(খণ্ড: ১) নাসিহাতুন লিতালিবি আল-হাক্ক - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
نصيحة لطالب الحق - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: نصيحة لطالب الحق

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (22)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد أجمل الإصلاحي

راجعه: عبد الله بن عبد العزيز الهدلق

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

সত্য অন্বেষীর জন্য উপদেশ - «আল-মুয়াল্লিমির রচনাসমগ্র» এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: নাসিহা লি তালিবিল হাক্ক (সত্য অন্বেষীর জন্য উপদেশ)

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাসমগ্র (২২)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি

নিরীক্ষক: আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-হাদলাক

প্রকাশক: দার আলাম আল-ফাওয়ায়িদ প্রকাশনী

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলায় পরিবেশন করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ২২) নাসিহাতুন লিতালিবি আল-হাক্ক - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৮)
[نصيحة لطالب الحق]

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلله فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد.

أما بعد، فهذه مباحث في أحكام أخبار الآحاد، أرجو من فضل الله تعالى ورحمته أن يوفقني فيها لاستقصاء النظر واستخلاص الحق، لتكون عُدَّةً لي ولمن شاء الله تعالى من عباده. هذا مع علمي بقصور علمي وخشيتي أن يُضلَّني الله عز وجل بذنبي، وإنني ما أبرئ نفسي عن الهوى، ولا آمَنُ أن يكون لي هوى أنا غافل عنه أو عارف به غير محترس من الاسترسال معه، أو محترس مقصّر. والله المستعان وعليه التكلان، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

نصيحة

ينبغي لطالب الحق أن يقدِّم قبل النظر في المسألة محاسبةَ نفسه، بأن يتجسس فيها: هل لها ميلٌ إلى وجهٍ معيّن في تلك المسألة، أو إلى أي وجه يكون ذهب إليه فلان أو أصحاب هذا المذهب أو هذه الفرقة. فإن وَثِقَ بأنه لا ميلَ له البتةَ فالظاهر أنه الآن بريء من الهوى، لكن لا يأمن أن يعرض له
[সত্য অনুসন্ধানীর প্রতি উপদেশ]

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। আর মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের ওপর বরকত নাজিল করুন যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারবর্গের ওপর বরকত নাজিল করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

অতঃপর, এগুলি হলো আহাদ সংবাদের (أخبار الآحاد) বিধানাবলি সম্পর্কিত কতিপয় গবেষণা। আমি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের নিকট আশা রাখি যে, তিনি আমাকে বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার এবং সত্য আহরণের তাওফিক দান করবেন, যাতে এটি আমার জন্য এবং মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে থেকে যাকে চান তার জন্য পাথেয় হয়। এটি আমি করছি নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত থেকে এবং এই আশঙ্কায় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা হয়তো আমার পাপের কারণে আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন। আমি প্রবৃত্তি (الهوى) থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করি না, আর আমি এ বিষয়েও শঙ্কামুক্ত নই যে আমার মধ্যে এমন কোনো খেয়াল-খুশি বিদ্যমান থাকতে পারে যা সম্পর্কে আমি গাফেল, অথবা আমি তা জানি কিন্তু তার অনুগামী হওয়া থেকে সতর্কতা অবলম্বন করছি না, অথবা সতর্কতা অবলম্বন করলেও তাতে ত্রুটি রয়ে যাচ্ছে। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্য ছাড়া কোনো উপায় নেই।

উপদেশ

সত্য অনুসন্ধানীর উচিত কোনো বিষয়ে পর্যালোচনার পূর্বে নিজের নফসের হিসাব গ্রহণ করা; আর তা এভাবে যে, সে অনুসন্ধান করবে: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার কোনো নির্দিষ্ট মতের প্রতি কোনো ঝোঁক রয়েছে কি না, অথবা অমুক ব্যক্তি বা এই মাযহাব কিংবা এই দলের (الفرقة) অনুসারীরা যে মত গ্রহণ করেছেন তার প্রতি কোনো পক্ষপাতের অবকাশ রয়েছে কি না। যদি সে নিশ্চিত হয় যে তার মাঝে বিন্দুমাত্র কোনো পক্ষপাত নেই, তবে বাহ্যত সে এখন প্রবৃত্তি (الهوى) থেকে মুক্ত। তবে সে তখনও এই সম্ভাবনা থেকে নিরাপদ নয় যে, পরবর্তীতে তার মাঝে এর উদয় ঘটতে পারে।
(খণ্ড: ২২) নাসিহাতুন লিতালিবি আল-হাক্ক - দিমনা আসারুল মুয়াল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫৯)
الهوى بعد ذلك لعروضِ سبب من أسبابه، وهي كثيرة. ومتى بان له الميل فليبحث عن سببه، فإن وثِق بأنه لبرهان يقيني لا يحتمل النقيض بوجهٍ من الوجوه فليس هذا بهوًى، فإن كان معه هوًى فهو هوًى وافق الحق. وإن كان ليس إلا لدليل غير قاطع فليقلْ لنفسه: دَعِي عنكِ الهوى، فأنا الآن في مقام النظر، ولعلّي أجد دليلًا مخالفًا لذاك أقوى منه. وإن كان لدليلٍ لا يُعتدّ به، أو لأمرٍ آخر ليس بدليلٍ أصلًا، أو لم يتبيَّن له السبب، فذلك هو الهوى الذي من شأنه أن يُعمي ويُصِمّ. وطريق النجاة حينئذٍ أن يبدأ فيجاهد نفسه في اقتلاع ذلك الهوى منها، فإن عجز فليعرف ذلك الهوى، وليخش أن يكون ما يلوح له معه أنه دليل ليس إلا شبهة قوَّاها الهوى، قال الله تبارك وتعالى في الكفار: {وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ} [الأعراف، 30، الزخرف: 37].

وبالجملة فمسالك الهوى دقيقة، والسلامة منه عزيزة، والتمييز معه بين الحجة والشبهة صعب. لكن من صدقت رغبته في إصابة الحق، وبذل وسعه في جهاد نفسه، وتضرَّع إلى الله عز وجل سائلًا منه التوفيق، فإن الله تبارك وتعالى يقول: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} [خاتمة العنكبوت].

وعسى أن يكون بذلك قد أخذ بحظ وافر من التقوى المعنية بقول الله عز وجل: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} [الأنفال: 29].
এরপর প্রবৃত্তির (الهوى) নানাবিধ কারণের কোনো একটির উদ্ভব হওয়ার ফলে প্রবৃত্তির (الهوى) উদ্রেক ঘটে, আর এর কারণসমূহ অনেক। যখনই কোনো ব্যক্তির মধ্যে কোনো বিষয়ের প্রতি ঝোঁক প্রকাশ পাবে, তখন সে যেন এর কারণ অনুসন্ধান করে। যদি সে এই মর্মে নিশ্চিত (وثق) হয় যে, এটি এমন কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণের (برهان يقيني) ভিত্তিতে যা কোনোভাবেই বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না, তবে এটি প্রবৃত্তি (الهوى) নয়। আর যদি এর সাথে প্রবৃত্তি (الهوى) মিশে থাকে, তবে তা এমন প্রবৃত্তি (الهوى) যা সত্যের অনুকূল হয়েছে। আর যদি তা অকাট্য নয় এমন কোনো প্রমাণের (دليل غير قاطع) ভিত্তিতে হয়, তবে সে যেন নিজের নফসকে বলে: "প্রবৃত্তি (الهوى) পরিহার করো; আমি এখন পর্যালোচনার স্তরে রয়েছি, সম্ভবত আমি এর বিপরীতে এটি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী কোনো দলিল (دليل) পেয়ে যাব।" আর যদি তা এমন কোনো প্রমাণের (دليل) ভিত্তিতে হয় যা গ্রহণযোগ্য (لا يعتد به) নয়, অথবা এমন কোনো বিষয়ের কারণে হয় যা আদৌ কোনো দলিল (دليل) নয়, কিংবা যদি তার কাছে কারণটি স্পষ্ট না হয়, তবে সেটিই সেই প্রবৃত্তি (الهوى) যা মানুষকে অন্ধ ও বধির করে দেয়। এমতাবস্থায় নাজাতের পথ হলো, সে যেন স্বীয় নফসের সাথে জিহাদ করার মাধ্যমে অন্তর থেকে সেই প্রবৃত্তি (الهوى) উপড়ে ফেলার চেষ্টা শুরু করে। যদি সে অক্ষম হয়, তবে সে যেন সেই প্রবৃত্তিটি (الهوى) চিনে রাখে এবং এই আশঙ্কা করে যে, যা তার কাছে দলিল (دليل) বলে প্রতিভাত হচ্ছে তা আসলে প্রবৃত্তির (الهوى) দ্বারা শক্তিশালী হওয়া কোনো সংশয় (شبهة) ছাড়া আর কিছু নয়। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা কাফেরদের সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: {আর তারা মনে করে যে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত} [আল-আরাফ: ৩০, আয-যুখরুফ: ৩৭]।

সারকথা হলো, প্রবৃত্তির (الهوى) পথসমূহ অত্যন্ত সূক্ষ্ম, তা থেকে নিরাপত্তা লাভ করা দুষ্কর এবং এর উপস্থিতিতে অকাট্য দলিল (حجة) ও সংশয়ের (شبهة) মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন। কিন্তু যার সত্য লাভের আকাঙ্ক্ষা সত্যনিষ্ঠ হবে, নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালাবে এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওফিক (توفيق) প্রার্থনা করে বিনীত হবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: {যারা আমার পথে জিহাদ করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহ প্রদর্শন করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন} [আনকাবুত এর শেষ আয়াত]।

আশা করা যায় যে, এর মাধ্যমে সে সেই তাকওয়ার (تقوى) এক বিশাল অংশ লাভ করবে যা আল্লাহ তায়ালার এই বাণীতে উদ্দেশ্য করা হয়েছে: {হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহর তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী মানদণ্ড) দান করবেন, তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল} [আল-আনফাল: ২৯]।