(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
منهج التشريع الإسلامي وحكمته - ط الجامعة الإسلامية   (محمد الأمين الشنقيطي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: منهج التشريع الإسلامي وحكمته

المؤلف: محمد الأمين بن محمد المختار بن عبد القادر الجكني الشنقيطي (ت 1393 هـ)

الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

الطبعة: الثانية

عدد الصفحات: 30

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামী শরিয়ত প্রণয়নের পদ্ধতি ও এর প্রজ্ঞা - ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সংস্করণ   (মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


গ্রন্থ: ইসলামী শরিয়ত প্রণয়নের পদ্ধতি ও এর প্রজ্ঞা

লেখক: মুহাম্মাদ আল-আমিন বিন মুহাম্মাদ আল-মুখতার বিন আব্দুল কাদির আল-জাকানি আশ-শানকিতী (মৃত্যু ১৩৯৩ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: দ্বিতীয়

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

‌‌مَنْهَج التشريع الإسلامي وحكمته

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَمن تَبِعَهُمْ بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين. وَبعد:

فَاعْلَم أَولا أَنما الْمنْهَج فِي اللُّغَة الْعَرَبيَّة هُوَ الطَّرِيق الْوَاضِح كالمنهاج وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجاً} . وَالْإِسْلَام فِي اللُّغَة الْعَرَبيَّة: الانقياد والإذعان. تَقول الرب: أسلم لله إِذا انْقَادَ وأذعن وأطاع وَمِنْه قَول زيد بن عَمْرو بن نفَيْل الْعَدْوى مُؤمن الْجَاهِلِيَّة:

وَأسْلمت وَجْهي لمن أسلمت … لَهُ الأَرْض تحمل صخرا ثقالا

دحاها فَلَمَّا اسْتَوَت شدها … سَوَاء وأرسى عَلَيْهَا الجبالا

وَأسْلمت وَجْهي لمن أسلمت لَهُ … المزن تحمل عذبا زلالا

إِذا هِيَ سيقت إِلَى بَلْدَة … أطاعت فصبت عَلَيْهَا سجالا

وَأسْلمت وَجْهي لمن أسلمت … لَهُ الرّيح تصرف حَالا فحالا

وَالْإِسْلَام فِي الِاصْطِلَاح الشَّرْعِيّ هُوَ: الانقياد والإذعان لله تَعَالَى بامتثال أمره وَاجْتنَاب نَهْيه من جَمِيع الْجِهَات الثَّلَاث أَعنِي إذعان الْقلب وانقياده بالاعتقاد وَالْقَصْد وإذعان اللِّسَان وانقياده بِالْإِقْرَارِ وإذعان الْجَوَارِح وانقيادها بِالْعَمَلِ.

وَالْإِسْلَام فِي الِاصْطِلَاح الشَّرْعِيّ الْحَقِيقِيّ يُطلق على مَا يُطلق عَلَيْهِ الْإِيمَان فِي الِاصْطِلَاح الشَّرْعِيّ. وَقد قَالَ تَعَالَى: {فَأَخْرَجْنَا مَنْ كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} . أما الْفرق بَينهمَا فِي قَوْله تَعَالَى: {قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} . فَلِأَن الْإِيمَان المنفى فِي هَذِه الْآيَة هُوَ الْإِيمَان الشَّرْعِيّ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)।

ইসলামি শরীয়তের পদ্ধতি (منهج) ও এর হিকমত

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সকল সঙ্গীসাথি এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:

প্রথমেই জেনে রাখুন যে, আরবি ভাষায় 'মানহাজ' (منهج) হলো 'মিনহাজ' (منهاج)-এর মতো একটি সুস্পষ্ট পথ। মহান আল্লাহর বাণী এ অর্থেই এসেছে: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরীয়ত ও স্পষ্ট পথ (منهاج) নির্ধারণ করে দিয়েছি}। আর আরবি ভাষায় ইসলাম (إسلام) অর্থ হলো: আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ করা। বলা হয়ে থাকে: সে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ (أسلم) করেছে, যখন সে অনুগত হয়, দমে যায় এবং আনুগত্য প্রদর্শন করে। জাহেলি যুগের মুমিন (مؤمن) যায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল আল-আদাবীর উক্তিটিও এর অন্তর্ভুক্ত:

আমি আমার চেহারাকে তাঁরই সমীপে সমর্পণ করলাম, যাঁর নিকট সমর্পিত … হয়েছে পৃথিবী, যা বিশাল ভারী পাথরসমূহ বহন করে।

তিনি একে বিস্তৃত করেছেন, অতঃপর যখন তা সমতল হলো তখন তিনি একে সুদৃঢ় করলেন … এবং এর ওপর পাহাড়সমূহকে কীলক হিসেবে গেঁথে দিলেন।

আমি আমার চেহারাকে তাঁরই সমীপে সমর্পণ করলাম, যাঁর নিকট সমর্পিত হয়েছে … মেঘমালা, যা সুপেয় ও স্বচ্ছ পানি বহন করে।

যখন তা কোনো জনপদের দিকে চালিত হয়, … তখন তা আনুগত্য করে এবং সেখানে প্রচুর পরিমাণে বারিধারা বর্ষণ করে।

আমি আমার চেহারাকে তাঁরই সমীপে সমর্পণ করলাম, যাঁর নিকট সমর্পিত … হয়েছে বায়ু, যা একেক সময় একেক অবস্থায় পরিচালিত হয়।

আর শরয়ী পরিভাষায় ইসলাম (إسلام) হলো: মহান আল্লাহর আদেশ পালন এবং তাঁর নিষেধ বর্জনের মাধ্যমে তিনটি দিক থেকেই আল্লাহর প্রতি অনুগত হওয়া ও আত্মসমর্পণ করা। আমি তিনটি দিক বলতে বোঝাচ্ছি: বিশ্বাসের মাধ্যমে অন্তরের আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ, মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে জিহ্বার আনুগত্য এবং আমলের মাধ্যমে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আনুগত্য।

প্রকৃত শরয়ী পরিভাষায় ইসলাম (إسلام) শব্দটি সেই অর্থেই ব্যবহৃত হয়, যে অর্থে শরয়ী পরিভাষায় ঈমান (إيمان) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর আমি সেখানে মুমিনদের (مؤمنين) মধ্য থেকে যারা ছিল তাদের বের করে আনলাম। কিন্তু সেখানে একটি বাড়ি ছাড়া কোনো মুসলিম (مسلمين) ঘর আমি পাইনি}। তবে মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীতে উভয়ের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায়: {বলুন, তোমরা ঈমান (تؤمنوا) আনোনি, বরং বলো আমরা ইসলাম (أسلمنا) গ্রহণ করেছি}। এর কারণ হলো, এই আয়াতে যে ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো শরয়ী ঈমান (الإيمان الشرعي)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وَالْإِسْلَام الْمُثبت فِيهَا فِي الْحَقِيقَة هُوَ الْإِسْلَام اللّغَوِيّ وَهُوَ ألانقياد بالجوارح للْعَمَل مَعَ أَنه غير الْإِسْلَام الشَّرْعِيّ الْحَقِيقِيّ الصَّحِيح لِأَن مصدره الْقلب وَالله يَقُول فِي هَذِه الْآيَة: {وَلَمَّا يَدْخُلِ الإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ} . فَعدم دُخُول الْإِيمَان فِي قلوباهم يدل على أَن الْإِسْلَام الْمُثبت لَهُم لغوى فَقَط لِأَنَّهُ شكلي صوري لَا حَقِيقِيّ لِأَن الْقُلُوب لم تنطو عَلَيْهِ كَمَا ترى. والتشريع هُوَ وضع الشَّرْع وَالشَّرْع هُنَا هُوَ النظام الَّذِي وَضعه خَالق السَّمَاوَات وَالْأَرْض على لِسَان سيد ولد آدم عليه الصلاة والسلام ليسير عَلَيْهِ خلقه فيحق لَهُم بِهِ سَعَادَة الدَّاريْنِ على أكمل الْوُجُوه وأحسنها وَقد فهمت من تَفْسِير الْإِسْلَام أَنه نَوْعَانِ وهما: أَن الِاعْتِقَاد بِالْقَلْبِ وَالْعَمَل بالجوارح وَمِنْهَا اللِّسَان لِأَن القَوْل فعل اللِّسَان كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّاً شَيَاطِينَ الإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوراً وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ} الْآيَة. فتراه أطلق الْفِعْل على زخرف القَوْل.

أما الِاعْتِقَاد فقد دلّ استقراء الْقُرْآن أَنه فِي حق الله تَعَالَى ثَلَاثَة أَنْوَاع:

1- الأول: اعْتِقَاد أَنه وَاحِد فِي ربوبيته جلّ وَعلا فَهُوَ الْخَالِق الرازق المحيى المميت النافع الضار الْمُدبر لشئون أهل السَّمَاوَات وَالْأَرْض الَّذِي لَا يَقع شَيْء كَائِنا مَا كَانَ إِلَّا بمشيئته جلّ وَعلا.

وَهَذَا النَّوْع جبلت عَلَيْهِ فطر الْبشر فِي الْأَغْلَب. قَالَ تَعَالَى فِي الْكفَّار: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} الْآيَة. وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ} . والآيات بِمثل ذَلِك كَثِيرَة جدا وَلم يُنكر هَذَا النَّوْع من التَّوْحِيد الَّذِي هُوَ توحيده جلّ وَعلا فِي ربوبيته إِلَّا اثْنَان 1- رجل بَالغ من الْجَهْل والغباوة مَا يَجْعَل دَرَجَته فِي الْفَهم
বস্তুত এখানে যে ইসলামকে সাব্যস্ত করা হয়েছে তা হলো মূলত আভিধানিক ইসলাম, আর তা হলো আমল বা কাজের উদ্দেশ্যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আনুগত্য প্রকাশ করা। অথচ তা প্রকৃত ও সঠিক (صحيح) শরয়ি ইসলাম নয়, কারণ ইসলামের মূল উৎস হলো অন্তর। আর আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বলেন: {এখনো তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি}। সুতরাং তাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ না করা একথাই প্রমাণ করে যে, তাদের জন্য সাব্যস্ত হওয়া ইসলামটি ছিল নিছক আভিধানিক; কারণ তা ছিল কেবল বাহ্যিক ও রূপগত বিষয়, প্রকৃত নয়; যেহেতু আপনি দেখছেন যে তাদের অন্তরসমূহ একে ধারণ করেনি। আর বিধান প্রণয়ন (তাশরি) হলো শরিয়ত প্রবর্তন করা। আর এখানে শরিয়ত হলো সেই ব্যবস্থা যা আসমান ও জমিনের স্রষ্টা আদম সন্তানের সরদার (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর জবানিতে প্রবর্তন করেছেন, যাতে তাঁর সৃষ্টিজগত সেই অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এর মাধ্যমে তারা পরিপূর্ণ ও সর্বোত্তম উপায়ে উভয় জগতের সৌভাগ্য লাভে সক্ষম হয়। ইসলামের ব্যাখ্যা থেকে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে এটি দুই প্রকার, আর তা হলো: অন্তরের বিশ্বাস এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল। জিহ্বাও আমলের অন্তর্ভুক্ত, কেননা কথা বলা হলো জিহ্বার কাজ। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য হতে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, যারা ধোঁকা দেওয়ার জন্য একে অপরকে চাকচিক্যময় কথার কুমন্ত্রণা দেয়; যদি তোমার রব চাইতেন তবে তারা তা করত না}—আয়াত। এখানে আপনি দেখছেন যে, আল্লাহ চাকচিক্যময় কথার ওপর ‘কাজ’ শব্দটির প্রয়োগ করেছেন।

আর বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কুরআনের ব্যাপক বিশ্লেষণ একথাই নির্দেশ করে যে, মহান আল্লাহর ব্যাপারে তা তিন প্রকার:

১- প্রথমটি: মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে তিনি এক—একথা বিশ্বাস করা। অতএব তিনিই সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, উপকার ও অপকারকারী এবং আসমান ও জমিনবাসীদের সকল বিষয় পরিচালনাকারী। তাঁর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কোনো কিছুই সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়।

আর এই প্রকারের তাওহিদের ওপর অধিকাংশ মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি গঠিত। কাফিরদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ}—আয়াত। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, কে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিযিক দান করেন? অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক কে? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন? আর কে সব বিষয় পরিচালনা করেন? তখন তারা অবশ্যই বলবে—আল্লাহ।} এ জাতীয় আয়াত প্রচুর রয়েছে। মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের এই তাওহিদকে কেবল দুই ধরনের ব্যক্তি ব্যতীত কেউ অস্বীকার করেনি: ১- এমন এক ব্যক্তি যার মূর্খতা ও স্থূলবুদ্ধিতা তাকে বোধশক্তির এমন স্তরে নিয়ে গেছে...
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وَالْعقل أقل من دَرَجَة الْبَهَائِم كمن قَالَ الله فيهم: {أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَاّ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلاً} . وَقَالَ فيهم: {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيراً مِنَ الْجِنِّ وَالأِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ} . بل كثير من هَؤُلَاءِ الَّذين فضل الله عَلَيْهِم الْأَنْعَام يقرونَ بربوبيته جلّ وَعلا فَظهر أَن الَّذِي يُنكر ذَلِك منحط عَن دَرَجَة الْأَنْعَام بمراتب.

2- وَرجل مكابر جَاحد مَا هُوَ عَالم بِأَنَّهُ حق كفرعون فان قَوْله فِيمَا ذكر الله عَنهُ: {قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ} . وَقَوله: {قَالَ فَمَنْ رَبُّكُمَا يَا مُوسَى} . تجاهل عَارِف بِأَنَّهُ عبد مربوب لرب الْعَالمين كَمَا دلّ عَلَيْهِ قَوْله تَعَالَى: {قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلاءِ إِلَاّ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ بَصَائِرَ..} الْآيَة وَقَوله تَعَالَى: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْماً وَعُلُوّاً} .

النَّوْع الثَّانِي: هُوَ توحيده فِي عِبَادَته وَهَذَا النَّوْع هُوَ الَّذِي كَانَت فِيهِ المعارك بَين الرُّسُل صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِم وَبَين أممهم كَمَا هُوَ مفصل فِي الْقُرْآن الْعَظِيم فِي سور كَثِيرَة وقصص كَثِيرَة.

وَهَذَا النَّوْع هُوَ معنى لَا إِلَه إِلَّا الله وَهِي متركبة من نفي وَإِثْبَات. فَمَعْنَى نَفيهَا خلع جَمِيع المعبودات غير الله تَعَالَى فِي جَمِيع أَنْوَاع الْعِبَادَات كائنة مَا كَانَت. وَمعنى الْإِثْبَات مِنْهَا إِفْرَاد الله وَحده جلّ وَعلا بِجَمِيعِ أَنْوَاع الْعِبَادَات بإخلاص على الْوَجْه الَّذِي شَرعه.

النَّوْع الثَّالِث: هُوَ توحيده تَعَالَى فِي أَسْمَائِهِ وَصِفَاته. وَضَابِط هَذَا النَّوْع هُوَ تَنْزِيه الله جلّ وَعلا عَن مماثلة الْخلق فِي شَيْء من ذواتهم أَو صفاتهم أَو أفعالهم. وَالْإِيمَان بِكُل مَا وصف بِهِ نَفسه أَو وَصفه بِهِ رَسُوله صلى الله عليه وسلم على نَحْو: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} كَمَا بَيناهُ بِالْآيَاتِ القرآنية فِي محاضرة قبل هَذِه
তাদের বুদ্ধি পশুর স্তরের চেয়েও নিচে, যেমন আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {তুমি কি মনে করো যে তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা পথভ্রষ্টতায় আরও অধম।} এবং তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর আমি তো বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট; তারাই হলো গাফেল।} বরং এদের মধ্যে অনেকে, যাদের ওপর আল্লাহ চতুষ্পদ জন্তুদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তারা তাঁর প্রভুত্ব বা রুবুবিয়্যাত (ربوبية) স্বীকার করে। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করে সে চতুষ্পদ জন্তুর স্তরের চেয়েও কয়েক স্তর নিচে অবস্থান করছে।

2- এবং এমন এক দাম্ভিক অস্বীকারকারী যে সত্য সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও তা অস্বীকার করে, যেমন ফেরাউন। কেননা আল্লাহ তার সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তাতে তার উক্তি: {ফেরাউন বলল: জগতসমূহের প্রতিপালক আবার কে?} এবং তার উক্তি: {সে বলল: হে মুসা, তোমাদের দুইজনের প্রতিপালক কে?}—এটি ছিল জগতসমূহের প্রতিপালকের একজন সৃষ্টি ও দাস হওয়া সত্ত্বেও জেনে-বুঝে অজ্ঞতা ভান করা। যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত হয়: {সে (মুসা) বলল: তুমি অবশ্যই জানো যে, এই নিদর্শনসমূহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক ছাড়া অন্য কেউ চাক্ষুষ প্রমাণ হিসেবে অবতীর্ণ করেননি...}—আয়াত এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা অন্যায় ও অহংকারবশত এগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে ধ্রুব সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল।}

দ্বিতীয় প্রকার: এটি হলো তাঁর ইবাদতে একত্ববাদ (توحيد)। আর এই প্রকারটি নিয়েই মূলত রাসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) এবং তাঁদের উম্মতদের মধ্যে বিবাদ সংঘটিত হয়েছিল, যা মহান কুরআনের বহু সূরা ও বহু কাহিনীতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

আর এই প্রকারটিই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর মর্মার্থ, যা একটি নেতিবাচক বা নফি (نفي) ও একটি ইতিবাচক বা ইসবাত (إثبات) স্তম্ভের সমন্বয়ে গঠিত। এর নেতিবাচক (نفي) দিকের অর্থ হলো—যাবতীয় ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত সকল উপাস্যকে বর্জন করা, তারা যা-ই হোক না কেন। আর এর ইতিবাচক (إثبات) দিকের অর্থ হলো—আল্লাহর প্রবর্তিত পন্থায় একনিষ্ঠতার (إخلاص) সাথে সকল প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে এককভাবে শুধুমাত্র মহান আল্লাহকে নির্দিষ্ট করা।

তৃতীয় প্রকার: এটি হলো তাঁর নাম ও গুণাবলিতে (صفات) আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ (توحيد)। এই প্রকারের মূলনীতি হলো—আল্লাহ তাআলাকে তাঁর সত্তা, গুণাবলী (صفات) বা কার্যাবলীর কোনো কিছুতেই সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র (تنزيه) রাখা। এবং তিনি নিজের জন্য যে বর্ণনা দিয়েছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যে গুণ বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর ওপর এই ভিত্তিতে ঈমান আনা যে: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে এক বক্তৃতায় কুরআনের আয়াতসমূহের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أما النَّوْع الثَّانِي: من أَنْوَاع الْإِسْلَام الَّذِي هُوَ مَا سوى الِاعْتِقَاد وَهُوَ الْعَمَل فَهُوَ شَامِل لأصناف كَثِيرَة.

أ- مِنْهَا مَا هُوَ من أَفعَال الْقُلُوب: كالإخلاص بِالْقَلْبِ فِي جَمِيع الْأَعْمَال وَحسن النِّيَّة.

ب- وَمِنْهَا مَا هُوَ بِالْيَدِ،

ج- وَمِنْهَا مَا هُوَ بِاللِّسَانِ،

د- وَمِنْهَا مَا هُوَ بالفرج … الخ.

وَكَذَلِكَ انتهاك الْأَوَامِر الإسلامية وَعدم امتثالها (أَي شَامِل لأصناف كَثِيرَة) .

أ- مِنْهَا مَا هُوَ من أَفعَال الْقلب كالكبر وَالْعجب والحسد والرياء وَنَحْو ذَلِك.

ب- وَمِنْهَا مَا هُوَ من أَفعَال اللِّسَان ككلمة الْكفْر. وكالغيبة والنميمة وَنَحْو ذَلِك.

ج- وَمِنْهَا مَا هُوَ من أَفعَال أليد وَهُوَ جَمِيع أَنْوَاع الْبَطْش بِالْيَدِ فِيمَا لَا يُجِيزهُ الشَّرْع الْكَرِيم كَالْقَتْلِ وَالسَّرِقَة وَنَحْو ذَلِك.

د- وَمِنْهَا مَا هُوَ من أَفعَال الْفروج كَالزِّنَا واللواط.. الخ وَهُوَ وأضح.

وَقد بَين النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيث ابْن عمر الْمُتَّفق عَلَيْهِ أَن الدعائم الْعِظَام والأركان الْكِبَار الَّتِي بنى عَلَيْهَا التشريع السماوي خمس وهى:

1- شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله 2- وَأقَام الصَّلَاة 3- وإيتاء الزَّكَاة 4- وَالْحج 5- وَصَوْم رَمَضَان.

أ- أما الشهادتان فهما متضمنتان لكل مَا يجب اعْتِقَاده فِي الله جلّ وَعلا وَفِي رَسُوله صلى الله عليه وسلم وَمَا يجب لله جلّ وَعلا من الْحُقُوق الْخَاصَّة بِهِ وَمَا يجب للرسول صلى الله عليه وسلم كَمَا هُوَ مفصل فِي كتاب الله وَسنة نبيه صلى الله عليه وسلم.
আর দ্বিতীয় প্রকার: ইসলামের প্রকারসমূহের মধ্যে যা বিশ্বাস (اعتقاد) ব্যতীত অন্য কিছু, আর তা হলো আমল (কাজ); এটি অনেকগুলো শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করে।

ক- এর মধ্যে কিছু হলো অন্তরের কাজ: যেমন সমস্ত আমলে অন্তরের ইখলাস এবং নিয়তের বিশুদ্ধতা।

খ- এবং এর মধ্যে কিছু হাতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়,

গ- এবং এর মধ্যে কিছু জিহ্বার মাধ্যমে হয়,

ঘ- এবং এর মধ্যে কিছু লজ্জাস্থানের মাধ্যমে হয় … ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে ইসলামি নির্দেশাবলি লঙ্ঘন করা এবং সেগুলো পালন না করাও (অর্থাৎ অনেকগুলো শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করে)।

ক- এর মধ্যে কিছু অন্তরের কাজের অন্তর্ভুক্ত যেমন অহংকার, আত্মতৃপ্তি, হিংসা, রিয়া এবং এই জাতীয় বিষয়।

খ- এর মধ্যে কিছু জিহ্বার কাজের অন্তর্ভুক্ত যেমন কুফরি বাক্য, এবং গিবত (পরনিন্দা), নামিমাহ (চোগলখুরি) এবং এই জাতীয় বিষয়।

গ- এর মধ্যে কিছু হাতের কাজের অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো হাতের মাধ্যমে এমন সব ধরনের সীমালঙ্ঘন যা মহান শরিয়ত (شرع) অনুমতি দেয় না, যেমন হত্যা, চুরি এবং এই জাতীয় কাজ।

ঘ- এর মধ্যে কিছু লজ্জাস্থানের কাজের অন্তর্ভুক্ত যেমন ব্যভিচার, সমকামিতা.. ইত্যাদি এবং এটি সুষ্পষ্ট।

নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনে উমরের হাদিসে বর্ণনা করেছেন যা সর্বসম্মত (متفق عليه), যে মহান ভিত্তি ও প্রধান স্তম্ভ (ركن) সমূহ যার ওপর আসমানি বিধান প্রতিষ্ঠিত তা পাঁচটি, আর সেগুলো হলো:

1- এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল ২- সালাত কায়েম করা ৩- জাকাত প্রদান করা ৪- হজ করা ৫- রমজানের রোজা রাখা।

ক- শাহাদাতাইন (দুইটি সাক্ষ্য) এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে যা কিছু বিশ্বাস (اعتقاد) করা আবশ্যক এবং আল্লাহর জন্য নির্ধারিত বিশেষ অধিকারসমূহ ও রাসুলের জন্য যা আবশ্যক, যেমনটি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবির সুন্নাহ (سنة) তে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ب- وَأما الصَّلَاة. فَهِيَ أعظم دعائم الْإِسْلَام بعد الشَّهَادَتَيْنِ وَقد فَرضهَا الله على نبيه فوقا سبع سماوات لَيْلَة الْإِسْرَاء والمعراج وَقد جعلهَا دون غَيرهَا من الْأَركان يتَكَرَّر رُجُوعهَا فِي كل يَوْم وَلَيْلَة خمس مَرَّات لعظم شَأْنهَا. لِأَن الْمُصَلِّي يقوم فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة خمس مَرَّات يُنَاجِي خَالق السَّمَاوَات وَالْأَرْض ومناجاته جلّ وَعلا تَسْتَلْزِم أقوالا وأفعالا لائقة بذلك الْمقَام. وَلذَلِك علمه الله جلّ وَعلا فِي أعظم سُورَة من كِتَابه وَهِي (الْفَاتِحَة) الَّتِي هِيَ السَّبع المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم علمه فِيهَا كَيفَ يُنَاجِي خَالق السَّمَاوَات وَالْأَرْض بِمَا هُوَ لَائِق بِهِ وَعلمه كَيفَ يسْأَل ربه حَاجته فَأوجب عَلَيْهِ أَن يبتدىء قِرَاءَته بقوله: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} . فَحَمدَ ربه وَأثْنى عَلَيْهِ بجميل صِفَاته ومجده وَوَحدهُ فِي ربوبيته بقوله: {رَبِّ الْعَالَمِينَ} وَفِي أَسْمَائِهِ وَصِفَاته بقوله: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} ثمَّ علمه توحيده فِي عِبَادَته بقوله: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} لِأَن مَعْنَاهُ لَا نعْبد إِلَّا إياك وَحدك. لِأَن تَقْدِيم الْمَعْمُول يدل على الْحصْر كَمَا هُوَ مُقَرر فِي الْأُصُول والمعاني.

وَعلمه الِاسْتِعَانَة بربه وَإِظْهَار الضعْف وَالْعجز بَين يَدَيْهِ بقوله. {وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} .

وَلما أثنى على ربه بِمَا علمه أحسن ثَنَاء وخضع لَهُ بِهِ أكمل خضوع وافرده بِالْعبَادَة وَالْقَصْد وأخلص لَهُ فِي ذَلِك أكمل إخلاص. علمه كَيفَ يسْأَله جلّ وَعلا حَاجته بقوله: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} .

وَهَذَا الدُّعَاء القرآني شَامِل لخير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة. وَقد ثَبت فِي صَحِيح مُسلم من حديت أَبى هُرَيْرَة رضي الله عنه مَا لَفظه: فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: "قَالَ الله تَعَالَى: قسمت الصَّلَاة بيني وَبَين عَبدِي نِصْفَيْنِ ولعبدي مَا سَأَلَ فَإِذا قَالَ العَبْد: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} . قَالَ الله تَعَالَى: حمدني عَبدِي وَإِذا
খ- আর সালাত প্রসঙ্গে; এটি শাহাদাতাইনের (কালিমা শাহাদাত) পর ইসলামের মহানতম স্তম্ভ। আল্লাহ তাআলা এটি তাঁর নবীর ওপর সাত আসমানের ওপর মিরাজ ও ইসরার রাতে ফরজ করেছেন। এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি হওয়ায় তিনি অন্যান্য রুকনের চেয়ে এটিকে ব্যতিক্রম করেছেন এবং দিনে ও রাতে পাঁচবার এর পুনরাবৃত্তি নির্ধারণ করেছেন। কারণ সালাত আদায়কারী দিনে ও রাতে পাঁচবার আসমান ও জমিনের স্রষ্টার সাথে একান্তে কথোপকথন (মুনাজাত) করতে দাঁড়ান। আর মহামহিম আল্লাহর সাথে এই নিভৃত কথোপকথন সেই মহান মাকামের উপযোগী কিছু কথা ও কাজের দাবি রাখে। একারণেই মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের শ্রেষ্ঠতম সূরা আল-ফাতিহাতে (যা 'আস-সাবউল মাসানি' এবং 'মহা কুরআন' নামে পরিচিত) শিক্ষা দিয়েছেন কীভাবে তিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টার সাথে তাঁর শানে মানানসই পন্থায় একান্তে কথা বলবেন। আর তিনি তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন কীভাবে তাঁর রবের কাছে নিজের প্রয়োজনের প্রার্থনা জানাবেন। তাই তিনি তাঁর ওপর পাঠ শুরু করা ওয়াজিব করে দিয়েছেন এই বলে: {সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য। যিনি পরম দয়ালু ও অতি দয়ালু। বিচার দিবসের অধিপতি}। এভাবে তিনি তাঁর রবের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর সুন্দর গুণাবলীর দ্বারা তাঁর গুণগান ও মহিমা বর্ণনা করেছেন। আর "রব্বিল আলামিন" বলার মাধ্যমে তাঁর রুবুবিয়্যাত (কর্তৃত্ব) প্রকাশে একত্ববাদ সাব্যস্ত করেছেন। আবার "আর-রাহমানির রাহিম, মালিকি ইয়াউমিদ দীন" এর মাধ্যমে তাঁর নাম ও গুণাবলীতে তাঁকে একক মেনেছেন। এরপর "ইয়্যাকা নাবুদু" (আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি) বাক্যটির মাধ্যমে তাঁর ইবাদতে তাওহিদ (একত্ববাদ) শিক্ষা দিয়েছেন। কারণ এর অর্থ হলো আমরা একমাত্র আপনি ছাড়া আর কারো ইবাদত করি না। যেহেতু 'মা’মুল' (কর্মপদ)-কে আগে আনা একচ্ছত্রতা (حصر) নির্দেশ করে, যেমনটি উসুল (أصول) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে (معاني) সুপ্রতিষ্ঠিত।

আর "ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন" (এবং আমরা কেবল আপনারই সাহায্য চাই) বাক্যের মাধ্যমে রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং তাঁর সামনে নিজের দুর্বলতা ও অক্ষমতা প্রকাশের পদ্ধতি শিখিয়েছেন।

যখন তিনি তাঁর রবের শেখানো পদ্ধতিতে সর্বোত্তম প্রশংসা করলেন, তাঁর কাছে পূর্ণাঙ্গ বিনয় প্রকাশ করলেন, তাঁকে ইবাদত ও সংকল্পে একক সাব্যস্ত করলেন এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ ইখলাস প্রদর্শন করলেন; তখন মহান আল্লাহ তাঁকে শিখিয়ে দিলেন কীভাবে তাঁর কাছে নিজের হাজত বা প্রয়োজনের কথা বলতে হয়। আর তা হলো: {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ যাদের ওপর আপনি নেয়ামত দান করেছেন}।

কুরআনের এই দোয়াটি দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কল্যাণের জন্য ব্যাপক। আর সহীহ মুসলিম গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে তা সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যার শব্দগুলো হলো: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি এবং আমার বান্দা যা চায় তা-ই পাবে। যখন বান্দা বলে: {সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য}। আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে এবং যখন..."
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
قَالَ: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} . قَالَ الله تَعَالَى: أثنى عَليّ عَبدِي. وَإِذا قَالَ: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} قَالَ: مجدني عَبدِي. وَقَالَ مرّة فوض إِلَيّ عَبدِي. فَإِذا قَالَ: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} . قَالَ هَذَا بيني وَبَين عَبدِي ولعبدي مَا سَأَلَ. فَإِذا قَالَ: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ} قَالَ: هَذَا لعبدي ولعبدي مَا سَأَلَ".

فَيَكْفِي الْمُصَلِّي شرفا وعلوا ونبلا لما يَرْجُو من خير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة أَن الله جلّ وَعلا قسم هَذَا الرُّكْن الْأَعْظَم من أَرْكَان الْإِسْلَام بَينه جلّ وَعلا وَبَين الْمصلى. فَمَا أعظم شَأْنهَا من قسْمَة وَقد وعده أَن لَهُ مَا سَأَلَ وَهُوَ جلّ وَعلا لَا يخلف وعده.

وَأما الصَّوْم: فَفِيهِ رياضة عَظِيمَة للنفوس وإعانة عَظِيمَة على تقوى الله تَعَالَى كَمَا أَشَارَ جلّ وَعلا إِلَى ذَلِك فِي قَوْله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} فَقَوله لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون بعد قَوْله كتب عَلَيْكُم الصّيام دَلِيل وَاضح على ذَلِك. وَقد زَاده النَّبِي صلى الله عليه وسلم إيضاحا بقوله: " يَا معشر الشَّبَاب من اسْتَطَاعَ مِنْكُم الْبَاءَة فليتزوج فَإِنَّهُ أحصن لِلْفَرجِ وأغض لِلْبَصَرِ. وَمن لم يسْتَطع فَعَلَيهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وَجَاء ".

وَأما الْحَج: فقد أَشَارَ الله لبَعض فَوَائده بقوله: {لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ..} الْآيَة وَضرب بعض الْعلمَاء لَهُ مثلا. فَقَالَ وَللَّه الْمثل الْأَعْلَى أَن ملك الْمُلُوك وَهُوَ الله جلّ وَعلا عين بَيته فِي مَكَّة المكرمة حرسها الله تَعَالَى. وَبَقِيَّة مَوَاضِع النّسك كعرفات ومزدلفة وَمنى للوفود يفدون إِلَيْهِ فِي تِلْكَ الْأَمْكِنَة فيرفعون إِلَيْهِ حوائجهم فيقضيها. فالحجيج كَأَنَّهُمْ الوافدون إِلَى الْملك الْحق ليحسن وفادتهم ويعطيهم أَسْنَى الجوائز وَأَعْظَمهَا كَمَا قَالَ تَعَالَى: {لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ} وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "وَالْحج المبرور لَيْسَ لَهُ جَزَاء إِلَّا الْجنَّة". وَقَالَ: "من حج فَلم يرْفث وَلم يفسق رَجَعَ كَيَوْم وَلدته أمه".
তিনি বলেন: {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু}। আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। আর যখন সে বলে: {বিচার দিবসের মালিক}, তখন তিনি বলেন: আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করেছে। আর তিনি একবার বলেছিলেন: আমার বান্দা আমার কাছে (তার সব বিষয়) সোপর্দ করেছে। অতঃপর যখন সে বলে: {আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং একমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি}, তখন তিনি বলেন: এটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে (অর্ধেক অর্ধেক), আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে যা সে প্রার্থনা করেছে। অতঃপর যখন সে বলে: {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন, তাঁদের পথ যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাঁদের পথ নয় যারা ক্রোধে নিপতিত এবং যারা পথভ্রষ্ট}, তখন তিনি বলেন: এটি আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে যা সে প্রার্থনা করেছে।"

সালাত আদায়কারীর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের যে কল্যাণের সে আশা করে, তার প্রেক্ষিতে এই মর্যাদা, উচ্চতা ও মহত্ত্বই যথেষ্ট যে, মহান আল্লাহ ইসলামের এই মহান স্তম্ভকে তাঁর এবং সালাত আদায়কারীর মধ্যে বণ্টন করেছেন। এই বণ্টন কতই না মহান! আর তিনি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তার জন্য তাই রয়েছে যা সে প্রার্থনা করেছে; আর মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।

আর সিয়ামের ক্ষেত্রে বলা যায়, এতে নফসের জন্য এক মহান প্রশিক্ষণ রয়েছে এবং মহান আল্লাহর তাকওয়া অর্জনে এটি এক বিরাট সহায়ক, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে ইঙ্গিত দিয়েছেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো}। অতএব, 'তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে' বলার পর 'যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো'—এই উক্তিটি এর একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। নবী (সা.) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন: "হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য রয়েছে সে যেন বিবাহ করে, কারণ এটি লজ্জাস্থানকে অধিক হিফাযতকারী এবং দৃষ্টিকে অধিক নিম্নগামীকারী। আর যার সামর্থ্য নেই, তার ওপর সিয়াম পালন করা আবশ্যক; কেননা এটি তার জন্য কামভাব প্রশমনকারী।"

আর হজ্জ সম্পর্কে বলা যায়, আল্লাহ এর কিছু উপকারিতার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: {যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে...} (আয়াত)। উলামায়ে কিরাম এর একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। তাঁরা বলেন—আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ—রাজাধিরাজ মহান আল্লাহ মক্কাতুল মুকাররমায় (আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন) তাঁর ঘর নির্ধারণ করেছেন। এবং ইবাদতের অবশিষ্ট স্থানসমূহ যেমন আরাফাত, মুযদালিফা ও মিনা প্রতিনিধি দলের জন্য নির্ধারণ করেছেন; তারা সেই স্থানগুলোতে তাঁর কাছে আগমন করে এবং তাদের হাজত বা প্রয়োজনগুলো তাঁর নিকট তুলে ধরে, আর তিনি তা পূরণ করেন। সুতরাং হাজীরা যেন সেই সত্য বাদশাহর দরবারে আগত মেহমান, যাতে তিনি তাদের উত্তমরূপে মেহমানদারি করেন এবং তাদের সর্বোত্তম ও মহান পুরস্কার প্রদান করেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে}। নবী (সা.) বলেছেন: "মকবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি হজ্জ করল এবং তাতে কোনো অশ্লীল কথা বা কাজ করল না এবং পাপাচার করল না, সে সেদিনের মতো ফিরে আসল যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وَمن حِكْمَة اجْتِمَاع الْمُسلمين من أقطار الدُّنْيَا كل سنة ليتعارفوا ويستفيد بَعضهم من بعض ويتبادلون الرَّأْي فِي حل مشاكلهم إِلَى غير ذَلِك.

وَأما الزَّكَاة: فَهِيَ مواساة كَرِيمَة للْفُقَرَاء والمحاويج أَشَارَ الله تَعَالَى إِلَى بعض فوائدها بقوله: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} الْآيَة. وَإِنَّمَا أَشَرنَا إِلَى حكم هَذِه الْأَركان إِشَارَة خاطفة لِأَن الْمقَام لَا يَتَّسِع للبسط فِيهَا وَلَا يخفى أَن الرُّكْن الْأَكْبَر الَّذِي هُوَ تَوْحِيد الله بأنواعه المستلزم أَفْرَاده بِالْعبَادَة وَحده هُوَ مُنْتَهى التحرر من الرّقّ والعبودية للمخلوقين. وَمن جُمْلَتهمْ النَّفس والهوى والشيطان.

كفانا الله وإخواننا الْمُسلمين شَرّ ذَلِك كُله وسنتكلم الْآن إِن شَاءَ الله على مَنْهَج التشريع وَحكمه.

اعْلَم أَن طَرِيق تشريع الله دينه لخلقه فِيهَا من الحكم والأسرار من جِهَات شَتَّى مَا لَا يُحِيط بِعِلْمِهِ إِلَّا الله جلّ وَعلا وَحده وَسَنذكر إِن شَاءَ أدق من ذَلِك أَمْثِلَة هُنَا ليستدل بهَا الْعَاقِل على غَيرهَا. فَمن تِلْكَ الحكم الْبَالِغَة فى كَيْفيَّة التشريع أَنه جلّ وَعلا يشرع أَحْكَام دينه تدريجا لتسهيل ذَلِك على النُّفُوس الَّتِي الفت مَا يضاد ذَلِك التشريع.

والتدريج الْمَذْكُور نَوْعَانِ:

1- تَارَة يكون فِي أَحْكَام مُخْتَلفَة 2- وَتارَة يكون فِي حكم وَاحِد إِذا كَانَ التَّكْلِيف بِهِ مِمَّا فِيهِ مشقة على من اعْتَادَ خِلَافه.

أ- فَمن أَمْثِلَة النَّوْع الأول: التدريج فِي تشريع الدعائم الْخمس الَّتِي بنى عَلَيْهَا الْإِسْلَام. فان الله شرع مِنْهَا أَولا شَهَادَة أَلا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله. وَمكث صلى الله عليه وسلم زَمنا فِي مَكَّة المكرمة حرسها الله لَا يَدْعُو إِلَّا لعبادة الله وَحده ثمَّ بعد ذَلِك شرع لَهُ أدته الصَّلَوَات الْخمس الْمَكْتُوبَة لَيْلَة الْإِسْرَاء والمعراج. وَالتَّحْقِيق أَنَّهُمَا فِي لَيْلَة وَاحِدَة. وَعَن الزُّهْرِيّ وَعُرْوَة أَن الْإِسْرَاء الْمَذْكُور كَانَ قبل هجرته بِسنة وَعَن السّديّ أَنه كَانَ قبلهَا بِسِتَّة عشر شهرا. قَالَ الْحَافِظ ابْن كثير رَحمَه
বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে প্রতি বছর মুসলিমদের একত্রিত হওয়ার অন্যতম হিকমত হলো, যাতে তারা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারে, একে অপরের থেকে উপকৃত হতে পারে এবং নিজেদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময় করতে পারে, এছাড়াও আরও অন্যান্য বিষয়।

আর জাকাতের বিষয়টি হলো: এটি দরিদ্র ও অভাবী লোকদের জন্য একটি সম্মানজনক সহমর্মিতা। মহান আল্লাহ এর কিছু উপকারিতার দিকে ইঙ্গিত করে এরশাদ করেছেন: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশুদ্ধ করবেন} (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। আমরা এই রুকনগুলোর হিকমতের দিকে অত্যন্ত সংক্ষেপে ইঙ্গিত করেছি, কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপট এখানে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দেয় না। এটি অস্পষ্ট নয় যে, সবচেয়ে বড় রুকন—যা হলো আল্লাহর তাওহীদ এবং এর প্রকারভেদ, যার দাবি হলো একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা—তা হলো মাখলুকের দাসত্ব ও গোলামি থেকে মুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়। আর সেই মাখলুকের অন্তর্ভুক্ত হলো নফস, কুপ্রবৃত্তি ও শয়তান।

আল্লাহ আমাদের এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের এই সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। আমরা এখন ইনশাআল্লাহ শরয়ি বিধান প্রবর্তনের পদ্ধতি (মানহাজুত তাশরি) এবং এর হিকমত নিয়ে আলোচনা করব।

জেনে রাখুন যে, সৃষ্টির জন্য আল্লাহর দ্বীন প্রবর্তনের পদ্ধতির মাঝে বিভিন্ন দিক থেকে এমন সব হিকমত ও রহস্য নিহিত রয়েছে, যা একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ পূর্ণভাবে পরিবেষ্টন করতে পারে না। আমরা ইনশাআল্লাহ এখানে এ জাতীয় কিছু সূক্ষ্ম উদাহরণ উল্লেখ করব, যাতে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা এর মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারে। বিধান প্রবর্তনের পদ্ধতির অন্যতম সুগভীর হিকমত হলো এই যে, মহান আল্লাহ তাঁর দ্বীনের বিধানসমূহ পর্যায়ক্রমে প্রবর্তন করেন, যাতে সেই নফসগুলোর জন্য তা সহজ হয় যারা এই বিধানের বিপরীত বিষয়ে অভ্যস্ত ছিল।

উল্লেখিত এই পর্যায়ক্রমিক ধারা দুই প্রকার:

১- কখনও তা বিভিন্ন বিধানের ক্ষেত্রে হয় ২- আবার কখনও তা একটি নির্দিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে হয়, যদি সেই দায়িত্বটি পালন করা এমন ব্যক্তির জন্য কষ্টসাধ্য হয় যে এর বিপরীত বিষয়ে অভ্যস্ত ছিল।

ক- প্রথম প্রকারের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে: ইসলামের যে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, সেগুলো প্রবর্তনের পর্যায়ক্রমিক ধারা। আল্লাহ প্রথমে এগুলোর মধ্য থেকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এর সাক্ষ্য প্রদান করার বিধান দেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা মোকাররমায়—আল্লাহ একে হিফাজত করুন—দীর্ঘদিন অবস্থান করেন যেখানে তিনি কেবল একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকেই দাওয়াত দিতেন। এরপর ইসরা ও মিরাজ-এর রাতে তাঁর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারিত নামাজ পড়ার বিধান প্রবর্তিত হয়। নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত বিশ্লেষণ (تحقيق) অনুযায়ী এই দুটি ঘটনাই এক রাতে ঘটেছিল। ইমাম জুহরি ও উরওয়াহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উল্লেখিত ইসরা হিজরতের এক বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল এবং সুদ্দী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তা হিজরতের ষোলো মাস আগে হয়েছিল। হাফেজ (الحافظ) ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন...
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الله فِي تَارِيخه: "وعَلى قَول السّديّ يكون الْإِسْرَاء فِي شهر ذِي الْقعدَة. وعَلى قَول الزُّهْرِيّ وَعُرْوَة يكون فِي ربيع الأول.

وَذكر رحمه الله عَن جَابر وأبن عَبَّاس أَن الْإِسْرَاء كَأَنَّمَا فِي ربيع الأول وان الْحَافِظ عبد الْغنى الْمَقْدِسِي اخْتَار أَنه فِي ربيع الأول. وَبِذَلِك تعلم أَن مَا يَفْعَله الْعَوام فِي رَجَب بِنَاء على أَن الْإِسْرَاء كَانَ لَيْلَة السَّابِع وَالْعِشْرين مِنْهُ بِدعَة مَبْنِيَّة على بَاطِل. وَإِنَّمَا قُلْنَا أَنَّهَا بِدعَة لِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم يَفْعَلهَا وَلم يَأْمر بهَا هُوَ وَلَا خلفاؤه الراشدون وَالْخَيْر كُله وَالْهدى فِي اتِّبَاعه هُوَ وخلفائه الرَّاشِدين مَعَ أَنه لم يثبت من طَرِيق صَحِيح وَلَا حسن أَن الْإِسْرَاء كَانَ فِي رَجَب. والوارد فِي ذَلِك لَا أصل لَهُ.

ثمَّ بعد ذَلِك فرضت الزَّكَاة وَالصَّوْم فِي سنة وَاحِدَة وهى سنة اثْنَتَيْنِ من هجرته صلى الله عليه وسلم.

وَقَالَ بعض أهل الْعلم أَن الصَّوْم فرض فِي شعْبَان مِنْهَا قبل وقْعَة بدر.

وَقَالَ بعض أهل الْعلم: أَن الزَّكَاة فرضت فِي مَكَّة قبل الْهِجْرَة

لذكر الزَّكَاة فِي سُورَة مَكِّيَّة مَعْرُوفَة.

ثمَّ فرض الْحَج وَاخْتلف فِي وَقت فَرْضه فَجزم الشَّافِعِي رحمه الله بِأَنَّهُ فرض فِي عَام سِتّ وَاسْتدلَّ لذَلِك بِأَن قَوْله تَعَالَى: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ..} الْآيَة نزل فِي عمْرَة الْحُدَيْبِيَة حِين صد الْمُشْركُونَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه وَذَلِكَ فِي ذِي الْقعدَة من سنة سِتّ بِلَا خلاف وَمن هُنَا أَخذ الشَّافِعِي رحمه الله أَن وجوب الْحَج على التَّرَاخِي. قَالَ: "إِنَّه فرض سنة سِتّ وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم لم يحجّ بعد فرض الْحَج إِلَّا سنة عشر بِإِجْمَاع الْمُسلمين". وَخَالفهُ جُمْهُور الْعلمَاء مِنْهُم الْأَئِمَّة الثَّلَاثَة فَقَالُوا: "بل يجب فَوْرًا وَلم يفْرض الْحَج إِلَّا فِي عَام تسع" وَاسْتَدَلُّوا
আল্লাহ তাঁর ইতিহাসে বলেছেন: "সুদ্দী-এর মতানুসারে ইসরা (মিরাজ) জিলকদ মাসে সংঘটিত হয়েছিল। আর যুহরী এবং উরওয়ার মতানুসারে তা রবিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয়েছিল।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) জাবির ও ইবনে আব্বাস থেকে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরা রবিউল আউয়াল মাসে হয়েছিল এবং হাফিজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসিও রবিউল আউয়াল মাসকেই পছন্দ করেছেন। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে, ইসরা সাতাশ তারিখ রাতে হয়েছিল—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে রজব মাসে সাধারণ মানুষ যা করে, তা বাতিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি বিদআত। আমরা একে বিদআত বলেছি এ কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি করেননি এবং তিনি বা তাঁর খুলাফায়ে রাশিদুন কেউই এর নির্দেশ দেননি। অথচ যাবতীয় কল্যাণ ও হিদায়েত নিহিত রয়েছে তাঁর এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদুনের অনুসরণের মধ্যে; তাছাড়া কোনো সহিহ (صحيح) কিংবা হাসান (حسن) সূত্রে এটি সাব্যস্ত হয়নি যে ইসরা রজব মাসে হয়েছিল। এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)।

এরপর হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে একই বছরে জাকাত এবং রোজা ফরজ করা হয়।

কোনো কোনো আলিম বলেছেন যে, বদরের যুদ্ধের আগে সেই বছরের শাবান মাসে রোজা ফরজ করা হয়েছিল।

আবার কোনো কোনো আলিম বলেছেন: জাকাত হিজরতের আগে মক্কায় ফরজ হয়েছিল

কারণ সুপরিচিত মাক্কি সূরাগুলোতে জাকাতের উল্লেখ রয়েছে।

এরপর হজ ফরজ করা হয় এবং এটি ফরজ হওয়ার সময় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, এটি ষষ্ঠ হিজরিতে ফরজ হয়েছে এবং এর স্বপক্ষে দলীল দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরাহ পূর্ণ করো, কিন্তু তোমরা যদি বাধাগ্রস্ত হও তবে সহজলভ্য কোরবানি করো...} এই আয়াতটি হুদায়বিয়ার উমরার সময় নাজিল হয়েছিল যখন মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের বাধা দিয়েছিল; আর কোনো মতভেদ ছাড়াই এটি ষষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসের ঘটনা। এখান থেকেই ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, হজ বিলম্বে আদায় করা যায়। তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এটি ষষ্ঠ হিজরিতে ফরজ হয়েছে, অথচ মুসলমানদের ঐক্যমত (إجماع) অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজ ফরজ হওয়ার পর দশম হিজরির আগে হজ করেননি।" জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম—যাঁদের মধ্যে অপর তিনজন ইমামও রয়েছেন—তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: "বরং হজ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা ওয়াজিব এবং হজ নবম হিজরির আগে ফরজ হয়নি।" তাঁরা দলীল পেশ করেছেন...
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بِأَن الْحَج أَنما فرض بقوله تَعَالَى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} . وَهُوَ من صدر سُورَة آل عمرَان وَهُوَ نَازل فِي وَفد نَجْرَان وهم من القادمين عَام الْوُفُود. قَالُوا: وَمَا يُوضح ذَلِك أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم صَالحهمْ على أَدَاء الْجِزْيَة. الْجِزْيَة إِنَّمَا نزلت فِي سُورَة بَرَاءَة عَام تسع، فَإِن قيل لم تزل حجَّة الشَّافِعِي قَائِمَة فِي أَن وجوب الْحَج على التَّرَاخِي لأنكم وافقتم على أَنه فرض عَام تسع وَهُوَ صلى الله عليه وسلم لم يحجّ عَام تسع بل أرسل أَبَا بكر رضي الله عنه حَاجا بِالنَّاسِ وَأتبعهُ عَليّ بن أَبى طَالب رضي الله عنه يُنَادى فِي الْمَوْسِم بِسُورَة بَرَاءَة، وَألا يحجّ بعد الْعَام مُشْرك وَألا يطوف بِالْبَيْتِ عُرْيَان.

فَالْجَوَاب من قبل الْجُمْهُور أَنهم يَقُولُونَ: وجوب الْحَج على الْفَوْر. وَهُوَ عَام تسع مَفْرُوض إِلَّا أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَنعه من الْمُبَادرَة إِلَى الْحَج عَام تسع عذر شَرْعِي صَحِيح وَهُوَ أَنه فِي عَام تسع لم يُمكن منع الْمُشْركين من الْحَج وَلَا منع الطائفين عُرَاة فكره صلى الله عليه وسلم مخالطتهم على ذَلِك الْحَال وَلذَلِك صرح الله بمنعهم بعد ذَلِك الْعَام الَّذِي هُوَ عَام تسع وَذَلِكَ فِي قَوْله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَذَا} . وَأشهر الأمهال الْأَرْبَعَة الْمَذْكُورَة فِي قَوْله: {فَسِيحُوا فِي الأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ} . لم تنقض إِلَّا بعد الْحَج من تِلْكَ السّنة فَلهم المهلة فِي ذَلِك الْمَوْسِم من تِلْكَ السّنة الَّتِي هِيَ سنة تسع وَأظْهر الْأَقْوَال أَن مبدأ تِلْكَ الْأَشْهر من وَقت النداء بِالْبَرَاءَةِ من الْمُشْركين وَذَلِكَ يَوْم الْحَج الْأَكْبَر كَمَا يدل على ذَلِك قَوْله تَعَالَى: {وَأَذَانٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ} . فَأول عَام أمكنه فِيهِ الْحَج صافيا لَا تُوجد فِيهِ مناكر من طواف الْمُشْركين عُرَاة هُوَ عَام عشر فبادر فِيهِ إِلَى الْحَج. قَالُوا: وَأما آيَة {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} النَّازِلَة سنة سِتّ فَهِيَ إِنَّمَا تدل على وجوب إِتْمَامه بعد الشُّرُوع فِيهِ وَلَا تدل على وُجُوبه ابْتِدَاء
হজ কেবল আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে ফরজ হয়েছে: {আল্লাহর উদ্দেশ্যে মানুষের উপর বায়তুল্লাহর হজ করা কর্তব্য, যে ব্যক্তি সেখানে পৌঁছানোর সামর্থ্য রাখে এবং যে কুফরি করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজাহান থেকে অমুখাপেক্ষী।} এটি সূরা আল-ইমরানের শুরুর অংশ এবং এটি নাজরান প্রতিনিধি দলের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল, যারা প্রতিনিধি আগমনের বছরে এসেছিলেন। তারা বলেন: এর স্পষ্ট প্রমাণ হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে জিজিয়া প্রদানের শর্তে সন্ধি করেছিলেন। জিজিয়া সংক্রান্ত বিধান কেবল নবম হিজরি সনে সূরা বারাআতে অবতীর্ণ হয়েছে। যদি বলা হয় যে, ইমাম শাফিঈর দলিল এ বিষয়ে অটুট রয়েছে যে হজের আবশ্যকতা বিলম্বে পালনযোগ্য, কারণ আপনারা একমত হয়েছেন যে এটি নবম হিজরি সনে ফরজ হয়েছে, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবম হিজরিতে হজ করেননি; বরং তিনি আবু বকর (রা.)-কে মানুষের হজ পরিচালনার জন্য প্রেরণ করেন এবং তার পেছনে আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে পাঠান যাতে তিনি হজের মৌসুমে সূরা বারাআত ঘোষণা করেন এবং এই ঘোষণা দেন যে এই বছরের পর কোনো মুশরিক আর হজ করতে পারবে না এবং উলঙ্গ অবস্থায় কেউ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না।

জুমহুর (অধিকাংশ আলেমদের) পক্ষ থেকে উত্তর হলো: তারা বলেন, হজ বিলম্ব না করে অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব। এটি নবম হিজরি সনে ফরজ করা হয়েছে, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবম হিজরিতে দ্রুত হজের জন্য রওনা হতে একটি সহিহ (صحيح) শরয়ি ওজর বাধা দিয়েছিল; আর তা হলো নবম হিজরিতে মুশরিকদের হজ করা থেকে বিরত রাখা সম্ভব ছিল না এবং উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফকারীদের বাধা দেওয়াও সম্ভব ছিল না। এমতাবস্থায় তাদের সাথে মেলামেশা করাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করেছিলেন। এজন্যই আল্লাহ তাআলা সেই বছর অর্থাৎ নবম হিজরির পর থেকে তাদের বাধা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র, সুতরাং এই বছরের পর তারা যেন মসজিদে হারামের নিকটবর্তী না হয়।} আর অবকাশের চার মাস যার উল্লেখ এই বাণীতে রয়েছে: {তোমরা পৃথিবীতে চার মাস বিচরণ করো}, তা সেই বছরের হজের পরেই সমাপ্ত হয়েছে। সুতরাং তাদের জন্য সেই মৌসুমে অর্থাৎ নবম হিজরিতে অবকাশ ছিল। সবচেয়ে স্পষ্ট অভিমত হলো যে, এই মাসগুলোর সূচনা হয়েছিল মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণার সময় থেকে, আর তা ছিল বড় হজের দিনে; যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী প্রমাণ করে: {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে হজের বড় দিনে মানুষের প্রতি ঘোষণা যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও।} সুতরাং প্রথম যে বছরে তাঁর পক্ষে কোনো প্রকার মুনকার (منكر) বিষয় যেমন মুশরিকদের উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফ করা ব্যতিরেকেই স্বচ্ছভাবে হজ পালন করা সম্ভব হয়েছিল, তা ছিল দশম হিজরি সন। তাই তিনি সেই বছরই হজের জন্য ত্বরান্বিত হলেন। তারা বলেন: আর ষষ্ঠ হিজরিতে অবতীর্ণ {তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরাহ পূর্ণ করো} এই আয়াতটি কেবল হজ শুরু করার পর তা পূর্ণ করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে, প্রাথমিকভাবে তা ওয়াজিব হওয়ার ওপর দলিল প্রদান করে না।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
إِذْ لَو كَانَت دَلِيلا صَرِيحًا على وُجُوبه ابْتِدَاء لما أمكن خلاف أهل الْعلم فِي وجولا الْعمرَة لِأَنَّهَا قرينَة الْحَج فِي آيَة وَأَتمُّوا الْحَج وَالْعمْرَة لله الْمَذْكُورَة.

وَمِثَال النَّوْع الثَّانِي: وَهُوَ مَا كَانَ التدريج فِيهِ فِي حكم وَاحِد إِذا كَانَ التَّكْلِيف بِهِ فِيهِ مشقة بتشريع الْقِتَال وَالصَّوْم وَتَحْرِيم الْخمر. فان الْقِتَال فِيهِ مشقة على النُّفُوس لما يستلزمه من إِنْفَاق الْأَمْوَال وتعريض المهج للتلف. فالمجاهد عِنْد التقاء الصُّفُوف والتحام الْقِتَال لَا يخفى أَن حَيَاته فِي أعظم الْخطر.

وَلذَا كَانَ الْحَاضِر صف الْقِتَال عِنْد الْمَالِكِيَّة وَمن وافقهم مَحْجُورا عَلَيْهِ كالحجر على الْمَرِيض مَرضا مخوفا وَلأَجل هَذَا لم يفْرض الْجِهَاد مرّة وَاحِدَة بل أَنما فرض تدريجا على ثَلَاث مراحل. فَأذن فِيهِ أَولا من غير إِيجَاب بقوله تَعَالَى: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ} ثمَّ لما استأنست النُّفُوس بِهِ بعد الْإِذْن فِيهِ أمروا بِقِتَال من قَاتلهم دون من لم يقاتلهم بقوله تَعَالَى: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} فَلَمَّا استأنست النُّفُوس بِالْقِتَالِ ومارسته وَهَان عَلَيْهَا فرض فرضا جَازِمًا باتا بقوله: {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ} وَقَوله تَعَالَى: {قَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً} .

وَمَعْلُوم أَن بعض أهل الْعلم يَقُول فِي آيَة: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ} . غير مَا ذكرنَا وَلَكِن مَا ذكرنَا اخْتَارَهُ غير وَأحد من الْعلمَاء.

وَأما الصَّوْم فَلَا يخفى أَنما كفر النَّفس عَن شَهْوَة الْبَطن والفرج فِيهِ مشقة على من لم يعتده وَلذَلِك شرع الصَّوْم أَيْضا تدريجا. فَكَانُوا فِي أول الْأَمر مخيرين بَين الصَّوْم وَبَين الْفطر وَالْإِطْعَام كَمَا دلّ عَلَيْهِ قَوْله تَعَالَى:
কারণ যদি এটি শুরু থেকেই এর আবশ্যকতার (وجوب) ওপর স্পষ্ট দলিল (دليل صريح) হতো, তবে উমরার আবশ্যকতা (وجوب) নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য সম্ভব হতো না; কারণ উমরা উল্লিখিত ‘তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো’ আয়াতে হজের সঙ্গী হিসেবে এসেছে।

দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ: আর তা হলো এমন বিষয় যেখানে একটি একক বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক ধারা (تدريج) অবলম্বন করা হয়েছে, যখন সেই দায়িত্ব অর্পণের (تكليف) মধ্যে কষ্ট (مشقة) বিদ্যমান থাকে; যেমন যুদ্ধ, রোজা এবং মদ হারাম করার বিধান প্রণয়ন। কেননা যুদ্ধের মধ্যে প্রাণের ওপর কষ্ট (مشقة) রয়েছে, কারণ এতে অর্থ ব্যয় এবং জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া অবধারিত। সুতরাং কাতারবদ্ধ অবস্থায় যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদের জীবন যে চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকে, তা অস্পষ্ট নয়।

এই কারণে মালেকী মাযহাব এবং তাঁদের অনুসারীদের মতে, রণক্ষেত্রে উপস্থিত ব্যক্তি মরণাপন্ন রোগীর ন্যায় আইনি বিধি-নিষেধের অধীন (محجور عليه) হন। আর একারণেই জিহাদ একবারে ফরজ (فرض) করা হয়নি, বরং এটি তিনটি পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে (تدريجا) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রথমে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে কোনো বাধ্যতামূলক করা (إيجاب) ছাড়াই এর অনুমতি দেওয়া হয়: "যাদের সাথে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদের অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম।" এরপর যখন অনুমতির পর মন এতে অভ্যস্ত হলো, তখন যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলো, কিন্তু যারা যুদ্ধ করে না তাদের সাথে নয়; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, এবং সীমালঙ্ঘন করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।" এরপর যখন মন যুদ্ধের সাথে পুরোপুরি অভ্যস্ত হলো, এটি চর্চা করল এবং তা সহজ মনে হলো, তখন একে অকাট্য ও চূড়ান্তভাবে ফরজ (فرض) করে দেওয়া হলো এই বাণীর মাধ্যমে: "অতঃপর মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো, তাদের বন্দি করো, তাদের অবরুদ্ধ করো এবং প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে থাকো।" এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে যুদ্ধ করো, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেতভাবে যুদ্ধ করে।"

এটি সুবিদিত যে, কিছু আলেম "আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে" আয়াতটির ব্যাপারে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেন; তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা অনেক আলেমই পছন্দ করেছেন।

আর রোজার ক্ষেত্রে এটি অস্পষ্ট নয় যে, পানাহার ও কামভাবের চাহিদা থেকে প্রবৃত্তিকে বিরত রাখার মধ্যে এমন ব্যক্তির জন্য কষ্ট (مشقة) রয়েছে যে এতে অভ্যস্ত নয়; এজন্য রোজাকেও পর্যায়ক্রমে (تدريجا) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। শুরুতে তারা রোজা রাখা এবং রোজা ভঙ্গ করে আহার করানোর মধ্যে ইখতিয়ার বা পছন্দের অধিকারী ছিলেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী নির্দেশ করে:
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
{وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} . على أظهر التفسيرات وَأظْهر الْأَقْوَال فِي ذَلِك.

ثمَّ لما استأنستا النُّفُوس بِالصَّوْمِ وألفته أوجب إِيجَابا جَازِمًا باتا بقوله تَعَالَى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} . الْآيَة وَبَعض أهل الْعلم يَقُول: أَن مَرَاتِب تدريج الصَّوْم ثَلَاث.

أ- كَانَ أَولا يجب صَوْم يَوْم عَاشُورَاء وَثَلَاثَة أَيَّام من كل شهر ثمَّ أوجب صَوْم رَمَضَان سنة اثْنَيْنِ وَقع فِيهِ التدرج الَّذِي ذكرنَا.

وَأما الْخمر: فَإِن من اعتادها يصعب عَلَيْهِ تَركهَا قبحها الله وَلذَلِك لما أَرَادَ الله أَن يشرع تَحْرِيمهَا شَرعه تدريجا على ثَلَاث مراحل أنزل فِيهَا أَولا آيَة الْبَقَرَة المنبهة على بعض معايبها وَمَا فِيهَا من الْإِثْم وهى قَوْله تَعَالَى: {يَسْأَلونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا} ثمَّ استأنست النُّفُوس بِأَن فِيهَا إِثْمًا كَبِيرا وَأَن أثمها أكبر من نَفعهَا شرع الله تَحْرِيمهَا فِي بعض الْأَوْقَات دون بعض فَحرمت عَلَيْهِم فِي أَوْقَات الصَّلَاة وَمعنى ذَلِك أَنهم حرم عَلَيْهِم شربهَا فِي وَقت يقرب من وَقت الصَّلَاة بِحَيْثُ يدْخل وَقت الصَّلَاة والشارب لم يَصح. فصاروا لَا يشربونها أَلا فِي وَقْتَيْنِ لَان الشَّارِب فيهمَا يصحو قبل وَقت الصَّلَاة وهما بعد صَلَاة الصُّبْح وَبعد صَلَاة الْعشَاء.

وَذَلِكَ بقوله تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ} .

فَلَمَّا استأنست النُّفُوس بتحريمها حرمت جَازِمًا باتا فِي غَزْوَة بنى النَّضِير بقوله تَعَالَى فِي سُورَة الْمَائِدَة {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ} .
{আর যাদের জন্য তা (সিয়াম পালন) অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য ফিদয়া প্রদান করা, অর্থাৎ একজন মিসকিনকে অন্নদান করা।} এটিই এই বিষয়ের সবচেয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অভিমত।

অতঃপর যখন মানুষের অন্তর সিয়ামের সাথে পরিচিত হলো এবং এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠল, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা চূড়ান্ত ও অকাট্যভাবে আবশ্যক করলেন: {অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।} (আয়াত)। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: সিয়ামের পর্যায়ক্রমিক বিধানের স্তর ছিল তিনটি।

ক- শুরুতে আশুরার দিনের রোজা এবং প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা আবশ্যক ছিল। অতঃপর হিজরি দ্বিতীয় সনে রমজানের রোজা ফরজ করা হয় এবং এতে আমরা যে পর্যায়ক্রমিক বিধানের কথা উল্লেখ করেছি তা কার্যকর হয়।

আর মদের ব্যাপারে কথা হলো: যে ব্যক্তি এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তার জন্য এটি ত্যাগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে—আল্লাহ একে কলুষিত করুন। এই কারণে আল্লাহ যখন এর হাররাম হওয়ার বিধান দিতে চাইলেন, তখন তিনি তা তিনটি ধাপে পর্যায়ক্রমে বিধিবদ্ধ করলেন। প্রথমে তিনি সূরা বাকারার আয়াত নাজিল করলেন, যা এর কিছু ত্রুটি এবং এতে থাকা পাপের বিষয়ে সতর্ক করে। তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, এ দুটোর মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও, তবে এ দুটোর পাপ এদের উপকারের চেয়ে অনেক বড়।} অতঃপর যখন মানুষের অন্তর এই বিষয়ে অভ্যস্ত হলো যে এতে মহাপাপ রয়েছে এবং এর পাপ এর উপকারের চেয়ে বড়, তখন আল্লাহ নির্দিষ্ট কিছু সময়ে তা হারাম করলেন। ফলে নামাজের সময়গুলোতে এটি তাদের জন্য হারাম করা হলো। এর অর্থ হলো, নামাজের কাছাকাছি সময়ে তাদের জন্য মদ পান করা নিষিদ্ধ করা হলো, যাতে নামাজের সময় উপস্থিত হলে পানকারী ব্যক্তি সচেতন অবস্থায় থাকে। ফলে তারা কেবল দুটি সময়ে মদ পান করত, কারণ এই দুই সময়ে পান করলে নামাজের আগে নেশা কেটে যেত; আর সেই সময় দুটি হলো ফজরের নামাজের পর এবং এশার নামাজের পর।

আর তা হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: {হে মুমিনগণ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পার।}

অতঃপর যখন মানুষের অন্তর এর হাররাম হওয়ার ব্যাপারে অভ্যস্ত হলো, তখন বনু নাযির যুদ্ধের সময় সূরা মায়েদার এই বাণীর মাধ্যমে তা চূড়ান্ত ও অকাট্যভাবে হারাম করা হলো: {হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো পরিহার করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো এটাই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখবে। সুতরাং তোমরা কি নিবৃত্ত হবে?}
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وفى هَذِه الْآيَة الْكَرِيمَة تَحْرِيم الْخمر على أكمل الْوُجُوه وأبلغها كَمَا أوضحناه فِي غير هَذِه المحاضرة فَهَذِهِ أَمْثِلَة من حكم الله الْبَالِغَة فِي كَيْفيَّة التشريع.

ثمَّ إِنَّا نُرِيد ألان أَن نذْكر الحكم الَّتِي يشْتَمل عَلَيْهَا تشر خَالق السَّمَاوَات وَالْأَرْض.

اعْلَم أَولا أَن الْحِكْمَة فعلة من الحكم وَهُوَ فِي اللُّغَة الْمَنْع. وَأظْهر مَعَاني الْحِكْمَة لُغَة أَنَّهَا الْعلم النافع الصَّحِيح. لِأَن الْعلم الصَّحِيح النافع يمْنَع الْأَقْوَال وَالْأَفْعَال! أَن يعتريها الْخلَل وَالنَّقْص فَكل نقص أَو خلل منشأه فِي الْحَقِيقَة من الْجَهْل الَّذِي هُوَ عدم الْعلم بِمَا يقْصد.

وَالْحكمَة فِي الِاصْطِلَاح هِيَ وضع الْأُمُور فِي موَاضعهَا وإيقاعها فِي مواقعها. وَهِي فِي الِاصْطِلَاح الْخَاص بِأَهْل الْأُصُول: الْمصلحَة الَّتِي من أجلهَا صَار الْوَصْف عِلّة للْحكم فَالْحكم مثلا: تَحْرِيم شرب الْخمر وَعلة هَذَا الحكم هِيَ الاسكار وَالْحكمَة هِيَ حفظ الْعقل فمصلحة حفظ الْعقل هِيَ الَّتِي من أجلهَا صَار الاسكار عِلّة لتَحْرِيم شرب الْخمر وهى حِكْمَة التشريع.

وَالْحكم مثلا أَيْضا الْقطع وَعلة هَذَا الحكم هِيَ السّرقَة وَالْحكمَة هِيَ حفظ المَال فمصلحة حفظ المَال من السّرقَة هِيَ الَّتِي من أجلهَا صَارَت السّرقَة عِلّة لقطع يَد السَّارِق. وَهَكَذَا.

وَبَعض أهل الْأُصُول يَقُول: الْحِكْمَة عبارَة عَن دفع مفْسدَة أَو تقليلها. أَو جلب مصلحَة أَو تكميلها وَهُوَ رَاجع إِلَى مَا ذكرنَا. فَإِذا علمت ذَلِك فَاعْلَم أَن أيحكم الَّتِي يَدُور حولهَا التشريع السماوي ثَلَاثًا.

1- الأولى: دَرأ الْمفْسدَة وَهُوَ الْمعبر عَنهُ فِي الْأُصُول بالضروريات.

2- الثَّانِيَة: جلب الْمصلحَة وَهُوَ الْمعبر عَنهُ عِنْد الْأُصُولِيِّينَ بالحاجيات.

3- الثَّالِثَة: الجري على مَكَارِم الْأَخْلَاق وَاتِّبَاع أحسن المناهج
এই মহিমান্বিত আয়াতে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও প্রাঞ্জলভাবে মদ হারাম করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আমরা এই আলোচনার বাইরে অন্য কোনো স্থানে স্পষ্ট করেছি। সুতরাং বিধান প্রণয়নের পদ্ধতির ক্ষেত্রে এগুলো আল্লাহর সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞার কয়েকটি উদাহরণ।

অতঃপর আমরা এখন আসমান ও জমিনের স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রবর্তিত শরিয়তের অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞাসমূহ (حكم) উল্লেখ করতে চাই।

প্রথমেই জেনে রাখুন যে, 'হিকমাহ' (حكمة) শব্দটি 'হুকম' (حكم) থেকে উদ্গত, যার আভিধানিক অর্থ হলো 'প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা বাধা প্রদান করা'। আভিধানিক অর্থে 'হিকমাহ' (حكمة)-এর সর্বাধিক সুস্পষ্ট অর্থ হলো 'উপকারী সঠিক জ্ঞান'। কেননা সঠিক ও উপকারী জ্ঞান কথা ও কাজে কোনো প্রকার ত্রুটি বা অপূর্ণতা দেখা দিতে বাধা প্রদান করে। কারণ প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি অপূর্ণতা বা ত্রুটির উৎস হলো অজ্ঞতা, যা মূলত কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব মাত্র।

পরিভাষায় 'হিকমাহ' (حكمة) হলো প্রত্যেক বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে রাখা এবং তার সঠিক অবস্থানে প্রয়োগ করা। উসুল শাস্ত্রবিদদের (أهل الأصول) নিকট বিশেষ পরিভাষায় এটি হলো সেই জনকল্যাণ (مصلحة), যার কারণে কোনো বৈশিষ্ট্য (وصف) কোনো বিধানের (حكم) জন্য নিমিত্ত (علة) হিসেবে গণ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ: বিধান (حكم) হলো মদ পান হারাম হওয়া; এই বিধানের নিমিত্ত (علة) হলো মাদকতা এবং এর প্রজ্ঞা (حكمة) হলো বুদ্ধি বা আকল সংরক্ষণ করা। সুতরাং বুদ্ধি সংরক্ষণের যে জনকল্যাণ (مصلحة), মূলত সেই কারণেই মাদকতাকে মদ পান হারাম হওয়ার নিমিত্ত (علة) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, আর এটিই হলো বিধান প্রণয়নের প্রজ্ঞা (حكمة التشريع)।

বিধানের (حكم) আরও একটি উদাহরণ হলো অঙ্গচ্ছেদন। এই বিধানের নিমিত্ত (علة) হলো চুরি, আর এর প্রজ্ঞা (حكمة) হলো সম্পদ সংরক্ষণ। সুতরাং চুরি থেকে সম্পদ রক্ষা করার যে জনকল্যাণ (مصلحة), মূলত সেই কারণেই চুরিকে চোরের হাত কাটার নিমিত্ত (علة) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবেই অন্যান্য বিষয়গুলোও।

উসুল শাস্ত্রবিদদের (أهل الأصول) কেউ কেউ বলেন: 'হিকমাহ' (حكمة) হলো কোনো অনিষ্ট (مفسدة) দূর করা বা তা হ্রাস করা, অথবা কোনো কল্যাণ (مصلحة) বয়ে আনা বা তাকে পূর্ণতা দান করা। এটি মূলত আমরা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি তারই অন্তর্ভুক্ত। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে, আসমানি শরিয়তের বিধানসমূহ যে সকল প্রজ্ঞাকে (حكم) কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তা তিনটি।

1- প্রথমটি হলো: অনিষ্টতা দূর করা (درأ المفسدة), উসুল শাস্ত্রে যাকে 'অপরিহার্য বিষয়সমূহ' (ضروريات) বলে অভিহিত করা হয়।

2- দ্বিতীয়টি হলো: জনকল্যাণ সাধন করা (جلب المصلحة), যা উসুল শাস্ত্রবিদদের নিকট 'প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ' (حاجيات) নামে পরিচিত।

3- তৃতীয়টি হলো: উন্নত চারিত্রিক গুণাবলি ধারণ করা এবং সর্বোত্তম কর্মপন্থা অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فِي الْعَادَات والمعاملات وهى الْمعبر عَنهُ فِي الْأُصُول بالتحسينات وَا لتتميميات.

أما الضروريات وهى أصُول الْمصَالح العالمية فِي الدُّنْيَا فَهِيَ دَرأ الْمفْسدَة عَن سِتَّة أَشْيَاء عَلَيْهَا مدَار الْمصَالح الْكُبْرَى فِي الدّين وَالدُّنْيَا وهى:

1- الدّين 2- النَّفس 3- الْعقل 4- النّسَب 5- الْعرض 6- المَال.

أ- أما الدّين: فقد اقْتضى التشريع الإسلامي بِمَا اشْتَمَل عَلَيْهِ من الحكم الْبَالِغَة صيانته والمحافظة عَلَيْهِ بِأَحْكَم الطّرق وأقومها وأعدلها كَقَوْلِه تَعَالَى: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ} .

وفى آيَة الْأَنْفَال: {وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ} فَهَذَا دفاع عَن حمى الدّين بِالنَّفسِ والنفيس تَحت ظلال السيوف حَتَّى لَا تبقى فِي الأَرْض فتْنَة (أَي شرك) كَمَا يَده عَلَيْهِ قَوْله تَعَالَى: {تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ} وَقَوله صلى الله عليه وسلم: " أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يشْهدُوا أَن لَا إِلَه إِلَّا الله". الحَدِيث.

وَقد بَين صلى الق عَلَيْهِ وَسلم أَنهم لَا يُقَاتلُون حَتَّى يدعوا إِلَى الْإِسْلَام فيمتنعوا وَقد أَشَارَ تَعَالَى إِلَى ذَلِك فِي قَوْله: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ} الْآيَة، لِأَن قَوْله: {وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ} بعد قَوْله تَعَالَى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ} يدل على أَنه إِن لم تَنْفَع فيهم الْبَينَات والكتب جرد عَلَيْهِم السَّيْف كَمَا قَالَ الْقَائِل:

بهدى الْكتاب هدى فَمن لم يرتدع … بهدى الْكتاب فبالكتائب يردع

ب- وَأما النَّفس: فقد أقتضى التشريع الإسلامي أَيْضا بِمَا اشْتَمَل عَلَيْهِ من الحكم الْبَالِغَة والمحافظة على الْمصَالح الْعَامَّة صيانتها وَدَرَأَ
সাধারণ অভ্যাস এবং সামাজিক লেনদেনের ক্ষেত্রে, যেগুলোকে উসুল (মূলনীতিশাস্ত্রে) সৌন্দর্যবর্ধক (تحسينات) এবং পরিপূরক (تتميميات) বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়।

পক্ষান্তরে অপরিহার্য বিষয়গুলো (ضروريات), যা দুনিয়াবি বিশ্বজনীন কল্যাণসমূহের মূল ভিত্তি, তা হলো এমন ছয়টি বিষয় থেকে অনিষ্ট দূর করা যার ওপর দ্বীন ও দুনিয়ার প্রধান কল্যাণসমূহ আবর্তিত হয়। সেগুলো হলো:

১- ধর্ম (الدين) ২- জীবন (النفس) ৩- বুদ্ধি (العقل) ৪- বংশ (النسب) ৫- সম্মান (العرض) ৬- সম্পদ (المال)।

ক- ধর্ম (الدين): ইসলামী শরিয়ত তার অন্তর্ভুক্ত সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞার দ্বারা একে সংরক্ষণ এবং হিফাজত করাকে অপরিহার্য করেছে অত্যন্ত সুদৃঢ়, সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পন্থায়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।}

সুরা আল-আনফালের আয়াতে রয়েছে: {এবং দ্বীন যেন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।} এটি হলো তলোয়ারের ছায়াতলে জীবন ও মূল্যবান সবকিছুর বিনিময়ে ধর্মের সীমানা রক্ষা করা, যাতে পৃথিবীতে কোনো ফিতনা (অর্থাৎ শিরক) অবশিষ্ট না থাকে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী ইঙ্গিত দেয়: {তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা ইসলাম গ্রহণ করবে।} এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।" — হাদিস।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, তাদের ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করা হবে না যতক্ষণ না তাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। মহান আল্লাহ এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: {নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও তুলাদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর কায়েম থাকে। আর আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি যাতে রয়েছে কঠোর শক্তি এবং মানুষের জন্য নানাবিধ কল্যাণ।} কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি যাতে রয়েছে কঠোর শক্তি}, যা মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে কিতাব অবতীর্ণ করেছি} এর পরে আসার অর্থ হলো—যদি তাদের ক্ষেত্রে প্রমাণাদি ও কিতাব কোনো উপকারে না আসে, তবে তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার কোষমুক্ত করা হবে। যেমন জনৈক কবি বলেছেন:

কিতাবের হেদায়েত দ্বারা হেদায়েত প্রাপ্ত হও; সুতরাং যে ব্যক্তি কিতাবের হেদায়েত দ্বারা নিবৃত্ত হবে না … তাকে বাহিনী (তলোয়ার) দ্বারা নিবৃত্ত করা হবে।

খ- জীবন (النفس): ইসলামী শরিয়ত তার অন্তর্ভুক্ত সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা ও জনস্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে জীবনকে সুরক্ষা প্রদান এবং এর থেকে ক্ষতি নিরসন করাকেও অপরিহার্য করেছে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الْمفْسدَة عَنْهَا بِأَحْكَم الطّرق وأقومها. وَلذَا جَاءَ فِيهِ تشريع الْقصاص وَهُوَ أعظم وَسِيلَة لِسَلَامَةِ الْأَنْفس من الْقَتْل كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} . فَصرحَ تَعَالَى فِي هَذِه الْآيَة الْكَرِيمَة بِأَن لَهُم فِي تشريع الْقصاص حَيَاة لَان من هم بِالْقَتْلِ تذكر أَنه إِن قتل قتل فلاحظ تَقْدِيمه للْقَتْل قصاصا فأشفق على نَفسه من الْمَوْت فَترك الْقَتْل فَسلم صَاحبه من الْقَتْل وَسلم هُوَ من الْقود وَهَذِه حَيَاة نفسين. كَانَت بِسَبَب هَذَا التشريع السماوي الَّذِي وَضعه الله الْحَكِيم الْخَبِير. وَلَكِن هَذَا الحكم إِنَّمَا يفهمها أهل الْعُقُول السليمة من شوائب الاختلال وَلذَا قَالَ تَعَالَى بعد ذكره الْقصاص الْمَذْكُور والتنبيه على مَا فِي تشريعه من الْحَيَاة يَا أولى الْأَلْبَاب. فَنَادَى المخاطبين نِدَاء يخْتَص بأصحاب الْعُقُول السليمة لأَنهم هم الَّذين يفهمون ذَلِك وينتفعون بِهِ.

ج- وَأما الْعقل: فقد اقْتضى تشريع الْحَكِيم الْخَبِير الْمُحَافظَة عَلَيْهِ بِأَحْكَم الطّرق وأقومها فَمنع من شرب الْخمر لِأَنَّهَا تذْهب الْعقل صِيَانة لِلْعَقْلِ ومحافظة عَلَيْهِ وَأوجب الْحَد فِي شرب الْخمر مُحَافظَة عَلَيْهِ وصيانة لَهُ قَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} إِلَى قَوْله فَهَل أَنْتُم مُنْتَهُونَ. وفى الحَدِيث: "كل مُسكر حرَام" وَفِيه "مَا أسكر كَثِيره فقليله حرَام". وَقد أوجب صلى الله عليه وسلم حد الشَّارِب دَرأ للمفسدة عَن الْعقل كَمَا هُوَ مَعْلُوم.

د- وَأما النّسَب: فقد اقْتضى التشريع الإسلامي الَّذِي هُوَ تشريع خَالق السَّمَاوَات وَالْأَرْض على لِسَان سيد ولد آدم صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ صيانته والمحافظة عَلَيْهِ بِأَحْكَم الطّرق وأعدلها فَحرم الزِّنَا وَمن حِكْمَة تَحْرِيمه أَنه حرم لِئَلَّا يبْقى الْوَلَد من الزِّنَا ضائعا بِلَا نسب قَالَ تَعَالَى: {وَلا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلاً} وَنَحْوهَا فِي الْآيَات وَلأَجل الْمُحَافظَة على النّسَب أوجب الْحَد على من زنا أعاذنا
অনিষ্টতাকে অত্যন্ত সুসংহত ও সুদৃঢ় পন্থায় প্রতিহত করা হয়েছে। এ কারণেই এতে কিসাসের বিধান এসেছে, যা হত্যার হাত থেকে জীবন রক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে, যাতে তোমরা বেঁচে থাকতে পার।" (সূরা বাকারাহ: ১৭৯)। সুতরাং আল্লাহ তাআলা এই মহিমান্বিত আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, কিসাসের বিধান প্রবর্তনের মধ্যে তাদের জন্য জীবন রয়েছে। কারণ, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করার সংকল্প করে, সে যখন স্মরণ করে যে সে যদি কাউকে হত্যা করে তবে তাকেও হত্যা করা হবে, তখন সে কিসাস স্বরূপ নিজের প্রাণদণ্ডের বিষয়টি উপলব্ধি করে নিজের জীবনের মায়ায় শঙ্কিত হয় এবং হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত থাকে। ফলে তার সম্ভাব্য শিকার যেমন হত্যার হাত থেকে রক্ষা পায়, সে নিজেও কিসাস থেকে বেঁচে যায়। আর এভাবেই দু’টি প্রাণ রক্ষা পায়। এটি মূলত সেই ঐশী বিধানের কল্যাণে সম্ভব হয়েছে যা মহাপ্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। তবে এই হিকমত কেবল বিকৃতিমুক্ত সুস্থ বিবেকের অধিকারীরাই অনুধাবন করতে পারে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কিসাসের আলোচনা এবং এর বিধানের মধ্যে নিহিত জীবনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর বলেছেন: "হে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়!"। অতঃপর তিনি সম্বোধনকৃতদের এমন এক বিশেষণে আহ্বান করেছেন যা কেবল সুস্থ বিবেকের অধিকারীদের জন্যই নির্দিষ্ট, কারণ তারাই এটি বুঝতে পারে এবং এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে।

গ- আর বিবেক: মহাপ্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার প্রবর্তিত শরীয়ত একেও অত্যন্ত সুসংহত ও সুদৃঢ় পন্থায় সংরক্ষণের দাবি রাখে। ফলে মদ পান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ তা বিবেককে আচ্ছন্ন বা বিলুপ্ত করে দেয়। মূলত বিবেকের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের নিমিত্তেই এটি করা হয়েছে। আর মদ পানের ক্ষেত্রে 'হদ্দ' বা নির্ধারিত শাস্তি আবশ্যক করা হয়েছে যাতে বিবেকের হেফাজত ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক শর—এসবই শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।" ... "এখনও কি তোমরা বিরত হবে না?" (সূরা মায়িদাহ: ৯০-৯১)। হাদিসে এসেছে: "প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম।" আরও বর্ণিত হয়েছে: "যে জিনিসের অধিক পরিমাণ নেশা উদ্রেক করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম।" আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবেকের অনিষ্টতা দূর করার জন্য মদ্যপায়ীর ওপর শাস্তি (হদ্দ) প্রয়োগ করা ওয়াজিব করেছেন, যা সর্বজনবিদিত।

ঘ- আর বংশমর্যাদা: আসমান ও জমিনের স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রবর্তিত ইসলামি শরীয়ত, যা মানবজাতির সরদার আদম-সন্তানদের শ্রেষ্ঠ নেতার (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) জবানিতে এসেছে, তা একে অত্যন্ত সুসংহত ও সুষম পদ্ধতিতে রক্ষা ও সংরক্ষণের দাবি রাখে। ফলে ব্যভিচারকে হারাম করা হয়েছে। আর এই হারামের অন্যতম হিকমত হলো যাতে ব্যভিচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান পরিচয়হীন অবস্থায় হারিয়ে না যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয়ই তা একটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" (সূরা ইসরা: ৩২)। পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহে অনুরূপ আরও বর্ণনা রয়েছে। আর বংশমর্যাদা রক্ষার তাগিদেই ব্যভিচারকারীর ওপর হদ্দ প্রয়োগ করা আবশ্যক করা হয়েছে, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الله وإخواننا الْمُسلمين من ذَلِك فَصرحَ تَعَالَى بِوُجُوب جلده مائَة جلدَة فِي قَوْله تَعَالَى {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} الْآيَة وَصرح فِي الْآيَة الْأُخْرَى الَّتِي هِيَ مَنْسُوخَة التِّلَاوَة بَاقِيَة الحكم وهى قَوْله تَعَالَى: "الشَّيْخ وَالشَّيْخَة" إِلَى قَوْله "عَزِيز حَكِيم"1 وَهَذِه الْآيَة بَاقِيَة الحكم إِجْمَاعًا وَأَن نسخ لَفظهَا. وَقد رجم النَّبِي صلى الله عليه وسلم ورجم الْخُلَفَاء الراشدون بعده وَاسْتقر على ذَلِك إِجْمَاع الْمُسلمين كَمَا هُوَ مَعْلُوم لَا نزاع فِيهِ.

وَمن حكم ذَلِك الردع الْبَالِغ عَن الزِّنَا بِالْجلدِ وَالرَّجم حفظ الْأَنْسَاب وَعدم ضياعها واختلاطها.

وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَن الرَّجْم الْمَذْكُور دلّت عَلَيْهِ آيَة محكمَة التِّلَاوَة وَالْحكم وَهِي قَوْله تَعَالَى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيباً مِنَ الْكِتَابِ يُدْعَوْنَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ وَهُمْ مُعْرِضُونَ} قَالَ لِأَنَّهَا نزلت فِي الْيَهُود بَين اللَّذين زَنَيَا وهما مُحْصَنَانِ. وَحكم النَّبِي صلى الله عليه وسلم برجمهما وَأعْرض الْيَهُود عَن قبُول ذَلِك الحكم بِالرَّجمِ. فذمهم الله بِسَبَب ذَلِك الْإِعْرَاض فِي قَوْله: {ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ وَهُمْ مُعْرِضُونَ} وذمه المعرض عَن حكم الرَّجْم فِي هَذِه الْآيَة يدل على أَنه مَشْرُوع فِي شَرِيعَة نَبينَا صلى الله عليه وسلم. إِذْ لَو كَانَ غير مَشْرُوع فِيهَا مَا ذمّ الله المعرض عَنهُ كَمَا ترق. وَلأَجل صِيَانة النّسَب والمحافظة عَلَيْهِ أوجب الله الْعدة على النِّسَاء عِنْد الْمُفَارقَة بِطَلَاق أَو موت لِئَلَّا يخْتَلط مَاء رجل برحم امْرَأَة بِمَاء رجل آخر قَالَ تَعَالَى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ وَلا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} . وَقَالَ تَعَالَى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ

--------------------------------------------

1وَنَصهَا: الشَّيْخ وَالشَّيْخَة إِذا زَنَيَا فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ نكالا من الله وَالله عَزِيز حَكِيم.
আল্লাহ তাআলা এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের এরুপ কাজ থেকে রক্ষা করুন। মহান আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারীকে একশ বেত্রাঘাত করার আবশ্যকতা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশটি করে বেত্রাঘাত করো} - আয়াতাংশ। তিনি অন্য আয়াতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যার পাঠ রহিত (منسوخة التلاوة) হলেও বিধান বহাল (باقية الحكم) রয়েছে। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা..." থেকে "পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়"১ পর্যন্ত। এই আয়াতের শব্দ রহিত হলেও এর বিধান সর্বসম্মতভাবে (إجماعا) বহাল রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) কার্যকর করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদুনগণও রজম করেছেন। মুসলিমদের ঐক্যমত্য (إجماع) এর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেমনটি সর্বজনবিদিত এবং এতে কোনো বিরোধ নেই।

বেত্রাঘাত ও রজমের মাধ্যমে ব্যভিচার থেকে এই চূড়ান্ত প্রতিরোধের অন্যতম হেকমত বা উদ্দেশ্য হলো বংশধারা সংরক্ষণ করা এবং তা হারিয়ে যাওয়া বা সংমিশ্রণ থেকে রক্ষা করা।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, উল্লেখিত রজমের বিধান এমন একটি আয়াত দ্বারা প্রমাণিত যার পাঠ ও বিধান উভয়ই সুসংহত (محكمة)। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তুমি কি তাদের দেখনি, যাদের কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছিল? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল যাতে তা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে, অতঃপর তাদের একদল বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়}। তিনি বলেন, কারণ এই আয়াতটি সেই দুই ইয়াহুদীর ব্যাপারে নাজিল হয়েছে যারা ব্যভিচার করেছিল অথচ তারা ছিল বিবাহিত (محصنان)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের রজমের ফয়সালা দিয়েছিলেন, কিন্তু ইয়াহুদীরা রজমের সেই বিধান গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে তাদের এই বিমুখতার কারণে আল্লাহ তাদের নিন্দা করে বলেন: {অতঃপর তাদের একদল বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়}। এই আয়াতে রজমের বিধান থেকে বিমুখ ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর এই নিন্দা প্রমাণ করে যে, এটি আমাদের নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরীয়তেও বিধিবদ্ধ। কারণ যদি এটি শরীয়তে বিধিবদ্ধ না হতো, তবে আল্লাহ তা থেকে বিমুখ ব্যক্তির নিন্দা করতেন না, যেমনটি আপনি দেখছেন। আর বংশধারা হেফাজত ও সংরক্ষণের জন্য আল্লাহ নারীদের ওপর তালাক বা মৃত্যুর কারণে বিচ্ছেদের সময় ইদ্দত পালন করা আবশ্যক করেছেন, যাতে এক পুরুষের বীর্য অন্য পুরুষের বীর্যের সাথে কোনো নারীর জরায়ুতে সংমিশ্রিত না হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে। আর তাদের জন্য বৈধ নয় যে, আল্লাহ তাদের জরায়ুতে যা সৃষ্টি করেছেন তা তারা গোপন করবে, যদি তারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে...

--------------------------------------------

১. এর পাঠ হলো: "বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা যখন ব্যভিচার করবে, তখন তোমরা তাদের অবশ্যই রজম করো। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وَيَذَرُونَ أَزْوَاجاً يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً} وَلَا يخفى أَنما عدَّة الْوَفَاة لَا تَخْلُو من شبه تعبد لوُجُوبهَا مَعَ عدم الدُّخُول بالمتوفى عَنْهَا.

وَلأَجل صِيَانة النّسَب الْمُحَافظَة عَلَيْهِ منع الشَّرْع الْكَرِيم سقى زرع الرجل بِمَاء غَيره فَمنع نِكَاح الْحَوَامِل حَتَّى يَضعن حَملهنَّ قَالَ تَعَالَى: {وَأُولاتُ الأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} .

وَأما الْعرض أَيْضا فقد اقْتضى التشريع السماوي بِمَا اشْتَمَل عَلَيْهِ من الحكم الْبَالِغَة صيانته والمحافظة عَلَيْهِ بِأَحْكَم الطّرق وأحسنها وأعدلها فَحرم على الْإِنْسَان تَحْرِيمًا باتا أَن يتَكَلَّم فِي عرض أَخِيه بِمَا يُؤْذِيه قَالَ تَعَالَى: {وَلا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضاً} . ثمَّ شنع الْوُقُوع فِي عرض الْمُسلم وقبحه أعظم تشنيع وتقبيح حَيْثُ مثله بِأَكْل لَحْمه بعد أَن مَاتَ وانتن وَذَلِكَ فِي قَوْله: {أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتاً فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ} .

وَلأَجل الْمُحَافظَة على الْعرض وصيانته قَالَ تَعَالَى: {وَلا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْأِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} .

وَلأَجل صيانته والمحافظة عَلَيْهِ أوجب الله جلّ وَعلا فِي مُحكم كِتَابه على من قذف مُسلما حد الْقَذْف ثَمَانِينَ جلدَة وَذَلِكَ فِي قَوْله تَعَالَى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَداً وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ إِلَاّ الَّذِينَ تَابُوا} .

وَلَا يرجع هَذَا الِاسْتِثْنَاء عِنْد جَمَاهِير أهل الْعلم مِنْهُم الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وأصحابهم وَعَامة فُقَهَاء الْأَمْصَار إِلَى الْجلد بل يجلد وَلَو تَابَ. وهدد جلّ وَعلا الَّذين يقعون فِي أَعْرَاض إخْوَانهمْ الْمُسلمين باللعن وَالْعَذَاب يَوْم الْقِيَامَة. وكل ذَلِك لصيانة الْعرض وَحفظه قَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ

"...আর যারা স্ত্রীদের রেখে মারা যায়, তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে।" এবং এটি অস্পষ্ট নয় যে, মৃত্যুর ইদ্দত (عدة) পালনের বিষয়টি ইবাদত (تعبد) হওয়ার বৈশিষ্ট্য বর্জিত নয়; কেননা যার সাথে সহবাস করা হয়নি এমন বিধবার ওপরও এটি ওয়াজিব (واجب)।

বংশপরম্পরা রক্ষা ও তা হেফাযত করার উদ্দেশ্যে মহান শরীয়ত কোনো ব্যক্তির বীর্য দ্বারা অন্যের ফসল সিক্ত করা নিষিদ্ধ করেছে। তাই গর্ভবতী নারীদের সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতের সময়সীমা হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।"

আর মান-সম্মানের বিষয়টিও এমন যে, আসমানী শরীয়ত তার প্রজ্ঞাপূর্ণ বিধানাবলীর মাধ্যমে অত্যন্ত সুদৃঢ়, উত্তম ও ইনসাফপূর্ণ পন্থায় তা রক্ষা ও সংরক্ষণের বিধান দিয়েছে। ফলে মানুষের জন্য তার ভাইয়ের সম্মানহানি হয় এমন কথা বলাকে চূড়ান্তভাবে হারাম (حرام) সাব্যস্ত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা একে অপরের গীবত করো না।" অতঃপর মুসলিমের মান-সম্মানে আঘাত করাকে অত্যন্ত জঘন্য ও কুৎসিত হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে; যেখানে একে মৃত ও পচা মাংস ভক্ষণের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপন্দই করো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।"

মান-সম্মান রক্ষা ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমান আনার পর পাপাচারের (فسوق) নাম অত্যন্ত মন্দ। আর যারা তওবা করে না, তারাই জালিম।"

মান-সম্মান রক্ষা ও সংরক্ষণের নিমিত্তে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে কোনো মুসলিমকে অপবাদ দানকারীর ওপর কযফের হদ (حد القذف) হিসেবে আশিটি বেত্রাঘাত করা আবশ্যক করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যারা সচ্চরিত্রা নারীদের অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তোমরা তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। এরাই হলো পাপাচারী (فاسق); তবে যারা এরপর তওবা করে (তারা ব্যতীত)।"

চার ইমাম ও তাঁদের অনুসারীগণ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ ফকীহগণসহ জমহুর (جمهور) উলামায়ে কেরামের নিকট এই ব্যতিক্রমটি (তওবা) বেত্রাঘাতের বিধানের দিকে প্রত্যাবর্তন করে না; বরং তওবা করলেও তাকে বেত্রাঘাত করা হবে। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের লানত ও কিয়ামতের দিন কঠিন আযাবের হুমকি দিয়েছেন যারা তাদের মুসলিম ভাইদের মান-সম্মানে আঘাত করে। এর সবকিছুই মান-সম্মান রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই যারা..."

(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ اللَّهُ دِينَهُمُ الْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ} . ولاشك أَنه لَا فرق بَين الَّذين يرْمونَ الْمُحْصنَات وَالَّذين يرْمونَ المحصنين كَمَا أجمع عَلَيْهِ جَمِيع الْمُسلمين ودعوة الْخُصُوص فِي هَذِه الْآيَة غير صَحِيح وَلَا مُسْتَند لَهُ.

وَأما المَال فقد اقْتضى التشريع الإسلامي بِمَا اشْتَمَل عَلَيْهِ من الحكم الباهرة وَحفظه الْمصَالح الْعَامَّة وصيانته والمحافظة عَلَيْهِ بِأَحْكَم الطّرق وأحسنها وأقومها وَلذَا حرم على الْمُسلم أَن يَأْخُذ شَيْئا من مَال أَخِيه إِلَّا عَن طيب نفس مِنْهُ وَحرم استلاب الْأَمْوَال وابتزاز ثروات الْأَغْنِيَاء قَالَ تَعَالَى: {وَلا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقاً مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْأِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} وَقَالَ تَعَالَى: {يَا أَيهَا الَّذين امنوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالكُم بَيْنكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تكون تِجَارَة عَن ترَاض مِنْكُم} . وَقد نهى الله جلّ وَعلا خلقه فِي كِتَابه أَن يجْعَلُوا كَون هَذَا غَنِيا وَهَذَا فَقِيرا ذَرِيعَة للجور وَعدم الْعدْل فِي قَوْله تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيّاً أَوْ فَقِيراً فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيراً} . فترى الله جلّ وَعلا ينهاك فِي هَذِه الْآيَة عَن الْجور فِي الشَّهَادَة ونهاك أَن تشهد للْفَقِير على الْغنى لضعف الْفَقِير وَقُوَّة الْغنى. وَصرح بِأَنَّهُ هُوَ أولى بهما مِنْك. وَبِهَذَا تعلم أَن الَّذِي يَأْخُذ مَال الْغنى غصبا بِدَعْوَى أَنه يُعْطِيهِ للْفَقِير ليساوى بَينهمَا انه متمرد على النظام السماوي معترض قسْمَة خَالق السَّمَاوَات وَالْأَرْض الَّتِي تولاها بِنَفسِهِ لحكمته الْبَالِغَة كَمَا بَين ذَلِك فِي قَوْله جلّ وَعلا {أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ
{যারা সচ্চরিত্রা, সরলা ও মুমিন নারীদের অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি। যেদিন তাদের জিহ্বা, হাত ও পা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। সেদিন আল্লাহ তাদের প্রাপ্য প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই সুস্পষ্ট সত্য}। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সচ্চরিত্রা নারীদের অপবাদ দানকারী এবং সচ্চরিত্র পুরুষদের অপবাদ দানকারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, যেমনটি সকল মুসলিম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর এই আয়াতে হুকুমটি নির্দিষ্ট করার দাবি সঠিক (صحيح) নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।

আর সম্পদের ব্যাপারে কথা হলো, ইসলামী শরিয়ত তার চমৎকার প্রজ্ঞা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং সর্বোত্তম ও সুদৃঢ় পন্থায় সম্পদ সংরক্ষণের দাবি রাখে। একারণেই একজন মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের সম্পদ তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ব্যতীত গ্রহণ করা হারাম করা হয়েছে। একইভাবে সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া এবং ধনীদের সম্পদ লুণ্ঠন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধনের কিছু অংশ জেনে-শুনে পাপের মাধ্যমে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের নিকট উপস্থাপন করো না।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।} আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবে সৃষ্টিজগতকে নিষেধ করেছেন তারা যেন কাউকে ধনী বা কাউকে দরিদ্র হওয়ার বিষয়টিকে অবিচার ও ন্যায়ের পরিপন্থী কাজের উসিলা হিসেবে গ্রহণ না করে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাক এবং আল্লাহর ওয়াস্তে সাক্ষ্য দাও; যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়ের পথে চলতে খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো বা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রেখো আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবহিত।} সুতরাং আপনি দেখছেন যে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এই আয়াতে আপনাকে সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে অবিচার করতে নিষেধ করেছেন এবং দরিদ্রের দুর্বলতা বা ধনীর শক্তির কারণে ধনীর বিরুদ্ধে দরিদ্রের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আপনাদের চেয়ে তাদের উভয়ের অধিক নিকটবর্তী। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে, যে ব্যক্তি ধনীর সম্পদ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এই দাবিতে যে, সে তা দরিদ্রকে দিয়ে তাদের মধ্যে সমতা আনবে, সে মূলত আসমানী বিধিব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী এবং আসমান ও জমিনের স্রষ্টার বন্টন প্রক্রিয়ায় আপত্তিকারী, যা তিনি নিজেই তাঁর সুগভীর প্রজ্ঞার মাধ্যমে বন্টন করেছেন। যেমনটি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বর্ণনা করেছেন: {তারা কি আপনার রবের রহমত বন্টন করে? আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি এবং তাদের একজনের ওপর অন্যজনকে মর্যাদায় উন্নত করেছি...}
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضاً سُخْرِيّاً وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} والآيات الْكَرِيمَة وَالْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة الدَّالَّة على حُرْمَة مَال الْمُسلم وَدَمه وَعرضه أظهر وَأكْثر من أَن نحتاج للتعرض لَهَا.

وَلأَجل صِيَانة المَال والمحافظة عَلَيْهِ أوجبا الله جلّ وَعلا قطع يَد السَّارِق قَالَ تَعَالَى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِنَ اللَّهِ} الْآيَة فَالله جلّ وَعلا خلق لَهُ تِلْكَ الْيَد لتَكون أعظم عون لَهُ على عمل الْخَيْر والمعاونة على الْبر وَالتَّقوى. فَلَمَّا مدها إِلَى تِلْكَ الرذيلة الَّتِي هِيَ السّرقَة الَّتِي هِيَ فِي غَايَة السُّقُوط والانحطاط والتدنس والتقذر صَارَت تِلْكَ الْيَد فِي نظر الشَّرْع الْكَرِيم كالعضو الْفَاسِد الَّذِي يخْشَى من بَقَائِهِ فَسَاد الْبدن كُله فَقَطعه وإزالته كعملية تطهيرية تصح بهَا بَقِيَّة الْبدن وتطهره.

وَمِمَّا يُوضح هَذَا السِّرّ السماوي مَا صرح بِهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيث عبَادَة بن الصَّامِت رضي الله عنه الْمُتَّفق عَلَيْهِ وَلَفظه فِي البُخَارِيّ عَن عبَادَة رضي الله عنه قَالَ: كُنَّا عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي مجْلِس فَقَالَ: "بايعوني على أَلا تُشْرِكُوا بِاللَّه شَيْئا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا" وَقَرَأَ هَذِه الْآيَة كلهَا " فَمن وفى مِنْكُم فَأَجره على الله وَمن أصَاب من ذَلِك شَيْئا فَعُوقِبَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَته وَمن أصَاب من ذَلِك شَيْئا فستره الله عَلَيْهِ إِن شَاءَ غفر لَهُ وَإِن شَاءَ عذبه".اهـ مِنْهُ وَلَفظ مُسلم قريب مِنْهُ بِمَعْنَاهُ وَلَفْظهمَا مُتَّفق فِي مَحل الشَّاهِد من الحَدِيث وَهُوَ قَوْله صلى الله عليه وسلم: "وَمن أصَاب من ذَلِك شَيْئا فَعُوقِبَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَته" وَهُوَ تَصْرِيح من النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي حَدِيث مُتَّفق عَلَيْهِ بِأَن المعاقبة يعْنى المعاقبة بِالْحَدِّ كَفَّارَة للذنب فَهُوَ عملية تَطْهِير سَمَاوِيَّة بَالِغَة غَايَة الإحكام واتضاح الْحِكْمَة من الردع الْبَالِغ عَن أَخذ أَمْوَال النَّاس على ذَلِك الْوَجْه الخسيس الَّذِي يظنّ مَعَه الْفَوْت غَالِبا لتحرى السَّارِق أَوْقَات الْغَفْلَة وَلَكِن
"...যাতে তারা একে অপরকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর আপনার রবের রহমত তারা যা সংগ্রহ করে তার চেয়ে উত্তম।" আর পবিত্র আয়াতসমূহ এবং নববী হাদিসসমূহ যা একজন মুসলিমের সম্পদ, রক্ত ও সম্মানের পবিত্রতা নির্দেশ করে, তা এতটাই সুস্পষ্ট ও অসংখ্য যে এখানে সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

সম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা চোরের হাত কাটার বিধান দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "চোর ও চোরনী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড হিসেবে।" মহান আল্লাহ মানুষের জন্য সেই হাতটি সৃষ্টি করেছেন যাতে তা নেক আমল এবং পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে সর্বশ্রেষ্ঠ সহযোগী হয়। কিন্তু যখন সে সেই হাতটিকে চুরির মতো নিকৃষ্ট অপরাধের দিকে প্রসারিত করল—যা চরম অধঃপতন, নীচতা, কলুষতা ও অপবিত্রতার পরিচায়ক—তখন সেই হাতটি পবিত্র শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন এক দূষিত অঙ্গে পরিণত হলো যার অস্তিত্বে পুরো শরীর বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে তা কেটে ফেলা এবং অপসারণ করা একটি বিশুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য, যার মাধ্যমে শরীরের অবশিষ্ট অংশ সুস্থ ও পবিত্র থাকে।

এই আসমানী রহস্যকে যা স্পষ্ট করে তা হলো যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাদাহ ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসে ব্যক্ত করেছেন। সহীহ বুখারীতে উবাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত শব্দগুলো হলো, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমরা আমার কাছে এই মর্মে অঙ্গীকার (বায়াত) করো যে, আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না এবং ব্যভিচার করবে না।" তারপর তিনি এই পূর্ণ আয়াতটি পাঠ করলেন। "অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার অঙ্গীকার পূর্ণ করবে তার প্রতিদান আল্লাহর নিকট। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং তজ্জন্য তাকে দণ্ড প্রদান করা হবে, তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা (পাপমোচন)। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং আল্লাহ তা গোপন রাখবেন, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন অথবা চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন।" সহীহ মুসলিমেও এর অর্থ প্রায় একই রকম শব্দে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের যে অংশটি মূল দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে সেখানে উভয়ের শব্দই অভিন্ন (متفق), আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং তজ্জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা।" এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক একটি সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসে সুস্পষ্ট ঘোষণা যে, শাস্তি অর্থাৎ নির্ধারিত দণ্ড (حد) প্রদান করা গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। সুতরাং এটি অত্যন্ত সুনিপুণ এক আসমানী পবিত্রকরণ প্রক্রিয়া এবং মানুষের সম্পদ অত্যন্ত হীন পন্থায় হরণ করার বিরুদ্ধে এক চরম সতর্কতামূলক প্রজ্ঞা, যেখানে চোর সাধারণত অসতর্ক মুহূর্ত তালাশ করে পার পেয়ে যাওয়ার আশা করে, কিন্তু...
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عمى البصائر لَا يعْقلُونَ عَن الله حكمه الْبَالِغَة1 ولاشك أَن مِمَّا يخْطر فِي ذهن طَالب الْعلم أَن يَقُول: مَا سر الْفرق فِي نظر الشَّرْع الْكَرِيم بَين السّرقَة وَبَين غَيرهَا من أَنْوَاع الْجِنَايَة على المَال كالغصب والانتخاب وَنَحْو ذَلِك حَيْثُ أوجب الْقطع فِي السّرقَة دون غَيرهَا مِمَّا ذكر؟ وَالْجَوَاب أَن الْفرق بَينهمَا بأمرين.

1- الأول: أَن غير السّرقَة من الْجِنَايَات على الْأَمْوَال يكون ظَاهرا غَالِبا وتوجد عَلَيْهِ الْبَيِّنَة غَالِبا فولى الْأَمر يرد لصَاحب المَال مَاله ويؤدب الْجَانِي أدبا بليغا يردعه وَأَمْثَاله. وَذَلِكَ بِخِلَاف السّرقَة فان السَّارِق لَا يسرق غَالِبا إِلَّا فِي غَايَة الخفاء بِحَيْثُ لَا يطلع عَلَيْهِ أحد. فيتعسر الْإِنْصَاف مِنْهُ فغلظ عَلَيْهِ الْجَزَاء ليَكُون ذَلِك أبلغ فِي الردع.

2- الثَّانِي: قلَّة ماعدا السّرقَة بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهَا.

وَمِمَّا يُوضح مَا ذَكرْنَاهُ من مُحَافظَة التشريع الإسلامي على الْمصَالح الْعَامَّة والخاصة والحقوق الفردية والعامة أَنَّك تَجِد الْبِلَاد الَّتِي يحكم فِيهَا بالتشريع السماوي فِي عَافِيَة وَأمن وطمأنينة ورخاء ورفاهية فِي الْحِين الَّذِي تكون فِيهِ الْبِلَاد الْأُخْرَى الَّتِي لَا تحكم بِالشَّرْعِ فِي قلق وَعدم طمأنينة إِمَّا بِأخذ أموالها وَإِمَّا بضياع أخلاقها وحقوقها وَجَمِيع قيمها الإنسانية إِلَى غير ذَلِك من الْمَفَاسِد الظَّاهِرَة. وَلأَجل ذَلِك ترى وَللَّه الْحَمد أَن هَذِه الْبِلَاد حفظهَا الله وحرسها الَّتِي لم يبْق على ظهر البسيطة من يعلن على رُؤُوس الأشهاد التحاكم إِلَى النظام الَّذِي وَضعه خَالق السَّمَاوَات وَالْأَرْض سواهَا على مَا كَانَ مِنْهَا لَا تساويها بِلَاد. أُخْرَى فِي انتشار الْأَمْن

--------------------------------------------

1 وَمِمَّا يبين حِكْمَة الله تَعَالَى فِي وجوب الْقطع بِالسَّرقَةِ أَنه أغْلى الْيَد فَجعل فِيهَا نصف الدِّيَة من الْحر ثمَّ هِيَ تقطع فِي ربع دِينَار تسرقه. وَقد عقد هَذِه الْمَسْأَلَة بعض الشُّعَرَاء مُعْتَرضًا فَقَالَ:

يَد بِخمْس مئين عسجد وديت … مَا بالها قطعت فِي ربع دِينَار

فأجا بِهِ الآخر بقوله:

عز الْأَمَانَة أغلاها وأرخصها … ذل الْخِيَانَة فَافْهَم حِكْمَة الْبَار

لهَذَا يُقَال: عفت فزانت وذلت فهانت. وَبِهَذَا تعلم الْحِكْمَة الإلهية من قطع يَد السَّارِق تَطْهِير الْمُجْتَمع

من الْعَبَث لَا تشفيا كَمَا بظنه من لَا عقل عِنْده.
অন্তর্দৃষ্টিহীন যারা, তারা আল্লাহর সুনিপুণ হিকমত সম্পর্কে অনুধাবন করতে পারে না।১ নিঃসন্দেহে জ্ঞানান্বেষীর মনে এ প্রশ্ন জাগতে পারে যে: সম্পদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর মধ্যে চুরি এবং অন্যান্য প্রকারের অপরাধ—যেমন জোরপূর্বক দখল বা ছিনতাই ইত্যাদির মধ্যে মহান শরিয়তের দৃষ্টিতে পার্থক্যের রহস্য কী? কেন চুরির ক্ষেত্রে হাত কাটার বিধান আবশ্যিক করা হয়েছে, অথচ উল্লিখিত অন্যান্য ক্ষেত্রে তা করা হয়নি? এর উত্তর হলো, এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য দুটি কারণে।

1- প্রথমত: চুরি ব্যতীত সম্পদের ওপর অন্যান্য অপরাধ সাধারণত প্রকাশ্য হয়ে থাকে এবং এগুলোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে রাষ্ট্রপ্রধান বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি মালিককে তার সম্পদ ফিরিয়ে দিতে পারেন এবং অপরাধীকে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেন যা তাকে এবং তার মতো অন্যদের নিবৃত্ত করে। পক্ষান্তরে, চুরির বিষয়টি ভিন্ন; কারণ চোর সাধারণত অত্যন্ত সংগোপনেই চুরি করে থাকে যাতে কেউ তা দেখতে না পায়। ফলে তার থেকে ইনসাফ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাই তার ওপর শাস্তিকে কঠোর করা হয়েছে যেন তা অপরাধ দমনে অধিকতর কার্যকর হয়।

2- দ্বিতীয়ত: চুরির তুলনায় অন্যান্য অপরাধের সংখ্যা অত্যন্ত কম।

ইসলামি শরিয়ত যে জনস্বার্থ, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং একক ও সামষ্টিক অধিকার সংরক্ষণে সচেষ্ট, তা এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, যেসব দেশে খোদায়ী শরিয়ত অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালিত হয়, সেখানে আপনি শান্তি, নিরাপত্তা, স্বস্তি ও সমৃদ্ধি দেখতে পাবেন। পক্ষান্তরে, যেসব দেশে শরিয়ত অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালিত হয় না, সেখানে অস্থিরতা এবং অশান্তি বিরাজ করে—হয় সম্পদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে, অথবা নৈতিকতা, অধিকার এবং সকল মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মাধ্যমে, এছাড়াও আরও অনেক প্রকাশ্য অনিষ্টের সৃষ্টি হয়। এই কারণেই আপনি দেখতে পান—সকল প্রশংসা আল্লাহর—আল্লাহ এই দেশটিকে হেফাজত করুন ও রক্ষা করুন, যেখানে বর্তমান পৃথিবীতে একমাত্র এই রাষ্ট্রই প্রকাশ্যে জনসমক্ষে আকাশ ও জমিনের স্রষ্টার প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার ঘোষণা দিয়ে থাকে। ফলে নিরাপত্তার প্রসারের ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশ এর সমকক্ষ নয়।

--------------------------------------------

১। চুরির অপরাধে হাত কাটার বিধানের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর হিকমতের অন্যতম একটি দিক হলো—তিনি হাতের মূল্য অনেক বৃদ্ধি করেছেন। তাই তিনি একজন স্বাধীন ব্যক্তির হাতের রক্তপণ হিসেবে পূর্ণ রক্তপণের অর্ধেক নির্ধারণ করেছেন। অথচ মাত্র এক চতুর্থাংশ দিনার চুরির দায়ে সেই হাত কেটে ফেলা হয়। জনৈক কবি এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

যে হাতের রক্তপণ পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা... সেটি কেন মাত্র এক চতুর্থাংশ দিনারের জন্য কাটা যাবে?

তার উত্তরে অন্য একজন বলেছেন:

আমানতদারিতার মর্যাদা একে দামী করেছিল, আর খিয়ানতের লাঞ্ছনা একে সস্তা করে দিয়েছে; অতএব স্রষ্টার হিকমত অনুধাবন করুন।

এ কারণেই বলা হয়: "এটি যখন পবিত্র ছিল তখন সৌন্দর্যমণ্ডিত ছিল, আর যখন এটি বিশ্বাসভঙ্গ করল তখন তুচ্ছ হয়ে গেল।" এভাবেই চুরির অপরাধে হাত কাটার ঐশী হিকমত সম্পর্কে জানা যায়। এটি সমাজকে বিশৃঙ্খলা থেকে পবিত্র করার জন্য, কারো ওপর আক্রোশ মেটানোর জন্য নয়—যেমনটি বুদ্ধিহীনরা ধারণা করে থাকে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعمومه فالفرد الضَّعِيف فِيهَا آمن على مَاله من النهب وَمن السّرقَة غَالِبا وعَلى دَمه وَعرضه وَدينه وَلَا تَجِد بلادا أقل فِيهَا وقائع الْقَتْل وَالسَّرِقَة والنهب وَالزِّنَا وَنَحْو ذَلِك. وكل ذَلِك من نتائج تحكيم النظام الَّذِي وَضعه الْحَكِيم الْخَبِير.. {الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} .

وَأما الْمصلحَة الثَّانِيَة: الَّتِي هِيَ جلب الْمصَالح فقد اقْتضى التشريع الإسلامي تَحْصِيلهَا وتسهيلها وَلأَجل هَذَا جَاءَ بِإِبَاحَة الْمصَالح المتبادلة بَين أَفْرَاد الْمُجْتَمع على الْوَجْه الْمَشْرُوع ليحصل كل مصْلحَته من الآخر كالبيوع والإجارات والأكرية وَالْمُسَاقَاة وَالْمُضَاربَة وَغير ذَلِك. وَأمر بتحصيل الْمصَالح فِي الْأَنْفس وَالْأَمْوَال وَغير ذَلِك كَمَا هُوَ مَعْلُوم.

وَأما الْمصلحَة الثَّالِثَة: الَّتِي هِيَ الجرى على مَكَارِم الْأَخْلَاق وَاتِّبَاع أحسن المناهج فِي الْعَادَات والمعاملات فقد اقْتضى التشريع الإسلامي الْحَث عَلَيْهَا وَالْأَمر بهَا وَمن عمل بالتشريع الإسلامي كَانَ أجْرى النَّاس على مَكَارِم الْأَخْلَاق وَأَتْبَاع أحسن المناهج وَمِمَّا يُوضح ذَلِك أَن الله قَالَ فِي نَبينَا صلى الله عليه وسلم: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} . وَلما سُئِلت عَائِشَة رضي الله عنها عَن خلقه الَّذِي وَصفه الله بالعظيم قَالَت: "كَانَ خلقه الْقُرْآن" فَدلَّ مَجْمُوع الْآيَة وَحَدِيث عَائِشَة على أَن المتصف بِمَا فِي الْقُرْآن من مَكَارِم الْأَخْلَاق يكون على خلق عَظِيم والآيات الدَّالَّة على الْأَمر بأكرم الْأَخْلَاق وأحسنها كَثِيرَة جدا كَقَوْلِه تَعَالَى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْأِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ} . الْآيَة. وَقَوله: {وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَلا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ} . وَقَوله تَعَالَى: {وَلا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَاّ تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} . وَقَوله تَعَالَى: {وَلا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا} الْآيَة إِلَى غير
সাধারণভাবে, সেখানে একজন দুর্বল ব্যক্তি সাধারণত লুণ্ঠন ও চুরি থেকে তার সম্পদের নিরাপত্তা পায় এবং তার জীবন, সম্মান ও দ্বীনের ক্ষেত্রেও নিরাপদ থাকে। আপনি এমন কোনো দেশ পাবেন না যেখানে হত্যা, চুরি, লুণ্ঠন, ব্যভিচার ও অনুরূপ অপরাধের ঘটনা এর চেয়ে কম ঘটে। আর এ সব কিছুই হচ্ছে সেই ব্যবস্থা কার্যকর করার ফল যা প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ সত্তা প্রবর্তন করেছেন.. {আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুসংহত করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।}

আর দ্বিতীয় কল্যাণ প্রসঙ্গে: যা হলো কল্যাণ অর্জন করা। ইসলামী শরিয়ত তা অর্জন ও সহজতর করার দাবি রাখে। আর এ কারণেই সমাজের ব্যক্তিদের মধ্যে শরিয়তসম্মত পন্থায় পারস্পরিক কল্যাণ বিনিময়কে বৈধ করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেকে অন্যের কাছ থেকে নিজ নিজ কল্যাণ বা স্বার্থ লাভ করতে পারে; যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, ভাড়া, মাসাকাত (সেচভিত্তিক অংশীদারিত্ব), মুদারাবা (শ্রম ও পুঁজির অংশীদারিত্ব) এবং অন্যান্য। এছাড়াও জীবন ও সম্পদের ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কল্যাণ অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি সর্বজনবিদিত।

আর তৃতীয় কল্যাণ প্রসঙ্গে: যা হলো মহান চারিত্রিক গুণাবলি ধারণ করা এবং অভ্যাস ও লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ অনুসরণ করা। ইসলামী শরিয়ত এর প্রতি উৎসাহ প্রদান ও নির্দেশ দেওয়ার দাবি রাখে। যে ব্যক্তি ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আমল করবে, সে মহান চারিত্রিক গুণাবলি ও সর্বোত্তম আদর্শ অনুসরণের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী হবে। বিষয়টি যা স্পষ্ট করে তা হলো, আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।} আর যখন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে তাঁর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—যাকে আল্লাহ 'মহান' বলে অভিহিত করেছেন—তখন তিনি বলেছিলেন: "তাঁর চরিত্র ছিল আল-কুরআন।" সুতরাং উক্ত আয়াত এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণিত হাদিস একযোগে প্রমাণ করে যে, আল-কুরআনে বর্ণিত মহান চারিত্রিক গুণাবলি দ্বারা যে ব্যক্তি গুণান্বিত হবে, সে মহান চরিত্রের অধিকারী হবে। সর্বোত্তম ও মহান চরিত্রের আদেশ সম্বলিত আয়াতসমূহ অনেক, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা থেকে নিষেধ করেন...} আয়াত। এবং তাঁর বাণী: {আর তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়াটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী এবং তোমরা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক অনুগ্রহের কথা ভুলে যেও না।} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে তোমরা ন্যায়বিচার করবে না। ন্যায়বিচার করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা উচ্চমর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন কসম না খায় যে তারা আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের দান করবে না; বরং তারা যেন ক্ষমা করে এবং মার্জনা করে...} আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ذَلِك من الْآيَات وَمن فروع هَذَا الأَصْل الَّذِي هُوَ الجرى على مَكَارِم الْأَخْلَاق تَحْرِيم النَّجَاسَات حثا على مَكَارِم الْأَخْلَاق لِأَن مُلَابسَة الأقذار والنجاسات مُنَافِيَة لمكارم الْأَخْلَاق وَمن فروعه وجوب الْإِنْفَاق على الْأَقَارِب الْفُقَرَاء كالآباء وَالْأَبْنَاء.

وَمن فروع هَذَا الأَصْل إعفاء اللِّحْيَة الَّتِي هِيَ من أكبر الفوارق الظَّاهِرَة بَين نوع الذّكر وَنَوع الْأُنْثَى فالفرار بحلقها من الْعَلامَة الْوَاضِحَة الدَّالَّة على شرف الرجولة وكمالها إِلَى خنوثة الْأُنُوثَة لَيْسَ من مَكَارِم الْأَخْلَاق وَلذَا كَانَ أكْرم الْخلق أَخْلَاقًا صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ الَّذِي قَالَ الله فِيهِ: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} معفيا لحيته الْكَرِيمَة الكثة وَمن فروع هَذَا الأَصْل قصّ الشَّارِب وَحلق الْعَانَة ونتف الْإِبِط وَنَحْو ذَلِك.

فَإِذا عرفت مِمَّا ذكرنَا أَن الْمصَالح وَالْحكم الَّتِي يَدُور حولهَا التشريع السماوي ثَلَاث وَعرفت شدَّة مُحَافظَة التشريع الإسلامي عَلَيْهَا فسنذكر هُنَا جملا من الْأَدِلَّة الدَّالَّة على الْأَحْكَام المتضمنة للْحكم والمصالح الْمَذْكُورَة.

اعْلَم أَولا أَن الْأَدِلَّة عِنْد أهل الْأُصُول أَنْوَاع: 1- كتاب الله 2- وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم. 3- وَإِجْمَاع عُلَمَاء الْأمة. 4- وَالْقِيَاس لِأَنَّهُ إِلْحَاق للمسكوت عَنهُ بالمنطوق بِهِ بِجَامِع بَينهمَا كَمَا هُوَ مَعْرُوف فِي مَحَله. 5- والاستصحاب كاستصحاب الْعَدَم الْأَصْلِيّ حَتَّى يثبت مَا ينْقل عَنهُ وَهُوَ عِنْد جمَاعَة من أهل الْأُصُول دَلِيل عَقْلِي لِأَن الْعقل يدل على بَرَاءَة الذِّمَّة حَتَّى يثبت شغلها بِمُوجب يقتضى ذَلِك. ولاشك أَن الْقُرْآن الْعَظِيم دلّ فِي آيَات مُتعَدِّدَة على أَن اسْتِصْحَاب الْعَدَم الْأَصْلِيّ الْمَعْرُوف فِي الْأُصُول بِالْإِبَاحَةِ الْعَقْلِيَّة والبراءة الْأَصْلِيَّة دَلِيل على الْبَرَاءَة حَتَّى يثبت ناقل عَنهُ.

وَمن أَمْثِلَة ذَلِك فِي الْقُرْآن أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما أسْتَغْفر لِعَمِّهِ الَّذِي مَاتَ مُشْركًا وَهُوَ أَبُو طَالب واستغفر الْمُسلمُونَ لموتاهم
এগুলো আয়াতসমূহের (آيات) অন্তর্ভুক্ত। আর উত্তম চরিত্র (مكارم الأخلاق) অবলম্বনের এই মূলনীতির (أصل) শাখাগুলোর (فروع) অন্তর্ভুক্ত হলো নাপাকি বা অপবিত্রতা হারাম (تحريم) হওয়া; এটি উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে, কারণ অপবিত্রতা ও নাপাকির সংস্পর্শে থাকা উত্তম চরিত্রের পরিপন্থী। আর এর শাখাগুলোর (فروع) মধ্য থেকে আরেকটি হলো দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনদের জন্য খরচ করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়া, যেমন পিতা-মাতা ও সন্তানাদি।

এই মূলনীতির (أصل) আরও শাখাগুলোর (فروع) অন্তর্ভুক্ত হলো দাড়ি ছেড়ে দেওয়া (إعفاء اللحية), যা পুরুষ ও নারী জাতির মধ্যে দৃশ্যমান বড় পার্থক্যকারীসমূহের একটি। সুতরাং দাড়ি মুণ্ডন করে পৌরুষের মর্যাদা ও পূর্ণতার স্পষ্ট নিদর্শন থেকে নারীসুলভ কোমলতার দিকে ধাবিত হওয়া উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়। এজন্যই সৃষ্টির মধ্যে চরিত্রের দিক দিয়ে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক), যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত", তিনি তাঁর ঘন পবিত্র দাড়ি ছেড়ে দিতেন। এই মূলনীতির শাখাগুলোর (فروع) মধ্যে আরও রয়েছে গোঁফ ছোট করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, বগলের লোম উপড়ানো ইত্যাদি।

আমাদের আলোচনা থেকে যখন আপনি জানতে পারলেন যে, খোদায়ী শরয়ি বিধান যে জনকল্যাণ (مصالح) ও রহস্যের (حكم) ওপর আবর্তিত হয় তা তিনটি, এবং আপনি এগুলোর প্রতি ইসলামি শরয়ি বিধানের কঠোর গুরুত্বারোপ সম্পর্কে জানলেন, তখন আমরা এখানে সেই বিধানগুলোর ওপর নির্দেশক কিছু দলিল (أدلة) উল্লেখ করব যেগুলোর মধ্যে পূর্বোক্ত রহস্য (حكم) ও জনকল্যাণ (مصالح) নিহিত রয়েছে।

প্রথমেই জেনে রাখুন যে, উসুল শাস্ত্রবিদদের (أهل الأصول) নিকট দলিলসমূহ (أدلة) কয়েক প্রকার: ১- আল্লাহর কিতাব। ২- তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة)। ৩- উম্মতের আলেমদের ঐকমত্য (إجماع)। ৪- কিয়াস (قياس); কারণ এটি কোনো বিষয় যা অনুক্ত (مسكوت عنه) তাকে যা স্পষ্ট উক্ত (منطوق به) তার সাথে উভয়টির মাঝে বিদ্যমান সাধারণ বৈশিষ্ট্যের (جامع) ভিত্তিতে সংযুক্ত করা, যেমনটি এটি তার নির্দিষ্ট স্থানে সুবিদিত। ৫- ইস্তিশহাব (استصحاب); যেমন কোনো কিছু না থাকা বা না হওয়া প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেটির মূলগত অনুপস্থিতি (عدم أصلي) বহাল রাখা। আর উসুল শাস্ত্রবিদদের (أهل الأصول) একটি দলের নিকট এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল (دليل عقلي), কারণ বিবেক কোনো দায়বদ্ধতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দায়মুক্তির সাক্ষ্য দেয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান কুরআন বিভিন্ন আয়াতে (آيات) নির্দেশ করেছে যে, মূলগত অনুপস্থিতি বহাল থাকা (استصحاب العدم الأصلي)—যা উসুল শাস্ত্রে (أصول) বুদ্ধিবৃত্তিক বৈধতা (إباحة عقلية) এবং মূলগত দায়মুক্তি (براءة أصلية) হিসেবে পরিচিত—তা দায়মুক্তির ওপর দলিল (دليل) হিসেবে গণ্য হবে যতক্ষণ না এর বিপরীত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়।

কুরআনে এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর চাচার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন যিনি মুশরিক অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন—আর তিনি হলেন আবু তালিব—এবং মুসলমানরা যখন তাঁদের মৃতদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْمُشْركين. وَكَانَ مستندهم فِي ذَلِك الاسْتِغْفَار اسْتِصْحَاب الْعَدَم الْأَصْلِيّ أَي عدم النهى عَن الاسْتِغْفَار لَهُم حَتَّى يرد دَلِيل الْمَنْع كَمَا يدل قَوْله تَعَالَى: {لأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ} مالم أَنه فَهُوَ يدل على أَنه مُعْتَمد فِي ذَلِك على عدم النَّهْي وَنزل النَّهْي عَن ذَلِك فِي قَوْله تَعَالَى: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى} . بَين أَن استغفارهم لَهُم السَّابِق قبل نزُول النهى اعْتِمَادًا على اسْتِصْحَاب الْعَدَم الْأَصْلِيّ لَا حرج عَلَيْهِم فِيهِ. وَذَلِكَ فِي قَوْله تَعَالَى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْماً بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ مَا يَتَّقُونَ} . وَنَظِير ذَلِك أَنه تَعَالَى قَالَ فِي الْأَمْوَال الَّتِي جمعوها من معاملات الرِّبَا قبل نزُول تَحْرِيمه اعْتِمَادًا على اسْتِصْحَاب الْعَدَم الْأَصْلِيّ: {فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ} . ونظائر ذَلِك فِي الْقُرْآن الْعَظِيم مُتعَدِّدَة وهى تدل على أَن اسْتِصْحَاب الْعَدَم دَلِيل على بَرَاءَة الذِّمَّة حَتَّى يثبت ناقل عَنهُ.

وَمن أَنْوَاع الِاسْتِصْحَاب الْمجمع عَلَيْهَا اسْتِصْحَاب ثبوتا مَا دلّ الشَّرْع على ثُبُوته لوُجُود سَببه كاستصحاب حكم البيع وَالشِّرَاء وَالنِّكَاح حَتَّى يثبت ناقل عَن ذَلِك من زَوَال الْملك أَو الْعِصْمَة. وكاستصحاب حكم النَّص حَتَّى يرد النَّاسِخ. وباستصحاب الْعُمُوم وَالْإِطْلَاق حَتَّى يرد الْمُخَصّص والمقيد.

وَمن أَنْوَاع الِاسْتِصْحَاب الْمُخْتَلف فِيهَا اسْتِصْحَاب حكم الْإِجْمَاع. والاستصحاب المقلوب كَمَا هُوَ مَعْرُوف فِي مَحَله. وَاعْلَم أَن عِنْد الْأُصُولِيِّينَ أَدِلَّة يعقدون لَهَا كتابا يُسمى "كتاب الِاسْتِدْلَال" وَضَابِط الِاسْتِدْلَال الْمَذْكُور عِنْدهم هُوَ ماليس بِنَصّ من كتاب أَو سنة وَلَا إِجْمَاع وَلَا قِيَاس تمثيلي أَعنِي الْقيَاس الأصولي الْمَعْرُوف. وَهَذَا النَّوْع الْمَذْكُور تدخل فِيهِ أَصْنَاف كَثِيرَة غالبها مُخْتَلف فِي الِاحْتِجَاج بِهِ. وَمِنْهَا ماهو حجَّة بِلَا خلاف.
মুশরিকদের। তাদের এই ক্ষমা প্রার্থনার ভিত্তি ছিল মূল অনস্তিত্বের অনুবর্তন (استصحاب العدم الأصلي), অর্থাৎ তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার ব্যাপারে কোনো নিষেধ না থাকা যতক্ষণ না কোনো নিষেধাজ্ঞার দলীল (دليل) আসে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী নির্দেশ করে: "আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব" যতক্ষণ না তাকে তা নিষেধ করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি এক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকার ওপর নির্ভর করেছিলেন। এরপর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়: "নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়।" আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা নাযিল হওয়ার আগে মূল অনস্তিত্বের অনুবর্তন (استصحاب العدম الأصلي)-এর ওপর ভিত্তি করে তাদের পূর্ববর্তী ক্ষমা প্রার্থনার ক্ষেত্রে কোনো গুনাহ নেই। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ কোনো জাতিকে হিদায়াত দেওয়ার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তিনি তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন যা থেকে তাদের বেঁচে থাকতে হবে।" এর সদৃশ উদাহরণ হলো, আল্লাহ তাআলা সুদের বিধান হারাম হওয়ার আগে মূল অনস্তিত্বের অনুবর্তন (استصحاب العدম الأصلي)-এর ওপর ভিত্তি করে সুদী কারবার থেকে অর্জিত সম্পদের ব্যাপারে বলেছেন: "যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই।" মহাগ্রন্থ কুরআনে এমন আরও অনেক নজির রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, কোনো পরিবর্তনকারী দলীল (دليل) সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত মূল অনস্তিত্বের অনুবর্তন (استصحاب العدم الأصلي) দায়মুক্তির (براءة الذمة) প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع)-কৃত অনুবর্তনের (استصحاب) প্রকারগুলোর মধ্যে একটি হলো শরীয়ত যা সাব্যস্ত করেছে তার কারণ বিদ্যমান থাকার ফলে তা বহাল রাখা। যেমন ক্রয়-বিক্রয় ও বিবাহের বিধান বহাল রাখা যতক্ষণ না মালিকানা বা দাম্পত্য সম্পর্ক অবসানের কোনো পরিবর্তনকারী দলীল (دليل) সাব্যস্ত হয়। তেমনিভাবে রহিতকারী (الناسخ) না আসা পর্যন্ত কোনো সুষ্পষ্ট পাঠের (نص) বিধান বহাল রাখা এবং সুনির্দিষ্টকারী (المخصص) ও শর্তযুক্তকারী (المقيد) না আসা পর্যন্ত ব্যাপকতা (العموم) ও নিঃশর্ততা (الإطلاق)-কে বহাল রাখা।

মতভেদপূর্ণ অনুবর্তনের (استصحاب) প্রকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع)-এর বিধানের অনুবর্তন করা এবং বিপরীত অনুবর্তন (الاستصحاب المقلوب), যা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সুপরিচিত। জেনে রাখুন যে, উসুলবিদদের নিকট এমন কিছু দলীল (دليل) রয়েছে যার জন্য তারা একটি অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন যাকে "প্রমাণ অনুসন্ধান অধ্যায়" (كتاب الاستدلال) বলা হয়। তাদের নিকট উক্ত প্রমাণ অনুসন্ধানের (استدلال) মাপকাঠি হলো এমন বিষয় যা কুরআন বা সুন্নাহর সুষ্পষ্ট পাঠ (نص) নয়, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) নয় এবং দৃষ্টান্তমূলক অনুমান (قياس تمثيلي) অর্থাৎ সুপরিচিত উসুলী কিয়াসও নয়। এই প্রকারের অধীনে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার অধিকাংশের মাধ্যমে দলীল (دليل) গ্রহণের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, আবার কিছু বিষয় বিনা মতভেদে দলীল (دليل) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَمن أَمْثِلَة الِاسْتِدْلَال الْمَذْكُور سد الذرائع وَالِاسْتِحْسَان. والعوائد. وَالْقِيَاس المنطقي بنوعيه:

الاقتراني والاستئنافي. والاستقراء. وأقوال الصَّحَابَة. وَإِجْمَاع أهل الْمَدِينَة عِنْد من يَقُول بِأَنَّهُ حجَّة. وَكَذَلِكَ إِجْمَاع أهل الْكُوفَة. وَإِجْمَاع الْعشْرَة. وَإِجْمَاع الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة. والمصالح الْمُرْسلَة وَغير ذَلِك. وَالْجُمْهُور على أَن ألاستصحاب بأنواعه من هَذَا النَّوْع الَّذِي هُوَ ألاستدلال خلافًا لبَعض الْحَنَابِلَة وَالشَّافِعِيَّة الْقَائِلين أَن الِاسْتِصْحَاب دَلِيل عَقْلِي مُسْتَقل إِلَى غير ذَلِك من أَنْوَاع ألاستدلال.

وَمَعْلُوم أَن كثيرا من أَنْوَاعه لَا تنهض الْحجَّة بِهِ، وَمِنْه ماهو حق كسد الذرائع. وَقد تقرر فِي الْأُصُول أَن الذرائع ثَلَاثَة أَقسَام: وَاسِطَة وطرفان.

1- طرف يجب سَده إِجْمَاعًا كسب الْأَصْنَام إِذا كَانَ عابدوها يسبون الله مجازاة على سبّ أصنامهم. فسب الْأَصْنَام فِي حد ذَاته مُبَاح فَإِذا كَانَ ذَرِيعَة لسب الله منع. بِنَصّ قَوْله تَعَالَى: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ} . وكحفر الْآبَار فِي طَرِيق الْمُسلمين فانه ذَرِيعَة لترديهم فِيهَا. وسد هَذِه الذريعة وَاجِب إِجْمَاعًا يمْنَع ذَلِك.

2- وطرف لَا يجب سَده إِجْمَاعًا وَهُوَ مَا كَانَت الْمفْسدَة فِيهِ تعارضها مصلحَة عظمى أرجح مِنْهَا. كغرس شجر الْعِنَب فانه ذَرِيعَة إِلَى عصر الْخمر مِنْهُ وعصرها ذَرِيعَة لشربها إِلَّا أَن مصلحَة انْتِفَاع الْأمة بالعنب وَالزَّبِيب فِي أقطار الدُّنْيَا أرجح من مفْسدَة عصر بعض الْأَفْرَاد للخمر مِنْهَا. فقد أجمع الْمُسلمُونَ على جَوَاز غرس شجر الْعِنَب إِلْغَاء للمفسدة المرجوحة بِالْمَصْلَحَةِ الراجحة. وكمواطنة الرِّجَال وَالنِّسَاء فِي بلد وَاحِد فَإِنَّهُ ذَرِيعَة لحُصُول الزِّنَا من بعض الْأَفْرَاد وَلَكِن تعاون النَّوْعَيْنِ الذّكر وَالْأُنْثَى فِي ميادين الْحَيَاة مصلحَة راجحة على تِلْكَ الْمفْسدَة
উল্লিখিত দলিল গ্রহণ (الاستدلال)-এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাধ্যম রুদ্ধ করা (سد الذرائع), বিচারিক অগ্রাধিকার (الاستحসান), প্রথা (العوائد) এবং দুই প্রকারের যৌক্তিক অনুমান (القياس المنطقي):

সংযুক্ত (الاقتراني) এবং সূচনাধর্মী (الاستئنافي)। আরও রয়েছে আরোহী পদ্ধতি (الاستقراء), সাহাবাগণের বক্তব্য এবং মদিনাবাসীদের ঐক্যমত (إجماع), যারা একে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য করেন তাদের নিকট। একইভাবে কুফাবাসীদের ঐক্যমত (إجماع), দশজন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত) সাহাবীর ঐক্যমত (إجماع), চার খলিফার ঐক্যমত (إجماع), জনকল্যাণমূলক বিষয়সমূহ (المصالح المرسلة) প্রভৃতি। জমহুর উলামাগণের মতে সকল প্রকারের পূর্বাবস্থা বজায় রাখা (الاستصحاب)-ও এই দলিল গ্রহণ (الاستدلال) পদ্ধতিরই অন্তর্ভুক্ত, যদিও কিছু হাম্বলি ও শাফিঈ মতাবলম্বীদের মতে পূর্বাবস্থা বজায় রাখা (الاستصحاب) একটি স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল। এছাড়া আরও অনেক প্রকারের দলিল গ্রহণ (الاستدلال) পদ্ধতি রয়েছে।

এটি সুবিদিত যে, এর অনেক প্রকারের মাধ্যমে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। তবে এর মধ্যে কিছু পদ্ধতি সঠিক, যেমন মাধ্যম রুদ্ধ করা (سد الذرائع)। উসুল শাস্ত্রে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, মাধ্যম (الذرائع) তিন প্রকার: একটি মধ্যম পর্যায় এবং দুটি প্রান্তিক পর্যায়।

1- এমন এক প্রান্ত যা রুদ্ধ করা সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) ওয়াজিব। যেমন মূর্তিদের গালি দেওয়া, যখন মূর্তিপূজারীরা এর প্রতিক্রিয়ায় আল্লাহকে গালি দেয়। মূর্তিদের গালি দেওয়া মূলত বৈধ (مباح), কিন্তু যখন এটি আল্লাহকে গালি দেওয়ার মাধ্যম (ذريعة) হয়, তখন তা নিষিদ্ধ হয়। মহান আল্লাহর বাণীর আলোকে: "তোমরা তাদেরকে গালি দিও না যাদের তারা আল্লাহ ব্যতীত ডাকে, ফলে তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকে গালি দেবে।" অনুরূপভাবে মুসলিমদের চলাচলের পথে গর্ত করা, কেননা এটি তাদের তাতে পড়ে যাওয়ার মাধ্যম (ذريعة)। এই মাধ্যমটি রুদ্ধ করা সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) ওয়াজিব যা একে নিষিদ্ধ করে।

2- এমন এক প্রান্ত যা রুদ্ধ করা সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) ওয়াজিব নয়। আর এটি এমন বিষয় যেখানে বিদ্যমান অনিষ্টের বিপরীতে তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী বৃহত্তর কল্যাণ (مصلحة) বিদ্যমান থাকে। যেমন আঙুর গাছ রোপণ করা, যা মদ তৈরির মাধ্যম (ذريعة) হতে পারে এবং মদ তৈরি করা তা পান করার মাধ্যম (ذريعة)। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আঙুর ও কিসমিসের মাধ্যমে উম্মাহর যে কল্যাণ অর্জিত হয়, তা কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক মদ তৈরির অনিষ্টের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। তাই মুসলিমরা আঙুর গাছ রোপণ বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন, যাতে প্রাধান্যহীন অনিষ্টকে (المفسدة المرجوحة) প্রাধান্যপ্রাপ্ত কল্যাণের (المصلحة الراجحة) তুলনায় অগ্রাহ্য করা হয়েছে। অনুরূপভাবে একই জনপদে নারী ও পুরুষের অবস্থান করা, যা কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যভিচার সংঘটিত হওয়ার মাধ্যম (ذريعة) হতে পারে, কিন্তু জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণির পারস্পরিক সহযোগিতা সেই অনিষ্টের চেয়েও অধিক শক্তিশালী কল্যাণ (مصلحة راجحة)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
المرجوحة فَلم يقل أحد من أهل الْعلم أَنه يجب أَن يعْزل الْإِنَاث فِي مَحل لَا يسكن فِيهِ ذكر وَأَن يَجْعَل دونهن حصن عَظِيم أبوابه من حَدِيد وَتَكون المفاتيح عِنْد أَمِين ذِي شيبَة لَا إرب لَهُ فِي النِّسَاء إِلْغَاء للمفسدة المرجوحة بِالْمَصْلَحَةِ الراجحة.

3- وواسطة هِيَ مَحل الْخلاف بَين الْعلمَاء كالبيوع الَّتِي يسميها الْمَالِكِيَّة بُيُوع الْآجَال ويسميها الْحَنَابِلَة وَالشَّافِعِيَّة بيع الْعينَة كَأَن يَبِيع سلْعَة بِثمن إِلَى أجل ثمَّ يَشْتَرِيهَا بِعَينهَا بِثمن أَكثر من الأول لأجل أبعد من الأول. فكلتا البيعتين فِي حد ذَاتهَا يظْهر أَنَّهَا جَائِزَة لِأَنَّهَا بيع سلْعَة بِثمن إِلَى أجل مَعْلُوم وَمن هُنَا قَالَ الشَّافِعِي وَزيد بن أَرقم بِجَوَاز ذَلِك.

وَلكنه يحْتَمل أَن يكون ذَلِك ذَرِيعَة للربا لِأَن السّلْعَة الْخَارِجَة من الْيَد العائدة إِلَيْهَا ملغاة فيؤول الْأَمر إِلَى أَنه عِنْد الْأَجَل الأول دفع نَقْدا وَأخذ عِنْد الْأَجَل الثَّانِي أَكثر مِنْهُ وَهَذَا عين الرِّبَا. كَمَا أنكرته عَائِشَة رضي الله عنها على زيد بن أَرقم وبالمنع قَالَ مَالك وَأَصْحَابه وَأحمد وَأكْثر أَصْحَابه. وَلَا يَتَّسِع الْمقَام إِلَى أَن نتكلم على جَمِيع أَنْوَاع الِاسْتِدْلَال وَلَكنَّا سنتكلم على الْقَوَاعِد الَّتِي يبْنى عَلَيْهَا الْفِقْه الإسلامي وَيرجع إِلَيْهَا غَالب فروعه. وَإِن كَانَ بعض الْفُرُوع لَا يرجع إِلَيْهَا إِلَّا بِنَوْع تكلّف.

وَالْقَوَاعِد الْمشَار إِلَيْهَا خمس:

الأولى مِنْهَا: الضَّرَر يزَال: فِي حَدِيث "لاضرر ولاضرار".

وَمن فروع هَذِه الْقَاعِدَة شرع الزواجر من الْحُدُود وَالضَّمان ورد المغضوب مَعَ قيام عينه وضمانه بالتلف وارتكاب أخف الضررين. والتطليق بالإضرار والإعسار وَمنع الْجَار من أَحْدَاث مَا يضر بجاره وَنَحْو ذَلِك.

الْقَاعِدَة الثَّانِيَة: الْمَشَقَّة تجلب التَّيْسِير: كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} . وَنَحْو ذَلِك من الْأَدِلَّة. وَمن فروع هَذِه الْقَاعِدَة
অপ্রধান (অনিষ্ট) (المرجوحة) হওয়ার কারণে আলেমদের (أهل العلم) মধ্যে কেউই বলেননি যে, নারীদের এমন কোনো স্থানে আলাদা করে রাখা ওয়াজিব যেখানে কোনো পুরুষ বসবাস করে না এবং তাদের জন্য লোহার দরজা বিশিষ্ট এক বিশাল দুর্গ নির্মাণ করা হবে, যার চাবিকাঠি থাকবে নারীদের প্রতি কোনো প্রকার কামনাবাসনা নেই এমন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বিশ্বস্ত ব্যক্তির নিকট। এটি মূলত প্রবল জনকল্যাণের (المصلحة الراجحة) বিপরীতে অপ্রধান অনিষ্টকে (المفسدة المرجوحة) উপেক্ষা করার শামিল।

3- এবং মধ্যবর্তী পর্যায়টি হলো আলেমদের মধ্যে মতভেদের স্থল (محل الخلاف), যেমন সেই ক্রয়-বিক্রয় যাকে মালিকি মাযহাবের অনুসারীরা 'বাকিতে বিক্রয়' (بيوع الآجال) বলে অভিহিত করেন এবং হাম্বলি ও শাফিঈ মাযহাবের অনুসারীরা 'বাইউল ঈনাহ' (بيع العينة) বলেন। এর স্বরূপ হলো—কোনো পণ্য নির্দিষ্ট মেয়াদে একটি মূল্যে বিক্রি করা এবং এরপর বিক্রেতা সেই একই পণ্য ক্রেতার কাছ থেকে পূর্বের চেয়ে বেশি মূল্যে আরও দীর্ঘ মেয়াদের জন্য পুনরায় ক্রয় করা। উভয় লেনদেনই স্বতন্ত্রভাবে বৈধ (جائزة) বলে প্রতীয়মান হয়, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট মূল্যে ও নির্দিষ্ট মেয়াদে পণ্য বিক্রয়। এই কারণেই ইমাম শাফিঈ ও যায়িদ বিন আরকাম একে বৈধ (جواز) বলেছেন।

কিন্তু এতে সুদের (الربا) মাধ্যম (ذريعة) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা হাত থেকে বেরিয়ে পুনরায় হাতে ফিরে আসা পণ্যটির কোনো কার্যকারিতা এখানে থাকে না। ফলে বিষয়টি এই দাঁড়ায় যে, প্রথম মেয়াদে সে নগদ অর্থ প্রদান করল এবং দ্বিতীয় মেয়াদে তার চেয়ে বেশি অর্থ গ্রহণ করল; আর এটিই হলো প্রকৃত সুদ (الربا)। যেমনিভাবে আয়েশা (রা.) যায়িদ বিন আরকাম-এর ওপর এই কারণে আপত্তি করেছিলেন। ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীগণ এবং ইমাম আহমাদ ও তাঁর অধিকাংশ অনুসারী একে নিষিদ্ধ (المنع) বলেছেন। সমস্ত প্রকারের দলিল প্রয়োগ পদ্ধতি (الاستدلال) নিয়ে আলোচনা করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ এখানে নেই, তবে আমরা সেই মূলনীতিসমূহ (القواعد) নিয়ে আলোচনা করব যার ওপর ইসলামী ফিকহ (الفقه) প্রতিষ্ঠিত এবং যার দিকে এর অধিকাংশ শাখা-প্রশাখা (الفروع) প্রত্যাবর্তন করে। যদিও কিছু শাখা-প্রশাখা (الفروع) এর অন্তর্ভুক্ত করতে কিছুটা কষ্টকল্পনার আশ্রয় নিতে হয়।

উল্লিখিত মূলনীতিসমূহ (القواعد) পাঁচটি:

প্রথমটি হলো: ক্ষতি দূর করতে হবে (الضرر يزال): যা "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না (لاضرر ولاضرار)" হাদিস থেকে গৃহীত।

এই মূলনীতির (القاعدة) কিছু শাখা-প্রশাখা (الفروع) হলো— দণ্ডবিধি (الحدود) ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান, ক্ষতিপূরণ (الضمان), জবরদখলকৃত (المغضوب) বস্তু বিদ্যমান থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং তা ধ্বংস হয়ে গেলে তার বিনিময় প্রদান, দুটি ক্ষতির মধ্যে লঘুতরটি (أخف الضررين) গ্রহণ করা, ক্ষতির কারণে অথবা অসচ্ছলতার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানো, প্রতিবেশীর ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করা থেকে তাকে বিরত রাখা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

দ্বিতীয় মূলনীতি (القاعدة): কষ্ট সহজীকরণকে টেনে আনে (المشقة تجلب التيسير): যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না}। এই জাতীয় অন্যান্য দলিলসমূহ (الأدلة)। এই মূলনীতির (القاعدة) শাখা-প্রশাখাগুলো (الفروع) হলো—
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْأَخْذ بالرخص كالقصر وَالْجمع والإفطار فِي رَمَضَان فِي السّفر وَالتَّيَمُّم إِن كَانَ اسْتِعْمَال المَاء يضرّهُ ضَرَرا بَينا وَلَا يخفى أَن بعض المشاق فِي بعض أَنْوَاع التَّكْلِيف لَا يكون مُوجبا للتَّخْفِيف كَالْوضُوءِ فِي شدَّة الْبرد وَالصَّوْم فِي شدَّة الْحر وكإدخال النَّفس الْغرَر فِي الْجِهَاد فِي الصَّفّ تَحت ظلال السيوف وَبِذَلِك تعلم أَن هَذِه الْقَاعِدَة الَّتِي هِيَ "الْمَشَقَّة تجلب التَّيْسِير" أغلبية.

الْقَاعِدَة الثَّالِثَة: لَا يرفع الْيَقِين بِالشَّكِّ وَمن فروع هَذِه الْقَاعِدَة مَا إِذا شكّ أصلى ثَلَاثًا أم أَرْبعا فَإِنَّهُ يبْنى على الْيَقِين وَمن فروعها تَكْلِيف الْمُدعى بِالْبَيِّنَةِ لِأَن بَرَاءَة الذِّمَّة مَقْطُوع بهَا فِي الأَصْل فَلَا يرْتَفع حكمهَا بشك وَمن فروع هَذِه الْقَاعِدَة عِنْد الْجُمْهُور من تَيَقّن الطَّهَارَة وَشك فِي الْحَدث فَلَا ترْتَفع طَهَارَته المتيقنة بِالْحَدَثِ الْمَشْكُوك فِيهِ. وَخلاف مَالك رحمه الله لِلْجُمْهُورِ فِي أحد قوليه فِي هَذِه الْمَسْأَلَة لشد خُرُوجًا مِنْهُ عَن هَذِه الْقَاعِدَة بل عمل بهَا من جِهَة أُخْرَى وَهُوَ أَنه يرى أَن الشَّك فِي الْحَدث شكّ فِي الشَّرْط الَّذِي هُوَ الطَّهَارَة وَالْأَصْل عدم الشَّرْط فَلَا يرْتَفع الْيَقِين الأول بِعَدَمِ الطَّهَارَة إِلَّا بتيقن الطَّهَارَة ابْتِدَاء ودواما وَهَذَا القَوْل لَهُ وَجه من النّظر فِي الْجُمْلَة لَو كَانَ سالما من معارضته للْحَدِيث الصَّحِيح الْوَارِد بِمَا يقتضى خِلَافه الدَّال على أَن من شكّ فِي خُرُوج الرّيح مِنْهُ لَا ينْتَقض وضوءه الْمُتَيَقن حَتَّى يتَيَقَّن خُرُوج الرّيح بِسَمَاع صَوت أوشم ريح والْحَدِيث الْمشَار إِلَيْهِ من أَدِلَّة هَذِه الْقَاعِدَة الْعَظِيمَة الَّتِي هِيَ: " لَا يرفع يَقِين بشك".

الْقَاعِدَة الرَّابِعَة: الْعَادة محكمَة ويستدل لهَذِهِ الْقَاعِدَة بِعُمُوم قَوْله: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ..} الْآيَة وَاعْلَم أَن بعض أهل الْأُصُول يَقُول أَن العوائد مِنْهَا مَا يخْتَلف الحكم فِيهِ بِحَسب اخْتِلَاف العوائد كالعادة فِي أقل الْحيض وَالنّفاس وأكثرهما وَأَقل الطُّهْر. وَقدر نفقات الزَّوْجَات والأقارب وَنَحْو ذَلِك.

وَمِنْهَا مَالا يخْتَلف فِيهِ الحكم باخْتلَاف العوائد كالخسة والكفاءة
অবকাশসমূহ (رخص) গ্রহণ করা, যেমন কসর (قصر), জমা (جمع), সফর অবস্থায় রমজানে ইফতার (إفطار) এবং তায়াম্মুম (تيمم) যদি পানির ব্যবহার স্পষ্টভাবে ক্ষতিকর হয়। এটি অস্পষ্ট নয় যে, কিছু নির্দিষ্ট ধরণের ইবাদতের ক্ষেত্রে কতিপয় কষ্ট (مشقة) বিধান সহজীকরণের কারণ হয় না; যেমন তীব্র শীতে অজু করা, তীব্র গরমে রোজা রাখা এবং জিহাদের ময়দানে তরবারির ছায়ার নিচে নিজেকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে, এই মূলনীতিটি—অর্থাৎ "কষ্ট সহজীকরণকে আনয়ন করে" (المشقة تجلب التيسير)—অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (أغلبية)।

তৃতীয় মূলনীতি: সন্দেহ দ্বারা নিশ্চিত বিশ্বাস দূর হয় না (لا يرفع اليقين بالشك)। এই মূলনীতির একটি শাখা হলো: যখন কেউ তিন রাকাত নাকি চার রাকাত সালাত আদায় করেছে সে বিষয়ে সন্দেহ করে, তখন সে নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) ওপর ভিত্তি করবে। এর আরেকটি শাখা হলো: বাদীর ওপর প্রমাণ (بينة) উপস্থাপনের দায়বদ্ধতা; কারণ মূলত দায়মুক্তি (براءة الذمة) নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত, তাই কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সেই হুকুম অপসারিত হবে না। জুমহুর (جمهور) উলামাদের নিকট এই মূলনীতির আরেকটি শাখা হলো: যে ব্যক্তি পবিত্রতা (طهارة) অর্জনের বিষয়ে নিশ্চিত এবং অপবিত্রতা (حدث) ঘটার বিষয়ে সন্দিহান, তবে তার সেই নিশ্চিত পবিত্রতা (طهارة) সন্দেহযুক্ত অপবিত্রতা (حدث) দ্বারা দূর হবে না। এই মাসআলায় জুমহুর (جمهور) উলামাদের সাথে ইমাম মালিক (রহ.)-এর একটি মতের যে ভিন্নতা রয়েছে, তা এই মূলনীতি থেকে বিচ্যুতি নয়; বরং তিনি ভিন্ন দিক থেকে এর ওপর আমল করেছেন। তা হলো, তিনি মনে করেন অপবিত্রতা (حدث) বিষয়ে সন্দেহ মূলত শর্ত অর্থাৎ পবিত্রতা (طهارة) অর্জনের ক্ষেত্রে সন্দেহ, আর মূল বিষয় হলো শর্তের অনুপস্থিতি। সুতরাং পবিত্রতা না থাকার পূর্বতন নিশ্চিত অবস্থা (يقين) দূর হবে না যতক্ষণ না শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পবিত্রতা অর্জনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। এই মতটির সামগ্রিক বিবেচনা রয়েছে যদি না এটি সেই সঠিক (صحيح) হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক হতো যা এর বিপরীত বিধান দাবি করে। সেই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, যার বায়ু নির্গত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হয়, তার নিশ্চিত অজু নষ্ট হবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শোনার মাধ্যমে বা গন্ধ পাওয়ার মাধ্যমে বায়ু নির্গত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। উল্লিখিত হাদিসটি এই মহান মূলনীতির অন্যতম দলিল, যা হলো: "সন্দেহ দ্বারা নিশ্চিত বিশ্বাস দূর হয় না" (لا يرفع يقين بشك)।

চতুর্থ মূলনীতি: প্রথা বা অভ্যাস বিচারক হিসেবে গণ্য (العادة محكمة)। এই মূলনীতির স্বপক্ষে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপকতা থেকে দলিল গ্রহণ করা হয়: "আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং সৎকাজের (عرف) নির্দেশ দিন..."। জেনে রাখুন যে, উসুলবিদদের (أهل الأصول) মতে প্রথা বা অভ্যাসের এমন কিছু প্রকার রয়েছে যেখানে প্রথার ভিন্নতার কারণে বিধানও ভিন্ন হয়; যেমন ঋতুস্রাব (حيض) ও নিফাসের (نفاس) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা এবং পবিত্রতার (طهر) সর্বনিম্ন সময়সীমা। তদ্রূপ স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের ভরণপোষণের পরিমাণ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

আবার এমন কিছু প্রথা রয়েছে যেখানে প্রথার ভিন্নতার কারণে বিধান ভিন্ন হয় না; যেমন তুচ্ছতা (خسة) এবং বিয়ের ক্ষেত্রে সমতা (كفاءة)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুত তাশরীইল ইসলামী ওয়া হিকমাতুহু - ত জামিয়াতুল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فِي النِّكَاح وَمن فروع هَذِه الْقَاعِدَة تَخْصِيص عمومات أَلْفَاظ النَّاس فِي الْأَيْمَان والمعاملات وَتَقْيِيد مُطلقهَا بِالْعرْفِ. فَلَا يجوز لحَاكم وَلَا مفت أَن يحكم أَو يُفْتى فِي لَفْظَة حَتَّى يعلم المُرَاد بهَا فِي عرف ذَلِك الْبَلَد.

الْقَاعِدَة الْخَامِسَة: الْأُمُور بمقاصدها: ويستدل لهَذِهِ الْقَاعِدَة بِحَدِيث "إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ" وَمن فروع هَذِه الْقَاعِدَة تَمْيِيز أَنْوَاع الْعِبَادَات بعميها من بعض كالفرض من النّدب وَعَكسه وكتمييز الظّهْر من الْعَصْر وَعَكسه. والمالكية وَالشَّافِعِيَّة يَقُولُونَ من فروعها وجوب النِّيَّة فِي طَهَارَة الْحَدث لِأَن الْوَسَائِل لَهَا حكم الْمَقْصُود بهَا خلافًا للحنفية. والسجدة ينقلها الْقَصْد من الْقرْبَة إِلَى الْكفْر لِأَنَّهَا قربَة لله. فَإِن نوى بهَا التَّقَرُّب لغيره قلبتها النِّيَّة كفرا 1 وَصلى الله وَسلم وَبَارك على عَبده، وَرَسُوله وَخيرته من خلقه صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

1وَمن ذَلِك فِي الْمُعَامَلَات حَدِيث البرمة: لما رأى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم البرمة يُوقد عَلَيْهَا فَطلب الطَّعَام فَقيل لَهُ لاشيء الْآن. فَقَالَ: "أَلَسْت أرى البرمة على النَّار" قَالُوا: "بلَى وَلكنه لحم تصدق بِهِ على بَرِيرَة" فَقَالَ: "هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَة وَلنَا هَدِيَّة". وَمثله حلية هبة موهبها اذا قدمت لَهُ ضِيَافَة عِنْد متهبها وَنَحْو ذَلِك وَالله تَعَالَى أعلم.
বিবাহ প্রসঙ্গে; এই মূলনীতির শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত হলো শপথ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে মানুষের ব্যবহৃত শব্দের ব্যাপকতাকে (عمومات) নির্দিষ্ট করা এবং এর শর্তহীন (مطلق) অর্থকে প্রচলিত প্রথার (عرف) মাধ্যমে সীমিত করা। সুতরাং কোনো বিচারক বা মুফতির জন্য কোনো শব্দের ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত বিধান প্রদান বা ফতোয়া দেওয়া জায়েজ নয়, যতক্ষণ না তিনি ওই ভূখণ্ডের প্রচলিত রীতিতে (عرف) শব্দটির দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা জানতে পারছেন।

পঞ্চম মূলনীতি: কাজসমূহ উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই মূলনীতির স্বপক্ষে "সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়। এই মূলনীতির শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত হলো ইবাদতের প্রকারভেদগুলোকে একে অপরের থেকে পৃথক করা; যেমন—নফল (ندب) থেকে ফরজকে (فرض) পৃথক করা এবং এর বিপরীত, আবার জোহর থেকে আসরকে পৃথক করা এবং এর বিপরীত। মালিকি ও শাফেয়ি মাজহাবের ফকিহগণ বলেন, এর শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত হলো অপবিত্রতা (حدث) থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে নিয়ত করা ওয়াজিব, কারণ মাধ্যমসমূহ যা উদ্দেশ্য তার বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত হয়; তবে হানাফি মাজহাবের মত এর ভিন্ন। আর সিজদাকে উদ্দেশ্য বা নিয়ত ইবাদত থেকে কুফরে পরিণত করতে পারে, কেননা সিজদা হলো আল্লাহর জন্য নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। সুতরাং যদি এর মাধ্যমে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নৈকট্য লাভের নিয়ত করা হয়, তবে নিয়তের কারণে তা কুফরে পর্যবসিত হবে। ১ এবং আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসুল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত ব্যক্তির ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

১. লেনদেনের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো ডেকচির হাদিস: যখন আল্লাহর রাসুল (সা.) একটি ডেকচি দেখলেন যা আগুনের ওপর চড়ানো ছিল, তখন তিনি খাবার চাইলেন। তাঁকে বলা হলো যে এখন কিছু নেই। তিনি বললেন: "আমি কি আগুনের ওপর ডেকচি চড়ানো দেখছি না?" তারা বললেন: "হ্যাঁ, তবে এটি সেই গোশত যা বারীরাকে দান (صدقة) করা হয়েছিল।" তিনি বললেন: "এটি তার জন্য দান (صدقة), কিন্তু আমাদের জন্য উপহার (هدية)।" একইভাবে কোনো দাতার দান করা বস্তু বৈধ হয়ে যায় যখন তা গ্রহীতার পক্ষ থেকে তাকে মেহমানদারি হিসেবে পেশ করা হয় এবং অনুরূপ বিষয়াদি। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।