(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
كشف الغمة عن أدلة الحجاب في الكتاب والسنة   (أمل آل خميسة)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: كشف الغمة عن أدلة الحجاب في الكتاب والسنة

(بمناقشة رأي الشيخ الألباني - وجلاء الحق للأمة)

المؤلف: أمل محمد آل خميسة

الطبعة: الثانية، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 507

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو القعدة 1442

কুরআন ও সুন্নাহতে হিজাবের দলীলসমূহ সংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূরীকরণ   (আমাল আল খামিসাহ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহতে হিজাবের দলীলসমূহ সংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূরীকরণ

(শায়খ আলবানীর মতামতের পর্যালোচনাসহ - এবং উম্মাহর নিকট সত্যের উদ্ভাসন)

লেখক: আমাল মুহাম্মদ আল খামিসাহ

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪৪২ হিজরী - ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ যিলকদ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১)
كشف الغمة عن أدلة الحجاب في الكتاب والسنة بمناقشة رأي الشيخ الألباني وجلاء الحق للأمة

 

أمل محمد آل خميسة
কিতাব ও সুন্নাহ হতে হিজাবের দলীলসমূহের মাধ্যমে সংশয় নিরসন: শেখ আলবানীর মতামতের পর্যালোচনা এবং উম্মতের নিকট সত্য প্রকাশ

 

আমাল মুহাম্মাদ আল-খামীসাহ
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة للمؤلفة ولا يسمح بإعادة إصدار هذا الكتاب أو طباعته أو نقله في أي شكل أو واسطة سواءً أكانت إلكترونية أو ميكانيكية بما في ذلك التصوير بالنسخ الفوتوكوبي أو التسجيل أو التخزين والاسترجاع دون إذن خطي من المؤلفة

 

All Rights Reserved. No part of this book may be reproduced، stored in a retrieval system or transmitted in any form of by any means without prior permission in writing of the authors.
যাবতীয় স্বত্ব লেখিকা কর্তৃক সংরক্ষিত। লেখিকার লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই গ্রন্থের কোনো অংশের পুনঃপ্রকাশ, মুদ্রণ কিংবা ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেন—ফটোকপি, রেকর্ডিং অথবা তথ্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার সহ—কোনোভাবে স্থানান্তর করা অনুমোদিত নয়।

 

যাবতীয় স্বত্ব সংরক্ষিত। লেখিকাদের পূর্ব লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই গ্রন্থের কোনো অংশ কোনো রূপ বা পদ্ধতিতে পুনরুৎপাদন, কোনো পুনরুদ্ধার ব্যবস্থায় সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
راجع الكتاب فضيلة الشيخ

سعد بن تركي الخثلان

عضو هيئة كبار العلماء

ورئيس مجلس إدارة الجمعية الفقهية السعودية
গ্রন্থটি পর্যালোচনা করেছেন সম্মানিত শাইখ

সা'দ ইবন তুর্কি আল-খাসলান

জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য

এবং সৌদি ফিকহ বিষয়ক সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
::‌‌ المقدمة::

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه، وبعد:

فقد كان هذا الكتاب من ثمرات كتابي الأول "وقفات مصارحة للمرأة الصالحة" والذي تناولت فيه الحديث عن لباس المرأة وزينتها، وكان مما تناولته بالبحث؛ لباس المرأة أمام النساء والمحارم مما كان سببا في وقوفي على خلاف من تأخر من أهل العلم حول عورة المرأة وحجابها أمام الرجال الأجانب، فأثمر هذا الجهد المتواضع الذي بين يديك؛ وكان مما وقفت عليه ما ذهب إليه الشيخ الألباني- رحمه الله في مسألة الحجاب في كتابيه (الرد المفحم)(1) و (جلباب المرأة المسلمة) والتي أحدثت ضجة في المجتمعات الإسلامية بين مؤيد ومعارض، ولما كان للشيخ من مكانة علمية في الأمة الإسلامية كان ذلك داعيا إلى قبول رأيه من قبل البعض، وظهور حجته عند البعض الآخر لاستناده على بعض النصوص الصحيحة!! ولكن المتمحص في المسألة يجد أن هذه النصوص قد حُملت على غير محملها لأن هناك لَبس في المسألة وحقيقة غابت لغياب أحكامها وانقطاع أسبابها، وهي إنقطاع العبودية (ملك اليمين) فقد كان العبيد المملوكين الذين فرّق الشرع بينهم وبين الأحرار في بعض الأحكام الشرعية يمثلون جزء من

--------------------------------------------

(1) كتاب الرد المفحم: هو جمع علي حسن عبدالحميد تلميذ الشيخ الألباني وترتيبة نشره بعد وفاة الشيخ الألباني وهو من سمّاه.
ভূমিকা::

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতপর:

এই বইটি আমার প্রথম গ্রন্থ "ওয়াফাতু মুসারাহা লিল-মারআতিস সালিহা" (সতী নারীর জন্য অকপট কিছু কথা)-এর অন্যতম ফসল, যাতে আমি নারীর পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আমার সেই গবেষণার একটি অংশ ছিল অন্যান্য নারী ও মাহরামদের সামনে নারীর পোশাক কেমন হবে সে সংক্রান্ত; যা আমাকে গায়র-মাহরাম পুরুষদের সামনে নারীর সতর ও হিজাব সম্পর্কে পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো জানার সুযোগ করে দেয়। এরই ফলশ্রুতিতে আপনার হাতের এই বিনম্র প্রচেষ্টা। আমি যে বিষয়গুলো অবগত হয়েছি, তার মধ্যে একটি হলো হিজাবের মাসআলায় শায়খ আলবানী (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন)-এর অভিমত, যা তিনি তাঁর ‘আর-রাদ্দুল মুফহিম’(১) এবং ‘জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমা’ গ্রন্থদ্বয়ে উল্লেখ করেছেন। এটি মুসলিম সমাজে সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মুসলিম উম্মাহর মাঝে শায়খের বিশেষ ইলমী মর্যাদা থাকার কারণে কেউ কেউ তাঁর মত গ্রহণ করেছেন এবং কেউ কেউ তাঁর দলিলগুলোকে বলিষ্ঠ মনে করেছেন, যেহেতু তিনি কিছু সহীহ দলিলের ওপর নির্ভর করেছেন!! কিন্তু যে ব্যক্তি বিষয়টি গভীরভাবে তদারকি করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে, এই দলিলগুলোকে সেগুলোর প্রকৃত প্রেক্ষাপট ব্যতীত ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। কারণ এই মাসআলায় একটি অস্পষ্টতা রয়েছে এবং এমন একটি বাস্তবতা বর্তমানে অনুপস্থিত যা বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে এর বিধানসমূহও রহিত হয়ে গেছে। সেটি হলো দাসপ্রথার অবসান (মালিকানাধীন দাসী)। কেননা সেই দাস-দাসীরা, যাদেরকে শরীয়ত নির্দিষ্ট কিছু বিধানের ক্ষেত্রে স্বাধীন ব্যক্তিদের থেকে পৃথক করেছিল, তারা সমাজের একটি অংশ হিসেবে...

--------------------------------------------

(১) আর-রাদ্দুল মুফহিম গ্রন্থটি শায়খ আলবানীর ছাত্র আলী হাসান আব্দুল হামীদ সংকলন ও বিন্যাস করেছেন এবং শায়খের ইন্তেকালের পর এটি প্রকাশিত হয়। তিনিই এর নামকরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المجتمع المسلم إلى أوائل القرن الماضي، ويعد وجوب الحجاب (تغطية الوجه) أحد الأحكام التي تختص بالحرية؛

فقد فرض الله الحجاب (تغطية الوجه) على المرأة الحرة عن الرجل الحر، فلم يُفرض على المرأة الحرة أن تحتجب من العبد المملوك لها أو لغيرها، ولم يُفرض على المرأة المملوكة أن تغطي وجهها، وكان هذا داعيا للخلاف بين الفقهاء المتقدمين في مسألتين: جواز نظر (الأجنبي) العبد المملوك للغير للوجه والكفين من المرأة الحرة، ومالذي يجب عند خوف الفتنة؛ أن يغض الرجل بصره أم تغطي المرأة وجهها. كان هذا مدار اختلاف الفقهاء المتقدمين في هذه المسألة وهو الذي أحدث اللبس عند المتأخرين ومنهم الشيخ الألباني الذي بنى رأيه في هذه المسألة على هذا الخلاف! أما وجوب ستر المرأة الحرة لوجهها عن الرجال الأحرار الأجانب فلا خلاف فيه بين من تقدم من أهل العلم بل الإجماع على وجوبه باتفاق المذاهب الفقهية الأربعة، فقد افترض الله تغطية الوجه على جميع النساء الحرائر بقوله تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} صح عن أم سلمة رضي الله عنها أنها قالت (لما نزلت خرج نساء الأنصار كأن على رؤوسهن الغربان من الأكسية) وفي رواية (من أكسية سود يلبسنها)(1) وقال ابن عباس رضي الله عنه في تأويلها (أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رؤوسهن بالجلابيب ويبدين عينا واحدة) وصح عن عبيدة السلماني أنه لما سُئل عن تأويلها (تقنع بردائه فغطى أنفه وعينه اليسرى وأخرج عينه اليمنى

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود (4101) وصححه الألباني في صحيح أبي داود 4/ 61.
গত শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত মুসলিম সমাজ; আর হিজাব (মুখমণ্ডল আবৃত করা) ওয়াজিব হওয়া এমন এক বিধান হিসেবে গণ্য হতো যা স্বাধীন নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট।

নিশ্চয়ই আল্লাহ স্বাধীন পুরুষের সামনে স্বাধীন নারীর জন্য হিজাব (মুখমণ্ডল আবৃত করা) ফরজ করেছেন। সুতরাং স্বাধীন নারীর ওপর তার নিজের বা অন্যের মালিকানাধীন দাসের সামনে পর্দা করা ফরজ করা হয়নি এবং দাসী নারীর ওপর তার মুখমণ্ডল আবৃত করা ফরজ করা হয়নি। এটিই পূর্ববর্তী ফকিহগণের মধ্যে দুটি বিষয়ে মতভেদের কারণ হয়েছিল: স্বাধীন নারীর মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি পর্যন্ত অংশের দিকে (গায়রে মাহরাম) অন্যের মালিকানাধীন দাসের তাকানোর বৈধতা; এবং ফিতনার আশঙ্কা থাকলে কোনটি ওয়াজিব হবে—পুরুষের দৃষ্টি অবনত রাখা নাকি নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করা। এই বিষয়টিই ছিল উক্ত মাসআলায় পূর্ববর্তী ফকিহগণের মতভেদের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটিই পরবর্তীকালীন আলেমদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, যাঁদের মধ্যে শায়খ আলবানীও রয়েছেন, যিনি এই মাসআলায় তাঁর মতামতের ভিত্তি এই মতভেদের ওপর স্থাপন করেছেন! তবে গায়রে মাহরাম স্বাধীন পুরুষদের থেকে স্বাধীন নারীর মুখমণ্ডল ঢাকা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে পূর্ববর্তী আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, বরং চার ফিকহি মাযহাবের ঐকমত্যে এটি ওয়াজিব হওয়ার ওপর ইজমা বা ঐক্যমত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে সমস্ত স্বাধীন নারীর ওপর মুখমণ্ডল আবৃত করা ফরজ করেছেন: "হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়।" উম্মে সালামাহ (রাজিআল্লাহু আনহা) থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যখন এই আয়াত নাজিল হলো, তখন আনসারী মহিলারা এমনভাবে বের হলেন যেন তাঁদের মাথায় চাদর থাকার কারণে কাক বসে আছে।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "কালো চাদরের কারণে যা তাঁরা পরিধান করতেন।"(১) ইবনে আব্বাস (রাজিআল্লাহু আনহু) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: "আল্লাহ মুমিন নারীদের আদেশ দিয়েছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়, তখন যেন তারা মাথার ওপর থেকে চাদর দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে নেয় এবং কেবল একটি চোখ খোলা রাখে।" উবাইদাহ আস-সালমানী থেকে সহিহভাবে বর্ণিত যে, যখন তাঁকে এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন "তিনি নিজের চাদর দিয়ে নিজেকে আবৃত করলেন এবং তাঁর নাক ও বাম চোখ ঢেকে নিলেন এবং ডান চোখটি বের করে রাখলেন।"

--------------------------------------------

(১) সুনানে আবু দাউদ (৪১০১) এবং আলবানী একে সহিহ আবু দাউদ ৪/৬১-তে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وأدنى رداءه من فوق حتى جعله قريبا من حاجبه أو على الحاجب). وهذا ماجرى عليه عمل النساء المسلمات الحرائر منذ زمن الرسالة، قال الحافظ ابن حجر في الفتح (9/ 324): "ولم تزل عادة النساء قديماً وحديثاً يسترن وجوههن عن الأجانب" اهـ.

وقد استمرت النساء المسلمات في مختلف العصور وفي جميع البلاد الإسلامية على ستر وجوههن عن الرجال الأجانب، إلى أن بدأ السفور في أوائل القرن الرابع عشر الهجري إثر الاستعمار الغربي، ففي أوائل القرن الثالث عشر الهجري (أواخر القرن الثامن عشر الميلادي ومطلع القرن التاسع عشر) فوجئت الممالك الإسلامية بطوفان من الاستعمار الغربي الذي أخذ يمتد من قطر إلى قطر، وما أن انتصف القرن التاسع عشر حتى أصبحت معظم الأمم المسلمة تحت سطوة المستعمر الغربي الأوربي، وفي هذه الفترة من الضعف والانهزامية أصبحت الأمم الإسلامية تحاكي أمم الغرب في الزي واللباس وسائر المظاهر الاجتماعية، وأصبح المنهزمون يستحيون من كل ما نظر إليه أعداء الإسلام بالتحقير والتعيير - ومن ذلك الحجاب والنقاب الذي نظر إليه الغرب بعين المقت والازدراء وصوره أقبح تصوير فيما كتب ونشر- ولو كان من الأمور الثابتة في الشرع، ومن هنا بدأت الدعوة إلى السفور ونزع الحجاب؛ حيث قام هؤلاء المنهزمون بحركة ما يسمى (تحرير المرأة) التي بدأوها في أوائل القرن الرابع عشر الهجري (أواخر القرن التاسع عشر الميلادي) لحمل المرأة المسلمة على اقتفاء آثار المرأة الأوربية واتباع المناهج الاجتماعية الرائجة بين أمم الغرب، ونشط دعاة السفور والانحلال في بث أفكارهم التي استقوها من البلاد الغربية الكافرة لمحاربة الحجاب ونزعه؛ فقام الملك "زوغو" في ألبانيا بنزع
এবং সে তার চাদরটি উপর থেকে নিচে নামিয়ে দিল, এমনকি তা তার ভ্রুর কাছাকাছি বা ভ্রুর ওপর নিয়ে এল)। আর রিসালাতের যুগ থেকেই স্বাধীন মুসলিম নারীদের আমল এভাবেই চলে আসছিল। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে (৯/৩২৪) বলেছেন: "প্রাচীনকাল এবং বর্তমানকালে সবসময়ই নারীদের অভ্যাস ছিল তারা পরপুরুষদের থেকে তাদের মুখমণ্ডল আবৃত রাখত।" সমাপ্ত।

মুসলিম নারীরা বিভিন্ন যুগে এবং সকল মুসলিম দেশে পরপুরুষদের থেকে তাদের মুখমণ্ডল আবৃত রাখার ওপর অবিচল ছিল, যতক্ষণ না পশ্চিমা উপনিবেশবাদের প্রভাবে চতুর্দশ হিজরি শতকের শুরুতে বেপর্দা হওয়ার প্রচলন শুরু হয়। ত্রয়োদশ হিজরি শতকের শুরুতে (অষ্টাদশ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগ ও ঊনবিংশ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে) মুসলিম দেশগুলো পশ্চিমা উপনিবেশবাদের এক প্লাবনের সম্মুখীন হয় যা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই অধিকাংশ মুসলিম জাতি ইউরোপীয় পশ্চিমা উপনিবেশবাদীদের আধিপত্যের অধীনে চলে যায়। দুর্বলতা ও পরাজয়গ্লানির এই সময়ে মুসলিম জাতিগুলো পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা জাতিগুলোর অনুকরণ করতে শুরু করে। আর পরাজিত মানসিকতার অধিকারীরা ইসলামের শত্রুরা যা কিছু অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখত, তা নিয়ে তারা লজ্জিত হতে শুরু করল—যার মধ্যে ছিল হিজাব ও নেকাব, যেটিকে পশ্চিমারা ঘৃণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখত এবং তাদের লেখা ও প্রকাশনার মাধ্যমে একে অত্যন্ত কুৎসিতভাবে উপস্থাপন করত—যদিও তা শরিয়তের সুসাব্যস্ত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এখান থেকেই বেপর্দা হওয়া এবং পর্দা খুলে ফেলার আহ্বান শুরু হয়; তখন এই পরাজিত মানসিকতার ব্যক্তিরা তথাকথিত (নারী মুক্তি) আন্দোলন শুরু করে, যা তারা চতুর্দশ হিজরি শতকের শুরুতে (ঊনবিংশ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগে) আরম্ভ করেছিল, যাতে মুসলিম নারীকে ইউরোপীয় নারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে এবং পশ্চিমা জাতিগুলোর মধ্যে প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলতে বাধ্য করা যায়। এরপর বেপর্দা ও নৈতিক অবক্ষয়ের আহ্বানকারীরা তাদের সেই সব চিন্তাধারা প্রচারে তৎপর হয়ে ওঠে যা তারা কাফের পশ্চিমা দেশগুলো থেকে হিজাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং তা তুলে দিতে গ্রহণ করেছিল; ফলে আলবেনিয়ায় রাজা "জোগু" পর্দা সরিয়ে দেওয়ার...
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الحجاب عن وجوه المؤمنات وفرض السفور على نساء وطنه مسايرة للدول الأوروبية، وفي بلاد الأفغان قامت "شاه خانم" ملكة الأفغان بخلع الحجاب بطلب من زوجها لتكون قدوة للأفغانيات، وفي بلاد المغرب بعد أن خرج الاستعمار الفرنسي ترك نخبة تكونت بفرنسا واستطاعت تلك النخبة المغتربة أن تؤكد أن تحرير المرأة المغربية هو نزعها للحجاب،

وفي تركيا دعا إلى تحرير المرأة "أحمد فارس الشدياق" في صحيفته (الجوائب)، وفي العراق اتفق "جميل الزهاوي" وصاحبه "الرصافي" على الهجوم على الدين والاستهزاء بتعاليمه فكانا أول داعيين إلى السفور فيها، وفي لبنان قامت المحاربة للحجاب والداعية إلى السفور "نظيرة زين الدين" صاحبة أول كتاب صدر في الشام وشرارة الإفساد الذي كان عنوانه (السفور والحجاب)، وفي مصر كانت الريادة في الدعوة إلى تحرير المرأة لـ " قاسم أمين" الذي رحل إلى فرنسا لإكمال تعليمه فانبهر بالحياة في أوروبا فخرج بكتابيه (تحرير المرأة) و (المرأة الجديدة)؛ وبعد أن سرت تلك الأفكار الملوثة التي نشرها متزعموا الإفساد، كان من المؤسف أن صمت المصلحون الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر والمجتمع بأكمله أمام تلك الأفكار، ولم يواجهها بقوة وحزم، حتى تطورت وطبقت على أرض الواقع فكانت أول امرأة مصرية أزالت الحجاب عن وجهها "هدى شعراوي" في القرن الماضي، وأول امرأة كشفت وجهها في بلاد الشام وكيلة مدرسة ثانوية، وبعد هذه البداية من هاتين المرأتين في مصر والشام آل الأمر إلى ما هو مشاهد فيهما من كشف الرؤوس والصدور والأعضاد
মুমিন নারীদের চেহারা থেকে পর্দা উন্মোচন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর পদাঙ্ক অনুসরণে নিজ দেশের নারীদের ওপর পর্দাহীনতা চাপিয়ে দেওয়া; আফগানিস্তানে আফগান রানী ‘শাহ খানম’ তার স্বামীর অনুরোধে পর্দা বর্জন করেন যাতে তিনি আফগান নারীদের জন্য আদর্শ হতে পারেন; মরক্কোতে ফরাসি উপনিবেশ বিদায় নেওয়ার পর তারা ফ্রান্সে তৈরি হওয়া একটি অভিজাত শ্রেণী রেখে যায়, আর সেই প্রবাসী অভিজাত শ্রেণীটি এটি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় যে, মরক্কোর নারীদের মুক্তি মানেই হলো তাদের পর্দা উন্মোচন করা।

তুরস্কে ‘আহমাদ ফারিস আশ-শিদিয়াক’ তার ‘আল-জাওয়াইব’ নামক পত্রিকায় নারী মুক্তির আহ্বান জানান; ইরাকে ‘জামিল আয-যাহাবি’ এবং তার সাথী ‘আর-রুসাফি’ দ্বীনের ওপর আক্রমণ করতে এবং এর শিক্ষা নিয়ে উপহাস করতে একমত হন, ফলে তারাই সেখানে পর্দাহীনতার প্রথম আহ্বানকারী হিসেবে গণ্য হন; লেবাননে পর্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী এবং পর্দাহীনতার দিকে আহ্বানকারী ‘নাজিরা জাইন আদ-দিন’ আবির্ভূত হন, যিনি শামে (সিরিয়া অঞ্চল) প্রকাশিত প্রথম বই এবং ফিতনার স্ফুলিঙ্গ ‘আস-সুফুর ওয়াল হিজাব’ (পর্দাহীনতা ও পর্দা)-এর লেখিকা; মিশরে নারী মুক্তির আহ্বানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ‘কাসিম আমিন’, যিনি তার শিক্ষা সমাপ্ত করতে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন এবং ইউরোপের জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়েছিলেন, ফলে তিনি তার দুটি বই ‘তাহরিরুল মারআহ’ (নারীর মুক্তি) এবং ‘আল-মারআতুল জাদিদাহ’ (নতুন নারী) প্রকাশ করেন। ফিতনা সৃষ্টিকারী নেতাদের দ্বারা প্রচারিত সেই দূষিত চিন্তাগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল যে সংস্কারকগণ—যারা সৎ কাজের আদেশ দেন ও অসৎ কাজের নিষেধ করেন—এবং পুরো সমাজ সেই সব চিন্তাধারার সামনে নীরব ছিল এবং সেগুলোর শক্ত ও দৃঢ় মোকাবিলা করেনি। এমনকি পরিস্থিতি এতটা এগিয়ে যায় যে বাস্তবে তা কার্যকর হয়; ফলে গত শতাব্দীতে মিশরের প্রথম নারী হিসেবে যিনি নিজের চেহারা থেকে পর্দা সরিয়ে দেন তিনি ছিলেন ‘হুদা শা’রাবি’, আর শামে প্রথম যে নারী তার চেহারা উন্মোচন করেন তিনি ছিলেন একজন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ। মিশর ও শামে এই দুই নারীর সূচনার পর বিষয়টি বর্তমান অবস্থার দিকে মোড় নেয় যা আজ সেখানে দেখা যায়—অর্থাৎ মাথা, বুক এবং বাহু উন্মুক্ত রাখা।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
والسيقان، فالأساس الذي بني عليه هذا الانفلات من النساء في البلاد العربية والإسلامية هو التقليد لنساء الغرب.(1)

ولم يبق على جادة السلامة والاستقامة إلا بلاد الحرمين التي بقيت النساء فيها محافظة على الحشمة وستر الوجوه والبعد عن الاختلاط بالرجال، وفي الآونة الأخيرة نشط المستغربون التغريبيون المتبعون الشهوات بالسعي لأن تميل هذه البلاد ميلاً عظيماً فتتبع النساء فيها غيرهن في الانحلال والتبرج والسفور، وواكب ذلك نشأة "مسألة الحجاب" والتشكيك في وجوب الحجاب وفرضيته على المرأة بسبب اللبس الذي نشأ عند بعض أهل العلم المتأخرين بسبب انقطاع العبودية (ملك اليمين) وغياب أحكامها، فنسأل الله أن يرينا الحق حقا ويرزقنا اتباعه، وأن يرينا الباطل باطلا ويرزقنا اجتنابه، وأن يرد نساء المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها إلى التمسك بما افترض الله عليهن من الحجاب (تغطية الوجه) هو ولي

ذلك والقادر عليه.

وبعد أن تبين السبب في نشأة " مسألة الحجاب " كان لزاما علينا بيان ما وقع فيه الشيخ الألباني من خطأ في هذه المسألة، وذلك من خلال مناقشة البحوث التي طُرحت في كتابه (الرد المفحم) وخلاصة ما ستجده في مناقشة البحوث:

--------------------------------------------

(1) انظر: عودة الحجاب لمحمد إسماعيل المقدم (1/ 15)، هل يكذب التاريخ لعبد الله الداوود، الطبعه الثالثة 1429، توزيع مؤسسة الجريسي.
এবং পায়ের নলি। আরব ও ইসলামি দেশসমূহের নারীদের মধ্যে এই যে চারিত্রিক শিথিলতা ও বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়েছে, তার মূল ভিত্তি হলো পশ্চিমা নারীদের অন্ধ অনুকরণ।(১)

আর নিরাপত্তা ও সঠিক পথের ওপর কেবল হারামাইন (দুই পবিত্র শহর) দেশই অবশিষ্ট ছিল, যেখানে নারীরা লজ্জা-শরম বজায় রেখে, চেহারা আবৃত রেখে এবং পুরুষদের সাথে অবাধ মেলামেশা থেকে দূরে থেকে নিজেদের রক্ষা করে আসছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কুপ্রবৃত্তির অনুসারী পাশ্চাত্যঘেঁষা আধুনিকতাবাদীরা এই ভূখণ্ডকে বড় ধরনের বিচ্যুতিতে ফেলার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে, যাতে এখানকার নারীরাও চারিত্রিক অবক্ষয়, সাজসজ্জা প্রদর্শন এবং বেপর্দা হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের অনুসরণ করে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে "হিজাব ইস্যু"-র উদ্ভব এবং নারীর ওপর হিজাবের আবশ্যকতা ও ফরজিয়ত নিয়ে সন্দেহ পোষণ। এর কারণ হলো পরবর্তী যুগের কিছু আলেমদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া এক ধরনের অস্পষ্টতা, যা দাসত্ব (মালিক ইয়ামিন) প্রথা বিলুপ্ত হওয়া এবং এর বিধানসমূহ অনুপস্থিত থাকার ফলে তৈরি হয়েছে। অতএব, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের নিকট সত্যকে সত্য হিসেবে স্পষ্ট করে দেন এবং তার অনুসরণের তাওফিক দান করেন; আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে স্পষ্ট করে দেন এবং তা বর্জনের তাওফিক দান করেন। এবং তিনি যেন পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের সকল মুসলিম নারীকে তাদের ওপর আল্লাহ কর্তৃক ফরজকৃত হিজাব (মুখমণ্ডল ঢাকা) আঁকড়ে ধরার তৌফিক দান করেন। তিনিই এর অভিভাবক

এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।

আর "হিজাব ইস্যু" সৃষ্টির কারণ স্পষ্ট হওয়ার পর, আমাদের জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে যে, শায়খ আলবানী এই বিষয়ে যে ভুলগুলো করেছেন তা বর্ণনা করা। এটি করা হবে তার (আর-রাদ্দুল মুফহিম) কিতাবে উপস্থাপিত গবেষণাসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে। এই গবেষণাসমূহ পর্যালোচনায় আপনি যা পাবেন তার সারসংক্ষেপ হলো:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুহাম্মদ ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম রচিত আওদাতুল হিজাব (১/ ১৫), আব্দুল্লাহ আদ-দাউদ রচিত হাল ইয়াকজিবুত তারিখ, তৃতীয় সংস্করণ ১৪২৯ হিজরি, পরিবেশনায় আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
* أولا: أن المراد بقوله تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} الأحزاب: 59 هو أمر نساء المسلمين الحرائر بتغطية وجوههن؛ كما أجمع على ذلك أهل العلم من مفسرين ومحدثين وفقهاء لغويين. وأنه لاحجة لما ذكر الشيخ الألباني من نفي دلالة الإدناء لغة على تغطية الوجه؛ محتجا بالمعنى العام للإدناء عند أحد اللغويين؛ دون ما صرح به من هم أئمة في اللغة بأن المراد بالإدناء في الآية تغطية الوجه، وما اتفق عليه المفسرون في أكثر من أربعين كتابا في التفسير على تفسير هذه الآية بتغطية الوجه.

* ثانيا: أن قول ابن عباس " تدني الجلباب إلى وجهها ولا تضرب به" لم يكن تفسيرا لآية إدناء الجلابيب كما ذكر الشيخ الألباني! بل لم يستشهد به مطلقا أي أحد من المفسرين في تفسير هذه الآية؛ وإنما كان لبيان كيفية تغطية وجه المرأة حال إحرامها للحج أو العمرة، فإن الثابت شرعا أنه يجب على المرأة المحرمة ستر وجهها عن الرجال الأجانب بسدل الجلباب من فوق رأسها على وجهها، وليس لها أن تشدّه على جبينها ثم ترفعه من أسفل وتعطفه على الأنف؛ فالمنهي عنه حال الإحرام هو الشد والإلصاق على الوجه بالنقاب واللثام لا تغطية الوجه.

* ثالثاً: أن مفاد آية الحجاب {فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} الأحزاب: 53 والتي فسرها أئمة التفسير؛ بـ (من وراء ستر بينكم وبينهن) يقتضي تغطية الوجه لأن المراد بها منع الرجال الأحرار من الدخول على النساء الحرائر والاختلاط
প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} [আল-আহজাব: ৫৯] এর উদ্দেশ্য হলো স্বাধীন মুসলিম নারীদের মুখমণ্ডল আবৃত রাখার নির্দেশ দেওয়া; যেমনটি মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ভাষাবিদ ফকিহগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর শায়খ আলবানি ভাষাগতভাবে মুখমণ্ডল আবৃত করার ক্ষেত্রে 'ইদনা' (টেনে দেওয়া) শব্দের অর্থ অস্বীকার করার স্বপক্ষে যা উল্লেখ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই; তিনি একজন ভাষাবিদের নিকট 'ইদনা' শব্দের সাধারণ অর্থকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, অথচ ভাষাবিজ্ঞানের ইমামগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে আয়াতে 'ইদনা' বলতে মুখমণ্ডল আবৃত করাই উদ্দেশ্য। এছাড়া চল্লিশটিরও বেশি তাফসির গ্রন্থে মুফাসসিরগণ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুখমণ্ডল আবৃত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

দ্বিতীয়ত: ইবনে আব্বাসের উক্তি "সে তার জিলবাব (চাদর) তার মুখের দিকে টেনে দেবে এবং তা দিয়ে শক্ত করে বাঁধবে না" এটি জিলবাব টেনে দেওয়ার আয়াতের তাফসির ছিল না, যেমনটি শায়খ আলবানি উল্লেখ করেছেন! বরং কোনো মুফাসসিরই এই আয়াতের তাফসিরে এটি দলিল হিসেবে পেশ করেননি; বরং এটি ছিল হজ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করার পদ্ধতি বর্ণনার জন্য। কেননা শরয়িভাবে এটি প্রমাণিত যে, ইহরামকারী নারীর জন্য পরপুরুষের থেকে তার মুখমণ্ডল আবৃত করা ওয়াজিব, মাথার ওপর থেকে জিলবাব মুখের ওপর ঝুলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। তার জন্য এটি জায়েজ নয় যে, সে চাদরটি তার কপালে শক্ত করে বাঁধবে এবং নিচ থেকে তুলে নাকের ওপর ভাঁজ করে রাখবে; সুতরাং ইহরাম অবস্থায় যা নিষিদ্ধ তা হলো নিকাব বা ওড়না দিয়ে মুখে শক্ত করে সেঁটে রাখা বা বাঁধা, মুখমণ্ডল আবৃত করা নয়।

তৃতীয়ত: হিজাবের আয়াতের {তোমরা তাদের নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে} [আল-আহজাব: ৫৩] সারমর্ম, যা তাফসিরের ইমামগণ ব্যাখ্যা করেছেন—"তোমাদের ও তাদের মাঝে একটি পর্দার আড়াল থেকে"—তা মুখমণ্ডল আবৃত করার দাবি রাখে। কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্বাধীন পুরুষদের স্বাধীন নারীদের নিকট প্রবেশ করা এবং মেলামেশা থেকে বিরত রাখা।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بهن في البيوت ونحوها: وهذا ما جرى عليه عمل أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ونساء سلف هذه الأمة.

* رابعاً: أن الحجاب (تغطية الوجه) الذي تقتضيه آية الحجاب الأولى:

{فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ} … هو معنى الحجاب الذي تقتضيه آية الحجاب الثانية: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} لما ثبت في صحيح السنّة من تسمية كل من الآيتين بـ (آية الحجاب)

* خامساً: أن التفريق بين الرجال والنساء في أحكام النظر؛ بزيادة أمر النساء بتغطية وجوههن لمنع الرجال الأحرار من النظر للنساء الأجنبيات الحرائر؛ أمر متقدم متقرر عند أهل العلم على اختلاف مذاهبهم.

* سادساً: الأصل الذي اعتمد عليه أهل العلم في بيان معنى آية إدناء الجلابيب؛ ما أُثر عن ابن عباس رضي الله عنه في تفسيرها قال: (أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رؤوسهن بالجلابيب، ويبدين عينا واحدة)(1) وهذا الأثر يعد من الآثار الثابتة التي اعتمد عليها جل أهل العلم في تفسير هذه الآية.

فظاهر القرآن والسنة وآثار الصحابة والتابعين تؤيده؛ فلا وجه للطعن فيه فهو ثابت عمل به الأئمة واحتجوا به.

--------------------------------------------

(1) حسن إسناده أ. د. حكمت بن بشير بن ياسين في الصحيح المسبور من التفسير بالمأثور (3/ 463).
বাড়িতে এবং অনুরূপ স্থানে তাদের সাথে: এবং এটিই ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনীগণ এবং এই উম্মতের সালাফ নারীগণের অনুসৃত আমল।

* চতুর্থত: হিজাব (মুখমণ্ডল ঢাকা), যা হিজাবের প্রথম আয়াত দাবি করে:

{তোমরা তাদের নিকট পর্দার আড়াল থেকে চাও} … এটিই সেই হিজাবের অর্থ যা হিজাবের দ্বিতীয় আয়াত দাবি করে: {হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}, কেননা সহীহ সুন্নাহতে প্রমাণিত হয়েছে যে, উভয় আয়াতকেই ‘হিজাবের আয়াত’ নামকরণ করা হয়েছে।

* পঞ্চমত: দৃষ্টির বিধানের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য করা; অর্থাৎ স্বাধীন পুরুষদেরকে গায়রে মাহরাম স্বাধীন নারীদের দিকে তাকানো থেকে বিরত রাখার জন্য নারীদের মুখমণ্ডল ঢাকার আদেশের অতিরিক্ত বিধান প্রদান; এটি আলিমগণের নিকট তাদের মাযহাবের ভিন্নতা সত্ত্বেও একটি সুপ্রাচীন ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়।

* ষষ্ঠত: চাদর টেনে দেওয়ার আয়াতের অর্থ বর্ণনায় আলিমগণ যে মূলনীতির ওপর নির্ভর করেছেন তা হলো ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এর তাফসীর, তিনি বলেন: (আল্লাহ মুমিনদের নারীদের আদেশ দিয়েছেন যে, যখন তারা কোনো প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন তারা তাদের মাথার ওপর থেকে চাদর দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে নেয় এবং কেবল একটি চোখ খোলা রাখে)(১) এবং এই বর্ণনাটি সেই সকল প্রমাণিত বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত যার ওপর অধিকাংশ আলিম এই আয়াতের তাফসীরের ক্ষেত্রে নির্ভর করেছেন।

সুতরাং কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা এর বাহ্যিক অর্থকে সমর্থন করে; তাই এতে আপত্তি তোলার কোনো সুযোগ নেই, কেননা এটি প্রমাণিত এবং ইমামগণ এর ওপর আমল করেছেন এবং একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) অধ্যাপক ড. হিকমাত বিন বশীর বিন ইয়াসীন 'আস-সহীহ আল-মাসবুর মিনাত তাফসীর বিল মা'সুর' গ্রন্থে (৩/ ৪৬৩) এর সনদকে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
* سابعاً: من الشواهد التي تقوي حديث ابن عباس هذا وتعضده؛ ما أخرجه الطبري بإسناد صحيح عن محمد بن سيرين قال سألت عبيدة السلماني عن قوله {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} (فتقنع بردائه فغطى أنفه وعينه اليسرى وأخرج عينه اليمنى وأدنى رداءه من فوق حتى جعله قريبا من حاجبه أو على الحاجب)(1) وهذا الأثر كذلك مما اعتمد عليه جل أهل التفسير في تفسير آية إدناء الجلابيب، وعبيدة السلماني من كبار التابعين وفقهائهم ممن أخذ علمه عن علي بن أبي طالب وعبد الله بن مسعود، ومخضرم ثقة ثبت.

* ثامناً: مما يشهد لأثر ابن عباس أيضا؛ أثر قتادة (أن الله أخذ عليهن إذا خرجن أن يقنعن على الحواجب) وأثر ابن عباس (وإدناء الجلباب أن تقنّع وتشد على جبينها) فإنها تحمل معنى تغطية الوجه كما حملها عليه القرطبي، والشوكاني والثعالبي وغيرهم من المفسرين فقالوا؛ (قال ابن عباس وقتادة ذلك أن تلويه فوق الجبين وتشده ثم تعطفه على الأنف وإن ظهرت عيناها لكنه يستر الصدر ومعظم الوجه).

* تاسعاً: أن الاعتجار والتقنع والتلفع بالجلابيب تعني تغطية الوجه عند مجموع أهل العلم من لغويين وفقهاء ومحدثين ومفسرين وهي من صور إدناء الجلباب التي سارعت إليها النساء عند نزول آية إدناء الجلابيب.

--------------------------------------------

(1) صحح إسناده أ. د. حكمت بن بشير بن ياسين في الصحيح المسبور من التفسير بالمأثور (3/ 463).
সপ্তম: ইবনে আব্বাসের এই হাদীসটিকে শক্তিশালী ও সমর্থনকারী সাক্ষ্যসমূহের মধ্যে একটি হলো ইমাম তাবারী কর্তৃক সহীহ সনদে মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত বর্ণনা। তিনি বলেন, আমি উবাইদাহ আস-সালমানীকে আল্লাহর বাণী "তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি (তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে) নিজের চাদর দিয়ে মাথা ঢেকে নিলেন এবং তার নাক ও বাম চোখ ঢেকে ফেললেন এবং তার ডান চোখটি বের করে রাখলেন। আর তিনি ওপর থেকে চাদরটি টেনে নিলেন এমনকি তা ভ্রুর কাছাকাছি বা ভ্রুর ওপরে স্থাপন করলেন।(১) এই বর্ণনাটিও এমন একটি দলিল যার ওপর অধিকাংশ মুফাসসির জিলবাব টেনে দেওয়ার আয়াতের ব্যাখ্যায় নির্ভর করেছেন। আর উবাইদাহ আস-সালমানী বড় মাপের তাবিঈ ও ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যিনি আলী ইবনে আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তিনি একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মুখাদরাম (রাসূলুল্লাহ সা.-এর যুগে জীবিত থাকলেও তাকে দেখার সুযোগ হয়নি এমন ব্যক্তি)।

অষ্টম: ইবনে আব্বাসের বর্ণনার সপক্ষে কাতাদাহর বর্ণনাটিও সাক্ষ্য দেয় (নিশ্চয়ই আল্লাহ নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যখন বের হবে তখন যেন ভ্রুর ওপর থেকে মাথা ঢেকে নেয়) এবং ইবনে আব্বাসের অপর একটি বর্ণনা (আর জিলবাব টেনে নেওয়ার অর্থ হলো মাথা ঢেকে নেওয়া এবং ললাটের ওপর তা বেঁধে নেওয়া)। নিশ্চয়ই এগুলো মুখমণ্ডল আবৃত করার অর্থ বহন করে, যেমনটি কুরতুবী, শাওকানী, সা'লাবী এবং অন্যান্য মুফাসসিরগণ ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেছেন; (ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ বলেছেন যে, তার অর্থ হলো কপালের ওপর কাপড় পেঁচিয়ে তা শক্ত করে বেঁধে নেওয়া, এরপর নাকের ওপর দিয়ে তা ঘুরিয়ে আনা; যদিও তার দুই চোখ প্রকাশ থাকে, তবে তা বুক ও মুখমণ্ডলের অধিকাংশ অংশ ঢেকে ফেলে)।

নবম: ভাষাবিদ, ফকীহ, মুহাদ্দিস এবং মুফাসসিরসহ সকল আলেমদের নিকট 'ই'তিজার', 'তাকান্নু' এবং চাদর দ্বারা 'তালফফু' করার অর্থ হলো মুখমণ্ডল আবৃত করা। এটি জিলবাব টেনে দেওয়ার অন্যতম একটি পদ্ধতি যা জিলবাবের আয়াত নাযিল হওয়ার পর মহিলারা দ্রুত পালন করতে শুরু করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) প্রফেসর ড. হিকমাত বিন বাশীর বিন ইয়াসীন 'আস-সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরিল মাসুর' গ্রন্থে (৩/ ৪৬৩) এর সনদকে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
* عاشراً: هناك حُكمان شرعيان ذهل عنهما أكثر أهل العلم المتأخرين، وانطوت آثارها في التصانيف المتأخرة، ولم يشر إليها بعض المتقدمين لكونها معلومة عندهم بالضرورة:

الأول: أن الحجاب (تغطية الوجه) إنما هو فرض على النساء الحرائر دون الإماء (الجواري المملوكات) لأن المراد بقوله {وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ} في قوله تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} النساء الحرائر دون الإماء، وهذا أحدث اللبس عند المتأخرين فيما ورد في بعض الأحاديث والآثار من كشف بعض النساء لوجوههن لكونهن من الإماء؛ فاستشهدوا بها على جواز الكشف للحرائر من النساء!!

الثاني: أن هناك فئات من الذكور الأجانب لم يفرض على النساء الحرائر الاحتجاب منهم، ولم ينههم الشرع من الدخول عليهن في البيوت ورؤيتهن دون حجاب، وهم من ذكرهم الله تعالى في سورة النور فقال عز وجل {أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ} النور: 31 وقال عز وجل {يَاأَيُّهَا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ} النور: 58 وهم: العبيد المملوكون، والتابعون غير أولي الإربة، ومن لم يبلغ الحلم من الأحرار. وهذا أيضا أحدث اللبس عند الحديث عن عورة المرأة أمام هذا الأجنبي
দশম বিষয়: সেখানে দুটি শরয়ী বিধান রয়েছে যে সম্পর্কে পরবর্তী যুগের অধিকাংশ আলেমগণ বিস্মৃত হয়েছেন এবং পরবর্তী সংকলনগুলোতে এগুলোর প্রভাব বিলীন হয়ে গেছে। আর পূর্ববর্তীগণের কেউ কেউ এগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেননি, কারণ তাদের নিকট এগুলো স্বতঃসিদ্ধভাবে বিদিত ছিল:

প্রথমটি হলো: হিজাব (মুখমণ্ডল আবৃত করা) কেবল স্বাধীন নারীদের জন্য ফরয, দাসীদের (মালিকানাধীন দাসী) জন্য নয়। কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী—"হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়"—এখানে "মুমিনদের নারী" বলতে স্বাধীন নারীদের বোঝানো হয়েছে, দাসীদের নয়। আর এটিই পরবর্তী যুগের লোকদের মধ্যে সেই সকল হাদীস ও আছারের বর্ণনার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে যেখানে কিছু নারীর মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার কথা এসেছে, যেহেতু তারা ছিলেন দাসী; ফলে তারা সেগুলোকে স্বাধীন নারীদের জন্য মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার বৈধতার দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন!!

দ্বিতীয়টি হলো: গায়রে মাহরাম পুরুষদের মধ্যে এমন কিছু শ্রেণি রয়েছে যাদের থেকে পর্দা করা স্বাধীন নারীদের ওপর ফরয করা হয়নি, এবং শরীয়ত তাদের ঘরে প্রবেশ করতে ও পর্দা ছাড়াই তাদের দেখতে নিষেধ করেনি। তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যাদের কথা আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নূরে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "অথবা তাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে অথবা অধীনস্থ কামনাহীন পুরুষরা" (আন-নূর: ৩১)। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে" (আন-নূর: ৫৮)। আর তারা হলেন: মালিকানাধীন দাস, কামনাহীন অনুগামী পুরুষ এবং স্বাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। এটিও এই সকল পরপুরুষের সামনে নারীর সতর সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وجواز نظره للوجه والكفين منها، فأشكل ذلك على بعضهم، فحمله على جواز نظر الرجل الحر للوجه والكفين من المرأة الحرة الأجنبية عنه!!

* الحادي عشر: للمرأة الحرّة عورتان؛

(1) عورة في النظر؛ وهي تختلف باختلاف الناظرين، وهم قسمان:

1 - فإما أن يكون الناظر رجلا حرا أجنبيا عنها؛ فالمرأة كلها عورة؛ يجب عليها أن تحتجب منه ولا يحل له الدخول عليها ولا النظر إليها.

2 - وإما أن يكون الناظر ممن يحل له الدخول على المرأة في البيت والنظر إليها دون حجاب وهم قسمان:

القسم الأول: من استثناهم الله في آية النور، وحدود ما تبديه المرأة لهم تنحصر في مواضع الزينة.

والقسم الثاني: من لم يستثن في الآية كالمحارم من الرضاع والمصاهرة، والعبيد المملوكون للغير، والذين لم يبلغوا الحلم من الأحرار، وهؤلاء هم من وقع الخلاف بين الفقهاء في حكم نظرهم للمرأة، فمنهم من أطلق جواز نظره للوجه والكفين من المرأة، ومنهم من قيد الجواز بالحاجة وأمن الفتنة، ومنهم من منع من النظر لغير حاجة لأنه مظنة الفتنة.
এবং তার মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত দেখার বৈধতা; বিষয়টি কারো কারো কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে, ফলে তারা একে একজন স্বাধীন পুরুষের জন্য তার অজনবি (অপরিচিত) স্বাধীন নারীর মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত দেখার বৈধতার ওপর প্রয়োগ করেছেন!!

* একাদশ: স্বাধীন নারীর জন্য দুই ধরণের আওরত রয়েছে;

(১) দৃষ্টির ক্ষেত্রে আওরত; যা দর্শকদের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়, আর তারা দুই প্রকার:

১ - দর্শক যদি এমন একজন স্বাধীন পুরুষ হন যিনি তার জন্য অজনবি; তবে নারী আপাদমস্তক আওরত; তার ওপর ওয়াজিব হলো তার থেকে পর্দা করা এবং ওই ব্যক্তির জন্য নারীর নিকট প্রবেশ করা বা তার দিকে তাকানো হালাল নয়।

২ - অথবা দর্শক যদি এমন ব্যক্তি হন যার জন্য বাড়িতে নারীর নিকট প্রবেশ করা এবং পর্দা ছাড়াই তার দিকে তাকানো হালাল, আর তারা দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: যাদেরকে আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নূরের আয়াতে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নারী তাদের সামনে যা প্রকাশ করতে পারবে তার সীমা সৌন্দর্য প্রকাশের স্থানসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

দ্বিতীয় প্রকার: যারা আয়াতে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লিখিত হননি, যেমন দুগ্ধপানজনিত ও বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরামগণ, অন্যের মালিকানাধীন দাস এবং স্বাধীনদের মধ্যে যারা এখনও সাবালক হয়নি। এরা ওই সকল ব্যক্তি যাদের ক্ষেত্রে নারীর দিকে তাকানোর বিধান নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নারীর মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত দেখার ক্ষেত্রে নিঃশর্ত বৈধতার কথা বলেছেন। আবার কেউ কেউ এই বৈধতাকে প্রয়োজন এবং ফিতনার আশঙ্কা না থাকার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। আর কেউ কেউ প্রয়োজন ছাড়া তাকানো নিষিদ্ধ করেছেন, কারণ তা ফিতনার ক্ষেত্র হতে পারে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
كما حصل الخلاف في حكم النظر للإماء (المملوكات اللاتي لم يفرض عليهن الحجاب) فمنهم من أوجب عليهن تغطية الوجه في هذا الزمان لأنه مظنة الفتنة، ومنهم من لم يوجب عليهن ذلك ولكن قال هو في حقهن مستحب وعلى الرجل غض البصر.

هذا مدار الخلاف بين الفقهاء في مسألة النظر؛ وهو الذي بنى عليه الشيخ الألباني رأيه في مسألة تغطية الوجه كما سترى استشهاده بأقوالهم في البحوث القادمة.

(2) وعورة في الصلاة؛ والمرأة كلها عورة في الصلاة إلا وجهها وكفيها - واختُلف في قدميها - وكون الوجه ليس بعورة في الصلاة؛ لا يعني جواز كشفه للرجال الأجانب، فليست العورة في الصلاة مرتبطة بعورة النظر لا طردا ولا عكسا، والذي ثبت أن الأئمة (مالك والشافعي وأباحنيفة) لم يتكلموا إلا عن عورة المرأة في الصلاة، ولم يؤثر عن أحد منهم قول صريح عن عورة المرأة عند الرجال الأحرار الأجانب، إلا قول الإمام أحمد (ظفر المرأة عورة فإذا خرجت فلا يبين منها شيء ولا خفها فإن الخف يصف القدم وأحب إلي أن تجعل لكمها زرا عند يدها لا يبين منها شيء)(1).

--------------------------------------------

(1) انظر الفروع 5/ 110.
যেমন দাসীদের (মালিকানাধীন নারী যাদের ওপর হিজাব ফরজ করা হয়নি) দেখার বিধান নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমান সময়ে তাদের জন্য মুখমণ্ডল ঢাকা ওয়াজিব করেছেন কারণ এটি ফিতনার আশঙ্কা তৈরি করে। আবার কেউ কেউ তাদের ওপর তা ওয়াজিব করেননি, তবে বলেছেন যে এটি তাদের জন্য মুস্তাহাব এবং পুরুষের ওপর আবশ্যক হলো দৃষ্টি অবনত রাখা।

দৃষ্টিপাতের মাসআলায় ফকীহদের মধ্যে এটিই হলো মতবিরোধের কেন্দ্রবিন্দু; আর এর ওপর ভিত্তি করেই শেখ আলবানী মুখমণ্ডল ঢাকার মাসআলায় তাঁর মতামত নির্মাণ করেছেন, যেমনটি আপনি সামনের আলোচনাগুলোতে তাঁদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন।

(২) নামাজের সতর; নামাজের মধ্যে নারী পুরোটাই সতর কেবল তার মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি ব্যতীত—তবে তার দুই পায়ের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে—আর নামাজের মধ্যে মুখমণ্ডল সতর না হওয়ার অর্থ এই নয় যে, গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে তা উন্মুক্ত রাখা জায়েজ। কেননা নামাজের সতর দেখার বিধানের সতরের সাথে সরাসরি বা বিপরীতভাবে সম্পৃক্ত নয়। এটি প্রমাণিত যে, ইমামগণ (মালেক, শাফেয়ী ও আবু হানিফা) শুধুমাত্র নামাজের সতর সম্পর্কেই আলোচনা করেছেন। স্বাধীন গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে নারীর সতর সম্পর্কে তাঁদের কারো কাছ থেকেই কোনো স্পষ্ট বক্তব্য বর্ণিত হয়নি, কেবল ইমাম আহমদের বক্তব্য ব্যতীত (নারীর নখও সতর, তাই সে যখন বের হবে তখন যেন তার শরীরের কোনো কিছুই প্রকাশ না পায়, এমনকি তার মোজাও না; কারণ মোজা পায়ের আকৃতি প্রকাশ করে দেয়। আমার কাছে এটিই পছন্দনীয় যে, সে তার জামার হাতার মুখে একটি বোতাম লাগিয়ে নেবে যাতে তার হাত থেকে কিছুই প্রকাশ না পায়)(১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-ফুরূ ৫/১১০।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
* الثاني عشر: أن جميع ما استشهد به الشيخ الألباني من الأحاديث والآثار؛ ليس فيها حجة على جواز كشف الوجه للنساء الحرائر؛ وذلك إما لضعف تلك الآثار أو لكونها قبل نزول الحجاب، أو لكون النساء الكاشفات من الإماء اللاتي لم يفرض عليهن الحجاب؛

- كالجارية الخثعمية؛ كما أخرجه أحمد والترمذي والبيهقي " واستفتته جارية شابة من خثعم " وفي الاستذكار لابن عبد البر " فاستقبلته جارية من خثعم ".

- وسفعاء الخدين: "فقامت امرأة من سفلة النساء سفعاء الخدين" (أي فيهما تغير وسواد) وعند النسائي " فقامت امرأة ليست من علية النساء ".

- وفاطمة بنت قيس: " أخبرني أبو بكر بن أبي الجهم قال دخلت أنا وأبو سلمة على فاطمة بنت قيس في ملك آل الزبير فسألناها عن المطلقة ثلاثا".

- وسبيعة الأسلمية: "قد أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أم ولد؛ سبيعة الأسلمية أن تنكح إذا وضعت".

- والمرأة التي لأبي ذر "وعنده امرأة له سوداء شعثة ".

- وأم يعقوب الأسدية: "فانطلقت مع عجوز من بني أسد" من الحبشة.

- وسمراء بنت نهيك: " سمراء بنت نهيك الأسدية أدركت رسول الله صلى الله عليه وسلم وعمّرت".

- وأم زفر: قال ابن حجر "هي أم زفر الحبشية السوداء".
দ্বাদশ: শায়খ আলবানী যেসব হাদীস ও আসার দ্বারা দলীল পেশ করেছেন, তার কোনোটিতেই স্বাধীন নারীদের মুখমণ্ডল খোলা রাখার বৈধতার কোনো প্রমাণ নেই; কারণ হয় সেই আসারগুলো দুর্বল, অথবা সেগুলো হিজাব অবতীর্ণ হওয়ার আগের ঘটনা, অথবা মুখ খোলা রাখা সেই নারীরা দাসী ছিলেন যাদের ওপর হিজাব ফরয করা হয়নি;

- যেমন খাসআম গোত্রের দাসী; যা আহমাদ, তিরমিযী এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন: "খাসআমের এক যুবতী দাসী তাঁর কাছে ফাতাওয়া চাইল।" আর ইবন আবদিল বার-এর 'আল-ইসতিযকার' গ্রন্থে আছে: "খাসআমের এক দাসী তাঁর সম্মুখে এল।"

- এবং গালের বর্ণ পরিবর্তিত এক নারী: "নীচ স্তরের নারীদের মধ্য থেকে এক নারী দাঁড়িয়ে গেল যার গাল বিবর্ণ ছিল" (অর্থাৎ গালে রং পরিবর্তন বা কালো দাগ ছিল)। নাসায়ীর বর্ণনায় আছে: "এক নারী দাঁড়িয়ে গেল যে উচ্চবংশীয় নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।"

- এবং ফাতিমা বিনতে কায়স: "আবু বকর বিন আবি জাহম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি এবং আবু সালামাহ যুবায়ের পরিবারের মালিকানাধীন বাড়িতে ফাতিমা বিনতে কায়সের নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে তিন তালাকপ্রাপ্তা নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।"

- এবং সুবাইআ আল-আসলামিয়্যা: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে ওয়ালাদ (সন্তান প্রসবকারী দাসী) সুবাইআ আল-আসলামিয়্যাকে আদেশ করলেন যেন তিনি সন্তান প্রসব করার পর বিবাহ করেন।"

- এবং আবু যর-এর সেই স্ত্রী: "আর তাঁর কাছে তাঁর এক কৃষ্ণাঙ্গ আলুথালু চুল বিশিষ্ট স্ত্রী ছিল।"

- এবং উম্মে ইয়াকুব আল-আসাদিয়্যা: "অতঃপর আমি আবিসিনীয় বনী আসাদ গোত্রের এক বৃদ্ধার সাথে গমন করলাম।"

- এবং সামরা বিনতে নাহীক: "সামরা বিনতে নাহীক আল-আসাদিয়্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পেয়েছিলেন এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন।"

- এবং উম্মে যুফার: ইবনে হাজার বলেন "তিনি ছিলেন উম্মে যুফার, আবিসিনীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী।"
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
كما استشهد الشيخ الألباني بمن كن يشاركن في الغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لمداواة الجرحى وصنع الطعام من الإماء العجائز؛

كالرُّبيِّع بنت معوذ قالت: " كنا نغزو مع النبي صلى الله عليه وسلم، فنسقي القوم، ونخدمهم".

وأم عطية قالت" غزوت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم سبع غزوات، أخلفهم في رحالهم، فأصنع لهم الطعام وأداوي الجرحى وأقوم على المرضى".

وأم سليم " كان يغزو بأم سليم ونسوة من الأنصار معه إذا غزا، فسيقين الماء ويداوين الجرحى".

* الثالث عشر: أخرج أبو داود عن خالد بن دريك عن عائشة رضي الله عنها أن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها دخلت عليها وعندها النبي صلى الله عليه وسلم في ثياب شامية رقاق فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الأرض ببصره قال: (ما هذا يا أسماء إن المرأة إذا بلغت المحيض لم يصلح أن يرى منها إلا هذا وهذا وأشار إلى كفه ووجهه).(1)

والذي تحقق أن هذا الحديث وإن صح فإنه ليس فيه حجة على جواز كشف وجه المرأة الحرة للرجال الأحرار الأجانب الذين يجب عليها الاحتجاب منهم؛ لأن المراد به بيان حدود ما يحل للمرأة إظهاره لمن يحل لهم الدخول عليها والنظر إليها دون حجاب من محارم، وعبيد مملوكين ونحوهم.

--------------------------------------------

(1) أبو داود (4104) وقال: هذا مرسل خالد بن دريك لم يدرك عائشة.
অনুরূপভাবে শাইখ আলবানী প্রমাণ হিসেবে সেই নারীদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আহতদের চিকিৎসা এবং খাবার তৈরির জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন, বিশেষ করে বৃদ্ধ দাসীদের মধ্য থেকে;

যেমন রুবাই বিনতে মুআউউইয বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম, আমরা লোকদের পানি পান করাতাম এবং তাদের সেবা করতাম।"

এবং উম্মু আতিয়্যাহ বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি, আমি তাদের শিবিরের পেছনে অবস্থান করতাম, তাদের জন্য খাবার রান্না করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং অসুস্থদের দেখাশোনা করতাম।"

এবং উম্মু সুলাইম সম্পর্কে বলা হয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যুদ্ধে যেতেন, তখন উম্মু সুলাইম এবং আনসারদের কিছু নারীকে সাথে নিতেন; তারা পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন।"

* ত্রয়োদশ: আবু দাউদ খালিদ বিন দুরিকের সূত্রে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আসমা বিনতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর পরনে ছিল পাতলা শামী কাপড়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমিনের দিকে দৃষ্টি অবনত করলেন এবং বললেন: (হে আসমা! নারী যখন ঋতুবর্তী হয়, তখন তার এই এবং এই অংশ ব্যতীত অন্য কিছু দেখা সমীচীন নয়। আর তিনি তাঁর হাতের তালু ও চেহারার দিকে ইশারা করলেন)।(১)

প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি হলো, এই হাদীসটি যদি সহীহও হয়, তবে এতে স্বাধীন নারীর চেহারা পরপুরুষদের সামনে খোলা রাখার বৈধতার কোনো দলিল নেই, যাদের থেকে পর্দা করা ওয়াজিব; কারণ এই হাদীসের উদ্দেশ্য হলো সেই সীমানা স্পষ্ট করা যা একজন নারী তাদের সামনে প্রকাশ করতে পারেন যাদের জন্য তার কাছে প্রবেশ করা এবং পর্দা ছাড়াই তার দিকে তাকানো বৈধ, যেমন মাহরাম পুরুষ, মালিকানাধীন দাস এবং তাদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গ।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (৪১০৪); তিনি বলেছেন: এটি মুরসাল, কারণ খালিদ বিন দুরিক আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে পাননি।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
* الرابع عشر: أن هذا الحديث يصلح أن يكون مبيناً لقوله تعالى {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} فالمنهي في الآية هو المنهي في الحديث، فالذي ينبغي أن تُحمل عليه هذه الآية هو ما يجوز للمرأة إظهاره لمن يحل لهم الدخول عليها والنظر إليها دون حجاب ممّن لم يستثن في الآية؛ فإن هناك فئات من الناس يحل لهم الدخول على المرأة ورؤيتها دون حجاب لم يستثنوا في الآية وهم: العم والخال، والمحرم بالمصاهرة (زوج البنت، وزوج الأم، وابن الزوج، وأبو الزوج)(1) والمحرم بالرضاع، والعبيد المملوكون للغير، والعبد المملوك إذا كان من أولي الإربة، والصبية المميزون الذين لم يبلغوا الحلم، والنساء غير المسلمات؛ فهؤلاء هم المعنيون بنهي المرأة الحرة عن إبداء زينتها لهم {إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} وليس الرجال الأحرار الأجانب الذين يجب عليها الاحتجاب منهم، يشهد لذلك ظاهر القرآن وما صح عن ابن عباس وعائشة وغيرهم من الصحابة والتابعين في تأويلها، وما حملها عليه أئمة التفسير، وجرى عليه العمل.

قال أ. د. حكمت بن بشير بن ياسين في الصحيح المسبور من التفسير بالمأثور (3/ 463): فما نسب إلى ابن عباس بأن المراد من قوله تعالى (إلا ما ظهر منها) الوجه والكفان، ليس مطلقاً وإنما هو مقيد في بيتها لمن دخل من الناس عليها. ومما يؤكد هذا؛ تفسيره لقوله تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ

--------------------------------------------

(1) كما سيأتي لاحقا أنهم ليسوا المعنيين بقوله (أو آباء بعولتهن. .. أو أبناء بعولتهن)
* চতুর্দশ: এই হাদিসটি মহান আল্লাহর বাণী {এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, কেবল তা ব্যতীত যা স্বতঃই প্রকাশিত হয়}-এর ব্যাখ্যাকারী হওয়ার উপযোগী। সুতরাং আয়াতে যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, হাদিসেও তাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতএব, এই আয়াতটিকে সেই বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা উচিত যা একজন নারীর জন্য তাদের সামনে প্রকাশ করা জায়েয যাদের জন্য তার নিকট প্রবেশ করা এবং হিজাব ছাড়াই তার দিকে তাকানো বৈধ, অথচ আয়াতে যাদের ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি; কেননা মানুষের মধ্যে এমন কিছু শ্রেণী রয়েছে যাদের জন্য নারীর নিকট প্রবেশ করা এবং পর্দা ছাড়াই তাকে দেখা বৈধ অথচ আয়াতে তাদের কথা স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তারা হলেন: চাচা ও মামা, বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরাম (কন্যার স্বামী, মাতার স্বামী, স্বামীর পুত্র এবং স্বামীর পিতা)(১) দুগ্ধ সম্পর্কের মাহরাম, অন্যের মালিকানাধীন দাস, কামভাব সম্পন্ন নিজস্ব মালিকানাধীন দাস, সমঝদার বালক যারা এখনও সাবালক হয়নি এবং অমুসলিম নারীগণ। মূলত স্বাধীন নারীকে তাদের নিকট সৌন্দর্য প্রকাশে নিষেধ করার ক্ষেত্রে {কেবল তা ব্যতীত যা স্বতঃই প্রকাশিত হয়} দ্বারা এরাই উদ্দেশ্য, ওইসব স্বাধীন পরপুরুষ নয় যাদের থেকে হিজাব করা তার ওপর আবশ্যক। কুরআনের বাহ্যিক অর্থ এবং এর ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস, আয়েশা ও অন্যান্য সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে যা সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং মুফাসসির ইমামগণ যা গ্রহণ করেছেন ও যার ওপর আমল চলে আসছে, তা এরই সাক্ষ্য দেয়।

অধ্যাপক ড. হিকমত বিন বশির বিন ইয়াসিন 'আস-সহীহ আল-মাসবুর মিনাত তাফসীর বিল মাসুর' (৩/৪৬৩) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে আব্বাসের প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয়েছে যে, আল্লাহর বাণী (কেবল তা ব্যতীত যা স্বতঃই প্রকাশিত হয়) দ্বারা উদ্দেশ্য মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি—তা নিঃশর্ত নয়, বরং তা তার ঘরের ভেতরে তার নিকট প্রবেশকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। আর যা একে নিশ্চিত করে তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে তাঁর তাফসীর: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদের বলুন...

--------------------------------------------

(১) যেমন সামনে আসবে যে, তারা (অথবা তাদের স্বামীদের পিতা... অথবা তাদের স্বামীদের পুত্র) এই উক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য নয়।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} الأحزاب: 59

فقد أخرج الطبري بسنده الحسن عن ابن عباس قال: " أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رؤوسهن بالجلابيب ويبدين عيناً واحدة" فقد صح مثله عن عبيدة السلماني … ومع الأسف الشديد أن مسألة جواز كشف الوجه واليدين ينسبه العلماء لابن عباس على إطلاقه، فليحرر.

* الخامس عشر: الثابت في السنة أن الأكسية التي سارعت إلى لبسها النساء عند الخروج امتثالا لآية إدناء الجلابيب هي الأكسية السود؛ كما صح عن أم سلمة رضي الله عنها أنها قالت" لما نزلت هذه الآية {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} خرج نساء الأنصار كأن على رؤوسهن الغربان من أكسية سود يلبسنها" وعن عائشة رضي الله عنها قالت (رحم الله نساء الأنصار لما نزلت شققن مروطهن فاعتجرن بها فصلين خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم فكأنما على رؤوسهن الغربان) فلا صحة لجواز التجلبب بغير اللون الأسود.

* السادس عشر: القول بأن (عورة المرأة مع المرأة كعورة الرجل مع الرجل) قول غير صحيح، إذ لم يدل عليه حديث صحيح ولا ضعيف! بل دلت نصوص الكتاب والسنة على خلاف ذلك؛ قال الشيخ الألباني: هذا القول لا أصل له في الكتاب والسنة بل هو خلاف قوله تعالى في آية النور {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ} إلى قوله {أَوْ نِسَائِهِنَّ} فإن المراد مواضع الزينة،
...মুমিন নারীগণ যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। (আল-আহযাব: ৫৯)

ইমাম তাবারী তাঁর হাসান সনদে ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ মুমিন নারীদের আদেশ করেছেন যে, তারা যখন কোনো প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন তাদের মাথার ওপর থেকে চাদর টেনে নিজেদের মুখমণ্ডল ঢেকে নেয় এবং কেবল একটি চোখ খোলা রাখে।" উবাইদাহ আস-সালমানী থেকেও অনুরূপ সহীহ বর্ণনা রয়েছে … অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, মুখমণ্ডল ও দুই হাত খোলা রাখার বৈধতার বিষয়টি আলিমগণ ঢালাওভাবে ইবনে আব্বাসের দিকে নিসবত (আরোপ) করেন; সুতরাং বিষয়টি সংশোধন করা প্রয়োজন।

* পঞ্চদশ: সুন্নাহর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, চাদর লটকে দেওয়ার আয়াত পালনার্থে নারীরা বের হওয়ার সময় দ্রুততার সাথে যে কাপড়গুলো পরিধান করেছিলেন, তা ছিল কালো রঙের কাপড়; যেমনটি উম্মে সালামাহ (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো—'তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়'—তখন আনসারী নারীগণ এমনভাবে বের হলেন যেন কালো কাপড়ের কারণে তাদের মাথার ওপর কাক বসে আছে।" আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আল্লাহ আনসারী নারীদের ওপর দয়া করুন, যখন আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তারা তাদের চাদরগুলো ছিঁড়ে ফেললেন এবং তা দিয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে নিলেন, এরপর তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে সালাত আদায় করলেন—তখন মনে হচ্ছিল যেন তাদের মাথার ওপর কাক বসে আছে।" সুতরাং কালো রঙ ছাড়া অন্য রঙের চাদর ব্যবহারের বৈধতার কোনো ভিত্তি নেই।

* ষোড়শ: এই বক্তব্যটি যে, (নারীর সামনে নারীর আওরাত পুরুষের সামনে পুরুষের আওরাতের মতো) এটি একটি ভুল কথা। কেননা এর সপক্ষে কোনো সহীহ বা যঈফ হাদীসও নেই! বরং কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ এর বিপরীত প্রমাণ বহন করে। শাইখ আলবানী বলেছেন: "কুরআন ও সুন্নাহতে এই কথার কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি সূরা আন-নূরের আল্লাহর বাণীর পরিপন্থী: 'তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের স্বামী অথবা তাদের পিতা ব্যতীত...' আয়াতটির শেষ পর্যন্ত যেখানে বলা হয়েছে 'অথবা তাদের নারীদের'—কেননা এখানে সৌন্দর্যের স্থানগুলোই উদ্দেশ্য।"
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وهي: القرط والدملج والخلخال والقلادة، وهذا باتفاق علماء التفسير وهو المروي عن ابن مسعود. فهذا النص القرآني صريح في أن المرأة لا يجوز لها أن تبدي أمام المسلمة أكثر من هذه المواضع.

* وختامها: فإن ديننا دين السماحة والوسطية؛ فلم يمنع المرأة من كشف ما تحتاج إليه من عينيها لرؤية الطريق، ولم يأذن لها بكشف الوجه بأكمله لأنه مظنة الفتنة، وليس في تغطيته مشقة ولا تفويت مصالح لها، وليس فيه عائق دون القيام بواجباتها.

هذا مجمل ما ستجده في مناقشة البحوث التي احتج بها الشيخ الألباني على رأيه في مسألة الحجاب، والتي تبين منها أن الشيخ الألباني قال قولا شذ فيه، وجانب الحق والصواب، وخالف الأدلة والبراهين، وخالف جماهير العلماء، ومع ذلك فإننا نقول بأن الشيخ معذور بل إن شاء الله مأجور؛

قال شيخ الإسلام ابن تيمية في الفتاوى الكبرى (6/ 93): إن الرجل الجليل الذي له في الإسلام قدم صالح وآثار حسنة وهو من الإسلام وأهله بمكانة عليا، قد تكون منه الهفوة والزلة؛ هو فيها معذور بل مأجور، لا يجوز أن يتّبع فيها، مع بقاء مكانته ومنزلته في قلوب المؤمنين.

وكما قال الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي في تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان (1/ 74): فالله تبارك وتعالى من رحمته بالعباد قد يسر لهم أسباب الهداية غاية التيسير، ونبههم على سلوك طرقها، وبينها لهم أتم تبيين، حتى
সেগুলো হলো: কানের দুল, বাজুবন্দ, নূপুর এবং হার। এটি তাফসীরবিদগণের ঐকমত্য এবং এটি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত। কুরআনের এই নস (পাঠ) স্পষ্ট যে, একজন নারীর জন্য অন্য মুসলিম নারীর সামনে এসব অঙ্গের বেশি প্রকাশ করা বৈধ নয়।

* উপসংহার: আমাদের দ্বীন হলো উদারতা ও মধ্যপন্থা অবলম্বনের ধর্ম; এটি নারীকে পথ দেখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু চোখ খোলা রাখা থেকে বিরত রাখেনি, কিন্তু পুরো মুখমণ্ডল খোলা রাখার অনুমতি দেয়নি। কারণ এটি ফিতনার আশঙ্কাযুক্ত স্থান, আর তা আবৃত রাখাতে কোনো কষ্ট নেই এবং এতে তার কোনো স্বার্থহানিও ঘটে না, আর না এটি তার দায়িত্ব পালনের পথে কোনো অন্তরায়।

হিজাবের মাসআলায় শায়খ আলবানী তাঁর মতের সপক্ষে যেসব গবেষণা পেশ করেছেন, তার পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ এটিই। যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, শায়খ আলবানী এমন একটি মত দিয়েছেন যা বিরল, আর তিনি সত্য ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং দলিল-প্রমাণ ও জমহুর ওলামাদের বিরোধিতা করেছেন। তা সত্ত্বেও আমরা বলি যে, শায়খ অপারগ হিসেবে গণ্য হবেন, বরং ইনশাআল্লাহ তিনি সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন;

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা (৬/৯৩) গ্রন্থে বলেন: নিশ্চয়ই এমন মর্যাদাবান ব্যক্তি যার ইসলামে প্রশংসনীয় অবদান ও উত্তম প্রভাব রয়েছে এবং যিনি ইসলাম ও মুসলিমদের নিকট উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, তাঁর থেকে কোনো বিচ্যুতি বা পদস্খলন হতে পারে; সেক্ষেত্রে তিনি অপারগ বা ওজরপ্রাপ্ত বরং সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন। তবে সেই ভুল বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করা জায়েজ নয়, যদিও মুমিনদের অন্তরে তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান অটুট থাকবে।

যেমন শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে নাসির আস-সা’দী ‘তায়সীরুল কারীমুর রাহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান’ (১/৭৪) গ্রন্থে বলেছেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’য়ালা বান্দাদের প্রতি তাঁর রহমতের কারণে হেদায়াতের মাধ্যমসমূহকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছেন, আর তাদের সেই পথে চলার প্রতি সজাগ করেছেন এবং তা তাদের জন্য অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন, এমনকি...
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
إن في جملة ذلك أنه يقيض للحق المعاندين له؛ فيجادلون فيه فيتضح بذلك الحق وتظهر آياته وأعلامه، ويتضح بطلان الباطل وأنه لا حقيقة له، ولولا قيامه في مقابلة الحق لربما لم يتبين حاله لأكثر الخلق وبضدها تتبين الأشياء. اهـ

فقد كان من حسنات ما كتبه الشيخ الألباني في مسألة الحجاب أنه أيقض همة النائمين وأشعل الحماس للبحث في كتب العلم من تفاسير وفقه وغيرها، فكان دافعا للغوص في بحور من العلم لم نكن من قبل ننهل من سواحلها لنجد لآلئ من العلم دفينة، فقد ظن الناس أن الغوص قد انتهى زمانه واكتفى كل جيل بصيد من قبله، حتى ظُن أن العلم لدينا بلغ الذرى ومن المحال أن يترك من مضى صيدا لمن أتى، فرحمك الله يا شيخ؛ ركبنا بحر مذهبنا لنبحث عن الحق فوجدنا بحور المذاهب الأربعة كلها قد تطلعت لآلئها للباحثين عن الحق الذي لم يقصر الأئمة الأُول في بيانه، ولكنه جمود كل جيل على جهد من قبله حتى اندثرت بعض الحقائق بل وقُلب بعضها؛ إذ إن كل جيل لا ينقل ما يجده عن سابقه برمَّته؛ ولكنه يشرح ويفصِّل حسب فهمه لقول شيخه متأثرا بمتغيرات عصره، فمنهم من يصيب ومنهم من يخطئ، ثم يتناقل ذلك من بعدهم على أنه مُراد المصنف الأول وقول صاحب المذهب، والحقيقة أنه قد يكون خلافه، ولو أن المرجع في مثل هذه المسائل الخلافية هو كتاب الله وما صح عن رسوله صلى الله عليه وسلم وعرض ما في هذه المصنفات عليهما واطراح ما خالفهما؛ لما اندثر الحق، ولما ظهر الجهل ببعض المسائل حتى ساد بين الناس خلاف ما أراد الله وعُمل به على أنه مراد الله وشرعه.
নিশ্চয়ই এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি সত্যের জন্য এমন বিরোধী পক্ষ নির্ধারণ করেন যারা তার সাথে বিতর্ক করে; ফলে এর মাধ্যমে সত্য স্পষ্ট হয় এবং এর নিদর্শন ও আলামতসমূহ প্রকাশ পায়। আর বাতিলের অসারতা ও এর যে কোনো হাকীকত নেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। যদি সত্যের বিপরীতে তার অবস্থান না থাকতো, তবে হয়তো অধিকাংশ সৃষ্টির কাছে তার অবস্থা স্পষ্ট হতো না; আর বিপরীত জিনিসের মাধ্যমেই বস্তুসমূহ স্পষ্টভাবে চেনা যায়। (সমাপ্ত)

হিজাব প্রসঙ্গে শায়খ আলবানী যা লিখেছেন তার অন্যতম সুফল হলো, এটি ঘুমন্তদের হিম্মতকে জাগিয়ে তুলেছে এবং তাফসীর, ফিকহ ও অন্যান্য ইলমী কিতাবসমূহে গবেষণার উদ্দীপনা প্রজ্বলিত করেছে। ফলে এটি ইলমের এমন সব সমুদ্রে ডুব দেওয়ার চালিকাশক্তি হয়েছে যেগুলোর তটদেশ থেকেও আমরা ইতিপূর্বে পান করিনি, যাতে ইলমের প্রোথিত মুক্তাসমূহ খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষ ধারণা করেছিল যে, ডুব দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে এবং প্রতিটি প্রজন্ম তার পূর্ববর্তীদের অর্জিত শিকারে সন্তুষ্ট ছিল; এমনকি ধারণা করা হয়েছিল যে আমাদের ইলম চূড়ায় পৌঁছে গেছে এবং পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কোনো শিকার বাকি রাখা অসম্ভব। অতএব হে শায়খ, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন; আমরা সত্য অন্বেষণের জন্য আমাদের মাযহাবের সমুদ্রে সওয়ার হয়েছিলাম, অতঃপর দেখলাম যে চার মাযহাবের সকল সমুদ্রই তাদের মুক্তা নিয়ে সেই সত্য অনুসন্ধানীদের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে, যা বর্ণনা করতে প্রথম যুগের ইমামগণ কোনো ত্রুটি করেননি। কিন্তু প্রতিটি প্রজন্মের তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের শ্রমের ওপর স্থবির হয়ে থাকার কারণে কিছু সত্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে, এমনকি কিছু সত্য বিকৃত হয়ে গেছে; কেননা প্রতিটি প্রজন্ম তার পূর্ববর্তীদের থেকে যা পায় তা হুবহু নকল করে না; বরং নিজ যুগের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বীয় শায়খের বক্তব্যের নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে। ফলে তাদের মধ্যে কেউ সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান আবার কেউ ভুল করেন। এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা সেটিকে মূল গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য এবং মাযহাবের ইমামের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করতে থাকে, অথচ বাস্তবতা হয়তো এর বিপরীত। আর যদি এই ধরনের মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহে মানদণ্ড হতো আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা, এবং এই গ্রন্থসমূহে যা আছে তা যদি এই দুটির সামনে পেশ করা হতো ও যা এর বিরোধী তা বর্জন করা হতো; তবে সত্য বিলুপ্ত হতো না এবং কিছু মাসআলায় এমন অজ্ঞতা প্রকাশ পেত না যা মানুষের মাঝে আল্লাহর উদ্দেশ্যের বিপরীত বিষয়কে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে এবং যা আল্লাহর উদ্দেশ্য ও তাঁর শরীয়ত মনে করে আমল করা হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
كما قال شيخ الإسلام ((والمنقول عن السلف والعلماء يحتاج إلى معرفة بثبوت لفظه ومعرفة دلالته كما يحتاج إلى ذلك المنقول عن الله ورسوله)).

فأسأل الله جل في علاه أن أكون قد وُفقت لهذا في كتابي ووافقت فيه الصواب، فجهدي جهد بشر مقصر، تجاسر وتعرض لما لا يطيق، وتطفل على مائدة الأفاضل، فلست أرى لنفسي منزلة تعد من منازلهم، ولا لذاتي منهل مورد يكون بين مناهلهم؛ وإني بالتقصير لمعترفة، ومن بحر الخطايا لمغترفة، ولكن {مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} الأعراف: 164.

فإن تجدْ عيباً فسُدَّ الخلَلَا … جَلَّ مَنْ لا عيبَ فيهِ وعلا

وقد خصصت فيه اللون البنفسجي لما نقلته عن الشيخ الألباني من كتابيه "الرد المفحم" و "جلباب المرأة المسلمة"، واللون الأحمر للعناوين والنقاط المهمة، واللون الأخضر لموضع الشاهد من المنقولات التي خصصتها باللون الأسود، واللون الأزرق لتعليقاتي، وإذا توسطت تعليقاتي المنقولات جعلتها بين شرطتين - - وإن تلتها أشرت إلى انتهاء المنقول بـ (اهـ) وذلك حرصا على سهولة وسلامة فهم القارئ.

وفي تخريج الأحاديث اقتصرت على ذكر الصفحة ورقم الحديث دون ذكر الكتب والأبواب خشية الإطالة، كما أنني لم أضع فهرساً للمراجع اكتفاءً بالهوامش، فأذكر محقق الكتاب -إن وجد- وطبعته والناشر في أول موضع يرد فيه، هذا فيما رجعت فيه إلى الكتاب مباشرة، وما عدا ذلك فمرجعه البرامج التالية:
যেমন শাইখুল ইসলাম বলেছেন, ((সালাফ এবং উলামায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার শব্দের প্রামাণিকতা এবং অর্থের তাৎপর্য জানা প্রয়োজন, যেমনটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন।))

আমি মহান সুউচ্চ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমি আমার এই কিতাবে এই কাজে তাওফিকপ্রাপ্ত হই এবং সঠিক বিষয়ের অনুগামী হতে পারি। আমার এই প্রচেষ্টা এক ত্রুটিপূর্ণ মানুষের প্রচেষ্টা, যে এমন এক কাজে দুঃসাহস দেখিয়েছে ও পদক্ষেপ নিয়েছে যা তার সাধ্যাতীত, এবং সে গুণীজনদের মজলিসে অনাহূত হিসেবে প্রবেশ করেছে। আমি নিজের জন্য এমন কোনো মর্যাদা দেখি না যা তাদের মর্যাদার স্তরের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, কিংবা নিজের সত্তার জন্য এমন কোনো প্রস্রবণ দেখি না যা তাদের প্রস্রবণসমূহের মাঝে গণ্য হতে পারে। আমি অবশ্যই নিজের ত্রুটি স্বীকার করছি এবং গুনাহের সমুদ্র থেকে হাবুডুবু খাচ্ছি, তবে এটি কেবল {তোমাদের রবের কাছে ওজর পেশ করার জন্য এবং যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে} আল-আরাফ: ১৬৪।

যদি কোনো ত্রুটি খুঁজে পান তবে সেই শূন্যস্থান পূরণ করে নিন … মহান সেই সত্তা যার মধ্যে কোনো ত্রুটি নেই এবং তিনি সুউচ্চ।

আমি এই গ্রন্থে শাইখ আলবানী-এর "আর-রাদ্দুল মুফহিম" এবং "জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ" বই দুটি থেকে যা উদ্ধৃত করেছি তার জন্য বেগুনি রঙ নির্ধারণ করেছি। শিরোনাম এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর জন্য লাল রঙ, কালো রঙে উদ্ধৃত মূল পাঠের মধ্য থেকে প্রাসঙ্গিক প্রমাণের (শাহেদ) জন্য সবুজ রঙ এবং আমার নিজস্ব মন্তব্যের জন্য নীল রঙ ব্যবহার করেছি। যদি আমার মন্তব্য উদ্ধৃতির মাঝখানে আসে, তবে তা আমি দুটি ড্যাশের - - মধ্যে রেখেছি। আর যদি মন্তব্যের পরে উদ্ধৃতি শেষ হয়, তবে আমি (সমাপ্ত) লিখে উদ্ধৃতি শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছি, যাতে পাঠকের বুঝতে সহজ ও নির্ভুল হয়।

হাদীস তাখরীজের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার ভয়ে আমি কিতাব ও অধ্যায় উল্লেখ না করে কেবল পৃষ্ঠা এবং হাদীস নম্বর উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। একইভাবে, টীকাগুলোকেই যথেষ্ট মনে করে আমি আলাদা কোনো গ্রন্থপঞ্জি তৈরি করিনি। বইটির মুহাক্কিক (যদি থাকে), এর সংস্করণ এবং প্রকাশকের নাম প্রথমবার যেখানে কিতাবটির কথা এসেছে সেখানে উল্লেখ করেছি। এটি সেই সব কিতাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা আমি সরাসরি মূল কিতাব থেকে গ্রহণ করেছি; এছাড়া অন্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নিচের প্রোগ্রামগুলোই মূল উৎস:
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
(1) برنامج: مكتبة التفسير وعلوم القرآن، والمكتبة الألفية للسنة النبوية، ومكتبة الفقه وأصوله، الإصدار الرابع، مركز التراث للبرمجيات.

(2) برنامج الجامع الكبير، الإصدار الخامس، مركز التراث للبرمجيات.

(3) برنامج مكتبة الألباني، الإصدار الثاني.

(4) برنامج المكتبة الشاملة، المكتب التعاوني بالروضة.

 

أسأل الله بمنّه وكرمه أن ينفع بكتابي هذا عامة المسلمين من حنفية ومالكية وشافعية وحنابلة، وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. … كتبته الفقيرة إلى عفو ربها

 

أمل بنت محمد 1/ 3/ 1442 هـ
(১) প্রোগ্রাম: তাফসীর ও কুরআন বিজ্ঞান লাইব্রেরি, সুন্নাহর সহস্রাব্দ লাইব্রেরি, এবং ফিকহ ও উসূলে ফিকহ লাইব্রেরি, চতুর্থ সংস্করণ, তুরাস সফটওয়্যার সেন্টার।

(২) আল-জামে আল-কাবীর প্রোগ্রাম, পঞ্চম সংস্করণ, তুরাস সফটওয়্যার সেন্টার।

(৩) মাকতাবাতুল আলবানী প্রোগ্রাম, দ্বিতীয় সংস্করণ।

(৪) মাকতাবাতুশ শামিলা প্রোগ্রাম, রাওদাহ কো-অপারেটিভ অফিস।

 

আমি আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কিতাব দ্বারা হানাফী, মালিকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী—সাধারণ সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন এবং একে কেবল তাঁরই মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। ... এটি লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী

 

আমাল বিনতে মুহাম্মদ ১/ ৩/ ১৪৪২ হিজরি
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ــ::‌‌ توطئة:: ــ

قال ابن عباس" يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء أقول قال

رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقولون قال أبو بكر وعمر"(1)

فإذا كان هذا كلام ابن عباس لمن عارضه بأبي بكر وعمر وهما هما فما ظنك بقوله لمن يعارض سنن الرسول صلى الله عليه وسلم بإمامه وصاحب مذهبه الذي ينتسب إليه؟ ويجعل قوله معياراً على الكتاب والسنة فما وافقه قبله، وما خالفه رده أو تأوله فالله المستعان.

وقال أحمد بن حنبل: عجبت لقوم عرفوا الإسناد وصحته يذهبون إلى رأي سفيان والله تعالى يقول {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} النور: 63 ومراد أحمد الإنكار على من يعرف إسناد الحديث وصحته ثم بعد ذلك يقلد سفيان أو غيره، ويعتذر بالأعذار الباطلة؛ إما بأن الأخذ بالحديث اجتهاد والاجتهاد انقطع منذ زمان، وإما بأن هذا الإمام الذي قلدته أعلم مني فهو لا يقول إلا بعلم، ولا يترك هذا الحديث مثلاً إلا عن علم، وإما بأن ذلك اجتهاد ويشترط في المجتهد أن يكون عالماً بكتاب الله عالماً بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وناسخ ذلك ومنسوخه، وصحيح السنة وسقيمها، عالماً بوجوه

--------------------------------------------

(1) أخرجه الدارمي في سننه (431) بلفظ: قال ابن عباس" أما تخافون أن تُعذَّبوا أو يخسف بكم؛ أن تقولوا قال رسول الله وقال فلان" ورجاله ثقات غير أن سليمان التيمي أرسله عن ابن عباس.
ــ::‌‌ ভূমিকা:: ــ

ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, "অচিরেই তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হতে পারে। আমি বলছি, 'আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন', আর তোমরা বলছ, 'আবু বকর ও উমর (রাযি.) বলেছেন'।"(১)

ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর এই কথা যদি এমন ব্যক্তির জন্য হয় যে আবু বকর ও উমর (রাযি.)-এর কথার মাধ্যমে তাঁর বিরোধিতা করেছে—অথচ তাঁদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনবিদিত—তবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হবে, যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মোকাবিলা তার ইমাম ও ঐ মাযহাবের প্রবর্তকের কথার মাধ্যমে করে, যার দিকে সে নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত করে? এবং সে তার (ইমামের) কথাকে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করে; ফলে যা তার মতের অনুকূলে যায় তা গ্রহণ করে, আর যা তার পরিপন্থী হয় তা প্রত্যাখ্যান করে অথবা তার অপব্যাখ্যা করে। সাহায্য কেবল আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করা হয়।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহ.) বলেন: "আমি সেই সব লোকের ব্যাপারে বিস্মিত হই যারা সনদের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জানে, অথচ তারা সুফিয়ানের মতামতের দিকে যায়। অথচ মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব যারা তাঁর (রাসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে} [আন-নূর: ৬৩]। আর ইমাম আহমাদের উদ্দেশ্য হলো ঐ ব্যক্তিকে ভর্ৎসনা করা যে হাদিসের সনদ ও এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও সুফিয়ান বা অন্য কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ (তাকলিদ) করে এবং নানাবিধ অসার অজুহাত পেশ করে; যেমন: হাদিস অনুযায়ী আমল করা একটি ইজতিহাদ আর ইজতিহাদের দরজা তো অনেক আগেই রুদ্ধ হয়ে গেছে, অথবা এই যে 'আমি যে ইমামের তাকলিদ করছি তিনি আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী, তিনি তো জ্ঞান ছাড়া কিছু বলেন না এবং তিনি যদি এই হাদিসটি বর্জন করে থাকেন তবে অবশ্যই কোনো জ্ঞানের ভিত্তিতেই করেছেন', অথবা এই যে 'এটি ইজতিহাদের বিষয় আর মুজতাহিদের জন্য শর্ত হলো তাকে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে পূর্ণ প্রজ্ঞাবান হতে হবে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ, তার নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত), সুন্নাহর সহিহ ও যয়িফ (দুর্বল) এবং এর নানাবিধ দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে'...

--------------------------------------------

(১) আদ-দারিমি তাঁর সুনানে (৪৩১) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, "তোমরা কি ভয় পাচ্ছ না যে তোমাদের ওপর আযাব আসবে অথবা তোমাদেরকে জমিনে ধসিয়ে দেওয়া হবে; যে তোমরা বলছ 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন' আর 'অমুক বলেছেন'?" এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে সুলাইমান আত-তাইমি এটি ইবনে আব্বাস থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الدلالات، عالما بالعربية والنحو والأصول، ونحو ذلك من الشروط التي لعلها لا توجد تامة في أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، كما قاله المصنف، فيقال له: هذا إن صح فمرادهم بذلك المجتهد المطلق، أما أن يكون ذلك شرطاً في جواز العمل بالكتاب والسنة فكذب على الله، وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم وعلى أئمة العلماء. بل الفرض والحتم على المؤمن إذا بلغه كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وعلم معنى ذلك في أي شيء كان أن يعمل به ولو خالفه من خالفه.

قال الشافعي: أجمع العلماء على أن من استبانت له سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن له أن يدعها لقول أحد.

فبذلك أمرنا ربنا تبارك وتعالى ونبينا صلى الله عليه وسلم وأجمع على ذلك العلماء قاطبة، إلا جهال المقلدين وجفاتهم، وقد وقع في هذا التقليد المحرم خلق كثير ممن يدعي العلم فتجده جامداً على أحد هذه المذاهب ويرى الخروج عنها من العظائم، وفي كلام أحمد إشارة إلى أن التقليد قبل

بلوغ الحجة لا يذم، إنما المذموم المنكر الحرام الإقامة على ذلك بعد بلوغ الحجة، نعم وينكر الإعراض عن كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم والإقبال على تعلم الكتب المصنفة في الفقه استغناء بها عن الكتاب والسنة، بل إن قرؤوا شيئاً من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فإنما يقرؤون تبركاً لا تعلماً وتفقهاً! وعلى هذا: فيجب الإنكار على من ترك الدليل لقول أحد من العلماء كائناً من كان، ونصوص الأئمة على هذا، وأنه لا يسوغ التقليد إلا في مسائل الاجتهاد التي لا دليل فيها يرجع إليه من كتاب
শব্দার্থের তাৎপর্যসমূহ, আরবি ভাষা, ব্যাকরণ এবং উসুল সম্পর্কে জ্ঞানী হওয়া—এবং এই জাতীয় অন্যান্য শর্তাবলি যা সম্ভবত আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মধ্যেও পূর্ণাঙ্গভাবে বিদ্যমান ছিল না, যেমনটি গ্রন্থকার বলেছেন। এমতাবস্থায় তাকে বলা হবে: যদি এটি সঠিকও হয়, তবে তাদের উদ্দেশ্য হলো ‘মুজতাহিদে মুতলাক’ বা নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ। কিন্তু কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার বৈধতার জন্য একে শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং ইমামগণের ওপর একটি মিথ্যাচার। বরং মুমিনের ওপর আবশ্যক ও অমোঘ কর্তব্য হলো, যখন তার কাছে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ পৌঁছাবে এবং সে তার অর্থ বুঝতে পারবে, তখন যে বিষয়েই হোক না কেন তাকে সে অনুযায়ী আমল করতে হবে—চাই যে কেউ তার বিরোধিতা করুক না কেন।

ইমাম শাফিঈ বলেছেন: ওলামায়ে কেরাম এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার কাছে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ স্পষ্ট হয়েছে, তার জন্য অন্য কারো কথার কারণে তা বর্জন করা বৈধ নয়।

আমাদের রব তাবারাকা ওয়া তাআলা এবং আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এটিই নির্দেশ দিয়েছেন এবং সমস্ত আলেম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন, কেবল অজ্ঞ ও গোঁড়া মুকাল্লিদগণ ব্যতীত। ইলমের দাবিদারদের এক বিশাল গোষ্ঠী এই হারাম তাকলিদের মধ্যে পতিত হয়েছে, ফলে আপনি তাদের এই মাযহাবগুলোর কোনো একটির ওপর স্থবির হয়ে থাকতে দেখবেন এবং তারা এ থেকে বিচ্যুত হওয়াকে মহাপাপ মনে করে। ইমাম আহমাদ-এর বাণীতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, হুজ্জাত বা প্রমাণ

পৌঁছানোর আগে তাকলিদ করা নিন্দনীয় নয়; বরং নিন্দনীয়, গর্হিত ও হারাম হলো হুজ্জাত পৌঁছে যাওয়ার পরেও তার ওপর অটল থাকা। হ্যাঁ, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়া এবং কিতাব ও সুন্নাহর পরিবর্তে ফিকহের সংকলিত কিতাবাদি শিক্ষার প্রতি ঝুঁকে পড়াকেই প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করা হয়। এমনকি তারা যদি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ থেকে কিছু পাঠও করে, তবে তা কেবল বরকতের জন্য পাঠ করে, শিক্ষা গ্রহণ বা ফিকহ অর্জনের জন্য নয়! এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি আলেমদের মধ্য থেকে যে কারোর কথার খাতিরে দলিল পরিত্যাগ করে, তার বিরোধিতা করা ওয়াজিব। ইমামদের বাণীসমূহ এই নীতির ওপরই প্রতিষ্ঠিত, এবং তাকলিদ কেবল সেই সব ইজতিহাদী মাসআলাতেই বৈধ যেখানে কিতাব থেকে প্রত্যাবর্তন করার মতো কোনো দলিল নেই।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولا سنة، وأما من خالف الكتاب والسنة فيجب الرد عليه. والأئمة رحمهم الله لم يقصروا في البيان.

سئل أبو حنيفة إذا قلت قولاً وكتاب الله يخالفه؟ قال: اتركوا قولي لكتاب الله، قيل: إذا كان قول الرسول يخالفه؟ قال: اتركوا قولي لخبر الرسول صلى الله عليه وسلم، قيل: إذا كان قول الصحابة يخالفه؟ قال: اتركوا قولي لقول الصحابة.

وروي البيهقي في السنن عن الشافعي أنه قال: إذا قلت قولاً وكان عن النبي صلى الله عليه وسلم خلاف قولي فما يصح من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أولى فلا تقلدوني.

وقال مالك: كل أحد يؤخذ من قوله ويترك إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وكلام الأئمة مثل هذا كثير، لكن المقلِّدين خالفوا ذلك وجمدوا على ما وجدوه في الكتب المذهبية، سواء كان صواباً أم خطأ مع أن كثيرا من هذه الأقوال المنسوبة إلى الأئمة ليست أقوالاً لهم منصوصاً عليها وإنما هي تفريعات ووجوه واحتمالات وقياس على أقوالهم.(1)

--------------------------------------------

(1) انظر: تيسير العزيز الحميد شرح كتاب التوحيد للشيخ سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبدالوهاب/482 - 488.
এবং কোনো সুন্নাহ নয়। আর যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা করবে, তার প্রতিবাদ করা ওয়াজিব। আর ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) বিষয়টি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি।

আবু হানিফাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: যদি আমি এমন কোনো কথা বলি যা আল্লাহর কিতাবের পরিপন্থী হয়? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবের জন্য আমার কথা ত্যাগ করো। জিজ্ঞেস করা হলো: যদি রাসুলের কথা তার পরিপন্থী হয়? তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর জন্য আমার কথা ত্যাগ করো। জিজ্ঞেস করা হলো: যদি সাহাবায়ে কেরামের কথা তার পরিপন্থী হয়? তিনি বললেন: সাহাবায়ে কেরামের কথার জন্য আমার কথা ত্যাগ করো।

বায়হাকী 'আস-সুনান' গ্রন্থে শাফেয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: যদি আমি কোনো কথা বলি এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত কথা আমার বক্তব্যের বিপরীত হয়, তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহীহ হাদিসটিই অগ্রাধিকারযোগ্য, সুতরাং তোমরা আমার তাকলীদ করো না।

মালিক বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে।

ইমামদের এই ধরণের বক্তব্য অনেক রয়েছে, কিন্তু মুকাল্লিদগণ এর বিরোধিতা করেছে এবং মাযহাবী কিতাবসমূহে যা পেয়েছে তার ওপরই অটল হয়ে গেছে, তা সঠিক হোক বা ভুল হোক; অথচ ইমামদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এই বক্তব্যগুলোর অনেকগুলোই তাঁদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা কোনো উক্তি নয়, বরং সেগুলো হচ্ছে শাখা-প্রশাখা, বিভিন্ন দিক, সম্ভাবনা এবং তাঁদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে করা কিয়াস।(১)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তায়সীরুল আজিজিল হামিদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ, শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব/৪৮২ - ৪৮৮।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
:: مناقشة البحوث::
:: গবেষণাসমূহের আলোচনা ::
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ــ::‌‌ البحث الأول:: ــ

آية الجلباب: {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ}
الأحزاب: 59

قال الشيخ الألباني: يصرُّ المخالفون على أن معنى {يدنين}: يغطِّن وجوههن، وهو خلاف معنى أصل هذه الكلمة: "الإدناء" لغة، وهو التقريب، وهذا هو الإمام الراغب الأصبهاني يقول في "المفردات": " (دنا)، الدنو: القرب … ويقال: دانيت بين الأمرين وأدنيت أحدهما من الآخر … "، ثم ذكر الآية. وبذلك فسرها ترجمان القرآن عبد الله بن عباس فيما صح عنه، فقال: " تدني الجلباب إلى وجهها ولا تضرب به"، كما سيأتي تخريجه. اهـ

ثم نقل الشيخ الألباني من كتب فقهاء الحنابلة ما يستشهد به على رأيه هذا فقال: وهو ما جاء في "الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف على مذهب الإمام المبجل أحمد ابن حنبل" للشيخ علاء الدين المرداوي (1/ 452)، قال: "الصحيح من المذهب أن الوجه ليس من العورة" ثم ذكر مثله في الكفين، وهو اختيار ابن قدامة المقدسي في "المغني" 1/ 637)، واستدل لاختياره بنهيه صلى الله عليه وسلم المحرمة عن لبس القفازين "لو كان الوجه والكفان عورة لما حرم سترهما، ولأن الحاجة تدعو إلى كشف الوجه للبيع والشراء، والكفين للأخذ والإعطاء". وهو الذي اعتمده وجزم به في كتابه "العمدة".
ــ::‌ প্রথম আলোচনা:: ــ

জিলবাবের আয়াত: {তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}
আল-আহজাব: ৫৯

শায়খ আলবানী বলেন: বিরোধীরা এই বিষয়ের ওপর জোর দেয় যে {ইউদনিনা} (টেনে দেয়) শব্দটির অর্থ হলো: তারা তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখবে। অথচ এটি এই শব্দের মূল আভিধানিক অর্থ 'আল-ইদনা' (নিকটবর্তী করা) এর পরিপন্থী। ইমাম রাغب আসফাহানি 'আল-মুফরাদাত' গ্রন্থে বলেন: "(দানা), আদ-দুনু: নিকটবর্তী হওয়া … বলা হয়ে থাকে: আমি দুটি জিনিসের মধ্যে নৈকট্য ঘটিয়েছি এবং একটিকে অন্যটির নিকটবর্তী করেছি …", এরপর তিনি আয়াতটি উল্লেখ করেন। কুরআনের ব্যাখ্যাতা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে সহীহ সূত্রে এভাবেই এর ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: "সে জিলবাবকে তার মুখমণ্ডলের নিকটবর্তী করবে, কিন্তু তা দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলবে না," যেমনটি সামনে এর উদ্ধৃতিসহ বর্ণিত হবে। (সমাপ্ত)

এরপর শায়খ আলবানী নিজের এই মতের সপক্ষে দলিল হিসেবে হাম্বলী ফকীহদের কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: শায়খ আলাউদ্দিন আল-মারদাভী (১/৪৫২) তাঁর 'আল-ইনসাফ ফি মা’রিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ আলা মাজহাবি ইমামিল মুবাজ্জাল আহমাদ ইবনে হাম্বল' গ্রন্থে বলেছেন: "মাজহাবের সঠিক মত হলো মুখমণ্ডল সতরের (আওরাহ) অন্তর্ভুক্ত নয়।" এরপর তিনি দুই হাতের কব্জি সম্পর্কেও অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি 'আল-মুগনি' (১/৬৩৭) গ্রন্থে এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর এই মতের সপক্ষে দলিল হিসেবে ইহরাম পরিহিত মহিলার প্রতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতমোজা পরিধানের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে বলেন: "যদি মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি সতর হতো, তবে তা ঢাকা নিষিদ্ধ হতো না। এছাড়া ক্রয়-বিক্রয়ের প্রয়োজনে মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখা এবং আদান-প্রদানের জন্য দুই হাতের কব্জি খোলা রাখার প্রয়োজন পড়ে।" এটিই তিনি তাঁর 'আল-উমদাহ' গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাশফুল গুম্মাহ আন আদিল্লাতিল হিজাব ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ــ::‌‌ مناقشة البحث الأول:: ــ

أولا: قال تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} الأحزاب: 59 أنكر الشيخ الألباني أن هذه الآية تقتضي تغطية الوجه محتجا على رأيه بالمعنى العام للإدناء عند أحد اللغويين وهو قول الراغب الأصبهاني في "المفردات": "دانيت بين الأمرين وأدنيت أحدهما إلى الآخر"! مع أن هذا القول ليس فيه نفي لدلالة هذه الآية على تغطية الوجه؛ فإن إدناء الشيء من الآخر هو تقريبه إليه؛ فإذا كان الجلباب على الرأس فوق الخمار فإلى أي شيء سيقرّب إن لم يقرّب إلى الوجه ويدنا عليه حتى يغطيه؟! ومع ذلك فإن هذا فقط ما احتج به الشيخ الألباني من أقوال أهل اللغة! فإنه قد ثبت عند من هم أئمة في اللغة بأن المراد بالإدناء في الآية تغطية الوجه:

- قال إمام العربية (إمام الكوفة في النحو واللغة) أبو زكريا يحيى بن زياد الفراء (ت 207) في كتابه معاني القرآن (2/ 337): والجلباب؛ الرداء. حدّثنا أبو العبّاس قال حدثنا محمد قال: حدّثنا الفرّاء، قال حدّثنى يحيى بن المهلّب أبو كدينة عن ابن عون عن ابن سيرين في قوله {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ} هكذا: قال تغطّى إحدى عينيها وجبهتها والشّقّ الآخر، إلا العين.
ــ::‌‌ প্রথম আলোচনার পর্যালোচনা:: ــ

প্রথমত: মহান আল্লাহ বলেন, {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, আপনার কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের (চাদরের) একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়; এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} আল-আহযাব: ৫৯। শায়খ আলবানি এই আয়াতটি মুখমণ্ডল আবৃত করার দাবি রাখে—তা অস্বীকার করেছেন এবং জনৈক ভাষাবিদ রাগেব আসফাহানির ‘আল-মুফরাদাত’ গ্রন্থে বর্ণিত ‘ইদনা’ (নিকটবর্তী করা) শব্দের সাধারণ অর্থের ওপর ভিত্তি করে যুক্তি দিয়েছেন, যা হলো: "আমি দুটি বস্তুর মাঝে নৈকট্য স্থাপন করেছি এবং একটিকে অপরটির নিকটবর্তী করেছি"! অথচ এই বক্তব্যের মধ্যে আয়াতটি দ্বারা মুখমণ্ডল ঢাকার প্রমাণ নাকচ করার মতো কিছু নেই; কেননা এক বস্তুকে অন্য বস্তুর নিকটবর্তী করার অর্থ হলো তাকে সেটির কাছে নিয়ে আসা। সুতরাং জিলবাব যদি ওড়নার ওপর দিয়ে মাথার ওপর থাকে, তবে সেটিকে কিসের নিকটবর্তী করা হবে যদি মুখমণ্ডলের নিকটবর্তী করে তার ওপর ঝুলিয়ে না দেওয়া হয় যাতে তা আবৃত হয়ে যায়?! তা সত্ত্বেও শায়খ আলবানি ভাষাবিদদের বক্তব্যের মধ্য থেকে শুধুমাত্র এটিকেই দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন! অথচ যারা ভাষাবিজ্ঞানের ইমাম হিসেবে স্বীকৃত, তাদের নিকট এটি প্রমাণিত যে, আয়াতে ‘ইদনা’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুখমণ্ডল আবৃত করা:

- আরবী ভাষার ইমাম (নাহু ও লুগাত শাস্ত্রে কুফার ইমাম) আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে যিয়াদ আল-ফাররা (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) তাঁর ‘মাআনিল কুরআন’ (২/৩৩৭) গ্রন্থে বলেছেন: জিলবাব হলো চাদর। আবুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-ফাররা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবনুল মুহাল্লাব আবু কুদাইনা আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আউন থেকে এবং তিনি ইবনে সিরীন থেকে আল্লাহর এই বাণী {তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়} সম্পর্কে বর্ণনা করেন: তিনি (ইবনে সিরীন) এভাবে করে দেখালেন এবং বললেন যে, নারী তার একটি চোখ, কপাল এবং চেহারার অপর অংশ ঢেকে নেবে, কেবল একটি চোখ ছাড়া।