(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: -)
المحدث الفاصل ت أبو زيد القسم: علوم الحديث
الكتاب: المحدث الفاصل بين الراوي والواعي
المؤلف: أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي
تحقيق: محمد محب الدين أبو زيد
الناشر: دار الذخائر
الطبعة: الأولى، 2016 م
عدد الصفحات: 789
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1442
আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল, তাহকিক: আবু জাইদ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়াঈ
লেখক: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান বিন খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি
গবেষণা ও সম্পাদনা (تحقيق): মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দিন আবু জাইদ
প্রকাশক: দারুদ দাখাইর
সংস্করণ: প্রথম, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترحيببقلم فضيلة الشيخ: عادل بن محمد أبي تراب حفظه اللهالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعد:
فكتاب «المحدث الفاصل» لأبي محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي (ت: 360) من أوائل الكتب التي صُنِّفت في نقل مذاهب علماء الحديث واصطلاحاتهم في هذا العلم، وقد نال شهرة عظيمة، وكثر الاعتماد عليه بين أهل العلم وطلبته في معرفة مذاهب أهل الحديث، وقد نال ثناءهم واستحسانهم حتى قال الحافظ الذهبي رحمه الله: «ما أحسنه من كتاب! قيل: إن السِّلفي كان لا يكاد يفارق كمه - يعني في بعض عمره».
والكتاب جدير بالاهتمام لما يحويه من القواعد والضوابط والمفاهيم التي اعتمد عليها أئمة الحديث في تدوين السنة النبوية المشرفة وضبطها وروايتها، وذلك بالأسانيد الموثقة إلى قائليها، مما مكَّن لأهل العلم من نقل السنة نقلًا أمينًا موثَّقًا، ساعد على أن تجتاز نصوص السنة هذه الحقبة الزمنية الطويلة دون أن تطالها يد التغيير والتحريف.
فلا غرو أن يكون الكتاب محط نظر العلماء وطلبة العلم ومثار اهتماماتهم على مر العصور، فكثرت العناية به قراءة وضبطًا ودرسًا وتدريسًا، فها هو الحافظ البارع أبو الحسن الدارقطني (ت: 385) رحمه الله على جلالة قدره يحمل الكتاب عن مؤلفه ويرويه عنه، وكذا رواه الحافظ الكبير الخطيب البغدادي بإسناده إلى المصنف.
শুভেচ্ছা বাণীলিখেছেন শাইখ আদিল বিন মুহাম্মাদ আবু তুরাব (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর। অতঃপর:
আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান বিন খাল্লাদ আল-রামাহুরমুজি (ওফাত: ৩৬০ হিজরি) রচিত ‘আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল’ গ্রন্থটি হাদিস বিশারদদের মাযহাবসমূহ (مذاهب) এবং এই শাস্ত্রের পরিভাষাগুলো (اصطلاحات) সংকলনের ক্ষেত্রে রচিত প্রাথমিক গ্রন্থগুলোর অন্যতম। এটি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে এবং হাদিস বিশারদদের মাযহাবসমূহ (مذاهب) জানার ক্ষেত্রে আলেম সমাজ ও শিক্ষার্থীদের নিকট এর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। গ্রন্থটি তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, এমনকি হাফিজ আজ-জাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «এটি কতই না চমৎকার একটি গ্রন্থ! বলা হয়ে থাকে যে, আস-সিলাফি তাঁর জীবনের একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কিতাবটিকে নিজের পকেটস্থ করে রাখতেন - অর্থাৎ তিনি সর্বদা এটি সাথে রাখতেন।»
গ্রন্থটি বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার, কারণ এতে এমন সব মূলনীতি (قواعد), নীতিমালা (ضوابط) এবং ধারণা (مفاهিম) রয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে হাদিসের ইমামগণ সুন্নাহ সংকলন, তার বিশুদ্ধতা যাচাই (ضبط) এবং বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে নির্ভর করেছেন। আর তা করা হয়েছে বক্তা পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সনদসমূহের (الأسانيد) মাধ্যমে, যা আলেম সমাজকে আমানতদারিতা ও নির্ভরযোগ্যতার সাথে সুন্নাহর বর্ণনা (نقل) করার ক্ষেত্রে সক্ষম করে তুলেছে। এটি সুন্নাহর পাঠ্যসমূহকে সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও যেকোনো পরিবর্তন ও বিকৃতি (تحريف) থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করেছে।
তাই আশ্চর্যের কিছু নেই যে, যুগ যুগ ধরে গ্রন্থটি ওলামায়ে কেরাম ও তালিবে ইলমদের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু এবং আগ্রহের বিষয় হয়ে রয়েছে। এর পঠন-পাঠন, বিশুদ্ধতা যাচাই এবং শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক যত্ন নেয়া হয়েছে। এই তো প্রাজ্ঞ হাফিজ আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি (ওফাত: ৩৮৫ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ তাঁর উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও গ্রন্থটি স্বয়ং লেখকের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে তা বর্ণনা (رواية) করেছেন। একইভাবে প্রখ্যাত হাফিজ আল-খাতিব আল-বাগদাদিও লেখকের প্রতি নিজ সনদের (إسناد) মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وحدث الحافظ زكي الدين المنذري بالكتاب بخمس أجايز متوالية، عن ابن الجوزي، عن أبي منصور بن خيرون، عن الجوهري، عن الدارقطني، عن مصنفه؛ لكونه علا فيه بها درجة عما لو حدث به بالسماع المتصل عن أصحاب السِّلفي، عنه، عن المبارك بن عبد الجبار، عن الفالي، عن النهاوندي، عن مصنفه.
وغير ذلك من مظاهر العناية والاهتمام قد أودعها الأستاذ المحقق في مقدمته لتحقيق الكتاب.
ويضاف إلى ذلك أن الكتاب يُعَد وثيقة هامة للتمييز والفصل بين منهج المحدثين من المتقدمين، وبين ما أحدثه المتأخرون من توسُّعات واختزالات في مصطلحات هذا العلم، فهو صمام أمان للقواعد والضوابط التي طبقها السلف وأقاموا عليها هذا العلم.
والكتاب حُقق من قبل، على أربع نسخ خطية، بتحقيق الأستاذ الدكتور محمد عجاج الخطيب - حفظه الله - وصدرت منه عدة طبعات جميعها بتحقيقه، آخرها - في حدود علمي - هي الطبعة الثالثة، وصدرت سنة 1404، أي: منذ ثلاثة وثلاثين عامًا، وبرغم ما بذله فضيلته من جهد في ضبط وتحقيق الكتاب؛ فقد تضمن نص الكتاب العديد من مواطن الخلل أبرزها: السقوطات في صلب النص، بالإضافة إلى التحريفات والتصحيفات الناشئة عن الخطأ في قراءة المخطوط، هذا فضلًا عن القصور الواقع في مواطن عديدة في حاشية الكتاب.
ومن هنا تصدى الباحث المدقِّق فضيلة الشيخ محمد محب الدين أبو زيد لإعادة ضبط وتحقيق الكتاب من جديد، مستفيدًا من النهضة العلمية التي
হাফেজ জাকীউদ্দীন আল-মুনযিরী কিতাবটি পাঁচটি ধারাবাহিক ইজাজত (إجازة)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; ইবনুল জাওযী থেকে, তিনি আবু মানসুর ইবনে খায়রুন থেকে, তিনি জাওহারী থেকে, তিনি আল-দারাকুতনী থেকে, তিনি মূল গ্রন্থকার থেকে। কারণ এর মাধ্যমে তাঁর সনদের স্তর উঁচু (علو) হয়েছে সেই সনদের তুলনায় যদি তিনি আস-সিলাফীর শিষ্যদের নিকট থেকে নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণের (السماع المتصل) মাধ্যমে তা বর্ণনা করতেন; তিনি আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার থেকে, তিনি আল-ফালী থেকে, তিনি আন-নাহাওয়ান্দি থেকে, তিনি মূল গ্রন্থকার থেকে।
এর বাইরেও যত্ন ও গুরুত্ব প্রদানের আরও নানা নিদর্শন বিজ্ঞ মুহাক্কিক (محقق) কিতাবটির তাহকিক (تحقيق)-এর ভূমিকায় সন্নিবেশিত করেছেন।
এর সাথে আরও যুক্ত করা যায় যে, কিতাবটি মুতাক্বাদ্দিমীন (متقدمون) বা পূর্ববর্তী হাদিস বিশারদদের মানহাজ (منهج) এবং এ শাস্ত্রের পরিভাষাসমূহে মুতাআখখিরীন (متأخرون) বা পরবর্তীকালের আলেমদের উদ্ভাবিত সম্প্রসারণ ও সংকোচনের মাঝে পার্থক্য ও বিভাজন নির্ণয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। এটি সালাফ বা পূর্বসূরিদের প্রযুক্ত সেই সকল মূলনীতি (قواعد) ও নিয়মাবলির (ضوابط) রক্ষাকবচ, যার ওপর ভিত্তি করে তাঁরা এ শাস্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
কিতাবটি ইতিপূর্বে চারটি পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية)-র ওপর ভিত্তি করে প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আজজাজ আল-খতীব -হাফিযাহুল্লাহ- এর তাহকিক (تحقيق)-এ সম্পাদিত হয়েছে এবং তাঁর তাহকিকে এর বেশ কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে আমার জানামতে সর্বশেষটি হলো তৃতীয় সংস্করণ যা ১৪০৪ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়; অর্থাৎ আজ থেকে তেত্রিশ বছর আগে। কিতাবটির বিশুদ্ধ বিন্যাস (ضبط) ও তাহকিক (تحقيق)-এ তিনি অসামান্য প্রচেষ্টা ব্যয় করা সত্ত্বেও মূল পাঠ্যে বেশ কিছু ত্রুটি রয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো: মূল পাঠের ভেতর থেকে কিছু অংশ বিলুপ্ত হওয়া (سقوط)। এছাড়া পাণ্ডুলিপি (مخطوط) পাঠে ভুলের কারণে সৃষ্ট বিকৃতি (تحريف) ও বর্ণবিভ্রাট (تصحيف) তো রয়েছেই, সেই সাথে কিতাবটির টীকা বা হাশিয়ার অনেক স্থানেও সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়।
একারণে সূক্ষ্মদর্শী গবেষক (باحث مدقق) শায়খ মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যায়েদ কিতাবটির নতুন করে বিশুদ্ধ বিন্যাস (ضبط) ও তাহকিক (تحقيق)-এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যেখানে তিনি সেই বৈজ্ঞানিক নবজাগরণ থেকে উপকৃত হয়েছেন যা
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
يشهدها الآن علم التحقيق وفهرسة المخطوطات، فأعاد تقويم النص وضبطه على ست مخطوطات في غاية النفاسة والجودة، مكَّنته من استدراك الكثير من السقوطات في صلب النص، وتقويم مواطن التحريف والتصحيف التي شملت العديد من مواطن نص الكتاب، هذا فضلًا عن الكثير من التعليقات الهامة التي تضمنتها حاشية الكتاب، مما جعل هذه الطبعة جديرة بالترحيب؛ حيث إنها تمثل إضافة جديدة في توثيق وخدمة الكتاب.
وقد قدَّم - حفظه الله - لطبعته هذه بمقدمة علمية رائقة شرح فيها ووضَّح المبررات العلمية لإعادة تحقيق الكتاب من جديد، ومنهجه في التعامل مع النص الخطي، وهو منهج رصين يتوافق مع ما قرره أهل علم الضبط والتحقيق.
كما بيَّن فضيلته أهمية الكتاب والهدف من تصنيف المصنف له، وغير ذلك من الفوائد الهامة التي ضمنها مقدمة التحقيق والجديرة بالمطالعة.
فالله يجزيه خيرًا عن هذا الجهد في خدمة أحد الأصول الهامة في علم مصطلح الحديث، وأن يجعله في ميزان حسناته، كما أشكره على جعله إياي موضعًا لثقته في مراجعة بعض فقرات من الكتاب فضلًا عن مقدمة التحقيق، فجزاه الله عني خيرًا، والحمد الله رب العالمين.
كتبه
عادل بن محمد أبو تراب
تحريرًا في: 4 من ربيع أول سنة 1437
الموافق: 16 من ديسمبر عام 2015
বর্তমানে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) ও এর তালিকাভুক্তকরণ শাস্ত্র যে উৎকর্ষ প্রত্যক্ষ করছে, তারই ধারাবাহিকতায় তিনি অত্যন্ত মূল্যবান ও উন্নতমানের ছয়টি পাণ্ডুলিপির (مخطوطات) ওপর ভিত্তি করে গ্রন্থটির মূল পাঠ পুনরায় সংশোধন ও পাঠ-পরিশোধন (ضبط) করেছেন। এর ফলে মূল পাঠের অনেক বিলুপ্ত অংশ উদ্ধার করা এবং গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান বিকৃতি (تحريف) ও লিপিকর প্রমাদ (تصحيف) সংশোধন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে। এছাড়া গ্রন্থটির টীকা অংশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য যুক্ত করা হয়েছে, যা এই সংস্করণটিকে সমাদৃত হওয়ার যোগ্য করে তুলেছে; কারণ এটি গ্রন্থটির প্রামাণ্যতা ও খিদমতের ক্ষেত্রে একটি নতুন সংযোজন।
তিনি (আল্লাহ তাঁকে হিফজ করুন) তাঁর এই সংস্করণের শুরুতে একটি চমৎকার তাত্ত্বিক ভূমিকা প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি গ্রন্থটি পুনরায় সম্পাদনার (تحقيق) যৌক্তিক কারণসমূহ এবং পাণ্ডুলিপির পাঠ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছেন। এটি একটি সুদৃঢ় পদ্ধতি, যা পাঠ-পরিশোধন ও সম্পাদনা শাস্ত্রের (علم الضبط والتحقيق) বিশেষজ্ঞদের নির্ধারিত নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এছাড়াও শায়খ গ্রন্থটির গুরুত্ব এবং লেখক কর্তৃক এটি সংকলনের উদ্দেশ্যসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি এই তাত্ত্বিক ভূমিকায় আলোচনা করেছেন, যা অত্যন্ত পাঠযোগ্য।
হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের (مصطلح الحديث) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মৌলিক গ্রন্থের খিদমতে তাঁর এই প্রচেষ্টার জন্য আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন। গ্রন্থটির কিছু অনুচ্ছেদ এবং এর ভূমিকা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
আদিল বিন মুহাম্মাদ আবু তুরাব
তারিখ: ৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৩৭ হিজরি
মোতাবেক: ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إشادة بالكتاب وبهذه الطبعةلفضيلة الشيخ: طارق بن عوض الله بن محمد حفظه الله
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله تعالى من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم.
فمما لا شك فيه أن أفضل ما أُنفقت فيه الأوقات وبُذل فيه الجهد هو خدمة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، بتمييز ما يصح منها مما لا يصح، وتحرير أصولها وقواعدها، وبيان معانيها، ودفع مشكلها، وتوضيح متشابهها، وتقديمها للأمة غضة طرية، لا تشوبها شائبة ولا تدخلها شبهة.
ولا شك أنه ينبغي ربط الناس بتراث علمائهم الذين حفظ الله بهم الدين، ورفع بهم راية الإسلام؛ فإن العناية بكتب علماء المسلمين وتحقيقها وتصحيحها والتعليق عليها وإخراجها في صورة رائقة وثوب قشيب، ضرورة مُلِحَّة لا تقل أهمية عن الخدمة العلمية للقضايا الكلية والمسائل الجزئية، بل إن ذلك مما يعين المسلمين على الاستفادة من هذا التراث الاستفادة الكاملة، وحسن تفهُّم ما فيه من علم، ثم العمل به على بصيرة.
وهذا الكتاب الذي بين يديك أخي الفاضل كتاب «المحدث الفاصل» للإمام
গ্রন্থ এবং এই সংস্করণের প্রশংসাশ্রদ্ধেয় শায়খ: তারেক বিন আওয়াদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমত করা—অর্থাৎ যা বিশুদ্ধ (صحيح) তা থেকে অশুদ্ধকে পৃথক করা, এর উসুল (أصول) ও কায়দা (قواعد) সুবিন্যস্ত করা, এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করা, এর মুশকিল (مشكل) বা জটিলতা নিরসন করা এবং এর মুতাশাবিহ (متشابه) বা অস্পষ্টতা ব্যাখ্যা করা এবং উম্মতের সামনে একে এমন সতেজ ও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা যাতে কোনো মলিনতা বা সংশয় না থাকে—হলো সময় ও শ্রম ব্যয় করার সর্বোত্তম ক্ষেত্র।
নিঃসন্দেহে মানুষকে তাদের ওই সকল আলিমদের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত করা উচিত যাদের মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন এবং ইসলামের পতাকাকে সমুন্নত করেছেন। কেননা মুসলিম আলিমদের কিতাবসমূহের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সেগুলোর তাহকিক (تحقيق), তাসহিহ (تصحيح) ও তালীক (تعليق) প্রদান এবং সেগুলোকে সুন্দর ও মার্জিত অবয়বে প্রকাশ করা এক অনস্বীকার্য প্রয়োজন, যা শাস্ত্রীয় মৌলিক ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদির খিদমতের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং এটি মুসলমানদের এই ঐতিহ্য থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে উপকৃত হতে, এর অন্তর্গত জ্ঞান সঠিকভাবে অনুধাবন করতে এবং দূরদর্শিতার সাথে তা আমল করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
হে সম্মানিত দ্বীনি ভাই, আপনার হাতে থাকা এই কিতাবটি হলো ইমাম রচিত ‘আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল’
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أبي محمد الرامهرمزي، وهو يُعَد عند أهل العلم أول كتاب صُنف في هذا العلم الشريف علم الحديث والاصطلاح، وقد كانت عناية العلماء بهذا الكتاب عناية فائقة، والاستفادة منه كبيرة، والتعويل عليه عظيمًا، وما زال العلماء ينهلون منه ويستفيدون ويرجعون إليه إلى يومنا هذا، ومع ذلك لم ينل الكتاب حتى يومنا هذا حظه الكامل من التحقيق والتصحيح، والإخراج الجيد، والنسخة الوحيدة المطبوعة منه غير لائقة بالمرة؛ لكونها مليئة بالتصحيفات والتحريفات والأخطاء.
وقد أطلعني أخي الفاضل محمد محب الدين أبو زيد على عمله في تحقيق هذا الكتاب وإخراجه على ست مخطوطات، مع التعليق على المواضع التي تحتاج إلى تعليق، وتخريج الأحاديث والآثار، فوجدته عملًا مفيدًا للباحث في علوم الحديث، قد كان الكتاب في حاجة إليه منذ زمن، ولكن شاء الله عز وجل أن يدَّخر لأخينا محب الدين ذلك الفضل، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء، فأسأل الله عز وجل أن يجعله في ميزان حسناته وأن يتقبله منه بفضله. كما أنه قد ذيل هذا الكتاب بفهارس علمية تفيد الباحث في الوقوف على ما تناثر من مادة علمية في هذا الكتاب الجليل، فمنها فهرس للقرآن، وفهرس للأحاديث والآثار، وفهرس للأشعار، وفهرس للمسائل والفوائد.
ولا يخفى على مشتغل بالعلم عالم بأصوله ومناهج أئمته أن تحقيق كتب أصول الحديث المتقدمة في غاية الأهمية؛ فإن في ذلك توثيقًا للمادة العلمية وتحقيقًا لأصولها، وهي وإن كانت موزعة في كتب علوم الحديث المتأخرة ككتاب ابن الصلاح وغيره؛ فإن ذلك لا يغني عن مصادرها الأصلية حفظًا لها ومعرفة
আবু মুহাম্মদ আর-রামহুরমুজি [রচিত গ্রন্থটি], আলেমদের নিকট এই মহান ইলম—অর্থাৎ ইলমে হাদিস এবং পরিভাষা (اصطلاح)-র ক্ষেত্রে সংকলিত প্রথম গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এই কিতাবটির প্রতি আলেমদের বিশেষ যত্ন ছিল অত্যন্ত গভীর, এর থেকে উপকার লাভ ছিল ব্যাপক এবং এর ওপর নির্ভরশীলতা ছিল অনেক বেশি। আলেম সমাজ আজ অবধি এই কিতাব থেকে জ্ঞান আহরণ করছেন, উপকৃত হচ্ছেন এবং এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছেন। এতদসত্ত্বেও, গ্রন্থটি আজ পর্যন্ত তাহকিক (تحقيق), সংশোধন এবং মানসম্মত প্রকাশনার ক্ষেত্রে তার পূর্ণ অধিকার লাভ করেনি। এর একমাত্র মুদ্রিত সংস্করণটি একেবারেই অনুপযুক্ত; কারণ তা লিপিকর প্রমাদ (تصحيفات), বিকৃতি (تحريفات) এবং ভুলত্রুটিতে পরিপূর্ণ।
আমার শ্রদ্ধেয় ভাই মুহাম্মাদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যাইদ ছয়টি পাণ্ডুলিপির (مخطوطات) আলোকে এই গ্রন্থটির তাহকিক (تحقيق) ও সম্পাদনার কাজ আমাকে দেখিয়েছেন। সাথে যে স্থানগুলোতে টীকা প্রয়োজন সেখানে টীকা প্রদান এবং হাদিস ও আছার (الآثار)-এর তাখরিজ (تخريج) করেছেন। আমি একে উলূমুল হাদিসের গবেষকদের জন্য একটি অত্যন্ত উপকারী কাজ হিসেবে পেয়েছি। দীর্ঘকাল ধরেই কিতাবটি এমন একটি কাজের মুখাপেক্ষী ছিল, কিন্তু মহান আল্লাহ আমাদের ভাই মুহিব্বুদ্দীনের জন্য এই মর্যাদাটি সঞ্চিত রাখতে চেয়েছিলেন; আর এটি আল্লাহরই অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় ভারী করেন এবং নিজ অনুগ্রহে কবুল করে নেন। তদুপরি, তিনি এই কিতাবটির শেষে এমন কিছু ইলমি নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র যুক্ত করেছেন যা গবেষককে এই মহান গ্রন্থে ছড়িয়ে থাকা ইলমি উপাদানগুলো খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। এর মধ্যে রয়েছে কুরআনের নির্ঘণ্ট, হাদিস ও আছার (الآثار)-এর নির্ঘণ্ট, কবিতার নির্ঘণ্ট এবং মাসয়ালা ও ফায়দাহসমূহের নির্ঘণ্ট।
ইলমচর্চায় নিয়োজিত এবং এর মূলনীতি ও ইমামদের কর্মপন্থা সম্পর্কে অবগত কোনো ব্যক্তির কাছেই এটি অস্পষ্ট নয় যে, উসুলুল হাদিসের পূর্ববর্তী (المتقدمة) গ্রন্থগুলোর তাহকিক (تحقيق) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এতে ইলমি বিষয়ের প্রামাণিকতা (توثيق) এবং এর মূল উৎসগুলোর যাচাই নিশ্চিত হয়। যদিও এই বিষয়গুলো পরবর্তী যুগের উলূমুল হাদিসের কিতাবগুলোতে—যেমন ইবনুস সালাহ-এর কিতাব ও অন্যান্য গ্রন্থ—ছড়িয়ে রয়েছে, তবুও মূল উৎসগুলো সংরক্ষণ ও সেগুলো জানার ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بأصحابها، ناهيك عن أن العلماء الذين ذكروا هذه المادة في كتبهم من المتأخرين إنما ذكروها مختصرة، وبالرجوع إلى أصولها يتبين كثير من التفصيل الذي لا تجده في الكتب المختصرة.
وأيضًا فإن معرفة هذه الكتب المتقدمة يفيد في الوقوف على أسانيد المقالات العلمية التي ينقلها أصحاب هذه الكتب عمن قبلهم؛ فإن الرامهرمزي والخطيب البغدادي وكذلك الحاكم النيسابوري إنما يذكرون أقوال من تقدمهم من أهل العلم بالأسانيد إليهم، وهذه ميزة لا توجد في الكتب المختصرة.
وما مثل من يكتفي بالكتب المختصرة عن الكتب المتقدمة إلا كمثل من يهجر كتب الحديث المعروفة كالكتب الستة ونحوها مكتفيا بكتب التخريج والمجاميع التي صنفها العلماء المتأخرون، وهذا يؤدي إلى ضياع هذه الأصول، بل ربما يتطور الزمان فتجد تلك الكتب المتأخرة أصولًا لمن يجيء بعدنا، فيُكتفى بكتب أخرى مختصرة عن الرجوع إليها والاستفادة منها، وهذا أمر خطير وشر مستطير.
وكتاب الرامهرمزي هذا من الكتب العظيمة الجليلة، ويكفي دليلًا على هذا أن إمامًا في مكانة الخطيب البغدادي، وهو عمدة المتأخرين في هذا العلم حتى قال الإمام ابن نقطة: «كل من أنصف عَلم أن المحدثين عيال على الخطيب البغدادي». فهذا الإمام الخطيب البغدادي على مكانته تلك المعروفة وجلالته في هذا العلم قد كان يرجع كثيرًا إلى كتاب «المحدث الفاصل» للرامهرمزي، يقتبس منه ويروي عنه، وفي هذا دليل قوي على عظم مكانة هذا الكتاب وأهميته في هذا العلم الشريف.
তদুপরি, পরবর্তীকালের (متأخرين) যেসব আলেম তাদের কিতাবসমূহে এই বিষয়বস্তু উল্লেখ করেছেন, তারা তা কেবল সংক্ষিপ্ত (مختصرة) আকারেই উল্লেখ করেছেন। অথচ এর মূল উৎসের (أصول) দিকে ফিরে গেলে এমন অনেক বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় যা সংক্ষিপ্ত (مختصرة) কিতাবগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না।
অনুরূপভাবে, এই আদি (متقدمة) কিতাবগুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে সেসব ইলমি বক্তব্যের সনদ (أسانيد) সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, যা এই কিতাবগুলোর লেখকগণ তাদের পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। কেননা রামহুরমুজি, খতিব আল-বাগদাদি এবং হাকেম আন-নাইসাপুরি তাদের পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের উক্তিগুলো তাদের পর্যন্ত পৌঁছানোর সনদসহ (أسانيد) উল্লেখ করেছেন। এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা সংক্ষিপ্ত (مختصرة) কিতাবগুলোতে পাওয়া যায় না।
যারা আদি (متقدمة) কিতাবগুলোর পরিবর্তে কেবল সংক্ষিপ্ত (مختصرة) কিতাবগুলোর ওপর নির্ভর করে, তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে কুতুবে সিত্তা বা এই জাতীয় প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহ বর্জন করে পরবর্তীকালের (متأخرين) আলেমদের সংকলিত হাদিসের উৎস নির্ধারণ (تخريج) ও হাদিস সংগ্রহের (مجاميع) কিতাবগুলোর ওপর নির্ভর করে। এটি এসব মূল উৎসের (أصول) বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যায়; বরং সময়ের ব্যবধানে হয়তো সেই পরবর্তীকালের কিতাবগুলোই আমাদের পরের প্রজন্মের কাছে মূল উৎস (أصول) হিসেবে পরিগণিত হবে এবং তারা সেসব কিতাবের দিকে ফিরে যাওয়া বা তা থেকে উপকৃত হওয়ার পরিবর্তে আরও সংক্ষিপ্ত (مختصرة) কোনো কিতাবের ওপর তুষ্ট থাকবে। এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয় এবং এক ব্যাপক অকল্যাণ।
রামহুরমুজির এই কিতাবটি অত্যন্ত মহান ও মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এর প্রমাণ হিসেবে এটুকুই যথেষ্ট যে, খতিব আল-বাগদাদির মতো একজন উচ্চমর্যাদার ইমাম—যিনি এই শাস্ত্রে পরবর্তীকালের (متأخرين) পণ্ডিতদের প্রধান অবলম্বন, এমনকি ইমাম ইবনে নুকতা বলেছেন: "যে ব্যক্তিই ইনসাফ করবে, সে-ই জানবে যে মুহাদ্দিসগণ খতিব আল-বাগদাদির ওপর নির্ভরশীল"—সেই ইমাম খতিব আল-বাগদাদি তার সুবিদিত মর্যাদা ও এই শাস্ত্রে সুগভীর পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও রামহুরমুজির ‘আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল’ কিতাবটির দিকে বহুলাংশে প্রত্যাবর্তন করতেন, তা থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করতেন এবং বর্ণনা (يروي) করতেন। এই মহান শাস্ত্রে এই কিতাবটির সুউচ্চ মর্যাদা ও গুরুত্বের এটি একটি শক্তিশালী দলিল।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثم وجدنا القاضي عياض في «الإلماع» كثير النقل عنه أيضًا فتارة يوافقه وتارة يخالفه، لكنه لم يستغن عنه في مسألة من المسائل التي تناولها، ثم جاء ابن الصلاح في كتاب «علوم الحديث» له فاقتبس أيضًا من «المحدث الفاصل» واعتبر بأقوال الإمام الرامهرمزي سواء وافقه أو خالفه، ولا أدل من ذلك على عظم وجلالة مكانة هذا الكتاب.
وأخيرًا فأسأل الله عز وجل أن يتقبل من أخينا الفاضل هذا المجهود الطيب الذي بذله في خدمة هذا الكتاب القيم، وأن يجعله في ميزان حسناته، وأن يعينه ويوفقه إلى الاستمرار في هذا الطريق، وفي خدمة تراث علمائنا عليهم رحمة الله، كما أسأله سبحانه وتعالى أن يوفِّق كل من سار على نفس الدرب إلى ما يحبه ويرضاه.
والحمد لله أولًا وآخرًا ظاهرًا وباطنًا، والصلاة والسلام على عبده المصطفى ورسوله المجتبى، وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وكتب
طارق بن عوض الله بن محمد
الأربعاء 29 من محرم 1437 هـ
11 من نوفمبر 2015 م
অতঃপর আমরা দেখতে পাই যে, কাজী আয়াজ তাঁর 'আল-ইলমা' গ্রন্থেও এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন; কখনো তিনি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন আবার কখনো ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তবে তিনি তাঁর আলোচিত বিষয়গুলোর কোনোটিতেই এ গ্রন্থ থেকে বিমুখ হতে পারেননি। এরপর ইবনুস সালাহ তাঁর 'উলুমুল হাদিস' গ্রন্থেও 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম রামাহুরমুজীর বক্তব্যসমূহকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন—চাই তিনি তাঁর সাথে একমত হন কিংবা ভিন্নমত। এই কিতাবটির সুউচ্চ মর্যাদা ও গুরুত্বের প্রমাণ হিসেবে এর চেয়ে অকাট্য দলিল আর হতে পারে না।
পরিশেষে, আমি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের বিদগ্ধ ভাইয়ের এই উত্তম প্রচেষ্টাকে কবুল করেন যা তিনি এই মূল্যবান কিতাবটির খিদমতে ব্যয় করেছেন এবং একে যেন তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আল্লাহ যেন তাঁকে এই পথে অবিচল থাকার এবং আমাদের উলামায়ে কেরামের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সেবা চালিয়ে যাওয়ার তাওফিক দান করেন। সেই সাথে আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি, যারা এই একই পথে চলছেন তাদের প্রত্যেককে যেন তিনি তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজে সফল করেন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দা ও নির্বাচিত রাসুলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর।
লেখক
তারিক বিন আওয়াদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ
বুধবার, ২৯শে মহররম ১৪৩৭ হিজরী
১১ই নভেম্বর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمة المحقِّقالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين، وبعد:
فهذا كتاب «المحدث الفاصل بين الراوي والواعي» للقاضي الإمام الحافظ أبي محمد الرامهرمزي رحمه الله، أُقدِّمه لإخواني من أهل العلم وطلبته في هذا الثوب القشيب، قد بذلتُ قصارى جهدي في تصحيحه وتنقيحه وضبطه والتعليق عليه، ما سيشهد به -إن شاء الله تعالى- كلُّ من قرأه أو نظر فيه، ثم أنصف.
وبرغم ما لقيتُ من مشقة وتعب في عملي في هذا الكتاب، فإنني كنت أجد متعة عظيمة عند قراءتي لنصوصه، وتحريري لألفاظه، وحلي لمشكلاته، وأستطيع أن أقول - بعد أن عشتُ مع هذا الكتاب ما يقارب سنتين قراءة وضبطًا ومراجعة: إن هذا الكتاب ينقل لك صورة كاملة للحياة العلمية والتربوية عند علماء الحديث الأُول -رحمة الله عليهم أجمعين- في صفاتهم وأخلاقهم ومجالسهم ومذاكراتهم ومناظراتهم ورحلاتهم وسماعهم وتحديثهم، وفي ذلك من الفوائد والعبر والعظات ما لا يخفى، أسأل الله تعالى أن يحشرنا معهم يوم القيامة، فهم القوم لا يشقى بهم جليسهم.
وقد قدمت للكتاب بمقدمة تناولت فيها:
1 - ترجمة الإمام الرامهرمزي.
2 - وصف الكتاب ومنهج مؤلفه فيه.
3 - أهمية الكتاب ومكانته وعناية العلماء به واستفادتهم منه.
সম্পাদকের (المحقق) ভূমিকাযাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
এটি বিচারক, ইমাম, হাফিজ (الحافظ) আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়ায়ি’ গ্রন্থ। আমি এটি ইলম অন্বেষী ও আলিম ভাইদের সামনে এক সুশোভিত অবয়বে পেশ করছি। এর সংশোধন, পরিমার্জন, পাঠ-নির্ধারণ এবং টীকা সংযোজনে আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ইনশাআল্লাহ তাআলা, যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবেন বা এতে দৃষ্টিপাত করবেন এবং ইনসাফ করবেন, তিনি এর সাক্ষ্য দেবেন।
এই কিতাবটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি যে কঠোর পরিশ্রম ও ক্লান্তি সহ্য করেছি, তা সত্ত্বেও এর মূল পাঠসমূহ পড়ার সময়, শব্দসমূহ বিশ্লেষণ করার সময় এবং এর জটিল জটগুলো খোলার সময় আমি এক মহা আনন্দ অনুভব করতাম। পঠন, নির্ভুল বিন্যাস ও পর্যালোচনায় এই কিতাবটির সাথে প্রায় দুই বছর অতিবাহিত করার পর আমি বলতে পারি—এই গ্রন্থটি আপনার নিকট পূর্ববর্তী হাদিস উলামাদের—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—শিক্ষা ও চারিত্রিক জীবনের এক পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে। এতে বর্ণিত হয়েছে তাঁদের গুণাবলি, আখলাক, জ্ঞানগর্ভ মজলিস, পারস্পরিক আলোচনা, মুনাজারা (مناظرة), ইলমি সফর, হাদিস শ্রবণ (سماع) এবং হাদিস বর্ণনা (تحديث) করার পদ্ধতি। এর মধ্যে এমন অনেক উপকারিতা, শিক্ষা ও নসিহত রয়েছে যা কারো অজানা নয়। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন কিয়ামতের দিন আমাদের তাঁদের সাথে হাশর করেন; তাঁরা তো এমন এক জাতি যাদের সঙ্গী কখনো দুর্ভাগা হয় না।
আমি এই গ্রন্থের শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছি, যাতে আলোচনা করা হয়েছে:
১ - ইমাম আর-রামাহুরমুজির জীবনী।
২ - গ্রন্থের পরিচিতি এবং এতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি (منهج)।
৩ - কিতাবটির গুরুত্ব, মর্যাদা এবং এটি নিয়ে উলামায়ে কেরামের বিশেষ যত্ন ও তা থেকে তাঁদের উপকৃত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد تعرضتُ في هذا المبحث للرد بإيجاز على من زعم أنه يُستغنى بكتب علماء الاصطلاح المتأخرين عن كتاب «المحدث الفاصل» وما شابهه من كتب المتقدمين.
4 - توثيق اسم الكتاب ونسبته إلى مصنفه.
5 - المبررات العلمية لإعادة تحقيق الكتاب والموقف من الطبعة السابقة.
6 - وصف النسخ الخطية المعتمدة.
7 - المنهج المتبع في ضبط وتوثيق نص الكتاب.
8 - نماذج من النسخ الخطية.
ولا أنسى أن أشكر فضيلة الشيخ عادل بن محمد أبا تراب الذي راجع جزءًا من أول هذا الكتاب، وقرأ مقدمة التحقيق، وكانت له ملاحظات قيمة أفدت منها؛ ثم توَّج ذلك بكتابة ترحيب لطيف بهذه الطبعة؛ فجزاه الله خيرًا، وبارك فيه وفي أهله أجمعين.
كما أشكر فضيلة الشيخ طارق بن عوض الله على إتحافي بكتابة تقريظ قيِّم لهذا الكتاب، واستضافته إيَّاي في بيته؛ فجزاه الله خيرًا، وبارك فيه وفي أهله أجمعين.
وأشكر أيضًا إخوانًا كرامًا أعانوني على إنجاز هذا الكتاب، وأخص منهم:
الأستاذ أحمد حمزة الذي ساعدني في مقابلة مخطوطات الكتاب، فجزاه الله خيرًا وبارك فيه وفي أهله أجمعين.
والأستاذ اللغوي علاء أبو شنب الذي قرأ الكتاب كله قراءة تصحيح، وساعدني في حل بعض الإشكالات اللغوية، جزاه الله خيرًا وبارك فيه وفي أهله أجمعين.
এই পরিচ্ছেদে আমি সংক্ষেপে সেইসব ব্যক্তিদের জবাব প্রদান করেছি যারা দাবি করেন যে, পরবর্তী যুগের (متأخرين) পরিভাষা (اصطلاح) শাস্ত্রবিদদের কিতাবসমূহ 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল' এবং এর সদৃশ পূর্ববর্তী যুগের (متقدمين) কিতাবসমূহের প্রয়োজনীয়তা নিরসন করে দেয়।
4 - কিতাবের নাম এবং এর লেখকের দিকে এর সম্বন্ধের প্রামাণিকতা (توثيق)।
5 - কিতাবটি পুনঃসম্পাদনার তাত্ত্বিক যৌক্তিকতা এবং পূর্ববর্তী সংস্করণের ব্যাপারে অবস্থান।
6 - নির্ভরযোগ্য (معتمدة) পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ।
7 - কিতাবের মূল পাঠ্যের শুদ্ধতা যাচাই (ضبط) এবং প্রামাণিকতা (توثيق) রক্ষায় অনুসৃত পদ্ধতি।
8 - পাণ্ডুলিপিসমূহের কিছু নমুনা।
আমি শ্রদ্ধেয় শায়খ আদিল বিন মুহাম্মদ আবা তুরাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলব না, যিনি এই কিতাবের শুরুর কিছু অংশ পর্যালোচনা করেছেন এবং সম্পাদনার ভূমিকা পাঠ করেছেন। তাঁর কিছু মূল্যবান পর্যবেক্ষণ ছিল যা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি; অতঃপর তিনি এই সংস্করণের জন্য একটি সুন্দর অভিনন্দন বাণী লিখে বিষয়টিকে পূর্ণতা দান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে বরকতময় করুন।
অনুরূপভাবে আমি শ্রদ্ধেয় শায়খ তারিক বিন আওয়াদুল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এই কিতাবটির জন্য একটি মূল্যবান প্রশংসা বাণী (تقريظ) লিখে আমাকে ধন্য করার জন্য এবং তাঁর বাড়িতে আমাকে মেহমানদারী করার জন্য। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে বরকতময় করুন।
আমি আরও কয়েকজন সম্মানিত ভাইকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই কিতাবটি সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেছেন, বিশেষ করে:
উস্তাদ আহমদ হামজা, যিনি আমাকে কিতাবটির পাণ্ডুলিপিসমূহ মিলিয়ে দেখার (مقابلة) কাজে সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে বরকতময় করুন।
এবং ভাষাবিদ উস্তাদ আলা আবু শানাব, যিনি পুরো কিতাবটি আদ্যোপান্ত পাঠ করে ভুল সংশোধন করেছেন এবং কিছু ভাষাগত জটিলতা নিরসনে আমাকে সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে বরকতময় করুন।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والأستاذ اللغوي عبد الرحمن باغوش الذي ساعدني في فهرسة هذا الكتاب، وكان له أثناء ذلك ملاحظات وتصحيحات لاسيما في الأشعار، فجزاه الله خيرًا.
والأستاذ محمد حسن عبد السلام الذي قام بتنسيق هذا الكتاب وإعداده للطبع، فجزاه الله خيرًا.
وأشكر الإخوة الفضلاء والمشايخ الأجلاء: الشيخ عماد صابر المرسي صاحب مكتبة التوعية الإسلامية، والمحقق الفاضل أبا عاصم الشوامي، والأخ الحبيب عبد الرحمن رزق، والأستاذ الفاضل خالد زكي مدير مكتبة الذخائر، الذين سعوا في نشر هذا الكتاب، شكر الله سعيهم وغفر لهم.
وأخيرًا، فها هو -أخي الكريم- الكتاب بين يديك، تحريت فيه الدقة والإتقان قدر الإمكان، فإن وجدت فيه خطأ أو خللًا فاعلم أنه لم يكن مني عن تقصير أو إهمال، والله يغفر لي ما كان فيه من ذلك، وأسأله سبحانه أن لا يجعل عملي في هذا الكتاب حسرة عليَّ يوم القيامة، وأن لا يُخزيني يوم يبعثون، يوم لا ينفع مال ولا بنون، إلا من أتى الله بقلب سليم.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.
وكتب
محمد محب الدين أبو زيد
الجمعة 29 من صفر 1437 هـ
11 من ديسمبر 2015 م
এবং ভাষাবিদ উস্তাদ আব্দুর রহমান বাগুশ, যিনি আমাকে এই কিতাবের নির্ঘণ্ট তৈরিতে সাহায্য করেছেন এবং এ সময়ে বিশেষত কাব্যাংশের ক্ষেত্রে তাঁর কিছু পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন ছিল, আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
এবং উস্তাদ মুহাম্মদ হাসান আব্দুস সালাম, যিনি এই কিতাবটি বিন্যস্ত করেছেন এবং মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করেছেন, আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সব পুণ্যবান ভাই ও মহান শায়খদের প্রতি: মাকতাবাতুত তাওইয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ-এর স্বত্বাধিকারী শায়খ ইমাদ সাবের আল-মুরসি, বিজ্ঞ গবেষক (محقق) আবু আসিম আশ-শাওয়ামি, প্রিয় ভাই আব্দুর রহমান রিজক এবং মাকতাবাতুজ জাখায়ির-এর পরিচালক সম্মানিত উস্তাদ খালিদ জাকি—যাঁরা এই কিতাবটি প্রকাশের জন্য সচেষ্ট ছিলেন; আল্লাহ তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁদের ক্ষমা করুন।
পরিশেষে, হে সম্মানিত ভাই, কিতাবটি এখন আপনার হাতের সামনে। আমি এতে যথাসাধ্য সতর্কতা ও নিখুঁত করার চেষ্টা করেছি। এরপরও যদি কোনো ভুল বা বিচ্যুতি খুঁজে পান, তবে মনে রাখবেন তা আমার পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা বা গাফিলতির কারণে ঘটেনি। আল্লাহ যেন আমার সকল অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ক্ষমা করেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কিতাব সংক্রান্ত আমার শ্রমকে কিয়ামতের দিনে আমার জন্য পরিতাপের কারণ না করেন এবং যেদিন মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে, সেদিন আমাকে অপদস্থ না করেন; যেদিন সম্পদ ও সন্তান কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে-ই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
আল্লাহর সালাত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
মুহাম্মদ মুহিব্বুদ্দীন আবু যাইদ
শুক্রবার, ২৯ সফর ১৪৩৭ হিজরি
১১ ডিসেম্বর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ترجمة الإمام الرامهرمزي (1)•
اسمه ونسبه وموطنه:هو القاضي الحافظ أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الدورقي الفارسي الرامهرمزي.
والرَّامَهُرْمُزي: بفتح الراء والميم بينهما الألف وضم الهاء وسكون الراء الأخرى وضم الميم وفي آخرها الزاي، هذه النسبة إلى رامهرمز، وهي إحدى كور الأهواز من بلاد خوزستان.
•
مولده:لم أجد من ذكر تاريخ ولادته، ولكن ذكر الرامهرمزي
(2) أنه سمع من سهل بن موسى النجيرمي ومحمد بن الحسن بن بندار وهما من أهل رامهرمز سنة (289 هـ)، ورجح الدكتور عجاج الخطيب في مقدمته (ص: 11) أنه وُلد في حدود سنة (265 هـ)، والله أعلم.
--------------------------------------------
ইমাম রামাহুরমুজীর জীবনী(১)•
তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও আবাসস্থল:তিনি হলেন আল-কাদি, হাফেজ (الحافظ) আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আদ-দাওরাকি আল-ফারিসি আর-রামাহুরমুজী।
আর-রামাহুরমুজী: 'রা' এবং 'মিম' জবরযুক্ত (ফাতহা) এবং এ দুটির মাঝে একটি আলিফ রয়েছে, 'হা' পেশযুক্ত (দম্মাহ), দ্বিতীয় 'রা' সাকিন এবং 'মিম' পেশযুক্ত এবং এর শেষে রয়েছে 'যা'। এই নিসবত (النسبة) বা উপাধিটি রামাহুরমুজ এর সাথে সম্পর্কিত, যা খুজিস্তান অঞ্চলের আহওয়াজের একটি অন্যতম জেলা।
•
তাঁর জন্ম:আমি এমন কাউকে খুঁজে পাইনি যিনি তাঁর জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন, তবে রামাহুরমুজী নিজে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ২৮৯ হিজরি সনে সাহল ইবনে মুসা আন-নুজাইরমি এবং মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে বুন্দার থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, তাঁরা উভয়েই রামাহুরমুজের অধিবাসী ছিলেন। ড. আজ্জাজ আল-খাতিব তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা: ১১) এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, তিনি আনুমানিক ২৬৫ হিজরি সনের দিকে জন্মগ্রহণ করেছেন। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
•
نشأته وطلبه للعلم:نشأ الرامهرمزي في بيت علم وفضل، فقد كان والده قاضيًا عالمًا محدثًا، من شيوخ الطبراني، وقد سمع الرامهرمزي من والده أحاديث كثيرة، أورد في هذا الكتاب عددًا منها، كما كانت لوالده كتب كثيرة استفاد منها، حيث نراه يقول: قرأت في بعض كتب والدي عن القاسم بن نصر المخرِّمي
…(1).
وقد سمع الحديث من مشايخ بلده، ثم رحل قبل سنة (290 هـ)
(2) وكتب عن جماعة من أهل شيراز، ورحل إلى الحجاز والعراق وبلاد فارس وغيرها من النواحي.
وقد أورد الرامهرمزي في هذا الكتاب عددًا من الحكايات تصف لنا حياته العلمية ومجالسه الزاخرة بالسؤالات والمذاكرات والمناقشات العلمية بينه وبين أساتذته وأقرانه فمن ذلك:
قال الرامهرمزي: قال لي أبو عبد الله بن البري يومًا: أبو عبد الله، عن أبي عروة، عن أبي الخطاب، عن أبي حمزة، من هم؟ قلت: لا أدري. قال: الثوري، عن معمر، عن قتادة، وأبو حمزة لو قال قائل: كان أنس بن مالك. فهذا سألني عنه أبو عبد الله بن البري مفيدًا على وجه الاختبار
(3).
--------------------------------------------
তাঁর লালন-পালন ও ইলম অন্বেষণ:রামহুরমুজি জ্ঞান ও মর্যাদাপূর্ণ এক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন বিচারক (قاضي), আলিম (عالم) এবং হাদিস বিশারদ (محدث); তিনি তাবারানির অন্যতম উস্তাদ (شيخ) ছিলেন। রামহুরমুজি তাঁর পিতার নিকট থেকে অনেক হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন এবং এই কিতাবে তাঁর বেশ কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তাঁর পিতার কাছে অনেক কিতাব ছিল যা থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন। আমরা তাঁকে বলতে দেখি: "আমি আমার পিতার কিছু কিতাবে আল-কাসিম ইবনে নাসর আল-মাখরামি থেকে পাঠ করেছি
...(১)।
তিনি তাঁর নিজ শহরের উস্তাদদের (مشايخ) থেকে হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন। অতঃপর ২৯০ হিজরির
(২) পূর্বে ইলম অর্জনে সফর (رحل) করেন এবং শিরাজের একদল বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিস লিখে নেন। এরপর তিনি হিজাজ, ইরাক, পারস্য এবং অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণ করেন।
রামহুরমুজি এই কিতাবে এমন কিছু কাহিনী উল্লেখ করেছেন যা আমাদের কাছে তাঁর ইলমি জীবন এবং তাঁর উস্তাদ ও সমসাময়িকদের সাথে প্রশ্ন-উত্তর, পর্যালোচনা (مذاكرة) এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্কের মজলিসগুলোর চিত্র তুলে ধরে। এর মধ্যে একটি হলো:
রামহুরমুজি বলেন: একদিন আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল বাররি আমাকে বললেন: "আবু আব্দুল্লাহ, আবু উরওয়াহ থেকে, তিনি আবু আল-খাত্তাব থেকে, তিনি আবু হামজা থেকে—এঁরা কারা?" আমি বললাম: "আমি জানি না।" তিনি বললেন: "(এরা হলেন) সাওরি, মা’মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে; আর আবু হামজা সম্পর্কে যদি কেউ বলে যে তিনি আনাস ইবনে মালিক (তবে তাও সম্ভব)।" আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল বাররি আমাকে পরীক্ষার (اختبار) ছলে শেখানোর জন্য এই প্রশ্নটি করেছিলেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال أيضًا بعد أن ذكر حكاية عن سعيد بن أبي مريم في الأسماء المشكلة: حدثتُ بعض أصحابنا بهذه الحكاية فقال: هلم نتذاكر الأسماء المشكلة، فجلسنا نعدها، وكثرت، فاجتمعنا على أن أشكلها ما تقاربت عصور أهله، واتفقت صورها، واختلفت حروفها وذلك مثل
…(1).
وقال: وكنا عند عبد الله بن أحمد بن موسى عبدان يومًا وهو يحدثنا، وأبو العباس بن سريج حاضر، فقال عبدان: من دعي فلم يَجب فقد عصى الله ورسوله. ففتح الياء من قوله «يَجب»، فقال له ابن سريج: إن رأيت أن تقول: «يُجب» يعني بضم الياء، فأبى عبدان أن يقول، وعجب من صواب ابن سريج، كما عجب ابن سريج من خطئه
(2).
وقال أيضًا: وحضرت القاسم المطرز، فحدثنا عن أبي همام أو غيره، عن الوليد، عن سفيان حديثًا، فقال له أبو طالب بن نصر: من سفيان هذا؟ فقال له المطرز: هذا الثوري. فقال له أبو طالب: بل هو ابن عيينة. قال: من أين قلت؟ قال: لأن الوليد روى عن الثوري أحاديث معدودة محفوظة، وهو مليء بابن عيينة، وسفيان الثوري أكبر وأقدم، وابن عيينة أسند
(3).
وروى الرامهرمزي أثرًا في منع السماع، ثم قال: سألتُ أبا عبد الله الزبيري عن هذا، فقال: لا يجيء في هذا الباب حكم أحسن من هذا
…(4).
--------------------------------------------
এবং তিনি সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে জটিল নামসমূহ (الأسماء المشكلة) সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণনা করার পর আরও বলেছেন: "আমি আমার কিছু সঙ্গীকে এই ঘটনাটি বর্ণনা করলাম, তখন তিনি বললেন: এসো আমরা জটিল নামসমূহ (الأسماء المشكلة) নিয়ে আলোচনা করি। অতঃপর আমরা বসে সেগুলো গণনা করতে লাগলাম এবং তা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল। আমরা এই ব্যাপারে একমত হলাম যে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জটিল হলো যা সমসাময়িক ব্যক্তিদের নামের ক্ষেত্রে ঘটে, যেগুলোর লিপি একই রকম কিন্তু অক্ষরগুলো ভিন্ন। যেমন
…(১)।
তিনি আরও বলেন: একদিন আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা আবদান-এর নিকট ছিলাম এবং তিনি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করছিলেন, আর আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজও উপস্থিত ছিলেন। তখন আবদান বললেন: 'যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে কিন্তু সে সাড়া দেয়নি, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হলো।' তিনি তার বক্তব্যে 'ইজাব' (يَجب) শব্দের 'ইয়া' বর্ণে ফাতহা (জবর) ব্যবহার করেছিলেন। তখন ইবনে সুরাইজ তাকে বললেন: 'যদি আপনি সমীচীন মনে করেন তবে বলতে পারেন: 'ইউজাব' (يُجب) অর্থাৎ ইয়া-তে দম্মা (পেশ) দিয়ে।' কিন্তু আবদান তা বলতে অস্বীকার করলেন। তিনি ইবনে সুরাইজের সঠিক উচ্চারণে বিস্মিত হলেন, যেমনটি ইবনে সুরাইজ তাঁর ভুলের কারণে বিস্মিত হয়েছিলেন
(২)।
তিনি আরও বলেন: আমি আল-কাসিম আল-মুতাররিজের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের নিকট আবু হাম্মাম বা অন্য কারো সূত্রে, ওয়ালিদ থেকে, সুফিয়ানের সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেন। তখন আবু তালিব বিন নাসর তাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'এই সুফিয়ান কে?' মুতাররিজ তাকে বললেন: 'তিনি হলেন আস-সাওরি।' তখন আবু তালিব তাকে বললেন: 'না, বরং তিনি ইবনে উয়ায়নাহ।' মুতাররিজ জিজ্ঞেস করলেন: 'আপনি এটি কিসের ভিত্তিতে বললেন?' তিনি উত্তর দিলেন: 'কারণ ওয়ালিদ আস-সাওরি থেকে হাতেগোনা কিছু সংরক্ষিত (محفوظة) হাদিস বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি ইবনে উয়ায়নাহর বর্ণনায় সমৃদ্ধ। আর সুফিয়ান আস-সাওরি বয়সে বড় ও প্রবীণ, তবে ইবনে উয়ায়নাহর সনদ অধিক উচ্চ (أسند)'
(৩)।
আর রামহুরমুজি শ্রবণ (السماع) নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কে একটি বর্ণনা (أثر) বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-জুবায়রিকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: 'এই অনুচ্ছেদে এর চেয়ে উত্তম কোনো বিধান (حكم) নেই
…(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
•
شيوخه:للرامهرمزي شيوخ كثيرون، حتى قال الرشيد العطار في «نزهة الناظر» (ص: 52): «في شيوخه كثرةٌ». وفيما يلي قائمة بأسماء بعض شيوخه:
1 - والده عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي.
2 - محمد بن عبد الله الحضرمي مُطيَّن.
3 - محمد بن عثمان بن أبي شيبة.
4 - زكريا بن يحيى الساجي.
5 - موسى بن هارون الحمَّال.
6 - أبو خليفة الفضل بن الحُبَاب الجمحي.
7 - جعفر بن محمد الفريابي.
8 - عبدان بن أحمد الأهوازي.
9 - أبو القاسم البغوي.
10 - أبو حصين الوادعي قاضي الكوفة.
11 - عبد الله بن أحمد بن معدان الغَزَّاء.
12 - يوسف بن يعقوب القاضي.
13 - أبو شعيب الحراني.
•
তাঁর শায়খগণ (شيوخ):রামহুরমুযীর বহুসংখ্যক শায়খ (شيوخ) রয়েছেন, এমনকি রশিদ আল-আত্তার ‘নুজহাতুন নাজির’ (পৃষ্ঠা: ৫২) গ্রন্থে বলেছেন: “তাঁর শায়খদের (شيوخ) সংখ্যা অনেক।” নিম্নে তাঁর কয়েকজন শায়খের (شيوخ) নামের তালিকা প্রদান করা হলো:
1 - তাঁর পিতা আব্দুর রহমান বিন খাল্লাদ আল-রামহুরমুযী।
2 - মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি মুতাইয়্যান।
3 - মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবু শায়বাহ।
4 - যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-সাজি।
5 - মুসা বিন হারুন আল-হাম্মাল।
6 - আবু খলিফা আল-ফাদল বিন আল-হুবাব আল-জুমাহি।
7 - জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবি।
8 - আবদান বিন আহমদ আল-আহওয়াযি।
9 - আবু আল-কাসিম আল-বাগাওয়ি।
10 - আবু হুসাইন আল-ওয়াদিয়ি, কুফার বিচারক।
11 - আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মা'দান আল-গাযযা।
12 - ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাদি।
13 - আবু শুআইব আল-হাররানি।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
14 - أحمد بن هارون البرديجي.
15 - عبد الله بن الصقر السكري.
16 - المفضل بن محمد الجندي.
17 - عبيد بن غنام النخعي.
18 - الحسن بن المثنى العنبري.
•
تلاميذه:روى عنه تلاميذ كثيرون، منهم:
1 - أبو الحسين محمد بن أحمد بن جميع الصيداوي الغساني في «معجمه»
(1).
2 - أبو بكر أحمد بن موسى بن مردويه.
3 - أبو علي المحسن بن علي التنوخي
(2).
4 - الحسن بن الليث الشيرازي الحافظ.
5 - القاضي أبو عبد الله أحمد بن إسحاق بن خربان النهاوندي.
6 - أبو أحمد عبد الرحمن بن أحمد بن محمد الرشيقي.
7 - أبو القاسم عبد الله بن أحمد بن علي بن طالب البغدادي.
--------------------------------------------
১৪ - আহমাদ ইবনে হারুন আল-বারদিজি।
১৫ - আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাকর আস-সুক্কারি।
১৬ - আল-মুফাদ্দাল ইবনে মুহাম্মদ আল-জুন্দি।
১৭ - উবাইদ ইবনে গান্নাম আন-নাখায়ি।
১৮ - আল-হাসান ইবনে আল-মুসান্না আল-আনবারি।
•
তাঁর ছাত্রগণ:তাঁর থেকে অনেক ছাত্র বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে জামি' আস-সাইদাউয়ি আল-গাসসানি তাঁর «মু'জাম» গ্রন্থে।
(১)২ - আবু বকর আহমাদ ইবনে মুসা ইবনে মারদুওয়াইহ।
৩ - আবু আলি আল-মুহসিন ইবনে আলি আত-তানুখি।
(২)৪ - আল-হাসান ইবনে আল-লায়স আশ-শিরাজি হাফিজ (حافظ)।
৫ - আল-কাদি আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খারবান আন-নাহাওয়ান্দি।
৬ - আবু আহমাদ আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আর-রাশিকি।
৭ - আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আলি ইবনে তালিব আল-বাগদাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
•
مكانته العلمية والمناصب التي تقلدها وثناء العلماء عليه:وَلِيَ الرامهرمزي القضاء ببلاد خوزستان، وكان من أقران القاضي التنوخي، وذكر المحسن بن علي التنوخي أنه كان خليفة لأبيه على القضاء
(1).
وللرامهرمزي مكانة رفيعة عند أهل العلم، فقد أثنوا عليه، وشهدوا له بالتقدم في علوم الحديث والأدب والشعر وغيرها، فمن ذلك:
قال ابن إسحاق النديم: «قاضٍ حسن التأليف، مليح التصنيف، يسلك طريقة الجاحظ، قال لي ابن سوار الكاتب: إنه شاعر. وقد كان سمع الحديث ورواه».
وقال السمعاني: «كان فاضلًا مكثرًا من الحديث، ولي القضاء ببلاد الخوز».
وقال الرشيد العطار: «كان أحد العلماء المرضيين، وأعيان المحدثين، وأكابرهم المصنفين».
وقال الذهبي: «الرامهرمزي الإمام الحافظ البارع، محدث العجم».
وقال أيضًا: «وكان من أئمة هذا الشأن، ومن تأمَّل كتابه في علم الحديث لاح له ذلك».
وقال أيضًا: «وكان أحد الأثبات، أخباريًّا شاعرًا».
--------------------------------------------
তাঁর ইলমি মর্যাদা, অধিষ্ঠিত পদসমূহ এবং তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:রামহুরমুজি খুজিস্তান অঞ্চলে বিচারকের (القضاء) দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কাজি আল-তানুখির সমসাময়িক ছিলেন। আল-মুহাসসিন ইবনে আলি আল-তানুখি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বিচারকার্যে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত ছিলেন
(1)।
আহলুল ইলমের নিকট রামহুরমজির উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। তাঁরা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রসমূহ, সাহিত্য, কাব্য ও অন্যান্য বিদ্যায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন। যেমন:
ইবনে ইসহাক আল-নাদিম বলেন: «তিনি ছিলেন উৎকৃষ্ট গ্রন্থ প্রণেতা ও চমৎকার সংকলক একজন বিচারক (قاضٍ)। তিনি আল-জাহিজের রচনাশৈলী অনুসরণ করতেন। লেখক ইবনে সাওয়ার আমাকে বলেছেন: তিনি একজন কবি ছিলেন। তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তা বর্ণনা (رواه) করেছেন।»
সামআনি বলেন: «তিনি ছিলেন একজন বিদ্বান এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (مكثر), তিনি খুজিস্তান অঞ্চলে বিচারকের (القضاء) দায়িত্ব পালন করেছেন।»
আল-রশিদ আল-আত্তার বলেন: «তিনি ছিলেন বরেণ্য আলেমদের অন্যতম, বিশিষ্ট মুহাদ্দিস (محدث) এবং শ্রেষ্ঠ গ্রন্থকারদের একজন।»
জাহাবি বলেন: «রামহুরমুজি ছিলেন ইমাম, সুদক্ষ হাফেজ (حافظ) এবং অনারবদের মুহাদ্দিস (محدث)।’»
তিনি আরও বলেন: «তিনি ছিলেন এই শাস্ত্রের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। যে কেউ হাদিস শাস্ত্রে তাঁর রচিত গ্রন্থটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, তার নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।»
তিনি আরও বলেন: «তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (أثبات) একজন, ইতিহাসবেত্তা ও কবি।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال أيضًا: «حافظ متقن، واسع الرحلة».
وقال أيضًا: «كتب وجمع وصنف، وساد أصحاب الحديث، وكتابه المذكور ينبئ بإمامته».
وقد مدح الرامهرمزيُّ عضد الدولة أبا شجاع بمدائح، وبينه وبين الوزير المهلَّبي وأبي الفضل ابن العميد مكاتبات ومجاوبات.
وبعد ذلك صار الرامهرمزي إلى أبي الفضل ابن العميد، فلما فتشه شدا منه علمًا غزيرًا، وقبس أدبًا كثيرًا، وقال الرامهرمزي: إن أعجب الأستاذ معرفتي صَحِبتُه وتعلقتُ به وأقمتُ عنده وبين يديه.
وكتب الرامهرمزي إلى منزله برامهرمز: بسم الله الرحمن الرحيم، قد وردتُ من الأستاذ الرئيس على ضياء باهر، وربيع زاهر، ومجلس قد استغرق جميعَ المحاسن، وحفَّ بالأشراف والأكارم، وجلساء أقرانٍ أعدادِ عامٍ، كأنهم نجوم السماء، من طالبيٍّ رخو المعاطف، صُلب المكاسر، جامعٍ إلى شرف الحسب دينًا وظُرفًا، وإلى كَرم المحتد حرمة وفضلًا، وكاتب حصيف، وشاعر مفلق، وسمير أنيق، وفقيه جَدِلٍ، وشجاع بطل:
كرام المساعي لا يَخاف جليسهم
… إذا نطق العوراء غَرْبَ لسان
إذا حُدِّثوا لم تخشَ سوءَ استماعهم
… وإن حَدَّثوا أدَّوْا بحُسن بيان
ووضعنا الزيارة حيث لا يُزري بنا كرمُ المزور، ولا يعاب الزور، يجدُّ الأستاذ عندي كل يوم مكرمة وميرة، تطويان مسافة الرجاء، وتتجاوزان غايات الشكر
তিনি আরও বলেছেন: "সংরক্ষণকারী (حافظ), সুনিপুণ (متقن), তিনি ব্যাপক সফরকারী ছিলেন।"
তিনি আরও বলেছেন: "তিনি লিখেছেন, সংগ্রহ করেছেন এবং সংকলন করেছেন; তিনি হাদিস বিশারদগণের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তাঁর উল্লেখিত গ্রন্থটি তাঁর ইমামতের (إمامة) সাক্ষ্য দেয়।"
রামাহুরমুজি আদুদুদ দাওলা আবু শুজাকে বিভিন্ন প্রশংসাবাক্যে ভূষিত করেছেন। তাঁর এবং উজির আল-মুহাল্লাবি ও আবুল ফজল ইবনুল আমিদের মধ্যে পত্রবিনিময় ও উত্তর-প্রত্যুত্তর চলত।
এরপর রামাহুরমুজি আবুল ফজল ইবনুল আমিদের নিকট গমন করেন। যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করলেন, তখন তাঁর নিকট থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করলেন এবং প্রচুর আদব ও শিষ্টাচার আহরণ করলেন। রামাহুরমুজি বলেন: যদি উস্তাদ আমার জ্ঞানে মুগ্ধ হন, তবে আমি তাঁর সাহচর্যে থাকব, তাঁর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করব এবং তাঁর নিকট ও তাঁর সামনে অবস্থান করব।
রামাহুরমুজি রামাহুরমুজে তাঁর নিজ বাড়িতে লিখেছিলেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমি প্রধান উস্তাদের নিকট উপস্থিত হয়েছি এমন এক উজ্জ্বল জ্যোতি, এক প্রস্ফুটিত বসন্ত এবং এমন এক মজলিসে যা সমস্ত সৌন্দর্যকে ধারণ করে আছে। সেখানে অভিজাত ও মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ পরিবেষ্টিত আছেন এবং সমসাময়িক এমন সব সাথী রয়েছেন যারা যেন আকাশের নক্ষত্ররাজি; তাদের মধ্যে আছেন তলেবি বংশীয় কোমল স্বভাবের অথচ দৃঢ়চেতা ব্যক্তি, যিনি উচ্চবংশীয় মর্যাদার সাথে দ্বীনদারি ও বুদ্ধিমত্তার এবং আভিজাত্যের সাথে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের সমন্বয় ঘটিয়েছেন; আরও আছেন বিচক্ষণ লেখক, অসামান্য কবি, মার্জিত সহচর, তার্কিক ফকিহ এবং বীর যোদ্ধা:<
তাঁরা মহৎ প্রচেষ্টাকারী, তাঁদের মজলিসে বসা ব্যক্তি ভীত হয় না
… যখন তীক্ষ্ণ জিহ্বা কোনো কটু কথা উচ্চারণ করে।
যখন তাঁদেরকে কোনো কথা বলা হয়, তখন তাঁদের অমনোযোগিতার আশঙ্কা থাকে না
… আর যখন তাঁরা কথা বলেন, তখন তা অতি উত্তম বর্ণনায় উপস্থাপন করেন।
আমরা আমাদের এই সাক্ষাতের বিষয়টিকে এমন এক স্তরে ন্যস্ত করেছি যেখানে যাঁকে দেখতে যাওয়া হয়েছে তাঁর মহানুভবতা আমাদের লজ্জিত করে না, আর সাক্ষাৎকারীকেও দোষারোপ করা হয় না। উস্তাদ প্রতিদিন আমার নিকট থেকে নতুন সম্মান ও পাথেয় লাভ করেন, যা আশার দূরত্বকে ঘুচিয়ে দেয় এবং কৃতজ্ঞতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যায়।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والثناء، والبشر والدعاء، فزاد الله في تبصيره حقوق زوّاره، وتيسيري لشكر مبارِّه
(1).
وقال القاضي الرامهرمزي: كتب إليَّ بعض وزراء الملوك يسألني إجازة كتاب ألفته لابن له، فكتبت الكتاب له ووقعت عليه:
يا أبا القاسم الكريم المحيا
… زانك الله بالتقى والرشاد
وتولاك بالكفاية والعزْ
… زِ وطول البقاء والإسعاد
إلى آخر الأبيات التي ذكرها
(2).
وقال أبو منصور الثعالبي مثنيًا على الرامهرمزي ومنوِّهًا بمكانته في الأدب: القاضي الرامهرمزي من أنياب الكلام وفرسان الأدب، وأعيان الفضل وأفراد الدهر، وجملة القضاة الموسومين بمداخلة الوزراء والرؤساء، وكان مختصًّا بابن العميد، تجمعهما كلمة الأدب ولُحمة العلم، وتجري بينهما مكاتبات بالنثر والنظم، وهكذا كانت حاله مع المهلَّبي الوزير، وهو الكاتب إليه لما استوزر:
الآن حين تعاطى القوسَ باريها
… وأبصر السمتَ في الظلماء ساريها
الآن عاد إلى الدنيا مُهلَّبها
… سيفُ الوزارة بل مصباح داجيها
تضحي الوزارةُ تُزهى في مواكبها
… زهو الرياض إذا جاءت غواديها
--------------------------------------------
...এবং প্রশংসা, প্রফুল্লতা ও দোয়া, সুতরাং আল্লাহ তাঁর যিয়ারতকারীদের হকের ব্যাপারে তাঁর দূরদৃষ্টি বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর কল্যাণসমূহের শুকরিয়া জ্ঞাপনকে আমার জন্য সহজ করে দিন।
(১)এবং কাজি রামাহুরমুজি বলেছেন: বাদশাহদের জনৈক উজির তাঁর এক পুত্রের জন্য আমার রচিত একটি বইয়ের অনুমতি (إجازة) প্রার্থনা করে আমার কাছে পত্র লিখলেন। আমি তাঁর জন্য বইটি লিখলাম এবং তাতে স্বাক্ষর করলাম:
হে সুন্দর চেহারার অধিকারী সম্মানিত আবুল কাসিম!
… আল্লাহ আপনাকে তাকওয়া ও সঠিক পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে ভূষিত করুন।
তিনি পর্যাপ্ততা ও সম্মানের সাথে আপনার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন
… এবং আপনাকে দীর্ঘায়ু ও সৌভাগ্য দান করুন।
তাঁর উল্লেখিত কবিতাগুলোর শেষ পর্যন্ত।
(২)এবং আবু মনসুর আস-সাআলিবি রামাহুরমুজির প্রশংসা করে এবং সাহিত্যে তাঁর উচ্চ মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: কাজি রামাহুরমুজি হলেন বাগ্মিতার প্রধান পুরুষদের একজন, সাহিত্যের অশ্বারোহী, ফদিলতের বিশিষ্টজন এবং যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি উজির ও প্রধানদের সাথে মেলামেশার জন্য পরিচিত কাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ইবনুল আমিদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, সাহিত্য ও জ্ঞান তাদের দুজনকে একত্রিত করেছিল এবং তাদের মাঝে গদ্য ও পদ্যে পত্রবিনিময় চলত। উজির মুহাল্লাবির সাথেও তাঁর অবস্থা এমনই ছিল; তিনি মুহাল্লাবিকে লিখেছিলেন যখন তিনি উজির নিযুক্ত হয়েছিলেন:
এখন সময় হয়েছে যখন ধনুক তার যোগ্য নির্মাতার হাতে এসেছে
… আর অন্ধকার রাতে পথচারী তার সঠিক পথের দিশা পেয়েছে।
এখন পৃথিবীতে তার মুহাল্লাবি ফিরে এসেছে
… যিনি উজির পদের তলোয়ার, বরং অন্ধকারের প্রদীপ স্বরূপ।
উজির পদটি তার শোভাযাত্রায় এমন গর্বিত হবে
… যেমন গর্বিত হয় বাগান যখন সেখানে সকালের মেঘমালা বারিবর্ষণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تاهت علينا بميمونٍ نقيبتُه
… قلَّتْ لمقداره الدنيا وما فيها
معز دولتها هنئتَها فلقد
… أيدتها بوثيقٍ من رواسيها
فأجابه المهلَّبي بهذه الأبيات:
مواهب الله عندي ما يدانيها
… سعيٌ ومجهودُ وُسْعِي لا يوازيها
واللهَ أسأل توفيقًا لطاعته
… حتى يوافق فعلي أمرَه فيها
وقد أتتنيَ أبيات مهذَّبة
… ظريفة جزلةٌ رقَّتْ حواشيها
ضَمَّنْتَها حُسنَ إبداعٍ وتهنئةً
… أنت المهنَّى بباديها وتاليها
فثِقْ بنيل المنى في كل منزلة
… أصبحتَ تعمرها مني وتبنيها
فأنت أول موثوق بنيته
… وأقرب الناس من حال ترجِّيها
ومن مُلح ابن خلاد الرامهرمزي قوله في نفسه:
قل لابن خلَّاد إذا جئتَه
… مستندًا في المسجد الجامعْ
هذا زمان ليس يحظى به
… حدثنا الأعمش عن نافعْ
وقوله وقد طولب بالخَراج:
يا أيها المكثر فينا الزَّمْجره
… ناموسُه دفتره والمحبرهْ
قد أبطل الديوان كُتْبَ السحره
… والجامِعَيْن وكتاب الجمهرهْ
هيهات لن يعبر تلك القنطره
… نحو الكسائيِّ وشعر عنترهْ
ودغفل وابن لسان الحمَّره
… ليس سوى المنقوشة المدوَّرهْ
এক কল্যাণময় স্বভাবের অধিকারী আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন
… তাঁর মর্যাদার তুলনায় এই দুনিয়া ও এতে যা কিছু আছে তা নগণ্য।
হে মুইজ্জুদ্দৌলা, আপনি এর জন্য মোবারকবাদ গ্রহণ করুন, কেননা
… আপনি একে এর সুদৃঢ় পাহাড়ের ন্যায় ভিত্তি দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।
অতঃপর মুহাল্লাবী তাকে এই কবিতাগুলোর মাধ্যমে উত্তর দিলেন:
আমার প্রতি আল্লাহর দানসমূহ এমন যে কোনো কিছুই তার ধারেকাছে পৌঁছাতে পারে না
… আমার প্রচেষ্টা ও সাধনা তার সমকক্ষ হতে পারে না।
আমি আল্লাহর নিকট তাঁর আনুগত্যের তাওফিক প্রার্থনা করি
… যাতে আমার কর্ম তাঁর আদেশের অনুকূলে হয়।
আমার নিকট কিছু মার্জিত পংক্তি এসেছে
… যা অত্যন্ত চমৎকার, গম্ভীর এবং যার শব্দশৈলী অত্যন্ত সুনিপুণ।
আপনি এতে সৃজনশীলতা ও অভিনন্দনের সমাবেশ ঘটিয়েছেন
… এর শুরু এবং শেষ উভয় ক্ষেত্রেই আপনিই অভিনন্দিত হওয়ার যোগ্য।
সুতরাং প্রতিটি স্তরে আপনার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন
… যা আপনি আমার পক্ষ থেকে আবাদ ও নির্মাণ করছেন।
কেননা আপনিই প্রথম নির্ভরযোগ্য (موثوق) ব্যক্তি যার নিয়তের ওপর আস্থা রাখা যায়
… এবং আপনিই মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা পূরণের অবস্থার সবচেয়ে নিকটবর্তী।
ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুযীর নিজের সম্পর্কে বলা কৌতুকপূর্ণ পংক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইবনে খাল্লাদকে বলো যখন তুমি জামে মসজিদে
… হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় তার কাছে যাবে:
এটি এমন এক যুগ যেখানে ‘আমাদের নিকট আ’মাশ নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)’—
… এর মাধ্যমে কোনো মর্যাদা বা সফলতা লাভ করা যায় না।
এবং তাঁর উক্তি যখন তাঁর নিকট ভূমি রাজস্ব দাবি করা হয়েছিল:
হে সেই ব্যক্তি, যে আমাদের মাঝে উচ্চস্বরে গর্জন করছ
… যার প্রভাব কেবল তার খাতা ও দোয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
দিওয়ান বা প্রশাসনিক দপ্তর জাদুকরদের কিতাবসমূহকে বাতিল করে দিয়েছে
… এমনকি দুটি জামি গ্রন্থ এবং কিতাবুল জমহুরাহ-কেও।
অসম্ভব! সে কখনো সেই সেতু পার হতে পারবে না
… আল-কিসায়ী এবং আন্তারাহর কবিতার দিকে।
তেমনি দাগফাল এবং ইবনে লিসানুল হাম্মারার দিকেও নয়
… এখন গোলাকার খোদাই করা মুদ্রা ছাড়া আর কিছুর মূল্য নেই।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقوله:
غناء قليل مالك ومحمد
… إذا اختلفت سُمر القنا في المعارك
تجمَّل بمال واغْدُ غير مُذمَّم
… بمِشراط حجَّام ومنوال حائكِ
(1) •
زهده وصلاحه:كان الرامهرمزي ملازمًا لمنزله قليل البروز لحاجته، وقيل له في ذلك، فروى عن أبي الدرداء: نعم صومعة الرجل بيته، يكفُّ فيه سمعه وبصره.
وروى عن ابن سيرين أنه قال: العزلة عبادة.
وقال: خلاؤك أقنى لحيائك. وقال: عزُّ الرجل في استغنائه عن الناس، والوحدة خير من جليس السوء، وأنشد لابن قيس الرقيات:
اهرب بنفسك واستأنس بوحدتها
… تلقَ السعود إذا ما كنت منفردا
ليتَ السباعَ لنا كانت معاشرة
… وأننا لا نرى ممن نرى أحدا
إنَّ السباع لتهدا في مرابضها
… والناس ليس بهادٍ شرُّهم أبدا
(2) •
مصنفاته:أورد له ابن إسحاق النديم عددًا من الكتب، وهي:
1 - ربيع المتيم في أخبار العشاق.
--------------------------------------------
এবং তাঁর উক্তি:
মালিক ও মুহাম্মাদের সামান্য ঐশ্বর্যই যথেষ্ট … যখন যুদ্ধের ময়দানে বল্লমসমূহ একে অপরের মুখোমুখি হয়
ধন-সম্পদ দ্বারা নিজেকে সুশোভিত করো এবং অনিন্দিত অবস্থায় ভোর অতিবাহিত করো … একজন হাজ্জামের ক্ষুর ও একজন তাঁতির তাঁত বুননের যন্ত্রের সাহায্যে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা হলেও।
(১)
•
তাঁর যুহদ (তপস্যা) ও নেক আমল:
আর-রামাহুরমুযী সাধারণত নিজ গৃহেই অবস্থান করতেন এবং প্রয়োজনে খুব সামান্যই বাইরে বের হতেন। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন: "ব্যক্তির জন্য তার গৃহই সর্বোত্তম নির্জন কক্ষ, যেখানে সে তার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিকে (অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে) সংযত রাখতে পারে।"
তিনি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "নির্জনতা অবলম্বন একটি ইবাদত।"
তিনি আরও বলতেন: "তোমার একাকীত্ব তোমার লজ্জাশীলতাকে অধিক হেফাযতকারী।" এবং বলতেন: "মানুষের মুখাপেক্ষী না হওয়ার মধ্যেই ব্যক্তির সম্মান নিহিত, আর একাকীত্ব অসৎ সঙ্গীর চেয়ে উত্তম।" তিনি ইবনে কায়স আল-রুকাইয়্যাত-এর কবিতা আবৃত্তি করতেন:
নিজেকে নিয়ে নির্জনে চলে যাও এবং একাকীত্বে প্রশান্তি খোঁজো … তুমি যখন একাকী থাকবে তখনই সৌভাগ্য লাভ করবে।
হায়! যদি বন্য পশুরা আমাদের সঙ্গী হতো … আর আমরা যাদের দেখছি তাদের কাউকে যদি দেখতে না হতো।
নিশ্চয়ই বন্য পশুরা তাদের আবাসে শান্ত থাকে … কিন্তু মানুষের অনিষ্ট কখনো প্রশমিত হয় না।
(২)
•
তাঁর রচনাবলী:
ইবনে ইসহাক আন-নাদীম তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:
১ - রাবিউল মুতাইয়্যাম ফি আখবারিল উশশাক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
2 - الفلك
(1) في مختار الأخبار والأشعار.
3 - أمثال النبي صلى الله عليه وسلم.
4 - الريحانتين
(2) الحسن والحسين عليهما السلام.
5 - إمام التنزيل في القرآن.
6 - النوادر والشوارد.
7 - أدب الناطق.
8 - الرثاء والتعازي.
9 - رسالة السفر.
10 - الشيب والشباب.
11 - أدب الموائد.
12 - المناهل والأعطان والحنين إلى الأوطان.
زاد ياقوت الحموي:
13 - كتاب مباسطة الوزراء.
14 - الفاصل بين الراوي والواعي. وهو كتابنا هذا.
--------------------------------------------
২ - আল-ফুলুক
(১) ফী মুখতারিল আখবার ওয়াল আশআর।
৩ - আমসালুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
৪ - আর-রাইহানাতাইন
(২) হাসান ও হোসাইন আলাইহিমাস সালাম।
৫ - ইমামুত তানযীল ফিল কুরআন।
৬ - আন-নাওয়াদির ওয়াশ-শাওয়াদির।
৭ - আদাবুন নাতিক।
৮ - আর-রিসা ওয়াত তাআযি।
৯ - রিসালাতুস সাফার।
১০ - আশ-শাইব ওয়াশ শাবাব।
১১ - আদাবুল মাওয়াইদ।
১২ - আল-মানাহিল ওয়াল আওতান ওয়াল হানীন ইলাল আওতান।
ইয়াকুত আল-হামাউয়ি আরও সংযোজন করেছেন:
১৩ - কিতাবু মুবাসাতাতিল উযারা।
১৪ - আল-ফাসিল বাইনার রাওয়ি (বর্ণনাকারী - الراوي) ওয়াল ওয়াঈ। আর এটিই আমাদের এই গ্রন্থ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
•
وفاته:توفي الرامهرمزي في حدود سنة (360 هـ) برامهرمز.
ولما توفي رثاه صديق له بقصيدة في نهاية الحُسن أولها:
همم النفوس قصارهن هموم
… وسرور أبناء الزمان غمومُ
ومصير ذي الأمل الطويل وإن حوى
… أقصى المنى حتف عليه يحومُ
وسعادة الإنسان على استحلائها
… مر وعَقد وفائها مذمومُ
وسنيحها برح وخَصب ربيعها
… جدب وناصعُ عيشها مسمومُ
لا سعدها يبقى ولا لأواؤها
… يفنى ولا فيها النعيم مقيمُ
محسودها مرحومها ورئيسها
… مرءوسها ووجودها معدومُ
وبقاؤها سبب الفناء ووعدها
… إبعادها وودادها مصرومُ
أما الصحيح فإنه من خوف ما
… يعتاده من سقمه لسقيمُ
وسليمها طي السلامة دائبًا
… يرنو إلى الآفات وهو سليمُ
وغنيها حذر الحوادث والردى
… في ظل أكناف اليسار عديمُ
سيِّان في حكم الحِمام وريبه
… عند التناهي جاهل وعليمُ
أودى ابن خلاد قريع زمانه
… بحر العلوم وروضها المرهومُ
(1)لو كان يعرف فضلَه صرفُ الردى
… لانحاز عنه ونابُه مثلومُ
عظمت فوائد علمه في دهره
… فمصابه في العالمين عظيمُ
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:রামহুরমুজি আনুমানিক ৩৬০ হিজরি সনে রামহুরমুজে মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর এক বন্ধু অত্যন্ত চমৎকার একটি শোকগাথা রচনা করেন, যার প্রারম্ভ ছিল নিম্নরূপ:
প্রাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষাসমূহের শেষ পরিণতি হলো দুশ্চিন্তা
… আর যুগের সন্তানদের আনন্দসমূহ হলো বিষাদ
দীর্ঘ আশাধারীর পরিণাম, যদিও সে অর্জন করে ফেলে
… তার চরম আকাঙ্ক্ষা, তবুও মৃত্যু তার চারদিকে ঘুরপাক খেতে থাকে
মানুষের সুখ আস্বাদনে মিষ্ট মনে হলেও
… তা আসলে তিক্ত এবং তার স্থায়িত্বের অঙ্গীকার হলো নিন্দনীয়
এর সৌভাগ্য হলো দুর্ভাগ্যের নামান্তর এবং এর বসন্তের সজীবতা
… হলো অনাবৃষ্টি, আর এর নির্মল জীবন হলো বিষাক্ত
না এর সুখ অবশিষ্ট থাকে, আর না এর কষ্ট
… নিঃশেষ হয়; আর না এতে নেয়ামত চিরস্থায়ী হয়
এর ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিই আসলে দয়ার পাত্র এবং এর অধিপতি
… মূলত অধীনস্থ, আর এর অস্তিত্ব আসলে অনস্তিত্বের নামান্তর
এর স্থায়িত্বই হলো বিনাশের কারণ এবং এর প্রতিশ্রুতি
… হলো কেবল দূরত্ব তৈরি করা এবং এর হৃদ্যতা ছিন্নযোগ্য
আর সুস্থ (صحيح) ব্যক্তির অবস্থা তো এমন যে, সে আশঙ্কিত থাকে
… তার পরিচিত ব্যাধির ভয়ে, যেন সে আসলে একজন অসুস্থই
এর নিরোগ ব্যক্তিটি অবিরত সুস্থতার আবরণে থেকেও
… বিপদাপদের দিকে চেয়ে থাকে অথচ সে তখন সুস্থই
এর ধনী ব্যক্তিটি আপদ ও ধ্বংসের ভয়ে তটস্থ
… সচ্ছলতার ছায়াতলে থেকেও সে মূলত রিক্ত
মৃত্যুর ফয়সালা এবং তার অনিশ্চয়তার বিচারে উভয়েই সমান
… জীবনের অন্তিমলগ্নে সে মূর্খ হোক কিংবা জ্ঞানী
বিদায় নিয়েছেন ইবনে খাল্লাদ, যিনি ছিলেন তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী
… ইলমের সমুদ্র এবং তার সিক্ত উদ্যান
(১)মৃত্যুর পরিবর্তন যদি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানত
… তবে সে তাঁর থেকে দূরে থাকত এবং তার দন্ত ভেঙে যেত
তাঁর সময়ে তাঁর ইলমের উপকারিতা ছিল সুমহান
… তাই বিশ্ববাসীর নিকট তাঁর বিদায় এক মহাবিপদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إقليم بابل لم يكن إلا به
… فاليوم ليس لبابل إقليمُ
أنى اهتدى ريب المنون لسائر
… فوق النجوم محله المرسومُ
ظَلم الزمان فبزَّ عنه كماله
… ومن العجائب ظالم مظلومُ
لا تعجبن من الزمان وغدره
… فحديث غدرات الزمان قديمُ
لو كان ينجو ماجد لتقيةٍ
… نجَّى ابنَ خلاد التُّقى والخِيمُ
(1)لكنه أمر الإله وحكمه
… وقضاؤه في خلقه المحتومُ
روض من الآداب غضٌّ زهرُه
… ركد الهجير عليه فهو هشيمُ
وحديقة لما تزل ثمراتها
… تُحَفَ الملوك أصابهن سمومُ
شمامة الوزراء حلو حديثه
… تحف لهم دون النديم نديمُ
ريحانة الكُتَّاب من ألفاظه
… يُتعلَّم المنثور والمنظومُ
أما العزاء فما يحل بساحتي
… والصبر عنك كما علمت ذميمُ
وإذا أردت تسليًا فكأنني
… فيما أدرت من السلوِّ مليمُ
فعليك ما غنَّى الحمام تحية
… ومع التحية نضرة ونعيمُ
(2) * * *
--------------------------------------------
ব্যাবিলন প্রদেশ কেবল তাঁর কারণেই (বৈভবে) ধন্য ছিল … অথচ আজ ব্যাবিলনের কোনো প্রদেশই অবশিষ্ট নেই।
কালচক্রের বিপর্যয় কীভাবে সেই পথিকের দিশা পেল … যাঁর সুনির্ধারিত স্থান ছিল নক্ষত্ররাজির ঊর্ধ্বে।
মহাকাল অবিচার করেছে এবং তাঁর পূর্ণতাকে ছিনিয়ে নিয়েছে … আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, জালেম নিজেই এখানে মাজলুম।
মহাকাল ও তার বিশ্বাসঘাতকতায় বিস্ময় প্রকাশ করো না … কেননা মহাকালের বিশ্বাসঘাতকতার হাদিস অতি প্রাচীন।
যদি কোনো মহান ব্যক্তি তাঁর তাকওয়ার কারণে রক্ষা পেতেন … তবে তাকওয়া ও সচ্চরিত্র ইবনে খাল্লাদকে রক্ষা করত।
(১)কিন্তু এটি মহান আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর হুকুম … এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর সুনির্ধারিত ফয়সালা।
সাহিত্যের এক কানন যার পুষ্পরাজি ছিল সতেজ … কিন্তু দুপুরের প্রচণ্ড উত্তাপ তার ওপর জেঁকে বসেছে, ফলে তা বিশুষ্ক তৃণে পরিণত হয়েছে।
এমন এক উদ্যান যার ফলসমূহ দীর্ঘকাল … রাজন্যবর্গের জন্য উপঢৌকন হিসেবে ছিল, কিন্তু তাতে বিষাক্ত তপ্ত হাওয়া আঘাত হেনেছে।
মন্ত্রীদের সুগন্ধি স্বরূপ, তাঁর হাদিস অত্যন্ত মিষ্ট … তাঁদের কাছে তিনি ছিলেন কোনো সতীর্থ ছাড়াই এক শ্রেষ্ঠ সঙ্গী।
লেখকদের সুগন্ধি গুলরাজ, যাঁর শব্দাবলি থেকে … গদ্য ও পদ্য শিক্ষা করা হয়।
শোক বা সান্ত্বনা আমার আঙিনায় ঠাঁই পায় না … আর তোমার বিরহে ধৈর্য ধারণ করা, যেমনটি তুমি জানো, অত্যন্ত নিন্দনীয়।
যদি আমি সান্ত্বনা পেতে চাই, তবে মনে হয় যেন আমি … বিরহের এই যাতনা ভুলে থাকার প্রচেষ্টায় তিরস্কারযোগ্য।
তোমার ওপর বর্ষিত হোক অভিবাদন যতক্ষণ ঘুঘু পাখি গান গায় … আর সেই অভিবাদনের সাথে থাকুক সজীবতা ও নেয়ামত।
(২) * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وصف الكتاب ومنهج مؤلفه فيهكتاب «المحدث الفاصل بين الراوي والواعي» للقاضي الرامهرمزي هو أقدم كتاب صُنِّف في علوم الحديث على الأرجح.
ويشير عنوان الكتاب إلى الفرق بين الراوي المجرد ومن يجمع إلى الرواية الوعي والدراية، ويؤكد الرامهرمزي هذا الفرق عندما يبين أن الراوي المجرد قد يسيء إلى أهل الحديث، قال القاضي: «وليس للراوي المجرد أن يتعرض لما لا يكمل له، فإن تركه ما لا يعنيه أولى به وأعذر له، وكذلك سبيل كل ذي علم، وكان حرب ابن إسماعيل السيرجاني، قد أكثر من السماع وأغفل الاستبصار، فعمل رسالة سماها «السنة والجماعة» تعجرف فيها، واعترض عليها بعض الكتبة من أبناء خراسان ممن يتعاطى الكلام، ويُذكر بالرياسة فيه والتقدم، فصنف في ثلب رواة الحديث كتابًا
… »
(1).
وقد افتتح الرامهرمزي كتابه بما يمكن أن يُعد سببًا لتأليف الكتاب، وهو قوله: «اعترضت طائفة ممن يشنأ الحديث ويبغض أهله، فقالوا بتنقُّص أصحاب الحديث والإزراء بهم، وأسرفوا في ذمهم والتقوُّل عليهم، وقد شرَّف الله الحديث وفضل أهله
… ».
فالذي دفع القاضي إلى تصنيف هذا الكتاب هو طعن أهل البدع والكلام في أصحاب الحديث، فأراد أن يدافع عنهم، ويذكر فضائلهم، وينوِّه بعظيم علمهم
--------------------------------------------
গ্রন্থের বিবরণ এবং এতে লেখকের পদ্ধতিকাজী রামাহুরমুজীর 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ী ওয়াল ওয়াঈ' গ্রন্থটি সম্ভবত হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) বিষয়ে রচিত প্রাচীনতম গ্রন্থ।
গ্রন্থের শিরোনামটি একজন নিছক বর্ণনাকারী (الراوي) এবং যিনি বর্ণনার পাশাপাশি গভীর বোধ ও প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে। রামাহুরমুজী এই পার্থক্যের ওপর জোর দেন যখন তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, একজন নিছক বর্ণনাকারী (الراوي) হাদিস বিশারদদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারেন। কাজী বলেন: "একজন নিছক বর্ণনাকারীর (الراوي) জন্য এমন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় যে বিষয়ে সে পূর্ণতা লাভ করেনি। কারণ অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করাই তার জন্য অধিকতর উত্তম ও সম্মানজনক। প্রত্যেক জ্ঞানীর পথও এমনই হওয়া উচিত। হারব ইবনে ইসমাইল আস-সিরজানী প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছিলেন কিন্তু অন্তর্দৃষ্টির প্রতি উদাসীন ছিলেন। ফলে তিনি 'আস-সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন যাতে তিনি ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন। এর ফলে খরাসানের এমন কিছু লেখক আপত্তি তোলেন যারা ইলমে কালাম (الكلام) চর্চা করত এবং এর নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরিচিত ছিল। ফলে তারা হাদিসের বর্ণনাকারীগণের (رواة) নিন্দায় একটি গ্রন্থ রচনা করে
… "
(১)।
রামাহুরমুজী তাঁর গ্রন্থটি এমন কিছু কথা দিয়ে শুরু করেছেন যা গ্রন্থটি রচনার কারণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। তিনি বলেন: "হাদিসের প্রতি বিদ্বেষী এবং এর অনুসারীদের ঘৃণা করে এমন একদল লোক আপত্তি তুলে হাদিস বিশারদদের মানহানি ও অবজ্ঞা করতে শুরু করেছে। তারা তাদের নিন্দায় এবং অপবাদ দেওয়ায় সীমা লঙ্ঘন করেছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা হাদিসকে সম্মানিত করেছেন এবং এর অনুসারীদের মর্যাদা দান করেছেন
… "।
মূলত বিদআতি সম্প্রদায় (أهل البدع) এবং ইলমে কালাম (الكلام) পন্থীদের পক্ষ থেকে হাদিস বিশারদদের ওপর যে আক্রমণ চালানো হয়েছিল, সেটিই কাজীকে এই গ্রন্থটি সংকলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে তিনি তাদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করতে, তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে এবং তাদের সুমহান জ্ঞানের কথা তুলে ধরতে চেয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وضبطهم وإتقانهم، ويبين أن عندهم من الفقه والدراية ما ليس عند غيرهم من الطاعنين عليهم.
ثم توجه إلى المحدثين ناصحًا لهم بأن يتفقهوا في الحديث ويتأدبوا بآدابه، وأن يتجنبوا ما يُعابون به، فقال: «فتمسكوا -جبركم الله- بحديث نبيكم صلى الله عليه وسلم، وتبينوا معانيه، وتفقهوا به، وتأدبوا بآدابه، ودعوا ما به تُعيَّرون من تتبُّع الطرق وتكثير الأسانيد، وتطلُّب شواذ الأحاديث، وما دلسه المجانين، وتبلبل فيه المغفلون، واجتهدوا في أن توفوه حقه من التهذيب والضبط والتقويم، لتشرفوا به في المشاهد، وتنطلق ألسنتكم في المجالس
… »
(1).
من أجل ذلك فقد ضمن كتابه مباحث في آداب طالب الحديث، وفضل من جمع بين الرواية والدراية، وكيفية كتابة الحديث وروايته، وغير ذلك.
إلا أني لم أجده قد راعى ترتيبًا معينًا لمباحث كتابه، ويمكن تقسيم مباحث الكتاب إلى خمسة محاور رئيسة:
المحور الأول: فضل أهل الحديث:أورد فيه مباحث في: بيان فضل أهل الحديث، وما قاموا به من جهد عظيم في سبيل الحفاظ على سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وأنهم جمعوا بين الرواية والدراية، وأن عندهم من العلم بأحوال الرواة وأسمائهم وأنسابهم وكناهم ومعاني الألفاظ والمتون ما
--------------------------------------------
এবং তাদের হেফজ বা সংরক্ষণ (ضبط) ও সঠিকতা (إتقান); তিনি আরও বর্ণনা করেন যে, তাদের নিকট এমন ফিকহ ও অনুধাবন (دراية) রয়েছে যা তাদের সমালোচনাকারীদের নিকট নেই।
এরপর তিনি হাদিসবিশারদদের প্রতি মনোনিবেশ করে উপদেশ প্রদান করলেন যে, তারা যেন হাদিসের ফিকহ অর্জন করে এবং এর আদবসমূহ মেনে চলে, আর যে বিষয়গুলোর কারণে তারা নিন্দিত হয় সেগুলো যেন বর্জন করে। তিনি বলেন: «আল্লাহ আপনাদের অবস্থার সংশোধন করুন—আপনারা আপনাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসকে আঁকড়ে ধরুন, এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করুন, এটি গভীরভাবে বুঝুন এবং এর শিষ্টাচার গ্রহণ করুন। আর যে বিষয়ের মাধ্যমে আপনারা নিন্দিত হন তা বর্জন করুন, যেমন: বিভিন্ন সূত্র (طرق) অনুসন্ধান করা, সনদ (أسانيد) বৃদ্ধি করা, বিচ্ছিন্ন (شاذ) হাদিসসমূহ তালাশ করা এবং জ্ঞানহীনরা যা প্রতারণাপূর্ণভাবে সংমিশ্রণ (تدليس) করেছে ও অসতর্ক ব্যক্তিরা যে বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়েছে। আপনারা একে পরিমার্জন, হেফজ বা সংরক্ষণ (ضبط) এবং সংস্কারের মাধ্যমে এর প্রাপ্য মর্যাদা প্রদানে সচেষ্ট হোন, যাতে আপনারা জনসমক্ষে এর দ্বারা সম্মানিত হতে পারেন এবং মজলিসগুলোতে আপনাদের জিহ্বা সাবলীল হয়
… »
(১)।
এই কারণেই তিনি তার কিতাবে হাদিস অন্বেষণকারীর আদব বা শিষ্টাচার, যিনি বর্ণনা (رواية) এবং অনুধাবনের (دراية) সমন্বয় করেছেন তার মর্যাদা, হাদিস লিখনের পদ্ধতি ও এর বর্ণনা (رواية) প্রদান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তবে আমি তাকে তার কিতাবের পরিচ্ছেদগুলোর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাস রক্ষা করতে দেখিনি। এই কিতাবের বিষয়বস্তুকে প্রধান পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা সম্ভব:
প্রথম ভাগ: আহলে হাদিসের মর্যাদা:এতে তিনি এমন কিছু পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন যাতে রয়েছে: আহলে হাদিসের মর্যাদার বর্ণনা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণের পথে তাদের মহান প্রচেষ্টা, বর্ণনা (رواية) ও অনুধাবনের (دراية) মাঝে তাদের সমন্বয় সাধন এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা, নাম, বংশপরিচয়, উপনাম, শব্দের অর্থ ও মূল পাঠ (متن) সম্পর্কে তাদের অগাধ জ্ঞান যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ليس عند غيرهم، ولا يشاركهم فيه أحد من أصحاب العلوم الأخرى، وذَكر المصنفين من رواة الفقه في الأمصار، وفي غضون ذلك مباحث قيمة في المؤتلف والمختلف، والمتفق والمفترق، والكنى، والأنساب، وغير ذلك.
المحور الثاني: آداب المحدث وطالب الحديث وأوصافهما:أورد فيه مباحث في: النية في طلب الحديث، والسِّن الذي إذا بلغه الطالب صلح أن يطلب فيه الحديث، والسن الذي يصلح معه للتحديث، والسن الذي يجب عنده الإمساك عن التحديث، والمنافسة في طلب الحديث، وكراهية كثرة الرواية، والتوقي فيها، وكراهية التحديث على غير طهارة، وعلى غير قرار، وما يتكلم به المحدث عند فراغه من التحديث، وكراهية رواية الأحاديث الغريبة المنكرة، واستثقال إعادة الحديث، وكراهية وضع الحديث عند غير أهله، والإملاء، والاستملاء، والانتخاب، وعقد المجالس في المساجد، ونحو ذلك.
المحور الثالث: كتابة الحديث:أورد فيه مباحث في: اختلاف السلف في كتابة الحديث، وأن الراجح جواز ذلك، وكيفية كتابة الحديث، من وضع الدائرة بين الحديثين، والنقط والشكل، وكيفية الضرب، والتخريج على الحواشي، ونقل السماع من الكتب ومن الحفظ، والمعارضة، وغير ذلك.
المحور الرابع: سماع الحديث وتحمله:أورد فيه مباحث في: طرق تحمل الحديث مثل: السماع من لفظ الشيخ، والقراءة عليه، والإجازة، والمناولة، والوجادة، والوصية، والألفاظ المستخدمة
এটি অন্য কারো কাছে নেই এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের পণ্ডিতদের মধ্যে কেউ এতে তাদের সাথে শরিক নন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের ফিকহ বর্ণনাকারী রচয়িতাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর মধ্যে মুতালিফ ও মুখতালিফ (المؤتلف والمختلف), মুত্তাফাক ও মুফতারাক (المتفق والمفترق), কুনিয়াহ বা উপনাম (الكنى), বংশপরম্পরা (الأنسাব) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা করেছেন।
দ্বিতীয় মূলবিষয়: মুহাদ্দিস (المحدث) ও হাদিস অন্বেষীর (طالب الحديث) আদব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:এতে তিনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন: হাদিস অন্বেষণে নিয়ত (النية), যে বয়সে পৌঁছালে একজন ছাত্রের জন্য হাদিস অন্বেষণ করা সমীচীন হয়, যে বয়সে হাদিস বর্ণনা করার উপযুক্ত হয়, যে বয়সে হাদিস বর্ণনা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক হয়, হাদিস অন্বেষণে প্রতিযোগিতা, অধিক বর্ণনা (الرواية) অপছন্দ করা এবং এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা, অপবিত্র অবস্থায় এবং অস্থির চিত্তে হাদিস বর্ণনা করা অপছন্দনীয় হওয়া, হাদিস বর্ণনা শেষ করে মুহাদ্দিস (المحدث) যা বলবেন, গরিব (الغريبة) ও মুনকার (المنكرة) হাদিস বর্ণনা করা অপছন্দনীয় হওয়া, হাদিসের পুনরাবৃত্তিকে গুরুভার মনে করা, অযোগ্য ব্যক্তির কাছে হাদিস গচ্ছিত রাখা অপছন্দনীয় হওয়া, ইমলা (الإملاء) বা শ্রুতলিখন, ইস্তিমলা (الاستملاء), ইনতিখাব (الانتخاب) বা হাদিস নির্বাচন করা, মসজিদে মজলিস কায়েম করা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।
তৃতীয় মূলবিষয়: হাদিস লিখন:এতে তিনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন: হাদিস লিখনের বিষয়ে সালাফদের (السلف) মধ্যে মতভেদ এবং এটি বৈধ হওয়াই যে প্রবল মত (الراجح), হাদিস লিখনের পদ্ধতি যেমন—দুটি হাদিসের মাঝে বৃত্ত দেওয়া, নুকতা ও হরকত দেওয়া, কাটাকুটির পদ্ধতি, পার্শ্বটীকায় অতিরিক্ত অংশ যুক্ত করা, কিতাব ও মুখস্থ স্মৃতি থেকে শ্রবণ (السماع) করা বিষয়গুলো নকল করা, মুআরাজাহ (المعارضة) বা মূল কপির সাথে মিলিয়ে পাঠ্য সংশোধন করা এবং অন্যান্য বিষয়।
চতুর্থ মূলবিষয়: হাদিস শ্রবণ (سماع) ও গ্রহণ (تحمله):এতে তিনি হাদিস গ্রহণের (تحمل) পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করেছেন, যেমন: শায়খের মুখ থেকে শ্রবণ (السماع من لفظ الشيخ), শায়খের নিকট পাঠ করা (القراءة عليه), ইজাজাত (الإجازة) বা অনুমতি, মুনওয়ালাহ (المناولة) বা কিতাব হস্তান্তর, বিজাদাহ (الوجادة) বা কিতাব প্রাপ্তি, ওসিয়ত (الوصية) এবং ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো।
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
في ذلك، وفي الذي يسمع ولا يرى وجه المحدث، وفي سقوط بعض السماع، وفي الجماعة يسأل أحدهم وهم يسمعون، ونحو ذلك.
المحور الخامس: رواية الحديث وأداؤه:أورد فيه مباحث في: إسماع الأصم، ومنع السماع، وتقويم اللحن بإصلاح الخطأ، والرواية بالمعنى، والتقديم والتأخير، ومن قال: مثله ونحوه ومن كرههما، ونحو ذلك.
ويورد في ذلك كله أحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم وآثارًا عن السلف بأسانيده إليهم، وينقل عن أهل العلم من مشايخه وغيرهم، وإذا كان في المسألة عدة أقوال ذكرها، ثم جمع بينها، أو رجح أحدها. ونراه يستشهد بالشعر كثيرًا، وأحيانًا يتعرض لشرح بعض الكلمات الغريبة، وينقد بعض الآثار والأقوال.
والرامهرمزي رحمه الله محدث فقيه لغوي شاعر أديب؛ فكتابه هذا مليء بالفوائد الحديثية والفقهية واللغوية والأدبية، وهو ينقل لك صورة كاملة للحياة العلمية عند علماء الحديث الأُول -رحمة الله عليهم أجمعين- في صفاتهم ومجالسهم ومذاكراتهم ومناظراتهم ورحلاتهم وسماعهم وتحديثهم، وفي ذلك من الفوائد والعبر والعظات ما لا يخفى.
* * *
এই বিষয়ে, এবং যিনি শোনেন কিন্তু হাদিস বর্ণনাকারীর (محدث) মুখাবয়ব দেখেন না, শ্রবণের (سماع) কিছু অংশ ছুটে যাওয়া প্রসঙ্গে, এবং সেই জামাত সম্পর্কে যেখানে তাদের একজন প্রশ্ন করে এবং অন্যরা শুনতে থাকে—এমন আরও বিষয় এতে রয়েছে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনা এবং তা প্রদান (أداء):এতে তিনি আলোচনা করেছেন: বধিরকে শোনানো, শ্রবণ (سماع) থেকে বিরত রাখা, ভুল সংশোধনের মাধ্যমে লাহ্ন (لحن) বা ভাষার বিচ্যুতি সংশোধন করা, অর্থের মাধ্যমে বর্ণনা (رواية بالمعنى), আগে-পরে করা (التقديم والتأخير), এবং যারা ‘অনুরূপ’ (مثله) ও ‘এর ন্যায়’ (نحوه) শব্দদ্বয় ব্যবহার করেন এবং যারা তা অপছন্দ করেন—এসব ও অনুরূপ বিষয়াবলী।
এই সবকিছুতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং সালাফদের থেকে বর্ণিত আছারসমূহ (آثار) নিজস্ব সনদের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। তিনি তার উস্তাদ ও অন্যান্য জ্ঞানীদের থেকেও বর্ণনা নকল করেন। কোনো মাসআলায় একাধিক মত থাকলে তিনি তা উল্লেখ করেন, অতঃপর সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেন অথবা কোনো একটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দেন। আমরা তাকে প্রচুর কবিতার উদ্ধৃতি দিতে দেখি এবং মাঝে মাঝে তিনি কিছু দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং কিছু আছার (آثار) ও মতামতের সমালোচনা (نقد) করেন।
ইমাম রামাহুরমুজী (রহিমাহুল্লাহ) একজন হাদিস বিশারদ (محدث), ফকিহ (فقيه), ভাষাবিদ, কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন; তাই তার এই গ্রন্থটি হাদিস শাস্ত্রীয়, ফিকহি, ভাষাগত এবং সাহিত্যিক নানাবিধ উপকারে ভরপুর। তিনি আপনার কাছে প্রথম যুগের হাদিস বিশারদদের (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন) জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন—তাদের বৈশিষ্ট্য, মজলিস, জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা (مذاكرة), বিতর্ক (مناظرة), ইলমি সফর, শ্রবণ (سماع) এবং হাদিস বর্ণনা (تحديث) করার পদ্ধতির বর্ণনায়। এর মধ্যে এমন সব উপকার, শিক্ষা ও উপদেশ নিহিত রয়েছে যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أهمية الكتاب ومكانتهوعناية العلماء به واستفادتهم منهكتاب «المحدث الفاصل بين الراوي والواعي» من الكتب المهمة في علوم الحديث؛ فهو ينقل لك مذاهب الأئمة المتقدمين في مسائل علوم الحديث المختلفة موثقة بأسانيدها إليهم.
ويُعد هذا الكتاب أول كتاب صُنِّف في علم الحديث، وقد صرح بذلك جمع من أهل العلم، فمن ذلك:
قال العلائي: «وهو أول شيء وقفتُ عليه مصنَّفًا في علوم الحديث»
(1).
وقال ابن حجر: «أما بعد؛ فإن التصانيف في اصطلاح أهل الحديث قد كثرت للأئمة في القديم والحديث، فمن أول من صنف في ذلك القاضي أبو محمد الرامهرمزي في كتابه «المحدث الفاصل»، لكنه لم يستوعب»
(2).
وقال القسطلاني: «أول من صنف في ذلك القاضي أبو محمد الرامهرمزي في كتابه «المحدث الفاصل»»
(3).
إلا أنه قد سبقت جهود لأهل العلم قبل الرامهرمزي في التأليف في قواعد علوم الحديث، مثل «مقدمة الصحيح» للإمام مسلم، و «العلل الصغير» للإمام
--------------------------------------------
গ্রন্থের গুরুত্ব ও মর্যাদাএবং এর প্রতি আলেমগণের বিশেষ যত্ন ও তা থেকে তাঁদের উপকৃত হওয়া‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ী ওয়াল ওয়াঈ’ গ্রন্থটি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের অন্যতম; কারণ এটি আপনার নিকট হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) বিভিন্ন মাসআলায় পূর্বসূরি ইমামগণের মাযহাব বা মতামতসমূহ তাঁদের পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সনদসহ (أسانيدها) উদ্ধৃত করে।
এই গ্রন্থটি হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث) ওপর রচিত প্রথম কিতাব হিসেবে গণ্য করা হয়। একদল আলেম বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেমন:
আল্লামা আলাঈ বলেন: "হাদিস শাস্ত্রে (علوم الحديث) রচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে এটিই প্রথম কিতাব যার সন্ধান আমি পেয়েছি"
(১)।
ইবনে হাজার বলেন: "হামদ ও সালাতের পর; হাদিস বিশারদগণের পরিভাষা (اصطلاح) সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাচীন ও পরবর্তী ইমামগণের অনেক রচনা রয়েছে। এ বিষয়ে যারা প্রথম কিতাব লিখেছেন তাঁদের অন্যতম হলেন কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি তাঁর ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল’ গ্রন্থে; তবে এটি সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেনি"
(২)।
কাসতালানি বলেন: "এ বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি তাঁর ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল’ গ্রন্থে"
(৩)।
তবে ইমাম রামাহুরমুজির পূর্বেও হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (قواعد) রচনার ক্ষেত্রে আলেমগণের কিছু প্রচেষ্টা অতিবাহিত হয়েছে, যেমন ইমাম মুসলিমের ‘মুকাদ্দিমায়ে সহিহ’ এবং ইমাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল ত আবু যায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الترمذي. وإن كان للإمام أبي بكر الحميدي صاحب «المسند» مؤلف في ذلك -كما يدل عليه نقولات كثيرة عنه في «الكفاية» للخطيب البغدادي
(1) - فهو أسبق من هذا كله، والله أعلم.
•
ثناء أهل العلم على الكتاب:قال أبو طاهر السِّلفي: «هو كتاب مفيد»
(2).
وقال الذهبي: «الرامهرمزي القاضي مصنف كتاب «المحدث الفاصل بين الراوي والواعي» في علوم الحديث، وما أحسنه من كتاب! قيل: إن السِّلفي كان لا يكاد يفارق كمه. يعني في بعض عمره»
(3).
وقال أيضًا: «وكتابه المذكور -يعني: المحدث الفاصل- ينبئ بإمامته»
(4).
وقال العلائي: «هو كتاب نفيس جدًّا»
(5).
وقال البقاعي: «وقد ذكر ابن خلاد في كتابه «المحدث الفاصل» أشياء حسنة، تبعث ذا الهمة العالية على بذل الجهد في التفهم، في باب عقده في أوائل كتابه في فضل من جمع بين الرواية والدراية
… »
(6).
--------------------------------------------
তিরমিজি। যদিও মুসনাদ-এর রচয়িতা ইমাম আবু বকর আল-হুমায়দীর এ বিষয়ে একটি রচনা রয়েছে—যেমনটি খাতিব আল-বাগদাদির আল-কিফায়া-তে বর্ণিত তাঁর থেকে অসংখ্য উদ্ধৃতি নির্দেশ করে—তবে তা এই সবকিছুর পূর্ববর্তী ছিল, আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
•
কিতাবটির প্রতি আলেমদের প্রশংসা:আবু তাহের আস-সিলাফি বলেন: «এটি একটি উপকারী কিতাব»
(২)।
আল-জাহাবি বলেন: «আর-রামাুহুরমুজি হলেন কাজী এবং হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)-এর ওপর রচিত ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ী ওয়াল ওয়া’ঈ’ কিতাবের সংকলক। আর এটি কতই না চমৎকার কিতাব! বলা হয় যে, আস-সিলাফি তাঁর জীবনের একটি অংশে কিতাবটি আস্তিন থেকে পৃথক করতেন না (অর্থাৎ সর্বদা সাথে রাখতেন)»
(৩)।
তিনি আরও বলেন: «তাঁর উল্লিখিত কিতাবটি—অর্থাৎ আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল—তাঁর ইমামত বা পাণ্ডিত্য (إمامة) নির্দেশ করে»
(৪)।
আল-আলাই বলেন: «এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি কিতাব»
(৫)।
আল-বিকাঈ বলেন: «ইবনে খাল্লাদ তাঁর ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল’ কিতাবে কিছু চমৎকার বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিকে গভীর অনুধাবনের ক্ষেত্রে প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করে; এটি তিনি কিতাবের শুরুর দিকে বর্ণনা (رواية) ও অনুধাবন (دراية)-এর সমন্বয়কারীর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে রচিত একটি অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন
… »
(৬)।
--------------------------------------------