইসামি এটি «মাজমাউজ যাওয়াইদ» (১১৬৫৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «তাবারানি এটি একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে লায়স বিন আবু সালিম রয়েছেন এবং তাঁর মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। তবে একটি সূত্রের বাকি বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।»

(২) খতিব আল-বাগদাদি এটি «আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি» (১০৭৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর «মিখলাহ» হলো সেই থলে যাতে ঘাস বা এই জাতীয় কিছু রাখা হয়; যেমনটি জাওহারির «আস-সিহাহ» (৬/২৩৩২) গ্রন্থে এসেছে।

(৩) দেখুন: «তারিখে ইবনে খালদুন» (১/৫৪৫)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৭)
الصُّغْرَى»؛ فإنَّ ابنَ هشامٍ رحمه الله له كتابٌ لطيفٌ يقالُ له -أيضًا-: «الإعراب عن قواعد الإعراب»؛ كان لبنةً أُولى لكتابه الفريد «مغني اللبيب عن كتب الأعاريب»، فقد قال في مقدمته: «وممَّا حثَّنِي على وضعِهِ أنَّنِي لمَّا أنشأتُ في معناهُ المُقَدِّمَةَ الصُّغْرَى المُسَمَّاة بـ (الإعراب عن قواعدِ الإعراب)؛ حَسُنَ وَقْعُهَا عِنْدَ أُولِي الألباب، وسار نَفْعُهَا في جماعةِ الطُّلَّاب»(1).

ثم إنَّه رحمه الله اختصر «الإعراب عن قواعد الإعراب» في هذا الكتاب، ولشدَّةِ التشابُهِ بينهما، مع شهرةِ الأصلِ دونَ المختصر؛ التبس أمرُهُما على البعضِ، فَظَنَّ أنهما كتابٌ واحد، وفرَّق بعضُهُم وهو الصواب؛ لوجودِ اختلافٍ يسيرٍ بينهما.

فالكتابُ الأوَّلُ فيه أربعةُ أبواب: «بابٌ في الجملةِ وأحكامِها»، و «بابٌ في الجارِّ والمجرورِ»، و «بابٌ في تفسيرِ كلماتٍ يحتاجُ إليها المُعْرِبُ»، و «بابٌ في الإشارةِ إلى عباراتٍ مُحَرَّرَةٍ مستوفاةٍ موجزة».

بينما المختصرُ فيه ثلاثةُ أبوابٍ: «بابٌ في الجملةِ وأحكامِها»، و «بابٌ في الظرفِ والجارِّ والمجرورِ»، و «بابٌ فيما يُقالُ عند ذكْرِ أدواتٍ يكثرُ دورانُها في الكلامِ».

وأمَّا قول ابن هشام السابق: «لمَّا أنشأتُ في معناهُ المقدمةَ الصغرى المسماة: بـ (الإعراب عن قواعد الإعراب … )» إلخ، فهو

--------------------------------------------

(1) «مغني اللبيب عن كتب الأعاريب» (ص: 12 - 13).

'ক্ষুদ্রতর (صغرى)'; কারণ ইবনে হিশাম রহিমাহুল্লাহ (رحمه الله)-এর একটি চমৎকার গ্রন্থ রয়েছে যাকে 'আল-ইরাব আন কাওয়ায়িদিল ইরাব'ও বলা হয়। এটি ছিল তাঁর অনন্য গ্রন্থ 'মুগনি আল-লাবিব আন কুতুবিল আ'আরিব'-এর প্রাথমিক ভিত্তি। তিনি এর ভূমিকা (مقدمة)-তে বলেছেন: "এটি রচনার পেছনে আমাকে যা উৎসাহিত করেছে তা হলো, আমি যখন একই বিষয়ে 'আল-মুকাদ্দিমাতুস সুগরা' নামক ক্ষুদ্রতর (صغرى) ভূমিকা (مقدمة) রচনা করি—যার নাম ছিল 'আল-ইরাব আন কাওয়ায়িদিল ইরাব'—তখন তা প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট সমাদৃত হয় এবং শিক্ষার্থী মহলে এর উপকারিতা ছড়িয়ে পড়ে।"(১).

অতঃপর তিনি রহিমাহুল্লাহ (رحمه الله) এই গ্রন্থে 'আল-ইরাব আন কাওয়ায়িদিল ইরাব'-কে সংক্ষেপিত (مختصر) করেছেন। উভয় গ্রন্থের মধ্যে প্রবল সাদৃশ্য থাকার কারণে এবং সংক্ষেপিত (مختصر) রূপটির তুলনায় মূল (أصل) গ্রন্থটি অধিক প্রসিদ্ধ হওয়ায় কারো কারো কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায়; ফলে তারা মনে করেন যে এ দুটি একই বই। তবে কেউ কেউ এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং এটিই সঠিক; কারণ এ দুটির মধ্যে সামান্য পার্থক্য বিদ্যমান।

প্রথম গ্রন্থটিতে চারটি অধ্যায় (باب) রয়েছে: ‘বাক্য ও তার বিধান বিষয়ক অধ্যায় (باب)’, ‘জার ও মাজরুর বিষয়ক অধ্যায় (باب)’, ‘বিশ্লেষণকারীর প্রয়োজনীয় শব্দাবলির ব্যাখ্যা বিষয়ক অধ্যায় (باب)’ এবং ‘পরিশোধিত, পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্ত পরিভাষাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত প্রদান বিষয়ক অধ্যায় (باب)’।

পক্ষান্তরে, সংক্ষেপিত (مختصر) গ্রন্থটিতে তিনটি অধ্যায় (باب) রয়েছে: ‘বাক্য ও তার বিধান বিষয়ক অধ্যায় (باب)’, ‘জরফ এবং জার ও মাজরুর বিষয়ক অধ্যায় (باب)’ এবং ‘কথোপকথনে বহুল ব্যবহৃত অব্যয়সমূহের বর্ণনায় যা বলা হয় সে বিষয়ক অধ্যায় (باب)’।

আর ইবনে হিশামের পূর্বোক্ত বক্তব্য: "আমি যখন একই বিষয়ে 'আল-মুকাদ্দিমাতুস সুগরা' নামক ক্ষুদ্রতর (صغرى) ভূমিকা (مقدمة) রচনা করি যার নাম: 'আল-ইরাব আন কাওয়ায়িদিল ইরাব ... '" ইত্যাদি (إلخ), তা হলো—

--------------------------------------------

(১) 'মুগনি আল-লাবিব আন কুতুবিল আ'আরিব' (পৃষ্ঠা: ১২ - ১৩)।

(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৮)
يشيرُ إلى أنَّها صُغْرَى إذَا ما قُورِنَتْ بـ «مغني اللبيب»، وكذا عندما يُطْلِقُ عليها بعضُ النُّحَاة: «القواعد الصغرى»؛ يريدُ هذا المعنى، والله أعلم(1).

وقد نصَّ ابنُ هشامٍ أيضًا في مُقَدَّمَةِ «القواعد الصغرى»، على أنَّهُ اختصرها مِن «الإعراب عن قواعد الإعراب»، فقال رحمه الله: «هذه نكتٌ يسيرةٌ اختصرتُها مِن (قواعد الإعراب)؛ تسهيلًا على الطُّلَّاب، وتقريبًا على أولي الألباب»(2).

ولذلك تُعرفُ هذه الرسالةُ أيضًا بـ «نكت الإعراب»، و «نكت ابن هشام»، وهي رسالةٌ صغيرةُ الجِرْمِ، غزيرةُ العِلمِ، تَعَرَّضَ فيها ابنُ هشامٍ رحمه الله لمسائلَ في غايةِ الأهمية، فبدأ بتعريفِ الجُملةِ، وأنها على نوعين: اسميَّة وفعليَّة، ثم بَيَّنَ أنها تنقسمُ إلى قسمين: صُغْرى وكُبْرَى، ثُمَّ بَيَّنَ ما له محل من الإعرابِ، وما ليس له محل من الإعراب من هذه الجمل، ثم بَيَّنَ حُكْمَ الجُملةِ إذا جاءت بعدَ النكراتِ، وحُكمها إذا جاءت بعدَ المعارف، ثم تكلَّم بعد ذلك عن شِبْهِ الجُملة؛ سواءٌ كان ظرفًا أو جارًّا ومجرورًا، وبيَّن أنَّه لا بُدَّ من تعلُّقِهما بفعلٍ، أو بما في معناهُ، ثم بين ما يُستثنى من حروفِ الجرِّ التي لا تتعلقُ بشيءٍ، ثم بيَّن بعد ذلك أيضًا حكمهما بعدَ النكرة وحكمهما بعد المعرفةِ، ثم تكلم عن أدواتٍ يكثرُ دورانها في الكلامِ، كل هذا بأسلوبٍ سهلٍ يسير، وبجُمَلٍ قصيرة، سهلةِ

--------------------------------------------

(1) «آثار الشيخ العلامة عبد الرحمن بن يحيي المعلمي اليماني» (20/ 35).

(2) انظر: (ص: 19).

এটি নির্দেশ করে যে, ‘মুগনি আল-লাবিব’-এর সাথে তুলনা করলে এটি ক্ষুদ্রতর (صغرى); আর একইভাবে যখন কিছু ব্যাকরণবিদ (النحاة) একে ‘আল-কাওয়াইদ আস-সুগরা’ নামে অভিহিত করেন, তখন তারা এই অর্থই উদ্দেশ্য করেন, আল্লাহই ভালো জানেন(1).

ইবনে হিশাম ‘আল-কাওয়াইদ আস-সুগরা’-এর ভূমিকায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একে ‘আল-ই’রাব আন কাওয়াইদিল ই’রাব’ থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এগুলো কিছু সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (نكت), যা আমি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ করতে এবং জ্ঞানীদের নিকটবর্তী করতে (কাওয়াইদ আল-ই’রাব) থেকে সংক্ষিপ্ত করেছি”(2).

এ কারণে এই পুস্তিকাটি ‘নুকাাতুল ই’রাব’ এবং ‘নুকাাতু ইবনি হিশাম’ নামেও পরিচিত। এটি কলেবরে ছোট হলেও জ্ঞানে সমৃদ্ধ একটি পুস্তিকা। এতে ইবনে হিশাম (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বাক্যের (الجملة) সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে বাক্য দুই প্রকার: বিশেষ্যমূলীয় (اسمية) ও ক্রিয়ামূলীয় (فعلية)। এরপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এটি দুই ভাগে বিভক্ত: ক্ষুদ্র (صغرى) ও বৃহৎ (كبرى)। পরবর্তীতে তিনি এই বাক্যগুলোর মধ্যে যেগুলোর ব্যাকরণিক অবস্থান (محل من الإعراب) আছে এবং যেগুলোর ব্যাকরণিক অবস্থান নেই, তা বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (النكرات) পরে এবং নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (المعارف) পরে বাক্য আসার বিধান (حكم) বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি খণ্ডবাক্য (شبه الجملة) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; তা ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) হোক বা অব্যয় ও অন্বয়ী শব্দ (جار ومجرور) হোক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এগুলোর কোনো ক্রিয়া বা ক্রিয়ার অর্থবোধক শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট (تعلُّق) হওয়া আবশ্যক। এরপর তিনি এমন অব্যয়গুলো (حروف الجر) বর্ণনা করেছেন যা কোনো কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট হয় না। অতঃপর তিনি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য ও নির্দিষ্ট বিশেষ্যের পরে এগুলোর বিধান বর্ণনা করেছেন। সবশেষে তিনি এমন কিছু উপকরণ (أدوات) নিয়ে আলোচনা করেছেন যা বাক্যে প্রচুর ব্যবহৃত হয়। এই সব কিছুই তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল পদ্ধতিতে এবং ছোট ও সহজ বাক্যে পেশ করেছেন।

--------------------------------------------

(1) ‘আসারুশ শায়খ আল-আল্লামাহ আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি’ (২০/ ৩৫)।

(2) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৯)।

(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৯)
التناول، خاليةٍ من التعقيد، معتمدًا في أغلبِ الشواهدِ على آياتٍ مِن القرآنِ الكريم.

وهذه الرسالة مع صِغَرِ حجمها مفيدةٌ جِدًّا، فهي تُدَرِّبُ الطالبَ على الإعرابِ المفصَّل للمفردات والجمل؛ لتتكونَ عِنده المَلَكَةُ الإعرابية، فغالبُ الطُّلَّابِ يُجِيدُون إعرابَ المفردات، ولا يُجِيدُون إعرابَ الجُمَل؛ إذا كان لها مَحَلٌّ مِن الإعراب؛ بل قد لا يُمَيِّزُونَ بين ما له محلٌّ من الإعرابِ وما ليس له مَحَلٌّ من الإعراب، وكذلك لا يجيدون إعرابَ أشباهِ الجمل، ولا ما تتعلق به، وذلك لأنه في أغلبِ المدارسِ النظاميَّة يأتون بكلماتٍ تطبيقيَّةٍ على الدروسِ للإعراب، ويكونُ السؤال: «أعربْ ما تحته خط»، أو: «أعربْ ما بين القوسين»، وهذا لا يبني عِند الطالبِ مَلَكَةً نحويَّة، وإنَّما يبني الملكةَ النَّحويَّةَ إعرابُ الفقراتِ كاملة؛ لأنَّ ذلك يُمَثِّلُ سياقاتٍ لُغَوِيَّةً طبعية؛ لا تَكونُ مصنوعةً لغرضِ الإعرابِ فقط، فيتعاملُ الطَّالبُ مع أساليبَ لُغَوِيَّةٍ في بيئتِها، فيصادفُ جميعَ الأشكالِ التَّعبيريَّة لتقلُّباتِ الكلامِ في الجمل؛ مِن تقديمٍ وتأخيرٍ، وحذفٍ وذِكرٍ، وإضمارٍ وإظهارٍ … إلخ، فإذا اعتاد الطالبُ ذلك وألِفَهُ تكوَّنت عِنده الملكةُ النحويَّة التي يستطيعُ أن يُعرب بها ما شاء من آياتِ القرآنِ الكريم، أو أحاديثِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، أو أشعارِ العربِ ونثرِهم، أو غير ذلك، كما يجبُ الإكثارُ مِن التَّمريناتِ التي يُطَالَبُ فيها الطالبُ بتكوين جُمَلٍ على قواعدَ خاصَّة، فإنَّ هذه التمريناتِ أنفعُ في دفعِ الطلبة إلى التَّفكير، وأجدى في تربية مَلَكَةِ الإنشاءِ عندهم أيضًا.
সহজবোধ্য, জটিলতামুক্ত এবং অধিকাংশ উদাহরণের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের আয়াতের ওপর নির্ভরশীল।

এই পুস্তিকাটি আকারে ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত উপকারী; এটি শিক্ষার্থীকে শব্দ এবং বাক্যের বিস্তারিত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে তার মাঝে ব্যাকরণিক পারদর্শিতা তৈরি হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী একক শব্দের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে পারদর্শী হলেও বাক্যের বিশ্লেষণে পারদর্শী নয়—বিশেষ করে যখন বাক্যের কোনো ব্যাকরণিক স্থান থাকে। এমনকি তারা ব্যাকরণিক স্থান থাকা এবং না-থাকা বাক্যের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। একইভাবে তারা উপ-বাক্য এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশ্লেষণেও দক্ষ নয়। এর কারণ হলো, অধিকাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে পাঠের প্রয়োগ হিসেবে কিছু শব্দ উপস্থাপন করা হয় এবং প্রশ্ন করা হয়: «নিম্নরেখ শব্দটির বিশ্লেষণ করো» অথবা «বন্ধনীভুক্ত শব্দটির বিশ্লেষণ করো»; এটি শিক্ষার্থীর মাঝে ব্যাকরণিক পারদর্শিতা তৈরি করে না। বরং পূর্ণাঙ্গ অনুচ্ছেদের বিশ্লেষণই ব্যাকরণিক পারদর্শিতা গড়ে তোলে; কারণ তা ভাষার স্বাভাবিক প্রেক্ষাপটকে উপস্থাপন করে, যা কেবল ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। এর ফলে শিক্ষার্থী ভাষাগত শৈলীগুলোকে তার আপন পরিবেশে মোকাবিলা করে এবং বাক্যের বিবিধ রূপান্তর—যেমন শব্দের আগে-পিছে আসা, ঊহ্য থাকা বা উল্লিখিত হওয়া এবং প্রচ্ছন্ন বা প্রকাশ্য হওয়া ... ইত্যাদি পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। যখন শিক্ষার্থী এতে অভ্যস্ত ও পরিচিত হয়ে উঠবে, তখন তার মাঝে এমন ব্যাকরণিক পারদর্শিতা তৈরি হবে যা দিয়ে সে পবিত্র কুরআনের আয়াত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস, আরবদের কবিতা ও গদ্য অথবা অন্য যা কিছু ইচ্ছা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এমন অনুশীলনীও বৃদ্ধি করা আবশ্যক যেখানে শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে বাক্য গঠন করতে বলা হয়। কেননা এই ধরণের অনুশীলনী শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধিতে অধিক ফলপ্রসূ এবং তাদের মাঝে সৃজনশীল রচনাশৈলীর পারদর্শিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অধিক কার্যকর।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১০)
هذا وقد استخرتُ اللهَ تعالى في إخراجِ هذه الرسالة، حُبًّا ورغبةً في خِدمةِ طلبةِ العلم، وإعانةً لهم على الخير؛ بعد ما أهدى إليَّ بعضُ الإخوةِ نسخةً خطيَّةً للكتاب، أسألُ اللهَ تعالى أنْ يجزيَهُ خيرًا، وأنْ يجعلَ ذلك في ميزانِ حسناتِه.

وقد قمتُ بإعرابِ جميعِ الشواهدِ التي استشهد بها ابنُ هشامٍ رحمه الله تدريبًا لطلاب العلم على الإعراب، ولتقوية الملكةِ الإعرابيَّةِ عندهم.

أسأل الله تعالى أن يجعلَ جميعَ أعمالِنا صالحة، ولوجهِهِ خالصة؛ إنه بِكُلِّ جميلٍ كفيل، وهو حَسْبُنَا ونِعْمَ الوكيل، وصلى اللهُ وسلَّم وبارك على نبيِّنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

كتبه

الشبراوي بن أبي المعاطي المصري الحسني

السنبلاوين - دقهلية - بمصر
আমি এই পুস্তিকাটি প্রকাশের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার নিকট ইস্তিখারা করেছি। ইলম অন্বেষণকারীদের খিদমত এবং তাদের কল্যাণে সহায়তা করার তামান্না ও ভালোবাসা থেকেই আমি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি; বিশেষত জনৈক ভাই কিতাবটির একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) আমাকে উপহার দেওয়ার পর। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং একে তার নেক আমলের পাল্লায় শামিল করেন।

আমি ইবনে হিশাম (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক উপস্থাপিত সকল প্রামাণ্য উদ্ধৃতির (شواهد) ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) সম্পন্ন করেছি, যাতে ইলম অন্বেষণকারীরা ইরাব চর্চা করতে পারে এবং তাদের মাঝে ব্যাকরণিক পারদর্শিতা সুদৃঢ় হয়।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সকল কাজকে নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং তা যেন একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ হয়। নিশ্চয়ই তিনি সকল কল্যাণের যিম্মাদার, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর।

 

এটি লিখেছেন

আশ-শাবরাবি বিন আবিল মাআতি আল-মিসরি আল-হাসানি

সানবালাওয়াইন - দাকাহলিয়া - মিশর
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌ترجمة المصنف

‌‌اسمه ولقبه وكنيته ونسبه:

هو جمالُ الدِّينِ أبو مُحَمَّدٍ عبدُ اللهِ بنُ يوسفَ بنِ أحمدَ بنِ عبدِ اللهِ بنِ هشامٍ الأنصاريُّ المصريُّ.

 

‌‌مولده ونشأته وطلبه للعلم:

وُلِدَ أبو محمدٍ رحمه الله بالقاهرةِ في ذِي القعدة، سنةَ (708 هـ)، ومِن ثَمَّ تَرَعْرَعَ فيها، وشَبَّ مُحِبًّا للعلمِ والعلماء، فأخذ عن الكثيرين منهم، ولازم بعضًا مِن الأدباءِ والفضلاء، ومِن هؤلاء: شمسُ الدِّينِ ابنُ السَّراج، وشهابُ الدِّينِ ابنُ المرحل، وسمَّع «ديوان زهير بن أبي سلمى» على أبي حيَّان الأندلسيِّ، ولم يلازمْهُ، ولا قرأ عليه غيره، وحضر دروسَ تاجِ الدِّينِ التَّبْرِيزِي، وقرأ على تاجِ الدِّينِ الفاكهاني «شرح الإشارة» له؛ إلَّا الورقة الأخيرة، وحدَّث عن ابنِ جماعةَ بـ «الشاطبية»، وتفقَّهَ على المذهبِ الشَّافعي، ثم تَحَنْبَلَ، فحفظ «مختصر الخرقي»؛ قُبَيْلَ وفاته بخمسِ سنين، وكان مع ذلك صبورًا في طلبِ العلمِ مداوِمًا عليه حتَّى آخر حياته، وكان رحمه الله يقول:

وَمَنْ يَصْطَبِرْ لِلْعِلْمِ يَظْفَرْ بِنَيْلِهِ … وَمَنْ يَخْطِبِ الْحَسْنَاءَ يَصْبِرْ عَلَى الْبَذْلِ

وَمَنْ لَا يُذِلَّ النَّفْسَ فِي طَلَبِ الْعُلَا … يَسِيرًا يَعِشْ دَهْرًا طَوِيلًا أَخَا ذُلِّ
গ্রন্থকারের পরিচিতি

তাঁর নাম, উপাধি, কুনিয়াত (উপনাম) ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন জামালুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম আল-আনসারী আল-মিসরী।

 

তাঁর জন্ম, লালন-পালন ও জ্ঞানার্জন:

আবু মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) ৭০৮ হিজরি সনের যিলকদ মাসে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি ইলম ও ওলামাদের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেন এবং তাঁদের অনেকের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি বেশ কিছু সাহিত্যিক ও গুণী ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: শামসুদ্দীন ইবনুল সাররাজ এবং শিহাবুদ্দীন ইবনুল মুরাল। তিনি আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসী-এর নিকট 'দিওয়ানু জুহাইর ইবনে আবি সুলমা' শ্রবণ (سمع) করেন; তবে তিনি তাঁর দীর্ঘস্থায়ী সান্নিধ্যে ছিলেন না এবং এটি ব্যতীত অন্য কিছু তাঁর কাছে পাঠ করেননি। তিনি তাজউদ্দীন আত-তাবরিযী-এর পাঠদানে উপস্থিত হতেন এবং তাজউদ্দীন আল-ফাকিহানী-এর নিকট তাঁর রচিত 'শারহুল ইশারা' পাঠ করেন; তবে শেষ পৃষ্ঠাটি ব্যতীত। তিনি ইবনে জামাআহ থেকে 'আশ-শাতিবিয়্যাহ' বর্ণনা (حدث) করেছেন। তিনি শাফেয়ী মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ অধ্যয়ন করেন, পরবর্তীতে হাম্বলী মাজহাব গ্রহণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর পূর্বে 'মুখতাসারুল খিরাকী' মুখস্থ করেন। পাশাপাশি তিনি জ্ঞানার্জনে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলম চর্চায় নিরন্তর রত ছিলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন:

যে ইলমের জন্য ধৈর্য ধারণ করে, সে তা লাভে সফল হয়; আর যে রূপসীর পাণিপ্রার্থনা করে, সে (মোহরানা) ব্যয়ে ধৈর্য ধরে। … যে ব্যক্তি উচ্চ মর্যাদা লাভের অন্বেষায় সামান্য সময়ও নিজেকে বিনীত করতে পারে না, সে সারা জীবন হীনতা ও লাঞ্ছনার সাথে অতিবাহিত করে।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌تلاميذه، ومن أخذ عليه العلم:

قال السُّيُوطي رحمه الله: «وتَخَرَّجَ به جماعةٌ مِن أهلِ مصر وغيرهم، وتصدَّر لنفعِ الطالبين»، ومِمَّن تتلمذ عليه: نورُ الدِّينِ عليُّ بنُ أبي بكرِ بنِ أحمدَ البالسي، ومجدُ الدين محمد بن محمد بن إبراهيم البلبيسي، ومحمدُ بنُ أحمدَ بن عبد العزيز النُّوَيْرِي، وإبراهيمُ بنُ محمدِ بنِ عبدِ الرحيمِ اللخميُّ الشافعي، وجلالُ بنُ أحمدَ بنِ يوسفَ الثيريُّ المعروف بالتباني، وولده مُحِبُّ الدِّينِ محمدُ بنُ عبدِ الله بنِ يوسفَ، وإبراهيمُ بنُ محمدِ بنِ عثمانَ بنِ إسحاقَ الدجوي، وغيرُهم كثير.

 

‌‌منزلته العلمية:

أتقن ابنُ هشامٍ رحمه الله العربية، وتخصَّصَ في النَّحوِ وكان يَمْلِكُ فيه عبقرية؛ فاقَ بها أقرانَه وشيوخَه ومعاصريه، وكان لكتابيه: «مغني اللبيب عن كتب الأعاريب»، و «أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك»؛ صدى في النفوس، ونال بهما منزلةً عاليةً لدى العلماءِ والأدباء.

قال عنه السُّيوطي رحمه الله: «وانفرد بالفوائدِ الغريبةِ، والمباحثِ الدقيقةِ، والاستدراكاتِ العجيبةِ، والتحقيقِ البارعِ، والاطلاعِ المفرطِ، والاقتدارِ على التَّصَرُّفِ في الكلام، والملكة التي كان يتمكنُ مِن التعبيرِ بها عن مقصودِه بما يريد، مُسْهِبًا ومُوجِزًا؛ مع التواضعِ والبرِّ والشَّفَقَةِ ودماثَةِ الخُلقِ ورقَّةِ القلب، قال ابن خلدون: ما زلنا ونحن بالمغربِ نسمعُ أنَّهُ ظهرَ بمصرَ عالمٌ بالعربيَّةِ يُقالُ له ابنُ هشام أنحَى مِن سيبويه، وكان كثيرَ المخالفةِ لأبي حيانَ، شديدَ الانحرافِ عنه».
‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ এবং যারা তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন:

ইমাম সুয়ূতী (রহ.) বলেন: «মিশর ও অন্যান্য অঞ্চলের একদল আলেম তাঁর নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন এবং তিনি শিক্ষার্থীদের উপকারের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন», তাঁর কাছে যারা শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: নূরুদ্দীন আলী বিন আবি বকর বিন আহমদ আল-বালিসী, মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-বিলবিসী, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আন-নুওয়াইরী, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহিম আল-লাখমী আশ-শাফিঈ, জালাল বিন আহমদ বিন ইউসুফ আস-সাইরী (যিনি আত-তাব্বানী নামে পরিচিত), তাঁর পুত্র মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন ইসহাক আদ-দাজভী এবং আরও অনেকে।

 

‌‌তাঁর ইলমী মর্যাদা:

ইবনে হিশাম (রহ.) আরবি ভাষায় পূর্ণ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এই শাস্ত্রে তাঁর অসাধারণ প্রতিভা ছিল; যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের, শিক্ষকদের এবং সমকালীন আলেমদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর রচিত ‘মুগনী আল-লাবিব আন কুতুবিল আ’রিব’ এবং ‘আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক’ গ্রন্থ দু’টি জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং এগুলোর মাধ্যমে তিনি ওলামা ও সাহিত্যিকদের নিকট উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন।

ইমাম সুয়ূতী (রহ.) তাঁর সম্পর্কে বলেন: «তিনি বিরল তথ্যাবলি, সূক্ষ্ম আলোচনা, বিস্ময়কর সংশোধনী, নিপুণ গবেষণা, অগাধ পাণ্ডিত্য এবং বক্তব্যের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষেত্রে অনন্য ছিলেন। তাঁর এমন এক স্বভাবজাত যোগ্যতা ছিল যার মাধ্যমে তিনি নিজের উদ্দেশ্য অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিতভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারতেন; এর সাথে তাঁর মধ্যে ছিল বিনয়, সদাচার, দয়া, চারিত্রিক মাধুর্য ও কোমল হৃদয়। ইবনে খালদুন বলেন: আমরা মাগরিবে (উত্তর আফ্রিকা) থাকাকালীন শুনতাম যে, মিশরে আরবি ভাষার এমন এক পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছে যাকে ইবনে হিশাম বলা হয় এবং তিনি সিবওয়াইহ-এর চেয়েও বড় নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ)। তিনি আবু হাইয়ানের সাথে অনেক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতেন এবং তাঁর প্রতি অত্যন্ত বিমুখ ছিলেন»।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال عنه يوسفُ بنُ الحسن الصالحي الحنبلي رحمه الله: «فصيحُ زمانه، وسيبويه أيَّامِه، صاحبُ المَعْرِفَةِ التَّامَةِ فى النحوِ واللغةِ والإعرابِ والقراءاتِ والحديثِ والفقهِ وغيرِ ذلك، وكان إمامًا فى العربيَّة، لم يُرَ مثله، وصنَّف كتاب «المغني» لم يصنَّف فى النَّحوِ مثله».

وقال الصَّفَدِيُّ رحمه الله: «الشيخُ الإمامُ العالمُ العلَّامةُ، حُجَّةُ العرب، أفضلُ المتأخرين، جمالُ الدين، أبو محمدٍ الأنصاريُّ الحنبليُّ المصريُّ، شيخُ النحو، ومَن قام في أمرِهِ بالإثباتِ والمَحْو، أظهرَ فيه الإبداعَ وصَنَّف، وقَرَّطَ الأسماعَ وشَنَّف، ونظر ودقَّق، وتعمَّدَ لَأَنْ تَعَمَّقَ وَحَقَّق، وناقضَ شيخَنَا أثيرَ الدِّينِ وحَجَّه، وعَدَلَ بمذاهِبِهِ عَنِ المَحَجَّة، وكاد يُمِيتُ ذِكْرَ أبي حيَّان، ويُرْدِي كُلَّ مَن جاءَ مِن جَيَّان، فلو عاصره سيبويه لحاكمَ الكِسَائِيَّ إليه، وفَصَلَ أمرَ المسألةِ الزُّنبُورِيَّةِ بينَ يدَيْه».

وقال أبو المحاسنِ يوسفُ بنُ تَغْرِي بردي رحمه الله: «كان بارعًا فى عدَّةِ علوم، لا سيما العربيَّة، فإنَّهُ كان فارسها، ومالك زمامها، وهو صاحبُ الشرحِ على ألفيةِ ابنِ مالكٍ فى النحو؛ المسمَّى بـ (التوضيح)، و (شرح البردة) و (شرح بانت سعاد)، وكتاب (المغني)، وغير ذلك».

 

‌‌مصنفاته:

لابن هشام مصنفات كثيرة منها:

1 - «الإعراب عن قواعد الإعراب».

2 - «الألغاز النحوية».
ইউসুফ বিন হাসান আস-সালিহি আল-হাম্বলি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ বাগ্মী এবং তাঁর যুগের সিবওয়াই। তিনি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (অভিধান), ইরাব (বাক্য বিশ্লেষণ), কিরাত, হাদিস, ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি আরবি ভাষায় একজন ইমাম (إمام) ছিলেন, যাঁর সমকক্ষ কাউকে দেখা যায়নি। তিনি 'আল-মুগনি' নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যার মতো আর কোনো গ্রন্থ নাহু শাস্ত্রে রচিত হয়নি।"

আস-সাফাদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তিনি হলেন শাইখ, ইমাম (إمام), বিজ্ঞ আলিম (عالم), আল্লামা (علامة), আরবদের অকাট্য প্রমাণ (حجة), পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আল-আনসারি আল-হাম্বলি আল-মিসরি। তিনি ছিলেন নাহু শাস্ত্রের প্রধান শাইখ; তিনি এই শাস্ত্রের বিধিবব্ধকরণ ও সংস্কারে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এতে সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেছেন ও গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং পাঠকদের কর্ণকুহরকে তৃপ্ত ও বিমোহিত করেছেন। তিনি গভীর পর্যালোচনা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেছেন এবং অত্যন্ত গভীর জ্ঞান ও সত্য উদ্ঘাটনের সংকল্প করেছেন। তিনি আমাদের শাইখ আসিরুদ্দিনের বিরোধিতা করেছেন এবং দালিলিক বিচারে তাঁকে নিরুত্তর করেছেন এবং তাঁর মতামতসমূহকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত প্রমাণ করেছেন। তিনি আবু হাইয়ানের খ্যাতিকে প্রায় ম্লান করে দিচ্ছিলেন এবং জায়য়ান থেকে আসা সকল পণ্ডিতকে পরাজিত করছিলেন। যদি সিবওয়াই তাঁর সমসাময়িক হতেন, তবে তিনি কিসায়িকে তাঁর কাছেই বিচারের জন্য সোপর্দ করতেন এবং তাঁর সামনেই 'মাসআলাহ যুনবুরিয়্যাহ'-র ফয়সালা করতেন।"

আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ বিন তাগরি বারদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তিনি বেশ কিছু শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন, বিশেষ করে আরবি ভাষায়; কারণ তিনি ছিলেন এই শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী এবং এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রক। তিনি নাহু শাস্ত্রের ওপর ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তাওদিহ'-এর রচয়িতা; এছাড়াও 'শারহুল বুরদাহ', 'শারহু বানাত সুয়াদ', 'আল-মুগনি' এবং আরও অনেক গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন।"

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

ইবনে হিশামের অনেকগুলো রচনাবলি রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

১ - «আল-ইরাব আন কাওয়ায়িদিল ইরাব»।

২ - «আল-আলগায আন-নাহবিয়্যাহ»।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
3 - «أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك».

4 - «التحصيل والتفصيل لكتاب التذييل والتكميل».

5 - «الجامع الصغير في علم النحو».

6 - «شذور الذهب في معرفة كلام العرب».

7 - «شرح بانت سعاد».

8 - «شرح البردة».

9 - «شرح جمل الزجاجي».

10 - «قطر الندى».

11 - «قواعد الإعراب ونزهة الطلاب»، وهو كتابنا هذا.

12 - «نزهة الطرف في علم الصرف».

13 - «مغني اللبيب عن كتب الأعاريب».

 

‌‌وفاته:

توفي ابنُ هشامٍ رحمه الله ليلةَ الجُمُعَةِ في الخامسِ مِن ذي القعدة، سنةَ (761 هـ)، ودُفِنَ بعدَ صلاةِ الجُمُعَةِ بمقابرِ الصُّوفِيَّةِ خارج بابِ النَّصرِ بالقاهرة، نسأل الله تعالى أن يغفر له ويرحمه رحمة واسعة وأن يتقبله في الصالحين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلَّى الله على نبيِّنا محمَّد، وعلى آله وصحبه وسلم(1).

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة: «النجوم الزاهرة فى ملوك مصر والقاهرة» لابن تغري بردي، و «أعيان العصر وأعوان النصر» للصفدي، و «الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة» لابن حجر، و «الجوهر المنضد في طبقات متأخري أصحاب أحمد» يوسف بن حسن الصالحي، و «بغية الوعاة في طبقات اللغويين والنحاة» للسيوطي، و «شذرات الذهب في أخبار من ذهب» لابن العماد.

৩ - «আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক»।

৪ - «আত-তাহসীল ওয়াত-তাফসীল লি-কিতাবিত তাযয়ীল ওয়াত-তাকমীল»।

৫ - «আল-জামি আস-সগীর ফি ইলমিন নাহব»।

৬ - «শুজুরুয যাহাব ফি মা’রিফাতি কালামিল আরব»।

৭ - «শারহু বানাত সু’আদ»।

৮ - «শারহুল বুরদাহ»।

৯ - «শারহু জুমালিয যুজাজি»।

১০ - «কাতরুন নাদা»।

১১ - «কাওয়ায়িদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব», এটিই আমাদের এই কিতাব।

১২ - «নুযহাতুত তারাফ ফি ইলমিস সারফ»।

১৩ - «মুগনীল লাবীব আন কুতুবিল আ’আরীব»।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

ইবনে হিশাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) ৭৬১ হিজরি সালের ৫ই জিলকদ শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং জুমার সালাতের পর কায়রোর বাবুন নাসরের বাইরে সুফিদের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে ক্ষমা করেন, তাঁর প্রতি ব্যাপক রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীদের (الصحابة) ওপর(১)।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ: ইবনে তাগরি বারদি রচিত «আন-নুজুমুয যাহিরা ফি মুলুকি মিসর ওয়াল কাহিরা», আস-সাফাদি রচিত «আ’য়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুুন নাসর», ইবনে হাজার রচিত «আদ-দুরারুল কামিনা ফি আ’য়ানিল মিয়াতিত সামিনা», ইউসুফ বিন হাসান আস-সালিহি রচিত «আল-জাওহারুল মুনাদদাদ ফি তাবাকাতি মুতাআখখিরি আসহাবি আহমাদ», আস-সুয়ূতি রচিত «বুগইয়াতুল উয়াত ফি তাবাকাতিল লুগাভিয়্যিনা ওয়ান নুহাত» এবং ইবনুল ইমাদ রচিত «শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব»।

(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌صور من المخطوط
পাণ্ডুলিপির আলোকচিত্রসমূহ
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
طرة المخطوط
পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতা (طرة المخطوط)
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
الورقة الأولى من المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
الورقة الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পাতা
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২০)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ للهِ ربِّ العالمين، وصلَّى اللهُ علَى سيِّدِنَا محمَّدٍ وعلَى آلِهِ وصحْبِه أجمعين، وبعدُ:

فهذهِ نُكَتٌ يسيرةٌ اختصرتُها مِن قواعدِ الإعراب؛ تسهيلًا على الطُّلَّاب، وتقريبًا على أُولِي الألباب، تنْحصرُ في ثَلاثةِ أبواب:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

এগুলো ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের নিয়মাবলী থেকে সংক্ষেপিত আমার সামান্য কিছু সূক্ষ্ম আলোচনা; যা শিক্ষার্থীদের জন্য সহজসাধ্য করার এবং প্রজ্ঞাবানদের নিকট উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে সংকলিত, যা তিনটি পরিচ্ছেদে সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌البابُ الأولُ: في الجُملةِ

وفيه أربعُ مسائلَ:

 

‌‌الأولى: أنَّ اللفظَ المفيدَ يُسمَّى كَلامًا وجملةً، وأنَّ الجملةَ تُسَمَّى اسميَّةً إنْ بدأتْ باسمٍ، نحوُ: «زَيْدٌ قَائِمٌ»(1)؛ وفِعْليةً إنْ بدأتْ بفعلٍ، نحوُ: «قَامَ زَيْدٌ»(2)؛ وصُغْرى إنْ بُنِيَتْ على غيرِها، كـ «قَامَ أَبُوهُ»(3)، مِن قولِك: «زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ»؛ وكُبْرى إنْ كانَ في ضِمنِها جملةٌ كمجموعِ: «زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ»(4).

--------------------------------------------

(1) «زَيْدٌ»: مبتدأٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. «قَائِمٌ»: خبرٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه.

(2) «قَامَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «زَيْدٌ»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه.

(3) انظر التالي.

(4) «زَيْدٌ»: مبتدأٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. «قَامَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «أَبُوهُ»: «أَبُو»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الواوُ؛ لأنَّه من الأسماءِ الخمسةِ، وهو مضافٌ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ، في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ. والجملةُ من الفعلِ والفاعلِ في محلِّ رفعٍ خبرُ المبتدإِ «زَيْدٌ».

 

وقيل لجملة «قَامَ أَبُوهُ»: صغرى؛ لأنها بُنِيَتْ على غيرِها، كما قالَ المصنِّفُ رحمه الله؛ أي: أنَّ الجملةَ كاملةً جاءت خبرًا، ومَثَّلَ المُصَنِّفُ بالجملةِ الفعليةِ: «قَامَ أَبُوهُ». ومثالُ الجملةِ الاسميةِ: «أَبُوهُ قَائِمٌ»؛ مِن قولِك: «زَيْدٌ أَبُوهُ قَائِمٌ»، فـ «زَيْدٌ»: مبتدأٌ أوَّلُ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. «أَبُوهُ»: «أَبُو»: مبتدأٌ ثانٍ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الواوُ؛ لأنَّه من الأسماءِ الخمسةِ، وهو مضافٌ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ. «قَائِمٌ»: خبرُ المبتدإ الثَّانِي «أَبُو» مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. وجملةُ «أَبُوهُ قَائِمٌ»: في محلِّ رفعٍ خبرُ المبتدإِ الأولِ «زَيْدٌ»؛ فجملةُ «قَامَ أَبُوهُ»، وكذلكَ جملةُ «أَبُوهُ قَائِمٌ» يسمِّيهِما النَّحْوِيُّونَ الجملةَ الصُّغْرى؛ لأنَّها وقعتْ خبرًا عن مبتدإٍ؛ فبُنيتْ على غيرِها.
প্রথম অধ্যায়: বাক্য (جملة) প্রসঙ্গে

এতে চারটি মাসআলা রয়েছে:

 

প্রথমত: অর্থবোধক শব্দকে কালাম (كلام) এবং বাক্য (جملة) বলা হয়, এবং বাক্যকে নামবাচক (اسمية) বলা হয় যদি তা বিশেষ্য (اسم) দিয়ে শুরু হয়, যেমন: «জায়েদ দণ্ডায়মান (زَيْدٌ قَائِمٌ)»(১); আর ক্রিয়াগত (فعلية) বলা হয় যদি তা ক্রিয়া (فعل) দিয়ে শুরু হয়, যেমন: «জায়েদ দাঁড়িয়েছে (قَامَ زَيْدٌ)»(২); এবং ক্ষুদ্র বাক্য (صغرى) বলা হয় যদি তা অন্য কোনো বাক্যের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, যেমন: «তার পিতা দাঁড়িয়েছে (قَامَ أَبُوهُ)»(৩), আপনার এই উক্তির অন্তর্ভুক্ত হলে: «জায়েদ, তার পিতা দাঁড়িয়েছে (زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ)»; আর বৃহৎ বাক্য (كبرى) বলা হয় যদি তার অভ্যন্তরে অন্য একটি বাক্য থাকে, যেমন এই পূর্ণ বাক্য সমষ্টি: «জায়েদ, তার পিতা দাঁড়িয়েছে (زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ)»(৪)।

--------------------------------------------

(১) «জায়েদ (زَيْدٌ)»: মারফু (مرفوع) মুবতাদা (مبتدأ), এর রাফ'র (رفع) চিহ্ন হলো এর শেষে দৃশ্যমান পেশ (ضمة)। «দণ্ডায়মান (قَائِمٌ)»: মারফু (مرفوع) খবর (خبر), এর রাফ'র (رفع) চিহ্ন হলো এর শেষে দৃশ্যমান পেশ (ضمة)।

(২) «দাঁড়িয়েছে (قَامَ)»: ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে গঠিত অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض)। «জায়েদ (زَيْدٌ)»: মারফু (مرفوع) ফায়েল (فاعل), এর রাফ'র (رفع) চিহ্ন হলো এর শেষে দৃশ্যমান পেশ (ضمة)।

(৩) পরবর্তী অংশ দেখুন।

(৪) «জায়েদ (زَيْدٌ)»: মারফু (مرفوع) মুবতাদা (مبتدأ), এর রাফ'র (رفع) চিহ্ন হলো এর শেষে দৃশ্যমান পেশ (ضمة)। «দাঁড়িয়েছে (قَامَ)»: ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে গঠিত অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض)। «তার পিতা (أَبُوهُ)»: «পিতা (أَبُو)» হলো মারফু (مرفوع) ফায়েল (فاعل), এর রাফ'র (رفع) চিহ্ন হলো 'ওয়াও' (واو); কারণ এটি আসমায়ে খামসাহ-এর (الأسماء الخمسة) অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মুদাফ (مضاف), আর «হা (الهاء)» হলো মুত্তাসিল জমির (ضمير متصل) যা পেশ-যুক্ত অবস্থায় মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জেরের (جر) স্থানে রয়েছে। এই ক্রিয়া ও ফায়েল (فاعل) দ্বারা গঠিত বাক্যটি মুবতাদা (مبتدأ) «জায়েদ (زَيْدٌ)»-এর খবরের (خبر) স্থানে মারফু (مرفوع) হিসেবে রয়েছে।

 

«তার পিতা দাঁড়িয়েছে (قَامَ أَبُوهُ)» বাক্যটিকে ক্ষুদ্র বাক্য (صغرى) বলা হয়েছে; কারণ এটি অন্য একটি পদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে, যেমনটি লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন; অর্থাৎ পুরো বাক্যটি খবর (خبر) হিসেবে এসেছে। লেখক এখানে ক্রিয়াগত বাক্যের (جملة فعلية) উদাহরণ দিয়েছেন: «তার পিতা দাঁড়িয়েছে (قَامَ أَبُوهُ)»। আর নামবাচক বাক্যের (جملة اسمية) উদাহরণ হলো: «তার পিতা দণ্ডায়মান (أَبُوهُ قَائِمٌ)»; যা আপনার এই উক্তি থেকে গৃহিত: «জায়েদ, তার পিতা দণ্ডায়মান (زَيْدٌ أَبُوهُ قَائِمٌ)»। এখানে «জায়েদ (زَيْدٌ)»: প্রথম মারফু (مرفوع) মুবতাদা (مبتدأ أول), এর রাফ'র চিহ্ন শেষে দৃশ্যমান পেশ (ضمة)। «তার পিতা (أَبُوهُ)»: «পিতা (أَبُو)» হলো দ্বিতীয় মারফু (مرفوع) মুবতাদা (مبتدأ ثان), এর রাফ'র চিহ্ন 'ওয়াও' (واو); কারণ এটি আসমায়ে খামসাহ-এর (الأسماء الخمسة) অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মুদাফ (مضاف), আর «হা (الهاء)» হলো মুত্তাসিল জমির (ضمير متصل) যা পেশ-যুক্ত অবস্থায় মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জেরের (جر) স্থানে রয়েছে। «দণ্ডায়মান (قَائِمٌ)»: দ্বিতীয় মুবতাদা (مبتدأ ثان) «আবু (أَبُو)»-এর মারফু (مرفوع) খবর (خبر), এর রাফ'র চিহ্ন শেষে দৃশ্যমান পেশ (ضمة)। আর «তার পিতা দণ্ডায়মান (أَبُوهُ قَائِمٌ)» বাক্যটি প্রথম মুবতাদা (مبتدأ أول) «জায়েদ (زَيْدٌ)»-এর খবরের (خبر) স্থানে মারফু (مرفوع) হিসেবে রয়েছে। সুতরাং «তার পিতা দাঁড়িয়েছে (قَامَ أَبُوهُ)» এবং অনুরূপভাবে «তার পিতা দণ্ডায়মান (أَبُوهُ قَائِمٌ)» বাক্যদ্বয়কে ব্যাকরণবিদগণ ক্ষুদ্র বাক্য (جملة صغرى) বলেন; কারণ এগুলো কোনো মুবতাদার খবর (خبر) হিসেবে আসার মাধ্যমে অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المسألةُ الثانيةُ: الجملُ التي لها محلٌّ مِنَ الإعرابِ سبعٌ (1):

أحدُها: الواقعةُ (خبرًا)، وموضعُها رفعٌ في بابَي «المبتدإِ»، و «إنَّ»، نحوُ: «زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ»(2)، و «إِنَّ زَيْدًا أَبُوهُ قَائِمٌ»(3)؛ ونصبٌ في بابَي «كَانَ»، و «كَادَ»، نحو: «كَانَ زَيْدٌ أَبُوهُ قَائِمٌ»(4)،

--------------------------------------------

(1) أي: الجملُ التي لو وقَع في موضِعِها مفردٌ لَظَهَرَ فيه الإعرابُ، سواءٌ كان رَفْعًا أو نَصْبًا أو جَرًّا أو جزمًا؛ على حَسَبِ ما يَقْتَضِيهِ العاملُ.

(2) سبق إعرابُه.

(3) «إِنَّ»: حرفٌ ناسخٌ مبنيٌّ على الفتحِ، لا محلَّ لهُ مِنَ الإعرابِ. «زَيْدًا»: اسمُ «إِنَّ» منصوبٌ، وعلامةُ نصبِه الفتحةُ الظاهرةُ على آخرِه. «أَبُوهُ»: «أَبُو»: مبتدأٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الواوُ؛ لأنَّه من الأسماءِ الخمسةِ، وهو مضافٌ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ. «قَائِمٌ»: خبرُ المبتدإِ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخِرِه. والجملةُ الاسميةُ «أَبُوهُ قَائِمٌ»: في محلِّ رفعٍ خبرُ «إنَّ».

(4) «كَانَ»: فعلٌ ماضٍ ناقصٌ ناسخٌ، مبنيٌّ على الفتحِ. «زيدٌ»: اسمُ «كَانَ» مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضمةُ الظاهرةُ على آخرِه. «أَبُوهُ»: «أَبُو»: مبتدأٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الواوُ؛ لأنَّه مِن الأسماءِ الخمسةِ، وهو مضافٌ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ، في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ. «قائمٌ»: خبرُ المبتدإِ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. والجملةُ الاسميةُ «أَبُوهُ قَائِمٌ»: في محلِّ نصبٍ خبرُ «كَانَ».
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যে সকল বাক্যের ব্যাকরণগত অবস্থান (إعراب) রয়েছে তা সাতটি (১):

প্রথমটি: যা বিধেয় (خبر) হিসেবে আসে; আর 'উদ্দেশ্য' (مبتدأ) এবং 'ইন্না' (إنَّ)-র উভয় পরিচ্ছেদে এর অবস্থান হয় রাফ (رفع) বিশিষ্ট। যেমন: «জায়দুন কামা আবুহু» (জায়দ, তার পিতা দাঁড়িয়েছে)(২), এবং «ইন্না জায়দান আবুহু কাইমুন» (নিশ্চয়ই জায়দ, তার পিতা দণ্ডায়মান)(৩); আর 'কানা' (كَانَ) এবং 'কাদা' (كَادَ)-র উভয় পরিচ্ছেদে এর অবস্থান হয় নসব (نصب) বিশিষ্ট। যেমন: «কানা জায়দুন আবুহু কাইমুন» (জায়দ ছিল এমন যে তার পিতা দণ্ডায়মান)(৪),

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: সেই সকল বাক্য যার স্থলে যদি কোনো একক শব্দ (مفرد) আসত, তবে তাতে ব্যাকরণগত পরিবর্তন বা ইরাব (إعراب) প্রকাশ পেত; চাই তা রাফ (رفع), নসব (نصب), জার (جر) কিংবা জজম (جزم) হোক—আমিল (عامل)-এর চাহিদা অনুযায়ী।

(২) এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ বা ইরাব পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) «ইন্না»: এটি একটি হরফে নাসিখ (حرف ناسخ) যা ফাতহার ওপর মাবনি (مبني), ব্যাকরণগতভাবে এর কোনো অবস্থান (إعراب) নেই। «জায়দান»: এটি «ইন্না»-র ইসিম (اسم) যা নসব (منصوب) প্রাপ্ত, আর এর নসবের চিহ্ন হলো তার শেষাক্ষরে প্রকাশ্য ফাতহা। «আবুহু»: এখানে «আবু» হলো মুবতাদা (مبتدأ) যা রাফ (مرفوع) প্রাপ্ত, এর রাফ-এর চিহ্ন হলো 'ওয়াও'; কারণ এটি আসমায়ে খামসাহ (الأسماء الخمسة)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং তা মুদাফ (مضاف), আর «হা»: এটি একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা পেশের ওপর মাবনি (مبني) এবং মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জার-এর স্থলে (محل جر) অবস্থিত। «কাইমুন»: এটি মুবতাদার খবর (خبر) যা রাফ (مرفوع) প্রাপ্ত, আর এর রাফ-এর চিহ্ন হলো তার শেষাক্ষরে প্রকাশ্য পেশ। আর «আবুহু কাইমুন» নামক বিশেষ্যমূলক বাক্য বা জুমলা ইসমিয়া (جملة اسمية)-টি «ইন্না»-র খবর (خبر) হিসেবে রাফ-এর স্থলে (محل رفع) অবস্থিত।

(৪) «কানা»: এটি একটি ফেলে মাজি (فعل ماض), নাকিস (ناقص) ও নাসিখ (ناسخ) যা ফাতহার ওপর মাবনি (مبني)। «জায়দুন»: এটি «কানা»-র ইসিম (اسم) যা রাফ (مرفوع) প্রাপ্ত, আর এর রাফের চিহ্ন হলো তার শেষাক্ষরে প্রকাশ্য পেশ। «আবুহু»: এখানে «আবু» হলো মুবতাদা (مبتدأ) যা রাফ (مرفوع) প্রাপ্ত, এর রাফ-এর চিহ্ন হলো 'ওয়াও'; কারণ এটি আসমায়ে খামসাহ (الأسماء الخمسة)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং তা মুদাফ (مضاف), আর «হা»: এটি একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা পেশের ওপর মাবনি (مبني) এবং মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জার-এর স্থলে (محل جر) অবস্থিত। «কাইমুন»: এটি মুবতাদার খবর (خبر) যা রাফ (مرفوع) প্রাপ্ত, আর এর রাফ-এর চিহ্ন হলো তার শেষাক্ষরে প্রকাশ্য পেশ। আর «আবুহু কাইমুন» নামক জুমলা ইসমিয়া (جملة اسمية)-টি «কানা»-র খবর (خبر) হিসেবে নসবের স্থলে (محل نصب) অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
و «كَادَ زَيْدٌ يَفْعَلُ»(1).

الثانيةُ والثالثةُ: الواقعةُ (حَالًا)، والواقعةُ (مَفْعُولًا)، نحوُ: «جَاءَ زَيْدٌ يَضْحَكُ»(2)، و «قَالَ زَيْدٌ: عَمْرٌو مُنْطَلِقٌ»(3).

والرابعةُ: (الْمُضَافُ إِلِيْهَا)، ومحلُّها الجرُّ، نحوُ: {يوم هم بارزون} [غافر: 16](4)، {يوم ينفع [3] الصادقين} [المائدة: 119](5).

--------------------------------------------

(1) «كَادَ»: فعلٌ ماضٍ ناقصٌ مبنيٌّ على الفتحِ. «زَيْدٌ»: اسمُ «كَادَ» مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه .. «يَفْعَلُ»: فعلٌ مضارعٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه، والفاعل ضميرٌ مستترٌ، تقديرُه «هو»، والجملةُ من الفعلِ والفاعلِ المستترِ في محلِّ نصبٍ خبرُ «كَادَ».

(2) «جَاءَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «زَيْدٌ»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. «يَضْحَكُ»: فعلٌ مضارعٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ، تقديرُه «هو»، والجملةُ الفعليَّةُ «يَضْحَكُ»: في محلِّ نصبٍ حالٌ، والتقديرُ: جاءَ زيدٌ ضاحِكًا.

(3) «قَالَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «زَيْدٌ»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. «عَمْرٌو»: مبتدأٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. «مُنْطَلِقٌ»: خبرٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه، والجملةُ الاسميةُ «عَمْرٌو مُنْطَلِقٌ»: مقولُ القولِ، في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به.

(4) حتى يتضحَ الإعرابُ لا بدَّ مِن ذِكْرِ الآيةِ السَّابقة؛ قالَ تعالى: {رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ لِيُنْذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ (15) يَوْمَ هُمْ بَارِزُونَ}؛ {يَوْمَ} الثانيةُ: بدلٌ مطابقٌ مِن {يوم} الأولى، منصوبٌ، وعلامةُ نصبِه الفتحةُ الظاهرةُ على آخرِه. {هُم}: ضميرٌ منفصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ مبتدأٌ. {بارزونَ}: خبرٌ مرفوعٌ وعلامةُ رفعِه الواوُ؛ لأنَّه جمعُ مذكرٍ سالمٌ، وجملةُ {هم بارزونَ}: في محلِّ جرٍّ بالإضافةِ؛ لأنَّها بعدَ الظَّرفِ.

(5) قال تعالى: {هذا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ}؛ {هذا}: «ها»: حرفُ تنبيهٍ لا محلَّ لهُ مِنَ الإعرابِ. «ذا»: اسمُ إشارةٍ مبنيٌّ على السُّكونِ، في محلِّ رفعٍ مبتدأٌ. {يوم}: خبرٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. {ينفَعُ}: فِعلٌ مضارعٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. {الصادقينَ}: مفعولٌ بهِ مقدَّمٌ منصوبٌ، وعلامةُ نصبِه الياءُ؛ لأنَّه جمعُ مذكرٍ سالمٌ. {صدقُهم}: «صِدْقُ»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ، و «الْمِيمُ»: علامةُ جمعِ الذكورِ مبنيَّةٌ على السكونِ لا مَحَلَّ لها مِن الإعراب. وجملةُ {يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ}: في محلِّ جرٍّ بالإضافةِ.
এবং «যায়েদ প্রায় করতে যাচ্ছিল (كَادَ زَيْدٌ يَفْعَلُ)»(১)।

দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি হলো: (অবস্থা (حالًا)) হিসেবে আপতিত হওয়া এবং (কর্ম (مفعولًا)) হিসেবে আপতিত হওয়া। যেমন: «যায়েদ হাসতে হাসতে আসলো (جَاءَ زَيْدٌ يَضْحَكُ)»(২), এবং «যায়েদ বলল: আমর প্রস্থানকারী (قَالَ زَيْدٌ: عَمْرٌو مُنْطَلِقٌ)»(৩)।

চতুর্থটি হলো: (সম্বন্ধপদ (الْمُضَافُ إِلِيْه)) হওয়া, আর এর স্থান হলো মাজরুর (الجر)। যেমন: {যেদিন তারা প্রকাশ পাবে} [গাফির: ১৬](৪), {যেদিন সত্যবাদীদের তাদের সত্যবাদিতা উপকারে আসবে} [আল-মায়িদাহ: ১১৯](৫)।

--------------------------------------------

(১) «كَادَ»: এটি একটি অসম্পূর্ণ অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض ناقص) যা ফাতাহ-এর ওপর মাবনি (مبني على الفتح)। «زَيْدٌ»: এটি ‘কাদা’-এর ইসম (اسم «كَادَ») যা মারফু (مرفوع), আর এর রাফা-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান দম্মা (الضمة الظاهرة)। «يَفْعَلُ»: এটি একটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা মারফু (مرفوع), আর এর রাফা-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান দম্মা (الضمة الظاهرة)। এর ফায়েল (فاعل) হলো একটি গোপন সর্বনাম (ضمير مستتر), যার উহ্য রূপ হলো ‘হুয়া (هو)’। এই ক্রিয়া ও গোপন ফায়েল দ্বারা গঠিত বাক্যটি (الجملة) মহল্লে নাসব-এ (في محل نصب) ‘কাদা’-এর খবর (خبر)।

(২) «جَاءَ»: এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা ফাতাহ-এর ওপর মাবনি (مبني على الفتح)। «زَيْদٌ»: এটি মারফু (مرفوع) ফায়েল (فاعل), আর এর রাফা-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান দম্মা (الضمة الظاهرة)। «يَضْحَكُ»: এটি একটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা মারফু (مرفوع), আর এর রাফা-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান দম্মা (الضمة الظاهرة)। এর ফায়েল (فاعل) হলো একটি গোপন সর্বনাম (ضمير مستتر), যার উহ্য রূপ হলো ‘হুয়া (هو)’। এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি (الجملة الفعليَّة) «يَضْحَكُ»: মহল্লে নাসব-এ (في محل نصب) হাল (حال) হিসেবে গণ্য। আর এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো: যায়েদ হাস্যরত অবস্থায় আসলো।

(৩) «قَالَ»: এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা ফাতাহ-এর ওপর মাবনি (مبني على الفتح)। «زَيْদٌ»: এটি মারফু (مرفوع) ফায়েল (فاعل), আর এর রাফা-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান দম্মা (الضمة الظاهرة)। «عَمْرٌو»: এটি মারফু (مرفوع) মুবতাদা (مبتدأ), আর এর রাফা-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান দম্মা (الضمة الظاهرة)। «مُنْطَلِقٌ»: এটি মারফু (مرفوع) খবর (خبر), আর এর রাফা-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান দম্মা (الضمة الظاهرة)। এই বিশেষ্যবাচক বাক্যটি (الجملة الاسمية) «عَمْرٌو مُنْطَلِقٌ»: মাক্বলুল ক্বওল (مقول القول), যা মহল্লে নাসব-এ (في محل نصب) মাফ'উল বিহি (مفعول به)।

(৪) ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ স্পষ্ট করার জন্য পূর্ববর্তী আয়াতটি উল্লেখ করা প্রয়োজন। মহান আল্লাহ বলেন: {উচ্চ মর্যাদাবান, আরশের মালিক, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা ওহী প্রেরণ করেন তাঁর আদেশ দ্বারা, যাতে তিনি সাক্ষাৎ দিবস সম্পর্কে সতর্ক করেন। (১৫) যেদিন তারা প্রকাশ পাবে}। এখানে দ্বিতীয় {يَوْمَ} শব্দটি: প্রথম {يَوْمَ} থেকে বদল মুতবিক (بدل مطابق) এবং মানসুব (منصوب), আর এর নাসব-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান ফাতাহ। {هُم}: এটি একটি পৃথক সর্বনাম (ضمير منفصل) যা সুকুনের ওপর মাবনি এবং মহল্লে রাফা-তে (في محل رفع) মুবতাদা (مبتدأ)। {بارزونَ}: এটি মারফু (مرفوع) খবর (خبر) এবং এর রাফা-এর চিহ্ন হলো ‘ওয়াও (الواو)’; কারণ এটি জম' মুযাক্কার সালিম (جمع مذكر سالم)। {هم بارزونَ} বাক্যটি: মহল্লে জার-এ (في محل جر) এযাফাত (الإضافة) হিসেবে গণ্য; কারণ এটি একটি কালবাচক শব্দের (الظرف) পরে এসেছে।

(৫) মহান আল্লাহ বলেন: {এটি এমন এক দিন যখন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে}। {هذا}: এখানে ‘হা (ها)’ হলো সতর্ককারী অব্যয় (حرف تنبيه) যার কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই। ‘যা (ذا)’ হলো একটি ইঙ্গিতবাচক বিশেষ্য (اسم إشارة) যা সুকুনের ওপর মাবনি এবং মহল্লে রাফা-তে (في محل رفع) মুবতাদা (مبتدأ)। {يوم}: মারফু (مرفوع) খবর (خبر), আর এর রাফা-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান দম্মা। {ينفَعُ}: মারফু (مرفوع) বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع)। {الصادقينَ}: অগ্রবর্তী কর্ম (مفعول به مقدم) যা মানসুব (منصوب), আর এর নাসব-এর চিহ্ন হলো ‘ইয়া (الياء)’; কারণ এটি জম' মুযাক্কার সালিম (جمع مذكر سالم)। {صدقُهم}: ‘ছিদকু (صِدْقُ)’ হলো মারফু (مرفوع) ফায়েল (فاعل), আর ‘হা (الْهَاءُ)’ হলো একটি সংলগ্ন সর্বনাম (ضمير مُتَّصل) যা দম্মা-এর ওপর মাবনি এবং মহল্লে জার-এ (في محل جر) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)। আর ‘মীম (الْمِيمُ)’ হলো পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন (علامة جمع الذكور) যা সুকুনের ওপর মাবনি এবং এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই। {يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ} বাক্যটি: মহল্লে জার-এ (في محل جر) এযাফাত (الإضافة) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
والخامسةُ: الواقعةُ (جَوَابًا لِشَرْطٍ جَازِمٍ)، إذا كانتْ مقرونةً بـ «الْفَاءِ»، أو بـ «إِذَا الْفُجَائِيَّةِ»، نحوُ: {من يضلل الله فلا هادي له} [الأعراف: 186](1)، ونحوُ: {وإن تصبهم سيئة بما قدمت أيديهم إذا هم يقنطون} [الروم: 36](2).

--------------------------------------------

(1) {مَنْ}: شرطيَّةٌ جازمةٌ، وهي اسمٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به مُقَدَّمٌ. {يُضلل}: فعلُ الشرطِ، مُضارعٌ مجزومٌ، وعلامةُ جزمِه السُّكونُ الذي حُرِّكَ بالكسرِ؛ لالتقاءِ السَّاكنينِ. {اللهُ}: لفظُ الجلالةِ فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. {فَلَا}: «الْفَاءُ»: رابطةٌ لجوابِ الشَّرطِ، لا محلَّ لها من الإعرابِ، «لَا»: نافيةٌ للجنسِ، لا محلَّ لها من الإعرابِ (وهي تعملُ عملَ «إنَّ» بشروطٍ معينةٍ مذكورةٍ بالتفصيلِ في كتبِ القواعدِ النَّحْويَّةِ). {هادِيَ}: اسمُ «لَا» مَبنيٌّ على الفتحِ في محلِّ نصبٍ، وهو مفردٌ؛ ليسَ مُضافًا ولا شبيهًا بالمُضافِ؛ فلذلكَ بُنيَ على ما يُنصبُ بهِ. {لَه}: «اللَّامُ»: حرفُ جرٍّ لا محلَّ له من الإعرابِ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مبنيٌّ على الضمِّ في محلِّ جرٍّ بـ «اللَّام». وشبهُ الجملةِ {لَه} متعلِّقٌ بمحذوفٍ، هو خبرُ «لَا». وجملةُ «لَا هَادِيَ لَهُ»: في محلِّ جزمٍ جوابُ الشَّرطِ.

(2) {وإن}: «الْوَاوُ»: حرفُ عطفٍ مبنيٌّ على الفتحِ، لا محلَّ له من الإعرابِ، «إِنْ»: شرطيَّةٌ جازمةٌ، وهي حرفٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له من الإعرابِ. {تُصبْهم}: «تُصِبْ»: فعلُ الشَّرطِ، مضارعٌ مجزومٌ، وعلامةُ جزمِه السُّكونُ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ متصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به، و «الْمِيمُ»: علامةُ جمعِ الذكورِ مبنيَّةٌ على السكونِ لا مَحَلَّ لها مِن الإعراب. {سيِّئةٌ}: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه .. {بما}: «الْبَاءُ»: حرفُ جرٍّ، لا محلَّ له مِن الإعرابِ، و «مَا»: اسمٌ موصولٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، في محلِّ جرٍّ بـ «الْبَاءِ». والجارُّ والمجرورُ {بما} مُتعلِّقانِ بـ {تُصبْهم}. {قدَّمت}: «قَدَّمَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. و «تاءُ التأنيثِ»: حرفٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ لهُ من الإعرابِ. {أيديهم}: «أيدي»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ المقدَّرةُ على الياءِ، منَعَ مِن ظُهورِها الثقلُ، وهو مضافٌ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ متَّصلٌ مبنيٌّ على الكسرِ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليه، و «الْمِيمُ»: علامةُ جمعِ الذكورِ مبنيَّةٌ على السكونِ لا مَحَلَّ لها مِن الإعراب. وجملةُ {قدَّمت أيدِيهم}: صلةُ الموصولِ، لا محلَّ لها مِن الإعرابِ. {إذا}: فُجائيَّةٌ، وهي حرفٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، وقد نابتْ عن الفاءِ في ربطِ الجوابِ بالشرطِ. {هم}: ضميرٌ منفصلٌ مبنيٌّ في محلِّ رفعٍ مبتدأٌ. {يقنطُونَ}: فعلٌ مضارعٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه ثبوتُ النونِ؛ لأنَّه مِن الأفعالِ الخمسةِ، و «وَاوُ الْجَمَاعَةِ»: ضميرٌ متَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ. وجملةُ {يقنطُونَ}: في محلِّ رفعٍ خبرُ المبتدإ. وجملةُ {إذا هُم يقنطُونَ}: في محلِّ جزمٍ جوابُ الشرطِ.
পঞ্চম প্রকার: এমন বাক্য যা (একটি জযম প্রদানকারী শর্তের উত্তর হিসেবে) আসে, যখন তা «ফা»-এর সাথে অথবা «আকস্মিকতা প্রকাশক ইযা»-এর সাথে যুক্ত থাকে। যেমন: {আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই} [আল-আরাফ: ১৮৬](১), এবং যেমন: {আর যদি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে, তবে অমনি তারা হতাশ হয়ে পড়ে} [আর-রুম: ৩৬](২)।

--------------------------------------------

(১) {মান}: জযম প্রদানকারী শর্তবাচক শব্দ; এটি সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি বিশেষ্য, যা অগ্রবর্তী কর্মপদ হিসেবে নসব-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। {ইউদিলিল}: শর্তের ক্রিয়া, জযমপ্রাপ্ত বর্তমানকালীন ক্রিয়া; এর জযমের চিহ্ন হলো সুকুন যা দুই সুকুন একত্রিত হওয়ার কারণে কাসরা (জের) দ্বারা হারাকাতযুক্ত হয়েছে। {আল্লাহ}: শব্দে জালালাত, এটি কর্তৃপদ যা রফ’ প্রাপ্ত এবং এর শেষে পেশ দৃশ্যমান। {ফা-লা}: «ফা» হলো শর্তের উত্তরের সাথে সংযোগকারী, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। «লা» হলো জাতীয়তা বা প্রকারকে অস্বীকারকারী অব্যয়, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই (এটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে «ইন্না»-এর মতো কাজ করে, যা ব্যাকরণ শাস্ত্রের বইগুলোতে বিস্তারিত বর্ণিত আছে)। {হাদিয়া}: এটি «লা»-এর বিশেষ্য, যা ফাতহা-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং নসব-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এটি একবচন, মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) বা মুদাফ-এর সদৃশ নয়; তাই এটি নসব হওয়ার চিহ্নের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে। {লাহু}: «লাম» হলো অব্যয় যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই, এবং «হা» হলো যম্মাহ (পেশ)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত সর্বনাম যা অব্যয়টির প্রভাবে জর-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। {লাহু} নামক বাক্যখণ্ডটি একটি উহ্য পদের সাথে সম্পর্কিত, যা «লা»-এর খবর হিসেবে গণ্য। আর «লা হাদিয়া লাহু» পুরো বাক্যটি শর্তের উত্তর হিসেবে জযম-এর স্থানে রয়েছে।

(২) {ওয়া ইন}: «ওয়াও» হলো সংযোজক অব্যয় যা ফাতহা-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। «ইন» হলো জযম প্রদানকারী শর্তবাচক অব্যয় যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। {তুসিবহুম}: «তুসিব» হলো শর্তের ক্রিয়া, জযমপ্রাপ্ত বর্তমানকালীন ক্রিয়া এবং জযমের চিহ্ন হলো সুকুন। «হা» হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম যা যম্মাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং কর্মপদ হিসেবে নসব-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। «মীম» হলো পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। {সাইয়িআতুন}: এটি কর্তৃপদ যা রফ’ প্রাপ্ত এবং এর শেষে পেশ দৃশ্যমান। {বিমা}: «বা» হলো অব্যয় যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। «মা» হলো একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং অব্যয়টির কারণে জর-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। {বিমা} নামক অব্যয় ও তার পরবর্তী শব্দ {তুসিবহুম} ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। {কাদ্দামাত}: «কাদ্দামা» হলো অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতহা-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত। আর «স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা» হলো সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি বর্ণ যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। {আইদিহিম}: «আইদি» হলো কর্তৃপদ যা রফ’ প্রাপ্ত এবং এর রফ’-এর চিহ্ন হলো ইয়া-এর ওপর থাকা উহ্য পেশ, যা উচ্চারণ করা কঠিন হওয়ার কারণে অপ্রকাশ্য রয়ে গেছে। এটি মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত পদ)। «হা» হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা কাসরা-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং মুদাফ ইলাইহি হিসেবে জর-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। «মীম» হলো পুরুষবাচক বহুবচনের চিহ্ন যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। আর {কাদ্দামাত আইদিহিম} বাক্যটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যের অনুগামী বাক্য, যার ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই। {ইযা}: এটি আকস্মিকতা প্রকাশক বর্ণ, যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং শর্তের উত্তরের সাথে সংযোগকারী হিসেবে «ফা»-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। {হুম}: পৃথক সর্বনাম যা উদ্দেশ্য (মুবতাদা) হিসেবে রফ’-এর স্থানে রয়েছে। {ইয়ানাতুন}: এটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া যা রফ’ প্রাপ্ত এবং রফ’-এর চিহ্ন হলো নুন-এর স্থিতি; কারণ এটি পঞ্চ-ক্রিয়া (আফআলুল খামসা)-এর অন্তর্ভুক্ত। «ওয়াও আল-জামাআহ» হলো সংযুক্ত সর্বনাম যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং কর্তৃপদ হিসেবে রফ’-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। {ইয়ানাতুন} বাক্যটি মুবতাদা-এর সংবাদ (খবর) হিসেবে রফ’-এর স্থানে রয়েছে। আর {ইযা হুম ইয়ানাতুন} পুরো বাক্যটি শর্তের উত্তর হিসেবে জযম-এর স্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
والسادسةُ والسابعةُ: «التَّابِعَةُ لِمُفْرَدٍ أَوْ جُمْلَةٍ لَهَا مَحَلٌّ»، فالأولى: {من قبل أن يأتي يوم لا بيع فيه} [البقرة: 254](1)، فالجملةُ

--------------------------------------------

(1) قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ}؛ {مِن}: حرفُ جرٍّ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له من الإعرابِ. {قبلِ}: اسمٌ مجرورٌ بـ {من}، وعلامةُ جرِّه الكسرةُ الظاهرةُ على آخرِه، وشبهُ الجملةِ {مِن قبلِ} متعلِّقٌ بـ {أنفقوا}. {أَنْ}: حرفٌ مصدريٌّ ناصبٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له مِن الإعرابِ. {يأتي}: فعلٌ مضارعٌ منصوبٌ بـ «أَنِ الْمَصْدَرِيَّةِ»، وعلامةُ نصبِه الفتحةُ الظاهرةُ على آخرِه. والمصدرُ المؤوَّلُ {أنْ يأتيَ}: في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ. {يوم}: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. {لَا}: حرفُ نفيٍ مُهمَلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له من الإعرابِ. {بيعٌ}: مبتدأ مرفوع، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. {فيه}: «فِي»: حرفُ جرٍّ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ لهُ من الإعرابِ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ متَّصلٌ مبنيٌّ على الكسرِ، في محلِّ جرٍّ بـ «فِي». وشبهُ الجملةِ {فيه} متعلِّقٌ بمحذوفٍ، خبرُ المبتدإِ. والجملةُ الاسميَّةُ {لا بيعٌ فيه}: في محلِّ رفعٍ نعتٌ لـ {يوم}.
ষষ্ঠ ও সপ্তম (প্রকার): ‘এমন বাক্য যা কোনো একক শব্দ (مفرد) অথবা এমন বাক্যকে অনুসরণকারী (تابعة) যার ব্যাকরণগত অবস্থান (محل) রয়েছে’। প্রথমটির উদাহরণ: {সেই দিন আসার আগে যাতে কোনো ক্রয়-বিক্রয় নেই} [আল-বাকারা: ২৫৪](1), সুতরাং বাক্যটি (الجملة)

--------------------------------------------

(1) মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো, সেই দিন আসার আগে যাতে কোনো ক্রয়-বিক্রয় নেই}। {মিন (من)}: অব্যয় (حرف جر), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على السكون), ব্যাকরণগতভাবে যার কোনো অবস্থান (لا محل له من الإعراب) নেই। {কাবলি (قبل)}: {মিন}-এর মাধ্যমে মাজরুর বিশেষ্য (اسم مجرور), এবং এর জার-এর চিহ্ন (علامة جره) হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য কাসরা (الكسرة الظاهرة)। আর বাক্যাংশটি (شبه الجملة) {মিন কাবলি} ‘أنفقوا’ (ব্যয় করো) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق)। {আন (أن)}: মাসদার ও নাসব প্রদানকারী অব্যয় (حرف مصدري ناصب), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على السكون), ব্যাকরণগতভাবে যার কোনো অবস্থান (لا محل له من الإعراب) নেই। {ইয়াতি (يأتي)}: ‘আন’ মাসদারিয়াহ (أن المصدرية) দ্বারা নাসবপ্রাপ্ত বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع منصوب), এবং এর নাসব-এর চিহ্ন (علامة نصبه) হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য ফাতহা (الفتحة الظاهرة)। আর ব্যাখ্যামূলক ক্রিয়ামূলটি (المصدر المؤول) {আন ইয়াতি}: মাজরুর অবস্থায় মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে অবস্থিত। {ইয়াওমুন (يوم)}: রফাপ্রাপ্ত কর্তা (فاعل مرفوع), এবং এর রফা-এর চিহ্ন (علامة رفعه) হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য পেশ (الضمة الظاهرة)। {লা (لا)}: কার্যকারিতাহীন না-বোধক অব্যয় (حرف نفي مهمل), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على السكون), ব্যাকরণগতভাবে যার কোনো অবস্থান (لا محل له من الإعراب) নেই। {বাইউন (بيع)}: রফাপ্রাপ্ত উদ্দেশ্য (مبتدأ مرفوع), এবং এর রফা-এর চিহ্ন (علامة رفعه) হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য পেশ (الضمة الظاهرة)। {ফিহি (فيه)}: ‘ফী (في)’ হলো অব্যয় (حرف جر), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني), ব্যাকরণগতভাবে যার কোনো অবস্থান নেই; এবং ‘হা (الهاء)’ হলো সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل), যা কাসরা-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الكسر), এবং ‘ফী (في)’ দ্বারা মাজরুর-এর স্থানে (في محل جر) অবস্থিত। আর বাক্যাংশটি (شبه الجملة) {ফিহি} একটি উহ্য সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা মুবতাদা বা উদ্দেশ্যের সংবাদ (خبر المبتدإ)। এবং বিশেষ্যমূলক বাক্যটি (الجملة الاسمية) {লা বাইউন ফিহি}: রফা-এর অবস্থায় (في محل رفع) {ইয়াওমুন}-এর বিশেষণ (نعت) হিসেবে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
صفةٌ لـ {يومٍ}، والثانيةُ نحوُ: «زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ، وَقَعَدَ أَخُوهُ»(1).

--------------------------------------------

(1) «زَيْدٌ»: مبتدأٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. «قَامَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «أَبُوهُ»: «أَبُو»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الواوُ؛ لأنَّه من الأسماءِ الخمسةِ، وهو مضاف، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ .. والجملةُ الفعليَّةُ «قَامَ أَبُوهُ»: في محلِّ رفعٍ خبرُ المبتدإِ. «وَقَعَدَ»: «الْوَاوُ»: حرفُ عطفٍ مبنيٌّ على الفتحِ، لا محلَّ له من الإعرابِ، و «قعَدَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «أَخُوهُ»: «أَخُو»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الواوُ؛ لأنَّه من الأسماءِ الخمسةِ، وهو مضافٌ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ. والجملةُ الفعليَّةُ «قَعَدَ أَخُوهُ»: في محلِّ رفعٍ معطوفةٌ على جملةِ «قَامَ أَبُوهُ».

وقد نظمَ أبو إسحاقَ الزواويُّ رحمه الله الجملَ التي لها مَحَلٌّ مِنَ الإعرابِ في بيتينِ، فقال:

مَنْ ظَنَّنِي أَعْلَمْتُهُ فَضْلِي ظَهَرْ … إِذْ صُغْتُ نَظْمًا اسْتَنَارَ وَزَهَرْ

فَاللهُ يَعْلَمُ أَكُنْتُ كِدْتُ … أَقُولُ أَنْوِي الْخَيْرَ إِنِّي سُدْتُ

 

وهذا إعرَابُهما:

(مَنْ): اسمُ شرطٍ مبنيٌّ على السُّكونِ، في محَلِّ رفعٍ مبتدأٌ.

(ظَنَّنِي): «ظَنَّ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ، و «النُّونُ»: للوقايةِ، و «الياءُ»: ضميرٌ متصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به أوَّلُ لـ «ظنَّ»، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ جوازًا، تقديرُه «هو». وجملةُ «ظَنَّنِي» في محلِّ رفعٍ خبرُ المبتدإِ «مَنْ». =
এটি {يومٍ}-এর একটি গুণ বা বিশেষণ (صفة), আর দ্বিতীয়টি হলো যেমন: «জায়েদ, তার পিতা দাঁড়িয়েছে এবং তার ভাই বসেছে»(১)।

--------------------------------------------

(১) «জায়েদ»: এটি পেশযুক্ত (مرفوع) মুবতাদা (مبتدأ), এর পেশ হওয়ার আলামত হলো এর শেষাক্ষরে দৃশ্যমান পেশ। «قام»: এটি ফাতাহ বা জবরের ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني) অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض)। «أبوه»: এখানে «أبو» হলো পেশযুক্ত (مرفوع) কর্তা (فاعل), এর পেশ হওয়ার আলামত হলো ‘ওয়াও’; কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ বিশেষ্যের (الأسماء الخمسة) অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মুদাফ (مضاف); আর «الهاء» হলো যম্মাহ বা পেশের ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني) একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل), যা মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জেরের (جر) স্থানে রয়েছে। আর «قام أبوه» নামক ক্রিয়াগত বাক্যটি (الجملة الفعلية) মুবতাদার খবর (خبر) হিসেবে পেশের (رفع) স্থানে রয়েছে। «وقعد»: এখানে «الواو» হলো ফাতাহ বা জবরের ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني) একটি সংযোজক অব্যয় (حرف عطف), ব্যাকরণগত অবস্থানে এর কোনো স্থান নেই। আর «قعد» হলো ফাতাহ বা জবরের ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني) অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض)। «أخوه»: এখানে «أخو» হলো পেশযুক্ত (مرفوع) কর্তা (فاعل), এর পেশ হওয়ার আলামত হলো ‘ওয়াও’; কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ বিশেষ্যের (الأسماء الخمسة) অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মুদাফ (مضاف); আর «الهاء» হলো যম্মাহ বা পেশের ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني) একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل), যা মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জেরের (جر) স্থানে রয়েছে। আর «قعد أخوه» নামক ক্রিয়াগত বাক্যটি (الجملة الفعلية) «قام أبوه» বাক্যের ওপর সংযোজিত (معطوفة) হিসেবে পেশের (رفع) স্থানে রয়েছে।

আবু ইসহাক আল-জাওয়াবি (রহিমাহুল্লাহ) ব্যাকরণগত অবস্থানসম্পন্ন বাক্যসমূহকে দুটি পংক্তিতে ছন্দবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন:

যে আমার সম্পর্কে (মন্দ) ধারণা পোষণ করেছিল, আমি তাকে জানিয়ে দিয়েছি যে আমার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেয়েছে... যখন আমি এমন এক কাব্য বিন্যাস করেছি যা আলোকোজ্জ্বল ও বিকশিত হয়েছে।

আল্লাহ জানেন, আমি কি এমন হতে চলেছিলাম যে... বলব আমি কল্যাণের ইচ্ছা রাখি, নিশ্চয়ই আমি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছি।

 

আর এই হলো বাক্য দুটির ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب):

(من): এটি সুকুন বা স্থিরতার ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني) একটি শর্তবাচক বিশেষ্য (اسم شرط), যা মুবতাদা (مبتدأ) হিসেবে পেশের (رفع) স্থানে রয়েছে।

(ظنني): «ظن» হলো ফাতাহ বা জবরের ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني) অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض); «النون» হলো সুরক্ষামূলক নুন (للوقاية); এবং «الياء» হলো সুকুন বা স্থিরতার ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني) একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل), যা «ظن» ক্রিয়ার প্রথম কর্ম (مفعول به أول) হিসেবে জবরের (نصب) স্থানে রয়েছে। এর কর্তা (فاعل) হলো উহ্য সর্বনাম, যার সম্ভাব্য রূপ হলো ‘সে’। আর «ظنني» বাক্যটি «من» নামক মুবতাদার খবর (خبر) হিসেবে পেশের (رفع) স্থানে রয়েছে। =
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= (أَعْلَمْتُهُ): «أعلَمَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «تاءِ الفاعلِ»، وهذه «التَّاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ، و «الهاءُ»: ضميرٌ متصلٌ مبنيٌّ على الضمِّ في محل نصبٍ مفعولٌ به أوَّلُ لـ «أعلم».

(فَضْلِي): «فضل»: مفعولٌ بهِ ثانٍ لـ «أعلَمَ»، منصوبٌ، وعلامةُ نصبِه الفتحةُ المقدَّرةُ على آخِرِه، منَع مِن ظُهورِها اشتغالُ المحَلِّ بحركةِ المناسَبةِ، وهو مضافٌ، و «الْيَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ.

(ظَهَرْ): فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ المقدَّرِ، منَع مِن ظُهورِه اشتغالُ المحَلِّ بالسُّكونِ العارضِ لحركةِ الرَّوِيِّ، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ جوازًا، تقديرُه «هو»، وجملةُ «ظَهَرْ» في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به ثالثٌ لـ «أعلَمَ»، وجملةُ «أَعْلَمْتُهُ فَضْلِي ظَهَرْ» في محل نصبٍ مفعولٌ به ثانٍ لـ «ظنَّ».

(إذ): ظرفٌ لما مضَى من الزَّمانِ مبنيٌّ على السُّكونِ، متعلِّقٌ بـ «أعلمتُه»، وهو مضافٌ.

(صُغْتُ): «صاغ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «تاءِ الفاعلِ»، وهذه «التَّاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ، والجملةُ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ.

(نَظْمًا): مفعولٌ به منصوبٌ، وعلامةُ نصبِه الفتحةُ الظاهرةُ على آخرِه.

(اسْتَنَارَ): فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ جوازًا، تقديرُه «هو»، وجملةُ «اسْتَنَارَ» في محلِّ نصبٍ نعتٌ لـ «نظمًا».

(وَزَهَر): «الواوُ»: حرفُ عطفٍ، مبنيٌّ على الفتحِ لَا محلَّ لهُ مِنَ الإعرابِ، و «زَهَرْ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ المقدَّرِ، منعَ من ظهورِه اشتغالُ المحلِّ بالسُّكونِ العارضِ لحركةِ الرَّوِيِّ، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ جوازًا، تقديره «هو»، وجملةُ «زَهَرْ» في محلِّ نصبٍ، معطوفةٌ على جملةِ «استنارَ».

(فَاللَّهُ): الفاءُ: رابطةٌ لجوابِ الشَّرطِ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ، ولفظُ الجلالةِ «اللهُ»: مبتدأٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظَّاهرةُ.

(يَعْلَمُ): مضارعٌ مرفوعٌ وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ جوازًا، =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= (আ’লামতুহু): ‘আ’লামা’ একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ‘তা-উল-ফায়িল’ যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি); এই ‘তা’ একটি সংযুক্ত সর্বনাম, যা রফ-এর স্থলে কর্তা (ফায়িল) হিসেবে দম্মাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি)। আর ‘হা’ একটি সংযুক্ত সর্বনাম, যা ‘আ’লামা’ ক্রিয়ার প্রথম কর্ম হিসেবে নসব-এর স্থলে দম্মাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি)।

(ফাদলী): ‘ফাদল’ শব্দটি ‘আ’লামা’ ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম, যা মানসুব এবং এর নসব-এর চিহ্ন হলো শেষাক্ষরে থাকা উহ্য ফাতহাহ; পরবর্তী বর্ণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হারাকাত ব্যবহারের কারণে যা প্রকাশ পায়নি। শব্দটি মুদাফ এবং ‘ইয়া’ একটি সংযুক্ত সর্বনাম, যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং জার-এর স্থলে মুদাফ ইলাইহি হিসেবে গণ্য।

(যাহার): এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, যা উহ্য ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি); কবিতার অন্ত্যমিলের ছন্দের (রওয়ি) কারণে আগত আকস্মিক সুকুন-এর ফলে ফাতহাহটি প্রকাশিত হয়নি। এর কর্তা (ফায়িল) হলো একটি উহ্য সর্বনাম, যার অনুমিত রূপ হলো ‘হুয়া’। ‘যাহার’ বাক্যটি ‘আ’লামা’ ক্রিয়ার তৃতীয় কর্ম হিসেবে নসব-এর স্থলে অবস্থিত। আর ‘আ’লামতুহু ফাদলী যাহার’ পূর্ণ বাক্যটি ‘যন্না’ ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম হিসেবে নসব-এর স্থলে অবস্থিত।

(ইয): এটি অতীতকালের সময়বাচক অব্যয় (যরফে যামান), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি)। এটি ‘আ’লামতুহু’ ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি মুদাফ হিসেবে ব্যবহৃত।

(সুগতু): ‘সাগা’ একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ‘তা-উল-ফায়িল’ যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি)। এই ‘তা’ একটি সংযুক্ত সর্বনাম, যা রফ-এর স্থলে কর্তা (ফায়িল) হিসেবে দম্মাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি)। এই বাক্যটি জার-এর স্থলে মুদাফ ইলাইহি হিসেবে গণ্য।

(নাযমান): এটি কর্ম (মাফউল বিহি), যা মানসুব এবং এর নসব-এর চিহ্ন হলো শেষাক্ষরে দৃশ্যমান ফাতহাহ।

(ইস্তানা-রা): এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি)। এর কর্তা (ফায়িল) হলো উহ্য সর্বনাম, যার অনুমিত রূপ হলো ‘হুয়া’। ‘ইস্তানা-রা’ বাক্যটি ‘নাযমান’ শব্দের বিশেষণ (নআত) হিসেবে নসব-এর স্থলে অবস্থিত।

(ওয়া যাহার): ‘ওয়া’ হলো সংযোজক অব্যয় (হরফে আতিফ), যা ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এর কোনো আ’রাব নেই। ‘যাহার’ একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, যা উহ্য ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি); কবিতার অন্ত্যমিলের কারণে আগত সুকুন-এর ফলে ফাতহাহটি প্রকাশ হতে বাধা পেয়েছে। এর কর্তা (ফায়িল) হলো উহ্য সর্বনাম ‘হুয়া’। ‘যাহার’ বাক্যটি নসব-এর স্থলে অবস্থিত এবং এটি ‘ইস্তানা-রা’ বাক্যের অনুগামী (মাতুফ)।

(ফাল্লাহু): ‘ফা’ হলো শর্তের জওয়াবের সাথে সংযোগকারী অব্যয়, যার কোনো আ’রাব নেই। মহান আল্লাহর নাম ‘আল্লাহু’ হলো মুবতাদা, যা মারফু এবং এর রাফ-এর চিহ্ন হলো দৃশ্যমান দম্মাহ।

(ইয়া’লামু): এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (ফেলে মুদারি), যা মারফু এবং এর রাফ-এর চিহ্ন হলো দম্মাহ। এর কর্তা (ফায়িল) হলো একটি উহ্য সর্বনাম, =
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= تقديرُه «هو» يعودُ على لفظِ الجلالةِ «الله». وجملةُ «يَعْلَمُ» في محلِّ رفعٍ خبرُ المبتدإِ «الله». وجملةُ «اللهُ يعلمُ» في محلِّ جزمٍ جوابُ الشَّرطِ.

(أَكُنْتُ): «الهمزةُ»: للاستفهامِ لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ، و «كنتُ»: «كان»: فعلٌ ماضٍ ناقصٌ ناسخٌ، مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «التَّاءِ»، وهذه «التَّاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ رفعٍ اسمُ «كان». وجملةُ «كُنْتُ» في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به لـ «يعلمُ».

(كِدْتُ): «كاد»: فعلٌ ماضٍ ناقصٌ، مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «التَّاءِ»، وهذه «التَّاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ رفعٍ اسمُ «كادَ».

(أَقُولُ): مضارعٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظَّاهرةُ على آخرِه، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ وجوبًا تقديرُه «أنا»، والجملةُ في محلِّ نصبٍ خبرُ «كاد». وجملةُ «كِدْتُ أَقُولُ» في محلِّ نصبٍ خبرُ «كان».

(أَنْوِي): مضارعٌ مرفوعٌ بضمَّةٍ مقدرةٍ منع مِن ظهورها الثِّقَل، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ وجوبًا، تقديرُه «أنا». وجملةُ «أَنْوِي» في محلِّ نصبٍ حالٌ من فاعلِ «أقولُ»، والتقديرُ: أقولُ ناويًا الخيرَ.

(الْخَيْرَ): مفعولٌ به للفعلِ «أنوي»، منصوبٌ، وعلامةُ النَّصبِ الفتحةُ.

(إِنِّي): «إنَّ»: حرفُ توكيدٍ ناسخٌ، والياءُ: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ نصبٍ اسمُ «إنَّ».

(سُدْتُ): «سادَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «تاءِ الفاعلِ»، وهذه «التَّاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ، والجملةُ في محلِّ رفعٍ خبرُ «إنَّ». وجملةُ «إِنِّي سُدْتُ»: مقولُ القولِ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به.

فتبين مما سبق أنَّ:

1 - جملة «ظَنَّنِي» في محلِّ رفعٍ خبرُ المبتدإِ «مَنْ»، وجملةَ «يَعْلَمُ» في محلِّ رفعٍ خبرُ المبتدإِ لفظِ الجلالةِ «الله»، وجملةَ «كِدْتُ أَقُولُ» في محلِّ نصبٍ خبرُ «كان»، وجملةَ «أقول» في محلِّ نصبٍ خبرُ «كاد»، وجملةَ «سُدْتُ» في محلِّ رفعٍ خبرُ «إنَّ». =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এর উহ্য রূপ হলো ‘তিনি’ (هو), যা মহিমান্বিত শব্দ (لفظ الجلالة) ‘আল্লাহ’-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এবং ‘তিনি জানেন’ (يَعْلَمُ) বাক্যটি মুক্তাদা (مبتدأ) ‘আল্লাহ’-এর খবর (خبر) হিসেবে মারফু (رفع) অবস্থায় রয়েছে। আর ‘আল্লাহ জানেন’ (اللهُ يعلمُ) বাক্যটি শর্তের উত্তর (جواب الشرط) হিসেবে মাজযুম (جزم) অবস্থায় রয়েছে।

(أَكُنْتُ): এখানে ‘হামযাহ’ (الهمزة) হলো প্রশ্নবোধক অব্যয়, যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (إعراب) নেই। ‘কুনতু’ (كنتُ): ‘কানা’ (كان) একটি অসম্পূর্ণ ও পরিবর্তনকারী অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض ناقص ناسخ), যা ‘তা’ (تاء) এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুনযুক্ত হয়েছে। এই ‘তা’ (تاء) হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা পেশযুক্ত হয়ে মারফু (رفع) অবস্থায় ‘কানা’-এর বিশেষ্য (اسم كان) হিসেবে গণ্য। আর ‘কুনতু’ (كُنْتُ) বাক্যটি ‘ইয়ালামু’ (يعلمُ)-এর কর্ম (مفعول به) হিসেবে মানসুব (نصب) অবস্থায় রয়েছে।

(كِدْتُ): ‘কাদা’ (كاد) একটি অসম্পূর্ণ অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض ناقص), যা ‘তা’ (تاء) এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুনযুক্ত হয়েছে। এই ‘তা’ (تاء) হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা পেশযুক্ত হয়ে মারফু (رفع) অবস্থায় ‘কাদা’-এর বিশেষ্য (اسم كاد) হিসেবে গণ্য।

(أَقُولُ): এটি একটি মারফু (مرفوع) বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع), যার শেষাক্ষরে পেশ (ضمة) স্পষ্ট। এর কর্তা (فاعل) হলো আবশ্যিকভাবে উহ্য সর্বনাম ‘আনা’ (أنا)। এই বাক্যটি ‘কাদা’-এর খবর (خبر كاد) হিসেবে মানসুব (نصب) অবস্থায় রয়েছে। আর ‘কিদতু আকুলু’ (كِدْتُ أَقُولُ) বাক্যটি ‘কানা’-এর খবর (خبر كان) হিসেবে মানসুব (نصب) অবস্থায় রয়েছে।

(أَنْوِي): এটি একটি বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع), যা উচ্চারণে গুরুভার হওয়ার (ثقل) কারণে উহ্য পেশ (ضمة مقدرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) হয়েছে। এর কর্তা (فاعل) হলো আবশ্যিকভাবে উহ্য সর্বনাম ‘আনা’ (أنا)। আর ‘আনওয়ি’ (أَنْوِي) বাক্যটি ‘আকুলু’ (أقول)-এর কর্তার অবস্থা (حال) হিসেবে মানসুব (نصب) অবস্থায় রয়েছে। এর ভাবার্থ হলো: ‘আমি কল্যাণ কামনাকারী অবস্থায় বলছি’।

(الْخَيْرَ): এটি ‘আনওয়ি’ (أنوي) ক্রিয়ার কর্ম (مفعুল به), যা মানসুব (نصب) এবং এর জবর (فتحة) স্পষ্ট।

(إِنِّي): ‘ইন্না’ (إنَّ) হলো একটি নিশ্চয়তাসূচক পরিবর্তনকারী অব্যয় (حرف توكيد ناسخ), এবং ‘ইয়া’ (ياء) হলো সুকুনযুক্ত সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل), যা মানসুব (نصب) অবস্থায় ‘ইন্না’-এর বিশেষ্য (اسم إنَّ) হিসেবে গণ্য।

(سُدْتُ): ‘সাদা’ (سادَ) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض), যা কর্তাবাচক ‘তা’ (تاء الفاعل) এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুনযুক্ত হয়েছে। এই ‘তা’ (تاء) হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা পেশযুক্ত হয়ে মারফু (رفع) অবস্থায় কর্তা (فاعل) হিসেবে গণ্য। এই বাক্যটি ‘ইন্না’-এর খবর (خبر إنَّ) হিসেবে মারফু (رفع) অবস্থায় রয়েছে। আর ‘ইন্নি সুদতু’ (إِنِّي سُدْتُ) বাক্যটি ‘মাকুলুল কাওল’ (مقول القول) হিসেবে মানসুব (نصب) অবস্থায় কর্ম (مفعول به)।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হলো যে:

১ - ‘যননানি’ (ظَنَّنِي) বাক্যটি মুক্তাদা (مبتدأ) ‘মান’ (مَنْ)-এর খবর (خبر) হিসেবে মারফু (رفع) অবস্থায় রয়েছে; ‘ইয়ালামু’ (يَعْلَمُ) বাক্যটি মহিমান্বিত শব্দ (لفظ الجلالة) ‘আল্লাহ’-এর খবর (خبر) হিসেবে মারফু (رفع) অবস্থায় রয়েছে; ‘কিদতু আকুলু’ (كِدْتُ أَقُولُ) বাক্যটি ‘কানা’-এর খবর (خبر) হিসেবে মানসুব (نصب) অবস্থায় রয়েছে; ‘আকুলু’ (أقول) বাক্যটি ‘কাদা’-এর খবর (خبر) হিসেবে মানসুব (نصب) অবস্থায় রয়েছে এবং ‘সুদতু’ (سُدْتُ) বাক্যটি ‘ইন্না’-এর খবর (خبر) হিসেবে মারফু (رفع) অবস্থায় রয়েছে। =
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المسألةُ الثالثةُ: الجملةُ التي لا محلَّ لَها من الإعرابِ، وهي -أيضًا- سبعةٌ:

أحدُها: «الاِبْتِدَائِيَّةُ»، وتُسمَّى: «الْمُسْتَأْنَفَةَ» أيضًا، نحوُ: {إنا أنزلناه} [يوسف: 2، والدخان: 3، والقدر: 1](1).

الثانية: الواقعةُ «صِلَةً»، نحوُ: «جَاءَ الَّذِي قَامَ أَبُوهُ»(2).

--------------------------------------------

2 - وجملة «أَعْلَمْتُهُ» في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به ثانٍ لـ «ظنَّ»، وجملةَ «ظَهَرْ» في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به ثالث لـ «أعلم»، وجملةَ «كنتُ» في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به لـ «يعلمُ»، وجملةَ «إِنِّي سُدْتُ» مقولُ القولِ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به.

3 - وجملة «صغتُ» في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليه.

4 - وجملة «اسْتَنَارَ» في محلِّ نصبٍ نعتٌ لـ «نظمًا».

5 - جملة «زَهَر» في محلِّ نصبٍ معطوفةٌ على جملةِ «استنار».

6 - وجملة «اللهُ يعلمُ» في محلِّ جزمٍ جوابُ الشَّرطِ.

7 - وجملة «أَنْوِي» في محلِّ نصبٍ حالٌ من فاعلِ «أقولُ»، والتَّقديرُ: أقولُ ناويًا الخيرَ.

(1) {إنَّا}: «إِنَّ»: حرفٌ ناسخٌ مبنيٌّ على الفتحِ، لَا محلَّ لهُ مِنَ الإعرابِ، و «نَا»: ضميرٌ متصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، في محلِّ نصبٍ اسمُ «إِنَّ». {أنزلناه}: «أَنْزَل»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بضميرِ الرَّفعِ «نَا»، و «نَا»: ضميرٌ متَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ متصلٌ مبنيٌّ على الضمِّ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به. وجملةُ {أنزلناه}: في محلِّ رفعٍ خبرُ «إِنَّ». وجملةُ {إنَّا أنزلناه}: ابتدائيَّةٌ أو استئنافيَّةٌ لا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

(2) «جَاءَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «الَّذِي»: اسمٌ موصولٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، في محلِّ رفعٍ فاعلٌ. «قَامَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «أَبُوهُ»: «أَبُو»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الواوُ؛ لأنَّه من الأسماءِ الخمسةِ، وهو مضافٌ. «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ. والجملةُ الفعليةُ «قَامَ أَبُوهُ»: صلةُ الموصولِ، لا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.
তৃতীয় মাসআলা: সেই বাক্য যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (لا محلَّ لَها من الإعرাবِ) নেই, আর এগুলোও সাত প্রকার:

প্রথমটি: «প্রারম্ভিক বাক্য» (الاِبْتِدَائِيَّةُ), একে «পুনরারম্ভকারী বাক্য» (الْمُسْتَأْنَفَةَ)-ও বলা হয়, যেমন: {নিশ্চয়ই আমি তা নাযিল করেছি} [ইউসুফ: ২, আদ-দুখান: ৩, আল-কদর: ১](১)।

দ্বিতীয়টি: যা «সংযোজক বাক্য» (صِلَةً) হিসেবে পতিত হয়, যেমন: «সেই ব্যক্তি এসেছে যার পিতা দাঁড়িয়েছে»(২)।

--------------------------------------------

২ - এবং «আলামতুহু» বাক্যটি «যন্না»-র দ্বিতীয় কর্মপদ (مفعولٌ به ثانٍ) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে, এবং «যাহারা» বাক্যটি «আলামা»-র তৃতীয় কর্মপদ (مفعولٌ به ثالث) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে, এবং «কুনতু» বাক্যটি «ইয়ালামু»-র কর্মপদ (مفعولٌ به) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে, এবং «ইন্নি সুদতু» বাক্যটি মাকুলুল কাওল (مقولُ القولِ) হিসেবে কর্মপদ (مفعولٌ به) হয়ে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে।

৩ - এবং «সাগতু» বাক্যটি সম্বন্ধপদ (مضافٌ إليه) হিসেবে জরের (جرّ) স্থানে রয়েছে।

৪ - এবং «ইস্তানা-রা» বাক্যটি «নাযমান»-এর জন্য গুণবাচক বিশেষণ (نعتٌ) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে।

৫ - «যাহার» বাক্যটি «ইস্তানা-রা» বাক্যের ওপর সংযোজিত (معطوفةٌ) হয়ে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে।

৬ - এবং «আল্লাহু ইয়ালামু» বাক্যটি শর্তের উত্তর (جوابُ الشَّرطِ) হিসেবে জযমের (جزم) স্থানে রয়েছে।

৭ - এবং «আনওয়ি» বাক্যটি «আকুলু»-র কর্তার অবস্থা (حالٌ) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে, আর এর সম্ভাব্য রূপ হলো: আমি কল্যাণের নিয়ত করে বলছি।

(১) {ইন্না}: এখানে «ইন্না» হলো একটি পরিবর্তনকারী অব্যয় (حرفٌ ناسخٌ) যা ফাতহার ওপর মাবনি, এর কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (لا محلَّ لهُ مِنَ الإعرابِ) নেই। আর «না» হলো সুকুনের ওপর মাবনি একটি সংলগ্ন সর্বনাম (ضميرٌ متصلٌ), যা «ইন্না»-র বিশেষ্য (اسمُ «إِنَّ») হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে। {আনযালনাহু}: এখানে «আনযালা» হলো একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعلٌ ماضٍ) যা সুকুনের ওপর মাবনি; রফ-প্রদানকারী সর্বনাম «না»-র সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে। আর «না» হলো সুকুনের ওপর মাবনি একটি সংলগ্ন সর্বনাম (ضميرٌ متَّصلٌ) যা কর্তা (فاعلٌ) হিসেবে রফ-এর স্থানে রয়েছে। আর «হা» হলো যম্মার ওপর মাবনি একটি সংলগ্ন সর্বনাম (ضميرٌ متصلٌ) যা কর্মপদ (مفعولٌ به) হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে। আর {আনযালনাহু} বাক্যটি «ইন্না»-র সংবাদ (خبرُ «إِنَّ») হিসেবে রফ-এর স্থানে রয়েছে। এবং {ইন্না আনযালনাহু} সম্পূর্ণ বাক্যটি একটি প্রারম্ভিক (ابتدائيَّةٌ) বা পুনরাম্ভকারী (استئنافيَّةٌ) বাক্য, যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (لا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ) নেই।

(২) «জা-আ»: এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعلٌ ماضٍ) যা ফাতহার ওপর মাবনি। «আল্লাযি»: এটি একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسمٌ موصولٌ) যা সুকুনের ওপর মাবনি এবং কর্তা (فاعلٌ) হিসেবে রফ-এর স্থানে রয়েছে। «ক-মা»: এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعلٌ ماضٍ) যা ফাতহার ওপর মাবনি। «আবুহু»: এখানে «আবু» হলো একটি মারফু (مرفوع) কর্তা, আর এর রফ-এর আলামত হলো 'ওয়াও'; কারণ এটি আসমায়ে খামসাহ (الأسماء الخمسة) এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি একটি মুযাফ (مضاف)। «হা» হলো যম্মার ওপর মাবনি একটি সংলগ্ন সর্বনাম (ضميرٌ مُتَّصلٌ) যা সম্বন্ধপদ (مضافٌ إليهِ) হিসেবে জরের স্থানে রয়েছে। আর «ক-মা আবুহু» এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি হলো সিলাতুল মাওসুল (صلةُ الموصولِ), যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (لا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ) নেই।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
الثالثة: «الْمُعْتَرَضَةُ»، نحوُ: {فإن لم تفعلوا ولن تفعلوا فاتقوا النار} [البقرة: 24](1).

--------------------------------------------

(1) {فإن}: «الفاء»: حرفُ استئنافٍ مبنيٌّ على الفتحِ، لا محلَّ له من الإعرابِ، «إِنْ»: شرطيَّةٌ جازمةٌ مبنيّةٌ على السُّكونِ، وهي حرفٌ لا محلَّ له مِنَ الإعرابِ. {لَمْ}: حرفُ نفيٍ وقلبٍ وجزمٍ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له من الإعرابِ. {تفعلوا}: فعلٌ مضارعٌ مجزومٌ بـ {لَمْ}، وعلامةُ جزمِه حذفُ النُّونِ؛ لأنَّه مِن الأفعالِ الخمسةِ، و «وَاوُ الْجَمَاعَةِ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ. قالَ أبو البقاءِ العكبريُّ في كتابِه «التبيان في إعرابِ القرآن»: «الجزمُ بـ (لَمْ) لَا بـ (إِنْ)؛ لأنَّ (لَمْ) عاملٌ شَديدُ الاتِّصالِ بمعمولِه. وقال النَّحاسُ في «إعراب القرآن»: «كيفَ دخلتْ (إِنْ) على (لَمْ) ولا يدخلُ عاملٌ على عاملٍ؟ فالجوابُ أنَّ (إِنْ) هنا غيرُ عاملةٍ في اللفظِ؛ فدخلتْ على (لَمْ) كما تدخلُ على الماضِي؛ لأنَّها لا تعملُ في (لَمْ) كما لا تعمل في الماضي، فمعنى (إنْ لم تفْعلوا): إنْ تركتُم الفعل». والفعلُ مع «لَمْ» في محلِّ جزمٍ؛ لأنَّ «لَمْ» تَقلبُ المضارعَ ماضيًا؛ وفعلُ الشَّرطِ إذا جاءَ بصيغةِ الماضي؛ أُعرِبَ ماضيًا، ثم جعلنَاه في محلِّ جزمٍ. {ولن}: «الواوُ»: اعتراضيَّةٌ، لا محلَّ لها من الإعرابِ. «لَنْ»: حرفُ نفيٍ ونصبٍ للفعلِ المضارعِ، مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له من الإعرابِ. {تفعلوا}: فعلٌ مضارعٌ منصوبٌ بـ «لَنْ»، وعلامةُ النَّصبِ حذفُ النُّونِ، و «وَاوُ الْجَمَاعَةِ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ، وجملةُ «لَنْ تَفْعَلُوا»: اعتراضيَّةٌ لا محلَّ لها من الإعرابِ. {فاتَّقوا}: «الْفَاءُ»: رابطةٌ لجوابِ الشَّرطِ، لا محلَّ لها من الإعرابِ .. «اتَّقُوا»: فعلُ أمرٍ مبنيٌّ على حذفِ النُّونِ، و «وَاوُ الْجَمَاعَةِ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ. {النَّار}: مفعولٌ به منصوبٌ، وعلامةُ النَّصبِ الفتحةُ الظاهرةُ على آخرِه. وجملةُ {فاتَّقوا النار}: في محلِّ جزمٍ جوابُ الشَّرطِ.
তৃতীয়টি: «বিচ্ছেদকারী বাক্য (الْمُعْتَرَضَةُ)», যেমন: {অতঃপর যদি তোমরা না করো—আর তোমরা কখনই করতে পারবে না—তবে তোমরা আগুনকে ভয় করো} [আল-বাকারা: ২৪](1).

--------------------------------------------

(1) {ফাইন}: «ফা»: এটি প্রারম্ভিক অব্যয় (حرفُ استئنافٍ), যা ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبنيٌّ على الفتحِ) এবং ই’রাবে এর কোনো স্থান নেই (لا محلَّ له من الإعرابِ)। «ইন»: এটি শর্তবাচক (شرطيَّةٌ) জযম প্রদানকারী (جازمةٌ) হরফ, যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبنيّةٌ على السُّكونِ) এবং এটি একটি অব্যয় যার ই’রাবে কোনো স্থান নেই (لا محلَّ له من الإعرابِ)। {লাম}: এটি নাবাচক (نفيٍ), অর্থ পরিবর্তনকারী (قلبٍ) ও জযম প্রদানকারী (جزمٍ) হরফ, যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبنيٌّ على السُّكونِ) এবং ই’রাবে এর কোনো স্থান নেই (لا محلَّ له من الإعرابِ)। {তাফআলু}: এটি মুজারি’ ক্রিয়া (فعلٌ مضارعٌ), যা {লাম} দ্বারা মাজজুম (مجزومٌ); আর এর জযম হওয়ার আলামত হলো ‘নুন’ বিলুপ্ত হওয়া (حذفُ النُّونِ), কারণ এটি পাঁচটি ক্রিয়ার (الأفعالِ الخمسةِ) অন্তর্ভুক্ত। আর «ওয়াও আল-জামাআহ»: এটি সংযুক্ত সর্বনাম (ضميرٌ مُتَّصلٌ), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبنيٌّ على السُّكونِ) এবং রাফ-এর স্থলে (في محلِّ رفعٍ) কর্তা (فاعلٌ) হিসেবে গণ্য। আবু আল-বাকা আল-উকবারি তাঁর কিতাব «আত-তিবিয়ান ফি ই’রাবিল কুরআন»-এ বলেছেন: «এখানে জযম হয়েছে ‘লাম’-এর মাধ্যমে, ‘ইন’-এর মাধ্যমে নয়; কারণ ‘লাম’ হলো এমন একটি আমেল (عاملٌ) যা তার আমলকৃত শব্দের (معمولِه) সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। আর আন-নাহহাস «ই’রাবুল কুরআন»-এ বলেছেন: «কীভাবে ‘ইন’ হরফটি ‘লাম’-এর ওপর প্রবেশ করল, অথচ একটি আমেল (عاملٌ) অন্য একটি আমেল (عاملٌ) এর ওপর প্রবেশ করে না? এর উত্তর হলো, ‘ইন’ এখানে শাব্দিকভাবে আমলকারী নয় (غيرُ عاملةٍ في اللفظِ); ফলে এটি ‘লাম’-এর ওপর প্রবেশ করেছে ঠিক যেমনটি এটি মাজি (الماضِي) বা অতীতকালীন ক্রিয়ার ওপর প্রবেশ করে। কারণ এটি ‘লাম’-এর ওপর কোনো আমল করে না, যেমনটি মাজি-র ওপর করে না। সুতরাং (ইন লাম তাফআলু) এর অর্থ হলো: যদি তোমরা কাজটি করা ছেড়ে দাও (ইন তারাকতুমুল ফি’ল)»। আর «লাম» সহ ক্রিয়াটি জযম-এর স্থলে (في محلِّ جزمٍ) রয়েছে; কারণ «লাম» মুজারি’ ক্রিয়াকে অতীতকালীন অর্থে রূপান্তরিত করে (تَقلبُ المضارعَ ماضيًا)। আর শর্তের ক্রিয়া (فعلُ الشَّرطِ) যখন মাজি বা অতীতকালীন রূপে (صيغةِ الماضي) আসে, তখন তাকে মাজি হিসেবেই ই’রাব প্রদান করা হয় এবং এরপর আমরা তাকে জযম-এর স্থলাভিষিক্ত করি। {ওয়া লান}: «ওয়াও»: এটি বিচ্ছেদকারী (اعتراضيَّةٌ), ই’রাবে এর কোনো স্থান নেই। «লান»: এটি মুজারি’ ক্রিয়াকে নাবাচক ও নসব প্রদানকারী (نفيٍ ونصبٍ) হরফ, যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبنيٌّ على السُّكونِ) এবং ই’রাবে এর কোনো স্থান নেই (لا محلَّ له من الإعرابِ)। {তাফআলু}: এটি মুজারি’ ক্রিয়া (فعلٌ مضارعٌ), যা «লান» দ্বারা মানসুব (منصوبٌ); আর এর নসবের আলামত হলো ‘নুন’ বিলুপ্ত হওয়া (حذفُ النُّونِ)। আর «ওয়াও আল-জামাআহ»: সংযুক্ত সর্বনাম (ضميرٌ مُتَّصلٌ), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبنيٌّ على السُّكونِ) এবং রাফ-এর স্থলে (في محلِّ رفعٍ) কর্তা (فاعلٌ) হিসেবে গণ্য। আর «লান তাফআলু» বাক্যটি হলো বিচ্ছেদকারী (اعتراضيَّةٌ), ই’রাবে যার কোনো স্থান নেই। {ফাত্তাকু}: «ফা»: এটি শর্তের জবাবের সাথে সংযোজক (رابطةٌ لجوابِ الشَّرطِ), ই’রাবে এর কোনো স্থান নেই। «ইত্তাকু»: এটি একটি আদেশবাচক ক্রিয়া (فعلُ أمرٍ), যা ‘নুন’ বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبنيٌّ على حذفِ النُّونِ)। আর «ওয়াও আল-জামাআহ»: সংযুক্ত সর্বনাম (ضميرٌ مُتَّصلٌ), যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبنيٌّ على السُّكونِ) এবং রাফ-এর স্থলে (في محلِّ رفعٍ) কর্তা (فاعلٌ)। {আন-নার}: এটি কর্ম (مفعولٌ به), যা মানসুব (منصوبٌ); আর এর নসবের আলামত হলো এর শেষে প্রকাশ্য ফাতহাহ (الفتحةُ الظاهرةُ)। আর {ফাত্তাকুন নার} বাক্যটি জযম-এর স্থলে (في محلِّ جزمٍ) শর্তের জবাব (جوابُ الشَّرطِ) হিসেবে এসেছে।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
الرابعةُ: «التَّفْسِيرِيَّةُ»، نحوُ: {ولما يأتكم مثل الذين خلوا من قبلكم مستهم البأساء والضراء} [البقرة: 214](1).

--------------------------------------------

(1) قال تعالى: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ}؛ {ولمَّا}: «الْوَاوُ»: حاليَّةٌ لا محلَّ لها مِن الإعرابِ، «لَمَّا»: حرفُ نفيٍ وقلبٍ وجزمٍ. {يأتِكم}: «يَأْتِ»: فعلٌ مضارعٌ مجزومٌ بـ «لَمَّا»، وعلامةُ جزمِه حذفُ حرفِ العلَّةِ، و «الْكَافُ»: ضميرٌ متَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به، و «الْمِيمُ»: علامةُ جمعِ الذكورِ مبنيَّةٌ على السكونِ لا مَحَلَّ لها مِن الإعراب. {مثَلُ}: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضمةُ الظاهرةُ، وهو مضاف. {الذين}: اسمٌ موصولٌ مبنيٌّ على الفتحِ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليهِ. {خلَوا}: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الضمِّ المقدَّرِ على الألفِ المحذوفةِ لالتقاءِ الساكنينِ، و «وَاوُ الْجَمَاعَةِ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ. وجملةُ {خلَوا}: لا محلَّ لها مِن الإعرابِ؛ لأنَّها صلةُ الموصولِ. {من قبلِكم}: {مِن}: حرفُ جرٍّ مبنيٌّ على السُّكونِ لا محلَّ له من الإعرابِ. «قَبْلِ»: اسمٌ مجرورٌ بـ {من}، وعلامةُ جرِّه الكسرةُ الظاهرةُ على آخرِه، و «الْكَافُ»: ضميرٌ متَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ جرٍّ مضافٌ إليه، و «الْمِيمُ»: علامةُ جمعِ الذكورِ مبنيَّةٌ على السكونِ لا مَحَلَّ لها مِن الإعراب. وشبهُ الجملةِ {من قبلِكم}: متعلِّقٌ بـ {خلَوا} .. {مسَّتهم}: «مَسَّ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ، و «تَاءُ التَّأْنِيثِ»: مبنيَّةٌ على السُّكونِ، وهي حرفٌ لا محلَّ له من الإعرابِ، و «الْهَاُء»: ضميرٌ متَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به، و «الْمِيمُ»: علامةُ جمعِ الذكورِ مبنيَّةٌ على السكونِ، وحركت بالضَّمِّ لالتقاء الساكنين؛ لا مَحَلَّ لها مِن الإعراب. {البأساءُ}: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. {والضرَّاءُ}: «الْوَاوُ»: حرفُ عطفٍ مبنيٌّ على الفتحِ، لا محلَّ له مِن الإعرابِ. «الضَّراءُ»: معطوفٌ على «البأساءُ» مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. وجملةُ {مسَّتهم البأساءُ}: تفسيريَّةٌ، لا محلَّ لها من الإعرابِ.
চতুর্থ: «ব্যাখ্যামূলক (تفسيرية)», যেমন: {আর যখন তোমাদের কাছে তাদের মতো অবস্থা আসেনি যারা তোমাদের পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে; তাদেরকে অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছিল} [আল-বাকারা: ২১৪](১).

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ তাআলা বলেন: {নাকি তোমরা ধারণা করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি? তাদেরকে অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছিল}। {ولمَّا}: ‘ওয়াও’ (الواو) হলো অবস্থাজ্ঞাপক (حالية), যার কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب); ‘লাম্মা’ (لما) হলো নেতিবাচক (نفي), কালান্তরকারী (قلب) এবং জযম প্রদানকারী (جزم) অব্যয়। {يأتِكم}: ‘ইয়াতি’ (يأتِ) হলো ‘লাম্মা’ দ্বারা জযমযুক্ত (مجزوم) বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া (فعل مضارع), এবং এর জযমের চিহ্ন হলো ইল্লত বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া (حذف حرف العلة); এবং ‘কাফ’ (الكاف) হলো পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংলগ্ন সর্বনাম (ضمير متصل) যা কর্মকারক (مفعول به) হিসেবে নসবের স্থানে (في محل نصب) রয়েছে; এবং ‘মীম’ (الميم) হলো পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب)। {مثَلُ}: এটি রফ যুক্ত (مرفوع) কর্তৃকারক (فاعل), এবং এর রফ-এর চিহ্ন হলো প্রকাশ্য পেশ (ضمة ظاهرة), আর এটি সম্বন্ধপদ (مضاف)। {الذين}: এটি সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (اسم موصول) যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে সম্বন্ধী পদ (مضاف إليه) হিসেবে জারের স্থানে (في محل جر) রয়েছে। {خلَوا}: এটি অতীতকালসূচক ক্রিয়া (فعل ماض) যা বিলুপ্ত আলিফের ওপর উহ্য পেশের (ضم مقدر) ওপর ভিত্তি করে গঠিত; এবং ‘ওয়াও আল-জামাআহ’ (واو الجماعة) হলো কর্তৃকারক (فاعل) হিসেবে রফ-এর স্থানে (في محل رفع) থাকা সংলগ্ন সর্বনাম (ضمير متصل)। আর {خلوا} বাক্যটির কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب); কারণ এটি সম্বন্ধীয় বাক্য (صلة الموصول)। {من قبلِكم}: {من} হলো সুকুনের ওপর ভিত্তি করে অব্যয় (حرف جر), যার কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই। ‘কাবলি’ (قبل) হলো {من} দ্বারা মাজরুর (مجرور) হওয়া বিশেষ্য, এবং এর জারের চিহ্ন হলো এর শেষে থাকা প্রকাশ্য কাসরাহ (كسرة ظاهرة); ‘কাফ’ হলো পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংলগ্ন সর্বনাম (ضمير متصل) যা সম্বন্ধী পদ (مضاف إليه) হিসেবে জারের স্থানে (في محل جر) রয়েছে; এবং ‘মীম’ হলো পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب)। আর {من قبلكم} শব্দগুচ্ছটি {خلوا} ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। {مسَّتهم}: ‘মাসসা’ (مسَّ) হলো ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত অতীতকালসূচক ক্রিয়া (فعل ماض); এবং ‘স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা’ (تاء التأنيث) সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত যা একটি অব্যয় এবং এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب); ‘হা’ (الهاء) হলো পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংলগ্ন সর্বনাম (ضمير متصل) যা কর্মকারক (مفعول به) হিসেবে নসবের স্থানে (في محل نصب) রয়েছে; এবং ‘মীম’ হলো পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, তবে দুই সুকুনের মিলনের কারণে এটি পেশ দ্বারা হরকতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب)। {البأساءُ}: এটি রফ যুক্ত (مرفوع) কর্তৃকারক (فاعل), এবং এর রফ-এর চিহ্ন হলো এর শেষে থাকা প্রকাশ্য পেশ (ضمة ظاهرة)। {والضرَّاءُ}: ‘ওয়াও’ (الواو) হলো ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংযোজক অব্যয় (حرف عطف), যার কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই। ‘আদ-দাররাউ’ (الضراء) শব্দটি ‘আল-বাসাউ’-এর অনুগামী (معطوف) হিসেবে রফ যুক্ত (مرفوع), এবং এর রফ-এর চিহ্ন হলো এর শেষে থাকা প্রকাশ্য পেশ (ضمة ظاهرة)। আর {مسَّتهم البأساءُ} বাক্যটি হলো ব্যাখ্যামূলক (تفسيرية), যার কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب)।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
الخامسةُ: «جَوَابُ الْقَسَمِ»، نحوُ: {قال فبعزتك لأغوينهم} [ص: 82](1).

السادسةُ: «جَوَابُ الشَّرْطِ غَيْرِ الْجَازِمِ»، نحوُ: {ولو شئنا لرفعناه بها} [الأعراف: 176](2).

--------------------------------------------

(1) {قال}: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ، وفاعلُه ضميرٌ مستترٌ تقديرُه «هُوَ». {فبعزتِكَ}: «الْفَاءُ»: حرفٌ مبنيٌّ على الفتحِ لا محلَّ له من الإعرابِ، مزيدٌ لزيادةِ معنًى. «الْبَاءُ»: هي باءُ القسمِ، وهي حرفُ جرٍّ مبنيٌّ على الكسرِ، لا محلَّ له من الإعرابِ. و «عِزَّة»: اسمٌ مجرورٌ بـ «الباءِ»، وعلامةُ جرِّه الكسرةُ الظاهرةُ، وشبهُ الجملةِ متعلِّقٌ بفعلِ القسمِ المحذوفِ الذي تقديرُه: «أُقْسِمُ». {لأغوينهم}: «اللَّامُ»: واقعةٌ في جوابِ القَسَمِ مبنيَّةٌ على الفتحِ، لا محلَّ لها من الإعرابِ. «أُغْوِي»: فعلٌ مضارعٌ مبنيٌّ على الفتحِ؛ لاتصالِه بـ «نُونِ التَّوْكِيدِ الثَّقِيلَةِ»، و «نُونُ التَّوكِيدِ الثَّقِيلَةُ» مبنيةٌ على الفتحِ، وهي حرفٌ لا محلَّ له من الإعرابِ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ متصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به، و «الْمِيمُ»: علامةُ جمعِ الذكورِ مبنيَّةٌ على السكونِ لا مَحَلَّ لها مِن الإعراب، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ تقديرُه «أَنَا». وجملةُ «أغوينَّهم»: جوابُ القسمِ، لا محلَّ لها من الإعرابِ. وجملتَا الشرطِ والجوابِ {فبعزتِك لأغوينَّهم}: مقولُ القولِ في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به.

(2) {ولو}: «الْوَاوُ»: حرفُ عطفٍ مبنيٌّ على الفتحِ، لا محلَّ له من الإعرابِ، و «لَوْ»: شرطيَّةٌ غيرُ جازمةٍ، وهي حرفٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له من الإعرابِ. {شئْنا}: «شاءَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «نَا»، و «نَا»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ. {لرفعناه}: «اللَّامُ»: واقعةٌ في جوابِ «لَوْ». و «رَفَع»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «نا» الدالة على الفاعِلِين، والمراد بها هنا الله تبارك وتعالى، وهي ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ، و «الهاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضمِّ، في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به. {بها}: «الْبَاءُ»: حرفُ جرٍّ مبنيٌّ على الكسرِ، لا محلَّ له من الإعرابِ، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ جرٍّ بـ «الْبَاءِ»، وشبهُ الجملةِ {بِهَا} متعلقٌ بـ «رَفَعْنَا»، وجملة «رَفَعْنَاهُ»: جوابُ الشرطِ، لا محلَّ لها من الإعرابِ.
পঞ্চম: «শপথের উত্তর (جواب القسم)», যেমন: {তিনি বললেন: আপনার সম্মানের কসম! আমি তাদের সকলকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করব} [সোয়াদ: ৮২](১).

ষষ্ঠ: «অ-যজমদানকারী শর্তের উত্তর (جواب الشرط غير الجازم)», যেমন: {আর আমরা যদি চাইতাম তবে এর মাধ্যমে তাকে অবশ্যই উচ্চমর্যাদা দান করতাম} [আল-আরাফ: ১৭৬](২).

--------------------------------------------

(১) {কাল}: অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الفتح), এবং এর কর্তা (فاعل) হলো একটি উহ্য সর্বনাম (ضمير مستتر) যার বিশ্লেষণ হলো «হুয়া»। {ফাবে-ইজ্জাতিকা}: «ফা»: ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি অব্যয় (حرف), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل له من الإعراب), এটি অর্থের আধিক্যের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে। «বা»: এটি শপথসূচক 'বা', যা কাসরার ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি যর-দানকারী অব্যয় (حرف جر), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل له من الإعراب)। এবং «ইজ্জাহ»: 'বা' দ্বারা মাজরুর (مجرور) বিশেষ্য, আর এর যর-এর চিহ্ন হলো প্রকাশ্য কাসরা (الكسرة الظاهرة)। বাক্যসদৃশ অংশটি (شبه الجملة) উহ্য শপথসূচক ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق), যার বিশ্লেষণ হলো: «উকসিমু»। {লা-উগউইয়ান্নাহুম}: «লাম»: শপথের উত্তরে অবস্থিত (واقعة في جواب القسم) যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب)। «উগউয়ি»: বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত; 'তাকিদ প্রদানকারী নূনে সাকিলাহ (نون التوكيد الثقيلة)'-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে। আর «তাকিদ প্রদানকারী নূনে সাকিলাহ (نون التوكيد الثقيلة)» ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত, এটি একটি অব্যয় (حرف) ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل له من الإعراب)। এবং «হা»: পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা নাসব-এর স্থানে (في محل نصب) কর্ম (مفعول به) হিসেবে ব্যবহৃত। «মীম»: পুংলিঙ্গ বহুবচনের চিহ্ন যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب)। আর কর্তা (فاعل) হলো একটি উহ্য সর্বনাম (ضمير مستتر) যার বিশ্লেষণ হলো «আনা»। আর «আগুয়িয়ান্নাহুম» বাক্যটি হলো শপথের উত্তর (جواب القسم), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب)। আর শর্ত ও উত্তরের সমন্বিত বাক্যদ্বয় {আপনার সম্মানের কসম! আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব}: নাসব-এর স্থানে (في محل نصب) কর্ম (مفعول به) হিসেবে কথিত উক্তি (مقول القول)।

(২) {ওয়া-লাও}: «ওয়াও»: ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি সংযোজক অব্যয় (حرف عطف), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل له من الإعراب)। «লাও»: অ-যজমদানকারী শর্তসূচক অব্যয় (شرطية غير جازمة), যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি অব্যয় (حرف), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل له من الإعراب)। {শিনা}: «শা-আ»: অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত; «না»-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে। আর «না»: সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা রাফা-এর স্থানে (في محل رفع) কর্তা (فاعل) হিসেবে ব্যবহৃত। {লারাফায়নাহু}: «লাম»: «লাও»-এর উত্তরে অবস্থিত। «রাফায়া»: অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত; বহুবচন কর্তাবাচক «না»-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে। এখানে এর দ্বারা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আর এটি সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা রাফা-এর স্থানে (في محل رفع) কর্তা (فاعل) হিসেবে ব্যবহৃত। এবং «হা»: পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل), যা নাসব-এর স্থানে (في محل نصب) কর্ম (مفعول به) হিসেবে ব্যবহৃত। {বিহা}: «বা»: কাসরার ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি যর-দানকারী অব্যয় (حرف جر), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل له من الإعراب)। এবং «হা»: সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) যা «বা»-এর মাধ্যমে মাজরুর (مجرور) অবস্থায় আছে। বাক্যসদৃশ অংশটি (شبه الجملة) {বিহা} «রাফায়না»-এর সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق)। এবং «রাফায়নাহু» বাক্যটি হলো শর্তের উত্তর (جواب الشرط), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب)।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
السابعةُ: «التَّابِعَةُ لِمَا لَا مَحَلَّ لَهَا»، نحوُ: «قَامَ زَيْدٌ، وَقَعَدَ عَمْرٌو»(1).

--------------------------------------------

(1) «قَامَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «زَيْدٌ»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه. «وَقَعَدَ»: «الْوَاوُ»: حرفُ عطفٍ مبنيٌّ على الفتحِ، لا محلَّ له من الإعرابِ، و «قَعَدَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ. «عَمْرٌو»: فاعلٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظاهرةُ على آخرِه، والجملةُ الفعليةُ «قَعَدَ عَمْرٌو»: لا محل لها من الإعرابِ؛ لأنَّها تابعةٌ لجملةِ «قَامَ زَيْدٌ»؛ وهِي لا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

وقد نظمَ أبو إسحاقَ الزواويُّ رحمه الله الجملَ التي لا مَحَلَّ لها من الإعرابِ في في بيتٍ واحدٍ فقالَ:

 

آلَيْتُ أَيْ أَقْسَمْتُ وَالْقَسَمُ بَرْ … لَوْ تَابَ مَنْ عَصَى لَعَزَّ وَانْتَصَرْ

 

وهذا إعرابُه:

(آلَيْتُ): «آلَى»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «تاءِ الفاعلِ»، وهذه «التَّاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ، وجملةُ «آليتُ»: جملةٌ مستأنفةٌ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

أي: حرفُ تفسيرٍ مبنيٌّ على السُّكونِ، لَا محلَّ له مِنَ الإعرابِ.

(أقْسَمْتُ): «أقسمَ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على السُّكونِ؛ لاتصالِه بـ «تاءِ الفاعلِ»، وهذه «التَّاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضَّمِّ في محلِّ رفعٍ فاعلٌ. وجملةُ «أقْسَمْتُ» تفسيريَّةٌ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

(والقَسَمُ): «الواوُ»: اعتراضيَّةٌ مبنيَّةٌ على الفتحِ لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ، و «القَسَمُ»: مبتدأٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ الظَّاهرةُ.

(بَرْ): خبرٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضَّمَّةُ المقدَّرةُ على آخرِه، منعَ من ظهورِها اشتغالُ المحلِّ بسكونِ الرَّوِيِّ، وجملةُ «والقَسَمُ بَرْ» اعتراضيَّةٌ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

(لَوْ): حرفُ شرطٍ غيرُ جازمٍ، مبنيٌّ على السُّكونِ، لَا محلَّ له مِنَ الإعرابِ.

(تَابَ): فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ.

(مَنْ): اسمٌ موصولٌ مبنيٌّ على السُّكونِ، في محلِّ رفعٍ فاعلٌ، وجملةُ «تَابَ» هي جملةُ جوابِ القَسمِ لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

(عَصَى): فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ المقدَّرِ، منعَ من ظهورِه التعذُّرُ، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ جوازًا، تقديرُه «هو»، وجملةُ «عَصَى» صلةُ الموصولِ لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

(لَعَزَّ): «اللَّامُ»: واقعةٌ في جوابِ الشَّرطِ، وهي حرفٌ مبنيٌّ على الفتحِ، لَا محلَّ له مِنَ الإعرابِ، و «عَزَّ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ جوازًا؛ تقديرُه «هو»، وجملةُ «عَزَّ» واقعةٌ في جوابِ الشَّرطِ غيرِ الجازمِ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

(وانْتَصَرْ): «الواوُ»: حرفُ عطفٍ مبنيٌّ على الفتحِ، لَا محلَّ له مِنَ الإعرابِ، و «انْتَصَرْ»: فعلٌ ماضٍ مبنيٌّ على الفتحِ المقدَّرِ، منعَ من ظهورِه اشتغالُ المحلِّ بسُكونِ الرَّوِيِّ، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ جوازًا، تقديرُه «هو»، وجملةُ «انْتَصَر» معطوفةٌ على جملةِ «عَزَّ»، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

فتبين مما سبق أنَّ:

1 - جملةَ «آليتُ»: جملةٌ مستأنفةٌ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

2 - وجملة «أَقْسَمْتُ»: تفسيريَّةٌ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

3 - وجملةَ «الْقَسَمُ بَر»: اعتراضيَّةٌ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

4 - وجملة «تَابَ»: جوابُ القسمِ الذي هو «آليتُ»، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

5 - وجملة «عَصَى»: صلةٌ، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

6 - وجملة «عَز»: جوابُ الشَّرطِ غير الجازم، لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.

7 - وجملة «انْتَصَر»: معطوفةٌ على جملةِ «عَز»، فهي تابعةٌ لجملةٍ لَا محلَّ لها مِنَ الإعرابِ.
সপ্তম প্রকার: «এমন বাক্যের অনুসারী যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই», যেমন: «জায়েদ দাঁড়িয়েছে এবং আমর বসেছে»(১)।

--------------------------------------------

(১) ‘ক্বামা’: এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়। ‘যাইদুন’: এটি মারফু কর্তা, এবং এর রাফ-এর চিহ্ন হলো এর শেষে দৃশ্যমান পেশ। ‘ওয়া ক্বায়াদা’: এখানে ‘ওয়াও’ হলো একটি সংযোজক অব্যয় যা ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই; আর ‘ক্বায়াদা’ হলো একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়। ‘আমরুন’: এটি মারফু কর্তা, এবং এর রাফ-এর চিহ্ন হলো এর শেষে দৃশ্যমান পেশ। ‘ক্বায়াদা আমরুন’ এই ক্রিয়াধর্মী বাক্যটির কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই; কারণ এটি ‘ক্বামা যাইদুন’ বাক্যের অনুসারী, যেটিরও কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

আবু ইসহাক আল-জাওয়াবি (রহিমাহুল্লাহ) সেই সকল বাক্যকে একটি পঙক্তিতে ছন্দবদ্ধ করেছেন যেগুলোর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। তিনি বলেছেন:

 

আমি শপথ করেছি অর্থাৎ আমি কসম খেয়েছি, আর শপথটি পুণ্যময় … যদি পাপাচারী ব্যক্তি তওবা করত, তবে সে অবশ্যই সম্মানিত ও বিজয়ী হতো

 

এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:

(আলাইতু): ‘আলা’ হলো একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ‘কর্তৃ-সর্বনাম’-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুনের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়। এই ‘তা’ হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্তার স্থলে পেশসহ অবস্থিত। ‘আলাইতু’ বাক্যটি একটি প্রারম্ভিক বাক্য, যার ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই।

‘আই’: এটি একটি ব্যাখ্যামূলক অব্যয় যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

(আকসামতু): ‘আকসামা’ হলো একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ‘কর্তৃ-সর্বনাম’-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুনের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়। এই ‘তা’ হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম যা কর্তার স্থলে পেশসহ অবস্থিত। ‘আকসামতু’ বাক্যটি একটি ব্যাখ্যামূলক বাক্য, যার ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই।

(ওয়াল ক্বসামু): ‘ওয়াও’ হলো মধ্যবর্তী বাক্য সূচনাকারী অব্যয় যা ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। ‘আল-ক্বসামু’ হলো একটি মুবতাদা বা উদ্দেশ্য যা মারফু অবস্থায় আছে এবং এর চিহ্ন হলো দৃশ্যমান পেশ।

(বার): এটি খবর যা মারফু অবস্থায় আছে এবং এর রাফ-এর চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে উহ্য পেশ; কবিতার অন্ত্যমিলের সুকুনের কারণে এটি প্রকাশ পায়নি। ‘ওয়াল ক্বসামু বার’ বাক্যটি একটি মধ্যবর্তী বাক্য, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

(লাও): এটি একটি শর্তবোধক অব্যয় যা জাযম প্রদান করে না, এটি সুকুনের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

(তাবা): এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়।

(মান): এটি একটি সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় এবং কর্তার স্থলে অবস্থিত। ‘তাবা’ বাক্যটি হলো শপথের উত্তর, যার ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই।

(আসা): এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা উহ্য ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়, এবং এর কর্তা হলো একটি উহ্য সর্বনাম ‘সে’। ‘আসা’ বাক্যটি হলো সম্বন্ধীয় বাক্য, যার ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই।

(লা-আয্যা): ‘লাম’টি শর্তের উত্তরের শুরুতে যুক্ত হয়েছে এবং এটি ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় একটি অব্যয় যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। ‘আয্যা’ হলো একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় এবং এর কর্তা হলো উহ্য সর্বনাম ‘সে’। ‘আয্যা’ বাক্যটি জাযম প্রদান করে না এমন শর্তের উত্তর হিসেবে অবস্থিত, তাই এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

(ওয়ানতাসারা): ‘ওয়াও’ হলো একটি সংযোজক অব্যয় যা ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। ‘ইনতাসারা’ হলো একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা উহ্য ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয়; কবিতার অন্ত্যমিলের সুকুনের কারণে এটি প্রকাশ পায়নি। এর কর্তা হলো একটি উহ্য সর্বনাম ‘সে’। ‘ইনতাসারা’ বাক্যটি ‘আয্যা’ বাক্যের সাথে সংযোজিত হয়েছে, তাই এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হলো যে:

১ - ‘আলাইতু’ বাক্যটি একটি প্রারম্ভিক বাক্য, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

২ - ‘আকসামতু’ বাক্যটি একটি ব্যাখ্যামূলক বাক্য, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

৩ - ‘আল-ক্বসামু বার’ বাক্যটি একটি মধ্যবর্তী বাক্য, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

৪ - ‘তাবা’ বাক্যটি হলো ‘আলাইতু’ নামক শপথের উত্তর, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

৫ - ‘আসা’ বাক্যটি হলো সম্বন্ধীয় বাক্য, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

৬ - ‘আয্যা’ বাক্যটি হলো অপরিবর্তনকারী শর্তের উত্তর, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

৭ - ‘ইনতাসারা’ বাক্যটি ‘আয্যা’ বাক্যের অনুসারী, তাই এটি এমন একটি বাক্যের অনুগামী যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।
(খণ্ড: ১) নুকাতুল ইরাব = কাওয়ায়েদুল ইরাব ওয়া নুযহাতুত তুল্লাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المسألةُ الرابعةُ: الجملةُ الخبريَّةُ بعدَ النكراتِ المحضةِ صفاتٌ، نحوُ: {حتى تنزل علينا كتابا نقرؤه} [الإسراء: 93](1).

وبعدَ المعارفِ المحضةِ أحوالٌ، نحوُ: {ولا [4] تمنن تستكثر} [المدثر: 6](2).

وبعدِ غيرِ المحضةِ منهما محتملٌ لهُما، نحوُ: «مَرَرْتُ بِرَجُلٍ

--------------------------------------------

(1) {حَتَّى}: حرفُ غايةٍ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له مِنَ الإعرابِ. {تُنَزِّلَ}: فعلٌ مضارعٌ منصوبٌ بـ «أنْ» مضمرةٍ بعدَ {حتَّى}، وفاعلُه مستترٌ تقديرُه «أَنْتَ». {عَلَيْنا}: «عَلَى»: حرفُ جرٍّ مبنيٌّ على السُّكونِ، لا محلَّ له من الإعرابِ. و «نَا»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على السُّكونِ في محلِّ جرٍّ بـ «عَلَى». وشبهُ الجملةِ {عَلَيْنا} متعلقٌ بـ {تُنَزِّلَ}. {كِتابًا}: مفعولٌ بهِ منصوبٌ، وعلامةُ نصبِه الفتحةُ الظاهرةُ على آخرِه. {نَقْرَؤُهُ}: «نَقْرَأُ»: فعلٌ مضارعٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضمةُ الظاهرةُ، وفاعلُه مستترٌ، تقديرُه «نَحْنُ»، و «الْهَاءُ»: ضميرٌ مُتَّصلٌ مبنيٌّ على الضمِّ، في محلِّ نصبٍ مفعولٌ به. وجملةُ {نَقْرَؤُهُ}: في محلِّ نصبٍ نعتٌ لـ {كتابًا}.

(2) {وَلَا}: «الْوَاوُ»: حرفُ عطفٍ، لا محلَّ له مِنَ الإعرابِ، و «لَا»: حرفُ نهيٍ، لا محلَّ له مِنَ الإعرابِ. {تمنن}: فعلٌ مضارعٌ مجزومٌ بـ «لَا»، وعلامةُ جزمِه السُّكونُ، والفاعلُ ضميرٌ مستترٌ، تقديرُه «أَنْتَ». {تستكثرُ}: فعلٌ مضارعٌ مرفوعٌ، وعلامةُ رفعِه الضمةُ الظاهرةُ، وفاعلُه مستترٌ، تقديرُه «أَنْتَ». وجملةُ {تستكثرُ}: في محلِّ نصبٍ حالٌ من فاعلِ {تمننْ} المستترِ، أي: ولا تمننْ مستكثرًا.
‌চতুর্থ মাসআলা: বিশুদ্ধ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের পরবর্তী বর্ণনামূলক বাক্যগুলো বিশেষণ হিসেবে গণ্য হয়; যেমন: {যতক্ষণ না আপনি আমাদের প্রতি এমন একটি কিতাব অবতীর্ণ করেন যা আমরা পাঠ করব} [আল-ইসরা: ৯৩](১)।

আর বিশুদ্ধ নির্দিষ্ট বিশেষ্যের পরবর্তী বাক্যগুলো অবস্থা (হাল) হিসেবে গণ্য হয়; যেমন: {আর আপনি [৪] অধিক পাওয়ার আশায় দান করবেন না} [আল-মুদ্দাসসির: ৬](২)।

আর এই দুই প্রকারের (নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট) কোনোটিই যখন বিশুদ্ধ পর্যায়ে থাকে না, তখন বাক্যটি উভয়টির (বিশেষণ ও অবস্থা) সম্ভাবনা রাখে; যেমন: «আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম...

--------------------------------------------

(১) {হাত্তা}: এটি একটি সীমা নির্দেশক অব্যয়, যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, ব্যাকরণিক অবস্থানে যার কোনো স্থান নেই। {তুনাযযিলা}: এটি ‘আন’ অব্যয় উহ্য থাকার কারণে নসবযুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, আর এর কর্তা উহ্য রয়েছে যার প্রাক্কলিত রূপ হলো ‘আন্তা’ (আপনি)। {আলাইনা}: ‘আলা’ হলো একটি পদান্বয়ী অব্যয় যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, ব্যাকরণিক অবস্থানে যার কোনো স্থান নেই। এবং ‘না’ হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং ‘আলা’ এর কারণে এটি জরের স্থলাভিষিক্ত। আর {আলাইনা} সদৃশ বাক্যটি {তুনাযযিলা} ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। {কিতাবান}: এটি একটি কর্মপদ যা নসবযুক্ত এবং এর নসবের চিহ্ন হলো শেষাক্ষরে সুস্পষ্ট ফাতহা। {নাকরাউহু}: ‘নাকরাউ’ হলো একটি পেশযুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, এর রাফ-এর চিহ্ন হলো স্পষ্ট পেশ এবং এর কর্তা উহ্য রয়েছে যার প্রাক্কলিত রূপ হলো ‘নাহনু’ (আমরা)। আর ‘হা’ হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম যা পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং কর্মপদ হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত। আর {নাকরাউহু} বাক্যটি {কিতাবান} এর বিশেষণ হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

(২) {ওয়া লা}: ‘ওয়া’ হলো একটি সংযোজক অব্যয় এবং ‘লা’ হলো একটি নিষেধজ্ঞাপক অব্যয়, ব্যাকরণিক অবস্থানে যার কোনো স্থান নেই। {তামনুন}: এটি ‘লা’ এর কারণে জজমযুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া এবং এর জজমের চিহ্ন হলো সুকুন, আর এর কর্তা হলো উহ্য সর্বনাম ‘আন্তা’ (আপনি)। {তাস্তাকছিরু}: এটি একটি পেশযুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া এবং এর রাফ-এর চিহ্ন হলো স্পষ্ট পেশ, আর এর কর্তা উহ্য রয়েছে যার প্রাক্কলিত রূপ হলো ‘আন্তা’ (আপনি)। আর {তাস্তাকছিরু} বাক্যটি {তামনুন} এর উহ্য কর্তার অবস্থা (হাল) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। অর্থাৎ: ‘অধিক পাওয়ার প্রত্যাশী অবস্থায় দান করবেন না’।