(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: -)
عقيدة الإيمان باليوم الآخر وآثرها في إصلاح المجتمع القسم: العقيدة
الكتاب: عقيدة الإيمان باليوم الآخر وآثرها في إصلاح المجتمع
المؤلف: د. عبد المجيد بن محمد الوعلان
عدد الصفحات: 69
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 صفر 1442
পরকালীন জীবনের প্রতি ঈমানের আকিদা এবং সমাজ সংস্কারে এর প্রভাব বিভাগ: আকিদা
গ্রন্থ: পরকালীন জীবনের প্রতি ঈমানের আকিদা এবং সমাজ সংস্কারে এর প্রভাব
লেখক: ড. আবদুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ায়লান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯
[গ্রন্থটি অপ্রকাশিত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ সফর ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১)
عقيدة الإيمان باليوم الآخر
وآثرها في إصلاح المجتمع
د. عبدالمجيد بن محمد الوعلان
পরকাল বা শেষ দিবসে বিশ্বাসের আকিদা
এবং সমাজ সংস্কারে এর প্রভাব
ড. আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ায়লান
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২)
المقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله. {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102]، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ (18)} [الحشر: 18].
أما بعد:
فإن عقيدة الإيمان باليوم الآخر من قضايا العقيدة الأساسية التي جاء بها الإسلام، والتي يقوم عليها بناء هذه العقيدة بعد قضية وحدانية الله. والتي لا يقوم هذا الدين عقيدة وتصوراً وخلقاً وسلوكاً وشريعة ونظاماً إلا عليها وبها.
إن الحياة الحقيقة في الإسلام تمتد في الزمان فتشمل الفترة المحدودة التي يشهدها الإنسان - فترة الحياة الدنيا - وفترة الحياة الآخرة التي يمتد مداها أبد الآبدين.
(ولما كان الارتباط بين حياتنا هذه وحياتنا الآخرة وثيقاً، إذ كانت هذه الحياة بمثابة الحرث والزرع، وكانت الآخرة بمثابة الجني والحصاد، كان لابد للإنسان من أن يعلم عن حياته الآخرة ما يدعوه للاستعداد لها، وإقامة حياته الدنيا على النمط الذي يحقق له في الآخرة خيراً وفضلاً.
ولما كانت الآخرة غيب لا يستطيع أصحاب العقول الثاقبة، والقلوب المبصرة اختراق حجبها فضلاً عمن دونهم، فإن الله تعالى تولى إخبارهم عن مسارهم في رحلتهم بعد الحياة، وعن مصيرهم المحتوم، ومزج الحديث عن الحياة الآخرة بالحديث عن هذه الحياة مزجاً يجعلهما متداخلين، تحقيقاً لإصلاح النفوس وتقويمها، في عالم تدأب فيه مخلوقات كثيرة بشرية وجنية على العمل لإضلال العباد وإبعادهم عن جادة الصواب)
(1).
وتأتي أهمية هذا البحث في هذا الوقت الذي انشغل فيه كثير من الناس بالدنيا وما فيها من المتاع فنسوا اليوم الآخر. وأخذ فيه بعض الكتاب يشككون في ظهور ما أخبر به القرآن وما أخبر به الرسول صلى الله عليه وسلم، أو يصرفون النصوص عن ظاهرها، أو يؤلونها ويحكّمون عقولهم فيها، بل وصل الحال ببعضهم إلى تكذيب كثير مما يجري في الآخرة مما صحت به الأخبار، وعمدتهم في ذلك مقاييس عقلية لو دققوا النظر فيها لتبين فسادها، ولو تعمقوا في علوم الآخرة لبان لهم أن الآخرة غير الدنيا، وأن مقاييس وموازين الآخرة مخالفة لما عليه الحال في الدنيا.
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত এটা দেখা যে সে আগামীকালের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই তোমরা যা করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত (১৮)} [হাশর: ১৮]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই পরকালের প্রতি ঈমানের আকিদা হলো ইসলামের মৌলিক আকিদাসমূহের অন্যতম, যা আল্লাহর একত্বের বিষয়ের পরেই এই আকিদার সৌধের ভিত্তি হিসেবে গণ্য। এই আকিদা ছাড়া এই দ্বীনের বিশ্বাস, ধারণা, চরিত্র, আচরণ, শরিয়ত ও ব্যবস্থা কোনোটিই সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
ইসলামে প্রকৃত জীবন সময়ের পরিক্রমায় বিস্তৃত, যা মানুষের চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা সীমিত সময়—অর্থাৎ পার্থিব জীবন—এবং পরকালীন জীবন—যার ব্যাপ্তি অনন্তকাল পর্যন্ত—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
(যেহেতু আমাদের এই জীবন এবং পরকালীন জীবনের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়, কারণ এই জীবন হলো চাষাবাদ ও বীজ বপনের সমতুল্য এবং পরকাল হলো ফসল সংগ্রহ ও কর্তনের সমতুল্য, তাই মানুষের জন্য পরকালীন জীবন সম্পর্কে তেমনটি জানা জরুরি যা তাকে এর জন্য প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং তার পার্থিব জীবনকে এমন এক ধারায় পরিচালিত করবে যা তার জন্য পরকালে কল্যাণ ও শ্রেষ্ঠত্ব বয়ে আনবে।
যেহেতু পরকাল একটি অদৃশ্যের বিষয় যার রহস্যভেদ করা প্রখর বুদ্ধিমান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের পক্ষেও সম্ভব নয়, অন্য সাধারণ মানুষের তো প্রশ্নই আসে না; তাই মহান আল্লাহ নিজেই তাদের পরবর্তী জীবনের যাত্রা ও তাদের অনিবার্য পরিণাম সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি পরকালের আলোচনার সাথে এই দুনিয়ার জীবনের আলোচনাকে এমনভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন যাতে এ দুটি পরস্পর সম্পৃক্ত হয়ে যায়। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের আত্মার সংশোধন ও পরিশুদ্ধি ঘটানো এমন এক বিশ্বে যেখানে অসংখ্য মানুষ ও জিন সৃষ্টি প্রতিনিয়ত বান্দাদের পথভ্রষ্ট করতে এবং সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে সচেষ্ট থাকে)
(১)।
এই গবেষণার গুরুত্ব এমন এক সময়ে ফুটে উঠেছে যখন অনেক মানুষ দুনিয়া ও তার ভোগবিলাসে মগ্ন হয়ে পরকালকে ভুলে গেছে। সেখানে কিছু লেখক কুরআন ও রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেওয়া সংবাদসমূহ প্রকাশ পাওয়ার ব্যাপারে সংশয় তৈরি করছে, অথবা নসসমূহকে (ধর্মীয় মূল পাঠ) তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে, কিংবা সেগুলোর অপব্যাখ্যা করছে এবং নিজেদের বিবেক-বুদ্ধিকে সেগুলোর ওপর প্রাধান্য দিচ্ছে। এমনকি কারও কারও অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা পরকালে ঘটবে এমন অনেক সহিহ বা বিশুদ্ধ সংবাদকে অস্বীকার করছে। এক্ষেত্রে তাদের প্রধান অবলম্বন হলো কিছু যুক্তিনির্ভর মানদণ্ড, যা তারা যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত তবে এর অসারতা প্রকাশ পেয়ে যেত। আর তারা যদি পরকাল বিষয়ক জ্ঞানসমূহে গভীরতা অর্জন করত তবে তাদের কাছে স্পষ্ট হতো যে পরকাল দুনিয়ার মতো নয় এবং পরকালের মানদণ্ড ও পরিমাপকসমূহ দুনিয়ার বর্তমান অবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৩)
وكذلك فإن هذا البحث دعوة للإيمان بالله تعالى وباليوم الآخر، وتصديق لما أخبر به الصادق المصدوق الذي لا ينطق عن الهوى، {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} [النجم:4]، صلى الله عليه وسلم.
وهو أيضاً دعوة للتأهب لما بعد الموت، فإن الأجل قريب، والإنسان لا يعلم مصيره بعد الموت، إما إلى الجنة وإما إلى النار قال تعالى: {(33) فَإِذَا جَاءَتِ الطَّامَّةُ الْكُبْرَى (34) يَوْمَ يَتَذَكَّرُ الْإِنْسَانُ مَا سَعَى (35) وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِمَنْ يَرَى (36) فَأَمَّا مَنْ طَغَى (37) وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا (38) فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى (39) وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى (40) فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى} [النازعات:34 - 41].
نسأل الله سبحانه وتعالى أن يجعلنا من أهل الجنة، وأن يعيذنا من النار.
অনুরূপভাবে এই গবেষণাটি মহান আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি ঈমানের দাওয়াত এবং সেই সত্যবাদী ও সত্যায়িত ব্যক্তির সংবাদকে সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়ার আহ্বান, যিনি নিজের খেয়ালখুশি থেকে কোনো কথা বলেন না, {এটি তো এক ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয় (৪)} [আন-নাজম: ৪], তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতিরও একটি আহ্বান, কারণ মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী এবং মানুষ মৃত্যুর পর তার পরিণাম জানে না—তা জান্নাত হবে নাকি জাহান্নাম। মহান আল্লাহ বলেছেন: {(৩৩) অতঃপর যখন সেই মহা বিপদ আসবে (৩৪) যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে (৩৫) এবং প্রত্যেক দর্শকের জন্য জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে (৩৬) সুতরাং যে ব্যক্তি অবাধ্য হয়েছে (৩৭) এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছে (৩৮) তবে জাহান্নামই হবে তার ঠিকানা (৩৯) আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে (৪০) তবে জান্নাতই হবে তার ঠিকানা} [আন-নাযিআত: ৩৪ - ৪১]।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় দান করেন।
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৪)
خطة البحث:يشتمل هذا البحث على مقدمه، وتمهيد، وأربعة فصول، وخاتمة.
- أما المقدمة: فتشتمل على أهمية هذا الموضوع، وخطته.
- وأما التمهيد: فتحدثت فيه عن الأطوار التي يمر بها الإنسان. وهذه الأطوار هي:
1 - الطور الأول: حياته وهو جنين.
2 - الطور الثاني: حياته الدنيا.
3 - الطور الثالث: حياته وهو في البرزخ.
4 - الطور الرابع: حياته في الآخرة.
- وأما الفصل الأول: الإيمان باليوم الآخر: فيشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تحدثت فيه عن أهمية الإيمان باليوم الآخر وأنه أصل من أصول الدين. وعن الحقائق التي يشتملها الإيمان باليوم الآخر. وعن معنى الإيمان في اللغة والشرع.
المبحث الثاني: وتحدثت فيه عن أسماء اليوم الآخر وذكرت الأدلة على ذلك، وسبب كثرة أسماء اليوم الآخر.
المبحث الثالث: وتحدثت فيه عن علاقة الإيمان باليوم الآخر بالإيمان بالغيب: وبينت فيه ارتباط الإيمان باليوم الآخر بالإيمان بالغيب، وأن الإيمان باليوم الآخر هو إيمان بالغيب.
- وأما الفصل الثاني: أشراط الساعة، ويشتمل على أربعة مباحث:
المبحث الأول: الساعة وأمارتها: وبينت فيه أقسام أشراط الساعة وأنها تنقسم إلى قسمين:
1 - أشراط الساعة الصغرى.
2 - أشراط الساعة الكبرى.
وأن أشراط الساعة الصغرى منها ما وقع ومنها ما لم يقع.
المبحث الثاني: تحدثت فيه عن أشراط الساعة الصغرى.
المبحث الثالث: تحدثت فيه عن المهدي؛ وذلك لأن ظهوره يسبق ظهور أشراط الساعة الكبرى. وبينت مكان خروجه.
المبحث الرابع: تحدثت فيه عن أشراط الساعة الكبرى.
- وأما الفصل الثالث: الحقائق التي يشتملها الإيمان باليوم الآخر: فيشتمل على تسعة مباحث:
المبحث الأول: البعث، وتحدثت فيه عن معنى البعث، وما المراد منه، والأدلة عليه، وطرق القرآن في تقرير المعاد، وشبهة المنكرين للبعث والرد عليهم.
وتحدثت عن الحشر واختلاف أحوال الناس فيه، وعن الأرض التي يحشر عليها العباد وأنها غير
গবেষণার পরিকল্পনা:এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি মুখবন্ধ, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
- ভূমিকা: এতে এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং এর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- মুখবন্ধ: এতে আমি মানুষের জীবনের স্তরসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই স্তরগুলো হলো:
১ - প্রথম স্তর: ভ্রূণ অবস্থায় তার জীবন।
২ - দ্বিতীয় স্তর: তার পার্থিব জীবন।
৩ - তৃতীয় স্তর: বারযাখ বা কবরের জীবনের অবস্থানকালীন জীবন।
৪ - চতুর্থ স্তর: পরকালের জীবন।
- প্রথম অধ্যায়: পরকালের প্রতি ঈমান: এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি পরকালের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব এবং এটি যে দ্বীনের অন্যতম একটি মূলনীতি, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়া পরকালের প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলি এবং আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে ঈমানের অর্থ বর্ণনা করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি পরকালের নামসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং সেগুলোর প্রমাণাদি এবং পরকালের অধিক নাম থাকার কারণ উল্লেখ করেছি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি পরকালের প্রতি ঈমানের সাথে অদৃশ্যের (গায়েব) প্রতি ঈমানের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি: আমি এতে পরকালের প্রতি ঈমানের সাথে অদৃশ্যের প্রতি ঈমানের যোগসূত্র এবং পরকালের প্রতি ঈমান যে প্রকৃতপক্ষে অদৃশ্যের প্রতি ঈমানেরই একটি অংশ, তা স্পষ্ট করেছি।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: কিয়ামতের আলামতসমূহ, এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিয়ামত এবং এর লক্ষণসমূহ: এতে আমি কিয়ামতের আলামতসমূহের প্রকারভেদ বর্ণনা করেছি এবং দেখিয়েছি যে এগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:
১ - কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহ।
২ - কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ।
আর কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহের মধ্যে কিছু প্রকাশ পেয়েছে এবং কিছু এখনো প্রকাশ পায়নি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি মাহদী সম্পর্কে আলোচনা করেছি; কারণ তাঁর আত্মপ্রকাশ কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ প্রকাশের পূর্ববর্তী বিষয়। আমি তাঁর আত্মপ্রকাশের স্থান বর্ণনা করেছি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে আমি কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
- তৃতীয় অধ্যায়: পরকালের প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলি: এটি নয়টি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পুনরুত্থান (আল-বা'স), এতে আমি পুনরুত্থানের অর্থ, এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, এর প্রমাণাদি, পরকাল প্রমাণের ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতিসমূহ এবং পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের সংশয় ও তার খণ্ডন নিয়ে আলোচনা করেছি।
আমি হাশর (সমবেতকরণ) এবং এতে মানুষের অবস্থার ভিন্নতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এছাড়া যে জমিনে বান্দাদের হাশর করা হবে এবং সেটি যে বর্তমান জমিন থেকে ভিন্ন হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৫)
أرضنا هذه. ثم ذكرت شيئاً من أهوال يوم القيامة.
المبحث الثاني: دنو الشمس من الخلائق، تحدثت فيه عن دنو الشمس من الخلائق، وحال الناس عند حدوث ذلك.
المبحث الثالث: محاسبة الخلائق على أعمالهم، وتحدثت فيه عن محاسبة الخلق، وأن محاسبة المؤمن محاسبة فضل وکرم وإنعام، وأن محاسبة الكافر غير ذلك.
المبحث الرابع: الميزان، وتحدثت فيه عن معناه، وعن اعتقاد أهل السنة والجماعة فيه، وبينت أن الذي يوزن هو العامل والأعمال والصحائف وأن العبرة في الثقل والخفة بالأعمال.
المبحث الخامس: نشر الكتب، وتحدثت فيه عن نشر الكتب، وأن من الناس من يأخذ كتابه بيمينه وهم المؤمنون، وأن منهم من يأخذ كتابه بشماله أو من وراء ظهره وهم الكافرون.
المبحث السادس: الحوض، وتحدثت فيه عن معناه، وعن اعتقاد أهل السنة والجماعة فيه، ومتى يكون، وأنه للمؤمنين فقط.
المبحث السابع: الشفاعة، وتحدثت فيه عن الشفاعة وأنواعها وأن منها ما هو خاص بالنبي صلى الله عليه وسلم، ومنها ما تكون عامة، له ولسائر النبيين والصديقين والشهداء والصالحين. ثم ذكرت شروط الشفاعة المقبولة.
المبحث الثامن: الصراط، وتحدثت فيه عن معناه، وعن اعتقاد أهل السنة والجماعة فيه، وعن كيفية مرور الناس عليه.
المبحث التاسع: دخول الجنة أو النار، وتحدثت فيه عن نهاية المطاف يوم القيامة، وأن المصير إما إلى الجنة، وإما إلى النار.
وبينت فيه أن الجنة والنار مخلوقتان، موجودتان، لا تفنيان، ولا تبيدان.
- وأما الفصل الرابع: آثار الإيمان باليوم الآخر في إصلاح المجتمع، وتحدثت فيه عن أثر الإيمان باليوم الآخر، وبينت الفرق بين من يؤمن باليوم الآخر وبين من لا يؤمن باليوم الآخر.
الخاتمة: وتحدثت فيها عن أهم النتائج التي توصلت اليها.
فهرس المصادر والمراجع.
فهرس الموضوعات.
আমাদের এই পৃথিবী। এরপর আমি কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছু আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সৃষ্টির অতি নিকটে সূর্যের আগমন; এতে আমি সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়া এবং সেই সময় মানুষের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সৃষ্টির আমলসমূহের হিসাব গ্রহণ; এতে আমি সৃষ্টির হিসাব নিকাশ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং দেখিয়েছি যে, মুমিনের হিসাব হবে অনুগ্রহ, মর্যাদা ও নেয়ামত স্বরূপ, আর কাফিরের হিসাব হবে এর বিপরীত।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মিযান; এতে আমি এর অর্থ এবং এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আর আমি বর্ণনা করেছি যে, ওজন করা হবে আমলকারী, আমলসমূহ এবং আমলনামাকে এবং পাল্লা ভারী বা হালকা হওয়া আমলের ওপর নির্ভরশীল।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আমলনামা বিতরণ; এতে আমি আমলনামা বিতরণ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং উল্লেখ করেছি যে, মানুষের মধ্যে কেউ কেউ ডান হাতে আমলনামা গ্রহণ করবে তারা হলো মুমিনগণ, আর কেউ কেউ বাম হাতে কিংবা পিঠের পেছন থেকে আমলনামা গ্রহণ করবে তারা হলো কাফিরগণ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: হাউয; এতে আমি এর অর্থ এবং এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং এটি কখন হবে ও এটি যে শুধুমাত্র মুমিনদের জন্য তা বর্ণনা করেছি।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: শাফায়াত; এতে আমি শাফায়াত এবং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে কিছু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট, আর কিছু সাধারণ—যা তাঁর জন্য এবং অন্যান্য সকল নবী, সত্যবাদী, শহীদ ও নেককারদের জন্য হবে। এরপর আমি কবুলযোগ্য শাফায়াতের শর্তাবলি উল্লেখ করেছি।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: সিরাত; এতে আমি এর অর্থ এবং এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা ও এর ওপর দিয়ে মানুষের অতিক্রম করার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
নবম পরিচ্ছেদ: জান্নাত বা জাহান্নামে প্রবেশ; এতে আমি কিয়ামত দিবসের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং গন্তব্য যে হয় জান্নাত না হয় জাহান্নাম তা বর্ণনা করেছি।
এবং এতে আমি বর্ণনা করেছি যে, জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ই সৃষ্ট, বর্তমানে বিদ্যমান এবং এ দুটি কখনও ধ্বংস বা বিলুপ্ত হবে না।
- আর চতুর্থ অধ্যায়: সমাজ সংস্কারে পরকালের প্রতি ঈমানের প্রভাব; এতে আমি পরকালের প্রতি ঈমানের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং যে ব্যক্তি পরকালের প্রতি ঈমান রাখে আর যে রাখে না—তাদের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করেছি।
উপসংহার: এতে আমি গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।
উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।
বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৬)
تمهيد: الأطوار التي يمر الإنسان بها من الحياةيمر الإنسان في أربعة أطوار من الحياة (
1): 1 - الطور الأول: حياته وهو جنين:فالجنين في بطن أمه كائن حي، يحس ويتحرك، ويتألم وينمو ويمرض ويصح
… إلى أن يقضي فيه الزمن المعين الذي قدر له.
ثم ينقل إلى هذه الحياة طفلاً ضعيفاً كما نراه، قال تعالى: {وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا} [الحج: 5].
2 - الطور الثاني: حياته الدنيا:ثم ينتقل من ضيق الرحم، إلى هذه الحياة الفسيحة، فيحيا فيها حياة لا شبه بينها وبين حياته وهو في الطور الأول في بطن أمه. فقد أصبح يتغذى من فمه، ويبصر بعينيه، ويسمع بأذنيه، ويبطش بيديه، ويمشي على رجليه.
حتى إذا بلغ أشده واستوي، منحه الله عقلاً، وأتاه علماً، وبقي في هذه الدنيا إلى أجله المحتوم
… ثم يموت.
والموت هو القيامة الصغرى فكل من مات فقد قامت قيامته، وحان حينه، عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رجال من الأعراب يأتون النبي صلى الله عليه وسلم فيسألونه عن الساعة، فكان ينظر إلى أصغرهم فيقول: «إن يعش هذا، لا يدركه الهرم حتى تقوم عليكم ساعتكم»
(2).
قال ابن كثير
(3): (والمراد انخرام قرنهم ودخولهم في عالم الآخرة، فإن كل من مات فقد دخل في حكم الآخرة، وبعض الناس يقول: من مات فقد قامت قيامته، وهذا الكلام بهذا المعنى صحيح)
(4).
--------------------------------------------
ভূমিকা: মানুষ জীবনের যে পর্যায়গুলো অতিক্রম করেমানুষ জীবনের চারটি পর্যায় অতিক্রম করে (
১): ১ - প্রথম পর্যায়: ভ্রূণ হিসেবে তার জীবন:মায়ের জরায়ুতে থাকা ভ্রূণ একটি জীবন্ত সত্তা, যা অনুভব করে, নড়াচড়া করে, কষ্ট পায়, বৃদ্ধি পায়, অসুস্থ হয় এবং সুস্থ থাকে... যতক্ষণ না তার জন্য নির্ধারিত সময় সেখানে শেষ হয়।
এরপর তাকে একটি দুর্বল শিশু হিসেবে এই জীবনে স্থানান্তরিত করা হয়, যেমনটি আমরা দেখি। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি যাকে ইচ্ছা করি এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জরায়ুতে রাখি, তারপর আমি তোমাদেরকে শিশু হিসেবে বের করে আনি।} [আল-হাজ্জ: ৫]।
২ - দ্বিতীয় পর্যায়: তার পার্থিব জীবন:তারপর সে জরায়ুর সংকীর্ণতা থেকে এই প্রশস্ত জীবনে স্থানান্তরিত হয়, এবং সেখানে এমন এক জীবন অতিবাহিত করে যার সাথে মায়ের জরায়ুতে থাকা প্রথম পর্যায়ের জীবনের কোনো মিল নেই। কারণ সে এখন মুখ দিয়ে খাবার গ্রহণ করে, চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শোনে, হাত দিয়ে কাজ করে এবং পা দিয়ে হাঁটে।
অবশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হয় এবং পরিপূর্ণতা লাভ করে, আল্লাহ তাকে বুদ্ধি দান করেন এবং জ্ঞান প্রদান করেন; আর সে তার অমোঘ মৃত্যুর সময় পর্যন্ত এই দুনিয়ায় অবস্থান করে... অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করে।
আর মৃত্যুই হলো ছোট কিয়ামত, সুতরাং যে ব্যক্তি মারা যায় তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যায় এবং তার সময় ঘনিয়ে আসে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কিছু বেদুইন লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসতেন এবং তাঁকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। তখন তিনি তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তির দিকে তাকাতেন এবং বলতেন: «যদি সে বেঁচে থাকে, তবে তার বার্ধক্য আসার পূর্বেই তোমাদের কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে»
(২)।
ইবনে কাসীর
(৩) বলেন: (এর অর্থ হলো তাদের প্রজন্মের সমাপ্তি এবং পরকালের জগতে প্রবেশ। কারণ যে ব্যক্তি মারা যায়, সে পরকালের বিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। কিছু মানুষ বলে থাকে: ‘যে মারা গেল তার কিয়ামত সংঘটিত হলো’, আর এই কথাটি এই অর্থে সঠিক)
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وإذا حان الأجل وشارفت حياة الإنسان على المغيب أرسل الله رسل الموت لسل الروح المدبرة للجسد والحركة له، قال تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ (61)} [الأنعام:61]، وملائكة الموت تأتي المؤمن في صورة حسنة جميلة، وتأتي الكافر والمنافق في صورة مخيفة.
وما يحدث للميت حال موته لا نشاهده ولا نراه، وإن كنا نرى آثاره، وقد حدثنا ربنا تبارك وتعالى عن حال المحتضر فقال: {فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ (85)} [الواقعة:83 - 85]، والمتحدث عنه في الآية الروح عندما تبلغ الحلقوم في حال الاحتضار، ومن حوله ينظرون إلى ما يعانيه من سكرات الموت، وإن كانوا لا يرون الملائكة التي تَسُلُ روحه، قال تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ (61)} [الأنعام:61]، وقال في الآية الآخرة: {كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ (26) وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ (27) وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ (28) وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ (29) إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ (30)} [القيامة:26 - 30] والتي تبلغ التراقي هي الروح، والتراقي جمع ترقوه وهي العظام التي بين ثغرة النحر والعاتق
(1).
وقد صرح القرآن بأن الملائكة تبشر المؤمن بالمغفرة من الله والرضوان، وتبشر الكافر بسخط الله وغضبه، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ (30) نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ (31) نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ (32)} [سورة فصلت:30 - 32]. وهذا التنزل كما قال طائفة من أئمة التفسير منهم مجاهد
(2) إنما يكون حال الاحتضار
(3).
أما الكفرة الفجرة فإن الملائكة تتنزل عليهم بنقيض ذلك قال تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ
--------------------------------------------
আর যখন নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয় এবং মানুষের জীবন অস্তমিত হওয়ার নিকটবর্তী হয়, তখন আল্লাহ মৃত্যুর দূতদের প্রেরণ করেন সেই রুহ বের করে আনার জন্য যা দেহ পরিচালনা করে এবং তাকে গতি প্রদান করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী এবং তিনি তোমাদের ওপর রক্ষক প্রেরণ করেন; অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন আমাদের প্রেরিত দূতগণ তার প্রাণ হরণ করে এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না।" [আল-আনআম: ৬১], আর মৃত্যুর ফেরেশতারা মুমিনের কাছে সুন্দর ও মনোরম আকৃতিতে আসে, এবং কাফির ও মুনাফিকের কাছে আসে ভয়ংকর আকৃতিতে।
মৃত্যুর সময় মৃত ব্যক্তির যা ঘটে তা আমরা প্রত্যক্ষ করি না এবং দেখিও না, যদিও আমরা এর প্রভাব দেখতে পাই। আমাদের বরকতময় ও সুমহান রব আমাদের কাছে মৃত্যুপথযাত্রীর অবস্থা সম্পর্কে বলেছেন: "অতঃপর কেন নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয় (৮৩), এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাকো (৮৪), আর তোমাদের অপেক্ষা আমরাই তার অধিক নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না (৮৫)" [আল-ওয়াকিআ: ৮৩-৮৫], আয়াতে যার সম্পর্কে বলা হয়েছে তা হলো রুহ যখন মুমূর্ষু অবস্থায় কণ্ঠাগত হয়, আর তার আশপাশে যারা থাকে তারা মৃত্যুর যন্ত্রণায় তার ভোগান্তি প্রত্যক্ষ করে, যদিও তারা সেই ফেরেশতাদের দেখতে পায় না যারা তার রুহ বের করে আনছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী এবং তিনি তোমাদের ওপর রক্ষক প্রেরণ করেন; অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন আমাদের প্রেরিত দূতগণ তার প্রাণ হরণ করে এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না।" [আল-আনআম: ৬১], আর তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: "কখনো নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাস্থি পর্যন্ত পৌঁছায় (২৬), এবং বলা হয়, ‘কে ঝাড়ফুঁক করবে?’ (২৭), আর সে নিশ্চিত মনে করে যে, এটা বিদায়ের সময় (২৮), এবং এক পা অন্য পায়ের সাথে জড়িয়ে যায় (২৯), সেদিন তোমার রবের নিকট হবে মহাযাত্রা (৩০)" [আল-কিয়ামাহ: ২৬-৩০], আর যা কণ্ঠাস্থি পর্যন্ত পৌঁছায় তা হলো রুহ। 'তরাকী' হলো 'তরকুয়াহ'-এর বহুবচন, আর তা হলো সেই হাড় যা কণ্ঠনালীর গর্ত এবং কাঁধের মাঝখানে অবস্থিত
(১)।
কুরআন স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে যে, ফেরেশতারা মুমিনকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টির সুসংবাদ প্রদান করে এবং কাফিরকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের দুঃসংবাদ দেয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়ে বলে, ‘তোমরা ভয় পেয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না, আর সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল (৩০)। আমরা তোমাদের বন্ধু দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতেও; এবং সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা দাবি করো (৩১)। এটি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালুর পক্ষ থেকে মেহমানদারি (৩২)" [সূরা ফুসসিলাত: ৩০-৩২]। আর এই অবতরণ যেমনটি মুজাহিদ
(২) সহ একদল মুফাসসির ইমামগণ বলেছেন, তা কেবল মুমূর্ষু অবস্থায় হয়ে থাকে
(৩)।
পক্ষান্তরে পাপাচারী কাফিরদের নিকট ফেরেশতারা এর বিপরীত বার্তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যদি তুমি দেখতে, যখন ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করে যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৮)
كَفَرُوا الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ (50) ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ} [سورة الأنفال:50 - 51].
قال ابن كثير رحمه الله: (وإن كان هذا في وقعة بدر، ولكنه عام في حق كل كافر، ولهذا لم يخصصه تعالى بأهل بدر، بل قال: {وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا} .. )
(1).
وللموت سكرات يلاقيها كل إنسان حين الاحتضار، كما قال تعالى: {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ (19)} [ق:19].
وقد عانى النبي صلى الله عليه وسلم من هذه السكرات، ففي مرضه صلى الله عليه وسلم كان بين يديه ركوة من ماء أو علبة فيها ماء، فجعل يدخل يده في الماء فيمسح بها وجهه، ويقول: «لا إله إلا الله، إن للموت سكرات»
(2)، وتقول عائشة رضي الله عنها في مرض رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما رأيت الوجع على أحد أشد منه على رسول الله صلى الله عليه وسلم»
(3).
ثم إذا نزعت الروح صعد بها إلى السماء، عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا خرجت روح المؤمن تلقاها ملكان يصعدانها»، قال حماد
(4): "فذكر من طيب ريحها، وذكر المسك، قال: "ويقول أهل السماء: روح طيبة جاءت من قبل الأرض، صلى الله عليك وعلى جسد كنت تعمرينه، فينطلق به إلى ربه عز وجل، ثم يقول: انطلقوا به إلى أخر الأجل"، قال: "وإن الكافر إذا خرجت روحه - قال حماد وذكر من نتنها، وذكر لعنا ويقول أهل السماء: روح خبيثة من قبل الأرض، قال فيقال: انطلقوا به إلى آخر الأجل
(5).
وهذان الطوران نراهما بأعيننا وندرك الفرق الشاسع بينهما.
--------------------------------------------
...কাফিররা, ফেরেশতারা তাদের চেহারায় এবং পিঠে আঘাত করছে এবং (বলছে,) 'তোমরা দহন যন্ত্রণা আস্বাদন করো।' (৫০) এটা তোমাদের হাত যা আগে পাঠিয়েছে তার ফল, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোনো অন্যায়কারী নন।" [সূরা আল-আনফাল: ৫০-৫১]।
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (যদিও এটি বদরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছে, কিন্তু এটি প্রতিটি কাফিরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা এটিকে কেবল বদরবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট করেননি, বরং তিনি বলেছেন: {আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন ফেরেশতারা কাফিরদের জান কবজ করছিল...} .. )
(১)।
আর মৃত্যুর কিছু যাতনা (সাকরাত) রয়েছে যা প্রত্যেক মানুষ মৃত্যুযন্ত্রণা বা অন্তিম মুহূর্তে মুখোমুখি হয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর মৃত্যুর যাতনা সত্যসহ উপস্থিত হয়েছে; এটাই তো সেই বিষয় যা থেকে তুমি পলায়ন করতে চাইতে (১৯)} [সূরা ক্বাফ: ১৯]।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেও এই মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থতার সময় তাঁর সামনে পানির একটি পাত্র অথবা ছোট একটি কৌটা ছিল। তিনি তাতে তাঁর হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন এবং তা দিয়ে নিজের মুখ মুছছিলেন আর বলছিলেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, নিশ্চয়ই মৃত্যুর রয়েছে অনেক যাতনা।" আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতা সম্পর্কে বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে তীব্র ব্যথা আমি অন্য আর কারো দেখিনি।"
(৩)।
অতঃপর যখন রূহ (প্রাণ) বের করে নেওয়া হয়, তখন তা নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করা হয়। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন মুমিনের রূহ বের হয়, তখন দুজন ফেরেশতা তা গ্রহণ করে উপরে নিয়ে যান।" হাম্মাদ
(৪) বলেন: "তিনি এর সুগন্ধির কথা উল্লেখ করেছেন এবং মিশকের (কস্তুরী) কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "আসমানবাসীরা বলে: পৃথিবী থেকে একটি পবিত্র রূহ এসেছে, আল্লাহ তোমার ওপর এবং সেই দেহের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যা তুমি আবাদ করেছিলে। অতঃপর তাকে তার রব মহান আল্লাহর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি বলেন: তাকে শেষ সময় (পরকাল) পর্যন্ত নিয়ে যাও।" তিনি আরও বলেন: "আর কাফিরের রূহ যখন বের হয়—হাম্মাদ এর দুর্গন্ধ ও অভিশাপের কথা উল্লেখ করেছেন—আসমানবাসীরা বলে: পৃথিবী থেকে এক অপবিত্র রূহ এসেছে। তখন বলা হয়: তাকে শেষ সময় পর্যন্ত নিয়ে যাও।"
(৫)।
আর এই দুটি অবস্থাকে আমরা আমাদের নিজেদের চোখে দেখি এবং এদের মধ্যকার বিশাল পার্থক্য উপলব্ধি করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৯)
3 - الطور الثالث: حياته وهو في البرزخ:فإذا مات انتقل من هذه الحياة، إلى حياة برزخية، تنفصل فيها الروح عن الجسد، ويتنعم فيها أو يعذب. قال الله تعالى: {وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ (45) النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ (46)} [سورة غافر: 45 - 46] [غافر: 45 - 46]. ومر النبي صلى الله عليه وسلم بقبرين فقال: «إنهما يعذبان، وما يعذبان في كبير: أما أحدهما فكان يمشي بالنميمة، وأما الآخر فكان لايستتر من بوله»
(1).
والبرزخ: هو أول عالم من عوالم الآخرة.
والبرزخ في كلام العرب الحاجز بين الشيئين، قال تعالى: {أُجَاجٌ وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا} [الفرقان: 53]، أي حاجزاً.
وفي الشرع: الدار التي تعقب الموت إلى البعث، قال تعالى: {وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ (100)} [سورة المؤمنون: 100]. قال مجاهد: هو ما بين الموت والبعث
(2).
(وأول شيء يكون بعد الموت فتنة القبر فإن الناس يفتنون - أي يختبرون - في قبورهم فما من إنسان يموت سواء دفن في الأرض، أو رمي في البحر، أو أكلته السباع، أو ذرته الرياح، إلا ويفتن هذه الفتنة فيسأل عن ثلاثة أمور: من ربك؟ وما دينك؟ ومن نبيك؟ .
فأما المؤمن فيقول ربي الله، وديني الإسلام، ونبي محمد، فينادي مناد من السماء أن صدق عبدي، وحينئذ يفسح له في قبره مد البصر، ويفرش له فراش من الجنة ويفتح له باب إلى الجنة فيأتيه من روحها ونعيمها.
أما إذا كان كافراً أو منافقاً فإنه إذا سئل من ربك؟ ما دينك؟ من نبيك؟ فيقول: هاه هاه لا أدري سمعت الناس يقولون شيئاً فقلته، فيضرب بمرزبة من حديد فيصيح صيحة يسمعها كل شيء إلا الثقلين - الإنس والجن - ولو سمعها لصعق
(3))
(4).
ومما يدخل في الإيمان باليوم الآخر الإيمان بكل ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم مما يكون بعد الموت
--------------------------------------------
৩ - তৃতীয় পর্যায়: বারযাখে তার জীবন:যখন কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন সে এই জীবন থেকে বারযাখের জীবনে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে আত্মা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেখানে সে নেয়ামত ভোগ করে অথবা শাস্তিতে নিপতিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর ফেরাউন গোষ্ঠীকে মন্দ শাস্তি ঘিরে ফেলল। (৪৫) তারা সকাল ও সন্ধ্যায় আগুনের সামনে উপস্থাপিত হয় এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে (সেদিন আদেশ দেওয়া হবে), ফেরাউন গোষ্ঠীকে কঠোরতম শাস্তিতে প্রবেশ করাও। (৪৬)} [সূরা গাফির: ৪৫ - ৪৬]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন: "নিশ্চয়ই তাদের উভয়কে আজাব দেওয়া হচ্ছে, অথচ বড় কোনো কারণে (যা থেকে বেঁচে থাকা অসম্ভব ছিল) তাদের আজাব দেওয়া হচ্ছে না। তাদের একজন চোগলখুরি করে বেড়াত, আর অন্যজন নিজের পেশাব থেকে আড়াল বা পবিত্র থাকত না"
(১)।
আর বারযাখ হলো: পরকালের জগতসমূহের মধ্যে প্রথম জগত।
আরবদের ভাষায় বারযাখ হলো দুটি জিনিসের মধ্যবর্তী অন্তরাল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি উভয়ের মধ্যে একটি অন্তরাল রেখেছেন} [আল-ফুরকান: ৫৩], অর্থাৎ একটি বাধা।
শরীয়তের পরিভাষায়: মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আবাসস্থল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাদের সামনে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত বারযাখ রয়েছে (১০০)} [সূরা আল-মুমিনুন: ১০০]। মুজাহিদ বলেন: এটি হলো মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মধ্যবর্তী সময়
(২)।
(আর মৃত্যুর পর প্রথম যা ঘটে তা হলো কবরের ফিতনা। কেননা মানুষকে তাদের কবরে ফিতনায় ফেলা হবে - অর্থাৎ পরীক্ষা করা হবে - সুতরাং যে মানুষই মারা যাক না কেন, চাই তাকে মাটিতে দাফন করা হোক, কিংবা সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হোক, অথবা হিংস্র পশু তাকে ভক্ষণ করুক, অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে দিক, সে অবশ্যই এই ফিতনার সম্মুখীন হবে। তাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে?।
মুমিন ব্যক্তি বলবে: আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম এবং আমার নবী মুহাম্মদ। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন যে, আমার বান্দা সত্য বলেছে। তখন তার জন্য তার কবরে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত জায়গা প্রশস্ত করে দেওয়া হবে, তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হবে এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, ফলে সেখান থেকে জান্নাতের স্নিগ্ধ হাওয়া ও নেয়ামত তার কাছে আসতে থাকবে।
কিন্তু সে যদি কাফের বা মুনাফিক হয়, তবে তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে? তখন সে বলবে: হায়! হায়! আমি জানি না। আমি মানুষকে যা বলতে শুনেছি তাই বলেছি। তখন তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হবে, ফলে সে এমন তীব্র আর্তনাদ করবে যা মানুষ ও জিন ছাড়া প্রতিটি সৃষ্টি শুনতে পাবে। যদি মানুষ তা শুনত তবে সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ত
(৩))
(৪)।
পরকালের প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো মৃত্যুর পর যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তার সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১০)
فيؤمنون بفتنة القبر و بعذاب القبر ونعيمه
(1).
يقول شارح الطحاوية: (وقد تواترت الأخبار عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في ثبوت عذاب القبر ونعيمه لمن كان لذلك أهلاً، وسؤال الملكين، فيجب اعتقاد ثبوت ذلك والإيمان به، ولا نتكلم في كيفيته؛ إذ ليس للعقل وقوف على كيفيته، لكونه لا عهد له بهذه الدار، والشرع لا يأتي بما تحيله العقول بل إن الشرع قد يأتي بما تحار فيه العقول، فإن عودة الروح إلى الجسد ليس على الوجه المعهود في الدنيا، بل تعاد اليه إعادة غير الإعادة المألوفة في الدنيا)
(2).
قال تعالى: {يَجْزِي اللَّهُ الْمُتَّقِينَ (31) الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ (32)} [سورة النحل:31 - 32]. ووجه الدلالة في هذه الآية على نعيم القبر قوله: {تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ} حال توفيهم: {سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ}، وهم وإن كانوا لم يدخلوا الجنة التي عرضها السموات والأرض لكن دخلوا القبر الذي فيه نعيم الجنة.
(وقد وردت إشارات في القرآن تدل على عذاب القبر، وقد ترجم البخاري
(3) في كتاب الجنائز لعذاب القبر، فقال: باب ما جاء في عذاب القبر، وساق في الترجمة قوله تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ (93)} [سورة الأنعام:93]، وقوله تعالى {سَنُعَذِّبُهُمْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ} [التوبة:101]، وقوله تعالى: {وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ (45) النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ (46)} [سورة غافر:45 - 46].
--------------------------------------------
সুতরাং তারা কবরের পরীক্ষা এবং কবরের আযাব ও শান্তির প্রতি ঈমান আনে
(১)।
তহাবীয়ার ভাষ্যকার বলেন: (কবরের আযাব ও শান্তি—যারা এর উপযুক্ত তাদের জন্য—এবং দুই ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদ সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির বা অবিচ্ছিন্ন সূত্রে হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এটি সাব্যস্ত হওয়ার বিশ্বাস রাখা এবং এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। আমরা এর ধরণ বা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব না; কারণ বুদ্ধি এর পদ্ধতি উপলব্ধিতে সক্ষম নয়, যেহেতু পার্থিব জগতের সাথে ওই জগতের কোনো পরিচয় বা অভিজ্ঞতা নেই। শরীয়ত এমন কিছু নিয়ে আসে না যা বুদ্ধি অসম্ভব মনে করে, বরং শরীয়ত এমন বিষয় নিয়ে আসতে পারে যা দেখে বুদ্ধি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। কেননা দেহে রূহ বা আত্মা ফিরে আসা দুনিয়ার পরিচিত পদ্ধতিতে হয় না, বরং এটি দুনিয়ার পরিচিত পদ্ধতির বাইরে ভিন্ন এক পদ্ধতিতে ফিরে আসে)
(২)।
মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ মুত্তাকীদের প্রতিদান দেবেন (৩১) যাদের মৃত্যু ফেরেশতারা এমন অবস্থায় ঘটায় যে তারা পবিত্র থাকে; ফেরেশতারা বলে: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা যা আমল করতে তার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করো (৩২)} [সূরা আন-নাহল: ৩১-৩২]। কবরের শান্তির সপক্ষে এই আয়াতের দলীল হওয়ার দিকটি হলো আল্লাহর বাণী: {ফেরেশতারা তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায় মৃত্যু ঘটানোর সময় বলে: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, জান্নাতে প্রবেশ করো}। তারা যদিও তখন আসমান ও জমিন সমান প্রশস্ত জান্নাতে প্রবেশ করেনি, কিন্তু তারা এমন কবরে প্রবেশ করেছে যেখানে জান্নাতের নেয়ামত ও শান্তি রয়েছে।
(কুরআনে এমন সব ইঙ্গিত এসেছে যা কবরের আযাবকে প্রমাণ করে। ইমাম বুখারী
(৩) জানাজা অধ্যায়ে কবরের আযাবের বিষয়ে পরিচ্ছেদ এনেছেন এবং বলেছেন: কবরের আযাব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়। তিনি এই শিরোনামে মহান আল্লাহর এই বাণী উল্লেখ করেছেন: {আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত বাড়িয়ে দেয় (এবং বলে), ‘তোমাদের প্রাণ বের করো; আজ তোমাদের অবমাননাকর আযাব দেওয়া হবে, কারণ তোমরা আল্লাহর নামে অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ নিয়ে অহংকার করতে’} [সূরা আল-আন‘আম: ৯৩]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তাদের দুইবার শাস্তি দেব, তারপর তাদের এক মহা আযাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে} [সূরা আত-তাওবাহ: ১০১]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর ফেরাউন বংশকে নিকৃষ্ট আযাব ঘিরে ফেলল (৪৫)। সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের আগুনের সামনে পেশ করা হয়, আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে (সেদিন বলা হবে), ফেরাউন বংশকে কঠোরতম আযাবে প্রবেশ করাও (৪৬)} [সূরা গাফির: ৪৫-৪৬] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১১)
عن عائشة رضي الله عنها: أن يهودية دخلت عليها فذكرت عذاب القبر، فقالت لها: أعاذك الله من عذاب القبر، فسألت عائشة الرسول صلى الله عليه وسلم عن عذاب القبر، فقال: «نعم، عذاب القبر حق»، قالت عائشة رضي الله عنها: فما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد صلى إلا تعوذ من عذاب القبر
(1).
وعن عبدالله بن عمر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن أحدكم إذا مات عرض عليه مقعده بالغداة والعشي: إن كان من أهل الجنة فمن أهل الجنة، وإن كان من أهل النار فمن أهل النار، فيقال هذا مقعدك حتى يبعثك الله يوم القيامة»
(2).
والعذاب في القبر على الروح في الأصل وربما يتصل بالبدن، ومع ذلك فإن كونه على الروح لا يعني أن البدن لا يناله منه شيء بل لابد أن يناله من هذا العذاب أو النعيم شيء وإن كان غير مباشر. واعلم أن العذاب والنعيم في القبر على عكس العذاب أو النعيم في الدنيا، فإن العذاب أو النعيم في الدنيا على البدن، وتتأثر به الروح، وفي البرزخ يكون النعيم أو العذاب على الروح، ويتأثر به البدن
(3).
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية
(4): "العذاب والنعيم على النفس والبدن جميعاً باتفاق أهل السنة والجماعة، تنعم النفس وتعذب منفردة عن البدن، وتعذب متصلة بالبدن، والبدن متصل بها، فيكون النعيم والعذاب عليهما في هذه الحال مجتمعين، كما يكون للروح منفردة عن البدن"
(5).
4 - الطور الرابع: حياته في الآخرة:ثم تقوم الساعة، ويبعث الناس ويحشرون ويحاسبون على أعمالهم: {فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ (105) فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ (106) خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ (107) وَأَمَّا الَّذِينَ سُعِدُوا فَفِي الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ (108)} [سورة هود: 105 - 108] [هود: 105 - 108].
والله تعالى حين أخبرنا بما يستقبلنا من الطورين الأخيرين ومهد للإيمان بهما بالطورين الأولين اللذين نراهما بأعيننا وهما: حياتنا ونحن أجنة في بطون أمهاتنا، وحياتنا هذه في الدنيا. فالخالق العظيم القادر الذي
--------------------------------------------
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: একজন ইহুদী নারী তাঁর নিকট প্রবেশ করে কবরের আযাব সম্পর্কে আলোচনা করল এবং তাঁকে বলল: আল্লাহ আপনাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। অতঃপর আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের আযাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: «হ্যাঁ, কবরের আযাব সত্য»। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন: এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লক্ষ্য করেছি যে, তিনি যখনই সালাত আদায় করতেন, কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন
(১)।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল ও সন্ধ্যায় তার সামনে তার অবস্থানস্থল পেশ করা হয়: যদি সে জান্নাতী হয় তবে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে, আর যদি সে জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে। তাকে বলা হয়, এটিই তোমার অবস্থানস্থল, যে পর্যন্ত না কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করেন»
(২)।
কবরের আযাব মূলত রূহের ওপর হয়, তবে কখনো কখনো তা দেহের সাথেও সম্পৃক্ত হয়। তা সত্ত্বেও, আযাব রূহের ওপর হওয়ার অর্থ এই নয় যে দেহ এর কিছুই পায় না; বরং এই আযাব বা নিয়ামতের কিছু অংশ অবশ্যই দেহের ওপর পৌঁছায়, যদিও তা পরোক্ষভাবে হয়। জেনে রাখুন যে, কবরের আযাব ও নিয়ামত দুনিয়ার আযাব বা নিয়ামতের বিপরীত। কেননা দুনিয়ার আযাব বা নিয়ামত দেহের ওপর হয় এবং রূহ তার দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর বরযখী জীবনে নিয়ামত বা আযাব রূহের ওপর হয় এবং দেহ তার দ্বারা প্রভাবিত হয়
(৩)।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ
(৪) বলেন: "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐকমত্য অনুযায়ী আযাব ও নিয়ামত রূহ ও দেহ উভয়ের ওপরই হয়ে থাকে। রূহ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নিয়ামত বা আযাব ভোগ করে, আবার দেহের সাথে সংযুক্ত অবস্থাতেও ভোগ করে যখন দেহ রূহের সাথে যুক্ত থাকে। এমতাবস্থায় উভয়টির ওপর একত্রে নিয়ামত বা আযাব হয়, যেমনটি রূহ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একা ভোগ করে থাকে"
(৫)।
৪ - চতুর্থ পর্যায়: পরকালের জীবন:অতঃপর কিয়ামত সংঘটিত হবে, মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে, সমবেত করা হবে এবং তাদের আমলের হিসাব নেওয়া হবে: {অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগ্য এবং কেউ হবে সৌভাগ্যবান। যারা হতভাগ্য তারা থাকবে আগুনে, সেখানে তাদের জন্য থাকবে চিৎকার ও আর্তনাদ। তারা সেখানে স্থায়ী হবে যতদিন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার রব যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। নিশ্চয়ই তোমার রব যা ইচ্ছা করেন তা পালন করেন। আর যারা সৌভাগ্যবান তারা হবে জান্নাতী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে যতদিন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, তবে তোমার রব যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। এ এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।} [সূরা হূদ: ১০৫ - ১০৮]।
মহান আল্লাহ যখন আমাদের আগত শেষ দুটি পর্যায় সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, তখন তিনি প্রথম দুটি পর্যায়ের মাধ্যমে এগুলোর ওপর ঈমান আনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছেন যা আমরা আমাদের চোখে দেখি। আর তা হলো: আমাদের মায়ের গর্ভে ভ্রূণ হিসেবে আমাদের জীবন এবং দুনিয়ার এই জীবন। সুতরাং সেই মহান স্রষ্টা ও ক্ষমতাবান যিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১২)
جعل هذا التفاوت العجيب بين هذين الطورين من أطوار الحياة قادر أن يجعل التباين أكبر والتفاوت أعظم بين حياتنا هذه وحياتنا في البرزخ ثم بينها وبين حياتنا في الآخرة دار النعيم المقيم أو العذاب الأليم.
فلا ينبغي أن يعظم علينا حين يخبرنا النبي صلى الله عليه وسلم أن أهل الجنة يتنعمون فيها ويأكلون ويشربون ولا يتغوطون ولا يبولون ولا يمتخطون وأنهم مخلدون في هذا النعيم لا يفنى شبابهم ولا تبلى ثيابهم .. وأن أهل النار يعذبون فيها كلما نضجت جلودهم بدلهم القوي القدير جلوداً غيرها ليذوقوا العذاب خالدين فيه
… إلى غير ذلك.
وسيأتي الكلام - إن شاء الله تعالى - عن الآخرة وبعض ما فيها من أهوال حتى دخول أهل الجنة الجنة، ودخول أهل النار النار.
জীবনের এই দুই স্তরের মধ্যে যিনি এই বিস্ময়কর পার্থক্য সৃষ্টি করেছেন, তিনি আমাদের এই জীবন ও বরজখী জীবনের মধ্যে এবং বরজখী জীবন ও আখিরাতের জীবনের মধ্যে—যা চিরস্থায়ী নিআমতের আবাসস্থল কিংবা যন্ত্রণাদায়ক আযাবের স্থান—আরও বড় বৈসাদৃশ্য ও মহান পার্থক্য সৃষ্টি করতে সক্ষম।
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাদের সংবাদ দেন যে, জান্নাতবাসীরা সেখানে নিআমত ভোগ করবে, তারা পানাহার করবে কিন্তু মলত্যাগ করবে না, প্রস্রাব করবে না এবং তাদের নাক দিয়ে শ্লেষ্মা নির্গত হবে না; আর তারা এই নিআমতের মধ্যে চিরকাল থাকবে, তাদের যৌবন শেষ হবে না এবং তাদের পোশাক পুরোনো হবে না—তখন বিষয়টি আমাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়া উচিত নয়। তেমনিভাবে জাহান্নামবাসীরা সেখানে শাস্তি ভোগ করবে; যখনই তাদের চামড়া পুড়ে যাবে, মহাশক্তিশালী ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের সেই চামড়া পরিবর্তন করে অন্য চামড়া দিবেন যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে পারে এবং তারা সেখানে চিরকাল থাকবে
… ইত্যাদি।
ইনশাআল্লাহ তাআলা, অচিরেই পরকাল এবং এর কিছু ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা আসবে, এমনকি জান্নাতবাসীদের জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে প্রবেশ করা পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأول الإيمان باليوم الآخر
المبحث الأول: أهمية الإيمان باليوم الآخر:الإيمان بيوم القيامة أصل من الأصول، لا يتم الإيمان إلا به {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} [البقرة: 177].
وقد ساق القرآن ضروباً متنوعة من الأساليب البيانية الراقية كي يؤكد وقوعها في نفوس العباد قال تعالى: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ (2)} [الرعد: 2].
ففي بعض المواضع يكون الحديث عنها خبراً مجرداً، قال تعالى: {اللَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (11)} [الروم: 11]، وقال تعالى: {وَيَوْمَ يُرْجَعُونَ إِلَيْهِ فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا} [النور: 64].
ومرة يؤكد وقوعها بـ"إن"، كقوله تعالى: {إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ} [طه: 15]، ومرة بـ"إن" واللام، قال تعالى: {وَإِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةٌ فَاصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِيلَ (85)} [الحِجر: 85]، وقال تعالى: {فَإِنَّ أَجَلَ اللَّهِ لَآتٍ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (5)} [العنكبوت: 5].
وفي بعض المواضع ينفي الريب والشك عن وقوعها، قال تعالى: {إِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ (59)} [غافر: 59].
وفي بعض الآيات يقسم الله تعالى على أنها آتية واقعة مرة بنفسه، قال تعالى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ} [النساء: 87]، ومرة بمخلوقاته العظيمة، قال تعالى: {وَالذَّارِيَاتِ ذَرْوًا (1) فَالْحَامِلَاتِ وِقْرًا (2) فَالْجَارِيَاتِ يُسْرًا (3) فَالْمُقَسِّمَاتِ أَمْرًا (4) إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقٌ (5) وَإِنَّ الدِّينَ لَوَاقِعٌ (6)} [سورة الذاريات: 1 - 6].
وفي بعض المواضع يأمر رسوله صلى الله عليه وسلم في مجال الحجج والخصام بالإقسام بربه مؤكداً وقوعها: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَأْتِينَا السَّاعَةُ قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ} [سبأ: 3].
وفي بعض الآيات يخبر بأنها حق: {إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا}
প্রথম অধ্যায়: শেষ দিবসের প্রতি ঈমানপ্রথম পরিচ্ছেদ: শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব:কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের অন্যতম একটি মূলনীতি; এটি ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হয় না। "সদকাহ বা পুণ্য কেবল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোর মধ্যে নয়; বরং পুণ্যবান তো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ এবং নবীগণের প্রতি ঈমান এনেছে।" [বাক্বারাহ: ১৭৭]
বান্দাদের অন্তরে এর (কিয়ামতের) সংঘটিত হওয়া নিশ্চিত করার জন্য কুরআন বিভিন্ন ধরণের উচ্চমানের অলঙ্কারপূর্ণ শৈলী উপস্থাপন করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, তিনি নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে পারো।" [রা'দ: ২]
কোনো কোনো স্থানে এটি সম্পর্কে কেবল সাধারণ সংবাদ হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনি এর পুনরাবৃত্তি করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।" [রূম: ১১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর যেদিন তারা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে, সেদিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।" [নূর: ৬৪]
আবার কখনো 'ইন্না' (নিশ্চয়) দ্বারা এর সংঘটিত হওয়াকে সুনিশ্চিত করা হয়েছে; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয় কিয়ামত আসছে।" [ত্বহা: ১৫]। আবার কখনও 'ইন্না' এবং 'লাম' (তাকিদ) যোগে; আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর নিশ্চয় কিয়ামত অবশ্যই আসছে, অতএব আপনি সুন্দরভাবে ক্ষমা করে দিন।" [হিজর: ৮৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নির্ধারিত সময় অবশ্যই আসবে, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" [আনকাবুত: ৫]
কোনো কোনো স্থানে এর সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে যাবতীয় সন্দেহ-সংশয় নাকচ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় কিয়ামত অবশ্যই আসছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।" [গাফির: ৫৯]
আবার কোনো কোনো আয়াতে আল্লাহ তাআলা এটি অবশ্যই সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে শপথ করেছেন; কখনো নিজের সত্তার কসম খেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ—তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি কিয়ামত দিবসে তোমাদের অবশ্যই একত্রিত করবেন।" [নিসা: ৮৭]। আবার কখনো তাঁর মহান সৃষ্টিসমূহের কসম খেয়েছেন; আল্লাহ তাআলা বলেন: "কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর যা ধূলি উড়িয়ে দেয়। তারপর কসম গর্ভভার বহনকারী মেঘমালার। তারপর কসম শান্তভাবে বিচরণকারী নৌযানের। তারপর কসম বণ্টনকারী ফেরেশতাদের। তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেওয়া হচ্ছে তা অবশ্যই সত্য। আর প্রতিদান অবশ্যই সংঘটিত হবে।" [সূরা যারিয়াত: ১ - ৬]
কোনো কোনো স্থানে দলিল-প্রমাণ ও বিতর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর রবের কসম খেয়ে এর সংঘটিত হওয়া নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন: "কাফেররা বলে, 'আমাদের কাছে কিয়ামত আসবে না।' বলুন, 'অবশ্যই আসবে, আমার রবের কসম! তা তোমাদের কাছে আসবেই'।" [সাবা: ৩]
আবার কোনো আয়াতে সংবাদ দিয়েছেন যে এটি চিরসত্য: "নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য, অতএব পার্থিব জীবন যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে।"
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[سورة فاطر:5]، ومن تتبع طريقة القرآن في تأكيد الإخبار بها تحصل عنده أنواع كثيرة
(1).
والإيمان أمره عظيم؛ إذ هو الأساس الذي تبنى عليه السعادة في الدنيا والآخرة، فهو من أعظم مراتب الدين، فإن جبريل لما جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم في حضرة أصحابه سأله عن الإسلام والإيمان والإحسان: «فقال يا محمد: أخبرني عن الإسلام، قال الإسلام: أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمد رسول الله وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت اليه سبيلاً»
- ففسر الإسلام على أنه الإتيان بهذه الأركان الخمسة: الشهادتين، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت- «قال: صدقت فأخبرني عن الإيمان، قال: الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله أو أن تؤمن بالقدر خيره وشره» - ففسر الإيمان على أنه الإيمان بهذه الأركان الستة: الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره - «قال أخبرني عن الإحسان قال: الإحسان أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك»
(2)، فبين أن الإحسان ركن واحد هو أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك.
فهذه هي مراتب الدين الثلاث: الإسلام ثم الإيمان ثم الإحسان، وكل مرتبة لها أركان.
والركن في اللغة: بالضم الجانب الأقوى والأمر العظيم
(3)، (فركن الشيء: جانبه الذي يقوم عليه، فركن البيت هو جانبه الذي يقوم عليه، فالإيمان يقوم على هذه الأركان الستة فإذا سقط منها ركن لم يكن الإنسان مؤمناً به لأنه فقد ركنا من أركان الإيمان.
--------------------------------------------
[সূরা ফাতির: ৫], এবং যে ব্যক্তি এ সংবাদটি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি অনুসরণ করবে, সে এ বিষয়ে অনেক প্রকারের জ্ঞান লাভ করবে।
(১).
ঈমানের বিষয়টি অত্যন্ত মহিমান্বিত; কারণ এটিই সেই ভিত্তি যার ওপর দুনিয়া ও আখেরাতের পরম সুখ ও সৌভাগ্য নির্মিত হয়। এটি দ্বীনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্তর। জিবরাঈল যখন সাহাবীগণের উপস্থিতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, তখন তিনি তাঁকে ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: «তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, ইসলাম হলো: আপনি সাক্ষ্য দেবেন যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আর আপনি সালাত কায়েম করবেন, জাকাত প্রদান করবেন, রমজানের রোজা পালন করবেন এবং সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ সম্পাদন করবেন»
- অতঃপর তিনি ইসলামকে এই পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন: শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্য), সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বায়তুল্লাহর হজ করা। - «তিনি (জিবরাঈল) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ঈমান হলো আপনি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ এবং পরকালের ওপর বিশ্বাস করবেন এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবেন» - এখানে তিনি ঈমানকে এই ছয়টি রুকনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, শেষ দিবস এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস করা। - «তিনি বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ইহসান হলো আপনি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান, তবে নিশ্চিত জানবেন যে তিনি আপনাকে দেখছেন»
(২), সুতরাং তিনি স্পষ্ট করলেন যে ইহসান হলো একটি রুকন, আর তা হলো আপনি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান, তবে তিনি অবশ্যই আপনাকে দেখছেন।
এই হলো দ্বীনের তিনটি স্তর: ইসলাম, অতঃপর ঈমান, অতঃপর ইহসান; এবং প্রতিটি স্তরের জন্য নির্দিষ্ট রুকন বা স্তম্ভ রয়েছে।
ভাষা বিজ্ঞানে 'রুকন' শব্দের অর্থ হলো: কোনো বিষয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক এবং মহান বিষয়
(৩), (কোনো বস্তুর রুকন হলো তার সেই পার্শ্ব বা ভিত্তি যার ওপর সেটি দণ্ডায়মান থাকে। যেমন গৃহের রুকন হলো তার সেই খুঁটি বা দিক যার ওপর গৃহটি দাঁড়িয়ে থাকে। সুতরাং ঈমান এই ছয়টি রুকনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যদি এর মধ্য থেকে কোনো একটি রুকন বাদ পড়ে যায়, তবে সেই ব্যক্তি মুমিন হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ সে ঈমানের রুকনসমূহের মধ্য থেকে একটি রুকন হারিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فالإيمان لا يقوم إلا على أركانه كما لا يقوم البنيان إلا على أركانه، وهذه الأركان الستة مذكورة في القرآن الكريم، تارة تذكر جميعاً وتارة يذكر بعضها، قال تعالى: {وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} [البقرة:177] ذكر - جل وعلا- في هذه الآية خمسة أركان من أركان الإيمان، وقال تعالى: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ} [البقرة:285] ذكر منها أربعة، وتارة يذكر منها اثنين: الإيمان بالله واليوم الآخر قال جل شأنه: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [البقرة:62]. وأما - الإيمان بالقدر فقد ذكره في قوله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ (49)} [القمر:49]، وفي قوله: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا (2)} [الفرقان:2]
(1).
ومن الأدلة على وجوب الإيمان باليوم الآخر قوله تعالى: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ (115)} [المؤمنون:115]، وقال تعالى: {ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ أَلَا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ (62)} [الأنعام:62]، وقال تعالى: {(27) كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [البقرة:28].
والإيمان باليوم الآخر يشتمل على مجموعة من الحقائق وردت في الكتاب والسنة، فلزم الإيمان بها جميعاً، ومنها: فتنة القبر وعذابه ونعيمه، والساعة وأمارتها، والبعث والحشر والحساب وما يتبعه من ثواب وعقاب والصراط والجنة والنار.
قال شيخ الإسلام ابن تيمة: (ومن الإيمان باليوم الآخر الإيمان بكل ما أخبر به صلى الله عليه وسلم مما يكون بعد الموت
… )
(2).
(وهذا ضابط جامع يدخل فيه الإيمان بالنصوص الواردة في حالة الاحتضار وفي القبر والقيامة والجنة والنار وجميع ما احتوت عليه من التفاصيل
… )
(3).
--------------------------------------------
ফলত ঈমান কেবল তার স্তম্ভসমূহের উপরই প্রতিষ্ঠিত হয় যেমনটি কোনো দালান তার স্তম্ভসমূহের উপর ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর এই ছয়টি স্তম্ভ পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, কখনো সবগুলো একসাথে এবং কখনো কোনো কোনোটি। মহান আল্লাহ বলেন: {কিন্তু পুণ্যবান সে-ই যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের প্রতি ঈমান এনেছে} [বাকারা: ১৭৭]। মহান আল্লাহ এই আয়াতে ঈমানের স্তম্ভসমূহের মধ্যে পাঁচটি স্তম্ভ উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {রাসূল তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও; প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে} [বাকারা: ২৮৫]। এখানে তিনি চারটি উল্লেখ করেছেন। কখনো এর থেকে দুটি উল্লেখ করেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং পরকালের প্রতি ঈমান। তিনি বলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে, নাসারা ও সাবেয়ীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে} [বাকারা: ৬২]। আর তাকদির বা ভাগ্যের প্রতি ঈমানের বিষয়ে তিনি তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {নিশ্চয় আমি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছি নির্দিষ্ট পরিমাপে (তাকদির অনুযায়ী)} [কামার: ৪৯], এবং তাঁর এই বাণীতে: {এবং তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে নির্ধারণ করেছেন সুপরিমিতভাবে} [ফুরকান: ২]
(১).
পরকালের প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক হওয়ার অন্যতম দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে নিরর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?} [মুমিনুন: ১১৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর তারা তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে। জেনে রেখো, ফয়সালা কেবল তাঁরই এবং তিনি হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন} [আনআম: ৬২]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {কীভাবে তোমরা আল্লাহর সাথে কুফরি করো? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জীবন দান করেছেন, তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন, পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করবেন এবং পরিশেষে তাঁরই দিকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে} [বাকারা: ২৮].
পরকালের প্রতি ঈমান কিতাব ও সুন্নাহে বর্ণিত একগুচ্ছ বাস্তবতাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার সবকটির ওপর ঈমান রাখা আবশ্যক। তার মধ্যে রয়েছে: কবরের পরীক্ষা, কবরের আজাব ও নেয়ামত, কিয়ামত ও তার আলামতসমূহ, পুনরুত্থান, হাশর (সমাবেশ), হিসাব এবং এর অনুগামী সওয়াব ও আজাব, সিরাত (পুলসিরাত), জান্নাত ও জাহান্নাম।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: (পরকালের প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো মৃত্যুর পর যা ঘটবে সে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন সে সবের ওপর ঈমান রাখা
… )
(২).
(এটি একটি সমন্বিত মূলনীতি যার অধীনে মুমূর্ষু অবস্থা, কবর, কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে বর্ণিত দলিলসমূহ এবং এতে যে সকল বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা শামিল হয়
… )
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقبل أن نتحدث عن هذه النقاط نقدم مقدمة نوضح فيها بعض الأمور التي تتعلق بالإيمان باليوم الآخر، منها: تعريف الإيمان في اللغة والشرع، وتعريف اليوم الآخر، وسبب تسميته بذلك، وأسماءه، ومدة هذا اليوم، وعلاقة الإيمان باليوم الآخر بالإيمان بالغيب.
فالإيمان في اللغة: هو التصديق، وفي لسان العرب: الإيمان بمعنى التصديق ضده التكذيب، يقال: أمن به قوم، وكذب به قوم
(1).
قال الراغب الأصبهاني
(2) رحمه الله: "أصل الأمن طمأنينة النفس وزوال الخوف "
(3).
والإيمان مصدر آمن يؤمن إيماناً فهو مؤمن
(4)، وأصل آمن أأمن بهمزتين لينت الثانية
(5)، وهو من الأمن ضد الخوف
(6).
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في تعريفه للإيمان: " .. فإن اشتقاقه من الأمن الذي هو الإقرار والطمأنينة، وذلك إنما يحصل إذا استقر في القلب التصديق والإنقياد"
(7).
قال الشيخ ابن عثيمين
(8): (الإيمان في اللغة الإقرار بالشيء عن تصديق به. إذاً فالإيمان يتضمن معنى زائداً على مجرد التصديق، وهو الإقرار والاعتراف المستلزم للقبول للأخبار والإذعان للأحكام)
(9).
وفي الشرع: (قول وعمل، قول القلب واللسان، وعمل القلب واللسان والجوارح يزيد بالطاعة وينقص بالعصيان)
(10).
واليوم الآخر هو يوم القيامة الذي يبعث الناس فيه للحساب والجزاء. وسمي بذلك لأنه لا يوم بعده
--------------------------------------------
এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমরা একটি ভূমিকা পেশ করছি, যাতে পরকালের প্রতি ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় স্পষ্ট করা হবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে ঈমানের সংজ্ঞা, পরকালের সংজ্ঞা, এই নামকরণের কারণ, এর বিভিন্ন নাম, এই দিনের ব্যপ্তিকাল এবং পরকালের প্রতি ঈমানের সাথে অদৃশ্যের প্রতি ঈমানের সম্পর্ক।
অভিধানে ঈমান অর্থ হলো: সত্যায়ন করা। লিসানুল আরব অভিধানে বলা হয়েছে: ঈমান অর্থ সত্যায়ন করা, যার বিপরীত হলো মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। বলা হয়: এক দল লোক তার ওপর ঈমান এনেছে (বিশ্বাস করেছে), আর এক দল লোক তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে
(১)।
রাগের আল-আসফাহানি
(২) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "আম্ন (নিরাপত্তা) এর মূল উৎস হলো অন্তরের প্রশান্তি এবং ভীতি দূর হওয়া"
(৩)।
ঈমান হলো ‘আ-মানা’, ‘ইউ’মিনু’, ‘ঈমানান’ এর মূল ধাতু (মাসদার), আর এর কর্তাবাচক বিশেষ্য হলো ‘মুমিন’
(৪)। ‘আ-মানা’ শব্দের মূল হলো ‘আ-আমানা’ যা দুটি হামযা সহযোগে গঠিত, যেখানে দ্বিতীয়টিকে সহজ করা হয়েছে
(৫)। এটি ‘আম্ন’ (নিরাপত্তা) থেকে আগত যা ভয়ের বিপরীত
(৬)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ ঈমানের সংজ্ঞায় বলেছেন: "..নিশ্চয়ই এর ব্যুৎপত্তি আম্ন (নিরাপত্তা) থেকে, যা হলো স্বীকৃতি ও প্রশান্তি। আর এটি তখনই অর্জিত হয় যখন অন্তরে সত্যায়ন ও আনুগত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়"
(৭)।
শাইখ ইবনে উসাইমিন
(৮) বলেছেন: (অভিধানে ঈমান হলো কোনো বিষয়কে সত্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া। সুতরাং ঈমান স্রেফ সত্যায়নের চেয়েও অতিরিক্ত অর্থ বহন করে, আর তা হলো এমন স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তি যা সংবাদসমূহ গ্রহণ করা এবং বিধানসমূহের প্রতি অনুগত হওয়ার দাবি রাখে)
(৯)।
আর শরয়ি পরিভাষায়: (ঈমান হলো কথা ও কাজ; অন্তরের কথা ও জিহবার কথা এবং অন্তর, জিহবা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ। এটি আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়)
(১০)।
পরকাল বা শেষ দিবস হলো কিয়ামতের দিন, যেদিন মানুষকে হিসাব ও প্রতিদানের জন্য পুনরুত্থিত করা হবে। একে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো, এর পরে আর কোনো দিন নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حيث يستقر أهل الجنة في منازلهم وأهل النار في منازلهم
(1)، ولتأخره عن الدنيا
(2).
ومدة هذا اليوم الذ يحاسب الناس فيه خمسين ألف سنة ثم يُرى سبيلهم إما إلى جنه وإما إلى نار، ويدل على ذلك قوله تعالى: {(3) تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} [المعارج:4]، وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله -صلى الله علية وسلم-: «ما من صاحب ذهب ولا فضه لا يؤدي منها حقها إلا إذا كان يوم القيامة صفحت له صفائح من نار فأحمي عليها في نار جهنم فيكوى بها جنبه وجبينه وظهره كلما بردت أعيدت له في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة حتى يُقضى بين العباد فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار»
(3) .. الحديث.
قال ابن عباس –رضي الله عنهما: {إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} قال: يوم القيامة، وإسناده صحيح
(4).
--------------------------------------------
যেখানে জান্নাতবাসীরা তাদের নিজ নিজ আবাসে এবং জাহান্নামবাসীরা তাদের নিজ নিজ আবাসে স্থির হবে
(1), এবং দুনিয়ার পরে আসার কারণে
(2)।
আর এই দিনের ব্যাপ্তি, যাতে মানুষের হিসাব গ্রহণ করা হবে, তা হলো পঞ্চাশ হাজার বছর। এরপর তাদের পথ প্রকাশিত হবে, হয় জান্নাতের দিকে নতুবা জাহান্নামের দিকে। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ হলো পঞ্চাশ হাজার বছর" [আল-মা'আরিজ: ৪]। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "স্বর্ণ ও রৌপ্যের এমন কোনো মালিক নেই যে তার হক (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের পাত তৈরি করা হবে। অতঃপর সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তার পাঁজর, কপাল ও পিঠ ঝলসে দেওয়া হবে। যখনই তা ঠান্ডা হয়ে যাবে, পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না বান্দাদের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়। অতঃপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয় জান্নাতের দিকে নতুবা জাহান্নামের দিকে"
(3) .. হাদীস।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "তাঁর দিকে এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর" সম্পর্কে তিনি বলেন: এটি কিয়ামতের দিন, আর এর সনদ সহীহ
(4)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثاني: أسماء اليوم الآخر (1)سمى الله ذلك اليوم الذي يحل فيه الدمار بهذا العالم ثم يعقبه فيه البعث والنشور للجزاء والحساب بأسماء كثيرة، وقد اعتنى جمع من أهل العلم بذكر هذه الأسماء، وقد عدها بعض العلماء فبلغت ثمانين اسماً كما يقول ابن حجر رحمه الله
(2).
وأشهر هذه الأسماء ما يلي:
1 - يوم القيامة: ورد هذا الاسم في سبعين آية من آيات كتاب الله، قال تعالى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ} [النساء: 87].
2 - اليوم الآخر: قال تعالى: {وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} [البقرة: 177]، وأحياناً يسميه بالآخرة أو الدار الآخرة، قال تعالى: {فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ} [النساء: 74]، وقال تعالى: {الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ} [القصص: 83].
3 - الساعة: قال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ (1)} [الحج: 1].
4 - يوم البعث: قال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ} [الحج: 5] .. الآية.
5 - يوم الخروج: قال تعالى: {يَوْمَ يَسْمَعُونَ الصَّيْحَةَ بِالْحَقِّ ذَلِكَ يَوْمُ الْخُرُوجِ (42)}
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শেষ দিবসের নামসমূহ (১)আল্লাহ তাআলা সেই দিনটিকে অনেক নামে অভিহিত করেছেন যাতে এই পৃথিবীর ধ্বংস সাধিত হবে এবং এরপর প্রতিদান ও হিসাবের জন্য পুনরুত্থান ও সমাবেশ ঘটবে। একদল আলিম এই নামগুলো উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। কতিপয় আলিম এগুলো গণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) এর বর্ণনা অনুযায়ী এর সংখ্যা আশি পর্যন্ত পৌঁছেছে
(২)।
এই নামগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো নিম্নরূপ:
১ - কিয়ামত দিবস: আল্লাহর কিতাবের সত্তরটি আয়াতে এই নামটি এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কিয়ামতের দিনে একত্রিত করবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।} [নিসা: ৮৭]।
২ - শেষ দিবস: মহান আল্লাহ বলেন: {কিন্তু পুণ্য হলো তার, যে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব এবং নবীগণের প্রতি ঈমান এনেছে।} [বাকারা: ১৭৭]। কখনো কখনো তিনি একে আখিরাত বা পরকাল বলে অভিহিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {কাজেই আল্লাহর পথে যেন তারা লড়াই করে যারা পরকালের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রয় করে।} [নিসা: ৭৪]। মহান আল্লাহ আরো বলেন: {এই পরকাল, আমি তা নির্ধারণ করি তাদের জন্য যারা যমিনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না এবং বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।} [কাসাস: ৮৩]।
৩ - কিয়ামত (আস-সাআহ): মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো; নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ বিষয়।} [হাজ্জ: ১]।
৪ - পুনরুত্থান দিবস: মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ! যদি তোমরা পুনরুত্থানের বিষয়ে সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রেখো, আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি...} [হাজ্জ: ৫] .. আয়াত।
৫ - বের হওয়ার দিন: মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন তারা সত্য সহকারে মহানাদ শুনতে পাবে; সেটিই হবে বের হওয়ার দিন।} (৪২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[ق:42].
6 - القارعة: قال تعالى: {الْقَارِعَةُ (1) مَا الْقَارِعَةُ (2) وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ (3)} [سورة القارعة:1 - 3].
7 - يوم الفصل: قال تعالى: {هَذَا يَوْمُ الْفَصْلِ الَّذِي كُنْتُمْ بِهِ تُكَذِّبُونَ (21)} [الصافات:21].
8 - يوم الدين: قال تعالى: {وَقَالُوا يَاوَيْلَنَا هَذَا يَوْمُ الدِّينِ (20)} [الصافات:20].
9 - الصاخة: قال تعالى: {فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَّةُ (33)} [عبس:33].
10 - الطامة الكبرى: قال تعالى: {(33) فَإِذَا جَاءَتِ الطَّامَّةُ الْكُبْرَى} [النازعات:34].
11 - يوم الحسرة: قال تعالى: {وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (39)} [مريم:39].
12 - الغاشية: قال تعالى: {هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ (1)} [الغاشية:1].
13 - يوم الخلود: قال تعالى: {ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ ذَلِكَ يَوْمُ الْخُلُودِ (34)} [ق:34].
14 - يوم الحساب: قال تعالى: {يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ (26)} [ص:26].
10 - الواقعة: قال تعالى: {(78) إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ} [الواقعة:1].
16 - يوم الوعيد: قال تعالى: {وَنُفِخَ فِي الصُّورِ ذَلِكَ يَوْمُ الْوَعِيدِ (20)} [ق:20].
17 - يوم الآزفة: قال تعالى: {وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْآزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ} [غافر:18].
18 - يوم الجمع: قال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنْذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ لَا رَيْبَ فِيهِ} [الشورى:7].
19 - الحاقة: قال تعالى: {الْحَاقَّةُ مَا الْحَاقَّةُ} [الحاقة:1 - 2].
[ক্বাফ: ৪২]।
৬ - আল-ক্বারিআহ: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মহাসংকট (১) মহাসংকট কী? (২) আর কিসে আপনাকে জানাবে মহাসংকট কী? (৩)} [সূরা আল-ক্বারিআহ: ১ - ৩]।
৭ - বিচার দিবস: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এটিই ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা অস্বীকার করতে (২১)} [আস-সাফফাত: ২১]।
৮ - প্রতিদান দিবস: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তারা বলবে, ‘হায় দুর্ভোগ আমাদের! এটাই প্রতিদান দিবস’ (২০)} [আস-সাফফাত: ২০]।
৯ - আস-সাখখাহ: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যখন কর্ণবিদারী মহানিনাদ আসবে (৩৩)} [আবাসা: ৩৩]।
১০ - অত-তাম্মাতুল কুবরা: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {(৩৩) অতঃপর যখন সেই মহা বিপর্যয় আসবে} [আন-নাযিআত: ৩৪]।
১১ - পরিতাপের দিবস: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে সতর্ক করে দিন, যখন সব সিদ্ধান্তের ফয়সালা হয়ে যাবে; অথচ তারা গাফলতির মধ্যে নিমগ্ন এবং তারা ঈমান আনছে না (৩৯)} [মারইয়াম: ৩৯]।
১২ - আল-গাশিয়াহ: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনার কাছে কি আচ্ছন্নকারীর সংবাদ পৌঁছেছে? (১)} [আল-গাশিয়াহ: ১]।
১৩ - চিরস্থায়ী বসবাসের দিন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {শান্তির সাথে এতে প্রবেশ করো; এটিই চিরস্থায়ী বসবাসের দিন (৩৪)} [ক্বাফ: ৩৪]।
১৪ - হিসাব দিবস: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব; যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছিল (২৬)} [ছোয়াদ: ২৬]।
১০ - আল-ওয়াকিআহ: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {(৭৮) যখন সেই সুনিশ্চিত ঘটনাটি সংঘটিত হবে} [আল-ওয়াকিআহ: ১]।
১৬ - শাস্তির বার্তার দিন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর শিংঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে; এটিই শাস্তির বার্তার দিন (২০)} [ক্বাফ: ২০]।
১৭ - আসন্ন দিবস: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন; যখন শোকে ও দুঃখে হৃদপিণ্ড কণ্ঠাগত হবে} [গাফির: ১৮]।
১৮ - সমবেত করার দিবস: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আরবি ভাষায় কুরআন ওহি করেছি, যাতে আপনি মক্কাবাসী ও তার চারপাশের লোকজনকে সতর্ক করতে পারেন এবং সতর্ক করতে পারেন সমবেত করার দিবস সম্পর্কে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই} [আশ-শুরা: ৭]।
১৯ - আল-হাক্কাহ: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুনিশ্চিত সত্য। সুনিশ্চিত সত্যটি কী?} [আল-হাক্কাহ: ১ - ২]।
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২০)
20 - يوم التلاق: قال تعالى: {(14) رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ لِيُنْذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ} [غافر:15].
21 - يوم التناد: قال تعالى: مخبرا عن نصيحة مؤمن آل فرعون لقومه: {وَيَاقَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ يَوْمَ التَّنَادِ (32)} [سورة غافر:32].
22 - يوم التغابن: قال تعالى: {يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ} [التغابن:9].
هذه هي أشهر أسماء اليوم الآخر، يقول القرطبي
(1) في السر في كثرة أسماء اليوم الآخر: (وكل ما عظم شأنه تعددت صفاته وكثرت أسماؤه وهذا جميع كلام العرب ألا ترى أن السيف لما عظم عندهم موضعه وتأكد نفعه لديهم وموقعه جمعوا له خمسمائة اسم وله نظائر، فالقيامة لما عظم أمرها وكثرت أهوالها سماها الله تعالى في كتابه بأسماء عديدة، ووصفها بأوصاف كثيرة)
(2).
--------------------------------------------
20 - সাক্ষাতের দিন: মহান আল্লাহ বলেন: {(১৪) তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা আপন আদেশ হতে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেন, যাতে তিনি সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন} [গাফির: ১৫]।
21 - ডাকাহাঁকির দিন: মহান আল্লাহ ফেরআউনের বংশের মুমিন ব্যক্তির তার সম্প্রদায়ের প্রতি উপদেশের সংবাদ দিয়ে বলেন: {হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য ডাকাহাঁকির দিনের আশঙ্কা করছি (৩২)} [সূরা গাফির: ৩২]।
22 - পারস্পরিক লোকসানের দিন: মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন তিনি তোমাদের সমাবেশের দিনে একত্র করবেন, সেদিন হবে পারস্পরিক লোকসানের দিন} [আত-তাগাবুন: ৯]।
এগুলোই হচ্ছে পরকালের প্রসিদ্ধতম নামসমূহ। পরকালের নামের আধিক্যের রহস্য সম্পর্কে আল-কুরতুবী
(১) বলেন: (যে বিষয়ের গুরুত্ব যত মহান হয়, তার গুণাবলি তত বিচিত্র হয় এবং নামও বহু হয়। এটি সমগ্র আরবীয় বাচনভঙ্গির রীতি। আপনি কি দেখেন না যে, তলোয়ারের গুরুত্ব যখন তাদের নিকট অধিক হয়েছে এবং এর উপযোগিতা ও প্রভাব তাদের নিকট সুদৃঢ় হয়েছে, তারা এর জন্য পাঁচশত নাম সংগ্রহ করেছে এবং এর আরও অনেক সমার্থক শব্দ রয়েছে। সুতরাং কিয়ামত যখন অত্যন্ত মহান বিষয় হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং এর ভয়াবহতা যখন বহুগুণ হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে একে অনেক নামে অভিহিত করেছেন এবং অনেক বিশেষণে বিশেষিত করেছেন)
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الثالث: علاقة الإيمان باليوم الآخر بالإيمان بالغيبالإيمان باليوم الآخر هو إيمان بالغيب؛ لأن أحداً لم يشهده بنفسه؛ وإنما أخبرنا به الله سبحانه وتعالى عن طريق رسله الكرام، فسبيله هو النقل الصحيح مما جاء في الكتاب والسنة. ولكن الله الذي أخبرنا عن اليوم الآخر وأوجب علينا الإيمان به وجعله ركن من أركان الإيمان قد أودع الفطرة البشرية القدرة على الإيمان بالغيب وميّز الإنسان بهذا الأمر من بين ما ميّزه به وكرمه وفضله.
إن الحيوان يعيش في حدود ما تدركه الحواس فحسب وعالمه محصور في ذلك النطاق.
ولكن الله سبحانه وتعالى كرّم الإنسان فلم يحصره في حدود ما تدركه حواسه فحسب وإنما فسح أفاقه ووسعها ومنحه تلك الخاصية، وهي القدرة على الإيمان بما لا تدركه الحواس، فأصبحت نفسه أرحب وأعمق من الحيوان وأصبحت آفاقه أوسع وأعلى.
والله سبحانه وتعالى كرّم الإنسان وأراد له الرفعة وجعل الإيمان بالغيب أبرز صفات المتقين، قال تعالى: {الم (1) ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ (2) الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ (3)} [سورة البقرة: 1 - 3].
إن الإيمان باليوم الآخر قائم على الإيمان بالغيب، ولكنه ليس الإيمان الأعمى بغير دليل، فمن صفات "عباد الرحمن": {وَالَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ لَمْ يَخِرُّوا عَلَيْهَا صُمًّا وَعُمْيَانًا (73)} [الفرقان: 73]. إنما هو الإيمان بالحق الذي تدل عليه الدلائل ولو لم تدركه الحواس).
نعم إن الإيمان بالغيب أمر لازم من أجل الإيمان بالله واليوم الآخر ولذلك أبرزه القرآن في مقدمة صفات المؤمنين.
فالله سبحانه وتعالى وصف المؤمنين في مواضع كثيرة من القرآن بأنهم الذين يؤمنون بالغيب، فجعل هذه الصفة قاعدة من قواعد الإيمان الأساسية، قال تعالى: {الم (1) ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ (2) الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ (3) وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ (4) أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (5)} [سورة البقرة: 1 - 5].
والإيمان بالآخرة كذلك هو إيمان بالغيب، فالساعة بالقياس إلى البشر غيب وما يكون فيها من بعث وحساب وثواب و عقاب كله غيب يؤمن به المؤمن تصديقاً لخبر الله سبحانه.
(إن كثير من أمور الدين وعقائده وأحكامه إنما هي إيمان بالغيب، فالله سبحانه وتعالى بالنسبة لنا غيب، والحياة البرزخية والحياة الآخرة بمقدماتها وبموجوداتها كلها غيب من قيام الساعة إلى البعث والنشور إلى الحساب والميزان وكتابة أعمال الإنسان والصراط والجنة والنار
… الخ، كل هذا غيب يجب الإيمان به.
وما أن يعود الإنسان إلى لحظة من لحظات التأمل الفكري ويقظة الوجدان حتى يجد نفسه يسبح بخياله في عالم الغيب الذي منه خرج أو في عالم الغيب الذي يحيط بجنباته نفسه وبالكون من حوله وبالغيب الذي ينتظره وإليه يصير.
فالغيب يحيط به من كل جانب: في المبدأ، وفي المصير، وفيما بين المبدأ والمصير)
(1).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরকালের প্রতি ঈমানের সাথে অদৃশ্যের (গায়েব) প্রতি ঈমানের সম্পর্কপরকালের প্রতি ঈমান হলো অদৃশ্যের প্রতি ঈমান; কারণ কেউ তা নিজে প্রত্যক্ষ করেনি; বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সম্মানিত রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদের তা জানিয়েছেন। সুতরাং এর পথ হলো কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত সহীহ বর্ণনা। কিন্তু যে আল্লাহ আমাদের পরকাল সম্পর্কে জানিয়েছেন, এর প্রতি ঈমান আনা আমাদের জন্য আবশ্যক করেছেন এবং একে ঈমানের অন্যতম রুকন বানিয়েছেন, তিনিই মানুষের ফিতরাতের মধ্যে অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনার সক্ষমতা আমানত রেখেছেন। আর এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই মানুষকে অন্যান্য সৃষ্টি থেকে আলাদা করেছেন এবং তাকে সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
পশু কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সীমানার মধ্যেই জীবন ধারণ করে এবং তার জগত সেই গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন, তাই তাকে কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সীমানায় সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং তার দিগন্তকে উন্মোচন ও প্রশস্ত করেছেন এবং তাকে সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, যা হলো ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয় না এমন বিষয়ের প্রতি ঈমান আনার ক্ষমতা। ফলে তার নফস পশুর চেয়ে অনেক বেশি প্রশস্ত ও গভীর হয়েছে এবং তার দিগন্ত হয়েছে আরও বিস্তৃত ও উচ্চতর।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন এবং তার জন্য মর্যাদা চেয়েছেন। তিনি অদৃশ্যের প্রতি ঈমানকে মুত্তাকীদের সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আলিফ-লাম-মীম (১) এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ (২) যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে (৩)} [সূরা আল-বাকারাহ: ১ - ৩]।
পরকালের প্রতি ঈমান অদৃশ্যের প্রতি ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তবে এটি কোনো প্রমাণহীন অন্ধ ঈমান নয়। "রহমানের বান্দাদের" অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: {আর যারা সেই সব লোক, যাদেরকে তাদের রবের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দিলে তারা তার ওপর বধির ও অন্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে না (৭৩)} [আল-ফুরকান: ৭৩]। বরং এটি সত্যের প্রতি এমন ঈমান যার সপক্ষে প্রমাণাদি বিদ্যমান, যদিও তা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত না হয়।
হ্যাঁ, আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমানের জন্য অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনা একটি অপরিহার্য বিষয়। একারণেই কুরআন মুমিনদের গুণাবলীর শুরুতে একে ফুটিয়ে তুলেছে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনের অনেক স্থানে মুমিনদের এই বিশেষণে বিশেষিত করেছেন যে, তারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে। তিনি এই বৈশিষ্ট্যকে ঈমানের মৌলিক ভিত্তিগুলোর একটি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আলিফ-লাম-মীম (১) এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ (২) যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে (৩) এবং যারা ঈমান আনে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি, আর পরকালের প্রতি তারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে (৪) তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হেদায়েতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম (৫)} [সূরা আল-বাকারাহ: ১ - ৫]।
পরকালের প্রতি ঈমানও তেমনিভাবে অদৃশ্যের প্রতি ঈমান। কিয়ামত মানুষের কাছে একটি অদৃশ্য বিষয়। আর কিয়ামতে যা কিছু ঘটবে—পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, সওয়াব ও আযাব—সবই অদৃশ্য বিষয়, মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর সংবাদের সত্যতায় বিশ্বাস করে এর প্রতি ঈমান আনে।
(দীনের অনেক বিষয়, এর আকিদা ও আহকাম মূলত অদৃশ্যের প্রতি ঈমান। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্য অদৃশ্য, বরযখী জীবন এবং পরকাল—তার সূচনা ও বিদ্যমান বিষয়াদিসহ সবকিছুই অদৃশ্য; কিয়ামত কায়েম হওয়া থেকে শুরু করে পুনরুত্থান ও হাশর, হিসাব-নিকাশ ও মীযান, মানুষের আমলনামা লেখা, সিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম
... ইত্যাদি সবই অদৃশ্য বিষয় যার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব।
যখনই মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাশীলতা এবং বিবেকের জাগ্রত অবস্থার কোনো মুহূর্তে ফিরে আসে, তখনই সে নিজেকে অদৃশ্যের সেই জগতের কল্পনায় বিচরণ করতে দেখে যেখান থেকে সে বের হয়েছে, অথবা সেই অদৃশ্যের জগতে যা তার নফসকে এবং তার চারপাশের মহাবিশ্বকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর সেই অদৃশ্যের জগতে যা তার জন্য অপেক্ষা করছে এবং যার দিকে সে ফিরে যাবে।
সুতরাং অদৃশ্য তাকে সবদিক থেকে ঘিরে আছে: সূচনালগ্নে, শেষ পরিণতিতে এবং শুরু ও পরিণতির মধ্যবর্তী সময়ে)
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفصل الثاني: أشراط الساعة
المبحث الأول: الساعة وأماراتهامن مقتضيات الإيمان باليوم الآخر: الإيمان بالساعة، وهي الساعة التي تنتهي فيها الحياة الدنيا بجميع أوضاعها وتبدأ بالقيامة بكل أهوالها. (و لما كان من العقائد التي يجب الإيمان بها: اليوم الآخر وما فيه من ثواب و عقاب، ولما كان نظر الإنسان قد لا يعدو هذه الحياة وما فيها من متاع فينسي اليوم الآخر ولا يعمل له، جعل الله بين يدي الساعة أمارات تدل على تحققها وأنها ستقع حتماً حتى لا يخامر الناس أدنى شك فيها ولا يفتنهم شيء عنها.
فمن المعلوم أن الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم إذا ذكر من أشراطها شيئاً ورأى الناس وقوع ذلك الشيء علموا يقيناً أن الساعة آتية لاريب فيها، فيعملوا لها ويستعدوا لذلك اليوم ويتزودوا بالصالحات قبل فوات الأوان وانقضاء الأجل المحدود، قال تعالى: {أَنْ تَقُولَ نَفْسٌ يَاحَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ وَإِنْ كُنْتُ لَمِنَ السَّاخِرِينَ (56) أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ (57) أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى الْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِي كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ (58)} [سورة الزمر: 56 - 58])
(1).
أقسام أشراط الساعة:تنقسم أشراط الساعة إلى قسمين
(2):
1 - أشراط صغرى: وهي التي تتقدم الساعة بأزمان متطاولة، وتكون من نوع المعتاد كقبض العلم، وظهور الجهل، وشرب الخمر، والتطاول في البنيان
… ونحوها، وقد يظهر بعضها مصاحباً للأشراط الكبرى أو بعدها.
2 - أشراط كبرى: وهي الأمور العظام التي تظهر قرب قيام الساعة، وتكون غير معتادة الوقوع، كظهور الدجال، ونزول عيسى عليه السلام، وخروج يأجوج ومأجوج، وطلوع الشمس من مغربها.
وقد قسم العلماء أشراط الساعة من حيث ظهورها إلى ثلاثة أقسام:
1 - قسم ظهر وانقضى.
2 - قسم ظهر ولا زال يتتابع ويكثر.
3 - قسم لم يظهر إلى الآن.
فأما القسمان الأولان فهما من أشراط الساعة الصغرى، وأما القسم الثالث فيشترك فيه الأشراط الكبرى وبعض الأشراط الصغرى.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: কিয়ামতের আলামতসমূহ
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিয়ামত এবং এর নিদর্শনসমূহপরকালীন জীবনের প্রতি ঈমানের অন্যতম দাবি হলো: কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনা। এটি এমন এক সময় যখন পার্থিব জীবন তার সমস্ত অবস্থা সহ সমাপ্ত হবে এবং কিয়ামত তার সমস্ত ভয়াবহতা নিয়ে শুরু হবে। (যেহেতু যেসব আকিদাহর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব তার মধ্যে পরকাল এবং তাতে বিদ্যমান সওয়াব ও শাস্তি অন্যতম, আর মানুষের দৃষ্টি যেহেতু প্রায়ই এই জীবন এবং এর ভোগবিলাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে যার ফলে সে পরকালকে ভুলে যায় এবং তার জন্য আমল করে না, তাই আল্লাহ কিয়ামতের প্রাক্কালে এমন কিছু নিদর্শন নির্ধারণ করেছেন যা এর সত্যতা এবং এটি যে অবশ্যই সংঘটিত হবে তার প্রমাণ দেয়; যেন মানুষের মনে এ নিয়ে সামান্যতম সন্দেহও না থাকে এবং কোনো কিছুই যেন তাদেরকে এ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।
এটা সবার জানা যে, সত্যবাদী ও যাঁর সত্যতা স্বীকৃত (সা.) যখন কিয়ামতের কোনো আলামত উল্লেখ করেন এবং মানুষ তা বাস্তবায়িত হতে দেখে, তখন তারা নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে কিয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফলে তারা কিয়ামতের জন্য আমল করে এবং সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং সময় শেষ হওয়ার ও নির্ধারিত আয়ু ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই সৎকাজের পাথেয় সংগ্রহ করে নেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে কোনো ব্যক্তি না বলে, ‘হায় আক্ষেপ! আল্লাহর প্রতি আমার যে কর্তব্য ছিল, তাতে আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য; আর আমি তো উপহাসকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম’ (৫৬) অথবা না বলে, ‘আল্লাহ যদি আমাকে পথ দেখাতেন, তবে আমি অবশ্যই মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’ (৫৭) অথবা আযাব দেখার সময় না বলে, ‘যদি একবার আমার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো, তবে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’ (৫৮)} [সূরা যুমার: ৫৬ - ৫৮])
(১)।
কিয়ামতের আলামতসমূহের প্রকারভেদ:কিয়ামতের আলামতসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত
(২):
১ - ছোট আলামতসমূহ: এগুলো কিয়ামতের অনেক দীর্ঘ সময় পূর্বে প্রকাশ পায় এবং এগুলো সাধারণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন: ইলম (জ্ঞান) উঠে যাওয়া, মূর্খতার প্রকাশ, মদ্যপান, অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করা... ইত্যাদি। এগুলোর কোনো কোনোটি বড় আলামতসমূহের সাথে বা তারপরেও প্রকাশ পেতে পারে।
২ - বড় আলামতসমূহ: এগুলো হলো সেই সব বড় বিষয় যা কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সময় প্রকাশিত হবে এবং যা সচরাচর ঘটে না। যেমন: দাজ্জালের আবির্ভাব, ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ, ইয়াজুজ ও মাজুজের বহির্গমন এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়।
আলেমগণ কিয়ামতের আলামতসমূহকে প্রকাশের দিক থেকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন:
১ - এমন এক ভাগ যা প্রকাশ পেয়েছে এবং শেষ হয়ে গেছে।
২ - এমন এক ভাগ যা প্রকাশ পেয়েছে এবং এখনো ক্রমাগত প্রকাশিত ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩ - এমন এক ভাগ যা এখন পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি।
প্রথম দুই ভাগ কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর তৃতীয় ভাগে বড় আলামতসমূহ এবং কিছু ছোট আলামত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني: أشراط الساعة الصغرى (1)ونعني بها العلامات التي وقعت وانقضت ولن يتكرر وقوعها والتي لم تقع بعد. وهي كثيرة وسنذكر بعضا منها:
1 - بعثة النبي صلى الله عليه وسلم-:
أخبر صلى الله عليه وسلم أن بعثته دليل على قرب قيام الساعة وأنه نبي الساعة، عن سهل
رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بعثت انا والساعة كهاتين» ويشير بإصبعيه فيمدهما
(2)، وفي رواية لمسلم: «وضم السبابة والوسطى»
(3).
فأول أشراط الساعة بعثة النبي صلى الله عليه وسلم فهو النبي الأخير فلا يليه نبي آخر، وإنما تليه القيامة كما يلي السبابة الوسطى، وليس بينهم إصبع أخرى أو يفصل إحداهما الأخرى
(4).
2 - موت النبي صلى الله عليه وسلم-:
من أشراط الساعة موت النبي صلى الله عليه وسلم ففي الحديث عن عوف بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اعدد ستاً بين يدي الساعة: موتي، ثم فتح المقدس، ثم موتان يأخذ فيكم كقعاص الغنم، ثم استفاضة المال حتى يعطى الرجل مائة دينار فيظل ساخطاً، ثم فتنة لا يبقى بيت من العرب إلا دخلته، ثم هدنة تكون بينكم وبين بني الأصفر فيغدرون، فيأتونكم تحت ثمانين غاية، تحت كل غاية اثنا عشر ألفاً»
(5).
3 - فتح بيت المقدس:من أشراط الساعة فتح بيت المقدس، ففي الحديث عن عوف بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اعدد ستاً بين يدي الساعة:
… -فذكر منها- فتح بيت المقدس»
(6).
وفي عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه تم فتح بيت المقدس سنة ست عشرة من الهجرة كما ذهب إلى ذلك أئمة السير، فقد ذهب عمر رضي الله بنفسه وصالح أهلها وفتحها وطهرها من اليهود والنصارى، وبنى بها مسجداً في قبلة بيت المقدس
(7).
4 - طاعون عمواس (8):
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহ (১)এ দ্বারা আমরা সেই সকল আলামত উদ্দেশ্য করছি যা সংঘটিত হয়ে অতিবাহিত হয়ে গেছে এবং যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, এবং যা এখনও সংঘটিত হয়নি। এগুলি অনেক এবং আমরা তার মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করব:
১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তি-:
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর প্রেরণ কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার প্রমাণ এবং তিনি কিয়ামতের নবী। সাহল
রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি» এবং তিনি তাঁর দুই আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করলেন ও সেগুলো প্রসারিত করলেন
(২)। মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: «তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলকে একত্রে মেলালেন»
(৩)।
সুতরাং কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তি; তিনি সর্বশেষ নবী বিধায় তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, বরং তাঁর পরেই কিয়ামত, যেমন তর্জনীর পরেই মধ্যমা আঙ্গুল থাকে এবং তাদের মাঝে অন্য কোনো আঙ্গুল নেই অথবা একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়
(৪)।
২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু-:
কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে একটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু। আউফ ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের প্রাক্কালে ছয়টি বিষয় গণনা করো: আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর এমন এক মড়ক যা তোমাদের মাঝে বকরির মড়কের ন্যায় ছড়িয়ে পড়বে, অতঃপর সম্পদের প্রাচুর্য এমনকি একজন ব্যক্তিকে একশত দিনার দেওয়ার পরও সে অসন্তুষ্ট থাকবে, অতঃপর এমন এক ফিতনা যা আরবদের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে, অতঃপর তোমাদের এবং বনু আসফার (রোমক শক্তি) এর মধ্যে একটি সন্ধি হবে, কিন্তু তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকাতলে তোমাদের কাছে আসবে, প্রতিটি পতাকাতলে বারো হাজার সৈন্য থাকবে»
(৫)।
৩ - বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়:কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়। আউফ ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের প্রাক্কালে ছয়টি বিষয় গণনা করো:
… -অতঃপর তিনি তার মধ্যে উল্লেখ করেছেন- বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়»
(৬)।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে হিজরি ১৬ সনে বায়তুল মুকাদ্দাস বিজিত হয়, যেমনটি ইতিহাসবেত্তাগণ উল্লেখ করেছেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু স্বয়ং সেখানে গিয়েছিলেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সন্ধি করেছিলেন এবং তা বিজয় করেছিলেন ও ইহুদি-খ্রিস্টানদের থেকে একে পবিত্র করেছিলেন এবং সেখানে বায়তুল মুকাদ্দাসের কিবলার দিকে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন
(৭)।
৪ - আমওয়াস-এর মহামারি (৮):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
جاء في حديث عوف بن مالك السابق قوله صلى الله عليه وسلم: «اعدد ستاً بين يدي الساعة:
… -فذكر منها- ثم موتان
(1) يأخذ فيك كقعاص
(2) الغنم»
(3).
قال ابن حجر: (يقال إن هذه الآية ظهرت في طاعون عمواس في خلافة عمر وكان ذلك بعد فتح المقدس)
(4).
5 - استفاضة المال والاستغناء عن الصدقة:عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يكثر فيكم المال فيفيض حتى يهم رب المال من يقبله منه صدقة، ويدعى إليه الرجل فيقول لا أرب لي فيه»
(5).
فقد تحقق كثير مما أخبرنا به الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم فكثر المال في عهد الصحابة رضي الله عنهم بسبب ما وقع من الفتوح، واقتسموا أموال الفرس والروم، وفاض المال في عهد عمر بن عبدالعزيز رحمه الله، فكان الرجل يعرض المال للصدقة فلا يجد من يقبله.
وسيكثر المال في آخر الزمان حتى يعرض الرجل ماله فيقول الذي يعرضه عليه: لا أرب لي فيه، وهذا -والله اعلم - إشارة إلى ما سيقع في زمن المهدي وعيسى عليه السلام
(6) من كثرة الأموال وإخراج الأرض لبركتها وكنوزها.
6 - ظهور الفتن:وقد أخبر صلى الله عليه وسلم أن من أشراط الساعة ظهور الفتن العظيمة التي يلتبس فيها الحق بالباطل، فتزلزل الإيمان حتى يصبح الرجل مؤمناً ويمسي كافراً، ويمسي مؤمناً ويصبح كافراً، كلما ظهرت فتنة قال المؤمن: هذه مهلكتي، ثم تنكشف ويظهر غيرها فيقول: هذه هذه.
ولا تزال الفتن تظهر إلى أن تقوم الساعة، روى الإمام مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «بادروا بالأعمال فتنا كقطع الليل المظلم، يصبح الرجل مؤمناً ويمسي كافراً، أو يمسي مؤمناً ويصبح كافراً، يبيع دينه بعرض من الدنيا»
(7).
--------------------------------------------
আউফ ইবন মালেক থেকে বর্ণিত পূর্বের হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এসেছে: «কিয়ামতের প্রাক্কালের ছয়টি বিষয় গণনা করো:
… —অতঃপর তিনি এর মধ্যে উল্লেখ করেন— এরপর এক মহামারি
(১) যা তোমাদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করবে যেমন বকরির কুয়াস
(২) রোগ পাকড়াও করে»
(৩)।
ইবন হাজার বলেন: (বলা হয় যে, এই নিদর্শনটি উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে আমওয়াসের মহামারির সময় প্রকাশ পেয়েছিল এবং তা ছিল বায়তুল মাকদিস বিজয়ের পর)
(৪)।
৫ - সম্পদের প্রাচুর্য এবং সদকার মুখাপেক্ষীহীনতা:আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমাদের মধ্যে সম্পদের প্রাচুর্য দেখা দেবে এবং তা উপচে পড়বে, এমনকি সম্পদশালী ব্যক্তি চিন্তিত হয়ে পড়বে এই ভেবে যে, কে তার থেকে সদকা গ্রহণ করবে। আর যাকে এর জন্য ডাকা হবে সে বলবে: এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই»
(৫)।
সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যায়নকারী (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তার অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে বিজয়সমূহের কারণে সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর যুগে সম্পদের প্রাচুর্য দেখা দিয়েছিল এবং তারা পারস্য ও রোমের সম্পদ নিজেদের মধ্যে বণ্টন করেছিলেন। আর উমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর যুগে সম্পদ উপচে পড়েছিল, ফলে কোনো লোক সদকার জন্য সম্পদ পেশ করলে তা গ্রহণ করার মতো কাউকে খুঁজে পেত না।
আর শেষ যামানায় সম্পদের পরিমাণ এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনো লোক তার সম্পদ পেশ করবে কিন্তু যাকে পেশ করা হবে সে বলবে: এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আর এটি —আল্লাহই ভালো জানেন— ইমাম মাহদী ও ঈসা (আ.)-এর যামানায় যা ঘটবে তার দিকে ইঙ্গিত করছে
(৬), যখন সম্পদের প্রাচুর্য হবে এবং পৃথিবী তার বরকত ও গুপ্তধনসমূহ বের করে দেবে।
৬ - ফিতনার আবির্ভাব:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে এমন সব ভয়াবহ ফিতনার আবির্ভাব যাতে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। ফলে ঈমান এমনভাবে প্রকম্পিত হবে যে, একজন লোক সকালে মুমিন থাকবে কিন্তু সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে, আবার সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে আর সকালে কাফিরে পরিণত হবে। যখনই কোনো ফিতনা প্রকাশ পাবে, মুমিন ব্যক্তি বলবে: এটিই আমার ধ্বংসের কারণ, এরপর তা কেটে যাবে এবং অন্যটি প্রকাশ পাবে তখন সে বলবে: এটিই সেই ফিতনা, এটিই সেই ফিতনা।
আর কিয়ামত পর্যন্ত এভাবে ফিতনা প্রকাশ পেতেই থাকবে। ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অন্ধকার রাতের টুকরোর মতো ধেয়ে আসা ফিতনার আগে তোমরা নেক আমলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। (সেই ফিতনার সময়) একজন লোক সকালে মুমিন থাকবে কিন্তু সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে, অথবা সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে আর সকালে কাফিরে পরিণত হবে; সে দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দেবে»
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
7 - ظهور مدّعي النبوة:ومن العلامات التي ظهرت، خروج الكذابين الذين يدّعون النبوة، وهم قريب من ثلاثين كذاباً، وقد خرج بعضهم في الزمن النبوي وفي عهد الصحابة ولا يزالون يظهرون.
وليس التحديد في الأحاديث مرادا به كل من ادعى النبوة مطلقاً فإنهم كثير لا يحصون وإنما المراد من قامت له شوكة وبدت له شبهة وكثر أتباعه واشتهر بين الناس
(1). في الصحيحين عن أبي هريرة
رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يبعث دجالون كذابون قريب من ثلاثين كلهم يزعم أنه رسول الله»
(2).
8 - انتشار الأمن:عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى يسير الراكب بين العراق ومكة لا يخاف إلا ضلال الطريق»
(3).
وهذا وقع في زمن الصحابة رضي الله عنهما وذلك حينما عم الإسلام والعدل البلاد التي فتحها المسلمون. وسيكون ذلك في زمن المهدي وعيسى عليه السلام حينما يعم العدل مكان الجور والظلم.
9 - ظهور نار الحجاز:عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى تخرج نار من أرض الحجاز تُضيءُ أعناق الإبل ببصرى
(4)»
(5).
قال النووي
(6) رحمه الله: (وقد خرجت في زماننا سنة أربع وخمسين وست مئة وكانت ناراً عظيمة من جنب المدينة الشرقي وراء الحرة، تواتر العلم بها عند جميع الشام وسائر البلدان وأخبرني من حضرها من أهل المدينة، أفاض العلماء ممن عاصر ظهورها ومن بعدهم في وصفها، وهذه النار ليست هي النار التي تخرج في آخر الزمان تحشر الناس إلى محشرهم)
(7).
10 - قتال الترك:روى مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يقاتل المسلمون الترك،
--------------------------------------------
৭ - নবুওয়াতের দাবিদারদের আত্মপ্রকাশ:প্রকাশিত নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো সেই সব চরম মিথ্যুকদের বহিঃপ্রকাশ যারা নবুওয়াতের দাবি করে। তাদের সংখ্যা প্রায় ত্রিশজন। তাদের কেউ কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং এখনো তাদের আবির্ভাব অব্যাহত রয়েছে।
তবে হাদিসে বর্ণিত এই সংখ্যা নির্ধারণের দ্বারা নবুওয়াতের দাবিদার ঢালাওভাবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে বোঝানো হয়নি, কারণ তাদের সংখ্যা তো অগণিত। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওইসব ব্যক্তি যাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যাদের সংশয়পূর্ণ কথাবার্তা প্রকাশ পেয়েছে, অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের মধ্যে যাদের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে
(১)। সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা
রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না প্রায় ত্রিশজন দাজ্জাল ও চরম মিথ্যুকের আবির্ভাব ঘটে, যাদের প্রত্যেকেই দাবি করবে যে সে আল্লাহর রাসূল»
(২)।
৮ - নিরাপত্তার বিস্তার:আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না একজন আরোহী ইরাক ও মক্কার মধ্যবর্তী পথ পাড়ি দেবে অথচ পথ হারানো ছাড়া অন্য কোনো ভয় তার থাকবে না»
(৩)।
এটি সাহাবায়ে কেরামের যুগে সংঘটিত হয়েছিল, যখন মুসলিমদের বিজিত অঞ্চলগুলোতে ইসলাম ও ন্যায়বিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। এছাড়া ইমাম মাহদী ও ঈসা আলাইহিস সালামের যুগেও এমনটি ঘটবে, যখন জুলুম ও অন্যায়ের পরিবর্তে সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
৯ - হিজাযের আগুনের বহিঃপ্রকাশ:আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না হিজাযের ভূমি থেকে এমন এক আগুন নির্গত হবে যা বুসরার
(৪) উটগুলোর ঘাড়কে আলোকিত করে দেবে»
(৫)।
ইমাম নববী
(৬) রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: (আমাদের যুগে ৬৫৪ হিজরি সালে এই আগুনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। এটি ছিল মদিনার পূর্বদিকের হাররাহ নামক স্থানের পেছনে এক বিশাল আগুন। সিরিয়া ও অন্যান্য সকল জনপদের মানুষের কাছে এর সংবাদ অকাট্যভাবে পৌঁছেছিল। মদিনার যারা ওই সময় উপস্থিত ছিলেন তারা আমাকে এর সংবাদ দিয়েছেন। সমসাময়িক এবং পরবর্তীকালের আলেমগণ এর বর্ণনায় বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তবে এই আগুন সেই আগুন নয় যা শেষ জামানায় প্রকাশিত হবে এবং মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে)
(৭)।
১০ - তুর্কিদের সাথে যুদ্ধ:ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না মুসলমানরা তুর্কিদের সাথে যুদ্ধ করবে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قوماً وجوههم كالمَجَانّ
(1) المُطْرَقَة
(2) يلبسون الشعر ويمشون في الشعر»
(3).
وقد وقع الأمر كما، أخبر الرسول صلى الله عليه وسلم فقد قاتل المسلمون الترك أكثر من مرة.
فقد قاتل المسلمون الترك من عصر الصحابة رضي الله عنهم، وذلك في أول خلافة بني أمية في عهد معاوية رضي الله عنه.
ويقول النووي رحمه الله في التتار الذين اجتاحوا العالم الإسلامي: (وقد وجدوا في زماننا -أي الترك- الذين تحدث عنهم الرسول صلى الله عليه وسلم هكذا .... جميع صفاتهم التي ذكرها رسول الله صلى الله عليه وسلم: صغار الأعين، حمر الوجوه، ذلف الأنوف، عراض الوجوه، كأن وجوههم المجان المطرقة، ينتعلون الشعر، فوجدوا بهذه الصفات كلها في زماننا، وقاتلهم المسلمون مرات، وقتالهم الآن، ونسأل الله الكريم إحسان العاقبة للمسلمين في أمرهم، وأمر غيرهم، وسائر أحوالهم، وإدامة اللطف بهم والحماية وصلى الله وسلم على رسوله الذي لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحي)
(4).
11 - قتال العجم (5):
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا خوزاً
(6) أو كرمان
(7) من الأعاجم، حمر الوجوه فطس الأنوف صغار الأعين كأن وجوههم المجان المطرقة نعالهم الشعر
(8)».
12 - ضياع الأمانة:عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا ضيعت الأمانة، فانتظر الساعة» قال: كيف إضاعتها يا رسول الله؟ قال: «إذا أسند الأمر إلى غير أهله، فانتظر الساعة»
(9).
13 - قبض العلم وظهور الجهل:ومن أشراطها قبض العلم وفشو الجهل، في الصحيحين عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله -
--------------------------------------------
এমন এক জাতির সাথে, যাদের মুখমণ্ডল হাতুড়ি দিয়ে পিটানো ঢালের মতো
(১)(২) তারা পশমি পোশাক পরবে এবং পশমি জুতো পরে হাঁটবে»
(৩)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি খবর দিয়েছিলেন, বিষয়টি ঠিক তেমনই ঘটেছে। মুসলমানরা একাধিকবার তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের যুগ থেকেই মুসলমানরা তুর্কিদের সাথে যুদ্ধ করেছে, আর তা ছিল মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমলে বনু উমাইয়া খিলাফতের শুরুর দিকে।
ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ সেই তাতারীদের সম্পর্কে বলেছেন যারা ইসলামী বিশ্বকে তছনছ করে দিয়েছিল: (আমাদের যুগে তাদের অর্থাৎ তুর্কিদের পাওয়া গিয়েছে, যাদের কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছিলেন .... তাদের সকল বৈশিষ্ট্য যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন: ছোট চোখ, লালচে চেহারা, চ্যাপ্টা নাক, চওড়া মুখমণ্ডল, তাদের মুখমণ্ডল যেন হাতুড়ি দিয়ে পিটানো ঢাল, তারা পশমি জুতো পরিধান করে। আমাদের যুগে এই সকল বৈশিষ্ট্যসহ তাদের পাওয়া গিয়েছে। মুসলমানরা তাদের সাথে কয়েকবার যুদ্ধ করেছে এবং বর্তমানেও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে মুসলমানদের জন্য তাদের বিষয়ে এবং অন্যদের বিষয়ে এবং তাদের সকল অবস্থায় উত্তম পরিণাম কামনা করি। তিনি যেন তাদের প্রতি দয়া ও নিরাপত্তা অব্যাহত রাখেন। রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, যিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না, যা বলেন তা কেবল অবতীর্ণ ওহী)
(৪)।
১১ - অনারবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (৫):
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা অনারবদের মধ্য থেকে খুয
(৬) অথবা কিরমানের
(৭) লোকদের সাথে যুদ্ধ করবে; যাদের চেহারা লালবর্ণের, নাক চ্যাপ্টা, চোখগুলো ছোট, তাদের মুখমণ্ডল যেন হাতুড়ি দিয়ে পিটানো ঢাল এবং তাদের জুতো হবে পশমি
(৮)»।
১২ - আমানত নষ্ট হওয়া:আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো» তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে নষ্ট করা হবে? তিনি বললেন: «যখন অযোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো»
(৯)।
১৩ - ইলম উঠে যাওয়া এবং মূর্খতা প্রকাশ পাওয়া:কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো ইলম তুলে নেওয়া এবং মূর্খতা ছড়িয়ে পড়া। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
صلى الله عليه وسلم-: «من أشراط الساعة أن يرفع العلم ويثبت الجهل ويشرب الخمر ويظهر الزنا»
(1).
وقبض العلم يكون بقبض العلماء، عن عبدالله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الله لا يقبض العلم انتزاعاً ينتزعه من العباد ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يبق عالماً، اتخذ الناس رؤوساً جهالاً فسئلوا؟ فأفتوا بغير علم، فضلوا وأضلوا»
(2).
14 - كثرة الشُرط وأعوان الظلمة:عن أبي أمامة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يكون في هذه الأمة في آخر الزمان رجال معهم سياط كأنها أذناب البقر يغدون في سخط الله ويروحون في غضبه»
(3). وروى الإمام مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «صنفان من أهل النار لم أرهما: قوم معهم سياط كأذناب البقر يضربون بها الناس
… »
(4).
15 - انتشار الزنا:ومن العلامات التي ظهرت فشو الزنا وكثرته بين الناس فقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم بأن ذلك من أشراط الساعة. ففي الصحيحين عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله
صلى الله عليه وسلم: «إن من أشراط الساعة
… - فذكر منها- ويظهر الزنا»
(5).
16 - انتشار الربا:ومنها ظهور الربا وانتشاره بين الناس وعدم المبالاة بأكل الحرام ففي الحديث عن ابن مسعود
رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «بين يدي الساعة يظهر الربا»
(6).
17 - ظهور المعازف واستحلالها:عن سهل بن سعد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «سيكون في آخر الزمان خسف وقذف ومسخ». قيل ومتى ذلك يا رسول الله؟ قال: «إذا ظهرت المعازف والقينات واستحلت الخمر»
(7).
18 - كثرة شرب الخمر واستحلالها:روى مسلم عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من أشراط الساعة
… -وذكر منها- ويشرب الخمر»
(8).
ومنها ما رواه ابن ماجه عن عبادة بن الصامت، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يشرب ناس من أمتي الخمر باسم يسمونها إياه»
(9).
19 - زخرفة المساجد والتباهي بها:عن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يتباهي الناس في المساجد»
(10).
20 - التطاول في البنيان:عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يتطاول الناس في البنيان»
(11).
21 - ولادة الأمةُ ربتها:جاء في حديث جبريل الطويل قوله صلى الله عليه وسلم: «وسأخبرك عن أشراطها: إذا ولدت الأمة ربتها
(12)». وفي رواية لمسلم: «إذا ولدت الأمة ربها»
(13).
22 - كثرة القتل:عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يكثر الهرج، قالوا وما الهرج يا رسول الله؟ قال القتل القتل .. »
(14).
23 - تقارب الزمان:عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة .... حتى يتقارب الزمان»
(15).
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো ইলম (দ্বীনি জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হবে, মূর্খতা জেঁকে বসবে, মদ্যপান করা হবে এবং ব্যভিচার প্রকাশ পাবে»
(১)।
আর ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে আলেমদের মৃত্যু বা বিদায়ের মাধ্যমে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে টেনে ইলম ছিনিয়ে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের কবজ করার (মৃত্যুর) মাধ্যমে ইলম তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে»
(২)।
১৪ - পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জালেমদের সহযোগীদের আধিক্য:আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «শেষ জামানায় এই উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যাদের হাতে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে। তারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে সকাল অতিবাহিত করবে এবং তাঁর ক্রোধ নিয়ে সন্ধ্যা অতিবাহিত করবে»
(৩)। ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জাহান্নামীদের দুটি দল রয়েছে যাদের আমি এখনো দেখিনি: একদল লোক যাদের কাছে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে
... »
(৪)।
১৫ - ব্যভিচারের প্রসার:প্রকাশিত হওয়া আলামতগুলোর মধ্যে একটি হলো মানুষের মধ্যে ব্যভিচারের ব্যাপকতা ও আধিক্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি কিয়ামতের অন্যতম আলামত। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে
... -অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন- এবং ব্যভিচার প্রকাশ পাবে»
(৫)।
১৬ - সুদের প্রসার:আলামতগুলোর অন্যতম হলো সুদের প্রকাশ ও মানুষের মধ্যে এর বিস্তার এবং হারাম ভক্ষণে বেপরোয়া হওয়া। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের প্রাক্কালে সুদ প্রকাশ পাবে»
(৬)।
১৭ - বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ও একে হালাল মনে করা:সাহল বিন সা'দ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «শেষ জামানায় ভূমিধস, আসমান থেকে পাথর বর্ষণ এবং আকৃতি বিকৃতি ঘটবে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তা কখন হবে? তিনি বললেন: যখন বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকাদের প্রকাশ ঘটবে এবং মদকে হালাল মনে করা হবে»
(৭)।
১৮ - মদ্যপানের আধিক্য ও একে হালাল মনে করা:ইমাম মুসলিম আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো
... -তিনি উল্লেখ করেন- এবং মদ্যপান করা হবে»
(৮)।
এর মধ্যে ইবনে মাজাহ কর্তৃক উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত হাদিসটিও অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের কিছু লোক মদ পান করবে এবং তারা এর ভিন্ন নাম দেবে»
(৯)।
১৯ - মসজিদ সজ্জিতকরণ ও তা নিয়ে অহংকার করা:আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না মানুষ মসজিদ নিয়ে একে অপরের ওপর অহংকার করবে»
(১০)।
২০ - অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা:আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না মানুষ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করবে»
(১১)।
২১ - দাসী তার মালিককে জন্ম দেওয়া:জিবরীল আলাইহিস সালামের দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী এসেছে: «আমি তোমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দেব: যখন দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে
(১২)»। মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: «যখন দাসী তার মুনিবকে জন্ম দেবে»
(১৩)।
২২ - হত্যার আধিক্য:আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না হারজ বৃদ্ধি পাবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হারজ কী? তিনি বললেন: হত্যা, হত্যা...»
(১৪)।
২৩ - সময়ের নৈকট্য (সময় দ্রুত চলে যাওয়া):আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না .... যতক্ষণ না সময় সংকুচিত বা নিকটবর্তী হবে»
(১৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
24 - تقارب الأسواق:عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى تظهر الفتن ويكثر الكذب وتتقارب الأسواق»
(1).
25 - ظهور الشرك في هذه الأمة:عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تضطرب الياتُ نساء دوس حول ذي الخلصة»
(2)، وذو الخلصة: طاغية دوس التي كانوا يعبدون في الجاهلية.
26 - ظهور الفحش وقطيعة الرحم وسوء الجوار:روى الإمام أحمد عن عبدالله بن عمرو رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يظهر الفحش والتفاحش وقطيعة الرحم وسوء المجاورة»
(3).
27 - تشبب المشيخة:عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يكون قوم يخضبون في آخر الزمان بالسواد كحواصل الحمام لا يريحون رائحة الجنة»
(4).
28 - كثرة الشح:عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يتقارب الزمان وينقص العمل ويلقى الشح»
(5).
29 - كثرة التجارة:روى الإمام أحمد عن عبدالله بن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «بين يدي الساعة تسليم الخاصة، وفشوا التجارة، حتى تعين المرأة زوجها على التجارة»
(6).
30 - كثرة الزلازل:عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة
… حتى تكثر الزلازل .. »
(7).
31 - ظهور الخسف والمسخ والقذف:عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يكون في آخر هذه الأمة خسف ومسخ وقذف»
--------------------------------------------
২৪ - বাজারগুলোর নৈকট্য:আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ফিতনা প্রকাশ পাবে, মিথ্যার আধিক্য ঘটবে এবং বাজারগুলো নিকটবর্তী হবে»
(১)।
২৫ - এই উম্মতের মধ্যে শিরকের আবির্ভাব:আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দাওস গোত্রের নারীদের নিতম্ব যুল-খালাসার চারপাশে আন্দোলিত হবে»
(২), আর যুল-খালাসা হলো দাওস গোত্রের মূর্তি যা তারা জাহিলিয়াত যুগে উপাসনা করত।
২৬ - অশ্লীলতা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং মন্দ প্রতিবেশীর আবির্ভাব:ইমাম আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না অশ্লীলতা, নির্লজ্জতা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং মন্দ প্রতিবেশী হওয়া প্রকাশ পায়»
(৩)।
২৭ - বৃদ্ধদের যুবক সাজার চেষ্টা:ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «শেষ যামানায় এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কবুতরের গলদেশের থলির মতো কালো কলপ ব্যবহার করবে, তারা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না»
(৪)।
২৮ - কৃপণতার আধিক্য:আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যামানা বা সময় নিকটবর্তী হয়ে যাবে, আমল কমে যাবে এবং মানুষের অন্তরে কৃপণতা ঢেলে দেওয়া হবে»
(৫)।
২৯ - ব্যবসার আধিক্য:ইমাম আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «কিয়ামতের প্রাক্কালে কেবল পরিচিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সালাম প্রদান করা হবে এবং ব্যবসার প্রসার ঘটবে, এমনকি স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসায় সহযোগিতা করবে»
(৬)।
৩০ - ভূমিকম্পের আধিক্য:আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না ... যতক্ষণ না ভূমিকম্পের আধিক্য ঘটবে ...»
(৭)।
৩১ - ভূমিধস, আকৃতি বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের আবির্ভাব:আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «এই উম্মতের শেষভাগে ভূমিধস, আকৃতি বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণ সংঘটিত হবে»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আকীদাতুল ঈমান বিল ইয়াউমিল আখির ওয়া আসারুহা ফী ইসলাহিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قالت: قلت يا رسول الله! أنهلك وفينا الصالحون؟ قال: «نعم إذا ظهر الخبث»
(1).
32 - ذهاب الصالحين:عن عبدالله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى يأخذ شِريطَتَه
(2) من أهل الأرض فيبقى عجاج
(3) لا يعرفون معروفاً ولا ينكرون منكراً»
(4).
33 - ارتفاع الأسافل:روى الإمام أحمد عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنها ستأتي على الناس سنون خدّاعة يصدق فيها الكاذب ويكذب فيها الصادق ويؤتمن فيها الخائن ويُخون فيها الأمين وينطق فيها الرويبضة
(5)، قيل وما الرويبضة؟ قال السفيه يتكلم في أمر العامة»
(6).
34 - أن تكون التحية للمعرفة:عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن من أشراط الساعة أن يسلم الرجل على الرجل لا يسلم عليه إلا للمعرفة»
(7).
35 - التماس العلم عند الأصاغر:عن أبي أمية الجمحي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن من أشراط الساعة ثلاثاً: إحداهن أن يلتمس العلم عند الأصاغر
… »
(8).
36 - ظهور الكاسيات العاريات:عن عبدالله بن عمرو رضي الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «سيكون في آخر أمتي رجال يركبون على سروج
(9) كأشباه الرحال
(10) ينزلون على أبواب المساجد نساؤهم كاسيات عاريات على رؤوسهم كأسنمة
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে নেককার লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে»
(১).
৩২ - নেককার লোকেদের বিদায়:আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ জমিনবাসীদের মধ্য থেকে তাঁর সর্বোত্তম বান্দাদের উঠিয়ে নেবেন, অতঃপর অকেজো সাধারণ মানুষ থেকে যাবে, যারা কোনো সৎ কাজ চিনবে না এবং কোনো মন্দ কাজকে অস্বীকার করবে না»
(৪).
৩৩ - নিচ স্তরের লোকদের উত্থান:ইমাম আহমাদ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মানুষের ওপর এমন ধোঁকাপূর্ণ বছরগুলো আসবে যখন মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলা হবে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হবে, খিয়ানতকারীকে আমানতদার মনে করা হবে এবং আমানতদারকে খিয়ানতকারী গণ্য করা হবে, আর সেখানে রুওয়াইবিযা
(৫) কথা বলবে। জিজ্ঞেস করা হলো, রুওয়াইবিযা কী? তিনি বললেন: নির্বোধ ব্যক্তি, যে সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবে»
(৬).
৩৪ - সালাম কেবল পরিচিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া:ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো—ব্যক্তি কেবল পরিচিত লোককেই সালাম দেবে»
(৭).
৩৫ - ছোটদের (অযোগ্যদের) কাছে জ্ঞান অন্বেষণ করা:আবু উমাইয়া আল-জুমাহি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে তিনটি রয়েছে: তার একটি হলো ছোটদের (বা অযোগ্যদের) কাছে জ্ঞান অন্বেষণ করা
… »
(৮).
৩৬ - কাপড় পরিহিতা নগ্ন নারীদের প্রকাশ পাওয়া:আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন কিছু লোক হবে যারা উটের গদির মতো
(১০) জিনের
(৯) ওপর সওয়ার হবে, তারা মসজিদের দরজায় অবতরণ করবে, তাদের নারীরা হবে কাপড় পরিহিতা অথচ নগ্ন, তাদের মাথায় হবে উটের কুঁজের মতো...
--------------------------------------------