(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: -)
الاغتيالات القسم: مسائل فقهية
الكتاب: قضية الاغتيالات في البلاد الإسلامية - دراسة فقهية أصولية
المؤلف: عبد المنان التالبي
عدد الصفحات: 34
[البحث غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442
গুপ্তহত্যাসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামি দেশগুলোতে গুপ্তহত্যার ইস্যু - একটি ফিকহী (فقهية) ও উসূলী (أصولية) গবেষণা
লেখক: আব্দুল মান্নান আল-তালিবি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪
[গবেষণাটি অপ্রকাশিত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১)
قضية الاغتيالات في البلاد الإسلامية
دراسة فقهية أصولية
اعداد:
د/ عبد المنان التالبي
ইসলামি ভূখণ্ডে গুপ্তহত্যা সংক্রান্ত বিষয়াদি
একটি ফিকহশাস্ত্রীয় (فقهية) ও উসুলভিত্তিক (أصولية) গবেষণা
উপস্থাপনায়:
ড. আব্দুল মান্নান আল-তালিবী
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمة:فإن من القواصم التي ابتليت بها مجتمعاتنا اليوم "الاغتيالات".
… هذا الدّاء الذي استرخص الدماء، وأهدر حرمة الأنفس المعصومة، وهتك الحرمات المعلومة من الدين بالضرورة، واستحل الدماء والأموال والأعراض وأحدث في المجتمع المسلم شرا وتقتيلا بدوافع مختلفة: دينية أو سياسية أو مذهبية أو عرقية أو غيرها.
إنها فتنة العصر، فما من بلد إلا وتجرّع مرارة هذا الداء وعصفت به رياح هذه الفتنة. وما نراه في عالمنا العربي من اغتيالات وتفجيرات تدلّ أعظم الدلالة على هذا الخطر الماحق، خاصة وأنه في بعض صورِه لبس لباس الدّين والشريعة وهما منه براء وفي هذا المطلب يحاول الباحث تعريف الاغتيالات وحكم الشريعة الإسلامية فيها من خلال نصوص الوحيين وأقوال أهل العلم المعتبرين وذلك من خلال الآتي:
أولاً: تعريف الاغتيالات لغة واصطلاحا.
البند الأول: تعريف الاغتيالات لغة.
الاغتيالات من اغتال: إذا قتل غداراً، وغاله: أهلكه، كاغتاله، وأخذه من حيث لم يدر، واغتاله: قتله على غرة.
والاسم منه الغيلة، وهي فعلة من الاغتيال، وفي حديث الدّعاء، "وأعوذ بك أن اغتال من تحتي"، أي أُدْهى من حيث لا أُشعرْ يريد به الخسف.
(1)والغيلة بالكسر: الخديعة والاغتيال، وقتل فلان غِيلة؛ أي خدعة، وهو أن يخدعه فيذهبه إلى موضعٍ فإذا صار إليه قتله، وقد اغتيل.
وفي حديث ابن عمر أنَ صبيا قتل بصنعاء غيلة، فقتل بهِ عمر سَبعة، أي في خفية، واغْتيال
… وهو أن يُخدع ويقتل في موضعٍ لا يراه فيه أحد.
(2)ومنها الغول: وهو اغتال الإنسان فأهلكه؛ فهو غول، والعرب تسمي كل داهية غولا على التهويل والتعظيم.
(3) والغول: الخيانة.
(4)--------------------------------------------
ভূমিকা:বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজগুলো যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, তার অন্যতম হলো "গুপ্তহত্যা" (الاغتيالات)।
… এটি এমন এক ব্যাধি যা রক্তপাতকে তুচ্ছ করেছে, সংরক্ষিত প্রাণের (الأنفس المعصومة) পবিত্রতাকে ভুলুণ্ঠিত করেছে এবং দ্বীনের অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহের অবমাননা করেছে। এটি রক্ত, সম্পদ ও সম্ভ্রমকে বৈধ গণ্য করেছে এবং মুসলিম সমাজে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, মাযহাবী বা জাতিগত বিভিন্ন প্ররোচনার বশবর্তী হয়ে অনিষ্ট ও হত্যাযজ্ঞের সৃষ্টি করেছে।
এটি এই যুগের এক মহা ফিতনা, যার তিক্ততা আস্বাদন করা থেকে কোনো দেশই রেহাই পায়নি এবং এই ফিতনার ঝড় প্রতিটি জনপদকে বিপর্যস্ত করেছে। আমাদের আরব বিশ্বে আমরা যে গুপ্তহত্যা ও বিস্ফোরণগুলো দেখছি, তা এই ধ্বংসাত্মক বিপদের চরম পরিচায়ক; বিশেষ করে এর কিছু রূপ দ্বীন ও শরীয়তের লেবাস ধারণ করে আবির্ভূত হয়েছে, যদিও দ্বীন ও শরীয়ত এগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এই পরিচ্ছেদে গবেষক গুপ্তহত্যার (الاغتيالات) সংজ্ঞা এবং ওহীর ভাষ্য (نصوص الوحيين) ও গ্রহণযোগ্য আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এ বিষয়ে ইসলামী শরীয়তের বিধান আলোচনার প্রয়াস পেয়েছেন, যা নিম্নরূপ:
প্রথমত: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে গুপ্তহত্যার সংজ্ঞা।
প্রথম দফা: শাব্দিক অর্থে গুপ্তহত্যার সংজ্ঞা।
'الاغتيالات' শব্দটি 'اغتال' থেকে আগত: যখন কাউকে বিশ্বাসঘাতকতার সাথে হত্যা করা হয়। 'غاله' অর্থ তাকে ধ্বংস করা, যেমন 'اغتاله' এর অর্থ তাকে তার অজান্তে পাকড়াও করা; আর 'اغتاله' মানে তাকে অসতর্ক অবস্থায় হত্যা করা।
এর বিশেষ্য রূপ হলো 'الغيلة', যা 'الاغتيال' ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত। দোয়ার একটি হাদিসে এসেছে, "আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি যেন আমি আমার নিচ থেকে আক্রান্ত (اغتال) না হই," অর্থাৎ এমনভাবে আক্রান্ত হওয়া যা আমি টেরও পাব না; এখানে ভূগর্ভে বিলীন হওয়া বা ভূমিধস বোঝানো হয়েছে।
(১)'الغيلة' (জের সহকারে): এর অর্থ প্রতারণা ও গুপ্তহত্যা (الاغتيال)। অমুক ব্যক্তিকে 'غيلة' তথা প্রতারণার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে; আর তা হলো তাকে কৌশলে কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে হত্যা করা। এমতাবস্থায় তাকে 'اغتيل' (গুপ্তহত্যা করা হয়েছে) বলা হয়।
ইবনে উমরের সূত্রে বর্ণিত হাদিসে আছে যে, সানআয় এক বালককে প্রতারণামূলকভাবে (غيلة) হত্যা করা হয়েছিল, যার বিনিময়ে উমর সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। অর্থাৎ গোপনে ও চোরাগোপ্তা আক্রমণের (اغتيال) মাধ্যমে হত্যা করা
… আর তা হলো কাউকে ধোঁকা দিয়ে এমন স্থানে নিয়ে হত্যা করা যেখানে তাকে কেউ দেখতে পাবে না।
(২)এর মধ্য থেকেই 'الغول' শব্দটি এসেছে: যা মানুষকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়; তাকে 'غول' বলা হয়। আর আরবরা প্রতিটি মহাবিপদকে ভয়াবহতা ও বিশালতা বোঝাতে 'غول' নামে অভিহিত করে।
(৩) আর 'الغول' মানে হলো বিশ্বাসঘাতকতা (الخيانة)।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
ومن خلال التعريف اللغوي يتبين للباحث أن الاغتيالات هي القتل غدرا على حين غرة مطلقا؛ وذلك بأن يذهب به إلى مكان فإذا صار إليه قتله؛ أو يذهب به إلى مكان قد استخفى له فيه من يقتله.
البند الثاني: تعريف الاغتيالات اصطلاحا.
لا يختلف التعريف الاصطلاحي كثيرا عن اللغوي، ومن هذه التعاريف: " الاغتيال هو أن يُخدع ويقتل في موضع لا يراه فيه أحد ".
(1)ويعرف الباحث الاغتيالات بأنها: " قتلُ إنسانٍ معصوم غدرا بطرقٍ مختلفة على غير وجه حق".
- " فقتل": خرج به ما دونه من الضَّرب والطعن والسلب.
- " إنسان معصوم": يدخل فيه المسلم معصوم الدّم، والذّمي والمستأمن بجامع كونهم يدخلون في لفظ إنسان.
- " غدرا ": خرج به ما دون ذلك من أنواع القتل، فالغيلة هي: الخديعة والغدر وما عدى ذلك لا يسمى اغتيالا.
- " بطرقٍ مختلفة ": يشمل كل صور وأشكال الاغتيالات، فإن صُورها في عصرنا الحاضر قد تنوّعت من وضع عبوات ناسفة، ومن تفجير، وتدمير، وقتل بأنواع الأسلحة .. الخ.
ـ "على غير وجه حق" خرج به القتل بوجه حق.
ثانياً: أهمية الحديث عن الاغتيالات.
--------------------------------------------
আভিধানিক সংজ্ঞার মাধ্যমে গবেষকের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, গুপ্তহত্যা (اغتيال) হলো অতর্কিতে বা অসতর্ক অবস্থায় সাধারণভাবে বিশ্বাসঘাতকতামূলক উপায়ে হত্যা করা; আর তা হলো কাউকে কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে হত্যা করা; অথবা তাকে এমন কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া যেখানে তাকে হত্যাকারী ব্যক্তি আগে থেকেই ওত পেতে লুকিয়ে ছিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক সংজ্ঞায় গুপ্তহত্যা (اغتيال).
পারিভাষিক সংজ্ঞা আভিধানিক সংজ্ঞা থেকে খুব বেশি আলাদা নয়। এ জাতীয় সংজ্ঞাসমূহের মধ্যে রয়েছে: "গুপ্তহত্যা (اغتيال) হলো কাউকে প্রতারিত করা এবং এমন স্থানে হত্যা করা যেখানে তাকে কেউ দেখতে পাবে না।"
(১)গবেষক গুপ্তহত্যার সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন: "বিভিন্ন উপায়ে অন্যায়ভাবে কোনো নিরাপদ (معصوم) মানুষকে বিশ্বাসঘাতকতামূলকভাবে হত্যা করা।"
- "হত্যা": এর মাধ্যমে প্রহার, ছুরিকাঘাত এবং লুণ্ঠনের মতো বিষয়গুলো বহির্ভূত হয়ে যায় যা হত্যার অন্তর্ভুক্ত নয়।
- "নিরাপদ (معصوم) মানুষ": এর অন্তর্ভুক্ত হলো রক্তপাত নিরাপদ বা সংরক্ষিত (معصوم الدم) এমন মুসলিম, এবং জিম্মি (ذمي) ও নিরাপত্তা লাভকারী (مستأمن) অমুসলিম; কারণ তারা সকলেই 'মানুষ' শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
- "বিশ্বাসঘাতকতামূলক": এর মাধ্যমে হত্যার অন্যান্য ধরণ বাদ হয়ে যায়। কেননা 'গিলাহ' (الغيلة) হলো: প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা, আর এটি ছাড়া অন্য কিছুকে গুপ্তহত্যা (اغتيال) বলা হয় না।
- "বিভিন্ন উপায়ে": এটি গুপ্তহত্যার সকল রূপ ও ধরণকে অন্তর্ভুক্ত করে। বর্তমান যুগে এর পদ্ধতিগুলোতে বৈচিত্র্য এসেছে, যেমন বিস্ফোরক দ্রব্য স্থাপন, বিস্ফোরণ ঘটানো, ধ্বংসলীলা চালানো এবং বিভিন্ন ধরণের অস্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা ইত্যাদি।
- "অন্যায়ভাবে": এর মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গতভাবে হত্যা করার বিষয়টি বাদ হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: গুপ্তহত্যা (اغتيال) নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
تأتي أهمية الحديث عن الاغتيالات من خلال عظم منزلة الدماء، ومكانتها عند الله عز وجل، وتواتر النصوص القطعية في التحذير من خطر الاستهانة بالدماء، وأن ذلك من كبائر الذنوب والموبقات التي تُوجب على صاحبها سخط الله ولعنته وأليم عذابه.
وفي المقابل أننا في زمان ارتخصت فيه الدماء، فأينما اتجهت إلى بلاد الإسلام وجدت دماء تنزف وأشلاء تقطّع وجثثا تتناثر، بأساليب متعددة منها - الاغتيالات- التي غدت خطرا مُحدقا، وفتنة مضلّة، تصدر لها، رجالات دول، وأرباب مصالح، وحدثاء أسنان، وأجنحة مكرٍ خفية، تدير شئونها، وتُحرك خيوطها، وتدعم نشاطاتها، وتمول منفّذيها غير مكترثين لعواقبها الوخيمة، وآثارها السيئة، انتصارا لأحقادهم الدّفينة، وأنانيتهم البغيضة، ما يستدعي رجالات الأمة ومفكريها، وعلمائها، ودعاتها، وقياداتها، الوقوف صفا واحدا أمام هذه الأخطار التي تهدد أمن المجتمع، وتُقلق سكينته العامة، وتبثّ الرعب في أوساطه، وتحصد الأرواح البريئة كل يوم.
ثالثاً: الاغتيالات، حقائق وأرقام " اليمن " أنموذجا.
نال اليمن السّعيد من فتنة الاغتيالات في العامين الماضيين النصيب الأوفر، لعوامل عدة منها:
- أن الإحصائيات غير الرسمية تفيد أن اليمنيين يحوزون أكثر من خمسين مليون قطعة سلاح حيازة شخصية.
- ومنها ما أعقب سقوط النّظام اليمني من تداعيات أدت إلى اضطراب الوضع السياسي، وتهارُج القوى السياسية اليمنية، وظهور نزعة الحقد والأنانية بينها:
- ومنها مكر القوى الإقليمية والدولية، ومنها أيضا وجود بعض الجماعات المتطرفة
… والتي دخلت في صراعات مريرة مع الحكومة اليمنية، جعلها تنتقم من قوات الأمن والجيش،
… وتنفذ عدة عمليات بأساليب مختلفة منها الاغتيالات.
- وفي كل الأحوال فإن إحصائيات أمنية حكومية تفيد أن (136) ضابطا ومساعدا من كوادر جهاز الأمن السياسي قد قتلوا خلال السنوات الأربع الماضية.
(1)- بينما تفيد الإحصائيات الأمنية لعام 2012 م والصادرة عن وزارة الداخلية اليمنية أن الدّراجات النارية قد استخدمت في اغتيال (40) ضابطا وفردا من مُنتسبي المؤسستين الأمنية والعسكرية.
--------------------------------------------
রক্তের সুউচ্চ মর্যাদা এবং মহান আল্লাহর নিকট এর বিশেষ অবস্থানের কারণে গুপ্তহত্যার বিষয়ে আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। রক্তকে তুচ্ছজ্ঞান করার বিপদের ব্যাপারে সতর্ককারী অকাট্য দলীলসমূহের অবিচ্ছিন্ন ধারা (تواتر) বিদ্যমান। আর এটি সেই কবীরা গুনাহ ও ধ্বংসাত্মক পাপের অন্তর্ভুক্ত যা সম্পাদনকারীর জন্য আল্লাহর ক্রোধ, অভিশাপ এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবধারিত করে তোলে।
অন্যদিকে, আমরা এমন এক সময়ে অবস্থান করছি যেখানে প্রাণের মূল্য সস্তা হয়ে গেছে; আপনি মুসলিম বিশ্বের যে প্রান্তেই দৃষ্টিপাত করবেন, দেখবেন রক্ত ঝরছে, দেহ ছিন্নভিন্ন হচ্ছে এবং লাশের স্তূপ পড়ে আছে। এটি বিভিন্ন পন্থায় ঘটছে—যার মধ্যে অন্যতম হলো গুপ্তহত্যা, যা বর্তমানে এক আসন্ন বিপদ এবং বিভ্রান্তিকর ফিতনায় পরিণত হয়েছে। এর পেছনে রাষ্ট্রনায়ক, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, অল্পবয়সী যুবক এবং গোপন ষড়যন্ত্রকারী মহল কলকাঠি নাড়ছে, এর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এবং বাস্তবায়নকারীদের অর্থায়ন করছে। তারা তাদের লুকায়িত বিদ্বেষ ও ঘৃণ্য স্বার্থ চরিতার্থ করতে এর ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করছে না। এমতাবস্থায় উম্মাহর চিন্তাবিদ, আলেম, দাঈ এবং নেতৃবৃন্দের উচিত এই বিপদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো, যা সমাজের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে, জনজীবনকে আতঙ্কিত করছে এবং প্রতিদিন নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
তৃতীয়: গুপ্তহত্যা, তথ্য ও পরিসংখ্যান—উদাহরণস্বরূপ "ইয়েমেন".
বিগত দুই বছরে ইয়েমেন এই গুপ্তহত্যার ফিতনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
- বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইয়েমেনিদের কাছে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পাঁচ কোটিরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
- ইয়েমেনি শাসনব্যবস্থার পতনের পরবর্তী ঘটনাবলি, যার ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত, বিদ্বেষ ও সংকীর্ণ স্বার্থপরতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
- আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অপশক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র এবং কিছু চরমপন্থী দলের উপস্থিতি
… যারা ইয়েমেন সরকারের সাথে তীব্র দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করছে
… এবং গুপ্তহত্যাসহ বিভিন্ন কৌশলে একাধিক হামলা পরিচালনা করছে।
- সার্বিক পরিস্থিতিতে, সরকারি নিরাপত্তা পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত চার বছরে রাজনৈতিক নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার ১৩৬ জন কর্মকর্তা ও সহকারী নিহত হয়েছেন।
(১)- অন্যদিকে, ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ২০১২ সালের নিরাপত্তা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোটরসাইকেল ব্যবহার করে নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর ৪০ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে গুপ্তহত্যা করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
- وتشير الإحصائيات الحكومية للنّصف الأول من عام 2013 م إلى مقتل (225) من أفراد القوات المسلحة اليمنية و (394) من أبناء القوات الخاصة، لتكون المحصلة خلال ستة أشهر من عام 2013 م هي (619) فردا من الجيش والأمن.
(1)- وفي حملة أمنية واحدة نفّذتها وزارة الداخلية خلال النصف الأول من عام 2013 م تم ضبط (248.000) قطعة سلاح مخالفة في عموم محافظات الجمهورية.
هذا غيض من فيض الاغتيالات في اليمن، والتي لا نزال نتجرع مرارتها، ونعيش مآسيها إلى يومنا هذا.
رابعاً: حكم الاغتيالات.
أطبقت الشرائع السماوية على حرمة الدماء المعصومة، والأنفس المصونة، قال العز بن عبد السلام: " اتفقت الشرائع على تحريم الدماء والأبضاع والأموال والأعراض "
(2).
وجاء الإسلام فأكد على هذه الحرمة وصان هذه الدماء المعصومة، وحرم الاعتداء عليها بغير حق، بأي نوع من أنواع الاعتداء، ومنها الاغتيالات، فإنها محرمة في شرع الله تعالى تحريما قاطعا بنصوص الكتاب والسنة وإجماع الأمة، وذلك من ستة أوجه على النحو التالي:
الوجه الأول: أنّ فيها إهدارا لحرمة النفس المعصومة في شريعة الإسلام.
وقد وردت العديد من النصوص القطعية من الكتاب والسنة الصحيحة في تحريم قتل النفس بغير حق وعقوبة ذلك منها:
1 - قوله تعالى {وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الْتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِ ذَلِكُمْ وَصَاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ}.
(3)2 - تعالى {وَلَا تَقْتُلُوْا النَّفْسَ الْتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي القَتْلِ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا}.
(4)--------------------------------------------
২০১৩ সালের প্রথমার্ধের সরকারি পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে, ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর (২২৫) জন সদস্য এবং বিশেষ বাহিনীর (৩৯৪) জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এর ফলে ২০১৩ সালের প্রথম ছয় মাসে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মোট (৬১৯) জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
(১)আর ২০১৩ সালের প্রথমার্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালিত একটিমাত্র নিরাপত্তা অভিযানে প্রজাতন্ত্রের সকল প্রদেশে মোট (২৪৮,০০০) টি অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
এটি ইয়েমেনে সংঘটিত গুপ্তহত্যাগুলোর মহাসমুদ্রের সামান্য এক বিন্দু মাত্র, যার তিক্ততা আমরা আজও আস্বাদন করছি এবং যার বিয়োগান্তক পরিস্থিতি আমরা বর্তমান সময় পর্যন্ত মোকাবিলা করছি।
চতুর্থ: গুপ্তহত্যার বিধান।
সমস্ত আসমানি শরিয়ত সংরক্ষিত রক্ত ও সুরক্ষিত প্রাণের পবিত্রতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে। আল-ইজ্জ বিন আব্দুস সালাম বলেন: "রক্ত, লজ্জাস্থান, সম্পদ ও সম্মানের পবিত্রতার বিষয়ে সকল শরিয়ত একমত হয়েছে।"
(২)এরপর ইসলাম এসে এই পবিত্রতাকে আরও গুরুত্বারোপ করেছে এবং এই সংরক্ষিত রক্তকে সুরক্ষা দিয়েছে। ইসলাম কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া যেকোনো প্রকার আক্রমণকে হারাম সাব্যস্ত করেছে, যার মধ্যে গুপ্তহত্যাও অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহর শরিয়তে কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ইজমার অকাট্য দলিলাদি দ্বারা এটি সুনিশ্চিতভাবে হারাম (নিষিদ্ধ)। আর তা নিম্নোক্ত ছয়টি দিক থেকে প্রমাণিত:
প্রথম দিক: এতে ইসলামি শরিয়তে সংরক্ষিত প্রাণের পবিত্রতা লুণ্ঠন করা হয়।
অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা এবং এর শাস্তি সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ (صحيح) সুন্নাহ থেকে অসংখ্য অকাট্য দলিল বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
1 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো।}
(৩)2 - মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না। আর কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দিয়েছি (প্রতিশোধ গ্রহণের); কিন্তু সে যেন হত্যায় সীমালঙ্ঘন না করে। নিশ্চয়ই সে সাহায্যপ্রাপ্ত।}
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
وجه الشاهد: أن الله عز وجل نهى عن قتل النفس مطلقا بأي نوع من أنواع القتل،
… " والنفس الألف واللام فيها للجنس فيفيد الاستغراق "
(1)، فيدخل فيه كل نفس، فالنفس
المحرمة هي: المؤمنة والذمية والمعاهدة.
(2)قال القرطبي: " وهذه الآية -آية الأنعام- نهي عن قتل النفس المحرمة، مؤمنة كانت
… أو معاهدة .. ".
(3)3 - قوله تعالى {مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرِائِيلَ أَنَّهُ مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الأَرْضِ فَكَأنَّمِا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحَيَا النَّاسَ جَمِيعًا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمْ إِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ بَعْدَ ذَلِكَ فِي الأَرْضِ لمُسْرِفُونَ}
(4)وجه الشاهد: " أنّ حرمة النفس ثابتة في كل الشرائع السماوية، وأنّ من استحل نفسا واحدة فقد استحل الجميع".
(5)في التحرير والتنوير: " وهذا بيان أن قتل النفس جرمٌ فظيع، كفظاعة قتل الناس كلهم ..
… والمقصود بما كتب الله على بني إسرائيل بيان للمسلمين أن حكم القصاص شرع سالف ومراد لله قديم .. فالمقصود من ذلك التشبيه تهويل القتل".
(6)4 - قوله تعالى {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا}.
(7)وجه الشاهد: أن الآية الكريمة تفيد تغليظ العقوبة في القتل العمد، والاغتيالات قتل تحققت فيه العمدية.
أما الأحاديث في تغليظ أمر الدِّماء وتحريم القتل فكثيرة منها:
--------------------------------------------
দলিলের প্রাসঙ্গিক দিক: আল্লাহ তাআলা যেকোনো ধরনের হত্যার মাধ্যমে সাধারণভাবে জীবন নাশ নিষিদ্ধ করেছেন,
… "এবং 'আন-নাফস' (النفس) শব্দে যে আলিফ ও লাম রয়েছে তা জাতিগত (للجنس) অর্থে ব্যবহৃত, যা সামগ্রিকতা (الاستغراق) প্রকাশ করে"
(1)। ফলে প্রতিটি প্রাণই এর অন্তর্ভুক্ত হয়; সুতরাং নিষিদ্ধ বা সম্মানিত (المحرمة) প্রাণ হলো: মুমিন, জিম্মি এবং চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম।
(2)ইমাম কুরতুবি বলেন: "এই আয়াতটি—সুরা আল-আনআমের আয়াত—নিষিদ্ধ বা সম্মানিত (المحرمة) প্রাণ হত্যা করতে নিষেধ করে, চাই তা মুমিন হোক
… অথবা চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম হোক..।"
(3)৩ - মহান আল্লাহর বাণী: {এ কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের ওপর এই বিধান লিখে দিয়েছিলাম যে, যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে হত্যা করল—অন্য কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়া কিংবা জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ব্যতীত—সে যেন সকল মানুষকেই হত্যা করল; আর যে ব্যক্তি একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। আর অবশ্যই তাদের নিকট আমার রাসুলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিলেন, এরপর তাদের অনেকেই পৃথিবীতে সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে রয়ে গেল}
(4)দলিলের প্রাসঙ্গিক দিক: "প্রাণের পবিত্রতা ও সম্মান সকল আসমানি শরিয়তে সাব্যস্ত, আর যে ব্যক্তি একটি প্রাণকে বৈধ (استحل) মনে করে নিল, সে যেন সকল মানুষের প্রাণকেই বৈধ (استحل) মনে করল"।
(5)আত-তাহরির ওয়াত-তানভির গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটি একটি বর্ণনা যে, মানুষ হত্যা করা একটি জঘন্য অপরাধ, যেমন জঘন্য কাজ হলো সকল মানুষকে হত্যা করা..
… আর আল্লাহ বনী ইসরাঈলের ওপর যা অবধারিত করেছিলেন তার উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদের নিকট এটি স্পষ্ট করা যে, কিসাস (القصاص) বা সম-প্রতিশোধের বিধান হলো একটি পূর্ববর্তী শরিয়ত এবং আল্লাহর অনাদি ইচ্ছা.. সুতরাং এই উপমার উদ্দেশ্য হলো হত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরা"।
(6)৪ - মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে (متعمدا) কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে; আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে লানত করেছেন এবং তার জন্য মহা আজাব প্রস্তুত রেখেছেন}।
(7)দলিলের প্রাসঙ্গিক দিক: এই মহান আয়াতটি ইচ্ছাকৃত হত্যার (القتل العمد) ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির নির্দেশ দেয়, আর গুপ্তহত্যাও এমন একটি হত্যা যেখানে ইচ্ছাকৃত বিষয়টি বিদ্যমান থাকে।
রক্তের বিষয়ের ভয়াবহতা এবং হত্যা হারাম হওয়া সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে কিছু হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
1 - حديث ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أول ما يقضى بين الناس يوم القيامة في الدماء ".
(1)قال النووي: " فيه تغليظُ أمر الدّماء وأنها أول ما يقضى فيه بين الناس يوم القيامة، وهذا لعظم أمرها وكثير خطرها .. ".
(2)وقال ابن حجر: " في الحديث عظم أمر الدم، فإن البِداءة إنما تكون بالأهم، والذنب يعظم بحسب عظم المفسدة وتفويت المصلحة، وإعدام البنية الإنسانية غاية في ذلك".
(3)2 - حديث ابن عمر رضي الله عنه ما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لن يزال المؤمن في فسحة من دينه ما لم يصب دما حراما ".
(4)قال ابن عمر رضي الله عنه: " إن من ورطات الأمور التي لا مخرج لمن أوقع نفسه فيها سفك الدم الحرام بغير حله".
(5)وقال ابن العربي: " الفسحة في الدين سعة الأعمال الصالحة حتى إذا جاء القتل ضاق لأنها لا تفي بوزره .. ".
(6)3 - حديث عبد الله بن عمرو أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لزوال الدنيا أهون عند الله من قتل رجل مسلم".
(7) وفي سنن ابن ماجة من حديث البراء بن عازب بلفظ: " الدنيا أهون على الله من قتل مؤمن بغير حق ".
(8)4 - حديث أبي الدرداء رضي الله عنه قال: " سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " كل ذنب عسى الله أن يغفره إلا من مات مشركا، أو مؤمن قتل مؤمنا متعمدا ".
(9)--------------------------------------------
১ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের ফয়সালা করা হবে, তা হলো রক্তপাত (সংক্রান্ত)।"
(১)ইমাম নববী বলেন: "এতে রক্তপাতের বিষয়ের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে এবং এটিই কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম বিচার্য বিষয় হবে। আর এটি এর গুরুত্বের বিশালতা এবং এর চরম ঝুঁকির কারণে...।"
(২)ইবনে হাজার বলেন: "এই হাদিসে রক্তপাতের বিষয়ের বিশালতা বর্ণিত হয়েছে, কারণ সূচনা সবসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়েই হয়। ক্ষতির ব্যাপকতা এবং কল্যাণ হাতছাড়া হওয়ার গুরুত্ব অনুযায়ী গুনাহের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায়; আর মানবসত্তা বিনাশ করা হলো এক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়।"
(৩)২ - ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একজন মুমিন তার দ্বীনের প্রশস্ততার মধ্যে থাকে যতক্ষণ না সে কোনো হারাম রক্তপাতে লিপ্ত হয়।"
(৪)ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "সেই সকল ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যাতে কেউ নিজেকে জড়িয়ে ফেললে তা থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ থাকে না, তা হলো বৈধ কারণ ছাড়া হারাম রক্তপাত ঘটানো।"
(৫)ইবনুল আরাবি বলেন: "দ্বীনের প্রশস্ততা হলো নেক আমলের ব্যাপকতা, এমনকি যখন হত্যা সংঘটিত হয় তখন তা সংকুচিত হয়ে যায়, কারণ আমলসমূহ সেই পাপের ভারের সমতুল্য হতে পারে না...।"
(৬)৩ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর কাছে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার চেয়ে গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া অধিক তুচ্ছ।"
(৭) এবং সুনান ইবনে মাজাহ-তে বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণিত হাদিসে এই শব্দে এসেছে: "আল্লাহর কাছে একজন মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যার চেয়ে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া অধিক তুচ্ছ।"
(৮)৪ - আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'আশা করা যায় যে আল্লাহ প্রতিটি গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে মুশরিক অবস্থায় মারা যায়, অথবা যে মুমিন অন্য মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে'।"
(৯)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
5 - حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من قتل مؤمنا فاعتبط بقتله لم يقبل الله منه صرفا ولا عدلا ".
(1)ورد في فيض القدير: " أي قتله ظلما بغير جناية ولا جريرة ولا قصاص يقال عبطت الناقة إذا نحرتها من غير داء بها، وقيل: بمعجمة (فاغتبط) من الغبطة الفرح والسرور؛ لأن القاتل يفرح بقتل خصمه، فإن كان المقتول مؤمنا وفرح بقتله لم يقبل الله منه صرفا ولا عدلا، أي نافلة ولا فريضة ".
(2)6 - حديث أبي الدرداء رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " لا يزال المؤمن معنقا صالحا ما لم يصب دمًا حراما فإذا أصاب دما حراما بلح "
(3)، في النهاية: " بلّح الرجل إذا انقطع من الإعياء فلم يقدر أن يتحرك "
(4)، وفي مرقاة المصابيح: " يريد وقوعه في الهلاك وتشديد اللام، يفيد المبالغة والتأكيد، قال القاضي: المعنق المسرع في المشي من العنق وهو الإسراع والخطو الفسيح".
(5)7 - حديث عبد الله بن عمرو قال: " رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يطوف بالكعبة ويقول: ما أطيبك وأطيب ريحك، ما أعظمك وأعظم حرمتك، والذي نفس محمد بيده لحرمة المؤمن أعظم عن الله حرمة منك، ماله ودمه وأن نظنّ به إلا خيرا ".
(6)8 - حديث أبي سعيد وأبي هريرة رضي الله عنه ما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " لو أن أهل السماء وأهل الأرض اشتركوا في دم مؤمن لأكبّهم الله في النار".
(7)--------------------------------------------
৫ - উবাদাহ ইবন সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, আল্লাহ তার কোনো নফল বা ফরজ ইবাদত কবুল করবেন না।"
(১)ফয়দুল কদিরে বর্ণিত হয়েছে: "অর্থাৎ কোনো অপরাধ, অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা বা দণ্ড (কিসাস) ব্যতিরেকে তাকে জুলুম করে হত্যা করা। বলা হয়ে থাকে, 'আমি উটটিকে রোগ ছাড়াই যবেহ করেছি' (عبطت الناقة), যখন কোনো ব্যাধি ছাড়াই তাকে যবেহ করা হয়। আবার কারো মতে, শব্দটি নুকতাযুক্ত বর্ণসহ (فاغتبط) যা 'গিবতাহ' থেকে এসেছে, যার অর্থ আনন্দ ও উল্লাস; কারণ হত্যাকারী তার শত্রুকে হত্যা করে আনন্দ পায়। সুতরাং যদি নিহত ব্যক্তি মুমিন হয় এবং হত্যাকারী তাকে হত্যা করে আনন্দিত হয়, তবে আল্লাহ তার কোনো নফল বা ফরজ ইবাদত কবুল করবেন না।"
(২)৬ - আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: "মুমিন ব্যক্তি সৎকর্মে ক্ষিপ্র ও সপ্রতিভ থাকে যতক্ষণ না সে কোনো নিষিদ্ধ রক্তপাতে লিপ্ত হয়। যখন সে নিষিদ্ধ রক্তপাতে লিপ্ত হয়, তখন সে নিস্তেজ (بلح) হয়ে পড়ে।"
(৩) 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "মানুষ 'বাল্লাহ' (بلح) হয়েছে তখন বলা হয়, যখন সে ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে পড়ে এবং নড়াচড়া করতে সক্ষম হয় না।"
(৪) আর 'মিরকাতুল মাসাবিহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এর দ্বারা তার ধ্বংসের গহ্বরে পতিত হওয়া বোঝানো হয়েছে। এখানে 'লাম' বর্ণে তাশদিদ ব্যবহার করার মাধ্যমে আধিক্য ও দৃঢ়তা প্রকাশ করা হয়েছে। কাজি বলেছেন: 'মু’নিক' (المعنق) হলো দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রমকারী। এটি 'উনুক' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ দ্রুত পদচারণা ও দীর্ঘ পদক্ষেপে চলা।"
(৫)৭ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আমি নবী (সা.)-কে কাবার চারদিকে তাওয়াফ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: তুমি কতই না পবিত্র এবং তোমার সুগন্ধি কতই না মনোরম! তুমি কতই না মহান এবং তোমার মর্যাদা কতই না সুউচ্চ! সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের মর্যাদা তোমার চেয়েও অধিক—তার সম্পদ, তার রক্ত এবং তার সম্পর্কে কেবল সুধারণা পোষণ করা।"
(৬)৮ - আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: "যদি আসমান ও জমিনের সকল অধিবাসী একজন মুমিনের রক্তপাতে শরিক হতো, তবে অবশ্যই আল্লাহ তাদের সকলকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতেন।"
(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
9 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " اجتنبوا السبع الموبقات، قالوا يا رسول الله وما هنّ؟ قال: الشّرك بالله، والسّحر، وقتل النفس التي حرم الله إلا بالحق، وأكل الرّبا، وأكل مال اليتيم، والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات".
(1)10 - حديث المقداد بن عمرو الكندي رضي الله عنه أنه قال: " يا رسول الله إن لقيتُ كافرا فاقتتلنا فضرب يدي بالسيف فقطعها ثم لاذ بشجرة وقال أسلمت لله آقتلهُ بعد أن قالها.
… قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا تقتله. قال: يا رسول الله فإنه طرح إحدى يدي ثم قال بعدما قطعها آقتله قال: " لا، فإن قتلته فإنه بمنزلتك قبل أن تقتله وأنت بمنزلته قبل أن يقول كلمته التي قال".
(2)قال الخطابي: " معناه أن الكافر مباح الدم بحكم الدين قبل أن يسلم، فإذا أسلم صار مصان الدم كالمسلم، فإن قَتله المسلم بعد ذلك صار معه مباحا بحق القصاص كالكافر بحق الدين،
… وليس المراد إلحاقه في الكفر كما تقول الخوارج من تكفير المسلم بالكبيرة.
وحاصله اتحاد المنزلتين مع اختلاف المأخذ، فالأول أنه مثلك في صون الدم، والثاني أنك مثله في الهدر ".
(3) 11 - حديث أسامة بن زيد رضي الله عنه ما قال: " بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الحرقة من جهينة، قال: فصبَّحنا القوم فهزمناهم، قال: ولحقت أنا ورجل من الأنصار رجلا منهم، قال: فلما غَشيناه قال: لا إله إلا الله، قال: فكفّ عنه الأنصاري فطعنته برمحي حتى قتلته، قال: فلما قدمنا بلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم قال: " فقال لي يا أسامة: أقتلته بعدما قال لا اله إلا الله، قال: قلت يا رسول الله إنما
--------------------------------------------
৯ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শরিক (شرك) করা, জাদু, আল্লাহ যে জীবনকে হারাম করেছেন তাকে সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং সচ্চরিত্রা উদাসীন মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া।"
(১)১০ - মিকদাদ ইবনে আমর আল-কিন্দি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি একজন কাফিরের (كافر) মুখোমুখি হই এবং আমাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়, আর সে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে আমার একটি হাত কেটে ফেলে, এরপর একটি গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে যে, 'আমি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম (ইসলাম গ্রহণ করলাম)', তবে কি আমি তাকে এটি বলার পর হত্যা করতে পারি? ... রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তাকে হত্যা করো না।' তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সে তো আমার একটি হাত কেটে ফেলার পর এ কথা বলেছে, আমি কি তাকে হত্যা করব? তিনি বললেন: 'না, কারণ যদি তুমি তাকে হত্যা করো, তবে সে তোমার সেই অবস্থানে (অর্থাৎ রক্ত সংরক্ষিত হওয়ার অবস্থায়) চলে যাবে যেখানে তুমি তাকে হত্যা করার আগে ছিলে, আর তুমি তার সেই অবস্থানে (অর্থাৎ রক্ত বৈধ হওয়ার অবস্থায়) চলে যাবে যেখানে সে এই বাক্যটি বলার আগে ছিল'।"
(২)আল-খাত্তাবি বলেন: "এর অর্থ হলো, ইসলাম গ্রহণের আগে দ্বীনি বিধান অনুযায়ী কাফিরের রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ (مباح الدم) থাকে। কিন্তু যখন সে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন সে একজন মুসলিমের মতো সংরক্ষিত রক্তের (مصان الدم) অধিকারী হয়। এরপর যদি কোনো মুসলিম তাকে হত্যা করে, তবে সে কাফিরের রক্ত দ্বীনি বিধানে যেমন বৈধ ছিল, তেমনি কিসাসের (قصاص) বিধান অনুযায়ী তার রক্তও বৈধ (مباح) হয়ে যায়। ... আর এর দ্বারা তাকে কুফরের অন্তর্ভুক্ত করা উদ্দেশ্য নয়, যেমনটি খারিজিরা (خوارج) কবিরা গুনাহর (كبيرة) কারণে মুসলিমকে কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) ক্ষেত্রে বলে থাকে।"
এর সারকথা হলো, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রে অবস্থানের সামঞ্জস্য তৈরি হওয়া। প্রথম ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো যে, সে রক্ত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তোমার মতো হয়ে গেছে; আর দ্বিতীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো যে, তুমি রক্ত বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে তার মতো হয়ে গেছ।"
(৩) ১১ - উসামা ইবনে যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জুহাইনা গোত্রের হুরকা নামক স্থানে অভিযানে পাঠালেন। আমরা ভোরে তাদের ওপর আক্রমণ করে তাদের পরাজিত করলাম। আমি এবং একজন আনসারি ব্যক্তি তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করলাম। যখন আমরা তাকে ধরে ফেললাম, তখন সে বলল: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। এ কথা শুনে আনসারি ব্যক্তিটি তার থেকে হাত গুটিয়ে নিলেন (বিরত রইলেন), কিন্তু আমি আমার বর্শা দিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা করলাম। যখন আমরা ফিরে এলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিষয়টি জানতে পারলেন। তিনি আমাকে বললেন: 'হে উসামা! সে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পরও কি তুমি তাকে হত্যা করলে?' আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কেবল (প্রাণভয়ে)..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
كان متعوذا، قال: أقتلته بعد أن قال: لا إله إلا الله، قال: فما زال يكررها عليَّ حتى تمنيت أني لم أكن أسلمت قبل ذلك اليوم "
(1)، وفي الحديث ما يدل على شناعة القتل وسوء عاقبته. قال ابن التين: في قول النبي صلى الله عليه وسلم: " أقتلته بعدما قال: " في هذا اللوم تعليم وإبلاغ في الموعظة حتى لا يقدم أحد على قتل من تلفّظ بالتوحيد".
(2)وقال القرطبي: " تكرير ذلك والإعراض عن قبول العذر زجر شديد عن الإقدام على مثل ذلك".
(3)12 - حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنه ما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " في حجة الوداع ألا أي شهر تعلمونه أعظم حرمة؟
قالوا: ألا شهرنا هذا، قال: " ألا أي بلد تعلمونه أعظم حرمة، قالوا: ألا بلدنا هذا، قال: ألا أي يوم تعلمونه أعظم حرمة، قالوا: ألا يومنا هذا، قال: فإن الله تبارك وتعالى قد حرّم دماءكم
… وأموالكم وأعراضكم إلا بحقها كحرمة يومكم هذا في بلدكم هذا في شهركم هذا، ألا هل بلغت، ثلاثا، كل ذلك يجيبونه ألا نعم. قال: ويحكم، أو ويلكم، لا ترجعنّ بعدي كفار يضرب بعضكم رقاب بعض ".
(4)قال النووي: " المراد بهذا كله بيان توكيد غلظ تحريم الأموال، والدماء، والأعراض، والتحذير من ذلك ".
(5)13 - حديث جندب بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من استطاع منكم أن لا يحول بينه وبين الجنة ملء كف من دم يهرقه كأنما يذبح دجاجة، كلما يعرض لباب من أبواب الجنة
--------------------------------------------
সে আত্মরক্ষার জন্য এটি বলেছিল, তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: "সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পরেও কি তুমি তাকে হত্যা করলে?" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: "তিনি আমার নিকট এটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমি কামনা করলাম যে, আমি যদি সেই দিনের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ না করতাম।"
(১) আর এই হাদিসে হত্যার জঘন্যতা এবং এর অশুভ পরিণতির প্রমাণ রয়েছে। ইবনে আত-তীন বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "সে বলার পরেও কি তুমি তাকে হত্যা করলে?"—এই তিরস্কারের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা এবং উপদেশের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ, যাতে কেউ তাওহীদের বাণী উচ্চারণকারীকে হত্যার দুঃসাহস না দেখায়।
(২)আল-কুরতুবী বলেছেন: "সেটি বারবার উল্লেখ করা এবং ওজর গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করা এই জাতীয় কাজে লিপ্ত হওয়ার বিরুদ্ধে একটি কঠোর সতর্কতা।"
(৩)১২ - আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে বলেছেন: "শোনো, তোমরা কি জানো কোন মাসটি সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ?"
তারা বললেন: "কেন নয়, আমাদের এই মাসটি।" তিনি বললেন: "শোনো, তোমরা কি জানো কোন শহরটি সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ?" তারা বললেন: "কেন নয়, আমাদের এই শহরটি।" তিনি বললেন: "শোনো, তোমরা কি জানো কোন দিনটি সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ?" তারা বললেন: "কেন নয়, আমাদের এই দিনটি।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তোমাদের রক্ত... তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মানকে তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন, এর যথাযথ অধিকার ব্যতীত; যেমন মর্যাদা রয়েছে তোমাদের এই দিনে, তোমাদের এই শহরে এবং তোমাদের এই মাসে। শোনো, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? (তিনি এটি) তিনবার বললেন, প্রতিবারই তারা উত্তর দিচ্ছিলেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমাদের জন্য পরিতাপ, অথবা তোমাদের ধ্বংস হোক, আমার পরে তোমরা কাফেরে পরিণত হয়ো না, যারা একে অপরের ঘাড় কাটে।"
(৪)ইমাম আন-নওয়াবী বলেছেন: "এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো সম্পদ, রক্ত ও সম্মানের ওপর আঘাতের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সুনিশ্চিতভাবে বর্ণনা করা এবং এ ব্যাপারে সতর্ক করা।"
(৫)১৩ - জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাত এবং নিজের মাঝে এক আজলা পরিমাণ রক্তকে অন্তরায় হতে না দিতে সক্ষম—যা সে এমন অবহেলায় প্রবাহিত করে যেন সে একটি মুরগি জবাই করছে—সে যেন তা-ই করে। সে যখনই জান্নাতের কোনো দরজায় উপস্থিত হতে চাইবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
حال بينه وبينه، ومن استطاع منكم أن لا يجعل في بطنه إلا طيبا فإن أول ما ينتن من الإنسان بطنه".
(1)14 - حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " يخرج عنق من النار يتكلم يقول: وكلت اليوم بثلاثة، بكل جبار، وبمن جعل مع الله إلها آخر، وبمن قتل نفسا بغير نفس، فينطوي عليهم فيقذفهم في غمرات جهنّم ".
(2)15 - حديث ابن عباس رضي الله عنه ما قال: سمعت نبيكم يقول: " يأتي المقتول متعلقا رأسه بإحدى يديه، متلببا قاتله بيده الأخرى تشجب أوداجه دما، حتى يأتي به العرش فيقول المقتول لربّ العالمين هذا قتلني فيقول الله للقاتل: تعست ويذهب به إلى النار".
(3)وجه الشاهد: في حديث- جندب رضي الله عنه وأبي سعيد رضي الله عنه وابن عباس رضي الله عنه السابق عقوبة القتل في الآخرة، وحال المقتول مع القاتل عند الله، وهذا يدل على عظم شأن الدّماء عند الله عز وجل، وحرمة انتهاكها.
وهذه الأحاديث تحمل على حال عدم التوبة كما هو مذهب الجمهور، جمعا بين النصوص وإعمالا للآية.
16 - حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنه ما- أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " دخلت امرأة النار في هرة ربطتها، فلم تطعمها، ولم تدعها تأكل من خشاش الأرض" وفي رواية لهُما عذّبت امرأة في هرة،
سجنتها حتى ماتت، فدخلت فيها النار، لا هي أطعمتها وسقتها، إذ حبستها، ولا هي تركتها تأكل من خشاش الأرض ".
(4)والخشاش: " الهوام ودواب الأرض وما أشبهها ".
(5)--------------------------------------------
...সেটি তার এবং জান্নাতের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সক্ষম যে সে তার পেটে পবিত্র (হালাল) খাদ্য ছাড়া অন্য কিছু প্রবেশ করাবে না, সে যেন তা করে; কেননা মানুষের শরীরের প্রথম যে অংশটি পচে দুর্গন্ধযুক্ত হয় তা হলো তার পেট।"
(১)১৪ - আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস, নবি (সা.) বলেন: "জাহান্নাম থেকে আগুনের একটি গর্দান বের হবে যা কথা বলবে এবং বলবে: আজ আমাকে তিন শ্রেণির ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে—প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারী, যে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ সাব্যস্ত করেছে এবং যে কোনো ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। অতঃপর সেটি তাদের পেঁচিয়ে ধরবে এবং জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করবে।"
(২)১৫ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি তোমাদের নবি (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার এক হাত দিয়ে নিজের কাটা মাথা ধরে এবং অন্য হাত দিয়ে হত্যাকারীর কলার চেপে ধরে উপস্থিত হবে, আর তার ঘাড়ের রগগুলো থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। এভাবে সে তাকে আরশের নিকট নিয়ে আসবে। এরপর নিহত ব্যক্তি রাব্বুল আলামিনের নিকট বলবে—হে আমার রব! এই ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। তখন আল্লাহ হত্যাকারীকে বলবেন: তুমি ধ্বংস হও এবং তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে।"
(৩)প্রামাণিক বিষয় (وجه الشاهد): জন্দুব (রা.), আবু সাঈদ (রা.) এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিসগুলোতে পরকালে হত্যার শাস্তি এবং আল্লাহর কাছে হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তির অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। এটি আল্লাহর নিকট রক্তের উচ্চ মর্যাদা এবং তা লঙ্ঘনের কঠোর নিষিদ্ধতার প্রমাণ বহন করে।
এই হাদিসগুলো তওবা না করার অবস্থার উপর প্রযোজ্য, যেমনটি জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগুরু আলিমদের অভিমত; যেন দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং আয়াতের বিধান কার্যকর করা সম্ভব হয়।
১৬ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস—আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: "একটি বিড়ালের কারণে এক মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে, যাকে সে বেঁধে রেখেছিল; সে তাকে খাবার দেয়নি এবং জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকার জন্যও ছেড়ে দেয়নি।" এবং উভয়ের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণিত অপর একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "এক মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য আজাব দেওয়া হয়, যাকে সে বন্দি করে রেখেছিল যতক্ষণ না সেটি মারা যায়। অতঃপর সে কারণে মহিলাটি জাহান্নামে প্রবেশ করে। সে যখন তাকে বন্দি করে রেখেছিল, তখন তাকে খাবার ও পানীয় দেয়নি এবং জমিনের পোকা-মাকড় খাওয়ার জন্যও ছেড়ে দেয়নি।"
(৪)আর খাশাশ (الخشاش) হলো: "জমিনের কীটপতঙ্গ ও ছোট প্রাণী এবং এর সদৃশ বস্তুসমূহ।"
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وجه الشاهد: إذا كان الوعيد بالنار على سجن هرة والتّسبب في موتها، فكيف بمن كان سببا في قتل مسلم معصوم الدّم باغتيال أو تفجير، فلا شك أن وعيده أولى بفحوى الخطاب. قال ابن العربي: " ثبتَ النهي عن قتل البهيمة بغير حق، والوعيد في ذلك، فكيف بقتل الآدمي، فكيف بالتقي الصالح ".
(1)ومما سبق من النصوص القطعية يتضح ما يلي:
1 - حرمة دم المسلم وأنها من أعظم الحرم.
2 - أن من قتل مسلما متعمدا فقد توعده الله بالغضب، واللعنة، والعذاب الأليم.
3 - أن حرمة المسلم أعظم عند الله من حرمة الكعبة، وأن زوال الدنيا أهون عند الله من زوال نفس مؤمنة.
4 - شناعة وفظاعة القتل وسوء عاقبته في الدنيا والآخرة.
5 - أن الإعانة أو الإشارة أو الاشتراك في قتل مسلم، داخل في القتل، مؤذن بالعقوبة،
موجب للنار.
6 - أن من فرح بقتل رجل مسلمٍ، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا.
ويدخل في الحرمة أيضا الكفار غير المحاربين من الذميين، والمعاهدين، والمستأمنين؛ لثبوت ذلك في عدة أحاديث منها:
1 - حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنه ما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من قتل معاهدا لم يرح رائحة الجنة
وإن ريحها توجد من مسيرة أربعين عاما ".
(2)قال الشوكاني: " المعاهد: هو الرجل من أهل دار الحرب يدخل إلى دار الإسلام بأمان، فيحرم على المسلمين قتله بلا خلاف بين أهل الإسلام حتى يرجع إلى مأمنه، ويدل على ذلك قوله تعالى {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَى يَسْمَعَ كلَامَ اللهِ ثُمَ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ}
(3) ".
(4)--------------------------------------------
প্রমাণের দিক (وجه الشاهد): যদি একটি বিড়ালকে বন্দি করে রাখা এবং তার মৃত্যুর কারণ হওয়ার জন্য জাহান্নামের শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়, তবে সেই ব্যক্তির কী অবস্থা হবে যে গুপ্তহত্যা বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে একজন রক্ত-সুরক্ষিত (معصوم) মুসলিমকে হত্যার কারণ হয়? নিঃসন্দেহে তার ক্ষেত্রে শাস্তির এই হুমকি বাণীর মর্মার্থ অনুযায়ী অধিকতর প্রযোজ্য। ইবনুল আরাবি বলেন: "বিনা অধিকারে চতুষ্পদ জন্তু হত্যা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং শাস্তির হুমকি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, তাহলে একজন মানুষকে হত্যার বিষয়ে কী হতে পারে? আর যদি সে একজন পরহেজগার নেককার মানুষ হয় তবে তো কথাই নেই।"
(১)পূর্বোক্ত অকাট্য (قطعي) দলিলগুলো থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়:
১ - একজন মুসলিমের রক্তের পবিত্রতা এবং এটি অন্যতম মহান পবিত্র বিষয়।
২ - যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একজন মুসলিমকে হত্যা করবে, আল্লাহ তাকে ক্রোধ, লানত এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুমকি দিয়েছেন।
৩ - আল্লাহর কাছে একজন মুসলিমের পবিত্রতা কাবার পবিত্রতার চেয়েও মহান; আর দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের প্রাণ নাশের চেয়েও তুচ্ছ।
৪ - হত্যার জঘন্যতা ও ভয়াবহতা এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর মন্দ পরিণতি।
৫ - একজন মুসলিমকে হত্যার ক্ষেত্রে সাহায্য করা, ইশারা করা বা অংশীদার হওয়া হত্যারই অন্তর্ভুক্ত, যা শাস্তির ঘোষণা দেয় এবং জাহান্নামকে অবধারিত করে।
৬ - যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের হত্যায় আনন্দ প্রকাশ করে, আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।
এই পবিত্রতা বা অলঙ্ঘনীয়তার অন্তর্ভুক্ত অ-যুদ্ধরত কাফেররাও, যেমন— জিম্মি (ذمي), চুক্তিবদ্ধ (معاهد) এবং নিরাপত্তা প্রাপ্তরা (مستأمن); কারণ বেশ কিছু হাদিসে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ (معاهد) ব্যক্তিকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্বের পথ থেকেও পাওয়া যায়।"
(২)শাওকানি বলেন: "চুক্তিবদ্ধ (معاهد) হলো— সেই ব্যক্তি যে দারুল হারব থেকে নিরাপত্তা নিয়ে দারুল ইসলামে প্রবেশ করে। ফলে সে তার নিরাপদ স্থানে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তাকে হত্যা করা মুসলিমদের জন্য হারাম, এ বিষয়ে ইসলাম অনুসারীদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: 'আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে, তারপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও'
(৩)।"
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " ألا من قتل نفسا معاهدة له ذمة الله وذمة رسوله فقد أخفر بذمّة الله فلا يرح رائحة الجنة، وإن ريحها ليوجد من مسيرة سبعين خريفا ".
(1)قال القاضي: " يريد بالمعاهدة من كان له مع المسلمين عهدٌ شرعي، سواء كان بعقد جزية،
… أو هدنة من سلطان، أو أمان من مسلم".
(2) وقال ابن الأثير: " أخفرت الرجل إذا نقضت عهده وذمامه".
(3)3 - حديث أبي بكرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من قتل نفسا معاهدة بغير حلها حرم الله عليه الجنة أن يشم ريحها ".
(4)وفي رواية ابن حبان من حديث أبي بكرة أيضا: "من قتل نفسا معاهَدَة بغير حقها لم يرح رائحة الجنة، وأن ريحها ليوجد من مسيرة مئة عام".
(5)وجه الشاهد من الأحاديث: أنها اشتملت على تشديد الوعيد على قاتل المعاهد، مما يفيد حرمة قتله، وعصمة دمه.
الوجه الثاني: أنها اشتملت على غدر، وغِيْلَة، وخيانة، وخديعة، وفتك، وكلها محرمات في الشريعة.
ومن الأحاديث الواردة في تحريم القتل غيلة، وغدرا، وخيانة، وخديعة ما يلي:
1 - حديث ابن عمر رضي الله عنه ما قال: قال رسول الله ص: " إذا جمعَ الله الأولين والآخرين يوم القيامة، يرفع لكل غادر لواء فقيل هذه غدرة فلان بن فلان".
(6)2 - حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي ص قال: " لكل غادر لواء عند إسته يوم القيامة".
(7)--------------------------------------------
2 - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সা.) বলেছেন: "সাবধান! যে ব্যক্তি এমন কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করবে যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে আল্লাহর দেওয়া নিরাপত্তা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল। অতএব সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না, অথচ জান্নাতের সুগন্ধ সত্তর বছরের পথ চলার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।"
(১)কাদি (র.) বলেছেন: "চুক্তিবদ্ধ বলতে তিনি এমন ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন যার সাথে মুসলিমদের শরিয়তসম্মত চুক্তি রয়েছে, চাই তা জিজিয়া চুক্তির মাধ্যমে হোক, ... অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হোক, কিংবা কোনো মুসলিমের পক্ষ থেকে দেওয়া নিরাপত্তা হোক।"
(২) ইবনুল আসির (র.) বলেছেন: "যখন আমি কারো চুক্তি ও নিরাপত্তা বিনষ্ট করি, তখন বলা হয় যে আমি লোকটির সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছি।"
(৩)3 - আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণ আস্বাদন করা হারাম করে দেবেন।"
(৪)সহিহ ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় আবু বাকরা (রা.)-এর হাদিস থেকেই বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে সে জান্নাতের সুগন্ধ পাবে না, অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ একশত বছরের পথ চলার দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।"
(৫)হাদিসগুলোর প্রমান্য দিক: এগুলো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যাকারীর জন্য কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি অন্তর্ভুক্ত করে, যা তাকে হত্যা করা হারাম হওয়া এবং তার জীবনের নিরাপত্তা ও অলঙ্ঘনীয়তাকে প্রমাণ করে।
দ্বিতীয় দিক: এর মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা, গুপ্তহত্যা, খিয়ানত, প্রতারণা এবং অতর্কিত হামলা নিহিত রয়েছে, যার প্রতিটিই শরিয়তে নিষিদ্ধ।গুপ্তহত্যা, বিশ্বাসঘাতকতা, খিয়ানত ও প্রতারণা হারামের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ নিম্নরূপ:
1 - ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ যখন কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একত্রিত করবেন, তখন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে, এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্ন।"
(৬)2 - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সা.) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য তার পশ্চাৎদেশে একটি পতাকা থাকবে।"
(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال النووي: " معنى لكل غادر لواء: أي علامة يشهد بها في الناس .. وكانت العرب تنصب الألوية في الأسواق الحفلة لغدرة الغادر لتشهيره بذلك ".
(1)وجاء في فيض القدير: في قوله صلى الله عليه وسلم: " عند استه " بمعنى أنه يلصق به ويدنى منه دنوا لا يكون معه اشتباه؛ لتزداد فضيحته وتتضاعف استهانته، ويحتمل أن يكون دبره حقيقة".
(2)3 - حديث ابن عمر أيضا قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: " لكل غادر لواء ينصب لغدرته ".
(3)4 - حديث أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لكل غادر لواء يوم القيامة يعرف به ".
(4)وجه الشاهد: أن الاغتيالات لما كانت تنفذ خفية وغيلة، فان لفظ الغدر يشملها لعموم اللفظ.
قال ابن دقيق العيد: في شرح حديث ابن عمر السابق، " وفيه تعظيم الغدرة وذلك في الحروب .. وقد يراد بهذا الغدر ما هو أعم من أمر الحروب، وهو ظاهر اللفظ ".
(5)5 - حديث ابن عمر رضي الله عنه ما أن غلاما قُتل غِيلة، فقال عمر: " لو اشترك فيها أهل صنعاء لقتلتهم ".
(6)وفي رواية: أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قتل نفرا خمسة، أو سبعة برجل قتلوه قتل غِيلة، وقال: " لو تمالأ عليه أهل صنعاء لقتلتهم جميعا ".
(7)و" غيلة: أي اغتيالا وهو أن يغتال فيخدع حتى يصير إلى موضع يستخفي فيه، فإذا صار فيه قتل"
(8)، و " قتله غيلة: خدعه فذهب به إلى موضعٍ فقتله ".
(9)--------------------------------------------
ইমাম নববী বলেন: "প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা থাকবে—এর অর্থ হলো: এটি এমন একটি নিদর্শন যার মাধ্যমে মানুষের সামনে তাকে শনাক্ত করা হবে... আর আরবরা জনাকীর্ণ বাজারগুলোতে কোনো বিশ্বাসঘাতকের বিশ্বাসঘাতকতা প্রচার করে তাকে অপদস্থ করার জন্য পতাকা স্থাপন করত।"
(১)ফয়জুল কদীরে এসেছে: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "তার পশ্চাদ্দেশের কাছে" প্রসঙ্গে—এর অর্থ হলো এটি তার সাথে এমনভাবে লেগে থাকবে এবং তার এতই নিকটে থাকবে যে কোনো অস্পষ্টতা থাকবে না; যাতে তার অপমান বৃদ্ধি পায় এবং লাঞ্ছনা দ্বিগুণ হয়। এটিও সম্ভব যে এর দ্বারা প্রকৃতপক্ষে তার পশ্চাদ্দেশই বোঝানো হয়েছে।"
(২)৩ - ইবনে উমরের অন্য একটি হাদিস, তিনি বলেন: আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা থাকবে যা তার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে উত্তোলন করা হবে।"
(৩)৪ - আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা থাকবে যার মাধ্যমে তাকে চেনা যাবে।"
(৪)প্রমাণের দিক: যেহেতু গুপ্তহত্যা গোপনে এবং অতর্কিতে সম্পন্ন করা হয়, তাই 'বিশ্বাসঘাতকতা' শব্দটি তার সাধারণ অর্থের ব্যাপকতার কারণে একেও অন্তর্ভুক্ত করে।
ইবনে দাকীকুল ঈদ ইবনে উমরের পূর্বোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "এতে বিশ্বাসঘাতকতার জঘন্যতা ফুটে উঠেছে এবং তা যুদ্ধের ক্ষেত্রে... তবে এই বিশ্বাসঘাতকতা দ্বারা যুদ্ধের বিষয়ের চেয়েও ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য হতে পারে, যা শব্দের বাহ্যিক রূপ থেকে স্পষ্ট।"
(৫)৫ - ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস যে, এক বালককে অতর্কিতে হত্যা করা হয়েছিল। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন: "যদি সানআ’র সকল অধিবাসী এতে শরিক হতো, তবে আমি তাদের সকলকেই হত্যা করতাম।"
(৬)অন্য একটি বর্ণনা (رواية): উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন ব্যক্তির বদলে পাঁচ বা সাতজনকে হত্যা করেছিলেন যাকে তারা অতর্কিতে হত্যা করেছিল। তিনি বলেছিলেন: "যদি সানআ’র অধিবাসীরা তার বিরুদ্ধে একজোট হতো, তবে আমি তাদের সকলকেই হত্যা করতাম।"
(৭)আর "গিলাহ: অর্থাৎ গুপ্তহত্যা, আর তা হলো কাউকে প্রতারিত করা যতক্ষণ না সে এমন কোনো গোপন স্থানে পৌঁছায় যেখানে তাকে লুকিয়ে রাখা যায়, অতঃপর সেখানে পৌঁছালে তাকে হত্যা করা হয়", এবং "তাকে গিলাহ পদ্ধতিতে হত্যা করেছে: অর্থাৎ তাকে ধোঁকা দিয়ে কোনো স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে।"
(৮)(৯)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وجه الشاهد: أن ما فعل أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه بقتل خمسة أو سبعة من أهل صنعاء قتلوا غلاما غيلة، يدل على فظاعة أمر الغيلة، وشناعتها لديه، وزاد الأمر تأكيدا بقوله: " لو تمالأ عليه أهل صنعاء لقتلتهم جميعا ". ولذا أقام الحد على السبعة وشدّد فيه.
وفي مذهب مالك أنه لا يقتل مسلم بكافر إلا في الغيلة. قال: " الأمر عندنا أنه لا يقتل مسلم بكافر إلا أن يقتله مسلم قتل غِيلة فيقتل به ".
(1)قال ابن عبد البر: " وأما قول مالك أن المسلم إذا قتل الكافر قتل غِيلة قتل به، فقد قالت به طائفة من أهل المدينة وجعلوه من باب المحاربة وقطع السبيل".
(2)وقال الزرقاني: " لأن القتل فيها لأجل الفساد لا للقصاص، فلو عفا ولي الدّم عن القاتل لم
يعتبر ويقتل".
(3) وهذا يدل على تشديد الفقهاء في الغيلة.
6 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " الإيمان قيد الفتك، لا يفتك مؤمنٌ ".
(4)7 - عن الحسن قال: " قال رجل للزبير يوم الجمل: ألا أقتل لك عليا؟ قال: لا، وكيف تقتله ومعه الجنود؟
قال: ألحق به فأفتك به، قال: لا، إن رسول الله صلى الله عليه قال: " إن الإيمان قيد الفتك، لا يفتك مؤمن".
(5)و" الفتك: يعني أن يأتي الرجل صاحبه وهو غارٌ غافل حتى يشدّ عليه فيقتله".
(6) وقال أيضا: "وكذلك لو كمنَ له في موضع ليلا أو نهارا فإذا وجد غِرة قتله ".
(7)--------------------------------------------
সাক্ষ্যের বিষয়টি হলো: আমিরুল মুমিনিন উমর (রা.) সানআ’র পাঁচ বা সাতজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক কিশোরকে অতর্কিতভাবে হত্যার (غيلة) দায়ে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, তা থেকে অতর্কিত হত্যার (غيلة) ভয়াবহতা এবং তাঁর নিকট এর জঘন্যতা প্রকাশ পায়। তিনি বিষয়টি আরও জোরালো করে বলেছিলেন: "যদি সানআ’র সকল অধিবাসী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতো, তবে আমি তাদের সকলকেই হত্যা করতাম।" এ কারণেই তিনি ওই সাতজনের ওপর নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حد) প্রয়োগ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে কঠোরতা প্রদর্শন করেছিলেন।
ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী, অতর্কিত হত্যা (غيلة) ব্যতীত অন্য কোনো কারণে কোনো মুসলিমকে কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা হবে না। তিনি বলেন: "আমাদের নিকট সিদ্ধান্ত হলো, কাফিরের বিনিময়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে না, তবে কোনো মুসলিম যদি তাকে অতর্কিতভাবে হত্যা (غيلة) করে, তবে তার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হবে।"
(1)ইবনুল বার বলেন: "ইমাম মালিকের এই মত—যেখানে মুসলিম ব্যক্তি কাফিরকে অতর্কিতভাবে হত্যা (غيلة) করলে তাকে হত্যা করা হবে—মদিনার একদল ফকিহও তা পোষণ করেছেন এবং তাঁরা একে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা (محاربة) এবং পথিমধ্যে দস্যুবৃত্তির অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"
(2)যুরকানি বলেন: "কেননা এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয় বিশৃঙ্খলা (فساد) দমনের উদ্দেশ্যে, প্রতিশোধের (قصاص) জন্য নয়। সুতরাং রক্তের উত্তরাধিকারী (ওয়ালি) যদি হত্যাকারীকে ক্ষমাও করে দেয়, তবে তা গ্রাহ্য হবে না এবং তাকে হত্যা করা হবে।"
(3) এটি অতর্কিত হত্যার (غيلة) বিষয়ে ফকিহগণের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ দেয়।
6 - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী করীম (সা.) বলেছেন: "ঈমান হলো অতর্কিত হত্যার (فتك) প্রতিবন্ধক, কোনো মুমিন অতর্কিত হত্যা (فتك) করতে পারে না।"
(4)7 - হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জিমালের যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি যুবায়ের (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করল: আমি কি আপনার হয়ে আলীকে হত্যা করব না? তিনি বললেন: না, আপনি তাকে কীভাবে হত্যা করবেন যেখানে তার সাথে বিশাল বাহিনী রয়েছে? সে বলল: আমি তার সাথে যোগ দেব এবং অতর্কিতভাবে তাকে আক্রমণ করে হত্যা (فتك) করব। তিনি বললেন: না, কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই ঈমান হলো অতর্কিত হত্যার (فتك) প্রতিবন্ধক, কোনো মুমিন অতর্কিত হত্যা (فتك) করে না'।"
(5)"ফাতক (فتك) এর অর্থ হলো: কোনো ব্যক্তি তার সাথীর নিকট এমন অবস্থায় আসা যখন সে অসতর্ক ও গাফেল থাকে এবং অতর্কিতে আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে।"
(6) তিনি আরও বলেন: "একইভাবে যদি কেউ তার জন্য দিনে বা রাতে কোনো স্থানে ওত পেতে থাকে এবং সুযোগ বুঝে তাকে হত্যা করে।"
(7)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وجاء في فيض القدير: " الإيمان قيد الفتك " أي يمنع من الفتك الذي هو القتل بعد الأمان غدرا "." لا يفتك المؤمن"خبر بمعنى النّهي؛ لأنه متضمّن للمكر والخديعة، أو هو نهيٌ، وما روي من الفتك بكعب بن الأشرف، وابن أبي الحقيق، وغيرهما فكان قبل النّهي، أو هي وقائع مخصوصة بأمر سماوي .. ".
(1)قال الزمخشري: " الفصل بين الفتك والغيلة؛ أن الفتك هو أن تهتبل غرته فتقتله جهارا،
… والغيلة؛ أن تكتمن في موضع فتقتله خِفية ".
(2)وجه الشاهد: يتضح من حديثي أبي هريرة والحسن، وكلام علماء اللغة أن معنى الفتك ينطبق في صورته مع الاغتيالات في عصرنا الحاضر، فيأخذ من النهي عنه، لأنه يتضمن مكرا
… وخديعة وغدرا.
الوجه الثالث: أن فيها ترويعاً للآمنين، وبثاً للرعب في أوساط المجتمع، وإقلاقاً للسكينة العامة، وكلها مفاسد متحققة نهت عنها الشريعة.
فكم روّع أرباب الاغتيالات الآمنين، وكم أفزعوا أبناء المجتمع بحوادثهم تحت أجنحة الليل المظلم، وكم أحدثوا رعبا وهلعا بين الناس؛ ليحققوا أهوائهم، وينفذوا غدرهم، وينتصروا لأنانيتهم المقيتة، ومن النّصوص التي تنهى عن الترويع للآمنين:
1 - حديث عبد الرحمن بن أبي ليلى قال: "حدثنا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم أنهم كانوا يسيرون مع النبي صلى الله عليه وسلم، فنام رجل منهم فانطلق بعضهم إلى حبل معه فأخذه، ففزع، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا يحل لمسلم أن يروِّع مسلما".
(3)وفي المسند: " فانطلق بعضهم إلى نبل معه فأخذها، فلما استيقظ الرجل فزع فضحك القوم، فقال: ما يضحككم؟ فقالوا: إنا أخذنا نبل هذا ففزع، فقال رسول الله ص: " لا يحل لمسلم أن يروع مسلما ".
(4)--------------------------------------------
ফায়জুল কাদির-এ এসেছে: "ঈমান চোরাগোপ্তা হত্যাকে (الفتك) শৃঙ্খলিত করে" অর্থাৎ এটি সেই চোরাগোপ্তা হত্যা (الفتك) থেকে বিরত রাখে যা নিরাপত্তা প্রদানের পর বিশ্বাসঘাতকতামূলক হত্যা। "মুমিন ব্যক্তি চোরাগোপ্তা হত্যা (يفتك) করে না" এটি নিষেধাজ্ঞার (النهي) অর্থবোধক একটি সংবাদ (خبر); কারণ এতে চক্রান্ত ও প্রতারণা নিহিত রয়েছে। অথবা এটি সরাসরি একটি নিষেধ (نهي)। আর কাব বিন আশরাফ, ইবনুল আবি হাকিক এবং অন্যদের যে চোরাগোপ্তা হত্যার (الفتك) বর্ণনা পাওয়া যায়, তা নিষেধাজ্ঞার (النهي) পূর্বের ঘটনা, অথবা সেগুলো ছিল আসমানী আদেশে বিশেষ কিছু ঘটনা...।
(1)যামাখশারি বলেন: "ফাতক (الفتك) ও গিলাহ-র (الغيلة) মধ্যে পার্থক্য হলো; ফাতক (الفتك) হলো কোনো ব্যক্তির অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তাকে প্রকাশ্যে হত্যা করা,
… আর গিলাহ (الغيلة) হলো কোনো স্থানে লুকিয়ে থেকে গোপনে তাকে হত্যা করা।"
(2)সাক্ষ্যপ্রমাণের দিক (وجه الشاهد): আবু হুরায়রা ও হাসানের বর্ণিত দুটি হাদিস এবং ভাষাবিদগণের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, 'ফাতক' (الفتك)-এর অর্থ বর্তমান সময়ের গুপ্তহত্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং এটিও নিষেধাজ্ঞার (النهي) অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ এতে চক্রান্ত
… প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা নিহিত রয়েছে।
তৃতীয় দিক: এতে নিরাপদ ব্যক্তিদের আতঙ্কিত করার বিষয় রয়েছে, সমাজের মধ্যে ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়া এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার বিষয় রয়েছে। এ সবগুলোই স্পষ্ট অনিষ্টকর বিষয় যা শরিয়ত নিষিদ্ধ করেছে।
গুপ্তহত্যাকারীরা কত নিরাপদ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে, অন্ধকারের আড়ালে তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজের মানুষকে কতটা ভীত-সন্ত্রস্ত করেছে এবং নিজেদের প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে, বিশ্বাসঘাতকতা বাস্তবায়ন করতে ও ঘৃণ্য আত্মকেন্দ্রিকতাকে বিজয়ী করতে মানুষের মধ্যে কতটা ত্রাস ও ভীতি সৃষ্টি করেছে! নিরাপদ ব্যক্তিদের আতঙ্কিত করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক নসসমূহের (النصوص) মধ্যে রয়েছে:
1 - আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লার হাদিস, তিনি বলেন: "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পথ চলছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে একজন লোক ঘুমিয়ে পড়লে অন্য একজন তার সাথে থাকা একটি রশির (حبل) দিকে এগিয়ে গিয়ে সেটি নিয়ে নেয়। এতে লোকটি ঘাবড়ে যায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'কোনো মুসলমানের জন্য অন্য কোনো মুসলমানকে আতঙ্কিত করা বৈধ নয়'।"
(3)আর মুসনাদ-এ রয়েছে: "তাদের কেউ একজন তার কাছে থাকা একটি তীরের (نبل) দিকে এগিয়ে গিয়ে সেটি নিয়ে নিল। লোকটি যখন জেগে উঠল, তখন সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল এবং উপস্থিত লোকজন হেসে উঠল। তিনি বললেন: 'তোমরা হাসছ কেন?' তারা বলল: 'আমরা তার তীরটি নিয়ে নিয়েছিলাম, তাই সে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'কোনো মুসলমানের জন্য অন্য কোনো মুসলমানকে আতঙ্কিত করা বৈধ নয়'।"
(4)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي حديث النعمان بن بشير رضي الله عنه ما قال: "كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في مسير فخفق رجل على راحلته فأخذ رجل سهما من كنانته، فانتبه الرّجل ففزع، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لرجل أن يروع مسلما".
(1)وجه الشاهد: أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن ترويع المسلم بأخذ حبل معه، أو نبل سهم ولو بما صورته صورة مزاح، فكيف بما هو أعظم من ذلك من ترويع للآمنيين في المجتمع، وقتل للأنفس المعصومة، وإقلاق للسكينة العامة، لا شك أنه أعظم جرما وحرمة؛ من باب فحوى الخطاب فإن النبي صلى الله عليه وسلم نبه بالأدنى على الأعلى من باب أولى.
جاء في فيض القدير في قوله صلى الله عليه وسلم: " لا يحل لمسلم أن يروع مسلما "، وإن كان هازلا كإشارته بالسيف، أو حديدة، أو أفعى، أو أخذِ متاعه؛ فيفزع لفقْدِه لما فيه من إدخال الأذى، والضرر عليه، والمسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده".
(2) 2 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لا يشير أحدكم على أخيه بالسّلاح؛ فإنه لا يدري لعل الشّيطان ينزع في يده فيقع في حفرة من النار".
(3)3 - حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: "مر رجل بِسهام في المسجد، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم أمسك بنِصالها، قال: نعم "
(4).
وفي رواية لجابر: " أن رجلا مرّ في المسجد بأسهم قد أبدى نصولها فأمر أن يأخذ بنُصولها لا يخدش مسلما ".
(5)4 - حديث أبي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " إذا مرَّ أحدكم في مسجدنا، أو في سوقنا ومعه نبل فليُمسك على نِصالها، أو قال: "فليقبض بكفه، أن يصيب أحدا من المسلمين منها شيء".
(6)5 - وفي حديث أبي موسى أيضا قال صلى الله عليه وسلم: " من حمل علينا السلاح فليس منا ".
(7)--------------------------------------------
নুমান বিন বাশির (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার সওয়ারির ওপর তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। তখন অন্য এক ব্যক্তি তার তূণ থেকে একটি তীর নিল। এরপর ওই ব্যক্তি জেগে উঠে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন: 'কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো মুসলিমকে আতঙ্কিত করা হালাল নয়'।"
(1)দলিল প্রদানের ক্ষেত্র: নবী (সা.) কোনো মুসলিমকে দড়ি বা তীরের ফলা নেওয়ার মাধ্যমে আতঙ্কিত করতে নিষেধ করেছেন, এমনকি তা যদি কৌতুকের ছলে হয় তবুও। সুতরাং সমাজে বসবাসরত নিরাপদ মানুষদের আতঙ্কিত করা, সংরক্ষিত প্রাণ (الأنفس المعصومة) হত্যা করা এবং সাধারণ শান্তি বিঘ্নিত করার মতো এর চেয়ে বড় অপরাধগুলো কেমন হবে (তা সহজেই অনুমেয়)। নিঃসন্দেহে এগুলো আরও গুরুতর অপরাধ এবং হারাম; এটি বাণীর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য (فحوى الخطاب)-এর অন্তর্ভুক্ত, কেননা নবী (সা.) ক্ষুদ্রতর বিষয়ের মাধ্যমে গুরুতর বিষয়ের ব্যাপারে আরও জোরালোভাবে সতর্ক করেছেন।
ফাইদুল কাদির গ্রন্থে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী "কোনো মুসলিমের জন্য অন্য কোনো মুসলিমকে আতঙ্কিত করা বৈধ নয়"-এর ব্যাখ্যায় এসেছে: "এমনকি তা যদি কৌতুকবশতও হয়, যেমন তলোয়ার, লোহার টুকরো বা সাপ দিয়ে ইশারা করা, অথবা কারো মালপত্র নিয়ে নেওয়া; ফলে সে তা হারিয়ে ফেলার ভয়ে আতঙ্কিত হয়। কারণ এতে তাকে কষ্ট ও ক্ষতি দেওয়া হয়। আর প্রকৃত মুসলিম তো সেই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"
(2) 2 - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের দিকে অস্ত্র দিয়ে ইশারা না করে; কেননা সে জানে না, হয়তো শয়তান তার হাত থেকে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট করে দেবে (বা প্ররোচিত করবে), ফলে সে জাহান্নামের গর্তে পতিত হবে।"
(3)3 - জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি মসজিদ দিয়ে তীর নিয়ে অতিক্রম করছিল। আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে বললেন: 'তীরের ফলাগুলো ধরে রাখো'। তিনি বললেন: 'জি আচ্ছা'।"
(4)জাবিরের অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "এক ব্যক্তি মসজিদ দিয়ে এমন কিছু তীর নিয়ে অতিক্রম করছিল যার ফলাগুলো উন্মুক্ত ছিল। তখন তাকে ফলার দিকগুলো মুষ্ঠিবদ্ধ করে ধরার নির্দেশ দেওয়া হলো যাতে কোনো মুসলিমের গায়ে আঁচড় না লাগে।"
(5)4 - আবু মুসা থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন আমাদের মসজিদে বা বাজারে তীর নিয়ে অতিক্রম করে, সে যেন ফলার দিকগুলো ধরে রাখে, অথবা তিনি বলেছেন: 'সে যেন তা তালুবন্দি করে রাখে, যাতে কোনো মুসলিম এর দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়'।"
(6)5 - আবু মুসা থেকে বর্ণিত আরও একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
(7)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
6 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم: " من أشار إلى أخيه بحديدة فإن الملائكة تلعنه، وإن كان أخاه لأبيه وأمه".
(1)وجه الشاهد: إذا كان حمل السلاح والإشارة به منهياً عنه، بل مجرد الإشارة بحديدة توجب اللعن ولو كان مازحا؛ لما فيها من ترويعه وإفزاعه، فكيف بالقتل والاغتيال عن عمد وترصد.
قال ابن العربي: " إذا استحق الذي يشير بالحديدة اللعن فكيف الذي يصيب بها؛ وإنما يستحق اللعن إذا كانت إشارته تهديدا سواء كان جادا أم لاعبا-كما تقدم- وإنما أوخذ اللاعب لما أدخله على أخيه من الرّوع، ولا يخفى أن إثم الهازل دون إثم الجاد؛ وإنما نهى عن تعاطي السيف مسلولا لما يخاف من الغفلة عند التّناول فيسقط فيؤذي".
(2)قال النووي: في شرحه لحديث: " من أشار إلى أخيه بحديدة "، قال: " فيه تأكيد حرمة المسلم، والنهي الشديد عن ترويعه، وتخويفه، والتعرض له بما قد يؤذيه، وقوله صلى الله عليه وسلم: " وإن كان أخاه لأبيه وأمه" مبالغة في إيضاح عموم النهي في كل أحد سواء من يتهم فيه ومن لا يتهم وسواء كان هذا هزلا ولعبا أم لا؛ لأن ترويع المسلم حرام بكل حال؛ ولأنه قد يسبقه السلاح، كما صرح به في الرواية الأخرى، ولعن الملائكة له يدل على أنه حرام".
(3)7 - حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: " كان النبي صلى الله عليه وسلم أحسن الناس، وأجود الناس، وأشجع الناس، ولقد فزع أهل المدينة ذات ليلة فانطلق الناس قبل الصوت، فاستقبلهم النبي صلى الله عليه وسلم، قد سبق الناس إلى الصوت وهو يقول: " لن تراعوا لن تراعوا "، وهو على فرس لأبي طلحة عري ما عليه سرج، في عنقه سيف، فقال: " لقد وجدته بحرا أو إنه لبحر".
(4)وجه الشاهد: في الحديث أهمية السكينة العامة في المجتمع وضرورتها، وأنها عندما اختلت يوما في المدينة سارع النبي ص بنفسه؛ لمعرفة السبب ما يدل على أهميتها عنده ثم رجع مطمئنا أصحابه قائلا لهم على جهة التأنيس والتسكين، لروعهم لن تراعوا، لن تراعوا.
والاغتيالات فيها إقلاق للسكينة العامة، وإثارة للخوف، والذعر في أوساط المجتمع وترويع للآمنين.
--------------------------------------------
৬ - আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দিকে লোহার অস্ত্র দিয়ে ইশারা করবে, ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দেয়, এমনকি সে যদি তার আপন ভাইও হয়।"
(১)প্রমাণের দিক (وجه الشاهد): যদি অস্ত্র বহন করা এবং তা দিয়ে ইশারা করা নিষিদ্ধ হয়, বরং নিছক লোহা দিয়ে ইশারা করাও অভিশাপের কারণ হয় যদিও তা কৌতুকবশত হয়; যেহেতু এতে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং ওত পেতে থেকে হত্যা ও গুপ্তহত্যার বিষয়টি কতই না ভয়াবহ হবে।
ইবনুল আরাবি বলেন: "যদি লোহা দিয়ে ইশারা করা ব্যক্তিই অভিশাপের উপযুক্ত হয়, তবে যে ব্যক্তি তা দিয়ে আঘাত করে তার অবস্থা কী হবে? আর অভিশাপের যোগ্য তখনই হয় যখন তার ইশারাটি হুমকির পর্যায়ে পড়ে, চাই তা গুরুত্বের সাথে হোক বা খেলার ছলে—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—আর খেলতামাশাকারী ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়েছে তার ভাইয়ের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার কারণে। এটি স্পষ্ট যে, কৌতুককারীর গুনাহ গুরুত্বের সাথে করা ব্যক্তির গুনাহ অপেক্ষা কম। আর কোষমুক্ত তলোয়ার গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এই আশঙ্কায় যে, গ্রহণের সময় অসতর্কতাবশত তা পড়ে গিয়ে আঘাত করতে পারে।"
(২)ইমাম নববী 'যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দিকে লোহা দিয়ে ইশারা করবে' হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "এতে মুসলিমের সম্মান ও নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং তাকে আতঙ্কিত করা, ভয় দেখানো এবং তাকে কষ্ট দিতে পারে এমন বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: 'এমনকি সে যদি তার আপন ভাইও হয়'—এটি সকলের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপকতা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত বর্ণনা, চাই সে অভিযুক্ত হওয়ার মতো কেউ হোক বা না হোক, এবং এটি কৌতুক ও খেলার ছলে হোক বা না হোক। কারণ একজন মুসলিমকে আতঙ্কিত করা সর্বাবস্থায় হারাম (حرام); আর এই কারণে যে, অস্ত্রটি (অজান্তেই) তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা অন্য একটি বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। ফেরেশতাদের অভিশাপ দেওয়া একথাই প্রমাণ করে যে তা হারাম (حرام)।"
(৩)৭ - আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী, সবচেয়ে দানশীল এবং সবচেয়ে সাহসী। এক রাতে মদিনাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ল, তখন লোকজন শব্দের উৎসের দিকে ছুটল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শব্দের দিকে লোকজনের আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং ফিরে আসার পথে তাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তিনি বলছিলেন: 'ভয় পেয়ো না, তোমরা ভয় পেয়ো না'। তিনি আবু তালহার একটি জিনবিহীন ঘোড়ার পিঠে সওয়ার ছিলেন এবং তাঁর ঘাড়ে একটি তলোয়ার ঝুলছিল। তিনি বললেন: 'আমি একে সমুদ্রের মতো (দ্রুতগামী) পেয়েছি'।"
(৪)প্রমাণের দিক (وجه الشاهد): এই হাদিসে সমাজে জননিরাপত্তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে। যখন মদিনায় একদিন এর ব্যত্যয় ঘটল, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই এর কারণ জানতে দ্রুত ছুটে গিয়েছিলেন; যা তাঁর কাছে এর গুরুত্বের প্রমাণ দেয়। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের আশ্বস্ত করতে করতে ফিরে আসলেন এবং তাদের আতঙ্ক দূর করার জন্য সান্ত্বনা ও প্রশান্তি দিয়ে বলছিলেন: 'ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না'।
আর গুপ্তহত্যার মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানো, সমাজে ভয় ও ত্রাস সৃষ্টি করা এবং নিরাপদ ব্যক্তিদের আতঙ্কিত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الوجه الرابع: أنها من الإفساد في الأرض.
لقوله تعالى {وَإَذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الأَرْضِ لِيُفْسِدَ فَيهَا وَيُهْلِكُ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللهُ لَا يُحِبُ الْفَسَادَ}.
(1)وقوله جل شأنه: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقْتَّلُوْا أَوْ يُصْلَّبُوا أَوَ تُقَطِّعَ أَيْدِيهمْ وَأَرْجُلَهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفُوْا مِنَ الأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الْدُّنْيَا وَلهَُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ}.
(2)قال ابن كثير: " المحاربة: هي المضادة والمخالفة، وهي صادقة على الكفر، وعلى قطع الطّريق وإخافة السبيل، وكذا الإفساد في الأرض يطلق على أنواع من الشّر، حتى قال كثير من السّلف: منهم سعيد بن المسيب: " إن قرض الدراهم والدنانير من الإفساد في الأرض وقد قال الله تعلى {وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الأَرْضِ لِيُفْسِدَ فَيهَا} .. ".
(3)وأورد ابن جرير بسنده عن مجاهد في قوله قال: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوُنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا}، قال: الزِّنا، والسَّرقة، وقتل النَّفس، وإهلاك الحرث والنسل".
(4)قال الشوكاني: " وقد اختلف في هذا الفساد المذكور في هذه الآية {مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَاِئيلَ} ماذا هو؟ فقيل: هو الشِّرك، وقيل: قطع الطريق، وظاهر النظم القرآني أنه ما يصدق عليه أنه فساد في الأرض، فالشّرك فساد في الأرض، وقطع الطريق فساد في الأرض، وسفك الدماء، وهتك الأعراض، ونهب الأموال فساد في الأرض، والبغي في الأرض، وهدم البنيان، وقطع الأشجار، وتغوير الأنهار فساد في الأرض، فعرفت بهذا أنه يصدق على هذه الأنواع أنها فساد في الأرض، وهكذا الفساد الذي سيأتي في قوله {وَيسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا} ".
(5)--------------------------------------------
চতুর্থ দিক: এটি জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত.
মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যখন সে প্রস্থান করে, তখন সে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং শস্য ও গবাদিপশু ধ্বংস করে। আর আল্লাহ বিপর্যয় পছন্দ করেন না}।
(১)এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাদের শাস্তি কেবল এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদের দেশান্তর করা হবে। এটি তাদের জন্য দুনিয়ায় লাঞ্ছনা আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি}।
(২)ইবনে কাসির বলেছেন: "মুহারাবাহ (যুদ্ধ ঘোষণা করা) হলো বিরোধিতা ও বিরুদ্ধাচরণ করা, এবং এটি কুফর, পথিমধ্যে ডাকাতি করা এবং পথচারীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একইভাবে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি বিভিন্ন প্রকার অনিষ্টের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, এমনকি অনেক সালাফ তথা পূর্বসূরিদের মতে—যাদের মধ্যে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবও রয়েছেন—'দিরহাম ও দিনার (মুদ্রা) কর্তন করাও জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।' আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন সে প্রস্থান করে, তখন সে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে...}।"
(৩)আর ইবনে জারির তাঁর সনদ (سند) সহকারে মুজাহিদ থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে}, তিনি বলেন: "ব্যভিচার, চুরি, নরহত্যা এবং শস্য ও গবাদিপশু ধ্বংস করা।"
(৪)শাওকানি বলেন: "এই আয়াতে {এই কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের ওপর লিখে দিয়েছি} বর্ণিত এই বিপর্যয় সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে যে, এটি আসলে কী? কেউ বলেছেন: এটি হলো শিরক, কেউ বলেছেন: পথিমধ্যে ডাকাতি করা। আর কুরআনের শব্দশৈলী থেকে এটিই স্পষ্ট হয় যে, জমিনে বিপর্যয় হিসেবে যা কিছু সাব্যস্ত হয় তার সবই এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং শিরক জমিনে বিপর্যয়, পথিমধ্যে ডাকাতি করা জমিনে বিপর্যয়, রক্তপাত করা, সম্ভ্রমহানি করা, সম্পদ লুণ্ঠন করা জমিনে বিপর্যয়, জমিনে বিদ্রোহ করা, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা, গাছপালা কাটা এবং নদ-নদী ভরাট করে ফেলা জমিনে বিপর্যয়। এর মাধ্যমে এটি জানা গেল যে, এই সব ধরনের বিষয়ই জমিনে বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হয়। একইভাবে এই বিপর্যয় যা পরবর্তী আয়াতেও আসবে যে, {এবং তারা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে}।"
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال محمد رشيد رضا: في تفسير قوله تعالى {وَيسْعَونَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا}؛ والفساد ضد الصّلاح، فكل ما يخرج عن وضعه الذي يكون به صالحا نافعا، يقال إنه قد فسد، ومن عمل عملا كان سببا لفساد شيء من الأشياء يقال إنه أفسده، فإزالة الأمن على الأنفس،
… أو الأموال، أو الأعراض، ومعارضة تنفيذ الشريعة العادلة وإقامتها كل ذلك إفساد في الأرض، روى عبد بن حميد وابن جرير عن مجاهد أن الفساد هنا الزنا، والسرقة، وقتل النفس،
… وإهلاك
الحرث والنسل، وكل هذه الأعمال من الفساد في الأرض ".
(1)قال الشنقيطي: " اعلم أن جمهور العلماء يثبتون حكم المحاربة في الأمصار والطرق على السواء، لعموم قوله تعالى {وَيْسَعْونَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا} وممن قال بهذا الأوزاعي، والليث بن سعد، وهو مذهب الشافعي، ومالك .. قال مالك في الذي يغتال الرجل فيخدعه، حتى يدخله بيتا فيقتله ويأخذ ما معه، إن هذه محاربة، ودمه إلى السلطان، لا إلى وليّ المقتول، فلا اعتبار بعفوه عنه في إسقاط القتل".
(2)وقد تقدم في هذا البحث كلام مالك في الموطأ في قتل المسلم بالكافر في الغِيلة، وتعليل ابن عبد البر: أن ذلك من باب المحاربة وقطع السبيل، وقول الزرقاني إن ذلك لأجل الفساد.
ومما سبق يتضح للباحث أن الاغتيالات من الإفساد في الأرض للآتي:
- عموم اللفظ في اللغة والتفسير.
- " ذكر أهل التفسير أن الفساد في القرآن على سبعة أوجه .. منها القتل:
{أَتَذَرُ مُوْسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ}
(3) أراد: ليقتلوا أهل مصر.
{إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الأرْضِ}
(4) أي: بقتل الناس.
{أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الأَرْضِ الْفَسَادَ}
(5) أي: (بالقتل) ".
(6)--------------------------------------------
মুহাম্মদ রশিদ রিদা বলেন: মহান আল্লাহর বাণী {এবং তারা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়}-এর তাফসিরে; ফাসাদ হলো সালাহ (صلاح - সংশোধন)-এর বিপরীত। সুতরাং কোনো বস্তু তার সেই অবস্থা থেকে বিচ্যুত হওয়া যার মাধ্যমে সেটি যোগ্য বা কল্যাণকর থাকে, তাকে বলা হয় যে তা নষ্ট বা ফাসাদ হয়ে গেছে। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যা কোনো বিষয়ের ফাসাদের কারণ হয়, তাকে বলা হয় যে সে তা নষ্ট বা ফাসাদ করেছে। অতএব, জান-মাল বা সম্মানের নিরাপত্তা বিনষ্ট করা এবং ন্যায়বিচারপূর্ণ শরিয়ত বাস্তবায়ন ও তা কায়েম করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা—এসবই জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনে জারির মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এখানে ফাসাদ দ্বারা ব্যভিচার, চুরি, নরহত্যা এবং শস্য ও গবাদি পশু ধ্বংস করাকে বোঝানো হয়েছে। এই সব কাজই জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।"
(১)আল-শানকিতি বলেন: "জেনে রাখুন, অধিকাংশ আলেম (جمهور العلماء) শহর এবং রাস্তা উভয় স্থানেই সমানভাবে 'মুহারাবা' (محاربة - দস্যুতা বা সশস্ত্র বিদ্রোহ)-এর বিধান সাব্যস্ত করেন। এর কারণ মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: {এবং তারা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়}। যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম আওজায়ি ও লাইস বিন সাদ অন্যতম এবং এটি ইমাম শাফিঈ ও ইমাম মালিকের মাযহাব। ইমাম মালিক এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে কোনো ব্যক্তিকে ধোঁকা দিয়ে কৌশলে কোনো ঘরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে এবং তার সাথে থাকা সম্পদ ছিনিয়ে নেয়, নিশ্চয়ই এটি 'মুহারাবা' (محاربة) হিসেবে গণ্য হবে। তার রক্ত (হত্যার দণ্ড) সুলতানের এখতিয়ারাধীন, নিহতের অভিভাবকের নিকট নয়। সুতরাং নিহতের অভিভাবকের ক্ষমার কারণে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।"
(২)গিলা (غيلة - গুপ্তহত্যা)-এর ক্ষেত্রে কাফিরের বদলে মুসলিমকে হত্যার বিষয়ে মুয়াত্ত্তা গ্রন্থে ইমাম মালিকের বক্তব্য এবং ইবনে আবদ আল-বাররের ব্যাখ্যা ইতিপূর্বেই এই গবেষণায় উপস্থাপিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি 'মুহারাবা' (محاربة) ও পথরোধের পর্যায়ভুক্ত। আর আল-জুরকানি বলেছেন যে, এটি ফাসাদ সৃষ্টির কারণে।
বিগত আলোচনা হতে গবেষকের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, গুপ্তহত্যাসমূহ নিম্নোক্ত কারণে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত:
- ভাষা ও তাফসিরের ক্ষেত্রে শব্দের ব্যাপকতা।
- "তাফসিরবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে ফাসাদ শব্দটি সাতটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে... তন্মধ্যে একটি হলো হত্যা:
{আপনি কি মুসা ও তার সম্প্রদায়কে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির সুযোগ দেবেন?}
(৩) এর উদ্দেশ্য হলো: যাতে তারা মিশরের অধিবাসীদের হত্যা করতে পারে।
{নিশ্চয় ইয়াজুজ ও মাজুজ জমিনে ফাসাদ সৃষ্টিকারী}
(৪) অর্থাৎ: মানুষ হত্যার মাধ্যমে।
{অথবা সে জমিনে ফাসাদ প্রকাশ করবে}
(৫) অর্থাৎ: (হত্যার মাধ্যমে)।"
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفسر مجاهد الفساد بالقتل وهو من أكابر علماء التّفسير، وكذلك سعيد بن المسيب رجح العموم حتى في الدينار والدرهم.
- أن هذا ما رجحه جماعة من المفسرين كابن كثير، والشوكاني، ومحمد رشيد رضا، والشنقيطي وغيرهم.
الوجه الخامس: أن فيها بغياً وعدواناً على الآخرين.
والله عز وجل يقول: {وَتَعَاوَنوُا عَلَى البِّرِ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الإثْمِ وَالعُدْوَانِ}.
(1)قال الطبري في تفسير الآية: " وليعن بعضكم أيها المؤمنون بعضا على البر، وهو العمل بما أمر الله بالعمل به.
والتقوى: هو اتقاء ما أمر الله باتقائه، واجتنابه من معاصيه، ولا يعن بعضكم بعضا على الإثم يعني: على ترك ما أمركم الله بفعله، والعدوان، يقول ولا على أن تتجاوزوا ما حدَّ الله لكم في دينكم، وفرض لكم في أنفسكم، وفي غيركم".
(2)وقال الزمخشري: عن الآية {وَتَعَاوَنُوا عَلَىَ الْبِّرِ وَالتَّقْوَى} على العفو والإغضاء {وَلَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ}، على الانتقام والتشفي، ويجوز أن يراد العموم لكل بر
… وتقوى، وكل إثم وعدوان .. ".
(3)وجه الاستشهاد: أن الاغتيالات تدخل في العدوان.
- ومن الأحاديث الواردة في النّهي عن البغي والعدوان وعقوبة ذلك ما يلي:
1 - حديث أبي بكرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " ما من ذنب أجدر أن يُعجل الله تعالى لصاحبه العقوبة في الدنيا، مع ما يدخر له في الآخرة مثل البغي وقطيعة الرحم".
(4)--------------------------------------------
মুজাহিদ (রহ.) বিপর্যয়কে (ফাসাদ) হত্যার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন এবং তিনি তাফসির শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব প্রতিটি ক্ষেত্রে এমনকি দীনার ও দিরহামের (আর্থিক লেনদেন) ক্ষেত্রেও শব্দের ব্যাপকতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- এটি একদল মুফাসসির যেমন ইবনে কাসীর, শাওকানী, মুহাম্মদ রশিদ রিদা, শানকিতী এবং অন্যান্যদের নিকট অগ্রগণ্য মত।
পঞ্চম দিক: এতে অন্যের প্রতি বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন রয়েছে.
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেন: {তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরের সহযোগিতা করো না}।
(১)ইমাম তাবারী এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমাদের একে অপরকে নেক কাজের ওপর সাহায্য করা উচিত; আর তা হলো আল্লাহ যা করার নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করা।
আর তাকওয়া হলো: আল্লাহ যা থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন তা পরিহার করা এবং তাঁর অবাধ্যতা বর্জন করা। আর তোমরা একে অন্যকে পাপের কাজে সাহায্য করো না, অর্থাৎ আল্লাহ যা করার নির্দেশ দিয়েছেন তা বর্জন করার ক্ষেত্রে। আর সীমালঙ্ঘন—তিনি বলেন—তা হলো তোমাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে আল্লাহ যে সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন এবং তোমাদের নিজেদের ও অন্যদের ব্যাপারে যা ফরজ করেছেন, তা অতিক্রম করার ক্ষেত্রে তোমরা একে অন্যকে সহযোগিতা করো না"।
(২)যামাখশারী আয়াতটি {তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো} সম্পর্কে বলেন: ক্ষমা ও মার্জনা করার ক্ষেত্রে; {আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরের সহযোগিতা করো না} অর্থাৎ প্রতিশোধ গ্রহণ ও ক্রোধ নিবারণের ক্ষেত্রে। আর এখানে প্রতিটি নেক কাজ... ও তাকওয়া এবং প্রতিটি পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করাও বৈধ..."।
(৩)দলীল গ্রহণের দিক: গুপ্তহত্যা সীমালঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।
- বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ এবং এর শাস্তি সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্যতম:
১ - আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "বিদ্রোহ এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার চেয়ে এমন কোনো গুনাহ নেই, যার কর্তাকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা এবং পরকালেও তার জন্য শাস্তি জমা রাখা অধিক সমীচীন মনে করেন"।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
2 - حديث بكار بن عبد العزيز عن أبيه عن جدّه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " كل الذنوب يؤخر الله منها ما شاء إلى يوم القيامة، إلا البَغي، وعقوق الوالدين، وقطيعة الرحم يُعجل لصاحبها في الدنيا قبل الموت".
(1)3 - عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: " بابان يعجلان في الدنيا البغي، وقطيعة الرحم".
(2)4 - عن ابن عباس رضي الله عنه ما قال: " لو أن جبلا بغى على جبل لدُكّ الباغي".
(3)5 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " سيصيب أمتي داء الأمم: الأشر، والبطر، والتكاثر، والتشاحن في الدنيا، والتباغض، والتحاسد حتى يكون البغي ".
(4)ـ ورد في فيض القدير: في قوله صلى الله عليه وسلم: " حتى يكون البغي "؛ أي مجاوزة الحد،
… وهو تحذير شديد من التنافس في الدنيا؛ لأنها أساس الآفات، ورأس الخطايا،
… وأصل الفتن
… وعنه تنشأ الشرور ".
(5)وجه الشاهد: أن الاغتيالات وإزهاق الأنفس المعصومة عدوان على النفس البشرية المعصومة التي هي بنيان الله، ملعونٌ من هدمه، وأنها كذلك من البغي الذي يعجل الله عقوبة في الدنيا قبل الآخرة.
الوجه السادس: أن في الاغتيال قتلاً لنفس القاتل، وإلقاءً بها إلى التهلكة.
- قال تعالى {وَلَا تُلْقُوْا بِأَيْدِيكُمْ إِلى التَّهْلُكَةِ}.
(6)و" التهلكة: الهلاك، وقيل التهلكة شيء عاقبته إلى هلاك ".
(7)- قال عز وجل {وَلَا تَقْتُلوُا أَنْفُسَكُمْ ِإنَّ اللهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيرًا}.
(8)--------------------------------------------
2 - বক্কার ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা সমস্ত গুনাহের মধ্য থেকে যা ইচ্ছা করেন তা কেয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করেন, কেবল বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন (البغي), পিতা-মাতার অবাধ্যতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার অপরাধ ব্যতীত। এগুলোর অপরাধীকে তিনি মৃত্যুর পূর্বেই দুনিয়াতে দ্রুত সাজা প্রদান করেন।"
(1)3 - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দুটি বিষয় এমন যার সাজা দুনিয়াতেই দ্রুত দেওয়া হয়: বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন (البغي) এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।"
(2)4 - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যদি একটি পাহাড় অন্য একটি পাহাড়ের ওপর বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন (بغى) করত, তবে সেই বিদ্রোহী (الباغي) পাহাড়টি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেত।"
(3)5 - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পূর্ববর্তী জাতিসমূহের রোগ আমার উম্মতকেও পেয়ে বসবে: দম্ভ, অহংকার, আধিক্যের প্রতিযোগিতা, পার্থিব বিষয়ে পরস্পর বিবাদ, বিদ্বেষ এবং হিংসা; এমনকি তা বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন (البغي) পর্যন্ত পৌঁছাবে।"
(4)— ফাইযুল কদীরে উল্লিখিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন (البغي) পর্যন্ত পৌঁছাবে"-এর অর্থ হলো সীমা অতিক্রম করা,
… এটি দুনিয়ার মোহে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা; কারণ এটি সমস্ত আপদের মূল, গুনাহের উৎস,
… এবং ফিতনার ভিত্তি
… যা থেকে অনিষ্টের জন্ম হয়।"
(5)প্রাসঙ্গিকতা (وجه الشاهد): গুপ্তহত্যা এবং সংরক্ষিত প্রাণের বিনাশ হলো মানুষের ওপর আগ্রাসন, যা আল্লাহর সৃষ্টি; আর যে এই সৃষ্টিকে ধ্বংস করবে সে অভিশপ্ত। এটি এমন এক বিদ্রোহ বা সীমালঙ্ঘন (البغي) যার জন্য আল্লাহ পরকালের আগে দুনিয়াতেই দ্রুত সাজা প্রদান করেন।
ষষ্ঠ দিক: গুপ্তহত্যার মধ্যে হত্যাকারীর নিজের জীবনকে হত্যা করা এবং নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া নিহিত.
- আল্লাহ তাআলা বলেন, "এবং তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের (التهلكة) মধ্যে নিক্ষেপ করো না।"
(6)এবং "আত-তাহলুকাহ (التهلكة) অর্থ হলো ধ্বংস; আবার বলা হয় যে এটি এমন কিছু যার পরিণতি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।"
(7)- মহান আল্লাহ বলেন, "এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। আর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের মাধ্যমে তা করবে, তাকে আমি শীঘ্রই আগুনে প্রবেশ করাবো; আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।"
(8)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قال القرطبي: " أجمع أهل التأويل على أنّ المراد بهذه الآية النّهي أن يقتل بعض الناس بعضا، ثم لفظُها يتناول أن نفسه بقصد منه للقتل في الحرص على الدنيا وطلب المال بأن يحمل نفسه على الغرر المؤدي إلى التلف ".
(1)وقال الشوكاني: " ولا مانع من حمل الآية على جميع المعاني ".
(2)وقال ابن عاشور: " وقتل الرجل نفسه داخل في النهي؛ لأن الله لم يبح للإنسان إتلاف نفسه كما أباح له صرف ماله .. ".
(3)- ومن الأحاديث الواردة في ذلك ما يأتي:
1 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من قتل نفسه بحديدة فحديدته في يده يتوجأ بها في بطنه في نار جهنم خالدا فيها أبدا، ومن شرب سما فقتل نفسه فهو يتحسّاه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا، ومن تردى من جبل فقتل نفسه فهو يتردى في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا".
(4)2 - حديث ثابت بن الضّحاك رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من حلف بملة غير الإسلام كاذبا فهو كما قال، ومن قتل نفسه بحديدة عذب بها في نار جهنّم ".
(5)3 - حديث جُندب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " كان برجُلٍ جراح فقتل نفسه فقال الله بدرني عبدي بنفسه حرّمت عليه الجنة".
(6)4 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: " الذي يخنق نفسه يخنقها في النار والذي
يطعنها يطعنُها في النار".
(7)وجه الشاهد: قال ابن دقيق العيد: " هذا من باب مجانسة العقوبات الأخروية للجنايات الدنيوية، ويؤخذ منه أن جناية الإنسان على نفسه كجنايته على غيره في الإثم؛ لأن نفسه ليست ملكا له وإنما هي ملك لله تعالى فلا يتصرف فيها إلا بما أذن له فيه ".
(8)--------------------------------------------
আল-কুরতুবী বলেন: "ব্যাখ্যাকারগণ (أهل التأويل) এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো এক মানুষ কর্তৃক অন্য মানুষকে হত্যা করা থেকে নিষেধ করা। অতঃপর এর শব্দসমূহ সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে দুনিয়ার লোভ ও অর্থ-সম্পদ উপার্জনের উদ্দেশ্যে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে আত্মহত্যার ইচ্ছা করে।"
(1)আশ-শাওকানী বলেন: "আয়াতটিকে এর সকল সম্ভাব্য অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে কোনো বাধা নেই।"
(2)ইবনে আশুর বলেন: "কোনো ব্যক্তির নিজের জীবন নাশ করাও এই নিষেধাঞ্জার অন্তর্ভুক্ত; কারণ আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য নিজের জান বিনাশ করা বৈধ করেননি, যেমনটি তিনি তার সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বৈধ করেছেন..."
(3)- এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে নিম্নোক্তগুলো উল্লেখযোগ্য:
১ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি লোহার অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে সেই লোহার অস্ত্রটিই তার হাতে থাকবে এবং তা দিয়ে সে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে, সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে সে সেই বিষ পান করতে থাকবে এবং সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে সে অনবরত উপর থেকে নিচে পড়তে থাকবে এবং সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।"
(4)২ - সাবিত ইবনে আয-যাহহাক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "যে ব্যক্তি জেনেশুনে মিথ্যাভাবে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের শপথ করবে, সে তেমনি হয়ে যাবে যা সে বলেছে। আর যে ব্যক্তি লোহার কোনো ধারালো বস্তু দ্বারা নিজেকে হত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে তাকে তা দিয়েই শাস্তি দেওয়া হবে।"
(5)৩ - জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: "জনৈক ব্যক্তি জখমপ্রাপ্ত হয়েছিল, অতঃপর সে (ব্যথার তীব্রতায়) আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: আমার বান্দা নিজের জানের ব্যাপারে আমার চেয়ে ত্বরান্বিত হয়েছে, আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।"
(6)৪ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি শ্বাসরোধ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামেও নিজেকে শ্বাসরোধ করবে। আর যে ব্যক্তি
ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামেও নিজেকে আঘাত করতে থাকবে।"
(7)দালিলিক প্রাসঙ্গিকতা (وجه الشاهد): ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেন: "এটি দুনিয়াবী অপরাধের সাথে আখেরাতের শাস্তির সাদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত। এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নিজের ওপর অপরাধ সংঘটন করা গুনাহের দিক থেকে অন্যের ওপর অপরাধ করার মতোই; কারণ তার প্রাণ তার নিজের মালিকানাধীন নয়, বরং তা আল্লাহ তাআলার মালিকানাধীন। সুতরাং আল্লাহ তাকে যেটুকু অনুমতি দিয়েছেন সেটুকু ব্যতীত সে তার প্রাণের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।"
(8)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
خامساً: شبهات وردود حول الاغتيالات.
استدل المجيزون للاغتيالات بعدة أدلة، لا ترقى للاستدلال بها، مقابل النصوص القطعية من الكتاب، والسنة الصحيحة، وإجماع علماء الأمة؛ ولذا جعلها الباحث شبهات، وأورد لها الردود من كلام المعتبرين من أهل العلم قديما وحديثا في البندين التاليين:
البند الأول: شبهات المجيزين للاغتيالات.
1 - قصة قتل كعب بن الأشرف:في حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه ما- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من لكعب بن الأشرف؛ فإنه آذى الله ورسوله، فقال محمد بن مَسلمة فقال: يا رسول الله أتحب أن أقتله؟ قال نعم، قال: فأذن لي أن أقول شيئا، قال: قلُ، فأتاه محمد بن مسلمة فقال: إن هذا الرجل قد سألنا صدقة، وإنه قد عنانا، وإني قد أتيتك أستسلفك، قال: وأيضا والله لتملنّه، قال: إنَّا قد اتبعناه فلا نحب أن ندعه حتى ننظر إلى أي شيء يصير شأنه وقد أردنا أن تسلفنا وسقا، أو وسقين، فقال: نعم، ارهنوني، قالوا: أي شيء تريد، قال: فارهنوني نساءكم، قالوا: كيف نرهنُك نساءنا وأنت أجمل العرب، قال: فارهنوني أبناءكم، قالوا كيف نرهنك أبناءنا فيسُب أحدهم، فيقال رهن بوسق،
… أو وسقين هذا عار علينا، ولكن نرهنك الَّلأمة- يعني السلاح- فواعده أن يأتيه فجاء ليلا ومعه أبو نائلة، وهو أخو كعب من الرضاعة، فدعاهم إلى الحصن، فنزل إليهم، فقالت له امرأته: أين تخرج هذه الساعة؟
فقال: إنما هو محمد بن مَسلمة وأخي أبو نائلة، إن الكريم لو دعي إلى طعنة بليل لأجاب، قال: ويدخل محمد بن مسلمة معه رجلين، فقال: إذا ما جاء فإني قائل بشعره فأشتمه، فإذا رأيتموني استمكنت من رأسه فدونكم فاضربوه فقال: أتأذن لي أن أشم رأسك، قال: نعم، فشمه ثم اشتم أصحابه؛ ثم قال، أتأذن لي، قال: نعم، فلما استمكن منه، قال: دونكم فقتلوه، ثم أتوا النبي ص فأخبروه ".
(1)--------------------------------------------
পঞ্চম: গুপ্তহত্যা সম্পর্কিত সংশয় ও নিরসন.
গুপ্তহত্যার বৈধতাদানকারীরা বেশ কিছু দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন, যা কিতাবুল্লাহর অকাট্য (قطعي) নস, বিশুদ্ধ (صحيحة) সুন্নাহ এবং উম্মতের আলেমদের ঐক্যমত্যের (إجماع) বিপরীতে দলিল হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্য নয়। এই কারণে গবেষক এগুলোকে সংশয় হিসেবে গণ্য করেছেন এবং পরবর্তী দুটি অনুচ্ছেদে প্রাচীন ও বর্তমান যুগের নির্ভরযোগ্য আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এগুলোর উত্তর প্রদান করেছেন:
প্রথম অনুচ্ছেদ: গুপ্তহত্যার বৈধতাদানকারীদের সংশয়সমূহ.
১ - কাব বিন আশরাফকে হত্যার ঘটনা:জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "কাব বিন আশরাফের জন্য কে আছে? কারণ সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে।" তখন মুহাম্মদ বিন মাসলামা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে আমি তাকে হত্যা করি?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তাহলে আমাকে (কৌশল হিসেবে) কিছু বলার অনুমতি দিন।" তিনি বললেন: "বলো।" এরপর মুহাম্মদ বিন মাসলামা তার কাছে গেলেন এবং বললেন: "এই ব্যক্তি (নবীজি) আমাদের কাছে সদকা চেয়েছেন এবং তিনি আমাদের অনেক কষ্টে ফেলেছেন। আমি আপনার কাছে কিছু ঋণ নিতে এসেছি।" কাব বলল: "আল্লাহর কসম, অচিরেই তোমরা তাঁর প্রতি আরও বিরক্ত হয়ে উঠবে।" তিনি বললেন: "আমরা তো তাঁর অনুসরণ শুরু করেছি, তাই এখন তাঁর শেষ পরিণাম না দেখা পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে দেওয়া পছন্দ করছি না। আমরা আপনার কাছে এক বা দুই ওয়াসাক শস্য ঋণ চাইতে এসেছি।" কাব বলল: "ঠিক আছে, তবে আমার কাছে কিছু বন্ধক রাখো।" তারা বলল: "আপনি কী বন্ধক চান?" সে বলল: "তোমাদের নারীদের আমার কাছে বন্ধক রাখো।" তারা বলল: "আমরা কীভাবে আপনার কাছে আমাদের নারীদের বন্ধক রাখব অথচ আপনি আরবের মধ্যে সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ?" সে বলল: "তাহলে তোমাদের সন্তানদের বন্ধক রাখো।" তারা বলল: "আমরা কীভাবে আমাদের সন্তানদের বন্ধক রাখব? যার ফলে তাদের গালি দিয়ে বলা হবে যে, মাত্র এক বা দুই ওয়াসাক শস্যের বিনিময়ে তাদের বন্ধক রাখা হয়েছে,
… এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। তবে আমরা আপনার কাছে আমাদের অস্ত্রশস্ত্র (اللأمة) বন্ধক রাখতে পারি।" অতঃপর তিনি তার সাথে ওয়াদা করলেন যে তিনি তার কাছে পুনরায় আসবেন। এরপর তিনি রাতে আসলেন এবং তাঁর সাথে আবু নায়েলা ছিলেন, যিনি ছিলেন কাবের দুধভাই। কাব তাদেরকে দুর্গের ভেতরে আহ্বান করল এবং সে নিজে তাদের কাছে নিচে নেমে আসল। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল: "এই সময়ে আপনি কোথায় বের হচ্ছেন?"
সে বলল: "ইনি তো কেবল মুহাম্মদ বিন মাসলামা এবং আমার ভাই আবু নায়েলা। নিশ্চয়ই একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে রাতে যুদ্ধের জন্য ডাকলেও সে তাতে সাড়া দেয়।" বর্ণনাকারী বলেন: মুহাম্মদ বিন মাসলামা তাঁর সাথে আরও দুইজন লোককে নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি (সাথীদের) বললেন: "যখন সে আসবে, আমি তার মাথার চুল ধরে ঘ্রাণ নেব। যখন তোমরা দেখবে আমি তার মাথা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছি, তখন তোমরা তাকে আক্রমণ করবে।" কাব আসলে তিনি বললেন: "আপনি কি আমাকে আপনার মাথার ঘ্রাণ নেওয়ার অনুমতি দেবেন?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি ঘ্রাণ নিলেন এবং তাঁর সঙ্গীদেরও ঘ্রাণ নিতে বললেন। এরপর তিনি পুনরায় বললেন: "আপনি কি আমাকে অনুমতি দেবেন?" সে বলল: "হ্যাঁ।" যখন তিনি তাকে কাবু করে ফেললেন, তখন বললেন: "তোমরা একে ধরো।" অতঃপর তারা তাকে হত্যা করল এবং এরপর নবীজির কাছে গিয়ে সংবাদ দিলেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - قصة مقتل أبي رافع عبد الله بن أبي الحُقيق:في حديث البراء بن عازب رضي الله عنه، قال: " بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى أبي رافع اليهودي رجالا من الأنصار، فأّمر عليهم عبد الله بن عتيك، وكان أبو رافع يؤذي رسول الله صلى الله عليه وسلم ويعين عليه، وكان في حصن له بأرض الحجاز، فلما دنوا منه وقد غربت الشمس وراح بسرْحهم، فقال عبد الله لأصحابه: اجلسوا مكانكم، فإني منطلق ومتلطفٌ للبواب لعلي أن أدخل، فأقبل حتى دنا من الباب، ثم تقنّع بثوبه كأنه يقضي حاجة وقد دخل الناس فهتف به البوَّاب، يا عبد الله إن كنت تريد أن تدخل فادخل، فإني أريد أن أغلق الباب، فدخلت فكمنت فلما دخل النّاس أغلق الباب، ثم علق الأغاليق على وتد، قال: فقُمت إلى الأقاليد فأخذتها ففتحت الباب، وكان أبو رافع يسمر عنده، وكان في علاليَّ له، فلما ذهب عنه أهل سمره صعدت إليه فجعلت كلما فتحت بابا أغلقت عليه من داخل فقلت: إن القوم نذروا بي لم يخلصوا إليَّ حتى أقتله، فانتهيت إليه، فإذا هو في بيت مظلم وسط عياله لا أدري أين هو من البيت، فقلت يا أبا رافع، قال: من هذا فأهويت نحو الصوت فأضربه ضربة بالسيف، وأنا دهش، فما أغنيت شيئا، وصاح فخرجت من البيت فأمكث غير بعيد، ثم دخلت إليه، فقلت ما هذا الصوت يا أبا رافع، فقال: لأمك الويل إِنَّ رجلا في البيت ضربني قبل بالسيف، قال: فأضربه ضربة أثخنته ولم أقتله، ثم وضعت ظبة السيف في بطنه حتى أخذ في ظهرْ، فعرفت أني قتلته، فجعلت أفتح الأبواب بابا بابا حتى انتهيت إلى درجة له، فوضعت رجلي، وأنا أرى أني قد انتهيت إلى الأرض فوقعت في ليلة مقمرة فانكسرت ساقي، فعصبتُها بعمامة ثم انطلقت حتى جلست على الباب فقلت: لا أخرج الليلة حتى أعلم أقتلته فلما صاح الديك قام الناعي على السور، فقال: أنعي أبا رافع تاجر أهل الحجاز، فانطلقت إلى أصحابي، فقلت النجاء، فقد قتل الله أبا رفع، فانتهيت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته، فقال: أُبسط رجلك، فبسطت رجلي فمسحها فكأنها لم أشتكها قط".
(1)وجه الشاهد:
- أن في قصة كعب بن الأشرف، وأبي رافع دليلاً على جواز قتل المعاهدين.
- وأن محمد بن مسلمة رضي الله عنه أظهر لكعب بن الأشرف الأمان، ثم قتله ما يدل على جواز قتل المستأمن والمعاهَد من المشركين.
--------------------------------------------
২ - আবু রাফে' আবদুল্লাহ ইবনে আবিল হুকাইকের হত্যার ঘটনা:বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের একটি দলকে আবু রাফে' ইহুদির কাছে পাঠালেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে আতিককে তাদের আমির নিযুক্ত করলেন। আবু রাফে' রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কষ্ট দিত এবং তাঁর বিরুদ্ধে (শত্রুদের) সাহায্য করত। সে হিজাজ ভূমিতে তার একটি দুর্গে অবস্থান করত। যখন তারা তার নিকটবর্তী হলেন, তখন সূর্য ডুবে গিয়েছিল এবং মানুষ তাদের গবাদিপশু নিয়ে ঘরে ফিরে আসছিল। আবদুল্লাহ তাঁর সঙ্গীদের বললেন: 'তোমরা তোমাদের নিজ নিজ স্থানে বসে থাকো, আমি যাচ্ছি এবং দ্বাররক্ষীর সাথে চতুরতা অবলম্বন করছি যেন কোনোভাবে ভেতরে প্রবেশ করতে পারি।' এরপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং দরজার কাছে পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি নিজের কাপড় দিয়ে নিজেকে এমনভাবে আবৃত করলেন যেন তিনি হাজত পূরণ করছেন। ইতোমধ্যে মানুষ ভেতরে প্রবেশ করল। তখন দ্বাররক্ষী তাকে ডেকে বলল: 'হে আল্লাহর বান্দা! তুমি যদি প্রবেশ করতে চাও তবে প্রবেশ করো, কারণ আমি দরজা বন্ধ করে দিতে চাচ্ছি।' আমি ভেতরে প্রবেশ করে লুকিয়ে রইলাম। যখন সবাই ভেতরে প্রবেশ করল তখন সে দরজা বন্ধ করে দিল এবং চাবিগুলো একটি পেরেকের সাথে ঝুলিয়ে রাখল। তিনি বললেন: 'অতঃপর আমি চাবিগুলোর দিকে উঠে গেলাম এবং সেগুলো নিয়ে দরজা খুলে ফেললাম।' আবু রাফে'র নিকট তখন সান্ধ্যকালীন আড্ডা চলত এবং সে তার ওপরতলার একটি কামরায় ছিল। যখন তার আড্ডার সঙ্গীরা চলে গেল, আমি তার কাছে ওপরে উঠে গেলাম। আমি যখনই কোনো দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতাম, ভেতর থেকে তা বন্ধ করে দিতাম। আমি মনে মনে বললাম, যদি লোকেরা আমাকে টের পেয়ে যায় তবে আমি তাকে হত্যা করার আগে তারা আমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। পরিশেষে আমি তার কাছে পৌঁছলাম, তখন সে একটি অন্ধকার ঘরের মধ্যে তার পরিবার-পরিজনের মাঝখানে ছিল। আমি জানতাম না ঘরের ঠিক কোন জায়গায় সে আছে। আমি ডাক দিলাম: 'হে আবু রাফে'!' সে বলল: 'কে?' আমি আওয়ায লক্ষ্য করে তলোয়ার দিয়ে তাকে একটি আঘাত করলাম। আমি তখন কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, ফলে সেই আঘাতে কোনো কাজ হলো না। সে চিৎকার করে উঠল। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম এবং খুব অল্প সময় বাইরে অবস্থান করলাম। তারপর পুনরায় তার কাছে প্রবেশ করে (কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে) বললাম: 'হে আবু রাফে'! কিসের এই আওয়ায?' সে বলল: 'তোমার ধ্বংস হোক! একটু আগে ঘরের ভেতরে এক লোক আমাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করেছে।' তখন আমি তাকে একটি প্রচণ্ড আঘাত করলাম যা তাকে ধরাশায়ী করল কিন্তু সে তখনও মরেনি। এরপর আমি তলোয়ারের অগ্রভাগ তার পেটে স্থাপন করলাম এবং জোরে চাপ দিলাম যা তার পিঠ পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে আমি তাকে হত্যা করেছি। এরপর আমি একে একে দরজাগুলো খুলতে শুরু করলাম এবং শেষে একটি সিঁড়ির কাছে পৌঁছলাম। আমি পা রাখলাম এবং ভাবলাম আমি মাটিতে পৌঁছে গেছি, কিন্তু সেটি ছিল জোছনা রাত (ভুলবশত নিচে পড়ে গেলাম), এতে আমার পায়ের নলি ভেঙে গেল। আমি পাগড়ি দিয়ে পা বেঁধে নিলাম। এরপর আমি গিয়ে দরজার কাছে বসে রইলাম এবং মনে মনে বললাম: 'আমি তাকে হত্যা করেছি কি না তা নিশ্চিত না হয়ে আজ রাতে এখান থেকে যাব না।' যখন মোরগ ডাকল, তখন দুর্গের প্রাচীরের ওপর একজন ঘোষণাকারী দাঁড়িয়ে ঘোষণা করল: 'আমি হিজাজবাসীদের ব্যবসায়ী আবু রাফে'র মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি।' তখন আমি আমার সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম: 'মুক্তির পথ ধরো, আল্লাহ আবু রাফে'কে ধ্বংস করেছেন।' অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছে তাঁকে বিস্তারিত জানালাম। তিনি বললেন: 'তোমার পা প্রসারিত করো।' আমি পা প্রসারিত করলাম, তিনি তাতে হাত বুলিয়ে দিলেন। এতে মনে হলো যেন আমি ইতিপূর্বে তাতে কখনও কোনো ব্যথাই অনুভব করিনি।"
(১)সাক্ষ্যদানের দিক (সারকথা):
- কাব ইবনুল আশরাফ এবং আবু রাফে'র ঘটনায় চুক্তিবদ্ধ (معاهدين) ব্যক্তিদের হত্যার বৈধতার দলিল রয়েছে (যখন তারা চুক্তি ভঙ্গ করে)।
- আর মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাব ইবনুল আশরাফের নিকট নিরাপত্তা প্রকাশ করেছিলেন, অতঃপর তাকে হত্যা করেছিলেন; যা মুশরিকদের মধ্য হতে নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمن) এবং চুক্তিবদ্ধ (معاهد) ব্যক্তিদের হত্যার বৈধতা নির্দেশ করে (যখন তারা বিশ্বাসঘাতকতা ও অনিষ্ট সাধন করে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
البند الثاني: الرد على شبهات المجيزين.
يجاب عليهم من ستة أوجه على النحو التالي:
الوجه الأول: أن محمد بن مسلمة لم يصرح لكعب بن الأشرف بتأمين.
وإنما حدّثه في أمر يتعلق بالبيع والشراء، واستخدم معه أسلوب التورية فقط بعد أن استأذن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك.
و" في قول محمد بن مسلمة " قد عنانا وسألنا الصدقة "، ليس هو بكذب محض بل هو تورية ومن معاريض الكلام؛ لأنه ورى له عن الحق الذي اتبعوه له في الآخرة، وذكر العناء الذي يصيبهم في الدنيا والنصب، أما الكذب الحقيقي فهو الإخبار عن الشيء على خلاف ما هو به، وليس في قول محمد بن مسلمة إخبار عن الشيء على خلاف ما هو به وإنما هو تحريف لظاهر اللفظ، وهو موافق لباطن المعنى .. ".
(1)وفي الفجر الساطع: " هذه تورية عجيبة، أظهروا له رهن التوثيق واضمروا رهن الطعن ".
(2)وقال النووي: " فيه دليل على جواز التعريض، وهو أن يأتي بكلام باطنه صحيح ويفهم منه المخاطب غير ذلك، فهذا جائز في الحرب وغيرها، ما لم يمنع به حقا شرعيا".
(3)وقال القاضي عياض: " اختلف النّاس في تأويل قتل كعب بن الأشرف على وجه مخادعة أصحابه له، فقيل إنما كان ذلك، لأن ابن مسلمة لم يصرّح له بتأمين في شيء من لفظه، وإنما كلّمه في أمر بيع وشراء واشتكى إليه، وليس في خبره معه عهد ولا أمان، فيقال: إنه نقضه عليه، وقتله غدرا .. ".
(4)، قال ابن حجر: "وإنما فتكوا به؛ لأنه نقض العهد، وأعان على حرب النبي ص وهجاه، ولم يقع لأحد ممن توجّه إليه تأمين له بالتصريح، وإنما أوهموه بذلك وآنسوه بذلك حتى تمكّنوا من قتله".
(5)--------------------------------------------
দ্বিতীয় দফা: অনুমোদনকারীদের সংশয়সমূহের খণ্ডন.
তাদের উত্তর নিম্নোক্ত ছয়টি উপায়ে প্রদান করা হয়েছে:
প্রথম দিক: মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ কাব ইবনে আশরাফকে স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা প্রদান (تأمين) করেননি.
বরং তিনি তার সাথে ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে অনুমতি গ্রহণের পর কেবল দ্ব্যর্থবোধক বর্ণনা (تورية)-এর কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।
মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ-এর উক্তি: "তিনি আমাদের কষ্টে ফেলেছেন এবং আমাদের নিকট সদকা চেয়েছেন" - এটি নিছক কোনো মিথ্যা ছিল না, বরং তা ছিল দ্ব্যর্থবোধক বর্ণনা (تورية) এবং পরোক্ষ উক্তি (معاريض الكلام); কারণ তিনি এর মাধ্যমে সেই হকের কথাই উদ্দেশ্য করেছিলেন যার অনুসরণ তারা আখেরাতের জন্য করেন, আর দুনিয়াতে তাদের ওপর আসা কষ্ট ও শ্রমের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রকৃত মিথ্যা হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে বাস্তবতার বিপরীতে সংবাদ দেওয়া। অথচ মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ-এর উক্তিতে বাস্তবতার বিপরীতে কোনো সংবাদ ছিল না, বরং তা ছিল বাহ্যিক শব্দের কিছুটা পরিবর্তন মাত্র, যা অভ্যন্তরীণ অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ...।
(১)আল-ফজর আল-সাতি গ্রন্থে আছে: "এটি এক বিস্ময়কর দ্ব্যর্থবোধক বর্ণনা (تورية); তারা তার কাছে বন্ধক রাখার বাহ্যিক রূপ দেখিয়েছেন এবং মনে মনে আঘাত করার বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন"।
(২)ইমাম নববী বলেন: "এতে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা (تعريض)-এর বৈধতার দলিল রয়েছে, আর তা হলো এমন কথা বলা যার অভ্যন্তরীণ অর্থ সঠিক কিন্তু শ্রোতা তার দ্বারা ভিন্ন কিছু বোঝেন। যুদ্ধ বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে এটি জায়েজ, যতক্ষণ না এর মাধ্যমে কোনো শরিয়তসম্মত অধিকার খর্ব করা হয়"।
(৩)কাজী আয়াজ বলেন: "কাব ইবনে আশরাফকে তার সঙ্গীদের কৌশল অবলম্বন করে হত্যার ব্যাখ্যার বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে যে, এটি করা হয়েছিল কারণ ইবনে মাসলামাহ তার সাথে কোনো কথাতেই স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা প্রদান (تأمين)-এর ঘোষণা দেননি। তিনি কেবল তার সাথে কেনা-বেচার বিষয়ে কথা বলেছিলেন এবং তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তার সাথে আলাপে কোনো চুক্তি বা অভয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল না, যাতে বলা যায় যে তিনি তা ভঙ্গ করেছেন এবং তাকে বিশ্বাসঘাতকতা (غدرا) করে হত্যা করেছেন..."।
(৪), ইবনে হাজার বলেন: "তারা তাকে অতর্কিত আক্রমণ করে হত্যা করেছিলেন; কারণ সে চুক্তি ভঙ্গ করেছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা করেছিল ও তাঁর কুৎসা গেয়েছিল। যারা তার কাছে গিয়েছিলেন তাদের কেউ তাকে স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা প্রদান (تأمين) করেননি। বরং তারা তাকে তেমনটিই অনুধাবন করিয়েছিলেন এবং তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যাতে তারা তাকে হত্যা করার সামর্থ্য লাভ করেন"।
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الوجه الثاني: أن كعباً نقض العهد.
وكان قد عاهد النبي ألا يعين عليه أحداً، ثم حرض عليه، وجاء مع أهل الحرب معينا عليه، وآذاه، وسبه، وهجاه بأشعاره، فانتقض أمانه واستحق بذلك القتل.
… صلى الله عليه وسلم
… قال المازري: "وإنما قتل كعب بن الأشرف على هذه الصفة؛ لأنه نقض عهد النبي وهجاه وسبَّه، وكان عاهده ألا يعين عليه أحدا، ثم جاء مع أهل الحرب معينا عليه، وقد أشكل قتلُه على هذه الصفة على بعضهم ولم يعرف هذا والجواب ما قلناه".
(1)وقال القاضي عياض معلقا على ما أورده النووي عن المازري آنفا: " وقيل- أي في مقتل كعب- ما تقدم؛ لأن من آذى الله ورسوله لا أمان له، والنبي صلى الله عليه وسلم إنما قتله بوحي".
(2)وقال ابن عبد البر: " ابن أبي الحقيق هذا رجل من يهودِ خيبر، سمي سلام، ويكنى أبا رافع، وكان يؤذي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقتله على نحو قصة كعب بن الأشرف، وفي قصته، وقصة كعب بن الأشرف إباحة الفتك بأعداء الله، وأنّ من يؤذي رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا ذمة له، ودمه هدر؛ ولهذا رأى مالك رحمه الله قتل الذّمي إذا سبّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وآذاه، ومن لم ير من العلماء قتل الذمي بذلك يقول: إن ابن أبي الحقيق وكعب بن الأشرف كانا حربيين، ولم يكن لهما ذمة ".
(3)وقال البغوي: " وكان كعب بن الأشرف ممن عاهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا يعين عليه أحدا، ولا يقاتله، ثم خلع الأمان، ونقض العهد، ولحق بمكة، وجاء معلنا معاداة النبي ص يهجوه في أشعاره، ويسبه فاستحقّ القتل لذلك
… ".
(4)ويرى ابن تيمية أن قتل كعب إنما كان لأجل هجائه، وأذاه النبي صلى الله عليه وسلم فقط وليس لنقضه للعهد، قال: " وإنما قتلوه لأجل هجائه وآذاه لله ورسوله
… ".
(5)وعليه فكعب بن الأشرف كان يهوديا، نقض العهد، وآذى الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، فسقطت عِصمته، وخُلع أمانه فاستحق القتل لذلك، وليس في قصته دلالة على جواز قتل المعاهَدين كما زعم المجيزون للاغتيالات؛ لأنه لم يكن حينها معاهدا، ولا كان من أهل الذمة كما قال ابن بطال في شرح البخاري.
(6)--------------------------------------------
দ্বিতীয় দিক: কাব (ইবনে আশরাফ) অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল.
সে নবীর সাথে এই মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল যে, তাঁর বিরুদ্ধে সে কাউকে সাহায্য করবে না। অতঃপর সে তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেয় এবং যুদ্ধরত কাফিরদের সাথে সাহায্যকারী হিসেবে আসে। সে তাঁকে কষ্ট দেয়, গালি দেয় এবং কবিতার মাধ্যমে তাঁর অবমাননা করে। ফলে তার নিরাপত্তা (أمان) বিনষ্ট হয় এবং সে কারণে সে হত্যার উপযুক্ত হয়ে পড়ে।
… সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
… আল-মাযিরি বলেন: "কাব ইবনে আশরাফকে কেবল এই কারণেই এই অবস্থায় হত্যা করা হয়েছিল যে, সে নবীর অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল এবং তাঁর কুৎসা ও অবমাননা করেছিল। সে তাঁর সাথে এই মর্মে অঙ্গীকার করেছিল যে, তাঁর বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবে না, কিন্তু পরে সে যুদ্ধরত কাফিরদের সাথে সাহায্যকারী হিসেবে যোগ দেয়। এই অবস্থায় তার হত্যা হওয়া নিয়ে কারও কারও মনে সংশয় দেখা দিয়েছিল এবং তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেনি। এর উত্তর হলো যা আমরা পূর্বে বলেছি।"
(1)মাযিরি থেকে ইমাম নববী যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে কাজী আইয়াজ বলেন: "কাবের হত্যার ব্যাপারে পূর্বে যা বলা হয়েছে তা-ই বর্ণিত হয়েছে; কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে কষ্ট দেয় তার জন্য কোনো নিরাপত্তা (أمان) নেই। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কেবল ওহীর মাধ্যমেই হত্যা করেছিলেন।"
(2)ইবনে আব্দুল বার বলেন: "এই ইবনে আবিল হুকাইক ছিল খায়বারের ইহুদিদের এক ব্যক্তি, যার নাম ছিল সাল্লাম এবং উপনাম ছিল আবু রাফে। সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিত। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাব ইবনে আশরাফের ঘটনার ন্যায় তাকেও হত্যার নির্দেশ দেন। তার কাহিনী এবং কাব ইবনে আশরাফের কাহিনীতে আল্লাহর শত্রুদের অতর্কিতে হত্যা করার বৈধতা পাওয়া যায়। আর এটিও প্রতীয়মান হয় যে, যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয় তার জন্য কোনো জিম্মাদারি (ذمة) অবশিষ্ট থাকে না এবং তার রক্ত মূল্যহীন (هدر) হয়ে যায়। এই কারণেই ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) মনে করতেন যে, কোনো অমুসলিম নাগরিক (ذمي) যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দেয় ও কষ্ট দেয় তবে তাকে হত্যা করা হবে। আর যেসব আলেম এই কারণে অমুসলিম নাগরিককে (ذمي) হত্যার পক্ষপাতি নন, তারা বলেন যে, ইবনে আবিল হুকাইক এবং কাব ইবনে আশরাফ উভয়েই হারবি বা যুদ্ধরত শত্রু ছিল এবং তাদের সাথে কোনো নিরাপত্তার চুক্তি (ذمة) ছিল না।"
(3)আল-বাগাউয়ি বলেন: "কাব ইবনে আশরাফ তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তাঁর বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবে না এবং তাঁর সাথে যুদ্ধ করবে না। এরপর সে নিরাপত্তা বা সুরক্ষার চুক্তি ছিন্ন করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে মক্কায় চলে যায়। সে নবীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে শত্রুতা ঘোষণা করে তাঁর অবমাননা করে কবিতা লিখতে শুরু করে এবং তাঁকে গালি দেয়। এই কারণেই সে হত্যার উপযুক্ত হয়েছিল
… ।"
(4)ইবনে তাইমিয়্যাহ মনে করেন যে, কাবকে হত্যা করা হয়েছিল কেবল তার করা অবমাননাকর কবিতা ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার কারণে, কেবল অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্য নয়। তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তারা তাকে হত্যা করেছিলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবমাননা ও কষ্ট দেওয়ার জন্য
… ।"
(5)সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, কাব ইবনে আশরাফ ছিল একজন ইহুদি, যে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিয়েছিল। ফলে তার জীবনের সুরক্ষা (عصمة) ও নিরাপত্তা (أمان) বিলুপ্ত হয়েছিল এবং সে হত্যার যোগ্য হয়েছিল। তার এই কাহিনীতে অঙ্গীকারবদ্ধ (معاهد) ব্যক্তিদের হত্যার বৈধতার কোনো দলিল নেই, যেমনটি গুপ্তহত্যা সমর্থনকারীরা দাবি করে থাকেন। কারণ ইবনে বাত্তাল সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে যেমনটি বলেছেন, সেই সময় কাব অঙ্গীকারবদ্ধ (معاهد) ছিল না এবং সে চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিকও (ذمة) ছিল না।
(6)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الوجه الثالث: الحدود يقيمها الإمام.
لو فرضنا صحة ما قالوا من جواز قتل المعاهدين احتجاجا بقصة كعب بن الأشرف؛ فإن قتلهم، وإقامة الحدود عليهم، والتعزيرات، ليست لهم ولا لآحاد الناس، وإنَّما هي من صلاحيات الإمام، أو رئيس الدولة.
قال ابن قدامة: " ولا يجوز عقد الهدنة ولا الذمة إلّا من الإمام أو نائبه؛ لأنه عقد مع جملة الكفار وليس ذلك لغيره؛ ولأنه يتعلق بنظر الإمام، وما يراه من المصلحة على ما قدمنا؛ ولأن تجويزه من غير الإمام يتضمن تعطيل الجهاد بالكلية، أو إلى تلك الناحية، وفيه افتيات على الإمام، وإن هادنهم غير الإمام، أو نائبه لم يصح
… ".
(1)قال ابن القيم: " فإن الأمان يجوز عقده لكل كافر، ويعقِده كل مسلم، ولا يشترط على المستأمن شيء من الشروط، والذمة لا يعقدها إلا الإمام، أو نائبه، ولا يعقد إلا بشروط كثيرة تشترط على أهل الذمة من التزام الصّغار ونحوه ".
(2)
الوجه الرابع: أن الذي أمر محمد بن مسلمة بالقتل هو رسول الله.
وهو ولي الأمر على أمة الإسلام، وعليه فلا يجوز الإقدام على مثل هذه الاغتيالات إلا بأمر ولي الأمر الشرعي، ووفق الضوابط الشرعية؛ لما يترتب عليها من المفاسد الجمة كما نراه اليوم. قال صالح الفوزان: " ليس في قصة كعب بن الأشرف دليل على جواز الاغتيالات، فإنّ قتل كعب بن الأشرف كان بأمر الرسول ص، وهو ولي الأمر وكعب من رعيته بموجب العهد، وقد حصلت منه خيانة للعهد، اقتضت جواز قتله كفًا لشره عن المسلمين، ولم يكن قتله بتصرف من آحاد النّاس، أو بتصرف جماعة منهم دون ولي الأمر كما هو حال الاغتيالات المعروفة اليوم في الساحة، فإنّ هذه فوضى لا يقرها الإسلام؛ لما يترتب عليها من المضار العظيمة في حق الإسلام والمسلمين "
(3).
--------------------------------------------
তৃতীয় দিক: দণ্ডবিধি কেবল ইমাম কার্যকর করবেন.
যদি আমরা কাব ইবনে আশরাফের ঘটনাকে দলিল হিসেবে পেশ করে চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের হত্যা করার বৈধতা (صحة) সম্পর্কে তারা যা বলে তা সঠিক ধরেও নিই; তবুও তাদের হত্যা করা, তাদের ওপর দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সাধারণ জনগণের কাজ নয়, বরং এগুলো কেবল ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ারভুক্ত।
ইবনে কুদামা বলেন: "যুদ্ধবিরতি বা জিম্মি চুক্তি সম্পাদন করা ইমাম বা তাঁর প্রতিনিধি ব্যতীত অন্য কারও জন্য বৈধ নয়; কারণ এটি কাফেরদের একটি সমষ্টির সাথে সম্পাদিত চুক্তি এবং এটি অন্য কারও কাজ নয়। কারণ এটি ইমামের দূরদর্শিতা এবং আমরা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী জনকল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাছাড়া ইমাম ব্যতীত অন্য কাউকে এর অনুমতি দেওয়ার অর্থ হলো জিহাদকে সম্পূর্ণরূপে বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের জন্য অকার্যকর করে দেওয়া, যা ইমামের কর্তৃত্ব লঙ্ঘন করার শামিল। যদি ইমাম বা তাঁর প্রতিনিধি ব্যতীত অন্য কেউ তাদের সাথে সন্ধি করে, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে না
… "।
(১)ইবনে আল-কাইয়্যিম বলেন: "নিরাপত্তা প্রদান প্রতিটি কাফেরের জন্য করা জায়েজ এবং প্রত্যেক মুসলিম তা সম্পাদন করতে পারে। নিরাপত্তা প্রার্থনাকারীর ওপর কোনো শর্ত আরোপ করা আবশ্যক নয়। তবে জিম্মি চুক্তি কেবল ইমাম বা তাঁর প্রতিনিধিই সম্পাদন করতে পারেন এবং এটি কেবল অনেকগুলো শর্তারোপের মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়, যা জিম্মিদের ওপর তাদের হীনতা স্বীকার করে নেওয়া বা অনুরূপ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।"
(২)
চতুর্থ দিক: মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহকে হত্যার নির্দেশ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ প্রদান করেছিলেন.
তিনি মুসলিম উম্মাহর অভিভাবক, আর তাই শরয়ি অভিভাবকের নির্দেশ এবং শরয়ি নীতিমালা অনুসরণ ব্যতীত এ ধরনের গুপ্তহত্যায় লিপ্ত হওয়া জায়েজ নয়; কারণ এর ফলে অনেক বড় বড় অনিষ্টের সৃষ্টি হয় যেমনটা আমরা বর্তমান সময়ে দেখতে পাচ্ছি। সালেহ আল-ফাওজান বলেন: "কাব ইবনে আশরাফের ঘটনায় গুপ্তহত্যা বৈধ হওয়ার কোনো দলিল নেই। কারণ কাব ইবনে আশরাফকে হত্যার নির্দেশ রাসূলুল্লাহ (সা.) দিয়েছিলেন, আর তিনি ছিলেন অভিভাবক। কাব চুক্তির ভিত্তিতে তাঁর প্রজাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু সে চুক্তির খেয়ানত করেছিল। ফলে মুসলিমদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করার জন্য তাকে হত্যা করা বৈধ হয়ে গিয়েছিল। এটি সাধারণ কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ছিল না কিংবা অভিভাবক ব্যতীত একদল মানুষের সিদ্ধান্তও ছিল না, যেমনটা বর্তমান সময়ে পরিচিত গুপ্তহত্যাগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি একটি বিশৃঙ্খলা যা ইসলাম সমর্থন করে না; কারণ এর ফলে ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ ক্ষতি নেমে আসে।"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ইগতিয়ালাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الوجه الخامس: بقاء حرمة العهد.
أن هؤلاء القاطنين في بلاد الإسلام من المعاهدين كبقايا اليهود، والنصارى، وكذا المستأمنين من السيَّاح، والأطباء العاملين في المستشفيات، أو الجامعات، والمهندسين، والخبراء في الشركات، والعاملين في الهيئات والمؤسسات المختلفة، وأعضاء السفارات
… الخ، هؤلاء في الغالب لم يأتوا بناقض لعهدهم، أو أمانهم، بخلاف كعب بن الأشرف الذي نقض العهد، وحرض على قتال النبي صلى الله عليه وسلم وآذاه، وهجاه، وسبَّه، ومن أتى منهم بناقض ثابت فمرده إلى القضاء الشرعي، وإلى الأجهزة المختصة في الدولة، وما نراه من ضعف في بلاد الإسلام من تحقيق ذلك استثناء، والأصل ما ذكرناه، وأقل ما يمكن أن يقال في شأن من ذكرناهم أن لهم أمانا أو شبهة أمان؛ وذلك كافٍ لعصمة دمائهم.
وقد ذهب ابن تيمية إلى أنَّ ما تكلّم به محمد بن مسلمة مع كعب بن الأشرف من تورية، جعل ذلك أمانا فقد قال في الصارم المسلول: " وقد زعم الخطّابي أنهم إنما فتكوا به لأنه كان قد خلع الأمان، ونقض العهد قبل هذا .. لكن يقال، هذا الكلام الذي كلّموه به صار مستأمنا، وأدنى أحواله أن يكون له شبهة أمان، ومثل ذلك لا يجوز قتله بمجرد الكفر، فإن الأمان يعصم دم الحربي، ويصير مستأمنا بأقل من هذا كما هو معروف في مواضعه، وإنما قتلوه لأجل هجائه، وأذاه لله ورسوله، ومن حلّ قتله بهذا الوجه لم يعصم دمه بأمان، ولا عهد .. ".
(1)ولمالك كلام بديع في الأمان، فقد جعل مجرّد الإشارة أمانا. قال ابن عبد البر: " وسئل مالك عن الإشارة بالأمان: أهي بمنزلة الكلام؟ قال: نعم، وإنَّي أرى أن يتقدم إلى الجيوش:
ثم قال ابن عبد البر معلقا على كلام مالك: " إذا كان دم الحربي الكافر يحرم بالأمان، فما ظنُّك بالمؤمن الذي يصبح ويمسي في ذمة الله! كيف ترى في الغدر به، والقتل.
وقد قال صلى الله عليه وسلم: " الإيمان قيَّد الفتك، لا يفتك مؤمن ".
(2)وقد ذكر ابن عبد البر آثارا عدَّة في الاستذكار عن الأمان، لم أذكرها خشية الإطالة تدل على عظمة هذا الدّين، وسماحته، وحفظه للعهود والمواثيق، ومراعاته لأقل العبارات في أمان المسلم للكافر.
--------------------------------------------
পঞ্চম দিক: চুক্তির পবিত্রতা বজায় থাকা.
নিশ্চয়ই মুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসরত চুক্তিবদ্ধ (معاهدين) অমুসলিমরা—যেমন ইহুদি ও নাসারাদের অবশিষ্টাংশ; এবং একইভাবে নিরাপত্তা লাভকারী (مستأمنين) পর্যটক, হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং দূতাবাসের সদস্যবৃন্দ... প্রমুখ; তারা সাধারণত তাদের চুক্তি বা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী কোনো কাজ করেননি। এর বিপরীতে কাব ইবনুল আশরাফ চুক্তি ভঙ্গ করেছিল, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উসকানি দিয়েছিল এবং তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল, ব্যঙ্গ করেছিল ও গালি দিয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে যারা সুনিশ্চিতভাবে চুক্তি ভঙ্গ করবে, তাদের বিষয়টি শরয়ি বিচার ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিভাগগুলোর ওপর ন্যস্ত থাকবে। মুসলিম দেশগুলোতে এই বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা যে শিথিলতা দেখি তা একটি ব্যতিক্রমী বিষয়; আর মূলনীতি হলো সেটিই যা আমরা উল্লেখ করেছি। আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের ব্যাপারে অন্তত এটুকু বলা যায় যে, তাদের জন্য নিরাপত্তা রয়েছে অথবা নিরাপত্তার একটি সংশয় (شبهة أمان) রয়েছে; আর তাদের জানমালের নিরাপত্তার (عصمة دمائهم) জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
ইবনে তাইমিয়া এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন মাসলামাহ কাব ইবনুল আশরাফের সাথে দ্ব্যর্থবোধক (تورية) যে কথা বলেছিলেন, তাকেই নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি আস-সারিমুল মাসলুল গ্রন্থে বলেছেন: "খাত্তাবি দাবি করেছেন যে, তারা তাকে আক্রমণ করে হত্যা করেছিলেন কারণ সে পূর্বেই নিরাপত্তা ও চুক্তির বলয় থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল এবং চুক্তি ভঙ্গ করেছিল... কিন্তু বলা হয় যে, তারা তার সাথে যে কথা বলেছিলেন তার মাধ্যমে সে নিরাপত্তা লাভকারী (مستأمن) হয়ে গিয়েছিল। তার ন্যূনতম অবস্থা এই ছিল যে, তার জন্য নিরাপত্তার একটি সংশয় (شبهة أمان) তৈরি হয়েছিল। আর এ ধরনের ক্ষেত্রে কেবল কুফরের কারণে কাউকে হত্যা করা জায়েজ নয়। কেননা, নিরাপত্তা বা আমান একজন যুদ্ধরত (حربي) ব্যক্তির জানকেও নিরাপদ করে দেয় এবং এর চেয়েও সামান্য কারণে একজন ব্যক্তি নিরাপত্তা লাভকারী (مستأمن) হিসেবে গণ্য হতে পারে, যেমনটি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সুপরিচিত। তারা তাকে হত্যা করেছিলেন কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ব্যঙ্গ করার এবং কষ্ট দেওয়ার কারণে। আর যাকে এই কারণে হত্যা করা বৈধ হয়, তার জান নিরাপত্তা বা চুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ হয় না...।"
(১)ইমাম মালিকের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে চমৎকার বক্তব্য রয়েছে; তিনি কেবল ইশারাকেও নিরাপত্তা হিসেবে গণ্য করেছেন। ইবনে আবদুল বার বলেন: "ইমাম মালিককে নিরাপত্তার ইশারা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এটি কি কথার সমতুল্য? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমার অভিমত হলো, সেনাদলগুলোকে এ বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দেওয়া উচিত।"
অতঃপর ইবনে আবদুল বার ইমাম মালিকের বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "যদি একজন যুদ্ধরত (حربي) কাফিরের রক্ত নিরাপত্তার কারণে হারাম হয়ে যায়, তবে সেই মুমিনের ব্যাপারে তোমার ধারণা কী—যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর জিম্মায় অতিবাহিত করে! তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা এবং তাকে হত্যা করার বিষয়টি তুমি কীভাবে দেখছ?"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "ঈমান চোরাগোপ্তা হত্যাকে শিকলবদ্ধ করে দিয়েছে; কোনো মুমিন চোরাগোপ্তা হত্যা (فتك) করে না।"
(২)ইবনে আবদুল বার আল-ইসতিযকার গ্রন্থে নিরাপত্তা বিষয়ে আরও অনেক বর্ণনা (آثار) উল্লেখ করেছেন, যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমি উল্লেখ করিনি। এগুলো এই দ্বীনের মহানুভবতা, উদারতা, চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং কাফিরের প্রতি একজন মুসলিমের নিরাপত্তার আশ্বাসের ক্ষেত্রে সামান্যতম অভিব্যক্তির প্রতি গুরুত্ব প্রদানের প্রমাণ বহন করে।
--------------------------------------------