(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
الفوائد الفقهية - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الفوائد الفقهية

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (24)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: علي بن محمد العمران - نبيل بن نصار السندي

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

আল-ফাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ - «আছার আল-মুয়াল্লিমি» এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আল-ফাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি-এর রচনাবলী (২৪)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

তাহকীক: আলি বিন মুহাম্মদ আল-উমরান - নাবিল বিন নাসসার আস-সিন্দি

পরিমার্জনা করেছেন: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামিলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪১)
الفوائد الفقهية
ফিকহী উপকারিতা
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৩)
‌‌[شرح آية الوضوء](1)

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ} مُحْدِثين كنتم أو غير مُحدثين {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ [وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ] وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا} أي ــ والله أعلم ــ سواءٌ أكنتم محدثين أم لا {أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ} أصحَّاء حاضرين ولكن محدثين {جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا}.

فالحاصل أن الله تعالى أمر بالوضوء عند القيام إلى الصلاة مطلقًا، ثم رخَّص للمريض أن يتيمَّم مطلقًا أيضًا، ورخَّص للمسافر أن يتيمَّم مطلقًا بشرط عدم الماء، ورخَّص للصحيح الحاضر المحدث بشرط عدم الماء.

وفُهمَ من هذا الأخير أن الصحيح الحاضر غير المحدث العادم للماء يتيمَّم من باب أَوْلى، فبقي الصحيح الحاضر غير المحدث إذا وجد الماء، فيجب عليه الوضوء.

فإن قيل: فلو قيل في غير القرآن: «أو مرضى أو لم تجدوا ماء فتيمموا» يوفي بهذا المعنى الذي زعمته مع إيجازه ووضوحه، فلماذا عدل عنه إلى الإطناب مع ما فيه من الغموض؟(2).

* * * *

--------------------------------------------

(1) وقد سبق في قسم الفوائد التفسيرية كلام للشيخ على الآية والاستنباط منها.

(2) هنا توقّف قلم الشيخ. مجموع [4724].
[অজুর আয়াতের ব্যাখ্যা](১)

{হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও} তোমরা অপবিত্র (محدثين) থাকো অথবা অপবিত্র না থাকো {তবে তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো [এবং তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত] এবং যদি তোমরা জানাবাতগ্রস্ত (جنبًا) অবস্থায় থাকো তবে পবিত্রতা অর্জন করো।} অর্থাৎ — আল্লাহই ভালো জানেন — তোমরা অপবিত্র (محدثين) থাকো বা না থাকো {অথবা সফরে থাকো অথবা} সুস্থ অবস্থায় নিজ এলাকায় অবস্থানরত কিন্তু অপবিত্র (محدثين) {তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসলে অথবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ করলে এবং পানি না পেলে তবে তায়াম্মুম করো।}

সারকথা হলো, মহান আল্লাহ সালাতে দণ্ডায়মান হওয়ার সময় সাধারণভাবে অজুর নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি অসুস্থ ব্যক্তিকে একইভাবে সাধারণভাবে তায়াম্মুম করার অনুমতি (رخص) দিয়েছেন। এবং মুসাফিরকে পানির অনুপস্থিতির শর্তে সাধারণভাবে তায়াম্মুম করার অনুমতি (رخص) দিয়েছেন। আর নিজ এলাকায় অবস্থানকারী সুস্থ কিন্তু অপবিত্র (محدث) ব্যক্তিকেও পানির অনুপস্থিতির শর্তে অনুমতি (رخص) দিয়েছেন।

এই শেষোক্ত বিষয়টি থেকে বোঝা যায় যে, নিজ এলাকায় অবস্থানকারী সুস্থ ব্যক্তি যে অপবিত্র (محدث) নয় অথচ পানি পায়নি, সে অগ্রাধিকারের (أولى) ভিত্তিতে তায়াম্মুম করবে। সুতরাং এখন কেবল সেই সুস্থ ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকে যে নিজ এলাকায় অবস্থান করছে এবং অপবিত্র (محدث) নয়, সে যদি পানি পায় তবে তার ওপর অজু করা আবশ্যিক (واجب) হবে।

যদি বলা হয়: কুরআন ছাড়া অন্য কোথাও যদি এমন শব্দে বলা হতো যে: "অথবা অসুস্থ অবস্থায় থাকো কিংবা পানি না পাও তবে তায়াম্মুম করো", তবে এটি আপনার দাবি করা অর্থটিই প্রদান করত এবং এটি অধিকতর সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্টও হতো। তাহলে কেন তিনি সংক্ষিপ্ততা পরিহার করে অস্পষ্টতা (غموض) থাকা সত্ত্বেও এই দীর্ঘ বর্ণনা (إطناب) পদ্ধতি গ্রহণ করলেন?(২).

* * * *

--------------------------------------------

(১) তাফসিরি উপকারিতা অংশে এই আয়াতের ওপর এবং তা থেকে মাসয়ালা উদ্ভাবনের (استنباط) বিষয়ে শায়খের আলোচনা ইতিপূর্বে গত হয়েছে।

(২) এখানে শায়খের কলম থেমে গেছে। মাজমু [৪৭২৪]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৪)
‌‌[هيئات الصلاة والأصل في وضعها]

أعمال الصلاة أو أكثرها مستعمل بين الأمم تحيَّةً وتعظيمًا.

أما السجود والركوع والقيام فظاهر.

وهكذا التطبيق المنسوخ مستعمل عند أهل الهند تعظيمًا؛ يُطبِّق أحدهم كفَّيه مشيرًا بهما إلى من يعظِّمه، وأغلب ما يُستعمل عند الاسترحام.

ورفع اليدين مستعمل عند ....(1)؛ يرفع أحدُهم يديه إذا دخل على مخدومه أو أراد الخروج من عنده، إلّا أنه يرفعهما مادًّا لهما إلى قدَّام منحنيًا.

والجلوس مفترشًا هو قريب من جلوس الإنسان بين يدي مَنْ يحترمه كالتلميذ بين يدي شيخه.

ووضع اليد على اليد أيضًا معروف يستعمله الناس أمام من يحترمونه.

وقبض الأصابع غير المسبِّحة يحتمل أن يكون له حظٌّ من هذا.

والظاهر أن الأصل في هذه الأعمال مِنْ وَضْع الباري عز وجل ليُعبد بها، ثمَّ تناهبها الملوك والرؤساء وغيَّروا فيها وبدَّلوا.

ويحتمل أن يكون بعضها اخترعه الناس لتعظيم رؤسائهم، ثم أمر الله عز وجل أن يُعبد به؛ لأن التعظيم لا يستحقّه سواه(2).

--------------------------------------------

(1) بياض في الأصل مقدار كلمة.

(2) مجموع [4711].
[নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গি এবং এর প্রচলনের মূল ভিত্তি]

নামাজের কার্যাবলি বা এর অধিকাংশ বিষয় বিভিন্ন জাতির মধ্যে অভিবাদন ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আর সিজদা, রুকু ও কিয়ামের (দাঁড়ানো) বিষয়টি তো সুস্পষ্ট।

অনুরূপভাবে রহিত (منسوخ) 'তাতবিক' (التطبيق) (রুকুতে দুই হাতের তালু একত্রে মিলিয়ে দুই হাঁটুর মাঝে রাখা) পদ্ধতিটি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ভারতীয়দের মধ্যে প্রচলিত; তাদের কেউ যখন কাউকে সম্মান প্রদর্শন করে তখন তার দিকে ইঙ্গিত করে নিজের দুই হাতের তালু একত্রে মেলায়, আর এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে দয়া বা করুণা প্রার্থনার সময় ব্যবহৃত হয়।

আর হাত উত্তোলন করা (رفع اليدين) ....(১)-এর নিকট প্রচলিত; তাদের কেউ যখন তার মনিবের সামনে উপস্থিত হয় বা তার নিকট থেকে প্রস্থান করতে চায়, তখন সে হাত উত্তোলন করে, তবে সে হাত দুটি সামনের দিকে প্রসারিত করে এবং কিছুটা নত হয়ে তা উত্তোলন করে।

আর বিছিয়ে বসা (افتراش) হচ্ছে কোনো ব্যক্তির তার সম্মানভাজন ব্যক্তির সামনে বসার পদ্ধতির কাছাকাছি, যেমন ছাত্র তার শিক্ষকের সামনে বসে থাকে।

এক হাতের ওপর অন্য হাত রাখাও একটি পরিচিত প্রথা যা মানুষ তাদের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের সামনে ব্যবহার করে।

তর্জনী ব্যতীত অন্য আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে রাখার বিষয়টিতেও সম্ভবত এ ধরনের কোনো তাৎপর্য রয়েছে।

বাহ্যত এটাই প্রতীয়মান হয় যে, এই কার্যাবলিগুলোর মূল ভিত্তি মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছে যাতে এগুলোর মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করা হয়, অতঃপর রাজা-বাদশাহ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তা নিজেদের জন্য ছিনিয়ে নেয় এবং এতে পরিবর্তন ও পরিমার্জন ঘটায়।

এমনটিও হতে পারে যে, এগুলোর কিছু বিষয় মানুষ তাদের নেতাদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য উদ্ভাবন করেছিল, অতঃপর মহান আল্লাহ তা দিয়ে তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন; কারণ তিনি ব্যতীত অন্য কেউ প্রকৃত সম্মান লাভের যোগ্য নন(২)।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে এক শব্দ পরিমাণ জায়গা খালি রয়েছে।

(২) মাজমু' [৪৭১১]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৫)
‌‌[مشروعية جهر الإمام بآمين]

النِّيموي(1) (ص 94):

«لا تبادروا الإمام، إذا كبَّر فكبِّروا، وإذا قال: ولا الضالين، فقولوا: آمين، وإذا ركع فاركعوا، وإذا قال: سمع الله لمن حمده، فقولوا: اللهم ربنا لك الحمد». رواه مسلم(2).

قال النيموي: «يُستفاد منه أن الإمام لا يجهر بآمين؛ لأن تأمين الإمام لو كان مشروعًا بالجهر لما علَّق النبيُّ صلى الله عليه وآله وسلم تأمينهم بقوله: ولا الضالين. بل السياق يقتضي أنه لم يقل إلا هكذا: وإذا قال آمين فقولوا آمين». اهـ.

أقول: إنما لم يقل: «وإذا قال آمين فقولوا آمين»؛ لأن السنة موافقة الإمام، بأن يقولها معه لا بعده. وهذا المعنى إنما يؤديه قوله: «وإذا قال ولا الضالين فقولوا آمين».

وأما قوله في الحديث: «إذا كبر فكبروا» فالمشروع أن يكون تكبير المأموم بعد تكبير الإمام، وهكذا الركوع، وقول سمع الله لمن حمده(3).

* * * *

--------------------------------------------

(1) هو ظهير أحسن النيموي الحنفي (ت 1325 هـ). والنقل من كتابه «آثار السنن مع التعليق الحسن».

(2) (415) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(3) مجموع [4726].
[ইমামের উচ্চস্বরে আমীন বলার বিধান (مشروعية)]

নিমভী(১) (পৃষ্ঠা ৯৪):

«তোমরা ইমামের চেয়ে অগ্রবর্তী হয়ো না। তিনি যখন তকবির বলেন তখন তোমরাও তকবির বলো; তিনি যখন 'ওয়ালাদ দাল্লীন' বলেন তখন তোমরা 'আমীন' বলো; তিনি যখন রুকু করেন তখন তোমরা রুকু করো; আর তিনি যখন 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলেন তখন তোমরা 'আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ' বলো।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন(২)।

নিমভী বলেন: «এ থেকে এটিই অর্জিত হয় যে, ইমাম উচ্চস্বরে আমীন বলবেন না; কারণ ইমামের আমীন বলা যদি উচ্চস্বরে বিধিবদ্ধ (مشروع) হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মুক্তাদীদের আমীন বলাকে তাঁর 'ওয়ালাদ দাল্লীন' বলার সাথে সম্পৃক্ত করতেন না। বরং প্রেক্ষাপট দাবি করে যে তিনি কেবল এমনই বলতেন: 'যখন তিনি আমীন বলবেন তখন তোমরাও আমীন বলো'»। ইতি।

আমি বলি: তিনি কেবল একারণেই 'যখন তিনি আমীন বলবেন তখন তোমরাও আমীন বলো' বলেননি; কারণ সুন্নাহ (سنة) হলো ইমামের সাথে একমত হওয়া, অর্থাৎ এটি তাঁর সাথেই বলা, তাঁর পরে নয়। আর এই অর্থটি কেবল তাঁর 'যখন তিনি ওয়ালাদ দাল্লীন বলবেন তখন তোমরা আমীন বলো' এই কথাটি দ্বারাই সম্পাদিত হয়।

আর হাদিসে তাঁর বাণী: «যখন তিনি তকবির বলবেন তখন তোমরাও তকবির বলো» এর ক্ষেত্রে বিধান (مشروع) হলো মুক্তাদীর তকবির ইমামের তকবিরের পরে হবে, আর রুকু এবং 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ(৩)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন জহীর আহসান নিমভী হানাফী (মৃত্যু ১৩২৫ হি.)। উদ্ধৃতিটি তাঁর কিতাব 'আসারুস সুনান মাআত তালীকুল হাসান' থেকে নেওয়া হয়েছে।

(২) (৪১৫) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস।

(৩) মাজমু [৪৭২৬]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৬)
‌‌[مناقشة الشافعية في قولهم بركنيَّة الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في التشهد]

الحمد لله.

احتجَّ الشافعية على أن الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في التشهُّد ركن بحديث فَضالة بن عُبيد قال: «بينما رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قاعد إذ دخل رجل فصلَّى فقال: اللَّهم اغفر لي وارحمني، فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «عجلتَ أيها المصلِّي! إذا صلَّيتَ فقعدت فاحْمد الله بما هو أهله وصلِّ عليَّ ثم ادْعُه». قال: ثم صلَّى رجل آخر بعد ذلك فحمد الله وصلَّى على النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فقال له النبى صلى الله عليه وآله وسلم: «أيها المصلِّي ادعُ تُجَبْ»(1).

ورُدَّ بأنه دليل عليكم؛ إذ لو كانت ركنًا لأَمَره بالإعادة كما أمر المسيء صلاته. فأما كونه لم يأمر الذي تكلَّم في صلاته جاهلًا، فلأن مثل ذلك الكلام يُعذر به الناسي والجاهل بخلاف ترك الركن فإنه لا يُعذر ناسيه ولا جاهله؛ وهذا مذهبكم.

ومع هذا فلا ندري هل كان دعاء الرجل ودعاؤه(2) بعد الفراغ من الصلاة أم فيها، فإن كان الأول فلا علاقة له بالمسألة، إلا أن الأشبه الثاني.

واحتجُّوا بحديث الحاكم على شرط مسلم عن ابن مسعود قال: «أقبل

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (23937)، والترمذي (3476، 3477) ــ واللفظ لأُولى روايتيه ــ، والنسائي (1284)، وابن خزيمة (709)، وابن حبَّان (1960). وقال الترمذي: «هذا حديث حسن». وقال في الرواية الثانية: «حسن صحيح».

(2) كذا في الأصل.
[তাশাহহুদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা রুকন (ركن) হওয়া প্রসঙ্গে শাফেয়ীদের মতের পর্যালোচনা]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

শাফেয়ীগণ তাশাহহুদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা রুকন (ركن) হওয়ার পক্ষে ফাযালা বিন উবায়েদ (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বসা ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল এবং বলল: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহম করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে নামাজি! তুমি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছ। যখন তুমি সালাত আদায় করে বসবে, তখন আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করবে এবং আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে, এরপর তাঁর কাছে দোয়া করবে"। তিনি বলেন: এরপর অন্য এক ব্যক্তি সালাত আদায় করল, সে আল্লাহর প্রশংসা করল এবং নবীর ওপর দরুদ পাঠ করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: "হে নামাজি! তুমি দোয়া করো, তোমার দোয়া কবুল করা হবে"»(১)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি আপনাদের বিপক্ষেই একটি দলিল; কারণ এটি যদি রুকন (ركن) হতো, তবে তিনি তাকে সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিতেন, যেমনটি তিনি সালাতে ভুলকারী ব্যক্তিকে (মুসিউস সালাত) নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত সালাতের মধ্যে কথা বলেছিল তাকে যে তিনি নির্দেশ দেননি, তার কারণ হলো—বিস্মৃত ব্যক্তি বা অজ্ঞ ব্যক্তিকে এই ধরনের কথার ক্ষেত্রে ক্ষমা করা হয়; কিন্তু রুকন (ركن) পরিত্যাগ করার বিষয়টি ভিন্ন, কারণ রুকন বর্জনকারী ব্যক্তি বিস্মৃত হোক বা অজ্ঞ হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হয় না; আর এটাই আপনাদের মাযহাব।

তদুপরি, আমরা জানি না যে ওই ব্যক্তির দোয়া এবং প্রার্থনা(২) সালাত শেষ করার পর ছিল নাকি সালাতের ভেতরে। যদি প্রথমটি হয়, তবে মাসআলাটির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই, তবে দ্বিতীয়টি হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত।

তারা মুসলিমের শর্তানুযায়ী (على شرط مسلم) ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাকিমের হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «এগিয়ে এলেন

--------------------------------------------

(১) এটি আহমদ (২৩৯৩৭), তিরমিজি (৩৪৭৬, ৩৪৭৭) —শব্দবিন্যাস তাঁর প্রথম বর্ণনার—, নাসায়ি (১২৮৪), ইবনে খুজাইমা (৭০৯) এবং ইবনে হিব্বান (১৯৬০) বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: «এই হাদিসটি হাসান (حسن)»। দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেছেন: «হাসান সহিহ (حسن صحيح)»।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৭)
رجل حتى جلس بين يدي رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ونحن عنده فقال: يا رسول الله أما السَّلام عليك فقد عرفناه، فكيف نصلِّي عليك إذا نحن صلينا عليك في صلاتنا ــ صلى الله عليك ــ؟ قال: فصَمَت حتى أحببْنا أن الرجل لم يسأله، ثم قال: إذا صليتم عليَّ فقولوا … ».

وحملوا قوله «في صلاتنا» على ذات الركوع والسجود، وهو محتمل كما أنه يحتمل أن يكون المراد: في صلاتنا عليك؛ كأنه قال: كيف نقول في صلاتنا عليك؟ وربَّما يؤيِّده جوابه صلى الله عليه وآله وسلم بقوله: «إذا صليتم عليَّ فقولوا»، ولم يقل: إذا صلَّيتم عليَّ في صلاتكم …

وعلى كلِّ حال، فلا دلالة فيه على الوجوب فضلًا عن الركنيّة؛ فإن قوله: «إذا صلَّيتم عليَّ» معناه: إذا أردتم الصلاة عليَّ، فقوله: «فقولوا» أمر إرشاد وتعليم لتعليقه على إرادتهم. وأيضًا فكونه تعليمًا لسائل التعليم ظاهر في كونه إرشادًا فقط.

واستدلُّوا أيضًا بالآية، والأمر للوجوب.

وأجيب بتسليم الوجوب، ولكن لا تتعيَّن الصلاة. كما أن الله عز وجل أمرنا بالاستغفار، ولم يقل أحدٌ: إنه ركن من أركان الصلاة.

ويظهر لي وجهٌ آخر وهو أن قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ} [الأحزاب: 56] معناه: ادعوا له، وفي التشهُّد الدعاء له: «السلام عليك أيُّها النبي ورحمة الله وبركاته».

وإن ادُّعي أن قوله: {صلُّوا} أراد به: انطقوا بلفظ الصلاة.
জনৈক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে বসলেন এবং আমরা সেখানে তাঁর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি সালাম প্রেরণের নিয়ম তো আমরা জেনেছি, তবে আমরা যখন আমাদের নামাজের ভেতর আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করি—আপনার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—তখন কীভাবে দরুদ পাঠ করব? বর্ণনাকারী বলেন: (একথা শুনে) তিনি নীরব হয়ে গেলেন, এমনকি আমরা কামনা করছিলাম যে ওই ব্যক্তি যদি তাঁকে এ প্রশ্ন না করতেন! অতঃপর তিনি বললেন: «যখন তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে, তখন বলো … »।

আলেমগণ তাঁর এই উক্তি ‘আমাদের নামাজের ভেতর’ বলতে রুকু ও সিজদা বিশিষ্ট মূল নামাজকে বুঝিয়েছেন। এটি যেমন সম্ভাব্য, তেমনি ইহাও সম্ভাব্য যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আপনার প্রতি আমাদের দরুদ পাঠের সময়; যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: আপনার প্রতি দরুদ পাঠের সময় আমরা কী বলব? সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর উত্তর এই সম্ভাবনাকে সমর্থন করে, যেখানে তিনি বলেছেন: «যখন তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে তখন বলো», তিনি এটি বলেননি যে: যখন তোমরা তোমাদের নামাজের ভেতর আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে …।

যাই হোক, এতে ওয়াজিব হওয়া বা আবশ্যকতা (وجوب)-এর কোনো প্রমাণ নেই, রুকন হওয়া (ركنية)-এর কথা তো বহু দূরে; কারণ তাঁর এই কথা: «যখন তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে»-এর অর্থ হলো: যখন তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করার ইচ্ছা পোষণ করবে। সুতরাং তাঁর নির্দেশ «বলো» হলো পথনির্দেশনা ও শিক্ষা প্রদানের নির্দেশ (أمر إرشاد وتعليم), কারণ এটি তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল করে বলা হয়েছে। অধিকন্তু, কোনো জিজ্ঞাসুকে শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি কেবল পথনির্দেশনা (إرشاد) হিসেবেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

তাঁরা আয়াত দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে, আদেশ মূলত ওয়াজিব হওয়া বা আবশ্যকতা (وجوب)-এর দাবি রাখে।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, ওয়াজিব হওয়া বা আবশ্যকতা (وجوب) মেনে নিলেও নামাজে দরুদ পড়া নির্দিষ্ট হয়ে যায় না। যেমন মহান আল্লাহ আমাদের ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ কেউ বলেননি যে এটি নামাজের রুকনসমূহ (أركان الصلاة)-এর মধ্য হতে একটি রুকন (ركن)।

আমার নিকট অন্য একটি দিকও প্রতিভাত হয়, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো} [আহজাব: ৫৬]-এর অর্থ হলো: তোমরা তাঁর জন্য দোয়া করো। আর তাশাহহুদ (تشهد)-এর মধ্যে তাঁর জন্য দোয়া তো রয়েছেই: ‘আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’।

আর যদি দাবি করা হয় যে {তোমরা দরুদ পাঠ করো} কথাটি দ্বারা তিনি দরুদ শব্দটিরই উচ্চারণ করাকে উদ্দেশ্য করেছেন।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৮)
قلنا: أفلا يحتمل أن يكون المراد الصلاةَ أو ما يرادفها، وهو الرحمة؛ فإنَّ في الصلاة الإبراهيمية: «كما صلَّيت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد [مجيد] … كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد». وهو مأخوذ من قوله تعالى حاكيًا عن الملائكة في خطابهم لآل إبراهيم: {رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ إِنَّهُ(1) … حَمِيدٌ مَجِيدٌ} [هود: 73]. فأنت ترى كيف أبْدَلَ الرحمةَ بلفظ الصلاة، وهو يدلُّ على ترادفهما.

ثم إن العبارة التي في التشهُّد: «السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته» مطابقة للآيتين.

أما آية: {صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56]، فلأنّ قولنا: «السلام عليك» يقابل قوله: {وَسَلِّمُوا}. وقولنا: «ورحمة الله» يقابل قوله: {صَلُّوا} كما مرَّ.

وأما آية: {رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ} فظاهر. والله أعلم(2).

* * * *

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «إنك» سبق قلم.

(2) مجموع [4716].
আমরা বললাম: এমনটি হওয়া কি সম্ভব নয় যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাত (صلاة) বা তার সমার্থক শব্দ, আর তা হলো রহমত (رحمة); কেননা দরুদ-এ-ইবরাহিমিতে রয়েছে: «যেমন আপনি সালাত (صلاة) বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত [ও মহিমান্বিত] … যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত»। আর এটি মহান আল্লাহর বাণী থেকে গৃহীত যেখানে তিনি ইবরাহিমের পরিবারের প্রতি ফেরেশতাদের সম্বোধন উদ্ধৃত করেছেন: {আপনাদের ওপর আল্লাহর রহমত (رحمة) ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক হে আহলে বাইত! নিশ্চয়ই তিনি(১) … প্রশংসিত ও মহিমান্বিত} [হুদ: ৭৩]। আপনি লক্ষ্য করুন, কীভাবে এখানে রহমত (رحمة) শব্দটিকে সালাত (صلاة) শব্দ দ্বারা স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, যা শব্দদ্বয় সমার্থক হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

অতঃপর তাশাহহুদ (تشهد)-এর যে বাক্যটি রয়েছে: «আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক হে নবী», তা উক্ত উভয় আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আর আয়াত: {তোমরা তাঁর ওপর সালাত (صلاة) পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম (تسليم) পেশ করো} [আহযাব: ৫৬]-এর ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য: «আসসালামু আলাইকা» (আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর বাণী: {সালাম পেশ করো}-এর সমান্তরাল। আর আমাদের বক্তব্য: «ওয়া রাহমাতুল্লাহ» (এবং আল্লাহর রহমত) তাঁর বাণী: {সালাত পাঠ করো}-এর সমান্তরাল, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর আয়াত: {আপনাদের ওপর আল্লাহর রহমত (رحمة) ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক হে আহলে বাইত}-এর বিষয়টি সুস্পষ্ট। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ(২)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: «নিশ্চয়ই আপনি», যা অসাবধানতাবশত লিখনপ্রমাদ।

(২) মাজমু [৪৭১৬]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৯)
‌‌[بحث في فرضية التشهُّد الأول، وما الذي شُرِع له سجود السهو؟]

الحمد لله.

الحق ــ إن شاء الله ــ أن التشهُّد الأول فرض، بمعنى أن تركَه عمدًا مبطلٌ للصلاة، وتركَه سهوًا موجبٌ سجودَ السهو. والدليل على فرضيته هو الدليل على فرضيَّة التشهد الثاني.

وأما كون النبي صلى الله عليه وآله وسلم تَرَكَه مرَّة وسجد للسهو، فذلك لا ينفي فرضيته بالمعنى الذي قلنا، كما أن كونه سلَّم مرَّة قبل التمام ثم رجع فأتمَّ وسجد للسهو لا ينفي كون السلام قبل التمام مُبطل(1) لو وقع عمدًا، وهكذا زيادة ركعة. بل فعله صلى الله عليه وآله وسلم ذلك دليل على الفرضيَّة إذ لم يثبت أنه سجد للسهو إلا لفعلِ ما يبطل عمدُه.

وقد قال إسحاق بن راهويه في الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في التشهُّد الثاني: إنها فرض بهذا المعنى، أي أنَّ تركها عمدًا مبطل للصلاة بخلاف تركها سهوًا.

وقول أصحابنا: إنه سنَّة، دعوى لا دليل عليها، بل قد أبطلناها. ونزيد فنقول: إن كانت سنَّة فلماذا سجد النبي صلى الله عليه وآله وسلم لِتَرْكها؟ وما الفرق بينها وبين دعاء الافتتاح والتعوُّذ والتكبيرات وأذكار الركوع والاعتدال والسجود والجلوس بين السجدتين؟

ولم يأتوا بفرق إلا أنه نُقل عن الغزالي أن التشهد الأول من الشعائر

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، والوجه: «مبطلًا».
‌[প্রথম তাশাহহুদের আবশ্যকতা (فرضية) এবং কিসের জন্য সিজদায়ে সাহু (سجود السهو) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে সে সম্পর্কিত গবেষণা]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

সঠিক কথা হলো—ইনশাআল্লাহ—প্রথম তাশাহহুদ হলো ফরজ (فرض); এর অর্থ হলো, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে নামাজ বাতিল (مبطل) হয়ে যায় এবং ভুলে ছেড়ে দিলে সিজদায়ে সাহু (سجود السهو) ওয়াজিব হয়। এর ফরজ (فرضية) হওয়ার দলিল হলো দ্বিতীয় তাশাহহুদ ফরজ হওয়ার দলিল।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) একবার এটি ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং সিজদায়ে সাহু (سجود السهو) করেছিলেন, তা আমাদের উল্লিখিত অর্থে এর ফরজ (فرضية) হওয়াকে নাকচ করে না। যেমন তিনি একবার নামাজ পূর্ণ করার আগে সালাম ফিরিয়েছিলেন, অতঃপর ফিরে এসে তা পূর্ণ করেছিলেন এবং সিজদায়ে সাহু (سجود السهو) করেছিলেন; নামাজ পূর্ণ করার আগে সালাম ফেরানো যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয় তবে তা নামাজ বাতিলকারী (مبطل) হওয়াকে নবীর সেই কাজ যেমন নাকচ করে না, অতিরিক্ত রাকাতের বিষয়টিও তদ্রূপ। বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই কাজটি ফরজ (فرضية) হওয়ারই দলিল, কারণ এটি প্রমাণিত নয় যে তিনি এমন কোনো বিষয় ছাড়া সিজদায়ে সাহু (سجود السهو) করেছেন যা ইচ্ছাকৃতভাবে করলে নামাজ বাতিল (يبطل) হয়ে যায়।

ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ দ্বিতীয় তাশাহহুদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ সম্পর্কে বলেছেন: এটি এই অর্থেই ফরজ (فرض), অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে তা বর্জন করা নামাজ বাতিলকারী (مبطل), তবে ভুলে বর্জন করার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম।

আমাদের সাথীদের (মাযহাবের অনুসারীগণ) এই দাবি যে: এটি সুন্নত (سنة), এটি এমন এক দাবি যার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই, বরং আমরা একে অসার প্রমাণ করেছি। আমরা আরও যোগ করে বলি: যদি এটি সুন্নত (سنة) হতো, তবে কেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এটি বর্জন করার কারণে সিজদা করলেন? আর এর সাথে প্রারম্ভিক দোয়া (دعاء الافتتاح), আউযুবিল্লাহ (تعوذ), তাকবিরসমূহ এবং রুকু, ই'তিদাল, সিজদা ও দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের জিকিরগুলোর মধ্যে পার্থক্য কী?

তারা কোনো পার্থক্য দেখাতে পারেননি, কেবল ইমাম গাজালি থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে যে প্রথম তাশাহহুদ হলো ইসলামের নিদর্শনসমূহের (شعائر) অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে সঠিক রূপ হবে: «বাতিলকারী (مبطلًا)»।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫০)
الظاهرة المخصوصة بالصلاة وليس ما تقدَّم مثل ذلك.

فيقال له: إنْ أردتَ بالشعائر الظاهرة ما لها صورة فهذا خاص بالجلوس لا بالتشهُّد، فلو جلس(1) ولم يتشهَّد لا يسجد للسهو، وأنتم لا تقولون به.

وأيضًا فإنّ جلسة الاستراحة كذلك، وأيضًا فـ «سمع الله لمن حمده، ربنا ولك الحمد» كذلك لأنه يُجهر بها. وإن أردتَ غير ذلك، فما هو؟

فإن قلتَ: «الظاهرة» لغو، والمقصود الشعائر الخاصة بالصلاة، فـ «سمع الله لمن حمده، ربنا ولك الحمد» كذلك، وجلسة الاستراحة كذلك.

وإن أردتَ أن الخاص بالصلاة هو لفظ التشهُّد، فإن «سمع الله لمن حمده، ربنا ولك الحمد» مثل [ذلك]؛ لأن كلًّا منهما ذِكرٌ لم يُشْرَع إلا في الصلاة، ومع ذلك لو قاله إنسان في غير الصلاة لم يُمنع.

وقول غيره: الفرق بين التشهُّد وبين غيره ممّا مرَّ أنه بعضٌ، فلذلك ألحقت به الأبعاض في السجود للسهو عند تركها.

فيقال له: وما البعض؟

قالوا: السنن التي تُجْبَر بسجود السهو.

فيقال لهم: هذا دور! إذا سألناكم الدليل على أن هذه الأشياء تُجبر بسجود السهو، قلتم: لأنها أبعاض، فإذا سألناكم الدليل على أنها أبعاض دون غيرها، قلتم: لأنها تُجبر بسجود السهو. والحاصل أنهم لم يأتوا بشيء!

فأما القنوت في الصبح فهو غير مشروع أصلًا، كما بيَّن أهل العلم أدلَّة ذلك.

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «فإذا لو جلس».
নামাজের সাথে নির্দিষ্ট প্রকাশ্য বিষয়সমূহ, যা পূর্বে আলোচিত বিষয়ের মতো নয়।

তাকে বলা হবে: আপনি যদি প্রকাশ্য নিদর্শনাদি (الشعائر الظاهرة) দ্বারা এমন কিছু বোঝাতে চান যার একটি দৃশ্যমান রূপ রয়েছে, তবে তা কেবল বসার সাথে নির্দিষ্ট, তাশাহহুদের সাথে নয়। কারণ কেউ যদি বসে(১) এবং তাশাহহুদ না পড়ে, তবে সে সাহু সিজদা (سجود السهو) প্রদান করবে না—অথচ আপনারা এমনটি বলেন না।

অধিকন্তু, বিশ্রামের বৈঠকও (جلسة الاستراحة) তদ্রূপ। এছাড়া 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ'-ও তদ্রূপ, কারণ তা উচ্চস্বরে পাঠ করা হয়। আর যদি আপনি অন্য কিছু বোঝাতে চান, তবে তা কী?

যদি আপনি বলেন: 'প্রকাশ্য' কথাটি অনর্থক, বরং উদ্দেশ্য হলো নামাজের সাথে নির্দিষ্ট নিদর্শনাদি, তবে 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' এবং বিশ্রামের বৈঠকও (جلسة الاستراحة) তদ্রূপ।

আর যদি আপনি বোঝাতে চান যে, নামাজের সাথে নির্দিষ্ট বিষয়টি হলো তাশাহহুদের শব্দাবলি, তবে 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ'-ও তদ্রূপ। কারণ এগুলোর প্রতিটিই এমন জিকির যা কেবল নামাজের জন্যই প্রবর্তিত (مشروع) হয়েছে; তা সত্ত্বেও যদি কোনো মানুষ নামাজ ছাড়া অন্য অবস্থায় তা পাঠ করে, তবে তাকে নিষেধ করা হবে না।

অন্যের বক্তব্য হলো: তাশাহহুদ এবং উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো এটি একটি 'অংশ' (بعض), এ কারণেই তা ছেড়ে দিলে সাহু সিজদা (سجود السهو)-এর ক্ষেত্রে অন্যান্য অংশগুলোকেও (أبعاض) এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: এই 'অংশ' (بعض) বলতে কী বোঝায়?

তারা বলেন: সেই সকল সুন্নাত (سنن) যা সাহু সিজদা (سجود السهو) দ্বারা পূরণ করা হয়।

তাদের বলা হবে: এটি একটি চক্রাকার যুক্তি (دور)! আমরা যখন আপনাদের কাছে প্রমাণ চাই যে, কেন এই বিষয়গুলো সাহু সিজদা (سجود السهو) দ্বারা পূরণযোগ্য, তখন আপনারা বলেন: কারণ এগুলো হলো 'অংশ' (أبعاض)। আবার যখন আপনাদের কাছে প্রমাণ চাই যে, কেন এগুলো অন্যগুলোর পরিবর্তে 'অংশ' হিসেবে গণ্য হবে, তখন আপনারা বলেন: কারণ এগুলো সাহু সিজদা (سجود السهو) দ্বারা পূরণযোগ্য। সারকথা হলো, তারা সন্তোষজনক কিছুই উপস্থাপন করতে পারেননি!

আর ফজরের কুনুত প্রসঙ্গে বলা যায়, এটি মূলত শরিয়তসম্মত (مشروع) নয়, যেমনটি আলেমগণ এর দলিলাদি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «فإذا لو جلس»।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫১)
وأما الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في التشهُّد الأول، فالصواب ــ إن شاء الله تعالى ــ أنها غير مشروعة أصلًا لما جاء في حديث ابن مسعود، و [ … ](1).

وهم إنما يثبتونها بالقياس، ولا قياس مع النصِّ، على أن القياس في العبادات ضعيف جدًّا.

ثم إن الحديث الذي يستدلون به على الأمر بالصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في التشهُّد الأخير= يدلُّ أنها إنما شُرعت لتكون مقدِّمة للدعاء، ولا دعاء في التشهُّد الأول. وأيضًا فذلك الحديث يدل على عدم ركنيَّتها في التشهُّد الثاني؛ فإن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يأمر المصلِّي الذي لم يأت بها بالإعادة.

فإن قلتم: كان جاهلًا. قلنا: الجاهل لا يُعذر في ترك ركن من الأركان.

فإن قلتم: لعلَّه كان في نفل. قلنا: كان الظاهر أن يبيِّن له النبي صلى الله عليه وآله وسلم ركنيَّتها حتَّى لا يتركها مرَّة أخرى في الفرض أو في نفل فيأتيَ بصلاة غير صحيحة، وهي حرام، ولو نفلًا. على أن ذلك الرجل يحتمل أنه ترك أصل التشهُّد؛ فإن قوله صلى الله عليه وآله وسلم: «إذا قعدت فاحمد الله بما هو أهله، وصلِّ عليَّ ثم ادعه»، فأول التشهد: «التحيَّات لله والصلوات والطيبات»، وهذا حَمدُ الله(2).

ثم: «السلام عليك أيُّها النبي ورحمة الله وبركاته»، وهذه صلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم؛ لأن الرحمة هي الصلاة كما ترجمها هو صلى الله عليه وآله وسلم بذلك فقال: «اللهم صلِّ

--------------------------------------------

(1) بياض في الأصل بمقدار أكثر من سطرين.

(2) كذا في الأصل، ولعل الصواب: «حمدٌ لله».
আর প্রথম তাশাহহুদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়টি হলো, সঠিক কথা হলো—ইনশাআল্লাহ তাআলা—এটি মূলত শরয়িভাবে নির্দেশিত নয়, যা ইবনে মাসউদের হাদিস এবং [ … ](১) এর বর্ণনায় এসেছে।

তারা এটিকে কেবল অনুমান (القياس) এর মাধ্যমে সাব্যস্ত করেন, অথচ অকাট্য দলিল (النص) এর উপস্থিতিতে কোনো কিয়াস চলে না; তদুপরি ইবাদতের ক্ষেত্রে কিয়াস অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف)।

অতঃপর, শেষ তাশাহহুদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের নির্দেশের ব্যাপারে তারা যে হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, তা একথাই প্রমাণ করে যে, এটি কেবল দোয়ার ভূমিকা হিসেবে বিধিবদ্ধ হয়েছে; আর প্রথম তাশাহহুদে কোনো দোয়া নেই। এছাড়া সেই হাদিসটি দ্বিতীয় তাশাহহুদেও এর রুকন (ركن) না হওয়ার প্রমাণ বহন করে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সেই মুসল্লিকে নামাজ পুনরায় পড়ার নির্দেশ দেননি যিনি তা আদায় করেননি।

যদি আপনারা বলেন: তিনি অজ্ঞ ছিলেন। আমরা বলব: কোনো রুকন (ركن) ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অজ্ঞ ব্যক্তিকে ওজর প্রদান করা হয় না।

যদি আপনারা বলেন: সম্ভবত এটি নফল নামাজ ছিল। আমরা বলব: তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জন্য এর রুকন (ركن) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া জরুরি ছিল যাতে তিনি ফরজ কিংবা নফল নামাজে পুনরায় এটি বর্জন না করেন, ফলে একটি অশুদ্ধ (غير صحيح) নামাজ আদায় না হয়; যা হারাম, যদিও তা নফল নামাজ হয়। তদুপরি, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি মূল তাশাহহুদই বর্জন করেছিলেন; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যখন তুমি বসবে তখন আল্লাহর প্রশংসা করবে যেমনটি তাঁর শান অনুযায়ী হওয়া উচিত, আর আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে অতঃপর দোয়া করবে", আর তাশাহহুদের শুরু হলো: "আত-তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-তাইয়্যিবাতু", আর এটিই হলো আল্লাহর প্রশংসা(২)।

এরপর: "আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু", আর এটি তাঁর ওপর দরুদ পাঠেরই অন্তর্ভুক্ত; কারণ রহমতই হলো সালাত বা দরুদ, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "হে আল্লাহ, আপনি দরুদ বর্ষণ করুন..."

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে দুই লাইনেরও বেশি জায়গা খালি রয়েছে।

(২) মূলে এভাবেই আছে, সম্ভবত সঠিক পাঠ হবে: "আল্লাহর জন্য প্রশংসা"।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫২)
على محمد، وعلى آل محمد، كما صلَّيت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد، اللهم بارك … »، أراد صلى الله عليه وآله وسلم قولَ الملائكة لأهل بيت إبراهيم [في] قوله تعالى: {رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ إِنَّهُ(1) … حَمِيدٌ مَجِيدٌ} [هود: 73].

ثم: «السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين»، وهذا الدعاء.

وغاية ما في الأمر أن يثبت به أن الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم بلفظ الصلاة مأمور به في التشهُّد الثاني. وهذا ــ مع عدم بيانه صلى الله عليه وآله وسلم الركنية ــ يصدق بالفرضية على ما قال إسحاق.

فوُجد فرق بين التشهُّد والصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فلا يجوز مع ذلك قياسها عليه لإثبات مشروعيتها في الجلوس الأول.

ثمَّ إنهم أثبتوها في القنوت بغير نصٍّ من الإمام، بل قياسًا على ثبوتها في التشهُّد، وهذا قياس على مقيس، وهو ضعيف جدًّا.

على أنه لا مشابهة بين القنوت والتشهُّد، هذا فضلًا عن كون القنوت لم يثبت من أصله.

نعم، احتجُّوا بما رواه النسائي(2) عن الحسن بن علي في قنوت الوتر،

--------------------------------------------

(1) في الأصل: إنك، سبق قلم.

(2) (1746)، وفي الكبرى (1447 و 8047). قال النووي في «الخلاصة»: (1/ 458): إسناده صحيح أو حسن. وحسَّنه ابنُ الملقن في «تحفة المحتاج»: (1/ 410). وضعَّفه الحافظ ابن حجر بالانقطاع، وبالاختلاف في إسناده. انظر «التلخيص»: (1/ 264 - 265).
মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর, যেভাবে আপনি ইব্রাহিম এবং ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, বরকত দান করুন … »; এর মাধ্যমে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফেরেশতাদের সেই উক্তিটিই উদ্দেশ্য করেছেন যা তারা ইব্রাহিম (আ.)-এর পরিবারের সদস্যদের প্রতি বলেছিল, আল্লাহ তাআলার বাণী অনুযায়ী: {হে আহলে বাইত, তোমাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক, নিশ্চয়ই তিনি(১) … প্রশংসিত ও মহিমান্বিত} [হুদ: ৭৩]।

অতঃপর: «আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক», আর এটি একটি দোয়া।

এই বিষয়ের চূড়ান্ত দিক হলো এর মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয় যে, দ্বিতীয় তাশাহহুদে সালাত বা দরুদ পাঠের শব্দের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা আদিষ্ট। আর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর রুকন হওয়া (ركنية) স্পষ্ট না করলেও, ইসহাক যা বলেছেন সেই অনুযায়ী এটি ফরজ হওয়া (فرضية) এর বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।

সুতরাং তাশাহহুদ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; ফলে প্রথম বৈঠকে এর বৈধতা প্রমাণের জন্য একে তাশাহহুদের ওপর কিয়াস (قياس) করা বৈধ হবে না।

অতঃপর তারা ইমামের কোনো সরাসরি বর্ণনা (نص) ছাড়াই কুনুতের মধ্যে দরুদ পাঠকে সাব্যস্ত করেছেন, বরং তাশাহহুদে এটি সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس) করেছেন। আর এটি হলো একটি কিয়াসকৃত বিষয়ের ওপর পুনরায় কিয়াস করা, যা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)।

তদুপরি কুনুত এবং তাশাহহুদের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই; আর কুনুত তো মূলত সাব্যস্তই হয়নি।

হ্যাঁ, তারা হাসান ইবনে আলী (রা.) থেকে বিতরের কুনুত সম্পর্কে নাসায়ি(২) বর্ণিত হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করেছেন।

--------------------------------------------

(1) মূলে রয়েছে: ‘ইন্নাকা’ (নিশ্চয়ই আপনি), যা লেখনীর ভুল।

(2) (১৭৪৬), এবং আল-কুবরা (১৪৪৭ ও ৮০৪৭)। ইমাম নববী ‘আল-খুলাসাহ’ গ্রন্থে (১/ ৪৫৮) বলেছেন: এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح) অথবা উত্তম (حسن)। ইবনুল মুলাক্কিন ‘তুহফাতুল মুহতাজ’ গ্রন্থে (১/ ৪১০) এটিকে উত্তম (حسن) বলেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার একে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) এবং এর সনদ (إسناد) নিয়ে মতভেদ (اختلاف) এর কারণে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। দেখুন ‘আত-তালখিস’ (১/ ২৬৪ - ২৬৫)।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৩)
وفيه: «وصلَّى الله على النبي». فعلى العين والرأس ما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، ولكن هذا الحديث فيه اضطراب معروف.

وهبْه صحَّ، فإن أصل القنوت في الصبح لم يصحَّ. وهبه صحَّ، فمن أين زدتم الصلاة على الآل؟

قالوا: قياسًا على الصلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم. قلنا: قياس مسلسل، ومع ذلك لِمَ لم تفعلوه في التشهُّد الأول؟

قالوا: التشهُّد الأول مبني عل التخفيف. قلنا: والاعتدال عندكم ركن قصير يبطل تطويله.

قالوا: قياسًا على التشهُّد الثاني. قلنا لهم: تارة تقيسونه على الأول وتارة على الثاني؟ ! فاختاروا أحدهما! إما أن تقيسوه على الثاني وتقولوا: هو ركن، فلا تجبروه بسجود السهو، أو على الأول فلا تزيدوا فيه الصلاة على الآل.

ثم بالغوا فقالوا: «وصحبه» مع أن الصلاة على الصحب ليست مشروعة في الأول ولا في الثاني!

قالوا: قياسًا على الآل. قلنا: ما جعل هذا القياس المسلسل أولى من القياس المباشر؟ أعني إثباتها في الثاني.

ثم إن هذه الزيادات التي جلبتموها جعلتموها كلها تُجبَر بسجود السهو، مع أن سجود السهو إذا وقع لغير سببٍ مبطلٌ، فكيف تجرؤون على شرع المبطل لمثل تلك التمحُّلات؟
এতে রয়েছে: «এবং নবীজির ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক»। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা আমরা শিরোধার্য করি, কিন্তু এই হাদিসটিতে সুবিদিত অসংগতি (اضطراب) রয়েছে।

ধরে নেওয়া যাক এটি সহিহ (صح), কিন্তু ফজর নামাজে কুনুতের মূল ভিত্তিই সহিহ (صح) নয়। আর যদি তা সহিহ (صح) ধরেও নেওয়া হয়, তবে আপনারা রাসূলের বংশধরদের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়টি কোত্থেকে বৃদ্ধি করলেন?

তারা বলেন: রাসূলের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়ের সাথে তুলনা (قياس) করে। আমরা বলি: এটি একটি পরম্পরাগত তুলনা (قياس مسلسل), তা সত্ত্বেও কেন আপনারা প্রথম তাশাহহুদের সময় এটি করেন না?

তারা বলেন: প্রথম তাশাহহুদ সংক্ষেপ করার ওপর ভিত্তি করে রচিত। আমরা বলি: আপনাদের মতে ইতিদাল (রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো) হলো একটি সংক্ষিপ্ত রুকন (ركن), যা দীর্ঘ করলে নামাজ বাতিল হয়ে যায়।

তারা বলেন: দ্বিতীয় তাশাহহুদের সাথে তুলনা (قياس) করে। আমরা তাদের বলি: কখনও আপনারা একে প্রথমটির সাথে তুলনা (قياس) করেন, আবার কখনও দ্বিতীয়টির সাথে? ! সুতরাং যে কোনো একটি বেছে নিন! হয় আপনারা একে দ্বিতীয়টির সাথে তুলনা (قياس) করে বলুন যে এটি একটি রুকন (ركن), ফলে সাহু সিজদার (سجود السهو) মাধ্যমে এর ক্ষতিপূরণ হবে না; অথবা প্রথমটির সাথে তুলনা (قياس) করুন এবং এতে রাসূলের বংশধরদের ওপর দরুদ বৃদ্ধি করবেন না।

অতঃপর তারা বাড়াবাড়ি করে বলেন: «এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর», অথচ সাহাবীদের ওপর দরুদ পাঠ প্রথম বা দ্বিতীয় কোনো তাশাহহুদেই বিধিবদ্ধ (مشروعة) নয়!

তারা বলেন: রাসূলের বংশধরদের ওপর তুলনায় (قياس)। আমরা বলি: কোন বিষয়টি এই পরম্পরাগত তুলনাকে (قياس مسلسل) সরাসরি তুলনার (القياس المباشر) চেয়ে অগ্রগণ্য করল? অর্থাৎ দ্বিতীয় তাশাহহুদে এটি সাব্যস্ত করার বিষয়টি।

এরপর আপনারা যে সমস্ত পরিবর্ধন নিয়ে এসেছেন, সেগুলোর সবকটিকেই সাহু সিজদার (سجود السهو) মাধ্যমে ক্ষতিপূরণযোগ্য করেছেন; অথচ যথাযথ কারণ ছাড়া সাহু সিজদা (سجود السهو) করলে তা নামাজ বাতিলকারী হয়। এমতাবস্থায় আপনারা কীভাবে এমন সব অযুহাতের ভিত্তিতে নামাজ বাতিলকারী বিষয়কে বিধিবদ্ধ করার সাহস দেখান?
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৪)
والحاصل أن القنوت من أصله لم يثبت، فكفى الله المؤمنين شرَّ القتال.

وسجود السهو ليس له إلا سبب واحد، وهو فعل ما يُبطل عَمْده ولا يُبطل سهوه، ولو احتمالًا، أعني بأن لم يتيقَّن فعل المبطل ولكنه شكَّ في فعله.

ثمَّ قالوا: إذا قرأ الفاتحة أو السورة أو التشهد أو الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في غير محلها، سجد للسهو على تفريعٍ في ذلك. ولا دليل لهم على هذا.

قالوا: لأنه يدل على عدم الاعتناء بالصلاة بحيث شبَّه ترك التشهد الأول. قلنا: أما التشهُّد الأول فقد ثبت أن تركه عمدًا مبطل، ونَقْل تلك الأشياء غير مبطل. ثم لِمَ لم تقولوا في أذكار الركوع والاعتدال والسجود والجلوس بين السجدتين مثل ذلك؟

والظاهر أنَّ أول من طرق ذلك إنما قاسها على السلام قبل التمام؛ فإنه ركن وقع في غير محلِّه، فقاس عليه الفاتحة والتشهُّد والصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم. ولكن المتأخرين لم يوجِّهوه بذلك، لعلمهم أن السلام قبل التمام إنما سُجد له لكون فِعْله عمدًا مبطلًا، لا لإيقاعه في غير محلِّه، فوجهوه بما وجهَّوا، وألحقوا بعض ما يناسب توجيههم، ولم يجرؤوا على إلحاق الجميع خوف الشناعة.

فالحق ــ إن شاء الله تعالى ــ في سجود السهو أنه إنما شُرع لترك التشهُّد الأول، وللسلام قبل التمام، وللزيادة، أو الشك فيها. ومن يقول بالقياس فيُلحق بها كلَّ شيء أبطل عمدُه لا سَهْوُه، سواء أكان فعلًا أم تركًا.
মূলকথা হলো, কুনুত (القنوت) এর বিষয়টি ভিত্তিগতভাবেই প্রমাণিত (ثبت) হয়নি; সুতরাং আল্লাহ মুমিনদের যুদ্ধের অকল্যাণ থেকে রক্ষা করেছেন।

আর সাহু সিজদার (سجود السهو) কেবলমাত্র একটিই কারণ রয়েছে, আর তা হলো এমন কোনো কাজ করা যা ইচ্ছাকৃতভাবে করলে নামাজ বাতিলকারী (مبطل) হয় কিন্তু ভুলবশত করলে তা বাতিল হয় না, এমনকি তা যদি কেবল সম্ভাবনার পর্যায়েও হয়। অর্থাৎ আমার উদ্দেশ্য হলো, যখন বাতিলকারী (مبطل) কোনো কাজ করার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না, বরং তা করার ক্ষেত্রে সন্দেহ (شك) তৈরি হয়।

অতঃপর তারা বলেছেন: যদি সূরা ফাতিহা, অন্য কোনো সূরা, তাশাহহুদ অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর দরুদ তার নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে পাঠ করা হয়, তবে এর শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত আলোচনার ভিত্তিতে সাহু সিজদা দিতে হবে। অথচ এ ব্যাপারে তাদের নিকট কোনো দলিল (دليل) নেই।

তারা বলেছেন: কারণ এটি নামাজের প্রতি অমনোযোগিতা নির্দেশ করে, যা প্রথম তাশাহহুদ ত্যাগ করার সাদৃশ্য রাখে। আমরা বলি: প্রথম তাশাহহুদের ক্ষেত্রে এটি প্রমাণিত (ثبت) যে, তা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা নামাজকে বাতিলকারী (مبطل), কিন্তু ওই বিষয়গুলোকে স্থানান্তরিত করা নামাজকে বাতিল করে না। তবে রুকু, ই’তিদাল (اعتدال), সিজদা এবং দুই সিজদার মাঝখানে বসার জিকিরসমূহের ক্ষেত্রে কেন আপনারা অনুরূপ কথা বলেন না?

আর স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, যিনি প্রথম এই বিষয়ের অবতারণা করেছেন তিনি মূলত নামাজ পূর্ণ হওয়ার আগে সালাম ফেরানোর ওপর একে কিয়াস (قياس) করেছেন; কেননা তা এমন একটি রুকন (ركن) যা তার যথাস্থানে ঘটেনি। ফলে তিনি সূরা ফাতিহা, তাশাহহুদ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ করাকেও এর ওপর কিয়াস (قياس) করেছেন। কিন্তু পরবর্তী আলেমগণ (المتأخرون) বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেননি, কারণ তারা জানতেন যে, নামাজ পূর্ণ হওয়ার আগে সালাম ফেরানোর কারণে সাহু সিজদা দিতে হয় এই যুক্তিতে যে এর ইচ্ছাকৃত সম্পাদন নামাজকে বাতিলকারী (مبطل), তার যথাস্থানে না ঘটার কারণে নয়। ফলে তারা বিষয়টিকে তাদের নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাদের ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু বিষয়কে এর সাথে যুক্ত করেছেন, তবে লোকনিন্দার ভয়ে সবগুলোকে যুক্ত করার সাহস করেননি।

সুতরাং ইনশাআল্লাহ তাআলা সাহু সিজদার ক্ষেত্রে সঠিক (حق) মত হলো যে, এটি কেবল প্রথম তাশাহহুদ ত্যাগ করা, নামাজের পূর্ণতার পূর্বে সালাম ফেরানো, কোনো কিছু বৃদ্ধি (زيادة) করা অথবা বৃদ্ধির ব্যাপারে সন্দেহ (شك) হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ (شرع) করা হয়েছে। আর যারা কিয়াস (قياس) এর প্রবক্তা, তারা এর সাথে এমন প্রতিটি বিষয়কে যুক্ত করেন যার ইচ্ছাকৃত সম্পাদন নামাজকে বাতিলকারী (مبطل) হয় কিন্তু ভুলবশত করলে হয় না—চাই তা কোনো কর্ম হোক কিংবা বর্জন।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৫)
وإذًا فلا معنى للسجود لعمد تلك الأشياء؛ إذ قد تبيَّن أن عمدها مُبطل، فأما الشكُّ فإنه لا يتصوَّر عمده.

ثمَّ الحق في سجود السهو أنَّه فرض لأنه تداركٌ لفعل مبطل، إلا أن البطلان سقط لأجل السهو.

والظاهر ــ والله أعلم ــ أن تارك الشيء منها جهلًا لا يُؤمر بسجود السهو لحديث الرجل الذي علَّمه النبي صلى الله عليه وآله وسلم الصلاة عليه؛ فإننا نختار أن الصلاة عليه صلى الله عليه وآله وسلم في التشهد الثاني فرض لا ركن، وهذا هو مذهب إسحاق.

وأيضًا في حديث معاوية بن الحكم أنه تكلَّم في الصلاة، ولم يأمره النبي صلى الله عليه وآله وسلم بالسجود للسهو مع أنَّ عمد الكلام مبطلٌ. قالوا: إنما لم يأمره لأنه كان مأمومًا، والمأموم يتحمَّل عنه إمامه. قلنا: وما دليلُ أنَّ المأموم يتحمَّل عنه إمامه؟ لم نجد لهم دليلًا في ذلك(1).

* * * *

 

‌‌[فائدة حول التشهد وعطف اسم النبي صلى الله عليه وآله وسلم على لفظ الجلالة]

جاء في بعض روايات التشهد: «أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله».

وفي بعضها: «وأن محمدًا عبده ورسوله».

وفي أخرى: «وأشهد أن محمدًا رسول الله».

--------------------------------------------

(1) مجموع [4716].
অতএব, সেই বিষয়গুলো ইচ্ছাকৃতভাবে (عمد) করার জন্য সিজদা করার কোনো অর্থ হয় না; কেননা এটি স্পষ্ট হয়েছে যে সেগুলোর ইচ্ছাকৃত কাজ সালাত বাতিলকারী (مبطل)। আর সন্দেহের (الشك) ক্ষেত্রে তা ইচ্ছাকৃত হওয়া কল্পনা করা যায় না।

অতঃপর, সিজদায়ে সাহুর (سجود السهو) ব্যাপারে সঠিক মত হলো যে এটি ফরজ (فرض); কারণ এটি একটি বাতিলকারী (مبطل) কাজের ক্ষতিপূরণ, তবে ভুলবশত (سهو) হওয়ার কারণে বাতিল হওয়ার বিধানটি রহিত হয়েছে।

আর প্রকাশ্য (الظاهر) বিষয় হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—অজ্ঞতাবশত (جهل) এগুলোর কোনো একটি ছেড়ে দিলে তাকে সিজদায়ে সাহুর (سجود السهو) নির্দেশ দেওয়া হবে না; কারণ সেই ব্যক্তির হাদিস যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ওপর দরুদ পাঠের নিয়ম শিখিয়েছিলেন। আমরা এই মতটিই গ্রহণ করি যে, দ্বিতীয় তাশাহহুদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা ফরজ (فرض), রুকন (ركن) নয়; আর এটিই ইসহাকের মাযহাব।

এছাড়া মুয়াবিয়া ইবনুল হাকামের হাদিসে এসেছে যে তিনি সালাতে কথা বলেছিলেন, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাকে সিজদায়ে সাহুর (سجود السهو) নির্দেশ দেননি, যদিও ইচ্ছাকৃতভাবে (عمد) কথা বলা সালাত বাতিলকারী (مبطل)। তারা বলেন: তিনি তাকে নির্দেশ দেননি কারণ তিনি মুক্তাদি (مأموم) ছিলেন, আর মুক্তাদির পক্ষ থেকে ইমাম দায়িত্ব বহন করেন। আমরা বলি: মুক্তাদির পক্ষ থেকে ইমাম দায়িত্ব বহন করবেন—এর দলিল (دليل) কী? এ বিষয়ে আমরা তাদের কোনো দলিল (دليل) খুঁজে পাইনি(১)।

* * * *

 

‌‌[তাশাহহুদ এবং আল্লাহ তাআলার নামের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম যুক্ত করা সংক্রান্ত একটি ফায়দা (فائدة)]

তাশাহহুদের কিছু বর্ণনায় (روايات) এসেছে: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল»।

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: «এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল»।

অন্য বর্ণনায় এসেছে: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল»।

--------------------------------------------

(১) মাজমু [৪৭১৬]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৬)
فقال بعضهم: يُفهم منه جواز: «وأن محمدًا رسول الله» بناءً على أن كلمة «أشهد» أُسقطت في روايةٍ، وكلمة «عبده» أُسقطت في أخرى، فيجوز حذفهما معًا.

وهو عندي خطأ، فإسقاط كلّ منهما وحدها لا يدلّ على جواز إسقاطهما معًا.

ثم من الحكمة في ذلك ــ والله أعلم ــ أنه إذا أسقط كلمة «أشهد» صار قوله: «وأن محمدًا» إلخ داخلًا تحت «أشهد» الأولى، فوجب حينئذ أن يُؤتى بكلمة: «عبده» حفظًا لمقام الربوبية ودفعًا لما يُوهمه إدخال الجملتين تحت «أشهد» واحدة من التسوية.

وأما إذا جاء بـ «أشهد» أخرى فهذا الإيهام مندفع، فجاز حينئذ إسقاط كلمة «عبده». ومما يرشد إلى هذا إنكاره صلى الله عليه وآله وسلم على من قال: «ومن يعصهما فقد غوى»(1) وعلى قائل: «ما شاء الله وشئت»(2)(3).

* * * *

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (870) من حديث عديّ بن حاتم.

(2) أخرجه أحمد (1839)، والنسائي في «الكبرى» (10759)، وابن ماجه (2117)، والبخاري في «الأدب المفرد» (783)، والبيهقي: (3/ 217) وغيرهم من حديث ابن عباس رضي الله عنهما. وفي سنده الأجلح الكندي مختلف فيه، وله شواهد يتقوَّى بها.

(3) مجموع [4711].
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এর থেকে «وأن محمدًا رسول الله» (এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল) বলার বৈধতা (جواز) অনুধাবন করা হয় এই ভিত্তিতে যে, একটি বর্ণনা (رواية)-এ «أشهد» শব্দটি বাদ পড়েছে এবং অন্যটিতে «عبده» শব্দটি বাদ পড়েছে; ফলে এই উভয়টি একত্রে বর্জন করা জায়েজ (جواز) হবে।

তবে আমার নিকট এটি ভুল; কারণ এ দুটির প্রত্যেকটি এককভাবে বাদ পড়া উভয়টি একত্রে বাদ দেওয়ার বৈধতার (جواز) ওপর দলীল হয় না।

অতঃপর এর অন্তর্নিহিত হিকমত হলো—আল্লাহ্ই ভালো জানেন—যখন «أشهد» শব্দটি বাদ দেওয়া হয়, তখন তার উক্তি: «وأن محمدًا» ইত্যাদি প্রথম «أشهد»-এর অধীনে চলে আসে। এমতাবস্থায় রুবুবিয়্যতের (প্রভুত্বের) মর্যাদা রক্ষা করতে এবং একটি «أشهد»-এর অধীনে দুটি বাক্যকে নিয়ে আসার ফলে যে সমতাকরণের (تسوية) বিভ্রম তৈরি হতে পারে তা নিরসনের জন্য «عبده» শব্দটি উল্লেখ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

পক্ষান্তরে যখন দ্বিতীয়বার «أشهد» শব্দ আনা হয়, তখন এই বিভ্রম দূর হয়ে যায়; ফলে তখন «عبده» শব্দটি বর্জন করা জায়েজ (جواز) হয়। এর স্বপক্ষে দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সেই ব্যক্তির প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের মাধ্যমে যে বলেছিল: «ومن يعصهما فقد غوى» (এবং যে ব্যক্তি এই উভয়ের অবাধ্য হলো সে পথভ্রষ্ট হলো)(১) এবং ঐ ব্যক্তির প্রতি যে বলেছিল: «ما شاء الله وشئت» (যা আল্লাহ এবং আপনি চেয়েছেন)(২)(৩)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম (৮৭০) আদি ইবনে হাতিমের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি আহমদ (১৮৩৯), নাসায়ি তাঁর আল-কুবরা (১০৭৫৯)-তে, ইবনে মাজাহ (২১১১), বুখারি তাঁর আল-আদাবুল মুফরাদ (৭৮৩)-এ, বাইহাকি (৩/ ২১৭) এবং অন্যান্যগণ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে (سند) আজলাহ আল-কিন্দি রয়েছেন যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে (مختلف فيه), তবে এর কিছু সমর্থনকারী বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যা দ্বারা এটি শক্তিশালী হয় (يتقوَّى بها)।

(৩) মাজমু [৪৭১১]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৭)
‌‌[جمع الصلوات في الحضر]

الحمد لله.

في «الصحيح»(1) عن ابن عباس وأبي هريرة: «أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم جمع بأصحابه في المدينة بين الظهر والعصر، وبين المغرب والعشاء لغير عذر ولا سفر». وفي رواية: «ولا مطر».

فأخذ بهذا بعض التابعين وغيرهم. وتأوَّله الجمهور؛ فمنهم من تأوَّله بأنه كان لعذر. ورُدَّ بأن الصحابي قد قال: «بغير عُذرٍ»، وفعله ابن عبَّاس لغير عذر.

ثم ما هو العذر؟ فقيل: مرض، ورُدَّ بما تقدَّم، وبأن ابن عبَّاسٍ فعله وهو يخطب في الجامع، وبأن المرض تُحِيل العادة أن يعمَّ، ولو كان خاصًّا بالنبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يكن عذرًا في حقِّ غيره.

وقيل: مطر، ورُدَّ بما تقدَّم من إطلاق الصحابي أنه لغير عذر، وأن ابن عبَّاس فعله وهو يخطب في الجامع، وبأنه ثبت في بعض الروايات: «ولا مطر». وأيضًا فابن عبَّاس جمع تأخيرًا، وجمع المطر في الحديث من مذهب الشافعي خاصٌّ بالتقديم، وهو الذي يقتضيه النظر. على أن الجمع للمطر لم تقم عليه حجَّة، وإنما يحتجُّون عليه بهذا الحديث، وهو كما ترى.

وقيل ــ وهو أقرب ما قيل ــ: لعلَّه جمعٌ صوري، ورُدَّ بأن ابن عبَّاس لمَّا سُئل عن سبب ذلك قال: «أراد أن لا يُحرج أمَّته».

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (543) عن ابن عباس، ومسلم (705) من حديثهما.
‌[নিবাসে অবস্থানকালীন সালাত একত্র করা]

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

‘সহিহ’ গ্রন্থে(১) ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় তাঁর সাহাবিদের নিয়ে কোনো ওজর বা সফর ছাড়াই যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেছেন।» অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে: «বৃষ্টির কারণ ছাড়াও।»

কিছু তাবিঈ এবং অন্যান্যরা এই আমলটি গ্রহণ করেছেন। তবে জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটি কোনো ওজরের কারণে ছিল। কিন্তু এই মতটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই যুক্তিতে যে, সাহাবি (রা.) নিজেই বলেছেন: «ওজর ব্যতিরেকে», এবং ইবনে আব্বাস (রা.) নিজেও কোনো ওজর ছাড়াই তা করেছিলেন।

তাহলে সেই ওজরটি কী ছিল? বলা হয়েছে: অসুস্থতা; কিন্তু এটিও পূর্বোক্ত বর্ণনার মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, এবং এই কারণেও যে ইবনে আব্বাস (রা.) জামে মসজিদে খুতবা প্রদানরত অবস্থায় এটি করেছিলেন। তাছাড়া অসুস্থতা সাধারণত সবার ক্ষেত্রে ব্যাপক হওয়া অসম্ভব, আর যদি এটি কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট হতো, তবে তা অন্যের ক্ষেত্রে ওজর হিসেবে গণ্য হতো না।

আবার বলা হয়েছে: ওজরটি ছিল বৃষ্টি; এটিও সাহাবির সেই সাধারণ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে, এটি কোনো ওজর ছাড়াই ছিল, এবং ইবনে আব্বাস (রা.) এটি জামে মসজিদে খুতবা দেওয়ার সময় করেছিলেন। এছাড়া কিছু বর্ণনা (رواية)-তে এটি প্রমাণিত যে: «বৃষ্টির কারণ ছাড়াই»। অধিকন্তু ইবনে আব্বাস (রা.) বিলম্বিত একত্রীকরণ করেছিলেন, অথচ শাফেয়ী মাজহাব মতে বৃষ্টির কারণে সালাত একত্র করা কেবল অগ্রিম একত্রীকরণের সাথে নির্দিষ্ট, আর যুক্তিও এটিই দাবি করে। তাছাড়া বৃষ্টির কারণে সালাত একত্র করার পক্ষে কোনো অকাট্য দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়নি; তারা কেবল এই হাদিসটি দিয়েই দলিল পেশ করেন, যার প্রকৃত অবস্থা আপনার সামনে স্পষ্ট।

বলা হয়েছে—এবং এটিই বর্ণিত মতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী—সম্ভবত এটি ছিল রূপক একত্রীকরণ (جمع صوري)। কিন্তু এটিও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, কারণ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে যখন এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: «তিনি চেয়েছিলেন যেন তাঁর উম্মত কোনো সংকটে না পড়ে।»

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৫৪৩) ইবনে আব্বাস থেকে, এবং মুসলিম (৭০৫) তাঁদের উভয়ের হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৮)
والجمع الصوري أحرج من التوقيت. وهذا الرد محتمل ولكن ظهر لي ردٌّ أوضح منه وأبْيَن، وهو أن الصحابي أطلق الجمع، والمفهوم عند الإطلاق: الجمع الحقيقي. ولو أراد الجمع الصوري لقال: أخَّر الصلاة إلى آخر وقتها.

وأيضًا ــ وهو أظهر ــ أنه قال: «جمع … من غير عذر ولا سفر» فظهر من فحواه أنه أراد الجمع الذي يكون للسفر، وهو الحقيقي. كما لو قال قائل: قصَّر فلان الصلاة، لاحتمل إرادة القصر المعروف في السفر ــ وهو أن يصلِّي الرباعية ثنتين ــ، وإرادةَ القصر المقابل للتطويل. فإذا قال: قصَّر فلانٌ الصلاةَ من غير سفر= تعيَّن الأول، وهو صلاة الرباعية اثنتين.

وقيل: إن هذا الحديث منسوخ بأحاديث التوقيت، وفيها النص على تحديد وقت الظهر ووقت العصر ووقت المغرب ووقت العشاء. وهذا جيِّد لو ثبت تأخُّر أحاديث التوقيت عن هذا الفعل، ولا يثبت.

ثم في هذا الحديث أن ابن عبَّاس حضره، وهو إنما حضر المدينة أخيرًا. وكذا أبو هريرة. والظاهر أن أحاديث التوقيت متقدِّمة. ثمَّ فِعل ابن عبَّاس له واحتجاجه بهذا الحديث وتصديق أبي هريرة له يُبعد النسخ.

فأقوى ما بيد الجمهور أن عمل النبي صلى الله عليه وآله وسلم الغالبَ التوقيتُ، وعمل الأئمة مستمرٌّ عليه. ولكن غايته أن يكون الجمع مكروهًا فقط. وفَعَله صلى الله عليه وآله وسلم لبيان الجواز، وتَرَكه الأئمةُ لكونه مكروهًا، فلا يلزم من هذا عدم الجواز. والله أعلم(1).

--------------------------------------------

(1) مجموع [4716].
দৃশ্যত একত্রীকরণ (الجمع الصوري) ওয়াক্ত নির্ধারণের (التوقيت) চেয়ে বেশি সংকীর্ণ। এই উত্তরটি সম্ভাব্য হতে পারে, তবে আমার কাছে এর চেয়েও অধিক স্পষ্ট ও প্রকাশ্য একটি উত্তর প্রতিভাত হয়েছে। তা হলো: সাহাবী (صحابي) নিঃশর্তভাবে একত্রীকরণের কথা উল্লেখ করেছেন। আর কোনো শব্দ নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হলে তার দ্বারা প্রকৃত একত্রীকরণ (الجمع الحقيقي) বোঝানোই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। যদি তিনি দৃশ্যত একত্রীকরণ (الجمع الصوري) বোঝাতে চাইতেন, তবে তিনি বলতেন: তিনি সালাতকে এর শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্বিত করেছেন।

তাছাড়া—যা অধিকতর স্পষ্ট—তা হলো তাঁর এই উক্তি: «তিনি একত্র করেছেন … ওজর (عذر) অথবা সফর (سفر) ব্যতীত»। সুতরাং এর মর্মার্থ থেকে প্রতিভাত হয় যে, তিনি সফরকালীন একত্রীকরণই বুঝিয়েছেন, যা কি না প্রকৃত একত্রীকরণ (الجمع الحقيقي)। যেমন যদি কেউ বলে: ‘অমুক ব্যক্তি সালাত কসর (قصر) করেছেন’, তবে তাতে সফরে পরিচিত কসর (قصر)—অর্থাৎ চার রাকাতবিশিষ্ট সালাত দুই রাকাত পড়া—অথবা দীর্ঘ করার বিপরীতে সংক্ষিপ্ত করার ইচ্ছা, উভয়টিরই সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যখন সে বলে: ‘অমুক ব্যক্তি সফর (سفر) ব্যতিরেকেই সালাত কসর (قصر) করেছেন’, তখন প্রথম অর্থটিই নির্দিষ্ট হয়ে যায়, যা হলো চার রাকাতের সালাত দুই রাকাত পড়া।

আর বলা হয়েছে: এই হাদিসটি ওয়াক্ত নির্ধারণ সম্পর্কিত হাদিসসমূহ দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে। সেসব হাদিসে যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার ওয়াক্ত নির্ধারণের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভাষ্য (النص) বিদ্যমান। এই যুক্তিটি যথাযথ হতো যদি উক্ত কর্মের পরে ওয়াক্ত নির্ধারণের হাদিসসমূহ আসার বিষয়টি প্রমাণিত হতো; কিন্তু তা প্রমাণিত নয়।

অতঃপর এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে আব্বাস সেখানে উপস্থিত ছিলেন, অথচ তিনি শেষ জীবনে মদীনায় এসেছিলেন। আবু হুরায়রা-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আর এটিই স্পষ্ট যে, ওয়াক্ত নির্ধারণের হাদিসসমূহ পূর্ববর্তী (متقدمة)। তাছাড়া ইবনে আব্বাসের সেই আমল, এই হাদিস দ্বারা তাঁর দলিল পেশ করা এবং আবু হুরায়রা কর্তৃক তাঁকে সমর্থন করা—রহিতকরণ (النسخ) হওয়ার সম্ভাবনাকে দূরবর্তী করে দেয়।

জুমহুর (الجمهور)-এর নিকট সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল হলো এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর অধিকাংশ আমল ছিল ওয়াক্ত নির্ধারণের (التوقيت) ওপর এবং ইমামদের আমলও এর ওপরই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। তবে এর চূড়ান্ত পর্যায় হলো একত্রীকরণ কেবল অপছন্দনীয় (مكروه) হওয়া। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এটি বৈধতা বর্ণনার (بيان الجواز) জন্য করেছেন এবং ইমামগণ এটি অপছন্দনীয় (مكروه) হওয়ার কারণে বর্জন করেছেন। সুতরাং এটি থেকে অবৈধতা আবশ্যক হয় না। আর আল্লাহই ভালো জানেন(১)।

--------------------------------------------

(১) মাজমু [৪৭১৬]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৯)
‌‌[مسألة قضاء الصلوات المتروكة عمدًا]

احتجاج من يرى قضاء الصلاة المتروكة عمدًا بقوله صلى الله عليه وآله وسلم: «فدَين الله أحق أن يُقضى»(1) = فيه نظر؛ لأن لفظ الدَّيْن موضوع لما في الذمَّة مما يلزم أداؤه، فالحجُّ كان دَينًا في ذمّة أبي الخثعمية يلزمه أداؤه بحيث لو تُكلِّف حمله إلى مكة لصحَّ حجُّه اتفاقًا.

وإنما خفي عليها هل يصحُّ أن تحجَّ هي عنه؟ فبيَّن لها النبي صلى الله عليه وآله وسلم المثل(2) أن ذلك في معنى الدين؛ لأنه شيء ثبت في الذمة يلزم أداؤه.

فإذا كان الشيء الثابت في الذمَّة كذلك للبشر ينبغي للوارث أداؤه ــ ويراه صحيحًاـ(3)، فأولى منه الثابت لله عز وجل كذلك.

وبهذا يتبيَّن أنه يلزم القائلين بقضاء الصلاة المتروكة عمدًا أن يجيزوا للوارث قضاء الصلاة عن مورّثه؛ لأنها عندهم دين، ودين الله أحق بالقضاء.

فإذ لم يقولوا بهذا، تبيَّن أنها ليست بدَين، فكيف يصحُّ قضاؤها؟

وقولهم: إن الحديث متروك الظاهر بالنسبة إلى الصلاة= كلام غير مقبول، بل نقول: هو على ظاهره، والصلاة لا تكون دَينًا، وإنما منزلتها في وقتها الأدائي(4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1953)، ومسلم (1148) من حديث ابن عباس رضي الله عنهما.

(2) غير محررة في الأصل ولعلها ما أثبت.

(3) كلمتان غير محررتين ولعلها ما أثبت.

(4) بعده كلامٌ ضرب عليه المؤلف، ونصُّه: «منزلةُ الحجِّ في أشهره، فمن ترك الحجَّ حتى انقضت أيامه، لا يستطيع أن يؤدِّيه في المحرَّم مثلا. ولا يقال: إنه يُقضى حينئذ لأنه وإن كان دينًا إلا أنه دين موقَّت، بمنزلة الإيمان في العمر، فمن لم يؤ [من] … ». مجموع [4716].
‌[ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া সালাত কাজা করার মাসআলা]

যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া সালাত কাজা করা আবশ্যক মনে করেন, তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা: «আল্লাহর ঋণ পরিশোধ হওয়ার অধিক হকদার»(১) — এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ 'ঋণ' শব্দটি জিম্মায় থাকা ওই বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা আদায় করা আবশ্যক। সুতরাং খাসআমিয়া গোত্রের মহিলার পিতার ক্ষেত্রে হজ ছিল তাঁর জিম্মায় থাকা একটি ঋণ যা আদায় করা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল, এমনকি যদি তাঁকে কষ্ট করে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হতো তবে সর্বসম্মতভাবে তাঁর হজ বিশুদ্ধ (صحيح) হতো।

তাঁর নিকট কেবল বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল যে, তিনি কি তাঁর পিতার পক্ষ থেকে হজ করতে পারেন? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিলেন যে, এটি ঋণের অর্থের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি এমন বিষয় যা জিম্মায় সাব্যস্ত হয়ে আছে এবং আদায় করা আবশ্যক।

সুতরাং জিম্মায় সাব্যস্ত কোনো বিষয় যদি মানুষের ক্ষেত্রে এমন হয় যা উত্তরাধিকারীর পক্ষ থেকে আদায় করা বাঞ্ছনীয় —এবং তিনি একে বিশুদ্ধ (صحيح) মনে করেন— তবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার ক্ষেত্রে সাব্যস্ত বিষয়টি (আদায়ের ক্ষেত্রে) আরও বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া সালাত কাজা করার কথা বলেন, তাদের জন্য এটি মেনে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে যে উত্তরাধিকারী তার মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সালাত কাজা করবে; কারণ তাদের নিকট এটি একটি ঋণ, আর আল্লাহর ঋণ কাজা করার ব্যাপারে অধিক হকদার।

যেহেতু তারা এটি বলেন না, সেহেতু স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি ঋণ নয়; সুতরাং এর কাজা করা কীভাবে সঠিক হতে পারে?

আর তাদের এই কথা যে: সালাতের ক্ষেত্রে এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ পরিত্যক্ত (متروك) — এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। বরং আমরা বলি: এটি তার বাহ্যিক অর্থের ওপরই বহাল থাকবে, আর সালাত কোনো ঋণ নয়; বরং এর মর্যাদা হলো এর নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১৯৫৩) এবং মুসলিম (১১৪৮), ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস থেকে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট, সম্ভবত এটিই যা এখানে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৩) শব্দ দুটি অস্পষ্ট ছিল, সম্ভবত এটিই যা সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৪) এরপর কিছু কথা ছিল যা লেখক কেটে দিয়েছেন, তার পাঠ হলো: «হজের মর্যাদা হলো তার মাসসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট, সুতরাং যে ব্যক্তি হজ ত্যাগ করল এমনকি তার দিনগুলো অতিবাহিত হয়ে গেল, সে মহররম মাসে তা আদায় করতে সক্ষম হবে না। আর তখন একে কাজা বলা যাবে না; কারণ এটি ঋণ হলেও নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ঋণ, যা জীবনের ঈমানের মর্যাদার মতো। অতঃপর যে ঈমান আনেনি... »। মাজমু [৪৭১৬]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬০)
‌‌[المسافر إذا نوى إقامة أربعة أيام فأكثر، هل يتم؟]

الحمد لله.

احتجاج المالكية والشافعية وغيرهم على أن المسافر إذا نوى إقامة أربعة أيام أتمَّ بما رُوي من إذن النبي صلى الله عليه وآله وسلم للمهاجر أن يقيم بمكة ثلاثًا فقط. وَجْهُه كما قيل: إنه دلّ على أن المسافر إذا أقام ثلاثًا لم يرتفع عنه اسم السفر؛ بخلاف ما إذا زاد.

فيُردُّ عليهم بأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم مكث خمسة عشر يومًا أو أكثر يقصر.

وقولهم: إنه كان يتوقَّع السفر، بحيث لم ينو إقامة أربعة أيام سواء= يردُّه أن ارتفاع السفر ليس من شرطه النية، بل إذا حصلت الإقامة بالفعل، ارتفع. وهذا محل نظر، والله أعلم(1).

* * * *

 

‌‌وجوه الأفضلية في قيام الليل

يحصل أصل السُّنَّة بالصلاة أوله وأوسطه وآخره، والأفضل بعد نصف الليل.

يحصل أصل السُّنَّة بأي مقدار كان من الليل يكون فيه صلاة،

--------------------------------------------

(1) مجموع [4717].
‌‌[মুসাফির যদি চার দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করে, তবে সে কি পূর্ণ নামাজ পড়বে?]

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

মালিকি, শাফিয়ি এবং অন্যান্য ফকিহদের দলিল হলো—মুসাফির যদি চার দিন অবস্থানের নিয়ত করে তবে সে পূর্ণ নামাজ পড়বে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মুহাজিরদের মক্কায় মাত্র তিন দিন অবস্থানের অনুমতি প্রদান সম্পর্কে যা বর্ণিত (روي) হয়েছে। এর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যেমনটি বলা হয়েছে: এটি প্রমাণ করে যে, মুসাফির তিন দিন অবস্থান করলে তার ওপর থেকে সফরের হুকুম ঘুচে যায় না; কিন্তু এর অতিরিক্ত হলে ভিন্ন কথা।

তাদের এই দাবির উত্তরে বলা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম পনের দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় অবস্থান করে নামাজ সংক্ষিপ্ত (قصر) করেছেন।

আর তাদের এই বক্তব্য যে—তিনি সফরের প্রত্যাশায় ছিলেন বিধায় চার দিন অবস্থানের নিয়ত করেননি—এর উত্তরে বলা যায় যে, সফরের হুকুম রহিত হওয়ার শর্ত কেবল নিয়ত নয়, বরং প্রকৃতপক্ষে অবস্থান সংঘটিত হলেই তা রহিত হয়ে যায়। এটি পর্যালোচনার বিষয়, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।(১).

* * * *

 

‌‌কিয়ামুল লাইলের শ্রেষ্ঠত্বের দিকসমূহ

রাতের প্রথম, মধ্য বা শেষ ভাগে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মূল সুন্নাহ (سنة) পালিত হয়, আর মধ্যরাতের পরে আদায় করাই সর্বোত্তম।

রাতের যেকোনো অংশে যে পরিমাণ নামাজই পড়া হোক না কেন, তাতে মূল সুন্নাহ (سنة) অর্জিত হয়।

--------------------------------------------

(১) মাজমু [৪৭১৭]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬১)
والأفضل قيام داود من نصف الليل إلى أن يبقى سدسه، وذلك سدساه الرابع والخامس، والمراد بالليل الليل الشرعي.

يحصل أصل السُّنَّة بالصلاة قبل النوم أو بعده، والأفضل قيام داود، كان ينام نصف الليل ويقوم ثلثه (أي السدسان الرابع والخامس كما مرَّ) وينام سدسه، وقد صحَّ هذا مِن فِعْل النبي صلى الله عليه وسلم في حديث عائشة في «الصحيح»(1).

يحصل أصل السُّنَّة بأي عدد كان، والأفضل أن لا يزيد على إحدى عشرة، ولا ينقص عن سبع كما صَّح مِنْ فعل النبي صلى الله عليه وسلم .

يحصل أصل السُّنَّة بأن تكون الصلاة مثنى مثنى، وبغير ذلك كأربع وغيرها، والأفضل ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم سائله بقوله: «صلاة الليل مثنى مثنى، والوتر ركعة من آخر الليل»(2). وقد صحّ مِنْ فعله صلى الله عليه وسلم غير ذلك، ولكن الفعل إذا عارض القول فالمتعين على الأمة العمل بالقول.

يحصل أصل السُّنَّة بأن يكرر المصلِّي سورة واحدة مثلاً، والأفضل خلاف ذلك.

يحصل أصل السُّنَّة بالصلاة في المسجد، والبيت أفضل.

يحصل أصل السُّنَّة بالصلاة في جماعة، والمنفرد أفضل(3).

--------------------------------------------

(1) البخاري (1133).

(2) أخرجه البخاري (472)، ومسلم (749) من حديث ابن عمر رضي الله عنهما.

(3) مجموع [4711]. وانظر مكمّلات قيام الليل التي ذكرها الشيخ في رسالة «قيام رمضان» ضمن مجموع رسائل الفقه (ص 381 وما بعدها).
সর্বোত্তম হলো দাউদ (আ.)-এর রাতের ইবাদত (কিয়াম), যা মাঝরাত থেকে শুরু করে রাতের ষষ্ঠাংশ বাকি থাকা পর্যন্ত। এটি হলো রাতের চতুর্থ ও পঞ্চম ষষ্ঠাংশ। আর এখানে রাত বলতে শরয়ি রাতকে বোঝানো হয়েছে।

ঘুমানোর আগে বা পরে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সুন্নাহর মূল ভিত্তি অর্জিত হয়। তবে দাউদ (আ.)-এর কিয়াম সর্বোত্তম; তিনি রাতের অর্ধেক সময় ঘুমাতেন, এক-তৃতীয়াংশ সময় কিয়াম করতেন (অর্থাৎ ইতিপূর্বে বর্ণিত চতুর্থ ও পঞ্চম ষষ্ঠাংশ) এবং শেষ ষষ্ঠাংশ সময় ঘুমাতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমল থেকে এটি সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, যা আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসে "সহিহ" গ্রন্থে রয়েছে(১)।

যেকোনো সংখ্যক রাকাতের মাধ্যমে সুন্নাহর মূল ভিত্তি অর্জিত হয়। তবে উত্তম হলো রাকাত সংখ্যা ১১-এর বেশি না হওয়া এবং ৭-এর কম না হওয়া, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমল থেকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে।

দুই রাকাত দুই রাকাত করে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সুন্নাহর মূল ভিত্তি অর্জিত হয়, আবার এর ব্যতিক্রম যেমন চার রাকাত বা অন্যভাবেও হতে পারে। তবে সর্বোত্তম হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশ্নকারীকে যে নির্দেশ দিয়েছেন: «রাতের সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত করে, আর বিতর হলো রাতের শেষ ভাগের এক রাকাত»(২)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমল থেকে এর ব্যতিক্রমও সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, তবে আমল (কাজ) যখন বাণীর (কথা) সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে, তখন উম্মতের জন্য বাণীর ওপর আমল করাই নির্ধারিত।

মুসল্লি যদি উদাহরণস্বরূপ একটি সুরাই বারবার পাঠ করেন, তবে তাতে সুন্নাহর মূল ভিত্তি অর্জিত হবে। তবে এর ব্যতিক্রম করা উত্তম।

মসজিদে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সুন্নাহর মূল ভিত্তি অর্জিত হয়, তবে বাড়িতে আদায় করা উত্তম।

জামাতে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সুন্নাহর মূল ভিত্তি অর্জিত হয়, তবে একাকী আদায় করা উত্তম(৩)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (১১৩৩)।

(২) বুখারি (৪৭২) ও মুসলিম (৭৪৯) ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) মাজমু' [৪৭১১]। আর শাইখ তাঁর 'কিয়ামু রমাদান' নামক রিসালায় কিয়ামুল লাইল পূর্ণাঙ্গ করার যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন তা দেখুন, যা 'মাজমু' রাসায়িল আল-ফিকহ' (পৃ. ৩৮১ এবং পরবর্তী) এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬২)
‌‌[بحث في التراويح والوتر]

الحمد لله.

ما زلتُ أتعجَّب من قول أصحابنا: إن الثلاثة وعشرين(1) ركعةً التي تُصلَّى في رمضان، منها عشرون ركعة تراويح وثلاث وتر؛ كيف لَم يقولوا: إن اثنتي عشرة تراويح، وإحدى عشرة وتر؟ حتَّى يكون الوتر تامًّا على مذهبهم، وهو أفضل من التراويح.

ثمَّ تبيَّن لي أنهم تواتر عندهم عن الصحابة في زمن عمر ثم بعدُ أنهم كانوا لا يعدُّون الوتر إلا الثلاث الأخيرة، ولكن فِعْل الصحابة مبنيٌّ على ما يخالف رأيَ أصحابنا؛ وذلك أنهم كانوا يرون أن الوتر يفصل بينه بتسليم سواءٌ أكان واحدةً مستقلَّة، أو ثلاث(2) مجموعة، أو خمس أو سبع أو تسع، ولكن اختاروا الثلاث لقوله صلى الله عليه وآله وسلم: «صلاة الليل مثنى مثنى، فإذا خشيتَ الصبح فصلِّ ركعةً» أو كما قال؛ كأنهم كانوا يرون أن المراد وصلها بالركعتين اللتين قبلها. وفي هذا نظر، بل لأنهم ــ والله أعلم ــ لمَّا كانوا يصلُّون إحدى عشرة ركعة كانوا يوترون بركعة، فلمَّا ثَنَّوا الركعات، أرادوا أن يثنُّوا الوتر، ولكن تثنيته يخرجه عن الوتريَّة، فزادوه ركعة ــ والله أعلم ــ، ووصلوها لأنهم لو فصلوها لم تكن الثلاث وترًا شرعيًّا. والله أعلم(3).

* * * *

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، والوجه فيه: «والعشرين».

(2) كذا في الأصل، والوجه فيه والمعطوفات بعده النصب.

(3) مجموع [4716].
‌‌[তারাবিহ ও বিতর (وتر) সম্পর্কিত একটি গবেষণা]

প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আমাদের (মাযহাবের) আলিমদের কথা দেখে আমি সর্বদা বিস্মিত হই যে: রমজানে যে তেইশ(১) রাকাত সালাত আদায় করা হয়, তার মধ্যে বিশ রাকাত তারাবিহ এবং তিন রাকাত বিতর (وتر); তারা কেন বললেন না যে: বারো রাকাত তারাবিহ এবং এগারো রাকাত বিতর (وتر)? যাতে তাদের মাযহাব অনুযায়ী বিতর (وتر) পূর্ণাঙ্গ হয়, অথচ এটি তারাবিহ অপেক্ষা উত্তম।

পরবর্তীতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, ওমর (রা.)-এর যুগে এবং তার পরবর্তী সময়ে সাহাবায়ে কিরাম থেকে তাদের নিকট এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (تواتر) হয়েছে যে, তারা শেষ তিন রাকাত ছাড়া অন্য কিছুকে বিতর (وتر) হিসেবে গণ্য করতেন না। কিন্তু সাহাবায়ে কিরামের এই আমল আমাদের আলিমদের মতের পরিপন্থী বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; আর তা হলো, তারা (সাহাবায়ে কিরাম) মনে করতেন যে বিতরের (وتر) মাঝে সালামের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে, চাই তা স্বতন্ত্র (مستقلة) এক রাকাত হোক, অথবা একত্রে তিন(২), পাঁচ, সাত কিংবা নয় রাকাত হোক। কিন্তু তারা তিন রাকাতকে পছন্দ করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর কারণে: «রাতের সালাত দুই দুই রাকাত করে, অতঃপর যখন তুমি সুবহে সাদেকের আশঙ্কা করবে, তখন এক রাকাত পড়ে নিবে» অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন; যেন তারা মনে করতেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একে পূর্ববর্তী দুই রাকাতের সাথে মিলিয়ে দেওয়া। তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। বরং এর কারণ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—তারা যখন এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, তখন এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর (وتر) করতেন। অতঃপর যখন তারা রাকাত সংখ্যা দ্বিগুণ করলেন, তখন তারা বিতরকেও (وتر) দ্বিগুণ করতে চাইলেন। কিন্তু একে জোড়া বা দ্বিগুণ করলে তা বিতর বা বেজোড় হওয়ার বৈশিষ্ট্য (وترية) থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, তাই তারা এর সাথে আরও এক রাকাত বৃদ্ধি করেছেন—আল্লাহই ভালো জানেন—এবং তারা তা মিলিয়ে পড়েছেন; কারণ যদি তারা এর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতেন তবে শরয়িভাবে (شرعياً) তা তিন রাকাত বিতর (وتر) হতো না। আল্লাহই ভালো জানেন(৩)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে ব্যাকরণগতভাবে সঠিক রূপ হলো: «والعشرين»।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে এখানে এবং পরবর্তী শব্দগুলোতে ব্যাকরণগতভাবে নসব (نصب) হওয়া উচিত ছিল।

(৩) মাজমু [৪৭১৬]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬৩)
‌‌[تعليق على كلام الشافعي في استحبابه الانفراد في قيام رمضان]

«مختصر المزني» (ج 1 ص 107)(1).

قال الشافعي: «فأما قيام شهر رمضان فصلاة المنفرد أحبُّ إليَّ منه».

هذا نصٌّ ظاهر في استحباب عدم الجماعة، وفي حواشي الأم (ج 1 ص 125) أنَّ ابن سُريج يؤوِّله بأن مراد الإمام أن الصلاة التي تُشرع انفرادًا، وهي الوتر وركعتا الفجر، ثمَّ نقل عن البويطي ما يردُّ هذا التأويل.

ولا يخفى أنه ليس بتأويل بل تحريف. ونصُّ البويطي الذي نقله البلقيني؛ قال البلقيني: «وفي مختصر البويطي في ترجمة طهارة الأرض: والوتر سنة، وركعتا الفجر سنة، والعيدان سنة، والكسوف والاستسقاء سنة مؤكَّدة. وقد روي أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يصلِّي ركعتين قبل الظهر وركعتين بعد الظهر وركعتين بعد المغرب وركعتين بعد الفجر قبل أن يصلِّي الصبح. والكسوف والعيدان والاستسقاء أوكد، وقيام رمضان في معناها في التوكيد»(2).

* * * *

 

‌‌[بعض ما وقع من المخالفات في المساجد]

1 - النقش في بناء جدار المسجد.

2 - فرشه بالفرش الملوَّنة.

3 - تعليق الأوراق المكتوبة بقبلته.

--------------------------------------------

(1) «الحاوي شرح مختصر المزني» للماوردي (2/ 291) ط. دار الكتب العلمية.

(2) مجموع [4716].
‌‌[রমজানের কিয়ামে (তারাবিহতে) একাকী সালাত আদায়ের পছন্দনীয়তা (استحباب) সম্পর্কে শাফেয়ীর বক্তব্যের ওপর টীকা]

«মুখতাসার আল-মুযানী» (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৭)(১)।

শাফেয়ী বলেন: «রমজান মাসের কিয়ামের (তারাবিহ) ক্ষেত্রে, আমার নিকট একাকী সালাত আদায় করা এর (জামাতে পড়ার) চেয়ে অধিক প্রিয়।»

এটি জামাত না করার পছন্দনীয়তা (استحباب) বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص ظاهر)। 'আল-উম্ম'-এর পাদটীকায় (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৫) উল্লেখ আছে যে, ইবনে সুরিজ এর এমন ব্যাখ্যা (تأويل) করেছেন যে— ইমামের উদ্দেশ্য হলো সেই সকল সালাত যা একাকী পড়ার বিধান রয়েছে, আর তা হলো বিতর এবং ফজরের দুই রাকাত। এরপর তিনি বুয়াইতি থেকে এমন একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যা এই ব্যাখ্যাকে (تأويل) খণ্ডন করে।

এটি গোপন নয় যে, এটি কোনো সঠিক ব্যাখ্যা (تأويل) নয় বরং বিকৃতি (تحريف)। বুয়াইতির সেই মূল পাঠ যা বুলকিনি উদ্ধৃত করেছেন; বুলকিনি বলেন: «মাটির পবিত্রতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে মুখতাসার আল-বুয়াইতি-তে রয়েছে: বিতর সুন্নত (سنة), ফজরের দুই রাকাত সুন্নত (سنة), দুই ঈদ সুন্নত (سنة), এবং সূর্যগ্রহণ ও বৃষ্টির প্রার্থনা (ইস্তিসকা) সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة)। বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম জোহরের আগে দুই রাকাত, জোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। সূর্যগ্রহণ, দুই ঈদ ও বৃষ্টির প্রার্থনার গুরুত্ব অধিক, আর রমজানের কিয়ামও গুরুত্বের বিচারে এগুলোর সমপর্যায়ের।»(২)।

* * * *

 

‌‌[মসজিদসমূহে সংঘটিত হওয়া কিছু শরিয়ত পরিপন্থী কাজ (المخالفات)]

১ - মসজিদের দেয়াল নির্মাণে নকশা করা।

২ - রঙিন কার্পেট বা বিছানা দ্বারা তা সজ্জিত করা।

৩ - মসজিদের কিবলার দিকে লেখা সম্বলিত কাগজ বা লিফলেট ঝুলানো।

--------------------------------------------

(১) মাওয়ার্দী রচিত «আল-হাবী শারহু মুখতাসার আল-মুযানী» (২/২৯১), দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ।

(২) মাজমু' [৪৭১৬]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬৪)
4 - وضع المصاحف لسورة الكهف وغيرها فيه.

5 - وضع المصاحف بالقبلة.

6 - وضع النعال أمام المصلّين وعن أيمانهم.

7 - إحراق البخور فيه.

8 - المحراب.

9 - وضع المراوح الملوَّنة فيه.

10 - كون المصاحف الموضوعة بالقبلة ملوَّنة الدفَّات.

11 - مجيء الخطيب قبل وقت الخطبة.

12 - الصلاة على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في الخطبة بما يخالف المأثور.

13 - التزام «بارك الله لي ولكم … » آخر الخطبة الأولى.

14 - التزام دعاء معين بين الخطبتين.

15 - وجود من يتكلم في وقت الخطبة بالذكر.

16 - التزام تحميدٍ معين في الخطبة الثانية.

17 - التزام الدعاء للصحابة رضي الله عنهم.

18 - تمطيط التكبير في الصلاة. وكذلك السلام.

19 - عدم التراصّ في الصف.

20 - التزام «سبحان ربي الأعلى» عند قراءته {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى}.

21 - التزام الدعاء عقب ختم الإمام سورة الغاشية.

22 - رفع الصبيان أصواتهم بـ «ربنا ولك الحمد».
4 - সেখানে সুরা কাহাফ ও অন্যান্য সুরার জন্য কুরআন মাজিদ রাখা।

5 - কিবলার দিকে কুরআন মাজিদ রাখা।

6 - মুসল্লিদের সামনে এবং তাদের ডান পাশে জুতা রাখা।

7 - সেখানে ধূপ জ্বালানো।

8 - মেহরাব।

9 - সেখানে রঙিন পাখা রাখা।

10 - কিবলার দিকে রাখা কুরআন মাজিদগুলোর মলাট রঙিন হওয়া।

11 - খুতবার সময়ের আগে খতিবের আগমন।

12 - খুতবায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এমনভাবে দরুদ পাঠ করা যা বর্ণিত (المأثور) পদ্ধতির পরিপন্থী।

13 - প্রথম খুতবার শেষে "বারাকাল্লাহু লি ওয়া লাকুম..." বলাকে নিয়মে পরিণত করা।

14 - দুই খুতবার মাঝে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পাঠ করা আবশ্যক করে নেওয়া।

15 - খুতবার সময় জিকিরের মাধ্যমে কথা বলা।

16 - দ্বিতীয় খুতবায় নির্দিষ্ট কোনো হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) পাঠ আবশ্যক করে নেওয়া।

17 - সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের জন্য দোয়া করা আবশ্যক করে নেওয়া।

18 - সালাতে তাকবির টেনে দীর্ঘ করা, এবং একইভাবে সালামও।

19 - কাতারে সোজা হয়ে ও গায়ে গা লাগিয়ে না দাঁড়ানো।

20 - {সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা} তিলাওয়াতের সময় "সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা" পাঠ আবশ্যক করে নেওয়া।

21 - ইমামের সুরা গাশিয়া শেষ করার পর দোয়া করাকে নিয়মে পরিণত করা।

22 - শিশুদের উচ্চৈঃস্বরে "রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ" বলা।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬৫)
23 - التزام المكث بعد الصلاة.

24 - التزام الدعاء بعد الصلاة مشتركَا، بحيث يدوم رفع المأمومين أيديهم ما دام الإمام رافعًا يديه.

25 - جعل الإمام يساره إلى المصلين(1).

* * * *

 

‌‌[حكمة النهي عن تخصيص يوم الجمعة بالصوم]

الحمد لله.

ثبت في «الصحيح»(2) عن أبي هريرة: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «لا يصوم أحدكم يومَ الجمعة إلا أن يصوم قبله أو يصوم بعده».

ولمسلم(3) عنه: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «لا تختصّوا ليلةَ الجمعة بقيامٍ مِن بين الليالي، ولا تختصّوا يوم الجمعة بصيام من بين الأيام إلا أن يكون في صومٍ يصومه أحدكم».

وفي «حواشي المشكاة»(4) عن «اللمعات»: «قد ذكروا للنهي عن تخصيص يوم الجمعة بصوم وجوهًا:

الأول: أنه نهى عن صومه لئلّا يحصل به ضعفٌ يمنعه عن إقامة وظائف

--------------------------------------------

(1) مجموع [4726].

(2) البخاري (1985)، ومسلم (1144) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(3) (1144/ 148).

(4) (ص 179).
23 - সালাতের পর অবস্থান করা অব্যাহত রাখা।

24 - সালাতের পর সম্মিলিতভাবে দোয়ায় লিপ্ত হওয়া, এমনভাবে যে ইমাম যতক্ষণ হাত তুলে থাকেন, মুক্তাদিরাও ততক্ষণ হাত তুলে রাখেন।

25 - ইমামের বাম পার্শ্বকে মুসল্লিদের অভিমুখী করা(১)।

* * * *

 

‌‌[জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করার নিষেধাজ্ঞার রহস্য]

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে ‘সহিহ’ গ্রন্থে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন জুমার দিন রোজা না রাখে, তবে তার আগের দিন বা পরের দিন রোজা রাখলে ভিন্ন কথা»।

এবং মুসলিম-এ তাঁর থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা রাতসমূহের মধ্য থেকে কেবল জুমার রাতকে কিয়ামের (قيام) জন্য নির্দিষ্ট করো না, এবং দিনসমূহের মধ্য থেকে কেবল জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করো না; তবে যদি তা তোমাদের কারো নিয়মিত রোজার অন্তর্ভুক্ত হয় (তাহলে ভিন্ন কথা)»।

এবং ‘হাওয়াইশুল মিশকাত’-এ ‘আল-লামআত’ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে: «জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তাঁরা কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন:

প্রথমত: তিনি এর রোজা থেকে নিষেধ করেছেন যাতে এর ফলে এমন কোনো দুর্বলতা সৃষ্টি না হয় যা তাকে (জুমার দিনের) কার্যাবলি পালনে বাধা প্রদান করে...

--------------------------------------------

(১) মাজমু [৪৭২৬]।

(২) বুখারি (১৯৮৫), এবং মুসলিম (১১৪৪), আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে।

(৩) (১১৪৪/ ১৪৮)।

(৪) (পৃষ্ঠা ১৭৯)।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬৬)
الجمعة وأورادها.

والثاني: خوف المبالغة في تعظيمه، فيفتتن كما افتتن اليهود بالسبت والنصارى بالأحد.

والثالث: أن سبب النهي خوف اعتقاد وجوبه.

والرابع: أن يوم الجمعة يوم عيد فلا يصام فيه، وقد ورد: «يوم الجمعة يوم عيدكم فلا تجعلوا يوم عيدكم يوم صيامكم»(1). وهذا الوجه أحسن الوجوه لأنه منطوق الحديث». اهـ اللمعات مختصر.

يقول كاتبه: كلٌّ من هذه الوجوه فيه نظر:

أما الأول: فلأنه إنما يحتمل لو كان النهي عن صوم يوم الجمعة وقيام ليلتها مطلقًا، وليس الأمر كذلك. وإنما النهي عن التخصيص؛ فلو صام يوم الخميس جاز أن يصوم يوم الجمعة، وكذا يجوز أن يصوم يوم الجمعة إذا كان يريد أن يصوم يوم السبت، كما هو منطوق الحديث، وخوف الضعف حاصل فيه.

وأما الثاني، فلأن مجرد التخصيص بالصيام والقيام لا يؤدي إلى الفتنة. ونحن مأمورون بتخصيص يوم عاشوراء بالصيام، وبتخصيص شهر رمضان

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (8025) وابن خزيمة (2161) والحاكم في «مستدركه» (1/ 437) من طريق أبي بشر، عن عامر بن لدين الأشعري، عن أبي هريرة مرفوعًا. قال الحاكم: «صحيح الإسناد ولم يُخرجاه، إلا أن أبا بشر هذا لم أقف على اسمه»، وتعقّبه الذهبي بقوله: «قلتُ: هو مجهول، وشاهده في الصحيحين». يعني ما ورد في الصحيحين من النهي عن إفراد يوم الجمعة بالصيام.
জুমুআ এবং এর বিশেষ আমলসমূহ।

দ্বিতীয়ত: এর সম্মান প্রদর্শনে অতিরঞ্জনের আশঙ্কা, যার ফলে মানুষ ফিতনায় লিপ্ত হতে পারে যেভাবে ইহুদিরা শনিবারের ব্যাপারে এবং খ্রিষ্টানরা রবিবারের ব্যাপারে ফিতনায় লিপ্ত হয়েছিল।

তৃতীয়ত: নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো এটি অবশ্যকর্তব্য (وجوب) মনে করার আশঙ্কা।

চতুর্থত: জুমুআর দিন হলো ঈদের দিন, তাই এদিন রোজা রাখা যাবে না। আর বর্ণিত হয়েছে: «জুমুআর দিন তোমাদের ঈদের দিন, সুতরাং তোমরা তোমাদের ঈদের দিনকে রোজার দিনে পরিণত করো না»(১)। এই মতটিই সর্বোত্তম মত কারণ এটি হাদিসের ভাষ্য (منطوق) অনুযায়ী। — আল-লুমআত (সংক্ষিপ্ত) সমাপ্ত।

এর লেখক বলেন: এই প্রতিটি মতের ক্ষেত্রেই পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে:

প্রথমটির ক্ষেত্রে: কারণ এটি তখনই গ্রহণযোগ্য হতো যদি জুমুআর দিনে রোজা রাখা এবং এর রাতে ইবাদত করা নিরঙ্কুশভাবে (مطلقًا) নিষিদ্ধ হতো, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। বরং নিষেধাজ্ঞা কেবল নির্দিষ্ট করার (تخصيص) ক্ষেত্রে; সুতরাং যদি কেউ বৃহস্পতিবার রোজা রাখে তবে তার জন্য জুমুআর দিন রোজা রাখা জায়েজ, একইভাবে জুমুআর দিন রোজা রাখা জায়েজ যদি সে শনিবার রোজা রাখার ইচ্ছা রাখে, যেমনটি হাদিসের ভাষ্য (منطوق) থেকে স্পষ্ট, আর দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তো এক্ষেত্রেও বিদ্যমান।

দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে: কারণ কেবল রোজা ও ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করার (تخصيص) কারণে ফিতনা সৃষ্টি হয় না। আর আমাদের আশুরার দিনকে রোজার জন্য এবং রমজান মাসকে... নির্দিষ্ট করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আহমদ (8025), ইবনে খুজাইমা (2161) এবং হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ (1/437) গ্রন্থে আবু বিশরের সূত্রে, তিনি আমির ইবনে লাদিন আল-আশআরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেন: «এর সনদ সহিহ (صحيح الإسناد) এবং তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি, তবে এই আবু বিশরের নামের ব্যাপারে আমি অবগত হতে পারিনি»। যাহাবি এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: «আমি বলি: সে অপরিচিত (مجهول), তবে সহিহাইন-এ এর শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে»। অর্থাৎ জুমুআর দিনকে এককভাবে রোজা রাখার জন্য নির্দিষ্ট করার বিষয়ে সহিহাইন-এ যে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬৭)
بالصيام، وغير ممنوعين عن تخصيصه بالقيام بدليل زيادة الترغيب فيه.

وأما الثالث، [فـ]ـإنه كان يكفي في دفع ظن الوجوب أن ينصّ نصًّا قاطعًا على عدم وجوبه. وقد رُغِّبنا في صيام يوم عاشوراء، ولم يُخش من ذلك أن يُظَنَّ الوجوب، ورُغِّبنا في صيام أيام مخصوصة كالاثنين والخميس وثلاث من كلّ شهر وستٍّ من شوال وغير ذلك، ورغبنا في قيام رمضان أكثر من قيام غيره، وذلك يدل على عدم المنع من تخصيصه، ولم يُخش في شيء من ذلك ظن الوجوب.

وأما الرابع، فالحديث الذي ذكره لا أظنّه يصح، فلا حجّة فيه. والمعنى ضعيف لِما أوردناه على الوجه الأول بأن المنهي عنه إنما هو التخصيص، وصومُ يوم قبله أو بعده لا يخرجه عن كونه عيدًا، كما أن صوم يوم الأضحى ويوم الفطر حرامٌ مطلقًا لا تخصيصهما فقط.

وأيضا فالعيدية، وإن كان فيها مناسبة لعدم الصيام، فلا مناسبة فيها لعدم القيام، بدليل أننا لم نُنه عن تخصيص ليلة الأضحى وليلة الفطر بالقيام.

وإذا تقرّر هذا فالصحيح ــ والله أعلم ــ أن حكمة النهي إنما هي لأن تخصيص يوم من الأيام بالعبادة إنما يجوز إذا كان قد خصّه الشارع بذلك وإلا كان تخصيصه بدعةً، كما تقرّر في مباحث البدع، فخشي صلى الله عليه وآله وسلم أن يقع الناس في هذه البدعة في صيام يوم الجمعة أو قيام ليلته استنادًا منهم إلى أنه يوم فاضل، فنهاهم عن ذلك تنبيهًا منه ــ والله أعلم ــ إلى أنَّ مجرّدَ كون الوقت فاضلًا لا يقتضي كون العبادة فيه فاضلةً مطلقًا. وإنما العبادة الفاضلة
রোজা রাখার মাধ্যমে, এবং একে কিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, কারণ এতে অধিক উৎসাহ প্রদানের দলীল রয়েছে।

আর তৃতীয়ত, এটি ওয়াজিব হওয়ার ধারণাকে দূর করার জন্য এটিই যথেষ্ট ছিল যে, এর ওয়াজিব না হওয়ার বিষয়ে একটি অকাট্য বর্ণনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে। আমাদের আশুরার দিনে রোজা রাখার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এতে ওয়াজিব হওয়ার কোনো আশঙ্কা করা হয়নি। তদ্রূপ সোমবার, বৃহস্পতিবার, প্রতি মাসের তিন দিন এবং শাওয়ালের ছয় দিনসহ অন্যান্য নির্দিষ্ট দিনগুলোতে রোজা রাখার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রমজান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি কিয়াম করার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এটি একে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকারই প্রমাণ দেয় এবং এগুলোর কোনোটিতেই ওয়াজিব হওয়ার আশঙ্কা করা হয়নি।

চতুর্থত, তিনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, আমার মনে হয় না সেটি সহিহ (يصح); সুতরাং এতে কোনো দলিল (حجة) নেই। এর অর্থও দুর্বল (ضعيف); কারণ আমরা প্রথম পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছি যে, যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা কেবল নির্দিষ্ট করা। এর আগের বা পরের দিন রোজা রাখলে তা 'ঈদ' হওয়া থেকে বের হয়ে যায় না। যেমন ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখা নিরঙ্কুশভাবে হারাম, শুধু তাদের নির্দিষ্ট করা নয়।

এছাড়া ঈদ হওয়ার বিষয়টি রোজা না রাখার পক্ষে যুক্তিযুক্ত হলেও, কিয়াম বা ইবাদত না করার ক্ষেত্রে কোনো যুক্তি নেই। এর প্রমাণ হলো, আমাদের ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের রাতকে কিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করতে নিষেধ করা হয়নি।

যখন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন সঠিক (الصحيح) মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—নিষেধাজ্ঞার হিকমত হলো এই যে, কোনো দিনকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা কেবল তখনই বৈধ যখন শরিয়ত প্রণেতা তাকে নির্দিষ্ট করেছেন। অন্যথায় একে নির্দিষ্ট করা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি বিদআত সংক্রান্ত আলোচনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশঙ্কা করেছিলেন যে, মানুষ জুমার দিনে রোজা রাখা বা জুমার রাতে কিয়াম করার মাধ্যমে এই বিদআতে লিপ্ত হতে পারে—এই যুক্তিতে যে এটি একটি ফজিলতপূর্ণ দিন। তাই তিনি তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করার জন্য এটি নিষেধ করেছেন—আল্লাহই ভালো জানেন—যাতে এটি বোঝা যায় যে, কেবল সময় ফজিলতপূর্ণ হওয়ার কারণেই সেখানে ইবাদত নিরঙ্কুশভাবে ফজিলতপূর্ণ হওয়া আবশ্যক নয়। বরং ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হলো
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬৮)
فيه ما نصّ عليها الشارع بخصوصها، كالصيام في عاشوراء وغيره مما تقدّم، وكالقيام في رمضان.

فإن قيل: فعلى هذا لا يمتنع صوم يوم الجمعة وحده إذا وافق يوم نذرٍ مثلًا أو نحو ذلك، فيما إذا لم يكن تخصيصه بالصيام تحرّيًا لفضله، وإنما وقع اتّفاقًا.

فالجواب: أن هذا محتمِل إلا أن الأظهر أنه يمتنع أيضًا سدًّا للذريعة؛ لأن الجهّال إذا رأوا عالمًا خصَّ يوم الجمعة بصيام توهّموا أنه إنما خصّه لفضله، فيتتابعون في تخصيصه، بخلاف ما إذا رأوا عالمًا خصّ يوم الثلاثاء مثلًا، فإنه ليس ليوم الثلاثاء فضيلة تُوقع في أنفسهم أنه إنما خصّه لأجلها. فأما صيام يوم الخميس وحده، فإنما لم يُمنع لأنه مرغَّب فيه شرعًا.

والحاصل أن يوم الجمعة يوم فاضل في الشرع، ولكن لا بالنسبة إلى صيامه وقيام ليلته، بل بالنسبة إلى غير ذلك من العبادات المشروعة فيه. فنهى النبي صلى الله عليه وآله وسلم عن تخصيصه بالصيام والقيام؛ لأن تخصيصه إن كان عن اعتقاد أفضليّتهما فيه فهو خطأ، وإن كان اتفاقًا خشي أن تتوهّم العامة أفضليّتهما فيه. والله أعلم.

وبهذا يُعلم أن ما يفعله كثير من الناس من تخصيص يوم الجمعة بالصدقة بدعة؛ لأنه لم يثبت ذلك. وأيضا فإن تخصيصه بالصدقة مناقض للمصلحة الشرعية؛ لأن حاجة الفقراء لا تختص بوقت دون وقت، فلتكن الصدقة كذلك.

وأيضًا إذا علم الفقراء من رجلٍ أنه يخصِّص يوم الجمعة أدّى ذلك إلى
এতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা শরিয়ত প্রবর্তক বিশেষভাবে নির্ধারণ করেছেন, যেমন আশুরার দিনে রোজা রাখা এবং পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং রমজান মাসে রাতের ইবাদত (قيام)।

যদি প্রশ্ন করা হয়: এমতাবস্থায় শুধুমাত্র জুমার দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ হওয়ার কথা নয়, যদি তা কোনো মানতের দিনের সাথে মিলে যায় অথবা অনুরূপ কোনো কারণ থাকে; যেখানে একে রোজার জন্য নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) এর ফজিলত অন্বেষণের উদ্দেশ্যে নয়, বরং তা কাকতালীয়ভাবে ঘটে।

উত্তর হলো: এটি সম্ভাব্য বিষয়, তবে অধিকতর স্পষ্ট মত হলো এটিও নিষিদ্ধ হবে অকল্যাণের পথ বন্ধ করার (سد الذريعة) খাতিরে; কারণ সাধারণ অজ্ঞ ব্যক্তিরা যখন কোনো আলেমকে জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করতে দেখবে, তখন তারা ভুলবশত ধারণা করবে যে তিনি কেবল এর ফজিলতের কারণেই একে নির্দিষ্ট করেছেন, ফলে তারা এর নির্দিষ্টকরণে (تخصيص) একে অপরের অনুকরণ শুরু করবে। অন্যদিকে যদি তারা দেখে কোনো আলেম উদাহরণস্বরূপ মঙ্গলবারকে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করেছেন, তবে মঙ্গলবারের এমন কোনো ফজিলত নেই যা তাদের মনে এই ধারণা তৈরি করবে যে তিনি কেবল ফজিলতের কারণেই একে নির্দিষ্ট করেছেন। আর শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার রোজা রাখার বিষয়টি নিষিদ্ধ করা হয়নি কারণ এটি শরিয়তে উৎসাহিত (مرغب فيه) করা হয়েছে।

সারকথা হলো, জুমার দিন শরিয়তে একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন, তবে তা এই দিনে রোজা রাখা বা রাতের ইবাদতের (قيام) সাপেক্ষে নয়, বরং এতে নির্ধারিত অন্যান্য শরয়ী ইবাদতের সাপেক্ষে। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এই দিনটিকে রোজা ও রাতের ইবাদতের (قيام) জন্য নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করতে নিষেধ করেছেন; কারণ এই নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) যদি এ দুটির বিশেষ ফজিলত থাকার বিশ্বাস থেকে হয় তবে তা ভুল, আর যদি তা কাকতালীয়ভাবেও হয় তবে সাধারণ মানুষ এতে ফজিলতের ধারণা করতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যায়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এ থেকে জানা যায় যে, অনেক মানুষ জুমার দিনকে সদকা করার জন্য যে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করে থাকে তা বিদআত (بدعة); কারণ এর কোনো ভিত্তি নেই। তাছাড়া একে সদকার জন্য নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করা শরয়ী জনকল্যাণের (مصلحة) পরিপন্থী; কারণ দরিদ্রদের প্রয়োজন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, তাই সদকাও তেমনই হওয়া উচিত।

এছাড়া, দরিদ্ররা যদি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে পারে যে সে জুমার দিনকে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করে, তবে তা এই পর্যায়ে নিয়ে যাবে যে...
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬৯)
مفاسد.

منها: أن بعضهم قد يجهل ذلك، أو يكون له مانع عن الحضور فيفوز بالصدقة المبادرون.

ومنها: أن بعضهم قد يكون محلّه بعيدًا فيحمله الحرص على تحصيل الصدقة على أن يترك التهيّؤ للجمعة، بل قد يترك الجمعة!

فإن قيل: فقد كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يخصِّص شهر رمضان بزيادة العطاء.

فالجواب أن ما ثبت عنه صلى الله عليه وآله وسلم فهو مشروع قطعًا، ولا منافاة فيه للمصلحة المذكورة؛ لأنه صلى الله عليه وآله وسلم لم يكن يخص رمضان بالصدقة، بل كان يخصُّه بكثرتها، فكان في سائر السنة كلَّ ما رأى محتاجًا للصدقة أعطاه. ثمّ يُكثر البذل في رمضان لإغناء الفقراء عن التكسّب أو كثرة الدوران فيه ليتفرّغوا للعبادة.

وشهر رمضان شهرٌ لا يؤدِّي إلى ما تقدّم من المفاسد.

والحاصل أن السعادة في الاتِّباع والشقاوة في الابتداع. وفقنا الله تعالى لرضاه بفضله وكرمه(1).

* * * *

--------------------------------------------

(1) مجموع [4711].
অনিষ্টসমূহ (مفاسد)।

তার মধ্যে একটি হলো: তাদের কেউ কেউ হয়তো এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকতে পারে, অথবা কারো উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকতে পারে, ফলে যারা দ্রুত অগ্রগামী হয় তারাই সদকা লাভে সফল হয়।

আরেকটি হলো: তাদের কারো কারো বাসস্থান দূরবর্তী হতে পারে, ফলে সদকা লাভের প্রবল আকাঙ্ক্ষা তাকে জুমার নামাজের প্রস্তুতির বিষয়ে উদাসীন করে তুলতে পারে, এমনকি সে জুমাও বর্জন করতে পারে!

যদি বলা হয়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তো রমজান মাসকে অতিরিক্ত দানের মাধ্যমে বিশিষ্ট করতেন।

উত্তর হলো: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই বিধিসম্মত (مشروع), এবং তাতে উল্লিখিত জনকল্যাণের কোনো বৈপরিত্য নেই; কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সদকাকে কেবল রমজানের জন্য নির্দিষ্ট করতেন না, বরং তিনি এতে প্রাচুর্য আনতেন, আর বছরের অন্যান্য সময়েও যখনই তিনি কোনো অভাবীকে দেখতেন, তাকে দান করতেন। অতঃপর তিনি রমজানে দানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন যেন দরিদ্ররা জীবিকা অন্বেষণ বা অধিক ছুটাছুটি থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে ইবাদতের জন্য অবসর হতে পারে।

আর রমজান মাস এমন এক মাস যা উল্লিখিত অনিষ্টের (مفاسد) দিকে পরিচালিত করে না।

সারকথা হলো, সৌভাগ্য নিহিত রয়েছে অনুসরণের (الاتباع) মধ্যে এবং দুর্ভাগ্য নিহিত রয়েছে বিদআতের (الابتداع) মধ্যে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় আমাদের তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন(১)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) মাজমু' [৪৭১১]।
(খণ্ড: ২৪) আল-ফাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৭০)
‌‌[هل يكتفى في النسك بالنية دون النطق به؟]

البيهقي(1) في «باب من قال لا يسمِّي في إهلاله حجًّا ولا عمرة»: « … وأخبرنا أبو عبد الله الحافظ وأبو سعيد بن أبي عمرو، قالا: ثنا أبو العباس محمد بن يعقوب، أنا يحيى بن أبي طالب، أنا عبد الوهاب بن عطاء، أبنا ابن جريج، عن عبد الله بن أبي نجيح، عن نافع:

أن ابن عمر سمع رجلاً يقول: لبيك بحجة(2)، فضرب في صدره وقال: أَتُعْلِم الله ما في نفسك؟».

وفي الباب أحاديث أخرى في أن الصحابة رضي الله عنهم اكتفوا بالنية ولم ينطقوا بالتعيين.

أقول: فأما نطقه صلى الله عليه وآله وسلم، فهو لإعلام الناس بنيته؛ لما يتوقف على معرفتهم إياها من الأحكام.

وأما ما جاء من أن الصحابة كانوا يصرخون بالحج صراخًا، وفي رواية: بالحج والعمرة(3)(4).

* * * *

--------------------------------------------

(1) (5/ 40).

(2) أشار الشيخ إلى أنه في نسخة: «بحج»

(3) أخرجه مسلم (1247) من حديث أبي سعيد. والمعنى يرفعون أصواتهم بالتلبية.

(4) إلى هنا انتهى كلام الشيخ. مجموع [4726].
‌[ইবাদতের (النسك) ক্ষেত্রে কি উচ্চারণ ছাড়াই কেবল নিয়ত করা যথেষ্ট?]

আল-বায়হাকি(১) ‘যিনি ইহরামের তালবিয়া পাঠের সময় হজ বা ওমরার নাম উল্লেখ না করার কথা বলেছেন’ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন: « … এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু সাঈদ বিন আবি আমর, তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহিয়া বিন আবি তালিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহাব বিন আতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে জুরাইজ, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আবি নাজহি থেকে, তিনি নাফে থেকে:

নিশ্চয়ই ইবনে উমর এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: 'আমি হজের জন্য হাজির'(২), তখন তিনি তার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: ‘তোমার অন্তরে যা আছে, তা কি তুমি আল্লাহকে জানাতে চাও?’»।

এই অনুচ্ছেদে আরও অন্যান্য হাদিস রয়েছে যে বিষয়ে যে, সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কেবল নিয়তের ওপরই নির্ভর করতেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে তা উচ্চারণ করতেন না।

আমি বলি: আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর উচ্চারণ করা ছিল মানুষকে তাঁর নিয়ত সম্পর্কে অবহিত করার জন্য; কারণ শরিয়তের বিধানসমূহ (أحكام) জানার বিষয়টি তাঁদের সেই নিয়ত অবগত হওয়ার ওপর নির্ভর করত।

আর সাহাবীগণ উচ্চস্বরে হজের ঘোষণা দিতেন মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: হজ ও ওমরা সম্পর্কে(৩)(৪)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) (৫/ ৪০)।

(২) শাইখ ইঙ্গিত করেছেন যে, একটি পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) রয়েছে: «হজ সহকারে»

(৩) এটি মুসলিম (১২৪৭) আবু সাঈদের হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন। এর অর্থ হলো তাঁরা তালবিয়ার মাধ্যমে তাঁদের আওয়াজ উচ্চ করতেন।

(৪) শাইখের বক্তব্য এখানেই শেষ। মাজমু [৪৭২৬]।