(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: -)
نصرة الثائر على المثل السائر   (الصفدي)

القسم: البلاغة


الكتاب: نصرة الثائر على المثل السائر

المؤلف: صلاح الدين خليل بن أيبك الصفدي (ت 764هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 97

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাসালুস সায়িরের উপর নুসরতুত থায়ির   (আস-সাফাদী)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র


গ্রন্থ: আল-মাসালুস সায়িরের উপর নুসরতুত থায়ির

লেখক: সালাহুদ্দীন খলীল বিন আইবাক আস-সাফাদী (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৭

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌عفوك اللهم

الحمد لله الذي فطر عقول البشر متغايرة، وجعل النفوس برأيها عل نقطة الرضى دائرة، وزين لها أعمالها حتى توهمت أنها في الأمثال السائرة.

أحمده على نعمه التي أوضحت ما أبهم وألبس، وأبدت نار الهدى التي لم تكن بسوى أنامل الذوق تقبس، وراضت جواد الانتقاد الذي إذا أم غاية لم يثن عنانه ولم يحبس. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة يسجع بها حمام اللسان من اليقين على أراكه، وتنجي قائلها من الوقوع في حبائل الشرك وأشراكه، وتكون له ذخيرة إذا عدم سكونه بعد حراكه. وأشهد أن محمدا سيدنا وعبده الذي عصمه الله من الخطأ في القول والعمل، وحرس به سرح الفصاحة ولولاه لاختلط المرعى بالهمل، وآتاه من جوامع الكلم ما لم تطمح إليه عين أمنية ولم تطمع فيه يد أمل، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه الذين هابتهم الأساود وخافتهم الأسود، وتجانست أفعالهم فما منهم إلا من يجول ويجود، ويسوس ويسود، وتبرأت شيمهم من النقائص فلم يكن فيهم مختال ولا متكبر ولا حسود، صلاة تتبسم عن ثغرها شفة الفجر في لعس الظلام، ويتلثم بنورها وجه البدر في عرس التمام.

وبعد: فإن كتاب المثل السائر للصاحب ضياء الدين بن أثير الجزيرة، عامله الله بلطفه، وسامحه بما هزت به نسمات الخيلاء من غصن عطفه، من الكتب التي خفقت له في الاشتهار عذبات أوراقه، وسعى القلم في خدمته على رأسه إذا سعى الخادم على ساقه. واشتهر بين أهل الإنشاء اشتهار الليل بالكتمان والنهار بالإفشاء، لا بل اشتهار بني عذرة في الحب بتحرق الأحشاء، وأولع به أهل الأدب في الآفاق ولع الكريم بالإنفاق، لا بل ولع الرقباء بالعشاق.

إلا أن واضعه رحمه الله، وان جمع فيه العلم والعمل، وسجع فيه بين الثقيل والرمل، وتوهم أن بدر فضله قد تم وكمل، وتخيل أن جيد الإنشاء بعده قد عطل، وفنه قد خمل، قد أذهب حسناته النادرة، بتوالي سيئاته البادرة، وأضاع تلك الزهرات الفذة، في قفار الدعاوى التي لا يجد فيها السالك لذة، وطال على الناس بعد هلاله سواد ليله، ورفضوا مواقع طله لغثاء سيله. ونعم فإنه:

ما الجزع أهلٌ أن تردّد نظرةٌ … فيه وتثنى نحوه الأعناق

لأنه أفنى ذلك البسط في الإعجاب بنفسه والإطراء، وأطال في الغض من أبناء جنسه والازدراء، وظن أن الله قد حرم الفصاحة على من يأتي من بعده، وأن الذين من قبله إما شيخ قد خرف في هرمه، وإما طفل يعبث في مهده. وجر رداء الكبر والخيلاء مخيطا بإبر الحمد، وبالغ في ذلك مبالغة أبي زبيد الطائي في وصف الأسد. ووصف نفسه ولا وصف امرىء القيس لأفراسه، ومدحها ولا مدح أبي نواس سلافة كاسه، وكرر ذلك فغثى النفوس بذلك الغث، وزاد حتى رثى القلق ثوب الصبر لمارث.

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: احذروا ثلاثا: الحرص فإنه أخرج آدم من الجنة، والكبر فإنه حط إبليس عن مرتبته، والحسد فإنه دعا ابن آدم إلى قتل أخيه.

وقال صلى الله عليه وسلم: إن الحسد يأكل الحسنات كما تأكل النار الحطب ويقال: إنه أول ذنب عصي الله به في السماء والأرض. وقال النبي صلى الله عليه وسلم حاكيا عن الله عز وجل: الكبرياء ردائي فمن نازعنيه أدختله النار. وقال جعفر بن محمد: علم الله أن الذنب للمؤمن خير من العجب، ولولا ذلك ما ابتلي مؤمن بذنب.

وقال بعض الحكماء: البلية التي لا يؤجر المرء عليها العجب، والنعمة التي لا يحسد عليها التواضع.

ومما قيل: لا شيء أكتم للمحاسن من التيه والعجب.

هذا إلى ما في الكتاب من فلتات عديدة، واختيارات غير موفقة ولا سديدة، ونصر باطل، وتحلية عاطل، وترجيح ما ضعف ووهى، وتوهين ما تحرر وانتهى.

مساوٍ لو قسمن على الغواني … لما أمهرن إلا بالطّلاق

وكنت أقف على أطلالها عند المراجعة ناديا، وأعثر في أذيالها حين المطالعة غالبا، وأتأوه لانفراد تلك اللآلىء في سلوك السبج، وأستطيل سواد لياليه والصبح من محاسنه ما أسفر ولا انبلج.

وبلغني ما وضعه عز الدين بن أبي الحديد رحمه الله على الكتاب من المؤاخذة، وأنه استصرخت به تلك الظلامات عائذة. فلما وقفت على الفلك الدائر وجدته قد أغفل كثيراً، وأخذ قليلا وترك أثيرا. فأحببت بعد ذلك أن ألتقط ما غادره، وأتتبع شاذه ونادره.
‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌হে আল্লাহ, আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সৃষ্টি করেছেন, এবং প্রবৃত্তিকে তার নিজ মতামতের তুষ্টির বিন্দুর ওপর আবর্তনশীল করেছেন, এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে তাদের নিকট এমন সুশোভিত করেছেন যে তারা সেগুলোকে প্রচলিত প্রবাদ বলে ভ্রম করে।

আমি তাঁর সেই নিআমতসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি, যা অস্পষ্ট ও সংশয়পূর্ণ বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেছে, এবং হিদায়াতের সেই আগুনকে প্রকাশ করেছে যা রুচিবোধের আঙ্গুল ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা প্রজ্বলিত হয় না। তিনি সমালোচনার সেই দ্রুতগামী অশ্বকে বশ করেছেন, যা কোনো লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হলে তার লাগাম টানা যায় না এবং তাকে আটকে রাখা যায় না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যার দ্বারা জিহ্বারূপী কবুতর ইয়াকিনের আড়াক বৃক্ষের ডালে বসে কুজন করে, এবং যা এর পাঠকারীকে শিরকের জাল ও ফাঁদ থেকে মুক্তি দেয়, এবং যখন তার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাবে তখন তা তার জন্য পাথেয় হবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আমাদের নেতা ও তাঁর বান্দা, যাকে আল্লাহ কথা ও কাজে ভুল থেকে রক্ষা করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের চারণভূমিকে সুরক্ষিত করেছেন; তিনি না থাকলে পশুপালের সাথে চারণভূমি মিশে যেত। তিনি তাকে এমন ব্যাপক অর্থবোধক বাণী দান করেছেন, যা কোনো আকাঙ্ক্ষাই করতে পারে না এবং কোনো আশার হাত তাতে পৌঁছাতে পারে না। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর, যাদেরকে কৃষ্ণসর্প ও সিংহরা ভয় পেত। তাঁদের কার্যাবলি ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ; তাঁদের মধ্যে প্রত্যেকেই ছিলেন বিচরণকারী ও দানশীল, এবং শাসক ও নেতা। তাঁদের চরিত্রসমূহ সব ধরণের ত্রুটি থেকে মুক্ত ছিল; তাঁদের মধ্যে কোনো দাম্ভিক, অহংকারী বা হিংসুক ছিল না। এই দরুদ এমন যা প্রাতঃকালের ওষ্ঠের ন্যায় অন্ধকারের কালিমার মাঝে মুচকি হাসে এবং যা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর ন্যায় পূর্ণ জ্যোৎস্নায় অবগুণ্ঠন আবৃত করে।

অতঃপর: জাযিরা অঞ্চলের সাহিব জিয়াউদ্দীন ইবনে আসিরের কিতাব 'আল-মাসালুস সাইর'—আল্লাহ তাঁর প্রতি মেহেরবানী করুন এবং তাঁর ঘাড়ের ডাল থেকে অহংকারের বাতাস যা কিছু দোলা দিয়েছে তা ক্ষমা করুন—এটি এমন একটি কিতাব যার পাতার অগ্রভাগ খ্যাতির শিখরে স্পন্দিত হয়েছে, এবং এর সেবায় কলম তার মাথায় ভর করে চলেছে যেমন ভৃত্য তার পায়ে ভর করে চলে। রচনার শিল্পীদের মাঝে এটি এমন প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যেমন রাত্রি গোপন রাখা এবং দিন প্রকাশ করার জন্য প্রসিদ্ধ। বরং হৃদয়ের দহনের মাধ্যমে ভালোবাসার ক্ষেত্রে বনু উযরা গোত্রের ন্যায় এটি প্রসিদ্ধি পেয়েছে। দিগন্তের সাহিত্যিকরা এর প্রতি এমন আসক্ত হয়েছে যেমন দানশীল ব্যক্তি ব্যয়ের প্রতি আসক্ত হয়, বরং যেমন প্রহরীরা প্রেমিকদের প্রতি আসক্ত হয়।

তবে এর লেখক—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—যদিও তিনি এতে জ্ঞান ও কর্মের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, এবং এতে সাকিল ও রামাল ছন্দের মেলবন্ধন করেছেন, এবং ধারণা করেছেন যে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণিমা পূর্ণতা লাভ করেছে, এবং কল্পনা করেছেন যে তাঁর পরে অলঙ্কারশাস্ত্র শ্রীহীন হয়ে পড়েছে এবং এই শিল্পটি স্তিমিত হয়ে গেছে, কিন্তু তিনি তাঁর আকস্মিক মন্দ আচরণের ধারাবাহিকতায় তাঁর বিরল নেক কাজগুলোকে নষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি সেই অনন্য পুষ্পগুলোকে এমন দাবির মরুভূমিতে হারিয়ে ফেলেছেন যেখানে পথচারী কোনো স্বাদ পায় না। তাঁর উদয়ের পর মানুষের ওপর তাঁর দীর্ঘ অন্ধকার রাত নেমে এসেছে এবং তাঁর সয়লাবের জঞ্জালের কারণে তারা তাঁর শিশিরবিন্দুকেও প্রত্যাখ্যান করেছে। হ্যাঁ, সত্য এই যে:

এই বিলাপ দৃষ্টিপাত করার যোগ্য নয় … এবং এর দিকে ঘাড় ফেরানোরও প্রয়োজন নেই।

কারণ তিনি তাঁর সেই পাণ্ডিত্যকে আত্মমুগ্ধতা ও আত্মপ্রশংসায় বিলীন করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর সমসাময়িকদের অবমাননা ও তুচ্ছজ্ঞান করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা করেছেন। তিনি মনে করেছেন যে আল্লাহ তাঁর পরের লোকেদের জন্য অলঙ্কারশাস্ত্রকে হারাম করে দিয়েছেন, এবং তাঁর আগের লোকেরা হয় এমন বৃদ্ধ যারা বার্ধক্যে ভীমরতিগ্রস্ত হয়েছে, অথবা এমন শিশু যারা দোলনায় খেলা করে। তিনি প্রশংসা ও আত্মস্তুতির সুঁই দিয়ে সেলাই করা অহংকার ও দম্ভের চাদর টেনে ধরেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সিংহের বর্ণনায় আবু জুবাইদ আত-তায়ীর চেয়েও বেশি বাড়াবাড়ি করেছেন। তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন যা ইমরুল কায়েসও তাঁর ঘোড়াগুলোর ক্ষেত্রে দেননি, এবং নিজের প্রশংসা করেছেন যা আবু নুওয়াসও তাঁর পানপাত্রের সুরার জন্য করেননি। তিনি এর পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং সেই জঞ্জাল দিয়ে আত্মাকে তিক্ত করে তুলেছেন, এবং এতই বাড়িয়ে দিয়েছেন যে সেই জরাজীর্ণতার কারণে ধৈর্য তার পোশাক ছিঁড়ে বিলাপ শুরু করেছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তিনটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো: লোভ, কারণ এটিই আদমকে জান্নাত থেকে বের করেছে; অহংকার, কারণ এটিই ইবলিসকে তার মর্তবা থেকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে; এবং হিংসা, কারণ এটিই আদম সন্তানকে তার ভাইকে হত্যা করতে প্ররোচিত করেছে।"

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই হিংসা নেক কাজগুলোকে গ্রাস করে ফেলে যেমন আগুন কাঠকে গ্রাস করে।" বলা হয় যে, এটিই প্রথম গুনাহ যার মাধ্যমে আসমান ও জমিনে আল্লাহর অবাধ্যতা করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: "অহংকার আমার চাদর, যে ব্যক্তি এটি নিয়ে আমার সাথে টানাটানি করবে তাকে আমি জাহান্নামে প্রবেশ করাব।" জাফর ইবনে মুহাম্মদ বলেছেন: "আল্লাহ জানেন যে মুমিনের জন্য গুনাহ করা আত্মমুগ্ধতার চেয়ে উত্তম; তা না হলে কোনো মুমিনকে গুনাহে লিপ্ত করা হতো না।"

জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন: "এমন মুসিবত যাতে মানুষ সওয়াব পায় না তা হলো আত্মমুগ্ধতা, আর এমন নিআমত যাতে কেউ হিংসা করে না তা হলো বিনয়।"

আরও বলা হয়েছে: "বিস্ময় ও আত্মমুগ্ধতার চেয়ে গুণাবলিকে বিলীন করার মতো আর কিছুই নেই।"

তদুপরি কিতাবটিতে রয়েছে অনেক বিচ্যুতি, অনুপযুক্ত ও অশুদ্ধ নির্বাচন, বাতিলের সাহায্য এবং নিরাভরণকে অলঙ্কৃত করার প্রয়াস। যা দুর্বল ও অসার তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, আর যা সুপ্রতিষ্ঠিত ও চূড়ান্ত তাকে দুর্বল প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

এমন সব দোষ যা যদি সুন্দরীদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হতো … তবে তালাক ছাড়া তাদের আর কোনো মোহরানা জুটত না।

পর্যালোচনা করার সময় আমি এর ধ্বংসাবশেষে বিলাপকারী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকতাম এবং অধ্যয়ন করার সময় প্রায়ই এর আঁচলে হোঁচট খেতাম। কষ্টিপাথরের সারিতে সেই মুক্তাগুলোর নিঃসঙ্গতার জন্য আমি ব্যথিত হতাম। আমি এর রাতের অন্ধকারকে দীর্ঘায়িত অনুভব করতাম, অথচ এর সৌন্দর্য থেকে সকালের আলো তখনও প্রকাশ পায়নি বা উজ্জ্বল হয়নি।

ইজ্জুদ্দীন ইবনে আবিল হাদিদ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এই কিতাবটির যে সমালোচনা লিখেছেন তা আমার নিকট পৌঁছেছে এবং সেই জুলুমগুলো সাহায্যের জন্য তাঁকে আর্তনাদ করে ডেকেছে। অতঃপর যখন আমি 'আল-ফালকুদ দাইর' কিতাবটি দেখলাম, তখন দেখলাম যে তিনি অনেক কিছু উপেক্ষা করেছেন, অল্প কিছু গ্রহণ করেছেন এবং অনেক কিছুই ছেড়ে দিয়েছেন। তাই এরপর আমি সংকল্প করলাম যে, তিনি যা ছেড়ে গেছেন আমি তা কুড়িয়ে নেব এবং এর বিরল ও অদ্ভুত বিষয়গুলোর অনুসন্ধান করব।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২)
وعليّ أن أقضي صلاتي بعدما … فاتت إذا لم أقضها في وقتها

على أنني بعد ابن أبي الحديد كمن جاء بعد اجتحاف سيل، وأصبح بعد قاطف النهار حاطب ليل. فإن هذا الرجل له تصانيف تدل على تمكنه واطلاعه، وسداد مراميه عند مد باعه، وريه من الفنون وقيامه بها واضطلاعه. منها تعليقان على المحصل والمحصول للإمام فخر الدين وتعليقة ثالثة على الأربعين لفخر الدين، ونظم فصيح ثعلب نظما جيدا في يوم وليلة، وهذا الفلك الدائر علقه في ثلاثة عشر يوما مع أشغال ديوانه.

وكتب إليه أخوه موفق الدين ابن أبي الحديد لما وضع الفلك الدائر:

المثل السائر يا سيدي … صنفت فيه الفلك الدائرا

لكنّ هذا فلكٌ دائرٌ … أصبحت فيه المثل السائرا

ووضع على نهج البلاغة شرحا في ستة عشر مجلدا، وناهيك بمن يتصدى لنهج البلاغة ويشرحه، ويأتي على ما يتعلق به من كل علم: أصولا وفقها وعربية وتاريخا وأسماء رجال وغير ذلك. ومن وقف على هذا الشرح، علم أنه قل من يدخل معه ذلك الصرح، أو يسام معه في مثل هذا السرح، وحسبك بمن وأخذ الإمام فخر الدين وأورد عليه. ووجدت له أبياتا أولها:

وحقك لو أدخلتني النار قلت لل … لذين بها قد كنت ممن يحبه

وأفنيت عمري في دقيق علومه … وما بغيتي إلاّ رضاه وقربه

هبوني مسيئا أوتغ الحلم جهله … وأوبقه دون البرية ذنبه

أما يقتضي شرع التكرم عفوه … أيحسن أن ينسى هواه وحبه

أما ردّ زيغ ابن الخطيب وشكه … وتمويهه في الدّين إذ جلّ خطبه

أما كان ينوي الحق فيما يقوله … ألم تنصر التوحيد والعدل كتبه

فقلت أنا رادا عليه في وزنه ورويه:

علمنا بهذا القول أنك آخذ … بقول اعتزالٍ جل في الدين خطبه

فتزعم أن الله في الحشر ما يرى … وذاك اعتقاد سوف يرديك غبّه

وتنفي صفات الله وهي قديمةٌ … وقد أثبتتها عن إلهك كتبه

وتعتقد القرآن خلقا ومحدثا … وذلك داء عزّ في الناس طبه

وتثبت للعبد الضعيف مشيئةً … يكون بها ما لم يقدره ربه

وأشياء من هذي الفضائح جمةً … فأيكما داعي الضلال وحزبه؟

ومن ذا الذي أضحى قريبا من الهدى … وحامى عن الدين الحنيفي ذبّه

وما ضر فخر الدين قولٌ نظمته … وفيه شناع مفرط إذ تسبه

وقد كان ذا نورٍ يقود إلى الهدى … إذا طلعت في حندس الشك شهبه

ولو كنت تعطي حق نفسك قدره … لأخمدت جمرا بالمحال تشبّه

وما أنت من أقرانه يوم معرك … ولا لك يوما بالامام تشبّه

ونقلت من خط الحافظ اليغموري قال: أنشدني الإمام ركن الدين أبو القاسم لنفسه في عز الدين بن أبي الحديد وقد صنف الفلك الدائر على المثل السائر:

لقد أتى باردا ثقيلا … ولم يرث ذاك من بعيد

فهو كما قد علمت شيء … أشهر ما كان في الحديد

وصنف كتابا يرد فيه على ابن أبي الحديد وسماه: نشر المثل السائر وطي الفلك الدائر قلت: هذا ركن الدين أبو القاسم، هو محمود بن الحسين ابن الإمام أرشد الدين الأصبهاني الأصل السنجاري المولد. كان حنفيا يعرف المذهب والأصولين والخلاف والأدب، قرأ على السيف الآمدي وعلى ضياء الدين ابن الأثير، وبطل خرقة الفقهاء وتزيي بزي الأجناد، وتوفي بدمشق في سادس شهر رمضان سنة خمسين وستمائة، ودفن بسفح قاسيون. ومولده في سنة اثنتين وتسعين وخمسمائة. وقال في انتقاله إلى الجندية أبياتا منها:

فانظر أخا العقل إلى حرفةٍ … منها هربنا للوغى الجحفل

لو لم تكن أنحس ما في الورى … لم ترض عنها بالردى الاعجل

وكنت أنا في وقت قد كتبت على المحصل للإمام فخر الدين الرازي أبياتا يحسن هنا ذكرها وهي:

علم الأصول بفخر الدين منتصرٌ … به نصول بإعجاب وإعجاز
আর আমার উপর আমার সালাত কাযা করা আবশ্যক যেহেতু … তা আমি যথাসময়ে আদায় করিনি।

তবে ইবন আবিল হাদিদ-এর পরে আমার অবস্থা হলো এমন ব্যক্তির মতো যে প্রবল বন্যার স্রোত চলে যাওয়ার পর এসেছে, অথবা সেই কাঠুরিয়ার মতো যে দিনের বেলা ফল সংগ্রহকারীর পর রাতে লাকড়ি কুড়োতে বের হয়েছে। কেননা এই ব্যক্তির এমন কিছু সংকলন রয়েছে যা তার সক্ষমতা, পাণ্ডিত্য এবং দূরদর্শিতার প্রমাণ দেয়, যখন তিনি তার জ্ঞানের পরিধি বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্র ও শিল্পকলায় পূর্ণ পারদর্শিতা ও কর্তৃত্ব প্রদর্শন করেন। তার মধ্যে রয়েছে ইমাম ফখর উদ্দিনের 'আল-মুহাসসাল' ও 'আল-মাহসুল' গ্রন্থের ওপর দুটি টীকা, এবং ফখর উদ্দিনের 'আল-আরবাঈন' গ্রন্থের ওপর তৃতীয় একটি টীকা। তিনি একদিন ও এক রাতে সা'লাবের 'ফাসিহ' গ্রন্থটিকে চমৎকার পদ্যে রূপান্তর করেছেন। আর এই 'আল-ফালকুদ দাইর' গ্রন্থটি তিনি তার দাপ্তরিক ব্যস্ততার মাঝেই মাত্র তেরো দিনে রচনা করেছেন।

তার ভাই মুয়াফ্ফাকুদ্দীন ইবন আবিল হাদিদ তাকে লিখেছিলেন যখন তিনি 'আল-ফালকুদ দাইর' রচনা করেন:

হে আমার সায়্যিদ! আপনি 'আল-মাসালুস সাইর'-এর প্রেক্ষিতে … 'আল-ফালকুদ দাইর' রচনা করেছেন।

কিন্তু এটি এমন এক ঘূর্ণায়মান কক্ষপথ … যাতে আপনি নিজেই প্রবাদতুল্য হয়ে উঠেছেন।

তিনি 'নাহজুল বালাগাহ'-এর ওপর ষোলো খণ্ডে একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। আর সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী-ই বা বলার আছে যে 'নাহজুল বালাগাহ'-এর ব্যাখ্যা করতে অগ্রসর হয় এবং উসূল, ফিকহ, আরবি ভাষা, ইতিহাস, রিজাল শাস্ত্রসহ সকল জ্ঞানবিজ্ঞানের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি তাতে উল্লেখ করে। যে ব্যক্তি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করবে, সে জানবে যে খুব কম লোকই তার সাথে সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে বা এই অঙ্গনে তার সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। ইমাম ফখর উদ্দিনের ওপর আপত্তি তোলা এবং তার সমালোচনা করার জন্য তার যোগ্যতাই যথেষ্ট। আমি তার কিছু কবিতা পেয়েছি যার প্রথমটি হলো:

তোমার কসম! যদি তুমি আমাকে জাহান্নামেও প্রবেশ করাও, তবে আমি … সেখানে অবস্থানকারীদের বলব যে আমি এমন একজন ছিলাম যে তাকে ভালোবাসত।

আমি আমার পুরো জীবন তার সূক্ষ্ম জ্ঞানচর্চায় ব্যয় করেছি … আর আমার একমাত্র চাওয়া ছিল তার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য।

আমাকে তোমরা অপরাধী মনে করো যার অজ্ঞতা ধৈর্যকে বিনাশ করেছে … এবং সৃষ্টির মাঝে যার পাপ তাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মহানুভবতার বিধান কি তার ক্ষমার দাবি রাখে না? … এটা কি শোভনীয় যে তার প্রেম ও ভালোবাসাকে ভুলে যাওয়া হবে?

তিনি কি ইবনুল খাতিবের বিচ্যুতি ও সংশয়কে খণ্ডন করেননি … এবং দ্বীনের ব্যাপারে তার চাতুর্যকে যখন বিপদ চরমে ছিল?

তিনি যা বলতেন তাতে কি তিনি সত্যের সংকল্প করতেন না? … তার কিতাবগুলো কি তাওহীদ ও ইনসাফকে সাহায্য করেনি?

অতঃপর আমি একই ছন্দ ও অন্ত্যমিলে তার খণ্ডন করে বললাম:

তোমার এই কথা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে তুমি … মুতাজিলা মতবাদ গ্রহণ করেছ, দ্বীনের মধ্যে যার ফিতনা অত্যন্ত গুরুতর।

তুমি দাবি করছ যে কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহকে দেখা যাবে না … আর এটি এমন এক বিশ্বাস যার মন্দ পরিণতি তোমাকে ধ্বংস করবে।

তুমি আল্লাহর সিফাতসমূহকে অস্বীকার করছ অথচ সেগুলো অনাদি … আর তোমার ইলাহের পক্ষ থেকে আসা কিতাবগুলো সেগুলো সাব্যস্ত করেছে।

তুমি কুরআনকে সৃষ্ট ও নবসৃষ্ট হিসেবে বিশ্বাস করো … আর এটি এমন এক ব্যাধি যার চিকিৎসা মানুষের মাঝে দুর্লভ।

তুমি দুর্বল বান্দার জন্য এমন ইচ্ছা সাব্যস্ত করো … যার মাধ্যমে এমন কিছু ঘটে যা তার রব নির্ধারণ করেননি।

এই ধরনের বহু নেক্কারজনক কুসংস্কার তোমার মাঝে রয়েছে … তবে তোমাদের দুজনের মধ্যে কে গোমরাহির দিকে আহ্বানকারী ও তার দলভুক্ত?

হিদায়াতের নিকটবর্তী কে হয়েছে … এবং কে হানীফী দ্বীনকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করেছে?

তোমার রচিত কবিতা ফখর উদ্দিনের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না … যদিও তাকে গালি দিতে গিয়ে তুমি চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়েছ।

তিনি তো এমন এক জ্যোতি ছিলেন যা হিদায়াতের দিকে পরিচালিত করে … যখন সন্দেহের অন্ধকারে তার উল্কাপিন্ডগুলো উদিত হয়।

তুমি যদি নিজের যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করতে … তবে মিথ্যাচারের মাধ্যমে যে অগ্নি তুমি প্রজ্বলিত করেছ তা নিভিয়ে ফেলতে।

যুদ্ধের ময়দানে তুমি তার সমকক্ষ নও … এবং কোনোদিন ইমামের সাথে তোমার কোনো তুলনাই হতে পারে না।

আমি হাফেজ ইয়ামুরীর হাতে লেখা থেকে নকল করছি, তিনি বলেছেন: ইমাম রুকনুদ্দীন আবুল কাসেম আমাকে ইযযুদ্দীন ইবন আবিল হাদিদ সম্পর্কে নিজের রচিত কিছু পদ্য শুনিয়েছেন, যখন তিনি 'আল-মাসালুস সাইর'-এর খণ্ডনে 'আল-ফালকুদ দাইর' রচনা করেছিলেন:

এটি একটি শীতল ও ভারী হিসেবে এসেছে … আর সে এটি দূর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পায়নি।

এটি তেমনই যা তুমি জানো— … লোহার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত বস্তু।

তিনি ইবন আবিল হাদিদকে খণ্ডন করে একটি কিতাব লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'নাশরুল মাসালিস সাইর ওয়া তইয়ুল ফালাকিদ দাইর'। আমি বলছি: এই রুকনুদ্দীন আবুল কাসেম হলেন মাহমুদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ইমাম আরশাদুদ্দীন আসবাহানী, যার জন্ম সিনজারে। তিনি হানাফী ছিলেন, যিনি মাযহাব, উসুলাইন, খিলাফ এবং সাহিত্য সম্পর্কে জানতেন। তিনি সাইফ আল-আমেদী এবং জিয়াউদ্দীন ইবনুল আসীরের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি ফকীহদের পোশাক ত্যাগ করে সৈনিকদের পোশাক পরিধান করেছিলেন। তিনি হিজরি ৬৫০ সালের ৬ই রমজান দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন এবং কাসিউনের পাদদেশে সমাহিত হন। তার জন্ম ৫৯২ হিজরিতে। সৈনিক জীবনে প্রবেশের সময় তিনি কিছু পদ্য বলেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে:

হে বুদ্ধিমান ভাই! তুমি সেই পেশার দিকে তাকাও … যেখান থেকে পালিয়ে আমরা রণক্ষেত্রে এসেছি।

এটি যদি সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে অশুভ না হতো … তবে তুমি এর বদলে দ্রুত মৃত্যুকে বেছে নিতে সন্তুষ্ট হতে না।

একসময় আমি ইমাম ফখর উদ্দিন রাযীর 'আল-মুহাসসাল' গ্রন্থের ওপর কিছু পদ্য লিখেছিলাম যা এখানে উল্লেখ করা সমীচীন হবে:

উসূল শাস্ত্র ফখর উদ্দিনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছে … তার মাধ্যমেই আমরা বিস্ময় ও অলৌকিকতার সাথে আক্রমণ পরিচালনা করি।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ৩)
أضحت به السنة الغراء واضحةً … قد استقامت لمختار ومجتاز

له مباحث كم قد أحرقت شبها … بشهبها فمن الزاري على الرازي!

وأنشدني من لفظه شيخنا الإمام الحافظ أثير الدين أبو حيان محمد بن يوسف بالديار المصرية سنة ثمان وعشرين وسبعمائة قال: أنشدنا شيخنا النسابة حافظ المشرق والمغرب شرف الدين أبو محمد عبد المؤمن بن خلف بن أبي الحسن الدمياطي يوم الاربعاء الخامس عشر من جمادى الآخرة سنة ثمانين وستمائة بالقاهرة بقراءتي عليه قال: أنشدنا الشيخ العالم الصاحب عز الدين أبو حامد عبد الحميد بن هبة الله بن محمد بن محمد بن حسين بن أبي الحديد المعتزلي ببغداد، ومولده بالمدائن مستهل ذي الحجة سنة ست وثمانين وخمسمائة لنفسه:

لولا ثلاثٌ لم أخف صرعتي … ليست كما قال فتى العبد

أن أنصر التوحيد والعدل في … كل مكان باذلا جهدي

وأن أناجي الله مستمتعا … بخلوةٍ أحلى من الشّهد

وأن أتيه الدهر كبرا على … كل لئيمٍ أصعر الخد

لذاك أهوى لا فتاةٍ ولا … خمرٍ ولا ذي ميعة نهد

قول ابن أبي الحديد هنا: لولا ثلاث.. البيت، إشارة إلى قول طرفة بن العبد:

فلولا ثلاثٌ هنّ من لذّة الفتى … وجدك لم أحفل متى قام عوّدي

فمنهن سبقي العاذلات بشربة … كميت متى ما تعل بالماء تزيد

وكري، إذا نادى المضاف، مجنبا … كسيد الغضا، نبهته، المتورد

وتقصير يوم الدجن والدجن معجب … ببهكنة تحت الخباء المعمّد

ومن شعر ابن أبي الحديد قصيدة بائية من جملة مدائحه في علي بن أبي طالب رضي الله عنه:

ألا إن نهج المجد أبيض محلوب … على أنه جم المسالك مرهوب

هو العسل الماذيّ يشتاره امرؤ … بغاه وأطراف الرماح اليعاسيب

ذق الموت إن شئت العلا واطعم الردى … فنيل الأماني بالمنيّة مكسوب

خض الحتف تأمن خطة الخسف إنما … يبوح ضرام الخطب والخطب مشبوب

ألم تخبر الأخبار عن فتح خيبر … ففيها لذي اللب الملب أعاجيب

وفوز عليٍ بالعلا فوزها به … فكلٌ إلى كلٍ مضافٌ ومنسوب

حصونٌ حصان الفرج حيث تبرجت … وما كل ممتط الجزارة مركوب

تناط عليها للنجوم قلائد … وتسفل عنها للغمام أهاضيب

منها:

وأرعن موار العنان يمورها … فلم يغن عنها جرّ مجرٍ وتلبيب

فللخطب عنها والصروف صوارفٌ … كما كان عنها للنوائب تنكيب

منها

نهار سيوفٍ في دجى ليل عثيرٍ … فأبيض وضاحٌ وأسود غربيب

ينوح عليها نوح قارون يوشعٌ … ويذري عليها دمع يوسف يعقوب

بها من زماجير الرجال صواعق … ومن صوب آذيّ الدماء شآبيب

منها

يمج منونا سيفه وسنانه … ويلهب نارا غمده والأنابيب

ومن مدائحه في علي بن أبي طالب رضي الله عنه، قصيدة أولها:

عن ريقها يتحدّث المسواك … أرجا فهل شجر الأراك أراك

ولطرفها خنث الجبان فإن رنت … باللحظ فهي الضيغم الفتاك

شرك القلوب ولم أخل من قبلها … أن القلوب تصيدها الأشراك

منها

يا وجهها المصقول ماء شبابه … ما الحتف لولا طرفك الفتاك

أم هل أتاك حديث وقفتها ضحى … وقلوبنا بشبا الفراق تشاك

لا شيء أقطع من نوى الأحباب أو … سيف الوصيّ كلاهما سفاك
এর মাধ্যমে উজ্জ্বল সুন্নাহ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে … যা সত্য গ্রহণকারী এবং সত্যের সন্ধানী উভয়ের জন্যই ঋজু হয়ে গেছে।

তাঁর এমন কিছু গবেষণা রয়েছে যা বহু সংশয়কে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে … সেগুলোর উল্কাপিণ্ড দিয়ে; অতএব কে আছে যে আল-রাজির সমালোচনা করবে!

আমাদের শাইখ ইমাম হাফিজ আসীরুদ্দীন আবু হাইয়্যান মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ মিসর ভূখণ্ডে সাতশত আটাশ হিজরি সনে তাঁর নিজের মুখে আমাকে এটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: মাশরিক ও মাগরিবের হাফিজ এবং বংশবিদ্যাবিশারদ আমাদের শাইখ শরফুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ ইবনে আবিল হাসান আদ-দিময়াতি কায়রোতে ছয়শত আশি হিজরি সনের পনেরোই জুমাদাল আখিরা, বুধবার দিন আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: বাগদাদে বিদ্বান শাইখ আল-সাহিব ইজ্জুদ্দীন আবু হামিদ আব্দুল হামীদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন ইবনে আবিল হাদীদ আল-মুতাজিলি আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন—তাঁর জন্ম ছিল মাদায়েনে পাঁচশত ছিয়াশি হিজরি সনের যিলহজ মাসের শুরুতে—তিনি নিজের রচিত কবিতাটি পাঠ করেন:

যদি তিনটি বিষয় না থাকত, তবে আমি আমার পতনকে ভয় পেতাম না … সেগুলো তরাফা ইবনুল আবদ যা বলেছে তার মতো নয়।

আমি যেন প্রতিটি স্থানে তাওহীদ ও ন্যায়বিচারকে (আদল) সাহায্য করতে পারি … আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা বিলিয়ে দিয়ে।

এবং যেন আল্লাহর সাথে একাকী সংলাপে মগ্ন হতে পারি … এমন এক নির্জনতায় যা মধুর চেয়েও সুস্বাদু।

আর যেন আমি কালব্যাপী দম্ভের সাথে বিচরণ করতে পারি … প্রত্যেক নিচ ও অহংকারীর উপরে।

সে কারণেই আমি ভালোবাসি; কোনো তরুণী, মদ … কিংবা কোনো নবযৌবনা নারীর জন্য নয়।

এখানে ইবনে আবিল হাদিদের উক্তি "যদি তিনটি বিষয় না থাকত..."—এই চরণটি তরাফা ইবনুল আবদের বাণীর দিকে ইঙ্গিত করে:

যদি তিনটি বিষয় না থাকত যা একজন যুবকের আনন্দের উৎস … তোমার কসম, আমি পরোয়া করতাম না কখন আমার রোগশয্যায় সেবকরা দাঁড়াবে।

তার একটি হলো সমালোচকদের আগেভাগেই গাঢ় লাল সুরা পান করা … যা পানিতে মেশালে আরও উথলে ওঠে।

আর আমার আক্রমণ করা, যখন আর্তনাদকারী সাহায্য চায়, তখন এক তেজস্বী ঘোড়ায় চড়ে … যেন গাদা বনের এক নেকড়ে, যাকে আমি সজাগ করে দিয়েছি।

আর মেঘলা দিনকে সংক্ষিপ্ত করা—এবং মেঘাচ্ছন্ন আকাশ বড় চমৎকার— … খুঁটিওয়ালা তাঁবুর নিচে এক লাবণ্যময়ী নারীর সাহচর্যে।

ইবনে আবিল হাদিদের কাব্যসমূহের মধ্যে ‘বা’ অন্তমিল বিশিষ্ট একটি কাসিদা রয়েছে, যা আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রশংসায় রচিত তাঁর কবিতাগুলোর অন্তর্ভুক্ত:

জেনে রেখো, মর্যাদার পথ ধবল ও অবারিত … যদিও এর পথসমূহ অনেক এবং ভীতিপ্রদ।

এটি সেই স্বচ্ছ মধু যা এমন ব্যক্তি আহরণ করে … যে তা পেতে চায়, আর বল্লমের অগ্রভাগগুলো মৌমাছির মতো তাকে ঘিরে থাকে।

তুমি যদি উচ্চমর্যাদা চাও তবে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করো এবং ধ্বংসকে আস্বাদন করো … কেননা আকাঙ্ক্ষা পূরণ মরণপণ সংগ্রামের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

ধ্বংসের মুখে ঝাঁপ দাও, তবেই লাঞ্ছনা থেকে নিরাপদ থাকবে; কেননা … বিপদের অগ্নিশিখা তখনই প্রজ্জ্বলিত হয় যখন বিপদ চরম আকার ধারণ করে।

খাইবার বিজয়ের সংবাদ কি তোমার কাছে পৌঁছেনি? … নিশ্চয়ই তাতে বুদ্ধিমানদের জন্য অনেক বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে।

আর আলীর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন যেন শ্রেষ্ঠত্বেরই তাঁকে ফিরে পাওয়া … প্রতিটিই অপরটির সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং সম্বন্ধিত।

এমন সব দুর্গ যা নিজের সুরক্ষায় অটল ছিল যখন সে আত্মপ্রকাশ করেছিল … আর সব বলিদানের পশুই আরোহণের যোগ্য নয়।

নক্ষত্ররাজির মালা যেন তাতে ঝোলানো হয়েছে … আর বৃষ্টির মেঘমালা তার নিচে অবস্থান করে।

এর অংশবিশেষ:

এক বিশাল ও টালমাটাল বাহিনী যা ধাবমান … সেখানে টেনে নেওয়া বা জাপটে ধরা কোনো কাজে আসেনি।

মহাবিপদ ও কালের আবর্তন তা থেকে বিমুখ হয়েছে … যেমনটি দুর্যোগসমূহ তা থেকে দূরে সরে গিয়েছিল।

এর অংশবিশেষ:

ধূলিময় রজনীর অন্ধকারে তরবারির দিন … যেখানে একটি উজ্জ্বল সাদা এবং অন্যটি ঘোর কৃষ্ণবর্ণ।

তার জন্য ইউশা কারুনের বিলাপের মতো বিলাপ করেন … আর ইয়াকুব তার জন্য ইউসুফের অশ্রু বিসর্জন দেন।

বীরদের হুংকারে সেখানে বজ্রপাত সৃষ্টি হয় … আর উথলে ওঠা রক্তের প্রবাহ থেকে বর্ষিত হয় বারিধারা।

এর অংশবিশেষ:

তাঁর তরবারি এবং বল্লমের ফলক মৃত্যু উদগিরণ করে … আর তাঁর খাপ ও বল্লমের দণ্ডগুলো অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করে।

আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রশংসায় তাঁর আরেকটি কাসিদা, যার শুরু হলো:

মেসওয়াক তার মুখের লালার সুগন্ধি নিয়ে কথা বলে … সুবাসে আমোদিত, তবে কি আরাক গাছ তোমাকে দেখেছে?

তার দৃষ্টিতে ভীতুর মতো কোমলতা, কিন্তু যখন সে … আড়চোখে তাকায়, তখন সে এক সংহারক সিংহ।

হৃদয়ের ফাঁদ; আর তার আগে আমি কখনো ভাবিনি … যে হৃদয়কেও ফাঁদ দিয়ে শিকার করা যায়।

এর অংশবিশেষ:

হে তার উজ্জ্বল মুখমণ্ডল, যার যৌবনের লাবণ্য সজীব … তোমার সংহারক দৃষ্টি না থাকলে মৃত্যু আর কী-ই বা হতো!

অথবা তোমার কাছে কি চাশতের সময় তার দাঁড়িয়ে থাকার সংবাদ পৌঁছেছে … যখন বিচ্ছেদের শরে আমাদের হৃদয় বিদ্ধ হচ্ছিল?

প্রিয়জনদের বিচ্ছেদ কিংবা … ওয়াসীর তরবারির চেয়ে ধারালো আর কিছুই নেই; তারা উভয়েই রক্তপিপাসু।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ৪)
وهاتان القصيدتان طويلتان، اختصرت منهما ما اختصرت، واقتصرت على ما اقتصرت، طلبا للدلالة على فضله، ومضاء سنانه ونصله. ولكن أدته مواده الغزيرة إلى أن اعتزل وتشيع، وأهمل جانب السنة وضيع. وله نثر أجاد فيه بعض جوده، ولم يكن كنظمه الذي رفع هضبه ووطد طوده. وقد ساق شيئاً منه في الفلك الدائر، ونثر ابن الأثير أقعد منه عند أولى البصائر، ولو حذفه كان خيرا من إثباته، وأمنع له من عجم سهمه وغمز قناته.

فأي قوادم ينهض بها من جاء بعد هذا المتكلم، وأي سيف يفري فريه وهو متثلم، والمعتزلة فرسان المباحث، وممن توفرت لهم الهمم على الجدل وطاوعتها الدواعي والبواعث. ولكن:

قد يدرك المجد الفتى ولباسه … خلق وجيب قميصه مرقوع

وقد ترك الأول للآخر أكثر مما جاء به، وتفاوتت الأذهان في انتقاد مها الحسن وكواعبه، وأعقب العقل سحابه لما انجلت بصوب سحائبه.

وما عقمت أم الندى بعد حاتمٍ … لها كلّ يوم في البرية مولود

وقد جمعت ما عثرت عليه من هفوات ابن الأثير في هذه الأوراق، وضربت عليها هذا الفسطاط ومددت هذه الأرواق، وسردتها على الترتيب، وسقتها على ذلك التبويب. وسميت ذلك نصرة الثائر على المثل السائر واخترت هذه التسمية له شارة وإشارة، لأن الثائر لغة هو الذي لا يبقي على شيء حتى يدرك ثاره. وإذا ناقشته في بحث أورده، ونافسته في صالح أفسده، لا أكاد أخلي ذلك الموطن من محاسن أرباب هذا الفن الذين عابهم، وتردد إلى مواقف ذمهم وانتابهم. خصوصا القاضي الفاضل رحمه الله تعالى. فإنه قد عارضه في بعض ما أنشاه، وعاب عليه ما دبجه ووشاه.

وقال السها للشمس أنت خفيةٌ … وقال الدّجى يا صبح لونك حائل

والسيف مشهور بغير حمائل، والصبح مشهود بغير دلائل. وأين مقاصد الفاضل وبعد مرماه، واختلاسه المعاني بلطف مغزاه وخفي مسراه. هيهات، فإن بينهما من الفرق، ما بين ذل القدم وعز الفرق. ولطف ذلك لا يخفى على ذوق الكاتب الماهر، وحسن معانيه في الباطن أضعاف كلامه في الظاهر.

ولله در ابن سناء الملك إذ يقول على أن غالب ديوانه فيه:

شهد الكاملون بالفضل للفا … ضل أو كاد يشهد المولود

وعد الدهر أن يجود على الخل … ق ولكن بمثله لا يجود

وابن قلاقس إذ يقول أيضاً فيه من جملة أبيات:

وأسكرنا بيانا دام حتى … عجبنا كيف حذّرنا المداما

معان يقعد الفصحاء عنها … وتسمعها خواطرهم قياما

يتيماتٌ تصدّق في علاه … مقالة من دعاه أبا اليتامى

وأما ابن الساعاتي فأكثر فيه المدح. من ذلك:

ما من يقيس إليه خلقا مثله … إلا كمن قاس الوهاد إلى الذّرى

فإذا تقدم في العلاء مفاخرا … عرف السماك محله فتأخرا

وقد تصدى الناس لابن الأثير كونه ناقض الفاضل، ورمي من ألسنتهم وأقلامهم بمشق سيوف المناظر، ورشق سهام المناضل.

فلا تجزعن من سنّة أنت سرتها … فأول راضي سنّةٍ من يسيرها

وليس هذا موطن الثناء على القاضي الفاضل، وسوف تقف عليه، وتدلك نفحات طيبه إذا انتهيت إليه.

ومن هنا أجرد عن ساعد المؤاخذة، وأبرى السهام التي أظنها في الغرض نافذة. وعلى الله قصد السبيل، هو حسبي ونعم الوكيل.

‌‌الابتداء بالحمدلة

قال ابن الأثير سامحه الله تعالى: نسأل الله أن يبلغ بنا من الحمد ما هو أهله، وأن يعلمنا من البيان ما تقصر عنه مزية النطق وفضله، وحكمة الخطاب وفصله.
এই কবিতা দুটি দীর্ঘ, আমি তা থেকে প্রয়োজনীয় অংশ সংক্ষেপ করেছি এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব, লেখনীর তীক্ষ্ণতা ও তলোয়ারের ধারের প্রমাণ দিতে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। কিন্তু তার অগাধ পাণ্ডিত্য তাকে মুতাযিলা ও শিয়া মতবাদের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি সুন্নাহর দিকটিকে অবহেলা ও নষ্ট করেছিলেন। তার কিছু গদ্য রয়েছে যাতে তিনি কিছুটা নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তবে তা তার কবিতার মতো নয় যা তার মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছে এবং ভিত্তি সুদৃঢ় করেছে। তিনি এর কিছু অংশ 'আল-ফালাক আদ-দাইর' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে ইবনুল আসীরের গদ্য তার চেয়েও অধিক সুসংগত। তিনি যদি এটি বর্জন করতেন তবে তা গ্রহণের চেয়ে উত্তম হতো এবং তার লক্ষ্যভেদী তীরের সক্ষমতা ও লেখনীর দৃঢ়তা রক্ষায় অধিক কার্যকর হতো।

এই বাগ্মীর পরে যে আসবে, সে কোন ডানা দিয়ে উড়বে? আর তার তলোয়ারই বা কী কাটবে যখন তা আগে থেকেই ভোঁতা? মুতাযিলারা হলো জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্কের অশ্বারোহী, যাদের সংকল্প বিতর্কের প্রতি নিবেদিত এবং সকল কার্যকারণ ও প্রেরণা তাদের অনুগত। কিন্তু:

একজন যুবক গৌরব অর্জন করতে পারে যদিও তার পোশাক … জীর্ণ এবং জামার কলার তালি দেওয়া হয়।

পূর্বসূরীরা উত্তরসূরীদের জন্য তার চেয়েও বেশি কিছু রেখে গেছেন যা তিনি নিয়ে এসেছেন। সুন্দরীদের সৌন্দর্য ও রূপ বিচার করার ক্ষেত্রে মেধার ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যখন বিবেকের মেঘমালা থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়ে তা সরে যায়, তখন স্বচ্ছতা ফুটে ওঠে।

হাতেম তাঈর পরে বদান্যতার মাতা বন্ধ্যা হয়ে যাননি … বরং প্রতিদিন সৃষ্টিজগতে তার নতুন সন্তান জন্ম নেয়।

ইবনুল আসীরের যে সমস্ত পদস্খলন আমি পেয়েছি, তা এই পৃষ্ঠাগুলোতে সংকলন করেছি। আমি এই সত্যের তাবু স্থাপন করেছি এবং এর পর্দা প্রসারিত করেছি। আমি একে ক্রমানুসারে সাজিয়েছি এবং বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস করেছি। এর নাম দিয়েছি 'নসরতুত সায়ির আলাল মাসালিস সায়ির' (নসরতুস সায়ির)। আমি এই নামকরণটি একটি প্রতীক ও ইঙ্গিত হিসেবে বেছে নিয়েছি, কারণ আভিধানিক অর্থে 'সায়ির' (প্রতিশোধকামী) হলো সেই ব্যক্তি যে তার প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত কিছুতেই ক্ষান্ত হয় না। তিনি যখনই কোনো আলোচনায় ত্রুটি করেছেন অথবা কোনো উত্তম বিষয়কে বিকৃত করেছেন, আমি সেই স্থানটিকে এই শিল্পের ইমামদের সৌন্দর্য দ্বারা অলঙ্কৃত না করে ছাড়িনি—যাদের তিনি দোষারোপ করেছেন এবং যাদের প্রতি তিনি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। বিশেষ করে আল-কাজী আল-ফাদিল (আল্লাহ তাকে রহম করুন)। কারণ ইবনুল আসীর তার কিছু রচনার বিরোধিতা করেছেন এবং তার অলঙ্কৃত ও সুশোভিত লেখনীর সমালোচনা করেছেন।

ক্ষুদ্র সোহা তারকা সূর্যকে বলল, তুমি তো অস্পষ্ট … আর অন্ধকার রাত বলল, হে সকাল, তোমার রং তো বিবর্ণ।

অথচ তলোয়ার কোষ ছাড়াই পরিচিত এবং সকাল কোনো প্রমাণ ছাড়াই দৃশ্যমান। আল-কাজী আল-ফাদিলের উদ্দেশ্য কত মহৎ এবং লক্ষ্য কত সুদূরপ্রসারী! তার সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর উপলব্ধির মাধ্যমে তিনি যেভাবে অর্থের সারাংশ চয়ন করেন তা অতুলনীয়। আফসোস! উভয়ের মধ্যে পার্থক্য তো তেমনই, যেমন পার্থক্য রয়েছে পায়ের ধূলি আর মস্তকের সম্মানের মধ্যে। একজন দক্ষ লেখকের রুচির কাছে এর গূঢ় রহস্য গোপন থাকে না; আল-কাজী আল-ফাদিলের বাহ্যিক শব্দের চেয়ে তার অভ্যন্তরীণ অর্থের সৌন্দর্য বহুগুণ বেশি।

ইবন সুনা আল-মুলকের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম পুরস্কার রয়েছে, যখন তিনি আল-কাজী আল-ফাদিলের প্রশংসায় বলেন (যদিও তার অধিকাংশ কাব্যগ্রন্থই তাকে নিয়ে):

পরিপূর্ণ গুণীজনরা আল-ফাদিলের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন … এমনকি সদ্যজাত শিশুও যেন সেই সাক্ষ্য দিতে উদ্যত।

কাল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে সে সৃষ্টির প্রতি উদার হবে … কিন্তু তার মতো দ্বিতীয় কাউকে দিয়ে সে আর দানশীল হতে পারেনি।

ইবন কালাকিসও তার প্রশংসায় বেশ কিছু পঙক্তির মধ্যে বলেছেন:

তিনি আমাদের এমন এক বাচনভঙ্গিতে বিমোহিত করেছেন যা চিরস্থায়ী … আমরা অবাক হই কেন আমাদের মদ্যপান থেকে সতর্ক করা হয়েছিল (তার কথার মাধুর্যই যেখানে নেশার মতো)!

এমন সব গভীর অর্থ যার সামনে বাগ্মীরা থমকে দাঁড়ায় … আর তাদের চিন্তাচেতনা তা দাঁড়িয়ে ভক্তিভরে শোনে।

এমন সব অনন্য বাণী যা তার উচ্চমর্যাদার সত্যতা প্রমাণ করে … সেই ব্যক্তির উক্তিকে সত্য সাব্যস্ত করে যে তাকে 'ইয়াতীমদের পিতা' বলে ডাকত।

আর ইবনুস সাআতী তো তার প্রশংসায় অত্যধিক বাড়াবাড়ি করেছেন। যেমন তার উক্তি:

অন্য কোনো সৃষ্টিকে তার সমতুল্য মনে করা … সমতল ভূমিকে সুউচ্চ পর্বতের চূড়ার সাথে তুলনা করার মতোই।

যখন তিনি গৌরবের শিখরে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন … তখন আকাশমন্ডলীর নক্ষত্ররা তার মর্যাদা বুঝতে পেরে পিছিয়ে যায়।

মানুষ ইবনুল আসীরের মুখোমুখি হয়েছে কারণ তিনি আল-কাজী আল-ফাদিলের বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে মানুষের জিহ্বা ও কলম থেকে তার দিকে বিতর্কের তলোয়ার ও প্রতিবাদের তীর নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

তুমি যে নীতি চালু করেছ তাতে অভিযোগ করো না … কারণ যেকোনো নীতির প্রথম সন্তুষ্ট ব্যক্তি তো সেই যে তা প্রচলন করে।

আর এটি আল-কাজী আল-ফাদিলের প্রশংসার মূল স্থান নয়; তুমি যখন তার আলোচনায় পৌঁছাবে, তখন তার সৌরভই তোমাকে তার পরিচয় দেবে।

এখান থেকেই আমি জবাবদিহিতার হাতা গুটিয়ে নিচ্ছি এবং সেই সব তীর শাণিত করছি যা আমার বিশ্বাস লক্ষ্যভেদ করবে। আর সঠিক পথ প্রদর্শন করা আল্লাহরই কাজ, তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

‌‌হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) দিয়ে শুরু

ইবনুল আসীর (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেছেন: আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের মাধ্যমে এমন প্রশংসা আদায় করিয়ে নেন যার যোগ্য তিনি নিজে। আর তিনি যেন আমাদের এমন এক বাচনভঙ্গি শিক্ষা দেন যার কাছে কথা বলার শ্রেষ্ঠত্ব, বাকপটুতার প্রজ্ঞা এবং চূড়ান্ত ফয়সালাও হার মানবে।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ৫)
أقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل كلام لايبدأ فيه بحمد الله فهو أجذم فلو قال: الحمد لله لكان أفضل. وربما عيب ذلك على الزمخشري في أول المفصل كونه قال: الله أحمد. وعلى الحريري كونه قال: اللهم إنا نحمدك. لأنهما ما افتتحا كلامهما بالحمد. والأولى الأخذ بما جاء عن الله تعالى، فإنه لا مقام للعبد أشرف من الصلاة لأنها عبادة. حتى قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أقرب ما يكون من العبد من ربه وهو ساجد. والفاتحة التي هي أم الكتاب والعمدة في الصلاة، إنما افتتحت ببسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين. وقد قال سهل بن هارون: حق على كل ذي مقالة أن يبدأ فيها بحمد الله قبل استفتاحها، كما بدىء بالنعمة قبل استحقاقها. واستعمل ابن الأثير رحمه الله تعالى ذلك في توقيع كتبه فقال: كل كلام لا يبدا فيه بحمد الله فهو أجذم. وقد أورد ابن أبي الحديد على ابن الأثير فيما سأله في هذه السجعة ما فيه مقنع، فليؤخذ ذلك من الفلك الدائر.

وأما السجعة الثانية، فما أدري معنى قوله تقصر عنه مزية النطق، فأي شيء يعلمه حتى تقصر عنه مزية النطق؟ إن أراد بذلك لطف المعاني التي هي أرواح الألفاظ فمتى قصر النطق عن معنى لم تبرزه النفس كاملاً؟ وإن أراد بذلك الأشياء التي تكون على تراكيب الألفاظ من الطلاوة والرونق ذلك غير البيان لأن البيان إيضاح المعاني وإبداؤها وإظهارها، وذلك الذي أردته من الحسن واللطف اللذين يكونان في بعض الكلام، فذلك غير البيان. وهو كالملاحة التي لا يعقل لها معنى ولا يعبر عنه. كما قيل:

شيء به فتن الورى غير الذي … يدعى الجمال ولست أدري ما هو

ويقال: مع المحبوب شيء آخر غير حسنه هو الذي يشفع له إلى القلوب. ألا ترى أن بعض الصور مفردات أعضائها نهاية في الحسن، وليس لها ذلك المعنى الذي لغيرها. وكذا قيل في الترياق، إنه بعد التركيب يفيض الله عليه خاصة لم تكن في قوة أجزائه حالة الإفراد. والهيئة الاجتماعية لها معنى غير الحالة التي تكون لأفرادها ولا شك أن لكلام الفصحاء في حالة التركيب خواص لا يمكن التعبير عن ذلك الحسن الموجود فيها. ولهذا أفتى الفقهاء فيمن بدل ترتيب الفاتحة، وقلب بعض الآيات إلى موضع بعض أنه لا تصح صلاته، لأنه يبطل إعجاز القرآن العظيم، وهو سياقته على هذا النمط الغريب، وتأليفه على هذا النظم العجيب. وهنا بحث بين الأشعري والمعتزلي، أضربت عنه طلباً للاختصار. فإن كان ابن الأثير سأل هذه الخاصة، فهذه الخاصة لا يطلق عليها لفظ البيان. وإذا كان الأمر كذا، فقد ثبت أن معنى هذه السجعة غير مفهوم. وقد ناقشه ابن أبي الحديد في قوله النطق وما الذي أراد به فليؤخذ من كتابه.

قال: وعلى آله وصحبه، الذين منهم من سبق وبدر، ومنهم من صابر وصبر، ومنهم من آوى ونصر. وأقول: لو قال: ومنهم من هاجر ونصر لكان أحسن من وجهين: أحدهما أنه يحصل له الموازنة والترصيع بين هاجر وصابر، وثانيهما أنه يتناول المهاجرين والأنصار من الصحابة رضوان الله عليهم، فإنهم مقدمون على الأنصار، وعلى قوله لا ذكر للمهاجرين، فإن من الأنصار من سبق غيره إلى الإيمان.

فإن قيل: قوله صابر وصبر المعنى واحد، قلت: اتبع لفظ القرآن في قوله تعالى: اصبروا وصابروا. فإن الصبر غير المصابرة، لأن المصابرة مفاعلة، وهي مقابلة الفعل من الآخر بمثله. وكأن ذلك زيادة على الصبر الذي يطيقه الإنسان.

‌‌عجز الحريري عن إنشاء ما طلب منه

‌‌في الديوان

قال وقد ذكر الحريري المقامات رحمه الله تعالى، وأنه صدر عنه مثل هذا الكتاب، ولما استكتب في الديوان أفحم. وساق الحكاية المشهورة. ثم قال: وهذا مما يعجب منه، وسئلت عن هذا فقلت: لا عجب، لأن المقامات مدارها جميعها على حكاية تخرج إلى مخلص، وأما المكاتبات فإنها بحر لا ساحل له، لأن المعاني فيها تتجدد بتجدد حوادث الأيام، وهي متجددة على عدد الأنفاس، ألا ترى أنه إذا كتب الكاتب المفلق عن دولة من الدول الواسعة التي يكون لسلطانها سيف مشهور وسعي مذكور، ومكث على ذلك برهة يسيرة لا تبلغ عشر سنين، فإنه يدون عنه من المكاتبات ما يزيد على عشرة أجزاء، كل جزء منها أكبر من المقامات حجماً، ثم إذا غربلت خلص منها النصف.
আমি বলছি: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন (বরকতহীন)।" সুতরাং তিনি যদি 'আলহামদুলিল্লাহ' (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) বলতেন, তবে তা অধিকতর উত্তম হতো। সম্ভবত এ কারণেই যামাখশারীকে তাঁর 'আল-মুফাসসাল' গ্রন্থের শুরুতে 'আল্লাহা আহমাদু' (আল্লাহর আমি প্রশংসা করি) বলার জন্য দোষারোপ করা হয়েছে। একইভাবে হারীরীকেও তাঁর 'আল্লাহুম্মা ইন্না নাহমাদুকা' (হে আল্লাহ, আমরা আপনার প্রশংসা করি) বলার জন্য সমালোচনা করা হয়েছে। কারণ তাঁরা উভয়েই তাঁদের বক্তব্য সরাসরি 'হামদ' শব্দ দ্বারা শুরু করেননি। অথচ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অনুসরণ করাই অধিকতর শ্রেয়। কেননা একজন বান্দার জন্য সালাতের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ কোনো স্থান নেই, কারণ এটি একটি মহান ইবাদত। এমনকি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে সিজদারত থাকে।" আর সূরা ফাতিহা, যা কিতাবের মূল এবং সালাতের ভিত্তি, তা শুরু করা হয়েছে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' (পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, সমস্ত প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য) দ্বারা। সাহল ইবনে হারুন বলেছেন: "প্রত্যেক বক্তার জন্য উচিত তার বক্তব্য শুরুর পূর্বে আল্লাহর প্রশংসা করা, ঠিক যেমন কোনো ব্যক্তি যোগ্য হওয়ার পূর্বেই তার প্রতি নেয়ামত বা অনুগ্রহের সূচনা করা হয়।" ইবনে আল-আসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর পত্রাবলীর স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করতেন এবং বলতেন: "যে কোনো কথা যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু হয় না, তা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন।" ইবনে আবিল হাদিদ এই অনুপ্রাসের বিষয়ে ইবনে আল-আসিরকে যা জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং তার যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা সন্তোষজনক; যা 'আল-ফালকুদ দায়ির' গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করা যেতে পারে।

আর দ্বিতীয় অনুপ্রাসের ক্ষেত্রে, তাঁর এই কথার অর্থ আমি জানি না যে, 'প্রকাশভঙ্গি বা বাকশক্তি যার কাছে তুচ্ছ বা অক্ষম হয়ে যায়'। তিনি এমন কী জানেন যার কাছে প্রকাশভঙ্গি অক্ষম হয়ে পড়ে? যদি তিনি এর দ্বারা অর্থের সূক্ষ্মতা উদ্দেশ্য করে থাকেন যা শব্দের প্রাণস্বরূপ, তবে যখনই কোনো অর্থ প্রকাশ করতে বাকশক্তি অক্ষম হয়, তখন আত্মা তা পূর্ণাঙ্গরূপে ফুটিয়ে তুলতে পারে না। আর যদি তিনি এর দ্বারা শব্দশৈলীর চাকচিক্য ও সৌন্দর্য উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তা 'বায়ান' বা স্পষ্ট প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ বায়ান হলো কোনো অর্থকে সুস্পষ্ট, প্রকাশিত ও জাহির করা। আর আমি সৌন্দর্য ও সূক্ষ্মতা বলতে যা বুঝিয়েছি যা কিছু কথার মধ্যে থাকে, তা বায়ানের বহির্ভূত বিষয়। এটি সেই লাবণ্যের মতো যার কোনো অর্থ বুদ্ধি দ্বারা অনুধাবন করা যায় না এবং ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যেমনটি বলা হয়েছে:

এমন এক বস্তু যা দ্বারা সৃষ্টিজগত মোহিত হয়, যা সেই সৌন্দর্য ছাড়া অন্য কিছু … যাকে সাধারণত সৌন্দর্য বলা হয়, আর আমি জানি না তা কী।

বলা হয়ে থাকে: প্রিয়জনের সাথে তার রূপ-সৌন্দর্য ছাড়াও অন্য কিছু থাকে যা হৃদয়ের কাছে তার জন্য সুপারিশ করে। আপনি কি দেখেন না যে, কিছু চেহারার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সৌন্দর্যের দিক থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ের হয়, কিন্তু সেগুলোতে সেই বিশেষ মাধুর্য থাকে না যা অন্য কিছুতে থাকে? একইভাবে 'তিরইয়াক' বা প্রতিষেধক সম্পর্কে বলা হয় যে, বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণের পর আল্লাহ তাতে এমন এক বিশেষ গুণ ঢেলে দেন যা পৃথক অবস্থায় ওই উপাদানগুলোর শক্তির মধ্যে ছিল না। সামগ্রিক কাঠামোর এমন এক অর্থ থাকে যা তার একক উপাদানগুলোর মধ্যে থাকে না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বাগ্মীদের কথার শব্দশৈলীর বিন্যাসের ক্ষেত্রে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা সেই সৌন্দর্যের ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই কারণেই ফকিহগণ ফতোয়া দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহার ক্রম পরিবর্তন করবে এবং কিছু আয়াতকে অন্য আয়াতের স্থানে নিয়ে আসবে, তার সালাত সঠিক হবে না। কারণ এটি মহান কুরআনের অলৌকিকত্বকে নষ্ট করে দেয়, যা এই অদ্ভুত শৈলী ও বিস্ময়কর বিন্যাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে আশআরি ও মুতাজিলাদের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিতর্ক রয়েছে, যা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধে আমি বর্জন করেছি। যদি ইবনে আল-আসির এই বিশেষ গুণের কথা বলে থাকেন, তবে এই বিশেষ গুণের ওপর 'বায়ান' বা প্রকাশ শব্দটির প্রয়োগ হয় না। বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে এটি প্রমাণিত যে এই অনুপ্রাসের অর্থ বোধগম্য নয়। ইবনে আবিল হাদিদ তাঁর 'বাকশক্তি' বা 'নুতুক' শব্দের প্রয়োগ এবং এর দ্বারা তিনি কী উদ্দেশ্য করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা তাঁর গ্রন্থ থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে।

তিনি বললেন: "এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যাদের মধ্যে কেউ অগ্রগামী ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী, কেউ সহিষ্ণু ও ধৈর্যশীল, আর কেউ আশ্রয়দাতা ও সাহায্যকারী।" আমি বলছি: তিনি যদি বলতেন, 'যাদের মধ্যে কেউ হিজরতকারী এবং কেউ সাহায্যকারী' তবে তা দুটি কারণে অধিকতর সুন্দর হতো: প্রথমত, এতে 'হাজারা' (হিজরতকারী) এবং 'সাবারা' (ধৈর্যশীল) শব্দের মধ্যে ছন্দ ও অলঙ্কারগত সামঞ্জস্য অর্জিত হতো। দ্বিতীয়ত, এটি সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে মুহাজির ও আনসার উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করত। কারণ তাঁরা (মুহাজিরগণ) আনসারদের ওপর অগ্রগণ্য। আর তাঁর (লেখকের) বর্ণনা অনুযায়ী মুহাজিরদের কোনো উল্লেখ নেই, অথচ আনসারদের মধ্যেও এমন অনেকে ছিলেন যারা ঈমানের পথে অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন।

যদি বলা হয়: তাঁর বক্তব্য 'সহিষ্ণু' ও 'ধৈর্যশীল' শব্দের অর্থ তো একই; তবে আমি বলব: তিনি পবিত্র কুরআনের এই আয়াতের শব্দ অনুসরণ করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: 'ধৈর্য ধরো এবং ধৈর্যের মোকাবিলা করো'। কারণ সাধারণ ধৈর্য ধারণ করা এবং 'মুসাবারা' বা ধৈর্যের মোকাবিলা করা এক বিষয় নয়। মুসাবারা হলো একটি পারস্পরিক ক্রিয়া, অর্থাৎ অন্যের পক্ষ থেকে আসা আচরণের বিপরীতে ধৈর্যের সাথে অটল থাকা। এটি এমন ধৈর্য যা মানুষের সহনক্ষমতার অতিরিক্ত হওয়ার মতো বিষয়।

‌‌দপ্তরে হারীরীর পক্ষ থেকে যা চাওয়া হয়েছিল তা রচনা করতে তাঁর অক্ষমতা

‌‌দেওয়ানে

তিনি (ইবনে আল-আসির) হারীরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এবং তাঁর 'মাকামাত' গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পক্ষ থেকে এমন একটি কিতাব রচিত হয়েছে। কিন্তু যখন তাঁকে সরকারি দপ্তরে (দেওয়ানে) লিখতে বলা হলো, তখন তিনি নির্বাক হয়ে গেলেন এবং কিছু রচনা করতে পারলেন না। এরপর তিনি সেই প্রসিদ্ধ কাহিনী বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি বললেন: এটি একটি বিস্ময়কর বিষয়। আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি বললাম: এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ 'মাকামাত' গ্রন্থের পুরো বিষয়টি একটি কাহিনীর ওপর আবর্তিত যা একটি পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু দাপ্তরিক পত্রাবলী বা যোগাযোগ (মুকাতাবাত) একটি কূলহীন সমুদ্রের মতো। কারণ এর অর্থ ও বিষয়বস্তু প্রতিদিনের নতুন নতুন ঘটনার সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসের সংখ্যার মতো এর বৈচিত্র্য বিদ্যমান। আপনি কি দেখেন না যে, যখন কোনো দক্ষ লেখক কোনো বিশাল রাষ্ট্র সম্পর্কে লেখেন যার সুলতানের তলোয়ারের খ্যাতি রয়েছে এবং যার প্রচেষ্টা সর্বজনবিদিত, আর তিনি যদি সেখানে মাত্র দশ বছরের কম সময় অবস্থান করেন, তবে তাঁর পক্ষ থেকে পত্রাবলীর এমন সংকলন তৈরি হয় যা দশ খণ্ডেরও বেশি হয়? যার প্রতিটি খণ্ড আয়তনে 'মাকামাত' গ্রন্থের চেয়েও বড়। অতঃপর যদি সেগুলোকে যাচাই-বাছাই করা হয়, তবে তার অর্ধেক শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ৬)
أقول: أما عجب الناس من واقعة الحريري فهي موضع العجب في بادىء الرأي. لأن من يصدر عنه مثل هذا الكتاب الذي لا نظير له في بابه، وهو في الآداب:

شمس ضحاها هلال ليلتها … درّ تقاصيرها زبر جدها

ثم يتوقف في كتاب يطلب منه فإن ذلك غريب. وأما إذا فكر الإنسان، وعلم أن الإنشاء من باب الفتوح على الإنسان، لم يكن ذلك بعجيب. لأن الله تعالى قد يفتح بذلك في وقت دون وقت. وقد عد الشيخ محيي الدين بن عربي النظم وحسن الكتابة من الفتوح، وما يزال الناس كذلك تارة يفتح عليهم وتارة لم يفتح. والحريري في ذلك الوقت لم يفتح عليه.

على أن الحريري في وقت عمل المقامات كان في بيته مخلى ونفسه، يصوغ ويكسر ويهدم ويبني فإذا نبا به مقام تحول إلى غيره، وإذا تقاعس عليه معنى تركه وجذب ما هو أسلس قياداً منه. وقد ذكر أن مسودات المقامات كانت حمل جمل. وذلك أمر غير جلوسه في الديوان وأول قدومه، وهو بين جماعة من أرباب الفن، ويقترح عليه معنى لا محيد له عنه، ولا فسحة له في مضيقه، ولا نجاة له من زلله، ولم يكن قد استعد له، لا جرم أنه أفحم وتوقف ونتف عثنونه.

وليس يعاب المرء في جبن يومه … إذا عرفت منه الشجاعة بالأمس

ولعل ابن الأثير سامحه فيما أورده من كلامه في المثل والوشي المرقوم والمعاني المبتدعة وغير ذلك من نسبة المقامات. فإنه حكى عن نفسه في المثل السائر أنه كان يتلو القرآن العظيم، فإذا مرت به الآية الكريمة ولمح فيها معنى يناسب أن يكون في كذا، بنى عليه كتاباً أو فصلاً وأثبته. أو كما قال. وغالب ما أثبته إنما هو معارضات عارض بها كتب القاضي الفاضل وأبا إسحاق الصابي وهذا من باب عمل المقامات وهو في بيته يطالع على ما يعمله ويتروى ويمحو ويثبت.

وتوهموا اللعب الوغى، والطعن في ال … هيجاء غير الطعن في الميدان

وأما قوله: إن الكاتب يظهر عنه في المدة التي ذكرها عشرة أجزاء كل جزء أكبر حجماً من المقامات وإذا غربلت ونقحت كانت خمسا، فهذا تعصب ودعوى لا يقوم عليها برهان، أو جهل بلغ الغاية. وأي ترسل لكاتب تقدم عصره وإلى الآن يجمع له من ترسله مجلدة واحدة تكون كالمقامات يتداولها الناس، ويتعاطون كؤوسها، ويتمثلون بأبياتها وأسجاعها، ويكررون عليها من أولها إلى آخرها، ويبحثون عن عوراتها، وينقبون عن مساوئها، فلا يجدون فيها مغمزاً، ولا يقعون فيها على مطعن. بل تصفوا على السبك، وتجود على الاستعمال.

ويزيدها مرّ الليالي جدةً … وتقادم الأيام حسن شباب

على أن ابن الخشاب رد عليه أليفاظاً يسيرة وأجابه المسعودي عنها وابن الخشاب أصاب في القليل من القليل، وتعنت في كثير القليل. وكذلك ابن بري وضع عليها نكتا يسيرة.

وناهيك بكتاب اشتهر، وضرب به المثل، وأصبح إحدى الأثافي في علم الأدب، وأصبحت ألفاظه ومعانيه حجة، ونقلت بها النسخ عدد حروفها.

وسار مسير الشمس في كل موضعٍ … وهبّ هبوب الريح في البر والبحر

وما رأيت ولا سمعت بمن أخذ جزءاً من ترسل، وقرأه على شيخ وحفظه وطلب به الرواية وعلق عليه حواشي لغة وإعراب ومعان. وقد وضع الناس الشروح المبسوطة على المقامات مثل المسعودي فإن له عليها شرحين، والمطرز وابن الأنباري وأبي البقاء وغيرهم ولقد رأيت بعضهم يزعم أنها رموز في الكيمياء، ويحكى أن الفرنج يقرؤونها على ملوكهم بلسانهم ويصورونها ويتنادمون بحكاياتها.

وما ذاك إلا أن هذا الكتاب أحد مظاهره تلك الحكايات المضحكة، والوقائع التي إذا شرع الإنسان في الوقوف عليها، تطلعت نفسه إلى ما تنتهي إليه، وتشوقت نفسه إلى الوقوف على آخر تلك القصة. هذا إلى ما فيها من الحكم والأمثال التي تشاكل كتاب كليلة ودمنة وإلى ما فيها من أنواع الأدب وفنونه المختلفة وأساليبه المتنوعة.

حكى لي الشيخ فتح الدين محمد بن سيد الناس عن والده أبي عمرو عن أبيه أبي بكر قال: قلنا لابن عميرة كاتب الأندلس: لأي شيء ما تصنع مثل المقامات؟ فقال: أما الألفاظ فما أغلب عنها، وأما تلك الأكاذيب التي تكذبها فما أحسن أن أضع مثلها.
আমি বলি: আল-হারিরির ঘটনার বিষয়ে মানুষের বিস্ময় প্রাথমিক দৃষ্টিতে বিস্ময়করই বটে। কারণ, যার থেকে এমন একটি কিতাব প্রকাশিত হয় যা তার ক্ষেত্রে অতুলনীয়, এবং যা সাহিত্যের ক্ষেত্রে:

তার দুপুরের সূর্য, তার রাতের নতুন চাঁদ … তার কন্ঠলগ্নের মুক্তা ও মরকত সদৃশ।

অতঃপর তার কাছে যখন একটি কিতাব দাবি করা হয় তখন তিনি থমকে যান, তবে তা অবশ্যই আশ্চর্যের বিষয়। আর মানুষ যখন চিন্তা করে এবং জানতে পারে যে রচনা হলো মানুষের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে এক প্রকার বিজয় (ফুতুহ), তবে তা আর বিস্ময়কর থাকে না। কারণ মহান আল্লাহ কখনো এটি উন্মুক্ত করেন আবার কখনো করেন না। শেখ মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবি কবিতা ও সুন্দর লেখাকে ‘ফুতুহ’ (ঐশ্বরিক দান) হিসেবে গণ্য করেছেন। মানুষের অবস্থা সর্বদা এমনই থাকে, কখনো তাদের জন্য তা উন্মুক্ত হয়, আবার কখনো হয় না। আল-হারিরির জন্য সেই সময়ে তা উন্মুক্ত হয়নি।

তাছাড়া, আল-হারিরি যখন মাকামাত রচনা করছিলেন, তখন তিনি নিজ বাড়িতে নির্জনে একা থাকতেন, তিনি বাক্য গঠন করতেন, ভাঙতেন, ধ্বংস করতেন এবং পুনরায় গড়তেন। যদি কোনো মাকামা তার কাছে কঠিন মনে হতো, তবে তিনি অন্যটির দিকে মনোনিবেশ করতেন। যদি কোনো ভাবার্থ তার কাছে ধরা দিতে দেরি করত, তবে তিনি তা ছেড়ে দিতেন এবং যা অধিক সহজসাধ্য তা গ্রহণ করতেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাকামাতের খসড়াগুলো ছিল একটি উটের বোঝার সমান। এই বিষয়টি কোনো রাজকীয় দপ্তরে বসা এবং আগমনের শুরুর অবস্থার মতো নয়, যেখানে তিনি একদল শিল্প বোদ্ধাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে এমন একটি ভাবার্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যেখান থেকে পালানোর কোনো পথ ছিল না, সংকীর্ণতায় কোনো অবকাশ ছিল না, এবং তার পদস্খলন থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। আর তিনি সেটির জন্য প্রস্তুতও ছিলেন না। সঙ্গত কারণেই তিনি নিরুত্তর হয়ে গিয়েছিলেন, থমকে গিয়েছিলেন এবং নিজের দাড়ি ছিঁড়ছিলেন।

মানুষের আজকের ভীরুতার জন্য তাকে নিন্দা করা যায় না … যদি গতকাল তার বীরত্ব সম্পর্কে জানা থাকে।

সম্ভবত ইবনুল আসির তাকে ক্ষমা করেছেন সেই সকল কথার জন্য যা তিনি 'আল-মাসাল', 'আল-ওয়াশি আল-মারকুম' এবং 'আল-মাআনি আল-মুবতাদাআ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি মাকামাতের ন্যায় রচনাশৈলী নিজের দিকে নিসবত করেছেন। তিনি ‘আল-মাসাল আস-সাইর’ গ্রন্থে নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন মহান কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং কোনো মহিমান্বিত আয়াতের পাশ দিয়ে যেতেন যেখানে এমন কোনো অর্থ তার নজরে আসত যা অমুক বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তখন তিনি তার ওপর ভিত্তি করে একটি কিতাব বা অধ্যায় রচনা করতেন এবং তা সাব্যস্ত করতেন। অথবা যেমনটি তিনি বলেছেন। তিনি যা সাব্যস্ত করেছেন তার অধিকাংশ হলো কাজী আল-ফাদিল এবং আবু ইসহাক আস-সাবি-র কিতাবের সাথে মুআরাজা বা প্রতিউত্তর। এটিও মাকামাত রচনারই অন্তর্ভুক্ত, যখন লেখক নিজ গৃহে বসে যা লিখছেন তা পাঠ করেন, চিন্তা করেন, মোছেন এবং পুনরায় সাব্যস্ত করেন।

তারা যুদ্ধকে খেলা মনে করেছিল, আর যুদ্ধের ময়দানে আঘাত করা রণক্ষেত্রের আঘাতের মতো নয়।

আর তার এই কথা যে: লেখক উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দশটি খণ্ড প্রকাশ করতে পারেন যার প্রতিটি খণ্ড মাকামাতের চেয়ে আকারে বড় এবং যদি সেগুলোকে বাছাই ও পরিমার্জন করা হয় তবে তা পাঁচটি খণ্ডে দাঁড়াবে, এটি একটি গোঁড়ামি এবং এমন দাবি যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, অথবা এটি চরম অজ্ঞতা। এমন কোনো পত্রলেখক কি আছেন যিনি তার পূর্ববর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত এমন এক খণ্ড পত্রাবলি জমা করেছেন যা মাকামাতের মতো হবে, যা মানুষ হাতে হাতে ঘোরাবে, যার সুধাপান করবে, যার কবিতা ও অনুপ্রাসগুলোকে উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করবে, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বারবার পড়বে, তার দোষত্রুটি খুঁজবে, তার মন্দ দিকগুলো অনুসন্ধান করবে কিন্তু কোনো খুঁত খুঁজে পাবে না এবং কোনো আপত্তির অবকাশ পাবে না? বরং তা বারবার মার্জিত করার ফলে আরও স্বচ্ছ হয় এবং ব্যবহারে আরও উৎকৃষ্ট হয়।

রাতগুলোর আবর্তন তার নতুনত্ব আরও বৃদ্ধি করে … এবং দিনগুলোর অতিক্রান্ত হওয়া তার যৌবনকে সুন্দর করে।

তাছাড়া ইবনুল খাশশব তার ওপর সামান্য কিছু শব্দের আপত্তি করেছিলেন এবং আল-মাসউদি তাকে এর উত্তর দিয়েছিলেন। ইবনুল খাশশব খুব অল্প বিষয়েই সঠিক ছিলেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই তিনি অনর্থক বিতর্ক করেছেন। তেমনি ইবনে বাররিও এর ওপর সামান্য কিছু টীকা প্রদান করেছেন।

আপনার জন্য সেই কিতাবটিই যথেষ্ট যা খ্যাতি লাভ করেছে, যা প্রবাদে পরিণত হয়েছে, যা সাহিত্য শাস্ত্রের অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হয়েছে, যার শব্দ ও অর্থ দলিল হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং যার অক্ষরের সমপরিমাণ অনুলিপি তৈরি করা হয়েছে।

এটি সূর্যের চলার মতো প্রতিটি স্থানে বিচরণ করেছে … এবং স্থল ও সমুদ্রে বাতাসের প্রবাহের মতো প্রবাহিত হয়েছে।

আমি এমন কাউকে দেখিনি বা শুনিনি যে কোনো পত্রের (রাসায়েল) অংশ গ্রহণ করেছে এবং তা কোনো শায়খের কাছে পাঠ করেছে, মুখস্থ করেছে এবং তার বর্ণনা (রেওয়ায়েত) দাবি করেছে এবং তার ওপর ভাষা, ব্যাকরণ ও অর্থের টীকা যুক্ত করেছে। মানুষ মাকামাতের ওপর বিস্তৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছে যেমন আল-মাসউদি, তার ওপর তার দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, আল-মুতাররিজি, ইবনুল আনবারি, আবুল বাকা এবং অন্যরা। আমি দেখেছি তাদের কেউ কেউ দাবি করে যে এগুলো রসায়নের (কিমিয়া) গুপ্ত সংকেত। বর্ণিত আছে যে, ইউরোপীয়রা তাদের রাজাদের সামনে তাদের নিজস্ব ভাষায় এটি পাঠ করে, এর চিত্রায়ন করে এবং এর কাহিনীগুলো নিয়ে আমোদ-প্রমোদ করে।

এটি এই কারণে যে, এই কিতাবের অন্যতম দিক হলো সেই সব হাস্যকর কাহিনী এবং ঘটনা যা মানুষ যখন পাঠ করতে শুরু করে, তখন তার মন এর পরিণতির দিকে তাকিয়ে থাকে এবং গল্পের শেষ জানার জন্য উদগ্রীব হয়। এর পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রজ্ঞা ও প্রবাদ যা ‘কালিলা ওয়া দিমনা’ কিতাবের সদৃশ, এবং এতে রয়েছে সাহিত্যের বিভিন্ন ধরন, বিচিত্র শিল্পকলা ও নানাবিধ শৈলী।

শেখ ফাতহ উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস আমাকে তার পিতা আবু আমর থেকে, তিনি তার পিতা আবু বকর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আমরা আন্দালুসের লেখক ইবনে আমিরাকে বললাম: আপনি কেন মাকামাতের মতো কিছু রচনা করেন না? তিনি বললেন: শব্দের বিষয়ে তো আমি অপারগ নই, কিন্তু যে সব মিথ্যা কথা সেখানে বলা হয়েছে, আমি তেমন সুন্দর করে তা সাজাতে জানি না।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ৭)
وسمعت القاضي شهاب الدين محمودا رحمه الله تعالى حين قراءة هذا الكتاب عليه يحكي أن القاضي الفاضل رحمه الله تعالى أراد معارضتها، وصنع ثلاث عشرة مقامة عارض كل فصل بمثله حتى جاء إلى قول الحريري في المقامة الرابعة عشرة: اعلموا يا مآل الآمل وثمال الأرامل، أنني من سروات القبائل، وسريات العقائل. لم يزل أهلي وبعلي يحلون الصدر، ويسيرون القلب، ويمطون الظهر، ويولون اليد. فلما أردى الدهر الأعضاد، وفجع بالجوارح الأجساد، وانقلب ظهر البطن، نبا الناظر، وجفا الحاجب وذهبت العين وفقدت الراحة، وصلد الزند، ووهت اليمين، وبانت المرافق، ولم يبق لنا ثنية ولا ناب. فمذ اغبر العيش الأخضر، وازور المحبوب الأصفر، اسود يومي الأبيض، وابيض فودي الأسود، حتى رثى لي العدو الأزرق، فحبذا الموت الأحمر.

فقال الفاضل: من أين تأتي الإنسان بفصل يعارض هذا؟ ثم إنه قطع ما كان عمله من المقامات ولم يظهر. أو كما قال. وناهيك بمن يقول مثل القاضي الفاضل في حقه مثل هذا، ويعترف له بالعجز.

وأما أنا فكلما قرأت هذا الفصل وذكرته، أجد له نشوة كنشوة الراح، وبهجة ولا بهجة الساري بطلعة الصباح. وفي أي ترسل تجد نظير هذا الفصل الذي له هذه الخفة والطلاوة، ولم تروجه الأسجاع؟.

وقد ظلم المقامات من جعلها من باب الترسل، والترسل جزء منها. بل هي كتاب علم في بابه، وبلاغة الرجل تعلم من ذكره لشيء في غالب مقاماته بالمدح والذم. وهذا هو البلاغة، أن تصف الشيء ثم تذمه، أو بذم ثم تمدحه، كما فعل في مقامة الدينار، والتي فاضل فيها بين كتابة الإنشاء والحساب، والتي ذكر فيها البكر والثيب والزواج والعزبة وغير ذلك.

وفصاحته تعلم من أخذه الأمثال السائرة وضمها إلى سجعة أحسن منها. كقوله: أعطيت القوس باريها وأنزلت الدار بانيها وقوله: تخلصت قابية من قوب وبرىء براءة الذئب من دم ابن يعقوب. وقوله: وهل ضاعت عدتنا عدة عرقوب أو بقيت حاجة في نفس يعقوب وقوله: فلما دل شعاعه على شمسه، ونم عنوانه بسر طرسه وقوله: فبقيت أحير من ضب وأذهل من صب وقوله: أنحل من قلم وأقحل من جلم وقوله: لو كان في عصاي سير ولغيمي مطير وقوله: طويته على غره، وصنت شغاه عن قره وقوله: إنكما فرقدا سماء وكزندين في وعاء وقوله ليعلم أن ريحه لاقت إعصاراً وجدوله صادف تياراً وقوله مأرب لا حفاوة ومشرب لم يبق له عندي طلاوة وقوله: المكنة زورة طيف، والفرصة مزنة صيف وقوله: أبعد من رد أمس الدابر، والميت الغابر وقوله: ما أطول طيلك وأهول حيلك وقوله: وكان يوما أطول من ظل القناة، وأحر من دمع المقلاة وقوله: فأخذ يلدغ ويصي، ويتقح ولا يستحيي وقوله: أين مدب صباك، ومن أين مهب صباك وقوله: قد وجدت فاغتبط واستكرمت فارتبط وقوله: ما ذهب من مالك ما وعظك، ولا أجرم إليك من أيقظك وقوله إنك حمت على ركية بكية، وتعرضت لخلية خلية وقوله ما كل سوداء، تمرة، ولا كل صهباء خمرة وقوله: كمن يبغي بيض الأنوق، ويطلب الطيران من النوق وقوله: أتعلم أمك البضاع وظئرك الإرضاع وقوله: فلما رأينا نارهم الحباحب، وخبرهم كسراب السباسب وقوله: إني لأطوع من حذائك، وأوفق من غذائك وفيها من هذا النوع كثير أضربت عنه خوف الإطالة.

وما تناهيت في بثي محاسنه … إلا وأكثر مما قلت ما أدع

‌‌ثقافة الكاتب

قال: فإذا ركب الله في الإنسان طبعا قابلا لهذا، فيفتقر إلى ثمانية أنواع من الآلات ثم سردها.
আমি কাজী শিহাব উদ্দিন মাহমুদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এই কিতাবটি তাঁর সামনে পাঠ করার সময় বর্ণনা করতে শুনেছি যে, কাজী ফাদিল (রাহিমাহুল্লাহ) এর সমকক্ষ কিছু রচনার ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি তেরটি মাকামা রচনা করেন এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের বিপরীতে অনুরূপ রচনা করেন, যতক্ষণ না তিনি হারিরির চতুর্দশ মাকামার এই বক্তব্যে পৌঁছালেন: "জেনে রাখো হে আশাবাদীদের আশ্রয় এবং বিধবা-অনাথদের সহায়, আমি গোত্রসমূহের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গের এবং পর্দানশীন মহীয়সীদের বংশোদ্ভূত। আমার পরিবার ও অভিভাবকগণ সর্বদা উচ্চাসনে সমাসীন থাকতেন, তারা হৃদয়ের সজীবতা ছিলেন, উন্নত মস্তকে বিচরণ করতেন এবং মুক্তহস্ত ছিলেন। কিন্তু যখন কালচক্র বাহুগুলোকে অকেজো করে দিল, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে শোকার্ত করল, এবং অবস্থার বিপর্যয় ঘটল, তখন শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিমুখ হলো, ভ্রু রুক্ষ হয়ে উঠল, চক্ষু তার দৃষ্টি হারালো, আরাম বিলুপ্ত হলো, হাতের কবজি শক্ত হয়ে গেল, ডান হাত দুর্বল হয়ে পড়ল, কনুই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং আমাদের আর কোনো সামনের দাঁত বা মাড়ির দাঁত অবশিষ্ট রইল না। যখন থেকে সবুজ সতেজ জীবন ধূলিমলিন হয়ে গেল এবং প্রিয় স্বর্ণালঙ্কার মুখ ফিরিয়ে নিল, তখন আমার সাদা দিন কালো হয়ে গেল এবং কপালে কালো চুল সাদা হয়ে গেল, এমনকি নীল বর্ণের শত্রুও আমার জন্য করুণা করল; সুতরাং লাল বর্ণের মৃত্যুই কত উত্তম।"

তখন ফাদিল বললেন: "মানুষ কোথা থেকে এমন অনুচ্ছেদ আনবে যা এর মোকাবিলা করতে পারে?" এরপর তিনি তাঁর রচিত মাকামাগুলো যা করেছিলেন তা ছিন্ন করে ফেললেন এবং সেগুলো আর প্রকাশ করেননি। অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন। আর আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, কাজী ফাদিলের মতো ব্যক্তি যার সম্পর্কে এমন কথা বলেন এবং নিজের অক্ষমতা স্বীকার করেন।

আর আমার অবস্থা হলো, আমি যখনই এই অনুচ্ছেদটি পড়ি বা এটি স্মরণ করি, তখন আমি এর মধ্যে মদের নেশার মতো এক প্রকার শিহরণ খুঁজে পাই এবং এমন এক আনন্দ অনুভব করি যা প্রভাতের আগমনে পথিকের আনন্দের চেয়েও অধিক। কোন পত্রালঙ্কার বা গদ্য রচনায় আপনি এই অনুচ্ছেদের মতো কিছুর দেখা পাবেন যাতে এমন লঘুতা ও সৌন্দর্য বিদ্যমান এবং যা অনুপ্রাস দ্বারা ভারাক্রান্ত নয়?

যারা মাকামাতকে কেবল গদ্য রচনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন তারা এর প্রতি অবিচার করেছেন; অথচ গদ্য রচনা এর একটি অংশ মাত্র। বরং এটি তার নিজ বিষয়ে একটি ইলমি কিতাব। একজন ব্যক্তির বাগ্মিতা ফুটে ওঠে যখন তিনি তাঁর অধিকাংশ মাকামাতে কোনো বিষয়ের প্রশংসা ও নিন্দা উভয়টিই উল্লেখ করেন। আর এটাই হলো চূড়ান্ত অলঙ্কারশাস্ত্র যে, আপনি কোনো বিষয়ের বর্ণনা দেবেন এবং এরপর তার নিন্দা করবেন, অথবা প্রথমে নিন্দা করবেন এবং পরে প্রশংসা করবেন; যেমনটি তিনি দিনার-সংক্রান্ত মাকামাতে করেছেন এবং যাতে তিনি গদ্য রচনা ও গণিতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন, আর যাতে তিনি কুমারী, অকুমারী, বিবাহ ও অবিবাহিত অবস্থা ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন।

তাঁর সাবলীলতা প্রকাশ পায় প্রচলিত প্রবাদগুলো গ্রহণ করে সেগুলোকে আরও সুন্দর অন্ত্যমিলের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে। যেমন তাঁর উক্তি: "আমি ধনু তার নির্মাতাকেই দিয়েছি এবং ঘরটি তার নির্মাতার হাতেই ন্যস্ত করেছি।" এবং তাঁর উক্তি: "ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েছে এবং সে ইয়াকুবের পুত্রের রক্ত হতে নেকড়ের ন্যায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে।" এবং তাঁর উক্তি: "আমাদের সময় গণনা কি উরকুবের প্রতিশ্রুতির ন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে, নাকি ইয়াকুবের মনের কোনো বাসনা অবশিষ্ট রয়ে গেছে?" এবং তাঁর উক্তি: "যখন তার রশ্মি তার সূর্যের সন্ধান দিল এবং তার শিরোনাম তার পত্রের গোপনীয়তা ফাঁস করে দিল।" এবং তাঁর উক্তি: "আমি গুঁইসাপের চেয়েও অধিক বিভ্রান্ত এবং ব্যাকুল প্রেমিকের চেয়েও অধিক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলাম।" এবং তাঁর উক্তি: "কলমের চেয়েও চিকন এবং কাঁচির চেয়েও শুষ্ক।" এবং তাঁর উক্তি: "যদি আমার লাঠিতে চলার শক্তি থাকত এবং আমার মেঘে বৃষ্টি থাকত।" এবং তাঁর উক্তি: "আমি তাকে তার অজ্ঞাতসারেই গুটিয়ে ফেলেছি এবং তার দন্তপাটিকে কনকনে শীত থেকে রক্ষা করেছি।" এবং তাঁর উক্তি: "তোমরা দুজন আকাশের দুটি নক্ষত্রের ন্যায় এবং একটি থলের মধ্যকার দুটি চকমকি পাথরের ন্যায়।" এবং তাঁর উক্তি: "যাতে সে জানতে পারে যে তার বাতাস ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হয়েছে এবং তার ক্ষুদ্র ঝরনাটি প্রবল স্রোতের মুখোমুখি হয়েছে।" এবং তাঁর উক্তি: "প্রয়োজন পূরণ হয়েছে কিন্তু কোনো আন্তরিকতা নেই, আর পানীয়ের স্বাদ আমার কাছে অবশিষ্ট নেই।" এবং তাঁর উক্তি: "সামর্থ্য হলো স্বপ্নের আবির্ভূত ছায়ার মতো এবং সুযোগ হলো গ্রীষ্মের মেঘের মতো।" এবং তাঁর উক্তি: "বিগত গতকাল এবং মৃত অতীতকে ফিরিয়ে আনার চেয়েও দূরবর্তী।" এবং তাঁর উক্তি: "তোমার অবকাশ কত দীর্ঘ এবং তোমার কৌশল কত ভয়াবহ!" এবং তাঁর উক্তি: "এটি এমন এক দিন ছিল যা বর্শার ছায়ার চেয়েও দীর্ঘ এবং তপ্ত কড়াইয়ের অশ্রুর চেয়েও উত্তপ্ত।" এবং তাঁর উক্তি: "সে দংশন করতে ও চিৎকার করতে লাগল, এবং নির্লজ্জের মতো শব্দ করতে লাগল।" এবং তাঁর উক্তি: "তোমার শৈশবের বিচরণস্থল কোথায় এবং তোমার যৌবনের বায়ুপ্রবাহ কোথা থেকে?" এবং তাঁর উক্তি: "তুমি তা পেয়ে গেছ সুতরাং আনন্দিত হও, এবং তুমি সম্মান লাভ করেছ সুতরাং তা ধরে রাখো।" এবং তাঁর উক্তি: "তোমার সেই সম্পদ বিফলে যায়নি যা তোমাকে উপদেশ দিয়েছে এবং সে তোমার প্রতি অপরাধ করেনি যে তোমাকে জাগ্রত করেছে।" এবং তাঁর উক্তি: "তুমি একটি শুষ্ক কূপের চারপাশে ঘুরপাক খেয়েছ এবং একটি মৌমাছিহীন মৌচাকের সম্মুখীন হয়েছ।" এবং তাঁর উক্তি: "সব কালো জিনিসই খেজুর নয় এবং সব লাল জিনিসই মদ নয়।" এবং তাঁর উক্তি: "সে যেন দুর্লভ পাখির ডিম খুঁজছে এবং উটের কাছে ওড়ার আশা করছে।" এবং তাঁর উক্তি: "তুমি কি তোমার মাকে ব্যবসা শেখাচ্ছ এবং তোমার ধাইমাকে স্তন্যদান শেখাচ্ছ?" এবং তাঁর উক্তি: "যখন আমরা তাদের আগুনকে জোনাকির আলোর মতো দেখলাম এবং তাদের সংবাদ মরুভূমির মরীচিকার মতো প্রতীয়মান হলো।" এবং তাঁর উক্তি: "আমি তোমার জুতার চেয়েও অধিক অনুগত এবং তোমার খাদ্যের চেয়েও অধিক মানানসই।" এতে এই প্রকারের আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমি বর্জন করেছি।

আমি তার সৌন্দর্যের বর্ণনা সমাপ্ত করতে পারিনি … বরং যা আমি ছেড়ে দিয়েছি তা আমার বলা কথার চেয়েও অনেক বেশি।

‌‌লেখকের পাণ্ডিত্য

তিনি বলেন: যখন আল্লাহ মানুষের মধ্যে এমন স্বভাব সৃষ্টি করেন যা এটি গ্রহণে সক্ষম, তখন তার আট প্রকার উপকরণের প্রয়োজন হয়, অতঃপর তিনি সেগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ৮)
أقول: أما الكاتب فيحتاج إلى حفظ الكتاب العزيز وإدمان تلاوته، ليكون دائراً على لسانه، جارياً على فكرته، ممثلا بين عيني ذاكرته لينفق من سعته، وإلى معرفة اللغة والنحو وإدمان الإعراب ليلا ونهارا، حتى يصير له ذلك ملكة جيدة، والتصريف والمعاني والبيان والبديع والعروض والقافية والأحكام السلطانية كما ذكر في كتابه وشيء من التفسير، وشيء من الأحاديث مثل كتاب الشهاب أو كتاب النجم للأقليشي، والآثار المنقولة عن الصحابة رضوان الله عليهم وما دار بين الخلفاء الراشدين وعمالهم، وما دار بين علي ومعاوية رضي الله عنهما من المحاورات، وتواقيع الخلفاء والوزراء والكتاب، وأمثال العرب، وحفظ جانب جيد من شعر العرب والمخضرمين والمحدثين وفحول المتأخرين، وحفظ جيد الحماسة ومختار المفضليات، وبعض قصائد منتهى الطلب جمع ابن ميمون، وما أمكن من التاريخ وأسماء الرجال والحساب، ومراجعات أمهات كتب الأدب، مثل الأغاني والعقد والبيان والتبيين والذخيرة وزهر الآداب وأمالي القالي والكامل للمبرد وتذكرة ابن حمدون وحفظ جانب جيد من المقامات والخطب النباتية، وبعض شعر المتنبي وأبي تمام والبحتري وسقط الزند وغير ذلك. وقد اخترت أنا من شعر هؤلاء الشعراء الأربعة في مجلدة لطيفة، والوقوف على ترسل الكتاب ومراعاة ما قصدوه في كل فن: من التهاني والتعازي والفتوحات ووصايا تقاليدهم وتواقيعهم وأوامرهم ونواهيهم فيها، وافتتاحات أدعيتهم في كل ما يتشعب من طرق الكتابة وكيفية البداءات والمراجعات في الهدايا والشفاعات والأوصاف وكتب الإخوان وما يجري هذا المجرى. وهذا باب لا يغلق له مصراع ولا ينعقد على حصره إجماع.

وعلى الجملة، فالكاتب يحتاج إلى كل شيء، ولولا أنه لا يلزمه تحقيق كل فن لقلت إنه الذي يعرف الوجود على ما هو عليه. وهيهات.

نعم الناس متفاوتون في ذلك وهم على طبقات: فمنهم من تسنم الدرجات، ومنهم من لا نهض من الدركات، وما بين ذلك. ولا بد من المشاركة مهما أمكن، ولو أنه معرفة لمصطلح لكل صاحب فن، وإذا كمل مواده أو قارب الإكمال، فمعرفة مصطلح الديوان في المكاتبات من معرفة الألقاب والنعوت وما يجري هذا المجرى. فإن هذا معرفته مع المباشرة في أقل من جمعة يتصوره ويدريه، وهو مما لم يتقرر قاعدته، لأنه يختلف باختلاف كل زمان وأهله. وهذا لا عبرة به، فإنه أسهل ما يعرفه.

‌‌هل تضر مخالفة النحو في معنى

قال وقد ذكر النحو: إذا نظرنا إلى ضروبه وأقسامه، وجدنا أكثرها غير محتاج إليه في إفهام المعاني. ألا ترى أنك لو أمرت رجلا بالقيام فقلت: قوم بإثبات الواو ولم تجزم لما اختل من فهم ذلك شيء. وكذلك الشرط والفضلات كلها تجري هذا المجرى من الحال والتمييز والاستثناء وساق أشياء من هذه الأنواع.

أقول: ما يورد مثل هذا إلا عوام الناس ومن لم يتلبس بالمعرفة، ومن لم يرح رائحة العلم. ألم يعلم أنه إذا صدر عن مترسل كتاب لم يجزم أفعال أمره ولا شروطه وجوابها، ولم يرفع فاعله وينصب فضلاته، ولا راعي شيئاً من قواعد إعرابه التي هي ظاهرة، ولا حافظ على شيء من الإعراب ألبتة، كان ذلك ضحكة للمغفلين فضلا عن العقلاء. وحينئذ فقد استوى العلماء والجهال.

وقد كتب عمر رضي الله عنه إلى أبي موسى الأشعري: أما بعد فتفقهوا في السنة وتعلموا العربية وكان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يضرب ولده على اللحن.

وقال عبد الملك: اللحن في الكلام أقبح من آثار الجدري في الوجه. ورأى أبو الأسود الدوءلي أعدالا للتجار مكتوب عليها لأبو فلان. فقال: سبحان الله يلحنون ويربحون. ويقال: من أحب أن يجد الكبر في نفسه فليتعلم العربية.

ألم يعلم أن بعضهم استدل على أن النحو فرض كفاية إن لم يقل إنه فرض عين، وذهب بعضهم إلى أن الله تعالى لا يقبل الدعاء إذا لم يكن معربا. وقال الشيخ تقي الدين ابن الصلاح: أخشى على من تعاطى الحديث ولم يدر النحو، أن يدخل في قوله صلى الله عليه وسلم: من كذب علي متعمدا، فليتبوا مقعده من النار.

ثم إنه استثنى أشياء من ذلك لا تعرف إلا بالإعراب. فأقول: إنه لا يتوصل إلى معرفة الغامض إلا بعد معرفة الواضح، ومن لم يعرف البين لم يعرف العويص، لينتقل في التفهم من الأدنى إلى الأعلى.
আমি বলছি: একজন লেখকের (কাতিব) জন্য প্রয়োজন কুরআনুল কারীম মুখস্থ করা এবং প্রতিনিয়ত তিলাওয়াত করা, যাতে তা তার জিহবায় জারি থাকে, চিন্তায় বহমান থাকে এবং স্মৃতির মণিকোঠায় উপস্থিত থাকে, যেন সে তার এই প্রশস্ত জ্ঞানভাণ্ডার থেকে ব্যয় করতে পারে। তার প্রয়োজন ভাষা ও ব্যাকরণ (নাহু) জানা এবং দিন-রাত বাক্য বিশ্লেষণ (ইরাব) চর্চা করা, যাতে এটি তার মধ্যে একটি চমৎকার দক্ষতায় পরিণত হয়। সেই সাথে রূপান্তর (তাসরীফ), অলঙ্কারশাস্ত্র (মাআনী, বায়ান ও বাদী), ছন্দ ও অন্ত্যমিল (আরূয ও কাফিয়া) এবং সুলতানী বিধিবিধান জানা প্রয়োজন, যেমনটি তার কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কিঞ্চিৎ তাফসীর এবং কিছু হাদীস জানা আবশ্যক, যেমন ইবনুল আকলীশীর কিতাবুশ শিহাব বা কিতাবুন নাজম। আরও প্রয়োজন সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত ঘটনাবলি, খুলাফায়ে রাশিদীন ও তাঁদের গভর্নরদের মধ্যকার পত্রালাপ, আলী ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যকার কথোপকথন এবং খলীফা, উযীর ও লেখকদের দাপ্তরিক মোহরাঙ্কিত পত্রাবলি জানা। তদুপরি আরবের প্রবাদ-প্রবচন এবং আরবী কবিদের—হোক তারা জাহিলী ও ইসলামের সন্ধিক্ষণের, আধুনিক কিংবা পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ কবি—কবিতার এক বিশাল অংশ মুখস্থ রাখা প্রয়োজন। এছাড়া হামাসা ও মুফাদ্দালিয়াতের বাছাইকৃত অংশ, ইবনে মাইমুন কর্তৃক সংকলিত মুনতাহাত তলাব-এর কিছু কাসিদা এবং সাধ্যমতো ইতিহাস, জীবনীশাস্ত্র ও গণিত আয়ত্ত করা জরুরি। সাহিত্যের মূল গ্রন্থসমূহ যেমন আল-আগানী, আল-ইকদ, আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন, আয-যাখীরা, যাহরুল আদাব, আমালিল কালী, মুবাররাদের আল-কামিল এবং ইবনে হামদূনের তাযকিরা নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে। মাকামাত ও খুতাবুল নাবাতিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং মুতানাব্বি, আবু তাম্মাম, বুহতরী, সাকতুয যান্দ প্রমুখের কিছু কাব্য মুখস্থ রাখা চাই। আমি এই চার কবির কবিতা থেকে একটি ছোট খণ্ডে চয়ন করেছি। এছাড়া লেখকদের পত্রবিনিময় শৈলী দেখা এবং প্রতিটি বিষয়ের উদ্দেশ্য লক্ষ্য করা আবশ্যক: যেমন অভিনন্দন, শোকবার্তা, বিজয় সংবাদ, নিয়োগপত্রের নির্দেশিকা, তাঁদের দাপ্তরিক মোহরাঙ্কিত নির্দেশ ও নিষেধসমূহ। আরও লক্ষ্য করতে হবে পত্রের সূচনা ও দোয়ার পদ্ধতি, উপহার বিনিময়, সুপারিশ, গুণগান ও ভ্রাতৃত্বসুলভ চিঠিপত্রসহ লিখনরীতির যত শাখা আছে সেগুলোর ক্ষেত্রে শুরুর ও উত্তর দেওয়ার নিয়মাবলী। এটি এমন এক দুয়ার যা কখনও বন্ধ হয় না এবং এর পরিধি নির্ধারণে কোনো সর্বসম্মত ঐক্যমত্য নেই।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, একজন লেখকের প্রতিটি বিষয়েই জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে। যদি তার জন্য প্রতিটি শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করা আবশ্যক না হতো, তবে আমি বলতাম যে সে-ই জগতকে তার প্রকৃত রূপে চিনেছে। কিন্তু তা সুদূরপরাহত।

হ্যাঁ, মানুষ এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। তাদের কেউ সুউচ্চ শিখরে পৌঁছেছে, আবার কেউ নিম্নদেশ থেকে উঠতে পারেনি, আর কেউ এর মাঝামাঝি। তবে সাধ্যমতো সব বিষয়ে অংশগ্রহণ বা সাধারণ ধারণা থাকা অপরিহার্য, অন্তত প্রতিটি শাস্ত্রের পরিভাষাসমূহ হলেও জানা প্রয়োজন। যদি তার শাস্ত্রীয় জ্ঞান পূর্ণ হয় বা পূর্ণতার নিকটবর্তী হয়, তবে দাপ্তরিক চিঠিপত্রের পরিভাষা যেমন উপাধি, গুণবাচক শব্দ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো জানা আবশ্যক। কারণ দাপ্তরিক কাজে যুক্ত থাকলে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে এগুলো আয়ত্ত করা সম্ভব। এটি কোনো নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, কারণ এটি প্রতিটি যুগ ও তার অধিবাসীদের পরিবর্তনের সাথে সাথে এটি পরিবর্তিত হয়। এর কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ এটি জানা সবচেয়ে সহজ।

‌‌অর্থ উপলব্ধিতে ব্যাকরণিক ভুলের প্রভাব কি ক্ষতিকর?

ব্যাকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: যদি আমরা ব্যাকরণের প্রকার ও বিভাগগুলোর দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখব যে অর্থের বোধগম্যতার জন্য এর অধিকাংশেরই প্রয়োজন নেই। আপনি কি দেখছেন না যে, আপনি যদি কোনো ব্যক্তিকে দাঁড়ানোর আদেশ দেন এবং 'ওয়াও' বহাল রেখে 'কূম' বলেন এবং জযম না করেন, তবে অর্থের উপলব্ধিতে কোনো ঘাটতি হবে না? একইভাবে শর্ত এবং অন্যান্য অতিরিক্ত অংশ যেমন হাল (অবস্থা), তামীয (পার্থক্যকারী) এবং ইসতিসনা (ব্যতিক্রম)—সবই এই নিয়মে চলে। তিনি এই জাতীয় আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন।

আমি বলছি: সাধারণ মানুষ বা যারা জ্ঞান অর্জন করেনি এবং ইলমের ঘ্রাণও পায়নি, তারাই কেবল এই ধরনের কথা বলতে পারে। সে কি জানে না যে, কোনো লেখক যদি এমন কোনো পত্র লেখেন যেখানে তিনি তার আদেশের ক্রিয়াগুলো বা শর্ত ও জাযাকে জযম করেননি, কর্তাকে পেশ এবং অতিরিক্ত অংশগুলোকে যবর দেননি, এমনকি ব্যাকরণের স্পষ্ট নিয়মগুলোরও তোয়াক্কা করেননি, তবে তা জ্ঞানীদের তো বটেই, এমনকি নির্বোধদের কাছেও হাসির পাত্র হবে? আর এমনটি হলে তো আলেম এবং জাহেল সমান হয়ে গেল।

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু মুসা আল-আশআরীর কাছে লিখেছিলেন: "অতঃপর তোমরা সুন্নাহর গভীর জ্ঞান অর্জন করো এবং আরবী ভাষা শেখো।" আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর সন্তানকে ব্যাকরণগত ভুলের কারণে প্রহার করতেন।

আব্দুল মালেক বলেছিলেন: "কথার মধ্যে ব্যাকরণগত ভুল চেহারার বসন্তের দাগের চেয়েও কুৎসিত।" আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী বণিকদের কিছু বস্তা দেখলেন যাতে লেখা ছিল 'লি-আবু ফুলান'। তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! তারা ভুল করে এবং লাভও করে।" বলা হয়: যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে গাম্ভীর্য খুঁজে পেতে চায়, সে যেন আরবী ভাষা শেখে।

তিনি কি জানেন না যে, কেউ কেউ প্রমাণ করেছেন ব্যাকরণ শিক্ষা করা ফরযে কিফায়া, এমনকি কেউ কেউ একে ফরযে আইনও বলেছেন? কেউ কেউ তো এই মত পোষণ করেছেন যে, ব্যাকরণ শুদ্ধ না হলে আল্লাহ তাআলা দুআ কবুল করেন না। শায়খ তাকীউদ্দীন ইবনুস সালাহ বলেছেন: "আমি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে আশঙ্কা করি যে হাদীস চর্চা করে কিন্তু ব্যাকরণ জানে না—সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়: 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়'।"

এরপর তিনি এমন কিছু বিষয় ব্যতিক্রম হিসেবে দেখিয়েছেন যা ব্যাকরণ (ইরাব) ছাড়া জানা সম্ভব নয়। আমি বলছি: অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট বিষয়গুলো জানার মাধ্যমেই কেবল অনুধাবন করা সম্ভব। আর যে ব্যক্তি সহজ ও স্পষ্ট বিষয় বোঝে না, সে জটিল বিষয়গুলো বুঝতে পারে না। নিম্নতর স্তর থেকে উচ্চতর স্তরে উপলব্ধির উত্তরণ এভাবেই ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ৯)
قال الخليل بن أحمد رحمه الله: لا يصل أحد من النحو إلى ما يحتاج إليه إلا بتعلم ما لا يحتاج إليه، فقال أبو عمر: إن كان لا يوصل إلى ما يحتاج إليه إلا بما لا يحتاج إليه، فقد صار ما لا يحتاج إليه محتاجا إليه. وكل علم بهذه المثابة فيه الجلي والغامض في الفقه، فإن مسائله الغامضة في الحيض والتيمم وللفرائض، وما في الجبر والمقابلة، ومسائل الدور في الطلاق وغير ذلك. وكما في المنطق فإن غوامضه في الأقيسة والمختلطات والمغالط وغير ذلك. وكما في علم الكلام من إثبات الجوهر الفرد، وأن العرض لا يبقى زمانين، وأن المعدوم ليس بشيء. وما يتوصل الإنسان إلى معرفة هذه المسائل العويصة إلا بعد مقدمات يفهمها من المسائل الواضحة، وما رأيت من يورد مثل هذا غير العوام، أو من يجهل هذا الفن.

‌‌هل يقدح اللحن في حسن الكلام

قال بعد أن ساق شيئاً من نظم أبي نواس وأبي تمام وأبي الطيب ولحنهم: إن اللحن لم يكن قادحاً في حسن الكلام.

أقول: ما بقي بعد هذا إلا أن يقول: إن مراعاة الإعراب علة موجبة لقبح الكلام أتراه ما سمع بقولهم: النحو في الكلام كالملح في الطعام. وقد ذهب بعضهم إلى أن الإعراب إنما سمي إعرابا لأن العرب في قوله تعالى: " عرباً أتراباً " هن المتحببات إلى أزواجهن، فكأن من أعرب كلامه تحبب إلى مخاطبه. أقول: معنى تحببه كونه ذكر أمارات تدل على معانيه. فإنه إذا أراد التعجب قال: ما أحسن زيداً، ولو ترك الإعراب وقال: ما أحسن زيد بسكون النون والدال، لالتبس الفهم على المخاطب وبقي في حيرة: هل هو مستفهم أو متعجب أو مخبر. فلما نصب النون والدال علم أنه يتعجب. وإذا قال: ما أحسن زيد برفع النون وكسر الدال علم أنه يستفهم. واذا قال ما أحسن زيد بنصب النون ورفع الدال علم أنه مخبر بنفي الإحسان عنه. واذا أراح المتكلم من يخاطبه من الفكرة والحيرة بالإعراب، فقد تحبب إليه.

وقد قال..... لا قدر للحان ولو بلغ يافوخه عنان السماء وأنا فما أنكر أن لطف التركيب وسهولة الكلام أمر آخر وراء النحو. هذا معلوم ولكن المشاحة في تعسفه وتعنته.

‌‌حول لون البقرة في الآية صفراء فاقع لونها

قال: وكان فاوضني بعض الفقهاء في قوله تعالى في سورة البقرة: " صفراء فاقع لونها "، إن لون البقر كان أسود. وأخذ في الشناع على ذلك والاستدلال على أن اللون أصفر.

أقول: من المعلوم أن الأرجح هو أن اللون كان أصفر، لكونه مؤكداً بفاقع. كما يؤكد أسود بحالك وحانك، وأبيض بيقق ولهق، وأحمر بقان وذريحي وأخضر بناضر ومدهام، وأصفر بناصع وفاقع ووارس، وأزرق بخطباني، وأرمك برذاني. ولكن إذا ورد التفسير وثبت النقل بشيء، فما يمكن غير قبوله والعمل به في موضعه من غير أن يتعدى به ذلك الموضع. هذا إذا خالف قاعدة، وإن أمكن ترجيحه رجح، كما رجح هذا بعضهم بقوله تعالى: " إنها ترمي بشرر كالقصر كأنه جمالات صفر ". أي جمال سود تضرب إلى الصفرة. قالوا: والنار سوداء مظلمة.

‌‌التأدب في الحديث عن العظماء

قال عند ذكر وقائع العرب: ومن ذلك أنه ورد عن عمر بن الخطاب أنه استدعى أبا موسى الأشعري ومن يليه من العمال، وكان منهم الربيع بن زياد الحارثي، فمضى إلى يرفأ، مولى عمر، وسأله عما يروج عنده وينفق عليه، فأشار إلى خشونة العيش. فمضى ولبس جبة صوف وعمامة دكناء وخفا مطابقا وحضر بين يديه في جملة العمال. فصوب عمر نظره وصعده فلم يقع إلا عليه، فأدناه وسأله عن حاله ثم أوصى أبا موسى الأشعري به.

ثم قال ابن الأثير: وقد استعملت أنا هذا في تقليد لبعض الملوك من ديوان الخلافة، فقلت: واذا استعنت على عملك بأحد، فاضرب عليه بالأرصاد، ولا ترض بما عرفته من مبدا حاله، فإن الأحوال تتنقل تنقل الأجساد، وإياك أن تخدع بصلاح الظاهر كما خدع عمر بن الخطاب بالربيع بن زياد.
খলিল ইবনে আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ব্যাকরণের প্রয়োজনীয় অংশ আয়ত্ত করা কারো পক্ষে সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে এর অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলোও শেখে। আবু উমর বলেন: যদি প্রয়োজনীয় বিষয়ে পৌঁছানোর পথ অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের মাধ্যমেই হয়, তবে সেই অপ্রয়োজনীয় বিষয়টিও প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়াল। ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও প্রতিটি ইলমের অবস্থা এমনই, যেখানে স্পষ্ট ও অস্পষ্ট উভয় দিক রয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রে হায়েয (ঋতুস্রাব), তায়াম্মুম এবং ফারায়েযের (উত্তরাধিকার) জটিল মাসয়ালাসমূহ এবং জবর ও মুকাবালা (বীজগণিত), তালাকের ক্ষেত্রে দাওর-এর মাসয়ালা এবং অন্যান্য বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি যুক্তিবিদ্যায় দেখা যায় কিয়াস (অনুমান), মিশ্রিত বিষয়াবলি, ভ্রান্ত ধারণা এবং অন্যান্য জটিলতায়। একইভাবে ইলমুল কালামে জাওহারে ফার্দ (অবিভাজ্য অণু) প্রমাণ করা, আরদ (আকস্মিক গুণাবলী) দুই সময়কাল স্থায়ী না হওয়া এবং অবিদ্যমান কিছু নয়—এই সব বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মানুষ এই সব দুষ্কর মাসয়ালাসমূহের পরিচয় লাভ করতে পারে না যতক্ষণ না সে এর পূর্ববর্তী স্পষ্ট মাসয়ালাগুলো অনুধাবন করে। আমি সাধারণ মানুষ অথবা যারা এই শিল্প সম্পর্কে অজ্ঞ, তারা ছাড়া আর কাউকে এমন আপত্তি তুলতে দেখিনি।

‌‌কথা বা বক্তব্যের সৌন্দর্যে ব্যাকরণগত ভুল কি ত্রুটি তৈরি করে?

আবু নুওয়াস, আবু তামাম ও আবু তায়্যিবের কিছু পদ্য ও তাদের ব্যাকরণগত ভুল উদ্ধৃত করার পর তিনি বলেন: ব্যাকরণগত ভুল বক্তব্যের সৌন্দর্যে কোনো ত্রুটি তৈরি করে না।

আমি বলি: এর পর শুধু এটুকুই বলা বাকি থাকে যে, ই'রাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) মেনে চলা বক্তব্যের কদর্যতার কারণ! তিনি কি তাদের এই প্রবাদটি শোনেননি যে: বক্তব্যে ব্যাকরণ খাবারের লবণের মতো। কেউ কেউ মনে করেন ই'রাবকে ই'রাব নামকরণ করা হয়েছে মহান আল্লাহর বাণী "উরুুবান আতরাবা" (সোহাগিনী ও সমবয়সী) অনুসারে, কারণ এখানে 'উরুুব' বলতে স্বামীদের নিকট প্রিয়তমা স্ত্রী বোঝানো হয়েছে। যেন যে ব্যক্তি তার বক্তব্যে ই'রাব ঠিক রাখে সে তার শ্রোতার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। আমি বলি: তার প্রিয় হওয়ার অর্থ হলো সে এমন কিছু চিহ্ন উল্লেখ করে যা তার বক্তব্যের অর্থের পরিচয় দেয়। যেমন যখন সে বিস্ময় প্রকাশ করতে চায় তখন বলে: "মা আহসান ঝাইদান" (ঝাইদ কতই না সুন্দর!), আর সে যদি ই'রাব ছেড়ে দিয়ে নুন ও দাল বর্ণকে সাকিন করে বলে: "মা আহসান ঝাইদ", তবে শ্রোতা বিভ্রান্তিতে পড়বে এবং দ্বিধায় থাকবে যে এটি কি প্রশ্নবোধক, নাকি বিস্ময়বোধক, নাকি সংবাদ প্রদানকারী। কিন্তু যখন সে নুন ও দাল বর্ণকে জবর (নসব) দেয়, তখন বোঝা যায় যে সে বিস্ময় প্রকাশ করছে। আর যখন সে নুনকে পেশ (রাফ) ও দালকে যের (জার) দিয়ে বলে "মা আহসানূ ঝাইদিন", তখন বোঝা যায় সে প্রশ্ন করছে। আর যদি সে নুনকে জবর ও দালকে পেশ দিয়ে বলে "মা আহসানা ঝাইদুন", তখন বোঝা যায় সে সংবাদ দিচ্ছে যে ঝাইদ কোনো ভাল কাজ করেনি। বক্তা যখন ই'রাবের মাধ্যমে শ্রোতাকে চিন্তা ও দ্বিধা থেকে মুক্তি দেয়, তখন সে মূলত তার প্রিয়পাত্রই হয়।

তিনি আরও বলেছেন... ব্যাকরণগত ভুলকারীর কোনো মর্যাদা নেই, যদিও সে উচ্চতায় আকাশের মেঘমালা স্পর্শ করে। আমি অস্বীকার করি না যে রচনার সুক্ষ্মতা ও বাক্যের সাবলীলতা ব্যাকরণের অতিরিক্ত অন্য একটি বিষয়। এটি স্বীকৃত সত্য, কিন্তু বিতর্ক হলো তার হঠকারিতা ও একগুঁয়েমি নিয়ে।

‌‌সূরা বাকারার আয়াতে বর্ণিত গাভীর রঙের বর্ণনায় "গাঢ় হলুদ" প্রসঙ্গে

তিনি বলেন: জনৈক ফকীহ সূরা বাকারার মহান আল্লাহর বাণী "গাঢ় হলুদ রঙের" সম্পর্কে আমার সাথে আলোচনা করছিলেন যে, গাভীটির রং ছিল কালো। তিনি এর সপক্ষে যুক্তি দিচ্ছিলেন এবং এই দাবির কদর্যতা বর্ণনা করছিলেন যে রংটি ছিল হলুদ।

আমি বলি: এটি সুবিদিত যে হলুদ রং হওয়াই অগ্রগণ্য, কারণ একে "ফাক্বি" (গাঢ়) শব্দ দ্বারা তাকিদ বা জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন কালোকে "হালিক" ও "হানিক" দ্বারা, সাদাকে "ইয়াক্বাক্ব" ও "লাহাক্ব" দ্বারা, লালকে "ক্বানি" ও "যারিহী" দ্বারা, সবুজকে "নাদির" ও "মুদহাম" দ্বারা, হলুদকে "নাসি", "ফাক্বি" ও "ওয়ারিস" দ্বারা, নীলকে "খুতবানি" দ্বারা এবং ছাই রংকে "রাযানি" দ্বারা তাকিদ দেওয়া হয়। তবে যখন তাফসিরের বর্ণনা আসে এবং কোনো বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা সাব্যস্ত হয়, তখন সেটি গ্রহণ করা এবং সেই নির্দিষ্ট স্থানে তা প্রয়োগ করা ছাড়া গত্যন্তর থাকে না এবং সেই সীমা অতিক্রম করাও সম্ভব হয় না। এটি তখনই হয় যখন তা ব্যাকরণিক নিয়মের বিপরীত হয়। আর যদি অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ থাকে তবে সেটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, যেমন কেউ কেউ মহান আল্লাহর বাণী "তা প্রাসাদতুল্য স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে, তা যেন হলুদ রঙের উট" আয়াত দ্বারা প্রাধান্য দিয়েছেন। অর্থাৎ এমন কালো উট যা হলুদাভ আভা দেয়। তারা বলেন: জাহান্নামের আগুন কালো ও অন্ধকারাচ্ছন্ন।

‌‌মহৎ ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনার আদব বা শিষ্টাচার

আরবদের ঘটনাবলি বর্ণনার সময় তিনি বলেন: এর মধ্যে একটি হলো ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু মুসা আশআরি ও তার অধীনস্থ কর্মচারীদের তলব করলেন। তাদের মধ্যে রাবি ইবনে ঝিয়াদ আল-হারিসিও ছিলেন। তিনি ওমরের মুক্তদাস ইয়ারফার কাছে গেলেন এবং তার কাছে কোন বিষয়টির কদর বেশি এবং কোনটি তাকে সন্তুষ্ট করে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। ইয়ারফা তাকে জীবনযাত্রার কঠোরতার কথা জানালেন। তখন তিনি গিয়ে পশমের জুব্বা, ধূলি ধূসরিত পাগড়ি ও তালি দেওয়া জুতা পরিধান করলেন এবং অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে তার সামনে উপস্থিত হলেন। ওমর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকালেন এবং তার দৃষ্টি শুধু রাবি ইবনে ঝিয়াদের ওপরই স্থির হলো। তিনি তাকে কাছে ডাকলেন এবং তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, অতঃপর আবু মুসা আশআরিকে তার ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশ দিলেন।

এরপর ইবনুল আসির বলেন: আমি খিলাফত দিওয়ান থেকে কোনো রাজকীয় নিয়োগপত্র তৈরির সময় এই ঘটনাটি ব্যবহার করেছি। আমি বলেছি: আপনি যখন আপনার কোনো কাজের জন্য কারও সাহায্য নেবেন, তখন তার ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন। তার প্রারম্ভিক অবস্থা দেখেই সন্তুষ্ট হবেন না, কারণ মানুষের অবস্থা দেহের পরিবর্তনের মতোই পরিবর্তিত হয়। বাহ্যিক সততা দেখে ধোঁকা খাবেন না, যেমনটি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাবি ইবনে ঝিয়াদের ব্যাপারে (প্রাথমিকভাবে) হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১০)
أقول: قوله كما خدع عمر، في هذا القول إساءة أدب على عمر رضي الله عنه من نسبته إلى أنه خدع، وفي هذا شبهة لصاحب التقليد، فإنه يقول في نفسه: وإذا كان مثل عمر خدع، فما ظني بنفسي، فيقع منه الإهمال. والآدب في مثل هذا أحسن، ودفع الانخداع عنه أليق. ألا ترى إلى قوله تعالى حاكياً عن يوسف عليه السلام: " من بعد أن نزغ الشيطان بيني وبين إخوتي "، فنسب ما وقع بينهم إلى الشيطان تأدباً مع إخوته عليهم السلام. وإذا خدع مثل عمر بن الخطاب رضي الله عنه مع تحرزه وشدته في الدين، فما يظن بغيره.

وقال المغيرة بن شعبة: ما رأيت أحدا أحزم من عمر. كان والله له فضل يمنعه أن يجزع، وعقل يمنعه أن يخدع.

قال أبو بكر الخرائطي: رحم الله عمر ما كان أنظره بنور الله في ذات الله وأفرسه. كان والله كما قال الشاعر:

بصيرٌ بأعقاب الأمور برأيه … كأنّ له في اليوم عينا إلى غد

وقد نقل عن أبي العباس أحمد بن عبد الله بن الحطيئه أنه كان يقول: أدرجت سعادة الإسلام في أكفان عمر بن الخطاب.

وما أحسن قول الشاعر:

حججي عليك إذا خلوت كثيرةٌ … وإذا حضرت فإنني مخصوم

لا أستطيع أقول أنت ظلمتني … الله يعلم أنّني مظلوم

فانظر إلى أدب هذا الشاعر وتلطفه مع محبوبه وإجلاله له.

وكان الأحسن أن لو قال: وإذا استعنت على عملك بأحد، فلا تثق منه بلمع السراب، واكشف بيد إرصادك عن وجه سيرته حجاب النقاب، وتيقظ لأموره فلا ترض بالظاهر العامر وتنسى الباطن الخراب، وتخيل من مكره ما تحيل به الربيع بن زياد على عمر بن الخطاب. فإن نسبة الحيلة إلى الربيع أحسن في الأدب من نسبة الخدع إلى عمر رضي الله عنه.

‌‌إنكار التلقب بالناصر على السلطان صلاح الدين

قال: وجدت لابن زيادة البغدادي كتاباً كتبه إلى الملك الناصر صلاح الدين يشتمل على أمور أنكرت عليه من ديوان الخلافة. من ذلك أنه تلقب بالناصر وذلك لقب أمير المؤمنين.

ثم إن ابن الأثير استصلح الكتاب وقال: لم أجد فيه مغمزاً إلا في هذا الفصل الذي يتضمن حديث اللقب، فإنه لم يأت فيه بكلام يناسب باقي الفصول المذكورة، بل أتى بكلام فيه غثاثة كقوله: ما يستصلحه المولى على العبد حرام وشيء من هذا النسق.

ثم إن ابن الأثير رحمه الله ذكر ما أنشأه في هذا المعنى لنفسه قال: قد علم أن للأنبياء والخلفاء خصائص يختصون بها على حكم الانفراد، وليس لأحد من الناس أن يشاركهم فيها مشاركة الأنداد. وقد أجرى رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك في أشياء نص عليها بحكمه، من جملتها أنه نهى غيره أن يجمع بين كنتيه واسمه، وهذا مسوغ لأمير المؤمنين أن يختص بأمر يكون به مشهوراً وعلى غيره محظوراً.

وساق باقي السجع وليس فيه زبدة فأثبته. أقول: قبل الخوض معه أقدم الفرق بين الاسم والكنية واللقب.

وذلك أن العلم الدال على شخص معين إن كان مصدرا بأب كأبي بكر وأبي حفص، أو بأم كأم كلثوم وأم البنين وأم المؤمنين فهو الكنية. وإن أشعر برفع المسمى كماء السماء وذي رعين وذي النورين وذات النطاقين وذي الجناحين، ويدخل في هذا ألقاب الخلفاء بني أمية وبني العباس، كالهادي والمهدي والرشيد والأمين والمأمون، ويدخل فيه مصطلح الناس، من شمس الدين وبدر الدين ونجم الدين وغير ذلك من ألقاب أهل الكتاب كشمس الدولة وتاج الملك. أو يشعر بضعة المسمى كففة وبطة والأقيشر والأحوص فهذا هو اللقب. وإن كان للدلالة على ذات المسمى وتعيينه، كزيد وعمرو وبكر وخالد فهذا هو الاسم.

وإذا تقرر هذا، فالنبي صلى الله عليه وسلم قال: " لا تجمعوا بين اسمي وكنيتي " مراده لا يقال لأحد من أمته محمد أبو القاسم. أما الناصر والعاضد والقادر والمستنصر وما أشبه ذلك فليس ذلك بكنية ولا اسم على ما تقرر.

على أن الفقهاء اختلفوا في التكني بأبي القاسم على ثلاثة مذاهب: فذهب الشافعي رحمه الله ومن وافقه إلى أن لا يحل لأحد أن يكتني به سواء كان اسمه محمدا أو غيره.

وذهب مالك رحمه الله إلى أنه يجوز التكني به لمن اسمه محمد ولغيره. وذهب بعضهم إلى أنه يجوز لمن لم يكن اسمه محمداً ولا يجوز لمن اسمه محمد.

قال الرافعي: يشبه هذا الثالث أن يكون أصح، لأن الناس ما زالوا يكتنون به في جميع الأعصار ولا إنكار.
আমি বলি: তার উক্তি ‘যেমন উমরকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছিল’, এই উক্তির মধ্যে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি শিষ্টাচারের অভাব রয়েছে, কারণ এর মাধ্যমে তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে তিনি প্রতারিত হয়েছিলেন। এতে একজন সাধারণ অনুসারীর মনে সংশয় তৈরি হতে পারে, সে মনে মনে বলতে পারে: ‘যদি উমরের মতো ব্যক্তিই প্রতারিত হন, তবে আমার নিজের ব্যাপারে কী ধারণা হতে পারে?’ ফলে তার পক্ষ থেকে অবহেলা প্রকাশ পেতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার বজায় রাখাই উত্তম এবং তার থেকে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। আপনি কি আল্লাহ তাআলার বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেন না, যেখানে তিনি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর কথা উদ্ধৃত করেছেন: "শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করার পর", এখানে তিনি নিজের ভাইদের প্রতি শিষ্টাচার স্বরূপ তাদের মধ্যকার ঘটে যাওয়া বিষয়টিকে শয়তানের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। যদি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতো ব্যক্তি তার সতর্কতা এবং দ্বীনের ব্যাপারে কঠোরতা থাকা সত্ত্বেও প্রতারিত হন, তবে অন্যদের ব্যাপারে কী ধারণা করা যায়।

মুগীরা ইবনে শু'বা বলেন: আমি উমরের চেয়ে অধিক দূরদর্শী ও দৃঢ়চেতা আর কাউকে দেখিনি। আল্লাহর কসম, তার এমন মর্যাদা ছিল যা তাকে অস্থির হতে বাধা দিত এবং এমন বুদ্ধি ছিল যা তাকে প্রতারিত হতে বাধা দিত।

আবু বকর আল-খারাইতি বলেন: আল্লাহ উমরের ওপর রহম করুন, তিনি আল্লাহর নূর দিয়ে আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে কতই না প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন ও বিচক্ষণ ছিলেন। আল্লাহর কসম, তিনি তেমনই ছিলেন যেমনটি কবি বলেছেন:

তিনি তার দূরদর্শিতার মাধ্যমে বিষয়ের পরিণাম সম্পর্কে সচেতন ছিলেন … মনে হতো আজকের দিনে তার আগামীকালের ওপর দৃষ্টি রয়েছে

আবু আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হুতাইয়াহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: ইসলামের সৌভাগ্য উমর ইবনুল খাত্তাবের কাফনের কাপড়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে।

কবির উক্তিটি কতই না চমৎকার:

যখন আমি একাকী হই তখন আপনার বিরুদ্ধে আমার অনেক যুক্তি থাকে … কিন্তু যখন আমি আপনার সামনে উপস্থিত হই, তখন আমি নির্বাক হয়ে যাই

আমি বলতে পারি না যে আপনি আমার প্রতি জুলুম করেছেন … আল্লাহ জানেন যে আমি মজলুম বা অত্যাচারিত

এই কবির শিষ্টাচার এবং তার প্রিয়জনের প্রতি তার নম্রতা ও সম্মানের দিকে লক্ষ্য করুন।

সবচেয়ে ভালো হতো যদি তিনি বলতেন: আপনি যদি আপনার কাজে কারও সাহায্য নিতে চান, তবে মরিচীকার চাকচিক্যে বিশ্বাস করবেন না। আপনার অনুসন্ধিৎসু হাত দিয়ে তার চরিত্রের পর্দার অন্তরাল উন্মোচন করুন। তার বিষয়াবলির প্রতি সজাগ থাকুন, বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে সন্তুষ্ট হবেন না এবং অভ্যন্তরীণ ধ্বংসের কথা ভুলে যাবেন না। রবী ইবনে যিয়াদ যেভাবে উমর ইবনুল খাত্তাবের ওপর কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, তার সেই কৌশল থেকে ধারণা নিন। কেননা কৌশলের সম্বন্ধ রবী’র দিকে করা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে প্রতারণার সম্বন্ধ করার চেয়ে শিষ্টাচারের বিচারে অধিক উত্তম।

‌‌সুলতান সালাহউদ্দীনের ক্ষেত্রে ‘আন-নাসির’ উপাধি গ্রহণের অস্বীকৃতি

তিনি বলেন: আমি ইবনে যিয়াদাহ আল-বাগদাদীর একটি কিতাব পেয়েছি যা তিনি সুলতান আন-নাসির সালাহউদ্দীনকে লিখেছিলেন। এতে খিলাফতের পক্ষ থেকে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল যা সালাহউদ্দীনের প্রতি অস্বীকৃতি হিসেবে জানানো হয়েছিল। তার মধ্যে একটি ছিল এই যে, তিনি ‘আন-নাসির’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন, অথচ এটি আমীরুল মুমিনীনের উপাধি ছিল।

অতঃপর ইবনে আল-আসির কিতাবটি সংশোধন করে বলেন: আমি এই উপাধি সংক্রান্ত বিষয়টি ছাড়া সেখানে অন্য কোনো ত্রুটি খুঁজে পাইনি। কারণ তিনি সেখানে অন্য পরিচ্ছেদগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বলেননি, বরং এমন কিছু কথা বলেছেন যাতে দুর্বলতা ছিল। যেমন তার উক্তি: ‘মালিক বা মুনিব তার দাসের ওপর যা সংশোধন করবেন তা হারাম’ এবং এই জাতীয় কথা।

অতঃপর ইবনে আল-আসির (রাহিমাহুল্লাহ) নিজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যা রচনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: এটি সুবিদিত যে, নবীগণ এবং খলীফাগণের এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাতে তারা এককভাবে বৈশিষ্টমন্ডিত এবং অন্য কারো জন্য তাতে অংশীদার হওয়া জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নির্দেশের মাধ্যমে কিছু বিষয়ে এটি কার্যকর করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো তিনি অন্য কাউকে তার উপনাম (কুনিয়া) এবং নামকে একত্রিত করতে নিষেধ করেছেন। এটি আমীরুল মুমিনীনের জন্য একটি অধিকার প্রদান করে যে, তিনি এমন কোনো বিষয়ের সাথে এককভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন যার মাধ্যমে তিনি পরিচিত হবেন এবং অন্যদের জন্য তা নিষিদ্ধ থাকবে।

তিনি বাকী ছন্দবদ্ধ কথাগুলো বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাতে বিশেষ কোনো সারকথা নেই বিধায় আমি তা উল্লেখ করলাম। আমি বলি: তার সাথে আলোচনায় প্রবেশের আগে আমি নাম (ইসম), উপনাম (কুনিয়া) এবং উপাধির (লাকাব) মধ্যে পার্থক্য উপস্থাপন করছি।

তা হলো, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশকারী বিশেষ্য যদি ‘আবু’ (পিতা) দিয়ে শুরু হয় যেমন আবু বকর ও আবু হাফস, অথবা ‘উম্ম’ (মাতা) দিয়ে শুরু হয় যেমন উম্মে কুলসুম, উম্মুল বানীন ও উম্মুল মুমিনীন—তবে তাকে ‘কুনিয়া’ বা উপনাম বলা হয়। আর যদি তা নামের অধিকারীর উচ্চ মর্যাদা নির্দেশ করে যেমন মা-উস সামা, যুর রাঈন, যুন নূরাইন, যাতুন নিতাকাইন এবং যুল জানাহাইন—এর মধ্যে উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলীফাদের উপাধিগুলোও অন্তর্ভুক্ত যেমন আল-হাদী, আল-মাহদী, আল-রশীদ, আল-আমীন ও আল-মামুন। এছাড়া সাধারণ মানুষের পরিভাষা যেমন শামসুদ্দীন, বদরুদ্দীন, নাজমদ্দীন এবং কিতাবধারীদের অন্যান্য উপাধি যেমন শামসুদ্দৌলা ও তাজুল মুলক এর অন্তর্ভুক্ত। অথবা যদি তা কোনো নীচতা নির্দেশ করে যেমন কুফফাহ, বাত্তাহ, আল-আকাইশার এবং আল-আহওয়াস—তবে একে ‘লাকাব’ বা উপাধি বলা হয়। আর যদি তা কেবল ব্যক্তির সত্তাকে বুঝানোর জন্য এবং তাকে নির্দিষ্ট করার জন্য হয় যেমন যায়েদ, আমর, বকর ও খালিদ—তবে তাকে ‘ইসম’ বা নাম বলা হয়।

যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা আমার নাম ও উপনাম একত্রিত করো না"—এর উদ্দেশ্য হলো তার উম্মতের কাউকে ‘মুহাম্মদ আবুল কাসিম’ বলা যাবে না। কিন্তু আন-নাসির, আল-আদিদ, আল-কাদির, আল-মুসতানসির এবং এই জাতীয় শব্দগুলো প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী উপনাম (কুনিয়া) বা নাম (ইসম) কোনটিই নয়।

তাছাড়া ফকীহগণ ‘আবুল কাসিম’ উপনাম রাখার ব্যাপারে তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তার অনুসারীদের মতে কারো জন্য এই উপনাম রাখা জায়েজ নয়, চাই তার নাম মুহাম্মদ হোক বা না হোক।

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে যার নাম মুহাম্মদ এবং যার নাম মুহাম্মদ নয়—উভয়ের জন্যই এই উপনাম রাখা জায়েজ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, যার নাম মুহাম্মদ নয় তার জন্য জায়েজ, কিন্তু যার নাম মুহাম্মদ তার জন্য জায়েজ নয়।

আল-রাফেয়ী বলেন: এই তৃতীয় মতটিই অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়, কারণ মানুষ সকল যুগে কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই এই উপনামটি ব্যবহার করে আসছে।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১১)
قال الشيخ محي الدين النووي رحمه الله: وهذا الذي قاله صاحب هذا المذهب، فيه مخالفة لظاهر الحديث. وأما إطباق الناس على فعله مع أن في المكتنين به من الأئمة الأعلام وأهل الحل والعقد والذين يقتدى بهم في الدين، ففيه تقوية لمذهب مالك رحمه الله في جوازه مطلقاً. ويكونون قد فهموا النهي مختصا بحياته صلى الله عليه وسلم، لما هو مشهور من سبب النهي في اكتناء اليهود بأبي القاسم ومناداتهم يا أبا القاسم طلبا للايذاء. وهذا المعنى قد زال انتهى.

قلت: وممن تكنى بأبي القاسم محمد بن الحنفية. يقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لعلي رضي الله عنه سيولد لك بعدي غلام وقد نحلته اسمي وكنيتي ولا يحل لأحد بعده ".

ومحمد بن أبي بكر، ومحمد بن طلحة، ومحمد بن سعد بن أبي وقاص، ومحمد بن عبد الرحمن بن عوف ومحمد بن جعفر بن أبي طالب، ومحمد بن حاطب بن أبي بلتعة، ومحمد بن الأشعث بن قيس.

وسمعت بخواص الأنبياء: أما النبي صلى الله عليه وسلم فخواصه معلومة شرعاً. منها: وجوب الضحى والضحية والوتر والتهجد والسواك وتخيير الزوجة في الإقامة معه أو الفراق، وتحريم الخط والشعر وإمساك الكارهة من الزوجات، والفرار من العدو في الحرب، وأن لا يغمد السلاح بعد إشهاره حتى ينال به من العدو، وإباحة الوصال، والخمس وصفي المغنم، ودخول مكة حلالاً، وجعل تركته صدقة غير موروثة، والنكاح بلفظ الهبة من الزوجة بلا مهر وبلا ولي ولا شهود، وفي الإحرام والتزوج بأكثر من أربع، ومن آثرها حرم على الزوج نكاحها ولزمه طلاقها، وحرمة زوجاته بعد وفاته على الأمة فلا يحل نكاحهن لأحد. وأما من عداهم من سائر أمتهم فما لأحد منهم خاصة يمتاز بها من حيث الشرع.

فانظر إلى ابن الأثير رحمه الله، لم يطابق بين الإنكار والاستشهاد، ولو أجاب الملك الناصر عن ذلك وقال: إن الخادم ما جمع بين كنية أمير المؤمنين وبين اسمه ولا انفردت بواحدة منهما، فما وجه الإنكار علي، لكان له أن يقول ذلك.

على أن الملك الناصر رحمه الله تعالى ما تسمى بهذا اللقب والناصر في بني العباس خليفة، وإنما العاضد من خلفاء الفاطميين بمصر لما استوزره في سنة أربع وستين وخمسمائة لقبه بهذا اللقب وكان الخليفة ببغداد إذ ذاك المستضيء بالله.

‌‌رسالة ابن زيادة البغدادي

وأما قول ابن زيادة: وكل ما يستصلحه المولى على العبد حرام، فإنه مناسب، ولعله أتى به في صورة أحسن من هذه، وجاء في أثناء كلامه مطبوعاً، ولم يذكر ابن الأثير ما أتى به ليعلم حسنه من قبحه، ولم يحضرني عند تعليق هذا الفصل كلام ابن زيادة، ولعلي أظفر به فيما بعد فأثبته في الحاشية.

وقفت على كلام ابن زيادة فيما بعد، فكان ما ختم به فصل الإنكار على اللقب: ومن العجب أن أمير المؤمنين يخاطبه من سمة الملك بما لم يكن له، ويزاحم هو فيما هو لغيره. ومن الحكم الرائقة في وجيز الكلام، والذي يصلح للمولى على العبد حرام انتهى.

قلت: وهذه السجعة بيت شعر من أبيات كتبها عمرو بن مسعدة إلى المأمون مع فرس أهداه إليه وهو أدهم بغرة:

يا إماماً لا يداني … هـ إذا عد إمام

قد بعثنا بجوادٍ … مثله ليس يرام

وجهه صبحٌ ولكن … سائر الجسم ظلام

والذي يصلح … البيت

وقد أجاب القاضي الفاضل رحمه الله عن كتاب ابن زيادة جوابا مطولا، ولكنه حاسن فيه وما خاشن وكاثر وما كاشر. ثم إن القاضي محيي الدين بن عبد الظاهر رحمه الله تعالى، أملى جوابا على الكتاب المذكور على لسان صلاح الدين طول فيه إلى الغاية، مع أنه نافس فيه وناقش، وقاسر فيه وقاشر.

وللقاضي الفاضل رحمه الله عذر ظاهر في ذلك الوقت عن المداهنة، لعظم منصب الخلافة ذلك الزمان. ولعمري إن هذا الكتاب، فت في عضد الملك الناصر وغض منه، وامتنع الناس الأعيان الذين لهم سورة في غير بلاده أن يقولوا إلا السلطان صلاح الدين دون الملك الناصر، لإنكار الخليفة ذلك. ولعل هذا الأمر باق إلى هذا الزمان، فإنه لا يقال إلا السلطان صلاح الدين في الغالب.

وهذان الجوابان قد أثبتهما في الجزء الثالث عشر من التكرة التي جمعتها

‌‌البلاغة والفصاحة
শেখ মহিউদ্দিন আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই মাযহাবের প্রবক্তা যা বলেছেন, তাতে হাদিসের বাহ্যিক অর্থের বিরোধিতা রয়েছে। আর মানুষের এর ওপর আমল করার ব্যাপারে ঐকমত্য—যেখানে তাঁদের মধ্যে বিশিষ্ট ইমামগণ, প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ব্যক্তিরা রয়েছেন—তা ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবকে এর নিরঙ্কুশ বৈধতার পক্ষে শক্তিশালী করে। সম্ভবত তাঁরা এই নিষেধাজ্ঞাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশার জন্য নির্দিষ্ট বলে বুঝেছিলেন, কারণ নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে এটি প্রসিদ্ধ যে ইয়াহুদীরা 'আবুল কাসিম' উপনাম গ্রহণ করত এবং তাঁকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে 'হে আবুল কাসিম' বলে ডাকত। আর এই কারণটি এখন দূর হয়ে গেছে—সমাপ্ত।

আমি বলি: যাঁদের উপনাম আবুল কাসিম ছিল তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ। বলা হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন, "তোমার পরে একটি পুত্র সন্তান জন্মাবে, তাকে আমি আমার নাম ও আমার উপনাম দান করলাম, আর তার পরে এটি কারো জন্য বৈধ নয়।"

এবং মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর, মুহাম্মদ ইবনে তালহা, মুহাম্মদ ইবনে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ, মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব, মুহাম্মদ ইবনে হাতিব ইবনে আবি বালতা'আহ এবং মুহাম্মদ ইবনুল আশআস ইবনে কাইস।

এবং আমি নবীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে শুনেছি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ শরীয়ত অনুযায়ী সুবিদিত। তার মধ্যে রয়েছে: চাশত, কুরবানি, বিতর, তাহাজ্জুদ ও মিসওয়াক ওয়াজিব হওয়া; তাঁর সাথে থাকাবস্থায় স্ত্রীকে থাকা বা বিচ্ছেদের এখতিয়ার দেওয়া; অঙ্কন ও কবিতা এবং অপছন্দকারী স্ত্রীকে ধরে রাখা হারাম হওয়া; যুদ্ধে শত্রুর সম্মুখ থেকে পলায়ন হারাম হওয়া; অস্ত্র উন্মুক্ত করার পর শত্রুকে আঘাত না করা পর্যন্ত তা খাপবদ্ধ না করা; সাওমে বিসাল বৈধ হওয়া; গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ এবং সাফী (বিশেষ অংশ) পাওয়া; মক্কায় হালাল অবস্থায় প্রবেশ করা; তাঁর মিরাস বা উত্তরাধিকার না রেখে সদকা হিসেবে নির্ধারণ করা; মোহর, অভিভাবক ও সাক্ষী ব্যতীত কেবল দান শব্দের মাধ্যমে বিবাহ করা; এবং এহরাম অবস্থায় চারজনের বেশি বিবাহ করা; আর যাঁকে তিনি পছন্দ করতেন তাঁর ওপর তাঁর স্বামীর বিবাহ হারাম হয়ে যেত এবং তাঁর ওপর তালাক দেওয়া আবশ্যক হতো; তাঁর মৃত্যুর পর উম্মতের ওপর তাঁর স্ত্রীদের বিবাহ হারাম হওয়া, ফলে কারো জন্যই তাঁদের বিবাহ করা বৈধ নয়। আর তাঁরা ব্যতীত উম্মতের আর কারো এমন কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই যা শরীয়তের দিক থেকে তাঁকে স্বতন্ত্র করে।

অতএব ইবনুল আসীর (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দিকে লক্ষ্য করুন, তিনি আপত্তি এবং প্রমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করেননি। মালিক আন-নাসির যদি এর উত্তর দিতেন এবং বলতেন: খাদেম তো আমিরুল মুমিনীনের উপনাম এবং তাঁর নামের সমাবেশ ঘটায়নি এবং এর কোনো একটিতেও সে একক ছিল না, তবে আমার ওপর আপত্তির কারণ কী? তবে তাঁর সেটি বলার অধিকার থাকত।

তা সত্ত্বেও আল-মালিক আন-নাসির (রাহিমাহুল্লাহ) এই উপাধিতে নাম ধারণ করেননি যখন বনু আব্বাসের মধ্যে আন-নাসির নামে খলিফা বিদ্যমান ছিলেন। মূলত মিশরের ফাতেমীয় খলিফাদের মধ্যে আল-আদিদ যখন ৫৬৪ হিজরিতে তাঁকে উজির নিযুক্ত করেন, তখন তাঁকে এই উপাধি দেন, আর তখন বাগদাদের খলিফা ছিলেন আল-মুস্তাদি বি-আমরিল্লাহ।

ইবনে যিয়াদা আল-বাগদাদীর পত্র

আর ইবনে যিয়াদার উক্তি: "যা কিছু মনিবের জন্য শোভা পায় তা দাসের ওপর হারাম", এটি প্রাসঙ্গিক। সম্ভবত তিনি এটি এর চেয়েও সুন্দর কোনো রূপে উপস্থাপন করেছিলেন এবং তাঁর কথার মাঝখানে তা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসেছিল। ইবনুল আসীর যা উল্লেখ করেছিলেন তা নিয়ে আসেননি যাতে এর সৌন্দর্য বা কদর্যতা বোঝা যায়। এই পরিচ্ছেদটি লিপিবদ্ধ করার সময় ইবনে যিয়াদার বক্তব্য আমার নিকট উপস্থিত ছিল না। আশা করি পরবর্তীতে আমি তা পেয়ে যাব এবং টীকায় তা লিখে দেব।

পরবর্তীতে আমি ইবনে যিয়াদার বক্তব্যের সন্ধান পাই। উপাধির ওপর আপত্তির পরিচ্ছেদটি তিনি যা দিয়ে শেষ করেছিলেন তা হলো: "আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আমিরুল মুমিনীন তাঁকে রাজকীয় চিহ্নে এমনভাবে সম্বোধন করছেন যা তাঁর ছিল না, আর তিনি অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছেন। সংক্ষিপ্ত বাণীর এক চমৎকার প্রজ্ঞা হলো—যা মনিবের জন্য শোভা পায় তা দাসের ওপর হারাম।" সমাপ্ত।

আমি বলি: এই ছন্দোবদ্ধ বাক্যটি একটি কবিতার অংশ যা আমর ইবনে মাসআদাহ খলিফা মামুনের নিকট লিখেছিলেন একটি ঘোড়া উপহার দেওয়ার সময় যা ছিল কপালে সাদা চিহ্নযুক্ত কুচকুচে কালো:

হে ইমাম, যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই … যখন কোনো ইমামের গণনা করা হয়

আমরা একটি তেজি ঘোড়া পাঠিয়েছি … যার সদৃশ কেউ কামনা করতে পারে না

তার মুখমণ্ডল প্রভাত সদৃশ কিন্তু … শরীরের বাকি অংশ অন্ধকার

এবং যা উপযুক্ত … কবিতার বাকি অংশ

কাজী আল-ফাদিল (রাহিমাহুল্লাহ) ইবনে যিয়াদার পত্রের একটি দীর্ঘ উত্তর দিয়েছিলেন, তবে তিনি তাতে নম্রতা প্রদর্শন করেছেন, কঠোরতা নয়; এবং তিনি যুক্তি বেশি দিয়েছেন কিন্তু বিবাদ করেননি। অতঃপর কাজী মহিউদ্দিন ইবনে আবদুয যাহির (রাহিমাহুল্লাহ) সালাহউদ্দীনের পক্ষ থেকে উক্ত পত্রের একটি উত্তর প্রদান করেন যা অত্যন্ত দীর্ঘ ছিল, যদিও তিনি তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সূক্ষ্ম বিচার এবং কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন।

কাজী আল-ফাদিল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সেই সময়ে তোষামোদ করার পেছনে একটি সুস্পষ্ট ওযর ছিল, কারণ তখন খিলাফতের মর্যাদা ছিল অনেক বড়। আমার জীবনের কসম! এই চিঠিটি মালিক আন-নাসিরের শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল এবং তাঁর মান হ্রাস করেছিল। তাঁর রাজ্যের বাইরে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ছিলেন, তাঁরা খলিফার আপত্তির কারণে কেবল 'সুলতান সালাহউদ্দীন' বলতেন, 'মালিক আন-নাসির' নয়। সম্ভবত বিষয়টি বর্তমান সময় পর্যন্ত বজায় আছে, কারণ সাধারণত সুলতান সালাহউদ্দীনই বলা হয়।

এই উত্তর দুটি আমি আমার সংকলিত 'আত-তাযকিরা' এর ত্রয়োদশ খণ্ডে লিপিবদ্ধ করেছি।

অলংকারশাস্ত্র ও সাবলীলতা
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১২)
قال في الفصل الثامن في الفصاحة والبلاغة عند ذكر البلاغة، بعد أن قرر أن البلاغة للمعاني والفصاحة للألفاظ: البلاغة شاملة للألفاظ والمعاني، وهي أخص من الفصاحة، كالإنسان من الحيوان. فكل إنسان حيوان وليس كل حيوان إنساناً. وكذلك يقال: كل كلام بليغ فصيح، وليس كل كلام فصيح بليغا ويفرق بينها وبين الفصاحة من كل وجه آخر غير الخاص والعام، وهو أنها لا تكون إلا في اللفظ والمعنى بشرط التركيب، فإن اللفظة الواحدة لا يطلق عليها اسم البلاغة، ويطلق عليها اسم الفصاحة، إذ يوجد فيها الوصف المختص بالفصاحة وهو الحسن. وأما البلاغة فلا يوجد فيها لخلوها من المعنى المفيد الذي ينتظم كلاماً.

أقول: قد ادعى أن هذا الفارق الثاني غير الأول، وهو هو بعينه ومينه. فإنه أراد أولا، كل كلام فصيح يطلق عليه أنه بليغ ولا ينعكس. ومعنى هذا، إذا قلنا: قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل فإن هذا الكلام بليغ باعتبار أن معناه بلغ في صوغ تركيبه إلى حد له توفية بتمام المراد. وفصيح باعتبار بيان مفرداته وحسنها وعذوبتها في السمع. وإذا فككنا هذا التركيب وأخذنا كل فرد من ألفاظه، كان كل فرد فصيحا، ولا يكون بليغا لعدم التركيب في المعنى. فكانت الفصاحة أعم من البلاغة لأنها وجدت في الإفراد والتركيب. وكانت البلاغة أخص لكونها لا تتناول إلا المركب فقط. فحيث وجدت البلاغة مع عذوبة الألفاظ وجدت الفصاحة ولا ينعكس. فصح أن البلاغة كالإنسانية في خصوصها، والفصاحة كالحيوانية في عمومها. وهذا المعنى موجود بعينه في الفارق الثاني الذي أبداه. فإنه قال: إن البلاغة لا تكون إلا في اللفظ والمعنى بشرط التركيب.. إلى آخره فتأمل كلامه يظهر لك ما قلته.

‌‌تحديد معنى البلاغة والفصاحة

والذي أقوله أنا: هو أن بين البلاغة والفصاحة، عموما من وجه وخصوصا من وجه. بيان ذلك: أما عموم البلاغة، فلأنها تتناول الكلام الفصيح أعني الحسن المبين، وغير الفصيح أعني الغريب الوحشي. وعموم الفصاحة، فلأنها تتناول الألفاظ المركبة فقط، وخصوص الفصاحة، فلأنها لا تتناول إلا الألفاظ العذبة المستعملة فقط. فثبت أن بين البلاغة والفصاحة عموما من وجه، وخصوصا من وجه. ومثل هذا لا يتنبه له ابن الأثير.

‌‌أقسام علم البيان

قال في هذا الفصل: وأما أقسام علم البيان من الفصاحة والبلاغة، فليست كذلك لأنها استنبطت بالنظر وقضية العقل من غير واضع اللغة، ولم يفتقر فيها إلى التوقيف، بل أخذت ألفاظ ومعان على هيئة مخصوصة وحكم لها العقل بمزية الحسن لا يشاركها فيها غيرها. فإن كل عارف بأسرار الكلام من أي لغة كانت من اللغات، يعلم أن إخراج المعاني في ألفاظ حسنة رائقة يلذها السمع ولا ينبو عنها الطبع، خير من إخراجها في ألفاظ قبيحة مستكرهة ينبو عنها السمع. ولو أراد واضع اللغة خلاف ذلك ما قلدناه.

أقول: قد ادعى أن ذلك عقل صرف. فإن أراد بالبيان الذي اصطلح عليه أرباب البلاغة، وهو أحد أقسام علم البلاغة الذي يطلق على معرفة الحقيقة والمجاز والتشبيه و‌‌الاستعارة والكناية، فإن من المجاز ما هو لغوي كالصلاة، استعملها الشارع في هذه الهيئة المخصوصة المشتملة على القيام والقراءة والركوع والسجود والذكر والسلام والدعاء. وهي في أصل اللغة إنما تطلق على الدعاء الذي هو جزء هذه الهيئة فسماها باسم جزئها، فقد توقفت معرفة هذا المجاز على حقيقته، وتلك الحقيقة لا تعرف إلا بالنقل لا بالعقل، والمتوقف على المتوقف على معرفة الشي متوقف على ذلك الشيء.

الاستعارة والكناية

وأما الاستعارة، فاختلف علماء البيان، هل هي مجاز لغوي أو عقلي. فذهب الأكثرون إلى أنها مجاز لغوي خلافا لصاحب المفتاح فإنه ذهب إلى أنها عقلية. ودليل الأكثرين أنك إذا قلت: عندي أسد شاكي السلاح، وأنت تريد الرجل الشجاع، كان لفظ الأسد عند التحقيق مستعملاً في غير ما وضع له، لأنك تفهم أنه عنده رجل شبهه بالأسد. وإنما حذف أداة التشبيه مبالغة، والألف والسين والدال فهم معناها متوقف على النقل.

وأما الكتابة فمن أقسامها قسم يتوقف على النقل. كقول الشاعر:

أخو لخم أعارك منه ثوباً … هنيئاً بالقميص المستجد

أراد أبوك أمك حين زفت … فلم يوجد لأمك بنت سعد
তিনি বাগ্মিতা (ফাসাহাত) এবং সাবলীলতা (বালাগাত) বিষয়ক অষ্টম পরিচ্ছেদে সাবলীলতার আলোচনার সময়—বাগ্মিতা শব্দের জন্য এবং সাবলীলতা অর্থের জন্য, এটি নির্ধারণ করার পর—বলেছেন: সাবলীলতা শব্দ এবং অর্থ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, আর এটি বাগ্মিতার চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট, যেমন প্রাণীর তুলনায় মানুষ। কেননা প্রতিটি মানুষই প্রাণী, কিন্তু প্রতিটি প্রাণী মানুষ নয়। অনুরূপভাবে বলা হয়: প্রতিটি সাবলীল (বালীগ) কালামই বাগ্মিতাপূর্ণ (ফাসীহ), কিন্তু প্রতিটি বাগ্মিতাপূর্ণ কালাম সাবলীল নয়। সাধারণ ও বিশেষের এই দিকটি ছাড়াও অন্য সকল দিক থেকে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করা হয়; আর তা হলো এই যে, সাবলীলতা কেবল শব্দ ও অর্থের সমন্বিত রূপের (তারকীব) শর্তেই অর্জিত হয়। কেননা একক শব্দের ওপর 'সাবলীলতা' নাম প্রয়োগ করা হয় না, তবে তার ওপর 'বাগ্মিতা' নাম প্রয়োগ করা হয়। কারণ একক শব্দে বাগ্মিতার বিশিষ্ট গুণ তথা সৌন্দর্য বিদ্যমান থাকে। পক্ষান্তরে একক শব্দে সাবলীলতা পাওয়া যায় না, কারণ তা এমন অর্থপূর্ণ বক্তব্য থেকে মুক্ত থাকে যা একটি বাক্য গঠন করে।

আমি বলি: তিনি দাবি করেছেন যে এই দ্বিতীয় পার্থক্যটি প্রথমটি থেকে ভিন্ন, অথচ এটি মূল ও সারবত্তার দিক থেকে একই। তিনি প্রথমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রত্যেক বাগ্মিতাপূর্ণ কালামের ওপর সাবলীল হওয়ার বিধান প্রযোজ্য হয়, কিন্তু এর বিপরীতটি হয় না। এর অর্থ হলো, যখন আমরা বলি: 'থামো, আমরা প্রিয়ার স্মৃতি ও তার বাসগৃহের স্মরণে ক্রন্দন করি', তখন এই কালামটি সাবলীল, কারণ এর অর্থ তার কাঠামোগত বিন্যাসের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য প্রকাশের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। আবার এটি বাগ্মিতাপূর্ণ, কারণ এর প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট, সুন্দর এবং শ্রুতিমধুর। এখন আমরা যদি এই বাক্য কাঠামোটি ভেঙে ফেলি এবং এর প্রতিটি শব্দ আলাদাভাবে গ্রহণ করি, তবে প্রতিটি শব্দই বাগ্মিতাপূর্ণ হবে, কিন্তু বাক্য গঠন না থাকায় তা সাবলীল হবে না। সুতরাং বাগ্মিতা সাবলীলতা অপেক্ষা অধিক ব্যাপক, কারণ এটি একক শব্দ এবং বাক্য উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান থাকে। আর সাবলীলতা অধিক সুনির্দিষ্ট, কারণ এটি কেবল বাক্য বা সমন্বিত রূপকেই অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে যেখানেই শব্দের মাধুর্যের সাথে সাবলীলতা পাওয়া যায়, সেখানেই বাগ্মিতা বিদ্যমান থাকে, কিন্তু এর বিপরীতটি সর্বদা আবশ্যক নয়। সুতরাং এটি সঠিক যে সাবলীলতা তার বিশেষত্বের দিক থেকে মনুষ্যত্বের মতো, আর বাগ্মিতা তার ব্যাপকতার দিক থেকে প্রাণীত্বের মতো। আর এই একই অর্থ হুবহু তার প্রদর্শিত দ্বিতীয় পার্থক্যের মধ্যেও বিদ্যমান। কারণ তিনি বলেছেন: সাবলীলতা কেবল শব্দ ও অর্থের সমন্বিত রূপের শর্তেই হয়... শেষ পর্যন্ত। সুতরাং তার বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করলে আমি যা বলেছি তা আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে।

‌‌সাবলীলতা ও বাগ্মিতার সংজ্ঞায়ন

আর আমি যা বলি তা হলো: সাবলীলতা এবং বাগ্মিতার মধ্যে 'আংশিক সাধারণ ও আংশিক বিশেষ' (উমুম ওয়া খুসুস মিন ওয়াজহিন) সম্পর্ক বিদ্যমান। এর ব্যাখ্যা হলো: সাবলীলতার ব্যাপকতা এই দিক থেকে যে, এটি বাগ্মিতাপূর্ণ কালাম অর্থাৎ সুন্দর ও স্পষ্ট বক্তব্যকেও অন্তর্ভুক্ত করে, আবার বাগ্মিতাহীন কালাম অর্থাৎ অপরিচিত ও শ্রুতিকটু শব্দকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর বাগ্মিতার ব্যাপকতা এই দিক থেকে যে, তা কেবল সুসংবদ্ধ শব্দাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর বাগ্মিতার বিশেষত্ব এই দিক থেকে যে, তা কেবল শ্রুতিমধুর ও প্রচলিত শব্দাবলিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, সাবলীলতা ও বাগ্মিতার মধ্যে আংশিক সাধারণ ও আংশিক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। ইবনুল আসীরের মতো ব্যক্তিরা এমন সূক্ষ্ম বিষয়ে সজাগ থাকেন না।

‌‌ইলমে বয়ানের প্রকারভেদ

তিনি এই পরিচ্ছেদে বলেছেন: বাগ্মিতা ও সাবলীলতার অন্তর্ভুক্ত ইলমে বয়ানের প্রকারভেদগুলোর বিষয়টি তেমন নয় (অর্থাৎ তা কেবল ভাষাগত নয়), কারণ এগুলো গবেষণা এবং যুক্তির নিরিখে উদ্ভাবন করা হয়েছে যা ভাষা প্রণেতার (ওয়াজে'ল লুগাহ) মুখাপেক্ষী নয়। এক্ষেত্রে এটি সরাসরি শ্রুতির (তাওকীফ) ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং শব্দ ও অর্থকে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিবেক তার সৌন্দর্যের শ্রেষ্ঠত্বের বিচার করেছে, যাতে অন্য কেউ অংশীদার হতে পারে না। কেননা যে কোনো ভাষার বক্তব্যের রহস্য সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক ব্যক্তিই জানেন যে, অর্থকে সুন্দর ও চমৎকার শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা—যা কানে আনন্দ দেয় এবং স্বভাবজাতভাবে যা থেকে মন বিমুখ হয় না—তা কদর্য ও অপছন্দনীয় শব্দের মাধ্যমে প্রকাশের চেয়ে উত্তম, যা কানে শ্রুতিকটু লাগে। যদি ভাষা প্রণেতা এর বিপরীতটি চাইতেন, তবুও আমরা তাকে অনুসরণ করতাম না।

আমি বলি: তিনি দাবি করেছেন যে এটি নিছক বুদ্ধিপ্রসূত বিষয়। তিনি যদি 'বয়ান' বলতে তা বোঝান যা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের পরিভাষা, যা অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) একটি শাখা এবং যা হাকীকত (প্রকৃত অর্থ), মাজায (রূপক), তাশবীহ (উপমা), ‌‌ইস্তিআরা (রূপক অলঙ্কার) ও কিনায়া (পরোক্ষ ইঙ্গিত) জানার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়—তবে জেনে রাখা উচিত যে, মাজাযের মধ্যে কিছু রয়েছে ভাষাগত, যেমন 'সালাত' (নামাজ)। শরীয়ত প্রণেতা একে এই বিশেষ পদ্ধতিতে ব্যবহার করেছেন যা কিয়াম, কিরাত, রুকু, সিজদা, জিকির, সালাম ও দোয়ার সমন্বয়ে গঠিত। অথচ ভাষার মূল উৎস অনুযায়ী এটি কেবল দোয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা এই পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতির একটি অংশ মাত্র। সুতরাং তিনি এর একটি অংশের নামে পুরো বিষয়টির নামকরণ করেছেন। অতএব, এই মাজাযের পরিচয় লাভ করা তার হাকীকত বা প্রকৃত অর্থের ওপর নির্ভরশীল, আর সেই হাকীকত যুক্তি দিয়ে নয় বরং কেবল বর্ণনার (নাকল) মাধ্যমেই জানা সম্ভব। আর যা কোনো বিষয় জানার ওপর নির্ভরশীল, তা সেই বিষয়ের ওপরই নির্ভরশীল।

ইস্তিআরা ও কিনায়া

আর ইস্তিআরা বা রূপক অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ মতভেদ করেছেন যে, এটি কি ভাষাগত রূপক (মাজাযে লুগাবী) নাকি বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক (মাজাযে আক্লী)। অধিকাংশ আলিমের মতে এটি ভাষাগত রূপক, তবে 'মিফতাহ' গ্রন্থের লেখকের মত ভিন্ন; তিনি একে বুদ্ধিবৃত্তিক বলে মনে করেন। অধিকাংশের দলিল হলো, আপনি যখন বলেন: 'আমার কাছে অস্ত্রসজ্জিত একটি সিংহ আছে' এবং এর দ্বারা আপনি একজন সাহসী ব্যক্তিকে বোঝাতে চান, তখন সূক্ষ্ম বিচারে 'সিংহ' শব্দটি তার মূল নির্ধারিত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ আপনি বুঝতে পারছেন যে বক্তার কাছে এমন একজন ব্যক্তি আছে যাকে সিংহের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এখানে কেবল অতিশয়োক্তির জন্য উপমাবাচক অব্যয়টি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর আলিফ, সীন ও দাল বর্ণের সমষ্টির (আসাদ) অর্থ বোঝা বর্ণনার (নাকল) ওপর নির্ভরশীল।

আর কিনায়া বা পরোক্ষ ইঙ্গিতের একটি প্রকার এমন রয়েছে যা বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল। যেমন কবির উক্তি:

লাখমের ভ্রাতা তোমাকে নিজের একটি বস্ত্র ধার দিয়েছে … নতুন জামাটির জন্য তোমাকে অভিনন্দন

তোমার পিতা তোমার মাতাকে কামনা করেছিলেন যখন তাকে বধূ সাজে আনা হয়েছিল … কিন্তু তখন তোমার মাতার জন্য সা'দ বংশের কোনো কন্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد ألقى كساء أبي عبيد … عليك فصرت أكسى أهل نجد

أراني الله عينك في الجعبى … وعينك عين بشار بن برد

فإن الشاعر أراد بأخي لخم جذاما، وببنت سعد عذرة، وبأبي عبيد الأبرص، وبعين بشار العمى.

وقول محمد بن عبدون في خمر عادت خلا:

ألا في سبيل اللهو كأس مدامةٍ … أتتنا بطعم عهده غير ثابت

حكت بنت بسطام بن قيسٍ صبيحةً … وراحت كجسم الشّنفري بعد ثابت

أراد ببنت بسطام صهباء، وبجسم الشنفري قوله:

فاسقنيها يا سواد بن عمرو … إن جسمي بعد خلي لخلّ

وقول الآخر:

ويدعي الشرب في كأس وفي قدح … وأم عنترة العبسي تكفيه

أي تكفيه زبيبة لأنها اسم أم عنترة العبسي.

ولولا النقل لما علم من هذه الكنايات شيء، وليس للعقل هنا مجال. فقد اتضح أن بعض البيان نقلي.

وإن أراد بالبين علم المعاني الذي هو ما يعرف به تتبع خواص تراكيب الكلم، من أحوال الإسناد الخبري، وأحوال المسند إليه، وأحوال المسند، والفصل والوصل، والإيجاز والإطناب وأحوال الطلب، فأكثر ذلك تتوقف معرفته على النقل، إذ المسند والمسند إليه هما المبتدا والخبر، وأحوال كل منهما متنوعة، من تقديم وتأخير لكل منهما وتعريفهما وتنكيرهما، وحذف هذا تارة وذلك أخرى، ومجيء المسند إليه تارة اسماً وتارة فعلاً إما ماضياً وإما مضارعاً. ولولا خوف الإطالة لضربت أمثلة ذلك، ولكنها معلومة من النحو. وجميع ذلك الأصل فيه ما ورد به النقل.

وهذا هو جل علم المعاني. فقد ثبت أن البيان ليس بعقلي كما ادعاه ابن الأثير، بل بعضه عقلي وبعضه نقلي. على أنه قد أورد الناس على علم المعاني فقالوا: إن كان بديهيا لم يحتج إلى تعلمه وتدوينه، وذكره مستغنى عنه، وإن كان كسبيا افتقر إلى علم آخر، ودار أو تسلسل. وما أفضى إلى ذلك فهو باطل.

وأجيب بأنه ليس الكل بديهياً فيلزم ذلك. بل البعض بديهي يدرك بالذوق السليم والذهن المستقيم، والبعض كسبي يؤخذ بالنقل.

ولما كان الناس على ثلاث طبقات: الأولى أصحاب الطبع السليم وهم العرب الخلص الذين يوردون الكلام بسجيتهم موارده، فهؤلاء مستغنون عن تعلمه لأنه لهم جبلة وفطرة. والطبقة الثانية الجفاة أصحاب الفظاظة والطباع النافرة الذين لا شعور لهم بمعاني الكلام، ولا استعداد لهم لتحصيل ذلك، فهؤلاء أيضاً مستغنون عن تعمله، فإنه لا فائدة لهم فيه. والطبقة الثالثة هم المتوسطون، بين هؤلاء وبين هؤلاء، قد يصيبون تارة في أفكارهم وقد يخطئون. فهؤلاء هم الذين وضعت لهم هذه الآلة. فإذا راعوا قوانينها المدونة، وحدودها المقررة، كانوا أبعد عن الخطأ. وحينئذ لا تستغني هذه الطبقة عن تعلم هذه الآلة.

‌‌تعليلات النحاة

قال في هذا الفصل أيضاً: والذي تكلفه النحاة من التعليلات واه لا يثبت على محك النظر.

أقول: قد أجابه ابن أبي الحديد في الفلك الدائر عن ذلك. ولكن ما أنضج القول معه، ويحتاج إلى بقية تذنيب. وهو أن يقال له: ما كأنك نظرت في هذا العلم حق النظر ورأيت ما ذكره ابن السراج والرماني وأبو علي والسيرافي ومن بعدهم مثل: ابن جني وما أتى به في كتاب الخصائص وسر الصناعة وابن الأنباري في أسرار العربية وغير ذلك من حسن التعليل لأحكام النحو، والمناسبات التي أبدوها وإن كان في البعض تسامح لما أنهم التزموا بتعليل كل ما ورد عن العرب. وكما التزم أبو علي في الحجة بتعليل القراءات السبع، وابن جني في المحتسب في تعليل القراءات الشاذة وليس كل ذلك ما يطابق قواعد النحو في الظاهر أكثر من قراءة أبي عمرو رحمه الله تعالى، لأنه كان أقعدهم بالنحو، ولهذا شنع النحاة على ابن عامر رحمه الله في قراءته المشهورة قوله تعالى " وكذلك زُين لكثير من المشركين قتلُ أولادَهم شركائهم ". بتغيير زين لما لم يسم فاعله، ورفع قتل مفعول له، ونصب الدال من أولادهم على أنه مفعول المصدر الذي هو قتل، وجر شركائهم لأنه فاعل المصدر وجره على الإضافة، ولا يضاف المصدر إلا إلى فاعله.
وقد ألقى كساء أبي عبيد … عليك فصرت أكسى أهل نجد

أراني الله عينك في الجعبى … وعينك عين بشار بن برد

فإن الشاعر أراد بأخي لخم جذاما، وببنت سعد عذرة، وبأبي عبيد الأبرص، وبعين بشار العمى.

وقول محمد بن عبدون في خمر عادت خلا:

ألا في سبيل اللهو كأس مدامةٍ … أتتنا بطعم عهده غير ثابت

حكت بنت بسطام بن قيسٍ صبيحةً … وراحت كجسم الشّنفري بعد ثابت

أراد ببنت بسطام صهباء، وبجسم الشنفري قوله:

فاسقنيها يا سواد بن عمرو … إن جسمي بعد خلي لخلّ

وقول الآخر:

ويدعي الشرب في كأس وفي قدح … وأم عنترة العبسي تكفيه

أي تكفيه زبيبة لأنها اسم أم عنترة العبسي.

ولولا النقل لما علم من هذه الكنايات شيء، وليس للعقل هنا مجال. فقد اتضح أن بعض البيان نقلي.

وإن أراد بالبين علم المعاني الذي هو ما يعرف به تتبع خواص تراكيب الكلم، من أحوال الإسناد الخبري، وأحوال المسند إليه، وأحوال المسند، والفصل والوصل، والإيجاز والإطناب وأحوال الطلب، فأكثر ذلك تتوقف معرفته على النقل، إذ المسند والمسند إليه هما المبتدا والخبر، وأحوال كل منهما متنوعة، من تقديم وتأخير لكل منهما وتعريفهما وتنكيرهما، وحذف هذا تارة وذلك أخرى، ومجيء المسند إليه تارة اسماً وتارة فعلاً إما ماضياً وإما مضارعاً. ولولا خوف الإطالة لضربت أمثلة ذلك، ولكنها معلومة من النحو. وجميع ذلك الأصل فيه ما ورد به النقل.

وهذا هو جل علم المعاني. فقد ثبت أن البيان ليس بعقلي كما ادعاه ابن الأثير، بل بعضه عقلي وبعضه نقلي. على أنه قد أورد الناس على علم المعاني فقالوا: إن كان بديهيا لم يحتج إلى تعلمه وتدوينه، وذكره مستغنى عنه، وإن كان كسبيا افتقر إلى علم آخر، ودار أو تسلسل. وما أفضى إلى ذلك فهو باطل.

وأجيب بأنه ليس الكل بديهياً فيلزم ذلك. بل البعض بديهي يدرك بالذوق السليم والذهن المستقيم، والبعض كسبي يؤخذ بالنقل.

ولما كان الناس على ثلاث طبقات: الأولى أصحاب الطبع السليم وهم العرب الخلص الذين يوردون الكلام بسجيتهم موارده، فهؤلاء مستغنون عن تعلمه لأنه لهم جبلة وفطرة. والطبقة الثانية الجفاة أصحاب الفظاظة والطباع النافرة الذين لا شعور لهم بمعاني الكلام، ولا استعداد لهم لتحصيل ذلك، فهؤلاء أيضاً مستغنون عن تعمله، فإنه لا فائدة لهم فيه. والطبقة الثالثة هم المتوسطون، بين هؤلاء وبين هؤلاء، قد يصيبون تارة في أفكارهم وقد يخطئون. فهؤلاء هم الذين وضعت لهم هذه الآلة. فإذا راعوا قوانينها المدونة، وحدودها المقررة، كانوا أبعد عن الخطأ. وحينئذ لا تستغني هذه الطبقة عن تعلم هذه الآلة.

‌‌ব্যাকরণবিদদের ব্যাখ্যাসমূহ

তিনি এই পরিচ্ছেদে আরও বলেছেন: ব্যাকরণবিদরা যে সব ব্যাখ্যার বোঝা টেনেছেন তা অত্যন্ত দুর্বল, যা পর্যালোচনার কষ্টিপাথরে টিকবে না।

আমি বলি: ইবন আবিল হাদীদ 'আল-ফালাকুদ দায়ির' গ্রন্থে এর উত্তর দিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এখনো পূর্ণতা পায়নি, আরও কিছু সংযোজন প্রয়োজন। তাকে বলা উচিত: আপনি যেন এই শাস্ত্রটিকে যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করেননি এবং ইবনুস সাররাজ, আর-রুম্মানী, আবু আলী, আস-সীরাফী এবং তাদের পরবর্তী যেমন ইবন জিন্নি এবং তার 'আল-খাসাইস' ও 'সিররুস সিনাআ' গ্রন্থে যা উপস্থাপন করেছেন, আর ইবনুল আম্বারী 'আসরারুল আরাবিয়্যাহ' গ্রন্থে ব্যাকরণের বিধিবিধানের যে চমৎকার ব্যাখ্যা ও সামঞ্জস্য বর্ণনা করেছেন, তা আপনি দেখেননি। যদিও কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা রয়েছে কারণ তারা আরবদের থেকে বর্ণিত সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। যেমনটি আবু আলী 'আল-হুজ্জাহ' গ্রন্থে সাত কিরাআতের ব্যাখ্যা দিতে এবং ইবন জিন্নি 'আল-মুহতাসিব' গ্রন্থে শায কিরাআতের ব্যাখ্যা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। এগুলোর সবই বাহ্যিকভাবে ব্যাকরণের নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কেবল আবু আমর (রহ.)-এর কিরাআত ব্যতীত; কারণ তিনি ব্যাকরণে সবচাইতে বেশি পারদর্শী ছিলেন। এ কারণেই ব্যাকরণবিদরা ইবন আমির (রহ.)-এর সেই বিখ্যাত কিরাআতের সমালোচনা করেছেন যেখানে তিনি মহান আল্লাহর বাণী "ওয়াকাযালিকা যুইয়্যিনা লিকাষীরিম মিনাল মুশরিকীনা কাতলু আওলাদাহুম শুরাকা-ইহিম" পাঠ করেছেন। এখানে 'যুইয়্যিনা' শব্দটিকে মাজহুল (কর্মবাচ্য) হিসেবে পরিবর্তন করে, 'কাতলু' শব্দটিকে নায়েবে ফায়েল হিসেবে পেশ (রাফা) দিয়ে, 'আওলাদাহুম' শব্দের দাল বর্ণকে জবর (নসব) দিয়ে যা 'কাতলু' মাসদারের মাফউল, এবং 'শুরাকা-ইহিম' শব্দটিকে জের (জার) দিয়ে পাঠ করা হয়েছে; কারণ এটি মাসদারের ফায়েল এবং ইযাফতের কারণে জের হয়েছে। আর মাসদারকে তার ফায়েলের দিকেই ইযাফত করা হয়।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১৪)
فقد فصل ابن عامر بين المصدر وفاعله المضاف إليه، وهو غير ما قرره النحاة. وأفرطوا في الشناع عليه، وهو جائز. وقد جاء عن العرب كثيراً في شعورهم، واستشهد له الشيخ جمال الدين بن مالك رحمه الله في شرح الكافية بشواهد عديدة ومنع الخصم بأن هذا الباب جائز في ضرورة الشعر، وليس في القرآن ضرورة. وانتصر الكواشي لابن عامر في تفسيره وأيد هذه القراءة.

وهذا شأن الفقهاء، أكثر تعليلاتهم لما ورد في أحكام الشرع الشريف في غاية الحسن والقوة، وفي بعض ذلك تسامح. كمن أراد تعليل بعض مناسك الحج فإنه ليس بقوي قوة غيره. والغزالي في الإحياء تكلم في هذا كلاما حسنا، وكذلك شأن المتكلمين، فإن بعض أدلتهم لا تبلغ القوة فيما أتوا به. من حدوث العالم والنفس وإثبات الوحدانية وعدم الجهة. فقد تجىء معهم مسائل قليلة أدلتها عليلة لا تبلغ في القطع والجزم وإلزام الخصم مبلغ تلك. ولولا ذلك لما وقع في النحو خلاف بين البصريين والكوفيين، ولا بين أصحاب المذاهب في الفروع، كالأئمة الأربعة ومن عداهم من الفقهاء التابعين وأصحاب الظاهر رضي الله عنهم أجمعين، ولا بين المتكلمين في أصول الدين من الأشاعرة والمعتزلة والإمامية والخوارج والحشوية. وكأنه نظر إلى قول ابن فارس صاحب المجمل:

مرت بنا هيفاء مجدولة … تركية تعزى لتركي

ترنو بطرف فاتن فاتر … أضعف من حجة نحوي

ألم يعلم أن الشعر والخطابة يروج فيهما أدنى شبهة، وتضيء فيهما أقل لمعة. وقول الشاعر هنا إنما هو بالنسبة إلى الأمور الضرورية، كتنافي الضدين، وأن الواحد نصف الاثنين، وأن الجسم الواحد لا يشغل الحيزين معا في وقت واحد وما أشبه ذلك، على أن من الناس من أنكر هذه البديهيات وطعن في صحتها واعترف بالحسيات. ومن الناس من أنكر الحسيات وطعن فيها وجزم بالبديهيات. ومن الناس من طعن فيهما وأنكر الحسيات والبديهيات وهم السوفسطائية.

حكي أن صالح بن عبد القدوس مات له ولد فمضى إليه أبو الهذيل ومعه النظام وهو غلام حدث، فرأى من جزعه فقال له: لا أعلم لجزعك وجها إذ كان الناس عندك كالزرع! فقال صالح: يا أبا الهذيل، إنما أجزع عليه لأنه لم يقرا كتاب الشكوك فقال وما هو؟ قال: كتاب وضعته، من قرأه شك فيما كان حتى يتوهم أنه لم يكن، وفيما لم يكن حتى يظن أنه قد كان. فقال له النظام: فشك أنت في ابنك أنه لم يمت وإن كان مات واعمل على أنه عاش إلى أن قرا الكتاب وإن كان ما عاش إلى أن قرأه. فبهت صالح وحصر.

وإذا كان الأمر وصل في المكابرة إلى هذا الحد، فما ظنك بمن يعلل رفع الفاعل ونصب المفعول وعمل لم الجزم وإن جزم الشرط والجزاء وغير ذلك. وباب الجدل مفتوح لكل من أراد أن يمنع شيئا. ولهذا يقال: إذا ناظرت المعتزلي في مسألة الرؤية الزم جانب المنع، ومن أراد أن ينكر شيئاً أنكره وأتعب خصمه، فلا يستطيع أن يقهره.

وليس يصحّ في الأفهام شيءٌ … إذا احتاج النهار إلى دليل

نعم إذا لزم خصمك الحق وقصده ظفرت منه بالمراد، وجذبته بعد العناد إلى الصواب سلس القياد وإذا كان متعنتا أو جاهلا أو جاحدا، فإنما تضرب في حديد بارد وقد ضيعت نفخك في الرماد.

وما يقوم لأهل الحب بينةٌ … على بياض صباحٍ أو سواد دجا

ويابن الأثير: إن كانت تعليلات النحاة واهية لم تثبت على محك النظر، فماذا الذي يثبت على محك النظر من تعليلات أصحاب المعاني وهي ما هي؟ أكثر ما يستندون إليه شبه خطابية لا يقطع بها. ولو عورضوا فيها وقفوا في الكثير منها.

وكان الشيخ تقي الدين بن دقيق العيد رحمه الله تعالى يقول: علم المعاني والبيان إلى الآن بعد ما أنضجته الطبيعة. حكى لي ذلك عنه الشيخ فتح الدين ابن سيد الناس بالديار المصرية في سنة ثمان وعشرين وسبعمائة، فإنه تلميذه الخاص به.

وما أشك أن الكثير من الحجج أقوى وأقطع وأقرب إلى الجزم من الكثير من حجج أرباب المعاني، بل ما بينهما صيغة أفعل. فأت في ذلك بحجة قاطعة:

أو فدع الأشياء مستورةً … وادخل بنا في النسب الواسع

‌‌ما يشترك فيه الكاتب والشاعر

قال في الفصل التاسع في أركان الكتابة: إن الكاتب من أجاد المطلع والمقطع، أو يكون مبنياً على مقصد الكتاب. ثم قال: وهذا يشترك فيه الكاتب والشاعر.
ইবনে আমির মাসদার (ক্রিয়ামূল) এবং তার ফায়েলের (কর্তা) মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন যা মুদাফ ইলাইহি হয়েছে, আর এটি ব্যাকরণবিদদের নির্ধারিত নিয়মের পরিপন্থী। তারা এর তীব্র নিন্দা করেছেন, যদিও এটি বৈধ। আরবদের কবিতায় এর প্রচুর উদাহরণ পাওয়া যায়। শায়খ জামালুদ্দিন ইবনে মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) 'শারহুল কাফিয়া' গ্রন্থে এর সপক্ষে বহু প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। পক্ষান্তরে প্রতিপক্ষ দাবি করেছেন যে, এটি কেবল কবিতার প্রয়োজনের (দরুরাতে শে’র) ক্ষেত্রে বৈধ, আর কুরআনে কোনো 'দরুরাত' বা বিশেষ বাধ্যবাধকতা নেই। আল-কাওয়াশি তার তাফসির গ্রন্থে ইবনে আমিরের পক্ষ অবলম্বন করেছেন এবং এই কিরাতকে সমর্থন করেছেন।

এটি ফকিহদেরও রীতি; শরিয়তের হুকুমের ক্ষেত্রে তাদের অধিকাংশ ব্যাখ্যা অত্যন্ত চমৎকার ও শক্তিশালী হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিথিলতা থাকে। যেমন হজের কিছু মানাসিকের (রীতিনীতি) কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে তা অন্যদের মতো শক্তিশালী হয় না। ইমাম গাজালি 'এহিয়াউ উলুমিদ্দিন' গ্রন্থে এ বিষয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন। একইভাবে কালামশাস্ত্রবিদদের (মুতাকাল্লিমিন) অবস্থাও তেমন; তাদের পেশ করা কিছু দলিল তাদের দাবিকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে ততটা শক্তিশালী নয়। যেমন জগতের সৃষ্টি হওয়া, নফস এবং আল্লাহর একত্ববাদ প্রমাণ এবং দিকহীনতা (আল্লাহর কোনো দিকে সীমাবদ্ধ না থাকা) সংক্রান্ত বিষয়সমূহ। তাদের কিছু মাসআলা এমন হতে পারে যেগুলোর দলিল দুর্বল, যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায় না। যদি এমন না হতো তবে নাহু বা ব্যাকরণশাস্ত্রে বসরা ও কুফাবাসীদের মধ্যে মতভেদ হতো না, ফروع বা শাখা মাসআলাসমূহে চার ইমাম ও অন্যান্য তাবিঈ ফকিহ এবং আহলে জাহিরদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতো না। আর দীনের মূলনীতি বা উসুলুদ্দিনের ক্ষেত্রে আশায়িরা, মুতাযিলা, ইমামীয়া, খারিজি ও হাশবিয়াদের মধ্যেও কোনো মতবিরোধ হতো না। মনে হচ্ছে তিনি 'আল-মুজমাল' প্রণেতা ইবনে ফারিসের সেই কবিতার দিকেই দৃষ্টিপাত করেছেন:

আমাদের পাশ দিয়ে এক তন্বী সুন্দরী চলে গেল... তুর্কি বংশোদ্ভূত এক নারী যার সম্পর্ক তুর্কিদের সাথে।

সে মুগ্ধ করা ক্লান্ত নয়নে তাকায়... যা একজন ব্যাকরণবিদের দলিলের চেয়েও দুর্বল।

সে কি জানে না যে, কবিতা এবং বাগ্মিতার ক্ষেত্রে অতি সামান্য সংশয়ও কার্যকর হয় এবং অতি সামান্য আলোও সেখানে দীপ্তি ছড়ায়। এখানে কবির বক্তব্য কেবল সে সকল আবশ্যকীয় বিষয়ের (বদহিইয়্যাত) সাপেক্ষে যেগুলো অকাট্য, যেমন—পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয় একসাথে থাকা অসম্ভব, এক হলো দুইয়ের অর্ধেক, এবং একটি দেহ একই সময়ে দুটি স্থান দখল করতে পারে না ইত্যাদি। যদিও একদল মানুষ এই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোকেও অস্বীকার করেছে এবং এর সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলোকে (হিস্সিয়াত) স্বীকার করেছে। আবার কেউ কেউ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলোকে অস্বীকার করে স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোকে গ্রহণ করেছে। আর একদল তো উভয়টিকেই অস্বীকার করেছে এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও স্বতঃসিদ্ধ উভয় বিষয়কেই প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা হলো সফসাতায়ি বা সংশয়বাদী।

বর্ণিত আছে যে, সলিহ ইবনে আব্দুল কুদ্দুসের এক সন্তান মারা গেলে আবু আল-হুদায়ল তার কাছে সমবেদনা জানাতে যান, তার সাথে ছিল কিশোর আন-নাজ্জাম। সলিহকে শোকাভিভূত দেখে তিনি বললেন: আপনার এই শোকের তো কোনো যৌক্তিকতা দেখি না, কারণ আপনার নিকট মানুষ তো ফসলের মতো! সলিহ বললেন: হে আবু আল-হুদায়ল, আমি তো তার জন্য শোক করছি কারণ সে 'সন্দেহ ও সংশয়ের কিতাব'টি পড়ে যেতে পারেনি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কী? সলিহ বললেন: সেটি এমন এক কিতাব যা আমি লিখেছি; যে ব্যক্তি তা পড়বে সে বিদ্যমান বিষয় নিয়ে এমন সন্দেহ করবে যে তার মনে হবে এটি নেই, আর অবাস্তব বিষয় নিয়ে এমন সন্দেহ করবে যে তার মনে হবে এটি আছে। তখন আন-নাজ্জাম তাকে বললেন: তবে আপনিও আপনার সন্তানের ব্যাপারে সন্দেহ করুন যে সে মারা যায়নি যদিও সে মারা গেছে, আর এমনভাবে কাজ করুন যেন সে বইটি পড়া পর্যন্ত বেঁচে ছিল যদিও সে তা পড়া পর্যন্ত বাঁচেনি। তখন সলিহ কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও নির্বাক হয়ে গেলেন।

যদি জেদ ও হঠকারিতা এই পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হবে যে ফায়েলের রফা, মাফউলের নাসব, 'লাম' এর জজম প্রদান এবং শর্ত ও জাযার জজমসহ অন্যান্য ব্যাকরণিক নিয়মের কারণ ব্যাখ্যা করে? তর্কের দ্বার প্রত্যেকের জন্যই উন্মুক্ত যে কোনো কিছু অস্বীকার করতে চায়। এজন্যই বলা হয়: আপনি যখন কোনো মুতাযিলার সাথে 'রুইয়াত' (আল্লাহকে দেখা) মাসআলায় বিতর্ক করবেন, তখন অস্বীকারের পথ বেছে নিন। কারণ যে কোনো কিছু অস্বীকার করতে চায় সে তা অস্বীকার করবেই এবং তার প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ছাড়বে, তাকে পরাস্ত করা সম্ভব হবে না।

বুদ্ধিবৃত্তিতে কোনো কিছুই সঠিক বলে গণ্য হবে না... যদি দিনের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য দলিলের প্রয়োজন হয়।

হ্যাঁ, যদি আপনার প্রতিপক্ষ সত্যের অনুসারী হয় এবং তার উদ্দেশ্য সঠিক হয়, তবে আপনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হবেন এবং একগুঁয়েমির পর তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। কিন্তু যদি সে হঠকারী, মূর্খ বা সত্য গোপনকারী হয়, তবে আপনি কেবল শীতল লোহায় হাতুড়ি পেটাচ্ছেন এবং ভস্মে ফুঁ দিয়ে সময় নষ্ট করছেন।

প্রেমাসক্তদের কাছে কোনো প্রমাণ খাটে না... দিনের শুভ্রতা বা আঁধার রাতের কালো রঙের ওপর।

হে ইবনে আল-আসির: যদি ব্যাকরণবিদদের কারণ দর্শানো দুর্বল হয় এবং তা যুক্তির কষ্টিপাথরে টিকতে না পারে, তবে বালাগাত বা মানি শাস্ত্রবিদদের কারণ দর্শানোর মধ্যে কোনটি যুক্তির কষ্টিপাথরে টিকবে, অথচ সেগুলো তো আরও দুর্বল? তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন অলঙ্কারিক সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে যা অকাট্য নয়। যদি সেগুলোর ওপর আপত্তি তোলা হয়, তবে তারা অনেক ক্ষেত্রেই থমকে যাবে।

শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনে দقيق আল-ঈদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলতেন: ইলমে মাআনি ও বায়ান এখনো পুরোপুরি পরিপক্কতা লাভ করেনি। মিশরে ৭২৮ হিজরিতে শায়খ ফাতহুদ্দিন ইবনে সাইয়্যিদুন নাস আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, কারণ তিনি ছিলেন ইবনে দقيق আল-ঈদের বিশেষ ছাত্র।

আমার কোনো সন্দেহ নেই যে (নাহুর) অনেক দলিল বালাগাত শাস্ত্রবিদদের দলিলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, অকাট্য এবং নিশ্চিত বিশ্বাসের কাছাকাছি। বরং এ দুয়ের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের কোনো তুলনাই চলে না। অতএব এক্ষেত্রে কোনো অকাট্য প্রমাণ নিয়ে আসুন:

অথবা বিষয়গুলোকে আবৃতই থাকতে দিন... এবং আমাদের সাথে প্রশস্ত সম্পর্কের মাঝে প্রবেশ করুন।

‌‌লেখক ও কবির মাঝে যা যা সাধারণ বিষয়

রচনার স্তম্ভসমূহ সম্পর্কে নবম পরিচ্ছেদে তিনি বলেছেন: একজন সার্থক লেখক তিনি, যিনি রচনার শুরু ও শেষ অংশ অত্যন্ত নিপুণভাবে লেখেন অথবা তা রচনার মূল উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়। এরপর তিনি বলেন: এটি লেখক এবং কবি উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১৫)
أقول: هذا فيه تسامح، فإن الشاعر في كل وقت ما يفتتح قصيدته بما يدل على مقصوده. فإن من مدح يطلب الإرفاد والإعانة بمال أو مركوب أو شفاعة أو طلب ولاية، ثم صدر تلك القصيدة بغزل يصف فيه محبوبه، أو وصف هوى أو غربة أو شوق أو مسير، كيف يتأتى له ذلك؟. نعم إذا كان مدحا مجردا بلا غزل لاق به ذلك، وأكثر ما يكون المدح مجردا من الغزل إذا كان في واقعة تجددت للمدوح فيهنئه الشاعر إما بولاية منصب أو بظفره بعدو أو بمولود أو بسلامة من حادثة أصابته أو هناء بعافية أو بتشيف أو غير ذلك من مجددات الوقائع. ولولا خوف الإطالة ذكرت الشواهد على ذلك.

وأما الكاتب فإنه إن كتب إلى من هو دونه أو مساويه أو أرفع منه، بحيث أنه تمكن مخاطبته بالدعاء، فيحتاج إلى أن يكون الدعاء مناسبا لما يتضمنه الكتاب من شوق أو وحشة أو هدية أو استهداء أو شفاعة أو سؤال أمر أو شكر أو هناء أو عزاء أو ما هو بحسب الحال. وهذا النوع إنما حافظ عليه المتأخرون من الكتاب خصوصا في التقاليد والتواقيع فإنهم راعوا ذلك. ولولا خوف الإطالة لأوردت من ذلك جملة كافية.

على أن هذا لا يحتاج أهل هذا العصر إلى التنبيه عليه، لأنه هذا الأمر قد اشتهر بين كتابه.. وقد بقي هو الغاية المطلوبة من الكاتب. حتى إنه ليقال: افتتح تقليده أو توقيعه أو كتابه بكيت وكيت. ويذكر اسم صاحب التقليد في أول السجعة، أو ينبه على معنى ما اشتمل عليه الكتاب. فمنهم السابق ومنهم المقصر. وقد يتفق في غالب الأوقات اسم المكتوب له والوظيفة، فينبه الكاتب على المعنى. ألا ترى ما أحسن قول.... وقد كتب تقليدا بولاية العهد للسلطان الملك الأشرف صلاح الدين فقال: الحمد لله الذي جعل الملك الأشرف صلاح الدين. فما استعار له شيئاً. واتفق لي مثل هذا في توقيع كتبته لقاضي القضاة الحنفية عماد الدين علي بتدريس المدرسة القايمازية فقلت: الحمد لله الذي جعل عماد الدين عليا فما استعرت له شيئاً. وهذا كثير الاتفاق.

وقول القاضي محيي الدين بن عبد الظاهر وقد كتب تقليدا بولاية العهد للسلطان الملك الصالح علاء الدين علي عن والده السلطان الملك المنصور فقال: الحمد لله الذي شرف سرير الملك بعليه، وحاطه منه بوصيه، وعضد منصوره بولاية عهد مهدية وقول القاضي علاء الدين بن عبد الظاهر رحمه الله تعالى في تقليد كتبه لركن الدين بيبرس المظفر، عندما تملك عن مولانا أمير المؤمنين أبي الربيع سليمان أدام الله أيامه فافتتحه بأن قال: إنه من سليمان وإنه بسم الله الرحمن الرحيم.

وكتب فخر الدين بن لقمان عن الملك السعيد بن الملك الظاهر رحمهما الله تعالى تقليدا بوزارة برهان الدين السنجاري، افتتحه بقوله تعالى: " يا أيها الناس قد جاءكم برهان من ربكم ". وفي هذه اللمعة كفاية. ولكن قد ظهر أولا أن الشاعر لا يلزمه الكاتب من مراعاة المطالع.

‌‌كيف يستفيد الكاتب المنشىء

‌‌من التراث الأدبي

وقال في الفصل العاشر في الطريق إلى تعلم الكتابة: الثاني أن يمزج كتابة المتقدمين بما يستجده لنفسه من زيادة حسنة: إما في تحسين ألفاظ أو تحسين معان ثم قال: إلا أن هذه الطريق مستوعرة جدا، ولا يستطيعها إلا من رزقه الله لسانا هجاما وخاطرا رقاما، وقد سهلت لي صعابها وذللت فجاجها، وكنت أشح بإظهار ذلك لما عانيت في نيله من العناء.

أقول: وقد سلك هو طريقا والقاضي الفاضل طريقاً:

عاجوا إلى تلفي وعجت إلى الرضى … شتان بين طريقهم وطريقي

فإن القاضي رحمه الله، أذهل لما أسهل، وابن الأثير سامحه الله أحزن لما أحزن، على أن ابن الأثير أكثر ما جاء به في طريقه: حل المنظوم، وتضمين الأمثال. وليس هو بأبي هذه العذرة، ولا ناظم تلك الشذرة. وأين كلامه من كلام الوزير أبي الوليد ابن زيدون: ومن وقف على ترسله، على حسن توصله إلى هذا الفن ولطف توسله. لا سيما رسالته التي كتبها على لسان ولادة بنت المستكفي إلى الوزير أبي عامر ابن عبدوس، والرسالة التي كتبها إلى ابن جهور يستعطفه بها. فإنه أتى في هاتين الرسالتين بالغرائب والعجائب، وضمنهما من الأمثال والوقائع وحل الأبيات ما زاد، وضوع نده في كل ناد، لأنه حشر فيهما فنادى، ونظم لآلىء ذلك توأما وفرادى فجاءت كل رسالة.

يحرك أعطاف المعالي سماعها … وتبعث أطراب النهى وتهيّج
আমি বলি: এটি একটি শৈথিল্যপূর্ণ বক্তব্য, কারণ কবি সব সময় তাঁর কবিতার সূচনা এমন কিছু দিয়ে করেন না যা তাঁর মূল উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে। যে ব্যক্তি প্রশংসা করে সে মূলত আর্থিক সাহায্য, বাহন, সুপারিশ বা কোনো পদের প্রত্যাশী হয়; অতঃপর সে সেই কবিতার শুরুতে গজল বা প্রেমগীতির অবতারণা করে যাতে সে তার প্রিয়তমার বর্ণনা দেয়, অথবা প্রেম-বিরহ, প্রবাস, আকুলতা কিংবা সফরের বর্ণনা দেয়; এমতাবস্থায় তার মূল উদ্দেশ্য কীভাবে অর্জিত হতে পারে? হ্যাঁ, যদি এটি গজলমুক্ত নিছক প্রশংসা হয়, তবেই তা মানানসই হতে পারে। আর প্রশংসা গজলমুক্ত সাধারণত তখনই হয়, যখন প্রশংসিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনো নতুন ঘটনা ঘটে এবং কবি তাকে অভিনন্দন জানান; যেমন কোনো পদের দায়িত্ব প্রাপ্তি, শত্রুর ওপর বিজয় লাভ, সন্তান জন্মদান, কোনো দুর্ঘটনা থেকে নিরাপত্তা লাভ কিংবা রোগমুক্তি বা অন্য কোনো নতুন ঘটনা। দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয় না থাকলে আমি এর স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ উল্লেখ করতাম।

আর লেখকের বিষয়টি হলো, তিনি যদি তাঁর অধস্তন, সমপর্যায়ের কিংবা উচ্চপদস্থ কারো কাছে লিখেন—যাকে দোয়ার মাধ্যমে সম্বোধন করা সম্ভব—তবে সেই দোয়াটি চিঠির বিষয়বস্তুর সাথে মানানসই হওয়া প্রয়োজন; চাই তা আকাঙ্ক্ষা, বিচ্ছেদ-বেদনা, উপহার প্রদান বা প্রাপ্তি, সুপারিশ, কোনো বিষয়ের আবেদন, কৃতজ্ঞতা, অভিনন্দন, শোক কিংবা সমসাময়িক অন্য যেকোনো বিষয়ই হোক না কেন। পরবর্তী যুগের লেখকরা এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে রক্ষা করে চলেছেন, বিশেষ করে নিয়োগপত্র ও দাপ্তরিক ফরমানের ক্ষেত্রে তাঁরা এর প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রেখেছেন। দীর্ঘ হওয়ার ভয় না থাকলে আমি এ বিষয়ে পর্যাপ্ত উদাহরণ পেশ করতাম।

অবশ্য বর্তমান যুগের বিজ্ঞজনদের কাছে এই বিষয়ে সতর্ক করার প্রয়োজন নেই, কারণ তাঁদের লেখকদের মাঝে বিষয়টি সুপরিচিত হয়ে গেছে এবং এটিই লেখকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। এমনকি বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি তাঁর নিয়োগপত্র বা দাপ্তরিক পত্র কিংবা সাধারণ চিঠিটি অমুক অমুক কথা দিয়ে শুরু করেছেন। চিঠির অন্ত্যমিলযুক্ত বাক্যের শুরুতেই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়, অথবা চিঠির অন্তর্নিহিত বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে কেউ সফল হন আবার কেউ ত্রুটি করেন। অধিকাংশ সময় প্রাপকের নাম ও পদের সাথে বিষয়ের মিল হয়ে যায়, তখন লেখক সেই অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন। আপনি কি দেখেন না সুলতান আল-মালেক আল-আশরাফ সালাহউদ্দীনের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নিয়োগপত্রের সূচনা কত চমৎকার হয়েছে! লেখক বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আল-মালেক আল-আশরাফ সালাহউদ্দীনকে মনোনীত করেছেন।" এখানে তিনি কোনো রূপক ব্যবহার করেননি। আমার ক্ষেত্রেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল যখন আমি হানাফী প্রধান বিচারপতি ইমাদুদ্দীন আলীর জন্য আল-মাদরাসা আল-কায়মাজিয়্যাহ-তে শিক্ষকতার নিয়োগপত্র লিখেছিলাম, তখন বলেছিলাম: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি ইমাদুদ্দীন আলীকে মনোনীত করেছেন।" এখানে আমি কোনো রূপক ব্যবহার করিনি। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।

কাজী মুহিউদ্দীন ইবনে আবদুয যাহের যখন সুলতান আল-মালেক আল-মানসুরের পক্ষ থেকে তাঁর পুত্র সুলতান আল-মালেক আস-সালিহ আলাউদ্দীন আলীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নিয়োগপত্র লিখেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি রাজসিংহাসনকে আলীর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাকে তাঁর অভিভাবক দ্বারা সুরক্ষিত করেছেন এবং তাঁর মানসুরকে (বিজয়ী) সঠিক পথপ্রাপ্ত উত্তরাধিকার দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।" আর কাজী আলাউদ্দীন ইবনে আবদুয যাহের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) রুকনুদ্দীন বাইবার্স আল-মুজাফফরের জন্য যখন আমাদের নেতা আমীরুল মুমিনীন আবু রাবি সুলায়মানের পক্ষ থেকে একটি নিয়োগপত্র লিখেছিলেন, তখন তিনি এর শুরুতে বলেছিলেন: "নিশ্চয় এটি সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।"

ফখরুদ্দীন ইবনে লুকমান আল-মালেক আস-সাঈদ ইবনে আল-মালেক আজ-জহির (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)-এর পক্ষ থেকে বুরহানুদ্দীন আস-সিনজারীর মন্ত্রীত্ব লাভের নিয়োগপত্র লিখেছিলেন। তিনি এর সূচনা করেছিলেন মহান আল্লাহর এই বাণী দিয়ে: "হে মানুষ, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে বুরহান (প্রমাণ) এসেছে।" এই আলোকপাতটুকুই যথেষ্ট। তবে প্রাথমিকভাবে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কবির জন্য লেখক যে প্রকার প্রারম্ভিক সতর্কতা অবলম্বন করেন তা বাধ্যতামূলক নয়।

‌‌সৃজনশীল লেখক কীভাবে

‌‌সাহিত্যিক ঐতিহ্য থেকে উপকৃত হবেন

তিনি দশম পরিচ্ছেদে লেখা শেখার পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছেন: দ্বিতীয়ত, পূর্বসূরীদের লেখাকে নিজের নতুন কোনো সুন্দর সংযোজনের সাথে মিশ্রিত করা; তা শব্দের উৎকর্ষের মাধ্যমে হোক বা অর্থের উৎকর্ষের মাধ্যমে। অতঃপর তিনি বলেন: তবে এই পথ অত্যন্ত দুর্গম, আর এটি সেই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ পারে না যাকে আল্লাহ মুখর ভাষা ও তীক্ষ্ণ মেধা দান করেছেন। আমার জন্য এর প্রতিকূলতাগুলো সহজ হয়েছে এবং আমি এর পথগুলোকে সুগম করেছি, যদিও এটি অর্জনে যে কঠোর পরিশ্রম আমি করেছি তার কারণে আমি তা প্রকাশ করতে কার্পণ্য করছিলাম।

আমি বলি: তিনি এক পথে চলেছেন এবং কাজী ফাদেল অন্য পথে চলেছেন:

তারা আমার বিনাশের দিকে ফিরল আর আমি ফিরলাম সন্তুষ্টির দিকে … কতই না ব্যবধান তাদের পথ আর আমার পথের মাঝে!

কেননা কাজী (রহ.) যা সহজ করেছেন তাতে তিনি মানুষকে বিস্মিত করেছেন, আর ইবনুল আসীর (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) যা জটিল করেছেন তাতে তিনি বিষণ্ণ করেছেন। অথচ ইবনুল আসীর তাঁর পদ্ধতিতে যা নিয়ে এসেছেন তার অধিকাংশ হলো কবিতার গদ্য রূপ দান এবং প্রবাদের ব্যবহার। তিনি এই শৈলীর উদ্ভাবক নন, আর সেই ছন্দের রচয়িতাও নন। উজির আবু ওয়ালিদ ইবনে জায়দুনের বক্তব্যের সামনে তাঁর বক্তব্যের মর্যাদা কোথায়? যে ব্যক্তি ইবনে জায়দুনের পত্রাবলি দেখেছে, সে এই শিল্পে তাঁর অপূর্ব দক্ষতা ও সূক্ষ্ম বিন্যাস সম্পর্কে অবগত হয়েছে। বিশেষ করে সেই চিঠিটি যা তিনি ওয়াল্লাদাহ বিনতে আল-মুসতাকফীর পক্ষ থেকে উজির আবু আমের ইবনে আব্দুসের কাছে লিখেছিলেন এবং সেই চিঠিটি যা তিনি ইবনে জাহওয়ারের কাছে অনুকম্পা প্রার্থনা করে লিখেছিলেন। তিনি এই দুটি চিঠিতে বিরল ও বিস্ময়কর বিষয়ের সমাবেশ ঘটিয়েছেন এবং তাতে এত অধিক প্রবাদ, ঐতিহাসিক ঘটনা ও কবিতার গদ্য রূপ অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা সবখানে সুগন্ধি ছড়িয়ে দিয়েছে; কারণ তিনি তাতে অনেক জ্ঞান একত্র করেছেন এবং সেই মুক্তোগুলো জোড়ায় জোড়ায় ও এককভাবে গেঁথেছেন, ফলে প্রতিটি চিঠি এমন হয়েছে যে:

তার শ্রবণ আভিজাত্যের অঙ্গসমূহকে স্পন্দিত করে … এবং তা প্রজ্ঞার আনন্দকে জাগ্রত ও আন্দোলিত করে।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهناك يعلم قدر هذا الرجل في إطلاعه، وبسط ظله وغاية ارتفاعه. حتى قيل: إن نثره أشبه منه بالمنظوم.

وقد نثر ابن خلف الحماسة وزاد عليها في مجلدة وسمها بالمنثور البهائي وادعى فيه أنه هو الذي ابتدع حل المنظوم، كما أن الخليل بن أحمد اخترع العروض.

وأما ابن الأثير، فإنه أكثر من الحل، وأتى فيه بما حرم وما حل، وزاد من رقمه في بروده، وبالغ من نظمه في عقوده.

والخد بهجته بخالٍ واحد … وتقلّ فيه بكثرة الخيلان

وأتى فيه بالسمين والغث، وما جاء فيه بجديد إلا وقرنه بالرث. وحل المنظوم إنما هو نوع واحد، وقسم لو فقد ما كان عليه واجد، وما لم تمكن فيه خفة تروجه، وحلاوة تقرنه بالسمع وتزوجه، لم يعلق بالسمع قرطه، ولم يجاز بالقبول شرطه. وما أمثله إلا بعقد نثرت حباته، وروض صوحت زهراته. فأي حسن لقريض خانه وزنه، وأي نضارة لروض جفاه مزنه. اللهم إلا أن يكون المنشىء سليم الفطرة، قويم الفكرة، يستدرك على الناظم ما فاته، ويرهف صارمه ويثقف قناته، إما باحتراز ما لم يحد عنه، أو الإتيان بملائم لم يتمكن لضيق الوزن منه، أو باختصار ما يقوم المعنى بدونه، أو بزيادة زهر غصونه، أو بجودة سبكه، أو بإتقان حبكه. وهنا تظهر القدرة المتمكنة، وتكون أدلة الفصاحة بينه.

فليس لوصل من يدعى فيأتي … عذوبة وصل من يدعى فيأبى

وأما القاضي الفاضل رحمه الله، فإنه سلك طريقا غريبة، وأظهر فنونا عجيبة، زعم بعضهم أنه كان جل اعتماده على حفظ كلام ابن أبي الشخباء، وأنه كان يستحضر أكثر كلامه، وبعضهم زعم أنه اعتمد على كلام ابن أبي الخصال، وبعضهم زعم أنه اعتمد على كلام البديع وهيهات، ليس في كلام واحد منهم تلك النشوة، ولا لمتكلم غيره تلك الخطوة في نيل الحظوة، ولا لمترسل حسنه الذي شق قلوب الرجال إن لم يقطع أيدي النسوة. بينما هو يخاطبك بالكلام، إذا به قد عاطاك كؤوس المدام، وبينا هو يناوح مهبك، إذا به قد سحر لبك، وبينا هو يتكلم مثل الناس على العادة، إذا به قد سرد الكواكب الوقادة، وبينا هو قد ألفتك ظهره، إذا به قد أدار لك المحيا، وبينا هو يسايرك في الثرى، إذا به قد تبختر عند الثريا.

فإن كان من درٍ فما الدرّ هكذا … وإن كان سحرا إن ذا لعجيب

وها أنا أورد هنا من كلامه نبذة تكون لباقيه عنوانا، وفلذة تكون بينه وبين غيره ميزانا، من ذلك كتاب كتبه في وصف كتاب كتبه موفق الدين خالد بن مهذب الدين القيسراني بذهب وهو: وقف الخادم على ما دبجته أنامل الحضرة التي إذا صاب سحابها روض لساعته، وإذا عدمت حقيقة السحر فهي التي نفثها بيانه في روع يراعته، فانتقل من الاستحسان إلى التسبيح لأن حروفه شذور السبح، وخلص التفضيل من الترجيح بأول ما صافح الطرف من الطرف واللمح من الملح. فتناول منها جنة قد زخرفت بنار، وليلة قد وشحت بنهار، وروضة قد سقيت بأنها عقار، وغصون أقلام قد فتحت بنوار نضار، وعارض ذهب قد أذيب يكاد سنا برقه يذهب بالأبصار. فتعالى من ألان لداود عليه السلام الحديد ولها الذهب، وأيقظ به جد هذه الصناعة بعد أن نام بين الأنام فهب، وأعلم الناس أن القلم في يد ابن البواب للضرب لا للطرب، وأن قيمة لك منها ومنه ما به في هذه الصناعة كتب، وحلاها بتمام البدور وأعطاه ما أعطى أباه هلالاً من المحاق، وأخر زمانها وقدم زمانه ورزقها السبق وحرمه اللحاق.
সেখানে এই ব্যক্তির পাণ্ডিত্য, তাঁর প্রভাবের বিস্তৃতি এবং তাঁর উচ্চতার চূড়ান্ত সীমা সম্পর্কে জানা যায়। এমনকি বলা হয়েছে: তাঁর গদ্য পদ্যের চেয়েও বেশি ছন্দোময়।

ইবনে খালাফ 'আল-হামাসা' কাব্যগ্রন্থকে গদ্যরূপ দিয়েছেন এবং একটি খণ্ডে এর ওপর আরও সংযোজন করেছেন, যার নাম দিয়েছেন 'আল-মানসুর আল-বাহায়ি'। তিনি এতে দাবি করেছেন যে, তিনিই প্রথম পদ্যকে গদ্যে রূপান্তরের রীতি উদ্ভাবন করেছেন, যেমনটি খলিল ইবনে আহমদ ইলমে আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) উদ্ভাবন করেছিলেন।

আর ইবনুল আসির পদ্যকে গদ্যরূপ দেওয়ার কাজটি অনেক বেশি করেছেন। এতে তিনি যা নিষিদ্ধ এবং যা বৈধ উভয়ই নিয়ে এসেছেন। তিনি তাঁর অলঙ্করণকে আরও বৃদ্ধি করেছেন এবং তাঁর বিন্যাসকে সুদৃঢ় করেছেন।

একটি তিল গালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে … কিন্তু অনেক বেশি তিল হলে সেই সৌন্দর্য কমে যায়।

তিনি এতে স্থূল এবং অসার উভয়ই নিয়ে এসেছেন। তিনি যা কিছু নতুন এনেছেন, তার সাথে জরাজীর্ণ বিষয়কেও যুক্ত করেছেন। পদ্যকে গদ্যে রূপান্তর করা কেবল একটি শিল্পরীতির অন্তর্ভুক্ত। এমন একটি বিভাগ যা না থাকলে কেউ অভাব বোধ করত না। যদি এতে সাবলীলতা ও মাধুর্য না থাকে যা কানে মধু বর্ষণ করে এবং হৃদয়ে স্থান করে নেয়, তবে তা গ্রহণযোগ্যতা পায় না। আমি একে কেবল এমন একটি কণ্ঠহারের সাথে তুলনা করতে পারি যার মুক্তাগুলো ছিঁড়ে গেছে, অথবা এমন একটি বাগানের সাথে যার ফুলগুলো শুকিয়ে গেছে। পদ্যের ছন্দ হারিয়ে গেলে তার সৌন্দর্য কোথায় থাকে? আর বৃষ্টির অভাব হলে বাগানের সজীবতাই বা কোথায়? তবে লেখক যদি সুস্থ স্বভাবের এবং প্রখর চিন্তাশক্তির অধিকারী হন, তবে তিনি মূল কবির অসম্পূর্ণতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেন। তিনি তাঁর কলমকে শাণিত করেন এবং নিজের দক্ষতাকে প্রয়োগ করেন; হয় এমন বিষয় বর্জন করে যা থেকে নিস্তার মেলেনি, অথবা ছন্দসংকটের কারণে কবি যা দিতে পারেননি তেমন উপযুক্ত কোনো বিষয় সংযোজন করে, অথবা অপ্রয়োজনীয় অংশ সংক্ষেপ করে যার ছাড়াই অর্থ পূর্ণ হয়, কিংবা নতুন অলঙ্কার যোগ করে অথবা গাঁথুনি মজবুত করে। এখানেই প্রকৃত সামর্থ্য প্রকাশ পায় এবং বাগ্মিতার প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যাকে ডাকা হয় এবং সে চলে আসে, তার সান্নিধ্যের মাধুর্য … আর যাকে ডাকা সত্ত্বেও যে অস্বীকার করে, তার সান্নিধ্যের মাধুর্য এক নয়।

আর আল-কাদি আল-ফাদিল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), তিনি এক অনন্য পথ অবলম্বন করেছেন এবং বিস্ময়কর সব শিল্পরীতি প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে, তাঁর মূল নির্ভরতা ছিল ইবনে আবিশ শাখবার বাণীর ওপর এবং তাঁর অধিকাংশ কথা তাঁর মুখস্থ ছিল। আবার কেউ কেউ মনে করেন তিনি ইবনে আবিল খিসালের বাণীর ওপর নির্ভর করতেন। কেউবা মনে করেন তিনি আল-বাদি’র বাণীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু তা অসম্ভব! তাদের কারোর কথাতেই সেই মাদকতা নেই, আর অন্য কোনো বক্তার সেই প্রভাব নেই যার মাধ্যমে তিনি প্রশংসা অর্জন করেছেন। তাঁর গদ্যের এমন সৌন্দর্য রয়েছে যা পুরুষদের হৃদয় বিদীর্ণ করে, এমনকি নারীদের হাত পর্যন্ত কেটে ফেলে। তিনি যখন আপনার সাথে কথা বলেন, মনে হয় যেন আপনাকে শরাবের পেয়ালা পান করাচ্ছেন। তিনি যখন তাঁর ভাবধারা প্রকাশ করেন, তখন আপনার বুদ্ধি হরণ করে নেন। যখন তিনি সাধারণ মানুষের মতো কথা বলেন, মনে হয় উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি সাজিয়ে দিচ্ছেন। যখন তিনি আপনার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, তখন তাঁর উজ্জ্বল মুখমণ্ডল আপনার দিকে ফিরিয়ে দেন। যখন তিনি জমিনে আপনার সাথে হাঁটেন, মনে হয় তিনি ছায়াপথের উচ্চতায় দম্ভভরে বিচরণ করছেন।

যদি এগুলো মুক্তা হয়, তবে মুক্তা এমন হয় না … আর যদি জাদু হয়, তবে তা সত্যিই বিস্ময়কর।

আমি এখানে তাঁর বাণীর কিঞ্চিৎ অংশ তুলে ধরছি যা তাঁর বাকি বাণীর জন্য শিরোনাম স্বরূপ হবে এবং যা তাঁর ও অন্যের মাঝে মাপকাঠি হিসেবে কাজ করবে। এর মধ্যে একটি হলো সেই পত্র যা তিনি মুওয়াফফাকুদ্দীন খালিদ ইবনে মুহাজ্জিবুদ্দীন আল-কাইসারানি কর্তৃক স্বর্ণাক্ষরে লিখিত একটি কিতাবের বর্ণনায় লিখেছিলেন: এই খাদেম সেই শৈল্পিক কাজ সম্পর্কে অবগত হয়েছে যা সেই মহান দরবারের আঙুলগুলো অঙ্কন করেছে; যার মেঘ বর্ষিত হলে তৎক্ষণাৎ বাগান সজীব হয়ে ওঠে। যদি জাদুর কোনো বাস্তবতা না থাকে, তবে তা হলো সেই জাদু যা তাঁর কলমের মাধ্যমে কাগজের বুকে ফুঁক দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি দেখে মানুষ প্রশংসার পরিবর্তে তাসবিহ পাঠে রত হয়, কারণ এর অক্ষরগুলো যেন তাসবিহর সুবর্ণ দানা। এর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই, কারণ এর প্রতিটি শব্দ ও অলঙ্কার অত্যন্ত চমৎকার। তিনি এর মাঝে এমন এক জান্নাত পেয়েছেন যা আগুন দিয়ে সাজানো হয়েছে, এমন এক রাত যা দিন দিয়ে অলঙ্কৃত হয়েছে, এমন এক উদ্যান যা শরাবের নহর দ্বারা সিঞ্চিত হয়েছে। কলমের ডগাগুলো যেন স্বর্ণালী ফুলে বিকশিত হয়েছে। স্বর্ণের সেই প্রলেপ যা গলানো হয়েছে, যার চমক দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করে। মহান সেই সত্তা যিনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে নরম করেছেন এবং এই লেখার জন্য স্বর্ণকে। তিনি এই শিল্পের ভাগ্যকে জাগ্রত করেছেন যখন এটি মানুষের মাঝে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। তিনি মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইবনুল বাওয়াবের আল্লাহর দেওয়া হাতের কলম কেবল প্রহারের জন্য, আনন্দের জন্য নয়। এই শিল্পের মর্যাদা সেই কিতাবগুলোর মাধ্যমে যা তিনি লিখেছেন। তিনি একে পূর্ণিমার চাঁদের পূর্ণতা দান করেছেন এবং এর পিতাকে দিয়েছেন ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ। তিনি এর সময়কে বিলম্বিত করেছেন এবং এর মর্যাদা সবার আগে রেখেছেন, একে অগ্রগামিতা দান করেছেন এবং অন্যদের জন্য এর নাগাল পাওয়া অসম্ভব করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১৭)
فمن ألفات ألفت الهمزات غصونها حمائم، ومن لام ألفات بعدها يحسدها المحب على عناق قدودها النواعم، ومن صادات نقعت غلل العيون الصوادي والقلوب الحوائم، ومن واوات ذكرت بما في جنة الأصداغ من العطفات، ومن ميمات دنت الأفواه من ثغورها لتنال جنى الرشفات، ومن سينات كأنها التأشير في تلك الثغور، ومن دالات دالات على الطاعة لكاتبها بانحناء الظهور، ومن جيمات كالمناسر تصيد القلوب التي تخفق لروعات الاستحسان كالطيور، وفها ما تشتهي الأنفس وتلذ الأعين، وخالد فيها خالد، وتحيته فيها المحامد، ويده تضرب في ذهب ذائب والخلق تضرب في حديد بارد. فهي اليد التي تنظم تيجان الملوك بدرها، وتظهر آية الكرم على قراطيسها بما تظهره من تبرها. وما كنت قبل يدها أحسب أن سحابا تمطر نضارا، ولا أن ماء يستمد نارا، ولا أن أقلامها سيوف قد سفكت دم المال فأجرته أنهارا، ولا قبل لحظها أن الشفق لا يشفق من طلوع الفجر، ولا أن لون الوصل ينفض على لون الهجر، ولا أن الليل يتشبث بعطف البرق فلا يريم، ولا أن ذهب الأصيل يجري به سواد الليل البهيم، ولا أن يدا كريمة تدعي من آيات قلمها ومعجزات كرمها أن الجلمود بها يفارق الجمود، وأن البراعة تسير فرقدها على الظما فيشافه منهل النضارة المورود، وما كانت خطوط الفضلاء إلا تجربة بين يدي تحريرها الآن، ولا أقلامها إلا حطبا أوقدته على الذهب فذاب لها ولان، ولا يحسب الخط إلا يحسب بيدها فغيرت له أثواب الحداد وجلت عرائس حروفه مضمخة الأجساد بالجساد، وأطلعت إنسان عين الإحسان بدليل كونه لم يلمح إلا في سواد، وسجد له والسجود فرضه لأنه دون التيجان، وقبله والتقبيل حقه لأن الجنان يحاور منه حور الجنان، وكيف لا يفضل جوهرها بأن يفصل، وتقابل حروفها بأن تقبل، وقد كتب الناس باليد وكتب بالعين، وحصل الناس من هذه الصناعة بعد حرب حنين على خفي حنين، وفازت بما أظهرت من نروتها للنظار من النضار، وصحت لها الكيمياء، لأنه كتب بشطر دينار سطرا بألف دينار، وأن له في نهارها بل في أنهارها سبحا طويلا، وأنها على خفة وزنها وقلة أسطرها لتكلف من الشكر عبئا ثقيلا، وكيف لا يخف ميزان الثناء على أنهار حجته بذائب ذهب، وكيف يضل وفد الشكر وقد هدته بذوائب لهب، وقد نشره وطواه حتى كاد أن يخلفه، وأسام فيه ناظر لا يسأمه، فكان آخر ما تأمله أول ما رمقه، ومأسى لافتنائه يعبد مذهبه على حرف أو على ورقه، وورده إذ يقسى ورده فازداد عطشاً على كثرة العل والنهل، وأعشاه إذ أغشاه وكثرة النور تعشى ناظر المقل.

ومن ذلك ما وصف به الخيام من جملة كتاب وهو: أما الخيام فقد بليت وصارت أمشاجا، ورقت فخالطت كأس الغمام مزاجا، ولقيت معنا الشدة وكانت شدتنا أن رأينا بها انفراجا. ففيها من السماء رقاع، وكأنما أخذها في شق الثياب سماع، وإذا هبت الرياح فهي بتقدمها وتأخرها في نزع حثيث، ونزغ من الشيطان خبيث، طلقتنا وهي بعد في حبالنا، وطعنت وهي بعد في عقالنا، إن أرسلت الريح آية ظلت أعناقها لها خاضعة، وإن قعدنا فيها فعلى قارعة الطريق وهي قاعدة على طريق القارعة، وإن وقعت ليلا فما لوقعتها الخافضة رافعة. بها للدهر جراح الإبر لا تقطبها، ومنها على الدهر أطلال تصدقها العين تارة وتكذبها، وقد فرجت سماؤها وانشقت، وأذنت لربها وحقت. لم يبق في أديمها بشرة تعاتب، ولا في صبرها مسكة تجاذب. كأنها وأخواتها إذا هبت الرياح المجرمون رأوا العذاب، وتقطعت بهم الأسباب، بحيث ترى حماها نافضا، والعارض قد دخل عليها على الحقيقة عارضاً، فعمدها الأغصان هزها البارح، وشرائطها الشرار أطاره القادح، وأما إذا نشأت السحائب فسلت سيوف برقها، وسلسلت سيول ودقها، فإنها أمام تلك السيوف جرحى، ووراء تلك السيول طرحى. تود ما ود ابن نوح يوم لا عاصم، وتراها كبط الماء ونحن بين غريق وعائم. نضربها في كل يوم فوق الحد، ونأخذها في المصيف بحرب حر في الشتاء ببرد برد.

সেখানে 'আলিফ' বর্ণগুলো এমন শাখা যার ওপর 'হামজা'গুলো কপোত হয়ে বসে আছে। 'লাম-আলিফ' বর্ণগুলো এমন যে, তার কমনীয় দেহের আলিঙ্গন দেখে প্রেমিক ঈর্ষা বোধ করে। 'সোয়াদ' বর্ণগুলো পিপাসার্ত চোখ এবং ব্যাকুল হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণ করে। 'ওয়াও' বর্ণগুলো অলকের কুঞ্চনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। 'মিম' বর্ণগুলোর ঠোঁটের কাছে মুখগুলো এগিয়ে আসে যেন চুম্বনের সুধা পান করা যায়। 'সিন' বর্ণগুলো যেন সেই দাঁতগুলোর শুভ্র উজ্জ্বলতা। 'দাল' বর্ণগুলো পিঠ বাঁকানোর মাধ্যমে লেখকের প্রতি আনুগত্যের ইঙ্গিত দেয়। 'জিম' বর্ণগুলো শিকারি পাখির নখর সদৃশ, যা প্রশংসার আতিশয্যে চড়ুই পাখির মতো কম্পমান হৃদয়গুলোকে শিকার করে। তাতে এমন কিছু রয়েছে যা আত্মা কামনা করে এবং চক্ষু শীতল করে; সেখানে যা আছে তা চিরস্থায়ী, আর তার অভিবাদন হলো প্রশংসা। তার হাত গলিত স্বর্ণে বিচরণ করে, আর সৃষ্টি শীতল লৌহে আঘাত করে। এটি সেই হাত যা তার মুক্তা দিয়ে রাজাদের মুকুট সুশোভিত করে এবং স্বর্ণের দ্যুতি ছড়ানোর মাধ্যমে কাগজের পাতায় মহানুভবতার নিদর্শন প্রকাশ করে। তার হাতের কারুকার্যের পূর্বে আমি কল্পনাও করিনি যে মেঘ কখনো স্বর্ণবৃষ্টি ঘটাতে পারে, কিংবা পানি কখনো আগুনের সাহায্য নিতে পারে। আমি ভাবিনি যে কলমগুলো এমন তলোয়ার হতে পারে যা সম্পদের রক্ত প্রবাহিত করে নদী বইয়ে দেয়। তার সেই দৃষ্টির আগে আমি জানতাম না যে গোধূলি ঊষার উদয়কে ভয় পায় না, কিংবা মিলনের রঙ বিচ্ছেদের রঙের ওপর প্রভাব ফেলে না। আমি ভাবিনি যে রাত বিদ্যুতের প্রান্ত ধরে ঝুলে থাকবে অথচ সরবে না, কিংবা সন্ধ্যার স্বর্ণাভ আভা ঘোর অমানিশার আঁধারের সাথে প্রবাহিত হবে। আমি ভাবিনি যে কোনো উদার হাত তার কলমের নিদর্শন এবং মহানুভবতার অলৌকিকতা দিয়ে দাবি করবে যে, তার স্পর্শে কঠিন পাথর জড়তা ত্যাগ করে; আর তার বাগ্মিতা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ধ্রুবতারাকে পরিচালিত করে স্বচ্ছ ও সুপেয় পানির নহরের কাছে নিয়ে যায়। গুণীজনদের হস্তলিপি এই কলমের মার্জিত রূপের সামনে কেবল একটি পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টা মাত্র। কলমগুলো যেন কেবল কাষ্ঠখণ্ড যা স্বর্ণের ওপর প্রজ্বলিত হয়েছে, ফলে স্বর্ণ গলে কোমল হয়ে গেছে। এই লিপি তার হাতের পরশ ছাড়া অন্য কিছু নয় বলে গণ্য করা হয়; কারণ তিনি এর জন্য শোকের পোশাক পরিবর্তন করে দিয়েছেন এবং বর্ণের নববধূর দেহকে সুগন্ধি জাফরান দিয়ে উজ্জ্বল করেছেন। তিনি ইহসানের চোখের মণি প্রকাশ করেছেন এই প্রমাণে যে, তা কেবল কালোতেই (কালিতেই) দেখা যায়। তার প্রতি সিজদা করা হয়েছে এবং এই সিজদা করা আবশ্যক ছিল কারণ এটি মুকুটের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তাকে চুম্বন করা হয়েছে এবং চুম্বনই ছিল তার প্রাপ্য, কারণ হৃদয় এখান থেকেই জান্নাতের হুরদের সাথে কথোপকথন করে। কেনই বা তার মূল সত্তা শ্রেষ্ঠ হবে না যাকে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে? আর কেনই বা তার বর্ণগুলো চুম্বনের মাধ্যমে গৃহীত হবে না? মানুষ হাত দিয়ে লেখে, আর তিনি চোখ দিয়ে লিখেছেন। মানুষ এই শিল্প থেকে 'হুনাইনের যুদ্ধের' পর 'খুফ্ফায় হুনাইন' (নিরাশ হয়ে ফেরা) লাভ করেছে। আর এই কলম তার সৌন্দর্যের মাধ্যমে দর্শকদের জন্য স্বর্ণের উজ্জ্বলতা জয় করেছে। তার জন্য 'কিমিয়া' (পরশমণি) সত্য প্রমাণিত হয়েছে, কারণ তিনি আধা দিনার মূল্যের কালি দিয়ে এক হাজার দিনার মূল্যের এক একটি ছত্র লিখেছেন। তার এই দিনগুলোতে বরং তার এই নহরগুলোতে দীর্ঘ বিচরণ রয়েছে। এই লিপি ওজনে হালকা এবং ছত্রে কম হওয়া সত্ত্বেও কৃতজ্ঞতার ভারী বোঝা বহন করে। তার দলিলের নহরগুলোর প্রশংসা কেন গলিত স্বর্ণের তুলাদণ্ডে হালকা হবে না? আর কৃতজ্ঞতার কাফেলা কেনই বা পথ হারাবে যখন অগ্নিশিখা সদৃশ অলকগুচ্ছ তাকে পথ দেখিয়েছে? তিনি একে প্রসারিত করেছেন এবং গুটিয়ে নিয়েছেন যতক্ষণ না তা উত্তরসূরিদের জন্য রক্ষিত হয়েছে। এতে এমন এক দর্শক বিচরণ করে যে কখনো ক্লান্ত হয় না। তার শেষ দৃষ্টি ছিল তার প্রথম দেখার মতোই বিস্ময়কর। তার বৈচিত্র্যের কারণে সে মোহাচ্ছন্ন হয়ে এক একটি বর্ণ বা কাগজের ওপর তার মাযহাব বা মতবাদ গড়ে তোলে। সে যখন একে বারবার পাঠ করে তখন তার পিপাসা আরও বেড়ে যায়, যদিও সেখানে সুধা পানের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এর তীব্র আলো চোখের মণিকে ধাঁধিয়ে দেয় যখন তা দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

এক লেখকের বর্ণনায় তাবুগুলোর অবস্থা ছিল নিম্নরূপ: তাবুগুলো জীর্ণ হয়ে বিভিন্ন উপাদানে মিশে গেছে। সেগুলো এতটাই পাতলা হয়ে গেছে যে মেঘের বারিবিন্দুর সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। আমরা কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি, আর আমাদের কষ্ট ছিল সেই তাবুগুলোর মাঝে ফাঁটল দেখতে পাওয়া। তাতে আকাশের তালি লাগানো তালি রয়েছে (অর্থাৎ তাবু ছিঁড়ে আকাশ দেখা যায়)। বাতাস বইলে সেগুলো আগে-পিছে নড়াচড়া করে দ্রুত খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়, যেন শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা। তাবুগুলো আমাদের বন্ধনে থাকা সত্ত্বেও আমাদের ত্যাগ করেছে, এবং খুঁটিতে বাঁধা থাকা সত্ত্বেও বিদ্ধ হয়েছে। বাতাস যদি কোনো নিদর্শন পাঠায় তবে তাবুগুলোর গর্দান তার সামনে নত হয়ে থাকে। আমরা যদি সেখানে বসি, তবে তা যেন রাস্তার মোড়ে বসা, আর তাবুগুলো যেন ধ্বংসের পথের ওপর বসে আছে। রাতে যদি তা ভেঙে পড়ে, তবে সেই পতনকে ঠেকানোর বা নিচুকে উপরে তোলার কেউ থাকে না। তাতে কালের সূঁচের এমন ক্ষত রয়েছে যা সেলাই করা যায় না। তাতে কালের এমন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে যা চোখ কখনো সত্য মনে করে আবার কখনো মিথ্যা ভাবে। তার আকাশ উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং বিদীর্ণ হয়েছে; সে তার রবের আদেশ পালন করেছে এবং এটাই তার জন্য সমীচীন ছিল। তার চামড়ায় এমন কোনো আবরণ অবশিষ্ট নেই যা দিয়ে অভিযোগ করা যায়, আর তার ধৈর্য ধরার মতো কোনো শক্তি অবশিষ্ট নেই। যখন বাতাস প্রবাহিত হয়, তখন তাবু ও তার সঙ্গীদের অবস্থা দেখে মনে হয় যেন তারা সেই অপরাধী যারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করছে এবং তাদের সকল সহায়-সম্বল ও উপায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আপনি দেখবেন তার চতুষ্পার্শ্ব কাঁপছে, আর মেঘের ঘনঘটা বাস্তবেই তার ওপর চড়াও হয়েছে। তার খুঁটিগুলো যেন ডালপালা যা বাতাস নাড়িয়ে দিচ্ছে, আর তার রশিগুলো যেন আগুনের ফুলকি যা কোনো স্ফুলিঙ্গ থেকে ছিটকে এসেছে। আর যখন মেঘের সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যুতের তলোয়ার কোষমুক্ত হয় এবং বৃষ্টির ধারা প্রবাহিত হয়, তখন সেই তলোয়ারের সামনে তাবুগুলো আহত সৈনিকের মতো এবং বৃষ্টির স্রোতের পেছনে পরিত্যক্ত লাশের মতো পড়ে থাকে। নূহের পুত্র যে দিন কোনো আশ্রয়দাতা ছিল না যা কামনা করেছিল, তাবুগুলোও তাই কামনা করে। আপনি তাবুগুলোকে পাতিহাঁসের মতো ভাসতে দেখবেন যখন আমরা নিমজ্জিত ও ভাসমান অবস্থার মাঝামাঝি থাকি। আমরা প্রতিদিন একে সীমার বাইরে আঘাত করি এবং গ্রীষ্মকালে যুদ্ধের উত্তাপ ও শীতকালে হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে একে গ্রহণ করি।

(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومن ذلك كتاب أصدره من بعرين، وهو: المستقر ببعرين، حيث أخرجت السماء أثقالها وفتحت من عزاليها أقفالها، وركضت خيل الرعود لابسة من الغيم جلالها، وثوب الليل بماء الغمام غسيل، وشبح الظلام بسيف البرق قتيل، وغراب الأفق في الجو باز، إلا أنه في قوس قزح ناز، وكأن عقارب الظلماء بالثلج أفاع، فليكن ليل قرينتها ليل السليم، وكأن مواقع الرعد قعاقع حلي الغواني فهو لا ينام ولا ينيم، وكأن الصباح قد ذاب في الليل قطرا، وكأن البرق لما ساوى الغمام بين صدفي الليل والنهار قد قال آتوني أفرغ عليه قطرا، وقد ابتل جناح الليل المغدف فما يطير، وأبطا حمام الصبح خلاف ما نحاه في رسالة نوح فما يسير، والرياح وقد أعصفت فقصفت عيدان نجد ورتمها، وخيولها قد ركضها السحاب فكان البرق تحجيلها ورثمها.

فأما الخيام التي قد نضجت جلودها بإيقاد الشمس واسودت، ثم نضحت بدموع الغمام فتراخت أجفانها بعدما اشتدت. فما هي إلا أعين سال منها بالدموع كحلها، وخيول دهم حل عنها بالرياح من الأطناب شكلها، ولا يزال الخصام بينها وبين الأهوية إلى أن تشق الثياب من حربها كما شقها السحاب من طربها، ونحن ندأب في عقد ظنبها، لندخل في عقد حسبها. وهيهات سلبت في البيكار أشباحها، وخرجت بالرياح أرواحها. فالشمس إن طلعت ألقى الشرق جامات تقر على العيان، لا دنانير أبي الطيب التي تفر من البنان. وما لاذت بجانبها الرياح، وأبت على الأطناب من إرسالها في عنان الجماح، إلا أشبهت قطاة غرها شرك وقد علق الجناح، وقذاة هزها درك وقد أبت البراح.

وقد زادت السيول إلى أن صارت هذه الخيام عليها فواقع، وهمهم الرعد قاريا فاستقلت قيامها بين ساجد وراكع. وأنا فيها كعثمان في داره، والخطب قد أخذ في حصاره. فلا يزال نبل الوبل مغرقا، ولا أزال على نفسي من السيل مخندقا. وقد رجعنا إلى النشأة الأولى فعدنا في هذا الماء علقا. ولا كفران لله فإني ملقى على طرق الطوارق، ملقا ما شاب العيش من فراق يشوب بالشيب المفارق. وما كنت أخشى أن ينقلني الدهر من درجة مجانيه المقتطفة، إلى مدرجة مجاريه المجتحفه، ولن يرى أعجب مني ممحلا وأنا أشكو الغدران الغادرة، ومجدبا أتظلم من ظلمات الليالي الماطرة. وقبح الله بعرين، وإن استجن أسد الإسلام منها بعرين، وأنا بريء منها بعدد رمل يبرين.

ومن ذلك: وتلك الجهة وإن كانت غريبة، فإن الغرب مستودع الأنوار، وكنز دينار الشمس ومصب أنهار النهار.

ومن ذلك: وبالجملة، إن كانت البلاغة دينا فقد ألحد من لا يوحده وإن كانت سيفا فقد تعرض للحد من لا يقلده، وإن كانت فراشا فقد نفي عن ظهر البلاغة مالا يلده.

ومن ذلك: فلو ملكتم الدهر لامتطيتم لياليه أداهم، وتقلدتم أيامه صوارم، ووهبتم شموسه وبدوره دنانير ودراهم، وأيامكم أعراس وكأنه ما تم على الأموال فيها مآتم، والجود في أيديكم خاتم ونفس حاتم في نقش ذلك الخاتم.

ومن ذلك: فروح الله تلك الروح، وفتح لها أبواب الجنة فهي آخر ما كانت ترجوه من الفتوح.

ومن ذلك في شرك صنيعه: والله إن صنيعته كالشمس وضوحا لا أجحدها، ولو جاز أن تعبد الشمس في دين الله لكنت أعبدها، فإنها شمس ما ألقت يدا في كافر، ولا وضعت يدا إلا في شاكر.

ومن ذلك: ولو بلغ القول مني إلى السمع لما بلغ إلى القلب، ولو رأيت سيفه خضيبا من مقره في صدري لما استشعرت الحرب، ولو صمم على الضرب لحركته حتى يصير من الضرب لا من الضرب.

ومن ذلك: والقلوب طيبة، والغيوث صيبة، وقد صار على عطف كل زرع منها جبيرة تتبرج وعلى أذن كل قرط منها لؤلؤة تترجرج.

ومن ذلك: فلا عدمت تلك الأنفاس من النفائس، وتلك العقائل العرائس، وتلك الجواهر التي تسرني أن تفضح عرضي، وتلك السهام التي هي والله غرضي.

ومن ذلك: ووثقنا بنجح الطلب، وأمسكنا بقرون حماة فحصلنا على حلب حلب.

ومن ذلك في ذكر النيل يتدافع تياره دافعا في صدر الجدب بيد الخصب، وترضع أمهات خلجه حتى أبناؤها بالعصف والأب.

ومن ذلك: والمهامه قد نشرت ما ملأها من ملاء السراب وزخر فيها ما ولد لغير رشده على فراش السحاب.

ومن ذلك: وإن يصفح عنه الصفح الجميل المألوف من هذا البيت، فبصفحهم أمضى الله حدهم، وبعفوهم أنجح الله جهدهم، وباتباعهم لأبيهم رحمه الله عليه أعلى الله سبحانه جدهم.
বারিন থেকে তিনি যে কিতাবটি প্রকাশ করেছেন সেটি হলো: 'বারিনে অবস্থান', যেখানে আকাশ তার সকল বোঝা নামিয়ে দিয়েছে এবং তার মেঘের থলির তালাগুলো খুলে দিয়েছে। মেঘের সাজ পরিধান করে বজ্রের ঘোড়াগুলো ছুটে চলেছে। রাত্রির পোশাক মেঘের পানিতে ধৌত, আর অন্ধকারের ছায়া বিদ্যুতের তরবারিতে নিহত। দিগন্তের কাক যেন আকাশের বাজপাখি, তবে সে রংধনুর মধ্যে অবস্থান করছে। যেন অন্ধকারের বিচ্ছুগুলো তুষারের কারণে সাপে পরিণত হয়েছে; অতএব তার সঙ্গিনী রাত যেন দংশিত ব্যক্তির রাত হয়। বজ্রপাতের শব্দ যেন রূপসীদের অলঙ্কারের ঝঙ্কার, যা তাকে ঘুমাতেও দেয় না এবং অন্যকে ঘুমানোর সুযোগও দেয় না। যেন প্রভাত রাত্রির মধ্যে ফোঁটায় ফোঁটায় গলে মিশে গেছে। বিদ্যুৎ যখন মেঘের মাঝে রাত ও দিনের দুই প্রান্তকে সমান করল, তখন সে যেন বলল: "আমার কাছে আসো, আমি এর ওপর গলিত তামা ঢেলে দিই।" রাত্রির ঘুটঘুটে অন্ধকারের ডানা ভিজে গেছে, তাই সে আর উড়তে পারছে না। প্রভাতের কবুতর তার গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি করছে, যা নূহের বার্তার বিপরীত, তাই সে আর চলছে না। বাতাস প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়ে নজদ অঞ্চলের ডালপালা ও গাছপালা ভেঙে ফেলেছে। মেঘ যখন বাতাসের ঘোড়াগুলোকে দাবড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন বিদ্যুৎ ছিল তাদের পায়ের শুভ্রতা ও নাসিকার চিহ্ন।

আর সেই তাবুগুলো, সূর্যের তাপে যাদের চামড়া পেকে কালো হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর মেঘের অশ্রুতে সিক্ত হওয়ার পর তাদের সেই শক্ত হয়ে যাওয়া পর্দাগুলো শিথিল হয়ে পড়ল। সেগুলো যেন এমন চোখ যার সুরমা অশ্রুর সাথে গড়িয়ে পড়ছে, অথবা এমন কালো ঘোড়া যাদের বাঁধন বাতাসের কারণে আলগা হয়ে গেছে। বাতাসের সাথে তাদের বিবাদ চলতেই থাকে যতক্ষণ না যুদ্ধের কারণে তাদের কাপড় ছিঁড়ে যায়, যেমনটা আনন্দের আতিশয্যে মেঘ তার কাপড় বিদীর্ণ করে। আমরা তাদের রশি বাঁধতে আপ্রাণ চেষ্টা করি, যাতে তাদের উচ্চ মর্যাদার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি। হায় আফসোস! যুদ্ধের ময়দানে তাদের অবয়বগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বাতাসের ঝাপটায় তাদের প্রাণ বেরিয়ে গেছে। সূর্য উদিত হলে পূর্ব দিগন্ত থেকে এমন সব সুশোভিত পাত্র প্রকাশ পায় যা চোখের সামনে স্থির থাকে; আবুত তায়্যিবের সেই দিনারগুলোর মতো নয় যা আঙুলের ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যায়। বাতাস যখনই তার পার্শ্বে আশ্রয় নিয়েছে এবং অবাধ্য ঘোড়ার লাগাম ছাড়ার মতো রশিগুলোকে ছেড়ে দিতে অস্বীকার করেছে, তখনই তা সেই তিতির পাখির মতো হয়ে গেছে যাকে ফাঁদ ধোঁকা দিয়েছে এবং তার ডানা আটকে গেছে, অথবা সেই ধূলিকণার মতো যাকে কোনো বাধা নাড়িয়ে দিয়েছে অথচ সে সরতে অস্বীকার করেছে।

বন্যা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে তাবুগুলো তার ওপর ভাসমান বস্তুর মতো হয়ে গেছে। বজ্র যেন পাঠকারী হিসেবে গর্জন করছে, আর তাবুগুলো রুকু ও সেজদাকারীদের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। আমি এর মধ্যে নিজ গৃহে অবরুদ্ধ উসমানের মতো হয়ে আছি, আর বিপদ আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। বৃষ্টির তীর বিরামহীনভাবে আমাকে ডুবিয়ে দিচ্ছে, আর আমি বন্যার হাত থেকে বাঁচতে নিজের চারপাশে পরিখা খনন করছি। আমরা যেন আমাদের আদি সৃষ্টিতে ফিরে গেছি এবং এই পানিতে পুনরায় জমাট রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়েছি। আল্লাহর প্রতি কোনো অকৃতজ্ঞতা নয়, তবে আমি যেন বিপদাপদের পথে নিক্ষিপ্ত হয়েছি। জীবনের এই সফর এমন এক বিচ্ছেদে মলিন হয়ে গেছে যা বার্ধক্যের শুভ্রতাকে স্পর্শ করে। আমি কখনো আশঙ্কা করিনি যে, মহাকাল আমাকে ফলমূল আহরণের স্তর থেকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া স্রোতের পথে টেনে নিয়ে যাবে। আমার চেয়ে আশ্চর্য অভাবগ্রস্ত আর কেউ হবে না, যখন আমি বিশ্বাসঘাতক জলাশয়গুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি এবং এই বর্ষণমুখর রাত্রির অন্ধকার নিয়ে বিলাপ করছি। আল্লাহ বারিনকে লাঞ্ছিত করুন, যদিও ইসলামের সিংহ (সুলতান) সেখানে তার গুহা বানিয়েছিলেন; আমি ইয়াবরিনের বালুকণার সমপরিমাণ এই স্থান থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: সেই দিকটি যদিও অচেনা, তবে পশ্চিম হলো আলোর আধার এবং সূর্যের দিনারের ভাণ্ডার ও দিনের নহরগুলোর উৎপত্তিস্থল।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: সারকথা হলো, অলঙ্কারশাস্ত্র যদি কোনো ধর্ম হতো, তবে যে ব্যক্তি তাকে এক বলে স্বীকার করে না সে নাস্তিক বলে গণ্য হতো। তা যদি তরবারি হতো, তবে যে তাকে ধারণ করে না সে তার ধারের সামনে পড়ত। আর তা যদি বিছানা হতো, তবে অলঙ্কারশাস্ত্রের পিঠ থেকে তাকে বিতাড়িত করা হতো যে তার বংশধর নয়।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: যদি আপনারা মহাকালের মালিক হতেন, তবে এর রাতগুলোকে কালো ঘোড়া হিসেবে ব্যবহার করতেন এবং দিনগুলোকে ধারালো তলোয়ার বানাতেন। আপনারা এর সূর্য ও পূর্ণিমাকে দিনার ও দিরহাম হিসেবে দান করতেন। আপনাদের দিনগুলো যেন একেকটি উৎসবের বাসর, যেন সেখানে সম্পদের জন্য কোনো শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়নি। দানশীলতা আপনাদের হাতের আংটি, আর হাতেম তায়ীর আত্মা সেই আংটির নকশায় খোদাই করা।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: আল্লাহ সেই আত্মাকে শান্তি দিন এবং তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দিন; কারণ জান্নাতই ছিল তার বিজয়ের শেষ আকাঙ্ক্ষা।

অন্যত্র তিনি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বলেছেন: আল্লাহর কসম! তাঁর অনুগ্রহ সূর্যের মতো স্পষ্ট, আমি তা অস্বীকার করি না। যদি আল্লাহর ধর্মে সূর্য পূজা বৈধ হতো, তবে আমি অবশ্যই তা পূজা করতাম। কারণ এটি এমন এক সূর্য যা কোনো অকৃতজ্ঞের হাতে পড়েনি এবং যা কোনো কৃতজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো হাত স্পর্শ করেনি।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: আমার কথা যদি কানে পৌঁছাত তবে তা হৃদয়েও পৌঁছাত। যদি আমি তাঁর তলোয়ারকে আমার বক্ষপিঞ্জরে রঞ্জিত অবস্থায় দেখতাম, তবে আমি যুদ্ধের আশঙ্কা করতাম না। তিনি যদি আঘাত করার সংকল্প করেন, তবে আমি তাঁকে এমনভাবে চালিত করব যাতে আঘাতটি যন্ত্রণাদায়ক না হয়ে বরং বীরত্বপূর্ণ হয়।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: অন্তরগুলো পবিত্র এবং বৃষ্টিধারা বর্ষণশীল। প্রতিটি শস্যের ডগায় অলঙ্কারের মতো তা জলজল করছে এবং প্রতিটি কানের লতিতে মুক্তার মতো দুলছে।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: আমি যেন সেই মূল্যবান নিশ্বাসগুলো এবং সেই প্রিয়তমা নববধূদের থেকে বঞ্চিত না হই। সেই মুক্তোগুলো আমাকে আনন্দিত করে যা আমার সম্মানকে ছাপিয়ে যায়, আর সেই তীরগুলোই আল্লাহর কসম আমার পরম লক্ষ্য।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: আমরা সাফল্যের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম এবং হামার (শহর) শিং আঁকড়ে ধরেছিলাম, ফলে আমরা হালবের (শহর) দুধ দোহন করতে সমর্থ হয়েছি।

নীলনদের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: তার স্রোত প্রাচুর্যের হাত দিয়ে দুর্ভিক্ষের বুককে প্রতিহত করছে। তার শাখা-প্রশাখাগুলোর রূপক মায়েরা তাদের সন্তানদের ঘাস ও শস্য দিয়ে দুগ্ধপান করাচ্ছে।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: মরুভূমিগুলো মরিচীকার চাদরে ঢাকা পড়েছে এবং সেখানে মেঘের গর্ভে জন্ম নেওয়া সেই প্লাবন উত্তাল হয়ে উঠেছে যা কোনো সঠিক পথ ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যত্র তিনি বলেছেন: এই পরিবারের চিরাচরিত সুন্দর ক্ষমা যদি তাকে বেষ্টন করে থাকে, তবে তাদের সেই ক্ষমার বদৌলতে আল্লাহ তাদের তেজ বৃদ্ধি করেছেন, তাদের মার্জনার কারণে আল্লাহ তাদের প্রচেষ্টাকে সফল করেছেন এবং তাদের মরহুম পিতার অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের সৌভাগ্যকে উচ্চকিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن ذلك: والله بيننا وبين البين، فما أكثر فضوله ودخوله بين المحبين.

ومن ذلك: وقد وصل كتابه الكريم جواباً بل ثواباً عن كتابي العافي، وأسفر بشر صفحة بره المخفي وكل بشر لا إخفاء معه فهو بشر الحافي.

ومن ذلك: والقصائد أنا مترقب وصولها بأي خط اتفق، فعربيتها لا تغولها عجمة الناقل، ونور حقها يعرف من ظلمة الباطل، وما يضر محاسن سحبان أن تجري على لسان باقل.

ومن ذلك: سعدا لا يصوح منه مربعه الأخضر، أمنا لا يحزنه الفزع الأكبر، مطاعا بنفاذ تصريفه الأبيض والأسمر، محبوب القلم حتى لو عاداه السيف لقيل له إن شانئك هو الأبتر.

ومن ذلك: ولا أعدمني تفضله الذي تفض له صحائف الود، وتفاظ عليه طرائق الحمد، وعهده الذي جمع إلى بقاء الآس نضارة الورد، وإلى رواء الروض ري الورد.

ومن ذلك: وإلى أن تنجلي عنا هذه الغمره، وإلى أن تجف مناديل العيون فإنها كانت بالدموع عصره.

ومن ذلك: وفداه بأوليائه وإخوانه، ولا كرامة لأعدائه ولا نعمة لحسده، وأبقى على الدهر سؤدده الذي أجار بنيه من سوء دده.

ومن ذلك: ورد من سيدنا كتابان شرحا الصدر وسرا السر وسريا الهم، ولقياني بالفتح ولقيتهما بالضم.

ومن ذلك: ورد المثال الشريف من الديوان العزيز، فأبى له الضلال نوره، وأناله الهدى والهدو إسفاره وسفوره، وجلا وجله ملا أمله حبوره وحبيره، وما عدت أن غدت جنته وجريره جنته وحريره، وراض طرف طرفه في روض أنف أنف أن يعبر عنه إلا عبيره، وحلا عنه الآثام وأحله الدرجات العلا فهو سواره وسوره وسريره.

ومن ذلك: قسم فعدل، وأجزل فأفضل، وبلغ فلم يكن في بلاغ بلاغ، وفتح زهرا ما كان مثله ما يطول إليه باع باغ، فلله هو من كتاب ولله قلمه، فهذا أورد ما ساغ، وهذا قلد ما صاغ.

ومن ذلك: فأما الكتاب إلى غريم الجمال فالله يجمع المال على الجمال ويريحه من اتفاق هاتين السجعتين حتى يكون الجمال الجم المال.

ومن ذلك: والفضل بيد الله يؤتيه أهله، وقد زاده منه فلا عدم فضله، فما يجاريه مجار إلا حمق وكان في طريق السيل بقله.

ومن ذلك كل لفظة موصولة بأنة، وفي كل قلب من حزنه نار وفي كل دار من فضله جنة.

ومن ذلك: فما وصلت إلى مكان العافية منه، إلا وقد امتقعت واقتطعت وقلت بقية السلف الوضاح، وسحاب الفضل حوشي أن يضف حتى يكاد يرفعه من قام بالراح.

ومن ذلك: وأغناه بحراسة لفظه عن احتراسه، وأغنى الملك عن إعمال سهمه بقرطاسه.

ومن ذلك: وأدام سيادته على أهله، وأعاذه بخصب رحله من محل محله، ولا عدمنا من لفظه ما يشهد أنه الشهد حقا لا نحلة نحله ولا نحيلة نخله.

ومن ذلك: وأهلك كل عدو له وأذله، وجعل الحياة قذى وأذى له، ووقفت منهما على البلاغة المسرودة الموضونة، والجواهر الثمينة المكنونة، والثمرات التي اجتناها من شجرة البلاغة الطيبة، ومن الناس من يجتني من الشجرة الملعونة.

ومن ذلك: هو ذلك الفرع الذي سقاه حتى التف في ورقه، وخطر في سندسه وإستبرقه، وشافه منه بياض الفجر بعدما كان لا يظفر بأزرقه.

ومن ذلك: وبات الناس بالحصن مطيفين والنيران بهم مطيفة وعليهم مشتملة، وعذبات ألسنتها على وجهه مسدلة ومن خلفه مسبلة، ولفحاتها جهنمية وقودها الناس والحجارة، والبلاء ينادي طبرية وإياك أعني واسمعي يا جارة.

ومن ذلك: ولا زالت الملوك ببابه وقوفا، والأقدار له سيوفا. والخلق له في دار الدنيا ضيوفا، ودين دين الحق يعلم الناس إذا جرد لتقاضيه سيوفا أن سيوفى.

أقول: كيف رأيت هذه الدرر المتسقة والمحاسن المتفقة؟ هل أتى غيره بهذا النمط، أو ظفرت بهذه النكت في ذخائر الكتاب قط:

هذا كلامٌ عن الأملاك محتجبٌ … فلا تذله بإكثارٍ على السّوق

وسوف يرد له في أثناء هذا الكتاب ما تدور عليه كؤوسه، وتشرق شموسه.

‌‌الصفدي ينتقد ابن الأثير في بعض من إنشائه

وأما قول ابن الأثير رحمه الله في هذا الفصل الذي قدمته: إلا من ملكه لسانا هجاما وخاطرا رقاما.

فأقول: ما أدري ما أقوله في هذا، أي مناسبة بين هجام ورقام: ثم إن استعارة الرقم للخاطر بعيدة، وإنما الرقم لليد حقيقة وللقلم مجاز. وما معنى اللسان الهجام، ولو قال لسانا قوالا، وخاطرا جوالا، أو لسانا حاد الغرب، وجنانا لا يهاب الحرب، أو لسانا نظاما، وبنانا رقاما، أو ما أشبه ذلك لكان أحسن.
এবং এর অন্তর্ভুক্ত: আল্লাহ আমাদের এবং বিচ্ছেদের মাঝে আছেন; প্রেমিকদের মাঝে এর অনধিকার প্রবেশ ও হস্তক্ষেপ কতই না অধিক।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: তাঁর মহান লিপিটি আমার মার্জনাপ্রার্থী পত্রের উত্তর নয়, বরং সওয়াব বা পুরস্কার হিসেবে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে তাঁর গোপন দাক্ষিণ্যের পৃষ্ঠার শুভ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে; আর যে সুসংবাদের সাথে কোনো গোপনীয়তা থাকে না, তা হলো বিশর আল-হাফী (এর ন্যায় নিঃস্বার্থ)।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: কবিতাগুলোর আগমনের অপেক্ষায় আমি প্রহর গুনছি, তা যে হস্তাক্ষরেই হোক না কেন। কারণ এর আরবী অলঙ্কার অনুবাদকের অনারবীয় অস্পষ্টতা দ্বারা গ্রাস হবে না, এবং এর সত্যের নূর বাতিলের অন্ধকার থেকে চিনে নেওয়া যায়। সাহবান (এর ন্যায় বাগ্মী)-এর সৌন্দর্য বর্ণনায় বাকিল (এর ন্যায় তোতলা)-এর জিহ্বায় তা প্রবাহিত হওয়া কোনো ক্ষতি করে না।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: এমন সৌভাগ্য যার সবুজ প্রাঙ্গণ শুষ্ক হয় না; এমন নিরাপত্তা যাকে মহাভীতি বিষাদাচ্ছন্ন করে না; এমন আনুগত্য যার সাদা ও কালো সকল প্রকার আদেশ কার্যকর হয়; এমন কলম যা সবার প্রিয়, এমনকি তলোয়ার যদি এর সাথে শত্রুতা করে তবে বলা হবে, 'নিশ্চয়ই তোমার শত্রুই নির্বংশ'।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: আমি যেন তাঁর সেই অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত না হই যার জন্য ভালোবাসার দফতরসমূহ খুলে যায় এবং প্রশংসার পথসমূহ উন্মুক্ত হয়; এবং তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি যা চিরস্থায়ী আস বৃক্ষের সাথে গোলাপের সজীবতাকে এবং উদ্যানের সৌন্দর্যের সাথে তৃষ্ণা নিবারণকারী বারিধারাকে একত্রিত করেছে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: যতক্ষণ না আমাদের ওপর থেকে এই দুর্যোগ অপসারিত হয়, এবং যতক্ষণ না চোখের রুমালগুলো শুকিয়ে যায়, কেননা চোখের পানিতে তা সিক্ত ছিল।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: তিনি তাঁর বন্ধু ও ভাইদের তাঁর জন্য উৎসর্গ করেছেন; তাঁর শত্রুদের জন্য কোনো সম্মান নেই এবং তাঁর হিংসুকদের জন্য কোনো নিয়ামত নেই। কালক্রমে তাঁর সেই শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ থাকুক যা তাঁর সন্তানদের মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করেছে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: আমাদের সায়্যিদের পক্ষ থেকে দুটি পত্র এসেছে যা বক্ষকে প্রশস্ত করেছে, গোপনকে আনন্দিত করেছে এবং দুশ্চিন্তা দূর করেছে। পত্রদ্বয় বিজয়ের সাথে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছে আর আমি তাদের আলিঙ্গনের সাথে গ্রহণ করেছি।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: উচ্চতর দপ্তর থেকে মহিমান্বিত ফরমান এসেছে, যার আলোকে পথভ্রষ্টতা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হেদায়েত ও প্রশান্তি এর উন্মোচন ও প্রকাশ ঘটিয়েছে। এর ভীতি অপসারিত হয়েছে এবং এর আশার পূর্ণতা এর আনন্দ ও সৌন্দর্যকে উদ্ভাসিত করেছে। এর জান্নাত ও অপরাধ জান্নাত ও রেশমে পরিণত হতে বিলম্ব করেনি। এর দৃষ্টির প্রান্ত সজীব উদ্যানে বিচরণ করেছে, যার সুগন্ধি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা বর্ণনা করা অসম্ভব। এটি থেকে পাপরাশি দূরীভূত হয়েছে এবং একে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে; এটিই তাঁর কঙ্কণ, প্রাচীর এবং সিংহাসন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: তিনি বণ্টন করেছেন এবং ন্যায়বিচার করেছেন, অঢেল দান করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি লক্ষ্যে পৌঁছেছেন ফলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো অপূর্ণতা ছিল না। তিনি এমন পুষ্প প্রস্ফুটিত করেছেন যার সমতুল্য কিছু কোনো অন্বেষণকারীর সাধ্যে ছিল না। ধন্য সেই কিতাব এবং ধন্য তাঁর কলম; এটি যা সহজ তা বর্ণনা করেছে এবং ওটি যা অলংকৃত তা ভূষিত করেছে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: সৌন্দর্যের ঋণী ব্যক্তির কাছে প্রেরিত পত্রের ক্ষেত্রে আল্লাহ যেন সৌন্দর্যের সাথে সম্পদকে একত্রিত করেন এবং তাকে এই দুই ছন্দের মিল থেকে স্বস্তি দেন, যাতে সৌন্দর্যই প্রচুর সম্পদে পরিণত হয়।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি তা তাঁর যোগ্য বান্দাদের দান করেন। তিনি তাঁকে তা থেকে আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছেন, তাঁর অনুগ্রহ যেন শেষ না হয়। কোনো প্রতিযোগী তাঁর সাথে পাল্লা দিতে পারে না, দিলে সে কেবল নির্বুদ্ধিতারই পরিচয় দিবে এবং প্লাবনের পথে ঘাসের মতো ভেসে যাবে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: প্রতিটি শব্দই দীর্ঘশ্বাসের সাথে যুক্ত। তাঁর শোকে প্রতিটি হৃদয়ে আগুন এবং তাঁর দাক্ষিণ্যে প্রতিটি ঘরে জান্নাত।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: আমি তাঁর থেকে সুস্বাস্থ্যের স্থানে পৌঁছাতে পারিনি যতক্ষণ না আমি বিবর্ণ ও বিচ্ছিন্ন হয়েছি এবং বলেছি, এ যেন উজ্জ্বল উত্তরসূরিদের অবশিষ্টাংশ। আর অনুগ্রহের মেঘকে অত্যন্ত সম্মান জানানো হয়েছে যেন শরাব পরিবেশনকারী ব্যক্তি তাকে প্রায় তুলেই ধরেছে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: তিনি তাঁর শব্দের রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে তাকে সতর্কতা অবলম্বনের ঝামেলা থেকে মুক্ত করেছেন এবং বাদশাহকে তাঁর কাগজের ওপর তীর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: তাঁর পরিজনদের ওপর তাঁর নেতৃত্ব স্থায়ী হোক। তাঁর বসতির উর্বরতার মাধ্যমে তাঁকে অনাবৃষ্টির দশা থেকে রক্ষা করুন। আমরা যেন তাঁর সেই বাণী থেকে বঞ্চিত না হই যা সাক্ষ্য দেয় যে তা প্রকৃতই মধু, কোনো মৌমাছির দান নয় এবং কোনো শীর্ণ খেজুর গাছও নয়।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: তিনি তাঁর সকল শত্রুকে ধ্বংস ও লাঞ্ছিত করেছেন এবং জীবনকে তাদের জন্য কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকর করেছেন। আমি তাঁর সেই সুবিন্যস্ত ও সুসংবদ্ধ অলঙ্কারশাস্ত্র, অমূল্য নিহিত মুক্তাসমূহ এবং সেই ফলসমূহ প্রত্যক্ষ করেছি যা তিনি পবিত্র অলঙ্কার বৃক্ষ থেকে আহরণ করেছেন; অথচ কিছু মানুষ আছে যারা অভিশপ্ত বৃক্ষ থেকে ফল আহরণ করে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: তিনি সেই শাখা যাকে তিনি সিক্ত করেছেন যতক্ষণ না তা পাতায় ছেয়ে গেছে এবং রেশম ও মখমলের ন্যায় দুলতে শুরু করেছে। নীল আকাশ পাওয়ার আগেই তিনি ভোরের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করেছেন।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: মানুষ দুর্গের চারপাশে রাত কাটিয়েছে এবং আগুন তাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছিল। আগুনের শিখার অগ্রভাগ তাঁর চেহারার ওপর লটকে ছিল এবং তাঁর পেছন দিক থেকে ঝুলছিল। এর উত্তাপ ছিল জাহান্নামের ন্যায় যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর। আর বিপদ তাবারিয়াকে ডেকে বলছিল, 'তোমাকেই বলছি, ওহে প্রতিবেশী, তুমি শোনো'।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত: রাজন্যবর্গ যেন সর্বদা তাঁর দ্বারে দণ্ডায়মান থাকে এবং ভাগ্য যেন তাঁর তলোয়ার হয়ে থাকে। সৃষ্টিজগত যেন ইহকালে তাঁর মেহমান হয়ে থাকে। সত্য দ্বীন মানুষকে শিক্ষা দেয় যে, যখন পাওনা আদায়ের জন্য তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় পরিশোধ করা হবে।

আমি বলছি: আপনি এই সুশৃঙ্খল মুক্তামালা এবং সুসংগত সৌন্দর্যকে কেমন দেখলেন? তিনি ছাড়া অন্য কেউ কি এই ধারা নিয়ে আসতে পেরেছে, অথবা লেখকগণের ভাণ্ডারে আপনি কি কখনো এমন সূক্ষ্ম বিষয় লাভ করেছেন:

এই বাণী রাজন্যবর্গের নিকট থেকে আবৃত... সুতরাং বাজারে এর আধিক্যের মাধ্যমে একে লাঞ্ছিত করবেন না।

এই গ্রন্থের মাঝে আরও এমন কিছু আসবে যার চারদিকে পাত্রসমূহ আবর্তিত হবে এবং যার সূর্যসমূহ উদিত হবে।

‌‌আস-সাফাদী ইবনুল আসীরের কিছু রচনার সমালোচনা করছেন

ইবনুল আসীর (রহিমাহুল্লাহ) পূর্বে উল্লিখিত এই পরিচ্ছেদে যা বলেছেন: "কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যাকে আক্রমণাত্মক জিহ্বা এবং লেখক-মন দেওয়া হয়েছে।"

আমি বলছি: এই বিষয়ে কী বলব তা আমি জানি না। 'হাজ্জাম' (আক্রমণকারী) এবং 'রাক্কাম' (লেখক)-এর মধ্যে সম্পর্ক কী? তাছাড়া 'মন'-এর ক্ষেত্রে 'লিখন' শব্দের রূপক ব্যবহারটি দূরবর্তী। মূলত 'লিখন' প্রকৃত অর্থে হাতের কাজ এবং রূপক অর্থে কলমের কাজ। আর 'আক্রমণাত্মক জিহ্বা' অর্থই বা কী? যদি তিনি বলতেন: 'প্রগলভ জিহ্বা ও বিচরণশীল মন' অথবা 'তীক্ষ্ণ জিহ্বা ও রণভীতিহীন হৃদয়' অথবা 'সুবিন্যস্ত জিহ্বা ও লেখক আঙ্গুলি' কিংবা অনুরূপ কিছু, তবে তা অধিকতর সুন্দর হতো।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২০)
قال في هذا الفصل: ومن وقف على ما ذكرته علم أني لم آت شيئاً فريا، وأن الله قد جعل تحت خاطري من بنات الأفكار سريا.

أقول إنه هنا في مقام تعظيم لما أتى به في فن الكتابة من حل المنظوم والآيات الكريمة، فقوله، شيئاً فريا ينافي هذا المقام، لأن الفري العظيم أو الشيء المختلق المصنوع، فإذا قال: ما أتيت شيئاً عظيما، أو شيئاً مختلقا مصنوعا، لم يكن ذلك مناسبا.

وأما السري فإنه النهر الصغير، ومن ذهب إلى أنه عيسى عليه السلام، بمعنى أنه واحد من سراة الناس، فإنه غلط منه.

قال لبيد يصف حمر الوحش:

فتوسّطا عرض السّريّ وصدّعا … مسجورةً متجاوراً قلاّمها

فالسري: النهر الصغير. والمسجورة: صفة للعين المملوءة.

وما أحسن قول أبي المقدام الخزاعي من جملة قصيدته المشهورة في اللغز:

وسريّا رأيته وسط قوم … ماكثا ما يريد عنهم زوالا

تشرب الخمر دونه وسقوه … حين دارت رحاهم أبوالا

السري: هو النهر الصغير وعليه سياق الكلام. وسياق الآية الكريمة يدل على بطلان قول من قال هو كناية عن عيسى عليه السلام لأنه تعالى قال: " وكلي واشْرَبي " أي كلي من الرطب الجني، واشربي من النهر، وإذا ثبت هذا فما أدري ما معنى قوله تحت خواطري من بنات الأفكار سريا فإن أراد الذي ذهب إليه من زعم السري هو عيسى عليه السلام، فكان ينبغي له أن يقول سريات لأنه صفة لبنات، وإن كان المراد النهر فلا معنى له.

ولو قال: علم أني امتلأت من ذلك ريا، وأن الله قد جعل تحت فكري من هذا النوع سرياً.

قال أيضاً بعد ذلك: والذي يعلمها منهم يرضى بالحواشي والأطراف، ويقنع من لآلئها بمعرفة ما في الأصداف.

أقول: ما أدري معنى هذه القرينة الثانية ما هو؟ فإنه ما في الأصداف إلا اللؤلؤ ولو قال: ويترك اللآلىء ويضم الأصداف، لكان أحسن.

قال: ولو استخرج منها ما استخرجت، واستنتج منها استنتجت لهام بها في كل واد، وتزود إلى سلوك طريقها كل زاد.

أقول: هذه السجعة الأخيرة محلولة باردة لا معنى تحتها. ولو قال: لهام بها في كل واد، وارتفع لها في مظهر الربا وانخفض في مضمر الوهاد، لكان أحسن.

‌‌ادعاء ابن الأثير الإبداع في رسالة له

‌‌في ذم الشيب

قال في هذا الفصل: ومن ذلك ما ذكرته في فصل من كتاب يتضمن ذم الشيب فقلت: والعيش كل العيش في سن الحداثة، وما يأتي بعدها فلا يدعى إلا بسن الغثاثة، وليس بعد الأربعين من مصيف للذة ولا مربع، وهي نهاية القوة الصالحة من الطبائع الأربع فإذا تجاوزها المرء أشفت ثمار عمره على خرصها، وصارت زيادته كزيادة التصغير تدل على نقصها، ويصبح بعد ذلك وهو يدعى أبا بعد أن كان يدعى ابنا، ويتقمص من المشيب ثوباً لا يجتر ذيله خيلاء ولا يزهى به حسنا. وإن قيل إن أحسن الثياب شعاراً البياض قيل: إلا هذا الثوب فإنه مستثنى، ويكفيه من الفظاعة أنه ينظر الأحباب إليه نظر القال، ولولا أن الخمود بعده لما استعير له لفظ الاشتعال. ومن الناس من يدلس لونه بصبغة الخضاب، وليس ذلك إلا حدادا على فقد الشباب، وهو في فعله هذا كاذب ولا يخفى أنس الصدق من وحشة الكذاب. وخداع النفس أن تسلو عن بسره المعطلة وقصره المشيد، ويحسن لها الخروج في ثوب مرقع وهي تراه بعين الثوب الجديد ثم قال وبعض هذا مأخوذ من شعر ابن الرومي. وهو قوله:

رأيت خضاب المرء بعد مشيبه … حدادا على شرخ الشبيبة يلبس

غير أن في هذا الفصل معاني كثيرة لا توجد في كلام آخر.

أقول: قد ادعى أنه ابتكر ما فيه هذا الفصل من المعاني، وأنا أذكر أبياتا تدل على أخذ كلامه منها.

قال أبو الطيب:

آلة العيش صحةٌ وشباب … فإذا وليّا عن المرء ولّى

وقال التهامي أيضاً:

وطري من الدّنيا الشباب وروقه … فإذا انقضى فقد انقضت أوطاري

وقال ابن أبي حصينة:

كأنّ الفتى يرقى من العيش سلّما … إلى أن يجوز الأربعين وينحطّ

وقال سبط التعاويذي:

وعلو السن قد كس … ر بالشيب نشاطي

كيف سموه عوا … وهو أخذٌ في انحطاط

وقال أبو الطيب في معنى أن زيادة التصغير نقص:

وكان ابنا عدو كاثراه … له يائي حروف أنيسيان
তিনি এই পরিচ্ছেদে বলেছেন: যে ব্যক্তি আমি যা উল্লেখ করেছি তা লক্ষ্য করবে, সে জানতে পারবে যে আমি অদ্ভুত বা অলীক কিছু নিয়ে আসিনি, এবং আল্লাহ আমার চিন্তার গভীরে সূক্ষ্ম ধারণার এক প্রস্রবণ দান করেছেন।

আমি বলি, তিনি এখানে রচনাশৈলীর শিল্পে পদ্য ও পবিত্র আয়াতসমূহের ব্যবহারের মাধ্যমে যা পেশ করেছেন, তার মহিমা প্রকাশের অবস্থানে রয়েছেন। সুতরাং তার উক্তি "অদ্ভুত কিছু" (ফারিয়া) এই অবস্থানের বিপরীত, কারণ "ফারি" বলতে মহান কিছু অথবা বানোয়াট ও কৃত্রিম কিছু বোঝায়। তাই যখন তিনি বলেন: আমি কোনো মহান কিছু বা বানোয়াট কিছু নিয়ে আসিনি, তখন তা এই প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।

আর "সারিয়্যুন" (সারি) বলতে ছোট নদী বোঝায়। আর যারা মনে করেন যে এর দ্বারা ঈসা আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে, এই অর্থে যে তিনি মানুষের মধ্যে একজন মহান ব্যক্তি (সারাতিহিম), সেটি তাদের ভুল।

লাবীদ বন্য গাধার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:

তারা ছোট নদীর প্রস্থের মধ্যস্থলে পৌঁছাল এবং বিদীর্ণ করল … কানায় কানায় পূর্ণ এমন এক জলাশয়কে যার চারপাশ ঘন ঝোপঝাড়ে ঘেরা।

সুতরাং "সারি" হলো ছোট নদী। আর "মাসজুরাহ" হলো পূর্ণ জলাধারের বিশেষণ।

আবু আল-মিকদাম আল-খুজায়ীর তার ধাঁধা বিষয়ক প্রসিদ্ধ কাসিদার এই অংশটি কতই না সুন্দর:

আমি এক ছোট নদীকে দেখলাম এক কওমের মাঝে অবস্থান করছে … সে স্থির হয়ে আছে, তাদের ছেড়ে যেতে চায় না।

তারা তার সামনে শরাব পান করে, আর যখন তাদের জীবনচক্র আবর্তিত হয় … সে তখন তাদের মূত্র পান করায়।

"সারি" হলো ছোট নদী এবং আলোচনার প্রেক্ষাপটও তাই। পবিত্র আয়াতের প্রেক্ষাপট সেই ব্যক্তির উক্তির অসারতা প্রমাণ করে, যে বলেছিল এটি ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ইঙ্গিত। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তুমি আহার করো এবং পান করো।" অর্থাৎ পাকা খেজুর খাও এবং নদী থেকে পান করো। এটি প্রমাণিত হলে আমি জানি না তার এই কথার অর্থ কী যে, "আমার চিন্তার গভীরে সূক্ষ্ম ধারণার প্রস্রবণ (সারি)"? যদি তিনি সেই অর্থই উদ্দেশ্য করে থাকেন যারা মনে করে "সারি" হলো ঈসা আলাইহিস সালাম, তবে তার উচিত ছিল "সারিয়্যাত" বলা, কারণ এটি "বানাত" (কন্যাদের) এর বিশেষণ। আর যদি এর দ্বারা নদী উদ্দেশ্য হয়, তবে এর কোনো অর্থ হয় না।

যদি তিনি বলতেন: সে জানল যে আমি তাতে সিক্ত হয়েছি এবং আল্লাহ আমার চিন্তার তলে এই ধরণের একটি ঝরনা প্রবাহিত করেছেন, তবে তা উত্তম হতো।

এরপর তিনি আরও বলেছেন: তাদের মধ্যে যারা এগুলো সম্পর্কে জানে, তারা কেবল প্রান্তিক বিষয় ও খুঁটিনাটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে এবং মুক্তার বদলে ঝিনুকের খোসায় যা আছে তা জেনেই তুষ্ট হয়।

আমি বলি: এই দ্বিতীয় চরণের অর্থ কী আমি জানি না। কারণ ঝিনুকের খোসায় মুক্তা ছাড়া আর কী থাকে? যদি তিনি বলতেন: সে মুক্তা ত্যাগ করে ঝিনুক আঁকড়ে ধরে, তবে তা আরও সুন্দর হতো।

তিনি বলেছেন: আমি যা আহরণ করেছি তা যদি সে আহরণ করত, এবং আমি যা উদ্ভাবন করেছি তা যদি সে করত, তবে সে প্রতিটি উপত্যকায় তার জন্য ব্যাকুল হয়ে ঘুরত এবং তার পথে চলার জন্য সমস্ত পাথেয় সংগ্রহ করত।

আমি বলি: এই শেষ অনুপ্রাসটি অত্যন্ত নিস্তেজ, এর অন্তরালে কোনো গভীর অর্থ নেই। যদি তিনি বলতেন: সে প্রতিটি উপত্যকায় তার জন্য উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরত, তার জন্য টিলার শিখরে উড্ডীন হতো এবং গহ্বরসমূহের গভীরে অবনমিত হতো, তবে তা আরও সুন্দর হতো।

‌‌ইবনে আল-আছিরের তার একটি পত্রে উদ্ভাবনের দাবি

‌‌বার্ধক্যের নিন্দায়

তিনি এই পরিচ্ছেদে বলেছেন: এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমি বার্ধক্যের নিন্দা সম্বলিত একটি গ্রন্থের পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছি, আমি বলেছি: জীবন মানেই হলো যৌবনকালের জীবন, আর এর পরে যা আসে তাকে কেবল অপদার্থতা বা জীর্ণতার বয়সই বলা যায়। চল্লিশের পরে লালসার কোনো বসন্ত নেই, নেই কোনো চারণভূমি। এটি চারটি স্বভাবজাত গুণের মধ্যে থাকা সঠিক শক্তির শেষ সীমা। যখন মানুষ এটি অতিক্রম করে, তখন তার জীবনের ফলসমূহ ঝরে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং তার বৃদ্ধি তখন তাসগিরের (শব্দকে ক্ষুদ্রার্থে রূপান্তরের নিয়ম) বৃদ্ধির মতো হয়ে যায় যা তার ঘাটতিকেই নির্দেশ করে। এরপর সে 'পিতা' নামে অভিহিত হয় যেখানে আগে সে 'পুত্র' নামে অভিহিত হতো। সে বার্ধক্যের এমন এক পোশাক পরিধান করে যার আঁচল সে অহংকারে টেনে নিয়ে যেতে পারে না এবং যার সৌন্দর্যে সে গর্বিত হতে পারে না। যদি বলা হয় যে সর্বোত্তম পোশাক হলো সাদা শুভ্র পোশাক, তবে বলা হবে: এই পোশাকটি ব্যতীত, কারণ এটি ব্যতিক্রম। এর কদর্যতার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে প্রিয়জনরা এর দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকায়। আর যদি এর পরে মৃত্যুর স্তব্ধতা না থাকত, তবে এর জন্য 'প্রজ্বলন' শব্দ ধার করা হতো না। কিছু মানুষ কলপের মাধ্যমে এর রং আড়াল করে ধোঁকা দেয়, আর এটি যৌবন হারানোর শোক পালন ছাড়া আর কিছুই নয়। সে তার এই কাজে মিথ্যাবাদী, আর মিথ্যাবাদীর একাকিত্ব থেকে সত্যবাদীর প্রশান্তি গোপন থাকে না। নিজেকে প্রতারিত করা হলো অকেজো খেজুর ও সুউচ্চ প্রাসাদ থেকে বিমুখ থাকা এবং তালি মারা পোশাক পরে বের হওয়াকে ভালো মনে করা, অথচ সে নিজেকে নতুন পোশাকে সজ্জিত মনে করছে। এরপর তিনি বললেন: এর কিছু অংশ ইবনে আল-রুমীর কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। তা হলো:

আমি বার্ধক্যের পর মানুষের কলপ করাকে দেখলাম … যৌবনের বিদায়ের শোকে পরিহিত পোশাক হিসেবে।

তবে এই পরিচ্ছেদে এমন অনেক অর্থ আছে যা অন্য কারও কথায় পাওয়া যায় না।

আমি বলি: তিনি দাবি করেছেন যে তিনি এই পরিচ্ছেদের অর্থসমূহ উদ্ভাবন করেছেন, অথচ আমি এমন কিছু পদ্য উল্লেখ করছি যা প্রমাণ করে যে তার কথাগুলো সেখান থেকেই নেওয়া হয়েছে।

আবু আল-তৈয়িব বলেছেন:

জীবনের উপকরণ হলো সুস্বাস্থ্য ও যৌবন … যখন তারা মানুষের থেকে বিদায় নেয়, তখন জীবনও বিদায় নেয়।

আল-তুহামীও বলেছেন:

দুনিয়াতে আমার বাসনা হলো যৌবন ও তার সজীবতা … যখন তা শেষ হয়ে যায়, তখন আমার সকল বাসনাও শেষ হয়ে যায়।

ইবনে আবি হাসিনাহ বলেছেন:

যুবক যেন জীবনের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে … যতক্ষণ না সে চল্লিশ পার হয় এবং এরপর নিচে নামতে শুরু করে।

সিবত আল-তাআবীযী বলেছেন:

বয়সের আধিক্য বার্ধক্যের মাধ্যমে আমার উদ্যমকে … ভেঙে দিয়েছে।

তারা কীভাবে একে বার্ধক্য বলে … যেখানে এটি কেবল পতনের দিকে ধাবিত হওয়া?

আবু আল-তৈয়িব তাসগিরের বৃদ্ধি যে আসলে হ্রাস, সেই অর্থে বলেছেন:

শত্রুর দুই পুত্র ছিল যারা তার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল … তার জন্য যেন 'আনিসিয়ান' শব্দের ইয়া বর্ণগুলো।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২১)
وما أحسن قول ابن قلاقس:

في أمر توقيعي وأمري سيرةٌ … أعيت على الفطن الفصيح الألسن

حكمت زيادته عليه بنقصه … كالضيف لما ازداد نون الضّيفن

وقال أبو الطيب:

متى لحظت بياض الشّيب عيني … فقد رأت انتقاصي في ازديادي

وقال ابن صردر:

لم أبك أن حلّ المشيب وإنما … أبكي لأن يتقارب الميعاد

شعر الفتى أوراقه فإذا ذوى … جفّت على آثاره الأعواد

وقال ابن عبد ربه:

وإذا دعونك عمّهنّ فإنه … نسبٌ يزيدك عندهن خبالا

وقال أبو الطيب:

أبعد بعدت بياضا لا بياض له … لأنت أسود في عيني من الظلم

وقال الغزي:

أوهنت زهرة الحياة وأذوت … زهرة العيش زهرةٌ في القذال

كاد يخفى عليّ قبل اشتعال ال … رأس أن الخمود في الاشتعال

قال: ومن هذا المعنى قولي أيضاً: وهو أخذ المكارم من سمائها وأرضها، وقام بنقلها في الناس وفرضها، وتحلى بأسماء الشهور حتى أصبح بعضها حاسدا لبعضها. فالمحرم للعائذ بحرمه، وصفر للطامع في مسعاة قدمه، وربيع لرائد نواله، ورجب لأقوال عذاله. وهذا مأخوذ من قول الفرزدق.

يداك يدٌ ربيع الناس فيها … وفي الأخرى الشهور من الحرام

وقد قال الشعراء في ذلك كثيرا، ولكني أنا تصرفت تصرفا لم يتصرفه أحد غيري.

أقول: أي تصرف، وما نكر شيئاً إلا وتعرف. وقد استعمل الناس أسماء الشهور فجاؤوا بها عذبة حلوة متمكنة. كقول القائل في بخيل:

تحلّى بأسماء الشهور فكفّه … جمادى وما ضمت عليه المحرم

وقال الآخر فأحسن كل الإحسان.

وشادن مبتسم عن حبب … مورّد الخد مليح الشنب

يلومني العاذل في حبه … وما درى شعبان أني رجب

كانت العرب تسمى شعبان العاذل، قبل الإسلام، ورجب الأصم.

وما أحسن قول القاضي الفاضل رحمه الله: تولى الله تحقيق مقصده، وترويق مورده، وتشييد مباني أسعده، وتخليد مغاني سؤدده، حتى تنتظم مواهب الله لديه مثنى وفرادى، ويلبس أمن رجب في شعبان وخصب ربيع في جمادى.

وقوله أيضاً: فهو الماء إلا أنه الزلال، والسحر إلا أنه الحلال، والورد النضر إلا أنه بعيد العهد من الملال، وأيام الوقوف عليه أيام أعياد بين طهارة رمضان وخصب شوال. وقوله أيضاً ويعود إلى ذكر كتابه: فسجد لمحرابه وسلم، وحسب سطوره مباسم تتبسم، ووقف عليه وقوف المحب على الطلل يكلمه ولا يتكلم، وهطل جفنه وقد كان جمادى بدمعه وقد كان على خده المحرم.

وقول ابن سناء الملك:

نشيطة حسن القد والخد والحلى … فلم زعموا أن المليحة مكسال

أطلّ على نسكي بها جهل صبوتي … فيا رمضان قد أظلّك شوال

وأما استعمال أسماء الشهور موراة، فمن أحسنها قول القاضي محيي الدين عبد الله بن عبد الظاهر:

إياكم أن تنكروا جعفرا … ذاك الخياليّ وأصحابه

فنيل مصرٍ كم له جعفرٌ … مخيّل يخرج في بابه

ما أصنع هذين البيتين وألطف هذا التخيل.

وقول ابن قزل:

قد ضجرنا من ماء تل العجول … وكرهنا سماع قالٍ وقيل

ومن المحنة التي نحن فيها … حر تموز آب في أيلول

وقول أسعد بن مماتي:

قد نفث السحر السحر … وأشبه الزهر الزهر

وبلّ كافور الندى … ثياب أوراق الشجر

والعندليب مذ رأى … محرّم الروض صفر

وقول السراج الوراق من أبيات:

وأراد اطفاء السرا … ج بها فضاعفت التهابه

وحوى بها طوبى فصا … ر حديثنا في الناس بابه

وقول ابن الساعاتي:

ليوسف يوسفٌ إن أزمةٌ عرضت … يخشى فيرجى وفي أحكامه عمر

كل الشهور ربيعٌ من فواضله … حيث الخزائن من أمواله صفر

‌‌مناقشة مثال لابن الأثير

قال: ومن ذلك ما ذكرته في استصلاح مودة وساق الفصل وفي آخره: والصبر خير ما استعمل في جفاء الإخوان، والماء إذا جرى في مكان ثم انحرف عنه فلا بد وأن يعود إلى ذلك المكان.
ইবনে কালাকিসের উক্তি কতই না চমৎকার:

আমার স্বাক্ষরের বিষয় ও আমার জীবনচরিতে এমন এক ধারা বিদ্যমান … যা বুদ্ধিমান ও বাগ্মীদেরও ক্লান্ত করে দেয়।

তার আধিক্যই তার উপরে ঘাটতির ফয়সালা করে দেয় … যেমন মেহমান যখন 'দ্বইফ' শব্দে অতিরিক্ত 'নুন' যুক্ত হয়ে 'দ্বইফন' হয়ে যায়।

আবু তায়্যিব বলেন:

যখনই আমার চোখ বার্ধক্যের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করল … তখনই সে আমার বৃদ্ধির মধ্যে আমার ঘাটতি দেখে নিল।

ইবনে সরদর বলেন:

আমি বার্ধক্যের আগমনে কাঁদছি না, বরং … আমি কাঁদছি কারণ সাক্ষাতের সময় ঘনিয়ে এসেছে।

যুবকের চুল হলো তার পাতা স্বরূপ, আর যখন তা ঝরে পড়ে … তখন তার চিহ্নগুলোর উপর ডালপালা শুকিয়ে যায়।

ইবনে আবদ রাব্বিহি বলেন:

যখন তারা তোমাকে তাদের 'চাচা' বলে সম্বোধন করবে, তখন জেনো যে … এটি এমন এক বংশীয় পরিচয় যা তাদের কাছে তোমার অস্থিরতা বাড়িয়ে দেবে।

আবু তায়্যিব বলেন:

হে শুভ্রতা! তুমি অনেক দূরে সরে যাও, তোমার কোনো শুভ্রতা নেই … কারণ আমার চোখে তুমি অন্ধকারের চেয়েও বেশি কালো।

আল-গাজ্জি বলেন:

জীবনের সজীবতা দুর্বল হয়ে গেছে এবং জীবনের প্রফুল্লতা বিলীন হয়েছে … মাথার পেছনের চুলের শুভ্রতার কারণে।

মাথায় বার্ধক্যের আগুন জ্বলে ওঠার আগে আমার কাছে প্রায় অস্পষ্ট ছিল যে … এই জ্বলে ওঠার মধ্যেই নির্বাপণ নিহিত।

তিনি বলেন: এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত আমার এই কথাটিও: তিনি আকাশ ও পৃথিবী থেকে মহত্ত্ব গ্রহণ করেছেন, মানুষের মাঝে তা পৌঁছে দেওয়ার ও প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মাসের নামগুলো দ্বারা নিজেকে অলঙ্কৃত করেছেন, এমনকি তাদের একটি অপরটির প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছে। অতএব 'মুহাররাম' হলো তার আশ্রয়ে আশ্রয়প্রার্থীর জন্য, 'সফর' হলো তার প্রচেষ্টায় লালসাকারীর পদচুম্বনের জন্য, 'রবি' হলো তার দান অন্বেষণকারীর জন্য এবং 'রজব' হলো তার নিন্দুকদের কথার জন্য। এটি ফারাজদাক-এর এই কথা থেকে নেওয়া হয়েছে।

আপনার দুই হাত—একটি হাত হলো জনগণের জন্য বসন্ত (রবি), … আর অন্য হাতে রয়েছে নিষিদ্ধ মাসসমূহ (হারাম)।

কবিগণ এ বিষয়ে অনেক কথা বলেছেন, কিন্তু আমি এমন এক শৈলী অবলম্বন করেছি যা আমার আগে কেউ করেনি।

আমি বলি: এটি কেমন শৈলী! তিনি এমন কিছুই অস্বীকার করেননি যা আগে থেকেই পরিচিত নয়। মানুষ মাসের নামগুলো ব্যবহার করেছে এবং অত্যন্ত সুমিষ্ট, সুন্দর ও যথাযথভাবে তা উপস্থাপন করেছে। যেমন জনৈক কৃপণ ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে:

সে মাসের নামগুলো দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করেছে, তাই তার হাত … 'জুমাদা' (শুষ্ক) এবং তার মধ্যে যা নিহিত আছে তা হলো 'মুহাররাম' (নিষিদ্ধ)।

অন্য একজন বলেছেন, আর তিনি অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন:

এক সুন্দর যুবক যার হাসিতে মুক্তো ঝরে … লাল টকটকে গাল এবং সুন্দর দাড়ি।

নিন্দুক আমাকে তার ভালোবাসার জন্য ভর্ৎসনা করে … অথচ 'শাবান' জানে না যে আমি 'রজব'।

ইসলামের পূর্বে আরবরা শাবান মাসকে 'আল-আযিল' (ভর্ৎসনাকারী) এবং রজব মাসকে 'আল-আসাম' (বধির) বলত।

কাজী ফাদিল (রহ.)-এর কথা কতই না চমৎকার: আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূরণ করুন, তার পানীয় নির্মল করুন, তার সৌভাগ্যের অট্টালিকা সুদৃঢ় করুন এবং তার নেতৃত্বের আবাস চিরস্থায়ী করুন, যেন আল্লাহর দানসমূহ তার কাছে জোড়ায় জোড়ায় ও একে একে সুশৃঙ্খল থাকে, আর তিনি রজব মাসের নিরাপত্তা শাবান মাসে এবং রবি মাসের প্রাচুর্য জুমাদা মাসে পরিধান করেন।

তার আরও একটি কথা: এটি যেন পানি, তবে তা সুপেয়; এটি যেন জাদু, তবে তা বৈধ; এটি যেন সতেজ গোলাপ, তবে তা একঘেয়েমি থেকে মুক্ত। তার কাছে অবস্থানের দিনগুলো যেন ঈদের দিন, যা রমজানের পবিত্রতা ও শাওয়ালের প্রাচুর্যের মধ্যবর্তী। তার আরও একটি কথা যেখানে তিনি তার কিতাবের বর্ণনায় ফিরে এসেছেন: অতঃপর তা তার মেহরাবে সিজদা করল এবং সালাম জানাল, আর তার পঙক্তিগুলোকে মনে হলো হাস্যোজ্জ্বল মুখচ্ছবি। প্রেমিক যেমন ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়িয়ে তার সাথে কথা বলে অথচ সে কথা বলে না, সেও তার সামনে সেভাবে দাঁড়াল। তার চোখের পাতা থেকে অশ্রু ঝরল যখন তা ছিল জুমাদা (শুষ্ক), আর অশ্রুর কারণে তার গাল ছিল মুহাররাম (নিষিদ্ধ)।

ইবনে সানাউল মুলকের কথা:

চপল চটপটে দেহবল্লরী, গাল ও অলঙ্কারের সৌন্দর্য … তবে কেন তারা দাবি করে যে সুন্দরী নারী অলস হয়?

আমার ইবাদতের ওপর আমার যৌবনের মূর্খতা উঁকি দিল … হে রমজান! তোমার ওপর শাওয়ালের ছায়া পড়েছে।

আর রূপক হিসেবে মাসের নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজী মুহিউদ্দিন আবদুল্লাহ বিন আবদুজ জাহিরের এই কথাটি অন্যতম সেরা:

খবরদার! তোমরা জাফরকে অস্বীকার করো না … সেই কাল্পনিক ব্যক্তি এবং তার সাথীদের।

মিশরের নীল নদে কতই না 'জাফর' (খাল) রয়েছে … কাল্পনিক হিসেবে যা তার দুয়ারে আত্মপ্রকাশ করে।

এই দুটি পঙক্তি কতই না নিখুঁত এবং এই কল্পনা কতই না সূক্ষ্ম!

ইবনে কুজালের উক্তি:

আমরা 'তাল্লুল আজুল'-এর পানি পান করতে করতে বিরক্ত হয়ে গেছি … আর কানাঘুষা শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

আমরা যে বিপদের মধ্যে আছি তার অন্যতম হলো … সেপ্টেম্বর মাসে জুলাই ও আগস্টের তীব্র গরম।

আসআদ বিন মামাতির উক্তি:

জাদু যেন প্রভাতের ওপর ফুঁ দিয়েছে … আর ফুলগুলো যেন একে অপরের সদৃশ হয়েছে।

শিশিরের কর্পূর সিক্ত করে দিয়েছে … গাছের পাতারূপী বস্ত্রসমূহকে।

বুলবুলি পাখি যখনই দেখল … উদ্যানের 'মুহাররাম' এখন 'সফর'।

সিরাজ আল-ওয়াররাকের কিছু পঙক্তি:

সে চাইল তার মাধ্যমে 'সিরাজ' (প্রদীপ) নিভিয়ে দিতে … কিন্তু তা তার প্রজ্বলন আরও বাড়িয়ে দিল।

সে তার মাধ্যমে 'তুবা' (কল্যাণ) লাভ করল, ফলে … মানুষের মাঝে আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

ইবনে আস-সাআতির উক্তি:

ইউসুফের জন্য একজন ইউসুফ রয়েছেন যদি কোনো সংকট দেখা দেয় … যা আশঙ্কাজনক হলেও আশাপ্রদ, আর তার বিচারকার্যে রয়েছে উমরের ন্যায় ইনসাফ।

তার দানে সব মাসই যেন 'রবি' (বসন্ত) … যেখানে তার ধনভাণ্ডার অর্থশূন্য হওয়ার কোনো 'সফর' (শূন্যতা) নেই।

‌‌ইবনুল আসিরের একটি উদাহরণের পর্যালোচনা

তিনি বলেন: এর মধ্যে রয়েছে সেই বিষয়টি যা আমি বন্ধুত্বের সংশোধনের বিষয়ে উল্লেখ করেছি এবং অনুচ্ছেদের শেষে রয়েছে: ভাইদের রূঢ়তায় ধৈর্যই হলো সর্বোত্তম পন্থা, আর পানি যখন কোনো স্থানে প্রবাহিত হয় এবং সেখান থেকে বিচ্যুত হয়, তখন পুনরায় সেই স্থানে ফিরে আসা অনিবার্য।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২২)
أقول: ما أدري ما معنى هذا. فإن الماء إذا انحرف عن مكان، إنما ينحرف باستفال الموضع الذي انحرف إليه عن الموضع الذي انحرف عنه. إما بأخدود يحفر، أو بتهدم من نفس الأرض. وحينئذ يرجع الماء القهقرى وينعطف عن المرتفع، وينحدر إلى المنخفض. هذا الذي يفهم من لفظة انحرف الماء. ومتى كان الأمر كذلك فلا يعود الماء إليه، اللهم إلا أن يدعي أن مدد الماء يقوى دفعه فيزيد إلى أن يعلو المنخفض، ولم يجد له حيزا يشغله غير ذلك الذي انحرف عنه. وهذا غير مفهوم من مجرد كلامه.

ولو قال: فإن الغيث إن أقلع صوبه عن مكان، فلا بد وأن يعود في وقت إلى ذلك المكان. أو فإن الماء إذا جفا موضع جريته في وقت، فلا بد أن ينعطف على ذلك المكان. أو إذا قطعت سقياه عن مكان أو ما ناسب ذلك، غير لفظة انحرف.

وما أحلى قول القاضي الفاضل: وقد يعود الماء إلى مشرعه، والكوكب إلى مطلعه.

وما أحسن قول القائل في معنى قول ابن الأثير:

سأصبر صبر الحر من غير قدرةٍ … على الصبر لكن من طريق التجمّل

لعلك يوماً أن تردّك رحمةٌ … عليّ فتلقاني بوجه التفضل

‌‌مناقشة مثال آخر لابن الأثير

قال: ومن ذلك ما ذكرته في وصف الخمر وهو: الخمر لا تفي لذة إسكارها بتنعيص خمارها، فهي خرقاء البنان، بذيئة اللسان، وتأنيثها يدلك أنها من ناقصات العقول والأديان. وقد عرف منها سنة الجور في أحكامها، ولولا ذلك لما استأثرت من الرؤوس بجناية أقدامها. وهذا أحسن من قول الشاعر وأغرب وألطف، لأنه قال:

ذكرت حقائدها القديمة إذ غدت … زمنا تداس بأرجل العصّار

لانت لهم حتى انتشوا وتمكنت … منهم فصاحت فيهم بالثار

أقول: أما إضافة البنان واللسان والعقل والدين إلى الخمر، فإنه من الغريب وأغرب من ذلك أن جعل للرؤوس أقداما، وأغرب من هذين كونه يدعي أن كلامه ألطف وأحسن وأغرب من قول الشاعر، والفرق مثل الصباح ظاهر. وكأنه أراد أن يد معاقرها خرقاء، ولسانه بذيء، وعقله ودينه ناقصان ولو نسب ذلك إلى الندمان في ذم الخمر لكان قادحا فيها. وإنما إضافة الجوارح والعقل والدين إليها فغير جائز إلا بتأويل بعيد إلى الغاية.

وما أحسن قول أبي تمام:

خرقاء يلعب بالعقول حبابها … كتلاعب الأفعال بالأسماء

وقول القائل:

وصف المدامة شاربوها أنها … تحوي السرور وتطرد الهمّا

صدقوا هفت بعقولهم وبدينهم … أرأيت عادم دين مغتما

وقول ابن سناء الملك:

عروسكم يا أيها الشرب طالقٌ … وإن فتنت من حسنها كلّ مجتلي

دفعت لها مالي وعقلي معجّلا … فقالت وجنات النعيم مؤجلي

قيل: إن سليمان بن عبد الملك ناول نصيبا قدحا. فقال. يا أمير المؤمنين، إنما وصلت إليك بعقلي فإن رأيت أن لا تفرق بين عقلي وبيني فعلت وقول السراج الوراق.

شؤم أم الخبائث الخمر شومٌ … جاوز الحد فاستمع ما يعدّ

فلها في الدنان حبسٌ وللرا … ووق صلبٌ وللمعاقر جلد

وأما قوله: فاستثأرت من الرؤوس بجناية أقدامها. الضمير لا يخلو: إما أن يعود إليها أو إلى الرؤوس وكلاهما غير جائز.

وما أحسن قول ابن زهر إلا شبيلي:

وموسّدين على الأكف خدودهم … قد غالهم في السّكر ما قد غالني

ما زلت أسقيهم وأشرب فضلهم … حتى سكرت ونالهم ما نالني

والكأس تعلم كيف تأخذ ثارها … إني أملت إناءها فأمالني

وقال أبو تمام من قصيدة:

إذا اليد نالتها بوترٍ توقّرت … على ضغنها حتى استقادت من الرجل

وتصرع ساقيها بإنصاف شربها … وصرعهم بالجور في صورة العدل

وأما قوله: وتأنيثها يدلك أنها من ناقصات العقول والأديان. ما أحسن ما استعمل المتنبي هذا في وصف الدنيا فقال:

شيم الغانيات فيها فما أد … ري لذا أنث اسمها الناس أم لا
আমি বলছি: আমি জানি না এর অর্থ কী। কারণ পানি যখন কোনো স্থান থেকে বিচ্যুত হয়, তখন তা কেবল সেই স্থানের নিচু হওয়ার কারণেই বিচ্যুত হয় যেদিকে তা প্রবাহিত হয়েছে। হয় তা কোনো খননকৃত নালা অথবা ভূমির ধসে পড়ার কারণে হয়। এমতাবস্থায় পানি পিছু হটে এবং উঁচু স্থান থেকে সরে নিচু স্থানের দিকে ধাবিত হয়। 'পানির বিচ্যুতি' শব্দ থেকে এটাই বোঝা যায়। যখন বিষয়টি এমন হবে, তখন পানি আর সেখানে ফিরে আসবে না, যদি না কেউ দাবি করে যে পানির প্রবাহ এত প্রবল হয়েছে যে তা নিচু স্থান পূর্ণ করে উপচে পড়েছে এবং বিচ্যুত স্থান ছাড়া তার আর কোনো জায়গা নেই। আর তার কেবল কথা থেকে এ বিষয়টি বোধগম্য নয়।

যদি তিনি বলতেন: বৃষ্টির বর্ষণ যদি কোনো স্থান থেকে থেমে যায়, তবে অবশ্যই কোনো এক সময় তা সেখানে ফিরে আসবে। অথবা যদি বলতেন: পানি যদি কোনো এক সময় তার প্রবাহপথ ত্যাগ করে, তবে অবশ্যই তা সেই স্থানে পুনরায় ফিরে আসবে। অথবা যদি বলতেন: যদি কোনো স্থানের সেচ বন্ধ হয়ে যায় বা এ জাতীয় কিছু, 'বিচ্যুত হওয়া' শব্দটির পরিবর্তে।

আর কাজি আল-ফাদিলের কথাটি কতই না চমৎকার: হয়তো পানি তার উৎসে ফিরে আসবে এবং নক্ষত্র তার উদয়স্থলে ফিরে যাবে।

আর ইবনে আল-আসিরের বক্তব্যের মর্মানুসারে কবির এই কথাটি কতই না সুন্দর:

আমি কোনো সক্ষমতা ছাড়াই স্বাধীন মানুষের মতো ধৈর্য ধারণ করব … ধৈর্য ধারণের জন্য কিন্তু তা কেবল লোকদেখানো মার্জিত আচরণের খাতিরে।

হয়তো কোনো একদিন আপনার পক্ষ থেকে কোনো করুণা আমার কাছে ফিরে আসবে … তখন আপনি আমাকে অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখতে পাবেন।

‌‌ইবনে আল-আসিরের আরেকটি উদাহরণের পর্যালোচনা

তিনি বলেন: তার মধ্যে একটি হলো যা আমি মদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি: মদের নেশার স্বাদ তার মাতলামির যন্ত্রণার তুলনায় কিছুই নয়। সে হলো অবিন্যস্ত আঙুল বিশিষ্ট ও কুরুচিপূর্ণ জিহ্বাধারী। তার স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া আপনাকে নির্দেশ করে যে সে বুদ্ধি ও দ্বীনের দিক থেকে অপূর্ণাদের অন্তর্ভুক্ত। তার বিধানের ক্ষেত্রে অবিচারের প্রথা পরিচিত। আর যদি তা না হতো, তবে সে তার পায়ের অপরাধের কারণে মাথাগুলোকে এককভাবে করায়ত্ত করত না। আর এটি কবির কথার চেয়েও সুন্দর, চমৎকার ও সূক্ষ্ম। কারণ কবি বলেছেন:

সে (মদ) তার প্রাচীন ক্ষোভের কথা স্মরণ করল যখন সে … দীর্ঘকাল ধরে মদ তৈরিকারকদের পায়ে পিষ্ট হচ্ছিল।

সে তাদের জন্য নমনীয় ছিল যতক্ষণ না তারা নেশাগ্রস্ত হলো এবং সে যখন তাদের ওপর শক্তিশালী হলো … তখন সে প্রতিশোধের ডাক দিল।

আমি বলছি: মদের সাথে আঙুল, জিহ্বা, বুদ্ধি ও দ্বীনকে সম্পর্কিত করা একটি অদ্ভুত বিষয়। আর তার চেয়েও অদ্ভুত হলো মাথার জন্য পায়ের কল্পনা করা। আর এই দুইয়ের চেয়েও অদ্ভুত হলো তার এই দাবি যে তার কথাটি কবির কথার চেয়ে অধিক সূক্ষ্ম, সুন্দর ও চমৎকার। অথচ পার্থক্যটি সকালের আলোর মতোই স্পষ্ট। মনে হচ্ছে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে মদ্যপায়ীর হাত অবিন্যস্ত, তার জিহ্বা কুরুচিপূর্ণ এবং তার বুদ্ধি ও দ্বীন অপূর্ণ। যদি তিনি এটি মদের নিন্দায় সহচরদের প্রতি নিসবত করতেন তবে তা মদের ত্রুটি হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু মদের সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বুদ্ধি ও দ্বীনকে সম্পর্কিত করা সুদূরপ্রসারী ব্যাখ্যা ছাড়া কোনোভাবেই বৈধ নয়।

আবু তামামের কথাটি কতই না সুন্দর:

অগোছালো এক নারী যার বুদবুদগুলো বুদ্ধি নিয়ে খেলা করে … যেমন ক্রিয়াগুলো বিশেষ্যের সাথে খেলা করে।

আর অন্য একজনের কথা:

মদ পানকারীরা মদের বর্ণনায় বলেছে যে … এটি আনন্দ বহন করে এবং দুশ্চিন্তা দূর করে।

তারা সত্যই বলেছে, কারণ এটি তাদের বুদ্ধি ও দ্বীনকে কেড়ে নিয়েছে … আপনি কি কখনও দ্বীনহীন ব্যক্তিকে চিন্তিত হতে দেখেছেন?

আর ইবনে সানাউল মুলকের কথা:

হে পানকারী দল! তোমাদের এই নববধু (মদ) তালাকপ্রাপ্তা … যদিও তার সৌন্দর্যে প্রতিটি দর্শক মোহিত হয়।

আমি তাকে আমার সম্পদ ও বুদ্ধি নগদ প্রদান করেছি … সে বলল যে জান্নাতের সুখের প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে।

বলা হয়ে থাকে যে, সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক নাসিবকে একটি পেয়ালা সাধলেন। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আমি আমার বুদ্ধির মাধ্যমেই আপনার কাছে পৌঁছেছি। যদি আপনি আমার ও আমার বুদ্ধির মাঝে বিচ্ছেদ না ঘটানো সমীচীন মনে করেন (তবে তা করুন)। আর সিরাজ আল-ওয়াররাকের কথা:

মদের মা তথা খবিস জিনিসের অমঙ্গলই অমঙ্গল … তা সীমা ছাড়িয়ে গেছে, সুতরাং যা বলা হচ্ছে তা শুনুন।

মদের মটকার জন্য রয়েছে কারাবাস এবং মদের ছাঁকনির জন্য … রয়েছে শূলে চড়ানো এবং মদ্যপায়ীর জন্য রয়েছে চাবুক।

আর তার কথা: "সে তার পায়ের অপরাধের কারণে মাথাগুলোর ওপর প্রতিশোধ নিয়েছে।" এখানে সর্বনামটি হয় মদের দিকে ফিরবে অথবা মাথাগুলোর দিকে, আর উভয়টিই অসিদ্ধ।

আর ইবনে জুহর আল-ইশবিলির কথাটি কতই না চমৎকার:

অনেকে তাদের করতলকে বালিশ বানিয়ে গাল রেখে শুয়ে আছে … নেশা তাদেরকে সেভাবেই কাবু করেছে যেভাবে আমাকে করেছে।

আমি তাদের পান করাতে থাকলাম এবং তাদের অবশিষ্টাংশ পান করতে থাকলাম … যতক্ষণ না আমি নেশাগ্রস্ত হলাম এবং তাদের যা দশা হয়েছিল আমারও তা-ই হলো।

আর পেয়ালা জানে কীভাবে প্রতিশোধ নিতে হয় … আমি তার পাত্রটিকে কাত করেছিলাম, তাই সে আমাকেও কাত করে দিল।

আবু তামাম একটি কাসিদায় বলেছেন:

হাত যখন তাকে অপমানের সাথে স্পর্শ করল, তখন সে … তার ক্ষোভের ওপর স্থির রইল যতক্ষণ না সে পা থেকে প্রতিশোধ নিল।

সে তার পানের ভারসাম্য রক্ষা করে পানকারীর দুই পা আছড়ে ফেলে … আর ইনসাফের আবরণে জুলুমের মাধ্যমে তাদের আছড়ে ফেলে।

আর তার কথা: "তার স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া আপনাকে নির্দেশ করে যে সে বুদ্ধি ও দ্বীনের দিক থেকে অপূর্ণাদের অন্তর্ভুক্ত।" মুতানাব্বি দুনিয়ার বর্ণনায় এটি কতই না চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন, তিনি বলেছেন:

তার মধ্যে রূপসীদের স্বভাব বিদ্যমান, তাই আমি জানি না … মানুষ কি এ কারণেই তার নাম স্ত্রীলিঙ্গ রেখেছে নাকি অন্য কারণে।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال: ومن ذلك ما ذكرته في الحث على الاغتراب وهو: لولا التغرب ما ارتقت بنات الأصداف إلى شرف الأعناق، ولا ارتقى تراب الأحجار إلى نور الأحداق ثم قال: وكذلك قولي في هذا المعنى وهو: في الانتقال تنويه لخامل الأقدار ولولا ذلك لم يكنس الهلال حلة الإبدار، والمندل الرطب حطب في أوطانه، والمسك دم في سرر غزلانه، ولولا فراق السهم وتره لم يحظ بفضل الإصابة، ولولا فراق الوشيج منبته لم يتحل بعز البنان ولا شرف الذؤابة.

وهذا الفصل فصل من القول في معناه، ومما لم يتسن للخواطر ابتناء مبناه. فمنه ما هو مأخوذ من الشعر، ومنه ما سنح به الخاطر على غير مثال وهو يشهد لنفسه.

أقول: قوله ارتقت أولا، وارتقى ثانيا فيه عي لتكراره. ولو قال في أحدهما ما اتصل أو ما سما أو غير ذلك لكان أحسن. وكذا ابتناء مبناه، ومثل هذا يعاب في الكلام. وقد عيب على الصاحب بن عباد قوله:

أشبّب لكن بالمعالي أشبب … وأنسب لكن بالمفاخر أنسب

وبي صبوةٌ لكن إلى حضرة العلا … وبي ظما لكن من العز أشرب

وسميت القصيدة اللاكنية لكثرة ترداد لكن فيها.

وكل هذه المعاني تداولها الشعراء وأكثروا منها. من ذلك قول ابن صردر:

قلقل ركابك في الفلا … ودع الغواني للقصور

لولا التغرب ما ارتقى … درّ البحور إلى النحور

وقول سبط التعاويذي:

قالوا انتزح وتغرب تكتسب شرفا … فالدر ما عزّ حتى فارق الصدفا

وقول ابن قلاقس:

سافر إذا حاولت قدرا … سار الهلال فصار بدرا

والماء يكسب ما جرى … طيبا ويخبث ما استقرا

وبنقلة الدرر النفي … سة بدّلت بالبحر نحرا

وابن قلاقس وابن الأثير رحمهما الله تعالى من أهل عصر واحد. فإن ابن قلاقس توفي سنة سبع وستين وخمسمائة. وابن الأثير توفي سنة سبع وثلاثين وستمائة ومولد ابن قلاقس سنة اثنتين وثلاثين وخمسمائة، ومولد ابن الأثير سنة ثمان وخمسين وخمسمائة. فعمر ابن الأثير أكثر.

وقول ابن الساعاتي وهو من أهل عصره:

وكن غانيا عن كل أرض بأختها … وإن حلّ مغناها كواعب عين

فلولا فراق الدّر أصداف بحره … لأنكره نحرٌ وصدّ جبين

وقول القائل:

الأسد لولا فراق الغاب ما افترست … والسهم لولا فراق القوس لم يصب

والتّبر كالتّرب ملقى في مواطنه … والعود في أرضه نوعٌ من الحطب

وقول أبي العلاء المعري:

والسمهرية ليس يشرف قدرها … حتى يسافر لدنها عن غابه

وقلت أنا من هذه المادة:

سافر تنل عزا فما مسك الورى … إلا دما في سرة الغزلان

والرمح لما فارق الوطن اغتدى … بذؤابة خفقت وتاج سنان

وقلت أيضاً:

سافر تنل رتب المفاخر والعلا … كالدر سار فصار في التيجان

وكذا هلال الأفق لو ترك السرى … ما فارقته معرة النقصان

قال: ومن ذلك ما ذكرته في ذم الدنيا وهو: أنكاد الدنيا مشوبة بالأشياء التي جبلت النفوس على حبها، وكل ما تستلذه الأبدان من مآكلها فإنه يضرها من جهة طبها، ولهذا تذمم من منفعة الهليلج ومضرة اللوزينج. وأعجب من ذلك أنه لا ينتفع الإنسان بشيء من لذتها إلا ضرته من جهة ثوابه، فهو كالذي ينتفع باصطلاء النار وهي محرقة لأثوابه. وقد ضرب لذلك مثل من الأمثال، وقيل إن كل ما ينفع الكبد مضر بالطحال.

أقول: انظر إلى هذه الركة والعامية، ألا تراه أشبه بشيء بكلام العجائز قوابل النساء إذا أخذن يعظن ويضربن الأمثال، أكذا توصف الدنيا في حالة الذم: أتراه ما سمع بشيء من كلام علي بن أبي طالب رضي الله عنه إذا قال له رجل: صف لنا الدنيا فقال: ما أصف من دار أولها عناء، وآخرها فناء، حلالها حساب وحرامها عذاب، من استغنى فيها فتن ومن افتقر حزن ولا بشيء من بعض أقوال الحكماء فيها كقول بعضهم: الدنيا أمل بين يديك، وأجل مطل عليك، وشيطان فتان، وأماني جرارة العنان، تدعوك فتستجيب، وترجوها فتخيب.

أما سمع بزهديات أبي نواس التي منها:

وما الناس إلا هالك وابن هالكٍ … وذو نسبٍ في الهالكين عريق
তিনি বলেন: দেশান্তরী হওয়ার উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে আমি যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যে রয়েছে: যদি দেশান্তর না ঘটত, তবে ঝিনুক-কন্যারা ঘাড়ের আভিজাত্য লাভ করত না, আর পাথরের ধূলিকণা চোখের মণির আলো পর্যন্ত উন্নীত হতো না। অতঃপর তিনি বলেন: এই অর্থেই আমার কথা হলো: স্থানান্তরের মাধ্যমেই নিভৃত মর্যাদার প্রকাশ ঘটে। যদি তা না হতো, তবে অর্ধচন্দ্র পূর্ণচন্দ্রের রূপ পরিগ্রহ করত না। সিক্ত আগরকাঠ নিজ বাসভূমিতে কেবলই জ্বালানি কাঠ; আর কস্তুরী তার হরিণের নাভিদেশের রক্ত মাত্র। তীরের বিচ্ছেদ যদি তার ধনু থেকে না হতো, তবে সে নির্ভুল নিশানার গৌরব পেত না। আর কঞ্চির বিচ্ছিন্নতা যদি তার জন্মস্থান থেকে না হতো, তবে সে অঙ্গুলির শক্তিমত্তা বা শীর্ষের মর্যাদা দ্বারা ভূষিত হতো না।

এই পরিচ্ছেদটি তার অর্থের প্রেক্ষিতে একটি উৎকৃষ্ট আলোচনা এবং এমন বিষয় যা সাধারণ ভাবনায় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর কিছু অংশ কাব্য থেকে গৃহীত, আর কিছু কোনো উদাহরণ ছাড়াই চিন্তায় উদ্ভাসিত হয়েছে, যা নিজেই নিজের সাক্ষ্য দেয়।

আমি বলি: তাঁর প্রথমবার 'উন্নীত হয়েছে' এবং দ্বিতীয়বার 'উন্নীত হয়েছে' বলায় পুনরাবৃত্তিজনিত ত্রুটি রয়েছে। যদি তিনি একটির ক্ষেত্রে 'যুক্ত হয়েছে' বা 'উচ্চ হয়েছে' বা অন্য কিছু বলতেন, তবে তা উত্তম হতো। তেমনি 'ভিত্তি নির্মাণ' শব্দদ্বয়ও ত্রুটিপূর্ণ; এ ধরনের প্রয়োগ কথাবার্তায় দোষণীয় বলে গণ্য হয়। সাহেব ইবনে আব্বাদের এই উক্তিটিও নিন্দিত হয়েছে:

আমি গীত গাই, তবে উচ্চমর্যাদার গীত গাই … আর আমি বংশ বর্ণনা করি, তবে গৌরবের সাথে করি

আমার আবেগ রয়েছে, তবে তা উচ্চ সভার প্রতি … আর আমার পিপাসা রয়েছে, তবে আমি আভিজাত্য থেকে পান করি

এতে 'লাকিন' (কিন্তু) শব্দের অত্যধিক পুনরাবৃত্তির কারণে এই কবিতাকে 'লাকিনিয়্যাহ' নামকরণ করা হয়েছে।

এই সব অর্থই কবিদের মধ্যে প্রচলিত এবং তাঁরা এর প্রচুর ব্যবহার করেছেন। তার মধ্যে ইবনে সরদারের এই উক্তিটি অন্যতম:

মরুভূমিতে তোমার আরোহীকে ছুটিয়ে দাও … এবং সুন্দরী রমণীদের অট্টালিকার জন্য ছেড়ে দাও

যদি দেশান্তর না হতো, তবে সমুদ্রের মুক্তা … কণ্ঠদেশ পর্যন্ত উন্নীত হতো না

এবং সিবত আল-তাআবিজির উক্তি:

তারা বলল, দেশত্যাগ করো এবং প্রবাসী হও, তবেই মর্যাদা লাভ করবে … কেননা মুক্তা ঝিনুক ত্যাগ না করা পর্যন্ত মূল্যবান হয় না

এবং ইবনে কালাকিসের উক্তি:

যদি তুমি মর্যাদা চাও তবে সফর করো … চাঁদ ভ্রমণ করে বলেই পূর্ণিমার চাঁদে পরিণত হয়

প্রবাহিত পানি নির্মলতা লাভ করে … আর যা স্থির থাকে তা দূষিত হয়ে যায়

মূল্যবান মুক্তা স্থানান্তরের মাধ্যমেই … সমুদ্রের পরিবর্তে কণ্ঠহারের স্থান দখল করে

ইবনে কালাকিস এবং ইবনে আল-আসির (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি দয়া করুন) একই যুগের মানুষ ছিলেন। ইবনে কালাকিস পাঁচশত সাতষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর ইবনে আল-আসির ছয়শত সাইত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে কালাকিসের জন্ম পাঁচশত বত্রিশ হিজরিতে এবং ইবনে আল-আসিরের জন্ম পাঁচশত আটান্ন হিজরিতে। ফলে ইবনে আল-আসিরের বয়স বেশি ছিল।

এবং তাঁরই সমসাময়িক ইবনে আল-সাআতির উক্তি:

প্রতিটি ভূমির পরিবর্তে তার অন্য ভূমি নিয়ে তুষ্ট থাকো … যদিও তার আবাসে আয়তলোচনা তরুণীরা অবস্থান করে

যদি মুক্তা তার সমুদ্রের ঝিনুক ত্যাগ না করত … তবে কণ্ঠদেশ তাকে অস্বীকার করত এবং ললাট বিমুখ হতো

এবং অন্য এক কবির উক্তি:

সিংহ যদি বন ত্যাগ না করত তবে সে শিকার করতে পারত না … আর তীর যদি ধনু ত্যাগ না করত তবে লক্ষ্যভেদ করত না

স্বর্ণ আকরিক তার নিজ খনি এলাকায় মাটির মতোই পড়ে থাকে … আর আগরকাঠ তার নিজ ভূমিতে এক প্রকার জ্বালানি কাঠ মাত্র

এবং আবু আল-আলা আল-মাআররির উক্তি:

বর্শার মর্যাদা ততক্ষণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় না … যতক্ষণ না তার নমনীয় অংশ বন থেকে সফর করে

আমি এই বিষয়বস্তু থেকে বলেছি:

সফর করো, সম্মান লাভ করবে; কেননা মানুষের কাছে কস্তুরী … তো কেবল হরিণের নাভিস্থ রক্ত

বর্শা যখন স্বদেশ ত্যাগ করল, তখন সে … দোদুল্যমান শিখা ও বর্শাফলকের মুকুট দ্বারা ভূষিত হলো

আমি আরও বলেছি:

সফর করো, গৌরব ও উচ্চমর্যাদা লাভ করবে … যেমন মুক্তা পরিভ্রমণ করে মুকুটের শোভা হয়েছে

তেমনি দিগন্তের বাঁকা চাঁদ যদি পরিভ্রমণ ত্যাগ করত … তবে অপূর্ণতার কলঙ্ক তাকে ছেড়ে যেত না

তিনি বলেন: দুনিয়ার নিন্দায় আমি যা উল্লেখ করেছি তা হলো: দুনিয়ার কষ্টগুলো এমন জিনিসের সাথে মিশ্রিত যার প্রতি মানুষের স্বভাবগত ভালোবাসা রয়েছে। শরীরের সুস্বাদু খাদ্যগুলো চিকিৎসার দিক থেকে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। এই কারণেই হরীতকীর উপকারিতা এবং বাদাম-হালুয়ার অপকারিতার নিন্দা করা হয়। এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষ দুনিয়ার যে সুখ ভোগ করে, তা তার পরকালীন সওয়াবের দিক থেকে ক্ষতি করে। সে যেন আগুনের তাপে উপকৃত হচ্ছে, অথচ তা তার কাপড় পুড়িয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে একটি প্রবাদ আছে: যা কলিজার জন্য উপকারী, তা প্লীহার জন্য খতিকর।

আমি বলি: এই দুর্বলতা এবং সাধারণ মানের বর্ণনা লক্ষ্য করুন! আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে এটি দাই বা বৃদ্ধা নারীদের কথার মতো, যারা নসিহত করার সময় প্রবাদ দেয়? দুনিয়াকে কি নিন্দার সময় এভাবে বর্ণনা করা হয়? তিনি কি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর কোনো কথা শোনেননি? যখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আমাদের কাছে দুনিয়ার বর্ণনা দিন। তিনি বললেন: আমি এমন এক গৃহের কী বর্ণনা দেব যার শুরু কষ্ট আর শেষ নিঃশেষ হওয়া? এর হালাল জিনিসের হিসাব দিতে হবে আর হারামের জন্য রয়েছে শাস্তি। যে এখানে অভাবমুক্ত হয় সে ফিতনায় পড়ে, আর যে অভাবী হয় সে দুঃখিত হয়। তিনি কি দুনিয়া সম্পর্কে প্রাজ্ঞজনদের কোনো উক্তি শোনেননি? যেমন কেউ বলেছেন: দুনিয়া তোমার সম্মুখের এক আশা, তোমার দিকে তাকিয়ে থাকা মৃত্যু, এক বিভ্রান্তকারী শয়তান এবং লাগামহীন আকাঙ্ক্ষা; সে তোমাকে ডাকলে তুমি সাড়া দাও, আর তুমি তার কাছে আশা করলে সে তোমাকে নিরাশ করে।

তিনি কি আবু নুওয়াসের বৈরাগ্যগাথা শোনেননি, যার মধ্যে রয়েছে:

মানুষ তো কেবল মৃত অথবা মৃতের সন্তান … আর মৃতদের মধ্যেই তার বংশের গভীর শিকড়
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২৪)
إذا امتحن الدنيا لبيبٌ تكشفت … له عن عدوٍ في ثياب صديق

حتى إن الرشيد أو المأمون قال: لو وصفت الدنيا نفسها، ما وصفت بأكثر من قول أبي نواس. أما سمع بشيء من أقوال أبي العتاهية، وصالح ابن عبد القدوس ومحمود الوراق، ومن تعرض لذمها من الشعراء كالمتنبي وأبي تمام وغيرهما.. أما سمع بقول الزمخشري تحلين لهم ثم تمرين، وتحلين لهم ثم تمرين. الأول من الحلاوة والمرارة، والثاني من الحلول والمرور. أما وقف على رسائل المعري في ذم الدنيا. أليس يقول في بعض رسائله: فلو كانت الدنيا عروسا لطلقت ولكنها أم أملقت، يحبها ولدها على العقوق، وتصدهم عن إدراك الحقوق، مالنا ومالك أم دفر أما أما يقنعك هلاك الوفر: أعييتني بأشر، فكيف بدردر. سؤتني غانية، فكيف بك عجوزا فانية، وهيهات ما أصابك الهرم ولا البرم، وإنما ذلك لأبنائك الذين شربوا من إنائك … وهي طويلة أتى فيها على ذكر من درج من أعيان الأمم. وهي من الرسائل الطنانات.

ويقول ابن الشبل البغدادي.

إنما نحن بين ظفر ونابٍ … من خطوب أسودهن ضراء

نتمنى وفي المنى قصر العم … ر فنغدو كما نسر نساء

صحة المرء للسّقام طريقٌ … وطريق الفناء هذا البقاء

بالذي نغتذي نموت ونحيا … أقتل الدّاء للنفوس الدواء

ما لقينا من غدر دنيا فلا كا … نت ولا كان أخذها والعطاء

صلفٌ تحت راعد وسراب … كرعت منه مومسٌ خرقاء

راجعٌ جودها عليها فمهما … يهب الصبح يستردّ المساء

وقليلا ما تصحب المهجة الجس … م ففيم الشقاء وفيم العناء

قبح الله لذةً لشقانا … نالها الأمهات والآباء

نحن لولا الوجود لم نألم الفق … د فإيجادنا علينا بلاء

دع كل ذا. أما وقف على الخطب النباتية ورأى كلامه فيها ويحذو حذوه ويتلو تلوه حتى يقول: الهليلج واللوزينج والكبد والطحال. والناس يذكرون مثل هذا، ولكن يدرجونه في عبارة تكون مفحلة لها وقع في النفس.

قال: ومن ذلك ما ذكرته في الزهد وهو: الناس في الدنيا للساعة الراهنة، كما أن النفوس ليست فيها بقاطنة.

أقول: ما أدري معنى التشبيه هنا ما هو.. ووجه العلاقة في ذلك. فإن قوله: كما، الكاف للتشبيه ولا نسبة بين: أنهم أبناء الساعة الراهنة، وبين أنهم يزولون. ولو حذف لفظة كما لاستقام المعنى، لأنه يعود: والنفوس فيها ليست بقاطنة.

ألا ترى أن بعض الناس عاب على أبي الطيب قوله:

لبس الثلوج بها عليّ مسالكي … فكأنها ببياضها سوداء

وكذا الكريم إذا أقام ببلدةٍ … سال النّضار بها وقام الماء

وقال: بأي شيء شبه إقامة الكريم وما تقدمه ما يناسب ذلك: والجواب عن ذلك: إنه لما قال إن الثلوج سدت المسالك عليه فرجعت ببياضها سوداء. شبه ذلك بالحالة التي تكون للكريم أنه يسيل به جامد النضار ويجمد مائع الماء. فهذا الاتضاد كذاك. وهذا الموطن مما يسأل عنه من شعر المتنبي.

قال في آخر هذا الفصل: وغاية مطلوب الإنسان أن يمد له في عمره، ويملى له في امتداد أثره. أما تعميره فيعترضه المشيب الذي هو عدم في وجود، وهو أخو الموت في كل شيء إلا في سكنى اللحود، والجوارح التي يدرك بها الشهوات ترى وكل منها قد تحول، وأصبح كالطلل الدارس الذي ليس عنده من معول. فلا ليلى بليلي ولا النوار، ولا الأسماع الأسماع ولا الأبصار الأبصار.

أقول: وهذا من ذلك النمط في الركة والسماجة، خصوصا هذا الأخير: لا يخفى على من كان عنده أدنى نباهة ويسير ذوق انحلال هذه الألفاظ وسقوطها. وكأنه أراد أن يحذو حذو أبي تمام حيث قال:

لا أنت أنت ولا الدّيار ديار … جفّ الهوى وتقضّت الأوطار

ولكن أين الثرى من الثريا، ويا بعد ما بين القفا والمحيا. ومن النصف الثاني تعلم فائدة التكرار في النصف الأول.

ومن العجيب أنه قال في النوع الرابع في توكيد الضميرين، وقد أورد قول أبي الطيب:

قبيلٌ أنت أنت وأنت منهم … وجدك بشرٌ الملك الهمام
যদি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দুনিয়াকে পরীক্ষা করে, তবে তার কাছে প্রকাশ পাবে যে, এটি বন্ধুর পোশাকধারী এক শত্রু।

এমনকি হারুনুর রশীদ বা মামুন বলেছিলেন: যদি দুনিয়া নিজেই নিজের বর্ণনা দিত, তবে আবু নুওয়াসের এই বাণীর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারত না। তিনি কি আবুল আতাহিইয়া, সালিহ ইবনে আব্দুল কুদ্দুস এবং মাহমুদ আল-ওয়াররাকের কোনো কথা শোনেননি? এবং আল-মুতানাব্বি, আবু তাম্মাম ও অন্যান্য কবিদের কথা যারা দুনিয়ার নিন্দা করেছেন? তিনি কি যামাখশারির এই কথা শোনেননি: তুমি তাদের জন্য মিষ্ট হও তারপর তিক্ত হও, আর তুমি তাদের জন্য অবতরণ করো তারপর অতিবাহিত হও। প্রথমটি মিষ্টতা ও তিক্ততা থেকে এবং দ্বিতীয়টি অবতরণ ও অতিবাহিত হওয়া থেকে। তিনি কি দুনিয়ার নিন্দায় আল-মাআররির চিঠিপত্রগুলো দেখেননি? তিনি কি তার কোনো চিঠিতে বলেননি: দুনিয়া যদি কনে হতো তবে তাকে তালাক দেওয়া হতো, কিন্তু সে তো এমন এক নিঃস্ব মা যার সন্তানরা অবাধ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে ভালোবাসে এবং সে তাদেরকে অধিকার আদায় থেকে বিরত রাখে। হে দুর্গন্ধময়ী জননী, আমাদের সাথে তোমার কী সম্পর্ক? প্রচুর সম্পদের বিনাশ কি তোমাকে তৃপ্ত করে না? তুমি আমাকে যৌবনের দন্তবিকাশে ক্লান্ত করেছ, তবে বার্ধক্যে তোমার দশা কেমন হবে? তুমি আমাকে একজন যুবতী হিসেবে কষ্ট দিয়েছ, তবে একজন বিলীয়মান বৃদ্ধা হিসেবে তোমার কী অবস্থা হবে? হায়, জরা বা ক্লান্তি তোমাকে স্পর্শ করেনি, বরং তা তোমার সন্তানদের জন্য যারা তোমার পাত্র থেকে পান করেছে... এটি একটি দীর্ঘ লেখা যাতে তিনি বিগত উম্মতদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করেছেন। এটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও চমৎকার চিঠিপত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

ইবনুল শিবল আল-বাগদাদি বলেন:

আমরা তো কেবল শিকারি দাঁত ও নখের মাঝে আছি … এমন মুসিবত থেকে যার সিংহগুলো শিকারি

আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, অথচ আকাঙ্ক্ষার মাঝেই জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে যায় … ফলে আমরা সকালে এমনভাবে উঠি যেন আমরা আনন্দিত নারী

মানুষের সুস্থতা অসুস্থতারই পথ … আর এই স্থায়িত্ব হলো ধ্বংসের পথ

যা দিয়ে আমরা পুষ্টি পাই, তা দিয়েই আমরা মরি ও বাঁচি … প্রাণের জন্য সবচেয়ে ঘাতক রোগই হলো তার ওষুধ

দুনিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আমরা যা পেয়েছি, তা যেন না থাকত … আর তার আদান-প্রদানও যেন না হতো

এটি তো মেঘের গর্জনের নিচে এক দাম্ভিকতা এবং মরীচিকা … যেখান থেকে এক নির্বোধ ব্যভিচারী নারী আকণ্ঠ পান করেছে

তার দান তার কাছেই ফিরে যায়, কারণ সকাল যা দান করে … সন্ধ্যা তা ছিনিয়ে নেয়

আত্মা শরীরের সাথে সামান্য সময়ই অবস্থান করে … তবে কেন এই কষ্ট আর কেন এই যন্ত্রণা?

আল্লাহ সেই স্বাদকে কলঙ্কিত করুন যা আমাদের দুর্ভাগ্যের কারণ … যা আমাদের পিতামাতা লাভ করেছিলেন

আমরা যদি অস্তিত্ববান না হতাম তবে বিয়োগব্যথায় কাতর হতাম না … তাই আমাদের সৃষ্টি হওয়াটাই আমাদের জন্য এক বিপদ

এই সব কথা ছাড়ুন। তিনি কি ইবনুন নবাতার খুতবাগুলো দেখেননি এবং সেখানে তার কথাগুলো লক্ষ্য করেননি? তিনি কি সেই পথই অনুসরণ করেন না এবং সেই অনুকরণেই বলেন না যে: হালীলাজ, লাউযীনজ, কলিজা ও প্লীহা। মানুষ এই ধরণের কথা উল্লেখ করে বটে, কিন্তু তারা সেগুলোকে এমন এক বলিষ্ঠ শৈলীতে বিন্যস্ত করে যা হৃদয়ে দাগ কাটে।

তিনি বলেন: যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা সম্পর্কে আমি যা উল্লেখ করেছি তা হলো— দুনিয়াতে মানুষ বর্তমান সময়ের জন্য, যেমন আত্মা এখানে চিরস্থায়ীভাবে বসবাসকারী নয়।

আমি বলি: এখানে উপমার অর্থ কী তা আমি জানি না এবং এর মধ্যকার সম্পর্কের দিকটিও অস্পষ্ট। কারণ তার উক্তি 'যেমন', এখানে 'যেমন' শব্দটি উপমার জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তারা বর্তমান সময়ের সন্তান হওয়ার সাথে তাদের বিলীন হয়ে যাওয়ার কোনো সরাসরি অনুপাত নেই। যদি 'যেমন' শব্দটি বাদ দেওয়া হতো তবে অর্থ সঠিক হতো, কারণ তখন এর অর্থ দাঁড়াত: আর আত্মা সেখানে স্থায়ী নয়।

আপনি কি দেখেননি যে কিছু মানুষ আবু তাইয়্যেবের এই উক্তির সমালোচনা করেছেন:

বরফ আমার পথগুলোকে ঢেকে দিয়েছে … ফলে তার শুভ্রতার কারণে তা কালো হয়ে গেছে

তেমনিভাবে কোনো সম্মানিত ব্যক্তি যখন কোনো শহরে অবস্থান করেন … তখন সেখানে স্বর্ণ প্রবাহিত হয় এবং পানি জমে স্থির হয়ে যায়

তিনি বললেন: কিসের সাথে তিনি সম্মানিত ব্যক্তির অবস্থানকে উপমা দিলেন এবং এর আগে যা এসেছে তার সাথে এর মিল কোথায়? এর উত্তর হলো: তিনি যখন বললেন যে বরফ তার পথগুলো রুদ্ধ করে দিয়েছে ফলে তা শুভ্র হওয়া সত্ত্বেও কালোর রূপ নিয়েছে, তখন তিনি একে সেই অবস্থার সাথে উপমা দিলেন যা কোনো দাতা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে যে, তার দ্বারা কঠিন স্বর্ণ তরল হয়ে প্রবাহিত হয় এবং তরল পানি জমে স্থির হয়ে যায়। সুতরাং এই বৈপরীত্য ওই বৈপরীত্যের মতো। এটি মুতানাব্বির কবিতার সেই স্থানগুলোর একটি যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়।

তিনি এই পরিচ্ছেদের শেষে বলেন: মানুষের পরম চাওয়া হলো তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক এবং তার স্মৃতিকে প্রলম্বিত করা হোক। আর তার দীর্ঘায়ু লাভের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বার্ধক্য, যা অস্তিত্বের মাঝে এক প্রকার অনস্তিত্ব। কবরে বসবাস করা ছাড়া আর সব দিক থেকেই তা মৃত্যুর ভাই। আর যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সে কামনা-বাসনা চরিতার্থ করত, দেখা যায় যে সেগুলোর প্রতিটিই পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং এমন এক ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে যার কোনো অবলম্বন নেই। ফলে লায়লা আগের লায়লা নেই, নাওয়ার আগের নাওয়ার নেই; শ্রবণশক্তি আগের শ্রবণশক্তি নেই এবং দৃষ্টিশক্তি আগের দৃষ্টিশক্তি নেই।

আমি বলি: এটি সেই দুর্বল ও কুরুচিপূর্ণ রীতির অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে এই শেষ অংশটুকু। যার সামান্যতম বোধশক্তি ও নূ্যনতম রুচিবোধ আছে তার কাছে এই শব্দগুলোর শিথিলতা ও পতন লুকানো নয়। মনে হচ্ছে তিনি আবু তাম্মামের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চেয়েছেন যেখানে তিনি বলেছিলেন:

তুমিও তুমি নও, আর এই আবাসও সেই আবাস নয় … ভালোবাসা শুকিয়ে গেছে এবং প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে

কিন্তু মাটির সাথে সুরার (নক্ষত্র) তুলনা কোথায়! আর ঘাড়ের সাথে চেহারার ব্যবধান কতই না বেশি! দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আপনি প্রথমার্ধে শব্দ পুনরাবৃত্তির উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তিনি চতুর্থ প্রকার অর্থাৎ দুটি সর্বনামের তাকিদ (দৃঢ়তা) প্রসঙ্গে আবু তাইয়্যেবের এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন:

তুমিই তুমি এক অনন্য গোত্র, আর তুমি তাদেরই একজন … আর তোমার পূর্বপুরুষ হলেন বিশর, যিনি একজন মহান ও প্রতাপশালী বাদশাহ
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২৫)
لم أورده اختيارا له، وإنما مثلت به ليعلم توكيد المنفصل بالمنفصل. وإلا فالبيت ليس بالمرضي لأن سبكه سبك عار من الحسن.

أقول: فليت شعري أي طلاوة على قوله هو: أما أبو تمام فإنه خاطب نفسه كالمنكر ما كان منه في شغفه بتلك الديار التي وقف عليها بعد سلوه وتقضي أوطاره. وحق له أن يقول: لا أنت ذاك الذي كنت أولا، ولا هذه الديار تلك التي كانت أولا. يعني كأن نفسه أصبحت غير تلك والديار بدلت بصفة أخرى.

وما أحسن قول الحظيري الوراق:

تركتك فامض إلى من تحبّ … ففعلك برّد نار الجوى

وقبّحك الغدر في ناظريّ … وغودر عود الهوى قد ذوى

وصرت أراك بعين السلوّ … وكنت أراك بعين الهوى

ومن المعلوم أن العين ما تغيرت في ذاتها، ولا كانت ثم عين وبدلت غيرها. إنما السلو أوجب أن يريه بعين القبح، والحب أوجب أن يريه بعين الحسن.

ومن هذا قول....

وعين الرضى عن كل عيبٍ كليلةٌ … كما أن عين السّخط تبدي المساويا

وهذا دائر على ألسنة الناس. يقولون في من يتغير عليهم منه صفة من الصفات: كأنه راح وجاء غيره. وهذا من أبي تمام في غاية الحسن في بابه.

وأما قول أبي الطيب، فتحته من المعنى ما يكسوه حسنا فائقا، لأن هذا من أمدح ما يكون للقبيلة التي ذكرها، لأنه قال: قبيلة أنت منهم، وأنت أنت، معناه: فيا لها من قبيلة لأنها أنت منهم وأنت ذاك العظيم. فأخر المعطوف عليه عن المعطوف كقوله:

… ... … ... عليك ورحمة الله السلام.

وقدرة الشيخ تاج الدين الكندي تقديرا آخر، وهذا أحسن مع الضرورة التي فيه وكأن ابن الأثير رحمه الله، لمح معنى الأبيات التي وردت لبعض شعراء الذخيرة لابن بسام وهي:

أصبحت رمةً تزايل عنها … فصلها الجوهريّ والعرضيّ

وتلاشى كيانها الحيواني … وأودى بيانها المنطقيّ

وقوى عقله الثلاث تلاشت … إن ذا كله لأمرٌ خفيّ

والحواس الخمس التي كنّ فيه … ولإدراكهنّ فعلٌ وحيّ

ذهبت تلكم الصفات جميعاً … ومحالٌ أن يذهب الأزلي

فأراد أن يأتي بهذا المعنى فأفسده، وهدم ما جاء به هذا الشاعر وشيده. وبعض الناس يدعي أن هذه الأبيات للرئيس أبي علي بن سينا، وابن بسام أثبتها في الذخيرة لبعض المغاربة. ولكن قصيدة الرئيس في النفس التي أولها:

هبطت إليك من المحل الأرفع … ورقاء ذات تّعزّزٍ وتمنع

في غاية الحسن، وما لأحد مثلها في بابها، وشهرتها تمنع من سردها. وقد اعتنى بها الفضلاء وخمسوها وشرحوها.

وما أحسن قوله وقد ذكرها عند الموت:

وكأنها برقٌ تألّق بالحمى … ثم انطوى فكأنه لم يلمع

‌‌نماذج من إنشاء ابن الأثير والنقاش حولها

قال: ومن ذلك ما ذكرته في وصف كلام بالفصاحة، وهو فصل من كتاب فقلت: وله البيان الذي يفض من نسق الفريد ولا تخلق نضرة لباسه الجديد، وهو فوق الكلام المجيد، ودون القرآن المجيد.

أقول: ما رأينا من مدح كلاما ولا قرظه بمثل هذا. وفي أفانين المديح وضروب الثناء عن ذلك مندوحة، ألا ترى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سيد ولد آدم. ومع هذا فما سمعت أحدا مدح آخر فقال له: أنت دون النبي عليه السلام. لأن لفظة دون وأقل وتحت ما تستعمل في جانب الممدوح. وكلام الله تعالى قد تقرر وثبت أنه ليس في قدرة البشر أن يأتوا بسورة منه، فكل كلام دونه.

فقوله: كلام دون القرآن المجيد لا معنى تحته لأنه من باب تحصيل الحاصل. ومثل هذا عند الشيخ جمال الدين بن مالك ومن تابعه، لا يطلق عليه كلاما لأنه ما أفاد فائدة تامة لم تكن عند المخاطب كقولك: السماء فوق الأرض لأنه معلوم عند كل أحد. فإن قلت: أراد بذلك الأدب. قلت ما ضاق المجال عليه، ولا حصره ضيق المقام إلى هذا حتى يحتاج أن يأتي بما يحترز فيه. وما أوقعه في ذلك إلا لفظة المجيد والمجيد وطلب الجناس.

قال: وإذا اختصروا صفة قال: إنه يستميل سمع الطروب، ويستخف وقار القلوب ويتمثل آيات بيضا من غير ضم إلى الجيوب، ويرى في الأرض غير لاغب إذا مس غيره فتنة اللغوب.
আমি এটি এটি পছন্দ করে উল্লেখ করিনি, বরং বিচ্ছিন্ন শব্দকে বিচ্ছিন্ন শব্দ দ্বারা গুরুত্ব প্রদানের উদাহরণ হিসেবে এটি উল্লেখ করেছি। নতুবা, এই কাব্যখণ্ডটি সন্তোষজনক নয়, কারণ এর গঠনশৈলী সৌন্দর্যমণ্ডিত নয়।

আমি বলি: হায়! তার সেই কথার মধ্যে কী মাধুর্যই না রয়েছে। আবু তাম্মাম নিজেকে এমন একজনের মতো সম্বোধন করেছেন যে তার সেই গৃহগুলোর প্রতি তার পূর্ববর্তী আসক্তিকে অস্বীকার করছে, যেখানে তিনি তার সান্ত্বনা লাভ এবং প্রয়োজন মেটানোর পর দাঁড়িয়েছিলেন। তার পক্ষে এই বলা যথার্থ যে: না তুমি সেই ব্যক্তি যাকে আমি প্রথমে দেখেছিলাম, আর না এই গৃহগুলো সেই যা আগে ছিল। অর্থাৎ, তার সত্তা যেন আগের মতো নেই এবং গৃহগুলো অন্য এক অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে।

আর হাতীরি আল-ওয়াররাকের কথা কতই না চমৎকার:

আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি, সুতরাং যার কাছে ভালোবাসো চলে যাও … তোমার কর্ম অন্তরের দহনের আগুন শীতল করে দিয়েছে

তোমার বিশ্বাসঘাতকতা আমার চোখের সামনে তোমাকে কুৎসিত করে দিয়েছে … আর প্রেমের ডালটি যেন শুকিয়ে নুয়ে পড়েছে

এখন আমি তোমাকে বিরাগের চোখে দেখি … অথচ আগে তোমাকে ভালোবাসার চোখে দেখতাম

এটা সবার জানা যে, চোখের সত্তাগত কোনো পরিবর্তন হয়নি, আর সেখানে আগে এক চোখ ছিল এবং পরে বদলে অন্যটি হয়ে গেছে এমনও নয়। বরং বিরাগ তাকে কুৎসিত দেখতে বাধ্য করেছে, আর ভালোবাসা তাকে সুন্দর দেখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

এই অর্থেই বলা হয়েছে....

সন্তুষ্টির চোখ সকল ত্রুটি দেখতে অক্ষম … যেমন অসন্তুষ্টির চোখ কেবল দোষগুলোই প্রকাশ করে

আর এটি মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। কারো কোনো গুণ পরিবর্তিত হয়ে গেলে তারা বলে: সে যেন চলে গেছে এবং তার পরিবর্তে অন্য কেউ এসেছে। আবু তাম্মামের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি তার আঙ্গিকে অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে।

আর আবু তায়্যিবের বাণীর অন্তরালে এমন অর্থ রয়েছে যা একে অনন্য সৌন্দর্য দান করেছে। কারণ এটি সেই গোত্রের জন্য শ্রেষ্ঠতম প্রশংসা যা তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: তুমি তাদেরই একজন এবং তুমি তুমিই। এর অর্থ হলো: এটি কী এক মহৎ গোত্র যার মধ্যে তুমি রয়েছো এবং তুমিই সেই মহান ব্যক্তিত্ব। এখানে তিনি 'মাতুফ আলাইহি'কে 'মাতুফ'-এর পরে এনেছেন যেমনটি বলা হয়েছে:

… ... … ... তোমার ওপর বর্ষিত হোক আল্লাহর রহমত ও সালাম।

শায়খ তাজউদ্দীন আল-কিন্দী এর ভিন্ন এক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং তাতে কাব্যিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা অধিকতর সুন্দর। মনে হয় ইবনুল আসীর (রহ.) ইবনে বাসসামের 'আয-যাখিরা' গ্রন্থে উল্লেখিত কিছু কবির কবিতার অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো:

সে জীর্ণ অস্থিতে পরিণত হয়েছে যা থেকে তার … মৌলিক ও আনুষঙ্গিক উপাদানগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে

তার প্রাণ সত্তা বিলীন হয়ে গেছে … এবং তার যৌক্তিক প্রকাশ বা বাকশক্তি ধ্বংস হয়ে গেছে

তার বুদ্ধিবৃত্তিক তিনটি শক্তি বিলীন হয়ে গেছে … নিশ্চয়ই এ সবই এক রহস্যময় বিষয়

তার মধ্যে বিদ্যমান পঞ্চ ইন্দ্রিয় … এবং তাদের অনুধাবনের ক্ষিপ্র ক্রিয়া—

ঐ সকল গুণাবলি সব হারিয়ে গেছে … অথচ শাশ্বত সত্তার বিলুপ্তি অসম্ভব

তিনি এই অর্থটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন কিন্তু তা বিকৃত করে ফেলেছেন, এবং এই কবি যা নির্মাণ ও সুসংহত করেছিলেন তা তিনি ভেঙে ফেলেছেন। কিছু লোক দাবি করেন যে এই কবিতাগুলো শায়খ আবু আলী ইবনে সিনার, তবে ইবনে বাসসাম 'যাখিরা' গ্রন্থে এগুলোকে জনৈক মাগরেবি কবির বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আত্মা সম্পর্কে শায়খের সেই কাসিদাটি যার শুরু হলো:

সুউচ্চ স্থান থেকে তোমার কাছে অবতরণ করেছে … এক শক্তিশালী ও অদম্য ঘুঘু

তা অত্যন্ত চমৎকার, এই বিষয়ে এর সমতুল্য আর কেউ কিছু বলতে পারেনি। এর প্রসিদ্ধির কারণে এখানে তা উদ্ধৃত করার প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ এর প্রতি যত্নবান হয়েছেন, এর ওপর 'তাখমিস' করেছেন এবং ব্যাখ্যা লিখেছেন।

মৃত্যুর সময় তার এই উক্তিটি কতই না সুন্দর:

সে যেন এক বিদ্যুৎ যা সংরক্ষিত চারণভূমিতে চমকে উঠল … অতঃপর বিলীন হয়ে গেল যেন কখনো আলোই ছড়ায়নি

‌‌ইবনুল আসীরের রচনার কিছু নমুনা এবং এ নিয়ে আলোচনা

তিনি বলেন: তেমনি একটি বিষয় হলো যা আমি কোনো বাণীর সাবলীলতার বর্ণনায় উল্লেখ করেছি, যা একটি বইয়ের পরিচ্ছেদ। আমি বলেছি: তার রয়েছে এমন এক প্রকাশভঙ্গি যা মুক্তার মালাকেও হার মানায় এবং এর নতুনত্বের লাবণ্য কখনো পুরনো হয় না। এটি অন্যান্য মহিমান্বিত বাণীর উর্ধ্বে, কিন্তু মহাগ্রন্থ কুরআনের নিচে।

আমি বলি: কোনো কথার প্রশংসায় আমরা কাউকে এমন বলতে বা লিখতে দেখিনি। প্রশংসার বিভিন্ন ধরন ও স্তুতির নানা পদ্ধতির মধ্যে এর চেয়ে উত্তম বিকল্প রয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে রাসূলুল্লাহ (সা.) আদম সন্তানের সরদার? তা সত্ত্বেও কাউকে কাউকে প্রশংসা করতে গিয়ে এমন বলতে শুনিনি যে: তুমি নবীর (সা.) নিচে। কারণ 'নিচে', 'কম' বা 'তলে' শব্দগুলো প্রশংসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। আর আল্লাহর কালামের ক্ষেত্রে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে কোনো মানুষের পক্ষে এর একটি সূরাও তৈরি করা সম্ভব নয়, সুতরাং সকল বাণীই তার নিচে।

সুতরাং তার এই কথা: "মহাগ্রন্থ কুরআনের নিচের স্তরের বাণী"—এর ভেতরে কোনো গভীর অর্থ নেই, কারণ এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। শায়খ জামালুদ্দীন ইবনে মালিক এবং তার অনুসারীদের নিকট একে 'কালাম' বলা হয় না, কারণ এটি শ্রোতার কাছে কোনো নতুন বা পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করে না। যেমন আপনার বলা: "আকাশ জমিনের উপরে", কারণ এটি সবার কাছেই জানা। যদি আপনি বলেন: তিনি এর মাধ্যমে শিষ্টাচার রক্ষা করতে চেয়েছেন, তবে আমি বলব: তার শব্দভাণ্ডার তো সংকীর্ণ হয়ে যায়নি বা পরিস্থিতির কারণে তিনি এমনভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েননি যে তাকে এই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বরং 'মাজিদ' ও 'মাজিদ' শব্দের মিল এবং অনুপ্রাস খোঁজার নেশাই তাকে এতে নিপতিত করেছে।

তিনি বলেন: যখন তারা কোনো গুণ সংক্ষেপে বর্ণনা করেন, তখন বলেন: এটি উল্লসিত ব্যক্তির শ্রবণকে আকৃষ্ট করে, হৃদয়ের গাম্ভীর্যকে বিগলিত করে এবং বগলে হাত না দিয়েই উজ্জ্বল নিদর্শনের রূপ ধারণ করে; আর জমিনে তাকে ক্লান্ত দেখা যায় না যখন অন্যের ওপর ক্লান্তির ফিতনা ভর করে।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২৬)
أقول: إذا كان يستميل سمع الطروب، فما في هذا كبير مدح، وذلك أن صيغة فعول مبالغة فيمن يطرب. ولا يقال طروب إلا لمن يميل لأدنى لذة، ويتحرك لأقل نعمة. مثل: أكول وشروب لكثير الأكل والشرب لما يمر به. وإذا كان الذي يميل إلى الطرب ويتكرر ذلك منه، يطرب لهذا الكلام فما في هذا مزية توجب مدحه، ولهذا قيل: المستعد للشيء يكفيه أدنى سبب، وإنما المدح أن يقال: يستميل من لا يرتاح للطرب. كما قال في الثانية: ويستخف وقار القلوب. فإن هذا هو المعهود في المدح. فإن قلت: هذا يرد على البحتري في قوله:

مستميلٌ سمع الطروب المعنّى … عن أغانيّ معبدٍ وعقيد

قلت: هذا مما يؤيد ما قلته، لأنه قال: يستميل سمع الطروب المعنى عن سماع معبد وعقيد اللذين هما أصل الغناء. وإذا كان يلفت من هو بهذه الصفة عن لذته إلى سماعه، كان ذلك مدحا فهو من باب يستخف الحليم ويصبي الناسك. وما خلص هذا للبحتري إلا بقوله: عن أغاني معبد. ولو قال ابن الأثير: يستميل الطروب عن أغانيه بفصاحته، لما أوردت عليه هذا الإيراد. وهذا الذي قلته هو المعهود في المدح.

ألا ترى قول النابغة الذبياني:

لو أنها عرضت لأشمط راهبٍ … عبد الإله صرورة متعبد

لرنا لبهجتها وحسن حديثها … ولخاله رشدا وإن لم يرشد

وقول امرىء القيس:

إلى مثلها يرنو الحليم صبابةً … إذا ما اسبكرّت بين درع ومجول

وما أحسن قول كشاجم في عوادة، من أبيات:

دارت ملاويه فيه فاختلفت … مثل اختلاف اليدين شبّكتا

لو حرّكته وراء منهزمٍ … على بريدٍ لعاج والتفتا

وقلت أنا:

جسّت مثاني عودها بأناملٍ … عبثت بلبّ الخاشع المتورع

وشدت فلو شاءت عذوبة لفظها … عطفت عنان البارق المتسرع

وعجبت من ريح الصّبا إذ لم تقف … طربا ولكن ما لها أذن تعي

وأما قوله: ويرى في الأرض غير لاغب، ما سمعت بمن مدح الكلام الفصيح بمثل هذا، والكلام لا يوصف بإعياء ولا لغوب. ولكن هذا من باب إضافة العقل والدين والجوارح للخمر في الفصل الذي تقدم. أتراه ما علم أن اللغوب من صفات الأجسام ولواحقها عند الحركة وإدمانها، فإن الكلام لا يتعب وإنما التعب لجارحة من تكلم به، والكتاب لا يتعب وإنما الكاتب الذي خطه.

وما أحسن قول القائل:

إذا أخذ القرطاس أودع طرسه … خميلة زهر أو قلادة جوهر

حمى كلّ فكرٍ عن عراك رويّه … وحطّ عن الأقلام ثقل التفكر

فإن كان ابن الأثير أراد الكاتب الذي صدر عنه هذا الكتاب الذي وصفه، فليس في سياق الكلام ما يدل عليه.

وقد عاب الوحيد على أبي الطيب قوله:

كلّ السيوف إذا طال الضراب بها … يمسّها غير سيف الدولة السأم

وقال: السأم لا يلحق السيوف إلا أن يكون جاء به استعارة في موضع كلال الحد قال: ولما وقفت عليه قلت: سبحان من أعطى سيدنا فلم يبخل، وخصه بنبوة البيان إلا أنه لم يرسل، ولولا أن الوحي قد سد بابه لقيل هذا كتاب منزل، ولقد خار الله لأولي الفصاحة إذ لم يحيوا إلى عصره، ولم يبلوا بداء الحسد الذي يصليهم بتوقد جمره، ولئن سلموا من ذلك فما سلمت أقوالهم من أقواله التي محتها محو المداد، وقد كانت باقية من بعده فلما أتى صارت كما صاروا إلى الألحاد.

أقول: في هذا من اساءة الأدب ما فيه، وللإنسان عن مثل هذا المدح مندوحة تخرجه من هذه المضائق.

وقوله: وخصه بنبوة البيان إلا أنه لم يرسل مأخوذ من قول أبي العلاء المعري:

لولا انقطاع الوحي بعد محمدٍ … قلنا محمد من أبيه بديل

هو مثله في الفضل إلا أنه … لم يأته برسالةٍ جبريل

وقد كفر قائل مثل هذا.

قال: وإن لكلمه طعما يعرف مذاقه من بين الكلام، وخفة الأرواح معلومة من بين ثقل الأجسام، فلو لم يعرف بطعمه عرف بوسمه، والصبح لا يتمارى في إسفاره، ولا يفتقر إلى دليل على أنواره. وقد علم أن العرق يعرف بغصنه، وأن القول يعرف بلحنه.

أقول: قوله: وإن لكلمه طعما يعرف مذاقه من بين الكلام، ما أحسن ما أجاب به ابن عميرة ابن الأبار عن كتاب بعثه إليه، فجاء من جملة الجواب:

আমি বলছি: যদি এটি আমোদপ্রিয় ব্যক্তির শ্রবণকে আকৃষ্ট করে, তবে এতে খুব বড় কোনো প্রশংসা নেই। কারণ 'ফাউল' রূপটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে আতিশয্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয় যে আমোদ অনুভব করে। আর 'তারুব' (আমোদপ্রিয়) কেবল তাকেই বলা হয় যে সামান্যতম আনন্দেই বিগলিত হয় এবং সামান্য নেয়ামতেই আন্দোলিত হয়। যেমন: 'আকুল' (অধিক ভোজনকারী) এবং 'শারুব' (অধিক পানকারী) বলা হয় সেই ব্যক্তিকে যে সামনে যা পায় তা-ই প্রচুর পরিমাণে আহার ও পান করে। আর যে ব্যক্তি আমোদপ্রিয় এবং এটি যার স্বভাবে বারবার প্রকাশ পায়, সে যদি এই বাণীতে আনন্দিত হয় তবে এতে এমন কোনো বিশেষত্ব নেই যা প্রশংসার দাবি রাখে। একারণেই বলা হয়েছে: কোনো বিষয়ের জন্য যে প্রস্তুত থাকে, তার জন্য সামান্য কারণই যথেষ্ট। বরং প্রশংসা তখনই সার্থক হয় যখন বলা হয়: এটি তাকেও আকৃষ্ট করে যে আমোদে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। যেমনটি তিনি দ্বিতীয় বাক্যে বলেছেন: 'এবং এটি হৃদয়ের গাম্ভীর্যকে বিচলিত করে'। কারণ প্রশংসার ক্ষেত্রে এটাই সুপরিচিত রীতি। যদি আপনি বলেন: এটি আল-বুহতুরীর এই বাণীর ক্ষেত্রেও আপত্তি হিসেবে আসবে:

ব্যথিত আমোদপ্রিয়ের শ্রবণশক্তিকে যা অন্য দিকে আকৃষ্ট করে … মা'বাদ এবং আকীদের গান শোনা থেকে।

আমি বলব: এটি আমি যা বলেছি তাকেই সমর্থন করে। কারণ তিনি বলেছেন: সে আমোদপ্রিয়ের শ্রবণকে মা'বাদ এবং আকীদের গান শোনা থেকে ফিরিয়ে নিজের দিকে আকর্ষণ করে, অথচ এই দুজনই গানের আদি উৎস। সুতরাং যখন সে এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারীকে তার চিরাচরিত আনন্দ থেকে ফিরিয়ে নিজের কথা শোনার দিকে নিবিষ্ট করতে পারে, তখন সেটি প্রশংসার বিষয় হয়। এটি 'ধৈর্যশীলকে বিচলিত করা এবং পরহেজগারকে মুগ্ধ করা'র পর্যায়ভুক্ত। বুহতুরীর জন্য এই প্রশংসা কেবল তখনই সার্থক হয়েছে যখন তিনি বলেছেন: 'মা'বাদের গান থেকে'। ইবনুল আসীর যদি বলতেন: 'তার বাগ্মিতা দ্বারা আমোদপ্রিয়কে তার প্রিয় গানগুলো থেকে বিমুখ করে আকর্ষণ করে', তবে আমি তার ওপর এই আপত্তি করতাম না। আর আমি যা বলেছি প্রশংসার ক্ষেত্রে এটাই প্রতিষ্ঠিত রীতি।

আপনি কি নাবিগা আল-জুবিয়ানীর উক্তি দেখেননি:

যদি সে কোনো শুভ্রকেশ সন্ন্যাসীর সামনে প্রকাশিত হতো … যে আল্লাহর ইবাদতকারী, সংসারত্যাগী এবং আজীবন উপাসনায় মগ্ন;

তবে সে তার লাবণ্য ও সুন্দর বাণীর প্রতি অপলক তাকিয়ে থাকত … এবং একেই সঠিক পথ মনে করত, যদিও বাস্তবে তা সঠিক পথ নয়।

এবং ইমরাউল কায়সের উক্তি:

তার মতো রূপসীর দিকে ধৈর্যশীল ব্যক্তিও অনুরাগের সাথে তাকায় … যখন সে বর্ম ও অলংকারের মাঝে পূর্ণ যৌবনা হয়ে ওঠে।

এবং জনৈকা বাদ্যযন্ত্র বাদিকা সম্পর্কে কুশাজিমের কতই না চমৎকার উক্তি:

সেখানে তার আঙুলগুলো এমনভাবে আবর্তিত ও পরিবর্তিত হচ্ছিল … যেন পরস্পর আবদ্ধ দুটি হাতের আঙুলের বৈচিত্র্য।

সে যদি সেই সুর কোনো পরাজিত পলায়নপর ব্যক্তির পিছু পিছু বাজাত … তবে সে দ্রুতগামী বাহনের পিঠ থেকেও মায়াভরে ফিরে তাকাত ও থেমে যেত।

এবং আমি বলেছি:

সে তার বীণার তারগুলোকে এমন আঙুলে স্পর্শ করল … যা বিনয়ী ও অতি পরহেজগার ব্যক্তির অন্তরের স্থিরতা নিয়ে খেলা করে।

সে গেয়ে উঠল, সে যদি চাইত তবে তার বাণীর মিষ্টতা দিয়ে … দ্রুতগামী বিজলীর লাগামকেও অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারত।

আর আমি পুবালি বাতাসের ওপর বিস্মিত হলাম যে সেটি কেন থামল না … আনন্দে বিমোহিত হয়ে, কিন্তু তার তো কোনো শ্রবণকারী কান নেই।

আর তার এই উক্তি সম্পর্কে: 'এবং জমিনে তাকে ক্লান্ত দেখা যায় না', আমি এমন কাউকে শুনিনি যে অলঙ্কারপূর্ণ বাণীর প্রশংসা এভাবে করেছে। বাণীর ক্ষেত্রে কখনও ক্লান্তি বা অবসাদ গুণারোপ করা যায় না। বরং এটি পূর্বের পরিচ্ছেদে বর্ণিত মদকে বুদ্ধি, ধর্ম ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার মতো বিষয়। তিনি কি জানতেন না যে, ক্লান্তি বা অবসাদ হলো দেহের বৈশিষ্ট্য এবং তা চলাফেরা ও নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফল? বাণী কখনও ক্লান্ত হয় না, বরং ক্লান্তি আসে সেই অঙ্গের ওপর যা তা উচ্চারণ করে। তদ্রূপ কিতাবও ক্লান্ত হয় না, বরং সেই লেখকই ক্লান্ত হন যিনি তা লিখেছেন।

কতই না সুন্দর এই কবির উক্তি:

যখন সে কাগজ হাতে নেয়, সে তার পাতায় গচ্ছিত রাখে … পুষ্পশোভিত বাগান অথবা মুক্তার মালা।

সে প্রতিটি চিন্তাকে গভীর ভাবনার সংঘাত থেকে রক্ষা করেছে … এবং কলমগুলো থেকে চিন্তার গুরুভার নামিয়ে দিয়েছে।

ইবনুল আসীর যদি এখানে সেই লেখককে বুঝিয়ে থাকেন যার কাছ থেকে এই বর্ণিত কিতাবটি উৎসারিত হয়েছে, তবে বাণীর পূর্বাপর বর্ণনায় এমন কোনো প্রমাণ নেই যা এটি নির্দেশ করে।

আল-ওয়াহিদ আবু আল-তায়্যিবের এই বাণীর সমালোচনা করেছেন:

সব তলোয়ার যখন দীর্ঘক্ষণ আঘাত চালিয়ে যায় … তখন তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কেবল সাইফুদ্দৌলার তলোয়ার ব্যতীত।

তিনি বলেছেন: তলোয়ারের ক্ষেত্রে ক্লান্তি আসে না, যদি না তিনি তলোয়ারের ধারের ভোঁতা হয়ে যাওয়ার অর্থে রূপক হিসেবে এটি ব্যবহার করে থাকেন। তিনি বলেন: যখন আমি এটি লক্ষ্য করলাম তখন বললাম: পবিত্র সেই সত্তা যিনি আমাদের প্রভুকে দান করেছেন এবং কার্পণ্য করেননি, এবং তাকে বাণীর নব্যুয়ত দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন কিন্তু তাকে রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেননি। যদি ওহীর দরজা বন্ধ না হতো তবে বলা হতো এটি একটি অবতীর্ণ কিতাব। আল্লাহ বাগ্মীদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যেহেতু তারা তার যুগে জীবিত ছিল না এবং হিংসার রোগে আক্রান্ত হয়নি যা তাদেরকে তার জ্বলন্ত অঙ্গারে দগ্ধ করত। আর তারা যদি তা থেকে বেঁচেও যেত, তবে তাদের বাণীসমূহ তার বাণীর হাত থেকে রেহাই পেত না যা কালির দাগ মুছে ফেলার মতো তাদের কীর্তিকে মুছে দিয়েছে। তাদের বাণীগুলো তার আসার আগ পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল, কিন্তু যখন তিনি এলেন তখন সেগুলো কবরে সমাহিত হলো যেমন তাদের পূর্বসূরিরা চলে গেছে।

আমি বলছি: এর মধ্যে শিষ্টাচারের চরম অভাব রয়েছে। এমন প্রশংসা বাদ দিয়েও মানুষের জন্য অন্য পথ খোলা থাকে যা তাকে এই সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

আর তার উক্তি: 'তাকে বাণীর নব্যুয়ত দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন কিন্তু তাকে প্রেরণ করেননি'—এটি আবু আল-আলা আল-মা'আররীর উক্তি থেকে গৃহীত হয়েছে:

মুহাম্মদের পর যদি ওহী বন্ধ না হতো … তবে আমরা বলতাম মুহাম্মদ তার পিতার স্থলাভিষিক্ত।

তিনি শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে তাঁর মতোই, কেবল পার্থক্য এই যে … জিবরীল তাঁর কাছে রিসালাত নিয়ে আসেননি।

আর এমন কথা যে ব্যক্তি বলে সে কুফরি করেছে।

তিনি বলেছেন: তাঁর বাণীর এমন এক স্বাদ রয়েছে যার আস্বাদন অন্যান্য বাণীর মাঝে চেনা যায়, আর স্থূল দেহের তুলনায় রুহের লাঘবতা সুবিদিত। সুতরাং যদি তা আস্বাদন দ্বারা চেনা না যেত, তবে তা তার চিহ্ন দ্বারা চেনা যেত। সুবহে সাদিকের উজ্জ্বলতা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে না এবং তার আলোর জন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। এটি সুবিদিত যে, ডাল দেখলেই তার মূল চেনা যায় এবং বাচনভঙ্গি দেখলেই কথা চেনা যায়।

আমি বলছি: তার এই উক্তি: 'তাঁর বাণীর এমন এক স্বাদ রয়েছে যার আস্বাদন অন্যান্য বাণীর মাঝে চেনা যায়'—ইবনে আমীরা ইবনুল আব্বারের প্রেরিত এক কিতাবের উত্তরে কতই না চমৎকার জবাব দিয়েছিলেন, সেই উত্তরের কিছু অংশ ছিল নিম্নরূপ:

(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২৭)
فمهلا أيها الموفي على علمه النافث بسحر قلمه، أتظن منزلتك في البلاغة تخفى ومهيعها لا حب. ومنزعها بالعقول لاعب. أتسفل وقد ترفعت، أو تخفى وقد تلفعت. عرفناك يا سوده، وشهرت حلة عطارد بالملاحة والجوده.

وقوله: والصبح لا يتمارى في إسفاره، السجعتين. مأخوذ من قول أبي الطيب:

وليس يصح في الأفهام شيءٌ … إذا احتاج النهار إلى دليل

ومن قول الغزي:

فلا تبغ برهانا على مكرماته … طلابك برهانا على الصبح بارد

وقوله: وقد علم أن العرق يعرف بغصنه مأخوذ من قول أبي الطيب:

أفعاله نسب لو لم يقل معها … جدّي الخصيب عرفنا العرق بالغصن

على أن المتنبي أخذه من البحتري حيث يقول:

لست أعتدّ للفتى نسبا … ما لم يكن في فعاله نسبه

ومن قول ابن الرومي:

كدأب عليٍ في المواطن جده … أبي حسنٍ والغصن من حيث يخرج

وقد نقلت أنا هذا المعنى إلى الغزل، فقلت في مليح رأيته في طاقة:

رأيت في طاقةٍ كالبدر فتى … فقلت من تحت هذا البانة النضره

قالوا حكمت وما أبصرت قامته … فقلت: إني عرفت الغصن بالثمره

قال: ونفائس هذه العقود لا تبرزها إلا أنفاسه، فدررها لفظه، وسلوكها قرطاسه ثم قال ومن هذا الباب قولي أيضاً وهو ألفاظ كخفق البنود وزأر الأسود، ومعان تدل بإرهافها أنها هي السيوف وأن قلوبا نمتها هي الغمود، فيخالها المتأمل حومة طعان أو حلبة رهان.

أقول: ما طبق في هذا المفصل على المفصل، فإنه شبهها بخفق البنود وزأر الأسود. فأي مدخل في هذين لحلبة الرهان فيما بعد ولم يتقدم للخيل ذكر. والتناسب أن يقول: حومة طعان، وغيل ليوث، وجلاد فرسان. ومثل هذه الأوصاف لا تكون في شيء من الكلام، إلا أن يوصف بذلك كلام فيه تهديد وتقريع أو إرهاب عدو أو ما جرى مجراه.

ألا ترى ما أحسن قول البحتري:

عتابٌ بأطراف القوافي كأنه … عتابٌ بأطراف القنا المتكسر

ولا بأس بإيراد شيء من كلام القاضي الفاضل رحمه الله في وصف المراسلات الواردة، لتعلم أيها الواقف على هذه الأوراق كيف يكون التقريظ.

فمن ذلك قوله: وصلني كتابه فوصلني منه ما وصلني، وعرفت من بلاغته ما جهلني، وشربت من بحر كلامه ما شربني وأكلني، وعلوت به قدرا على أنه عن صهوة الكلام استنزلني. فإنها بدائع، ما سر البلاغة قبلها بذائع، ووقائع خاطر صفت صفاتها فهي التي رقته وروقته الوقائع، وغرائب سهلت وجزلت فتارة أقول جرأة نبع وتارة أقول جرية نابع. قد ضمن الدر إلا أنه كما قال أبو الطيب كلم، وأحيى حي الشوق إلا أنه كما قال أبو تمام لو مات من شغله بالبين ما علم. ففديت يدها وقد مدت ظلا من الخط كاد يقصر ظلا من الحظ، ولله قلمها الذي طال وأناف فما كأنه تحيفه القط قط.

وقوله: وما أحسب الأقلام جعلت ساجدة إلا لأن طرسه محراب، ولا أنها سميت خرسا إلا قبل أن ينفث سيدنا في روعها رائع هذا الصواب، ولا أنها اضطجعت في دويها إلا ليبعثها ما ينفخ فيها من روحه في مرقدها، ولاسودت رؤوسها إلا لأنها أعلام عباسية تناولتها الحضرة بيدها، لا جرم أنها تحمي الحمى، وتسفك دما وتحقن دما وتتشح بهايده عنانا، ويرسلها فيعلم الفرسان أن في الكتاب فرسانا، ويقوم الخطباء بما كتبت فتعلم الألسنة أن في الأيدي كما في الأفواه لسانا، ولقد عجبت من هذه الأقلام تحز ألسنتها قطعا فتنطق فصيحه، وتجدع أنوفها بريا فتخرج صحيحة، وتجلى مليحه، وما هي إلا آية في يد سيدنا البيضاء موسويه، وما مادتها في الفصاحة إلا علوية ولولا الغلو لقال علويه.

وقوله: ولو ادعى سحر البيان أنه يقضي أيسر حقوقه، ويثمر ما يجب من شكر فروعه وعروقه، لكنت أفضح باطل سحره، وأذيقه وبال أمره، وأصلب الخواطر السحارة على جذوع الأقلام، وأعقد ألسنتها كما تعقد السحرة الألسن عن الكلام.
থামুন হে সেই ব্যক্তি, যিনি নিজ ইলমের প্রতি পূর্ণ বিশ্বস্ত এবং নিজ কলমের যাদু দিয়ে ফুঁৎকার দানকারী। আপনি কি মনে করেন যে বাগ্মিতায় আপনার অবস্থান গোপন রয়ে যাবে? অথচ এর প্রশস্ত পথ সুপরিচিত। আর এর প্রয়োগ শৈলী জ্ঞানীদের বুদ্ধিকে নিয়ে খেলা করে। আপনি কি অবনত হবেন যখন আপনি সুউচ্চ হয়েছেন, নাকি আপনি লুকিয়ে থাকবেন যখন আপনি নিজেকে আবৃত করেছেন? হে সুওয়াদা, আমরা আপনাকে চিনেছি এবং আপনার আতারুদ পরিচ্ছদ সুরুচি ও উৎকর্ষতায় প্রসিদ্ধ হয়েছে।

এবং তাঁর উক্তি: "আর প্রভাত তার জ্যোতি প্রকাশের ব্যাপারে সন্দেহাতীত", এই দুটি ছন্দোবদ্ধ বাক্য। এটি আবু তাইয়িবের উক্তি থেকে গৃহীত:

বিবেকের কাছে কোনো কিছুই সঠিক বলে গণ্য হয় না … যখন দিনের অস্তিত্বের জন্য দলিলের প্রয়োজন পড়ে।

এবং গাজ্জির উক্তি থেকে:

তাঁর মহানুভবতার ওপর কোনো প্রমাণ খুঁজো না … প্রভাতের ওপর তোমার প্রমাণ খোঁজা হবে একটি নিরর্থক প্রয়াস।

এবং তাঁর উক্তি: "এটা জানা আছে যে শিকড় তার শাখা দ্বারা চেনা যায়", এটি আবু তাইয়িবের উক্তি থেকে গৃহীত:

তাঁর কর্মসমূহ হলো বংশমর্যাদা, যদি তিনি তার সাথে এ কথা নাও বলতেন যে- … "আমার পিতামহ খাসিব", তবে আমরা শাখা দেখেই শিকড় চিনতে পারতাম।

যদিও মুতানাব্বি এটি বুহতরী থেকে গ্রহণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:

আমি যুবকের জন্য কোনো বংশমর্যাদা গণ্য করি না … যতক্ষণ না তার কর্মের মাঝে বংশমর্যাদার প্রতিফলন থাকে।

এবং ইবনুর রুমির উক্তি থেকে:

রণাঙ্গনে আলীর অভ্যাসের মতো যাঁর পিতামহ … আবু হাসান; আর শাখা যেখান থেকে নির্গত হয় সেখানেই তার পরিচয়।

আর আমি এই অর্থটিকে গজলে স্থানান্তরিত করেছি, তাই আমি এক সুশ্রী যুবক সম্পর্কে বলেছি যাকে আমি একটি গবাক্ষে দেখেছিলাম:

আমি একটি গবাক্ষে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় এক যুবককে দেখলাম … তখন আমি এই সজীব মাদার বৃক্ষের নিচে বললাম—

লোকেরা বলল: আপনি তার উচ্চতা না দেখেই বিচার করলেন! … তখন আমি বললাম: আমি ফল দেখেই শাখা চিনে নিয়েছি।

তিনি বললেন: এই হারগুলোর মণি-মুক্তা কেবল তাঁর নিশ্বাসই প্রকাশ করে; এর মুক্তোরাজি হলো তাঁর শব্দাবলী এবং এর সুতা হলো তাঁর কাগজ। অতঃপর তিনি বললেন: আমার এই উক্তিটিও এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, যা এমন শব্দাবলী যা পতাকার পতপত আওয়াজ এবং সিংহের গর্জনের ন্যায়, আর এমন অর্থ যা তার তীক্ষ্ণতা দ্বারা নির্দেশ করে যে সেগুলোই হলো তরবারি এবং যেসব হৃদয় সেগুলোকে লালন করেছে সেগুলো হলো খাপ। ফলে চিন্তাশীল ব্যক্তি একে যুদ্ধের ময়দান অথবা ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা বলে মনে করবে।

আমি বলছি: এই সন্ধিক্ষণে যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি, কারণ তিনি সেগুলোকে পতাকার পতপত শব্দ এবং সিংহের গর্জনের সাথে তুলনা করেছেন। অথচ পরবর্তীতে ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতার সাথে এই দুটির কী সম্পর্ক, যেখানে আগে ঘোড়ার কোনো উল্লেখই আসেনি? সঙ্গতিপূর্ণ হতো যদি তিনি বলতেন: যুদ্ধের ময়দান, সিংহের অরণ্য এবং অশ্বারোহীদের লড়াই। আর এই ধরনের বর্ণনা কোনো কালামে থাকে না, যদি না এর দ্বারা এমন কোনো কথাকে বিশেষিত করা হয় যাতে হুমকি ও তিরস্কার রয়েছে অথবা শত্রুকে আতঙ্কিত করা বা এই জাতীয় কিছু রয়েছে।

আপনি কি দেখছেন না বুহতরীর উক্তিটি কতই না সুন্দর:

কবিতার চরণের শেষভাগের মাধ্যমে তিরস্কার যেন … ভগ্ন বর্শার অগ্রভাগের মাধ্যমে তিরস্কার।

আগত পত্রাবলির বর্ণনায় কাজি আল-ফাদিলের (রহিমাহুল্লাহ) কিছু কথা উল্লেখ করায় কোনো ক্ষতি নেই, যাতে হে এই কাগজগুলোর পাঠক, আপনি জানতে পারেন যে মূল্যায়ন কেমন হওয়া উচিত।

তার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটি রয়েছে: আমার কাছে তাঁর পত্র পৌঁছেছে, ফলে তাঁর পক্ষ থেকে যা পৌঁছানোর তা আমার কাছে পৌঁছেছে। তাঁর বাগ্মিতা থেকে আমি তা জেনেছি যা আমার অজানা ছিল। তাঁর কথার সমুদ্র থেকে আমি তা পান করেছি যা আমাকে পান করেছে এবং গ্রাস করেছে। আমি এর মাধ্যমে মর্যাদায় উন্নীত হয়েছি, যদিও তিনি আমাকে বাকপটুতার ঘোড়ার পিঠ থেকে নামিয়ে দিয়েছেন। কারণ এগুলো হলো অপূর্ব সৃষ্টি, যার আগে বাগ্মিতার রহস্য প্রকাশিত হয়নি; এবং এগুলো হলো স্মৃতির ঘটনাপ্রবাহ যার গুণাবলী স্বচ্ছ, আর এগুলোই তাকে উন্নত ও পরিশীলিত করেছে। এগুলো এমন দুর্লভ বিষয় যা সহজ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ, তাই কখনো আমি বলি এটি প্রস্রবণের সাহস আর কখনো বলি এটি বহমান স্রোত। এটি মুক্তা ধারণ করেছে কিন্তু এটি আবু তাইয়িবের উক্তির ন্যায় ক্ষতবিক্ষত; আর এটি আকাঙ্ক্ষার সম্প্রদায়কে জীবিত করেছে কিন্তু আবু তাম্মামের উক্তির ন্যায় যে—যদি সে বিচ্ছেদের ব্যস্ততায় মারা যেত তবে সে জানত না। আমি তার হাতের ওপর উৎসর্গিত হই যা লিখনশৈলীর মাধ্যমে এমন এক ছায়া বিস্তার করেছে যা ভাগ্যের ছায়াকে সংক্ষিপ্ত করার উপক্রম করেছে। আল্লাহর কসম তাঁর সেই কলমের জন্য যা দীর্ঘ ও উন্নত হয়েছে, মনে হয় যেন কলম কাটার যন্ত্র তাকে কখনো স্পর্শই করেনি।

এবং তাঁর উক্তি: আমি মনে করি না যে কলমগুলোকে সিজদাবনত করা হয়েছে অন্য কোনো কারণে, বরং তাঁর কাগজটিই হলো মেহরাব। আর না এগুলোকে বোবা নামকরণ করা হয়েছে আমাদের নেতা তাদের অন্তরে এই সঠিক বাণীর ফুঁৎকার দেওয়ার আগে। আর না এগুলো তাদের দোয়াতদানিতে শায়িত হয়েছে অন্য কোনো কারণে, বরং তাঁর রূহ থেকে যা ফুঁৎকার দেওয়া হয় তা যেন তাদেরকে তাদের শয্যা থেকে পুনরুত্থিত করে। আর তাদের মস্তকগুলোকে কালো করা হয়েছে কেবল এ কারণে যে সেগুলো আব্বাসীয় নিশান যা রাজদরবার নিজ হাতে গ্রহণ করেছে। কোনো সন্দেহ নেই যে সেগুলো সীমানা রক্ষা করে, রক্তপাত ঘটায়, আবার রক্ত রক্ষা করে। তাঁর হাত দ্বারা সেগুলোকে লাগাম হিসেবে পরিধান করা হয়, এবং যখন তিনি সেগুলো প্রেরণ করেন তখন অশ্বারোহীরা জানতে পারে যে কিতাবের মধ্যেও অশ্বারোহী রয়েছে। খতিবরা যা লিখেছে তা নিয়ে যখন দাঁড়ায়, তখন জিহ্বারা জানতে পারে যে মুখের ন্যায় হাতের মধ্যেও জিহ্বা রয়েছে। আমি এই কলমগুলোর ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হয়েছি যাদের জিহ্বাগুলো কাটার মাধ্যমে কেটে ফেলা হয় অথচ তারা স্পষ্টভাবে কথা বলে, আর কলম কাটার মাধ্যমে তাদের নাকগুলো ছিন্ন করা হয় অথচ তারা সুস্থ অবস্থায় বের হয়ে আসে এবং সুন্দরী হিসেবে প্রকাশিত হয়। এটি আমাদের নেতার শুভ্র মুসায়ি হাতের একটি নিদর্শন বৈ কিছু নয়। আর বাগ্মিতায় এর উপাদান কেবল উচ্চতর, আর যদি বাড়াবাড়ি না হতো তবে তিনি বলতেন এটি আলওয়ী (আলী বংশীয়)।

এবং তাঁর উক্তি: যদি জাদুকরী বর্ণনা দাবি করত যে সে তার সামান্যতম হক আদায় করছে, এবং তার শাখা ও শিকড়ের জন্য ওয়াজিব কৃতজ্ঞতা ফলপ্রসূ করছে, তবে আমি তার জাদুর মিথ্যাকে উন্মোচিত করে দিতাম, এবং তাকে তার কর্মের অশুভ পরিণাম আস্বাদন করাতাম। আর আমি জাদুকরী চিন্তাগুলোকে কলমের কাষ্ঠে বিদ্ধ করতাম এবং তাদের জিহ্বাকে তেমনিভাবে বেঁধে দিতাম যেমন জাদুকররা কথা বলা থেকে জিহ্বাকে বেঁধে দেয়।
(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقوله: كتاب كريمي من حيث نسبته إليه، كليمي من حيث نسبته إلى اليد لبيضاء من يديه، مسيحي من حيث أن أحيى موات الأنس، محمدي من حيث كاد يكون بما نفثه في روعي روح القدس، فلا عدمت مخاطبته التي تخلع على الأيام يوم العيد، وعلى الليالي ليلة العرس. فأبقاه الله للسان العربي فلولاه كان مزويا لا مرويا، مدحورا لا مدخورا، ولولاه لحالت أحرفه عن حالاتها، وأبت الفصاحة أن تكون قوائم الأحرف من آلاتها. فكانت تقعد ألفه القائمة، وتموت باؤه النائمة، ويزيد حني ظهر داله حتى يلحق بالرغام خدها ويغض، وحتى تدرد أسنان سنه فلا يبقى لها ناجذ عليه تعض.

وقوله: وقف عليه والشكر عن المنعم به غير واقف بل وقف، واستمطر منه صوب الغمام فما انقطع له ولا كف وكف، ورأى بنيان تبيان لو رأته المجارون لأتي بنيانهم من القواعد فخر عليهم السقف، فلله هو من بليغ إن قال فالقول عنده أكثر يوم البين من ماء الطرف، وإن رام القول غيره فهو أقل عنده يوم الحسين من ماء الطف.

وقوله في جواب كتاب للشيخ تاج الدين الكندي: وظننته وحقق الله فيه الظن وقد ارتقى الأسباب وأخذ اللفظ من القطر والقرطاس من السحاب، وآمنت بصحة رقيه، وتبينت التقاطه للنجوم حين أوردها في بارع اللفظ ونقيه، وقلت للجماعة: كلام التاج تاج الكلام، والملك في كندة وكانت أقلامها سيوفا وسيوفها الآن أقلام.

وقوله: فوقفت منه على ظرف الظرف، وتحفة الطرف، وكدت أعبده منه على حرف، وكل حرف ذلك الحرف. ولولا إشفاقي أن يفطن الدهر لمكانه من قلبي، وخوفي أن أعرفه بحسنته منه فأغريه منها برفع أوزار حربي، لقلت قولا يغض الأولين والآخرين من هذه الصناعة، وأنفذت فيهم سهاما لا تحمي شاعرا منها صخرة وجه ولا كاتبا درع دراعة. وما هي إلا آيات كل واحدة أكبر من أختها، وفكر مرزوقة في أيام الجمعة كلها إذا أتت الفكر أرزاقها يوم سبتها.

وقوله: كتب كريمة كادت ألفاظها تتبسم، ومعانيها تتكلم، وكادت حروفها تكون أناسي لعين المسار، وكادت سطورها تجلي عرائس وعليها من الشكل حلي ومن النقط نثار.

وقوله: كتاب سني المعاني سيني القوافي، وحق سينه أن يخلص لها الإقبال، والسين تصحب الفعل فتخلصه للاستقبال، وهذا أفق لامطار فيه إلا للعقاب وابنه، وبحر لا سبح فيه إلا لمن يخرج الدر من فيه ويدخل البحر في ردنه، وما عنيت ها هنا بالبحر إلا يده الكريمة فأما البحر فلم أعنه.

وقوله: كتب المجلس روح الله قلبه، وأتاح قربه، ولا برحت أقلامه سلاح أوليائه على الزمن إذا خافوا حربه، تؤنس راجيها، وتؤيس مجاريها، ويخصب بها السمع، ويتظاهر بها النفع، لولا أنها تغير علينا شيمنا فتخلق فيها الحسد، وتشد أيدينا إذا تعاطينا المجاراة بحبل من مسد.

وقوله: وسيدنا ما بعد بيانه بيان، وبين فكيه سيف وبين فكي كل إنسان لسان، فقولي يا أقلامه فقد خرست في الغمود المناصل، وتبختري يا تغلب ابنة وائل فقد أعطي من البلغاء التقدمة وهم صارغون، وأفلح المعترف بفضله وقد علم أنه لا يفلح الكافرون.

وقوله: ووقف على الميمية فأطاف به منها الطوفان، وحياة منها الروح والريحان، وهي مما أملاه ملك إن كان يملي الأشعار شيطان، وعجبت لاطراد تلك القوافي، ورأيت الشعراء أتت بما ألفت في ضيق الأودية وخاطره وقلمه أتيا بما ألقيا في الفيافي، وكل بيت منها بديوان، كما أن قائلها إنسان يفدى بألف إنسان، كما أن قلمه قصير فما جدع أنفه إلا ليأخذ ثأر القلم من السنان.

قلت: وعلى ذكر الفيافي في قول القاضي الفاضل، وما ركبه في هذه السجعة من الجناس المليح، فكنت كتبت إلى شيخنا الحافظ فتح الدين محمد بن سيد الناس أبياتا، وأجابني عنها بنظم ونثر. من جملة النثر: بل ذلك السحر الحلال الشافي، بل تلك القوى في القوافي، بل تلك المقاصد التي أقصدت المنى في المنافي.

فكتبت الجواب إليه ومنه: وعكف منه على كعبة البلاغة، فيا حسن ما نشر في استلامي وطوى في طوافي، وأراد طائر القلب أن ينهض بالجواب فذهبت القوى من القوادم، وظهر الخوى في الخوافي. رجع إلى كلام الفاضل.

তাঁর উক্তি: এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ কিতাব, যা তাঁর দিকে নিসবত হওয়ার কারণে 'কারীমি' (মর্যাদাপূর্ণ), আর এটি তাঁর দুই হাতের মধ্য থেকে শ্বেতশুভ্র হাতের দিকে নিসবত হওয়ার কারণে 'কালিমি' (মুসা আ.-এর ন্যায়)। এটি 'মাসিহি' (ঈসা আ.-এর ন্যায়) কারণ এটি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রাণহীনতাকে জীবিত করেছে। এটি 'মুহাম্মাদি', কারণ রূহুল কুদস আমার হৃদয়ে যা ফুঁকে দিয়েছেন, তার কারণে এটি প্রায় সেই স্তরের হয়ে গিয়েছে। সুতরাং আমি তাঁর সেই সম্বোধন থেকে বঞ্চিত হইনি, যা দিনগুলোতে ঈদের আনন্দ এবং রাতগুলোতে বাসর রাতের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা এটিকে আরবি ভাষার জন্য টিকিয়ে রাখুন; কারণ এটি না থাকলে তা অপ্রকাশিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকত, সংরক্ষিত হতো না। এটি না থাকলে অক্ষরের অবস্থাসমূহ পরিবর্তিত হয়ে যেত এবং প্রাঞ্জলতা তার যন্ত্র হিসেবে অক্ষরের ভিত্তিগুলোকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করত। ফলে তার সুউচ্চ আলিফ বসে যেত, নিদ্রিত বা মৃত্যুবরণ করত, এবং দাল-এর কুঁজো পিঠের বক্রতা এত বৃদ্ধি পেত যে তার গণ্ডদেশ ধূলিসাৎ হয়ে অবনমিত হতো। আর সিন-এর দাঁতগুলো এমনভাবে পড়ে যেত যে কামড় দেওয়ার মতো কোনো মাড়িও অবশিষ্ট থাকত না।

তাঁর উক্তি: তিনি এটি পাঠ করেছেন, আর এর অনুগ্রহকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা থেমে থাকেনি বরং তা উৎসর্গিত হয়েছে। তিনি এর মেঘমালার বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন, যা তাঁর জন্য কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি এবং যার ধারা বন্ধ হয়নি। তিনি এমন এক সুস্পষ্ট বর্ণনাশৈলীর অট্টালিকা প্রত্যক্ষ করেছেন, যা যদি প্রতিদ্বন্দ্বীরা দেখত, তবে তাদের অট্টালিকাগুলো ভিত্তি থেকে উপড়ে যেত এবং তাদের ওপর ছাদ ভেঙে পড়ত। আল্লাহর কসম! তিনি এক এমন বাগ্মী যে, যখন তিনি কথা বলেন, বিচ্ছেদের দিনে চোখের পানির চেয়েও তাঁর কাছে কথার প্রাচুর্য বেশি থাকে। আর যদি অন্য কেউ কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে হোসেনের (রা.) শাহাদাতের দিনে কারবালার প্রান্তরের পানির চেয়েও তা তাঁর কাছে নগণ্য মনে হয়।

শেখ তাজউদ্দীন আল-কিন্দির পত্রের জবাবে তাঁর উক্তি: আমি এটি ভেবেছিলাম এবং আল্লাহ সেই ভাবনাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তিনি সফলতার সোপানে আরোহণ করেছেন এবং আকাশ থেকে শব্দ ও মেঘমালা থেকে কাগজ গ্রহণ করেছেন। আমি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সত্যতায় বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাঁর নক্ষত্রতুল্য শব্দ চয়নের পারদর্শিতা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, যখন তিনি সেগুলোকে চমৎকার ও বিশুদ্ধ শব্দমালায় উপস্থাপিত করেছেন। আমি জামাআতকে বললাম: তাজের (তাজউদ্দীন) কথা হলো কথার মুকুট (তাজ), আর রাজত্ব হলো কিন্দা গোত্রে; একসময় তাদের কলমগুলো ছিল তলোয়ার, আর এখন তাদের তলোয়ারগুলোই হলো কলম।

তাঁর উক্তি: আমি এতে সূক্ষ্মতার চরম শিখর এবং নয়নাভিরাম উপহার প্রত্যক্ষ করেছি। এর শব্দের জাদুতে আমি প্রায় বিমোহিত হয়ে পড়েছিলাম। যদি আমার মনে এই আশঙ্কা না থাকত যে কালচক্র আমার হৃদয়ে এর সুউচ্চ স্থান সম্পর্কে জেনে ফেলবে, আর যদি আমার এই ভয় না থাকত যে এর সৌন্দর্যের কথা প্রচার করলে আমার শত্রুরা এর মাধ্যমেই আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী হয়ে উঠবে, তবে আমি এমন কথা বলতাম যা এই শিল্পের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে ম্লান করে দিত। আমি তাদের মধ্যে এমন সব বাণ নিক্ষেপ করতাম যা থেকে কোনো কবির পাহাড়সম দম্ভ বা কোনো লেখকের বর্মও আত্মরক্ষা করতে পারত না। এগুলো আর কিছুই নয় বরং নিদর্শনসমূহ, যার প্রতিটি তার অপরটির চেয়ে মহান। এগুলো এমন এক উর্বর চিন্তা যা জুমআর দিনগুলোতে রিজিকপ্রাপ্ত হয়, যখন চিন্তাসমূহ তাদের শনিবারে তাদের প্রাপ্য রিজিক লাভ করে।

তাঁর উক্তি: এগুলো মহৎ রচনাবলি, যার শব্দগুলো যেন হাসছে এবং অর্থগুলো যেন কথা বলছে। এর অক্ষরগুলো আনন্দিত চোখের পুতলি হয়ে উঠেছে এবং এর পঙক্তিগুলো যেন নববধূর মতো উদ্ভাসিত হচ্ছে, যার ওপর হরকতগুলো অলঙ্কারস্বরূপ এবং নুক্তাগুলো যেন ছিটানো মুক্তা।

তাঁর উক্তি: এটি এমন এক কিতাব যার অর্থসমূহ সুউচ্চ এবং অন্ত্যমিলগুলো সিন অক্ষর দ্বারা সমাপ্ত। আর সিন অক্ষরের হক হলো তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। সিন অক্ষর ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে তাকে ভবিষ্যৎকালের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। এটি এমন এক দিগন্ত যেখানে শাস্তির গগনচুম্বী মেঘ ছাড়া আর কিছুই নেই। এটি এমন এক সমুদ্র যেখানে সাঁতার কাটার অধিকার কেবল তারই আছে যে মুখ থেকে মুক্তা বের করে এবং সমুদ্রকে নিজের আঁচলে ধারণ করে। আর এখানে সমুদ্র বলতে আমি কেবল তাঁর সম্মানিত হাতকেই বুঝিয়েছি, প্রকৃত সমুদ্র নয়।

তাঁর উক্তি: মজলিস লিখেছে—আল্লাহ তাঁর অন্তরকে প্রশান্ত করুন এবং তাঁর নৈকট্য সহজ করে দিন। তাঁর কলমগুলো সর্বদা তাঁর বন্ধুদের হাতিয়ার হিসেবে শত্রুর বিরুদ্ধে অটল থাকুক যখন তারা যুদ্ধের আশঙ্কা করে। এই কলম আশাবাদীকে আশ্বস্ত করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীকে হতাশ করে। এর মাধ্যমে শ্রবণেন্দ্রিয় উর্বর হয় এবং উপকার প্রকাশিত হয়। তবে এটি আমাদের স্বভাবকে বদলে দেয় এবং আমাদের মাঝে ঈর্ষা তৈরি করে; আর আমরা যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামি, তখন এটি আমাদের হাতকে মজবুত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে।

তাঁর উক্তি: আমাদের সায়্যিদের বর্ণনার পর আর কোনো বর্ণনা থাকে না। তাঁর দুই চিবুকের মাঝে রয়েছে তলোয়ার, অথচ সাধারণ মানুষের দুই চিবুকের মাঝে থাকে কেবল জিহ্বা। হে তাঁর কলমসমূহ! তোমরা কথা বলো, কারণ খাপের ভেতরে তলোয়ারগুলো নির্বাক হয়ে গিয়েছে। হে ওয়ায়েলের কন্যা তাগলিব! তুমি গর্বভরে পথ চলো, কারণ বাগ্মীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হয়েছে আর তারা লাঞ্ছিত। যে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে সে সফল হয়েছে, আর এটি সুনিশ্চিত যে সত্য অস্বীকারকারীরা সফল হয় না।

তাঁর উক্তি: তিনি মিমিয়াহ (মীম অক্ষরান্ত কবিতা) পাঠ করেছেন, যা তাকে প্লাবনের মতো আবেগে ভাসিয়ে নিয়েছে এবং তাকে রূহ ও রায়হান (সুগন্ধি) দান করেছে। শয়তান যদি কবিতা আবৃত্তি করে থাকে, তবে এটি কোনো ফেরেশতার অনুপ্রাণিত বাণী। আমি সেই অন্ত্যমিলগুলোর ধারাবাহিকতা দেখে বিস্মিত হয়েছি। আমি দেখেছি কবিরা সংকীর্ণ উপত্যকায় যা রচনা করেছে তা-ই নিয়ে এসেছে, অথচ তাঁর চিন্তা ও কলম উন্মুক্ত মরুপ্রান্তরে বিচরণ করে তা নিয়ে এসেছে। এর প্রতিটি পঙক্তি যেন এক একটি কাব্যগ্রন্থ, ঠিক যেমন এর রচয়িতা এমন এক মানুষ যার জন্য হাজারো মানুষ উৎসর্গ হতে পারে। তাঁর কলমটি খাটো, কিন্তু সে তো কেবল বর্শার কাছ থেকে কলমের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই নিজের নাসিকা কর্তন করেছে।

আমি বলছি: কাজী ফাজিলের উক্তিতে 'ফিয়াফি' (মরুপ্রান্তর) শব্দের উল্লেখ এবং এই অনুপ্রাসে তিনি যে চমৎকার শিল্পকলা ব্যবহার করেছেন, তার প্রেক্ষিতে আমি আমাদের শাইখ হাফেজ ফাতহুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস-কে কিছু পঙক্তি লিখেছিলাম। তিনি পদ্য ও গদ্যে এর উত্তর দিয়েছিলেন। তাঁর গদ্যের অংশবিশেষ ছিল এমন: বরং এটি হলো সেই বৈধ জাদু যা আরোগ্য দান করে, এটিই হলো অন্ত্যমিলের সেই শক্তি, এটিই হলো সেই লক্ষ্য যা নির্বাসিত জীবনেও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ করে।

অতঃপর আমি তাঁকে উত্তর লিখলাম, যার অংশবিশেষ ছিল: তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের কাবার আঙিনায় অবস্থান করছেন। কতই না সুন্দর সেই বর্ণনা যা আমার সালাম গ্রহণে প্রকাশিত হয়েছে এবং তাওয়াফের মধ্যে সংবৃত হয়েছে। হৃদয়ের পাখিটি উত্তরের জন্য উড়াল দিতে চেয়েছিল, কিন্তু ডানার পালকের শক্তি ফুরিয়ে গিয়েছিল এবং প্রান্তদেশগুলোতে শূন্যতা দেখা দিয়েছিল। পুনরায় কাজী ফাজিলের কথার দিকে ফিরে যাচ্ছি।

(খণ্ড: ১) নুসরাতুছ ছায়ির আলাল মাছালিল সায়ির (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقوله: ولكن اعتزل الناس السسماك الأعزل، وارتفع أهل الدرج العليا وانخفض أهل الدرك الأسفل، وضيع الناس السهام وأصبت أنت بواحدها المقتل، فأنت الرامي وغيرك الرائم، وأنت الحامي وغيرك الحائم، وحروفك الأزهار وكتبك الكمائم، وقلمك الساقي وخواطرك الغمائم، وبقولك يضن ويغالى، وإذا قلت يا خيل الأقلام اركبي ملأت الأرض تصهالا وصيالا، ونفرت إليك المعاني خفافاً وثقالاً، وأذنت فيها بالحج ضمائر على كل ضامر ورجالاً، وأنت الحاضر والغيب الحضور، وأنت الحاضر والغيب الحضور، وأنت السيد وغيرك الحصور، والأسماع إلى ما تقول في دمشق صور، ولو قدحت الماء لاستطار شراراً، ولو أجرت ورد الخد لكنت له من بنفسج العذار جاراً.

وقوله: فلله هو من كتاب كأنه سورة، وكل آية فيه، سجدة، وقابله بالخشوع كأنما قلم الكتاب القضيب وطرسه البردة.

وقوله: وما هذه الكتب إلا كتائب، وما هذه الأحرف إلا قواضب، ولا الأسطر بها إلا مراكب، ولا النفس منها إلا عجاج يسفر عن الصباح إسفار الغياهب.

وقوله: وكأنما ذخر قلمها للمملكة يحوك وشيها، وصائغا يخلق حليها، وكأنما هو أمير والكلام رعيته فهو يصرف أمرها ونهيها، وكأنما أودع الله سبحانه خاطرها سحابا وكتابها روضا جعل القلم دولابها والدواة نهيها.

وقوله: وارتحت لما امتحت على بعد أرضي من غمامه، واويت القب الدوي من آلامه بلمامه، وأعاد علي زمن رامة كما هو بآرامه، وطلع علي مطالع الأهلة؟ هل هي إلا قلامة أقلامه.

وليكن هنا آخر ما أورده للقاضي الفاضل من هذا النوع، وإن كان ذلك قطرة من حوض، وزهرة من روض.

‌‌مناسبة اللفظ للمعنى

قال في فصل بعدما تقدم: وقد نيط بسيدنا قلما الخط اللذان ينسب أحدهما إلى المداد، وينسب الآخر إلى الصعاد.

أقول: أما نسبة القلم إلى المداد فجائز، وأما نسبة الآخر إلى الصعاد فما أدري ما هو. فإن الصعاد هي الرماح التي تنبت مستقيمة فلا تحتاج إلى تثقيف.

فنسبة الرماح إلى الصعاد، أو الصعاد إلى الرماح من باب نسبة الشيء إلى نفسه، وهو غير جائز. وما تنسب الرماح إلا إلى الأعلام أو الأسنة أو الطعن، كما تنسب الأقلام إلى المداد والكتابة.

قال: ومن ذلك ما ذكرته في وصف القلم فقلت: وقد أوحى الله إلى قلمه ما أوحى إلى النحل، غير أنها تأوي إلى المكان الوعر وهو يأوي إلى المكان السهل، ومن شأنه أن يجتني من ثمرات ذات أرواح لا ذات أكمام، ويخرج من نفثاته شراب مختلف طعمه فيه شفاء للأفهام.

أقول: قوله ثمرات ذات أرواح لا ذات أكمام غير مناسب، إذ المناسبة تقتضي أن يقول: ذات أرواح لا ذات أجسام، أو ذات طيالس لا ذات أكمام، ليناسب بين الروح والجسم والطيلسان والكم. ثم نسبة الروح إلى الثمرة أمر خارج عن العادة، ولم يسمع بثمر له روح وثمر ما له روح. وإذا قصدت المبالغة في وصف الثمرة قيل إنها ماء تجمد أو هواء تجسد.

وما أحسن قول أبي الطيب.

لها ثمرٌ يشير إليك منه … بأشربةٍ وقفن بلا أواني

‌‌اللفظ والتركيب

قال في القسم الأول من المقالة الأولى: وكذلك ورد قوله تعالى: " إن هذا أخي له تسع وتسعون نعجة، ولي نعجة واحدة ". فلفظة لي مثل لفظة تؤذي وقد جاءت في الآية مندرجة متعلقة بما بعدها، وإذا جاءت منقطعة لا تجيء لائقة، كقول أبي الطيب:

تمسي الأمانيّ صرعى دون مطلبه … فما يقول لشيءٍ ليت ذلك لي

أقول: أي شيء أنكره من هذه اللفظة: وليس الذي ذكره غير دعوى مجردة، وهذه لفظة لي قد وقعت متمكنة، والقافية إذا جاءت متمكنة فإنها من حسن التركيب وعذوبة الانسجام. وأما لفظة تؤذي في قوله: تلذ له المرؤة وهي تؤدي فإنها جاءت ركيكة بخلاف لي في البيت المذكور. ولا تعاب هذه في هذا البيت، إلا أن تعاب لفظة بي في قوله:

أزورهم وسواد الليل يشفع لي … وأنثني وبياض الصبح يغري بي

وما رأيت من عاب هذا البيت ولا هذه القافية، وإنما هو معدود في المحاسن التي انفرد بها أبو الطيب، لما فيه من مقابلة خمسة بخمسة. ولم يتفق هذا العدد لغيره.

وكذا لفظة تؤذي التي عابها، لو وقعت قافية متمكنة لم تعب.

وما أحسن قول الشيخ مجد الدين بن الظهير الإربلي:

قلبي وطرفي ذا يسيل دما وذا … دون الورى أنت العليم بقرحه
وقوله: এবং তাঁর উক্তি: কিন্তু তিনি উত্তরদিকের উচ্চ নক্ষত্রের ন্যায় মানুষের ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে একাকী অবস্থান করেন; উচ্চ মর্যাদাসম্পন্নরা উপরে উঠে গেছে আর নিম্ন স্তরের লোকেরা নিচে নেমে গেছে। মানুষ তীরের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছে আর আপনি তীরের মাধ্যমে মোক্ষম স্থানে আঘাত হেনেছেন। আপনিই নিক্ষেপকারী আর অন্যরা অনুরাগী মাত্র। আপনিই রক্ষক আর অন্যরা তৃষ্ণার্তের ন্যায় চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনার অক্ষরগুলো যেন পুষ্প আর আপনার গ্রন্থগুলো যেন সেই পুষ্পের আবরণ। আপনার কলম যেন পানদানকারী আর আপনার চিন্তাগুলো যেন মেঘমালা। আপনার বাণীর জন্য মানুষ কার্পণ্য করে এবং উচ্চ মূল্য দেয়। যখন আপনি বলেন: হে কলমের অশ্বারোহীরা, সওয়ার হও; তখন জমিন কলমের খসখস শব্দ ও বীরত্বপূর্ণ হুংকারে পূর্ণ হয়ে যায়। আপনার দিকে অর্থসমূহ হালকা ও ভারী উভয় অবস্থায় ছুটে আসে। আপনার শব্দমালার ভেতরে তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারীরা হজের ডাক দেয়, যারা প্রতিটি কৃশকায় উটের পিঠে আরোহণ করে কিংবা পায়ে হেঁটে আসে। আপনি উপস্থিত হয়েও যেন অনুপস্থিতের ন্যায় গাম্ভীর্যপূর্ণ। আপনিই নেতা আর অন্যরা আত্মসংযমী। দামেশকে আপনি যা বলেন, কানগুলো সেদিকে ঝুঁকে থাকে। আপনি যদি পানিতে আঘাত করতেন তবে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হতো, আর আপনি যদি গালের গোলাপ প্রবাহিত করতেন তবে তার পার্শ্বদেশ বেগুনি রঙের হতো।

وقوله: এবং তাঁর উক্তি: আল্লাহর কসম, এটি এমন এক গ্রন্থ যা যেন একটি সূরা, এবং এর প্রতিটি আয়াত যেন একেকটি সিজদাহ। বিনয়ের সাথে এর মুখোমুখি হোন, যেন গ্রন্থের কলমটি একটি রাজদণ্ড আর এর কাগজটি যেন একটি পবিত্র চাদর।

وقوله: এবং তাঁর উক্তি: এই কিতাবগুলো তো কেবল সেনাদল, আর এই অক্ষরগুলো তো কেবল ধারালো তলোয়ার। এর পঙ্ক্তিগুলো তো কেবল সওয়ারি, আর এর প্রাণ তো কেবল ভোরের ধূলি যা অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে সুবহে সাদিকের প্রকাশ ঘটায়।

وقوله: এবং তাঁর উক্তি: যেন তার কলমটি সাম্রাজ্যের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে যা রেশমি বস্ত্র বুনে দেয় এবং এমন এক কারিগর যে অলঙ্কার তৈরি করে। যেন সেটি একজন আমির আর কথা তার প্রজা, ফলে সে এর আদেশ ও নিষেধ পরিচালনা করে। যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার চিন্তাশক্তিতে মেঘমালা এবং তার লেখনীতে বাগান গচ্ছিত রেখেছেন, যেখানে কলমকে পানি তোলার চাকা এবং দোয়াতকে নহর বানিয়ে দিয়েছেন।

وقوله: এবং তাঁর উক্তি: আমি তৃপ্ত হলাম যখন আমার ভূমি থেকে মেঘমালা দূরে থাকা সত্ত্বেও তা বর্ষিত হলো। আমি ব্যথার তীব্রতায় শব্দ করা হৃদয়কে তাঁর সান্নিধ্যের মাধ্যমে শান্তি দিলাম। তিনি আমার কাছে ‘রামা’র সময়কে তার হরিণগুলোসহ ফিরিয়ে দিলেন। আমার কাছে উদিত হলো হেলালের উদয়স্থল; তা কি তাঁর কলমের অগ্রভাগ বৈ অন্য কিছু?

وليكন এখানে কাজী ফাদিলের এই ধরণের বর্ণনার শেষ হোক, যদিও তা পুষ্করিণী থেকে এক ফোঁটা এবং বাগান থেকে একটি ফুল মাত্র।

‌‌শব্দের সাথে অর্থের সামঞ্জস্য

قال في فصل بعدما تقدم: পূর্ববর্তী আলোচনার পর একটি পরিচ্ছেদে তিনি বলেছেন: আমাদের সাইয়্যেদের কলমের সাথে দুটি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, যার একটিকে কালির সাথে এবং অন্যটিকে সোজা বর্শার সাথে সম্পর্কিত করা হয়।

أقول: আমি বলি: কলমকে কালির সাথে সম্পর্কিত করা বৈধ, কিন্তু অন্যটিকে বর্শার সাথে সম্পর্কিত করার অর্থ আমি জানি না। কারণ ‘সিয়াদ’ হলো সেই বর্শা যা সোজা হয়ে জন্মায় এবং তাকে সোজা করার প্রয়োজন হয় না।

فنسبة الرماح إلى الصعاد: সুতরাং বর্শাকে সিয়াদের সাথে বা সিয়াদকে বর্শার সাথে সম্পর্কিত করা বস্তুকে তার নিজের সাথেই সম্পর্কিত করার নামান্তর, যা বৈধ নয়। বর্শাকে কেবল পতাকা, ফলার অগ্রভাগ বা আঘাতের সাথেই সম্পর্কিত করা হয়, যেমন কলমকে কালি ও লিখনীর সাথে সম্পর্কিত করা হয়।

قال: তিনি বলেছেন: আর তার মধ্যে আমি কলমের বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছি তা হলো: আল্লাহ তার কলমের প্রতি তেমন প্রত্যাদেশ করেছেন যেমনটি তিনি মৌমাছির প্রতি করেছিলেন; পার্থক্য শুধু এই যে, মৌমাছি দুর্গম স্থানে আশ্রয় নেয় আর কলম সহজ সমতল স্থানে আশ্রয় নেয়। তার কাজ হলো প্রাণসম্পন্ন ফল সংগ্রহ করা, আবরণযুক্ত ফল নয়। আর তার নিশ্বাস থেকে এমন পানীয় নির্গত হয় যার স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন, যাতে রয়েছে বুদ্ধিবৃত্তির জন্য আরোগ্য।

أقول: আমি বলি: তার কথা ‘প্রাণসম্পন্ন ফল, আবরণযুক্ত ফল নয়’—এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ সামঞ্জস্যের দাবি ছিল এমন বলা: ‘প্রাণসম্পন্ন, দেহসম্পন্ন নয়’ অথবা ‘পোশাক পরিহিত, আবরণযুক্ত নয়’, যাতে প্রাণ ও দেহ এবং পোশাক ও আবরণের মধ্যে মিল থাকে। তাছাড়া ফলের সাথে প্রাণের সম্বন্ধ করা স্বাভাবিক বিষয়ের বাইরে। প্রাণ আছে এমন ফল এবং প্রাণ নেই এমন ফলের কথা শোনা যায় না। যদি ফলের গুণকীর্তনে অতিরঞ্জন উদ্দেশ্য হয়, তবে বলা হয় যে তা যেন জমে যাওয়া পানি বা মূর্ত হওয়া বাতাস।

وما أحسن قول أبي الطيب. এবং আবু তাইয়্যিবের উক্তি কতই না চমৎকার:

لها ثمرٌ يشير إليك منه … بأشربةٍ وقفن بلا أواني তার এমন ফল রয়েছে যা তোমার দিকে ইঙ্গিত করে... এমন পানীয় দ্বারা যা কোনো পাত্র ছাড়াই অবস্থান করে।

‌‌শব্দ ও গঠনরীতি

قال في القسم الأول من المقالة الأولى: প্রথম প্রবন্ধের প্রথম অংশে তিনি বলেছেন: অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী এসেছে: “নিশ্চয় এই আমার ভাই, তার নিরানব্বইটি দুম্বা রয়েছে এবং আমার রয়েছে মাত্র একটি দুম্বা”। এখানে ‘আমার রয়েছে’ (লি) শব্দটি ‘কষ্ট দেয়’ (তু’দী) শব্দের মতো। আয়াতে এটি পরবর্তী অংশের সাথে যুক্ত হয়ে সাবলীলভাবে এসেছে। কিন্তু যখন এটি বিচ্ছিন্নভাবে আসে তখন তা মানানসই হয় না, যেমন আবু তাইয়্যিবের উক্তি:

تمسي الأمانيّ صرعى دون مطلبه … فما يقول لشيءٍ ليت ذلك لي আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো তার উদ্দেশ্যের আগেই লুটিয়ে পড়ে... তাই সে কোনো কিছুর জন্য বলে না যে, ‘হায় এটি যদি আমার হতো’।

أقول: আমি বলি: এই শব্দটিতে তিনি অপছন্দ করার মতো কী পেলেন? তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা নিছক দাবি ছাড়া আর কিছু নয়। এই ‘আমার হতো’ (লি) শব্দটি এখানে সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয়েছে। আর অন্ত্যমিল যখন সুদৃঢ়ভাবে আসে তখন তা চমৎকার গঠনরীতি ও সাবলীল প্রবাহের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর ‘কষ্ট দেয়’ (তু’দী) শব্দটি এই উক্তিতে: ‘মর্যাদাবোধ তার কাছে আনন্দদায়ক যদিও তা কষ্ট দেয়’—এটি দুর্বলভাবে এসেছে, যা উল্লিখিত চরণের ‘লি’ শব্দের বিপরীত। এই চরণে একে দোষণীয় বলা যাবে না, যদি না এই উক্তিতে ‘আমার প্রতি’ (বি) শব্দটিকে দোষণীয় বলা হয়:

أزورهم وسواد الليل يشفع لي … وأنثني وبياض الصبح يغري بي আমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করি যখন রাতের অন্ধকার আমার হয়ে সুপারিশ করে... আর আমি ফিরে আসি যখন সকালের শুভ্রতা আমার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেয়।

وما رأيت من عاب هذا البيت: আমি দেখিনি কেউ এই চরণের বা এই অন্ত্যমিলের সমালোচনা করেছেন। বরং এটি আবু তাইয়্যিবের একক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে পাঁচের বিপরীতে পাঁচের চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে। এই সংখ্যা অন্য কারো ক্ষেত্রে এভাবে সম্ভব হয়নি।

وكذا لفظة تؤذي: তেমনি ‘কষ্ট দেয়’ (তু’দী) শব্দটি যেটির তিনি সমালোচনা করেছেন, সেটিও যদি সুদৃঢ় অন্ত্যমিল হিসেবে আসত তবে তা দোষণীয় হতো না।

وما أحسن قول الشيخ مجد الدين بن الظهير الإربلي: এবং শেখ মাজদুদ্দীন বিন আল-জাহির আল-ইরবিলীর উক্তি কতই না সুন্দর:

قلبي وطرفি ذا يسيل دما وذا … دون الورى أنت العليم بقرحه আমার হৃদয় ও চোখ—এটি রক্ত ঝরাচ্ছে আর ওটি... সৃষ্টির অগোচরে আপনিই এর ক্ষত সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।